Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Khokababu Prasange
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
খােকাবাবু
প্রস,
ঙ্গে।
BY
S. B. ARTIUM BACCALAUREUS.
(Late tutor to the young princes, and photographer to
H. H. the late Maharajah Bahaduwit
Tippera , author of Kdhism
H
a
রেবতীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়
কলিকাতা, ৪নং উইলিয়ম লেন,
দাস যন্ত্রে,
শ্ৰীঅমৃতলাল ঘােষ দ্বারা মুদ্রিত।
১২ই জানি, ১৩ সন।
মূল্য-/• পাঁচ আনা।
No text on this page.
বক্তব্য। স্ত্রীলােক মাত্রই কবি। বহু দিন হয় ‘এ’ নদীর তটে বসিয়া এক মহাপুরুষ বলিয়া গিয়াছেন, কবি, প্রেমিক ও পাগল—এক জাতীয়। আবার, আমরা জানি, এক জাতীয় পদার্থ মাত্রই পরস্পরে পরিবর্তনীয় ; যেমন, জড়জগতে তাড়িত তাপ ও চুম্বকত্ব ; মনােরাজ্যে প্রীতি ধর্ম ও উপচিকীর্ষা। সুতরাং যদি দেখান যায়, স্ত্রীলােক-প্রেমিক ও পাগল, তবেই বোধ হয় প্রথম প্যারাগ্রাফের সূত্রটীর ভাষ্য সম্পূর্ণ ও বিশদ হইল মনে করিতে পারি। স্ত্রীলােক প্রেমিক, ইহাও কি আবার বুঝাইতে হইবে ? এই যে আমরা এক শ্মশাল জাতি,—আমরা গিরি-গাত্র বিদারণ করিয়া বাষ্পীয় শকটের পথ করিতে পারি, পঞ্চদশ শতাব্দীর সামান উপকরণ লইয়া, আটলান্টিকের পরপরস্থ এমেরিকা আবিষ্কার করিতে পারি, ব্যোম পথে উত্তরকেন্দ্ৰ পৰ্যবেক্ষণ করিতে পারি, সুয়েজ কেনেল কাটিয়া বাণিজ্য সুগম করিতে পারি, ওয়াটার ভীষ যুদ্ধ করিতে পারি, বিষ মার্কীয় কূটনীতি চালাইতে পারি, রামায়ণ বা ইলিয়ড, লিখিতে পারি, মধ্য-আফ্রিকার রহস্য-ভেদ ও নীলনদের মূলােদ্ধার করিতে পারি; টেলিগ্রাফ, ফনােগ্রাফ বা বুঞ্জেনের ফটোগ্রাফ উদ্ভাবন করিতে পারি ; ক্রমবিকাশত ৰা নিজস্ব নহে; প্রাকৃতিক-নির্বাচন-বাদ উত্থাপন, নূতন ধৰ্ম্ম বা নূতন উপনিবেশ সংস্থাপন করিতে পারি; গগন-বিহারিণী বারিদ-বিলাসিনী সৌদামিনীকে মন্ত্রবলে আকর্ষণ করিয়া নাট্যশালার কাচ-গােলকের ভিতরে পূরিয়া রাখিতে পারি, নায়েগ্রা জলপ্রপাতের মত প্রকৃতির উন্মত্ত উল্লাস হইতে স্বীয় কার্যোদ্ধার করিয়া লইতে পারি ; এবং ‘ইফেল টাওয়ার’ বা ‘স্ফটিক প্রাসাদ, তাজমহল বা পিরামিড গড়িতে পারি, আমরা সব পারি; কিন্তু পারি না কেবল প্রাণ ভরিয়া, মন খুলিয়া, প্রেম করিতে; ঐ অপবাদ আমাদের নাই। আমাদের মধ্যে ডেভিমােনা বা দময়ন্তী নাই, রেবেকা বা জানকী নাই। আমরাও সময়ে সময়ে ভালবাসি বটে, কিন্তু উহা আমাদের উহা আমাদের অস্থিমজ্জার সহিত সংস্লিষ্ট নহে। উহা যেন উক্তি তাড়িত, (Induced electricity); কাছে থাকিলেই আছে, দূরে গেলেই নাই। আমাদের প্রতি স্ত্রীজাতির যে স্বভাবজাত ভালবাসা আছে, উহা তাহারই সাক্ষাৎ ফল-এবং সেই জন্যই উহা এত ভাসা ভাসা রকমের। যতক্ষণ আমাদের নয়নমুকুরে রমণীর মুক্তি প্রতিফলিত থাকে এবং যতক্ষণ উহার নবীনত্বের জাতিবর্ণ-উচ্ছেদিনী উন্মাদিনী মাদকতা থাকে, ততক্ষণই “প্রাণেশ্বরি! My Darling !” ; তাহার পরে ঘটনাক্রমে ঐ মূর্তি, স্থান ও কালের অন্তরালে পড়িলেই, “দূরােক বালাই Very busy.”। প্রত্যুষে দুর্গানাম-মুখে, কেশ বন্ধন করিতে করিতে গৃহ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া, ছত্রাকারে বিন্যস্ত কোমল করপল্লবের উপরে, পূৰ্ব্ব-দিনের অশুচি ভােজনস্থালী প্রভৃতি স্থাপন হইতে গভীর রাত্রে রন্ধনশালার জঞ্জাল সংবরণান্তে পাদমূলে জলসিঞ্চন করিয়া শয়ন-গৃহে প্রবেশ পৰ্য্যন্ত,-এমন কি শয্যাপরি সুকুমারী দেহলা অনাদৃত ভাবে বঙ্কিম-ভঙ্গীতে শায়িত করিয়া নিদ্রিত না হওয়া পর্যন্ত, বিদেশগত অকৃতজ্ঞ স্বামীর বিষয় পরিচিন্তন ও রােমন্থন করা নারীজাতির পক্ষেই সম্ভবে ; রমণীর ঐ শক্তির অস্তিত্বে পুরুষ বিশ্বাস করিতে পারিলেই, সংসার আপনাকে সৌভাগ্যবান্ ও উপকৃত মনে করে, এবং প্রেত-পিশাচের লীলাস্থল না হইয়া, সাধু- মহাপুরুষগণের বাসযােগ্য হইতে পারে। কেহ কেহ বলিতে পারেন, যদি পুরুষের ভালবাসা নারীর প্রেমেরই সাক্ষাৎ ফল হইয়া থাকে, তবে পুরুষে পুরুষে ভালবাসা হয় কিরূপে? তাহার উত্তরে এই বলিতেছি যে ঐ শেষােক্ত প্রকারের ভালবাসা, কসাই-বাড়ীর কামধেনুর ন্যায় বা গণিকালয়ের তুলসীর ন্যায় জীবত ও গৌরব- চ্যুত; আর তাহাও বুঝি দাম্পত্য প্রেমেরই বিদ্রুপানুকৃতি (Parody) মাত্র। যেমন ধৃত ভিন্ন যজ্ঞ হয় না, সেইরূপ স্ত্রীলোক ভিন্ন প্রেম হয় না। সেই জন্য প্রকাণ্ড-কায় ‘হইলেণ্ডার’ প্রেম শিক্ষার জন্য কৃশাঙ্গী অবলার মুখের দিকে দৃষ্টি সংবদ্ধ করিয়া, ভূনতজানু অবস্থান করে। স্ত্রীলােক না থাকিলে সংসার হইতে ভালবাসার কথা উঠিয়া যাইত ; রাধা কৃষ্ণ, রােমিও জুলিয়েট ও লয়লা মজনুর কাহিনী শুনা যাইত না; এবং প্রসঙ্গতঃ বলিতে পারি যে, এই সুশােভন সরস সংসার বিকট নীরস মরুভূমির মত হইত, মাধবী মালতীর স্থান সগর্বে ভাণ্ডী কষ্টিকারী অধিকার করিত, আম্র কন্টকীর স্থানে সশব্দে ঝাউ অশ্বখ দাঁড়াইত। শেবার স্ত্রীলোক পাগলও বটে ; নহিলে দিনান্তে যে রমণীর মুখে তুলিবার কিছু নাই, যাহার সমস্ত পরিধেয় বসন তন্ন তন্ন খুঁজিয়াও সূচি সূত্র এক মুহূর্তের জন্য আশ্রয় পায় না, তাহারও আবার সন্তান-লিপ্সা দেখিতে পাই কেন ? তাহার মস্তিষ্ক- বিকৃতি না হইলে, সে, জ্ঞানাঙ্কুর-লশ-বর্জিত শিশুর কাছে আগ্রহ পূর্ণ করশিরঃসঞ্চালন সহকারে কতকগুলি অর্থশূন্য বা দ্ব্যর্থভাবাপন্ন অসঙ্গতি-দুষ্ট বাক্যের প্লতােচ্চারণ দ্বারা এত আমােদ পায় কেন? কি থােক যে সময়ে শয্যার উপরে সর্ষা ফুল ছড়াইতে ব্যস্ত, অথবা যখন সে সেই ফুলশয্যার সহিত গাঢ় আলিঙ্গনে সংবদ্ধ ও পার আনন্দে নিমগ্ন, তখন তাহাকে তাহার স্নানাহার বা জনক জননী সম্বন্ধে পুরাতন প্রশ্নে বিব্রত করে কেন? তাই বলিতেছিলাম স্ত্রীলোেক কবি। সেই জন্যই সে কবিতার আবৃত্তি করিতে এত ভালবাসে ও কবিতাত্মক প্রবচন সমুহ এত যত্নের সহিত কণ্ঠস্থ করে। পুরুষ যে সময়ে ভূ-তত্ত্ব বা সমাজ- তত্ত্বের কঠিন সমস্যার মীমাংসায় ঘর্মাক্ত-মস্তক, বার্ষিক-রিপাের্ট বা সূদের হিসাব লইয়া কুঞ্চিত-ললাট, রমণী হয় ত সেই সময়ে টেনিসন বা রবীন্দ্রনাথ, “সচিত্র প্রণয়-সঙ্গীত” বা “রাজকুমার বাবুর কবিতা” লইয়া ব্যাপৃত। অার শিশুরাও প্রত্যেকে এক একটা “ডি” সংস্করণের কবি। কবিতা পাইলে তাহারা আগ্রহের সহিত মুখস্থ করে ও উৎসাহভরে আবৃত্তি করে ; প্রাতঃ-সূৰ্য্য বা নৈশ-চন্দ্রমা দেখিয়া কবির ন্যায় আমােদে বিহ্বল