Udaynarayanpur Tarun Sangha, Howrah
Sri Chaitanya Ed.2
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীচৈতন্য। কলিপাবন, পতিত-তাবণ, যুগাবতাব, নবদ্বীপ-চন্দ্ৰ শ্ৰীচৈতন্যদেবের পূতলীলা-গ্রন্থ। নদীয়া-কাহিনী হইতে পুনর্মুদ্রিত ] নদীয়া-কাহিনী, সতীদাহ, গৌরাঙ্গ প্রভৃতির লেখক শ্রীকুমুদনাথ মল্লিক প্রণীত। ( দ্বিতীয় সংস্করণ) প্রকাশক শ্ৰীআশুতােষ ধব। আশুতোষ লাইব্রেরী ৫০১ কলেজস্ট্রীট কলিকাতা। ১৩২৪। মূল্য ॥ আট আনা।
চিত্রাবলী। ১। সন্ন্যাসের উদ্যোগ। বাল্য চাপল্য। জগাই মাধাই। ভাবাবিষ্ট শ্রীচৈতন্যদেব । ৪ । ভাগবত শ্রবণ। দাক্ষিণাত্য পথে। ৭। পাঠান উদ্ধার । ৮। সমুদ্র তটে।
শ্রীচৈতন্য ।
প্রথম মুদ্রাঙ্কন ১৩২০ ।
দ্বিতীয় মুদ্রাঙ্কন ১৩২৪ ।
/৩ কুমুদ বাবুব অন্যান্য পুস্তক নদীয়া-কাহিনী ২০ ঐগৌরাঙ্গ সতীদাহ চাদমুখ হজৰত মােহাম্মদ মহাবাজা কৃষ্ণচন্দ্র (যন্ত্র) ১ ঢাকা “আশুতােষ প্রেসে” রেবতীমােহন দাস দ্বারা মুদ্রিত।
No text on this page.
" তবে মহাপ্রভু সব্বতে প্রাণ, set a. fez া দান নাপিত আrি বা থে যখন, ক্ষুব দিতে নাপিত সে চাচব চিকুবে, and ম ম২ি হা । ন- দয় কদন মাত্র কবর।
জচৈতন্য ১ম শ্রীশ্রীহবিপ্রেম লোক-শিক্ষার্থ পৃথিবীতে একবাব পূর্ণমূৰ্ত্তি পবিগ্ৰহ করিযা অবতীর্ণ হইযাছিলেন। উহা চৌদ্দশত সাত শকের শুভ ফাণী পূর্ণিমায পূতসলিলা ভাগিরথী-তীবস্থ নবদ্বীপ নপৰে। এই নবদ্বীপ নগরী বর্তমান কলকাতা মহানগরী হইতে প্রায় সত্তর ফাইল উতবে অবস্থিত, কিন্তু এখন যেমন জাহুবী- স্রোত উহাব পূৰ্বদিক দিযা প্রবাহিত, তখন তাহা ছিল না, তখন নবদ্বীপ নগরী গঙ্গাব পূর্ববতটে অবস্থিত ছিল এবং সমগ্র সভ্যজগতে উহা তখন বিদ্যালােচনা ও শাস্ত্রচর্চা কেন্দ্রস্থল শ্রীচৈতন্য বলিযা সমাদৃত ছিল। দেশদেশান্তর হইতে অসংখ্য ভক্ত ও ছাত্র আসিয়া ইহাকে এক মহাতীর্থে পবিণত করিয়াছিল। এই মহাতীর্থে জ্ঞান,ভক্তি ও বৈবাগ্যেবপূর্ণ পরিণতি শ্ৰীশ্ৰীচৈতন্য দেব অবতীর্ণহইযা আপনার প্রেমময়-লােকােবনী লীল প্রকাশ পূর্বক প্রেমাম্বত বিতরণে পৃথিবীর পাপ-তাপ অপহণ করেন। যে সময়ে শ্রীশ্রীচৈতন্যদেব জন্ম পরিগ্রহ করিযাছিলেন, সে সমযে নবদ্বীপ তথা সমগ্র বঙ্গদেশ নীবস, ভক্তিহীন শাস্ত্ৰচুৰ্চ্চায বিভাের। তন্ত্রের নামে, ধৰ্ম্মেব নামে, দেশ যথেচ্ছাচাব, ব্যাভিচার ও সুরাস্রোতে ভাসমান। সােমরস পান, অকাঁরণ পশুহনন, দেব-দ্বিজে অভক্তি তখন সংক্রামকৰূপে বঙ্গদেশ গ্রাস করিতে বসিযাছিল। আবার তখন দেশাধিপতি মুসল- মানগণের নিদারুণ অত্যাচারে হিন্দুর ধর্ম ও s বিতণ্য হিন্দুর সামাজিক অবস্থাও অতি শশাচনীয় ভাব ধাবণ করিয়াছিল। তাই এই কালে যবনের অত্যাচা উপেক্ষা করিযা, ধ্যাপকের কূট তর্ক-জাল ছিন্ন ভিন্ন কবি, জ্ঞানচর্চার পরম ফলস্বরূপ, ধৰ্ম সংস্থাপনার্থ এবং সংসারকে “জীবে দযা ও নামে কচি” শিক্ষা দিতে নবদ্বীপ- চন্দ্ৰ শ্ৰীশ্ৰীশচীদুলাল শ্রীচৈতন্যদেব আবির্ভূত হইয়াছিলেন। চৈতন্য ভাগ্যবান পিতার নাম শ্রীজগন্নাথ মিশ্র। পুবন্দর তাহার আর এক উপাধি ছিল। তাহাব আদি নিবাস •শ্রীহট্টে। তাহারা বৈদিক শ্রেণীর ব্রাহ্মণ ছিলেন। তিনি অধ্যযনার্থ বাণীর প্রিয় নিকেতন নবদ্বীপে আগমন করেন এবং পাঠ সমাপনান্তে নবদ্বীপবাসী নীলাম্বর চক্রবর্তীব সর্ব-সুলক্ষণা কন্যা “শান্তমূৰ্ত্তি শচী- দেবীর পাণিগ্রহণ করিয়া নবদ্বীপের যে পল্লীতে ৩ শ্রীচৈতন্য শ্রীহট্টিযাগণ বাস কবিতেন, সেই পল্লীতে বসতি স্থাপন কবেন। শচীর গর্ভে জগন্নাথেব পরপব আটটী কন্য। জন্ম গ্রহণ কবেন। কিন্তু সকলেই অল্প বয়সে গতানু হযেন। শিশু কন্যাগণেব শােকে যখন ব্রাহ্মণদম্পতি মিযমাণ, তখন তাঁহাদের একটা পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ কবেন , পিতা আদৰ কবি এই ৰূপবান পুবে “বিশ্বৰূপ” নাম- কবণ কবেন। বযােবৃদ্ধি সহকাবে এই পুত্র সর্ব শাস্ত্রাদিতে উত্তমরূপে ব্যুৎপন্ন হযেন। বিশ্বরূপেব যােডশবর্য বয়ঃক্রম কালে শ্রীনিমাই জন্ম পবিগ্রহ কবেন । যে শুভ নিশিতে শ্রীচৈতন্যদেব জন্ম পরিগ্রহ কবেন; সেটী সুনিৰ্ম্মল ফাত্মণী পূর্ণিমা এবং যে মুহূর্তে তিনি ভূমিষ্ট হযেন, তখন চন্দ্রগ্রহণ হইযা- ছিল , সুতরাং সমগ্র হিন্দুস্থান তখন চিব প্রচলিত ৪ শ্রীচৈতন্য প্রথানুযাযী দান-ধ্যানাদি সকৰ্ম্মে বত এবং মঙ্গল- সূচক হুলুধ্বনি ও হবিধ্বনিতে ভুখন সমস্ত নদীয়া মুখবিত। এইরূপ অনন্ত-কণ্ঠ-নিঃসৃত হরিধ্বনির মধ্যে“সিংহবাশি, সিংহলগ্ন, উচ্চগ্রহগণে , ষডবর্গ, অষ্টবর্গ,সর্ব শুভক্ষণে”,জগন্নাথ মিশ্রেব নবদ্বীপস্থ ভবনে, নিম্বমূলস্থ সুতিকাগৃহে শ্রীগৌবাঙ্গ ভূমিষ্ঠ হযেন। সুতিকাগাবে ডাকিনী, পিশাচ ও উপদেব- ভাব বুদৃষ্ঠি হইতে বহ্মা কবিতে মেযেবা হাব “নিমাই” নাম বাখেন। পরবর্তী জীবনে অসংখ্য ভক্ত কর্তৃক তিনি সহজ নামে আখ্যাত হইলেও, সুতিকাগৃহেব এই আদবেব নাম তাহাব প্রিয়জনে এক দিনও ভুলে নাই। জগন্নাথ অন্নপ্রাশন কালে পুত্রেব নাম বাখিলেন “বিশ্বম্ভব”, উপনয়ন, কালে তাহাব আর একটি নাম হইল“গৌবহবি”। ভক্ত গণ তাহার শ্রীগৌরাঙ্গ” নাম বাখিছিলেন এবং তাহাব সর্বশেষ নাম হইযাছিল“শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য”। শ্রীচৈতন্য চকিয়ামৃত নীচৈতন্য শচীদুলাল পিতৃগৃহে শুক্লপক্ষীয় শশীকলাব ন্যায় দিন দিন বৃদ্ধি পাইতে লাগিলেন। এই অলৌকিক সুবর্ণলাঞ্ছিত সু-উজ্জ্বলবর্ণশালী,সুঠাম- গঠন ও মনােহর ভঙ্গিমাশালী সৰ্বাঙ্গসুন্দব অপ্রাকৃত শিশুটী ঠিক অন্যান্য শিশুব ন্যায় ছিল ; শিশু ক্রন্দন কবিতেছে, কিছুতেই প্রবােধ মানিতেছে না, সহস্র যত্ন বিফল হইয়া যাইতেছে, তখন একবার হরিধ্বনি কর, শিশু অমনি উৎকর্ণ হইয়া শুনিবে, মাযের ক্রোডে স্থির হইযা বহিবে। এইৰূপে শিশু নিমাই বাড়িতে লাগিলেন। তাহার বয়ােবৃদ্ধিব সহিত শৈশবেব দুবন্ত- পনাও ক্রমে বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। ক্রমে প্রভু পঞ্চমবৎসরে পদার্পণ করিলে, জগন্নাথ পুত্রকে পাঠশালায় দিলেন। যে একাগ্রতায় শচীদুলাল শৈশবে চাপল্যক্ৰী কযিয়াছেন, সেই একাগ্রতায় এখন তিনি পাঠে মনােনিবেশ করিলেন। এই বাল্য চাপল্য ৭ * উচ্ছিষ্টেব গর্তে ত্যক্ত গণ্ডীব উপব ডায়ে আছেন সুখে প্রভু বিশ্বম্ভব, শচী কহে কেন তুমি অশুচী ছুইলা ‘ঙ্গাস্নান কব যাই অপবিত্র হইলা। চৈতন্য চকিয়ামৃত
No text on this page.
