Makardah Saraswat Library, Howrah
Khadyashasya Ed. 2nd
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
খাদ্যশস্য
আলুর চাষ, কলার চাষ, তুলার চাষ,
ইক্ষু চাষ, বেনেতিবাগ, পান চাষ
প্রভৃতি পুস্তকের প্রণেতা-
ডা; শ্ৰীযামিণী রঞ্জন মজুমদার
এ, এস-সি, ; পি, এইচ ডি; ডি, এগ্রি (টোকিও)
মুল্য এক টাকা
প্রকাশক
মিঃ বি, ছত্তার বি, এ
জেঃ ম্যানেজার-ফেডারেশান ব্যাঙ্ক
অফ ইণ্ডিয়া লিমিটেড।
১০নং ক্যানিং ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
২১১
দ্বিতীয় সংস্করণ
মুদ্রাকর-শ্রীজলদারমণ ভট্টাচার্য্য
বেঙ্গল প্রেস এণ্ড পাবলিসিটি
৪২নং ইণ্ডিয়ান মিরার স্ট্রাই,
কলিকাতা
সূচীপত্র বিষয় ধান পত্রাঙ্ক ০ ০ ০ ••• আমন ধান শালিধান ••• ৪ • গম ••• • • • ট ••• • • • যব যই ৬২ ০ ০ ০ জোয়ার ••• ৬৫ বাজরা ••• খামা ••• ০ ০ ০ ••• কোদো চিনা মটর সয়াবিন ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৩৭ ••• মুগ ••• ০ ০ ০ ৬৯ ৭১ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০০ ০ १२
সুচীপত্র
৩
পত্রাঙ্ক
বিষয়
৩ + ১
। • •
৭৬
৭৭
• ০ ০
৭৮
. ০ ০
৭৮
অড়হর
বিরী বা মাষকলাই
বরবটী
খেসারী
তিল
সরিষা
তিসি বা মসিনা
চিনাবাদাম
শিমুলআলু
৮৭
১০
খাদ্যশষ্য খাদ্যশস্য-ধান্য, গম, যব, ভুট্টা, মুগ, মসুর ইত্যাদি ধান্য (Oryza Sativa) সকল ধান উৎপত্তির ইতিহাস (Origin of rice)—ধান যে কোন্ সময়ে এবং কোথায় প্রথম উৎপত্তি হইয়াছিল তাহা সঠিক নির্ণয় করা যায় না। উদ্ভিদবিদদিগের মতে ইহার প্রথম উৎপত্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ভারতবর্ষ, মালয় প্রভৃতি দেশের প্রাচীন ইতিহাসের বহু পূৰ্বে চীনদেশের ইতিহাসে ধানের কথা লেখা আছে। কিন্তু চীনেই যে প্রথম ধান জন্মিয়াছিল তাহারও প্রমান পাওয়া যায় না। ভারতে, উত্তর-পশ্চিমাংশ বাদে সর্বত্র চাউলই প্রধান খাদ্য। ধান হইতে চাউল প্রস্তুত হয়। দেশে সমানভাবে ধান জন্মে না। ইহা স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভর করে। জমিতে ও বায়ুমণ্ডলে প্রচুর জল থাকিলেই এই ফসল ভালরূপ জন্মিতে পারে। এই জন্যই বাংলা, আসাম ও ব্রহ্মদেশে প্রচুর ধান জন্মে। পৃথিবীর উৎপন্ন ধান্যের পরিমাণ—পৃথিবীর মধ্যে সৰ্ব্ব- প্রধান খাদ্যশস্য ধান। ইন্টারন্যাশন্যাল এগ্রিকালচার ইনষ্টিটিউট ( Internotional Agriculture Institute ) নির্ধারণ করিয়াছেন যে পৃথিবীর প্রতি বৎসরের উৎপন্ন চাউলের পরিমাণ তিনশত মিলিয়ন পাউণ্ডেরও অধিক। মানুষের
খাদ্যশস্য
খাদ্য মধ্যে আর কোন শস্য এত অধিক পরিমাণে উৎপন্ন করা
হয় না।
ধানগাছ ও রবিশস্য-ধান এক প্রকার ঘাস। ইহাকে
রবিশস্য বলা হয়।
যে সকল শস্য সূর্যের উত্তাপে পরিপক্ক হয়
এবং একবার মাত্র ফল হইলেই সেই সকল গাছ শুকাইয়া যায়
এবং সেইগুলিতে আর ফল ধরে না তাহাদিগকেই রবিশস্য
বলে। রবিশস্যই আমাদের প্রধান খাদ্যদ্রব্য মধ্যে পরিগণিত।
ধান, বিবিধ ডাল, তিল, তিসি, সরিষা প্রভৃতি সমস্তই রবিশস্য।
স্বভাবজাত ও আবাদজাত ধান (Natural and
Cultivated paddy)—সাধারণতঃ ধান দুই প্রকার, যথা :-
স্বভাবজাত ও আবাদজাত। স্বভাবজাত ধানকেই উড়ি বা
ঝরা বলে। এই জাতীয় ধান খুব ভালভাবে পাকিবার পূর্বেই
ঝরিয়া যায়। পূর্ববঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও আসামের বড় বড় বিলের
মধ্যে এই জাতীয় ধান জন্মিতে দেখা যায়। আবাদ ও চেষ্টার
ফলে আবাদজাত ধানের সহজেই ঝরিয়া পড়ার দোষ নিবারিত
হইতে পারে।
ধানের আবাদ (Cultivation of rice)—ধান দুইভাবে
জন্মান হয়, যথা--বপন ও রােপণ। জমি উত্তমরূপে চাষ করিয়া
যথােপযুক্তরূপে প্রস্তুত হইলে তাহার উপর বীজধান ছড়াইয়া
দেওয়া হয়। প্রচুর জল ও উপযুক্তরূপে তাপ ও বাতাস
পাইয়া এই সকল বীজধানের অঙ্কুরােদগম হয়। ইহাকেই
বপন বলে। দ্বিতীয় প্রকারকে রােপণ বলে। ইহার একটু
খাদ্যশস্য
;
বিশেষত্ব আছে।
প্রথম একটু ছােট জায়গায় বীজ
বুনিতে হয়। সেই জমিতেই বীজের অঙ্কুরােদগম হয়, এবং
অঙ্কুরগুলি ক্রমে ক্রমে চারায় পরিণত হয়। প্রচুর বৃষ্টির ফলে
যখন ক্ষেতে জল দাড়াইয়া যায়, তখন সেই জমি হইতে চারা-
গুলি তুলিয়া অপর জমিতে রােপণ করা হয়। প্রত্যেক ক্ষেতের
চারিদিকের আল বাঁধিয়া জল ধরিয়া রাখিতে হয়, নতুবা শীঘ্রই
ধানের চারাগুলি শুকাইয়া যায়। বৃষ্টির অভাব হইলে খাল,
বিল, কূপ কিংবা
পুকুর হইতে জল সেচন করিয়া জমিকে জলপূর্ণ।
করিয়া রাখা দরকার ; নচেৎ জলাভাবে ধানগাছ বাড়িতে পারে
; গাছ বাড়িলেও ফল ধরিবে না। ধানগাছের মূল খুব
ছােট গুচ্ছাকার। শক্ত এটেল মাটির উপর কিছু পলি পড়িলে
ধানের আবাদ খুব ভাল হয়।
ধান গাছের গঠন (Structure of paddy)—ধানগাছের
প্রধান মূর্ল ( Tap root) অল্পকাল মধ্যে নষ্ট হইয়া যায় ও
অস্থানিক মূল (Adventitious root) গুচ্ছাকারে গােড়া হইতে
বাহির হয়। ইহার কাণ্ডের পাব ফাঁপা। পাবের সন্ধি বা
গাঁইট হইতে পাতা বাহির হয়। পাতা দীর্ঘ ও সূচাগ্র।
পাতার শেষভাগ কাণ্ডকে জড়াইয়া থাকে। কাণ্ডের শীর্ষদেশে
বা চূড়ায় ফুল ও ফল ধরে। এই অংশকে শীষ বলে। সাধারণ
ফুলের ন্যায় ইহাদের বৃতি ও দল বিকশিত হয় না। কয়েকটি
পৌষ্পিক পত্র ( Bract) পুষ্পমুকুলটিকে ঢাকিয়া রাখে। পরে
যখন ফুল হইতে বীজ হয় তখনও ইহারাই বীজটিকে রক্ষা
৪
খাদ্যশস্য
করে। ধানের ফুলের দুইটি অঙি ক্ষুদ্র ও দুইটি অপেক্ষাকৃত বড়
পৌষ্পিক পত্র থাকে। তৃতীয় পপৌষ্পিক পত্রের কোলে ফুলটি
থাকে। চতুর্থ পৌষ্পিক পত্ৰকে পালিয়া বলে। বাকি তিনটিকে
গুম (Glum) বলে। ধান জাতীয় গাছের ফুলের বৃতি ও
দল রূপান্তরিত হইয়া দুইটি অতি ছােট লডিকিউল (Lodicule)
গঠন করে। চতুর্থ পৌষ্পিক পত্র পালিয়ার ঠিক উপরেই
লডিকিউল দুইটি থাকে। ইহারা এত ছােট যে চোখে দেখা
যায় না। লডিকিউলের উপরে দুইটি আবর্ত ( whorl)।
প্রত্যেক আবর্তে তিনটি করিয়া পুংকেশর থাকে। পুংকেশরের
ঠিক উপরেই আর একটি আবত্তের গর্ভকেশরের স্থান। চাউল
উৎপন্ন হইবার পর ফুলের পুংকেশর ও লডিকিউল দুইটি
শুকাইয়া ঝরিয়া পড়ে।
ভারতের ধানজমির পরিমাণ—ভারতবর্ষে প্রায় সত্তর
পঁচাত্তর লক্ষ একর জমিতে ধান জন্মে। ইহার মধ্যে বাংলা
বিহার ও আসামে চল্লিশ লক্ষ একর এবং ব্রহ্মদেশে নয় দশলক্ষ
একর। কিন্তু ইহার বেশীর ভাগই বিদেশে রপ্তানীর জন্য
প্রস্তুত হয়। মাদ্রাজে আট হইতে নয় লক্ষ। মধ্যপ্রদেশে ও
বেরারে সাড়ে চার লক্ষ। যুক্তপ্রদেশে সাড়ে ছয় লক্ষ।
বােম্বাই বা সিন্ধুপ্রদেশে দুই বা আড়াই লক্ষ। পাঞ্জাব ও
উত্তর পশ্চিম সীমান্তপ্রদেশে মাত্র পঁচাত্তর হাজার একর।
বাংলাদেশে ধানের সাধারণ শ্রেণীবিভাগ—এক বাংলা
দেশেই বহুপ্রকার ধান পাওয়া যায়। ধান মােটামুটি তিন প্রকার,
খাদ্যশস্য
—(১) আউস বা আশুধান্য (২) আমনধান্য ও (৩) বােররা।
প্রত্যেক জাতীয় ধান্যের মধ্যে আবার বহু রকম ধান আছে।
(১) আউস ধান-বৈশাখ মাস হইতে জ্যৈষ্ঠের শেষ
পর্যন্ত বপন করা হয়। সাধারণতঃ এই জাতীয় ধান বপন
হইতে তিন মাসের মধ্যে পাকে। জমির ও দেশের অবস্থাভেদে
কখন কখনও ভাদ্রমাস পর্যন্ত আউস ধান বপন করা হয়।
আউস ধানের চাউল কিছু মােটা ও দুম্পাচ্য। ইহা সাধারণতঃ
উচু জমি এবং বেলে মাটিতে জন্মে। ইহার জন্য আমন অথবা
বােরা অপেক্ষা কম জলের প্রয়ােজন হয়।
(২) আমন ধান-অগ্রহায়ণ বা পৌষে পাকে। আমন
ধান সাধারণত দুই প্রকার—(১) বড়ান, (২) ছােটনা।
বড়ান পূর্ববঙ্গেই বেশীর ভাগ জন্মায়। পূর্ববঙ্গে বর্ষাকালে
জমিতে প্রচুর জল জমে, তথায় অপেক্ষাকৃত দীর্ঘাকার গাছ না
জন্মিলে, ঐ গাছ জলে ডুবিয়া যায়। এই দীর্ঘাকার আমনই
বড়ান। এই গাছের বৃদ্ধি এত বেশী যে প্রত্যেক দিন জল বৃদ্ধির
সঙ্গে সঙ্গে গাছও বাড়িতে থাকে এবং গাছের একটুখানি জলের
উপরে থাকিলেই তাহা জীবিত থাকে। খুলনা, যশােহর হইতে
আরম্ভ করিয়া শ্রীহট্ট পর্যন্ত পূর্ববঙ্গের অনেক স্থানই বড়ান
ধানের আবাদ দেখা যায়। যে সকল জমির উপর বেশী জল
জমে না, সেখানে ছােটনা আমনের আবাদ হয়। এই ধানই
ক্ষুদ্রাকার ও সর্বোৎকৃষ্ট এবং ইহার চাউল খুব সাদা।
মিহি ভাল চাউল প্রায়ই আমন ধানের, কোন কোন চাউলে
খাদ্যশস্য
খুব সুন্দর গন্ধ থাকে ; যেমন গােবিন্দভােগ, বাঁশমতি, বেনেফুলি
কামিনী, বাদসাভােগ, পায়সান্নশাল, রাঁধুনীপাগল, প্রভৃতি।
হরিণামুণি, বাকচুর ও নলকোষ ধানে খুব ভাল খই হয়।
যে সকল আমন ধান উচু জমিতে ভাল ও মিহি জন্মায়,
জলা জমিতে তাহাদের আবাদ করিলে ধান মােটা ও নিকৃষ্ট
হইয়া যায়। বাখরগঞ্জের আমন ধান মােটা ও মিহি দুই
প্রকারই জন্মে। বাখরগঞ্জের চাউল অন্যস্থানের আমন হইতে
ভিন্ন প্রকার। ইহাকে বালাম চাউল বলে।
(৩) বােরােধান—খুব কমই আবাদ করা হয়।
বৎসরে দুইবার জন্মে। (১) ফাল্গুন বা চৈত্র মাসে রােপণ
করিয়া বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে কাটা হয়। (২) ভাদ্র মাসে রােপণ
করিয়া কার্তিক মাসে কাটা হয়। বােরােধান অতিশয় মোটা
ও ইহার চাউল বড়ই দুষ্পচ্য।
চাউল—ধান হইতে চাউল পৃথক্
করিবার জন্য সাধারণতঃ
দুই প্রকার প্রথা আছে। ধানকে রৌদ্রে শুকাইয়া টেকিতে
কুটি চাউল বাহির করা হয়। ইহাকে ‘আতপ শুষ্ক’ বা ‘আতপ
কংহে। ব্ৰহ্মদেশে আতপ চাউলই বেশী। আমাদের বঙ্গদেশে
ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ও বিধবারা এই চালের ব্যবহার করেন।
সাধারণতঃ ধান জলে সিদ্ধ করিয়া
রৌদ্রে শুষ্ক করা হয়,
পরে চেঁকিতে কুটিয়া চাউল বাহির করিতে হয়। চেঁকিতে ধান
কুটাকে “ধান ভানা” কহে। আজকাল কলের সাহায্যে সহজে
ধান সিদ্ধ ও ভানার ব্যবস্থা হইয়াছে।
খাদ্যশস্য
চিড়া, খই ও ঘুড়ি—ধান সিদ্ধ করিয়া উত্তপ্ত খােলায়
কিছুক্ষণ নাড়িয়া সজোরে ঢেকিতে কুটিলে ধানের ভিতরকার নরম
চাউল চেপ্টা আকারে পরিণত হয় ও তাহাকে চিড়া কহে !
কোন কোন ধান গরম খােলায় ভাজিলেই ফুটিয়া খই
প্রস্তুত হয়। কোন কোন সুসিদ্ধ চাউল বালির খােলায়
ভাজিলে মুড়ি প্রস্তুত হয়।
চাউল হইতে খাদ্য ও অন্যান্য উপকার-চাউল জলে
সিদ্ধ করিলে ভাত, দুধে সিদ্ধ করিলে পায়স হয়। তাহা
ছাড়া চাউল ভাঙ্গিয়া যে সবেদা হয়, তাহা হইতে রুটি,
পিঠা ইত্যাদি উপাদের বস্তু প্রস্তুত হয়। চাউলের মণ্ড বা
মাড় দিয়া কাপড়ের কলে কাপড় পালিস করা হয় ।
হইতে মদ চোলাই হয়। ধানের খড়ও গরু, মহিষ, ঘােড়া
প্রভৃতিকে খাইতে দেওয়া হয়। কোন কোন খড় দারা
পল্লী গ্রামে ঘরের চাল ছাওয়া হয়।
চাউল ও বেরিবেরি নামক ব্যাধি—বৈজ্ঞানিকেরা বলেন
চাউলের উপরিস্থিত লালি আবরণই চাউলের সার ভাগ।
উহা ছাড়াইবার জন্য অনেক সময় চূণ দিয়া চাউলকে মাজা
বা পরিষ্কৃত করা হয়। কলেও ঐ প্রকার পরিষ্কার হইতে
পারে এবং ঐরূপ পরিষ্কৃত চাউলকে ‘কলছাটা চাউল বলে ।
উভয় প্রকার চাউলের ভাত খাইলে “বেরিবেরি” নামক
ভীষণ ব্যাধির সৃষ্টি হইতে পারে।
ধান্ত ধান্যই নিম্নপ্রদেশগুলির প্রধান খাদ্যশস্য এবং সকলের চাইতে ইহার বেশী আবাদ হয়। প্রদেশগুলির মােট জমির পরিমাণ ৫৭,২৫৩,২০০ একর বা ১৭১,৭৫৯,৬০০ বিঘা ; তন্মধ্যে ৩৯,৮৯৩,০০০ একর বা ১১৯,৬৭৯,০০০ বিঘা জমিতেই ধান্য উৎপাদিত হয়। প্রদেশগুলিতে নিম্নলিখিত প্রকারে ভূমির পরিমাণ নির্দেশ করা যায় :- আবাদি জমির মােট ধান্য উৎপাদনের আয়তন। ভূমির আয়তন। নিম্নপ্রদেশ ২৬,৯৮৮,১০ • ২°, ৭০৭,২•• বিহার ১৮, ৮৮২,৮০০ ১১,১২৪,৩০০ উড়িষ্যা ৩,৫৭,৬০০ ২,৫৯২,৯০০ ছােটনাগপুর ৮,৩১০, ৭০০ ৫,৪৬৮,৬০০ মােট ৫৭,২৫৩,২০০ ৩৯,৮৯৩, ০ ০ নিম্নলিখিত জেলাগুলি ধান্যোৎপাদনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছে নিম্নপ্রদেশে বাখরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজসাহী এবং বর্ধমান। বিহার, গয়া, সাহাবাদ, ভাগলপুর এবং পূর্ণিয়া ; উড়িষ্যা ও কটক ; ছােটনাগ- পুর, হাজারিবাগ, রাচি এবং মানভূম। আশুধান্য—আশু ধান্যের ক্ষেত্রে সর্বদা জল থাকা
খাদ্যশস্য
আবশ্যক।
অৰ্ধ হস্ত পরিমিত জল না থাকিলে
ফসল ভাল হইবে না। চারাগুলি রােপণ করিবার সময়
দুই বা তিনটি করিয়া রােপণ করিতে হয়। পরস্পরের
ব্যবধান অৰ্ধ হস্ত হইলেই যথেষ্ট। আশু ও আমন ধান্যের মধ্যে
আশু ধান্য শীঘ্র পাকিয়া থাকে ; সেইজন্যই ইহার নাম আশু।
বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে এই জাতীয় ধান্যের চারা রােপণ
করিয়া শ্রাবণ বা ভাদ্র মাসে ফসল পাওয়া যায়। চারি মাসের
মধ্যেই ধান্য পাকিয়া উঠে। প্রতি বিঘা জমি হইতে ছােটনা
ৰান্য প্রায় আট মণ পাওয়া যায়, কিন্তু বড়না ও সরু
চারি মণের অধিক নহে। ছােটনা হইতে অধিক খড়ও
পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি ছােটনায় খড় প্রায় বার মণ,
কিন্তু অপর জাতীয় আশু ধান্যেব সাত মণের অধিক খড়
পাওয়া যায় না।
(১) আশু অথবা, শারদীয় ধান্যকে নিম্নবঙ্গে ‘আউশ’
বিহারে ‘ভাদই, উড়িষ্যায় ‘বিয়ালি এবং ছােটনাগপুরে
‘গৌরা' নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে।
আবাদ জমির আয়তন-নিম্নবঙ্গে সমগ্র জেলাতেই কম
বেশী আউশ ধান্যের চাষ হইয়া থাকে এবং বিহারেও খুব
অল্প পরিমাণে হয়। বঙ্গীয় কৃষিবিভাগের বিবরণী অনুযায়ী
এই প্রদেশে চলিত আউশ ধান্যের মােট আবাদ জমির
পরিমাণ মােটামুটি ৭,৮৭৩,৪০০ একর অথবা ২৩,৬২৩,২০০
বিঘার মত।
১০ খাদ্যশস্য মােট আবাদী জমি মােট আশুধান্যের জমি বাংলা ২৬,৯৮৯,১০ ৪,৫৪৫,২০০ বিহার ১৮,৮৮২,৮০০ ১,৬৫৭,৩০০ উড়িষ্যা ৩,৭,৬০০ ৩৫,৩০০ ছােটনাগপুর ৮,৩১,৭ ০ ০ ১,১০,৬০০ মােট ৫৭,২৫৬,২০০ ৭,৮৭,৪০০ বাংলার উত্তর এবং পূর্ববভাগের জেলাগুলিতে এবং মুঙ্গের, ভাগলপুর, পূর্ণিয়া, খালদহ, কটক, রাঁচি এবং মানভূমেই ইহার আবাদ বেশী পরিমাণে হয়। অধিকাংশ স্থলে, পূৰ্ব্ব বৎসরের আমনধান্য যখন ফুরাইয়া আসে তখন রায়তেরা আপন প্রয়ােজনার্থে ইহার চাষ করে। রকম---স্থানীয় বৈষম্যহেতু আউশধান্য অনেক প্রকারের হয়। নােয়াখালী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে আউশধান্যই সর্ব- শ্রেষ্ঠ এবং ইহাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। কৃষিবিভাগ সম্প্রতি নাগপুর হইতে একপ্রকার চমৎকার আউশধান্য আমদানী করিয়াছেন। ইহার ফলনই শুধু বেশী নহে পরন্তু দ্বিতীয়বারও একই গাছ হইতে ফসল পাওয়া যায়। মৃত্তিকা-কেবল যে সব জমি বসন্ত ঋতুতে উপযুক্ত কর্ষণের স্যাৎসেঁতে রহিয়া যায়, তাহা বাদে আউশধান্য সকল প্রকার মাটিতে জন্মিয়া থাকে। শক্ত মাটিতে ইহা বৃদ্ধি পাইতে পারে না। শিথিল মাটি ইহার পক্ষে উপযােগী বলিয়া লঘু মৃত্তিকাই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কর্দমাক্ত অবস্থাও ইহার মূল প্রসারণের বাধা জন্মায়। অভাবে