হয়। স্ত্রীলােক ও শিশু উভয়েই এইরূপ কবিতাময়-জীবন বলিয়া, অামরা অনেক সময়ে দেখিতে পাই যে, জননী সন্তানকে নিদ্রাতুর করিবার সময়ে ধীরে ধীরে তাহার পৃষ্ঠে সুকোমল করাঘাত করিতে ছেন ও সঙ্গে সঙ্গে একটা কবিতা আবৃত্তি করিতেছেন,—আর শিশু সুখাবেশে নয়ন মুদ্রিত করিয়া, কাণ ভরিয়া কবিতা শুনিতেছে । মুখ ভরিয়া স্তন্য পান করিতেছে। কখন বা দেখিতে পাওয়া যায় / মা সন্তানের মুখচ্ছবিতে ঝটিকার প্রাক্কালীন আকস্মিক গাম্ভীৰ্য্য দেখিতে পাইয়া, একটা সৃষ্টি-বিপ্লবি কাণ্ডের আশঙ্কায়, তাহাকে ক্ষিপ্রহস্তে কে না একটা কবিতা শুনাইয়া দিতেছেন,—আর তাহার : বিগ ; অজল গওদেশের অন্ধি পথ যাইতে না যাইতে ওকাতে। অার কইবার সময়ে এইরূপ দুই একটা কবিতার অনুগ্রহে অনেক গৃহস্থ। ভোজনস্থালী ও মৃন্ম: পাত্রের আয়ু বৃদ্ধি পায় থাকে, তাহা সকলেরই জানা আছে। সাংসারিক কাইভে গ সুর পাইয়া, মা যখন তাহার সন্তান লইয়া অ ল :তে সেন, তখন কবিতার ভাষায়ই সম্ভাবা- জিজ্ঞাসা টা থাকে। কি. র বিষয়, এদেশের মহিলাগণ এই সকল স্থলে যে সমস্ত বই, ' ব্যবহার কয়ি থাকেন, তাহার অধিকাংশই অর্থ- শূন্য হি, বিজি ক্ৰি বিশেষ। এই দুরবস্থা 'আমি স্বয়ং স্বীয় সন্তানে (লা। অভ : রিয়া বর্তমান ক্ষুদ্র গ্রন্থ প্রচার করিলাম। প্রাচীর। ::;+লে বগৎ পরিত্যাগ করিয়া বেরা দাঁতে পানা মুৰ এই সৰ প্ৰ কবিতা আওড়াবেন, সে দুরাকাঙ্ক্ষা আমার নাই ; নীনারা, বিশেষতঃ নূতন কারিগরেরা, এই পুস্তক অন্ততঃ দু দিনের জন্যও স্ব স্ব উপাধান-তলে রাখিলে সকল শ্রম সার্থক মনে করব । এই গ্রহ প্রণয়ন বিষৰে শ্ৰমতী সু—ও শ্ৰীমতী কু—আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করি ; ন। তঁহাদের নিকট আমি দুচ্ছেদ্য কৃতজ্ঞতা-খনে আবদ্ধ 'আছ। আর যে প্রাণাধিক প্রিয়তম ক্ষুদ্র জন্তুটীর মনে নর্থ এই কবিতাগুলি প্রথম রচিত হইয়াছিল, সর্বোপরি তাহার কাছে আমি ঋণী আছি। তাহার মুখচ্ছৰি } ly ; ; এক অতুল মহাকাব্য, তাহার প্রতি কথা এক সুমধুর কবিতা; তাহার কোমল মধুর কণ্ঠস্বরে প্রথম “বাব, বা” সম্বােধন আমার বেসুরে-বাঁধা জীবন-তন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রিত করিয়াছে, তাহার অমীয়-মাথা স্বর্গীয়-জ্যোতিরুদ্ভাসিত মুখমণ্ডলের মেহাকর্ষণ আমার বিপথে ভ্রাম্যমান জীবনগ্রহকে সংযত ও কক্ষগত করিয়াছে, তাহার চম্পক- কলিবৎ ক্ষুদ্র অঙ্গুলিস্তবকের স্পর্শ আমার কত সুষুপ্ত সাধ ও অতৃপ্ত বাসনা জাগরিত করিয়া তুলিয়াছে ; সংক্ষেপে তাহার অত্যুদয় অামার জীবনের প্রােগ্রামকে আদ্যোপান্ত পরিবর্তিত করিয়াছে। তাহার আসিবার আগে কোথায় যাইতেছিলাম, জানি নাই ; কি করিতেছিলাম, দেখি নাই ; কি হইতেছিলাম, ভাবি নাই। সহসা তাহার শুভাগমন-বার্তা শুনিয়া থমকিয়া ‘ড়াইলাম, সে আসিয়া মমতার শৃঙ্খল পায়ে পরাইল, মত্ত-মতিঙ্গ শুদ্ধ-শান্তি হইল, দস্যু রত্নাকর মহর্ষি বাল্মীকি হইল। হায়! ইহাই লইয়া মানু- ষের এত গর্ব! এত আত্মশ্লাঘা ! এত ‘স্বাধীন’ সমালােচনা! এত ব্যক্তিগত আক্রমণ ! একটী স্কু খসিলে, কাহার জীবন-যন্ত্রের কত শশাচনীয় পরিণাম হয়। একটা উপল-খণ্ডে বাধা পাইলে কাহার জীবন-স্রোতঃ কোন্ দিকে প্রধাবিত হয় ! একটা শূন্যের আধিক্যে কাহার জীবন-অঙ্কের কি ফল দাড়ায়। একটা অনুরের অভাবে কাহার জীবন-শ্লোকের অর্থ কত পরিবর্তিত হয়। লর্ড বায়রণ খোঁড়া না হইলে, কবি হইতেন কি না সন্দেহ। নুর- জাহানের মুখে একটা বড় রকমের তিল থাকিলে হয় ত জাহাঙ্গীরই আকবর হইত। আর যােবাইর মতিগতি অন্যরূপ হইলে হয় ত, ‘মহাত্মা’ আকবরই ‘স্বৈরাচার’ জাহাঙ্গীর হইতেন। সুরেন্দ্রনাথের নামের পেছন হইতে ‘সি-এস্ শব্দ মুছিয়া না গেলে, আজ তাহার |vo অগ্নিস্ফুলিঙ্গ-বর্ষিণী বিদ্যদ্দামময়ী বক্তৃতা শুনিতে পাইতাম কি ? এক দিকে যেমন অনেকেই ঘটনার তাড়নে চোর দস্যু, অন্য দিকেও আবার তেমনি অনেকে ঘটনার পীড়নে সাধু সন্ন্যাসী। রঙ্গালয়ের অভিনেতা যেমন উদরের জ্বালায় কৃষ্ণ সাজে, এই সংসার-নাট্য- শালারও অনেকে দায়ে ঠেকিয়া সাধু পুরুষ সাজে। মকমলের ভিক্ষার ঝুলি লইয়া কয়জনকে বৈরাগী হইতে দেখা যায় ? কৈ ? সােণার করঙ্গ লইয়া তাে কেহকে সন্ন্যাসী হইতে দেখিলাম না। যা, আমি কি বলিতে কি বলিতেছি ! এখন আমি আয়ুষ্মতী বঙ্গীয় পাঠিকাদের হস্তে আমার খােকাবাবুকে সমর্পণ করিয়া এ বারের মত বিদায় হইলাম। আমি লাহ্মণ, আশীৰ্ব্বাদ করি তাহারা স্বামীর সােহাগে, শ্বাশুড়ীর অনুরাগে, পুত্র-দুহিতা লইয়া সুখে থাকুন, তাহাদের হাতের লােহ সীথার সিন্দুর অক্ষয় হােক। হরি বােল হরি। ২০শে ভাদ্র, ১৩০৪ সন। গ্রন্থকার। ধলা, মৈমনসিংহ।
No text on this page.
উপহার।
প্রিয়তমে।
কি এনেছি দেখ একবার
শরতে মত-ধামে,
ছায়াপথে অই নেমে,
সিংহ-বাহিনী মাতা আসিছে আমার,
কর্মসূত্রে ঘূর্ণিপাকে
যে আজি বথায় থাকে,
আসিতেছে হাসি মুখে গৃহে আপনার।
চিঠির সে “প্রাণনাথ”
লিখেছিল যেই হাত,
সে হাত লইবে টানি বুকের মাঝার।
আলু সিদ্ধ ভাত খালি,
তাহে সাহেবের গালি
রােজ রােজ মুখ-শুদ্ধি-কি ঝাল bitter!
একে হাড়-ভাঙা খাটনি, তাহাতে বিদ্ঘুটে চাটনি
কাণে ধরে ঘড়ী দেখা--‘নিগার’ ‘শুয়া ;
এই দশ বার দিন,
এসব হবে তত লীন,
হাত পুড়ে পাতলা ডাল-মা-গঙ্গা’ আকার,
কোন দিন পােড়া নূনে,
কোন দিন বা আলনে,
‘পকেট এডিশন’ কভু-হাতার সম্ভার ;
লাল মুখ কটা চোখ,
ক'দিন দূরেতে থােক,
পদ্ম-আখি ইন্দুমুখী আসুক এবার ;
পাশরিয়ে ডকেটিং,
সঙ্গী নিয়ে গুটী তিন,
দাবা তাস ঘূৰ্ত্তি হাস ইয়ার্কি অপার ;
সে আজি বড়-সাহেব ‘হউসে তাহার।
কি আনন্দ আজি সবাকার!
যে যার জনের তরে,
আনিয়াছে থরে থরে,
কেরেপ, বম্বাই চীনে শাড়ী গু-বাহার;
মল্লিকের সে কালী, —চব্বিশে চৌদ্দর কলি,
অতি প্রিয়তম চিজ, যত ছেলের মার ;
“ভিনলিয়া* খান চার,
ব্লম্ রােজ-পাউডার,-
যৌবন যাহাতে বাঁধ নিয়ত দুয়ার ;
উল ফিতে লেভেণ্ডার,
‘কুন্তলীন’ বসুজার,
‘ফুলেলা’ অটো-ডি-রােজ—সৌরভ-সম্ভার।
বডী জামা শাটীনের,
তার সঙ্গে ছেলেদের
টুপী ফ্র অয়েল-ক্লথ বিস্কুট খাবার ;
নূতন ফেশনে দুল,
মাথায় সােণার ফুল,
ঝিক্ মি গলে চি, চারু চন্দ্রহার ;
ঘরে ধারে মিলে যত,
নিয়ে আসে সাধ্য মত,
পূজা দিতে আপনার গৃহ দেবতার ;
হৃদয়-মন্দির মাঝে, যে মূর্তি সদা বিরাজে,
অশ্রু-জলে অভিষেক প্রতিদিন যার ;
স-চুম্বন আলিঙ্গনে,
—স-চন্দন পুষ্পগণ,
হইবে অর্জন আবিষােড়শােপচার ;
দক্ষিণা হৃদয় খানি—অটুট উদার।
আমি প্রিয়ে কি দিব এবার ?