শ্রীচৈতন্য সময় জগন্নাথের সংসারে এক মহাদুর্দৈব উপস্থিত হইল। তাহার জ্যেষ্ঠপুত্র বিশ্বরূপ এখন যৌবনসীমায পদার্পণ করিযাছেন। শান্তিপুর নিবাসী ভাগবতাচাৰ্য শ্রীঅদ্বৈত-সকাশেসৰ্ববিদ্যা- বিশারদ হইযা ও ভাগবতাদি ধৰ্ম্মশাস্ত্রে ব্যুৎপন্ন হইয়া, সংসারেব অনিত্যতা তাহার হৃদয়ে বদ্ধমূল হওযায, যখন তাহার জনকজননী তাহার বিবাহেব উদ্যোগে ব্যস্ত হইলেন, তখন সংসারবিরাগী বিশ্বরূপ এক দিন গভীর নিশায় গৃহত্যাগ করতঃ সন্ন্যাস গ্ৰহণ কৰিলেন। বৃদ্ধ পিতা মাতা উপযুক্ত পুত্র বিরহে বিহ্বল হইলেন ও অনুক্ষণ তাঁহার নাম ধরিযা রােদন করিতে লাগিলেন। কালে তাহাবা দুল্লভ পুত্ররত্ন বিশ্বস্তরের মুখচন্দ্র অবলােকনে বিশ্বকাপের শােক ভুলিতে চেষ্টা কৰিলেন। এই সময় হইতেই শ্রীনিমাইয়ের দৌরাত্ম ও চাপল্য একেবারে অন্তর্হিত হইন এবং ৭ শ্রীচৈতন্য বৃদ্ধ মিশ্র তিনি ধীব ও শান্ত ভাবে পিতামাতাব সেবাশুদ যায ও পাঠে মনােনিবেশ কবিলেন। তাহাবাও ক্রমে নিমাইযেব গুণে মুগ্ধ হইয়া বিশ্বৰূপের বিব- ব্যথা একেবাবেই ভুলিয়া গেলেন। এইকালে পুত্রের এইরূপ অনন্যসাধাৰণ জ্ঞান- স্পৃহা দেখিযা সাহলাদে তাহাকে গঙ্গাদাস পণ্ডিতেৰ টোলে ব্যাকরণ পডিতে দিলেন। শীঘ্রই অলৌকিক মেধা-বলে ও তাসাধারণ অধ্যবসায- গুণে তিনি গঙ্গাদাসেব টোলে সর্বপ্রধান ছাত্র হইযা উঠিলেন। এই সময তাহাৰ বয়স মাত্র নয় বৎসব , সুবাং জগন্নাথ হাব উপনযন দিবাব আযােজন কবিলেন। এই উপনীত কালে মণ্ডিতকেশ বক্ত-বস্ত্র-পবিহিত নবীন ব্রহ্মচারীকে যখন পিতা শাস্ত্রসম্মত ক্রিদিব পব কর্ণে মন্ত্র দিলেন, তখন শি নিমাই আবিষ্ট হইয়া হুঙ্কাব ও গৰ্জন কবিতে লাগিলেন, এবং অবিলম্বে মূচ্ছিত শ্রীচৈতন্য হইয়া ধবায় পতিত হইলেন। সকলে দেখিলেন, তখন সেই দেব-শবীব হইতে অলৌকিক তেজ বাহিব হইতেছে ও অ, পুলক, বৈবর্ণাদি অষ্ট সার্বিক ভাব পুনঃ পুনঃ দেহে সঞ্চারিত হইতেছে এবং অবিবল ধাবায নযন হইতে আনন্দাশ্রু বহিযা পৃথিবী সিক্ত হইতেছে। উপস্থিত পণ্ডিত- মণ্ডলী নিযেব এই অবেশ ভাব দেখি স্তম্ভুিত হইলেন এবং তাহাব দেহে যে গােপাল বিবাজ:কবিতেছেন, ইহাই সকলের ধাৰণা হইল। তাই তাহাবা সেইক্ষণ হইতে নিমাযেগৌরহবি” নামকৰণ কবলেন। নিমাইযের একাদশ বর্ষ• বয়ঃক্রম কালে ভাগ্যবান মিশ্র জগন্নাথ ইহধাম ত্যাগ কবিলেন। পিতৃবিযােগে বালক নিমাই মহাদুঃখে নিপতিত হইলেন , কিন্তু দুঃখে পডিযাও তাহাব দ্যিানুবাগ কিছুমাত্র হ্রাস হয় নাই, ববং এই সময হইতে শ্রীচৈতন্য ছিল। তিনি আবও নিবিষ্টচিত্তে পাঠাভ্যাস করিতে লাগিলেন। এই অল্প বয়সে ঘবে বসিযা নিমাই একখানি ব্যাকবণের টিপ্পনী লিখিয়াছিলেন। উহা সেই তদানীন্তন নবদ্বীপের ন্যায় বিদ্বজ্জন-সমাজে এবং পূর্ববঙ্গের সর্বত্র বিশিষ্টৰূপে আদৃত হইযা- ব্যাকরণ পাঠ সমাপনান্তে ন্যায়শাস্ত্র অধ্যযনেব নিমিত্ত তিনি বাসুদেব সার্বভৌমের টোলে প্রবেশ করিলেন। সার্বভৌমের চতু পাঠী তখন নদীযার মধ্যে সর্বপ্রধান, শত শত বিদ্যার্থী তাহার টোলে অধ্যয়ন কবিতেন। এই সকল ছাগণের মধ্যে দীধিতির গ্রন্থকাব মিথিলার গৰখৰবকারী রঘুনাথ তখন সর্বপ্রধান। কিন্তু এই বালক নিমাইযেব সর্বতােম্মুখী প্রতিভায় তিনিও শীঘ্র মলিন হইযা পড়িলেন। এই সমযে চতুর্দিক হইতে এই বপবান সুপণ্ডিত সুপাত্রের উপর কুমারী কন্যাগণের শ্রীচৈতন্য পিতামাত্রেই দৃষ্টি পডিল। শচী দেবীও পুত্রকে বিবাহ বন্ধনে বদ্ধ কবিতে ব্যস্ত হইলেন এবং অনতিবিলম্বে নবদ্বীপনিবাসী বল্লভ আচার্যের সাক্ষাৎ কমলাস্বৰূপা কন্যা লক্ষীদেবীর সহিত পুত্রকে পরিণয-সূত্রে বদ্ধ কবিলেন। এই সমযে নিমাইমুকুন্দসঞ্জয নামক জনৈক ধনাঢ্য ব্রাহ্মণের সুবৃহৎ চণ্ডীমণ্ডপে স্বয়ং এক চতুষ্পঠী স্থাপনা কবিলেন। শীঘ্রই এই তরুণ অধ্যাপকের পাণ্ডিত্য ও প্রতিভা দিকে দিকে পরিব্যাপ্ত হইয়া পডিল এবং অসংখ্য ছাত্র নিত্য নিত্য যােগদান করতঃ তাহাব চতুষ্পঠী পূর্ণ কবিল। এইরূপে দিন দিন তাহার টোলের শ্রীবৃদ্ধি হইতে লাগিল। এই সময়ে নবদ্বীপের বিদ্বজ্জন-সমাজ আলােড়িত করিযা নবদ্বীপের জ্ঞানগরিমাকাশে দিগ্বিজয়ীরূপী এক ধূমকেতুর আবির্ভাব হইল। দিদ্বিজযী পণ্ডিত কেশব ১১ শ্রীচৈতন্য কাশ্মিবী ভারতবর্ষীয় যাবতীয় পণ্ডিত-প্রধান স্থান জয কবতঃ বহুপৰিকব ও শিষ্য সমভিব্যাহাবে নদীযায় উপস্থিত হইলেন। নবদ্বীপে যশােহবণ করিযা বিদ্যাবাজ্যে একচ্ছত্রী হওযাই তাহাব অভিলাষ। তিনি নবদ্বীপে“অটোপটঙ্কাবে” ঘােষণা কবিলেন,—“যদি কোন পণ্ডিত সাহসী হন, তবে আমার সহিত বিচ'বে প্রবৃত্ত হউন , নতুবা সমগ্র নবদ্বীপ আমাকে জযপত্র লিখিযা দিউন।” সব- স্বতীর সাক্ষাৎ ববপুত্র কেশবেব পহিত বিচাব কবিতে হইবে ভাবি, নবীন ও প্রবীণ সমস্ত অধ্যাপক ভীত হইলেন। বুঝিবা এতদিনে নব- দ্বীপেব যশােহানি হয় কিন্তু তরুণ নিমাই সহাস্য আস্যে গঙ্গাতীবে তঁাহাব সহিত বিচাবে দিগ্বিজ- যীকে পরাস্ত কবি নদীযাব যশঃ-শ্রী অক্ষুন্ন রাখিলেন। দিগিজবীও. পরাজিত হইব। তাহাব নবট বিদায় লইয়া দণ্ড-কমণ্ডলু ও কৌপিন গ্রহণ শ্রীচৈতন্য পূর্বক শ্রীকৃষ্ণ ভজনে প্রাণাৰ্পণ কবিলেন। দিগ্বিজী বিজযেব পর হইতেই প্রভু নবদ্বীপের সর্বপ্রধান পণ্ডিত বলিয়া গণ্য হযেন। এই তরুণ অধ্যাপকের অনন্যসাধারণ পাণ্ডিত্য ও প্রতিভামণ্ডিত হাস্যে ও শ্লেষে যখন নবদ্বীপ সমগ্র বিবুধজন ব্যতিব্যস্ত, যখন ব্যাকরণ ও ন্যাযেব অতলগর্ভে ভক্তিব কথা ডুবিযা যাইতে- ছিল, তখন এক দিন এমন একটা ঘটনা সংঘটিত হইল যে, নিমাইযেব জীবনেব স্রেতি অন্য পথে প্রধাবিত হইল। এই সময়ে এক দিন নিমাই যখন সশিষ্য বাজপথে যাইতেছিলেন, তখন মুকুন্দ দত্তও গঙ্গাস্নানে যাইতেছিলেন। মুকুন্দ চট্টলবাসী এক জন বৈদ্যকুমাব, নবদ্বীপে অধ্যয়নার্থ আগমন কবেন এবং কিয়দ্দিন প্রভুর সহপাঠীও ছিলেন। এক্ষণে সর্বশাস্ত্রের কচকচি পরিত্যাগ করিয়া বিশুদ্ধ ভক্তিমার্গেব পথিক হইযা পরম হবিভক্তি শ্রীচৈতন্য পরায়ণ হইয়াছিলেন এবং সুগায়ক বিধায় অদ্বৈ- তের সভায কীৰ্ত্তন করিতেন। মুকুন্দ হঠাৎ নিমাইকে রাজপথে দেখিয়া পাছে বহির্মুখ সম্ভাষণ করিতে হয়, এই ভয়ে তটস্থ হইলেন ও অন্যপথে প্রস্থান করিলেন। পরম মেধাবী নিমাই তাহা বুঝিতে পাবিয়া শিষ্যগণকে কহিলেন “দেখ দেখ, মুকুন্দ আমাকে অবৈষ্ণব মনে করিয়া পলাইয়া গেল, কিন্তু তােমাদিগকে বলিযা রাখতেছি এমন বৈষ্ণব আমি হইব সংসারে, অঙ্গভব আসিবেক আমার দুয়ারে।” এই সময হইতেই নিমাই ধর্মাচবণে মনাে- নিবেশ কবিলেন। শ্রীমদ্ভাগবতাদি 'ভক্তিগ্রন্থ তাহার কণ্ঠস্থ থাকিলেও তিনি ভক্তির যাজনা একদিনও কলেন নাই। এক্ষণে এই ঘটনার পর হইতেই তাহাতে একজন শুদ্ধাচারী বৈষ্ণবের লক্ষণ সকল প্রকাশ পাইতে লাগিল। এই সময়ে 2 ১৪ তৈম পরম ভাগবত শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী নবদ্বীপে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তাহার