Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Chotoder Rajniti Ed.3
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
দে
রাজনীতি
:
অ্যাপক
apL
নী কুমার কর
7
No text on this page.
Old B&W
ছােটদের রাজনীতি
নীহারকুমার সরকার
•
k
৫
-
পুথিঘর
২২, কর্ণওয়ালিস স্ট্রীট,
কলিকাতা
পরিবর্থিত তৃতীয় সংস্করণ
জানুযারী ১৯৪৫
দাম এক টাকা
২৫ রাষবাগান ষ্ট্রীট, কলিকাতা, ইকনমিক প্রেসে রত্নেশ্বর বহু কর্তৃক
মুদ্রিত ও ২২ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা, পুথিরের পক্ষ
বইতে সুবােধ চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত
শ্ৰীমান অজিতকুমার ঘােষকে—
মেহের থােকন, তুমি একদিন জিজ্ঞেস করেছিলে, সােস্যালিজম কি।
তারই উত্তরে এ-বইখানা লিখে তােমাকে দিলাম। ইতি--
নীহাবদা
সুচীপত্র
বিষয
छ।
৫
১ ক্যাপিটালিজম্ বা পুঁজিবাদ
২ ইম্পেরিযালিজম্ বা সাম্রাজ্যবাদ
৩ ফ্যাসিজম্ বা ফ্যাসিবাদ
৪ সােস্যালিজম্ বা সমাজতন্ত্রবাদ
৫ সােস্যালিজম্ ও কমুনিজ বা সাম্যবাদ
৬ ডেমােক্রাসী বা গণতন্ত্র
৩৭
৬৪
৭ পৃথিবীর রাজনীতি
• • •
[ এক ] ক্যাপিটালিজম্ বা পুজিবাৰ ক্যাপিলিজম ?- সকালে ঘুম থেকে উঠে বাতে ঘুমােত যাওযা অবধি, আমবা কত হাজার হাজার বকমেব জিনিস-পত্র ব্যবহার কবি তা কখনাে হিসাব কবে দেখেছ কি? যেমন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই টুথ-ব্রাস, টুথ-পেষ্ট, তােষালে, সাবান চাই। তাবপব, চা খাবার জন্যে চাই চা, চিনি, দুধ, পেয়ালা, পিবিচ, মাখন, রুটি ইত্যাদি। তাবপব, পড়তে বসবে তার জন্য বই, খাতা, কাগজ, কলম, চেয়ার, টেবিল চাই। ইস্কুলে যাবে তার জন্য কাপড়-চোপড়, সাইকেল বা মােটৰ চাই। এই বকম কবে সব বকম কাজের জন্যই আমাদের নানারকম জিনিসপত্রের দরকাব হয়। এই সব জিনিস-পত্ৰ কোথেকে আসে জান ? বাজারে দোকানদারের কাছ থেকে তোমার বাবা কিনে নিয়ে আসেন। দোকান- দাবরা আবার কাবখানা থেকে, চাষীদের কাছ থেকে, খনির মালিকদের কাছ থেকে এই সব জিনিস-পত্র কিনে আমাদের কাছে বিক্রী করে। কারখানার মালিকরা, চাষীরা ও খনির মালিকরা তাদের কল-কারখানা খাটিযে, জায়গা-জমি চাষ .
ক'রে খনি থেকে নানারকম জিনিস তুলে কুলি-মজুরদের
দিযে এই সব জিনিস তৈবী কবায়। এই সব জিনিস-পত্র
তৈরী কবার যে যন্ত্রপাতি, কল-কাবখান, জমি-জায়গা,
খনি ইত্যাদি ঐ গুলিকে আমরা বলব “উৎপাদন-যন্ত্র”
( means of production ) কাবণ এগুলাের সাহায্যে
আমাদের দরকাৰী জিনিস-পত্র “উৎপাদিত” অর্থাৎ তৈরী
হয়। আর এই সব জিনিস-পত্র যা আমরা ব্যবহার করি তা
বাজারে কিনতে পাওয়া যায় বলে, তাকে বলব “পণ্য”
( commodity ).
এক সােভিযেট দেশ ছাড়া পৃথিবীব অন্যান্য সকল দেশে
এই উৎপাদন-যন্ত্রগুলাে অর্থাৎ খনি, কলকাবখানা, জাযগা-
জমি-এসব, লােকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি। অর্থাৎ যাব এইরূপ
কোন উৎপাদন-যন্ত্র আছে, শুধু সে একাই তাব মালিক,
সমাজে অন্য কেউ তার এই উৎপাদন-যন্ত্রে বিষয়ে কোন হাত
দিতে পাবে না। যেমন, কাবে। যদি একখণ্ড জমি থাকে, বা
একটা কারখানা থাকে, তবে সে জমি চাষ করা বা না করা
তার ইচ্ছা; সে কাবখানা চালু করা বা বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ
তার মালিকের ইচ্ছার উপর নির্ভর কবে। আবার সেই
জমিতে যদি কোন ফসল হয বা কারখানায় যদি কোন
জিনিস তৈবী হয় তবে সেই ফসল বা সেই জিনিস যার
জমি বা যার কল তারই হবে। ক্যাপিটালিজমের গােড়ার
কথাই হল এই-উৎপাদন-যন্ত্রে ব্যক্তিগত অধিকার।
৭।
কেননা তৈরী
যাদের এই উৎপাদন-যন্ত্রে অধিকার থাকে তারা এগুলাে
সাধারণতঃ ফেলে রাখে না , সেগুলাে খাটিযে নানারকম
জিনিস-পত্র তৈরী করে। কেন তৈরী কবে ?
করে বাজারে বিক্রী করে এদের যথেষ্ট লাভ হয়। এই
লাভের লােভেই উৎপাদন-যন্ত্রের মালিকরা উৎপাদন-যন্ত্র
খাটিযে জিনিস-পত্র তৈরী করায়। এই সব জিনিষ-পত্র বা
পণ্য আমাদের অভাব মেটায, আমাদের দৰকারে লাগে,
এগুলো না পেলে আমাদের বিশেষ অসুবিধা হয়, এমন কি
বেঁচে থাকতেও পাবি না। কিন্তু সে সব কথা উৎপাদন-যন্ত্রের
মালিকেরা ভাবে না। তাদেব প্রধান উদ্দেশ্য লাভ বা মুনাফা
( profit ), যতক্ষণ লাভ হবে, ততক্ষণ অবধি তারা পণ্য
উৎপাদন কবে বাজাবে বিক্রী করবে। যখনি লাভ বন্ধ হবে,
তখনি পণ্য উৎপাদনও তা বন্ধ করবে, তাতে লােকেব
অসুবিধাই হােক, আর তা না খেতে পেযেই মরুক,
সে-দিকে তাবা ভ্রক্ষেপও করবে না। কাজেই লাভ করবার
জন্যেই এই সব পণ্য ক্যাপিটালিষ্ট সমাজে তৈরী করা হয়
লাভই ক্যাপিটালিজমের প্রধান কথা , এই সকল পণ্য যে
মানুষেব ভাল ভাবে বেঁচে থাকবার জন্য দরকার সে কথাই
বড় কথা নয়।
মােটামুটি ভাবে ক্যাপিটালিষ্ট, সমাজের একটা সংজ্ঞা
আমরা এখন দিতে পাবি। যে সমাজে উৎপাদন যন্ত্রগুলি
ব্যক্তিগত অধিকারে থাকে এবং যেখানে একমাত্র লাভের
জন্যই পণ্য তৈরী হয়, সেই সমাজকে আমরা ক্যাপিটালিষ্ট সমাজ বলতে পারি। উৎপাদন-যন্ত্র যখন এইরূপ ব্যক্তিগত অধিকারে থাকে, এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য যখন তা দিয়ে পণ্য তৈরী হয়, তখন, সেই উৎপাদন-যন্ত্রগুলােকে বলা হয পুজি বা ক্যাপিটাল। যেমন, কারখানার মালিকেব “পুজি” হ’ল তাব কাবখানা। জমিদারের পুজি হ’ল তার জমি-জমা। সুদ- খােরের বা ব্যাঙ্কারের পুজি হল তার টাকা। আব খনির মালিকের পুজি হ’ল তাব খনি। এই সব পুজির মূল্য আবার টাকায় হিসাব করা যায়। মূল্য যদি হয় দশ হাজাব টাকা, তবে খনিৰ মালিকের দশ হাজার টাকা পুঁজি আছে বলা হয়। যেমন, খনিব ক্যাপিটালিজমের ফল? আগেই বলেছি লাভেব জন্য উৎপাদন-যন্ত্রে মালিক তাদেব ক্যাপিটাল বা পুজি খাটায। সমাজেব যাবা গবীব- লােক তার পেটের দায়ে বাধ্য হ'যে কল-কাৰখানায, খনিতে, জমিতে কাজ খুঁজতে আসে। কাবণ তাদের টাকা-কড়ি নেই , জমি-জমা নেই , ‘উৎপাদন-যন্ত্র’ কিছুমাত্র নিজেদের হাতে নেই, একমাত্র নিজেদের দেহ-ছাড়া তাদের আর কোন পুজি নেই যা খাটিয়ে তারা কিছু আয করতে পাবে। তাই তারা তাদের একমাত্র সম্বল শরীর খাটিয়ে বাঁচে।
৯
এরাই মজুর , এদেব তাই বলে সর্বহারা’, বা স্বশ্রমজীবী
( proletariat: প্রােলিটারিযেট) ক্যাপিটালিষ্টরা তাদের
কাছ থেকে তাদের এই পরিশ্রম করার শক্তি কিনে নেয় এবং
তা খাটিয়ে যথেষ্ট পৰিমাণে পণ্য তৈরী কবে বাজারে বিক্রী
কবে। বাজাবে পণ্য বিক্রী কবে মালিক যা টাকা পায়,
তা থেকে মজুবদের মাইনে হিসাবে কিছু দেয, এবং অন্যান্য
( যেমন কাচামালের দাম, ব্যাঙ্কেব কাছ থেকে ধার-কবা
টাকার সুদ ইত্যাদি) খবচপত্র বাদ দেয় , তাবপব যা বাকী
থাকে তাই হ’ল ক্যাপিটালিষ্টের লাভ।
ক্যাপিটালিষ্টের যা লাভ হয় তাব কতকটা সে নিজের,
তাব ছেলে-মেযের ও পবিবাবেব অন্যান্য সকলের জন্য খবচ
কবে এবং বাকীটা আবাব পুজি হিসাবে ব্যবসা-পত্রেই
খাটায়। এমনি ভাবে তাব কল-কাবখানা বড় হয, পুজি
বেড়ে যেতে থাকে, এবং যতই তার পুজি বেড়ে যায় ততই
আবাব তাব লাভের পবিমাণও বেড়ে যেতে থাকে। এমনি
ভাবে লাভ বাড়াতে পুজিও বাড়ে, এবং পুজি বাড়ায় লাভ
আরও বেড়ে যেতে থাকে। এই বর্ধিত পুজি খাটাবার
দবকাবও হয় তা খুব, এবং সুযােগও পায় সে যথেষ্ট।
বাজাবে অন্যান্য অনেক ক্যাপিটালিষ্ট থাকে, যাদের সঙ্গে
পণ্য বিক্রী করার জন্য তাকে প্রতিযােগিতা ক’বতে হয়।
এই প্রতিযােগিতায় সে-ই জিতে, যে সবচেয়ে কম দামে
জিনিস বিক্রী করতে পারে। এই জন্য সব ক্যাপিটালিষ্টরা
১০ চেষ্টা করে যাতে খুব কম খরচায খুব বেশী মাল তৈরী করতে পারে। তার জন্য তারা বৈজ্ঞানিকদের সাহায্যে নানা রকম নূতন নূতন কল ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার কবিযে তা পণ্য তৈরীর কাজে লাগায়। উদ্দেশ্য এই যে, এই সব যন্ত্রপাতি সাহায্যে শ্রমিকদের কাছ থেকে খুব কম সময়ে বেশী কাজ আদায কবিয়ে নিযে, খুব সস্তায় পণ্য তৈরী করা। পণ্য সস্তায় উৎপন্ন হলে বিক্রী কবাও যায সস্তায এবং সস্তা দরে পণ্য বিক্রী ক’বলে বিক্রীও হয় অনেক বেশী। কাবণ সবাই যাব জিনিসেব দাম কম, তার কাছ থেকেই কেনে। আব বিক্ৰী বেশী হলে সাধাৰণতঃ লাভও বেশী হয়। এই জন্য ক্যাপিটালিষ্টবা সব সময় চেষ্টা কবে তাদের পুজি বাড়াতে , কাবণ পুজি বাড়ালেই তাদের লাভ বাডে। দেখতে দেখতে ছােট কারখানা বড় কবখানা হ’যে পড়ে , নূতন নূতন কল- কজা বসে , যেখানে একশাে মজুর কাজ ক’বত, সেখানে হাজাব মজুর খাটতে থাকে। জিনিসপত্র তৈবীর নূতন নূতন কৌশল আবিষ্কার হয়। একদিকে যেমন ক্যাপিটালিষ্টদের পুজি, ধনসম্পত্তি, বেড়ে যেতে থাকে, অন্যদিকে আবার সমাজে দাবিদ্রও বেডে যেতে থাকে । যাদেব পুজি অল্প, তারা বড় পুঁজিওয়ালাদের সঙ্গে প্রতিযােগিতায় হেরে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে এবং মজুরদের দলে ভিড়ে যায়। এমনি ভাবে শ্রমিকদেব দল বেড়ে যেতে থাকে। অন্যদিকে কলকজা আবিষ্কার হওয়ায় ১১ কলেই সব কাজ করে দেয় , শ্রমিকদের আর দরকার হয় না বেশী। কাজেই শ্রমিকরা যেমন সংখ্যায় বেড়ে যায়, তেমনি তাদের কাজও কমে যায়। এইজন্য শ্রমিকবা যা পায় সেই মাইনেতেই কাজ করতে বাজী হয়। ক্যাপিটালিষ্টরাও সুবিধা বুঝে খুব কম মাইনে দেবার চেষ্টা কবে। কাবণ মাইনে যত কম দেবে, তত তাদেব পণ্য তৈবীর খবচ কম হবে এবং ততই লাভ বেশী হবে। সমাজে সেই জন্য অল্প কযেক- জন লােক খুব ধনী হয়ে ওঠে, আর বাকী সব লােক তাদের তুলনায় ক্রমেই গবীব হয়ে পড়তে থাকে। এমনি ভাবে সমাজে ক্যাপিটালিজম্ গােটাকযেক লােককে ধনী কবে বেশীর ভাগ লােককে গরীব কবে দিতে থাকে। এই হ’ল ক্যাপিটালিজমের প্রথম ফল। পুজিবাদ শুধু যে শ্রমিকদেব আয় কমিয়ে দিয়ে তাদের গরীব কবে দেয় তা নয়, সময সময় তাদেব আযেব পথ একেবারে বন্ধ কবে দিযে হাজারে হাজাবে তাদেব ভিক্ষুকে পরিণত কবে। আমবা দেখেছি, আমবা দেখেছি, বাজাবে জিনিসপত্র বিক্রী হলে তবে ক্যাপিটালিষ্ট তার লাভ আদায় করতে পাবে। কিন্তু বাজাবে পণ্য কেনে কাবা ? কিছু পণ্য ক্যাপিটালিষ্টরা নিজেই কেনে। আব বেশীর ভাগ কেনে শ্রমিক, কৃষক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লােকে। কিন্তু এদের আয যখন কমে যায়, তখন এ আর সব জিনিস কিতে পারে না। তার ফলে পণ্য বাজারে বিক্রী না হয়ে পড়ে থাকে। দোকানে,
১২
কারখানার গুদামে পণ্য বােঝাই হ'যে থাকে।
কিন্তু
ক্রেতাদের পকেটে পয়সা না থাকায ঐ সব জিনিসপত্র আর
বিক্রী হয় না। পণ্য বিক্রী না হওয়ায় ক্যাপিটালিষ্টদের
লাভ আব হয় না ববং লােকসান হতে থাকে। তখন
ক্যাপিটালিষ্ট বাধ্য হয়ে তার কাবখানা বন্ধ কবে দেয়।
কারণ বাজারেই যখন জিনিসপত্র অবিক্রীত অবস্থায় বােঝাই
হ’যে বযেছে, তখন আরও পণ্য তৈবী ক’বে লাভ কি ?
কাবখানাব পব কাবখানা বন্ধ হযে যায, ব্যাঙ্ক ফেল পড়তে
থাকে, হাজার হাজার শ্রমিক বেকাব হয়ে যায়। ক্যাপিটা-
লিজমের এই দুর্দশাকে বলা হয় “ব্যবসা-সঙ্কট”। ব্যবসা-
সঙ্কটের সময় শ্রমিকদেব দুর্দশাব একশেষ হয। ছেলেপুলে
নিযে, চেযেচিন্তে অতি কষ্টে আধপেটা খেযে, কোনদিন না
খেযে তাদেব দিন কাটে। এই শতাব্দীতেই তিনবার এইরূপ
ব্যবসা-সঙ্কট হযে গেছে। এ অবধি শেষবাবেব ব্যবসা-
সঙ্কট হযেছিল ১৯৩০ সালে। সে-বাবেব ব্যবসা-সঙ্কটে
একমাত্র আমেবিকার যুক্তবাষ্ট্রেই ১ কোটি ৩০ লক্ষ শ্রমিক
বেকার হয়ে গিয়েছিল। তাবা যে কি বকম ভাবে বেঁচে
থাকত, তার সঠিক কোন হিসেব পাওয়া যেত না। তাদের
ছোট ছেলে-মেয়েরা দোকানের ও গুদামেব আশেপাশে ঘুরে
বেড়াত। ডকের গুদামে নানা রকম খাদ্যদ্রব্য, ফলমূল মজুত
হয়ে থাকত। যখনই এখান থেকে পচে যাওযার জন্য বা
খারাপ হয়ে যাবার জন্য কোন কিছু বাইরে ফেলে দেওয়া
হত, তখনি বাইবের ছেলে-মেযেবা কুকুরে মত কাড়াকাডি
করে সেই খাবার বা ফল-মূল খেয়ে নিত। ( চালি
চ্যাপলিনেব “মডার্ণ টাইম” নামক ছবিতে এই বকম
মর্মান্তিক দৃশ্য তােমবা দেখতে পাবে।) এই রকম, একদিকে
যেমন যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য গুদামে ব'সে পচত, অন্যদিকে
লােকে ছেলে পুলে নিয়ে না খেয়ে মরত ,
একদিকে যেমন
গুদামে পােষাক-পরিচ্ছদ বােঝাই হযে থাকত, অন্যদিকে
লক্ষ লক্ষ লােক শীতে কষ্ট পেত। শিশুবা শীতের রাতে
ঠাণ্ডা হ'যে জমে যেত। বড় বড় বাড়ী খালি পড়ে থাকত,
অথচ লোকে আশ্রয শূন্য হযে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত।
এমন কি ক্যাপিটালিষ্টবা বাজার নষ্ট হয়ে যাবে বলে,
পণ্য কম দামে বিক্রী না করে বা বিনা পয়সায় পণ্য
বিলিযে না দিযে, সব সমুদ্রে ফেলে দিত বা পুড়িয়ে ফেলত।
প্ৰাচুৰ্য্য ও দারিদ্র্য ক্যাপিটালিজমেব কৃপায
পাশাপাশি অবস্থান করে। এই ব্যবসা-সঙ্কট ও লােকদের
বেকার কবে দেওযা হ'ল—ক্যাপিটালিজমের দ্বিতীয় ফল।
ক্যাপিটালিষ্ট এই ব্যবসা-সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাবার জন্য
বাড়তি জিনিসপত্র নষ্ট করে দেয়। উৎপাদন-যন্ত্রের খানিকটা
ধ্বংস করে ফেলে এবং আরও বেশী করে শ্রমিকদের কম
মাইনে দিযে, বেশী করে খাটাবার চেষ্টা করে। এব ফলে
উৎপাদন-যন্ত্র খাটিয়ে কিছু দিনের জন্য তাদের আবার বেশ
লাভ হতে থাকে। কিন্তু লাভ বেশ জেকে উঠবার আগেই
এই রকম
১৩
আবার ব্যবসা-সঙ্কট আবম্ভ হয়। এই রকম কিছুদিন
অন্তর অন্তর ব্যবসা-সঙ্কট ক্যাপিটালিজমের একটা বিশেষ
বীতি।
ক্যাপিটালিজমেব তৃতীয় ফল হচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতাব
অপপ্রযােগ। পুঁজিবাদী কল মালিকেরা যে পণ্য তৈরী করে
যত বেশী লাভ পাবে, সেই পণ্য তত বেশী তৈরী করবে।
কিন্তু এই লাভ আদায় করতে হলে তাকে উৎপাদিত পণ্য
বাজাবে বিক্রী করতে হবে। সুতরাং বাজারে যে জিনিসেব
বিক্রী নেই, সে জিনিস মালিকেবা কিছুতেই তৈরী ক’ববে
। সে জিনিস খুব আবশ্যকীয় হতে পারে, এমন কি
সে জিনিস না পেলে মানুষ মরে যাবে এমনও হতে
পারে , তবু কিন্তু পুজিবাদীরা তা তৈবী করবে না, যদি তা
বাজাবে বিক্রী কবে তা থেকে তাদের কিছু লাভ না হয।
এদিকে পুজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিক, কৃষক ও মধ্যবিত্ত
শ্রেণী ক্রমেই গরীব হয়ে পড়ে। তাই তারা তাদের
আবশ্যকীয় জিনিসপত্র বেশী দাম দিয়ে কিনতে পাবে না।
অপরদিকে ধনীদের হাতে যথেষ্ট পয়সা থাকায় তারা তাদের
আবশ্যকীয় জিনিসপত্র কিনতে ত পারেই উপরন্তু নানা-
প্রকার বিলাসিতাব জিনিসপত্রের জন্যও বিশেষ কবে তাগিদ
দিতে থাকে।
ফলে খাদ্যদ্রব্য, কাপড় ইত্যাদি বাচবাব পক্ষে
প্রথম আবশ্যক যে জিনিসগুলাে, সেগুলাে যথেষ্ট পরিমাণে
তৈরী না করে, পুঁজিবাদীরা মােটর গাড়ী, সুন্দর বাড়ী,
বেডিও প্রভৃতি বিলাসিতার জিনিসপত্র তৈরী কবায। কারণ
এগুলাে ধনীদের কাছে বেশ চড়া দামে বিক্রী হবে। তাতে
তাবা মােটা কাপড় ও খাদ্যদ্রব্য তৈবীর চাইতে অনেক
বেশী লাভ কবতে পাবে। পুজিবাদী-সমাজে তাই উৎপাদন
ক্ষমতা এমন ভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে মানুষেব সবচেযে
আগে যে জিনিসগুলো দরকার সেগুলাে তৈরী না হ’যে,
ধনীদেব বিলাসিতার খােবক যােগাবার জন্য জিনিসপত্র তৈরী
হয। ফলে একদিকে কোটী কোটী লােক বুভূক্ষিত ও
অর্ধনগ্ন থেকে যায় এবং অন্যদিকে বিলাসিতার চূড়ান্ত ব্যবস্থা
করা হয়। একটা উদাবণ দিচ্ছি :-১৯৩১-৩৩ সালে ভয়ঙ্কর
ব্যবসা-সঙ্কট হযেছিল বলেছি। তাতে সমস্ত পৃথিবীতে
কোটী কোটী লােক বেকার হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে
বিলাতেব অষ্টিন মােটবকাব কোম্পানী গর্বেব সঙ্গে তাদের
ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী লাভ ঘােষণা কবে। কাবণ ধনীদের
হাতে তখন বিস্তব টাকা। ব্যবসাযে সে টাকা বা খাটাতে
পাচ্ছিল না অন্যান্য ব্যবসায়ে লাভ কমে গেছে বলে। তাই
মােটরগাড়ী কিনে ও অন্যান্য বিলাসিতায় তারা সে টাকাটা
খরচ ক'বেছিল। আর অষ্টিন কোম্পানীও মােটরগাড়ী
তৈবী ক’বেছিল খুব।
ক্যাপিটালিজমের চতুর্থ ফল হচ্ছে যুদ্ধ। যুদ্ধ কেন
হয, তার কারণ আমবা এব পরেব অধ্যাযে এখন আলােচনা
করব ।
[ দুই ] ইম্পেরিয়ালিজম বা সাম্রাজ্যবাদ আমরা দেখেছি পুঁজিবাদেব একটা বিশেষ প্রকৃতি হ’ল খুব দ্রুত পুজিব পবিমাণ বেড়ে যাওযা। পুজিব পবিমাণ বেড়ে যাওযাতে নূতন নূতন কলকজা নূতন নূতন উৎপাদন- কৌশল আবিষ্কার হয়, এবং এব ফলে সমাজে যথেষ্ট পরিমাণে পণ্য তৈবী হতে থাকে। কিন্তু ক্যাপিটালিষ্টেব আয যে বকম পবিমাণে বাড়ে শ্রমিক, কৃষক কৃষক ও মধ্যবিত্ত লােকদেব আয় সে বকম বাড়ে না। কাজেই পুজি বেড়ে গিয়ে অনেক বেশী বেশী জিনিসপত্র তৈবী হয বটে, কিন্তু লােকেব সেই সব জিনিসপত্র কিনব ক্ষমতা তেমন বাড়ে না। এব ফলে, আমবা দেখেছি, ব্যবসা-সঙ্কট উপস্থিত হয়। অর্থাৎ বাজাব অবিক্রীত পণ্যে বােঝাই হযে যায়। দোকানে, দোকানে, গুদামে, গুদামে জিনিস- পত্র বােকই হয়ে পড়ে থাকে। হাজার অভাব থাকলেও, হাজাব ক্ষুধা থাকলেও খাদ্য ও ক্ষুধিতের মধ্যে টাকায প্রাচীব ব্যবধান সৃষ্টি কবে রাখে। এদিকে এই সব পণ্য বিক্রী না হলে ক্যাপিটালিষ্টদেব লাভ আদায কবা হয । নিজেদের দেশের বাজারে যখন আর এই সব পণ্য
বিক্রী হয় না, বাধ্য হযেই পণ্য বিক্রী করার জন্য
ক্যাপিটালিষ্টরা বাজাবেব খােজে বিদেশে বার হয়ে পড়ে।
বাজারের খোঁজ ক’বতে করতে এবং কি রকম দেশে এসে
হাজির হয় ?
