Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shri Shri Gauragitabali Ed. 1st, Vol. 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
১ম খণ্ড।
১ম সংস্করণ।
বিজনারায়ণ আচার্য্য প্রণীত।
১৩৩৩ সন, আশ্বিন
মূল্য ॥০ আনা।
নেত্রকোণা রমাপ্রেসে
শ্রীরাধানাথ দত্ত দ্বারা মুদ্রিত।
গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত।
ত ©re প্রতি-উপহার। ঢাকা-হাসাড়া নিবাসী শ্রীল শ্রীযুক্ত কালীহর বসু ভক্তিসাগর মহাশয়ের প্রতি। === Ope প্রেমময় দাদা, তুমি ভক্তির সাগর। রসময় তনু তব, নিৰ্ম্মল অন্তর। ভাগ্যকুল হৈতে তুমি, এ শােচ্য দেশেতে। আসিয়াছ কতবার, পামর শােধিতে। নিজ অর্থ ব্যয় করি, আসিয়া এখানে। দিয়াছ পরমানন্দ, নৰ্ত্তনে কীৰ্ত্তনে। স্মরিয়া তােমার সেই মধুর মুরতি। অঝােরে নয়ন মাের ঝরে দিবা রাতি। নিজগুণে কৃপা করি, আমি অভাজনে। দিয়াছ অনেক শিক্ষা, অনেক যতনে । পাইয়াছি তব স্থানে, বহু উপদেশ। রাধা-কৃষ্ণ লীলা-রস-তত্ত্বের উদ্দেশ। বহু ঋণে ঋণী আমি আছি তব ঠাই। এ জীবনে এ ঋণেব পরিশােধ নাই। তথাপি তােমারে কিছু দিতে ইচ্ছা হয় । গ্রহণ করহ যদি হইয়া সদয় । তােমর আদেশে লেখা, “গৌর-গীতাবলী”। এনেছি তােমার লাগি, করিয়া অঞ্জলি । আর কিবা দিব, ধন কি আছে আমার? ধর দাদা, লও এই প্রতি-উপহার। ta DOOK খ24 তােমার কৃপাশিত- দীন বিজয়। ১২ অবতরণিকা। আমার রচিত শ্রীগৌরাঙ্গ সম্বন্ধীয় অনেকগুলি গীতি-কবিতা কিছুদিন পূৰ্বে শ্ৰীশ্ৰীবিষ্ণুপ্রিয়া, ভক্তি, বৈষ্ণবসঙ্গিনী, গৌরাঙ্গসেবক, পল্লীবাসী, শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া গৌরাঙ্গ ও সেবা প্রভৃতি বৈষ্ণব-পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল। সেই সমস্ত কবিতাগুলি পুস্তকাকারে প্রকাশ করিবার জন্য অনেকানেক বন্ধু-বান্ধব কর্তৃক অনুরুদ্ধ হইয়াও, অর্থাভাবে এতদিন কৃত- কাৰ্য্য হইতে পারি নাই। সম্প্রতি কয়েকজন আত্মীয়ের অর্থানুকূল্যে ও ভিক্ষালব্ধ অর্থের সাহায্যে “শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী” নামে এই ক্ষুদ্র গ্রন্থ- প্রকাশিত হইল। গৌরগীতাবলীর লিখিত পদ সমূহের মধ্যে লিপিকুশলতা কি ভাব- রসের প্রাচুর্য্য পরিলক্ষিত না হইলেও এই সকল পদাবলী গৌর সম্বন্ধীয় গৌরগন্ধ মাখা বলিয়া, বৈষ্ণব সমাজে কি সাধু সজ্জকে নিকট উপে- ক্ষিত হইবে না ইহাই আমার একান্ত বিশ্বাস। গ্রন্থাদি লিখিবার মত তেমন বিদ্যাবুদ্ধি আমার নাই। আমার অযােগ্যতা আমি নিজেই বুঝি, তথাপি অন্তঃকরণের ঐকান্তিক উত্তেজনায় প্রাচীন পদকর্তাগণের পদা- নুসরণ পূৰ্ব্বক, এই সকল পদাবলী লিখিয়াছিলাম। গৌরগীতাবলী’ পাঠে গৌরভক্তগণ কি রসজ্ঞ সাহিত্যিকগণ কিঞ্চিত্র ও আনন্দানুভব করিলে আমার সকল শ্রম সফল হইবে এবং আমি আমাকে ধন্য মনে করিব। ইতি। বৈষ্ণব দাসানুদাস- ঐবিজয়নারায়ণ আচাৰ্য, পাের বাংলা, গ্রাম সহিলপুর, জিঃ ময়মনসিংহ।
শ্রীগৌরগৗতাবলী।
১ম খণ্ড।
মঙ্গলাচরণ।
“আজানুলম্বিত ভুজো কনকাবদাতো,
সঙ্কীৰ্ত্তনৈক পিতরে কমলয়ক্ষো।
বিশ্বম্ভরো দ্বিজবরো যুগধৰ্ম্ম পালো,
বন্দে জগৎপ্রিয়করো করুণাবতারো।
অনুবাদ
“যাহাদের ভুজ-যুগল আজানুলম্বিত, কান্তি কনকের ন্যায়
কমনীয়, নয়ন-দ্বয় কমল দলের ন্যায় আয়ত, আমি সেই সংকীর্তনের
একমাত্র পিতা ( জন্মদাতা ও প্রচারক) বিশ্বসংসারের ভরণ
পােষণ কর্তা, যুগধৰ্ম্মপালক, জগতের প্রিয়কারী, দ্বিজ-শ্রেষ্ঠ,
দয়ার , অবতার দুইজনকে (শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুকে ও
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে) বন্দনা করি।
“শ্রীরূপ সনাতন, - ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গােপালভট্ট, দাস রঘুনাথ ।
এই ছয় গােসাঞির করি, চরণ বন্দন।
যাহা হইতে বিঘ্ন নাশ, অভীষ্ট পূরণ ।
সংকীর্তনাৱন্তে প্রার্থনা।
শ্ৰীশচীনন্দন,
পতিত পাবন,
শুভ আগমন, কর সংকীৰ্ত্তনে।
আমরা সকলে, ভাই ভাই মিলে,
নাচি হরি বলে, বড় সাধ মনে।
আসিলে তুমি, কে দিবে আনন্দ ?
সদানন্দময়, সঙ্গে নিত্যানন্দ,
প্রেমেতে ভাসাও, নাচিয়ে নাচাও,
হাসাও কাদাও, গতিহীন গণে।
হরিনাম মহামন্ত্র কর দান,
নাচিয়া উঠুক, -পাপীর পরাণ,
দেও ভক্তিবল, নাশ অমঙ্গল,
কর সুশীতল, প্রেম বরিষণে।
বসায়ে তােমারে, হৃদিরাসনে,
শ্রীবাসাদি ব, প্রিয় ভক্ত সনে,
( তােমার) রাতুলচরণ, করি মমতন,
সাজাইব মোরা, কুসুম চন্দনে।
পতিত তারিতে তব অবতার,
মােসম পতিত কোথা পাবে আর ?
মহিমা তােমার, ঘােষিবে সংসার,
কর যদি পার এ দীন দুৰ্জ্জনে।
কাতরে কহিছে, কাঙ্গাল বিজয়,
তুমি বিনে ভবে, ব্যর্থ সমুদয়,
=
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। তুমি সৰ্বেশ্বর, প্রভু পরাৎপর, পতিত পামর পারের কারণে ॥১॥ সংকীৰ্ত্তনারম্ভে গৌরাবাহন। এস এসহে গৌরাঙ্গ ! নিধি। নাম সংকীর্তন, করিতে বাসনা, তুমিহে ! পূরাও যদি। (তুমি) পূর্ণ পূর্ণেশ্বর, বেদ অগােচর, অনন্ত তুমি অনাদি। তােমার মহিমা, কে করিবে সীমা ? শক্ত হরেন্দ্র বিধি। কলি পাপাচ্ছন্ন, পাতকীর দুঃখ দেখি, লয়ে নামৌষধি। যাচিয়া যাচিয়া, করিতেছ দান, খাইতে ভব ব্যাধি। লয়ে পঞ্চ তত্ত্ব, শুদ্ধ পরমার্থ, বিতরিছ নিরবধি। সুস্থান কুস্থান, নাহি জাতি জ্ঞান, ব্রাহ্মণ চণ্ডাল আদি। যাহা পাও যারে, অমনি তাহারে, করুণা শিকলে বাঁধি। দোষ ত্যজি, তার, কর আপনার, যদিও সে অপরাধী শ্রীগৌরগীতাবলী। শুধু কি বিজয়, অভয় চরণ, পাবেনা ? কৃপা বারিধি। কর কৰ্ম্মনাশ, কাট অষ্ট পাশ, তুমিত বিধির বিধি ॥ ২॥ সংকীৰ্ত্তনাৱম্ভে প্রার্থনা। এসহে গৌরাঙ্গাদ! এসহে আবার । আসিয়া করহ শীঘ্র, জীবের উদ্ধার ॥ জুবিল ডুবিল হায় ! ডুবিল সংসার। ঘিরি ঘিরিল আসি, পাপ অন্ধকার । আরাে দুইবার তুমি, আসিবে ভারতে। এ বড় ভরসা প্রভাে! পাতকীর চিতে। নিজগুণে কৃপা করি, কর আগমন। ডাকিয়া আনিতে তােমা, পারে কোনজন ? নাই সেই শান্তিপুরপতি শ্ৰীঅদ্বৈত। নাই হরিদাস, শ্রীবাসাদি ভাগৰত । কে অর ডাকিবে প্রভাে! কাতরে কঁাদিয়া কৃপা করি আ’স যদি, পাপীর লাগিয়া । এস নাথ ! এস নাথ ! এস নাথ মাের। কাঙ্গাল বিজয় ডাকে, করি কর যােড় ৩
আশার আলাে।
ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি কনক
কিরণ।
ধীরে ধীরে আসি, কিবা ভরিছে ভুবন।
স্থাবর জঙ্গম দেখি, সােণা মাখা সব।
গােলােক বৈভব বলি,
হয় অনুভব।
প্রাকৃত চাঁদের হাসি, ইহা কভু নয়।
অপ্রকৃত চঁদ বুঝি, হইবে উদয় ।
তাভাসে আনন্দময়, ভকত চকোর ।
দিবে বলি গৌরপ্রেম, সুধা সুমধুর।
হরিনাম সংকীর্তনে, ভরিয়াছে দেশ ?
রাজা করে সাধু সঙ্গ ছাড়ি রবেশ।
চারিদিকে শুনি শুধু, আনন্দ কল্লোল।
উঠিছে মঙ্গল ধ্বনি, “হরি হরি বােল ।”
বাল-বৃদ্ধ নর-নারী, সবার বদনে,
সদা শুনি হরিনাম, যেখানে সেখানে।
ছােট বড় ভেদ নাই, চণ্ডাল ব্রাহ্মণ।
হরিনাম সংকীর্তনে, সবে নিমগন ।
দেশে দেশে, গ্রামে গ্রামে, নগরে নগরে।
নাম-ব্ৰহ্ম প্রতিষ্ঠিত, প্রতি ঘরে ঘরে।
কুলের কুজা করে, নৰ্তন কীৰ্ত্তন।
ভক্তগণ করে প্রেমে, বিশাল গর্জন।
স্থানে স্থানে হরি সভা, শ্রীশ্রীহরি নাম।
হইতেছে দিবা নিশি, নাহিক বিরাম।
৬
শ্ৰীশ্ৰগোৱগীতাবলী।
কূট রাজনীতি পূর্ণ, ছিল রাজধানী।
কৃষ্ণকথা রসামৃতে, পূর্ণিত এখনি ।
শাক্ত শৈব গাণপত্য, সৌরাদি সকল ।
হরিনাম সুধারসে, আনন্দে বিহ্বল।
পাশ্চাত্য শিক্ষায়
রা, অতি সুশিক্ষিত।
বিজ্ঞান দর্শন শাস্ত্রে, রম পণ্ডিত।
তাহারাও হরিনাম সংকীর্তনে রত।
ধূলায় পড়িয়া কঁদে, বালকের মত।
রাখাল গরুর পাল, মাঠে লয়ে যায়।
পথে পথে নাচে আর, হরি গুণ গায় ।
শঙ্খ কাসর বাজে, করতাল খােল।
উঠিছে মঙ্গল ধ্বনি, “হরি হরি বােল।”
সাধু সেবা মহােৎসব, প্রতি ঘরে ঘরে।
আকাশ পাতাল কঁপে, বৈষ্ণব হুঙ্কারে।
হরিনাম সুধারসে, পূর্ণ সর্ব স্থান।
“প্রাণ গৌর নিত্যানন্দ” এইমাত্র গান।
শিশুগণ মিলি করে, নাম সংকীৰ্ত্তন।
হরি বলি নাচে কত, বৈদিক ব্রাহ্মণ।
যুবনেই নাচে গায়, হরি সংকীৰ্ত্তনে।
কোলাকোলি করে কত, চণ্ডাল ব্রাহ্মণে।
এ সকল দেখি শুনি, মনে অনুমানি।
অবশ্য হেরিব গােরা, রাঙ্গা পা দুখানি।
অবশ্য আসিবে প্রভু, গৌরাঙ্গ সুন্দর।
সঙ্গে করি আপনার, ভক্ত পরিকর।
৭
শ্ৰীশ্রীগৌরগী তাবলী।
সংকীৰ্ত্তন প্রারম্ভেতে, আরাে দুইবার।
আসিতে প্রভুর নাকি, আছে অঙ্গীকার।
আবার আসিবে প্রভু, সাঙ্গোপাঙ্গ সঙ্গে
ভাসিবে ভারত পুন, প্রেমের তরঙ্গে।
হইবে প্রভুর পুনঃ, শুভ আগমন।
আলােক পাইয়া লােক, সুখে নিমগন ।
বাছিয়া বাছিয়া আনি, বহু উপচার।
করিতেছে এখনই, সেবার সম্ভার।
বাজিছে কাসর শঙ্খ, করতাল খোল।
উঠিছে মঙ্গল ধ্বনি, “হরি হরি বোল।
ভকতের ভাব চেষ্টা, দেখিয়া শুনিয়া।
কাঙ্গাল বিজয় আছে, পথ নিরখিয়া ॥
5)*(-
শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর জন্ম।
সম্বরিয়া স্বীয় সহস্র কিরণ,
রক্তিমায় রঞ্জি পশ্চিম গগন,
অস্তাচল চড়ে বসিলা তপন,
ধরণী পরিলা, ধূসর বসন ।
দু' একটি তারা ফুটিছে আকাশে,
কুমুদিনী ধীরে নয়ন বিকাশে,
ঘরে ঘরে বধূ জ্বালিয়াছে বাতি,
দেবালয়ে বাজে মঙ্গল আরতি।
ক্ষীণাললাকে পূরি, পূরব অম্বর,
শ্রীশ্রীগৌগীতাবলী।
রাহুগ্রস্ত হয়ে পূর্ণ শশধর,
উদিলা ফাল্গুনী পূর্ণিমা সন্ধ্যায়,
বিতরিতে পুণ্য, এ মর ধরায়।
উপরাগ হেরি, নর-নারীগণ,
আনন্দে করিছে, নাম সংকীর্তন,
মৃদু মন্দ বহে সান্ধ্য সমীরণ,
পুলকে পূর্ণিত, সকল ভুবন।
নদীয়া ভরিয়া “ হরি হরি ” ধ্বনি,
হরি ধ্বনি বিনা, কিছুই না শুনি,
গঙ্গা ঘাটে মিলি, শিষ্ট জন-স,
শ্রীহরি নামের তুলিছে তরঙ্গ।
আনন্দে করিছে সবে স্নান দান,
মনেতে ভাবিয়া অশেষ কল্যাণ
ফাল্গুনী পূর্ণিমা, শুভ তিথি যােগ,
তাহাতে নক্ষত্র ফল্গুণীর ভােগ।
রাশি লগ্ন সিংহ, উচ্চ গ্রহগণ,
সর্ব সুলক্ষণ,
নরলােকে সুরলােকে কি আনন্দ!
সকলেরি মুখে, “ শ্রীকৃষ্ণ গােবিন্দ।”
এহেন সময়ে নদীয়া নগরে,
জগন্নাথ মিশ্র, ঠাকুরের ঘরে,
চৌদ্দশত সাত শকে শুভক্ষণে,
জনমিলা প্রভু, লীলায় আপনে।
নারীগণ মিলি দিল জয়কার,
;
বড় অষ্টবর্গ,
শ্রীগৌরগীতাবলী
উলু উলু ধ্বনি করি পাঁচ ঝাড়।
কলি কবলিত জীবের উদ্ধার,
করিবারে এই গৌর অবতার।
জগত যুড়িয়া জয় জয় জয়,
অখিল ব্রহ্মাণ্ড পূৰ্ণানন্দময়,
শচীর সূতিকা গৃহ জ্যোতির্ময়,
নিরখি আনন্দে বিহ্বল বিজয়। ৫
শ্রীশ্রীগৌর পূর্ণিমা
এই শুভ দিনে হৈল, গৌর অবতার।
পতিত পাষণ্ড জীবে, করিতে উদ্ধার ॥
এই শুভ দিনে প্রভু, নাম জন্মাইয়া।
জনমিলা শচীগৃহে, জীবের লাগিয়া ।
এই শুভ দিনে দীনবন্ধু গৌর হরি।
একটিলা নররূপে, হরি ! হরি !! হরি !!
এই শুভ দিনে যুগধর্ম প্রবর্তন।
নদীয়া যুড়িয়া হৈল, নাম সংকীর্তন।
এই শুভ দিনে ছিল, চাদের গ্রহণ।
গ্রহণ জানিয়া হরি বলে সর্ব জন।
এই শুভ দিনে, পাপ অন্ধকার নাশ ।
শচীগর্ভ সিন্ধু হৈতে, চন্দ্রের প্রকাশ।
এই শুভ দিনে ঘাের কলি হৈল ধষ্ঠ।
দ্বিজরাজ-মণি গােরাটাদ অবতীর্ণ ।
১০
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
এই শুভ দিনে প্রভু আসিলা চৈতন্য।
অচৈতন্য কলি জীবে, করিতে চৈতন্য ।
এই শুভ দিনে দশা ফিরিল জীবের।
পাইল পাতকী জীব, সম্পদ শিবের ॥
এই শুভ দিনে হৈল, আনন্দ অপার ।
নদীয়া যুড়িয়া হৈল, জয় জয়কার ॥
এই শুভ দিনে ছিল সর্ব সুলক্ষণ।
ফাল্গুণী পূর্ণিমা তিথি, উচ্চ গ্রহগণ ।
এই শুভ দিনে সিংহ লগ্ন সিংহ রাশি।
পাইয়া প্রকট প্রভু, গৌরাঙ্গ শশী ।
এই শুভ দিনে শাক্ত শৈব ভেদাভেদ।
নাহি ছিল কিছু মাত্র, নাহি ছিল খেদ।
এই শুভ দিনে কত উপহাস করি ।
ঘণ্ড পড়য়া সবে, বলিয়াছে হরি ॥
এই শুভ দিনে কিছু, বুঝিয়া কারণ।
হরিদাস সঙ্গে, সীতানাথের নাচন ॥
এই শুভ দিনে পূর্ণ আনন্দ সঞ্চার।
সফল হইল শান্তিপুরের হুঙ্কার।
এই শুভ দিনে দশ দিক পরকাশ।
টুটিল যমের গর্ব, কলির তরাস ।
এই শুভ দিনে সর্ব জীবের জীবন ।
করুণায় অবতার করিলা গ্রহণ।
এই শুভ দিনে চৌদ্দ শত সাত শকে।
গােলােকের পতি কৃষ্ণ, আইলা ভূলােকে।
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
১১
এই শুভ দিনে ধরা আনন্দে বিহ্বল।
পরশ পাইয়া গৌর চরণ কমল।
এই শুভ দিনে নদে, রসে টলমল।
উছলি উছলি উঠে, জাহুবীর জল ।
এই শুভ দিনে নাহি ছিল আত্ম পর।
কি পুরুষ, কিবা নারী, সবার ভিতর।
এই শুভ দিনে নাহি, ছােট বড় জ্ঞান।
হরি নামানন্দ রসে, সকলি সমান ।
আজ সেই শুভ দিন, এস এস ভাই।
আনন্দে মাতিয়ে সবে, গােরা গুণ গাই ।
আজ সবে করি সেই, তিথি আরাধনা।
দয়ার ঠাকুর শ্রীগৌরাঙ্গ উপাসনা।
এস এস করি সবে, নাম সংকীৰ্ত্তন।
শ্রীগৌরাঙ্গ জন্মলীলা, স্মরণ মনন।
প্রভুর যে জন্ম তিথি, ফাল্গুণী পূর্ণিমা।
পরম আরাধ্যা, যাঁর নাহিক উপমা ।
জয় জয় শ্রীগৌরাঙ্গ, জয় নিত্যানন্দ।
বলিয়া সকলে ভাই! করহ আনন্দ ॥৬॥
ঐশ্রীগৌরপূর্ণিমাৱভাবোচ্ছাস
আজু) কোথা হতে, অনিন্দ আসিয়া,
ভরিয়া উঠিছে বুক।
কেন বা এমন, উল্লাসে উৎফুল্ল,
নদীয়াবাসীর মুখ ।
কে জানে কেন যে, নাচিয়া নাচিয়া,
উঠিছে পরাণ মন।
আনন্দের অশ,
ঝরিছে নয়নে,
এত যে শুভ লক্ষণ !!
পাপীর পরাণে, পশিছে আসিয়া,
কোথা হতে এত বল।
কলির কপালে,
জানি কি ফলে,
কত না পুণ্যের ফল।
বাল বৃদ্ধ যুবা,
বলে শুধু “হরি বােল”।
নগরে প্রান্তরে,
সুরধুনী তীরে,
উঠিছে মঙ্গল বােল।
বিনে হরি ধ্বনি, কিছুই না শুনি,
যবনেই বলে হরি।
হরি নাম রসে,
কেহ কঁদে হাসে,
কেহ দেয়, গড়াগড়ি।
পতিত পাষণ্ড,
পড়ুয়া বাচাল,
শাক্ত শৈব যত আছে।
পুরুষ রমণী,
৫
১৩ শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। নাহি ভেদাভেদ, সকলে মিলিয়া, করতালি দিয়া নাচে । জীবনে যারা, বলিছে হরি, তাহারাও হরি বলে। বিমুখী সকল, বলে “হরিবােল” সাধুকে নিন্দার ছলে । ভকত বৈষ্ণব, যে যে দেশে আছে, সবে মনােবল পায়। হরিদাস সনে, কি ভাবিয়া মনে, নাচিছে তাদ্বৈত রায়। কেহ করে দান, ভাবিয়া কল্যাণ, আনন্দ ধরেনা গায়। স্বর্গে দেবগণ, করিছে নৰ্তন, গন্ধর্বে মঙ্গল গায়। চৌদ্দ শত সাত, শকের ফাল্গুন, পূর্ণিমা দিনের সাজ। পূরব গগনে, রাহুগ্রস্ত হয়ে, উদিতেছে দ্বিজ-রাজ। উপরাগ ছলে, জাহুবীর জলে, সিনান করিছে সবে। করে দান ধ্যান, তপ-তরপণ, গ্রহণ সময় হবে । আর কি গ্রহণ, হয়নি কখন, অতটা হয়েছে কবে ?
