Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shri Shri Hari Sangit Ed.5
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
শ্রীশ্রী ধাম ওড়াকান্দির শ্রীহরি গুরুদ ভক্ত
প্রেমিক কবি
অশ্বিনী কুমার গােস্বামী
প্রণীত।
পঞ্চম সংস্করণ
নীলরতন রায়
গ্রাঃ মড়িয়া, পােঃ চন্দ্রদিঘলিয়া, ফরিদপুর।
গােপালগঞ্জ, সাধনা প্রেসে
জিতেন্দ্রনাথ বিশ্বাস কর্তৃক মুদ্রিত।
১৩৩৯ সাল।
মূল্য ১০ আনা।
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত
No text on this page.
উৎসর্গ ।
এই সঙ্গীতাবলী
মহা মহাপ্রভু
শ্রীশ্রীহরির্চাদের
শ্রীহরি
গুরুচঁাদের
শ্রীশ্রীচরণারবিন্দে
উৎসর্গীকৃত
সমর্পিত
হইল।
গ্রন্থকার।
No text on this page.
ভুমিকা এই শ্রীহরি সঙ্গীত নামক কীৰ্ত্তন পুস্তিক। শ্রীশ্রীধাম ওড়াকান্দির ভক্ত কর্তৃক বিরচিত। ইহাতে মহাপ্রভু শ্রীশ্রীহরিচাদ লীলা এবং শ্রীহরি গুরুদ গুণাবল। গত সন্নিবেশিত আছে। পাগল চূড়ামণি স্বামী মহানন্দ এবং কবিরসরাজ প্রতারক চন্দ্র রায় সরকার গুরুপাদ মহাত্মায় ইহ জগতের লীলা খেলা সমাপনান্তর মহাপ্রভূর সেব। কার্যে নিযুক্ত হইয়াছেন। অথচ এই কীৰ্ত্তন রচয়িতা প্রেমিক কবি বলেন, যে এই গ্রন্থের সমস্ত গান আনা- কর্তৃক রচিত নহে, উক্ত গুরুপাদ মহাত্মাদের অনুকম্পায় রচিত হইয়াছে। কারণ আমি নিরক্ষর, লেখাপড়া কিছুই জানি না বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। এই সমস্ত গান বহুদিন জনসমাজে গায়ক কর্তৃক কীৰ্তন করা হইতেছে, তৃতীয় ও চতুর্থ সংস্করণের গান বহি না থাকায় কেই পাইতেছেন না। বর্তমান সময় শ্রীশ্রীধাম ওড়াকান্দির পরম ভক্ত, ফরিদপুর জিলার অন্তর্গত গােপালগঞ্জ মহকুমা ষ্টেসাধীন আমডিয়া নিবাসী মূলীরাম রায় মহাত্মার পুত্র শ্রীযুক্ত হরিনাথ রায় ও জগবন্ধু রায়, পুলিশ সাব- ইন্সপেক্টর এই গ্রন্থ মুদ্রনের ব্যয়ভার বহন করায় পঞ্চম সংস্করণ মুদ্রিত হইল ইতি। সন ১৩৯ সাল, এনীলরতন রায়, ৫ই আশ্বিন । প্রকাশক।
No text on this page.
