Majhu Public Library, Howrah

Tattyaponishad Part. 1

Bramhadas, Kamalakanto · 2010/04/1

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

NAJU. HOWRAH
তত্বোপনিষ।
প্রথম ভাগ।
কমলাকায়
ব্ৰহ্মদাস
প্রণীত
FUBLIC
TTBRARY
THALU
lotcl. 902,
প্রমা
কলিকাতা,
১ শঙ্করদেবের লেন, নব্যভারত-মুমতী খেলে
উমেশ চল নাগ থানা অতি
৩
একার কর্তৃক প্রকাশিত।
১. সন।
মূল্য পাট পান।

No text on this page.

নিবেদন। তৰােপনিষদ প্রথম ভাগ প্রকাশিত হইল। বর্তমান সময়ে যেরূপ ভাষার উন্নতি হইতেছে, তাহাতে ইহার স্থান পাই- বার কথাই নয়। তথাপি মনের গতি অনিবার্য্য, ইহা সাধ্যাতীত বিষয়েও প্রবৃতি দেয়। ভরসা করি, সাধু-সাধকগণ প্রমান ভাষা ভাবাদির কোনও স্থানে, যদি কণ্টকাবৃত কেতকী,পুষ্পগন্ধ সদৃশ একটু সত্যের গন্ধ পান, দয়া করিয়া তাই গ্রহণ করিবেন। দেখিতেছি, এই ধর্মবিপ্লব সময়ে সকল প্রকার ধর্মসম্প্রদায় মধ্যে অনেকেই সাধ্যায়ত্ত শক্তিসহকারে নিজ নিজ বিশ্বাসের ভিত্তিতে দাড়াইয়া, ধর্মের সাত জন্বেষণ করিতেছেন। বঙ্গতাই পৃথিবী সময়ে সময়ে সত্য অন্ধকারে আচ্ছাদিত হইলে, স্বভাবতঃ সত্যের উজ্জ্বলজ্যাতি প্রকাশ হয়, এই আন্দোলনের ভিতর দিয়া নিশ্চয়ই সত্যের আলো প্রকাশিত হইবে। মান প্রকৃতি মতবৈষম্যের অধীন হইয়া, এক একটা মতের তরণে ভাসিতে থাকিলেও, নিয়াশার কথা নাই। যখন মাদৃশ ই- বুজি, অধম ব্যকির কঠিন হৃদয়ে, কখন কখন এক এক বিন্দু এভুপ্রদত্ত প্রেম। পড়িতেছে, তখন ইহা বড়ই প্রীতি ও আশার কথা। নতুবা এরূপ জান দ্বারা একখানি গ্রন্থ জনসমাজে প্রকাশিত হইবে কেন? ইহাতে ভাষা ও ভাবের বিকৃত ও লালিত্যাদি কিছুই নাই। ইহা একমাত্র সাধু- সন- গণের দয়ার তিক্ষার্থী-শিগণ ইহাই মনে ভাবি দোষরাশি পরিত্যাগ করতঃ যদি অবকাশ মত আদ্যোপান্ত পাঠ করেন, তাহা হইলে ধর্ষইব। একার।

No text on this page.

পৃষ্ঠা। সূচীপত্র। বিষয় গভ্রান্ত গুরু কে? সাকার ও নিরাকার তখ। কড় চৈতন্য তক। •• ০৫ ৫০০ ১৮ ૨૧ ••• ৪৪ ••• ০৫০ ০ ০ ৭৯ ০ ০ ০ স্বাভাবিক ব্ৰহ্মজ্ঞান। জ্ঞান ভক্তির মিলন। গৃহস্থামে সন্ন্যাস। ধ্যান বা চিন্তা। এই কি যােগ। নির্বাণ মুক্তি মহাভাব। মােহমরীচিকা। ০০ ০ po ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৮ ০ ০ ০ ০ ০ ৫০০ ০ ০ ০ ৫। ০

No text on this page.

তত্ত্বোপনিষদ্ ।
অভ্রান্ত গুরু কে?
পৃথিবী প্রকৃত তত্ত্ব গ্রহণ করিতে উদাসীন্ কেন? ইহার
মূল অন্বেষণ করিলে ইহাই দেখা যায়, মানৰ-প্রকৃতি স্বভাবতই
কল্পনাপ্রসূত অলৌকিক ঘটনার অধীন, জড় বিজ্ঞানের শক্তি
কেই মহাশক্তির ব্যাপার সিদ্ধান্ত করিয়া পরিতৃপ্ত হয়। সুতরাং
সত্যানুসন্ধানে পরায়ুখ হইবে, আশ্চর্য কি? সাধু ও সাধকগণ
যতই কেন উচ্চতম প্রদেশে অবস্থিতি ক না, যদি জাহাতি,
মান, বার্থ ও সম্মানকে পরিত্যাগ করিতে না পারেন, তবে
সবই বলিতে পারি, তাহারা তত্বজ্ঞান প্রচ্ছন্ন রাখিয়া অনুদার
তেকে এর দেন। সাস্থ্য, পাতল প্রভৃতি গর্শন এবং
বিবিধ পুরাণে প্রভাব থাকা মানব শক্তি ঐশ শক্তিরুপে
প্রদর্শিত হইয়াছে। ইহাতেই জানা যাইতেছে যে, ইহা বিজ
তন, স্বাভাবিক জীবন-বেদ, মধুর ভাঙ্গা তকে বিনাশ
করিয়াছে। সংসার পরপিও-প্রত্যাশী ই শকি হতে
ৰতি হইয়াছে।
এলে স্পষ্টই বলিতে পারি, ওই জেদের বীজপু।
ইহা হইতেই ৰাতিভেদ, যতো, ততোদি সূ হইয়াছে।
কেন না, ও শিষ্যের যে নিক ভাবে আতিশয্য বশতঃ

२ অভ্রান্ত গুরু কে ? স্বার্থপরতা দ্বেষ হিংসাদির আক্রমণে উদার সরল তত্ত্ব পৃথিবী হইতে চলিয়া গিয়াছে। জটা, তুলসী, রুদ্রাক্ষ ধারী মানব গুরু, ব্যাঘ্র চন্মের আসনে বসিয়া, শূদ্র শিষ্যের হতে এক বিন্দু জল কিরূপেগ্রহণ করিবেন ? একাসনেই বা কিরূপে বসিবেন ? ছেদের কারণ দেখাইতে বাধ্য হইয়া, এই কথাটি বলিতে হইল। যাহা হউক, এক্ষণে যে বিষয় আলোচনা করা যাইতেছে, তাহার অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হওয়া যাক। আহা ! এক বিন্দু শুক্র-শশাণিত হইতে অস্থিমেদময় দেহ- রূপে ভূমিষ্ঠ হইলে মাতৃস্তন্য ধরিয়া দুগ্ধপান করিবার জ্ঞান পাই- য়াছি, উঠিতে, চলিতে, বসিতে শিয়াছি, মা শব্দে প্রথমেই আপনা হইতে কথা বলিয়াছি ইত্যাদি। ইহার উপদেষ্টা কে? কাহার শক্তি হইতে শিশুর ভিতরে যুবা, যুবার ভিতরে বৃদ্ধ, বৃদ্ধের ভিতরে স্থবীর এবং ক্ষুদ্রের মধ্য দিয়া বৃহৎ হয়? ইহা কি কোন মানুষে গড়িয়া দেয় ? যদি বলেন, না ; তবে ইহার কর্তা কে ? এক মাত্র ব্রহ্ম জীবের সঙ্গে সঙ্গেই আছেন। আমার প্রত্যেক শ্বাস প্রশ্বাসে থাকিয়া আমাকে রক্ষা করতে ছেন। শরীরস্থ যন্ত্র সকলের কাৰ্য্য সুশৃঙ্খলা মত চালাইয়া দিতেছেন। রক্তস্থলি হইতে প্রত্যেক শিরায় শিরায় রক্ত সঞ্চালন দ্বারা জীবিত রাখিয়াছেন। দর্শন, শ্রবণ, ক্ষুধা তৃষ্ণা প্রভৃতির জ্ঞান এবং দুর্গন্ধ সুগন্ধ অনুভব শক্তি স্বাভাবিক ভাবেই পাইয়াছি। সেই জীবন্ত গুরু জীবনের সমস্ত কাৰ্য্য করিতে পারেন, ঐ পরিত্রাণের পথটাই কেবল দেখাইতে পারেন না? তিনি কি এখন বার্ধক্যের যাতনায় অক্ষম যে, এক এক মানুষের প্রতি উদ্ধারের ভার দিয়া নিশ্চিন্ত আছেন।

ততাপনিষদ্ । অপূর্ণ মানবশক্তির প্রতি নির্ভর করিলে জীবের মুক্তি হয়, ইহা কি ভ্রান্তির কথা নহে? মানব ক্ষে মানব ব্রহ্মে ডুবিলেও তাহাকে আয়ত্ত করিতে পারে না। পল যেমন সমুদ্রের তরঙ্গে মা হইয়াও ক্ষুদ্রাবস্থাতেই অবস্থিতি করে, সেইরূপ মানবশক্তিও মহাশক্তির নিকট বিন্দুতুল্য সীমাবদ্ধ, কাজেই, অন্যকে পরি- ত্রাণের পথ দেখাইতে পারে না। হয়ত অনেকে আপত্তি করিতে পারেন, বুদ্ধ, নানক, চৈতন্য প্রভৃতি সাধুভক্ত এবং জাহাজের খালাসী মুটে মজুর সকলেই ত মনুষ। তবে এই উতয়বিধ ভাবে মানবশক্তি বিভিন্ন দেখিওে পাই কেন? ইহাতেই বুঝিতে পারা যায় ঈশ্বর জগতের পরিত্রাণের জন্য ব্যক্তি বিশেষে ঐশী শক্তি প্রদান করেন। এই কথা স্বীকার করিলে ঈশ্বরে পক্ষপাতি দোষ বটে। কেন না, তিনি দয়াময়; পাপীই হউক বা সাধুই হউক, সমভাবে মানবকে যথােপযুক্ত সকল শক্তি দিয়াছেন। মনুষ্য স্বাধীন শক্তি প্রভাবে উন্নতি অবনতির অবস্থায় অবস্থিতি করে। যেমন দুইটি লণ্ঠনের মধ্যে যেটি স্বচ্ছ বা পরিষ্কত, তাহার ভিতর দিয়া আলো উল রূপে ফুটিয়া উঠে; অপরটি ধূলাদি আবর্জনায় প্রচ্ছন্ন, উহার ভিতরে আলাে সমান অলিতেছে, কিন্তু তাহার জ্যোতিঃ আদ- বেই দেখা যায় না। দোষ কি আলোকের, না পারে ? সেইরূপ, নিশ্চেষ্ট মানব পরপিও-পােষিত হয়, স্বয়ং শক্তি প্রকাশ করিতে সক্ষম হয় না। সুতরাং দুরবস্থায় অবস্থিতি করে, আর অপূর্ণ মানব শক্তি ধরিয়া কৃতার্থ হইতে থাকে। এস্কুলে বিজ্ঞানেরও একটি আপত্তি আছে। আপত্তিটি এই, পিতামাতার শরীরের এবং মনােবৃত্তির অবস্থাভেদে সাধু অসাধু, জ্ঞানী মূর্ধ ইত্যাদি ভাব ;

৪ অভ্রান্ত গুরু কে ? সন্তানেও সংঘটিত হয়। কিন্তু মনুষ্যের তাহাতেও নিজের শক্তি প্রয়ােজন হয়। এণগত অধ্যবসায় এবং সাধন দ্বারা অসাধু সাধু, মুর্থ তর্কচূড়ামণি হইতে পারে। বৃষা-তরঙ্গিণীর কলুষিত জল কি নিৰ্বল হয় না? বাস্তৰিক ধনী, দরিদ্র, জ্ঞানী, মুর্থ, সকল প্রকার মানবাত্মার ভিতরেই জ্যৈাতি স্বরূপ গুরু স্থিতি করিতেছেন। মহাশূন্যে পিতা পুত্র ভিন্ন আর কিছুই নাই। কীটাদি পর্যন্ত সকলেই ভ্রাতৃ সম্বন্ধে আবদ্ধ। মানব কোন্ প্রাণে গুরু বা আচাৰ্য্য হইতে ইচ্ছা করেন, সমাসনে বসিতে ক্লেশ বােধ করিয়া গুৰু-সম্মানিত স্বতন্ত্র আসন গ্রহণে সুখী হন? ইহাতে যে উদার প্রেম কলঙ্কিত হয়, দেখিতে পান না। এই ভােদ- জনিত পাপের প্রভাবেই ত প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাইতেছে না। বিন্দুমাত্র শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মান বােধ থাকিতে উদার প্রেমে জগৎকে কেই আলিঙ্গন করিতে পারিবেন না। পচাদির অন্ন গ্রহণ করিলেই যে উদার প্রেম স্থাপিত হইল, তাহা নহে। অপ্রভেদ জীবভক্তি, সৰ্বগত অবিচ্ছিন্ন প্রেম ও অকৃত্রিম দীনতার সাধন হইলে ব্ৰহ্ম দর্শন হইবে না। হে মানব ভাই! তুমি গুরু হইয়া কিরূপে ব্ৰহ্মকে দর্শন করিবে? অধ্যাত্মযোগে, ইন্দ্রজালের ন্যায় কল্পিত কৃষ্ণ চৈত রে মুর্তি দেখিয়া এবং আত্মার পজিমিত শক্তি সঞ্চালন করিয়া কি হইবে? উহা যে ব্রহ্মের পরীক্ষা। সাধক বাহিক ॥ যুক্তির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হইলে অনন্ত সৌন্দর্য্যের মধ্যে ডুৰিতে পারে , এ কথা সকলেই স্বীকার করিবেন। মানব গুরুর বিমান- তা ধরিয়া কোথায় যাইব? পরিমিত জলবিদ্ধ কোটি ও তাৰোপনিষদ। ৫ शन कम } পরস্পরের শক্তি একত্র হইলেও অপূর্ণ। তবে বলিতে পারেন, মানব হৃদয় হইতে যে সকল ব্ৰহ্মতত্ত্ব প্রকাশ হয়, তাহা কি ঈশ্বরের উপদেশ নয় ? এ কথা অবশ্যই স্বীকার করি। এ অসখ্য জগৎ এবং জীব শক্তিকে ভোর করিয়া নিত্য ভাবেই রহিয়াছেন। পশু, পক্ষী, মানব সকলেই উপদেশ দিতেছে। একটি পত্রের নিকটেও শিক্ষা পাইতেছি। চৈতন্য ব্যাধকেও গুরু বলিয়াছেন। ধীর গম্ভীরভাবে দেখিলে সকলেই ত গুরু। যখন অখণ্ড চৈতন্য ময় ব্ৰহ্ম সমস্ত প্রাণীতে বর্তমান আছেন, তখন ঐ বিদ্যারত্ন মহাশয় গুরু, আর বসুজা বা সাজী মহাশয় গুৰু হইতে পারেন না, ইহা নিতান্ত ভ্রমের কথা। পূর্বেই উক্ত হইয়াছে, মানুষ নিজেই আপনার শক্তিকে দুব্বল করে। তাই বলিয়া কি মানব খণ্ড ভাবে গুরু হইতে পারে ? মানবাধারে ব্রহ্ম শক্তির প্রকাশ দেথিয়া কি মধুর ভ্রাতৃৰ তত্ব হরাইব ? ভ্ৰাতৃভাৰে উপদেশ গ্রহণ করিলে ক্ষতি কি? পৃথিবী বুঝিতেছে না যে, অবতার- বাদ, প্রেরিতবাদ, গুরুবাদ, এই সকল প্রভেদ ভাবের সংস্পর্শে নিষ্কলঙ্ক উদার প্রেম কলঙ্কিত হইতেছে। মানব সকল ভেদক্রব্যাদির করাল গ্রাসে ভীষণ যঙ্গণায় অভিভূত। জ্ঞানে ভেদ, প্রেমে ভেদ, ভক্তিতে ভেদ, যােগসাধনে ভেদ, আহার বিহার সমস্ত কাশ্যে ভেদ, নির্ভিকান্তঃকরণে বলিতে পারি, উদার ব্রাহ্মসমাজের ভিতরেও এই রােগ দেখা দিয়াছে। কেহ বা সাধু ভক্তির তরঙ্গে ভাসিতেছেন,কেহ বা গুরু ভক্তির আবর্তে ঘুরিতেছেন। ভাবেন না যে, অপ্রভেদ জীব ভক্তির অভাবে ব্যক্তিগত সাধু ও গুরু- ফক্তি উভয়ই ভুজঙ্গ স্বরূপ; সময় পাইলে দংশন করিবে।

৬ অভ্রান্ত গুরু কে ? এখন দেখা যাক, এই ঘােরর যন্ত্রণা হইতে পরিত্রাণের উপায় কি। দেখিতেছি, এক মাত্ৰ শ্ৰাতৃভাব ব্যতীত কোন একার পার্থক্যভাবে প্রেমের মিলন হইবে না । গুরু শিষ্য, সাধু অসাধু, রাজা প্রজা, এক প্রেমের শৃঙ্খলে বদ্ধ না হইলে উপায় নাই। এ কথা শুনিবা মাত্র অনেকেই চটিয়া বলিবেন, কি! ব্যক্তি বিশেষে গুরু বা সাধু ভক্তি উড়িয়া যাইবে ? কলিকাতার ব্যারিষ্টার আর মফঃস্বলের ফড়ে মােক্তার সমান হইল ? ভাই ! চটিবেন না, ভিতরে প্রবেশ করিয়া দেখুন্, পিতার পিতৃত্ব সত্ত্বে সকলেরই পুত্র ভাবে সমান অধিকার আছে। সাধুকে সাধু ভ্ৰাতা বলিতে দোষ কি? অসাধুকে ভাই বলিয়া কি ভক্তি করিতে হইবে না ? তাহা হইলে ত ব্রাহ্মধর্ম টিকে আমার মত পাপীকে ভ্রাতৃ সঙ্গোপনে মুখ চুম্বন করিলে প্রেম কি থাকিবে না ? অহা । ব্রহ্ম-স্বরূপে সংসারের পিতা মাতা ভ্রাতা প্রভৃতি সকলই ত পুত্রভাবে রহিয়াছেন। নিত্য সম্বন্ধে ভ্রাতৃত্ব রূপ মধুর তত্ত্বের মিলন ভিন্ন আর কি আছে ? নিরাকারে পিতা পুত্রের লালা নিত্যকাল একই ভাবে হই, তেছে। * এই জন্যই, কেহ পরস্পর ভ্রাতৃভাবের মিলনে আপত্তি করিতে পারেন না। দুঃখের কথা বলিতে হইলে প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি হয়। আবার সাধক শ্রেণীর মধ্যেও ভ্রাতৃভাবের বিচ্ছিন্ন দেখিতেছি। উপাসনার সময় ভাবের উচ্ছ্বাসে এবং প্রেম ভক্তির তরঙ্গে চক্ষের জলে বক্ষ ভাসিয়া গেল ; পরক্ষণে সংসারের বাতাসে শিশির কপুর কোথায় উড়িয়া যায়, । * খ্ৰীষ্ট এই স্বর্গীয় গৃহৰ বুঝিয়াছিলেন বলিয়াই ভ্ৰাতৃভক্তিতে সঙ্গীগণের চরণ খতি করিতেন।

ততাপনিষদ। ৭ গন্ধও থাকে না। কোন সাধক একটি ভ্রাতার একটু অসুস্থ অবস্থা দেখিয়াই সৰিয়া পড়েন। ভাইটির এক দিনের জন্য থাকিবার স্থান ও এক মুষ্ঠি অন্ন ও দুভ। এইরূপ অনেক উপাসকের প্রাণের অবস্থা দেখিলে, মিলনের আশা অতি অসম্ভব বলিয়া বােধ হয়। বাস্তবিক, প্রকৃত দীনতার অভাবে, মতের অনৈক্য প্রযুক্ত, তর্ক বিতর্ক ক্রমেই বৃদ্ধি হইতেছে। গুরুবাদ পৃথিবীকে আক্রমণ করিবে সন্দেহ কি ? অনেকে বাহিরের ভাবে বদ্ধ থাকিয়া প্রকৃত সত্যকে ঢাকি তেছেন। হায় ! জীবনের মহাগুরু, যিনি প্রতিমুহূর্ত উপদেশ দিতেছেন—তাহার অব্যর্থ আদেশ উপেক্ষা করিয়া মানুষ অপূর্ণ মানবের উপদেশেই পরিতৃপ্ত। বিবেকের মঙ্গল সম্বাদ বুঝিতে পারিয়া, অসার ক্রিয়া পদ্ধতির অনুষ্ঠানে সতত ব্যাপৃত। প্রাণ- যাম দ্বারা অাত্মাকে সীমবৰ বায়ুকোষে রাখিলে কি ব্ৰক্ষ কৃপার প্রতি অবিশ্বাস করা ২: না? যদি প্রক্রিয়ার বশীভূত হইয়া “ব্রহ্ম কৃপাহি কেবলম্,” এই মহা তত্ত্বকে বিশ্বাস না করি, নিশ্চয়ই আমি প্রভুর নিকট অবিশ্বাসী। স্বাভাবিক ব্ৰক্ষ কৃপার প্রতি নিভর করিলে যে সহজেই জীবন্মুক্তি হয়, ইহার অন্যথা কে করিবে ? আত্মা যতই রক্ষে মজিবে, ততই শ্বাস প্রশ্বাস কমিয়া যাইবে । পরিমিত বায়ু কোষ-বদ্ধ জীবের যন্ত্রণা হইতে কি ইহা সহজ নহে ? আত্মা মহাকাশ অতিক্রম করিয়া চিন্ময় ব্রহ্মসাগরে বিরাজ করে, একথা কি মিথ্যা ? তবে বলুন, গুরু কে? এক মাত্র অখণ্ড পুরুষ ভিন্ন আর কাহাকে গুরু স্বীকার করিবেন ? মানবশক্তি কিছুতেই ব্রহ্ম শক্তিকে আয়ত্ত করিতে পারে না। যেমন নদী সকল পর্বত হইতে প্রবাহিত হইয়া সমুদ্রে

অভ্রান্ত গুরু কে ?
মিলিত হয়, কিন্তু সমুদ্রকে কখনই পৰ্বতে আনিতে পারে না,
সেইরূপ, মানবাত্মা ব্রহ্মে ডুবিয়াও অন্যকে ব্ৰহ্ম দর্শন করাইতে
সক্ষম হয় না।
ব্রক্ষ কৃপাই পরিত্রাণের একমাত্র সহায়। জগতের সমস্ত
মানব একত্র হইয়া শিক্ষা বা উপদেশ দিলেও তাহা বিফল।
এস্থলে অবশ্যই কেই প্রশ্ন করিতে পারেন, তাহা হইলে সাধু
বা সৎসঙ্গের প্রয়ােজন কি ? মনে করুন, একটী চতুষ্কোণ
কাচ পাত্রের অভ্যন্তরে একটা দীপ জ্বলিতেছে। কিন্তু
দর্শকগণ উহার চারিদিকে চারিটি ঐরূপ আলাে দেখিতেছেন,
সত্য কথা। ফলতঃ ঐ পাত্রের গায়ে হাত দিলে ধরা যায় না
কেন? আবার ক্ষিপ্র হস্তে প্রকৃত দীপ কলিকাকে স্পর্শ
করিলে চারিটিকেই স্পর্শ করা যায়। তবে প্রকৃত গুরুকে
ছাড়িয়া অপ্রকৃত মানবকে অভ্রান্ত গুরু বলিবার প্রয়ােজন কি ?
উচ্চ নীচ সকলের নিকট ভ্ৰাতৃভাবে সৎসঙ্গ করিতে কোন
বাধা নাই। ভ্রাতৃসহবাসে ঈশ্বরের তত্ত্ব গ্রহণ করিলেই যে গুরু
ভক্তি প্রকাশ পাইল, তাহা নহে। মানবশক্তি যতই উজ্জ্বল হউক
কেন, ইহা মহাশক্তি অনন্ত জ্যোতির নিকট পরাভূত। এই
জয় বলিতেছি, মনুষ্য গুরু শব্দের বাচাই হইতে পারে না। ব্রহ্মই
অভ্রান্ত গুরু। প্রাণী মাত্রই তাহার শিষ্য ।

সাকার ও নিরাকার, তত্ত্ব। শাস্ত্র-বিশারদগণের যুক্তি প্রমাণে সাকার ও নিরাকার তত্বের বিভিন্ন শক্তি বুঝা যায় না। সাকার ব্রহ্মের উপাসনার যে মীমাংসা, তাহা কি বিশদ রূপে ব্যাখ্যা করা যাইতে পারে ? এই যে তরুলতা সমাকীর্ণ নানাবর্ণ রঞ্জিত জগচ্চিত্র ইহার ভিতরে কে ? সমস্ত এক শক্তিই ত ব্যাপার, তবে আর ঐ দুটি তৰ লইয়া এত মতভেদ হয় কেন? বাস্তবিকই এই গৃঢ় তত্বের অনুসন্ধান করা অতীব দুরূহ, কেননা, ঈশ্বরের অস্তিত্ব চিন্তা মানব বুদ্ধির অতীত। নিরাকার অসীম শক্তির তানুসন্ধান করিতে গিয়া অনেকেই নিরীশ্বরবাদী হইয়া পড়েন, এদিকে ফুল তব বুঝিতে যাইয়াও জড়বাদী হইতে হয়, দেখিতে পাই, উভয় দিকেই বিড়ম্বনা। এই জন্য পৃথিবীতে ধর্মভাবের অসামঞ্জস্য ক্রমেই বৃদ্ধি পাইতেছে এবং প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধান না হইয়া বরং ভাবগত যুক্তিতর্কের কথাই শুনিতে পাওয়া যায়। যাহা হউক, বিষয়টি কঠিন হইলেও ইহার ভিতরে সরল সত্য আছে, সুতরাং এ বিষয়ের আলােচনায় প্রবৃত্ত হওয়া অবশ্য প্রার্থনীয়। নিরাকার নিত্য স্বরূপে সাকার তত্ব প্রকাশ পাইতেছে, সহ্য কি বহিষ্ণুর দৃষ্টি দ্বারা ঐ সকল পদার্থকে প্রত্যক্ষীভূত করিয়া অসীম সসীমকের সাম্য দর্শন সম্ভব না, আবার ইহাও মনে হয়, জড়জগৎ সীমাবদ্ধ হইয়াও অনন্তেই রহিয়াছে, তবে সমদশী ফা- না যায়, এভাবে সাকার নিরাকারে বিরাট ব্রহ্মের যে সাকার ও নিরাকার তত্ত্ব। তাহাতে কেনই বা আত্মার তৃপ্তি হইবে না? এক ঐশী শক্তির বহিষ্কৃত কোন বস্তুই ত থাকিতে পারে না। অবশ্যই বলিতে পারা যায়, বহিদৃষ্টির বিক্লার উপশমিত না হইলে যখন অন্তদৃষ্টি পরিস্ফুট হয় না, তখন জড়ীয় বিকার- তত্বের সম্মিলন চিন্তা মানব বুদ্ধির অগম্য। বাস্তবিক তেজস্বী মনীর ইহার মূল সম্বন্ধে যতটুকু ভাবিয়াছিলেন, ততটুকুই সংসারে প্রচার করিয়া গিয়াছেন, তাহাই অবস্থানুসারে মানব হৃদয়ে অঙ্কিত রহিয়াছে, এখনও সেই সকল উপদেশ শাস্ত্ররূপে প্রকাশ পাইতেছে এবং তাহারই আন্দোলন চলিতেছে। মানব প্রবৃত্তি মাধ্যাকর্ষণে আকৃষ্ট সহসা নীচভাবেই মুগ্ধ, এজন্য ঊর্কে উঠিতে পারে না, হীনবল হইয়া নিশ্চেষ্টভাব অবলম্বন করে। ক্রমে ক্রমে মত বিভিন্ন রুচিভেদে প্রকৃত তত্ত্বের বিকৃতাবস্থা প্রযুক্ত কেহবা সূর্যাগ্নিকেই অনাদি শক্তি অভীষ্ট দেবতা বলিয়া সিদ্ধান্ত করিতেছেন, কেহ বা প্রকৃতির পরিমিত শক্তি ধরিয়াই কৃতার্থ হইতেছেন, কেহ বা জড়বস্তু মধ্যেই ব্রহ্ম পূজার বিধান দেখাইতেছেন। এখন দেখা অবশ্যক যে, জ্যোতি সম্পন্ন সূৰ্যাদির দাহিকা শক্তি ও জগৎ সমূহের জড়ীয় শক্তি এক ব্রহ্ম শক্তি হহতেই প্রকাশ পাইতেছে, সুতরাং সূৰ্যাপ্তি তেজোময় সত্বেও সূক্ষ্ম বা অনন্ত হইতে পারে না। ইন্ধনস্থিত অগ্নি ও সূর্যস্থিত কিরণ সকল কি পবিমিত নহে? কোটি কোটি সৌরজগৎ কক্ষস্থিতিভাবে বিষ্ণুর অসীম শক্তির ভিতরে অবস্থান করিতেছে, এমন সাধ্য নাই যে পরস্পর একত্র হইতে পারে । তবেই বুঝিতে হয় যে, শক্তি ও গুণ যতই খণ্ডাধারে অর্থাৎ বিস্তৃত হউক না কেন, পরিমিতই থাকিবে।

ততােপনিষদ। নিখিল ব্ৰহ্মাণ্ড এবং গ্রহ উপগ্রহ সকলকে একত্র করিয়া ভানিলেও অনন্তের মধ্যে একটি সর্ষপ সদৃশই প্রতীত হয়। যেমন এক বিন্দু তৈল সমুদ্রে প্রক্ষেপ করিলে তাহার পরমাণু পরিমিত ভাবেই বিস্তৃত দেখায়, সমুদ্রকে ঢাকিতে পারে না, তেমনি আধারবিশিষ্ট শক্তিগুণ ও সীমাবদ্ধ বলিয়া ব্রহ্মশক্তিকে অতিক্রম করিতে সক্ষম হয় না। সূৰ্য্য ও ব্রহ্মাণ্ড সমূহের শক্তি সেই গৃঢ় প্রবিষ্ট অসীম শক্তি মধ্যে থাকিলেও উক্ত শক্তির ক্ষীণতা প্রযুক্ত সাম্যদৃষ্টি ঘটে না, তবেই বলিতে হয়, সাকার নিরাকারে বিরাট ব্রহ্মের দর্শন অসম্ভ। যদি সূৰ্য্য তেজোময় শক্তি প্রভাবে জ্যোতি স্বরূপ ব্ৰহ্ম হয়, তাহা হইলে আপনাদের চক্ষুর দোষ কি ? অন্ধকার, আলো, সাদা, কালাে প্রভৃতি পৃথক দশনের শক্তিদাতা কে ? ঐ নিরাকার মহাশক্তি। তবেই দেখুন্ ব্রহ্ম ত অাপনাদের মধ্যেও প্রকাশ পাইতেছেন, একটি স্কুল বন্ধুর তেজোময় শক্তি দেখিয়া উহাকে বহ্ম বুলিবেন কেন? পরিমিত জ্যোতিশক্তি পূর্ণ হইলে সংসারে জড়াে- পাসনার বিষয়ে এত চীংকারই বা কেন হয় ? আর যদি তাহাই বিশ্বাস করা যায়, তবে বৃক্ষ, লতা, ধাতু, শীলা এবং স্কুল সূক্ষ্ম সমষ্টি বিরাট ব্রহ্মরূপী এক নিত্য বস্তু নহে কেন? যখন একটি তৃণ খণ্ডের তত্ব মানব বুদ্ধির অগম্য, তখন জড়বস্তুকে অচেতন ও সীমাবদ্ধ বলিয়া উপেক্ষা করিতে পারা যায় না এবং ঐ বিরাটরূপ ও নিরাকার চিৎস্বরূপের শক্তির সামঞ্জস্য হইলে, পরিমিত জড় মুক্তির দ্বারা ব্ৰহ্ম দর্শনে কেনই দ্বন্দ্ব প্রতিদ্বন্দ্ব উপস্থিত হয় ! শাখার সূৰ্য, গ্রহ উপগ্রহ ইত্যাদি সকলিত ব্রহ্ম। উত্তরেইহাই বলিতে পারা যায়,যেমন বীজ-বৃক্ষ-পর ৭, বুড়ো ১২ সাকার ও নিরাকার তত্ত্ব। তব; ? হইতেই প্রকাশ পাইতেছে, অথচ একটি পত্রকে অবলম্বন করিলে বৃক্ষে উঠিতে পারা যায় না, পত্র বৃন্ত ছিড়িয়া যায়, ইহা ক্ষীণ শক্তি ধারণ করে,তেমনি জড়ময় জগৎ এবং সুৰ্যাদি গ্ৰহসকলও ভাবের বিশেষতঃ ইহাৱা পরিমিত ভাবে অবস্থিত বলিয়া পূর্ণশক্তির কাৰ্য্য করিতে সক্ষম নহে, ছায়ার ন্যায় ব্রহ্মেই স্থিতি করিতেছে। বাস্তবিক যখনই সাধকের জ্যোতিচক্ষু প্রকাশ হয়, তখনই চন্দ্র সূৰ্য্য এবং জগৎ সকল আর দৃষ্টি হয় না,এক মাত্র পূর্ণ পরমেশ্বরের দর্শন হয়—তখন কি ঐ সকল গ্রহ ও জগৎ সত্য সত্যই ধ্বংস হয় ? না। মহাদৃষ্টি প্রভাবে আর স্থূলদৃষ্টি থাকে না, কাজেই অনন্ত ভিন্ন আর কিছুই দেখিতে পাওয়া যায় না। তবেই সাকার বস্তুতে সমদৃষ্টি কিরূপে সম্ভব হয় ? দেবচক্ষুর উজ্জ্বল দৃষ্টি যে পার্থিব পদার্থের অতীত এই জন্য নিরাকারবাদীরা, সাকার উপাসনা ফলপ্রদ নহে, ইহা সাধনের বিপ্ন ও অভীষ্ট চিন্তার সময়পা বলিয়া সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। একটা সূচিকার ছিদ্রে সূত্র প্রবেশ সময়ে একমাত্র ছিদ্র ভিন্ন কি সূচিকার সমস্ত অবয়ব দেখা যায় ? তত্ত্বজ্ঞানের প্রকাশে সাকার বস্তুর ও সেইরূপ অবস্থা ফুল দৃষ্টিতেই আবার চন্দ্র, সূর্য ও জগৎ সকল দেখিতে পাওয়া যায়। বস্তুতঃ ব্রহ্মের লীলা মধ্যে চেতন অচেতন উভয় পদা- ‘ই নিত্যকাল রহিয়াছে। অনেকেই বলিতে পারেন, তবে কি জড়তত্বময় জগৎ সমূহ সৃষ্টবস্তু নহে? সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়ভাব কি মিথ্যা? এই তনে ইহার উত্তর দেওয়া বড় কঠিন। সৃষ্ট্যাদির তৰ সীমা করা এক মাত্র সরল বিশ্বাসের প্রতি নির্ভর করে, দ্বারা মীমাংসা হইতে পারে না। ভাল একটি কথা সাকার ও নিরাকার তত্ত্ব। ৩ জিজ্ঞাসা করি, ব্ৰহ্ম যদি অনন্ত হন, তাহা হইলে তত্ব সকল কোথায় গিয়া ধ্বংস হইবে? ‘পরমাণু সকল কোথা হইতে আসিল, কোথাই বা স্থিতি করিতেছে ? ব্রহ্মের ইচ্ছাশক্তি যে অখণ্ডনীয় ! তাহারই অব্যর্থ শক্তি মধ্যে এই জড়তত্বের ব্ল্যাপার সম্পন্ন হইতেছে। সাকার স্কুলপদার্থ মধ্যেও এক পরমাণু হইতেই বিবিধ ভাবের আবির্ভাব হয়, আবার পৃথিবীতেই মিলিয়া যায়, ভাবিয়া দেখিলে পরমাণু হাস বৃদ্ধি ও ধ্বংসই বা কেন হইবে। সেই অমােঘ শক্তির আকর্ষণে কোন তত্ত্বই ত অপর কোন ত্বকে ছাড়িয়া থাকিতে পারে না। দেখাও যাইতেছে, এক মৃওিকা মধ্যে অগ্নি জল ইতাদি এক ঘনীভূত রহিয়াছে, ঐ মৃত্তিকা ভিন্ন আর কিছু দৃষ্ট হয় না, অথচ ভাবের প্রাবল্যে স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র প্রকাশ বলি- যাও তত্ত্ব বস্তুর বিচ্ছেদ নাই। এই জগৎ তবে যে সমস্ত বৈষম্য আমরা দর্শন করিতেছি, ইহা কেবল স্বল দৃষ্টির প্রভেদ মাত্র। বাস্তবিক সূক্ষ্ম দৃষ্টির প্রভাবে স্কুল তত্বের বৈষম্যে আয়াকে আকৃষ্ট করিতে পারে না; কেন না, একমাত্র কারণরূপ ব্ৰহ্ম ব্যতীত আর কিছুই দৃষ্ট হয় না। তখন পূর্ণ পরমপুরুষের অপূর্ব কৌশল স্মরণ করিয়া প্রাণ উৎফুল্ল হইতে থাকে। মনে হয়,একটি ক্ষুদ্র বীজে কি প্রকাণ্ড বৃক্ষের শক্তি ও ভাব থাকে না কোথা হইতে আইসে? এক বিন্দু শােণিত-শুক্রের ভিতরে বাল্য যৌবন বার্ধক্য নিহিত আছে এবং পৃথিবীর একমাত্র সত্তা হইতেই তিক্ত, মিষ্ট, কষায় প্রভৃতি রসের উদ্ভব হয়, এই সকল অলৌকিক ব্যাপার হৃদয়ের নিভৃত প্রদেশ হইতে উথিত হইয়া আত্মার তুষ্টি সম্পাদন করে। আবার * ইহা অষ্টমৈশ্বৰ্য্যর মধ্যে ব্যাপ্তি ও মহিমার ভাবের , বড় ঈশ্বর দর্শনের তৃপ্তি বা অনাবৃত জ্ঞানের কথা নহে।

১৪ ততাপনিষ। বখনই বিকারময় শুষ্ণজ্ঞানের অন্ধতায় বিশুদ্ধ-প্রেম প্রচ্ছয় হয় ও বাহ বস্তুর বিবিধ প্রকার ভাবের আবেশে চিত্তকে কলুষিত করিয়া ফেলে এবং অশান্তিপূর্ণ ভ্রান্তির ভয়ানক অন্ধকার মধ্যে ডুবাইয়া দেয়, তখনই স্কুল চক্ষে দেখা যায়,বীজ ছিল বৃক্ষ হইল, শি ছিল বৃদ্ধ হইল, এইরূপ বাহ্যিক মোহভাবে তত্ত্বজ্ঞান হারাইয়া চিত্ত পার্থক্য দর্শনে মুগ্ধ হয়। স্রষ্টা-সৃষ্ট একই ভাবে নিত্যকাল স্থিতি করিতেছে, কিন্তু পরমাণপুঞ্জরূপ সাকার তর নিত্যত্ব সত্ত্বেও সীমা- বক সংকীর্ণ শক্তিতেই আবদ্ধ রহিয়াছে। শাস্ত্রে সৃষ্টি, স্থিতি,প্রলয় ভাবের যেরূপ, ব্যাখ্যা শুনা যায়, তাহা হইতে ব্রহ্মের নিত্যনিয়মে সংশয় জন্মে। কেননা ব্রহ্মকে ছাড়িয়া জড়জগৎকোথায় থাকিবে ? তিনি যে অখণ্ড অনাদিপুরষ। সৃধাদি সম্বন্ধেও গঢ়তত্ব এই যে, মানবের অবস্থাভেদে সৃষ্টি, স্থিতি,প্রলয় প্রকাশ পায়, যতক্ষণ মান- বা অনুময় কোষ অর্থাৎ স্থূল শরীরে বদ্ধ থাকে, ততক্ষণই সৃষ্টি- ভাব দেখিতে পায়, সাধনবলে মহাকাশ ভেদ করিয়া ব্ৰহ্মকে স্পর্শ করিলে স্থিতিভাবে উন্মত্ত হয়, আবার অনন্ত সত্তায় ডুবিয়া গেলে তাহাকেই প্রলয় কহে। বস্তুতঃ বাহিরের স্থূল দৃষ্টিতে যােগ বিয়ােগ ভাবে জন্ম-মৃত্যু, সৃষ্টি-প্রলয় জ্ঞান হর, সরল ভাবে দেখিলে কোন তত্ত্বই অনিত্য নহে, সকলি ভাবময় লীলার ব্যাপার ও ব্রহ্মের অসীম ইচ্ছার তত্ত্ব ; সুতরজগতের বৈচিত্র্য সৌন্দর্য্য নিত্যকালই রহিয়াছে। পরমাণু পরিমিত সত্ত্বেও অনিত্য নহে; ইতে কেবল ভাবেরই অভাব মাত্র দেখা যায়। এই যে ময়ূরটির শরীরের সৌন্দর্য্য দেখিলাম, আবার পৃথিবীর ধূলির সহিত শিশিয়া গেল, আর দেখিতে পাইলাম না; ইহাতে কি তত্ত্ববস্তু বিনাশ হইল, প্রমাণ হইতেছে ? ;

সাকার ও নিরাকার তত্ত্ব। ১৫ মান মানবগণ, যতক্ষণ জগতের বৈচিত্র্য ভাব মধ্যে বিচরণ করে, ততক্ষণ সৃষ্টিতত্বে অবস্থিতি করিতে থাকে। আবার জ্যোতি প্রকাশ হইলে একমাত্র অনন্ত সত্তা ভিন্ন কিছুই সৃষ্টি হয় না, সুতরাং জগদ্ভাবের স্থিতি ও বৈচিত্র্য আর থাকে না, ব্রহ্মে ডুবিয়া যায়, বিনাশ প্রাপ্ত হয় না। এখানে একটি আপত্তির কথা এই যে, যদি জড়ময় জগৎসমূহ নিত্য হইল,তাহা হইলে সাকার ব্রহ্মেণ উপাসনা করিলেও ত মুক্তি হইতে পারে ? এই প্রশ্নের ভিতরে সরলভাবে প্রবেশ করিলে বুঝিবেন,বাহা পূঋেই বলা হইয়াছে যে, শক্তি ও ভাব উভয়ের মধ্যে সেরই অভাব পূর্ণন হয় । করুন, সমুদ্র নিত্যশক্তি, বিষ তাহার ভাবের প্রকাশ, সমুদ্রে যে সকল উপাদান আছে, বিস্বতেও তাহাই রহিয়াছে; তবে ভাঙ্গিয়া যায় কেন? দেখিতে হইবে, ভাবেরই অভাব দেখা যায় ; ঐ বিম্বই উঠিতেছে, আবার ভাঙ্গিতেছে। সাকার তত্ত্ব পরিমিত ক্ষীণশক্তি সম্পন্ন, তজ্জন্যই তাহাকে ব্ৰহ্ম বলিয়া ধরিলে পরিত্রাণ হইতে পারে না। সংসারে দেখা যায়, মানব হৃদয়ে প্রেমভক্তির প্রবলতরঙ্গ উখিত হইলে তত্ত্বজ্ঞানের অভাব হয়, তাই অনেকে সাকার নিরাকার তত্ত্বের এক শক্তি ভাবিয়া ব্ৰহ্ম দর্শন ব্যাখ্যা করেন, কিন্তু তাহা সাধকের পক্ষে অতি জটিল এবং বন্ধুর পথ। কারণ সূল সূক্ষের সম্মিলন অতীব অসম্ভব,একথা পূৰ্ব্বে উক্ত হইয়াছে। তথাপি তৎসম্বন্ধে আরও একটি কথা বলিতেছি, সাকার হক নিত্য সত্ত্বেও বৈষম্যের বিকাশ দোষে সাম্য যােগ মধ্যে আসিতে পারে না। একটি চতুষ্কোণ প্রন্তরকে গােলাকার ভাবিয়া লইলে কি যথার্থই তাহাকে গােল দেখা যায় ? আপনি