খাদ্যশস্য
আশুধান্যের শ্রেণী
ঢাকা নং ২—কটকতারা। ইহা মাঝারি রকমের মিহি
ধান। সাধারণতঃ ইহা ৪ মাসে পাকে। ইহা উঁচু জমিতে
ছিটাইয়া বােনা হয়। ইহা উচু উর্বর জমিতে কোন রবিশস্যের
সহিত পাল্টাপাল্টি ভাবে ভাল হয়। মধুপুরের জঙ্গল অঞ্চলের
উচু জমিতে ইহার ফলন ভাল হয়। ইহা দেরীতে পাকে বলিয়া
দো-ফসলি ধান জমির উপযােগী নহে। তবে শীঘ্ন পাকে এমন
কোন শাইল ধান ইহার সহিত লাগান যাইতে পারে।
ঢাকা নং ৪--সূর্যমুখী। সকল রকমেই উহা কটকতারার
মত।
১১ নং ও
ঢাকা নং ৩—চারণক। ইহা উচু ও হালকা জমির
উপযােগী আশুধান্য ।
চারণক খুব চিক্কণ এবং কটকতারা ও
সূর্যমুখী ধানের চেয়ে আগে পাকে।
ফলন ও চাউলের
চিক্কণ হিসাবে ইহা একটি উৎকৃষ্ট ধান।
ঢাকা নং ৪-
-থারিয়াল। ইহা
প্রকার মােটা
আধান্য। ১১নং ধানের মত ইহা আগে পাকে।
১২ নং ধানের জমিও ইহার উপযােগী। ইহার ফলন খুব বেশী ;
এই কারণে চাষীরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য ইহা পছন্দ
করিয়া থাকে। বঙ্গদেশের যে যে অঞ্চলে ইহা পরীক্ষিত
হইয়াছে, সর্বত্রই অতি উৎকৃষ্ট ফলন দিয়াছে।
ঢাকা নং ১৬—কুমারী। ইহা মাঝারি গােছের মিহি
ধন।
১১নং ও ১২নং ধানের জমিই ইহার উপযােগী।
খাদ্যশস্য ঢাকা নং ১৮-ইহা শঙ্কর জাতীয় আউশ ধান ও পিএস্ (৮) নামে পরিচিত। ইহা আগে পাকে। উচু, উর্বর অথচ হাল্কা ও দো-ফসলি ধান-জমির পক্ষে ইহা বিশেষ উপযােগী। বাঁকুড়া নং ২ আঁজি (৩৩৪)। বাঁকুড়ার অবিমিশ্র আশু- রােয়া ধান হইতে ইহা নিৰ্বাচিত হইয়াছে। ইহা মােটা ও প্রচুর পরিমাণে ফলে। উচু বােয়া-ধানের জমিই ইহার আবাদের উপযােগী। বাঁকুড়া নং ৪—ভূতমুড়ি ( ৩৬)। বাঁকুড়ার ভূতমুড়ি আউশ ধানের ইহা একটি উন্নত জাত। ইহা উচু জমির উপযােগী ধান। ইহার বিশেষত্ব এই যে, ইহা অনাবৃষ্টিও সহ্য করিতে পারে। খুব মােটা চাউল বলিয়া চাষী ও শ্রমজীবীরা ইহা খুব পছন্দ করিয়া থাকে কোন জেলায় কত পরিমাণে আউশ জন্মে । সাধারণত কত একর জমিতে জেলার নাম ধান জন্মে। গত বৎসর কর্ত একর জমিতে ধান জন্মিয়াছিল বর্তমান বৎসর কত ১৬ আনার একর জমিতে মধ্যে কত ধান ধান জন্মিয়াছে জন্মিয়াছে গত বৎসর বর্তমান বৎসর ৪২৬০০ ৫৮ ৬৫,৩০০ ৪৯১,১০০ ২২৯,৩০০ ৩৬৬,৪০০ ৪৭,৪০০ ৪৭,১•• ১৬৭,৩০০ ৩২৯,০০০ ৪৬২,২০০ ০২১৪ ০ ০ ৩৫২, ০ ০ ৫০ ৬৭ ২৪ পরগণা নদীয়া মুর্শিদাবাদ যশােহর খুলনা বর্ধমান বীরভূম বাঁকুড়া ৮,২• • ১০০ ১২ ১১৮,৮•• ১৪৪,২০ • ১৩,৮০০ ৭৩,২০, ১১,৪ •• ৪,৫০০ ১২ ৪ ? ০ ০ খাদ্যশস্য ও ও ৮৩ ৭৫ ৭৪ ৭৬ ১০ ০ ১৭৪,০০০ ২৪,৬০০ ৬,৭ ০ ০ ১৫,২০০ ১৪৮,৮০০ ১৪,৮০০ ৩,৭ ০ ০ ২০৩,২০০ ১০ , ০ ২৫৩,৩• ০ ১৮, ০ ০ ২৭৫,০০০ ৫২ ৫৮ মেদিনীপুর ২৬৫,৪০০ ১৫,০০০ হুগলী ৪৪,৭০০ ২৩,১০ • হাওড়া ৮,০০০ ৮,৫০০ রাজসাহী ১৬৮,১০০ ১৮৬,৪ ০ ০ দিনাজপুর ১৩১,৫০০ ১৫৩,৭০০ জলপাইগুড়ি ১৬৫,৭ ০ ০ ১৪৬,৩০০ দার্জিলিং ৩,৭০০ রংপুর ৩১২,৩০০ ৩০১,২০০ বগুড়া ১৪ ৩,০০০ পাবনা ২৩০,৩০০ ১৯,৫ ০ ০ মালদহ ২৭১,৯০০ ১৭, ০ ০ ঢাকা ২৩৮,৭০০ ২৭৬,৫০০ ময়মনসিংহ ৩৯৩,৬০০ ৭১৭,২০০ ফরিদপুর ২৩৯,৩০০ ২৩৬,৫ ০ ০ বাখরগঞ্জ ২৫,০০০ চট্টগ্রাম ২০৩,৪ ০ ০ ১৯৪,৬০০ ত্রিপুরা ৩১২,৮০০ নােয়াখালী ২০ ৪,০০০ ৩০°, ০ ০ পার্বত্য চট্টগ্রাম ১৫,০০০ ১৬৮, ০ ০ সমস্ত বাংলাদেশ ৫,২১৯,৯০০ ৫,১৬,২০০ ৫৮ ৪ ০ ৭৮ ৯২ ৮০ ০ ৭৫ ৬৮ ৭৫ ১০০ ২২৬,৫০০ ২৪৫, ০ ০ ১৯৪,৬০০ ৩০ ২,০০০ ২৯৯,০০০ ১৬২,০০০ ৪,৬৩,৯৯ ১০০ ১০৮ ৬৭ ৭৮ ৭৭ আমন ধান আবাদী জমির আয়তন—বাংলাদেশে ইহার আবাদ যথেষ্ট পরিমাণে হয় এবং নিম্নবঙ্গে খাদ্যশস্য ইহা হইতেই সরবরাহ হইয়া থাকে। হৈমন্তিক ধান্যের মােট আবাদী জমির পরিমাণ ৩১,৫৩৬০০ একর বা ৯৪,৬৮,০০০ বিঘা এবং নিম্নলিখিত প্রকারে ইহার বিস্তার হইয়া থাকে।
১৪ খাদ্যশষ মােট আবাদী জমির পরিমাণ বঙ্গদেশ ২৬,৯৮৯,১০০ বিহার ১৮,৮৮২,০০০ উড়িষ্যা ৩,৭০,৬০০ ছােটনাগপুর ৮,৩১,৭৯৫ ৫৭,২৫৩,২০০ মােট হৈমন্তিক ধান্তের আবাদী জমির পরিমাণ বঙ্গদেশ ১৫,৭৫১,৯০০ বিহার ৯,৪৫১,৬০০ উড়িষ্যা ১৮৭,৮০০ ছােটনাগপুর ২৪,১৪৪,৭০০ ৩১,৫৩৬,০০ উত্তর এবং পূর্ব বাংলায় বিশেষতঃ দিনাজপুর, ময়মনসিংহ এবং বাখরগঞ্জ অঞ্চলে ইহার প্রচুর আবাদ হয়। বর্ধমান, গয়া, দ্বারভাঙ্গা, সাহাবাদ, ভাগলপুর, কটক, হাজারিবাগ এবং রাচিতেও যথেষ্ট পরিমাণে ইহার চাষ হয়। রকম—নিম্ন অঞ্চল সমূহে আমন ধান্যের অনেক শ্রেণী আছে। বর্ধমান বিভাগের মিঃ এ-সি-সেন মহাশয় তাহার বিবরণীতে বলিয়াছেন যে, একমাত্র সেই বিভাগেই এক হাজারেরও অধিক রকমের আমন ধান্য পাওয়া যায়। ত্রিপুরাতে প্রায় দুইশত রকম পাওয়া গিয়াছে। উত্তর এবং পূর্ববাংলার বিখ্যাত ধান্যোৎপাদনের অঞ্চলগুলিতে হাজার রকমের খবর পাওয়া গিয়াছে। সমস্ত প্রকারের নমুনা এবং তাহাদের সম্বন্ধে সবিশেষ তথ্য সংগ্রহ বাস্তবিকই একটি খাদ্যশস্য ঔৎসুক্যের ব্যাপার। যদি প্রত্যেক জেলাতেই ইহাদের আবাদের চেষ্টা চলে, তাহা হইলে ইহাদের আপেক্ষিক সম্বন্ধও বেশ বােঝা যাইবে। বর্ধমান বিভাগে ছয়টি প্রধান পৃথক বীজ লইয়া দেখা যায় বাঁশমতিই সর্বশ্রেষ্ঠ। নিম্নলিখিত বিবরণী হইতে ইহা স্পষ্ট বুঝা যাইবে । বিহারে ডুমরাও পরীক্ষাক্ষেত্রে চারি প্রকার ধান্যের মধ্যে বাঁশমতির সর্বশ্রেষ্ঠতা প্রমাণিত হইয়াছে। ১৯০০-১৯০২ ১৯০৪-৬ ১৯০০-১৯০৬ রকমের নাম শস্য খড় শস্য বাশবাতি ৪ ৭ . পাউণ্ড পাউণ্ড পাউণ্ড পাউণ্ড পাউণ্ড পাউণ্ড দাদুন (সরু) ৫৫৫ ৩,১৫৫ হয় নাই ••• ১, ০ ০ | জানা নীয় বাশমতী (সরু) ২,৫৫ ৩৩৩৫ ১৯,৪৫ ৩,৭৮০ ১,৪২৫ | যায় চায়মণ্ড হারবার ( সরু ১,৮১৫ ২,৬০৫১,৮৩০ ৩,৫৮৫ ১,৪০ ০ নাই নীয় বাতাসফেনী (মােটা) ১,৯২৫ ২,৯৪৫ ১,৯০৫ ৩,৬৯৫ ১,৪১০ মৃত্তিকা-হৈমন্তিক ধান্যের পক্ষে জলীয় কর্দমাক্ত মৃত্তিকাই সৰ্বাধিক প্রযােজ্য। সর্বাপেক্ষা প্রয়ােজন হইতেছে এই যে, খাদ্যশশু জমিটা এমন নীচুতে হইবে, যেন উহাতে জল দাড়াইতে পারে এবং কমবেশী মাটীটা কাদাটে হয় । সার—অধিকাংশ স্থলেই হৈমন্তিক ধাতের জন্য কোন সারেরই ব্যবহার হয় না। দুই এক জায়গায় যথাসাধ্য গােবর দিয়াই সারের কাজ করা হয়। বর্তমান সময়ে পরীক্ষায় জানা গিয়াছে, হাড়যুক্ত এবং লবণাক্ত মাটী সর্বোৎকৃষ্ট। তাহাতে এইরূপ ফল পাওয়া গিয়াছে -- সংগৃহীত প্রতি একরের ফলন ১৯১৮-~-২০ ১৯২০-~-২২ শস্য শস্য বড় শশু মণ সের ছঃ পাউণ্ড পাণ্ড | পাউণ্ড পাউণ্ড পাউণ্ড | পাড গােবর ৪,১১ ৪,৮৮৬ ৩,৭০৩ | ৪,৬৯• ৩,৬৪১ সার বিহীন ১,৫৭৪ ২,৬১• ১,২৩৪ | ১,৬৪২ ১,৩৪৩ রেড়ীর খইল ০ ৩,৭৭৮ | ৪,৮৩৩ ৩,৪৩৭ | ৪,৫৫৭ | ৩,৩৩৪ ৪,১ গােবর ৩,৭৬৩ ৪,৭৫১ ৩,৬৭১ ৪,৬৯ ৪,৪৪৩; ৫, সার বিহীন ১,৭৯৯। ২,৬৬২ ১,২৫৪ | ১,৬৬৬ ১,৬৪৬ ৩২ হাড় চূর্ণ h ০ ৩,৩৮৪,৭২২ ৩,৭• ৩ | ৪,৯৩৭] ৪,২১ ৬.২ ৩,৯১৪ ৪ ৭৫৮ ৩৮২৬ | ৪,৯৩৭ ৩,৭০৩ ৫,৮ সার বিহীন ১,৮৯ ২,৭৫৮] ১,৪৮১ ২,৪৬৯। ১,৭৮৬ ২,৩ হাড় চূর্ণ সন্ট পিটার ৪,৬২৯। ৫,৫৪] ৪,৫৬ ৫,৯২,৯d ৫
১৭
ছড়ান আমন
আমন ধান্য—বাংলার অনেক জেলায়
ছড়াইয়৷ বীজ বপন করাই প্রচলিত। যেখানে পরিশ্রম
লাঘব করিবার চেষ্টা হয় সেখানেই এই প্রণালী গৃহীত
হয় এবং মােটা রকম শস্যের ব্যবহার এই প্রকারেই
হইয়া থাকে।
নিম্নবঙ্গে এবং বিহারে অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ববর্তী শস্য
তুলিয়া লওয়া হইলে, মাঘ মাসে একবার কি দুইবার
জমিতে লাঙ্গল দেওয়া হয় এবং আলো ও বাতাসে স্বাভাবিক
কার্যের জন্য বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ফেলিয়া রাখা
তাহার পরেই আর একবার লাঙ্গল দিয়া প্রতি একর
জমিতে ৩০ হইতে ৩৬ সের পর্যন্ত বীজ বপন করা হয় এবং
পুনরায় তাহাতে আর একবার লাঙ্গল দেওয়া হয়। তাহার পর
মই দিয়া জমি সমান করিয়া দেওয়া হয়। ক্ষেত হইতে একবার
কি দুইবার আগাছা তুলিয়া ফেলিতে হয় এবং প্রয়ােজন মত
চারাগুলির সন্নিবেশ পাতলা করিয়া দেওয়া হয়। কোথাও
কোথাও চারাগুলি ৮ ইঞ্চি পরিমাণে বড় হইলে ছােট আকারের
লাঙ্গল দিয়া জমিটাকে একবার চষিয়া মই দিয়া সমান করিয়া
দিতে হয় এবং তাহার পরে আগাছা তুলিয়া ফেলা হয়।
ঢাকা এবং ফরিদপুরের নীচু জলাভূমি বা ঝিলে, লম্বা
গুড়িযুক্ত এক প্রকার ধান প্রচুর জন্মে। ইহার দৈর্ঘ্য
১৫ হইতে ২০ ফিট পর্যন্ত হয়। এই প্রকার চাষের জন্য
পূর্ব বৎসরের মুথাগুলি পােড়াইয়া ফেলা হয় এবং সাধারণত
খাদ্যশস্য
পৌষ কিংবা মাঘমাসে জমিতে লাঙ্গল দেওয়া হয়। চৈত্র
পৰ্যন্ত জমি এই অবস্থায়ই ফেলিয়া রাখা হয়, তাহার পরে
ঢেলা ভাঙ্গা হয়, জমিতে লাঙ্গল দেওয়া হয়, মই ব্যবহার
করা হয় এবং প্রতি একরে একমণ হিসাবে বীজ ছড়ানাে
হয়। পরে জমিতে দুইবার মই দেওয়া হয় এবং আগাছা
তুলিয়া দেওয়া হয়। ফলন গড়ে প্রায় প্রতি একরে ২৪ মণ।
অঘানি—অগ্রহায়ণ মাসে পাকে বলিয়া ইহার নাম
অঘানি। জ্যৈষ্ঠ ও আষায় ইহার চাষ আরম্ভ হয়। অঘানি
ধানের চাষ বাংলার সর্বত্র হয়। ত্রিহুত
ত্রিহুত জেলায় প্রায় ৩৩
রকম অঘানি ধান আছে। পাটনা জেলাতে প্রধানতঃ
অঘানি ধানের আবাদ হইয়া থাকে। এতদঞ্চলে প্রায় ৪৬
রকম অঘানি ধান
ধান আছে। বাখরগঞ্জ জেলাতেও অঘানি
ধানের আবাদ অধিক। জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টি
জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টি পড়িলেই ধান
বােনা হয় ; কোথাও বা ঐ সময় তলা ফেলিয়া আষাঢ় মাসে
ধান রােয়া হয়। রােয়া অঘানি কিম্বা বােনা অঘানি ঠিক এক
সময়েই পাকে।
ভাদুই—ইহা এক জাতীয় ধানের নাম ; ইহাও অনেক
প্রকারের হইয়া থাকে। এই ধান সাধারণতঃ ৬০ দিনে
পাকে। চম্পারণ জেলায় ইহা বৈশাখ মাসে উঁচু জমিতে বােনা
হয়।
সাহাবাদে আষাঢ় শ্রাবণে, গয়ায় জ্যৈষ্ঠ আষাঢ়ে, ত্রিহুতে
বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে ইহার চাষ আরম্ভ হয়। কোথাও কোথাও
আউশ ধানকেই ভাদুই ধান বলা হয় এবং আউশের সহিত
খাদ্যশস্য
১১
১৫ ফিট
ইহার বিশেষ কোন পার্থক্য লক্ষিত হয় না। শরৎকালে
( ভাদ্র ও আশ্বিনে) ফসল উৎপন্ন হয় বলিয়া ইহার নাম ভাদুই
ধান হইয়াছে।
আশ্বিনি—শরৎকালে পাকে বলিয়া এই জাতীয় ধানের
নাম আশ্বিনি ধান। এই ধানের বীজ বালেশ্বর জেলায় জ্যৈষ্ঠ
আষাঢ়ে বােনা হয়, আশ্বিন কার্তিকে ধান পাকে। চাউল
বেশ সাদা, স্বাস্থ্যকর এবং খুব মােটা নহে। বাখরগঞ্জেও
এই জাতীয় ধান আছে। শ্রীহট্ট জেলায় জলা জমিতে এই
নামে একজাতীয় লম্বা ডাটাযুক্ত ধানের আবাদ হয়।
পর্যন্ত গভীর জলেও এই ধান জন্মায়, জল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে
ধানের ডাটা
বাড়িতে থাকে।
আশ্বিনা—ইহা পুরী জেলায় এক জাতীয় ধান। সরস
উচ্চ জমিতে ইহার আবাদ হয়। 'জ্যৈষ্ঠ আষাঢ়ে বপন কাৰ্য্য
শেষ হয়। কার্তিক অগ্রহায়ণে ধান পাকে। রঙ্গপুরে এক
প্রকার রােয়া ধান আছে। ময়মনসিংহে ঐ নামের আমন
ধান আছে।
বারমেসে ধান—পুরী যাইবার পথে, পুরীধামের সন্নিকটে
লক্ষ্মীজলা নামে একটি জলা আছে। তথায় বারমাস ধানের
চাষ হয়। কোন ক্ষেতে দেখিবে যে সবে মাত্র ধানের চারা
মৃত্তিকা ভেদ করিয়া উঠিতেছে, পাশের ক্ষেতে ধানের শীষ
বাহির হইতেছে, কিয়দ্দরে ধান পুষ্ট হইয়া আসিতেছে, আবার
অন্য কোন ক্ষেতে দেখা যায় ধান পাকিয়া কাটিবার উপযুক্ত
খাদ্যশস্য
••
অন্য
হইয়াছে। ইহা ধানের গুণ কিম্বা জলার গুণ তাহা বলা
কঠিন; অথবা এই অঞ্চলে বীজ, ক্ষেত্র ও চাষের উৎকর্ষতাও
ঐরূপ বৈষম্যের কারণ হইতে পারে। বর্ষার সময় যখন
জলার জল বাড়ে তখন রােপণের ব্যবস্থা করিতে হয়।
সময় বােনাই ব্যবস্থা। এই ধানের চাল খুব মিহিও নহে,
কিম্বা মােটা নহে।
ভাত নরম ও সুস্বাদু হয়। লক্ষ্মীজলা
সত্যসত্যই লক্ষ্মীর লীলা-ক্ষেত্র।
বাদসা ভােগ—দুমরার পরীক্ষাক্ষেত্রে ইহার বহুবার চাষ
হইয়াছে। বাঙ্গালার অনেক স্থানে ইহার চাষ প্রবর্তিত
হইয়াছে ; বর্ধমানে ইহার চাষ সমধিক। ফলন ক্ষেত্র বিশেষে
বিঘা প্রতি ৬/৩ মণ হইতে ১০/০ মণ। বিল জমিতে ইহার
চাষ হয় না। ইহার চাউল ছােট, মিহি ও সুগন্ধযুক্ত।
হুগলী, বর্ধমান, কটক, বালেশ্বর, ২৪ পরগণা প্রভৃতি অনেক
জেলায় ইহার চাষ হইতেছে।
বেগুন বীচি-বেগুন বীচির মত ছােট ও সরু চাউল
২৪ পরগণায় ইহার চাষ আছে এবং বাঙ্গালার একাধিক
জেলায় ইহার চাষ প্রবর্তিত হইয়াছে। এই নামে দিনাজপুরে
এক প্রকার মােটা ধান আছে। ইহার ধান পাকিতে দীর্ঘ সময়
লাগে। বগুড়া ও নদীয়ায় বেগুনবীচিও মােটা ধান। ফরিদপুরে
বেগুনবীচি নামে আউশ ধান আছে।
কুই—ইহা মেদিনীপুরের রােপা ধান। ফরিদপুরে ঐ
নামে আউশ ধান আছে। হুগলী জেলায় আমতার সন্নিকটে
খাদ্যশস্য বাকই নামে জলিধান আছে। বিল জমিতে ইহার আবাদ হয়। ধান পাটনাইয়ের মত। বালাম-বাংলার ইহা একটি বিখ্যাত আমন ধান। বাংলার নানাস্থানে ইহার চাষ হয়, তন্মধ্যে পূর্ববঙ্গেই অধিক। খুব উচুও নহে নীচুও নহে এরূপ জমিতে ইহার আবাদ ভাল হয়। বিঘাপ্রতি ফলন ৬/০ হইতে ৮/০ মণ। অগ্রহায়ণের প্রথমেই ধান কাটা হয়। বাঁকচুর-ইহার চাষ ২৪ পরগণা ও বর্ধমানে অধিক। গােড়ায় ৩ হাত জল থাকিলেও ভাল হয় এবং গাছ তিন ভাগ জলে নিমজ্জিত থাকিলে ফলন সুবিধা হয়। বিয়ানি-উড়িষ্যা দেশের ধান। উচ্চ সরস জমিতে ইহার বুনানি হয়। পুরীতে জ্যৈষ্ঠ আষাঢ়ে চাষ আরম্ভ হয় এবং কার্তিকে ধান কাটা শেষ হয়। কটকেও বাংলার আউশ বা ভাদুই ধানের মত ইহার চাষ হয়। বােকা-ইহা আসাম দেশের আমন ধান। ইহার চাউল সিদ্ধ করিয়া খাইতে হয় না। চাউল কিছুক্ষণ জলে ভিজাইয়া রাখিলেই ভাতের মত নরম হয়। হুগলী জেলাতে ইহার চাষ আছে। বুনা-ইহা দিনাজপুরের একপ্রকার রােপা ধান। রাজ- সাহীতে ঐ নামে বাড়ান আমন আছে । তথায় বিল জমিতে ইহার চাষ হয়। গাছ খুব বড় খুব বড় হইয়া থাকে। শ্রীহট্ট জেলায়ও ইহার চাষ আছে । বিল জমিতে বীজ ছিটাইয়া
২২
খাদ্যশস্য
দিলেও কোন যত্ন ব্যতীতও ধান জন্মে ; এই কারণে ইহাকে
বুনা বা বুনাে ধান বলে।
চাপাদার্জিলিঙে এই নামে আউশ ধান আছে। ২৪-
পরগণায় চাপা নামে আমন ধানের
চাষ হয়। প্রথম
বৃষ্টিপাত হইলেই নিম্নতর জমিতে ইহার বুনানি করিয়া চাষ