কোথা পাব শাড়ী চূড়ী ? মাস অন্তে তিন কুড়ি
পাই তঙ্কা, তাই শঙ্কা হৃদয়ে আমার,
কি নিয়ে দাঁড়াব কাছে,
কি বল সম্বল আছে ?
জান তত ঘরের বার্তা—কি কহিব আর।
যাহা আনি তা-ই খাই, কিছু না রাখিতে পাই,
জমা-খরচের খাতা অতি পরিস্কার,
বরং কোন বা মাসে,
বেশী নামে ডান্ পাশে,
বিস্ময়ে চাহিয়ে থাকি-রহস্য অপার।
প্রভাতে বেড়াতে যেতে,
হয় তাে নিরখি পথে
বিশাল গােয়ালামুৰ্ত্তি—ধবল পাহাড়,
পেয়াদা একটা সাথে,
( রঙিল বসন মাথে,)
ক্রো দিবে বাড়ী ঘর-একি সমাচার।
কবে নাকি টাকা ধার, নিয়ে ছিনু আমি কার,
আমারি ল দিতে হবে—রাজার বিচার !
একি গদ্যময় বাণী ।
আমি শুধু এই জানি,
কারাে টাকা কারাে নয়—সকলে টাকার।
তবে কেন তার তরে,
এ ওরে নালিশ করে?
তারি শুধু প্রাপ্য টাকা, যার দরকার।
৬০
হয়ে যায় ছন্দোভঙ্গ,
হয় রক্ত-বাত,
জবা ফুল দেখে ভুল-পেয়াদা আবার?
সাধের সাঝের রবি
নেহারি গলে না কবি,
ভাবি ফের নীলমের এল ইস্তাহার ;
এমনি কপাল খানা-অতি চমৎকার।
তাই ভাবি কি দিব এবার।
অনেক ভাবিয়া মনে,
আনিয়াছি সযতনে,
খােকাবাবু প্রসঙ্গে“নব উপহার
যা কিছু দিয়েছি আগে, এর কাছে নাহি লাগে,
হীরা চূণী পান্না মণি, কি ছার অসার!
এবার ইহাই লও,
হাসি মুখে কথা কও,
ধুরে বসাে, কাছে এসাে, মিনতি আমার ;
আবার আসিলে পূজা,
বাচালে মা দশভুজা,
যা চাহ তা দিব আনি র’ল অঙ্গীকার ;
তা যদি অন্যথা করি,
করে শয্যা গৃহান্তরী,
“আছি গাে তারিণি ঋণী” চরণে তােমার,
যায় বাতি, যায় রাতি, এসাে একবার।
তােমার
সাহেব।
খােকাবার প্রসঙ্গে।
আয় আয় আয়।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার মণি,
দুধ নিয়ে বসে আছে অই তাের জননী।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার বাবা,
পিতা তাের বসে আছে নিয়ে পানের চাবা।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার পরাণ,
ঠাকুর দাদা সেজে আছে কেটে নিবে কাণ।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার গােপাল,
ছােট মামা বসে আছে চুমিয়ে দিবে গাল।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার বাছা,
বড় মাসী খুজে মল দেখা দিয়ে বাঁচা।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার সােনা,
দিদিমারা বসে আছে কামড়াবে তাের ‘নােনা।
আয় আয় আয়-আয়রে খােকাবাবু,
‘রঙী বিড়াল তােয় না দেখে হয়েছে বড় কাবু।
( ২ )
আয় আয় আয়-আয়রে আমার ধন,
‘নিদ্ৰাপতি ঠাকুর’ বসে আছে তাের কারণ।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার যাদু,
গন্ধরাজ ফুটে আছে দিতে তােরে মধু।
আয় আয় আয়-আয়রে আমার মাণিক,
আকাশে চাঁদ উঠে আছে কপালে দিতে চিক?
আয় আয় আয়-আয়রে আমার রতন,
ঝাকে ঝাকে উঠছে তারা দেখতে তাের বদন।
খােকার ঘুম।
ঘুম যাদু ঘুমা,
মামারা তাের আবে এখন, খাবে গালে চুমা।
এখন নৈলে ঘুম
আর কি সময় পাবি, লাগবে কোলে উঠার ধুম।
একটু খানিক পরে
মাসীমারা আবে সেজে, রঙা কাপড় পরে ।
কাল নাকি বিকালে
মামীরা তাের রাগ করেছে, পায়নি নিতে কোলে।
পাড়ার যত মেয়ে
দলে দলে নিতে কোলে আছে সবে ধেয়ে ;-
কুসুম, শৈলী, হেমী,
কাদী, সদী, নয়ন-তারা, মুক্তকেশী, গােমী,
ভুবন, সরােজিনী,
সুরী, বুড়ী, পাচী, বুচী, বেঙী, তরঙ্গিনী।
আসলে পরে তারা,
কেউ নিবে পাতালি কোলে, কেউ বা নিবে খাড়া।
তাই বলিরে মণি,
এই বেলাটী মায়ের কোলে ঘুমাও একটু খানি।
দণ্ডেক থানির তরে
অঙল-চোষা রেখে দিয়ে থাক চুপটা করে।
আসবে তবে ঘুম,
সকল ছেলে ঘুমায় এখন-পৃথিবী নিঝুম।
তুমি কেন শুধু
এমন সময় জেগে আছি-ঘুমাও আমার যাদু।
ঘুমাও আমার ধন,
সােনার আমার অই যে মু'দে আছে দুনয়ন ।
চুপ কলাে তোরা,
খোকাবাবুর আছে ঘুম,—পাখী পড়লে ধরা।
আমার সােণার পাখী
সারা দিন যে হাসে খেলে, সেইটী ভাল দেখি।
কত রঙ্গই করে,
এক দণ্ড সুস্থির নয় কেবল নড়ে চড়ে।
যেবা যখন ডাকে,
ডানা মেলি উড়ে এসে পড়ে তারি বুকে।
এই যে ঘুমে আছে,
রাঙ্গা একটা হাসি জেগে আছে ঠোটের কাছে ।
( ৪ )
ওরে পাগল পাখি,
ইচ্ছা হয় বুকের মাঝে পূরে তোরে রাখি।
কোন্ বনেতে ছিলি?
নন্দন-বন হতে বুঝি উড়ে হেথায় এলি ।
তাই সে তাের গায়
আজ পর্যন্ত স্বর্গের গন্ধ টাটকা পাওয়া যায়।
বলতে সত্য করি,
মুলে নাকি তাের কাছেতে আসে স্বর্গের পরী ?
মা সর্বমঙ্গলে,
তােমার কাছে রইল থােকা, আমি গেলাম চলে।
রাম নাসিং হরি।
বাচাইয়ে রাখ থােকায়, দিব চাকর করি।
ঘুমাও রে ধন বাপু,
চুপ কলাে কল্লা মাগি,
-সকলে চুপ চাপ্।
ফের যে কথা বলে,
খােকাবাবুর বিহানে-গু ঢেলে দি তার গলে।
মাণিক যায় ঘুম,
সকলে বল ‘টু’।
‘কল্লা'-কাপন-সভা,(পূর্ববঙ্গে প্রচলিত।
( ৫... )
খােকার বিয়ে ।
খোকাবাবু কবে বিয়ে
সােণার মুকুট মাথায় দিয়ে।
বাদ্য-ভাণ্ড
করে
বৌ লইয়ে আসবে ঘরে।
ফুটবে বাজি হর্ রকম
হাউই তুবড়ী মাতা বম্।
পাড়ার যত ছেলে মেয়ে
পাল্কীর কাছে যাবে ধেয়ে।
হুমাহুম্ শব্দ করে
পাল্কী আসবে সদর দোরে ।
হুলুধ্বনি চারি দিকে,
লোকের মাথা খাবে লোকে।
কােট খুলি তাড়াতাড়ি
বৌ আবাে কোলে করি ।
পীরি পেতে বসবাে তখন
দুই কোলে বসাব দুজন।
সােণায় দেখবাে সোণা মুখ,
সে দিন আমার কত সুখ।
বুড়ী খুড়ী হলে পরে
আপনি বসে থাকবাে ঘরে।
কাজ তো কবে পুত্রবধূ
হুকুম্ হাকুম . আমার শুধু।
চাকরী করে বাবা আমার
টাকা আবে হাজার হাজার।
সকল দিবে আমার হাতে,
খরচ কবে ইচ্ছা মতে।
কাণ
গয়া বৃন্দাবন,
করূবাে সকল পৰ্যটন।
পৌত্র-মুখটা দেখে মরি,
এইটা যেন করেন হরি।
খােকার আবাহন।
যালাে ঝি তুই দেখে আয়,
থােকা আমার গেল কোথায়,
সে বিনে ঘর আঁধার প্রায়,
তার দুধ বিড়ালে প্রায় ;
খোকামণি আমার বাড়ী -আয় ।
যালাে ঝি তুই খুজে আয়,
বাছা আমার এই বেলায়
খায়নি, ক্ষুধায় কষ্ট পায়,
ভুলে আছে খেল-ধূলায় ;
থােকামণি আমার ঘরে
মায়।
যালাে কি তুই জেনে আয়
কেউ কি খেতে দেছে তায়,
( ৭ )
গেছে বুঝি ঐ পাড়ায়,
নিত্যি সেথা খেলতে যায়,
খােকামণি আমার কোলে-আয়।
যালাে ঝি তুই ডেকে আয়,
অই যে প্রহর বেজে যায়,
বসে আছি কোন্ আশায়,
নাবে খাবে কোন্ বেলায়,
থােকামণি আমার কাছে।
আয়।
যালাে ঝি তুই নিয়ে আয়,
বগে তারে ডাকছে মায়,
বুকের বিষে পরাণ যায়,
একটা মাই দিইনি তায়,
খােকামণি আমার বুকে-আয়।
ঘুম-পাড়ানী মাসীর প্রতি।
ঘুম-পাড়ানী মাসি গােয় একটা কথা রাখ,
আজ রাত্রি দয়া করি মােদের বাড়ী থাক।
থােক। বড় দুষ্ট, মাসি,
বায়না তাহার রাশি রাশি,
সন্ধ্যার পরে অস্থির করে সবায় মেরে ধ'রে,
তুমি কাছে থাকলে পরে রবে চুপটা করে।
( ৮ )
ঘুম-পাড়ানী মাসি গো এস মােদের ঘরে,
বাটা ভরে পান দিব খাবে গাল পূরে;
তেল দিব বাতি ভরে,
দশী দিব থরে থরে,
সারা রাতি জ্বেলে বাতি পান চিবাইও সুখে ;
খােকাবাবু জাগলে, অম্নি হাত বুলাইও চোখে।
ঘুম-পাড়ানী মাসি গাে ! রইল নিমন্ত্রণ,
সন্ধ্যার পরে বােজ এখানে কবরী পদার্পণ।
সবার আগে এসাে হেথা,
পরে যেও অন্য কোথা ;
খােকায় নিয়ে হয়রান্ িআমি, পারি না ত আর,
এহেন দুরন্ত ছেলে হয়েছে পেটে কার।
ধুম-পাড়ানী মাসি গাে! আমি খেতে যাই,
আমার পাগল বাচ্চা টুকু রইল তােমার ঠাই।
থেতে যাব আমি এখন,
রান্না হয়ে গেছে কখন ;
ভাত লইয়ে বসে আছে তারা আমার তরে ;
দুই থাবাতে খেয়ে মাসি! ফিরবাে আমি ঘরে।
ঘুম-পাড়ানী মাসি গাে। তুমি আমার সই,
আমার এমন উপকারী কে আর তােমা বই।
তুমি যখন থাকি ঘরে
কোন চিন্তায় পায় না মােরে,
( ৯ )
নইলে পরে ভেবে মরি, যে দুরন্ত ছেলে,
আগুনে পােড়ে, স্কুলে পড়ে, বিষ খেয়েই বা ফেলে।
মামা-চাচা-ভাই-দাদা।
“কাগ মামা, কাগা মামা ! তোমার বরণ কেন কাল ?”
