Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Prem O Biroho Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
সমী
বিরহ
শিবচন্দ্র বিদ্যাবিনােদ
বেঙ্গল পাবলিশিং হোম
৫, নূরমহম্মদ লেন
কলিকাতা
বাণীকুঞ্জ
৬, নূরমহম্মদ লেন, কলিকাতা
বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত ।
প্র থ ম স ক র ণ
আষাঢ়, ১৩৪২
জুন,
১৯৩৫
এ ক টাকা
এলবিয়ন প্রেস
৫, নূরমহম্মদ লেন, কলিকাতা
ক্রীহরি চরণ সিংহ
কর্তৃক
মুদ্রিত।
সচীপত্র প্রেম ১ নারী ... ২ ••• ••• ••• ••• ••• ৭ ••• ••• ৮ ০ ০ ০ ••• ৯ • অনাদৃত। মুকুল পুষ্প শুধু যাও ভালবেসে এসসা বান্ধবী মম প্রিয়ে প্রশ্ন পল্লী শী দেবদাসী আহুতি ব্যর্থ আশা भास সমর্পণ লক্ষী ••• ••• ••• ১৪ ••• ••• ••• ••• ••• . . . ••• ••• ••• •• ••• ৮০ | ০ ০ 82 ০ ০ . ৪৬ ৪৯ ••• ভালােবাসা শান্ত হবে অশান্ত এ হৃদয়ের সব আকুলতা যৌবনের মােহ উদয়ন ••• বিসর্জন ••• আছিবেশ দুটী কথা ••• বিরহ ••• ••• ৫৫ ০০ ০ ৪০০ ••• ৫৯ ৮ । ৬৫ ৫। ০
No text on this page.
প্রেম
দীর্ঘ কত শতাব্দীর বিস্মৃতির পরপার হতে
ছন্দের হিন্দোল তুলি’ অজস্র আনন্দ হাসি গানে
স্নিগ্ধ শান্ত দৃষ্টি মেলি’ জীবনের জয় যাত্রা পথে
আমার ভুবন মাঝে এলে তুমি কোন্ অভিযানে ?
লাবণ্য প্রবাহে তব ভাসাইয়া সকল সংশয়
কৈশােরের কৌতূহল মিটাইয়া ধীরে অতি ধীরে
অসীম সােহাগ সুখে ভালবেসে হ'লে কি নির্ভয়
যৌবনের অর্ঘ্য বহি’ প্রেমাত নয়নের নীরে?
মুকুল-চুম্বন-রাঙ্গা বিকশিত পুষ্পমালা মাঝে
মাটি আর আকাশের ভালবাসা ফোটে যা গােপনে-
পাতায় পাতায় তাই মিলন রাগিণী হ'য়ে বাজে
তােমার সুরভি-শ্বাস পবন লুটিয়া নিলে বনে।
প্রেমের মাধুরী দিয়ে নিখিল সুষমা-মধু লাগি
রহস্যের কল্পলােকে যুগে যুগে রই সুখে জাগি।
১১ই আশ্বিন ১৩৪১
নারী স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি, পৃথিবীর পরম বিস্ময়, স্বর্গের সুষমা ভর ঢল ঢল মূৰ্ত্তি করুণার প্রেমের প্রশান্ত ছবি-দৃষ্টি দিয়া দিলে পরিচয় জীবনের পান পাত্রে পূর্ণকরি’ ভােগ উপচার। তব দেহ ভােগবতী উচ্ছসিত লক্ষ কামনায় যৌবনের ফেনপুঞ্জে উদ্বেলিয়া আগ্রহ অধীর তুমি হাসো প্রকাশিয়া দীপ্তি তব মুখ-চন্দ্রমায় ঘন-কৃষ্ণ-কেশদামে ঢাকি’ ব্যথা অমা-যামিনীর। সৃষ্টিস্থিতি প্রলয়ের ছন্দে গাও তােমার সঙ্গীত, মরুভূর বুকে তােলে আনন্দের অমৃত কল্লোল- পাষাণে ফুটায়ে ফুল, অণুমাঝে জাগায়ে সম্বিৎ সঞ্জীবিয়া প্রেম মন্ত্রে ধরণীরে করগো বিভােল। গৌরবের নহ তবু ! মিথ্যা কথা ! ওগো নিরূপমা- তােমারে যে করে ঘৃণা আজ তারে কর তুমি ক্ষম। ৮ই এপ্রিল, ১৯৩৪ অনাদৃত নিখিলের রূপ- কথায় বিভোেল ঋষি করে তপােবনে হায় অতীত এসহে ফিরে বেদনা-সায়র-তীরে। পথিক পায়ের ধ্বনি, আজো ওঠে রণ রণি। শোনা যায় অাঁজে। বন মর্মরে লতিকা বিতানে রূপে রসে রঙে আজো হাসে অপরূপ নাচিয়া নাচিয়া বিহগের তান বিকচ-কুসুম মুগ শিশু থামে প্রিয়ম্বদা সে ঢেলে দিয়ে গেছে কুতুহলে নিশ্চপ! নাই নাই শুধু আজ অনসূয়া আর স্মৃতির বেদনা সবার হৃদয় মাঝ !
অ না তা সকাশে যখন পরিচয় দিল দুইসখী মিলি’ মুখে হাসি গানে কৌতুকে- গােপনে গােপনে ফুটি’ যৌবন দ্বারে লুটি’! কামনা-কুম পড়িল তাদের সেদিন রাজার শকুন্তলার কে জানে কখন পরিমল ভারে সম্রাট সাথে দুটী কিশােরীর ঋষির আশীষ, তপােবনে হায় শকুন্তলার অপূর্ব পরিণয় মাথায় বহিয়া ফেরেনিক’ তারা এনেছিল বিস্ময়। সখীরে বিদায় দিয়া বিরহে আকুলি’ হিয়া ! দু’টী তরুণীর কেঁদে কেঁদে বুঝি নারী জীবনের নিভৃত প্রাণের ফিরেছিল পথে পরম সাধনা নয়নের নীরে ভেসে গেল ধীরে স্বর্গ রচিতে কত না রঙ্গীন আশা লতিবারে ভালবাসা। সখীরে তেয়াগি’ হায় কোন দেবতার পায়। ছিল সাধ ঘটিলরে পরমাদ। ও দুটী তাপসী মেয়ে কোথা কা’র পথ চেয়ে ? ভবিষ্যতের ছিল সুখ, ব্যর্থ হলে তা স্বপ্নের মত ঋষি করে বড় আদরের রহিল বিভাের কোন সাধনায় ৪ • . । অ না ধূ তা । । । । •• বন ততষিণ আকুল বি- আলবালে জল কে সেচিবে ওগাে কে ফুটাবে ফুল কলি ? বেদনায় যাবে গলি? মূক প্রাণীদের কে দেবে তেমন আর সেবায় কে আর ঋষি কণ্ঠের পারণের জল বুঝিলেনা তুমি এসব কাহিনী নিম্মম কবি। তব অনাদরে তাহাদের লাগি’ নিখিলের প্রাণ ভাবিলেনা একবার ! ঝরিল যে দুটা ফুল- ব্যথাতুর শােকাকুল। - ২৫ নভেম্বর ১৯৩২
মুকুল
বিশ্বের বেদনা যত সবটুকু ধীরে অতি ধীরে
অন্তরের মণি কক্ষে একে একে রেখে দিলে জমা ।
সঙ্কোচ দীনতা ভুলি মহাসিন্ধু মরণের তীরে
আপনারে বিকাইলে তিলে তিলে ওগগা অনুপমা।
বর্ণ গন্ধ রূপ রসে ক্ষুদ্রতারে বিসর্জিয়া তুমি
অন্তর উজাড়ি দিলে যত কিছু ছিল ভালবাসা
জাগ্রত করিয়া প্রাণ কীগভীর স্নেহভরে চুমি
প্রেমের পৃথিবী নিয়ে ফোটাইলে জীবনের আশা !
