Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Nihar O Nirjhar Vol. 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
নীহার ও নিঝর
প্রথম খণ্ড
শ্ৰীরিঘুনাথ সুকুল
প্রণীত
মূল • আনা
No text on this page.
উৎসর্গ
নাটোরাধিপতি শ্ৰীমন্মহারাজ যােগীন্দ্রনাথ
রায় বাহাদুরের করকমলে এই কবিতাগুলি
অৰ্পণ করিলাম।
বিনীত
ভূমিকা
তারকা চিহ্নিত কবিতাগুলি প্রবাসী
প্রভৃতি মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল।
উহাদের অস্তিত্ব রক্ষা করাই গ্রন্থাকারে
উহাদিগকে মুদ্রিত করাইবার উদ্দেশ্য। মফঃস্বলের
প্রেসে ছাপা হওয়ায় মুদ্রণকাৰ্য পরিপাটি
হয় নাই। ভবিষ্যতে ভাল করিবার ইচ্ছা
আছে । বর্ষাবীর’ শীর্ষক কবিতাটি প্রবাসীতে
মেঘ ” নামে প্রকাশিত হয়। হতভাগ্য
আমার অতি অল্প বয়সের লেখা।
বাবু গিরিজাশঙ্কর চৌধুরী ও শ্ৰীমান্ বাসুদেব
সুকুল প্রুফ সংশােধনাদি কাৰ্যে আমার বিশেষ
সাহায্য করিয়াছেন।
শ্রীরঘুনাথ মুকুল
• সূচীপত্র পৃষ্ঠা ১ २ ৪ ৫ বিষয় বর্ষাঋষি বর্ষাবীর পুরােহিতের প্রতি ছাগ পেচক ও হল ব্যাধ ও কসাই হালির ধূমকেতুর প্রতি বারিনিধি দাড়কাক বিচারক ও ডােম ৭ ৯ ১১ শুক্রতারা ১৭ ১৮ নিদাঘ অনেকদিনের ফটো হতভাগ্য ২৩ ৩৭ হেমলক্ষী অর্শের মহৌষধ বিভূতি শুক্রতারা শিবের দান ৪৩ ৪৬ ৪৭ দিন শেষ
বাকীপড়া রায়
গােলাপ
সেই সােজা
বেকসুর খালাস
৬৪
আমি শরৎ
नौज
৭১
৭২
১
৮৫
সােলেনামা
কৃপণ ও কৃপণপত্নী
ধুতুরা
কালী
জীবাত্মা
দীপশিখা,
একটী কুনাে ব্যাঙ
মহারাজ যযাগীন্দ্র নাথ রায় বাহাদুরের
অভিষেক
বিয়ােগাষ্টক
ম সংশােধন--
৩১ পৃষ্ঠায় ১৪ পং মিদ স্থানে মদিরা হইবে।
१२
২য় প পং বক্ষ
মহারাল
মহারাজ
শান
বর্ষা ঋষি
এস বারিধর,
ঋষিবর, ওগাে
ধারা - উপবীত • ধারী ।
গভীর মন্দ্রে
গাও হে ছন্দ,
গগন - কাননচারী।
নিমেষে নিমেষে
কর উন্মেষ
বিজলী - যজ্ঞানল,
কোটী কোটী শত বিন্দু - মন্ত্রে
বাঁচাও পরাণীদল ।
তবে যারা শুধু
ইন্দ্রিয়হারা,
বৃথা সুখ - পানে রত,
সে সবারে ঘাের
বজাভিশাপে
মুহূর্তে কর হত।
२
নীহার ও নিঝ।
এস মুনিবর,
পরহিতপর,
কৃষ্ণ - অজিনধারী !
বিতরণ, শুভ
শুভ্র শান্তি - বারি।
অন্তিমে ধরি
অমল কান্তি,
আনতে হ লীন
ইন্দ্রধনুতে
তব মঙ্গল-বীণ।
নীরবে বাজু
বর্ষা বীর
১
লামি মহাবীর
গরজি গভীর
আসিতেছি রােষ ভরে,
খন বিদ্যুৎ
খর তরবারি
নীহার ও নিঝর করাে না কো ভয় ; আমি সদাশয় রক্ষা করিব সৃষ্টি, তরল বিশখে বিদ্ধ করিব ঘাের রিপু অনাবৃষ্টি । তটিনীনিচয় জননী আমার জনক আমার সিন্ধু, স্নিগ্ন করিব পরম করুণাবিন্দু । দগ্ধ বিশ্ব ফুটাইব ফুল বিবিধ মুকুল, শস্য করিব পুষ্ট । প্রহরণ ঘোর অশনিতে মের মরিবে যাহারা দুষ্ট । আমার বিজয়- -বৈজয়ন্তী উড়ায়ে ইন্দ্রধনু, আমার জনক- জননী-গর্ভে মিশে হব আমি অণু।
৪
নীহার ও নিঝর
চলে যাব আমি,
বিমল আসারে
বিকশিত করি বিশ্ব,
আবার আসিব
বরষেক পরে
ধরি সেই ঘাের দৃশ্য।
ক্ষ
পুরােহিতের প্রতি ছাগ
শিরে সিন্দুর,
গলে ফুলহার !
কেন এত সম্মান ?
স্বর্গ স্বর্গ বলি,
পুরােহিত,
কেন খও মাের কান ?
কেন এ আচার
ধৰ্ম্ম-বিচার,
উপচার-সম্ভার ?
তব মন্ত্রে কি
চেতনা জাগিবে
জড়-জগদম্বার ?
যদি জাগে, তবে
সৃষ্ট ' সে হবে,
তুমি সে সৃজনকারী :
তব ঈশ্বরী
হয় সে কি করি?
ঈশ্বর তুমি তারি !
নীহার ও নিবর
৫
জগৎ যুড়িয়া
নিঝর সম
ঝরে কারুণ্য যার ,
সেও কি কখন
রক্ত শুষিবে
ভাঙ্গিয়া আমার ঘাড় ?
আমি অজ! তুমি -
ধৰ্মধ্বজ
বুবিয়াছি তব ভাণ ;
চল একান্তে !---
দেব-মন্দির
নহে বধ্যস্থান ।
পেচক ও হংস
গর্বিত ভাষে
করি পরিহাস
পেচক কহিল হংসে,
ঐ তব উদ্ভব ,
কহ, কলরব !
কোন্ বিজ্ঞের বংশে ?
যারে তজ তুমি, তার পদ চুমি,
কেনহে নিঃস্ব বিশ্বে ?
মম ঈশ্বরী
নরবর করি
রাখেন আপন শিষ্যে।
নীহার ও নিবার
কহিল মরাল,
* দূর জঞ্জাল ,
কথা তুলে হ'লি জব্দ,
কি বুঝিবি জড় ,
লক্ষীর চর ।
বাণীর বীণার শব্দ?
তানুকরি তাহা
শিখিয়াছি যাহা
গাহি তা' ললিত ছন্দে,
আকাশে- অনিলে
মুক্ত সলিলে
বিহরি মন্দে মন্দে।
প্রাণে শত আশা, বেঁধেছিস বাসা
কমলার পদপ্রান্তে,
তথাপি আহার ইদুরাদি ছার,
তাও ঘটে দিবসান্তে। ”
নীহার ও নিঝর
# বাধ ও কসাই
আমি চিড়িমার ! করিয়া উজাড়
গুল্ম কানন বৃক্ষ,
করি ছারখার
পক্ষীর ঝড়
শাৰ্দল আদি ঋক্ষ ;
জানি না যে বেদ,
কিবা তা'য় খেদ ?
জানি না ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম,
জানি এই–আমি করিয়া যেতেছি
বিধি নিরূপিত কৰ্ম্ম !”
কহিল কসাই,
চিড়িমার ভাই ।
জবাই করি যে নিত্য,
সেই মাের রাম সেই সে রহিম
সেই সে প্রাতঃকৃত্য ;
তবে কি আমার হবে উদ্ধার
পাব কিরে সার সত্য ?”
চিড়িমার কয় কেন বল্ নয় ?
শােন বলি তবে তথ্য :-
নীহার ও নিঝর
জ্ঞানের নিধান
বিরচি
বিধান
যা 'রা সকলের সেরা,
যজেতে, পশু-
বলি দিয়া, যদি
স্বর্গেতে বাঁধে ডেরা
নাশিয়া প্রচুর
রণে সাজি’ শূর,
ভােগ করি ভরপুর,
নিষ্ঠুর নর
মরি, হয় যদি সুর ;
জীবিকার তরে
করি অকাতরে
নিজ নিরূপিত কৰ্ম্ম,
লবি না কেন
ব্ৰহ্ম পরম:--
নিষ্কাম শুভ " ধৰ্ম্ম ?”
নীহার ও নিঝর
হ্যালির ধূমকেতুর প্রতি
তাসীম শূন্য
ঘুরিতে ঘুরিতে
ধরি নিরূপিত রেখা,
বহুদিন পরে
পুরাণ পথিক !
আবার দিতেছে দেখা ।
২
t
ধর্ মার খেলেছিলে, যবে,
সেবার, ভবের দাবা,
জননী আমার নাহি জনমিল,
হামাগুড়ি দিত বাবা ।
কহ বিস্তর
হে নভশ্চর !
আরােহী পবন-রথে
দেখ প্রকা
ভুমি অনন্ত
পথে ?
নীহার ও নিঝর
৪
ভীষণ পুচ্ছ
উদ্ধে তুলিয়া
ক্রুদ্ধ কেশরী পারা
গ্রাসিতে ধরণী
আসিতেছ বুঝি
নীচমুখে, ধূমতারা !
তােমার মতন
আরাে কত জন
লম্বা লেঙ্গুর ধারী
আসি মাঝে মাঝে মানব • সমাজে
করে যায় নাম জারি।
তােমার পুচ্ছ
ঝরে সে বিষের ধারা,
তাই তাে তােমায় দেখে ভয় পায়
যম সম ধূমতারা !
দারুণ সৃষ্টি ! তােমার দৃষ্টি,
ঘাের হুতাশনরূপে
দেখিতে দেখিতে
করিল ভস্ম
বিশ্ব-বিদিত ভূপে ।
নীহার ও নিঝর
১১
৮
সুখের আশায় সবে যারে চায়,
গুণী-ধনী-মানী যারা
তারি দিকে তব
বিশেষ লক্ষ্য,
ওরে ও, লক্ষীছাড়া।
ধূমকেতু ভাই,
বলি তােমা, তাই,
দিয়ে লাঙ্গুল ঝাঁটা,
নিতে যদি চাও,
ঝেড়ে নিয়ে যাও
দুনিয়ার যত কাটা।
বারিনিধি
আমি বা রিনিধি,
অবধিবিহীন,
চির নব, চির বৃদ্ধ,
বিধাতার বরে
অজর অমর,
মাণিক রতনে ঋদ্ধ।
১২
নীহার ও নিকর
অনন্তগামী,
চলিয়াছি আমি
আশার অসীম পথে,
ঘুরিছে লক্ষ
লহরীচক্র
আমার বাসনা -রথে।
কবে হব পার
দেখা পাব তাঁর
জানি নাকে। কিছু মাত্র,
তাই তঁারি পানে দিয়াছি ঢালিয়া
আমার তরল গাত্র।
তরল গাত্র,
অসরল মাের
চপল চিন্তা-ঢেউ।
তাই ডেকে মরি গুরু গম্ভীরে
শুনে না কি কিছু, কেউ!
নীহার ও নিঝর
দাঁড়কাক
মধ্যাহ্নে অনলবৃষ্টি করে রুষ্ট জ্যৈষ্ঠের ভাস্কর ;
সন্তাপিতা ধরিত্রীর কষ্টশ্বাস বহে তপ্ত বায়ু।
এ কুক্ষণে, নাড়ি ডানা, যেন কোন জ্যোতিষী তৎপর,
রুক্ষ রবে, দাড়কাক, গণিছ কি মানবের আয়ু ?
