Bally Sadharan Granthagar

Saitan

Pal, Jatindranath · 2009/08/20

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পপুলার সিরিজের ঊনবিংশ সংখ্যা।
শয়তান?
শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রনাথ পাল
প্রণীত।
২য় বর্ষ-৭ম সংখ্যা।
কার্তিক-১৩২৮।
শিশির পাবলিশিং হাউস
কলেজ স্ট্রীট মার্কেট,
কলিকাতা।
মুল্য আট আনা।

প্রকাশক
শ্রীশিশিরকুমার মিত্র, বি-এ,
শিশির পাবলিশিং হাউস
(কলেজ স্ট্রীট মার্কেট, কলিকাতা।
প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রিন্টার—আবদুল গফুর,
নিউ ব্রিটেনিয়া প্রেস,
২০২-১ নং অপর সারকুলার রোড,
কলিকা।

পপুলার সিরিজের
গ্রাহকদিগের নিকট নিবেদন
পপুলার সিরিজের বইগুলি আরও সুদৃশ্য
করিবার জন্য আমরা বহুদিন হইতেই চেষ্টা
করিতেছি। এতদিন পরে আমাদের চেষ্টা
সার্থক হইতে চলিল। অতঃপর পপুলার
সিরিজের প্রত্যেক বই সচিত্র, ও সুন্দর বাধাই
হইয়া বাহির হইবে। তাহা ছাড়া আর
সচিত্র প্রচ্ছদ পট থাকিবে।
মূল্য সামান্য
বাড়ি।
প্রতি সংখ্যা ॥৩, সডাক ষান্মাষিক ২০
সডাক বাষিক | ০
যাহারা দ্বিতীয় বর্যের গ্রাহক হইয়াছিলেন
তাহাদের আর অতিরিক্ত কিছু দিতে হইবে
না। যাহারা ষান্মাসিক গ্রাহক হইয়াছিলেন
তাহাদের—দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় ষান্মাসিকের
জন্য ২/৩ দিতে হইবে।
আমাদের অনুবােধ ঐ মূল্যের অন্যান্য
সংরণের সঙ্গে আমাদের সংস্করণ মিলাইয়া
দেখুন ।

No text on this page.

উপন্যাস ও পপুলার সিরিজের নুতন পৰ্য্যায় ডিটেকটিভ উপন্যাস প্রকাশকের নিবেদন আড়াই বৎসর পূর্বে আমরা উপাস সিরিজ প্রকাশ করিতে আরম্ভ করিয়াছিলাম । অনেক আশা লইয়াই আমরা এ কাৰ্যে ব্রতী হইয়াছিলাম। বাঙ্গালা ভাষার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস- গুলিই উপন্যাস সিরিজে প্রকাশিত হইবে- এই ছিল আমাদের লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য সাধনে এ যাবতকাল আমরা যে অর্থব্যয়, চেষ্টা ও যত্নের ক্ৰটী করি নাই, সাহিত্যিক মাত্রেই তাহার সাক্ষ্য দিবেন। কিন্তু তথাপি ফল যে আশানুরূপ হয় নাই এ কথা সর্বাগ্রে আমরাই স্বীকার করিয়াছি ও এখনও করি- তেছি। প্রকাশক চেষ্টা, যত্ন ও অর্থব্যয় করিতে পারে, কিন্তু লেখা লেখকদের হাতে, তাই লেখা সম্বন্ধে সে অল্প বিস্তর ক্রটী রহিয়া গিয়াছে তাহা প্রকাশকের যত্ন চেষ্টা ও সাধ্যের বাহিরে-প্রকাশকের সে বিষয়ে কোন হাত নাই; তাহার উপর দৈব দুর্বিপাক। আমরা কাৰ্যে প্রবৃত্ত হইতে না হইতেই কাগজ দুৰ্ম্ম ল্য হইয়া উঠিল, প্রেসের দর ও বাধাই খরচ বাড়িয়া গেল- বস্তুত এমন এক সময় আসিয়াছিল যখন আমাদের অনেক শুভানুধ্যায়ীই এই কাৰ্য্য বন্ধ করিয়া দিতে আমাদিগকে অনুরােধ করিয়া- ছিলেন। কিন্তু তথাপি আমরা তাহা করি নাই, এবং অনেক ঝড় তুফান অতিক্রম করিয়া উপন্যাস সিরিজের আজ তৃতীয় বৎসর চলিতেছে। এই তৃতীয় বৎসরে আমাদের মনে হই- তেছে আর একবার প্রাণপণ চেষ্টা করিয়া দেখা যাউক, গ্রাহকদের ঠিক আশানুরূপ বই বাহিৰ করিতে পারা যায় কিনা।

এতদিনের অভিজ্ঞতায় আমরা এইটুকু
বুঝিয়াছি পাঠকেরা এমন উপন্যাস চান যাহা
পড়িতে তাহাদের ক্লান্তি হয় না, অবসাদ
আসে না। এই মাপ কাটিতে যদি আমরা
আমাদের উপন্যাসগুলি মাপিতে আরম্ভ করি
-তবে আমরা দুই রকম উপন্যাস দেখি ।
এক রকম উপন্যাস—যাহাতে ঘটনাবৈচিত্র্য
অল্প, কিন্তু ভাব ভাষা ও বলিবার ভঙ্গিতে,
মনঃস্তত্বের নিভুলতায় যাহা প্রথম হইতে শেষ
পৰ্য্যন্ত পাঠককে মুগ্ধ করিয়া রাখে। এই
ধরণের উপন্যাস লিখিয়া শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুর ও শ্রীযুক্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যশস্বী
হইয়াছেন। আর এক রকম উপন্যাস,
যাহাতে মনঃস্তত্ব, কিবা ভাব ভাষার ততটা
বাহাদুরী নাই, কিন্তু ঘটনা বৈচিত্র্যে লেখক
গােড়া হইতে শেষ পর্যন্ত পাঠককে স্তব্ধ
করিয়া রাখেন। এই ধরণের উপন্যাস বাঙ্গালা
ভাষায় খুবই কম দেখা যায়। যুক্ত
প্রভাতকুমার মুখােপাধ্যায় এই ধরণের গল্প

লিখিয়াই যশস্বী হইয়াছেন। এই দুইয়ের সংমিশ্রণে যে উপন্যাস, অর্থাৎ যাহাতে মনঃস্তত্বও আছে, ঘটনাবৈচিত্র্যও আছে— এরূপ উপন্যাস বাঙ্গালা ভাষায় একরূপ নাই বলিলেই চলে। স্বর্গীয় বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস- গুলিতে আমরা মনঃস্তত্ব ও ঘটনাবৈচিত্র্য দুইই দেখিতে পাই, বঙ্কিমচন্দ্র তাই পাঠককে মুগ্ধ ও স্তব্ধ করিয়া রাখিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। ইহা ছাড়াও আর এক শ্রেণীর উপন্যাস আছে —যাহাকে হাস্যরসাত্মক উপন্যাস বলা যায় । এই ধরণের উপন্যাসও বাঙ্গালা সাহিত্যে বড় একটা দেখা যায় না। যেগুলি আছে তাহাদের মধ্যে আমাদের প্রকাশিত শ্ৰীযুক্ত যতীন্দ্রনাথ পাল প্রণীত ‘পাড়া কুঁলী’ই উল্লেখ যােগ্য। যত রকম উপহাসের নাম করিলাম তাহার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর উপন্যাসই বাঙ্গালা ভাষাঙ্গ বেশী দেখা যায়। বস্তুত: আমাদের উপন্যাস সিরিজে এ যাবতকাল এই শ্রেণীর

৩
উপন্যাসই বাহির হইয়াছে। এই শ্রেণীর
উপন্যাসের কেন যে বাঙ্গালা ভাষায় এত
প্রসার হইতেছে তাহা জানি না। হয়ত
বাঙ্গালী ভাব প্রবণ বলিয়াই কিংবা অন্য কোন
কারণ আছে। তবে আমরা দেখিতে পাই
পাঠক অন্য শ্রেণীর উপন্যাস পাইলেও কিছু
কম সন্তুষ্ট হন না। তাই আমরা আজ
উপন্যাস সিরিজে ঘটনা বৈচিত্র্যময় উপন্যাস
প্রকাশ করিতে উদ্যোগী হইয়াছি।
এক্ষণে আমাদের একটা বক্তব্য আছে।
এই ভাল হওয়া কি মন্দ হওয়া তাহা সম্পূর্ণ
গ্রন্থকারের হাতে। কিন্তু অনেক সময়
পাঠকেরা সে সম্বন্ধে প্রকাশকদিগকেও দায়ী
করেন। আমরা অনেক ভাবিয়া চিস্তিয়াও
এতকাল স্থির করিতে পারি নাই, আমাদের
যথেষ্ট চেষ্টা ও যত্ন সত্বেও কি করিয়া এতদিন
যেরূপ করিয়া আসিয়াছি তাহা অপেক্ষা
পাঠকদিগের আরও মনস্তুষ্টি করিতে পারি।
এখন আমাদের মনে হয়, ঘটনা বৈচিত্র্যময়

প্লট ও ভাব দিয়া লেখককে সাহায্য করিলে লেখক হয়ত এই দ্বিতীয় শ্রেণীর খুব ভাল উপন্যাসই লিখিতে পারেন এবং সে রকম উপন্যাস পাঠকদের যে খুবই তৃপ্তিজনক হইবে তাহাতেও কোন সন্দেহ নাই। বাঙ্গালা দেশের সাহিত্যিক বৃন্দের নিকট আমাদের এক নিবেদন আছে। এইরূপ ডিটেকটিভ কিম্বা ঘটনাবৈচিত্র্যময় উপধ্যাসের নাম শুনলেই তাহারা নাসিকা কুঞ্চিত করেন। কিন্তু কেন যে করেন তাহার কারণ আমরা এখন পর্যন্তও ভাবিয়া স্থির করিতে পারি নাই। অবসন্ন মস্তিষ্ককে কিঞ্চিৎ বিশ্রাম দেওয়া, গুরুতর কার্য্যের পর অপেক্ষা কৃত লযু সাহিত্য সেবায় চঞ্চল মনকে কিছু কাল স্বাস্থ্যকর খোরাক সরবরাহ করা-লঘু সাহিত্যের এই ত উদ্দেশ্য—আমাদের জানা ছিল। উপন্যাসকে সকলে লঘু, সাহিত্যই বলিয়া থাকেন। তাহাই যদি হয় তবে উপন্যাসের মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভার- • ক্রান্ত মস্তিষ্ককে যথাসাধ্য বিশ্রাম দেওয়া, গুরুপাক ভোজন না করাইয়া অপেক্ষাকৃত লঘু ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া, কিছুকালের জন্য নির্দোষ আমোদ দেওয়া ; আর গৌণ উদ্দেশ্য – যাহাতে মন উন্নত হয়, তাহার দিকে ও দৃষ্টি করা। শুধু এই গৌণ উদ্দেশ্যের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া উপন্যাস লিখিলে তাহা সাহিত্য হয়, উপন্যাস হয় না, কিন্তু গৌণ উদ্দেশ্যের অবমাননা না করিয়া শুধু মুখ্য উদ্দেশ্যের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া উপন্যাস লিখিলে তাহাও উচ্চশ্রেণীর সুখপাঠ্য উপন্যাস হয়। এখন হইতে উপন্যাস সিরিজে যে সকল পুস্তক বাহির হইবে, সেগুলি যাহাতে সুখ- পাঠ্য হয় ইহাই থাকিবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মনস্তত্ব পূর্ণ সামাজিক উপন্যাস যদি প্রথম শ্রেণীর পাই তবেই এই সিরিজে ছাপান হইবে। হাস্য রসাত্মক লঘু উপন্যাস যত বেশী সংখ্যক প্রকাশিত হয় তাহার দিকেই আমাদের বিশেষ লক্ষ্য থাকিবে। এই সব উপন্যাস না পাইলে আমরা ঘটনা বৈচিত্র্যময় রােমাঞ্চকর উপন্যাস প্রকাশিত করিয়া পাঠকগণের তৃপ্তিসাধন করিতে চেষ্টা করিব। এতগুলি কথা লেখার আবশ্যক হইত না। কিন্তু যে ধরণের পুস্তক আমরা বাহির করিতে যাইতেছি সে ধরণের পুস্তক এ যাবতকাল বাজারে কেহই বাহির করেন নাই। ডিটেকটিভ উপন্যাস বলিতে তথা কথিত ডিটেকটিভ উপন্যাস বলিয়া বাজারে প্রচলিত কয়েকখানি কুরুচিপূর্ণ বইই বুঝায়, কিন্তু আমাদের এ বইগুলি সে ধরণের হইবে । অধুনা ইংলণ্ড, আমেরিকা প্রভৃতি দেশে ডিটেকটিভ গল্পকে তাহারা এক উচ্চ- দরের সাহিত্য করিয়া তুলিয়াছে, আমাদের এ সব বইতেও সেই সবের যাহা কিছু ভাল তাহা সইতে দ্বিধা বােধ করিব না, এবং মনে হয় মােটর উপর আমাদের বইও সে সকল দেশের বই অপেক্ষা নিতান্ত নিকৃষ্ট হইবে না।

উপন্যাস ও পপুলার সিরিজের বইগুলির জন্য এই যে আয়ােজন করিতেছি আশা করি, পাঠকেরা তাহা অনুমােন করিবেন। ইহা ছাড়া বইগুলির বহিসৌন্দৰ্য্যও যাহাতে পূৰ্ব্বাপেক্ষা শতগুণ মনােরম হয় তাহারও আয়ােজন করা হইয়াছে। প্রত্যেক বইতে অনেকগুলি করিয়া রঙিন ও একরঙা ছবি থাকিবে। তাহা ছাড়া সচিত্র প্রচ্ছদ পট থাকিবে-বাঙ্গালা দেশে ইহা সম্পূর্ণ নূতন। আমাদের আর এক নিবেদন। পড়িয়া দেখুন—আমাদের বই লইয়া বাজারে মিলাইয়া দেখুন—এত অল্প মূল্যে এমন সুন্দর, সুদৃশ্য, বই বিদেশী কোন প্রকাশকও দিতে পারিয়াছেন কি না। উপন্যাস ও পপুলার সিরিজের আরও প্রচলনের জন্য এই যে বিরাট আয়ােজন হইয়াছে ইহার সফলতা নির্ভর করে পাঠক- বর্গের সহানুভূতির উপর। আশা করি- পাঠকবর্গের নিকট সে সহানুভূতি হইতে আমরা বঞ্চিত হইব না।

ভবানীপ্রসাদ চক্রবর্তী প্রণীত
কমলা
একখানি উচ্চশ্রেণীর উপন্যাস।
সিল্কে বাধাই, মূল্য ১০ টাকা।
এমতী সরসীবালা বসু প্রণীত
শ্রেয়সী
গল্প সমষ্টি
সিল্কে বাধাই—মূল্য ১০ টাকা।
শ্ৰীযতীন্দ্রনাথ পাল প্রণীত
যুগের আলাে
সুবৃহৎ সামাজিক উপন্যাস-মূল্য ১০ টাকা

No text on this page.

• |• -- : 7
{ : ۲۰ + ! . ! ! ۶ : :
زی زیره. و من به مانا له.. نه ما !!! ما لا نیا رو 1.