,
নিখিল ধরার শাপ তমিস্রার কৃষ্ণ যবনিকা
তুমি দিলে দূরে ফেলে মধুর সে জাগরণী গানে।
মােহনিদ্রা ভাঙ্গাইলে উজলি অনন্ত প্রেমশিখা
রক্ত রাঙ্গা যৌবনের প্রসন্নতা দিলে আত্মদানে।
সফল করিলে সৃষ্টি বুলাইয়া বিস্ময়ের তুলি
মদির চুম্বন সুখে নিঃস্ব হ'লে আপনারে ভুলি।
১৩ শ্রাবণ, ১৩৪১
পুষ্প
নিখিল মিলন লাগি শুনাইয়া জীবনের গান
মৌন মূক মুকুলের সবটুকু নিলে ভালবাসা।
হাসির হিল্লোল তুলি নাচাইয়া প্রকৃতির প্রাণ
সঞ্জীবনী মন্ত্রে তব দিলে প্রীতি দিলে নব আশা।
পাষাণের প্রাণ গলা তুমি যে গাে অমিয় নিঝর
পৃথিবীর পথে পথে ফুটাইলে সবুজের হাসি-
সৰ্ব্ব হারা ধন্য হলো ভেঙ্গে চুরে ব্যথার নিগড়
তােমার যা কিছু ছিলাে বিশাইলে দয়া পরকাশি।
মৃত্যুর কুহেলি ঢাকা ধরণীর কৃষ্ণ যবনিকা
কৌতুকে সরায়ে দিলে ! বিশ্বের উদয়াচল হতে
সাফল্য গৌরবে তাই ভালে লভি দীপ্তজয়টীকা
বিস্ময়ের সমারােহ প্রকাশিলে আলােকের রথে
এত প্রেম এত হাসি ভুলাতে নারিল তব মন
সবারে ভুলায়ে তুমি ঝরে গেলে অপূর্ব শােহন।
১ জুলাই ৩৪
শুধু যাও ভালবেসে
মরণের কথা ভুলে যাও আজ আমার জীবন ভরি
নিখিলের রূপ রসহাসি নিয়ে এস এম সহচরি।
ভোগের মাঝারে যে সুখ পরম
সে মাের দেবতা সে মাের ধরম
তার পূজা লাগি’ কামনায় ডালি তুলে ধরে সুন্দরী!
স্নিগ্ধ তােমার মধুর দৃষ্টি
নুতন জীবন করুক সৃষ্টি,
কুণ্ঠার যত গ্রন্থি আছেগগা ছিড়ে ফেলল দুই হাতে
শিরা উপশিরা তােমার পরশে
শিহরি উইক প্রেমের হরষে
জীবনের পথে তুমি নেচে চলে আমি রবাে তব সাথে
তােমার গানের তরণী উপরে
তােমাতে আমাতে কুতূহল ভরে
এস এস সি উৎসব ওই মহামিলনের দেশে
চুম্বন রাঙ্গা তােমার অধরে
বিশ্ব প্রেমের বাণী লহ ভরে
কিছু নয় প্রিয়ে, কিছু নয় আর শুধু যাও ভালবেসে ।
৫ ফেব্রুয়ারী ৩৩
এসো বান্ধবী মম প্রিয়ে
এসাে বান্ধবী মম প্রিয়ে।
মর ধরণীর রূপ রস গান সু হাসি সব নিয়ে।
নিন্দা গ্লানির কুৎসিত ক্লেদ ভাসায়ে মিলন নীরে
সঙ্কোচ দলি, চরণ কমলে বাঞ্ছিতা এস ধীরে !
শৃঙ্খলা হীন বিরাম বিহীন আমি শুধু একা যাত্রী
‘পথ চলাগান গেয়ে কেটেগেছে কােেনা দিবস রাত্রি।
শুধু তােমালাগি’ অন্তর মাের নেচে নেচে ওঠে দুলে
এসাে এসাে সখি! এসাে এসাে আজ জীবন-সিন্ধু-কূলে।
এ সো বা রূ ব ম ম প্রি য়ে পূজা ভোগ হােম হয়নিক’ শেষ আহুতি এখনো বাকী মূর্ত প্রেমের করুণা তুমিগাে আজোকি জানােনা সাকি? রু কঠোর আমি যে পাষাণ মাের পূজা উপচার “নিয়তিরে ঠেলি আমারে ঘেরিয়া কেঁদেফেরে অনিবার”। চিরচঞ্চল উদাসী পাগল আমার নয়ন দুটী তােমার অরূপ দৃষ্টির সাথে বিস্ময়ে তােক ফুটি ! আজ হতে যেন শ্রবণ আমার তােমার গানের সুরে যন্ত্রণা ভীতি ব্যর্থতা রাখে জীবনের বহু দূরে। পিয়াসী প্রাণের ব্যগ্রবাসনা তােমার তনুর গন্ধে মিটে যা সখি, মিটে যাক আজ লভিয়া পরমাননে। শীতল হউক কামনার জ্বালা তােমার পরশ পেয়ে শুষ্ক এতালু সরস রন্থক রূপের সাগরে নেয়ে ! প্রেম পূজা মাের শেষ করে দেবি ! পাষাণে ফোটাও ফুল- তুমি আর আমি আমি আর তুমি চিরসুখে মণ্ডল। ১০ই ফেব্রুয়ারী ১৯৩৩। ১০
প্রশ্ন
প্রখর রৌদ্র প্রবল বর্ষ। শীতের অসহ দাপে
সােণার ফসল এনে দেয় যারা ভূখ। তারা কোন পাপে।
বাস্তুভিটেও বঁধা থাকে তার লাঙ্গল বলদ দুটী
মহাজন এসে তাও নিয়ে যায় চাপিয়া চাষীর টু টি
ঘরে কেঁদে মরে ছোট ছেলে মেয়ে মায়ের আচল ধরি
চোখের জলেতে বুক ভেসে যায় চাষী ওঠে হা হা করি ।
কোথা তুমি আছ’ দয়াল ঠাকুর শুনেও শােনােনা কাণে
এতটুকু দয়া নাহিকি তােমার ব্যথা কি লাগেনা প্রাণে?
কান পেতে শশানাে কামার শালার হাতুড়ির তালে তালে
ব্যথার করুণ ক্রন্দনগীতি ভেসে আসে সুর জালে ।
হাপরের বুকে বজ্ৰবেদন, যা যে ফুপিয়ে সারা
বধির নেহাই সাক্ষ্য সবার বঞ্চিত আছে সারা !
চাকঘুরে চলে প্রভাতে প্রদোষে মাটীর পাত্র যত
সুনিপুণ হাতে শিল্পী তাদের সাজায় ইচ্ছা মত ।
কামার কুমাের এই দুটী ভাই উপবাসী রয় তবু
পাষাণ দেবতা কোথা তুমি আজ দেখা কি দেবেনা কভু ?
শাবল কোদাল তাত মাকু আর অতিকায় বয়লারে
যারা জীবনের সকল রক্ত ঢেলে দিল’ অকাতরে
শ্বাপদ সঙ্কুল বনভূমি যা’র গুণে হলাে রাজধানী
আকাশ চুম্বি’ সৌধ উঠিল যাদের যত্ন মানি
জঞ্জাল নিয়ে ধুয়ে গেলে পথ সাফ করে বাধা যত
রেখে গেলাে যারা এই দুনিয়ায় গভীর বেদনা ক্ষত
আলাে জ্বেলে জেলে ঘােচালো আঁধার নিজেকে আ ধারে রা
কোথা অক্ষম পঙ্গুদেবতা এসব দেখিবে না কি
•
নির্বাক
পৃথি.
ফিরে পেলাে যারা অপমান আর কটুকথা কুবচন
মদের নেশায় যারা বলে হায় চিরকাল অচেতন ;
ব্যর্থ সে সব কথা ও কাহিনী আজি যে হয়েছে জড়ো
আধার আধার দুনিয়ার হাটে গােল মাল তাই বড়ো।
ওগো নিৰ্ম্মম! ওগাে নিষ্ঠুর! নির্দয় ভগবান
বলাে বলাে তুমি কবে হবে এই অমানিশা অবসান ?
১৩ জানুয়ারী ১৩৩৫।
!
প ল্পী শ্রী
বছর কতক সুখে গেলাে কেটে কালের চাকায় ঘুরে
সহসা সেদিন যন্ত্র দানব বসে গেলাে দেশ জুড়ে!
ভোঁ ভোঁ ভোঁ বাঁশীর শব্দ কেড়ে নিলো যত প্রাণ
কলের চাকার কালের চাকায় গ্রাসিবার অভিযান।
ভুলে গেলে লােক অতীতের কথা ঘাড়ে ভূত এল চেপে
ছাড়ালে না ছাড়ে একেমন মজা বসে থাকে টুটি টিপে
গেলাে আনন্দ ? চক চকে টাকা সপ্তাহ পরে পায়
নাহিক’ শান্তি ? রবিবারে সবে উদর পুরিয়া খায় !
হাসি আহলাদ গিয়াছে শুকায়ে ? প্রীতির বাঁধন নাই।
কলের মায়ায় বাঁধা পলো সব দুধে ভাতে এলো ছাই
দাউ দাউ দাউ জ্বলিয়া উঠিল কলের কামনানল
পুরুষ ও নারী দিলে তায় প্রাণ রক্ত করিয়া জল!