উচ্চ কর পুচ্ছখানি শীর্ষখানি কর তুমি নত,
প্রতি ডাকে উঠ পড়, পুনঃ পুনঃ টেকিটির মত ।
;
শিখীর পেকমলীলা, চিত্তহারী প্রমত্ত নৰ্ত্তন ;
মরালের কলস্বন , মনােহর মদালস গতি ;
খঞ্জনের মঞ্জুবাণী, সুচপল শরীর কম্পন ;
তুমি কি জানিবে, বৃদ্ধ, স্থূলবুদ্ধি উদাসীন অতি ?
জাননা বিভ্রমপূর্ণ কোকিলের ভদ্রোচিত ভাষা ;
স্পষ্ট কথা কহ শুধু, যেন নিরক্ষর বিজ্ঞ চাষ।
১৪
নীহার ও নিঝর
বসি কোন গৃহশিরে, নিদারুণ ব্যোমভেদী রবে,
আকেন্দ্র কম্পিত করি গৃহস্থের সন্দিগ্ধ হৃদয়,
বিস্ফারিত করি চক্ষু, সঘনে ডাকিয়া উঠ যবে,
সে তােমারে কহে কত “ দুষ্টভাষী, ক্রর, দুরাশয় !”
বুঝিতে পারে না মূখ, এ যে তার চিত্তগত ভ্রম;
তুমি যদি থেমে থাকো, থামিবে কি সৰ্বভু যম ?
ডাকো তবে ডাকো, কাক ! তব রবে মম হর্ষোদয়,
তব রবে সমাচ্ছন্ন চিত্তাকাশ ধরে ঘোর ছায়া ;
সহসা হতাশ-হৃদে জেগে উঠে শব্দ শূন্যময়,
ভুলে যাই অকস্মাৎ সংসারের ক্ষণস্থির মায়া ।
তব শব্দ শুনি আমি বুকে মাখি প্রীতি আর ভীতি;
শ্মশানে সন্ন্যাসিমুখে যেন, সুগম্ভীর নৈশ গীতি।
নীহার ও নিঝর ১৫ বিচারক ও ডােম হুজুর! আমারে দিতে হবে আজি পেটভরা বক্সিস ; মেরেছি কুকুর- বিশ ন'খাে , এর রােমে বােমে ছিল বিষ।” ২ দেখিলা চাহিয়া বিচারক, দিয়া লেখনীরে অবকাশ, পায়ে বেঁধে দড়ি আনিয়াছে ডােম মানুষের এক লাশ। বুঝি কারণ, বিঃ • বারণ নীরবে যাবৎ রহে, স্মরিয়া চরম মরমের কথা মুর্দাফরাস কহে ;
১৬
নীহার ও নিঝর
৪
কর সুবিচার,
ধর্মাবতার !
সুস্থির করি চিত্ত,
সহোদরে মারি নিতে এ চাহিল
পৈতৃক যত বিত্ত ;
৫
মােরে দিল ভার
চুপে মারিবার—
দেখায়ে সােনার বাটী ;
আমি খাটি ডােম,
উন্টে উহারি
মাথায় মারিনু লাঠী ।
করিও না রাগ,
ওহে মহাভাগ !
করিও না বেশী জেরা ;
মানুষ কখন মারি নাই, এটা-
ক্ষ্যাপা কুকুরের সেরা ।
--
৭
করিবার যাহা
করিয়াছি; আর,
পেতে আছি এই ঘাড় ;
হয়, ফেলে দাও বসিস, নয়
কর যাহা করিবার ।
১)
==
নীহার ও নিবর
১৭
শুক্রতারা
১
নিরাশ আকাশের সরস আশা টুকু
ঊষা ও সন্ধ্যায় চির নব ;
নিমেষ দেও দেখা,--তবু অনুক্ষণ
স্মরি ও চির-চারু রেখা তব।
২
তুমি কি বিপুলের—বিমল ঘনীভূত
স্নিগ্ধ উজ্জ্বল ছবি খানি ?
তুমি কি মহানের-কণিকা সম্ভুত
রবির অনুগত মহারাণী ?
অথবা, তুমি, তারা, শান্ত নীল নভ
সান্ধ্য-বনে নিশিগন্ধা বট ।
অথবা, সুবিমল
কোমল কুন্দ গাে,
বিভাত-বনে বিভু-সুযশ রট !!
১৮
নীহার ও নিঝর
।
• নিদাষ ।
;
হে সন্তপ্ত, হে বিরহী, হে হতাশ-কক্কশ করাল।
দিগন্ত উজলি, তব বিকীর্ণ কিরণ-জট-জাল
উড়িছে অসীম শূন্যে ; নিশ্বাসের ঘন বিক্ষেপনে
ফুটি বিস্ফুলিঙ্গ শত, মৰ্ম্মাহত জল-স্থল-বনে
তুলেছে জ্বালার ঢেউ—বিপ্লাবিত করিয়া সংসারে ;
ব্ৰহ্মাণ্ড বিদীর্ণ, আজি, হে প্রচণ্ড, তব হাহাকারে ।
ভীষণ জ্বক্ষেপে তব, বিলীন বসন্ত ক্ষীণ-প্রাণ ;
উদ্দাম কামনা—দগ্ধ ; ক্লান্ত জীব মুহুঃ ধাবমান
লভিতে শান্তির ছায়া ; তাই, সিক্ত হ’ল কি অন্তর ?
তাই কি, করুণ চিত্তে, বিছায়ে বিচিত্র বাঘাম্বর,
সন্ধ্যা-ভূতি মাখি গায়ে, ললাটে ললাম চন্দ্রে ধরি,
বসিলে ঈষৎ শান্ত, উন্নত গগন-নগােপরি ?
নমস্কার কৰি তােমা, ওগগা রুদ্ররূপী ঋতুবর,
আমি ভালবাসি তব রুষ্ট-সৌম্য মুরতি সুন্দর।
;
নীহার ও নিঝ।
১৯
অনেকদিনের ফটো
হে মাের ফটো ।
বহুদিন পরে পেয়ে গো তােমায়
দুটি কথা প্রাণে বলিবারে চায়
খুসী হও ভাল ; কিবা আসে যায়
যদিই চটো ?-
আমার ফটো ।
২
বাহােবা ফটো ।
কি মধুর সিথি চিরুণীতে চেরা,
নাতি-স্থূল সরু গোঁপ দুটি সেরা
কে বলিবে দেখি, আমার চেহারা
তুমি যে বটো !
নহে কি ফটো ?
নীহার ও নির
তাড়াতাড়ি তাই আয়নাতে আজ
দেখিলাম, এবে, করেন বিরাজ
সিথির আসনে টিকি মহারাজ
দম্ভে কতাে,
ছােট ঘােট করি চুলগুলি কাটা
যেন মুড়াে ঝাটা ; গোপগুলি ছাঁটা-
কোন গৃহিনীর—গহনা ঝাড়ার
কুঁচির মতাে,
ছিছি, হে ফটো ।
৪
সমুখে তোমার পাথুরে টেবিল ;
তদুপরি বুঝি বিলাতী ডেভিল
বােতলেতে ভরা ? ওটা বুঝি বি-
কাগজ খানি ?
দু'খানা কেতাব দিতেছে বাহার ;
একখানা বুঝি বায়রণ তা’র ?
বেঁঠে বােতলেতে হবে বুঝি আর
শোডার পানি ।
তােমারে জানি ।
নীহার ও নিঝর
২১
কেশ বেশ ভূষা নিরখি যতই,
সুখ কথা মনে পড়ে হে ততই,
ওই ও পােষাকে ঢেলেছ কতই
গােলাপী অটো,
কটা কেশ, এবে তেল বিনা ছার,
গিয়াছে চেয়ার-কম্বল সার,
এখনি কি হলাে ?-কিছু দিনে আর
পাবােনা চটো ! ( চটও)
হায়রে ফটো !
তােমার ভিতরে দিয়ে এই প্রাণ
বাসনা যে, আমি, ত্যজি দেহখান
তবু পেতে পারি কিছু, সম্মান
নবীনদের ;
তবু হ'তে পারি আবার যে তাজা
খেয়ে মাছ মুড়ি মাংসাদি ভাজা ;
ফটোহে ! তুমি, এ দাঁতের কি সাজা
পাওনা টের।
২২
নীহার ও নিঝর
সুঠাম সুগােল হেরিয়া তােমায়,
পুড়ে উঠে মন ঘাের হিংসায় ;
কি ছিলাম আগে, কি হ'লেম হায়
ভাবি তা কতাে !
তুমিই ত করি অনাচার নানা
হাড়ে শেষ করিয়াছ দেহখানা
চিপ, গেছে বসে, ঠিক গাড়ী টানা
গরুর মতাে,
ঘৃণা, হে ফটো ।
বেশী কেন আর ? বুঝেছি এবার,
ছবিতেও আছে যতটুকু সার,
জীবের জীবনে নাই কণা তার
এ মাের মটো ;
হ্রস্ব কি, ক্ষীণ, দীর্ঘ কি, পীন.
সবাই একটি টানের অধীন,
আছি এই নাই;-তবু, কিছুদিন
তুমি হে ফটো ।
নীহার ও নিঝর
২৩
হতভাগ্য।
এলএ
উদাস প্রাণের
ভাবনার মত
তরল গভীর গােধুলি ছায়া ;
তাহার ভিতরে
ডুবু ডুবু করে
সুদূরে রুচির কুটীর কায়া।
চারিদিকে বিল আবিল সলিল
দুধারে বিপুল বাঁশের ঝাড়,
বাতাসে বাতাসে বাজে বাঁশে বাঁশে
পিশাচিনী যেন চিবায় হাড়।
পাখীরা নীরব ঝিঝি করে রব
তেঁতুলের গাছ মুখর নােলে,
উৰ্দ্ধ চরণে
বাজিকর সম বাদুড় দোলে।
রুচির কুটীর
নিবাস দুটীর
একজন তার নাহিক পাশে,
আঁধারে আলী দীপ-শিখা জ্বালি
রয়েছে রমণী তাহার আশে।
২৪ নীহার ও নিঝর চিন্তায় নূয়ে ক্রমশঃ তিমির হ’তেছে নিবিড় আসে তাহার দুখের দুখী, সজল নয়নে কত ভাবে মনে সেই মুকুলিত-কমলমুখী। পড়ে কভু শুয়ে ভূমিতে মলিন আঁচিল পাতি, দুয়ারে দাড়ায়, থ-পানে চায়, ক্রমশঃ বাড়িতে লাগিল রাতি। ভুবন মাঝার সে দোহে দোহার আপন বলিতে নাহিক আন, হৃদয়-নিলয় করি বিনিময় দেহে আছে যেন দোহার প্রাণ। কি যে করি হায়, থাকিল কোথায় পারি বুঝিতে বিধির খেলা, ভয় পাৰ বলি শত কাজ ভুলি সে ত আসে চলি থাকিতে বেলা। ঘরে দ্বার দিয়া থাকিল বসিয়া দেহ ছাড়ি দূরে রহিল প্রাণ, কভু চমকিয়া, অধর খুলিয়া, কি যেন শুনে সে পাতিয়া কান।
নীহার ও নির ২৫ - আর ত পারি না ” কহি, প্রেমাধিনা উঠিল, সাহসে করিয়া ভর, খুলে কত বার দিল পুনঃ স্বার, খুলিল আবার স্মরিয়া হয় । চলিল তিমিরে দ্রুত কভু ধীরে সমীরে শুনিল কুরব কত, কত ছায়া-ছবি নয়নে নাচিল- বিবশ মনের বাসনা মত। কত দূরে গিয়া কঁদিল বসিয়া চলিল মুছিয়া নয়ন বারি, যেতে নারে আর ( বিকট আঁধার।) গৃহ-পানে পুনঃ ফিরিল নারী। কুটিরে পশিল বিষাদে বসিল মনের বাসনা মনেতে রাখি,-- নীর আশে গিয়া, তুফানে ডরিয়া, নীড়েতে ফিরিল তৃষিতা পাখী। ভাবে মনে মনে আমিত স্বপনে তার কাছে কিছু করি নি দোষ। অভাবের ঘরে (সুতাবের তরে ) • দিলে না’ বলিয়া করি নি রােষ।
২৬
নীহার ও নিঝর
t
* যদি ভালবেসে
দিত কিছু, এসে
নিতাম তা হেসে স্নেহের ভরে;
তার সুখে সুখী তার দুখে দুখী
আমি ত হয়েছি জনম তরে।
নয়নের মণি
“ কত সুখ আশা কত ভালবাসা
কত হেম ধন ঠেলিয়া পায়,
শত সুখ-খনি,
আমি ত আপনি , করেছি তায়।
“কোথা গেল তবে ?” বলিয়া নীরবে
বিষাদিনী পুনঃ ভাবিতে নিল,
হেন কালে পতি ( জড়িত ভারতী)
“খােল” বলি, দ্বারে আঘাত দিল।
“কোথা ছিলে আজ, ছিল কিবা কাজ,
ও--কি! কথা হেন হয়েছে ভার ?”