১৬
তলােপনিষ।
কি খেরক্ত প্রভৃতি গল্প সকলের সৌন্দৰ্য্য এরূপ দেখিতে
পান? স্পষ্টই বলিতে পারি, বিবিধ বর্ণেরই দেখিয়া থাকেন,
কেন না, ঐ সকল পুষ্পের অবস্থা ভেদে দর্শন শক্রিও ভিন্ন হই
ৰায়।, অনন্ত সৌন্দর্যের প্রতি প্রজ্ঞা পড়িলে আর এ
বা কোন প্রকার বর্ণ দেখা যায় না, আবার সীমাবদ্ধ জগতের
দিকে দেখিলে স্কুল দৃষ্টিতে অনন্তকে হারাইতে হয়। সাধকগণ,
উভয় তত্বকে একত্র করিতে গিয়াই স্কুল সূক্ষ্ম বিরাটরূপের
বিভ্রাটে পড়েন এবং অনন্ত যােগ হইতে বিচ্ছিন্ন হন।
বাস্তবিক সাকা তত্ত্বের নিস্থিতি সম্ভব হইলেও সসীম
অবস্থায় অস্থিতি জন্য তারা যে কিছু ভাবের ব্যাপার প্রত্যক্ষ
করা , তাহার ভিতরে অবশ্যই অনিত্যতা অনুভূত হইবে।
একটি শিশুর অভাব হইলে পর অন্য আর একটি শিশুর
আবির্ভাৰে ভাৱে সমভাব দৃষ্ট হয় না, অথচ দৈহিক তকে
ভিন্নতা নাই, ভাবেরই স্বাতন্ত্র্য বা অনৈক্য। ইহাও চিরপ্রকাশ
থাকিয়া ফুল-জনিত বিকার দোষে কলুষিত, এজন্য সাকার ও
মুক্তি দিতে পারে না। বাসনাদি বিকার সংগ্রামে জয়ী হইলে
ভাবিক যােগে ভােগসুখের আস্বাদন বুঝা যায়, নিযুক্ত
যােমীদিগের একমাত্র উদ্দেশ্যই অন্তদৃষ্টির অনন্ত ষােগ ।
জ্ঞানের চরম মীমাংসায় সাকার পদার্থও যে ইচ্ছা শক্তির
জাকের প্রকাশ, এ কথায় আপত্তি নাই। কিন্তু ভাৰ পৰি
কীণতা নিবন্ধন ফুল সূক্ষ্ম চেতৰ অচেতনে সামান্য কিরূপে
সৰ হয়। নিরাকার হীশক্তিতে দৈহিক ভাব পৃথক হইলে,
ইগতে পরিমিত পরমাণু মধ্যেই মিশিয়া যায় তবেই
দেখা কর্তব্য যে, পদার্থগত চি আৰব্যক ভ্ৰাখির ব্যাপার,

সাকার ও নিরাকার তত্ত্ব। ১৭ ইহাতে আশু সুখ দেয় বটে, ফলতঃ পরিণামে চিরহখির অনিষ্ট সংঘটন করে, এ বিষয়ে সংশয় নাই। সীমাবদ্ধ শক্তির সাহায্যে সাধনের কল গ্রহণ করা নিতান্ত ভ্রমের কথা । কোন প্রকার মূর্তিকে অবলম্বন করিলে কি একটি পিপা ধরিয়া জলে ডুব দেওয়ার মত হয় না? ডুবিলেও ঐ পিপা, ভাসিলেও ঐ পিপা, তদরূপ কল্পিত জড় মূর্তির আরাধনায় ধ্যানমগ্ন হইলেও ঐ নির্মিত মুৰ্ত্তি ব্যতীত আর কিছুই দেখা যায় না। বাহিরে ও তাহাই দর্শন হয়। পরিমিত মূল মূর্তির দ্বারা অনন্তকে দেখিবার উপায় থাকে , বরং ইহা অবরণ স্বরূপ যন্ত্রণার হেতু হইয়া উঠে। মানব সকল, একমাৰ ব্ৰহ্ম কৃপাতেই আকর্ষিত হইয়া মুক্তি লাভ করে এবং বিশুদ্ধ তত্ব বস্তুর অধিকারী হয়। নতুবা স্বাভা বিক ব্ৰহ্মকৃপার প্রতি অবিশ্বাস করিয়া কল্পিত অনুষ্ঠানের দ্বারা বন্ধ থাকিলে, পথভ্রষ্ট পথিকের মত ক্লেশতভাগ ভিন্ন অন্য কোন লাভ হয় না। বলিতে কি, সাকার মৃত্তির উপাসনায় অভীষ্ট লাভের ইচ্ছা,ক্লাবের পুত্রমুখ দর্শনের ন্যায় বৃথা, সেই জন্যই যােগীরা পরিত্রাণের জন্য অনন্তকেই পূজা প্রার্থনা করেন। সংশয়-শূন্য চিত্তে ভাবিয়া দেখিলে দেখা যায় যে, অসীম নিরাকার নিত্য শক্তিতেই সসীম জগত্তৰ সমূহ অবস্থিতি করি- তেছে, কিন্তু তাহাতেও ত তাহাদের বিকৃত বিকার ভাব বিদূ- রিত হয় না। তবে কেনই বা সীমাবদ্ধ জড়ভাবে প্রলুব্ধ হইয়া প্রকৃত সারতত্বে বঞ্চিত হইব, কেনই বা জড়বাদ, প্রেরিবাদ, অাৰু শাবাদের সংকীর্ণতায় বন্ধ থাকিব, কেনই বা জীবন্ত জ্যোতিষপকে স্বার্থ মতের অন্ধকারে প্রচ্ছন্ন করিয়া রাখিব? এই চিন্ময় এ সভায় সকলে স্থিতি করিতেছি। আমরা ভ্রান্তি ناد তত্ত্বাপনিষদ্ । কুটিকায় দেখিতে না পাইয়া কুপম মণ্ডকের ন্যায় অল্প স্থানেই ঘুরিয়া মরিতেছি। অসার স্বার্থ বুদ্ধির তীক্ষ্ণধারে পূর্ণ শক্তিকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করিয়া অসীম ভূমান ভােগের ইচ্ছা করি , ভীষণ তর্ক-প্রবৃত্তির বশবর্তী হইয়া সরল সত্যের জন্য কাদি , বিজ্ঞানের ক্ষণিক শক্তির আসক্তিতে হৃদয়ে সচ্চিদানন্দ প্রভুকে দেখিয়াও দেখি না, ইহা হইতে কষ্টের কথা আর কি হইতে পারে ? হায়! যখন অনন্তযােগে সাকার তত্বের অস্তিত্বই থাকে না, তখন আর পার্থিব পদার্থকে ধরিবার প্রয়ােজন কি ? যে বস্তু ধরিয়া ছাড়িতে হয়, তাহার আসক্তির আকর্ষণে বদ্ধ থাকা কি সঙ্গত হয় ? প্রথম হইতেই ত নিত্য চৈতন্য তত্ত্বের অনুসরণ করা উচিত। কেন না, ক্রীড়া কন্দুকের ন্যায় প্রতিমাদি লইয়া সময় অতীত করার ত অবশ্যকতা কিছু দেখিতে পাই না। তবেই বলিতে হয়, পরিমিত সাকার সাধনায় অনন্তকে দর্শন করা কিছুতেই সম্ভব হইতে পারে না। জড়চৈতন্য তত্ত্ব। এই দুইটি তত্ত্ব সম্বন্ধে অনেকেরই মতের অনৈক্য দেখা যায়। ভক্তগণ বলেন, জড়-চৈতন্তে অপ্রভেদ সংযােব, দার্শনিক পণ্ডিতেরা বলেন,জড়ের অতীত জখও নিত্যশক্তিনিরা কার ভাব। ভক্তির দিক হইতে দেখিলে প্রত্যেক পরমাণুর জড়-চৈতন্য তত্ত্ব। মূলভেদী গুঢ় শক্তির ব্যত্যয় বুঝায় না, জ্ঞানের দিকে দেখিলে জড় তত্ত্বকে ব্রহ্ম সত্তা হইতে পৃথক করিয়া ফেলে। যত সাধকের গন্তব্য উভয় পথ মধ্যেই মহা শক্তির ব্যাপার নিহিত আছে, এমন স্থলে কোনটি সত্য, তাহার অন্বেষণ করা প্রয়াে- হন। যখন একটি বালুকণার প্রতি দৃষ্টি পড়িলে মানব বুদ্ধি পরাস্ত হইয়া যায়,তখন নিরাকার চৈতন্য চিন্তার ত কথাই নাই। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে জড় চৈতন্য কি এক তব ? তাহাই বা কিরূপে বিশ্বাস হয় ? দেহাধারে চিচ্ছক্তির প্রকাশ পাইতেছে, আবার ঐ শরীর জড়ভাবে পৃথিবীর পরমাণু মধ্যে মিশিয়াও যাইতেছে ইহাতেই বোধ হয়, চিচ্ছশক্তি অবিনাশ নিত্য হইলে জড়ের সহিত পার্থক্য থাকিতে পারে। পূর্ণ পরমেশ্বরের অসীম শক্তির ভিতরে সসীম জড় জগৎ সকল বারিধি-কেন খণ্ডের ন্যায় স্থিতি করিতেছে, ইহারা নিত্য শক্তি হইতে স্বতন্ত্র, এ কথা কে বলিবে ? কিন্তু সেই অনাদি শক্তি জগৎপ্রপঞ্চে গৃঢ় প্রবিষ্ট অখণ্ড থাকিয়াও খণ্ড ভাবে প্রকাশ পাইতেছে। যেমন স্ফটিকাদি নানা বর্ণের শত খণ্ড স্বচ্ছ প্রস্তরে, এক সূৰ্য্যকেই বহুবর্ণে পৃথক পৃথক দেখা যায়, সেইরূপ ঐ পূর্ণশক্তিই জগতের বিচিত্রতার মধ্যে বিবিধভাবে দৃষ্ট হন। অথচ সকলের মুলে সেই সৰ্ব্বব্যাপিনী শক্তির অভিন্নতা সত্বেও পরিমিত পদার্থেরই ক্রিয়া ও শক্তিভাব প্রত্যক্ষ হইয়া থাকে। জড়ের বিকার বিকৃত দৃষ্টি কিছুতেই বিদুরিত হয় না। নির্মল জলে যদি এক বিন্দু বিন্দুর প্রক্ষেপ করা যায়, তাহা হইলে তাহাতে রক্তবর্ণ ভিন্ন কি আর সেই নির্মল জল দেখা যায় ? সুতরাং জড়দের বৈকারিক শক্তির বিশেষত্ব থাকিবেই থাকিৰে।

• তৰোপনিষদ্ । বৃক্ষ লতা গুল্ম এবং পক্ষী মানবাদির দৈহিক শক্তির তার তম খণ্ডন করা যায় না। ঐ বেতসী লতা অল্প উঠিয়াই ভূতশায়িনী হয় ও বট বৃক্ষটি গগন ভেদ করিয়া বহুদুর অধি- কার করে, পিপীলিকা সর্ষপ সদৃশ ক্ষুদ্র দ্রব্য বহন করিতে পারে, হস্তী প্রকাণ্ড বৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করিয়া ফেলে। ফলতঃ এই সকলের মধ্যে এক ঐশী শক্তিই কাৰ্য্য করিতেছে বলিয়া দৈহিক শক্তির পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। কাজেই স্কুলে ও অনন্তে সম্মিলন হইতেই পারে না, এ জন্য গভীর চিন্তাশীল যােগীগণ বাহ বস্তুতে চিত্তকে আকৃষ্ট হইতে না দিয়া প্রজ্ঞাবলে অনন্তেই অবস্থিতি করেন। সংসারে “দর্শন” সামঞ্জস্যের অভাব বশতঃ সরল সত্য প্রকাশ পাইতেছে না, ইহার কারণ ও জ্ঞানের পরিণাম ফল তর্ক-যুক্তি। অনেকেই ইহার তীব্র তরঙ্গে পড়িয়া জড় ও চৈতন্যের সমন্বয় করিতে চেষ্টা করেন। ভাল, ঐ অট্টালিকার সম্মুখে পীতবর্ণের মৃন্ময় মৃগ ও হরিদ্বর্ণের ময়ুর দুইটির প্রতিকৃতি রহিয়াছে ; প্রথমত ময়ূরটির প্রতি তন্ময় অর্থাৎ যােগদৃষ্টি স্থির হইলে হরিণটি থাকে এবং ময়ূরের লক্ষ্য স্থান ব্যতীত কিছুই দৃষ্ট হয় না। আবার মৃগটির প্রতি লক্ষ্য করিলে ময়ুরটিও অদৃশ্য হয়। সেইরূপ স্কুলে দৃষ্টি পড়িলে অনন্তের দর্শন ঘটে না, অনন্তকে দেখিলে স্কুল ডুবিয়া যায়, তবে পরিমিত জগতের বিচিত্র ভাব মধ্যে ভ্রমণ করিবার প্রয়ােজন কি? এ স্থলে অবশ্যই বলিতে পারা যায়, জড়চৈতন্যে সম দৃষ্টি বিড়ম্বনা মাত্র। মানবের প্রজ্ঞাচ উল্পেষিত হইলে, বহির্জগৎ আর কোন বাধা দিতে পারে না, সসীম তত্বের অস্তিত্ব কোথায় থাকে । মৰ্মঘাতিনী বহিশ্চিন্তার জড়-চৈতন্য তত্ত্ব। আক্রমণে জড়ীয় পরিমিত বস্তুতে এত আসক্তি শ্রেয় বলিয়া বােধ হয় না। সেই অন্তর্ভেদী অনন্ত ব্যাপিনী শক্তি ভিন্ন ত কিছুই দেখা যায় না, এমত স্কুলে “ব্ৰহ্মণাে রূপকল্পনা” ইহাতে ঘুরিয়া মরা বড়ই আক্ষেপের কথা। চিন্ময় অসীম ব্রহ্মে রূপ কল্পনা করিলে সাধকের হিত হয়, এটি বড় সংশয়ের বিষয়। বরং স্পষ্টই বলা যাইতে পারে, উটি সাধকের সাধন সম্বন্ধে বিঘ্ন ও অহিতেরই ব্যবস্থা। সূক্ষ্মভাবে ভাবিয়া দেখিলে দেখা যায়, নিরাকার অখও শক্তির কল্পনা সীমাবদ্ধ স্কুল পদার্থ মধ্যে হইতে পারে না,ইহাতে কি অসীমত্বের সম্যক্ শক্তি সম্ভব হইতে পারে ? একটি ক্ষুদ্র কূপে উত্তাল তরঙ্গময় সমুদ্রকে কল্পনা করিয়া কি দেখা যায় ? ঐ মুধীকটি কি যথার্থই প্রকাণ্ড দিগগজ বলিয়া প্রতীয়মান হয় ? ব্ৰহ্মত সকল প্রকার জড়ীয় বস্তুর অতীত, নিরাকার অনময়। অতঃপর কল্পনার আবরণে তাহাকে বদ্ধ করা নিতান্ত ভ্রমের কথা। বাস্তবিকই কোন প্রকার মূর্তি কল্পনা দ্বারা সাধন পথের সাহায্য করিতে হইলে অসত্যেরই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। কেন না, ঐ মুগ্ধকারিণী শক্তির আপাত মধুরভাব কিছুতেই বিস্মৃত হইতে পারা যায় না। সুতরাং প্রকৃত সত্যকেও শুক ও নীরস বলিয়া বিবেচনা হয়। কল্পনা-প্রিয় পণ্ডিতেরা নিষ্কলঙ্ক উজ্জ্বল তাকেও অসত্যপ্রহেলিকার ভূষণে ভূষিত করিয়া তুষ্টি সম্পাদন করেন, এবং পরিমিত মূলত মধ্যেই অসাম ব্ৰহ্ম দর্শনের নানাবিধ যুক্তি প্রমাণে প্রলুব্ধ হইয়া পরিতৃপ্ত হন। এই জন্য আতৃপ্তিদায়িনী কল্পনা, জ্ঞানী ও ভক্ত উভয় সম্প্রদায়কেই অধিকার করিয়াছে। বিশেষতঃ সরলহৃদয় ভক্তগণের মধ্যে অনেকেই ভাবুকতার ২২ তৰোপনিষদ্‌। অধীন হন,তন্নিমিত্ত তাঁহারা ব্যাপ্তি ও মহিমার ও অনুসরণ-প্রিয় হইয়া পড়েন। যথার্থই যখন ভক্তগণের হৃদয়ে উন্মাদিনী ভক্তি প্রবল হয়, তখন তাঁহাদের প্রাণে ভাবুকতার তরঙ্গ উদ্বেলিত হইতে থাকে। জগতের অপূর্ব সৌন্দর্য্যে বিহ্বল হইয়া তাহারা তাহাতেই মগ্ন হইতে থাকেন এবং কল্পনাপ্রসূত বিকাৱ বিভীষিকায় জাগত পদার্থ মধ্যেই অসীম জ্যোতিরূপকে দেখিবার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু ইহা অভ্রান্ত ব্ৰহ্মদর্শন নহে। কেননা সেই অনন্ত শক্তির প্রতি অনাবৃত জ্যোতিক্ষু পড়িলে জড়-জগতের কিছু দেখা- যায় না, সুতরাং ঐ বিরাটরূপ দর্শনও বিড়ম্বনা । ভক্ত সাধকগণ উন্মাদিনী ভক্তির শক্তিতে আকৃষ্ট হইলে বিশুদ্ধ তব হারাইয়া ফেলেন,সেইজন্য স্বরূপ ও ভাবের তারতম্য বুঝিতে সমর্থ হন না। জগতের বৈচিত্র্য ও সৌন্দৰ্য্য যে সীমাবদ্ধ ইহাও তাহাদের প্রাণে স্থান পায় না। কাজেই জ্ঞান ভক্তির আবেগে ঐ রূপ দৃষ্টি করিয়া থাকেন। হায়—নিরাকার চৈতন্যরূপের ভাবের উচ্ছাস জড়ত মধ্যে ও দর্শন-সাপেক্ষ। সীমাবদ্ধ স্কুল পদার্থ মধ্যে অনন্তকে দর্শন করা যে ভাবুকতার মত্ততা, ইহা কে না স্বীকার করিবেন ? সরল বিশ্বাসী ভক্তগণ * সর্বত্র গমন করিবার ক্ষমতা। যিনি সর্বব্যাপী অনন্ত, কোথায় এমন স্থান আছে যে তিনি আবার ভ্রমণ করিয়া বেড়াইবেন। + স্বীয় শরীরকে বুল করিবার ক্ষমতা। নিরাকার চিচ্ছক্তিরশরীর কেন। পরমাণু সমষ্টি জগৎ ও প্রত্যাৰ সমই মায়াশক্তির বিকাশ ভাবের তত্ব। পরিমিত পদার্থে অসীম শক্তিকে আয়ত্ত করিতে পারে না, এই নিমিত্ত আনতে জড়-চৈতন্য তত্ব। ২৩ কণশক্তিসম্পন্ন জগৎ সকল সমুদ্র বুযুরে চায় সাগরে সিতেছে বুঝিয়াও ঐ জগত্তত্বের আপাত মধুর ভাবে মুগ্ধ হন। ভাবেন না যে, উহা অসম্পূর্ণ ক্ষণিক তৃপ্তির হেতু এবং ভীষণ পরীক্ষা ও ভ্রান্তির ছায়া। যেমন কাঁচপাত্রেলীপকলিকার প্রতি বিম্বিত-শক্তি কিছুই নয় তেমনি জাগত পদার্থ সমূহে স্বরূপের আরােপ করাও বৃথা হয়। পাত্রাবস্থিত পারদবৎ ব্রহ্মের স্থিতি হইলে, চিচ্ছক্তিৰ সহিত জড়ের মিলন অতি অসম্ভব। মনে করুন, আপনার সম্মুখে একটি বৃক্ষ ফলপত্রে সুশােভিত রহিয়াছে, তাহার ছায়াটিও ঠিক ঐ রূপ ভাবে অবস্থিত। বৃক্ষ- টির শাখা পত্ৰ ফল নড়িতেছে, ছায়া বৃক্ষেরও ঐরূপ অবস্থা দেখি- তেছেন, এখন ফলাকাঙ্ক্ষায় ছায়া ,ফল ধরিলে কি যথার্থই আপনি প্রকৃত ফল ধরিতে পারেন ? কখনই নয়। তাবে ধরা যায় না কেন? নিবেন, বক্ষ হইতেই ভাবরূপ ছায়া, প্রকৃত বৃক্ষ নহে। জড় চৈতন্যে ও সেইরূপ সম্বন্ধ। এস্থলে একটি সংশয়ের কথা মনে পড়িল। এক সময় কোন ধৰ্ম্মবন্ধু, একজন বৈষ্ণব ভক্তের কথা বলিতেছিলেন। কথাটি এই, একেশ্বরবাদীরা তুবটি পরিত্যাগ করিয়া কেবল সাটি গ্রহণ করিতে চান। ভাবিয়া দেখিলে সারে তুষে একত্র না রাখিলে গাছ হয় না, ফলও পাওয়া যায় না। কথাটিতে বড় সংশয় জন্মিল। কিছু কাল চিন্তা করিয়া দেখিলাম-কেন? সায়ে তুষে জড়িত থাকিয়াও ত পৃথক! তুষ যে আবরণ, খােবা মাত্র। দেখিতে পাই, অচেতন ভৌতিক গুম শরীরও সপশবং অসার বস্তু। বােধ হয়, এই কথাটি অপ্রাসঙ্গিক হইবে না, এক জন আত্মযােগনি যােগ অনন্ত যােগে সমা- ২৪ তলােপনিষদ। ধিস্থ হন। জগতের লােক,পরীক্ষা কৌতূহলাক্রান্ত হইয়া উহার শরীরে অগ্নিসন্তপ্ত লৌহশলাকায় দাগ দেয় এবং তীক্ষ ছুরিকা দ্বারা স্থানে স্থানে রক্তপাতও করে, কিন্তু সমাধিস্থ যােগী কিছু তেই বিচলিত হন নাই, সুমেরুপৰ্বতের ন্যায় স্থির রহিয়াছেন; তখন তাঁহার দেহস্থি ও চৈতন্য কোথায় ছিল? ঐ শরীটিকে অচেতন জড় পদার্থ ভিন্ন আর কি বলা যাইতে পারে ? ইহাতেই বুঝা যায়, চৈতন্য তত্ত্ব জড় হইতে পৃথক। একেশ্বরবাদীরা যে ভ্রান্তি থােষ। পরিত্যাগ করিয়া সার শক্তিকে গ্রহণ করেন, তাহা অগ্রাহ করিতে পারা যায় না। আবার ইহাও স্বীকার করি, জড়তত্ব যে ব্ৰক্ষশক্তির বহিভূত, তাহাও নহে, কিন্তু পরিমিত স্কুল বলিয়া অসীম পূর্ণ পরমপুরুষের ভিতরে থাকিয়াও তাঁহাকে আয়ত্ত করিতে পারে না, সমুদ্রবিশ্বের স্যায় প্রকাশ পায়। তবেই বলিতে হয়,তত্ত্বজ্ঞানের অভাবেই জড়- চৈতন্যে সামঞ্জস্য ও সাম্যদর্শনের ইচ্ছা হইয়া থাকে। আক্ষেপের কথা যে, ব্রাহ্মসমাজের মধ্যেও ঐ উন্মাদিনী ভক্তির ভাবাবেশ মূর্তি স্ফুর্তি পাইতেছে, ব্রাহ্ম সাধকগণের এ বিষয় সতর্ক হওয়া প্রার্থনীয়। নিশ্চয়ই জানিবেন ইহা হইতেই পৌত্তলিক ধর্ম, সংসারকে গ্রাস করিয়াছে, ভাবাবেশেই ধর্ম বিপ্লব দেখা যায়, ঐ সকল বিষম বিপজ্জনক ব্যাপারেই প্রকৃত সত্য প্রচ্ছন্ন হই- তেছে। সূক্ষ্মদর্শী মনিষীগণও সাকার নিরাকার বিরাট মূর্তির দর্শন বিভ্রাটে, বৈজ্ঞানিক ইন্দ্রজাল যােগে, ভেদ-কলুষিত নিতে যন্ত্রণা ভােগ করিতেছেন। অধ্যাত্ম জগতে স্থিতি করিয়াও মায়ার কৌশলে বিচলিত হইয়া পড়িতেছেন, সুতরাং প্রভু, ও সম্মানগৌরবে ব্রহ্মতত্ব প্রকাশ পাইতেছে না।

জড়-চৈতন্য । হায় ! ম-প্রম প্রেম ও উন্মাদিনী ভক্তির শক্তি কি ভয়ানক! কিছুতেই চিত্তকে জনপথে বিচরণ করিতে দেয় । মহাভক্ত চৈতন্য সময়ে সময়ে এই প্রাণশুন্য মতা-প্রমত্ত প্রেমে মুচ্ছিত হইতেন এবং উন্মাদিনী ভক্তির ভীষণ তরঙ্গে অধীর হইয়া পড়িতেন। সত্যের অনুরােধে এ কথা অবশ্যই বলিতে হইবে, যত দিন তিনি নিরাকার নিত্য শক্তির ভাবের প্রকাশ জীবশক্তিকে অখণ্ড লীলাভাবে মহাভাবতত্ত্বে বুঝিতে পরেন নাই, ততদিন তত্ত্বজ্ঞানকে প্রাণে পূজা করিতে সমর্থ হন নাই। ভক্ত সাধকগণের প্রাণের কথাই সুল-সূক্ষে সার্ব- ভৌমিক দর্শন, তাহাকেই তাহার প্রকৃত বােধ করেন। ঘননিবিষ্ট মনে চিন্তা করিয়া দেখিলে, পার্থিব পদার্থ মধ্যে নিরাকার অখণ্ড শক্তির আরােপ করা অতি অসম্ভব। যােগীগণ সেই জন্য ধ্যানস্থ হইয়া জড়ীয় মুল দৃষ্টির বিনাশ সাধনে প্রবৃত্ত হন। জ্যোতিশ্চক্ষুর উজ্জল দৃষ্টিতে মহামিলন যােগে মজিয়া যান। তখনি দেবদত্ত প্রেম, অপ্রভেদ ভক্তির মধুর তত্ব বুঝিতে পারেন। এখন বেশ বুঝিবেন, জড় ও চৈতন্যে কত প্রভেদ। আচ্ছা ! তাই যেন হইল, তবে ঐ দেখুন—পাখীটি উড়িতেছে, ছেলেটি গান করিতেছে, অশ্বটি দৌড়িয়া যাইতেছে, এ সকল কি চৈতন্য লীলার প্রত্যক্ষ নয় ? জড়েও ত চিচ্ছক্তির প্রকাশ দেখা যায়। ইহার উত্তরে অধিক বলিবার নাই। পদ্মপত্রে জলের ন্যায় ব্রহ্মের স্থিতি বিশ্বাস করিলে কিছুই সংশয় থাকে । এই পার্থিব শরীর যদি চৈতন্তস্বরূপে অবিচ্ছিন্ন ভাবে সংযুক্তই থাকিত, তাহা হইলে ইহা কখনই বিনাশ প্রাপ্ত হইত না।

তত্ত্বাপনিষ। ঐ যে কর্মেন্দ্রিয় সকলের কাৰ্য্য দেখিতে পাই, তাহা জড়ের নহে,মনের ব্যাপার। ব্রহ্মের ত অনাহত শব্দ নিরাকার মনােবু- ত্তির ভিতর দিয়া ধ্বনিত হয়। রূপ, রস, গন্ধাদির অনুভব করে কে ? ইন্দ্রিয়গণ না মুন ? তবেই মন, জড় ও চৈতন্য উভয় তত্বেই অকর্ষিত। ঐ বাবুটির ঘড়ীটা লইতে মনের ইচ্ছা হইল, অমনি বা কলের মত শরীরের ইন্দ্রিয় সকল ঝোক দিয়া উঠিল, প, চলিতে লাগিল ; হাত, ঘড়ীটি গ্রহণ করিল, জিহ্বা, গান করিয়া সকলকে জাগাইল। আবার যখন মন চৈতন্যের মধ্যে ডুবিয়া গেল,তখন শরীর ও ইন্দ্রিয় কলের সাড়াশব্দ নাই,তাহারা অচেতন জড়। তবেই জানা যাইতেছে, জগতের ও দৈহিক তরে অন্তর্ভেদী সূক্ষ্ম শক্তির অসীম চৈতন্য লীলা জড়ের অতীত। সেই পূর্ণ পরমানন্দময় ব্রহ্ম,অনন্ত আকাশ ভেদ করিয়া পরিব্যাপ্ত রহিয়াছেন সুতরাং স্কুলে ভুলদর্শন ব্যতীত আর কিছুই নহে, আয়াতে পরমাত্মার দশনই ধ্রুব সত্য। অহহ ! এত ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ সত্তেও ব্রহ্মাণ্ডের লতায় পাতায় ঘুরিয়া মরি, ইহা বড়ই দুঃখের কথা। অনেকেই অভ্রান্ত শাস্ত্রবাদরূপ সীমাবদ্ধ শাস্ত্র গণ্ডির অতীত সত্যের জন্য লালায়িত হন না। স্বাভাবিক ব্ৰহ্ম কৃপাকে প্রচ্ছন্ন করিয়া অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্ৰহ্মকে লাভ করিতে ইচ্ছা করেন। জানেন না যে, জ্যোতিশ্চ তত্ব জ্ঞানই পথপ্রদর্শক ঐ উজ্জ্বল দৃষ্টিতে হৃদয়ের মােহ ভ্রান্তির আবর্জনা পরিষ্কার হইয়া যায়, বায়ু নিরােধাদি বিকৃত ক্রিয়া পদ্ধতির আবরণ আর থাকে । ব্রহ্মের আকর্ষণই স্বাভাবিক যােগ, ইহা বুঝিতে পারিলে ভবিষ্যৎ, বর্তমান কালত্রয় এবং জড় চৈতন্য তত্বের সার শক্তিত্ব। ২৭ মৰ্ম্ম প্রাণে প্রকাশ পায়। তখনি আত্মা পরমানন্দ সাগরে ডুবিয়া যাইতে থাকে। শক্তিতত্ত্ব। শক্তিত্ব সম্বন্ধে বিজ্ঞানবিং পণ্ডিতগণের মধ্যেও মতের বিভিন্নতা দেখা যায়। এক পক্ষ বলিতেছেন এই যে অনন্ত আকাশে সৌরজগতের স্থিতিষ্ঠাব, ইহা দুইটি শক্লিতে বিভক্ত। কেন্দ্রাপকর্ষণী শক্তি ও কেন্দ্রাভিকর্ষণ শক্তি। একটি কেন্দ্র হইতে দুরে লইয়া যায়, আর একটি কেন্দ্রের দিকে টানিতে থাকে। এই উভয়বিধ শক্তিতে জগৎ সকল আকৃষ্ট রহিয়াছে ও গতি স্থিতি করিতেছে। একথায় প্রাণ তহ তৃপ্তি হইল, কেননা, কোটি কোটি সৌরজগৎ একত্রীভূত হইলেও তাহার শক্তি পরিমিত ও দুর্বল। মনে করুন, আপনি দশটি বন্ধুর সহিত অত্যুচ্চ প্রাসাদ শিখরে উঠিয়াছেন, পরস্পর হাত ধরাধরি করিয়া উপযুক্ত উভয় শক্তির অবলম্বনে আকাশে স্থিতি ইচ্ছা করিলে সত্য সত্যই কি তাহা ঘটে ? পড়িয়া যান; সেইরূপ অগৎ সকল কি অনন্তকাল পড়িয়াই যাইতেছে। অন্যপক্ষ বলিতেছেন, এমন একটি শক্তি সকলের মূলে কাৰ্য্য করিতেছে, যাহা সীমাবদ্ধ নহে। ইয়া বলিয়া ও অল্প অহাকে ঐশী শকি বলিয়া বীকার করেন না। তাল, কটা বড় অদ, আমি বলি। যদি ঐ শক্তিকেই অসীম- বলিয়া স্বীকার করা হইল, তবে উহাকেই কেন ঈশ্বর বলা যা ২৮ তলােপনিষদ। পড়ে। মূল ? ইহাতে সুখ, শান্তি, প্রেম অধিক পাওয়া যায়। সেই সর্ব ব্যাপিনী মহাশক্তির আশ্রয়ে প্রাণীপূর্ণ ব্ৰহ্মাও সকল স্থিতি করিতেছে, সাধ্য কি যে কক্ষ ভেদ করিয়া বিন্দুমাত্র স্থান অধি- কার করিতে পারে ? মানব প্রকৃতি পরিমিত জড় বিজ্ঞানের অধীন, সহসা ক্ষণ- স্থায়ী বৈদ্যুতিক বা কোন প্রকার ঐন্দ্রজালিক ঘটনায় মুগ্ধ হইয়া শক্তিকে প্রচ্ছন্ন রাখিয়া পরিমিত পদার্থগত ব্যাপা- রের মত্ততায় ব্রহ্মবিজ্ঞানের প্রতি বীতস্পৃহ হওয়া বড়ই আক্ষে- পের বিষয়। ঐ শক্তিটিকে ঐশীশ মানিয়া লইলে ত মহা বিজ্ঞানতত্ব হৃদয়ঙ্গম হইতে পারে এবং ব্ৰক্ষ যে অনন্ত বিজ্ঞান ময়,তাহাও বুঝিতে সংশয় থাকে না। তববিৎ পণ্ডিতেরা শক্তিতত্বকে তিনভাবে উল্লেখ করিয়া- চিচ্ছক্তি, জীবশক্তি, মায়াশক্তি। চিত্ততে জান, জীবতত্বে প্রেম, মায়াতত্বে ইচ্ছা। ইহার ভিতরেও তিনটি মধুর ভত্ব আছে, স্বরূপ, ভাব, উচ্ছাস। কিন্তু এরূপ বিশুদ্ধ দর্শন সত্তেও কেহ বা মায়া শক্তির কাৰ্য্যকে প্রত্যক্ষ ভাবিয়া মায়া বাদ শীকার করেন, কেহবা জগতের অনুপম সৌন্দর্য্যে বিল হইয়া জড়বাদে কৃতার্থ হন, কেহবা শুক সােহং জ্ঞানে অদ্বৈত বাদে ডুবিয়া যান। এইরূপ ব্যক্তিগত মতের অসামঞ্জস্য হেতু দর্শন শাস্ত্র সকল জগতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হইয়াও নি ভাব প্রদর্শন করিতেছে। নিবিষ্টচিৰে চিন্তা করিয়া দেখিলে ৩৯ রানই এত ত সম্বন্ধে জটিল ভাব বুঝাইয়া দেয় এমন কি চার্বাক নিরীশ্বরবাদ- কেও আক্রমণ করে। আবার হিন্দুশান্ত অসীম ঐণ শক্তি স্বীকার ২৯ করিয়া ও ইহাকে পরিমিতরূপে খণ্ড খণ্ড রূপে দেখাইতেছে ও নিরাকার জীবশক্তিকে সৃষ্ট বলিয়া প্রমাণ করিতেছে। যাহা হউক, যােগীর অনাবৃত সরল জ্ঞানের আশ্রয়ে এক্ষণে স্বরূপ ও জীব শক্তির বিষয় প্রথমতঃ দেখা আবশ্যক। চৈতন্য স্বরূপের ভাবের প্রকাশ জীবাত্মা, কেননা, অখণ্ড চিত্তরে ভাবত • জীবত্ব ও নিত্য ; তাহাকে সৃষ্ট বা খও বলিয়া ব্যাখ্যা করা অতি অযুক্ত। সংসারে অহং জ্ঞানের প্রভাবে ভূরি ভূরি শাস্ত্র সকল প্রকাশ পাইয়াছে; তাহার মত-বৈষম্যের গভীর অন্ধ করে এবং স্বার্থবৃত্তির কঠোর দৃষ্টিতে পরস্পরকে পরাস্ত করিয়া ফেলে, সুতরাং মুল তত্ত্বের বিমল রসাস্বাদনে বঞ্চিত হইয়া,তাহাদিগকে তানক পাপ প্রবৃত্তির অধীনতা স্বীকার করিতে হয়। ক্রমে ক্রমে সংশয়বাদ আসিয়া বিশুদ্ধ চিত্তকেও পাপ কলুষিত ইন্দ্রি- খাদির ‘ণিত ভাবের মধ্যে ডুবাইয়া দেয়। এইজন্য আত্মজ্যোতি প্রকাশ পায় না; বরং জাগ্রত জীবন্ত তত্বের প্রতি অনাস্থা জাসিয়া পড়ে এবং ভাষণ তর্ক যুক্তির উত্তেজনায় বন্ধুর পথে উপস্থিত হইতে হয়। বাস্তবিক স্থূলদৃষ্টির তা ধারে নিরাকার আসাম শক্তিকেও খণ্ড বিখণ্ড করিতেছে; দেহধারে জীব ওকেই বা কেন পৃথক পৃথক করিবে না। পূর্ণ পরমেশ্বরের অনন্ত শক্তির প্রকাশ জীষশক্তি, ইহা তরু তা সমাকীর্ণ বিচিত্র জগতের গুঢ় প্রবিষ্ট রসের ন্যায় কীট পতঙ্গ পশু পক্ষী মানবাদি সকল প্রকার শরীর যন্ত্রে বিদ্যমান রহিয়াছে। এই অভেদ জীব শক্তিকে যােগীয়া সমদৃষ্টির ইহা দুই প্রকার, একটি শপ চৈতন্যময় নিরাকার তয় খাব, আয় একটি পরিমিত তুলতুলে জড় ভাষ।

তলােপনিষদ। ভিতরে রাখিয়া কৃতার্থ হন। সার্বভৌমিক দর্শন কি? প্রত্যক্ষ ভেদী মহাশক্তির ভাবত জীবের অখও দর্শন। বিকার চর মূল দৃষ্টিতে নিরাকার জীব তত্বকে সৃষ্ট ও ক্ষুদ্র বলিয়া প্রতীয়মান হয় বটে, কিন্তু একটু চিন্তা করিয়া দেখিলে কখনই পৃথক বা স্কুলের ন্যায় পরিমিত বলিয়া বােধ হয় না। এস্থলে অনেকেই এই প্রশ্নটিকে জটিল ও অশ্রত মত বলিয়া উপেক্ষা করিতে পারেন, যেহেতু ব্রহ্মের ভাবশক্তি জীবাত্মার প্রমাণ হইলে, দুঃখ শোক জরা মৃত্যু এবং সুখ শান্তি আনন্দ প্রভৃতি ভােগের পার্থক্য ব্যক্তি বিশেষে প্রকাশ পাইতেছে, য়ােগ স্বাস্থ্য, সাধুতা অসাধুতার তারতম্যই বা কেন প্রত্যক্ষ হয় ? ঐ কীটটি পদদলিত হইতেছে, সম্রাট, উচ্চ সিংহাসনে বসিয়া আছেন, এমত স্থলে জীবের অখণ্ড ভার বুঝিতে হইলে তােগাদির স্বতন্ত্রত্ব ইহা কি সাম্যভাবে পরিগৃহীত হইতে পারে ? ইহার উত্তরে স্পষ্টই বলিতে পারা যায়, নিরাকার শক্তিকে কেমন করিয়া ক্ষুদ্রভাবে দর্শন করিবেন ? জীব-জড়িত অনন্তের মধ্যেই ত জড় শরীরময় প্রাণীপুঞ্জ একই ভাবে অস্থিতি করি- তেছে। এই ব্রহ্মভাবময় জীবতত্বকে পৃথক করিতে হইলে নিরাকার নিত্য ৰক্তর ব্যত্যয় হয় না? এক মহাশক্তিই চিৎ ও জীবভাবে প্রত্যেক দেহাধারে মূর্তি পাইতেছে, ইহা কি সত্য নহে। আমিদের আবরণ ঘুচিয়া গেলে কীটে সম্রাটে বিভিন্ন বুঝা যায় না এবং সুখ দুঃখ ইত্যাদি ভােগাতভােগও মঙ্গল ঘটনায় পরিণত হয়। তখন এক মাত্র ব্রহ্মই “তুমি আমি” রূপ মধুর লীলায় নিমগ্ন থাকেন। এখন বিয়া দেখুন, তজ্ঞান এবে মলীলায় ঐ উভয় তাকে অনন্ত ব্যতীত আর কিছুই ৩১ বলা যায় না। আবার ইহাও বলি,এইরূপ বিবিধ অসীমতের মূলে হয় ত চিচ্ছক্তির জীবন্ত তরে মত্ততায় অদ্বৈতবাদ আসিতে পারে। যাহা হউক, জীব বংসকারী প্রখর সােহহং জ্ঞানের বিচার অপেক্ষা জীবশক্তিকে অখণ্ডভাবে জীবিত রাখিতে দোষ কি? মহাজ্ঞানী শঙ্করাচার্য অদ্বৈত মতে জীবশক্তিকে ক্ষুদ্র বা পরিমিত ভাবে রাখিতে না পারিয়া ব্ৰহ্মাহ নিত্য এই নীরস জ্ঞানে উড়াইয়া দিয়াছেন। ফলতঃ এটি বড়ই কঠোর ও একতাব। আবার জীবতত্বকে অসীমত্বে আনিলেও কর্ম নিবন্ধন ভােগভােগ টেকে না, স্বেচ্ছাচারীর ন্যায় বিষম বিভ্রাট উপস্থিত হইতে থাকে। অবশ্যই আপত্তি উঠিতে পারে যে, জীবাত্মা যদি অখণ্ড হয়, তাহা হইলে পূজা, প্রার্থনা, ধ্যান যােগাদিরই বা প্রয়ােজন কি ? সাধু অসাধু, ধনী দরিদ্র সক লেই ত সমভাব, আর কোন প্রকার বিশেষত্ব রহিল না। দেখুন, ব্রহ্মের এক ইচ্ছা শক্তি হইতেই জগৎ প্রপঞ্চ উৎপন্ন বিৰ সুধা, পাপ পুণ্য দুর্গন্ধ সুগন্ধ, প্রভৃতির মধ্যেও এক ঐশী শক্তি প্রত্যক্ষীভূত হইয়া থাকে, যেহেতু সকলি ঈশ্বরের ইচ্ছা শক্তির তত্ত্ব, এমন কোন স্থান আছে যে ঐ সমস্ত বস্তু অনন্ত শক্তির বহির্ভূত থাকিবে। ইহাতে মনে হয়, গ্রহ নক্ষত্র জগৎ সকল অনাদি কালই রহিয়াছে, বিচিত্রময় বৃক্ষলতা ও পশু পক্ষী মানবাদিও সমুন্ত্র বিম্বের ন্যায় আসিতেছে যাইতেছে৷ ৰত * এই একে পণ্ডিতেরা জন্মায় বলেন, ফি ৰিয়া দেখিলে বীৰ শক্তির জন্ম মৃত্যু হয় না। কেননা, নিরাকার শক্তি মন্ত্রিনে আর চিনে কি? ছরে হ্রাস-বৃ িাই। উনি মানৰ এতিয় অৰৰ তাৰ ভয় ৩২ তব্ৰোপনিষদ। গৃঢ়ভাবে চিন্তা করিলে ইহাই অনুভূত হয় যে পরমাণু পুঞ্জ সমভাবে আছে, যােগ-বিয়ােগ ব্রহ্মের অমােঘ ইচ্ছা, সকল প্রকার তত্ত্ব মধ্যে ব্রহ্মেরই ক্রীড়া হইতেছে। এস্থলে বুঝিবেন,চৈতন্যস্বরূপের ভাবশক্তি জীবাত্মার জন্মমৃত্যু হইলে নিরাকার নিত্যশক্তি টেকে না। নিত্যশক্তি টেকে না। একমাত্র পরমাত্মা জীবভাবে দ্বৈতাদ্বৈত মধুর লীলা করিতেছেন। এজন্য জীবত্বের অসীমত্ব এবং অচেতন স্কুল পরমাণুর ও নিত্যত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ নাই। তবে যে আমরা জগতে দৈহিক ভাবের বিবিধ শক্তি ও ভাব অর্থাৎ সীমাবদ্ধ বস্তুর ভাবে সসীম মহাশক্তিকে খণ্ড খণ্ড করি, তাহা স্থূল চক্ষের ভ্রান্তি দৃষ্টি। ক্ষুদ্র ও বৃহৎ স্রোতস্বতীর বক্ষ ভেদ করিয়া সমুদ্র-প্রবাহ { জোয়ার) প্রবলবেগে প্রবাহিত হয়, কিন্তু ঐ নদীসমূহের অবস্থা ভেদে শক্তির তারতম্য হেতু সমুদ্রের পূর্ণ শক্তির কি ব্যত্যয় হইতেছে ? আনি বা, না। আরও বুঝুন, হরিৎ পীত লোহিতানি বর্ণের কাচপাত্রস্থিত দূত নানা বর্ণে দৃষ্ট হয় বটে,বাস্তবিক কি তাহার প্রকৃত অবস্থা বিকৃত হয় ? এইরূপে অনন্ত কাল জড় ও চিচ্ছক্তির কার্য সম্পন্ন হইতেছে। | এই ত গেল জ্ঞানের পথ। আবার ভক্তির পথে গেলে ও জীব শক্তিকে ক্ষুদ্র ও সৃষ্ট বলিয়া • প্রমাণ হয় না। চৈতন্য অখণ্ড ভাবেকি জন্য জীবেভক্তি” করিয়াছিলেন তিনি ভাগবতি জ্ঞানে নিরাকার জীবতত্ত্বকে খণ্ড করিতে পারেন নাই, মহাত ও পরমাণুর সহিত মিশিয়া এই ভাবে পরিণত ; পরমাণুই আবার নানারূপে দৃষ্ট হইয়া থাকে। আমিথের উত্তেজনায় সংশয় পথে ভ্রমণ করিতে হয়।