শয়তান- ( ১ ) শীতের রাত্রে এমন বৃষ্টি আমি তো বহু- দিন দেখি নাই। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা- জানালা দরজার উপর প্রবলবেগে পড়িতেছে -তাহার উপর হাওয়াও সই সই শকে চলিতেছে। মাঘ মাস-রাত্রি তখন বােধ হয় দশটা। কলিকাতার রাস্তা ঘাট ইহারই মধ্যে লােক শূন্য-বৃষ্টির ঝুপঝাপ, শব্দ ব্যতীত চারিদিক একেবারে নীরব নিস্ত! আমি একখানা উপন্যাস নিবিষ্টচিত্তে পাঠ করিতে- ছিলাম—আর আমারই সম্মুখে শয্যার উপর বালিশে ঠেস দিয়া অৰ্দ্ধশায়িত অবস্থায় প্রশান্ত চোর ডাকাত সম্বন্ধীয় একখানা প্রকাণ্ড মােটা বইএর পাতা উল্টাইতেছিল। সহসা প্রশান্ত পুস্তক হইতে মুখ তুলিয়া বলিল,-“বিমল আর

শয়তান
বাহির করিলে আর তাহার সবুর সহিত না।
মুখ হইতে যখন তাহার বাহির হইয়াছে মাংস
নামও তখন আর কি রক্ষা আছে ? কাজেই
আমাকে বাধ্য হইয়া পুস্তক বন্ধ করিতে হইল।
গৃহের এককোণে ইকমিক কুকার জ্বলিতেছিল—
আমি মাংস নামাইবার জন্য তাহার নিকট গিয়া
উপস্থিত হইলাম। স্পিরিট ল্যাম্পটা নিভাইয়া
দিয়া বেশ একটু বিরক্ত স্বরে বলিলাম,
এই যে তােমার একটা অভাব, মুখ থেকে
কথা বের করলে, আর এক মিনিট সবুর সয়
-এটা কিন্তু ভারি খারাপ। এ স্বভাবটা
কিন্তু তােমার বদলানো উচিত। তা তােমার
বদলাবে আর কেমন করে। বিয়ে থা যদি
কর্তে তাহলে স্বভাবগুলাে একটা রাস্তায় পড়ে
আপনি সােজা হয়ে আসতে—কিন্তু তা যখন
কমূলে না তখন কি আর তোমার স্বভাব
বদলায়। আমার পরামর্শ যদি শােন তো
বলি এখন সময় আছে—এখন একটা বিয়ে
০

শয়তান
কর! এ সব গােয়েন্দা কোয়েন্দাগিরী ছাড়
এতে লাভ কি বল তো?”
প্রশান্ত গম্ভীরভাবে বলিল,-“আনন্দ ।
নাও ভাই তুমি মাংসটা টেনে নিয়ে এস দেখি।
তারপর তােমাকে বােঝাচ্ছি এতে লাভালাভ
কি?
বামুন ঠাকুর আমাদের রাত্রের আহারীয়
সামগ্রী গৃহের একপাশ্বে ঢাকা দিয়া রাখিয়া
বহুক্ষণ বাড়ী চলিয়া গিয়াছিল,-প্রশান্ত
আহারীয় সামগ্রীর সম্মুখে বসিয়া ঢাকা
খুলিতে খুলিতে বলিল,-“এস আর দেরী নয়
আহারে মনােনিবেশ করা যাক।
টুকু মনে রেখ পৃথিবীতে মানুষ যা কিছু করে
তা শুধু এই আহারের জন্যে।
আমি মাংসের পাত্রটা প্রশান্তের সম্মুখে
রাখিয়া আহারে বসিয়া গেলাম । প্রশান্ত
তাহার আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবের শত অনুরােধ
সবেও আজও বিবাহ করে নাই কিন্তু আমি

শয়তান
আজ তিন চার বৎসর হইল বিবাহ করিয়াছি।
কাজ কর্ম বিশেষ কিছুই করি না—বাবা যাহা
রাখিয়া গিয়াছেন—তাহাতেই সংসার বেশ
সচ্ছলতার সহিত চলিয়া যাইতেছে—বাবা যাহা
রাখিয়া গিয়াছেন তাহাতে কাজ কর্ম করিবার
মত আমাকে একেবারেই রাখিয়া যান নাই।
আমার অবস্থার অপেক্ষা প্রশান্তের অবস্থা
আরােও ভাল-সে পিতার একমাত্র সন্তান--
তাহার পিতা তাহার জন্য যাহা রাখিয়া
গিয়াছেন
তাহা যথেষ্ট
নহে-প্রশান্ত
চিরকালই খেয়ালী। বাল্যকাল হইতেই
তাহার কি যে এক খেয়াল
খেয়াল ডিটেকটিভ
হই—কাজেও সে তাহাই হইয়াছে। দেশে
নাম মাত্র কখন কদাচিত যায়--দেশে যাহা
কিছু নায়েবের উপরই সম্পূর্ণ ভার।
কলিকাতায় এক বাড়ী কিনিয়া-চাকর
বামুন রাখিয়া সে বেশ আরামে দিন
কাটাইতেছে। দরজার পাশে পাথরের

শয়তান ট্যাবলেটের উপর বড় বড় অক্ষরে লিথিয়া রাখিয়াছে—প্রশান্ত বােস-প্রাইভেট ডিটেক- টিভ। আজ বােধ হয় পাঁচ সাত বৎসর সে এই কার্যে নিযুক্ত হইয়াছে—ইহারই মধ্যে সে পসার যথেষ্ঠ করিয়া ফেলিয়াছে। পুলিশের বড় সাহেব হইতে রাস্তার কনেষ্টবল পর্যন্ত তাহার পরিচিত—তাহারা সকলেই তাহাকে বিশেষ খাতির করে। প্রশান্ত তো বেশ আরামে নিশ্চিন্ত হইয়া দেশের মায়া কাটাইয়া কলিকাতায় আসিয়া বসিয়াছে কিন্তু আমি বিবাহ করিয়া সংসারী হইয়াও প্রশান্তের মায়া কাটাইতে পারি নাই। একটু ফাঁক পাইলেই কলিকাতায় আসিয়া তাহার আডডা জম কাইয়া বসি এবং বেশ কিছুদিন নিশ্চিন্তে কলিকাতায় কাটাইয়া দিয়া যাই । এই. ভাবে আজ তিন চার বৎসর আমার চলিয়া আসিতেছে। সত্যকথা বলিতে কি—প্রশান্তের নিকট থাকিতে আমি বেশ একটু আনন্দ

শয়তান
পাই। আমার আহার প্রায় শেষ হইয়া আসিয়া
ছিল- প্রশান্ত খানিকটা মাংস আমার পাতে
ঢালিয়া দিয়া বলিল,-“তােমরা সব শুধু
বিয়ে কত্তেই পার-খাবার যােগ্যতাটা পর্যন্ত
নেই। আরো খানিকটা মাংস খাও।”
প্রশান্ত থাইত রাক্ষসের মত-তাহার
গায়ে বলও ছিল অসুরের মত। আমি
বলিলাম,-ওই যে বললুম-তােমার সবই
বাড়াবাড়ি-কাজেই তােমার সঙ্গে সাধারণ
মানুষের পেরে ওটা অসম্ভব।”
ঝন্‌ঝন্‌ করিয়া বাহিরের কড়া নড়িয়া
আমরা অবাক হইয়া পরস্পর
পরস্পরের মুখের দিকে চাহিলাম। প্রশান্ত
আমার মুখের দিকে চাহিয়া বলিল,-“এত
রাত্রে আবার কোন অতিথির শুভাগমন !
ভাগ্যিস আহারটা শেষ করে ফেলা গেছে
নইলে এখনি ভাগীদার হয়ে ছিল আর
কি?
উঠিল।
৮

শয়তান
এই জল বৃষ্টি মাথায় করিয়া এত রাত্রে
কে আবার আসিল ভাবিয়া আমি বেশ একটু
অবাক হইয়া গিয়াছিলাম,-বেশ একটু
বিকৃত স্বরে জিজ্ঞাসা করিলাম,-“এত রাত্রে
—এই বৃষ্টিতে এ লােকটা চায় কি?”
প্রশান্ত মৃদু হাসিয়া উত্তর দিল,
“চাইবে আবার কি? চায় আমাদের।
যেন হলাে কিন্তু চাকরটার নাক ডাকার শব্দ
আমরা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি—কিন্তু এইটুকুই
আশ্চৰ্য্য যে ও বেটা এই কড়া নাড়ার শব্দ
একটুও পাচ্ছে না।”
আমি গম্ভীরভাবে বলিলাম,-“এর ভেতর
আশ্চৰ্য্য তুমি কোনখানটায় দেখলে-এইটাই
হলাে সনাতন নিয়ম। মানুষ ঘুমুলে তার
সাড়া যারা জেগে থাকে তারা বেশ গুনতে
পায়—কিন্তু যে ঘুমােয় সে কোন শব্দই শুনতে
পায় না।”
বাহিরের দরজায় কড়া তখন পর্যন্ত

শয়তান
-
সমানভাবে নড়িতেছিল, প্রশান্ত বলিল,-
“তাই যদি সনাতন নিয়ম হয় তাহলে না হয়
তাই হক। কিন্তু দরজার কড়া দু’টো যে
ভেঙ্গে ফেললে-তােমার তাে খাওয়া শেষ
হয়েছে তুমিই না হয় বন্ধু, যা ও-দেখ—
এ দুৰ্যোগের অতিপিটি কে—আমি ততক্ষণ
চট করে আহারটা সেরে নিই।”
আমি আর বাক্যব্যয় না করিয়া উঠিয়া
পড়িলাম। দুৰ্যোগে যিনিই আসুন
তাহার বিশেষ প্রয়ােজন তাহাতে
সন্দেহের কিছু থাকিতেই পারে না—এ
অবস্থায় দোর খুলিতে বিলম্ব করা একেবারেই
যুক্তিযুক্ত নহে। আমি তাড়াতাড়ি নীচে
গিয়া বাহিরের দরজা খুলিয়া ফেলিলাম।
দরজার বাহিরে দাড়াইয়া যিনি এরূপ প্রবল
ভাবে কড়া নাড়িতে ছিলেন তিনি আমাদের
সম্পর্ণ পরিচিত। নাম হীতে-ইনি
কলিকাতায় ডিটেকটিভ, পুলিশের একজন
১০

শয়তান
কর্মচারী। দরজা খুলিতেই বলিয়া উঠিলেন,
-“এই যে মিষ্টার রায়-বােস সাহেব
আছেন তো?”
আমি কোন উত্তর দিবার পূর্বেই প্রশান্ত
উপর হইতে চীৎকার করিয়া বলিল,-“এস
ভাই ওপরে—আমি একটু ব্যস্ত আছি।
হীতেন্দ্রবাবু আর কোন কথা বলিলেন না
আমি পিছনে পিছনে উপরে উঠিয়া আসিলাম।
প্রশান্ত তখন আহার শেষ করিয়া উঠিয়াছিল,
-তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুইয়া,-একখানা
তােয়ালেতে মুখ হাত মুছিতে মুছিতে বলিল,-
“তারপর হীতে—এই চেয়ারখানিতে বেশ দূত
করে বােস তারপর এই নাও গােটা দুই
সিগারেট বেশ ভাল করে টেনে একটু গরম
হও—এই দুর্যোগে মানুষে কখন বাড়ী থেকে
বেরােয়।
হীতে সিগারেটের কৌটা হইতে একটা
সিগারেট বাহির করিয়া সেইটাতে অগ্নি
১১

শয়তান
সংযােগ করিতে করিতে বলিল,-“কথা
সত্যি বটে কিন্তু জানইতো ভাই আমরা
পরের গােলাম—আমাদের কি আর ঝড়
বৃষ্টি বাছতে গেলে চলে। সেই বেলা নয়টার
সময় বেরিয়েছি—এখন পর্যন্ত একটু নিঃশ্বাস
ফেলবার অবসর পাইনি।”
প্রশান্ত তখন সিগারেটে প্রচণ্ড টান
মারিতেছিল—এক মুখ ধােয়া ছাড়িয়া দিয়া
বলিল,-“তাই নাকি? তাহলে তাে ব্যাপার
দেখছি গুরুতর। ব্যাপার কি ? কোথায়
সঙ্গিন কিছু ঘটেছে নাকি?”
হীতে মাথা নাড়িয়া বলিল,-“সঙ্গিন
তাে বটে—তবে এটা যেন বিশেষ সঙ্গিন
বলেই মনে হচ্ছে। বেলা বারটার সময়
আমাদের অফিসে সংবাদ আসে যে হুগলীতে
আজ সকালে একটা লােক খুন হয়েছে-
কিন্তু লােকটাকে যে কে খুন করেছে পুলিশ
তার কিছুই স্থির করে উঠতে পাচ্ছে না।

শয়তান
পারুম না।
নেই।
সাহেব আমাকে ডেকে এই মামলার তদন্তের
ভার আদেশ কল্লেন। সাহেবের আদেশ
পেয়ে তখনই আমি হুগলীতে রওনা হই।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগাগােড়া সমস্ত
তদন্ত করে আমি মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝতে
এ ব্যাপারের সব চেয়ে আশ্চর্য
হচ্ছে এইটুকু যে এ খুনের কোন উদ্দেশ্য
। একটা লােক খুন হয়েছে সেটা ঠিক
-কিন্তু আমি সব দিক দিয়ে সব রকম করে
অনুসন্ধান করেও এই খুন করবার কারণটা
ষে কি তা কিছুতেই ঠাওর কর্তে পাল্ল ম না।
ব্যাপার যা হয়েছে সাহেবকে এসে আগা-
গােড় রির্পোট দিলুম- সাহেব বল্লেন যাও
বােস সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করগে যাও।
তাই ভাই আবার এই রাত্রে তােমার কাছে
ছুটে আসতে হলাে। তােমার তো ভাই
এ সব ব্যাপারে অসাধারণ শক্তি। দেখ যদি
কিন্তু কর্তে পার।”

শয়তান = প্রশান্তের মুখ হইতে তখন সিগারেটের ধােয়া অনবরত বাহির হইতেছিল,—সে সিগারেটটা মুখ হইতে বাহির করিয়া—একটা বালিসে ঠেস দিয়া গম্ভীর ভাবে বলিল,- “তা হলে শােনা যাক ব্যাপারটা কি ?” হীতেন্দ্র ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-“ব্যাপারটা যা তাতে কোন গােলযােগ নেই, সেটা আগাগােড়াই পরিস্কার। আমি তদন্ত করে যেটুকু জেনেছি, তা হচ্ছে এই । আজ ক’বছর হলো গুণেন্দ্র ভূষণ চট্টোপাধ্যায় নামে একটী ভদ্রলােক হুগলীতে এই বাড়ীটি খরিদ করে বাস কচ্ছেন। বাড়ীটি একেবারে গঙ্গার ওপরে-সামনে একটু বাগান মত আছে। আশেপাশে বড় একটা লােকের বাস নেই। বাড়ীটি ছােট বটে কিন্তু স্থানটা বড় চমৎকার। গঙ্গা একেবারে পা দিয়ে বেয়ে চলেছে—চারদিকে ফুলের বাগান- মােটের ওপর বাসের পক্ষে যে খুবই আরাম ১ঃ

শয়তান
জনক তাতে সন্দেহ করবার কিছু নেই।
গুণেন্দ্রবাবুর বয়স যথেষ্ট হয়েছে সন্তোরের
কম নয়। তার ওপর তিনি বাতে পঙ্গু।
উথানশক্তি একবারে রহিত বল্লেই
অতিকষ্টে লাঠিতে ভর দিয়া কখন কদাচিত
তার বাটীর সম্মুখের বাগানটাতে একটু আদটু
পায়চারী করেন—বাকি সময় বিছানায়ই পড়ে
থাকেন। পাড়ার লােকেরা গুণেন্দ্রবাবুকে
বিশেষ শ্রদ্ধার চোখেই দেখে। তারা বলে
গুণেন্দ্রবাবুর মত লােক পৃথিবীতে খুব কমই
দেখতে পাওয়া যায়—তিনি কারাের কোন
সংস্রবে থাকেন না -অথচ পাড়া প্রতিবাসির
উপকার যতটুকু পারেন ততটুকু কর্তে ছাড়েন
। তার ছেলে মেয়ে স্ত্রী পরিবার কেউ
নেই। থাকবার মধ্যে তার বাড়ীতে আছে
-একটী পরিচারিকা-একটী বামুন ও একটা
চাকর। প্রায় বছর খানেক হােলো-
গুণেন্দ্রবাবুর পুরােন সরকারী চলে যাওয়ায়
১৫

শয়তান
তার একটা সরকারের আবশ্যক হয়। সেই
সময় উপর্যুপরি দুইজন সরকার তিনি বাহাল
করেন, কিন্তু তাদের কাজ তার মনােত
হওয়ায় তিনি তাদের দুইজনকেই
উপর্যপরি বিদায় দেন। তারপর মতিলাল
বলে একটা লােককে বাহাল করেন,
সেই এই এক বৎসর তাঁর কাছে কাজ
কচ্ছিল। সেই আজ সকালে যে ঘরে বসে
সে তার খাতাপত্র লিখত সেইখানে হত
হয়েছে। সন্ধান নিয়ে জেনেছি-লােকটা
নাকি সত্যই খুব ভাল লােক ছিল। বড়
একটা কারুর সঙ্গে মেলামেশা কওঁ না-
নিজের কাজেই সে সর্বদা নিযুক্ত থাকতো।
এমন লােক যে কেমন করে খুন হলো
এইটুকুই আশ্চৰ্য্য *
মাঝে বৃষ্টির বেগটা একটু কমিয়াছিল—
হাওয়াটাই প্রবল বেগে বহিতেছিল—আবার
বৃষ্টি প্রবল বেগে আরম্ভ হইল—তাহার সহিত