সহিত প্রভুর মৈত্রি জন্মে এবং দুইজনে সর্বদা ভক্তিশাস্ত্র-পঠন ও ভক্তি-কথা-প্রসঙ্গে কালাতিপাত কবিতেন। কিন্তু ঈশ্বরপুৰী শীঘ্রই নবদ্বীপ ত্যাগ কব্যি তীর্থ ভ্রমণে যাত্রা কবেন। এখন নিমাইয়েব বয়স অনতিক্রান্ত বিংশতি বৎসর। এই অল্প বয়সেই তাহাব আচাৰ্যখ্যাতি দিগদিগন্তে পরিব্যাপ্ত হই- যাছিল। এই সমযে দল প্রভু একবার পূর্ববঙ্গ পরিভ্রমণে ইচ্ছা করেন, এবং জননী ও পত্নী শ্ৰীমতী লক্ষমীদেবীর নিকট বিদায় লইযা সশিষ্য পূর্ববঙ্গে যাত্রা করেন, এবং শ্রীহট্ট, চট্টগ্রাম ও পদ্মাতীরবর্তী স্থানসমূহ পরিভ্রমণ করিযা সজ্জন, দুজ্জন, আচারী, বিচারী, পতিত, অধম, নীচ, কাঙ্গাল, যে যেখানে ছিল, সকলকে অকাতরে হরিনাম-নিধি বিলাইয়া দেশে প্রত্যাবর্তন করি- শ্রীচৈতন্য লেন। নিমাই ঘবে ফিব্যি মাতৃচবণে প্রণত হইলেন। পবে যখন শুনিলেন যে, তাহাব প্রিয়তমা সহধর্মিণী তাহাব বিচ্ছেদকালের মধ্যে সর্পদংশনে বৈকুণ্ঠলাভ কবিয়াছেন, তখন কিযৎ- কাল স্তব্ধ হইযা বহিলেন। পবে ধৈৰ্য্যাবলম্বন পূৰ্ব্বক শশাকাকুলা জননীকে প্রবােধ দিলেন। মাতা আপাতঃ দৃশ্যে প্রবুদ্ধ হইলেন বটে, কিন্তু সরলমতি পুত্রের ভবিষ্যৎ ভাবনায় বিশেষ চিন্তিত হইলেন। তাহাৰ আন্তবিক ভয, পাছে বিশ্বৰূপে ন্যায় নিমাইও সংসাবে বীতবাগ হয়। বিশেষ পুত্রেব এই নবযৌবনে তাহাকে, বন্ধনহীন তাব- স্থায সংসাবে বাখিতে শচী মাতাব বড় ভয হইল, তাই অনতিবিলম্বে নিমাইয়েব দ্বিতীয় বার বিবাহ দিতে তিনি উদ্যোগী হইলেন। মাতৃ- অনুক্ত শিশুপ্রকৃতি নিমাইও মাতৃ-আদেশে রাজপণ্ডিত সনাতন 'মবে সুশীল কন্যা সাক্ষাৎ শ্রীচৈতন্য লক্ষীরূপিণী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর পাণিগ্রহণ করিলেন। বিবাহের পর প্রায় দুই বৎসর কাল নিমাই নবদ্বীপের টোলে অসংখ্য ছাত্রকে বিদ্যাদান করতঃ স্থিবভাবে সংসারে থাকিয়া শচীব মনে হর্ষোৎ- পাদন করিলেন। এই সময়ে, অর্থাৎ তাঁহার একবিংশতি বর্ষ বসে এক দিন তিনি পিতৃঋণ পরিশােধাৰ্থ গযাক্ষেত্রে যাইবার নিমিত্ত শচীব অনুমতি প্রার্থনা কবিলেন। স্নেহময়ী শচীদেবী এ বিষযে পুত্রকে নিষেধ করিতে পারিলেন না , তাই সঙ্গে নিমাইয়ের মেসসা চন্দ্রশেখর ও তাহার কতিপয় শিষকে প্রেবণ করিলেন। তাহার আশ্বিন মাসে বাটী হইতে বাহির হইয়া পদব্রজে বহুপথ অতিক্রম কবি শ্রীধাম গযা প্রবেশ করিলেন। এই পবিত্র গযাক্ষেত্রে তাহার সহিত পূর্বপরিচিত ভাগবতাগ্রগণ্য শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর ১৭ ~ == শ্রীচৈতন্য । - মিলন হইল। ভক্ত পুরীর ভক্তির উচ্ছাস দর্শনে ভক্তাবতাব নিমাই ব্যাকুল হইয়া পড়িলেন। ভক্তিম ঈশ্বরপুবীব দেবমূৰ্ত্তি তাহার চক্ষে অপা- র্থিব প্রতীয়মান হইল; আর অমনি আকুলকণ্ঠে ব্যাকুল হৃদয়ে তিনি পুরীর নিকট দশার মন্ত্র গ্রহণ কবিযা সুগভীব, সুপবিত্র, সুমহান, সুমধুর কৃষ্ণপ্রেমসাগবে নিমজ্জিত হইলেন। পরে শ্ৰীমন্দিরে শ্রীপাদপদ্ম দর্শনে আসিলে গয়ালী বিপ্রগণ ভক্তিগদগদকণ্ঠে যখন শ্রীপদেব প্রভাব বর্ণনা করিলেন, তখন সেই বিরিঞ্চিবাঞ্ছিত, অজ-ভৰপূজিত, যােগিগণ-দুর্লভ শ্রীপদ দেখিতে দেখিতে প্রেমাবেশে ঐনিমাই একেবারে মূচ্ছিত হইযা শ্রীপুর বক্ষে পতিত হইলেন। পরে সঙ্গী- গণের যত্নে যখন মুচ্ছাভঙ্গ হইল, তখন অজস্র পুলকা, গােমুখী-নিঃসৃত গঙ্গাম্ভধারানিভ তাঁহার নযন বহিয়া বদনে, বদন হইতে বলে, বক্ষ হইতে 2.s- ১৮ । শ্রীচৈতন্য সহস্র ধারায় ধরায পতিত হইয়া, সেস্থানকে জলময় করিল। উপস্থিত সকলে সেই পবিত্র বারিতে স্নাত হইয়া জীবনে সর্বপ্রথম এরূপ আশ্চৰ্য্য প্রেমবিকাশ ও অপূর্ব অশ্রুপাত দর্শন করিতে লাগিলেন। যখন কাঁদিতে কাঁদিতে আর্ত-কণ্ঠে নিমাই চন্দ্রশেখবাদি সঙ্গিগণকে কহিলেন“তােমরা দেশে প্রত্যাবর্তন কর, আমি সংসারে যাইব না , আমি প্রাণেশের উদ্দেশেমথুয চলিলাম, আমার বৃদ্ধা জননীকে তােমরা সান্ত্বনা করিও,”। তখন তাহারা বড়ই বিপদে পডিলেন, পরে বহুযত্নে অনেক প্রবােধ দিয়া ও একরূপ বল প্রকাশ করিযাই তাহারা এই আবেশম্য ভক্তির প্রতি- মাটীকে পৌষ মাসের শেষ ভাগে নবদ্বীপে ফিরাইয়া আনিলেন। . " ১৯ মধ্যলীলা নবদ্বীপে প্রত্যাবর্তন কবিলে সকলে দেখিলেন, সেই উদ্ধতের শিবােমণি নিমাইযেব পূর্ব ভাব একেবারে অন্তর্হিত হইয়াছে। গৃহে আসিলেও নিমাই গব সেই সুমধুর স্মৃতি মুহূর্তের জন্যও বিস্মৃত হইতে পাবিলেন না। পবন্তু এই সময়ে তাহাতে প্রেমােন্মাদেব লক্ষণ সমুদায় প্রকাশ পাইল। এই দিব্য প্রেমােন্মাদের মধ্যে যখন বাহ জগৎ তিনি একরূপ বিস্মৃত প্রায, তখন এক দিন তাহার অসংখ্য ছাত্র, তাঁহাকে বেষ্টন কবতঃ পাঠ, গ্ৰহণ করিতে আসিল। তিনিও সকলকে পাঠ দিতে উদ্যত হইলেন। কিন্তু সে সময়ে তিনি যাহা কিছু ব্যাখ্যা করিতে লাগিলেন, সে সমস্তই হবিপক্ষে হইতে লাগিল, এভাবও আবার তাহার অধিক দিন স্থায়ী হইল না।
শ্রীচৈতন্য অল্প দিনের মধ্যেই তিনি ছাত্রগণের নিকট বিদায় গ্রহণ করিযা সর্বকালের জন্য কৃষ্ণপ্রেমসাগরে ভাসমান হইলেন। তঁাহার ভাগ্যবান শিষ্যগণও সেই দিন হইতে তাহাব ভক্তশ্রেণী মধ্যে গণ্য হইলেন এবং তাঁহাদের লইযা তিনিও অপূর্ব নাম-কীৰ্ত্তন সৃষ্টি করিলেন। শীঘ্রই এই শুভ- সংবাদ নবদ্বীপস্থ পণ্ডিতমণ্ডলীর মধ্যে প্রচারিত হইল, আব শ্রীবাসাদি ভক্তগণ আসিয়া একে একে তাহার পার্শ্বে মিলিত হইতে লাগিলেন। এই ঐবাসের গৃহেই নিমাই হরিসভা স্থাপন করিলেন ও সমস্ত দিবারাত্রি হবিগুণ কথন, ও নাম সংকীর্তনে অতিবাহিত করিতে লাগিলেন। এইরূপে প্রতিদিন নিতাই, অদ্বৈত্ব,হরিদাস, গদাধর, শ্রীবাস,মুরারী,মুকুন্দ,নরহবি,পুরুষােত্তম, পুণ্ডবীকবিদ্যানিধি, গঙ্গাদাস, দমােদর, গােবিন্দ, দাসুঘােষ, বক্রেশ্বব, চন্দ্রশেখর প্রভৃতি শত শত ২১ Hr = , ** { শ্রীচৈতন্য ভক্ত আসিযা প্রভুব সহিত মিলিতে লাগিলেন। তাঁহারা সকলে যখন-প্রেমে মত্ত হইয়া শ্রীবাসের আঙ্গিনায় নাম কীর্তনে বত হইতেন, তখন নবদ্বীপস্থ কতকগুলি কুচরিত্র অসূযাপবাণ ব্যক্তি বহির্দেশ হইতে নানাবিধ অত্যাচার ও চীৎকার করিয়া তাহাদিগের তপে বিপ্ন জন্মাইতে লাগিল। এই দলের প্রধান ছিল দুই বন্ধু। তাহারা সাধাৰণত জগাই মাধাই নামে খ্যাত। ইহাদের মত পাতকী তখন সমগ্র নদীযায় আর ছিল না। ব্রাহ্মাবংশে জন্মগ্রহণ করিয়া তাহারা পাপের শেষ সীমায় উপনীত হইয়াছিল, তাই দয়াল নিত্যানন্দ ও হরিদাস, ইহাদের উদ্ধার্থ দৃঢ় সংকল্প করিলেন। এক দিন নিত্যানন্দ প্রভৃতি ভক্তগণ যখন জীবে নাম বিলাইযা ফিরিতেছিলেন, তখন গাই ও মাধাই আসিযা সহসা তাহাদের আক্রমণ করিল। মাধাই একটী ভগ্ন কলসীর } ২২ জগাই-মাধাই L ব্রাহ্মণ হইয়া মদ্য গােমাংস ভক্ষণ ডাকা চুরি পব গৃহদাহেস সর্বক্ষণ, দিনে নাহিক দেখা বলয়ে কোটাল, মদ্য মাংস বিনা আর নাহি যায় কাল। শ্রীচৈতন্য ভাগবত
No text on this page.
