Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Samayik Chitra Part.1

Das,chandranath · 2009/11/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সাময়িক চিত্র।
প্রথম ভাগ।
শ্রীচন্দ্রনাথ দাস
কলিকত
২১১নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, ব্রাহ্মমিশন প্রেসে
এললিতমােহন দাস দ্বারা মুদ্রিত ও
প্রকাশিত।
মে, ১৮৯৫ সাল।
(All rights reserved.)
মূল্য » আনা।

No text on this page.

TO
The
Sacred
Memory
His Highnes
THE LATE
MAHARAJI CHAMARAJENDRA 1100DAYAR
BAHADUR, G. C. S. I.
MAHARAJA OF MYSORE
this work is most aspectfully
dedicated.

No text on this page.

ভূমিকা। সাময়িক বিশেষ বিশেষ ঘটনা অবলম্বনে আমি সময় সময় কতক গুলি কবিতা লিখি, এবং তাহা গত কয়েক বৎসরে “বামাবােধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল। তাহার কয়েকটা এবং আমার কল্যাণীয়া জ্যেষ্ঠা কন্যা শ্রীমতী কুসুমকুমারী দাস বিরচিত “প্রকৃতি-মাধুরী”, “স্বর্গের ফুল” ও “দুঃখ-স্মৃতি” এই তিনটা কবিতা লইয়া সাময়িক-চিত্র নামে এই পুস্তক মুদ্রিত হইল। এত শীঘ্র পুস্তকখানি সাধারণের সমক্ষে প্রকাশিত হইবার সম্ভাবনা ছিল না। যে ঘটনাসূত্রে পুস্তকখানি এক্ষণে প্রকাশিত হইল, তাহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এই :- গত পৌষ মাসে মহামান্য মহীরাধিপতি সপরিবারে মহা- নগর কলিকাতা পরিদর্শনে আসিয়াছিলেন। দুর্ভাগ্য ক্রমে হঠাৎ পীড়িত হইয়া বেলিয়াঘাটার প্রাসাদে কলেবর পরিত্যাগ করেন। এই শােচনীয় আকস্মিক ঘটনায় সকলেই শােক- সাগরে নিমগ্ন হন, এবং রাজপরিবার প্রবল শােকেচ্ছাসে ভাসিতে ভাসিতে মহাসুরে প্রাতগমন করেন। এতদুপলক্ষে আমি একটী শােক-গাথা লিখিয়া “বামাবাধিনী পত্রিকায়” প্রকাশ করি, এবং সহানুভূতিসূচক একখানি লিপিসহ তাহার একখণ্ড মহীসুর-মহারাজ্ঞীর প্রাইবেট সেক্রেটরির নিকট পাঠাই। কিছুদিন পরে মহীর-মহারাজ্ঞী পারিতােষিকiye স্বরূপ আমাকে ১০০ টাকা প্রদান করেন। এই উপহার- লব্ধ টাকার সাহায্যে সাময়িক-চিত্র” পুস্তকখানি মুদ্রিত হইয়া সাধারণের নিকট প্রচারিত হইল। মহারাণীর এই বিশেষ অনুগ্রহের জন্য গ্রন্থকার তাহার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকিবেন। উপসংহারে আমি বিনীতভাবে ও কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিতেছি যে, সিটি কলেজের সুযােগ্য প্রিন্সিপাল শ্রদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত বাবু উমেশ চন্দ্র দত্ত বি, এ, মহাশয় অনুগ্রহপূর্বক পুস্তকের আদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া আবশ্যক মতে সংশােধন করিয়া দিয়াছেন। তাহার এই অযাচিত পরিশ্রম ও সাহায্য ভিন্ন আমি কখনও একাৰ্যে কৃতকার্য হইতে পারিতাম না। স্বর্গীয় মহারাজার পরলােক গমন উপলক্ষে যে কবিতাটী লিখিত হয়, তাহা পরপৃষ্ঠায় মুদ্রিত হইল । গ্রন্থকার।

বিলাপ।
কি কঠিন হিয়া তাের—নিঠুর শমন,
অঞ্চলের নিধি মা’র করিলি হরণ !
কোল হতে কেড়ে নিবি দ্বিতীয়ার চাদ,
তাই বুঝি পেতে ছিলি মৃত্যু-রূপী ফঁাদ ?
শ্রীহীন করিলি আজ শ্রীরঙ্গ পট্টন,
শূন্য হ’ল এতদিনে রাজসিংহাসন।
সতীর মাথার মণি-কবরীর ফুল,
কেড়ে নিলি অকস্মাৎ বুকে বিঁধে শূল।
নিষাদ শরেতে বিদ্ধ বিহঙ্গিনী প্রায়,
ছট ফট করে সতী মরম ব্যথায়।
বিষাদ-কালিমা মাখা ও মুখ কমলে,
শরতের শশী যেন রাহুর কবলে !
পতিশােকে একেবারে সুখ শান্তিহারা,
নয়নে বহিছে শত যমুনার ধারা।
গভীর আঁধার ঘােরে ঘেরেছে হৃদয়,
সুখের তপন আর হবে কি উদয় ?
প্রবাসের সুখ যত ফুরাইল সব,
আবাসে চলেছে সতী মুখে নাহি রব!

০
পতি-সহ গৃহবাস-আশার স্বপন,
ভাঙ্গিয়াছে একেবারে নিঠুর শমন।
কি কাজ সাম্রাজ্যে তার–পতি নাই যার,
সংসার শ্মশান তুল্য-অনিত্য অসার।
সঙ্গিনী পতির ভস্ম রেখে বঙ্গদেশে,
দেশে যায় একাকিনী কাঙ্গালিনী বেশে।
আশা ও ভরসা কত-কত আকিঞ্চন,
অতল সমুদ্র তলে হলাে নিমগন।
কে লঘিবে বিধাতার অলঙ্ঘ্য বিধান,
তার কাছে রাজা প্রজা সকলি সমান।
মরতে অমরাবতী পুরী মহীসুর,
উৎসব আনন্দে সদা ছিল ভরপূর ;
রাজার অকাল মৃত্যু বাৰ্তা ভয়ঙ্কর,
বিনা মেঘে বজ্রাঘাত মাথার উপর।
লক্ষ লক্ষ প্রজা আজি লুটায়ে ভূতলে,
ভাসাইছে মহীসুর নয়নের জলে।
কত সুখ ভুঞ্জিয়াছে রাজার শাসনে,
সকলি জাগিছে আজ তাহাদের মনে।
রাম-রাজ্যে যেন তার করিয়াছে বাস ;
জগৎ জুড়িয়া যার যশ সুপ্রকাশ,

1/c
এমন বাজারে কাল করিলি হরণ,
কেবা আছে তোর মত নিঠুর এমন ?
অপােগণ্ড শিশু আজ হয়ে পিতৃহীন,
দীন হ’তে সেও যেন হইয়াছে দীন।
রাজ্যসুখ ধন মান অতুল সম্পদ,
সব হতে শ্রেষ্ঠতর জনকের পদ।
সে পদ সেবনে যেবা না পায় সুযোগ,
রাজ্য ভােগ তার কাছে করমের ভোগ।
পতিশােকে সতি কেন হইছ কাতর ?
দেবলোকে আজি তঁার মহা সমাদর।
ডেকেছেন বিশ্বমাতা আপনার পাশে,
প্রবাস ছাড়িয়া তাই গেছেন আবাসে।
জর মৃত্যু নাহি সেথা,-আনন্দ-বাজার,
যাইতেছে কত যাত্রী হয়ে ভব পার।
সেথায় বসন্ত চির বিরাজে কেবলি,
বহিছে মলয়নিল—ঝঙ্কারিছে অলি।
বিকশিত পারিজাত অতুল মাধুরী,
কি সুন্দর মরি মরি!--সে অমরাপুরী।
দেব পতি, মর্ত্তে তব দেবীর জীবন,
কিছু দিন পরে পুনঃ হইবে মিলন।

॥y/০
যে ব্রত নিয়েছ সতি–পাল কায় মনে,
জ্ঞানে ধর্মে শান্তি সুখে পাল প্রজাগণে
মহীশূর মহীশুর মহিষীর গুণে,
কতই আনন্দ হয় ওই কথা শুনে !
‘স্বর্গদেবী’ মহীসুরে করিছেন বাস,
এই কথা কোটিক েকরুক প্রকাশ !

বিষয়। পৃষ্ঠা। ১ ০ ০ ০ ৪ # s এ ০ ০ ০ ১৭ ২২ ০ ০ ৮ সূচীপত্র। বসন্তকাল মহারাণী ভিক্টোরিয়া অভ্যর্থনা লেডি ডফারিণ মহারাণী স্বর্ণময়ী জীবন-প্রভাত বীরধাত্রী পান্না মিবারের কুলপুরােহিতের আত্মত্যাগ ভারতহিতৈষী মহাত্মা জন্ ব্রাইট বীরবালা কৰ্ম্মদেবী পূর্ণিমার চাঁদ দেবর্ষি নারদ ও দেবী সাবিত্রীর কথােপকথন সংগ্রাম বীরাঙ্গনা কৰ্ম্মদেবী, কর্ণবতী ও কমলাবতী প্রকৃতি মাধুরী স্বর্গীয় মহাত্মা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কুমারী ফাউলার মা ও ছেলে শােকাশ্রু ২৮ = ৫ । ••• ৪৫ ৫০০ ৪৭ * * * এ এ . ৬৪ স্বর্গের ফুল এs এ . . . ৭০ st লর্ড টেনিস দুঃখ-স্মৃতি বঙ্কিমচন্দ্র ৭৩ * - ৮ ০ ০ ০ ••• ৮৪ ৮৮ + + + বর্ষাকাল দার্জিলিং শরৎকাল। দাদাভাই নৌরজি • st L

অশুদ্ধ সংশোধন।
পৃষ্ঠা
পংক্তি
অশুদ্ধ
৪
৪
সম্রাজ্যে
সাম্রাজ্যে
জাতিগত
১৪
৮
সি, আই
পাত্ৰাপাত্র
সি, আই, ই
মুখেতে
মরুভূমী
৩৬
৪
৬৭
মরুভূমি
সাদা ফুল
আঙা ফুল
৭৮
সুইবে
হইবে

সায়িক চিত্র। বসন্তকাল। না জানি কি মহােৎসবে মাতিল ভুবন ? বাজিছে বাদি শত, অবিশ্রান্ত অবিরত, গাইছে মঙ্গল-গীত বিহঙ্গমগণ ! নব নব কিশলয়, দেহ মন কাড়ি লয়, ইচ্ছা হয় পলক না ফিরায় নয়ন ; বিজয়-কেতন যেন, উড়িতেছে অগণন, মরি কিবা সুশােভন-তরুলতা বন। বহিছে মৃদুল বায়, অমিয়া ঢালিছে গায়, ছড়াইছে স্নিগ্ধতায়—জুড়াতে জীবন, জীবন-সঞ্চার নব- প্রকৃতির, অভিনব পরশনে মলয়ের মন্দ সমীরণ ; আনন্দের পারাবারে, ভাসাইয়া বসুধারে, ধরিছে মােহন বেশ—বসন্ত বাহার। অপরূপ রূপে সাজি, মােহিতেছে তরুরাজি, পরিয়াছে গলে কিবা কুসুমের হার ! ন

সাময়িক চিত্র।
ধরা যেন কুসুমিত,
নবভাবে বিকসিত
বিমােহিত দশদিশ সৌরভে তাহার,
পূরিল গহন বন,
গিরিগুহা উপবন
আনন্দেতে নিমগন নিখিল সংসার।
অহহ কিবা মনােলােভা ! স্বভাবের চারুশোভা
চাহিলে পলকশূন্য যুগল নয়ন!
ভাবুক প্রেমিক যারা, ভাব-রসে মাতােয়ারা
বারেক নিরখি তারাভাবেতে মগন।
কহ কহ ঋতুরাজ,
পরায়ে অতুল সাজ
কে আনিল আজ তােরে অবনী-মাঝার ?
কার সুধা করি দান, কাড়িয়া লইছ প্রাণ,
করিয়াছ সুধাময় নিখিল সংসার?
প্রকৃতির অন্তরালে, রেখেছ কি এককালে,
লুকাইয়ে,—সকলের লুকান মাণিক ?
না হেরি সে ভব-প্রাণ, হারানিধি হতজ্ঞান,
চেতনা না পায় প্রাণ,—চাহে প্রাণাধিক।
এস হে প্রাণের সখা,
প্রাণমাঝে দাও দেখা
বিরাজ হৃদয়মাঝে ওহে বিশ্বরাজ !
হই প্রেমে মাখামাখি, করি দেহে দেখাদেখি,
প্রাণে প্রাণে একেবারে মিশে যাই আজ।

বসন্তকাল।
বসন্তের আগমনে,
মাতিছে জগতজনে
গাইছে বিহঙ্গগণে বিজন সমাজে ;
বাজিছে বিজয়-ভেরী,
হৃদি মন মুগ্ধ করি
কুহরিছে পিকবর থেকে মাঝে মাঝে ।
সকলেই মত্ত ভবে,
আমি কেন একা তবে
থাকিব ছাড়িয়া সেই হৃদয়ের ধন?
লভিয়ে অমূল্য নিধি,
নিরন্তর নিরবধি,
হৃদয়ে রাখিব করি অতুল যতন।
প্রেমেতে পাগল হয়ে,
বিজনে সখীরে লয়ে,
বিহরিব প্রেমানন্দে দিবস-যামিনী,
দেখিব নয়ন ভরি,
অরূপ রূপ-মাধুরী,
উৎসারিবে হৃদিমাঝে প্রেম-প্ৰবাহিণী ;
উথলিবে সুধারাশি,
ফুটিবে প্রেমের হাসি,
বিকশিবে প্রেম শশী বিমল কিরণে,
পবিত্র হইবে প্রাণ, প্রেম-সুধা করি পান,
কৃতার্থ হইব সেই সুখের মিলনে !