১৪
শ্ৰীশ্ৰীগেরগীতাবলী।
ভুবন ভরিছে,
আর কোন কালে,
মধুর মঙ্গল রবে ?
যুগে যুগে কত, গ্রহণ হয়েছে
তাতে কি এমত হয় ?
খঞ্জ চুলি যায়, অন্ধ জনে চায়,
বােবা “হরে কৃষ্ণ” কয়।
কার করুণায়, কার প্রেরণায়,
অজানা আনন্দ আসি।
জীবের হৃদয়,
করিছে উজল,
তমাে অন্ধকার নাশি।
কেহ নাহি বুঝে, কেহ নাহি খুঁজে,
কেন এমন হয় !
বুঝে বা না বুঝে খুঁজে বা না খুঁজে,
তথা আনন্দময়।
কেবল ভকত, হৃদয়ে নীরবে,
কে জানি আসিয়া কয়।
করিতে বিনাশ,
হবে গৌর চন্দ্রোদয়।
ভুবন পাবন, নাম সংকীর্তন,
প্রবর্তন করিবারে।
দয়ার ঠাকুর,
এনষ্ট নন্দন,
আসিবে নদীয়াপুরে।
সাঙ্গোপাঙ্গ সঙ্গে, প্রেমের তরঙ্গে,
ভাসাইবে সব দেশ।
“কলির কলুষ,
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
নদীয়া ভুবনে,
হরি নাম দিয়া, উদ্ধারিবে জীবে,
নাশিবে ত্রিতাপ ক্লেশ।
ধন্য হবে কলি,
হরি হরি বলি,
নাচিবে পুরুষ নারী।
জীবের লাগিয়া, নাম ধন লা,
আসিবে বিপদহারী।
সেই কারণে,
এতেক আনন্দ আ’জ।
এখনি প্রকট, হইবেন হরি,
নাহি আর কাল ব্যাজ।,,
ফাল্গুনী পূর্ণিমা, গ্রহণ সময়,
চৌদ্দশত সাত শকে।
শচীগর্ভ হৈতে,
প্রভু বিশ্বম্ভর,
অবতীর্ণ মর্ত্যলােকে।
বল হরিবােল, বল হরিবােল
হরি হরি বল ভাই।
জনম লভিল,
আর ত ভাবনা নাই।
তিন যুগে যাহা,
হয়নি কখন,
এবার যদিবা.হয়।
জয় জয় জয়,
জয় জগন্ময়,
বিজয় গাইছে জয়। ৭ ॥
পতিতের বন্ধু,
সদ্যপ্রসূত গৌরাঙ্গ।
সােণার পুতুল কিবা ! শচী মা’র কোলে গাে,
শচী মার কোলে।
কে আছে এমন ভন ? হেরি এ শিশু রতন,
আপনার ধন জন, নাহি যায় ভুলে গাে,
নাহি যায় ভুলে ।
কি দিব তুলনা ? নাই তুলনার স্থল গাে,
তুলনার স্থল।
কি নাসা নয়ন মুখ, হেরিলে জুড়ায় বুক,
কিবা রাঙ্গা টু টু, কর পদ তল গাে,
কর পদ উল ॥
কি সুগঠিত আহা! এ শিশুর দেহ গাে,
এ শিশুর দেহ।
না জানি কেমন বিধি, গড়িল এ রূপনিধি,
দেখে নাই জন্মাবধি, হেন শিশু কেহ গাে,
হেন শিশু কেহ ।
আললাকিত দশ দিক,
অঙ্গের ছটায় গাে,
অঙ্গের ছটায় ।
কচি কচি হাতখানি, মুষ্ঠিবদ্ধ করি আনি,
বুকের উপর জানি, কেন বা ঘুরায় গাে,
কেন বা ঘুরায়।
রাঙ্গা রাঙ্গা পা দুখানি, লীলায় আছাড়ে গাে,
লীলায় আছাড়ে।
১৭
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
শিশুর রােদন ধুয়া, চাঁদ মুখে উয়া, উয়া,
সবে বলে আজি এ কে ? শিশুজন্ম ধরে গাে,
শিশুজন্ম ধরে।
অতি শীঘ্র রটিল সংবাদ ঘরে ঘরে গাে,
সংবাদ ঘরে ঘরে।
শুনিয়া শিশুর কথা, আসিলা মালিনী সীতা,
শিশুসহ শচী মাতা, যে সূতিকা ঘরে গাে,
যে সূতিকা ঘরে।
সকলি আসিলা করে, ধান্য দুর্বা লা গাে,
ধান্য দুর্বা লা।
শত শত পতিব্রতা, আসিয়া মিলিলা তথা,
আসিলা সুর বনিতা, মানবী হইয়া গাে,
মানবী হইয়া ।
পূর্ণিত সূতিকা গৃহ, অপূর্ব আলােকে গাে,
অপূর্ব আলােকে।
সবে করে অনুমান, গালােকের ভগবান,
জীবেরে করিতে ত্রাণ, আসিল ভূলােকে গাে,
আসিল ভূলােকে ।
ধাত্রী দিল নাভি নাড়ী, করিয়া ছেদন গো,
করিয়া ছেদন।
কেহ রক্ষা-মন্ত্র পড়ে, নৃসিংহ স্মরণ করে,
যা’তে ডাইনী নিশাচরে, না করে হরণ গাে,
না করে হরণ ॥
১৮
শ্রীশ্রীগৈরগীতাবলী।
সবে বলে, মরি লয়ে শিশুর বালাই গাে,
শিশুর বালাই।
ডাকিনী শাকিনী চোরে, যাহাতে ছুইতে নারে,
নাম রাখে এই ডরে, সােণার নিমাই গাে
সােণার নিমাই। ৮ |
হাটিবারে চায়,
শিশু গৌরাঙ্গ।
শচী গৃহ-কাজে,
তাঙ্গিনার মাঝে,
সােণার শিশুটি খেলে।
কহিলে না মানে,
যা’দেখে নয়নে,
সকলি টানিয়া ফেলে।
হামাগুড়ি দিয়া, প্রাঙ্গণ যুড়িয়া,
ঘুরিয়া ঘুরিয়া ফিরে।
কখন দাঁড়ায়,
পদেক বাড়ায়ে পড়ে।
ধূলা মাটী গায়, কত যে মাখায়
জননী যতই বলে।
আরাে বেশী করি, দেয় গড়াগড়ি,
এদিকে ওদিকে চলে ।
বাহু পসারিয়া,
উঠিবারে চায় কোলে।
আঁচিলেতে ধরি মা, মা, মা, মা করি,
ডাকে সুমধুর বােলে।
কভু বা কঁদিয়া,
১৯ শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। ধূলা ঝাড়ি মায়, কোলেতে উঠায়, আদরে পিয়ায় স্তন। চুম্বি উঁদ মুখ, পায় যত সুখ, জানে কি তা অন্য জন ? প্রায় সর্বক্ষণ, করয়ে ক্রন্দন, কঁদিতে কঁদিতে ঘামে। হরি হরি বলি, দিলে করতালি, তবে সে নিমাই থামে। সঙ্কেত বুঝিয়া, যত নগরিয়া, কিবা সে পুরুষ নারী। চাদ-মুখ চেয়ে, করতালী দিয়ে, কঁদিলেই বলে হরি। নদীয়ার নারী, আসে সারি সারি, হরি হরি সবে কয়। করিয়া কৌতুক, চুম্বি চাঁদ-মুখ, টানিয়া বুকেতে লয়। এক বার বুকে, করিলে তাহাকে, ছাড়িতে না লয় মনে। বাৎসল্যেতে মন, ঐবিয়া তখন, দুগ্ধ ধারা ঝরে স্তনে। বিজয় পামরে, কত দিন পরে, জানি এ সুখ পাবে। রমণী হইয়া, নদীয়াতে গিয়া, নিমাই কোলেতে লবে ॥ ৯।
নিমাইর নাচ।
নাচেরে ! নিমাই, ভালি ভালি।
মায় দিতেছে, করতালি।
এদিক ওদিক্ নেচে যায়।
সোণার নূপুর রাঙ্গা পায়।
শুনিয়া নূপুর-রব।
পড়ার মেয়ে জুটল সব।
সবেই দিছে করতালি।
নিমাই নাচে হরি বলি ।
শুনলে নিমাই হরি হরি।
আরো নাচে বেশী করি।
নাচতে নাতে ছুটে ঘাম।
শচী বলে “রাম রাম” ।
আমার কতই কষ্ট ।
বাছা, হলেম তুষ্ট।
এত বলি শচী
কোলে নিল গৌর মণি। ১০
রাণী।
শচীর সঙ্কল্প।
আর দিবনা, নাচতে আমার সােণার নিমাই চাদে।
ছাই পড়ে যা’ আজ হ’তে মাের,নাচ দেখিবার সাধে।
কেউ যদি চায় হরি বলে, নাচাইতে তারে।
আমি তারে
বারণ কব হাতে পায়ে ধরে।
নাচতে নাচতে বাছা আমার, আধখান হয়ে গেছে।
তবু বলে পাড়ার লােকে, নিমাই ভাল নাচে।
বিজয় বলে মাগাে তােমার নিমাই
আজই নাচের কি হয়েছে ? সর্বের্বনাচের শুরু ॥১১।
নাটের গুরু।
ভক্তের আশা।
আবার।
আবার আসিবে মোর, নদীয়ার চাদ গাে,
নদীয়ার চঁাদ।
গােলােকের প্রেম-মণি, ভূলােকেতে দিবে আনি,
কাঙ্গালে করিতে ধনী, তার বড় সাধ গাে,
তঁার বড় সাধ ।
আবার আসিবে মাের, শচীর দুলাল গাে,
শচীর দুলাল।
আবার বাজিৰে খেলি, উঠিবে আনন্দ রােল,
বাজিবে মাদল শিঙ্গা, শঙ্খ করতাল গাে,
শঙ্খ করল ।
আবার আসিবে মাের, শ্রীগৌরাঙ্গ হরি গাে,
শ্রীগৌরাঙ্গ হরি।
জীবেরে করিতে পার, করুণার অবতার,
আনিবেন পুনর্বার,
হরি-নাম-তরী গাে,
হরি-নাম-তরী।
আবার আসিবে মাের, গােরা গুণমণি গাে,
গােরা গুণমণি।
হরি নাম সংকীৰ্ত্তনে, উদ্ধারিবে সর্ব জনে,
পবিত্র প্রেম প্লাবনে, ভাসাবে অবনী গাে।
ভাসাবে অবনী।
আবার আসিবে মাের, দয়াল নিতাই গাে,
শ্ৰীশ্ৰীগেরগীতাবলী।
২৩
দয়াল নিতাই।
পতিত পাষণ্ড জনে, উদ্ধারিবে প্রেমদানে,
খুঁজিবে কোথায় আছে, জগাই মাধাই গাে,
জগাই মাধাই।
আবার আসিবে মাের, প্রভু নিত্যানন্দ গাে,
প্রভু নিত্যানন্দ।
মা’র খেয়ে প্রেম দিবে, পাপীর পতিক নিবে,
খণ্ডাইবে যম-দণ্ড,
যম-দণ্ড, বিধির নিবন্ধ গাে,
বিধির নিবন্ধ ।
আবার আসিবে মাের, শান্তিপুর নাথ গাে,
শান্তিপুর নাথ।
জীবের দুর্গতি হেরি, বহু আরাধন করি,
আবার আনিবে গৌর, সাঙ্গোপাঙ্গ সাথ গাে,
সাঙ্গোপাঙ্গ সাথ।
আবার দেখিবে জীবে, প্রেমের প্রভাব গাে,
প্রেমের প্রভাব।
নাম গানে অনুরক্ত, আসিবে অসংখ্য ভক্ত,
লীলায় করিবে ব্যক্ত, বরজের ভাব গাে,
বরজের ভাব ।
আবার পূরিবে যত, ভকতের সাধ গাে,
ভকতের সাধ।
গৌর-প্রেম-সিন্ধু-নীরে, ভাসাইবে সবাকারে,
বিজয় বাসনা করে, তার কণা আধ গাে,
তার কণা আধ ॥১২।
৩
জন্ম জম্নোল্লাস। আজু কিবা আনন্দ অপার, চারি দিকে জয় জয়কার। শক্তি শৈব ভেদ নাহি আর, হরি-নামে ভরিল সংসার ॥ পতিত পাবন অবতার, জনমিলা শচীর কুমার। অতুল আনন্দ নদীয়ার, দূরে গেল পাপ অন্ধকার। ফাল্গুণ পূর্ণিমা শুভক্ষণ, সিংহ রাশি উচ্চ গ্রহগণ। প্ৰবৰ্ত্তিয়া শ্ৰনাম কীৰ্ত্তন, প্রকটিলা শ্ৰীশচী-নন্দন। দিক দশ পরসন্ন অতি, পাইয়া শিশুর অঙ্গজ্যোতি। মলয় মারুত মৃদু বহিতে কহিলা ঋতুপতি। গতি, রাহুগ্রস্ত শশাঙ্ক গণিয়া বিপদ পরশিলা পূরব জন্মােৎসব করিতে তখন, আপন, গগণ, দর্শন।
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী ।
ভক্ত জন ভাবিয়া
কল্যাণ,
গ্রহণের ছলে
দন।
সকলি করিছে গঙ্গা-স্নান,
গঙ্গা-স্রোত বহিছে উজান ।
পুষ্প বৃষ্টি করে দেবগণ,
নাচে গায় গন্ধর্ব
চারণ,
সুরে নরে একত্র মিলন,
আনন্দে ভরিল ত্রিভুবন।
বিপ্রগণ করে বেদ
পাঠ,
কত নাটুয়ার নাট ।
নারীগণে খুলিয়া কােট,
শিশু চাহি বলে “যা যা ॥”
মাধুরী।
দেবগণ নর-প ধরি,
নিরখিছে, গৌরাঙ্গ
শচীর মন্দিরে ভিড়
ভিড় ভারি,
ঠেলাঠেলি কত হুড়াহুড়ি।
মিশ্র পুরন্দর করি দান,
মাগে নিজ পুত্রের কল্যাণ।
আনন্দেতে হইয়া
ঘরে না রাখিল কোন খান।
অজ্ঞান,
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
অসম্ভব
হইল
সম্ভব,
ভূ-লােকেতে গােলােক বিভব।
মনে কিছু পেয়ে তানুভব,
শান্তিপুরে নাচিছে ভৈরব ।
শচী-গৃহে
সােণার
পদ তল পদ্ম
পুতুল,
ফুল।
নয়ন
পরশে
শ্রুতিমূল,
অতুলের
সর্বাঙ্গ
অতুল ।
কোটি কোটি কর্পের সার,
সবে বলে, নিছুনি তঁাহার।
বিজয় বলিছে এইবার,
পাপী তাপী পাইবে উদ্ধার । ১৩।
শচীমুখে নিমাই-চরিত।
প্রতিবেশিনীর প্রতি।
কি কহৰ মাই। সরেনা মুখে।
পরাণ দগধে, দারুণ দুখে।
বাতুল হইল, নিমাই মাের।
বুঝে আপন, না বুঝে পর ॥
পড়িয়া শুনিয়া, এমন কেনে ?
দেব, দ্বিজ, গুরু, কিছুই না মানে।
ত্রিভঙ্গ হইয়া, কখন থাকে।
শ্যামলী, ধবলী, বলিয়া ডাকে।
আখুটি করিয়া, মুরলী চায় ॥
এত কি সহিতে, পারে গাে মায় ?
অচল ধরিয়া, মাখন মাগে।
দিলে লােটায়, মনের রাগে।
তাঝের নয়নে, কাদিতে থাকে।
কর-নখে ধরা, সতত অকে।
মৌন হইয়া, কখন থাকে।
ডাকিলে শুনেনা, শতেক ডাকে।
কহ মা কি ভাবে, নিমাই পাের।
ভাবিয়া বিজয়, কি পাবে ওর। ১৪।
নূতন গৌরাঙ্গ।
সেরাম পেয়ে, নূতন আশা।
খুলিছে অাশার, নূতন ভাষা।
নূতন গৌরাঙ্গ, আসিবে দেশে।
নুন উদ্যমে, নূতন বেশে।
নূতন রাগেতে, মাতিছে দেশ।
কেহ নাহি করে, কাহাকে দ্বেষ।
কেবলি কীৰ্ত্তন, আনন্দ রঙ্গ।
কেবলি ভকত, জনার সঙ্গ।
চারিদিকে শুধু, নূতন রােল।
নূতন সুরে “হরি হরি বোল।”
নূতন গৌরাঙ্গ, যখনে পাব।
তামরা সকলে, নূতন হব।
নূতন করিয়া, সাজাব তারে।
নূতন নূতন, কুসুম হারে।
নাচাব কীর্তনে, নূতন তালে।
নূতন তিলক, পরাব ভালে।
কাঙ্গাল বিজয়, ভাবিছে মনে।
অবশ্য পাইব, গৌরাঙ্গ ধনে॥ ১৫ ॥*
* ভক্তপ্রবর সেরাম শৰ্মার একটি প্রবন্ধ
পাঠ করিয়া এই কবিতাটী লিখিয়াছিলাম।
(বিজয়)
শ্রীশ্রীগৌরচন্দ্র।
জয় জয় শ্রীশচীনন্দন।
গােলােকের ধন, গােলােক
হৈতে,
অবতীর্ণ অবনীতে, আনন্দে ভরিল ত্রিভুবন ।
জয় জয় চারি পাশে, হরিনাম প্রেমমাল্লাসে,
মাতিল অমর নরগণ।
পতিত পাষণ্ড যত, তারা হয়ে উনমত,
অবিরত করে সংকীৰ্ত্তন ॥
নদীয়া নগর মাঝে, ভক্তগণ সঙ্গে সাজে,
শচীর দুলাল গােরাদ।
কি পুরুষ কিবা নারী, অপরূপ রূপ হেরি,
মনে গণে বড় পরমাদ।
রাধিকার রসে মাখা,নদীয়ার ভাবে ঢাকা
আবেশেতে গর গর মন।
কাঙ্গাল বিজয় বলে, ভাসিয়া নয়ন জলে,
কবে পাব হেন গােরা ধন ॥ ১৬ ॥
সােনার মানুষ। সােণার মানুষ, নদীয়া এসেছে, সােণার বরণ গা। সোণার দু’গাছি, নূপুর শােভিত, রাতুল দুখানি পা। সােণার ঘুঘুর, কটিটে বেড়া, কেমন শোভা করে। হাটিতে নাচিতে, কিনি কিনি ধ্বনি, শ্রবণ মন হরে । আজানুলম্বিত, সুললিত বাহু, সােণার বালা তায়। সােণার মাদুলী, দোলিয়া দোলিয়া, ঝলসিছে গলায় । বিশাল উরসে, শােভিছে সুন্দর, কিবা । সােণার হার। সােণর কুন্তল, শ্রবণ যুগলে, তুলনা নাহি যার। চাচর চিকুরে, চূড়ার বলনি, মালতী ফুলে ঘেরা। সর্বাঙ্গ সুন্দর, রূপ মনােহর, নিখিল চিত্ত চোরা। সুধা পড়ে খসি, বচনে জুড়ায় দে। মৃদু মন্দ হাসি, শ্রীগৌরগীতাবলী। এহেন নাগর, রসের সাগর, নদীয়া আনিল কে ? তুলিয়া দু'খানি, সোণার বাহু, বদনে বলে হরি। সােণার শরীর, ধূলায় লােটায়, কেনবা দেয় গড়ি। কখন কঁদিয়া, আকুল হয়, কভু হাসিয়া উঠে। কখন কি ভাবি, ইতি উতি ধায়। পাগল হেন ছুটে । মান অভিমান, কিছু নাহি দেহে, সকলে সম জ্ঞান। পাতকী জনারে, বাহু পসারিয়া, বুকেতে দেয় স্থান। নাম সংকীর্তনে, প্রেমেতে ভাসে দেশ। পরের লাগিয়া, কঁদিয়া কাঁদিয়া, সােণার দেহ শেষ । পরের রমণী, নয়নের কোণে, কভু ত না চায় সে। পরাণ সমান, কি পুরুষ নারী, সকলে ভাল বাসে ৷৷ যায় বাড়ী বাড়ী, জনে জনে ধরি, বলে গাে ! “হরি” বল। ভুবন ভলি,
শ্ৰীশ্ৰীণেরগীতাবলী।
কেহ না বলিলে, গলে ধরি কঁদে,
এমতি সে পাগল।
এমন সােণর,
মানুষ কখন,
কোন যুগেতে ছিল।
ব্রহ্মার বাঞ্ছিত, প্রেমধন আনি,
জীবেরে যাচি দিল।
কাঙ্গাল বিজয়, সে প্রেমবিন্দুর,
পা’ল কণা আধ।
ছিল বুঝি তার,
অবশ্য অপরাধ। ১৭।
বৈষ্ণব চরণে,
শ্রীশ্রীগৌরচন্দ্র।
কনক কঁতি,
বিজুরী ভাতি,
মােহন মূরতি গােরা।
বরজের রসে,
রজনী দিবসে,
ভাবের তাবেশে ভােরা।
তনুরাগ ফুটা, রাঙ্গা আঁখি দু’টা,
ঝর ঝর ঝরে নীর।
মন গর গর,
তনু থর থর,
ক্ষণেক নাহিক থির ।
কভু ভূমে পড়ি, দেয় গড়াগড়ি,
হরি বলে উচ করে।
গদাধর পানে,
চাহে ক্ষণে ক্ষণে,
ক্ষণে বা সাপুটী ধরে।
রসের তরঙ্গ
নয়নে দেখিল যেই।
বলিছে বিজয়,
এ কথা নিশ্চয়,
পরাণে মরিল সেই ॥ ১৮
এমন গৌরাঙ্গ,
হৈ
s:58:৫৪
প্রেমেৱ পুতুল।
প্রেমের পুতুল,
প্রেমেতে গড়া,
প্রেমের পরাণ খান।
প্রেমের আবেশে, প্রেমে মাখা নাম,
সদাই করিছে গান।
প্রেমের নয়ন,
প্রেমের চাহনি,
প্রেমে করে টল মল।
প্রেমের কঁাদন,
সদাই কঁদিছে,
বুকে মুখে প্রেম জল ।
প্রেমের বদনে,
প্রেমে মাখা কথা,
: কখন হাসিয়া কয়।
প্রেমের স্বভাবে, যারে দেখে তারে,
আপনা করিয়া লয় ৷
প্রেমেতে মাতিয়া, দু’বাহু তুলিয়া,
বদনে বলিছে হরি।
প্রেমের নাচন,
নাচিয়া কখন,
ভূমে দেয় গড়াগড়ি ।
প্রেমের বিকারে, বিষম চিৎকারে,
আবার উঠিয়া ধায়।
প্রেমে উল্লম্ফন,
করে বা কখন,
অজ্ঞান পাগল প্রায়।
প্রেমের প্রহারে,
জর জর তনু,
হেলিয়া দোলিয়া পড়ে।
শ্রীশ্রীগৌরগীবলী।
প্রেমের প্রতিমা,
প্রিয় গদাধর,
• বাহু পসারিয়া ধরে ।
শচীর মন্দিরে,
শ্রাবাস অঙ্গণে,
ভকত জনার বুকে।
প্রেমে ঢল ঢল,
প্রেমের পুতুল,
সতত বিরাজে সুখে।
প্রেমের পুতুল, প্রেমের নাচন,
যাহার হৃদয়ে নাচে।
কাঙ্গাল বিজয়,
অনুমানে কয়,
সে ত না পরাণে বাঁচে। ১৯।
শ্রীগৌরণীতিকা।
গৌড়চন্দ্র,
গৌরনিধি,
কোন বিধি নিরমিল রে !