৩ সেই কারণে যবন হরিদাসকে বুকে গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং অস্ত্রধারী বধোদ্যত চণ্ডালকে অবিচ্ছিন্ন প্রেমে কোন দিয়া- ছিলেন, বাস্তবিক যখনই প্রত্যেক প্রাণীর বহির্ভাব ভেদ পূর্বক নিরাকার নিত্য শক্তির দিকে দৃষ্টি পড়ে, তখনই জীবতাবসমৰ হইয়া যায়। বাহিরের মায়াময় বিবিধ প্রকার শরীর কান্তি বিলুপ্ত হইয়া যায় ও সেই অনুপম সৌন্দর্য্যে হৃদয়কে বিমােহিত করে,ঐ উদার সাম্য দর্শনে ভক্ত সাধকগণের প্রাণ উৎফুল্ল হইতে থাকে। আচ্ছা, তাই যেন বুঝিলাম। কিন্তু ইহাও সত্য যে জীব- শক্তি যদি অখণ্ড নিত্য হইল, তাহা হইলে কেইবা পুজা প্রার্থনা করে, কেইবা আনন্দে উন্মত্ত হয়, কেই বা দুঃখ সন্তাপের অ- জলে ভাসিয়া যায়। প্রশ্নোত্তরে একটু নিবিষ্ট চিত্ত হইলে, সহজেই জানা যায়, আমিত্বের অধিকার পরিহার করিতে পারিলে আর কি থাকে? একমাত্র মহাশক্তি। শুভাশুভ, ভ্রান্তি, শান্তি,জরা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি অনন্ত শক্তি মধ্যে বিচরণ করে ও সদসং প্রবৃত্তিরও ভােগ ব্ৰহ্ম সত্তাতে প্রকাশ পায়, কেন না, ব্ৰহ্ম ভিন্ন ত কিছু থাকিতে পারে না, অথচ সকল তই মঙ্গলময়। সুতরাং সচ্চিদানন প্রভুই পিতৃ মাতৃ ভ্রাতৃত্বে ও দাস্থ বা পুত্রদে মহা মিলন যােগরসে বিহার করিতেছেন। একমাত্র ব্রহ্মই মহাভাবের মহালীলায় আপনাকে আপনি ভােগ করিয়া থাকেন, “তুমি আমি ইহা কেবল উপাধি মাত্র। যেমন তুষার জল নামের প্রতে, বস্তু ক; তপ অহাবাদি বিকার হইতে বিমুক্ত হইলে সাম্য- দৃষ্টিতে সকলি এক শক্তির ব্যাপার বলিয়া বিবেচনা হয়, প্রভেদ ভাব আর থাকে না।

৩৪ তহাপনিষদ। ; •ন t এখন প্রশ্ন উঠিতে পারে যে, জগতে প্রত্যেক প্রাণী ও সকল একার পদার্থ মধ্যে ক্রিয়া, শক্তি, তা ভিন্ন ভিন্ন দেখা যাই- তেছে, ইহাতে কি শক্তি তত্বের সমতার ব্যত্যয় বুঝায় না? পশ্বান্দি মানব পৰ্য্যন্ত শ্রেণী বিভাগে রুচির প্রভেদ, কাৰ্য্য প্রণালীর অনৈক্য, পরস্পর প্রকৃতির অসামঞ্জস্য প্রকাশ পাইতেছে, এ সকল কি খণ্ড শক্তির ব্যাপার নহে? উনি অতি জ্ঞানী, ধাৰ্ম্মিক, দয়াশীল; আমি অজ্ঞানী, কঠোর, পাপ । স্বাতন্ত্রের ত ঐট প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত। এবং উদ্ভিজ্জ ও ধাতু তত্বের মধ্যেও বিবিধ বৈষম্যের পরিচয় পাওয়া যায়, এ সকল দৃষ্টি করিয়া সাম্য তত্ত্বের মীমাংসাকে বিশদ বলা যাইতে পারে কি ? অল্প কথাতেই বুঝা যায়, জড়ের অন্ধ শক্তি সতত সাম্য বিরােধী হইয়া, স্বার্থ প্রবৃত্তি দ্বারা সমস্ত প্রাণীকে বিপদগ্রস্ত করিতেছে, এজন্য অসামাভাবে ইচ্ছাশক্তি ও ম্লান ও দুর্বল হইতেছে। পৃথিবীতে অধিকাংশ প্রাণীকে ঐ বৈষম্যের অনুযাত্রী দেখা যায়, যাহারা স্বার্থান্ধ বিকার শক্তিতে বন্ধ নহে, তাহারা কখনই প্রভেদভাবে বিচলিত হন না। জগতে ভাব ও শক্তির পার্থক্য যাহা দৃষ্ট হয় তাহা জড়ী স্কুল চক্ষুর ব্যাপার, কেন না, সাম্যদৃষ্টিতে বৈষম্যভাব কিছু থাকে না, সক- লই সমান হইয়া যায়। কোন প্রকার ভেদ কলঙ্ক আর আসিতে গায়ে না । বাস্তবিক ঈশ্বরের তত্ব ৰা শক্তির মূল বুঝিতে গেলে অবাক হইতে হয়,এই জন্য কেহ বা নিরীশ্বরবাদী হন, কেহ বা জড়বাদী হইয়া পড়েন। পূর্বে যে চিৎ ও জীবশক্তির কথা উল্লেখ করা শক্তিতত্ত্ব। ৩৫ গেল, তৎসম্বন্ধে আরও অনেক বলিবার আছে, এক্ষণে মায়া- শক্তির বিষয় কিছু বলিতেছি। নিগুণ * নিরাকার নিত্যশক্তি তেই সগুণ ভাৰ বৰ্তমান আছে। সগুণ হইতে মায়া, ঐ মায়া শক্তি মধ্যে কোটি কোটি জগৎ সকল প্রকাশ পাইতেছে। কিন্তু এক অচিন্ত্য অনাদি অনন্ত শক্তি, গ্রহ, উপগ্রহ ও সমস্ত জগত্তত্ত্বের মূলে গুঢ় প্রবিষ্ট থাকিয়া স্থিতি করিতেছে। এখন দেখা আবশ্যক, সগুণ ব্রহ্মের ইচ্ছার উচ্ছাসে মায়া। তৎস্থিত জগৎ সমূহ পরিমিত ও স্থূল শক্তির ভাবে যে ব্যাখ্যা হইয়াছে,এবং জড়তত্ত্ব সংকীর্ণ শক্তিতেই বা আকশ করে কেন, ইহার মর্মভেদ করিলে ইহাই বিবেচনা হয়, নিগুণ ব্রহ্মশক্তির ভােগ ও আস্বাদন অনুভব করিবার জন্য সম্মুখে বিভীষিকাময়ী অবিদ্যার আববণ রহিয়াছে। তাহা না হইলে বিচিত্র লীল'- জগতের গৌরব থাকিত না, মানবের হৃদয়কে অনিত্য জগৎ সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করিতে পারি না, পৃথিবীতে অসংখ্য কল্পনার ছবিও স্থান পাইত না। যাহা হউক, এখানে আর অধিক বলি বার প্রয়ােজন নাই, শক্তিত্বেরই অন্বেষণে প্রবৃত্ত হওয়া প্রার্থ- নীয়। এক ঐশী শক্তি যখন সাকার নিরাকার উভয় তবে স্থিতি করিতেছে, তখন স্কুল হকের শক্তিকে পরিমিত ও বিকার কলুষিত বলির ব্যাখ্যা করা কি সম্ভব হয় ? এই সংশয়বাদের প্রশ্নসম্বন্ধে পূৰ্বেই উক্ত হইয়াছে সগুণ ব্রহ্মের ইচ্ছার উচ্ছ্বাসে মায়াশক্তি পরিমিত স্কুলে নিবদ্ধ,তদ্ধেতু পার্থিব পদার্থ সকল ব্রহ্ম লীলার উপাদান সত্তেও ভ্রান্তি ও সংকীর্ণ শক্তিতে পােষিত * নিরাকারে দশম থাকিলে নিগুণেও গুণ আছে। তিনি পূ, লেয় তীত, এই মর্শে নিন।

৩৬ তত্বোপনিষদ। ইহা হইতেই ত অহম্ভাব বিকাশ পায়, সুতরাং মূলত ধরিলে অসীম মহাশক্তির জীবন্ত তত্ব হারাইতে হয়। যেমন কু মেঘের আচ্ছাদনে প্রকাণ্ড সূৰ্য্যকে দেখা যায় না,তেমনই সীমাবদ্ধ পদার্থ সকলও অনন্ত শক্তিকে আয়ত্ত করিতে পারে না,সুলতত্ব দেখিতে হইলে পরিমিত ভাবই দৃষ্ট হয়। আবার ইহাও প্রমাণ হয় যে একটি তৃণখণ্ডকে ধারাবাহীরূপে চিরকাল চ্ছেদন করিতে হইলেও খণ্ডত্বের শেষ করা যায় না, তবে স্থূলতত্বকে পরিমিতই বা বলি কেন? ভাবিয়া দেখিলে ঐ খণ্ড পরমাণুই সীমাবদ্ধ মূলশক্তির বলে যত কালই খণ্ড বিখণ্ড হউক না, পৃথক পৃথক ভাবে স্থিতি করিবেই করিবে। এই নিমিত্ত তারা পূর্ণশক্তির কার্য সম্পন্ন হওয়া নিতান্ত অসম্ভব বলিয়া বিবেচনা হয়। আমরা বুঝি না যে মঙ্গলদাতা বিধাতা মােহবিকারময় সাকারভাবেও পাত্রে পারদবং আপনাকে আপনি স্পর্শ করেন , প্রাণী সম্বন্ধেও তাদৃশ বিধান স্পষ্ট রহিয়াছে, ভ্রান্তিকুজঝ- টিকার আবরণ ঘুচাইতে পারিলে জীবত্বের উজ্জ্বল তত্ব প্রকাশ পায়, তথাপি সংসারের বিবিধ প্রলােভনে আকৃষ্ট হইয়া পতঙ্গের প্রায় পাপানলে দগ্ধ হইতেছি, ইহা কি পবিত্র স্বরূপ পরমেশ্বরের পক্ষপাতিতার কাৰ্য্য? এ কি কখন হইতে পারে ? ব্রহ্মের ভাব- স্বরূপ জীবশক্তি জগতের বিকারভাবে প্রচ্ছন্ন রহিয়াছে, সেই কঠিন আবরণে প্রকৃত জ্যোতি প্রকাশ পায় না,সুতরাং ফুল চক্ষে তাহাকে ক্ষুদ্র ও পৃথকভাবে দৃষ্ট হয়। বস্তুতঃ ইহাতেই ভীষণ আমিত্বজ্ঞান প্রবল হইয়া আপন পর, শত্রু মিত্র, বিভিন্ন ভাব আনিয়া দেয় এবং উদার সরল তত্ব সকল কলুষিত করে। ঐ ভয়ঙ্কর অহংজ্ঞানের প্রখর তেজে সাত্তিক স্নান হ,মাসিক ৩৭ তামসিক ৩৭ বর্ধিত হইতে থাকে ; দ্বেষ, হিংসা, আন্তরিত হপ্রবৃত্তি দ্বারা চিত্তকে অধীর করিয়া তুলে। দুর্থমনীয় অহং শক্তির হারে প্রাণ কাঁপিয়া উঠে,দয় ভ্রান্তির অন্ধকারে আচ্ছ, হয়, এমন অবস্থায় কি প্রকারে জীশক্তির মধুর তত্ব বুঝিতে পারা যায় ? সংসারে এই জগদ্বৈচিত্র্যের মাধুর্য্যে, সার্বভৌমিক উদার তত্বের জন্য কয়টি লােকের অশ্রুজল পড়ে? না, অসার অনিত্য বস্তুর তৃপ্তিকেই যথেষ্ট মনে হয়? হা ! মায়াময়ী পৃথিবীর আসক্তি কি ভয়ঙ্কর! মন বুদ্ধি শ্ৰতি চকু ইক্রিয়াদি নিয়ত উহারই মুগ্ধকারিণী ক্তির ভিতরে ডুরিয়া সারতকে পরিত্যাগ করে। কি শােচনীয় দুর্গতি। এখন দেখা যাক জড়ীয় কিকারভােগর অধিকারী কে? এই গুরুতর প্রশ্নের বিষয় চিন্তা করিলে মনে হয়, যখন এক মহাশক্তি সগুণ নিগুণ,সাকার নিরাকার রূপে নিত্য, তখন বিকার নিবি কার ইহাও ব্রহ্ম হইতে স্বতন্ত্র নহে? পাপ পুণ্য ঘটনার মূলেও যে দিকে দেখা যায়, এক মূল শক্তিরই অধিকার। এস্থলে বুঝিতে হইবে, ব্ৰহ্মই স্কুল সূক্ষ্ম উভয় তত্বের আস্বাদন ভােগ করিতেছেন। নিরাকার জীবতত্বে লিপ্ত সাকারন্তৰে পাত্ৰাবস্থিত পারদবৎ নির্লিপ্ত, এই অস্পর্শ শক্তিকে যােগীরা “কামারশায়িত ঐশ্য বলিয়া ব্যাখ্যা করিয়াছেন। এখন নিতে পারেন । যদি জীবে লিপ্ত ও জড়ে নির্লিপ্ত থাকিলেন, তবে দুঃখ যন্ত্রণা পাপ- তাপাদির দায়ী কে হইবে? পূর্বেই উক্ত হইয়াছে মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণের উত্তেজনায় সীমাবদ্ধ জড়ীয়শক্তিতে অহংকান প্রবল ; সুতরাং অৰিমার কঠোর যন্ত্রণা ভােগ তাহারই অধিকার। ঐ বিরবিতানই ভারি হয়ে ?

তৰোপৰিব।
অজানে জীবশক্তিকে আচ্ছন্ন করে। বাতৰি মানৰ
আন এজাবে বিকার ভাবের বিকাশ পায়,তাহাতে দীবকে
নিত্যত্ব ও নির্মল জ্যোতি অনুভূত হয় না। যেমন দীপ্তিময়
দিবারকে ঘন নীলবর্ণ অচ্ছ অন্তরে দেখিতে পাওয়া যায় না,
সেইরূপ ভাের আসক্তিপূর্ণ দেহাবয়ণে জীবায়াকেও নিলয়
দেখা অতি অসম্ভব। আবার ইহাও বিবেচনা হয় যে সাধন ও
ব্যবসায় দ্বারা দেবভাবের আবির্ভাবে ঐ কলুষিত হৃদয় পৰি
কৃত হইলে, স্ফটিকপ্রস্তরভেদী সূর্যরশ্মিবৎ আৱজ্যোতি উজ্জ্বল
রূপে প্রকাশ পাইয়া থাকে। এই উভয়বিধ অবস্থাকে আত্মায়
সুকৃতি দুষ্কৃতি বলিয়া অনেকে বিবেচনা করেন। কিন্তু
তাহা ঠিক নহে। জীবশক্তি যে বিকার নির্বিকারভাবে সৃষ্ট
হইয়া থাকে ইহা কেবল বর্ণ সম্পৃক্ত অগিবৎ বন্ধভেদ মাত্র।
আত্মার এরূপ অবস্থাতেও দেবশক্তি ঐ মােহময় অহংজ্ঞানকে
পরাভূত করিয়া ইহাকে প্রতি আকর্ষণ করিতেছে।
নিয়াশার কথা নহে, শৈবালদামপূর্ণ সরােবরের আবর্জনা সকল
খুচিয়া গেলে নির্মল জলে সূর্যমগুল কি দেখা যায় না। তবেই
বুঝা যাইতেছে মহাশক্তিজড়িত জীবশক্তি, অনন্তকাল নিত্য
ভাবেই প্রকাশিত আছে।
চিৎরূপে বসনা নিমুক্তজীবশক্তির নিকলঙ্ক নির্মল ভাবকে
মহাভাব বলে। কিন্তু এমন বিশুদ্ধভাবও জ্ঞানীদলে স্থান
পায় না। তাঁহারা জড় বিজ্ঞানের আতিশয্য বশতঃ তাড়িৎ
• মন ও ভােগবালানি কি একে না, এরুপ করে
ফৰে।

ফান একিযােগেজংইজৰে ৰৈতিক খ বিত শক্তিকে আত্মার গতি স্থিতি নিয়া সিদ্ধান্ত মিয়া নাকে এবং জীষশক্তিকে মানব প্রকৃতির অবস্থাভেদে উন্নত,অবনত,যে, নিকৃষ্ট, সাধু অসাধুতাবে গ্রহণ করেন। চিন্ময় অনশক্তিতে যে জীবশক্তি অখণ্ডৰে একাশ পাইতেছে তাহাকেই বুকি দেখেন না। আহা! জীবজড়িত ব্ৰহ্মলীলা কি মধু! সৰু একার দেহাবায়ে একই শক্তির কার্য হইতেছে, অথচ প্রাণ বিশেষে শক্তি, ভাব, ক্রিমাদির নিয়ম বিভিন; তাহাও খ মীয়। মানবের ব্যবস্থা পশুপক্ষীতে,পশু পক্ষীর ব্যবস্থা উদ্ভিদে মাই। এই ব্যর্থ ইচ্ছারখলা কেমন সুন্দর! পণ্ডিতেরা বলেন, পনি নির্দিষ্ট বিধানে পরিচালিত হয়, মানব উন্নতি, এক বিধাতা প্রত্যেক মানবকে অপ্রভেদ মানবীয় শক্তি অধিকারী করিয়াছেন। এরূপ বিধানেও মানুষস বিষয়ে আর হইয়া পাশৰ বৃত্তির অধীন হইতেছে,তেমীমাংসা মুখ্য সদৃশ আসার রা সুখ লালসায় সহস্র সহ প্রাণী। প্রাণ সংহার করিতেছে। এমন কি শতগ্রন্থি হিৰাবৃত দুখীয়ও তিশা-লুণ্ঠনে তাহাদের অরুচি দেখা যায় না। এই ৩ * বিজ্ঞানবিং যােগর (সিটি) জীৰ ৰা আর পৃথক পৃথক আবে পরে শক্তি সঞ্চালন স্থির করিয়া হঠযােগ বলেন, তাহা নহে। আ অনব্যাপী সে আসিবে আর বাইৰে কোথায়? তবে শরীর বৈদ্যুতিক শক্তি এহিয়া মায়া তে এবিষ্ট হইয়া থাকে। এলিতে কি, একটি ব্যয়ের কার্য- শকি জিৎ গাৰণে অল্পক শিশুইতে একাশ পায়। বায়ু ৰে । নিতে পারে, তেমনই বেশী গন্ডি কিল কণা কি , ইংৰােস চলে।

৪ তৰ্বোপলিব। গেল এক দিক, অ দিকে আবৃত জনাবৃত জ্ঞানের প্রাবল্যে কে বা নিশো, পপিণ্ডভােগ, অদূরদর্শী,কেহ বা আত্মশক্তি বর্ণনাকাকী দূদশী, কেহ বা সরল প্রকৃতি সম্পন্ন সাম্যদর্শী, ইহাও.দেখিতে পাওয়া যায়। ইহাতে কি বুঝিবেন, এ সকল শিরের বিধান ? কখনই বলিতে পারা যায় না। ঈশ্বর এমন পক্ষ পাতী নহেন যে রঘুবর ওঝাজীকে পণ্ডিত করিলেন আর তরিবৎ- শেখকে মুগ্ধ করিয়া রাখিলেন। এস্থলে অবশ্য বলিতে পারা যায়, জড়ীয় অঙ্কশক্তির অন্ধকারে সৎপ্রবৃত্তি সমূহ প্রচ্ছন্ন হইলেও ইহা শক্তির উত্তেজনায় মেঘ- নিক সূৰ্য্যবং প্রভান্বিত হইয়া উঠে; কেবল অসার ভােগ সুখের পিপাসায় স্বাভাবিক তত্ত্বজ্ঞান হারাই দেবভাবে উদাসীন হইতে হয়। ভাবিয়া দেখিলে, পিতার পুত্রত্ব সত্তে সমভাবে সকলেই ত স্বত্ববান, সুতরাং ঈশা, মুসা, মহম্মদ, বুজ, নানক, চৈতন্য,কবীর প্রভৃতির মধ্যে যে সকল সাধুশক্তি শুনা যায় তাহা প্রত্যেক মানব হৃদয়েই নিহিত আছে, ভাষা প্রাণগত সাধনবুলে ফুটিয়া উঠে। সৎস্বরূপ সদ্গুরু সকলের মধ্যে অবস্থিত করিতেছেন, আমিত্ব অন্ধকারে তাঁহাকে দৃষ্ট হয় । অগ্নি যেমন প্রস্তর খণ্ডে দেখা যায় না, অথচ লৌহ শলাকা দ্বারা আঘাত করিলে শত শত স্ফুলিঙ্গ সকল ছুটিতে থাকে, তেমনই কঠিন মানব হৃদয়কেও যদি সর্ষপকণা সদৃশ পবিত্রতা স্পর্শ করে, অমনি সাধুশক্তি সমূহ জলন্ত জ্যোতিতে প্রকাশ পায়। পৃথিবী তৎপ্রতি অ-ব্যক্তিগত অসম্পূর্ণ সাধু শক্তির আকর্ষণে ওটি বুদ্ধধ, এটি চৈতন্মধৰ্ম্ম, ঐটি খ্ৰীষ্টধর্ম, এই বুৰিয়া উন্মাদিনী তরি তীব্র বােতে অাৰ ভাসিতেছে। হ ! ঐ সকল শরীর যন্ত্রে শক্তি ক্ষত্তি পাইয়াছিল বলিয়া কি মানুষের ধর্ম হইতে ৪১ পারে। ধর্ম যে অনন্ত নিত্যশক্তিপূর্ণ। ঐ মােহ সৃষ্টিতেই ত অখণ্ড শক্তিকে খণ্ড বিখণ্ড হইতে হইয়াছে, মানুষকে এ করিয়া তুলিতেছে, অপ্রভেদ জীবতত্বকে পৃথক করিতেছে। হায়! অগাধ বুদ্ধিমান মহানুভবগণও প্রাণের ভিতরে গুঢ় সত্যের অন্বেষণে যত্ন করেন না। ব্যক্তি বিশেষে এক একটা শক্তির প্রকাশ দেখিয়া তাহাকে ঈশ্বরের অবতার ও অভ্রান্ত গুরু বলিতেও কুণ্ঠিত হন না। প্রত্যেক হৃদয়ই যে অভিন্ন শক্তির আধার, তাহা কেহই মনে স্থান দেন না। গৃহ- প্রােথিত অমূল্য রত্নকে না দেখিয়া অনেকে দুর্বল ও মলিন ভাবে দ্বারে দ্বারে ঘুরিতেছেন, ইহা বড়ই দুঃখের কথা। হে তজ্ঞগণ ! ভাবিবেন না যে সাধুশক্তির উচ্চ আদর্শকে উপেক্ষা করা হইল। সাধুশক্তি কি, একবার চিন্তা করিলে মরুভূমির ন্যায় শুষ্ক হৃদয়ও প্রেমের তরঙ্গে ভাসিয়া যায়। বুঝিবেন, এক মূলশক্তিতেই সকল শক্তি প্রকাশ পাইতেছে, জীবতত্ত্বেও তাহাই প্রতিফলিত হইতেছে। সাধু, গুরু, মহাজনাদি উপাধিতৰ সকলি অসীমায়ুক, নিত্য। অপূর্ণ মানব কিরূপে এই দৈৰ-উপাধি গ্রহণ করিবে? সংসারে ব্যক্তি বিশেষে সাধু অসাধু বাচাই নহে। আকাশ যেমন ঘটে অবস্থা ভেদে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র দৃষ্ট হয়, তেমনই দেহের উন্নতি অবনতি সূত্রে অনন্ত শক্তিকেও বিভিন্ন দেখা যায়, কিন্তু প্রজ- চক্ষুর উজ্জল দৃষ্টিতে ভ্রান্তিময় ঐ স্বতন্ত্র আর থাকে না। কীট পতঙ্গাদি পৰ্যন্ত সকলেরই মধ্যে এক অখণ্ড অনাদি শক্তি রহিয়াছে, স্বাভাবিক যােগ-বিশ্বসী সাধক মাত্রই তাহা এক করিতে সমর্থ হন। তাঁহারা সর্প-শবৎ শরীয়ভাৰৰুে শক্তি sk তৰোপনিষদ্ । ভাগ করিয়া দেব প্রকাশিত অভ্রান্ত বা শক্তিকে প্রাণ, পােষণ করেন ও তাহাতেই ধন সিক্ত হই কতা ইতে থাকেন। একমাত্র এই প্রভু, গুরু, মহাপুরুষ। ব্যক্তি আজই যদি নিজকে পাপী ও দীন ভাবেন তাহা হইলে সকলেই বিশুদ্ধ স্বর্গীয় তত্ত্বের অধিকারী হন। বিষৰ বিপজ্জনক এক বা আচাৰ্য প্রভৃতির উচ্চ সম্মান ভােগের ইচ্ছা আর থাকে না। সকলের মধ্যেই আমি ও আমার প্রভু; অন্যকে আঘাত করিলে কাঁদিয়া উঠিব এবং সম্মান অহঙ্কারকে হৃদয় অধিকার করিতে দিয়া উদার প্রেমে জগতের সব করিব। ইহা না করিয়া বরং পাপ তাপের যন্ত্রণা দিতেছি, এরূপ দীনভাবই সাধু ভক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হায়! মেদ পুরীদিপূরিত শরীর ধারণ করিয়া সাধু মহাপুরুষ হইবে কিরূপে? সকলের নীচ না হইলে যখন বেশক্তি প্রকাশ পায় না, তখন সাধু গুরু বা আচার্য্য এই সকল উচ্চ সম্মান লইয়া কি ব্ৰহ্ম দর্শন হয় ? অন্তর্জগতে প্রবিষ্ট হইলেও বহির্জগতের শ্রেষ্ঠত্ব সম্মান সুখের আবর্তে পড়িয়া, এম- বীচিকাময় অসার পার্থিব তত্ত্বের শক্তি সঞ্চালন যে যন্ত্রণা গে; তাহা অবশ্য বুঝিতে পারেন। ঐ নিরক্ষর ক্ষত বিক্ষত কয় ভাইটা ও মহাজ্ঞানী সুস্থ ধ্যান-পরায়ণযােগী, উভয়ের ভিতৰেই যগুরু পরব্রহ্মের লীলা তুল্যরূপে হইতেছে, যিনি দর্শন করেন তিনি অপ্রভেদ জীব শক্তির মধুর তত্ব বুঝিতে সক্ষম হন। উনি স, ইনি অসাধু, এই ভেদ অবে, ভক্তিই ত সাধন পথের বিট বিজৰিকাসুভাবে দেখিলে এক ঈশ্বই সকল অয় শজিপে স্থিতি করিতেছেন। দৈহিক ভাবে

শক্তিত্ব।
৪৩
পরিমিত দর্শনই ভ্রান্তির হেতু। আপনার ও আমার ভঙ্গুর
শরীর দুইটা অগিতে দগ্ধ হইলে কি থাকিবে ? ভ বা ছাই।
মোক্ত দেহ-বিশিষ্ট গুরু শিষ্যেরও ত সেইরূপ অবস্থা।
সেইজন্য বলিতেছি, চিন্ময় নিত্যগুরুকে প্রাণে না দেখিয়া পাখি
পরিমিত শরীর ভাবে আরােপ করা নিতান্ত ভ্রমের কথা।
বিবেকের উল উপদেশ উপেক্ষা করিয়া ভেদভক্তি তারা
চিত্তকে কলুষিত করা কি উচিত হয়। কাহারও সাধ্য নাই
যে ব্ৰহ্ম শক্তির বহির্ভূত কোন কাৰ্য্য করিতে পারেন। সেই
পূর্ণ পরমেশ্বরের জমােঘ শারুর আকর্ষণে সকলই আকর্ষিত।
সাধু গুরু প্রভু ইত্যাদি দেব উপাধি মধ্যে এক অখণ্ড শক্তিই
প্রকাশ পাইতেছে। আবার কটাদি মানবাধারেও সেই অসীম
জীবশক্তি একই ভাবে বিদ্যমান আছে। মূল দৃষ্টি ঘুচিয়া গেলে
সকলি এক মহাশক্তির ব্যাপার ভিন্ন কিছুই নয়। এই মহাজ্ঞান
প্রভাবে জানা যায়, পূর্ণ শক্তিময় অনন্তই জীবত্বের মহাভাবে
বিহার করিতেছেন। অসীমাকাশে অবিচ্ছেদ পিতা পুত্ৰ ৰা
সেব্য সেবকের নিত্য লীলা হইতেছে, বিরাম নাই ধ্বংসও নাই।
ক হউক, এখন জীবভাবে এক হইয়া মহা মিলনে প্রভুর
চিরমেৰায় মগ্ন থাকিতে পারিলেই ত জীবন্মুক্ত হওয়া যায়।

সাভাবিক ব্ৰহ্মজ্ঞান। ‘চিৎ তান বা চৈতন্য পরূপ। কেমন করিয়া এই অন তত্বকে বেদ, বাইবেল,কোরাণ, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্রে বুঝাইবে; এবং জটাবলধারী দেবর্ষি মহর্ষি, ফকির সাক্ষী ইহারাও ত পরান্ত; কারণ মানবীয় ভাষা-বুদ্ধির অতীত সেই ব্ৰহ্মজ্ঞান নিত্য, এমন সাধ্য কার আছে যে ইহা আয়ত্ত করিবে। মানব হৃদয় যতটুকু দেবভাবে নিৰ্ম্মল ও নিষ্কলঙ্ক হইতে পারে, ততটুকু স্বাভাবিক ব্ৰহ্মজ্ঞানকে ধারণা করিতে সমর্থ হয়। অনেকে তাহাই অভ্রান্ত শাস্ত্রের উপদেশ ভাবিয়া গ্রহণ করেন, কিন্তু তাহা অসম্পূর্ণ মানবের স্বাধীন ইচ্ছা বশতঃ নানা প্রকার স্বার্থে কলুষিত। শাস্ত্র অথবা ঋষিবাক্য দ্বারা ত জ্ঞানের কথা কিছু প্রাপ্ত হইলেও তাহা নিম্ব মিশ্রিত শর্করার ন্যায় বিবেচনা হয়। প্রকৃত ব্ৰহ্মজ্ঞান জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও যজ্ঞাদি বিধানের অপ্রবিষ্ট ভাবে প্রচ্ছন্ন থাকে না, সুতরাং মানবীয় স্বাধীন ইচ্ছার প্রলােভনে তাহা ধারণা করা অসম্ভব। ব্রহ্মই ইহা স্বয়ং প্রকাশ করিয়াছেন। স্পষ্টই দেখুন, জন্মান্ধ যেমন দুগ্ধ কেমন চেনে না অথচ পান করিবা মাত্র তাহার আস্বাদন বুঝিতে পারে, সহসা বলিয়া উঠে আঃ—কি মিষ্ট, জ্ঞান তত্ত্বেও অবস্থা সেইরূপ। মানুষ ইহা স্বাভাবিক ভাবেই লাভ করিতে যদি বলেন, এ কথায় তত বিশ্বাস করা যাইতে পারে না। সংসারে ব্যক্তি পরম্পরায় শিক্ষা আলোচনা দ্বারা কত উন্নতি দেখিতেছি, একখানি ভূগােল পাঠ করিলে পৃথিবীর সমস্ত স্বাভাবিক ব্ৰহ্মন। ৪৫ প্রদেশের রীতি, নীতি, ব্যবহারাদি অনায়াসে বলিতে পার। যায়। বিজ্ঞানের অসামা প্রভাবে দেশলাই দ্বারা আনে কাৰ্য্য সুবিধা মত সম্পন্ন হয়, টেলিগ্রাফে বিলাতের খবর অল্প সময়ে কলিকাতায় আইসে, বিদ্যগতি স্থির হইয়াজ- পথের স্থানে স্থানে আলােক দান করিতেছে, বিজ্ঞানবিং পণ্ডিত গণের বুদ্ধি কৌশলে ও অপূর্ব যন্ত্র সাহায্য নানা পদার্থযােগে অস্থি মাদির সৃষ্টি কথাও শুনিতে পাই, এ সকল ব্যাপার কে অগ্রাহ করিবে? কিন্তু বাত বিজ্ঞানের সহিত ব্রহ্মজ্ঞানের কোন সম্পর্ক নাই। ব্রহ্মজ্ঞান স্বাভাবিক, ইহা কোন বস্তুষােগে পাওয়া যায় না ও কাহাকে শিখাইয়া দিতে হয় না। ঐ অপােগও শিশুটির কোমল শরীরের কোন স্থানে সূচিকা মারা একটুকু আঘাত করিয়া আপনি তাহাকে কি বলেন, “শিশু। তুমি কঁদি ও না”? সে আপনা হইতেই যাতনা বুঝিয়া ঋদিতে থাকে। সে কাঁদে কেন? ভিতরে কে জানাইয়া দেয় ? এই সমস্ত বিষয়ে অনুসরণ করিতে গেলে জড় বিজ্ঞান ও মহাবিজ্ঞান উভয় তবেই আলোচনায় প্রবৃত্ত হইতে হয়। প্রথমতঃ দেখা যাক,জড় বিজ্ঞান কি বলিতেছে ? ইহা দ্বারা ব্রহ্ম কান লাভ হইতে পারে কি না ? জড়ের ভিতরে আমরা যে কিছু জ্ঞানের পূর্তি দেখিতে পাই তাহা সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ। জড়তত্বময় জগৎ সকল পরিমিত সবে মহা বিজ্ঞান তকে এই করিতে পারে না,পরস্পর বর যােগ সংঘর্ষণে ঐ বিজ্ঞান শক্তি। বিকৃত ভাবে বিকাশ পাইয়া থাকে, এই কায়ণে উহা যারা অন লাভ করা যায় না। বহুত বহুগত বিজ্ঞানশরি দুর্বলতা প্রযুক্ত তারা মহা জ্ঞানের অধিকারী হওয়া অঙ্গ তৰোপলিষ”। অব। যদিও এ এ বিল হইতে পার্থিব পদার্থ শখে অনেক প্রকার অভূতপূর্ব ব্যাপায় সৃষ্ট হয় ত তাই লে পরিণত। অনেকে তাহাতেই জিয়া যাইতেছেন, বা দেখেন না যে জড়ীয় বিকার দেবে এই সকল বিনব্যাপারে আপাততঃখ করে বটে,কিন্তু তাহা সীমাৰ ৰলিয়া মহা বিজ্ঞা নেয় নিকট দুর্বল। কূপস্থিত শওক যেমন সাগর উন্নয়ন নিতে পারে না, পরিমিত বিজ্ঞান সাহায্যেও মানুষ তেমনই অন্ধ জ্ঞানের আশ্রয় লইতে সমর্থ হয় না, এই নিমিত্ত জৰু ৰিজ- নের ক্ষণস্থায়ী দুর্বল শক্তি আর কিছু হয় না। মানবের চিন্তাশক্তি, জড়ের অন্ধ শক্তিতে অন্ধীভূত হইয়া বিবিধ ভাবে ভ্রমণ করে, ব্ৰহ্ম বিজ্ঞানতত্ব ধরিতে সক্ষম হয় না। সাপিনী শক্তিতে তা বােধ যে ভুলের কথা ও তদায়া যে ব্রহ্মজ্ঞান সম্ভবে না, এ বিষয় সহজেই বুঝিতে পারা যায়। ব্ৰহ্মজ্ঞান ও ব্রহ্মচিন্তা উতাই স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক পরিমিত পা কর্তৃক চালিত নহে, ইহাদের গতি আকাশভেদী এক আয় আনতে। এই মহা বিজ্ঞান চিন্তার মধ্যবর্তী আর নেই নাই, ইহা ব্ৰহ্মকুপাতে আপনি ফুটিয়া উঠে। আহা! মানৰ বয়ে যদি সর্বপ সদৃশ স্থানে পবিত্রতা থাকে, তাহা হইলে গত এ জ্ঞানের উল তেজে সফল প্রকার পাপ ভাল শক্তি আবর্জনা ভগীভূত হইয়া যায়। তখন য়োনা- মৃত শিক্ষিত হইয়া পাক সন্তপ্ত চিত্ত মােহ আবরণ বইতে মুক্তি না করে বাকি বিজ্ঞান তা জুলিয়া খ, বিজ্ঞান বলে नारनाटका रुपामारक मानिएक मात्रा बनीमानणवत्र বিয়ে এলােতে এ উৎই উঠে ।

স্বাভাবিক ব্রন।
বেশ বুঝা যাইতেছে, পদার্থগত পরিমিত বিনে ভয় নয়
ছুি সাহায্য করিতে পারে না, বরং ইহাতে শমী কী
শক্তির বীভূত রাখিয়া অসীম মহা শক্তির প্রতি নিয়ে
প্রদর্শন করে। অনেকে বর যােগ শক্তির অকিপি
অলৌকিক ঘটনা আর দিতে পারেন না, এই কারণে এ
জ্ঞান ও টেকেই না, ঐশীশক্তিও পরাভূত হইয়া যায়।
জগতে পণ্ডিত ও সাধক দুই শ্রেণীর লােক আছেন, তাহা
মধ্যে পণ্ডিত বিভাগে যুক্তি ও তর্ক জ্ঞানের প্রবল আধিপত্য,
সাধক দলে স্বাভাবিক তত্ব জ্ঞানেরই পূজা বেশী। এই উভয়
বিধ জ্ঞানী সম্প্রদায় মধ্যে যুক্তিৰিৎ পণ্ডিতেরা কুশাগ্ৰশশী
বুদ্ধিবলে কখন ঈশ্বরের অস্তিত্বই সনেহ আনিয়া দেন, কখন
মাটির শিবলিঙ্গ ধরাইতেও ছাড়েন না, কিন্তু সরল ভাৰ সম্পন্ন
সাধক বা যােগীগণেরা সেরূপ নহেন, তাঁহারা তখন বি
কিলে পতি দীন ও কাঙ্গাল হইয়া যান এবং বিদ্যার অহঙ্কারকে
পা দলিত করিয়া ব্ৰহ্ম সত্তায় ভাসিতে থাকেন। ব্যর্থনা
বৈরাগ্য” এই
মধুর তব্দের অর্থ তাহারা বুঝিতে পারেন। নির্ব
থে, হৈতুকী ভালবাসা, প্রভেদ ভক্তির মাহাত্ম্য ঐ সকল
সাল বােদ ইতে প্রকাশ পায়, কার্গের বেকিছু বিত
তাহাই বাই জগতে প্রচার করেন। যাধি যোগ ও
সবকে অবস্থা এক-একথা কেন বলিতেছি, ইহারা রে মন
নেয় ভিখারী। ভায়া কে তারা প্রমাণ কুফল ,
পরশে শা, বয়েই শান্ত করিয়া শাকেন। এ
কলুষিত আর নিবিবি কে একতলি নিতে
করিমের
ৰে

পলিব। | বুঝিতে পারা যায় না, কে এমন অত্রা শক্তিশালী ব্যক্তি Hছন যে তাহা বুঝাইতে পারেন। আবার একথাও সত্য যে সাধকগণ পবিত্র হৃদয়েও এখতৰ বিকাশ পাইয়া থাকে, কি তা সেই অস্ফুট অনুপমেয় তত্ব তাঁহাদের বুঝাইবার সাধ্য নাই। যে বুঝিয়াছে, সে মজিয়াছে, বলিতে পারে না। সংসারে ঐ সকল দেবভাষা মানবীয় ষায় বিকৃত হইয়া গ্রন্থাকারে নানাভাবে শিক্ষা প্রদান করিতেছে, এজন্য তারা জ্ঞান প্রাপ্তির আশা বড় দুর্বল। আপনি একটুকু ভাবিয়া দেখুন । যিনি আঙ্গুর ফল দেখিয়াছেন ও তাহার আস্বাদন লােগ করিয়াছেন, তিনি কি পুস্তকের চিত্রিত ফলে তৃপ্ত হন? কোটি কোটি শাস্ত্র হার প্রাণে উদিত ও অস্তমিত হইয়া যায়। হয় । বজ্ঞান যে ভেদ-শূন্য স্বাভাবিক তত্ব, সে কেন হিন্দু, ম্লেচ্ছ, বিন কারাগারে বন্ধ থাকিবে ? বুঝিতে হইবে,এক মহা জ্ঞানই প্রাণীগণের হৃদয় ভেদ করিয়া আছে। মানুষ, অন্ধ বিশ্বাসের মূলে অবস্থিতি করে, সেই জন্য সংগত চৈতন্য শক্তিকে ধারণা করিতে সমর্থ হয় না। প্রত্যেক দেহীর ভিতরে একই নিত্য চৈতন্যের মহা লীলা হইতেছে, তাহাকে মানৰ স্বাৰ্থ বুদ্ধির তীরে ফেলিয়া পৃথক পৃথক বুঝি তেছে। দুর্দমনীয় অহং প্রভাবে, অনন্তব্যাপী জ্ঞানকে এমনই সংকীর্ণরূপে প্রাণে স্থান দেয় যে তাহাতেই ব্রাহ্মণ শূটি তে নিকৃষ্ট জাতি ভাব প্রকাশ পাইয়া প্রমাদ ঘটাইতেছে। বি উদার ভ্রাতৃৰ মােৰ কুটিকায় আইৰে আৰ্য্য কি? তবেই দেখুন, অ৩ চৈতন্য তন্তু, জাতি বা কোন ব্যক্তি বিশেৰে ৰা নহে, ৰান্তির আইন গুচিয়া গেছে যা সকল