সুচী পত্র। পৃঃ পৃষ্ঠা বন্দনা ১} ভরে আমার মন শাহরির রূপ বর্ণন অতি ২। জয় জগদ্বন্ধু প্রভাতি ৩। প্রণতি শুকশারী প্রভাতি ২৬ ৪। গাওহে প্রতি বন্দনা ৫। জয় হরি শ্রীহরিচাদের জয় ৬। আনন্দে ল ওরে মধুর ৭। প্রেম অনুরাগ ভক্তি বিবেক ১৭। সংসার সাগররূপে ভাই ১৮ ১৮ ! যদি যাবি ওপার ৯। ওড়াকান্দী প্রেম বারুণী ২০ । আমার হরিচাদের প্রেমের ২২ ২১। তোরা কি প্রেম ২১। হরিনাম বলরে একান্তে ২৩। ভূতলে চঁ নেমেছে ২৮। হরিচাদ রূপ পরাণ ২৭ মনে এক বাঞ্ছা ছিল ২৮ ২৬। কণিতে হচিঁাদ হ'ল উয় ২৯ ২৭। ত্বরায় চ ভবপারে যাই ২৮। কি বনে তুযিব গুরু ২৯। চিত্ত পত্র লিখি অপরূপ এক মানুষ এল ৩৪ ৩১। সাধ করে এই ভবে এসে ৩৫ ৩২। কামিনী কাল নাগিনী হরিন প্রাপ্ত হ'লে ৩৪। হরিনাম সুধা পানে ৩৫। হরিচাদের অপার লীলারে ৩৯ १ ৮। হৃদয় যন্ত্রে ৯. নাঃ গুরুচন্দ্র ননঃ ১০ । কর নামামৃত চান ১১। ওড়াকান্দি যাবি যদি আমার হৃদ কদম্ব শুরু গুরুর প্রতি প্রেম ভক্তি ১৪ ১৪। ভবব্যাধি সারবি যদি ৩৬। হরি গুণ ঘুণে দেহ ৪১ হরিবল বলরে একবার আমার মন বড় দুরাশা ১৬। ১৭ ৩। দেখে মার খেলা ১২ ৬১। হরিনাম সিংহ রবে ৪৬ ৩৮। এবার শুনলে মতুয়া পাড়া ১৩ ৩৯। যদি ধরবি মতুয়ার বুলি ৪ ৪৩। নিদাঘেতে দাগ লাগালি ৮১। রত্ন ডাঙ্গার বিলে $৭ ৪২ নারিকেল বাড়ীর গােলােক ৪৮ ৪৩। আয়না ভাই সবে মিলে ৪৯ ৪৪। গুরুদ এমন চঁাদকে 'ভবে ৫১ ৪৫। হরিচাদ হেরে জীবন ৪৬। মনের মানুষ ধর ৪৭। মােরা কেন নবদ্বীপ বাব ৪৮। আর মন চল যাই ৪৯। গুরুদ পাঠাইও না গুরু কৃপাদৃষ্টি ৫৮ ৫১। মনমাগী তোর দেল ১৩ & ৪ ৬২। প্রেমের পাগল সাজ নিন। ঐ কররে মন মানুষ বৰ্ত্ত ৭২ ৩৪। দয়া করি দয়াগ শুরু ৬৫। হরিনাম বিনে আর বন্ধু নাই ৭৪ কেন কর ভাই ষােদেষি ৭৫ ৬৭। আমাকে ছুনালে প্রাণ ৭৬ ৬৮। আমি কি আমাতে আছি ৭৭ ৬৯। রূপ সাগরে, যে জন ডুবেছে ৭৯ ৭। নিষ্কাম নগরে চল মন ৭৯ ৭১। গুরুচাদের তখিল ভেঙ্গে ৭২। গুরুতর করে ভারি ৭৩। আমি গুরু বৈমুখ হয়ে ৭৪। হুজুরে পড়েছি ধরা ৮৪ কত গুণের হরি আমার ঐ ৭৬। তত্ত্ব জ্ঞানে মত্ত হয়ে ৭৭। কেরে ঐশুরুর পদে এ পাপ দেহ গুরু পদে ৭৯। স্বার্থত্যাগী অনুরাগী ৮৮ ৮০। যদি শান্তি ধামে যাবি ৮ ৫৬ ৫৯ ৬১ ৫২। আমার মন মধুকর ৫৩। এবার মুখ হ’লনা বসত ৫৪। করণ যুদ্ধ কর ৫৫। ভক্তি রতন না থাকিলে ৭৮। ৩৪ ৫৬। তৃণ হতে সুনীচেন শুরু নিষ্ঠা নামে রুচি ৬৬ । ৫৮। পতিত পাবন হবে না দেহ লঙ্কার শঙ্কা ঘুচাও ৬। কে কে নিবি আয়না তোৱা • প্রেম নগরে বাগে বাসা ৮২। মন কাদে মন মানুষ বলে ৯১ ৮৩। আমার হরিচাদের রূপের ৯২ ৮৪। দয়াময় দিনবন্ধু হরি ঐ ১২ও - ৮। হরি পরাণ পুতুল ১০৭। চণরে বলতে ১১৮ ৮৬। গুরুর কাছে হুকুম নিয়ে ১৮। বামকরে ধর ভাবের ৮৭। উঠল ভাব সাগরে প্রেমের ৯৬ ১৯। জগৎ পাগল করতে, পাগল ১২ ৮৮। মন চোরা দুখ পাশরা ১১০। হরি প্রেম বা এসে ৮৯। পথ ছাড়রে ছজন বাণী ১১১। হরি প্রেম সাগরে বান, ১২২ ৯। কে বলেরে রিপু ছয় জন ঐ ১১২। যে দিন গুরু কৃপা করেছে ১২৩ ৯১। যে জন রক্ষা করে পিতৃধন ১০০ ১১৩। গুরু পতির ব'সে বামে ৯২। ধরে যুগ পুষ্পবন্ত ১০১ ১১৪। হরিচাদ প্রেমের আগুন ১২৫ ৯৩। দয়াকরি এস হরি ১১৫। করেছি মহা যজ্ঞের ১২৭ ৯৪। মান অপমান যাহার সমান ১০৫ ১১৬। আর কবে ঘুচিবে গুরু ১২ ৯৫। কি মধুরনাম আনলেন হরি ১০৬ ১১৭। আমায় কি স্বপ্ন দেখালে ১২৯ ৯৬। হারে ও তম কর হ’ল ১১৮। হরিচাদ দৃষ্টি ভূতে ৯৭। বাঁকা সখা হরিহে ১১৯। হরিপ্রেম মদের নেশা ১৩১ ৯৮। মরি তাই ভেবে ঐ ১২০। আমার জন্ম মৃত্যু দু’ট এ মহাদেশে ১২১। কেউ যদি ঢেউ ধরতে ১৩৪ ১০। বড় ভাব লাগায়ে গেলি ১১০ ১২২। নিদান আমার বন্ধু বটে ১৩৫ ১১। আপন বলিতে আমার ১২০। মন চল যাই বিদেশ ছেড়ে ১৩৬ ১০২। দেহ পবিত্রময় হলে হৃদয় ১১২ ১২৪। মনে ভাবি কাঙ্গাল হব ১৩৭ ১৩। হরি তােমারই তুলনা তুমি ১১৩ ১২৫। আমি পিতৃমাতৃ হলেম ঐ ১৪। তার রূপের কথা ১১৪ ১২৬। এই দেখাত শেষ দেখা ১৩৮ ১০৫। গুৰু পুণ্য ফাসী গলায় ১১৫ ১২৭। সমর্পিত দেহ মন ১০৬। তুমি নাই রূপে কানাই ১২৮। বিপদ সুপদ মম ১০৮ ১৯।
১২৯। যারে নয়ন ধরগে ১৪১ ১৪২। হরি ভজব কি আর ১৫৫
১৩০। হরি দয়াময়
১৪২ ১৪৩। চতুল্য অভিমন্যু ১৫৬
১৩১। হরিনামে পাপ খণ্ডে ১৪৪ ১৪৪। পঞ্চ আত্মা পাণ্ডবের ঐ
১৩২। ভক্তিকে যে তুচ্ছ ১৪৫ ১৪৫। আয়রে ও মন মত্তকরি ১৫৭
১৩৩। হরি প্রেমসাগরে বান ১৪৬ ১৪৬। হাটকর মন সাধনগঞ্জ ১৫৮
১৩ টুল তরঙ্গ দরিয়ায় ১৪৭ ৪৭। সাধের এক ময়না পুষে ১৫৯
১৫। মনরে ক্ষেপা ক্ষেপে ১৪৮ ১.৪৮। শ্রীধাম ওড়াকান্দি চল ১৬১
১৩৬। সহজ অনুরাগে ১৪৯ ১৪৯। কৃপাসিন্ধু দীনবন্ধু ১৬২
১৩৭। ভালবেসে গুণমণি ১৫০। গুরু কিধন চিলিনা ১৬৩
১৬৪
১৩৮। অহৈতুকী প্রেমভক্তি ১৫১
১৫১। মনা ভাই আয় না
১৫২। প্রেম শূন্য জীর্ণ দেহে ১৬৫
১৩৯। হরি তােমায় করি ঐ .