হওয়ারও মাতামাতি তেমনি বাড়িয়া উঠিল।
প্রশান্ত একটু উচু হইয়া বসিয়া আবার একটা
সিগারেট ধরাইতে ধরাইতে বলিল,-“হু -
তারপর ?”
হীতেন্দ্র বলিতে লাগিল,-“পৃথিবীতে
তুমি এমন একটা বাড়ী আর বােধ হয়
কোথায় দেখতে পাবে না। বাহিরের সঙ্গে
এদের সম্পর্ক ছিল না বলেলেই হয়। তুমি
শুনলে ভাই আশ্চর্য হয়ে যাবে যে কেন সাত
দিনের ভেতর বাগানের মালি ছাড়া বাড়ীর
অপর আর একজনও কেউ বাগানের
বাহিরে পাটি পর্যন্ত দেয়নি। মালি কেবল
বাজার হাট কর্তে দু’একবার বাড়ীর বাহিরে
গেছে এই যা। মালির ঘর বাগানের এক
কোণে-বাড়ীখানা থেকে
এক হাতেরই
মধ্যে হবে। মালী অনেক দিনের লােক—
ওগেনবাবুর বিশেষ বিশ্বাসী।
প্রশান্তি খুব খানিকটা সিগারেটের ধােয়া
১৭

শয়তান
বলে
মুখ হইতে ছাড়িয়া দিয়া দুইটা তুড়ি দিয়া
বলিল,-“ই বুঝলুম-তারপর
যাও।”
ঘড়ীতে টন্ টন্ করিয়া এগারটা বাজিয়া
গেল-হীতেন্দ্র বলিতে লাগিল,-“গুণেন
বাবুর চাকর সাক্ষ্য বা এজাহার দিয়েছে-
এইবার আমি তােমাকে সেইটা বলবাে-সেইটা
শুনলে ব্যাপারটা যা তা তুমি অনেকটা বুঝতে
পাৰ্বে। আর সে ছাড়া বিশেষ কেউ কিছু
বলতেও পারে না—তার মুখেই যা একটু
আধটু জানা গেছে। ভাের ছটা সাড়ে ছটার
সময় সে উঠোন ঝাট দিচ্ছিল। গুণেনবাবু
তখন উঠেননি। তিনি খুব বেলায় ঘুম থেকে
উঠতেন। বামন ঠাকুর-রান্নাঘরে রান্নার
জোগাড় কচ্ছিল। মতিলাল-তখনও তার
শােবার ঘর থেকে বার হয়নি। শ্যামা
আপন মনে উঠান ঝাট দিচ্ছিল—সেই সময়
মতিলাল তার শােবার ঘর থেকে বের হয়ে
১৮

শয়তান
যে ঘরে সে খাতাপত্র রাখতো সেই ঘরের
ভিতর ঢোকে। মতিলাল সে তার শােবার
ঘর থেকে বেরিয়ে ঘরখানার ভেতর প্রবেশ
করে শ্যামা দরজা খােলার শব্দে সেটুকু
জাতে পারে। তারপর মুহূর্তেই সেই ঘর
থেকে এক বিকট আর্তনাদ সে শুনতে পায়।
সে শব্দ এমনি হৃদয় বিদারক যে তা পুরুষের
কি স্ত্রীলােকের তা সে ঠিক বলতে পারে না।
হঠাৎ সেই শবে সে প্রথম একেবারে হতভম্ব
হয়ে যায়—তারপর সে ঝাটা ফেলে দপ্তর
খানার দিকে ছুটে যায়। দপ্তরখানার ভেতর
থেকে সে দেখে মতিলাল ঘরের মেঝের ওপর
আড় হয়ে পড়ে আছে-তার চোখের তারা
দুঠো ওপরে উঠে গেছে। প্রথম সে কোন
আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় না। কিন্তু
মতিলালকে ধরে তুলতে গিয়ে সে দেখে
-তার গলার এক পাশে একটা স্থান ছেদা
হয়ে গেছে আর সেইখান দিয়ে ভলকে

শয়তান
ভলকে রক্ত বার হচ্ছে। এই দেখে সে
ভয়ে একেবারে কাট হয়ে যায়। মতিলাল
যে খানে পড়েছিল তার পাশেই সে দেখে
দপ্তরখানার টেবিলে যে ছুরিপানা থাকতো
সে খানা পড়ে আছে—তার ফলাই একেবারে
রক্তে লাল। এই অবস্থা দেখে সে ভেবেছিল
মতিলাল মারা গেছে—কিন্তু তখন পর্যন্ত
সে মরেনি। সে সেই সময় একবার পড়ে
ওঠে–বিকৃত কণ্ঠে বলেলে—“কর্তাবাবু
কর্তাবাবু-সেই স্ত্রীলোেকই”—তারপরই সব
শেষ হয়ে যায়। মতিলালকে কথা বলতে
দেখে শ্যামা চীৎকার করে বামুনঠাকুরকে
ডাকে। বামুনঠাকুরও সেইসময় সেইখানে এসে
উপস্থিত হয়—তখন তারা দু'জনে মিলে
মতিলালের মুখে জলের ঝাপটা টাপটা বিস্তর
দেয়—কিন্তু তাতে কোন ফলই হয় না।
ওই কথা কটা বলবার সঙ্গে সঙ্গেই মতিলালের
প্রাণ বায়ু বেরিয়ে যায়। শ্যামা বলে

শয়তান
মতিলাল নাকি আর কি বলবার চেষ্টা করে
—ডান হাতখানা নাকি একবার উচু করে
তােলে—কিন্তু তার মুখ দিয়ে আর কথা বার
হয় না। শ্যামবাবুকে খবর দেবার জন্যে
ছুটে বাবুর ঘরে যায়-ঘরে গিয়ে সে দেখে
-বাবু বিছানার ওপর উঠে বসেছেন।
শ্যামাকে ঘরের ভেতর ঢুকতে দেখে তিনি
মহা বিচলিত স্বরে জিজ্ঞাসা করেন,
“ব্যাপার কি? শ্যামাবাবুকে আগাগােড়া
ব্যাপার তা বলে-গুণেনবাবু চাকরের মুখে
সরকারবাবু খুন হয়েছে শুনে ওঠবার চেষ্টা
করেন—কিন্তু বাতে তার এমনি অবস্থা যে
একজনের সাহায্যে ব্যতীত তঁার উঠে দাঁড়ান
অসম্ভব। তিনি উঠতে গিয়ে সেইখানেই
পড়ে যান। তিনি নিজেকে একটু সামলে
নিয়ে তখনই থানায় জানিয়ে দিয়ে সংবাদ
পাঠান। সংবাদ
পেয়ে থানার
ইনিস্পেকটার—একজন জমাদার ও দু’জন
২১

শয়তান
কনেষ্টবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তারপর ঘণ্টা, চার পাঁচ পরেই আমি গিয়ে
গুণেনবাবুর বাড়ী উপস্থিত হই। আমি
যখন গিয়ে সেখানে উপস্থিত হই তখন পর্যন্ত
একটা জিনিষও নড়ান হয়নি। আমি সে-
খানে গিয়ে প্রথমই হুকুম দিই বাড়ীর যেখানে
যে আছে—সে যেন সেইখানেই থাকে-
এদিক ওদিক না করে। আমি তারপর
গুণেনবাবুর সঙ্গে দেখা করি—তিনি তখনও
বিছানায় পড়ে ছিলেন—তিনি বলেন, হঠাৎ
একটা বিকট চীৎকারে তার তা ভেঙ্গে
যায়—তিনি তাড়াতাড়ি উঠে বসেন। কি
হয়েছে জানবার জন্যে তিনি উঠে দাড়াবার
চেষ্টা করেন—কিন্তু কৃতকার্য হন নাই।
কাজেই সেই বিকট চীৎকার শােনা ছাড়া
তিনি আর বিশেষ কিছুই জানেন না। তিনি
যতদূর জানেন-তাতে মতিলালের যে কোন
শক্ত ছিল—এমন বলে তাে তার মনে হয়

শয়তান
। মতিলাল মারা যাবার ঠিকপূর্ব মুহূর্তে যে
যে কথা কয়টা বলে ছিল সে সম্বন্ধে তিনি
বলেন; এ কথা তঁাকে জিজ্ঞসস করায়
গুণেনবাবু বলেন—তিনি তো এ কথার কোন
অর্থই জানে না। এই সেই স্ত্রীলােক বলবার
যে কি তাৎপৰ্য তা তঁর বুদ্ধির অগম্য।”
প্রশান্ত যে সিগারেটটা টানতে ছিল,
- সেটা পুড়িয়া শেষ হইয়া আসিয়াছিল,
সে সেটা ফেলিয়া দিয়া অপর একটার অগ্নি
সংযােগ করিতে বলিল,-“ব্যাপার তাে শােনা
গেল,-তারপর তুমি কি কলে শুনি?”
হীতে একটু দম লইয়া বলিল,-“আর
একটা কথা তােমায় বলতে বাকি আছে-
সেটা বলে তারপর আমি কতদুর কি করেছি
সেটা বলবাে।
যে ঘরে মতিলাল খুন হয়েছে
সে ঘরে যাবার তিনটে দরজা আছে।
একটা বাগানের দিকে—একটা উঠানের
দিকে-আর একটা গুণেনবাবুর ঘরের

শয়তান
দিকে। এখন দেখা যাক খুনি স্ত্রীলােক বা
পুরুষ সেই হক সে কোন দিক দিয়ে এই
ঘরের ভেতর ঢুকতে পারে। উঠোনের দিক
দিয়ে ঢুকতে পারে না—কেন না সেদিক
দিয়ে ঢুকলে কিংবা বেরুলে নিশ্চয়ই শ্যামার
চোখে পড়তাে কারণ সে তখন উঠোন
ঝাট দিচ্ছিল। গুণেনবাবুর ঘরের দিকে যে
রাস্তা আছে সেদিক দিয়েও ঢুকতে কিংবা
বেরুতে পারে না—কারণ সেদিককার দরজা
দিয়ে গুণেনবাবুর ঘরে যাওয়া ভিন্ন অন্য কোন
দিকে যাবার পথ নেই। তা থেকেই বােঝা
যাচ্ছে—খুনি বাগানের দিকের দোর দিয়েই
ঘরের ভেতর ঢুকে ছিল এবং সেই দিক
দিয়েই আবার বেরিয়ে গেছে। কাজেই
আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েই এই বাগানের
রাস্তায় কারাে পায়ের চিহ্ন আছে কিনা
সেইটাই আগে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখি। কাল
রাত থেকেই বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে-ষে রাস্তা
২৪

শয়তান
দিয়ে কেউ যাতায়াত কল্লে নিশ্চয়ই তার
পায়ের দাগ, রাস্তার উপর পড় তো কিন্তু
আশ্চর্যের বিষয় সেখানে কোন পায়ের চিহ্ন
নেই। তবে সেই রাস্তার ধারে গ্রামের উপর
এক জায়গায় একটা দাগ আছে কিন্তু সেটা
পায়ের দাগ, কিনা ঠিক বােঝা যায় না।
বৃষ্টির জলে সেটা একেবারেই পরিষ্কার নেই।
এই থেকেই বেশ স্পষ্টই বােঝা যাচ্ছে—খুনী
সোজা লােক নয়—সে বেশ একজন পাকা
লােক। রাস্তার ওপর দিয়ে গেলে পাছে
পায়ের চিহ্ন থাকে সেইজন্যে সে রাস্তার পাশে
ঘাসের ওপর দিয়ে চলে গেছে। মােটের ওপর
সে কোন পথ দিয়ে গেছে কোন চিহ্নই রেখে
যায়নি।”
প্রশান্ত মুখখানা একটু বিকৃত করিয়া
বলিল, “আচ্ছা, এক মিনিট সবুর। এই
বাগানের রাস্তাটা কোথায় গিয়ে পড়েছে ?*
“বাগানের ভেতর দিয়ে একে-বেঁকে

শয়তান
গিয়ে একেবারে সরকার রাস্তায়
গিয়ে
পড়েছে।
“হু। এই বাগানের রাস্তাটা সরকারি
রাস্তা পর্যন্ত কতখানি আন্দাজ হবে?”
“আন্দাজ একশো হাত হতে পারে ?”
“আচ্ছা এই রাস্তার ওপর যে পায়ের
দাগ টা পাওয়া গেছে---সেটা আসবার সময়-
কার না খুন করে ফিরে যাবার সময়কার
“সেটা সঠিক বলা কঠিন—কারণ দাগটা
বৃষ্টির জলে একেবারেই অস্পষ্ট হয়ে গেছে।”
প্রশান্ত মুখখানা বেশ একটু গম্ভীর করিয়া
সিগারেট টানিতে লাগিল-হীতেন্দ্রকে আর
বিশেষ কোন প্রশ্ন করিল না। হাতেরেও
আর বােধ হয় বিশেষ কিছু বলিবার ছিল না
-সে প্রশান্তের প্রশ্নের অপেক্ষায় মাঝে মাঝে
তাহার মুখের দিকে চাহিতে লাগিল। সেই
সময় সহসা প্রশান্ত আবার প্রশ্ন করিল,-
“থা—তাহলে সে দাগ টা কিছুই নয়। তা
২৬

শয়তান
যেন হ'লো-তারপর তুমি যখন বুঝলে
কিছুই কর্তে পালেন। তখন তুমি কি কল্লে?”
প্রশান্তের কথায় হীতে কিছুক্ষণ প্রশান্তের
মুখের দিকে চাহিয়া থাকিয়া বলিল,-“কিছুই
কর্তে পালে নাকি রকম? আমার বিশ্বাস
যতদূর করা উচিত তা আমি সমস্তই করেছি।
দপ্তরখানাটা যতদূর তদন্ত করা উচিত তা
আমি করেছি। এই ঘরখানা নিতান্তই
ছােট-ঘরে বিশেষ কোন জিনিষও নেই।
ঘরের একপাশে একটা লােহার সিন্দুক আছে
—আর মধ্যিখানে একটা ছােট টেবিল—তার
আশে পাশে দু’তিন খান চেয়ার---এই মাত্র।
ঘরখানা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তদন্ত করবার পর
আমি লাসটাও বিশেষভাবে পরীক্ষা করেছি।
লােকটার বামদিকের গলার যেখানে চোটটা
লেগেছে—তাতে স্পষ্টই বােঝায় যে আত্মহত্যা
নয়, কারণ সে যায়গায় মানুষ নিজে কিছুতেই
অমন ভাবে ছুরি চালিয়ে দিতে পারে না।”
২৭

শয়তান
প্রেশান্ত ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-“যদি না
সে নিজে ছুরির ওপর উলটে পড়ে ।
হীতেন্দ্র প্রশান্তকে বাধা দিয়া বলিয়া
উঠিল,-“যথার্থ ই তাই। আর তাও হওয়া
সম্ভব নয় এই জন্যে বলছি যে ছুরিটা যেখানে
পড়েছিল—সেখান থেকে লাসটা চার পাঁচ
হাত দূরে ছিল। তা ছাড়া এ যে আত্মহত্যা
নয় সেট। মতিলালের মৃত্যুকালীন উক্তি
থেকেই প্রমাণ হতে পারে। তা ছাড়াও আর
একটা গুরুতর
প্রমাণ আছে-সেটা মৃত
ব্যক্তির বামহাতের মুঠোর মধ্যে পাওয়া
গেছে।”
হীতেন্দ্র তাহার পকেটের ভিতর হইতে
একটা ছােট কাগজের মােড়ক বাহির করিল।
সেই কাগজের মােড়কের ভিতর কি আছে
দেখিবার জন্য আমি ও প্রশান্ত উৎসুক দৃষ্টিতে
সেই দিকে চাহিয়াছিলাম। হীতে সেই
কাগজের মােড়কটী খুলিবামাত্র আমরা দেখি-