যে দেশে ক্যাপিটালিষ্ট প্রথায় জিনিসপত্র
তৈরী হয়, সে-রকম দেশে এসে তাদের কোন লাভ
হয় না। কাবণ
এ-সব দেশগুলােতে তাদের দেশের
মতই অবিক্রীত পণ্যে বাজার বােঝাই হয়ে থাকে।
সেখানে পণ্য বিক্রী করার কোন আশা থাকে না। কাজেই
এরা, সেই সব দেশে এসে ভীড় কবে, যে সব দেশে
এখনও ক্যাপিটালিষ্ট প্রথা যথেষ্ট আঁকড়ে ধরেনি। এই
সব পেছনে-পডে-থাকা অ-ক্যাপিটালিষ্ট
দেশগুলােতে
ক্যাপিটালিষ্টবা তখন তাদেব অবিক্রীত পণ্য নিয়ে হাজির
কবে এবং সেখানে সব বিক্রী কবার চেষ্টা করতে থাকে।
সব ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলােই যে যার পণ্য নিয়ে এসে এদের
কাছে বিক্রী করতে চায়। এই নিয়ে বিভিন্ন দেশের
ক্যাপিটালিষ্টদের ভেতর প্রতিযােগিতা আরম্ভ হয, ঝগড়াঝাটি
হতে থাকে। তখন তারা এই দেশগুলাের গভর্ণমেন্ট
অধিকার কবাব চেষ্টা করতে থাকে। কাবণ গভর্ণমেন্ট
যে জাতির ক্যাপিটালিষ্টদের হাতে থাকবে, সে জাতির
ব্যবসা-বাণিজ্যে খুব সুবিধে হবে; এবং এই গভর্ণমেন্টের
ক্ষমতা লাগিয়ে অন্য দেশের ক্যাপিটালিষ্টদের যথেষ্ট
নাস্তানাবুদ করা যাবে। ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলাে তখন
২
১৮
যুদ্ধ কবে এই সব অ-ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলােকে হস্তগত
'করে নেয়। এই রকম ভাবে কোন পেছনে-পডে-থাকা,
অ-ক্যাপিটালিষ্ট দেশ যখন কোন ক্যাপিটালিষ্ট দেশের
হাতে চলে যায়, তখন এই অধিকৃত পেছনে-পডে-থাকা
দেশকে বলা হয়, ঐ অধিকারী ব্যাপিটালিষ্ট দেশের
“কলােনী” বা “উপনিবেশ।”
সব ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলোবই ক্যাপিটাল বেডে শিফ
গিয়ে এমন একটা অবস্থায় এসে পড়তে হয়, যখন তাদের
বাজাবে আব তাদের পণ্য বিক্রী করা সম্ভব হয় না।
তখন বাধ্য হয়েই তাদের কলােনীর খোঁজে বেরুতে হয়।
ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলােব বাজাব হিসেবে ব্যবহৃত হওযাই
হল কলােনীব প্রথম আবশ্যকতা। এছাড়াও কলােনীর
ক্যাপিটালিষ্ট দেশের জন্য অন্যান্য কতকগুলো প্রযােজন
আছে। প্রথমতঃ, কলােনী থাকলে ক্যাপিটালিষ্ট দেশের
কাবখানাগুলাের জন্য খুব সস্তা দামে এখান থেকে কঁাচা-
মাল পাওযা যায। সস্তা-দামে কঁচা-মাল পেলে, পণ্য
তৈবীব খরচাও কম হয় , এবং পণ্য তৈরীব খবচা কম
হলে পণ্যের দামও কম কৰা যায। আর দাম কম হলে
বিক্ৰী বেশী হয় , এবং বিক্ৰী বেশী হলে লাভও বেশী হয়।
দ্বিতীয়তঃ, ক্যাপিটালিষ্ট দেশের মজুবদের জন্য সন্তা-দামে
খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায়। তার ফলে মজুদেব মাইনে কম
করে দেওয়া যায়। কারণ খাবার জিনিসপত্রের দাম বেশী
হতো, শ্রমিকদের মাইনেও বাড়াতে হয়, তা না হলে না
খেযে মজুররা মারা যায়। আর খাবার-দাবার সস্তা
হলে মজুদেব মাইনেও কম কবে দেওয়া যায়। তৃতীয়ত,
দেশে ক্যাপিটাল খুব বেড়ে গেলে, নূতন ক্যাপিটাল
খাটাবার আব সুবিধে থাকে না। নূতন কোন কারখানা
খুললে তাতে বেশী লাভ হয় না। ক্যাপিটালেব পরিমাণ
বেশী হ'যে গেলে, লাভের হারও কমে যেতে থাকে। কাজেই,
দেশে ক্যাপিটাল খাটান আব লাভজনক হয় না। তখন
ক্যাপিটাল খাটাবার জন্য ক্যাপিটালিষ্টব জায়গা খুঁজতে
থাকে । বস্তুতঃ তাদের অধিকারে যে সব কলােনী আছে,
সেই সব কলােনীতেই তারা তাদের এই
এই বাড়তি বা
উদ্বৃত্ত ব্যাপিটাল খাটাবাব সবচেযে নিবাপদ ও ভাল
জাযগা পায়। কাবণ এখানে তাদেবই গভর্ণমেন্ট তার
সমস্ত সৈন্য-সামন্ত নিয়ে তাদেব ক্যাপিটাল রক্ষা ক’ববে।
অন্য কোন জাতিব কলােনীতে সে সুবিধা নাও পেতে
পারে। উদ্বৃত্ত ক্যাপিটাল খাটানােব ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার
করা হ’ল কলােনীব তৃতীয় আবশ্যকতা। চতুর্থতঃ, কলােনী
থাকলে ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলাের বেকার সমস্যা একটু
লাঘব হয়। ওদেব দেশের বেকাব লােকেরা কলােনীতে
গিয়ে নানা ভাবে যথেষ্ট আয় ক’বতে পারে। পঞ্চমতঃ,
কলােনী থাকলে, দেশের শ্রমিকদেবও বেশ বশে রাখা যায়।
কাবণ কলােনীতে পণ্য বিক্রী করে প্রচুর লাভ হয়।
২০
এই লাভের এক অংশ দিয়ে শ্রমিকদের হাতে রাখা যায়।
এর ফলে শ্রমিকরা ক্ষেপে গিয়ে দেশে কোন গােলমাল
করে না বা বিপ্লব আনে না। এই সব কারণে ক্যাপিটালিষ্ট
দেশগুলাের কলােনীর খুব দরকার। কলােনী না পেলে
উদবৃত্ত পণ্য বিক্রী হয় না, উদ্বৃত্ত মাল বিক্রী না হলে
কল-কারখানা সব বন্ধ থাকে , কল-কারখানা বন্ধ থাকলে
শ্রমিকরা বেকার থাকে , শ্রমিক বেকার থাকলে, আর
খেতে না পেলে, রেগে গিয়ে বিপ্লব কবে ক্যাপিটালিষ্টদের
হাত থেকে গভর্ণমেন্ট কেড়ে নিয়ে নিজেদেব গভর্ণমেন্ট স্থাপন
কবে ক্যাপিটালিষ্টদের ধ্বংস করে দিতে পারে। কাজেই
কলােনী না পেলে ক্যাপিটালিজম্ টিকতে পারে না।
তাহলে ইম্পেবিযালিজমের মােটামুটি একটা সংজ্ঞা
আমরা এখন দিতে পাবি। কোন ক্যাপিটালিষ্ট দেশ
যখন উদ্বৃত্ত মাল বিক্রীর জন্য, উদ্বৃত্ত ক্যাপিটাল খাটাবার
জন্য, সস্তায় কাঁচামাল ও খাদ্যদ্রব্য কেনবার জন্য, কোন
পেছনে-পডে থাকা, অ-ক্যাপিটালিষ্ট দেশ দখল করে নেয়,
তখন সেই দখলকারী দেশকে বলা হয় সাম্রাজ্যবাদী-দেশ;
আর যে দেশ দখল করে নেয়া হয়, সে দেশকে বলা
হয় তার কলােনী।
সাম্রাজ্যবাদের প্রথম কাজই হ’ল কলােনীকে নিজের
দেশেব মালপত্র বিক্রী করবার জন্য বাজার হিসেবে ব্যবহার
করা। কাজেই কলােনীর সাম্রাজ্যবাদী গভর্ণমেন্ট কখনাে
কলােনীতে এমন কোন পণ্য যথেষ্ট পরিমাণে তৈরী করতে দিতে চায় না, যা তাদের দেশেও তৈরী হয়। এই জন্যে কলােনীতে খুব ভাল করে বর্তমান যুগের বড় বড় কল- কাবখানা বসিয়ে জিনিসপত্র তৈবী করবার ব্যবস্থা হয় না। তাদের শুধু খাদ্যদ্রব্য ও কাচামাল তৈরী করতে উৎসাহ দেওয়া হয় , এবং ছােটোখাটো কল-কারখানা কিছু করতে দেওযা হয়। এব ফলে, এবং লােকসংখ্যা বেড়ে যাওযার ফলে, দেশের লােকের দুর্দশার একশেষ হয। তাদের দারিদ্র্য ক্রমেই বেডে যেতে থাকে। ব্রিটেন একটা সাম্রাজ্যবাদী দেশ আর ভারতবর্ষ তার একটা কলােনী। ভাবতবর্ষের লােকদের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবে, এ-কথা কত সত্যি। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী-দেশের ক্যাপিটালিষ্ট যে একটু নিশ্চিন্তে ব'সে কলােনীর লােকদেব শােষণ করবে, তার অবসরও তারা পায় না। যে-সব ক্যাপিটালিষ্টদেশগুলাের কলােনী নেই, আমরা আগেই দেখেছি, কলােনীর জন্য তাব কাতর হযে পড়ে, এবং ইম্পেরিযালিষ্টদের দ্বারা অধিকৃত কলােনীর দিকে লােলুপ দৃষ্টিতে তাকাতে থাকে, আর ইম্পেরিযালিষ্টদের কাছ থেকে এই কলােনীগুলাে কেড়ে নেবার জন্যে গােপনে গােপনে যােগাড়যন্ত্র করতে থাকে। তারপর যখন তাদের যােগাড়যন্ত্র শেষ হযে যায়, তখন সুযােগ বুঝে, ইম্পেরিযালিষ্ট দেশগুলাের উপর
২২
ঝাঁপিয়ে পড়ে। কলােনীওয়ালা ইম্পেবিযালিষ্ট দেশে ও
কলােনী-হীন ক্যাপিটালিষ্ট দেশের
ক্যাপিটালিষ্ট দেশের ভেতরে তখন ভীষণ
যুদ্ধ আরম্ভ হযে যায। বৈজ্ঞানিকদের সাহায্য নিয়ে দুই
দেশের ক্যাপিটালিষ্টবাই মানুষ খুন করবাব যন্ত্রপাতি ও
কল-কৌশল আবিষ্কার করে, ও সে-গুলােব সাহায্যে লক্ষ লক্ষ
লােকের এমন কি ছােট ছােট ছেলে-মেযেদেব বধ কবে,
তাদেব নিবাপরাধ বক্তে সবুজ পৃথিবী লাল করে দিযে
নিজেদেব লাভ ক’ববার প্রচণ্ড লােভ পূর্ণ করতে চেষ্টা
করে।
যুদ্ধ কিন্তু একবার হ'যেই শেষ হয়ে যায় না।
সব ক্যাপিটালিষ্ট দেশ যুদ্ধে হেবে যায়, তাদের কলােনীগুলাে
যাবা জিতে, তাবা নিয়ে নেয়। কিন্তু আমবা আগেই
আলােচনা ক'বেছি—কলােনী না হলে ক্যাপিটালিজ
বাঁচতে পারে না। তাই হেরে গেলেও এই সব হেবে-
যাওযা-দেশগুলাের কলােনীব দরকার দূর হয় না। কাজেই
কিছু দিনের ভেতরই তারা আবার কলােনী-লাভের জন্যে
উঠে-পড়ে লাগে। আবার যুদ্ধ হয়। এমনিভাবে চলতে
থাকে যুদ্ধ ও কলােনীর ভাগাভাগি ।
লাভের জন্য পণ্য তৈরী কবাই হ’ল ক্যাপিটালিজমের
মূলসূত্র। এই লাভের জন্য পণ্য তৈরী হয় বলেই জনসাধাৰণ
ক্রমেই গরীব হয়ে পড়তে থাকে, আব ধনীদের পুজি বেডে
যেতে থাকে। এর ফলে পণ্য যথেষ্ট পরিমাণে তৈরী হয়,
কিন্তু বিক্রী হয় না। বাজার পণ্যে বােঝাই হযে
যায় , ব্যবসা-সঙ্কট ও বেকার-সমস্যা দেখা দেয়। তখন
ক্যাপিটালিষ্টরা কলােনীর খোঁজে বেরােয়। কলােনর খােজ
পেলে সাম্রাজ্যবাদ জন্ম নেয়। সাম্রাজ্যবাদের ফলে আসে
যুদ্ধ। কাজেই যুদ্ধের মূল কারণ হচ্ছে সেই উৎপাদনযন্ত্রে
ব্যক্তিগত অধিকার ও লাভের জন্য পণ্য উৎপাদন। এই
দুইটি জিনিস যেদিন নষ্ট কবা যাবে, সেদিন যুদ্ধবিগ্রহও
আব থাকবে না। তা না হলে কিছুদিন অন্তর অন্তব যুদ্ধ
হওযা অনিবার্য।
[ তিন )
ফ্যাসিজ বা ফ্যাসিবাদ
তােমবা হয়ত শুনে থাকবে এই মহাযুদ্ধের আগে
১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সাল অবধি আর একটা যুদ্ধ
হযেছিল। এই
যুদ্ধ
হযেছিল প্রধানতঃ কলােনীওয়ালা
ইংরাজ ও ফবাসীর সঙ্গে কলোনী-হীন জার্মানীর। ইংবাজ ও
ফবাসীবা জয়লাভ করবে এই ভেবে রুশদেশ ও ইটালী
কলােনীৰ আশায় তাদেব দলে যােগ দেয, এবং তুরস্ক
যােগ দেয জাৰ্মানীৰ দলে। যুদ্ধের শেষের দিকে আমেরিকা
এসে যােগ দিযেছিল ইংবাজ ও ফবাসীদের দলে। যুদ্ধে
জার্মানী হেরে যায় । তার সব কলােনীগুলাে ইংরাজ ও
২৪
ফরাসীরা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেষ। ইটালীর ভাগে
বিশেষ কিছুই দেয় না; এবং রুশদেশে বিপ্লব হয়ে
ক্যাপিটালিষ্টদের হাত থেকে ক্ষমতা শ্রমিকদের হাতে চলে
যাওযায, রুশদেশকে ‘ভদ্র’ ক্যাপিটালিষ্ট সমাজ থেকে
বিতাড়িত করা হয়। এইরূপে ইটালী ও জাৰ্মানী প্রায়
কলােনী-হীন দেশই থেকে যায়।
কিন্তু যুদ্ধের পর থেকেই সব ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলােতে
ভাঙ্গন লাগে। যুদ্ধের পরই আবম্ভ
আবম্ভ হয় ব্যবসা-সঙ্কট ।
হাজারে হাজাবে শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। কলােনী-
ওয়াল ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলাে কলােনী থাকায় অবস্থা
কতকটা সামলে নেয়। কিন্তু কলােনী-হীন দেশগুলাের
দুর্দশার চরম হতে থাকে। ইটালীতে শ্রমিকরা ক্ষেপে
গিযে কল-মালিকদের তাড়িয়ে দিয়ে কল-কারখানা অধিকার
করে বসে। শ্রমিকদেব এই আন্দোলন দেখে ক্যাপিটালিষ্টব।
ঘাবড়ে যায়। তারা তখন শ্রমিকদেব জব্দ কবে নিজেদের
সম্পত্তি বক্ষার জন্য উঠে-পড়ে লাগে। এই কাজের জন্য
একজন উপযুক্ত লােকের সন্ধানও তারা পায়। তার
নাম মুসােলিনী। মুসােলিনী আগে শ্রমিকদেরই একজন
নেতা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ আরম্ভ হ'লে ক্যাপিটালিষ্টদের
পক্ষে গিযে নিজে যুদ্ধে যােগ দেয় এবং শ্রমিকদেরও যুদ্ধে
যােগ দিতে বলে। এর ফলে শ্রমিক দল থেকে তাকে
তাড়িয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধ থেকে এসে কি করবে সে
ভাবছিল, এমন সময শ্রমিকদের আক্রোশ থেকে
ক্যাপিটালিষ্টদের রক্ষার ভার তাব ওপরে পড়ে। সে তখন
শ্রমিকদের জব্দ করার জন্য একটা দল তৈরী করে। এই
দলের নাম হল “ফ্যাসিষ্ট” দল। দেশের সকল ধনীরা
এই দলকে সাহায্য ক’বতে থাকে। এর ফলে কিছু দিনের
ভেতবই ফ্যাসিষ্ট-দল বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কিন্তু
শ্রমিকবা এই ফ্যাসিষ্ট-দলকে সায়েস্তা ক’ববার জন্য উপযুক্ত
ব্যবস্থা ক’বতে পারল না। তাদেব নেতারা নিজেদের নেতৃত্ব
বজায় রাখার জন্য শ্রমিকদেব একসঙ্গে মিলিত করে
ফ্যাসিষ্টদেব বিরুদ্ধে দলবদ্ধ করল না। ছােট ছােট দলে
বিভক্ত হয়ে নিজেদের ভেতব গােলমাল করেই তারা
তাদের শক্তি ক্ষয় করল। ফলে ফ্যাসিষ্টর অনায়াসে
শ্রমিকদের পরাজিত করে দিল। ফ্যাক্টবী থেকে শ্রমিকদের
বিতাড়িত ক'বে দিল, শ্রমিকদেব দলগুলােকে জোর করে
ভেঙ্গে দিল, তাদেব শ্রমিকস বা ট্রেড ইউনিয়নগুলােও
ভেঙ্গে দিল এবং শ্রমিক নেতাদের মেরে ফেলল, কাউকে
জেলে পুরে দিল, কেউ বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল।
এইরূপে অত্যন্ত
নৃসংশতার সঙ্গে শ্রমিক-আন্দোলনকে
পরাজিত করে, তারা ধনী-শ্রেণীর আশীৰ্বাদ লাভ করল
এবং ধনী-শ্রেণীব সম্পত্তি রক্ষার পাহারাদাব হিসেবে ধনীরা
তাদের হাতে দেশের গভর্ণমেন্ট তুলে দিল। মুসসালিনী
ফ্যাসিষ্টদলের নেতাদের নিযে “ফ্যাসিষ্ট গ্রাণ্ড, কাউন্সিল” নামে
এক বৈঠক রচনা করে তাদের সাহায্যে দেশের একচ্ছত্র
শাসক হযে গেল।
শ্রমিক-আন্দোলন যাতে আবার মাথা তুলে না দাড়াতে
পারে, এবং কৃষকদেব ভেতবও যাতে অসন্তোষ বেডে না
যায়, তার জন্য তাদেব কল মালিকদেব ও জমিদাবদেব
আওতায কতকগুলাে সঙ্ঘ ক'বে তার ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া
হ'ল। এই সঘগুলােব নাম দেওযা হ’ল “কবপােরেশন।”
এই কবপােবেশন তৈরী কবে দেশ থেকে বিপ্লবের সম্ভাবনাকে
সম্পূর্ণরূপে দূর করবাব একটা বন্দোবস্ত করা হ’ল। শ্রমিক
বিপ্লব থেকে ক্যাপিটালিষ্টদের বাঁচান হ’ল ফ্যাসিজমেব
প্রথম কাজ। কলােনীহীন দেশগুলােয় ফ্যাসিজমেব দ্বিতীয়
কাজ হ’ল কলােনী আদায কবা। আমবা আগে দেখেছি,
কলােনী না হলে ক্যাপিটালিজম্ বাঁচতে পারে না।
কলােনী না পেলে ব্যবসা-সঙ্কট দেখা দেয়, হাজার হাজাব
শ্রমিক বেকার হয়ে যায়, শ্রমিক আন্দোলন শক্তিশালী
হ'যে ওঠে। অবশেষে শ্রমিকরা ক্ষেপে গিয়ে ক্যাপিটালিষ্টদের
হাত থেকে গভর্ণমেন্ট কেড়ে নিয়ে উৎপাদন যন্ত্রগুলাে
তাদেব নিজেদেব ক'বে নেয়। এইজন্য কলােনী না হলে
ক্যাপিটালিজম্ বেশী দিন টিকতে পাবে না। ফ্যাসিষ্টবা
যদিও শ্রমিক আন্দোলন জোব করে ভেঙ্গে দিল, কিন্তু
শ্রমিক আন্দোলন যার জন্য সৃষ্টি হয় সেই মূল কারণ দূব
করতে পারল না। কারণ,
সেই
মূল কারণ হচ্ছে
২৭ ক্যাপিটালিজ এবং ফ্যাসিষ্টদের সৃষ্টি হযেছিল শ্রমিকদের আক্রমণ থেকে ক্যাপিটালিজমকে বক্ষা কবার জন্য। কাজেই-শ্রমিক-কৃষকদেব ক্রমেই গরীব হ'যে যাওয়ার জন্য ব্যবসা-সঙ্কট, হাজার হাজার শ্রমিকদেব বেকার হয়ে যাওয়া- ক্যাপিটালিজমের এই সব সমস্যা দূর করা গেল না। ফ্যাসিষ্টবা তখন কলােনর খোঁজে বেরুল। আমরা আগেই দেখেছি, কলােনী থাকলে এই সব সমস্যা অন্ততঃ কিছু দিনেব জন্য সমাধান করা যায়। কিন্তু গােলাকার পৃথিবী তো আব সীমাহীন নয়, যে নূতন দেশ খুজলেই পাওয়া যাবে ? কলােনীব উপযুক্ত যে সব দেশ ছিল, তা ইংরেজ ও ফবাসীবা ইতিমধ্যেই দখল কবে নিয়েছিল। কাজেই তাদেব সঙ্গে যুদ্ধ ছাড়া আর গতি নেই। সুতবাঃ “যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও”—এই হ’ল ফ্যাসিষ্টদের মূলমন্ত্র। দেশকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত কবাই হ’ল তাদের দ্বিতীয় কাজ। এই উদ্দেশ্যে তারা যুদ্ধে জয়গান গাইতে শুরু ক’বল। ১৯১৪-১৯১৮ সালের যুদ্ধের নৃসংশতা ও বৰ্ব্ববতা দেখে লােকেব মনে যুদ্ধে প্রতি একটা আন্তরিক ঘৃণা জন্মে গিয়েছিল। সেই ঘৃণার ভাব দূর কবে যুদ্ধের জন্য তাদের আবার ক্ষেপিযে তােলবার জন্য ফ্যাসিষ্ট প্রাণপণে প্রচার কাৰ্য্য আরম্ভ ক’বল। খুব ছােট ছােট ছেলেদেরও যুদ্ধ- ভাবাপন্ন করে তুলবার জন্য ইস্কুল থেকেই তাদেব শেখান হ’তে লাগল, “যুদ্ধ মানুষকে সভ্য কবে, শান্তি মানুষকে অমানুষ করে দেয়।” “দেশের জন্য (অর্থাৎ কলােনীর জন্য ) যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দেওয়ার চেযে, গৌরবময় মৃত্যু আর হতে পারে না” ইত্যাদি। সব জায়গায় যুবকদের যুদ্ধ শেখান হতে লাগল। কলকারখানায় গােলাবারুদ ও যুদ্ধে জিনিসপত্র বেশী কবে তৈরী ক’বতে লাগল। ইটালীতে যে যে কাবণে ফ্যাসিজম্ দেখা দিল, रिक সেই সেই কাৰণেই জার্মানীতেও ফ্যাসিজম্ দেখা দিল। শুধু এখানে ফ্যাসিজ, ফ্যাসিজম্ নাম না নিয়ে, নাৎসীজ নাম নিল। কিন্তু ফ্যাসিজম্ ও নাৎসীজমেব ভিতব আসল ব্যাপাবে কোন রকম বিভিন্নতা নেই। নাৎসীবাদ শুধু ফ্যাসিবাদ থেকে আবও বেশী উগ্র, আরও বেশী নৃশংস । ১৯১৮ সালের যুদ্ধের শেষের দিকেই জাৰ্মানী শ্রমিকরা যুদ্ধে অসহ্য দুঃখ-কষ্ট সহ্য ক’বতে না পেবে, বিদ্রোহ কবে। কিন্তু কযেকজন শ্রমিকনেতাব বিশ্বাসঘাতকতাব ফলে এবং ইংরাজ ও ফবাসী ক্যাপিটালিষ্টদেব চাপে শ্রমিকদের হাতে ক্ষমতা আসে না, ক্যাপিটালিষ্টদের হাতে থেকে যায়। ক্যাপিটালিজ থেকে যাওযার ফলে জনসাধাবণেব দাবি- বৃদ্ধি, ব্যবসা-সঙ্কট, অবিক্রীত মালে বাজাব বােঝাই হযে যাওয়া, বেকার শ্রমিকদের সংখ্যাবৃদ্ধি ইত্যাদি সকল লক্ষণ- গুলােই প্রকাশ পেতে থাকে। এব উপরে আবার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে অনেক টাকা বছরে বছরে ইংরাজ ও ফরাসীরা আদায় করে নেওয়ায় জনসাধারণের দুর্দশা আরও