“এজয়ে মন্দ বই করিনি কারাে ভাল।
ছােট ছেলের মুখের ভিতর
সন্দেশ দেখলে মারি ঠেকর,
হা করিয়া কাঁদতে থাকে,
নিয়ে পালাই সেই ফাকে;
এত পাপ কি এনে ঢাকে ?”
“বগা মামা, বগা মামা ! তােমার বুদ্ধিটা কেন মােটা?”
“কি আর বলবাে, জান না কি পাপের ফল ওটা।
পরম বৈষ্ণবের প্রায়
টিকী আছে মাের মাথায়,
ধীরে চলি নরম সরম,
তলে তলে মাছ খাবার যম ;
সেই পাপেই বুদ্ধিটা কম।”
“ময়ুর চাচা, ময়ুর চাচা! তোমার পা কেন কুৎসিত?”
“অহঙ্কারের ফল ওটা-সাজা সমুচিত।
পেখম্ ধ'রে ভাবতুম্ মনে
কে সুন্দর আর ত্রিভুবনে ?
( ১০. )
.
শিবের পুত্র ষড়ানন,
আমি হচ্ছি তার বাহন।
এই গর্বেই হয়েছে এমন।”
“খঞ্জন চাচা, খঞ্জন চাচা! তােমার নৃত্য কেন এত ?”
“কোলাহলের ধার ধারিনে,-শান্তি আমার ব্রত।
আপন মনে বেড়াই খাই,
কখন উড়ি কখন গাই,
মনের সুখ অহর্নিশ,
আংঠা মুখটা চোখের বিষ।
নৃত্য-বিদ্যা তারি বশি।”
“হাঁস ভাই, হাঁস ভাই! তােমার ঘাড়টা সুন্দর কিসে ?”
“দশ জনের আশীর্বাদে বিধির দয়ার বশে ।-
পৃষ্ঠে দেবী সরস্বতী,
তবু থাকি নম্রমতি,
পাশরিয়া পুত্রশােকে
নিত্য ডিম বিলাই লােকে।
ঘাড়টা সেই পুণ্যটুকে।”
“কোকিল ভাই, কোকিল ভাই! ভােমার স্বরটা মিঠা কেন?”
“হার দান এ কাল রূপ, উহাও ভারি জেন।--
নিজের রূপ যে ছেদা ভেদা,
লজ্জিত তাই আছি সদা
( ১১ )
দেখাই না মুখ, পাতায় লুকাই,
বিধির নিন্দা তবু না গাই ;
স্বরটা তিনি দিয়েছেন তাই।”
“ময়না দাদা, ময়না দাদা! তুমি বাঁধা কেন শিকলে ?”
“সেটা কেবল হয়েছে আমার অতি লােভের ফলে।
‘আধার দিয়ে ফাদ পাতিয়ে
ছিল ব্যাধ লুকাইয়ে,
আমারি ভাই কপাল মন্দ,
খাবার লােভে হলে অন্ধ ;
তাই এখন শিকলে বন্ধ।”
“বুল বুল, দাদা বুল বুল দাদা! তােমার পোদটী কেন লাল ?”
“কি জানি ভাই, কিসে কি হয় ?-তিল থেকে হয় তাল।
তেলাকুচু ফল পাকলে পরে
সিন্দুরের মত রংটী ধরে,
উহাই খাই মনের সুখে,
যা তা তুলে দেই না মুখে;
তাই নাকি ওটী লাল টুক টুকে।”
চাদের প্রতি।
চাদ আয়রে আয় শীগগির ক'রে,
দেখ আসিয়ে আর এক চাদ উদয় আমার ঘরে
( ১২ )
তুই তাে বােকা চাদ—মুখে নাইকো রা,
আমার চাদের মিষ্টি কথা শুনলে ভুলবি না
তুই তাে অরসিকহাসিটা মুখে বাধে,
আমার দের বঙ্গ দেখলে মরা মাষে পাদে।
তুই ত রুক্ষ্ম দেহ—না পুড়ি আগুনে,
আমার চাদের ননীর শরীর বােদ লাগিলে উনে।
তুই তাে অন্ধের মত -চলিস্ ধীরে ধীরে,
আমার চাদের ছুটোছুটী দেখলে মন হরে।
তুই তাে মহারােগী—কত দাগ তাের গায়,
আমার চাদের নির্মল গা লাবণ্যে ভেসে যায়।
আয় চাঁদ আয়-চিক্ দিয়ে যা,
মাের মণিরে চি দিলে কিছু বলবাে না।
নিত্যি সাঁঝের বেলা—চিক দিবি তুই এসে,
তবে তােরে আদর করে ডাক্বাে ভালবেসে।
চিক দিয়ে যারে-মণির কপালে,
ঝিক্ মিকিয়ে উঠুক মুখ চুমু খাই গালে।
জায় চাদ আয়--চি দিয়ে যা মুখে,
দেখতে পাবি হাসি মুখটা কি রাঙা টুকটুকে।
আয় চাদ আয়-চিক দিয়ে যা মাথে,
পরমান্ন খেতে দিব ঢেলে কলার পাতে।
আয় চাদ আয়-চিক দিয়ে যা চুলে,
বাটী ভরে পিঠা দিব খাবি কাছা খুলে।
আয় চাদ আয়-চিক দিয়ে যা ঠোটে,
কমল-মুখে অমল হাসি দেখবি কেমন ফোটে।
।
( ১৩ )
আয় চাদ আয়—চি দিয়ে যা চোখে,
কাকের ছানা বকের ডিম এনে দিব তোকে
আয় চাদ আয়-চিক দিয়ে যা নাকে,
আম কাঠাল ভেঙে দিব খাবি লাখে লাখে।
আয় চাদ আয়-চিক দিয়ে যা কাণে,
মুড়ী মুড় কী খেতে দিব যত পেটে টানে।
আয় চাদ আয়—চি দিয়ে যা পিঠে,
হাত ভরে সন্দেশ দিব খাবি সাধ মিটে।
আয় চাদ আঁয়ি—চি দিয়ে যা হাতে,
টাটকা ঘি খেতে দিব মেখে গরম ভাতে।
আয় চাদ আয়—চি দিযে যা বুকে,
রাঙা আলু পুড়ে দিব খাবি ব’সে সুখে।
আয় ‘াদ অয়—চি দিয়ে যা পায়,
বিড়ালের ছানা এনে দিব-কুতুর কুতু চায় ।
আয় চাদ আয়-চিক দে সকল গায়,
আপদ বালাই বাইরে রেখে থােকা ঘরে যায়।
কি কি করে।
নাচে খোকা নাচে
ছােট মামার কাছে।
খেলে থােকা খেলে
বড় মামার কোলে।
১৪ )
থাকে খোকা থাকে—
ছােট মামীর কঁাকে।
হাগে থােকা হাগে-
ঠাকুর-দাদার নাকে।
মুতে খােকা মুতে
ঠান্ দিদির গুতে।
পাদে খোকা পাদে
বড় মামীর বাদে।
হাসে থােকা হাসে-
সৰ্ব্বজন-পাশে।
খােকার নাচন।
আয়রে তােরা আয় না রে,
থােকার নাচন দেখবি কে।
নাচে মাজা ঢুলিয়ে,
কত রঙ্গ করিয়ে।
ছড়াইয়ে দুটী পা,
মুখে বলে -না-না।
হাত দুটা দোলায়ে,
মাথাখানা হেদায়ে।
ধীরে ধীরে পা পা
খােকামণি চলি যা।
( ১৫ )
থির থির থােকা থির,
কিবা রঙ্গ যাদুটীর।
খােকা বড় ভাল।
খােকা বড় ভাল,
আরাে দুধ ঢাল।
দেয় না খােকা যন্ত্রণা,
দুধ খেতে কাদেনা ;
হাত দিয়ে না ধরে,
মুখ বন্ধ না করে ;
পা দিয়ে ঠেলে না,
বর্মী করে ফেলে না।
তেল মেখে গায়
বিনা কমায় নায় ।
পেলে দুটী চুম্
অনি যায় ঘুম।
ঘুম থেকে জেগে
নাহি ফেলে হেগে ;
আপন মনে খেলে
মশারীর তলে।
( ১৬ )
খােকার প্রতি অবিচার।
কেরে কাদায় সােণারে ?
বাছারে মাের কে মারে ?
আহা আহা কি সাজা!
এদেশে কি নাই রাজা।
থাকলে, এত অবিচার
কে দেখেছে কবে কার ।
ধরে বেঁধে পাছারি’
দয়া মায়া পাশরি,
দুধ খাওয়ায় থােকা রে ;
মগীরা কি বােকারে!
