Majhu Public Library, Howrah
Sri Gouranger Upodesh
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
গৌবহবিজয়তি।
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
গৌরাঙ্গে উপদেশ।
প্রভুব উপদেশামৃত শুনে সেইজন।
অচিবাতে মিলে তাবে কৃষ্ণপ্রেমধন।”
( মতেন্যচবিতান - নীল, ২৭ পরিচ্ছেদ।
হবে জয়’ প্রভৃতি -"বে প্রতে।
শ্রীঅলৱ গোস্বামী
স্পাদিত
কলিকাতা,
•|• এ নং মহেন্দ্রনাথ গােস্বামীব লেন, সিলি,
ভক্তের জয’-কাৰ্যালয় হইতে
সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত।
খাবণ,
কাব্দ ১৩২ সাল।
কলকাতা,
৬৬, মাণিকতলা ষ্ট্রীট, বাণী প্রেসে,
শ্ৰীআশুতােষ চক্রবর্তী দ্বারা মুদ্রিত।
গৌরবিধুর্জয়তি। সম্পাদকীয় বক্তব্য। প্রায় ১০ বৎসরের কথা,-তখন “বঙ্গবাসী”র সর্বস্ব আমাদের পরম আত্মীয় যােগেন্দ্রচন্দ্র বসু মহাশয় জীবিত ; একদিন সন্ধ্যার পর তাহার কলিকাতার বাটীতে বসিয়া আছি। সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যাচাৰ্য্য শ্ৰীযুক্ত অক্ষয়- চন্দ্র সরকার মহাশয় কথায়কথায় এই ভাবে বলিলেন,- আজকাল আমাদের অনেকে তাে সাহেবদের চাল-চলন ভোজন-শয়ন—অধিক কি হাঁসীটী কাশীটীরও পৰ্যন্ত অনু- করণ করিয়া থাকেন, কিন্তুঃখের বিষয় সেই সাহেবদের একটী সদগুণেরও অনুকরণ করিবার ক্ষমতা কাহারও বড় দেখা যায় না। অত কথার দরকার কি, সাহেবেরা যে সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে তঁাহাদের ধর্মগ্রন্থের অমূল্য উপদেশ গুলি ছাপাইয়া সারা দেশ ছাইয়া ফেলিতেছেন, কই এখান- কার ধর্মের বক্তবাগীশের দল বা ধৰ্ম্মের উন্নতিকামীর দল এই সামান্য বিষয়টারও কি অনুকরণ করিতে পারিয়া- ছেন? সংস্কৃতের কথা ছাড়িয়া দিই, শ্রীচৈতন্যভাগবত, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, কৃত্তিবাসী রামায়ণ এবং কাশীরাম- সের মহাভারত প্রভৃতি প্রাচীন বাঙ্গালা সাহিত্যে-- গ্রন্থে যে সকল সুন্দর সদুপদেশ রহিয়াছে, কই কেই কি সেগুলিও একত্র সংগ্রহ করা আবশ্যক মনে করিয়া- ছেন,-না, তাহার সুলভ প্রচারে প্রয়াসপর হইয়াছেন ?
মহানুভব সরকার মহাশয়ের কথাগুলি আমার বড়ই ভাল লাগিল। বলিতে কি, সেই রাত্রিতেই আমি বাটী আসিয়া উক্ত কাৰ্য্যে প্রবৃত্ত হই। ১৩১০ সালের আশ্বিন- মাস হইতে আমি রোগাক্রান্ত হইয়া ৪৫ বৎসর শয্যায় পড়িয়া থাকি। ঐ অবকাশের মধ্যে যখনই একটু উঠিয়া বসি পারিতাম, তখনই শ্রীচৈতন্যভাগবত প্রভৃতি - গ্রন্থের সদুপদেশগুলি সংগ্রহ করিতাম। কেবল সংগ্রহ করিয়ও নিশ্চিন্ত ছিলাম না, সেগুলি প্রকাশেরও প্রয়াস পাইয়াছিলাম। ফলে—প্রসিদ্ধ “জন্মভূমি মাসিক পত্রে শ্রীচৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থে গৌরাঙ্গমহাপ্রভু এবং তঁাহার তক্ত-পার্ষদ বৃন্দের সম্পূর্ণ উপদেশগুলি, শ্রীচৈতন্যভাগবতেরও আদিখণ্ডের সম্পূর্ণ অংশের এবং মধ্যখণ্ডের কতিপয় অংশের উপদেশ গুলি, এবং শ্রীচৈতন্য- চরিতামৃতেরও অধিকাংশ উপদেশগুলি ক্রমশ প্রকাশিত হইয়াছিল। কিন্তু ঐ গুলিকে গ্রন্থাকারে পরিণত করিবার জন্য কাহারও আগ্রহ না দেখিয়া ঐরূপ সংগ্রহ- কাৰ্যে একরূপ নিরুৎসাহই ছিলাম। সংপ্রতি আমার একজন অন্তরঙ্গ বন্ধুর দুর্বুদ্ধি ঘটায়, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত- পােক্ত গৌরাঙ্গের উপদেশগুলি গ্রন্থাকারে প্রা”। করিতে সমর্থ হইলাম। বন্ধুবরের দুর্ব জি নয় তো কি ? তিনি একজন চারি- পাচটা পাশকরা পসারওলা উকিল। ঘর করিতে গেলে মানুষের যেমন পাঁচরকমের পাঁচটা বিপদ ঘটে, তেমনই তাঁহারও একটা ঘটিয়া গিয়াছে। তা বলিয়া তাহার মত উচ্চ- শিক্ষিত লােকের কু-সংস্কারপন্ন সেকেলে লােকের মত কাহারও উদ্দেশে কিছু মানসিক করা কি উচিত? তা-ও আবার যে-সকল মানসিকে নগদা বিদায় আছে, সেরূপ মানসিকও নয়। কথাটা খুলিয়াই বলি,-হরিলুট মানসিকই বল, আর সত্যনারায়ণের সিৰ্ণি মানসিকই বল, এই শ্রেণীর মানসিকে নগদাবিদায়—অর্থাৎ কিনা কিছু-না-কিছু প্রসাদ তো মিলে ; কিন্তু আমার নির্বদ্ধি বন্ধুটি এসব মানসিকের ধার দিয়াও না যাইয়া এক নুতন ধরণের মানসিক করিয়া বসিলেন, সদ্গ্রন্থ বিতরণ! তা-ও আবার হাতে তাহার নামগন্ধ কিছুই থাকিবে না। এখন আপনারাই বলুন দেখি, আজিকালিকার হিসাবে ইহাকে আপনারা বুদ্ধিমান বলিতে রাজি হইবেন কি । সে যাহা হউক, এই বুদ্ধিহীন বন্ধুর পাল্লায় পড়িয়া আমিও কম নিৰ্বদ্ধিতার পরিচয় দিই নাই। নােগশয্যায় পড়িয়া-পড়িয়াও এই গ্রন্থের সম্পাদন-শ্রমই তাহার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এখন আপনারা এই দুইজন বুদ্ধিহীনের উপযুক্ত দণ্ডের ব্যবস্থা করুন,—এই দুইজনকেই যেখানে যাইলে আর ফিরিয়া আসিবার সম্ভাবনা থাকেনা, এমন যায়গায় তাড়াইয়া দিবার বন্দোবস্ত করুন। শ্রীমহাপ্রভুর উপদেশগুলি দুই ভাগে বিভক্ত—প্রথম আচারগত, দ্বিতীয় প্রচারগত বা মুখােক্তি দ্বারা অভিব্যক্ত। ঘৰ্তমান সংগ্রহে প্রধানত দ্বিতীয় শ্রেণীর উপদেশগুলিই মাছে। স্থানপ্রাপ্ত হইয়াছে। আর দেখিবার সুবিধা হইবে বলিয়া আমরা প্রতি-উপদেশের পাশেপাশে পরিচ্ছেদের পরিচয় দিয়াছি এবং বঙ্গবাসী-কাৰ্যালয় হইতে প্রকাশিত সংস্করণের পৃষ্ঠাঙ্কও প্রদান করিয়াছি। প্রতি পৃষ্ঠার শীর্ষ-ভাগে— কোন্ লীলার উপদেশ,—তাহারও পরিচয় প্রদত্ত হই- দেওয়া হয় নাই কেবল—উপদেশগুলির টীকা- ব্যাখ্যা। কেন ? তাহার উত্তর অতি সহজ,টাকায় কুলায় নাই। শ্রীমহাপ্রভুর ইচ্ছা হইলে কখনও-না-কখনও তাহ কেহ-না-কেহ করিবেই করিবেন। শেষ কথা, এই মানসিকের প্রসাদে অপ্রতিবিধেয় বিপদ হইতেও বন্ধুবর মুক্ত হইয়াছেন এবং তাহার মানসিকরূপে এই গ্রন্থ প্রকাশিত বলিয়া ইহার নামও “মানসিক” রাখা হইল। এখন যদি এইরূপ দুর্বদ্ধি আরও দুই-চারি জনের ঘটে, তবে অন্যান্য উপদেশগুলিও ক্রমশ প্রকাশিত হইতে পারে। আমরা শ্রীমহাপ্রভুর শ্রীপাদপদ্মে প্রার্থনা করি—“গােত্রং নন বর্ধতা,—আমাদের মত নির্বদ্ধির দলবৃদ্ধি হউক-দলবৃদ্ধি হউক। ইতি- শ্রাবণ, শ্রীচৈতন্যাব্দ ৪২৮ বৈষ্ণবচরণানুগত ৪১এ মহেন্দ্রনাথ গোস্বামীর লেন, }অতুলকৃষ্ণ গােস্বামী শিমুলিয়া, কলিকাতা। সম্পাদক।
এগৌরহরিয়তি।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রােক্ত
শ্রীগৌরাঙ্গে উপদেশ।
আদি-লীলা।
১। চিরকাল নাহি করি প্রেমভক্তিদান।
ভক্তি বিনা জগতের নাহি অবস্থান।
সকল জগতে মােরে করে বিধি-ভক্তি।
বিধিভক্তে ব্ৰজভাব পাইতে নাহি শক্তি।
ঐশ্বৰ্য্য-জ্ঞানেতে সব জগত মিশ্রিত।
ঐশ্বৰ্য্যশিথিল-প্রেমে নাহি মাের প্রত।
ঐশ্বৰ্যজ্ঞানে বিধি-ভজন করিয়া ।
বৈকুণ্ঠকে যায় চতুর্বিধ মুক্তি পায়।
সাষ্টি', সারূপ্য, আর সামীপ্য, সালােক।
সাযুজ্য না লয় ভক্ত—যাতে ব্ৰহ্ম-ঐক্য
যুগধৰ্ম প্ৰবৰ্তাইমু নামসঙ্কীর্তন।
চারিভাব-ভক্তি দিয়া নাচাইমু ভুবন।
আপনি করিব ভক্তভাব অঙ্গীকারে।
আপনি আচরি ভক্তি শিখাইনু সভারে ॥
( আদি
চৈতচরিতামৃগ্রো
আপনি না কৈলে ধৰ্ম্ম শিখন না যায়।
এই ত সিদ্ধান্ত গীতা-ভাগবতে গায়।
২। যুগধর্মপ্রবর্তন হয় অংশ হৈতে।
আমা বিনা অন্তে নারে জপ্রেম দিতে ৩পং। ৯ পৃষ্ঠা
৩। ঐশ্বৰ্যজ্ঞানেতে সব জগত মিশ্রিত।
ঐশ্বৰ্য্যশিথিল-প্রেমে নাহি মাের প্রীত।
আমারে ঈশ্বর মানে,—আপনাকে হীন।
তার প্রেমে বশ আমি না হই অধীন। ৪পং। ১২ পৃঃ
আমাকে ত ফেযে ভক্ত ভজে যেই ভাবে।
তারে সে-যে-ভাবে ভজি-এ মাের স্বভাবে।
মাের পুত্র মাের সখা মাের প্রাণপতি।
এই ভাবে করে যেই মােরে শুভক্তি ।
আপনাকে বড় মানে,আমারে সম হীন।
সেইভাবে আমি হই তাহার অধীন। ৪পং। ১৩ পৃঃ
৪। এই তার (গুরুর) বাক্যে আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি।
নিরন্তর কৃষ্ণনাম-সঙ্কীৰ্ত্তন করি।
সেই কৃষ্ণনাম কভু গাওয়ায় নাচায়।
গাই নাচি নাহি আমি আপন ইচ্ছায়
কৃষ্ণনামে যে আনন্দ-সিন্ধুস্বাদন।
অনল তার আগে খাতােসম। পং। ৩৪
। ভম এমাদ বিলি করণাপাটৰ।
ঈশ্বরের বাক্যে নাহি দোষ এইসব। ঐ। পৃ
না।
গৌয়ালের উপণে।
৬। উপনিষৎ-সহিত সূত্র কবে যেই।
মুখ্যবৃত্তি সেই অর্থ—পর মহত্ব
গৌণবৃত্যে যে ভাষ্য করিল আচার্য।
তাহার এবনে নাশ হয় সর্বকাৰ্য্য । ঐ
৭। ব্ৰহ্ম’-শব্দে মুখ্য-অর্থে কহে-ভগবান।
চিদৈৰ্য-পরিপূর্ণ-অর্থ-সমান ।
তাহার বিভূতি-দেই-সব চিদাকার।
চিদানন্দ তেঁহােতর স্থান পরিবার । ঐ
৮। বিষ্ণুনিন্দা আর নাহি ইহার উপর।
প্রাকৃত করিয়া মানে বিষ্ণকলেবর। ঐ
৯। ঈশ্বরের তত্ত্ব—যেন জ্বলিত জলন।
জীবের স্বরূপ-যৈছে ফুলিঙ্গের কণা
জীবতত্ত্ব শক্তি, কৃষ্ণতত্ব শক্তিমান্ ।
গীতা-বিষ্ণুপুরাণাদি ইথে পরমাণ। ঐ
১০। অবিচিন্ত্যশক্তিযুক্ত শ্রীভগবান।
ইচ্ছায় জগতরূপে পায় পরিণাম ॥
তথাপি অচিন্ত্যশজ্যে হয় অধিকারী ।
প্রাকৃত চিন্তামণি তাহে দৃষ্টান্ত যে ধরি।
নানা রত্নরাশি হয় চিন্তামণি হৈতে।
তথাপিই মণি নহে স্বরূপ অষিতে।
প্রকৃত বস্তুতে যদি চিন্তাশক্তি হয়।
ঈশ্বরের অচিন্ত্যশক্তি ইথে কি বির? ঐ
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
( আদি
১১। প্রণব সে মহাবাক্য-বেদের নিদান।
ঈশ্বরস্বরূপ প্রণব সৰ্ববিশধাম ॥
সাশ্রয়-ঈশ্বরের প্রণব উদ্দেশ।
‘তত্ত্বমসি’-বাক্য হয় বেদের একদেশ। ঐ
১২। স্বতঃপ্রমাণ বেদ—প্রমাণশিরােমণি।
লক্ষণা করিলে স্বতঃপ্রমাণহানি ॥ ঐ
১৩। বৃহদ্বস্তু ব্ৰহ্ম কহি শ্ৰভগবান।
ষড়ৰিধ-ঐশ্বৰ্যপূর্ণ পরতত্ত্বধাম।
স্বরূপ ঐশ্বৰ্য্য তাঁর, নাহি মায়াগন্ধ।
সকল বেদের হয় ভগবান্ সে সম্বন্ধ ।
তারে নির্বিশেষ কহি চিচ্ছক্তি না মানি।
অর্ধ স্বরূপ না মানিলে পূর্ণ হয় হানি ঐ ৩৫, ৩৬পৃঃ
১৪। ভগবান-প্রাপ্তিহেতু যে করি উপায়।
শ্রবণাদি ভক্তি-কৃষ্ণপ্রাপ্তির সহায়।।
সেই সর্ববেদের ‘অভিধেয়’ -নাম।
সাধনভক্তি হৈতে হয় প্রেমের উদগম। ঐ। পৃ:
১৫। কৃষ্ণের চরণে যদি হয় অনুরাগ।
কৃষ্ণ বিনু অত্র 'র নাহি রহে রাগ ॥ ঐ
১৬। পঞ্চমপুরুষাৰ্থ সেই প্রেম মহাধন।
কৃষ্ণের মাধুৰ্য্যরস করায় আস্বাদন।
প্রেমা হৈতে কৃষ্ণ হয় নিজভক্তবশ।
প্রেমা হৈতে পাই কৃষ্ণসেৰাসুখস। ঐ
নীলা)
গৌরাজের উপণে।
{
১৭। ভারতভূমিতে হৈল মনুষ্যজন্ম যায়।
জন্ম সার্থক করি কর পর-উপকার। ৯পং। ৪০ পৃঃ
৮। প্রতিগ্ৰহ না করিয়ে কতু রাজধন।
বিষয়ীর অল্প খাইলে দুষ্ট হয় মন।
মন দুষ্ট হৈলে নহে কৃষ্ণের স্মরণ।
কৃষ্ণস্মৃতি বিনু হয় নিস্ফল জীবন। ১২পং। পৃঃ
১৯। লােকলজ্জা হয়, ধৰ্ম্ম-কীর্তি হয় নি।
ঐছে কৰ্ম্ম না করিহ হু ইহ জানি। ঐ
২। খৈ সন্দেশ অন্ন যত-মাটীর বিকার ।
এহে মাটী সেহে মাটা-কি ভেদ বিচার ?