২১
বেড়ে যায়। জার্মানীর কোন কলােনী না থাকায় এই সব
সমস্যার আংশিক সমাধানও হয় না। জনসাধারণের ভেতর
অসন্তোষ ক্রমেই বেড়ে যেতে থাকে। এর উপরে আবার
মরার উপর খাড়ার ঘার মত ১৯৩১ সালের প্রচণ্ড ব্যবসা-
সঙ্কট এসে জাৰ্মানীর লােকদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে দেয়।
চারিদিকে অসন্তোষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা এই
দুর্দশা হতে বাঁচবার উপায় হিসেবে ক্যাপিটালিজমের ধ্বংস
দাবী কবে , আর ক্যাপিটালিষ্টবা দাবী করে কলােনী ও
শ্রমিক-আন্দোলনের ধ্বংস। শ্রমিক ও ধনিকের যুদ্ধ তীব্র
হ'তে তীব্ৰতব হ'তে থাকে। ধনী-শ্রেণী হিটলারের দলবলের
ভেতব তাদের পবিত্রাণ দেখতে পায়।
যুদ্ধে হেবে গিয়ে
হিটলাব “নাৎসী” বা “জাতীয় সােসালিষ্ট” নাম দিয়ে একটি
দল খোলে। ১৯৩১ সাল অবধি জার্মানীতে তারা বিশেষ
পাত্তা পেত না। কিন্তু ১৯৩১ সাল থেকে জার্মানীর
ক্যাপিটালিষ্টবা দেখল যে শ্রমিকরা যে-বকম সঙ্ঘবদ্ধ হযে
যাচ্ছে তাতে শ্রমিক-আন্দোলন শীঘ্র ধ্বংস করে না দিলে
তাদের আব বক্ষা নেই। তাই হিটলারের দলকে তারা
সাহায্য ক’বতে লাগল। শুনা যায় ব্রিটেনেব ও ফ্রান্সের
ক্যাপিটালিষ্টবাও হিটলাবকে টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য
ক'বেছিল, যাতে জার্মানীতে শ্রমিকরা কমলাভ না
ক’বতে পাবে। এই সব সাহায্যের ফলে হিটলারের নাৎসী
দল বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠতে লাগল। শ্রমিকরা কিন্তু
তাদেব এ-বিপদের কথা বুঝতে পাবল না। জার্মানীতে
তখন দুটো বড় শ্রমিকদল ছিল, একটা নাম “সােল
ডেমােক্রাটক” দল ও অপবটার নাম “কমুনিষ্ট” দল।
সােল ডেমােক্রাটীক দল ক্যাপিটালিজম্ একেবাবে ধ্বংস
কবে না দিযে তাব সঙ্গে রফা করে ধীবে ধীবে শ্রমিকদেব
ক্ষমতা বাড়াবাব পক্ষপাতী ছিল। অন্যদিকে কমুনিষ্ট
ক্যাপিটালিষ্টদেব ধ্বংস কবে দিয়ে শ্রমিক গভর্ণমেন্ট স্থাপন
কবাব পক্ষপাতী ছিল। এই নিয়ে এ-দু’দলে ঝগড়াঝাঁটি
লেগেই ছিল। কিন্তু এব ফল হ’ল খুব খারাপ , শ্রমিক
বিভক্ত হ'যে বইল। এদিকে ক্যাপিটালিষ্টব। ক্রমেই
নাৎসীদলে সঘবদ্ধ হতে লাগল। কিন্তু হাজাব সঘবদ্ধ
হলেও দেশে ক্যাপিটালিষ্ট থাকে আব ক’জন? খুব অল্প
ক’জন। কাজেই তারা অন্যান্য শ্রেণীর সহযােগিতা না
পেলে এবং শ্রমিকদেব ভেতব বিভেদ সৃষ্টি কবে দিতে না
পাবলে বিশেষ কিছু ক’বতে পাবে না। কাজেই অন্যান্য
শ্রেণীর লােকের সহানুভূতি পাবার জন্য চালাক হিলাব তাৰ
দলের প্রােগ্রামের ভেতর সব শ্রেণীব লােকের দাবী দাওযা
কিছু কিছু ঢুকিয়ে নিল। যেমন কৃষকদেব তুষ্ট ক’ববার জন্য
বলল, “কৃষকদের ফসলের উপযুক্ত দাম দিতে হবে,” “কৃষকদের
সুদের হার কম করে দিতে হবে।” শ্রমিকদেব সন্তুষ্ট
ক’ববার জন্য বলল, “ক্যাপিটালিজমেব বিবােধিতা করতে
হবে।” ছােট ঘােট দোকানদারদের হাত ক’ববার জন্য বলল,
“বড় ব্যবসাদারদের ক্ষমতা লােপ করতে হবে” ইত্যাদি। এছাড়া প্রত্যেক জাৰ্মানই ভাসই-সন্ধি-পত্রের (গত ১৯১৪- ১৮ এ যুদ্ধে পৰাজয় স্বীকার কবে ইংরাজ ও ফরাসীদেব সঙ্গে জাৰ্মানী যে সন্ধি কবে) বিরুদ্ধে মনে মনে বিদ্বেষ পােষণ করত। হিটলাব তাই ভাসাই-সন্ধি-পত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাতে লাগল। যিহুদীদের বিরুদ্ধে ইউরােপের লােকেব অনেকদিন থেকে ঘৃণাভাব আছে, সেই ঘৃণা- ভাবটাকেও কাজে লাগাল। দেশের যত কিছু দুঃখ, দুর্দশা তার কাবণ হিটলাব প্ৰচাৰ ক’বতে লাগল ভাসাই-সন্ধি, যিহুদী ও কমুনিষ্টরা। এমনি কবে জনসাধারণেব বাজ- নৈতিক অজ্ঞতা ও কুসংস্কাব ভাঙ্গিযে নাৎসীবা দলে লােক সংগ্রহ ক’বতে লাগল। ১৯১৯ সালের পর থেকে জার্মান আইন-সভাব প্রত্যেক নির্বাচনে হিলাবেব নাৎসীদলেব ও কমুনিষ্টদলে ভােট সংখ্যা বেড়ে যেতে লাগল এবং জার্মানীর অন্যান্য দলগুলোেব ভােট সংখ্যা কমে যেতে লাগল। থেকে বােঝা যায় ধনিক ও শ্রমিকের ঝগড়া অত্যন্ত তীব্ৰ হ'যে উঠেছিল এবং জার্মানীব প্রত্যেকেই হয ধনীর দিকে কিম্বা শ্রমিকেব দিকে যােগ দিচ্ছিল। দেশেব শ্রেণী-সংগ্রাম যখন এই বকম তীব্র হযে উঠল, তখন জার্মানীর ক্যাপিটালিষ্ট- শ্রেণী হিটলাবের হাতে দেশের শাসন ভাব ছেড়ে দিল। হিটলাব শাসনভার পেযেই তার প্রথম কাজ শ্রমিক আন্দোলন ধ্বংস ক’বতে লেগে গেল। শ্রমিক নেতাদের ৩২ বিনা বিচারে কন্সট্রেশান ক্যাম্প” নামক এক রকম জেলখানায় ধরে আটক করে রাখল, অনেককে গােপনে হত্যা করা হ'ল। শুধু যে শ্রমিক নেতারাই মারা বা ধবা প'ডল তা নয়, যারা নাৎসীদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করল, তারাও বিপদগ্রস্ত হ’ল। নাৎসী গুণ্ডাবা দলে দলে গিয়ে তাদের বাড়ীর ভেতর ঢুকে তাদের উপব অসম্ভব অত্যাচার করতে লাগল। যিহুদীরাও এই অত্যাচাব ভােগেব উপযুক্ত অংশ গ্রহণ করে। বিখ্যাত যিহুদী বৈজ্ঞানিক আইনষ্টাইন পালিযে নাৎসীদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচালেন। এমনি যারা যাবা পালাতে পাবল, তারা বাঁচল , যাবা পাবল না, তাদের ধরে অত্যাচাব ক'বতে ক'বতে মেবে ফেলা হ'ল। এই বকম ভাবে অত্যাচাব করে হিব তার বিরুদ্ধপক্ষীয সব দল- গুলােকে ধ্বংস কবে নাৎসীদলের একাধিপত্য বিস্তাব ক’বল, ফ্যাসিজমের যে প্রথম কাজ অর্থাৎ শ্রমিক আন্দোলনকে ধ্বংস করে ক্যাপিটালিজমকে নিরাপদ করা, তা এই বকম নিষ্ঠুবতার ভিতর দিয়ে সাধিত হ'ল। প্রথম কাজ শেষ কবে নাৎসীব। এবাব ফ্যাসিজমের দ্বিতীয় কাজে লেগে গেল, অর্থাৎ কলােনী আদায় করে নেবার বন্দোবস্ত করতে লাগল। কলােনী আদায় করতে গেলেই যুদ্ধের দরকার হয়। কাজেই জাৰ্মানজাতিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার কাজে নাৎসীরা উঠে পড়ে লেগে গেল। একদিকে যেমন দ্রুত যুদ্ধের জন্য অস্ত্র শস্ত্র, গােলা বারুদ
তৈরী করতে লাগল, তেমনি লােকের মন যুদ্ধের জন্য
ক্ষেপিয়ে তুলবারও চেষ্টা করতে লাগল। ইটালীর ফ্যাসিষ্টদের
মত জাৰ্মানীৰ নাৎসীবা যুদ্ধেব মহিমা কীৰ্ত্তন ছাড়াও আর
এক মতবাদ আবিষ্কাব ক’বল। এই মতবাদ অনুযায়ী তারা
প্রত্যেক জাৰ্ম্মানকে শেখাতে লাগল, “জাৰ্মানজাতি পৃথিবীর
মধ্যে সব চেয়ে বড় জাতি। আব সব জাতির উপর প্রভুত্ব
ক'ৰবাব জন্য জাৰ্মানজাতি সৃষ্ট হযেছে। সুতবাং প্রত্যেক
লােক যাব শিবায জাম্মান বক্তব্য, তাকে জার্মান জাতির
এই গৌববময় কাজের জন্য প্রাণ দিতে হবে।” সহজ কথায়
“প্রাণপণে যুদ্ধ ক'রে জার্মান ক্যাপিটালিষ্টদের জন্য কলােনী
আদায ক'বে দাও”—এই হ’ল নাৎসী শিক্ষার মূলমন্ত্র। এমনি
ভাবে তাবা দেশকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ক’বল এবং অন্ধ ও উগ্র
দেশপ্রেমই তাদেব উদ্দেশ্য-সিদ্ধিব খােবা যােগাল।
মধ্যবিত্ত যুবকশ্রেণী বিশেষ কবে এই অন্ধদেশপ্রেমের
বুলিতে সাড়া দিল এবং সাম্রাজ্য-বিস্তাবেব কাজে ধনিকদেব
হাতেব ক্রীড়নক হয়ে পড়ল। তা ভেবে দেখল
, দেশপ্রেম মানে অপরেব দেশপ্রেম নষ্ট কবে দিযে
অপবেব দেশ দখল কব নয়। খাঁটি দেশপ্রেম কখনও কোন
প্রকাব সাম্রাজ্যবাদের হাতেব খেলার পুতুল হতে পারে না।
খাঁটি দেশপ্রেম মানে স্বাধীনতা , এক দেশের স্বাধীনতা
নষ্ট করে দিয়ে আর এক দেশের স্বাধীনতা কখনও সম্ভব হয়
। যাবা নিজের দেশকে বড় ক’বতে গিয়ে অপব দেশকে
৩৪
ছােট কবে দেয, অন্য জাতের স্বাধীনতা নষ্ট করে দেয় এবং
অন্য দেশের লােকদেব উপব অযথা অত্যাচার করে, তাবা
কখনও স্বাধীনতাকে সম্মান কবে না।
সম্মান কবে না। আসলে নিজের
দেশের লােকদেরও স্বাধীনতা বা মুখেই স্বীকার কবে,
কাজে স্বীকার কবে না। কিন্তু এত সব কথা জাৰ্মান যুবক
ভেবে দেখল না। অন্ধ দেশপ্রেমের ভ্রান্ত আহ্বানে তাবা
উত্তেজিত হযে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফলে স্বাধীনতা তাবা
পেল না, স্বাধীনতাব টুটি টিপে তাকে তারা ধ্বংস ক’বল।
সাম্রাজ্যবাদেব যূপকাষ্ঠে স্বাধীনতার নাম কবে, দেশের নাম
ক’বে, এই সব আদর্শনিষ্ঠ বিভ্রান্ত যুবকদেব বলি দেওয়া হল।
জাপানেও জাপানী-মার্কা ফ্যাসিবাদ স্থাপিত হ’ল
একই বকমভাবে এবং এই তিন কলােনীহীন বাজ্যের মধ্যে
গভীব মিতালী স্থাপিত হ’লযাতে কবে তা পবস্পব
কলােনী আদাযেব কাজে সাহায্য ক’বতে বাজী হল।
এমনি ভাবে আযােজন শেষ কবে তারা যুদ্ধ আরম্ভ করল।
বৰ্ত্তমান যুদ্ধ এমনি কবেই আবম্ভ হ'ল।
আমবা তা হলে দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিজম ইটালী
জার্মানী ও জাপানে একই কাজের জন্য স্থাপিত হ'যেছে।
অবস্থা বিশেষে সামান্য অদল-বদল আছে, কিন্তু আসলে
তারা সব এক। আমবা দেখেছি,
আমবা দেখেছি, ধনিক ও শ্রমিকদের
মধ্যে ঝগড়া যখন খুব বেড়ে যায়, তখনই ধনী শ্রেণী
খােলাখুলি ভাবে ফ্যাসিষ্টরূপ নেয় এবং শ্রমিক আন্দোলন
৩৫
ধ্বংস করার চেষ্টা করে। যদি শ্রমিক শ্রেণী দ্বিধা বিভক্ত
থাকে, তবে সহজেই ক্যাপিটালিষ্টরা শ্রমিকদেব হাবিযে
দেয এবং তাদেব একাধিপত্য স্থাপন কবে। সুতরাং
ফ্যাসিজমের দু'টো কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রথমতঃ
শ্রেণী-সংগ্রামের তীব্রতা, দ্বিতীয়তঃ শ্রমিক শ্রেণীর ভিতর
একতাব অভাব। ফ্যাসিজমেব কাজ হলাে দু'টো। প্রথম
কাজ, শ্রমিক আন্দোলন ধ্বংস কবে বিপ্লবেব হাত থেকে
ক্যাপিটালিজকে বাঁচানাে , এবং দ্বিতীয় কাজ, যুদ্ধ কবে
কলােনী আদাযেব চেষ্টা করা। সুতং ফ্যাসিবাদকে
ক্যাপিটালিজ থেকে ভিন্ন ক’বে দেখলে ভুল করা হবে।
ক্যাপিটালিজম্ এক বিশেষ অবস্থায় এসে ফ্যাসিবাদে রূপ
নেয় মাত্র। ফ্যাসিজম্ ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে তাে নই,
ববং ক্যাপিটালিজমকে বাঁচাবাব জন্যই এব সৃষ্টি। শ্রমিক
বিপ্লবেব সম্ভাবনাকে ধ্বংস কবে দেবার জন্য এবং কলােনী
আদাযের জন্য ক্যাপিটালিজমেব যে নগ্নরূপ, তাকেই আমরা
ফ্যাসিজম্ বলতে পাবি।
ফ্যাসিজমেব ভবিষ্যৎ কি? ফ্যাসিজমের উৎপত্তিব কাবণ
যদি ভাল কবে বুঝে থাক তবে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া
কঠিন হবে না। পূজিবাদ যে সকল মূল সমস্যা সৃষ্টি
কবে (যেমন ব্যবসা-সঙ্কট, বেকাব, ইত্যাদি) তার কোন
সমাধান ক’বতে না পেরে পুজিবাদই ফ্যাসিবাদের রূপ
নেয়। কিন্তু ফ্যাসিবাদও কি এই সকল সমস্যা সমাধান
করতে পারে? না, পারে না। কারণ, ফ্যাসিবাদ এই সকল
সমস্যা সমাধান করতে পারে না, তাই যুদ্ধ করে কলােনী
আদায়ের চেষ্টা করে। কলােনী পেলেই সকল সমস্যার
সমাধান হয়ে যাবে এই তারা ভাবে। কিন্তু এ রকমভাবে
সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় দুদিক থেকে বিপদ আছে। প্রথমতঃ,
যদি যুদ্ধে হেরে যায়, তবে সমস্যার সমাধান হযই না
বরং উল্টো শ্রমিক বিপ্লব হ'যে দেশে ফ্যাসিবাদেব গােড়া
শুদ্ধ উপড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে প্রচুব। যুদ্ধের ফলে
লােকের দুঃখ কষ্ট অসম্ভব বেড়ে যায়। যতদিন অবধি
ফ্যাসিষ্টরা যুদ্ধে জিততে থাকে ততদিন অবধি ফ্যাসিষ্টদেশের
লােকেরা ভাবে—দেশের গৌরব হচ্ছে এবং কলােনী
পেলেই ভবিষ্যতে তাদের দুঃখ ঘুচবে', এই সব ভেবে সব
দুঃখ কষ্ট ততদিন তারা সহ করে। কিন্তু যুদ্ধে হাবতে
আরম্ভ ক’বলেই এ আশায ছাই পড়ে । অপবের দেশ জয
করাকে যারা সর্বশ্রেষ্ঠ দেশপ্রেম বলে ভাবত, তাবাও মুষডে
পডে। চারিদিকে হতাশাব ভাব ছড়িয়ে পড়ে। ভবিষ্যতের
স্বর্গ চুরমার হয়ে যাওয়ায় বর্তমানের দুঃখ কষ্ট সহ্য করার
আগ্রহ কারও দেখা যায় না। সুযােগ বুঝে শ্রমিক শ্রেণী
মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে এবং বিদ্রোহ করে শাসন-ক্ষমতা
হস্তগত করবার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়তঃ, যুদ্ধে যদি
ফ্যাসিবাদীরা জিতেও যায়, তাহলেও বেশীদিন সুখে রাজত্ব
করা ও কলােনীর লোেকদের শােষণ করার সুবিধা ভােগ
৩৭
ক’বতে পারে না। একদিকে কলােনীর লােকদের স্বাধীনতা
আন্দোলন তীব্র হতে থাকে, অন্যদিকে আবার কলােনীর
বাজাবও শীঘ্র ফ্যাসিবাদী দেশে উৎপাদিত পণ্যে বােঝাই
হয়ে যায়। ফলে আবাব ব্যবসা-সঙ্কট উপস্থিত হয়, আবার
লােক বেকার হয়ে যেতে থাকে এবং পুঁজিবাদী আমলের
সকল সমস্যাই গুরুতর আকাবে দেখা দেয়। সেই সমস্যা
সমাধান করতে না পাবায কলােনীতে এবং ফ্যাসিবাদীদের
নিজেব দেশে শ্রমিক বিপ্লব দেখা দেয়। এই বিপ্লবেব
ধাৰায ফ্যাসিবাদী-প্রথা ভেসে যায়। সুতরাং দেখতে পাচ্ছ,
ফ্যাসিবাদী-প্রথা সমাজে বেশীদিন টিতে পাবে না। তার
ভেতবকার বিষেব জ্বালায় সে কিছুদিন খুব ছটফট করে
বটে এবং দু'চারটে হুঙ্কারও ছাডে বটে, কিন্তু এই বিষই
তাকে অচিরে ধ্বংস কবে দেয়।
[ চার ]
সােস্যালিজম্ বা সমাজতন্ত্রবাদ
সােস্যালিজমের জন্ম
পৃথিবীর কোন কিছু স্থিব থাকে না, সবই বদলে যায়।
তেমনি আজকে যে পৃথিবীব বেশীর ভাগ দেশগুলােতে
ক্যাপিটালিজম্ দেখছ এমনটি চিবকাল ছিল না। একদিন
ছিল, যখন মানুষ সবেমাত্র পশুত্বেব ধাপ থেকে মানুষের
৩৮ ধাপে পা দিয়েছে, তখন মানুষ উৎপাদন-যন্ত্রে ব্যক্তিগত অধিকার কাকে বলে, এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য কি ক'বে জিনিসপত্র তৈরী হয়, তা কিছুই জানত না। সেই আদিম যুগে, মানুষ দলবদ্ধ হ'যে থাকত। পৰম্পবেব ভেতরে যাদের বক্তের যােগাযােগ ছিল, তাবা এক একটা দল গঠন কবে একসঙ্গে বাস ক’বত। এই দলগুলােকে বলা হয গােষ্ঠী বা “ট্রাইব”। ট্রাইবেব সামান্য যা উৎপাদন-যন্ত্র, তীব-ধনুক, লাঠি-সোটা, তাতে ট্রাইবেব সকলেব অধিকাব ছিল এবং তাই দিয়ে একসঙ্গে দলবদ্ধ হ'যে শিকাব কবে এবং গাছে ফলমূল আহবণ কবে যা পেত তা সবাই এক সঙ্গেই ভােগ ক’বত। এমনি ক'বে বনে বনে ঘুবে তাদেব জীবন কেটে যেত। এ বকম অবস্থায় থাকলে উৎপাদন- যন্ত্রে ব্যক্তিগত অধিকাব বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য উৎপাদন সম্ভব হয় না। তাই তাবা সবাই এক সঙ্গে থাকত, এক সঙ্গে যা কিছু আয ক'বত, এক সঙ্গে তা ভােগ ক'বত। এই জন্যে মানুষেব এই অবস্থাকে বলা হয আদিম কমুনিজ ( Primitive Communism ) আদিম ক্যুনিজম্ বেশী দিন টিকল না। মানুষ নানা- রকম যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করল, যাতে করে তাদেব জীবন- যাত্রা অনেকটা সহজ হ'যে এল। পশু-পক্ষী পােষ মানাতে শিখল, গাছ-পালাও পােষ মানিয়ে নিল, অর্থাৎ চাষ-বাস শিখল। এর ফলে আর বনে বনে মাংস ও ফল-মূলের জন্য ঘুরে বেড়াবার দরকার হ’ল না। এক জায়গায় বসেই সব পেল। কাজেই মানুষ তখন ভাল জায়গা দেখে বসতি করল ও ঘর-বাড়ী বাঁধল। জায়গায় জায়গায় গ্রাম গড়ে উঠল। এই অবস্থাব প্রথম দিকেও সবাই পশু-পক্ষী, জায়গা জমি ও অন্যান্য উৎপাদন-যন্ত্রেব অধিকারী ছিল এবং সবাই মিলে আবশ্যক জিনিস-পত্র তৈবী ক’বত ও ভােগ ক’বত। কিন্তু ধীবে ধীবে তাদের ভিতব শ্রম-বিভাগ এসে দেখা দিল, অর্থাৎ, এক-একটা কাজ সবাই মিলে না কবে, এক-একজন ক’বে বা কযেকজন ক’বে ভাগ কবে দেওযা হ’ল। কাবণ, দেখা গেল এক এক জনকে শুধু এক একটা কাজ দিলে, সে সে- কাজটা খুব ভাল ভাবে ক’বতে পাবে এবং সেই কাজটা নিয়ে পড়ে থাকে বলে সেই কাজে সে খুব দক্ষতা লাভ করে। আব এই বকম কবে সমাজের সব কাজগুলােই খুব ভাল ভাবে হযে যায। শ্রমবিভাগের সঙ্গে সঙ্গে বিনিমযও আবন্ত হল। প্রথম এক ট্রাইবেব যা কিছু বেশী জিনিস উদ্বৃত্ত থাকত, তা অন্যান্য ট্রাইবেব উদ্বৃত্ত জিনিসপত্রে সঙ্গে অদল- বদল কবা হ'ত। শেষে এই কাজেব ভাবও পড়ল কযেকজন বিশেষজ্ঞের উপর যাবা অন্যান্য ট্রাইবগুলােব সম্বন্ধে সব খববাখবব জানত। সমাজে লােকসংখ্যাও খুব বেড়ে যেতে লাগল। এই সব কারণে সমাজেব জিনিসপত্র তৈরীর ক্ষমতা খুব বেড়ে গেল এবং ধীরে ধীবে উৎপাদন-যন্ত্রে সকলেব অধিকাব আব রাখা গেল না, ব্যক্তিগত অধিকার এসে দেখা