কহিয়া রমণী উঠিয়া অমনি
তাড়াতাড়ি দিল খুলিয়া দ্বার।
টলিতে টলিতে পড়িতে পড়িতে
পশিল যুবক অতুর যেন,
সে ভাব নেহারি চমকিয়া নারী
কহিল অমন করিছ কেন?”
নীহার ও নিঝর
২৭
দূরে এল সরি
সে ভাব নিরখি,
হিম-বিধুমুখী
আকুল পরাণে চুমিতে গিয়া
একি একি, ” বলি,
মুছিল অধর আঁচল দিয়া ।
থাকিল বিমুখে ;
কথা নাই মুখে,
নয়নে ঝরিল ঘৃণার বারি,
হৃদয়ে যাতনা
যমের তাড়ন৷
শরমে ডুবিয়া থাকিল নারী।
জগতে ততুল
রাখি যে ফুল
প্রেম-সুরধুনী পূজন তরে
তা, যেন, তাহার, হয়ে গেছে ছার
যবন-পরশে নিমেষ ভরে।
* ছি ছি, সুরাপান! গেল কুলমান
এখনো কপালে রয়েছে ঢের,
শুধু সুরাপান
কি আছে প্রমাণ?
আরো আছে কিছু ভিতরে এর।”
নারিল থাকিতে
নারিল ঢাকিতে,
রােযে অভিমানে পতিরে বলে,-
কেন এ বুমতি ? কার এ যুকতি,
কোন কিরাতিনী বঁধিল ছলে ?”
২৮
নীহার ও নিঝর
দারুণ বচন
করিয়া শ্রবণ
করুণ বচনে যুবক কয় ---
বৃথা কেন হৃদি
ফেলিতেছ বিঁধি ?
কিরাত বঁধিল, কিরাতী নয়-
নাম তার ঋণ', অতি দয়া হীন
বাঁধি নিশি দিন ব্যথিছে প্রাণে,
কভু করি রােষ
দিয়া বৃথা দোয
মরম বিদারে দারুণ বাণে।
* যদিও দুখিনী চির-অভাগিনী
হয়েছ সরলে আমার ঘরে,
দুখ-আশীবিষ
ধরে না সে বিষ
যে বিষ এ ঘাের কিরাত শরে ।
ভাবি অনিবার কিসে পাব পার
কেমনে ঘুচাব বেদনা যত,
প্রাণে যত জ্বালা শুন, চারুবালা,
তােমারে খুলিয়া বলি না অত।
আজি প্ৰাণ মন
কাদিল যেমন
কখন তেমন কাঁদে নি প্রিয়ে
ডুবি চিন্তা-নীরে
ভ্রমি ধীরে ধীরে।
উপজি এক বিজনে গিয়ে।
নীহায় ও নিকর
“তাপিত এ হিয়া থাকি বলিয়া
আশ্রয় করি তরুর মূল,
এল সেথ। নর
অতি সুন্দর,
উচ্চ
কুলের নাহিক
ভুল।
বু কাল বশে সব গেছে ভেসে
বেশ ভূষা হেরি বুঝিমু তার,
দেখি মনে হয়,
তাহারাে হৃদয়
আমারি মতন পুড়িয়া ছার ।
কথা নাই মুখে, যেন কত দুখে
অতীত কাহিনী স্মরণ করে,
কত ঘৃণা দ্বেষ
হয় সমাবেশ
বিরাগ ব্যাপৃত বদন পরে ।
থাকি সে ক্ষণেক
ভাবিয়া অনেক
যেন ধৈর্য ধরিতে নারি,
সুরার বােতল
করিল বাহির, নিশাস ছাড়ি।
কক্ষ হইতে
‘ভুলিয়া শরম, ভুলিয়া ধরম
ভুলি কুলশীল, ভুলিয়া মান
অতি অভিমত
অমৃতের মত
সে ঘাের গরল করা গান।
নীহার ও নির
“ না যেতে নিমেষ
মুষমা অশেষ
নয়নে বদনে আসিল তার,
শােক তাপ যত
একেবারে গত
যাতনার লেশ না ব'ল আর।
অতি কুতূহলে
উপদেশ ছলে
করিনু প্রশ্ন যুবার প্রতি,
কহ দেখি ভাই, তােমারে শুধাই
এ বিষ খাইলে নাহি কি ক্ষতি ?
৫
শতবার আছে, লক্ষবার আছে
কহিল মানব জড়িত স্বরে,
আছে আগে পাছে আছে দুরে কাছে
এ সুরা মানবে পিশাচ করে।
৫
আমি বিস্ময়ে এত জ্ঞানী হয়ে
কেন তবে পান কর এ পাপ ??
হেসে কহে নর
এই প্রাণহর
ভুলায় যাতনা ঘুচায় তাপ।”
চিন্তিত ছিনু আমিও ভাবি
ভুলায় যাতনা ঘুচায় তাপ ।
আবাব আবার
আবার ভাবি
ভুলায় যাতনা ঋণের তাপ !
নীহার ও নিঝর
•
* প্রসারিসু কর,
অমনি সে নর
বুঝি অন্তর, ঢালিয়া দিল ;
মােহিনী সে ধারা করি জ্ঞানহারা
প্রাণের দুয়ার খুলিয়া দিল।
* সে গরল ধারা হয়ে সুধাপারা
সন্তাপ মম হরিয়া নিল,
ভাবিলাম সার
বন্ধু আমার
সত্য বচন বলিয়াছিল।
* একি! প্রেমময়ি
চেয়ে দেখ ওই
যেতেছে যামিনী, হ’তেছে দিন,
ছাড়ে উৎসাহ,
বাড়ে হৃদি দাহ
বাঁধিতে আসিছে কিরাত- “ঋণ”।
* এখনি যাইব
এখনি আসিব
এখনি করিব মিদরা পান,
যাতনা ভুলিব তােমারে চুমি
হাসি’ উল্লাসে ধরিব গান।
কর যদি মানা, তােমারে ভুলিব
ভুলিব পিয়াস ভুলিব ক্ষুধা,
সারা সংসার
ভুলিব না সেই মধুর সুধা
৫
ভুলিয়া যাইব
৩২
নীহার ও নির
৫
কহ তবে প্রিয়ে। আমি আসি গিয়ে ?”
নীরব নিচল রহিল সতী;
আঁখি নাহি নড়ে, পাতা নাহি পড়ে,
রুদ্ধ বুঝি বা নিশাস গতি।
কথা কও প্রিয়ে।” বুকে হাত দিয়ে
আবার তাহারে শুধায় পতি,
বাম্প আনত
নলিনীর মত
অবশ অঙ্গে পড়িল সতী।
ভূতে ধরা নর
হেরি অবসর
( কি বিকার, দেখ, মতির ফের )
খুলে নিল হার ( সম্বল তা’র)
মুচ্ছিতা বামা না পায় টের।
সাধিতে মনন
করিল গমন
কতখণ পরে জাগিল নারী,
বুঝিল সকল
হইল বিফল,
ঝরিতে লাগিল নয়ন বারি।
আশাপথে চেয়ে দিন গেল বেয়ে,
দীর্ঘ’-যামিনী আইল ভীমা,
বিপদের আলি দীপশিখা, জ্বালি,
থাকিল । আশার নাহি যে সীমা।
নীহার ও নিকর দণ্ড নিমেষ গণি করে শেষ ; ক্রমে অবসাদ, পড়িল ঢলি,- নিরবিল কনে তপ্ত পবনে যেন শিরীষের নীরস কলি। যামিনীর শেষে, নেশার আবেশে, দুয়ারে দাড়ায়ে ডাকিল পতি; শিথিল শরীর অতি অস্থির শুনিয়া, উঠিতে নারিল সতী। শুনি ক্ষীণ স্বর দ্বার খুলি নর দেখিল, কুটীর অাধার প্রায়, স্নেহের ভিখারী,- দীপশিখা নারী স্নেহ বিনা দোহে নিবিতে চায়। নিকটে বসিল কতই ডাকিল কতই চুমিল প্রেয়সি ' বলি, চাহিয়া থাকিল- যেতেছি চলি।” অভাগিনী শুধু যেন বুঝাইল,
৩৪
নীহার ও নিঝর
ধীরে ধীরে অাখি
মুদিয়া আসিল
হতভাগা ডাকে : প্রেয়সী' বলে ;
আর চাহিনা ;
বুকের বেদনা
জানাল দু'ফোটা অশ্রুজলে।
শয্যায় যদি
(কপালের লেখা)
যুবক তাহারে তুলিতে নিল,
ফুরাইল সব! ক্ষীণ দীপ-শিখা
উসকিতে, যেন, নিবিয়া গেল।
নিশা হ’ল শেষ নেশার আবেশ
ধীরে ধীরে যবে ছুটিল তার,
তখন বুঝিল, কাঁদিয়া উঠিল—
আমার প্রেয়সী নাহিক আর।”
আপনি কাঁদিয়া আপনি থামিয়া
যা’ করিতে হয়,
করিয়া শেষ,
মজি সুরা-পানে যেখানে সেখানে
ফিরিতে লাগিল পাগল বেশ।
নীহার ও নিঝর
কখন আসিয়া
কুটীরে বসিয়া
উদাস পরাণে পাশরি সব,
ভাের সন্ধ্যায়
স্মরিয়া প্রিয়ায়
শুনিত উদাস ঘুঘুর রব ।
কি যে হ'ল তার
জানিনা আর,
শুনি এই—সেই বুটীর-বাসে,
শােণিত উগরি,
পড়েছিল, মরি ;-
সুরার বােতল আছিল পাশে।
* হেমন্ত ল
কুক্সটিকার
পাতলা চাদরে
ঢেকে চঁাদ মুখখানি,
বরিতেছি তােমা
বিশ্বের রাজা
আমি হেমন্তরাণী।
নীহার ও নিঝর
হাসিতেছি, ধরি
গাম শস্যের ভাল,
ঝিন্টি আমার
নীহার- মােতির মালা।
নােলক, কণ্ঠে
ক্ষীণ করিয়াছি তারা-দীপ গুলি
নীরব বাসর ঘরে,
গােপনে তােমার
দরশন, আর
প্রেম চুম্বন তরে।
গ্রীষ্ম তােমারে তাপিত করিল
প্লাবিত করিল বর্ষা
দারুণ গর্জে
পরিতির কোথা ভর্সা ?