স্বাভাবিক খান।
৪১
একার প্রাণী মধ্যে ঐগীয় বিশুদ্ধ তত্ব মুকুত হয়, উয়াই
স্বাভাবিক ব্ৰহ্মন। এই অব্যর্থ রানের আকর্ষণে মৰবে
দেৰতাৰে অধিকার জন্মে এবং প্রাণে ব্ৰহ্মচিকা অরিত ।
ক্রমে ক্রমে ঐ নিষ্কলঙ্ক তত্বচি ঘনীভূত হইলে আয় মন
প্রচ্ছন্ন থাকিতে পারেনা, তখন মনে হয়, বিশ্বচরাচরে কেহইত
পর নহে, সকলিত পিতার ভিতরে পুত্রভাবে একই ভাৰে স্থিতি
করিতেছে। বৃক্ষ বল্পী কুচর খেচয়াদিতেও গুঢ় প্রবিষ্ট অন
মহান মুক্তি বর্তমান। মায়িক চক্ষুর বহির্বিচিত্রতার
অপগত হইলে চিন্ময় ব্রহ্মজ্ঞান ভিন্ন আর কিছু থাকে না,জ্যোতি
চক্ষু উজ্জল দৃষ্টিতে পরিমিত জ্ঞান সকল চলিয়া যায়। মাসী
ঠাকুরজী এক হইয়া যান, ভেজানের দুর্জয় বল দুর্বল হয় -
শক্তির জ্বলন্ত জ্যোতিতে প্রাণ পূত হইলে, সাধু প্রবৃত্তি সমূহ
হৃদয়কে অধিকার করে, তখন আর আপন পর, শক্ত মিত্র মান
থাকে না। সূর্যের প্রকাশে যেমন ইমােরাখি বিলুপ্ত হয়,তেমনই
তত জ্যোতিতেও কোন প্রকার ভেদ কপটতার মলিন
থাকিতে পারে না।
মানবের প্রকৃতি ভেদে পৃথিবীতে কত প্রকার ধর্ম মতের
ব্যাখ্যা শুনা যায়। অনেকে বলেন, ব্ৰহ্মজ্ঞানত ব্ৰহ্মকে বােধ।
একটা ধাতু বা শীলা যে কোন পদার্থই হউক না, তাহাকে ৷
ভাৰিলেইত ব্ৰহ্মজ্ঞান কুর্কি পাইল, তবে এটা ওটা সেটা এক
করিবার প্রয়ােজন কি? ব্রাহ্মণ বৰনাৰি জাতি বিতিতা -
ইর অই বা এত বাড়াবাড়ি কেন? এক অইত উNে,
গাহ পাথর যাহাকেই ভাবি না, এমন অবই হইবে। এই
গ বিশ্বসের স্থলে একটা কথা আছে ঐ পুরিণয় কাটা

তৰোপনিষদ। পরিষ্কৃত জলের অভ্যন্তরে একখণ্ড প্রন্তর কাছে, তৎপ্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলে সত্যই কি সরসীর সকল প্রদেশ দেখা যায় ? কখনই নহে। আবার সরােবরটীর সমগ্ৰ আয়তনের প্রতি লক্ষ্য মাখিল এর খণ্ড অদৃশ্য হয়, তবে খণ্ড বস্তুতে অখও ব্রহ্মজ্ঞান কিরূপে সম্ভব হইতে পারে ? এইকারণেই যােগীগণ ব্ৰহ্মজ্ঞান মহাতকে সকলের মধ্যে অমিয় প্রেমে দেখিয়া থাকেন। ইনি সাধু, উনি অসাধু, উটি বৃদ্ধ, এটি শিশু, এরূপ পৃথক জ্ঞানই জ্ঞানের বিমােধী। বাস্তবিক, দেহের বিকার ও নির্বিকার বশতঃ যে জ্ঞানের তারতম্য হয়, তাহা ভ্রান্তি; অন্তঃপ্রবেশিনী শক্তিত সমভাবেই স্থিতি করিতেছে। তবে দেখুন, আপনার পুত্রে ও প্রতিবেশীর পুত্রে একই পুত্রত্ব মেহ দৃষ্টি রাখিয়া যদি চিন অনন্তজ্ঞান গ্রহণ করেন, তাহা হইলে নিস্তরঙ্গ সমুদ্রের ন্যায় সমভাব হইয়া গেল। এইজন্য জড়ভেদী অস্পর্শ শক্তির আলােকে ব্ৰহ্মজ্ঞান বিশুদ্ধ ও পবিত্র হয়। প্রকৃত পরম- হংসের ভাবকি ? পণ্ডিতে মূর্থে, দুঃখী ধনীতে অভিন্ন ভাবে মধুর মিলন। এক বিন্দু ভেদ থাকিলে ব্ৰহ্মজ্ঞান প্রকাশ পায় না, সেই আশঙ্কায় যােগীগণ পৃথিবীর জ্ঞানকাণ্ড হইতে পৃথক; তাহারা পরিমিত শাস্ত্রজ্ঞানের যুক্তি-তর্কে কর্ণপাত করেন না। তাহারা বাভাবিক ব্ৰহ্মকৃপাতেই” হৃদয় মন, প্রাণ একবারে ডুবাইয়া অনন্ত প্রেমে সুখী হন। এখন দেখা যাক, অভ্রান্ত শাস্ত্র ও গাবিক জ্ঞান এতদুভয় মধ্যে কোনটি সহজ ও প্রকৃত। প্রথমতঃ দেখা উচিত, অভ্রান্ত শানের ফল কি? মানব, চাৰিৰে, চৌদ্দশা, অষ্টাদশ পরাণ,উপপুরাণ পাঠ করিয়াও তজ্ঞানী হইতে পারে না, পৰি- স্বাভাবিক ব্রহ্মরান। শেষে শিশুর মত অবস্থায় ছিলেই জানে অধিকার জন্মে। অৱেই বুনুন, প্রথমে শিশু, পরেও শিশু, মধ্যে কেবল মারামারি কাটাকাটি। মাযােগী কি বলিয়াছিলেন। ঐ শিশুই স্বর্গের অধিকারী, তাহাকে আসিতে দাও” এস্থলে প্রমাণ হইতেছে যে সরলতাই ব্ৰহ্মজ্ঞানের পরিকৃত পথ। শাস্ত্র জানে তাহা লাভ করা সহজ বলিয়া বােধ হয় না। শারে শিরো- ভূষণ বড়দর্শন” সম্বন্ধে সাধক-শ্রেষ্ঠ রামপ্রসাদ বলিয়াছেন, ষড়দর্শনের অন্ধগুলা বেদে দিলে “চলাে”। চার্বাকাদি দর্শন শাস্ত্রের কূটজাল বিস্তৃত রহিয়াছে, অধিক চিন্তা করিতে গেলে “নাসৌমুনির্যস্য মতং ন ভিন্ন’ এরূপ ঘােরতর মত-বৈষম্য পড়িতে হয়। ! যখন পণ্ডিত হইয়াও শান্ত জান তুলিতে হয় তখন আর না। এখন স্বাভাবিক জ্ঞানের কিছু দেখা আবশ্যক। বি যখন মাতৃ গর্তে একমাত্র অমৃত নাড়ীর রসে বর্ধিত হইতে থাকে, তখন কি তাহার মধ্যে চৈতন্য শক্তি প্রমাণ হয় না। একথা কে বলিবে ? সে যে নিত্য চৈতন্য যােগী। শিশু ঐ স্বাভাবিক চৈতন্য শক্তিতে জড়িত হইয়া ভূমিষ্ট হয়,তাহাতে যে এক সয়ল- তাই আছে, এমন নহে, যােগশক্তিও বিদ্যমান রহিয়াছে। ও চিন্তা, দুঃখ শােক প্রভৃতির অতীত-আপনা হইতেই কম পান করিতে, উঠিতে, বসিতে, হাসিতে ঝাঁদিতে কান পায় এ ও মশনে কথা বলিয়া উঠে। অবিশ্বাসী মানব, বয়ােবৃদ্ধির সনে সঙ্গেই স্বার্থপূর্ণ কুটিল শিক্ষা কারা স্বাভাবিক জ্ঞানকে দুলাইয়া দেন, বি শির সরলতানার থাকিতে পারে না। যাহাহউক, ইহার ভিতরেও অস্ত্র নিত্য ন বর্ষিত হইতেছে, যাহারা

৫২
তথােপনিষ।
উপেক্ষা করেন না, তাহারা । নিশীল যােগ তিন স্বর্গের
ত। পৃথিবীতে কে আনিবে ? তাহারা ভি সেই দেৰভাষা আর
কে বুঝিৰে? পপি-প্রত্যাণ তর্কনিষ্ঠ পণ্ডিতগণই খাতা-
বিক ব্রহ্মজ্ঞান সম্বন্ধে আপত্তি করেন। আপনি বলুন ত, ঐ
যুটী মেরুদণ্ডের উপরে বিক্ষোটকের অসহ যাতনায় আঃ
হঃ উঃ শব্দে যে ছটফট করিতেছে, ইহা কি কোন ডাক্তার যাৰু
বুঝাইয়া দেন, না আপনা হইতে বুঝে? আরও একটা কথা
বলি, “তিবিদগণই কেন বলুন না, সকলের আদিতে অর্থাৎ
প্রথম ব্যক্তিটিকে কি কোন টোলের ভট্টাচাৰ্য মহাশয় জ্ঞান
দিয়াছিলেন ?
এখন বুঝুন, থাকলুষিত শাঙ্গন স্বাভাবিক জ্ঞানের
নিকট পরাভূত হইতেছে কি না? এ কথা অবশ্যই স্বীকার
কয়িৰেন, অপ্রভেদ সাম্য দৃষ্টিতেই ব্ৰহ্মজ্ঞান প্রকাশ পায়।
ইতে যে, হিংসা, স্বার্থসঙ্কুল সংসায়েও স্বর্গের ন্যায় ঐ ধারণ
করে। কিন্তু মানবীয় মােহবশতঃ ইহাকে প্রাণে প্রত্যক্ষ
করা সহজ নহে, ইহা স্বাভাবিক ব্ৰহ্মকুপা-সাপেক্ষ। গতে
বিজ্ঞান রসায়ন ভূত প্রভৃতির যে সমস্ত উন্নতি দেখিতেছি,
তা স্বাভাবিক মহাজ্ঞানের আভাস মাত্র, পূর্বের কিংশ ধরি।
যেমন খুলে যাওয়া যায় না, তেমনই আভাস নেও -
নের আলাে গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। মণিকবের বিপণিতে
এত বর্ণের এবং কৃত্রিম ( গিলটি) অলঙ্কার সকল সতি
থাকে, অধিকাংশ লােকেই ঐ আতাস স্বর্ণ জ্যোতিতেই যু
হন, মকিও যান। বিপুল বিদ্যা বুদ্ধিসম্পন্ন নীদিগের
মও ঐ দুর্দশাগ্র দেখা যায়। কারণ এখনও অনেকে

স্বাভাবিক ব্রহ্মজ্ঞান। চন্দন ঘনিতে ও বিৰ তুলসীদল তুলিতে ত্রুটি করেন না, কাজেই – উর্কে টানিয়া তর্ক করিতে ছাড়িবেন কেন ? যা এখানে অন্ধজ্ঞানের কথা নিষ্প্রয়োজন। ব্ৰহ্মজ্ঞান মহা- তত্বের বিষয় যতটুকু বুঝিতে পারা যায়,তাহারই চেষ্টা করা কর্তব্য। পূর্বে উক্ত হইয়াছে,জ্ঞানীগণ দুই ভাগে বিভক্ত,এক শ্রেণী শায়, অপর শ্রেণী স্বাভাবিক জ্ঞানযুক্ত; অর্থাৎ পণ্ডিত আর যােগী শ্রেণী। সঙ্গীতে শুনিয়াছি “পণ্ডিত মরেন কেবল ঝগড়া করে”, ব্যস্ত বিক এটি সাধক বা যােগর কথা—যােগী ভিন্ন বেদ বেদাবিৎ পণ্ডিতগণ কেহই এই মহাতবুঝিতে সক্ষম নহেন। অক্ষর-বর্জিত ধর্মপরায়ণ একজন যােগ শিয়ােমণি মহাশয়কে নিরস্ত করিয়া ফেলেন। খ্রীষ্টের হৃদয় হইতে যে সময় গভীর তত্ত্বজ্ঞানের কথা বাহির হইয়াছিল, সে সময় কি পণ্ডিতেরা ঐ সকল দেববাক্য বুঝিয়াছিলেন? বুঝিলে ত, ক্রুশের ব্যবস্থা হইত না! ইহাতে জানা যাইতেছে, নিরক্ষর সরল হৃদয়ে ব্রহ্মজ্ঞানের জ্যোতি প্রকাশিত হইয়া থাকে, এ কথায় সংশয় নাই। হয়ত অনেকে এই গূঢ়তত্বকে অগ্রাহ করিয়া বলিতে পারেন, কি! প্রৌঢ়কাল হইতে অশীতিবর্ষ বয়ক্ৰম পৰ্য্যন্ত অধ্যয়ন কৰি লেও ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয় না, ঐ চোক বুজিয়া পাথরের পুতুলের মত থাকিলেই ব্ৰহ্মজ্ঞানী হয়? আবার সদ্যপ্রসূত শিশুটিও যােগ হইল; এ সকল কি পাগলের কথা নহে? তাই বলিতেছি বিদ্যাই বিড়ম্বনা, ভিতরে একটুকু প্রবেশ করিয়া অনায়াসে বুৰা যায়, মহাশক্তি ও জীবশক্তি একই নিরাকার তত্ব! ব্ৰহ্মই মহাভাৰ জীবভাবে অখণ্ডৰূপে শীলা, করিতেছেন। যােণ প্রজ্ঞাচকু প্রভাবে শত শত মালার ছিদ্রপ্রবিষ্ট সুত্রের গায় ।

৫৪ তৰোপনিষদ। জিত শক্তিকে একই ভাবে প্রত্যক্ষ করেন। কি চায় মহ!ি ইহাকেই ত ব্ৰজন বলে। নিরাকার চিচ্ছক্তি ও জীবশক্তি কি কখন বাল্য যুবা বৃদ্ধাবস্থায় আকৃষ্ট হয়। বাহিরে দৃষ্টিতে যে অন্ধজন প্রবল হইয়া স্বাভাবিক সরুল আনকে আয় করে ? ঐ বৃদ্ধ বিদ্যানিধি মহাশয় কি বি বিনীন শেষে তশরীর রােগাক্রান্ত বৰন ভাইটাকে আলিঙ্গন করিতে পারেন। কখনই না; অথচ গলিতকুষ্ঠ রােগাক্রান্ত রােগ, বিদ্যানিধির শিশু পুত্রটিকে জোড়ে লইবার জন্য হাত বাড়াইলে, অমনি ছেলেটি ক্ষত শরীরে বু দিয়া ধৰ্গীয়প্রেমে গােফ টানিতে থাকে এবং কতই যে আনন্দ প্রকাশ করে, বলিতে লায়া যায় না। আহা! শিশুর সরলতা কি মধুর! বাহিরের মােহ- আযেয় আতিশয্য বশতঃ এমন যে পবিত্র ভাব, ইহা কেহ গ্রহণ কয়েন না, বরং ব্যঙ্গচ্ছলে উড়াইয়া দেন। বাস্তবিক যে পর্যন্ত শিতাব প্রাণে ফুটিয়া না উঠে, সে পর্যন্ত তত্ত্বজ্ঞান বুঝিবার শক্তি হয় না,ভয়ানক তর্ক যুক্তি ও জাত্যভিমান প্রভৃতির ভীষণ সংগ্রামে আত্মাকে বিপৰ্য্যন্ত করিয়া তুলে। হিংসা-দ্বেষ ও আত্ম- রিতার আক্রমণে অসাড় হইতে হয়, কিরূপে স্বাভাবিক বৃক্ষ নি কত্তি পাইৰে। তবে কি স্বাভাবিক ভাবে বুঝান লাভ করা যায় না? এ কে ৰলিল ? কাভাবিক টা কি? আপনার ভাবে যিনি আপনি-তিনি কে? তিনি ব্রহ্ম। মানুষের কি কোন হাত কাছে। তিনি হাত না উঠাইয়া দিলে একমুষ্টি অয় এহণ করিতে কে পারে। মানুষ ফাসটা কার বলে চলিতেছে, এখানে কল কে চালাইতেৰোেগী পরিশেৰে অবাক হইয়া বলিলেন,

স্বাভাবিক ব্রহ্মান।
৫৫
“ব্ৰহ্মপাহিকেবলং, ব্ৰ ফুপাতেই ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভ হয়। শরে
নির্ভরই একমাত্র স্বাভাবিক ব্ৰহ্মজ্ঞানের পথ। বাহা স্বার্থশাস্ত্রের
কুটিল চিন্তা ও জাতি-শ্রেষ্ঠদের অহঙ্কার একবারে পরিত্যাগ
করিয়াছেন,তারাই সেই স্বর্গীয় তত্ত্ব প্রাণে গ্রহণ করিতে সম
ইয়াছেন।
সাধক যত ফেন অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা অপূর্ণ মানবশক্তির
উপর নির্ভর করুন না, কিছুতেই মহাজ্ঞানের তা বুঝিতে
পারিবেন না। ত্যাদি শায়ে চিত্ত নিরােধানির যে সকল ব্যৰ
শুনা যায়, তাহা সকলই জড় বিজ্ঞানের অঙ্গীভূত। প্রাণায়াম
ধারা বায়ুকোষে অথবা নাসিকাপ্রদর্শন প্রভৃতিতে চিত্ত েিয়র
উপায় অবলম্বন করিলে কি হয়? তাহাতে ব্রহ্মের সহিত
সম্পর্ক কি? পূরক শুনে ও নাসিকার অগ্রভাগে ও ঈশ্বর
থাকেন না। আবার সে সকল বাতিল নামখুর হইয়া যায়-
বিক ভাবই ত বাড়ায়। এই নিমিত্ত বলিতেছি ঐ সমস্ত সাধন
ঐন্দ্রজালিক পণ্ডশ্রম মাত্র। একমাত্র ব্রহ্মই লক্ষ্য,
স্বাভাবিক পথ। এই পথে মধ্যবর্তী কাহারও সাহায্য লইতে
হয় না, ব্রহ্মই পথ-প্রদর্শক। তাহার কৃপা বিকাশের অবস্থাকে
স্বাভাবিক বলে। ইহা কেমন সহজ ও সুন্দর। ঈশ্বরে লক্ষ্য
স্থির হইলে শ ষােগশক্তির অব্য আকর্ষণে জান আপনা
হইতে প্রাণকে না করিয়া লয়। তখন আর কোন প্রায়
তো থাকে না, সকলই মধুময় হয় ; ঘােগ অনন্ত প্রেমে
মৰিয়া বাৰ।
;

জ্ঞান ভক্তির মিলন। জ্ঞানের সাধ্বী স্ত্রী ভক্তি। ভক্তি অপ্রিয় ব্যক্তির সেবাতেও অনুরক্তা এবং নিম্নগামিনী, এজন্য রৌদ্র ভাবাপন্ন স্বামী সন্নিধানে অনাদৃতা, আবার জ্ঞানও প্রখর সােহং তত্বের কঠোরতায় ভক্তির মধুর ভাবে উদাসীন। অরণ্যের তীব্র বৈরাগ্যে চিন্তা শক্তির পরিণতি “ব্ৰহ্মাহং”আমি ব্ৰহ্ম। কেইবা কাহাকে পূজা প্রার্থনা করে, কাহাকেই বা কে সংহার করিতে পারে, সকলি আমি। আমি ভােগ্য, আমি ভােক্তা, ইত্যাদি যুক্তি বিচারের গভীর চিৎকারে পৃথিবী কঁপিতেছে। শঙ্কর প্রভৃতির সময়েও ঐ শুষ্ক জ্ঞানের অগ্নিকাণ্ডে ভক্তি মৃতবৎ অবস্থিতি করিতেছিল। বলিতে কি, অদ্বৈতবাদের সম্মুখে ভক্তির সাধ্যও ছিল না যে উপস্থিত হয়। আবার মহাভক্ত চৈতন্যের আবির্ভাবে সেই প্রচণ্ড জ্ঞানাগ্নি নির্বাণ হইয়া গেল, তখন ভক্তির শক্তি ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি হইতে লাগিল। এমন কি, দন্তে তৃণ, রসনাগ্ৰে ব্ৰজরজ, ললাটে প্রণত চিহ্ন দীনতার ইয়া রহিল না। ভক্তগণ হরিনাম কীর্তনে অহােরাত্র চব্বিশ প্রহর ডুবিয়া থাকেন, এজন্য জ্ঞান অজ্ঞান হইয়া পড়িলেন। ভক্তির করুণ বিলাপে এমন কে পাষণ্ড আছে যে অশ্রু সংবরণ করিতে পারে? জ্ঞান-বিরহিনী উন্মাদিনী ভক্তির অধিকারে পায়ের ধূলাই বা থাকিবে কেন? বাস্তবিক, “জীবে ভক্তি নামে কুচি” এটি বড় • মধুর তত্ব। ইহা ভক্তের রক্তের সহিত মিশিলে ভাবাবেশে প্রতি নােম- জ্ঞান ভক্তির মিলন। কুপে রক্ত বিন্দু মুক্তকলাপের ন্যায় প্রকাশ পায়। পাইলেই বা কি হয়, সে যে জ্ঞান-বিরোধিনী প্রখর। ভক্তির উচ্ছাস ভাব। স্বে, কম্পন, রােমাঞ্চ, বৈবর্ণ, মত্ততা,হঙ্কারাদির জীবন্ত আশে সত্বেও প্রকৃত তৃপ্তি হয় না, কারণ, সচ্চিদানন্দ রসমাধুৰ্য ভােগ জন ব্যতীত কে করিবে? চৈতন্য শূক্ত হইলে যে মােহ আজাদনে প্রচ্ছন্ন থাকিতে হয়, মূচ্ছ। আসিয়া এমাদ উপস্থিত কমে, সকল আশা ভরসা তিরােহিত হইয়া যায়। আবার ইহাও সত্য যে, ভক্তি ভিন্ন হিংসা দ্বেষ অহঙ্কার প্রভৃতি দুপ্রবৃত্তি সমূহ নিরস্ত হয় না। বৈরাগ্য, ধৃতি, ক্ষমা এবং দীনতা, সহিষ্ণুতা, ব্যাকুলতা ইহারাও ত ঐ ভক্তির আশ্রিত। জ্ঞানের অনুসরণে প্রবৃত্ত হইলেও বৈদিকাদি ক-নিবন্ধন ভক্তির নির্মলা শক্তি ম্লান হইয়া যায়। গােমেধ, অশ্বমেধ, নরমেধ যজ্ঞাদির বিধানে কি ভক্তি বাচিতে পারে । উপনয়ন সংস্কারে ব্রাহ্মণ ও চিহ্ন-বর্তিত শূদ্র এই শ্রেষ্ঠ নি জাতিভেদের অগ্রিক যাতনা, কেমন করিয়া সহ হয়। ভক্তি জ্ঞান বিয়ােধিনী হইয়া ব্ৰহ্ম মদনে বঞ্চিত থাকিলেও গীয় সেবার ভাৰ ছাড়িয়ে পারে না। এইজন্য ভক্ত, জ্ঞান,ও কর্মকাণ্ডকে বিষবৎ ব্যাখ্যা করিয়াছেন। ক্তি যাবতঃই সরলতাব সম্পন্ন, আতি নির্বিশেষে সেবার জন্য কাঙ্গালিনী। সংসারের পরিত্যকা রােগাক্রান্ত অপচ ভগিনীটির মুখচুম্বন করিয়াও যেরূপ তৃপ্তি, ঐ অট্টালিকা ফর্ণ ভিলিনী রাজকন্যার প্রতিও সেইরূপ। ভক্তির উদার * গুলিতে পাওয়া যায়, একদিন কাশিতে চেয়ে রুল অন্য

৫৮
তলােপনিষ।
প্রতি মধ্যে বিন্দু মাত্র তে-কল প্রবিষ্ট হইতে পারে না,
বরং তৎসংস্পর্শে পবিত্র হইয়া যায়। কেনই বা যাইবে না,
ক্তির যে অকৃত্রিম ভালবাসাই এর, অবিচ্ছিন্ন স্বর্গীয় ভাবাই
জল, অভিন্ন সেবা রসাতই ভােগ। এমন নিষ্ঠুর কে আছে
যে, এই সমদর্শিনী সেবা কাঙ্গালিনীর নিল চরিত্রে আৰু
হইবে না? আহা! ভক্তগণ কি সহজে উন্মত্ত হন? যখন
যিশনীন ভালবাসা প্রাণকে তােলপাড় করিয়া ফেলে, তখন কি
কেহ জানের গরিমায় শ্রেষ্ঠ নিকৃষ্ট ভাবে বন্ধ থাকিতে পারেন?
ফিকুলুকের জ্ঞায় নিরীহ ও পদদলিত তৃণ তুলা ভাবে অবস্থিতি
করেন। হু’ অক্ষর উচ্চারণ হইতে না হইতে অশ্রু জলে বা
মূল ভাসিয়া যায়, ভাবের আবর্তে মােন সংবরণ করিতে
পারেন না, ‘বি’ বলিবার আর সময় কৈ; অমনি মূচ্ছ। আঃ-
উন্মাদিনী ভক্তির ভাবে কি জলন্ত উচ্ছাস! পর্বত সদৃশ ধীর
ব্যক্তিও হৃদয়ভেদী কলন বেগ সংযত করিতে পারেন না,
ভাবাবেশে মজিয়া যান। ভক্তের ত কথাই নাই, তিনি গত
লক্ষী কীট পতঙ্গ বুঝেন না, সকলের নিকট অবনত, সেবার
ভিখারী। নিষাদ শরাহত কুকুরটির ক্ষতস্থানে ঔষধি লেপন
ও আহার প্রদান না করিয়া বাঁচেন না, সর্বদা তাহার জয়
ব্যতিব্যস্ত, আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত প্রাণে শান্তি নাই, কতই
বে, কে বুঝিৰে?
এখন দেখা আবশ্যক, প্রকৃত জ্ঞান কি? বস্তুত নেয়
মৌলিক তা চেতন শক্তি,যােগিয়া ইহাকে রূপ ৰলিয়া ব্যাখ্যা
করেন। স্মৃতি, বুটি, বাক্য, মন, দর্শন, প্রবণ এ সকল ঐ
শক্তিরই বিকাশ। ইহারাও শম, গম, তিতিক্ষা ও যে, ,

জ্ঞান ভক্তির মিলন। ৫৯ হিংসা প্রভৃতি শুভাশুভ উভয় বৃত্তি মধ্যে বিচরণ করে। তান- স্বরূপ বিধাতা সকল প্রকার কাকেই স্বাধীনতা দিয়াছে, তাহারা সেই স্বাধীন শক্তি বলে সুখ, দুঃখ শান্তি শাস্তি ভােগ করিতেছে। পশুপক্ষীর মধ্যে সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বিধানেও কোন যন্ত্রণার কারণ দৃষ্ট হয় না, কিন্তু উন্নত জ্ঞান বিশিষ্ট মানবগণ, স্বাধীন শক্তির স্বার্থ প্রলােভনে পড়িয়া জ্ঞানকে নানা ভাবে গ্রহণ করেন। মানবের চিন্তাশক্তি সকল অপেক্ষা উন্নত, এজয় কেহ ঈশ্বরের অস্তিত্বই স্বীকার করেন না,একবারে উড়াইয়া দেন, কেহ নিজেই ঈশ্বর হইয়া বসেন, কেহ গাছ পাগুর ও নরপূজা করিতেও ছাড়েন না। বুঝিতে হইবে, এই যে জ্ঞান-বিভ্রাট, ইহার দুইটা কারণ আছে। একটা অভ্রান্ত শাস্ত্র-বিশ্বাস, আয় একটা রুচিগত স্বার্থ-চিন্তা। এই দুটী অনুদার ভাব আর সরল প্রকৃতিকেও সন্দেহের তরাঘাতে আকুল করিয়া ফেলে। নদী যেমন বাধাপ্রাপ্ত হইলে বহুদিকে প্রবাহিত হয়, তেমনই তেজস্বী মনীরাও স্বার্থ চিন্তার উত্তেজনায় বিবিধ প্রকার যুক্তি পণে ছুটিতে থাকেন। অনাবৃত সরল তকের প্রতি তাঁহাদের অাদবেই দৃষ্টি পড়ে না, তর্ক যুক্তির ভয়ঙ্কর সংগ্রামে চিত্তকে উত্তেজিত করিতে থাকেন,কিরূপে তত্ব জ্ঞানের বিশুদ্ধ মাহাত্ম্য বুঝিবেন? পাণ্ডিত্যের হঙ্কারে উদার তত্ব সমূহ কোথায় যে লুকায়িত থাকে, অন্বেষ করে কে? তবেই বলিতে পারা যায়, ঐ অগ্নিক তক যুক্তি, তত্ব জানকে প্রকাশ হইতে দেয় না, কেমন করিয়া সেই উদার ত আসিবে? এই এয়ই কি চৈত বলিয়াছিলেন, হায়! কন আমাকে শান্তি দে না”। যথার্থই গুৰু ন যে অশান্তির হেতু,তাহা সাধক ও ভক্ত মাত্রই স্বীকার করিবেন।

ততাপনিষদ। অভ্রান্ত পাত্রবিল ও কটিগত স্বার্থচিন্তা চলিয়া গেলে, কাতান অরিত হয় এবং এ, জণ্যি ঔদার্য প্রভৃতি সন্ত সকল সঙ্গীরূপে অবস্থিতি করিয়া ক্রমে ক্রমে সাধুভাবে চিত্তকে অধিকার করে। আশ্রম-অনাসক্ত বৈরাগ্য,ত্যাগীর সহিত আলি মনে নীরস বা কঠোর না হইয়া, বরং তাহাতে শান্তির পবিত্র আশ্রমে আরাম দেয়। তখনই অনাবৃত ও জ্ঞানের সম্যক জ্যোতিঃ প্রদ্বীপ্ত হইয়া উঠে, শুক্ষভাব বা কোন প্রকার তর্ক চিন্তা থাকিতে পারে না, অভেদময় জীবদের মধুর তপ্রেম উজ্জ্বলরূপে প্রকাশ পায়। দীনতা, শিষ্টতা, সাধুতা এ সকল আর প্রচ্ছন্ন থাকে না, সাম্যভাবে জগৎকে আলিঙ্গন করে। প্রেমের বিশুদ্ধ সংস্পর্শে জাত্যভিমান ও বিদ্যার উচ্চ সম্মান ঘুচিয়া যায়, আপনাকে নিতান্ত জঘন্য বলিয়া বােধ হয়, সকলের নিকট নীচ না হইয়া থাকিতে পারা যায় না। ওদিকে যেমন তত্ত্বজ্ঞান হইতে প্রেমের প্রকাশ দেখিলেন, আবার এদিকেও তেমনই দেখুন, অখণ্ড জীৰভাবে ভালবাসার পরিণতি ভক্তি-ভক্তির ঘনতাই প্রেম। তবেই বুঝুন, প্রেম, জান ভক্তি উভয়েরই প্রিয়। প্রেমের পবিত্র সহবাস কেই পরিত্যাগ করিতে সমর্থ নহে। প্রেম যেন দুলাযন্ত্রের কাটার ন্যায় ঠিক মধ্যস্থলে থাকিয়া উভয়কে সমভাবে রক্ষা করিতেছে। কান ভক্তিও প্রেমের প্রণয় পাশে বদ্ধ হইয়া উচ্চ নীচ ভাৰ * বৃন্দাবনে মহা পণ্ডিত রূপ গােস্বামী, দিখিজগীয় সহিত বিচার না কায় পরাজীকার করে। এ জপ লিখিয়া দেন। , বা তিনি প্রেমের সংস্পর্শে পাণ্ডিত্যের অহঙ্কাকে চুষি করিলা গতোয়া ইয়াছিলেন।

জ্ঞান রি মিলন।
এন ঝিতে সক্ষম নহে, তা তাহার শ্যৰ যতীত
খার উপায় কি?
এই ত মিলনের অবস্থা, কিন্তু সংসার তা গ্রহণ করে না।
পাইনা পণ্ডিতেরাই জ্ঞান, প্রেম, ভকূিকে অযথা ব্যবহার
তারা মহা অনিষ্ট সংঘটন করিতে বাধ্য হন। অন্যজনকে তা
তা আনিতেছেন, দেবদত্ত প্রেমকে মত্ত-প্রম ভাৰে দেখি
তেছেন, অপ্রভে ভক্তিকে প্রখরা বা উন্মাদিনী করিয়া তুলি
তেছেন। এখন যে মধুর মিলন ভাব, তাহাতে এতই অপ্রিয়
অপ্রীতি অয়া ঘটাইয়া দিতেছেন যে, কেহ হিকে শর্শ
করিতেও চায় না। যে স্থানে জ্ঞানের আধিপত্য, সে স্থানে কি
ভক্তি আসিতে পারে ? তখনি যে বীপান্তর ব্যবস্থা ! প্রেম কান
কখন বর্তমান সময়ের জ্ঞানীদলে বা উপাসক মণ্ডলীতে দেখা
দেয় বটে, কিন্তু সেখানে ইহা অকৃত্রিম প্রাণগত সরল ভাবে
সমাদৃত নহে। অনেক স্থানেই দেখিতে পাওয়া যায়, উপাসক
মহাশয়, প্রেমের জ্বলন্ত উপদেশ দিয়া সকলকে হহ শয়ে না-
ইলেন,শাসন পরিত্যাগ করিলে আর কোন কথাই নাই। ঐ যে
রাজপথের এক পার্কে দুঃখিনী অন্ধ মাতাটী উদয়ালের এ
চীৎকার করিতেছে, তাহার দিকে কে তাকায় ? অথচ উপাসনা
গলির চরে গলে পাপিয়া বার।
: এইপর্বহির্ভাবের ভিন্নতা সতেকিন টিকার -
কম আয়ে? বরং সকানপিপাসা ও মনীয় আল-বিলা বল
ইয়াতের বৈষম্য চিন্তা শক্তিকে আরও ভাগ করে এবং
ফল ও ষ্টার বেঞ্চিত হতে হয়। শয়হীন
যেমন শর্করার মান আনে না,মানলি গনী এই

৪ তৰোপনিষ। এই তিনটা নাড়ী সাম্যের বিরুতে অর্থাৎ যাতে পিত শিবিলে বিষম অর এবং পাও রােগাদি উপস্থিত হইয়া শক্তি ক্ষীণ করে, আবার বাতে গো মিশিলে উভয়ের অসাম্য তা-জনিত বিলর ভাবে মৃত্যু ঘটে, তেমনই জ্ঞানে প্রেম ভক্তির মিলনেও ভয়া- নক যন্ত্রণায় পড়িতে হয়। কারণ, শুক জ্ঞানের শক্তি সহসা উচ্চ- তার দিকে লইয়া তর্কচূড়ামণি মহা পণ্ডিত করিয়া তুলে। কিন্তু প্রেম জগৎকে সমভাবে ভালবাসা দেয়। ভক্তি নীচভাবে না লকে সেবা করিতে বাধ্য। এই জন্যই শুকরানী পণ্ডিতেরা প্রাণীবধ ব্যাপারেও কুণ্ঠিত হন না। তাহাদের সূক্ষ্ম মীমাংসার তীক্ষধারে ঈশ্বরের অস্তিত্বই টেকে না, তাহাতে আবার প্রেম ভক্তির কথা। যাহা হউক, প্রকৃত জ্ঞান ও প্রেম ভক্তির সম্মিলন নাইওয়াতেই পৃথিবী সন্তপ্ত হইতেছে, সন্দেহ কি? আবার ইহা বলি, প্রেম ভক্তির প্রভে ভাবেও মহা অনিষ্ট বটে। এলে একটা রহণ মনে পড়িল। এখনকার একজন ভক্তি প্রবলনাড়ী বৈষ্ণব বিষ্ণুপুর যাইতেছেন। ঐ বৈষ্ণব ভটা বিষ্ণুপুরের মৃত্তিকা স্পর্শ মাত্র অধৈৰ্য্য হইলেন এবং আপাতপূৰ্ব্বক প্রণাম করিতে লাগিলেন। কারণ, সেই গ্রামে কীর্তনের বাদ্যযন্ত্র মৃদঙ্গ প্রস্তুত হয়। সত্যই ভক্ত সরল ভাবে ভক্তির আবেশে প্রণাম ও অশ্রু বিসর্জন করিবেন। কিন্তু জানে বুঝাইয়া দিল মৃত হইয়াছে বলিয়া ফলন কৰাির প্রয়ােজন কি? প্রভুর নামেই অল্প হইতে হইবে। ঝাড়ি খণ্ডেয় পথে চৈতন্য একবার বৃন্দাবন গমন করে, অৰত ও অর ঐ পথে চলিবেন না। মীমাংস করিয়া দিল, চৈক প্রায় সার্ক চারি শত বৎসর হইল পথে

জ্ঞান ভক্তিৱ,মিলন।
•৬৫
গিয়াছেন, এখন দোষ কি? তুমি যদি সন্ধে কিতে তৰে কি
তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইতে না। তবেই বলিতে হয় নি,
প্রেম, ভক্তি সকলেরই সাম্যভাবে পরস্পরের মিলন চাই।
স্বাধীন শক্তির এক জ্ঞানকে পরিত্যাগ করিয়া যদি তানে
সমুদায় তত্ত্বের মিলন হয়, তাহা হইলে কখনই বিপদ ঘটে না।
হে তত্বগণ! মানুষের জ্ঞান না হইলে, নিত্য শক্তির
অধিকার জন্মে না। বিশুদ্ধ জ্ঞান, পবিত্র প্রেম, অপ্রভেদ
ভক্তির সাধন হইলে ত জ্ঞানের বিকাশ পায়, এবং জগৎ
নিৰ্মলানন্দ ভােগ করে। নতুবা শুষ্ক জ্ঞান, বিচ্ছিন্ন প্রেম,
ভেদ ভক্তির সাধনে উপরােক্ত হিংসাপূর্ণ হােম-যজ্ঞাদির বিধান
ও অসার ক্রিয়া পদ্ধতির ব্যাপারকে প্রবল করিতে থাকে,
তত্ত্বজ্ঞান ও প্রেম ভক্তির শক্তি ক্ষীণ হইয়া ভেদুভাবে পরিণত
হয়, বস্তুতঃ তাহাতেই ভ্রাতৃত্বতত্ব বিচ্ছিন্ন হইয়াছে।
মানুষ অপূর্ণ; পরিমিত শাস্তু জ্ঞান বলে যতই মস্তিষ্ককে
সুহ্মের দিকে লইয়া যায়, ততই ব্রহ্ম জ্ঞানের ভাবকে ম্লান
করিতে থাকে। এমন কি জীব শক্তিও উড়িয়া যায়--একরূপ
নাস্তিক ভাব আইসে। ইহাতেই প্রকৃত তরুকে প্রচ্ছন্ন
করিতেছে। হা! এই কি কখন সম্ভবে ? জীবন্তু ধ্বংস
সােহহং তত্বের নীরস ভাব-ইহা কি ব্ৰহ্ম জ্ঞানের কথা?
অন
মহা শক্তি হইতেই যে জীব শক্তির প্রকাশ, প্রেমভক্তি
সেই শক্তির ভিতরে বিহার করে, ইহাই ত সাধকের ব্লবের
মধুর, ভাব। জীৰে ব্ৰহ্মে নিত্য ভাবের তা জীব, ভাবেই
ভােগ করিয়া থাকে। উদার মধুর বন্ধু জানেই শ্রেষ্ঠ, নিজ
উচ্চ নীচ ভাবকে সমভাব করিয়া দেয়। এদিকে ভকিও ধনী,

৬৬
তৰোপনিষ।
শনি, পতি, মূখ ব্রাহ্মণ যদি এতো ভাৰ কিছুমাত্র
মানে না। তবেই স্পষ্ট এখানে বলা যায়, কান ভক্তির উচ্চ
নীচ গতি সমান হইয়া কেমন মিলন হইল প্রেমের ত -
বাইসাম্যভাব, সুতরাং জ্ঞান, প্রেম, ভক্তির এক মিলন
ভাৰে কাম কোন আপত্তি থাকিল না। এ ভাবেও যেন
তিনটা নাড়ী সমান হইয়া গেল।
এই পবিত্ৰ তৰ সমূহের সম্মিলনেই জগৎ নির্মল জ্যোতি
ধারণ করে। তখনই ইহা অনির্বচনীয় বগীয় ভাবে সমস্ত
প্রাণীকে এক মহা প্রাণের অসীম সভায় প্রত্যক্ত করিতে পারে
এবং স্বাভাবিক ব্রহ্মজ্ঞানের আলাে দেখিয়া কৃতার্থ হয়। সংসার
অরণ্য, নির্জন সন তুল্যভাবে গ্রহণ করিবার শক্তি জন্মে
এবং বহু পরিবার মধ্যেও উদাসীন অথচ যুক্ত যােগী হইয়া
অভীষ্ট সাধনে বঞ্চিত হইতে হয় না। আশ্রম অনাসক্ত অর্থাৎ
স্ত্রী পুত্র ধনৈশ্বৰ্য্য মায়ার বন্ধুতে পাত্রে পারদৎঅবস্থিতি করিতে
পারিলে, উহাকেই ত্যাগ বা সন্ন্যাস বলে, তবে সংসারেই বা
কেন বৈরাগ্য সাধন হইবে না। যিনি প্রত্যেক পরিবারকে
নিজের ভাবিয়া সেবা করিতে সক্ষম হন তিনিই তত্ত্বজ্ঞানী,
প্রেমিক ভক্ত, বৈরাগী বা সন্ন্যাসী। যাহা হউক, এ বিষয়
এখানে অধিক বলিবার প্রয়ােজন নাই। জন ভক্তির বিবাদ
ভঞ্জন ও উভয়ের মিলনই উদ্দেশ্য। জ্ঞানীয় ভিতরে ভক্তি,
উজের ভিতরে জ্ঞান, সমবেত না হইলে ভয়ানক বিপদ ঘটে।
কারণ, জ্ঞান ও উন্মাদিনী ভক্তি উভয়ই বিনা। যােগী,
সাধক সকলেরই এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখা প্রার্থনীয়।

গৃহস্থাশ্রমেসন্ন্যাস। শো বং ব্ৰজেৎ, ক্ষত্রিয়া শ বৎসর ঢাকা লেগের পর বান ধর্ম গ্রহণ করিতেন অর্থাৎ গার্হস্থ । শেৰ কৰিষা অরণ্য ব্রত পালনে অনুরক্ত হইতেন। এখন ত্রিংশৎ বর্ষ উর্ষে বার্ধক্যে পরিণত বা শরীর ত্যাগ করিতেও দেখা যায়, সময় কোথায় যে ঋষিবাক্য পালন হইবে? কি এরূপ ধর্ম বিধানকে অবস্থােচিত অমুকুল বলা যাইতে পারে । সংসার আর অরণ্য, স্বজন আর নির্জন, গৃহী আর উদাসীন এ সকলের ভাব পৃথক পৃথক ভােগ করিতে হইলে পার্থিব ভঙ্গুর শরীরে সম্পন্ন হয় না। গাহ, বানপ্রস্থ, ব্রহ্মচর্য, সন্ন্যাস, এই আশ্রম চতুষ্টয়ের ভােগেও সময়সাপেক্ষ। বিশেষতঃ এক একটা পন্থার অভ্যস্থ চিন্তুাকে উঠাইয়া দেও- রাও সহজ বিবেচনা হয় না। মানুষ, যখন কোন প্রকার অভ্যাসগত ভাষা সহজে ছাড়িতে পারে না তখন প্রত্যেক পন্থা প্রদর্শিত শিক্ষার অভ্যস্থ গতি হইতে নিতি না কৰিৰে এটি সহজ হয় কি? এই কারণে, অব বলিতে পারা যায়, “ তং নিহিতং গুহায়াং, ইহা বড় সহজ নহে।' ধৃ ধাতু হইতে সিঙ্ক, ইহা সকল অবস্থাকেই ধারণ করে। গৃহীর কি সন্ন্যাস না হলে মুক্তি হইবে না, ব্রহ্মচর্য নারীর কিবান- এ ভিন্ন উপায় নাই! গৃহশ্রমে কি শর কেন না? । বিবিধ বিপদ সঙ্কুল সংসার জীৰু ইয়া গিরি নিৰ ৰাসে আত্মতৃপ্ত যােগী হইলে কি হবে? জগতে।