সৌধ উঠিল আকাশ চুম্বি’ পরভৃতিকের আশা
মানুষ মারার ঘূপ কাঠে নিলাে মরীচিকা ভালােবাসা।
তিলে তিলে তিলে পলে পলে পলে একটানা সুরে গো
আশা ভাষা বল কেড়ে নিলাে সব মাহেন্দ্র যােগ পেয়ে
১৬
होचो
মাঠে-
কিনে...
পরণে যে আজ জোটেনা কাপড় মা বােন মেয়ের লজ্জা
বুক ফেটে যায় চোখে আসে জল নাই আভরণ সজ্জা!
ছােট ছেলে মেয়ে কঁদে যে ক্ষুধায়, রােগে দেহ কালি হায়
কাছারি গিয়েছে। পাঠশালা নাই ! টোল তাও যায় যায় !
গেছে সুখ গেছে সকল শান্তি মানুষ মরেছে কলে
অভিশাপ রাহু উল্লাসে নাচে নিপীড়ন কুতূহলে।
প্রতি ঘরে ঘরে কেঁদে কেঁদে ফেরে মায়ের নগ্ন রূপ।
ভুলেগেছে জাতি অতল পঙ্কে একেবারে নিশ্চপ!
বুড়ো দাদা ছিল গাঁয়ের ভেতর সুখে বেঁধে কুড়ে ঘর
অতীতের স্মৃতি নিয়ে এলো উঠে লাঠিতে করিয়া তর ।
ভাতিল নয়নে দীপ্তি উজল, শুষ্ক অধরে হাসি
ফুটিয়া উঠিল ভবিষ্যতের আনন্দ পরকাশি!
গম্ভীরস্বরে ডাক দিল সবে “চলে আয় চলে আয়
আপনার কাজ বেছে নেগাে তােরা বিফলে সময় যায়”
১৭
পী } সাথেছিল’ তার নাতনী শােভনা নয় বছরের মেয়ে দাদুর আদেশে বাজালে। শঙ্খ উব্ধ আকাশে চেয়ে ! আকাশের নীচে বসে গেল সভা ধরণীর পাদ পীঠে অলখে দেবতা আশীষ ঢালি’ বহিল মলয় মিঠে । আবাল বৃদ্ধ বনিতা জুটিল’ শুনে নিলে কান পাতি, “নির্ভীক হয়ে জা’গা জা’গা প্রাণ শেষ হােক অমাৱাতি” ! ঘর-ছাড়া ওরে ঘরে ফিরে আয় কেঁদে কোন ফল নাই। উদরের জালা মিটিবে এখানে ! ভয়টা কিসের ভাই ? দুর্গম পথে বিক্ষত হয়ে কাদিস না তাের আর উঠে পড়ে লাগ’ ঘুম হ’তে ‘জাগ, ‘ভাে’ কথা বেদনার চরকার সুরে গা’রে আজ গান সর্বনাশীর ছেলে-- ভাত কাপড়ের অভাব রবেন। দিন যাবে হেসে খেলে ! শাবল কুড়ল লাঙ্গল হাপর যাতা নেহায়ের জোরে জানিস্ কি তুই লক্ষী যে বাঁধা চিরকাল তাের ঘরে”। পাড়ায় পাড়ায় জটিল বার্তা জাগিয়া উঠিল দেশ- বরাভয় এলাে সান্ত্বনা নিয়ে অপূর্ব সমাবেশ।
দেবদাসী
কনকনে শীত ঠক্ ঠক্ কঁপে কে ওই পথের ধারে ?
কি মিনতি ভরা আঁখি দুটী ওর খুঁজিয়া ফিরিছে কা'রে।
গঙ্গাসাগর যাত্রীরা সব পোলা পুটলি লয়ে
চলিয়াছে ধীর মন্থর গতি জড়ােসড়ো যেন ভয়ে।
তাহাদের দেখি কুণ্ঠিতা নারী বাড়ালে তাহার হাত
যাত্রীরা হায় আপদ ভাবিয়া ফেলে গেলাে পশ্চাৎ।
কেহনা দেখিল কেহনা শুনিল কি যাতনা তার বুকে
বেদনার বােঝ নামানাে না হলে রবে আর কোন সুখে।
দে ব দা সী
পােড়া পেটে তার জোটেনিকো কিছু পুরােপুরি দুটো দিন
ঘরছাড়া নারী ঘরের বাহিরে শীতের দাপটে ক্ষীণ।
মায়ের আদর পায়নিক’ কভু সম্বল শুধু বাপ
ধরে বেঁধে হায় নিয়ে গেছে তারে করেছে এমন পাপ!
খাজনা দিতেতাে হয়নিক’ দেরী দিয়েছে তত বহু ভেট—
ওঠেনি তাদের মন তবু ওগাে লজ্জায় মাথা হেঁট।
বাগান বাড়ীতে যেতে হবে তাকে কষ্ট রবেনা কিছু
গরীবের ঘরে অত ভাল নয় সবচেয়ে যারা নীচু!
বাপ এসে কেঁদে পারেনি শােনাতে শুনায়ে গেছে তা পরে
বাপ ছাড়া হয়ে রাত্রে রবে সে একাকী তাহার ঘরে ।
বুঝিল সে তার পুড়েছে কপাল যৌবন হলো কাল
অভাগিনী মেয়ে বেঁচে আছে বলে বাপে করে নাজেহাল’!
কত চিন্তার জাল বুনে বুনে ঘুমায়ে ছিল যে বালা
সহসা জাগিল শব্দ শুনিয়া পুড়িছে তাদের চাল।
জানালার ফাকে লােক জন দেখে খিড়কীর পথ দিয়ে
প্রাণ ভয়ে নারী বাহিরিলাে পথে পােড়া যৌবন নিয়ে!
२०
दामो
শ্ম:
আঁধার আঁধার বিরাট আঁধার নীরব মৌন মুক
সুপ্ত প্রকৃতি সন্ধ্যার কোলে পেয়েছে নিবিড় সুখ।
অপমান ভয়ে মন্দির পথে পড়িলা মূরছি নারী
বন্দনা শেষে বাহিরে আসিয়া দেখিলেন অধিকারী
চেতনা ফিরায়ে কহিলেন তারে বিপ্র নম্র স্বরে
ভয়কি মা তাের কোন ভয় নেই তুই হবি এই ঘর
নূতন জীবন নুতন সাধনা নূতন মনের বল
অাশা উৎসাহ সব নব নব জাগরণে বিশ!
বিকচ কুসুম মাল্য তাহার সঁপিয়াছে নিরূপমে
সকল দেশের সকল যুগের নন্দিত প্রিয়তমে!
প্রভাত সুৰ্য্য দীপ্তি তাহার কোমল কমল মুখ
মরি কি মধুর দৃষ্টি বিভােল নাই আর কোন দুখ
প্রিয়তম পূজা প্রিয়তম সেবা প্রিয়তম সাধনায়
নাচে গানে ভাবে যৌবন মন সঁপিয়া কিছুনা চায়
रागी
সেদিন আসিল মন্দির তার ভিখারী অতিথি কত
কেহবা খঞ্জ কুজ সুজ কেহবা কুষ্ঠত।
অতিসমাদরে তুষিয়া তাদের দেবতার পরসাদে
দৃষ্টি পড়িল অভাজন এক কাতর হইয়া কাঁদে।
পরিচয় তার ধনী জমিদার আপন কৰ্ম্ম ফলে
বিধাতার রােষে সব গেছে আজ ভাসিছে নয়ন জলে।
নারীর পুণ্যে সারিল কুষ্ঠ, খঞ্জ কহে মা আসি-
পা’র ধুলাে দাও মাথায় আমার নির্বাক দেবদাসী!
৩ নভেম্বর ৩৩
আহুতি
হিন্দুর মহা পুণ্য তীর্থ কাশীর বিশ্বনাথে
দূর হ’তে এক অঙাগিনী দেখে সকলের পশ্চাতে।
অপলক তা’র নীল আঁখি দুটী করুণ মিনতি ভরা
শুনাইতে তার মরম বেদনা এসেছে ছুটিয়া করা।
বল দাও ওগাে বস্ দাও তুমি বল দাও প্রাণে তার
তুমি বিনা বলল দয়াল ঠাকুর কে আছে তাহার আর ।
রঙ্গীন সে মােহে ক্ষণিকের ভুলে যে কাজ করেছে নারী
বহু দূরে এসে বুঝিয়াছে হায় পরিণাম আজ তারি ।
==
ওই ওখানে মা’র হাত ধরে ফুটফুটে কচি মেয়ে
হাসে খল খল কত কথা বলে মায়ের মুখনি চেয়ে।
তারে দেখে হায় নারীর হৃদয়ে জাগিয়া উঠিল আশা
রাঙ্গা ঠোটে গালে চুমু দিয়ে তাকে জানাইবে ভালবাসা।
তার মত মুখ তার মত চোখ সব ঠিক তার মত
হাত বাড়াইতে কাছে এলাে খুকী হাসি কৌতুক রত।
কোলে তুলে শবে এমন সময় অদূরে উঠিল ধ্বনি
কীযে তুমি করাে কার কাছে দেছ ছুটে আয় ওরে মণি!
