Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Keya Phul

Sen, Nishikanta · 2009/09/23

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কোল
ঐনিশিকান্ত সে
ভট্টাচার্য এগুসন
কলিকাতা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ

কলিকাতা
১•৮নং নারিকেলডাঙ্গা মেন রােড, স্বর্ণপ্রেসে
ঐশিবেন্দ্রনাথ ভট্টাচাৰ্য কর্তৃক মুদ্রিত
আশ্বিন, ১৩৩৮
কলিকাতা
১৬১ নং শ্যামাচরণ দে ষ্ট্রীট, ভট্টাচাৰ্য এও স এর
পুস্তকালয় হইতে
দেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচাৰ্য কর্তৃক প্রকাশিত।

আপনভােলা সাহিত্যিক
শ্রীমুভ দেবেন্দ্রনাথ বসু মহাশয়ের
প্রতি
আমার প্রাণের যে ভক্তি ও শ্রদ্ধা
তারই চিহ্ন
এই কেয়াফুল

No text on this page.

দু-একটি কথা কেয়াফুল নাটকটি বেরিয়েছিল ১৩৩৫ সালের বৈশাখের থােকাখুকুতে। সে অনেক দিনের কথা। বেরুবার পর অনেক জায়গায় বইটির অভিনয় হয়েছিল। ঐ সংখ্যার কাগজখানি খুব শীগগিরই ফুরিয়ে যায়। তখন থেকে আমার চেনা-অচেনা অনেক তরুণ বন্ধুই কেয়াফুলটিকে বইয়ের আকারে বের করবার অনুরােধ জানাচ্ছিলেন। বইটি প্রকাশ করবার ভার নিয়ে ভট্টাচাৰ্য্য এণ্ড সন্, এতদিনে আমাকে সে অনুরােধ রক্ষা করবার সুযােগ দিয়েছেন। কেয়াফুলের অভিনয় যাতে ছেলেরা খুব সহজেই করতে পারে, এজন্যে অভিনয়কুশল, সুসাহিত্যিক শ্ৰীযুত উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচাৰ্য মহাশয় ‘অভিনয়ের গােড়ার কথা লিখে দিয়েছেন। খােকাখুকুদের প্রিয়লেখক শ্ৰমান্ বিমল ঘােষের উৎসাহ ও উদ্যোগে ছােটদের আদরের ‘গল্প-দাদু রেডিও সার্কেলে বইটির অভিনয়ের আয়ােজন করেছেন। তরুণ সাহিত্যিক মান্ অনিলকুমার সরকার প্রুফ দেখে দিয়ে ও আরো নানারকম শ্রম স্বীকার করে বইটি প্রকাশের সাহায্য করেছেন, এজন্যে এরা সকলেই আমার আন্তরিক ধন্যবাদের পাত্র। শ্রীনিশিকান্ত সেন

No text on this page.

অভিনয়ের গােড়ার কথা সখের অভিনয়ে প্রথমেই গােল বাধে, কে কি সাজবে তাই নিয়ে। নাটকের প্রধান ব্যক্তি সাজবার লােক টের মেলে, সাধারণ লােক সাজতে কেউ রাজি হয় না। কিন্তু সাধারণ অসাধারণ নানান লােক নিয়েই নাটক। অভিনয় সব দিক দিয়ে সুন্দর করবার জন্যে সকলেরই প্রয়ােজন সমান। অভিনয়ের গুণে অপ্রধান ব্যক্তিও দর্শককে মুগ্ধ করতে পারেন, আবার এই অভিনয়ের দোষে নাটকের প্রধান যে ব্যক্তি, তিনিও সকলের বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠেন। আরো মজা এই যে, শুধু একটি লােকের খারাপ অভিনয়ের জন্যেও কখনাে কখনাে নাটকের বিলকুল অভিনয়টিই মাটি হয়ে যায়। এই জন্যেই যদি আমরা মনে রাখি যে, অভিনয়ে ছােট-বড় কেউ নেই,সবাই সমান, তা হলে গোল খুব সহজেই চুকে যেতে পারে। অভিনেতা বাছাই মহলা-অভিনয়ের প্রথম কাজ-অভিনেতা বাছাই। এর জন্যে দেখতে হবে চেহারা। যাকে নাটকের যে পাত্র বা পাত্রী সাজলে মানায়, তাকে তাই সেজে অভিনয় করতে হবে। অভিনেতা সব বাছাই করা হলে, নাটকখানি আগাগােড়া অভিনেতাদের দিয়ে পড়িয়ে নিতে হবে। তারা মন দিয়ে বইটি পড়বেন—বাড়ীতেই থােক, বা আখড়াতেই হােক। এই রকম করে নাটকখানির সঙ্গে যখন তাদের পরিচয় হয়ে যাবে, তখন যিনি অভিনয়ের মাষ্টার বা শিক্ষক তিনি আগাগােড়া বইটি পড়ে শােনাবেন। এই পাঠের সময় অঙ্গ-ভঙ্গির দিকে তেমন নজর দেবার দরকার নেই, নজর দিতে হবে সুস্পষ্ট আবৃত্তির দিকে। আবৃত্তি সুন্দর ও সুস্পষ্ট হয় কিসে জানাে ?

[ ২ ] * যদি কথার মধ্যে জড়তা না থাকে, আর ছেদকে ছেড়ে না যাও যায়। ছেদ হচ্ছে কোথায় কতটা থামতে হবে তার সঙ্কেত-চিহ্ন-দরকার হলে এই সব জায়গাতেই দম ধরতে ও ছাড়তে হবে। তা ছাড়া কোথায় কোথায় আনন্দ, উল্লাস, ঘৃণা, আশ্চৰ্য্য এই সব ভাব প্রকাশ করতে হবে, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে, তারও সঙ্কেত এই ছেদ। কাজেই আবৃত্তির জন্যে ছেদের দিকে নজর দেওয়া বিশেষ দরকার। মাষ্টার মশায়ের মুখে আবৃত্তি শুনে আবৃত্তির ধাঁজটা দেখে নেবে, এই সময় যা-যা জানবার এবং বােঝবার দরকার, তাও জেনে এবং বুঝে নেবে। তারপর পার্টটি ও-ধাঁজেই মুখস্থ করে ফেলবে। মুখস্থ হয়ে গেলে নামবে মহল দিতে। তখন ভাব-ভঙ্গি, কায়দা-কানুন সব আয়ত্ত করে নেবে। অভিনয়ে আবৃত্তি ও ভাবপ্রকাশের জন্যে অঙ্গ-ভঙ্গি খুব বড় কথা, তবু বলতে হবে, শুধু আবৃত্তি আর অঙ্গ-ভঙ্গি ঠিক-ঠিক হলেই যে, অভিনয় নিখুঁত হয়ে ওঠে, তা নয়, যদি-না তার সঙ্গে সাজসজ্জা, ষ্টেজ, দৃশ্যপট এই সবের ভাল ব্যবস্থা থাকে। মানানসই সাজগােজ, ঘটনার স্থানকালের উপযােগী দৃশ্যপট, আলাের সুসমাবেশেই অভিনয় সুন্দর ও সজীব হয়ে ওঠে। সাজগােজ—কিন্তু সখের দলের পক্ষে বিশেষ মফস্বলে - সাধাসিধে পােষাক, সাধারণ রকমের পদা, সামান্য লণ্ঠনের আলাে দিয়েই কোনাে রকমে কাজ সারতে হয়। তা হােক, খুব বেশি ক্ষতি নেই তাতে, এই সাধারণ সরঞ্জামকেই অসাধারণ করে তােলা যায়, যদি আমরা বুদ্ধি খাটাই, আর খাটুনীর ভয় না করি। দামী জমকালো জিনিসের বাহার কিসে খােল, সেইটে আগে [ ৩ ] ধরে নিতে পারলে, তার অভাব কি দিয়ে পূরণ করা যায়, ধরা কিছুই শক্ত হয় না। ধরো, যেমন দেখাতে হবে, সোনার জেল্লা। এই জেল্লা পেতল দিয়েও দেখানাে যেতে পারে—মেজেঘষে, আলাের মুখে রেখে। এই রকম করে, রাখবার সাজাবার কায়দায় আর আলাের খেলায়—টিনকে ইস্পাৎ, রাংকে রূপো, এবং কাচকে দামী পাথর বলে চালিয়ে দেওয়া তেমন শক্ত কাজ নয়। আলােষ্টেজ অর্থাৎ মঞ্চে প্রধান দরকার আপাের। বিজলীবাতি যে সসে সেরা, সে কথা বােধ হয় বলে বােঝাতে হবে না। মফস্বলে এ বাতির অভাবে এসিটেলিন গ্যাসের আলােয় কাজ চলতে পারে। তাও যদি না জোটে তো কেরােসিনের জোর-আলােরই জোগাড় করতে হবে। এই আলাে খাটাবার সময় দুটি কথা মনে রাখতে হবে। প্রথম ষ্টেজে যেন অভিনেতাদের ছায়া না পড়ে। দ্বিতীয়—তাদের চোখ মুখ যেন দূর থেকে বেশ স্পষ্ট দেখা যায়। অভিনেতাদের মাথার ঠিক ওপরদিকে জোর আলো খাটালে, ষ্টেজে ছায়া পড়বে না। তেমন কোনাে ভাল আলাের ব্যবস্থা করতে না পারলে, দুটি ঝুলানাে ল্যাম্প হলেই চলবে। এই আলো থাকবে একটির পেছনে আর অভিনেতাদের মুখ দূর থেকে স্পষ্ট দেখানাের জন্যে, চাই ফুটলাইট, অর্থাৎ ষ্টেজের যে মেজে, তার মুখে সারবন্দী আলো। এই আলো ষ্টেজ ছােট-বড় হিসেবে, তিন থেকে আট-দশটি অবধিও হতে পারে। তবে দেখতে হবে, আলাে দেবার দোষে যেন অভিনেতাদের চোখে-মুখে ছায়া না পড়ে। একটি। দৃশ্যের বাহার খােলবার জন্যে লাল, নীল, রঙী আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কিন্তু এই আলোয় জতে মশাল, কি আর কোনাে কম [ ৪ ] ঝাঁজালাে মশাল জ্বেলােনা কখননা। ধোয়ায় অভিনেতার গলা ভেঙে বা বসে যায়, মাথাও ধরতে পারে। রঙীন্ বিজলীবাতির অভাবে উজ্জ্বল দৃশ্য দেখাবার জন্যে ম্যাগনেসিয়াম্ ওয়া বা রিবন্ (Magnesium wire or Ribbon) জ্বালানটা ভাল । মিহি কাপড়ের বা পাতলা ফিফিনে কাগজের রঙীন্ বড় ফানুসের ভেতরে জ্বলন্ত ম্যাগনেসিয়াম্ রিবন্ ধরলেই রঙের আভায় সমস্তটা ষ্টেজ রঙীন হয়ে ওঠে। অনেক সময় ইস্কুল-কলেজের ছেলেদের দিনের বেলায় অভিনয় করতে হয়। দিনে অভিনয় করতে হলে, দরজা বন্ধ করে ষ্টেজটি যতদূর সম্ভব অন্ধকার করে ষ্টেজের আলােগুলো জ্বেলে দেওয়া উচিত। কেয়াফুল অভিনয় কেয়াফুল নাটকে রাজারাজড়া নেই—আছে সাধারণ ঘরের লােক— ছেলেছােকরাই বেশির ভাগ । ঘটনা সাধারণ রকমের কথাবার্তাও ঘরােয়া। কাজেই জমকালো পােষাক-আষাক বা দৃশ্যপটের আড়ম্বর নেই এবং আবৃত্তিরও ভড়ং নেই। খুব সহজেই এই নাটকখানির অভিনয় করা যায়। সাজসরঞ্জামের আড়ম্বরের জন্যে ছেলেরা নাটকের অভিনয় করতে প্রায়ই ভসা পায় না। এই অনাড়ম্বর নাটকখানি সহজেই তাদের সে অভাব পূরণ করবে। অভিনেতাদের পােষাক-নাটকের প্রথম ব্যক্তি কিনু-খালি গা, পরণে খদ্দরের ধুতি, মাথায় টেরির বাহার নেই, তা বলে চুল উস্কোখুস্কোও নয়—সভ্যভব্য রকমের। পায়ে জুতাে নেই, গলায় ও হাতে মাদুলী।—দেখলেই বােঝা যায়, সে গরিব ঘরের ছেলে। ২য়-বি-কালাপেড়ে মিহিধুতি পরা, গায়ে গেঞ্জি-বােম নেই