৬৮ তকােপনিষদ। । সেবাই যে প্রকৃত বর্ণ, এটি অরণ্যব্রতধারী যােগীরা স্বীকার করেন না। জানেন না, ঈশ্বর যে অনন্ত সংসারী-অথচ নির্লিপ্ত উদাসী। সমুদ্রগর্ভে একখণ্ড প্রস্তর ছিদ্ৰমধ্যে একটা ক্ষুদ্র কীট বাস করিতেছে, তিনি তাহারও আহার যােগাইতেছেন। আহা! সংসার-সাধকের কি উচ্চ আদর্শ! দুঃখ বুঝিতে না পারিলে সুখের আর কে করিত। অশান্তির তীব্র তাপ সহ না করিলে শান্তির সুবিমল রসাস্বাদন কি প্রাণে অনুভূত হইত ? কষ্ট সন্তাপের কশাঘাতে ব্যথিত না হইলে কে সাধনের পথ উন্মুক্ত দেখি? মঙ্গলদাতা বিধাতা, কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ডের প্রাণীসকলের রক্ষণাবেক্ষণে অবিশ্রান্ত ব্যস্ত, আমি তীব্র বৈরাগ্যের অনুযাত্রী হইয়া অরণ্যে বল্মীক স্বরূপ কুম্ভক যােগীর মত বসিয়া থাকিব ছি, ছি, এরূপ ঘষাগী হইতে ইচ্ছা করি না। পৃথিবীতে ধর্মের অভাবে শত শত ভাই ভগিনী দুঃখভোগ করিতেছেন, তাহাদের সেবা করিয়া প্রভুর কথা বলিব না? অরণ্যে আত্মতৃপ্ত যােগীর ন্যায় নির্জনেই থাকিব? না, জগতের নর নারীর জন্য প্রাণ উৎসর্গ কলিব ; ইহাই ত প্রকৃত ধর্ম ও সাধন। কিন্তু অনেকেই এই বিশুদ্ধ সত্যপালনে বীতস্পৃহা প্রদর্শন দ্বারা কঠোর অরণ্য বাসকেই শ্রেষ্ঠ মনে করেন। জনপদ যেন তাহাদের নিকট বিষের নিকেতন বলিয়া প্রতীয়মান হয়। একটু চিন্তা করি। দেখিলে জনস্থানে ও নির্জন বনে সমত্বই দৃষ্ট হইবে । আজ যাহা মট্টালিকাময় ও অসংখ্য জনপূর্ণ,হয় ত কিছুদিন পর সেই স্থান খাপদ সমাকীর্ণ নিবিড় অরণ্য হইয়াছে। আবার বিবিধ বল্পী পরিবৃত কনও রাজনগরীতে পরিণত হয়। তবেই দেখুন

গৃহৰামে সমাস।
৬৯
এ
বিশপতির অচিন্ত্যশক্তি স্বজন নির্জন, সংসার আরণ্যকে গো
করিয়া রহিয়াছে, এজন্য গৃহহাম অরণ্যাশ্রম উভয়েরই তুল্য
অৰ। কারণ, বরাহ ভক্ষুকের গভীর চীৎকার, তীব্র বিষয়ে
ফোস ফোস শব্দ, বিহঙ্গকুলের কলরব, মুহূর্তকালও থিম
নাই,—ঐস্থানটা কি নির্জন নিরাপদ হইতে পারে ? আর যদি
তাহাই তৃপ্তির শেষ বলিয়া বিবেচনা হয়, তবে সংসারকেও ত
তাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলা যায়। আসক্তির ঘাের অন্ধকার মধ্যে যে
দম্ভ ক্রোধাদি দুবৃত্তি সকল সতত বিচরণ করিতেছে, ইহার
কি বনের বরাহ প্রভৃতি হিংস্র জন্তু হইতে দুর্বল স্পষ্টই বলা
যাইতে পারে উহারা সহস্রগুণে বলশালী, দুর্দমনীয় ও হিংস্র।
সমস্ত পাশব বৃত্তিই ত মনুষ ও পদি সকল প্রকার প্রাণী
মধ্যে বিহার করে, তজ্জন্য সংসার ও বন পৃথক নহে, একই
স্থান। বিনি বীরসাধক,যিনি হৃদয়বিহারী পৰিসমূহকে নিরন্ত
করিয়াছেন, তিনি নির্ভীকান্তঃকরণে জগতের সকল স্থানেই শান্তি
লাভ করেন।
তবে বলিতে পারেন, সংসার নিরাপদ হইলে, ঋষিরা বনে
বাস করিয়াছিলেন কেন? সাধনের ৰিয় সম্ভাবনার স্থল বুঝিয়াই
ত তাঁহারা যুদি বিপদ সল পৃথিবীর ভােগ হইতে নিব
হন? বস্তুতঃ তাহাই বটে,কি অগ্নির ভিতরে শীতলতা, দুঃখের
ভিতরে সুখ, খাতনার ভিতরে শান্তি এবং ঐশ্য সম্পরেও যে
প্রকৃত তৃপ্তি আছে, তাঁহারা সে সময় অৰ ভাবেন নাই বটে,
কি ভঁহারা ত্যাগ-বৈরাগ্যের বিষম টিকাতে স্ত্রী পুত্ৰ পৰি
জনকে বিষদৃষ্টে পৰিত্যাগ করেন নাই। ৰনেও ঐ পৰািয়
আর তপার যথেষ্ট সাহায্য হইয়াছিল। লৰিয়া দেখিলে,

৭০
উৰােপনিষ
গৃহস্থাশ্রমের সহিত কোৰ বিশেষত্ব ছিল না। সংসারেও সত্য
প্রেম শান্তি তিন বৈরাগ্য ও সৎপ্রবৃত্তি কৰি আছে,
প্রত্যেকেই যদি হৃদয়কে শাখনের পবিত্র ক্ষেত্র করিতে পারেন,
শক্তি কেনই বা না একাশ পাইবে? শ্রী-পুত্র পরিজনেয়াই
বা কেন সাধনের সহায় হবে না?
পাত্রে নিতে পাওয়া যায়, বিষ্ঠা চন্দন সমান ও সর্বত্যাগী
সাল ব্যতীত এটি সম্ভব না। তাহা হইলে যাঁহারা খান
পরে অবস্থিতি করিতেছেন, তাহাল কি ব্রহ্মের অমৃত আশ্রয়ে
পরিতৃপ্ত হইবেন না। আর যদি সকলই সন্ন্যাসী হন,তবে সংসার
ত উৎস হইয়া যায়, ঈশ্বরের জগৎ সকলের প্রয়ােজন কি?
বাকি ইহা কি প্রকৃত সাধন ? বােধ হয় না। সকল প্রকার
আসক্তি বইতে নিবৃত্তি, ঐ নিবৃত্তি পথও সংসারে অশত বহি
আছে। ঐখ ও হক্রিয়ভােগ বাসনায় পুত্রের আকাঙ্গা,
তাহাই পাপ-পরমাত্মার সহিত আত্মার মধুর ভাবে যেমন
প্রেম জন্মে,তৰ ভাবে সাধ্বী স্ত্রী সেবা কারা পুত্র লাভইহা কি
আসক্তি শূয় বিশুদ্ধ সন্ন্যাস নহে? পুত্ৰটী অম্মিল, কিছু দিন পর
শরীর ত্যাগ করিল, এর যত ভুতেই খালি বলিয়া আনলে
যিনি শত্রু বিসর্জন করেন, তিনি কি উদাশী নহেন। বিবিধ
উপায়ে বস্তুতে ইচ্ছা নাই,আখ কােন করিলেও সােত হয় না,
এর অবস্থাকে বৈরাগ্যের বিনােব বলা যায় না? গৈয়িক বক্স
পৰিধান করিয়া বােগী এবং বহু মূল্যের পরিদ, সােলায় বড়
প্রতি ব্যবহারেও যদি খাৰু ৰা সাৰু ভাৰ মনে না খাইলে,
এমন সমীকি সাশীলছেন ?
কিভাবে জগতের সেবায়
চিত্তকে ডুবাইয়া দিলে কি চিন্তার অধিকার জলে না?

গৃহস্থাশ্রমে সন্ন্যাস। ৭১ ভারী হইয়া পত বন ভ্রমণ করিলেইকি সমাসী হয়। ফল মূল ভক্ষণ অথবা অনশন বিধানে পঞ্চপা কই সাধনায় শরীর শুদ্ধ করা, উহা কি বৈরাগ্যের লক্ষণ? বৈরাগ্য প্রচ্ছন্ন থাকিলে বহিবৈরাগ্যে কিছু হয় না। এ অাবার আসক্তির বন্ধন হইতে বিমুক্ত হইতে পারিলে, স্বর্ণ পৰ্যয়ে শয়ন করিয়াও সন্ন্যাসের কোন প্রকার ব্যত্যয় ঘটে না। মনের সহিতই বৈরাগের সম্বন্ধ। চিত্ত প্রক্রিয়া প্রলােভন-এম হইয়া বা সাধনে বন্ধ হইলে, প্রতিনিয়ত ভ লেপন করিয়া কি কখনও সন্ন্যাস হয়? সন্ন্যাস তবে গৃহী ও অরণ্যবাসী সকলেরই সমান অধিকার আছে। বাস্তবিক যখন মানবে হৃদয় ঐশী শক্তিতে পায়, তখন ভয়ানক উদাসীনতার তরঙ্গ উদ্বেণিত হই। উঠে। অস- হিষ্ণু দুর্বল ব্যক্তিরাই তীব্র বৈরাগ্যের তাড়নায় নিন গিরি- গুহা আয় করে। কিন্তু ধৈর্যশীল দুর্জয় অনশণী সংসারী কেমন সুন্দর স্থির ভাবে বৈরাগ্যের উৎপীড়ন সহ করেন। গাত্র কাৰুকাৰ্যবিশিষ্ট কাশ্মিরী শালের জোড়ার প্রতি দৃষ্টি পড়ি মাত্র ভাবিলেন এ কি! সম্পদ সম ত অনর্থের মূৰে হৰি প্রকোপে শত শত নর নারী ছট ফট করিতেছে । তখনই প্রেরণ কৰিলেন। বুকের উপর কােণায় চেন গাছটা ধরিতেছে, তাহা প্রতিয় বা সংশের খাতা ৰেৰে কয় প্রচার মন্দিরে দান কৰা হইল। বিবিধ জালা পূহ সহিক ও বর্ষোৎ কীর গাড়ী মনের লতি মােঃ ইব্রাজ জলে ভাসিয়েছে, তাদের নিষিদ্ধ এরী অনাৰম বুলি

৭২
তৰোপনিষ।
লেন। নিজের গায়ে ব্যবস্থা গঙ্গোর তুলাভ রেজাই,
সােণাৰ চেনের পরিবর্তে একগাছি কাল ফিতা, যাতায়াত সয়ে
কোনস্থানে ট্রামওয়ে কোথাও বা পাচারে গমন। দেখুন ত,
ৰনের বৈরাগ্য কি সংসার বৈরাগের সম্মুখে আসিতে পারে ?
ঐ তীব্র বৈরাগ্যযুক্ত কুন্তক যােগীতে ও বীকেতে কোন বিশেষত্ব
ত দেখা যায় না? ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কি এই যে জগৎসমূহ ঐরূপ
মানৰ বীকে পূর্ণ হউক ? তাহা হইলে তিনি মহাপ্রাণরূপে
প্রত্যেক প্রাণীর সেবায়মগ্ন থাকিতেন না। তিনিই ত সকলকে
অভিন্ন জীব তত্ত্বের সেবা-মাহাত্ম শিক্ষা দিতেছেন; অল্প জল
বাতাস দিয়া কেমন জীবের সেবা করিতেছেন। অস্থি মেদ পূর্ণ
সুন্দর শরীর দিয়া সকলে কার্যে সাহায্য করিতেছেন, এক
মানবে নয়,পশু পক্ষী কটাদি পৰ্যন্তে-জলে স্থলে অনআকাশ
তাঁহার সেবার অধিকার।
আমি নিতান্ত জঘন্য। ত্যাগী বৈরাগ্যের উত্তেজনায় সেবার
ভাবে বঞ্চিত হইয়াছি। হায়! এমন যে দেব দুলত সেবা ধর্ম,
বুঝিতে পারিলাম না। পরপিণ্ডপােষিত হইয়া সময় নষ্ট করি-
নাম, প্রভুর নিকট কত যে অপরাধী, বলিতে পারি না। তবে
তিনি মহাপাপকেও পরিত্যাগ করেন না, এই আশ্বাসে আবার
বলি, প্রকৃত সন্ন্যাস কোথায়? সংসার ও অরণ্য উভয় স্থানেই
থাকিতে পারে, যদি জগতের সেবার তাৰ জীবিত থাকে।
তাহা হইলে, সন্ন্যাসের মূলত বুঝা যায়, কি বনবাসে তাহা
সম্ভব। স্বর্ণ যেমন অজতের সঙ্গে মিলিত হইলে উল জ্যোতি
দেখাইতে পারে না, তেমনই সে যাগী সংসারীও পাতে
গেলে সলিল আত্মখী এই শনে, আর পৃথিবীতে আসিতে

গৃহহামে সন্ন্যাস। ৭৩ চাৰ না, আসিলেও সেবার তাৰ থাকে না, বা চর্যের আনে শুরু হইয়া বসেন। তফ বৈরাগ্যের দংশনে স্থির থাকতে পারেন , শীঘ্রই হিমালয় বা ওঁকার নাখ গমন করিতে হয়। আবার এটিও সত্য যে,বেশ দিন থাকিলে গুহা,সঞ্চিত ধৰ্মৰ লােকালয়ে বাহির হয়, সেটিও ত অধিক চিন্তাই কথা। সন্নিয়া পড়িলে, সংসারের বিষ-সিক্ত বাতাস গায় লাগে না, কেনই বা বলিবেন , আঃ-কি আরাম। এস্থলে স্পষ্টই বুঝিতেছি,ঈদৃশ গুরু সম্মানে সম্মানিত উচ্চস্তাব থাকিতে ক্ষুদ্রতার মহত্ব কিরূপে জানিব? ক্ষুদ্র ১৪ বৃহৎ শক্তির মধ্যে যে ক্ষুদ্র শক্তিই প্রবল, একথা অতি গুঢ়, আমরা বুঝি না। একটা দুর্জয় বলশালী প্রকাণ্ড হস্তীকে যদি অত্যুজ পৰ্বত হইতে ফেলিয়া দেওয়া যায়,তাহা হইলে সে কখনই বাচেনা,তাহার অস্থি পৰ্য্যন্ত চূর্ণ বিচূর্ণিত হয়। কিন্তু পিপীলিকাটা কত ক্ষুদ্র, তাহাকে তদবস্থায় ফেলিয়া দিলে সে হেলিতে দুলিতে, নানা ভঙ্গী ভাবে, পড়িবামা, বেগে চলিতে থাকে। বুঝুন ত, ক্ষুদ্রতার ভিতরে উচ্চ শক্তির ক্রিয়া কেমন সুন্দর! সম্মান-প্রিয়তার উচ্চাভিমান কি পরাজয় নহে। ইহ সংসারে বা পৰ্বত গুহায় সজন নির্জন, ধনী গরিজ নিৰ্বিশেষ যিনি ক্ষুদ্র হইতে পারেন, তিনিই ধন্য এবং প্রকৃত অনুরাগী, বৈরাগী অথবা সন্ন্যাসী। যাহা হউক,বানপ্রস্থ ও গার্হস্থ উভয়বিধ সন্ন্যাস ত্যই উপরে বিবৃত হইল, তাহার মধ্যে শ্রেষ্ঠ সন্ন্যাস ফাহাকে বলিব ? আমার মনে হয়, আম-অনাসক্ত সন্ন্যাসই ঐশী শক্তি সম্পন্ন। তা না হইলে, বিশাল বিয়াজ্যে, দেশে দেশে, গ্রাম নগর বিভাগে এ বাসের ব্যবস্থা কেন! দু-চাৰিটা ত্যাগী সন্ন্যাসী ৭৪ তৰ্বোপনিষ। হিমালয়ের শেষ পার্শ্বে নির্জন গুহায় রাখিয়া দিলেই ত হইত। তবেই বিবেচনা হয় যে, বিশ্বনিয়ন্তারও ইচ্ছা—আশ্রম-অনাসক্ত সন্ন্যাস। অস্পৰ্শ মহাশক্তি রূপে সকলের মধ্যেইত বিহার করি তেছেন এবং জগৎকে আশ্রম-অনাসক্ত বৈরাগ্য তত্ত্ব বুঝাইতে- ছেন। তিনি যদি ত্যাগী বৈরাগ্যের মত্ততাকেই ঠিক জানিয়া চীন তাতারের সমীপবর্তী কোন একটী নিভৃত গুহাতে থাকি- তেন, তবে অসংখ্য জনপূর্ণ সংসারের দশাই বা কি হইত, ঐ কয়টী সন্ন্যাসী’লইয়াই বা কত সুখী.হইতেন ? এস্থলে স্পষ্টই বিবেচনা হয়, সন্ন্যাসের গূঢ় মৰ্ম্ম বিশেষরূপে অনেকে বুঝিতে না পারিয়া গৃহস্থাশ্রমের প্রতি ঔদাস্ত প্রদর্শন করেন। শ্মশান-বৈরাগ্যে জীবনকে শ্মশানের ন্যায় করিয়া তুনেন, বস্তুতঃ তাহা সম্পূর্ণ ভুল। অবিদ্যার শাসন হইতে কোথাও মুক্তি নাই, সৰ্বত্যাগী হইয়াও ঐ গুহাটা, ঐ কমণ্ডলু, ঐ মৃগ- শাবকটীর জন্য ব্যাকুল হইতে হয়। সেই স্থান টুকু যেন জননী জন্ম ভূমিশ্চ”-বলিয়া বােধ হইতে থাকে, অরণ্যেও আসক্তির রাজত্ব। সূক্ষ্মভাবে দেখিলে কোথাও নিরাপদ দেখা যায় , অথচ সংসারবন সর্বত্রই নিরাপদ। প্রাণে যখন ব্ৰহ্ম চিন্তার উদ্রেক হইতে থাকে, তখন কি কলিকাতা মন এবং ওঁকার নাখ বা হিমালয় পর্বতই ভাল বলিয়া বােধ হয়, বিশ্বরাজ্যের সকলই যে আপনার হইয়া যায়। কে বিনীত, কে দুর্বিনীত, এ-সকল বিচার আর থাকে না, লোকালয় অমৃতময় হইয়া যায় এবং সাধনের উপযুক্ত ক্ষেত্র বলিয়া প্রতীতি জন্মে। তখনই বনের বৈরাগ্য গৃহীকে আলিঙ্গন করিয়া শান্তি লাভ করে, বুঝিতে পারে বহু জনাকীর্ণ জনস্থানে সন্ন্যালের বীরত্ব কেমন মধুম।

গৃহস্থাশ্রমে সন্ন্যাস। ৭৫ এইত নাম-অনাসক্ত বৈরাগাের গতি ত্যাগীয় মিলন। এখন দেখা যাক, পর্বতের পরমহস কি বলিতেছেন। নিতে কৌতুহল হয় কি? বাস্তবিক ত্যাগী সন্ন্যাস হইতেই পয়ম- হংসের প্রতি। কিন্তু বায়ু-স্তম্ভিত কুন্তকাদি বীর যােগী মত নহেন, তাঁহার আম অনাসক্ত উদাসীনতা প্রাণের প্রিয় ও প্রার্থনীয়। তিনি কখন বা পর্বতের গুহ গুহায় পরমানন্দ ভােগ করেন, কখন বা লােকালয়েও সৰ্ব্বভূতময় ব্রহ্মজ্ঞানে ভেদকে দলিত করিয়া স্বর্গীয় প্রেমের ভাবে চিরসপ্ত নয় নারীর প্রাণে আশা দেন। জাত্যাভিমান মহাপাপ পদতলে অবনত, সকলের হস্ত-অম্নে পরিতৃপ্ত। ভােজন করাইয়া দিলে ভােজন করেন, নতুবা না। ঈদৃশাবস্থাতেও একটুকু বলিবার কথা আছে। আম- অনাসক্ত ব্যক্তির উদাসীনতার সঙ্গে যােগ থাকিলেও তিনি পূর্বের ত্যাগী সন্ন্যাসের অসহিষ্ণু অধৃতি ভাব হইতে নিষ্কৃতি পান নাই। কিন্তু আশ্রম-অনাসক্ত পরমহংসকে তাহা ভােগ করিতে হয় । স্ত্রী পুত্র বহু পরিজনে পরিবৃত হইয়া, সেবা ধর্মের সাহায্যে “মৌলিস্থিতঃ কুম্ভ: পরিক্ষনিয়?” এই ভাবে ব্ৰহ্মযােগে পরমা- নন্দ ভােগ করেন। বাহ্মসমাজ জাতিছেদ করেন না, অভেদ- ময় ভ্ৰাতৃভাবই ইহার একমাত্র হৃদয়ের সঞ্চিত সম্বল। বস্তুত গার্হস্থাশ্রমের পরমহংসের সহিত ত্যাগীর অসামঞ্জস্য ভাব কিছুই নাই, তীব্র সন্ন্যাস বিভিন্ন মাত্র। ভাবিয়া দেখিলে তাহাও দােষের নহে। ত্যাগী পরমহংস যখন প্রত্যেক পরিবারই ব্রহ্মময় ভাবেন, তখন একদিকে দেখিতে পাই, তিনি সরলতার আশ্রয় তা। তথাপি তিনি সেবা বর্জিত বলিয়া গৃহশ্রমের অনাসক্ত ৭৬ তলােপনিষ। পরমহংসের নিকট অবশ্যই লজ্জিত, এ কথার সংশয় নাই। পবি- ব্রা পরমেশ্বর যে সেবা-শশ্মকেই শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করিয়াছেন। আশ্রম-অনাসক্ত সন্ন্যাসী, ত্যাগীর ব্রহ্মভাৰ বিষয়েও কোন বিষয় নন নহেন। তিনি তন্তু কীটের মত সংসারের বিপ- জালে জড়িত ও বিভু-প্রদত্ত পরিবার, সেবাশৃঙ্খলে-নিবন্ধ, এমন অবস্থাতেও কেমন সুন্দর নলিনীদলস্থিত জলের ন্যায় অস্পর্শ ভাৰে শ্ৰহ্মানন্দ ভােগ করেন। এ কি সাধন-বীরত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নয়? আরও দেখুন, অধিকাংশই যােগ-প্ৰবৰ্ত্তকের সংসারের অশেষ প্রকার বিঘ্ন বিপদ সহ্য করিতে না পারিয়া ত্যাগী হইয়াছেন, ফলতঃ গৃহস্থাশ্রমী সাধকগণ বিপজ্জালকে যেন শরীরের বর্ম করিয়া বীর সাধনের জ্বলন্ত ব্ৰহ্মভাব দেখাই- তেছেন। আমি মনে করি,গিরি পুরী ভারতী প্রভৃতি যে সকল সন্ন্যাসী দেখা যায়, সরল হৃদয়ে ভাবিয়া দেখিলে, গৃহস্থাশ্রম- সন্ন্যাসের নিকট তাহারা সকলেই দুর্বল। শােণিত শুক্রময় শরীর গ্রহণ করিয়া, জগতের ধারাবাহিক উন্নতির জন্য যে পুত্র কন্যার প্রকাশ,ইহার পথ অবরােধ কি ঈশ্বরের ইচ্ছার বহির্ভূত নহে। অথচ দেখিতে পাই, তাহাদের মধ্যেও মধ্যেও অনেকে ঘাের সংসারী। কাসর ঘন্টার বাদ্যোদমে ধাতু প্রস্তৱাদি নির্মিত বিগ্রহ পরিবার লইয়া নির্জীব গার্হস্থ ধর্মে উত্ত, ইহা অপেক্ষা প্রকৃত সংসারের সেবা, কি দোষের? যা সকলেই বুঝিতেছেন, অধিক বলিবার আবশ্যকতা নাই। এখন উরে মহাযােগী কি বলেন? ইরি-সংবই * ইহাদের জমিদায়ী, আগ বাগিচা, বাণিজ্য ব্যবসায় প্রভৃতি সকলি আছে, কোন বিষয় অভাব নাই। মালদহ মুর্শিদাবাদেই অধিকার বেশী।

গৃহস্থাশ্রম সন্ন্যাস। ৭৭ ত্যাগীর নিষ্কলঙ্ক ও পবিত্র ধর্ম, ইহার সহিত গৃহীর সাক্ষাৎ করিবার সাধ্য নাই। আমি একথা বলি না, উদ্ধরেতা সন্ন্যাস- তৰে বীরত্ব নাই। তাহাদের মত সংযমী যােগী সংসারে অতি বিরল। কিন্তু গৃহস্থাশ্রমে সংযমের মূলত আমাদের অভিজ্ঞতা- দোষে উৎস যাইতেছে। তথাপিও, সংসার ক্ষেত্রে সাধন শ্রেণী বিভাগে, কোন কোন সম্প্রদায় মধ্যে যাহা দেখিতেছি, তৎসম্বন্ধে নিরাশার ভাব মনে হয় না। উদ্ধরেতার অর্থ কি প্রাণীর বিনাশ! ইহা কখনই সম্ভব বলিয়া বােধ হয় না। অযথা শুক্রপাত না করিয়া ঐশী নিয়ম রক্ষাৰ্থ ধৰ্ম্মপত্নীর ঋতু সমাগম কালে, নিঃস্বার্থ ব্ৰহ্মচিন্তা দ্বারা মহাযােগে প্রেম স্বরূপ পুত্র ও প্রতি স্বরূপা কন্যা প্রকাশ হয়। এ বিষয় সংক্ষিপ্ত ভাবে ইতঃপূৰ্ব্ব উক্ত হইয়াছে, প্রসঙ্গক্রমে এখানেও বলিতে হইল। দৈহিক ব্যাপারে প্রবৃত্ত থাকলেও ব্রহ্মের অভিন্ন মিলনের মগ্নাবস্থাই সন্ন্যাস। যে সময় পাথিব কামনা কিছু থাকে না, তাহাই বিশুদ্ধ সন্ন্যাস ত । এতন্নি যিনি ইসি চবির্গে অযথা শুক্রপাতকে মহাশপ বুঝিয়া ধৰ্ম্ম সাধন করেন, তিনি কি সংযমী উৰ্দ্ধরেতা নহেন ? এরূপ এক্ষনি আমােৰ্দ্ধরেতার সংগম বীরত্ব, কে না স্বীকার করিবেন ?•তাই ভাবি, আমরা যেন মনের কল্পিত সঙ্গম প্রচ্ছন্ন রাখিস। বাহিরে উদ্ধরেতা না হই। বাস্তবিক, বিভুর অখশুনায় নিয়ম পালন না করিয়া, প্রব্রজ্যাশ্রমে প্রবিষ্ট হইলে এবং সংসারের সেবাধর্ম উপেক্ষা করিলে, অপরাধই সম্ভব। ও বলিতে হয়, জন্য বলিতে হয়, ত্যাগীর তুলনায় অনাসক্ত সন্ন্যাস কিছুতেই দুর্বল নহে। গৃহস্থাশ্রম-সন্ন্যাসী সকল বিষয়েই শ্রেষ্ঠভাব দেখাইতেছেন। এলে অনেকে '৭৮ MAJU TUBLIC LIBRARY তৰােপনিষদ। আপত্তি করিতে পারেন, সংসার কি সাধনের যােগ্য ক্ষেত্র হইতে পারে? কেন হইবে না? মায়াময়ী পৃথিবী ত ঈশ্বরের পরিত্যজ্য বলিয়া বিবেচনা হয় না। ঐ বৃক্ষ বল্পী সমাকীর্ণ পৰ্ব্বত কাননই তাহার আদরের, ইহাও ত সম্ভব নয়। যদি, গৃহীগণ বার্থচিন্তা ও অহম্ভাবাদি হইতে মুক্তির জয় চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উপযুক্ত ঐশ্বরিক তকের বিধান সমূহই বা কেন সংরক্ষিত বা আদৃত হইবে না? সার্বভৌমিক উদারতা ও সরলতাই বা কেন মানব সমাজকে অধিকার করিবে না ? অনাসক্ত সন্ন্যাসই বা কেন জাগ্ৰৎ ভাবে সকলকে দীনতার উপদেশ দিবে না ? ঋষিদিগের ধর্মবিভাগ ব্যবস্থানুবর্তী অধিকাংশ ব্যক্তিই বলেন, সে কি—সংসারে সন্ন্যাস ! এ কি কখন হইতে পারে ? পৃথিবী সর্বদা সংগ্রাম, রথচক্রের ঘর্ঘর শব্দে ও হস্তী অশ্বাদির পদোখিত ধূলিপটলে আচ্ছন্ন থাকিবে, অজস্র অসংখ্য নরক্তে স্নান করিয়া পরিতৃপ্ত হইবে, এখানে আবার ব্রহ্মচিন্তা বা স্য- সের কথা কি? ইহার উত্তরে বলিতে হয়, ঐ বিশ্বাস কি চিরপ্রসিদ্ধ ? এখন এরূপ চাপা দেওয়া কথা আর থাকিবে না। অনেকেরই প্রাণে সাধুভাব জ্বলিয়া উঠিয়াছে, শাস্ত্র-ঝলসিত চক্ষু বেশ পরিষ্কার হইয়াছে,হৃদয়ে সদ্গুরুর উপদেশ বুঝিতে শক্তি জন্মিয়াছে। সংসার ও বন এক অনন্ত অনাসক্ত পরম সন্ন্যা- সীর ভিতরে মগ্ন রহিয়াছে। অতঃপর গৃহস্থাশ্রমে সন্ন্যাস সাধন অসম্ভব বা বিস্ময়ের কথা নহে। প্রত্যেক নরনারী যদি ঐশ্বরিক নিয়ম অনুসরণ করিয়া মধুর মহাযােগে সংযমী হন, তাহা হইলে সংসার ধর্ম প্রদান করিবে, সলেহ কি? Estd, 1902. ILI RAH ধ্যান বা চিন্তা। প্রাণীমাত্রেই এক একটা চিন্তার অনুসরণ-প্রিয়। কেহ বা ধনৈশ্বর্যের নিমিত্ত বিজ্ঞান চিন্তার মস্তিষ্ককে এতই আপড়িত করিতেছেন যে, মুহূর্তকালও বিরাম নাই। কেহ বা গ্রহ উপ- গ্রহের গতি স্থিতি নিরূপণে, এমন কি, ঐ তেজোময় সূৰ্য্য কি কি পদার্থে গঠিত, তাহার আবিষ্কার ও অনুসন্ধানে এমনই ধ্যানে মগ্ন যে বানরহিত হইয়াছেন। কেহ বা পৃথিবীর সপ্তকীর্তি মধ্যে তাজমহলের কারুকার্য কৌশলে অবাক হইয়া দিবারাত্র সেই অতুলনীয় চিন্তাতে ভাসিতেছেন। একা মনুষ্য কেন, পশু পক্ষ্যাদিরও শাবক রক্ষা ও আহারের জন্য চিন্তা অবিচ্ছিন্ন। এই অর্থে কি বলা যায় না, সকলেই ধ্যানী ? ইহাই সংসারের প্রত্যেক ব্যাপার মধ্যে ধ্যান অথবা চিন্তাশক্তি নিহিত আছে বটে, কিন্তু তাহা প্রকৃত নহে। ঐ প্রাণিহত্যা ব্যাধ, পাখীটীর প্রতি যে অকম্পিত শর লক্ষ্য করিয়াছে, তাহাকে কি বলিতে পারা যায়, সে ধ্যানী ? অথচ ইহার ভিতরে ভক্ত সাধু ভাবে শিক্ষাগ্রহণ পূর্বক ব্যাধকেও গুরু বলিয়াছেন। এগুণে বুঝিবেন,স্পর্শমণি যেমন লৌহময় বস্তু সকলকে স্বর্ণ করিতে পারে, কিন্তু নিজে নিষ্প্রভ প্রন্তর, তেমনই ঐ পাখীটির প্রতি নিষাদের শরলক্ষ্যভাবে অন্যের উন্নতি হয় বটে, ফলতঃ ব্যাধের প্রকৃতির পরিবর্তন হয় না, তাহার হৃদয় যে পাষাণ হইতেও কঠিন। ইহাতে স্পষ্টই বিবেচনা হয়, ঐশীচিন্তার অভাবে মূল বস্তুর ধ্যানে ডুবিয়া গেলেও তাহা শান্তির কারণ নহে। এবং পদার্থগত বিজ্ঞান ৮. তত্বোপনিষ। চিন্তাতেও চিত্ত যতই কেন বুক না, তাহাতে প্রকৃত ধ্যান বা চিন্তা দ্বারা সুখী হওয়া যায় না। ধ্যানের চারিটী ভাব আছে। বিজ্ঞান প্রশ্বস কর্ষণ, বিরাট, অনন্ত। প্রথমটা, ইতঃপূৰ্ব্ব যাহার উল্লেখ করা গেল, উহা বিজ্ঞান চিন্তা। দ্বিতীয়তঃ দক্ষিণ নাসিকার দ্বার হইতে হৃদয়স্থিত ব্রহ্মকে বাহির করিয়া, কোন একটা ক্ষুদ্র পাত্রে নানা প্রকার পুষ্পে পূজা ধ্যান দ্বারা, আবার প্রশ্বাস প্রক্রিয়াযােগে হৃদয়েই স্থাপিত করা, ইহা প্রশ্বাস কৰ্ষণ ধ্যান বা চিন্তন। তৃতীয়তঃ, ধাতু প্রস্তৱাদি নির্মিত কল্পিত মু—িচন্দ্র, সূৰ্য্য জগৎইত্যাদি সাকার তত্ত্ব সকল ও সৰ্বব্যাপী মহাশক্তিকে একত্রীভূত করিয়া বিরাটরূপ ভাবনা। চতুর্থতঃ সূচিকা ছিদ্র প্রবিষ্ট সূত্রের ন্যায় ধ্যানসূত্রে স্থূলতত্ত্ব সমূহ ভেদ করতঃ একমাত্র নিরাকার নিত্য বস্তুর ধ্যান অথবা অনন্তকে চিন্তা। এই ধ্যানভাব চতুষ্টয়ে, নিরাকার অনন্ত চিন্তা প্রসিদ্ধ । এতদ্ভিন্ন অন্যবিধ ধ্যানের অবস্থাকে যােগীরা গন্তব্য পথের সময়- পাত বলিয়া স্বীকার করেন। স্থূলতত্ত্বময় বিজ্ঞানে ক্ষণকালের জন্য তৃপ্তি, প্রশ্বাস কৰ্ষণ ব্যাপার ইন্দ্রজাল থেলা, সাকার নিরাকার বিরাট ভাবনাতেওযােগবিভ্রাট হয়, এজন্য অনন্ত * গীতায় লিখিত আছে ব্রহ্মের এইরূপ- দিব্য মাল্যাম্বরধরং দিব্য গন্ধানুলেপন। সাশ্চষ্য ময়দেব মনস্তং বিশ্বতে মুখম্। অর্থাৎ তিনি দিব্যমাল্য ও দিব্য যন্ত্রধারী দিব্য গন্ধদ্রব্যে অনুলেপিত, সাশ্চৰ্য্যময়, প্রভাময়, অনন্ত এবং সর্বত্র মুখ বিশিষ্ট। ইহাকে কিরুপে বিরাট ও নিরীক্ষায় অনন্ত বলা যায় ?

ধ্যান বা চিন্তা। ৮১ টিকাই শ্রেষ্ঠ ও ধ্যানী সাধকের সিাবস্থা। এই বিশুদ্ধ ধ্যান যােগে ব্রহ্মোপলব্ধির অধিকার জন্যে, অদৃষ্টি পরিষ্কাররূপে প্রকাশ পায়, ইন্দ্রিয়াসক্তির কূটবন্ধন ছিন্ন হয় এবং মৰ্ম্ম-প্রবিষ্ট বাসনার গ্রন্থ সমূহ শিথিল হইয়া যায়। চিত্তের বহিমুর্থ তীব্রণতি ক্রমে ক্রমে অন্তর্হিত হইতে থাকে, বহিশ্চিন্তার উত্তেজনায় স্বার্থ প্রলােভনপূর্ণ সংসারের নানা পথে ভ্রমণ করিতে আর ইচ্ছা হয় না। শুভবৃত্তি-প্রদর্শিত পবিত্র পথের অনুসরণে কামাদির দুর্জয় বল দুর্বল হইয়া পড়ে, সাধক সামজনিত তৃপ্তি একবারে পরিত্যাগ করেন এবং নিষ্কাম যােগশক্তির আকর্ষণে অনাসক্ত বৈরাগ্যের সাধন-সাহায্য বুঝিতে সক্ষম হন। ঈদৃশ অবস্থাকে ধ্যান-প্রবর্তক বলে। যে পর্যন্ত সাধক শক্তি না জন্মে, সে পর্যন্ত ব্ৰহ্মচিন্তা বা ধ্যানের গুঢ়তত্ব বুঝা যায় , নিরবচ্ছিন্ন নিবিড় অন্ধকার ভিন্ন আর কিছুই সৃষ্ট হয় তাহার মধ্যে বিষম বিপদসঙ্কুল আমিথের বিচিত্র লালসায় পৃথিবীর ঘটনা সমূহ বুদবুদের ন্যায় অবিশ্রান্ত ফুটিতে থাকে, এই নিমিত্ত সাধক শক্তির প্রয়ােজন। বাস্তবিক খান রাজ্যে আবার ঐ ভয়ানক অন্ধকারই অকৃত্রিম বন্ধু বা সহায়। যদি আমিদের আধিপত্যকে বিনাশ করা যায়, তবে আর কি থাকে না, একমাত্র অন্ধকারই গতি স্থিতির উপায়। চিত্ত তখন সেই ভীষণ অন্ধকার ঠেলিয়া কোথায় যাইবে ? অগত্যা একাকী মহয়ে আক্রান্ত হই স্বভাবত ব্ৰহ্মনাম না নিলে আর উপায় কি ? কিন্তু নাম সাহায্যেও সাধকের হয়। পরীক্ষা আছে, কারণ সে উপায়হীন ৰলিয়া তাহার নামে কচি; এজন্য বিশ্বাস ব্যাকুলতা দৃঢ় কি দুর্বল কেনই বা এ জানিবেন না? উত্তরােত্তর ২ তৰ্বোপনিষদ। বিভীষিকাও অসহিষ্ণু দুর্বলতাৰ প্ৰলহইতে থাকে। কাশক্তি আকর্ষিত ছায়াময় মায়া-শরীরী কৃষ্ণ চৈতন্য প্রভৃতির প্রতি কৃতি দর্শন, তাহারাই অভীষ্ট দেবতা ও গতি মুক্তি দাতা পরি জা, ইত্যাদি প্রলােভনে মহাপ্রভুর মহা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে পারিলে, কোন একটা অদ্ভুত ব্যাপার দেখিয়া পতিত হইতে হইবে, আশ্চর্য কি ? যিনি নিরাকার অনন্ত নিত্য সত্যের চিন্তা ব্যতীত বাঁচেন না, তিনি প্রকৃত বিশ্বাসী ও অকৃত্রিম ব্যাকুলতার ভিখারী। সম্মুখে যতই কেন পরীক্ষা প্রলােভন আসুক না, বিশ্বা- সের জলন্ত তেজে তিষ্ঠিতে পারে না, তাহা ঐ নিবিড় অন্ধকার মধ্যেও ঐশী প্রভা তড়িজ্জ্যোতির ন্যায় দৃষ্ট হয়। এই আশার দীপ অলিতেছে, ইহা সাধনের পরিণাম এবং সাধকত্বের ফলও বটে, কিন্তু ধ্যানের সিদ্ধাবস্থা নহে। ধ্যানের সিদ্ধাবস্থা কি? ব্রহ্মে মনক্ষুর নিষ্কলঙ্ক দৃষ্টি বা লক্ষ্য স্থিরকরা। “জ্যাসা নাগরীক চিত গাগরীমে”; ভােজনে, ভ্রমণে, শয়নে স্বপনে অবিনাশী নিত্য পুরুষের ধ্যান বা চিন্তা। যাহার চিত্ত দিগন্ত্র শলাকার ন্যায় অবিচলিত ভাবে ধ্যানে নিয়ত নিমগ্ন রহিয়াছে, সম, দম, তিতিক্ষাদির দ্বারা বিষম বিষয়াসক্তির যাতনা হইতে নিষ্কৃতি পাইয়াছে, পবিত্ৰাত্মার দর্শনাকান্দায় অবিচ্ছিন্নধ্যানে একটুকু বিচ্ছেদ ঘটিলে যিনি অত্যন্ত ব্যাকুল হন, তাঁহারই এক রূপ সিদ্ধাবস্থা বলা যায়। নতুবা ধ্যানাবস্থায় হাইকোর্টের নজীর ভাবিলে সকলই বৃথা। নিষ্কাম বিশুদ্ধ চিতই যােগ। সন্তানের শরীয়পাত, ঐশ্বর্যের ক্ষয়, স্বাস্থ্যের অভাব, এরূপ সকল অবস্থার উপর অনাসক্ত বৈরাগ্যের জয়, ইই খানের অনুকূল অবস্থা। বলিতে কি, মানুষ যতক ধ্যান বা চিন্তা। বাসনার দাসত্ব হইতে মুক্ত না হয়, ততক্ষণ ঐ মতিনী, অব্যর্থ আকর্ষণে অবিশ্রান্ত ঘুরিয়া বেড়ায়। তবেই দেখুন বাবর সহিত চিত্তের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাহা অনাসক্ত বৈরাগ্যই ঘুচাইয়া দেয়। কাজেই সাধন হিতৈষী বন্ধু বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। বস্তুতাই সাধন পথে বিশ্বাস বৈরাগ ব্যাকু লতার আশ্রয় ব্যতীত অভীষ্ট চিন্তার প্রতি সম্যক প্রকারে নির্ভর শক্তি জন্মে না, এজন্য প্রথমতঃ ঐ সমুহ দেবতরেই সেবা করা একান্ত প্রয়ােজনীয়। ইংসিদ্ধ হইলে,ব্রহ্মসাধন ও ধ্যানের কোনরূপ বিঘ্ন বিড়ম্বনার আশঙ্কা থাকে না। শাস্ত্রে সাধনত বিবিধভাবে বিবৃত রহিয়াছে। প্রকার সাধন মধ্যেই প্রবর্তক, সাধক ও সিদ্ধ, এই তিনটা অবস্থা আছে। ধ্যান সম্বন্ধেও তদরূপ ব্যবস্থা আছে। মানুষ সহসা প্রক্রিয়া-বশীভূত হইয়। প্রথমেই প্রবর্তক অবস্থায় বিস্তৃত ক্রিয়ায় জড়িত হইলে, সাধকত্ব প্রাপ্তির সময় কৈ, যে ষটচক্র ভেদে মত দুর্জয় জটিল পথকে অতিক্রম করিয়া সিদ্ধাবস্থায় পঁহুছিতে পারে। বিশেষতঃ জড়বিজ্ঞান, প্রাণায়াম কুন্তকাদি তীক্ষ্ণ অস্ত্র ধরিয়া প্রহরীর কাৰ্য্য করিতেছে। আহা! সাধনা প্রবর্তকাদি ভাবয়ের স্বভাবিক গতির প্রতি কি ইহারা এই বীতস্পৃহ যে, নাসিকার উপরে চিত্তকে না বসাইলে আর কোন উপায় নাই। এইরূপ বহুবিধ অসাড় সাধন দ্বারা সাধকের সিদ্ধাবস্থার আশা করা নিতান্ত অসম্ভব। আবার অনুকূল তাকাইলে এ সকলও ত থাকে না; পরিশেষে ক্লান্ত হইয়া সমুদায় পরিত্যাগ করিতে হয়। একটু ভাবিয়া দেখিলে কি বুঝিতে পারা যায় না যে, সকলের ভিতরে এক মহত্ত বিমান তন্যোপনিষদ্ । করিতেছে-ভাবিক তত্বন। ইহা আপনা হইতেই প্রকাশ পায়, ইহা জড়ীর বিজ্ঞান বা ঔালিক কোনরূপ ক্রিয়ার অধীন নহে। জীবনশাদশী বােগীগণ বুঝিতে পারেন বলিয়া তাহারা প্রক্রিয়াগত প্রবর্তকাদির সাধন বিষয়ে অনুরক্ত হন না, অথচ ঐ অয়ে,বাভাবিক ভাবে ব্ৰহ্মশক্তি বর্তমান দেখিয়া সিডিলাভ বাস্তবিক, বিশ্বাস বৈরাগ্য ব্যাকুলতা প্রভৃতি দেব তত্ত্বের সহিত চিত্তের অমিয় ভাবে মিলন হইলে, সকলই সহজ হইয়া যায়। নিৰ্ভৰ-বিরুদ্ধ প্রক্রিয়াদির কাৰ্য্য সমূহ যে সাধন পথের বিয়, তাহা স্পষ্টই বিবেচনা হয়। সাধকদিগের জ্যোতি উন্মােষিত হইলে বহিদৃষ্টি দ্বারা যে সমস্ত প্রলােভনে প্রাণকে আকুল করে, তাহা কিছু থাকে না। এক মাত্র ব্রহ্মচিন্তা ক্রমে কমে প্রবল হইয়া উঠে, হৃদয়-দেবতার ভাবনা ব্যতীত আর কোন বস্তুতে স্পৃহা থাকে না। বেদ বিজ্ঞানাদির বিধান সকল তাহাদিগের নিকট পরাস্ত হইয়া পড়ে। জীবন-শাস্ত্রের আতি- থানিক শব্দ বা ভাষা তাঁহারা বুঝিতে পারেন, পৃথিবীর বিজ্ঞান- তাদির শাসনে কখন বদ্ধ থাকেন না, মােহ পিঞ্জর ভেদ করত অনন্তের পাখী অনন্তের মধ্যে ছুটিয়া বেড়ান। জগতের বিচিত্র তার ভিতরে থাকিয়াও কিছু দেখিতে পান না—কেনই বা দেখিবেন ? সাধকচিত্ত যে অবাকম্পিত দীপ-কলিকার চায় একমাত্র ইষ্ট চিন্তায় নিত, টলিবে কেন? চকু থাকিতে অন্ধ, কৰ থাকিতে বধির, বাত্তি সত্ত্বেও মুফ। নিদ্রিতাবস্থায় যেমন আত্মশক্তি যােগে স্বর্গের অতুলনীয় সৌন্দর্য্যে নিম থাকে, পার্থিব শরীর সর্প-শবৎ বৃখা হয়, তেমনই সাধকগণের ধ্যান বা চিন্তা। চিত্ত এ ধ্যানে জুৰিয়া যায়। মুখ দিয়া বকনাফী মহা কা-ে মনে একটা বৃহৎ ৰহি যার চলিয়া গেলেও যেধিতে গুলিতে পান না। তখন তাঁহাদের পার্থিব ইক্রিয় সফল আসা হইয়া যায়, এজন্য তাহারা জগতে অবস্থিতি করিয়াও শত। ধ্যানীর ব্রহ্মচিন্তাই কযােগ। ঐ নিবিড় অরই সহায়, মহভয়ই বহু ব্ৰহ্মনাম সুত্ৰই অসীম আকাশে স্থিতির উপায়। সেখানে প্রভুই উপদেষ্টা ও পথ প্রদর্শক। আচার্য্য উপাচার্যের অধিকার নাই, যদি থাকে এমন কেহ বুঝেন, তাহা হইলে তিনি প্রকৃত ধ্যানী নহেন, পতন আশঙ্কা হার সন্ধে সম্পূর্ণই সম্ভব। এজন্য ধ্যানীগণ, অনন্ত পথমধ্যে কোন প্রকার পরিমিত জপ অথবা স্কুল বন্ধ রেখামাত্র সৃষ্টি করিলে অশনি- হারবৎ যাতনা বােধ করেন। বিহঙ্গমগণ যেমন শবরের শর নিঃসরণ শব্দে আকুল প্রাণে অসীমাকাশকেই নিয়া স্থান বুঝিয়া উন্ধে উঠিতে থাকে, তেমনই, ধ্যানীয়া উপযুক্ত এলােভনপূর্ণ কোন রূপ বাধা বিপ্ন দুর্ঘটনাতেও, এই আয় জাতা, এই দৃঢ় বিশ্বসে ধ্যানলে চলিয়া যান। কারণ তাহারে প্রদর্শিত অভ্রান্ত পথই বে ক্ষ্য—তাহারা মানবীয় অপূর্ণ শক্তির উত্তেজনায় বিচলিত হইবেন কেন? বিশেষতঃ মধ্যবর্তী ভাবে যে পূর্ণাঙ্গ ধ্যানের অবস্থাকে স্নান করে, তাই তারা ** ধানের চারিটি ভাৰ সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ণিত হইয়াছে, এলে গুচতুষ্টয়ের বিষয় সামান্য কিছু বলা আৰখক। মিতি, সত্যনিষ্ঠা, ৰাৰ ও চিৰােগ ধ্যানের এই চাষি আৰ। নিবৃত্তি গর্ষে সিদ্ধা, সাধকের ই মূল ।

