Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Aguner Phool

Ray Choudhury,amulyakumar · 2010/01/1

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

আগুনের ফল

আমি,
চাহিনা শিষ্ট, চাহিনা শান্ত,
ঢাহিন নিরীহ মেষ।
চাহি যে রুদ্র,
চাহি যে চণ্ড,
চাহি বীরেন্দ্র-বেশ।
আমি,
৯
চাহি শুধু আমি এই,--
ভারতবর্ষ ভারতবাসীর ;
পর-অধিকার নেই।”

আগুনের ফুল
শ্ৰীঅমূল্যকুমার রায় চৌধুরী, বি, এ
আৰ্য-পালিশিং কোং
পি ৫৭ রসারােড়,
কলিকাতা

প্রকাশক- শ্রীসুরেশচন্দ্র বর্মণ পি ৫৭ রসারােড কলিকাতা দাম পচ সিকি শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেস, প্রিন্টার-সুরেশচন্দ্র মজুমদার, ৩১।১নং মির্জাপুর ধ্রুই, কলিকাতা ৭৬৫৭

উৎসর্গ
ভবিষ্যৎ বাংলার !রা আশা-মুকুল ;
অতীতের ব্যর্থতাকে এবং তাজানার
আন্ধকারকে যারা সমান ভাবেই উপেক্ষা
করে থাকে ; ঘাঁরা মরা বাঁচার লাভ
লােক্সান না ভেবে কেবল চলার নেশাতেই
এগিয়ে চলতে জানে ; আঁদের পাথেয় শুধু
আপন প্রাণের তফুরন্ত আশা ও
আনন্দ,—আগুন ভরা তৃণের
মালিক বাংলার সেই বালক বীরদের
হাতেই স্নেহের রক্তচন্দনে মাখন আমার
এই “আগুনের ফুল” অর্পণ করলুম।

দুটি কথা নিজের ভেতরকার দিকটায় চেয়ে দেখবার মত ক্ষমতা যখন থেকে হয়েছে, তখন থেকেই লক্ষ্য করে আচি যে, দেবী আমার-সাধনা আমার- স্বর্গ আমার—এই যে-“আমার দেশ”-এর যত সব পরম সুন্দর পবিত্র কিশাের কিশােরী—আমার যত সব ছোট ভাই বােন্—তাদের প্রতি একটা আন্তরিক আকর্ষণে এ বুকের অনেকটাই ছেয়ে রয়েছে। তাই, অনেক দিন থেকেই এদের হাতে ভাল একটা কিছু তুলে দেবার—এদের মুখে এতটুকুন বিমল আনন্দের—এতটুকুন তেজোদ্দীপ্তির অরুণ আভাস ফুটিয়ে তুলার সাধ মাঝে মাঝে মনের ভেতরে সজাগ হয়ে উঠছিল। অনেক দিনের সেই সব সব সুপ্ত বাসনার পরিণতিই হচ্ছে “আগুনের ফুলে”র এই ক্ষুদ্র গুচ্ছটি। কিন্তু নানা বাধা বিপ্ন হেতু এবং উপযুক্ত

০
সময়াভাবে—এই পুষ্প-চয়ণে ও গুচ্ছ-বন্ধনে অনেক
ক্রটিই রয়ে গেছে।
এ সত্ত্বেও যদি দেশের ভাই বােনেরা আমার
এই ফুলের খেলায় ক্ষণেকের জন্যও ভুলে থাকে-
সুখী হয়,–এর একটা ক্ষীণতম অনুভূতির ছাপও
যদি কারাে ভবিষ্যৎ জীবনে থেকে যায় তাহলেই
পরিশ্রম সার্থক মনে করব।
ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সুধী পাঠক-পাঠিকাদের
সুযুক্তিপূর্ণ মতামত সাদরেই—গ্রহণ করবার ইচ্ছা
আমাদের রইল ।
এই লেখার (ভতর দিয়ে সাহিত্য-সম্পর্কিত
কোন দুরাকাঙক্ষাকে তৃপ্ত করবার মত বাসনা
আমার নেই। রকমের সন্দেহ যদি কারাে
মনে ভুলেও জাগে, তবে এই দরিদ্র অরসিক ফুলের
মালিটির প্রতি যে নিতান্তই অবিচার করা হবে
তাতে 'আর সন্দেহ নেই।
আমাকে স্বীকার কতেই হবে যে,

হিতৈষী সুহৃৎ শ্ৰীযুক্ত সুরেশচন্দ্র বর্মণের অক্লান্ত
চেষ্টা “ভারতী” “আনন্দবাজার” “বেণু” ও
“প্রবর্তক” প্রভৃতি কাৰ্যালয়ের বিশেষ আনুকুল্য,
দু-তিন জন লব্ধ প্রতিষ্ঠ এবং শ্রদ্ধাভাজন সাহিত্যিক
শুভাকাঙক্ষীর আন্তরিক সহানুভূতি, এবং সুনিপুণ
তরুণ শিল্পী শ্ৰীযুক্ত নবজ্যোতি বৰ্মণের বন্ধুজনােচিত
সহায়তা ভিন্ন “আগুনের ফুল” এমনি ভাবে ও
প্রকাশ করা আমার মত লােকের পক্ষে কখনই
সম্ভব হয়ে উঠত না। এদের সকলের কাছেই
এ জন্য আমি চিরদিন ঋণ স্বীকার করব।
গ্রন্থকার

আনের
আগুন্ ফুল,
দোদুল দুল।
আগুন ফুল
দোদুল দুল্ ।
নাইরে তুলু,
আগুন্ ফুল।
নাইরে তুল,
আগুন্ ফুল ।
বল না ফুল,
বাস কোথায় ?
সত্যি বল,
কোন্ লতায় ?
বল্‌ছে ফুল,
হায়রে হায় ;
কোথায় তাের
মন কোথায় ?

আগুনের ফুল
ওই যে শ্যাম্
বহ্নি ক্ষীণ।
জুছে দেখ
রাত্রি দিন ।
জ্বলছে জল,
আকাশ থ।
জ্বলছে দ্যাখ
ফুল ও ফল }
জুলছে দ্যাখ
গহন বন।
জুলুছে সব
পরাণ, মন্।
শ্মশান পর
পালা শি।
জ্বল্‌ছে ভা,
জ্ঞানের দীপ,

আগুনের ফুল
জ্বলছে দিন,
রাত্রি জ্বলে।
জ্বলছে কাল,
তাই না চলে ?
জগৎ-ময়,
আগুন্ শিখা ;
লিখছে নিতি
ফুলের লিখা
আপ ভোলা
দেখরে আজ।
দেখরে তাের
মনের মাঝ ।
দ্যাখরে তুই
ভুবনময়,
আগুন ফুল
আগুনময়

আগুনের ফুল
মরণ, রাত্
কানােয় কালাে।
জীবন-বহ্নি
আলােয় আলাে ।
রাত্রি ঘাের
ওই যে তাের।
প্রাণের থা
তােরে ফুল,
আগুন্ ফুল্।
তােরে ফুল,
দোদু দুল
আগুন্ ফুল
আগুন্ ফুল ।
নাইরে তুলু,
নাইরে তুল্ ॥
৪