৪০
দিল। এমনি করে আদিম-কম্যুনিজমের যুগ শেষ হয়ে
গেল। সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত অধিকাবেব যুগ প্রতিষ্ঠা হ'ল।
সম্পত্তি যখন ব্যক্তিগত অধিকাবে এসে গেল, তখন ধীরে
ধীবে সমাজে নানা বকম শ্রেণী দেখা দিল। এর আগে কিন্তু
সমাজে শ্রেণী বলে কিছু ছিল না। সকলের অবস্থাই এক
বকম ছিল। উৎপাদন-যন্ত্রে সকলেই সমান অধিকাব ছিল,
কাজেই শ্রেণী বলে আদিম-কমুনিজমের আমলে বিছু ছিল
। সম্পত্তিতে যখন ব্যক্তিগত অধিকাব এসে গেল, তখন
থেকেই সমাজে শ্রেণী দেখা দিল। উৎপাদন-যন্ত্রে কাব
কতখানি অধিকাব বা কাব কতখানি উৎপাদন-যন্ত্র (বা
সম্পত্তি) আছে, তাই দিয়ে কে কোন্ শ্রেণীতে থাকবে তা
এক দল লােক হ'ল, যাদের কোন সম্পত্তি
থাকল না, তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হল শারীবিক
গতৰ খাটিযে কিছু আয় করে তারা বেঁচে
থাকল। আব একদল লােক হ’ল ঠিক এর উল্টো , তারা
এত সম্পত্তিব মালিক হ’ল যে, তাদের আর পবিশ্রম করার
দবকাব হ’ল না, সম্পত্তি থেকেই তারা প্রচুব আয় ক’বতে
লাগল, এবং অপরেব পবিশ্রমের উপরেই এরা বেঁচে রইল
পবগাছাব মত।
এর মাঝামাঝি আবার অনেকগুলো শ্রেণী
হ’ল, যাদের আয কিছু সম্পত্তি থেকে হত, আর কিছুটা হত
পরিশ্রম করে। এমনি ভাবে নানা শ্রেণী হ'যে সমাজ ভাগ
ভাগ হয়ে গেল।
ঠিক হয়।
পরিশ্রম।
৪১ যারা প্রচুর সম্পত্তির মালিক হল তারা তাদের সম্পত্তি বক্ষাব জন্য “বাষ্ট্র” ( State) নামে একটা সংগঠনের সৃষ্টি ক’বল। রাষ্ট্রেব কাজ হ’ল দু’বকম—এক, সমাজে যাদের উৎপাদন-যন্ত্রে কোন অধিকার নেই, সেই সব সম্পত্তিহীন লােকদের আক্রমণ থেকে উৎপাদন-যন্ত্র বা কব ও এই উৎপাদন-যন্ত্র তাদেব মালিকদের জন্য চালু থেকে যাতে লাভ সৃষ্টি কবে তব ব্যবস্থা করা। দুই, বিদেশের সম্পত্তি- ওযালাদেব আক্রমণ থেকে তাদের সম্পত্তি বাঁচান। এই কাজ কবাব জন্য বাষ্ট্র দু’বকম ব্যবস্থা ক’বল। এক, উৎপাদন- যন্ত্র যাতে সম্পত্তিওয়ালাদের হাতছাড়া না হয়ে যায় এবং ঠিকমত তাদেব লাভের জন্য চালু থাকে তার উদ্দেশ্যে “আইন” তৈবী কব। দুই, এই আইন যাতে ঠিক মত কাজে লাগে এবং সবাই মেনে চলে, সৈন্য, পুলিশ, গুপ্তচব, বিচাব, জেল প্রভৃতি বেখে, তাব ব্যবস্থা করা। উৎপাদন-যন্ত্র ঠিকমত চালু রাখতে হলে শ্রমিকদেব স্বাস্থ্য ভাল থাকা চাই, তাব দিকে লক্ষ্য রাখবার জন্য বা স্বাস্থ্য-বিভাগ খােলে । শ্রমিকদেব খানিকটা শিক্ষাও দেযা দবকাব, তার জন্য শিক্ষা- বিভাগ, তাব। নিজেদের ভেতর মারামাবি কাটাকাটি কবলে কাজেব ক্ষতি হয়, তাই শান্তিবক্ষা বিভাগ ইত্যাদি খােলা হয। এমনি কবে বা যে শ্রেণীর সম্পত্তিব মালিক, তাদের ক্ষমতা ও সম্পত্তি বক্ষাব জন্য পাহারাদাবী কবে। মােটামুটি বাষ্ট্র হ’ল একটা যন্ত্র-স্বরূপ, যা দিযে শাসক শ্রেণী-অন্যান্য
৪২
শ্ৰেণীগুলােকে বশে বাখে। এমনি ভাবে আদিম কম্যুনিজম
ভেঙ্গে যাওযার পব, সম্পত্তিব মালিক-শ্রেণী তাদের শাসন
ও শােষণ বজায় রাখার জন্য বাষ্ট্রেব সৃষ্টি করল , এবং বাষ্ট্রের
সাহায্যে তাদের শাসন ও শােষণ বজায বাখতে লাগল।
কিন্তু অন্যান্য শ্রেণীগুলাে তাদেব ওপবে এই কর্তৃত্ব মুখ
বুজে সব সময সহ্য করল না। শাসক-শােষক শ্রেণী ও
শাসিত-শােষিত শ্রেণীগুলােব মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকল।
কখনও কখনও সে ঝগড়া প্রকাশ্যে ভীষণ আকাব ধারণ কবে
ফুটে উঠত। কখনও বা তা টেব পাওয়া যেত না। কিন্তু
ঝগড়া লেগেই ছিল। এই শাসক-শােষক শ্ৰেণীৰ সঙ্গে
শাসিত-শােষিত শ্রেণীব যে ঝগড়া, তাকেই বলে শ্রেণী-সংগ্রাম
(Class Struggle) এই শ্রেণী-সংগ্রামের ফলে অনেকবার
সমাজে শাসক-শাসিত শ্রেণীব অদল বদল হ'যেছে। যাব।
নীচে পড়ে ছিল, তাব। ওপবে উঠে গিযে শাসক-শ্রেণীকে
ধ্বংস করে দিয়ে নিজেই শাসক-শ্রেণী হযেছে। ফবাসী
বিপ্লবেব কথা তােমবা বােধ হয শুনে থাকবে। এই ফবাসী
বিপ্লব এমনি একটা শাসক-শ্রেণী বদলেব ঘটনা।
ফবাসী-বিপ্লবের আগে অবধি কৃষিকাজই সমাজে প্রধান
পেশা ছিল এবং উৎপাদন-যন্ত্রের ভেতর জায়গা-জমিই ছিল
সব চেয়ে প্রধান। কাজেই এব মালিক যাব, অর্থাৎ
জমিদাববাই সমাজে বাজাহ ক’বত। তাবাই ছিল
সমাজের সব চেয়ে উচ্চ স্তবে। তাদের নীচে আবার অনেক
৪৩ জন্যে এই গুলি শ্রেণী ছিল, যেমন বণিক-শ্রেণী, শ্ৰমিক-শ্ৰেণী, কৃষক- শ্রেণী ইত্যাদি। এই সব শ্রেণীর উপর মােড়লী করত জমিদাব-শ্রেণী। সেই যুগকে বলা হত ‘জমিদার- তন্ত্র’ বা ‘ফিউডালিজ’। কিন্তু এই ফিউডালিজমেব ভেতব থেকেই বণিক-শ্ৰেণী ধীবে ধীবে খুব শক্তিশালী হয়ে উঠতে লাগল। এই সময আমেবিকা ও ভাবতবর্ষে আসাব সমুদ্র- পথ আবিষ্কাৰ হ'ল। দেখতে দেখতে এই সব দেশ থেকে সােনা-রূপাে এনে ও ব্যবসা-বাণিজ্য কবে বণিকদেব পুজি জমিদাবদেব চেয়ে অনেক বেশী বেড়ে গেল। আগে শ্রমিকরা কাবিকবদেব মত নিজে নিজেব কুটিবে বসে, নিজে কাচামাল কিনে নিজেব সামান্য উৎপাদন-যন্ত্রেব সাহায্যে পণ্য তৈরী ক’বত, আব বণিকবা তাদের কাছ থেকে এই সব পণ্য কিনে নিয়ে গিযে ব্যবসা-বাণিজ্য ক’বত । যখন বণিকদেব পুঁজি বেশ খানিকটা বেড়ে গেল, তখন বণিকব নিজেই কাবখানা তৈবী করে মজুব লাগিযে পণ্য তৈরী কবাতে লাগল। এতে কবে তাদেব লাভ অনেক বেশী হতে লাগল এবং যতই তাদের লাভ বেড়ে যেতে লাগল, ততই তাদেব পুজি বাড়তে লাগল এবং তাদেব ক্ষমতাও বেড়ে যেতে লাগল। প্রথমে ছােট ছােট কাবখানা খােলা হ’ল। দেখতে দেখতে সেগুলো বড় কাবখানায় পবিণত হ'ল। তাতে নানা কল-কজা বসল। বাষ্পেব দ্বারা চালু কল আবিষ্কার হ’ল। উৎপাদন-ক্ষমতা এমনি ক'বে এত বেড়ে গেল যে, হাজার হাজাব পণ্য এই
৪৪
সব কারখানায় অতি অল্প সময়ে তৈবী হয়ে যেতে লাগল।
আব যতই উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যেতে লাগল, ততই বণিক
দলের শক্তি বাড়তে লাগল। কাবণ তাদেব পুজি, টাকা
পয়সা বেড়ে গেল অনেক।
কিন্তু তখনও বাষ্ট্র ছিল
জমিদারদের হাতে। জমিদাবব নানা বকম ভাবে বণিকদেব
জব্দ করার চেষ্টা ক’বতে লাগল। এক জমিদাবী থেকে আব
এক জমিদাবীতে মাল বিক্রী কবার জন্য নিলেই ট্যাক্স আদায
ক’বত। কৃষকবা যাতে জমি ছেডে কাবখানায় চলে না যায়
তাব চেষ্টা ক’বত। এমনি কবে জমিদাবদেব হাতে বাষ্ট্র
থাকায বণিকদেব অসুবিধা হত খুব। কাজেই তখন তারা
বাষ্ট্রক্ষমতা দখল কববার জন্য উঠেপড়ে লেগে গেল। আর
শ্রমিক-কৃষকবাও জমিদাবদেব উপর সন্তুষ্ট ছিল না। তাবাও
বণিকদের সঙ্গে যােগ দিল। এই সব শ্রেণীগুলাে একসঙ্গে
যােগ দিযে ফিউডালিজম্ ধ্বংস ক’বল। তার জায়গায় বসান
হ’ল বণিকদেব বাজত্ব অর্থাৎ ক্যাপিটালিজ। বণিকদের
ওদেশে ব’লত “বাবগাস” (Burghers )
সেই থেকে
ক্যাপিটালিষ্টদেব নাম হযেছে ‘বুর্জোযা'। আব শ্রমিকদের
নাম হ’ল ‘প্লোটোবিট বা সৰ্বহাবা। জমিদাবদেব হাত
থেকে বাষ্ট্রক্ষমতা বুর্জোযাদের হাতে চলে যাওযাই হল
ফবাসী-বিপ্লবের আসল কথা।
ইউবােপের সব দেশেই এই বকম ছােট-খাট বিপ্লবের
ভেতর দিয়ে বুর্জোয়ারা বাষ্ট্রক্ষমতা পেল। রাষ্ট্রক্ষমতা
৪৫
এক নূতন
পেযে তারা এবার পৃথিবীটাকে তাদেব নিজেদের মত
কবে গুছিযে-গাছিয়ে নেবার চেষ্টা ক’বতে লাগল।
আইন-কানুন বদলে গেল, সমাজের বীতিনীতি বদলে গেল।
পুবনাে ধাবণাগুলো অবধি আর টিকল না। এমনি ক'বে
শুধু যে পণ্য উৎপাদনের উপায বদলে গেল তা নয, মানুষের
জীবনের সব কিছুই উলােট-পালট হয়ে গেল।
সভ্যতাব সৃষ্টি হ’ল—‘বুর্জোয়া সভ্যতা।
বুর্জোযাবা তাদেব নিজেদেব সুবিধে অনুযায়ী
পৃথিবীটাকে গড়ে নিল বটে, কিন্তু নিশ্চিন্তে বসে পৃথিবী ভােগ
কব। আব তাদেব হয়ে উঠল না। আমরা একেব অধ্যাযে
দেখেছি ক্যাপিটালিজম্ মানেই হচ্ছে উৎপাদন-যন্ত্রে
ব্যক্তিগত অধিকার ও ব্যক্তিগত লাভেব জন্য এই উৎপাদন-যন্ত্র
ব্যবহাব কবে পণ্য উৎপাদন। কিন্তু উৎপাদন-যন্ত্র ব্যবহার
কবে পণ্য উৎপাদন ক’বতে গেলে শ্রমিকদেব সাহায্য ছাড়া
তা হয় না। কাজেই লাভ সৃষ্টি ক'বতে গেলে শ্রমিকদেরও
সৃষ্টি ক’বতে হয়। আব পুজি যত বেড়ে যেতে থাকে
শ্রমিকদের সংখ্যাও তত বেড়ে যেতে থাকে। আগে ছােট
কাবখানা যেখানে ১০০ শ্রমিক কাজ ক’বত এখন সেখানে
হযত হাজাবে হাজাবে শ্রমিক কাজ ক’বতে থাকে। কিন্তু
শ্রমিকবা হাজার পবিশ্রম করা সত্বেও শ্রেণী হিসেবে গরীব
হযে যেতে থাকে । তার উপর আবার বেকার হযে গিযে
যেটুকু তার সামান্য আয তাও বন্ধ হয়ে যাবার ভয় থাকে।
৪৬
এই সব কাবণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বেড়ে
যেতে থাকে। আব তাদেব একতাও বেড়ে যায়। প্রথম
প্রথম তাবা চাকবিব জন্য পবস্পরেব সঙ্গে প্রতিযােগিতা
কবে। কিন্তু শীঘ্রই দেখতে পায় যে তাদের সকলেই
সমান দুঃখে দুঃখী, তাদেব সকলেব ভাগ্যই এক সূতােয়
গাঁথা, তাবা সকলেই সমান ভাবে কল মালিকদের দ্বারা
অত্যাচাবিত ও শােষিত। কাজেই তারা একতাবদ্ধ হ'যে
তাদেব সকলেব যে শত্রু, তাব বিরুদ্ধে লড়বার জন্য প্রতিজ্ঞা
কবে। এমনি কবে একদিকে যেমন তাদেব সংখ্যা বেডে
যেতে থাকে তেমনি ক্যাপিটালিষ্টদেব সঙ্গে যুঝতে-যুঝতে
তাদেব একতা বেড়ে যায়, তাদেব শ্রেণীচেতনা বেড়ে যায় ।
ক্রমে ক্রমে তাবা দেখতে পায় যে উৎপাদন-যন্ত্রে তাদেব
অধিকাব স্থাপন না কবা অবধি তাদেব অবস্থার সত্যিকাব
প্রতিকার সম্ভব নয় এবং বাষ্ট্রক্ষমতা না পাওয়া অবধি
উৎপাদন-যন্ত্রে অধিকার স্থাপন কবা যায় না। তাই তাব
তখন গভর্ণমেন্ট দখল করার চেষ্টা করে। বুর্জোয়া শ্রেণীব
অনেকে বুর্জোয়া শ্রেণীর সত্যিকাব পবিচয পেয়ে তাদের দল
ছেড়ে শ্রমিকদেব দলে যােগ দেয়। কৃষক ও অন্যান্য
উৎপীড়িত শ্রেণীগুলােও এসে শ্রমিকদেব সঙ্গে যােগ দেয়।
এমনি ক'বে তাব। ক্রমেই শক্তিশালী হ'তে থাকে। ওদিকে
বুর্জোয়া শ্রেণীও সঙ্ঘবদ্ধ হতে থাকে। এই জন্য সমাজে
তীব্র শ্রেণী-সংঘর্ষ উপস্থিত হয়। যে সব বুর্জোয়া দেশগুলাের
৪৭
কলােনী আছে, সে সব বুর্জোয়া দেশে ক্যাপিটালিষ্টরা
কলােনীব লােকদেব শশাষণ কবে তাদের দেশের শ্রমিকদের
তাব এক অংশ দিয়ে তাদেব ঠাণ্ডা করার চেষ্টা কবে। কিন্তু
এ পন্থা বেশী দিন চলে না , কাবণ কলােনীব লােকেবাও
গবীব হয়ে পড়ায় কলোনীতেও মাল বিক্রী বন্ধ হয়ে যায়।
তখন কলােনী থেকেও বিশেষ কিছু আয হয় না। আব
যে সব দেশেব কলােনী নেই তাবা ত এ উপাযে শ্রমিকদেব
তুষ্ট ক’বতে পাবেই না। কাজেই শ্রেণী-সংগ্রাম তীব্র হতে
তীব্রতর হতে থাকে। তখন বুর্জোযাবা খােলাখুলি ভাবে
জোব প্রযােগ কবে শ্রমিকদেব ঠেঙ্গিযে দেবার চেষ্টা কবে।
ক্যাপিটালিজমেব এই রূপে নাম আমবা দেখেছি,
ফ্যাসিজম্ । কিন্তু এ উপাযেও বেশী দিন শ্রেণী-সংগ্রাম
বন্ধ বাখা যায় না। কাবণ বােগেব যে মূল-কাবণ, অর্থাৎ
ক্যাপিটালিজ, তা দূব না হ'লে শুধু
উপসর্গগুলােকে চেপে
আব ক'দিন বন্ধ কবে বাখা যায় ? তাই ক্যাপিটালিজমের
সব লক্ষণগুলােই আবাব প্রকাশ পেতে থাকে। ব্যবসা-সঙ্কট
হতে থাকে, বেকাব-সংখ্যা বেড়ে যায়। এব ফলে শ্রেণী-
সংগ্রাম আবাব মাথাঝাবা দিয়ে ওঠে। এমনি ক'রে
শ্রেণী-সংগ্রাম চলতে চলতে এমন একটা সময় আসে যখন
শ্ৰমিক-শ্রেণী ক্যাপিটালিষ্টদেব কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে
নেয়। উৎপাদন-যন্ত্রে ব্যক্তিগত অধিকার ধ্বংস করে দিযে
তার জায়গায় সমাজেব সকলের অধিকাবে এগুলােকে নিয়ে
৪৮ আসে এবং লাভের জন্য পণ্য তৈরী না করে সকলের ব্যবহারের জন্য তৈরী ক’বতে থাকে। এক কথায সােস্যালিজ প্রতিষ্ঠা করে। সােস্যালিজমের পরিচয়। ক্যাপিটালিজমের গােড়ার কথা যেমন উৎপাদন যন্ত্রে ব্যক্তিগত অধিকাব, তেমনি সােস্যালিজমেব গােডাব কথা হ’ল উৎপাদন-যন্ত্রে সমাজের সকলের সমান অধিকার। সােস্যালিষ্ট সমাজে প্রধান উৎপাদন-যন্ত্রগুলো ব্যক্তিবিশেষের থাকে না, জন-সাধাবণেব সম্পত্তি হয়। ক্যাপিটালিষ্ট সমাজে এই উৎপাদন-যন্ত্রগুলাে তাদের মালিকদের লাভেব জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সােস্যালিষ্ট সমাজে এগুলাে সকলেব সুবিধেব জন্য ব্যবহৃত হয়। ক্যাপিটালিষ্ট সমাজে জিনিস- পত্র তৈরী হয় উৎপাদন-যন্ত্রের মালিকদেব লাভের জন্য । জন-সাধাবণের অভাব মেটাবার জন্যে জিনিস-পত্ৰ প্ৰধানতঃ তৈরী হয় না, প্রধানতঃ লাভের জন্য তৈবী হয়। জিনিষ-পত্র জনসাধারণের অভাব যদি মেটায় তবে সেটা কতকটা আকস্মিক ব্যাপাবেব মত। সােস্যালিষ্ট সমাজে লাভেব কথাই ওঠে না। জিনিস-পত্র সেখানে তৈরী হয, যেহেতু এই সব জিনিস-পত্র মানুষেব ভাল ভাবে বেঁচে থাকবার পক্ষে অত্যন্ত আবশ্যক, সেই জন্য । এক কথায, ক্যাপিটালিষ্ট সমাজে জিনিস-পত্র তৈবী হয লাভের জন্য, সােস্যালিঃ সমাজে তৈরী হয় ব্যবহাবের জন্য ।
৪১ সােস্যালিসমাজে উৎপাদন এখন কথা হচ্ছে এই, সসাস্যালিষ্ট-সমাজে কি ক'রে জিনিস-পত্ৰ উৎপাদিত হয় ? ক্যাপিটালিষ্ট-সমাজে উৎপাদন- যন্ত্রে মালিক উৎপাদন-যন্ত্র ব্যবহার কবে পণ্য তৈরী করে, কাবণ তাতে তাদেব লাভ হয যথেষ্ট এবং সেই সব জিনিসই তাবা তৈবী কবে, যেগুলােতে তারা লাভের আশা বাখে। কিন্তু সােস্যালিষ্ট-সমাজে এই উৎপাদন-যন্ত্রগুলাে কাবা চালু কববে এবং কি কি জিনিস তৈরী করা হবে, তাই বা কি কবে ঠিক ক’ববে ? তােমাদেব আগে বলেছি, কশ দেশে গত মহাযুদ্ধের সমযে ১৯১৭ সালেব অক্টোবর মাসে এক বিপ্লব হয় এবং এই বিপ্লবের ফলে শ্রমিকরা সেখানে ক্ষমতা পেযে ধীবে ধীবে সােস্যালিজ স্থাপন কবে। ওদের দেশে কিবকম ভাবে জিনিস-পত্র তৈবী হয়, তা জানলেই সােস্যালিষ্ট-সমাজে কিবকম ভাবে জিনিস-পত্র তৈরী হয, তা জানা যাবে। সােভিযেটে আইন তৈরী কবাব যে সভা আছে, সেই সভা থেকে কয়েকজন নিয়ে, কযেকজন ইঞ্জিনিয়াব ও অন্যান্য লােক—যাবা এ-সব ব্যাপার ভাল বােঝেন—তাদের নিয়ে ও শ্রমিকদের পক্ষ পক্ষ থেকে কযেকজনকে নিয়ে একটা কমিটি-গগাছের কবা হ'যেছে। এব নাম হ'ল “কেন্দ্রীয় প্লানিং কমিশন।” সংক্ষেপে একে বলা হয় “গপ্লান্।” এই গপ্লান্ দেশে কত কঁচামাল তৈরী হতে পাবে, কত শ্রমিক আছে কত ইঞ্জিনিয়ার আছে, ৪ উৎপাদন-যন্ত্রেব পরিমাণ বত, ইত্যাদিব একটা মােট হিসেব কবে। তাব পবে, তার আগে আগের বছর কোন জিনিস কত তৈবী হ'যেছিল, কোন্ জিনিস লােকে বা কত বেশী পবিমাণে চায, কোন্ জিনিস লােকদেব বেশী পছন্দ- এই সব খোঁজ-খবব কবে, কি কি জিনিস আছে বছৰ দবকাব হবে এবং কতটা দৰকাব হবে, তাব এবটা হিসেব কবে। তাবপবে যতটা উৎপাদন-যন্ত্র তাদের আছে এবং যতগুলো জিনিস-পত্র দববাব হবে তার ভেতর একটা সামঞ্জস্য বেখে আসছে পাঁচ বছব কোন কোন কাবখানায় বা কৃষিফার্মে কতটা জিনিস তৈবী ক’বতে হবে তার একটা “প্লান” বা পৰিকল্পনা তৈরী কবে। এটাকে বলে “ড্রা প্লান” বা প্লানেব খন্ড। এই ড্রাফট পান তাবপব প্রত্যেক জেলায “গপ্লানেব” যে শাখা আছে, তাদেব কাছে পাঠিযে দেয়। তারা এটাকে ভাল কবে পৰীক্ষা ক’বে দেখে, কোথাও কোন ভুল আছে কিনা, কোনও জিনিস তাবা আবও বেশী কবে সেই জেলা থেকে তৈবী ক’বতে পাবে কিনা বা কোনও জিনিস তাদেব যা ক্ষমতা তার চেয়ে অনেক বেশী তৈরী ক’বতে বলা হযেছে কিনা। এই বকম ভাবে জেলা প্লানিং কমিশনগুলাে তাদের মতামত জুড়ে দিয়ে সেগুলােবে সব কাবখানায় কারখানায় বা কৃষিফার্মে পাঠিয়ে দেয় কাবখানার শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দু’একজন কারখানা ম্যানেজার ও ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে আবার একটা ফ্যাক্টরী-কমিটি ।