অমন সুন্দর নাকের কফ .
খেতে পারে চপচপ ।
মাগের গু ছাকা ছাকা
আমরি কি খেতে বাকা।
• মাগ-পোদ (পূর্ববঙ্গের কথা।) পূর্ববঙ্গের ক্রিয়া-বিভক্তিগুলি
নিতান্ত কুৎসিত, এবং তা লেখ্য-ভাষায় পরিহার্য, স্বীকার করি। কিন্তু
তাই বলিয়া, পূর্ববঙ্গের ভাষার যে স্বােপার্জিত অতি প্রাচীন শব্দ সম্পত্তি-
টুকু আছে, তাহা ব্যবহার করিতে আপতি বা লজ্জা কি ? অবশ্য উহাও
মাজিয়া ঘসিয়া লইতে হইবে, আকার ইকারগুলি অবশ্যক মত একার
উকারে পরিবর্তিত করিয়া লইতে হইবে। পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রনাথ
প্রভৃতি বড় বড় লেখক লেখা-ভাষাকে কথা-ভাষার অবিকল অনুকরণ
গড়িয়া তুলিতেছেন, এবং বস্তুতঃ উহাই প্রার্থনীয়। লিখিতে হইলেই
‘সমভিব্যাহারে, আর বলিতে হইলে ‘সাথে, ইহার অর্থ কি ? পশ্চিমবঙ্গের
লেখকের ‘বেল, ‘পাগেল,যােলাে’ ‘বে, রাত্তির, 'বিদ্যে, দেকেচি,
এখনি, ‘কৃষ্টান, পিয়ারীমােহন, প্রভৃতি শব্দ ছাপার অক্ষরে
( ১৭ ) গরগর টাটকা মুত কি সুস্বাদ অদ্ভুত পােকা মাছি কাকের গু, পানের বাটার চুণ টুকু, এ সব ভাল জিনিষ রেখে দুধ খাওয়ায় ঢেকে ঢেকে ; কাজেই মাণিক কষ্ট পায় কেঁদে কেঁদে বুক ভাসায়। - উ ইয়াছেন ; আর আমরা (পূর্ববঙ্গের লেখকেরা) আমাদের নিত্য- ব্যবহাৰ্য্য ‘পঞ্জিকা, বাতাস, লবণ, তেল, প্রদীপ, রৌদ্র, বৃষ্টি, ‘আম.' প্রভৃতি শু শব্দের পরিবর্তে যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গের বিকৃত পার্জী, ‘হাওয়া, ‘নূন, ‘তেল, ‘বাতি, রােদ, জল, অব, প্রভৃতি শব্দ প্রয়ােগ করিয়া থাকি ; ইহা অপেক্ষা বিড়ম্বনার বিষয় আর কি আছে ? তাহারা ‘সুচী পাটা হজম করিতে পারেন, আর আমরা ‘মিষ্ট অশ্বগ’ লইয়া ভাবিয়া মরি! তারা নির্ভয়ে সকলকে ‘পােড়ার মুখ, দেখাইতেছেন, আর আমরা হাস্য মুখ লুকাইবার স্থান পাই না! তাহাদের ‘হুলুধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জোকার’ { ‘জয়কার’ শব্দের অপভ্রংশ) মন্দ শুনাইবে কি ? আর মন্দ শুনাইলেই বা ক্ষতি কি? মধুরভার কষ্টিপাথর দ্বারা ভাষার দোযগুণ পরীক্ষা করিতে হইলে কালিদাস, বিশেষতঃ ভবভূতি, জয়দের নিকট কল্কী পাইবেন না, নিশ্চয় । ‘বাবা’ শব্দ অপেক্ষা মামা’ শব্দ মিঠা, তাই বলিয়াই কি বাবাকে মামা ভাকিতে হইবে ? কোন দেশের ভাষার অসুন্দর লইয়া আমােদ করা কতদূর সঙ্গত, তাহা বিবেচনার বিষয়। বিশেষতঃ আজ কালের এই কংগ্রেস-কাউন্সি- লে। দিনে, যে সময়ে বৎসর বৎসর ভারত-মাতার অর্চনার জন্য একই মপে সুরেন্দ্রনাথের পাশে বাবু হেমচন্দ্র রায়, কালীচরণের পাশে বাবু গুরুপ্রসাদ সেন, ও জানকীনাথের পাশে বাবু অশ্বিনীকুমার দত দণ্ডায়মান হন, এবং যে সময়ে সুরেন্দ্রনাথ ও গুরুপ্রসাদ, কালীচরণ ও আনন্দমােহন দেশের কল্যাণ কামনা রূপ একই মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া লেজিসলেটিভ কাউন্সিল সমবেত হন, সেই সময়ে কি এই সব গৃহ-বিবাদ শুভকর বা ( ১৮) ওলে ওলাে থােকার মা কিছু নাই তাের বিবেচনা। আসুক বাড়ী ভাতার তাের, দেখবাে তখন কত জোর। এত তেল কি থাকবে তখন ?- জোকের মুখে চুণ যেমন। বাবা আছে বাবার উপর, চিমটীর উপর আছে থাপর । - সুদৃশ্য ? কিন্তু এ দুঃখ কোথায় রাখিব ? স্বয়ং বন্দে মাতরং”-গায়কই পূৰ্ববঙ্গদেশীর প্রতি দুই একটা চিটী কাটিবার প্রলােভন পরিত্যাগ করিতে পারেন নাই, “অনন্য পরে কা কথা। অন্যান্য অনেক বিষয়ের ন্যায়, এ বিষয়েও রবীন্দ্রনাথ আদর্শ স্থানীয় ; তাহার গুণের সীমা নাই। কোনও ব্যক্তি সমাজ বা দেশকে আক্রমণ না করিয়াও কিরূপে রসিকতা করা যায়, ইহা তিনি হাতে কলমে সুন্দর রূপে দেখাইয়াছেন, অথচ তাহার মত সুরসিক লেখক অতি অল্প। তাহার ন্যায় সহৃদয় ও মার্জিত-রুচি গ্রন্থ- কারবুঝি দুর্লভ। যে স্থানে অশীতিপর বৃদ্ধও নেত্ৰ-কণ্ডয়ন-চ্ছলে একবার ত্বরিত দৃষ্টিপাত না করিয়া পারেন না, সেস্থানেও অশ্লীলতার ভয়ে তিনি বস্ত্রাঞ্চলে মুখ ঢাকিয়া চলিয়া যাম ; তিনি রাজধানীতে অতুল ঐশ্বর্যের মধ্যে থাকিয়াও গ্রাম্য-বালিকার মর্মব্যথা বুঝিতে পারেন,-মহর্ষির ঘােগ্য পুত্ৰই বটে। এ বিষয়ে সময়ান্তরে কিছু বলিতে বাসনা আছে। বঙ্গ সাহিত্যের আসরে পূৰ্ব্ববঙ্গের ভাষা (কয়েকটী অনুদার হৃদয়-বিহীন কিন্তু ক্ষমতাশালী লেখকের কর্তৃত্বে,) এতকাল যে, বেকু-বেল্লিক ভাড়ের আমন অধিকার করিয়াছিল, সেই আসন হইতে তাহাকে উঠাইয়া, সম্মানজনক আসনে বসাইবার জন্য যাহা কিছু চেষ্টা, তাহা কেবল আমাদের সরল সরন কবি গােবিন্দ দাসেরই দেখিতে পাওয়া যায়। তিনি নির্ভয়ে পূর্ববঙ্গের ভাষায় কবিতা লিখিয়া মুদ্রিত করিতেছেন। তাহার ‘ফুল-চন্দন কুঙ্কুম কস্তুরী’র সৌরভে পশ্চিমবঙ্গবাসীরাও মুগ্ধ। কালীপ্রসন্ন বাবু এত সংস্কৃত নাড়াচাড়া করিয়াও অবশেষে ‘ন’ ধাতুর কথা ভুলিয়া গিয়া পশ্চিম বঙ্গীয়দিগের সঙ্গে ‘নাবিতে’ লজ্জা বােধ করিলেন না আমাদের পূর্ববঙ্গের মধ্যেও অনেকে পূর্ববঙ্গকে বঙ্গদেশ’ ও পূর্ববঙ্গবাসীকে বঙ্গজ’ বা ( ১৯ ) দেবতাদের প্রতি। (“মাঘমণ্ডলের” কথার সুর।) আকাশের দেবতারা দেখ দেখ ফিরে, থােকা তােমাদেরে নমস্কার করে। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর মা দুর্গা শঙ্করি লক্ষ্মী সরস্বতি মনসা শ্রীহরি । শীতলা রাধিকা কৃষ্ণ মাতা রক্ষাকালি চন্দ্র দিবাকর মাতা নিরাকুলি। সুবচনী ঠাকুরাণি কার্ত্তিক গণেশ সবে আমার মিনতি অশেষ ‘বাঙ্গাল’ বলিয়া আমােদ করিয়া থাকেন। অথচ এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গেরই এক জন শ্রেষ্ঠ কবি সসম্মানে ‘বঙ্গজ-কায়স্থ’ শব্দ ব্যবহার করিয়া গিয়াছেন। পূর্ববঙ্গের ভ্ৰাদিগকে বলি, বাঙ্গাল’ বা ‘বঙ্গজ’ শব্দে তাহাদের কুপিত হওয়া উচিত নহে; কারণ উহার মূলে খারাপ কিছুই নাই। আর পশ্চিম- বঙ্গের ভায়াদিগকেও বলি, ঐ দুইটি শব্দের জোরে তাহাদের এত উল্লসিত হওয়া উচিত হয় না। তাহাদের জন্যও একটী নাম আছে ; আমার একটা বন্ধু তাহাদিগকে ‘তুরু’ বলিয়া ডাকিতেন। পূর্ববঙ্গের নাম-কাটা সিপাহীদিগকে বাদ দিলে, পূর্ববঙ্গীয়দিগের তুলনায়, পশ্চিমবঙ্গীয়গণ অপেক্ষাকৃত অহিন্দু, অস্বীকার করিবার যো নাই। এই কারণ দেখাইয়া, তিনি উহাদের নাম ‘তুরু’ রাখিয়াছিলেন । এক্ষণে জিজ্ঞাসা করি, যদি কে পশ্চিমবঙ্গবাসীদিগকে দেশে বিদেশে সময়ে অসময়ে এই নামেই অভিহিত করে, তাহা তাহাদের ভাল লাগিবে কি? বলিলে, অনেক বলা যায়। স্বর্ণলতা’-কার সুযােগ পাইয়া পূর্ববঙ্গীয়- দের উপরে বেশ কয়েকটী ছিটা গুলি ছাড়িয়াছেন। আমাদের কোন উপন্যাস লেখক যদি পশ্চিমবঙ্গীয় মেয়েদের লজ্জাহীনতার অপবাদরূপ ছিদ্রপথে পাল্টা গুলি বর্ষণ কম, তাহা কেনৰ মাৰ ? = ( ২০ ) এই ক্ষুদ্র পােকাটীরে রাখ বাচাইয়ে, দি ব বড় হলে নফর বানায়ে। চির দিন তোমাদের সেবা করিবারে বাঁধা র’লে পােকা তোমাদের দ্বারে। { রাম নঃসিং রাম নঃসিং শিব, দুর্গা রাম, মা মনসা আস্তিক আস্তিক বল হরি নাম মহাভারত। রাজা যুধিষ্ঠির বিদ্বে বিবাদ পাপী দুৰ্য্যোধন পাশায় হারায় সেথা স্বয়ম্বরে *চ ভাই পায় ফিরে আসে ঘরে দুর্যোধন তাদি জুতু-গৃহে পুড়ে সভার ভিতরে বস্তু আকর্ষণ ( অন্ধ মহারাজ তরি চক্ষের পরে ফিরে বনে যায় ধৰ্ম্মে মতি স্থির, নাহি তাহে সাধ। অর্থের কারণ, বনেতে প ঠায় ; লক্ষ্যভেদ করে দ্রুপদ-কন্যায়, বার বৎসর পরে ; পুনঃ হল বাদী, চাহে মারিবারে ; এনে দ্রৌপদীরে করে দুঃশা নন। তার এই কাজ । এই সাজা করে !) কত কষ্ট পায়,