নেমে গেলাে হাত সরমে মরিয়া আছাড়ি পড়িল ভূমে
পপের ধুলায় বেদনা বিধুর নারীরে জড়ালো ঘুমে ।
তায়ে ছিল গেহ তারে ছিল গেহ ছিল কত পরিজন
ওগো নির্মম কুটিল চক্রী ভুলালে নারীর মন।
সমাজের বুকে তুমি ঠাই পেলে বয়ে গেলে আপনার
সুখী কপােতর নীড় ভেঙ্গে দিলে পেনু শুধু হাহাকার।
বিক জীবন যৌবন রঙে উঠিল নুতন হয়ে
ডুবে গেনু হায় অতল পদে সাধু হ'লে তাই করে।
২৪
আ হ তি
“ঘুEে"
সমা
পুরুত ঠাকুর তােমার পুথিতে আছেকি কোথাও লেখা
রাতের আড়ালে অভিসারিকার ঘরে দেবে তুমি দেখা!
শুনাবে কি কিছু পুণ্য কাহিনী দেখাবে কি কিছু আলো!
লজ্জা করেনা কী ক'রে বলােযে তুমি মােরে বাসাে ভালো
তুমি হে শাসক একী তব কাজ! কী হবে রত্নহারে।
গরীব কাঙ্গালে বিলাইয়া দাও যারা কাদে হাহাকারে !
পাথর তেতেছে প্রখর রৌদ্রে পথের পার্শ্বে নারী
জেগে উঠে দেখে চলিয়াছে ফিরে যাত্রীরা সারি সারি ।
সেও ছুটে চলে পাগলের মত কোথা যাবে নাহি জানে
আপনার মনে বকে হাসে কঁদে মাথা ঠোকে কোনাে খানে
কেহ দেয় জল কেহবা খাবার কেহবা গায়েতে ধূলি
দৃক পাত নেই চলিয়াছে নারী সকল লক্ষ্য ভুলি!
জঞ্জাল টবে কীযে ছিল হায় তাড়াতাড়ি তুলি মুখে
চলিতে চলিতে ঢলিয়া পড়িল জীবনের শেষ সুখে ।
শ অক্টোবর ৩৩।
২৫
ব্যর্থ আশা
এর চেয়ে কেন মরণ হলােনা কোথা আছ ভগবান।
ব্যর্থ জীবনে নাই কাজ নাই হয়ে যাক অবসান।
সন্ন্যাসী এলো যত সারিতে তাহাদের মন্দিরে
অভাগীর লাগি হলােনা পূর্ণ তিনি যে গেলেন ফিরে !
পারণের জল যােগাতে নারিল হাতের চাউল মুঠি
অক্ষম হলাে পাত্রে রাখিয়া ঘােয়াতে চরণ দুটী !
স্নিগ্ধ শান্ত মধুর দৃষ্টি মেলিয়া তাহার পানে
কহিলেন তিনি চলিলাম মাগো কেঁদোনাকো অভিমানে
বা ই আশা
ভীতিবিহ্বল দাড়ায়ে রহিল’ নির্বাক প্রাণ হীন
চো:
.
মূচ্ছিতা না। মনে ৩২৯, ৭ :: :
কেহ বলে আহা কেহবা বাতাস কেই চুপি আলাপন!
ভাণ্ডার তার বৈভব ভরা মুক্ত হস্ত দানে
প্রার্থী না হয় কখনো বিমুখ বিশ খানা গায়ে জানে ।
এহেন ঘরের গরবিনী নারী তনয় ভিক্ষা মাগি
তেত্রিশ কোটী দেবতার নামে মাথা খোড়ে নিশি জাগি ।
যার নামে হায় শিলাজলে ভাসে তাহারি আশীর্বাদে
তাপসীর তপ শেষ হলাে ওগাে বাঞ্ছিত মনােসাধে!
জনকের স্নেহ জননীর প্রেমে নবীন অতিথি ঘরে
শশীকলাসম বাড়িতে লাগিল ধীরে অতি সমাদরে ।
পূরাবে তাহার ব্যর্থ সাধনা আশা করি মনে মনে
পাঠাইল নারী সন্ন্যাসী লাগি’ দেশে দেশে জনে জনে !
অলখে দেবতা হাসিল বারেক তপন ডুবিল ধীরে
মা’র কোল হ'তে জাগিশন শিশু ভাসাইতে অখিনীরে
२१
পুত্র শশাকের বৃশ্চিক জ্বালা সহিতে নারিল আর
উন্মাদ হয়ে ছুটে এলাে পথে যদি মেলে দেখা তার!
কেঁদে কেঁদে কেঁদে শরীর গিয়েছে কণ্ঠ হয়েছে ক্ষীণ
পাণ্ডুর ম্লান মুখানি তাহার ঘনাইয়া আনে দিন !
জগন্নাথের চলিয়াছে রথ পাণ্ডারা দলে দলে
যাত্রীর ভিড় সরাতে দেখিল পাগলী সুমুখে চলে!
আকাশে বাতাসে বাজে তার কথা ‘খােকা আয় ফিরে আয়
পাণ্ডারা দিলাে সরায়ে যাহাতে আঘাত না লাগে গায় ।
অযুত কণ্ঠ কল্লোল স্রোতে জগন্নাথের জয়
ভাসিয়া চলিল মুক্তির পথে বিশ্ব ভুবন ময়
শঙ্খ ঘণ্টা বাদ্য ও গীতে মুখর পুরীর মাঝে
পাগলীর কথা শুনিবে কে আর ব্যস্ত সবাই কাজে।
অভিমানে তার মৰ্ম্মের পীড়া চোখেতে নাহিক’ জল
চলিয়াছে নারী ভিড়ের ভিতর বেদনায় দুর্বল।
সহসা উঠিল হায় হায় ধ্বনি সব শেষ সব শেষ
পুত্রের মুখ হেরিতে বুঝিবা ভুলিল সকল ক্লেশ।
৩০শে অক্টোবর ৩৩।
২৮
শান্তি
চুড়ি নেবে ভাল চুড়ি-
ঝকাটি মাথায় কাঠ ফাটা রােদে হাঁকিয়া চলেছে বুড়ি!
পরণে তাহার শতধা ছিন্ন মলিন বসন খানি
সকলের কাছে তার জীবনের বেদনা বহেযে আনি।
রুক্ষ চুলেযে বাধিয়াছে জট চিন্তা মগ্ন মুখ
জীর্ণ শীর্ণ দেহ নিয়ে আর বাঁচিবার নাই সুখ ।
কবরের মাটী তাও জোটে নাক’ আপন দুঃখে বুড়ি
পাড়ায় পাড়ায় ডেকে ডেকে ফেরে চুড়ি নেবে ভাল চুড়ি
শান্তি
মেয়ে, ওগাে শোন মেয়ে
ওপর হতে যে কে ডাকিল’ তারে বুড়ি তা দেখিল চেয়ে ।
রুবি এলাে তার মাকে নিয়ে নীচে পিছনেতে ছছাট ভাই
দুই ভাই বােনে নামালাে ঝাকাটী বুড়ি কহে মরে যাই।
মনের মতন চুড়ি হাতে হলে শুধালেন মাতা দাম
দুই টাকা মাগাে বেশী কিছু নয় বুড়ি কয় মুছে ঘাম।
পাচটী টাকার নােট ছিল মা’র কিছু নাই কাছে আর
ভাঙ্গানি নাইকো ? হবে না'কো দিতে ! তােমার পুরস্কার।
পুলক অঞ নিয়ে
শুনাইল' বুড়ি রুবির মতন নাতনীর তার বিয়ে।
মরণ সময় আমিনার দাদু বলেছিল তারে ডেকে
আমিনার আর কেই নেই জেনাে ভাল ঘর দিও দেখে।
আমিনার বিয়ে দিয়ে চলে যাবে, মক্কায় বাকী দিন
কাটাইৰে বুড়ি আল্লার নামে সকল ভাবনা হীন।
শুনায়ে তাহার ঘরের খবর আল্লা আল্লা করি’
ধীরে ধীরে ধীরে হলাে সে বাহির গাঁয়ের পথটা ধরি।
৩.