পিরীতি রসের, সার নিঙ্গাড়িয়া,
নয়নে পূরিয়া দিল রে ॥
অরুণ নয়নে,
করুণ চাহনি,
কত না বরুণ ঝরে রে ।
জিনি কামধনু,
যুগ সুন্দর,
শােভিত কটাক্ষ শরে রে।
কোটী জিনিয়া, শ্রমুখ উজল,
নাসা জিনি তিল ফুল রে।
অনঙ্গ মথন,
রূপের ঝলকে,
নাশিছে কামিনী কুল রে ।
কিবা শ্রুতিমূলে, কনক কুন্তল,
ঝলসি ঝলসি দোলে রে।
চাচর চিকুরে,
বেষ্টিত মালতী মালে রে ।
মুকুতা গঞ্জন,
সুচারু দশন,
আরক্ত অধর ভাতি রে।
জিনি শরদিন্দু, চন্দনের বিন্দু,
ললাটে সুন্দর অতি রে ॥
লাবণ্যের সার,
উন্নত উরসে,
শোভিছে কুসুম হার রে।
চূড়ার বলনি,
৩৭
৩
গৌরগীতাবলী।
বাহু সুবলিত, আজানুলম্বিত,
তুলনা নাহিক তার রে।
রাতুল চরণে,
মণির মঞ্জীর,
মধুর মধুর বাজে রে ।
আহা মরি কিবা, নখ চন্দ্র বিভা,
হেরি চন্দ্র মরে লাজে রে ।
মৃদু মন্দ হাসে, বিদ্যুত বিকাশে,
বচন অমিয় মাখা রে।
কপালে থাকিলে, দেখিলে শুনিলে,
যায় কি জীবন রাখা রে ।
হেন চিত চোর,
হৃদয়ে জাগিবে যার রে ।
কাঙ্গাল বিজয়, কহিছে নিশ্চয়,
সফল জীবন তার রে । ২০।
গৌরাঙ্গ সুন্দর,
-
আমাৱ পৌরাঙ্গ।
আমার গৌরাঙ্গ,
চরণ স্মরণে
ভবের বাঁধন টুটে।
আমার গৌরাঙ্গ, করুণা কণায়,
পাষাণে পঙ্কজ ফুটে।
আমার গৌরাঙ্গ, রূপের কিরণে,
ত্রিজগত পরকাশ।
আমার গৌরাঙ্গ, চরণ চুমিয়া
অমিয়া ঊষার হাস।
আমার গৌরাঙ্গ, নাম পরতাপে,
শমন দমন হয়।
পাতকী পরাণে,
প্রেম পরবেশি,
তমো মসি ধুয়ে লয়।
আমার গৌরাঙ্গ,
লীলার শ্রবণে,
দৃশদ দরবি যায়।
ভুবন মােহন,
রূপের ঝলকে,
মদন মূছা যায়।
আমার গৌরাঙ্গ,
স্মরি বৃন্দাবন,
বদনে “রা রা রা” করে।
ভাবের প্রহারে, ভাসে অশ্রু জলে,
‘ধা, বলিয়া ভূমে পড়ে।
আমার গৌরাঙ্গ, নিজাঙ্গ নেহারি,
শিহরি শিহরি উঠে
শ্রীশ্রীগােরগীতাবলী। প্রেমের প্রতিমা, প্রিয় গদাধরে, ধরিতে ধাইয়া ছুটে। বরজের ভাবে, পূরব স্বভাবে, বেণু বেত্ৰ বলি, ধূলায় পড়িয়া, কত না প্রলাপ কয়। শ্যামলী, ধবলী, কেবলি আকুল হয়। আমার গৌরাঙ্গ, যমুনা ভরমে, সুরধুনী তীরে পায়। কি জানি ভাবিয়া, কাঁদিয়া কাঁদিয়া, কদম্বের শাখা চায় । মায়ের অঞ্চল, ধরিয়া কখন, ক্ষীর, সর, ননী মাগে। দিলে তখন, লােটায় মনের রাগে । রাধিকার ভাবে, প্রেমের প্রভাবে, আপনি রাধিকা হয়। বিরহ বিলাপে, কত না প্রলাপে, নিরজনে সি রয়। আমার গৌরাঙ্গ, নিজে বিদ্যাপতি, দিগ্বিজয়ী করি জয়। নদীয়া নিবাসী, পণ্ডিত সভার, খণ্ডাইলা মনােভয়। আমার গৌরাঙ্গ, কাজিকে দলিয়া, রাখিলা ভক্তের মান।
০ বলিয়া কখন, ঐশ্রীগৌরগীতাবলী। আমার গৌরাঙ্গ, প্রেমের ঠাকুর, যবনে করিলা ত্রাণ । আমার গৌরাঙ্গ, বরাহ অবেশে, মুরারি ভবনে যায়। “শূকর শূকর” গরজে বিশাল রায়। আমার গৌরাঙ্গ, জীব নিস্তারিতে, প্রচারিলা সংকীৰ্ত্তন। সাঙ্গোপাঙ্গ সঙ্গে, প্রেমের তরঙ্গে ভাসাইলা সর্বজন। আমার গৌরাঙ্গ, জীবের লাগিয়া, ছাড়িলা সংসার সুখ। সন্ন্যাসী হইয়া, হরিনাম দিয়া, নাশিলা সবার দুখ ॥ অামার গৌরাঙ্গ, পথের কাঙ্গাল, সাজিলা পরের লাগি। জননী ছাড়িয়া, ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া, হইলা সংসার ত্যাগী । আমার গৌরাঙ্গ, দয়ার ঠাকুর, পাতকী খুঁজিয়া ফিরে। পাইলে অমনি, ধরি দেয় কোল, ভাসিয়া নয়ন নীরে। আমার গৌরাঙ্গ, আপনি করিলা কঁাধে। মৃত হরিদাসে, ৪১ লীলা ছল চন্দ্র, শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। প্রসাদ মাগিয়া, তার মহােৎসব, করিলা মনের সাথে। আমার গৌরাঙ্গ, দক্ষিণ ভ্রমণ, করিলা তীর্থের ছলে। প্রয়াগের পথে, তরণী হইতে, ঝাপিলা জাহ্নবী জলে। গােদাবরী কূল, করিলা উজোল, রামানন্দ রায় দ্বারে। সাধ্য সাধন, করিলা বর্ণন, ভঙ্গি কে বুঝিতে পারে ? আমার গৌরাঙ্গ, দরশে মূরছা গত। আমার গৌরাঙ্গ, সমুদ্রের জলে, ভাসিলা মরার মত। আমার গৌরাঙ্গ, গম্ভীরা ভিতরে, বিকারে ঘযিলা মুখ। স্মরিতে সে ভাব, থাকেনা জীবন, বিদরে পাষাণ বুক। আমার গৌরাঙ্গ, অপনা পাসরি ধায়। সিজের কণ্টকে, কাটিল'অঙ্গ, রুধিরে প্লাবিত কায় । আমার গৌরাঙ্গ, কৃপায় শশাধিলা, আপন ভকত চিতে। দেবদাসী গানে, } ৪২ শ্ৰীশ্রীগৌরগীতাবলী। সার্বভৌম আদি, যত জ্ঞানবাদী, আনিলা ভকতি পথে । আমার গৌরাঙ্গ, আমার পরাণ, আমার জীবন ধন। আমারে ফেলিয়া, লীলা সম্বরিয়া, হইলেন অদর্শন। আমার গৌরাঙ্গ, খুঁজিয়া খুজিয়া, কোন্ দেশে জানি যাব । কাঙ্গাল বিজয়, মনেদুঃখে কয়, আর কি গৌরাঙ্গ পাব ? ২১। সােণার ফুল গােপী ভাব কল্প, লতিকার শিরে, একটি সােণার ফুল। ফুটিয়া কেমন, শােভিছে সুন্দর, নদীয়া জাহুবী কূল। ফুলের সৌরভে, ভুবন ভরিয়া, মধুর পিয়াসে, উঠিছে মঙ্গল রােল। মধু পান আশে, মাতিল মধুপ কুল। করণিকা যেন, সােণার কউটা মাঝে। মরকত মণি,
শ্ৰীশ্ৰীগােরগীতাবলী ।
জগতে অতুল,
অপরূপ ফুল,
মরি কি সুন্দর সাজে!!
যে দেখে এ ফুল, সে হারায় কুল,
আকুল হইয়া মরে।
কুলের কামিনী,
ত্যজি কুলখানি,
অকুলে ডুবিয়া পড়ে।
দেবগণ আসি,
মানবের বেশে,
দেখিছে ফুলের শােভা।
কোন্ বিধি জানি,
গড়িল এ ফুল,
জগজন মনােলােভা ।
কাঙ্গাল বিজয়,
মনটদুঃখে কয়,
গুরু হয়ে অনুকুল।
কবে এ দীনের,
হৃদয় কাননে,
ফুটাবে সােণার ফুল। ২২।
কিশাের গৌরাঙ্গ
তপত কনক, কিরণ কঁতি।
ভুবন উজোর, বরণ ভাতি।
দীঘল চাচর, চিকুর দাম।
মদন মােহন, বদন ঠাম ॥
কামের কামুক, যুগ শােভা।
করুণা কটাক্ষ, লােচন লােভা।
| ৪৪ শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। নয়ন অরুণ, কমল হেন। তাহাতে তারকা, ভ্রমর যেন। অধর রঞ্জিত, তাম্বুল রাগে। বান্ধুলী বরণ, কিসে বা লাগে। মুকুতা গঞ্জন, দশন পাতি। বদন মণ্ডল, সুন্দর অতি। শম্বুক সদৃশ, সুগরু গ্রীবা। মুনির মানস, মােহন কিবা। অমিয়া জিনিয়া মধুর হাস। মধুর মধুর, মধুর ভাষ। ললিত মধুর, লাবণ্য সার ॥ উন্নত উরসে, কুসুম হার। হিয়ার দোলনে, ঈষত দোলে। নিরখি নিখিল, ভুবন ভুলে ॥ নিথর নিতম্ব, কেশরী কটি। রাতা উতপল, চরণ দু’টি। বিদ্যার বিলাসে, সতত ভাের। পুরুষ যােষিত, মানস চোর। জাহুবী সলিলে, করই কেলি। সখার সহিতে, সিনান বেলি । নগরে ভ্ৰময়ে, নাগর রাজ। রাজার কুমার, সমান সাজ। কীৰ্ত্তন রসেতে, সতত ভােরা। ভকত বৎসল, শচীর গােরা ।
শ্রীশ্রীগৌরুগীতাবলী।
৪৫
রােয়ত, হসত, গায়ত “রা রা।”
অরুণ নয়নে, বরুণ ধারা।
তরুণ বয়সে, করুণ কাঁদে।
নদীয়া নাগরী পড়িল ফাঁদে।
ধূলায় পড়িয়া কখন লুটে।
লাফিয়া কাপিয়া আবার উঠে।
দু’বাহু তুলিয়া বলিছে হরি।
নাচিয়া নাচিয়া করুণা করি।
কঁদিয়া কঁদিয়া ক্ষণেক হাসে।
কে জানে কি রসে কখন ভাসে।
ধূলায় ধূসর সােণার তাঙ্গ।
বাস অঙ্গণে কত না
গদাধর সহ পীরিতি বাড়া।
রহেনা তাহারে তিলেক ছাড়া।
শ্ৰীধর সহিতে কন্দল, জোর।
কাড়িয়া লইতে কলার থাের ।
নবীন নাটুয়া নাগর রায়।
লখিতে নদীয়া নাগরী ধায়।
বিজয় বলিছে পড়িয়া পায়।
জাতি কুল রাখা, হইবে দায় ॥ ২৩।
1
তনুর গঠন,
নবীন-গৌরাঙ্গ।
নবীন গৌরাঙ্গ, নাটুয়া নাগর,
নদীয়া নগর মাঝে।
সহচর সঙ্গে,
প্রেম রসঙ্গে,
কিবা ! আনন্দে বিরাজে।
অতনু মথন,
ভূষিত কুসুম সাজে।
বসনে ভূষণে,
মনােহর বেশ,
মরি কি সুন্দর সাজে।
তপত কাঞ্চন,
কলেবর কঁতি,
লাবণি তরঙ্গ তায়,
কি পুরুষ নারী, সে তরঙ্গে পড়ি,
অকূলে ভাসিয়া যায় ।
বিশ চিত্ত চোর,
নবীন গৌরাঙ্গ,
কনক সুন্দর কায়।
রূপের ঝলকে, আনের কি কথা,
মদন মূছা পায়।
চঁচর চিকুর,
মালতীর মালে,
শোভিছে সুন্দর অতি।
মুখ মণ্ডল,
করে ঝল মল,
মুকতা দশন পাতি।
নাসা তিল ফুল, শ্রুতি সে অতুল,
কনক কুণ্ডল তায়,
শ্ৰীশ্ৰীগোরগীতাবলী । ৪৭ বান্ধুলী বরণ, চারু দরশন, ওষ্ঠাধর শােভা পায়। অরুণ নয়নে, করুণ চাহনি, আনন্দ বরুণ পূরা। নয়নে উপরে, জযুগ যেমন, কামের কাৰ্ম্মক যােড়া। মৃদু মন্দ হাসে, বিদ্যুত বিকাশে, বচন অমিয়া মাখা। অনুপম গ্রীবা, মনােরম কিবা, সুঠাম ঈষদ্ বাঁকা। বক্ষ পরিসর, তাহাতে সুন্দর, কনক কুসুম হার। ঝলকি ঝলকি, দোলিছে সতত, তুলনা নাহিক তার। আজানুলম্বিত, বাহু সুললিত, সােণার বলয় সাজ। নখচু কিবা, তুলনায় হারে, কোটি কোটি দ্বিজ রাজ। হরি কটি জিনি, ক্ষীণ কটি খানি, কিঙ্কিণী বেষ্টিত তাহে। সুচারু ঘন, জগজন মন, বিমােহন হয় যাহে। অতুল রাতুল, মণির মঞ্জীর রাজে। চরণ যুগলে,
৪৮
।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
হাটিতে নাচিতে,
মরি কি সুন্দর,
মধুর মধুর বাজে।
এমন সুন্দর,
নবীন গৌরাঙ্গ,
পরাণে বাঁধিল যেই ।
কহিছে বিজয়, নিশ্চয় নিশ্চয়,
প্রেমেতে ড, বিল সেই ॥ ২৪।
শ্রীগৌৰচন্দ্র। ইন্দু। ভুবন ভরিয়া (গীতি কবিতা) কনক গৌর, গৌর উজ্জ্বল মধুর প্রেমক সিন্ধু। উদয় নদীয়া উদয়াচলে। বেষ্টিত পার্ষদ তারক দলে । হরিণ হীন পূরণ চন্দ। বিলাস আনন্দ কন্দ । ততুল শ্রীগৌরচন্দ্র কি শােভা। ভকত চকোর লােচন লােভ । করুণা ভাস। তম বিনাশ। আনন্দে অধীর পুরুষ নারী। পুলকে পূর্ণিত রূপ নেহারী । করুণা কিরণ পাইয়া হবে। হাসিছে নাচিছে গাইছে সবে। আনন্দে পূরিল ধরণী ধাম। কীৰ্ত্তন কেবল শ্রীহরি নাম। পতিত পাষণ্ড পড়ুয়া যত। ধূলায় লুটিয়া কঁদিছে কত। নিন্দুক নাচিয়া গাহিছে জয়। জয় গৌরচন্দ্র কহে বিজয় ॥ ২৫ কলি কলুষ ভুবন ভাসিল, একটী গৌৱ পদ। গৌর আমার করুণার সিন্ধুরে। বিধি বিষ্ণু হরে, সদা বাঞ্ছা করে, যে সিন্ধুর এক বিন্দু রে ॥ ধ্রু॥ নাম সংকীর্তন, ‘কলকল ধ্বনি, অবনী ভরল তায় রে। আনন্দ বাতাসে, নিতাই তরঙ্গ, গর্জন, অদ্বৈত রায় রে !! করুণা প্লাবনে, নাশিল কলুষ কালী রে! পরশ পাইয়া, স্থাবর জঙ্গম, নাচে দিয়া করতালি রে । রসিক ডুবারু, ডুবিয়ে ডুবিয়ে, তুলিয়ে রতন মণি রে। দী হীন দেখি, করিতেছে দান, কাঙ্গাল হইল ধনী রে । ভাবের জোয়ারে, রাগের গরিমা, নিরখি নয়ন ভুলে রে। সে রূপ পাথারে, কেহবা সাঁতারে, কেহবা দাড়ায়ে কূলে রে ॥ পতিত পাষণ্ড, সকলি ডুবিল, ডুবিল ভকত মীন রে। করম বিপাকে, করুণা কিঞ্চিতে, বঞ্চিত বিজয় দীন রে ॥ ২৬
ভাবনিধি গৌরাঙ্গ।
ভাবনিধি গােরা হৃদে ভাবের লহরী।
কত যে উঠিছে হায় ! দিবস সর্ববরী।
সুরধুনী ধারা যেন নয়নের বারি।
মৃরছি মূরছি পড়ে পূরব সমরি।
পদাধর পানে চাহি আকুল কঁাদিয়া।
নিজ অঙ্গ কান্তি হেরে অনিমিক হৈয়া ।
ধূলায় ধূসর অঙ্গ, যায় গড়াগড়ি।
দু’বাহু তুলিয়া পঁহু বলে হরি হরি ।
বলি
উঠে শিহরিয়া।
কি পাবে ? ভাবের ওর বিজয় ভাবিয়া ॥২৭
শ্রীগৌরাঙ্গের ভাবান্তর পদ।
(শচীর উক্তি।)
কেন বা গােরার চিত্ত হইল এমন।
বিরলে বসিয়া কান্দে, হিয়া ধৈৰ্য্য নাহি বান্ধে
অঝোরে ঝরিছে দু’নয়ন।
অধােমুখে অনিমিখে,
কর নখে ভূমি লিখে,
কার দিকে না চায় ফিরিয়া।
বিষ্ণুপ্রিয়া কাছে গেলে,
চায় নয়ন তুলে,
ইতি উতি ধায়
নড় দিয়া ।
હર
শ্রীগৌরগীতাবলী।
তলে,
মুখে বসি,
শুনে মায়ের কথা,
শচীর দারুণ ব্যথা,
পুত্রের এ ভাব দরশনে।
কান্দিয়া বিজয় বলে,
শচীর
চরণ
গােরাকে রাখিও সাবধানে। ২৮ ॥
শ্রীগৌরাঙ্গের ভাবান্তর দর্শনে
(শচীর উক্তি।)
(আমার) গােরা কেন হইল এমন।
চাদ মুখে নাহি হাসি,
অবনত
অবিরত করয়ে রােদন ॥
শ্রীবাসাদি ভক্ত সঙ্গে,
ভাসিয়ে প্রেম তরঙ্গে,
আর নাহি করে সংকীৰ্ত্তন।
ঊর্ধে দুই বাহু তুলি,
হরি হরি হরি বলি,
গঙ্গা-তীরে না করে ভ্রমণ।
নাহি যায় গঙ্গাস্নানে,
নাহি বসে পূজা ধ্যানে,
নাহি আর লােক ব্যবহার।
হেন বুঝি লয় মনে,
ভাবিছে বিজয় দীনে,
শীঘ্র গােরা ছাড়িবে সংসার । ২৯
শচীর সংকীর্তন দর্শন
'নয়ন
শ্রীবাস অঙ্গণে নাচিছে গােরা।
বিলাস রস-বিভোরা।
আড়ালে থাকিয়া দেখিছে আই।
বেষ্টিত চঁাদ নিমাই।
প্রেমের পরভা ফলিত মুখ।
নিরখি মায়ের কতই
দূরে গেল যত পূরব
দুখ।
বাৎসল্যে ভরিয়া উঠিল বুক ।
পরাণ নিমাই কীৰ্ত্তনে নাচে।
জননী বদন চাহিয়া আছে ।
দুইটি নিমিষ হারা।
অচল সচল নয়ন তারা ॥
পুলকে পূর্ণিত সকল কায়।
নাচিছে নিমাই দেখিছে মায় ।
নিমাই ভাবিয়া বিরস রাণী।
না সরে বদনে একটি বাণী ।
চিত্রের পুতুলী দাড়ায়ে দূরে।
বয়ান তিতিছে নয়ান লােরে।
অামার তনয় এই নিমাই।
এ কথা শচীর মনেতে নাই।
ভাবিছে নিমাই মানুষ নয়।
মানুষে এ ভাব কভু কি হয় ?
৪
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
ভূলােকে আসিছে গােলোক ধন।
এমতি হয়েছে মায়ের মন।
ঐশ্বৰ্য আসিয়া বাৎসল্য নাশে।
আবার বাৎসল্য ফিরিয়া আসে।
দেখিছে রাণী পরাণ গােরা।
অরুণ নয়নে বরুণ ধারা।
বদনে বলিছে কেবলি হরি।
ধূলায় পড়িয়া দিতেছে গড়ি।
কখন ধূলায় পড়িয়া লুটে।
লাফিয়া ঝাপিয়া কাপিয়া উঠে
তরস হইল শচীর মনে।
হারাবে বলিয়া নিমাই ধনে।
শীর ভাবনা ভাবিয়া হৃদে।
বিজয় কঁদিছে মনের খেদে। ৩০।
ঐশ্রীগৌর গীতিকা।
বৃন্দাবন বিলাসিনী
রাই আমাদের সুর।
জগমন মােহনীয়। গৌর আমাদের।
গৌর আমাদের,
গৌর আমাদের,
আা গৌরের, গৌর আমাদের।
কনক কেতকী জিনি অঙ্গের কিরণ।
।
শ্রীগৌরগীতাবলী ।
পরকীয় রসে মাখা বাঁকা দু'নয়ন।
দেখলে পাগল হয় মন।
পদনখে পড়িয়াছে কোটি সুধাকর।
মদন মােহন রূপ, বদন সুন্দর।
গৌর রূপের সাগর।
শ্রীগৌরাঙ্গ রূপ-সাগরে, যত পুরুষ নারী।
মীনের মত ডুবে আছে আপনা পাসরি।
রদের কি মাধুরী!!