[ ৫ ]
একটিও। ফাঁকে গলা বুক বেরিয়ে পড়েছে।
জল বা চিরুণীর সংশ্রব নেই অনেক কাল।
চুল উস্কোখুস্কো, তেল
চোখের চারদিকে কালো ছায়া—তুলি দিয়ে হালকা কালো
কসমেটিকের ছােপ দিলেই ফুটে উঠবে। চুল সাবানজলে ধুইয়ে শুকিয়ে
তারপর সামান্য কিছু পাউডার দুহাতে রগড়ে নিয়ে চুলগুলো
সেই হাতে এলােমেলো করে দেবে। দেখাে, যেন বেশি পাউডার
লেগে পাকা চুল হয়ে না যায়। সে মধ্যবিত, গেরস্ত ঘরের ছেলে, সকাল
থেকে খায়নি—এই ভাবটা ফুটিয়ে তুলতে হবে।
৩য়-রাখাল-কালাে হাফ প্যান্ট, সাদা সার্ট, খালি পা।
৪র্থ—গােপাল—ধুতি পরণে, ডােকাটা সার্ট।
৫ম—পাহারাওলা—শহরতলীকে আমরা কলকাতার শহরতলীই
ধরে নিলুম। পুলিশের পােষাকও এখানকার পুলিশের মতােই—সাদা
হাফ প্যান্ট, সাদা কোট, পায়ে কালো পট্টির নীচে নাগর। মাথায় লাল
পাগড়ী, কোমরে চাপরাশ, হাতে গাটওলা বাঁশের লাঠি।
জমকালাে ঝাঁটা গোঁফ, চোখে সুরমার বাহার—কসমেটিকের কালাে
লাইনে ফুটিয়ে তুলতে হবে। লাইন চোখ ছাড়িয়েও দুদিকে আধ
আঙুল বেড়ে যাবে।
৬ষ্ঠ—বিশুর বাপ হরিহর-সাদা থানধুতি পরা, ফিতে-বাঁধা ফতুয়া
গায়ে। চোখে নিকেল ফ্রেমের চশমা, পায়ে চটি। হাতে হুকে বা গড়গড়ার
নল। ধূমপানে আপত্তি হলে, সানে একখানা খবরের কাগজ।
মাথায় কঁচাপাকা ছাঁটা পরচুলো, গোঁফ-সাধারণ ভদ্রলােকের যেমন
থাকে।

[ ৬ ]
গোঁফ পরতে কারু কারু আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু গরহ
হচ্ছে বিশুর বাপ। ছেলের কচি মুখ নিয়ে তো ছেলের বাপ হওয়া
সাজবে না।-হরিহর বাড়ীর কর্তা—তাকে কর্তাব্যক্তির মতােই হতে
হবে, চেহারায় আর চালচলনে।
৭ম—দীননাথ—খালি গা, পরণে হাঁটু অবধি ময়লা কাপড়, মাথায়
গামছা বাঁধা, হাতে একগাছি কঞ্চির ছড়ি।
গায়ের রং কালো না হলে, সাদা পাউডারের সঙ্গে ফিকে সবুজ রঙের
গুড়ো বেশ করে মিশিয়ে গায়ে মুখে হাতে পায়ে মাখাতে হবে কালো
করবার জন্যে। রং মাখাবার আগে হিমানী স্নো বা এমনি আর কোনো
মলমের আস্তর দিয়ে নেবে।
মাথায় পরচুললাম্বা বাড়ী, গোঁফ সাধারণ রকমের-কালো
কসমেটিকে তুলি বুলিয়ে একে দিতে পারে।
৮ম-ছেলের দল—রকমারি রঙের কোট, সার্ট, পাঞ্জাবী গায়ে।
কেউ কেউ খেলার হাফপ্যান্ট পরে আছে।
চুলের এবং টেরির
ফ্যাশানও হরেক রকমের। পরচুললা পরিয়ে কারু চুল আজব ধরণের
করা যেতে পারে।
কারু হাতে ফুটবল, কারু হাতে ব্যাট, কেউ বা আসছে বাঁশী বাজাতে
বাজাতে। দুটি দুটি আবার গলাগলি ধরেও আসছে।
বেশির ভাগ ছেলেরই খালি পা, বিশু বাদে সব ছেলেই পরচুলে।
পরতে পারে। বিশুকে পরচুলো পরানাে যেতে পারে না, ধ্বস্তাধ্বস্তিতে
খুলে যাবে।

[ ৭ ]
উজ বা
রঙ্গমঞ্চ-সখের দলের অভিনয়ে সব চেয়ে শক্ত
কাজ, ষ্টেজটি সাজানাে। সিন্ অর্থাৎ দৃশ্যপট দিয়ে সাজানাে সােজা-কেননা
নাটকের দৃশ্যের সঙ্গে মিল করে সিন্ বেছে নিয়ে খাটিয়ে দিলেই হলো।
কিন্তু যেখানে সিনের অভাবে শুধু পা দিয়েই ষ্টেজ সাজাতে হয়, সেখানে
রঙের দিকে বেশি নজর রাখা দরকার। এই অবস্থায় সব-পেছনের
যে পাখানি (back ground) তা হবে মিশকালো বা আশমানি
রঙের। এতে পর্দার সুমুখে অভিনেতাদের মূর্তি বেশ পরিষ্কার হয়ে
ফুটে উঠবে, অথচ পর্দার রং চটকদার না হওয়ায় ওদিকে দর্শকদের
চোখ যাবে না।
যবনিকা—একেবারে সুমুখে—সাধারণ ষ্টেজের যবনিকা আর
ড্রপসিন হামেশা থাকে। ছেলেদের অভিনয়ে শুধু মােটা কাপড়ের একখানি
যবনিকা হলেই চলে যাবে। যবনিকা করতে হবে লাল বা সাদা
পদার। এটি ঝুলিয়ে দেবে ফুটলাইটের সারের ঠিক পেছনে।
ষ্টেজ আড়াল করবার জন্যে যবনিকার চারপাশে পা দিতে হবে।
সাইড উইংসষ্টেজের ভেতর দিকে দু'ধারে যেখানে উইং
থাকে, সেখানেও পদা দিতে হবে-নইলে সাজঘর এবং ভেতরের
সবই দর্শকদের চোখে পড়বে। অভিনেতাদের ঢোকবার বেরুবার রাস্তা
রেখে দুপাশে দুখানি পা খাটিয়ে দিতে হবে ইংরেজী হরপ L (এল)এর
মতো করে, তা হলেই এখানকার কাজ এক রকম শেষ। এ-পরূদা
পেছনকার পদার চেয়ে একটু ফিকে রঙের হওয়া চাই।
আর সব পৰূদা থাকবে একেবারে আঁটা-অচল ( fixed ), শুধু
যবনিকাখানি গুটোবার আর মেলে ফেলবার ব্যবস্থা করতে হবে।