* ১' । ৭ শ্রীচৈতন্য কাণা লইযা শ্ৰীনিত্যানন্দ প্রভুর মাথায় এমন দারুণ আঘাত করিল যে, ভঁহাব মস্তক হইতে অজস্র শােণিতধা বহিতে লাগিল। নিতাই সে দারুণ আঘাত উপেক্ষা কবি প্রেমবিহ্বল হৃদয়ে মাধাইকে বক্ষে লইতে উদ্যত হইলে মদোন্মত্ত মাধাই আবার তাঁহাকে প্রহার কবিতে আসিল। শ্রীনিত্যানন্দের দেবদুলভ চরিত্র-বলে পাষাণও বিগলিত হইল। জগাই এতাবৎ মন্ত্রমুগ্ধবৎ মাধাইয়ের কাৰ্য্য দর্শন করিতেছিল, এক্ষণে যখন দেখিল,সে পুনরায় শ্রীনিত্যানন্দকে প্রহার করিতে উদ্যত হইয়াছে, তখন ক্ষিপ্রগতি আসিয়া বজ্র- মুষ্টিতে মাধাইযেব হস্ত ধারণ পূর্বক তাহাকে ভৎসনা করিল। লােকে আসিযা যখন প্রভুকে এই সংবাদ জ্ঞাপন করিল, তখন তিনি লােক- শিক্ষার্থ যৎপরােনাস্তি কোপ প্রকাশ করিযা,সেই দুই পাষণ্ডকে শাস্তি দিতে উদ্যত হইলে, অক্রোধী A ৮. i Hr --- শ্রীচৈতন্য T ক pm পরমানন্দ শ্রীনিত্যানন্দ আসিয়া প্রভুর নিকট তাহাদের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা কবিলেন। প্রভুব কৃপায় এই দুই মহাপাতকী ব্ৰহ্মাব দুর্লভ পদ প্রাপ্ত হইল। জগাই মাধাইযেব ন্যায ধনশালী, দুর্দান্ত ও প্রবলপ্রতাপান্বিত ব্যক্তিদ্বয়ের এইরূপ অভাবনীয় পবিবর্তনে যদিও অনেকের চিত্ত আলােড়িত হইল, তথাপি দুই চারি জন খলস্বভাব ব্যক্তি কিছুতেই শ্রীগৌবঙ্গের এরূপ নির্ভীকতা ও সম্মান সহ্য করিতে পাবিল না, তাহাবা তদানীন্তন নদীয়ার মুসলমান কাজীব নিকট যাইয়া তাহার বিরুদ্ধে কত প্রকার অভিযােগ কবিল। কাজীও স্বীয় স্বাভাবিক দৈত্য-প্রকৃতি বশে চালিত হইয়া নবদ্বীপে সংকীৰ্ত্তন নিষেধাজ্ঞা প্রচার কবিল। তখন হরিনামমূৰ্ত্তি শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তের কারণে উদ্বিগ্ন হইযা প্রচার করিলেন যে, “তিনি অদ্যই , ২৪ শ্রীচৈতন্য কাজী দমনে গমন করিবেন, ভক্ত যে কেহ আছেন, আসিযা মিলিত হউন।” শ্রীমুখ হইতে এই অদেশ প্রচার হইবামাত্র বিদ্যুৎগতি এসংবাদ দিকে দিকে বা হইল, আর অমনি অপরাহ্ন সমযে একে একে, দশে দশে, শতে সহষে, লক্ষ লক্ষ লােক এক এক দীপ ও তদুপযুক্ত তৈলাদি লইযা প্রভুর বাটী বেষ্টন করিতে লাগিল। কাজী এতাবৎ উদ্বিগ্ন হইলেও বিশেষ ভীত হযেন নাই। এক্ষণে যখন সেই অসংখ্য কণ্ঠের হরিধ্বনি ক্রমে তাঁহার নিকটবর্তী হইতে লাগিল, তখন তিনি ভয়ে অস্থির হইয়া উঠিলেন ও সদলে পলায়ন করিতে চেষ্টা কবিলেন, কিন্তু এই লক্ষ লক্ষ প্রেমাবিষ্ট ভক্তের চক্ষু হইতে, ঐ উজ্জ্বল আলােকে অল্প সংখ্যক মুসলমান কোথায় পালা- ইবে? সুতবাং কাজী আর প্রচ্ছন্নভাবে থাকা বৃথা মনে করি গললগ্নীকৃতবাসে দীনভাবে - - ২৫ শ্রীচৈতন্য শ্রীগৌরাঙ্গের পদে শরণ লইল, তখন অক্রোধী শ্রীগৌরাঙ্গ লৌকিক ক্রোধ অপসারণ কবি কাজীকে সম্বর্ধনা কবিলেন। এই কাজীর সমাধি আজ পর্যন্ত বর্তমান মায়াপুর গ্রামে অদূরে উত্তরপূর্ব কোণে বিদ্যমান রহিয়াছে। একটী সুবৃহৎ গােলােক চাপাব বৃক্ষ ঐ সমাধিব উপর জন্মিযা সুশীতল ছাযা দানে কবরটীকে শীতল রাখিযাছে। অনুসন্ধানে জানা গিয়াছে এই কাজীর নাম ছিল “মৌলানা-সিরাজ-উদ্দিন” কথিত আছে, ইনি নদীয়ায় কাজী পদে প্রতিষ্ঠিত গৌড়েশ্বর হুসেন সাহের শিক্ষক পদে নিযুক্ত ছিলেন। এইরূপে প্রভু কাজী দমন পূৰ্ব্বক হরিধ্বনি দিয়া তাহার অসংখ্য ভক্তবৃন্দকে আশ্বস্ত করিলেন, এবং নবদ্বীপে নাম-মাহাত্ম পূর্ণরূপে স্থাপনা করিয়া গৃহে প্রত্যাবর্তন করিলেন। এই অপূর্ব হইবার পূর্বে ২৬ です。 ・, 2 す ・, 3 こういう
No text on this page.
১৮ শ' শ্রীচৈতন্য । । U ঘটনার পর হইতে গৌরহরির বাহজ্ঞান ক্রমশঃই হ্রাস হইয়া আসিতে লাগিল। এখন কখন নামরসে বিভাের থাকেন, আবার কখন আবিষ্ট হইযা বিষ্ণুখট্টায় উপকোন পূর্বক ভক্তবৃন্দের পূজার্চনা গ্রহণ কবেন। কখন বা নানাবিধ অলৌকিক ক্রিযাব দ্বারা সকলকে চমৎকৃত কবেন। শ্রীবাসের মৃত পুত্রের প্রা-দান, সহ- রােপিত বৃক্ষ হইতে অলৌকিকপে ফলােৎপাদন, সদ্য অস্রাধ্য ব্যাধি বিনাশ, স্পর্শ মাত্রেই অপ্রেমিকের প্রেমলাভ ইত্যাদি কত শত অত্যা- 6্যৰ্য ব্যাপার এই সময় সংঘটিত হইতে থাকে। কিন্তু সেই অলৌকিক প্রেমময় হৃদযের অপূর্ব ভাবােচ্ছাসের নিকট এ সকলের মুল্য কি ? এই সময তাহার বয়ঃক্রম চতুর্বিংশতি বৎসর মাত্র। এই বয়সে তাহার প্রেমবৈকল্য সাতিশয় বৃদ্ধি পাওযায়, তাহার দেহ-চেষ্টাদিও তিরােহিত ' ---- শ্রীচৈতন্য হ হয় , এমন কি দিবারাত্রির প্রভেদজ্ঞানও একে- বারে অন্তর্হিত হইয়া যায়, এবং তিনি সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণপ্রেমে তন্ময়তা লাভ করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁহার সংসারে বিবাগ উপস্থিত হইল, এবং দীন- দযাল প্রভু আসমুদ্র হিমাচল সমগ্রদেশে প্রেম বিলাইতে, বিশেষতঃ বিভিন্ন ধৰ্ম্ম-সম্প্রদাযী ও সন্ন্যাসীগণেব সান্নিধ্যলাভ করিতে, এবং মুখগণের মন হইতে বিদ্বেষ ভাব দূব কবিতে কঠোর সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ বাসনা করিলেন। ১৪৩১ শকে (১৫১৯ খ্রীষ্টাব্দে) উত্তরাযণ সংক্রান্তির গভীব নিশায় গােপনে গৃহত্যাগ করতঃ মাঘের দারুণ শীত উপেক্ষা করিযা, সন্তবণে গঙ্গা পার হইযা, শ্রীগৌরাঙ্গ কাঞ্চন নগরে (কাটোযায) উপস্থিত হইযা, কেশব ভারতীর সহিত মিলিত হইলেন। ভাবতী কিছুদিন পূর্বে একবার নদ্বীপে গিযাছিলেন। তখন শ্রীনিমাই তাহার ২৮ শ্রীচৈতন্য নিকট সন্ন্যাস গ্রহণেব প্রস্তাব কবেন, সুতরাং তাঁহাকে দেখিবামাত্র তিনি তাহার সকল্প বুঝিতে পারিলেন। এই সমযে ঐনিত্যানন্দ, শ্রীগদাদর, শ্ৰীমুকুন্দ, শ্রীচন্দ্রশেখবাচাৰ্য, ও শ্ৰীব্ৰহ্মানন্দ ঠাকুব প্রভুর অনুসন্ধানে বাহির হইযা কাটোযায় প্রভুব সহিত মিলিত হইলেন। তাহারা এবং সমবেত অসংখ্য জনশ্রেণী কাতরকণ্ঠে তাহাকে এই দারুণ সংঙ্কল্প পরিত্যাগের জন্য কত অনুৰােধ উপবােধ করিলেন , কিন্তু গৌবেব দার্চ দেখি অবশেষে তাহাবা সকলেই নিরস্ত হইলেন। তখন শ্রীগৌরাঙ্গ, চন্দ্রশেখর আচার্যের প্রতি বিধিযােগ্য সমস্ত অযােজনের ভারাৰ্পণ করিলেন। সমস্ত আয়ােজন শেষ হইলে শুভ সংক্রান্তিতে যখন শ্রীগৌরাঙ্গের মস্তক মুণ্ডনের জন্য ক্ষৌরকারকে আহ্বান করা হইল, তখন সেই নরসুন্দর, প্রভুর অলৌকিক রূপ-গুণে মুগ্ধ হইয়া, তাহার মস্তক ২৯ চৈতন্য । স্পর্শে সাহসী হইল না। পরে প্রভুর নিকটে আশ্বস্ত হইযা ও বর পাই সেই শােকাবহ কার্যে হস্তক্ষেপ করিল। এইরূপে প্ৰভু ক্ষৌরকাৰ্য্য সমাধা করতঃ গঙ্গাস্নান পূর্বক ভারতীর নিকট সন্ন্যাস মন্ত্র গ্রহণ কবিলন। সন্ন্যাস গ্রহণের পর প্রভুব আব এক জগন্মঙ্গল নাম হইল “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য”। দীক্ষার পর প্রভু প্রেমাবেশে আবিষ্ট হইয়া হুঙ্কার করিতে লাগিলেন ও বাহ- জ্ঞান-শূন্য হইযা যদৃচ্ছা গমন করিতে লাগিলেন। পরে কিয়দ্দিবস পথে পথে হবিনাম-নিধি বিলাইয়া প্রথমে ফুলিয়ায় হরিদাসের আশ্রমে, পরে শান্তিপুর অদ্বৈত আচার্য্যেব গৃহে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ভক্তবৃন্দ এমন কি, তাঁহার পূর্ব নিন্দুকগণও প্রভু সন্ন্যাসগ্রহণ করিযা অতি নিকটেই আসিযাছেন শুনিযা, প্রভুকে দেখিতে ফুলিয়া ও শান্তিপুর্গে আসিয়া মিলিতে লাগিলেন।
ন কবি ব, নহির উদ শ্রীচৈ
No text on this page.