“বন্দেমাতরম্‌” !
আয় আয় ভাই,
সবে মিলে গাই,
মধুর “বন্দেমাতরম্ ?”
ভয় ভেঙ্গে যাবে,
প্রাণে বল পাবে
গাহি গীতি অতি মনাের ।
এই গান গেয়ে,
ডাকি যদি মায়ে,
এক সাথে মােরা মিলিয়া।
হাসিবে এখনি,
মােদের জননী
সব দুখ যাবে ভাসিয়া ।
দেখ মুখ তুলে,
হিমালয় কোলে,
মা’র মুখখানি ভাসে।
মাথার মুকুট,
তুষার কিরীট,
রবির কিরণে হাসে।
গঙ্গা যমুনা,
নাহিক
তুলনা,
মালা হয়ে গলে দোলে।
কৃষ্ণা কাবেরী,
পায়ে গড়াগড়ি,
নূপুরের সম বােলে ।

আগুনের ফুল
অতি সুকোমল,
চরণ কমল,
কুমারিকা বুকে ধরে।
সাগরে লঙ্কা,
বাজায়ে ডঙ্কা,
মা’র জয়-গান করে।
সৰ মাটি জলে,
ধানে ফুলে ফুলে,
মায়ের স্তন্য ঝরে।
শয়নে স্বপনে,
জনমে মরণে
মা’-ই সদা বুকে ধরে ।
যত দুখ তাপে,
অধীনতা পাপে,
মা’র চোখে বহে জল।
মা'র ছেলে হয়ে,
এই সব সয়ে,
নীরব রবে কে বল ?
আয় সবে মিলি, আনি ফুল তুলি,
গাথি ফুল-হার মনাের।
মা’র পূজা করি,
গাহিয়া “বন্দে মাতরম্ ॥”
অন্তর ভরি,

প্রভাত কামনা
তােমারি স্নেহের
সুকোমল কোলে
যাপিয়া সারাটি রাত,
মেলিয়া আবার
নয়ন যুগল
হেরিনু সুপ্রভাত।
তােমারি করুণা
অরুণ-আলোেক
বাঁচাল পুণ্য প্রাতে।
সারাটি দিবস
হে প্রিয় আমার
রহিও আমারি সাথে ।
মনে মানি যেন
তােমারি আদেশ
করি আমি সব কাজ।
৭

আগুনের ফুল
যত অপূর্ণ
করিও পূর্ণ
দূর কোরাে মােহ লাজ।
দিও গাে শকতি
ভকতি রাখিতে
তােমারি চরণে নিতি ।
মরম বীণায়
বাজে যেন সদা
তােমারি প্রেমের গীতি ।
৮

অরুণ আলাে আঁধার নাশি। নতুন হাসি। ধরার বুকে। নবীন সুখে। মরম্ মাঝে, ভৈরব-ভয়া-সাজে।” ভােরের বেলা। ঝড়ের খেলা। অরুণ উদিল পুবে হাসিল নতুন রবি আলােক পড়িছে ঝরে জাগিছে যতেক জীব ইসারায় কেবা কয় “সাজ ভীরু, ঈশানে উঠিছে মেঘ এখনি হবে কি সুরু উতরাে হবে কি রে ওপারের খেয়া নাও ঊষার অমল রূপ তরুণ তপন-ছবি ঋষি-জন-সন্তান আমরা কি করি ভয়, ৯-কারের মত ঐ আঁধারে র’ব কি ভাই, গঙ্গার জল ; হবে ট ম ? কালাে মেঘে ছায়। লুকালাে কোথায় ? মােরা ভারতের। ঝড়-ঝাপটের ? মাথাটি গুজে, দু’চোখ বুজে ?

আগুনের ফুল
যে যার কাজে।
এস ভাই চলে যাই
মা দিয়েছে জয়-টীকা
ঐ হের আসে ঝড়,
রহিব কি ঘরে মােরা
ওঠ, ওঠ ছুটে চল
খেয়া নাও বেয়ে যায়
দৌড়িয়ে চল ওরে
ওপারে যেতেই হবে
সংসারে সকলেই
বাধা যত ঠেলে পায়
হা-হা-হা-কিছু না
আগে চল আগে চল্
বাধা বাঁধ কিছু নেই
খাটি এক প্রেম শুধু
কপাল মাঝে ।
অধীর তেজে।
মিছাই সেজে ?
সময় যে নাই।
ঐ মাঝি ভাই।
—নৌকা যে চাই।
-কোন ভয় নাই।
কাজ নিয়ে আসে।
জয়েরি আশে ।
ভাবনা মিছে।
চাসনে পিছে।
এ সংসারে।
বাঁধিতে পারে ।
১০

ভােরের গান
(১)
(২)
নাইরে রাতি,
লও গাে অরুণ,
নাইরে রাতি,
হার্ঘ্য মােদের,
ভােরের আলাে ডাকে। উজল হাতে ধরে” ।
উষার গালের
হাজার পাখী,
বসূরা গােলাপ
কুলায় থাকি,
ফুল মেঘের কে। বলছে “ওগাে আলাে,
রাতের তারা,
দৃষ্টি-হারা
বলছে “মােরা,
অন্ধ মােদের
যাই গো এবার যাই। নয়ন-প্রদীপ-জ্বালে !”
ডাকছে ছায়া
বনের কোণে
মায়ার হাতে,
কুসুম কঁাদে,
নাইরে সময় নাই। “দাও গাে আলাে দাও।
অ-শিশির
বুকের মাঝে
রইল মােদের,
গন্ধ আমার,
পর্ণ-পুটে পড়ে। নাও গাে লুটে নাও।”

আগুনের ফুল
( ৩ )
শিউলি বকুল
আকুল হয়ে
লুণ্ঠে ধরাতল ।
“কোথায় রবি,
তরুণ ছবি,
ভােরের হাওয়া বল ?”
অন্ধকারের
বন্দীশালা,
ভাঙ্গরে আলাে-ভাই।
মুক্ত আলাে,
মুক্ত বাতাস,
চাইগাে মােরা চাই !!
১২

No text on this page.