শীতে হবে তুমি
শিথিল রাজন।
মধু নিমেষেক ব’বে ;
আমার কোমল
শিশির • অশ্রু
অক্লেশে ধর তবে।
নীহার ও নিঝর
৩৭
অর্শের মহৌষধ
৩
শ্রান্ত পথিক
চাহে চারিদিক ,
কোন দিকে নাই কেউ,
প্রান্তর পারে
ঘন ঘন ডাকে ফেউ ।
মিশিয়া আঁধারে
জীর্ণ আগার
চোখে পড়ে তার
খড় খুটি পড়ে খসি,
ধীরে কথা কয়
বাহির দুয়ারে বসি।
জন্ পচ্ছয়
•
ভয়ে কাছে গিয়া
কহিল ডাকিয়া
৫ দিতে হবে আজি ঠাই
কোনরূপে রাত,
আর কিছু নাহি চাই”
করিব প্রভাত,
নীহার ও নিঝর
•
তুমি এত রেতে এলে মাথা খেতে
কেহে বাপু!” কহে তারা
“পুড়ে হ’মু ছার, কেন চাল আর
আগুনে তেলের ধারা ?
শুন না কি ঐ
ব্যথার কুঁকানি
খেয়েছ কি দু’টি কান্ ;
দেখ না কি এই
ছােট ঘরখানি ?
হবে না হেথা স্থান।”
।
“ কি এত কষ্ট
কহ না পষ্ট ?”
চতুর পথিক কয়,
“ হ'লে হতে পারে
কিছু উপকার
বুঝে দেখ মহাশয়।
শুন বলি তবে, ছাড়িবে না যবে ;
আমাদের পিতামহ
পূৰ্বের পাপে
দুর্ব্যাধি-তাপে
দহিছেন অহরহঃ।
নীহার ও নিঝর
ডাক্তার ছাড়ে,
কবিরাজ হারে,
গত হ’ল কত বর্ষ,
হত হানিমানী ; যত ঝাড়াপানি
সারা, সারিলনা অর্শ।
হুকার ছেড়ে
ঘাড়-মাথা নেড়ে
উপহাসি কহে পান্থ,-
যুটিল না হায়
বুটির ওষুদ
টেট কায় যাহা শান্ত।
দূরের যাত্রী ।
হয়েছে রাত্রি,
অবশ আমার গাত্র,
নহিলে, নিমেষে দেখাতাম যােগ
জিনিষ তিনটি মাত্র !”
অতি আগ্রহে
শুনি, সবে কহে,
* পরিহর প্রভু রােষ,
থাকো সদাশয়, নাহি, কোন ভয়
ভুলিয়া সকল দোষ ;-
নীহার ও নিঝর
কি হবে আহার ? আমরা চামার!
অতিথি কহিল, “ মুচী ?
শাস্ত্রানুসারে
চলিবারে পারে
ধৃত - পকিত
চীৎকার করে
রােগী যাতনায়,
কারাে না পােহায় রাত্রি ;
আধ - নিদ্রায়
স্বপ্নের ঘােরে
ঔষধ ভাবে যাত্রী ।
প্রত্যুষে জেগে
আনে সবে বেগে
পথিকের কথা মত ;
গার জল
তুলসীর দল
ফোটা কত, গােটা কত ;
আনে পুন দড়
ছােট না বড়
তিটি বিহু ফল ;
তবে গুণনিধি
ব্যবহার বিধি
কহিলেন অবিকল।
নীহার ও নিকর
৪১
রাখাে সারি সারি ছিটাইয়া বারি
তুলসী ও বেলগুলি।”
করে তারা তাই ; কহিল গােসাই
নােগীটিরে আন তুলি।
;
চীৎকারে তার টেকা হবে তার
হবে বড় পরাভােগ ; *
কবিরাজ বলে
কষ্ট না হলে
সারে কি কঠিন রােগ ?”
উপায় কি আর । সহি হাহাকার
আনে তারা খেয়ে তাড়া ;
বৈদ্য বলেন
চৌদ্দ পােয়াৰ
ধরণেতে কর খাড়া।
দু’দিকে দু'জন
টানে দু'চরণ,
হায় কি বিধির পা।
যন্ত্রণা বাড়ে
পিতামহ ছাড়ে
জরাসন্ধের ।
82
নীহার ও নিঝর
কবিরাজ কয়
« ওটা কিছু নয়
ওদিকে না কর গ্রাহ,
উপদেশ মত
হয়ে সংযত
তাড়াতাড়ি কর কাৰ্য্য ।
একটি শ্রীফ
কর, যত ব,
রােগীরে ডিঙিয়ে পা,
অন্যটি ধরি,
বলিয়া শ্রীহরি
তলে দিয়ে ছােড় তা’র ;
অবশিষ্ট টা
আস্ত কি খােটা
আস্তে সে গিলে খাবে
অমনি শান্তি ;
কষ্ট আর না পাবে।”
অষ্ট প্রহর
রেগে সবে কয়,
“ সে কি মহাশয় !
এ কি তব কারিগরী ?
ভাল আঁকে ! অত বড় বেল
গিলিলে যাবে যে মরি।”
নীহার ও নিঝর
৪
মরিবে অঙ্গ
•
কহিলা বৈদ্য—
সদ্য সে একেবারে
মৰিলে ছাই প্রাণের বালাই
অর্শ কি কভু সরে ? -
বিভূতি
তােমারি সৌম্য-রুদ্র আনন
চন্দ্র-তপনে করি গাে নমস্কার ;
নমি বারে বারে আকাশ-সাগরে
তােমারি হৃদয় ভাবময় সমুদার।
হেরি কত সুখে ওগাে লীলাময়,
তরঙ্গিনীর লীলাময়ী শতধারা -
তােমারি তরল সরল কুটিল
জটিল প্রেমের বিরহ-মিলন পারা।
83
নীহার ও নির
গাঢ় গম্ভীর হৃদয়বিদারী,
অথচ সুখদ, তােমারি রবের মত
বিজুলি-ভাসিত মেঘের আরাবে,
হই আমি প্রভু, হর্ষ-বিষাদে নত
ফুল্ল পদ্ম-ততামারি চরণ,
তব মৃদু হাসি-করবীর কোবিদার ।
চামেলীর বাস তব নিঃশ্বাস,
সে সবারে বিভু করিগাে নমস্কার
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বর্ণে রচিত।
মন্ত্ৰপুঞ্জ, মন্ত্রমালার মত
মন্দির ঝাঁক, পিপিড়ার শ্রেণী
দেখিয়া, ভাবিয়া, জপি তব নাম শত
মরাল-সারস-কণ্ঠে শুনিয়া
তব শৈশব-অফুট মধুর বাণী,
কত শিশু ডেকে করি গাে প্রণাম
তােমারি অমল ধবল জীবন জানি।
নীহার ও নিঝর
৪৫
প্ল-বটের শীতল ছায়ায়
পড়িয়া কখন ক্লান্ত অবশ প্রাণে,
সে দুটি বৃক্ষে করিগাে প্রণাম
তব আশ্রয়ে আছি
এই অনুমানে।
তব একত্ব জীবে বিভক্ত—
লক্ষ লক্ষ তারকার মত জ্বলে ;
কোন্টী কখন খসিয়া পড়িবে,
তাই ভেবে আমি স্মরি তােমা পলে পলে
গৃধ-বায়স-শিবার শব্দ
তােমারি অশিব প্রলয়ঙ্করী ধ্বনি ;
শামার সুতান তােমারি কণ্ঠ
তুমি ফণী, আর, তুমিই ফণীর মণি।
কত আর নাথ গণিয়া বলিব
তােমার বিভুতি ? সঙ্খ্যা কি আছে তার?
এখানে যত যা দেখি অনেক,
নবীন দৃশ্যে কর এবে মােরে পার ।
৪৬
নীহার ও নিঝর
* শুক্রতারা
“আমারে হেরি তুমি যেতেছ চলি, ” বলি,
বিষাদে ঊষা হিম-অঝরে,
“প্রাণের পতি! কর ক্ষণেক দেরি ! ” কহি,
সন্ধ্যা-সতী মােরে আরতি করে।
ইহারে ভালবাসি, উহারে প্রত্যাশী,
দাড়াব কোনদিকে কুল না পাই,
মগন চিন্তায় নিশিথে হই হারা,
দিবসে গগনেতে মিশিয়া যাই ।
বিরাগে পরিহরি কলহে ভরা ধরা,
অজানা পথে কভু ঘুরি গাে হায় !
প্রকৃতি-বশে পুনঃ ফিরিয়া পশি ভবে ;
স্বভাব সহজে কি ছাড়িতে চায় ?
ঊষার পাশে এসে আকুল হই হেসে,
দু’দিন চারুবেশে গরিমা রটি
দু’দিন তরে গিয়ে চুমি সে সন্ধ্যারে,
আমি যে চঞ্চল পাগল বটি ।
•
নীহার ও নিঝর
৪৭
আমার রূপরাশি জ্বলিয়া উঠে ভাসি
বিশ্বমােনাশী যে রবি তেজে,
মজিয়া মায়া-মােহে— আমি কি হতভাগা
লুকায়ে থাকি ভয়ে তাকালে সে যে !
শিবের দান
(১)
ভাঙা মন্দির,
জঙ্গলে ভরা গ্রাম,
চারিদিকে ঘেরা ম্যালেরিয়া, যা’র,
পুরাতন দীঘি,
ওরফে মশক নাম ।
বাস্তু কি বাড়ী
জমি-জমিদারী
গেছে ছাড়ি জনে জনে;
নিঃস্বের গতি
বিশ্বের পতি,
বিশ্বাস নাই মনে।
• পাৰ্বতি কহে, “ভ্রান্ত !
Slow
নীহার ও নিঝর
দ্বিজ দীন-হীন প্রাচীন - প্রবীন,
আর, তার সতী জায়া,
ছাড়িতে পারেনি
ভাঙা মন্দির
ভগ্ন শিবের মায়া।
নিত্য ভিক্ষা ন’লে অনাহার,
দুনিয়া ঘুরিতে বাধ্য,
প্রাণ যদি যায় যায়না তাদের
শিব-পূজা যথাসাধ্য।
দিনে দিন গত আর সয় কত !
করাঘাত করে বঙ্গে,
পলক পড়িল
শিবের নেত্রে,
অশ্রু শিবার চক্ষে ।
“কে ডাকে আমায় ?” ধুর্জটি কহে,
কোন্ প্রাণ ধরি ভক্তে পাশরি,
প্রাণনাথ আছ শান্ত ?
নীহার ও নিঝর
৪৯
মনে পড়ে নাকি ভাঙা মন্দির,
আর, তব ভাঙা মূৰ্ত্তি ?
ব্রাহ্মণ যেথা
রেখেছে বজায়
তব সম্মান কীর্তি ?
.
দ্বিজ-দম্পতি
বিনা, পশুপতি,
কে দিত তােমারে জল ?
আজীবন তারা ভজে, ভােলানাথ,
ভাল দিলে তার ফল !”
আমি দোষী নয়,
থাকি যে নেশার ঘােরে,
যখন যা ঘটে,
কেন অকপটে
তুমি না জানাও মােরে ?
শুন পাৰ্বতি ! আমার ভারতী
পৰ্বত সম দড়,
শিব • রাত্রিতে, ব্রাহ্মণে, আমি,
এবার করিব বড় ।
নীহার ও নিঝর
শিব - রাত্রিতে,
ব্রাহ্মণ কেন ?