শ্রীচৈতন্য তখন সমস্ত শান্তিপুরে এক হরিধ্বনি ব্যতীত আর কিছুই শুনা যাইতেছিল না। সেই সংখ্যাতীত ভক্তকণ্ঠের হরিধ্বনিতে তখন শান্তিপুর মুখরিত, কবির কথায়, তখন প্রেমের বন্যায় শান্তিপুর ডুবু ডুবু নদে ভেসে যায়।” এই আনন্দ-নৃত্যে কযেক দিবস অতিবাহিত করিয়া প্রভু মাতা ও ভক্তবৃন্দের নিকট বিদায় গ্রহণ করতঃ নীলাচল অভিমুখে যাত্রা করিলেন। { :
অন্ত্যলীলা। নীলাচল চন্দ্রের ইন্দু-বদন দর্শনেব জন্য উৎকণ্ঠিত হইযা, পথে সর্ব বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করিযা প্রভু পুরীব পথে অগ্রসর হইলেন। বহু পথ অতিবাহন কবি, তিনি তাহাব সমভিব্যাহারী শ্রীপাদ নিত্যানন্দ, পণ্ডিত জগদানন্দ, দামােদর পণ্ডিত ও মূকুন্দ দত্ত, এই চাবি জনকে লইয়া স্বচ্ছন্দে বেমুণায় উপস্থিত হইলেন। তথায় প্রেমানন্দে যামিনী যাপন কবিয়া তাহাবা বেমুনা ও কটকের মধ্যবর্তী স্থান যাজপুরে আসিলেন। তথা হইতে সাক্ষীগােপাল দর্শনে গমন করি- পর দিন কমলপুরে উপস্থিত হইযা মহাপ্রভু ভার্গ নদীতে স্নান-দানাদি সমাধা পূৰ্ব্বক কপােশর দর্শনে গমন করিলেন। শ্ৰীনিত্যানন্দ এই স্থানে প্রভুর সন্ন্যাসের চিন্ ও সফল দঃ লেন।
শ্রীচৈতন্য খানিকে ভগ্ন কবিযা নদী জলে ভাসাইয়া দিলেন, তদবধি সেই নদী “দণ্ডভাঙ্গা” নামে খ্যাত হইল। কপােতেশ্বব দর্শম কবি মহাপ্রভু আবাব চলিলেন। কমলপুর হইতে কিযদ্দর যাইতেই পুরীব মন্দিরের চূড়া সকল নয়নে উদ্ভাসিত হইল, আব সেই এত দিনের অভীষ্ট বস্তু দর্শনে মহাপ্রভু প্রেমাবেশে হুঙ্কার করিতে লাগিলেন। এইরূপ ভাবাবেশে পুরী প্রবেশ করিযা প্রভু চকিতের মধ্যে শ্রীজগন্নাথেব সম্মুখে যাইযা উপস্থিত হইলেন এবং লম্ফ দিয়া যেমন শ্রীমূর্তি স্পর্শ কবিলেন, অমনি প্রেমবিশ্বলিত হইযা ভাবাবেশে ঘূচ্ছিত হইয়া পড়িলেন। দৈব- যােগে সেই সময় ভুবনবিখ্যাত,নদীয়াব গোববববি, বাসুদেব সার্বভৌম তথায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেই নবীন সন্ন্যাসীর অপূর্ব প্রেমবিকাশ ও অলৌকিক ভাবাবেশ দেখি অজ্ঞাতসারে 5 E 1 e- শ্রীচৈতন্য । প্রভুকে প্রাণ সমর্পণ করিলেন। তাই যত্ন পূর্বক জগন্নাথের পবিকগণদ্বাবা বহন কবাইয়া প্রভুকে নিজ বাস ভবনে ' লইয়া আসিলেন। সগােষ্ঠী শ্রীচৈতন্য কিছু দিন সার্বভৌমের বাটীতেই অবস্থান করিলেন। নিমাইযের মধুর সঙ্গে বেদান্তবাদী শত শত সন্ন্যাসীর গুক, নদীযার পণ্ডিত বুলববি সার্বভৌমের মন ভক্তিপথে ধাবিত হইল এবং শেষে প্রভুকে বেদান্তমতে শিক্ষা দিতে যাইয়া তিনি স্বয়ংই ভক্তি বসে গলিযা যান ও প্রভুর ষড়ভুজ মূৰ্ত্তি দর্শনে স্তব করেন। সেই স্তবাবলী “চৈতন্য-শতক” নামে আজিও ভক্তের হৃদযে ভক্তির উচ্ছাস আনিয়া দিতেছে। এইরূপে পণ্ডিতকুলশের সার্বভৌম বিজিত হইলে ক্রমে বহু সন্ন্যাসী, দণ্ডী, মায়াবাদী পণ্ডিত ও অবিশ্বাস্য অনেকেই নির্বিচারে শ্রীগৌরাঙ্গপদে ব ৪ । . । স ৩৪
No text on this page.
দাক্ষিণাত্য পথে ‘কৃষ্ণদাস নামে এই সবল ব্রাহ্মণ ইহা সঙ্গে কবি সহ ধর নিবেদন , জল পাত্র বস্ত্র বহি তােমার সঙ্গে যাবে যে তােমার ইচ্ছা কর কিছু না বলিবে। a১r 6, = শ্রীচৈতন্য আত্মসমর্পণ করেন। এমতে নীলাচলে দুই মাস প্রেমানন্দে অতিবাহিত হইলে পর প্রভু এক দিন দক্ষিণ অঞ্চল ভ্রমণে ইচ্ছা প্রকাশ কবতঃ ভক্ত- গণের নিকট স্বীয় অভিপ্রায় প্রকাশ কবিলেন, এবং শীঘ্র প্রত্যাগমন কখিবেন, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইয়া, একমাত্র কৃষ্ণদাস নামক জনৈক ভক্তিমান বিকে সঙ্গে লইযা ১৪৩২ শকেব (১৫১৯ খ্রঃ অঃ) বৈশাখ মাসে দাক্ষিণাত্য উদ্ধার কবিতে যাত্রা করিলেন, পথে অচিন্তনীয পবমাদ্ভূত,অলৌ- কিক ঐশীশক্তি প্রকাশ কবি প্রভু দেহ চেষ্টাদি বিরহিত হইযা নিতান্ত দীনবেশে দাক্ষি ণাত্য ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। যখন তিনি কূৰ্ম্মতীর্থে উপনীত হইলেন, তখন বাসুদেব নামে একজন মহাব্যাধিগ্রস্ত ভক্তিমান ব্রাহ্মণ আসিয়া প্রভুর শরণাপন্ন হইলেন। দলঠাকুর তাহাকে নিতান্ত কাতর দেখি সেই পুতিগন্ধময়, কীড়া- শ্রীচৈতন্য সঙ্কুল ক্ষতবিশিষ্ট ব্রাহ্মণকে গাঢ় আলিঙ্গন প্রদানে ধন্য করিলেন। ব্রাহ্মণও দেবদুর্লভ অঙ্গে স্পর্শমুখ প্রাপ্ত হইয়া তৎক্ষণাৎ দিব্য দেই লাভ কবতঃ প্রভুর চরণে আত্মবিক্রয় করি- • লেন। এইরূপে অবিচারে পতিত, অধম, দুৰ্জ্জন, কাঙ্গাল সকলকে সমভাবে 'কৃপাপূর্বক উদ্ধার করিযা প্রভু জিযড নৃসিংহাদি তীর্থ দর্শন করি ক্ষীণসলিল গােদাবী তীবে উপনীত হইলেন। পবে গােদাবরী পার হইযা রাজমাহীন্দ্রপুরে গমন কবিলেন এবং তথায় রসিকুশেখর বামানন্দের সহিত মিলিত হইলেন। রামানন্দব মধুর সঙ্গে দশবাত্রি অতিবাহিত করিয়া এবং তাঁহাকে আপ- নাব ভুবনানন্দ মঙ্গলময ৰূপ প্ৰদৰ্শন কবি মহাপ্রভু পুনরায় তীর্থ ভ্রমণে বহির্গত হইলেন। পূর্বের ন্যায নাম কীৰ্ত্তন কবিতে করিতে প্রভু যে পথে চলিতে লাগিলেন, তাহাব চতুঃপার্শ্বস্থ শ্রীচৈতন্য গ্রামে অমনি অনুভবনীয় ভাবে প্রেমেব ঝটিকা বহিতে লাগিল, যে কেহ তাহাব দর্শনলাভ কবি- লেন, তিনিই প্রেমে মত্ত হইলেন, আবাব তাহাকে যিনি দর্শনলাভ কবিলেন, তিনিও প্রেমে মত্ত হইলেন , আবাব তাহাক যিনি দর্শন বা স্পর্শ কবিলেন, তঁাহাবও ঐরূপ অবস্থা হইল। এই- ৰূপে সমগ্ৰ দাক্ষিণাত্যে অল্পকালের মধ্যে বিনাম প্রচাবিত হইল। প্রভু রামানন্দের নিকট বিদায় লইযা মল্লিকার্জুনীতীর্থ, অহােবল, সিদ্ধিবট, স্কন্দক্ষেত্র, ত্রিমট, বৃদ্ধাশী, ত্রিপদিমল্ল, বেঙ্ক- টার, পানবুসিংহ, শিবকাঞ্চি, বিষ্ণুকাঞ্চি, ত্রিমল্ল প্রভৃতি স্থান পবিভ্ৰমণ কবিতে লাগিলেন ও বহুতর বামাযিৎ, বামানুজ, শিব, বৌদ্ধ, দণ্ডী প্রভৃতিকে উদ্ধার করিযা ক্রমে কাবেরী তটে উপনীত হইলেন, তথায় অবগাহন করিযা শ্রীরঙ্গক্ষেত্রে প্রবেশ কবিলেন, এখানে বেঙ্কট শ্রীচৈতন্য ভট্ট নামে একজন ভক্তের গৃহে রহিয়া তিনি চাতুর্মাস্য ব্রত উদযাপন করিলেন। অনন্তব ঋষভ পর্বতে পৰমানন্দ পুবীব সহিত সাক্ষাৎ কব্যি কামকোষ্টি, দক্ষিণ মথু, মহেন্দ্ৰ শৈল, সেতুবন্ধ ফতীর্থ, পঞ্চাশ্ববা, দ্বৈপায়নী, কোলা- পুর, পাণ্ডুতীর্থ, মলয় পর্বত প্রভৃতি অতিক্রম কবি মল্লার দেশে উপনীত হযেন। এখানে ভট্টমারী সম্প্রদায়েব কযেক ব্যক্তি শ্রীপ্রভুব সঙ্গী কৃষ্ণদাসকে প্রলােভিত করে, প্রভুতাহাদেব মাযা হইতে তাহাব উদ্ধার করেন। ক্রমে মাদ্রাজ অঞ্চল হইতে নর্মদা তীরে বহু তীর্থ ভ্রমণ কবি, তিনি বােম্বাই, প্রদেশস্থ সােলাপুরে উপনীত হযেন। এখান হইতে তিনি দ্বারকা গমন কবেন, পবে পা সবােবব, তাপ্তি নদী, ঋষ্যমুক, দণ্ড- কারণ্য, পঞ্চবটী, ও নাসিক, এ্যম্বক, ব্রহ্মগিবি, কুবাব প্রভৃতি পবিভ্ৰমণ করিযা রামানন্দের শ্রীচৈতন্য সহিত পুনৰ্ম্মিলিত হযেন, তথা হইতে পূৰ্বপথে আলাল নাথে প্রত্যাবর্তন করেন , এই আলাল- নাথ হইতে প্রভু সমভিব্যাহারী কৃষ্ণদাসকে নীলাচলে প্রেরণ কবিলেন, নিত্যানন্দাদি তাহার আগমনবার্তা প্রাপ্ত হই মহাকুতূহলে তথায়, আসিযা প্রভুর সহিত মিলিত হইলেন। প্রভুও তাঁহাদের প্রাপ্ত হইয়া তাঁহাদের সঙ্গে কীৰ্ত্তনবঙ্গে নীলাচলে প্রত্যাগমন করিলেন। এইরূপে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য শত শত যােজন পথ, অরণ্য, প্রান্তর গিরি, নদী আদি অতিক্রম করিয়া এবং পথিমধ্যে শৈব, বামা, বৌদ্ধ, এমন কি মুসলমান, পাঠান প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদাষী ও ধর্মাবলম্বী সহস্র সহস্র ব্যক্তিকে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষিত করিয়া এক বৎসব আট মাস ষডবিংশতি দিন পরে (১৫১১ খ্রীঃ ১৪৩৩ শকে) ৩রা মাঘ তারিখে পুরীতে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রত্যাবর্তনান্তে শ্রীচৈতন্য কাশীমিশ্রেব ভবনে রহিযা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নীলাচলবাসী অসংখ্য ভক্তবৃন্দের সহিত মিলিত হইলেন এবং তাহাদেব ভক্তিপূর্ণ পূজাদি গ্রহণ করতঃ তাহাদিগকে কৃতার্থ কবিলেন। এখানেই শ্রীচৈতন্যলীলার অর্ধপাত্র শিখি মাইতি বামানন্দের পিতা ভবানন্দ ও তাহার আব চারি পুত্র, প্রশ্ন মিশ্র এবং দুই পূর্ণপাত্ৰ স্বৰূপ দামােদব ও রামানন্দের সহিত প্রভু মিলন হয়। শ্রীপাদ অদ্বৈত প্রভু মহাপ্রভুব প্রত্যাগমনের কুশল- বার্তা পাইযা মহাদে মহােৎসবে বত হইলেন, পরে তিনি সমাগত ভক্তগণের ঐকান্তিক ঔৎসুক্যে বিচলিত হইযা শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আদেশ লইয়া, মুরারী, হরিদাস প্রভৃতি বহু স্ত্রীপুৰুষ ভক্ত ভিব্য'হাবে বথযাত্রার অব্যবহিত পূর্বে শ্রীচৈতন্য স্মরণ পূর্বক প্রভুমিলনে, নীলাচল উদ্দেশ্যে যাত্রা কবিলেন। নীলাচলে প্রাণাধিক ৪
No text on this page.