৪
সাময়িক চিত্র।
মহারাণী ভিটোরিয়া।
রমণীর শিরােমণি ব্রিটনের সিংহাসনে,
মায়ের মতন যিনি পালিছেন প্রজাগণে।
রাজ্যৈশ্বৰ্য বলবীর্যে কে বা আঁটে এ ধরায় ?
যাহার সম্রাজ্যে রবি অস্ত কভু নাহি যায় ।
বিশাল ভারতে আজি বিজয়-পতাকা যার,
উড়িছে কাপায়ে অরি, তুলনা কি মিলে তার?
তিনি রাজ-রাজেশ্বরী বন্দনীয়া সবাকার,
অবতীর্ণ অবনীতে করুণার অবতার।
দীনের দুঃখেতে সদা কার এত কাদে প্রাণ,
গােপনেতে খুজে খুজে কে করে কাঙালে দান?
দিবানিশি ব্যস্ত মাতা প্রজার মঙ্গল তরে,
তাই আজি প্রজাগণ পূজিতেছে ঘরে ঘরে।
‘ভিটোরিয়া--এই নাম যখনি পশিছে কাণে,
অমনি ভকতি-রস উথলি উঠিছে প্রাণে।
এমন চরিত্ৰ-পূত রমণী রতন পেয়ে,
ধন্য। এধরণী আজ,—সমগ্র জগত ছেয়ে
‘ভিকটোরিয়া-যশােগীতি’—গাইতেছে একতানে
কণ্ঠে কণ্ঠ মিলাইয়া দিবানিশি কোটী প্রাণে।
5

অভ্যর্থনা
কি গুণে জননী তুমি হলে এত ভাগ্যবতী ?
কে আছে তােমার মত পতিব্রতা সাধ্বী সতী ?
পতি বিয়ােগের পর যাপিলা বছর কাল,
পতির মূরতি ধ্যানে, থেকে লােক-অন্তরাল।
পাতিব্ৰত্য রমণীর প্রাণ হ’তে প্রিয়তর,
পালিছ সে মহাব্ৰত ধরমেতে করি ভর।
দেখালে যে দৃশ্য মাগো ভুলিব না এ জীবনে,
ঘঘাষিবে অতুলকীৰ্ত্তি চিরকাল জগজনে।
থাক চিরজীবী হয়ে, ভুঞ্জ সদা স্বাস্থ্য সুখ,
প্রজার মঙ্গল সাধ-ঘুচাও তাদের দুখ।
তােমার শাসন-যুগইতিহাসে চিরকাল,
থাকিবে অতুলনীয়, মুছিতে নারিবে কাল।
অভ্যর্থনা।
এস যুবরাজ-এলবার্ট ভিক্টর।
ওহে ভারতের ভাবী অধীশ্বর।
রাজ-রাজেশ্বরী পিতামহী যার,
হেন সুভাজন কোথা পাব আর ?
এলবার্ট ভিক্টরের ভারত আগমন উপলক্ষে রচিত।
যুবরাজ পুত্রের অকাল মৃত্যুতে কবির আশার স্বপন
ভাঙ্গিয়াছে, এ দুঃখ অবর্ণনীয়।

সাময়িক চিত্র।
এসহে কুমার—বিশকোটি প্রাণ
একান্তে করিছে তােমার সম্মান।
আশীষ করিছে দুই বাহু তুলি
প্রজা সাধারণ, মন প্রাণ খুলি।
কামনা করিছে তােমার কল্যাণ
কায় মন প্রাণে, ভারত সন্তান।
দি’ছে উলুধ্বনি—যতেক রমণী
তব আগমনে, কপায়ে ধরণী।
দেখিবার আশে-ছাদে আশে পাশে
দাঁড়ায়ে রয়েছে-মনের উল্লাসে
পুরনারিগণও চাদ বদন
নিরখি কৃতার্থ হইবে কখন?
পথ পানে তাই তাকায়ে আছে।
কিবা ভাগ্যবতী'-তােম। হেন ধনে
গর্ভে ধার আজ-ধন্য। এ ভুবনে
তােমার জননী, জনক তােমার,
কত সুখী আজ—অবনী মাঝার।
পেয়ে পুত্রনিধি—অমূল্য রতন ;
কেবা ভাগ্যবান্ তাহার মতন ?
আহা মরি মরি কি সুন্দর কায়,
.

অভ্যর্থনা।
৭
।
রূপে গুণে যেন কার্তিকেয় প্রায়।
ধন্য সেই বিধি গড়িল যেবা !
দেখ যুবরাজ-এ ভারত আজ
পরিয়াছে কিবা অপরূপ সাজ!
কেন তব তরে—প্রতি ঘরে ঘরে
উৎসব করিছে প্রফুল্ল অন্তরে-
নরনারিগণ-এত আয়ােজন
করিয়াছে কেন তােমার কারণ ?
কেন করে সবে তব যশােগান,
কিসে হলে তুমি এত ভাগ্যবান ?
শত শত লােক চাহি মুখ পানে
কৃতার্থ মানিছে কৃতজ্ঞতা দানে,
ভকতি ভরেতে করিয়ে প্রণাম,
ঘােষিছে সকলে তােমার সুনাম।
রাজভক্ত প্রজা--ভারত-সন্তান
বিদিত সংসারে, সপে দেহ প্রাণ
রাজকরে, করি আত্মসমর্পণ,
রাজ-হিতে জানে আপন কল্যাণ,
রাজ-দরশনে স্বর্গ পায় করে।
হিমালয় হতে কুমারিকা পার

সাময়িক চিত্র।
সমস্ত ভারতে আনন্দ অপার ।
রাজা-মহারাজা-প্রজা অগণন
যুবরাজে হেরি আনন্দে মগন।
পূর্ণ জনপদ-আনন্দ উৎসবে,
নৃত্য গীত বাদে মাতিয়াছে সবে।
জনতার ভিড়-গাড়ীর ঘর্ঘরী
পশিছে শ্রবণে দিবা বিভাবরী।
আজি এ নগর ইন্দ্রের ভবন,
আলােকমালায় শােভিছে কেমন ?
চাহিলে মানস মােহিত হয়।
বিলুপ্ত ভারতে আৰ্য্যকীৰ্ত্তি সব,
দেখাবার কিছু নাহি অভিনব।
শৌর্য বীৰ্য্য এবে স্বপনের কথা
পুরাণেতে শুনি, যেন উপকথা।
জাহ্নবী যমুনা আছে হিমালয়
জাগাইতে স্মৃতি, কত কিছু লয়
পেয়েছে ভারতে-কালস্রোতে গতি ;
ধারা বহে চোখে সে সকল স্মরি।
যাও যুবরাজ দেখ ভ্ৰমি সব,
কোথাও না পাবে প্রাচীন গৌরব।

অভ্যর্থনা। নীরব সকল গিরি গুহা বন নদনদী সিন্ধু সুধাংশু তপন। মরমে মরিয়া আছে যেন সব ! অতুল ঐশ্বৰ্য্য—বিপুল বৈভব- নাহি কিছু তার,—কি দেখাবে অরি? সােণার ভারত এবে ছার খার। নিরখি বিষাদে নয়ন ঝরে। বিন্ধ্য হিমাচল জাবী যমুনা ! এ সময় কেহ নীরব থেকনা। দেও বিসর্জন বিস্মৃতি সাগরে পূৰ্ব্ব কথা, কেহ রেখনা অন্তরে। ‘জয় ভিটোরিয়া—জয় যুবরাজ কোটি কণ্ঠে মিলে গাও সবে আজ। অচেতন দেহে আসুক পরাণ, জাগিয়া উঠুক ভারত-সন্তান। বাজাইয়ে ভেরী ধরিয়ে নিশান, যুবরাজে সবে করুক সম্মান। গাওরে বিহঙ্গ সুমধুর সুরে, গাইয়ে জনম সফল কররে । হেন শুভ দিন কবে হবে আর,

১০
সাময়িক চিত্র।
বিজন সমাজে করিবি প্রচার
রাজ-আগমন ? শুনি সে বারতা
আনন্দে ভাসিবে বন্ত তরু লতা
মাতায়ে তুলিবি গহন বন ?
দীর্ঘজীবী হয়ে থাক যুবরাজ,
রাজ-সিংহাসনে যখন বিরাজ
করিবে ভিক্টর, প্রজানুরঞ্জন
রাজা বলি যেন সুযশ কীৰ্ত্তন
করে প্রজাগণ, এই ভিক্ষা চায়
সাধ প্রজাহিত থাকি সুস্থকায়,
ভুঞ্জ রাজ্য-সুখ ব্রিটনে’ বসি।
লেডী ফারিণ।
সাধিলে যে কাজ ভারতের তরে,
ভুলিবেনা কেহ যুগ যুগান্তরে।
স্মরিয়ে ওকথা কোটি নর নারী-
গাইবে নিয়ত সুযশ তােমারি।
দিয়েছ যে ঋণ লেডী ডফারিণ’
শুধিবার নয়, রবে চিরদিন

i.
লেডী ডফারিণ।
১১
আবদ্ধ সে ঋণে অবলাকুল!
কে জানিত আজ অবলার প্রাণ,
বাঁচাবার তরে স্বার্থ বলিদান
দিবে গাে জননী ? ভারত রমণী-
আশীষ করিবে দিবস রজনী !
প্রাতঃস্মরণীয় হবে তব নাম
বিশাল ভারতে, মুখে অবিরাম
লইবে সকলে; ভুলিবেনা আর
ঘরে ঘরে পূজা করিবে তােমার,
কৃতাঞ্জলি হয়ে ভকতি ফুলে ?
ভারত মহিলা—অজ্ঞান আঁধারে
চির নিমগন, ছার দেশাচারে !
প্রসব-যাতনা নহে ঘুচিবার,
কপালের ফের কে ফিরাবে তার ?
দয়ার প্রতিমা আসিয়ে ভারতে,
দেখিলা যে দশা কেমনে তাহ’তে
বাঁচে নারীকুল,—ভাবিয়া আকুল
কি হবে উপায়? উৎসাহ অতুল,
সাহসেতে ভর করি অতঃপর
আরম্ভিলা কাজ, খাটি নিরন্তর

=-=-=-=-==-=
সাময়িক চিত্র।
সফল যতন ; অমূল্য রতন
দিলা অবলারে, তােমার মতন
অবলা-বান্ধব কে অাছে আর ?
যাইবার বেলা দুটি কথা বলি
{ বলিবার নাহি, জানিছ সকলি )
ভারত ঈশ্বরী—ভিটোরিয়া, যার
দয়াতে পরাস্ত সমস্ত সংসার।
দুহিতার দশা দেখিলে যা তুমি
আপন চোখেতে, গিয়ে মাতৃভূমি
কহিও তাহারে, (দুঃখিনীর হয়ে, )
ভারত-রমণী থাকিবে কি লয়ে ?
নাহি জ্ঞানবল—অজ্ঞান সকল
শত শত নারী, জনম বিফল ।
ঘাের অমানিশি-অজ্ঞান আঁধার
হিমালয় হতে কুমারিকা পার !
ঘুচাও বিতরি জ্ঞানের আলো।
- " = = = =

gr
মহারাণী স্বর্ণময়ী।
মহারাণী স্বর্ণময়ী।
দয়ার প্রতিমা খানি তুমি,
তব ঋণে ঋণী বঙ্গভূমি।
মুছাইলা কত অশ্রুধার
অভাগিনী বঙ্গবিধবার,
মাতৃহীন শিশু লয়ে ক্রোড়ে
বাঁধিলা অপত্য-স্নেহ-ডোরে।
আকালে ছাইল যবে দেশ,
ঘুচাইতে নরনারী-ক্লেশ,-
অন্নছত্র খুলি শত শত
বিলাইলা অন্ন অবিরত।
অর্থ রাশি দিলা দেশহিতে,
ধন্যা তুমি ধন্য। অবনীতে।
তােমার দয়ার তুলনা নাই!
‘স্বর্ণময়ী-গুণ’ সাধে কি গাই ?
দয়াতে মায়াতে গঠিত হিয়া,
সাধিছ মঙ্গল হৃদয় দিয়া।
পরের কল্যাণে সঁপিছ প্রাণ,
নিঃস্বার্থ উদার তােমার দান।

১৪
সাময়িক চিত্র।
কে বলে মা তুমি যশের তরে
রাশি রাশি অর্থ দিতেছ পরে?
কে বলে মা তব দয়ার সরঃ
শুকাইয়া গেছে ? পাষণ্ড নর
না হলে কি কেহ দুর্নাম রটে ?
‘নির্দয়তা’ নাই তােমার ঘটে।
আজিও সে সরে গরিব কত,
জুড়াইছে ডুবি জনমের মত।
অগাধ সলিল শুকায় কবে ?
যত লও নাহি নিঃশেষ হবে।
পাত্রপাত্র ভেদ নাহিক দানে,
এত উদারতা কাহার প্রাণে ?
এ মহাপ্রাণতা ক’জনে সাজে
বিনা স্বর্ণময়ী ভারত মাঝে?
ধন কুবেরের অভাব নাই,
ক’টী প্ৰাণ হেন দেখিতে পাই ?
দয়াময়ী তুমি যথার্থই মা,
ভারতে তােমার নাহি উপমা।
না জানি কি উপাদানে
( মিলে না যা এ সংসারে )

__
মহারাণী স্বর্ণময়ী।
বিধাতা বিরলে বসি
গঠিলেন মা তােমারে ?
পর-দুঃখ নিরখিলে
কেঁদে উঠে তব প্রাণ,
আপন ভাণ্ডার খুলি
অকাতরে কর দান।
স্বর্ণাক্ষরে তব নাম
রবে বঙ্গ ইতিহাসে
“স্বর্ণময়ী দয়াময়ী
নারীরত্ন বঙ্গদেশে।”
রাখিল। অতুল কীর্তি
সাধি সদা পরহিত,
সকলে আনন্দে মাতি
গাবে তব যশোগীত।
জীবনের মহাব্ৰত
পালিলে যা এ ভুবনে,
পুরস্কার পাবে তার
গিয়ে নিত্য নিকেতনে।
বঙ্গের গৌরব তুমি
লভেছ রাজ-সম্মান
L

s
সাময়িক চিত্র।
কিন্তু সে সম্মানে তব
বিচলিত নহে প্রাণ।
সাধিছ কর্তব্য জানি
স্বদেশের উপকার,
কর্তব্যের কাছে শত
রাজোপাধি কোন ছার!
মহারাণী স্বর্ণময়ী
সি, আই, ই, উপাধি তব,
তাহাতে কি বাড়িয়াছে
তােমার গুণ-গৌরব?
‘দয়াময়ী’ তুমি তাই
গৃহে গৃহে তব নাম
লইতেছে নরনারী
দিবানিশি অবিরাম।
অতুলন মহাব্ৰত করিয়া পালন,
সফল জনম তব সার্থক জীবন।
ভারত-ললনা মাঝে ধন্যা দয়াময়ী--
লভি লা অক্ষয় যশঃ রাণী স্বর্ণময়ী।
যে ঋণেতে ঋণী বঙ্গ, শােধিবার নয়,
দানেতে করিল। আজ সবে পরাজয়।

জীবন প্রভাত।
আবাল বনিতা বৃদ্ধ ঘােষিবে সুযশ,
তােমার উৎসব হবে বরষ বরষ ।
‘স্বর্ণোৎসব’ সবে মিলি দিব তার নাম,
পূজিয়ে তােমারে বঙ্গ হবে পূর্ণকাম।
হরষে রমণীকুল দিবে উলুধ্বনি,
তােমারে উদরে ধরে ধন্য। এ ধরণী।
ধন্য ধন্য স্বর্ণময়ী দয়ায় অতুল,
তােমার নামেতে আজ ধন্য। নারীকুল।
জীবন প্রভাত।
-
(১)
ঘুচিল আঁধার
উদিল তপন
বহিল মৃদুল বায়,
ফুটিল কুসুম
ছুটিল ভ্রমরা
মধুর পিয়াসে ধায়।
(২)
বিহগ বিপিনে গাইছে ললিত
মােহিছে মনুজ মন,
শিশিরের কণা বিভাকর করে
মরি কিবা সুশোভন !