[ ৮ ] এদুটি কাজ যাতে একটি লােকই একপাশে দাড়িয়ে করূতে পারে এনি কৌশলে ওটি খাটাতে হবে। দৃশ্য—প্রত্যেক দৃশ্যের অভিনয় শেষ হলেই যবনিকা ফেলবে, তারপরে আবার অন্য দৃশ্য সাজিয়ে তবে যবনিকা গুটোতে হবে। কেয়াফুলের দৃশ্য পাঁচটি কি করে সাজাতে হবে বছি। পেছনে দেবার জন্যে যদি সিন্ জোগাড় হয়, তবে এমন একটি পছন্দ করে নিতে হবে যার নীচের দিকে একসার গাছ—আর গাছের মাথা থেকে নীল আকাশ আঁকা একেবারে ওপর অবধি। সিন্ না জুটলে একখানি মিশকালাে পদা দেবে। তারপর ষ্টেজের এক কোণে কেয়াঝােপ বসিয়ে দিতে হবে। কেয়াঝােপের পাশে বিশু আগে থাকতেই বসে থাকবে গালে হাত দিয়ে। যবনিকা সরে গেলে তবে কিছু ষ্টেজে ঢুকবে—আগে নয়। যে পথে কিছু ঢুকলো—সে পথেই তাকে খাবার আনতে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু খাবার এনে দিয়ে—গানটি শেষ করতে করতে অন্য পাশে যাবে। রাখাল ও গােপাল যে পথে ষ্টেজে ঢুকবে—সে পথে ফিরে যাবে না—যাবে উল্টো দিকে। ২নং দৃশ্য ১নং দৃশ্যের ব্যাকগ্রাণ্ডই থাকবে—শুধু কেয়াঝোপটি অন্য কোণে সরিয়ে বসাতে হবে। ছেলের দল ঢুকে খেলায় মন দেবে। কিন্তু আড়াল থেকে ব্যাগ পেয়ে চেঁচিয়ে উঠবে -কারুর কিছু হারিয়েছে’ -আড়ালের অন্য পাশ থেকে শুনেই “কিরে কি পেয়েছিস বলে চীৎকার করতে করূতে বিশু ছুটে আসবে মাঠের দিকে। সে সময় [ ৯ ] কিন্তু ব্যাগ নিয়ে এসে ছেলের দলের সামনে দাঁড়াবে—কথা কইতে কইতে, ছেলের দল তার দু-পাশে আর পেছনে থাকবে। ব্যাগ নিয়ে পালাবার সময় বিশু–দৌড়বে যে দিকে খুশি এক মুখখা—কোনো ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে—কাউকে এড়িয়ে ঘুরে ফিরে-কারু বাড়ানাে হাত ঝাটা মেরে সরিয়ে। বিশুর পেছনে পেছনে ছুটবে ছেলের দল। ৩নং দৃশ্য আঁকা সিন্ পাওয়া সিন্ পাওয়া গেলে ৩নং দৃশ্যের পেছনে থাকবে বাগান- বাড়ীর সিন্। না হলে কালো পদাই চলবে। কিন্তু কেয়াঝােপটি সরিয়ে নিতে হবে ষ্টেজ থেকে। তার বদলে সেখানে সুবিধে হলে একটি দোকানঘর করে বসাতে হবে—কলকাতার পানের ক্ষুদে দোকানের মতো। দোকানের পসরা হবে বিস্কুট, লজেঞ্জ, লাটাই আর ঘুড়ি। কাঠের প্যাকিং বাক্সর চার কোণে পেরেক দিয়ে চারটি লম্বা বাখারি বসাও-ঘরের খুঁটির মতো। বাক্স আর বাখারি রঙীন্ কাগজে মুড়ে দাও-বাখারিগুলাের মাথায় খাটাও চাদোয়া। বাখারির গায়ে ঝুলিয়ে দাও নানান রঙের ঘুড়ি আর লাটাই—বাক্সটির ওপরে রাখাে রঙীন্ কাগজে মােড়া বিস্কুট লজেঞ্জের কৌটো । দোকানের পাশে বা পেছনে তােমাদের কেউ দোকানদার সেজে দাড়াও-দাড়ীগোপ পরে—মাথায় পাগড়ী বেঁধে। যবনিকা সরে গেলেই দোকানদার দুচার বার চেঁচাবে ইসকুল বিসকুট পয়সামে চা-বাবু-ইসকুল বিস্কুট তারপরেই আড়াল থেকে চীৎকার হবে-পুলিশ! পুলিশ। পাকড়াও—পাকড়াও? তখন পাহারাওলা তার লম্বা লাঠি নিয়ে ঢুকবে এক লাফে-পথ আগলে দাঁড়াবে-উলটো দিক থেকে বিশু ছুটে আসবে -ফিরে ফিরে পেছনে তাকাতে তাকাতে-পাহারাওলাকে আগে [ ১ ] দেখতে পাবে না—একেবারে তার গায়ে ধাক্কা খেয়ে তবে অবাকহয়ে যাবে। হুসিয়ার—পাহারালার পেছনদিক থেকে যেন বিশু না ঢোকে। ৪নং দৃশ্য আঁকা সি হলে ৪নং দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউণ্ড, করবে দো-জানালাওল। দেয়ালের সিনে। তার সুমুখে লম্বা বেঞ্চি দুখানি পাশাপাশি রেখে ছােপানাে কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও—পায়া অবধি। কাপড়ে ঢাকা বেঞ্চি থাকবে একেবারে সিনের গা ঘেষে—এই হবে বিশুদের বাড়ীর রােয়াক। পেছনে সিনের বদলে কালাে পর্দা হলে—বেঞ্চিদুখানি বসাতে হবে এক কোণে টেরচা করে, আর পেছনের বেঞ্চিখানির পেছন দিকের দুটি পায়ায় বাখারি বেঁধে তাতে দোর-জানালা আঁকা কাগজের একখানি মাপসই পট এঁটে দিতে হবে। বেঞ্চি দুখানি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেই খাসা রােয়া হবে। এই বােয়াকে বিশুর বাপ বসে তামাক খেতে থাকবে। এক পা ঝুলিয়ে—অন্য পা তার ওপরে তুলে। ব্যাগটি দেখতে পেয়ে—আশ্চয্যি হয়ে লাফিয়ে উঠতে হবে—তাই পা ঝুলিয়ে বসতে বলা হলো, নইলে তাড়াহুড়াে করে উঠতে গিয়ে হয়তো বেঞ্চিই উল্টে ফেলে দেবে। শেষটায় প্রস্থানের বেলা বিশুর বাপ পাহারাওলাকে দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে ঢুকে লাঠিগাছটি নিয়ে আসবে—তারপরে সে-ই আগে আগে যাবে, পাহারাওলা যাবে তার পেছনে। নং দৃশ্য নং দৃশ্য হুবহু ২নং দৃশ্যের মতাে কোনো তফাৎ নেই। তবে ছেলের দল সে সময় গান গাইতে গাইতে আবে কেয়াঝােপের দিকে। তারপরে যা-যা করতে হবে-নাটকে পর-পর বলে দেওয়া হয়েছে।

[ ১১ ] শিষকথা—মনে রাখতে হবে পাহারাওলার পার্টটি হাসি- মকরার—অঙ্গ-ভঙ্গি গোঁফে চাড়া-বুক ফুলিয়ে চলা—লাঠি বাগাবার কায়দা—এ সব চাই—তার সঙ্গে চাই হিন্দুস্থানীর ভাঙা-ভাঙা বাংলা বুলি। অভিনেতাদের পার্টগুলি ভালরকম মুখস্থ হওয়া চাই—তবু পাছে কেউ কোনাে কারণে থতমত খেয়ে কথার খেই হারিয়ে ফেলে তাইজন্যে একজন প্রম্পটার রাখা দরকার। বইখানি তাকে ভালরকম রপ্ত করে রাতে হবে। নতুন লােক—যে কখনাে নাটকের বইখানি পড়ে নি- কিছুতে প্রম্পটারের কাজ নিখুৎ করতে পারবে না। গানের মহলা বেশি দিন ধরে দিতে হবে—কোনাে রকম খুৎ না থাকে তার জন্যে বিশেষ চেষ্টা করা দরকার। হারমােনিয়াম বাজাবার জন্যে পাকা লােক একটি চাই—যেন গাইয়েকে সে ঠিক পথে চালিয়ে নিতে পারে। তবলা-বাঁয়ার ব্যবস্থা কবে যদি ওস্তাদ বাজিয়ে পাওয়া যায় তবেই, নইলে দরকার নেই। ষ্টেজ খাটিয়ে পুরােপুরি ভাব-ভঙ্গি ড্রেসমেত নিদেন একটিবারও ষ্টেজ-রিহার্সেল দেবে, তা না দিয়ে কখনো আসরে নামবে না। উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য

No text on this page.

E:
১৪
শহৱতলিৱ পথ
এপাশে কোঝোপ, ওপাশে খেলার মাই
কিন্তু
হাঁ ভাই বিশু, তুই একলাটি এখানে চুপ-চাপ বােসে আছিস
কেন ? কি হয়েছে তাের ?
বিশু
যা-যা-বিরক্ত করিস নে আমাকে, কিচ্ছু ভাল লাগে না
আমার ,
কিন্তু
ভাল লাগে না ! কেন লাগে না ভাল ! অসুখবিসুখ করেচে
নাকি তাের মুখ অমন শুকননা কেন, তাই বল্ দেখিনি ?

কেয়াফুল
২
বিশু
না খেলে সবারই মুখ অমন শুকনাে হয়। খেয়েছিস কিনা
আকণ্ঠা, তাই বুঝতে পারচিস না।
কিন্তু
ওঃ তাই
ব খাসনি কেন তুই খাসনি—হাঁ ভাই
বিশু
বিশু
খেতে দিলে তাে খাবাে। মা গেছে মামাবাড়ী-তারাগুনে,
বাবা গেচে আফিস-দোরে তালাচাবি বন্ধ কোরে।
কিন্তু
মা চোলে গেল মামাবাড়ী—তােকে না নিয়ে । কোথায়
ছিলি তুই তবে?
বিশু
কোথায় আর থাকবে ! ও পাড়ায় বেড়াতে গেছলুম—শুধু
একটুখানি।
কিন্তু
যখন ফিলি, তখন বুঝি মা ঘরে নেই—চোলে গেচে ?
বিশু
ন’টার ট্রেনে যেতে হয় যে ! মা দেরি করতে পারে নি।
আমার ফিরতে একট দেরি হয়েছিল কিনা ।

ও
•
কোফুল
কিনু
বাবার সঙ্গে দেখা হয়েছিল ?
বিশু
হয়েছিল বই কি। তাহলে কি হবে বল ? রাগ হলে যদি
বাবার কিছুমাত্তর জ্ঞান থাকে ! যে রকম তেড়ে এসেছিল, ধরতে
পারলে আর আস্তো রাখতে না আমাকে—হাড়মাস পিষে দিয়ে
তবে ছাড়তে। ভাগ্যিস পড়ে গেছল—হুচোট খেয়ে !
কিন্তু
তা রাগ তাে হবার কথাই বিশু। সকালবেলা হলাে পড়া
করবার সময়। তখন পড়াশুনাে না কোরে পাড়ায় বেরুলে,
রাগ আবার কার বাপের না হয়ে থাকে—তাই তুই বল্ দেখিনি।
বুঝেচি—এই জন্যেই তিনি দোরে চাবি বন্ধ কোরে বেরিয়ে
গেছেন। খেতেও পাবি নে, বাড়ীতে ঢুকতেও পাবি নে—এই
তাের শাস্তি। তা এতক্ষণ শাস্তিভােগ বড় কম হয় নি—তাের
মুখ দেখেই বেশ বােঝা যাচ্চে। অমন কাজ আর কখনাে করিস
নে—জানলি? এখন এক কাজ কর—কিছু খা।
বিশু
কি খাবাে-শুনি ? কলে জল আসে নি—আঁজলা আঁজলা
জল খেলুম পুকুর থেকে ধােরে। পেট তবু ঠাণ্ডা হয় না—জ্বলে
—কেবল জ্বলে। পয়সাকড়ি কিছু আছে তাের কাছে ?