আরম্ভ হয়। বালেশ্বরের একপ্রকার নয়ালি ( আউশ )
ধান উঁচু জমিতে ইহা বােনা হয়। আশ্বিন কার্তিক মাসে
ধান পাকে। চাউল মােটা কিন্তু স্বাস্থ্যপ্রদ। কটকেও ইহার
চাষ আছে।
ছত্রভােগ-চেঙ্গা নামে রংপুর, বাখরগঞ্জ ও ফরিদপুর
অঞ্চলে লম্বা ডাটাযুক্ত কয়েক প্রকার ধান আছে।
ছােটনা আমন—ইহা এক জাতীয় আমন ধান।
ফরিদপুরে ইহার চাষ অধিক। প্রকারভেদে ইহা প্রায় ২৩
রকম। নিম্ন জলা জমিতে ইহার চাষ হয়। চৈত্রমাসে ইহার
বুনানি শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাসে ইহার ধান কাটা শেষ হয়।
চিনিসাগর, চিনিশর্কর, চিনিশর্কর—বাখরগঞ্জ, ঢাকা,
দিনাজপুর, বর্ধমান প্রভৃতি অঞ্চলে ইহার চাষ
ইহার চাউল মিহি ও সুস্বাদু। ইহার আতপ চাউলের
প্রচলনই বেশী ।
দালকচুদার্জিলিঙের হৈমন্তিক ধান। যশােহর, বগুড়া,
ফরিদপুর, বাখরগঞ্জ ও আসামে ইহার চাষ আছে নিম্ন জমিতে
চাষ হয়, গাছ বড় হয়।
হয়।
খাদ্যশস্য
ধলি—২৪
২৪ পরগণার ধান। ধান সাদা হয় বলিয়া ইহার
নাম ধলি হইয়াছে।
ধুলিয়া-মেদিনীপুর জেলার আমন ধান।
ইহা বপন
করিয়া চাষ হয়। শ্রীহট্ট ও বালেশ্বরও ইহার চাষ আছে।
দুধরাজ-ফরিদপুরের ধান। চাউল দুধের মত খুব সাদা
বলিয়া এই নাম হইয়াছে , চাউল উৎকৃষ্ট। পূর্ণিয়া জেলায়
এই নামে মােটা অঘানি ধান আছে। ত্রিপুরা ও ময়মনসিংহে
* ঐ নামে আমন ধান আছে। ত্রিহুতে ইহা অঘানি ধান।
পাটনায় ইহা মােটা অঘানি। দ্বারভাঙ্গায় ইহার চাষ আছে ।
দুর্গাভােগ—মেদিনীপুরের ইহা আউশ ধান, কিন্তু ২৪
পরগণায় ইহা আমন ধানের মত নীচুজমিতে বপন করিয়া চাষ
সুন্দরবনে ইহা আউসের মত চাষ করা হয়। কটকে
ইহা বােনা ধান।
গজগরিয়া রঙ্গপুরে
ইহা রােপা ধান। বগুড়াতেও
ইহার চাষ আছে। এই ধানে ভাল খে প্রস্তুত হয়।
গােবিন্দভােগ—বীরভূমের রােপা আমন। ঢাকা, ত্রিপুরা
ও যশােহরে ইহার চাষ আছে। ইহার চাউল খুব মিহি ও
ইহার ভাত খুব সুগন্ধযুক্ত।
হরিশঙ্কর—ইহা উড়িষ্যার বােরর জাতীয় ধান। চাউল
মােটা হয় ; প্রায়ই গরীব লােকে খাইয়া থাকে। নিম্ন জমিতে
আবাদ হয়, গােড়ায় ২৩ হাত জল থাকা আবশ্যক। ইহা
রঙ্গপুরেরও
একটি রােপা ধান।
২৪
খাদ্যশস্য
হাতিশাল—ইহা বাংলার এক প্রকার মােটা ধান। কটক
ও রাজসাহী জেলার ক্ষেত্রে ইহার পুনঃ পুনঃ পরীক্ষা হইয়াছে।
চাউল লম্বা, খুব মােটা নহে, রঙ কিঞ্চিৎ কাল। ফলন প্রতি
বিঘায় ৮/০ মণ হইতে ১০/০ মণ।
জোঙ্গা--ইহা মুঙ্গেরের হৈমন্তিক ধান এবং ভাগলপুরেরও
রােপা ধান ;
কিন্তু সাওতাল পরগণায় আউশের মত
চাষ হয়।
কালীজিরা-বাঁকুড়া জেলার আমন ধান। বীরভূম,
মেদিনীপুর, কটক প্রভৃতি স্থানে ইহার আবাদ আছে । ধান
কাল, খর্বাকৃতি, চাউল খুব মিহি নহে।
কালামাণিক-ইহা ময়মনসিংহের আউশ ধান। বৈশাখ
মাসে উচ্চ ও অপেক্ষাকৃত নীরস জমিতে ইহার আবাদ হয় ;
কিন্তু নােয়াখালিতে ইহার আবাদ আমনের মত। রাখরগঞ্জে
ইহার ফলন অধিক।
কালিজিরা–ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং কাছাড়ে এই জাতীয়
ধানের চাষ আছে। ইহা রােপা ধানের মধ্যে পরিগণিত।
ত্রিপুরা, সাঁওতাল পরগণায় ইহার আবাদ হইয়া থাকে। ইহার
চাউল খুব মিহি এবং ভাত খুব সুগন্ধযুক্ত।
কমলভােগ—ইহা বাংলার একটি প্রধান ধান। ইহাকে
পাটনাই জাতীয় ধন্য বলিলেও বলা যায়। চট্টগ্রাম ও ২৪
পরগণায় ইহার চাষ অধিক। ইহার চাউল লম্বা, খুব মােটা
নহে।
খাদ্যশস্য
কামিনী বা কামিনী সরু-২৪ পরগণার ধান। চাউল
মিহি ও ভাত সুগন্ধযুক্ত, নিম্ন জমিতে জন্মে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় ইহার আবাদ হইয়া থাকে।
রাধুনীপাগল—ইহার চাউল হইতে রন্ধনকালে সুগন্ধ
বাহির হয় এবং রাধুনীকে গন্ধে মাতাইয়া তুলে।
আমন জাতীয় স্থান। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে বােনা হয়, অগ্রহায়ণ
পৌষে ধান কাটা হয়।
রাইমুখী-ময়মনসিংহের আমন ধান। প্রধানতঃ ইহার
বুনানী হয়, কখন বা রােপণ করা হইয়া থাকে। বৈশাখ
জ্যৈষ্ঠে বুনান হয়। ইহা উচ্চধরণের অপেক্ষাকৃত নীরস
জমিতে ভাল জন্মিয়া থাকে।
রাজভােগ—ইহা বাখরগঞ্জের একপ্রকার ধান; রংপুরেও
ইহার চাষ আছে। ইহা রােপা ধান। ২৪ পরগণায়ও রাজভােগ
ধান আছে। এখানে ইহার বুনান হয় এবং এই দুই জেলার
ধানের আকৃতি ও প্রকৃতিগত কিছু কিছু পার্থক্য দৃষ্ট হয়।
রাজপাল—ইহাও বাখরগঞ্জ, ময়মনসিংহের আমন ধান।
বুনান করিয়া চাষ
বগুড়া ও পাবনাতেও ইহার
আবাদ আছে, সর্বত্রই বুনান হয়।
রামশাল—ইহা আমন ধান বুনান করিয়া ইহার চাষ
হয়। সাহাবাদে এবং অন্যান্য কোন কোন স্থানে রােপা ধানের
মত ইহার আবাদ হইয়া থাকে। বাঙ্গালাদেশে মেদিনীপুর,
বাঁকুড়া ও ২৪ পরগণায় ইহার চাষ আছে। ২৪ পরগণায়
খাদ্যশস্য
ইহাকে পাটনাই শ্রেণীর মধ্যে ফেলা হয়। পাটনাইয়ের মত
ইহার চাউল অপেক্ষাকৃত একটু মােটা হয়। রােপার মত
আবাদ করিলে ধান কিছু মিহি হয়। সতেজ জমি হইলে
২৪ পরগণায় বিঘাতে ৮/ মণ, মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় ১০/ মণ
পৰ্য্যন্ত ফলে।
রাঙ্গি—ইহা ২৪ পরগণার একটি মােটা ধান। মুর্শিদাবাদ,
রাখরগঞ্জ ও ভাগলপুরে রােপা ধানের মত ইহার আবাদ হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ইহার বুনান হয়।
ধানের রং লাল বলিয়া
ইহার রাঙ্গি নাম হইয়াছে।
শাইল—শ্রীহট্টে ও কাছাড়ে এই নামে ধান আছে । নদীয়া
ও নােয়াখালিতে ইহা আউশের মত আবাদ হয়, রাজশাহী ও
জলপাইগুড়িতে আমনের মত চাষ হয়। দিনাজপুরে ইহা
ভাদুই ধান। পূর্ববঙ্গ ও আসামে সাধারণত হৈমন্তিক যে
কোন ধানকে শাইল বা শালি ধান বলে।
সমুদ্রবালি—ইহা বিহারের মিহি ধান। ডুমরাও ও কটকে
এবং শিবপুর গভর্ণমেন্ট কৃষিক্ষেত্রে ইহার বহুবার পরীক্ষা
হইয়াছে। চাউল খুব মিহি হয়। ফলন বিঘা প্রতি ৪/৩
মণের অধিক হয় না। বীরভূমে ইহার আবাদ অধিক পরিমাণে
হইয়া থাকে।
সমুদ্রফেনা-ফরিদপুরের বুনান ধান। নিম্ন জমিতে
ইহার চাষ হয় ; ধান মােটা বগুড়াতে আউসের মত ইহার
আবাদ হয়।
খাদ্যশস্য ঠী বা ষষ্টি—৬০ দিনে পাকে বলিয়া এই নাম হইয়াছে বাংলা ও ভাগলপুরে আউসের মত ইহার চাষ হয়। ধান মােটা। সারণ, চম্পারণ এবং কানপুর প্রভৃতি স্থানে ভাদুই ফসলের সঙ্গে ইহার আবাদ হয়। সীতাভােগ—হাজারিবাগে ইহার চাষ সমধিক। লােহার- ডগায় দোন জমিতে ইহার আবাদ হয়। ঐ সকল স্থান হইতে ইহা বাংলায় আসিয়াছে। তথায় বিল জমিতে চাষ হয়। গাছ খুব লম্বা হয়। বাখরগঞ্জে ঐ নামে ছােট গাছ হয় এবং সাধারণ শালি জমিতে জন্মায় এমন ধান আছে। প্রথমটি মােটা, শেষােক্তটি অপেক্ষাকৃত মিহি। সিদুর -রঙপুর ও দিনাজপুরের আমন ধান ইহা রােপন করা হয়। দার্জিলিং • ও তরাই প্রদেশে ইহার চাষ আছে। তথায় এই ধান অধিক মােটা হয় এবং সেখানে ইহার বুনান হইয়া থাকে। অনেকে বলে যে প্রকৃত সিদুর কৌটা ধান ফরিদপুরেই জন্মিয়া থাকে । সােনামুখী--ইহা চট্টগ্রাম, ঢাকা ও মুর্শিদাবাদের ধান ; ননায়াখালীতেও ইহার চাষ আছে। সুরীধান—পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রদেশে এই নামের ধান আছে। সুৰ্ম্মো ও সূৰ্যজটে—এই দুইটি মালদহের ধান। গােড়ায় খুব কম জল থাকিলে জন্মিয়া থাকে। ইহা খুব জলদি বুনান হয় এবং কার্তিক মাসেই ধান কাটা চলে । কোটা
২৮
খাদ্যশস্য
সুধাভােগ—বর্ধমানের ধান, চাউল খুব মিহি। ফলন
বিঘাপ্রতি ৫/৩ মণের অধিক নহে। অল্প জলে হয়। এখান
হইতে বােম্বাই প্রদেশে ও কটকে ইহার চাষ প্রবর্তিত হইয়াছে।
কটক গবর্ণমেণ্ট কৃষিক্ষেত্রে ইহার বারম্বার পরীক্ষা হইয়াছে।
সুখদাস—কখন কখন এই নামের মিহি চাউল কলিকাতার
বাজারে দেখিতে পাওয়া যায়। ইহা কাশ্মীরের ধান। ইহা
হইতে সাদা সরু চাউল উৎপন্ন হয়। পাঞ্জাবে ইহার চাষ
অধিক। পাটনাতেও ইহার চাষ বিস্তার লাভ করিয়াছে।
এখানে ইহা রােপা ধানের মত চাষ হইয়া থাকে।
সুন্দরশাল-ইহা মেদিনীপুর ও ২৪ পরগণার আমন ধান,
ইহা বােনা ধান। ২৪ পরগণায়, সুন্দরবন অঞ্চলে নিম্ন জমিতে
ইহার আবাদ হয়। জমি ভাল হইলে ধানের ফলন বিঘা প্রতি
১০/০ মণেরও অধিক হইয়া থাকে। এই ধান ৪৫ ফিট জলেও
জন্মিতে পারে।
সুৰ্য্যমণি ও সূৰ্য্যমুখী—নদীয়া ও রাখরগঞ্জের আউশ
ধান। বগুড়াতে আমনের মত চাষ করা হয়। ইহার বুনান
ভিন্ন রােপণ হয় না। পূর্ণিয়া জেলার ইহা অধানি ধান। তথায়
ইহার রােপণ হয়। পূর্ণিয়ার সূর্যমুখী ও সূৰ্য্যমণি ধান খুব
মিহি। রঙপুরে শ্যামলাল, শ্যামরাজ, শ্যামরস নামে দেখিতে
পাওয়া যায়। এইগুলি সবই রােপা ধান।
শ্যামরথ কুচবিহারের রােপা ধান। শ্যামরথ ধানের চাষ
কুচবিহারেও দেখিতে পাওয়া যায়।
খাদ্যশস্য
গােপালভােগ—আমন ধান। হুগলী ও বর্ধমান জেলায়
উচ্চ জমিতে উৎপন্ন হয়। আশ্বিন মাসে অনাবৃষ্টিতে
কৃষকেরা এই ধান্যের আবাদ করিয়া থাকে। চাউল মাঝারি
ও খুব সাদা। এই ধান্য নভেম্বরের শেষভাগে পাকিয়া থাকে ।
ফলন বিঘাপ্রতি ১০/ মণ। ইহার খড় বেশ লম্বা ও সরু।
লালকলমা—নিম্ন জমির আমন ধান। হুগলী, বর্ধমান
ও হাওড়া জেলায় অপেক্ষাকৃত নিম্নজমিতে চাষ হইয়া থাকে।
ধান গাঢ় হরিদ্রাবর্ণ, চাউল শ্বেতবর্ণ ও মােটা বিঘাপ্রতি
১২/০ মণ পর্যন্ত ধান জন্মিয়া থাকে। এই ধান ডিসেম্বরের
মধ্যভাগে পাকিয়া থাকে। খড় মােটা ও লম্বা।
বাদসাহভােগ—আমন ধান, হুগলী ও বর্ধমানে জন্মিয়া
থাকে। চাউল ছােট মিহি ও সুগন্ধযুক্ত। এই চাউলের
পােলাও বেশ প্রীতিপ্রদ। বিঘাপ্রতি ১২/০ মণ ধান ফলিয়া
থাকে।
খড় সরু
লম্বা। সচরাচর নবেম্বর মাসে
পাকিয়া থাকে। বিঘাপ্রতি ৫/৩ মণ গােবর সার দিলে ধানের
বেশ ফসল হয়। অনুর্বর জমিতে এই ধান্য ভাল হয় না।
বর্ধমান জেলার জৌগ্রাম ষ্টেশনের নিকট ইহার চাষ আছে।
এই ধানের আতপ চাউল বেশ ভাল হয়। চাউল নাগরা
অপেক্ষা ৬ টাকা বেশী দরে বিক্রয় হয়।
জুরে-নিম্ন জমিতে এই ধান্য উৎপাদিত হয় । ৩০শে
নভেম্বর হইতে ৫ই ডিসেম্বর এই ধান পাকে ; এই কারণে
উচ্চ জমিতে এই ধান্য রােপন করা যাইতে পারে না।
৩০
খাদ্যশস্য
যে সকল জলা জমিতে ২৩ ফুট জল জমিয়া থাকে সেই
জমি এই ধান্য চাষের উপযুক্ত। ফলন বিঘা প্রতি ১০/১২
মণ। খড় মােটা ও শক্ত।
কয়াধান্য—উচ্চ বনের ধারের জমিতে ধান্য রােপণ
করিলে পক্ষী, বন্য শূকর বা গরু মহিষে খাইতে পারে না।
ধানের লম্বা লম্বা শোয়া থাকার জন্য, পক্ষী ও গাে-মহিষাদির
জিহ্বায় উহা বিধিয়া যায়। ৩০শে কার্তিকের মধ্যে এই
ধান পাকিয়া থাকে। ফলন বিঘা প্রতি ১০/ মণ। খড়
মাঝারি। এই ধান্য মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলী ও বর্ধমান
জেলায় চাষ হইতেছে।
শলা কার্তিক-উচ্চ জমির আমন ধান।
ফলন বিঘা
প্রতি ১২ মণ। খড় নরম, ধানের ঝাড় বেশ মােটা হয়,
পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি। ইহার চাউল
মােটা ও লাল দাগ বিশিষ্ট, ভাল করিয়া টেকিতে ভানিলেও
চাউলের লাল দাগ বেশ পরিষ্কার হয় না।
কাল হিংচে-আমন ধান, আকৃতিতে ঝিঙে শাল ধানের
ন্যায় ঈষৎ হরিদ্রাবর্ণ ও লম্বা। চাউল শ্বেতবর্ণ ও লম্বা।
খড় শক্ত ও লম্বা মেটে ঘর ছাওয়ার পক্ষে উপযুক্ত। ফলন
বিঘা প্রতি ১০ মণ। ডিসেম্বর মাসের প্রথমভাগে পাকিবার
সময়। এই ধান হুগলী ও বর্ধমানে অল্প পরিমাণে চাষ হয়।
কনকচুড়–নিম্ন জমির আমন ধান। পাকিবার সময়
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। এই ধানের খৈ হইতে ভাল মুড়কী
খাদ্যশস্য
৩১
হয়। উচ্চ
প্রস্তুত হয়। ধান দেখিতে মােটা ও বেঁটে। ফলন বিঘা প্রতি
১২১৪ মণ। জমিতে ৪৫ ফুট জলের আবশ্যক হয়। খড়
মােটা ও লম্বা। এই ধানের খৈ ভাল হয় বলিয়া ৬৭
টাকা মণ দরে বিক্রয় হয়। হুগলী, বর্ধমান, বাঁকুড়া জেলায়
কেবলমাত্র নিম্ন জমিতে এই ধানের আবাদ
জমি এই ধানের পক্ষে উপযুক্ত নহে।
দক্ষিণিধলি—উচ্চ জমির আবাদী ধান। পাকিবার সময়
নভেম্বর মাস। ফলন মিঘা প্রতি ১০০ মণ। চাউল মাঝারি ও
ঈষৎ লালচে রং বিশিষ্ট। খড় লম্বা ও শক্ত। শীঘ্র পাকে
বলিয়া হুগলী ও বর্ধমান জেলার উচ্চ জমিতে কৃষকেরা
ইহার আবাদ করে। ধানের রং ঈষৎ হলদে।
নেবুশাল—এই ধান হুগলী জেলার পাওয়া থানার উঁচু
জমিতে অধিক পরিমাণে চাষ হয় । ধানের রং গাঢ় হিঙ্গুলের
ন্যায়, চাউল খুব সাদা, খুব মােটা নহে। ফলন বিঘা প্রতি
১১ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ।
হাতীশাল—নিম্ন ও উচ্চ জমির আমন ধান। নিম্ন
জমিতেই বেশ ফলন হইয়া থাকে। ফলন বিঘা প্রতি ১২০
মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ। খড় খুব
বড়, লম্বা ও মােটা। হুগলী, বর্ধমান ও বাঁকুড়ায় চাষ হয়।
মেঘী—নিম জমির আমন ধান।
৬ ফুট জলে এই
ধান্য জন্মে। জলা জমি ভিন্ন এই ধান্য হয়
ধান
সাদা ও গায়ে পিঙ্গল বর্ণের দাগ বিশিষ্ট। চাউল মােটা,
।
খাদ্যশস্য
ধান কাটিয়া
বেঁটে ও সাদা। ফলন বিঘা প্রতি ১৫/মণ। এই ধান্য ৭
হাত জলেও উৎপন্ন হয়। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি ইহা
পাকিয়া থাকে।
আশ্বিন শাল-উচ্চ জমির আমন ধান। এই ধান আউস
ধান্যের পরই অক্টোবর মাসের শেষভাগে পাকিয়া থাকে।
সেই জমিতে ছােলা, মটর,
সরিষা প্রভৃতি
রবিশস্যের চাষ করা যাইতে পারে। চাউল শ্বেতবর্ণ।
ধান্তের ভাত ও মুড়ি খুব ভাল হয়। এই ধান্য শীঘ্র পাকে
বলিয়া ভামা পােকায় ইহার বড়ই ক্ষতি করে। পােকা ধরে
বলিয়া চাষীরা এই ধান্যের চাষ করিতে ইচ্ছা করে ।
ফলন বিঘা প্রতি ১১/ মণ ।
খড় খুব ভাল।
ধান্যের ঝাড়
খুব বড় হয়।
দক্ষিণে নাগরা—উচ্চ জমির আমন ধান ফলন বিঘা
প্রতি ১০ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ।
খড় সরু শক্ত। চাউল মাঝারী ও ঈষৎ লালচে রং বিশিষ্ট।
হুগলী ও বর্ধমানে ইহার চাষ হইয়া থাকে।
কটে ধলি—উচ্চ জমির জেঠ ধান। ফলন বিঘা প্রতি
১১/ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের মধ্যভাগ চাউল
বেঁটে ও গায়ে লাল বর্ণের ছাল আছে। ভাত
একেবারে সাদা হয়। চাউল মধ্যম।
পান্তারাজ-নিম্ন জমির আমন ধান। ৬৭ ফুট জলেও
ইহা বেশ জন্মিয়া থাকে। হুগলী ও বর্ধমান জেলায় প্রচুর
মােটা;
খাদ্যশস্য
চাষ হয়। চাকদিঘি হইতে চৌবেড়া পর্যন্ত বর্ধমান জেলায়
যে সকল নিম্ন জমি দেখা যায় তথায় এই ধান্যের প্রচুর চাষ
আছে। বর্ধমান জেলায় হিরণ্য গ্রামের একটি জলা জমিতে
প্রতি বৎসর এই ধান দেখা যায়। ফলন বিঘা প্রতি ১৫ মণ।
পাকিবার সময় ডিসেম্বর মাসের প্রথমভাগে।
মাগুরশাল—নিম্ন জমির আমন ধান। ফলন বিঘা প্রতি