ভাবতবর্ষ মহাপ্রভু শ্রীশ্রীজগন্নাথ দর্শন ‘মুখখানি পূণিমাব শশী কিবা মন্ত্র জপে, বিম্ব বিড়ম্বিত ঠোট কেন সদা কাপে।”-নমনানন্দ, চৈতন্য শ্রীচৈতন্য প্রিয় প্রভুকে প্রাপ্ত হইযা ভক্তগণ সংকীৰ্ত্তনানন্দে দিন অতিবাহিত করিতে লাগিলেন। দেখিতে দেখিতে বথযাত্রাব কাল' আসিযা উপস্থিত হইল। ঐদিন প্রভু প্রত্যুষে স্নানাদি সমাপন করিযা ভক্তবৃন্দ সঙ্গে রথযাত্রা দর্শনে গমন করিলেন। সেই সুসজ্জিত পতাকাদি শশাভিত শ্রীশ্রীজগন্নাথ বিবাজিত অপূৰ্ব বখশ্রী দর্শনে প্রভু প্রেমাবিষ্ট হইযা নৃত্য করিতে লাগিলেন। ক্রমে বাহজ্ঞান বিবহিত হইয়া ভূলুণ্ঠিত হইলেন। এই সময়ে উৎকলাধিপতি রাজা প্রতাপরুদ্র,(যিনি বিষযী বিধায বহু চেষ্টাতেও এতাবৎ,প্রভুর কৃপালাভের সমর্থ হযেন নাই), দীন বৈষ্ণববেশে তথায় গমন কবি বাহ্ জ্ঞান বিরহিত প্রভুর পাদ সম্মাহন কবিতে আৰম্ভ কবিলৈন, এ শ্রীমদ্ভাগবৎ হইতে সমযােচিত এক শ্লোক পাঠ করিলে প্রেমের পাগল ঠাকুরটী ভাগবৎ, । ( শ্রবণে ৪১ লীচৈতন্য বাহ পাইয়া ও উল্লসিত হইয়া বাজাকে দৃঢ় আলিঙ্গন কবিলেন। এইরূপ নানা মহােৎসবে রথযাত্রা সমাপ্ত হইলে গৌড়ীয় ভক্তগণ কার্তিক মাহার উত্থান দ্বাদশী পৰ্যন্ত নীলাচলে বাস কবি- লেন, পবে শ্রীপ্রভুর আদেশে ক্রমে সকলে দেশে প্রত্যাবর্তন করিলেন। কেবল মাত্র গঙ্গাধর পণ্ডিত, হরিদাস ঠাকুব, পৰমানন্দপুবী, স্বরূপ, দামােদর প্রভৃতি দশ জন প্রভুর নিকট রহিলেন। ক্রমে তিন বৎসর অতিবাহিত হইল। গৌড়ীয় ভক্তগণও প্রতিবৎসর প্রভুদর্শনে নীলাচলে আসিতে লাগিলেন। এই তৃতীয় বৎসবে প্রভু যখন ভক্তগণকে বিদায় দিতে উদ্যত হইলেন, তখন তিনি শ্রীপাদ নিত্যানন্দের প্রতি আদেশ কবিলেন যে, প্রতিবৎসর নীলাচলে না আসিয়া তিনি গৌডে রহিযা আচণ্ডালে নাম বিলাইবেন। প্রভু এইরূপে আবও ২ বৎসর কাল নীলাচলে ৪২ শ্রীচৈতন্য অবস্থিতি করিলেন। অনন্ত সার্বভৌমাদি ভক্তগণের সম্মতিক্রমে গৌড হইয়া শ্ৰীবৃন্দাবন যাইবেন, একপ স্থিব করিযা বিজয়া দশমীর দিন প্রভাতে প্রভু নীলাচল চন্দ্রেব ইন্দুবদন দর্শন কবি শুভযাত্রা করিলেন। পরে কটকে আসিযা সপরিবাৰ প্ৰতাপুৰুদ্রকে কৃতার্থ করিয়া প্রভু নীলাচল ত্যাগ কবিয়া গৌডাভিমুখে যাত্রা কবিলেন এবং কিছুদিনে শ্রীপাট খডদহেব নিকট- বর্তী পাণিহাটী গ্রামে রাঘব পণ্ডিতের আলযে উপনীত হইলেন। এই রাঘব প্রভূব এক জন অতি প্রিযভক্ত ছিলেন। এখান হইতে তিনি শ্রীবাস পণ্ডিতের কুমারহট্ট নুতুন ভবনে উপ- স্থিত হইলেন। কুমারহট্ট (বর্তমান হালিসহব গ্রাম) শ্রীপাদ ঈশ্ববপুরীর জন্মস্থান, তা এখানে আসিয়া প্রভু দুর্লভ জ্ঞানে কুমারহট্টেব ধূলি-রেণু উত্তরীয় অঞ্চলে বাঁধিতে লাগিলেন। ভক্তপ্রধান ৪৩ চৈতন্য ভাগ্যবান্ শ্রীবাসকে কৃতার্থ কবি ভক্তগত প্রাণ প্রভু কাঞ্চনপল্লীব (বর্তমান বাচড়াপাড়া) শিবা- নন্দেব ভবনে গমন কবিলেন। তথা হইতে উক্ত গ্রামবাসী বাসুদেবের বাটী গমন কবিলেন । এই যে প্রভু নীলাচল হইতে শত শত ক্রোশ পথ অতিবাহন কবি। দেশে প্রত্যাবর্তন করিতে- ছেন, সে একাকী আসিতেছেন না , যে অপূৰ্ব্ব শক্তি প্রকাশ কবি তিনি দাক্ষি ত্যি প্রভৃতি হরিনাম-প্লাবিত কবিয়াছিলেন, এই সমগ্র পথেও সে শক্তিব পূর্ণ বিকাশ কবিযা চলিতেছেন, আর তাহাব সঙ্গে সংখ্যাতীত জনপ্রবাহ এক মহা আকর্ষণেব বলে পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিতেছে। প্রভু কাঞ্চনপল্লী ত্যাগ কবি নৌকাযােগে শান্তিপুতিমুখে যাত্রা কবিলেন, আর অমনি অসংখ্য লােক কূলে কূলে তাহার অনুসৰণ এইরূপ অসংখ্য ভক্ত পবিবেষ্টিত কবিল। ৪৪ শ্রীচৈতন্য শ্ৰীশ্ৰীঅদ্বৈতেব প্রাণনাথ শান্তিপুরে অদ্বৈত-মন্দিবে শুভাগমন কবিলেন বহুদিন পবে চিরবাঞ্ছিত বানিধিকে পাইয়া অদ্বৈতাদি ভক্তগণের যে মহানন্দ জন্মল চহা বর্ণনা করিবাব ভাষা নাই। শান্তিপুর হইতে নবদ্বীপচন্দ্র, শচীদুলাল, বিষ্ণুপ্রিযাবল্লভ নদীয়ার সর্বস্ব প্রভু নবদ্বীপের একাংশ বিদ্যানগবে আসিয়া উপনীত হইলেন। আব কিছু দিন এই চিরপ্রিয় ভূমিতে শান্তিতে থাকিবাব মানসে গােপনে সার্ব- ভৌমেব ভ্রাতা বাচস্পতিব গৃহে উপনীত হইলেন। বাচস্পতিগৃহদ্বারে বৈকুণ্ঠনাযক অতিথি প্রাপ্ত হইযা আনন্দে দিশেহাবা হইলেন,আর পুলকপূরিত অঙ্গে গােপনে প্রভুর সেবায় রত হইলেন। ক্রমে যখন প্রভুব নবদ্বীপ আগমন বার্তা চতুর্দিকে প্রা- রিত হইল, তখন দলে দলে লােক সকল আসিয়া বাচস্পতির গৃহ-প্রাঙ্গণ পূর্ণ ছবিতে লাগিল। ৪৫ শ্রীচৈতন্য দেখিতে দেখিতে প্রাঙ্গন পূর্ণ হইয়া গেল। তখন সকলে নিকটবর্তী বাস্তা ও মাঠে সমবেত হইতে লাগিল। ক্রমে যখন তাহাতেও স্থান সংকুলান হইল না, তখন লােকে অপথ, বন, জঙ্গল,বৃক্ষশাখা প্রভৃতিতে স্থান গ্রহণ কবিল। এইরূপে বিদ্যা- নগবে যখন মহাজনত হইল, তখন লীলাময় প্রভু বাচস্পতিব গৃহত্যাগ কবি গঙ্গার তটস্থ যুলিয়া- গ্রামে মাধবদাসেব বাটী যাইযা উপনীত হইলেন। এই যুলিযাতেই পরম ভাগবত দেবানন্দ ঠাকুবের অপরাধ ভঞ্জন হয়। তিনি পূর্বে মাযাবাদী ছিলেন, এবং শ্রীমদ্ভাগবতের ‘ভক্তিহীন ব্যাখ্যা কবিতেন। প্রভুর নবদ্বীপ বাসকালে দেবানন্দকে তিনি এ বিষযে উপদেশ দিলেও মােহান্ধ দেবানন্দ প্রভুকে চিনতে না পারিয়া তাহার কথা অবহেলা কবিয়াছিলেন। এক্ষণে ভক্ত শিরােমণি বক্রে- শরেব কৃপায় দিবানন্দ নিজের ভ্রম বুঝিতে ৪৬ শ্রীচৈতন্য পারিয়া প্রভুব চবণে শরণ লইলেন। দয়াময় প্রভুও তাহার সর্ব অপবাধ ক্ষমা করি,তাহাকে আপনাব সুশীতল বক্ষে গ্রহণ কবিলেন। দেবানন্দ তখন শুদ্ধমতি হইযাছেন, সুতবাং আপনাব সুখাপেক্ষা পবের সুখের প্রতি তখন তাহাব দৃষ্টি সমধিক, তাই প্রভুর এই কথায় সাহস পাইযা বব প্রার্থনা করিলেন যে, “যে কেহ এই ক্ষেত্রে আসিযা অপবাধ স্বীকারপূর্বক ক্ষমা প্রার্থনা কবিবে,প্রভু যেন অবিচারে তাহাব অপবাধ ভঞ্জন কবেন।” প্রভুও ভক্তিমান্ দেবানন্দের প্রার্থনায় তাহার অভিলষিত বর প্রদান করিলেন। তদ- বধি ফুলিয়া “অপরাধ ভঞ্জনেব পাট” বলিয়া খ্যাত হয়। কিন্তু কলির জীবে এমনি দুর্ভাগ্য যে, এই শ্ৰীপাটের নিদর্শন নবদ্বীপের সন্নিকটে কোথাও পাওয়া যায় না, বুঝি গঙ্গাদেবী এই লােভময় পবিত্র তীর্থেব মায়াছাডিতে না পারি ৪৭ শ্রীচৈতন্য আপনার পবিত্র বক্ষে উহাকে বক্ষা কবিতেছেন। এই যুলিয়া গ্রামেই শ্রী প্রভু আত্মজনেব নিকট শেষ বিদায় গ্রহণ করেন। এই স্থানেই শ্ৰীমতী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী তাহার সহিত মিলিত হযেন এবং ভ্রিলােক পূজ্য স্বামীর স্নেহেব শেষ নিদর্শন- স্বরূপ তাহাবীপদের কাষ্ঠপাদুকা যেটিী প্রাপ্ত হযেন। দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া শ্রীপ্রভুব আদেশ ক্রমে তাহার বিগ্রহ মূর্তি স্থাপন কবেন। বিষ্ণুপ্রিয়া- স্থাপিত এই মূর্তি অদ্যাপি, নবদ্বীপে বিদ্যমান আছেন। যুলিযা হইতে মহাপ্রভু গঙ্গার তীবে তীরে রামকেলী গ্রামে উপস্থিত হইলেন। এই রামকেলী গ্রাম তদনীন্তন অঙ্গের বাজধানী