কেয়াফুল
৪
কিন্তু
কি কোরে থাকবে আমার কাছে পয়সাকড়ি ? আমরা যে
ভাই গরিব মানুষ।
বিশু
গরিব মানুষ যারা নয়, তাদের কাছেও দেখেচি চেয়ে দেয়
না। বলে, কোথায় পাবাে পয়সা !
কিনু
তবেই তাে।-আচ্ছা তুই একটু বােস্“কোথাও যাসনে—
জানলি? আমি চট্‌ কোরে ঘুরে আসচি বাড়ী থেকে—যদি কিছু
পাই।
[ কিনু চোলে গেল ]
বিশু
অষ্টরম্ভা ! বাড়ীতে কোন দিন ওর হাঁড়ি চড়ে, কোন
দিন চড়ে না, আর ও কিনা আমাকে খাবার এনে খাওয়াবে ।
তবেই হয়েছে আর কি ! তবু মনটা ওর ভাল, তা বলতে হবে।
ক্ষিদেয় চিচি করতে করতে তাে কত সাঙাতের পায় পায়
ঘুরলুম ! একটা আধলা-পয়সার জন্যে মাথা খোঁড়াখুঁড়ি! কেউ
ফিরেও চাইলে না। ও তাে তবু যেচে এসে খবর নিয়েছে, কাছে
বােসে দুটো মিষ্টি কথাও কয়েছে—
[ রাখাল ও গােপাল ছুটতে ছুটতে এসে থমকে দাড়াল ]

ম্রোফুল
রাখাল
এই যে বিশে এখানে ! হরে এখানে একলা বােসে কি
কচ্ছিস তুই। তাের জন্যে যে আম
তাের জন্যে যে আমরা চরকি-ঘােরা ঘুরচি সেই
কখন থেকে ! কোনাে জায়গা আর বাকি রাখি নি।
বিশু
ভাগ্যি বলতে হবে !
তা হঠাৎ বিশের কদর এতটা বেড়ে
গেল কেন, বল দেখিনি। হাই ফ্যালবার বেলাই না-ভাঙা
কুলাের খোঁজাখুজি ?
গােপাল
বা-রে-তা কেন ? তাের কদর তাে আমাদের কাছে সব
দিনই সমান। তুই-ই তাে হলি আমাদের দলের সর্দার। দরকার
হলেই আমরা সক্কলকার আগে করি তাের খোঁজ।
বিশু
হাঁ হাঁ—থাম, সব জানি ; অতাে আর বক্তিমেয় কাজ
নেই। এখন কি করতে হবে, তাই বল না ?
গোপাল
যে ঝােপটা দেখছিস না—তাের সুমুখে ? ওর ভেতর
কি আছে জানিস ? ভারি একটা মজার জিনিষ! সকালবেলা
রাখাল আর আমি দেখে গেচি। কারুকে কিছু বলি নি।
কারুকে না।

কেফুল
৬
রাখাল
বল্ তে কি আছে বিশে, ঝােপের ভেতর ?
বিশু
আছে একটা এই মস্তবড় ঘােড়ার ডিম।
গােপাল
তুই জানিস নে। সত্যিই একটা মজার জিনিষ আছে-
খুব মজার। এতক্ষণ বােসে আছিস এখানে, তবু টের পাসনি।
বিশু
কি কোরে পাবাে টের শুনি ?
গােপাল
ভর ভর কচ্চে গন্ধ ! বলে কিনা—কি কোরে পাবাে টের ।
রাখাল
কেয়াফুল রে বিশে, কেয়াফুল—ঝােপের ভেতর অনেকগুলাে
ফুটে আছে এক জায়গায়।
গােপাল
দ্যাখ, না উঠে এসে এগিয়ে খুব—খুব ভেতরের দিকে।
বিশু
হু '—বয়ে গেছে। বুঝতে পেরেছি, ঐ ফুল পাবার জন্যেই
বিশেকে এত খোঁজাখুঁজি ! কি প্রাণের বন্ধু গাে সব তােমরা

কোেল
আমার! কেয়াঝােপের ভেতর যত রাজ্যের সাপখােপের বাসা—
কেউটে গােখরাে শঙ্খিনী পদ্মিনী, আরাে কত রকমের। নাম
শুনলেই গায়ে কাঁটা দেয় ! সেইখানে ঢুকে আমাকে ফুল এনে
দিতে হবে ! যা শত্তর পরে পরে। মতলব এটেছিস বড়
মন্দ নয়।
রাখাল
কেন, তুই কি আর কখনাে ঢুকিস নি নাকি ঝােপের
বিশু
ঢুকেচি বেশ করেচি। আগে জানতুম না—তাই ঢুকেচি।
তা বলে রােজ-রােজই ঢুকতে হবে নাকি ?
কিনু
[ হাঁপাতে হাঁপাতে ] পেয়েছি রে পেয়েছি, একেবারে
খালি হাতে ফিরতে হয় নি। বিশে, বরাত তাের নেহাত মন্দ
নয় দেখছি।
[ রাখাল ও গােপালকে দেখে ] হাঁ রে তােরা এখানে
দাড়িয়ে কেন ! বিশেকে চাই বুঝি তােদের ? কিন্তু ওকে তাে
তােরা এখন পাবিনে। ওযে এখনাে কিছু খায়নি।
রাখাল
খায়নি এখনাে ! কেন ও খায়নি রে,
কিনু ?

কেয়াফুল
কিনু
সে অনেক কথা -পরে শুনবি,
ছেড়ে দে।
এখন ওকে তােরা একটু
গোপাল
ও বুঝতে পেরেচি, খায় নি বলেই ওর মেজাজ এমন
তিরিক্ষে।
[ গােপাল ও রাখাল চোলে গেল ]
কিন্তু
এই নে খা—দুটো মুড়িমুড়কি আর বাতাসা। ঘরে ছিল,
চাইতেই মা দিলে।
[ কিন্তু নিজের কেঁচড় থেকে বিশুর কোঁচড়ে ঢেলে দিলে ]
বিশু
মুড়িমুড়কি ঘরে কখনাে আমি খাই নি—জানলি ? কি
খাই—জানিস ? নুচি, পরােটা, সন্দেশ, হালুয়া ; কদাচ কখনন
পাউরুটির স্লাইস-মাখন মিছরি দিয়ে। তা তুই যখন এনেছিস
এত কষ্ট কোরে আর ক্ষিদেটাও পেয়েচে বড় বেয়াড়া রকম—
কিন্তু
নে নে আর অত মুখফটাই করতে হবে না। যা
পেয়েছিস তাই খেয়ে নে পেট ভরে। না খাওয়ার চাইতে

No text on this page.

។

কোফুল
তাে আর চিড়ে কসা নয় ! খেয়ে, ঐ পুকুর থেকে আঁজলা
কোরে জল খা গে। পেট ঠাণ্ডা হবে এখন।
[ বিশু খেতে লাগল, কিন্তু খুশি হয়ে গান গাইতে গাইতে
চোলে গেল ]
আজ হয়েছি রাজা আমি
মনে মনে ভাই।
মনে হচ্ছে—আমার যেন
অভাব কিছু নাই
মাথায় সােনার মুকুট ঝলে,
মােতির মালা দুচে গলে,
সখাসাথী সবাই সাথে
আসরটি জমাই।
ঘােড়া আছে অনেক রকম
আমার ঘােড়াশালে,
মস্তবড় হস্তীশালা
বােঝাই হাতীর পালে।
টাকার ঘরে—টাকার খনি
জ্বলছে কেবল হীরে মণি,
চাচ্চে যে যা-কাছে এসে,
দিচ্চি তারে তাই।

কেয়াফুল
১০
ঢের
বিশু
ঝােপে ফুল ফুটে আছে—বিশে জানে না—তবে জানে যেন
কে! বিশে যদি না জানবে, তা হলে সে এখানে বােসে আছে
কেন—আর সব জায়গা ফেলে ! ঝােপের ফুল এতক্ষণ ঝােপে
থাকত কি ? তার হাতের ভেতর এসে যেতাে না বুঝি
যদি না বিশেকে ক্ষিদেয় একটু কাবু করত। অনেক কাটাকুটো
লতা-পাতা সাফ কোরে তবে যে ভেতরে ঢুকতে হবে !
মেহনত আছে তাতে। রােসাে, আগে খাবারটা খেয়ে গায়ে
একটু জোর কোরে নিই, তারপর দেখা যাবে, ফুল—বিশেই
পায়, কি, আর কেউ পায়।
কিন্তু তােদের কেন দিতে গেলুম ? কঁাটার খোঁচা খেয়ে, জঙ্গল
সাফ কোরে মরব আমি, আর গায়ে ফু দিয়ে ফুলের ভাগ নিবি
তােরা ! মামার বাড়ীর আব্দার আর কি ! সেটি হচ্ছেনা কিছুতে।
সাপখােপ ?-কিসের সাপখোেপ! কতবার তাে ঝােপে ঢুকে
ফুল আমি কেটে এনেছি। কই, কখনাে তাে দেখতে পাইনি
কিছু। লােকে যে বলে, কেয়াবনে সাপের বাসা –সে মিছে
কথা। তা ঐ মিছে কথাটায় আমার বেশ কাজ হয়েছে কিন্তু
তা বলতে হবে। নইলে এখান থেকে ওরা এত সহজে নড়তে
চাইত কি ?
[ খেলার মাঠ থেকে চীৎকার-কারুর কিছু হারিয়েচে ]
কি রে—কি, কি পেয়েছিস ? [ বিশু ছুটে চলল ]

[ ২ ]
খেলার মাই
ছেলেরা খেলা করছে-হুটোপাটি করছে
–
কিনু
কারুর কিছু হারিয়েছে ?
মদনমােহন পালিয়েছে ?
কারুর কিছু হারিয়েছে ?
[ দেখতে দেখতে ছেলেরা এসে তাকে ঘিরে ধরল ]
গােপাল
কি পেয়েছিস রে কিনু–কি পেয়েছিস ? টাকা পয়সা না
আর কিছু ?
রাখাল
টাকাপয়সা না হাতী !-হয় তােত একটা ভোতা কলম, নয়
তত একটা ভাঙা পেন্সিল -
বিশু
ছুরিকঁচি হলেও হতে পারে।
কিনু
রেনা, সে সব নয়—আর কিছু।
কারুর কিছু হারিয়েছে
মদনমােহন পালিয়েছে ?