. মহাত্মা মােহনদাস করমচাঁদ গাঁধী

আগুনের ফুল
করম চাদ করিলে কাজ
করমেরি মত বটে।
দেবতার মত-তােমারি নাম
দেশে দেশে তাই রটে ।
সুনাম কুনাম হরষ বিষাদ
কিছু ত টলাতে নারে।
সফল করিতে সাধনা তােমার
সপিয়াছ আপনারে।
খাদির পােষাকে সাজালে মায়েরে,
শুনালে নৃতন অভয় বাণী।
জাগায়ে স্বাধীন করম-শকতি
ঘুচালে সবার সরম খানি।
ঘুচালে অভাব চরকা চালায়ে
যতেক অন্ন-হীনের ঘরে।
হেন মতে তুমি করি তিল তিল
তুলেছ দেশের শকতি গড়ে।
১৫

আগুনের ফুল
গােপালকৃষ্ণ গােখেল
গােখেল ছিল মারুহাটারি
একটি উজল মণি।
প্রভায় তব,
উজল হলাে,
দুখের কালাে খনি।

আগুনের ফুল
হঠাৎ আলাে, নিভে গেল,
লাগল বিষম বা ধা।
খুঁজলে কি আর, মিলবে তুমি?
বৃথাই খুজে কাদা !
লালমােহন ঘােষ
ঘােষের সম উদার সরল ক’জন পাওয়া যায় ?
দেশের দুখে পরাণ তাহার করতাে রে হায় হায়।।
সবার ছিলেন সহায় তিনি, বিপদে সম্বল।
তার অভাবে সত্যি এ দেশ হয়েছে দুরবল।
১৭

আগুনের ফুল রমেশচন্দ্র দত্ত ‘ঙ'-র মত তন্দ্রানত উমেশ রমেশ আপ্ল যত- যখন ছিল দেশ, বরহে অশেষ । ১৮

আগুনের ফুল
ভাঙ্গল তারা গভীর ঘুম, উঠল সবাই জেগে।
ঝলসে গেল সবার চোখ নতুন আলােক লেগে ।
ভু ইয়া-চাদরায়
চাঁদ রায়, আজি হায়, কোথা তােমরা।
হেথা বসে মন দুখে, ভাবি আমরা।
ডরিত, বাঙ্গালী-বল মােগল পাঠান।
হায় কোথা, সেই তেজ,-সে উদার প্রাণ ?
১৯

আগুনের ফুল রাণা প্রতাপ সিংহ চাহিয়া চাহিয়া আকাশের পানে, কেন বা কাঁদিছ হায় মেবার ! আঁখি অনিমেষ ফেরে গ্রহলােকে, তবু দেখা কি গাে দিবে সে আর ? স্বাধীনতা ছিল সাধনা যাহার, শুধু ত্যাগ ছিল যাঁহার বল ; বনবাসী ঋষি সে রাণা প্রতাপ কোন্ লােকে আজ কে জানে বল্ ? সে বীরের ব্যথা পাষাণী মেবার,- শুধু তাের একা নয় রে নয় । চেয়ে দেখ গােটা ভারতের প্রাণ- তার লাগি কেঁদে আকুল হয় ।

No text on this page.

**
চope
ছত্রপতি শিবাজী

আগুনের ফুল
ছত্রপতি শিজী তুমি
বীর ছিলে একজন।
তােমায় ভেবে আজো মােদের
মত্ত পরাণ-মন ।
বাসা জাদা তােমার নামে
উঠত শিহরিয়া।
মাওলি-সেনার দর্পে অরির
কপত কঠিন হিয়া ।
পড়ল ভেঙ্গে পদাঘাতে
দুর্গের-ই প্রাচীর
বিশ্ববাসী বলে সাবাস,
হিন্দু বটে বীর।
আত্মহারা ভারত সে দিন
দেখলে স্বপনে।
দেশ জুড়ে ঐ গেরুয়া-নিশান
উড়ছে পবনে।

আগুনের ফুল
যতীন্দ্রনাথ সুর ও চন্দ্রকান্ত দেব
জগত সভায়,
অমল শােভায়,
কে আসিলি তােরা বালক বীর ?
স্বজাতির লাগি,
কে তােরা তেয়াগী,
ঈড়ালি দর্পে তুলিয়া শির?
দমুরা যবে,
মাতিল আহবে,
অবলার বুকে জাগাল ভয়,
চন্দ্র, যতীন, রুখিলে সে দিন,
গাহিয়া উচ্চে হিদুর জয়!
জননীর মান
বাঁচালে, পরাণ
ডালি দিয়ে রণদেবীর পায় !
এ পূত কাহিনী,
দিবস যামিনী,
স্মরিবে হিন্দু এ বাঙ্গলায় !!
২৪

No text on this page.

DRAT NXCO

No text on this page.

সার জগদীশ বসু

আগুনের ফুল
জগদীশ তুমি প্রাণের পরশ
পেয়েছ জগৎময়।
তাইত জগৎ প্রণমি তােমার
চরণের ধূলি লয়।
ভারতের দেব-ঋষিদের কথা
হাসিত যাহারা শুনে।
আজ তারা তা-ই সত্য মানিছে
তােমারি সাধনা গুণে ॥
২৯

আগুনের ফুল
সার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঝড়ের বেগে সুরেন্দ্রনাথ
আসলে হঠাৎ বাঙ্গলাতে।

আগুনের ফুল
এমন মাতা মাতিয়ে দিলে,
পারলে না কেউ সামলাতে।
বঙ্গ-বিভাগ সইলাে না কেউ
রুল সবাই সব, ভুলে।
বিপদ বুঝে নিজেই রাজা
বিধান দিলেন তাই তুলে।
মৌলবী লিয়াকৎ হােসেন
মিঞা লিয়াকৎ মৌলবী, অতি
সদাশয় সাধু উদার-প্রাণ।
নিত্য নবীন আশার ছলনে-
নিজ পথ নাহি ছাড়িতে চান।
সত্য বুঝিলে বলেন সকলে,
কাহারেও নাহি তাহার ডর।
খােদার করুণা বিনা কারাে দয়া
চাহে নাক আর সে নর-বর।
৩১

আগুনের ফুল
জেসেদজী টাটা
টাকার থলি আগলে বসে
রয়নি টাটা চুপ করে।
ব্যবসা খুলে দুঃখ দেশের
চাইছে দিতে দূরূ করে ।
ঐ যে বিপুল কর্মশালা,-
খাটছে শতেক আল্লরা।
হাসছে খেয়ে পেটুটি পুরে
আজকে হাজার কালারা
=
৩২

No text on this page.

* : দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর

আগুনের ফুল
ঠাকুর দ্বিজ দেখালে নিজ
বাঙ্গালী আজি চলহে তার
বাণীর কৃপা ভিন্ন কিছুই
যশের লােভে পরাণ কভু
জীবনে ঋষি হয়ে।
চরণের ধূলি লয়ে।
চাহেনি তার মন।
হয়নি উচাটন।

আগুনের ফুল
ডাক দিল যেই দেশ জননী,
পরলাে ত্যাগের বাস,-
সুখের বাধা বাঁধন কেটে
বের হলাে সুভাষ ।
তড়িৎ বেগে ছুটল কাজে,
মাল না সে কিছু।
দেখলে না সে বিপদ কি যে
আসচে পিছু পিছু।
মরণ বাঁচন সীমায় সে আজ
খেয়াল তবু নাই।
এমন পাগল বলেই ত দেশ
বছে-“প্রাণের ভাই ।”

কাশ সুভাসচন্দ্র বসু

No text on this page.