মাটী দেহ মাটী ভক্ষ্য—দেখই বিচারি।১৪পং ৫৪পৃঃ
২১। প্রভু কহে—একাদশীতে অন্ন না খাইবা।১৫৫৬পৃঃ
২২। ভাল হৈল বিশ্বরূপ সন্ন্যাস করিল।
পিতৃকুল মাতৃকুল দুই উদ্ধারিল । ঐ
২৩। গৃহস্থ হইয়া করিব পিতামাতার সেবন ।
ইহাতেই তুষ্ট হবেন লক্ষীনারায়ণ ১৫ পং। ৫৭ পৃঃ
২৪। কথােদিনে প্রভু চিত্তে করিলা চিন্তন
গৃহস্থ হইলাম, এবে চাহি গৃহধর্ম।
গৃহিণী বিনা গৃহৰৰ্ম্ম না হয় শােতন।
এত চিন্তি বিবাহ করিতে হৈল মন । ঐ
২৫। প্রভু তুষ্ট হ সাধ্য সাধন কহিল।
নামসংকীৰ্তন কৰ উৰুকৈল। ১৬পং। ৫৮
চৈতন্যচরিতামৃত
২৬। ভবভূতি জয়দেব আর কালিদাস।
তা-সভার কবিত্বে আছে দোষের প্রকাশ ।
দোষ-গুণ-বিচার এই অল্প করি মানি।
কবিত্বকরণে শক্তি—তাহা সে বাখানি। ঐ। ৬০ পৃঃ
২৭। (হরেনাম’-শ্লোকের কৈল অর্থ-বিবরণ -)
কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ-অবতার।
নাম হৈতে হয় সর্বজগত-নিস্তার ।
দাঢ় লাগি হরেনাম' উক্তি তিনবার।
জড় লােক বুঝাইতে পুনরেকার।
কেবল’-শব্দ পুনরপি নিশ্চয়-কারণ।
জ্ঞানযােগ-তপ-কৰ্ম্ম-আদি নিবারণ ।
অন্যথা যে মানে, তার নাহিক নিস্তার ।
‘নাহি নাহি নাহি' এই তিন এবকার ॥১৭পং। ৬১পৃষ্ঠা
২৮। তৃণ হৈতে নীচ হৈয়া সদা সবে নাম ।
আপনি নিরভিমানী, অন্তে দিবে মান।
তরু-সম সহিষ্ণুতা বৈষ্ণব করিবে।
ভৎসন-তাড়নে কারে কিছু না বলিবে।
কাটিলেহ তরু যেন কিছু না বােলয়।
শুকাইয়া মৈলে তবু জল না মাগয়৷
এইমত বৈষ্ণব কারে কিছু না মাগিব।
অযাচিত বৃত্তি কি ফল খাইব।
শীলা )
এগোয়ে পাশ।
সদা নাম লইব—মথলীতেতে সন্তোষ।
এই ত আচার করে ভক্তিধৰ্ম্ম-পপাষ ।। ঐ
২৯। জ্ঞান-কৰ্ম্ম যােগ-ধৰ্ম্মে নহে কৃষ্ণ বশ।
কৃষ্ণবশ-হেতু এক প্রেম-ভক্তিরস । ঐ। ৬২পৃষ্ঠা
৩০। “হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।
গােপাল গােবিন্দ রাম মধুসূদন।” ঐ। ৬৪পৃষ্ঠা
৩১। প্রভু কহে—গোদুগ্ধ খাও, গাভী তােমার মাতা।
বৃষ অন্ন উপজায়, তাতে হেঁহে পিতা।
পিতা-মাতা মারি খাও—এ কোন্ ধৰ্ম্ম ?
কোন্ বলে কর তুমি এমত বিকৰ্ম্ম ?
কাজী কহে—তােমার যৈছে বেদ-পুরাণ।
তৈছে আমার শাস্ত্র-কেতাব-কোরাণ ।
সেই শাস্ত্রে কহে -প্রবৃত্তি-নিবৃত্তি মার্গভেদ।
নিবৃত্তিমার্গে জীবমাত্র বধের নিষেধ । ঐ। ৬৪পৃষ্ঠা
প্রবৃত্তিমার্গে গাে-বধ করিতে বিধি হয়।
শাস্ত্র আজ্ঞায় বধ কৈলে নাহি পাপ-ভয় ।
তােমার বেদেতে আছে গােবাধের বাণী।
অতএব গো-বধ করে বড় বড় মুনি।।
প্রভু কহে-বেদে কহে পােবধ-নিষেধে।
অতএব হিন্দুমাত্র না করে গাে-বধে।
জীয়াইতে পারে যদি, তবে মারে প্রাণী।
বেদ-পুরাণে ঐছে আ’
বাণী ।
চৈতচরিতাক্ত (মধ্য
অতএব জগৰ মাৰে মুনিগণ।
বেদমন্ত্রে শত্র করে তাহার জীবন।
দিগব হ যুবা হয় পিরবার।
তে তার বধ নহে, হয় উপকার।
কলিকালে তৈছে শক্তি নাহিক ব্রাহ্মণে।
অতএব গাে-বৃষ কেহ নাকরে এখনো
তোমরা জীয়াইতে নার, বধ মাত্র সার।
নরক হইতে তােমার নাহিক নিস্তার।
গােরুর যতেক নােম, তত সহস্র বৎসর।
গাে-বধী রৌৱৰ মধ্যে পচে নিরন্তর। ঐ ৬৫পৃষ্ঠা
৩২। তােমার মুখে কৃষ্ণনাম—এ বড় বিচিত্র।
পাপক্ষয় গেল, হৈল পরম পবিত্র ।
হরি কৃষ্ণ নারায়ণ’ লৈলে তিন নাম।
বড় ভাগ্যবান তুমি বড় পুণ্যবান। ঐ। ৬৬পৃষ্ঠা
মধ্যলীলা।
১। মধু যাইব আমি এত লােক সঙ্গে।
কিছু সুখ না পাইব, হবে রসঙ্গে।
একাকী যাই—ক সঙ্গে একজন।
তবে সে শােভলেনের গমন। ১পং। ৭৬পৃষ্ঠা
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
.
২। বংগানামধাম, লাবণ্যামৃত-জন্মস্থান,
যে না দেখে সে চাদবদন।
সে নয়নে কিবা কাজ, পড়, তার মাথে বাজ,
সে নয়ন রহে কি-কারণ ।
সখি হে। শুন মাের হতবিধি-বল।
মাের বপু চিত্ত মন, সকল ইন্দ্রিয়গণ,
কৃষ্ণ বিনু সকল বিফল ।
কৃষ্ণের মধুরবাণী অমৃতের তরঙ্গিণী,
তার প্রবেশ নাহি যে শ্রবণে।
কাণাকড়ি-ছিদ্রসম, জানহ সেই শ্রবণ,
তার জন্ম হৈল অকারণে।
মৃগমদ নীলোৎপল, মিলনে যে পরিমল,
যেই হরে তার গর্ব মান।
হেন কৃষ্ণ-অজগন্ধ,
যার নাহি সে-সম্বন্ধ,
সেই নাসা ভার সমান ।
কৃষ্ণের অধরা,
কৃষ্ণ-গুণ-চরিত,
সুধাসার বিনিন।
তার স্বাদু যে না জানে,
জন্মিয়া না লৈ কেনে,
সে রসনা ছেকজিহ্বা সম ।
কৃষ্ণ-কা-পদত, কোটি-মুশত,
তার স্পর্শ কেন মিণি।
০
চৈরিতামৃতপ্রাক্ত
[
তার স্পর্শ নাহি যার, সে যাউক ছারখার,
সেই বপু লৌহসম জানি। ২পং। ৭৯পৃষ্ঠা
৩। অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম, যেন জান্ধুনদ হে,
সেই প্রেমা নৃলােকে না হয়।
বদি হয় তার যোগ, হয় তার বিয়োগ,
বিয়ােগ হৈলে কেহ না জীয়য়। ঐ। ৮০ পৃষ্ঠা
৪। কৃষ্ণপ্রেম সুনির্মল, যেন শুদ্ধ গঙ্গাজল,
সেই প্রেমা অমৃতের সিন্ধু।
নিৰ্ম্মল সে অনুরাগে,
না লুকায় অন্য দাগে,
শুক্লবস্ত্রে যৈছে মসীবিন্দু । ঐ
৫। বাহ্যে বিষজ্বালা হয়,
ভিতরে আনন্দময়,
কৃষ্ণপ্রেমার অদ্ভুত
চরিত
এই প্রেমার আস্বাদন, তপ্তইকু-চর্বণ,
মুখ জ্বলে, না যায় ত্যজন।
সেই প্রেমা যার মনে,
তার বিক্রম সে-ই জানে,
বিষামৃতে একত্র মিলন । ঐ
৬। মুকুন্দসেবায় হয় সংসারতারণ। ৩প।৮৩পৃঃ
৭। প্রভু কহে-সন্ন্যাসীর ভক্ষ্য নহে উপকরণ।
ইহা খাইলে কৈছে হয় ইন্দ্রিয়বারণ? ঐ।পূঃ
৮। সমাসীর ধর্ম নহে উচ্ছিষ্ট মাখিতে । ঐ
৯। সন্ন্যাসীর ধর্ম নহে--সন্ন্যাস করিয়া।
নিজন্মস্থানে রহে কুট লইয়া । ঐ।৮পৃঃ
লীলা
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
১০। তুমি-সব লােক মাের পরম বান্ধব।
এই ভিক্ষা মাগোঁ-মেরে দেহ তুমি-সব।
ঘর যা কর সদা কৃষ্ণসংকীৰ্ত্তন।
কৃষ্ণনাম কৃষ্ণকথা কৃষ্ণ-আরাধন। ঐ।
১১। আরদিন প্রভু কহে সবভক্তগণে-
নিজনিজ গৃহে সভে করহ গমনে।
ঘরে গিয়া কর সভে কৃষ্ণসংকীৰ্ত্তন। ঐ। ৮৯পৃঃ
১২। প্রগাঢ় প্রেমের এই স্বভাব আচার।
নিজদুঃখ-বিস্নাদিক না করে বিচার। ৪পং। ৯৪পৃঃ
১৩। উপনিষদ-শব্দের যেই মুখ্য অর্থ হয়।
সেই মুখ্য অর্থ ব্যাস সূত্রে সব কয়।
মুখ্যার্থ ছাড়িয়া কর গৌণর্থ কল্পনা।
অভিধাবৃত্তি ছাড়ি শব্দের করহ লক্ষণ।
প্রমাণের মধ্যে তিপ্ৰমাণ প্রধান।
শ্রুতি যে মুখ্যার্থ কহে—সে ই সে প্রমাণ ।
জীবের অস্থি বিষ্ঠা দুইশ গােময়।
শ্রুতিবাক্যে সেই দুই মহা পবিত্র হয়।
স্বতঃপ্রমাণ বেদ-সত্য যেই কহে।
লক্ষণা করিলে স্বতঃপ্রামাণ্যহানি হয়ে।
ব্যাসের সূত্রের অর্থ সূর্যের কিরণ।
সকল্পিত ভাষ্যমঘে করে খান।
( মধ্য
চৈতন্যচরিতামৃতলাক্ত
বেদপুরাণে কহে নিরূপণ।
সেই ব্ৰহ্ম বৃহদ্বাস্তু ঈশ্বর-লক্ষণ।
সর্বৈশ্বৰ্যপরিপূর্ণ স্বয়ং ভগবান।
তারে ‘নিরাকার’ করি করহ ব্যাখ্যান।
‘নিৰ্বিশেষ তারে কহে যেই শ্রুতিগণ।
‘প্রাকৃত’ নিষেধি অপ্রাকৃত’ করয়ে স্থাপন।
ব্ৰহ্ম হৈতে জন্মে বিশ্ব ব্রহ্মেতে জীবয় ।
সেই ব্রহ্মে পুনরপি হয়ে যায় লয় ।
অপাদান করণাধিকরণ-কারক তিন।
ভগবানের ‘সবিশেষ এই তিন চিহ্ন ।
ভগবান্ বহু হৈতে যবে কৈল মন।
প্রাকৃতশক্তিতে তবে কৈল বিলােকন ।
সেকালে নাহিক জন্মে প্রাকৃত মন-নয়ন।
অতএব ‘অপ্রাকৃত ব্রহ্মের নেত্ৰ-মন।
ব্রহ্মশব্দে কহে-পূর্ণ স্বয়ং ভগবান।
স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণশাস্ত্রের প্রমাণ।
বেদের নিগূঢ় অর্থ বুঝন না যায়।
পুরাণবাক্যে সেই অর্থ করয়ে নিশ্চয়।।
‘অপাণি’ শ্রুতি বর্জে-প্রাকৃত পাণি চরণ।
পুন কহে-শীঘ্র চলে, করে সর্বগ্রহণ।
অতএব শ্রুতি কহে—এ সবিশেষ।
মুখ্য ছাড়ি লক্ষণী নির্বিশেষ।
ল। গৌরাঙ্গের উপদেশ। ষড়ৈশ্বৰ্য্য-পূৰ্ণানন্দ বিগ্রহ যাহার। হেন ভগবানে তুমি কহ নিরাকার? স্বাভাবিক তিন শক্তি যেই ব্রহ্মে হয়। ‘নি শক্তি করিয়া তারে করহ নিশ্চয়? ৬পং১০০ ১৪। সৎ-চিৎ-আনন্দময় ঈশ্বরস্বরূপ। তিন অংশে চিচ্ছক্তি হয় তিন-রূপ- আনন্দাংশে হলাদিনী, সংশে সন্ধিনী। চিদংশে সংবিৎ--যারে ‘জ্ঞান’ করি মানি। অন্তরঙ্গ চিচ্ছক্তি, তটস্থ জীবশক্তি। বহিঙ্গা মায়াতিনে করে প্রেমভক্তি। ষড়বিধ ঐশ্বৰ্য্য প্রভুর চিচ্ছক্তিবিলাস । হেন শক্তি নাহি মান–পরম সাহস ॥ ঐ।১০৪ পৃ ১৫। মায়াধীশ মায়াবশ—ঈশ্বরে জীবে ভেদ। হেন জীব ঈশ্বর-সনে করহ অভেদ ? ॥ গীতাশাস্ত্রে জীবরূপ শক্তি করি মানে। হেন জীবে অভেদ কর ঈশ্বরের সনে? ঐ। ১৬। ঈশ্বরের শ্রীবিগ্রহ সচ্চিদানন্দাকার। বিগ্রহে কহ-সত্ত্বগুণের বিকার ? ঐবিগ্রহ যে না মানে-সে-ই ত পাষণ্ডী। অদৃশ্য অস্পৃশ্য সেই যমদণ্ডী । ঐ। ১৭। বেদ নামানিয়া বৌদ্ধ হয়ত নাস্তিক। বেদায়-নাস্তিবাজ বৌ অধিক।
চৈতন্যচরিতা
জীবের নিস্তার লাগি সূত্র কৈল ব্যাস।
মায়াবাজি-ভাব্য নিলে হয় সর্বনাশ।
১৮। পরিণামবাদ ব্যাসসূত্রের সম্মত।
অচিন্ত্যশস্ত্যে ঈশ্বর জগজ্জপে পরিণত
মণি যৈছে অবিকৃত প্রসৰে হেমভার।
জগজ্রপ হয় ঈশ্বর-তবু অবিকার।
‘ব্যাস ভ্রান্ত' বলি সেই সূত্রে দোষ দিয়া।
‘বিবােদ স্থাপিয়াছে কল্পনা করিয়া ।
জীবের দেহে জাত্মবুদ্ধি-সেই মিথ্যা হয়।
জগৎ মিথ্যা নহে—নশ্বর মাত্র ছয় ৷৷ ঐ।
১৯। প্রণব যে ‘মহাৰাক'-ঈশ্বরের মূর্তি।
প্রণব হৈতে সৰৰে-জগত-উৎপত্তি ।
‘তত্বমসি’ জীবহেতু প্রাদেশিক বাক্য।
প্রণব না মানি তারে কহে ‘অবাক। ঐ।
•। ভগবান, ‘সম্বন্ধ, ভক্তি ‘অভিধেয় হয়।
প্রেমা ‘প্রয়ােজন',-ফেদে তিন বস্তু কয় ।
আর যে-যে কহে কিছু-সকলি কল্পনা।
স্বতঃপ্রমাণ বেদবাকে কনে লক্ষণা ৷৷
আচার্য্যের দোষ নাহি, ঈশ্বর-আজ হৈল।
তএব কল্পনা করি নাতিশাস্ত্র কৈল। ঐ।
। এভু কহে—ভট্টাচাৰ্যনা ক বিস্ময়।
মানে কি
মা হয়।
গল।
গৌর উপণে।
আত্মারামপৰ্য্যন্ত করে ঈশর ভজন।
ঐছে অচিন্ত্য ভগবানের গুণগণ। ঐ।
২২। ভগবান, তার শক্তি, তাঁর গুণগণ।
অচিন্ত প্রভাব তিনে না হয় কম।
অন্ত যত সাধ্যসাধন করি আচ্ছাদন।
এই তিনে হরে সিদ্ধসাধকের মন ।
সনকাদি শুকদেব তাহাতে প্রমাণ। ঐ।১৫পৃ
৩। ভক্তিসাধন শ্রেষ্ঠ শুনিতে হৈল মুন।
প্রভু উপদেশ কৈল-নাম-সঙ্কীৰ্ত্তন। ঐ।১০৬পৃঃ
২৪। গৃহেহি কৃষ্ণনাম নিরন্তর লৈ ।
যারে দেখতরৈ কর কৃষ্ণ-উপদেশ।
আমার আজ্ঞায় গুরু হৈয়া তার এই দেশ ।
কভু না বাধিবে তোমায় বিষয়-তর।পং।১১১পৃঃ
২৫। প্রভু কহেঁ—কভু তোমার না হবে অভিমান।
নিরন্তর কহ তুমি কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম।।
কৃষ্ণ উপদেশি কর জীবের নিস্তার ।
অচিরাতে কৃষ্ণ তােমা করিবেন অঙ্গীকার । ঐ
২৬। কিবা বিপ্র কিবা স্টাসী শূদ্ৰ কেনে নয়।
যেই কৃষ্ণতত্ত্ববো—সে-ই শুরু হয়।পং।১১৬
২৭। সাধ্যবস্তু সাধন-বি কেহে নাহি পায়।১১৮
২৮। (প্রভু কহে—কৃষ্ণে তােমার গাঢ় প্রেম হয়।
প্রেমার স্বভাব এই শাস্মিথ।।)
১
এইতচরিতামৃতােক
মহাভাগবত দেখে রুম।
তাহ-তাহ হয় তার প্রকৃষ্ণ ফুণ।
স্থাবর-জঙ্গম দেখে, না দেখে তার মুক্তি।
সর্বত্র হয় নিজ-ইষ্টদেব-স্কৃত্তি। ঐ।১২১পৃঃ
২৯। প্রভু কহে-কৃষ্ণের এক স্বভাব বিলক্ষণ।
স্ব-মাধুর্যে করে সদা সর্বব-আকর্ষণ।
ব্ৰজলােকের ভাবে পাই তাহার চরণ।
তারে ‘ঈশ্বর করি নাহি জানে ব্রজজন।
কেহহ তারে পুত্রজ্ঞানে উদূখলে বান্ধে।
কেহহ তারে সখাজ্ঞানে জিনি চঢ়ে কান্ধে।
‘ব্রজেন্দ্রনন্দন’ তারে জানে ব্রজজন।
ঐশ্বৰ্যজ্ঞান নাহি,—নিজ সম্বন্ধ-মনন ৷
এজলােকের ভাবে যেই করয়ে ভজন।
সেই জম পায় ব্ৰজে ব্রজেন্দ্রনন্দন। ৯পং। ১২৬পৃঃ
৩০। ঈশ্বরহে ভেদ মানিলে হয় অপরাধ।
একই ঈশর ভক্তের ধ্যান-অনুরূপ।
একই বিগ্রহে করে নানাকার-রূপ । ঐ
৩১। অপ্রাকৃত বস্তু নহে প্রাকৃ-গােচর।'
বেদ-পুরাণেতে এই কহে নিরহর | ঐ।১২৭ পৃঃ
২। প্রভু কহে-শামে কহে শ্ৰণ-কীর্তন।
কৃষ্ণপ্রেম-সেবাকক্ষে সাধন।
এগৌগের উপদেশ।
এবণ-কীৰ্ত্তন-হৈতে কৃষ্ণে হয় প্রেমা।
সেই পরম পুরুষার্থ-পুরুষার্থসীমা।
কৰ্ম্মত্যাগ কৰ্ম্মনিন্দা—সবশাস্ত্রে কহে।
কৰ্ম্ম হৈতে কৃষ্ণপ্রেম ভক্তি কভু নহে। ঐ। ১২৯পৃঃ
পঞ্চবিধ মুক্তি ত্যাগ করে ভক্তগণ।
কন্তু করি মুক্তি দেখে নরকের সম ।
কৰ্ম্ম-মুক্তি দুই বস্তু ত্যজে ভক্তগণ। ঐ।১৩০পৃঃ
৩৩। প্রভু কহে—ঈশ্বর হয় পর স্বতন্ত্র ।
ঈশ্বরের কৃপা নহে বেদপর।
ঈশ্বরের কৃপা জাতি-কুলাদি • মানে।
বিদুরের ঘরে কৃষ্ণ করিলা ভােজনে।।
মেহলেশাপেক্ষা মাত্র ঈশ্বরকৃপার
মেহবশ হঞ করে স্বতন্ত্র প্রচার ।
মৰ্য্যাদা হৈতে কোটি সথ স্নেহ-আচরণে
পরম আনন্দ হয় যাহার শ্রবণে। ১০ পং। ১৩৬
৪। প্রভু কহে-কৃষ্ণে তােমার গাঢ় প্রেমা হয়।
যাহা নেত্র পড়ে, তাহা শ্রীকৃষ্ণ ক্ষুরয় ॥ ১৩৭পৃঃ
৩৫। সন্ন্যাসী বিরক্ত আমার রাজদরশন--
স্ত্রীদরশন—সম বিষে ভক্ষণ। ১১ পং। ১৮ পৃঃ
৬। প্রভু কহে-তথাপি রাজা কালসর্পাকার।
কাষ্ঠনারী স্পর্শে যৈছে ৯
চৈতুচরিতামৃত
ঐ
৩৭। প্রভু কহেন—তুমি কৃষ্ণ-ভকত-প্রধান।
তােমারে যে প্রতি করে, সেই গ্যবান।
৩৮। (হরিদাস করে প্রেমে নামসঙ্কীৰ্ত্তনে)
প্রভু কহে—তােমা স্পর্শি পবিত্র হইতে।
তােমার পবিত্র ধৰ্ম্ম নাহিক আমাতে।
ক্ষণে ক্ষণে কর তুমি সতীর্থে স্নান।
ক্ষণে ক্ষণে কর তুমি যজ্ঞ-তপ-দান।
নিরন্তর কর চারি-বেদ-অধ্যয়ন।
দ্বিজ ন্যাসী হৈতে তুমি পরম পান ॥ ১১পং।১৪৩পৃঃ
৩৯। রাজার মিলনে ভিক্ষুর দুই লােকনাশ।
পরলােক রহু, লােকে করে উপহাস। ১২পং। ১৪৬পৃঃ
৪০। সন্ন্যাসীর অল্প ছিদ্র সব লােকে গায়।
শুক্ল বস্ত্রে মসীবিন্দু যৈছে না লুকায় । ঐ
৪১। প্রভু কহে—পূর্ণ যৈছে দুগ্ধের কলস।
সুরাবিন্দুপাতে কেহহা না করে পরশ।
যদ্যপি প্রতাপরুদ্ৰ সৰ্বগুণবান্।
তাহারে মলিন কৈল এক ‘রাজ’ নাম । ঐ
৪২। এই মহাভাগবত-যাহার দর্শনে।
ব্রজেন্দ্রনন্দন-স্মৃতি হয় সর্বজনে। ঐ
৪৩। সে-ই সতী প্রেমবতী, প্রেমবান সে-ই পতি,
বিয়ােগে যে-পয়-হিতে।
গোরাসের উপরে।
গণে আপন দুখ, বহে প্রিয়জন,
সেই দুই মিলে অচিতে ॥১৩পং।১৫৫পৃঃ
৪৪। আচার্য্যেরে আজ্ঞা দিল করিয়া সম্মান।
আচণ্ডালাদি করিই কৃষ্ণভক্তি পান।
নিত্যানন্দে আজ্ঞা দিল-যাহ গৌড়দেশে।
অনর্গল প্রেমভক্তি করিহ প্রকাশে । ১৫পং। ১৬৬পৃঃ
৪৫। কি কাৰ্য্য সন্ন্যাসে মাের, প্রেম নিজ ধন।
যে কালে সন্ন্যাস কৈল, ছন্ন হৈল মন। ঐ
৪৬। গৃহস্থ হয়েন ইহো, চাহিয়ে সঞ্চয়।
সঞ্চয় না কৈলে কুটুম্বভরণ না হয় । ঐ। ১৬৭পৃঃ •
৪৭। (গৃহস্থ বিষয়ী আমি, কি মাের সাধনে?।
শ্রীমুখে আজ্ঞা কর প্রভু! নিবেদি চরণে।।)
প্রভু কহে-কৃষ্ণসেবা বৈষ্ণবসেবন।
নিরন্তর কর কৃষ্ণনাম-সঙ্কীৰ্ত্তন। ঐ
৪৮। (সত্যরাজ কহে—বৈষ্ণব চিনিব কেমনে?