গৌডের এক এক অংশবিশেষ। পাঠানবংশীয সৈযদ হুসেন শাহা তখন এখানে স্বাধীন ভাবে রাজত্ব কবিতেছিলেন। এই হুসেন শাহের বাজ- কীয সভায রূপ ও সনাতন নামে দুই ভ্রাতা ৪৮ শ্রীচৈতন্য “দবির খাস্ ও সাকর মল্লিক” পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই দুই ভাতাব রাজ-সংসারে যথেষ্ট প্রতিপত্তি ছিল। ইহারা সতত মুসলমান সহবাসে যাবনিক ভাব প্রাপ্ত হইলেও পূর্বব সংস্কার বশতঃ বলক্ষণ ভক্তিমান্ ছিলেন। প্রভু হঁহাদিগকে , উদ্ধার করিয়া গৌড় হইতে শান্তিপুরে অদ্বৈত- ভবনে গমন করিলেন। তথায় কিয়দ্দিবস অতিবাহিত করিযা পরিশেষে নীলাচলে প্রত্যাবর্তন কবিলেন। এখানে বর্ষার চারিমাস অতিবাহিত করিয়া, তিনি একদা বলভদ্র নামক জনৈক ব্রাহ্ম- ণকে সঙ্গে লইযা রাত্রিশেষে গােপনে শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা করিলেন। ইচ্ছাময় প্রভু লােকচক্ষু হইতে অন্তরালে থাকিবার মানসে বিপথে খাপদ- শঙ্কুল দুর্গম অরণ্য-মধ্য দিয়া গমন করতঃ অবশেষে কাশীধামে উপনীত হইলেন এবং তদীয় পুরাতন ভক্ত তপন মিশ্রের ভবনে কয়ে দিবস অতি- ৪১ চেতন। বাহিত করিলেন। পরে তদানীন্তন কাশীর জগৎগুক, মহামহােপাধ্যায় পণ্ডিত,দণ্ডী সন্ন্যাসীর রাজা, দ্বিতীয় বিশ্বেশ্বরের ন্যায় মহামান্য প্রকা- শানন্দ সরস্বতীর সহিত সে যাত্রা সাক্ষাৎ না করিয়াই, শ্ৰীবৃন্দাবন দর্শনে অত্যন্ত ব্যগ্র হইযা মথুরাভিমুখে ছুটিলেন এবং শীঘ্রই প্রয়াগে আসিয়া উপনীত হইলেন। এই বৃন্দাবন-যাত্রার পথে প্রভু যাহাকে পাইতেছেন,তাহাকেই অকাতরে প্রেম বিলাইয়া চলিতেছেন অর্থাৎ দাক্ষিণাত্য- ভ্রমণে যে অপূর্ব শক্তির বিকাশ করিয়াছিলেন, এখানেও সেইরূপ করিলেন। এইরূপে পথে প্রেম বিলাইয়া ও স্বয়ং ভাতিশয্যে বাহ্য- বিরহিত হইযা প্রভু টলিতে টলিতে বৃন্দাবন উদ্দেশে গমন করিতে লাগিলেন , এক্ষণে সম্মুখে চিরাভিলষিত, চিরাকাঙ্ক্ষিত শ্ৰযমুনদর্শনে প্রভু প্রেম-বিহ্বল হইয়া যমুনায় ঝম্প প্রদান করি- •• শ্রীচৈতন্য অচেতন লেন। এইরূপ যেখানে যেখানে যমুনাদর্শন পাইলেন, সেই স্থানে মহাকুতূহলে জলক্রীড়া করিতে লাগিলেন। এইরূপ প্রেমে হইয়া প্রভুমথুরায় আসিয়া উপনীত হইলেন এবং তথা হইতে ক্রমে শ্রীবৃন্দাবনে আসিয়া উপস্থিত হইলেন, যে বৃন্দাবনের নাম মাত্র শ্রবণে প্রভুর মূচ্ছা হয়, যাহাব ধূলিরেণু পাইলে দুলভ জ্ঞানে মহানন্দে প্রভু কালাতিপাত করেন, বহুদিন হইতে যেখানে আসিবার জন্য তিনি উন্মত্ত, আজ সেই মধুৰ শ্ৰীবৃন্দাবনে আসিয়া যে প্রেমের ঝটিকা প্রবাহিত, করিলেন, তাহা বর্ণনাতীত। মুঞি ছার পরমাবাধ্য পরম ভাগবত শ্ৰীকৃষ্ণদাস কবিবাজ গােস্বামী প্রভৃতি ভক্তগণ সে ভাবের কথঞ্চিৎ আভাস দিয়াছেন মাত্র। ক্রমৈ, কৃষ্ণপ্রেমে তন্ময হইযা প্রভু চৌরাশী ক্রোশ পরিমিত বৃন্দ। বন পরিক্রমণায় রত হইলে এবং লুপ্তপ্রায় ৫১ শ্রীচৈতন্য: লেন। মহাতীর্থগুলি এক একটা করিয়া প্রকাশ করি- আজ যে বিশাল পুরীকে আমরা শ্ৰীবৃন্দাবন বলিয়া পূজা করিয়া থাকি, তাহা শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর প্রকাশিত। বৃন্দাবনে কিছু দিন বসি কবিযা ইচ্ছাময় প্রভু পুনরায প্রয়াগে প্রত্যাবর্তন করিলেন । পথিমধ্যে কতকগুলি পাঠানকে কৃষ্ণনাম দিয়া উদ্ধার করিলেন। এই ভাগ্যবান্ পাঠানগণ প্রভুর কৃপায় মহাভাগবত হইয়া সর্বত্র কৃষ্ণনাম প্রচার করিতে লাগিলেন এবং ইহাবা পাঠান গোঁসাই নামে খ্যাত হইলেন। এইরূপে পথে হরিনাম নিধি বিলাইয়া শ্রীপ্রভু প্রয়াগে প্রত্যা- বৰ্তন করিলে, শ্রীরূপ গােস্বামী আসিয়া তাঁহার সহিত মিিলত হইলেন; সনাতন শ্রীপ্রভুর শ্রীচরণ- রেণু লাভ পৰ্যন্ত রাজকৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়াছিলেন। রূপ প্রভুর বৃন্দাবন-যাত্রার সংবাদ পাইয়া শ্রীচৈতন্য আপনার সমস্ত সম্পদাদি বৈষ্ণবগণকে বণ্টন পূৰ্ব্বক প্রভুমিলনে যাত্রা করেন এবং বহুপথ পৰ্যটন করতঃ প্রয়াগে আসিলোহার মনােবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। প্রভু, ৰূপকে সঙ্গে লইয়া এখান হইতে কাশীধামে উপনীত হয়েন। কাশীধাম তখন মায়াবাদী সন্ন্যাসী ও দণ্ডীগণের রাজ্য এবং প্রকাশানন্দ স্বামী সেই বাজ্যের রাজা, তাহার শিষ্যসংখ্যা তখন দশসহস্র, আবার এই দশসহ শিষেব প্রত্যেকের দুই, চারি, দশটী করিয়া চেলা; সুতবা প্রকাশনন্দকে তাৎকালীন সন্ন্যাসি-শিরােমণি বলিলে অত্যুক্তি হয় না। এই সন্ন্যাসিপ্রধান কাশীধামে • ঐকৃষ্ণ চৈতন্য পুনবাগমন করিয়াছেন, এই সংবাদে কাশীবাসী মায়াবাদী সন্ন্যাসীগণ নানামতে সর্বত্র •াহা নিন্দা করিয়াে বেড়াইতে লাগিলেন। প্রভুর ভক্ত- গণ এই নিন্দাবাদে যৎপরােনাকি কষ্ট অনুভব T শ্রীচৈতন্য . করিলেন এবং পরিশেষে সকলে যুক্তি করিয়া একদিন তাহাদেরই একজনৈব বাটীতে কাশীর সমস্ত সন্ন্যাসীকে নিমন্ত্রণ করিয়া আনয়ন কবি- লেন। সে সভায় তাঁহারা প্রভুকে আহ্বান করিলেন, কেননা তাহাদের মনে দৃঢ় প্রতীতি ছিল যে, একবার মাত্র শ্রী প্রভুব চন্দ্রবদন দর্শন করিলে * ও তাহার সহিত মিলিত হইলে তাহাদের আর সে ভাব কিছুতেই থাকিবে না। ক্রমে সকল সন্ন্যাসী সমবেত হইলে প্রকাশানন্দ স্বামী আসিয়া সভা- রােহণ করিলেন এবং শ্রীচৈতন্থর অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। এদিকে প্রভু যখন,শুনিলেন, সভায দশসহস্রের উপমও সন্ন্যাসী সমবেত হইয়াছেন, এবং সকলে ভঁহার জন্য উদ্গ্রীব হইয়াছেন, তখন তি দীনবেশে সনাতনাদি চারি জন মাত্র সঙ্গী সমভিব্যাহারে সভায় উপস্থিত হইলেন। সন্ন্যাসী- গণ এতাবৎ ভুর নিন্দা করিয়া বেড়াইলেও । ৫৪ চেতন কখন তাহাকে দর্শন করেন নাই, এবং মনে করি- যাছিলেন যে, শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য ভারতী বুঝি তাহা- দেরই মত একজন দাম্ভিক পুৰুষ-হয তাহাদের অপেক্ষাও দাম্ভিক , কিন্তু যখন তাহারা প্রভুর দীনাতিদীন মুর্তি ও সকণ দৈন্যবেশ দেখিলেন, এবং তাঁহার বিনয় বচন-সুধা পান করিলেন, তখন তাহাদের মনে হইতে লাগিল যে,এই নিরহ- স্কার দেবদুলভ পুরুষটীকে অনর্থক হিংসা করি ভাল কাৰ্য করেন নাই। আবার যখন পরম পণ্ডিত প্রভু শাস্ত্রযুক্তি অনুসারে তাহাদের সমস্ত কুতর্কজাল খণ্ডন করিয়া, মাযাবাদের অসারত্ব প্রতিপাদন পূর্বক বিশুদ্ধ মত এবং ভক্তির শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন করিলেন, তখন তাঁহার অপূর্ব বিচার-শক্তি, অলৌকিক ভূয়ােদর্শন এবং অসা- মান্য পাণ্ডিত্য দেখিয়া সকলে নির্বাক হইয়া রহিলেন। পাণ্ডিতাগ্রগণ্য, সুকোমল-চরিত্র চৈতন্য প্রকাশানন্দনও প্রভুর প্রেম-ভক্তিপূর্ণ শাস্ত্রব্যাখ্যা শ্রবণ করিযা একেবারে মুগ্ধ হইয়া পডিলেন এবং ভাবাতিশয্যে প্রভুর চরণে শরণ লইলেন। এই প্রকাশানন্দনই,প্রভুর কৃপাকণা লাভ করতঃ উত্তর কালে বৈষ্ণব-জগতে ভরুশিয়ােমণি প্রবােধানন্দ নামে খ্যাত হয়েন। এই মহাপণ্ডিত শ্রীপ্রভুব গুণাবলী স্মরণ করিয়া যে সুমধুর স্তবাবলী রচনা করিয়াছেন, তাহাই “চৈতন্য চন্দ্রামৃত” নামে খ্যাত। এইপে কাশীতেহরিনামের ধ্বজাউত্তোলন করিয়া এবং প্রবােধান, সনাতনুদিকে দীক্ষা প্রদানপূর্বক বৃন্দাবনে ধর্মপ্রচারার্থ প্রেরণ করিয়া, শ্রীপ্রভুপুনরায় নীলাচলে যাত্রা করিলেন, এবং তিনি তথায় উপস্থিত হইলে স্বরূপ-দামােদর এ সংবাদ গৌড়ে প্রেরণ করিলেন। গৌড়ীয় ভক্তগণও পূর্বের ন্যায় শচীমাতার অনুমতি গ্রহণ ।