মানব • দানব • রক্ষ
যে মােরে পূজিবে
ঐ মন্দিরে,
তা’রে দিব এক লক্ষ।”
(২)
শিব - দুর্গার
কথােপকথন
কৈলাস - নিকেতনে
শুনিল হঠাৎ
যক্ষ কৃপণ--
ছিল যে নিকট - বনে ।
টেনে গঞ্জিকা,
খুলি পঞ্জিকা,
থির করি শিব - রাত্রি,
সেই দ্বিজবরে
সন্ধান তরে,
হ’ল সে, পথের যাত্রী।
পেয়ে, কহে তারে সর্ব প্রকারে
বুঝয়ে সুঝায়ে ধীরে
করেছি মানসা
অর্দিব শিবে
কাল, ভাঙা মন্দিরে।”
নীহার ও নিঝর ব্রাহ্মণ কয়, * তা’ হবার নয়, ঐ শিব নহে কারাে, প্রাণ যদি যায় ডরাই কি তায়, কর যত তুমি পারাে।” যক্ষ কহিল, জনমের ফল একদিনে যায় কি হে ? ধর লও এই পঞ্চাশ টাকা, শিব - পূজা কর গৃহে ।” (৩) দু’দশ টাকায় কিবা আসে যায় ? কেন সে খােয়বে পুণ্য ? পঞ্চাশ, তবে, ক্রমশঃ বাড়িয়া, পঞ্চাশে তিন শূন্য। তবু যে থাকিবে অর্ধেক লাভ- মনে মনে ভাবে যক্ষ, যেহেতু, কল্য ভাঙা মন্দিরে শিব দিবে এক লক্ষ।
৫২
নীহার ও নিঝব
ভাবে দ্বিজবর
ভিজেছেন হর
তাহার চোখের জলে,
এত দিনে তাই
ভক্তির ফল
দিতেছেন ঐ ছলে
কহিলেন তাই,
এনে দেরে ভাই,
বিশ্বনাথের নামে,
করিয়াছি ঠিক
আজি সস্ত্রীক
চলে যাব কাশীধামে।”
টাকা দিল গণি
কিন্নর ধনী
আনিয়া শূন্য • পথে,
দ্বিজ - দম্পতি চলে কাশীধাম
বােম্বাই • মেল -- রথে ।
(৪)
মিনিটে ঘণ্টা,
ঘণ্টায় দিন
গণিতে লাগিল যক্ষ,
হয়ে একাগ্র
ভাবিল ভাগ্য
লক্ষ্য করিয়া লক্ষ।
নীহার ও নিঝর রাত্রি প্রভাতে রাত্রি আসিল- আসল রাত্রি যেটা, বসিল পূজায় সেই ছােট লােক বেটা। শফরে নম: ” জপিতে জপিতে পপে ** টকায় নমঃ রাত বয়ে যায়, শিব নাহি চায়, সব বুঝি যায় মম।” শেয়াল ডাকিল, তবু আশা ছিল, যেমনি ডাকিল, কা - কা কহে ধন - জীব ওরে শালা শিব, সব, বলেছিল ফাঁকা।” ক্রোধে কাপে ঠোট করি মহা চোট উঠিয়া কৃপণ - সিংহ, “ উপাড়ি ফেলিব,” জড়ায়ে ধরিল সে শিব - লিজ । বলিয়া,
৫১
নীহার ও নিঝর
একি হল হায় ! এ যে মহাদায়।
করি কি উপায় হারে।”
শিব • লিঙ্গে সে ছাড়িবারে চায়,
লিঙ্গ ছাড়ে না তারে।
৫৫
ছাড় ভগবান ! রাখ এ পরাণ,
গেল যা যাবার প্রভু।”
ভগবান কয়,
* ওরে নীচাশয়,
লক্ষ পূরেনি তবু ।
পূর্ণ থাকিবে
ভাণ্ডার তাের,
কেন হ'তেছিস্ ক্ষুন্ন ?--
ব্রাহ্মণে, তাের দিতে হবে আরাে
পঞ্চাশে তিন শূন্য।
রাজার রাজ্য আমি দিয়ে থাকি,
গরিবের গুড়াে. খুদটা,
কৃপণের রাখি
আসল বজায়,
ভক্তেরে দেই সুদটা।”
নীহার ও নিঝর
( ৫ )
গেল উৎপাৎ
খসিল দু’হাত,
সম্মত হ’ল যক্ষ,
টেলিগ্রাফে টাকা
পেল ব্রাহ্মণ,
পূরে গেল তার লক্ষ ।
দিন শেষ
যাও হে চলি ।
পূরব তপন অবশ ক্লান্ত
হারায়ে মহিমা, অপর প্রান্তে
পড়েছে ঢলি ;
ধীরে ধীরে উড়ে শান্তির নীড়ে
যাও হে চলি।
নীহার ও নিঝর
-
উগ্র - অনিল সন্ধ্যা গগনে
সাজায়েছে ঘাের জীমূত স
প্রলয় তরে,
তিমির - তড়াগ তুলিতেছে ঢেউ,
শূন্য পাথার ! তীরে নাই কেউ ।
এখনাে মরাল, সাঁতারিছ, কোন্
সাহস ভরে ?
যাও চলি, চির - চন্দ্রিকাময়
বিরাম • গৃহে,
নিশাসে নড়া ক্ষীণ এ বাসায়
বিশ্বাস কি হে !
নিশাৰ কুটী চুমিবে যে দিন
উষার হাসি,
আশা হবে, যবে, ঘাের নিরাশার
বক্ষ . বাসী ;
পূর্ণিমা যবে ঢেলে দিবে সুধা
অনার মুখে,
সে দিন শান্তি; তাই বলি, সখে,
যাও হে মুখে !
নীহার ও নিঝর
৫৭
কেন ভুলে চাও ? বৃথা ও কিতব,
অশ্রু ঢ|লে ;
কেন জড়ে থাকো কুহকী তার
তন্তু • জালে ?
কেন প্রণয়ের তপ্ত আঙারে
যেতেছ গলি ?
ডুবে যায় রবি ; উহারি সঙ্গে
যাওরে চলি !
হয়ােনা নিরাশ, করাে না কো ভয়,
চির-দিনীর কিরণে খেলগে
আঁধার ঠেলি ।
চলে যাও, পাখী, অনিমেষ আঁখি
উদ্ধে মেলি ।
=
নীহার ও নিঝর
* বাঁকিপড়া রায়ৎ
বাবু বলিলেন
কে আছ কোথায়
পেয়াদারে আন ডাকি,
পিটে এ বেটারে
লম্বা করুক
খাজানা ফেলেছে বাকী।”
বড় দেরী হয়, প্রাণে নাহি সয়!
পেয়াদা নামাজ পড়ে ;
চো দুটি লাল কুঁচিয়ে কপাল
চীৎকার বাবু করে ।
বাঁকিপড়া কয়
* অত চড়া নয়,
ভাঙ্গিবে, হুজুর, গলা ;
পেয়াদা যাবৎ
না আসে, তাবৎ
দিতে থাকো কাণমলা।”
বেল্লিক চাষ করিস তামাসা ?”
এত কহি, ঘাের দৃষ্টি,
পিঠে করে তার ধর্মাবতার
মুষ্টির শিলাবৃষ্টি।
নীহার ও নিঝর
অজ্ঞান চাষা;
সংবাদ খাসা
গেল দারােগার কাণে ;
আগেই যা তিনি,
কর • কতে
বুঝিয়াছিলেন
প্রাণে।
আসি তাড়াতাড়ি করি বাড়াবাড়ি,
গুজি দু’হাজার রেস্ত,
করি মহাধুম,
কথা করি গুম্
চাষারে করিলা ব্যস্ত
গায়ে দাগ নাই, প্রমাণ না পাই,
দোহাই কেন না দিলি,
দশে পাঁচে আসি
হইত সাক্ষি,
রক্ষা করিত মিলি।”
বাঁকি-পড়া কয়,
অবসর কই ?
কর্তা হে বুঝ না কি,
কিলের লাগাড় থামেনাকে তিল্
দোহাই কখন ডাকি।”
নীহার ও নিঝর
গােলাপ
হাসিতেছি, সুখে ভাসিতেছি, রূপে
আলাে করিতেছি ধরা,
সৌরভে, কত গৌরবে মম
কমনীয় তনু ভরা !
মাের বক্ষের নিগুঢ় কক্ষে
নিবসে মােহন বিন্দু
পরশনে তার সুপ্ত বাসনা
উথলে যেন সে সিন্ধু ।
রত্নেজ্জ্বল যৌবন মাের,
পিঙ্গ-ধুসর জরা
সম বিখ্যাত ; ; সুখ্যাতি মাের
মরণেও নয় মরা।
নীহার ও নিঝর
স্নিগ্ধ অমর-কিন্নর-নর
মম চুম্বিত জলে ;
মণি - কাঞ্চন সম অঞ্চিত
আমি- বঞ্চিত ফলে !
সেই
সােজা
ইদুরে ডাকিয়া হাঁপিয়া কাপিয়া
কহিল গােখরাে সাপ,
গেছি বড় বেঁচে ; দিত মাথা ছেচে,
সে কি লাঠী ? ওরে বাপ!
ii
;
আমি করি কা'র
তত অপকার
তুমি কর যা’র যত,
কেটে জামা-ধূতি
পট-পাঁজি-পুথি
খেয়ে ধান পান কত !
৬২
নীহার ও নির
আমি টানা বােকা খাই মাছি পােকা
জান তুমি তাহা নিজে
বঁধু হে বল না
করি ছলনা
তথাপি কারণ কি যে -
পেলে মাের সাড়া করে সবে তাড়া
খুঁজে কত খুঁড়ি গাড়া,
ঢিল-পাটিকেলে
খুন করে পেলে
বেটার। বিধির বাড়া।
মাঝে মাঝে বটে তােমা দেখি চটে
নহে তবু অত বেশী,
মােরে যদি পায় কঁাচা গিলে খায়
ছিড়িয়া মাংসপেশী।”
মুখে হরি হরি,
রসিকতা করি
আসল কথাটা ঢেকে,
আমি সােজা চলি
তুমি যে চল হে বেঁকে
কহিল মুষিক,
নীহার ও নিঝর
-
তাই যত গােল ;
উঠে মহারােল
তােমারে দেখিবা মাত্র
কুটিলেৰা হয়
চক্ষের বালি,
সরল, দয়ার পাত্র।”
কত টানা টানি
উপদেশ বাণী
চেষ্টা, বিফল যত
ঋজু ভাবে চলা সাপে শুনে কলা
বন্ধু বুঝবে কত ?
কিছু দিন পরে কৃষাণের করে
খেয়ে সে ভােটানী বােম্বা
হত ফণীবর
পতিত উঠানে
সরল সটান্ লম্বা।
মুষিক আসিয়া কহিল হাসিয়া
কি আর ঝাড়িবে ওঝা !
বলিলাম আগে শুনিলে না রাগে
পরে হলে
সেই সােজা ।
৬৪
নীহার ও নিঝর
* বেকসুর খালাস
(১)
প্রাচীরে বসিয়া প্রাচীণ পেচক
স্বভাবের বশে নাড়িল মাথা,
ভারি চটে’ তায় রাণী গিয়া গায়
রাজার নিকটে নালিশী-গাথা-
বড় অবিচার
তােমার রাজ্যে
ইজ্জৎ বল কেমনে রাখি ?
এ মুখের ছাদে মিল করি চাঁদে
ভাঙায় আমারে বনের পাখি ?
==
দক্ষিণ দ্বারী-
ঘরের কড়িতে
ঝুলিব গলায় বাঁধিয়া দড়ি,
নয়ত, হেঁসেলে
পুড়িয়া মরিব
কেরাসিন • ঢালা-কাপড়ে জড়ি;
নীহার ও নিঝর
অথবা এই যে
মস্ত মুগুর,
এই দিয়া দিব মাথায় বাড়ি,
আর দেরি নাই, যদি, তুমি এসে
নাহি ধর কসে' তাড়া ও তাড়ি।”
২.