কে ‘বৈষ্ণব’ কহ তার সামান্য লক্ষণে )
প্রভু কহে—যার মুখে শুনি একবার।
কৃষ্ণনাম, পূজ্য সেই শ্রেষ্ঠ সভাকার।
এক কৃষ্ণনামে করে সর্বােপক্ষয়।
নববিধ ভক্তি পূর্ণ নাম হৈতে হয়।
দীক্ষা-পুরশ্চা-বিধি-অপেক্ষা না করে।
জিহ্বাস্পর্শে আচল
নে।
অচৈতচারতলাক্ত
আনুষলে করে সংসারে নয়।
চিত্ত আকর্ষিরা করে কৃষ্ণপ্রেমােণর। ঐ
অতএব যার মুখে এক কৃষ্ণনাম।
সে-ই বৈষ্ণব, করি তার পরম সমান । ঐ। ১৬৮
৯। যাহা হৈতে কৃষ্ণভক্তি, সে-ই শুরু হয় । ঐ
৫। দারু-জল-রূপে কৃষ্ণ প্রকট সম্প্রতি।
দরশনে স্নানে করে জীবের মুকতি।
দারুব্রহ্মরূপে সাক্ষাৎ পুরুষােত্তম।
ভাগীরথী সাক্ষাৎ হয় জলহ্ম সম ॥ ঐ
৫১। পরম মধুর গুপ্ত ! ব্রজেন্দ্রকুমার ।
স্বয়ং ভগবান্ সৰ্ব্ব-অংশী সৰ্বাশয়।
বিশুদ্ধ নিৰ্ম্মল প্রেম সবসময় ।
বিদগ্ধ-চতুর-ধীর-রসিকশেখর ।
সকল-সদগুণবৃন্দরত্ন-রত্নাকর।
মধুর চরিত্র কৃষ্ণের মধুর বিলাস।
চাতুর্য্য-বৈদগ্ধ্যে করে বেঁহো লীলা রাস।
সেই কৃষ্ণ ভজ তুমি হও কৃষ্ণাশ্রয়।
কৃষ্ণ বিনা উপাসনা মনে নাহি লয় ।। ঐ
৫২। এইমত সেবকের প্রীতি চাহি প্রভুপায়।
প্রভু ছাড়াইলে পদ ছাড় না যায়। ঐ। ১৬৯পৃঃ
৩। কৃষ্ণ সেই সত্য করে, যেই মাগে ভৃত্য।
ভৃত্যবাঞ্ছাপূর্তিটি ন্য কৃত্য । ঐ
।
সময়ে উপদেশ।
৫৪। বৈষ্ণবের পাপ কৃষ্ণ দূর করে সব। ঐ
৫৫। এবে মাের ঘরে ভিক্ষা কর মাস ভরি।
প্রভু কহে-ধৰ্ম্ম নহে, করিতে না পারি ।
সার্বভৌম কহেভিক্ষা কর বিশদিন।
প্রভু কহে-এহহা নহে যতিধৰ্ম্মচিহ্ন।
সার্বভৌম কহে
কর দিন পঞ্চদশ।
প্রভু কহেতােমার ভিক্ষা এক দিবস ॥১৫পং।১৭০পৃঃ
৫৬। কৃষ্ণে ভােগ লাগাইয়াছ,অনুমান করি।
উপরে দেখিয়ে যাতে তুলসীমঞ্জরী।
ভাগ্যবান্ তুমি, সফল তােমার উদযোগ।
রাধাকৃষ্ণে লাগাইয়াছ এতাদৃশ ভােগ ॥ ঐ। ১৭১পৃঃ
৫৭। এই ত আসনে বসি করহ ভােজন।
প্রভু কহে-পূজ্য এই কৃষ্ণের আসন।
ভট্ট কহে-অন্ন পণ্ঠ সমান প্রসাদ।
অন্ন খাইবে, পীঠে বসিতে কাহা অপরাধ?
প্রভু কহে—ভাল বলিলে, শাস্ত্ৰ-আজ্ঞা হয়।
কৃষ্ণের সকল শেষ ভক্ত আস্বাদয় ৷
৮। সহজে নিৰ্ম্মল এই ব্রাহ্মণহৃদয়।
কৃষ্ণের বসিতে এই যােগ্য ল য় ।
মাৎসৰ্য-চণ্ডাল কেনে ইহা বসাইলে।
পরম পবিত্র স্থান অপবিনে?
তৈরি
বি
সার্বভৌমতে তােমার ক লৈ এর ।
কল্মষ ঘুচিলে জীৰ কৃষ্ণনাম লয়।
উঠই অমােঘ ! তুমি কই কৃষ্ণনাম।
অচিরে তােমারে কৃপা করিবে ভগবান । ঐ।১৭২পৃ
৫৯। কুলীনগ্রামী পূৰ্বৰ কৈল নিবেদন
এভু আজ্ঞা কর আমার কর্তব্য সাধন ॥
প্রভু কহে-বৈষ্ণবসে নাম-সঙ্কীর্তন।
দুই কর, শীঘ্র পাবে শ্রীকৃষ্ণচরণ। ১৬পং। ১৭৫পৃঃ
৬০। তেঁহাে কহে-কে বৈষ্ণব, কি তার লক্ষণ।
তবে হাসি কহে প্রভু জানি তার মন
কৃষ্ণনাম নিরন্তর যাহার বদনে।
সে-ই বৈষ্ণবশ্রেষ্ঠ, ভজ তাহার চরণে। ঐ
৬১। বর্ষান্তরে পুন তারা ঐছে প্রশ্ন কৈল।
বৈষ্ণবের তারতম্য প্রভু
খাঁহার দর্শনে মুখে আইসে কৃষ্ণনাম।
তাহারে জানিহ তুমি বৈষ্ণবপ্রধান।
ক্ৰম করি কহে প্রভু বৈষ্ণব-লক্ষণ।
বৈষ্ণব, বৈষ্ণবত, আর বৈষ্ণবতম ।ঐ
৬২। স্থির হঞা ঘরে যাই, না হও বাহুল।
কমেমে পায় লােক ভবসিন্ধুকূল।
মর্কটবৈরাগ্য না কর লােক দেখাইয়া।
খাযােগ্য বিষয় তুলে হৈয়।
শিখাইল।
গৌরাঙ্গের উপণে। অন্তর্নিষ্ঠা কর, বাহে লােকব্যবহার। অচিরাতে কৃষ্ণ তােমায় করিবে উদ্ধার। ১৬১৭৯পৃঃ ৬৩। কৃষ্ণকৃপা যারে, তারে কে রাখিতে পারে? ৬৪। উম হা হীন করি মান আপনারে। অচিরে করিবে কৃষ্ণ তােমার উদ্ধারে। ১৬ পং।১৮পৃঃ ১৫। দুল্লভ দুর্গম সেই নির্জন বৃন্দাবন। একাকী যাইব, কিবা সঙ্গে একজন। মাধবেন্দ্রপুরী তথা গেলা একেশ্বরে। দুগ্ধদানছুলে কৃষ্ণ সাক্ষাৎ দিল তারে ।ঐ বহু সঙ্গে বৃন্দাবন গমন না করে। এ ৬৭। বন দেখি হয় ভ্রম+এই বৃন্দাবন। শৈল দেখি মনে হয়—এই গােবর্ধন । যাহা নদী দেখে, তাহা মানয়ে—কালিন্দী। তাহ প্রেমাবেশে নাচে, প্রভু পড়ে কান্দি। ঐ ১৮২ ৮। পরম সন্তোষ প্রভুর বন্য-ভােজনে। মহা সুখ পান যেদিন বহেন নির্জনে। ঐ। ১৮৩ পৃঃ ৯। নিরন্তর প্রেমাবেশে নিনে গমন। সুখ অনুভরি প্রভু কহেন বচন- শুন ভট্টাচাৰ্য । আমি গেলাম বহুদেশ। বনপথের মুখের কাহ নাহি পাই লেশ। ঐ ৭। কৃপার সমুদ্র-দীনহীন দয়াময় । কৃষ্ণকৃপা-বিনা কোন স্বপ্ন ।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রােত
[
৭১। প্রভু কহে-মায়াবাদী কৃষ্ণ-অপরাধী।
‘অন্ধ আত্মা চৈতন্য কহে নিরবধি ॥
অতএব তার মুখে না আইসে কৃষ্ণনাম।
কৃষ্ণনাম, কৃষ্ণস্বরূপ—দুই ত সমান ।
নাম, বিগ্রহ, স্বরূপ—তিন একরূপ।
তিনে ভেদ নাহি, তিন চিদানন্দরূপ ।
দেহ-দেহীর নাম-নামীর কৃষ্ণে নাহি ভেদ।
জীবের ধৰ্ম্ম-নাম-দেহ-স্বরূপবিভেদ ৷
অতএব কৃষ্ণের নাম দেহ বিলাস।
প্রাকৃতেন্দ্রিয়গ্রাহ্য নহে, হয় স্বপ্রকাশ।
কৃষ্ণনাম কৃষ্ণগুণ কৃষ্ণলীলাবৃন্দ।
কৃষ্ণের স্বরূপ-সম সব চিদানন্দ ৷৷ ১৭পং।১৮৪পৃঃ
ব্ৰহ্মানন্দ হৈতে পূৰ্ণানন্দ লীলাস।
এজনী আকর্ষিয়া করে আত্মবশ ।
ব্ৰহ্মানন্দ হৈতে পূৰ্ণানন্দ কৃষ্ণগুণ।
অতএব আকয়ে আত্মারামের মন।
ইহাে-সব রহু কৃষ্ণচরণ সম্বন্ধে।
আত্মারামের মন হরে তুলশীর পকে।
অতএব কৃষ্ণনাম না আইসে জর মুখে।
মায়াবাদিগণ যাতে মহা বহির্মুখে। ঐ। ১৮ পৃঃ
৭২। প্রভু কহেশ্রুতি স্মৃতি নষ্ট ঋষিগণ।
সব একমত নহে ম স ধ ॥
শীলা ]
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
ধৰ্ম্মস্থাপন-হেতু সাধু-ব্যবহার।
পুরীগােসাঞির আচরণ—সেই ধৰ্ম্ম সার ॥ঐ। ১৮৬পৃঃ
৭৩। কৃষ্ণ কেনে দরশন দিবে কলিকালে ?।
নিজমে মূলোক করে কোলাহলে ॥ :৮ পং।১৯১ পৃঃ
৭৪। প্রভু কহে--‘বিষ্ণুবিষ্ণু' ইহা না কহিয়।
জীবাধমে কৃষ্ণজ্ঞান কভু না করিয়।
সন্ন্যাসী চিৎকণ জীব কিরণকণ-সম।
ষড়ৈশ্বৰ্যপূৰ্ণ কৃষ্ণ হয় সূৰ্যোপম।
জীব অার ঈশ্বরতত্ব কভু নহে সম।
জলদগ্নিরাশি যৈছে ফুলিঙ্গের কণ৷
যেই মূঢ় কহে জীব ঈশ্বর হয় সম ।
সেই ত পাষণ্ডী হয়, দণ্ডে তারে যম। ঐ
(স্নেচ্ছের প্রতি)
৭৫। প্রভু কহে—তােমার শাস্ত্রে স্থাপি ‘নিৰিবশেষ'।
তাহ খণ্ডি সবিশেষ স্থাপিয়াছে শেষ ।
তােমার শাস্ত্রে কহে শেষে-একই ঈশ্বর ।
সর্বৈশ্বৰ্য্যপূর্ণ তেঁহাে শ্যাম কলেবর ।
সচ্চিদানন্দদেই—পূর্ণব্রহ্মরূপ।
সর্বাত্মা সর্বজ্ঞ নিত্য সর্বাদিস্বরূপ
দৃষ্টি স্থিতি প্রলয় তাহা হৈতে হয়।
স্কুল-সূক্ষম-জগতের তেহে ধৰ্ম্ম শয়।
এচৈতচরিতামৃতপ্রাক্ত
[ মধ্য
সর্বশ্রেষ্ঠ সৰ্বারাধ্য কারণের কারণ।
তার ভক্ত্যে হয় জীবের সংসারতারণ।
তার সেবা বিনা জীবের না যায় সংসার।
তাহার চরণে প্রীতি—পুরুষার্থসার
মােক্ষাদি অনন্দ যার নহে এক কণ।
পূৰ্ণানন্দপ্রাপ্তি—তার চরণসেবন ।
কৰ্ম্ম জ্ঞান যোগ আগে করিয়া স্থাপন।
কব খাও স্থাপে শেষে ঈশ্বরসেবন ।
তোমার পতিসভের নাহি শাস্ত্রজ্ঞান।
পূর্ব-পর-বিধিমধ্যে পব বলবান্ ৷৷
নিজশাস্ত্রে দেখ তুমি বিচার করিয়া।
কিব। লিখিয়াছে শেষে নির্ণয় করিয়া । ঐ।১৯৩
১৯৩ পৃঃ
৭৬। প্রভু কহে-৬, কৃষ্ণনাম তুমি লৈলে ।
কোটিজন্মের পাপ গেল,-পবিত্র হইলে । ঐ
৭৭। কৃষ্ণ কহ কৃষ্ণ কহ’ কৈল উপদেশ।
সভে ‘কৃষ্ণ’ কহে, সভৱ হৈল প্রেমাবেশ |
৭৮। কৃষ্ণের করুণা কিছু না যায় বর্ণন।
বিষয়কূপ হৈতে কাঢ়িল তােমাদুইজন। ১৯পং। ১৯৬পৃঃ
৭৯। দোঁহার মুখে কৃষ্ণনাম করিছে না।
এই অধম নহে,-হয়ে সর্বোত্তম। ঐ
৮। প্রভু কহে–উপাধ্যায় । শ্রেষ্ঠ মান কায়?'।
শ্যামমেব পর হ উপাধ্যায় ।
শীলা
গৌরাগে উপদেশ।
শ্যামরূপের বাসস্থান শ্রেষ্ঠ মান কা’য় ।।
পুরী মধুপুরী বরা’ কহে উপাধ্যায় ।
বাল্য পৌও কৈশাের শ্রেষ্ঠ মান কায় ।।
‘বয় কৈশোরকং ধ্যেয়ং’ কহে উপাধ্যায়।
রসগণমধ্যে তুমি
শ্রেষ্ঠ মান কায় ।।
‘আদ্য এব পৰােস কহে উপাধ্যায় ॥
প্রভু কহে-ভাল তত্ত্ব শিখাইলা মাের।
এত বলি শ্লোক পঢ়ে গদগদরে ৷ ১৯পং১৯৭পৃঃ
৮১। প্রভু কহে শুন রূপ। ভক্তিরসের লক্ষণ।
সূত্ররূপে কহি, বিস্তার না যায় বর্ণন॥ ঐ৷১৯৮
পারাবারশূন্য গম্ভীর ভক্তিরসসিন্ধু।
তােম চাখাইতে তার কহি একবিন্দু।
এই ত ব্রহ্মাণ্ড ভরি অনন্ত জীবগণ।
চৌরাশলযােনিতে করয়ে ভ্রমণ।
কেশাগ্র শতেকভাগ পুন শতাংশ করি।
তার সম সূক্ষ্ম জীবের স্বরূপ বিচারি।
তার মধ্যে স্থাবর জঙ্গম দুই ভেদ।
জঙ্গমে তির্যক জল-স্থল-চর-বিভেদ ৷৷
তার মধ্যে মনুষ্যজাতি অতি তাল্পতর।
তার মধ্যে মেচ্ছ পুলিন্দ বৌদ্ধ শবর।
বেদনিষ্ঠমধ্যে অর্ধেক বেদ মুখে মানে।
বেদনিষিদ্ধ পাপ করে, ধৰ্ম্ম নাহি গণে।
[
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
ধর্মাচারিমধ্যে বহুত কৰ্ম্মনিষ্ঠ ।
কোটি-কৰ্ম্মনিষ্ঠমধ্যে এক জ্ঞানী শ্রেষ্ঠ ।।
কোটি-জ্ঞানিমধ্যে হয় একজন মুক্ত।
কোটি-মুক্তমধ্যে দুর্লভ এক কৃষ্ণভক্ত ।
কৃষ্ণভক্ত নিষ্কাম,—অতএব শান্ত।
ভুক্তি-মুক্তি-সিদ্ধি-কামী সকলি ‘অশান্ত ।
ব্ৰহ্মাণ্ড ভ্রমিতে কোন ভাগ্যবান্ জীব।
গুরু-কৃষ্ণ-প্রসাদে পায় ভক্তিলতাবীজ ।
মালী হা করে সেই বীজ অরােপণ।