আগুনের ফুল উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ঢল ঢল মা’র করুণ নয়ন, ছল ছল চোখে সে কোন বচন, নীরবে হৃদয় করিয়া মথন- জাগিল যেদিন আকুল করিয়া নিশার স্বপন মাঝে। সাজায়ে নবীন তরুণ বাহিনী, ছড়ায়ে বাতাসে আগুনের বাণী, ছুটিল উপেন কাহারে না মানি ঘুচাতে মায়ের শৃঙ্খলভার-ঐ যে চরণে বাজে । ধ্বংশের বেশে মতিল পাগল, দুয়ারে দুয়ারে ভাঙ্গিল আগল, বিপদ বাদলে বাজিল মাদল, উঠিল ভাসিয়া আঁধারের বুকে মরণ-বিজলী-রূপ। ভাগ্য দেবতা ফুসিয়া ফুসিয়া, উঠিল বিষম রােষেতে রুষিয়া, লইল শাসনে শােণিত শুষিয়া, বন্দীশালার বন্ধনে শেষে হলাে রণ-গীতি চুপ।

আগুনের ফুল
ঢেকে ঢুকে চলতে কভু
চায়নি বারীন্ ঘােষ ।
বলতাে-“বাঁধন সইব না আর
এই ছিল তার দোষ ।
ভাবলে পাগল ভাঙ্গবে আগল
আপন্ বাহুবলে ।
হায়রে, কারার পাষাণ প্রাচীর
হাল নানা ছলে।
৪০

বারী ঘােষ

No text on this page.

আগুনের ফুল
.
গাজী কামাল পাশা
ণ-এর মত নুইয়ে থাকা
যৌবনে কি সাজে ?
বাঁচতে হবে—জাগতে হবে-
বক্ষে ধ্বনি বাজে !
বচে কামাল “সামাল ওরে
চরে আগে চল।
চলরে আগে-নইলে দেখ, ওই
সামনে রসাত ।”
সার তারকনাথ পালিত
তারকের সম হে তারকনাথ
আছিলে গাে ধন-পতি
সে ধন বাণীর সপিয়া সেবায়
হলে প্রিয় দেশ-পতি।
ধনের মালিক আছে ত হাজার,
কেবা চিনে বল কারে ?

আগুনের ফুল
দশের সেবায় যেই ধন দেয়
সকলেই নমে রে ।
লেনিন
থালায় তােমার মণ্ডা-মেঠাই
হরেক রকম রস ভরা ;
জাছ কি গাে লক্ষ দীনের
রক্তে ওযে সব গড়া ?
বললে লেনিন কঠোর স্বরে
-“সমান ভাগে খাও ধনী !
ঐ যে প্রলয়-বিপদ ঘনায়
গরুজে শুন তার ধ্বনি।”
৪৪

No text on this page.

দাদা ভাই নৌজা। সার রাসবিহারী ঘােষ

আগুনের ফুল
দাদা-ভাই ছিলে দাদা ভাই সম
ভারতের দরদী।
তােমারে হারায়ে বল দেখি দাদা
কাঁধে কার ভর-দি ?
সুদূর বিদেশে বসিয়া মরমী,
মােদের দুখেই কেঁদেছ।
পরাণের টানে দেশের সবারে
প্রণয়ের ডােরে বেঁধেছ।
ধন্য বিপুল ধনের মালিক
বিশ্ব-জ্ঞানের ভাণ্ডারী।
ঘাের বিপদে দিকহারাদের
তুমিই ছিলে কাণ্ডারী।
দেখাতে পথ অন্ধ-জনে
ধন দিলে ওই বিদ্যাপীঠে।
আপন ভােলা জীবন তােমার
লাগছে বঁধু খুব, মিঠে ।
৪৭

আগুনের ফুল
কবি নবীনচন্দ্র সেন
নব নব সুরে হে নবীন কবি
বেঁধেছিলে তব বীণার তার।
তােমারি দীপক রাগিনী দীপনে
ঘুচিল যুগের অন্ধকার।
পলাশীর বনে সে কাল্ প্রভাতে
কেঁদেছিল কৰি তােমারি বীণ।
জ্বলে ওঠে প্রাণে অতীতের জ্বালা
স্মরিলে সে ঘাের দুখের দিন।
অতীত ভারত-গৌরব-গান
শােনালে নিত্য কত না সুরে।
আজি সে গভীর চেতনার গীতি
বাজাও সুপ্ত হৃদয় পুরে।
৪ ৮

আগুনের ফুল
সার পি, সি, রায়
পথ-ভােলা এক চঁাদেরি মতন
পি, সি, রায় দেশ-মাঝারে,
৪৯
৪

আগুনের ফুল
আপন কিরণ ঢালিতেছ, সবে
পটি দেখাতে আঁধাবে ,
আপনার লাগি রাখিলে না কিছু,
সকলি বিলায়ে দিলে ।
আশীষ করিও, মােদেরাে কপালে
যেন এ সুযােগ মিলে
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ফসল ফুলের ফলিয়ে গেলে
বঙ্গ বাণীর কাৰ্যবান,
তােমার হাতেই বাজল মধুর
কুহুধ্বনি কে কার সনে
দীপ্ত রবির আলােক রথের
নওগগা মলিন ছায়া তুমি,
আপন মনে সঙ্গোপনে
গড়লে নূতন চলার ভূমি।

আগুনের ফুল বক্ষে ছিল প্রেমের নিঝর, চক্ষে তড়িৎ দীপ্তি গাে। কণ্ঠে কঠোর শাসন বাণী, ভাঙ্গল জড়ের সুপ্তি গাে। শেষ না হতে কুঁড়ির জীবন বোঁটার বাঁধন টুটুল রে। হায়বে মায়ের কণ্ঠ মাণিক- কোন লুঠেরা লুটল রে ?

আগুনের ফুল
মিসেস এনি বেসান্ট
বল দেখি ভাই বিদেশিনী হয়ে
বিবি বেশান্ত সম,
কঁদে কার প্রাণ ভারতের লাগি
ভাবি নিজ প্রিয়তম ?
৫২

আগুনের ফুল
এ যেন দুখিনী ভারত জননী
মানুষের বেশে আসি,-
আপনার দুখ জানায় সবারে
নয়নের জলে ভাসি।
ঙিন
এল, রায়
ভকত তােমার ভাবের নেত্র
হেরিল ভারত জননী রূপ।
বুকের লােহিত শােনিতের রাগে
আঁকিলে মূরতি কি অপরূপ।
ধােয়ালে চরণ নয়ন-সলিলে,
অর্ঘ্য প্রাণের করিলে দান।
গাহিলে মন্ত্র—“স্বদেশ আমার
স্বর্গ আমার-আমার প্রাণ।”

আগুনের ফুল
মদন মােহন মাতালে আজিকে
ঘুমে অচেতন ছিল যে জাত।
আপন জীবন আলােকে উজলি’
কাটালে হি দুর এ ঘাের রা।
মরণের ভয় করনাক তুমি
ধরমের বল্ জেনেছ সার।
লহ লহ বীর, হে দ্বিজ-তনয়,
ভকতির এই কুসুম-হার।
যত দিন এই ভারতে রহিবে
ভারতের নারী ভারত-নর।
সুখে আনন্দে লবে তব নাম,
কেহ না কহিৰে তােমারে পর।
অজ্ঞ ভারত-রমণীর দুঃখে
উঠেছিল কেঁদে তােমার প্রাণ।
বুকের তপ্ত শােণিত-বিন্দু
করে গেছ তাই দেশেরে দান।

আনন্দমােহন বসু মদন মােহন ম'লব।

No text on this page.