অবাপনিষদ
সশক্তির বলে সত্যনিষ্ঠা ও ব্রহ্মতা প্রকাশ পায় এবং উন
পা উক্ত করিয়া চিন্তাশক্তিকে মহাশক্তি মধ্যে : করে।
উহাকেই ধ্যানযোেগ বলে। ফটিক প্রস্তর তুচ্ছ, স্বচ্ছ চিন্তাই
ধ্যান নামে অভিহিত। ইহার ভিতরে কোন ব্যকিশক্তি
প্রতিবিম্বিত হয় না। ইহাতে কোনরূপ বর্ণ অর্থাৎ নীল লােহি-
তাধি ৰং নাই, অথচ অনির্বচনীয় শােভা আছে। আয়! ঈশ
চিত্মকাশি চিন্তা না হইলে কি সাধক কখন ঈশ্বরের ঐশ্বর্য
মাধুৰ ভাৰু বুঝিবার জন্য পাগল হন ? রাজপুত্র শাক্যসিংহ হয়
র অবিচ্ছিন্ন চিন্তা দ্বারা নির্বাণ ধর্মেও পৃথিবীকে উন্মত্ত করেন।
আহার নিদ্রা ভােগসুখের প্রতি তাহার স্পৃহা ছিল না,থাকিবে
কেন! স্বর্গের সুধাপানে ক্ষুধা তৃষ্ণা আল-মৃণাদি যে পরা।
কাকি যখন সাধকের প্রাণ মহাপ্রাণের দিকে ছুটে, তখন কি
মার’ বলিতে কিছু থাকে। আবার সমস্তই আমার বলি
নয়, কারণ, পশু পক্ষী মানৰ সকলই পিতার পুত্র। এই
মানীরা আপনাদিগকে ভূলিয়া জীবের সেবায় অনুরক্ত হন।
করে মজাৰে নিঃস্বার্থ সেবা খান আরও মধুর।
? এখৰ দেখা জাৰক ৰে, চিন্তাশক্তি মহােজ তাৰ ফি।
কোন উপায়েই ৰা সহৰে ব্ৰহ্মানে মা হইতে পারা যান।
এরে বুঝিবেন, ব্রহ্মচিন্তা বা ধ্যানের দুইটা গহি ও দৃষ্টি
আছে, একটা উk গতি, বৃষ্টি মস্তিষ্কে; অন্যটা সামt গলি,
সৃষ্টি হয়ে। এই উভয়বিধ গতি বৃষ্টি মধ্যে প্রথমতঃ উর্দ্ধ কৃষ্টিৰ
লাগগন্ধে বলা । বেদ ও অশী ॥ানীগণ যদি
কেজি,ইয়াকেই গেঠলি সান করুন, এর
লীগ আজণ কণ আইনে বিকের ক এবং,

साना सिखा
এয়ে খাদেশ দিয়েই এদেশ পায়। যদিও মনোবৃত্তির কি
মরি মন্তি-ইলে কি হয়, এ যে সকাশেই আর,
শ, আদেশ বুঝাইয়া দেন। অবশ্যই বলিতে পারা যায়, মফি
কোযে মনের চির অধিকার থাকিলেও মন দিবচত্রের গায়
নি। কারণ, আদেশ জাবের মধুর ধ্যান তাহাতে হয়
না, সােথই তত্বেরই প্রভা উদ্দীপ্ত হইয়া থাকে। নৃশ এ
জ্যোতিঃ মধ্যে চিত্ত স্তিমিতপ্রত কেনই বা হইবে।
এজ সরল ধ্যানীয়া ইহাকে তীব্রতাপযুক্ত ও ধ্যান বলিয়া খ্যা
করেন। সমদৃষ্টিপে হৃদয়কোষে চিত্তকে স্থির করিতে পারিলে
অথবা উভয় দৃষ্টি সমান হইয়া যায়। প্রেমাে চিত্ত বি
ঘটনার মূলে আদেশ তব বুঝিতে সক্ষম হয়। মাতৃকে
শিত যেন জননীর অমিয়াখা মেহবাক্যে তৃপ্ত হইতে এক
তেমনই অনন্ত জননীর পূর্ব গেহে ধ্যানস্থ চি ডুবিয়া যায়।
গীয় অখণ্ড ভাবাবেশে ধ্যানীর জীবন্ত জ্যোতি প্রকাশ
থাকে। উদ্ধদৃষ্টির তীব্ৰধ্যানের উত্তাপ শক্তি হয়ে প্রেমাকে
শীতল হয়। তখন সেই অনাদি সচ্চিদানন্দ মহাপ্রভুর জন্য এ
কাঁদিয়া উঠে। চকের গলফ কাল ইষ্টচিন্তার বিয়ে
অকালে সকল শরীর ভাসিয়া যায়।
আবার ঐ খই অখণ্ড খানের সহায়, নিবিড় একই
গন্ত শখের সঙ্গী, নামই একমাত্র না। এত সব
আছেন । ঈবে পরীক্ষা আসিল, আহয়ে ভীষণ ।
উমর বাড়িতে লাগিল। পাখিরে উড়ে না ।
সুয়ি চিন্তা সকল ফুটি উঠিল। ৰ গান ।
আর উপায় কি? অবিল কি, কেন

তথােপনি।
গাহিতে আরম্ভ করিল, পথের ব্যাহত আমি আর থাকিতে
পানি না। এখন, একমাত্র কলবাহি গভীর অন্ধকার
কি কিছু সৃষ্ট হয় না। মুমু মহঃয়ের আবির্ভব, তাহার
ভিতরে আমি আছি, ভয় কি, ভয় কি।” একি! তবে ইনি
কি মহাকাশী অভয়দায়িনী মা ! ঘন অন্ধকারই বুঝি ইহার
প। অপরিসীম অন্ধকার হইতে আমি আছি” “মাতৈ এই
কথা মাত্র। কোন প্রকার রূপ দেখা যায় না, কে যে সমেহ
মন ভাবে নামা যারা নিঃসহায় জঘন্য পাপী পথিককে
কথা কহিয়া আশা দেয়, বুঝিনা। কত সুতি, মিনতি, বলনা ও
আনা করিলাম, “আরও চল* কথা ভিয় আর কিছু শুনিনা।
এরশাদাত পড়িল-কথা কহিলে অবশ্য রূপ আছে, নতুবা
কেহইতে কথা আইসে ?” অনতিবিলম্বে শব্দ হইল মহা-
শুরু হইতে”, চুপ করিয়া থাকিলাম। ভাবিলাম, যিনি অনন্ত,
নিকার তিনি কেন শােণিতময় শরীরপিঞ্জরে বন্ধ থাকি
কেন? নিরাকার নিত্য চৈতন্য, জন্ম মৃত্যুর অধীন হইবেন; ইহাত
কখনই সম্ভব হয় না। তাহলে মানুষ, মানুষকে ভজিয়াই ও
ইর হইত! এই রূপ চিন্তা করিতে করিতে অবিশ্রান্ত চলিয়া
যাইতেছি। এমন সময়ে, জটাতন্মভূষিত ভেজা শরীরে
আল দৃষ্ট হইল। দেখিতে দেখিতে সম্মুখে আসিলেন এবং
কত যে মেহভাবে আৰ দিয়া পরিশেষে বলিলেন “বুঝি?
এ অচিন্ত্যলীলা! গন্ত পরীক্ষা। নিঃসঙ্কুচিত চিত্তে বলিয়া
ফেললাম, বুঝিয়াছি। জৰ গতিক জানিয়া অন্তর্হিত হইলেন।
এশিত ছায়াময় তো অনেকে লিলেন, যার
- প্রত্যেকে পাগল বাক নিলাম। ইহাই খালের

ধ্যান বা চি। ১ পৰিণতি অভীষ্ট সিজি; তৃপ্তি হইলনা। ঐ মহাশ আরও ইহাতে দৃঢ়তা বুঝাইয়াই কি সকলে প্রস্থান করিলেন । মূহুৰ্ত্ত মধ্যেই অনুপমেয় জ্যোতিঃ অনব্যাপী, অন্ধকার কোথায়? নিঃশন কথা নাই। তবে এ সকল কি কন? কিছু পরেই ঐ অসীম অতুলনীয় আলােকের ভিতরে আরও চল” কথামাত্র অনন্তের অন্ত নাই। কোথায় যাই, অবিশ্বাস আসিল, তখনি বিভূতির ছটা ঘটা বাড়িতে লাগিল। ঐবিভূতি অনুভুতিও অখণ্ড। তথাপি সন্দেহ পাপী যে ছাড়ে না। হা। এ সকলও বুঝি আসক্তির ব্যাপার, বা, পার্থিব সু চক্ষুর অন- প্রবিষ্ট দৃষ্টির বিকার! বােধ হয় না। সূর্যের জ্যোতির কাছে জগতের বিচিত্র সৌন্দৰ্য্য দৃষ্ট হয়, এত সেরূপ দৃশ্য নয়।.ইহার ভিতরে যে তুমি আমি” ভিন্ন আর কিছুই নাই। নির্মল নিষ্কলঙ্ক অসীম জ্যোতির মধ্যে “আমি আছি” শব্দ মাত্র। এই অসীম আকাশ পথে ঐ শব্দ-সুত্র অবলম্বন করিয়া চলিতে পারিলে, এবং ধ্যানের অটল শক্তি অনেক বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করিলে, ধ্যানী সিদ্ধাবস্থায় আসিতে সক্ষম হন। তাহা হইলে স্বাভাবিক ধ্যানযোগের গূঢ় মর্মভেদ করিয়া অতুল আনলয় দর্শন-পথ পরিক্ষাররূপে লেখিতে পাওয়া যায়। ধ্যান-যােগে ব্রহ্মের বিভূতি ঐশ্বৰ্য পর্যন্ত দৃষ্ট হয় এবং ব্ৰহ্মণ পথে উপনীত হইবার শক্তি জন্মে। ইহাই বুঝি শায় বলিতেছে থানভাব মধ্যমঃ।” বই প্রক্রিয়া ব্যক্তি খাবিক ধ্যানের অবস্থা অতি বিশুদ্ধ। ধ্যান মধ্যায় ৰস্থিতি, করিলেও স্বভাৰত ভাষায় বৃষ্টি অনন্তে, তার উন্নতির সুষ, এজন্য বিগ স্বাভাবিক খাব, আৰু তকােপনিষদ। সাক সকলেরই আদরের, সন্দেহ নাই। বিশেষত যখন ভাবে আলিয়া উচ্চগতি প্রদান করে, পৰমানন্দ মহা কোরে আট করিতে থাকে, বহিরঙ্গ ভাবের বিঘ্ন বিপদ মধ্যে এৰি হইতে দেয়না, তখন কেনইবা হৃদয়ের বস্তু বলিয়া বুঝিব না? অভেদময় ধ্যানই যােগীর গন্তব্য পথের উজ্জ্বল প্রদীপ। এমন যে জীবন-সৰ্বৰ ধ্যান-যােগ, ইহাকেও ব্যক্তিবিশেষে প্রত্যাখ্যান করেন। বৈদেশিক ভাবগ্রাহী ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি দিগের মধ্যে অধিকাংশই ধ্যান ও যােগের বিরােধী। প্রভুপা করুন। আমরা যেন স্বাভাবিক অনন্ত ধ্যানে মগ্ন হইয়া, এ যেঙ্গে মিলিতে পারি। এই কি যােগ ? , এবৰ্ত্তক, সাধক, সিদ্ধাবস্থার পরিণতি ধ্যান। ধ্যানের ধনতাই বােগ। যােগ রাজ্যেও প্রধানতঃ দুইটা ভাব দেখা যায়। একটা স্কুল ও নিরাকারে মিশ্রভাব, দ্বিতীয়টী শুদ্ধ, নিষ্কলঙ্ক, নিরাকার ভাষা এখন শুফ জ্ঞানের তাড়নায় বাহ সৃষ্টির ভিতরে যদি অখণ্ড সূক্ষ্ম দৃষ্টির যােগ করিতে যাই, তাহা হইলে স্কুল বন্তু কিছু থাকে না, আবার সুলতকের প্রতি খুল বৃষ্টি পড়িলে অনন্তও টেকেনা। পণ্ডিতগণ, উভয় দৃষ্টির বিয়ােখ অঞ্জন সম্বন্ধে একটা বালুর অনন্তের প্রকাশ বাহা প্রমাণ করেন, তাহা প্রকৃত মীমাংলায় কথা বলিয়া বিবেচনা হয় না। যদিও ঐ বালু কণার সুখণ্ডের ও পরমাণুর শেষ করা যায় না বটে, কিন্তু হাতে গড় পরিমিত সৃষ্ঠিীত অখণ্ড সূতৃপক্ষ

৯১
এই কি যােগ ।
না। কায়শ, দিব্য চক্ষু একাণে লবস্তু কিছুই থাকেনা।
নিমিত্ত সাকার নিরাকারে মিশষােগ নিতান্ত অসম্ভব।
গণও মহিমা-ঐযে সুখ হইয়া ঐ রূপ মি যোগ
সাধনে সংরক্ত হন। জগতে বিচিত্র কৃতি যে প্রয়
পীকা ও মায়া শক্তির ব্যাপার, তাহা ভক্তির আবেগে গ্রহণ
করেন না। সসীম পদার্থে অসীম ভূমান সত্যরূপের দর্শন
কিরূপে সম্ভব হইতে পারে। সাগর-প্রণয়িনী স্রোতস্বিনী
কিয়দংশ জল একটা ক্ষুদ্র পারে রাখিলে, ঐ জলে সত্য সত্যই
কি চির পিপাসা নিবৃত্ত হয় ? ভাবিয়া দেখিলে, বিচিত্র বৃক্ষ,
বল্পী, পশু, পক্ষী, মানব সকলেরইত দৈহিকের ভঙ্গু ভাব।
কোটি কোটি জগৎ সকলকে একত্র করিলেও অখও মহাশক্তির
ভিতরে একটা উপলখণ্ডের তুল্য; এজন্য মহিমা-ঐশ্বরে
পরীক্ষায় আকৃষ্ট হইয়া যােগ করিলে যে যােগবিভ্রাট হয়, একথা
কেনই বা বলিব না।
এই যে মিযােগ, ইহার ভিতরে একটুকু প্রবেশ করিলে
বেশ বুঝা যায় ধূল ক্ষের সমদৃষ্টি সাধন বড়ই দুরূহ। আপনি
স্বর্ণ ও রজতকে এক স্থানে রাশিয়া কি একমাত্র স্বর্ণজ্যোতিঃ
প্রত্যক্ষ করিতে পারেন? কখনই নয়। ধূল দৃষ্টিতে পৃথক,
করিবেই করিবে। আবার একথাও সত্য,যে বর্ণ ও য়ত উভয়
পদার্থেজ্যাতিঃ এক,অথচ বর শক্তিখাবে বিভিন্ন দ্যোতিঃ
প্রদর্শন করিতেছে। কিন্তু এক মূল জাতির প্রতি জ্যোতি
দৃপিড়িলে এক ভিয় আর দুই থাকে না। জড়ীয় বিকৃত ভাবে
ছায় সকল পত্র রূপে ব্যাখ্যা করি এ জৈব এ বৃত্তি
কমিশনে কি? সরল ভাবে অন্ততে পবিতীয়

তৰোপনিষ। অনন্তের দিকে চাহিয়া থাকিলেইত সকল গােল চুকিয়া যায়, এবং ত্রিভঙ্গ, গৌরাঙ্গ বানলিঙ্গ শরিয়া শরীর পাত করিতে হয় । অময় শমীর-কোৰ ত সকলেই হিয়াছে, কেনইবা ঐ সকল পরিমিত দৈহিক ভাবের মধ্যে ব্রহ্মত্তি দেখিব? নিজ নিজ দেহাধারে দেখিলেই ত যথেষ্ট। প্রভু কি কেবল ঐ মধুর ভিতরে, আমি পাপী, আমাকে ঘৃণা করেন, বাস প্রশ্বাস অল্পল দিয়া রক্ষা করিতেছেন না? যাহা হউক, এক্ষণে যােগতয়েই অন্বেষণে প্রবৃত্ত হওয়া প্রার্থনীয়। পণ্ডিতগণ যে অন্নময়, মননাময়, প্রাণময়, বিজ্ঞানময় হিরন্ময় পরে কোষে আত্মার স্থিতি ব্যাখ্যা করিয়াছেন, তাহাতে সময়ােচিত সাধনের দৃঢ়তার ফল প্রদর্শন করিতে পারে, কিন্তু বিয়া দেখিলে বর্তমানে ঐ সকল কোষ-পথ ক্রমশ পরিভ্রমণ প্রচুর সময় সাপেক্ষ। বিশেষতঃ আত্মার প্রত্যেক কোষে স্থিতি সরে আধ্যাত্মিক আসক্তির আকর্ষণ ছিন্ন করিতেও অধিক শ্রম- সাধের প্রয়ােজন। এক একটা কোষকে আশ্রয় করিয়া পুন- বার পরিত্যাগ করিতে হয় । এমন বিস্তৃত ভাব অপেক্ষা সহজ ও সরল ভাবে হিরন্ময় পরে কোষে যাইতে কেন চেষ্টা করা বানা? এস্থলে বলিতে পারেন, একবারে ব্রহ্মযােগ সাধনা অসম্ভব, জিয়া বা কর্ম সংযােগে শনৈঃ শশৈঃ সাধনে ব্যবস্থা ঠিক। লাফ দিম্বাই কি একবারে গাছে উম যায়। তবে কি টির প্রসিদ্ধ বিস্তৃত পথ ছাড়িয়া, রেলওয়ের দিয়া পথে আর সময়ে বৃন্দন যাইতে হইবে না? পৃথিবী ত্রিকোণ কি আয় কিছু না, বুঝিয়া কমলা লেবুর মত উত্তর এক্ষিণ কিকি পা বলি না গেলেই শাকিব? সংসার ত চিরকই উক্তি

এই কি যােগ?
৩
ও অবনতির ভাবে রহিয়াছে। অন্ধকার ও আল ই
অনন্তকাল বর্তমান আছে। স্বাস্থ্য, জলা, , মুখ, এসকল
জগতে বিচরণ করিতেছে। ৰবয়নে খেত নীল সূত্ৰশ্রেণী
যেমন অধাের্থ দুইভাগে গতিশীল, তেমনই বাহিক ও আধ্যাত্মিক
কাধও প্রকাশ পাইয়া থাকে। তাই বলিয়া এই রূপ পরি-
বর্তনে কি প্রকৃত সরল সত্যের জন্য ব্যাকুল হইব না? পূর্বতন
বৈদিক সাধনা প্রথাতে যে সকল কোষাৰ কল্পনা আছে, তাই
বর্তমানে সময় সাপেক্ষ। যাহা হউক হিরন্ময় পরে কোষ পরও
পরমানন্দময় নামে আর একটা নিত্য কোষ আছে, তাহাকে
বােগীরা সিদ্ধ কোষ বলেন। উহাতেই আত্মার কুড়াইবার স্থান।
সেখানে বিস্তৃত এ পথে যাইতে হয় না, সহজ পথ উবু
আছে। যাক্,এখন তান্ত্রিক যে বােগ পথ আবিষ্কার করিয়াছেন,
তাহাই সংক্ষিপ্তভাবে বলিব। ঐ বৈদিক ফোৰ কনা
কুকের ছায়া ধরিয়া ষটচক্রভেদ নামে যােগ প্রচার হয়, পূরক,
স্তন,মেছক এই ত্রিবিধ ক্রিয়া দ্বারা বাহিক সাধন করিতে হয়।
পরিশেষে বায়ু অন্তিত যােগ সিদ্ধিলাভ করিলে ঐকোরে
ভিতর আত্মাকে সইতে হয়। মেট্রে চতুর্থদশ, নাভিতে যই
দল, হৃদয়ে বাদশদল, ক ষোড়শদল, চক্ষুতে যিদল, মস্তিকে
সহস্রদল পদ্ম। হং কং লং ৰং ইত্যাদি বীজার নির্দিষ্ট আছে
যে ইতে মস্তিষ্ক পৰ্যন্ত ছয়ট চপদ্ম। প্রত্যেক চপ
যেভশােপচারে পূজা সমাপন করত, মস্তিষ্ক অর্থাৎ শহর
বায়ুরিতে পারিলেই যােগ সিদ্ধ হয়। বলিতে পারিনা
দেশবাধু ব্যক্তি যােগে ভানুমতীয় বালিকে পরাজয় করিয়ে
পর কি কেনই বা পারিবে না। যােগ নে বিৰে

১৪
তজােপলিব।
পলি ও সীৰিত। নিষ্ঠাবান তান্ত্রিক পূজার পর বালিটি
গিলি ফেলেন, প্রায় ঘিপত্র বিবার সময়, এনায়া
বাহির কয়েন। আহা! মনের অর্ধেত করা একমাত্র
ব্রনে নির্ভর, তা উপেক্ষা করিয়া উদর নাড়ী বাহিরে
আনিয়া ধৌত করিতেছেন। কেহবা মদ্য, মাংস, মাদি
পাকার যােগে মা হইতেছেন। যাহা হউক, এই সকল
সাৰ কি ব্ৰহ্মাণ্ড ঘুরিয়া নাক দেখান নহে?
জগতে এইরূপ বিজ্ঞান যােগ্নেই আধিপত্য দেখা যায়।
সংসারে অনেকেই অলৌকিক ঘটনাপ্রিয়, এই কারণে তাঁহার
এত তকের অনুসন্ধানে বীতরাগ হইয়া অন্ধকারে বণ
করিতেছেন। বায়ুস্তম্ভিত যােগে পার্থিব শরীর শীত ও সবল
হয় বটে, কিন্তু ঐরূপ অন্তবৌদি ক্রিয়া-শরীর কি ঠিক? না
ঈশ্বরে অবিহি, ভাৰে স্থিতি করিলে তাহাতেই সি শরীর
লত হয়। যােগিদিগের মধ্যেও অনেকে বাহিরের বিজ্ঞান
যােগে মুগ্ধ হইয়া বড়শ্বৈৰ্যজনিত ভাগবতি তর প্রতি
লক্ষ্য রাখেন না। স্কুলে গড়াইয়া নিরাকায় শরীর ত বুঝিতে
ইচ্ছা কয়েন না। রূপক বা কল্পনার কথা নহে। শম, য,
তিভিক্ষ, বিশ্বাস, বৈরাগ্য, নির্ভর, ব্যাকুলতা প্রভৃতি গীয়
দেষত সমূহের সমষ্টিই ভাগবতিত। ইহাতে ব্যয়
ঈমের ভাব জীবাত্মার প্রকাশ প্রত্যক্ষ হ, এ কে
গেমগীর বলে। যােগিগা, মে পুরীদি পূর্ণ ॥ যেহে
অনও গতি শমী কাত করে এ গান
ই চিন্তায় মা গেল। পার্থিব সে ও ইলিয়াসিম
সহিত কোনই মাকে না। মশি শতি'লে

এই কি বােগ ।
আয় সখ মাত্র মনে করেন। এমত, লে ক্ষীয় ও
সমূহকে নিরাকার তরে সহিত একীভূত করিয়া যােগ মাখলে
ব্রয় গান হওয়া নিতান্ত অসম্ভব; কারণ, এগা দল
ঈশ্বরে অবস্থিতি করিয়াও ভাবের বিকাশ এর সর্শ।
এইকারণে ব্রহ্মযােগ ঐ সমস্ত স্কুল ও বায়ুৱিদি ক্রিয়া
বা বিজ্ঞানভাবে আদপেই আসিতে পারে না। প্রক্রিয়াৰিং
বিজ্ঞানযােগী কি বুঝেন না যে হঠ প্রভৃতি নােগাদি ।
অর্থাৎ ভাড়িকৰণ ও বায়ুস্তম্ভিত ক্রিয়াযােগে অনুষদর্শিই
প্রমাণ করে এবং তদ্বারা অভীষ্ট লাতে ৰঞ্চি হইতে হয় ।
বাস্তবিক প্রক্রিয়া প্রমত্ত যােগ কি ভয়ঙ্কর। বশী
মনিষীগণও স্বার্থসম্মান সুচৰ জড়বিজ্ঞানের অলৌকিকতাৰ
প্রদর্শন করিতে জটি করেন না। বরং স্বাভাবিক সরল যোগ
তত্বকে অবিশ্বাসের অন্ধকার পথে রাখিয়া যুক্তিরভী খানের
বিশ্ব করিতে থাকেন।
ভারতে বিজ্ঞান ও হঠ প্রভৃতি যত প্রকার যােগ আছে,
তাহার মধ্যে রাজ বােগকেই অনেকে শ্রেষ্ঠ বলেন মূলতঃ ইহাতে
বিরক্ত বৈরাগ্যের ভয়ানক ঝটিকা সময়ে সময়ে এল , না
যায়। এইনিমিত্ত, ত্যাগী স্ক্রিয় সংসারীর পক্ষে ইহা বড় দু।
রহমােগ ভাৰে আনিতে পারে সত্য, অথচ কে ?
করি অরণ্যের নির্জন কারাগারে বন্ধুরাখে, ত্রিীদের
মজার,বুঝিতে দেয় না। এ ই সয়্যাসের গৰু
পর্বতগরের তৃপ্তি সদ্যোগে কলঙ্কিতখামার মনে হয় না।
সক্ত ৰৈগেৰু আয়ে যেৰেকে জাৰেৰোৰিলে
উইকেট। ইয়াৰ ভিতরে কি লং শাক,

তথােপনিষ।
বাৎসল্য, মধু, যা গুঢ়াৰে নিহিত আছে। এই উহাতে
“সােহং” প্রভৃতি জ্ঞানের আশঙ্কা নাই। বাস্তবিক,এই পাচটা
রয়ে ঘনীভূত অবস্থাই প্রেম; তত্ত্বজ্ঞানও অপ্রভেদ ভক্তি ব্যতীত
এ বি তৰে শৰ্শমুখ বা আস্বাদন বুঝিতে পারা যায় না।
জগতে নর-নারী সকলের হৃদয়ে ঐ বিশ্বজনীন প্রেম ; কাহার
বা অটভাবে কাহার বা উজ্জ্বলরূপে রহিয়াছে। যিনি সেতত্বের
অনুসরণে উদাসীন, তিনি বুঝিতে সক্ষম নহেন। সাধন বলে
আস্তির অন্ধকার বিনষ্ট হইলে, যেব্যসেবকের গূঢ় তত্ত্ব প্রাণে
জাগিয়া উঠে। তখন আর না বলিয়া থাকিতে পারা যায় না,
আহা! দাস্যভাবে সখ্যমধুরাদির সামঞ্জস্য কি সুন্দর। কি অমিয় ।
অরণ্যবাসী জ্ঞান যােগীর আত্মতৃপ্তি সত্তেও ব্ৰহ্মে স্থিতি সম্ভবত
প্রনীয়। এদিকে জীবের অখণ্ড সেবায়ও এই ভাৰ; অথচ
ইহাতে পঞ্চবিধ অসের মাধুৰ্য্য ভােগটুকু ও অনায়াসলভ্য।
তত্ত্বজ্ঞান ও ভক্তি উভয় তত্বের সাধনই আদরের। আর ?
সেবা-মগ্ন দা ও পুত্বের গুঢ়মৰ্ম্ম যিনি বুঝিতে পারেন, তিনি
কখনই ঐ স্বর্গীয় বিস্তৃত হন না। খ্রষ্টের পিতৃৰ, মহন্ত
সেম দোন্ত) বৰ, নানক প্রভৃতির প্রভুভাৰ। ভাৰিয়া
দেখুন বন্ধুভাব হইতে পুত্র ও দাস ইহা কত বিনীত। অশ্যি
আবার সখ ও মধুর হইতেও নীচ হইবার ইচ্ছা করে, সখ্য ও
মধুর তত্বকি একটু সাবকে প্রশ্রয় দেয় না? স্যাৰেষ্ট
লেটুকু আইসে না? এইভাবে জগতের সকল প্রকায় প্রাণী-
মধ্যে সংঘরূপের প্রকাশ দেখি উন্নত মস্তক নষ্ট হয় এ
সভৌমিক উদার ভালবাসায় কঠিনকায়কেও গলায় ।
ইতে মন- উচ্চমান থাকিতে পারে না। শিণে

এই কি যােগ ?
মূলি ৰুে খারশদ প্রাণ না দিয়া আর কে না।
পর্যন্ত দাস্যতাষের অভিযোগ ও ব্যাকুলতা ফুর্তি না
হইবে, সে পর্যন্ত যােগৰিাই ইবেই হইবে; কারণ ইরে
যে সকল শক্তি ও গুণ আছে, সখে ও পুজেও তাহা সম্ভবত
প্রতিফলিত হইয়া থাকে। ঈশ্বৰে সখা ও মধুর ভাবের মিলল
হইলেও বমদোষে দোতবিরহিত, আর আকাকা থাকে না।
ভাবিয়া দেখুন, জী, নানাদির ই লাত শখে প্রার্থনায়
বিয়াৰ নাই; ইহা কি সুখ নহে? কে পাইয়াও আশার
বল স্রোত নিধ্য এহিত হইয়া থাকে। এই কারণে
পুত্র ও দাস্য, মধুর ও সখ্য গবাদি ইতে শ্রেষ্ঠ। আবায়
ইহাও বলি, ধীর গম্ভীর ভাবে চিন্তা করিয়া দেখিলে, পশয়ের
মধ্যে মিলন রহিয়াছে। যেমন এক বৃতিৰ অন্তঃবিঃ জয়ি,
অল ইত্যাদি, তেমনই শান্ত সখ্য মধুরাদিতেও পুত্র ও দাস্যেয়
বিশুদ্ধ রস মিশ্রিত আছে। এ তাহার পুষ্টি কেন
হইবে না।
এই ত গেল তাৰ যােগের ।
কি, তৎসম্বন্ধে চিন্তা প্রয়ােজনীয়। পূর্ব পুরুষের শক্তি
বিকাশ জীবাত্মা, মহাশক্তি হইতে কখনই পাত্ত নহে। অথচ
মােহ যবনিকার অন্তরালে অস্থিতি অল্প মনৰ দৃষ্টি
জগতের বিচিত্র সৌন্দর্কে আকর্ষিত হয়, সে করি
পারে , এল অনেকেই আপনার মধ্যে যে জিবি
করিতেছেন, তাহা ভুলিয়া ৰিাৰে বিৰি বোৰে
কী সৌগ যুগের রায় ও করিয়েছেন। এ
বা ব্যক্তির দিন সকাল কলি গেলে ও

১৮ তৰ্বোপমিষ। পরমাত্মার নিত্যস্থিতি অপ্রকাশ থাকে না। মােহয় কুঞ্জ টিকা ঘুচিয়া গেলে আর কিছু দেখা যায় না এমোদিতীয়ং ইহা ভিন্ন আৰ ত কিছু নাই। ব্ৰহ্মই ত “তুমি জামি” মহাভাবে মহা যােগ প্রকাশ কৰেন। তিনিই দ্বৈতাদ্বৈত মধুৰ ভাবে অর্থাৎ চিচ্ছক্তিব ভাবে বিকাশ জীবশক্তিৰ একত্র সােগলীলা, ইহা যতক্ষণ বহিশ্চিন্তাব আসক্তি বিদৃবিত না হয়, ততক্ষণ ঐ স্বাভাবিক যােগ ক্ষষ্ঠি পায় না। স্বর্গীয় মহাজ্ঞানেব উদয় হইলে, আপনা হইতেই মহামিলন সােগ প্রকাশ হইয়া পড়ে। যেমন শৈবালদামপূর্ণ সবসীব আবজ্ঞনা সকল দূৰ কৰিলে, নির্মল জল বাহিৰ হম ও স্বতই কিৰণযুক্ত সূৰ্য্যমণ্ডল দেখা যায়, তেমনই ভেদবিধায়িনী পূলচিন্তা চলিসা গোল, সেব্য সেবক মহামিলন তত্ত্ব প্রচ্ছন্ন থাকে না। ইহাতে কোন প্রকার কৃচ্ছসাধন নাই,এবং মানবীয় উপদেশ ইহাকে স্পর্শও কবিতে পাবে না। এ ভূতে নিৰ্ভব,ইহাই কৰ্ম্ম,হৃদযভেদী ব্যাকুলতাই সাধন, ব্রহ্মের অাকর্ষণই স্বাভাবিক যােগ। তবেই মনে ককন কুম্ভক ও হঠ প্রভৃতি যােগ এ সকল বিজ্ঞান যােগ সাধন। এই নিমিত্ত স্বাভাবিক যােগেব মাহাত্ম্য বুঝিতে উদাসীন। ইহাব অমিষ আস্বাদন কেবল অনাসক্ত সন্ন্যাসভাব সম্পন্ন পৰমহংসই ভােগ কবেন। যাহারা ভীষণ কোলাহল পূর্ণ জনতার মধ্যে ও গভীর ভাবে চিত্তের অকম্পিত লক্ষ্য ভ্রষ্ট হইতে দেন না ও নির্ভীকান্ত- কালে খাভাখিক সবল পথে অন্বেষণে নিতে চিন্তা কবেন, তাই সংসারে অনাসক্ত পবমহংস। * চিনি একশ, নিরাফার জীবাত্মা অখও না হইলে, অনন্তের হিতি এ । পাৰে তা কােণ, ইহাকেই মামিল বলে।

এই কি যােগ ?
సిన
খাঁহাৱা,মৃণাল ছিদ্রভেদী সূত্রের খায় অসম্ভ যেগপথে প্রবেশ
করেন, গগণচিত্রিত নক্ষত্রমণ্ডল ও জগৎ সকলে গৃঢ় প্রতি
পর্শ ব্রহ্মশক্তি যোগে, প্রাণীর প্রাশার ভেদ করিয়া আত্ম
বােগে সমস্ত জগৎ সুধাময় বুঝিতে পারেন, তাঁহারাই সংসারে
অনাসক্ত পরমহংস।
ঘাঁহার, মক্ষিকা যেমন পুরীষে বসিয়া নির্লিপ্ত ভাবে
তৎস্থিত মধুপানে মগ্ন থাকে, তেমনই বিকারমর বিপদসঙ্কুল
পৃথিবীর ভিতরে ঐশ সুখপানে ডুবিয়া যান, তাহারাই সংসারে
নসরু পরমহংস।
* যাঁহারা,“একমেবাদ্বিতীয়ং” এই মহত্তত্ব বুঝিয়া চিচ্ছক্তি ওজীৰ
শক্তির দ্বৈতাদ্বৈতের গভীর যত্য অর্থাৎ সেব্যসেবক ভাবের গৃঢ়
লীলাপ্রাণে ধারণ করেন, তঁাহারাই সংসারে অনাসক্ত পরমহংস।
যাহারা, অহিংসা, সত্য, অক্রোধ, ব্ৰহ্মনিষ্ঠা, অনীষা, দয়া,
দাক্ষিণ্য প্রভৃতি সদগুণ সমূহ হৃদয়ে সজ্জিত করিতে পারিয়া-
ছেন, তাঁহারাই সংসারে অনাসক্ত পরমহংস।
যাহারা, দ্বেষ, দন্ত, অহঙ্কার, পরনিন্দা, ও তােষামাে
ইত্যাদি জঘন্য বৃত্তি সকল হইতে উত্তীর্ণ হইয়া নিষ্ঠাবান এবং
উন্মাদক ব্যাকুয়ার আশ্রয় লইতে সক্ষম হইয়াছেন,
তারাই সংসারে অনাসক্ত পরমহংস।
* হানা, জ্ঞান, প্রেম, ভক্তির একত্র মিলন সহবাসে যে,
ও, আ, ক, পুলক, রােমাঞ্চ, দুঙ্কার প্রতি ভাবাবেশে মা
হইয়া মূচ্ছর যাতনা হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া, অনন্তযােগে সা-
যিস্থ হয়েন ও পরমানন্দ ভােগ করেন, তাহাই সংসারে
অলক্ত পরমহল।

তহােপনিষ।
খাঁহার, এক একটা মানবের বৈজ্ঞানিক শক্তি সঞ্চয় ক্রিয়া
যােগে পরিতৃপ্ত না হইয়া ঈশ্বরে নির্ভর করত, অখণ্ড ভাবে
সাধুসেবা কারা আপনাকে নীচ ভাবেন এবং ঈশই পথপ্রদর্শক
গুরু বা শিক্ষাদাতা এই ধ্রুব সত্য বিশ্বাস করিতে পারেন,
তাহারাই সংসারে অনাসক্ত পরমহংস।
ৰাৰিক, যিনি সংসারে অনাসক্তভাবে নিরাকার নিত্য
সত্য পরব্রণে রূপসা লােগ করিয়া জগতের নর-নারীর
উদ্ধারের জন্য ব্যাকুল হন, তিনিই বঙ্গ। খ্ৰীষ্ট, কুশকাষ্ঠে বি ও
রজা শরীরেও ঘাতক ভ্রাতৃগণের নিমিত্ত প্রার্থনা করেন,পিত !
উহারা বুঝেনা, উহাদিগকে ক্ষমা কর।” এই বলিয়া অশ্রু
বিসর্জন করেন। এখানে বনবাসী পরমহংসেয় যােগ অপেক্ষা
পৃথিবীর কুশাহত মােগীর স্বাভাবিক যােগ কি শে নহে?
তবেই মনে হয়,অস্বাভাবিক প্রক্রিয়াযােগে ব্ৰহ্মযােগ সাধন করা
অসম্ভব, বরং ইহা না ঈশ্বরে নির্ভর ও বিশ্বাসের দৃঢ় ভিত্তি
ভাদিয়া যায়। প্রাণায়াম প্রভৃতি ক্রিয়া পদ্ধতির অনুসরণে
অব পার্থিব দেহবল বর্ধিত হয় এবং স্বাস্থ্যের সাহায্য করে
সত্য, ৰষতঃ ইহার সহিত ঈশ্বর গর্শনের কোন সম্বন্ধ দেখা যায়
; কারণ মূল বক্ততে অনন্ত শক্তি নির্লিপ্ত রহিয়াছে। সয়ল
যােগী মাত্রই মাৱিক শরীরে তদস্থভাবে অবস্থিতি করিয়া
নিকার চৈতন্যহােগে কৃতার্থ হইতে থাকেন। আকিপূর্ণ
অপূর্ণ মানবশক্তির প্রতি তত বিধান করিতে পারেন না, এই
নিবিই ভাগ মানবে দীক্ষা ও শিক্ষা অনুকূল বলিয়া ৰীয়
করে না। একমাত্র কৃপাহিকেবলং” এই অব্যর্থ শাম
দীক্ষিত হন ও জীবন গ্রন্থের দেবভাষা বুঝিতে পারে।