প্রেমের ঠাকুর গৌর দিল প্রেমে জগৎ ভরি।
কত সােণার মানুষ ধূলায় পড়ে দিচ্ছে গড়াগড়ি।
বলে হরি হরি।
তন্ত্র-মন্ত্র যাহা কিছু ছিল কলি
কালে।
গৌরাদ উড়ায়ে দিল খোলে করতালে।
কেবল হরি বলে।
যারে দেখে তারে বলে বলার একবার হরি।
ভব-সাগরে পার করিব চাইনা পারের কড়ি।
এস শীঘ্র করি।
গৌর-চান্দের আজব লীলা বড় চমৎকার।
পতিত পাষণ্ড
সব হইল পার।
বাকি রৈলনা আর।
গৌর-প্রেমে পাগল হৈয়া গেল জীবের জাত।
ব্রাহ্মণে কাড়িয়া খাইল মুচির পাতের ভাত ।
মিটে গেল সকল উৎপাত।
গৌর-প্রেম-সাগরে ভাসূল জীবের জীবন-তরী।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
করুণা বাতাসে উঠল আনন্দ লহরী।
আহা মরি মরি।
তরঙ্গে পড়িয়ে
তরী হেলে দোলে যায়।
মাঝখানে মন প্রাণ ভরিয়ে নামের সারি গায়।
কি মজা গৌর লীলায়।
শূদ্র, ভদ্র, ক্ষুদ্র কিবা রাজা রাজ্যেশ্বরে।
সমান সমান করে দিল গৌর নামের জোরে।
গৌর কি না করে।
নদ্বীপে নূতন লীলা, তুলনা তার কি ?
ভঙ্কা মেরে চলে গেল কলির পাতকী।
শুধু বিয়ে বাকি।
শ্রীশ্রীনিতাই গৌরাঙ্গ।
নিতাই গৌরাঙ্গ আমার বলাই কানাই গাে
বলাই কানাই।
জীবে দিতে হরিনাম, ত্যজিয়ে গােলােক ধাম,
নদীয়া আইলা দুটী ভাই।
নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, করুণা নিধান গাে,
করুণা নিধান।
দেখিয়া জীবের দুঃখ, ভুলি আপন সুখ,
দীন বেশে প্রেম কৈলা দান।
নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, জগতে অতুল গাে,
জগতে অতুল।
৫৭ শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। যে মারে মাথায় বাড়ি, তারেও করুণা করি, যতনে ধরিয়া দেয় কোল । নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, পর-হিতকারী গাে, পর-হিতকারী। ভক্তগণ লয়ে সাথে, প্রেমের পসরা মাথে, বিলাইতে যায় বাড়ী বাড়ী। নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, সােণার পুতুল গাে, সােণার পুতুল। প্রেম ভরে নৃত্য করে, বচনে অমিয়ারে, কর-পদল পদ্মফুল ॥ নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, রসের নিলয় গাে, রসের নিলয় । রসের চাহনি দিয়া, ব্ৰজরস মিশাইয়া, নীরসে সরস করি লয় । নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, কাঙ্গালের বন্ধু গাে, বন্ধু কাঙ্গালের বন্ধু। ললাকে যারে ঘৃণা করে, নিতাই সাপুটী ধরে, কোলে করে গােরা গুণাসিন্ধু। নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, প্রেমের ঠাকুর গাে, প্রেমের ঠাকুর। আনিয়া প্রেমের বন্যা, ধরণী করিল ধন্যা, কলির কলুষ দুর নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, বড়ই চতুর গাে, কৈল বড়ই চতুর।
৫৮
শ্রীশ্রীগৌৰগীতাবলী ।
ছাড়ি নিজ ঠাকুরালী, হয়ে পথের কাঙ্গালী,
উদ্ধারিলা অধম আতুর ।
নিতাই গৌরাঙ্গ মাের, পাপীর পরাণ গাে,
পাপীর পরাণ।
ভাবিছে বিজয় দীনে, নিতাই গৌরাঙ্গ বিনে,
কলির কল্যাণ নাহি আন। ২।
শ্রীশ্রীগৌর চন্দ্র।
নদীয়া নগরে নাটুয়া সাজে
নটন রঙ্গীয় গৌরাঙ্গ সাজে।
মণির মঞ্জীর চরণে রাজে
নর্তনে মধুর
মধুর বাজে।
কিরণ তপত কনক জিনি
নবনী কোমল শরীর খানি।
অরুণ
চরণ পাণি
ভ্রমর সম্ভাষে সরােজ মানি।
শােভত সুন্দর রসের গােরা
রসময়ী রাধা-রস বিভােরা।
রসে বড়ব নয়ন তারা
তনু মন প্রাণ, রসের গড়া
গৌরগীতাবলী।
৯
রসের বদনে রসের কথা।
সুধাকর সুধা ঝরিছে যথা।
রস নিসেবনে নয়ন রাতা।
রসের পরাণ রসেতে মাতা ॥
কলির
কলুষ
করিছে নাশ।
গৌড়ােদয়ে, গৌরচন্দ্র বিকাশ।
গৌরাঙ্গ চরণে যাহার আশ।
বিয় তাহার দাসের দাস। ৩৩।
গৌৱ গীত।
জয় গৌর নিত্যানন্দ, বলে কর আনন্দ,
নিরানন্দে থেকে কাৰ্য্য নাই।
হরিনাম দিতে,
জীব নিস্তারিতে,
নদে’ এল’ গৌর-নিতাই।
সঙ্গে করি ভক্তগণ, প্রেমে হয়ে নিমগন,
সংকীৰ্ত্তন, করিছে সদাই।
ঘরে ঘরে প্রেমধন, করিতেছে বিতরণ,
*তিত পাবন দু’টি ভাই।
ঘাের কলিকাল হৈল ধন্য, অবতীর্ণ শ্রীচৈতন্য,
পুরাণে প্রমাণে শুন্তে পাই।
পাপী তাপী যত,
তার সাক্ষী জগাই আর মাধাই।
উদ্ধারিল কত,
৬০ শ্রীশ্রীগৌরগীতালী। কেন্দে কাঙ্গাল বিজয় বলে, পড়িয়া চরণ তলে, হরি বলে আয় সকলে ভাই। করােনা আর দেরী, লয়ে নামের তরী, কাণ্ডারী সেজেছে নিতাই। ৩৪। শ ফুলদোলে গৌরাঙ্গ। বৈশাখী পূর্ণিমা, কি তার উপমা। সুষম রঞ্জিত রাতি । গগন প্রাঙ্গণে তারা-বধু সনে, উদয় তারকা পতি। সুধা ধবলিতা, প্রকৃতি সুন্দরী, চাদনী মাখিয়া গায়। কুসুম স্তবক, লবঙ্গ লতিকা, দোলিছে মৃদুল বায় । ভ্রমর ভ্রমরী, গুণ গুণ, করি, সুখের সঙ্গীত গায়। ফুল ফুলদলে, মনােম মধু খায় । চকোরী চকোর, সুধা পানে ভাের, উড়িয়া ঘুরিয়া ফিরে। এহেন সময়, শচীর তনয়, আইলা জাবী তীরে। বসি কুতূহলে, ঐশ্রীগৌরগীতাবলী। নদীয়া নাগর, রসের সাগর, ভ্রময়ে ভকত সনে। করি দরশন, অথির অন্তর, কুসুম কানন, পূরব পড়িল মনে। মন গরগর, পুলকে পূরিল দেহ। মৃদু মন্দ হাস, লহু লহু ভাষ, ভাবিয়া বরজ লেহ। অন্তরঙ্গগণ, লখিয়া ঐছন, বুঝিয়া ভাবের গতি। তুলি নানা ফুল, করে ফুলদোল লইয়ে অখিল পতি। পুঞ্জ পুঞ্জ ফুলে, কুসুমের কুঞ্জ, মঙুল মালঞ্চ মাঝে। সাজায় সকলে, জাতি যূথী গন্ধরাজে । মল্লিকা মালতী, ফুল নানা জাতি, সৌরভে মাতায় মন। ফুলের আসনে, বসায় ভকতগণ। ফুলের ভূষণে, আর কতজনে, সাজায় গৌরাঙ্গ চাদে। নিরখি তখন, পড়িল রূপের ফাঁদে। অতি কুতূহলে, শ্ৰীশচী-নন্দনে, অখিল ভুবন,
৬২
শ্ৰীশ্ৰীগোবগীতাবলী।
গােরা-তনু-মন,
রসে নিমগম,
পূরব ভাবিয়া হায়।
বঙ্কিম নয়নে,
গদাধর পানে,
ফিরিয়া ফিরিয়া চায় ।
প্রিয় গদাধর,
বুঝিয়া অন্তর,
বসিল আসিয়া বামে।
কাঙ্গাল বিজয়,
বলে জয় জয়,
বরজ নদীয়া ধামে। ৩৫।
শ্ৰীশ্রীগৌরচন্দ্র
জয় জয় গৌরচন্দ্র, জয় বিশ্বম্ভর।
আনন্দ বিগ্রহ জয় প্রভু সর্বেশ্বর।
সর্বৈশ্বৰ্য্য পূর্ণ, সর্ব মাধুর্যের সার।
জয় জয় ভুবন পাবন অবতার ।
কলি কলুষ কুঞ্জর বিনাশ কারণ।
অবতীর্ণ গৌরসিংহ, নদীয়া ভুবন।
নবনী কোমল কায় অতি নিরমল।
গলিত কাঞ্চন কান্তি, করে ঝলমল।
বদন চাদের ছাদে, দশদিক আলাে।
কুঞ্চিত কুন্তল দাম, গাঢ় কৃষ্ণ কালাে।
ললাটে শাভিত কিবা, চন্দনের বিন্দু।
সুবৰ্ণ ফলকে যথা, পূর্ণিমার ইন্দু।
ঝকমক
শ্রীগৌরগীতাবলী।
আকর্ণ বিস্তৃত আঁখি অনঙ্গ মােহন।
করুণা কটাক্ষ পূর্ণ, চারু দরশন।
খগ-চঞ্চ, জিনি কিবা, নাসিকা সুন্দর।
হিঙ্গুল মণ্ডিত কর-পদ-তল ওষ্ঠাধর।
দশন মুকুতা পাঁতি, সিন্দুরেতে মাজা।
যুগ কামের কামুক, সংযােজিত 'জ্যা।
আজানুলম্বিত ভুজ, রাম রম্ভা উরু।
পরিসর বক্ষ, কটি অতিশয় সরু।
চুম্পক কলিকা হেন, ঐকর পল্লব।
তাহে নখমণি সব ।
মনােমােদ কমুকণ্ঠ মধুর
রসময়
পরায়ণ।
সুরধুনী তীরে গােরা নাচিয়া বেড়ায়।
দরশে পরশে কত পাষাণ মিলায়।
সব জীবে সম দয়া নাহি আত্ম পরু।
প্রেমের পুতুল, মাের নদীয়া নাগর ।
রাধিকার ভাব কান্তি বিলাস বিভাের
কি পুরুষ কিবা নারী সৰ্ব চিত্ত চোর!
প্ৰেমধৰ্ম্ম প্রবর্তক,
নক সুধীর।
পাপ মাে বিনাশক শ্রীগৌর মিহির।
কলি কবলিত জীবে, করিতে উদ্ধার।
সাঙ্গোপাঙ্গ সঙ্গেতে নদীয়া অবতার ।
অগতির গতি গৌর দুর্বলের বল।
বিজয় বলিছে ভাই! হরি হরি বল। ৩৬
তনু শ্ৰী কীৰ্ত্তন
ঠাম । বৃষ্টি। পৌররূপ। কিবা, কনক কুমুদ কায়ার কাতি। কিবা, বিজুরী বিজয়ী বরণ ভাতি । কিবা, কুঞ্চিত কুন্তলে কুসুম দাম। কিবা, মদনমােহন কিবা, ললাট ফলকে চন্দন বিন্দু। জিনিয়া শারদ পূর্ণিমা ইন্দু। কিবা, কামের কামুক যুগ শােভা। পুৰুষ যােষিত লােচন লােভা। কিবা, অরুণ নয়নে করুণ দৃষ্টি। তরুণ রাগের বরুণ কিবা, নাসা তিল ফুলে জগত ভুলে। তাহাতে মাতঙ্গ মুকুতা দোলে। কিবা, ওষ্ঠাধর চারু বান্ধুলী বর্ণ। কিবা, কনক কুগুলে শােভিত কর্ণ । কিবা, সুচারু বদনে মধুর হাস। কিবা, মধুর মধুর মধুর ভাষ। কিবা, কুল বিনিন্দিত দশন পাতি। কে যেন রাখিছে সূতায় গাঁথি। কিবা কম্বুকণ্ঠখানি মনােমােদ অতি। নিরখি মূরছে, মদন রতি। কিবা, আজানুলম্বিত শ্ৰভুজদ্বয়। তাহাতে সােণার বলয় ॥
শ্রীশ্রীগৌরগতাবলী।
W:
তাছ |
কিবা,
কিবা, একর-পল্লব চাপার কলি।
চাদের শিশু, নখমণিগুলি।
কিবা, কর-দ-ল জিনি ভূ-পদ্ম ।
ফুটিয়া রহিছে যেমন
পরিসর বক্ষে চন্দন সার।
আরাে কত কত কুসুম হার।
কিবা,
সূক্ষম যজ্ঞসূত্র শোভিত গলে ।
কিবা, রতন পাদুকা চরণ তলে।
কিবা, হরি কটি জিনি সরুয়া কটি।
জগতে এমন আছেবা ক’টি
তাহাতে কনক কিঙ্কিণী সাজে।
কীর্তনে নর্তনে মধুর বাজে।
কিবা, কিচ্ছ কৈশেয় বসন শোভা।
সুরাসুর মুনি মানস লােভা ।
অতুল রাতুল চরণ যুগ।
ভাবিলে থাকেনা ভবের রােগ
মণির মঞ্জীর দু’গাছি পায়।
কাঙ্গাল বিজয় দেখিতে চায় !৩৭।
কিবা,
ভাবােচ্ছাস।
কে তুমি? সােণার বরণ, দুইখানি বাহু,
তুলিয়া বলিছ হরি।
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী মধুর নাচিয়া, ভাবের বেশে, ধূলায় পড়িয়া, কখন দিতেছ গড়ি। জাহুবী যমুনা, নয়নে ঝরিছে, পুলকে পূর্ণিত অঙ্গ। হাসিয়া কাদিয়া, করিতেছ কত রঙ্গ । যে দেখি তােমার, ভাবের বিকার, এ যেন কাহার লহ। নতনে কীর্তনে, না দেও বিরাম, অবসাদ হীন দেহ। কত শত শই, ভকত চৌদিকে, আনন্দে অধীর সবে। কেহ বলে “ভাই। এই হয়ে গেল, আর কি এমন হবে ?” বাজিছে রসাল, কংস করতাল, কত, মধুর মৃদঙ্গ। হাপার্থিব প্রেম, রসের তরঙ্গে, ভাসিতেছে জনসঘ | সংকীৰ্ত্তন লয়ে, তুমিত বড়ই আনন্দে আছছা ? এই ভাবে মাের, হৃদয় প্রাঙ্গণে, ক্ষণেক নাচহে নাচো। ৩৮।
করুণাবতার।
শ্ৰীশচী-নন্দন গােরা।
বরজ বধুর,
উজ্জ্বল মধুর,
মধুর : রস বিভােরা ।
সুরাসুর নর,
গন্ধর্ব কিন্নর,
সর্ব চিত্ত হর হরি।
পরম রতন,
কযই কাঞ্চন,
পতিতে পরশ করি !!
দীন দুরবল,
তানাথ সকল,
করুণায় করি কোলে,
সিঞ্চি নেত্রজল,
বলে “হরিবল”
মধুর মধুর বোলে।
কলিযুগ পাপ, তাপ-তমােহারী,
নদীয়া নাগর রাজে।
কতদিনে হয়,
কাঙ্গাল বিজয়,
বাঁধিবে হৃদয় মাঝে ৩৯।
ম
==
নদীয়া নগরে নাগর গোরা।
বরজ-বিলাস-রস-বিভােরা ।
ভাবের তরঙ্গে সদাই ভাসে।
অথির পরাণে কঁাদিয়া হাসে।
শ্রীমোরগীতাবলী। কখন ধূলায় পড়িয়া লুটে। কঁপিয়া লাফিয়া আবার উঠে । গদাধর পানে সঘনে চায়। তারে যেন কারে, দেখিতে পায়। অভিনয় করে বরজ লীলা। দরশে দরবে বজর শীলা নয়নে গলয়ে শাউন ধারা। বদনে বলয়ে শুধুই “রা রা” । কঁদিয়া কঁদিয়া ক্ষণেক হাসে। মনুজ মানস-কলুষ নাশে । নটন রঙ্গীয়া কীৰ্ত্তন রঙ্গে । বিভাের সতত ভকত সঙ্গে। নিখিল ভুবন মােহন রূপ। উজ্জ্বল মধুর রসের কুপ। বিদ্যুত বিজয়ী বরণ খানি। তারুণ বরণ চরণ। পাণি। কমল, দশন কুন্দ। অধর বান্ধুলী কিব। সুনন্দ। গলায় লম্বিত কুসুম হার। ত্রিলােকে মিলেনা তুলনা তার। মণির মঞ্জীর চরণে রাজে। নর্তনে মধুর মধুর বাজে ॥ পুরুষ যােষিত পরাণ চোরা।
শ্রীশ্রীগেীরগীতাবলী।
নদীয়া নগরে রসের গােরা ।
এহেন গৌরাঙ্গ মিলিবে কবে।
বিজয় ভাবিয়া বিবশ হবে। ৪০ ॥
গৌৱনুৱাগ।
( নাগরী-উক্তি।
দেখলাে ! সজনি !! গােরা দ্বিজমণি,
সুরধুনী
তীরে, কি খেলা খেলায়।
দু’টি বাহু তুলে, হরি হরি বলে,
‘ধা’ বলিয়া কভু ধরণী লুটায় !
করুণ চাহনি, নয়ন অরুণ,
বদন
বাহিয়া বহিছে বরুণ,
কঁদে আর হাসে, আধাে আধাে ভাষে,
কি রসে সে ভাসে, কে বুঝিবে হয়।
ভাবের তরঙ্গ, অঙ্গে নাহি বল,
তবু
নহে স্থির,
সতত
চঞ্চল,
কিবা অনুরাগে, না জানি কি মাগে,
যার তার আগে, কর জোড়ে রয়।
ক্ষণে ক্ষণে নিজ অঙ্গ নেহারিয়া,
আকুল পরাণে, উঠে শিহরিয়া,
কারে যেন চায়, চারি পানে চায়,
চায় চায় আবার, ইতি উথি ধায়।
৭০
শ্রীগৌরগীতাবলী।
অধর,
স্বেদসিক্ত তনু, থরথরি কঁপে,
সুরক্ত
দশনেতে চাপে,
দশনে দশনে, ঘন ঘরষণে,
তার নয়নে, একদিঠে চায়।
বলিছে বিজয়,
সুবদনী,
প্রেমের ‘পাগল, গােরা দ্বিজমণি,
বরজের
ব্রজভাবে ভাবে,
সে ভাব অভাবে কাঁদে গৌররায়। ৪১
শ্রীশ্রীগৌর-চন্দ্র।
(নাগরী উক্তি।)
নবীন কিশাের গােরা, নিখিলের চিত্ত চোরা,
নদীয়া নগরে পরকাশ।
রূপে গুণে অনুপম,
সমতায় নাহি সম,
ভুবন ভরিয়া প্রেমােল্লাস।
জয় জয় গরি পাশে, জগত আনন্দে ভাসে,
প্রাণ ভরি গােরা মুখায়।
কি কব সে গােরা-রূপ, পীরিতি রসের কূপ,
যে রূপে মদন মূরছায় ॥
জানি কেমন বিধি, গড়িয়াছে গােরানিধি,
কোন্ ছাঁচে, কত সােণা দিয়া।
কি পুরুষ কিবা নারী, ধৈরজ ধরিতে নারি,
ঐশ্রীগৌরষ্টতাবলী।
৭১
*
সে দি বদন নিরখিয়া ।
সই ! গােরা তানুরাগে মনু-মনু।
কতনা অমিয়া দিয়া, প্রেমরস মিশাইয়া,
বিধাতা গড়িল গােরা তনু।
সরস দরশে তার, আঁখি ঝরে অনিবার,
পরশেতে পরাণ জুড়ায়।
যে দেখি নাটুয়া ছাঁদ, ঘটাইবে পরমাদ,
কামিনীর
কূল
রাখা দায়।
যদিবা ঘুমায়ে থাকি, স্বপনে গৌরাঙ্গ দেখি,
একি মাের হইল জঞ্জাল।
কহিবার কথা নয়, কহিতেও করে ভয়,
ঘরে আছে গুরুজন কাল।
ওপতে রাখিব কত,
কুলের ধরম যত,
হত হবে গােরা অনুরাগে।
কাঙ্গাল বিজয় বলে পড়িয়া চরণ তলে,
এমতি আমার মনে লাগে। ৪২।
গৌরানুরাগ।
নাগরী উক্তি।
সকলি কহিছে গােরা!
রসের নাগর,
গুণের সাগর,
পিরীতি পীযূষে পূরা ।
সই!
৭২ শ্রীগৌৱগীতাবলী। কষিত কাঞ্চন, অঙ্গের কিরণ, ভুবন মোহন রূপ। প্রতি অঙ্গ শােভা, জগমন লােভা, কেবলি রসের কূপ । চাচর চিকুর, শােভিছে সুন্দর, মালতী কুসুমে ঘেরা। অতুল রাতুল, চরণ যুগল, মণির মঞ্জীরে বেড়া। ঐঅঙ্গ ছটায়, ভুবন ভুলায়, আনন্দ রতন খনি। কত কোটি চাঁদে, পদে পড়ি কাঁদে, নিরখি নখর-মণি । শুনিয়া শ্রবণে, লখিতে নয়নে, পরাণে পড়িল টান। কলসী লইয়া, ছুটিনু ধাইয়া, করিয়া জলের ভান । কি জানি কি হয়, সঘনে কঁপিছে কায়। চলেনা যেমন, কিছুই না মনে ভায়। পালটি ফিরিতে, নাহি মানে চিতে, ভাবিতে ভাবিতে যাই। পহিল দরশ, এমনি সরস, ০ চলিতে চরণ,
ঐশ্রীগৌরুতাবলী।
৭৩
আমি যেন, আমি নাই !!
জাহূদীর তটে, যেন চিত্রপটে,
হেরিনু নাগর বরে।
চাহিতে তা, পানে,
কি হ’ল তখনে,
তাহা কি বুঝিবে পরে ?
সেই হ'তে সখি,
যে দিকে নিরখি,
কেবলি
কাঙ্গাল বিজয়, কহিছে নিশ্চয়,
এমতি হইলে হয় ॥ ৪৩ |
গৌরাঙ্গময়।
গৌরানুরাগ
(নাগরী-উক্তি।)
ষে তাবধি, সখি ! শ্রবণে শুনিছি,
“গােরা” এ’ আখর দুই ?