C
সাময়িক চিত্র।
(৩)
আনন্দে মগন-নিখিল সংসার।
পেয়ে বল অভিনব,
জাগিয়া উঠিছে অচেতন প্রাণ
ঘুমাইয়া ছিল সব।
(৪)
প্রকৃতির শােভা নিরখি ভাবুক
ভাবেতে বিভাের এবে,
ভকতি ভরেতে মন প্রাণ খুলি
ব্ৰহ্ম সনাতনে সেবে।
(৫)
মানস বিহঙ্গ তুই কি রহিবি
নীরব, ভবের মাঝে ?
মহেশ-মহিমা গও একবার
ভুল না সে বিশ্বরাজে।
জীবন প্রভাতে না ভজিলি যদি
হবে কি সময় আর ?
এমন সুযােগ পাইবি না কভু
আসিছে ঘাের আঁধার !

জীবন প্রভাত।
(৭)
জীবন সন্ধ্যায় ফুরাইলে বেলা
অস্ত যাবে আয়ু-রবি,
শিথিল-অবশ হইবে এ দেহ
থাকিবে না রাঙ্গা ছবি !
(৮)
বার্ধক্যে জড়তা স্বভাবের গতি,
কে রােধিতে পারে তায় ?
শমন আসিবে
হেরিয়ে তখন
করিবিরে হায় হায় !
অতএব বলি
প্রভাত সময়
বিভুপদে সঁপি মন,
মানব জনম সফল কর রে
পাইবে নব জীবন।
.

২০ সাময়িক চিত্র। বীরধাত্রীপান্না। (১) আহা কি নিঃস্বার্থভাব দেখালে জগতে। বীরধাত্রি–ধন্য। তব বীরত্বে ধরণী। পরাণ পুতলি সেই অমূল্য রতন- বিসর্জন দিলা আজ কোন্ প্রলােভনে ? * -- : - : বীরনারী এ ভারতে হেরি কি আর ? উদার নিঃস্বার্থভাব আছে কি এমন ? ধরিত্রী গাইবে যশ ধন্য ধন্য করি- অনুদিন অনুক্ষণ–শয়নে স্বপনে। (১) খৃষ্টীয় ষােড়শ শতাব্দীতে মিবারের রাজসিংহাসন লইয়া ঘোরতর বিবাদ হয়। রাজা সংগ্ৰামসিংহের মৃত্যুর পর তাঁহার দাসীপুত্র বনবীর সিংহাসন অধিকার করিয়া রাজ-ভ্রাতা বিক্রমজিতের প্রাণসংহার করেন। ছয় বর্ষীয় রাজকুমার উদয় সিংহ তখন সিংহাসনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। এই বালক নিদ্রিত, এমন সময় তাহার প্রাণবধার্থ বনবীর শাণিত অস্ত্র লইয়া আসিতেছে, এই কথা তাহার ধাত্রী পান্নার কর্ণগোচর হয়। পান্না। অবিলম্বে রাজপুত্রকে এক নাপিতদ্বারা স্থানান্তরিত করিয়া তাহার শয্যায় আপনার শিশুপুত্রকে শােয়াইয়া রাখে। শত্রু আসিয়া ধাত্রীর সম্মুখে ধাত্রীপুত্রকে বিনাশ করে, ইহাতে রাজপুত্র ও রাজবংশ রক্ষা পায়।

» বীরধাত্রী-‘পান্না। স্মরি ও পবিত্র নাম ভারত-রমণি- পরহিত মহাব্রতে কর প্রাণপণ ; দেখাও জগতে মহাপ্রাণের প্রতিভা, বীরত্ব কাহিনী সবে শুনুক আবার। এ মহাপ্রাণতা শুধু ভারতে সম্ভবে! প্রভুর সেবায় সুখ স্বার্থ বলিদান অসামান্য অলৌকিক অপার্থিব যাহা, কে কবে দেখেছে আর অবনী মাঝার ? সন্তানে সঁপিয়া দিল ‘ঘাতকের’ করে ! মায়ের পরাণ-কিরে পাষাণে গঠিত? অটল-অচল—দৃঢ় যেন হিমাচল, বিবেকের অনুরােধে,-কোমল হৃদয় !! ধন্যা তুমি—বীরধাত্রি ‘পান্না’ ধরাধামে- রাখিলা যে কীৰ্ত্তি আজ-অনন্ত অক্ষয়। মৃতপ্রাণ বিশ কোটি ভারতসন্তান- বুঝিবে কি সে মহত্ব—দেবের দুলাভ? কত নারী করিয়াছে আত্ম-বিসর্জন পরহিতে, ইতি হস করিছে বর্ণন ;

সাময়িক চিত্র। কিন্তু সে অমূল্য নিধি-হৃদয়ের ধন, জননী সজ্ঞানে কোথা করেছে অর্পণ ? ন বলিতে রসনা কঁপে,—বর্ণিতে লেখনী- অবশ,-স্তম্ভিত মন–ভাবিয়ে অবাক ! কল্পনা অতীত-একি অলৌকিক ভাব- অচিন্ত্য-মহা-হেরি তােমার জীবনে ? কে দেখাবে এ জগতে---মানসিক বল- তেজস্বিতা,-দেখালে যা ভারত-রমণী’ ? দুৰ্বল অসাড় মনে নহে সে আয়ত্ত, বীরত্ব-বিহীন আজ ভারত-সন্তান !! — মিবারের কুল-পুরােহিতের আত্মত্যাগ । (১) তেজস্বী যুবকদ্বয় বর্শা লয়ে করে- সম্মুখীন পরস্পর,কেশরীর প্রায় মহাবল পরাক্রান্ত। কারেও না উরে ; দুলিছে জীবন দুটী সংশয়-দোলায় । &

মিবারের কুল-পুরােহিতের আত্মত্যাগ।
(২)
এমন সময় এক সৌম্যমূৰ্ত্তি সেথা
আবিভূত আচম্বিতে! করি সম্বোধন,
গম্ভীর উন্নত স্বরে কহিলা এ কথা;
ক্রীড়াভূমি সাবধান ভুলনা কখন।
ভাই ভাই রণ নহে ক্ষত্রিয়-লক্ষণ।
ক্ষান্ত হও খােয়া’ওনা বংশের মর্যাদা ;
বাপ্পারাও কুলােদ্ভব রাখিও স্মরণ,
যে কুল কালিমশূন্য রয়েছে সৰ্ব্বদা।
(৪)
ক্ষত্রিয়ের কুলধৰ্ম্ম অরাতি নিপাত,
বিধিবে বরশাঘাতে তাহার হৃদয়,
ভায়ের শরীরে কভু তুলিবে না হাত,
রাখিবে অক্ষয় কীৰ্তি কৰি শত্ৰু ক্ষয়।
(৫)
ভা’য়ের শােণিতে অস্ত্র কলঙ্কিত করি
ক্ষত্রিয়ের অপযশ রটো না জগতে ;
যে অস্ত্র নাশিয়ে রণে শত শত অরি
চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে ভারতে।

২৪
সাময়িক চিত্র।
(৬)
কিন্তু সে কথায় নাহি হ’ল ফলােদয়,
শাণিত বরশা করে করিয়ে ধারণ
চালাইছে মুহুর্মুহু, জীবন সংশয়।
শূন্য হয় মিবারের রাজ-সিংহাসন।
(৭)
দেখিলা স্বচক্ষে ইহা কুল পুরােহিত।
কি যেন চিন্তিলা মনে মুহূর্তের তরে ?
যুগ কি লাগি যেন করিল কুঞ্চিত,
জানি কি মৰ্ম্ম-কথা জাগিছে অন্তরে !
(৮)
কুল-পুরােহিত এবে নিস্তব্ধ নীরব ।
নিমেষে বাহির করি ক্ষুদ্র তরবারি,
বিধিলা আপন বক্ষ ক্ষত্রিয় গৌরব
রাখিলা অক্ষুন্ন ভবে—কি বা হিতকারী ।
(৯)
নিরখিয়ে দুই ভাই-—অবাক্‌-স্তম্ভিত।
অবশ হইল অঙ্গ-শিথিল উদ্যম,
শক্ত ও প্রতাপ সিংহ বড়ই ব্যথিত,
অনুতাপ তুষানলে দহিছে মরম।
52

মিবারের কুল-পুরােহিতের আত্মত্যাগ। না করিয়ে অস্ত্রাঘাত কনিষ্ঠের গায় রাজ্য ছাড়ি যেতে তারে করিলা আদেশ, শিরােধার্য্য করি শক্ত যাইল সেথায়— সম্রাটের সন্নিকটে, ত্যজি নিজ দেশ । বিদ্বেষ বুদ্ধির বশ-কুটিল হৃদয় দাদার অনিষ্ট চিন্তা মূল মন্ত্র সার জপমালা দিবানিশি ভুলিবার নয়, কে জানিত পদানত হইবে আবার? উদার প্রতাপ সিংহ-কনিষ্ঠকে ধরি প্রেমভরে দিল। আজি গাঢ় আলিঙ্গন ; মিশি গেলা পরস্পর বিদ্বেষ পাসরি, ভায়ে ভায়ে হল পুনঃ সৌহৃদ্য স্থাপন। দেশহিতে আত্মােৎসর্গ করে যেই জন রাজ্যের কুশলে দেয় স্বার্থ বলিদান, ধন্যা তার জন্মভূমি, ধন্য সে জীবন- প্রাণ দিয়ে সাধে নিজ দেশের কল্যাণ। L, ৫

সাময়িক চিত্র।
(১৪)
ধন্য কুল-পুরােহিত—ব্ৰহ্ম-তেজোময়।
গাইবে তােমার গুণ ভাবী বংশধর,
রাখিলা যে কীৰ্ত্তি ভবে—অনন্ত অক্ষয়।
স্মরণ করিবে সবে যুগ যুগান্তর।
(১৫)
অমর হইলা ভবে করি দেহপাত।
স্বনামের সার্থকতা করিল। সাধন,
বাচাইয়ে যুবদ্বয়ে-মরি অকস্মাৎ!
জীবনের মহাব্ৰত করিলা পালন।
এ মহাপ্রাণতা—আজ কে বুঝিবে হায় !
কোথায় সে আৰ্যকীর্তি-প্রাচীন গৌরব ?
ভারত সন্তান এবে পুতুলের প্রায়,
পুরুষত্বহীনতায়-অকর্মণ্য সব।
(১৭)
এ মহান আত্মাৎসর্গ জগতে বিরল।
সভ্যজাতি হেঁট-মাথা ছিল যার কাছে,
সে জাতির অধঃপাত অধৰ্ম্মের ফল,
অবশ্য ভুগিতে হবে, অদৃষ্টে যা আছে !
-
5

g- মিবারের কুল-পুরােহিতের আত্মত্যাগ। ২৭ (১৮) বিদ্যা বুদ্ধি ধন মান যশ সমুদয় গিয়াছে ভারত ছাড়ি-জনমের মত? সৌভাগ্য তপন আর হবে না উদয় ? অজ্ঞানতা-অন্ধকার থাকিবে নিয়ত। (১৯) সে জাতির অভ্যুদয়-কখনাে কি হয় ? ভাই ভাই ঠাই ঠাইবৈরতা-বিদ্বেষ, কাটাকাটি মারামারি—নাহিক প্রণয়, বিচ্ছেদ-অনলে পুড়ি ছারখার দেশ। থাকিও না মৃতপ্রায় ঘুমে অচেতন একতা-বন্ধনে বদ্ধ হও অধিবাসী, জাগিয়া উঠুক পুনঃ মােহ-মুগ্ধ মন, দ্বেষ হিংসা অজ্ঞানতা সমূলে বিনাশি?