শ্রবণ-কীৰ্ত্তন-জলে করয়ে সেচন ॥
উপজিয়া বাঢ়ে লতা-ব্ৰহ্মাণ্ড ভেদি যায়।
বিরজা ফলােক ভেদি পরব্যোম পায় ।
তবে যায় তদুপরি গােলােক বৃন্দাবন।
কৃষ্ণচরণকল্পবৃক্ষে করে আরােহণ ॥
তাহ বিস্তারিত হঞ ফলে প্রেমফল।
ইহ মালী সেচে নিত্য শ্রবণাদিজল ।
যদি বৈষ্ণব-অপরাধ উঠে হাথী মাতা।
উপাড়ে বা ছিণ্ডে, তার শুকি যায় পাতা।
তাতে মালী যত্ন করি করে আবরণ।
অপরাধ হস্তী যৈছে না হয় উদগম ti
কিন্তু যদি লতার অতে উঠে উপশাখা ।
ভুক্তিমুক্তিবাঞ্ছা যত-অসখ্য তার লেখা।
শীল।
গৌরাঙ্গের উপদেশ
নিষিদ্ধাচার কুটিনটী জীবহিংসন ।
লাভ প্রতিষ্ঠাদি যত উপশাখাগণ।
সেকজল পাঞা উপশাখা বাঢ়ি যায় ।
স্তব্ধ হঞা মুলশাখা বাড়িতে না পায়।
প্রথমেই উপশাখার করিয়ে ছেদন।
তবে মূলশাখা বাঢ়ি যায় বৃন্দাবন।
প্ৰেমফল পাকি পড়ে, মালী আস্বাদয় ।
লতা অবলম্বি মালী কল্পবৃক্ষ পায় ।
তাহ সেই কল্পবৃক্ষের করয়ে সেন ।
সুখে প্রেমফলরস করে আস্বাদন।
এইত পরমফল-পরমপুরুষার্থ।
যার আগে তৃণতুল্য চারি পুরুষার্থ ॥ ঐ।১৯৯৭
৮২। শুদ্ধভক্তি হৈতে হয় প্রেমের উপন্ন।
অতএব শুদ্ধভক্তির কহিয়ে লক্ষণ।
অন্যবাঞ্ছা অপূজা ছাড়ি জ্ঞান কৰ্ম্ম।
আনুকূল্যে সৰ্বেন্দ্ৰিয়ে কুফানুশীলন। ঐ
এই শুদ্ধভক্তি, ইহা হৈতে প্রেম হয় ।
পঞ্চরাত্রে ভাগবতে এই লক্ষণ কয়। ঐ। ২৫
৮। ভুক্তি মুক্তিআদি বাঞ্ছা যদি মনে হয় ।
সাধন করিলেও প্রেম উৎপন্ন না হয়। ঐ ' ২০ পৃ
৮৪। সাধনভক্তি হৈতে হয় রতির উদয়।
রতি গাঢ় হৈলে তার প্রেম' নাম কয়।
।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত ( মধ্য প্রেম বৃদ্ধিক্রমে নাম—স্নেহ, মান, প্রণয়। রাগ, অনুরাগ, ভাব, মহাভাব হয়। যৈছে বীজ, ইক্ষু, রস, গুড়, খণ্ড সার। শর্করা, সি, মিশ্রি, উত্তমমিশ্রি আর । এইসব কৃষ্ণভক্তিরসের স্থায়িভাব। স্থায়িভাবে মিলে যদি কিভাব অনুভাব । সাত্বিক-ব্যভিচারি-ভাবের মিলনে। কৃষ্ণভক্তিরস হয় অমৃত আস্বাদনে । যৈছে দধি সিতা ঘৃত মরীচ কপূর। মিলনে ‘রসালা’ হয় অমৃতমধুর। ঐ ভক্তভেদে রতিভেদ পঞ্চ পরকার— শান্তরতি, দাস্যরতি, সখ্যরতি আর । বাৎসল্যরতি, মধুররতি,-এ পঞ্চ বিভেদ। বতিভেদে কৃষ্ণভক্তিরস পঞ্চভেদ। শান্ত- দাসখ্যবাৎসল্য-মধুররস নাম। কৃষ্ণভক্তিরসমধ্যে এ পঞ্চ প্রধান। হাস্যাস্তুত বীর করুণ রৌদ্র বীভৎস ভয়। পঞ্চবিধ-ভক্তে গৌণসপ্ত হয়। পঞ্চরস স্থায়ী ব্যাপি রহে ভক্তমনে। সপ্ত গৌণ আগন্তুক পাইরে কারণে। শান্তভক্ত—নবযোগে, সনকাদি আর। দাস্যভাব-ভক্ত—সর্বত্র সেবক অপার ।
শীলা) আগোরাসের উপদেশ। ৩১ সখ্যভক্ত-দামাদি, পুরে ভীমার্জুন। বাৎসল্য-ভক্ত—মাতা, পিতা, যত গুরুজন। মধুররসভক্ত মুখ্য-ব্ৰজে গােপীগণ,। মহিষীগণ, লক্ষীগণ,-অসঙ্খ্য গণন ॥ঐ। ২০০ পৃঃ ৮৫। পুন কৃষ্ণরতি হয় দুই ত প্রকার- ঐশ্বৰ্যজ্ঞানমিশ্র, কেবল ভেদ আর । গোকুলে কেবলাতি ঐশ্বজ্ঞানহীন। পুরীদ্বয়ে বৈকুণ্ঠাদ্যে ঐশ্বৰ্য্য প্রবীণ ঐশ্বৰ্যজ্ঞানপ্রাধান্যে সঙ্কোচিত প্রতি। দেখিলে না মানে ঐশ্বৰ্য্য—কেবলার রীতি । শান্তদাস্যরসে ঐশ্বৰ্য কাহও উদ্দীপন। বাৎসল্য-সখ্য-মধুরে ত করে সঙ্কোচন। বসুদেব-দেবকীর কৃষ্ণ চরণ বন্দিল। ঐশ্বৰ্যজ্ঞানে সেঁাহার মনে ভয় হৈল । কৃষ্ণের বিশ্বরূপ দেখি অঞ্জনের হৈল ভয়। সখ্যভাবে ধাষ্ট্য ক্ষার করিয়া বিনয় । কৃষ্ণ যদি রুক্মিণীকে কৈল পরিহাস। ‘কৃষ্ণ ছাড়িবেন জানি রুক্মিণীর হৈল ত্রাস।। কেবলার শুন্ধ-প্রেম-ঐশ্বৰ্য্য না জানে। ঐশ্বৰ্য দেখিলে নিজসম্বন্ধ সে মানে। শান্তরসে রূপবুদ্ধ্যে কৃষ্ণেকনিষ্ঠতা। শমে মন্নিষ্ঠতা বুদ্ধের ইতি মুখগাথা।
(4
ভতগণে।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
কৃষ্ণ-বিনা-তৃষ্ণাত্যাগ—তার কাৰ্য মানি।
অতএব শান্ত ‘কৃষ্ণভক্ত এক জানি।
স্বর্গ-মােক্ষ কৃষ্ণভক্ত নরক’ করি মানে।
কৃষ্ণনিষ্ঠা, তৃষ্ণাত্যাগ,-শান্তের দুই গুণে।
এই দুই গুণ ব্যাপে সব ভক্তজনে।
অাকাশের শব্দগুণ যেন ভ
শান্তের স্বভাব-কৃষ্ণে মমতাগন্ধহীন।
পরংব্ৰহ্ম-পরমাত্মা-জ্ঞান প্রবীণ ॥
কেবল স্বরূপজ্ঞান হয় শান্তরসে।
পূর্ণশ্বৰ্য্য-প্ৰভুজ্ঞান অধিক হয় দায্যে।
ঈশ্বরজ্ঞান সম্রম গৌরব প্রচুর।
সেবা করি কৃষ্ণে সুখ দেন নিরন্তর।
শান্তের গুণ দাস্যে আছে, অধিক ‘সেবন।
অতএব দাস্যরসের হয় দুইগুণ।
শান্তের গুণ, দস্যের সেবন,-সখ্যে দুই হয় ।
দাস্যে সম্রম গৌরব সেবা, সখ্যে বিশ্বাসময় ।
কান্ধে চড়ে কান্ধে চঢ়ায়, করে ক্রীড়া-রণ।
কৃষ্ণ সেবে, কৃষ্ণে কমায় আপন সেবন ।
বিশ্রপ্রধান সখ্য—গৌরব-সন্ত্রম-হীন।
অতএব স্যরসের তিন গুণ চিন।
মমতা অধিক কৃষ্ণে-আত্মসম জ্ঞান।
অতএব সখ্যরসে বশ ভগবান।
শীলা
গৗরাঙ্গের উপদেশ।
বাৎসল্যেশান্তের গুণ, দাস্যের সেন।
সেই-সেই সেবনের ই নাম ‘পালন’ ।
সখ্যের গুণ-অসঙ্কোচ অগৌরব সার।
মমতা-আধিক্যে তাড়ন-ভৎসন-ব্যবহার।
আপনাকে ‘পালক’ জ্ঞান, কৃষ্ণে পাল্য’ জ্ঞান।
চারি-রসের গুণে বাৎসল্য অমূহ:সমান ।
সে অমৃ হানন্দে ভক্তসহ ডুবেন আপনে।
‘কৃষ্ণ ভক্তবশ' গুণ কহে ঐশ্বৰ্যজ্ঞানিগণে॥১৯পং২০১পৃঃ
মধুর রসে—কৃষ্ণনিষ্ঠা, সেবা অতিশয়।
সখ্যের অসঙ্কোচ, লালন মমতাধিক হয়।
কান্তভাবে নিজা দিয়া করেন সেবন।
অতএব মধুররসে হয় পঞ্চগুণ ॥
আকাশাদির গুণ যেন পর পর-ভূতে।
এক দুই তিন ক্রমে পঞ্চ পৃথিবীতে।
এইমত মধুরে সব-ভাব-সমাহার।
অতএব স্বাদাধিক্যে করে চমৎকার।
এই ভক্তিরসের কৈল দিগদরশন।
ইহার বিস্তার মনে করি ভান ।
তাবিতেভাবিতে কৃষ্ণ রয়ে অন্তরে।
কৃষ্ণকৃপায় অজ্ঞ পায় রসসিন্ধুপারে। ঐ। ২০২ পৃঃ
৬। প্রভু কহে—তােমা স্পর্শি পবিত্র হইতে।
ভক্তিবলে পার তুমি ব্রহ্মাণ্ড শশাধিতে ।
চৈতন্থ চরিতামৃতপ্রাক্ত
(
তোম। দেখি, তােম। স্পর্শি, গাই তোমার ।
সর্বেদ্রিয়-ফল এই শাস্ত্রনিরূপণ ।।
এই কহি কহে প্রভু-শুন সনাতন ।।
কৃষ্ণ বড় দয়াময় পতিতপাবন।
মহারৌরব হৈতে তােমা করিল উদ্ধার ।
কৃপার সমুদ্র কৃষ্ণ গম্ভীর অপার ।
২০পং। ২০৪পৃঃ
৮৭। প্রভু কহেই-ইহা আমি করিয়াছি বিচার।
বিষয়ভােগ খাইল কৃষ্ণ যে তােমার ।
সে কেনে রাখিবে তােমার শেষ বিষয়ভোগ।
রােগ খণ্ডি সদ্বৈদ্য না রাখে শেষরােগ ॥
তিনমুদ্রার ভোট গায়, মাধুকরী গ্রাস।
ধৰ্ম্মহানি হয়, লােক করে উপহাস । ঐ। ২০৫পৃঃ
৮৮। (তবে সনাতন প্রভুর চরণে ধরিয়া।
দৈন্য বিনতি করে দন্তে তৃণ লঞ ।
কৃপা করি যদি মােরে করিয়াছ উদ্ধার।
আপন কৃপাতে কহ কর্তব্য আমার ।
কে আমি, কেনে আমায় জারে তাপত্রয়ী।
ইহা নাহি জানি আমি-কেমনে হিত হয় ?
সাধ্য সাধন-তত্ব পুছিতে না জানি।
কৃপা করি সব ত কই ত আপনি )
প্রভু কহে-কৃষ্ণকৃপা তােমাতে পূর্ণ হয়।
সব ত জান, তােমার নাহি তাপত্রয় ।
শীলা]
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
কৃষ্ণশক্তি ধর তুমি—জান তত্ত্বভাব।
জানি দাঢ় লাগি পুছে—সাধুর স্বভাব।
যােগ্য পাত্র হও তুমি ভক্তি প্ৰবৰ্তাইতে।
ক্রমে সব তত্ত্ব শুন, কহিয়ে তােমাতে।।
জীবের স্বরূপ হয়-কৃষ্ণের নিত্যদাস।
কৃষ্ণের তটস্থাশক্তি—ভেদাভেদপ্রকাশ। ঐ।২০৫ পৃঃ
সূৰ্যাংশকিরণ যৈছে অগ্নিজ্বালায়
স্বাভাবিক কৃষ্ণের তিন শক্তি হয় ।
কৃষ্ণের স্বাভাবিক তিন-শক্তি-পরিণতি
চিচ্ছক্তি, জীবশক্তি, আর মায়াশক্তি।
‘কৃষ্ণ ভুলি সেই জীব অনাদিবহির্মুখ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসারদুঃখ ॥
কভু স্বর্গে উঠায়, কভু নরকে ডুবায়।
দণ্ড্যজনে রাজা যেন নদীতে চুলায় ।
সাধু-শাস্ত্ৰকৃপায় যদি কৃষ্ণোন্মুখ হয়।
সেই জীব নিস্তরে, মায়া তাহারে ছাড়িয়।
মায়ামুগ্ধ জীবের নাহি কৃষ্ণস্মৃতিজ্ঞান।
জীবেরে কৃপায় কৈল কৃষ্ণ বেদ-পুরাণ।
শাস্ত্র গুরু-আত্মা-রূপে আপনা জানান।
‘কৃষ্ণ মাের প্রভু ত্রাতা' জীবের হয় জ্ঞান।
৯। বেদশাস্ত্রে কহে-সম্বন্ধ, অভিধেয়, প্রয়ােজন।
কৃষ্ণ-প্রাপ্য-স, ভক্তি-প্রাপ্ত্যের সাধন।
[ {ধ্য ।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রোক্ত
অভিধেয়-নাম-ভক্তি, প্রেম—প্রয়ােজন।
পুরুষার্থশিয়ােমণি প্রেম মহাধন।
কৃষ্ণমাধুৰ্য্যসেবানন্দপ্রাপ্তির কারণ।
কৃষ্ণসেবা করে কৃরস আস্বাদন।
ইহাতে দৃষ্টান্ত—যৈছে দরিদ্রের ঘরে।
সর্বজ্ঞ আসি দুঃখী দেখি পুছয়ে তাহারে।
তুমি কেনে দুঃখী, তোমার আছে পিতৃধন।
তােরে না কহিল, অন্যত্র ছাড়িল জীবন ।
সর্বজ্ঞের বাক্যে করে ধনের উদ্দেশে।
ঐছে বেদ-পুরাণ জীবে কৃষ্ণ উপদেশে’
সর্বজ্ঞের বাক্যে-মূলধন অনুবন্ধ।
সর্বশাস্ত্রে উপদেশে-শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধ ।।
‘বাপের ধন আছে’-জ্ঞানে ধন নাহি পায়।
তবে সর্বজ্ঞ কহে তারে প্রাপ্ত্যর উপায়।
এইস্থানে আছে ধন, যদি দক্ষিণে খুদিবে।
ভীমরুল বরুলী উঠিবে, ধন না পাইবে।
পশ্চিমে খুদিবে, তাহা যক্ষ এক হয়।
সে বিপ্ন করিবে, ধন হাথে না পড়ায় ।
উত্তরে খুদিলে আছে কৃষ্ণ অজাগরে।
ধন নাহি পাবে, খুদিতে গিলিবে সভারে ?