১৫। আমার নিদান দেখে ১৬৬
১৪। হরিদাস খুঁজে পেলেম ১৫৩
১৫৪। আর কত কান্দাবি
১৪১। আমার এক চাকর এ
১৫৫। তােমাকে বাসিভাল ১৬৭
১৫০,
শ্রীশ্রীহৱি সঙ্গীত।
বন্দনা
১নং
তাল-ঠুংরী।
ভজরে আমার মন, ভজ হরিচন্দ্র
যারে ভজিলে আনন্দ হবে, দূরে যাবে নিরানন্দ।
ভজ রামকান্ত যশােমন্ত, হইয়া একান্ত ।
যশােমন্ত সুত আমার প্রভু হরিচন্দ্র।
ভজ কৃষ্ণদাস, বৈষ্ণবদাস, গৌরীদাস স্বরূপচন্দ্র
( জয় জয় বন্দ ও আমার মন )
ভজ বিশ্বনাথ, ব্রজনাথ, আরাে নাটুচন্দ্র।
ভজ মনােসাধে, গুরুদে হয়ে শুদ্ধশান্ত।
ভজ শশিভূষণ, শ্রীসুধন্য, উপেন্দ্র, সুরেন্দ্র।
ভজ গােলকচঁাদ, বদনাদ, দয়াল মহানন্দ।
ভজ হীরামন, শ্রীলােচন, ক্ষেপা-রামচন্দ্র।
ভজ দশরথ, রাম ভরত, মতুয়া গােবিন্দ ।
ভজ স্বরূপরায়, মৃত্যুঞ্জয়, গোঁসাই তারকচন্দ্র।
ভজ হরিপাল, রসিকলাল, আর মঙ্গলচন্দ্র।
২
শ্রীহরি সঙ্গীত।
ভজ উমাচরণ, সূৰ্য্যনারায়ণ, কীৰ্ত্তনীয়া গােলকচন্দ্র।
ভজ দয়ারাম, ফেলারাম, আরাে কুশইচন্দ্র।
ভূজ রামধন, রামতনু, চূড়ামণি, বুদ্ধিমন্ত।
ভজ রামকুমার, অক্ষয় ঠাকুর, বস্তু নবীনচন্দ্র।
ভজ রামসুন্দর কোটীশ্বর, বালা ঈশ্বরচন্দ্র।
ভজ রামাদ, নেহালাদ, সাধু মহেশচন্দ্র।
ভজ রাইচরণ, রামমােহন আরাে কার্তিকচন্দ্র।
ভজ লালাদ, জয়াদ, আরো গােলকচন্দ্র।
ভজ তপস্বীরাম, ভজরাম, আরাে আড়ঙ্গচন্দ্র।
ভজ কমলদাস, মূলিরাম, করুণা আনন্দ।
ভজ করযােড়ে বিনয় করে হরির্চাদের ভক্তবৃন্দ।
যেই যেই দেশে আছে হরির্চাদের ভক্তবৃন্দ।
হয়েছে হবেন যত, হরিচাদের ভক্তবৃন্দ।
২ নং তাল ঠুংরি
জয় জগদ্বন্ধু করুণাসিন্ধু, যশােমন্ত নন্দন হরি ।
কলির শেষেতে, কলুষ নাশিতে, উদয় সফলানগরী।
১। ভূভার হরণ, পতিত পাবন, ভুবন রঞ্জন কারী।
পতিত তারিতে, আইলামহীতে, সাঙ্গোপাঙ্গ সঙ্গে করি
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩
২। ত্রিতাপ হরক, দুরিত বারক, দুরন্ত কৃতান্তবারী।
দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন, শরণাগত হিতকারী।
রেশম বরণ, অঙ্গের কিরণ, একাম্বরধারী।
আজানুলম্বিত, বাহু সুবলিত, বাক্য মধুর মধুরী।
৪। সুদীর্ঘ কেশ, মনােহর বেশ, দীন হীন বেশধারী ।
আকর্ণ-লােচন, অরুণ বরণ, হেরিয়া কুরিয়া মরি।
বয়স তরুণ, দেখিতে নবীন, ভব-ভয়-ভঞ্জনকারী।
হীরক-উজ্জ্বল, দন্ত সুনির্মল, খগপতি জিনি নাসা হেরি
৬। ভকত-চকোর, সুধাপানে বিভাের, হরিচঁাদরূপ নেহারী।
গােলক পুলক, হৃদয় আলােক, হরিচাদরূপ হৃদে ধরি।
৭। হীরামন মন, করিলে মােহন, রামরূপ ধারণ করি।
সপিয়া জীবন, ত্যজিয়া ভবন, বীর করুণ-রস-বিহারী।
৮। হরি প্রেমসিন্ধু, পিয়ে তারকচন্দ্র, ছলছল নয়ন বারি।