সাময়িক চিত্র।
ভারত-হিতৈষী মহাত্মা জন্ ব্রাইট।
মঙ্গলের নিশি গতে, বুধবার
সু প্রভাতে-যাত্ৰা করি, এ সংসার
ছাড়ি গেলা সেথা, দিব্য রথে চড়ি,
দেবতার দেশ-স্বর্ণস্বর্গপুরি।
অতুলিত কীৰ্ত্তি-সুযশ সুনাম
গাইবে সকলে থাকি ধরাধাম।
ধন্য হব মাের স্মরণে তােমার,
‘ব্রাইটের নাম—ভুলিব কি আর ?
ব্রিটন-ভারত-সমগ্র পৃথিবী
শােক-পরিচ্ছদ কর পরিধান,
ভকতি করিতে চাও যদি কারে,
দাও তঁারে আজ উচিত সম্মান।
উপযুক্ত পাত্র কোথা পাবে আর?
‘ব্রাইটের নাম করিয়ে স্মরণ
ধন্য হও আজ ধরাবাসিগণ !
রত্নগর্ভা তুমি ‘গেরেট ব্রিটন’
ধরিলে গর্ভেতে অমূল্য রতন।
পশ্চিম আকাশ করিয়ে আঁধার

ভারত-হিতৈষী মহাত্মা জন্ ব্রাইট।
খসিয়া পড়েছে-নক্ষত্র উজ্জ্বল,
অঞ্চলের নিধি হারায়ে জননী
পাগলিনী-পুত্র-শােকেতে বিহ্বল,
নয়নে বহিছে অস্ত্র ধারা !
দুখিনী ভারত কঁাদ একবার !
তাের পানে ফিরে কে চাহিৰে আর ?
পরম হিতৈষী ছিল একজন,
ভারতের হয়ে সে মহাসভায়,
মাঝে মাঝে দুটো হিতকথা বলি
কত উপকার সাধিত রে হায় !
আছে ‘গ্লাড়ষ্টোন বান্ধব তােমার ।
কে জানে কখন করিবে আঁধার
‘গেরেট ব্রিটনে’ ?—ব্রাইট’ যেমতি
করিয়াছে, এবে ক্ষুন্না বসুমতী।
সে দুখ-বারতা ভারতে যাই
পোছিল—‘ব্রাইট’ জীবিত নাই,
শত বাজ যেন বাজিলরে বুকে,
মূচ্ছিত হইল। ভারত মাতা!
হানি করাঘাত বক্ষে বার বার
জানাইলা সবে মরম ব্যথা !

সাময়িক চিত্র।
হৃদয়-বেদনা কে বুঝিবে তার?
বাগ্মী সে ‘ব্রাইট’ বিখ্যাত ভুবন !
পরহিত-ব্রতে ব্ৰতী চিরদিন ;
উদার নিঃস্বার্থ ভাবে প্রণােদিত
সরলহৃদয়, মলিনতাহীন।
স্বাধীনতাপ্রিয় অতি ন্যায়বা,
পরদুখে সদা কাদিত সে প্রাণ।
প্রজার মঙ্গল-মূলমন্ত্র সার,
প্রজা-সুখ বই জানিত না আর।
মহাসভা মাঝে--অদম্য অটল,
সাধারণ কাজে উৎসাহ প্রবল।
বিরােধ-বিরােধী; সাম্য সংস্থাপন
করিতে প্রয়াস--একান্ত যতন।
পরস্বাপহারী—দ্য যেই জন
পরের অনিষ্ট করিছে সাধন ;
দমনে সে রিপু প্রকাশ্য সভায়
দাড়াইয়া যবে জ্বলন্ত ভাষায়,
তীব্র প্রতিবাদ করিতেন তার,
চমকিত সব সদস্য সভার !
বক্তৃতা শ্রবণে স্তম্ভিত মন!
5

T ভারত-হিতৈষী মহাত্মা জন্ ব্রাইট। ৩১ ; নীতি-বিশারদ সুধীর প্রবীণ ‘ব্রাইট’ বিহনে প্রতিভা বিহীন ‘গেরেট ব্রিটন বিনে ‘গ্লাডষ্টোন সমকক্ষ তার আছে কয়জন? “শস্য বিধি” * লুপ্ত যার বাগ্মিতায় জন সাধারণ কত সুখী তায়। তঁাহার গুণের আছে কি তুলনা ? এমন হিতৈষী জগতে মিলে না। ভারতের তরে কে বা অতঃপর, যতন করিবে-খাটি নিরন্তর ? 'ব্রাইটের নাম—সুবর্ণ অক্ষরে, রাখ খোদি সবে হৃদয়-প্ৰন্তরে। প্রভাতে স্মরিবে পুণ্যশ্লোক বলে, কলঙ্ক রটিবে অকৃতজ্ঞ হ'লে, কেমনে ভুলিবে হিতৈষী জনে ? ব্রাইটের বস্তু তায় অন্যায় শস্যবিধি (Corila w) উঠিয়া যায়। . L-

সাময়িক চিত্র।
বীরবালা কৰ্ম্মদেবী ।
ধন্য রাজস্থান! তুমি পূজ্য সবাকার,
শত শত বীরাঙ্গনা,
গুণগ্রামে.অতুলনা,
বড়াল গৌরব কত, সুনাম তােমার ।
অরিন্ত রাজ-দুহিত।
দেখালে যে তেজস্বিতা,
অসামান্য অলৌকিক চরিত্রের বল ;
ভারতের ইতিহাসে
সীতা ও সাবিত্রী পাশে
স্বর্ণাক্ষরে চিরদিন থাকিবে উজ্জ্বল।
চাহিয়া পতির পানে
সাহস উৎসাহ দানে
কহিলেন বীরবাল—“সমর কৌশল
দেখিব স্বচক্ষে আজ,
পর নাথ রণ-সাজ ;
সুশায়ী হও যদি—থাকিয়ে অটল,
হইব অনুগামিনী,
আপমারে ধন্যা মানি,
রাজপূত-বালা কবে শমনেরে ডরে ।
5

বীরবালা কৰ্ম্মদেবী। ক্ষত্রিয় মরিবে রণে, যুদ্ধ করি প্রাণপণে জনম লয়েছে তাই ক্ষত্রিয়ের ঘরে। বাধিল তুমুল রণ, করি অসি উত্তোলন, আঘাত করিলা সাধু অরণ্যকমলে, অরণ্যকমল (ও) তার তরবারি খরধার লক্ষ্যকরি সাধু-শির হানিলা সবলে । দেখিলেন কৰ্ম্মদেবী তাহার সৌভাগ্য রবি চির অস্তমিত, ছাড়ি সমর প্রাঙ্গণ ; প্রাণের অধিক ধন দিতে হল বিসর্জন ভেঙ্গে গেল অকস্মাৎ সুখের স্বপন। কাতর না হয়ে তায় শৈল সম ধীরতায় অসি লয়ে নিজ হাতে এক বাহু তঁার— কাটিয়া কহিলা সতী ( ছিন্নমস্তা মূর্তিমতী)- L-

| - ও ৬ ন
৩৪
সাময়িক চিত্র।
“বলি ও বলিও দিয়ে শ্বশুরে আমার ;-
পুত্রবধূ আপনার
আছিল সে এপ্রকার।”
আদেশিলা অন্য কাহু কাটিতে আবার ।
কহিলা “হে অনুচর
বলি শুন অতঃপর
বিবাহের মণি মুক্তা যত অলঙ্কার
বাহু সহ সঙ্গে লয়ে,-
দিও নতশির হয়ে
অভাগিনী অবলার ক্ষুদ্র উপহার।”
যুদ্ধক্ষেত্রে চিতা জ্বালি
দিল। তাতে প্রাণ-ঢালি
সহাস্য বদনে সতী ত্যজিলা জীবন,
আহা! কি স্বর্গীয় ভাব
পবিত্র বীর স্বভাব
কে দেখাবে, কৰ্ম্মদেবি, তােমার মতন ?
ধন্য রাজপুত-বালা
সাজায়ে বরণ ডালা
ওই দেখ সাব্বিগণ স্বর্গ হতে আজ,
L
G

বীরবালা কৰ্ম্মদেবী।
এসেছেন ধরাতলে,
নিতে তাহাদের দলে,
তােমারে লভিয়ে ধন্যা রমণীসমাজ।
অতুল সৌন্দর্য্য রাশি
যেন রে শারদ-শশী
ভস্ম হ’ল চিতানলে চক্ষের নিমেষে,
কিন্তু সে চরিত্র গুণ
পরশনে চিতাগুণ
উজলিল শতগুণ অজানিত দেশে।
পঁহুছিল যথাকালে-
সে ছিন্ন বাহু যুগলে
দাহন করিতে আজ্ঞা দিল নৃপবর,
সতীর সম্ভ্রম তরে
সরসী খনন করে
‘কৰ্ম্মদেবী সরােবর’ নাম দিলা তার।
L..

সাময়িক চিত্র।
পূর্ণিমার চাঁদ।
কে তুমি হাসিছ সুনীল অম্বরে ?
মাতায়ে তুলিছ অবশ প্রাণ!
গাইছে নীরবে নিখিল ভুবন
অনন্ত সুখেতে মিলায়ে তান!
(২)
সুধার লহরী সুখ-সিন্ধু মাঝে
উঠিছে পড়িছে খোলছে তায়,
বিমল বিভাতি রজত জোছনা
মুকুতার পাতি শােভিছে গায়।
(৩)
মলয়-অনিল মৃদুল হিল্লোলে-
হেলিয়া দুলিয়া নাচিয়া যায়,
আনন্দে মগন প্রেমে মাতােয়ারা
কি করিবে কিছু ভেবে না পায়।
(৪)
পাখীরা গাহে না ভাবেতে বিভাের !
শাখীরা নীরব-নাহিক সাড়া,
কি

পূর্ণিমার চঁাদ।
নিস্তব্ধ নিষ্প-প্রকৃতি সুন্দরী,
কি মহা ভাবেতে হয়েছে হারা ?
গহন বিজন—নিরমল ঠাই—
পেয়ে বুঝি আজ কৌমুদী সতী,
পাদপ নিয়ে রচি যােগাসন,
ধ্যায়িছে হৃদয়ে নিখিলপতি।
ছড়ায়ে সুরভি বন ফুলগুলি
আমােদিত করি তুলিছে বন,
চুপি চুপি আসি চুমিছে ভ্রমরা,
মধুরসে আজ মজিছে মন।
(৭)
চকোর চকোরী চাহি কার পানে
ধাইছে উরধে উল্লাসে মাতি!
প্রফুল হৃদয়-আনন্দ ধরে না,
মরি কি সুন্দর জোছনা রাতি!
(৮)
ভাবুক যে জন জন কোলাহল
পরিহরি আজ বিজনে একা,
53
৪

সাময়িক চিত্র।
বসিয়া রয়েছে আশায় আশায়
কার সনে যেন করিবে দেখা ?
কে রচিলা এই ভুবনমােহন
অপরূপ ছবি--দেখালে আজ ?
কি শিল্প-চাতুরী আহা মরি মরি !
বলিহারি যাই মােহন সাজ।
দেবর্ষি নারদ ও দেবী সাবিত্রীর কথােপকথন।
সাবিত্রীর পানে
চাহিয়া দেবষি
কহিলেন অতঃপর :-
ছাড়ি সত্যবানে
পতিত্বে বরণ
কর বাছা, অন্য বর।
সে কেমনে হয়?
ওহে ঋষিবর
হৃদয় সঁপেছি যারে,
সে দেবতা বিনে
হেন অভাজন
কে আছে বরিব তারে ?
জগতের গুরু
যে নারদ মুনি
মতিভ্রম হ’ল তার !

দেবর্ষি নারদ ও দেবী সাবিত্রীর কথােপকথন।
সাবিত্রী-চরিত
মরম না বুঝি
কহিলেন আর বার :-
সত্যবান আশ
কর পরিহার
ধর মম.উপদেশ,
নহিলে অশেষ
অকল্যাণ হবে
পাইবে যাতনা ক্লেশ।
এ মর জগতে
বিশ্ব-বিধাতার
প্রেমের প্রতিমা খানি,
অবনত শিরে
কহিলা নারদে
যোড় করি যুগ পাণি :-
পতিত্বে বরণ
করেছি যাহারে
মনে মনে-একবার,
ছাড়িলে তঁাহায় ধৰ্ম্মেতে পতিতা
হব-সন্দ * নাহি তার ।
ওহে ঋষিবর,
কর আদেশ হেন,
দেও এই বর
সিদ্ধকাম হই যেন।
অতএব বলি
প্রসন্ন হইয়ে
সন্দেহ।
Lৈ.

৪০ সাময়িক চিত্র। বিনয়াবনত তেজস্বিনী মূর্তি। হেরি মুনি হর্ষযুত, এত ধৰ্ম্মভাব এত অনুরাগ বালিকায় কি অদ্ভুত! হক না সে দীন নিগুণ অক্ষম ক হিলা সাবিত্রী পুনঃ, ফুটেছে যে ফুল হৃদয় কাননে ছিড়িব কি সে প্রসূন ? আরাধ্য দেবতা হৃদয়ের স্বামী আদরের ধন পতি, সে ধনে বঞ্চিত হইলে নারীর নিশ্চয় নরকে গতি। দেখ দেখ চেয়ে হে ভগিনীগণ। সাবিত্রী-হৃদয়-বল, সংকল্প হইতে কে ফিরাবে তায়? যেন দৃঢ় হিমাচল! পতিতা সতী শুনিতে না চায় অন্যায়—আপত্তি যত, দীন দুঃখী জেনে বরেছে তঁাহায় ধন্য ধন্য পতিব্রত।

দেবর্ষি নারদ ও দেবী সাবিত্রীর কথােপকথন। ৪১ কথোপকথন শুনি অশ্বপতি বিস্মিত হইয়ে অতি, জিজ্ঞাসিলা তারে কহ ঋষিবর করি ওপদ্রে মিনতি ; কি হেতু বারণ করিছ কন্যারে বরিতে সে সত্যবানে ? হেন সুভাজন কোথা পাব আর কি আপত্তি কন্যাদানে ? কি করেন মুনি একাগ্রত হেরি কহিলা বাজারে চেয়ে, বরষ না যেতে মরিবে জামাতা বিধবা হইবে মেয়ে। শুনি অশ্বপতি স্তম্ভিত অবাক তবে নাহি দিব মত, বালিকার মতে কিবা আসে যায় সে কি বুঝে সদসৎ ? কিন্তু সে বালিকা টলিবার নয় কিবা দৃঢ় পণ তার, সে দারুণ বাণী করিয়ে শ্রবণ চাহিল না প্রতীকার।