a
)
এসে হস্তিমায়
সূচ্যগ্র না দিল
বসুদেব-সুত
বৃথা হয় সব ;
কুরুক্ষেত্র রণে
পঞ্চ গ্রাম চায়,
কটুক্তি করিল।
বুঝালেন কত,
মজিল কৌরব,
অষ্টাদশ দিনে
পাপ কুরুবংশ
সদা ধর্মের জয়,
হয়ে গেল ধ্বংস ;
চির দিন কয়।
রামায়ণ।
ধন ধান্যে এক শেষ
অযােধ্যা নামে দেশ,
দেশের রাজা গুণ ধাম,
দশরথ তার নাম।
বুড়াে হয়ে ভাবে চিতে
বাজ-ত্ব রামে দিতে,
দিতে গিয়ে ঠেকে দায়,
মেজো রাণী বাদী তায়।
রাণী বলে তারি সুতে
অবশ্য রাজা হতে,
হতে রামে বনবাসী,
(কি কৱিলি সৰ্ব্বনাশি।
( ২২ )
দুটা বরে উহা মাগে,
(প্রতিজ্ঞা ছিল আগে,
আগের কথা ক'রে মনে
দিল রাজা রামে বনে।
কাঁদে রাজা অবিরত
কৌশল্যা কাঁদে কত।
কত দিন পরে হায়
দশরথ স্বর্গে যায়।
হেথা রাম বনে যেতে
সে সঙ্গে যায় সীতে।
সীতা দেবীর সােজা মন
হরে নিল দশানন।
যুদ্ধ করে ধ্বংস করে
সবং-“শে রাবণেরে,
রাবণ বধি পুনরায়
সীতাসহ দেশে যায়।
লঙ্কাপুরে ছিল রাণী,
অজস্র কাণাকাণি,
কাণাকাণি শুনে রাম
বনে দিল হয়ে বাম।
সে বনে ছিল কুটীর,
মহর্ষি বাল্মীকির
;
( ২৩ )
বাল্মীকির তপােবনে
রহে সীতা ক্ষুন্ন মনে।
অন্তঃসত্ত্বা নিয়ে সীতা
অরণ্যে নির্বাসিতা,
নিৰ্বাসিত অবস্থায়
দুই পুত্র জন্মে তায়।
বড় হয়ে তারা পরে।
সুমিষ্ট গান করে,
গান করে রামায়ণ,
শুনি মুগ্ধ সৰ্বজন ।
দৈবে রাম দয়াবান্
স্বকর্ণে শুনে গান,
গানে তুষ্ট অতিশয়
জিজ্ঞাসেন পরিচয়।
জেনে তারা তারি সুত
আনন্দে বিগলিত।
বিগলিত আখি ভরে,
কুশীলবে কোলে করে ।
আসিলেন সীতা সতী
বিমর্ষা স্নান অতি ।
অতি কঠিন রঘুরায়,
সতীত্ব-পরীক্ষা চায়।
( २४ ২৪ ) লাজে দুথে ক্রোধান্বিতা উন্মত্তা যেন সীতা, সীতা কহে ডেকে মায় “মা বসুধে! নে আমায়। সে আহ্বান শুনি ত্বরা, বিদীর্ণ হল ধরা, ধরা সতী কোলে করি নিল সীতায় পাতালপুরী সীতা শােকে অবিশ্রাম বিশীর্ণা হ'ল রাম। রাম গেল স্বর্গপুরে লব কুশে রাজা করে। খােকাবাবুর ভাত খাওয়া। কাক ডাকে কাকা কাকের গ্রাসটা আগে-খ।। বক ডাকে কর্তৃক বকের গ্রাসটী গিলি-টক। টুনী ডাকে টুং-টাং তার গ্রাস খাই ডেডাং ডাং। দুয়েল ডাকে শিশশৎ তার সটী খাই- -হরং।
(
)
-টপ।
কোড়া ডাকে টাব্বোৎটাব্বোৎ
তার গ্রাস গিলি--সােৎ।
হতােম, ডাকে বােওৎ-বােৎ
তার গ্রাসটী গিলি -
ডাহুক ভকে ডব—উব,
তার গ্রাস থাই টপা-
চড়ুই ডাকে চম্-চম্
তার গ্রাস খাই গরূমা গরম।
হাঁস ডাকে পা-পাক
তার গ্রাসটা আগে-মাখ।
পায়রা ডাকে বাকবাকুম
তার গ্রস খেয়ে খাবি ।
চিল ডাকে চিহি--চী
তার গ্রাসটা আগেনি।
শালিক ডাকে চাকুম-চুম্
তার গ্রাস খেয়ে আবে ধুম।
ধুধু ডাকে “উঠ—উঠ”
তার গ্রাস পেয়ে খেলতে ছুট
চাতক ডাকে “ফটি-জল”
তার এসিটী গলার--তল।
ময়ুর ডাকে কেড়াং-কাং
তার গ্রাসে ভরি ডিঙী
খান।
যম-বুধু ডাকে কড়াক্কড়
তার গ্রাস খেতে কেন-উর।
চুম।
-
মধুর। ময়না ডাকে ‘রাধা-কৃষ্ট তার গ্রাসটী বড় মােরগ ডাকে কুকু-কুকুর তার গ্রাসটা অতি একটী ডাকে “চোকৃ-গেল” তার গ্রাসটা খেয়ে ফেল। আরটা ডাকে “বউ কথা-কও তার গ্রাসটাও তুলে- লও। বাদুর ডাকে কিচির-মিচির তার গ্রাসটা খাই- শিগগির। মাছী ডাকে ভ—ভন্ তার গ্রাস খেতে কত- ক্ষণ। ভোমরা ডাকে তােত তার গ্রাস আগে পেটে- থে। কোকিল ডাকে টুহু-টু তার গ্রাস খেয়ে মুখ- দশ জনের সঙ্গে পরিচয়। ভাউয়া বেং, লম্বা ঠেং, ঘেঙর যেং ডাকে, বর্ষাকালে লক্ষ্যে চলে, পুকুর-জলে থাকে। জাতি সাপ, বাপরে বাপ, দফা সাফ ফুলে, কাটা জিভ চিক্ চিক্ অনিমিখ খুলে।
খায়, ( ২৭ ) বিড়াল ওটা পরিপাটী, ফুল-বিবিটী সেজে, পেদে আঁধার, মুতে পাথর, চুলে তাহার লেজে। অই যে কুকুর খাচ্ছে মুগুর, বীর-বাহাদুর বটে, আপনি চান পাড়া খান, নৈলে মান টুটে। শিয়াল চোরা নষ্টের গােড়া, মুখটী পোড়া তায়। গাছে উঠে কাঠাল লুঠে, ঘরের পীঠে ঘরের পীঠে খায়। পাঠা-রাম নাইকো কম, অবিরাম চলছে মতে, সেই মুহুর্তে বি-পত্রে চায়। বােকা গাধা বুদ্ধি সাদা, থায় কাদা- জল, আপন মনে বােঝা টানে, নাইকো জানে ইল। ধুর্ত বাঁদর অতি চেঙর, কেমন ডাঙর লেজ, লম্ফ ঝম্ফ, গ্রাম কম্প অতি দন্ত নিরীহ গরু অতি ডরু, যায় না কারাে পাশে; সন্ধ্যাকালে হদা তুলে ঘকে চলে আসে। ভেড়াকান্ত অতি শান্ত অবিশ্রান্ত থায়, কম্বল গায় দেখা যায় সন্ন্যাসী-প্রায় তায়। যাচ্ছে ঘােড়া দেখ সে তােরা কপাল-ঘোড়া চাদ, চিহি হি বলে গরবে চলে তবু তাে গলে বাঁধ। হাতী ওটা, বুদ্ধি মােটা, কাণ দুটা কুলা ; খাট গলা, হাগে ' ছালা, খায় ডালা ভল্লুক বীর, কি শরীর! হায় কলির পাকে মুর্তিমান্ জাম্বুবান্ দড়ি টান নাকে। ব্যাঘ্র ডাকাত, রক্তের হাবাত, বড় বজ্জাৎ শালা ; কাপে আঁট, দাঁত কপাটী, কি পরিপাটী গলা। ডুলা।
( ২৮ ) খায় ; একটী ঘস বকে, সিংহ রাজা, সরু মাখা, একটী লাফে ঘাড়ে চাপে, নৈলে ঝােপে যায়। কুমীর ছােচা, নাকটা বােচা, নীরবে চাচা চলে, মুখে করাত, ধারাল দাঁত, একি উৎপাত জলে! মাকড়সা হয় ফরসা, পেলে ; অতি শিষ্ট, তারেও নষ্ট করে দুষ্ট ছেলে। টিকটিকী পােড় মুখী চালে থাকি চোখ খেয়ে পড়ে ধেয়ে কাধে পায়ে বুকে। ছারপােকা দেথতে বােকা, কাজে পাকা চোর, কামড় শক্ত, করে বিরক্ত, '' বিষম রক্ত- খাের। পিপীলিকা বেয়ে শিকা খায় ঢাকা কামড়ায় যখন জ্বালা কেমন, মুখে যেমন রক্ত চোষা, কৰ্ম্মনাশা রাতে, পাই যেটা করি চেপটা এক চপেটা- ঘাতে। ক্ষুদ্র মশা বার মাসের বিবরণ। বৈশাখে আমের কড়া, নিচু, তরমুজ হয় ; বকুলে আকুল অলি, গন্ধজাজ খােস্ বয়। জ্যৈষ্ঠে মিষ্ট আম, কাঠাল, খেজুর, তালশাস, জাম ; কদম্ব, রজনীগন্ধা, দোপাটী সুঠাম। আষাঢ়ে শশার কচি, করঞ্জ, জামরুল। পানীফল, আনারস, ফুট, কেয়াফুল।
( ২৯ )
শ্রাবণে পেয়ারা, আম, ডালিম রসে ভরা ;
পদ্মফুল সদ্যঃ ফোটা গন্ধে মনােহরা।
ভাদ্র মাসে রৌদ্র অতি, তাল থরে থরে ;
কামিনীফুল, স্থলপদ্ম বাগান শােভা করে।
আশ্বিনে অম্বিকা পুজা, নারিকেল, জঘীর ;
শেফালিকা গন্থ বাকা, তলায় ছেলের ভিড়।
কার্তিকে কামরাঙা, ওল, সুপারী, তেতুল কাচা ;
জয়ন্তী, অপরাজিল,নামটী কেমন বাছা !