শান্তি
চুড়ি বেচা তার বিশ টাকা আছে সিধু চাচা দেবে ছয়
এই পাঁচ আর মােড়লের কাছে বাকী যা’ তা’ সমুদয় ।
আমিনা যে তার বড় আদরের বুকের কলিজা চেয়ে
মুখে রবে আহা লাঙ্গল পোতার মােড়লের ঘরে যেয়ে ।
এই মত কত ভাবিতে ভাবিতে দুয়ারে আসিয়া হায়
ঘর খেলা দেখে ডাক দেয় বুড়ি...আমিনা আয়রে আয়।
t
আমিনা যে ঘরে নাই।
কোন দূষণ নিয়ে গেছে তারে চুরি করে কোন ঠাই।
এলাে মেলাে সব ঘরের জিনিষ, সিন্দুক ভাঙ্গা তার
মেজেতে দেখিয়া রক্তের চিন্ বুড়ি করে হাহাকার।
ওরে শয়তান কোথা গেলি নিয়ে আমার দিদিরে বল
মরণের ভয় রাখি না তুই এতই কপট ছল!
আমিনার শােকে কেঁদে কেঁদে বুড়ি ঘুমায়ে পড়িল ঘরে
সকালে সকলে বুড়িকে দেখিল বকিছে বিকার অরে।
৩১
শ তি
রাতের অন্ধকারে
অস্ফুট চাপা কান্নার স্বর ধামাইল সর্দারে ।
শিকারীর দল সাথে নিয়ে হায় গিয়ে দেখে ধীরে ধীরে
খাদের ভেতর দড়ি দিয়ে বাঁধা নারী ভাসে আখি নীরে।
মুক্ত করিয়া বন্ধন দশা পরিচয় তার জানি
আমিনারে নিয়ে হলাে উপনীত যেথায় তাহার নানী।
কাদিতে দিতে আমিনা আসিলে নানি তারে রাখি বুকে
মর জগতের ভুলিল ভাবনা চির বিশ্রাম সুখে।
৭ই নভেম্বর ১৯৩৩।
৩২
সমপণ
শ্যাম বনানীর মমতায় রচা মটর ঘর খানি
পদ্মদীঘির স্বচ্ছ সলিলে বিস্ময় দেয় আনি।
ফুলের বাগান ফসলের ক্ষেত, গােয়াল, খামার চালা
তুলসী মঞ্চ দেবতার ঠাই ভক্তি অর্ঘ্য ঢালা।
বাপ পিতেমাের পা’র ধূলাে আর চাষীর মনের বল
অভাবে রেখেছে দূরে বহু দূরে ঘুচায়ে অমঙ্গল।
বিদেশী পথিক দুই চোখ দিয়ে দেখে বলে ‘আহা মরি’
স্বর্গ নেমেছে পায়ের তলায় অপরূপ শােভা ধরি ।
সমর্পণ
।
সংসারে তার সােনার প্রতিমা করুণা রূপিণী নারী
বুক ভরা ভালবাসা দিয়ে যেন যুগে যুগে আছে তারি
কিশােরী লীলা সে ওই দুজনার নয়নের ধ্রুব তারা
মা’র স্নেহ আর বাপের সােহগে উছলে আপন হারা ।
ধবলী বুধিয় খেলার সাথী সে রঘু রাখালীর দিদি
পড়শীর বড় আদরের মেয়ে সবাকার প্রাণনিধি
এবেলা ওবেলা শত পাতা পড়ে তাদের উঠানে নিতি
আপনার গুণে যশ মান টানে সকলের তারা মিতি।
সেদিন কিসের উৎসব ওই পাহাড় তলীর নীচে
লীলা চলেছিলো আপনার ভাবে বাপ তার পিছে পিছে।
সহসা পশিল কানে তার ক্ষীণ কাতর বেদন অর
জল ওরে জল কে আছিস বল কতদূর কতদূর!
থমকি দাড়ালাে হেরিল’ অদূরে যা এক সুন্দর
পড়ে আছে পথে বিক্ষত দেহে যাতনায় জঞ্জর।
হিংস্র পশুর কবল মুক্ত রক্ত সাত বীর
মৃত্যু পথের যাত্রী আজিকে বেদনায় অস্থির।
সমর্পণ
লীলা এলো ছুটে চোখে মুখে জল ছিটায়ে যতন ক'রে
কোলে তুলে নিলো মাথাটি তার গভীর আবেগ ভরে ।
বুলাইয়:
বাতাস করিল পাতা বেটে দিল রুধির সিক্ত ।
ভিন্ পথিকের সেবার লাগিয়া বেদনা সরায়ে দিতে
অতি সমাদরে নিয়ে এলাে তারে আপনার ঘরটিতে।
মায়ের করুণা বাপের স্নেহকে লীলা যে মাথায় নিয়ে
সেবা-উৎসবে ডুবে গেলো ধীরে মমতা সাধনা দিয়ে।
ক্ষত উপসমে যাতনা বিরামে তরুণ উঠিল হাসি
কহিল বিনয়ে বাঁচালে আমারে স্নেহ দয়া পরকাশি।
তােমরা আমার চির আপনার ভুলিবনা কোনােদিন
কথা তােমাদের স্মৃতিপট হতে হবেনাকো কভু লীন।
মা’র কাছে ছিনু পরম আরামে বাপের সােহাগ মােরে
বাঁধিয়া রাখিগ চির বাঞ্ছিত প্রেমের নিগুঢ় ডােরে।
আর তুমি লীলা কি কবো তােমায় ভাষা না জুয়ায় মুখে
বিদায় বিদায় ওগগা নিরূপমে তুমি রও চির সুখে।
সমর্পণ
মধুর মুখে কোন কথা নেই মায়ের চোখেতে জল
নীরব নিথর কিশােরী লীলার সকল কৌতুহল ।
সারা মনপ্রাণ যাহার লাগিয়া বিকাইয়া দিলো হায়
আজ সেই জন তার কাছ থেকে বিদায় কেমনে চায় ।
সেবার ভিতরে নারীর জীবনে দেবতা দিয়াছে দেখা
দেউলে তাহার আরতি হবেনা রহিবে পড়িয়া একা।
ফুল্ল কুসুমে যেওনা দলিয়া ফিরে চাও, চাও ফিরে
সাধনা তাহার সফল করগো দেবতা এসােহে ধীরে।
আকাশ তখনি ফুকারি উঠিল গম্ভীর গুরু নাদে
সঘনে দামিনী চমকি লুকাল বিভীষণ পরমাদে।
অট্ট হাসিয়া আসিয়া পবন পদ্মদীঘির ধারে
সংহার স্রোতে ভাসিয়া চলিল নিস্ফল হাহাকারে।
থ, থ থ কাপিল ধরণী টলমল কঁপে জল
মন্ট, চাষীর সাজানাে স্বর্গ মিশিল ধরণীতল।
যুবক আসিল ছুটি’
দেখিয়া তাহার ভগ্ন দেউল পড়িল দুয়ারে লুটি।
২৭ অক্টোবর ১৯৩৩।
লক্ষী
সাধু কারপাশ রাম
নদী তীরে বেঁধে পাতার কুটীর জপেন নিয়ত নাম।
শয়নে স্বপনে ভােজনে ভ্রমণে রাম রাম করি’ সার
বিন্দুর বুকে সিন্ধুর ব্যথা বিক্ষোভ আনে তার।
সাধন ভজন পূজা আরাধন অতিথি সেবায় মাতি-
পুলক আবেশে বিভাের প্রেমিক লক্ষমী তাহার সাথী
রূপে গুণে সে যে স্বনাম ধন্যা সাধু কারপাশজায়া
অমা-রজনীর বিদ্যুৎ জ্যোতি নিদাঘের শ্যাম ছায়া।
मनौ
জানিয়া গিয়াছে সবে
ধরণীর মাঝে তারা দুইজন অমর হইয়া রবে।
দৈন্য তাদের মাথার মুকুট ভিক্ষায় সুশােন
শান্তি ও প্রেম দোসর দোহার দিবারাতি অনুখন।
বন্দ্ব বিষাদ দুঃখ সেথায় পরাজিত বারবার
অশ্রু তাদের মুক্তার মালা দিয়াছে যে উপহার।
পলকে পলকে মৃত্যুর মুখে যে জীবন যায় চলে
সে জীবনে তারা পেয়েছে অভয় গুরুর চরণ তলে।
লক্ষমীর রূপে হয়
লুব্ধ বেণিয়া কামনা অনলে জ্বলে পুড়ে মরে যায়।
অন্তর তার ফুলে ফুলে ওঠে , লােলুপ রসনা নিয়ে
নেমে আসে ছুটে পাতার কুটীরে কী কথা বলে যে গিয়ে !