১২/ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ। ধানের
রং গাঢ় পীত। চাউল সাদা ও মােটা। মুড়ি মােটা ও শক্ত
হয়।
ভাত মােটা ও নরম। হুগলী ও বর্ধমান জেলায় নিম্ন
জমিতে চাষ হয়।
রাণী পাগল—উচ্চ ও নিম্ন জমির আমন ধান। ফলন
বিঘাপ্রতি ৮/ মণ। খড় লম্বা ও সরু। পাকিবার সময়
ডিসেম্বর মাসের প্রথমভাগে। হুগলী জেলায় পাণ্ডুয়া থানায়
ইহার চাষ হয় ; ধান কালো ও ছােট। চাউল সাদা, পােলাও
বেশ ভাল হয়।
লাবণ্যশাল-উচ্চ জমির আমন ধান।
দেখিতে বেশ চক্চকে ও সাদা, চাউল সরু ; ভাত বেশ
ভাল হয়। ফলন বিঘা প্রতি ১০ মণ। পাকিবার সময়
নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি। খড় সরু ও লম্বা ; দেখিতে খুব
চকচকে।
হুগলী ও বর্ধমান জেলার উচ্চ জমিতে রােপণ
করা হয়।
সামাণিক—উচ্চ জমির আমন ধান। হুগলী, বর্ধমান
এই ধান
৩৪
খাদ্যশস্য
;
ও বাঁকুড়া জেলায় এই ধানের চাষ হইয়া থাকে। বিঘা
প্রতি ৮/ মণ হিসাবে ইহার ফলন। পাকিবার সময় নভেম্বর
মাসের মাঝামাঝি। খড় লম্বা ও নরম।
খড় লম্বা ও নরম। চাউল সাদা ও লম্বা
তাল্প জলে এই ধান রােপণ করা চলে।
নাগরা—হুগলী, বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলায় বহু জমিতে
এই ধানের আবাদ হয়। হুগলী জেলায় শতকরা ৪০ বিঘা
জমিতে ইহার চাষ হয়। ফলন বিঘা প্রতি ১২/ মণ। নিম্ন
জমিতে চাষ করা আবশ্যক। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের
শেষভাগে। খড় শক্ত ও লম্বা। এই খড়ে ঘর ছাউনির পক্ষে
উৎকৃষ্ট ; ধানের ঝাড় খুব মােটা হয়।
দেশী ঝিঙেশাল—নিম্ন জমির আমন ধান। ধানের রং
ঈষৎ হরিদ্রাবর্ণ, চাউল সাদা ও সামান্য লম্বা। ফলন বিঘাপ্রতি
১১/ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ।
ছােট; ঝাড় রড় হয়। হুগলী ও বর্ধমান জেলায় ইহার চাষ
হয়। ধান একটু বেঁটে।
ক্ষেপা ঝিঙেশাল—নি জমির ধান। ধানে শােয়া
আছে। ধান ঈষৎ হরিদ্রাবর্ণ। ফলন বিঘাপ্রতি ১২০ মণ।
খড় বড় ; ঝড়ে সরু ও লম্বা শিষ থাকে। পাকিবার সময়
নভেম্বর মাসের শেষভাগ। হুগলী ও বর্ধমান জেলায় বিস্তর
জমিতে ইহার চাষ হয়। এই ধানের মুড়ি খুব ভাল হয়।
চাউল সাদা ও লম্বা।
রাজ ঝিঙেশাল—নিম্ন জমির ধান। খড় লম্বা, ঝাড়
খাদ্যশস্য
মােটা, চাউল সাদা ও লম্বা। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের
শেষভাগ। ফলন বিঘাপ্রতি ১২/ মণ; খড় শক্ত ও লম্ব৷ ;
ঘর ছাউনির পক্ষে খড় উৎকৃষ্ট। হুগলী ও বর্ধমান জেলায় প্রায়
শতকরা ৩০ বিঘা জমিতে ইহার চাষ হয়।
ধলে কলমা--উচ্চ ও নিম্ন জমির ধান। ধানের রং সাদা;
চাউল খর্বাকৃতি ও সাদা। খড় মাঝারি ও শক্ত। ফলন
বিঘাপ্রতি ১০ মণ। নভেম্বর মাসের শেষভাগে পাকে।
বর্ধমান জেলার অন্তর্গত চকদিঘী, জামালপুর প্রভৃতি স্থানে
অনেক জমিতে ইহার আবাদ হইতে দেখা যায়।
সুন্দরমুখী—নিম্ন জমির আমন ধান। ধান পিঙ্গল বর্ণ ;
চাউল লম্বা ও সাদা। ফলন বিঘা প্রতি ১০/ মণ। পাকিবার
সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ। হুগলী জেলার গুড় প ষ্টেশনের
নিকট এই ধানের চাষ হয়। বর্ধমান জেলার মেমারীর
নিকটবর্তী স্থানে দুই একখানি জমিতে এই ধান দেখা যায়।
খড় মােটা ও লম্বা।
পৰ্ব্বতজিরে—উচ্চ জমির আমন ধান। বর্ধমান জেলায়
দুই একখানি জমিতে এই ধান্য দেখা যায়। জামালপুর থানার
হিরণ্য গ্রামে দশ কাঠা একটি জমিতে এই ধান্য বেশ হইয়াছে।
খড় লম্বা ও মােটা। চাউল সরু; ভাত সুগন্ধযুক্ত। ফলন
বিঘাপ্রতি ১০/১১/ মণ। পাকিবার সময় ডিসেম্বর মাসের
প্রথমভাগ।
খয়ের মােরী—নিম্ন ও উচ্চ জমির আমন ধান।
ফলন
বিঘাপ্রতি ৮/ মণ। ডিসেম্বর মাসের প্রথমভাগে পাকে। খড়
লম্বা ও শক্ত। চাউল ছােট খর্বাকৃতি। ধানের অগ্রভাগে
কাল দাগ আছে। হুগলী জেলায় পাণ্ডুয়া থানায় এই ধানের
চাষ হয়। সাধারণতঃ পােলাও রান্নায় এই চাউল ব্যবহৃত হয়।
ফলন ভাল নয় বলিয়া লােকে এই ধান্যের চাষ অল্প পরিমাণে
করিয়া থাকে ।
কটেনােনা--নিম্ন জমির আমন ধান।
ফলন বিঘাপ্রতি
১১/ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের প্রথম ভাগ। খড়
ছােট ও শক্ত। হুগলী ও বর্ধমানে ইহার চাষ হয়। চাউল
তসর রংয়ের ও মােটা।
কানে কলন—উচ্চ জমির আমন ধান। ফলন বিঘাপ্রতি
১২/ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি । খড়
লম্বা, শক্ত ও রংদার। চাউল সাদা ও লম্বা। বর্ধমান ও
হুগলী জেলায় ইহার চাষ হয়। বর্ধমান জেলার চকদিঘীর
নিকটবর্তী স্থানে বহু পরিমাণে ইহার আবাদ হইয়া থাকে।
জমিতে ২ ফুট জলের আবশ্যক হয়। চাউল বাঁকতুলসীর ন্যায়
সরু এবং একটু লম্বাকৃতি। ভাত খুব ভাল হয়।
ঘােট ধলি—উচ্চ জমির আমন ধান। ধান খর্বাকৃতি,
দেখিতে হরিদ্রাবর্ণ, মধ্যস্থলে গাঢ় পিঙ্গলবর্ণের দাগ বিশিষ্ট।
চাউল লাল ও মােটা। ভাত ভাল নহে। ফলন বিঘাপ্রতি
১২/ মণ। ডিসেম্বর মাসের শেষভাগে পাকে। হুগলী ও
বর্ধমানের ধান।
খাদ্যশস্য
বাঁক তুলসী—উচ্চ জমির আমন ধান। ধান দেখিতে
কতকটা সাদা ও লম্বা।
চাউল মিহি ও খুব সাদা। পাকিবার
সময় নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি। ফলন বিঘা প্রতি ১০/ মণ।
খড় লম্বা ; ধানের ঝাড় খুব কম হয়। হুগলী, বর্ধমান, বীরভূম
ও বাঁকুড়া জেলায় ইহার চাষ হয়। মােটা ধানের চাউল অপেক্ষা
টাকা বেশী দরে এই চাউল বিক্রয় হয়।
গেঁটে কলমা--নিম্ন জমির আমন ধান। লাল ফরসা
ধানের ন্যায় ধান তবে একটু খর্বাকৃতি।
খর্বাকৃতি। চাউল সাদা ও
মােটা। ডিসেম্বর মাসের প্রথমভাগে পাকে। ফলন বিঘাপ্রতি
১২/ মণ। বর্ধমান ও হুগলী জেলায় সচরাচর ইহার চাষ হয়।
কার্তিক শাল—উচ্চ জমির আমন ধান। খড় খুব ভাল।
ধান মাঝারি, দেখিতে নাগরা ধানের ন্যায়। চাউল একটু
তসুরে রংয়ের। অক্টোবর মাসের শেষভাগে পাকে। ধান
কাটিয়া সেই জমিতে ছােলা ও মটর বােনা চলে।
বিঘাপ্রতি ১০/১১/ মণ। হুগলী ও বর্ধমান জেলায় ইহার
চাষ হয়। ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে অনাবৃষ্টি হইলে এই ধান
পাকিবার কোন বিপ্ন হয় না।
নীহারা-আমন ধান, উচ্চ জমিতে চাষ হয়। ধান
নাগরার ন্যায় ; চাউল ঈষৎ লাল। ফলন বিঘাপ্রতি ১০/ মণ।
কার্তিক মাসের শেষভাগে ধান পাকিয়া থাকে। হুগলী, বর্ধমান
ও বাঁকুড়ায় ইহার চাষ হয়। খড় নরম ও লম্বা।
জটালমা—নিম্ন জমির মােটা ধান। ধানের অগ্রভাগে
ফসল
খাদ্যশস্য
;
মােটা।
ছােট শুয়া আছে। চাউল মোটা। মুড়ি ভাল হয়; কিন্তু
খাইতে একটু শক্ত বলিয়া বােধ হয়। চাউল সাদা; ভাত
ফসল বিঘাপ্রতি ১২ মণ। পাকিবার সময় ডিসেম্বর
মাসের প্রথম ভাগ। হুগলী, বর্ধমান ও হাওড়ায় ইহার চাষ
হয়। খড়ের গােড়া লাল ও লম্বা।
গন্ধরাজ-আমন জমির সরু ধান।
ধান দেখিতে
অনেকটা বেনা ফুল ধানের ন্যায়। চাউল সুগন্ধযুক্ত ও সরু।
চাউল নাগরা অপেক্ষা প্রতি মণ ২৩ টাকা অধিক দরে বিক্রয়
হয়। ধানের বর্ণ ঈষৎ হরিদ্রাভ, ফলন বিঘাপ্রতি ১০/ মণ।
নভেম্বর মাসের শেষভাগে পাকে। হুগলী ও বর্ধমানে চাষ হয়।
হুগলী জেলার পাণ্ডুয়া থানায় এই ধানের অধিক চাষ আছে।
দুধেনােনা—নিম্ন জমির আমন ধান। ধানের অগ্রভাগে
লম্বা শুয়া আছে। চাউল সাদা ও লম্বা। ফলন বিঘাপ্রতি
১২/ মণ। পাকে ডিসেম্বর মাসের প্রথম ভাগে। খড় লম্বা
ও শক্ত। মুড়ি ভাল হয়। হুগলী ও বর্ধমান জেলায় নিম্ন
জমিতে চাষ হয়।
বাঁকচুর—উচ্চ জমির ধান। ধান সাদা, লম্বা ও সরু।
চাউল লম্বা, শ্বেতবর্ণ, ভাত খুব ভাল হয়। বাঁকতুলসী
অপেক্ষা ইহার চাউল কোন অংশে হীন নহে।
নহে। ফলন
বিঘাপ্রতি ১০/ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের
মাঝামাঝি। হুগলী ও বর্ধমানে ইহার চাষ হয়।
দাদখানি —সরু ও লম্বা আমন ধান। চাউল অতিশয়
খাদ্যশস্য
সরু ও উৎকৃষ্ট এবং নাগরার চাউল অপেক্ষা প্রতি মণ ৪
টাকা বেশী দরে বিক্রয় হয়। পুরাতন দাদখানি চাউল রােগীর
পক্ষে বিশেষ উপকারী। ফলন বিঘাপ্রতি ১২ মণ।
পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ। ধান দেখিতে ঈষৎ
হরিদ্রাবণের, অনেকটা ঝিঙেসাল ধান্যের ন্যায়। হুগলী ও
বর্ধমানে বহু পরিমাণে ডাঙ্গা মাটিতে ইহার চাষ হয়।
পাণ্ডুয়া থানায় দ্রাবিড় গ্রামে ইহার অনেক চাষ আছে।
বেলফুল-উচ্চ ও নিম্ন জমির ধান। ধান আকৃতিতে
ছােট, সাদা ও হরিদ্রাভ। চাউল ক্ষুদ্র শ্বেতবর্ণ ও সুগন্ধযুক্ত।
এই ধানের ভাত রাঁধিলে বাটীর চারিদিক গন্ধে আমােদিত
হয়। চাউল নাগরা অপেক্ষা প্রতি মণ ৫ টাকা বেশী
দরে বিক্রয় হয়। ফসল বিঘাপ্রতি ৮/
মণ।
নভেম্বর মাসের শেষভাগে। ইহা অতি সৌখীন ধান। লােকে
অল্প জমিতে এই ধান্যের আবাদ করে। ইহার চাউল বাজারে
খুব কমই বাহির হয়। হুগলী ও বর্ধমানে ইহার চাষ হয়।
পাণ্ডুয়া থানার রামেশ্বরপুরে এই ধান্যের চাষ আছে।
মহীপাল—উচ্চ জমির আমন ধান। ধান সাদা ও
মােটা। চাউল সুরে রংয়ের।
খড় নরম ও লম্বা।
বিঘাপ্রতি ৫/ মণ। পাকে নভেম্বর মাসের শেষভাগে।
এই ধানের চাউল বেশ ভাল নহে। হুগলী ও বর্ধমানে ইহার
পাকে
চাষ হয়।
কামিনীশাল-উচু জমির ধান। চাউল বাঁকচুরের ন্যায় ;
৪০
খাদ্যশস্য
খুব সাদা ও লম্বা নহে; খর্বাকৃতি। ধান সাদা।
ফসল বিঘাপ্রতি ৬ মণ। পাকে নভেম্বর মাসের শেষভাগে।
হুগলী জেলার ধান। এই ধানের চিড়ে ভাল হয়।
নােনা—নিম্ন জমির মােটা ধান। এই ধান অনেকটা
দুধেনােনার ন্যায় তবে ইহাতে শুয়া নাই এবং আকারে
একটু ছােট , চাউল সাদা ও মােটা। মুড়ি ভাল হয়। ফসল
বিঘাপ্রতি ১১/ মণ। পাকিবার সময় নভেম্বর মাসের শেষভাগ।
হুগলী অপেক্ষা বর্ধমান জেলায় ইহার অধিক চাষ হয়।
দুধকলমা—নিম্ন জমির আমন ধান। এই ধান দুধে-
নােনা অপেক্ষা ছােট। দুধকলমার শুয়া দুধেনােনা অপেক্ষা
ছােট। দুধেনােনা ধান খুব সাদা কিন্তু এই ধান একটু
সবুজের আভাযুক্ত। দুধেনােনার অগ্রভাগে কাল দাগ নাই,
এই ধানের অগ্রভাগে কাল দাগ আছে।
বুয়ালদ—নিম্ন জমির ধান। চাউল মােটা ও লাল বর্ণ
বিশিষ্ট, এবং বেশ ভাল করিয়া পরিষ্কার করিলে সাদা
হয়। খড় মােটা ও লম্বা ; ফলন বিঘাপ্রতি ১২/ মণ। ডিসেম্বর
মাসের প্রথমভাগে পাকে। বর্ধমান জেলায় ইহার চাষ হয়।
পান্তিশাল—উচু জমির ধান। ধান মাঝারী, চাউল
লাল ও খর্বাকৃতি। ধান ভাল নহে, ইহার চাউল আউস
ধান্যের ন্যায়। ধান দেখিতে সাদা। পাকিবার সময় নভেম্বর
মাসের মধ্যভাগ। ফলন বিঘাপ্রতি ১০/ মণ।
হুগলী
জেলায় ইহার চাষ হয়।
খাদ্যশস্য
শালধলি—উচ্চ জমির আমন ধান। ধান ঈষৎ হরিদ্রা-
বর্ণ ও বেঁটে। রং ঝিঙ্গেশাল ধানের মত। চাউল সাদা
ও মােটা, দেখিতে পাটনাই চাউলের ন্যায়। ফলন বিঘাপ্রতি
১০/ মণ। পাকে নভেম্বর মাসের শেষভাগে। হুগলী ও
বর্ধমান জেলায় উচ্চ জমিতে ইহার চাষ হয়।
রূপশাল—উচ্চ জমির ধান। শ্বেত ও হরিদ্রা মিশ্রিত রংয়ের
ধান দেখিতে সরু ও অগ্রভাগ ধারাল।
ফলন বিঘা
প্রতি ১০/ মণ। পাকে ডিসেম্বর মাসের প্রথমভাগে। চাউল
বাঁকতুলসীর তুল্য। হুগলী, হাওড়া, ও বর্ধমান জেলায় এবং
বীরভূমের কতক অংশে ইহার চাষ হয়।
লতামউল-নিম্ন জমির ধান ; লম্বা ও মােটা, গায়ে
হিস্কুল ও হরিদ্রাবণের ৬টি রেখা বিশিষ্ট। ধানের মুখ সাদা;
অগ্রভাগ সামান্য কাল দাগবিশিষ্ট। | চাউল সাদা ও লম্বা।
এই ধানের মুড়ি ও খৈ ভাল হয়। ভাত সাদা ও মােটা
ফলন বিঘাপ্রতি ১২ মণ। পাকে ডিসেম্বর মাসের প্রথমভাগে ।
হুগলী ও বর্ধমান জেলার ধান।
কলমকাটী-বাঁকচুরের ন্যায় লম্বা ধান ও অগ্রভাগ
একটু বক্র। চাউল সাদা ও লম্বা। নাগরা অপেক্ষা অধিক
দরে বিক্রয় হয়। ফসল বিঘাপ্রতি ৮৯ মণ। খড় ভাল কিন্তু
নরম। পাকে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি। হুগলী জেলায়
ও বর্ধমানের জামালপুর থানায় ইহার চাষ হয়।
শাঞ্চিমউল—উচ্চ জমির আমন ধান। আউশের পর
৪২
খাদ্যশস্য
পাকে। ফলন বিঘাপ্রতি ৯/ মণ চাউল সাদা ও সরু, ধানে
বড় ভামা পােকৗ ধরে। লমউল অপেক্ষা এই ধান গাঢ়
পীতবর্ণ বিশিষ্ট। খড় নরম ও লম্বা , হুগলী ও বর্ধমানের ধান;
ওড়া—অধিক নিম্ন জমির ধান। ৬৭ হাত জলে ধান
বেশ ভাল হয়। খড় অতিশয় মােটা ও লম্বা, ধান মােটা
ও বেঁটে, কতক পরিমাণে কনকচুর ধানের ন্যায়। ধানের
গায়ে হরিদ্রা ও কাল ডােরা কাটা। ফলন বিঘাপ্রতি ১৫/
মণ। পাকিবার সময় ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি। বর্ধমানে
নিম্ন জমিতে ইহার চাষ হয়। এই ধান হাজা,
এই ধান হাজা, মজা পুকুর ও
নদীতে চাষ করা বেশ ভাল চলে।
হশ্লেখুড়ি নিম্ন জমির ধান, আকৃতিতে বেঁটে, ধানের
গায়ে সাদা ও হরিদ্রাবণের দাগ আছে, মধ্যস্থল গাঢ়
হরিদ্রা বর্ণ এবং উভয় কিনারা শ্বেতবর্ণ। ফলন বিঘাপ্রতি ১২/
মণ। পাকে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি। চাউল মােটা ও
সাদা। হুগলী, বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার নিম্ন জমিতে ইহার
চাষ হয়।
রঘুশাল-উচ্চ জমির আমন ধান। জলে ভাল হয়।
ফলন বিঘাপ্রতি ১০/ মণ। ধান দেখিতে শাঞ্চিমউল ধানের
ন্যায়, চাউল সাদা; খুব সরু নহে, অনেকটা ঝিঙ্গেশাল চাউলের
ন্যায়। পাকে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি। এই ধান কাঠালি
ধানের পৰ্যায়ভুক্ত। ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে অনাবৃষ্টি হইলেও
এই ধান পাকিবার কোন বিপ্ন হয় না।
খাদ্য শস্য
৪৩
চামরমণি—নিম্ন জমির আমন ধান।
ধান। খড় খুব ভাল।
ফলন বিঘাপ্রতি ১২ মণ। পাকে ডিসেম্বর মাসের শেষভাগে ।
চাউল সাদা, দাদখানি ধানের চাউলের ন্যায় বরং তাহার
চেয়েও উৎকৃষ্ট। দেখিতে দাদখানির ন্যায় একটু ফিকে
হরিদ্রাবর্ণ। হুগলী জেলার পাণ্ডুয়া থানায় ইহার চাষ
হইয়া থাকে।
শালিধান
টাকা নং ১-ইন্দ্রশাইল—মাঝারি রকমের রােয়া ধান,
সাধারণতঃ ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি পাকে। পূর্ব ও
উত্তরবঙ্গের যে সকল জমি উর্বর ও যাহাতে নবেম্বর পর্যন্ত
রস থাকে সেই জমির পক্ষেই ইহা বিশেষ উপযােগী। ইহা
ভাওয়ালের নীচু বাইদ জমিতেই উৎকৃষ্ট ফলে। উচ্চ জমি
( অর্থাৎ যেখানে কার্তিক শাইল জাতীয় ধান উৎপন্ন হয়) কিম্বা
দো-ফসলি জমি ইহার আবাদের উপযােগী নয়।
উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই ধান শাইল ধান অপেক্ষা বিঘা
প্রতি ১/৩ মণ বেশী ফলে।
ঢাকা নং ২-দুধসর। প্রায় সর্বপ্রকারেই এই ধান উপরে
লিখিত ১ নং ধানের মত, কেবলমাত্র ইহা ১নং ধান অপেক্ষা