শয়তান লাম তাহার ভিতর কয়েক গাছি সাদা চুল রহিয়াছে। হীতে সেই চুল ক’গাছি প্রশান্তের হাতে দিতে দিতে বলিল,-“এ চুল মতিলালের হতেই পারে না। কারণ মাত- লালের সাদা চুল ছিল না—কাজেই বেশ বােঝা যাচ্ছে এই চুলগুলি হত্যাকারীর। খুন হবার পূর্ব মুহূর্তে মতিলাল হত্যাকারীর চুলের মুঠি ধরিয়াছিল এবং ধ্বস্তাধ্বস্তিতে এই ক’গাছি চুল মৃত ব্যক্তির হাতেই থেকে গেছে। প্রশান্ত সেই চুল ক’গাছি ঘুরাইয়া ফিরা- ইয়া নাকে লাগাইয়া নানাভাবে পরীক্ষা করিতে লাগিল। হীতেন্দ্র একটুখানি চুপ করিয়া থাকিয়া আবার বলিল,-“আমি গুনেন্দ্রবাবুকে নানা ভাবে প্রশ্ন করে জেনেছি যে দপ্তরখানার একটা জিনিষও খােয়া যায় নাই। কাজেই বােঝা যাচ্ছে চুরির উদ্দেশ্যে এ খুন হয়নি। কাজেই মাথা মুণ্ড এ খুনের যে শয়তান উদ্দেশ্য তা এত ভেবেও তার কোন কিনারাই আমি কর্তে পারিনি। কাজেই আগ:-গােড়া কেমন যেন আমার ধাধার মত ঠেছে।” প্রশান্ত হীরেন্দ্রের সে কথার কোন উত্তর দিল না,—বিছানা হইতে নামিয়া সে টেবিলের সম্মুখে একখানা চেয়ার টানিয়া লইয়া বসিল, এবং এক টুকরা কাগজ টানিয়া লইয়া তাহাতে কয়েক ছত্র খস্ খস্ করিয়া লিখিয়া তাহা হীতেন্ত্রের হাতে দিল। হীতে সেই কাগজের টুকরাটুকু লইয়া তাহাতে যে কয় ছত্র লেখা ছিল তাহা বেশ একটু উচ্চস্বরেই পাঠ করিল। তাহাতে লেখা ছিল- একটি শ্বেতশশু বৃদ্ধকে আমাদের খুজিয়া বাহির করিতে হইবে। কিন্তু তাহার দৃষ্টিশক্তি মােটই প্রখর নয়।” এই কয়েক ছত্র পড়িয়া হীতে তো একেবারে হতভম্ব হইয়া গিয়াছিল। তাহার অবস্থা দেখিয়া প্রশান্ত হাসিতে হাসিতে বলিল,

শয়তান
*এর ভেতর তােমার আশ্চর্য হবার মত
বিশেষ কিছুই নেই। আমি এই যা দিয়ে
দিয়েছি—দৃষ্টিশক্তি যার একটু প্রবল সে অতি
সহজেই এ কথা বলতে পারে। চুল ক’গাছ
থেকেই
বেশ বোঝা যায় যে হত্যা-
কারীর বয়স অনেক, আর সে পুরুষ। আর
তার দৃষ্টিশক্তি অন্ততঃ যদি চলন সই গােছেরও
হত তাহলে মৃত ব্যক্তির হাতে সে কখনই
এই চুল ক’গাছি রেখে যেত না-- এতেই
বােঝা যায় যে তার দৃষ্টিশক্তি তেমন প্রখর
নয়। এ সকল জিনিষগুলো অতি সহজেই
অনুমান করে নেওয়া যায়।”
হীতেন্দ্র একদৃষ্টে প্রশান্তের মুখের দিকে
চাহিয়া অবাকভাবে তাহার এই সকল যুক্তি-
গুলা শুনিতেছিল,-প্রশান্ত নীরব হইবামাত্র
বলিল,-“সত্যিই ভাই তােমার ক্ষমতা অদ্ভুত।
একটা কিছু শক্তি না থাকলে কি আর মানুষে
মানুষের সুখ্যাতি করে।
তােমাতে আমাতে

শয়তান
এইটুকু তফাৎ যে এই সব জিনিষ আমি বেশ
ভাল করেই দেখেছি—এ সব জিনিষ আমার
কাছেই ছিল কিন্তু এ সব কথা আমার এক
বারও মনে হয়নি।”
প্রশান্ত তখন পর্যন্ত অনবরত সিগারেট
টানিতেছিল,-সহসা বলিল,-“ত’তো উচিত
তারপর হীতেন্দ্র রাত তাে যথেষ্ট হলো—আর
কিছু কি তােমার বলবার আছে ?”
হীতেন্দ্র বলিল,-“আর বলবার আমার
কিছু নেই—তবে এখন কাল যদি তুমি একবার
হুগলী গিয়ে সব জেনে শুনে এই মামলার
ভারটা নাও তো ভাল হয়। সাহেবেরও
তাই ইচ্ছে। কিন্তু সেই স্বালােকট। যে
কি উদ্দেশ্যে লােকটাকে খুন কল্লে—সে সম্বন্ধে
একটা কোন কথাই ত বললে না।”
প্রশান্ত মুখখানা কিকত করিয়া বলিল,-
“উদ্দেশ্য কি তা আপাততঃ বলা বড় কঠিন
বটে, যতদুর বােঝা যাচ্ছে তাতে মা বেশ

শয়তান
একটু রহস্যজনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাহা হইলে
সেই কথাই ভাল, কাল একবার হুগলি
যাওয়া যাক। কিছু না হক একটু ঘুরে
আসাওত হবে।”
হীতে তাড়াতাড়ি বলিল,-“তুমি গেলে
নিশ্চয়ই একটা কিছু কিনারা হবেই। সে
বিশ্বাস আমারও আছে সাহেবেরও আছে।
তাহলে সেই ভাল কথা-কাল ভাের ছটার
সময় একখানা ট্রেণ আছে—সেই ট্রেণেই
তাহলে যাবার বন্দোবস্ত করা যাক্। যখন
যেতেই হবে তখন যত সকাল সকাল যাওয়া
যায় ততই ভাল।”
প্রশান্ত বলিল,-“তাতে কোন আপত্তি
এখন তুমি কি কচ্ছে—এখানেই
রাতটুকু কাটিয়ে নেবেনা বাড়ী যাবে?”
হীতে একেবারে উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল,
-বাড়ী যাব বই কি-আমার গাড়ী
দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমার জন্যে কোন চিন্তা
নেই।

শয়তান
কৰ্তে হবে না—আমি ঠিক সময়ে গিয়ে ষ্টেশনে
হাজির হবো।”
“তাহলে সেই কথাই রইলরাত টের
হয়েছে—আবার ভাের ছটার গাড়ী ধর্তে
হবেনা আর নয়।” প্রশান্ত শয্যার উপর
আসিয়া কম্বলট। টানিয়া লইয়া আড় হইয়া
পড়িল। হীতেন্দ্র নমস্কার করিয়া বিদায় গ্রহণ
করিল। আমি বেহারাটার নাম ধরিয়া বার
তিন চার হাঁকাহাঁকি করিয়া দরজাটা বন্ধ
করিয়া দিতে বলিলাম।
( ২ )
আমার হুগলী যাইবার ইচ্ছা বা আগ্রহ
একেবারেই ছিলনা কিন্তু প্রশান্ত ছাড়িল
কাজেই আমাকেও তাহার সঙ্গী হইতে
হইল। হাতে যথাসময়ে ষ্টেশনে উপস্থিত

শয়তান হইয়াছিল। আমরা তিনজনে ছয়টার ট্রেণ ধরিয়া বেলা সাড়ে সাতটা পৌনে আটটার সময় চুচড়া ষ্টেশনে অবতীর্ণ হইলাম। ষ্টেশনে ভাড়াটিয়া গাড়ীর অভাব হইল না আমরা তাহারই একখানা ঝরঝরে গাড়ী ভাড়া করিয়া তাহাতে উঠিয়া বসিলাম। অর্ধ ঘটিকার মধ্যেই গাড়ী গুণেন বাবুর দরজার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইল। বাড়ীর সম্মুখে একজন কনেষ্টবল দাড়াইয়া ছিল। সে আমাদের গাড়ী হইতে নামিতে দেখিয়া একেবারে সােজা হইয়া দাঁড়াইয়া আমাদের সেলাম করিল,হীতে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল-- রামদি খবর কি?” রামদিন্ আবার একটা সেলাম করিয়া বলিল,-“হুজুর, আর কোন খবর নেই।” হীতে আবার প্রশ্ন করিল,-গুণেণ- বাবুর কাছে আজ কোন লােক এসেছিল কোন লােকজন বাড়ীর বাইরে গেছলো ? রামদি ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-“না হুজুর শয়তান কোন লােক আসেওনি কেউ বাহিরেও যায়নি?” হীতেন্দ্র প্রশান্তের দিকে ফি’রয়া বলিল, —“এই সেই বাগানের রাস্তা-কাল রাত্রে যে রাস্তাটার কথা আমি তােমায় বলছিলুম- হত্যাকারী এই রাস্তা দিয়েই দপ্তর খানায় ঢুকে- ছিল—আবার এই রাস্তা দিয়েই বেরিয়ে গেছে।” প্রশান্ত বিশেষ গম্ভীরভাবে চারিদিক নিরীক্ষণ করিতেছিল,ঘাড় নাড়িয়া বলিল, -“হু! ঘাসের ওপর কোন জায়গাটায় তুমি পায়ের চিহ্ন দেখেছিলে ?” হীতে একটা স্থানে অঙ্গুলী নির্দেশ করিয়া বলিল,-“এই জায়গাটায় আমি একটা পায়ের চিহ্ন দেখেছি, কাল রাত্রের বৃষ্টিতে দাগটা এখন মিলিয়ে গেছে বলেই প্রশান্ত নীচু হইয়া সেই চিহ্নটা বিশেষ শয়তান ভাবে দেখিতেছিল,—গম্ভীরভাবে বলিল,- হু—এই ঘাসের ওপর দিয়ে যে কেউ গেছেন তাতে আর সন্দেহ নেই। ঘাসের ওপর যে রকম দাগ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তাতেই বেশ বােঝা যাচ্ছে—আমাদের সেই স্ত্রীলােকট। বিশেষ সতর্কতার সহিত পা ফেলেছিলেন। কিন্তু তুমি বলছ খুন করে সে আবার এই রাস্তা দিয়েই ফিরে গেছে—তাই কি ঠিক ?” হীতেন্দ্র কথাটায় বেশ একটু জোর দিয়া বলিল,-“নিশ্চয়ই—তা ভিন্ন যে আর ফের- বার রাস্তা নেই। প্রশান্ত গম্ভীরভাবে বলিল,-“ব্যাপারটা বেশ একটু রহস্য জনক বটে। বাগানের ফটক ভাঙ্গা-কাজেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বাগানের ভেতর আসতে তাকে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। সে আসতে আসতে বাগানের ভেতরদিক দিয়ে গিয়ে দপ্তরখানার ঢুকেছিল। কিন্তু ৩৭

শয়তান
সে যে খুন কত্তেই এসেছিল তা বলে একেবারে
বােধ হয় না। তা যদি হতো—তাহলে
নিশ্চয়ই সে কোন না কোন একটা অস্ত্র সঙ্গে
আন্ত। যাক্ তা যেন হ'লো—কিন্তু সেই
লােকটি কতক্ষণ দপ্তরখানায় ছিল-সেটুকু
একেবারেই অনুমান করা যায় না।”
হীতেন্দ্র বলিল,-“দপ্তরখানায় সে খুবই
অল্পক্ষণ ছিল, সেকথা তােমাকে বলতে
আমি ভুলে গেছি,-আধ ঘণ্টাও হবেনা
শ্যামা—টেবিল চেয়ার ঝেড়ে দপ্তরখানা ঝা
দিয়ে গেছল।”
ইতিমধ্যে আমরা কথায় কথায় বাগানের
রাস্তা পার হইয়া দপ্তরথানার ভিতর প্রবেশ
করিয়াছিলাম। প্রশান্ত সেই গৃহের ভিতর
প্রবেশ করিয়া বলিল,-“আমাদের লােকটি
এই ঘরের ভেতর এসেছিলেন তাতে সন্দেহ
করবার কিছু নেই কিন্তু তিনি কি কত্তে এসে
ছিলেন এখন সেইটেই আমাদের জানতে

শয়তান
হবে। ধরা যাক তিনি লােহার সিন্দুকের
কাছেই প্রথমে গেছলেন কিন্তু কি জন্যে ?
যখন লােহার সিন্দুক থেকে কোন জিনিষ
থােয়া যায়নি তখন নিশ্চয় তিনি লােহার
সিন্দুকের কাছে যাননি। তাহলে তিনি ঘরে
ঢুকে প্রথম গেছলেন কোথায় ? টেবিলের
কাছে ? সম্ভব তাই। দেখা যাক টেবিলটা
তাহলে পরীক্ষা করে।”
গৃহের মধ্যস্থলে একখানি সেক্রেটারীয়েট
টেবিল ও তাহার চারিপার্শ্বে দুই তিনখানি
চেয়ার সজ্জিত ছিল। প্রশান্ত চেয়ার সরাইয়া
টেবিলটার চারিপাশ নীচু হইয়া বিশেষভাবে
নিরীক্ষণ করিতে লাগিল,-তাহার পর
হীতেন্দ্রকে সম্বােধন করিয়া বলিল,-“হীতেন্দ্র,
কই এ জিনিটার কথাতাে তুমি আমায়
বলােনি। এই যে দেরাজের চাবীর ধারে
একটা ঘড়ানির দাগ পড়েছে—এটা কি তুমি
কাল লক্ষ্য করনি?”

শয়তান টেবিলের দেরাজ খুলিবার বাম পার্শ্বে একটা আচ ডান দাগ পড়িয়াছিল। প্রশান্ত অঙ্গুলী দিয়া সেটাই নির্দেশ করিল। গীতেন্দ্র প্রশান্তের প্রশ্নের উত্তরে বলিল,-“হ, ও দাগটা আমি কাল লক্ষ্য করেছিলুম-কিন্তু ওরকম দাগ টেবিলের গায়ে প্রায়ই দেখা যায় কাজেই ওটা তােমাকে বলবার মত কিছু একটা বলে আমি মনে করিনি।” প্রশান্ত ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-“উ-ই-- এটা ঠিক সেরকম নয়—দেখছ না এ দাগটা একেবারে সম্প্রতি হয়েছে। পুরােণ দাগ হলে টেবিলের রংএর সঙ্গে এক হ'তে কিন্তু এগে তা নয় ? তুমি একবার চাকরটাকে ডাক দেখি ?” হীতে চাকরটাকে ডাকিবার জন্য গৃহ হইতে বাহির হইয়া গেল। প্রশান্ত আমার দিকে ফিরিয়া বলিল,-“পৃথিবীতে চোখ জিনিষ ভগবান সকলকেই দিয়েছেন- 80

শয়তান
কিন্তু সে জিনিষটার ব্যবহার খুব কম লােকেই
করে। আমি বেশ বুঝতে পাচ্ছি হীতেন্দ্র
অনেক জিনিষই লক্ষ্য করেনি।”
প্রশান্তের কথার উত্তর দিবার আর আমি
অবসর পাইলাম না,-হীতেন্দ্র গুণেনবাবুর
শ্যামা চাকরকে লইয়া গৃহের ভিতর প্রবেশ
করিবামাত্র প্রশান্ত গম্ভীরভাবে
জিজ্ঞাসা
করিল,-“তােমার নাম শ্যামা ?”
ভৃত্য ঘাড় নাড়িল-প্রশান্ত আবার
প্রশ্ন করিল,-“কাল তুমি সকালে এই ঘর
ঝড়পােছ করেছিলে ?”
ভৃত্য আবার ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-
“আজ্ঞে হা?”
প্রশান্ত টেবিলের সেই দাগটা শ্যামাকে
অঙ্গুলী দিয়া দেখাইয়া বলিল,-“টেবিলের এই
আচড়ান দাগটা কাল তুমি দেখেছিলে।”
ভৃত্য ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-“আজ্ঞে না
আমি অত লক্ষ্য করিনি।”
৪১