আগুনের ফুল
....
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবি রাজ কবি উজ্জ্বল ছবি,
ছড়ালে জগতে কি আলাে ছটা।
৫৭

আগুনের ফুল
-
বাণী বনে একি রাজ-সমারােহ,-
কিবা অপরূপ পূজার ঘটা !!
‘ভারত কেবলি বিলায়েছে সব,
ভােগী হতে কভু চাহে ত নাই,
জগতে সবারে দিতেছ জানায়ে
ভালবেসে বলি সবারে ভাই }}
জংলা সে মেয়ে বাংলা মায়েরে
সাজায়েছ কি বা রাজরাণী।
লহ এ প্রণতি বাণীর তনয়,
বস এ হৃদয়-আসন টানি।

আগুনের ফুল
লালা লাজপৎ রায়
লালা লাজপৎ চির-দুখ-প
বেছে নিলে নিজ জীবনে।
ভাবিলে এ সুখ ধন পরিজন
মিছে, মা’র সেবা বিহনে।

আগুনের ফুল
পঞ্জাব হতে সকল ভারতে
ভ্ৰমিছ অধীর চরণে।
বুরা যার বল আছে তার
কি বা ভয় দুখ মরণে?
ব্রজেন্দ্রনাথ শীল
বসেছে ব্ৰজেন ঋষির আসনে
বাণীর ধেয়ানে মগন হয়ে ।
ভারত তনয় হবে তব জয়,
ফিরিবে সফল সাধনা লয়ে ।

No text on this page.

স্বামী শ্রাদ্ধন

আগুনের ফুল
শকতি তােমার রহিবে অমর
হে সাধু শ্ৰদ্ধানন্দ বীর !
গেছে দেহ তব প্রাণ বেঁচে আছে
শত শত প্রাণে ধরণীর !!
পথের পথিক আছিলে হে তুমি,
দশের লাগিয়া দিয়েছ প্রাণ।
সবার সােনার মরম-আসন
আজিকে তুমিই পেয়েছ দান,
১৩

আগুনের ফুল
সার আশুতােষ চৌধুরী
ষড়ানন সুবীর যে অমিত বলে,-
ঘুচাইল চিরতরে দানবের ছলে ;
আশুতােষ, সেই বলে সেই তেজে মাতি-
চেয়েছিলে ঘুচাইতে এ দুখের রাতি।
পূরে নাই সব আশা; তবু তব প্রাণ
করমের পথ খানি করে গেছে দান।
৬৪

No text on this page.

:
come
*
সার আশুতােষ মুখােপাধ্যায়।

আগুনের ফুল
সরস্বতীর তুমি হে তনয়,
আশুতােষ, চির বিজয়ী বীর।
হিমালয় সম উঠেছিল জাগি
আকাশ ভেদিয়া উজল শির।
নয়নে তােমার ছুটিত আগুন
বচনে উঠিত 'অশনি নাদ।
বৈরী পরাণে জাগাইলে ভীতি,
ঘুচালে ভীরুতা সে অপবাদ ।।
জননী-বঙ্গ-ভাষারে আনিয়া
বসালে রতন-আসন পরে।
জ্ঞানের গােলাপ ফুটালে দেশের
উষর যতেক কানন ভরে।

আগুনের ফুল
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
হায় আজি মহা-
ঋষি দেবেন্দ্র
কোথা তুমি জানা নাই।
হেন দয়াবান্
ভকত পরাণ
আর নাহি খুঁজে পাই।
ছাড়ি সংসার
বনের মাঝার
বিভু কৃপা-কণা আশে,
ধেয়ানে সিদ্ধি
লভিয়া ধীমান
চলিলা স্বরগ বাসে।

No text on this page.

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আগুনের ফুল
ক্ষয়হীন যশ অবনী তােমার
উজলিল আজি ধরণী।
বাণীর চরণ-সরােজ-পত্রে
হের ঐ লেখা “অবনী”।
লীলা চঞ্চল নিখিলের রূপ
ধরা দিল তব তুলিতে।
প্রাণময় রূপ গড়েছ এমন,
নাহি পারে আঁখি ভুলিতে।
৭১

আগুনের ফুল
শঙ্করাচাৰ্য্য
জয় নরশঙ্কর,
শঙ্কর-প্রিয়
জয় ভয়-বঞ্চিত
চির বরণীয়।
নয়ন বিমােহন
উজ্জ্বল উন্নত
রক্তিম ভানু।
পাপময় পঙ্কিল
অন্ধ-নিশি,
আবরি' নিমজ্জিল
সব দিশি ।
প্রতিভার বত্তিকা
জালিয়া ভালে,
৭২

আগুনের ফুল দর্শণ দিলে নীল প্রাচী-র থালে। জ্ঞানালােকে রঞ্জিয়া অন্ধের প্রাণ, মায়াময় বিশ্বের শুনাইলে গান ! সনাতন ধর্মের রক্ত-কেতন উড়াইলে ; বিস্মিত- বৌদ্ধ-শ্ৰমণ ! প্রদীপ্ত জ্ঞানময় দুজ্জয় জীব । জয় জয় শঙ্কর হে নর-শিব।

আগুনের ফুল
নট চূড়ামণি-গিরিশ ঘােষ
অচল সম উচ্চ ছিল
গিরিশ তব জ্ঞানের চূড়া।
বিভাের হলাে বঙ্গ তব
পান করে ও-প্রেমের-সুরা ।
জ্বালিয়ে দিলে হাজার ফানুস্
রং-ভরা নাট-গগন ভরি।
নটের সেরা, রসের ফুলে
তাই তােমারে বরণ করি ।
৭৪

ভারতবর্ষ
ভারত আমার, ভারত আমার,
স্বদেশ আমার, আমারি প্রাণ
জননী'আমার, স্নেহের আধার,
লহ এ ভকতি-অর্ঘ্য দান।
জনমিয়া যবে কিছু বুঝি নাই,
তােমারি কোলেতে পেয়েছিনু ঠাই,
তােমারি ধুলার অঞ্চল কোণে
হলাে মা শৈশব অবসান।
জননী আমার স্নেহের আধার,
লহ ভকতি-অর্ঘ্য দান।
তােমারি আকাশ, তােমারি বাতাস,
করিল এ দেহে জীবন প্রকাশ,
তােমারি আলােকে ভরিল হৃদয়,
উজলিল মাের দুই নয়ান।
জননী আমার, স্নেহের আধার,
লহ এ ভকতি-অর্ঘ্য দান ॥

আগুনের ফুল
তােমারি কৃপায় বাড়িল জীবন,
বুঝিমু জগতে জননী কি ধন,
তাই তব দুখ অবসান আশে
ফিরিতেছি ভুলে মানাপমান।
জননী আমার স্নেহের আধার,
লহ এ ভকতি-অর্ঘ্য দান।
মিটাইছ তৃষা নদী জলধারে ;
ক্ষুধারই অন্ন দেছ ফল-ভারে,
সুখে দুখে মাগাে, জীবনে মরণে
মােরি অঙ্কে দিতেছ স্থান।
জননী আমার, স্নেহের আধার,
লহ এ ভকতি-অর্ঘ্য দান।

No text on this page.

১ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ

আগুনের ফুল
নিজেরে ভুলিয়া,
দেশেরি লাগিয়া,
বিলায়ে গিয়েছ বিত্ত।
জন-গণ-মন,
করেছ হরণ,
ও অমর প্রেমে নিত্য ।
সান্ত্বনা হারা
সিন্ধু-রাগিনী
ফুটিল তােমারি সঙ্গীতে।
মৃতের বক্ষে
নাচিল পরাণ
তােমারি জীবন ভঙ্গিতে।
তােমারি সজল
নয়নে ঝরিল
জননীর ব্যথা খানি।

আগুনের ফুল
ললাট আগুনে
জ্বলিয়া উঠিল
“মায় ভুগ্ধ হু”র বাণী
পদে পদে বাধা,
শৃঙ্খল ভার
বড় বেজেছিল চরণে।
তাই প্রাণ পণ,
করে গেছ রণ,
থুথকারি অরি মরণে।
হে বীর সেনানী,-
যুঝিয়াছ বটে,
করনি রক্ত পাত্।
ত্যাগের অনলে
লােভর লালসা
করেছ ভস্মসাৎ !!

বালগঙ্গাধর তিলক
কি ! তব নাম, কোথা তব ধাম,
কেন জন নাহি শুনিতে চায়।
কহে শুধু—“আজি ভারত তিলক,
কেয় লুকালে বলনা হায় !!”
জননীর ভালে ছিলে গাে উজল
বক্ত ববির বিন্দু গাে!
‘ব পদাঘাতে হলাে উন্মাদ
তোমারি হৃদয় সিন্ধু গাে !
বজ নিনাদে উঠিলে গরজি,
হে কীর কেশরী শঙ্কাহী !
ধ ধ ধ জ্বলিল নয়নে
বিজলীর লেখা আঁধার লীন !!
শিবাজী-সাধক হে বীর মারাঠী,
মুক্ত সাহস-কৃপাণ করে,
‘স্বাধীনতা চির জনমের ধন
গিয়েছ জানায়ে ভারত ভরে !!

শ্রীগৌরাঙ্গ
শচীর দুলাল,
রে ননী গােপাল,
কে বলে,-নিমাই নাই রে নাই !
গরে ঘরে শিশু
কিশােরের মাঝে
আজো যে গােরারে দেখিতে পাই ?
মা'র হাত ধরে
গুটি গুটি চলে,
নাচে হেলে দুলে ধিতা-পিন।
আধ আধ ভাষে,
ও-মধুর হাসে,
বেজে ওঠে তাই পরাণ-বীন।
সন্ধ্যায় মা’র
তুলসীতলায়
গাহে বাহু তুলে হরিবােল্।
৮২

'আগুনের ফুল
ঘরে ঘরে যত
শচী-মা’র বুকে
জাগায়ে স্নেহের দোদু দোল্ ।
নীল সরােবরে,
তটিনীর নীরে,
কিশােরেরা জল খেলাই মাহে।
মনে হয় গােরা
খেলিতেছে যেন
আমাদেরি যাদুমণির সাথে ।
গােরা যে মােদের
চির আপনার,
এনেছিল প্রেম বিয়ে দিতে।
প্রেমে গলে আজ
সে গােরা মােদের
রয়েছে গােপন নিভৃত চিতে।

বুদ্ধদেব
শুদ্ধ শান্ত অপাপ বিদ্ধ
প্রণমে বুদ্ধ তােমারে দীন।
তােমারি শুভ্র জ্ঞানালােকে দেৰ
দীপ্ত কর এ জীবন ক্ষীণ।
চেয়ে দেখ দেব হৃদয় মাঝারে
রহিয়াছে যাহা সঞ্চিত।
শ্রেষ্ঠ তােমার জীবনের দানে
কোরােনা আমারে বঞ্চিত।
যাহা কিছু সৎ, সত্য, মহৎ
দাওগাে আমারে বুঝিতে দাও।
অশ্র-শিক্ত ভকতি-অর্ঘ্য
হে করুণ, করে তুলিয়া নাও।
৮৪

No text on this page.

be
s
কবি রজনীকান্ত সেন

আগুনের ফুল
ভূষণ তুমি হে কবির কুলে,
তার মাঝে যেন মা।
সঙ্গত মাঝে যথা সামগীতি,
দেবাদি দেবের বন্দনা।
বাণা-পদতলে বসিয়া বিরলে
হে কবি, সপ্ত সুরে--
সাধিলে গভীর সাধনার বীণা,-
ধ্বনিল জগত জুড়ে।
মুগ্ধ হইলা জননী গঙ্গা,
উছুল ভাবের রসে।
কতন শান্তি লভিল বঙ্গ -
শান্ত করুণা-পরশে
পতিতের লাগি তােমারি নয়নে
ঝরিল বেদনা-বারি।
মঙ্গলময় মুরতি দেখালে
যবনিকা অপসারি।
৮৭

আগুনের ফুল
হে-রামকৃষ্ণ, চরণামৃত
ভকতবৃন্দ করিছে পান।
অমৃত আশীষ বরষিয়া দিলে—
মৃতদেশে নব জীবন দান।
শুষ্ক জ্ঞানের মরুর মাঝারে
হওনিক কভূ দিক্‌-ভুলা ।
স্বচ্ছ প্রেমের নিঝর স্রোতে
বেয়ে গেছ’ সােজা দিন্ গুলা।
প্রেমের শকতি পূর্ণ ও-প্রাণ
ক্ষ্যাপার পরশ পাথর সম,
যা ছুয়েছে তাই সােনা হয়ে গেছে ।
করেছে উজল গভীর তম।
ভকত শ্রেষ্ঠ বিবেকানন্দ
তােমারি মুক্ত প্রেমের ধারা,
জগতের প্রাণে ঢেলে দিল এনে,
জাগিল বিশ্বে নূতন সাড়া !!
-
৮৮

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস

No text on this page.

আগুনের ফুল
প্রেমময় তব প্রাণের পরশে
চিনিল তােমারে-জগত-জন।
শ্রদ্ধার ফুলে পৃজিবে তােমারে
ভক্তি-প্রণত ভারত-মন।

আগুনের ফুল
সি, এফ,
এগুরুজ
এণ্ডরুজ নাম।
এসেছে মানুষ এক
দুখের আলয়ে তার
নাই তার বাড়ী ঘর
জগতের সকলেই
সাদা কালা ছােট বড়
ভালবেসে সবে তাই
চির সুখ-ধাম।
—আপনার জন।
প্রিয় ভাই বােন্ ।
ভেদ নাহি মানে।
পূজে মনে প্রাণে।
লালাবাবু
“ঐ বেলা চলে যায়, ছােট মেয়ে কেঁদে কয়,
শুনে তাই লালাবাবু উঠে চমকিয়া।
গামছাটি কঁাধে লয়ে,
কত আনা হয়ে,
ছুটিয়া চলিল কোথা রাজপথ দিয়া ।
কতে সবে “কোথা যাও, বারেক ফিরিয়া চাও,
সংসার পরিজন ডাকিছে তােমায়।”
লালাবাবু কেঁদে কয়, “হায় বেলা চলে যায়,
আর কি থাকিতে পারি হেথায় হােথায় ?