কিছু পূর্বে পাকে। সুতরাং ইহা ১নং ধানের উপযােগী
জমি হইতে অপেক্ষাকৃত উঁচু ও হালকা জমিতে ভাল হয় এবং
অধিক ফলে।
৪৪
খাদ্যশস্য
\r\- ১ * * *
ঢাকা নং ১৫—ঝিঙ্গাশাইল।
—ঝিঙ্গাশাইল। ইহা ১নং
ইহা ১নং ও ২নং ধান
অপেক্ষা মিহি; ইহার ডগায় সামান্য শোঁয়া আছে। একটু
অবস্থায় ইহা ২নং ধানের সঙ্গে সঙ্গেই পাকে ও সমান ফলে।
১নং ও ২নং ধান অপেক্ষা ইহার চাউল ভাল। ইহার খড়
অতি নরম। কাজেই অতি সহজেই এই ধানের ঝড় শুইয়া
পড়ে। ইহা ঢাকা নং ২ ও ১৫ এই দুই রকম ধানই স্থানীয়
ধান অপেক্ষা সাধারণতঃ বিঘা প্রতি ১/০ মণ বেশী ফলে।
ঢাকা নং ১৬-লাটিশাইল। ইহা এক প্রকার মােটা
শাইল ধান।
২নং ধানের সঙ্গে ইহাও পাকে। ১নং, ২নং ও
৩নং ধানের উপযােগী জমিতে ইহার আবাদ চলে, কিন্তু ঐ
সকল জমি অপেক্ষা কিঞ্চিদধিক উঁচু এবং দো-ফসলি জমিতেই
ইহার ফসল ভাল হয়। ইহার গাছ লম্বা হয় না। মােটা
অথচ প্রচুর ফসল পাইবার ইচ্ছা করেন এমন ব্যক্তির জন্য এই
ধান অনুমােদন করা যাইতে পারে।
ঢাকা নং ২১-শঙ্কর জাতীয় শালিধানের মধ্যে ইহা আগে
পাকে ডি আই (৩৪) নামে পরিচিত। ইহা এক জাতীয়
উন্নতত ধান্য ও মাঝামাঝি জমিতে ইহা ভাল ফসল দেয়।
চুচুড়া নং ২-নাগরা। ইহা পশ্চিম নাগরা ধানেরই
একটি নির্বাচিত জাতি। ১নং ধানের জমিই ইহার চাষের
উপযােগী। ইহার ফলনও প্রচুর।
চুচুড়া নং ২-ভাসামাণিক। ইহা পশ্চিমবঙ্গের একটি
নির্বাচিত জাতি। পাঁচ বছরের গড়পড়তা ফলনে ইহা চুচুড়া
খাদ্যশস্য
৪৫
সরকারী ক্ষেত্রের অন্যান্য সকল ধানকেই পরাস্ত করিয়াছে।
সম্প্রতি ইহার সুখ্যাতি বাংলার
সুখ্যাতি বাংলার সমস্ত জায়গায়ই শুনা
যাইতেছে। গুণ ও ফলন এই দুইয়ের সমন্বয়ে ইহা আদর্শ ধান।
বাঁকুড়া নং ১-বাদকলমকাটি (৬৫)।
ইহা বাঁকুড়া
জেলায় কার্তিকশাইল শ্রেণীভুক্ত বাদকমলকাটি ধান্যেরই একটি
নির্বাচিত জাতি। ইহা উৎকৃষ্ট ধান্য আগে পাকে। বাঁকুড়া
ও বীরভূম অঞ্চলে উঁচু বাদ ভূমিতে” ইহার ফলন এত বেশী
যে তথায় ইহার সমকক্ষ অন্য কোন ধান্যই নাই।
এই ধান
অগ্রহায়ণ মাসের শেষ সপ্তাহে কিম্বা পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহে
পাকে বলিয়া এই ধান কাটিয়া পুনরায় এই জমিতে অবস্থাভেদে
রবিফসলের চাষ করা যায়।
বরিশাল নং ১-চিংড়িঘুষি (৫)। বরিশালের চিংড়িঘুষি
বালাম ধানের একটা উন্নত জাত। স্থানীয় বালামের জমিই
ইহার চাষের উপযােগী।
বরিশাল নং ২—ক্ষীরাজলি। বরিশালের ক্ষীরাজলি
বালামেরই একটি উন্নত জাতি। বাখরগঞ্জে ইহার চাষ ও ফলন
ঠিক ৯ নং ধানের অনুরূপ।
উপরে লিখিত সকল জাতীয় ধানই ফলন ও গুণের জন্য
চাষের উপযােগী। উপযুক্ত আবহাওয়ায় এই সকল ধানের
ফসল অন্যান্য ধান অপেক্ষা বেশী হইয়া থাকে।
শস্যের বীজ সংগ্রহ করিবার সময় যদি বীজের উপর
উপযুক্ত যত্ন লওয়ার অভাব হয়, তাহা হইলে জমিতে
৪৬
খাদ্যশস্য
বৎসরব্যাপী পরিশ্রম করিয়াও অনেক সময় পারিশ্রমিক পৰ্য্যন্ত
পাওয়া যায় না। অনেক চাষী নির্বোধের মত এক বিঘা জমিতে
পনর সের হইতে আধ মণ বীজ বুনিয়াও উপযুক্ত ফল পায় না।
ইহার কারণ শতকরা ৫০ ভাগ বীজই খারাপ। বীজ যদি খুব
ভাল না হয়, তাহা হইলে পাঁচ সের বীজের স্থলে পনর সের
বীজ বুনিয়া অযথা পয়সা ব্যয় করিয়াও উপযুক্ত ফসল পাওয়া
যায় না।
বীজ ভাল না হইলে তাহার উৎপন্ন গাছও ভাল হইবে না
এবং গাছ ভাল না হইলে যে তাহার ফসল ভাল জন্মিতে পারে
, একথা মানব মাত্রেই বুঝিতে পারে। সুতরাং বীজ সংগ্রহ
করিবার সময় খুব সতর্কতা অবলম্বন করাই প্রত্যেক চাষীর
উচিত। বীজের উপরই গাছ বা ফসলের ভবিষ্যৎ নির্ভর
করে।
বীজ সংগ্রহ করিবার সাধারণ নিয়ম—সুপক ফসলই
বীজের উপযুক্ত। অপরিপক্ক ফল কখনও বীজের জন্য
সংগ্রহ করিবে না। যে জমিতে পােক লাগিয়াছিল সেই
জমির বীজ সংগ্রহ করা উচিৎ নয় যদি নিতান্তই সেই
জমির বীজ সংগ্রহ করিতে হয়, তাহা হইলে উত্তমরূপে
বাছিয়া পােকাশূন্য গাছ হইতে বীজ সংগ্রহ করিবে। প্রথমে
জমিতে যাইয়া বিশেষভাবে লক্ষ্য করিয়া দেখিবে যেখানকার
গাছ ভাল হইয়াছে এবং যে ফসলগুলি হৃষ্টপুষ্ট ও
সুপক্ক হইয়াছে সেইখানকার গাছগুলি কাটিয়া পৃথকভাবে
খাদ্যশস্য
৪৭
হইবে ।
রাখিবে, এবং উহা পৃথকভাবে মাড়াই করিয়া উত্তমরূপে শুষ্ক
করিয়া তবে ভাল পাত্রে রাখিয়া দিবে, এবং যাহাতে ঘরে
কোন প্রকার পােকা না লাগে সেই জন্য সতর্ক থাকিতে
ধান্যের মধ্যে যে শীষগুলি সবচেয়ে বড় ও হৃষ্টপুষ্ট
এবং সুপক সেই শীষগুলির অগ্রভাগের ধানগুলি উত্তম বীজ
রূপে পরিগণিত হয়। উক্তভাবে বীজ রাখিতে পারিলে উত্তম
বীজ পাওয়া যায়; কিন্তু নিমােক্ত পন্থা অবলম্বনে বীজ সংগ্রহ
করা খুবই ব্যয়সাধ্য, সেই জন্য প্রথম পন্থা অবলম্বন করাই
শ্রয়ঃ ।
বীজ-বিতরণ-প্রণালী
নানা কারণে বীজ-বিতরণ-কাৰ্য একটি সমস্যার কথা
যথা-
(১) চাষীরা সাধারণতঃ তাহাদের নিজেদের প্রয়ােজনীয়
বীজ নিজেরাই রাখে। প্রতি বৎসরই তাহাদিগকে বাহির
হইতে বীজ আনিতে হয় না। অতএব পাটের ন্যায় বীজধানের
কোন নির্দিষ্ট চাহিদা নাই।
(২) চাষীরা সাধারণতঃ গুণ ও অবস্থা নির্বিশেষে ২৩
রকম জাতের ধান বুনিয়া থাকে। অতএব অনেক জায়গা
ব্যাপিয়া কেবল একই রকমের ধান বপন করা সম্ভবপর নয়।
ঐ কারণেই বীজ-ধান মিশ্রিত হইয়া যায় ও ক্রমশঃ নিকৃষ্ট
হইয়া পড়ে।
(৩) পাটের বীজ অপেক্ষা ধানের বীজ দরে সস্তা ও
৪৮
খাদ্যশস্য
আকারে বড় বলিয়া দূরদেশে সংবরাহ করার খরচ পােয় না,
রেলভাড়া প্রভৃতি খরচ অনেক বেশী হইয়া পড়ে।
যদি গ্রাম্য কৃষি-সমিতি, জিলা-বাের্ড, কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক
বা স্থানীয় মাতব্বর চাষীদের দ্বারা গ্রামে বীজক্ষেত্র ( Seed
Centres) স্থাপিত হয়, তাহা হইলেই এই সমস্যার সমাধান
সহজে হইতে পারে। এই সকল বীজক্ষেত্র সরকারী কৃষিক্ষেত্র
হইতে বীজ লইবে এবং উহা হইতে বীজ উৎপন্ন করিয়া পর
বৎসর বুনিবার পূর্ব পর্যন্ত গােলাজাত করিয়া রাখিবে ; পরে
প্রতিবেশীদিগের নিকট উহা বিক্রয় করিবে কিম্বা স্থানীয় বীজের
বদলে দিবে। যদি বদলে দিতেই হয় তাহা হইলে আর
গােলাজাত করিবার প্রয়ােজন হয় না, একেবারে শস্য কাটিবার
পর ক্ষেত্র হইতেই বিতরণ করা যাইতে পারে।
এই ব্যবস্থানুযায়ী ১৯২৫ সাল হইতে কাৰ্য্য হইয়াছে এবং
১৯৩১-৩২ সালে এইরূপ বীজক্ষেত্রের সংখ্যা ২৪৫ উঠিয়াছে।
তাহার মধ্যে ১২৯টির প্রত্যেকটির আয়তন ৫/ বিঘার বেশী।
এই সকল বীজক্ষেত্র হইতে ১৯৩১-৩২ সনে মােট ১৩৮১৮/ মণ
আউশ ও আমন বীজ-ধান বিতরণ করা হইয়াছে।
বীজ সংরক্ষণই চাষীদের পক্ষে প্রধান সমস্যা।
যে পরিমাণ
বীজ স্থানীয় চাষীদের কেবল বুনিবার জন্য প্রয়ােজন, সেই পরি-
মাণ পর বৎসর বুনিবার আগে পর্যন্ত গােলাজাত রাখিতে হইবে,
নতুবা বীজ-ধান অন্যভাবে খরচ হইবার সম্ভাবনা। কিন্তু সাধারণ
চাষীরা ইহা করিতে পারে না। আশা করা যায় সরকারী
সমবায় বিভাগ (Co-operative Society) চাষীদের এই বিষয়ে সাহায্য করিতে পারিবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ ২১ জায়গায় সমবায় বিভাগ স্থানীয় ব্যাঙ্কের সাহায্যে সরকারী বীজ তাহাদের মেম্বরদের মধ্যে বিতরণ ও পরে সমগ্র বীজ গােলাজাত করিবার ভার গ্রহণ করিয়াছে। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক সরকারী কৃষিবিভাগ হইতে বীজ ক্রয় করিয়া এই সৰ্তে বিতরণ করে যে, প্রত্যেক গ্রাহক ফসল কাটিবার পর সম পরিমাণ ধান এবং উপরন্তু আরও সিকি অংশ ফেরত দিবে। ব্যাঙ্ক এই সমস্ত বীজ মজুত করিয়া পুনরায় একই সৰ্তে পর বৎসর বিতরণ করে কিম্বা বিক্রয় করে। এইরূপ ব্যবস্থানুযায়ী কাৰ্য ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলার নওগাঁও এলাকায় আউশ ধান ও বগুড়া জেলায় আমন ধান লইয়া চলিতেছে,। যতদূর সম্ভব সমবায় বিভাগের স্থানীয় কর্মচারিবৃন্দের সহযােগে বীজক্ষেত্র স্থাপিত হওয়া উচিত, কারণ তাহা হইলে তাহারা বীজক্ষেত্র হইতে প্রাপ্ত বীজসমূহ পর বৎসর বপনকাল পর্যন্ত যাহাতে গােলাজাত থাকে, তাহার সুবন্দোবস্ত নিকটবর্তী ব্যাঙ্ক সমূহের সাহায্যে করাইয়া দিতে পারিবেন। উপরে লিখিত বিভিন্ন জাতীয় ধান সম্বন্ধে কিম্বা সরবরাহের নিমিত্ত বীজ উৎপন্ন করা সম্বন্ধে যদি কেহ বিশেষ বিবরণ জানিতে চান, তাহা হইলে ঢাকায় বাঙ্গালার কৃষি-বিভাগের ডিরেক্টর বাহাদুরের নিকট কিম্বা সরকারী কৃষি-ফারমে উদ্ভিদ- তত্ত্ববিদ মহাশয়ের নিকট আবেদন করিতে পারেন। ৪ 579 (Triticum Vulgore) ১। দাহ্যগুণ শ্বেতসার ও শর্করা: শতকরা:••৬৭ ভাগ তৈল ১০ ১০ সুত্র ২। মেকারিতাগুণ প্রােটিন ৮ ভাগ ১) 9) ২ (৩) জল ২০ ভাগ গম আমাদের একটি প্রধান খাদ্য। ভারতবর্ষের বহু স্থানে ও অন্যান্য দেশে বাংলার চাউলের ন্যায় গম সর্বপ্রধান খাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়। আমাদের শরীর ধারণ করিতে যে পরিমাণ পুষ্টিকর পদার্থের প্রয়ােজন, তাহার অধিকাংশই গমে পাওয়া যায়। পাঁউরুটি লঘু পথ্য, কিন্তু চাপাটি পরিপাক করা সুকঠিন হইলেও লুচি অপেক্ষা উপকারী। জাতিভেদ- (৫) নরম সাদা গম, যথা—দুধিয়া (২) শক্ত সাদা গম, যথা—বড় রহমা (৬) নরম লাল গম, যথা—লালকা (ঘ) শক্ত লাল গম, যথা—বাথেবী
খাদ্যশস্য
শক্ত গমের দ্বারা পাউরুটি, চাপাটি ও সুজি প্রস্তুত হয়।
নরম গমে সুজি হয় না। শক্ত গমের মূল্য অধিক।
জমি নিৰ্বাচন-দো-আঁশলা লাল মাটি গম চাষের পক্ষে
বিশেষ উপযােগী। সামান্য কাকরযুক্ত হইলেও চলিতে পারে,
তবে সেচ, দরকার হয়। পূর্ব বাংলায় কোন জমিতেই সেচ
প্রয়ােজন হইবে না। পশ্চিম বাংলায়
পশ্চিম বাংলায় বর্ধমান, বাঁকুড়া,
বীরভূমে জমিতে সেচ, প্রয়ােজন। শীতঋতু দীর্ঘস্থায়ী হইলেও
শিশিরে জলের সমভাব হয়।
সময় নিৰ্বাচন-কার্তিকের শেষ সপ্তাহ হইতে পুরা
অগ্রহায়ণ পৰ্যন্ত বােনা যাইতে পারে। সকল ফসলই অগ্রিম
লাগান ভাল। (কৃষকেরা আগতী বলে )
জমি প্রস্তুত করণ-আউস ধানের ন্যায় গমের চাষেও
জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতঃ চাষ দিয়া ছিটাইয়া বুনিতে
হয়। বুনিবার পূর্বে এক মাসে তিনবার চাষ করিয়া সার
দিলে ভাল হয়।
বিঘাপ্রতি /৯ সের বীজ বপন করিবে।
বপন করিবার পূর্বে বীজগুলি ১২ ঘণ্টা তুতের জলে ভিজাইয়া
লইবে। একভাগ জলে ২ ভাগ তুতে দিলে জল প্রস্তুত
হইবে।
সার কথন-গমের জমিতে বিঘাপ্রতি ৬ পাউণ্ড সােরা-
জান বা ১৪ পাউণ্ড সলফেট এমােনিয়া দিলে উৎকৃষ্ট ফল
পাওয়া যায়।
কৃষকের পক্ষে বিঘাপ্রতি ১/ মণ হাড়ের গুড়া ও ।
খাদ্যশস্য
দশসের সােরা অথবা ১/ মণ চিনাবাদামের খােসা ও এক
গাড়ী গােবর দিলেই চলিবে। পলিপড়া মাটিতে কোন
সারেরই দরকার হইবে না, তবে আশ্বিন মাসে ধঞ্চে গাছ
বুনিয়া অগ্রহায়ণ মাসে ঐ গাছগুলি সমেত জমি চাষ করিয়া
গম বপন করিলে বেশ ভাল ফল পাইবে।
বীজ কথন—বাংলার মাটিতে পুষা গম উৎকৃষ্ট হইবে ।
প্রতি জেলার কৃষি অফিসে পুষা গমে ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১,
১২ নং বীজ পাওয়া যায়। ৮নং পুষায় সর্বোৎকৃষ্ট ফল
পাওয়া গিয়াছে। বিহার ও পাটনার বীজে বাংলায় বিঘাপ্রতি
৩/ মণের বেশী ফল পাওয়া যায় না; কিন্তু পুষা গমে
৪৷৷ মণ পর্যন্ত ফসল পাওয়া গিয়াছে। অগ্রহায়ণ মাসে বুনিলে
চৈত্র মাসে গম পরিপক্ক হয়। পূর্ণ ৪ মাস জমিতে থাকে, বৃষ্টি
হইলে মাসে ২ বার জল সেচ দিলে উত্তম ফল পাওয়া যায়।
গম উৎপন্ন সামগ্রী বা শিল্প—(১) ময়দা (২) আটা
(৩) সুজি।
গম পিষিয়া কাপড়ে বা সরু চালুনীতে ছাকিলে যে
মিহি গমচূর্ণ প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহাকে ময়দা বলে। অবশিষ্ট
যাহা থাকে তাহার চোকর বাদ দিলে আটা থাকে। মােটা
আটাই সুজি।
গম পিষিয়া ময়দা বা চোকর বাদ না দিলে তাহাকেও
আটা বলে। যে আটার চোকর বাদ না দেওয়া হয়, সুস্থ
ব্যক্তির রুটির পক্ষে তাহাই উৎকৃষ্ট।
খাদ্যশস্য
ভারতবর্ষ হইতে, প্রতি সেকেণ্ডে ৫/ মণ করিয়া গম
বিদেশে যাইতেছে। আজকাল যেমন চারিদিকে ময়দার কল
দেখিতে পাওয়া যায়, কুড়ি বৎসর পূর্বে তাহা ছিল না।
তখন গমগুলি যাতায় গু
গুড়া করিয়া ময়দা করা হইত। তখন
আটা ও সুজিতে কোন ভেজাল ছিল । আজ রােলার
মিলের গুণে মিহি ময়দা হইতেছে বটে, কিন্তু সােপষ্টোনে
মিশ্রিত ভেজাল ময়দা খাইয়া ডিপেপসিয়ায় লােক ভুগিতেছে।
গম পক্কই ভাল, আমাদের দেশের গম অধিকাংশই নরম
জাতীয়, এজন্য বিদেশী বাজারে আমাদের গমের দাম কম।
রুশিয়া আজ জগতে সর্বোৎকৃষ্ট গম প্রদান করিয়া বেশী টাকা
পাইতেছে। আমাদের কৃষকেরা যাহাতে উৎকৃষ্ট শক্ত গম
উৎপন্ন করিতে পারে সে বিষয়ে যত্নবান হওয়া আবশ্যক।
বিশেষ করিয়া ধরিতে গেলে পূর্বে ইউরােপীয় ময়দার
ব্যবসায়ীরাও নরম ও শক্ত দানার পার্থক্য সম্বন্ধে বিশেষ
মনােযােগী ছিল না। যাহা শীঘ্র পেষ। যাইত বা যাহাতে
বেশ সাদা ময়দা ও বড় বড় রুটি পাওয়া যাইত, সেই
গােধূম উহারা এতদিন খরিদ করিত। বর্তমানে আর সেই
মামুলী প্রথা নাই। আজকাল শক্ত গােধূমের সাড়া পড়িয়া
গিয়াছে। এই শক্ত গােধূম কি তাহা নিম্নে বুঝাইতেছি-
শক্ত গােধূম বা গমের শক্তির অর্থ এই যে, গােধূমে
বেশী সােরাজান আছে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, যে গমে
সােৱাজান যত বেশী তাহার ময়দায় তত বড় রুটি হয়। এতদ্ভিন্ন
৫৪
খাদ্যশস্য
শক্ত গমে খুব সূক্ষ্ম (Fine ) ( ময়দা প্রস্তুত হইয়া থাকে।
ইউরােপীয় ব্যবসায়ীদের এতদিন ধারণা ছিল যে, ভারতীয় গােধূম
মাত্রই নরম এবং উহা হইতে সূক্ষ্ম (Fine ) ময়দা
হইবে না। ভারতবর্ষের মধ্যে পাঞ্জাবেই গমের চাষ সর্বাপেক্ষা
অধিক এবং পাঞ্জাব হইতেই প্রতি বর্ষে ৮০ কোটী মণ গম
বিদেশে রপ্তানী হইতেছে। সুতরাং মণ প্রতি /• এক আনা
দাম বেশী হইলে কত অধিক আয় হইতে পারে। অথচ বিদেশে
ভারতীয় গম অপেক্ষা আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার
গম অধিক মূল্যে বিক্রয় হইতেছে। এই বিষয়ের প্রকৃত
কারণ কি তাহা নির্ণয় করিবার জন্য গত ১৯০৯ সালে ১৮ই
মার্চ তারিখে পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষিবিভাগের ডিরেক্টর
মহােদয় ইংলণ্ড ও আয়ল ণ্ডীয় কলওয়ালাদের সম্মিলনীর নিকট
এই তত্ত্ব নির্ধারণের জন্য এক পত্র লেখেন। ঐ পত্রের উত্তরে
১৯০৯ সালের ২৭শে এপ্রিল তারিখে তাহারা পাঞ্জাবের
ডিরক্টরকে লিখিতেছেন যে, ভারতীয় গােধূম সম্বন্ধে Mr.