পিয়ে মকরন্দ, প্রেমে মহানন্দ, ঘরে ঘরে প্রেম বিতরি।
ভকত রঞ্জন, বিপদ ভঞ্জন, তমঃসন্দ নাশকারী ।
দীন হীন অশ্বিনী, দিবস রজনী, হরিচাদ প্রেম ভিখারী।
৩নং তাল-ঠুংরী
প্রাণমতি শুকশারী, পােহল সৰ্বরী,
শ্রীহরি মঙ্গল গাওহে।
শ্রীহরি মঙ্গল গাওহে, প্রেমানন্দে মাতিয়া রও হে।
৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। হৃদি নিধুবনে, শান্তিমায়ের সনে,
শ্রীহরিচঁাদকে জাগাওহে।
যুগল মিলন করি, যুগল নয়ন ভরি, হরিরূপ রসে ডুবে রহে।
২। নিশি হ’ল ভাের, রসনা ভ্রমর,
গুণ, গুণ, স্বরে গুণ গাওহে।
হরি পদ পঙ্কজে, সতত থাক মজে,
হরিপদরজে গড়ি দাওহে ।
৩। হরিরূপ আলােকে, মনের পুলকে,
নিরানন্দ,উলুকে তাড়াহে।
হইয়া চৈতন্য, এ দেহ কর ধন্য,
সাধুসঙ্গ বাতাস লাগাওহে ॥
৪। নিশি প্রভাত সময়ে, প্রেমানন্দু হৃদয়,
পুলকে পূর্ণিত হও হে।
অলস ত্যজিয়া, হরিপদে মজিয়া, হরিচাদ প্রভাতি গাহে
৫। হরিপদপল্লব, দেবের দুর্লভ, কায়মনে শরণ লওহে।
শয়নে স্বপনে, জাগরণে বদনে, নাম মধুপানে মত্ত হওহে।
৬। তারক মহানন্দ, গোঁসাই গােলকচন্দ্র,
প্রেমধন যাচে জীব লওহে।
হেন দয়াল ভবে, আর কি খুঁজিয়া পাবে,
চরণে শরণ লওহে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৭। শ্রীগুরুচাদ বলে, নিশি প্রভাতকালে,
আলসে অবশ কেন হওহে।
(অলস) অশ্বিনী অধম, ত্যজিয়া মায়াঘুম
বসিয়া হরি গুণ গাওহে ।
৪নং তাল-মনােহষই
গাওহে প্রভাতি গীতি, শ্রীহরি মঙ্গলরে।
শ্রীহরির বামেতে শােভে, শান্তি ঠাকুরাণীরে ।
১। হৃদি বৃন্দাবন মাঝে, হরি রসরাজে জাগাওরে।
আলস্য এ নিদ্রা ত্যজে, হরিদে মন লাগাওরে।
২। রেশম বরণ তনু, কোটী ভানু জিনিরে ।
পৃষ্ঠে দোলে দীর্ঘ বেণী, জিনি কাদম্বিনীরে।
৩। আকণ লােচন বাঁকা, অধরে সুধা মাখারে।
মনােহর যােড়াভূরু, রামধনু আকারে।
৪। খগচঞ্চু জিনি নাসা, প্রেমামৃত ভাষারে ।
আজানুলম্বিত বাহু, কামুকের কাম নাশারে।
প্রেম কান্তি শান্তি দেবীর, ভাবকান্তি মাখারে।
ভাবুক হৃদিরঞ্জন, কিব! ভঙ্গি বাঁকারে।
৬। কৃপাঙ্কুর কল্পতরু, প্রেম ফল দাতারে।
আকামনা প্রেম ভক্তি, অকাতরে বিতরে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
গােলক পুলক চিত্ত, হরি প্রেনাশ্রিতরে।
হীরামন মনোহরা, ভক্তমন পুরে ।
৮। শ্রীগুরুদের বাণী, প্রভাতে জীব জাগরে ।
দীন হীন অশ্বিনী দৈন্য (হরি) পদরজ মাঙ্গরে ।
৫নং তাল--একতালা
জয় হরি শ্রীহরিচঁাদের জয়।
জয় যশােমন্ত, রামকান্ত, অন্নপূর্ণ। মাতার জয়।
জয় শ্রীকৃষ্ণদাস, জয় বৈষ্ণবদাস গৌরদাসের জয়।
জয় স্বরূপ চন্দ্র, বিশ্বনাথ, ব্ৰজ নাটুর জয় জয়।
২। জয় শ্রীগুরুষ্টাদ, হৃদয় আকাশে উঁদ, হও এসে উদয়।