বসে। সেই ফ্যাক্টরী-কমিটি তাদেব কত জিনিস তৈবীব
ভাব দেওযা হ'যেছে, এবং কি কি কাচা-মাল, যন্ত্রপাতি
ইত্যাদি দেওয়া হ'যেছে, এই সব দেখে তাদের মতামত ব্যক্ত
ক'বে সকল শ্রমিকদেব একটা মিটিং কবে। সেখানে
শ্রমিকদেব ভেতব খােলাখুলি ভাবে সব আলােচনা হয়।
শুধু যে শ্রমিকদেব সভায় এই পঞ্চবার্ষিক প্লানের খসড়া
আলােচিত হয় তা নয়, খববেব কাগজে এই সময তুমুল
আলােচনা চলতে থাকে এই প্লান নিয়ে। এই বিষযে যার
যত আপত্তি আছে, বা বলবাব কিছু আছে, সব খববের
কাগজ মারফৎ বা শ্রমিকদেব এই খােলা মিটিংএ বলতে
পাবে। এই সব উৎপাদিত জিনিস-পত্র ব্যবহাব কবে যারা,
তাদের পক্ষ থেকেও আলােচনা হয় এবং তাবাও নানা বকম
প্রস্তাব ও পরামর্শ দেয়। এমনি ভাবে শ্রমিকদেব খােলা
মিটিংএ সে আলােচনা শেষ হবাব পব শ্রমিকদেব মতামত যােগ
কবে দিযে ড্রাফটু-প্লানটা তারা ফেবত পাঠায জেলা প্লানিং
কমিশনেব কাছে। তারা আবাব পাঠিয়ে দেয় গপ্লানের
কাছে, গপ্লান তখন সেই সব মতামত বিচাব কবে একটা
শেষ ড্রাফ্ট প্লান-বচনা কবে এবং সেটা আইন-সভাব কাছে
বাখে। আইন-সভা সেটা নিয়ে আলােচনা কবে কিছু
অদল-বদল কবে সেটা পাশ কবে দেয়। তখন সেই প্লান
অনুযায়ী দেশে জিনিস-পত্র তৈরী হতে থাকে।
অনেকের ধাবণা সােস্যালিষ্ট-সমাজের যাবা কর্মকর্তা,
৫২ তারা যা বলেন জন-সাধারণকে তাই করতে হয়। তারা যদি বলেন, মেয়েরা সব লাল-শাড়ী পববে, কেউ নীল-শাড়ী পবতে পাবে না, তাহলে লাল-শাডী ছাড়া আব কোন রকম শাড়ী তৈরী হবে না। কাজেই বাধ্য হ'যে ভাল না লাগলেও সবাইকে লাল-শাড়ী পবতে হবে। প্লান কি বকম ভাবে তৈরী হয়, তা যদি বুঝে থাক, তা হলে এ-ধারণা যে ভুল তা আব আলাদা কবে বুঝিয়ে বলতে হবে না। এই প্লান তৈবীব সময় সবাই তাদের মতামত ব্যক্ত কবাব সম্পূর্ণ সুযােগ পায়। কাজেই তখন ব্যবহাবকাবীদেব সভায বা খবর-কাগজ মারফৎ শুধু লাল-শাড়ী তৈবীব বিৰুদ্ধে যে সব মেযেবা, তারা তাদেব প্রতিবাদ জানাবে। এই প্রতিবাদেব ফলে অন্যান্য বংযের শাডীও তৈবী হবে। এমনি ভাবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে জন-সাধাবণের মতামত নিযে জিনিস-পত্র তৈবী হতে থাকে। সােভিযেট দেশে সব বড় বড় কাবখানাগুলােই গভর্ণ- মেন্টেব হাতে এবং গভর্ণমেন্টেব অনেক কৃষি-ফার্মও আছে। এ ছাড়া যে সব শ্রমিক গভর্ণমেন্টেব কাবখানায় কাজ ক’বতে চায় না, তারা তাদেব নিজেদেব কো-অপাবেটিভ কাবখানা খুলতে পাবে। এই বকম অনেক কো-অপাবেটিভ কাবখানাও ওদেশে আছে। এগুলােকে ওরা বলে ইপস’ (Incops) কৃষকবাও আবার নিজে নিজেব জমি চাষ ক'বতে পারে বা অনেকে মিলে “যুক্তফার্ম” (Collective Farms) খুলতে
পারে। এগুলােকে ওরা বলে ‘কোখ’ (Kolkhos )
এই সব ইপস বা কোখস্ তাদের নিজেদের পণ্য
নিজেরাই বাজাবে বিক্রী করতে পাবে এবং ক্রেতাবাও
যেখান থেকে ইচ্ছা কিনতে পাবে। কাজেই দেখতে পাচ্ছ
সােভিযেট দেশে উৎপাদন-প্রণালীব কোথাও জোব ক'রে
কিছু কবা হয় না। ব্যাপারটা সম্পূর্ণ জনসাধাবণেব স্বাধীন
ইচ্ছাব উপব নিৰ্ভব কবে ও সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক।
প্লানিংয়ের ফল ঃ
ব্যবহাবেব জন্য জিনিসপত্র তৈরী হয় বলে এবং প্লান
কবে সব তৈবী হয বলে ক্যাপিটালিষ্ট, উৎপাদন প্রথায় যেসব
গােলমাল দেখা যায়, সােস্যালিষ্ট, উৎপাদন প্রথায সেগুলাে
আব থাকে না। ধন সম্পত্তি যা তৈরী হয় তার কিছুটা
গভর্ণমেন্ট দেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যোন্নতিব ব্যবস্থা
ক’বার জন্য ও উৎপাদন-যন্ত্র আবও বাড়ান এবং গভর্ণমেন্ট
চালাবাব খবচা হিসেবে বাদ দিয়ে বাকীটা সব জনসাধারণের
মধ্যে বণ্টন কবে দিতে পাবে। কাবণ জিনিস-পত্র ত আব
এখানে লাভেব জন্য তৈবী হয না যে, লাভ না হলে আব
বিক্রী না ক'বে গুদামে বন্ধ কবে রাখা হবে বা নষ্ট কবে দেয়া
হবে ? এই জন্য সােস্যালিষ্ট-সমাজে কখনও অবিক্রীত জিনিসে
বাজাব বােঝাই হ'যে থাকে না এবং তার পাশেই লােক না
খেতে পেযে, না পবতে পেয়ে মারা যায় না। জিনিসপত্র
তৈরী হতে না হতেই লােকে তা কিনে নেয়। এব ফলে
৫৪ কখনও ব্যবসা-সঙ্কট দেখা দেয় না। কাবখানা দিনরাত চালু বেখেও লােকেব অভাব মেটান কষ্টকর হয়। শ্রমিকবা কখনও বেকাব হয় না। তাদের অবস্থা উন্নতি হতেই থাকে। এই জন্য গত ১৯২৯ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল অবধি যখন সমস্ত ক্যাপিটালিষ্ট দেশগুলাে ব্যবসা-সঙ্কটে ধ্বসে পড়বার উপক্রম হ'যেছিল, সােভিযেট দেশে তখন দিনরাত কাজ ক'বেও তাদের কারখানাগুলাে লােকেব চাহিদা মেটাবার মত যথেষ্ট জিনিস তৈবী ক'বে উঠতে পারছিল না । সমস্ত পৃথিবীতে যখন লক্ষ লক্ষ লোেক বেকার হয়ে যাচ্ছিল, তখন সােভিযেট দেশে শ্রমিকের অভাবে কাবখানা আবও বাড়ান যাচ্ছিল না। সােস্যালিষ্ট, প্রণালীতে জিনিসপত্র তৈরী হবাব আব একটা বড় সুফল হচ্ছে এই যে, জিনিসপত্র দেশের বাজাবে অবিক্রীত হয়ে পড়ে থাকে না বলে জিনিস বিক্রীব জন্য কলােনীবও দবকাব হয় না। সেই জন্য সােস্যালিষ্ট, দেশ- গুলােকে কলােনীব জন্য অপব দেশের স্বাধীনতা নষ্ট ক'বে দেব শােষণও করবাব দূবকাব হয় না। আব কলােনীব দবকাব হয় না বলে কলােনীর জন্য যুদ্ধেবও দবকাব হয় না। এই জন্য যুদ্ধ দূব কবাব প্রধান উপায় হচ্ছে সমাজতন্ত্রবাদ। সমাজতন্ত্রবাদেব আমলে মানুষেব যে শুধু আর্থিক সুবিধা হয় তা নয়, সব দিক দিযেই তার সুবিধা হয়। শিক্ষা দীক্ষাব ভাব বা নেয় এবং স্ত্রী, পুরুষ সবাই শিক্ষা লাভ করা সম্পূর্ণ ও সমান সুযােগ পায়। এর ফলে, দাবিদ্র্যের চাপে এখন
যে বকম অনেক ভাল ভাল ছেলেব মেধা নষ্ট হয়ে যায়,
সে রকম হতে পাবে না। শিক্ষা লাভ কবে প্রত্যেকেই
তাব নিজেব নিজেব বিশেষ যে সব ক্ষমতা বা প্রতিভা তা
ফুটিয়ে তুলবাব যথেষ্ট সুযােগ পায় । এব ফলে মানুষ সত্যি
সুখী হতে পাবে এবং নিজের জীবন সার্থক কবে তুলতে
পাবে। এই রকম সবাই সমান সুযােগ পায় বলে সােস্যালিষ্ট,
সমাজেই মানুষ সত্যিকাব স্বাধীনতা পায়।
এব একটা সুন্দব দৃষ্টান্ত সােভিযেট সমাজেব একটা ঘটনা
থেকে তােমাদেব বলছি। একটা কারখানায় একটি মেযে
কাজ ক’বত। কিন্তু কাবখানাব কাজে তাব কেন উৎসাহই
ছিল না।
বাব বাব সে কাজে ভুল ক’বত এবং যতখানি
কাজ তাকে দেওয়া হত তা সে কিছুতেই ক'রে উঠতে পারত
। কারখানাব ম্যানেজাব তাকে শশধবাবাব অনেক চেষ্টা
ক’বল।
এক বিভাগ থেকে সবিয়ে নিয়ে অন্য বিভাগে
দিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হ’ল না। অবশেষে হতাশ
হ'যে শ্রমিক-সংঘেব কাছে তাকে অন্য কাবখানায় পাঠিযে
দেবাব অনুবােধ কবে পাঠাল। শ্রমিক-সংঘ মেয়েটিকে
একটি মানসিক চিকিৎসাগাবে পাঠিয়ে দিল।
পৰীক্ষা কবে দেখা গেল যে, মেযেটিব মনেব গঠন এ বকম
যে, সে কাবখানায় কাজ কববাব সম্পূর্ণ অযােগ্য এবং শিক্ষাব
কাজ সে ভাল পাববে। শ্রমিক-সংঘ তখন তাকে একটা
স্কুলের শিক্ষযিত্রীর কাজ খুঁজে দিল। দেখা গেল যে,
শিক্ষয়িত্রী হিসাবে সে খুব উৎসাহের সঙ্গে কাজ করে বেশ
নাম কবে ফেলল। এ রকম ভাবে প্রত্যেকটি মানুষের
মনেব সম্পূর্ণ বিকাশ হ’বাব সুযােগ কবে দেওযাব দৃষ্টান্ত
একমাত্র সােস্যালিষ্ট-সােভিযেটেই পাওয়া যাবে।
আর একটা ঘটনা বলছি। একদিন এক জঙ্গলে কাঠ
কাটতে গিযে একজন কাঠুবিযাব পাযেব উপব একটা গাছ
প’ডে তাব পাটা জখম হ'যে যায় এবং খুব রক্তপাত হতে
থাকে। লবীতে কবে তৎক্ষণাৎ তাকে সহবেব হাসপাতালে
নিয়ে আসা হয।
ততক্ষণ তাৰ এত বেশী বক্ত ক্ষয় হ'যে
গেছে যে তার শবীবে অবিলম্বে বক্ত না দিলে তাকে আব
কোনমতেই বাঁচান যাবে না। কিন্তু এই ছােট্ট সহবেব
হাসপাতালে তার শরীরে উপযুক্ত বক্ত ছিল না এবং এত
শীঘ্র বক্ত অন্য কাবও শবীব থেকে নিয়ে পরীক্ষা কবে
দেখবাবও সময় ছিল না। তৎক্ষণাৎ বেতাবে বড় সহবে
খবব পাঠান হ’ল জমাট বক্ত পাঠাতে । কযেক মিনিটের
ভেতব সহবেব ওপব একট। এবােপ্লেন দেখা গেল এবং এই
এবােপ্লেনটা থেকে ছােট্ট একটি প্যারাসুটে এক শিশি জমাট
বক্ত নেবে এল। ডাক্তাব এই জমাট বক্তটা কাঠুবিযাব
শবীবে প্রবেশ কবিয়ে দিলেন , কাঠুবিযা বেঁচে গেল ।
প্রত্যেক মানুষেব জীবনকে সােস্যালিষ্ট সমাজে এত মূল্যবান
বলে মনে কৰা হয়। আমাদের মত দেশে শত শত লোেক
অনাহারে বাস্তার ধারে মবে পড়ে থাকলেও লােকে ভ্রুক্ষেপ
কবে না। যে সমাজ, প্রত্যেকটি লােকের জীবনকে এতখানি মূল্য দেয় সে সমাজ নিশ্চয়ই আমাদের মনে আশার সঞ্চার কবে। [ পাঁচ ] সােস্যালিজম্ ও ক্যুনিজম্ বা সাম্যবাদ এতক্ষণ আমব শুধু কি কবে সােস্যালিষ্ট-সমাজে জিনিস- পত্র তৈবী হয তাই দেখেছি। কিন্তু কি কবে এই সব তৈরী জিনিসপত্র লােকদেব ভেতব বণ্টন করা হয়, তা আমরা দেখিনি। কাবখানাগুলােয় যে সব জিনিসপত্র তৈবী হয, সেগুলো না হয় বাজাবে নিয়ে যাওযা হ’ল লােকদের কাছে বিক্রী করবাব জন্য। কিন্তু লােকের পকেটে যদি পয়সা না থাকে, তবে লােকে কিনবে কি কবে ? লােকদেব পকেটে পয়সা আসে কি ক'বে, অর্থাৎ তাদেব আয় হয় কি কবে তা আমবা এখনও দেখিনি। এবাব তাই তােমাদের একটু বলব। ক্যাপিটালিষ্ট, সমাজে লােকেব আয দু’বকম ভাবে হ'তে পাবে। এক হ'তে পাবে পবিশ্রম কবে। শীব খাটিয়ে বা মস্তিষ্কের 'পবিশ্রম কবে লােকে কিছু আয় করতে পারে। মজুববা, কেবাণীবা, শিক্ষক, গভর্নমেন্ট-অফিসাববা, উকিলরা, ডাক্তাব এই বকম শবীর বা মাথা খাটিযে আয় করে।
আর আয হতে পাবে সম্পত্তি থেকে। কাবও যদি কোন
উৎপাদন-যন্ত্র থাকে, তবে সেই উৎপাদন যন্ত্র অপবকে
ব্যবহাব ক'বতে দিযে আয় হতে পাবে। সময সময়
উৎপাদন-যন্ত্রেব মালিক অপবকে উৎপাদন-যন্ত্র না দিযে
নিজেই তা খাটায় ।
উৎপাদন-যন্ত্রে ভাড়া
হিসেবে ত কিছু পাই, উপরন্তু উৎপাদন-যন্ত্র ব্যবহাব কবে
যা লাভ হয় তাও পায। জমিদাব, মহাজন, ব্যাঙ্কাব, কল
মালিক, ক্যাপিটালিষ্ট, প্রভৃতি লােকেবা এই ভাবে সম্পত্তি
থেকে আয় কবে। পবিশ্রম কবে যে আয হয, তাব চেযে
সম্পত্তি থেকে আযেব পবিমাণ অনেক বেশী। এই জন্যে
দেখাব, ক্যাপিটালিষ্ট, সমাজে সবাই টাকা পয়সা জমিযে
সম্পত্তি ক'ৰবাব জন্যে ব্যস্ত। কাবণ সম্পত্তি থাকলে বসে বসে
কোন কাজ না কবে যথেষ্ট আয কবা যায।
কোন কাজ না কবে যাব যত বেশী আয, ক্যাপিটালিষ্ট,
সমাজে তাব তত বেশী মান। সবাই তাকে দেখলেই সেলাম
ঠোকে, বিশেষ সমীহ ক'বে চলে। ক্যাপিটালিষ্ট, সমাজে
বিদ্যাই বল আব বুদ্ধিই বল বা অন্য কোন ভাল গুণ বল,
টাকা না থাকলে এ সব গুণেব কোন মর্যাদাই দেওয়া হয়
। এই জন্য সবাই ক্যাপিটালিষ্ট, হতে চায়।
সােস্যালিষ্ট-সমাজে আযেব দ্বিতীয় উপায় নষ্ট করে
দেওয়া হয়। সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত অধিকার নষ্ট হয়ে
যায় বলে সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে বসে বসে খাবার আর
এমন কি
উপায় থাকে না। সবাইকে পবিএম কবে কাজ কবে
খেতে হয। পবিশ্রম যে না করে, সােস্যালিষ্ট-সমাজে
তাব ভাত জোটে না। মাথাব পরিশ্রমই হোক, আর
গতব খাটিযেই হােক, পবিশ্রম সবাইকে ক’বতেই ছয।
বসে বসে আবামে খাওয়া যায় না বলে ক্যাপিটালিষ্টবা ও
সম্পত্তিওয়ালা লােকে তাই সােস্যালিজমেব এত বিবােধ।
এখন প্রশ্ন ক’বতে পাব, কেউ যদি কাজ না পায়, তা হলে
সে কি কবে খাবে ? ক্যাপিটালিষ্ট, সমাজে অনেকে বেকাব
থাকে। আবাব যাবা চাকবি কবে, যে কোন মুহূর্তে তাদেব
চাকবি চলে যেতে পাবে। চাকবি চ'লে গেলে লােকেব
দুঃখ-কষ্টেব একশেষ হয , না খেয়ে শুকিযে মবতে হয়।
কাজেই সবাই চাকবি যাওযাব বড় ভয় কবে এবং চাকরি
গেলে যাতে কষ্টে না পড়তে হয়, তার জন্য বাধ্য হ'যে কিছু
জমাবাব চেষ্টা কবে। সােস্যালিষ্ট-সমাজে কিন্তু চাকবি না
পাবাব বা চাকবি যাবাৰ কোন ভয় থাকে না। কেন না,
উৎপাদন-যন্ত্রে সকলেবই অধিকার থাকে বলে সবাই সেই
উৎপাদন-যন্ত্র ব্যবহার কবে কিছু আযেবও অধিকাবী হয।
সােস্যালিষ্ট-সমাজে, আমরা আগে দেখেছি, লােকেব অবস্থা
দিন দিন ভাল হতে থাকে বলে জিনিস-পত্রে চাহিদা
খুব বেড়ে যেতে থাকে। সেইজন্য উৎপাদন-যন্ত্র বেশী বেশী
কবে খাটাতে হয়, এবং তার জন্য লােকজনেবও দরকার
থাকে সব-সময়। কাজেই “এই কাবখানায় লােক দবকাব
নেই” এ-রকম নােটিশ –যা ক্যাপিটালিষ্ট-দেশের কাবখানা-
গুলােতে প্রাযই ঝুলান দেখা যায-সসাস্যালিষ্ট-দেশের
কাবখানায় থাকে না। তাবপবে ছােটবেলা থেকেই শিক্ষকরা
পরীক্ষা কবে দেখে, কোন ছেলে বা মেযেব কোন্ দিকে
বেশী ঝোঁক আছে। তাকে সেই বকম শিক্ষা দিয়ে, শিক্ষা
শেষ হ’বাব পৰ সেই কাজে তাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
যেমন দেখা গেল, একটি ছেলেব ইঞ্জিনিয়াবিংযেব দিকে
ঝোঁক আছে, তাকে তখন ইঞ্জিনিয়াবিং শেখান হ'ল এবং
শিক্ষাব পব এক কাবখানায় ইঞ্জিনিযাব করে দেওয়া হল।
এই জন্যে সােস্যালিষ্ট-দেশে কেউ বেকার থাকে না। আব
কেউ বেকাব হয় না। কেন না, মনে কব, কোন এক
কাবখানায ম্যানেজাবেব সঙ্গে কোন সাধারণ শ্রমিকেব
ঝগড়া হ ল। ক্যাপিটালিষ্ট দেশ হ'লে শ্রমিককে তৎক্ষণাৎ
বিদায় নিতে হত। কিন্তু সােস্যালিষ্টদেশে এই ঝগড়া
ফ্যাক্টবী-কমিটির কাছে যাবে বিচাবেব জন্য। ফ্যাক্টবী-
কমিটিতে শ্রমিকদের মধ্য থেকে কযেকজন ও ম্যানেজাবে
পক্ষ থেকে কযেকজন লােক থাকে। ভাবা যদি দেখে
ম্যানেজার দোষী তাহলে ম্যানেজাবকে শাসন কবে , আব
মজুব দোষী হলে তাকে শাসন কবে। আব যদি প্রমাণিত
হয় যে, সে মজুব এই কাবখানা কোন কাজেবই উপযুক্ত
নয়, তা হলে তাকে শ্রমিক-সঙ্ঘেব (Trade Union)
কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান হয়। তাব সে যে কাজেব
উপযুক্ত, সেই বকম কাজ খুজে তাকে লাগিয়ে দেয়। এই জন্যে সােস্যালিষ্ট-দেশে কেউ বেকাব হয় না। এ-ছাড়া কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে তাকে “অসুস্থতাব ভাতা” (Sick Insurance Benefit) দেওয়া হয় এবং চিকিৎসাব সব বন্দোবস্ত কবে দেওয়া হয়। বুড়াে হলে সবাই পেন্স পায। কাজেস না খেয়ে মরবার ভয আব সােস্যালিষ্ট-দেশে থাকে না। এই জন্য পুঁজি ক’ববাবও দৰকাব হয় না। অনেকে ধাৰণা, সােস্যালিষ্ট-দেশে সকলেব সমান মাইনে। এ-ধাৰণা অত্যন্ত ভুল। সমান মাইনে দেওয সম্ভবও হয় না, এবং ন্যাযেব দিক থেকে উচিতও নয়। সম্ভব হয় না এই জন্য যে কঠিন পবিশ্রম কবে কেউ যদি কম পবিশ্রম যে কবে তার সমান মাইনে পায়, তবে কঠিন পবিশ্ৰম কেউ ক’বতে চাইবে না। এর ফলে জিনিস- পত্র উৎপাদন হবে না ঠিক মত। আবাব এ-বকম নিয়ম অন্যাযও হবে। হবে। মনে কব, দু’জন লােক সমান মাইনে পাচ্ছে। একজন লম্বা-চওডা মস্ত জোযান, আব একজন বেঁটে ও বােগা। যে জাযান, তাব খাওযা বেশী দবকাব হবে, পরা বেশী দবকাব হবে, সব কিছু ভাব বেঁটে লােকটার চেয়ে বেশী লাগবে। এদেব দু’জনকে যদি সমান মাইনে দেওয়া হয়, তা হলে পালােযানের উপর অন্যায় করা হবে। সেই জন্যে সােস্যালিষ্ট-সমাজে সবাইকে সমান মাইনে দেওয়া হয় না। যাব যে-বকম কাজ, তাকে সেই বকম মাইনে দেওযা হয। তবে এটা সত্যি যে, ক্যাপিটালিষ্ট-সমাজে যেমন কেউ কেউ হাবভাঙ্গা খাটুনি খেটে খুব কম মাইনে পায, আর কেউ শুধু দু’একটা সই দিয়ে তার চেয়ে হাজাব-হাজার-গুণ বেশী মাইনে পায, এ-বকম বেশী তারতম্য থাকবে না। সব চেয়ে বেশী মাইনে এবং সব চেয়ে কম মাইনের মধ্যে যে পার্থক্য তা ক্যাপিটালিষ্ট-সমাজ থেকে খুব কম হবে। কমুনিষ্ট-সমাজ। ফিউডাল-সমাজ থেকে জন্ম নিয়েছে ক্যাপিটালিষ্ট, সমাজ , ক্যাপিটালিষ্ট, সমাজ থেকে জন্ম নেবে সােস্যালিষ্ট- সমাজ, এবং সােস্যালিষ্ট-সমাজ উন্নত হতে হতে কম্যুনিষ্ট- সমাজে রূপান্তবিত হবে। কমুনিষ্ট-সমাজটা কি বকম হবে ? কমুনিষ্ট-সমাজে সােস্যালিষ্ট-সমাজেব মতই প্ল্যান ক'বে জিনিসপত্র তৈরী হবে। কিন্তু বন্টনেব নিয়মটা বদলে যাবে। সােস্যালিষ্ট-সমাজে বণ্টনেব নিযম হচ্ছে, যে যে- রকম কাজ কবে, সে সেই রকম আয় করে। কিন্তু কমুনিষ্ট- সমাজে আযেব নিযম হবে, আবশ্যকতা অনুযাযী আয় । যাব যে-বকম জিনিসপত্রের দরকাব সে সেই রকম পাবে। ক্যাপিটালিষ্ট-সমাজে থেকে থেকে মানুষেব আত্মরক্ষার জন্যই ভয়ানক স্বার্থপব হতে হয়। স্বার্থপব না হলে ক্যাপিটালিষ্ট-সমাজে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়। মানুষেব