শ্রীচৈতন্য করিয়া প্রতিবৎসব রথযাত্রার পূর্বে নীলাচলে আসিয়া প্রভুর সহিত মিলিতে লাগিলেন। নীলা- চলে প্রত্যাবর্তের পর হইতেই ক্রমে ক্রমে প্রভু নিশিদিন বাহ বিরহিত হইয়া মহাভাৰসাগরের অতলগর্ভে নিমজ্জিত হইতে লাগিলেন। ক্রমে যতই, দিন গত হইতে লাগিল, শ্রীপ্রভুর প্রেমবৈকল্যও ততই বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। এ অবস্থা অধিক দিন স্থায়ী হইল না। প্রেমােন্মাদ অবস্থা ক্রমেই অধিক বর্ধিত হওয়ায় শ্রী প্রভু আর প্রায় কাহারও সহিত বাক্যালাপ করিতেন না। এই সময়ে তাহার প্রেমবিকারজনিত নানা প্রকার অদ্ভুত ও অপূৰ্ব স্বাত্বিকভাব প্রকাশিত হইতে লাগিল। স্বরূপ-দামােদরাদি ভক্তগণ এক দিন প্রভুকে গৃহে দেখিতে না পাইয়া তাহার অনুসন্ধানে জগন্নাথের সিংহদ্বার সমীপে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন, শ্রীপ্রভু বাহবিরহিত অবস্থায় ধরাশায়ী রহিয়াছেন। ৫৭ শ্রীচৈতন্য শরীর নিস্পন্দ-নাসিকার শ্বাস প্রশ্বাসের লক্ষণ মাত্রও অনুভূত হইতেছে না,হস্তপদাদির সমুদয গ্রন্থি শিথিল হওযায় শরীর অত্যন্ত দীঘল হইয়াছে—কেবল চৰ্ম্মাচ্ছাদিত রহিয়াছে মাত্র । প্রভুর এইরূপ অবস্থা দেখি ভক্তগণ মহাশশাকে হাহাকার করিয়া উঠিলেন— স্বৰূপ গােসাঞি তবে উচ্চ করিয়া । প্রভুর কাণে কৃষ্ণনাম কহে ভক্তগণ লঞ ॥ বহুক্ষণে কৃষ্ণ নাম হৃদয়ে পশিল । হরিবােল বলি প্রভু গর্জিয়া উঠিল ৷ অপর এক দিবস আচম্বিতে কৃষ্ণবেণু গান শ্রবণ করিযা ভাবাবেশে শ্ৰীপ্রভু দক্ষিণ সিংহদ্বারে যাইয়া মুচ্ছিতহইয়া পারিলেন । ভক্তগণ যাইয়া দৈখিনে' যে, প্রভুর সেই সুদীর্ঘ শ্ৰীঅঙ্গ কুম্মাণ্ডা- কার ধারণ করিয়াছে। হস্তপদাদি যাৎ অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়াছে ; তখন c শ্রীচৈতন্য [] সকলে মিলিয়া সেই বরবপু বহন করত গৃহে আনিলেন। আর উচ্চ করি শ্রবণে কবে নামসংকীৰ্ত্তন। অনেক ক্ষণে মহাপ্রভু পাইল চেতন ॥” অপর এক নিশিতে প্রভুর প্রােমােন্মাদ সাতিশয় বর্ধিত হওয়ায় চন্দ্ররশ্মি-বিভাসিত, চাকচিক্যময়, তরঙ্গায়িত-সুনীল পয়ােধিবক্ষ দর্শনে হৃদযে রাধাকৃষ্ণের জলকেলি-স্মৃর্তি হওযায,যমুনা- ভ্রমে তিনি সমুদ্রবক্ষে ঝম্প প্রদান করেন। এ দিন ভক্তসণ বহু অনুসন্ধানেও যখন প্রভুর কোন সংবাদ পাইলেন না, তখন প্রভু বুঝি অন্তর্ধান করিলেন,এই মনেকরিয়া সকলে হাহাকার করিয়া উঠিলেন। এই সময় স্বরূপ-দামােদর এক জন ধীবরকে হরিধ্বনি করিয়া উন্মত্তভাবে নৃত্য বলিতে * দেখি, সন্দিহান হইয়া ঐধীববকে শ্রীপ্রভুর বার্তা জিজ্ঞাসা করিলেন। যথা চৈত চরিতে- ৫৯ শ্রীচৈতন্য “কহ জালিযা ঐ দিকে দেখিলে এক জন। তােমাব এই দশা কেন কহ ত কারণ। জালিয়া কহে ইহা এক মনুষ্য না দেখিল । জাল বাহিতে এক মৃত মাের জালে আইল । বড মৎস্য বলি আমি,উঠাইমু যতনে। মৃতকে দেখিতে মাের ভয় হইল মনে। জাল খশাইতে তার অঙ্গ স্পর্শ হইল। স্পর্শ মাত্র সেই ভূত হৃদযে পশিল । ভয়ে কম্প হৈল মাের নেত্রে বহে জল। গদ গদ বাণী মাের উঠিল সকল। কিব ব্ৰহ্মদৈত্য কিবা ভূত কহনে না যায়। দর্শনে মাত্রে মানুষের পশে সেই কায় । ভাগ্যবান জালিয়া যখন এইরূপে প্রভুর স্বরূপ বর্ণন করিলেন, তখন ভক্তগণ আনন্দে হরিধ্বনি করিয়া উঠিলেন, এবং সকলে দ্রুত সমুদ্রতটে যাইয়া দেখিলেন, সেই কমলাসেবিত ৬ ‘অতি দীর্ঘ শিথিল তনু চৰ্ম্ম নটকায়।
No text on this page.
। শ্রীচৈতন্য “পুরট-সুন্দবদ্যুতি কদম্ব সন্দীপীত” শ্ৰীঅঙ্গ- ভূমিতে পডিযা আছে দীর্ঘ শব কায। জলে শ্বেত তনু বালু লাগিয়াছে গায়। অতি দীর্ঘ শিথিল তনু চৰ্ম্ম লটকায়। দূর পথ উঠাইয়া আননে না যায়। তখন সকলে মিলিয়া প্রভুর সেবায রত হইলেন। কেহ আদ্র কৌপীন দূর করিযা শুষ্ক বস্ত্র দিলেন,কেহ শ্ৰীঅঙ্গের বালুকাকা ছাড়াইতে লাগিলেন , কেহ কেহ বহির্বাস পাতিয়া শয্যা প্রস্তুত করিযা, প্রভুকে সেই শয্যায় শায়িত করিলেন, এবং সকলে মিলিযা তখন উচ্চ হরিসংকীৰ্ত্তন কল্পিতে লাগিলেন, “কতক্ষণে প্রভু কাণে শব্দ পরশিল। হুঙ্কার করিয়া প্রভু তবহি উঠিল উপর্যপরি প্রভুর এইরূপ, প্রেমবিকার ও মহাভাৰ সমাধি অবলােকন করিযা ভক্তগণ =-=- . . ৬১ চৈতন্য চিন্তিত হইলেন। সকলের মনে কেমন একটা আশঙ্কা জন্মিল যে, আর বুঝি তাহাবা তাহাদের প্রেমশৃঙ্খলে প্রভুকে আবদ্ধ রাখিতে পারে না ; কিন্তু এই মৰ্ম্মগ্রন্থী ছিন্নকারী নিদারুণ কথা মনে হইলেও কেহ মুখে আনিতে পারিলেন না। তাই সকলেই আপনি আপনি মনে বুঝিয়া সতর্কে প্রভুকে বক্ষা করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাহাদের এই প্রেমপূর্ণ সযত্ন অনুবন্ধনে কোন ফল হইল না কেন না ইচ্ছাম, লীলাময় প্রভু যে মহৎকাৰ্য সাধন করিতে গােলক ত্যাগ করিয়া মর্ত্তেব আবিল ভূমিতে পদার্পণ করিয়াছিলেন, তাহার সেই মহাকাৰ্য্য, অর্থাৎ “জীবে দয়া, নামে কচি” আত্মচরিত্রে অচবণ করিয়া লােক শিক্ষা দেওয়া সম্পন্ন হইছিল। সুতরাং সেই ভক্তাবতার প্রভুর এই অপূর্ব প্রেমময় লীলার অবসান কাল নিকট হইয়া আসিতেছিল।
চেতন্য ভক্তগণও এক দিন ভক্তগণকে লইয়া বৃন্দাবনলীলারস আস্বাদন করিতে করিতে প্রভু ভাবাবিষ্ট হইয়া নীরব হইলেন এবং উঠিয়া দ্রুতপদে জগন্নাথ দেবের মন্দিরাভিমুখে ছুটিলেন। তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুটিলেন। প্রভু দ্রুত গমনে শ্রীমন্দিরাভ্যন্তরে প্রবিষ্ট হইলে, মন্দিরদ্বার আপনা হইতে রুদ্ধ হইয়া গেল। বাটীর অভ্য- স্তরে ভােগমন্দির প্রভৃতি স্থানে দুই এক জন জগন্নাথের সেবক উপস্থিত ছিলেন। তাহারা, প্রভুকে মন্দিরে প্রবিষ্ট হইযা জগন্নাথ দেবকে আলিঙ্গন করিতে দেখিলেন এবং পরক্ষণেই বাহিরে ভক্তগণের কোলাহল শ্রবণ করিয়া দ্রুত আসিয়া দ্বারমােচন করিলেন। ভক্তগণ পথ পাইয়া মন্দিরে প্রবেশ করিলেন; কিন্তু কেহই আর প্রভুর সাক্ষাৎ পাইলেন না, তখন সকলে প্রভুর অন্তর্ধান বুঝিতে পারি আর্তনাদ করিয়া শ্রীচৈতন্য এমে ঐ ৫ উঠিলেন এবং মুচ্ছিত হইয়া পড়িলেন। মুহূর্ত মধ্যে এই মহাশােকের বার্তা চতুর্দিকে প্রচারিত হইল, এবং দেখিতে দেখিতে শ্রীমন্দিরােকাকুল ভক্তবৃন্দে পরিপূর্ণ হইয়া গেল। নিদারুণ সংবাদ ভারতবর্ষীয় যাবতীয় ভক্তগণের নিকট প্রচারিত হইলে, সমগ্র ভারতবর্ষে যে মহা- শােকানল প্রজ্জ্বলিত হইযা উঠিল, তাহা বর্ণনা করিতে আমি সম্পূর্ণ অক্ষম। সম্পূর্ণ। ৬৪
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.