A. E. Humphrise এক প্রবন্ধ পাঠ করেন।
ঐ প্রবন্ধের
সার অংশ এবং সভাপতির নােট পত্রে আছে। হাফ্রি
সাহেব বলেন যে, “তিনি ভারতীয় যে সকল গমের নমুনা
পাইয়াছেন, তাহার মধ্যে যেগুলি পেষণ কাৰ্যে উত্তম চুর্ণ
হইয়া রেশমি সূত্রবৎ ময়দা উৎপন্ন করে, তাহা উত্তম
শ্রেণীর গােধূম হইতে পারে না। যে গােধূম উত্তম চুর্ণ হয়,
উজ্জ্বল, শ্বেত ও সূক্ষ্ম ময়দা উৎপাদন করে এবং যাহাতে
খাদ্যশস্য
যেহেতু উৎপন্ন
সেরাজানের অংশ অপেক্ষাকৃত অধিক সেই গােধূম উৎকৃষ্ট।
ভারতবর্ষে এখন যে সকল লাল গােধূম উৎপন্ন হয় এবং জাভা
দেশের লােকেরা যাহা নিজেদের খাদ্যরূপে ব্যবহার করে তাহা
প্রায় সমস্তই শক্ত গােধূম। অবশ্য লাল গম তাপেক্ষা সাদা
গমের দাম বেশী ।
নরম ও শ্বেত গম, লাল শক্ত গম ভাল,
সুতরাং বর্তমানে ভারতীয় গম চাষের এইটি বিশেষ লক্ষ্যের
বিষয় হওয়া উচিত যে, কি প্রকারে শ্বেত উত্তম ও শক্ত গম
পৰ্য্যাপ্ত পরিমাণ উৎপন্ন করা যাইতে পারে ।
গমের মূল্যের আধিকাই যখন প্রথম লক্ষ্যের বিষয় তখন আমরা
যে জমিতেই গম চাষ করি না কেন, আমাদের শ্বেত সােরাজান
বিশিষ্ট শক্ত গমের চাষ করা কর্তব্য।
এই বিষয় পুষা কৃষি কলেজে ও কৃষিক্ষেত্রে পরীক্ষা আরম্ভ
হইয়াছে। পুতে এমন কয়েক প্রকার গােধূম উৎপাদন করা
হইয়াছে, যাহাদের দানা সুন্দর, পুষ্ট, আগাগােড়া সমান, অধিকন্তু
শক্ত (strong) জাতীয়। কয়েকটি নমুনা হামফ্রি সাহেবের
নিকট পাঠান হয়। ইহাদের নম্বর অনুযায়ী নাম হইয়াছে,
যথা—পুষা ৬, পুষ। ৭, পুষা ৮, পুষা ১০ পুষ১১ ও পুষ। ১২।
ইহাদের পুষা ৮ সর্বোৎকৃষ্ট গােধূম বলিয়া বিবেচিত হইয়াছে।
ইহার ময়দা অতি উৎকৃষ্ট, ইহাতে যে রুটি হয়
তাহা সাদা। পুষা ৮নং উৎকৃষ্ট গম প্রায় আমেরিকার
গমের সমান। তাহার পর পুষা ১২, ১১ ও ১৩ যথাক্রমে
উন্নত ধরণের গম।
ইহা শক্ত ;
খাদ্যশস্য
কোন কোন কৃষি বিশেষজ্ঞ জামেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া হইতে
উৎকৃষ্ট বীজ আনাইয়া ভারতে চাষ করিতে বলেন, কিন্তু আমার
মতে পুষ। ৮, ১২, ১৩, ১১ নম্বর গম চাষ করিয়া ক্রমােন্নতি
দ্বারা আমরা ভাল ফল পাইতে পারি। আমেরিকার বীজ
এখানকার জল বায়ু উত্তাপ সহ্য
করিয়া সুন্দর
ফল
প্রসব করিবে কিনা সন্দেহের বিষয়। তবে পরীক্ষা
হওয়া উচিত। জনসাধারণ সরকারী পরিক্ষার ফল গ্রহণ
করিয়া কাৰ্য্য করিবে মাত্র।
ভুট্টা (Zea
Mays)
ভুট্টা একপ্রকার ওষধি পৰ্যার অন্তর্গত, কারণ ফল পাকিলে
গাছ মরিয়া যায়।
রাসায়নিক খাদ্যগুণ
১। শ্বেতসার বা শর্করা
৭১২ ভাগ
তৈলাংশ
৫ ভাগ
मूब
জল।
২। মেকারিতাগুণ
প্রােটিন শতকরা
খাদ্যশস্য
(ক) ভুট্টার শস্যে জল, ছাই, আনবিউমিনিয়ন্স, বার্ক
বাইড্রেড, আশ চব্বি প্রভৃতি তেজস্কর পদার্থ আছে।
(খ) দানার আবরণ–পটাশ, সােড়া, লবণ, চুণ, অক্সাইড
অব, আয়রণ, ম্যাগনিসিয়া, সালফিউরিক অ্যাসিড়, ফস্ফরাসিক
অ্যাসিড, ও বালুকা আছে।
(গ) ভুট্টার পাতা ও ডাটায়—পটাস, সােভা, লবণ, চুণ,
ম্যাগনেসিয়া, অক্সাইড, অব, আয়রণ, সালফিউরিক অ্যাসিড
কার্বলিক অ্যাসিড, ও বালুকা আছে। ফলতঃ গমে যে সকল
পুষ্টিকর পদার্থ আছে, তাহার অধিকাংশই ভূট্টায় দেখা
যায়। বিশেষতঃ মনুষ্য ও পশুগণের জীবন ধারণে যে সকল
দ্রব্যের আবশ্যক ভুট্টায় প্রায় সে সকলই আছে। আমেরিকায়
ইহা গমের ন্যায়
আদরের সহিত ব্যবহৃত হয়।
পৃথিবীতে ধান ও গম এই দুই শস্যের পরই ভুট্টার চাষ হইয়া
থাকে।
জন্মস্থান- আমেরিকায় ক্যানডা হইতে প্যাটাগোনিয়া
পৰ্য্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ, অষ্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা,
স্পেন, পর্তগাল, ফ্রান্স, ইটালী, ভূমধ্যসাগরস্থ উপকূল সমূহে,
হাঙ্গারী, তুরস্ক, গ্রীক, এসিয়া মাইনর, পারস্য, মধ্য এসিয়া,
চীন, সিংহল প্রভৃতি পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানেই ভূট্টার প্রচুর
আবাদ হইয়া থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশেও ২০ ৬ ০ ০ ০ ০ একর
জমিতে ইহার আবাদ হইয়া থাকে।
আকৃতি-ভুট্টার গাছের সহিত আকের গাছের সাদৃশ্য
সমগ্র
৫৮
খাদ্যশস্য
}
থাকায় উদ্ভিদতত্ত্বে ইহারা এক জাতীয় রলিয়া উল্লেখ আছে।
আকের মত ইহার পাক হয়, ইহার অগ্রভাগের প্রতি পাকে,
প্রতি গ্রন্থিতে পুষ্পেগম হয়। কিন্তু আকের তাহা হয় না।
জমি নিৰ্বাচন—সরস, উর্বর, ক্ষারযুক্ত দোয়াশ মৃত্তিকায়
ভুট্টা ভাল জন্মে। আলু তুলিবার পর এবং আক কাটিবার পর
ঐ জমিতে ভুট্টা দেওয়া যাইতে পারে ; অর্থাৎ আলু , আক ও
আউস ধানের জমিতে ভুট্টা হয়।
সময় নির্ধারণ-চৈত্র ও বৈশাখ মাসে বৃষ্টি হইলেই ভুট্টার
বীজ বপন করা যায়, তবে উঁচু জমিতে আষাঢ় পৰ্য্যন্ত বপন বা
রােপণ করা চলে। যত্ন করিলে বারমাসই লাগান যায়, তবে
ইহা বর্ষার ফল, অন্য সময় ফলগুলি তত বড় হয় না।
চাষ কথন-চৈত্র ও বৈশাখে বৃষ্টি হইয়া গেলেই জমিতে
ছয় সাতবার লাঙ্গল ও তিন চারিবার মই দিয়া তবে ভুট্টা বুনিতে
হয়। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে উচু জমিতে বপন বা চারা
তৈয়ারী করিয়া রােপণ চলিতে পারে। বিঘা প্রতি ৩৪ সের
বীজ প্রয়ােজন। লাঙ্গলের শিরানে ১ ফুট অন্তর দুই তিনটি
বীজ বপন করিতে হয়। সারিগুলি এক হাত তান্তর হওয়া
উচিত। জমিতে ঘাস বা তৃণ জন্মিতে দেওয়া উচিত নহে।
কোদাল দ্বারা গােড়ায় আকের ক্ষেতের মত মাটি দিয়া আইল
বাঁধিয়া দিতে হইবে। গাছ এক ফুট ছােট থাকিতে এই কাজ
করা উচিত। ভুট্টার ক্ষেতে হাত কোদালই প্রকৃষ্ট যন্ত্র । চাষ
বিস্তৃত হইলে প্লচাট বুনিয়ার ব্যবহার করা যাইতে পারে ;
খাদ্যশস্য
ইহাতে নিড়ানের কাৰ্য্য সুসম্পন্ন হয়, ইহার দ্বারা একেবারে
৮১০ বার নিড়াইবার কাজ চলিয়া থাকে।
সার—গলিত উদ্ভিদ জাত সার, ছাই, হাড়ের গুড়া ও
সােরা ভুট্টার পক্ষে উৎকৃষ্ট সার। বিঘাপ্রতি চাষের পূর্বে এক
গাড়ী গােবর কিছু ছাই মিশাইয়া ও তাহার সহিত দশ সের
সাের। মিশ্রিত করিয়া দিলেই চলিবে। চিনা বাদামের খৈলও
ভুট্টার উৎকৃষ্ট সার।
ফলন—বিঘাপ্রতি ৪ সের বীজ বপন করিলে ৮ মণ পর্যন্ত
ভুট্টা হয়। যদি যত্নপূর্বক ১ হাত অন্তর লাইন করিয়া চারা
গাছ লাগান যায় তাহা হইলে ৮০ X৮০ = ৬৪০০ গাছ হয়।
প্রতি গাছে ৩টি হইতে ২০টা ভুট্টা হয়, কম হইলেও ১৯২০ ০ টি
ভুট্টা হইবে ।
বীজ বপন-ভুট্টা নানাপ্রকারের আছে। বাংলাদেশের
পক্ষে জোনপুরের ভুট্টাই ভাল, আর দার্জিলিং ও আসাম
প্রভৃতি স্থানের
স্থানের জন্য
জন্য আমেরিকার বীজ উৎকৃষ্ট। যতদিন
আমাদের দেশে সরকারী সাহায্যে বীজ রক্ষার জমি না হয়
ততদিন বিদেশী বীজ কিনিয়া লাগান ভাল। বীজ রাখিতে
হইলে খুব তেজস্কর গাছে অল্প ফল রাখিতে হয়, এবং সেই
ফল সুপক্ক হইলে শুষ্ক করিয়া যত্নপূর্বক নির্বাচিত স্থানে
রাখিতে হয়।
ভুট্টার ব্যবহার—(ক) কচি কাচা ভুট্ট। অনেকে আগুনের
তাপে ঝলসাইয়া খাইতে ভালবাসে। ভাজিয়া খই করিয়া
খাদ্যশস্য
অনেকে খাইয়া থাকে, যাতায় ভাঙ্গিয়া ময়দা করিয়াও ইহা
ব্যবহৃত হয়। ইহা পুষ্টিকর খাদ্য।
(খ) গাে-মহিষাদির প্রিয় খাদ্য, দুগ্ধবতী গাভীর দুগ্ধ
বাড়াইতে হইলে ফলসমেত কঁচা গাছ খাইতে দিতে হয়।
আমেরিকায় ভুট্টা ও ভুট্টা গাছ হইতে নানাবিধ শিল্প কাৰ্য্য
হইতেছে যথা-
ভুট্টা গাছের রসে চিনি প্রস্তুত হইতেছে, অবশিষ্ট গুড়
হইতে সুরা এবং পরিত্যক্ত ছিচড়া ( আইস) হইতে কাগজ
প্রস্তুত হইতেছে।
এক টন আকের রস হইতে যে পরিমাণ চিনি জন্মিবে,
ভুট্টাগাছের রস হইতেও সেই পরিমাণ চিনি হয়; অধিকন্তু
গাছের আইস হইতে সােড় সংযােগে উৎকৃষ্ট কাগজের উপযােগী
গুঁড়া তৈয়ারী হইবে।
শিল্প-১
১। ইহার ফল আবরণীর পত্র সকল শুষ্ক করিয়া
তদ্বারা দড়ি প্রস্তুত করা যাইতে পারে। ইউরােপে এই
পত্ৰজাত সূত্র হইতে স্থল বস্ত্রাদি প্রস্তুত হইয়া থাকে। এই
পত্র হইতে উৎকৃষ্ট কাগজ প্রস্তুত হয়। অষ্ট্ৰীয়ার অধিকাংশ
কাগজই ভুট্টার পত্ৰজাত। এদেশে ভুট্টার পত্র ব্যবহার্য
বােধে পরিত্যক্ত হইয়া থাকে।
২। ভুট্টা গাছ হইতে চিনি বাহির করিবার প্রথা
ইক্ষু চিনি প্রস্তুত প্রথার অনুরূপ।
কলকজা সবই এক।
ইক্ষু চিনি প্রস্তুত করিতে যে রাসায়নিক দ্রব্যাদি আবশ্যক
খাদ্যশস্য
ভুট্টার জন্যও তাহাই আবশ্যক । এক টন (২০০০ পাউণ্ড)
ভুট্টাগাছ হইতে অপরাপর কঠিন দ্রব্য বাদ দিয়া ২৭০ পা
শর্করা মিশ্রিত রস পাওয়া যায় । ইহার মধ্যে ২৪০ পা
দানাদার শর্করা, ১০ পাঃ ভুরা ( Uncrystaligable Sugar)
এবং ১৪ পাঃ তাপরাপর পদার্থ। গড়ে ইহাতে শুকনা ১নং
চিনি ১৬০ পা, ২নং চিনি ৩০ পাঃ উৎপন্ন হইবে। যাহাতে
প্রায় ৭০ পাঃ চিনি বিদ্যমান আছে। এরূপ ৬ গ্যালন মাত্র
অবশিষ্ট থাকিবে।
তাহা
প্রুফ প্রায় ৫
গ্যালনে সুরাসার তৈয়ারী হইবে । অধিকন্তু রস নিষ্কাশিত
ডাটার ছিবড় হইতে ৩০০ পাঃ শুষ্ক আইস পাওয়া যাইবে।
সে আইস হইতে ২০০ পাঃ কাগজ প্রস্তুত উপযােগী গুড়া
উৎপন্ন হইবে ।
৩। ভুট্টা গাছের শীষ ( ears ) কচি অবস্থায় তুলিয়া
ফেলিলে গাছের পরমায়ু বৃদ্ধি হয় ; এইরূপে ইহাদের দীর্ঘজীবন
দান করিতে পারিলে, ইহাদের শারীরিক গঠনের পরিবর্তন
হয়, এবং সেই সঙ্গে ইহাদের আয়তন, গুরুত্ব ও রসে শর্করার
পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়া যায়। এই সময়ে ইহাদের রস খুব
পরিষ্কার থাকে। একটন কচি শীষ হইতে এমন ২১০ পাঃ
রস উৎপন্ন হইবে যে রস হইতে ৩১ গ্যালন প্রুফ সুরাসার
জন্মায় এবং ৮৫ পাঃ শুষ্ক গুড়া পাওয়া যায় ; ইহাতে কাগজ
হইবে।
৪। ভট্টার পাকা দানা হইতে বিলাতে মদ তৈয়ারী
৬২ খাদ্যশস্য কঁাচা হয়। ও কচি দানা হইতে মদ তৈয়ারী করিলে সুরাসারের পরিমাণ অনেক বাড়ে এবং তৈয়ারী করার খরচও কম হয়। যব (Hordium Vulgare) ভারতবর্ষের প্রায় সকল প্রদেশেই যব অল্প পরিমাণে জন্মিয়া থাকে। বাংলা ও যুক্তপ্রদেশে গম, ছােলা, মটর ও মসূর প্রভৃতি শস্যের সহিত যব বপন করা হইয়া থাকে, কোথাও কোথাও পৃথক্ ভাবে বপন করা হয়। উর্বর জমিতে গম এবং গম ও যব দুইই কখন জন্মিয়া থাকে। গম অপেক্ষা যব বীজ একটু পূর্বে বপন করিতে হয়। বিঘা প্রতি যব ৫ পনর সের আবশ্যক। বীজ খুব ভাল হইলে । দশ সেরেও চলিতে পারে। যবের জমিতে গমের ন্যায় নিড়ান সেচ আবশ্যক করে না। ইহাতে গম অপেক্ষা পােকাও কম ধরিয়া থাকে। সার—বিঘা প্রতি এক গাড়ী পচা গােবর অথবা চার- গুলি ৬ ইঞ্চি লম্বা হইলে ।২ সের সােরা ছড়াইয়া শেচ দিলে ভাল হয়। কাটা ও মাড়াই—শস্যগুলি পাকিয়া উঠিলে কাটিবে । ২৩ দিন ক্ষেতে ফেলিয়া রাখিবে। পরে বাড়ীতে বা খামারে
খাদ্যশস্য
আনিয়া মাড়িয়া বীজ ও গাছ' আলাদা করিয়া শস্য গােলা-
জাত করিবে ।
এক বিঘা জমিতে কত ব্যয় ও আয়
ব্যয়
আয়
৩৪ বার চাষ ও মৈ দেওয়া=২০ ৬/ যবের দাম X৫=৩,
বিঘা দশ সের
১০ খড়
কাটাই মাড়াই
২০ মােট আয়
২=১২সের সােরার দাম ২০
বাদ-১
খাজনা ও মাসের জন্য
১,
দশ টাকা ১০,
নেট আয় ২২,
যব হইতে বিয়ার মদ প্রস্তুত হয় বলিয়া এ দেশ হইতে
প্রভূত পরিমাণে যব চালান যায়। আমরা যবের ছাতু খাইয়া
থাকি। রবিন সন্স, বালি যবের ছাতু হইতে প্রস্তুত।
যই (Avena Sativa)
যই-বাংলায় যই খুব কম জমিতে চাষ হইয়া থাকে ।
এদেশের আউশ ধানের জমিতে ইহার চাষ হইতে পারে।
আউশ ধান ও পাট কাটিবার পর উচু জমিতে বিঘা প্রতি
কুড়ি গাড়ী গােবর সার দিয়া জমি উত্তমরূপে চাষ করিয়া
৬
খাদ্যশস্য
যুব
/৮ সের' বীজ ছড়াইয়া পুনরায় চাষ দিয়া মই দিতে হইবে।
বীজ বুনিবার পূর্বে এইগুলি তুতের জলে ভিজাইয়া লইলে
ধরে না এবং গাছ ভাল হয়। ও গমের
ন্যায় গাছ একটু বড় হইলে ০ সের সােরা ২/ মণ জলে
গুলিয়া পিচকিরি দ্বার। জমিতে ছিটাইয়া দিলে বিশেষ
উপকার হয়।
শস্য সংগ্রহ-ভাল করিয়া পাকিবার পূর্বেই শস্য কাটিতে
হইবে।
বেশী পাকিলে শস্য ঝরিয়া পড়িবে এবং গাছও
খারাপ হইবে। ইহার খড় ধানের খড় অপেক্ষা গরু ও ঘােড়া
খাইতে বেশী পছন্দ করে। অনেক স্থানে ফলিবার পূর্বে
২১ বার আগা কাটিয়া গরুকে খাওয়ান হয় ; গরু ও ঘােড়ার
খাদ্যের জন্যও কোথাও কোথাও ইহার চাষ হইয়া থাকে।
মাসে শস্য পাকে। বিঘা প্রতি ৬/ মণ যই হয়। ইহার চাষ
সাধারণতঃ দিল্লী, মিরাট, হিসার প্রভৃতি স্থানে প্রচুর হয়।
যই ঘােড়ার খাদ্যের জন্য বিদেশে যায়।
পােকা-যই গাছের শীষে একপ্রকার পােকা ধরে ।
উহাকে ধসা পােকা বলে। (Oat smut) ওটের বীজগুলিকে
৪০% কম্যারসিয়াল ফারমিনাইলে ভিজাইয়া বুনিলে পােক।
ধরিতে পারে না।
৩৪
6997915 (Sorghum Vulgare)
জাতি—ভারতবর্ষে ও ব্রহ্মদেশে প্রায় ৮০ লক্ষ বিঘা জমিতে
জোয়ারের চাষ হইয়া থাকে। সাধারণতঃ দুই জাতীয় জোয়ার
কৃষ্ট হয়। যে জোয়ার শরৎকালে পাকে তাহাকে খারিপ এবং
যাহা বসন্তকালে পাকে তাহাকে বরি জোয়ার বলে।
ভূমিউচু, নীচু, উর্বর ও অনুর্বর সকল জমিতেই ইহা
হয়। তবে বৃষ্টির জল বাঁধা জমিতে হইবে না, জল বাঁধিলে ইহা
পচিয়া যায়।
চাষকালবৈশাখী বৃষ্টির পর বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে জমি
চাষ করিয়া ও মে দিয়া মাটি গুড়া করিবার পর উভয়দিকে এক
হাত অন্তর ২ ইঞ্চি মাটির তলে দানা বা বীজ পুতিতে হয়। এই
বীজে শরৎকালে ফল হয়, এবং কার্তিক মাসে বপন করিলে
ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে পাকে। বিঘা প্রতি ১ সের বীজ
লাগিবে ।
সার—পলি পড়া মাটিতে সারের দরকার নাই। পশ্চিম
বাংলায় বিঘা প্রতি ২০ গাড়ী গােবর সার দিতে হইবে বা ধঞ্চে
সার দিয়া লাগাইবে ।
পােকা-জোয়ার গাছে প্রায়ই “বস পােকা” লাগে ।
বীজগুলি তুতের জলে বা ফারমিনাইলে ডুবাইয়া বপন করিলে
পােকার হাত হইতে রক্ষা পাওয়া যায় । যেখানে পােকার
উৎপাত বেশী তথায় কার্তিক মাসে লাগাইলে শীতে ঐ পােকা
খাদ্যশস্য
তত বেশী হয় না। পােকার হাত, হইতে রক্ষা করিলে বিঘা
প্রতি ২/৩ মণ হইতে ২০ মণ পর্যন্ত বীজ হয়। ইহাও পশুর
খাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
বাজরা
বাজার রুটি, ছাতু ও খৈ হয় । গরীব লােকেরা ইহা খায়,
এবং পশুর খাদ্যরূপে গাছ ও শস্য ব্যবহৃত হয়।
আষাঢ় মাসের প্রথমেই ইহা বপন করিতে হয়। বিঘা
প্রতি ৩/• সের বীজ দরকার। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে ইহা
পাকে।
বিঘা প্রতি ২/০ মণ ফসল হয়। শুষ্ক বালুকাময়
জমিতে ইহ জন্মে।
শ্যামা
ইহা জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে বপন করিতে হয়। বিঘা প্রতি
• পােয়া বীজ দরকার। ফলন বিঘাপ্রতি ২/৩ মণ হয়।
সেচ বা সারের দরকার হয় না। ইহাও পশুর খাদ্য, তবে ইহার
দানা দ্বারা গরীবেরা খৈ করিয়া খায়।
কোদো
জ্যৈষ্ঠমাসের শেষভাগে বপন করিতে হয়। বিঘা প্রতি /
পােয়া বীজ আবশ্যক। আশ্বিন মাসে পাকে। বিঘা প্রতি ৩০
উয়। কোদো জঙ্গলময় ও নীরস বালুকাময় জমিতেও ইহা
উৎপন্ন হইয়া থাকে। ইহার শস্যে মাদকতা শক্তি আছে।
চিনা
ফাল্গুন চৈত্রে বপন করিতে হয়। বিঘা প্রতি ৩ সের
বীজ দরকার। ইহা আশ্বিন কার্তিকে পাকে। বিঘা প্রতি ৩/
মণ ফসল হয়। কার্তিক মাসে বুনিলে ফাল্গুন চৈত্রে পাকে।
ইহার চাউল অতি সুন্দর, উৎকৃষ্ট পায়স হয়। বাংলার পাবনা
জেলায় নানাস্থানে ইহা হইয়া থাকে।
মটর (Pisum sativum)
মটর দ্বিদল বীজ। এই গাছের ডালে ডালে শুটির মধ্যে
মটর হয়। ইহা লতা জাতীয় গাছ।
মটরকে সাধারণতঃ দুইভাগে বিভক্ত করা যায়, যথা-
বিলাতী ও দেশী। বিলাতী মটর আকারে বড়, এবং দেশী মটর
আকারে ছােট হয়। ঘােট দেশী মটরকে কোথাও কোথাও
পায়রা মটর বলে। আর এক রকম বড় মটর আছে তাহাকে
কাবুলী মটর বলে। কাবুলী মটর দেখিতে সাদা ও আকৃতি
বড়। ইহার ডাইল আকৃতিতে বড়, দেখিতে ছােলার ডাইলের
মত।
বীজের পরিমাণ ও বপন সময়—কাবুলী মটর বা বড়
দানা বিঘা প্রতি /৭ সের, পায়রা মটর ছােট দানা বিঘা প্রতি
৩৮
খাদ্যশস্য
টি
/৫ সের বপন করিতে হয়। স্থানভেদে উঁচু জমিতে আশ্বিন
কার্তিক এবং নীচু জমিতে কার্তিক অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত মটরের
বীজ বােনা যায়।
সাধারণতঃ পৌষ মাঘ মাসে শুটি ধরে।
চৈত্র মাসে ফল পাকিয়া উঠে ও লতা শুকাইতে আরম্ভ করে।
মটর গাছ প্রতি বৎসর ফল ধারণের পর মরিয়া যায়।
বিক্রয় করিতে হইলে আশ্বিন মাসে বীজ বােনাই শ্রেষ্ঠ।
জমি নির্বাচন ও চাষ—সারযুক্ত দোআঁশলা বা পলিপড়া
মাটি হইতে জল সরিয়া গেলে বীজ ছিটাইয়া বুনিতে হয়।
উচু জমিতে ৩ বার চাষ দিয়া মৈ দিয়া মাটি সমান করতঃ বীজ
ছড়াইয়া পুনরায় মৈ দিতে হয়।
ফলন—বিঘা প্রতি ৮/ মণ হইতে ১০/ মণ পর্যন্ত মটর
হইয়া থাকে। শুটি বিক্রয়ে বেশী লাভ ; গাছগুলি গরুর খাদ্য।
মটরের শুটি বিক্রয় করিতে পারিলে বিঘা প্রতি ২৫ টাকা,
এবং মটর বিক্রয় করিলে বিঘা প্রতি নেট ১৫ টাকা লাভ হয়।
সায়াবিন
ইহা মটর জাতীয়, কিন্তু লতান নহে—গুল্ম। যেখানে জল
দাড়ায় এইরূপ দোআঁশলা সারযুক্ত মাটিতে ইহার চাষ করিতে
হয়। বাংলার সর্বত্রই সয়াবিনের চাষ হইতে পারে, বিশেষতঃ
উত্তর ও পশ্চিমাংশের জমি সয়াবিন চাষের বিশেষ উপযােগী।
গােপালগঞ্জে এক মিশন ৬/৩ বিঘা জমিতে সয়াবিন চাষ করিয়া
একটি স্কুল চালাইতেছেন।
খাদ্যশস্য
গষের সময়
-আশ্বিন ও
ও কার্তিক মাসে নিম্ন ভূমির জল
নামিয়া গেলে পলিপড়া মাটিতে বিনা সারেই ইহা লাগান যায়।
পশ্চিম বাংলার উচু জমিতে বিঘা প্রতি ১/ মণ রেড়ীর খইল
পচা গােবর সারের সহিত মিশ্রিত করিয়া দিলে উৎকৃষ্ট ফলন
হইবে ।
বীজের পরিমাণ—বিঘা প্রতি /২৷৷ সের বীজ প্রয়ােজন।
দেড় হাত অন্তর একটি করিয়া বীজ বা দানা পুতিবে। লাইনের
দূরত্ব যেন দুই হাত হয়। গাছ খুব ঘন হইলে ফল ভাল হয়
, একটি গাছের গায়ে যেন আর একটি গাছ না লাগে ।
বিঘা জমির চাষের সর্বসমেত খরচ ৩০ টাকা, ফল বিক্রয়
করিলে বিঘা প্রতি ১০০ হইবে। খরচ বাদে প্রতি বিঘা
জমিতে ৭০, লাভ থাকিবে। পতিত জমিতে এই চাষ করিলে
কৃষকদের আর্থিক অবস্থা কিছু উন্নত হয়। এই বীজকে
সর্বশ্রেষ্ঠ খাদ্যরূপে ডাক্তারগণ মত প্রকাশ করিয়াছেন। ইহা
হইতে আটা, ডাইল, তরকারী, সয়ার দুগ্ধ ও বিস্কুট ইত্যাদি
এক
হয়।
মুগ
সাধারণ বিবরণ—কলাইএব মধ্যে মুগই প্রধান। মুগ