এই কি যােগ ?
১১
দেখিতে দেখিতে নিল বিশুদ্ধ গুন কানের উজ্জ্বল আলাে
তাঁহাদের হৃদয়ে হঠাৎ জ্বলিয়া উঠে, মােহ কুজঝটিকা চলিয়া
গেলে, তখনই দুগ্ধে সর্পিবৎ আত্মায় পরমাত্মার মিলন সুস্পষ্ট
রূপে প্রকাশ পায়। উহাই ত স্বাভাবিক যােগ, ইহাতে বুঝিবেন
যে জীবের অস্তিত্ব ঈশ্বরে লীন হইয়া গেল। লবণমিশ্রিত
সমুদ্র জল পান করিলে যেমন লবণাংশকে পৃথক ভাবে বুঝা যায়,
তেমনই অনন্ত ব্ৰহ্ম সাগরে জীৰত্বেরও স্বতন্ত্রত্ব ঘুচিয়া যায় না।
কেনই বা সেব্য সেবকের মুহা লীলা বিনাশ হইবে ?
আহা! ঐযে, ভাই ভগিনীগণ ! ধ্যানের পর পুরে অনুপমেয়
জ্যোতিঃ। আহা! সচ্চিদানন্দ অব্যক্ত রূপ কি সুন্দর।
হায়! ভাষা ব্যক্ত করিতে অসমর্থ, আকাশেরও অস্তিত্ব বিলুপ্ত ।
একি! একি! ঐরূপ দেখিয়াই কি রাজপুত্র শাক্যসিংহ
ভিখারী? নানক, “অনাহত ভেরী বাজেরে” বলিয়া উন্মত্ত ?
মেরীপুত্র ঃ ক্রুশে বিদ্ধ হন। মরি, মরি, কি অতুলনীয় রূপ
মাধুরী ! দেখিয়াও দেখাইতে পারা যায় না, বুঝিয়া ও বুঝাইতে
অক্ষম। কি অপরিসীম ভালবাসা, কত সুখ, কত আনন্দ,
কত প্রেম, কত শান্তি, সীমা নাই ! দর্শন পিপাসায়ও নিবৃত্তি
হয় না।
যতই দেখি, ততই দেখি। আশার দুর্জয় বলে
নিরাশার দর্প চূর্ণ । আহা! কি অনন্ত সৌন্দৰ্য! বর্ণনা
করিতে পার্থিব বসনা পরাভূত। অপােগও শিও যেমন মাতার
শুনযুগলে দুগ্ধ পান করে, আয় হাত নাড়ে, কিছু বলিবার সাধ্য
নাই;ৰােক যেমন মিঃ বস্তুর সাদন বলিতে পারে না, মনে
মনে গুমরিয়া মরে, তেমনই ব্ৰহ্ম দর্শন সম্বন্ধেও ব্যক্ত করা সম্পূর্ণ
অসম্ভব। কেন না, অতুলনীয় অনন্ত জ্যোতির্ময়কে ভাষা কি

তৰােপনিষদ । T রূপে প্রকাশ করিবে। প্রাণু কঁদিতেছে, সকলকে কালিপুটে বলিতেছি—যিনি দেখিয়াছেন, তিনি মজিয়াছেন। কোন প্রকার মাদক বা মফিয়ার খেয়াল নহে। ব্ৰহ্মকুপার প্রতি অকৃত্রিম ভাবে নির্ভর করিতে পারিলে স্বাভাবিক জ্ঞান, প্রেম, ভক্তি, যােগ আসিবেই আসিবে। প্রভু বিনা আর বাঁচি , অশ্রুজলে হৃদয় ভাসিয়া যায়, এইরূপ অবস্থায় স্বাভাবিক যােগ উদ্দীপিত কেন না হইবে? অশ্রুসিক্ত ব্যাকুলতার সহিত যতই কঁদিব, ততই শ্বাস প্রশ্বাস স্তম্ভিত, শরীরস্থ ইন্দ্রিয় সকল নিশ্চল, ক্রমে ক্রমে কণ্ঠনালী ও ধমনী সকল রােধ হইবে । চক্ষের দৃষ্টি শক্তি, কর্ণের শ্রবণ শক্তি, শরীরের স্পর্শ শক্তির কিছুই বােধ থাকে না, মানব প্রস্তরের ন্যায় জড় ও নিশ্চল হইয়া যায়। মােহমুক্ত মনশ্চক্ষুর উজ্জ্বল দৃষ্টিতে ভ্রান্তির আবরণ ঘুচিয়া গেলে আপনা হইতে আত্মা পরমাত্মার যােগ প্রকাশ পায়। ইহাকেই স্বাভাবিক যােগ বলে। যিনি অজর, অক্ষয়, অনাদি, অনন্ত, মহা, তাহাতেই সুখ ও শান্তি। চিত্তের লক্ষ্য স্থির হইলে, আত্মা অভিন্নযােগে তুমান ভোগ করে, তখন কোন প্রকার বিকৃত ভাবের আচ্ছাদন থাকে না, অপরিসীম সুধাপানে কৃতার্থ হয়। দ্বৈতা- দ্বৈত মধুর ভাবে সেব্য সেবকের মহালীলা শেষ হয় না। এইরূপ অবিচ্ছেদ সেবার গভীর প্রেম চিরস্থায়ী হইলে, তাহাকেই নিত্যযুক্ত সমাধি বলা যায়। আবার চিত্তের অবিচলিত লক্ষ্য সত্তেও আর একটা স্বতন্ত্র ভাব আছে ; সেটা মায়িকতৰে নিলিও যােগ বীরত্ব! কখন বা অন্তর্জগতে আবার ব্ৰহ্ম সহবাসে বিকার ভ্রান্তি মৰ্ম্মপ্রবিষ্ট হইয়া আচ্ছন্ন করে, সেইজন্য সৎস্বরূপে নির্বাণ মুক্তি। ১.৩ অব্যর্থ দৃষ্টি ; কখন বা বহির্জগতে প্রভুর কর্তব্য পালনে অর্থাৎ নর-নারীর সেবায় উন্মত্ত ; কখনবা অসীম যােগানদারসে মগ্ন। এই অবস্থাকে ভগ্ন সমাধি বলিয়া থাকে, ইহাই সংসারে অনাসক্ত যােগীদিগের প্রার্থনীয়। নির্বাণ মুক্তি। পূর্বে শক্তি-তত্বে জীব-শক্তির বিষয় বিব্রত হইয়াছে। জীবত যদি অখণ্ড নিত্য হয়, তাহা হইলে নির্বাণ কাহার হইবে? চিচ্ছক্তির প্রকাশ জীবাত্মা অবিনাশী ; এজন্য নির্বাণ সম্বন্ধে গভীর চিন্তারই বিষয়। শাস্ত্র ও সাধুচরিতে নির্বাণ তত্ত্বের মীমাংসা শুনিতে পাই। দীপ যেমন নিবিয়া গেলে তাহার অস্তিত্ব দেখা যায় না, আকাশে বিলীন হয়, তেমনই জীবাত্মাও চিন্ময় সত্যস্বরূপ পরমব্রহ্মে মিশিয়া যায়, জীবত্বের চিহ্নমাত্রও থাকে না। সমুদ্রবিন্দু ভাঙ্গিয়া গেলে এক মাত্র সমুদ্র ভিন্ন আর কি থাকে ? আবার বিজ্ঞানবিৎ পণ্ডিতগণ মধ্যেও কেহ কেহ বলিয়া থাকেন, পৃথিব্যাদি পঞ্চভূত ও তাহা- দিগের শক্তি ও গুণের একত্র ঘনীভূত অর্থাৎ সমষ্টি শক্তিই জীব নামে অভিহিত। তাহার মধ্যে কোন একটা তত্ত্ব ও শক্তির বিশ্লেষ সংঘটিত হইলে,ঐ জীবত্বের অভাব হইয়া যায়; তাহাকেই পণ্ডিতেরা ধ্বংস বা মৃত্যু বলেন। নিৰ্বাণমুক্তি বলিয়া কোন কথা নাই। এইরূপ পম্পর মতের অনৈক্য প্রযুক্ত নির্ধাণতত্বের প্রকৃত ১.৪ তথােপনিষ। মর্ম পরিজ্ঞাত হওয়া সহজ নহে। জীবশক্তি অখও হইলে ঐ রূপ নির্বাণ অতি অসম্ভব। ওয়ানে আত্মার অস্তিত্ব আনতে অনন্তকালের জন্যেই আছে,বুঝাইতেছে। বিজ্ঞান মতে যে জড়ীয় অপূর্ণশক্তি জনিত জীবত্বের অস্তিত্ব, উহারও মূল অন্বেষণ করা নিতান্ত কঠিন। তবে এই পর্যন্ত বলা যায়, আমরা ভ্রান্তির আব- রণে প্রচ্ছন্ন থাকিয়া মূলতত্বে প্রবেশ করিতে পারিনা। বাস্তবিক অজ্ঞানতাই ইহার কারণ। ইহাতেই প্রকৃত বিশ্বাসকে বিচলিত করে, ভীষণ জটিলতায় সংশয়বাদকে পুষ্টি করিতে থাকে, ঐশী- তত্ত্বের অভ্রান্ত,সত্য প্রকাশ হইতে দেয় না, এবং বিবিধ প্রকার তর্কযুক্তি বিচার করিয়া স্বাভাবিক সরল ভবকে স্নান করে। কেহবা জুলে জল মিশিয়া গেল, কেহবা দীপের ন্যায় আত্মার অস্তিত্ব নিবিয়া যায়, ইত্যাদি বহুভাবে নিৰ্বাণমুক্তির ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন। বস্তুতঃ নির্বাণ মুক্তি, পুনর্জন্ম, এসকল বিষয় আন্দোলন করিতে গেলে, চরম চিন্তার ফল, জীবত্বের ধ্বংস ব্রহ্মাহং অর্থাৎ আমি ব্ৰহ্মা। আলস্য পরতন্ত্র মানবদিগের প্রতি যমের কঠোর শাসনের ব্যবস্থা * অনেক প্রকার শুনা যায়। কিন্তু ইহার ভিতরে ঋষিদিগের সদুদেশই আছে। কারণ, প্রকৃত জ্ঞানের অভাব সত্ত্বেও নিশ্চেষ্ট মানবের প্রতি ধর্ম প্রবৃত্তির উপায় বিধান করিয়াছেন, সােহহংতত্ত্বেও একরূপ গােলমাল চুকাইয়া দিয়াছেন। কিন্তু দাত ব্যক্তির মৃত্যু হইলে,তাহাকে যমদুত কস্টক নয় গম পথে আশে প্রকার শাস্তি দেয়। আবার যমের সম্মুখে নীত হইলে, ভাহর বিচারে অপরাধীর চক্ষু ইচী সাপী মান্না তুলিয়া জওয়া হয়।

নির্বাণ মুক্তি।
১৫
যান্তিৰিক গভীর ভাবে চিন্তা করিয়া দেখিলে,নির্বাণ মুক্তি
পুনর্জন সন্ধে বুলবুজি প্রবেশ করিতেই পারে না। তথাপি
মানৰ, তাৰতঃ কৌতুহলপ্রিয়, অজয় সাধ্যাতীত বিষয়ে
পরায়ুখ না হইয়া, ইহার সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত করিতে প্রবৃত্ত হয়। এক
দিকে ভাবিতে গেলে এই চির বিচার্য বিষয়ের প্রমাণ করিতে
পারিলেও ঈদৃশ সদনুষ্ঠানের আলােচনা মহৎ ও প্রার্থনীয়।
এই নিমিত্ত দেবধি মহবিগণ যিনি যাহা গভীর চিন্তাধারা স্থির
করিয়া ছিলেন, তিনি তাহাই জগতের হিত বলিয়া প্রচার
করিয়াছেন। এখনও তাহাদের আয়ের বড় বেদা, সা,
পাতাল প্রভৃতি প্রাচীন দর্শনশান্ত সকল নীৰিত রহিয়াছে।
কি কালস্রোত অনিবার্য ও মানব প্রবৃত্তিও পরিবর্তনশীল
এজন্য সত্যের সম্যক্ বিকাশও নিতান্ত অসম্ভব। একটী পুরু-
বিণী খনন করিতে হইলে যতই তাহার আয়তন বৃদ্ধি হয়, ততই
জল ভাগের সীমা বন্ধিত হইতে থাকে। আবার সেই মহানুষ্ঠানে
নিশ্চেষ্ট হইলে ঐ উন্নতি উৎসাহ রােধ হইয়া যায়; সত্যের
বিকাশও ঠিক সেইভাবে চলিতেছে। পরিমিত শরীরাধারে মহা-
শক্তির স্থিতি সত্ত্বেও বিকার দোষে উলৰ দেখা যায় না,
মােহাৰি আৰমণে আচ্ছাদিত হয়।
যাহা হউক, এক্ষণে জন্মান্তর ও দৈহিক ভাবের বিষয় একটু
চিন্তা করা যাক। অনেকে বলিয়া থাকেন, বাসনাব জীবের
শরীরপাড় হইতে কফিল ও দৰে আমি ভোগ কৰ
হইবে, এই শরীরে না পুনর্বার জন্ম হইলে? আহ! খরের
কাও কি (মুলতৰী) চাপা পড়িয়া নবীর মিল নামে
নীচে থাকে? উহার অর্থ বিধানের নি যেনীয়।

তত্ত্বাপনিষদ। যােগে, শশাকে, দুশ্চিন্তাদির দণ্ড কারা এই শরীরেরই শাস্তি হইয়া থাকে। প্রার্থিব ঐশ্বৰ্য্য ভােগিগণ, তাহা উপেক্ষা করত আন্তরিক শোণিত:ভােজী রাক্ষসীর ন্যায় চিন্তার শান্তি স্বীকার করেন না, বরং (অমুক ব্যক্তি পাপ করিয়া কেমন হাসিতে খেলিতে মরিয়া গেলেন ইত্যাদি নানা কারণ দর্শাইয়া অমােঘ ঐশীবিধান দণ্ডকে অগ্রাহ করেন। জন্ম জন্মান্তর জমাখরচেব মত পাপেরও দূরবার করিতে হয়, অথবা কৰ্ম্মফল কাধিক হইলে উদ্ধারের আর উপায় থাকে না। ঐ সকল ঘটনা সম্বন্ধে দুইটা ভাব বুঝিতে পারা যায়,একটী মানবীয় ভাব, আর একটী দেবভাব। প্রথমতঃ মানবীয় ভাবেরই উল্লেখ করা যাইতেছে। চিচ্ছক্তি হইতে মায়াশক্তি, তৎপ্রসূত জগৎ প্রপঞ্চ মঃ পরমাণু পুঞ্জের প্রাবল্যে ভ্রান্তি অহঙ্কার অজ্ঞানতাদির বিকাশ, এবং উহাদিগের একাঙ্গ শক্তি গুণ হইতে মনৰীয় ভাবের উদ্ভব হয়। বিশ্বনিয়ন্তার অপরিবর্তনীয় নিয়ম ও ক্রিয়া সংযােগে দেহীর বিকাশ বশতঃ বয়ােবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই ঐ সকল ভূতশক্তি সম্পন্ন মানৰীয় ভাব, গৃঢ়ভাবে কাম ক্রোধ, লোভ, মােহ, মদ, মাৎসৰ্য্য এই ছয়টী বৃত্তি ও দ্বেষ দম্ভাদির আশ্রয়ে বাস করে। শক্রসমূহ শরীরস্থিত মানবীয় ভাবের আকর্ষণে মন ব্রঙ্গে স্থিতি করিয়াও আকৃষ্ট হয়। এজন্য দুর্জয় কামাদির প্রলােভনে ইন্দ্রিয় চরিতার্থ ও ভােগ-বাসনার ফললােগ তাহাকেই করিতে হয়। স্থূল শরীয় যে অচেতন জড়-রোগ যাতনার অনুভব ও ‘ফরে শান্তি গ্রহণ মনেরই অধিকার। কিন্তু এরূপ অবস্থাতে চিত্ত দুঃখ যন্ত্রণার ভাগী হইয়াও ব্রহ্মা হইতে স্বতন্ত্র নহে। কারণ, পরমাত্মার প্রকাশ জীবাত্মা, জীবাত্মার প্রকাশ নিৰ্ব্বাণ মুক্তি। ১০৭ মন ; যেরূপ সূর্যের কিরণ, কিরণের উত্তাপ। উত্মাণই যেমন জভীয় পার্থ সকলকে স্পর্শ করে। মনের অবস্থাও সেইরূপ। ন; চিত্বে স্থিতি করে বলিয়া উহার নাম চিত্ত হইয়াছে। চিত্তের ভাব বড় তরল ও চঞ্চল, এজন্য চিৎ এবং জড় ঔ শক্তির সন্ধিস্থানে পড়িয়া কখন মানবীয় ভাবে কখন দেবতাৰে স্থিতি করিতে থাকে। তবেই দেখুন কোটি কোটি দৈহিকভাব, জল বিশ্বের ন্যায় উঠিতেছে ভঙ্গিতেছে বলিয়া কি পরমানুর ধ্বংস হইতেছে ? পশু পক্ষী মানব শরীরের গঠন এক পরমাণু হইহই ত হইয়া থাকে? দেহীর অন্ত প্রবেশিনী মহাশক্তিতেই ত জীবাত্মা ও মন চেতনভাবে বিরাজ করিতেছে, কেবল ঐ শরীরটীর ভাৰ দেখিলাম, আর দেখিতেছি না—ইহাই আমরা বিকার চক্ষে দৃষ্টি করিয়া থাকি। দিব্য চক্ষু উন্মােষিত হইলে, ঐ সকল ভ্ৰাম্ভ দৃষ্টি দুচিয়া বুঝাযায়, ঘট ভাঙ্গিয়া গেল আকাশের অবস্থা অনন্ত ব্যাপী একভাবেই থাকিল। শরীরস্থ স্থল পদার্থে অর্থাৎ ভূতে ভূত মিশাইলে নিরাকার নিত্য চৈতন্যময় অনন্ত ভিন্ন আর কি থাকে ? আত্মাও তাহাতে চিরবিরাজ করে। এমত, স্থলে পুনঃ জন্ম আবার কি? নিরাকার জীবশক্তির জন্ম মৃত্যু আশা যাওয়া কিরূপ সম্ভাবে ? তবে যে শর্নীর বিশেষে শুভাশুভ ধর্মাধর্ম পাপ পূণ্য ঘটনা আমরা দেখিয়া থাকি, তাহা সকলই মানবীয় ভাবের ব্যাপার। মনে করুন, একটা একাণ্ড অট্টালিকায় শত শত শ্বেত পত হরিৎ প্রভৃতি কচি ফলকে ফুজ ক্ষুদ্র গবাক্ষ সকল আবৃত রহিয়াছে,গৃহের, ভ্যন্তরে একটা উজ্জ্বল মুণির আলােকে গৃহটি পূর্ণ ; অথচ ঐ সকল গবাক্ষ

১৮
তথােপনিষদ।
দিয়া ঐ মৰিত মণির প্রকৃত জ্যোতিকে ও গবে নানা
বর্ণে দেখা যাইতেছে। আবার ঐ মেত স্বচ্ছ কাঠময় গবান
লিতেও মণির মূল জ্যোতি বাহির হইতেছে। তবেই বুঝিতে
গৃহন্বিত মশির আবিষ্কৃত আলাে সম্বন্ধে কোন ব্যত্যয় হয়
না। মানব শরীরের অবস্থা তেদেও ঐ গৰাবৎ ভাবার
সংঘটিত হইয়া থাকে। এস্থলে বুঝিৰেন, আসক্তি জনিত মােহ
শ্রান্তি নদির এক শক্তিতে যে মানবীয় ভাব,তারাই
ষতা প্রভৃতি পাপকাৰ্য্য সমূহ প্রকাশ পায়। আবার অনাসক্ত
বৈরাগ্য ও শান্তি ধৃতির মধ্যদিয়া দেবভাবের সত্যনিষ্ঠাফি
অনুষ্ঠান ও সম্যক রূপে উদ্দীপ্ত হয়। এই উভয় ভাবের শক্তি
প্রত্যেক শরীরাধারেই স্থিতি করিতেছে। এস্থলে প্রশ্ন উঠিতে
পারে, একজন সু দুবৃত্ত হইয়া পাপাপের জ্বালায় ছট ফট,
করিতেছে,আর একজন স্বর্গীয়ভাবে ভুমান ভােগে মগ্ন রহিয়া-
ছেন। এই উভয়বিধ শক্তি ত উভয়ের ভিতরেই আছে, তবে
কেন অবস্থার বিভিন্নতা দেখায়। এসম্বন্ধে ভাবিতে গেলে
বিৰেচনা হয় যে, শরীর সত্তা বিশেষে জড়ীয় পদার্থের উপাদান
তো, ইহাই মূল কারণ। তাই মানবীয় ও দেৰ প্রকৃতির
পরস্পর আধিক্য বশতঃ ঐরূপ ব্যাপার সম্পাদিত হইয়া থাকে।
শরীর সংযােগের তারতম্য হইতে স্বাস্থ্য সুখ দুখঃ, সাধু
সাধু ইত্যাদি ঘটনা হইয়া থাকে। এবিষয় এখানে অধিক
বলিবার প্রয়ােজন নাই, জড় চৈতন্মতকে বিস্তৃত ভাবে ব্যক্ত
হইয়াছে।
এইত গেল মানবীয়ভাবের কথা, এখন সেভাবে বিষয়
কিছু চিন্তা করা যাক। চৈত। খুপের উপ-ভাৰ মন, দু-

নির্বাণ মুক্তি। তত্বের পরিমিত শক্তিতে অনুপ্রাণিত হইয়া,দম্ভ দেযাদির উত্তে- জনায়,সময়ে সময়ে,বিপদ উপস্থিত করে এবং পৃথিবীকে শােণিত- সিক্ত করিয়া আত্মম্ভরিতা দোষে আক্রান্ত করে। দুর্দমনীয় রিপুগণের প্রবল শাসনে সাধুচিন্তা, ধর্মানুরাগ, ব্ৰহ্মভাবে নিষ্ঠা, সদসৎ ইচ্ছা কিছুই থাকে না। তথাপি এমন অবস্থা তেও অচেতন জড়শক্তি,চেহনশক্তিসম্পন্ন চিত্তকে বদ্ধ রাখিতে সক্ষম নহে। কারণ বিধাতার অমোঘ ও, প্রতি মুহূর্ত কাল, পাপ প্রবৃত্তির প্রতি বর্ষিত হইতেছে। রেখামার পবিত্রতার সংস্পর্শে দেবশক্তির প্রভা, প্রদীপ্ত হইয়া,মেঘ-নিৰ্ম্ম সূর্যের ন্যায় চিত্তকে দেবভাবে অসুরঞ্জিত করে। উহা কামাদির নির্যাতনে বা তাহাদের পাপ প্রলােভনে প্রতাড়িত হয় না, দেবতম্বের অন্বেষণে নিয়ত কাল ব্যাকুল থাকে,“ব্ৰহ্মকুপা স্বাভাবিক ভাবেই আসিয়া পড়ে। ক্রমে ক্রমে বিশুদ্ধ স্বর্গীয় ভাব মর্মভেদ করিলে, দয়া দাক্ষিণ্য ক্ষমা ধৰ্ম্ম ঔদাৰ্য্য সারল্য এই ছয়টী মহত্তির প্রভাবে মানবীয় ভাব ও ক্রোধাদির বল-ক্ষয় হইয়া দেবভাবের আশ্রয় লইতে শক্তি জন্মে, ক্ষুদ্র কাট হইতে উচ্চ সাধক পর্যন্ত কোন বিশেষত্ব থাকে না, সকলের ভিতরে একমাত্র নিরাকার অখণ্ড শক্তিরই প্রকাশ প্রত্যক্ষ হয়,ওটি কীট,এইটা মানব,ইনি অজ্ঞান, উনি জ্ঞানী এই সমুহ ভেদ ভাব মনে স্থান পায় না, সমুদায় ব্ৰহ্মাণ্ড ও চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্রাদির ভিতরে এক অনন্ত ব্যাপিনী শক্তির কাৰ্য্য দেখিয়া হৃদয়, মন, প্রাণ উৎফুল্ল হইতে থাকে। ব্ৰহ্ম প্রদত্ত জ্যোতিশ্চক্ষুর উজ্জ্বল দৃষ্টিতে স্কুল দৃষ্টি ও পাপ প্রবৃত্তি আর থাকিতে পারে না, ইহকাল পরকাল অনন্ত কালে এক হইয়া যায়। এইরূপ অবস্থায় উপনীত হইলে সকলি ১১০ তত্বোপনিষদ্‌। মধুময় বলিয়া অনুভূত হয়। তখনই চিত্ত মনুষ্যত্বের পুরস্কার হইতে নিষ্কৃতি পায় এবং দেবতাবে অভিষিক্ত হইয়া দ্বিজ । 'আচ্ছা। দেবভাবের তত্বতো বুঝগেল। ঐ চিত্তই তাে আবার মায়াশক্তির ভিতরে মােহদি পাশ বন্ধ শরীরে অবস্থিতি করে। তবে কৰ্ম্মপাশ হইতে মুক্তি কোথায় ? কোটি কোটি দেহীর আবির্ভাব তিরোভাব হইতেছে,—চিত্ত কোনটীতে মুক্ত কোন টতে বন্ধ, এই জটিল ভাবেতে প্রাণ প্রসন্ন হইতে পারে না। বাসনাজনিত কাভােগ উড়িয়া গেলে, আমি পাপী,মরিলেই নিৰ্বাণ বা মুক্তি। আর চিন্তা কি? এক তােল আফি—ইহার ভিতরে একটুকু গভীর ভাবে চিন্তা করিলে সহজেই বুঝায়। অনন্ত কালই চিত্তের দুইটা স্বাভাবিক অবস্থা আছে। প্রথমটী ভােগ-বাসনা-বিমুক্ত বিশুদ্ধ দেহীর ব্রহ্মানন্দময় অবস্থা, দ্বিতীয়টা নােম স্বাতনাদির ভয়ঙ্কর তাড়নার পর নিষ্কলঙ্কভাবে শান্তির অবস্থা। ভাল এই উভয় ভাবই যদি মুক্তির কারণ হইল, তবে আর ঈশ্বরের মনন চিন্তন পূজা প্রার্থনারই বা প্রয়ােজন কি ? এ সম্বন্ধে বুঝিবেন, সুখ ও যন্ত্রণা দুইটীরই ভােগ যখন স্বতন্ত্র, অর্থাৎ ইশ্বরে যুক্ত থাকিলে দুঃখ যন্ত্রণা থাকে না, বিকার- বদ্ধ ভাবের অবস্থাতেই যাতনা,তখন ঐ সকল সাধন ভজনের নিতা আবশ্যক। দেহপাত সময়ের যন্ত্রণার উপশম জন্মই ত যােগীগণ উহা অবিচ্ছেদ ভাবে সাধন করিয়া থাকেন। কর্ম- বদ্ধ প্রত্যেক প্রাণীর দেহত্যাগের পূর্বে, স্বতঃই খাস প্রথা নিশ্চল ও চক্ষুকর্ণ ইন্দ্রিয়াদির শক্তি জড়ীয় সত্তায় বিলীন হইতে • মানবীয় স্কুল ভাব হইতে ব্ৰহ্মাকে প্রকাশ। ।

নির্বাণ মুক্তি। থাকে, ততই দুর্মজনিত কর্মের ফল পরিসমাপ্ত হইয়া, চিত্তের শান্ত সমাহিত দেবভাব প্রকাশ হইতে থাকে। তবে বলুন, অড়ীয় শক্তিতে মানবীয় বিকার তত্ব সকল মিশিয়া গেলে, নিক- লঙ্ক ভাবে চিত্তও এক ঈশ্বরেই স্থিহি করে। থাকিল যে যম রাজার বাগান বাড়ী পরিস্কার করিবে ? স্কুল শরীরের তত্ত্ব সমূহও পৃথিবীর পরমাণুতেই নিবদ্ধ থাকে, তাহার পরিমিত শক্তি ও গুণ অখণ্ড চিচ্ছক্তিকে অতিক্রম করিতে পারে না। আবার চেতন তত্ত্ব ও অচেন স্থল তর মধ্যে বন্ধ থাকেনা, উহা নিত্য চৈতন্যক্ত চির জীবন্ত। এমই স্থলে নির্বাণ মুক্তির বিষয় আর কি বুঝিব? মানুষ ভ্রান্তির আবরণের ভিতর দিয়া যে ব্রহ্মের পূর্ণ প্রকাশকে অসম্পূর্ণ বুঝে, বাস্তবিক তাহাতে কি তাহার অখণ্ড জ্যোতি খও হয় ? কখনই সম্ভব নহে। চত্র যেরূপ পৃথিবীর ছায়ায় আছন্ন হইলেও তাহার অবস্থার কোন ব্যাঘাত হয় না, ক্রমে ক্রমে অদৃশ্য হয় বটে, আবার পৃথিবীর ছায়া, গতি-বিপর্যয়ে সমস্ত চন্দ্র মণ্ডল প্রকাশ পায়। তদস্থ ভ্রান্তির ঘাের অন্ধকারে সত্যের উজ্জ্বল আলােক সমগ্রকে গ্রাস করে, আবার ভ্রান্তির ছায়া ক্রমে ক্রমে বিদূরিত হইলে, তাই ব্ৰহ্মজ্যোতি প্রকাশ পায়। কৰ্ম্মজনিত বদ্ধ ও মুক্ত ভাবে অবস্থাও তদনুরূপ। শাস্ত্রে সাষ্টি, সালােক্য, সামীপ্য, সাযুজ্য সারূপ এবং জ্ঞান, প্রেম ইচ্ছা প্রভৃতি মুক্তির বিধান ও উপায় নির্দিষ্ট আছে। বর্ত মান সময়ে ইহাও সহজ যে ব্যাকুল ভাবে হৃদয়, মন, প্রাণ প্রভুকে উৎসর্গ করিয়া দিলে, স্বর্গীয় পবিত্রতার অধিকার করে এবং এ কৃপা স্বভাবতঃ বর্ষিত হইতে থকে। আর বলিবার অবিক কথা ১১২ ততাপনিষদ্‌। নাই। নির্বাণ মুক্তির বিষয় চিন্তা করিলে বিবেচনা হয় যে, জড়ীয় বিকার ভাব ও অনিত্য বিষয় বাসনাদির আসক্তি হইতে নিষ্কৃতি পাইলেই মুক্তি। ফলতঃ এই ভবিষ্যত্তত্বের ব্যাপারঈশ্বরই জানেন, ইহার মীমাংসা কে করিবে ? দৈহিকের অভাব হইলে, যােগীর অবস্থা যােগীই বুঝেন, ভােগীর অবস্থা ভােগীই জানেন। এইজন্যই কি সাধকশ্রেষ্ঠ রামপ্রসাদ গাহিয়াছেন,-“বলদেখি ভাই কি হয় মেলে ?” সঙ্গীতটীর ভিতর প্রবেশ করিয়া দেখুন। বস্তুতাই ঈদৃশ ভাবী বিষয় লইয়া আলােচনা চিরকালই হই- তেছে, কেহই প্রকৃত তত্ত্ব বুঝাইতে পারিলেন না। আমি কিছুই বুঝিনা, কি বলিব ? মহাভাব। মহাভাব সম্বন্ধে প্রধানত তিনটী তত্ত্ব আছে। প্রথমটী সাম্য, দ্বিতীয়টী স্বরূপ, তৃতীয়টা জীব। এই তত্ত্ব তিনটীর সং- মিশ্রনে যােগীভাব প্রাণে অঙ্কুরিত হয়। ইহার সম্যক বিকাশে মহাজ্ঞানের আবির্ভাব হইয়া,কাম্য ক্রিয়াদি অসার ভাবকে বিনষ্ট করে এবং তত্ত্বজ্ঞানের উজ্জ্বল জ্যোতিতে বিকারকলুষিত চিত্ত পূত হয়। তবে কেন এমন স্বর্গীয় তত্ব গ্রহণ করিতে শক্তি জন্মে ,-কেনই বা জগতের পরিবর্তনের মধ্যে প্রকৃত তত্বের অন্য প্রাণ আকুল হয় না, কেনই বা নিরেট বৈষম্যের বিবিধ তর্ক বান্না অখণ্ড জীবশক্তিকে দৈহিকের অবস্থাভেদে, স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র বুঝিয়া,প্রেম ভক্তি প্রীতি প্রভৃতির উদার দৃষ্টি ভেদভাবে পরিণত হয়? ইহার মূল কারণই ভ্রান্তির শিকার। এই অজ্ঞানতার অন্ধ- মহাভাব। কারেই মানব প্রকৃতির সাধুভাব থাকে না, বিকৃত হইয়া পড়ে। ফুট যুক্তি তীর কশাঘাতে, সাধু অসাধু, জ্ঞানী মুখ, ধনী দরিদ্র ইত্যাদি পৃথক ভাবের আতিশয্য বশতঃ বিশুদ্ধ সাম্যতত্বকে খণ্ড খণ্ড করিয়া দুর্দশাগ্রস্ত করে। সাত্তিক গুণকে রজোগুণাদির আচ্ছাদনে রাখিরা শিষ্টতা, সরলতা, দীনতাদি সদ্গুণের দিকে আদবেই দৃষ্টি পড়ে না। শরীর বিশেষে শক্তির তারতমা দেখিয়া ভ্রান্তির আবর্তে 'ঘুরিত হয়। উচ্চ সিংহাসনস্থিত রাজা বাহা- দুরের সঙ্গে একটা কথা কহিলে আপনাকে ধন্য বোধ করা যায়, ঐ বৃক্ষতলবাসী শতগ্রন্থী ছিন্নবপরিহিত গরিভাইটার দিকে কেই বা তাকায় ? কাশীবাসী জটাভস্মভূষিত ঘােগীর প্রতি অচলা ভক্তি, ঐ রুগ্ন ভগ্ন শৰ্মীর সরল বিশ্বাসী ভক্তটীকে অশ্রদ্ধা ভাব; এই সকল ভেদরােগের যাতনায় সাম্যতত্ব কেনই বা স্থান পাইবে। এখানে একটা কথা মনে হয়। ভাল জিজ্ঞাসা করি, এইরূপ সাম্য সম্বন্ধে, কি আপত্তি হইতে পারে না যে, একজন মহাজ্ঞানী শিরােমণি মহাশয়কে যেরূপ ভক্তি করিতে হইবে, তাহার সঙ্গে ঐ ছাঁকা মুর্থ তলপীদারকেও কি সেইরূপ ভক্তি করা উচিত? এমন ব্যবস্থাবিরুদ্ধ সাম্যভাব-ত্তি ইচ্ছা করা কি সম্ভব হইতে পারে? কাচ কাঞ্চন কি সমান দরে বিক্রয় হইয়া থাকে ? অকুল তরক্ষায় সাগরে, আর ক্ষুদ্র একটী পলে কখন সাদৃশ্য হয় ? আপনি একটু গভীর ভাবে চিন্তা করিয়া বুঝুন। তাহা যদি না হয়, তবে দয়া দাক্ষিণ্যাদি মহত্তি সমূহ কোথায় পাড়ায়? ইহারা ত জ্ঞানী মূখ ধনী মানী বুঝে না। আহা! যে সকল সাধু বৃত্তির সংস্পর্শে মানুষ দেবভাবের ঘূঢ়তত্ব বুঝিতে সমর্থ হয়, ১১৪ ততাপনিষদ। . কাচ কাঞ্চন ভেদ থাকে না, উদারভাবে ভেদভাবকে দলিত করে, সভ্য সমাজে তাহাদের ঈদৃশ দুর্গতি। ব্ৰহ্ম কি ঐ তলপী- বাহক ভাইটীকে ভাল বাসেন না, তাহাকে অন্ন জল বাতাস দিয়া রক্ষা করিতেছেন না? উহার প্রাণে পবিত্রতার প্রকাশ পায়, এজন্য তিনি কি ব্যস্ত নহেন ? তাহার নাম যে দয়াময়। তাহারই দয়ার কণিকামাত্র স্পর্শ করিলে পাপী নিপী হয়, মুখ জ্ঞানী হইতে পারে, অসাধু সাধুভাবে নৃত্য করিতে থাকে। ঐ পান্থ- পদদলিত তৃণ-খণ্ড কি অগ্নিস্পর্শে প্রজ্জ্বলিত হয় না? আতসী প্রস্তরশ্রয়ে সূর্গোত্তাপে লঘুশক্তি সম্পন্ন কার্পাস কি অনায়াস- লব্ধ অগ্নিজ্যোতি ধারণ করে না ? স্পর্শমণি স্পর্শে লৌহ যেমন মলিনতা হইতে মুক্ত হইয়া, স্বর্ণ-জ্যোতিঃ গ্রহণ করে,—এমন কি প্রাণীহা ব্যাধও তেমনই পাপ তাপ হইতে পরিত্রাণ পাইয়া দেবতা হয়। মানাকাঙ্ক্ষী অদুরদর্শীরাই এই সাম্যতত্ত্বকে উপেক্ষা করতঃ তাহার সেবায় উদাসীনতা প্রদর্শন করেন। জগতে অধিকাংশ ব্যক্তিকেই সম্মান-প্রিয়তার কুট যুক্তিতে আকৃষ্ট হইতে দেখা যায়। বস্তুতঃই মান, প্রভুত্ব ও ঐশ্বৰ্য আধিপত্যে প্রকৃত সুখী হওয়া অতি অসম্ভব। বাহিক সুখ ও প্রতিপত্তি লাভের ইচ্ছা বড়ই দুঃখের কথা-বলুন ত ? ঐ যে ইউরােপ বাসিনী মাতৃগণ, ভারতে আসিয়া কলিকাতা নগরীর রাজপথ ও নানা- স্থান হইতে রােগগ্রস্ত ভাই ভগিনীগণকে বুকে লইয়া যপােথযুক্ত সেবা করিতেছেন, একমাত্র ভিক্ষাই সহায়, তাহারই আশ্রয়ে শত শত নর নারীর প্রাণ রক্ষা করিতেছেন; শুনা যায় আরও ইংলণ্ডে তাদৃশী মহামতী মাতৃগণ, মদ্যপায়ী অসদাচারীদিগকে শিক্ষা ও সেবা দ্বারা দেবভাবে আনিতেছেন; জেনারেল বুধের মহাভাব। ১১৫ সাধুশীল কন্যা, বহুকষ্টে দেশে দেশে ধর্মভ্রষ্ট পরিবারের দ্বারে দ্বারে পাদরে ভ্রমণ করিয়া ধৰ্ম প্রচার করিতেছেন, ইহাদের স্বর্গীয়ভাব স্মরণ করিলে ভােগসুখ সম্মানগরিমা তুচ্ছ বলিয়া মনে হয় না। এই নিঃস্বার্থ ভালবাসায় কি সাম্যতত্বের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত স্বীকার করিবেন না? তাহারা মিলনের জন্য এত কষ্ট ক্লেশ যন্ত্রণা কেন বহন করিতেছেন-উদ্দেশ্য কি? আমার মনে হয়, জীবতত্ত্বকে তঁাহারাই অভিন্নভাবে দেখিয়া থাকেন। এস্থলে কি বুঝিতে পারা যায় না যে, ঐ সকল মাতৃগণের নিকট উচ্চ সন্মানভােগী রাজা ও বিপুল শাস্ত্রদশী শিরােমণি মহাশয় ইহার লজ্জিত হইতেছেন। আহা ! প্রেম ও সেবাত কি মধুর ! ইহাদের অভ্যন্তরে এমন কি দেবত গৃঢ়ভাবে লুক্কায়িত আছে যে পাপীকেও উন্মাদ করিয়া তুলে—সেটি কি? উহার নাম সাম্যতত্ব—উহা ভা- বতঃই ফুটিয়া উঠে। যেমন একটী চণকের দ্বিখও আবরণের ভিতর দিয়া বৃক্ষের অবয়ব সূক্ষ্মরূপে সহসা বাহির হয়, তেমনই এক ব্ৰহ্ম সৎভাবে বিশ্বজনীন প্রেম ও অপ্রভেদ জীবসেবা উভয়ের মধ্য হইতেও সাম্যতত্ব প্রকাশ পায়,-রােগী ভােগী মুগ্ধ পণ্ডিত মানে না। আমরা এই সাম্যতত্ত্বকে শরীরগত ভাবের অবস্থাতেই শ্রেষ্ঠ নিকৃষ্ট তত্বৰূপে গ্রহণ করিয়া থাকি, ফলতঃ ইহা নিতান্ত দুঃখের কথা । ঐ দেখুন, প্রকৃত পরমহংসগণের স্বর্গীয়ভাব কেমন সুন্দর। তাহারা অভেদভাবে, ব্রাহ্মণ চণ্ডালের হস্তের অল্প তােজন করিয়া কেমন প্রেম করিতেছেন এবং সাম্যভাবে সকলকে মাতাইয়া দিতেছেন। ইহার টীকা এখানে কি করিব ! জীবত্বের স্বতন্ত্র?