সে তাবধি মনে,
সােয়াথ না পাই,
বাউরী হইছি মুঞি ।
কতনা অমিয়া, প্রেমরস দিয়া,
গঠিত এ, গােরা-নাম।
নামে এত মধু, মুরতি বা তার,
জানি কত সুঠাম ।
হিয়ার মাঝারে,
উভজাল আখরে,
লেখা যেন,-গােরা-গোরা।
৭৪
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
।।
মুছিলে মুছেনা,
ঘুচাতে ঘুচেনা,
সারাটা পরাণ যুড়া।
কি হৈল বিয়াধি মিলে ঔষধি,
দরশ পিয়াসে মরি।
একে কুলবধূ ,
ঘরে গুরুজন,
বল কি উপায় করি ।
চারিদিক্ হতে, সদা মাের কাণে,
আসে যেন গােরা গোরা।
গােরা অনুরাগ, আগুণে আমার,
পরাণটা পােড়া পােড়া ।
শুন প্রাণসখি, হব তার দাসী,
যে দেখাবে গােরা-চাদে।
কাঙ্গাল বিজয়,
অনুমানে কয়,
ঠেকিছ পিরীতি ফঁাদে ॥ ৪৪।
গৌরানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
যে হ’তে.দেখিছি, সুরধুনী ঘাটে,
নবীন নাটুয়া রূপ।
সে হইতে আর, আমি কি আমার,
ধরম করম লােপ !!
যেমতি নামটী, তেমতি মূরতি,
শ্ৰীশ্ৰীগেীরগীতাবলী। ৭৫ পিরীতি পীযূযে পূরা। যে দিকেতে চাই, আর কিছু নাই, ভুবন ভরিয়া গোরা। নয়নে কি ছানি, লাগিল সজনি, এমনি হইছে মাের। গােরময় সব হয় অনুভব, চিনিনা আপন পর । গােরা গােরা করি, যারে তারে ধরি, সকলে পাগলী কয়। কতনা যাতনা, দেয় গুরুজনা, কিছুতেই কিছু নয়। যদি দুই আঁখি, বুজাইয়া রাখি, তবু দেখি সেই গাের। ঘুমাইলে গােরা, জাগরণে গােরা, গােরা কি ভুবন যুড়া ? আগে যদি জানি, এমতি হইবে, তবে কি তাহাকে দেখি। শুনিয়া দেখিছি, দেখিয়া মরিছি, বিষম বিপাকে ঠেকি। গােরা নটরায়, সতত আমায়, পরাণ ধরিয়া টানে। কাঙ্গাল বিজয়, অনুমানে কয়, গােরা কি মােহিনী জানে। ৪৫।
গৌৱনুৱাগ।
( নাগরী-উক্তি )
সই। গােরা রূপে হরল গেয়ান।
জানি কেমন বিধি, গড়িয়াছে গােরানিধি,
নাশিতে নারীর কূলমান ।
চঁচর চিকুরদাম,
নিরখি মূরছে কাম,
তাহে কত, মালতীর ফুল।
সুন্দর সৌরভ পেয়ে, মধু লােভে ধেয়ে ধেয়ে,
পুঞ্জে পুঞ্জে গুঞ্জে অলিকূল।
কষিত কাঞ্চন কঁতি, বরণ বিজুরী ভাতি,
কুসুম কোমল কলেবর।
বদন শারদ ইন্দু, ললাটে চন্দন বিন্দু,
কমল নয়নে কাম-শর ।
নিখিল ভুবন ভুলে,
একবার নিরখিলে,
এমনি সুন্দর যােড়া ভুরূ।
কামের কাৰ্ম্মকখানি, কে যেন রাখিল আনি,
আঁখির উপর করি সরু।
কামিনীর কূলনাশা, তিল ফুল জিনি নাসা,
মুকুতা জিনিয়া দন্ত পাতি।
ফুটন্ত বান্ধুলী জিনি, ওষ্ঠাধর দুইখানি,
কস্তু কণ্ঠ মনােমােদ অতি ।
কর, কটি, নাভি, পদ, অতি শশাভার সম্পদ,
তুলনা করিতে তুল্য নাই।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
৭৭
মণির মঞ্জীর পায়, মরি কিবা শােভা পায়,
নখমণি বলিহারি যাই।
মনে কয় দাসী হই, সতত চরণে রই,
গােরা-রূপে মজাইয়া মন।
ধন জন গৃহবাস,
হক মাের সর্বনাশ,
যদি পাই গােরা হেন ধন ।
কাঙ্গাল বিজয় ভণে, হেন ভাব যার মনে,
তাহার দাসীর যে বা দাসী।
তার দাসী কোন কালে, হয়ে যেন গৌর বলে,
সেবা সুখ সিন্ধু মাঝে ভাসি॥ ৪৬।
গৌরানুরাগ।
{ নাগরী-উক্তি।
সই! কে বলে গৌরাঙ্গ ভাল ?
বাহিরে উহার, সােণার বরণ,
ভিতরে কেবলি কালাে ॥
বাহিরে গৌরাঙ্গ, সরল সুন্দর,
পটেতে যেমন আঁকা।
ভিতর চাহিয়া, দেখিছ কি তার ?
ভিতরে তিনটি বাঁকা।
বাহিরে গৌরাঙ্গ,
সাধু সুপণ্ডিত,
সাত্ত্বিক ভাবেতে পাের।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। ৭৮ ভিতর খুজিলে, বুঝিতে পারিবে, এ বড় দারুণ চোর। বাহিরের ভাব, পরের রমণী, নাচায় নয়ন কোণে। ভিতরে উহার, পরাণ কাদিছে, শুধু পরবধূ গুণে ॥ বাহিরে দেখিছ, পুরুষ লক্ষণ, সকলে পুরুষ কয়। পুরুষ হইয়া, প্রকৃতির ভাবে, ভিতরে প্রকৃতিময়। বাহিরে দেখিছ, ব্রাহ্মণ লক্ষণ, ব্রাহ্মণ্য ধরম ভূপ। মাের মনে কয়, ব্রাহ্মণতাে নয়, ভিতরে যেমন গােপ। গােরা কিসে ভাল সই ? ভালর লক্ষণ, কি আছে এমন, শুন তঁার গুণ কই। রঙ্গাইয়া অঙ্গে, ভাবের তরঙ্গে ভাসে। পাগলের প্রায়, ইতি উতি ধায়, কাঁদিয়া কঁদিয়া হাসে। আপনি পাগল, বলি হরি বােল, লােকেরে পাগল করে। রমণীর রঙ্গে, ঐশ্রীগৌগ গ্রতাবলী। ৭১ কূলের কামিনী, কি পুরুষ নারী, পাছু না বিচারি, পাগল হইয়া মরে । জাতি কূল মান, সকল বিনাশে, ভুলায় বিষয় সুখ। করে উন্মাদিনী, দেখায়ে সুন্দর মুখ। দরিদ্র ব্রাহ্মণ, নদের শ্রীধর, থাের মােচা বেচি খায়। জোর করি তার, দোকান লুটিয়া, বিনামূলে নিতে চায় । পাড়ায় পাড়ায়, ঘুরিয়া বেড়ায়, সকলে পাগল কয়। বিষ্ণুর আসনে, বসে বা কখনে, আপনে ঐবিষ্ণু হয়। পড়াইতে যায়, কি জানি পড়ায়, ব্যাকরণ,ব্যাখ্যা সূত্র। এক অর্থ ছাড়ি, আর অর্থ করে, বুঝায় শ্রীকৃষ্ণ মাত্র । বিষ্ণুপ্রিয়া পানে, নয়নের কোণে, ফিরিয়া নাহিক চায়। যা, ইচ্ছা তা, করে, মানুষ মারিতে যায়। হয়ে আত্মহারা, করে “রারা, রারা”, বায়ুর বিকারে,
৮০
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
‘ধা’ বলিয়া ভূমে পড়ে।
ভাগ্যে বাঁচে প্রাণ, প্রাণের সমান,
নিতাই ধাইয়া ধরে।
দেশে অধিকার,
যবন রাজার,
তারে নাহি করে ভয়।
অধম চণ্ডাল, কিছু নাহি বাছে,
টানিয়া কোলেতে লয়।
কাঙ্গাল বিজয়, করযােড়ে কয়,
শুন শুন সুবদনি।
যা বলিছ তুমি,
সব পরমাণ,
গােরা গুণ রস খনি। ৪৭।
গৌরানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সই! গােরা কি করিল মােরে !
গােরা গােরা করি, দিন রাত মরি,
কেনবা পরাণ পেড়ে !!
আমার যেমন,
জ্বলিছে পুড়িছে,
তার তাে, তেমন নয়।
তেমন হইলে,
সে কিগাে এখন,
এতটা দূরেতে রয়?
মনে করি দেখি,
জুড়াইব আঁখি,
শ্রীগৌরগীতাবলী ৮১ দেখাতে বিষম দায়। না হইতে দেখা, সে হয় অদেখা, বিজুলী রেখার প্রায়। মনে করি ধরি, হিয়া মাঝে পূরি, আশাতে বাড়াই কর। এই ধরি ধরি, কোথা যায় সরি, বৃথাই প্রয়াস মাের। অন্তর জানিয়া, তান্তরে যে থাকে, এ বড় দারুণ কষ্ট। পাইনু গােরা, তেয়াগিনু ঘর, দু’কূল হইল নষ্ট কাঙ্গাল বিজয়, দূরে থাকি কয়, চাহিও গােরা-চাদে । পরাণ তােমার, যেন দিবা নিশি, গােরা অনুরাগে কঁদে ॥ ৪৮ ॥ { গৌরানুরাগ। (নাগরী-উক্তি।) সই ! কি কব দুঃখের কথা। গৌরাঙ্গ হেরিয়া, মরিছি পরাণে, খাইছি কূলের মাথা।
৮২ শ্রীশ্রীগৌণীতাবলী। কেমন গৌরাঙ্গ, লােকের মুখেতে, শুনিয়া শুনিয়া, দরশ পিয়াসে মরি। কেমন মাধুরী, কেমনে বারেক হেরি। সময় খুঁজিয়া, সুযােগ বুঝিয়া, যাইছি জলের ঘাটে। কপালের জোর, “কে করিবে দূর, দরশ মিলিল বটে। নাটুয়া নাগর, গােরা গুণধর, যবহি পেখুলু সই! বিধি পাঁচ বাণ, হারানু গেস্নান, অনিমিক কাঁখে রই। রূপের রশমি, হিয়ার মাঝারে, চকিতে পশিল আসি। সরম ভরম, ধরম টুটল, লাগল পিরীতি ফাসী। সেই হৈতে সখি, আমার পরাণে, নাহিক সোয়াথ লেশ। আহার বিহার, তেজলু সকল, তাটন মাথার কেশ। ঘরে গুরুজন, দেয় ওলাহন, পরশী কহিছে কত। পাগলী পাগলী, সকলি কহিছে,
শ্রীগৌতৃগীভাবলী।
৮৩
শুনিনা মরার মত।
ভাবি গােরা লেহ,
দুরবল দেহ,
অখন তখন
মরি।
8
এ ভাবেতে আর, রব কত কাল,
কহ কি উপায় করি ?
কূলের কপালে, আগুন জালিয়া,
যােগিনী হইয়া যাব।
গােরা নাম লৈয়া, বেড়াব ঘুরিয়া,
মাগিয়া মাগিয়া খাব।
কাঙ্গাল বিজয়, করযােড়ে কয়,
এইসে মুকতি ভাল।
হরি হরি হরি, করি করি করি,
বিফলে জনম গেল ॥ ৪৯ |
গৌরানুৱাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
ঐ-কে ?
ব্রজ বিলাস রস বিভাের।
পুরুষ যােষিত পরাণ চোরা।
ভাবের তরঙ্গে ভাসিয়া ফিরে।
বয়ন ভাসিছে নয়ন নীরে।
৮৪
গৌরগীতাবলী।
কঁদিছে কঁদিছে আবার হাসে।
কতনা অমিয়া বরিষে ভাষে।
প্রেমে ডুবুডুবু নয়ন তারা।
জপত কেৰল সতত “রারা”।
পতিত পাইলে ধাইয়ে ধরে।
আপন গেয়ানে কোলেতে করে ।
দু’বাহু তুলিয়া, বলিছে হরি।
দেখ গো ! কতনা, করুণা করি।
চিনিনা আমারে চিনায়ে দে।
জাহুবী তীরে দাঁড়ায়ে—ঐ-কে ? ৫০
ঘুমে জাগরণে,
গৌরানুরাগ।
নাগরী-উক্তি।)
সই ! কি মাের হ’ল বিয়াধি।
রজনী কি দিনে,
মনে জাগে গােরানিধি ॥
পরাণ পাগল,
শুনিতেই
উপহাস।
সতীর সম্পদ,
জাতি কূল মান,
তা, বুঝি হইবে নাশ ।
সই! তুইসে আপন জন।
তা না হৈলে আর, আনের সহিতে,
পরের লাগিয়া
মরমী জনারে,
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী
সাজে কি এ আলাপন।
মরম কহিতে,
সরম কি আছে তায়।
বুকের বেদনা, বুকেতে পূরিয়া,
কত কাল রাখা যায়।
গৌর-রূপ কাটা, ফুটিয়া আমার,
ফুটা হয়ে গেছে বুক।
খসাইতে ধরি, তবে যেন মরি,
দ্বিগুণ বাড়য়ে দুখ ।
জোরে দিলে টান,
থাকে রাণ,
এমতি গিয়ান হয়।
খসিয়া পাশে,
বুক জ্বলে বিষে,
ইহা কে বুঝিয়া লয় ?
হিতে বিপরীত, এ কেমন রীত,
কহ কি উপায় করি।
গৃহকাজে মন,
বসেনা এখন,
জ্বলিয়া পুড়িয়া মরি।
কহিছে বিজয়, যার ভাগ্যে হয়,
এমতি তাঁহার দুখ।
দুঃখে কিবা করে,
দুঃখের ভিতরে,
অনন্ত অক্ষয় সুখ ॥ ৫১।
গৌৱনুৱাপ।
(নাগরী-উক্তি।)
সই! দারুণ দুঃখের কথা শােন।
কূলবধু কঁচা বাঁশ, অকালে করিতে নাশ,
বিধাতা গড়িল গােরা ঘুণ।
লখিতে সে অলখিতে, পশিয়া নয়ন পথে,
হিয়ার ভিতরে কাটে ঘর।
সরম ভরম কূল,
রাখে তাহার মূল,
তনু মন করে জরজর।
ঘূণ জানি কালাে থাকে, গুণ গুণ করি ডাকে,
লাখে লাখে ঝাকে ঝাকে কত।
এ যে কি সােণার ঘূণ, সদা গায় রাধা-গুণ,
খুন করে নারী শত শত ।
পরাণ থাকিতে ধরে, এ ঘুণে নাহিক ছাড়ে,
জীবন যৌবন করে শেষ।
আমি তাে মরিছি সই, এদুঃখ কাহারে কই,
দেহে নাই দেহ-ধৰ্ম্ম লেশ, ।
ব্রজের কালিয়া ঘূণ, রমণী বধে নিপুণ,
অধুনা উদয় নদীয়ায়।
বিজয় বলিছে সুখে চিনিবে বলিয়া লােকে,
রাই রূপ, সােণামাখা গায় ॥ ৫২।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। সই! গৌরাঙ্গ মানুষ নয়। জ্ঞান বুদ্ধি করে লােপ, মানুষে এমন রূপ, শুনিয়াছ, কখনে কি হয়। থির বিজুরী হেন, অঙ্গের বরণ যেন, দেহ সুলক্ষণ সুগঠিত। মুখে মৃদু মৃদু হাসি, যেমন অমিয়া রাশি, যে হাসিতে ভুবন মােহিত। চঞ্চল নয়ন কোণে, প্রেম-বারি নিশিদিনে, ঝর, ঝর, ঝরে অবিরাম। ভাব-রস-ভক্তিভরে, হেলিয়া দালিয়া পড়ে সদা করে হরেকৃষ্ণ নাম ॥ সুরধনী গঙ্গাতীরে, সঙ্গীগণ সঙ্গে ফিরে, বরজের ভাবে ভােরা মন। যেদেখে গৌরাঙ্গদে, সে ঠেকে পিরীতি ফাঁদে বিজয়ের হবে কি এমন ? ৫৩। গৌরানুৱাগ। ( নাগরীউ-ক্তি।) সই! পরেরে কহিতে ভয়। কে জানে এমন, ঘাটে গেলে মন- হারায়ে আসিতে হয়। গিয়াছিনু জলে, কালের বিকালে, একেলা কেবল আমি।
৮৮
শ্রীগৌরীতাবলী।
সচকিত মন,
শচীর দুলাল,
ঘর গুরুজন,
আয়ােত দারুণ স্বামী।
তাড়াতাড়ি করি, ভরি গঙ্গা বারি,
বাড়ীতে যখন আসি।
কামিনীর কাল,
সমুখে দাড়াল আসি।
হঠাৎ হেরিয়া, দাড়ানু সরিয়া,
মরমে মরিয়া সই!
বিপাক বুঝিয়া,
নয়ন বুজিয়া,
ক্ষণেক দাঁড়ায়ে রই।
পাছে কেহ শুনে ? বুজা চোক কোণে,
ঝরিল দুফোটা জল।
পিরীতি পিয়াসে, অতনু আবেশে,
মন দুরবল।
নয়ন মেলিয়া, দেখিনু চাহিয়া,
জগত
গৌরাঙ্গময়।
চাহিলেও গােরা, চাহিলে গােরা,
সঙ্কট সামান্য নয়।
ঘরে যেতে চাই, পথ কোথা পাই ?
গােরা যে দাড়ায়ে আগে।
এতটা হইলে, লােকে কিবা বলে,
কহত, কেমন লাগে ?
গুরু গুরু করে,
কোন মতে পরে,
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী
৮৯
ঘরে আসিনু যখন।
দেহ আর প্রাণ, আছে দুইখান,
খুঁজিয়া না পাই মন !!
কহিছে বিজয়,
হেন মনে লয়,
নাটুয়া গােরার নাটে।
হয়ে বিস্মরণ,
তােমার এ মন,
হারায়ে এসেছ ঘাটে । ৫৪ ।
গৌরানুরাগ।
( নাগরী-উক্তি।)
এখানে সেখানে,
কতইত 'কথা,
শ্রবণে শুনিতে পাই।
গৌর কথা মত,
রসে মাখা এত,
কথা তাে জগতে নাই।
একবার যদি,
গৌর কথা দিদি,
পরাণে পশিতে পারে।
আন কথা আর, লাগে তাহার,
বাউরী করয়ে তারে।
শুনিলে শ্রবণে,
নয়নে প্রেমা ছুটে।
ভাবি গােরা লেহ, পুলকেতে দেহ,
শিহরী শিহরী উঠে ।
তামনি তখনে,
৯০ ঐশ্রীগৌরগীতাবলী। ঔষধ করণ, পতি দুরজন, সরম ভরম, ধৈরজ ধরম, কিছুই না থাকে তার। কলঙ্কের ভয়, তখনে না হয়, 'কূল মনি কোন্ ছার ? ঘরে গুরুজন, তাড়ন ভৎ সন, যতই করিছে হায়। ভলির কারণ, বিয়াধি বাড়িয়া যায়, ননদী তেমন, সতত শাসন করে। মনের মরম, রাখি লুকাইয়া, ফুটিয়া না কহি ডরে। বাহিরেতে মন, রাখি সর্বক্ষণ, দু’কাণ পাতিয়া রাখি। যদি কেহ আসি, সেই সে আশায় থাকি। কাঙ্গাল বিজয়, করযোড়ে কয়, সফল জীবন । তার কত দিনে, কেমন সাধনে, তামিও এমন হব। ৫৫। গৌর কথা কয়, গৌৱানুরাগ। ( নাগরী-উক্তি) সই! এই কি শচীর গােরা ? অতনু মােহন, রসময় তনু, ধনুক ভুরূক যােড়া। কনক কেতকী, সেই দুরে রাখি, বিজুরী নিছুনি তার। এমনি বরণ, নিরখি নয়ন, কারােত ফিরেনা আর। কুঞ্চিত কুন্তল, মালতীর মালে, শােভিত সুন্দর অতি। নাসিকা নয়ন, চারু দরশন, মুকুতা দশন পাঁতি। কোটি চঁাদ জিনি, বদন খানি, ভাবের পরভা মাখা। মরি মরি কিবা, মনোহর গ্রীবা, সুচারু ঈষত বাঁকা। বক্ষ পরিসর, তাহাতে সুন্দর, সুরভি কুসুম হার। আজানুলম্বিত, বাহু সু-বলিত, তুলনা নাহিক তার । হরি কটি জিনি, ক্ষীণ কটি খানি, কনক কিঙ্কিণী তায়।
৯২
ঐগৌগীতাবলী।
নিরখি জঘন,
মােহে মুনি মন,
মদন মূরছা পায় ।
কিবা পদ দ্বন্দ্ব,
ফুল্ল অরবিন্দ,
কত মকরন্দ ঝরে।
বদন চন্দ্রমা,
কি তার উপমা,
বনে অমিয়া রে।
ভাবে ভরা বুক,
হাসি ভরা মুখ,
দু’চোকে প্রেমের ধারা।
কারে যেন চায়, চারি পানে চায়,
জপিছে কেবল “রা রা”।
কহিছে বিজয়, মাের মনে কয়,
যে জনে ইহাকে দেখে।
হারায়ে সকল,
সে হয় পাগল,
বিষম বিপাকে ঠেকে। ৫৬।
গৌরানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সই ! সকলি পাগল মাের।
পরের লাগিয়া,
পাগল হইয়া,
ভাঙ্গিল আপন ঘর ।
মস্তক পাগল,
গােরা পদতলে,
শ্রীশ্রীগৌগীতাবলী। চরণ যুগল, ললাটাইতে চিরকাল। মুছিয়া লইতে, পাগল চিকুর জাল। রূপের লাগিয়া, নয়ন পাগল, শুনে নিষেধ বাণী। নয়নের জল, দ্বিগুণ পাগল, ধুইতে শ্রীপা-দুখানি । শ্রবণ পাগল, শুনিতে কেবল, সদা:গৌর গুণ গান। নাসিকা পাগল, গৌর গন্ধ লাগি, তা, বিনে বুঝেনা আন। রসনা পাগল, গাহিতে কেবল, মধুর গৌরাঙ্গ নাম। হৃদয় পাগল, নাশিতে হৃদয় কাম। কর দু’টি মাের, বড়ই পাগল, সেবিতে চরণ তাঁর। গ্রীও পাগল, সতত পরিতে, গােরা কলঙ্কের হার। মনও পাগল, কলঙ্কের ডালি, তুলিয়া লইতে মাথে। চরণ পাগল, চলিতে নিয়ত, পরাণ গােরার সাথে । হৃদয়ে ধরিয়া,
গৌৰগতাবলী।
পরাণ পাগল,
পরের লাগিয়া,
কি আর কহিব সই।
এতটি পাগল,
লইয়া কেমনে,
বলনা সোয়াথে রই।
কহিছে বিজয়, মাের মনে কয়,
এতটি পাগল ঘর।
ভবারাধ্য ধন,
অবশ্য মিলিবে তঁার ৫৭।
গৌরাঙ্গ রতন,
চৌদিকে ভকত,
গৌৱনুৱাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সই! দেখনা নয়ন দিয়া।
সংকীৰ্ত্তন মাঝে,
মােহনীয়া সাজে,
নাচে, গৌর বিনােদিয়া ।
নাচত গাওঁত,
করতালি দিয়া দিয়া।
বাজত মাদল,
খোল করতাল,
কম্পিত ভেল নদীয়া ।
পাপ অধিয়ার, করল সংহার,
শ্রীগৌরচন্দ্র উদীয়া।
ভকত চুকোর, ভৈ গেল বিভাের,
প্রেম-সুধা আস্বাদিয়া ॥
শ্রীগৌরগীতাবলী। দীন দুরজনে, পাষণ্ড পামরে, কারে নাহি ছাড়ে, শ্রীগৌর গুণ নিধিয়া। হরি নাম পানে, ধরি ধরি আনে, পিরীতি পর বােধিয়া। ভাবে উতরােল, মুখে হরি বােল, আকুল কভু কাঁদিয়া। ধরি বুকে আনে, শ্রীভুজ যুগে বাঁধিয়া ॥ নটন রঙ্গিয়া, নবনী অঙ্গীয়া, মােহান্ধ মন মােদিয়া। করই নৰ্ত্তন, নাম সংকীৰ্ত্তন, জগজীবে উদ্বোধিয়া । পাওল জগত, কৃপা তামঋত, বিনা গৌর আরাধিয়া। বিষয় গরল, ভখিল কেবল, বিজয় অপরাধিয়া ॥ ৫৮। । গৌরক্ষত্তি। ( নাগরী-উক্তি।) সই! জানিলে কইনা তাের । কোন্ চিত্রকরে, ভুবন ভরিয়া, আঁকিল রসের গােরা ।
১৬
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
নিথর অরে,
চাদে দিবাকরে,
তারার ভিতরে চাই।
মন মােহনীয়া, গােরা নটরাজে,
শুধুই দেখিতে পাই।
গাছের পাতায়, ফলে লতিকায়,
কুসুমের দলে দলে।
কে আঁকিল গােরা, জাহুবীর জলে,
তরঙ্গের তলে তলে।
যে দিকে নয়ন,
ফিরাই যখন,
কিছু নাহি দেখি আর।
বিশ্ব-পট মাঝে,
কি সুন্দর সাজে,
সাজে শ্রীশচী কুমার।
ধূলাটী লইয়া, দেখিছি চাহিয়া,
তাহাতেও নাহি ছাড়া।
কি কহিৰ সই,
চেয়ে দেখ ঐ,
গৌরাঙ্গ
কহিছে বিজয়,
হেন দশা ঘর,
তাহার তুলনা সেই।
জনমের তরে,
তঁাহার চরণে,
পরাণ নিছুনি দেই। ৫৯ |
ভুবন ভরা।
একটি মানুষ,
গৌরানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
এ,কে ?