দিয়া পদারবিন্দ, কৃপাসিন্ধু, কৃপা কর কৃপাময় ।
জয় শ্রীগােলকদ, জয় শ্রীবদনাদ, রাম ভরতের জয়
জয় লোচনচন্দ্র, শ্রীগােবিন্দ হীরামণের জয় জয় ।
জয় শ্রীদশরথ, হরিচাদের ভকত, মৃত্যুঞ্জয়ের জয়।
জয় তারকচন্দ্র, মহানন্দ, রামচরণ ক্ষেপার জয় জয়।
৪।
৫। শ্রীহরির ভক্তগণ, বন্দি সবার চরণ, আনন্দ হৃদয়।
এবার দয়া করি, দয়াল হরি, রেখ মােরে রাঙ্গা পায়।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৬নং তাল-একতাল।
৪
আনন্দ লওরে মধুর হরিনাম,
হরিনাম সুধাপানে, প্রেম তুফানে ঢেউ খেলাও
মন অবিশ্রাম।
১। হরিনামের তুল্য দিতে, কি আছে অবনীতে,
হরি হ'তে বড় হরিনাম।
ও নাম ব্রহ্মা জপে চতুৰ্ম্মখে, শিব জ’পেছে অবিরাম।
২। হরির নাম সুধা সিন্ধু, পান করলে তার একবিন্দু,
তাহলে পুরে মনস্কাম।
নামে পুলকে গােলকে যাবি, দেখতে পাবি রাধাশ্যাম।
৩। ছিল নাম অনপি, কলিতে সমপিত,
করিলেন হরি গুণধাম।
নামে জগাই মাধাই ত’রে গেল, প্রাপ্ত হ’ল মােক্ষধাম।
৪। হরিনাম মহৌষধি, পান কর নিরবধি,
ভব ব্যাধি হইবে আরাম।
নামে দান করিবে প্রেমানন্দ, এ দেহ হবে নিষ্কাম।
৫। নামেতে মহানন্দ, মেতেছে তারকচন্দ্র,
প্রেমরসে ভাষায় ধরাধাম।
একবার অশ্বিনীর মন হরিবল, মধুর নামে হ’ বাম।
৮
ত্রিীহরি সঙ্গীত
৭নং তাল--একতালা
প্রেম অনুরাগ ভক্তি বিবেক কররে আশ্রয়,
তাের কামরিপু, হবে পরাজয়, প্রাণ স’পেলে গুরুর পায়।
১। অনুরাগ সিংহ রবে, পলাবে রিপু সবে,
মহাভাব হবেরে উদয়।
হরির্চাদের ছবি, দেখতে পাবি, রূপ দেখে প্রাণ হয় তন্ময়
২। বিবেকের সঙ্গ নিলে, বাহ্য জ্ঞান যাবে চলে,
হরিব’লে কঁদবিরে সদায়।
হবে প্রেমে তনু ডগমগ, দেখবি জগৎ হরিময় ।
৩। ভক্তি বশ হলে পরে, ধরূতে পাবি অধরে,
অনন্ত যার অন্ত নাহি পায়।
ও সে ভক্তি বলে হরি মিলে, ফলের আশা দূরে যায়।
৪। হলে প্রেমের আশ্রিত, এ দেহ হবে নিত্য,
নিত্যরূপ দেখবিরে সদায়।
হবে দেহ জমি সফলভূমি, থাক্বিরে যুগল সেবায়।
৫। গােলকদ মহানন্দ, দিতেছে প্রেমানন্দ,
তারকাদ যােগাল দিচ্ছে তায়।
অশ্বিনী তাের কিসে সন্দ, গুরুচাদ আছে সহায়।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৯
৮নং তাল—একতাল
হৃদয় যন্ত্রে হরিনাম মন্ত্রে পুরিয়া সুতান।
সত্তরজ-তমঃ তিন তারে গাওরে গুণ গান।
১। স্কুলেতে মূল তাল ঠিক রেখে, প্ৰবৰ্ত্তে নাম লওরে সুখে;
সাধরে সাধকে তাকে, এই ত রে তাের ডাকার বিধান।
২। সিদ্ধে গিয়ে মাতাম দিয়ে, যাওরে মত্ত মাতাল হয়ে ।
প্রেম সাগরে জোয়ার দিয়ে, কর হরি নামামৃত পান।
অজ্ঞান যাবে স্বজ্ঞান যাবে, বাহ্যজ্ঞান সব পড়িয়া রবে।