শয়তান
প্রশান্ত গম্ভীরভাবে বলিল,-“তুমি কেমন
করে লক্ষ্য কৰ্বে ? এ দাগতো তােমার ঝাড়-
পােছের সময় ছিলনা। তা যদি থাকতো
তাহলে এর ওপরে ও মােছর দাগ
পড়তো। যাক-এ দেরাজের চাবী কার
কাছে থাকে ?”
ভৃত্য বলিল,-“আজ্ঞে এ চাবী কৰ্ত্তা-
বাবুর কাছে থাকে।”
“হু!” প্রশান্ত ভূতের মুখের দিকে
চাহিয়া বলিল,-“আচ্ছা তুমি এখন যেতে
পার।”
শ্যামা ধীরে ধীরে গৃহ হইতে বাহির হইয়া
গেল। প্রশান্ত ঘুরিয়া ঘুরিয়া ‘টেবিলটার
চারপাশ দেখিতে দেখিতে বলিল,-“যাহ’
তবু আমরা কতকটা জাতে পাল্পম। একটা
লােক এই ঘরে প্রবেশ করে এই টেবিলের
দেবাজটা খােলবার চেষ্টা করেছিল। সে
যখন এই কাৰ্যে ব্যস্ত তখন মতিলাল ঘরের

শয়তান ভেতর প্রবেশ করে। মতিলালকে দেখে সে তাড়াতাড়ি চাৰীটা বার কৰ্ত্তে যাবার সময় দেরাজের গায়ে এই ঘড়ানি দাগটা পড়ে। মতিলাল তাকে ওই অবস্থায় দেখে ছুটে এসে তাকে ধরে ফেলে—সে তখন মতিলালের হাত থেকে মুক্ত হবার জন্যে টেবিলের ওপর থেকে এই ছুরিপানা তুলে নেয় ও তার গলায় আঘাত করে। আঘাতটা সাঘাতিক হয়—মতিলাল মেঝের ওপর পড়ে যায়—তখন সেই লােকটি তার উদ্দেশ্য সাধন করেই হক-অথবা বিফল মনােরথ হয়েই হ’ চম্পট দেয়। এদিককার দোর দিয়ে গেলে শ্যামা নিশ্চয়ই দেখতে পেত কাজেই বােঝা যাচ্ছে এদিক- কার দোর দিয়ে সে যায়নি। আর এ দরজাটা দিয়ে গেলে একেবারে তাকে গুণেন বাবুর ঘরের ভেতর যেতে হয়-কাজে ই এ দরজা দিয়েও সে-যা এখন একবার গুণেনবাবুর সঙ্গে দেখা করা উচিত। চল হে, ৪৩

শয়তান
এইবার একবার তার সঙ্গে দেখা
আসা যাক।
দপ্তরখান হইতে যে দরজাটা গুণেনবাবুর
শয়নকক্ষের দিকে সংলগ্ন আমরা সেই দরজা
দিয়া গৃহের বাহিরে আসিলাম। গৃহ হইতে
বাহির হইয়াই ক্ষুদ্র একটা বারান্দা-বারান্দায়
কোন দরজা কিংবা জানালা নাই। বারান্দার
দুইদিক একেবারে প্রাচীর দিয়া আটা ।
বারান্দাটা ক্ষুদ্র—দপ্তরখান হইতে বরাবর
একেবারে গুণেনবাবুর শয়নকক্ষ পৰ্যন্ত গিয়াছে।
আমরা হীতেন্দ্রের পশ্চাৎ পশ্চাৎ সেই বারান্দা
দিয়া গুণেনবাবুর শয়নকক্ষের দরজার সম্মুখে
উপস্থিত হইলাম। দরজা ভেজান ছিল,
হীতেন্দ্র দরজার সম্মুখে উপস্থিত হইয়া নিজের
পরিচয় দিয়া বলিল,-“ভেতরে কি যেতে
পারি ?”
ভিতর হইতে তথনই উত্তর আসিল,-
৪৪

শয়তান ভেতরে “আসুন—আসুন। আপনারা আসবেন তার আবার জিজ্ঞাসার কি আছে ?” আমরা গৃহের ভিতর প্রবেশ করিলাম। বাড়ীর ভিতর এই ঘরখানিই সৰ্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ। ঘরখানি বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন—মেঝে আগা- গােড়া সিমেন্ট করা। ঘরে আসবাবের ভিতর কয়েকটি পুস্তকের সেলফ, ও একটা কাঠের অতি সুন্দর আলমারী। গৃহের ঠিক মাঝ- খানে একটা ক্ষুদ্র খাট—তাহারই উপর বালিশ ঠেস দিয়া গুণেনবাবু উপবিষ্ট। গুণেনবাবুর বয়স যথেষ্টই হইয়াছে—সত্তোরের কম নহে - প্রায় সব চুলই পাকা। কিন্তু এরূপ ভয়াবহ মুখ চোখ আমি খুব কম লােকেরই দেখিয়াছি। মুখখানা কতকটা যেন রাক্ষসের মত—চোখ দুইটা তেমনি বড় বড়। লােক- টার মুখের দিকে চাহিলেই—কেমন যেন ভয় হয়। এমন বিকট চেহারার লােক তো আমি ১৫ শয়তান পূৰ্ব্বে কখন আর দেখি নাই। চারিদিকে বালিশ দিয়া যেভাবে তিনি কষ্টে বসিয়াছিলেন তাহাতে বেশ বুঝনাম রাতে ‘ন একেবারে পঙ্গু হইয়া গিয়াছেন—তাহার অবস্থা এমন দাড়াইয়াছে—যে বসিয়া থাকাটাও তাহার পক্ষে যেন কষ্ট সাধ্য। গুণেনবাবু সটকায় তামাক টানিতেছিলেন—তাম্রকূটের মধুর সৌরভটুকু ঘরময় ছড়াইয়া পড়িয়া তাহার মূল্যের গুরুত্ব টুকু বিশেষভাবে জানাইয়া দিতেছিল। আমরা গৃহের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্র গুণেনবাবু বলিয়া উঠিলেন,—“আসুন—আসুন-বসুন। ভগবান আমাকে এমনই মেরে রেখেছেন যে উঠে চেয়ারখানা এগিয়ে দেব তারও উপায় নেই।” হীতেন্দ্র তাঁহাকে বাধা দিয়া বলিল,- “আপনার ব্যস্ত হবার কোন দরকার নেই- আমরা ঠিকই বছি।” খাটের সম্মুখেই কয়েক খান থানা চেয়ার ৫৬ শয়তান ছিল আমরা তাহাই টানিয়া লইয়া গুণেনবাবুর সম্মুখে উপবিষ্ট হইলাম। হীতে আমার বন্ধুর পরিচয় গুণেন বাবুকে দিয়া বলিলেন,- “এর নাম বােধ হয় আপনি শুনে থাকবেন। এর শাক্তও যেমন অদ্ভুত-পুলিশে খাতির ও তেমনি যথেষ্ট।” গুণেনবাবু প্রশান্তের দিকে হাতখানা বাড়াইয়া দিয়া করমর্দন কলেন,-বলিলেন, —“হা। ওর নাম শুনেছি বটে--উনি যে দয়া করে এ মামলার ভার নিয়েছেন-এর চেয়ে আমার আর কি সৌভাগ্য হতে পারে ?” প্রশান্তের সূক্ষ্ম দৃষ্টি তখন সমস্ত ঘর- খানা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে নিরীক্ষণ করিতেছিল,- সহসা গুণেণবাবুর দিকে ফিরিয়া সে বলিল,- “আপনি তো ভারি চমৎকার তামাক খান । গন্ধে সমস্ত ঘর ভরে গেছে।” গুণেনবাবু মাথা নাড়িয়া বলিলেন,- “আর সব সখই গেছে-- ভগবান আমাকে ৪৭

শয়তান
একেবারেই মেরে রেখেছেন। এখন আবার
মধ্যে এক তামাকের সখই আছে। আর
এক বাতিক-বই পড়া। তাই যখনই যে
কোন নতুন বইএর সন্ধান পাই তখনই সেটা
কিনে আর থাকতে পারিনে। তামাকটাও
যা তা খেতে পারিনে—গয়া থেকে ফরমাজ
দিয়ে তৈরী করিয়ে আনি।
আর ক'টা দিন
--গেলেই হয়তবুও এদুটো সখ আর
কিছুতেই ত্যাগ কর্তে পারিনি।”
গুণেনবাবু সকায় গােটা দুই চার টান
দিয়া বেশ একটু বিষন্ন স্বরে বলিলেন,-
দেখুন না এমন বিপদ ও মানুষের হয়।
লােকটা সত্যই খুব ভাল ছিল। যদিও
সম্প্রতিই আমার কাছে কাজ কচ্ছে-তবুও
তাকে কোন কাজ বলতে হতাে না।
ভেবেছিলুম যাহক এতদিনে তবুও একটা ভাল
. লােক পেলুম-কিন্তু দেখুন না তাতেও
ভগবান বাদ সাধলেন। বেচারী যে এমন
১৮

শয়তান ভাবে খুন হবে সে কথা একবার ভাবতেও পারিনি। লােকটা কারুর সঙ্গে মিশতাে না- তার যে কেউ এমন শত্রু ছিল একথা তো একবার মনেও হয় না। তারপর প্রশান্তবাবু, আপনি ব্যাপারটা কি রকম বুঝছেন?” প্রশান্ত হাসিতে হাসিতে উত্তর দিল, “আমি এখনও এ বিষয় কিছুই স্থির করিনি।” গুণেনবাবু ঘাড় নাড়িতে নাড়িতে বলিলেন, -“এমন দুর্ঘটনা খুব কমই হয়। আমার মত বাতে পঙ্গু বুড়োর পক্ষে এমন একটা দুর্ঘটনা একেবারেই সাংঘাতিক। কাল রাত থেকে চোখের পাতা এক মিনিটের জন্যে বুঝতে পারিনি। তবে আপনি যখন মামলাটার তার নিয়েছেন-তখন একটা কিনারা হবে বলেই আশা করা যায়। প্রশান্ত ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-দেখা যাক কতদূর কি করা যায়। আপনাকে বিশেষ কোন কথা জিজ্ঞাসা করবার নেই- ০১ শতনি আচ্ছা মতিলালের শেষ উক্তিটা সম্বন্ধে আপনি কি বলেন-“বাবু-বাবু-এ সেই শ্রীলােক। গুণেনবাবু একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন,-“এ কথার আমি তো কোন অর্থই খুজে পাই নি। সেই লােক-সে আবার কি ? লােকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক তাে বহুকালই ঘুচে গেছে। মৃত্যুকালিন বিকারের এটা প্রলাপ বলেই যেন আমার মনে হয়। আমার তাে এটা খাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হয়। ছােরার ভেতরে ভেতরে বােধ হয় কোন গােলমাল ছিল— যা আমরা একেবারেই জানতুম না—সেই জন্যে বােধ হয় হঠাৎ মনের কোন গােযােগ হয়েছে, তাই বােধ হয় ফস্ করে আত্ম- হত্যা করে ফেলেছে। ওকে যে কেউ খুন কর্ণে পারে-এ কথা তাে আমার বিশ্বাসই

শয়তান
প্রশাস্তর মুখখানা বেশ একটু গম্ভীর
হইয়া উঠিয়াছিল,সে বেশ গম্ভীর স্বরেই
বলিল,-ছ। আচ্ছা গুণেনবাবু দপ্তরখানায়
আপনার টেবিলের দেয়ালের ভেতর কি
আছে?
গুণেনবাবু গম্ভীরভাবে উত্তর দিলেন,
“ওর ভেতর বিশেষ কিছুই নেই। পুরােণ
হিসেবের কতকগুলাে খাতাপত্র, আর বোধ
হয় আমার চেক বইখানা ওর ভেতর থাকতে
পারে। এই নিন চাবী-দরকার যদি মনে
করেন খুলে দেখতে পারেন।
পার্থের বালিসটা একটু উচু করিয়া
তুলিয়া গুণেনবাবু এক তাড়া চাবী বাহির
করিলেন।-প্রশান্ত বলিল,-থাক আর খুলে
দেখবার বিশেষ দরকার নেই। আপনি
যখন বলছেন—এতে কেবল হিসেবের পুরােন
খাতা আর আপনার চেক বই আছে, তখন
আর খুলে দেখে লাভ কি? ওথেকে যে

তন
ধুনীর কিনারা হবার বিশেষ সাহায্য পাওয়া
যাবে বলে ত আমার মনে হয় না। এখন
তা হলে আমরা উঠি—আর আপনাকে
বিশেষ বিরক্ত কর্তে চাইনি,এখন আমরা
আপনার দপ্তরখানায় বসে, ব্যাপারটা একটু
আলােচনা করে দেখা যাক-কোন সূত্র
বার কর্তে পারা যায় কি না।
প্রশান্ত কথাটা শেষ করিবার সঙ্গে সঙ্গেই
উঠিয়া দাঁড়াইয়াছিল,—আমরাও তাহার
দেখাদেখি উঠিতে যাইতেছিলাম, কিন্তু
গুণেনবাবু বিশেষ ব্যস্তভাবে বলিয়া উঠিলেন,
-“তা যেন হলো-আপনাদের সকাল বেলার
আহারের কি ব্যবস্থা হলাে ? বেলা তাে
যথেষ্টই হয়েছে-কলকাতায়
ফিরতে
আপনাদের বিকেল হয়ে যাবে। এ অবস্থায়
এইখানেই যা হয় দুটো এবেলার মত সেরে
নিলে হয় না? আমার মনে হয় সেটা হলেই
যেন ভাল হয়।

শয়তান
নেই।
হীতে তাড়াতাড়ি বলিল,-“নানা
আমাদের জন্যে আপনি ব্যস্ত হবেন না।
কলকাতায় গিয়েই আমাদের আহার হবে।
দু’টে। তিনটের পূর্বে আহার করা
আমাদের কোন দিনই ঘটে ওঠে না।
কিন্তু প্রশান্ত হীতেজের কথায় বাধা দিয়া
বলিল,-মন্দ কি? সাধা অন্ন ফেলতে
। আর কখন কলকাতায় ফেরা হবে
তার তাে কোন নিশ্চয়তা নেই। যখন অন্ন
জুটচে তখন কি তা ত্যাগ কৰ্ত্তে আছে ?”
প্রশান্তের এই কথাটা আমার একেবারেই
ভাল ঠেকছিল না। পরের বাড়ীতে এরূপ
ভাবে আহার করা আমি কোন দিনই পছন্দ
করিতাম না। গুণেনবাবু ঘলিলেন,-“নিশ্চয়
—নিশ্চয়। এত বেলা হলো—আমার বাড়ীতে
যখন এসেছেন তখন আমিই বা আপনাদের
খাইয়ে কখন ছাড়তে পারি ? আমি এখনি
আপনাদের আহারের বন্দোবস্ত কৰ্ত্তে বলছি।*

গুণেনবাবু শ্যামা চাকরকে ডাকিলেন। সে গৃহের ভিতর প্রবেশ করিলে, তিনি তাহাকে বামুনঠাকুরকে তাহার নিকট পাঠাইয়া দিতে আদেশ করিলেন। আমরাও ধীরে ধীরে তাহার শয়ন কক্ষ হইতে বাহির হইয়া দপ্তরখানায় গিয়া উপবিষ্ট হইলাম। দপ্তরখানায় প্রবেশ করিয়া প্রশান্ত এক- খান চেয়ার টানিয়া লইয়া চক্ষু মুদ্রিত করিয়া তাহাতে উপবিষ্ট হইল। প্রায় অর্ধ ঘন্টা অতিবাহিত হইয়া গেল—তবুও তাহার সেই ভাব। হীতে নীরব। কিন্তু এরূপ নীরবতা আমার একেবারে অসহ্য হইয়া উঠিল, -আমি আর কিছুতেই চুপ করিয়া থাকিতে পারিলাম না,-প্ৰশাকে সম্বােধন করিয়া