মন এই বকম স্বার্থপব থাকার জন্য সােস্যালিষ্ট-সমাজেও
আবশ্যকতা-অনুযায়ী বণ্টনেব নিযম কাজে লাগান যায় না।
কাবণ, তাহলে লােকে কাজ-কর্ম কিছু না কবে সব
জিনিস পত্র নিজেদের দরকার বলে ভােগ ক'বতে চাইবে।
সােস্যালিষ্ট-সমাজে থেকে থেকে, সােস্যালিষ্ট, শিক্ষাব ফলে
মানুষেব মন যখন যথেষ্ট উন্নত হবে ও ব্যক্তি-স্বার্থ থেকে
সমাজেব স্বার্থ বড় কবে দেখতে শিখবে এবং বৈজ্ঞানিক
উন্নতির ফলে যখন সমাজেব উৎপাদন ক্ষমতা যথেষ্ট পৰিমাণে
বেড়ে যাবে, তখনই আবশ্যকতা-অনুযায়ী বণ্টনেব নিযম কাজে
লাগান যাবে। ভাব আগে সম্ভব হবে না।
কমুনিষ্ট-সমাজেব সঙ্গে সােস্যালিষ্ট-সমাজেব দ্বিতীয়
পার্থক্য হল এই যে, কমুনিষ্ট-সমাজে রাষ্ট্র থাকবে না।
আমবা দেখেছি, সমাজে শ্রেণী থাকলেই বা থাকে।
এক শ্রেণী অন্য শ্রেণীকে শাসন ক’ববার জন্যই বাষ্ট্র ব্যবহার
কবে। সােস্যালিষ্ট-সমাজে ধীবে ধীবে শ্রেণীগুলো সব নষ্ট
হয়ে যাবে। উৎপাদন-যন্ত্রে সকলেব অধিকার থাকবে
এবং ক্ষমতা থাকলে সবাই সমাজেব যে-কোন কাজ করতে
পাববে। এমনি ভাবে সুযােগ সবাই সমান পাবে বলে
শ্ৰেণী আব থাকবে না। ছােট লােক বড়লােক বলে, উচু
নীচু বলে, মানুষে মানুষে কোন বিভেদ আব থাকবে না।
শ্রেণী যখন ধীবে ধীরে লােপ পেতে থাকবে, তখন রাষ্ট্রেবও
আর আবশ্যকতা কিছু থাকবে না। রাষ্ট্রও ধীরে ধীরে
৬৪
লােপ পেযে যাবে। তখন আইন-কানুন সবাই মিলে
করবে, এবং সবাই তা স্বেচ্ছায় পালন ক’ববে। তাব
জন্য পুলিশ, গুপ্তচব, সৈন্য, কয়েদখানাব কিছু দৰকাব
হবে না। জোর দেখাবার কোন আবশ্যকতাই থাকবে না।
তখন বাষ্ট্রেব জায়গায় “জন-সাধাবণেব কমিটি” গােছেব
একটা থাকবে মাত্র।
সমস্ত পৃথিবীব ভিন্ন ভিন্ন দেশগুলাে মিলে তখন
শুধু একটা মাত্র দেশ ক’ববে । এই বকম হবে
কমুনিষ্ট-সমাজ।
[ ছয় ]
ডেমােক্রাসী বা গণতন্ত্র
বাজা যেখানে আইন তৈরী কবে এবং দেশ শাসন
কবে, সেখানকাব গভর্ণমেন্টকে বলা হয় বাজতন্ত্র। আর
যেখানে জন-সাধাবণ বা জন-সাধাবণের দ্বাবা মনােনীত
লােকেবা আইন তৈবী কবে ও দেশ শাসন কবে,
সেখানকার গভর্ণমেন্টকে বলা হয় “গণতান্ত্রিক’-গভর্ণমেন্ট।
গণতন্ত্র এই ধাৰণার উপর স্থাপিত যে, দেশে গভর্ণমেন্ট
সকলেব মত নিযে কবা উচিত, এবং আইন-কানুনও
সকলেব মতামত নিযে বচনা কৰা উচিত। কারণ
গণসাধারণের মতামত না নিয়ে যদি আইন-কানুন তৈরী
জন- অবিচার, হয বা দেশ শাসন করা হয়, তা হলে যাবা দেশ শাসন কবে এবং আইন তৈবী কবে, তাবা তাদের স্বার্থেব জন্যই আইন-কানুন তৈবী ক’ববে এবং দেশ শাসন ক’ববে। সাধাবণের স্বার্থেব দিকে তাবা দৃষ্টি দেবে না। কাজেই এ-বকম শাসনেব ফলে গণসাধাবণের উপব অন্যায়, হবাব খুব সম্ভাবনা থাকে এবং তাদেব স্বাধীনতা লােপ পায। কাজেই গভর্ণমেন্ট জন-সাধাবণেব মত নিয়ে করা উচিত। বর্তমানে যে সব ডেমােক্রাটিক দেশ আছে এগুলােকে ‘বুর্জোযা ডেমােক্রাটিক’ দেশ বলা হয়। এগুলাে সব ফবাসী-বিপ্লবেব সমযে স্থাপিত হয়। বুর্জোয়া শ্রেণী যখন দেখল যে, তারা সংখ্যায় খুব কম হওযায ফিউডাল বা জমিদাবশ্রেণীব হাত থেকে ক্ষমতা একা একা নিয়ে নিতে পাববে না, তখন সব মানুষ সমান”,“সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতাই আমাদেব লক্ষ্য” ইত্যাদি বুলি আউডে শ্রমিক-কৃষকদের সাহায্য লাভ কবে। কিন্তু ক্ষমতা যখন তারা পেল, তখন এ-সবগুলো সত্যি ক'বে কাজে লাগাবাব জন্য তাদেব তেমন উৎসাহ বইল না। শুধু শ্রমিক ও কৃষকদেব চাপে পড়ে আইনেব চক্ষে সবাই সমান বলে কর্তব্য শেষ ক’বল। গভর্ণমেন্টও অব কোন একজনেব হাতে বইল না। ভােট দিয়ে প্রতিনিধি মনােনন কবে সেই প্রতিনিধিদের দিযে গভর্ণমেন্টেব কাজ চালান হতে লাগল। কিন্তু আইনেব চক্ষে সবাই সমান হলে কি হবে, কাজেব বেলা ক্ষমতা বুর্জোযা-শ্রেণীব হাতেই থেকে গেল। কাবণ উৎপাদন-যন্ত্র তাদেব হাতে থেকে যাওয়ায, তাদেব মুখ চেযেই শ্রমিক কৃষকদেব থাকতে হল। এমন কিছু শ্রমিক কৃষক ক’বতে সাহস পেল না, যাতে বুর্জোযাবা অসন্তুষ্ট হযে তাদেব চাকবী খুইযে দেবে। তাবপবে খববেব কাগজ গুলােও সব বুর্জোয়াদেব হাতেই থেকে গেল। এব ফলে, শ্রমিক ও কৃষকদেব বিপথে নিয়ে গিয়ে নিজেদেব স্বার্থসিদ্ধি কবিযে নেবাব কোন অসুবিধা থাকল না। শ্রমিক-কৃষকদেব এমন কিছু শিক্ষা দীক্ষা দেবার সুবিধা কবা হ’ল না, যাতে তারা গভর্ণমেন্টেব কাজ-কর্ম নিজেই চালিয়ে নিতে পাবে। কাজেই সব দিক থেকেই এবা বুর্জোয়াদেব মুখ চেযে তাদেব অধীন হ'যে রইল। এইজন্য বর্তমান ডেমােক্রাসীগুলােতে আইনত যদিও সবাই সমান হ’ল, যদিও সবাই স্বাধীন হ’ল, কিন্তু আসলে সমস্ত ক্ষমতা বুর্জোয়াদেব হাতেই থেকে গেল। সেই জন্য বর্তমান ডেমোেক্রাসীকে সত্যিকার ডেমােক্রাসী বলা চলে না। সত্যিকার ডেমােক্রাসী স্থাপন করতে হলে, উৎপাদন- যন্ত্রে সকলের সমান-অধিকার দেওয়া দরকার। কাবণ তা হ'লে, উৎপাদন-যন্ত্রে যাদের বেশী অধিকার থাকে, তাবা সমাজে বেশী শক্তিশালী হয়ে পড়ে। গভর্ণমেন্ট তাদের হাতে চলে যায় এবং জনসাধারণের স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে যায়।
৬৭
দ্বিতীয়তঃ, জীবনে সকলের সমান সুযােগ দেওয়া দরকার।
কারণ কোন শ্রেণীব লােক যদি অপব শ্রেণী থেকে বেশী
সুযােগ পায, তা হলে যাবা বেশী সুযােগ পেল, তাবা
স্বভাবতই, যারা কম সুযােগ পেল, তাদেব উপব বাজত্ব
ক’ববে। এই জন্য সমাজে শ্রেণী থাকলে, ডেমােক্রাসী
সফল হতে পারে না। তাবপবে ডেমােক্রাসী সফল কবে
তুলবার জন্য সকলকে লেখাপড়া শেখবাব সমান সুযােগ
দেওয়া দবকাব এবং সকলেব যাতে কিছু না কিছু কাজ থাকে
এবং কাজ হাবিয়ে কেউ বেকাব না হ'যে পড়ে, তার ব্যবস্থাও
কবা বকাব। শুধু কাজ দিলেই যথেষ্ট হয় না, বাজনীতিতে
যােগ দেবাব সুযােগ ও সামর্থ্য অর্জন কববার জন্য যথেষ্ট
ছুটিও তাকে দেওয়া চাই। সােস্যালিজম্ কি তা যদি বুঝে
থাক, তা হলে দেখতে পাবে, সােস্যালিজ এ-সবগুলােই
মানুষেব জীবনেব পক্ষে সম্ভব করে তােলে। কাজেই
সােস্যালিজমেব মধ্য দিযেই ডেমােক্রাসী সত্যিকাব ডেমো-
ক্রাসীতে পবিণত হতে পাবে। তা না হলে শুধু মুখে
বলে দিলাম, সব মানুষ সমান, কিন্তু কাজের বেলা যে
ছােট, তাকে ছােট ক'বেই যদি রাখি, তা হলে ডেমোেক্রাসী
হয় না, ঠিক তার উল্টো করা হয়। এ-বকম অবস্থায়
জনসাধারণেব হাজাব সুযােগ-সুবিধা আইনে লেখা থাকলেও
সেগুলো কখনও কাজে লাগান যায় না।
উৎপাদন-যন্ত্রে ব্যক্তিগত অধিকার থাকিলেই সমাজে
শ্রেণী থাকবে এবং সমাজে শ্রেণী থাকলেই শ্রেণী-সংগ্রাম
থাকবে। এই শ্রেণী-সংগ্রাম যখন খুব গুরুতর আকাব
ধাবণ কবে, এবং যখন শ্ৰমিক-শ্রেণী গভর্ণমেন্ট হস্তগত
কবার উপক্রম করে, তখন বুর্জোযা-শ্রেণীর পক্ষে আব
ডেমােক্রাসীর মুখােস বাখা সম্ভব হয় না। তখন তারা
ডেমোেক্রাসীব মুখােস ফেলে দিয়ে খােলাখুলি ভাবে।
শ্রমিকদেব নিষ্পেষণ আৰম্ভ করে, অর্থাৎ ফ্যাসিজম্ চালু
কবে। এই জন্য শ্রেণী-বিভক্ত বুর্জোযা ডেমােক্রাসী কখনও
বেশীদিন স্থায়ী হতে পাবে না। শ্রেণী-সংগ্রামেব ধাক্কায়
এব পতন অনিবার্য। শ্রেণী-হীন-সমাজেই শুধু ডেমোেক্রাসী
পূর্ণ ও সফল হতে পাবে।
শেষ কথা :
ইম্পেবিযালিজম্ যে ক্যাপিটালিজমের মধ্য থেকেই
বেবিযে-আসা অনিবাৰ্য ফল, এ-বােধ হয তােমবা এখন
বুঝতে পাবছ । ইম্পেবিযালিজম্ ও ফ্যাসিজম্ দু'টো
আলাদা জিনিস নয়, ক্যাপিটালিজমেব দু’বকম রূপ।
ক্যাপিটালিজম্ যে সব সমস্যার সৃষ্টি কবে, বুর্জোযা-শ্রেণী
সেই সব সমস্যার সমাধান ক’ববার জন্য ইম্পেবিযালিজম্
ও ফ্যাসিজমেব আশ্রয় নেয়। কিন্তু আমরা দেখেছি,
ইম্পেবিযালিজম্ ও ফ্যাসিজম্ কিছুদিনের জন্য মাত্র এই
সব সমস্যাগুলো ধামাচাপা দিয়ে বাখতে পাবে, সম্পূর্ণ
সমাধান ক’বতে পাবে না। এর সমাধান হয সােস্যালিজমের
এবং
ভেতব দিযে। সােস্যালিজমই হ’ল ক্যাপিটালিজমেব শেষ
ফল। এই ফলেব জন্ম দিয়ে ক্যাপিটালিজম্ ম’বে যায়।
কিন্তু সােস্যালিজমেব জন্ম নিতে অনেক সংঘর্ষে দুবকবি
হয, অনেক বক্তপাতও হয়
যদি জনসাধাৰণ
সােস্যালিজমেব আবশ্যকতা সম্বন্ধে সচেতন না হয়, তবে
সমযও অনেকদিন লাগে। এই সব বক্তপাত ও সংঘর্ষ
অনেক কম কবে দেওয়া যায়, যদি লােকে সােস্যালিজম্
যে দবকাব এবং এক দিন তা আসবেই, এটা বেশ ভাল
ক’বে বােঝে এবং সােস্যালিজম্ যাতে শীঘ্র আসতে পাবে,
তার জন্য চেষ্টা কবে। যত বেশী লােক এটা ভাল কবে
বুঝবে এবং এর জন্য চেষ্টা ক’ববে, ততই মানুষেব এই
অনাবশ্যক দুঃখভােগ কমে যাবে।
[ সাত ]
পৃথিবীর রাজনীতি
গত মহাযুদ্ধের সময ১৯১৭ সালের নভেম্বব মাসে
বলশেভিক দলেব নেতৃত্বে কশ-দেশে বিপ্লব হয় এবং ধনি-
শ্রেণীব হাত থেকে গভর্ণমেন্ট শ্রমিক ও দবিদ্ৰ জনসাধাৰণেব
হাতে চলে যায়। রুশ-দেশে শ্রমিকদেব হাতে ক্ষমতা চলে
যাওযায সমস্ত পৃথিবীব পুজিবাদীবা অত্যন্ত ভীত হ'যে
পড়ে। কাবণ রুশ-দেশের শ্রমিকদের দেখাদেখি তাদেব
৭০ দেশের শ্রমিকবাও যদি উৎসাহিত হয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে বসে সেই ভয়ে তারা ধনীদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে ওঠাব জন্য রুশ-দেশের শ্রমিকদের বেশ কিছু শিক্ষা দিযে অঙ্কুবেই বিনাশ কবার সংকল্প গ্রহণ কবে। ইংবেজ, ফবাসী, জাৰ্ম্মাণী, জাপান, আমেবিকা, পােলা, কমেনি প্রভৃতি সমস্ত পুঁজিবাদী দেশগুলিই রুশ-দেশে সৈন্য পাঠিয়ে দেয় শ্রমিক- শ্ৰেণীকে ধ্বংস কবে দিতে। কিন্তু লালফৌজেব বিক্রমেব কাছে এবা কেউ টিকতে পাবে না। তা ছাড়া এই সব দেশগুলােতে শ্রমিকেবা দাবী ক’বতে থাকে যে কশ-দেশ থেকে সৈন্য-সামন্ত সব ফিবিযে আনা হােক। এই দুই কাবণে পুঁজিবাদীবা তখনকাব মত কশ-দেশ থেকে “পবে দেখে নেব” বলে পবম-বিক্রমে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। যুদ্ধ কবে “ছােট লােকেব” দেশ রুশিযাকে ঠাণ্ডা ক’বতে না পাবলেও পুজিবাদীরা তখন অর্থনৈতিক ব্যকোট কবে তাকে জব্দ ক’ববাব চেষ্টা ক’বতে থাকে। কশিব মালপত্র কেনা বা বিক্রী কবা, টাকা ধার দেওয়া ইত্যাদি সব বন্ধ ক’বে রুশিযাকে “ভদ্র” পুঁজিবাদী সমাজ থেকে এক ঘবে কবে বাখে। এব ফলে কশিয়াকে কষ্ট পেতে হয খুব। তিন বছর যুদ্ধ, তার উপব দু’বছর গৃহযুদ্ধ ইত্যাদি কারণে দেশের উৎপাদন খুব কমে যায় এবং দেশে দুর্ভিক্ষ হ'যে অনেক লােক মারা যায়। পুঁজিবাদিবা ভেবেছিল এবাব সােভিযেট দেশ সাবাড় হ’ল। কিন্তু দুর্ভিক্ষকেও ক্রমশঃ ৭১ সােভিযেট দেশ দূব কবে দিল। এর পব সব বাধা বিপত্তি কাটিযেও কশ-দেশ দ্রুতগতিতে উন্নতি লাভ ক’বতে থাকে। নিল। এব পব থেকে পৃথিবীব বাজনীতিতে নূতন এক জিনিস জন্ম এতদিন পুঁজিবাদীদেব নিজেদেব ভেতর বেষবেষি, সাম্রাজ্যলাভেব ইচ্ছা, পুঁজিবাদী দেশেব আক্র- মণব ভয ইত্যাদি ছিল। এখন তা ছাড়াও আব এক নূতন উপসর্গ এসে জোটে। তা হচ্ছে “বলশেভিক ভীতি”। অর্থাৎ বলশেভিক রুশিযাব সাফল্য দেখে, তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হযে যদি পুজিবাদীদেব নিজেব দেশের শ্রমিক- শ্রেণী বলশেভিকদের মত বিপ্লব কবে বসে এই ভয। ইংবেজ, ফবাসী প্রভৃতি সাম্রাজ্য ওয়ালা দেশগুলােব বাজনৈতিক চালবাজীব মােটামুটি উদ্দেশ্য হ’ল সাম্রাজ্যহীন দেশগুলােব আক্রমণ থেকে নিজেদেব সাম্রাজ্য বক্ষা কবা এবং শ্রমিক-বিপ্লব যাতে নিজেদের দেশে এবং অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে তার চেষ্টা করা। জাৰ্মাণী, ইটালী, জাপান প্রভৃতি সাম্রাজ্যহীন দেশগুলিব উদ্দেশ্য হল —নিজেদেব দেশ থেকে এবং অন্যান্য দেশ থেকে বিপ্লবেব সম্ভাবনাকে দূব করা এবং সাম্রাজ্যের বিস্তাব কবা। সাম্রাজ্যে বিস্তাব করা নিযে কলােনীহীন ও কলােনীওয়ালা পুজিবাদী দেশগুলাের ভেতব বেষবেষি চলতে লাগল খুব, কিন্তু বিপ্লবেব ধ্বংস-সাধন করা সম্বন্ধে এবা ছিল সব একমত। এই বিপ্লবের বীজ
৭২
রুশিয়া থেকেই ছড়াচ্ছিল বলে কশিযা সমস্ত পুজিবাদীদেব
শত্রু হয়ে পড়ল।
বিপ্লবেব ঠিক পবে পুজিবাদী দেশগুলােব বিনা কাবণে
আক্রমণ সমাজতন্ত্রী রুশিয়া ভােলে নি এবং তারা ভাল কবে
জানত যে সুযােগ পেলেই পুজিবাদী দেশগুলাে আবাব
রুশিযাব ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। শিযাব নেতাব বাবে
বাবে জনগণকে এ বিষয়ে সাবধান কবে দিযেছিল এবং
অস্ত্রশস্ত্র তৈরী কবে ও শিক্ষা দিয়ে লালফৌজকে যতদূব
সম্ভব শক্তিশালী কবে ভােলাব চেষ্টা কচ্ছিল। অন্যান্য দেশ
সম্বন্ধে কশিযাব নীতি ছিল মােটামুটিভাবে এইরূপ—
আত্মবক্ষা কবা ও অন্যান্য দেশে যাতে বিপ্লব হয তাব চেষ্টা
করা। এই দুই উদ্দেশ্যই সফল হত যদি যুদ্ধ বন্ধ করা
যেত। কাবণ যুদ্ধ হ'তে না দিলে, রুশ দেশের উপর আক্রমণ
হ’তই না । আব যুদ্ধ করে কলােনী আদায ক’বতে না
পাবলে পুঁজিবাদী দেশে অর্থসঙ্কট ইত্যাদি দূব করা যায় না
এবং অর্থসঙ্কট দূব ক’বতে না পাবলে পুজিবাদী দেশে বিপ্লব
হ'যে পাবে না।
পুঁজিবাদীবাও যুদ্ধ না থাকাতে নিজেই খুব ব্যবসা-
সঙ্কটের মধ্যে হাবুডাবু খাচ্ছিল। সেই সময়ে দেখা গেল
সােভিযেট ব্যবস্থায় রুশ দেশে খুব উন্নতি হচ্ছে। পুজিবাদী
দেশে অবস্থার অবনতির সঙ্গে সােভিযেটেব সাফল্য ও
জনগণের অবস্থার দ্রুত উন্নতি তুলনা কবে সকল দেশেই
৭৩ জনগণ ক্রমেই সােভিযেট-পন্থী হ'যে উঠছিল। কাজেই যুদ্ধ বন্ধ কবে শান্তি বজায় বাবা গেলে সােভিয়েটেব আত্মবক্ষাও হত আবার অন্যান্য দেশে বিপ্লবও এগিযে আসত। কাজেই এই সময়ে যাতে যুদ্ধ বন্ধ হয তার জন্য সােভিযেট প্রাণপণ চেষ্টা ক’বতে থাকে। বড় বড় সাম্রাজ্য- বাদী দেশ ও দুর্বল পুঁজিবাদী দেশগুলােও যুদ্ধ না হওযাব পক্ষে ছিল। বাবণ যুদ্ধ হলে সাম্রাজ্যবাদী দেশে সাম্রাজ্য হাবাবাব সম্ভাবনা, আব দুৰ্বল পুঁজিবাদী দেশে ভয—যুদ্ধ হলে তারা স্বাধীনতাই হবে। কাজেই পুজিবাদী দেশে মধ্যেও এবা কতকটা যুদ্ধে বিবােধী ছিল। সুতবাং সােভিযেট চেষ্টা ক’বতে লাগল যুদ্ধের বিরুদ্ধে যে সব দেশ, সে গুলােকে একত্র কবে এবদলে টেনে নিয়ে আসতে এবং তাদেব সম্মিলিত শক্তিব ভয় দেখিযে যাবা যুদ্ধ ক’বতে চায তাদেব যুদ্ধের থেকে দূবে বাখতে। এই নীতিব নাম ছিল “যুক্ত-নিবাপত্তা” (collective security), অর্থাৎ সকলে মিলে নিবাপদ থাকার চেষ্টা করা। লিটভিনফ এই নীতি কাজে লাগাবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা ক’বতে থাকেন। জাতিসজে তিনি বাবে বাবে যে দেশ যুদ্ধ ক’বতে চাইবে সে দেশে বিরুদ্ধে অন্য সমস্ত জাতির সংঘবদ্ধ শক্তি নিযােগ ক’ববার প্রস্তাব আনেন। কিন্তু প্রধানতঃ ইংবেজদেব বিবােধিতার জন্যই এই নীতি সফল হয় না। জাৰ্মাণী, ইটালী এবং জাপানও এই নীতিতে সায় দিতে চায় না।
৭৪
জাৰ্মাণী, ইটালী এবং জাপানেব যুদ্ধ ক’বতে চাওয়ার উদ্দেশ্য
বুঝতে কষ্ট হয় না। তাদেব অনেকের কলােনী বিশেষ
নেই অন্ততঃ তেমন বড় কলােনী নেই। কলােনী না
থাকায়, তাদের কলােনী আদায কবা দবকাব এবং কলােনী
আদায ক’বতে গেলে যুদ্ধেব দরকার। কাজেই শান্তিব
প্রস্তাবে এবা কোনমতেই সায় দিতে চায় নি। কিন্তু
এদেব বিবােধিতা সত্ত্বেও যুদ্ধ বন্ধ কবা যেত, যদি ইংবেজেবা
“যুক্ত-নিবাপত্তা” নীতি গ্রহণ ক’বত।
ইংবেজ সাম্রাজ্যবাদীবা এ নীতি গ্রহণ ক’বল না কেন ?