আগুনের চু
কেশবচন্দ্র সেন
গৌরবে তব দেব গরব করি।
পাইনি পূজিতে তােমা পরাণ, ভরি।
হে কেশব, তৰ যশ-সৌরভ রাশি।
মাতায় এ মৃত প্রাণ, পুলকে ভাসি।
সমাজের পাপ তাপ করিতে মােচন।
শুনায়েছ অগ্নি ভরা সতেজ বচন ।
পীড়িত এ দেশ আজি তােমারি মতন
সেবকের সেবা পেতে করে-আকিঞ্চ
গুরুদাস বন্দোপাধ্যায়
সংশয় নাহি হয় কোন মতে কিছু;
মন যবে গুরুদাস যায় তব পিছু ॥
সংসার করে গেছ জনকের মত।
দেখায়েছ সংযম হয়ে সংযত ।
স্মরণে তােমারি নাম নত হয় শির।
তর নামে চোখে জল ঝরে ধরণীর।

আগুনের ফুল
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
নমঃ কবি-কুল-শ্রেষ্ঠ শ্রীমধুসূদন !
বাণীর পরম প্রিয় হে বঙ্গ-ভূষণ,-
নিবীড় তামস মগ্ন—অচেতন ঘুমে-
ছিল যাবে এ ভারত, এই বঙ্গভূমে
দেখাইলা কি অপূর্ব প্রতিভার খেল।
হৃদয় উজল করা। কত রস-মেলা
মিলাইলা ভারতীর ভাবের অঙ্গনে।
সঘন জলদাবৃত গগন প্রাঙ্গনে
আজো যেন গর্জি ওঠে তব “মেঘনাদ”
সুগম্ভীর মেঘ মন্দ্রে ; সভয়ে লুকায় চঁাদ।
আরাে কত জাগে মনে, বর্ণিতে না পারি ।
ক্ষমা কর হে মনিষী—স্বপন-ভাণ্ডারি।
বঙ্গ-মনঃ-কোকনদে হে মধুর মধু,
রবে চির অফুরন্ত ;-প্রিয়তম বঁধু !!
৯৪

.
পণ্ডিত মতিলাল নেহের
চাদােনা মুখখান তব মতিলাল।
কমলার প্রিয় তুমি আদুরে দুলাল।
এ বয়সে করেছ যা এদেশের লাগি।
রহিবে উজল হয়ে সব হৃদে জাগি।

রাজা রামমােহন রায়
দেশের দুখে দহিলকার
প্রথম প্রাণ মন ?
সে আমাদের রাজীওগো--;
রাজা রামমােহন !
দেখে দেশের ধরম করম
পাপে নিমগন,-
আকুল হয়ে কেঁদেছিল—
কোন সে মহাজন ?
সে আমাদের রাজা ওগাে ;
রাজা রামমােহন !
সম্পদ সুখ মেহ প্রণয়
দিয়ে বিসর্জন
ব্যাকুল বেগে বাহির হলে
সে কোন্ মহাজন ?
সে আমাদের রাজা ওগাে-
রাজা রামমােহন।

আগুনের
স্বাধীনতার বাণী প্রথম
বল গাে কোন্ জন,
গভীর স্বরে ভারত ভরে
কৈল উচ্চারণ ?
সে আমাদের রাজা ওগােE
রাজা রামমােহন।
সেই মাণিকের পরশ লভি
ধন্য ভারতবর্ষ।
তারই তেজে উঠছে জেগে
উষার নবীন হর্ষ।
প্রণমি য় নতশিরে-
উদ্দেশে তাঁর শ্রীচরণ।
ভারত চির ঘােষিবে জয়,
ধন্য রাজা রামমােহন।

আগুনের ফুল
বিবেক শুনালে বিবেকের বাণী
সকল ভূবনময়।
বাঙ্গালীর ছেলে ধরমের বলে
করিলে জগত জয়।
যেই ভারতেরে হেলায় বিদেশী
কাছে নাহি দিত ঠাই ;
গরি তেজে তারা পরাজয় মানি
কোন্ দিল বলি ভাই।
বাঁচাল বাঙ্গালী ভারতের মান
নিখিলের দরবারে।
ভারতের প্রাণে হবে পূজা তার
চির প্রীতি-ফুল-ভারে।
১৮

স্বামী বিবেকানন্দ শ্ৰীঅরবিন্দ ঘোেষ

আগুনের ফুল
অরবিন্দ আমাদের সাধনার ধন।
ভাবিতে দশের হিত সদা নিমগন ।
যশ মান সুখ সবি ভুলিয়া বিদেশে,
নীরবে যাপিছে দিন অতি দীন বেশে।
-অধম এ অধীন দেশে লভি দৈববল,
জয়েরে আনিব জিনি” কহে সে কেবল।
হে জগৎ-পতি তার পূর্ণ কর আশা।
ঘুচায়ে সকল ব সত্য কর ভাষা।

আগুনের ফুল
অশ্বিনী কোথা তুমি বাংলার প্রাণ
স্বজন স্বদেশ ভুলি করিলে প্রয়াণ ?
বরিশাল তােমা বিনে হয়েছে আঁধার।
গেছে হাসি, নাহি তাঁর বিরাম কঁাদার ।
নিরাশায় আশা দিবে দুর্বলে বল্।
নাই কেহ, আছে সেথা কলহ কেবল ।
জানি তব নাই কায়া, মায়া তবু আছে।
আশীষ করিও দেব, দেশ যেন বাঁচে।
অম্বিকাচরণ মজুমদার
ফরিদপুরে, ফরিদ সম, অম্বিকাচরণ,
উঠলে জেগে বিপুল বেগে, সে কি শুভক্ষণ !
কণ্ঠে তােমার ঝঙ্কারিল আগুন-বীণার তার।
বলে হেঁকে, “মায়ের কাঁদন ঘুচাব এইবার।”
জেগে তুমি, জাগালে দেণ, ভয় ভাবনা নাশি।
মরেও তুমি রইলে অমর, দেখচি আজো হাসি।
১০৪

ܗܡܡܸܠܵܗܵܘ
we * *
অশ্বিনীকুমার দত্ত

No text on this page.

আগুনের ফুল
কোথা তুমি বঙ্কিম,
ভারতীর প্রিয়,
বঙ্গের যুগ দূত,
ওগাে বরণীয়।
ধেয়ানে জানিয়া মা’র
মূরতি মধুর,
ভকত, সাজালে সাজে
নবীনা বধূর !
রতনে সাজিলা কিবা
কাঙ্গালিনী !
জুড়ালে নয়ন, হেরে
রাঙ্গা দুটি পা’ ।
ঘরে ঘরে বঙ্গের
বাণী-মন্দিরে,
তুমিই জাগালে গান
প্রাণ-মঞ্জিরে !
১০৭

আগুনের ফুল কাননে কূজিল পিক, প্রাণ গেল খুলে। বাণী-বন ভরা আজি- নয়নে জ্বালিয়া দিলে বিজলীর জ্বালা, বাসনার ধূপ-ধূম কস্তুরি ঢালা। ভকতির অশ্রু সে- গঙ্গার নীর, অর্ঘ্য সে হৃদয়ের স্বপনের ফুল। মধুকর-কবিকুল- গুঞ্জে অকুল। তব ভাব-রস পিয়ে রসময় প্রাণ। জীবনের সেরা যাহা লহ সেই দান। . লাল জবাটির,- হে ভাবুক, ঢেলে দিলে মা'র পদ মূলে। ১০৮

শ
একইstn
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

No text on this page.