8ર সাময়িক চিত্র। কুসুমে এতই অই নবস্ফট জীবনী শকতি হায় ! অশনি প্রপাতে বিকচ কমল শুকায়ে না গেল তায় ! দীনতা হীনতা সে ত তুচ্ছ কথা, যাতনার একশেষ, অকাল বৈধব্য— ভয়ে না ডরায় পালিবারে ধৰ্ম্মাদেশ! কহিলা সাবিত্রী জনম হইলে অবশ্য মরিতে হয়, মৃত্যু ভয়ে কেন অধৰ্ম্মে ডুবিয়ে জীবন করিব ক্ষয়? ঈশ্বর-গােচর যে জনে করেছি পতিত্বে বরণ আমি, সেই সত্যবান যেখানে থাকুন, তিনিই আমার স্বামী। কে আছে এমন, নহে সে, অনিত্য ভবে, সত্যবান ছাড়ি অপরপুরুষে কি হেতু বরিব তবে? মৃত্যুর অধীন 5 ' দেবর্ষি নারদ ও দেবী সাবিত্রীর কথােপকথন। ৪৩ ধন্যা গাে সাবিত্রি । ভারত-ললনা সাধে করি গুণগান। যে যাতনা ভার শত শত নারী সহিতে না পারি,—প্রাণ সঁপি চিতানলে, সে বৈধব্য-জ্বালা ঘুচাল সহ-মরণে ; কহ তুমি তারে আলিঙ্গন করি সাধিয়া নিলে কেমনে? রমণী-সমাজে বীরাঙ্গনা তুমি, তােমার তুলনা নাই, অপূৰ্ব্ব কাহিনী সাবিত্রী-চরিত তাই শত কণ্ঠে গাই। তরুণ বয়সে বৈধব্য যাচিয়ে লইতে দেখিনু এই, আর দেখিব কি ? বুঝি শেষ দেখা -দেখা’ল সাবিত্রী সেই। হেন অনুরাগ এহেন সাহস কার ? দেশে ও বিদেশে এমন রতন কোথাও না পাৰ আর। হেন ধৰ্ম্মনিষ্ঠা

৪৪
সাময়িক চিত্র।
দেবর্ষি নারদ
বুঝিলেন সব,
সাবিত্রী-মনের ভাব,
কি উপকরণে
গঠিত হৃদয়,
কি মধুর সে স্বভাব।
যে চরিত্র বলে
রমণী সমাজে
বরণীয়। তিনি আজ,
বুঝিয়ে এখন
দেবর্ষি নারদ
পাইলেন মহ। লাজ !
হক পরিণয়
করি আশীর্বাদ
বিধবা না হবে তুমি,
তােমার সুযশে
ছাইবে জগই
(হবে) ধন্য। এ ভারত ভূমি!
তোমার সুব্রত
পালিয়ে সকলে
হইবে সফলকাম,
ঘরে ঘরে নারী
পূজিবে তােমারে
স্মরি ও পবিত্র নাম।

.
সংগ্রাম।
৪৫
সংগ্রাম।
রিপু অত্যাচার আর সহিব না,
অনেক সয়েছি প্রহার-যাতনা !
করিয়াছি পণ করিব নিধন
কাম ক্রোধ আদি রিপু ছয়জন।
তুমুল সংগ্রাম বাধাইব আজ,
জাগরে মানস লও রণসজ।
সত্যের কবচে আচ্ছাদি শরীরে
ব্ৰহ্মাস্ত্র পূরিয়ে সাধন-তূণীরে ;
সারথি কররে বিশ্বাস অটল,
দিব্য রথে চড়ি যুঝ অবিরল,-
অতুল বিক্রমে বিনাশ অরি
দেখ যেন কভু অতর্কিত ভাবে
এসে রিপুগণ বিকৃত স্বভাবে,
পাতি মায়াজাল না ভুলায় মন ;
সতর্ক থাকিবে সদা অনুক্ষণ।
জ্ঞান আঁখি যার খােলে একবার,
রিপুর চাতুরী-ছলনা, তাহার
কি করিতে পারে? মােহের আঁধারে
।
!

৪৬ সাময়িক চিত্র। বিশ্বাস আলােকে নাশে একেবারে ; সংশয় তিমির রহে না আর। ব্ৰহ্মমন্ত্রে যার হইয়াছে দীক্ষা, সে কি করে কভু সময় প্রতীক্ষা ভীরুতার দাস নহে সে কখন, ছিড়িয়াছে মায়া-মমাহের বন্ধন! ধন জন সব অনিত্য অসার, জানিয়াছে ভবে বিভুপদ সার ! ব্ৰহ্মবলে বলী ওই নাম বলি আয়ত্ত করেছে ইন্দ্রিয় সকলি— লয়েছে আশ্রয় চরণে তার। জিতেন্দ্রিয় এবে, করি পরাজয় রিপু ছয়জন।-অনন্ত অক্ষয় সুখ অধিকারী হয়েছে সাধনে, এবে পূর্ণ কাম পিতার ভবনে! নাই শত্রু অরি-সকলে তাহার অনুগত দাস ;-আনন্দ অপার! শত্রু হয়ে মিত্র সাধিছে মঙ্গল। লভিয়াছে মােক্ষ-—চতুর্বর্গ ফল- বাসনা-বিরতি—ব্রহ্মে সদা রতি fa

বীরাঙ্গনা।
৪৭
সদাশয় সাধু-মধুর প্রকৃতি !
মােহিত সকলে স্বভাব গুণে।
ধরাধামে থাকি করে স্বর্গবাস,
পূর্ণ প্রেমশশী হৃদয়ে বিকাশ।
ঢালিছে অন্তরে বিমল কিরণ
তৃষিত পরাণে—সুধা বরিষণ !
উথলিছে তার সুখ-পারাবার,
নিরখি সে মুখ আনন্দ অপার ।
বাসনার তৃপ্তি—নিবৃত্তি সাধন
করিয়াছে তাই সার্থক জীবন ;
সিদ্ধকাম ভবে, পরমার্থ জ্ঞান
উদিত মানসে,—করিতেছে ধ্যান,
আরাধ্য দেবতা ঈশ্বর, তার ।
বীরাঙ্গনা।
কৰ্ম্মদেবী, কর্ণবতী ও কমলাবতী।
বীরভূমি চিতােরের বীরাঙ্গনাগণ,
অসংখ্য অরাতি সেনা করিছে নিধন।
অভেদ্য কবচ পরি অশ্বে আরােহণ করি
করিতেছে অবিশ্রান্ত গোলা বরিষণ,-
=

৪৮ সাময়িক চিত্র। বৃক্ষ-অন্তরালে থাকি, করি প্রাণপণ ; তিনটী বীর ললনা, (ধন্য ধন্য বীরপনা!) সম্রাট # বিস্মিত হেরি তাদের সে রণ, কত সাধুবাদ মনে করিছে তখন! অঞ্চলের নিধি মা’র যুদ্ধক্ষেত্রে আগু সার, স্নেহের পুতলি পুত্ত-হৃদয়ের ধন, সঁপিয়ে শত্রুর করে ; জননীর মন কেমনে তিষ্ঠিবে ঘরে?- কন্যা বধূ সাথে করে গিয়াছেন কৰ্ম্মদেবী নাশিতে যবন, জগৎ-এ দৃশ্য আর দেখেছ কখন ? একাকী যুঝিবে রণে লক্ষ লক্ষ সেনা সনে মায়ের পরাণে বল সহিবে কেমনে ? তাই আজ পশিছেন সমর প্রাঙ্গণে। প্রাণাধিক প্রিয়তম,- ( রূপে গুণে অনুপম,) শত্রু সেনা সনে একা যুঝিছেন আজ, প্রাণের সঙ্গিনী তাই ধরে রণসাজ। অকপট-স্নেহাস্পদ- ভ্রাতার ভাবী বিপদ স্মরিয়ে ভগিনী বসে থাকিবে কি ঘরে ? পশিছে উৎসাহে মাতি সম্মুখ সমরে ! আকবর। .

"""
বীরাঙ্গনা।
৪৯
ক
অহহ! কি অপূৰ্ব্বভাব! (ধন্য রমণী স্বভাব!)
স্বদেশের স্বাধীনতা রাখিবার তরে,
যুঝিছে ক্ষত্রিয় নারী নির্ভয় অন্তরে !
প্রাণের মমতা ছাড়ি রণে মত্ত বীরনারী
বধিছে মােগল সেনা থাকিয়ে অন্তরে,
ছিন্ন ভিন্ন শত্রুগণ পলাইছে ডরে।
দেখিলা জননী হায়! প্রাণাধিক দুহিতায়,
ভূতলশায়িনী এবে বীর্যবতী বালা,
অতুল সৌন্দৰ্যরাশি জগত-উজলা।
দৃকপাত নাহি তায়, গোল চালাইছে মায়
অকাতরে অবিশ্রান্ত শত্রুর উপর,
নিধন করিছে রণে সেনা বহুতর !
ধন্য ধন্য কৰ্ম্মদেবি, যেন গাে তোমারে সেবি
জনম সফল করে ভাবী বংশধর,
তোমার সুষশ গায় যুগ-যুগান্তর।
কমলাবতীর করে বিপক্ষের গোলা প'ড়ে
কাতর করিল অতি ভীষণ আঘাতে,
সহসা মুরছা গেলা পতির সাক্ষাতে।
যাই সে ধরাশায়িনী, ছুটিয়ে পতি অমনি
দ্রুতবেগে এসে তুলি লইলেন করে,

- সাময়িক চিত্র। অহো কি অপূর্ব প্রেম পতির অন্তরে। বারেক পতির পানে চাহি তৃষিতনয়নে অভিভূত হইলেন অনন্ত নিদ্রায় । এমন পবিত্র ভাব আছে কি ধরায় ? নিরখি স্বর্গীয় দৃশ্য অবাক স্তম্ভিত বিশ্ব। বীরত্ব-কাহিনী আজ কহিব কাহায় ? অপূৰ্ব্ব নারী-চরিত্র কে বুঝিবে তায়? জাগ গগ ভগিনীগণ, কর এই দৃঢ় পণ- “পরসেবা মহাব্রত পালিব সবায়, তবে যদি এ ভারত পরিত্রাণ পায়। প্রকৃতি-মাধুরী। মধুর জোছনা রেতে মৃদুল বাতাসে, ধীরে ধীরে বসিলাম এক তরু-পাশে। কোটী কোটী তারা সাথ হাসিছে কুমুদনাথ, হাসিছে সমগ্র ধরা কি যেন উল্লাসে ! আন মনে নেহারিনু মনের আবেশে।

'r- প্রকৃতি-মাধুরী। প্রকৃতির মধুরিমা হেরিবার তরে, নাচিয়া উঠিল প্রাণ প্রতি স্তরে স্তরে । বহিছে মৃদুল বায় কুসুম সুরভি গায়, চকোর চাহিয়া আছে সুধাকর পানে, আমিও তেমনি আছি প্রকৃতির ধ্যানে। সুগভীর নিশীথিনী মনােহর বেশে হাসা’তে লাগিল বিশ্ব প্রেমের উছাসে। পাপিয়া ধরিল গান আমার(ও) তৃষিত প্রাণ, প্রেমময়ী-আলােময়ী-স্নিগ্ধা রজনীতে, গভীর গম্ভীর ভাবে লাগিল ভাসিতে। কি জানি কেমন ভাবে অবশ হইল প্রাণ, কে যেন সুধার ধারে ঢালিল এক টী গান, মধুর পঞ্চমে তুলি, হৃদয় কপাট খুলি সুদূরে ললিত তানে প্রাণ মােহনিয়া গাহিল মধুর গান আকাশ ভেদিয়া।

সাময়িক চিত্র।
মধুর পবিত্র প্রেমে হাসিলা প্রকৃতি-বালা,
ফুল্ল নিশি সুহাসিতে করিল জগত আলা ;
আমার(ও) হৃদয়তলে
প্রেমের লহরী খেলে,
শত প্রেম-ঊর্মি হৃদে জাগিতে লাগিল,
সুমধুর প্রেমে প্রাণ অবশ হইল।
প্রেমময় । স্নেহময়। দেবতা আমার,
প্রেম-ক্রোড়ে তুলি নাথ লও একবার !
অবােধ বালিকা তৰ
নাহি বােঝে এই সব,
অকূল প্রেমের স্রোতে কূল নাহি পায়,
ধরগাে লহগাে পিত। কোলেতে আমায়।
স্বগীয় মহাত্মা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
(1)
যুগ-যুগান্তর তপস্যার ফলে
পেয়েছিলে যেই অমূল্য রতন,
সে ধনে বঞ্চিত হইলে জননি!
কে আছে দুখিনী তােমার মতন?
১

স্বর্গীয় মহাত্মা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। (২) চন্দ্রহীন আজ ভারত-আকাশ, দুঃখ-অমানিশা দিগন্ত প্রসার! শোকেতে মগন সমগ্র ভারত- হিমালয় হতে কুমারিকা পার। (৩) ‘রত্নগর্ভা নাম পেয়েছ জননি যে রতন গর্ভে করিয়ে ধারণ, সে অমূল্য নিধি কেড়ে নিল কাল, করি কোল, না মানি বারণ। (৪) কাদিতে এসেছ—কঁাদ চিরকাল, সােণার চাদের-র’লনা কেউ । একে একে তারা ছাড়ি গেল। মায়, গণিছ কেবলি দুঃখের ঢেউ। (৫) উপাধি তােমার বিদ্যার সাগর, দয়ার সাগর এ জগতে তুমি! জীবনের ব্রত–পর উপকার,- ভুলিবে না কভু ভারত ভূমি।

৫৪
সাময়িক চিত্র।
(৬)
বাল-বিধবার পিতার অধিক,-
গরীব দুঃখীর সহায় সম্বল,
স্বদেশের হিতে সদা প্রাণপণ,
কামনা কেবলি দেশের মঙ্গল।
(৭)
সাহিত্য-জগতে অগ্রণী সবার !
মৃত বঙ্গভাষা,—দিলে তারে প্রাণ,
সকলের নেতা সমাজ-সংস্কারে,
তব ঋণে ঋণী ভারত সন্তান।
(৮)
আড়ম্বর হীন অশনে বসনে,
আচরণে যেন শুদ্ধ ব্রহ্মচারী,
আলাপনে তার কিবা শিষ্টাচার,
মধুর ব্যভার যাই বলিহারি ।
দেশের দুর্গতি করিয়ে স্মরণ
কতই যাতনা পেয়েছেন মনে,
নীরবে নির্জনে অশ্রু বিসর্জন
করেছেন কত দেশের কারণে।
.

- স্বর্গীয় মহাত্মা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। (১০) নিগুণে কি গুণ বর্ণিবে তাহার । একাধারে কার থাকে এতগুণ? হৃদয়-কাননে দয়া মায়া স্নেহ- ফুটেছিল তার কতই প্রসূন। (১১) যাও স্বর্গধামে-গুণের সাগর, স্নেহময়ী আজ,—অমৃত ভবনে লয়ে যাবে বলি, বাহু প্রসারণ করেছেন দেখ, তােমারি কারণে। রতন খচিত স্বর্ণ-সিংহাসন শূন্য রহিয়াছে দেবত। সমাজে, পূরণ করগে ওহে সুভাজন, হেন সিংহাসন আর কারে সাজে ? কঁদিও না আর-ভারত জননি! সুরপুরে দেখ আনন্দ অপার । দেবতারা মিলে করিছে উৎসব, তুমি কেন তবে ফেল অশ্রুধার ?