রাজা ভাবে দায় ! পাহারা পাঠায়
পেঁচারে ধরিতে ;
পাহারা গিয়া
দেখিল, পেচক
পুরাণ পাঁচির ফাটাল দিয়া।
মিটিমিটি চায়
“কি দেখিছ আর ? নাহি নিস্তার
রাজার রাণীরে দিয়াছ গালি,
চল, দরবারে
পড়িয়াছে ডাক
এবার দেখিবে মশান-কালী।”
পেঁচা কহে “ভাই, কিছু করি নাই ;
যাহােক হুকুম মানিতে হবে ।
কোন বেটা বলে মিথ্যা ; সত্তি
যাব ঠিক বেলা বারটা যবে।”
নীহার ও নিঝর
শুনি, কহে রাজা “দিব ঘাের সাজা,
ঘণ্টা গনিব ধরিয়া ঘড়ি।
রাণী ছাড়ে গলা হাতে রাম-চলা,
আর-হাতে মােটা গলার দড়ি।
১
যখন বাজিল বেলা সাড়ে দুই,
আস্তে পেচক হাজির হয় ;
“এই বুঝি তোর
বারটা রে চোর !”
রেগে টং রাজা পেচকে কয়।
পেঁচা কহে, প্রভু,
দোষী নহি কভু ;
কি করিব ? আমি পেচক • রাজ;
আমার সভাতে
দু’জন পাণ্ডা
তর্ক বাধা’ল ফেলিয়া কাজ।
স্ত্রীলােকে পুরুষে
কমি- বেশী কত
কহি, করে তারা কথার ফেরী ;
প্রায় হাতাহাতি ; করিনু সালিশী
সে দু’য়ের ; তাই, আসিতে দেরী।
নীহার ও নিঝর
৬৭
রাজা বলে, “এটা
বুঝেনারে কেটা ?
ঝাড়িলি না কেন দু'চার বােল ?
অর্ধেক নর
অর্ধেক নারী
বলিলেই, যত চুকিত গােল।
স্ত্রীলােকটা তবু
পেঁচা কহে “প্রভু !
বেশী ধরে দিনু ; নয় কি সেটা ?
স্ত্রীলােকের ঠারে যে করে কুকাজ
পুরুষ তাহারে বলিবে কেটা ?”
চমকিয়া রাজা কহে “নাহি সাজা,
বেকসূর তুই খালাস পেঁচা,
তাের মত পাখী থাকে যে রাজ্যে
সে রাজা খায় না নাকের ছো।”
১৩
০
নীহার ও নিঝর
আমি শরৎ
ওই জ্বলে তারা মাণিকের পার
উজ্জ্বল রবি ইন্দু,
গর্জন পুনঃ--
দামিনী বিকাশ,
গুটি কত ফাকা বিন্দু ।
নিৰ্ম্মল তনু
ক্ষণ-অষুদে
ফেলিনু আবার ঘিরে,
আমি যাদুগীর
অতি অস্থির
এসেছি আবার ফিরে !
ওই দেখ পুনঃ
নীল মাণিকের
আকাশ - আঙিনা - গায়
সাদা বাদরের
চাদরের আড়ে
চাদরাণী হেঁটে যায় ;
নীহার ও নিঝর বাজিল আবার ঝার ভেরী কঁপায়ে পাপীর প্রাণ, আঁক তুমি কবি ভাবনার ছবি বুকে ধরি ভগবান। বরষার • বেগে- ভরা নদীগুলি ক্রমে করিতেছি ক্ষীণ -- বেশী বাড়াবাড়ি ভাল নয়, তায় মরিবে দুঃখী দীন । মনে থাকে যেন আমি যাদুগীর সে যাদুকরের শিষ, পলকে পলকে পরিবর্তনে ঘুরায় যে ভব দৃশ্য। তারি প্রেমাঞ- শেফালি নিচয় ধরণী চুমিছে লুটি, ফুটেছে কমল তাহারি অমল আনন, চরণ দুটি ;
৭০ নীহার ও নিঝর দশ দিকে যার ভুজ বিস্তার তঁাহার পূজন তরে স্থলপদ্মদি রক্ত কুমুদ ফুটালেম থরে থরে । বুড়া বর্ষার ফুটেছিল কাশ- প ধবল কেশ, আমি তাই দিয়ে গড়েছি চামর অর্দিতে পরমেশ। যাদুকর আমি জাগায়ে তুলেছি গুণী ধনী মানী নিঃস্বে, সেই সৌরভে সেই গৌরবে পূর্ণ করিয়া বিশ্বে। এ নীহার ও নিঝর শীত কণ্ঠে ধরেছ ধুতুরার হার অঙ্গে মেখেছ কুয়াসা-ছাই, কুহু টঙ্কার কিবা ঝঙ্কার তব তপস্যা কাননে নাই ; কুটি ভীষণ নিরখি তােমার স্তব্ধ কানন ভাবিছে ধীরে। গভীর সমাধি ভাঙিবে ভাবিয়া বনরাজি, সাজ ত্যজিল কিরে । তীব্র পবন- ত্রিশূল তাড়নে জড় জঙ্গম জড়িত যত । বিহরে তােমার নৈশ-শ্মশানে পেচক হুতুম্ ভুতের মত।
৭২
নীহার ও নিঝর
প্রহরে প্রহরে
শৃঙ্গ নিনাদ
শৃগাল শব্দে শুনিতে পাই,
শুভ্র হিমানী
বৃষভে আসীন
এস সন্ন্যাসী শিবের ভাই।
পেচক
সন্ধ্যার ছায়া
ঢাকিয়াছে কায়া
ঢাকিয়াছে তাের বক্ষ,
আছিস কোথায় বুঝা নাহি যায়
শব্দে মাত্র লক্ষ্য।
উদিলে চন্দ্র
ঘুচিবে ধন্ধ,
ছুটে যাবে যত ঘাের,
তখন দেখিব
মায়াবি • পক্ষি ।
মূরতি কেমন তাের।
নীহার ও নিঝর
সােলেনামা।
নামে ব্রাহ্মণ,
কৰ্ম্মে চঁড়াল,
ছাড়েনি গলার সূত্র,
পরিচয় চাও,
বলিবে অমনি,
আমি অমুকের পুত্র।”
করা চাই তার
নিত্য বাজার,
খেয়ে নাই অবসাদ,
পেঁয়াজ - রশুন
শালিক • শকুন
কিছু নাহি যায় বাদ!
ছত্রিশ - হাতে
খায় মাছে - ভাতে,
বুঝে না ব্ৰহ্ম ছাড়া,
হেরি’ বিপত্তি, তেত্রিশ কোটি
দেবতারে করে খাড়া,
ধৰ্ম্ম-বিবাদে
চার্বাক-মুনি
গৃহিনীরে বলে গাধা;
গায়ত্রী জাপ ?
সে যে মহাপাপ!
৭৪ নীহার ও নিকয় জপিত তাহার দাদা সত্য কথায় কালাে করি, তােল যুধিষ্ঠিরের মুখ, অশ্লীল - বাণী বলিতে না জানে যেন গণিকার শুক । ইত্যাদি যত ক’ব আর কত পুণ্যের কথা তার ? যত আয়ােজন, হয় চুরি, নয়, ধার। পর্শ ; গৃহিণী কহিল বয়েস তােমার হ'ল সত্তর বর্ষ, আহার - বিহার করিয়াছ সার, ধৰ্ম্ম করনি যম - রাজা যবে তল্লাসী ল'বে-- উত্তর দিবে কিবা ? রাম্ কি রহিম, শাম্ কি করি ভক্ত নাই শিব - শিবা ।” ভজিলে কি হয় ?” রাগিয়া সে কয়, পর - উপকারে ফল, তৃষ্ণায় মরে ধর্মের ষাড়, তারে দিয়েছি জল ;-- নীহার ও নিঝর তবু অকপটে বাঁচিল না বটে । বলিল, আকুল শশাকে।-- স্মরণ করিলে উপকার মাের করিবে সে পর • লােকে। সেই বিশ্বাসে গুটায়ে বুদ্ধি রাখিয়াছি ধড়ে বদ্ধ, খুন যদি হও বলিব না তাহা তুমি বেকুপের হদ্দ।” , মরে গেল সেই ব্ৰহ্ম-চাড়াল মাথায় পাপের হাঁড়ি ; সতী-বনিতারে লিখে দিয়ে গেল অমরাবতীতে বাড়ী। দিয়ে হাত-কড়ী যমদূত কড়া ধরি নিয়ে গেল তারে, যেথা মহারাজ মহিষ-ধবজ বসেছেন দরবারে। পাপের তােমার নাহি দেখি পার !” কহে মৃত্যুর রাজা বহু • দিন ধরি নরকে বিচরি সহিতে হইবে সাজা।” যমের কথায় ঢলি পরিমায়
.৭৬
নীহার ও নিঝর
ব্রাহ্মণ - পাপী কয়
যাঁড়ে দিমু জল, তাহার কি ফল ?--
সেটা বুঝি কিছু নয় !”
যম্ কহে “ বাবা !
সেটা তুমি পাবা
পাঁচ মিনিটের তরে,
দুঃখের পর
সুখ বটে ভাল,
নিও তুমি তাহা পরে।”
ব্রাহ্মণ বলে
ফেলে দাও জলে
তোমার ওসব ফাঁকি,
আগে নিব আমি
পুণ্যের ফল
ষাঁড় - শৰ্ম্মারে ডাকি ।
দেরি নাই আর,
সাড়া পেমু তার,
ডাকিয়াছি মনে মনে ;
এল বৃষবর,
যেন মহাঝড়,
ধৰ্ম্মের নিকেতনে।
কি বলিবে ভাই, বল করি তাই
it
যাচনা তােমার যাহা,
ভুলি নাই সেই
অন্তিম জল
স্নিগ্ধ - মধুর আহা!”