নিত্যানন্দ
নদীয়ায় গােরা ভাসে প্রেম-নীরে
উথলায় প্রেমবান।
ও-চাঁদ-বদনে হরি নাম শুনে
গলেরে পাষাণ প্রাণ।
গােরা কহে ভাই, আয়রে নিতাই,
শােনারে মধুর নাম।
ও-নাম শুনিলে প্রেমের সলিলে
হয় রে শীতল কাম।
প্রেমেতে বিভল চরণে চপল—
নাচিয়া নিতাই কয়,
গােরার প্রেমের পরশেতে মাের
প্রাণ হলাে মধুময় !!
নয়নের দিঠি খুলে গেছে মাের,
খুলেছে হৃদয়-দ্বার।
সঙ্কোচ যত ঘুচেছে আমার,
কেঁটেছে মনের ভার !!

আগুনের ফুল আপনার মাঝে আপনারে আমি ধরিয়া রাখিতে নারি। নিখিলেরে আজি হয় নিতে সাধ- এই বুকে আপনারি । দূরে দূরে কেন ?-আয় আয় ভাই- বুকে বুকে ছোঁয়া নে। হরিনাম নিয়ে নিখিল ভকত চরণের ধূলা দে || অন্ধ আতুর কাঙ্গাল মজুর তােরা যে আমারি ভাই। তােরা যে আমারি প্রাণের কানাই, আমি যে তােদেরি রাই !! দুটি বাহু তুলে, প্রেমে হেলে দুলে, হাসিয়া মধুর হাসি, অধরে অধরে সুমধুর স্বরে বাজারে নামের বাঁশী । ১১২

আগুনের ফুল
ও-নাম শুনিয়া পরাণের মধু
নয়নে গলিয়া যাক।
প্রেমের স্বপনে হইয়া মগন
বিশ্ব ডুবিয়া থাক্‌ ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
মানুষেরে কহে নর, সেরা ধরা মাঝে।
দেবতারা আরাে বড় স্বরগেতে রাজে।
দোষী যত দেবতারা নর হয়ে আসে।
পূণ্যের বলে নর বসে দেব পাশে ।
সেই মত ঈশ্বর দয়া-প্রেম বলে,
হইলা দেবতা হেথা এ ধরণী-তলে।
যাবৎ জগৎ মাঝে রবে এক প্রাণী,
পূজিবে গাে ঈশ্বরে দেবতা সে জানি !
নরদেহ ছাড়ি দেব, হয়েছ অমর।
থাক হয়ে অরলােকে যেন প্রভাকর ।

=
শ্ৰীযুক্তা সরােজিনী নাইডু
বাংলা মায়ের মানস কমল দূরের পরবাসে,
ফুটুল একা একটি কোণে কে জানে কোন্ আশে ?
মনের বীণে বাজছিলাে তার একটি করুণ সুর ;
সেই সুরেতেই ফুটুল মায়ের বেদন সুমধুর।
১১৪

আগুনের ফুল
শাস্তি ভরা কুলায় ছাড়ি মুক্ত আকাশ-তলে,
বাঁধল আলাের মুক্তি-নিবাস বিপদ পায়ে দলে!
ভারত-প্রিয় “বুলবুলি”-তার ছন্দে ভরা কথা;
কথার ফুলে আগুন ছরায় বহ্নি-সে-হেম-লতা।
সাগর-সীমায় রয়নি বাঁধা প্রাণের পরশ তার ;
অস্তপারের সাগর-শিশু জানায় নমস্কার ।
শ্ৰীযুক্তা সরলা দেবী
বাংলার সুকোমল শ্যামাচল কোণে,
বিধাতা দিয়েছে এক ফুল সযতনে ॥
রূপে রসে বাসে তার দেশ ভরপূর ।
ভারতের অবসাদ ঘুচালে প্রচুর।
সরলার সাদা প্রাণ-শেফালির ফুল,
মায়ের পূজার থালে শােভিছে অতুল ।
বাংলার বন ফুল, বাংলার মেয়ে,
ডাকে ঐ সকরুণ মার’ নাম গেয়ে ;-
“আর কেন ঘুমে ভাই, রাত্রি ত’ যায় !
পূজার সময় হলাে, আয় উঠে আয় !”

জয়দেব
-
কোথা তুমি দেব—ওগাে জয়দেব,
উন্মাদ প্রেম-ভিখারী ।
আজো যেন তব বিরহের গান
উঠে অন্তরে ফুকারি !
তটিনীর তটে, পল্লীর বাঁটে,
সান্ধ্যার সমীরণে,
রাগিণী তােমার কহে যেন ডাকি
আমারে সঙ্গোপনে,
দিবসের খেলা শেষ হয়ে এলাে,
নিবু নিবু হলাে আলল।
নামিছে সন্ধ্যা কালাে ছায়া মেলি,
প্রেম-দীপ, বঁধু জ্বালাে॥
করম ক্লান্ত জীবনের ধারা
থির হয়ে আসে ধীরে।
রজনীর কম নি ভরা কোল
ডাকে ওই ধরণীরে ॥

No text on this page.

No text on this page.

আগুনের ফুল
সান্ধ্য-আরতি মন্দিরে বাজে,
দিনের সাধনা শেষ।
চন্দন-ধূপ-চর্চিত ধূমে
লুটায় বাসনা-লেশ।
দূরে
নীল-পরী-বাগিচায় ফোটে
তারা ফুল থরে থরে।
শেষ খেয়া নিয়ে মাঝি বেয়ে যায়,
গাহে জল কলঘরে ॥
নাহি আর বেলা, শেষ হলাে খেলা,
রাখালের বাঁশী কাদে।
উদাস পূরবী জড়াইছে মন্
সুদূরের মায়া ফাঁদে
খেলা যদি শেষ, আর কেন তবে ?
চল বঁধু চল ফিরে।
বাসনার যত জ্বালা পড়ে থাক
প্রেম-যমুমান তীরে।

আগুনের ফুল
“জননী বঙ্গ-ভাষা।
এ জীবনে
চাহি না অর্থ চাহি না মান।
যদি তুমি দাও তােমার ও-দুটি ,
অমল কমল চরণে স্থান ॥”
(দ্বিজেন্দ্রলাল )
৭

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Aguner Phool

Author
Ray Choudhury,amulyakumar
Title
Aguner Phool
File name
Aguner Phool
Text
OCR done
Citation
1932
Published
2010/01/1
Publisher
Arya Publishing Co,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
132
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Ray Choudhury,Amulyakumar
DLI number
510834
Barcode
4990010018038.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
VkbTCWnPlQt
Download PDF

Aguner Phool