পূর্বদিগে তাতে মাটী অল্প খুদিতে।
নের জাড়ি পড়িবে তােমার খেতে।
শীলা।
শ্রীগৌরাঙ্গের উপদেশ।
ঐছে শাস্ত্র কহে-কৰ্ম্ম জ্ঞান যােগ ত্যজি।
ভক্ত্যে কৃষ্ণ বশ হয়, ভক্ত্যে তারে ভজি । ঐ। ২৬পৃ:
অতএব ভক্তি কৃষ্ণপ্রাপ্তির উপায় ।
অভিধেয় বলি তরে সর্বশাস্ত্রে গায়।
ধন পাইলে যৈছে সুখভােগ-ফল পায়।
সুখভােগ হৈতে দুঃখ আপনি পলায়।
তৈছে ভক্তিফল কৃষ্ণে প্রেম উপজায়।
প্রেমে কৃষ্ণাস্বাদ হৈলে ভব নাশ পায়।
দারিদ্রনাশ অবক্ষয় প্রেমের ফল নয়।
‘ভােগ প্রেমসুখ’ মুখ্য প্রয়ােজন হয়। ঐ।২০৭পৃঃ
৯। বেদশাস্ত্রে কহে-সম্বন্ধ, অভিধেয়, প্রয়ােজন।
কৃষ্ণ, কৃষ্ণভক্তি, প্রেম—তিন মহাধন।
বেদাদি সকল শাস্ত্রে কৃষ্ণ মুখ্য সম্বন্ধ।
তার জ্ঞানে আনুষঙ্গে যায় মায়াবন্ধ।
গৌণ-মুখ্য-বৃত্তি কি অন্বয়-ব্যতিরেকে।
বেদের প্রতিজ্ঞা কেবল—কহয়ে কৃষ্ণকে ঐ
৯১। কৃষ্ণের স্বরূপ অনন্ত, বৈভব অপার
চিচ্ছক্তি, মায়াশক্তি, জীবশক্তি আর ।
বৈকুণ্ঠ, ব্রহ্মাণ্ডগণশক্তিকাৰ্য হয়।
রূপশক্তি শক্তিকাৰ্য্যে-কৃষ্ণ সময়।
কৃষ্ণের স্বরূপ-বিচার শুন সনাতন ।।
বয় জ্ঞানতৃত্ব এজে নেন।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত ta বরূপলক্ষণ আর অটলক্ষণ। এই দুই লক্ষণে বস্ত্র জানে মুনিগণ । ঐ।২১৩। আকৃতি প্রকৃতি এইরূপ-লক্ষণ। কাৰ্য্যদ্বারায় জ্ঞান এইট- ভাগবতারম্ভে ব্যাস মঙ্গলাচরণে। পরমেশ্বর নিরূপিল এই লক্ষণে (জন্মদ্যস্যাদি শ্লোক) এই শ্লোকে ‘পয়’শষে কৃষ্ণনিরূপণ। ‘সত্য-শব্দে কহে তার স্বরূপলক্ষণ। বিশ্বসৃষ্ট্যাদিক কৈল, বেদ ব্রহ্মাকে পঢ়াইল। অর্থাভিজ্ঞতা স্বরূপশক্ত্যে মায়া দূর কৈল। এইসব কাৰ্য্য তার তটস্থলক্ষণ। অন্য অবতার ঐছে জানে মুনিগণ। অবতার কালে হয় জগতে গােচর। এই দুই লক্ষণে কেহে জানয়ে ঈশ্বর। সনাতন ক—যাতে ঈশ্বরলক্ষণ। পীতবর্ণ, কাৰ্য-প্রমান সঙ্কীর্তন। কলিকালে সেই কৃষ্ণাৰতা নিশ্চয়। সুদৃঢ় করিয়া কহ, বাউক সংশয়। প্রভু কহে-চাতুয়ালী ছড়ি সাল।। ঐ।২১৪পৃঃ ১৮। নিত্য লীলা কৃষ্ণের সশাস্ত্রে কয়। বুঝিতে না পারি, লীলা কোতে নিজ জয়।।
না]
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
দৃষ্টান্ত দিয়া কহি বদি, তবে লােক জানে।
কৃষ্ণলীলা নিত্য-জ্যোতিপ্রমাণে।
জ্যোতিশ্চক্রে সূর্য যেন ভ্রমে রাত্রিদিনে।
সপ্তদ্বীপাধি লঘি ফিরে ক্রমেক্রমে। ঐ
রাত্রি-দিনে হয়--যাটি দণ্ড পরমাণ।
তিনসহস্র-ছয়শত পল তার মন।
সূর্যোদয় হৈতে যাঢ়ি পল ক্রমােদয়।
সেই ‘এক দণ্ড' অষ্টদণ্ড প্রহর’ হয় ।
এক দুই তিন চারি প্রহরে অস্ত হয়।
চারি প্রহর রাত্রি গেলে পুন সূৰ্যোদয়!
ঐছে কৃষ্ণলীলামশুল চৌদ্দ মম্বন্তরে।
ব্ৰহ্মাণ্ডমগুল ব্যাপি ক্ৰমে ক্ৰমে ফিরে।
সওয়াশত বৎসর কৃষ্ণের প্রকট প্রকাশ।
তাহ যৈছে ব্ৰজাপুরে করলা বিলাস ।
অলাতচক্রবঃ সই কলা ফিরে।
সব লীলা সৰু ব্ৰণ্ডে তুঙ্গে উদয় করে।
জন্ম বাল্য পৌগ কৈশােক প্রকাশ ।
পূতনাবধাদি কৰি মৌলান্ত নিলাম।
কোন ব্রহ্মাণ্ডে কোন লীলা হয় অবস্থান।
তাতে ‘নিত্যলী কহে গয় পুরাণ ।
গােলােক গােকুলগাম’ি কলম।
ষ্ণোয় ব্রহ্মাণ্ডগণে তাহার সংক্রম।
চৈতন্যচরিতামৃতপােত
(ব্য
অতএব গােলোকস্থানে নিত্য-বিহার।
ব্রেহ্মাণ্ডগণে ক্রমে প্রাকট্য তাহার । ঐ।২১৫পৃষ্ঠ
৯৯। ব্ৰজে কৃষ্ণ সর্বৈশ্বৰ্য্য প্রকাশে পূর্ণতম
পুরীদ্বয়ে পরব্যোমে—পূর্ণতর পূর্ণ।
এক কৃষ্ণ ব্রজে—পূর্ণতম ভগবান্ ।
আর সব স্বরূপ—পূর্ণতর পূর্ণনাম।
১০। সর্বস্বরূপের ধাম পরবব্যামধামে।
পৃথকপৃথক বৈকুণ্ঠ সব—নাহিক গণনে।
শত সহস্রাযুত লক্ষ কোটি যােজন।
একেক বৈকুণ্ঠের বিস্তার বর্ণন।
সব বৈকুণ্ঠ-ব্যাপক আনন্দচিয়।
পাৰিষদষড়ৈশ্বর্যপূর্ণ সব হয়।
অনন্ত বৈকুণ্ঠ একএকদেশে যায়।
সেই পরব্যোমধামের কে করু বিস্তার।
অনন্ত বৈকুণ্ঠ পরব্যোম বার ‘দলশ্রেণী।
সর্বোপরি কৃষ্ণলােক কর্ণিকার গণি ?
এইমত ষড়ৈশৰ্য-পান, অবতার।
ব্রহ্মা শিৰ অন্ত না পায়, জীব কোন ছার।
এইমত কৃষ্ণের দিব্য স1 অনন্ত।
ৰ-শিব-নাতি না পায় যায় ।
১ ২১৫
শীলা।
গৌরাঙ্গেয় উপদেশ।
শাদিক রই, অনন্ত সহস্ৰবদন।
নিরন্তর গায়, গুণের অন্ত নাহি পান ।
সেহাে রহু সর্বজ্ঞশিরােমণি কৃষ্ণ।
নিজগুণের অন্ত না পায়, হয়ে ত সতৃষ্ণ। ঐ। ২১৬পৃঃ
১০১। পরম ঈশ্বর কৃষ্ণ-স্বয়ংভগবান্।
তাতে বড়, তার সম, কেহ নাহি আন।
১২। ব্রহ্মা বিষ্ণু হর—এই ষ্ট্যাদি ঈশ্বর।
তিনে আজ্ঞাকারী কৃষ্ণে, কৃষ্ণ অধীশ্বর। ঐ
১৩। কৰ্ম্ম জপ যােগ জ্ঞান, বিধিভক্তি তপ ধ্যান,
ইহা হৈতে মাধুৰ্য দুর্লভ।
কেবল যে রাগমার্গে, ভজে কৃষ্ণ অনুরাগে,
তারে কৃষ্ণমাধুৰ্য্য সুলভ।
ঐ ২১৯পৃঃ
১৪। যার পুণ্যপুফলে,
ফেমুখ-দর্শন মিলে,
দুই অক্যে কি কৰিব পানে।
দ্বিগুণ বাঢ়ে তৃষ্ণা লােত,
পিতে নারে মনঃক্ষোভ,
দুঃখে করে বিধির নিন্দনে
না দিলে লক্ষকোটি, সবে দিল আঁখি দুটি,
তাতে দিল নিমিষ-আচ্ছাদন।
বিধি জড় তপোধন, শূন্য তার ,
নাহি জানে যােগ্য স্থান।
যে দেখিবে কৃষ্ণানন, তার করে বিনয়ন,
বিধি এ যেন বিচার।
চৈতন্যচরিতামৃতষ্পেরু
[ম
মোর যদি বােল ধরে,
কোটি আঁখি তার করে,
তবে জানি যোগ্য সৃষ্টি আর ।
जी २२०१३
১৫। এই ত কহিল সন্ধতত্বের বিচার।
বেদশাস্ত্রে উপদেশে-কৃষ্ণ এক সার।
এবে কহি শুন অভিধেয়ের লক্ষণ।
যাহা হৈতে পাই-কৃষ্ণ, কৃষ্ণপ্রেমধন ।
‘কৃষ্ণভক্তি অভিধেয় সর্বশাস্ত্রে কয়।
অতৰ মুনিগণ করিয়াছে নিশ্চয়।
২২পং। ২২১পৃঃ
১০৬। অদ্বয় জ্ঞানতত্ব কৃষ্ণ স্বয়ংভগবান্।
স্বরূপশক্তিরূপে তার হয় অবস্থান।
স্বাংবিভিন্নাংশরূপে হইয়া বিস্তার।
অনন্ত বৈকুণ্ঠ ব্রহ্মাণ্ডে কৱেন বিহার ।
স্বাংশ বিস্তারু-চতুকূহ অ্যাবজরথুণ।
বিভিন্নাংশ-জীব তার শক্তিতে গণন।
সেই বিভিন্নশ জীব-দুই ত কার,
এক নিত্যমুক্ত, একেনিত্যসংসার ঐ
নিত্যমুক্ত-নিত চরণে উন্মুখ ।
‘কৃষ্ণপরিষদ’ নামতে দেয়।
নিত্য-কৃষ্ণহৈতে নিত্য বহির্মুখ।
নিত্যসংসারী স্কুলে নাকি দুধ
শীল)
গৌগের উপদেশ।
সেই-দোৰে মায়াপিশাচী দণ্ড করে তারে।
আধ্যাত্মিকাৰি তাপত্র জারি করে মারে ।
কাম ক্রোধের দাস ইঞা তার লাথি খায়।
ভ্রমিতেভ্রমিতে যদি সাধুবৈদ্য পায় ।
তার উশদেশমন্ত্রে পিশাচী পালায়।
কৃষ্ণভক্তি পায় তবে কৃষ্ণনিকট যায়। ঐ।২০২পৃঃ
১০৭। কৃষ্ণভক্তি হয়—ভিধেয়-প্রধান।
ভক্তিমুখনিরীক্ষক-কর্ম-যােগ-জ্ঞান।
এইসব সাধনের অতি তুচ্ছ ফল।
কৃষ্ণভক্তি বিনে তাহা দিতে নারে বল ।
কেবলজ্ঞান মুক্তি দিতে নারে ভক্তিবিনে।
কৃষ্ণোন্মুখে সেই মুক্তি হয় বিনা-জ্ঞানে ।
কৃষ্ণনিত্যদাস জীব তাহা ভুলি গেল।
সেইদোষে মায়া তার গলার বান্ধিল।
তাতে কৃষ্ণ ভজে, করে গুরুর সেবন।
মায়াজাল ছুটে, পায় কৃষ্ণের চরণ
চারিবর্ণাশ্রমী যদি কৃষ্ণ নাহি ভজে।
স্বকৰ্ম্ম করিতে সেই রৌরবে পড়ি মজে।
জ্ঞানী জীবমুক্তি দশা পাই করি মানে।
বস্তুত বুদ্ধি শুনহে ভক্তি-বিনে। ঐ
১৮। কৃষ্ণ সূৰ্যসম, মায়া হয় অফার।
যাহা কৃষ্ণ, তাহ নাহি মায়ার অধিকার । ঐ
তৈরতামৃত প্রাক্ত
[ মধ"
১০৯। 'কৃষ্ণ তোমার হg' যদি বােলে একবার।
মায়াবন্ধ হৈতে কৃষ্ণ তারে করে পায়। এ
১১০। ভুক্তি মুক্তি সিদ্ধিকামী সুবুদ্ধি যদি হয়ে ।
গাঢ়ভক্তিযােগে তবে কৃষ্ণেরে ভজয়ে । ঐ
১১১। অন্যকামী যদি করে কৃষ্ণের ভজন।
মাগিতেও কৃষ্ণ তারে দেন স্বচরণ।
কৃষ্ণ কহে—আমায় ভজে, মাগে বিষয়সুখ
অমৃত ছাড়ি বিষ মাগে, এই বড় মূখ ।
আমি বিজ্ঞ, এই মূখে বিষয় কেনে দিব ?।
স্বচরণামৃত দিয়া বিষয় ভুলাইব।
কাম লাগি কৃষ্ণ ভজে, পায় কৃষ্ণরসে।
কাম ছড়ি দাস হৈতে হয় অভিলাষে।
১১২। সংসার ভ্রমিতে কোনভাগ্যে কেহহ
নদীর প্রবাহে যেন কাষ্ঠ লাগে তীরে,
কোনভাগ্যে কারাে সংসার ক্ষয়ােম্মুখ হয়।
সাধুসঙ্গে তবে কৃষ্ণে রতি উপজয় ॥
১১৩। কৃষ্ণ যদি কৃপায়ে কোন ভাগ্যবানে।
গুরু-অন্তৰ্য্যামি-রূপে শিখায় মাপনে। ঐ
১১৪। সাধুসঙ্গে কৃষ্ণভক্তে শ্রদ্ধা যদি হয়।
ভক্তিফল প্রেম হয়,—সংসার যার ক্ষয় ।
মহৎকৃপা বিনা কোন কর্মে ভক্তি নয়।
কৃষ্ণভক্তি দূরে মহু, সংসার নহে কয়।
শত
এগৌরাঙ্গের উপদেশ।
‘সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ’ সর্বশাস্ত্রে কয়।
লবমাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধ হয় । ঐ
১৫। কৃষ্ণ কৃপালু অনেরে লক্ষ্য করিয়া ।
জগতেরে রাখিয়াছে উপদেশ দিয়া । ঐ
( সর্ব গুহতমং ভূয়ঃ ইত্যাদি গীতা ১৮৬৪,৬৫ শ্লোক )
পূর্বে অজ্ঞা–বেদ ধৰ্ম্ম, কৰ্ম্ম যোগ জ্ঞান।
সব সাধি শেষে এই অজ্ঞা বলবান্ ।
এই-আজ্ঞাবলে ভক্তের শ্রদ্ধা যদি হয় ।
সর্বকৰ্ম্ম ত্যাগ করি সে কৃষ্ণ ভজয় ।
‘এন্ধা-শব্দে বিশ্বাস কহে সুদৃঢ় নিশ্চয়।
কৃষ্ণভক্তি কলে সর্বকৰ্ম্ম কৃত হয়। ঐ।২২৪পৃঃ
১৬। শ্রদ্ধাবান্ জন হয় ভক্ত্যে অধিকারী ।
উত্তম, মধ্যম, কনিষ্ঠ,-শ্রদ্ধা-অনুসারী !