সাময়িক চিত্র।
(১৪)
স্বর্গে গেছে সুত সাধি দেশহিত।
এ হ’তে কি সুখ আছে জননীর।
বীর-মাতা বলি দেও পরিচয়,
ধন্যা হও গর্ভে ধরি হেন বীর !
কুমারী
ফাউলার।
সুদূর
হইতে কার
শুনিয়ে
মধুর বাণী,
পরসেবা মহাব্রতে
ব্ৰতী হলে আজ ?
পরপ্রেমে আত্মদান,
জীবনের লক্ষ্য জানি,
কাহার আদেশে বল
সাধিলে এ কাজ?
কি মহাপ্রাণতা আহা!
স্বাস্থ্য সুখ ভুলি সব,
রােগীর শুশ্রুষা তরে
কোথায় চলেছ?
b

কুমারী ফাউলার।
৫৭
কুষ্ঠ রােগ-সংক্রামক,
( ছুলে প্রাণে বাঁচা ভার)
জেনে শুনে মৃতু-মুখে
জীবন সঁপেছ!
সংসারের মায়া ছাড়ি
বুঝি এ জনম তরে
ভাসাইলে দেহ-তরী
অকূল সাগরে,
যৌবনের রূপরাশি
তুচ্ছকরি,অকাতরে
ছুটেছ কোথায় আজ
ব্যাকুল অন্তরে ?
মলকাই কুষ্ঠাশ্রমে
যাইছেন ‘ফাউলার’,
পিতা মাতা ভাই বােন
ছাড়িয়ে সকলে,
জানি কার আহ্বানে
ভুলি স্বার্থ আপনার,
ঝাপ দিল। বীরবালা
দুত্তর সলিলে।
_

সাময়িক চিত্র।
=
আর কি থাকিতে পারে,
ব্যস্ত আপনারে লয়ে।
বিশ্ব-প্রেমে উন্মাদিনী
ছুটিছে সেথায়।
একেবারে আত্মহারা!
কি মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে
ধাইছে যুবতী আজ
পরের সেবায় ?
যখন ষােড়শী বালা,
তখনি এ মহাব্রত
জীবনের কাৰ্য্য বলি
জানিলা যুবতী,
কে তাহারে হাতে ধরি
দেখাল এ সত্যপথ ?
জীবনের উচ্চ লক্ষ্য
জীবে দয়া অতি?
যাও যাও ফাউলার,
মলকাই কুষ্ঠাশ্রমে
করগে রােগীর সেবা
এবে কায়মনে ;

কুমারী ফাউলার। ওই দেখ সুরদেবী থাকিয়ে স্বরগধামে আশীষ করিছে আজ মধুর বচনে ! এহেন রমণী রত্ন- দেবের দুর্লভ ধন, গর্ভে ধরি রত্নগর্ভা হবে কি ভারত ? কবে সে রমণীকুল, পরসেবা মহাব্রতে জীবন উৎসর্গ করি মাতাবে জগত ? আদর্শ রমণী চিত্র, নিরখি ভগিনীগণ হও সবে অগ্রসর রােগীর সেবায়, দাও আত্ম বলিদান, সংকীর্ণত যাও ভুলি, দেখা ও মহাপ্রাণতা ফাউলার প্রায় !

সাময়িক চিত্র।
ওই দেখ বীরবালা,
স্বদেশের মায়া ছাড়ি
শত যােজনের পথে
ছুটিছে একেলা,
পাসরিয়ে আত্মসুখ
জানি কি সুখে মাতি,
অকূল জলধি জলে
ভাসাইছে ভেলা!
অপার্থিব সুখ-রত্ন
সঞ্চিত রয়েছে সেথা-
পবিত্র স্বরগধামে,
ফাউলার তরে ;
যুখন মায়ের কাছে
যাইবেন পুণ্যবতী,
প্রেমবাহু প্রসারিয়া
লইবেন ঘরে,
আদরে বিশ্বজননী,
কোলে তুলি স্নেহভরে
বদন চুম্বন করি
সুধাবেন তায়,
-

- কুমারী ফাউলার। ৬১ যে কাজ সাধিলে তুমি থাকিয়ে পাপ সংসারে মোহিত করেছ বাছা সে কাজে আমায় ; তাই আজ সযতনে ডাকিয়া লয়েছি ঘরে। পরাইব নিজ হাতে পুণ্যের মুকুট- তােমার পবিত্র শিরে ; ছিনু তার প্রতীক্ষায় পেয়েছি সুযোেগ আজ- দাও করপুট, লয়ে যাই সুরপুরে, আদরে সােহাগে ধরি বসাই তাদের পাশে, বীর নারীগণ যেথায় বিরাজ করে, মণিময় সিংহাসনে- পুণ্যের ভূষণ পরি, এস বাছা ধন । * * * - - - - =-==-=-=-

সাময়িক চিত্র।
মা ও ছেলে।
মুখের হাসিটী বড়ই মধুর !
আধ আধ কথা-সুধামাখা তায়,
ননীর পুতুল-কি সুন্দর তনু !
আয়রে বাছনি-আয় কোলে আয়?
ছড়াইয়ে হাসি ছুটি কার পানে
হামাগুড়ি দিয়ে যায় কুতূহলে?
অফুট ভাষায়—( বুঝা নাহি যায় )
মাঝে মাঝে শিশু কি জানি কি বলে ?
অাঁচল ধরিয়া কেঁদে কি কহিছে-
সে কান্নার ভাব অন্যে কি তা জানে ?
আদরে সােহাগে বাহু পসারিয়া
কোলে নিছে মায়–কি জানি কি টানে?
পিয়াইছে স্তন কতই যতনে ।
( সতৃষ্ণ নয়নে কেবলি তাকায় ! )
অপত্য-স্নেহেতে বিগলিত হয়ে
চিবুক ধরিয়া মুখে চুম খায়।

মা ও ছেলে।
মাই খেতে খেতে ঘুমাইল যাই,
মেহের অঞ্চল পাতিয়ে তায়
শােয়াইয়া কাছে আপনি শুইলা,
মশাটি মাছিটি না পড়ে গায়।
কেঁদে ওঠে শিশু ঘুমের মাঝারে,
(জননীর চোখে ঘুম নাহি হায় !)
অতর্কিত ভাবে—নয়ন মুদিলে,
শিহরিয়া ওঠে যাই সাড়া পায়।
দেখে চারু শোভা চাহিয়া চাহিয়া
(সে মুখ-কমল অতুল ধরায় !)
মল মূত্রে তিতি—মেহের অঞ্চলে
শােয়াইয়া রাখে, পাছে ক্লেশ পায়।
জননীর স্নেহ-সন্তানের তরে
ঝরে অবিরল—যেন নিঝরিণী,
স্নেহময়ী মাতা-অতুলিত স্নেহে
তােযেন সন্তানে দিস যামিনী।
কি দিব তোমার প্রেমের তুলনা?
অতুল সে প্রেম-অসীম-অপার ।

৬৪
সাময়িক চিত্র।
দয়াময়ি-মাগো ধন্য তব দয়া,
দয়াঘন হেন কেবা আছে আর ?
শােকা!
(প্রিন্স ভিক্টরের মৃত্যু উপলক্ষে )
কি কঠিন হিয়া তাের--রে নিঠুর কাল ।
এমন স্নেহের কলি,
বৃন্ত হ'তে ছিড়ে নিলি,
তাের বিচারেতে বুঝি নাহি কালাকাল ?
পুত্রশােকে পাগলিনী
হারায়ে নয়নমণি।
বিহঙ্গিনী ছটফট্‌ করে যে প্রকার,
শাবক বিহনে তার,-
ঠিক সেই দশা মা’র
শূন্যময় দেখিছেন সমগ্ৰ সংসার!
বাজিছে বিষম বাজ,
সংজ্ঞাহীন যুবরাজ,
হায় কি ঘটিল আজ। রাজা হবে রাম,
সে রাম অযোধ্যা ছাড়ি
বনে গেল! ঘরবাড়ী
অট্টালিকা-কিছুনয় !--বিধি যারে বাম।
হ’ক না ধরণীপতি
এড়াবে যে কি শকতি,
বিধির অল বিধি লজ্যিবার নয়।
১১-
-

শােকাশ্রু।
কে জানিত বিধি শেলে দ্বিতীয়ার চাদ ছেলে
জনকেরে ফাকি দিয়ে যাবে এ সময় ?
সত্তর হয়েছে পার,
বৃদ্ধা পিতামহী তার,
ভানু অস্ত নাহি যায় রাজ্যেতে যাহার,
তরুণ অরুণ সম
নাতি-রূপে-অনুপম,
হারায়ে সে ধনে আজ জগৎ আঁধার,
দেখিছেন বর্ষীয়সী,
রাজসিংহাসনে বসি
নারিলেন শমনেরে করিতে দমন,
নিয়তির কাছে আর, আছে কিরে প্রতীকার,
যমদও এড়াইতে পারে কোন্ জন্?
ওই দেখ রাজবালা,
গলায় পরাবে মালা,
আশা করে বসে আছে তার প্রতীক্ষায়,
কোথায় সে আশা হায়!
পরিণত নিরাশায়
কে বুঝিবে প্রাণে আজ কি বিষম জ্বালা?
সকলি স্বপনবং
প্রহেলিকা-এজগৎ
নশ্বর--ক্ষণ-ভঙ্গুর মানব শরীর -
রাজ্যৈশ্বর্য্য বীৰ্য্যবল
পদ্মপত্রে যেন জল,
টলমল করে সদা নহে ক্ষণ স্থির !
কিবলে প্রবােধি মনে,
প্রবোধ মানে কেমনে
কালে হইবেন যিনি-রাজরাজেশ্বর,-
ক

সাময়িক চিত্র।
তিনি আজ তিরােহিত!
যেন চির-পরিচিত
কি মিষ্ট চেহারাখানি অতি মনােহর !
ভ্রমণে ভারতে এসে
সুবিশাল দূর দেশে
প্রজার অবস্থা সব নিরখি নয়নে,
গিয়েছেন সেইদিন,
এখনাে হয়নি লীন,
দেখিতেছি যেন ছবি হৃদয় দর্পণে।
স্মরিয়ে সে সব কথা
মরমে পাইছে ব্যথা
ভারত—কেমনে তারে পাসরিবে হায়!
তাহার অভাবে আজ, বাঙ্গালা বম্বে মাদ্রাজ,
গভীর শােকেতে মগ্ন রয়েছে সবায়।
ওই সে বিলাপধ্বনি
তুলিতেছে প্রতিধ্বনি
পৰ্বত গহ্বরে পশি-নিবিড় গহনে,
পশু পক্ষী তরুলতা
কেহই কহেনা কথা,
নীরবে রয়েছে সবে বিষন্ন বদনে।
ভারতের নরনারী,
উৎসব আনন্দ ছাড়ি,
ধরিয়াছে শােকচিহ্ন জাতি নিৰ্বিশেষে,
ইংরেজের। কালফিতা, দেশীয়েরা দেশীপ্রথা
অনুযায়ী আচরণ করিছেন বেশে।
কোটি প্রাণে মিলি আজ কর সবে এই কাজ,
মায়েরে সান্ত্বনা দেও-শােকের সময়,

৭
স্বর্গের ফুল।
শুনিলে প্রজার কথা
কিঞ্চিৎ মনের ব্যথা
উপশম হবে তঁার,কহিনু নিশ্চয়।
বিশ্ব-জননীর কোলে
গেছেন তোমার ছেলে
দূরে ফেলে যত কিছু 'অনিত্য অসার,
জর মৃত্যু নাই যথা,
শান্তি প্রেম পবিত্রতা,
নিত্য নিকেতনে সুখ-আনন্দ অপার !
এহেন দেশে যে যায়
আর কি সে ফিরে চায়
(এ) পাপ-মরুভূমী পানে, অশান্তি-আলয়
ছাড়ি গেলে একবার,
দূরে যায় দুঃখভার,
কি এক স্বর্গীয় সুখে মগন হৃদয় !
অমৃতধামের যাত্রী,
যাইতেছে দিবারাত্রি,
সুযােগ ঘটিলে কেহ থাকিতে না চায় ;
কাটি মহা মােহপাশ,
চলে যায় স্বর্গবাস,
প্রবাসের ধন মান সব ঠেলি পায়।
স্বর্গের ফুল।
বাসন্তী পূর্ণিমা শেষে বালক বালিকা বেশে
দেখেছিনু স্বরগের ফুল।
ফোটেনি সংসারে তারা
এমন পবিত্র যারা
ফুটিবে কি? এ যে মহাভুল !