কোফুল
বিশু
—বােধ হয় খেলাে কিছু নয়। রকম দেখে মনে হচ্ছে,
খুব দামীই একটা কিছু হবে। এমন কি পেলে তবে কুড়িয়ে !
দ্যাখা নাকি পেয়েছিস, হাত কেন লুকিয়ে রাখছিস
পকেটে ?
কিন্তু
কেন আগে দ্যাখাবাে ?--সবাই দেখুক না ভাল কোরে, কার
কি হারিয়েছে।
ছেলেরা
-রে না—আমাদের কারুর কিছু হারায়নি। তুই দ্যাখানা
কি পেয়েছিস।
কিন্তু
ব্যাথু রে ব্যা—এই দ্যাখ একটা মানিব্যাগ !
বিশু
মানিব্যাগ! টাকা আছে নাকি ? কত টাকা ?—দেখেছিস ?
কিনু
, দেখিনি। এই তত পেলুম সবে কুড়িয়ে। রােস্,
দেখচি এখুনি।-নােট রে ! নােট!
রে! নােট! অনেকগুলাে ! সবই
দেখচি টেনরুপি নােট! এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত,

কোফুল
আট, নয়, দশ—সবসুদ্দ, দশখানা। দশ দশে শ, তা হলে তো
বড় কম টাকা নয় রে !
বিশু
হাঁ রে কি করবি তুই—এই টাকা দিয়ে ?
কিনু
কি করব আর ! তােকে দেব !আর তুই সন্দেশ,
রসগােল্লা, দরবেশ, সরভাজা, রাজভােগ—এই সব কিনে খাবি।
পরের টাকায় খাবার খেতে ভারি মজা-না ? মােলায় জল
আসচে ? কেটে ফ্যাল্ তাের অমন নােলা।
রাখাল।
না না টাকাগুলাে তুই আমাদের ক্লাবে দে। খুব ভাল ভাল
ফুটবল, ব্যাটবল, নেট, র্যাকেট, ক্যারেম্বাের্ড,–এই সব কেনা
যাবে।
যখন যে খেলা খুশি খেলব।
গােপাল
উহু', এ টাকা কোনাে রকম আমােদের জন্যেই খরচ করা
উচিত নয়। আমি বলি কি, যারা খুব গরিব মানুষ খেতে
পায়না, এই টাকা দিয়ে তাদের খুব বড় একটা ভােজ দেওয়া
হােক।
কিন্তু
গরিবদের ভােজ দেওয়া অবিশ্যি খুব ভাল কাজ, কিন্তু
তােমরা ভুলে থােচ্চ যে, এ:টাকা আমাদের নয়।
আমাদের নয়। কাজ যত

কেন্নাফুল
১৪
ভালই হােক, পরের টাকা দিয়ে তা করবার অধিকার কারুই
নেই।
বিশু
বেশ, তা হলে আর কিছু কোরে কাজ নেই—দাও ব্যাগসুদ্দ,
টাকা জলে ফেলে।
কিন্তু
তা কেন দেব রে ? যার টাকা তাকে যাতে ফিরিয়ে
দিতে পারি, তাই করব।
বিশু
ঘােরাে তবে দেশময় সব লােকের বাড়ী বাড়ী—শুধু শহরময়
ঘুরলেও চলবে না।
কিনু
কেন করতে হবে ঘােরাঘুরি ? এখানে থেকেই যার টাকা
তাকে আমি দিয়ে দেবাে-তুই দেখে নিস।
বিশু
কি কোরে দিবি শুনি ?—তুক কোরে ডেকে এনে নাকি ?
কিন্তু
তাের মুণ্ডু কোরে। ব্যাগসুদ্দ, টাকা আমি হেডমাষ্টার
মশাইকে দিয়ে দেব। তিনি খবরের কাগজে লিখে দেবেন যে,
একশাে টাকার একটা ব্যাগ মাঠের ধারে কুড়িয়ে পাওয়া গেছে,
যার জিনিষ তিনি যেন এসে নিয়ে যান।

কোফুল
গােপাল
হরে হ—সেই ভাল। খবরের কাগজে এরকম খবর
লিখে দেয়-আমি জানি। খবর পেয়ে যার জিনিষ—সে এসে
নিয়ে যায়।
বিশু
হু নেয়—তুই দেখেছিস্ !
-তুই দেখেছি। অচ্ছাি, কেউ যদি এসে মিছি-
মিছি কোরে বলে যে, ও আমার টাকা, দাও আমাকে দিয়ে
তা হলে ?
কিন্তু
তা হলে অমনি তাকে দিয়ে দিলুম আর কি ! ব্যাগ আর
টাকা যে তার প্রমাণ বুঝি দিতে হবে না তাকে ?
বিশু
এই নে—তবে তার প্রমাণ খুব ভাল কোরে।
[ খন্ কোরে ব্যাগ কেড়ে নিয়ে বিশু ছুটে চল ]
কিনু
দেখলে !–ধর ধর নিলে নিলে : ওরে হতভাগা থাম—
থাম বলচি, পরের টাকা যে !
•[ কিনু ছুটে চল বিশুর পিছু পিছু, সঙ্গে সঙ্গে আর
সব ছেলেরাও হল্লা কোরে ছুটুল ]

[ ৩ ] পথেৱ মােড় লাটি হাতে পাহাৱাওলা [ বিশু ব্যাগ নিয়ে ছুটে আসছে—পেছনে পেছনে ছেলের দল ] কিন্তু পুলিশ! পুলিশ ! পাকড়াও পাকড়াও- – ছেলেরা পুলিশ ! পুলিশ ! পালায় পালায়— পাহারা হেঁইও, আর হােবে না পালাতে। এ বড়া শক্ত ঠাই আছে। [ ব্যাগটি কেড়ে নিয়ে বিশুর হাত ধরলে ] এ যে বিশশাবাবু !—সরকার মােশার ছেলিয়া! হাঁ রে তুমি এ বেগ লিয়ে দৌড় করছ কেননা ? বিশু ওরা যে ব্যাগ কেড়ে নিতে চায়—আমার কাছ থেকে। দৌড়বনা তাে চুপ করে বসে থাকব:না কি ? দাও না তুমি আমার ব্যাগ আমাকে।

১৭
কেয়াফুল
কিনু
—রামদীন, দিওনা—দিওনা ব্যাগ
ওকে। ওর ব্যাগ নয় ওটা।
উহু, ওর নয়—তাের ! মিথ্যেবাদী
কোথাকার! খেতে পায়না তার আবার
টাকার ব্যাগ !
==
24
ful
কিনু
ব্যাগ আমি পথে কুড়িয়ে পেয়েচি রামদীন।
২

কেফুল
১৮
বিও
কুড়িয়ে পেয়েছিস তত মাথা কিনেছিস অরি কি ! কুড়িয়ে
পেয়েছিস বােলেই বুঝি ব্যাগ তাের হয়ে গেছে ?
কিন্তু
বা রে, আমি কি তাই বলছি।
বিশু
শুলে তাে রামদীন, ও ব্যাগ ওর নয়। মিছে
কেন ব্যাগ তুমি আটক কোরে রাখচ-দাওনা দিয়ে আমাকে।
তবে !
পাহারা
খালি গুলমাল কোরবে—কুচ্ছ, দেবে না শুনতে। হারে
তুমাকে হামি এ
বেগ কেননা দেবে ?
তুমার নাকি এ
বেগ অাছে ?
বিশু
হ আমার-আমার আছে বই কি।
ছেলেরা
নানা রামদীন, ব্যাগ ওর নয়।
বিশু
তােদের নাকি তবে ? ষাঁড়ের মতাে গাঁ গাঁ কচ্চিস যে বড়!

১৯•
কোস
কিন্তু
ব্যাগ ওরও নয়—আমাদেরও নয়, আর কারু।
পথে আমি
কুড়িয়ে পেয়েচি। ও কেড়ে নিয়ে ছুটে পালাচ্ছিল।
পাহারা
তুমারা সবাই দেখেছে ?
ছেলেরা
১w
দেখেচি—দেখেচি বই কি।
পাহারা
দেখেছে—কি দেখেছে ? কে পেয়েছে বেগ ?-কেয়ােবাবু,
না বিশশাবাবু ?
ছেলেরা
কিনু—কিনু—কিনু পেয়েছে।
পাহারা
কোন ঠিকানায় পেয়েছে ?
গােপাল
ঐ যে আমাদের খেলার মাঠ দেখা যাচ্চে না—এরই ধারে।

কেয়াফুল
পাহারা
তবে এ বেগ তুমি কেনাে চাচ্ছে ?—কেননা এ বেগ তুমি ওর
হাত থেকে কেড়ে লিয়েছে ?
বিশু
কেন নেব না কেড়ে ? ব্যাগ ওদের নাকি যে খালি ওরাই
নেবে—আর আমি হাত কোলে কোরে দাঁড়িয়ে থাকব হাঁদাগঙ্গা-
রামের মতাে ?
পাহারা
আর বােলতে হােবেনা—হামি বুঝতে পেরেছে তুমার
মতলব। তুমি যে কেত্তো বড় বখাট ছেলিয়া আছে, সে হামি
বেশ জানে। হামার কাছে তুমার চালাকি করা না চলবে।
আচ্ছা কেন্নোবাবু, বেগে কেত্তো টাকা ছিল—বােলতে
পারে ? তুমি গুনতি করিয়ে দেখেছিলাে ?
কিন্তু
হাঁ দেখেছিলুম। দশখানা নােট ছিল—সব দশ দশ টাকার।
সবাই দেখেছে।
পাহারা
আর কিছু না ছিল ?—সিকি, আধুলি, টাকা।

২১. • কোফুল কিন্তু না আর তাে দেখিনি কিছু—শুধুই নােট। পাহারা তা হােলে রােসস হামি দেখছে—সব ঠিক আছে, কি, না আছে। [ গুনে দেখে বললে ] না কুছ গরমিল নেহি। কিন্তু গরমিল কি কোরে হবে ? আমরা যে ছুটে আসচি- পিছু পিছু। - পাহারা আচ্ছা কেনােবাবু, এই টাকা—তুমি কি করবে মনে করেছে ? কিন্তু এ পরের টাকা—আমি কিছুই করব না। ভেবেচি, হেড- মাষ্টার মশাইকে দেব, তিনি যার টাকা তাকে দিয়ে দেবেন। পাহারা বহুৎ আচ্ছা—টাকার যে মালিক আছে তাকে তুমি দিতে চাচ্ছে। কিন্তু মাষ্টারমােশাকে দিয়ে সে কাজ কি কোরে হােবে ?