শাস্ত্র যুক্তে সুনিপুণ দৃঢ় প্ৰদ্ধা যর।
‘উত্তম অধিকারী সেই তরয়ে সংসার।
শাস্ত্র যুক্তি নাহি-জানে, দৃঢ়শ্রদ্ধাবান।
‘মধ্যম অধিকারী সেই মা ভাগ্যবান,
যাহার কোমল শ্রদ্ধা সে কনিষ্ঠ জন'।
ক্ৰমেক্রমে বেঁহো ভক্ত হইবে উত্তম।
রতিপ্রেম-তারতম্যে ভক্ত-তর-তম।
একাদশস্কন্ধে তার কয়ািছে লক্ষণ। ঐ
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রােক্ত ( মধ্য ১১। সর্বমহাগুণগণ বৈষ্ণবশরীরে। কৃষ্ণভক্তে কৃষ্ণের গুণ সকল সঞ্চারে । ঐ ১১৮। এইসব গুণ হয় বৈষ্ণবলক্ষণ। সব কহ নাহি যায়, করি দিগ দরশন- কৃপালু, অকৃতদ্রোহ, সত্যসার, সম। নির্দোষ, বদান্য, মৃদু, শুচি, অকিঞ্চন । সর্বোপকারক, শান্ত, কৃষ্ণেকশরণ । অকাম, অনীহ, স্থির, বিজিতষড়গুণ। মি ভুক, অপ্রমত্ত, মানদ, অমানী। গম্ভীর, করুণ, মৈত্র, কবি, দক্ষ, মৌনী । ঐ ১১৯। কৃষ্ণভক্তিজম্মুল হয়—সাধুসঙ্গ।ঐ কৃষ্ণপ্রেমজন্মে তেঁহাে পুন মুখ্য অঙ্গ। ঐ।২২৫পৃঃ ১২। অসৎসঙ্গত্যাগ—এই বৈষ্ণব-আচার। স্ত্রীসঙ্গী এক ‘অসাধু-কৃষ্ণভক্ত আর ঐ ১২১। এসব ছাড়িয়া আর বর্ণাশ্ৰমধৰ্ম্ম। অকিঞ্চন হা লয় কৃষ্ণেকশৰণ । ভক্তবৎসল কৃতজ্ঞ সমর্থ বদান্য। হেন কৃষ্ণ ছাড়ি পণ্ডিত-নাহি ভজে অন্ত । বিজ্ঞজনের হয় যদি কৃষ্ণগুণজ্ঞান। অন্য ত্যজি ভরে,তাতে উদ্ধব প্রমাণ। শরণাগত-অকিঞ্চনের একই লক্ষণ। তার মধ্যে প্রবেশয়ে ‘আত্মসমর্পণ।
শীলা।
এগৌরাঙ্গের উপদেশ।
শরণ লা করে কৃষ্ণে আত্মসমর্পণ।
কৃষ্ণ তারে করে তৎকালে আত্মসম ।।২২পং।২২৫ পৃঃ
১২২। এবে সাধনভক্তিলক্ষণ শুন সনাতন।
যাহা হৈতে পাই কৃষ্ণপ্রেম-মহাধন। ঐ
শ্রবণাদি-ক্রিয়া তার স্বরূপলক্ষণ।
‘তটস্থলক্ষণে উপজায় প্রেমধন ॥ ঐ।২২৬পৃঃ
১৩। নিত্যসিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেমসাধ্য’ কভু নয়।
শ্রবণাদি-শুদ্ধচিত্তে করয়ে উদয় । ঐ
১২৪। এই ত সাধনভক্তি দুই ত প্রকার
এক বৈধী-ভক্তি, রাগানুগা-ভক্তি আর।
রাগহীন জন ভজে শাস্ত্রের আজ্ঞায়।
‘বৈধী-ভক্তি’ বলি তারে সর্বশাস্ত্রে গায়। এ
১২৫। বিবিধাঙ্গ সাধনভক্তির বহুত বিস্তায়।
সংক্ষেপে কহিয়ে কিছু সাধনাঙ্গ-সার—
গুরুপদাশ্রয়, দীক্ষা, গুরুর সেবন।
সদ্ধর্মশিক্ষা পৃচ্ছ, সাধুমার্গানুগমন ।
কৃষ্ণগ্রীতে ভােগত্যাগ, কৃষ্ণতীর্থে বাস।
যাবৎ-নিববাহ-প্রতি গ্রহ, একাদশ্যপবাস।
ধাশ্বখ-গাে-বিপ্র-বৈষ্ণব-পূজন।
সেবা-নামাপরাধাদি বিদূরে বর্জন ।
অবৈষ্ণবসঙ্গ বহুশিষ্য না করিব।
বহুগ্রন্থকলাভ্যাস ব্যাখ্যান ববি।
[ ময়
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
হানি-লাভ সম, শােকাদির বশ না হইব।
অন্যদেব অন্য শাস্ত্র নিন্দা না করিব।
বিষ্ণু-বৈষ্ণব-নিন্দা গ্রাম্যবার্তা না শুনিব।
প্রাণিমাত্রে মনােবাক্যে উদ্বেগ না দিব ।
শ্রবণ, কীৰ্ত্তন, স্মরণ, পূজন, বন্দন।
পরিচৰ্য্যা, দাস্য, সখ্য, আত্মনিবেদন।
অগ্রে নৃত্য গীত বিজ্ঞপ্তি দণ্ডবৎ-নতি।
অভ্যুত্থান, অনুব্রজ্যা, তীর্থগৃহে গতি ।
পরিক্রমা, স্তৰপাঠ, জপ, সঙ্কীৰ্ত্তন।
ধূপ-মাল্য-গন্ধ মহাপ্রসাদ ভােজন
আরাত্রিক-মহােৎসব-মুৰ্ত্তি-দর্শন।
নিজপ্রিয়-দান, ধ্যান, তদীয়সেবন ।
‘তদীয়'—তুলসী, বৈষ্ণব, মথুরা, ভাগবত।
এই-চারি-সেবা হয় কৃষ্ণের অভিমত।
কৃষ্ণার্থে অখিল চেষ্টা, তৎকৃপাবলােকন।
জন্মদিনাদিমহােৎসব লঞ ভক্তগণ।
সর্বথা শরণাপত্তি, কার্তিকাদি ব্রত।
চতুঃষষ্টি অঙ্গ এই পরম মহত্ব। ঐ।২২৬পৃঃ
১২৬। সাধুসঙ্গ, নামকীৰ্ত্তন, ভাগৰতৰণ।
মথুরাবাস, শ্রীমূর্তি শ্রদ্ধায়ে সেবন ।
সকলসাধনশ্রেষ্ঠ এই পঞ্চ অঙ্গ।
কৃষ্ণপ্রেম জন্মায় এই পাঁচের অল্প স।
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
১২৭। এক অঙ্গ সাধে-কেহে সাধে বহু গল'।
নিষ্ঠা হৈলে উপজয়ে প্রেমের তরঙ্গ ।।
এক-অঙ্গে সিদ্ধি পাইল বহু ভক্তগণ।
অম্বরীষাদি ভক্তের বহুঅত-সাধন। ঐ
১২৮। কাম ত্যাগি কৃষ্ণ ভজে শাস্ত্র আজ্ঞা মানি।
দেব-ঋষি-পিত্রাদিকের কভু নহে ঋণী।
বিধিধৰ্ম্ম ছাড়ি ভজে কৃষ্ণের চরণ।
নিষিদ্ধ পাপাচারে তার কভু নহে মন।
অজ্ঞানেও যদি হয় পাপ উপস্থিত।
কৃষ্ণ তারে শুদ্ধ করে, না করে প্রায়শ্চিত্ত। ঐ২২৭পৃঃ
১২৯। জ্ঞান-বৈরাগ্য ভক্তের কভু নহে অঙ্গ।
অহিংসা নিয়মাদি বুলে কৃষ্ণভক্তসঙ্গ। ঐ
১৩০। বিধিভক্তি-সাধনের কৈল বিবরণ।
‘রাগানুগ-ভক্তির লক্ষণ শুন সনাতন।
রাগাত্মিকা-ভক্তি মুখ্য ব্রজবাসিজনে।
তার অনুগত ভক্তির ‘রাগানুগা’-নামে।
ইষ্টে গাঢ়তৃষ্ণা রাগ’-এই স্বরূপ লক্ষণ।
ইষ্টে আবিষ্টতাএই তটস্থ লক্ষণ।
রাগময়ী ভক্তির হয় রাগাষ্মিকা’ নাম।
তাহা শুনি লুব্ধ হয় কোন ভাগ্যবান্ ।
লােভে এজবাসিভাবে করে আনুগতি।
শাস্ত্রযুক্তি নাহি মানে-আপাগার প্রকৃতি।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রোক্ত
[মধ্য
‘বাহ্য ‘অন্তর’ ইহার দুইত সাধন।
বাহ্য-সাধকদেহে করে শ্রবণ-কীর্তন।
মনে—নিজ সিদ্ধদেহ করিয়া ভাবন।
রাত্রিদিনে করে ব্রজে কৃষ্ণের সেবন ।
নিজাভীষ্ট-কৃষ্ণপ্ৰেষ্ঠ পাছে ত লাগিয়া ।
নিরন্তর সেবা করে অন্তৰ্ম্মনা হা।
দাস-সখা-পিত্রাদি প্রেয়সীর গণ।
রাগমার্গে এইসব ভাবের গণন । ঐ
এইমত করে যেবা রাগানুগা-ভক্তি।
কৃষ্ণের চরণে তার উপজায় প্রীতি । ঐ ২২৮পৃঃ
১৩১। প্রত্যঙ্কুরের—‘রতি’, ‘ভাব’-হয় দুই নাম।
যাহা হৈতে বশ হয় শ্রীভগবান্ ।
যাহা হৈতে পাই কৃষ্ণের প্রেমসেবন।
এই ত কহিল ‘অভিধেয়’ বিবরণ ॥ ঐ। ২৮পৃঃ
১৩২। এবে শুন ভক্তিফল—প্রেম প্রয়ােজন।
যাহার শ্রবণে হয় ভক্তিরস-জ্ঞান।
কৃষ্ণে রঙ্গি গাঢ় হৈলে—‘প্রেম’ অভিধান।
কৃষ্ণভক্তিরসের এই দায়িভাব’-নাম।
এই দুই ভাবের স্বরূপ-ট-লক্ষণ।
প্রেমের লক্ষণ এবে ন সনাতন ।
কোনাে ভাগ্যে কোনাে জীবের এক যদি হয়।
তবে সেই জীব সাধুসঙ্গ যে কয়।
লীলা।
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
সাধুসঙ্গ হৈতে হয় শ্রবণ-কীর্তন।
সাধনভক্ত্যে হয় সর্বনির্থ-নিবর্তন।
অনর্থ-নিবৃত্তি হৈতে ভক্ত্যে নিষ্ঠা হয়।
নিষ্ঠ। হৈতে শ্রবণাদ্যে রুচি উপজয় ।
রুচি হৈতে ভক্ত্যে হয় আসক্তি প্রচুর।
আসক্তি হৈতে চিত্তে জন্মে কৃষ্ণে প্রত্যঙ্কুর।
সেই ভাব গাঢ় হৈলে ধরে ‘প্রেম’ নাম।
সেই প্রেম প্রয়ােজন সর্বানন্দধাম। ২৩পং। ২২৮পৃঃ
১৩৩। যাহার হৃদয়ে এই ভাবান্ধুর হয়।
তাহাতে এতেক চিহ্ন সর্বশাস্ত্রে কয়--
এই নব প্রত্যঙ্কুর যার চিত্তে হয়।
প্রাকৃতক্ষোভে তার ক্ষোভ নাকি হয় ।
কৃষ্ণের সম্বন্ধ বিনা কাল নাহি যায়।
ভুক্তি সিদ্ধি ইন্দ্রিয়ার্থ তারে নাহি ভায়।
সর্বোত্তম-আপনাকে ‘হীন’ করি মানে।
‘কৃষ্ণ কৃপা করিবেন’
দৃঢ়
করি জানে ।
সমুৎকণ্ঠা হয় সদা লালসা-প্রধান।
নামগানে সদা রুচি—লয়ে কৃষ্ণনাম ॥
কৃষ্ণগুণাখ্যানে হয় সর্বদা আসক্তি।
কৃষ্ণলীলাস্থানে করে সর্বদা বসতি।
কৃষ্ণে রতির চিহ্ন এই কৈল বিবরণ।
কৃষ্ণপ্রেমের চিহ্ন এবে শুন সনাতন
এচৈতন্যচরিতামৃতলাক্ত
( মধ্য
যার চিত্তে কৃষ্ণপ্রেমা করয়ে উদয়।
তার বাক্য ক্রিয়ামুদ্রা বিজ্ঞে না বুঝয় ৷৷ ২৩পং।২২৯পৃঃ
১৩৪। প্রেম ক্রমে বাঢ়ে, হয়—স্নেহ, মান, প্রণয়।
রাগ, অনুরাগ, ব, মহাভাব হয়।
বীজ ইক্ষু রস গুড় তবে খণ্ড সার।
শর্করা সিতা মিশ্র শুদ্ধমি আর ।।
ইহ যৈছে ক্ৰমে নির্মল ক্ৰমে বাঢ়ে স্বাদ।
রতি-প্রেমাদিকে তৈছে বঢ়িয়ে অস্বাদ ।
অধিকারিভেদে রতি পঞ্চপরকার।
শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, মধু-রতি আর ।
এই পঞ্চ স্থায়িভাব হয় পঞ্চরস।
যে রসে ভক্ত সুখী কৃষ্ণ হয় বশ।
প্রেমাদিক স্থায়িভাৰসামগ্রামিলনে।
কৃষ্ণভক্তিরসস্বরূপ পায় পরিণামে ।
বিভাব, অনুভাব, সাত্ত্বিক, ব্যভিচারী।
স্থায়িভাব ‘রস’ হয় এই চারি মিলি।
দধি যেন খণ্ড-মরিচ-কপূর-মিলনে।
‘সালাখ্য’ রস হয় অপূৰ্বাস্বাদনে।
দ্বিবিধ ‘বিভাব’-আলম্বন, উদ্দীপন।
বংশীস্বরাদি—‘উদ্দীপন’, কৃষ্ণাদি-আলন।
অনুভাব’—স্মিত-নৃত্য-গীতাদি উদ্ভাস্বর।
ম্ভাদি সাত্ত্বিক অনুভবের ভিতর।
শীলা।
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
নির্বেদ-হর্ষাদি তেত্রিশ ব্যভিচারী'।
সব মেলি রস হয় চমৎকারকারী ।
পঞ্চৰিধ রস--শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য।
মধুরুনাম শৃঙ্গার-রস সভাতে প্রাবল্য।
শান্তরসে শান্তিরতি প্রেমপর্যন্ত হয়।
দাস্যরতি রাগপৰ্য্যন্ত ক্ৰমেত বাঢ়য় ॥
সখ্য-বাৎসল্য-রতি পায় অনুরাগসীমা।
সুবলাদ্যের ভাবপৰ্যন্ত প্রেমের মহিমা
শান্তাদিরসের ‘যােগ’ ‘বিয়ােগ’ দুই-ভেদ।
সখ্য বাৎসল্য—যােগাদির অনেক বিভেদ ৷
রূঢ়-অধিরূঢ়-ভাব কেবল মধুরে।
মহিষীগণের ‘রূঢ়, অধিরূঢ়’ গােপিকনিকরে।
অধিরূঢ় মহাভাব দুইত প্রকার।
সন্তোগে মাদন, বিরহে মােহন' নাম তার ।।
মাদনের চুম্বনাদি হয় অনন্ত বিভেদ।
উদঘূর্ণা, চিত্রজল্প,মােহনের দুই ভেদ ৷
চিত্ৰজন্স দশ-অঙ্গ-প্ৰজাদি নাম।
ভ্রমরগীতা-দশশ্লোক তাহার প্রমাণ।
‘উদঘূর্ণা—বিবশ চেষ্টা-‘দিবব্যান্মাদ’ নাম ।
বিরহে কৃষ্ণস্ফূর্তি—আপনাকে ‘কৃষ্ণ-জ্ঞান।
সন্তোগ, বিপ্রলম্ভ,—দ্বিবিধ শৃঙ্গা।
‘সন্তোগ’-অনন্ত-অ, নাহি অন্ত তার।
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
‘বিপ্রলম্ভ’ চতুর্বিধ-পূর্বরাগ, মান,।
প্রবাসখ্য, আর প্রেমবৈচিত্ত্য-আখ্যান।
রাধিকাদ্যে ‘পূর্বরাগ প্রসিদ্ধ ‘প্রবাস’ ‘মানে।
‘প্রেমবৈচিত্র্য দশমে মহিষীগণে।। ঐ। ২৩পৃষ্ঠা
১৩৫। ব্রজেন্দ্রনন্দন কৃষ্ণ-নায়কশিরােমণি।
নায়িকার শিরােমণি-রাধাঠাকুরাণী । ঐ
১৬। অনন্ত কৃষ্ণের গুণ, চৌষট্টি প্রধান।
এক এক গুণ শুনি জুড়ায় ভক্তকাণ । ঐ
১৩।। অনন্ত গুণ শ্রীরাধিকার পচিশ প্রধান।
যেই গুণের বশ হয় কৃষ্ণ ভগবান্ ॥ ঐ। ২৩১পৃষ্ঠা
১৩৮। নায়ক নায়িকা দুই-রসের ‘অলম্বন'।
সেই-দুই-শ্রেষ্ঠ—রাধা, ব্রজেন্দ্রনন্দন।
এইমত দাস্যে দাস, সখ্যে সখাগণ।
বাৎসল্যে মাতা-পিত আশ্রয়ালন।
এই রস অনুভবে যৈছে ভক্তগণ।
যৈছে রস হয়, তার শুনহ লক্ষণ।
এই-রস আস্বাদ নাহি অভক্তের গণে।
কৃষ্ণভক্তগণ করে রস-আস্বাদনে । ঐ
সংক্ষেপে কহিল এই প্রয়ােজন-বিবরণ।
পঞ্চম-পুরুষাৰ্থ এই কৃষ্ণপ্রেমধন । ঐ। ২৩২পৃঃ
১৩৯। ‘হেতু’-শব্দে কহে—ভুক্তি-আদি বাঞ্ছান্তরে।
ভুক্তি, সিদ্ধি, মুক্তি-মুখ্য এতিন প্রকারে।
লীলা]
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
এক ‘ভুক্তি’ কহে-ভােগ অনন্তপ্রকার।
‘সিদ্ধি’ অষ্টাদশ, ‘মুক্তি পঞ্চপরকার।
এই যাহা নাহি, তাহা ভক্তি ‘অহৈতুকী।
যাহা হৈতে বশ হয় শ্রীকৃষ্ণ কৌতুকী। ২০পং।২৩৩পৃঃ
১৪। ভক্তি-শব্দের অর্থ হয় দশবিধাকার
এক সাধন, প্রেমভক্তি নব প্রকার—
রতিলক্ষণা প্রেমলক্ষণা-ইত্যাদি প্রচার।
ভাবরূপ, মহাভাবলক্ষণারূপা আর ।
শান্তভক্তের রতি বাঢ়ে প্রেম পর্যন্ত।
দাসক্তের রতি হয় রাগদশ-অন্ত ।
সখগণের রতি অনুরাগ পৰ্যন্ত।
পিতৃ-মাতৃস্নেহ-আদি অনুরাগ-অন্ত । ঐ
কান্তাগণের রতি পায় মহাভাব-সীমা।
‘ভক্তি-শব্দের এইসব অর্থের মহিমা । ঐ।২৩৪পৃষ্ঠা
১৪১। গুণ’-শব্দের অর্থ-কৃষ্ণের গুণ অনন্ত ।
সৎ-চিৎ-রূপ গুণ—সর্ব পূৰ্ণানন্দ।
ঐশ্বৰ্য্য মাধুৰ্য কারুণ্য স্বরূপ পূর্ণতা।
ভক্তবাৎসল্য আত্মপৰ্য্যন্ত বদান্যতা।
অলৌকিক রূপ-রস-সৌরভাদি গুণ।
কারাে মন কোন গুণে করে আকর্ষণ ॥
সনকাদির মন হরিল সৌরভাদি গুণে।
শুকদেবের মন হরিল লীলা-শ্রবণে ।
চৈতন্যচবিতামৃতপ্রাক্ত
[ মধ্য
অঙ্গ-রূপে হরে গােপীগণের মন।
রূপ-গুণ-শ্রবণে রুক্মিণ্যাদি-আকর্ষণ।
বংশীগীতে হরে লক্ষম্যাদিকের মন।
যােগ্যভাব জগতে যত যুবতীরগণ।
গুরুতুল্য স্ত্রীগণের বাৎসল্যে আকর্ষণ।
দাস্য-সখ্যাদি ভাবে পুরুষাদি গণ ।
পক্ষী মৃগ বৃক্ষ লতা চেতনাচেতন।
প্রেমে মত্ত করি আকর্ষয়ে কৃষ্ণগুণ। ঐ
১৪২। হরি’-শব্দে নানা অর্থ, দুই মুখ্যতম।
সর্ব-অমঙ্গল হরে, প্রেম দিয়া হরে মন।
যৈছে-তৈছে যােই-কোই করয়ে স্মরণ।
চারিবিধ পাপ তার করে সংহারণ ঐ
তবে করে ভক্তিবাধক কৰ্ম্মাবিদ্যা-নাশ।
শ্রবণাদ্যের ফল ‘প্রেমা করয়ে প্রকাশ ।
নিজগুণে তবে হরে দেহেয়ি মন।
ঐছে কৃপালু কৃষ্ণ, ঐছে তাঁর গুণ।
চারি পুরুষার্থ ছাড়ায়, গুণে হরে সভার মন।
হরি-শব্দের এই মুখ্যার্থ করিল লক্ষণ। ঐ।২৩৫পৃঃ
১৪৩। ব্ৰহ্ম’-শব্দের অর্থ—তত্ব সর্ববৃহত্তম।
স্বরূপ ঐশ্বৰ্য্য করি নাহি যার সম ॥
সেই ব্ৰহ্ম’ শব্দে কহে-স্বয়ংভগবান্।
বাহা বিনু কালয়ে বস্তু নাহি আন।
শী]
এগৌরাঙ্গের উপদেশ।
সেই অদ্বয় তত্ত্ব—কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান্।
তিনকালে সত্য সেই শাস্ত্ৰপরমাণ।।
১৪৪। ‘আত্মা'শব্দে কহে—কৃষ্ণ বৃহত্ব স্বরূপ।
সব্যাপক সর্বসাক্ষী পরম স্বরূপ । ঐ
১৪। সেই কৃষ্ণপ্রাপ্তিহেতু ত্রিবিধ সাধন
জ্ঞান, যােগ, ভক্তি,—তিনের পৃথক্ লক্ষণ।
তিন সাধনে ভগবান্ তিন-স্বরূপে ভাসে।
ব্ৰহ্ম-পরমাত্মা-ভগবত্ত্বে প্রকাশে । ঐ
১৪৬। ‘ব্ৰহ্ম-আত্ম-শব্দে যদি কৃষ্ণকে কহয়।
রূঢ়িবৃত্তে নিৰ্বিশেষ অন্তর্যামী কয়।
জ্ঞানমার্গে নির্বিশেষ ব্ৰহ্ম প্রকাশে।
যােগমার্গে অন্তৰ্য্যামিস্বরূপেতে ভাসে ।
রাগতক্তি বিধিভক্তি হয় দুইরূপ।
স্বয়ংভগবত্তে, ভগবত্তে—প্রকাশ দ্বিরূপ ॥
রাগভক্তে ব্ৰজে স্বয়ংভগবান পায়।
বিধিভক্ত্যে পার্ষদ-দেহে বৈকুণ্ঠে যায়। ঐ
১৪৭। সেই উপাসক হয় ত্রিবিধ প্রকার—
অকাম, মােকাম, সর্বকাম আর ঐ .