কলাই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত ;-( ক) কৃষ্ণমুগ ( খ ) সােনামুগ।
কৃষ্ণমুগ দেখিতে কালাে, আকারে সােনামুগ অপেক্ষা বড়।
সােনামুগ আবার
তিনভাগে বিভক্ত, যথা,—সােনামুগ,
৭০ খাদ্যশস্য ঘােড়ামুগ ও ঘেসােমুগ। সােনামুগের ডাল সর্বোৎকৃষ্ট ও সুগন্ধযুক্ত। ঘােড়ামুগ ও ঘােসােমুগ দেখিতে সােনামুগের ন্যায় কিন্তু আকৃতি একটু লম্বা ও সামান্য সবুজ আভাযুক্ত। সােনামুগ আকৃতিতে একটু ছােট, দেখিতে পীতাভ। বাজারে ঘােড়ামুগ ও ঘেসােমুগ, সােনামুগ বলিয়াই বিক্রয় হয়। এই বর্ণনা মনে রাখিলে বাজারে কিনিবার সময় ঠকিতে হইবে না। বপন সময়—হুগলী ও বর্ধমান জেলায় আশ্বিন মাসে এবং নিম্ন বঙ্গে অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে বােনা হয়। কিন্তু যুক্ত ও মধ্যপ্রদেশে আষাঢ় মাসে বােনা হইয়া থাকে । চাষ-তৃণহীন উচু জমিতে ৩৪টি চাষ দিয়া ও মাটি উত্তম- রূপে গুড়া করিয়া বিঘা প্রতি ৫ সের কৃষ্ণমুগ এবং /৪ সের সােনামুগ বুনিতে হয়। পচা গােবর সারই উৎকৃষ্ট সার। নদীর তীরবর্তী পলিপড়া মাটিতে সার দরকার নাই। ফলন—এক বিঘা জমিতে সােনামুগ ৩/ মণ এবং কৃষ্ণমুগ ৪/ মণ হইয়া থাকে। বপনের কিছুদিন পরে এক পসলা বৃষ্টি পাইলে ভাল ফসল হয়। ঔষধার্থে ব্যবহার—মুগ জ্বর রােগীর পথ্য। রােগীর পক্ষে ঘােড়ামুগ সােনামুগ হইতে উপকারী। মুগের ডাইল খাইলে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি হয়। মুগের ডালের বেসম হয়। তদ্বারা পাঁপড় হয়। মুগের ডালের বেসমে সাবান অপেক্ষা ভালভাবে গাত্র পরিষ্কার হয়, ইহাতে ত্বক নরম ও পরিষ্কার থাকে।
9723 ( Lens Esculenta)
হয়।
সাধারণ বিবরণ—মসূর ভারতবর্ষের অনেক স্থানে চাষ
হইয়া থাকে। মধ্যভারত ও মাদ্রাজে ইহার চাষ অধিক।
পাঞ্জাবে ২৪০০ একর, উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে ১৬০০০০ একর
জমিতে ইহার চাষ হইয়া থাকে। মধ্যভারতে নর্মদা নদীর
উপত্যকায় সাতপুর এবং ছত্রিশগড় জেলায় অতি উত্তম মসূর
বঙ্গদেশের মধ্যে পাবনা জেলার দানা বড় হয়, কিন্তু
বরিশালের মসূরের ডালের স্বাদ অতি সুন্দর ও মিষ্ট। বাংলার
সকল জেলাতেই কিছু কিছু মসূরের চাষ হইয়া থাকে। পশ্চিম
বাংলার উচু জমিতে এবং পূর্ব বাংলার নীচু জমিতে মসূর
মাটির উপর ছিটাইয়া বােনা হয়। সারহীন জমিতে মসূর
ভাল হয় না। প্রতি জেলায়ই বুনিবার সময়ের কিছু তারতম্য
আছে। স্থানবিশেষে আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ পর্যন্ত
বােনা হইয়া থাকে।
চাষ ও বীজের পরিমাণ-আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ
মসূর বপনের সময় । তবে যত শীঘ্র বােনা যায়, ততই
ভাল ফসল হয়। এক বিঘা জমিতে ৫৬ সের বীজ লাগে।
৪৫ বার লাঙ্গল দিয়া মাটি খুঁড়া করিয়া তৃণহীন জমিতে বীজ
বুনিয়া মই দিতে হয়। মসূর ডালের জমি একটু রসাল
না হইলে ফসল ভাল হয় না। পাবনা ও বরিশালের পলি
মাটিতে এই কারণে উৎকৃষ্ট মসূর হইয়া থাকে।
ছােলা (Cicer orictinum)
সাধারণ বিবরণ—ছােলা ভারতবর্ষে পুরাকাল হইতে চাষ
হইয়া আসিতেছে। পুরাণাদিতে অনেক স্থানে ছােলার উল্লেখ
আছে। ভারতে মােট ৩ কোটি ৬০ লক্ষ বিঘা জমিতে
ছােলার চাষ হইতেছে। অযযাধ্যা, পাঞ্জাব, বােম্বাই, মধ্যভারত,
মহীশূর, বেরার, মাদ্রাজ, ব্রহ্মদেশ, গােয়ালিয়র ও বাংলা প্রভৃতি
স্থানে ছোলার চাষ হয়।
জাতি-ছােলা সাধারনতঃ তিন জাতীয় দেখা যায়, যথা-
দেশী, কাবুলী ও পাটনাই। দেশী ছােলা আকারে ছােট,
কাবুলী ও পাটনাই অপেক্ষাকৃত বড়।
বীজের পরিমাণ—বিঘা প্রতি দেশী ছােলার বীজ দশ
সের, পাটনাই ।১ এগার সের, কাবুলী ২ সের বীজ দরকার
হয়। বর্ষার বৃষ্টি বন্ধ হইলে আশ্বিনের শেষ হইতে কার্তিক
পর্যন্ত ইহা বােনা যাইবে।
জমি ও চাষ-দোআঁশলা বা নদীর পলিপড়া মাটি উৎকৃষ্ট।
ছােলা বুনিবার সময় জমিতে রস থাকা চাই। সেচ দেওয়া
আবশ্যক নাই, তবে জমির মাটি আলগা না থাকিলে শিশির
প্রবেশ করিতে পারে না। শিশির প্রবেশ করিতে না পারিলে
গাছ ভাল বাড়ে না। ছােলার জমিতে মটরের ন্যায় সার
দিতে হয়। ইহার চাষের বিবরণ পৃথক আবশ্যক করে না,
খাদ্যশস্য
ফলন
ঠিক মটরের ন্যায় চাষ'। যে জমিতে চূণের ভাগ বেশী
আছে, তাহাতে ছােলা ভাল জন্মে। বুনিবার পর অধিক
বৃষ্টি হইলে, কিম্বা সুটি ধরিবার পর বৃষ্টি হইলে ছােলা নষ্ট
হইয়া যায়।
গাছ একটু বড় হইলে মাথা কাটিয়া দিলে
ভালপালা বেশী হয় এবং ফল বেশী ধরে।
পাকিবার সময়—ছােলা ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাকিয়া
থাকে ; কেহ কেহ গাছ উপড়াইয়া বিক্রয় করে। কাঁচা ছােলা
খাইতে মিষ্ট, পােড়াইয়া খাইলে আরও মিষ্ট লাগে ।
বিঘা প্রতি ৪/ মণ হইতে ৮/ মণ পৰ্যন্ত হইয়া থাকে।
ব্যবহার ও গুণ—ছােলা ভারতবর্ষের অনেক দেশের প্রধান
খাদ্য। ইহা গাে, মহিষ, ঘােটকের জন্য প্রচুর পরিমাণে
ব্যবহৃত হয়। ছােলা অতিশয় পুষ্টিকর খাদ্য, ইহার ছাতু
খাইয়া অনেকে দিন কাটায়। ছােলা গাছের উপর পরিষ্কার
কাপড় বিছাইয়া দিলে রাত্রিকালে যে শিশির পড়ে, উহা
খাইতে অম্লরস বিশিষ্ট। কবিরাজী শাস্ত্রে এই শিশিরের জল
ম্লরােগ নিবারক।
07659 (Cajanus Indicus)
কোন কোন প্রাচীন পুস্তকে অড়হর গাছের বর্ণনা দেখা
যায় ; ইহাতে বােঝা যায় অতি প্রাচীনকাল হইতেই আমাদের
দেশে ইহার চাষ হইয়া আসিতেছে। ১৬৮৬ অব্দে মালাবার
;
৭৪ খাদ্যশস্য উপকূলখণ্ডে ইহার বিস্তৃত চাষ হয়। সাদা ও লাল দুই রকম অড়হর বােম্বাই প্রদেশে চাষ হয়, এবং পরে তথা হইতে ভাল বীজ ভারতের নানাস্থানে ছড়াইয়া পড়ে। উৎপত্তি স্থান—অড়হর বােম্বাই, মাদ্রাজ, যুক্তপ্রদেশ, ব্রহ্মদেশ, মহীশূর, বেরার, রাজপুতনা, মধ্যভারত, বঙ্গদেশ ও আসামে চাষ হয়। চাষ প্রণালী—“ধন্য রাজার পুণ্যদেশ, যদি বর্ষে মাঘের শেষ।” মাঘ মাসে বৃষ্টি হইলে অড়হরের জমিতে ১৫ বার চাষ দিয়া মাটি আগা ও তৃণহীন করিতে হইবে। পরে কালবৈশাখীর প্রথম বৃষ্টিতেই বিঘা প্রতি ৫ সের বীজ বুনিয়া চাষ ও মই দিতে হইবে। কিন্তু যদি ২ হাত অন্তর ২১টি করিয়া বীজ দেওয়া হয়, তবে মাত্র /১ সের বীজ লাগিবে। গাছ পাতলা হইলে ফল বেশী হইবে । গাছ এক হাত উচু হইলে আইল বাঁধিয়া দিলে গাছ ভাল হয়। সমতল ভূমি অপেক্ষা আইলের গাছ ভাল হয়। বর্ষায় অড়হর গাছের জল নিকাশের বন্দোবস্ত রাখিতে হইবে। অড়হর ও ভুট্টা একসঙ্গে বােনা চলে । ভুটা পাকিয়া গেলে অড়হর গাছ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। বৈশাখ-জ্যৈ মাসে যে অড়হর বােনা হয়, তাহাকে মাঘী এবং আষাঢ় মাসে বােনা অড়হরকে চৈতালী অড়হর বলে। শেষােক্ত অড়হর মাদ্রাজে বেশী চাষ হয়। অড়হর বাংলা দেশে ফান- চৈত্র মাসে পাকিয়া থাকে। জমির উর্বরতা অনুযায়ী ৭/ মণ খাদ্যশস্য হইতে ১০/ মণ পর্যন্ত ফলন হইয়া থাকে। পাটনাই অড়হর দেশী অড়হর অপেক্ষা বড় হইয়া থাকে এবং আস্বাদও ভাল। বাংলাদেশের মাটির পক্ষে কুমিল্লার অড়হরই শ্রেষ্ঠ। একবার লাগাইলে ৩ বৎসর পর্যন্ত থাকে। পােকা—অড়হর গাছে একরূপ পােকা ধরিয়া সমস্ত ফসল নষ্ট করিয়া দেয়। গাছগুলি ছোট থাকিতে প্রজাপতি গাছের গায়ে ডিম পাড়ে; সেই ডিম হইতে যে পােকা হয় তাহা গাছের ভিতর প্রবেশ করিয়া গাছের রস খায়। সুটি ধরিলে সেই পােকাই তাহার ভিতর প্রবেশ করিয়া ফল নষ্ট করিয়া দেয়। যে জমিতে অড়হর হইয়াছে, অড়হর পাকার পর গাছ- গুলি ঐ জমিতে পােড়াইয়া দিলে এবং পতিত রাখিলে, অথবা অড়হরের সহিত ভূট্টার গাছ লাগাইলে পােকার হাত হইতে রক্ষা পাওয়া যায় । অড়হর গাছে গালা-উত্তরবঙ্গে ও আসামে গালা চাষের জন্য অড়হর চাষ করা হয়। তথাকার চাষীরা গালার পােকা অড়হর গাছে ছড়াইয়া পােকাগুলি বংশ বিস্তার করিতে করিতে সকল গাছেই ছড়াইয়া পড়ে। গালার জন্য চাষ করিতে হইলে কুমিল্লার অড়হরই শ্রেষ্ঠ, কেননা তিন বৎসর গাছগুলি জীবিত থাকে। গালার জন্য লাগাইতে হইলে ফান-চৈত্র মাসে জমি উত্তমরূপে চাষ করিয়া এবং প্রতােক ৪ হাত অন্তর গর্ত করিয়া কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে একটি বা দুইটি করিয়া প্রতি গর্তে বীজ দিবে। (৮০ হাত প্রস্থ ৮০ হাত দেয়।
খাদ্যশস্য
দীর্ঘ বাংলায় এক বিঘ) ৪ হাত অন্তর গর্ত করিলে ২০টি
লাইন হইবে। ২০X২০ = ৪০০ শত গর্তে ৪০০ গাছ রাখিবে ।
বর্ষা অন্তে আশ্বিন কার্তিকে গাছে লাক্ষার বীজ লাগাইবে ।
( লাক্ষা চাষ দ্রষ্টব্য)
বিরী বা মাষকলাই
সাধারণ বিবরণ—মাষকলাই ভারতের সর্বত্র চাষ হয়।
ভারতে ১৫ রকম মাষকলাইর চাষ আছে। ইহা বাংলার
সমতল ভূমিতে প্রচুর জন্মে। আউশ ধান কাটিয়া দুইটি চাষ
দিয়া বীজ ছড়াইয়া একবার চাষ ও মই দিলেই যথেষ্ট হইবে ।
খনার মতে ভাদ্র মাসের ১০ তারিখের পর আশ্বিনের ১৯
তারিখের মধ্যে কলাই চাষের উৎকৃষ্ট সময়, যথা-
“ভাদ্রের উনিশ
আশ্বিনের উনিশ
যত পারি কলাই বুনিস্।”
সাধারণতঃ হুগলী, হাওড়া, বর্ধমান, চব্বিশ পরগণা
প্রভৃতি জেলার নিম্ন ভূমিতে ভাদ্র মাসে এবং সাওতাল
পরগণা ও পার্বত্য স্থানে আষাঢ়-শ্রাবণে কলাই বুনিয়া
থাকে।
বীজের পরিমাণ ও উৎপন্ন ফসল—এক বিঘা জমিতে/৫
সের বীজ আবশ্যক। ভাল ফসল হইলে ৩/ মণ হইতে ৪/ মণ
খাদ্যশস্য
৭৭
পর্যন্ত হইয়া থাকে। বীরভূ, বর্ধমান, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর
এই চারি জেলায় ইহার ডালের প্রচলন বেশী। হাওড়া-
হুগলী, ২৪ পরগণায় কিছু কিছু ব্যবহার হয়। পূর্ববঙ্গে
সাধারণতঃ এই ডালের বড়া তৈয়ারী হয় ও পশুর খাদ্যরূপে
ব্যবহৃত হয়।
বরবটী (Vigna Gatjung)
••
আর
সাধারণ বিবরণ-বরবটী কলাই নানাজাতীয় ; একপ্রকার
বাগানে চাষ হয়, ইহার গাছ লতা জাতীয়। ইহা সুটির
আকার লম্বা, বাজারে তরকারীরূপে বিক্রয় হয়।
এক প্রকার বরবটী ক্ষেত্রে চাষ হয়। ইহার কাচা সুটির
তরকারী বেশ ভাল হয়। সুটি 'পাকিলে ভিতরে মুগের
ডালের ন্যায় ভাল হয়। আস্বাদ মুগের ন্যায়। বরবটীর
বড়ি অতিশয় মিষ্ট।
চাষ ও বসাইবার সময়—বাগানে যে বরবটী কলাইয়ের
চাষ হয়, তাহার অপর নাম রম্ভা কলাই। এই কলাই
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বসাইতে হয় । যে কলাই জমিতে চাষ
করিতে হয়, তাহা কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে বুনিতে হয়।
জমি-দোআঁশলা উর্বরা হইলে ভাল হয়, বিঘা প্রতি ৫
সের বীজ বুনিতে হয় । ফসল বিঘাপ্রতি ২/ মণ হইতে ৩/
মণ হয়। এই বীজ দিলে জমি উর্বর হইবে।
খেসারি (Lathyrus Sativus) নিম্ন আমন জমিতে বা চর জমি হইতে জল নামিয়া গেলে বীজ ছিটাইয়া বােনা হয়। আশ্বিন-কার্তিকে কাদাযুক্ত বা সর পড়া মাটিতে বিঘা প্রতি /৯ সের বীজ ছিটাইয়া বােনা হয়। ইহার জন্য অপর সারের দরকার নাই, ধান্যের জন্য যে সার দেওয়া হইয়াছিল, তাহাতেই চলিবে, বা নদীর পলি যেখানে পড়িয়াছে সে জমিতেও সারের প্রয়ােজন নাই। অনেক জমিতে ধান থাকিতে থাকিতে বােনা হয়, ধান কাটিবার সময় খেসারি গাছ ছােট থাকে, চৈত্র মাসে পাকে। অনেক স্থানে কাঁচা থাকিতেই গরুকে খাওয়ায়। এই ডাল পূর্ববঙ্গে বেশী হয়, পাবনা ও ফরিদপুরে সব চেয়ে বেশী জন্মে। পশ্চিম বঙ্গের অনেকের ভুল ধারণা আছে যে খেসারি ডাল খাইলে পক্ষাঘাত বা রাত অন্ধ হয়। ইহা বিলাতে রাজকীয় ডাক্তারী প্রতিষ্ঠানে ডাঃ ডাষ্টান্ কর্তৃক পরীক্ষিত হইয়া স্থির হইয়াছে যে, খেসারি কলাইতে এমন কোন পদার্থ পাওয়া যায় নাই, যাহাতে পক্ষাঘাত বা রাত অন্ধ হইতে পারে। ইহা মনুষ্য অপেক্ষা পশুর শ্রেষ্ঠ খাদ্য। fost (Sesamum indicum) জাতি—তিল সচরাচর কাল, লাল, শ্বেত ও ধূসর বর্ণ- ভেদে চারি প্রকার। কোন কোন স্থানে ইহার গাছ এক
খাদ্যশস্য
হাতের অধিক উৰ্দ হয় না। আবার কোন কোন স্থানে
দুই হস্ত পরিমাণ উচ্চ হয় । সচরাচর ইহার ফুল শ্বেতবর্ণ।
আর এক প্রকার তিলের ফুল লালবর্ণ হয়।
সাদা তিলের
পাতা অতিশয় চওড়া ও সবুজবৰ্ণ । কৃষ্ণতিল অপেক্ষা সাদা
তিল খাইতে মিষ্ট এবং ইহাতে তৈলের ভাগ বেশী আছে।
উৎপত্তি স্থান-ভারতের অন্তর্গত সিন্ধুদেশ, বােম্বাই,
মাদ্রাজ, হায়দ্রাবাদ, পাঞ্জাব, রাজপুতানা, অযােধ্যা, আসাম,
বঙ্গদেশ, বেরার, ব্রহ্মদেশ প্রভৃতি স্থানে প্রচুর পরিমাণে তিলের
চা হয়।
চাষ প্রণালী-বৃষ্টি হইলে তিলের জমিতে একবার চায়
ও মই দিয়া দুই চারিদিন পরে আবার চাষ ও দুইবার
মই দিতে হয়। পূনরায় আবার
পুনরায় আবার দুইটি চাষ
দুইটি চাষ ও মই দিয়া
মাটি বেশ গুড়া হইলে বিঘা প্রতি ৩০৪০ মণ গােবর সার
দিয়া জমিতে রস থাকিতে থাকিতে তিল বপন করিতে
হয় । তিলের জমি বেশ উচ্চ হওয়া আবশ্যক। পলিযুক্ত
জমিতে বা পাথুরিয়া জমিতে তিল বেশ ভাল হয়। তিলের
জমির মাটিতে চুণ প্রভৃতি থাকিলে তিল বেশ ভাল হয়।
মাঘ মাস তিল বুনিবার প্রকৃত সময়। তিল বিঘা প্রতি
দেড় সের কিম্বা দুই সের আবশ্যক করে। যখন চারাগুলি
৪৫ ইঞ্চি বড় হয়, তখন জমিটি একবার ছােট কোদাল
বা চঁাচনী দ্বারা নিড়াইয়া দিতে হয়। যদি চারা ঘন থাকে
উপড়াইয়া দেওয়া উচিত। প্রথম নিড়ানীর পর
তবে উহা
খাদ্যশস্য ১০/১২ দিন পরে আবার একবার নিড়ান দিতে হয়। তিলের জমিতে আর কোন পাট করিবার দরকার করে না। চৈত্র মাস তিল কাটিবার সময়। তিলগুলি কাটিয়া একত্রে গাদা দিয়া ৪৷৫ দিন রাখিতে হয়, এবং লাঠি দ্বারা ঠেঙ্গাইয়া লইলে তিল পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে ৩৪ মণ তিল জন্মে। আউশ তিল বা কৃতিল আগষ্ট কিংবা সেপ্টেম্বর মাসে বপন করিতে হয়, এবং জানুয়ারী মাসে পাকিয়া থাকে । আউশ তিলের সহিত কলাই অথবা তুলা বীজ মিশ্রিত করিলে উভয় ফসলই এক জমিতে পাওয়া যায়। তিলের জমিতে চাষ ও মাটি প্রস্তুত করিবার প্রণালী—আমন তিলের ন্যায়। ঢাকা জেলায় মাঘ মাসের মধ্যভাগে বিঘা প্রতি দেড় সের হিসাবে তিল ও দশসের পরিমাণে আমন ধান্য একসঙ্গে বুনিয়া, থাকে। তিলগুলি চৈত্র মাসে কাটিয়া লইলে আমন ধান্য উৎপন্ন হয়। এইরূপ জমিতে বিঘা প্রতি ৩/ মণ তিল হয়। মেদিনীপুর জেলায় চারি প্রকার তিল জন্মে। ইহার মধ্যে কাল ও সাদা তিল বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠে জঙ্গলের নিকটবর্তী স্থানে বপন করে। পৌষ মাসে পাকিয়া থাকে। খালা নামক তিল ফাল্গুন-চৈত্রে আকের জমিতে বােনে ; জ্যৈষ্ঠ মাসে কাটে। ভাদু তিল বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠে বােনে, ভাদ্র মাসে কাটে। হুগলী জেলায় কাল তিল আষাঢ়ে বােনা হয় ; আশ্বিনে কাটে। কাল তিল পৌষ মাসে বােনে, আষাঢ় মাসে কাটে।
খাদ্যশস্য কৃষ্ণ তিল ফরিদপুর জেলায় নিম্ন ভূমিতে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে তিল বপন করে এবং ভাদ্র মাসে কাটে। কালাে তিল মাঘ-ফাঙ্গনে বােনে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে কাটে। রংপুর জেলায় দুই জাতীয় তিলের চাষ হয়, যথা কৃষ্ণ তিল ও রক্ত তিল। ভাদ্র-আশ্বিনে বােনে, পৌষ মাসে পাকে। পৌষ মাসে পাকে। ইহা উচু জমিতে ভাল হয়। রংপুর এই তিল ঠিকরী কলাইএর সঙ্গে বুনিয়া থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ভিন্ন সময়ে তিল বােনে ও কাটে অর্থাৎ তিল বারমাস হয়। তৈল—তিলের তৈল প্ৰস্তুত করিতে হইলে, তিল ঝাড়িয়া ধুলা ও গুড় পরিষ্কার করিতে হয়। পরিষ্কৃত তিল ঘানিতে ভাঙ্গিলে তৈল হয়। তৈল ভারতবর্ষ হইতে বহু পরিমাণে বিদেশে রপ্তানী হয়। খইল—তিলের খইল গরুতে খাইলে উহার দুধ বৃদ্ধি অন্য খইল অপেক্ষা তিলের খইল গরুতে ভাল খায়। তৈলেরব্যবহার—তিলের তৈল ছবি আঁকিবার জন্য ব্যবহৃত সাবান প্রস্তুত, শরীরে মালিশ, ও জ্বালানের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাদামের তৈল ও ঘৃতের সহিতও তিল তৈল ভেজাল দেয়। বিদেশ অলিভ অয়েল (চনিকধর তৈল ) আমদানী হয় তাহাতে তিল তৈল মিশ্রিত থাকে। তিল তৈল হইতে অনেক সুগন্ধি তৈল প্রস্তুত হয়, এই তৈলের সহিত গােলাপ, বেল, বকুল, প্রভৃতি পুষ্প মিশ্রিত করিয়া সুগন্ধি তৈল প্রস্তুত করে। হয়। হয়। ইহা হইতে যে
৮২
খাদ্যশস্য
ঔষধার্থে ব্যবহার—তিল বাটিয়া আঠার মত করিয়া
মাখম মিশাইয়া স্থানে দিলে রক্তপাত বন্ধ হয় । তিলের
তৈল বাতরােগে উপকারী। তিল তৈলে মস্তিষ্ক শীতল
রাখে । বাটা তিল দগ্ধ স্থানে ও টাকে দিলে ভাল হয়।
প্রাতঃকালে তিলের ফুল হইতে শিশির বা জল খাইলে বা
চক্ষে দিলে চক্ষুরােগ আরাম হয়। পাতার রস ৬৭ দিন
খাইলে রক্ত আমাশয় আরাম হয়। তিল চূর্ণ ১০ 5েণ
প্রত্যহ ২৪ বার ব্যবহার করিলে বাধক রােগ আরাম হয়।
nfsat (Brassicasp)
সাধারণ বিবরণ—ভারতবর্যের যুক্তপ্রদেশে, মাদ্রাজ,
পাঞ্জাব, বােম্বে, মধ্যভারত ও ব্রহ্মদেশে প্রায় ১০ লক্ষ বিঘা
জমিতে সরিষার চাষ হয়।
শ্রেণীবিভাগ—সরিষাকে সাধারণতঃ ২ দুই ভাগে বিভক্ত
করা যায়। যথা-
১। উৰ্দ্ধ শুটীযুক্ত ( নাতুয়া)
২। নিম্ন শুটীযুক্ত (উল্টী )
এই দুই প্রকার সরিষা আবার শতাধিক প্রকারের
আছে। কাহারাে শুটিতে দুই সারি সরিষা, কাহারাে
খাদ্যশস্য ৮৩ উদ্ধশুটি, শুটিতে চারি সারি সরিষা, থাকে। নিম্নে প্রধান প্রধান গুলির নাম দেওয়া হইল :- নাম উৎপত্তি স্থান পরিচয় ১। ভাটিসরিষা মুর্শিদাবাদ ও সারি বীজ ২। টেপা সিংহভূম, বদ্ধমান শ্বেতবর্ণ ও ধূসর- বর্ণ ২ সারি বীজ ত্রিপুরা ও ননায়াখালী শ্বেতবর্ণ, ২ সারি বীজ ৪। ঝাটী সরিষা বাঁকুড়া ও ছোটনাগপুর বহু প্রশাখা বা শ্বেতী বিশিষ্ট বীজ ৫। কাজলি বা রংপুর, শিলিগুড়ি বীজ ২ সারি রং কাল সরিষা হুগলী, ২৪ পরগণ। কালাে গাছ লম্বা ও ডালযুক্ত ৬। টোরী সরিয়া রংপুর, ঢাকা, ত্রিপুরা গাছ ছােট ফল যশােহর, ফরিদপুর •! মেড়ি সরিষা মেদিনীপুর গাছ বড় হয় মগলাই ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা ৯। পাহাড় সিকিম কপি পাতার যায় পাতা ১০। শাদারাই মেদিনীপুর সােম ৪ সারি বীজ ১১। সাওতাল পরগণা শুটী উর্ধ্বমুখী ৪ সারি বীজ শীঘ্র হয় তেড়া সরিষা
৮৪
খাদ্যশস্য
;
ডাক্তার প্রেন সাহেবের মতে বঙ্গদেশীয় সরিষাকে তিন
ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা-
si atafay (B. Juncea).