ফেলামু
।
২২:
কিনু
কেন, তিনি খবরের কাগজে এই খবর ছাপিয়ে দেবেন।
পাহারা
সে বহুৎ ঝন্ঝট কেম্নোবাবু,জানে না ? তার চাইতে হামি
যা বলে তাই তুমি করাে—সহজেই কাম হাসিল হােয়ে যাবে।
থানায় টাকা জমা করিয়ে দেও–যার টাকা তার চট্‌ করিয়ে
মিলে যাবে।
কিন্তু
থানায় টাকা জমা কোরে দিলেই যার টাকা তার মিলে
যাবে, কি কোরে মিলে যাবে রামদীন ?
এ রকম
পাহারা
কেননা—পুলিশ লুটিশ দিয়ে লােক বের করবে।
তাে পুলিশ কেন্তো করেছে, তা বুঝি তুমি জানে না কেন্নোবাবু!
কিন্তু
, তা সত্যিই আমি জানি না রামদীন। পুলিশ পরের
জন্যে এতটা করবে। কেন করবে ?
পাহারা
হা-হা-হা কেনাে করবে! দশজনের কাম করবার জন্যেই তাে
পুলিশ-লােক আছে। নইলে আছে কি করতে? এই যে

চোর-ডাকাত ধরছে, পথে পথে ঘুরিয়ে পাহারা দিচ্ছে—সে
কার জন্যে ?
কিন্তু
বেশ, তা হলে, ও ব্যাগ আর আমি চাই না, টাকাসুদ্দ, ওটি
তুমি থানায় জমা করে দিও। যার টাকা সে পেলেই হলাে।
পাহারা
তা সে পাবে-আলবৎ পাবে, তার জন্যে কুচ্ছু ভাবতে
হােবে না। তবে তুমাকে একঠো কাম করতে হােবে কোন্নাবাবু।
একদফে থানামে যেতে হােবে—হামারা সাথ।
কিন্তু
কেন যেতে হবে থানায় ? তুমিও তাে
থানায় যেতে হবে।
পুলিশ।
পাহারা
হাঁ, হামি) পুলিশ আছে বটে, কিন্তু হামার তাে এসব
লেবার হুকুম নেহি। যার ওপর হুকুম, তার কাছে তুমাকে
এই টাকা জমা করিয়ে দিতে হবে। তা হামার সাথ যাবে,
তুমার ডর কি আছে ? থানামে ডর তত চোরডাকাত আর
বাসের।
[ পাহারাওলা এগিয়ে চলল ]

কেয়াফুল •২৪ বিশু ছেড়ে দাও-দাওনা ছেড়ে রামদীন। মিছিমিছি ধােরে রাখচ ? কেন তুমি আমাকে পাহারা আরে নেহি নেহি ছােড়বে হামি তুমাকে। তুমাকে হামি জেল দেবে, ঘানি টানাবে, আচ্ছা কোরিয়ে পিট্টি খাওয়াবে। বিশু কেন—কেন তুমি আমাকে জেল দেবে—পিট্টি খাওয়াবে ? কি করেছি আমি ? পাহারা কি কোরেছে ! টাকার বেগ ছিনিয়ে লিয়ে তুমি দৌড় করেছিলাে কেননা ? বিশু * তা—তা—আমি তাে সে ব্যাগ তােমাকে দিয়েই দিয়েছি রামদীন- পাহারা দিয়ে দিয়েছে। অমনি দিয়ে দিয়েছে !

২৫
কোফুল
কিনু
ওকে তুমি জেল দেবে ? সত্যি সত্যিই জেল দেবে রামদীন ?
পাহারা
দেবে না তােত কি কোরবে ? ও তাে বদমাস আছে—পাক্কা
বদমাস। তুমার হাত থেকে এত্তো লােকের সামনে টাকার
বেগ ছিনিয়ে লিয়েছিলাে।
গােপাল
উল্টে আবার চালাকিও করা হচ্ছিল—যেন ব্যাগটি ওরই—
আমরাই যেন ওটি
কেড়ে নিতে আসছিলুম ওর কাছ থেকে।
কিনু
ও যে একটু বেশি দুষ্ট, তা ঠিক—তবু
গোপাল
তবু! তবু আবার কি ! জেল না খাটলে ও কক্ষণাে টি হবে
। অমন নিমকহারামের জন্যে কারু আবার মন কেমন করে
নাকি ! কিছু খায়নি বলে তুই না ওকে ঘর থেকে খাবার এনে
খাইয়েছি ?
পাহারা
খাবার এনে খাইয়েছে ! হােহােহাে এই ত চাহি বিশাে-
বাবু! উপকারীর ঘাড়ই তাে মটকাতে হােয় সসে পহেলা ।

কেয়াফুল এই বয়সেই তুমার এত্তো গুণ—বাঁচিয়ে থাকলে তুমি যে একঠো কি হােবে, তাই আমি ভাবছে। তােমার মতাে গুণমন্ত ছেলিয়াকে কি অমনি হামি ছােড় দিতে পারে ! কিনু দ্যাখাে, হাজার হােক ছেলেমানুষ তাে ! এক সঙ্গে খেলাধূলাে ওকে তুমি আমাদের কাছ থেকে ধােরে নিয়ে যাবে ! করি। পাহারা হা-হা-হা, বেগ ছিনিয়ে লিলে তুমার কাছ থেকে, ধরিয়ে লিয়ে যাবে কাদের কাছ থেকে, তাই তুমি বলাে দেখি, কেন্নোবাবু ? কিন্তু ওর বাপ-মা কি মনে করবে, তাই আমি ভাবছি। পাহারা তুমি কি ভাবছে কেম্নোবাবু, বিশােবাবুকে জেলখানায় দিলে ওর বাপ-মা বেজার হােবে ? ও যে-রকম বে-আদব ছেলিয়া আছে—তাতে জেলখানায় আটক থাকলে তাে তারা একটু তবু হাঁপ ছাড়িয়ে বাঁচবে। কিন্তু সে কথাও বড় মিছে বল নি রামদীন, ওর বাপ ওর ওপর আজ যা চটেছেন-

কেমাস
?
পাহারা
কেননা—কেননা তিনি আবার আজ চটলেন ওর ওপর,
আরাে কোনাে দুষ্টমি করিয়েছে নাকি?
কিনু
কোন্ ভােরে উঠে বেরিয়ে গেছল পাড়ায়। পড়াশুনাে কিছু
করেনি। মার সঙ্গে যাবার কথা ছিল মামার বাড়ী, তাও যায়নি
পাহারা
তার ওপর করিয়েছে এই সব কাণ্ড। ভাল কথা তুমি আমাকে
মনে করিয়ে দিয়েছে কেন্নোবাবু। ওকে আমি আগে লিয়ে যাবে,
সরকার-মােশার কাছ। তার হাতে ওকে আচ্ছা করিয়ে পিট্টি
খাইয়ে তারপর লিয়ে যাবে জেলখানামে ঘানি টানাতে। তা
হােলেই ওর খুব আক্কেল হােবে।
[ হঠাৎ হাতে কামড় দিয়ে বিশে হাত ছাড়িয়ে ছুটলাে ]
উঃ উঃ বাপ-বাপ ! ক্যা শয়তান লেড়কা !
বিশু
[ একটু গিয়েই পেছন ফিরে বলতে লাগল—]
রামদীন ধিন্ ধিন
এক দুই সাড়ে তিন
অমাবস্যা ঘােড়ার ডিম।
রামদীন ধিন্ ধিন্‌-

কেফুল ২৮ ফুঃ বড় মুরােদ, একটা ছেলের সঙ্গে পারে না—দুয়াে । পাহারা রােসাে, হামি তােমাকে মজা দেখাচ্ছে। বিশু রােসােহামিও তােমাকে দেখাচ্ছে মজা [ তিন লাফে পগার পার ] পাহারা এমন বেয়াড়া লেড় কা হামি আর কক্ষণাে দেখল না। হাতটা হামার একেবারে জখম করিয়ে দিয়েছে। এত্তবড়া পাহাড়ে জোয়ান হামি আছে, আমাকেও একটু ভয় করলাে না ! সরকার- মােশা এমন ভালমানুষ, আর তার ছেলিয়া এমন ডাকু ! ওতত বাপের নাম না ডুবিয়ে ছােড়বে না। মােশার সঙ্গে একবার মুলাকাৎ না করিয়ে তাে হামার যাওয়া হােতে পারে না। তুমি ততক্ষণ মাঠে একটু খেলাধূলা করিয়ে কেন্নোবাবু, যাবার সময় তুমাকে হামি ডাকিয়ে লিয়ে যাবে।

UE

No text on this page.

২৯ কেয়াফুল [ ৪ ] সৱকাৱবাড়ীর সদর হৱিহৱ সৱকাৱ আমাক খাচ্ছেন,আৱ আপন মনে থােকছেন- ওই হতচ্ছাড়াটাই হচ্ছে যত নষ্টের গােড়া। ওই তত দিলে আমার আফিসের বেলা বইয়ে, আর আমার মেজাজটা এমন বিগড়ে। আফিসে গিয়ে কেবল কাজে ভুল আর সাহেবের সঙ্গে খিটিমিটি—এই কোরেই আজ কেটেছে প্রায় সারাটা দিন। তারপর আবার এই লােকসান-—পাঁচ নয়, দশ নয় এক সঙ্গে একবারে একশাে ! কেমন কোরে কখন্ যে পকেট থেকে খােয়া গেল বুঝতেই পারলুম না ! পাহারা রাম রাম, বাবুজী ! হরিহর [ হুস নেই—বােকেই চোলেছেন ] ছেলে নয় শত্রুর ! ওরই জ্বালায় প্রাণ আমার বেরিয়ে যাবার জোগাড়। আজ একবার বাড়ীতে পা দিলে হয়—পা খোঁড়া না কোরে আমি ছাড়চি কিছুতে। কতক্ষণ আর থাকবেন গাছে গাছে মাঠে মাঠে পেট যে বড় বালাই পাহারা [ জোরে ] বাবুজী, রাম-রাম!

কমাফুল
হরি
আরে রামদীন যে ! কি খবর ?
পাহারা
খবর বড়া আচ্ছা নেই হুজুর।
হরি
খবর যে আচ্ছা নেই, সে আমি বেশ বুঝতে পারছি। কি
ব্যাপার, তাই তুমি বলাে দেখি রামদীন ?
পাহারা
আপনার ছেলিয়া বিশোবাবুর কথা আমি বােলছে। সে কি
কোরেছেআপনি জানে ?
হরি
কি করেচে! কোথায় সে হতভাগা ! তার জন্যে আমি
গলায় দড়ি দেব না, জলে ডুবে মরব, তাই তুমি বলাে দেখি
রামদীন! হাড়মাস যে পুড়িয়ে খেলে আমার।
পাহারা
একঠো টাকার বেগ ছিনিয়ে লিয়েছিলাে---লিয়ে পালাতে
যাচ্ছিলাে

কোফুল
হরি
হ
টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছিল । বলল কি! তা যেতে
পারেনি তাে পালিয়ে। পাকড়াও করেচ তত ?
পাহারা
পাকড় তাকে হামি কোরেছিলাে, কিন্তু রাখতে পারলাে না
হরি
রাখতে পারলে না! তুমি এতবড় একটা ধেড়ে জোয়ান
হয়ে এ কথা বলচ কি কোরে ! গায়ে তার যত জোরই থাক্ না
—সামান্য একটা বাচ্ছা বইতে নয় ।
পাহারা
বয়সে বাচ্ছ৷ হােলে কি হােবে বলুন তাে?—চালাকিতে যে সে
হামার দাদামােশা আছে, সেততা আপনি জানেনা। হাতটা হামি
ওর বেশ আচ্ছা কোরেই ধরিয়ে রেখেছিলাে। কিন্তু সে করলাে
কি জানে ? যেই হামি একটু বে-হুস্ হােয়েছে, অমনি হাতে
কটু করিয়ে দিয়েছে এক কামড়
হরি
ব্যাটার কি সাহস-তাই তুমি বলল দেখি রামদীন।
পুলিশ !—যার নামে খুনে ডাকাত গুণ্ডারাও ঘাবড়ে যায়,
তাকেও এতটুকু ভয় নেই ! ওর হলাে কি
==