সই! কি কব মরম মাের।
কহিতে চাহিলে, কহিতে পারিনা,
নয়নে গলয়ে লাের।
সােণার বরণ,
দেখিনু কীৰ্ত্তন মাঝে।
কুসুম কোমল,
কলেবর খানি,
সজ্জিত ফুলের সাজে।
অরুণ নয়নে,
করুণ চাহনি,
বহিছে বরুণ ধারা।
ভাবে উতরােল, মুখে “হরি বােল,”
মানুষ স্বভাব ছাড়া।
চরণ নূপুর,
ঝনুর ঝনুর,
নৰ্ত্তনে মধুর নদে।
শুনে যেই জন, মােহে তঁার মন,
পরাণ সপয়ে সাধে।
হরি মাতালিয়া, অনেক মিলিয়া,
তাঁহাকে ঘেরিয়া নাচে।
ভাবেতে ঢলিয়া, পড়িবে বলিয়া,
দু’জন দু’দিকে আছে।
মানুষের রূপ,
হেন অপরূপ,
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী। ৯৮ না দেখিলে কেবা মানে ? দেখিয়াছে যারা, মরিয়াছে তঁারা, কেবল তারাই জানে। দেখিছি অবধি, মরমে মরিছি সরমে কহিনা কা’কে। আপন জানিয়া, পুছই তােহারে, কীরতন মাঝে, এ,-কে ? ৬০ গৌরানুরাগ। (নাগরী-উক্তি।) সই! গােরা তো মানুষ নহে। মানুষে এরূপ, অপরূপ রূপ, দেখিয়াছে,-কেই কহে ? মানুষ নয়ন, দীঘল এমন, রজনী বয় ॥ করুণা পূরিত হয় ? শত সুরধুনী, তাহাতে সজনী, দিবস মানুষের হাসি, এত কি মধুর, মুগধে পুরুষ নারী। চপলা চন্দ্রিকা, নহে সমতুল, কিসে বা তুলনা করি । মানুষ বচনে, কহ শুনি সখি, ।
ঐশ্রীগৌরগীবলী ।
এত কি অমিয়া ঝরে।
অবধি বিহীন, ভাবের বিকার,
মানুষে সহিতে পারে ?
মানুষের মন,
হয় কি এমন,
নিৰ্ম্মল দর্পণ প্রায় ?
মানুষে কি এত, নাম সংকীর্তনে,
ভূমে গড়াগড়ি যায় ?
মানুষের নাচে, নাচে কি জগত ?
আনন্দে আপনা ভুলি,
পথের পাতকী,
মানুষে টানিয়া,
লয় কি বুকেতে তুলি ?
ব্ৰজ-বধূ প্রেম,
লাখ বাণ হেম,
মানুষে কি করে দান ?
রস পরকীয়া, মানুষে আনিয়া,
মানুষে করায় পান ?
মাের মনে কয়,
নিশ্চয় নিশ্চয়,
এ -বটে গকুল কান।
কাঙ্গাল বিজয়, বলে ঠিক ঠিক,
সত্য তব অনুমান। ৬১।
গৌৱানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সই !
অতুল সে গােরা তনু খানি।
কোন বিধি নিরমিল জানি।
চাচর চিকুর জাল দিয়া।
কে বা দিল চূড়াটী বান্ধিয়া ।
তাহে কত মালতী বকুল।
গন্ধরাজ চাপা বেলিফুল ।
সৌরভেতে হইয়ে আকুল।
পুঞ্জে পুঞ্জে গুঞ্জে অলিকুল ।
কিবা
ললাটে চন্দন বিন্দু।
জিনি শারদ পূর্ণিমা ইন্দু।
নিরখিয়া গােরার ক্র-ধনু।
নিজ ধনু ত্যজিল অতনু।
আকর্ণ বিস্তৃত চক্ষু
দু’টা।
কমল যেমন আধা ফুটা।
রসে ডুবু ডুবু আঁখি তারা।
দু’চোকে দুইটী প্রেম ধারা।
করুণ চাহনি
পুনঃ তায়।
যাহে কত পাষাণ মিলায়।
খগ চঞ্চ, কিবা হিল ফুল।
জিনি তাঁর নাসিকা অতুল।
.
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
ওষ্ঠাধর।
কুন্দ জিনি
কণ্ঠ
তাহে গজ মুকুতা দোলে।
কনক কুণ্ডল
শ্রুতি
মুলে।
বাঙ্গুলী রণ
দশন সুন্দর ।
সুধার আধার গােরা আস্ত।
তাহে হরিনাম,মৃদু হাস্য।
কুম্বু
পরিসর।
দোলে ফুলহার তদুপর ।
হরি জিনি ক্ষীণ কটি খানি।
তাহে শােভে কনক কিঙ্কিণী ।
আজানুলম্বিত
ভুজদ্বয়।
নিরখি নিখিল মুগ্ধ হয় ।
কর পদ তল অতি রতা ।
যথা, নূতন অরুণ পাতা ॥
মণি মঞ্জীর দু’গাছি পায়।
মরি মরি !! কত শােভা পায় ।
নখমণি পরভাতে
আলােকিত
হৃদয় ৷
অতুল রাতুল পদ
বিজয় বুঝিবে কবে আর ॥ ৬২ ॥
গৌৱনুৱাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সই !
রসের নাগর গােরা,
স্থাবর জঙ্গম,
পুরুষ প্রকৃতি,
সকলেরি চিত্ত চোরা।
উজ্জ্বল মধুর,
রস আউটিয়া,
তাহাতে, করিয়া দধি।
সে দধি মথিয়া,
নবনী তুলিয়া,
কে গড়িল গোরা-নিধি ?
কৃষ্ণ কেশ দাম, কি তার উপাম্,
সুনিবিড় ঘন ঘাের ।
ললাটে সুন্দর,
চন্দনের বিন্দু,
কোটীন্দু জিনি উজোর।
কনক কুণ্ডল,
মধুর মধুর দোলে।
তাহে গণ্ডস্থল,
করে ঝলমল,
নিরখি নিখিল ভুলে।
জ্ব-যুগ যেমন,
কাম শরাসন,
ভুবন মােহন বােড়।
তারকা ভ্রমর,
বিগলিত প্রেম নাের ।
শ্রবণ যুগলে,
নলিনী নয়নে,
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী। ওষ্ঠাধর দয়, ৬ শ্রীকর পল্লব, নাসিকা অতুল, জিনি তিল ফুল, শীবদন যেন রাকা। শােভর আলয়, তাহাতে সিন্দুর মাখা। মুকুতা জিনিয়া, চারু দরশন, সুচারু দশন পতি। বচন মধুর, মৃদু মন্দ হাস, তপত কনক কঁতি। কিবা কন্ধু কণ্ঠ, বক্ষ পরিসর, দীঘল শ্রীভুজ দু'টি। চম্পক কলিকা, কটি জিনি হরি কটি। জঘন সুন্দর, জগ মনোহর, অতুল রাতুল পদ। তাহার তুলনা, ভুবনে মিলেনা, অনন্ত বিশ্ব সম্পদ। পূর্ণিমার চান, করি কুড়ি খান, গড়িল নখর কুড়ি। তাহার গালােকে, পুলকে পূর্ণিত, গােলােকে ভূলােক যুড়ি। বলিছে বিজয়, এমন সুন্দর, গৌরাঙ্গ গড়িল কেবা । সুর নর যত, দিবস যামিনী, করিতে পদ সেবা ॥ ৬৩।
আনন্দোচ্ছসি।
( কীৰ্ত্তনাভিসারিকার উক্তি।)
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
এই যে লােকে বলে।
আর কি আমি, ঘরে থাকি,
চলেম
গৌর বলে।
গােরা নাচে, গোরা নাচে,
যখন লােকে কয়।
কুলের খােটা, মাথার উপর,
এম্নি যেতে
হয় ।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
শ্রীবাসের বাড়ী।
কে কে যাবে, আমার সঙ্গে,
আয়গাে তাড়াতাড়ি ।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
বলে হরি হরি।
আমি যেয়ে, ধূলায় পড়ে,
দিব গড়াগড়ি ।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
সংকীৰ্ত্তন মাঝে।
শুনছি তঁারে, সাজায়েছে,
শুধুই ফুলের সাজে।
গােরা নাচে, গোরা নাচে,
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী
ওষ্ঠাধর।
কুন্দ জিনি
কুস্তু কণ্ঠ
তাহে গজ মুকুতা দোলে।
কনক কুণ্ডল শ্রুতি মূলে।
বান্ধুলী রণ
দশন সুন্দর ।
সুধার আধার গােরা আস্য।
তাহে হরিনাম,মৃদু হাস্য ।
পরিসর।
দোলে
ফুলহার তদুপর ।
হরি জিনি ক্ষীণ কটি খানি।
তাহে শােভে কনক কিঙ্কিণী ।
আজানুলম্বিত
ভুজদ্বয়।
নিরখি নিখিল
মুগ্ধ হয়।
কর পদ তল অতি রাতা।
নূতন অরুণ
পাতা ।
মণি মঞ্জীর দু’গাছি পায়।
মরি মরি !! কত শোভা পায়।
নখমণি পরভাতে
আলােকিত
হৃদয়।
অতুল রাতুল পদ সার।
বিজয় বুঝিবে কবে আর ৬২।
যথা,
গৌরানুরাগ। (নাগরী-উক্তি।) সই ! . রসের নাগর গােরা, স্থাবর জঙ্গম, পুরুষ প্রকৃতি, সকলেরি চিত্ত চোরা। উজ্জ্বল মধুর, রস আউটিয়া, তাহাতে করিয়া দধি। সে দধি মথিয়া, নবনী তুলিয়া, কে গড়িল গােরা-নিধি ? কৃষ্ণ কেশ দাম, কি তার উপা, সুনিবিড় ঘন ঘাের । ললাটে সুন্দর, চন্দনের বিন্দু, কোটী জিনি উজোর ॥ শ্রবণ যুগলে, কনক কুণ্ডল, মধুর মধুর দোলে। তাহে গণ্ডস্থল, করে ঝলমল, নিরখি নিখিল ভুলে। -যুগ যেমন, কাম শরাসন, ভুবন মােন যােড়। তারকা ভ্রমর, বিগলিত প্রেম লোর। নলিনী নয়নে, শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। ১০৩ নাসিকা অতুল, ওষ্ঠাধর দয়, জিনি তিল ফুল, শীবদন যেন রাকা। শােভার আলয়, তাহাতে সিন্দুর মাখা । মুকুতা জিনিয়া, চারু দরশন, সুচারু দশন পাঁতি। বচন মধুর, মৃদু মন্দ হাস, তপত কনক কাহি। কিবা কস্তু কণ্ঠ, বক্ষ পরিসর, দীঘল শ্রীভুজ দু’টি। চম্পক কলিকা, কটি জিনি হরি কটি। জঘন সুন্দর, জগ মনােহর, অতুল রাতুল পদ। শ্রীকর পল্লব, তাহার তুলনা, ভুবনে মিলেনা, অনন্ত বিশ্ব সম্পদ। পূর্ণিমার চান, করি কুড়ি খান, গড়িল নখর কুড়ি। তাহার আলােকে, পুলকে পূর্ণিত, গােলােকে ভূলােক যুড়ি । বলিছে বিজয়, এমন সুন্দর, গৌরাঙ্গ গড়িল কেবা । সুর নর যত, দিবস যামিনী, করিতে পদ সেবা ॥ ৬৩।
আনন্দোচ্ছাস।
( কীৰ্ত্তনাভিসারিকার উক্তি।)
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
এই যে লােকে বলে।
আর কি আমি, ঘরে থাকি,
চল্লেম গৌর বলে ।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
যখন লােকে কয়।
কুলের খােটা, মাথার উপর,
এম্নি যেতে
হয় ।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
শ্রীবাসের বাড়ী।
কে কে যাবে, আমার সঙ্গে,
আয়গাে তাড়াতাড়ি।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
বলে হরি
হরি।
আমি যেয়ে, ধূলায় পড়ে,
দিব গড়াগড়ি।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
সংকীৰ্ত্তন মাঝে।
শুনছি রে, সাজায়েছে,
শুধুই ফুলের সাজে।
গােরা নাচে, গোরা নাচে,
শ্রীশ্রীগৌরগীতালী ।
হরি সংকীৰ্ত্তনে।
বেষ্টিত গৌরাঙ্গ চাদ,
ভক্ত তারাগণে ॥
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
সঙ্গে বাজে খােল
চৌদিকে সকলে বলে,
হরি হরি বােল ।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
বাজে করতাল।
পড়ুয়া পাষণ্ডও বলে,
ধন্থ কলিকাল ।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
আয়লাে সব তরুণী।
আম্ যেয়ে সবে মিলে,
দেইগে উলুধ্বনি।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
ভাবে উতরােল।
আয়লাে আমরা সবে যেয়ে,
ছিটায়ে দেই ফুল।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
নিত্যানন্দ সঙ্গে।
ভেসে যাচ্ছে নবদ্বীপ,
রাধা প্রেম তরঙ্গে।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
গােরা নাচে, গােরা নাচে, সঙ্গে গদাধর,
মুরারী মুকুন্দ নাচে,
যত পরিকর।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
হেলিয়া দোলিয়া।
সােণার পুতুলি যেন,
পড়িছে গলিয়া।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
দু’টি বাহু তুলি।
এই সময়ে লইগে আগ্রা,
গােরার চরণ ধূলি।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
ব্রজ-ভাবে ভােরা।
নয়নেতে, তা বিন্দু,
বয়ানেতে ধারা।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
পূরবের ভাবে।
আয়লাে তােরা সকাল করে,
দেখতে কে কে যাবে।
গােরা নাচে, গােরা নাচে,
সময় বয়ে যায়।
দেখবি যদি সকাল করে,
আয়লাে তোরা আয়।
শ্রীশ্রীগৌরগীবলী। ১০৭ গৌর দেখতে কুলবালা ছুটুল, সবে রঙ্গে। পাছে থাকি বিজয় বলে,- আমিও যাব সঙ্গে ॥ ৬৪। - শ্রীগৌরাঙ্গের মােহন বেশ। সই ! গােরা কেবা সাজাইল ? কুটিল কুন্তলে, মালতী বকুলে, চূড়াটী বান্ধিয়া দিল !! কুণ্ডল শােভিছে, কর্ণেতে কনক, মাতঙ্গী মুকুতা নাকে। সুরভি কুসুমে, সুচিকণ হার, কণ্ঠে, বক্ষে, থাকে থাকে ৷ করেতে কাঞ্চন, বলয় সুন্দর, অঙ্গুলে অঙ্গুরী আর। কনুই উপরে, কিবা শােভা করে, সুন্দর সোণার তার ॥ কিঙ্কিণী কটিতে, হাটিতে নাচিতে, মধুর মধুর বাজে। কিচ্ছ বসন, চারু দরশন, গ্রীবায় উড়ণী সাজে। পরম পবিত্র, সূক্ষম যজ্ঞ সুত্র,
'১০৮
গৌরগীতাবলী।
শশাভিত গৌরাঙ্গ পলে।
শ্ৰীঅঙ্গে চন্দন,
মদন মােহন,
রহিয়া রহিয়া চলে।
মণির মঞ্জীর,
পরাইল যে,
অতুল রাতুল পদে,
তাহার চরণে,
কোটি পরণাম,
বিজয় করিছে সাধে ॥ ৬৫।
গৌর নিষ্ঠা।
(নাগরী-উক্তি।)
সইরে !
**:
কে আঁকিল গােরা ? রসের মূরতি,
সারাটা বিশ্বের গায়।
যে দিকে যখন,
ফিরাই নয়ন,
শুধু গৌর দেখা যায়।
সূৰ্য্য শশধরে, তারার ভিতরে,
সারাটা আকাশময়।
কাননে কুসুমে,
স্কুলে কি জীবনে,
গৌর বই কিছু নয়।
মানব নয়নে,
তারায় তারায়,
গৌরাঙ্গ মুরতি খানি।
কে রাখিল আঁকি, কহ প্রাণসখি,
শ্রীগৌরগীতাবলী।
গৌৰণীতাবলী
যদিবা নয়ন,
স্বরূপ কাহিনী শুনি।
মুদিয়া নির্জনে,
একাকিনী শুয়ে থাকি।
তবু নহে ছাড়া, পরাণ পিয়ার,
মনচোরা গােরা দেখি।
দেখিতে দেখিতে, ভাবিতে ভাবিতে,
কি কব মনের খেদ।
গােরাতে তামাতে, আর কোনমতে,
থাকেনা কিছুই ভেদ।
নিজেই হই গােরা, ভপি গােরা গােরা,
ননদিনী কত কয়।
বলিছে বিজয়,
বড় মন্দ নয়,
এতটা হইলে হয় ॥৬৬ ।
(নারী-উক্তি।)
নদীয়া ।
এ,কে
জাহ্নবীর তীরে ফিরে “হরি বােল” দিয়া।
রূপের ছটায় মুগ্ধ সকল
আজানুলম্বিত বাহু দুখানি তুলিয়া।
দিতেছে অভয় শান্তি জগতে ঢালিয়া ॥
ভাবাবেশে কভু পড়ে ঢলিয়া ঢলিয়া।
হাসে কঁাদে ‘রা রা রা রা’ বলিয়া বলিয়া।
শ্রীগৌরগীতাবলী।
আকর্ণ বিস্তৃত 'আঁখি লােহিত বরণ।
মণির মঞ্জীরে শােভে, রাতুল চরণ।
সােণার বরণ তনু, অনু মথন।
তঙ্গের লাবণ্য ছটা, ভুবন মােহন।
অপরূপ রূপ তার, বলিহারি যাই।
মানুষে এমন রূপ, কভু দেখি নাই।
প্রেমের চাহনি দিয়া, বঁধিল আমাকে।
বল বল প্রাণসখি, নদীয়ায়, এ-কে ? ॥৬৭
গৌৱানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সইরে! মরম কহিতে সরম লাগে
এতটা যে, হবে জানিনা আগে ।
জাহুবী সিনানে একলে যাই
সঙ্গের সঙ্গিনী কেহই নাই।
আধ পথে যেয়ে হারানু জ্ঞান।
শুনিয়া মধুর মঙ্গল গান।
অমনি কলসী রাখিয়া পথে ।
ছুটিনু ধাইয়া কীৰ্ত্তন ভিতে।
কে যেন ধরিয়া পরাণ খান ।
অজ্ঞাতে মারিল সজোরে টান।
কীর্তন প্রাঙ্গণে গেলাম যবে।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
১১১
,
মাতিল মানস মৃদঙ্গ রবে।
আড়ালে থাকিয়া, মারিয়া উ কি।
কি কব ? এসেছি যে রূপ দেখি ।
সােণার গৌরাঙ্গ মণ্ডলী মাঝে।
সাজিছে সুন্দর সােণার সাজে।
অরুণ নয়নে বরুণ ধারা।
বলে ”হরি বােল” পাগল পারা।
পুরুষ যােষিত পরাণ চোর।
নদীয়া নাগর ভাব বিভাের।
সে হইতে মাের সােয়াথ নাই।
বিজয় বলিছে, ইহাই চাই ॥ ৬৮।
পরের পিরীতে,
গৌরানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সখিরে !
পুড়িতে পুড়িতে,
পরাণ হইল ছাই।
বুঝিবে এমন,
ব্যথার ব্যথিত নাই।
কেবা সিজিল,
পিরীতি দহন,
দহিতে কুলের বালা।
বুকের বেদন,
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
পিরীতে কি সুখ?