সাময়িক চিত্র। স্বরগের পুণ্য দেশে কচি মুখে আধ হেসে জন্ম পুনঃ হয় তাহাদের। চঁাদের অমিয় হাসি, তরল লাবণ্য রাশি, বাড়াইল শোক আমাদের। সরােজ ইন্দুর কথা মনে হলে পাই ব্যথা, তারাতাে রয়েছে মহাসুখে। জনক জননী যারা, কেঁদে কেঁদে হ’ল সারা, আমরাও অশ্রু ফেলি দুখে । সরােজ মধুর বােলে। ‘মাসিমা মাসিমা বলে করেছিস্ কত আবদার । সোণার কমল মুখে দিছি চুমু কত সুখে আজ তুই আয়না আবার ! সুচারু লাবণ্য মাখা, স্মৃতির কিরণে আঁকা, চাঁদ মুখ দেখিবারে সাধ। অায়না সোণার ছেলে অভিমানে হেলে দুলে ঘুচে যাক্ ঘোর অবসাদ। চঞ্চল আঁখির কোলে হাসির বিজলী খেলে স্নেহে মাথা-করে ঢল ঢল। দেখিব কি আর বার ? প্রাণ-কাড়া হাসি আর, রাঙা দুটী বিমল কপােল ।

স্বর্গের ফুল।
আধ অাধ ভাঙ্গা সুরে
বলিবি কি ধীরে ধীরে
“মাসিমা দাওনা সাদাফুল!”
উদিলে সােণার শশী,
হাসিতি চারু হাসি
তাদেখে হাসি ত. তারাকুল।
উছাসে হইয়া সারা
ডাকিতি “আয় তারা
আয় চাদ আয় মাের কাছে।”
ডেকে ডেকে শান্ত হয়ে মাের কোলে মাথা থুয়ে
ঘুমাইয়া পড়েছিলি শেষে।
ঘুমন্ত সে চঁাদ মুখে
দিয়েছি সােহাগে সুখে
শত শত স্নেহের চুম্বন।
সরােজ ! সােণীর ছেলে।
অতীতের কথা তুলে
পাই প্রাণে বিষম বেদন।
‘কোথা তুই’ ‘কোথা তুই’ স্বরগের ফুল,
কে আমি হেথায় বসে হইরে আকুল !
থাক সুখে-মহা সুখে
জননীর স্নেহ বুকে
পাষাণে বাঁধিয়া বুক বলিনু আবার,
থাক সুখে অতিদূরে-সরােজ আমার ।
সরােজ !
5%

৭০
সাময়িক চিত্র।
তােরি ছােট বোন্ ইন্দু তােরি সনে আছে
আদরে সোহাগে তায় রেখাে কাছে কাছে।
এক বৃন্তে দুটা ফুল
কোথা আর পাব তুল
স্বরগের কুঁড়ি তােরা--স্বরগের ফুল,
কে আমি হেথায় বসে হইরে আকুল !
শত মন্দাকিনী ধােয়া তাের দুটী ফুল,
কে আমি হেথায় বসে হইরে আকুল ?
থাক সুখে-মহা সুখে,
জননীর স্নেহ-বুকে
পাষাণে বাঁধিয় বুক বলিনু আবার,
থাক সুখে অতি দূরে সরােজ আমার।
লর্ড টেনিস।
অমূল্য রতন আজ হারালে ব্রিটন।
এ রতন যুটী আর খুঁজে পাওয়া ভার,
বহু তপস্যায় হয় অদৃষ্টে মিলন,
সহজে রতন হেন ভাগ্যে ঘটে কার ?
5

লর্ড টেনিসন্।
৭১
কাল-রাহু গরাসিল অকলঙ্ক শশী,
কর হানি বুকে মায় কঁদিছেন বসি।
সমস্ত প্রকৃতি যেন নিস্তব্ধ নীরব।
পশু পক্ষী তরুলতা বিষাদে মলিন,
কিসের অভাবে আজ নর নারী সব—
শান্তিহারা একেবারে-শােকের অধীন ?
কে যেন আঁধারি তারে গেছে কোন্ দেশে,
অকূলে ব্রিটন আজ বেড়াইছে ভেসে।
অার্তনাদ করে মায়—হায় হায় হায় !
এমন সােণার চাদ চলে যায় যার,
সান্ত্বনা কি মনে মনে প্রবােধিলে তায় ?
মা’র প্রাণ পুত্রশােকে করে হাহাকার !
সম্বরিতে নারি শােক কঁদিছে জননী
কোথা গেলি টেনিসন আয় যাদুমণি ?
ব্রিটনের ঘরে ঘরে কত নর নারী
ফেলিছে শোকাশ্রু আজ কবীশের তরে,
মহারাণী ভিক্টোরিয়া-নয়নের বারি।
ফেলিছেন তার লাগি,ব্যথিত অন্তরে।

१२
সাময়িক চিত্র ।
রাজ-পরিবার আজ শােকেতে মগন,
কবীন্দ্রের মৃত্যুকথা করিয়ে শ্রবণ।
***
ভারতে ভারতী লয়ে বীণাযন্ত্র করে
গাইছেন শোকভরে বিষাদের গান,
শ্রবণে বিলাপগীতি যুগ আঁখি ঝরে,
গ’লে যায় সে গাথায় হিমাদ্রি পাষাণ !
জাহ্নবী যমুনা যেন শােকেতে আকুল,
তুলিছে বিষাদ গান-কুল কুল কুল !
-:-
টেনিস—চিরদিন জাতি নির্বিশেষে
চারি মহাদেশে পূজা করিবে তােমায়,
যে নাম রাখিলে তুমি স্বদেশে বিদেশে,
গাইবে তােমার গুণ কোটি রসনায়।
মহাকবি মিল্টন্ সেক্ষপীর পাশে
তব স্বর্ণ সিংহাসন আছে স্বর্গবাসে।
ওই দেখ সুরগণ স্বর্গীয় প্রসূনে
গাঁথিয়ে অপূৰ্ব্ব হার,—গলে পরাইতে
এনেছেন উপহার,-মুগ্ধ তব গুণে,
তাই এসেছেন তারা আদর করিতে ।

5
দুঃখ-স্মৃতি।
৭৩
অতুল কবিত্বশক্তি নিরখি তােমার
দিয়েছেন দেবতারা দিব্য উপহার।
হে ব্রিটন,-কাঁদিও না, মােছ অশ্রুধার,
টেনিস এতদিনে হলেন অমর ;
মরিলেই পুত্রশােক,-তবে কেন আর
অমরের তরে এত হয়েছ কাতর?
দুঃখ-স্মৃতি।
আহা কি দুখের স্বপ্নে অবশ হইল প্রাণ!
আশা-সুখ এসে কবে জাগাইবে সুপ্ত গান ?
সুরভি মাখিয়া গায়
বহিছে মৃদুল বায় ;
গাহিছে বিহঙ্গগণ সুললিত জানে,
পূৰ্ব্ব-স্মৃতি এনে তারা দিল এ পরাণে।
মনে পড়িতেছে সেই শৈশব-আলয়,
যেখানে আছেন মাের পিতা স্নেহময় ।
হাসিছে চাঁদিমা নিশি
মধুর মধুর হাসি,

৭৪
সাময়িক চিত্র।
তাই মনে পড়িতেছে সে মধুর হাসি,
যে হাসি ঢালিয়া দিত প্রাণে সুধারাশি।
সেই যে জোছনা রেতে ভাই বোনে মিলি
গাহিতাম কত গান প্রাণ মন খুলি ;
আমাদের গান শুনি,
পিতার পরাণ খানি
যাইত যে একেবারে বিগলিত হয়ে,
উথলিত সুখ-সিন্ধু তাহার হৃদয়ে !
পিতা মাতা, ভাই বােনে, মিলি একসনে,
ছিনু মােরা অতি সুখে মায়ের যতনে।
দুখেরি জনম যার,
এত সুখ কভু তার
ঘটে কি কপালে হায় ! তাই মাতৃধনে
অকালেতে হবে নিল নিঠুর শমনে
নিঠুর শ্রাবণ মাসে পূর্ণিমা তিথিতে,
ভাই বােন পাঁচ জনে অকূলে ভাসাতে,
হরে নিল জননীরে ;
(তাই) ভাসিতেছি দুখ-নীরে,

'- দুঃখ-স্মৃতি। ৭৫ (তাই) ভাই বােন হতে আমি আছি বহুদূরে ; কে আসি প্রবােধ দিয়ে তুষিবে আমারে ? যে দিন হয়েছি আমি সংসারে দুখিনী, যে দিন হরিল কাল আমার জননী, আজ সেই দিন হায় ! পরাণ যে ফেটে যায় কোথা মা! বারেক তুমি দেও দেখা মােরে, জুড়াই তাপিত প্রাণ দেখিয়ে তােমারে। মেহময়! প্রেমময়! ওহে দয়াময়, কোথা দেব! কোথা তুমি? এস এ সময়? আজ এ অবশ প্রাণে শান্তি-সুধা বরিষণে, কর পিতঃ শান্তিময় জীবন আমার ; তুমি বিনা দুঃখিনীর কেবা আছে আর ? L-

ত
৭৬
সাময়িক চিত্র।
বঙ্কিমচন্দ্র।
ঢালি নব ছাঁচে
বাঙ্গালা ভাষারে,
সাজাইলা নব রঙ্গে,
নর নারী সব
নিরখি তাহায়
ভাসিল ভব-তরঙ্গে।
লেখনী প্রসঙ্গ
সকলেরি মুখে,
ঘরে ঘরে আলােচনা,
দুর্গেশনন্দিনী,
কপাল কুণ্ডলা,
উপন্যাস অতুলনা ।
ভাষার মাধুরী,
রচনা চাতুরী,
লিপির নৈপুণ্য কত ;
কিবা কাব্যরস
বিষবৃক্ষে মধু
ক্ষরিতেছে অবিরত।
সাহিত্য ভাণ্ডারে রতন মাণিক,
মণি মুক্তা থরে থরে,
রাখিলা সেথায়
কতই যতনে
সাজাইয়া নিজ করে।
জীবন প্রসূনে,
কাটিয়া করিল ক্ষয়,
দুষ্ট কাল কীট

9 বঙ্কিমচন্দ্র। ৭৭ বৃন্তচুত আজ বঙ্গের বঙ্কিম তাই বঙ্গ শােকময়। প্রতিভায় যেন প্রদীপ্ত তপন, স্নিগ্ধতায়-শশধর ; রবি শশী দুই একাধারে যেন বিরাজিছে নিরন্তর। সাহিত্য-সমাজে সবার অগ্রণী, শিক্ষিত সমাজে বড় ; কবির সমাজে কবি চূড়ামণি, বিচারে প্রবীণ দড়। এহেন রতন হারায়ে জননী শোকেতে পাগল পারা, বঙ্কিমের স্থান কে পূরাবে আর? নিবিল উজল তারা। পূর্ণিমার চাঁদ শূন্য করি দিক তিরােহিত একবারে, অঞ্চলের নিধি কেড়ে নিল কাল ধরা পূর্ণ হাহাকারে ! যাও সুর পুরে, অনিত্য শরীর পুড়ে যাক্ চিতানলে ; Lৈ

৭৮
সাময়িক চিত্র।
আত্মা অবিনাশী, নিত্য সুখে ভাসি,
মিশুক অমর দলে।
নন্দন কাননে
আনন্দে বিহার
কর সুখে অনুদিন,
মায়ার বন্ধনে
বদ্ধ নহে জীব
সেথায় চির স্বাধীন।
জর মৃত্যু শােক
অতীত সে দেশ
অনন্ত সুখের খনি,
সুধার ভাণ্ডার
খুলিয়ে তােমায়
দিবেন বিশ্ব-জননী।
বঙ্গের বঙ্কিম
হলে বরণীয়
চির স্মরণীয় ভবে,
তােমার গৌরব
গাইবে ভারত
শত কণ্ঠে উচ্চরবে।
ভাবী বংশধর
ভুলিবে না কভু
অক্ষয় বঙ্কিম নাম ;
বিস্ময়ে মগন
সুইবে সকলে
স্মরি তব গুণগ্রাম।

৭৯
ব্ৰত গ্রহণেতে
ভারত রমণী
উদাসিনী কল কবে?
করি প্রাণ পণ
পরহিত ব্ৰত
পালন করেছে সবে।
অতিথিসেবায়
অতুলন ভবে!
রােগী শুশ্রুষায় প্রাণ
দেছে অকাতরে,
ভারত ললনা,
ভুলি স্বার্থ অভিমান।
দীন দুঃখী যত
পাড়া প্রতিবেশী
পেয়েছে সাহায্য কত,
রমণীর কাছে,
অভাবে বিপদে
দিবানিশি অবিরত।
কোথায় সে ব্ৰত,
কোথায় সেদিন,
দুর্দিনে কে কারে চায়!
(আজ) ভারতের নারী ব্ৰত পরিহরি
রত ভােগবাসনায়।

৮০
সাময়িক চিত্র।
বিদুষী অনেক
আছেন রমণী
কিন্তু সে হৃদয় কই ?
পর দুখ দেখে কঁদে কার প্রাণ?
ভেবে ভেবে ক্ষুন্ন হই।
হৃদয়-কাননে
জ্ঞানের প্রসূন
ফুটিতেছে দিন দিন,
কিন্তু সে মমতা
সে মহাপ্রাণ
বিস্মৃতি-সাগরে লীন !
পায় পড়ি বােন, শোন দুটো কথা
যদি ভাল লাগে মনে,
তবে দিস্ কান,
ভায়ের কথায়
বধির রবি কেমনে?
আৰ্য নারীগণ
যে ব্রত পালনে
এ দেহ করেছে পাত,
সে ব্ৰত আবার
করিয়ে গ্রহণ
পাল বােন্ দিন রাত।

S" ব্রত। ৮১ ভালবাসা দিতে জনম নারীর, জীবন পরের তরে, পরহিত রূপ মহা সাধনায় , সাধ সবে ঘরে ঘরে। প্রেমের প্রতিমা স্নেহের পুতলি দয়ার আধার তোর ; তােরা না করিলে দীনের কল্যাণ কোথা যাবে অন্ধ খোড়া ? ক্ষুদ্র সীমা ছাড়ি তাই বলি বােন্ গণ্ডীর বাহিরে আয়, বিশ্বপ্রেমে প্রাণ ঢেলে দে সবাই মাতিয়ে পর-সেবায়। বলার হয়ে অভাগিনীদের ফিরাও কুপথ হতে, ফাউলার হয়ে যাও দূর দেশে রােগী-সেবা মহাব্রতে। L-

সাময়িক চিত্র।
অঙ্গের ভূষণ
করিয়ে বিক্রয়
দুর্ভিক্ষেতে কর দান,
দেখুক জগৎ
ভারত নারীর প্রাণ।
কেমন উদার
দেখিয়ে তােদর
পরহিত ব্ৰত
সুকবি গাঁথিয়ে গাথা,
শুনাক সবারে
দেশে ও বিদেশে
ততাদের গুণের কথা।
“নব্যা রমণীরা
ভােগ বিলাসিনী
আহা কি কঠিন প্রাণ।
পর দুঃখ হেরি
নহে সে কাতর
কপর্দক নাহি দান।
এ দুর্নাম আর সহিতে যে নারি
রমণীয় কুৎসা গান!
ঘুচা একলঙ্ক
জগতের কাজে
দিয়ে স্বার্থ বলিদান।

r
এ নশ্বর দেহ
একদিন নাশ
পাইবে নাহি সংশয়,
তবে কেন আর
দেহের পতনে
করিতেছ এত ভয়?
জ্বলন্ত অনলে
যে দেশের নারী
পুড়িয়া হইত ছাই,
সে দেশের নারী
মরিতে কাতর
কেনরে শুনিতে পাই ?
তাই বলি বােন্
একা বসি ধরে
ভুঞ্জিবে অতুল সুখ,
হয়ে উদাসিনী
মা’র আর্তনাদে
কেমনে দেখাবে মুখ ?
ভারত রমণী
নহে সে ছাঁচের,
কোমল হৃদয় তার,
কাঁদে পর দুখে
হয় ম্রিয়মাণ,
ভুলি সুখ আপনার।