কেফুল
দেখি—দেখি তােমার হাতটা, দাঁত বসিয়ে দিয়েছে নাকি ?
পাহারা
একটু বসিয়েছে বই কি, তা আপনি ভাববে না—অমনি
সারিয়ে যাবে। ও হামার অভ্যেস আছে। ঢের ঢের বদমাস
হামাকে পাকড়া কোরতে হােয় তাে।
হরি
হাতটা যে একেবারে ফুলে উঠেছে লাল হােয়ে ! এ্যা—এমন
পাজি ছেলেও মানুষের ঘরে জন্মায় ! ওকে তুমি হাতে পেয়েও
হাতের সুখ তুল্লেনা! লাঠির ঘা দিয়ে দাঁত ক’টা যদি ভেঙে
দিতে পারতে—বড় খুশি হতুম আমি।
পাহারা
আপনার কাছে তাে হামি ধােরেই লিয়ে আসছিলাে—ওকে
সায়েস্তা করবার জন্যে। তা আনতে পারলাে কই—এমন ছুট
করলো যে, সে হামি আপনাকে আর কি বােলবে !
ছু
ট
হরি
ব্যাগসুদ্দ, ?
পাহারা
না, বেগসুদ্দ নয়। বেগ হামি কেড়ে লিয়ে আগেই
পাকেটমে রেখেছিলাে।

কেয়াফুল
যা—তবু ভাল যে, ব্যাগ নিয়ে পালাতে পারে নি। কিন্তু
কার ব্যাগ ? বিশে—ব্যাগ পেলে কোথা ?
পাহারা
কেয়ােবাবু বােলে একঠো ছেলিয়া আছে না?—তারই কাছ
থেকে।
হরি
কেন্নোবাবু! কিনু! কিনুর ব্যাগ! কোন্ কিনুর কথা
বলছো তুমি ?
পাহারা
আপনি যার কথা বােলছে, হামিও সেই কেন্নোর কথাই
বােলছে। বেগ তত সে ঘর থেকে আনলাে না—পথে কুড়িয়ে
পেলাে।
হরি
পথে কুড়িয়ে পেয়েচে! কোন্ পথে পেলে কুড়িয়ে ?
আমিও কে আজ একটা মানিব্যাগ হারিয়েছি রামদীন।
পাহারা
কেত্তো টাকা ছিল তাতে ?

কেমফুল
৩৪
হরি
একশাে টাকা—একশাে টাকার নােট রামদীন। আমাকে
একেবারে পথে বসিয়েছে।
পাহারা
একশাে
টাকার
নােট!
কেত্তো টাকার কেত্তো নােট
ছিলাে বেগে ?
হরি
সব দশ দশ টাকার।
পাহারা
এই বেগেও তে ঠিক তাই আছে হুজুর। তা হােনল এ
বেগ তত আপনার হােলেও হােতে পারে। দেখুন তাে ভাল
করিয়ে।
[ ব্যাগ দিলে ]
হরি
আরে, এ যে আমারই ব্যাগ রামদীন!—আমারই ব্যাগ।
কোথায় পেলে কিনু এ ব্যাগ কুড়িয়ে ?
পাহারা
পথে-খেলার যে ময়দান আছে না, তারই বগল।

৩৫
কেয়ামুল
হরি
খেলার মাঠের কাছে ! হাঁ ঠিক ওখানেই তাে পাবার
কথা বটে। ঐ হতভাগা ঊনপাঁজুরে ছেলেটার জন্যেই এ
ব্যাগ আমি হারিয়েছিলুম রামদীন! বাড়ী থেকে কখন বেরিয়েছিল
জানাে ? সেই ভােরে—কাক-কোকিল ডাকবারও আগে।
মামার বাড়ী যাবে—আমার পরিবারের সঙ্গে। পরশু দিন ওর
মামার বিয়ে। যাবার কথা, সকাল বেলা—ন’টার ট্রেনে। এসে
হাজির দশটায়।
পাহারা
সে হামি শুনেছে।
হরি
শুনেচ! কোথায় শুনলে ?
পাহারা
ঐ কেন্নেবাবুর কাছে।
হরি
বােধ হয় গল্প করেচে-এসব ওর কাছে বাহাদুরির কথা
কিনা।
তারপর যা বলছিলুম—শােনন। এলাে--সেই দশটায়
যখন আফিস বেরুবাে সেই মুখে। দেখে যা রাগ হােললা সে

কেয়াফুল
৩৬
আর কি বলবাে ! ধরতে গেলুম ওর টুটি চেপে। নাগাল পেলে
দেখিয়ে দিতুম—ওরই একদিন, কি, আমারই একদিন। কিন্তু
ব্যাটা হনুমানের সঙ্গে কি ছুটে পারবার জো আছে ! ছছাটেনা
উড়ে চলে কিচ্ছু বােঝবার জো নেই !
পাহারা
সে আর বােলতে হবে না আমাকে--হামি তা নিজের
চোখেই দেখেছে হুজুর।
হরি
তখন সবে উঠেচি খেয়ে। হাঁসফাঁস করে ছুটতে ছুটতে
ঝােপের পাশে মােড় ফিরতে গিয়ে গেলুম হোঁচোট খেয়ে পােড়ে।
ব্যাগটা বােধ করি তখনি ছিটকে পােড়েছিল, কিন্তু আমি
টেরই পাই নি ;—মন গেছল খিচড়ে, তার ওপর এই আছাড় !
টাকাটা আমার নিজের নয় রামদীন—ওরই দাদামশাই
পাঠিয়েছিলেন, ছেলের বের সওদা কত্তে। ভেবেছিলুম, আজই
সব কিনে-কেটে, কাল ওকে নিয়ে তারাগুনে চলে যাব। আফিস
থেকে বেরিয়ে পকেটে হাত দিয়ে আমার যা অবস্থা হােলাে—
সে আর বলবার নয়। দশদশে শ—বড় দুটিখানি কথা নয়
তত রামদীন! সব আমাকে গচ্চা দিতে হােত ! তুমি যে
আমার কি উপকার কোরেচ—সে আমি বলতে পারি না।
তােমাকে আমি দশটি টাকা বকশিস দিচ্চি জলপানি খেয়াে ।
[ হরিহর একখানা নােট বের করলেন ]

৩৭ • কেয়াফুল পাহারা মাপ কোরবেন হামাকে।-ও হামি নিতে পারবে না। দেখুন, একঠো কথা হামার মনে হােচ্ছে। বিশােবাবু বােলছিলাে কি–ও বেগ হামার, ও বেগ হামার। আপনার বেগ ও চিনতে পেরেছিলাে । তবে কি হরি আরে চিনবে কি কোরে ? ব্যাগ তাে এ রকম কত আছে। আর চিনতে পারলেই—তুমি বুঝি মনে করেচ—আমার ব্যাগ ও আমাকে ফিরিয়ে দিত ! তেমন ছেলেই বটে বিশে! একটি পয়সাও আমি পেতুম না—একটিও না। অমন পাজি আখ খুটে ছেলে, তুমি কোথাও দেখতে পাবে না। শুনে তুমি অবাক হবে রামদীন যে, ওকে আমি আজ কিছুই খেতে দিই নি—তবু ও এই রকম সব দৌরাত্যি কোরে বেড়াচ্ছে। পাহারা হা-হা-হা আপনি খেতে না-দিয়েছে বােলেই বুঝি বিশশাবাবু -খেয়ে আছে ! খেতে না দিলেও সে খেতে জানে—সরকার- মােশা : কেন্নোবাবুর কাছ থেকে সে খাবার চেয়ে খেয়েছে। তবুও দেখুন, ও তার হাত থেকেই টাকার বেগ ছিনিয়ে লিয়ে গেলাে।

কোেল
৩৮
বলেচি তাে, অমন পাজির পা-ঝাড়া ছেলে তুমি কোথাও
পাবে না। ওর কাছে কি উপকারী অনুপকারী আছে !
পাহারা
কিন্তু ছেলিয়া বটে কেন্নোবাবু! বেগ ওর হাত থেকেই
ততা কেড়ে লিয়েছিলাে, তবু যখন বিশশাবাবুকে হামি পাকড়া
করিয়ে বললাে—জেলখানায় লিয়ে যাবে, ঘানি টানাবে
কেম্নোবাবুর চোখে জল এলাে—বললাে, ওকে কি সত্যি সত্যিই
তুমি ধরিয়ে লিয়ে যাবে রামদীন?
হরি
হাঁ, কিনু—ছেলে বটে ছেলের মতাে।
পাহারা
এই কেন্নেবাবুর হাতে পড়েছিল বােলেই আপনার টাকার
বেগ আপনি ফিরিয়ে পেয়েছে। নইলে পাওয়া ভারি মুস্কিল
হােতাে !
হরি
অমন
মুস্কিল হােত কি বচ! পেতুমই না নিশ্চয়।
ছেলে আজকালকার দিনে ক’টা আছে ।

৩৯,
কফুল
পাহারা
বশিস যদি দিতে চান সরকার-মােশা, তবে আপনি সেই
কেন্নোবাবুকেই দেবে। সে গরিব বেচারা আছে, তার উপকার
হােবে।
হরি
সে কথা আমাকে বলতে হবে না, তাকে যা পারি সে আমি
নিশ্চয় দেব।
এখন তােমাকে যা দিচ্ছি, তাই তুমি নাও।
কিনুর মতাে ছেলে ব্যাগ পেয়েছিলাে, আর তােমার মতাে
পাহারাওয়ালা তা ঠেকিয়ে রেখেছিল, তাই আমার ব্যাগ আবার
আমি ফিরে পেয়েছি।
পাহারা
বেশ, যদি না নিলে বেজার হােন, দিন তবে হামাকে আপনি
যা দেবে। ( হাতে নােট পেয়ে ] এখন, আমার এই টাকা
আমি আপনাকে রাখতে দিলাে। আপনি যখন কেয়ােবাবুকে
বকশিস দেবে, তখন সেই সঙ্গে, এই টাকাও তাকে দিয়ে দেবে,
তা হােলেই ও টাকা হামার পাওয়া হােবে।
হরি
অবাক কাণ্ড! পুলিশের ভেতর এমন লােক থাকতে পারে,
-দেখলে আমি বিশ্বাসই করতুম না।

কেয়াফুল
আচ্ছা চলাে তবে এখনি কিনুর কাছে—তাকে আশীর্বাদ
কোরে আসি।
পাহারা
চলিয়ে হুজুর—সে খেলার মাঠেই আছে।
হরি
আর আমার সেই হতচ্ছাড়া ডানপিটেটা গেল কোথায়
বলতে পারাে ?
পাহারা
যাবে আর কোথায় ? হয়তাে কাছেই কোথাও ছিপিয়ে
আছে, নয়তাে খেলার মাঠেও থাকতে পারে।
হরি
রােসােত হােলে একটু দাড়াও। আমার সেই পাকা
বাঁশের লাঠিটা নিয়ে আসি ! ব্যাটাকে একবার দেখতে পেলে

No text on this page.