সকলি অসুখ,
জ্বালার উপর জ্বালা।
সরম ঘুচায়,
ধরম বিনাশে,
মরমে বিধায় শেল।
পিরীতি করিয়া,
সাধের জনম,
ভাবিয়া চিন্তিয়া গেল।
পিরীতি আগুনে,
নারী পতঙ্গীরে,
শুধু আকর্ষিয়া মারে ,
যে করে পরাণে, পরাণে সে জানে,
বলিয়া জানাব কারে।
এত যে যাতনা, এত যে লাঞ্ছনা,
পিরীতে লােকেরে করে।
তথাপি পরাণ,
পিরীতি লাগিয়া,
পাগল হইয়া মরে ।
পিরীতে কি আছে, কি কহিব সই,
কিছুই বুঝিতে নারি।
কাঙ্গাল বিজয়,
অনুমানে কয়,
পিরীতি পারের তরী। ৬৯।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। গৌরানুরাগ। (নাগরী-উক্তি।) সই! কহিতে পরাণ ফাটে কালিকা বিকালে, শুধুই একলে, গেছিনু জাবী ঘাটে। যে দেখিনু মাই, কহিতে ডরাই, পাছে বা ননদী শুনে, সােণার বরণ, পুরুষ রতন, হেরিনু নয়ন কোণে। এমন সুন্দর, রূপ মনােহর, জীবনে দেখিনু এই। মনে লয় সখি, জীবন যৌবন, চরণে নিছুনি দেই । কুলবধূ কুল, করিতে নিৰ্ম্মল, বিধাতা গড়িল তারে। দেখিছি অবধি, যে করে পরাণে, বলিয়া জানাব কারে। উহারে ভজিয়া, পিরীতে মজিয়া, কলঙ্ক যদিবা হয়। সেহ ভাল অতি, গােরা উপপতি, অসতী লোকেতে কয়। এহেন পুরুষে, পিরীতি পিয়াসে, পরাণ সঁপিল যেই।
১১৪
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
কহিছে বিজয়,
এ কথা নিশ্চয়,
তাহার তুলনা সেই ॥ ৭০ |
গৌর কথা।
(নাগরী-উক্তি )
জনম বধি,
কতই তাে কথা,
শ্রবণে শুনিছি সই!
গৌর কথামত,
অমিয়া পূরিত,
আন কথা আছে কে ?
যদি গৌর কথা,
সুধারস সার,
হিয়ার মাঝারে জাগে।
সংসারের কথা,
বিষয় বারতা,
বিষের মতন লাগে ।
গৌর কথা সখি, তপত মদিরা,
আমি না বলিছি তোরে।
গন্ধে মাতে মন,
গন্ধই এমন,
পিলে তাে পাগল করে ।
পাইয়া সন্ধান,
যে করিল পান,
বাউল হইল
কহিছে বিজয়, তাহার চরণে,
পরাণ নিছুনি দেই । ৭১।
সেই।
স্বপ্নে গৌর দর্শন।
(নদীয়া-নাগরী-উক্তি)
সখিরে ! কি কব লাজের কথা শােন্।
গােরাবর বিনােদিয়া, স্বপনেতে দেখা দিয়া,
আমারে করিয়া গেছে খুন্।
সখিরে! কিবা তার হাসি হাসি মুখ,
কামিনীর কুলনাশা, সুভুরূ নয়ন-নাসা,
ঠোট খানি রাঙ্গা টুক টুক্ ।
সখিরে! শয্যায় বসিল আসি মাের।
ননদী আমার কাছে, পাছ দিকে শুয়ে আছে
পরাণ করিছে ধড়ফর ॥
সখিরে! মন মােহনীয়া গােরা রায়।
নিরখি তঁাহার রূপ, উথলিল রস কূপ,
ধীরে ধীরে হস্ত দিনু পায়।
সখিরে ! রসের গৌরাঙ্গ পরশনে।
মুখে না আসিল রাও, শিহরিল সব গাও,
ছুটিল প্রেমা দু’নয়নে।
সখিরে! তারপর কি কহিব আর ।
নদীয়া নাগররাজে, ধরিনু হিয়ার মাঝে,
পূর্বাপর না করি বিচার।
সখিরে !
হেনকালে জাগিল ননদী।
ভাঙ্গিল ঘুমের ঘাের, লুকাইল মনচোর,
বিজয় হারা’ল, গােরানিধি ॥ ৭২।
১১৩
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী
গৌরানুরাগ।
(নাগরী-উক্তি।)
সখিরে! আর আমি যাইবনা জলে,
দারুণ ননদী আছে,
সদা থাকে পাছে পাছে,
কত ছলে কত কথা বলে ।
সখিরে,খোচা কথা সহিতে না পারি ।
স্বপনে না ভাবি যাই।
ননদিনী বলে তাই,
মনে লয় জলে ডুবে মরি।
সখিরে,-ঘাটে গেলে থাকেনা গিয়ান,
শচীর নন্দন গােরা,
রমণীর মনচোরা,
পরাণ ধরিয়ে মারে টান।
সখিরে,-মরি পাড়া পরসীর ভরে,
আমারে দেখিয়ে তারা,
ঘাটে পথে হয়ে খাড়া,
কাণাকাণি টিপাটিপি করে।
সখিরে, নটন রঙ্গিয়া গােরাটাদ।
হাসি মুখে কথা কয়,
পরাণ কাড়িয়া লয়,
ঘাটে গেলে ঘটে পরমাদ।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
১১৭
সখিরে, গৌরাঙ্গ হয়েছে মাের কাল।
চাহিলে তাহার পানে,
অবশ করিয়ে আনে,
খসি পড়ে সরমের জাল।
সখিরে, জাতি কুল রবেনা এবার।
কাঙ্গাল বিজয় বলে,
যদি ভাগ্যে গােরা মিলে,
জাতি, কুল, মান কিবা ছার। ৭২,ক।
মনের মানুষ।
মানুষের মন,
মনের মানুষ,
নিয়ত খুঁজিয়া ফিরে।
বুঝে বা না বুঝে, তবু তারে খুঁজে,
তিতিয়া নয়ন নীরে।
চিনে বা না চিনে, জানে বা না জানে,
কেবলি তঁাহারে চায় ।
মানুষ লাগিয়া,
চৌরাশি ঘুরিয়া,
মানুষে জনম পায়।
যদি থাকে লেখা, তবে পায় দেখা,
রাণে পূরিয়া রাখে।
রাণে চরণে,
বাঁধিয়া যতনে,
প্রেমেতে ডুবিয়া থাকে।
১১৮ শ্ৰীশ্রীগৌরগীতাবলী। যদি নাহি পায়, আবার ঘুরায়, চৌরাশি লক্ষের পথে। জনম মরণ, কত যে যাতনা, ভােগ করে পথে পথে ॥ অমৃত বলিয়া, পুত্র পরিবার, আমারি মতন, কত শত জন, পড়িয়া মায়ার ফাঁদে। মনের মানুষ, বােধে, যারে তারে, পরাণ সপিয়া কঁদে। গরল ভখিয়া, অকালে মরিয়া যায়। যাঁহাকে খুঁজিয়া, পরাণ পাগল, তাঁহাকে নাহিক পায়। ভাই বন্ধু আর, মনের মানুষ নয়। মায়ার কুহকে, বুঝিয়া লােকে, পরকে অপিনা কয়। মনের মানুষ, গৌর গুণ-মণি, শচীর ভক্তগণ সঙ্গে, সংকীৰ্ত্তন রঙ্গে, সাধ'। হরিনাম ধন, করে দ্বিতরণ, প্রেমেতে ভাসায় দেশ। কলির কলুষ, হইল বিনাশ, দুলাল চাঁদ। পূরায় জীবের
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
১১৯
জীবন মরণ শেষ।
মনের মানুষ,
গৌরাঙ্গ
সুন্দর,
সতত পরাণে খুজে।
সকলি অসার,
গোরা-পদ সার,
কথাটা ক’জনে বুঝে ?
পরাণে তাে চায়,
জীবেসে মায়ায়,
ধরিতে না পারে তারে।
কহিছে বিভয়,
দহিছে হৃদয়,
এ দুঃখ জানাব কারে ।
গৌর ভক্তগণ,
এই নিবেদন,
দীন দাসে কর দয়া।
কিছু নাহি চাই,
গৌর যেন পাই,
কাটিয়া ভবের মায়া। ৭৩।
বিবিধ পদ।
(নদীয়ায় যুগল-রূপ। )
মধুর মিলন নদীয়া ধামে।
দক্ষিণে গৌরাঙ্গ প্রিয়াজী বামে।
অতুল রূপের পতুল দু’টি!
নিরখি মূরছে মদন কোটি !!
রতন আসনে যুগল চঁাদ।
ভুবন মােহন পিরীতি ফাদ ।
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
দোহার কনক কিরণে কিবা।
কনকিত সব রজনী দিবা ।
পুরুষ যােষিত পরাণ চোর।
শচীর মন্দিরে মানিক জোড়।
দেহ রূপগুণে দোহই ভাের।
আঁখে বিগলিত, আনন্দ লাের।
সুর নর সেব্য যুগলে আজ।
কে দিলরে এই ফুলের সাজ।
জড়িত ভূষণ যত।
ফুলের সহিত ঝলসে কত।
যুগল উপরে সােণার ছাতা।
পদ বলে দিব্য আসন পাতা ॥
আসন নিকটে পাদুকাদ্বয়।
হৃদয়ে ধরিতে পরাণে কয়।
চারিটি বালা।
দাড়ায়েছে লয়ে ব্যজন মালা।
বিজয় বলিছে কিছু না চাই।
যুগল হেরিয়া মরিয়া যাই। ৭৪।
যুগল দু’দিকে
==
শ্ৰীমন্মহাপ্রভুর প্রলাপ সঙ্গীত
রাগিণী, বসন্তল ঠেকা।
(চেতান, কবি উক্তি)
সুখ বসন্তে শ্রীগৌরাঙ্গের উৎকণ্ঠিত প্রাণ ।
(হয়ে) রাধা ভাবে বিভাবিত,
গৌর চিত্ত আবেশিত,
সদা মনে রাধা অভিমান।
(ফুকার।)
(হায়ে) ব্ৰজ ভাবের উদ্দীপন,--
ক্ষেত্র হৈল
বৃন্দাবন,-
চটক গােবর্জন,-
ভাবে গর গর মন,হায়,হায়রে ;
স্বরূপ রামানন্দ দু’জন,-
ললিতা : বিশাখ। তখন,-
গম্ভীরা নিকুঞ্জ কানন,
রাধা তখন ঐশচীনন্দন।
( মিল।)
স্বরপের কণ্ঠে ধরি, গৌর হরি বলে,
বক্ষ ভাসে চক্ষের জলে, ব্যাকুল অতিশয় ।
(মহড়া,-মহাপ্রভু-উক্তি)
বল গাে সখি ললিতে!-
.
.
সুখ বসন্তে কোথায়
আমার কৃষ্ণ রসময় ।
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী
।
( ধূয়া।)
কাল সিবে বলে হরি,-
তারের রথে চড়ি,
গেলেন মথ রায়,
আসিল বন্ধু আমার,
ব্রজে পুনরায়,
আশাতে প্রাণ রাখব কত,
দুঃখের দিন তাে হয়না গত,
শােকে, দুঃখে অবিরত, দহিছে হৃদয়।
(খাদ।)
শীতন্তে বসন্ত এসে, হয়েছে উদয় ।
(ফুকার।)
সুখ বসন্ত সুখের কালো, -
ভ্রমর বসে ফুলে ফুলে,
করে মধু পান,
করে গুন্ গুণ স্বরে গান,হায় হায়রে !
কোকিলের কুহু তানে,--
হলাহ ঢেলে দেয় কাণে,
এ নিদানে কৃষ্ণ বিনে, বল,-
কিসে বাঁচে রাধার প্রাণ ?
( মিল।)
বসন্তে শ্ৰকান্ত বিনে শান্ত হয়না মন,
অন্তরে জ্বলে হুতাশন, জীবন সংশয়।
-
--
শ্রীগৌৱগীতাবলী।
( অন্তরা বা ঝুমুর।)
সখি গাে ! আমার এই ছিল কপালে।
দুঃখের আগুন, হয়ে দিগুণ,-
জ্বলছে সুখের কালে।
সুগন্ধি বাসন্তী ফুলে, বিরহ জাগায়ে তুলে,
প্রাণ গেল জ্বলে, এখন কৃষ্ণ বলে জুড়াতে,
প্রাণ দিতে হ’ল জলে।
( পরচিতান।)
(সখি !) বসন্তের সঙ্গে জে এসেছে মদন,
লয়ে কুসুম ধনু করেতে, মদন মাদন শরেতে,
বিরহিণীর বধিতে জীবন।
( ফুকার )
যদি অতনু অগ্রসর হয়ে,--
কুসুম ধনু করে লয়ে,
করে আক্রমন,-
গতি কি হবে তখন, হায়, হায়রে,
অবলা সরলা নারী,
সে জ্বালা কি সইতে পারি,
বিনে প্রাণের বংশীধারী, কে রাখে জীবন ।
৭৫ ॥
.( কুটীরে কাঙ্গালিনী।)
নির্জন কুটীরে বসিয়ে বালা।
অন্তরে দারুণ বিরহ জালা ।
১২৪.
ঐত্রীগৌরগীতাবলী
শ্রীমুখ মলিন দু'চোক রাঙ্গা।
দু'চোকে দু’ধারা যমুনা গঙ্গা।
আনত আননে আরােপে বসি।
রুক্ষন কেশ পাশ পড়েছে খসি।
হা নাথ, হা নাথ, তা নাথ, বলি।
কখন কখন পড়িছে ঢলি ।
ধরিয়া তুলে কে আছে নিকটে।
আপনা লইয়া আপনি উঠে
সুধীরে নড়িছে দু'খানি ঠোট।
কি জানি কহে করি কর পুট।
প্রাণপতি গােরা বিরহ তাপে।
পিত শ্ৰীতনু সতত কাপে।
দারুণ গৌরাঙ্গ বিরহ জরে।
কখন কখন মূরছি পড়ে ।
প্রাণেশ পিরীতি ভাবিয়া হায়,
শুকায়ে গিয়েছে কমল কায় ।
হা নাথ, বলিয়া দীঘল শ্বাস।
ফেলিছে নাহিক জীবন আশ ।
কি আহার নিদ্রা সকলি ছাড়া।
জপে গৌরমন্ত্র যােগিনী পারা।
সমুখে প্রভুর পাদুকা রাখি।
সুরভি কুসুম চন্দনে মাখি।
পূজিছে কতনা যতন করি।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
১২৫
অন্য উপচার নয়ন বারি ।
বিজয় কহিছে
পাষাণ বুক।
ফাটিছে নিরখি মায়ের দুঃখ ॥৭৬
সঙ্গিনীর প্রার্থনা। #
প্রভাে!
দীনা ক্ষীণা কাঙ্গালিনী সঙ্গিনী তােমার।
আজও বাঁচিয়া আছে, তােমার কৃপায়,
তুমি বিনে এ জগতে কেবা আছে তার,
তুমি তারে সঁপিয়াছ বৈষ্ণব সেবায়।
তব লীলা গুণ গান মিয়া সিঞ্চনে।
করিতে বৈষ্ণব সেবা দিবস রজনী,
তমিতে সজ্জন রাধা রস আলাপনে,
জনম লভিল এই দুঃখিনী “সঙ্গিনী”।
জনম হইতে কাৰ্য বৈষ্ণব সেবন,
বালিকা বয়স তার, কি আছে জ্ঞান,
সম্প্রতি দশম বর্ষে করি পদার্পণ,
তােমার চরণ পদ্মে মাগে কৃপা দান।
* বৈঞ্চব সঙ্গিনী পত্রিকার পক্ষে কবির উক্তি।
২৩
শ্রীশ্রীগৌৱগীতাবলী।
:
কর আশীর্বাদ তারে,- ওহে পরমেশ,
দাও বল,-অনুরাগ সেবিতে সজ্জনে,
জাগে না যে হৃদে তার কামনা বিদ্বেষ,
থাকে যে তৎপরা, নিজ কর্তব্য সাধনে।
দাও বর সঙ্গিনীরে সুদীর্ঘ জীবন,
লভে যেন সেবা-ব্রত সাধনের তরে,
বুকে করি লয়ে কৃষ্ণ প্রেম রত্ন ধন,
বিতরণ করে যেন প্রতি ঘরে ঘরে।
সঙ্কল্প সাধিতে যেন সমর্থা সঙ্গিনী,
হয় তব কৃপা-বলে হে দীন বৎসল,
নাহি চাহে ধন ধান্য ভােগ মুক্তি মণি,
তােমার চরণ মাত্র “সঙ্গিনী” সম্বল।
বৈষ্ণব সাহিত্য সুধা-ভাণ্ডার ভিতরে,
দুঃখিনী “সঙ্গিনী” যেন অন্তে পায় স্থান,
তােমার ভকত সঙ্গ সদা যেন করে,
তােমাকে স্মরিয়া যেন কাদে তার প্রাণ।
সঙ্গিনীর প্রতি কহে কাঙ্গাল বিজয়,
বৈষ্ণবের সেবা সতী ! সঙ্কল্প তােমার,
পারি কি না পারি তবু এই মনে কয়,
সর্বদা যােগাই তব সেবার সম্ভার। ৭৭।
অকিঞ্চন কৃষ্ণ-ভক্ত।
ধন্য তুমি ভক্তবর,-- ধন্য ধরাতলে,
তােমার মহিমা বর্ণে, হেন সাধ্য কার ?
প্লাবিত বন বক্ষ উব মে-জলে,-
ভুবন
বিমুগ্ধকর স্বরূপ তােমার
সংসারের শত কষ্ট
অম্লান বদনে,
সহিতেছ বহিছে
দুঃখ
ভার,
তথাপিও ক্ষুন্ন নহ, কৃষ্ণ চরণে,
অর্পিয়াছ কৰ্ম্মফল যত আপনার ॥
উলভ্যন,
বিষয় বিপত্তি বাধা করি
আনন্দ ধামের পথে চলিয়াছ হয়,
কণ্টক বিঘ্ন কষ্ট
তাগণন,
অনায়াসে অবিরত ঠেলিয়া দু’পায় |
প্রেম পরসন্ন জ্যোতি মাখা বদন,
সতত তােমারে সাবধা! দেখি হয় জ্ঞান,
এ রাজ্যের লোক নহ তুমি একজন,
শােকে তাপে চিত্ত তব নহে পরিাম।
দারুণ দারিদ্র্য আসি
নিরন্তর করিতেছে
তােমার উপর,
অত্যাচার,
১২৮
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
রােগ শােক জর আদি অতি নিকর,
লইতেছে দে দে পরীক্ষা তােমার।
অভিমান অহঙ্কার কারে জানি কয়,
কিছুই জাননা তুমি এমনি সরল,
ভীতি শূন্য শান্তি মাখা তােমার হৃদয়,
তােমার আরাধ্য সাধ্য ভকতি কেবল ।
নগণ্য জঘন্য ততি নীচ মূখ জন,
কেহ যদি ভাবে তুমি রুষ্ট নহ তা'তে,
তৃণাদপি শ্লোকে যত ভক্তের লক্ষণ,
প্রত্যক্ষ করিনু আজি সকলি তােমাতে।
সকল প্রাণিকে দেখ আপনার সম,
সকল মানবে
সম সমাদর,
বৈষ্ণবের নাহি কর জ্যেষ্ঠ লঘু ক্রম,
সকলি সন্তুষ্ট সদা তোমার উপর।
নাহি তব শাস্ত্র পাঠ ভেক কোলাহল,
নাহি জান তর্ক যুক্তি বৃথা বাক্য ব্যয়,
প্রেম ভক্তি মাখা তব চিত্ত নিরমল,
সাধু গুরু বৈষ্ণবের পদ তবায়।
শ্রীগৌরগীতাবলী।
অটুট বিশ্বাসে পূর্ণ 'তোমার
অনুরাগ নিষ্ঠা শান্তি আনন্দ আধার,
ভজনের রস ভরা ব্ৰজ ভাব ময়,
জ্যোতির্ময় দিব্য ধাম শূন্য অন্ধকার।
সম্পদ সম্রম কিম্বা কামিনী কাঞ্চনে,
করিতে পারেনা তব চিত্তকে চঞ্চল,
রিপুর খাটেনা দর্প তােমার সদনে,
মুখে নাহি অন্য কথা শুধু “হরি বােল”।
বিলাস বাসনা রসে নহে কভু রত,
চিন্ময় আনন্দ ঘন রূপের ধেয়ানে,
প্রমত্ত নিৰ্ম্মল চিত্ত তােমার সতত,
প্রাণ মাতা দিবা নিশি হরি গুণ গনে।
দৈন্য বিনয়ের খনি তুমি মহাশয়,
তােমার বচনে ক্ষরে অমৃতের ধার,
সর্বদা মনেতে ভব
অপরাধ ভয়,
ভক্তি মুক্তি সিদ্ধি বাঞ্ছা কিঙ্করী তােমার।
চিনেনা তােমাকে কেহ স্বদেশে বিদেশে,
করেন। জিজ্ঞাসা কেহ অতি হীন জ্ঞানে,
কে জানে মজিয়া আছ তুমি কোন্ রসে,
কে জানে রয়েছ তুমি কি রূপ ধেয়ানে।
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
নিবিড় পল্লীর এক নিভৃত কোণেতে,
তােমার বসতি অতি নগণ্য প্রদেশে,
চিনুক লােকে অপচয় কিবা তাতে,
আসুক কাছে কেহ কিবা যায় আসে।
সুরাসুর যক্ষ
কিন্নর চারণ,
বাঞ্ছা করে সদা যার চরণ পঙ্কজ,
তােমার হৃদয় মাঝে সে আরাধ্য ধন,
বলিছে বিজয় ধন্য তােমার জীবন। ৭৮।
শ্রীমণ্ডিত্যানন্দ।
কেরে! নাচে ঐ মাথাটা ভাঙ্গা।
বদন বক্ষ রতে রাঙ্গা।
বােধ নাই যে কিছুই দুঃখ।
আনন্দে ফুল্ল, শ্ৰীচাদ মুখ ।
দু’বাহু তুলি বলিছে হরি।
দুইটা দস্যু সঙ্গেতে করি।
প্রেমে বিভাের বিশাল কায়।
অরুণ নেত্রে করুণ চায়।
মদের মাতাল করি কোলে।
“হরি হরি বল” শুধু বলে।
নাই মনে ভয়ের সঞ্চার।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। আজি তঁার আনন্দ অপার । বিজয় বলিছে আরে এই মাের দয়াল নিতাই ॥ ৭৯ ভাই। শ্ৰীঅঙ্গ পরশের ফল। জাল কঁাধে জেলে বেটা, চলছে আপন ঘরে। হাসে কঁাদে নাচে গায়, বলছে “হরে হরে সঙ্গে তাহার আর কেহ নাই, সেই শুধু একা। পথে পাইল রামানন্দ, স্বরূপের দেখা। স্বরূপ-রামানন্দ বলে, বল শুনিরে ভাই। এদিকে কি দেখলে এক, সন্ন্যাসী গােসাই ? জেলে বলে, নাহে ভাই- কইতে মরি ডরে। মস্ত একটা ভুত পড়িয়া, আছে বালি চড়ে। মাছ বলিয়া গায়ের জোরে,
১৩২
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
টেনে এনে তীরে।
চেয়ে দেখি মড়া একটা,
বিকট ভঙ্গী করে ।
জাল ছাড়াইতে হঠাৎ লৈ,
মরার গায়ে হাত।
অম্নি এসে ভূতে আমায়,
করল আত্মসাৎ |
যতই আমি হরে-কৃষ্ণ,
নাম বলি ভাই ডরে।
ততই আবােরা পাগলা ভূতে,
চেপে ধরে জোরে।
বড় ভাগ্যে জাল ছাড়াইয়া,
চলছি আপন ঘরে।
এখনাে ভূত লেগে আছে,
আমার শরীরে।
আপনে আসে হাসি কান্না,
মুখে কৃষ্ণ নাম।।
বিজয় বলে তােমার পদে,
কোটি পরণাম ॥৮০}
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
মৃত্যু পথে যাই,
(তুমি আর কত দূরে ? )
বহু কাল হতে, তােমার উদ্দেশে,
ছুটিয়াছি প্রাণনাথ ?