৮৪
সাময়িক চিত্র।
আসিবে সেদিন
পরহিত-ব্রত
পালন করিবে সবে,
আবার তাহারা
রমণী-সমাজে
আদর্শ হইবে ভবে !
বরষাকাল।
-
আসিল বরষাকাল নিদাঘের অবসানে,-
মেঘে আবরিল নভস্তল ;
ভানুর তপত কর
দগধ না করে তনু,
আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে জল ।
খানা খন্দ-জলাশয় জলে পরিপূর্ণ সব,
নদ নদী স্ফীত-কলেবর ;-
ধাইছে সিন্ধুর পানে উল্লাসেতে নৃত্য করি,
কি সুন্দর খেলিছে লহর!
ফুটিছে কমল-কলি নিৰ্ম্মল সরসী-জলে,
বায়ু ভরে দুলিছে মৃণাল ;
সে দৃশ্য কি মনােহর
নিরখি নয়ন ভোলে।
জল কেলি করিছে মরাল।
se

"""
বরষাকাল।
৮৫
পাণিকৌটি ডুব দেয়
দেখিয়ে বালক দল
আনন্দেতে দেয় করতালি ;
ভাসিয়া উঠিছে পুনঃ পুকুরের মাঝ খানে,
সাবাস পাখীর চতুরালি!
মাছরাঙ্গা শূন্যে থাকি তাকাইছে মাছ পানে,
অবশেষে লক্ষ্য করি স্থির ;
ছে। দিয়ে সে চঞ্চুপুটে ধরিছে অমনি তায়,
কে দেখেছ হেন মহাবীর!
কুমুদ মুদিয়ে আঁখি আছে কাল-প্রতীক্ষায়
কখন আসিবে বিভাবরী ?
মধুর মিলনে আজ
মিটাইবে মনসাধ,
সুখী হবে প্রিয়তমে হেরি ।
শীতল হয়েছে ধরা
এবে বহুদিন পরে,
পরিয়াছে কি সুন্দর সাজ !
সবুজ পাতায় তরু
ঢাকিয়াছে কলেবর,
বিভূষিত বিজন সমাজ।

সাময়িক চিত্র।
ক্ষেত মাঠ ধানভরা মূর্তিমতী লক্ষ্মী যেন
বিরাজিছে সুদূর প্রান্তরে,
স্বভাবের চারু শোভা কেড়ে লয় দেহ মন!
ঢেলে দেয় কি সুখ অন্তরে।
ক
ডিঙ্গিনাও বেয়ে যায় ধানক্ষেত মাঝ দিয়া,
নৌকা পথ–সংকীর্ণ সে অতি
গাঁয়ের ইতর লােক হাট ও বাজার করে,
নাও ভিন্ন নাহি আর গতি।
জাগাইয়া দেয় স্মৃতি শৈশবের লীলাভূমি
জন্ম স্থান—সেই পাড়া গাঁয়,
সুহৃদ সকলে মিলি
কত না করেছি খেলা-
জল-ডুবা মাঠে,—চড়ি নায়।
থেকে থেকে কোড়া পাখী ডাকিত সে ধানক্ষেতে,
নায় বসি শুনিতাম সুথে ;
কোথায় সে দিন আহা! আসিবে কি ফিরে পুনঃ?
নিরখিব হাসিভরা মুখে।

"g
বরষাকাল।
৮৭
ভেকের অানন্দ বড় গাইছে নিয়ত তারা,
আনন্দেতে কি অপূৰ্ব্বগীত !
উচ্চ রবে সবে মিলি,
পুকুরের কোণে বসি
চিত মন স্বরে বিমােহিত।
ঝাঁকে ঝাঁকে আসে জল, আবার সে থেমে যায়
বষিয়া-কিছুকাল পরে ;
কখন মুষল ধারে ঝরিতেছে অবিরল,
ঝরণার জল যেন ঝরে!
অনলের কণা সম—
খরতর রবিকরে
পুড়িয়াছে সমস্ত শরীর ;
কে আবার দয়া করি জুড়াইল। অভাগারে,
ঢালি তাহে সুশীতল নীর ?
।
এমন দয়াল যিনি
নমি তার শ্রীচরণে-
বার বার,-অসীম দয়ার
কি দিব তুলনা আমি ? অতুল সে এ জগতে!
তুলা দিতে নাহি কিছু আর।
-ৈ

সাময়িক চিত্র।
দার্জিলিং।
এমন অপূৰ্ব্ব শােভা দেখিব কি আর!
চৌদিকে অচলাবলী, উন্নত শিখর তুলি,
অনন্ত মহিমা কার করিছে প্রচার ?
তরুণ অরুণ করে,
রতন মুকুতা ঝরে,
মরি মরি কি সৌন্দৰ্য বলা নাহি যায়,
বিচিত্র বরণে আঁকা, যেন গো ময়ূরপাখা,
আঁকিয়া রেখেছে শৈল চূড়ায় চূড়ায় ?
কাঞ্চন-ধবলা গিরি, কি সুন্দর মরি মরি ।
তুষার-মণ্ডিত শিরে সােণার কিরীট,
যেন গো শোভিছে তায়, কিরণ পড়িয়ে গায়।
উচ্চতায় কে বলিবে ক’হাজার ফিট ?
নিম উপত্যকা পানে বারেক তাকালে, প্রাণে
কি এক অপূৰ্ব্ব ভাব উপজে তখন ;
বুঝি সে পাতালপুরী, অযুত ভূধরে পূরি,
নয়ন রঞ্জিতে বিধি করিলা সৃজন!
‘বার্চ হল’ দেখিবারে, চাহে মন বারে বারে
যাইনু সেথায়,-স্থান অতি নিরজন,
--

'-
দার্জিলিং।
৮৯
পাৰ্বতীয় তরুরাজি, অপরূপ রূপে সাজি,
বিরাজিছে নন্দনের যেন কুঞ্জবন।
সুন্দরী প্রকৃতি সতী, গম্ভীর প্রশান্ত অতি,
মূর্তিমতী দেবী যেন করে বিচরণ,
না জানি ভাবুক জনে, ভুলায় কি প্রলােভনে ?
সংগােপনে কেড়ে লয় হৃদি প্রাণমন।
‘জলা পাহাড়ের পর,
প্রাণমন মুগ্ধ কর,
দেখিনু যে দৃশ্য তাহা না যায় বর্ণন,
গা’ ঘেঁসিয়া মেঘ যায়, বহিছে শীতল বায়
ভাবের তরঙ্গ মাঝে ডুবে গেল মন!
‘
ভিটোরিয়া ফল’ হেরি, আনন্দে হৃদয় ভরি,
গেল যে আমার,--কত ভাবের লহরী
খেলিছে পরাণ মাঝে, ধন্য সেই বিশ্বরাজে
. ধন্য তার সুকৌশল—ধন্য কারিকরী।
বহিছে অজস্র ধারা রজত স্রোতের পারা,
মাতােয়ারা ঝ ঝর রবে ত্রিভুবন !
ভকতি রসেতে মন ডুবে থাকে অনুক্ষণ,
(হেরি) পাষাণ বিদারি বারি হতেছে পতন!
‘অজারভেটরি হিল উরধে অনন্ত নীল
নিম্নেতে সহরখানি পাহাড়ের গায়,

সাময়িক চিত্র।
মরি কি অতুল শােভা,
দশকের মনোলােভ।
চেয়ে থাকে আনমনে চিত্রাপিত প্রায় ।
চৌরাস্তায় সন্ধ্যাবেলা,
প্রবাসী মিলায় মেলা
পুরুষ রমণী কত বসি হৃষ্টমনে,
লভেন বিশ্রামসুখ, সন্তোষে মাখানো মুখ
‘ব্যাও’ বাজে—সুধারস সিঞ্চয় শ্রবণে ।
পাহাড়ী লােকেরা সবে,
সুধাইছে-কুলী লবে ?
প্রফুল্ল আনন অতি প্রশান্ত প্রকৃতি,
কাজে ব্যস্ত অনুক্ষণ,
বড়ই সরল মন
কার্যক্ষম সমতুল্য পুরুষ প্রকৃতি।
বেণী পৃষ্ঠে লম্বমান,
নরনারী দু’সমান
রমণীরা বন্য ফুলে সাজাইছে বেণী,
দেখিতে সুন্দর অতি, সরলতা মূর্তিমতী,
কি ছার তাহার কাছে হীরা মুক্তা মণি।
অসভ্য বর্বর বটে, জ্ঞানবুদ্ধি নাহি ঘটে,
কিন্তু অকপট ভাব সকলেরি মনে ;
জানে ভদ্র ব্যবহার,
নাহি করে অপকার,
করিবে পরের সেবা খাটি প্রাণপণে।
দার্জিলিং দরশনে,
যে ভাব উদিছে মনে,
স্মরণেতে সুখ-সিন্ধু উথলে আমার,

শরৎকাল।
হিমাচল নমে যারে, নতশিরে সে ধাতারে,
একান্তে ভকতি ভরে করি নমস্কার ।
শরৎকাল।
কি মােহন সাজে প্রকৃতি সুন্দরী
সাজিছে শরতে, তরুলতা বন,
সবুজ রঙ্গের শাড়ী খানি পরি
মােহিত করিছে মনুজের মন !
নাহি ঘন ঘটা প্রাবৃটে যেমন,
সুনীল অম্বর, অনন্ত প্রসার
সুধাকর করে—শােভিছে কেমন,
আনন্দে মগন নিখিল সংসার ।
শােভার ভাণ্ডার বিশাল মেদিনী
ধন ধান্যে আজ তুষিছে অন্তর,
মােহিছে মানস ভুবনমােহিনী,
স্বভাবের শােভামরি কি সুন্দর ।
শারদ-উৎসবে পতিব্রতা সতী
প্রতীক্ষা করিছে পতি আগমন,
সম্বৎসর পরে হেরি সে মুরতি
আনন্দ-সাগরে হইবে মগন ।

তৃr
সাময়িক চিত্র।
স্নেহময়ী মাতা আছে পথ চেয়ে
কখন আসিবে অঞ্চলের ধন?
বহুদিন পরে হারানিধি পেয়ে
সে চাদ বদন করিবে চুম্বন।
তনয় তনয়া ঝাঁপ দিয়ে কোলে
উঠিবে কখন ?—ভাবিয়া আকুল !
ওই বুঝি এল ‘বাবা বাবা বলে
ছুটে যায় বেগে তটিনীর কূল।
নানা জাতি ফুল,-রয়েছে ফুটিয়া
পাদপ-জড়িত-লতিকার গা ম,
ভােমরা আসিয়া লইছে লুটিয়া
মধু পিয়ে মত্ত, গুন গুন গায় ।
বিজনে বসিয়ে করিছে কূজন
ঘুঘু
পাখী,কিবা সুমধুর স্বর !
করিয়ে শ্রবণ ভাবুক সুজন
ভাবেতে বিভাের, মােহিত অন্তর ।
এমন শরৎ সৃজিলেন যিনি .
না জানি সে জন কতই সুন্দর।
কিবা সুনিপুণ তাহার লেখনী
বলিহারি যাই,ধন্য শিল্পিবর।
5
. ---

gr
দাদাভাই নৌরজি।
দাদাভাই নৌরজি।
ওই যে মহাত্মা—দীর্ঘ শ্মশ্রুধারী,
প্রশস্তলট বিশালনয়ান,
সুধীর প্রবীণ গম্ভীর-প্রকৃতি
তেজস্বী পুরুষ-ভারত সন্তান।
উদার নীতির পূর্ণ অবতার,
জীবনের ব্রত-জগতের হিত,
বিশ্বপ্রেমে যার বিগলিত মন,
পার্লেমেন্টে আজ তিনি মনােনীত।
ভারত মাতার-অমূল্য রতন !
বম্বেতে জনম-নাম দাদাভাই,
বাড়ালেন কত দেশের গৌরব,
এস সবে মিলি তার গুণ গাই।
এমন সুদিন কবে হবে আর ?
স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখ ইতিহাসে,
পার্নেমেন্ট”—মহাসভাতে মেম্বার
দাদাভাই আজি ইংলও প্রবাসে !
এ আনন্দ হৃদে ধরে না যে আর,
অাশার স্বপন হইল সফল,

১৪
সাময়িক চিত্র।
একসূত্রে বাধা ইংলণ্ড ভারত,
এ হতে মুখের কিবা আছে বল?
সভ্যতম জাতি যাহারা জগতে,
তাহাদের সভা.কম কথা নয়!
সে সভাতে আজ ভারতসস্তা,
ভাবিলে কাহার না হয় বিস্ময়?
ভারতের ভাগ্যে ঘটে নাই আর,
অঘটন আজ হ’ল সংঘটন,
কোটিকণ্ঠে গাও-ভিক্টোরিয়া জয়
কাপায়ে মেদিনী-কাঁপায়ে গগন!
হার ইঙ্গিতে সমগ্র পৃথিবী
চালিত হ’তেছে অপূৰ্ব্ব কৌশলে,
সে মহাসভায় প্রজার প্রবেশ,
একমাত্র সেই প্রতিভার বলে।
ধন্য ধরাতলে ইংরেজসমাজ,
সাম্য নীতি যার মূলমন্ত্র সার,
তাহার মতন উদার প্রকৃতি
এজগতে স্বল কে আছে আর!
স্বাধীনতা-রত্ন অঙ্গের ভূষণ,
মানসিক বল—জীবন সম্বল,

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Samayik Chitra Part.1

Author
Das,chandranath
Title
Samayik Chitra Part.1
File name
Samayik Chitra Part.1
Text
OCR done
Citation
1895
Published
2009/11/11
Publisher
Lalitmohan Das,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
116
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Das,Chandranath
DLI number
513210
Barcode
4990010020209.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
Wd2NOTozhQf
Download PDF

Samayik Chitra Part.1