24.14 Lauressest

[ ]
শহরতলীর পথ
এপাশে কোঝােপ, ওপাশে খেলার মাই
বিশু
কেয়াফুল—কেয়া মজার ফুল ! ভর ভর করে গন্ধ!
দেখতে ঠিক যেন সাদা চামর ! এই ফুল দিয়ে কেয়া খয়ের
তােয়ের হয়। বেড়ে লাগে পান দিয়ে খেতে। কেটে নিয়ে ঘরে
রেখে দেব। মা ফিরে এসে তােয়ের কোরে দেবে। তা ছাড়
ফুল বেচলেও পয়সা হয়—এক একটা কম কোরেও দু-দু
পয়সা! [ পকেট থেকে ছুরি বের কোরে এদিক ওদিক চাইতে
চাইতে বিশু ঝােপের ভেতর ঢুকে পড়ল ]
[ খেলার পরে, কিন্তু রাখাল গােপাল প্রভৃতি ছেলেরা গান
গাইতে গাইতে ঝােপের পাশ দিয়ে ঘরে ফিরুচে ]
গান
খেলাধূলাে শেষ হলাে রে
চলাে এবার ঘরে
আলাের কমল মলিন হয়ে
ঢলে দিগন্তরে।
গুটিয়ে নিতে পালের ধেনু
রাখাল ছেলে থামায় বেণু,
তরুর সারি শীতল ছায়া
পথের বুকে ধরে ।

কেফুল
৪২
দূরের থেকে হাতছানি দে
কে যেন রে ডাকে
নদীর বাঁকের পাখীরা তাই
উড়লাে ঝাঁকে ঝাঁকে ;
চলে তারা হাওয়ার আগে,
পাখায় পাখায় ঝিলিক লাগে ।
সন্ধ্যামণি অবাক হয়ে
তাকায় মাথার পরে।

কেয়াফুল
শ
বিশু
মলুম রে
মলুম -খেলেরে খেলে।
কিনু
ও কি! কে চেঁচায় ঝোপের ভেতর !
বিশু
আমি রে আমি—খেলে—খেলে আমাকে! সাপ সাপ!
[ কিনু ব্যস্ত হােয়ে ঝােপের ভেতর ঢুকে পড়ল ]
গোপাল
এ বিশেষ ছাড়া আর কেউ নয়। আমাদের ভয় দেখিয়ে
ভাগিয়ে নিজেই গিয়ে ঢুকেচে কেয়াঝােপে ! যেমন কর্ম তেমন
ফল—মর এইবার সাপের ছােবল খেয়ে।
রাখাল
ডানপিটের মরণ গাছের আগায়।
কিনু
[ বিশেকে ঝােপের ভেতর থেকে টেনে বের কোরে]
কামড়েচেকোথায় কামড়েচে বিশু ?
বিশু
জ্বলে মলুম-জ্বলে মলুম। ডান হাতের এই আঙুলটায়।

কেয়াফুল
*৪৪
কিন্তু
ভয় নেই—কোনাে ভয় নেই। দ্যাখ, এখুনি আমি তােকে
ভাল কোরে দিচ্ছি।
[ বিশুর কাটা আঙুলে মুখ দেবার জন্যে মাথা নীচু করলে ]
গােপাল
[ বিশুকে টেনে ধরলে ] ওরে কিনু, কি কচ্চি। বিষ
যে—বিষ ! কেউটে না গােখবরা সাপের কে জানে! মুখ দিলে
এখুনি তুই মরবি। সিনি—দিসনি মুখ বলছি।
কিনু
[ গােপালকে ঠেলা দিয়ে ফেলে দিলে ] আরে ধ্যাৎ, মরি
মরব—আমি মরব, তাের কি ?
[ আঙুলে মুখ দিয়ে রক্ত চুষে ফেলতে লাগল ]
গােপাল
মরবে—নিশ্চয় মরবে। বিশে তাে মরেচেই, সঙ্গে সঙ্গে
কিনুর দফাও শেষ। ডাক্ডা শীগগির ওর বাপকে !
[ কয়েকটি ছেলে ছুটে চোলে গেল,
চোলে গেল, হরিহর রামদীনকে
নিয়ে এই পথে দেখা দিলেন ]
হরি
এই যে—এই যে সেই হনুমান। সমস্ত শহর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে
খেয়ে এইখানে হাজির । রােসাে-রােসাে বের কচ্ছি আমি
.

৪৫
কফুল
তােমার ভিরকুটি আমার এই লাঠির মুখে—পাজি শয়তান
কোথাকার !
[ লাঠি বাগিয়ে তেড়ে গেলেন ]
কিন্তু
থামুন থামুন—ঠাণ্ডা হােন্। রাগ করবার সময় এ নয়।
এখন ওকে আপনি কিচ্ছ, বলবেন না। আর একটু হােলে
হয়তাে ও মরেই যেতাে—ওকে সাপে কামড়েচে।
হরি
খা—খা সাপেই খা—ওকে সাপে খাওয়াই উচিত।
পাহারা
রাম ! রাম ! রাগের মাথায় কি বাত্ বােলছে আপনি!
ছেলিয়া যে ! দেখুন, বাঁচে কি কি-হােয় ?
কিনু
ভয় নেই, সব বিষ বেরিয়ে গেছে। রক্ত ওর আঙ লে যা
ছিল, সব আমি চুষে ফেলে দিয়েচি। দেখুন না ওর মুখের দিকে
চেয়েও বেঁচে গেছে।
হরি
বলল কি! সাপের বিষে জেনে-শুনে তুমি মুখ দিয়েছিলে !
কেমন আছাে তুমি ? খারাপ ঠেকছে না তাে কোনাে রকম ?
!

কোফুল
T
৪৬
কিন্তু
, কেন ঠেকবে খারাপ! বরং খুব ভালই ঠেকচে আমার।
কেন, আপনি মিছিমিছি ব্যস্ত হচ্ছেন ?
হরি
কিনু—তুমি মানুষ ! মানুষের ছেলে ! ওরে হতভাগা,
দ্যাখ দ্যাখ-চেয়ে দ্যাখ, ছেলে বলে কাকে ! তাের মতাে
দস্যি ছেলেকে বাঁচাবার জন্যেও জীবনের দিকে ফিরে চায় না,
সাপের বিষে মুখ দেয়, এমন ছেলে কি দেবতার ঘরেও
[ কিনুকে আদর কোরে বুকে ধরলেন ]
দীননাথ
[ ব্যস্তভাবে উপস্থিত হয়ে ] কিনু কই-কোথায় কি ?
—কিনু রে !
কিন্তু
এই যে বাবা আমি।
[ দীননাথ ছুটে ছেলের কাছে গেলেন ]
হরি
ভয় নেই ভাই, ভগবান তােমার ছেলেকে বাঁচিয়েছেন, এমন
ছেলেকে যদি তিনি না বাঁচাবেন, তা হলে বাঁচাবেন কাকে

৪৭
কোফুল
বলাে তাে ? এমন ছেলের অমঙ্গল হলে, মানুষ যে ভগবানকে
মঙ্গলময় বােলে ভাবতেই পারত না।
বহু তপস্যায় তুমি এমন সােনার চাদ ছেলে ঘরে পেয়েচ।
এর জন্যে তােমার বংশ উজ্জ্বল হবে, শুধু বংশই বা বলি কেন,
দেশের মুখও উজ্জ্বল হবে।
দীন
আপনাদের পাঁচজনের আশীৰ্বাদ, আর তার ইচ্ছে।
হরি
তােমার ছেলের গুণ একমুখে বােলে শেষ করা যায় না।
সাপের বিষ চুষে তাে সে আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছেই, সে
খেতে পায়নি বােলে ঘর থেকে খাবার এনেও খাইয়েছে।
আবার আমার একটি ব্যাগ হারিয়েছিল—একশাে টাকার
নােটসুদ্দ।
পথে কুড়িয়ে পেয়ে সে ব্যাগও আমায় ফিরিয়ে
দিয়েছে।
কি
ওঃ! সে ব্যাগ বুঝি আপনার?
হরি
হাঁ বাবা, আমার। রামদীন প্রমাণ পেয়ে সে ব্যাগ আমাকে
দিয়ে দিয়েছে।

কোফুল
৪৮
কিন্তু
তা হলে তাে আর আমাকে থানায় যেতে হবে না রামদীন ?
পাহারা
না কেন্নোবাবু, আর তুমি থানামে যাবে কি করতে—ঝামেলা
তাে সব মিটিয়েই গেলাে।
হরি
ব্যাগে টাকা আছে মােটে একশােটি—কিন্তু আমার সকল
প্রাণের আশীর্বাদে ভরা। এটি তােমায় নিতে হবে বাবা-
বড় খুশি হবাে আমি।
কিনু
-না—এটি কেন নেব আমি ?
হরি
দীনু, তােমার ছেলেকে আশীর্বাদ কচ্ছি আমি।
যে উপকার আমার করেছে, লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা
দিলেও তার শােধ হয় না—সে আমি বেশ জানি। তার জন্যে
তে এ নয়—এ আমার আশীর্বাদ—তুমি হাত পেতে নাও দীনু।
मौन
আপনার পায়ের ধূলাে,
আর মুখের কথাই আমার
আশীৰ্বাদ—তার চেয়ে বেশি আশীৰ্বাদ আমি জানি না।

৪৯
কেয়াফুল
পাহারা
এমন বাপ না হােলে কক্ষণাে এমন ছেলিয়া হােয় ! এই
ছেলিয়া আর বাপ দুজনকে এক সঙ্গে দেখিয়ে, আজ যে আমার
কি আনন্দ হােচ্ছে—সে হামি বােলতে পারে না। বােলাে
ভাই, বােলাে-রামচন্দ্রজী মহারাজকি জয়-রামচন্দ্রজী
মহারাজকি জয় !
যবনিকা

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Keya Phul

Author
Sen, Nishikanta
Title
Keya Phul
File name
Keya Phul
Text
OCR done
Citation
1931
Published
2009/09/23
Publisher
Bhattacharya And Sons,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
79
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Harihar
DLI number
512816
Barcode
4990010019854.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
VCfIuqvQUEL
Download PDF

Keya Phul