শয়তান
বলিলাম, “কি বুঝছ—বিশেষ কিছু কিনারা
কর্তে পাল্লে ?*
প্রশান্ত বিকৃত দৃষ্টিতে আমার মুখের
দিকে চাহিয়া বলিল,-হু। কিন্তু আমার
ভুলও হতে পারে। যাহক আর একটা
সিগারেট খেতে দাও, তাহলেই ব্যাপারটা
অনেকটা পরিষ্কার হয়ে আসবে।”
প্রশান্ত আবার একটা সিগারেট ধরাইতে
যাইতেছিল, আমি বলিলাম, “ও তােমার
হেয়ালী—আমাদের বােঝা অসম্ভব। এখন
ব্যাপারটা কি বুঝলে একটু খুলে বলো।”
প্রশান্ত ঘাড় নাড়িতে নাড়িতে বলিল,
-“ধীরে বন্ধু, ধীরে। বােঝা বুঝি পরে হবে।
এই যে বামুনঠাকুর-চা নিয়ে আসছে
তাহলে এখন আপাততঃ চায়েতেই মনোেযােগ
দেওয়া যাক।
বামুনঠাকুরটী উৎকলবাসী। একখানি
থালার উপর তিন পেয়ালা চা আনিয়া

শরতন
মইল।
আমাদের সম্মুখে টেবিলের উপর রাখিল।
প্রশান্ত একথা সেকথা বামুনঠাকুরকে জিজ্ঞাসা
করিয়া তাহার সহিত বেশ আলাপ জমাইয়া
আলাপ জমাইতে প্রশান্ত ছিল
অদ্বিতীয়। ঠাকুরের বাড়ী কোথায়--কতদিন
বিয়ে হয়েছে-ছেলে পিলে কটা প্রভৃতি
তাহাকে নানা প্রশ্ন সে অজস্র ধারে করিতে
লাগিল। সে কথায় আমি কাণ দিবার বিশেষ
প্রয়ােজন বিবেচনা করিলাম না। চায়ের
পেয়ালাট। তুলিয়া লইয়া উষ্ণ চা এক এক চুমুক
পান করিতে লাগিলাম। প্রশান্ত কথায় কথায়
বামুন ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিল,-“আচ্ছা
ঠাকুর, তােমার বাবু কি খুব তামাক খান?
ঠাকুর উৎকল হাসি হাসিয়া বলিল,-
“সে কথা আর বলবেন না, এক মুহূর্ত কামাই
নেই—এত তামাক খেতে আমি আর
কাউকে কোন দিন দেখিনি। সরকারবাবুও
তামাক খেতেন কিন্তু এমনতর নয়।”

শয়তান
প্রশান্ত ঘাড় নাড়িতে নাড়িতে বলিল,-
এত তামাক খাওয়া কিন্তু ভাল নয়—এত
তামাক খেলে ক্ষীদে একেবারে মরে যায়।
তােমাদের বাবুর আহার কি রকম? খেতে
একেবারেই বােধ হয় পারেন না ?
উৎকল ঘাড় নাড়িয়া বলিল,-“না-
খেতে বাবু তে মদ পারেন না। কাল
সকাল থেকে বাবুর ক্ষীদেটা যেন আবার
একটু বেড়ে গেছে। কাল আমাকে ডেকে
আগে থাকতেই বলে দিয়েছিলেন,-ভাত
কিছু বেশী করে দিতে। ভাত তরকারী তাে
বেশী করে দিয়েই ছিলেম, মাছ ভাজাও
চারখানা দিয়েছিলেন কিন্তু পাতে বিশেষ
কিছুই পড়ে ছিল না। তাহলে এখন আমি
আসি বাবু, আবার আপনাদের খাবার সকাল
সকাল বন্দোবস্ত কৰ্তে হবে।
বামুনঠাকুর চলিয়া গেল। আমাদেরও
চা পান শেষ হইয়াছিল,-প্রশান্ত বলিল,-

“চল বাগানের আশপাশটা একটু দেখা
প্রশান্তের ইচ্ছানুযায়ীই কার্য হইল।
আমরা দপ্তরখানা হইতে উঠিয়া বাগানে
আসিলাম। প্রশান্ত বাগানের আশপাশটা
ঘুরিয়া ফিরিয়া দেখিতে লাগিল।
সে খুনের যে বিশেষ কিছু কিনারা করিতে
পারিয়াছে বলিয়া আমার মনে হইল না।
বেলা চারটার সময় আমাদের আহারের ডাক
পড়িল। আমাদের আহারের বন্দোবস্ত মন্দ
হয় নাই। গুণেনবাবু যে শষ্যায় পড়িয়া
থাকিয়াও এত শীঘ্র আমাদের জন্য এমন
বন্দোবস্ত করিয়াছেন ইহাতে তাহাকে প্রশংসা
করিয়া থাকিতে পারা যায় না। আমরা
আহারে বসিলাম—প্রশান্ত বামুনঠাকুরকে
জিজ্ঞাসা করিল,-“তােমাদের বাবুর খাওয়া
হয়ে গেছে?
ঠাকুর বলিল,-“জাজে না। আপনাদের

শয়তান
আহার হয়ে গেলে, তাঁর বাবার দিতে
বলেছেন।
প্রশান্ত আবার প্রশ্ন করিল,তােমাদের
বাবু বুঝি তার ঘরেই বােজ খান ?
ঠাকুর উত্তর দিল,-“আজ্ঞে । হাট।
চলা কর্তে তিনি একেবারেই পারেন না।”
আমরা আহার শেষ করিয়া আবার
দপ্তরখানায় আসিয়া বসিলাম। শ্যাম। এক
ডিবা পান আমাদের সম্মুখে টেবিলের উপর
রাখিয়া দিয়া গেল।
গৃহের এক পাশে
একখানা আরাম কেদারা ছিল। প্রশান্ত
তাহার উপর আড় হইয়া পড়িয়া গায়ের
কাপড়খানা মুড়ি দিতে দিতে বলিল,-“কাল
রাত্রে ঘুমটা বেশ জুতসই হয়নি—আহারটা
বেশ রীতিমতই হয়েছে, এখন একটু আড়া
মোড়া ভেঙ্গে নেওয়া যাক।
প্রশান্ত গায়ের কাপড় মুড়ি দিল।
হীতে আমার দিকে ফিরিয়া বলিল,-

ন
“তাহলে আপনি একটু বসুন—আমি একবার
বাসে পাশের লােকদের জিজ্ঞাসা করে দেখি
যদি সেই স্ত্রীলােকের কোন সন্ধান হয়।”
হীতেন্দ্র কথাটা শেষ করিয়াই গৃহ হইতে
বাহির হইয়া গেল। আমি একাকী নীরবে
বসিয়া রহিলাম। প্রায় দুই ঘণ্টা অতিবাহিত
হইয়া গেল—আমার বড়ই বিরক্তি বোধ
হইতে লাগিল। মানুষে কখন এমন চুপ
করিয়া বসিয়া থাকিতে পারে? প্রশান্ত সেই
যে আলওয়ানখানা মুড়ি দিয়া পড়িয়াছিল ঠিক
সেই ভাবেই আছে—তাহার নড়িবার চড়িবার
উঠিবার কোন লক্ষণই আমি দেখিতেছিলাম
না। তাহার ভাব ভঙ্গি দেখিয়া স্পষ্টই মনে
হয় এই খুনের রহস্যভেদ করিবার তাহার ইচ্ছা
বা আগ্রহ একেবারেই নাই।
তিনটে সাড়ে
তিনটের সময় হীতে ফিরিয়া আসিল। সে
গৃহের ভিতর প্রবেশ করিতে করিতে আমাকে
জিজ্ঞাসা করিল,-“প্রশান্তবাবুর ঘুম ভেঙ্গেছে ?”
০

শয়তান উত্তরটা আর আমাকে দিতে হইল না। প্রশান্ত মুখ হইতে আলোচানখানা সরাইয়া বলিল,-“হু-ঘুমতে ভাঙ্গলাে। তারপর, তুমি কত দুর ঘুরে এলে ?” হীতেন্দ্র বলিল,-“আসে পাশে একটু সন্ধান নিয়ে এলেম। একটু দূরে একজন ডাক্তার আছেন, তার ছেলের মুখে শুলেম, তোমার অনুমান অনুযায়ী একজন বৃদ্ধ গুণেন- বাবুর বাড়ী কোথায় জিজ্ঞাসা করেছিল।” প্রশান্ত একটা হাই তুলিয়া দুইটা তুড়ি দিয়া উঠিয়া বসিল, বলিল,-“হু-তারপর কটা বাজলাে বলো দেখি ? হীতে পকেট হইতে ঘড়ী বাহির করিয়া বলিল,-“প্রায় চারটে বাজে।” “চারটে বাজে!” প্রশান্ত একেবারে উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল,-“চল, আর নয়, গুণেনবাবুর সঙ্গে একবার দেখা করা এখন একেবারে বিশেষ প্রয়ােজন।

শয়তান
প্রশান্ত গৃহ হইতে বাহির হইয়া পড়িল,
আমরাও তাহার পিছনে পিছনে শুণেনবাবুর
গৃহে গিয়া উপস্থিত হইলাম। গুণেনবাবু
একখানা সংবাদ পত্র মুখে দিয়া তামাক
টানিতে ছিলেন। আমাদের গৃহের ভিতর
প্রবেশ করিতে দেখিয়া সংবাদ পত্র খানা মুখ
হইতে সরাইয়া বলিলেন,-“আসুন, তারপর
প্রশান্তবাবু, এ খুনের রহস্য কিছু ভেদ কর্তে
পানে?”
প্রশান্ত গম্ভীর ভাবে উত্তর দিল,-“হ্যা-
এরহস্য আমি ভেদ করেছি।”
প্রশান্তের এই কথায় আমি ও হীতেন্দ্র
উভয়েই অবাক হইয়া গিয়াছিলাম। খুনের
রহস্য ভেদ করিয়াছি-প্রশান্তের মুখে একি
কথা ? গুণেনবাবু প্রশান্তের মুখে এই কথা
শুনিয়া বিশ্বয়ে স্তম্ভিত হইয়া গিয়াছিলেন।
তিনি কেমন একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে প্রশান্তের
মুখের দিকে চাহিয়া বলিলেন,-রহস্যভেদ

শয়তান
তাহলে করেছেন?-না আমার সঙ্গে রহস্য
করছেন ?”
প্রশান্ত গম্ভীর ভাবে বলিল,-এর ভেতর
রহস্য করবার মত তাে কিছু নেই। আমি
এই ব্যাপারটা আগাগােড়া বিশ্লেষণ করে
দেখেছি এবং যেটুকু বুঝেছি তাতে আমার
বিশ্বাস অকাট্য সত্য। আপনি এই ব্যাপারে
কতটুকু জড়িত এবং কোন অংশ অভিনয়
করেছেন সেটা আমি এখন, স্থির বলতে
পারিনি তবে আমার এও বিশ্বাস আছে সে
কথা আপনি এখনই আপনার নিজের মুখ
থেকেই, বলবেন। না বলে আপনার আর
কোন উপায়ও নেই।”
প্রশান্তের কথায় গুণেনবাবুর মুখখানা
কেমন যেন বিবর্ণ হইয়া গেল। প্রশান্ত যাহা
বলিল সে কথা আমি একবিন্দুও অর্থ করিতে
পারিলাম না। হীতেন্ত্রেরও আমারই অবস্থা
-সেও অবাক হইয়া প্রান্তের মুখের দিকে

শয়তান
.
চাহিয়াছিল। প্রশান্ত বলিতে লাগিল,-
“দেখুন গুণেনবাব, এটা একেবারে অকাট্য
স্থির হয়েছে যে কাল সকালে একটা বৃদ্ধ
গােছের লােক আপনার দপ্তরখানায় প্রবেশ
করেছিল।
এবং আপনার দপ্তর থানার
টেবিলের দেরাজের ভেতর থেকে তার
প্রয়ােজনীয় কোন দলিল পত্র বের করবার
চেষ্টা করেছিল।
গুণেনবাবুর মুখের সে ভীতিপূর্ণ ভাবটা
তখন অনেকটা সরিয়া গিয়াছিল,-“আপনার
সত্যিই ক্ষমতা অদ্ভুত। তারপর ”
বলিতে
লাগিল,-“তারপর
আপনার সরকার তাকে সেই অবস্থায় দেখে
ছুটে গিয়ে ধরে-সেও
গিয়ে ধরে-সেও তখন পালা-
বার অন্য উপায় না দেখে টেবিলের উপর
থেকে ছুরিটা তুলে নিয়ে আপনার সরকারকে
আক্রমণ করে। কিন্তু আপনার সরকারকে
মেরে ফেলবার তার আদৌ ইচ্ছা ছিল না।

শয়তান
ঘটনাটা দৈবক্রমেই ঘটে গেছে। সহসা এই
ব্যাপারে সেই লােকটী ভয়ে একেবারে হতভম্ব
হয়ে পড়ে এবং তখনই ছুটে সেখান থেকে
পালাবার চেষ্টা করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়
আপনার সরকারের সঙ্গে হুটোপাটীতে তার
কয়েক গাছা চুল সরকার মহাশয়ের কাছেই
থেকে যায়। তার দৃষ্টি শক্তি যে একেবারে না
থাকার মধ্যেই ছিল তা তার ঐ কয়েক গাছ।
সাদা চুল থেকেই বােঝা যাচ্ছে দৃষ্টিশক্তি যদি
থাকত নবে সে কখনই ঐ—চুল কটা মৃত
ব্যক্তির হাতে
রেখে যেত না-লােকটার
দৃষ্টি শক্তি কম- তাতে নুতন যায়গা-বেচার
একেবারে নাচার হয়ে পড়ে। পাছে সে ধরা
পড়ে এই আশঙ্কায় সে যেদিক দিয়ে হয় ছুটে
ঘর থেকে পালাবার চেষ্টা করে। কিন্তু তার
দৃষ্টি শক্তির অভাবের জন্য সে যে দিক দিয়ে
ঘরে প্রবেশ করেছিল সে দিক দিয়ে না
বেরিয়ে অন্য দিকের দোর দিয়ে বেরিয়ে

শতন
পড়ে। কিন্তু যখন সে বুঝতে পারে যে সে
ভুল রাস্তায় এসেছে তখন তার ফেরবার উপায়
ছিল না। তার অবস্থা ত একরকম কানার
মতই। তখন সে কি করে ? সে এক জায়গায়
দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না—কাজেই তাকে
অগ্রসর হতে হয় এবং সে একেবারে বারান্দা
পার হয়ে আপনার ঘরের ভেতর প্রবেশ করে।
আপনার ঘরে আসবার তার আদৌ ইচ্ছা ছিল
কিন্তু অনুপায় হয়েই শেষ সে আপনার
ঘরে প্রবেশ করেছিল।
প্রশান্তের কথা শুনিয়া গুণেনবাবুর
চোখের
দুইটা ঠিকাইয়া
বাহির হইবার মত হইয়াছিল। প্রশান্ত
নীরব হইবা মাত্র তিনি একেবারে হাে হো
করিয়া হাসিয়া উঠিলেন,-হাসিতে হাসিতেই
বলিলেন,-“প্রশান্তবাবু, আপনার অনুমান
বিশ্লেষণ চমৎকার সে বিষয়ে কোনই সন্দেহ
নাই। কিন্তু শেষটুকু একটুকু গরমিল হয়ে
তারা

শতান'
গেল। সেদিন যে আমি আমার ঘর থেকে
এক মুহূর্তের জন্যও বেরুইনি।”
প্রশান্ত গম্ভীর স্বরে বলিল,-“সে কথা
আমার বিশেষ ভাবেই জানা আছে।”
গুণেনবাবু বেশ একটু অবাক ভাবে
বলিলেন,-'এতে বেশ সুন্দর কথা। আমার
ঘরে আমি বিছানার ওপর জাগ্রত অবস্থায়
শুয়ে রইলুম—আর একজন লােক আমার
ঘরে প্রবেশ করে, আর আমি দেখতে পেলুম
। ঐন্দ্রজালিক বিদ্যা সে লােকের জানা
থাকলে এমনটা কেমন করে হবে ?*
প্রশান্তের সুর আরও গম্ভীর হইয়া উঠিল,
-সে দৃঢ় স্বরে বলিল,-“এ কথা তাে আমি
একবারও আপনাকে বলি নিযে আপনি
তাকে দেখতে পান নি।
আপনি তাকে
দেখেছিলেন, আপনার সে পরিচিত, আপনি
তার সঙ্গে কথা কয়েছিলেন এবং আপনি তার
পালাবার সাহায্য পৰ্য্যন্ত করেছেন।