তাব দু’টি কাবণ ছিল। সবচেয়ে বড় কাবণ হ’ল বিপ্লবের
ভয, কাবণ তাদের দেশে পুজিবাদেব অবস্থা সঙ্গিন হচ্ছিল।
জাৰ্মাণীকে ইংবেজ বাজনীতিবিদ্ ববাববই “বিপ্লবের
বিরুদ্ধে প্রাচীব” হিসেবে দেখে এসেছেন। ভাবতেন
সােভিযেট বিপ্লবের বিরুদ্ধে তাবাই ইউবােপে পুজিবাদেব
প্রাচীব। লযেড জর্জ খােলাখুলি ভাবে এ কথা স্বীকার
কবে গিয়েছেন। জার্মানীতে যদি সােভিযেট গবর্ণমেন্ট
স্থাপিত হয় তা হলে গােটা ইউবােপে বিপ্লবের ঢেউ ছড়িয়ে
যাবে
ঢেউযেব ধাক্কা ইংলণ্ডও সামলাতে
পাববে না। কাজেই জার্মানীতে বিপ্লব হতে দেওয়া মানে
সমস্ত ইউবােপে এবং তাবপব গােটা পৃথিবীতে বিপ্লব হতে
দেওয। সুতরাং জার্মানীতে, শুধু জাৰ্মানী কেন পৃথিবীর
যে কোন দেশে বিপ্লব হতে না দেওয। ইংলণ্ডেব পবিত্র
এবং
সে
৭৫
দাযিত্ব হয়ে পড়ল। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে ফ্রান্সের সঙ্গে
ব্রিটেনের রেষাবেষি, ফ্রান্স যাতে ইংলণ্ডেব সমান সমান না
হয়ে ওঠে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা দবকাব। কারণ ফ্রান্স
ইংলণ্ডেব সমান হ'লে হয়ত ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিপদগ্রস্ত
হয়ে পড়তে পাবে। কাজেই ফ্রান্সকেও খানিকটা চেপে
বাখা দবকাব। এ কাজে জাৰ্মানীকে মুগুব হিসেবে ব্যবহাব
কবা ইংবেজেব পক্ষে খুব সুবিধাজনক ছিল। কাবণ ফ্রান্স ও
জার্মানীর বহু পুবাতন ঝগড়া পবস্পবেব বিৰুদ্ধে পরস্পবকে
ভীষণ সন্দিহান ব’বে তুলেছিল। গত মহাযুদ্ধের পর থেকে
ফ্রান্স চেষ্টা ক’বতে থাকে জার্মানীকে একেবাবে পঙ্গু কবে
বাখতে, আব উঠতে না দিতে। কিন্তু ইংবেজ দেখল
জার্মানীকে যদি সেভাবে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় তা হলে
ফ্রান্সকে বােধ ক’বাব ইউবােপে আব কেউ থাকে না।
কাজেই জাৰ্মানীকে একেবাবে ধ্বংস হতে দিলে চলবে না।
মুগুব যাতে বেশ পাকাপােক্ত এবং ব্যবহাবযােগ্য থাকে
তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এব জন্য যখন জাৰ্মানীর
কোন বিপদ দেখা গিয়েছে তখনই ইংবেজ পুঁজিবাদী
জাৰ্মানীব সাহায্যের জন্য ছুটে এসেছে। টাকা ধার দিয়ে,
ভাসাই সন্ধিব বিৰুদ্ধে যুদ্ধে জাহাজ তৈরীব হুকুম দিযে
জার্মানীকে সাহায্য কবেছে।
যুক্ত-নিরাপত্তা নীতিতে সম্মত হওয়া মানে জার্মানীকে
সাম্রাজ্য বিস্তার করতে না দেওয়া। ইংবাজ পুঁজিবাদীরা
৭৬
ভাল করে জানত যে জাৰ্মানীকে সাম্রাজ্য বিস্তাব ক’বতে
দিলে, হিটলাবেব পতন হবে এবং জার্মানীতে বিপ্লব
আটকান যাবে না। জার্মানীতে বিপ্লব হলে যেমন সমস্ত
ইউবােপে বিপ্লব হবাব ভয, তেমনি আবাব যদি বিপ্লব নাও
হয তা হলে ফ্রান্স খুব বেশী পবিমাণে শক্তিশালী হযে
ওঠার সম্ভাবনা। কাজেই জার্মানীকে সাম্রাজ্য আদায ক’বতে
দিতেই হবে। কিন্তু ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যাতে হিটলাবেব
আক্রমণ থেকে বক্ষা পায় সেদিকেও লক্ষ্য বাখতে হবে।
সুতবাং হিটলাব যাতে পূর্ব ইউবােপের দিকে সাম্রাজ্য
বিস্তাব কবে, ইংবেজ পুজিবাদীবা তার চেষ্টা করতে লাগল।
অর্থাৎ সােভিয়েট রুশিযাকে যেন আক্রমণ কবে তার জন্য
হিটলাবকে পুষতে লাগল এবং উৎসাহিতও ক’বতে লাগল।
হিটলাব কশিযাকে আক্রমণ কবে পবান্ত ক’বতে পাবলে,
এক ঢিলে দু'পাখা নাবা যাবে,- জাৰ্মানীব সাম্রাজ্য বিস্তাবও
হবে এবং পুজিবাদীদেব বুকে কাটা সােভিযেটের ধ্বংসসাধন
কবে বিপ্লবেব ভয দূব বাবা যাবে। কাজেই ইংবেজরা
প্রাণপণ চেষ্টা ক’বতে লাগল যাতে হিটলাব কশিযাকে
আক্রমণ কবে। এই সকল কারণে যুক্ত-নিরাপত্তা নীতি
তাদের পক্ষে গ্রহণ কবা সম্ভব ছিল না।
যুক্ত-নিবাপত্তা নীতি গ্রহণ না কবে যে নীতি ইংলণ্ডের
শাসকে গ্রহণ ক’বল, তাৰ নাম “শান্ত কবাব” নীতি বা
appeasement policy চেম্বাবলেন তখন ইংলণ্ডেব প্রধান
৭৭
।
মন্ত্রী। চেম্বাবলেনেব সাঙ্গোপাঙ্গ যাব। এই “শান্ত কবাব”
নীতি সমর্থন ক’বত তাদের বলা হয় “ক্লাইভডেন সেট”।
লণ্ডনের অল্প দূবে ক্লাইভডেন নামক জায়গায় তাদেব
একজন সমর্থকের বাড়ী। এরা প্রত্যেক সপ্তাহের শেষে
সে বাড়িতে জড হত এবং সেখানে বসে তাদের যত বকম
ষড়যন্ত্র সব ঠিক হ'ত। এবা সবাই ছিল বড় বড় ব্যাঙ্ক ও
কলেব মালিক এবং প্রত্যেকেই হিটলাব এবং মুসােলিনীব
ভক্ত। রুশিযাকে এব ভযঙ্কব ঘৃণা কবত এবং হিটলাবের
মত এবাও পৃথিবী থেকে বলশেভিকবাদ ধ্বংস কবাব সদিচ্ছা
পােষণ ক’বত। অর্থাৎ প্রকাশ্যে না হলেও মনে প্রাণে
এবা ফ্যাসিবাদেবই ভক্ত ছিল। এদেব এই “শান্ত কবাব
নীতি”র অর্থ হল এই যে যখনই কোন ফ্যাসিষ্ট দেশ অন্য
কোন দুর্বল দেশকে আক্রমণ ক’বত তখন এ গিযে ঐ
দুৰ্বল দেশের কিছুটা ফ্যাসিষ্ট দেশকে ছেড়ে দিযে ফ্যাসিষ্টবা
আর বেশী দূব এগুবে না এইরূপ একটা সন্ধি কবে শান্তি
স্থাপন ক’বত এবং ফ্যাসিষ্টদেব শান্ত কবে আসত। দুর্বল
দেশ ভাবত অল্প কিছুতেই সে বক্ষা পেয়ে গেল। পৃথিবীব
জনসাধারণ ভাবত এ যাত্রা যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পাওযা
গেল। ইল্যাণ্ডেব লােকেবা চেম্বাবলেনকে শান্তির দূত বলে
শ্রদ্ধা, ভক্তিতে, বিগলিত হ'যে ধন্য ধন্য ক’বতে থাকত।
ফ্যাসিষ্টবা শুধু মনে মনে হাসত। এই শান্ত ক’বাব নীতি
প্রথম দেখা গেল ইটালীব আবিসিনিয়া আক্রমণ-কালে।
৭৮
রুশিয়া প্রস্তাব ক’বল ইটালীকে সম্পূর্ণরূপে “ব্যকট” ক'রে
সুযেজ-খাল বন্ধ কবে দিতে। সুযেজ-খাল বন্ধ কবে দিলে
আবিসিনিয়ায সৈন্য-সামন্ত পাঠান ইটালীব পক্ষে সম্ভব হত
। বাধ্য হ'যেই মুসসালিনীকে যুদ্ধ বন্ধ ক’বতে হত।
কিন্তু ইংবেজেবা আধাআধি “ব্যকট” নীতি গ্রহণ করল।
তাব ফলে মুসসালিনীর বিশেষ কিছু অসুবিধা হল না।
বিষবাষ্প ব্যবহার কবে মুসােলিনী আবিসিনিযা দখল
কবে নিল।
শান্ত ক’বাব নীতি এর পবেই দেখা গেল স্পেনে।
স্পেনে বিপ্লব হ’বার পব গণতান্ত্রিক গভর্ণমেন্ট স্থাপিত হয়।
এই গভর্ণমেন্টে অনেকখানি পরিমাণে শ্রমিক ও কৃষকদেব
প্রাধান্য স্থাপিত হয়। কিন্তু এই গভর্ণমেন্ট বুর্জোয়া ও
জমিদাব শ্রেণীকে ধ্বংস কবাব নীতি গ্রহণ ক’বল না। এমন
কি বুর্জোযা ও জমিদার শ্রেণীব নেতারা সেনাপতিব পদ
দখল করে থাকল। এর ফলে কিছুদিনের ভেতরই বুর্জোযা
ও জমিদার শ্রেণী ষড়যন্ত্র করে জেনারেল ফ্রাঙ্কোব নেতৃত্বে
বিদ্রোহ আবম্ভ করল। হিটলাব ও মুসােলিনী হাজার
হাজার সৈন্য, অস্ত্রশস্ত্র, এবােপ্লেন ও ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে জেনারেল
ফ্রাঙ্কোকে সাহায্য ক’বতে লাগল। স্পেনেব গণতান্ত্রিক
গভর্ণমেন্ট পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের কাছে সাহায্য
চেযে পাঠাল। ইংরেজ, ফরাসী, আমেবিকা ইত্যাদি
গণতান্ত্রিক দেশের গভর্ণমেন্ট বলতে লাগল, স্পেনের গােলমাল
৭৯
তাদেব নিজেদেব ভেতব ঝগড। অন্য দেশে নিজেদের
ভেতবে ঝগড়ায আমবা হস্তক্ষেপ ক’বতে বাজী নই। হিটলাব,
মুসসালিনী যে হাজার হাজার সৈন্য পাঠিযে স্পেনেব যুদ্ধকে
আব ঘবােয় ব্যাপাব কবে বাখে নি, সে কথা তাবা শুনতেই
চাইল না। তাদেব আসল উদ্দেশ্য—স্পেনে যাতে বিপ্লব
ধ্বংস হয়ে গিয়ে আবাব বুর্জোযাদের শাসন স্থাপিত হয়।
এবং বিপ্লব ধ্বংস কবার কাজ এবাবও এবা হিটলার ও
মুসােলিনীর উপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হযে থাকল।
অবশ্য আবিসিনিযাবও আগে এই নতুন ব্যাধি এশিয়ায়
দেখা দিয়েছিল। জাপানী ফ্যাসিবাদ চীনদেশের মাণ্ডুবি
দেশটা দখল কবেছিল কেউ বাধা দিলে না। তখন
জাপানীবা চীন আক্রমণ ক’বে একটু একটু কবে এগিযে
যেতে লাগল। জায়গায় জায়গায় ইংবেজদেবও জাপান
সুবিধে মত দু' এক ঘা ঠুকে দিচ্ছিল। কিন্তু তবুও চেম্বাবলেন
তাব “শান্ত করাব নীতি” চালিয়ে যেতে লাগল। জাপানকে
তােয়াজ করে খুশী কবার চেষ্টা করতে লাগল।
ভাবল—জাপানেব ক্ষুধাটা চীনেব উপব দিযে মিলে
ক্ষতি কি? ব্রিটেনের সাম্রাজ্য তাে বইলই, তারপরে
চীনেবাও যেমন বড় জাত, চাপা থাকলে ভালােই।
হিটলাব এদিকে তার সাম্রাজ্য-স্থাপন কবার কাজে
উঠে পড়ে লেগে গেল। অষ্ট্ৰিয বিনা যুদ্ধেই হাত করে নিল।
তারপর চেকোশ্লোভাকিযাব উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত-প্রদেশ
সুডেটানল্যাণ্ডেব উপব হাত দিল।
হাত দিল। চেম্বাবলেন তখন
বিমানে উড়ে গিবে মিউনিক সহবে হিটলাবেব সঙ্গে দেখা
কবে চেকোশ্লোভাকিযা ও জার্মানীর ভেতব এক সন্ধি করে
আসে। এই সন্ধিব ফলে সুডেটেনল্যাণ্ড জাৰ্মানীব হযে
যায। বাকী চেকদেশও প্রায় হিটলাবেব তাবেদাব হ'যে
যেতে বাধ্য হয় এবং জার্মানী আব অগ্রসব হবে না বলে
প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ক'মাস যেতে না যেতেই তাবপবেব
প্রদেশ দু’টো হিটলাব দখল কবে নিল ।
চেম্বাবলেন যখন দেখল হিটলাব তাব কথামত চলছে না
তখন হিটলাবকে একটু হুমকি দেবাব জন্য কশিযাব সঙ্গে
পৰস্পৰ যুদ্ধের সময় সাহায্য ক’ববাব চুক্তি ক’বাব ভাণ
ক'বল। রুশদেশের সঙ্গে আলাপ আলােচনা চালাবাব জন্য
কযেক জন ব্রিটিশ কর্মচাবীকে মস্কোতে পাঠিয়ে দিল,
কিন্তু এবা সবাই তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচাবী ছিল এবং চুক্তি
স্বাক্ষৰ কৰাব মত কোন ক্ষমতা এদেব ছিল না।
এই ভয দেখাবার সঙ্গে সঙ্গে আবাব হিটলারকে টাকা
ধাব দিয়ে বশ ক’ববাব চেষ্টাও চলতেলাগল। বাের্ড অব
ট্রেড নামে ইংলণ্ডেব প্রধান আধা-সবকাবী ব্যবসায়ীদের সহ
সভাপতি জাৰ্মানীকে কয়েক লক্ষ পাউণ্ড ধাব দিতে চাইল।
এই সব কথা সােভিযেট দেশ টেব পাচ্ছিল। আগে
অভিজ্ঞতা থেকে বিচাব কবেও ষ্টালিন চেম্বাবলেনেব এ চাল
অনায়াসেই ধরে ফেলতে পাবল। হিটলারও এই সময়
৮১ হয়। তিন, সম্পদ পরস্পরকে আক্রমণ করবে না বলে এক চুক্তিব প্রস্তাব নিযে মস্কোতে লােক পাঠাল। হিটলাব ববাবরই ভয় করছিল যে পূর্ব ও পশ্চিম দুই বণক্ষেত্রেই যদি যুদ্ধ ক’বতে হয় তা হলে তাব জযেব আশা কম। সুতরাং হিটলার চেষ্টা ক’বছিল যাতে শুধু মাত্র একটি রণক্ষেত্রে তাকে যুদ্ধ ক’বতে হয ফ্রান্স ও ইংল্যাণ্ডেব সঙ্গে পশ্চিম-বণক্ষেত্রে না হয় পূৰ্ব্ব বণক্ষেত্রে রুশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করবে। কশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ না কবার চাবটি কাবণ হিটলাব লর্ড লণ্ডনডেরীকে বলেছিল। এক, রুশিযাব সৈন্য-সামন্ত ও অস্ত্র-শস্ত্র। দুই, রুশিযার বিশাল বিস্তৃতি। কশিয়ার প্রাকৃতিক এবং চাব, রুশিযাব লােকদের আদর্শ নিষ্ঠা। এই চার কাবণে হিটলাব সেই সময়ে রুশ দেশ আক্রমণ ক’বতে সাহস ক’বল না। রুশিয়ার তুলনায় পশ্চিম বণক্ষেত্রে জযলাভ কবা অনেক সহজ। তাই হিলাব ২০ বছরের মধ্যে পবব পৰস্পবকে আক্রমণ করবে না বলে রুশিয়ার সঙ্গে এক চুক্তি করল। এব ফলে সােভিযেট রুশিয়ারও খুব সুবিধা হ'ল। কারণ হিটলারকে সােভিযেট দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে দেখে চেম্বাবলেন প্রভৃতি পুঁজিবাদীরা ক্ষেপে গেল। পুজিবাদী দেশগুলাের মধ্যেই যুদ্ধ বেধে গেল- হিটলার আক্রমণ ক’বল পােল্যাণ্ড। নিজেদের ভেতর তারা ঝগড়া করেই শক্তিক্ষয করতে লাগল, রুশিযাও তখন নিজের শক্তি বাড়াবার সময় ও সুযােগ পেল।
৮২
১৯৩৯ এব ১লা সেপ্টেম্বব জাৰ্মানী পােল্যাণ্ড আক্রমণ
ক’রল এবং কয়েকদিনের চেষ্টায় পােল্যাণ্ড 'বিধ্বস্ত করে
ফেলল। রুশিয়া ঠিক করে—তাব সীমান্ত এখনি শক্তিশালী
করা দবকার। সেই নীতি অনুযায়ী সে পােলাণ্ডের সবটা
জার্মানীর হাতে যেতে দিল না। লালফৌজ অগ্রসব হ'যে
গেল। গত মহাযুদ্ধের পবে যে প্রদেশটি পোল্যাণ্ড রুশিযাব
কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল এবার তা লালফৌজ দখল
ক’বল-- জার্মানীর হাতে পড়তে দিল না , ততদূব অবধি
লালফৌজ অগ্রসব হ'যে থাকল। এব পবে সােভিয়েটের
“পশ্চিম সীমান্ত শক্তিশালী করাব নীতি” অনুযায়ী
ফিনল্যাণ্ডেব কাছে সােভিযেট লেনিনগ্রাড সহর নিবাপদ
করার জন্য খানিকটা জায়গা দাবী ক’বল। বরাববই
ফিনল্যাণ্ডে তখন পুজিবাদীদের ষড়যন্ত্র চলছিল। ব্রিটিশ ও
ফবাসী বুর্জোয়াদের প্ররোচনায় এ সময়ে ফিনল্যাণ্ড এই
জায়গা দিতে অস্বীকার করল। লালফৌজ তখন যুদ্ধ ঘােষণা
করে এই জায়গা দখল করে নিল। আশ্চৰ্য্য এই যে,
ইংরেজ ও ফরাসী গভর্ণমেন্ট চেকোশ্লোভাকিয়া হিটলার দ্বারা
আক্রান্ত হলে হিটলারের বিরুদ্ধে কোন সৈন্য পাঠাবার
কল্পনাই করে নি ববং ছুটে হিটলারকে শান্ত করতে গেছে।
সেই ইংরাজ ও ফরাসী পুঁজিবাদী ফিনল্যাণ্ডের স্বাধীনতার
জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় উৎসাহী হয়ে উঠল। রুশদেশের
বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠাবার সব বন্দোবস্ত হয়ে গেল। কিন্তু
৮৩
সুইডেন এই সৈন্য তার সীমানার ভেতর দিয়ে পার হতে
দেওযায় সৈন্য পাঠান আর হ’ল না। রুশিয়া ফিনল্যাণ্ডকে
পরাস্ত করে ফেললেও লেনিনগ্রাডের কাছাকাছি যে
জায়গাটুকু ফিনল্যাণ্ডের কাছ থেকে নিল তার বদলে তার
চাইতে বেশী জায়গা ফেরৎ দিল উত্তৰ দিকে, এবং যুদ্ধের
জন্য ক্ষতিপূরণ কিছুই আদায ক’বল না। ফিনল্যাণ্ডের
পুজিবাদীদেরও কোন শাস্তি দিল না।
এর পর লালফৌজ
পশ্চিম সীমান্তের লাটভিযা, লিথুনিয়া ও এসথােনিয়া নামক
ছােট তিনটি দেশকে সুরক্ষিত করে স্বপক্ষে আনতে চেষ্টা
কবল ঐ একই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ পশ্চিম-সীমান্তে যাতে
বুর্জোয়ারা আক্রমণ করে সহজে বিশেষ সুবিধা না করতে
পারে। ওসব দেশও তখন হিটলারের ভয়ে কাঁপছে।
তারা নিজেদের পালিমেন্টে প্রস্তাব গ্রহণ করল—তারা
সােভিযেট-মণ্ডলে যােগ দেবে। ইংরেজ ও ফরাসী পুজিবাদী
কাগজগুলােয তখন সমাজতন্ত্রী রুশিয়া সাম্রাজ্যবাদী হয়ে
গেছে বলে ভীষণ চীৎকার আবম্ভ করেছিল। বস্তুতঃ জাৰ্মানী
তাদেব কথামত রুশদেশ আক্রমণ না করে তার সঙ্গে
মিতালি করায় তারা রুশদেশের ওপর ভয়ঙ্কর ক্ষেপে
গিয়েছিল। এখন—যখন দেখা গেল হিটলার সােভিযেট
দেশ সবলে আক্রমণ করছে—তখন সবাই স্বীকার করছে যে
রুশিয়া এই সব দেশ আগেই হাত করে খুব বুদ্ধিমানের
কাজই করেছিল। কারণ তা না হলে জার্মানীর আক্রমণ
৮৪
থেকে রুশ-দেশ রক্ষা করা যেত না এবং আজ হয়ত গােটা
পৃথিবীতে ফ্যাসিবাদের প্রভুত্ব কায়েম হয়ে যেত।
কশ ও জার্মানীর চুক্তির পবই চেম্বারলেন দেখল যে
তার “শান্ত-করার” নীতি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং
ষ্টালিনের কাছে বাজনৈতিক চালবাজীতে সে পরাজিত
হযেছে। জাৰ্মানী এদিকে দিন দিন একটার পর একটা
দেশ দখল ক'বে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং শক্তিশালী