নীহার ও নিঝর ৭৭ ব্রাহ্মণ কয় দুনিয়ার ভয় শনিবারিব ভাই ষণ্ড! হয়ে নিরুপায় ডেকেছি তােমায়, যমে দিব শূল • দণ্ড। দেরী নাহি সয়, বেশী কিছু নয় পাঁচ মিনিটের কাজ, তােমার শিংয়ের চিকণ আগায় বসিবে ধৰ্ম্ম - রাজ ; যদি স্বেচ্ছায় বসিতে না চায় টানিয়া বসাও তা'রে, আমারে বসাও পৃষ্ঠে আপন, জলদান ােধিবারে । মস্তক নত বৃষ সমত; পাপী আবােহিল পৃষ্ঠে, বাক্যের ভাজ বুঝি যম - রাজ দৌড়িল। একদৃষ্টে । দড়িল ষড় নিচু করি বাড় যমের ছন লাক্ষ্য- পায়রার পাছা লক্ষ্য করিয়া ছুটে যথা বাজ • পক্ষী। নাহি নিস্তার মৃত্যু - রাজার, পক্ষ বাধিলা পায়, *, d ৭৮ নীহার ও নিঝর সময় নষ্ট দেখিয়া কষ্টে, ক্রুদ্ধ : বৃষভ ধায় ; ব্রাহ্মণ, কয় করিওনা ভয়, আছে পুণ্যের পরচা, ক্ষতি পূরণের উপর উহার দিতে হবে আরাে খরচা বৃত্তান্তটা শুনি সমুদয় কহে কৃতান্ত গিয়ে ব্রহ্মার কাছে, বণ্ডের পীঠে চণ্ড - মূরতি ব্রাহ্মণ হকে পাছে । বিরিঞ্চি কয় “ কি আছে যমের জোর? আমারাে উপর পাঁচ • মিনিটের হুকুম চলিবে ওর। যাও বাপু চলি, আমি সােজা বলি, যও নেহারে মােরে, দেরি করি আর আমারে আবার ফেলিবে বিপদ - ঘােরে !” গেল তবে যম বৈকুণ্ঠের দ্বারে, পশ্চাতে যাড় নীচু করি ঘাড় রায় বারে বারে । কণ্ঠে বসন নীহার ও নিঝর ৭৯ চক্ষের জলে বক্ষ ভাসায়ে পুণ্যের ফল বলে যম বৃত্তান্ত ; বিষ্ণু বলেন কাটিতে কে পারে ভ্রান্ত ? যাও তাড়াতাড়ি মাের গৃহ ছাড়ি ; পাপী যেথা যায়, যাকগে, যদি রেগে যায় কেবা জানে হায়, কি আছে কাহার ভাগ্যে ?” চোখে • মুখে রজঃ, মহিষ ধ্বজ ছুটিল বায়ুর বাড়া, ঠোট, করি ফাক যথা দাঁড়কাক, ফিঙা - পাখী দিলে তাড়া। ইত্যবসরে গত ; যম্ কহে উল্টা মহিষের শিংএ চড়াব এবার !” পাপী বুঝাইল ভুটা । দিতে হবে নিট, সে • পাঁচ • মিনিট, বুঝে দেখ, নির্ঘাত ! কৈলাসে চল, দেখি, কি বিচার করে সে বিশ্বনাথ ।” কৈলাসে যায় সঘনে হাঁপায়, মহা দড়বড়ি শব্দ, পঞ্চ মিনিট, ; - ৮০ নীহার ও নিঝর সমুহ ঘটনা ৫৫ কি আর ঊদ্ধ. কর্ণে ভাবে ভােলানা, একি ঘাের সমারব্ধ।” । সষণ্ড দ্বিজে হেরি প্রভু নিজে জিজ্ঞাসা করে যমে ; করে সে রটনা আমূল অনুক্রমে। নন্দিরে ডাকি বৃষ • কেতু ক'ন দেখি বসি ? আমাদের সেই যাঁড়টা কোথায় ? বাঁধ, গিয়ে তা'রে কসি। কি ঘাের কাণ্ড! এ যে প্রকাণ্ড মহারাগান্ধ ষাঁড় ! এটারে দেখিয়া সেটা যদি রুখে, নাহি, বেটা, নিস্তার !” আপােষে বিচার করি ঈশ্বর, কহিলা যমের প্রতি, “ সিপি - হরি পল পরম - গতি।” দ্বিজে চাহি হর কহে তারপর * উজ্জ্বল তাের ভাবী, কথা রাখ, মাের, ছাড় বাবা তোর পাঁচমিনিটের দাবী। দর্শন তা
নীহার ও নিঝর
ধৰ্ম্মের ষাড় ! সােজা কর ঘাড়,
কৈলাসে থাকো রঙ্গে,
খাও বার - মাস
ফল। ফুল - ঘাস
আমার যাঁড়ের সঙ্গে।”
প্রণমিয়া হরে,
স্বাক্ষর করে,
তারা, সােলেনামা - খা;
দ্বিজ গেল চলি
ইন্দ্র - নগরে,
বাঁচিল যমের জান্ ।
কৃপণ ও কৃপণ পত্নী
একটি বলিতে চা’ নাই আজ ঘরে,
তােলা দিমু ভাঁড়ে, তলা ঠক্ ঠক্ করে।
দু আনায় এনেছিলে হলুদ ও নুন,
দু আনায় আলু আর পােড়া বেগুন ;--
কদিন যাইতে বল ? সেই বুধবার !
বলিলে বল না কথা মুখ কর ভার ।
নীহার ও নিঝর
;
দু আটি বাঁশের খড়ি ঘুণে ধরা ছাই
পুড়িল তুলার মত দিতে আর নাই ।
চাকর রেখেছ রােগা খােরাকের ভরে
এ ঘরে ও ঘরে যেতে পিলে ফেটে মরে।
সকালে বিকালে তার গায়ে আসে জ্বর
দুপুরে খাবার হলে ঘামে কলেবর ।
কী ঘটিতে নাই এক ফোঁটা জল,
কি দিয়া কি করি হায় রক্ত হ’ল জল।
স্কুলে যাবে ছোঁড়া, নােদ ভরিল উঠানে ;
হায় রে আমারে কেন যমে নাহি টানে ?
আট হেতে ধুতী, তাও তালি দিয়ে কথা
পা ঢাকিতে গা খুলে, গা ঢাকিতে মাথা।
ধুইতে উঠে না মলা কাচি মিছামিছি,
সে দিন ডরিল
বামা ” ভূত বলে, ছিছি।
তেল বিনে কাল কেশ কটা যেন পাট,
তার মাঝে ঘুরিতেছে উকুনের হাট।
আর, এই বুঝি তাের মাড়ী সােনার ?
যে তাের প্রেয়সী থাকে কাণে দেগে তার।
জুতো পায়ে সব ছেলে যায় পাঠ ঘরে,
উছটে উছটে মাের বাছা গেল মরে।
আপনি করেছ সার তালতলা চটি,
তাও তু আরের 'পরে থাকে সদা উঠি।
নীহার ও নিঝর
সুভাবের দিনে যদি উঠে তাহা পায়,
অভাবের দিনে মাের পিঠেতে লাফায়।
মর গে, গলায় দড়ি ! মুদো যদি আঁখি,
কে দিবে টাকার তােড় ঘুম ঘােরে ডাকি?
চোপ, মাগী, কহে কর্তা রাঙা করি চোক্।
কে চায় দেখিতে বল তাের অত থােক ?
চা’ নাই ঘরে, তার খুদ গেল কই ?
রান্না হয় না বুঝি তেল নূন বই ?
পিশে নিয়ে খুদ গুড়াে রুটি কর তায়
এক পােয় দানা গুড় দিবে তাহে সায়।
খড়ি নাই, নড়ে দেখ হেঁসেলের পাছে
শুখান বন্যার গাছে কত ডাল আছে।
কি কাজ চাকরে দাও এনে দেই জল,
একটুকে কেন কর অত কোলাহল ?
পাঠশালে যা ছোড়া, এসে খাবে রুটী,
হয় দুটোর সমে নিয়ে নিবে ছুটী ।
তিন হাত মানুষের আট হাত ধুতী
কেমনে হয় না, আমি বুঝিয়া না উঠি ।
মলা দেখে “বামা” ডরে তােমার কি তায় ?
তুমি ত ডরনি সেথা দেখিয়া “বামায়”।
আর যদি বােয়া ধুতী পরিতে ইচ্ছিলে,
“শ্যামা” করেছিল ক্ষার কেন নাহি দিলে ?
৮৪
নীহার ও নিঝর
পুকুর পাড়ের মাটী আটা কাটে বড় ;
মেজে চুল, কেশুরের রসে কাল কর।
সােনার মাড়ী কিনে কি হবে আমার,
পেতলেতে হয় যদি সােনার বাহার ?
খালি পায়ে ছেলে যায়, তাই ছাড় গলা,
বাবু সেজে গেলে তার পড়া হবে কলা।
আপনি কিনেছি আমি তালতলা চটি
তােমারি খাতিরে তাহা বুঝে দেখ খাটি -
পিঠে যদি পড়ে রোজ সেপাটের বাড়ী
ধরিতে হবে না অরি হাতা কাঠী হড়ী।
না মুদিতে আঁখি যদি তােড়া ছেড়ে দি,
মুদিলে এ আঁখি, মাগি, তােরা খাবি কি ?
নীহার ও নিঝর ৮৫ কান্তিহীনা আমি, তাই, কান্তারে পাথারে বাঁধি বাসা, আমারে চাহেনা কেহ, নাহি যে গাে সুগন্ধের আশা। কুঞ্জে কিবা নিকেতনে যদি বা কিঞ্চিৎ পাই স্থান, বিলাসীর নেত্র - পাতে আতঙ্কে কাঁপিয় উঠে প্রাণ- কি জানি, যদি সে, তার সুষমার অন্তরায় বলি আমারে নিহত করে গর্বিত চরণ - ভরে দলি ! তবে যে বাঁচিয়া আছি লাঞ্ছনা সহিয়া মৰ্ম্মে হত- সে কেবল ভেবে মনে, পরের কল্যাণে আমি রত। বিধি-বিষ্ণু দূরে সরে, সুরাসুর সহেনা নিশ্বাস ! আশার আশ্বাসে, তবু ছাড়ি নাই তাদোরাে বিশ্বাস ! পাগল করিব ডরে পরিহরে মােরে মুগ্ধ জীব ;- আগ্রহে গ্রহণ করে গুণ-গ্রাহী বিষ-পায়ী শিব ।
নীহায় ও নিকর
কালী
এক সাগর রুক্ষ ভীষণ
মরুভূমি যার নাম -
বৃক্ষ - পুষ্প বিহীন নিরাশ ;
সেইখানে তব ধাম
২
যেখানে জলধি গরজে গভীর -
ভীষণ অপরিসীম্ ।
যেখানে নক্র ঘুরিছে চক্রে
ব্যাদানি বদন ভীম ;
উড়িছে যেখানে অণুপরমাণ
ছিন্ন ভিন্ন বেশ,
আশার যেখানে নাই কোন না
সেই, মা, তােমার দেশ!
নীহার ও নিকর
যুৎ-পক্ষ
ধূসর জটায়
ব্যোমরূপী ব্যোমকেশ
মহাভাবে মত্ত যেথায়
সেথা তুষ সমাবেশ।
১
যেখানে ঝিল্পি ঝন্ ঝন্ রবে
লাগায় ও বন,
যেখানে পশিল থরকম্পিত
যােগীরে দীপ্ত মন ;
যেখানে পেচক
ডাকে সে ভূতের মত,
যেখানে বায়স ফুকারে ভা;
সেইখানে তুমি রত !
৫
কেন ঘুম অত হয়ে বিব্রত
খুঁজিয়া ভীষণ বাসা?
নীহার ও নিকর
আমার হৃদয়ে হও সমাগত
পূরিবে তােমার আশা
জীবাত্মা
বাসনায় হত,
রসনায় রত,
চক্ষু থাকিতে অন্ধ,
মধু - সৌরভে গত,
ভুলেছি পরম - গন্ধ।
অলি সম,
২
সমুদার, তবু,
অনুদার আমি
ভ্ৰমি যে কীটাণু, ছন্দে,
স্বপ্নেল
বিশ্বে বঁধিয়া
ক্ষণিক বালীর বন্ধে।
নীহার ও নিঝর
ভুলিয়া তথ্য
অনাদি সত্য
যদিও হয়েছি ছি -
অভিমত
সে সদাভ
আমা হতে নহে তির।
দীপ-শিখা
চঞ্চল বায়ু
যদিও কাপায়,
এই আছি, এই নাই।
উল মােৰ
যদিও ক্ষণস্থায়ী।
ক্ষুদ্র জীবন
૨
নিৰ্ম্মল প্রাণ, কননা আমার
নীচ গতি নাহি জানে ।
তাই, চিরদিন, ভুলিয়া আঁধার
চাহি সে উগ্ধ পানে।
৯০
নীহার ও নির
একটি কুনাে ব্যাঙ,
দু’হাতে দিয়ে ভর বসেছ হাঁটু গাড়ি
আমার ভাঙ্গা ঘরে, চাহিছ অনিমেষ
আমার পানে ;
করুণ চেহারাটি – দারিদ্র্যের ছবি
দেখিলে ব্যথা জাগে মাে সম দুঃখীর
দক্ষ প্রাণে ।
२
বুঝেছি, কেন হেথা ;
দারুণ বিষধর
উদয় পরায়ণ, দিয়েছে তাড়া বুঝি ?
তাহে কি রে ?