ততাপনিষদ্ । কেহ কেহ যে জাতিভেদ মানেন না, সকলকে সমভাবে দেখিতে চান, কিন্তু কাৰ্যতঃ ইহার মর্ম কি এই যে, অজ্ঞান দরিদ্র ব্যক্তি নীচ, পণ্ডিতগণ শ্রেষ্ঠ, একদল উচ্চশ্রেণীর লােক সমাজে থাকিবে। ব্যক্তি বিশেষে অধিকার ভেদে দোষ কি? ইহা কি নিষ্কলঙ্ক সার্বভৌমিক উদার ভাব? জগতের সমস্ত নর নারী ও কীটাদির ভিতরে একই আত্মা বিরাজ করিতেছে, এ সত্য কি স্বীকার করিবেন না ? এই ত গেল বিশ্বজনীন প্রেম ও অপ্রভেদ সেবা ভাব মধে। সাম্যতত্ত্ব! একন দেখা যাক্ মহা-ভাবের আর দুইটী তস্বরূপ ও জীব। এই উভয় তত্ত্ব মধ্যে স্বরূপ তত্ত্বের যে কিছু আভা পাওয়া যায়, অগ্রে সংক্ষিপ্ত ভাবে কিছু বলিব। ঈশ্বরের সত্যা জ্ঞানমনস্তম্ প্রভৃতি যে কয়টি স্বরূপের ব্যাখ্যা হইয়া থাকে, উপ- সক মণ্ডলীতে অনেককেই দেখা যায়, একটী স্বরূপের আরাধনা ব্ৰহ্মকে পৃথক পৃথক ভাবে দর্শন করেন। কিন্তু উহার মধ্যে যে দর্শনের সামঞ্জস্য আছে,বােধ হয়,অল্প উপাসকই তাহা স্বীকার করেন। সম্প্রদায় বিশেষে অধিকাংশ ব্যক্তিরই এরপর ঐটি, ঐ টার পর এইটা, ইহা লইয়াই মৃতভেদ শুনা যায়। বান্ধি বােলে একটুকু গােল পড়িলে আর উপাসনায় তৃপ্তি হইল না, প্রাণে প্রতিবাদের ঝোঁক ধরিল, পকেট বুকে তখনই পেনশীল দিয়া আপত্তি লিখিতে বসিলেন। এইরূপ ভজন-বিভ্রাটে কি কখন রূপ দর্শন সম্ভব হয় ? বলিতে পারি না যে উহাতে উচ্চ উপা- সকগণের তৃপ্তি হইতে পারে। উপাসকের হৃদয় মধ্যে স্বরূপের * এই ভাবেই ত গুরু পৌরহিত্যের প্রাদুর্ভাব প্রবল হইয়া মানবের বাধীনতাকে গ্রাস করিতেছে।

মহাভাব। ১১৭ প্রকাশ প্রভুরই ইচ্ছা। তিনি যদি ঐ কয়টী স্বরূপে একেবারে বন্ধ না হই সুখস্বরূপ, শক্তিস্বরূপ, পুণ্যস্বরূপ প্রভৃতি আরও স্বরূপভাবে প্রকাশ পান, তাহাও ত তাহারই কৃপার কথা। আরও দেখুন, আপনার একমাত্র শান্তিতে সুখ, আমার কেবল বন্ধুটীর জ্ঞানেই সুখ, বলুন ত ; ইহার মীমাংসা প্রভু ভিন্ন আর প্রেমে সুখ, ঐ কে করিতে পারে ? সকলের সুখদাতা সুখস্বরূপ বিধাতাই উপাসকের মর্মগত ইচ্ছা বুঝিয়া উহা পূর্ণ করেন। অনেকে স্বাধীন রুচিতে মন্ত্র বন্ধ কয়টী স্বরূপকে আরাধনার সময় আবৃত্তি করিয়া পাকেন। উহাতে কি বাস্তবিকইরূপ তত্ত্বের প্রকাশ চূড়ান্ত হইয়া গেল ? আমার মনে হয়, তাহা ঠিক নহে। সত্যে প্রেম, প্রেমে শান্তি,শান্তিতে মঙ্গল, মঙ্গলেও একই পরমা- নন্দময় বিধাতার পূর্ণ স্বরূপ, ইহার ভিতরে এর পর তারপর বিবেচনা হয় না। এইভাবে বস্তু তাই পূর্ণ প্রকাশকে মন্ত্রভাবে প্রচ্ছন্ন করা হয়। স্বরূপশক্তির উজ্জ্বল ভাব ম্লান হইয়া যায়, কেবল ভাবুকতার উচ্ছাসবেগে প্রাণকে ব্যতিব্যস্ত করে, এজন্য উচ্চ উপাসকগণ সকল স্বৰূপের মধ্যে এক পরমানন্দ প্রভুকেই দর্শন করিতে ইচ্ছা করেন। নিজের ইচ্ছাতে প্রভুকে টানাটানি করিয়া ব্যক্ত করেন না। এ সম্বন্ধে আর একটা কথা আছে। লােক শিক্ষার জন্য যদি কোন প্রকার নিয়ম বা প্রণালী না থাকে, তবে কি তাহাতে সাধনবিভ্রাট হয় না? এ কথার উত্তর পূর্বে অনেক বার উক্ত হইয়াছে। ঈশ্বর প্রকাশ, তিনি কোন মানবীয়, রুচিগত ক্রিয়া বা প্রণালীতে বদ্ধ নহেন। অগ্নি যেমন বহু বখণ্ডে আবৃত হইলেও আপনি ফুটিয়া উঠে, তেমনই ঈশ্বর-স্বরূপ اذه তৰোপনিষদ। ক্রিয়া ও প্রণালীবদ্ধ ভাবকে ভেদ করিয়া স্বভাবতঃই প্রকাশ পান। বরং নিয়মাদিতে আটক রাখিলে প্রভুর প্রকাশ সম্বন্ধে বিমুই ঘটে; কারণ, সত্যের অনিবার্য অনন্ত গতি কি একটা প্রণালীতে আবদ্ধ থাকে ? একি সম্ভব? আমি বলি কখনই নয়। উপাসকগণ মধ্যে যিনি আপনার ইচ্ছা, রুচি, কামনাদি বিসর্জন দিয়া প্রভুতে হৃদয়, মন, প্রাণ উৎসর্গ ও নির্ভর করিতে পারেন, তিনি প্রকৃত উপাসনা প্রার্থনা দ্বারা ব্ৰহ্মরূপ দর্শন বা লাভ করিতে বঞ্চিত হন না। অপূর্ণ মানব ত আপনার অভাব বুঝে না, প্রভুই ফেবুঝাইয়া দেন। আমাদের অন্ন জলের আবশ্যক হইলে,ঈশ্বরই ক্ষুধা-তৃষ্ণা দ্বারা জানাইয়া দেন, প্রত্যেক উপাসকের মর্মভেদী অবস্থা দেখিয়া আপনার ভাবে আপনি প্রকাশিত হন এবং সাধকের প্রাণের ইচ্ছা পূর্ণ করেন। তবে আর এটার পর সেটা ভাবিবার প্রয়ােজন কি? উপাসক, যদি পূর্ণ পরমানন্দময় পরব্রহ্মে চিত্ত সমাহিত করিতে পারেন, তাহা হইলে তাহার হৃদয়ে, প্রভু যখন যে স্বরূপে প্রকাশ হন, তখন সেই স্বরূপই অনন্তময়, মাননে পরিপূর্ণ। এইত স্বরূপতত্ত্বের কথা। এখন জীবতকের মহাভাবের কথা কিছু চিন্তা করা যাক। “একমেবাদ্বিতীয়ং” একমাত্র ঈশ্বর আর দ্বিতীয় কিছু নাই, এ কথায় আপত্তি কি? জ্ঞানের সূক্ষ সীমায় উপনীত হইলে অদ্বৈতবাদ ব্যতীত দ্বৈতবাদ থাকে না, এক অবিনাশী চৈতন্যই নিত্য। এই অখণ্ড চিন্ময় মহাশক্তির বিষয় চিন্তা করিলে বস্তুতঃ দ্বৈতবাদ সম্বন্ধে সন্দেহের কথা বটে। আনের তীক্ষ্ণ চিন্তার উত্তাপে ঈশ্বরের অস্থিত্ব রক্ষাই কঠিন, তাহার উপরে আবার জীবশকি ধরিয়া দ্বৈতাদ্বৈতব ? তবে মহাভাব। এখন কি বুঝিব; যে জ্ঞানে নিরীশ্বরবাদকে উপস্থিত করে। এ জ্ঞানের ভিতরেই ত অনাবৃত তত্ত্বজ্ঞান আছে, তাহাতেই ত আবার ব্রহ্মের স্থিতিভাৰ বুঝাইয়া দিতেছে। ভাবিয়া দেখুন, শুক সােহহং জ্ঞানটুকু ঘুচিয়া সরল বিশ্বাসে বুঝিলে ঐ জ্ঞানই তখন ব্রহ্ম। ব্ৰহ্মই আবার জীবতাবে আপনাতে আপনি বিরাজ করিতেছেন। ব্ৰহ্ম কি দ্বৈতাদ্বৈতভাবে প্রকাশ হইতে পারেন না? একটী বীজের মধ্যে বৃক্ষ-পত্র ফুল-ফল এ সকল কি থাকে না, কোথা হইতে স্নাইসে? সৎ চিৎ-আনন্দ হইয়া, ঐ সন্ত স্বরূপ তবে আস্বাদন ভােগ কে করে ? সপনি আপ- নার ঐশ্বর্য মাধুৰ্য্যভাব দর্শন করিতেছেন। চৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থ বলিতেছেন- “আপন মাধুৰ্য্য হয়ে আপনার মন, আপনা আপনি চাহে করিতে আলিঙ্গন ; তবেই দেখুন,পরমাত্মাই আত্মারভাবে প্রকাশিত হইয়া,দ্বৈতা- দ্বৈতের মধুর লীলায় মগ্ন রহিয়াছেন। আমরা জগতের ভ্রান্তি ভাবে মুগ্ধ হইয়া তত্ত্বজ্ঞান হইতে বঞ্চিত হই এবং নিত্যযুক্ত মহামিলন যােগের উজ্জ্বলভাবে ডুবিতে ইচ্ছা করি না। ভাবি- যাও দেখি না যে, নিরাকার চিচ্ছক্তির ভাবের বিকাশ জীবশক্তি ইহাও কেবল উপাধি মাত্র, এক অখণ্ড চিন্ময় পরমাত্মাই আয় জীবনে অভিহিত। মধু ও মিষ্টতা যেরূপ একত্র জড়িত। সেইরূপ এক ব্ৰহ্মই শক্তি ও ভাব উভয় ভাবে আপনার আস্থা দন আপনি ভােগ করিতেছেন। যখন এক মহাশক্তি ভিন্ন আর কিছু নাই,বিশেষত নিরাকার তত্ব অনন্ত ও নিত্য, তখন পরিমিত সাকার তত্ত্বে যে আমরা মানবীয় ভাবে যত বুৰিয়া ১২০ তৰ্বোপনিষদ। . থাকি, তাহই ভ্রান্তি। অসীম মহাশক্তির ভিতরে সীমাবদ্ধ স্থূলত সকল ইহাও ব্ৰহ্মলীলার উপাদান বটে, কিন্তু বুঝিতে হয় যে, এক অনাদি শক্তি জড়ীয় অচেতন পদার্থ মধ্যে অবস্থিত সত্বেও অস্পর্শ ও নির্লিপ্ত। * এই শক্তিটাই ব্ৰহ্মশক্তি। যােগ গণ, যখন সাম্য, স্বরূপ, জীব এই তিনট্য তত্ত্বকে প্রাণে ধারণ করিয়া, তত্ত্বজ্ঞানের জ্যোতি প্রত্যক্ষ করেন, তখনই মহামিলনের মর্ম বুঝিয়া কৃতার্থ হন এবং মহাভাবের তত্বও পরিষ্কাররূপে বুঝিতে পারেন। এই অন্ত তত্ত্বজ্ঞানের ভাব, অনেকে জড় বিজ্ঞানাদির আপাতমধুর অদ্ভুত ব্যাপারে পড়িয়া জীবে ব্রহ্মে যে নিত্যযােগ ও অনন্ত ভাবে দ্বৈতাদ্বৈত লীলারস ভােগের মধুর রসাস্বাদন, বুঝিতে চান না। অসার যুক্তি তর্কের ঘােরর তরঙ্গে পড়িয়া পরিমিত ভাবে পরিচালিত হইতেই দেখা যায়। এমন কি, উচ্চ সাধকগণের মধ্যেও ঐ ভাব পরিস্ফুট হইতে থাকে । তাঁহারা একটুকু উর্দ্ধে উঠিয়া উন্মাদিনী ভক্তির উত্তেজনায় রূপক কল্পনার ভাবকেই প্রাণে স্থান দেন। ব্ৰহ্মযােগে মহা- ভাব তত্ত্বের সারমর্ম হৃদয়ে গ্রহণ করেন না, বাহিক ভাবের ভিতরে টলিয়া পড়েন। সত্য কথা ; সাধকগণ যে আধ্যাত্মিক ও রূপাদি দ্বারা ব্রহ্মের স্বরূপ গঠন করিয়া যােগ ও মহাভাৰ তত্বের ব্যাখ্যা করেন, তাহা পরিণামে ঠিক থাকে না জল, ১ * অনন্তে দ্বৈতলীলার বন্ধুরূপে মুখ, শান্তি, পুণ্য, পবিত্রতা বিরাজ করিতেছে। এতদ্ভিন্ন দুঃখ, যক্ষ্মণা, পাপ, তাপ, ভ্রান্তি প্রভৃতি ইহারাও বিচ- রূণ করিতেছে, কিন্তু ব্ৰহ্মকে স্পর্শ করিতে সক্ষম নহে। কেননা, ব্রহ্ম যে স্পর্শ শক্তি-স্বরুপ “শুদ্ধ মপাপৰিম”।

মহাভাব।
১২১
বিশ্বের ন্যায় ক্ষণস্থায়ী-অল্প সময়েই জড়ীয় ভাবে পরিণত হয়।
এই জন্য ভক্তগণ মধ্যে অনেকেই বুজত্বের শক্তি ও তাৰ
পরিত্যাগ করিতে না পারিয়া বাহিক বৃন্দাবমে মজিয়া যান।
সুতরাং তাঁহাদের হৃদয়ে প্রকৃত ত প্ৰকাশ পাইয়াও স্থায়ী
থাকে না। যাহাহউক, যােগ, ভক্ত, সাধক সকলের মধ্যেই ঐ
রূপক আধ্যাত্মিকতাদি বদ্ধমূল রহিয়াছে, তাহার ভিতর দিয়াও
যে পরম সত্য দেখা যায়, ইহাও ও আনন্দেরই কথা।
ভক্ত রায় রামানন্দের সহিত মহাভক্ত চৈতন্যের মহাভাৰ ভয়ে
যে কথা হয়, সকলেই জানেন। রূপক ভাবেও সুমিত শক্তির
প্রকার ভেদে জীবশক্তিকেই রাধিকা বলা হইয়াছে-
“চিং আনন্দময় কৃষ্ণৱ * রূপ।
অতএব স্বরূপ শক্তি হয় তিন রূপ,
আনলাংশে আলাদিনীসংশে সনি,
চিদাংশে সম্বিত যারে জ্ঞান করি মানি।
কৃষ্ণের আহ্বাদে তাতে নাম অহলাদিনী ;
সেই শক্তি দ্বারে সুখ অস্বাদে আপনি।
মুখরূপ কৃষ্ণ করে সুখ আস্বাদন,
ভক্তগণে সুখ দিতে হলাদিনী কার।
দিনীর সার অংশ তার প্রেম নাম,
আনন্দ চিন্ময় রস প্রেমের আখ্যান।
প্রেমের পরম সার মহাভাব জানি,
সেই মহাভাব রূপ রাধা ঠাকুরাণী।।
ইহাতে আধ্যাত্মিক ও রূপক ভাবেও স্পষ্ট বুঝা যাইতেছে
এক চিচ্ছক্তিরই ভাবময় জীবের পূর্ণাঙ্গ প্রেমকেই রাধারূপে
* চিক্তি।

তলােপনি। । গ্রহণ করা হইয়াছে। যাহা হউক,ভক্তগণ মধ্যেও নিরাকার পর এক্ষের দ্বৈতাদ্বৈত ভাবের বিষয় জানা যায়। পরবর্তী সময়ের মানবগণ, যােগী ও ভক্তকে কাহারও বাম হন্তের কনিষ্ঠাঙ্গুলিতে পর্বত, কাহারও ষড়ভুজে বংশী, ধনুর্বাণ, দকমণ্ডলু দিয়া - দর্শন করিতে ছাড়ে না। এই কারণে তত্ব জ্ঞানের অভাব হইয়া যায়, মহামিলনে মহাভাব প্রকাশ পায় না। তবে সেই মহাভাব তত্ব কিরূপে বুঝিব। পৃথিবী সরল বিশ্বাস ও সহজ জ্ঞানের প্রতি নির্ভর করিতে চায় না,কুট তর্কের অনুসরণপ্রিয় পথিক বিচিত্রতার অনুযাত্রী হইয়া ব্ৰহ্মপ্রদত্ত স্বাভাবিক ভাবে কিছুতেই প্রবুদ্ধ হয় না—কেনই বা হইবে। জগতের আশু সুখপ্রদ মনমুগ্ধ চাব কি কখন ভুলা যায় ? স্বর্গের বিশুদ্ধ নিত্য সুখের ভাবে কেনই বা তৃপ্তি হইবে। সে সুখ যে সংসারে উটা বুঝায়। খ্ৰীষ্ট বুঝিয়াছিলেন, তাঁহার প্রতি কুশ ব্যবস্থা হইল, সক্রিটিস বুঝিয়াছিলেন, তাহাকে বিষ ভক্ষণ করিতে হইল ; চৈতন্য বুঝিয়াছিলেন, তাঁহার স্কন্ধে ভিক্ষার ঝুলি পড়িল; হাফেজ বুঝিয়াছিলেন, লােকে তাহাকে দেওয়ানা বা পাগল বলিত। হায়! এই অধম কি পাগলের বােগ্য! তবেই বুঝিতেছি পাগল না হইলে কেমন করিয়া বুঝিব। * মহাভক্ত চৈতন্য উন্মাদিনী ভক্তির আবেশে মূর্ত্যাদির পরিমিত দর্শ নেও অধৈৰ্য্য হইতেন বটে কিন্তু শেষবার সমুদ্রে রেখা তরঙ্গের অভেদ ভাবে মহাবের আভা মাত্র দর্শন করিয়াই সমুদ্রে মুচ্ছিত হইয়া পড়েন। কেননা তিনি মত্ততা প্রমত্ত প্রেমে সহসা বিহবল হইতেন, এজন্য সংজ্ঞা থাকিত না। রেখা ভর দর্শনের কথা গুঢ় হইলেও অসম্ভব নহে।

মােহ-মরীচিকা। প্রাণটা মানে না সেই জন্য এমন গুরুতর বিষয়ে আলােচনা- তও প্রবৃত্ত হইয়াছি। জানিনা ইহার ভিতরে পিতার ইচ্ছা কি? আর কোন কথা নাই, তবে এইটুকু বলিতে ইচ্ছা হয়, ভগবত্তত্বের বিষয় প্রকৃত উত্তর হউক বা নাই হউক, তাহার জন্য যদি প্রাণটা কালে, মন কি ? সকলের নিকট প্রাঞ্জলি পুটে বলিতেছি, পাগল বা দীন হইতে না পারিলে মহা মিলন মহাভাব তত্ত্ব, জানা যায় না। যতই দীন ভাবে আপনাকে আপনি দেখিবেন ততই স্বর্গের উচ্চ ভাৰ আসিয়া হৃদয়, মন, প্রাণকে আকৃষ্ট করিবে। তখন পশু, পক্ষী, নাদির শরীর ভাবে একই জীব শক্তির প্রকাশ ভিন্ন আর কিছু বুঝিবেন । চন্দ্র, সূৰ্য্য গ্রহ উপগ্রহ এবং বিচিত্র জগৎ সকল আর দৃষ্ট হয় না। একমাত্র পূর্ণ পরমানন্দময় ব্রহ্মই দ্বৈতাদ্বৈত নিত্য লীলায় পিতা পুত্র বা সেব্য সেবক ভাবে ক্রীড়া করিতে ছেন। জীবাত্মা, পরমাত্মার স্বরূপ শক্তিতে মগ্ন হইলেই মহা যােগ। পরমাত্মা জীবাত্মাতে প্রকাশ পাইলেই মহাভাব। ইহা ভিন্ন আর ত কিছু বুঝি না। মােহ-মরীচিকা। যে শ্মশানে সন্ত্রান্ত বাবুটী চিতাগিতে ভন্ম হইলেন, কোথায় বা তাহার অট্টালিকা, কোথায় বা অতুল ঐশ্বৰ্য্য, কোথায় বা স্ত্রী-পুত্র-পরিজন, কিছুই ত সঙ্গে গেল না! বহু ৰূত্নের শরীরটা দেখিতে দেখিতে পৃথিবীর ধুলির সহিত মিশিয়া গেল, একটু চিহ্নও রহিল না। কেবল ঐ সােণার ঘড়িটা, ১২৪. তবদ্বাপনিষদ। বিলাতী পিক্চার খানি, ঐ ব্যাটাকে করিতে হইবে, এই কথা বলিয়া চীৎকার করিলেন। রাম বিষ্ণু কিছুই ত বলিতে পারিলেন না। মনের আশা ভরসা সকলি বৃথা হইল। এই রূপ ভাবে ভাবিয়া দেখিলে কে জব্দ হইলেন? বিকারমগ্ন বাবুট কি নহেন। ঐশ্বৰ্য্য গর্বিত মানবের দেহপাত ও কি ভয়ঙ্কর। হয়। যখন একটি সূচিকার সহিতও সম্পর্ক নাই, তখন ধনমত্ত- তায় হুঙ্কার শব্দ কি ভ্রমের কথা নহে? ক্ষণভঙ্গুর শরীরের গৌরব কি? যদি কালের শাসনকে অতিক্রম করিতে পারিতেন এবং ভীষণ ব্যাধি যন্ত্রণা ভােগ করিতে না হইত, তাহা হইলে গর্বিত হওয়া সম্ভব ছিল। ধনী, দরিদ্র, জ্ঞানী, মুখ, রাজা, প্রজা সকলেরই একই অবস্থা। শৃগাল কুকুদির শনি-মহােৎসৰে সকলেরই ত সমভাব। আহা! এস্থলে জগতের কেমন অপূৰ্ব শ্রী ও সাম্যদৃষ্টি, পরস্পর কেহ কাহারও হইতে উচ্চ হইতেন না। হে বন্ধুগণ। শশান-ভূমির ভীষণ-দর্শনেও অসারকে সার ভাবিতেছেন। প্রকৃত সত্যকে উপেক্ষা করিয়া আমিত্বের দাসত্বে বাধ্য হইতেছে ! হায়! আমিত্ব কি ভয়ঙ্কর! কিছুতেই মানব প্রকৃতিকে উচ্চ আদর্শের মধ্যে প্রবেশ করিতে দেয় না। ইহাতে আবার মায়ার বিবিধ প্রলােভন উপস্থিত। কিন্তু ইহা কি কর্তব্য নহে যে, এই সকল বিঘ্ন বিড়ম্বনা সত্তেও গন্তব্য পথের লক্ষ্য স্থির রাখিতে হইবে। মুহুর্ত সময়েই যদি শ্মশান বৈরাগ্যকে আসক্তির পদতলে নিক্ষিপ্ত করেন, তাহা হইলে কি হইল। অন্তঃসলিলা ফন্তু নদীর আর, পবিত্র বৈরাগ্যকে অন্তরে জাগ্রত রাখি, প্রত্যেক টনার মধ্যে প্রবেশ করিলেও, মােহ-মরীচিকা। লংসারে নিষ্কলঙ্ক বিশুদ্ধ শতর অনুষ্ঠানে অনায়াসেই শান্তিলাভ হইতে পারে। তাহা না হইয়া, ঐ দেখুন, বিষয়াসক্ত সন্ত্রান্ত ব্যক্তিটা নীতির বহির্ভূত কাৰ্যেই পরিতৃপ্ত। রাজনীতির ভিতরেও ঈশ্বরেরই বিধান উজ্জ্বলরূপে জ্বলিতেছে, তাহা তিনি মােহমও- তাবশে দেখিতে পান না, নিয়ত, ধূৰ্ত্ত বুদ্ধির তীক্ষ্ণ ধারে জগৎকে খণ্ড খণ্ড করিতে ব্যস্ত। তিলার্ধ কাল সময় নাই যে, দুই একটী ধর্ম কথা বলেন। অধিক কি বলিব, জুম্ভণ ছাড়িবার কালেও ঈশ্বরের নাম লন না। জীবনে বৈভব কেমই একমাত্র সুখের নিদান। আবার পৃথিবী ছাড়িতে হইবে কি ? তাহার নিকট কালেরই দুর্দশা ঘটিয়াছে, তাহার ইহাই বিশ্বাস। হায় ! ধনস্পৃহার কি অনির্বচনীয় শক্তি ! ঐ যে রােগ শয্যায় উপযুক্ত ধার্মিক পুত্রটি ছটফট করিতেছেন, এখানে দেওয়ানখানায় একটি ফেরেবী মােকদ্দমার মন্ত্রণা চলিতেছে, নিঃসহায় ধৰ্ম্ম পৰায়ণ এক ব্যক্তির সর্বনাশ করিবেন; কেননা সেই ব্যক্তি অধীনস্থ প্রজাগণকে ধৰ্ম্ম-প্রবৃত্তি ও জ্ঞানশিক্ষা দিয়া থাকেন। বন্ধুগণ ! ইতি পূৰ্বে ঐ সম্রান্ত বাবুটীর শ্মশানের অবস্থা মনে পড়ে কি? দেখিয়াছেন ত শুভ্রকেশ বৃদ্ধটির বৈরাগ্যের তরঙ্গ। শরীর ক্ষণভঙ্গুর জলবিম্ববৎ অস্থায়ী, ঘন ঘন হা ঈশ্বর, ধনৈশ্বৰ্য্য কিছুই নয়, ইত্যাদি বলিয়া, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করিতে লাগিলেন। আবার গৃহে আসিয়া, অল্প দিন মধ্যেই, “কত আর সুখে মুখ দেখিবে দর্পণে সঙ্গীতটীর ঠিক অবস্থায় পহছিয়াও, বহু মূল্যের একখানি দর্পণ খরিদ করা হইল। তাহার তীব্র বৈরাগ্য বুঝি শ্মশানতম্ব মাখিয়া শ্মশানেই থাকিলেন। আর তৰোপনিষদ্ । । হইল। সুখের সংসার ছাড়িবেন না, বাই খেমটা তামাসার ধুম পড়িয়া গেল। এদিকে ভারতে, স্থানে স্থানে, ভীষণ দুর্ভিক্ষে শত শত নর-নারী মরিয়া ধায়, আরও যাইবে, জানিয়াও কঠিন চক্ষে, এক বিন্দু জলও পড়িল না, পড়িবে কি? মুখ বাঁকাইয়া ই-ঘোড়দৌড় কবে হে?” এই বলিয়া গ্রাৰু খেলিতে লাগিলেন। কখনও বৈষ্ণব ভিক্ষুক-দল আসিয়া ধর্ম-সঙ্গীত গান করিলে বস্তবিকই তাহাতে বড় বিরক্ত হইলেন—হাই ছাড়িতে গাড়িতে তাকিয়ায় ঠেস দিয়া নাক ডাকাইলেন। কিছুদিন পর বাবুটা হঠাৎ একটা ফৌজদারী মােকদ্দমায় পড়িলেন। তাহাতে এত যে ধনৈশ্বৰ্য্য ও বাবুগিরী সমস্ত শেষ দালানের ছাদ সকল অল্প দিনেই, ধুপ, ধাপ, পড়িতে লাগিল। ভগ্নগৃহে খেজুরের চাটাইয়ের আবরণ দ্বারা বাস করা ঘটিল। বড় বড় ঘর অশ্বথ প্রভৃতি বৃক্ষাদিতে আবৃত হইল। বাড়ীটা যেন লজ্জায় অরণ্যে লুকাইয়া রহিয়াছে। হাতী, ঘােড়া, দাস, দাগী সকল কোথায় ? বাবু ভাবিতে ভাবিতে শীর্ণ জর্ণ রুগ্ন ভগ্ন-শরীর, কঙ্কালাবশিষ্ট মাত্র আর নিমতলার ঘাট এড়াইতে পারিলেন না। ইনি কেমন ব্যক্তি ? আর এক শ্রেণীর মানবের অবস্থা দেখুন। ইনি জগতের কাহারাে সহিত মিশেন না। কি জানি পরিচিত হইলে ভবি: গুতে যদি এৰু ছিলুম তামাক ব্যয় করিতে হয়! মধুমক্ষিকার স্থায় সঞ্চয়ই ইহার কাৰ্য,ইহার ভগবৎচিন্তা করিবার অবসর নাই,সুতরাং তাহা ঘটিয়া উঠিত না। কোন স্থানে নিমন্ত্রণ সাধন পাইলেই পূর্ণ মাত্রায় ভােজন চলিত। গুঢ় অভিপ্রায় অন্য বাহিক- আৰে একাণী রবিবার, সােমবায়, প্রায়ই করেন। কেমন লা

মােহ-মরীচিকা।
১২৭
তাহাতেও কিছু সঞ্চয় হয়। ধন কোষ একটা পিত্তলের ঘটা।
বহুদিন,বড় কষ্টে তাহাতে ৯৯টি টাকা জমা হইল কিন্তু তাহাতে
আর একটা বিপদ ঘটীল, তাহার ধাক্কাতে, ছেলে মেয়ে গুলির
দু'বেলা প্রায় আহার হইত না। নিজের ত অনেক দিন পূর্বেই
গিয়াছে। বাড়ীর কত্রীর প্রতি বড় কড়াকড়ি হুকুম,এক সপ্তাহের
পর একবারে দুইটা পয়সার অধিক গুড় লইতে পারিবে না।
কাহার সাধ্য সে আদেশ লঙ্ঘন করে। অবশ্যই সকলে জানেন,
ঐরূপ ব্যক্তির সঞ্চিত ধনে চোরের অধিকার আছে। এক শত
পূর্ণ হইতে না হইতেই, ঘটিটা চুরি গেল। সঞ্চগীয় অর্থ-শশাকে
অস্থিমাত্র সার হইল। ভয়ানক উৎকট পীড়ায় আক্রান্ত হইলেন।
কিছু দিন পরে ‘নিরানব্বয়ের ধাক্কাতেই’ মানব লীলা সম্বরণ
করিলেন। হায়! এই ভাইটীর অবস্থা দেখিয়া কি প্রাণ কাঁদে
? শরীর ছাড়িবার সময় কেবল মাত্র ঘটি কৈ?-ঘটি কৈ ?
আমার ঘটি কে চুরি করিল, এই বলিয়া নিঃশব্দ ও স্পন্দহীন
হইলেন। কাহারও সহিত প্রাণের কথা কিছু বলিতে পারিলেন
না, ঘাের অশান্তির অগ্নিতে হৃদয় মন প্রাণকে দগ্ধ করিলেন।
আহা! কি শশাচনীয় ভাব।
সুহৃদগণ ! একবার এ দিকে আসুন ত ? ঐ যে দেখি-
তেছেন নীল প্রস্তরমণ্ডিত প্রকাণ্ড প্রাসাদ মধ্যে এক্ষণে
চর্মচাটকা ও হিংস্র প্রাণী সকল বাস করিতেছে, অবশ্য
শুনিয়া থাকিবেন, ঐটা গৌরপতি হােসেন সাহা বাদসাহের
বিচারগৃহ। ও স্থানটী অতি বিস্তৃত, ইহার তিন দিকে স্রোতস্বিনী
সকল আলবালরূপে সুশােভিত, অসংখ্য জনপূর্ণ ও মা
সমৃদ্ধিশালী ছিল, এক্ষণে স্থানে স্থানে ভয়াবশি চিহ্নমাত্র দেখা

১২৮ ততাপনিষদ। যায়। হা! ঐ স্থলে, প্রচুর ঐশ্বৰ্য্য ভূগর্ভে নিহিত থাকা সত্বেও অরণ্যময়। যাহার প্রতাপে উড়িষ্যা, প্রভৃতি দেশ সকল ঝাপিত, তাহাকেও ঘাের দুর্গতিভভাগ করিতে হয়। দিল্লীসম্রাটের অসংখ্য সৈন্য কিল্লার চতুর্দিক অবরুদ্ধ করিল। গৌরেশ্বর বাহির হইবার পথ না পাইয়া, বহুদিন আবদ্ধ ভাবেই কাটাই- লেন, দিল্লীসম্রাটের সৈন্যগণ অনেকদিন ছাউনী করিয়াছিল। এ স্থলে আরও একটী অপূৰ্ব চিত্র দেখুন ! ঐ মহা তেজী গৌড়সম্রাটের মন্ত্রীকাৰ্য্যে (উজির রূপ-সনাতন নিযুক্ত ছিলেন, তাহারা ভাব বিপদাশঙ্কা হইতে উত্তীর্ণ হইবেন বলিয়া, মহাভক্ত চৈতন্যের উপদেশে উন্মত্ত হন, এবং কর্ম পরিত্যাগ করতঃ ক্রমে উভয়েই, পবিত্র ক্ষেত্র বৃন্দাবনে বাস করেন ও ভগবদনাম ধ্যান যােগে সমাধি প্রাপ্ত হন, কিন্তু বাদসাহের কোন বস্তুরই অভাব ছিল না। তথাপি সৈন্যসামন্ত থাকা সত্ত্বেও, বিনাযুদ্ধে সপরিবারে অনাহারে প্রাণ হারাইলেন। দিল্লী সম্রাটই বা কোথায় ?—কি ভয়ানক অবস্থা। বন্ধু সকল! ওদিকে আবার কাহাকে দেখিতেছেন ? চিনিতে পারেন না? উনি যে ভট্টাচাৰ্য্য উপাধিধারী মানব- গুরু। পশ্চাতে যে সরল প্রকৃতি, সৌম্যমূৰ্ত্তি, সাধু ব্যক্তি- টিকে দেখিতেছেন, উনি একজন সমৃদ্ধিশালী শূদ্র। ভট্টা- চাৰ্য মহাশয়ের প্রধান শিষ্য । গুরু ঠাকুর, বহু যত্ন কৌশলে, শিষ্যটিকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করিয়া তাহার ভূসম্পত্তি ও অস্থাবর যাহা কিছু ছিল, এমন কি, স্ত্রীধনটা পৰ্যন্ত আত্মসাৎ করেন। এক্ষণে দলিল খানা মজবুদজন্য ঐ রূপ ব্যন্ত ভাবে যাই তেছেন। অবশ্য ঐ রূপ সত্যব্রত শিষকে তত বিশ্বাস কিরূপে মােহ-মরীচিকা। ১২৯ ১২৯ করা যায়। সুতরাং একটী মুন্সী লােকের দ্বারা লেখাপড়া করা কর্তব্য, এই জন্য অত এ ভাবে যাইতেছেন। দেখুন ত ঐ গুরুই ধাৰ্মিক না ঐ শূদ্র ? দেবভাবের আবির্ভাব কাহার ভিতরে দেখিতে পান ? ভক্তির পথে যাইতে হইলে ঐ শুদ্ৰটীর পদধূলি গ্রহণ করা কি উচিত হয় না? শাস্ত্রে আছে “চালােহপি বিজশ্রেষ্ঠঃ” ইত্যাদি। তবে ঠাকুর মহাশয় এরূপ ধুত্ত বুদ্ধির অনুসরণে প্রবৃত্ত হইলেন কেন ? যিনি তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দ্বারা আসাধুকে সাধু, মুখকে জ্ঞানী, অসরলকে সরল করিবেন এবং কুপথগামীকে সুপথে আনিবেনু তাহার কি এই কাৰ্য্য ? আবার ক্ষীর-সর-নবনীত প্রভৃতি উপাদেয় ভােজনে তৃপ্তি পায় না, স্বর্ণ পৰ্যঙ্কে ॥ শয়ন না করিলে নিদ্রা হয় না, বামাকর শশাভিত বৃন্ত ব্যজন ভিন্ন প্রাণটা উড় উড় করে, আলবােলায় মৃগকস্তুরী মিশ্রিত খাম্বিরা তামাক টানিতে না পারিলে বড়ই কষ্ট হয়। ইহাকে কি হােসেন সাহা বাদসাহ হইতে কম বলিতে পারা যায় ? হায়! শিষের কাণের ভিতরে ক্লীং বা ক্লাং মন্ত্র দিয়াছেন অনেক দিনের কথা সে ভুলিতেও পারে, ঐ সত্বে.সত্ববান হইয়া এতই রাজত্ব ভােগ। কিন্তু ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের এত ঐশ্বৰ্য্যসত্বেও একটী বড় গুণছিল। গুরুগিরী ব্যবসায়ী রক্ষার জন্য শিষ্যের বাড়ীতে কখন কখন গঙ্গাজল বিশ্বদলাদি স্পর্শ করিতেন। ফুর্তি কত ! এক রাত্রে ১২০ খানা কালী প্রতিমা পূজা করিতে পারিতেন। স্বয়ং প্রভূ তার আবার ভক্তি আরাধনার প্রয়ােজন কি ? এটি ভুল। * অনেক অবিশ্বাসী সম্রান্ত ব্যক্তি আছেন, যাঁহারা বৃষােৎসর্গের ক্রিয়ায় স্বর্ণ রৌপাের ও সুখাসন দেন।

১৩০ ততাপনিষদ্ । দেহী মাত্রেই কালের অধীন। সত্যসত্যই গুরুঠাকুর উৎকট পীড়ায় আক্রান্ত হইলেন। আর সে আলৰােলা নাই বিলাসিতা নাই, ক্ষণ কালের জন্যও প্রাণে শান্তি নাই। বিকারে অসম্বদ্ধ প্রলাপ ব্যতীত আর কোন কথা শুনিতে পাওয়া যায় না। অসহ দুর্গন্ধে বন্ধু বান্ধব কেহ কাছে আই- সেন না, এমন কি প্রাণাধিকা প্রণয়িনী তিনিও পরিত্যাগ করিলেন। বাঁচিয়া থাকিতেই উপযুক্ত সন্তানেরা অতুল ঐশ্বর্য রাশি “ভূতে পশ্যন্তি বন্ধুরা” এই মন্ত্রে শেষ করি- লেন। ভিকাই জীবন রক্ষার উপায় হইল। কিছু দিন পর ভট্টাচাৰ্য মহাশয় হা-টাকা, হা-টাকা, হা জল, হা জল বলিয়া শরীর ত্যাগ করিলেন। কি শােচনীয় ভাব। এই ভাবে দেখিয়া আসুন। সংসারে উচ্চ নীচ সকল শ্রেণীর মধ্যেই অধিকাংশ ব্যক্তিই ঐশ্বৰ্য্য মত্ততায়. সত্যকে একবারে তাড়াইবার চেষ্টা করেন। এমন প্রকৃতির লােক আছেন, যাহারা উর্ধে টানিয়া স্পষ্টই বলেন, অসত্য না বলিলে কি সংসার চলে। সত্য কথায় ব্যবসায়-বাণিজ্য বা কোন কাৰ্যই সুশৃঙ্খলে নির্বাহ হইতে পারে না। আচ্ছা মনে করুন ; নিজের একটা সুবিধার কাৰ্য্য জন্য পাঁচটী টাকা কাছে আছে; এখন পাঁচ বৎসর হইল একটী বন্ধুর নিকট পাচটী টাকা ধার করা যায়, তিনি ঐ সময়ে আসিয়া চাহিলেন। টাকা নাই ভাই; এ কথায় কি অন্যায় বলা হইল? যদি সত্য বলা হইত, তাহা হইলে কখনই ঐ সুবিধা দরের জিনিসটীতে আশাতিরিক্ত লাভ করা যাইত না। শাস্ত্রেও আছে, কাৰ্য্য বিশেষে মিথ্যা বলিলে অপরাধ নাই।

মােহ-মরীচিকা। এইরূপ প্রশ্নের উত্তর ঐ দেখ—সার্জন লরেন্স নামা জাহাজে প্রায় আটশত নরনারী একত্রে যাইতেছিলেন। সমুদ্রে হঠাৎ ঝটিকা ভয়ানক প্রবল হয়। অর্ণবতী বারিধির উত্তাল তরঙ্গে আন্দোলিত হওয়াতে, আরােহীদিগের কেমন শােচনীয় অবস্থা। যখন একজন বীরপুরুষ নির্ভীকান্তকরণে “আর জাহাজ রক্ষা হইল না, সকলে প্রস্তুত হও” এই কথা বলিলেন ; তখন কয়টা শােক জগতের মনমুগ্ধকারী সুখের আশা পরিত্যাগ করত ঈশ্বরে হৃদয়, মন, প্রাণ উৎসর্গ করিতে প্রস্তুত হন। অধিকাংশ ব্যক্তিই ঐ আমার ছেলেটী, ঐ যে ঘরের কোলে মাটীর তলে ঘটিটী থাকিল, আর দেখিলাম না, ইত্যাদি ভীষণ আর্তনাদই করিতে থাকিলেন ; দেখিতে দেখিতে জাহাজ অতল সমুদ্রগর্ভে অদৃশ্য হইয়া গেল। এই ত পৃথিবীর সুখের পরিণতি, হা। তাহাদের পুত্র কন্যা ধনৈশ্বৰ্য কোথায় রহিল। তাই বলি সত্যের উজ্জ্বল তেতির সম্মুখে অসত্যে তৃপ্তি লাভ কখনই সম্ভব নহে। আসক্তিপূর্ণ হৃদযেই উহা স্থান পায়। বাস্তবিকই ঐরূপ অসার ভাবনায় যিনি উন্মত্ত হন, তিনিই অসুখী। তাঁহাকে “শেষের সে দিন কি ভয়ঙ্কর” এই কথাটী চিন্তা করা উচিত। এই পৃথিবী অবশ্যই ছাড়িতে হইবে, এ বিষয়ে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। কতত্ত্বজ্ঞানিগণ ! অমিকেরা আশু সুখের জন্য জ্বসত্য- কে । সত্য জ্ঞান করেন। অসার ধন সম্পদ, পুত্র কন্যা পরি জন যে ঐমের বস্তু অস্থায়ী, তাহা কেহই চিন্তা করেন না। বৃদ্ধ পিতা মাতার হৃদয়র উপযুক্ত সন্তান চলিয়া যাইতেছে। কাহার জন্যই বা পাপ প্রবৃত্তির প্রশ্রয়ে অশান্তি লােগ, কাহার জন্যই বা !

তব্দোপনিষত্ ।
শয়কে ভুলিয়া সংসারে দাসত্ব, কাহার জন্যই বাংল-বল কৌশল
দ্বারা নরক ভােগ করা, এ কি দুঃখের কথা নহে? ঈৰে ভাই
সংশনে বামপদ আর তুলিতে পারিলেন না। চকের গতি
শক্তি নিস্পন্দ, শ্বাস প্রশ্বাস একবারে বন্ধ, ক্ষণমধ্যেই অচেতন ও
জড়বৎ,শত শত খাঘাতেও সংজ্ঞা নাই, মহানিদ্রায় অভিভূত।
আর আমিত্বের কুহকজালে নিবদ্ধ থাকা কি বুদ্ধিমানের কাৰ্য্য?
বলুন ,মুখ আমি,না হাত, আমি? এস্থলে অন্নদাতা কর্তা আমি
বলা, কি উম্মত্তের কথা নহে? কিছু নয়—কিছু নয় -সকলই
সেই অনন্ত ভূম। মহাপ্রভুর পুত্র কন্যা। সকল পদার্থই তাহারই।
জগতের বিচিত্রতা দর্শন কেবল মাত্র দৈহিকভাব সম্ভুত। ইহা
সমুদ্রবিম্বের লীলা মাত্র।
লারের বিচিত্র ভাব ধরিয়া অনেকগুলি কথা বলিলাম বটে,
কিন্তু আমার কি দশা হইবে? অামি যে মাপাপী! হে প্রভাে।
তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হউক”, এই বলিয়া শেষ দিনের জন্য
প্রস্তুত হইতে পারিব ? তাই বলিতেছি, নানাস্থানীয় তৃণ সকল
একত্র হইলে, রজ্জরূপে মহাবল ধারণ করে। সেইরূপ সকল
তাই ভগিনীরও সাধুসঙ্গ প্রার্থনীয়। তবে আমরা সক।
প্রস্তুত করিতে সচেষ্ট হই। উপমুক্ত শূদ্র মহাত্মার ন্যা
দেবভাব না আসিলে কখনই পরিত্রাণ নাই। সেই
বলিতে সময় থাকিতে প্রস্তুত হওয়া একান্ত প্রার্থী
সংসারে মােহমরীচিকায় পড়িয়া সময় পাত করা উচিত

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Tattyaponishad Part. 1

Author
Bramhadas, Kamalakanto
Title
Tattyaponishad Part. 1
File name
Tattyaponishad Part. 1
Text
OCR done
Citation
1895
Published
2010/04/1
Publisher
Nabyabharat-basumati Press,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
142
Library
Majhu Public Library, Howrah
Classification
Bengali Epic
Keywords
Bramhadas, Kamalakanto
DLI number
511516
Barcode
4990010018654.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
XQLZy3g94RW
Download PDF

Tattyaponishad Part. 1