১৪৮। বুদ্ধিমানের অর্থ—যদি বিচার হয়।
নিজকাম লাগি তবে কৃষ্ণেরে ভয়।। ঐ
ভক্তি-বিমু কোন সাধন দিতে নারে ফল।
সব ফল দেয় ভক্তি স্বতন্ত্র প্রবল।
চৈতন্যচরিতামৃতপােক্ত
[ মধ্য
অজাগলগুনন্যায় অন্য সাধন।
অতএব হরি ভজে বুদ্ধিমান্ জন। ঐ। ২৩৬পৃঃ
১৪৯। আৰ্ত্ত, অর্থার্থী দুই সকাম-ভিতরে গণি।
‘জিজ্ঞাসু’ ‘জ্ঞানী দুই মােকাম মানি ।
এই চারি সুকৃতী হয়ে মহাভাগ্যবান।
তত্তৎ কামাদি ছাড়ি মাগে শুদ্ধভক্তিদান ॥
সাধুসঙ্গকৃপা কিবা কৃষ্ণের কৃপায় ।
কামাদি দুঃসঙ্গ ছাড়ি শুদ্ধভক্তি পায়। ঐ
১৫। ‘দুঃসঙ্গ' কহিকৈতব আত্মবঞ্চনা।
‘কৃষ্ণ, কৃষ্ণভক্তি-বিনু অন্য কামনা । ঐ
সকামভক্ত অজ্ঞ’ জানি দয়ালু ভগবান্।
স্বচরণ দিয়া করে ইচ্ছার পিধান ॥ ঐ
১৫১। সাধুসঙ্গ, কৃষ্ণকৃপা, ভক্তির স্বভাব।
এ তিনে সব ছাড়ায়—করে কৃষ্ণভাব। ঐ
১৫২। জ্ঞানমার্গে উপাসক দুই প্রকার।
কেবলব্রহ্মোপাসক, মােক্ষাকাঙক্ষী আর।
কেবলব্রহ্মোপাসক তিন ভেদ হয়-
সাধক, ব্ৰহ্মময়, আর প্রাপ্তশালয় ।
ভক্তি-বি কেবলজ্ঞানে মুক্তি নাহি হয়।
ভক্তিসাধন করে যেই প্রাপ্তব্ৰহ্মলয় ৷
ভক্তির স্বভাবব্ৰহ্ম হৈতে করে আকর্ষণ।
দিব্য দেহ দিয়া করায় কৃষ্ণের ভজন।
লীলা। গৌরাঙ্গের উপদেশ। ভক্তদেহ পাইলে হয় গুণের স্মরণ। গুণকৃষ্ট হৈয়া করে নির্মল ভজন। জন্ম হৈতে,শুকন্সনকাদি হয় ব্রহ্মময়। কৃষ্ণগুণাকৃষ্ট হৈয়া কৃষ্ণেরে ভয়। সনকাদ্যের কৃষ্ণকৃপায় সৌরভে হরে মন। গুণাকৃষ্ট হঞা করে নির্মল ভজন। ব্যাসকৃপায় শুকদেবের লীলাদিম্মরণ। কৃষ্ণগুণাকৃষ্ট হঞা করেন ভজন। নব যােগীশ্বর জন্ম হৈতে সাধক জ্ঞানী। বিধিশিব-নারদমুখে কৃষ্ণগুণ শুনি। গুণাকৃষ্ট হঞা করে কৃষ্ণের ভজন। একাদশাস্কন্ধে তার ভক্তিবিবরণ । ঐ। ২৩৬ পৃঃ ১৫৩। মোক্ষাকাঙ্ক্ষী জ্ঞানী হয় তিন প্রকার- মুমুক্ষু, জীবন্মুক্ত, প্রাপ্তস্বরূপ আর । ‘মুমুক্ষু জগতে অনেক সাংসারিক জন । মুক্তিলাগি ভক্ত্যে করে কৃষ্ণের ভজন। সেইসতে সাধুসঙ্গে গুণ রায়। কৃষ্ণভজন করায়, মুমুক্ষা ছাড়ায়। নারদের সঙ্গে শৌনকাদি মুনিগণ। মুমুক্ষা ছাড়িয়া কৈল কৃষ্ণের ভজন । কৃষ্ণের দর্শনে কারাে কৃষ্ণের কৃপায় । মুমুক্ষা ছাড়িয়া গুণে ভজে তার পায়। ঐ।২পৃঃ
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
১৫৪। জীবন্মুক্ত’ অনেক; সে-ও দুই ভােদ জানি—
ভক্ত্যে জীবন্মুক্ত, জ্ঞানে জীবন্মুক্ত মানি।
ভক্ত্যে জীবন্মুক্ত—গুণাকৃষ্ট কৃষ্ণ ভজে।
শুকজ্ঞানে জীবন্মুক্ত—অপরাধে অখােমজে॥ঐ।২৩৭পৃঃ
১৫৫। ভক্তিবলে প্রাপ্তস্বরূপ দিব্যদেহ পায় ।
কৃষ্ণগুণাকৃষ্ট হঞা ভজে কৃষ্ণ-পায়। ঐ
১৫৬। কৃষ্ণবহিমুখ-দোষে মায়া হৈতে ভয়।
কৃষ্ণোন্মুখ ভক্তি হৈতে মায়ামুক্ত হয় । ঐ
১৫৭। ভক্তি-বি মুক্তি নাহি, ভক্ত্যে সে মুক্তি হয়।
ভক্ত্যে মুক্তি পাইলেহােঅবশ্য কৃষ্ণেরে ভজয়।ঐ।২৮পৃঃ
১৫৮। বিচার করিয়া যবে ভজে কৃষ্ণপায়।
সেই বুদ্ধি দেন তারে, যাতে তাকে পায় । ঐ। ২৪পৃঃ
১৫৯। সৎস, কৃষ্ণসেবা, ভাগৰত, নাম।
ব্ৰজে বাস,-এই পঞ্চ সাধন প্রধান।
এই পঞ্চমধ্যে এক স্বল্প করয়।
সদবুদ্ধি জনের হয় কৃষ্ণপ্রেমােদয় । ঐ
১৬। উদাৰা মহতী যার সর্বোত্তমা বুদ্ধি।
নানা কামে ভজে, তভু পায় ভক্তি সিদ্ধি।
ভক্তিপ্রভাবে সেই কাম ছাড়াইয়া।
কৃষ্ণপদে ভক্তি করায় গুণে আকর্ষিয়া । ঐ
১৬১। জীবের স্বভাব-কৃষ্ণদাস-অভিমান।
দেহে-আত্মজ্ঞানে আচ্ছাদিত সেই ॥
শীলা। গৌঙ্গের উপদেশ। কৃষ্ণকৃপাদি-হেতু হৈতে স্বভাব-উদয়। কৃষ্ণগুণাকৃষ্ট হঞা কৃষ্ণেরে জয়। ঐ ১৬২। ভ্রমিতেভ্রমিতে যদি সাধুসঙ্গ পায় । সভে সব ত্যজি তবে কৃষ্ণেরে অজয়। ঐ।২৯পৃঃ ১৬। কৃষ্ণতুল্য ভাগবত-বিভু সৰ্বায়। প্রতিশ্লোকে প্রত্যক্ষরে নানা অর্থ কয়। ঐ।২৪পৃঃ ১৬৪। প্রভু কহে-বিষ্ণুবিষ্ণ, আমি ক্ষুদ্র জীব হীন। জীবে ‘বিষ্ণ' মানি,-এই অপরাধ চিন্তু। জীবে বিষ্ণবুদ্ধি দূরে, যেই রুদ্ৰব্ৰহ্মসম- নারায়ণে মানে, তার পাষণ্ডীতে গণন ॥২:পং। ২৪৭পৃঃ ১৬৫। প্রভু কহে—আমি জীব অতি তুচ্ছ-জ্ঞান। ব্যাসসূত্রের গল্পীরার্থ;-ব্যাস ভগবান।। তার সূত্রের অর্থ কোন জীব নাহি জানে। অতএব আপন সূত্রের করিয়াছে ব্যাখ্যানে। যে সূত্ৰকৰ্ত্তা, সে যদি করয়ে ব্যাখ্যান। তবে সূত্রের মূল অর্থ লােকের হয় জ্ঞান। প্রণবের যেই অর্থ, গায়ত্ৰীতে সেই হয়। সেই অর্থ চতুঃশ্লোকীতে বিবরিয়া কয়। ব্ৰহ্মারে ঈশ্বর চতুঃশ্লোকী যে কহিল। ব্রহ্মা নাৱৰেৰে সেই উপদেশ কৈল। সেই অর্ধ নারদ বসেৱে কহিল। শুনি বেদব্যাস মনে বিচার করিল—
[
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রােক্ত
এই অধ—আমার সূত্রের ব্যাখ্যারূপ।
ভাগবত করি সূত্রের ভাষ্যস্বরূপ।
চারি-বেদ উপনিষদ—যত কিছু হয়।
তার অর্থ লঞ ব্যাস করিল সঞ্চয় ।
সেই সূত্রে যেই ঋগবিষয় বচন।
ভাগবতে সেই ঋক-চারিশ্লোক নিবন্ধন।।
অতএব সূত্রের ভাষ্য-শ্ৰীভাগবত ।
ভাগবতশ্লোক উপনিষদ—কহে এক অর্থ।
ভাগবতের সম্বন্ধাভিধেয়-প্রয়ােজন।
চতুঃশ্লোকীতে প্রকট তার করিয়াছে লক্ষণ
আমি সম্বন্ধতত্ত্ব; আমার জ্ঞান-বিজ্ঞান
অামা পাইতে সাধনভক্তি ‘অভিধেয়’-নাম।
সাধনের ফল প্রেমমূল প্রয়ােজন'।
সেই প্রেমে পায় জীব—আমার সেবন
এই তিন অর্থ আমি কহিল তোমারে।
জীব তুমি, এই তিন নারিবে জানিবারে।
যৈছে আমার স্বরূপ, যৈছে আমার স্থিতি।
যৈছে আমার গুণ কর্ম ষড়ৈশৰ্য শক্তি।
আমার কৃপায় ফুরুক এসব তােমারে।
এত বলি তিন তত্ত্ব কহিল তাহারে ঐ।২৪৮
সৃষ্টির পূর্ব ষড়ৈশ্বৰ্যপূর্ণ আমি হইয়ে।
প্রপঞ্চ প্রকৃতি পুরুষ আমাতেই নয়
;
শীলা
গৌরাঙ্গেয় উপদেশ।
সৃষ্টি করি তার মধ্যে আমি প্রবেশিয়ে ।
প্রপঞ্চ যে-কিছু দেখ, সেহ আমি হইয়ে।
প্রলয়ের অবশিষ্ট আমি পূর্ণ হইয়ে।
প্রাকৃত প্রপঞ্চ পায় অমাতেই লয়ে ।।
অহমেব অহমেব' শ্লোকে তিনবার।
পূর্ণেশ্বৰ্য্য-ঐবিগ্রহ-স্থিতির নির্ধার।
বিগ্রহ যে না মানে, নিরাকার মানে।
তারে তিরস্করিবারে কৈল নির্ধারণে ।।
এই শ্লোকে কহে-জ্ঞান-বিজ্ঞান-বিবেক।
মায়াকাৰ্য্যে মায়া হৈতে আমি ব্যতিরেক ।
যৈছে সূৰ্যভাসস্থানে ভাসয়ে আভাস।
সূৰ্য্য বিনু স্বতন্ত্র তার না হয় প্রকাশ।
মায়াতীত হৈলে হয় আমার অনুভব।
এই সম্বন্ধতত্ত্ব কহিল, শুন অারসব।
অভিধেয় সাধনভক্তির শুনহ বিচার।
সর্বজন-দেশ-কাল-দশাতে ব্যাপ্তি যার ॥
ধৰ্ম্মাদিবিষয় যৈছে এ চারি-বিচার।
সাধনভক্তি এই-চারি-বিচারের পর।
সর্বদেশে কালে দশায় জনের কৰ্ত্তব্য—
গুরুপাশে সেই ভক্তি প্ৰষ্টব্য শ্রোতব্য ।
আমাতে যে প্রীতি—সেই প্রেম প্রয়ােজন।
কাৰ্যদ্বারে কহি পর ‘স্বরূপলক্ষণ ।
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতপােক্ত
( মধ্য
পঞ্চভূত যৈছে ভূতের ভিতরে-বাহিরে।
ভক্তগণে স্ফরি আমি বাহিরে অন্তরে।
ভক্ত আম প্রেমে বান্ধিয়াছে হৃদয়ভিতরে।
যাহা নেত্র পড়ে, তাহা দেখয়ে আমারে।
অতএব ভাগবতে এই তিন কয়—
সম্বন্ধ, অভিধেয়, প্রয়ােজনময় ॥ ঐ। ২৪৯পৃঃ
এই ত সম্বন্ধ, শুন অভিধেয় ভক্তি।
ভাগবতে প্রতি শ্লোকে ব্যাপে যার স্থিতি।
এবে শুন প্রেম যেই মূল প্রয়োজন।
পুলক নৃত্য গীত যাহার লক্ষণ।
অতএব ভাগবত-সূত্রের অর্থরূপ।
নিজকৃতসূত্রের নিজভাষ্যস্বরূপ।
গায়ত্রীর অর্থে এই-গ্রন্থ-আরম্ভণ।
‘সত্যং পরং'—সম্বন্ধ, ধীমহি'—সাধন-প্রয়ােজন।
কৃষ্ণভক্তিরস স্বরূপ শ্ৰীভাগবত।
তাতে বেদশাস্ত্র হৈতে পরম মহত্ত্ব ।
অতএব ভাগবত করহ বিচার।
ইহা হৈতে পাবে সূত্র-শ্রুতির অর্থসার। ২৫পং।২৫পৃঃ
১৬৬। নিরন্তর কর কৃষ্ণনামসঙ্কীৰ্ত্তন।
হেলায় মুক্তি পাবে, পাবে কৃষ্ণপ্রেমধন ॥ ঐ
১৬৭। কঁাথা-করঙ্গিয়া মাের কাঙ্গাল ভক্তগণ।
বৃন্দাবনে আইলে তার করিহ পাল। ঐ। ২৫১পৃঃ
লীলা।
শ্রীগৌরাঙ্গের উপদেশ।
১৬৮। প্রভু কহে—ইহা হৈতে যাহ বৃন্দাবন।
নিরন্তর কর কৃষ্ণনামসঙ্কীর্তন।
এক নামভাসে তােমার পাপদোষ যাবে।
আর নাম হৈতে কৃষ্ণচরণ পাইবে || ২৫২পৃঃ
অন্ত্যলীলা।
১। প্রভু কহে—কহ, কেনে কর সঙ্কোচ-লাজে ।।
গ্রন্থের ফল শুনাইবে বৈষ্ণবসমাজে ॥ ১পং। ৫৯
২। প্রভু কহে—বৈরাগী করে প্রকৃতি-সম্ভাষণ।
দেখিতে না পারি আমি তাহার বদন ।
দুর্বার ইন্দ্রিয় করে বিষয় গ্রহণ।
দারবী প্রকৃতি হরে মুনেরপি মন ।
ক্ষুদ্র জীবসব মর্কটবৈরাগ্য করিয়া ।
ইন্দ্রিয় চরাঞা বুলে প্রকৃতি সম্ভাষিয়া ॥ ২পং ২৬৭পৃঃ
৩। নিরপেক্ষ না হৈলে ধর্ম না যায় রক্ষণে ॥৩পং।২৬৯পৃঃ
৪। সে-ই ভক্ত ধন্য, যে না ছাড়ে প্রভুর চরণ।
সে-ই প্রভু ধন্য, যে না ছাড়ে নিজজন ।
দুর্দৈবে সেবক যদি যায় অন্য স্থানে।
সে-ই ঠাকুর ধন্য, তারে
চুলে
ধরি আনে ॥৪পং২৭৮পৃঃ
৫। সনাতন! দেহত্যাগে কৃষ্ণ না পাইয়ে।
কোটি দেহ ক্ষকে তবে ছাড়িতে পারিয়ে।
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত
দেহত্যাগে কৃষ্ণ না পাই, পাইয়ে ভজনে !
কৃষ্ণপ্রাপ্ত্যের উপায় কোনো নাহি ভক্তি বিনে ।
দেহত্যাগাদি এইসব তমােধৰ্ম্ম।
তমােরজোধৰ্ম্মে কৃষ্ণের না পাই চরণ।
ভক্তিবিনু কৃষ্ণে কভু নহে প্রেমােদয়।
প্রেমবিনু কৃষ্ণপ্রাপ্তি অন্যহৈতে নয় ।
দেহত্যাগাদি তমােধৰ্ম্ম-পাতের কারণ।
সাধক না পায় তাতে কৃষ্ণের চরণ ।
প্রেমী ভক্ত বিয়ােগে চাহে দেহ ছাড়িতে।
প্রেমে কৃষ্ণ মিলে, সেহে না পারে মরিতে ।
গাঢ়ানুরাগের বিয়ােগ না যায় সহন।
তাতে অনুরাগী বাঞ্ছে আপন মরণ। ঐ
৬। কুবুদ্ধি ছাড়িয়া কর শ্রবণ কীৰ্ত্তন।
অচিরাতে পাবে তবে কৃষ্ণের চরণ।
নীচজাতি নহে কৃষ্ণভজনে অযােগ্য।
সৎকুল বিপ্র নহে ভজনের যােগ্য ॥
যেই ভজে, সে-ই বড়, অভক্ত হীন ছার।
কৃষ্ণভজনে নাহি জাতিকুলাদি-বিচার ঐ
দীনেরে অধিক দয়া করে ভগবান্ ।
কুলীন-পণ্ডিত-ধনীর বড় অভিমান । ঐ। ২৭৯পৃম
৭। ভজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নববিধা ভক্তি।
কৃষ্ণপ্রেম কৃষ্ণ দিতে ধরে মহাশক্তি
॥
শীল।
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ-নামসঙ্কীর্তন।
নিরপরাধ নাম হৈতে হয় প্রেমধন ॥ ঐ
৮। প্রভু কহে কোন পথে আইলে সনাতন?।
তেঁহহ কহে—সমুদ্রপথে করিলাগমন।
প্রভু কহে—তগুবালুতে কেমতে আইলা ।।
সিংহদ্বারের পথ শীতল-কেনে না আইলা ।।
তপ্তবালুতে তোমার পায়ে হৈল ব্রণ।
চলিতে না পার, কেমতে করিলে সহনী।
সনাতন কহে—দুঃখ বহু না পাইল।
পায়ে ব্রণ হইয়াছে, তাহা না জানিল ।
সিংহদ্বারে যাইতে মাের নাহি অধিকার।
বিশেষে ঠাকুরের তাহা সেবক প্রচার।
সেবকসব গতাগতি করে অবসরে।
কারাে সহ স্পর্শ হৈলে সর্বনাশ হবে মোরে ।
শুনি মহাপ্রভু মনে সন্তোষ পাইলা।
তুষ্ট হঞা তারে কিছু কহিতে লাগিলা—
যদ্যপি তুমি হও জগতপাবন।
তােমা স্পর্শে পবিত্র হয় দেবমুনিগণ।
তথাপি ভক্তস্বভাব-মৰ্য্যাদা-রক্ষণ।
মৰ্যাদাপালন হয় সাধুর ভূষণ।
মৰ্যাদালনে লােকে করে উপহাস।
ইহলােক পরক দুইলােক নাশ ।
চৈতন্যচরিতামৃতপ্রাক্ত [ ও
মৰ্যাদা রাখিলে, তুষ্ট কৈলে মাের মন।
তুমি ঐছে না কৈলে আর করিব কোনজন ?