অগ্ৰাণে বেগুন, মূলা, জলপাই, গােল-আলু;
গাঁদাফুলে ধ ধ। চোখে, এনি রূপের আলাে।
পৌযেতে খেজুর রস, লাউ, কপি আর শিম,
অতসী রূপসী সতী, রাত্রে অতি হিম।
মাঘ মাসে বাঘ শীত, কমলালেবু, কুল ;
শিমুলে আমুল কাটা, রাঙা রাঙা ফুল।
ফানেতে বেল, আদা, আমলকী গাছ ভরা ;
পলাশফুলে ভরা-বুঝি টিকায় আগুন ধরা।
চৈত্রে নৰ পত্ৰ গাছে, ইক্ষু, বঙ্খর-মালা,
তমালের অমল রূপে বৃন্দাবন আলা।
বার মাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
বৈশাখে নিচু, কাচা আম,
জ্যৈষ্ঠে কাঠাল, আম, জাম।
আষাঢ় মাসে শশার কড়া,
শ্রাবণে ডালিম রসে ভরা ।
ভাদ্র মাসে তালের ক্ষীর,
আশ্বিন মাসে পাকা জম্বীর।
কার্তিকে কামরাঙা খাই,
অগ্রাণ মাসে জলপাই।
পৌষে খেজুর-রস, গুড়,
মাঘে রাঙা কমলার ভুর ।
ফাল্গুণে লে, কুৰ পাকা,
চৈত্রের ইক্ষু মধু মাখা।
খােকাবাবুর ব্যঞ্জন বর্ণ।
ক খ গ ঘ
কারে দিব চুম।
ছ
যার মুখে আমি।
এ
ণ
শােন যাদু শােন।
পিশীরে মার’ কেন?
প
পিশীরে কর নমঃ।
আর কি কব।
শ
কোলে এস।
তবে কব বিজ্ঞ।
খােকাবাবুর স্বর বর্ণ।
আ ই ঈ
খােকা এল ধায়ি।
উ
এই কি সােণার ছিরি ।
খুকু! তুমি ছিলে কই
অং
ধূলিময় কেন অঙ্গ।
খুকু তুমি ছিলে কোথা ?
নাই কি তাদের দয়া ব্যথা?
গায়ের ধূলা ঝেড়ে ফেলে
একবার তােমায় নেয় নি কোলে ?
( ৩২ ) থাক্ থাক্ থাক, কাটাইব না। মুড়াইব মাথা, গায়ে ছেড়া কাথা । মাথায় ঢালবাে ঘােল, চুকবে গণ্ডগােল। এস খুকু এসাে, মায়ের কোলে বসাে। তেমন যে রাজার রাণী, তোমা বিনে কাঙ্গালিনী। আমার মাণিক, আমার সােণা। ননীর পুতুল, চাদের কণা। যাদুমণি দুদু খাও, চুমু খেয়ে ঘুম যাও। টুক টুক টুক, আমার লক্ষ্মী টু। খােকাবাবুর ইংরেজী বর্ণ পরিচয়। मि ত (2 বি ই কাপড়ে হেগেছি। আমার সাধের লেপ। তােরি দোষ লাে ধাই। কিছু নাই আক্কেল। এখন সকল ধােও। আই জি এচ, এল এ এ
পি
কিউ আর
টি
এছ,
ভি ডব্লিউ
এক্স, ওয়াই জেড়
পিঠা সয়না আমার।
খেতে দিলে.তবুও।
বুঝলে না আমিও।
তাই সে পাই এ খেদ।
কার চেয়ে কে ভাল।
বড় ভালবাসি মায়, সুখে শিঙা টানি; *
মায়ের চেয়ে বাবা ভাল, দেয় সন্দেশ আনি।
বাবার চেয়ে জেঠা ভাল, পড়ায় কী ছাড়া ;
জেঠার চেয়ে জেঠী ভাল, নিয়ে বেড়ায় পাড়া।
ঘেঠীর চেয়ে কাকা ভাল, কাঁধে চড়ি নাচি';
কাকার চেয়ে কাকী ভাল, দেয় দুধের চাছী।
কাকীর চেয়ে পিশী ভাল, দেয় মিছরি ভাঙা ;
পিশীর চেয়ে পিশা ভাল, দেয় কাপড় রাঙা।
পিশার চেয়ে মাসী ভাল, দেয় নরম চুম্ ;
মাসীর চেয়ে মেসসা ভাল, দেয় কিনে ‘চুম্।
মেশাের চেয়ে মামা ভাল, দেয় কিনে ছাতি
মামার চেয়ে মামী ভাল, দেয় কাঠের হাতী।
মামীর চেয়ে দাদু ভাল, গোঁফ ছিড়ি দুহাতে ;
দাদুর চেয়ে ঠান্দি ভাল, রূপ-কথা কয় রাতে।
* শিটানি---স্তন্য পান করি। পাকা আমে একটী ছিদ্র
করিয়া চুষিয়া চুষিয়া খাওয়াকে পূর্ববঙ্গে ‘শিা দিয়া’ খাওয়া বলে।
ছেলেদের ইহা একটা প্রিয় প্রথা।
( ৩৪ )
খােকা হাটিতে শিখে।
তাই তাই তাই,
মামা বাড়ী যাই ;
মামী দিল দুধের সর কেতর কেতর খাই।
থির থির থির,
দোহাই বসুকীর !
থােকাবাবু হাটতে শিখে, নেড় না তুমি শির।
পায় পায় পায়,
খােকামণি যায় ;
বসুমতী মার বুক জুড় য় না কি তায়।
ঝুর ঝুর ঝুর,
হাটে তুরু তুর ;
দেখবি যারা অয়লাে তারা, আমরি মধুর।
অলি অলি অলি,
যায় টলি টলি ;
হাটে যেন বুড়ার মত ীরে ধীরে চলি।
ঝুন ঝুন ঝুন,
মলের শব্দ শুন্ ;
ও শব্দে কি দুঃখ থাকে, সুখের লাগে ধুম।
মরি মরি মরি,
হাটে হাত ধরি ;
থপ থপ পড়ে পা কত ভঙ্গী করি।
( ৩৫ )
ধীরে ধীরে ধীরে,
হাটে ঘুরে ফিরে ;
সকল শােক দেখছে শােভা, চারি দিকে ঘিরে।
আহা আহা আহা!
যা ভেবেছি তাহা ;
আছাড় পড়ল থােকা, আমার এমনি কপাল ডাহা।
সা’ঠ, সা’ঠ সা’ঠ,
আমারি বুদ্ধির ঘাট;
এখনাে সােণা বাইরে কেন? অই আসিছে রাত।
ঠিক ঠিক ঠিক,
ঐ যে ঝিক্ মিক্ ;
কোলে উঠে দেখ চাদ, কপালে দিক্ চিক।
বেশ বেশ বেশ
কি সুন্দর এক শেষ ।
এ চাদ দেখি, ও চাদ ভাবে এ আবার কোন্ দেশ!
হরি বােল হরি।
মা দুর্গা শঙ্করী !
চল এখন ঘরে গিয়ে ‘শিঙা বাদ্য’ করি।
‘শি খাদ্য করা-শুন্য পান করা।
( ৩১ )
খােকার দানে আশীর্বাদ।
হাত পেতেছি দাও ত খুকু,
এই ত দিল মণি-টুকু।
যা দিয়েছ সােণা হাতে,
থাক থাক আমার মাথে ।
তাল রুয়ে থেও তাল,
বেচে থাক এতকাল।
দুধু ভাতু খেয়ে মণি,
বড় হও এতখানি।
আমার মাথায় চুল যত,
আয়ু হােক বচ্ছর তত।
সুস্থ থাক বার মাস,
বিদ্যা হােক এত পাশ।
দালান হাে চা’র তালা,
টাকা হােক এত-~-ছালা।
বৌমা গা-ময় পরু গয়না,
চারী হােক এত-মায়না।
দোয়াৎ কলম হােক সােণার,
হাতী রােকৃ বাঁধা দুয়ার।
রূপে বৌমা হােক অপ্সরা,
ছেলে হােক ঘর-ভরা।
দাসী নফর হােতূ হাজার,
ধৰ্ম্মে মতি থাকু-
কৃ বাবার।
রে-রােপণ করিয়া (পুৰ্ব্বলে প্রচলিত।
==
( ৩৭ )
খুকীর দানে আশীর্বাদ।
-কাল!