শয়তান
প্রশান্তের কথায় আমি তো একেবারেই
অবাক হইয়া গিয়াছিলাম। প্রশান্ত এ বলে
কি—এ সকল কথা সে জানিল কেমন
করিয়া। কাল রাত্রি হইতে সে তো আমারই
পাশে পাশে থাকে--এক দণ্ডও তাে সে
আমাদের ছাড়িয়া কোথায়ও যায় নাই।
প্রশান্তের এই কথায় গুণেনবাবু আবার হো
হো করিয়া হাসিয়া উঠিলেন,বলিলেন,-
“প্রশান্তবাবু, আপনি উন্মাদের মত কথা
বলছেন-আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
আমি তাকে পালাবার সাহায্য করেছি-
বলেন কি মশাই ? সে লােকটা এখন
আছে কোথায়?”
গৃহের এক কোনে একটা প্রকাণ্ড কাঠের
আলমারী ছিল, প্রশান্ত সেই আলমারীর দিকে
অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া বন্ধু, গম্ভীর স্বরে বলিল,
“সেই লােকটী এখন আপনার ওই কাঠের
আলমারীর ভেতর আছে—আমি তাকে
৬৮

এখনই আপনার সম্মুখেই বের
আছি ।”
প্রশান্তের কথা শেষ হইবার ১ঙ্গে সঙ্গে
গুণেনবাবু বাম হন্তে চক্ষু চাপিয়া বালিসের
উপর হেলিয়া পড়িলেন। তাহার এইভাবান্তরে
আমি তো একেবারে অবাক হইয়া গেলাম।
প্রশান্তের কথাগুলা আমার নিকট এতক্ষণ
গল্পের মত ঠেকিতেছিল--কিন্তু গুণেনবাবুর মুখ
চোখের ভীতিপূর্ণ ভাব দেখিয়া কথাগুলা
এখন সত্য বলিয়াই মনে হইল। প্রশান্ত উঠিয়া
আলমারীর দিকে অগ্রসর হইতে যাইতেছিল—
কিন্তু তাহাকে আর অগ্রসর হইতে হইল না-
ঠিক সে সময় এক অদ্ভুতঘটনা সংঘটিত হইল।
সেই আলমারীর অগ্ধ উন্মুক্ত দ্বার খুলিয়া
উন্মাদের মত এক শ্বেতশ্বশু বৃদ্ধ আমাদের
সম্মুখে আসিয়া দাড়াইল। সে বিকৃত কঠে
বলিল,-“আপনি ঠিকই ধরেছেন—আমি এই
আলমারীর ভেতরেই ছিলুম।”

শয়তান লােকটার বয়স ষাটের কম নহে। প্রশান্ত যেরূপ লােকটির বর্ণনা করিয়াছিল- ইহার চেহারা একেবারে হুবাহু তাহার সঙ্গে মিলিয়া যায়। লােকটীর যে দৃষ্টিশক্তি বিশেষ অল্প তাহা তাহার চাহিবার ভঙ্গি দেখিলেই স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায়। লোকটার মাথার চুলগুলি উচ্চ খুষ্ক হইয়া গিয়াছে—মুখখানিও বিশেষ মলিন হইয়া পড়িয়াছে—তথাপি সে যে রূপবান তাহাতে সন্দেহ করিবার কিছুই নাই। তাহার চোখেরতারা দুইটার ভিতর হইতে কেমন যেন একটা জ্যোতি চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িতেছিল। লােকটি যে এমনভাবে আলমারীর ভিতর হইতে বাহির হইতে পারে ই তাে আমি এক বারের জন্যও ভাবিতে পারি নাই। তাহার এইরূপ সহসা আলমারীর ভিতর হইতে আবির্ভাবে আমরা সকলেই একেবারে ব্যক্তিত হইয়া গিয়াছিলাম। প্রশান্তের এই ৭০ শয়তান অদ্ভুত বিশ্লেষণ শক্তির প্রশংসা আমি শতসহস্র বার কেবলই মনে মনে করিতেছিলাম- আবার মনে মনে কেবলই প্রশ্ন করিতেছিলাম সে কেমন করিয়া জানিতে পারিল যে এই লােকটা আলমারীর ভিতর লুকাইয়া আছে। কাল হইতে আমি তাহার পার্শ্বে পার্শ্বে রহিয়াছি—সে যাহা শুনিয়াছে আমিও তাহাই শুনিয়াছি, সে যাহা দেখিয়াছে আমিও তাহাই দেখিয়াছি, কই আমার তো একথা একবারও মনে হয় নাই। সত্যই প্রশান্তের অদ্ভুত ক্ষমতা। লােকটির আবির্ভাবে বিস্ময়ে সমস্ত গৃহ একেবারে স্তব্ধ হইয়া গিয়াছিল— হীতেই প্রথমে সেই স্তব্ধতা ভঙ্গ করিল,- সে লােকটির মুখের দিকে চাহিয়া গম্ভীরভাবে বলিল,-“বড়ই দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যেমণিলালের খুনের অপরাধে আমি আপনাকে গ্রেপ্তার করলুম-আপনি আমার বলী। ৭১

লােকটী গৰ্বিতস্বরে বলিল,-“হ—আমি
আপনার বন্দী। আমি যেখানে লুকিয়েছিল
সেখান থেকে আপনাদের সমস্ত কথাই আমি
শুনেছি এবং বুঝেছি আপনারা সত্য যা তা
জানতে পেরেছেন। আমি সত্যকথা আর
গােপন কৰ্বো না-গোপন করবার আর
প্রয়ােজনও নেই । সত্যিই আমি মণিলাবকে
খুন করেছি।
কিন্তু আপনারা সত্যই
বলেছেন খুন করবার আমার তাকে
আদৌ ইচ্ছা ছিল না-দৈবক্রমেই সে মরে
গেছে। সে আমাকে এসে যখন ধরে ফেললে
তখন আমি নিজেকে বাঁচাবার জন্যে টেবিলের
উপর থেকে হাতের সম্মুখে যা পেয়েছি তাই
তুলে নিয়েছিলেম-যখন আমি সেইটা দিয়ে
তাকে আঘাত করি তখনও আমার জ্ঞান
ছিল না যে সেটা ছুরী। আমি যা বললুম এর
ভেতর এক বিন্দুও মিথ্যে নাই।”
প্রশান্ত এক দৃষ্টে সেই লােকটীর মুখের
৭২

শয়তান দিকে চাহিয়াছিল সে দৃঢ় স্বরে বলিল, আপনি যা বলেছেন তা যে সত্যি তাতে আমার কোন সন্দেহ নাই। আপনার হাত পা কঁপছে -অবস্থা ভাল বলে বােধ হচ্ছে না-আপনি ওইখানে একটু স্থির হয়ে বসুন।” লােকটির সত্যই হাত পা কাপিতেছিল- তাহার মুখের রক্ত ক্রমেই যেন কেমন বিবর্ণ হইয়া আসিতেছিল। লােকটি আর দাড়াইতে পারিতেছিল না—সে কাপিতে কঁপিতে গুণেনবাবুর বিছানার এক পাশ্বে বসিয়া পড়িল। অতি কষ্টে একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল,-“আর আমার বেশী সময় নেই। কিন্তু আগাগােড়া সমস্ত কথা আপনাদের না বলে আমি কিছুতেই স্থির হতে পাচ্ছি নে। আমারই কন্যাকে এই ভদ্রলােক বিবাহ করেছেন ; আমরা বাঙ্গালী বাঙ্গালী নই-আমরা বিহারী। ওর নাম গুণেনবাবু নয়—ওর তান আসল নাম যে কি তা আমি আপনাদের বলতেও চাই নে।” গুণেনবাবু ফ্যাল ফ্যাল করিয়া সেই লােকটির প্রতি চাহিতেছিলেন,-এতক্ষণে অতি কষ্টে হাত তুলিয়া মৃদুস্বরে বলিল,- রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। ছােট একটা জলপূর্ণ দৃষ্টিতে গুণেন- বাবুর মুখের দিকে চাহিয়া সে গর্জিয়া উঠিল,-“শয়তান—এখন কথা বলতে তোমার লজ্জা কচ্ছে না। তোমার দ্বারা কারুর কোনদিন ভাল হয় নিশত শত নিরপরাধী লােকের তুমি সর্বনাশ করেছ। তুমি আমার কন্যার স্বামী তােমাকে আমি অভিসম্পাত দিতে চাই নেভগবান তার বিচার কৰ্বেন। আমি আপনাদের বলছি—আমি এর—বিবাহিত পত্নীর পিতা কিন্তু কেমন করে এর সঙ্গে আমার কন্যার বিবাহ হ'লে। এইবার সেটা শুনুন। ৭ঃ শয়তান গুণেনবাবু তাহার শ্বশুরের দিকে একটা করুণ দৃষ্টিনিক্ষেপ করিয়া বলিলেন,-“আপনি চিরকালই আমার প্রতি কৃপা করেছেন- আমি আপনার জামাতা-আমার কৃপা লােকটি আবার একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল,-“তােমায় দয়া করাই উচিত। আর আমার বেশী সময় নেই—আমার কথা জড়িয়ে আসছে—শুনুন। আমি বড় ভাল লােক ছিলেন না। আমার এক দল ছিল- সেই দলের কাজই ছিল চুরি করা। ইনিও ছিলেন সেই দলের একজন। আমার মেয়ে এই কাজ ছেড়ে দেবার জন্যে পয় পয় আমাকে বলেছে কিন্তু আমি তার কথা শুনিনি। তার সাজাও আমি যথেষ্ঠ পেয়েছি। ইনি ছিলেন সেই দলেরই একজন। এর কাজ ছিল দলের এক পােন্দারের দোকান চৌকি দেওয়া। সেটা নামমাত্র দোকান ৭৫

শয়তান
ছিল-তার কাজ ছিল—চুরি করে এরা যে
সব মাল নিয়ে আসতেন-রাত্রে সেইখানে
এনে গালান হতো। একে সেখানে লোকে
পপাদ্দার বলেই জান্ত তাই কেউ কোন
সন্দেহ কৰ্ত্তা না ।
এ বুড়ো বটে--কিন্তু
দলের মধ্যে এর চেয়ে শয়তান আর কেউ
ছিল না। এইরূপ অনেক স্ত্রীলােকের
সর্বনাশ করেছে-শেষ এর দৃষ্টি আমার
মেয়ের ওপর পড়ে। এখন আমাকে ওর
সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিতে বলে-
কিন্তু আমি তাতে কিছুতেই সম্মত হই না।
কিন্তু শেষ দলবল নিয়ে একবার চুরি কৰ্ত্তে
গিয়ে এমন কত্তে হল যে এক জন খুন হয়ে
যায়।
সেবার সঙ্গে ছিল ।
একটা স্ত্রীলােকের ওপর অত্যাচার কন্ট্রে
যায়--সে নিজেকে এই শয়তানের হাত
থেকে রক্ষা করবার জন্যে একে একটা
লাঠি দিয়ে আঘাত
করে-এ তাই

শয়তান
সেই লাঠী কেড়ে নিয়ে তাকে এমনি সজোরে
মাথায় আঘাত করে,যে তাতেই তার মৃত্যুহয়।
পুলিশের, আমার ও আমার দলের
ওপর বিশেষ দৃষ্টি ছিল-তারা এই খুন ও
ডাকাতি আমার দলের দ্বারাই হয়েছে এই
অনুমান করে, কিন্তু প্রমাণ অভাবে আমাকে
গ্রেপতার কত্তে পারে না। সেই সময় এই
শয়তান আমাকে ভয় দেখিয়ে এক পত্র
লেখে যে আমি যদি আমার মেয়ের সঙ্গে এর
বিয়ে না দিই তাহলে সে সমস্ত কথা
পুলিশকে বলে ফাঁসিয়ে দেবে।
অমি
এই কথায় বিশেষ ভয় পেয়ে গেলুম এবং এই
শয়তানের কথায় সম্মত হয়ে এই শয়তানের
মুখ বন্ধ করবার জন্যে তাড়াতাড়ি এই
শয়তানের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিলুম।
সে অঙ্গ ছ'সাত বৎসরের কথা তখন আমার
বয়স চোদ কিংবা পনের। কিন্তু এ এত
বড় শয়তান-বিয়ের পরেই সে পুলিশের সঙ্গে
৭৭

শয়তান ষড়যন্ত্র করে আমায় ফাঁসিয়ে দেয়। এক বৎসর পরে বিচার হয়বিচারে আমার দ্বীপান্তর বাসের হুকুম হয়। এই এক বৎসর হল আমি দ্বীপান্তর হইতে আসিয়াছি। আসিয়াই আমি এই শয়তানের সন্ধান করিয়াছি। দ্বীপান্তরে আমার এমন দিন কাটে নাই যে আমার কন্যার কথা আমার মনে না হইয়াছে—আমার এই অভিশপ্ত জীবনে তাহার মুখ চাহিয়া আমি যাহা কিছু শান্তি পাইতাম, আর তাহাকে হারাইয়া তাহার স্মৃতিটুকু সার করিয়াই আমি কোন ক্রমে বাঁচিয়াছিলাম । এখানে আসিয়া অনেক সন্ধান করি কিন্তু কোন খোঁজ খবরই পাই না। তারপর আমার দলেরই এক- জনের নিকট হইতে জানিলাম আমার এক মাত্র দুহিতা, আমার যথাসর্বস্ব হৃদয়ধনকে এই নরাধম হত্যা করিয়াছে--অনাহারে অনশনে সে দেহত্যাগ করিয়াছে।” ৭৮

বৃদ্ধের দুই চক্ষু হইতে জলধারা গড়াইয়া
পড়িল, অতি কষ্টে সে নিজেকে সংযত করিয়া
বলিল,-
তারপর আমি জানিতে পারি, সেই
অভাগিনী একটি পুত্র সন্তান রাখিয়া যায়-
এই শয়তান তাহাকেও জলাঞ্জলি দিতে প্রস্তুত
হইয়াছিল, কি ভাবিয়া পিতৃমাতৃহীন অনাথ
বলিয়া পরিচয় দিয়া তাহাকে অনাথ আশ্রমে
পাঠাইয়া দেয়। আজ আমার মৃত দুহিতার
একমাত্র স্মৃতি সেই বালকের পিতৃ পরিচয়
নাই—বিবাহ সংক্রান্ত যাহা কিছু চিঠীপত্র
প্রমাণ ছিল সেও এই নরাধম রাখিয়া দিয়া-
একবার সেই বালকের সঙ্গে দেখা
করিলাম, তাহার পরই প্রতিজ্ঞা করিলাম
যেমন করিয়া হউক সেই প্রমাণ আমি উদ্ধার
করিব। আমি এখন বৃদ্ধ হইয়াছি, দেহে
সে শক্তি ও সে তেজ নাই। প্রতিহিংসা
লইবার প্রবৃত্তিও আর নাই। কিন্তু যাহা
ছিল।
৭

শয়তান
আমি উচিত মনে করিয়াছি, যাহার জন্য, আমি
জানি, একটা জীবন চিরদিনের জন্য সমাজ
কৰ্ত্ত ক লাঞ্ছিত হইব, তাহা দূর করিতে আজ
এ বয়সেও আমি পরান্য খ নই। একদিন এই
আমি একাই কত অসম সাহসিকের কাৰ্য্য
করিয়াছি। যদিও দেহে ও মনে সে তেজ, সে
বল নাই তথাপি এতদিন যাহা মিথ্যার জন্য
করিয়া আসিয়াছি—আজ কি সত্যের জন্য
তাহার এক অংশও করিতে পারিব না ?
আমার লুপ্ত বীৰ্য্য আবার ফিরিয়া আসিল।
সেই প্রমাণপত্রগুলি উহার দেরাজের মধ্যে
ছিল—আমি সব কালই শেষ করিব
ভাবিয়াছিলাম তবে চোখে আর সে তেজ
নাই, তাই দু’একটা ভুল চুক হইয়া
গিয়াছিল।”
গুণেনবাবু কাতরকণ্ঠে আবার বলিয়া
উঠিলেন,-“আমার প্রতি দয়া কর।”
লোকটির কেমন যেন একটা অব্যক্ত যন্ত্রণায়
৮০