এই দশা তাের যখন হবে, চিদানলে উড়িবে নিশান ।
৪। গােলােকচঁাদ সেই গানে মেতে, চঁাদের মালা হৃদয় গেঁথে ।
সাজায়ে যশােমন্তের সুতে, সার কবুল হরি পুতুল নাচান।
৫। মহানন্দ সে গান শিখে, হরিচাদের পুতুল দেখে।
দিবা নিশি হৃদয়ে রেখে ঘরে ঘরে যাচিয়া বেড়ান।
৬। ডেকে বলে তারকচন্দ্র, অশ্বিনী তাের কর্মমন্দ ।
কল্পতরু গুরুচন্দ্র, সে ছায়ায় তুই নিলিনা স্থান।
শ্রীহরি সঙ্গীত
৯নং তাল--একতাল
নমঃ গুরুচন্দ্ৰ নমঃ তমঃ বিমােচন:
আমার চিত্তগুহার অন্ধকার কর উদগীরণ
।
১। নমঃশূদ্র লােদ্ভব, তুমি ভবাদি বান্ধব:
তােমার সৌরভে জগত মাতিল ঘুচিল রৌরব ।
তুমি জ্ঞানদাতা, জগততি। পতিতে কর পাবন।
২। কোটি চন্দ্র দিবাকর, উদিত চরণে তােমার,
দিবানিশি দিচ্ছে ঝলক ঘূচল অন্ধকার।
আমায় দিয়ে আলোক, কর পুলক,
ভূলােকে গােলকের ধন
৩। ক্ষুদ্র নমঃশূদ্রগণ, তাদের অজ্ঞান ভঞ্জন ;
দিব্য জ্ঞান করিয়া দান করিলে ব্রাহ্মণ ।
হরি নাম ধৰ্ম্ম করি বিতরণ, পাষণ্ড করলে দলন ।
৪। দিয়ে পিতৃধৰ্ম্মে মন, ককূলে প্রতিজ্ঞা পূরণ ;
নমঃকুল কলঙ্করাশি করিলে হরণ,
এবার গার্হস্থ্য প্রশস্ত ধৰ্ম্ম জগতে করলে অর্পণ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
আমার হৃদয় আকাশে, গুরুচাঁদ উদয় হও এসে ;
তােমার রূপমাধুরী, নয়ন ভরি দেখব হরিষে।
মূঢ় অশ্বিনী কয়, দীন দয়াময়, দাও আমারে শ্রীচরণ।
১০ নং ভাল--আড়া
কর নামামৃত পান, কর হরি নামামৃত পান।
নামে রুচি হলে নামে করবে প্রেম দান।
১। নামামৃত পান করিলে, সুনিৰ্ম্মল প্রেমফলে,
একেকালে ও আমার মন জুড়াবে পরাণ।
২। যেই নাম সেই হরি, ভজরে মন নিষ্ঠাকরি,
নামের সহিত হরি, আছেন অধিষ্ঠান।
৩। হরিনামের মর্ম জানি, পাগল হল শূলপাণি,
বীণা যন্ত্রে নারদমুনি, করে গুণ গান ।
৪। পতি মম মহানন্দ, গতি মম গােলােকচন্দ্র,
জ্ঞান মম তারকচন্দ্র, গুরুচন্দ্র ধ্যান।
প্রাণ মম হরিচন্দ্র, পদে প্রেম মকরন্দ,
পান কলি না তার এক বিন্দু অশ্বিনী অজ্ঞান।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
১১ নং তাল-ঠুংরী
শ্রীধাম ওড়াকান্দি যাবি যদি গৌণ করােনা।
গৌণ করোনা আমার মন অলস হয়ো না।
প্রেম বারুণী প্রেমের মেলায় যেতে হেলা করােনা।
গেলে ধৰ্ম আৰ্থ মােক্ষ ফলে ফলের কে করে গণণ।।
যে গিয়েছে সে পেয়েছে চেয়ে দেখ না।
পেল গােললাকের ধন গােলােক হীরামন ফিরে ঘরে
গেল না।
কোলের ছেলে ভূমে ফেলে যত কুলের অঙ্গনা
তারা কুল ত্যজিয়ে যায় গাে ধেয়ে কুলে রইতে পারলে না
৪। জাতি বিদ্যা মহত্বঞ্চ প্রেমের কণ্টক পাঁচখানা।
প্রেমের বন্যা এসে গেল ভেসে, ও তার কিছু র’ল না
মহানন্দ ডেকে বলে তারক রসনা।