হরষে লাফালাফি কর এ গৃহে মাের,
ক্ষুদ্র কণাগুলি, না চেয়ে, অকাতরে
ভােজন করাে।
নীহার ও নিঝর
৯১
স্বাধীন প্রকৃতির এবল পরিখায়,
এ কুটির-দুর্গ, রয়েছে। বেষ্টিত
কর কনা ;
দেখ এ মুষ্টির ষষ্টীটি আমার
এটাত সােজা নয় ( ধৰ্ম্ম এরে কর)
ভাবি তাহে শত ফণীর ফণা ।
.
কোথা হতে অকস্মাৎ এ দয়ার্জ বেশে
হে অম্বরচারী, অম্বু ঢালিছ অক্লেশে
দগ্ধপ্রায় মেদিনীর জ্বলন্ত চিতায় ।
তব স্নেহময় দেহ, দ্রবীভূত হায়,
হতেছে ক্রমশঃ ক্ষীণ মহাশূন্যে লীন
সাধিয়া বিশ্বের হিত ; গম্ভীর প্রবীণ
তব মহামন্দ্রে, মেঘ, কঁপে পাপাত্মার
ক্লিন্ন কলুষিত প্রাণ ; সন্ত্রম সঞ্চার
নীহার ও নিঝর
হয়, ভক্তি-ভীতি সহ, সাধুর অন্তরে !
উৎকণ্ঠ প্রণয়ী, আজি দূর দেশান্তরে
শুনে প্রেয়সীর স্বর । তােমারি তড়িৎ
শিরায় শিরায় তার হয় প্রবাহিত
উচ্ছাসি বাসনা শত ; কত বিপ্ন ঠেলি,
ধায় সে গৃহের পানে কৰ্ম্মে অবহেলি!
কে তােমা চাহেনা বিশ্বে, হে বিশ্বজীবন ।
ওই অভিরাম শত কুঞ্জ-উপবন
খুলেছে অমল নেত্র তােমারি পরশে ;
ওই বিহঙ্গম হংস-প্রমুখ, হরষে
সরসে করিছে ক্রীড়া ক্ষুব্ধ করি বারি ।
ওই সহচর তব বিন্দুর ভিখারী
সুভাষী চাতক, তােমা করিছে অর্চনা ;
তব ধারা-পানে স্ফীত, প্রখর-যৌবনা,
বিলােল-বিভ্রমে নাচে বানিণীর মত
তরঙ্গিনীচয় ; তব আসার সুপিত
নীল বনরাজি, আজি কবরী রচনা
করিয়াছে ধরিত্রীর। তব আরাধনা,
শত বাক্যে শত কবি, করে চিরদিন ;
হে চির সঞ্চয়ী, তুমি, দান করি’ দীন।
নীহার ও নির
৯৩
মহারাজা যযাগীন্দ্রনাথ রায়
বাহাদুরের অভিষেক
আরােহি আশার রথে চলিতে চলিতে পথে
রবি-অন্তে তুমি কি শঙ্কিত ?
পথিক! কেঁদ না আর, সরিতেছে অন্ধকার
নবসূৰ্য্য হতেছে উদিত।
পদ্মে হেরি পরিম্লান চঞ্চল বিকল প্রাণ
চঞ্চরি ! গুঞ্জর আবার,
চেয়ে দেখ পুরােভাগে; সেই কান্তি, সেই রাগে
উৎপলের নবীন সঞ্চার ।
জাগাে সুখী সৌধ-শিরে, মন্দিরে দেবতা জাগাে
কুটিরে কুটিরে জাগাে চাষা,
শ্মশানে সন্ন্যাসী-যতি পর্ণশালে জাগ ব্ৰতী
পূর্ণ হবে শতমুখী আশা।
৯৪
নীহার ও নিঝর
নিশিদিন ক্ষুধাক্ষীন অবসন্ন অন্নহীন
জাগরে ভিক্ষুক, তরু-তলে,
সুপুষ্পিত কল্পতরু ভূষিত করিছে মরু,
আর না জ্বলিবি ক্ষুধানলে।
গাঁথি নিরঞ্জন মালা সাজায়ে সরােজ ডালা
শত খণ্ডে ভাঙ্গি দেহখান--
শতেক সুন্দরী সাজি, নাটোরের লক্ষী আজি
গাও সুখে অভিষেক গান ।
প্রাণ-ভরা অনুরাগে অর্চনা-ভজন-যাগে
রত হও ঋত্বিক যতেক,
সুবৰ্ণ-কলসী ভরি, শত উপাচার ধরি
বর্ষ বারি, কর অভিষেক।
সে মহিমা সে গৌরব, অতীতের সে সৌরভ
পুরিবক্ষে হােক প্রতিভাত,
মুকুট-মঞ্জরী আজি মস্তকে ধরিছে সাজি
নৃপ-কুঞ্জে, চারু পারিজাত ।
চপলে ! সুস্থিরা হও অনিমেষ চেয়ে রও
স্থির - জ্যোতি কর, লাে বিস্তার
আপনি থাকিয়া ঢাকা সঘনে ঘুরাও পাখা,
“না ” বলিলে, নাহি যে নিস্তার
নীহার ও নিঝর
আজ মহারাজা নাই গরব করাে না তাই
বিপদে পড়িবে তুমি পাছে,
শরীর গিয়াছে বলি শাসন যায়নি চলি—
ইন্দ্র গেছে, জয়ন্ত যে আছে ।
সিংহাসনে বস মুখে প্রসাদ • প্রসন্ন - -মুখে,
স্বাগত নূতন মহারাজ !
দিনে দিনে হও ঋদ্ধ অজেয় অজর বৃদ্ধ
সিদ্ধ হােক অসাধ্য যে কাজ ।
দেবতার শুভ দৃষ্টি হােক রাজ্যে বস্তু বৃষ্টি
দুই হাতে কর রাজা দান,
সদা অকাতর চিত্তে তৃণজ্ঞান কর বিত্তে
বিপন্নে করিতে পরিত্রাণ ।
জনকের বন্ধু যত
'রা জনকের মত,
প্রজা যত পুত্র কন্যা পারা
প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তর রাজার শরণাগত,
বামা মাত্ৰ জননীর বাড়া।
নীহার ও নিঝর
মানব, ঈশ্বর নহে; ঈশ্বর মানবে রহে-
যে মানব সহে অত্যাচার,
অতএব মহারাজ। শিরে ধর শত বাজ
সহ শত লাঞ্ছনা মিথ্যার ।
ভুল যদি জন্মভূমি, জননীর পদ চুমি
হ'বে নাকো কোন ফলােদয়-
পিতা পিতামহ মাতা
যে ভূমির অধিষ্ঠাতা
তা'রে বটে জন্মভূমি কয়।
বিদ্বানে সুনীতি দান, বৰ্ব্বরের বৃথা ভাণ
বৃথা বাক্যে প্রয়ােজন কি বা ?
সত্যে থাকে মহারাজ, চলিবে তােমার কাজ
চলে যথা রাত্রি সহ দিবা।
জয় - মাল্য শিরে ধর প্রকৃতি পালন কর
পূর্ণ কর শত অভিলাষ
শ্যামের সুতীব্র বাঁশী কালীর করাল হাসি
বিপ্ন তব করুক বিনাশ ।
নীহার ও নিঝর
৯৭
* বিয়ােগাষ্টক
(মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়ের স্বর্গপ্রাপ্তি উপলক্ষে)
১
• • • • • • • • • •
এত শীঘ্র কেন আবাহন!
অকস্মাৎ শূন্য হলো ত্রিদিবের কোন সিংহাসন ?
কোন্ রাজা পুণ্য-বলে কোটি কল্প করি স্বর্গবাস
ব্ৰহ্মপদে হ’লাে লীন পূর্ণ করি শত অভিলাষ ?
মিলিল সুরপুরে সমতুল্য নরপতি তার,
পূরণ করিতে স্থান প্রয়ােজন তাই কি তােমার ?
২
লক্ষ চক্ষে অশ্রুধারা প্রবাহিত হােক অনর্গল,
বন্ধু পরিজন ভৃত্য চীৎকারে ছিড়ক নভস্তল,
নীহার ও নির
প্রবন্ধে শতেক ছলে ডাকিয়া মরুক শত কবি,
হৃক্ষেপ নাহিক তব, ওগগা লুপ্ত নাটোরের রবি।
পৃথিবীর করণীয় সম্পন্ন যদিও নরবর !
সাধিতে দেবের কাৰ্য্য এবে তুমি দ্রুত অগ্রসর।
।
(৩)
স্তব্ধ আত্মা, অন্ধ আখি, ক্ষুব্ধ মন, শ্রবণ বধির,
বারেক বিশ্বাস হয়, চিত্ত
পুনঃ সন্দেহে অস্থির
শূন্য হতাশের ছায়া ক্ৰমে ঘনীভূত মূর্তিমান
প্রেতসম ঘিরে নিল এ আমার হৃদয়শশান ;
“তুমি নাই” দুটি কথা যুগান্তের শৃঙ্গনাদ সম
কর্ণের কুহরে পশি বিদীর্ণ করিল হিয়া মম !
ও
কোন দিন ঘটে নাই, ঘটিবে না কোনদিন পরে,
অলৌকিক হেন কিছু ঘটে নাই বুঝি অন্তরে;
বেশী দূর নাহি আর-সিন্ধু প্রায় হইয়াছি পার ;
পরবর্তী কত যাত্রী অগ্রগামী হইবে আমার ;-
ইত্যাদি সান্তনা শুনি, ক্ষণ-শান্ত চিত্ত হুতাশন
উগ্র দুর্ভাবনা-ঝড়ে জ্বলিয়া উঠিছে অনুক্ষণ।
নীহার ও নিঝর
কারাে কথা ভুলে যাই, কারাে তরে কেঁদে মরি ভবে
কিসে কহ, দার্শনিক! জগতে ভিন্নতা নাই তবে।
প্রমান তুলিয়া রাখ ;-হস্তীমাত্র নহে ঐরাবত,
অভ্রভেদী হিমাদ্রি কি জগতের যতেক পর্বত ?
যাবতীয় সলিল কি জাহ্নবীর পরিপূত জল ।
যাবতীয় নৃপতি কি জগদিন্দ্র নৃপতি কুশল ?
ক্ষান্ত হও গুণগানে ; বৃথা স্তুতি ক্ষুদ্রে শােভা পায়,
স্বভাবের ফুল্ল পদ্মে হীন শিল্পী রঞ্জিবারে চায় ;
কাদিওনা, ক্ষান্ত হও, তপ্ত অশ্রু দহিবে আত্মারে!
দর্পণে নিশ্বাস সম দুঃখ-শাস কলঙ্কিবে তারে।
শাস্তির নির্মল নীরে ধুয়ে ফেল মানস দর্পণ
বিশ্রিত রহিবে তায় উদার মুরতি অনুক্ষণ।
।
একাকী চলনি পথ ভু তুমি পরিজনপ্রিয়
গতের সকলেই ছিল যেন তােমার আত্মীয়।
নীহার নিঝ’র ভ্রমিতে এ দূর পথে কারেও ত ডাকনি এবার ; একাকী যাওনি সত্য, তথ্য আমি বুঝিয়াছি সার- দয়া-দান বদান্যতা-দাক্ষিণ্য প্রভৃতি গুণ যত পরম আত্মীয় ছিল—তারাই হয়েছে অনুগত। ip মর্মাহত তাই মােরা স্মরি সন্ততির দীন-দশা কোথায় দাড়াবে তারা, কিবা আছে তাদের, ভরসা ! অনুরােধ এইমাত্র দয়া দান-আদি অনুচরে কর আজ্ঞা নিবসিতে কুমারের অমল অন্তরে। কি কহিলে নরদেব ?—পূর্ণ হবে যাচনা আমার? দূরে থাকি লও এই প্রিয় অধমের নমস্কার । ? সমাপ্ত
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.