মধ্য বঙ্গদেশের শ্বেতী সরিষা
ইহার গাছগুলি বড়
হয় এবং দেখিতে 'I'urnip গাছের ন্যায় ।
৩। টোরীসরিষার (B. Napus) চাষ সমগ্র বঙ্গদেশে
হইয়া থাকে। ইহা ছাড়া আরও ৪ রকমের সরিষা আছে,
তাহাদের পার্থক্য বিশেষ না থাকায় এস্থলে তাহাদের বর্ণনা
দেওয়া হইল না।
টোরী সরিষা-টোরী সরিষা ও ভারতীয় রেপ সরিষা
বঙ্গদেশ ও বিহারের বহুস্থানে চাষ হইয়া থাকে । ইহা
রাইসরিষার গাছ অপেক্ষা ছােট এবং ঊটার সহিত পাতা
গুচ্ছবদ্ধ ভাবে বাহির হয়। সরিষাগুলি রাই অপেক্ষা
আকারে বড়, খােসা বেশ মসৃণ নহে। টোরী সরিষার
ও রেপ সরিষার বীজ আকারে সমান, কিন্তু বঙ্গদেশীয় রেপ,
সরিষার দানা শ্বেতবর্ণ। রেপ, সরিষার দানা কখন কখন
টোরী সরিষা অপেক্ষা বড় হয়। টোরী সরিষার মধ্যে
কতকগুলি শীঘ্র এবং কতকগুলি দেরীতে জন্মে।
রাই সরিষা---এই সরিষা সমস্ত বঙ্গদেশে ও বিহারে
উৎপন্ন হয়। ইহার পাতা ডাটার সহিত গুচ্ছভাবে থাকে না।
ইহার দানা ধূসরবর্ণ ও ঈষৎ লাল, আকারে টোরী অথবা
রেপ সরিষা অপেক্ষা ছােট। রাইসরিষা আবার তিন ভাগে
খাদ্যশস্য
৮৫
••
বিভক্ত।
লম্বা গাছযুক্ত, ফেরীতে উৎপন্ন জাতি এবং শীঘ্র
উৎপন্ন জাতি। শেষােক্ত জাতি আবার দুইভাগে বিভক্ত
যথা—বড় গাছযুক্ত,-এইগুলি ছােটনাগপুর চট্টগ্রামে উৎপন্ন
হয় ; ঘােট গাছযুক্ত,-এইগুলি উড়িষ্যাদেশে জন্মে।
শ্বেতী সরিষা-শ্বেতী সরিষা অথবা উড়িষ্যার গঞ্জাটেরিয়া
বঙ্গদেশে ও বিহারের বহুস্থানে জন্মিয়া
জন্মিয়া থাকে। ইহার
ভাটার পাতা গুচ্ছাকারে থাকে না। উপরিভাগে গুচ্ছ গুচ্ছ
অনেক ফুল হয় ও গাছগুলি বড় হয় বলিয়া টোরীসরিষা
হইতে, ভিন্ন করা যাইতে পারে। ইহার দানাগুলি শাদা
হয় এবং ইহার মধ্যে যে জাতির বীজ ধূসর বর্ণ হয়,
তাহা রাইসরিষা অপেক্ষা আকারে বড় এবং উপরের খােসা
মসৃণ বলিয়া টোরীসরিষা হইতে ভিন্ন করা যাইতে পারে ।
সরিষার ফলে দুই সারি বাজবিশিষ্ট সরিষা ছােটনাগপুর
ও উড়িষ্যা দেশে জন্মে ; এবং চারি সারি বাজবিশিষ্ট
সরি পশ্চিম বিহার ও বঙ্গদেশে জন্মে।
চাষ ও রােপণ-সময়-টোরীসরিসা এবং শ্বেতী সরিয়া
মসূর, ছােল, মটর ইত্যাদির সহিত বােনা যায়। কারণ
ইহার গাছগুলি আকারে বড় হয়। সেজন্য মসূর, ছোলা,
ও মটরের উপরিভাগে জন্মাইতে পারে। সরিষা সেপ্টেম্বর
মাসের মধ্যভাগে বপন করিতে হয়। রাই সরিষা আরও
কিছু পূৰ্বে বােনা চলে। ফেব্রুয়ারী কিংবা মার্চ মাসে
সরিষা পাকিয়া থাকে। সরিষা দেরীতে বুনিলে উহাতে
খাদ্যশস্য
পােকা • ধরিবার সম্ভাবনা থাকে ; সেজন্য নির্দিষ্ট সময়ে
বােনা উচিত।
বীজের পরিমাণ—কলাইয়ের সঙ্গে সরিষা বুনিতে হইলে
এক বিঘা জমিতে /| ০ সের বীজ লাগে। আর যদি জমিতে
শুধু এই বীজ বুনিতে হয় তাহা হইলে এক বিঘা জমিতে
/১০ ( পাঁচ পােয়া ) বীজ লাগে। সরিষার চাষ করিলে
এক বিঘা জমিতে ৫৭ মণ সরিষার ফলন হয় ।
মিশ্রিত চাষ ও উৎপন্ন তৈল—মটর কলাইয়ের সহিত
সরিষার চাষ করিলে মটরের খুব ভাল ফলন হয়। কারণ
মটর গাছ লম্বা রাই গাছে উঠিয়া ফলন বৃদ্ধি করে। রাই
সরিষার তৈল শ্বেতী সরিষা অপেক্ষা পরিমাণে কম হয়।
একমণ রাই সরিষার দশ সের তৈল হয়, একমণ শ্বেতী
সরিষায় ১৩১৪ সের তৈল পাওয়া যায় ।
পােকার প্রতিকার-১। (Athalia Proximekl)
কালমেড়ী নামে এক প্রকার পােকা আছে। এই পােকা গুলি
শীতকালে অক্টোবর মাস হইতে মার্চ পর্যন্ত জমিতে প্রভাব
বিস্তার করে। বিহার, পূর্ণিয়া, সাহাদাবাদ এরং ভাগলপুরে
এই পােক। অত্যন্ত বেশী দেখিতে পাওয়া যায়। চুণের গুড়া
গাছে ছড়াইয়া দিলে অথবা রাস্তার ধুলার সহিত কেরােসিন
তেল মিশাইয়া গাছে দিলে উপকার হয়।
২। জাবপােকা (Aphisbrossico Lirn) নিম্নবঙ্গে ও
বিহারে এই পােকা গাছের পাতা, ফুল ও সরিষার শুটী
খাদ্যশস্য
৮৭
খাইয়া ফেলে; ইহাতে সরিষা গাছে কিছুই ফলন হয় না; কেবল
গাছের ডাটাগুলি থাকে। ইহাতে ( Crude oil emulsion)
ছিটাইয়া দিলে উপকার হয়।
৩। মেরী পােকা—(Crocidolomia pinotalis, Tell)
এই পােকাগুলি গাছের পাতা কোড়াইয়া তাহার মধ্যে বাস
করে ও পাতা খাইয়া ফেলে। সরিষার ফুল ও শুটী ধরিতে
আরম্ভ করিলে এই পােকাগুলি ফুল ও শুটীর রস খাইয়া
শস্যের বিশেষ ক্ষতি করে। এই পােকার বিশেষ কোন প্রতিকার
নাই ; Aerosene emulsion একমাত্র ঔষধ ।
81 Pohydesmus Exitliosus, Kouhu-95
পােকা রাই গাছে ধরিলে পাতায় কাল দাগ ধরে এবং পরে
এইগুলি বড় বড় আকার ধারণ করে। ইহাকে বঙ্গদেশে রাই
পােকা বলে । এই পােকা কপি ও মূলা প্রভৃতি গাছে ধরিয়া
থাকে। যখন গাছে পােকা ধরে তখন বাের্দো মিকশ্চার দিতে
এই ঔষধ আবার কপি ও মূলাতে দেওয়া যাইতে
পারে না।
তিসি বা মসিনা
তিসি অতি প্রাচীনকাল হইতে ভারতবর্ষে ব্যবহৃত হইয়া
আসিতেছে । মনুসংহিতা আইন আকবরী প্রভৃতি গ্রন্থেও
তিসির বর্ণনা দেখিতে পাওয়া যায়। প্রাচীন কালে ইহা
৮৮
খাদ্যশস্য
হইতে 'সূতা হইত। বর্তমানে তিসি হইতে তৈল প্রস্তুত
হইতেছে এবং সম্প্রতি গভর্ণমেন্ট সূতার জন্যও তিসির চাষের
ব্যবস্থা করিয়াছেন।
জাতি-
—সাধারণতঃ শ্বেত ও ধূসর বর্ণের তিসি দেখিতে
পাওয়া যায়। শ্বেত তিসি হইতে তৈল বেশী পরিমাণ হয় ।
ভারতবর্ষে প্রায় ১০ লক্ষ বিঘা জমিতে তিসির চাষ হয়।
তাহার মধ্যে বাংলায়, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নােয়াখালী, বরিশাল
ও ময়মনসিংহ জেলায় তিসির চাষ হইয়া থাকে।
মৃত্তিকা-দোয়াশ মাটিতে তিসি ভাল হয়।
বেলে মাটিতে ইহার চাষ ভাল হয় না।
চূণের ভাগ বেশী
থাকিলে ছােলা ও মসিনা একসঙ্গে বােনা চলিবে।
চাষ-বর্ষা কমিয়া গেলে ভাদ্রের শেষে আশ্বিনের প্রথমে
ঘন ঘন চাষ দিয়া বিঘা প্রতি /২ দুই সের বীজ বপন করিবে।
জমি আর্দ্র থাকিতে থাকিতে বীজ বপন করা উচিত। নীচু
আমনের জমিতে ধান কাটিয়া কাদার ভিতর ছিটাইয়া বােনা
চলে। তিসির ফুলে বৃষ্টি পাইলে বড় ক্ষতি হয়।
ফসলের সময়–ফান ও চৈত্রে তিসি পাকে। যখন
ইহাদের নীচের পাতা ঝরিয়া যায় এবং গাছে ফুল থাকে না
তখনই পাকিয়াছে বুঝিতে পারিবে। এক বিঘায় তিন চারি
মণ পর্যন্ত তিসি হয়। গাছগুলি হইতে সূতা হয়।
তৈল—একমণ তিসি হইতে। সের তৈল পাওয়া যায় ।
এই তৈল ছাপার কালী, বার্ণিশ, নরম সাবান ইত্যাদি শিল্পে
খাদ্যশস্য
লাগে। চেয়ার, টেবেল, জানালা, দরজা ইত্যাদি রং করিয়ে
এই তৈল ব্যবহার হয়।
চিনাবাদাম
উৎপন্ন হয় ।
চিনাবাদাম সর্বপ্রথম আমেরিকা মহাদেশে চাষ হইত।
তথা হইতে পৃথিবীর অপরাপর স্থানে ইহার চাষ প্রবর্তিত হয় ।
সম্ভবত প্রায় ৭০ বৎসর পূর্বে বাদাম চিনদেশ হইতে এই দেশে
আসে বলিয়া ইহকে চিনাবাদাম বলে। মাদ্রাজ প্রদেশে ইহার
চাষ অধিক পরিমাণে হয়, বোেম্বাই প্রদেশের মধ্যে কর্ণাট,
সােনাপুর, সেতারা প্রভৃতি স্থানে বিস্তর চিনাবাদাম হয় ।
মৃত্তিকা—চিনাবাদাম শুষ্ক বালুকাময় স্থানে বেশ ভাল
দোআঁশলা এঁটেল মাটিতে কম হয়, এটেল
মাটিতে কম হইলেও কখন ভােলা যায় না।
বপন সময়-আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র ব্যতীত সকল সময়ই
বপন করা যায় এবং যখনই বপন করা যায় ৬ মাসে ফুল
শােভিত হয়, ৭ মাসেই মাটি খুড়িয়া চিনাবাদাম তােলা যায়।
চাষ ও বীজের পরিমাণ—বিঘা প্রতি ৩ দশ সের
বীজ আবশ্যক হয়। বীজের উপরের খােসাটি আস্থে ভাঙ্গিয়া
দিবে যেন বীজ-দানায় আঘাত না লাগে। এক ফুট দূরে দূরে
বীজ বসাইবে। গাছ এক ফুট উচু হইলে আলুর ন্যায় পিলি
বা ভেলী বাঁধিয়া দিবে ।
খাদ্যশস্য
সার-দোআঁশলা বেলে জমির পক্ষে একগাড়ী গােবর সার,
একগাড়ী পচা পুকুরের বোঁদ মাটি ও একগাড়ী ছাই উৎকৃষ্ট সার।
এই সার দিতে অক্ষম হইলে ঐ জমিতে ধঞ্চে বুনাইয়া গাছগুলি
এক হাত উচু হইলে ভাঙ্গিয়া চুরিয়া জমি চষিয়া দিয়া বাদাম
বপন করিবে।
জল দেওয়া আবশ্যক হইলে আলুর জমির
ন্যায় নালা কাটিয়া জল দিবে ।
ফলন—এক বিঘা জমিতে ১৫/০ মণ চিনাবাদাম হইতে
পারে। কম পক্ষে ৬ টাকা মণে দরে বিক্রয় হইলেও ৯০
চাষের খরচ বিঘা প্রতি ৩০, ত্রিশ টাকার বেশী নয় ;
৯০-৩০ বাদ দিলে ৬০ টাকা বিঘা প্রতি নেট আয় হয় ;
ইহা লাভজনক কৃষি।
বাদাম তৈল—চিনাবাদাম হইতে তৈল উৎপন্ন হয়।
মণ চিনাবাদামে প্রায় সতের সের তৈল হয়। এই তৈল অনেক
ঔষধে ব্যবহৃত হয়। কলিকাতায় অনেক খাবারের দোকানে
এই তৈল দ্বারা লুচি ইত্যাদি ভাজা হয়। দুষ্ট ব্যবসায়ীরা
নারিকেল তৈল ও ঘৃতের সহিত ইহার ভেজাল দেয়। এই
তৈলে আলাে জ্বালা যায়।
টাকা ;
১৮৪০ অব্দে
শিমূল আলু
শিমূল আলুর আদি জন্মস্থান আমেরিকা।
পর্তুগীজদিগের দ্বারা ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে ইহা আনীত হয়।
বর্তমানে পণ্ডিচারী, দমন, দিউ ও গােয়া প্রভৃতি স্থানে প্রভূত
খাদ্যশস্য
পরিমাণে ইহার চাষ হইতেছে। দুর্ভিক্ষে ইহা খাদ্যরূপে ব্যবহৃত
হয়। এই আলু দুই রকম। ইংরাজা নাম কসাভা।
গাছের পরিচয় —কসাভা গাছ রেড়া গাছের ন্যায় লম্বা,
পাতা শিমূল গাছের পাতার ন্যায় । পাতার উপরিভাগ গাঢ়
সবুজবর্ণ, নীচের দিক ফিকে সবুজবৰ্ণ। একই ডাঁটায় স্ত্রী ও
পুং পুষ্প জন্মিয়া থাকে । স্ত্রী পুষ্প অপেক্ষ। পুপুষ্প আকারে
ক্ষুদ্র, এবং পুং পুষ্প স্ত্রী পুষ্পের উপরে থাকে। ফুলগুলির
বহির্ভাগ গাঢ় লালবর্ণের আভাযুক্ত সবুজ, ভিতর সামান্য লালের
আভাযুক্ত সবুজ।
বাজগুলি দেখিতে কৃষ্ণবর্ণ, গাছের মূল
দেখিতে ধূসর ও লালের আভাযুক্ত। মূলের ভিতর শ্বেতবর্ণ।
প্রায়ই ভারতে মিষ্ট কসাভা গাছের ফুল হয় না।
চাষ—এই গাছে জলের বিশেষ প্রয়ােজন নাই। এই
গাছের ডাল ৭৮ ইঞ্চি করিয়া কাটিয়া বেড়ার গায়ে পুতিয়া
দিলে পরে বেড়ার কাজ করিবে। জমি গভীর ভাবে কোপাইয়া
পরে চাষ দিয়া চারি হাত অন্তর ৭৮ ইঞ্চি লম্বা ডালগুলি একটু
বাঁকা করিয়া বৈশাখ মাসে বৃষ্টির পর পুতিয়া দিবে এবং প্রতি
২ মাস অন্তর গাছের গােড়া পরিষ্কার করিয়া খুচিয়া দিবে।
শীতের শেষ হইতে লাগান চলিবে। এই কসাভাকে পূর্ববঙ্গে
শিমূল আলু, মেদিনীপুরে সরক- আলু বলে। গাছগুলি
৪ ফুট হইতে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতি গাছে ৪৫
সের হইতে অর্প মণ পর্যন্ত আলু বা মূল হয়। ইহা
হইতে ময়দা প্রস্তুত হইয়া থাকে। এই গাছ বাংলার সর্বত্র
খাদ্যশস্য
০ ০
উচু জমিতে হইতে পারে। মিষ্ট জাতীয় গাছ লাগান ভাল,
তবে গরম জলে সিদ্ধ করিলে সামান্য তিক্ততা চলিয়া যায় ।
এক বিঘা জমিতে কসাভা গাছ লাগাইতে হইলে । ৬০০ শ
ডগা ( cutting ) লাগাইতে হইবে । ১৫০ হইতে ২০০ মণ
মূল বা আলু পাওয়া যাইবে। তাহার দাম অন্ততঃ ২০
টাকা বিঘা প্রতি আয় হইবে খরচ খুব বেশী হইলেও বিং
প্রতি ৫০ টাকা লাগিবে ।
ময়দা প্রস্তুত করণ—মূলগুলি মাটি হইতে তুলি
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করিয়া ধারাল ছুরি দ্বারা কাটিয়া, টুকরা টুক
করিয়া ১ ঘণ্টা জলে ভিজাইয়া রাখিয়া চেঁকিতে কুটিয়া মণ্ড
তৈয়ারী হইলে কাপড়ে বাঁধিয়া ছানার জল ফেলার ন্যায় ভা
জিনিষ চাপা দিয়া রাখিতে হইবে। তাহাতে তিক্ত ও বিষাত
পদার্থ বাহির হইয়া যাইবে। পরে উক্ত মণ্ড শীতল জ
গুলিয়া, কিছু সময় পরে ধীরে ধীরে উপরের জল ঢালিম।
ফেলিবে । নিচের দ্রবময় পদার্থ শুকাইলে ময়দা হইবে ।
গমের ময়দা সহ মিশাইয়া আটার রুটির ন্যায় রুটি, লুচি হালু :
ইত্যাদি প্রস্তুত হইবে।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.