ধন গরিমায় গর্বিত সে লক্ষমীর কাছে আসি’
জানায় তাহারে ঘরে গেলে তার হবে রাণী পাবে দাসী।
ঘৃণায় নাসিকা কুঞ্চন আর চোখের তীব্র জ্বালা
বেণিয়ায় বলে পশুর অধম পালা পাল ছুটে পালা।
নগর মুখরি তুলি
নাম গানে সাধ চলেছেন পথে কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি ।
এম--
সঙ্গে । *
কোথায় জননি! ক্ষুধিত তনয়ে চাও দেৰী মুখ তুলে
সন্তান তব এসেছে দুয়ারে কেমনে রয়েছ ভুলে!
কুণ্ঠিত মাতা কোন কথা নেই ; দুয়ারে আঘাত হানি’
হেরিলেন সবে রৌদ্র কিরণে ছিন্ন বসন খানি!
গুরুর উত্তরীয়ে -
লজ্জা নিবারি’ বাহিরে জননী আসিল আসন নিয়ে।
সাধন মগ্ন সেথা গুরুদেব পার্শ্বে ভক্তদল,
ঘরে কিছু নাই কী হবে উপায় নারীর নয়নে জল।
সহসা ছুটিয়া বিপণিতে গিয়া জানাইল প্রয়ােজন
উপহাসি সবে ফিরাইল’ মুখ কেহ কেহ কুবচন।
অবশেষে হায় বেণিয়ার কাছে বলিল সকল কথা
প্রয়ােজন তার মিটাইলে পরে হবে সে যে অনুগতা।
বেণিয়া ভাগ্যবান
শতেক লােকের তেজনের মত দ্রব্য করিল দান।
সে সকল দিয়ে সমীর হলে গুরু সেবা সমাপন
বিস্মিত সাধু কারপাশ আসি’ দেখিল যে অঘটন।
তুলসীর মূলে সন্ধ্যার দীপে লক্ষীর মুখে যবে
শুনিল কাহিনী, পুলকাবিষ্ট কহিল চলগাে তবে।
রূপ দেহ তব গুরুসেবা লাগি’ বিকাইয়া আজ যাক
ধন্য তােমার জীবন সঙ্গমী। বেণিয়া শান্তি পাক।
ধীরে ধীরে অবশেষে
বেণিয়ার দ্বারে কারপাশ আর লক্ষমা দাড়ালাে এসে।
সার্থক তব জীবন বন্ধু বাঁচায়েছো তুমি মােরে
লহ লই এই গুরুর প্রসাদ বাঁধিলে প্রেমের ডােরে।
লক্ষী তােমার আজ হতে হলো মিটাও তােমার আশা
আমি চলিলাম বিদায় বন্ধু ভুলােনা ভালবাসা।
চমকি বেণিয়া উঠিল কাঁদিয়া কহিল ম স্বরে
‘াড়াও ঠাকুর। যেওনা যেওনা দেখি তােমা ভাল করে ।
৪০
দেখদেখি তুমি চেয়ে
পশুর মাথা কি মানুষের মাথা আমার স্কন্ধ বেয়ে ?
ক্ষমা ক;
ছুটে
উপাড়িয়া লও রসনা আমার জীবন নষ্ট হােক
লালসার দাস অন্ধ বেণিয়া মরেছে জামুক লােক।
:::
রাতের আঁধার ঘন হয়ে এলাে সাধু কারপাশ রাম
লক্ষমীর সাথে ফিরে এলো ঘরে জপিতে জপিতে নাম
০ই নভেম্বর ১৯৩৩।
৪১
ভালােবাসা
ভালােবাসি ভালােবাসি ভালােবাসি তারে
ধরণীর ভোগ সুখ হসি হতে বঞ্চিত করেছে যারে।
জীবনের আনন্দ আস্বাদ
ক্ষুধাতুর তৃষাতুর বহুত দল পায়নিকো কভু।
একী পরমাদ
মৃত্যুরে
নিয়মের ব্যতিক্রম হবেনাক’ তবু!
হ’তে নাহি দেবো কোন মতে
সমাজের কুটী বৈষম্য আর ধনিকের সহস্র আদেশ
সুন্দরী এ ধরণীর পাদ পৃষ্ঠ হতে
করিব নিঃশেষ।
ঠেকায়ে দূরে
৪২
ভালোবাসা
প্রতিদিন জীবনের হাহাকার কল কোলাহলে
তােমাদের অমূল্য সময়
কোরোনা ।
হে বন্ধু আমার
দূরে ফেলে পুঞ্জীভূত বেদনার যত কিছু ভার।
অনলস কর্মময় দৃঢ় ভুজ দু’টী
বিস্মৃতির মহাঘােরে সৃষ্টির সাফল্য নিয়ে উঠি
বিশ্বের সম্মুখে
গােপন রহস্যটুকু জানা কৌতুকে।
পীড়নের পালাবাধা অতিকায় অগণিত যন্ত্রের ভিতর
শােষণের চাকা ঘুরে ঘর ঘর ঘর
পঙ্গু করে রেখেছে তোমায়
ভেবেছো উপায়?
দুঃখ শােকে ম্রিয়মান মুহমান ওগাে প্রিয় সাথী
আরো কত অন্ধকারে হাহাকারে কাটাইবে রাতি ?
ভীষণ জঙ্গল কাটি’ বসাইয়া সৌধ শ্রেণী সুরম্য শােন
হে শিল্পী অপরূপ আপনা বিহ্বল
কী পেয়েছ পুরস্কার
কী নিয়েছ মাণিক কাঞ্চন ?
৪৩
ভালোবাসা
অম্বুধির জলােচ্ছাস প্রায় উচ্ছল চপল
প্রতি দিবসের খুঁটী নাটী কাজে
পরশ তােমার
সরস করিয়া তােলে দুনিয়ায় সবাকার মাঝে ।
খরতরা স্রোতস্বতী, পর্বত দুর্গম,
কিছুই মানােনি বন্ধু কর্তব্যের করিয়া সম
ছুটে গেছে যাহারই সন্ধানে
কে তা জানে ?
কে রাখে খবর
শ্মশানে জ্বলিছে চিতা ওদিকে কবর।
ক্ষুধার জ্বালায়
তোমার আপন ন
সাধের সংসার হতে চিরতরে চলে যায়
মৃত্যুর দুয়ারে ফেলি’ উৎপাটিয়া জীবনের বাঁচার বন্ধন
তবু নানা প্রতিশ্রুতি নানা অছিলায়
তােমার অন্তর সাধ, মুক্তির পিয়াস ভুলাইতে চায় ।
কারে তুমি বলাে ব্যথা কে বােঝে তা হায় !
তােমার অনিষ্ট হলে তাহাদের কি বা আসে যায় ।
বােলােনাকো কারে কিছু
বিদ্রুপ কুটী আজ ফেলে রেখে জীবনের পিছু
সুবিস্তীর্ণ
মুক্ত নীল আকাশের তলে
এসাে এসাে চলে।
৪৪
ভালােবাসা
যাহারা আমাকে টানে তাহাকেও টেনে লবনা আজ
দূরে রেখে লােকালয় সুসভ্য সমাজ।
বাকী কটী দিন
অননন ননন্দকে অলিনি : ন
*
ভােগাশার মিথ্যা সুখ করিয়া বিলীন
আনাগােনাগতিস্রোতে ভাসাইয়া জীবনের ভালােবাসা তরী
মরণ পেয়ালাটীতে আয়ু সুধা তরি’
দুনিয়ায় বেঁচেমরা মানুষের আত্মীয় স্বজনে
এসাে ভাই ভালােবাসি চুম্বনে চুম্বনে।
৯ই নভেম্বর ৩০
৪৫
শান্ত হবে অশান্ত এ হৃদয়ের সব আকুলতা
প্রশ্ন জাগে মনে
অতুল বৈভব আর নাম যশে সখি
কি কাজ আমার?
তুমি যদি নাহি রও পাশে মিথ্যা হবে সুখ হাসি গান
মিথ্যা হবে ধরণীর রূপ রস সুধা
হবে মিথ্যা সব
গৌরবের তুঙ্গ শৃঙ্গে যদি উঠি আমি
কিম্বা বসি রত্ব বেদী 'পরে
কি ফল?
আভিজাত্য গর্ব যদি মেরে ফেলে অন্তরের আসল মানুষ
ব্যঙ্গ করে বুভুক্ষিত আপনার জনে
রােব দীপ্ত নয়নেতে চায়
তবে বলো কতটুকু প্রয়ােজন জীবনে আমার ।
শান্ত হবে অশান্ত এ হৃদয়ের সব আকুলতা
তুমি বল প্রিয়ে
এর মাঝে আমি কেন ?