হ’যে সে
ব্রিটিশসাম্রাজ্যই আক্রমণ ক’ববে।
কাজেই
হিটলারকে আর সুযােগ দেওয়া ঠিক হবে না। জাৰ্মানী
পােল্যাণ্ড আক্রমণ করলে ইংল্যাণ্ড ও ফ্রান্স তাই জাৰ্মানীর
বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা করল ১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বব।
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ যুদ্ধ আরম্ভ হ'ল। যে হিটলারকে
ইংরেজরা সযত্নে পুষেছিল সেই এবার ইংবেজদেব আচ্ছা
করে দংশন কবে দিল। হিটলাব যুদ্ধের প্রযােজনে
নরওযে ও ডেনমার্ক দখল করে নিল এবং হল্যাণ্ড
বেলজিয়ামের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হ'যে ফ্রান্স আক্রমণ
করল। কিন্তু প্রত্যেক দেশেই বুর্জোয়াদের মধ্যে হিটলাবেব
বন্ধু ছিল অনেকে। ফরাসী দেশের বুর্জোয়াদের ভেতবও
অনেকে হিটলারের পক্ষে ছিল, তারা স্বাধীনতার থেকে
বেশী ভয় করত তাদের দেশের শ্রমিক বিপ্লবকে। তাদের
বিশ্বাসঘাতকতায় ২৯ দিনের মধ্যে ফরাসী দেশেব পতন
হ'ল। এরপর হিটলার ইংল্যাণ্ড আক্রমণের চেষ্টা করতে
৮৫
লাগল। ইংল্যাণ্ডে খুব বােমাবর্ষণ হতে লাগল। কিন্তু
শুধু বােমাবর্ষণ করে একটা দেশ দখল করা যায় না।
হিটলার ইংল্যাণ্ডে সৈন্য পাঠাবার চেষ্টা করতে লাগল।
ইংরেজদের মতে ব্রিটিশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর
বিক্রমেব ফলে হিটলারের সৈন্য-সামন্ত ইংলিশ-চ্যানেল
পাব হতে পারে নি। সে যাই হােক, হিটলার ইংল্যাণ্ড
আক্রমণ বন্ধ রেখে পূর্ব ইউরােপের দিকে দৃষ্টি দিল
এবং এক এক করে যুগােশ্লাভিযা, গ্রীস্ দখল করে
নিল। ইউবােপের বাকী রাজ্যগুলাে স্বেচ্ছায় হিটলারের
পক্ষে যােগ দিল । সব দেশেই পুজিবাদীরা তত এই
চায—কাজেই শ্রমিক ও জনশক্তি মাথা তুলতে পারে নি।
এভাবে গােটা ইউদােপে মাত্র দুটো শক্তি মুখােমুখি
হ'যে দাড়াল। ফ্যাসিষ্ট জাৰ্মানী, ইটালী ও তাদেব
তাবেদাবরা এবং সােস্যালিষ্ট রুশিয়া আব প্রত্যেক দেশের
অত্যাচারিত শ্রমিক ও কৃষকের দল। জার্মানী সমস্ত
ইউবােপের মালিক হ'যে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে পড়েছিল
এবং ইউবােপের প্রত্যেক দেশের বুর্জোয়াদের একটা
অংশ হিটলারের পক্ষে এসে যােগ দিয়েছিল। এর ফলে
মালপত্র, অস্ত্রশস্ত্র ও সৈন্যেব অভাব হিটলারের থাকল না।
ফ্রান্সের পতনের পর থেকেই রুশ বুঝতে পারছিল
যে যুদ্ধের গতি ও প্রকৃতিব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এক
একটা দেশের পতনের সঙ্গে সঙ্গে হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
৬
সেই দেশের জনগণের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে পরিণত
হচ্ছিল। বুঝা যাচ্ছিল—ফ্যাসিজমের পতন না হ'লে সে
সব দেশের জনগণের স্বাধীনতা লাভ হবে না। অধিকৃত
দেশগুলাের বুর্জোয়ারা হিটলারের সঙ্গে যােগ দেওযায়,
এ ভাবে হিটলারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে সেই দেশের
বুর্জোয়াদেব পতন ও সােস্যালিষ্ট বিপ্লবের প্রশ্নও জড়িত
হ'যে পড়ল। হিটলারের পতনের ভেতর দিয়েই সেই
দেশগুলােতে সােস্থালিষ্ট বিপ্লব হ’বাব সম্ভাবনা দেখা
গেল। হিটলারের অতিরিক্ত
অতিরিক্ত শক্তি বৃদ্ধি হওযায় এবং
হিটলাবেব পতনের ভেতর দিয়ে গােটা ইউবােপে সােস্যালিষ্ট
বিপ্লব আসবার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায, সােভিযেট রুশি
বুঝতে পাবছিল যে হিটলারের সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য।
হিটলারও রুশিযাব মত শক্তিশালী দেশ পেছনে বেখে
যুদ্ধ করতে সাহস করছিল না। যদিও উভযেব ভেতর
অনাক্রমণ চুক্তি হয়েছিল, তা হলেও কেউ কাউকেই বিশ্বাস
ক’বতে পারছিল না। উভযেই জানত আজ হােক কাল
হােক সােস্যালিষ্ট রুশিযাব সঙ্গে ফ্যাসিষ্ট দেশগুলাের
যুদ্ধ অনিবার্য। কাজেই শান্তির সুযােগ পেয়ে রাশিয়া
পূর্ণবেগে নিজেকে শক্তিশালী ক’বছিল, জার্মানী সমস্ত
ইউরােপের মালিক হ'য়ে খুব শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।
জার্মানী বুঝতে পারল যে কশিয়াকে আর বাড়তে দেওয়া
ঠিক হবে না। কারণ আর বাড়তে দিলে রুশিয়ার সঙ্গে
৮৭ শেষে আর পাবা যাবে না। ইংবেজেব সঙ্গে যুদ্ধ কবে জার্মানী যদি জয়লাভও কবে তা হলেও রুশিযাব হাত থেকে সে কিছুতেই বাঁচতে পাববে না। কাজেই রুশিয়াকে কাবু কবা অবিলম্বে দবকার। আর এখন ৰুশিকে কাবু ক’বতে গিযে সমস্ত ইউবােপের বুর্জোয়া শ্রেণীব সাহায্য পাওয়া যাবে। এমন কি ইংল্যাণ্ডেব সঙ্গে একটা বােঝ- পড়াও হয়ে যেতে পাবে। এই আশায় ও ভযে হিটলার হঠাৎ ১৯৪১ সালের ২২ শে জুন রুশিযাকে অতর্কিতে আক্রমণ ক’বল। হিটলার নিজে স্বীকার করে গেছে যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সে জীবনে কখনও গ্রহণ কবেনি। লালফৌজ পরম বিক্রমে সমস্ত ইউবােপের সম্মিলিত শক্তিকে বাধা দিতে লাগল। প্রথম প্রথম লালফৌজকে অনেকদূর পেছনে হটে যেতে হয়েছিল। তাদের বণনীতিতে এইটাই ছিল তখন উদ্দেশ্য—হিটলারকে বাধা দিয়ে দিয়ে সরে যাবে , তারপর হিটলাবের সৈন্যদেব দম ফুবিয়ে এলে লালফৌজ করবে আক্রমণ। তাই এখন লালফৌজ ফ্যাসিষ্ট বাহিণীগুলােকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। লালফৌজ এই যুদ্ধে যে সাহস, আত্মত্যাগ ও সােস্যালিষ্ট-দেশের প্রতি ভালবাসা দেখিয়েছে তাতে আনেক সােভিযেট-বিরােধীও সমাজতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থাকে শ্রেষ্ঠ বলতে বাধ্য হযেছে। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র এর আগেই ইংরেজের পক্ষে এক রকম যুদ্ধে যােগ দেয়। জার্মানীর সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকায় bb ও জাপানের সঙ্গে চীনদেশের বাজারে তার প্রতিযােগিতা ক’বতে হত খুবই। জাপান ও জার্মানীতে আবার বন্ধুত্ব দু'জনাই সাম্রাজ্য চাষ বাড়াতে। এদের কাবু করতে পারলে এই সব বাজারে আমেরিকা একচ্ছত্র অধিকার পাবে , এই আশায় আমেরিকা জাৰ্মানীর বিরুদ্ধে পবােক্ষে ব্রিটেনকে সাহায্য ক’বত। জাপান যুদ্ধ আৰম্ভ ক’বলে জাৰ্মানী আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা ক’বল। জাপান সুযােগ বুঝে প্রশান্ত মহাসাগবেব ব্রিটিশ ও আমেরিকাৰ কলােনীগুলাে অধিকার করে নিল। এর ফলে জাপানীব সঙ্গে ইংবেজ ও আমেবিকার যুদ্ধ বেধে গেল। ইংল্যাণ্ড ও আমেবিকা প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধের জন্য মােটেই তৈবী ছিল না। কাজেই অতি অল্প চেষ্টাযই জাপান ইংল্যাণ্ড ও আমেবিকাকে হাবিয়ে দিয়ে ব্রহ্মদেশ অবধি এগিয়ে এল। এইরূপে যুদ্ধ ভারতের দুযাবে এসে হাজির হ'ল। এই বিপদের সম্মুখীন হ'যে রুশিয়া, আমেবিকা, চীন ও ইংল্যাণ্ড পৰস্পর পরস্পরকে সাহায্য ক’বতে বাজী হল। এদের বলা হয় “মিত্র পক্ষ” বা “সম্মিলিত শক্তি”। জাৰ্মানী, ইটালী ও জাপান বলশেভিজম্ ধ্বংস করার জন্য এক সঙ্গে বহুদিন আগেই যােগ দিয়েছিল। এদের বলা হয় “এক্সিস”- পক্ষ বা বাংলায় “অক্ষ-শক্তি” বা “চক্রশক্তি”। ভারতের লােকদের এক্সিস-পক্ষে থাকা উচিত, না মিত্র- পক্ষে থাকা উচিত, না নিরপেক্ষ থাকা উচিত, এ নিয়ে আজও
১
আলােচনার শেষ হয়নি। এমন অনেকে আছেন যারা মনে
করেন যে, এক্সিস-পক্ষ যুদ্ধে জিতলেই ভাল হয়। কারণ
তা হলে ভারতবর্ষ থেকে জাপান ইংরেজদের তাড়িয়ে দেবে
এবং জাপান ভাবতবর্ষকে স্বাধীনতা দিয়ে যাবে। এ রকম
লােকের সংখ্যা অবশ্য খুব কম। তােমরা পুঁজিবাদী যে
নিয়মের ফলে সাম্রাজ্যবাদী হ'তে বাধ্য হয তা যদি বুঝে
থাক, তা হলে সহজেই বুঝতে পাববে এ রকম মত পােষণ
কবা কত ভুল। কারণ পুজিবাদী দেশ অন্য দেশ দখল
করতে বাধ্য হয় বাজার হিসেবে ব্যবহাব কবাব জন্য। মুখে
সে মুসোলিনীর মত বলে 'আবিসিনিয়াকে সভ্য করব”,
বা ইংবেজদের মত বলে—“ভাবতবর্ষকে স্বাধীন ক’বব”
ইত্যাদি। যাই সে বলুক না কেন, জাপান যদি ভাবতবর্ষ
অধিকার করে তবে ভাবতবর্ষকে “বাজাব” করেই বাখবে—
স্বাধীনতা দিয়ে রিটার্ণ টিকিট কবে দেশে ফিবে যাবে না।
তা ছাড়া মিত্র-পক্ষ হেরে যাওযার অর্থ কি ? অর্থ শুধু
যে ইংবেজ ও আমেরিকা হেরে যাওযা তা নয়। মিত্র-পক্ষ
হেরে যাওযার অর্থ চীন হেবে যাওযা, রুশিয়া হেরে যাওয়া ,
অর্থ সমস্ত ইউরােপের লােকদের স্বাধীনতা হাবান এবং
একদিকে তুর্কী, আবব, পারস্য, আফগানিস্থান হিটলারের
অধীনে চলে যাওয়া এবং অন্যদিকে চীন, ইন্দোচীন, শ্যাম,
ব্ৰহ্মদেশ, অষ্ট্রেলিযা ইত্যাদি জাপানের অধীনে চলে যাওয়া।
এইরূপে গােটা ইউরােপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও অষ্ট্রেলিয়া
অসম্ভব। যখন ফ্যাসিষ্টদের করায়ত্ত তখন ভারতবর্ষ যে একা একা নিজের শক্তির জোরে স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবে তা আমরা তখন স্বাধীন থাকলে জার্মানী বা জাপানীদের দয়ার উপর নির্ভর করেই স্বাধীন থাকব। অর্থাৎ যতদিন তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থেব উপর আঘতে না দেব, এবং তাদেব সব বকম অর্থনৈতিক সুবিধা করে দেব ততদিন অমবা স্বাধীন থাকব । এ রকম স্বাধীনতা থাকা—আর এখনকাব ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে স্বাধীন থাকা একই কথা। মিত্র-পক্ষ যদি জেতে তা হলে আমাদেব লাভ কি ? মিত্র-পক্ষ জেতা মানে যে ব্রিটিশ-সাম্রাজ্যবাদের জেতা তা নয়। মিত্র-পক্ষ জেতা মানে চীনদেব যুদ্ধে জেতা, রুশিযাব যুদ্ধে জেতা, এবং সমস্ত ইউবােপে, চীন ও জাপানে বিপ্লবের জয এবং পুজিবাদী প্রথা ধ্বংসের সূচনা। গােটা ইউবােপ এবং চীনে যদি পুজিবাদী প্রথা ধ্বংস হয়ে যায় তবে সে বিপ্লবের ধাক্কায় ব্রিটিশ-সাম্রাজ্যবাদের পতন অনিবার্য। এবং এর ফলে আমাদের স্বাধীনতাও অনিবাৰ্য। আসলে মিত্র- পক্ষের জেতা মানে - মিত্র-পক্ষের জনগণের জেতা—তাদের বুর্জোয়াদের জেতা নয়, এটা বুঝতে হবে। কারণ সব দেশেই বুর্জোযাদের তাে হিটলারই বন্ধু—তার পরাজযে তারা দুর্বল হয়। যদিও বর্তমান যুদ্ধের স্বরূপ এই রকমভাবে দেখলে বুঝতে মােটেই কষ্ট হয় না, কিন্তু আমাদের দেশের লােকের পক্ষে এই বকম দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দেখা খুব কষ্টকর। তারা শুধু আমাদের দেশ এবং আমাদের দেশে বর্তমান অবস্থা দেখেই বিচার করে থাকে। “আমাদের দেশ বর্তমানে ব্রিটিশ- সাম্রাজ্যবাদী শাসন ক’বছে। এবং সেই অসমর্থ শাসন- ব্যবস্থার ফলে দেশের লােকের জীবন আজ অত্যন্ত দুর্দশা গ্রস্ত। তাবা সহজভাবে ভাবে—‘মিত্র-পক্ষের জয’ মানে এই অযােগ্য শাসকদেব জয় এবং তার ফলে জনগণেব দুঃখের আবও বৃদ্ধি , সুতরাং মিত্র-পক্ষেব পবাজ হওয়াই উচিত। কাবণ তা হ'লে বর্তমান শাসকদেব হাত থেকে অন্ততঃ রেহাই পাওয়া যাবে। তারপরে জাপান আসে কিনা তার ঠিক নেই , আব যদিও বা আসে তা হলে এত খারাপ হযত তাব হবে না। আর যদি হযও তা হ'লে আমাদের দুঃখ যা আছে তার চাইতে আর বাড়বে কি।”—আমাদেব দেশের অনেক লােকই এই রকমভাবে বর্তমান যুদ্ধটাকে দেখে থাকে। বর্তমান যুদ্ধে যদিও সাম্রাজ্য রক্ষার জন্যই ব্রিটিশ-সাম্রাজ্য- বাদীরা রুশিয়া ও চীনাদের সঙ্গে যােগ দিযে লড়ছে কিন্তু এই যুদ্ধের ভেতর দিযেই সাম্রাজ্যবাদীদেব “রক্ষা-প্রাচীব” ফ্যাসিজম্ ধ্বংস হচ্ছে আর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের চাইতেও অনেক বেশী শক্তিশালী এক শক্তি উঠছে এবং ধীরে ধীরে তা সাম্রাজ্যবাদী-প্রথাব গােড়ার ভিত্তি পুঁজিবাদী প্রথাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এই সব লক্ষণ আমরা এখনও চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি না। সে শক্তি হচ্ছে সমস্ত ৯২ ইউরােপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিরাট জন-জাগরণ। এ কথা লেখা হযেছিল ১৯৪১ সালের প্রথম দিকে। এই কয মাসের ভেতর ফ্যাসিষ্টদেব পবাজযেব ভেতর দিয়ে সমগ্র ইউবােপে জন-জাগৰণ এতদূর এগিয়ে গেছে যে আজকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের সমস্ত অপচেষ্টা ব্যর্থ করে সমাজ- তান্ত্রিক বাষ্ট্রের দিকে ইউবােপীয় দেশগুলিব অগ্রগতি সকলের কাছেই খুব স্পষ্ট হ'যে উঠেছে। একমাত্র ব্রিটিশ-বিদ্বেষ যেখানে দেশ-সেবকদেব পুজি সেখানে অবশ্য এর উল্টো রকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা ব্রিটিশ-বিবােধী হ'তে গিযে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঠিক যুদ্ধ-কৌশলও ভুলে যাই। সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও ফ্যাসিষ্টবাদ সম্বন্ধে উপযুক্ত জ্ঞানেব অভাবই এইরূপ সীমাবদ্ধ দৃষ্টিব কাবণ। সে যাই হােক না কেন, তােমরা যদি পুঁজিবাদী সমাজ-ব্যবস্থার গােড়ার নিয়মগুলাে বুঝে থাক তা হ'লে ফ্যাসিষ্টদেব পরাজযেব ভেতর দিযেই যে সমস্ত পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এগিয়ে আসবে এবং সমস্ত দেশের জনগণের স্বাধীনতা অনিবার্য হয়ে পড়বে তা বুঝতে কষ্ট হবে না এবং ভারতবর্ষও যে এই স্বাধীনতার নামে এগিয়ে যেতে পারবে তাও বুঝতে পারবে।
আজ আমার জীবনে সর্বগ্রাসী যুদ্ধই বড় কথা। এই
বু আকাশ হইতে পড়ে নাই, বিধাতার খেলে অথবা
কোন বিশেষ বা কতিপয় ব্যক্তির আকস্মিক ক্ষমতালিপ্সর
উহার উৎপত্তি নহে, উহা মানুষের বা জাতির প্রভাব
প্রবৃত্তিও নহে। উহার পশ্চাতে যে নিগুঢ় সামাজিক ও
অর্থনৈতিক কারণ রহিয়াছে, তাহাই বিনা আড়ম্বরে অত্যন্ত
সাধারণ ভাষায় কিশাের কিশােরীকে বুঝাইয়া দেওয়া
হইয়াছে। আমার মনে হয়, যাহাদের জন্য বইখানি লেখা,
তাহাদের বাপ-দাদা খুড়ােনাও যদি এই ছােট বইখানির
পাতাগুলি উল্টাই দেখেন, তবে তাহা একেবারে পওএম
হয় না।
অরণি
১৩ই কার্তিক, ১৩৪৯।
অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েরা—যাহার সাহায্যে রাজনীতির
মােটামুটি কথাগুলি জানিতে পারে, বাঙ্গলা ভাষায় এইরূপ
একখানা বইয়ের খুবই অভাব ছিল। লেখকের আলােচ্য
গ্রন্থখানা সে অভাব পূরণ করিবে। লেখক রাজনীতির
জটিল বিষযগুলি এত সহজ ও সরলভাবে বিবৃত করিযাছেন
বে, ছেলেমেযে একটু চেষ্টা করিলেই উহা বুঝিতে পারিবে
এবং আধুনিক রাজনীতির মূল বিষয়গুলির সঙ্গে পরিচয়
লাভ করিতে পারিবে। শুধু অঙ্ক ছেলেমেযেরা নহে,
অনেক ৰয়ৰু লােকও এ বইখানা পড়িলে উপকৃত হইবেন।
আন বাজার পত্রিকা
১৭ই জানুয়ারী, ১৯০৩।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.