৪পং। ২৮পৃষ্ঠা
৯। মৰ্যাদালঙঘন আমি না পারি সহিতে। ঐ। ২৮১
১০। দ্বৈত ভদ্রাভদ্র জ্ঞান-সব মননধৰ্ম্ম।
‘এই ভাল, এই মন্দ—এইসব ভ্রম।
আমিত সন্ন্যাসী—আমার সমদৃষ্টি ধৰ্ম্ম।
চন্দনে পঙ্কে আমার জ্ঞান হয় সম । ঐ
১১। মাতার যৈছে বালকের অমেধ্য লাগে গায়।
ঘৃণা নাহি উপজয় ; আরাে সুখ পায় ।
লাল্যামেধ্য লালকে চন্দনসম ভায়।
সনাতনের ক্লেদে আমার ঘৃণা না জন্মায়। ঐ। ২৮২পৃঃ
১২। প্রভু কহে-বৈষ্ণবের দেহ ‘প্রাকৃত' কভু নয়।
‘অপ্রাকৃত’ দেহ ভক্তের চিদানন্দময় ॥
দীক্ষাকালে ভক্ত করে আত্মসমর্পণ।
সেইকালে কৃষ্ণ তঁারে করে আত্মসম ॥
সেই দেহ তার করে চিদানন্দময়।
অপ্রাকৃতদেহে তার চরণ ভজয় ।
সনাতনের দেহে কৃষ্ণ কও উপজা।
আমা পরীক্ষিতে ইহ দিল পাঠাইয়া ।
ঘৃণা করি আলিঙ্গন না করিতা যবে।
কৃষ্ণঠাঞি অপরাধণ্ড পাইতাঙ ।
ও
শীলা।
শ্রীগৌরাঙ্গের উপদেশ।
৭১
পারিষদ-দেহ এই—না হয় দুর্গন্ধ ।
প্রথমদিন পাইল অঙ্গে চতুঃসমের গন্ধ । ঐ
১৩। ভাগ্য তােমার-কৃষ্ণকথা শুনিতে হয় মন।
রামানন্দপাশ যাই করহ শ্রবণ।
কৃষ্ণকথারুচি তােমর, বড় ভাগ্যবান্।
যার কৃষ্ণকথায় রুচি-সে হয় ভাগ্যবান।
৫পং। ২৮৪পৃঃ
১৪। আমি ত সন্ন্যাসী, আপন ‘বিরক্ত করি মানি। •
দর্শন রহু দূরে, প্রকৃতির নাম যদি শুনি । ঐ
তবহি বিকার পায় আমার তনু মন।
প্রকৃতি-দর্শনে স্থির হয় কোন্ জন ? । ঐ। ২৮৫পৃঃ
১৫। ব্রজবধূসঙ্গে কৃষ্ণের রাসাদি-বিলাস।
যেই ইহা কহে শুনে করিয়া বিশ্বাস।
হৃদ্রোগ কাম তার তৎকাল হয় ক্ষয়।
তিনগুণ-ক্ষোভ নাহি, মহা ধীর হয় ।
উজ্জ্বল মধুর প্রেমভক্তি সেই পায়।
আনন্দে কৃষ্ণমাধুর্যে বিহরে সদায়।
যে শুনে যে পঢ়ে তার ফল এতাদৃশী।
সেই-ভাবাবিষ্ট যেই সেবে অহর্নিশি।
তার ফল কি কহিব, কহনে না যায়।
নিত্যসিদ্ধ সেই প্রায় সিদ্ধ তার কায় ।।
চৈতন্যচরিতামৃতরােক্ত
( অন্ত
১৬। মহানুভবের এই সহজ স্বভাব হয়।
আপনার গুণ নাহি আপনে কহয়। ঐ। ২৮৬ পৃষ্ঠা
১৭। প্রভু কহে—কৃষ্ণকৃপা বলিষ্ঠ সভা হৈতে।
তােমাকে কাঢ়িল বিষয়বিষ্ঠাগর্ত হৈতে || ৬পং। ২৯৪পৃঃ
১৮। ইহার বাপ-জ্যেঠা বিষয়বিষ্ঠাগৰ্ত্তের কীড়া।
‘খ’ করি মানে বিষয়বিষের মহাপীড়।
যদ্যপি ব্ৰহ্মণ্য, করে ব্রাহ্মণের সহায়।
শুদ্ধবৈষ্ণব নহে, হয়ে বৈষ্ণবের প্রায়।
তথাপি বিষয়ের স্বভাব-করে মহা অন্ধ।
সেই কৰ্ম্ম করায়, যাতে হয় ভববন্ধ।
হেন বিষয় হৈতে কৃষ্ণ উদ্ধারিলেন তােমা।
কহনে না যায় কৃষ্ণকৃপার মহিমা । ঐ
১৯। বৈরাগী করিব সদা নামসঙ্কীৰ্ত্তন।
মাগিয়া খাইয়া করে জীবন রক্ষণ।
বৈরাগী হইয়া যেবা করে পরাপেক্ষা।
কাৰ্যসিদ্ধি নহে, কৃষ্ণ করেন উপেক্ষা ।
বৈরাগী হইয়া করে জিহ্বার লালস।
পরমার্থ যায় তায়, হয় রসের বশ ৷
বিরাগীর কৃত্য-সদা নাম সঙ্কীৰ্ত্তন।
শাক-পত্র-ফল-মূলে উদরভরণ।
জিহ্বার লালসে যেই ইতিউতি খায়।
শিখাে-পরায়ণ কৃষ্ণ নাহি পায়। ঐ।২৯৫পং
নীল
গৌরাঙ্গেয় উপদেশ।
৪০। গ্রাম্য কথা না শুনিবে, গ্রাম্যবার্তা না কহিবে।
ভাল না খাইবে,আর ভাল না পরিবে।
সমানী মানদ কৃষ্ণনাম সদা লবে।
ব্ৰজে রাধা-কৃষ্ণ-সেবা মানসে করি।ে ঐ
২১। 'বিষয়ীর অন্ন খাইলে মলিন হয় মন।
মলিন মন হৈলে মহে কৃষ্ণের স্মরণ
বিষয়ীর অন্ন হয় রাজস নিমন্ত্রণ।
দাতাভােক্তা দোহার মলিন হয় মন। ঐ। ২৯৬পৃষ্ঠা
২২। প্রভু কহোল কৈল ছাড়িল সিংহদ্বার।
সিংহদ্বায়ে ভিক্ষাবৃত্তি--বেশ্যার আচার ॥
ছত্রে যাই যথলাভ উদর-ভরণ।
মনঃকথা নাহি, সুখে কৃষ্ণসঙ্কীৰ্ত্তন ঐ। ২৯৭পৃঃ
২৩। প্রভু কহে—এই শিলা কৃষ্ণের বিগ্রহ।
ইহার সেবা কর তুমি করিয়া আগ্রহ।
এই শিলার কর তুমি সাত্ত্বিক পূজন।
অচিরাতে পাবে তুমি কৃষ্ণপ্রেমধন ।
এক কুঁজা জল আর তুলসীমঞ্জরী।
সাত্ত্বিক সেবা এই শুদ্ধভাবে করি।
দুইদির্গে দুইপত্র, মধ্যে কোমল মঞ্জরী।
এইমত অষ্ট মঞ্জরী দিবে শ্রদ্ধা করি। ঐ। ২৯৭পৃঃ
২৪। প্রভু কহে কৃষ্ণনামের বহু অর্থ না মানি ।
‘শ্যামসুন্দর যশােদানন্দন’ এইমাত্র জীনি ॥ ঐ।৩০১
২৫। প্রভু হাসি কইে-স্বামী না মানে যেই জন।
বেশ্যার ভিতরে তারে করিয়ে গণন। ঐ। ৩২পৃঃ
অচৈতন্যচরিতামৃতপ্রোক্ত
২৬। ধরুমিপ্রসাদেতে ভাগবত জানি।
জগদ্গুরু শ্রীধরস্বামী, গুরু করি মানি।
শ্রীধরানুগত কর ভাগবত-ব্যাখ্যান।
অভিমান ছাতি, ভজ-কৃষ্ণ ভগবান
অপরাধ ছাড়ি কর কৃষ্ণসঙ্কীর্তন।
অচিরাতে পারে তবে কৃষ্ণের চরণ। ঐ। ঐ
২৭। যতি হঞা জিহবালম্পট—অত্যন্ত অন্যায়।
যতিধর্মপ্রাণ রাখিতে আহার মাত্র খায় ঐ। ৩৬পৃঃ
২৮। ব্রহ্মস্ব-অধিক এই হয় এখন।
তাহা হরি ভোগ করে মহাপাপী জন। ঐ। ৩০৯পৃঃ
২৯। সেই ধন করিহ নানা ধর্মকর্মে ব্যয়।
অসদ্ব্যয় না করি, যাতে দুইলােক যায়। ঐ। ৩১১পৃঃ
৩০। প্রভু কহে-সন্ন্যাসীর নাহি তৈলে অধিকার।
তাহাতে সুগন্ধিতৈল গরম ধিক্কার ॥ ১২পং। ৩২২পৃঃ
৩১। মথুরার স্বামিসভার চরণ বন্দি।
দূরে রহি ভক্তি করি, সঙ্গে না রহিবা ।
তাসভার আচার চেষ্টা লৈতে না পাৰিবা .
শীঘ্ৰ আহি, তাই না অয়ি চিরকাল।
গগাবর্ধনে ন চঢ়িহ দেখিতে গােপাল১৩।৩২৪পৃঃ
৩২। ক পিতা-মাতা যাই কর সেবন।
বৈষ্ণবপাশগবত কর অয়ন। ৩২৬
৩৩। ভাগৰত পঢ় সা নকয়নাম।
অচিরে করিবে কৃপা কৃষ্ণ ভগবান
গৌরাঙ্গের উপদেশ।
৩। চঞ্চল স্বভাব কৃষ্ণের, ন য় এক হানে।
দেখা দিয়া মন হরি করে অন্তর্ধানে ॥১৫পং। ৩৩৪পৃঃ
৩৫। প্রভু কহে—এই যে দিলে কৃষ্ণাধ মৃত।
ব্ৰহ্মাদি-দুল্লভ এই নিয়ে অমৃত।
কৃষ্ণের যে ভুক্তশেষ—তার ‘ফেলা” নাম।
আর এক লব পায় সে-ই ভাগ্যবান।
সামান্য ভাগ্য হৈতে তার প্রাপ্তি নাহি হয় ।
কৃষ্ণের যাতে পূর্ণ কৃপ-সে-ই তাহা পায় ।
‘কৃতি’-শব্দে কত, কৃষ্ণকৃপাহেতু পুণ্য।
সেই যার হয় ‘ফেলা পায় সে-ই ধন্য ॥১৬পং। ৩৩৮পৃঃ
৩৬। প্রভু কহে—এইসব প্রাকৃত দ্রব্য।
ঐব কপূর মরিচ এলাচি ল গব ।
বসবাস গুড়ত্ব-আদি যত সব।
প্রাকৃত বস্তুর স্বাদু সভার অনুভব।
সেই দ্রব্যের এই স্বাদু-গন্ধ লােকাতীত।
আস্বাদ করিয়া দেখ সভার প্রতীত।
আস্বাদ দূরে বহু, যার গন্ধে মাতে মন।
আপনা বিনু অন্য মাধুৰ্য করায় বিস্মরণ।
তাতে এই দ্রব্যে কৃষ্ণাধৰস্পৰ্শ হৈল।
অধরের গুণসব ইহাতে সঞ্চারিল।
অলৌকিক গন্ধ স্বাদু-অবিস্মরণ।
মহামাদক হয় এই কৃষ্ণাধরের গুণ।
অনেক কৃতে ইহার হাছে সপ্রাপ্তি।
সতেই আস্বাদ কর করি মহাভক্তি ।ঐ।৩৩৮-৩৩৯পৃঃ
৩৭। পরম দুল্লভ এই কৃষ্ণাধরামৃত।
তাহা যেই পায়ু ৩রি সফল জীবিত ॥ ঐ। ৩৪ পৃঃ
আগৌরাঙ্গের উপদেশ ।
7 স্বাদন।
৩। হর্ষে প্রভু কহেন স্বরূপ রামরায় ।।
নামসঙ্কীৰ্ত্তন কলো পরম উপায়।
সংকীৰ্ত্তনৰতে করে কৃষ্ণ-আরাধন।
সেই ত সু, ধা পায় কৃষ্ণের চরণ।। ২০পং। ৩৫২পৃঃ
নামসঙ্কীৰ্তন হৈতে সানর্থনাশ।
সৰ্বশুভোদয় কৃষ্ণপ্রেমের উল্লাস।
সংকীৰ্ত্তন হৈতে—পাপ-সংসার-নাশন।
চিত্তশুদ্ধি, সবভক্তিসাধন-উদগম।
কৃষ্ণপ্রেমােসম, প্রেমামৃত
কৃষ্ণপ্রাপ্তি, সেবামূতসমুদ্রে মজ্জন ॥২০পং। ৩৫৩ পৃঃ
যেরূপে লইলে নাম প্রেম উপজায়।
তাহার লক্ষণ শন স্বরূপ রামরায় ।
উত্তম হঞা আপনাকে মানে তৃণাধম।
দুই প্রকারে সহিষ্ণতা করে বৃক্ষসম ।
বৃক্ষে যেন কাটিলেহ কিছু না বােলয়।
শুখাইয়া মৈলে কারে পানী না মাগয় ।
যেই যে মাগয়ে, তারে দেয় আপন ধন।
ঘৰ্ম্ম-বৃষ্টি সহে, আনের করয়ে রক্ষণ।
উত্তম হঞ বৈষ্ণৰ হবে নিরভিমান।
জীবে সম্মান দিবে জানি ‘কৃষ্ণ-অধিষ্ঠান'।
এইমত হএ যেই কৃষ্ণনাম লয়।
কৃষ্ণের চরণে তার প্রেম উপজয়। ২০পং। ৫৩
ইতি চৈতন্যচরিতামৃতপ্ৰাক্ত গৌরাঙ্গেকে
তপক সমান্ত।
A fc 1k
'hirt
( Ltd. 13
প্রভুপাদ শ্ৰীযুক্ত অতুলকৃষ্ণ গােম্বামী কর্তৃক প্রত ভক্তের জয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃ : উল্লাস,–গঙ্গা যমুনা ও সরস্বতী। এই ত্রিধারায় স্নান করিলে ত্রিতাপ জ্বালা জুড়াইয়া যাইবে, শশাকেব সন্তাপ—রােগেব যন্ত্রণা অন্তর্হিত হইবে,ভগবৎপ্রেমে মনপ্রাণ পুলকিত হইয়া উঠিবে। প্রথম উল্লাসে,-গণপতি ভট্ট, বলরাম দাসের রথযাত্রা, দীনবন্ধু দাস, বিশ্বম্ভর দাস, বন্ধু মহান্তি, রঘু অরক্ষিত, দামােদব দাস এবং কৃষ্ণপ্রিয়ার পত্র,-এই আটটি ভক্ত চরিত্র আছে। দ্বিতীয় উল্লাসে,—গৌরচন্দ্র, জগদ্বন্ধু মহাপাত্র, গােবিন্দ- দাস, গীতা-পণ্ড, শান্তোবা, জগন্নাথ দাস, গঙ্গাধব দাস, মণি দাস, রাম বেহেরা, নারায়ণ দাস এবং বালিগ্রাম দাস—এই এগারটি ভক্তচরিত্র আছে। তৃতীয় উল্লাসে-সালবেগ, রাম দাস, বঘু দাস, গােপাল, পরমেষ্ঠি সিপুটি, মাধবাচাৰ্য, জোর কীর্তিচন্দ্র, অনন্ত 'র, দাস, বালকরাম দাস, নন্দ মহান্তী, নীলাম্বর দাস এবং তুলসী দাস,-এই তেরোটি ভক্তচরিত আছে। সকল চরিত্রই চির। সকল উল্লাসই উত্তম বাঁধাই রা। প্রতি উল্লাসের মূল্য ১ এক টাকা। ডাকমাশুল ।
লীলা। নানা নিধি। প্রভুপাদ যুক্ত অতুলকৃষ্ণ গােস্বামী মহাশয়ের ভক্তিরস- প্রধান প্রসিদ্ধ প্রবন্ধাবলী। সরল ও সরস ভাষায় এরুপ শিক্ষাপ্রদ সদগ্রন্থ আর নাই। রঙ্গরসেয়—ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভিতর দিয়া শাস্ত্রীয় জটিল তত্বে মীমাংসা এই গ্রন্থেই দেখিতে পাইবেন। পড়িতেপড়িতে হাসি হাসিতে হইবে, আবার ভগবৎ- প্রেমে কাদিতেও হইবে। কি কি প্রবন্ধ আছে,দেখুন। ১। নূতন বৎসর। ২। দশহরা। হিন্দোল ৪। সেকালের নন্দোৎসব। মামে বােধন। ৬। মা এলো। ৭। গৌরপূর্ণিমার জয়। ৮। গৌর এলো । ৯। এলদোত নীলা। ১০। হােলি হ্যায়। ১১। ফাগুনের ফাগুখেলা। ১২। নামব্রহ্মের অবমান'। দেবতার ১৪। ভগবান্ ভিখারী। ১৫। হাম মারা হ্যায়। ১৬। দৈব ও পুরুষকার। ১৭। বুড়ার বড়াই। ১৮। ছোড়ার বড়াই। ১৯। বর্ণাশ্রমধর্ম। ২০। নকলে সকল নষ্ট। চাতক-গভাষণ। ২২। পিনের কোকিল। ২৩। বায়সকোপ। ২৪। জলি বোট। ২৫। বয়। ২৬। ফুটবল। । এই সিগনাল। ২৮। ধর্মস্য সুক্ষ্মা গতি। ২৯। মনােনয়ের স ৷ উপায়। ৩। মাতৃদর্শন। উৎকৃষ্ট কাগজে ছাপা, উৎকৃষ্ট বাধা-বু। মুল্য ১১ এক- টাকা মাত্র। ডাকল ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.