উদার আকাশ যেথা চুমিছে ভূধর অনন্ত উল্লাসে
প্রশান্ত নয়নে •ে
কলহাস -
বসন্ত আনন্দে যেথা
অমৃতের আনন্দ নিঝরে মাতে পরম বিস্ময়ে
সেথা যদি নিতে পারি ঠাই আপনার
তুমি থাকো কাছে
জীবনের ভােগ সুখ সেদিন সফল।
আমি শুধু চাই
আমার এ অন্তরের নিভৃত কাননে
হর্ষ প্রীতি অনুরাগে ভরাইয়া জীবনের ডালি
হাতে লয়ে পবিত্ৰ নিৰ্মাল্য সুন্দর
গেয়ে যাবাে গান।
৪৭
শান্ত হবে অশান্ত এ হৃদয়ের সব আকুলতা
আমার গানের সুরে
তােমার হৃদয় বীণা উঠিবে বাজিয়া
ও দুটি কোমল বাহু
ঘেরিবে আমায় যুগ যুগান্তর।
নয়ন তোমার
জুড়াবে আমার দুটী নয়নের জ্বালা।
ব্যর্থতার রুদ্ধ অনুযােগে
সমাপ্তির রেখা দেবে টানি চুমায় চুমায় ।
অতৃপ্ত বাসনা যত
পূর্ণ হবে জীবনের ভাব বিনিময়ে।
ছদ গন্ধ শব্দ স্পর্শ রূপ রস সুর
তােমার আমার সখি মিলনের শান্তি নিকেতনে
চঞ্চল লীলায় রবে মাতি।
তােমাতে আমাতে
ভুলে যাবাে মরণের কথা
শান্ত হবে অশান্ত এ হৃদয়ের সব আকুলতা
২২শে ফেব্রুয়ারী ৩৩
৪৮
যৌবনের মােহ
যৌবনের মােহ
আর বসন্তের মধুর চুম্বন
ভুলাইয়া দিলাে যার প্রসব বেদনা
সার্থক করিল প্রাণ পূর্ণিমার হাসির খুসিতে
রূপে রসে গন্ধে তারি বিকচ কুসুম
মায়েছে মন।
স্রষ্টার সফল সৃষ্টি
এরি মাঝে ধরণীর চলে উৎসব।
শতাব্দীর সভ্যতায় গৌরবের জয় টীকা লতি
মানুষ বুঝেছে এর দাম।
৪৯
যে ব নে র মাে হ
অমৃক্ত প্রবাহ এযে-
স্পর্শে এর নেচে ওঠে প্রাণ
শিরায় শিরায় বহে আনন্দ কল্লোল।
ছন্দে গানে লীলায়িত প্রেমের মাধুরী
ফুটে ওঠে জীবনের লীলা কুঞ্জে অপূর্ব সুন্দর
পৃথিবীর পথে পথে
একে নিয়ে বসিয়াছে আনন্দের মেলা।
স্বাধীনতা নিলো রূপ
লাগিল যৌবন।
প্রেম এলো এরি পাশে পরম বিস্ময়ে ।
অমাবস্যা ছিলো একে তমিস্রার গাঢ় আবরণ
চন্দ্রমা মগালাে একে আলোর বন্যায়।
পাখীর কাকলি
আর সাগরের উন্মাদ নাচন
মুক্ত হলো
এর প্রতি রক্ত বিন্দু মাঝে।
যৌবনের মােহ
পুথির বিধান তাই
ধরণীর রূপ রস সুধা হাসি প্রেম
সব টুকু একে দিয়ে
উপভােগ করে নিতে চাই।
আমি গহি এরি জয় গান ।
আমার প্রেমের অর্ঘ্য, চুম্বনের মালা
এরি কাছে পাই উপহার।
এই দেহ এ আমার
চির বদনার।
ফান ৪০
উদয়ন
ধীরে অতি ধীরে
কে তুমি দাড়ালে হাসি
দেহের দুয়ারে মাের অতিথি নবীন।
বিস্ময়ের দীর্ঘ রেখা টানি
জীবনের মহাকাব্য করিতে প্রকাশ
যুগ সন্ধিক্ষণে।
লক্ষ কোটা শতাব্দীর
অসীম আনন্দ কোলাহলে
সুন্দরী এ পৃথিবীর ছােট ঘােট ছেলে মেয়ে নিয়ে
অনাগত ভবিষ্যের মধুর স্বপন
দেখাইলে তুমি।
তােমার পরশে জড়
প্রাণের প্রবাহে সুখে লভিল চেতনা।
মুগ্ধ দৃষ্টি বিস্ফারিয়া
সৌন্দর্যের লীলা নিকেতনে
অমৃতের প্রস্রবণ স্রোতে যুগের মানুষে
দিলে শান্তি, দিলে প্রীতি, প্রেম দিলে অপূর্ব ভঙ্গীতে।
উ দ য় ন
হে বন্ধু আমার
সে যুগ গিয়াছে চলে ।
কত ?
মানুষের "
রাষ্ট্র ধর্ম সমাজ লাগিয়া
গেছে মুখ গেছে শান্তি গিয়াছে আনন্দ।
তীব্র লালসায়
বুভুক্ষিত মানবের দল
বাঁচিবার আগ্রহে অধীর উন্মুখ।
ধ্বংস মুখী সভ্যতার মােহ মদিরায়
মানুষ ভুলেছে তার প্রেম।
তুমি এলে
জীবনের যাত্রা পথে
তােমার বীণার তারে তুলিয়া ঝঙ্কার ।
কৈশােরের গান আর শৈশবের খেলা
তুমিই ভুলালে বন্ধু
চুমাতে চুমাতে।
কী প্রেম শিখাবে প্রিয়
গাহিবে কী আনলের গান !
কোন্ স্রোতে নাচাইবে শিরা উপশিরা।
জীবনের পান পাত্রে পূর্ণ করি’ ভােগের মদিরা
ঐশ্বৰ্য্য বিলাসে
বলে কতটুকু প্রেম।
হে মুক্ত সন্ন্যাসী।
দাও দীক্ষা, দাও শিক্ষা, দাও তব আনন্দ সুষমা
নিখিলের যত কিছু শােক অভিশাপ
দূর হােক তােমার আশীষে।
প্রেমের প্রবাহ আনি’ মরণের মুক্তি মন্ত্র গানে
হে মহাতাপস ওগাে হে মাের যৌবন
আমার জীবন দিয়ে
পর্ণ হােক
আশিন ৪০
বিসর্জন
ছােট্ট মেয়ে।
বনদেবী বললেও চলে।
চাড়াল বেয়ের মেয়ে বলে অনেকেরই সন্দেহ।
মাথার ওপরে কোকড়ানাে এক রাশ চুল
পিঠ বেয়ে নেমেছে হাঁটুর নীচেয়।
মুখ খানি যেন পৃর্ণিমার চাঁদ।
চোখ দু'টির কি মিষ্টি চাউনি,
টুক টুকে রাঙ্গা ঠোট দুটি কথার রসে ভরা,
ঘটের পথে সবাই এসে চেয়ে থাকে।
এম্নি ভাবে দিন যায় ।
-
বি স র্জন
চঁড়াল বেয়ের আর কেউ নেই।
মণিকে উপহার দিয়ে মণ্ড চাড়াল চলে গেছে
সব পেয়েছির দেশে সকল রােগের ওষুধ আনতে...
তার ঝুলি, ওষুধের বাক্স, নােড় মুড়ি,
গাছের শেকড় সব আছে•••
শুধু সে নেই।
মন্দিরের পুরােহিত চাঁড়াল দৌকে কাজ দিয়েছেন
পথের জঞ্জাল সরিয়ে দেবে-
পেসাদ পাবে।
মায়ের করুণায় সবাই ভীত...
গুজব রটলো অভিজাত্য গীর তরফ হতে
ছোট জাতের ছায়া মাড়িয়ে পূজা করার এই ফল।
পুরুত মশাই-এর ছেলে চঞ্চল
সেও মাথা নেড়ে সম্মতি জানালে ।
কড়া হুকুম হলো, মণিব মা কাজে আর আসবেনা।
রােগ কমলো।
সবাই দেবতার উদ্দেশে ধর্মের নামে মাথা নত করলাে
শুধু চঞ্চলের বাপ দিলেন। সাড়া।
মা শীতলা কোলের ছেলেকে তুলে নিলেন কোলে।
চঞ্চস্থ হলো পূজারী।
বি স উ ন
উপােৰী কেউ থাকেন। তার রাজ্যে,
যেমন করে-
চোখের জলে সা. ভা
মণি বুঝতে শিখেচে।
যৌবনের রাজ-মন্দিরে দেবদাসী সে...
সংযম আর পবিত্রতার ফুলে, মালা গেঁথে পরে
মণি মানবী নয়, মণি দেবী।
দেবীর প্রসাদের আশায় জুটলাে ভণ্ড ভক্ত
ঘাটে মাঠে পথে তার লােলুপ দৃষ্টি
মণিকে ভাবিয়ে তুললাে-
চঞ্চলের গ্রাস হতে মণি মুক্তি চায়।
মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে কাঁদে।
বি ল জ ম
অমাবস্যার অন্ধকার...