শয়তান
হাত পা মুচড়াইয়া আসিতেছিল।
যন্ত্রণায় অস্ফুট আর্তনাদ করিয়া আবার
বলিল,-“না-না—আমি সব না বলে
আর শান্তি পাব না। আমি সেই চিঠিপত্র
সংগ্রহ করার জন্যে এক দিন রাত্রে আবার
এই শয়তানের বাড়ীতে গিয়ে উপস্থিত হই--
কিন্তু গিয়ে দেখি—বাড়ীতে কেউ নেই। এর
পােদ্দারের দোকান উঠে গেছে। সন্ধান
নিয়ে জানতে পারি—এই শয়তান দোকান
তুলে দিয়ে বাড়ী ঘর দোর বিক্রী করে কোথায়
চলে গেছে। সেই থেকে আমি এর সন্ধান
কৰ্তে আরম্ভ করি—অনেক সন্ধানের পর
শেষ এই হুগলীতে শয়তানের সন্ধান পাই।
এবং মরিয়া হয়ে সেই চিঠিপত্র নেবার জন্যে
এর দপ্তরখানায় প্রবেশ করি। চিঠিপত্র
পেতে আমায় বেশী কষ্ট পেতে হয় নি।
আমি দপ্তরখানায় প্রবেশ করে আমার কাছে
যে চাবী ছিল তাই দিয়ে টেবিলের দেব
৮১

শয়তান
খুলে ফেলি-দেরাজ খােলামাত্রই সেই
চিঠিপত্রগুলাে আমি সম্মুখেই দেখতে পাই।
সেগুলাে নিয়ে আমি দেরাজ বন্ধ কর্তে
যাচ্ছিলুম—সেই সময় একটা লােক এসে
আমাকে পিছন থেকে ধরে ফেলে। তখন
আমি মরিয়া—কাজেই হাতের সামনে যা
পাই তাই দিয়েই তাকে আঘাৎ করে পালাবার
চেষ্টা করি। এই লােকটার সঙ্গে পূৰ্ব্বদিন
সন্ধ্যার সময় আমার দেখা হয়—তখন আমি
স্ত্রীলোকের বেশে সন্ধান নিছুলুম এখানে
গুণেনবাবু থাকেন কি না—অনেকদিন চোর
ডাকাতের দলে থাকার জন্য এরূপ ছদ্মবেশে
আমরা খুবই পটু ছিলাম।
প্রশান্ত গম্ভীরভাবে বলিল,-“আমিও
এই কথাই অনুমান করেছি। সরকার ফিরে
এসেই সে কথা একে বলেছিল—একজন
স্ত্রীলােক তার সন্ধান করছিল। তারপর সে
'বার সময় এই বুড়ো স্ত্রীলােকটিকে সেই বৃদ্ধা

শতান স্ত্রীলােক বলে চিন্তে পেরে চীৎকার করে উঠে- ছিল—“কৰ্ত্তাবাবু-কৰ্ত্তাবাবু—এ সেই বুড়াে স্ত্রীলােক- লােকটা বলিতে লাগিল,-“তা হবে। সে পড়ে যাবামাত্র আমি ভয় পেয়ে যাই এবং ছুটে ঘর থেকে পালাবার চেষ্টা করি। কিন্তু চোখের আমার আর সে তেজ নাই। কাজেই আমি ভুল রাস্তায় গিয়ে পড়ি-ও একেবারে এই নরাধমের ঘরে গিয়ে উপস্থিত হই। আমাকে দেখে এই শয়তান প্রথমে খুবই ভয় পেয়ে যায়। তারপর পাছে আমি পুলিশের হাতে পড়লে সব কথা প্রকাশ করে দিই এই ভয়ে আমাকে এই আলমারীর ভেতর লুকিয়ে রাখে। আমার সময় শেষ হয়ে এসেছে—এই নি সেই চিঠি- পত্র—এই চিঠিপত্র গুলি অনাথ আশ্রমের অধ্যক্ষকে দিলেই আমার জীবনের কাজ শেষ হয়ে যায়-আশা করি মনুষ্যত্বের দিক

শয়তান
চেয়ে এটুকু উপকার আপনার নিকট হতে
প্রত্যাশা করতে পারি। আমার কর্তব্য
শেষ হয়েছে—উহুঃ আর পাচ্ছিনি-
লােকটি শয্যার উপর উপুড় হইয়া পড়িয়া
গেল। সে যে চিঠির বাণ্ডিলটা ফেলিয়া
দিয়াছিল সেটা
গুণেনবাবু তাড়াতাড়ি
তুলিয়া লইতে যাইতেছিলেন কিন্তু প্রশান্ত
সেগুলা তঁাহার
তাহার হাত হইতে কাড়িয়া
লইল।
প্রশান্ত ব্যস্ত ভাবে বলিল,-হীতেন, ওই
লােকটীর হাতে একটা কি ছােট শিশি
রয়েছে ওটা কেড়ে নাও, উনি বোধ হয় বিষ
খাবার চেষ্টায় আছেন।
লােকটা কষ্টে আবার একটু মুখ তুলিল,-
“আর কিছু কেড়ে নেবার প্রয়োজন নেই।
সে কাজ শেষ হয়েছে। আমি আলমারীর
ভেতর থেকে বেরুবার আগেই বিষ খেয়েছি।
এই বিষের শিশি আমার সঙ্গে সঙ্গেই থাকে,
৮৪

শয়তান
জানি—একদিন সেই আমার পরম বন্ধুর কাজ
কৰ্বে।*
লােকটীর সমস্ত দেহ
অসাড় হইয়া
আসিতেছিল-নিশ্বাস ঘন ঘন পড়তে আরম্ভ
করিয়াছিল—তাহার শিথিল হস্ত হইতে সেই
ক্ষুদ্র শিশিটা খসিয়া মেজের উপর পড়িল।
প্রশান্ত একটা গাঢ় দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিয়া
বলিল,-“ব্যস্-সব শেষ। হীতেন তােমার
হত্যাকারীকে জীবিত অবস্থায় ধরে দিতে
পারলুম না এইটাই যা দুঃখের। শুণেনবাবু
প্রায় কেটে উঠেছিলেন কিন্তু ধৰ্ম্মের কল
বাতাসে নড়ে। তাই চুলগুলো শক্ত করে
ধরবার সময় ছিনিয়ে নিতে পেরেছিল।
হীতেন, তুমি আমায় যখন বলেছিলে
হত্যাকারী হত্যা করে বাগানের রাস্তা দিয়ে
ঘাসের ওপর
ওপর দিয়ে পথ
ধরে চলে গেছে। তখনই আমি সে কথা
মােটই বিশ্বাস করি নি। যার চোখ এত
খুব সাবধান
৮৫

শতান
ভাল সে কখনও চুলগুলি মৃত ব্যক্তির
হাতে রেখে যেত না।
তখনই আমার
দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছিল হত্যাকারী কখনই
বাড়ী থেকে বেরিয়ে যায় নি—সে নিশ্চয়ই
বাড়ীর ভেতরই আছে। দপ্তরখানা ঘরে
তিনটা দরজা-সে দৃষ্টি শক্তির অভাবে ভুলে
অন্য দরজা দিয়ে বেরুনো
বিচিত্র নয়।
বাগানের দরজা দিয়ে যখন সে বেরইনি তখন
সে কোন দরজা দিয়ে বেরুতে
পারে ?
উঠোনের দিক দিয়ে সে যায়নি কারণ সেখানে
যে আলো দিছ ছিল—তাহলে সে দেখতে
পেত। বাকি রইল এক গুণেনবাবুর ঘরের
দিকের দরজা-তাহলে বুঝতে হবে সে সেই
দিক দিয়েই গেছে। আমি গুণেনবাবুর
ঘরে প্রথম এসে তাই বিশেষভাবে লক্ষ্য
করছিলুম ঘরে লুকিয়ে থাবার মত কোন
স্থান আছে কি না? দেখলুম ওই কাঠের
আলমারী ছাড়া লুকিয়ে থাকবার আর কোন

শয়তান
স্থান এ ঘরে নেই।
কাজেই আমি বুঝে-
ছিলুম-হত্যাকারী যদি গুণেনবাবুর ঘরে
থাকে তাহলে এই আলমারীর ভেতরই
লুকিয়ে আছে । তাই আমি সেটা
স্থির নিশ্চিত হবার জন্যেই বামুনঠাকুরকে
জিজ্ঞাসা করেছিলাম তােমার বাবু খায় কি
রকম ? যখন বামুন ঠাকুর বললে বাবু খান
মন্দ নন কিন্তু কাল সকাল থেকে তার খাওয়া
একেবারে ডবল হয়ে গেছে তখন আর
আমার বুঝতে কিছু বাকি রইল না কাল
থেকে আবার একজনকে আহারের ভাগ দিতে
হচ্ছে-কাজেই খাওয়া ডবল হতেই হবে।
এ অতি সহজ ব্যাপার। যার একটু চিন্তাশক্তি
আর দর্শনশক্তি আছে সেই এটা অতি সহজেই
অনুমান করে নেবে। তারপর চুল দেখেই
বুঝেছিলাম এ কোন বৃদ্ধ স্ত্রীলােক নয়। যাক
তাহলে হাতেন, এখন আমরা বিদায় হই।
কাল আমি তার সঙ্গে দেখা কৰ্বো। এখন তুমি

শয়তান
তােমার আসামীদের ব্যবস্থা করো। আমাকে
এখনই আবার এই কাগজগুলো নিয়ে অনাথ
আশ্রমের অধ্যক্ষের নিকট যেতে হবে।”
দরজায় যে কনেষ্টবল মােতায়েন ছিল—
হাতেনের দেশে সে থানায় সংবাদ দিতে
ছুটিয়াছিল। আমরা যখন গুণেনবাবুর বাড়ী
পরিত্যাগ করিবার জন্য উঠিতেছিলাম সেই
সময় স্থানীয় দারোগা সদল বলে আসিয়া
উপস্থিত হইলেন। প্রশান্তের চিন্তাশক্তি ও
দর্শনশক্তির প্রশংসা সকলেই একমুখে করিতে
লাগিল। আমিও এতদিনে বুঝিলাম পুলিশে
প্রশান্তের এত সম্মান কেন ?

বিশেষ বিজ্ঞাপন। ডাক্তার এস, কৈ, বর্মণের ঔষধের মূল্য বৃদ্ধির তালিকা ! ঔষধের নাম। মূল্য। কপূরের আরক ছয় আনা হাঁপানীর ঔষধ এক টাকা,ট আনা জ্বরের ঔষধ (বড়) টাকা জ্বরের ঔষধ (ছােট) দশ আনা আইওডাইড, সালসা দুই টাকা আট-আঃ সেনীলাইন এক টাকা আট আনা পুরাতন প্রমেই দুই টাকা গরমীর ঔষধ দুই টাকা কোল-টনিক এক টাকা চারি আনা গলগণ্ডের লাগাইবার ঔষধ ছয় আনা গলগণ্ডের খাইবার ঔষধ এক টাকা গলগণ্ডের মলম দশ আনা পেন-হিলার এক টাকা চারি আনা সর্দি কাশির ঔষধ (বড়) এক টাকা চারি আনা সর্দি কাশির ঔষধ (ছােট ) দশ আনা কর্ণপাকার ঔষধ ছয় আনা দাদের মলম ছয় আনা বায়ের মলম আট আনা ( 90 ) ঔষধের নাম। মূল্য। ঘা ধুইবার ঔষধ দুই আনা ধাতুপােষক বটিকা এক টাকা চারি আনা পুরাতন ম্যালেরিয়ার বড়ী দশ আনা অজীর্ণের ট্যাবলেট এক টাকা আট আনা কুইনাইন ট্যাবলেট চৌদ্দ আনা শিরঃ-পার ট্যাবলেট বার আনা প্লেগের বটিকা (ছােট কৌটা) বার আনা প্লেগের বটিকা (বড় কোটা) এক টাকা দুই আনা জোলাপের বটিক নয় আনা পিপারমেন্টের তৈল এক টাকা দুই আনা পিপারমেন্টের ফুল বার আনা পৃদিনার আরক বার আন ক্লোরােডিন আট আনা নমুনার বাক্স দুই টাকা চর্মরােগের ঔষধ বার আনা লাল সরবং এক টাকা স্ত্রীরােগের ঔষধ এক টাকা আট আনা আট আনা সুগন্ধযুক্ত রেড়ীর তৈল বার আনা চন্দনের তৈল চৌদ্দ আনা দন্তশূলের ঔষধ

( • )
ঔষধের নাম।
মূল্য।
যােয়নের তৈল
আট আনা
শুটের তৈল
বার আনা
মৌরির তৈল
ছয় আনা
দারুচিনির তৈল
বার আনা
লবঙ্গের তৈল
আট আনা
ছয় আনা
ল্যাবেণ্ডার তৈল
আসল এলাইচের তৈল
বার আনা
থার্মোমিটার, ইংরাজী তিন টাকা
হিন্দি, উর্দ তিন টাকা
পিচ কারী
চারি আনা
লেবুর তৈল
চৌদ্দ আনা
ডাক্তার এস, কে, বর্মণ
৫ নং তারাচাদ দত্তর স্ত্রট
পােষ্ট বক্স নং ৫৫৪, কলিকাতা।

০
গৃহস্থ জীবন।
ইলেক্ট্রো-আয়ুর্বেদিক
গার্হস্থ্য ঔষধাবলী
মাত্র ৭টি ঔষধ।
ইহাতেই সকল ব্যাধি আরােগ্য হইবে।
চিকিৎসাপ্রণালী অতীব সহজ, মূল্যও সুলত,
মাত্র ৩ টাকা। গৃহলক্ষ্মীদিগের হস্তে অন্নের
ভাবের সহিত পারিবারিক চিকিসার ভার
অর্পণ করিবার সুবর্ণ সুযােগ। পত্র লিখিলে
আমাদের চিকিৎসা প্রণালী পুস্তক বিনামূল্যে
পাঠান হয়।
দি ইলেকট্রো আয়ুর্বেদীয় ফাৰ্ম্মেসী
কলেজ স্ট্রীট মার্কেট, কলিকাতা।

বিনামূল্যে প্রায় সাহেব ডাঃ কে, সি, দাসের
কাম-বিজ্ঞান
কি প্রকারে নরনারী নীরােগ হইয়া পরম
সুথে সাংসারিক সুখ উপভােগ করিতে পারে
তাহা এই পুস্তকে বিশদরূপে বর্ণিত আছে।
বিনামূল্যে বিতরণ হইতেছে, সত্ত্বর পত্র লিখুন।
স্বাস্থ্য সহায় ঔষধালয়,
৩০।২ হারিসন রােড, কলিকাতা।
-
রেজীনাস।
অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি ও অবসাদ, স্মৃতিশক্তি
ও মেধাহানি, সুনিদ্রার অভাব কর্তব্য কাৰ্য্যে
অনিচ্ছা প্রভৃতি স্নায়ুমণ্ডলীর দৌৰ্ব্বল্যে
রেজীনাস অমৃততুল্য। ইহাতে কোন
অনিষ্টকর দ্ৰব্য নাই।
মূল্য প্রতি শিশি ১ টাকা, ডজন ১০ টাকা।
রাণাঘাট কেমিক্যাল ওয়ার্কস রাণাঘাট,
বেঙ্গল।

!y
মিসর কুমারী প্রণেতা
শ্ৰীযুক্ত বরদাপ্রসন্ন দাসগুপ্ত প্রণীত
নাদির শাহ,
মহাসমারােহে মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত
হইতেছে। মূল্য--১) • ।
মনোজমােহন বসু প্রণীত
রেশমী রুমাল
রঙ্গ-নাটিকা ! ( মিনার্ভা থিয়েটারে অনিীত)
মিঃ জে, এন, গুপ্ত, এম, এ, আই, সি, এস,
প্রণীত
মণীষা
নাটক। (মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
প্রযুক্ত রাধাকমল মুখোপাধ্যায় এম, এ,
পি, এইচ, ডি, পি, আর, এস, প্রণীত
নিহিত নারায়ণ
নূতন ধরণের সামাজিক রূপক নাটক।
এরূপ নাটক বাঙ্গালা ভাষায় প্রায় দেখা
যায় না। তিনখানি তিনরঙ্গ ছবি আছে।
সুন্দর বাঁধাই—মূল্য ১০ আনা।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Saitan

Author
Pal, Jatindranath
Title
Saitan
File name
Saitan
Text
OCR done
Citation
1921
Published
2009/08/20
Publisher
Shishirkumar Mitra, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
114
Library
Bally Sadharan Granthagar
Classification
Other Genres.
Keywords
Detective Story
DLI number
513203
Barcode
4990010020202.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
XWKnDpdP1Ao
Download PDF

Saitan