জন্ম পথে আসি,
ঘুরাই শুধু সতত।
ঘুরিয়ে ঘুরিতে,
আবার এসেছি নরে।
পাইনু দেখা, কহ প্রাণসখ,
তুমি আর কত দূরে ?৮১।
চৌরাশি ঘুরিয়া,
প্রেমের প্রতাপ।
গৌর প্রেম সুধা,
সিন্ধুর গৰ্জ্জনে,
পাষণ্ডী পলায়ে যায়।
করুণা বাতাসে, তরঙ্গ উঠিয়া,
পশ্চাতে ছুটিয়া ধায়।
দিক্ দিগন্তর,
যেখানে যাহারে পায়।
তরঙ্গ মালায়,
সবারে ডুবায়,
বিচার নাহিক তায়।
পলায়ে সারিতে, কেহ না পাল,
প্রেমেতে ড বিল সবে।
পর্বত প্রান্তর,
১৩৪
শ্ৰীশ্রীগৌরগীতাবলী।
এমনি দয়াল,
চৈতন্য আমার,
আর কি এমন হবে ?
অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড,
সকলি ডুবিল,
বাকি নাহি একজনা।
বৈষ্ণবাপরাধে,
বঞ্চিত কেবল,
পামর বিজয় বিনা। ৮২।
নিবেদন।
গৌর হে! যা’ অতি দুঃখে দিন,
দিনান্তে মুষ্টেক খেয়ে।
কিম্বা করি উপবাস,
নিজ পরিজন লয়ে
পরি শতগ্রন্থি বাস,
করি বৃক্ষ তলে বাস ।
আসুক আমার বুকে,
সংসারের হা হুতাশ।
পশুক অসাধ্য ব্যাধি,
জরা জীর্ণ দেহে মাের।
উচ্চ প্রতিবেশীগণে,
করুক উৎপাত ঘোর ।
করিয়া আমার নিন্দা,
তুষ্ট হউক এ সংসার।
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
চাপুক আমার স্কন্ধে,
অগণন দুঃখ ভার।
মরু আমার যত,
পুত্র কন্যা পরিজন।
সে জন্য নাহিক মাের,
দুঃখ মাত্র এক কণ।
পারিব সহিতে আছে,
সংসারেতে দুঃখ যত।
(কিন্তু) পারিবনা সহিবারে,
তােমার বিরহ নাথ ॥ ৮৩ |
প্রার্থনা।
আর কত দিন,
বিষয়ের বিষ,
অনিচ্ছায় করি পান।
আর কত দিন, সংসার আগুনে,
পুড়িবে পাপীর প্রাণ?
আর কত দিন, হয়ে পরাধীন,
লাঞ্ছিত জীবন রাখি ?
আর কত দিন, রােগে জরিত,
দেহটা লইয়া থাকি
আর কত দিন,
এ সব দুঃখের গান ?
আর কত দিন,
পরে বা তােমার,
চরণে পাইব স্থান ? । ৮৪।
?
গাইয়া বেড়াব,
শ্রীগৌরাঙ্গ-স্বরাষ্টক।
জয় শচী নন্দন,
জগজন বন্ধন,
ভব বন্ধন মােচনকারী ।
পাপ তাপ নাশন,
যম ভয় বারণ,
গর্বিত, দুৰ্জ্জন, দর্পহারী।
জয় ভক্ত জীবন,
কীৰ্ত্তন পারায়ণ,
কনক উজোর অঙ্গ কঁতি।
নৌমিত্বং শচীভুত,
অখিল রসামৃত,
চিদূঘন রসরাজ মূরতি ॥ ১।
জয় জীব তারণ,
কারণস্য করিণ,
পতিত পাবন গু. সিন্ধু ।
জগন্নাথ বালক,
জগজন পালক,
ভকত বৎসল দীনবন্ধু।
মায়াবাদী মদ্দন,
ভক্তির
বর্ধন,
জয় জনার্দন বিশ্ব
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। নৌমিত্বং শচীসুত অখিল রসামৃত, চিদঘন রসরাজ মূরতি ॥ ২॥ শ্রীরূপ জীবন, গদাধর রাণ, ভুবন মােহন দ্বিজবর। জয় সন্ন্যাসশ্রমী, শ্রীচৈতন্য গােস্বামী, দিগ্বিজয়ী জয়ী-বিশ্বম্ভর। দেবানন্দ শােধন, কলি মল ক্ষালন, গৌর বিধুর্জয়তি জয়তি। নৌমিত্বং শচীভুত, অখিল রসামৃত, চিদূঘন রসরাজ মূরতি। ৩। ভক্ত বাঞ্ছা পূরক, ত্রিভুবন তারক, অশিব বারক, দ্বিজমণি। ব্ৰজ ভাবানুগত, লীলা বিলাসসন্মত্ত, রাধা ভাব সুধা-রস খনি ।
১৩৮
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
শ্রীবাসাঙ্গণচারী,
নপদ্বীপ বিহারী,
জয় গতি হীনস্য গতি।
নৌমিত্বং শচীভুত,
অখিল রসামৃত,
চিদঘন রসরাজ মুরতি। ৪
সাত্ত্বিক প্রকাশন,
গােপী ভাব পােষণ,
দিব্যোন্মাদ তীর্থ প্রয়াসী।
জয় ভক্তাবতার,
চিদানন্দ সাকার,
উন্নভােজ্জ্বল রস বিলাসী।
মিশ্র কুল তিলক,
প্রেমানন্দ দায়ক,
কৃপা কুশল সুশান্ত অতি ।
নৌমিত্বং শীত,
অখিল রসামৃত,
চিৰ্ঘন রসরাজ মুরতি। ৫।
সর্ব চিত্তাকর্ষক,
জীবান্তর দর্শক,
জয় কাঙ্গালে করুণাকারী।
শ্রীশ্রীগৌরীতাবলী।
স্ন্যাসী কুল গৌরব,
ভক্তফুল সৌরভ,
রৌরব খণ্ডন দণ্ডধারী।
জয় শরণ্য বর,
নাম জপ তৎপর,
জয় উদ্ধারক গজপতি। *
নৌমিত্বং শচীত,
অখিল রসামৃত,
চিঘন রসরাজ মূরতি। ৬।
জয় যুগাবতার,
ভকত কণ্ঠ-হার,
শুভ “শিক্ষাষ্টক” প্রকাশন।
অরুণাম্বর ধারী,
বিষয় বিন বারী,
কলিকাল ‘ভুজগ মথন!
প্রেম প্রবর্তক,
নবীন সুনৰ্তক,
গায়ক শ্ৰীসঙ্কীর্তন গীতি।
নৌমিত্বং শচীত,
অখিল রসামৃত,
চিদঘন রসরাজ মুরতি। ৭।
* গজপতি, রাজা প্রতাপ রুদ্র
১৪০
শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী।
পাপ তাপ হারক,
জন্ম মৃত্যু বারক,
পতিত তারক প্রেম খনি।
ভব ভয় নাশন,
অতি মিষ্ট ভাষণ,
দুষ্ট শাসন শ্রীগৌরমণি ।
ভক্তি দাতা দীনেশ,
জয় শ্ৰহৃষীকেশ,
নাশন দীন বিজয় ভীতি।
নৌমিত্বং শচীত,
অখিল রসামৃত,
চিঘন রসরাজ মুরতি। ৮ | ৮৫।
শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ।
হারে, মাের ঠাকুর নিতাই।
দয়ালের শিরােমণি,
প্রেমামৃত রস খনি,
গৌর চান্দের বড় ভাই।
অক্রোধ পরমানন্দ
মাের প্রভু নিত্যানন্দ,
অভিমান শূন্য কলেবর।
গৌর ভাইয়ের গুণ,
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
গায় হয়ে দুনিপুণ,
গােরা প্রেমে রসে ভর ভর।
চাহিতে প্রেম যাচে,
এমন দয়াল কেবা আছে,
যারে তারে করে কৃপা দান।
নিতাই নয়নে ভাই,
ব্রাহ্মণ চণ্ডাল নাই,
সকলে সমান করে অজ্ঞান।
প্রেম মদিরা পিয়া,
আপনে মাতাল হৈয়া,
যাহা তাহা করে বিচরণ।
যেখানে যাহারে পায়,
অমনি তারে খাওয়ায়,
মাতাল করিল
জগজন ॥
নিতাই বলিলে ভাই,
ক্ষণেক বিলম্ব নাই,
হইবে গৌর ময়।
হেন নিত্যানন্দ ধনে,
ভঙিয়ে কি কারণে,
বিষ খেয়ে মরিল বিজয় ॥ ৮৬।
.
শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ।
ওগাে কে আইল রসের
মানুষ,
হরি নাম লয়ে।
শুধু নাম নয়, সে নাম আনিছে,
প্রেম রসে মাখিয়ে ।
সে যে যেয়ে জীবের বাড়ী বাড়ী,
জীবকে বলে বল হরি,
করে ধরি বিনয় করিয়ে,
আবার ক্ষণে ক্ষণে ঢলে পড়ে,
প্রাণ গৌরাঙ্গ বলিয়ে।
সে যে নাহি বুঝে ঘােট বড়,
নাহি বুঝে আত্ম পর,
সকলেরে সমান ভাবিয়ে,
গােলােকের ধন এই হরি নাম ;
জীবকে দিল বিলায়ে॥
সে যে পতিত পাষণ্ড জনে,
কৃপা করে নিজ গুণে,
হরি নাম মহা মন্ত্র দিয়ে,
আবার পাপী তাপী খুজে বেড়ায়,
স্থানে স্থানে গিয়ে
কেন্দে বলে কাঙ্গাল বিজয়,
জীবের পক্ষে হয়ে সদয়,
নিতাই এল করুণা করিয়ে
শ্রীগৌরগীতাবলী।
১৪৩
এবার ঘাের কলিকাল ধন্য হবে,
পাপী যাবে তরিয়ে। ৮৭।
শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ।
পারের জন্য ভাবনা কি আর,-
এইযে ঘাটে নিতাই খাড়া।
এবার তঁারাই পার হইবে
গৌর বলে কাঁদবে যাঁরা।
লাগবেনা আর পারের কড়ি,
নিতাই চঁাদ আপনে কাণ্ডারী,
বলে সবে গৌরহরি,
তাড়াতাড়ি আয়না তােরা ।
ভয় কি দিতে ভবের পারি,
গেয়ে চল নামের সারি,
নিতাই চান্দের প্রেমের তরী,
ঝড় বাতাসে যায়না মারা ।
অন্ধ আতুর দীন দুরাচার,
পাপী তাপী চণ্ডাল চামার,
নিতাই বলে সবেই আমার,
লাগবে না কার কাণা কড়া ।
এই ভব পারাবারে,
পরাণ আমার শচীর গােরা ।
৯৪৪
ঐশ্রীগৌরগীতাবলী।
কেন্দে কাঙ্গাল * বিজয় বলে,
হরি বলে বাহু তুলে,
আয় কে যাবে আয় সকালে,
এবার ভবের ভাবনা সারা। ৮৮
শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ।
বােল হরি বােল হরি বলে,
আয় কে যাবে নিতাইর নায়
পাছের দিকে চাইনে ফিরে,
সানা দিকে দৌড়ে আয়
গৌরচান্দের সােণার তরী,
কাণ্ডারী ঐনিতাইচান,
ভব, সাগরে ধরছে পারি,
মানে না সে বাগ তুফান,
রাধা নামে বাদাম দিয়া,
ছাড়ছে
তরী উজান বাইয়া,
পাছায় বইয়া নিতাই নাইয়া,
হরি বলে হাইল ঘুরায়।
পাগল হইয়া ছুটছে ধাইয়া,
পুরুষ মাইয়া দেশের সব,
ঐ শুনা যায় নিতাইর ঘাটে,
হরি নামের কলরব ;
১৪ ৫ শ্রীশ্রীগৌরগীতাবলী। শুই, ভাকছে নিতাই বাহু তুলে, আয় কে যাবে আয় সকালে, বেলা গেলে সন্ধ্যা হলে, পারি দেওয়া ঘটবে দায়। বামুণ, শূদ্র, দ, চামার, চৌধুরী নাই fচার, নিতাইচান্দের ঘাটে গেলে, সব, জাতে হয় একা কার, অন্ধ আতুর ক'। খোঁড়া, আ।ে নৌকায় উঠছে তারা, কৃপা-সিড়ী তাছে ধরা, পাছে নাকি *ড়ে যায়। ধনী মনী লােভী কামী, তাপরাধি যত তার, প্রেম নদীতে চুবাইয়া, তারেও নিতাই করে পার, দয়াল তবতারে, গেল ভব-পারে, তারে, আখেরে তার নাই উপায়। যাত্রী লইয়া নিতাই নাইয়া, নিত্য বৃন্দাবন, বিজয় বলে সকাল | ---
১৪৬
শ্রীগৌগী তাবলী।
বিলম্বের কি প্রয়ােজন,
রূপ মঞ্জরী ঘাটে খাড়া,
সেই ঘাটে নাও দিবে পাড়া,
সখি-রূপা
যারা,
হাত ধরে তুলবে ডাঙ্গায় ॥ ৮৯।
সমাপ্ত।
বিজ্ঞাপন।
মংপ্রণীত নিম্নলিখিত পুস্তক সকল আমার নিকট আমার
বাড়ীর ঠিকানায় পাওয়া যাইবে।
শ্রীবিজয়নারায়ণ আচার্য্য,
পাের বাংলা, গ্রাম সহিলপুর, ময়মনসিংহ।
০০০
০০০
১। উপদেশামৃত মূল্য
| আনা
২। গৌর গীতাবলী
৩। প্রার্থনা শতক
“প্রার্থনা শতক” সম্বন্ধে আনন্দ বাজার বিষ্ণুপ্রিয় পত্রিকার
সম্পাদক পূজ্যপাদ শ্রীল শ্রীযুক্ত রসিকমােহন বিদ্যাভূষণ যে
মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছেন, তাহা নিম্নে প্রদত্ত হইল।
পাবনা শতক।
“প্রার্থনা শতক” শ্ৰীযুক্ত বিজয়নারায়ণ আচাৰ্য প্রণীত।
মূল্য আট আনা, প্রাপ্তিস্থান গ্রাম সহিলপুর, পােঃ বাংলা,
ময়মনসিংহ। শ্রীযুক্ত বিজয়নারায়ণ আচাৰ্য মহাশয়ের গ্রন্থখানি
পাঠে মনে হয় যেন ঠাকুর নরােত্তমের শক্তি সঞ্চারে এই সুধা
মধুর ভক্তিরসের প্রবাহ পূর্ণ গ্রন্থ খানি বিরচিত হইয়াছে।
আচাৰ্য বিজয় নারায়ণ প্রকৃত পক্ষেই প্রেমভক্তির শক্তিশালী
উৎস। তাহার প্রত্যেক কথায় মধু ঝরে প্রত্যেক ছত্রে ভক্তি- রসের বন্যা প্রবাহ হয়। এই প্রার্থনা সমূহের কতিপয় পদ যখন শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, তখনই আমরা ভক্তিনিধি শ্রীল বিজয়নারায়ণের অসীম ক্ষমতা অনুভব করিয়া- ছিলাম এমন প্রাণস্পর্শী ভাষা! সে ভাষায় এমন পবিত্র মাধুৰ্য্য ও চিত্তবিনােদন সৌন্দর্য্য ; বৰ্ত্তমান সময়ে প্রকৃতই দুর্লভ। মণিমুক্তার মােহনমালা দূরে রাখিয়া নরনারীগণ এই পদ- মালা কণ্ঠে ধারণ করুন ইহাই আমাদের একান্ত প্রার্থনীয় । শ্রী বিজয়নারায়ণের ভান তঁাহার সরল সাধু ভক্তহৃদয়ের খাটি দর্পণ। তাঁহার হৃদয় নিহিত ভক্তির পীযুষ ধারা ইহার ছত্রে ছত্রে প্রতিফলিত হইয়াছে। কি গদ্যে কি পদ্যে উভয় প্রণালীর রচনাতেই গ্রন্থকারের সাদা হৃদয়ের সরল ও সরস ভক্তিভাব, সজীব উজ্জ্বল মূর্তিতে পাঠকগণের মানসনেত্রের সমক্ষে প্রকাশ পায়। বালক বালিকা, যুবক যুবতী, বৃদ্ধ বৃদ্ধা, পণ্ডিত মূখ, সকলের হৃদয়েই উহা মন্ত্রশক্তির ন্যায় ক্রিয়াবান হইয়া উঠে। শ্ৰল বিজয় নারায়ণ আচাৰ্য মহােদয় ঐ শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকার চিহ্নিত সুলেখক। তাঁহার পদ্য গদ্য রচনা আমরা বহুদিন ধরিয়া আস্বাদন করিয়া তৃপ্তিলাভ করিতেছি। তাহার রচনা সম্বন্ধে পাঠকগণকে আর নূতন রিচয় দিবার কি আছে, তাহার লেখা একবার যিনি পাঠ করিয়াছেন তাহার হৃদয়ই তাহাতে বিগলিত হইয়াছে। ভক্তির জাদুবী ধারায় অনেক নীরস হৃদয় সরস হইয়াছে, বহু কঠোর বিশুষ্ক মরুতে প্রেম মন্দাকিনীর ।
lo গীযুষ প্রবাহ প্রবাহিত হইয়াছে। ইহা আমাদের মনঃকল্পিত অতিরঞ্জিত উক্তি নহে। বহু ভক্ত বহু বার আমাদিগকে বিজয়ের বিজয় গৌরবময় ভক্তি-রসাত্মক প্রবন্মের প্রশংসা করিয়া পত্র লিখিয়াছেন। এস্থলে একটী পদ উদ্ধৃত করিয়া দিতেছি :- “হরি ! হরি!! হেন ভাগ্য হইবে কি মাের। গৌর-প্রেম-সিন্ধু-জলে স্নান করি কুতূহলৈ ভুলিয়া যাইব আত্ম পর। হরি হরি হরি বলি উর্ধে দুই বাহু তুলি যারে তারে ধরিব সাপুটী। স্মরি লীলা ব্ৰজরস হইবে অঙ্গ অবশ সতত ঝরিবে অাঁখি দুটী। কদম্ব পুষ্পের প্রায় লােমহর্ষ হবে গায় পুলকে মাতিয়া সদা রব। , করিব তাণ্ডব নৃত্য হইব বৈষ্ণব ভৃত্য পদরজ মস্তকে লইব । বুঝিব পাপ পূণ্য ক্ষুধা-তৃষ্ণা-বােধ শূন্য প্রেমাবেশে হব দিন দিন কিবা শত্ৰু কিবা মিত্র পবিত্র কি অপবিত্র কারে না বাসিব মনে ভিন । গৌরাঙ্গ ভকত পায় লুটাইব সর্বদায় শ্রবণে শুনিব গৌর-কথা ।
e গৌরাঙ্গ বলিতে যার নেত্রে বহে প্রেমধার তার পায় বিকাইব মাথা। কঁদিব গৌরাঙ্গ বলি হাসিব গৌরাঙ্গ বলি নাচিব গৌরাঙ্গ গুণ স্মরি। থাকিব গৌরাঙ্গ দেশে শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমাবেশে ভূমে পড়ি দিব গড়াগড়ি । এইরূপ ' প্রার্থনায় গ্রন্থখানি পরিপূর্ণ। আচাৰ্য্য শ্রীল বিজয় নারায়ণ প্রার্থনাশতকে এইরূপ গৌর-ভক্তির বিজয় পতাকা উডডীন করিয়া ভক্ত অভক্ত সকলকেই সেই সুধাময় সমুজ্জল রাজ্যের দিকে আকৃষ্ট করিতেছেন। বিজয় নারায়ণের প্রেম- ভক্তিভরা হৃদয়ের উচ্ছাস এই গ্রন্থের ছত্রে ছত্রে উচ্ছসিত হইয়াছে। এই প্রার্থনা-গ্রন্থ স্বীয় উন্মাদিকা প্রবাহিকা শক্তি- বলে ভক্ত অভক্ত সকলের হৃদয়কেই যে গৌর-প্রেম-সুধা-সিন্ধুর অকুল পাথারে টানিয়া লইতে সমর্থ হইবেন, এই আশা ও এই ভরসা বিশেষ রূপেই আমাদের হৃদয়ে জাগিয়া উঠিয়াছে। বৈষ্ণব সঙ্গিনীর সুযােগ্য সম্পাদক তদীয় পাঠকগণের জন্য এই ভক্তি-সময় প্রার্থনা-পদাবলী উপহার স্বরূপ প্রদান করার যে প্রস্তাব করিয়াছেন, আমরা তজ্জন্য তাহারও ধন্যবাদ করিতেছি।
শুদ্ধি পত্র অশুদ্ধ পৃষ্ঠা পংক্তি শীর্ষকে ঐ ভাবােচ্ছাস কোথা হতে ভালােচ্ছ্বাস কোথা হতে এত ১ ১৪ নন্দ শ্রীনন্দ ১৭ গালােকের সুললিত গোলােকের সুবলিত ৩০ ঐ ১৫ কুন্তল অনুরাগ কুণ্ডল অনুরাগে কুন্তল a ? কুণ্ডল পায় যায় ৪১ তার র ঐ ১০ ঐ ৪৭ ঐ ভঙ্গি লীলাছল ঝলকি ঝলকি সুললিত পদাধর উদ্ধে ভঙ্গী নীলাচল ঝলসি ঝলসি সুবলিত গদাধর উর্জে ৫ ৪ ও ঐ ভুলি ভুলিয়া ৫৮ ১৮ ডুডুব আছে। २० कृत ঘুচাতে আছছা হে আছে। কুল ঘুচালে ৭৪ ৭৬ কুল কুল কুল ১১ দু’কুল দু’কুল • ৮১ ২০ কুলের ৮৪ কুল ১৮ ২ ৬ কূলের কূলের কুল কূল বধূ কূল সুরধনী শিহরী শিহরী কুল বধূ ৮৭ ১০ ৪ ৯৪ কুল সুরধুনী শিহরি শিহরি কুল উদিয়া গােলােক জনম পুতুল দুখ। মুক্তি সতি উদীয়া গােলােকে জীবন পতুল দুঃখ ১ ১৮ ১১ ১৮ সতা ৪ ৭ ১৪১ o Y রতে রকতে দুখ দেখলে দেখলে আত্মসাৎ আত্মস্থাৎ বন্দন প্রেমরসে প্রেম-রসে ভরভর ভর উল কে আহল কে আইল এই আনিছে আনিয়াছে এই ভব-পারাবারে এই ভব-পারাবারে সেই বাবে ডঙ্কা মেরে প্রাণ খুলে যে বলতে ১৪২ ১৪৩ ২০ পারে, ১৪৫ আগে আগেই
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.