সবখানেতে জাল পেতেছে-পথ নেই পালাবার।
মণি তার মায়ের কাছে ঘুমিয়ে ছিল আরামে।
হঠাৎ তার পায়ে কিসের স্পর্শ
চেচিয়ে উঠলাে ‘মা’ ‘মা’
ঘর আলাে হয়ে গেলাে-মা নেই।
চঞ্চল বল্লে ‘চুপ,
তার বাহু বন্ধনীর মধ্যে মণি হলো বন্দী।
মণির চোখে জ্বলে উঠলাে বিদ্যুতের শিখা।
প্রাণপণে চেষ্টা চল্লো রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত হবার।
চঞ্চলের বস্ত্র মুষ্টির কাছে মণির লাথি হ'লাে ক্ষীণ
আকাশ বাতাস মুখর করে তুললাে চীৎকারে
পরদিন সকালে সবাই দেখলাে
মণির দেহ ঘাটে ভা’গচে।
দোল পূর্ণিমা
১২ই মার্চ ৩৩
৫৮
আছি বেশ
আছি বেশ।
ভােরের পাখীর গানে ভেঙ্গে যায় ঘুম।
প্রভাতের আলাে এসে সকৌতুকে হেসে খল খল
জানাইয়া ভালবাসা
দিয়ে যায় চুম।
জীবনের যাত্রাপথে তাই
কী অদৃশ্য প্রত্যাশায়, কী বিপুল ভাবােচ্ছাসে
ভাষাহীন রহস্যের জ্যোতির্ময় কোন লােকে সুরু মাের
চলা শুধু চলা।
দুর্নিবার গতিস্রোতে বিধাতার গােপন ইঙ্গিতে
ভাগ্য ওই ভেসে যায় নৈরাশ্যের কুটীকা ভেদি
মৌন
মুফ বিস্ময় বিমূঢ় আমি
দেখি অপলকে।
কুলি কটাক্ষ হানি’ অভাব রাক্ষসী
পৈশাচিক অট্ট হাসি হেসে
বেদনার নাগ পাশে
বাধে যে আমায় ।
মধ্যাহ্নের প্রচণ্ড ভাস্কর
অসহায় অপাংক্তেয় সর্বহারা দীন হীন লাগি
রােষবহ্নি বিচ্ছুরিয়া ধীরে অতি ধীরে
ডুবে যায় পশ্চিম আকাশে।
উদরের জ্বালা
অপমান তিরস্কার তীব্র ভৎর্সন।
বিজপের কশাঘাত, মৰ্ম্মভেদী শত অভিযােগ,
অক্ষুট ক্রন্দন আর নীরব সে অভিমান সজল চাহনি
উন্মাদ করিয়া তােল।
বিধাতার দর্প চূর্ণ আশে
বজ্রমুষ্টি ওঠে হায় পড়ে যায় নিস্ফল প্রয়াসে।
৬৩
আ ছি বেশ
গােধূলি লগন
ন মিবিকার যারা
এ
কিন্তু হায়
ব্যর্থতায় যে জীবন জ্বলে পুড়ে যায়
অবসর কোথা তার?
রুক্ষ কেশ, জীর্ণ বাস, শীর্ণ দেহ লয়ে কোন মতে
মাটী আর আগুনের সাথে
দিন রাত পড়ি
অবসর ?
মৃত্যু যারে আলিঙ্গন দিতে
ছুটে এসে সরে যায় কর্তব্যের অতিকায় বােঝাগুলাে দেখে
যম যা’র নাহি চায় কেশাগ্র চুম্বন
সেই আমি আছি বেশ।
কেঁদে কেঁদে শেষে
নিশীথের স্বপ্ন মায়া প্রমােদ কাননে
ঘুমাইয়া পড়ি হায় বান্ধবীর মিলন সঙ্গীতে ।
ঘরে আর কেহ নাই দেখে
ছুটে আসে চুমু খায় প্রভাতের আলাে
পরম আরামে।
৬১
লা ছি বেশ
জেগে উঠে হাসি আর ভাবি
হে বিধাতা কী বা ক্ষতি তুমি পারাে করিতে আমার ?
স্থির জেনাে মনে
গর্ণোজ্জ্বল ভবিষ্যের আলাের কিশাের
কোন মতে করিবেন। ক্ষমা।
আমার চলার পথে
যত পার দিয়ে যাও তােমার হুঙ্কার
কষ্টকে বিক্ষত দেহে প্রলয়ের ঝাশিলা বিদ্যুৎ পরশ
আমি রবাে চির অচঞ্চল!
সাক্ষ্য দেবে পত্রের মর্মর ধ্বনি আকাশে বাতাসে রণরণি।
অনাগত ভাবী-কাল আশে হৃদয়ের বীণা মাের নবনব সুরে
তুলি’ তার অপূর্ব মূৰ্চ্চনা শুনাবে সঙ্গীত
আমি আছি বেশ ওগাে
আমি আছি বেশ।
২রা ডিসেম্বর ৩৪
৬২
দুটী কথা
আমার ভুবন
ভরি’
তুমি রও ওগাে তুমি রও শুধু তুমি রও সহচরি।
আরাে কাছে সখি আরো কাছে এস বলিতে পারিনা হায়-
যে কথা রয়েছে আকাশে বাতাসে বিহগ যে গীতি গায় ।
মুকুলের বুকে যে কথা লুকানাে, পুষ্পে যা আছে প্রিয়া
কানে কানে আমি কবে সেই কথা, জুড়াবে ব্যথিত হিয়া।
কল-নিনাদিনী কুলু কুলু নাদে ছুটে চলে যা’র লাগি
নৃত্য-বিভেল-সিন্ধু যাহার পরশ নিয়েছে মাগি’-
পাহাড়ের মাঝে যা আছে গােপন, ঝরণা যা পেয়ে নাচে
বলি বলি করে হয়নিক' বলা কবাে তা তােমার কাছে।
দু ট ক খ
অনাদি কালের কাহিনী কাব্যে ছবিতে যা বয় ফুটি’
আজ নিরালায় চুপি চুপি তােমা শশানাবাে সে কথা দুটা।
অনসূয়া আর প্রিয়ম্বদার যে কথা হলােনা বলা
যার আশে আশে বেদনায় মূক তাপসী শকুন্তলা !
পত্রলেখার চির বাঞ্ছিত যে লিপি হলোনা লেখা
যার লাগি মেঘ নানা দেশ ঘুরে পেলােনাক’ হায় দেখা ;
যে আশা তাদের মেটেনি জীবনে, যে গান হয়নি গাওয়া,
পিপাসায় বুক শুকায়ে গেলেও বিফল হলাে না চাওয়া-
মধুমাখা সেই দুটী কথা শুধু কবােগা তােমারে প্রিয়ে
সকল দেশের সকল যুগের কবিরা যা আছে নিয়ে !
জীবনের পথে বহুদূর এসে হারায়ে গিয়াছি ভীড়ে
অপলক চোখে শুধু দেখি ওই পাখীরা ফিরিছে নীড়ে।
ভেঙ্গে গেছে বীণা, ছিড়ে গেছে তার, থেমে গেছে সুর কবে-
কথা দুটী আজো যায়নি ফুরায়ে শুনে যাও সখি তবে।
২৯-৩৫
৬৪
বিরহ
দৃষ্টির দিগন্ত ছাড়ি’ বিস্তৃতির দুর্গম যে পথ
স্বর্ণদ্যুতি বালু আর কঙ্করের যে উষ্ণ প্রবাহ
বাসুকীর ঘন শ্বাসে মরুভূর অন্ধ ভবিষ্যৎ
মর্মন্তুদ সে কাহিনী লিখে রাখে বিচ্ছুরি’ প্রদাহ।
সৌরকর-শুচি-স্নাত খৰ্জ্জুরের সম্পদ প্রচুর,
রক্ত-রাঙ্গা-গােলাপের সমারোেহ উচ্ছসিত হাসি,
ইরাণের পান পাত্রে জীবনের সৌন্দৰ্য্য মধুর
ধুলিসাৎ করে সব বিচ্ছেদের হােম বহ্নি রাশি।
অনন্ত পিয়াসা তবু মেরে খাই, সি
দেহের সমগ্ৰ দাবী পুসারি হবে কোন কালে;
বহুদুর ব্যবধা, প্রেমাস্পঙ্গে মিলিয়ে অপু
অতৃপ্ত বুভুক্ষু প্রাণ গুমরি মরিবে শােক-জা।
মরীচিকা পথ বাহি’ সম্মুখে পিছনে হয় শুধু
যুগে যুগে উড়ে যাবে বিস্মৃতির বালুকণা ধুধু।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.