হাত পেতেছি দাওনা খুকু,
এই ত দিল মণি- টুকু।
যা দিয়েছ সােণা হতে,
থাক থাক আমা -র মাথে।
তাল রুয়ে খেও তাল,
বেচে থাক এত
দুধু ভাতু খেয়ে মণি,
বড় হও এত
-খানি।
আমার মাথায় চুল যত,
আয়ু হােকু বচ্ছর তত।
কপাল হোক পরের মতন,
বুড়ী হও আমি-
-যেমন।
বর গে কন্দর্প প্রায়,
গয়না পর সক -ল গায়।
সীথীর সিন্দুর বজায় থাক,
হাতের লােহা ক্ষইয়ে-
যাক।
শ্বশুড়ী দেখুক মায়ের চোখে,
ছেলে রাে কাথে—বুকে।
ছেলে পিলেয় ঘর ভর,
নাতীর নাতী দেখে-মর।
* এই দুই লাইন কোন বৃদ্ধা বাল্য-বিধবার উক্তি, এইরুপ মনে করিতে
হইবে।
}
সাবিত্রী সম সতী হও,
ধনে পুত্রে সুখেরও।
জঙ্গী বুড়ী। ।
আমার নাম জঙ্গী বুড়ী
বাবা আমার জব্বর সিংহ,
মা ফুলেশ্বরী
দুষ্ট ছেলে দেখতে পেলে
আস্ত থাই ধরি।
;
আমি বেড়াই গাছে চড়ি,
(আমার) একটা নাকে তিনটা বাণী,
ঘেয়ােৎ ঘােরােৎ করি।
যে সব ছেলে কাঁদে বেশী
তাদেরে খাই ধরি।
যদিও, এই কবিতাটা বাদে, এই পুস্তকের যাবতীয় কবির
কেবল থােকারই নাম আছে, খুকীর নাম নাই, তথাপি বই খানা থােক
ধুকী উভয়েরই জন্য রচিত, এ কথা বলা বাহুল্য। খুকীর মার প্রতি
গ্রন্থকারের কৃতাঞ্জলিপুটে নিবেদন এই যে, তিনি যেন তাহার অপরাধ
ক্ষমা করিয়া, কিঞ্চিৎ কেশ স্বীকার করতঃ কবিতাগুলিতে আবশ্যক মত
দুই একটু পরিবর্তন করিয়া লন। এক সময়ে দুইজনকে তুষ্ট করা
। কেহ কেহ হয় ত বলিবেন যে, এই ভীতি-উৎপাদক কবিতাগুলির
দোষেই ভারত-উস্কার-চেষ্টা বিফল হইবে; তাঁহাদের অবগতির জন্য
বলিতেছি যে, ইংরেজীতেও Jack the Giant-killer, Blue Beard
প্রভৃতি ভীতিজনক Nursery tales আছে।
দেখছে আমার ভুড়ী,
ছােট একটা বেলুন যেমন
যাচ্ছে হাওয়ায় উড়ি ;
মন্দ ছেলে কোথাও পেলে
সুখে জলপান করি।
আমি পাড়ায় পাড়ায় ঘুরি,
খেতে নাইতে চায় না যারা,
তাদেরে করি চুরী ;
অবসর মত থাই, যেমন
টাটকা ভাজা মুড়ী।
ছয় রকমের ছ জনা।
আমার নাম তিন ঠেং ;
হাল গেছে তিন পায়ের জোরে, বেড়াই ডেডেং ডেং।
খাই আমি হাতী ঘােড়া,
বাঘ ভল্লুক জোড়া জোড়া,
মহিব গণ্ডার কুকুর বিড়াল সাপ ইন্দুর বেঙ, ।
আর খাই আমি দুষ্ট ছেলে, আমার নাম তিন ঠেং
আমার নাম হাড়ী-মুখী,
মন্দ ছেলে খুঁজে বেড়াই লোকের বাড়ী ঢুকি ;
ওষুদ খায় না বেরাম হলে,
কেবলি চায় থাকতে কোলে,
( ৪ )
বায়না করে যখন তপন, নয় কিছুতে সুখী,
সে সব ছেলে আমার পথ্য—-আমার নাম হাড়ীমুখী।
আমার নাম চেপ্টা-নাকী,
নাকের দুটী সুড়ঙ্গেতে ছেলে ধরে রাখি।
তেতুল গাছে এক পা দোলে,
আর পা থাকে বটের ডালে,
সেওড়া গাছে নথ বি ধিয়ে উপুড় হয়ে থাকি ;
নাকের শ্বাসে মাটী কঁপে—অামার নাম চেপ্টা-নাকী ।
আমার নাম যােবা ভূত,
কথাবার্তা কই না বড়–কীলেতে মজবুত।
ঝড়ের দেশে আমার বাড়ী,
বজ্র-বিদ্যুৎ-সঙ্গে ফিরি,
পাহাড় পর্বত ভাঙতে পারি,—ক্ষমতা অদ্ভুত।
দুষ্ট ছেলের যম আমি আমার নাম বােবা ভূত।
আমার নাম জুজুর মাসী,
মন্দ ছেলে দেখতে পেলে পাকড়ে নিয়ে আসি।
একটু খানি জল দি মুখে,
‘টক করে তায় গিলি সুখে,
ছেলে পি লর অশান্তপানা ভাল নাহি বাসি ।
আমার ভয়ে কাপড়ে হাগে—আমার নাম জুজুর মাসী।
আমার নাম নিষ্কন্ধ,
সকল গায়ে আমার কেবল কাচাগুয়ের গন্ধ।
( ৪১
মাথা নাইকো, লম্বা পা,
পেটে চক্ষু, বিকট হা ;
যারে চাপি বুকে আমার, দম হয় তার বন্ধ
দুষ্ট ছেলে চোখের বিষ—আমার নাম নিষ্কন্ধ
খােকার মাকে চুরী।
• থােকার মা বুড়ী,
তারে কল্লো চুরী
পাড়ার ফকীর বেটা ;
এ তাে বড় লেঠা।
হাতে পায়ে বাঁধিয়ে,
গাঙে দিল ফেলিয়ে।
রাঘব-বােয়াল গিল তায়
থােকা ফিরে ঘরে যায়।
ফকীর বেটায় ধরে আন,
লব তার গরূদান।
ফকীর বলে “বাপরে মা !
এমন কর্ম কবে না”।
কাছা খুলে, প্রাণের উরে,
ভন্ ভন্ ভন্ মন্ত্র পড়ে।
খােকার মা উঠলে ভেসে,
খােকারে কোলে নিল হেসে।
( ৪২ )
মায়ের গলা ধরে থােকা
বলে, “মা তুই কেমন বোেকা !
আমায় ফেলে এল ঘরে
কোথায় ছিলি, কেমন করে ?
খাই বা আমি কাহার হাতে ?
শুই বা রাতে কাহার সাথে ?
কে নাওয়াবে যতন করে ?
বেড়াব কার কাথে চড়ে ?
মা বলে, “শোন্ যাদু আমার,
বড়ই বেচে এসেছি এবার।
যেয়ে দেখি, জলের তলে,
কুম্ভীর হাঙ্গর দলে দলে।
দেখে ভয়ে কেঁপে মরি,
তাই তােমাকে বারণ করি,-
একলা ঘাটে নেও না,
বেশী জলে যেও না।”
কে কেমন। (Private.)
থােকার ঠাকুর দাদা
বড় হারা-জাদা,
মাথা একটী কদম্ ফুল, পাপড়ি গুলি শাদা।
( ৪৩ );
থােকার ঠান্দিদি
বড় হারা-জাদী,
বুড়া-কালে খােকায় আমার করতে চান সাদী।
খোকার বড় মাসী
বড়ই ভাল বাসি,
অপি-খোরাকী থােকার বাহন, বিনা মায়নায় দাসী।
থােকার মেজো মাসী,
কাণ্ড দেখে হাসি ;-
বার মাসই তীর্থ করেন, কামাখ্যা-প্রবাসী।
খোকার ছােট মাসী
অতি অল্পেই খুসী,
এক পয়সার উঁচ পেলে বত্রিশ দাতের হাসি।
থােকার মা যে অই,
দুধ ফেলে প্রায় দই ;
এক ঘুমেতে রাত্রি পোহায়, কুম্ভকর্ণের সই।
খোকার বড় মা
দেখতে প্রতিমা,
কথায় কথায় অভিমান, ফোছ-মনসার ছা।
থােকার ঠাকুর মা,
গুণের নাই সীমা,
গায়ের মাংস ছিড়ে নিলেও মুখে নাইকো রা।
খােকার মামারা
কৃপণের চুড়া,
চেং-সিংহের অবতার -সদাই মেজাজ চড়া।
{:৪১ )
থােকার জেঠা কাকা
স্বভাব কিবা বাকা,
ভদ্রতায় শিরােমণি নম্রতায় মাথা।
খােকার মামীরা,
সবাই ভাল তারা ;
একটী কেবল দুনিয়ার বার—হদ লক্ষ্মীছাড়া।
খােকার পিসীমা
আছে তিন জনা,
সব রকমে ভাল তারা, নাইকো উপমা।
থােকার পিন যিনি,
শুদ্ধ শান্ত মুনি ;
তাঁহার নিন্দা যে কবে, তার বন্ধু গত শনি।
খােকার মা’র দুরাশা। (ParvArt.)
থােকার মা বুড়ী,
বয়স তিন কুড়ী ;
আ পরে পায়,
হলুদ মাখে গায়।
ওলে ওলাে থােকার মা,
ও চালাকী খাটবে না।
মিছা সাবান পাউডার,
মিছা আতর ল্যাভেণ্ডার ;
(
মিছা শাড়ী নীলাম্বরী,
মিছা সকল জারীজুরি।
বটের ব’ নামলে পরে
আর কি ফিরে উঠতে পারে ?
হাতীর ও ডু নয় তাে সে,
এক বার নেমে উঠবে যে।
ওলে ওলাে থােকার মা,
অত রঙ্গ করো না।
তিন বিয়ানের কাছাকাছি,
আর কেন সাজ মিছামিছি।
জানি তােমার---
ঠন্,
টের পেয়েছি পচা পােটক।
সম্পূর্ণ।
বিজ্ঞাপন।
নিম্নলিখিত কবিতা পুস্তকগুলি আমার নিকট ও কলিকাতা
কর্ণওয়ালিস্ স্ট্রীট গুরুদাস চাটুজার পুস্তকালয়ে প্রাপ্তব্য:
০ ০
০
০ ০ ০
খােকাবাবু প্রসঙ্গে
কাহিনী
আশীৰ্বাদ (শ্রীশ্রীনিবাস বন্দ্যোপাধ্যায় বি, এ,-প্রণীত ;
“হিতবাদী” প্রভৃতিতে বিশেষ প্রশংসিত)
প্রতি-উপহার
যােগেশকুসুম কাব্য ঐ
০
০
একেদার নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়,
পােঃ ধলা, জেলা ময়মনসিংহ।
- -
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.