সবে হরি বলে যায় গাে চলে কেবল অশ্বিনী চলাে না।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৩
১২ নং তাল- একতলা
আমার হৃদকদম্ব তরুমূলে দাড়াও শ্রীহরি
আমার এই উৎসব, বামে বসাব, প্রেমরূপা রাই কিশােরী।
১। • ভক্তিতুতি সাজিয়ে বৃন্দে, অনুরাগ তুলসী শ্রদ্ধা চন্দন দিব
ঐ পদে,
আমার মনের সাধে, দেখব হৃদে, যুগলরূপের মাধুরী।
২। অষ্ট সাত্তিক অষ্ট সখিচয়, ভাবের চামর দুলাইয়া বাতাস
দিয়ে গায়,
কেহ বিনা সূতে, মালা গেঁথে, সাজাবে যতন করি।
বাসনারূপ সাজিয়া বড়াই,যুগল-মিলন দেখব বলে
আনন্দের সীমা নাই,
আমার কুমতি কুটিলার দর্প ঘুচাও হে দর্পহারী।
৪। হরিনামের বাঁশী করেতে লয়ে, আমার দেহ গােকুল,
কর আকুল, বাঁশী বাজায়ে,
যেন অন্য ধ্বনি, নাহি শুনি, তােমার নাম বংশী শ্রবন করি ।
১৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। প্রেমানুগ মহানন্দ কয়, আমার শান্তিহরির যুগল-মিলন
দেখবি কেকে আয়,
গোঁসাই তারকচাঁদ কয়, এমন সময়,অশ্বিনীর লস ভারি।
১ নং তালা--রানেটী
গুরুর প্রতি প্রেমভক্তি ভ্রান্ত মন তোর কেন হ’ল না !
ছাড় কুটীনাটী ময়লা নাটী, মন করগে ষােল আনা।
১। কৰ্ম্ম সূত্রে হরি হলে বাম, গুরু রাখলে রাখতে পারে
যায় না পরিনাম।
গুরু গোঁসাই হইলে বাম, হরিচাঁদ রাখতে পারে না ।
২। গুরু বল্তে দুটী অক্ষর হয়, ও বলিতে চিত্তগুহতমঃ
রাশিময়।
রু বলিতে রবি উদয়, হলে আর আঁধার থাকে না।
গুরু কৃষ্ণ অভেদ আত্ম। হয়, তথাপি শ্রীগুরুর মান্য
রাখলেন দয়াময় ।
ও সে আপনি হরি, চা’র যুগভরি, ক’রলেন গুরুর উপাসনা
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
২। জীবন যৌবন স’পে গুরুর পায়, মৎস্যচক্র ভেদ করিল
বীর ধনঞ্জয়।
সমর যিনি দ্রৌপদী পায়, সহায় ছিল কেলেসােনা।
দয়া করি তারকচন্দ্র কয়, মন সপে দে অশ্বিনী তুই
মহানন্দের পায়।
তবে প্রেমানন্দ হবে উদয় নিরানন্দ তার রবে না ।
১৪নং তাল—কাওয়ালী
ভব ব্যাধি সারবি যদি নামৌষধি কর গ্রহণ।
আছে গুরুর কাছে নামৌষধি নিরবধি কর সেবন ।
১। সত্য ত্রেতা দ্বাপর গেল, নামৌধি গোপন ছিল।
কলিতে তাই বিলাইল, যেমন রােগ ঔষধ তেমন।
শুন আমার অবোধ মন, নামৌষধির অনুপান।
প্রেমমধুর রসায়ণ ভক্তি রস কর অর্পণ।
গুরু বৈদ্য ঘরে ঘরে, নামৌষধি বিতরণ করে।
শ্রদ্ধাতে পান করলে পরে, ভব রােগ হবে বারণ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৪। নিস্কাম পথ্য কর বিধান, তবে কর ঔষধি পান।
কাম পথ্য স্পর্শিলেরে প্রাণ, অবশ্য হবে পতন ।
৫। তারকচদি কয় বারে বারে, পথ্য ঠিক না করলে পরে
কিসে ভবব্যাধি সারে, অশ্বিনী তুই অভাজন ৷
১৫ নং তালগড়খেমটা
হরিবল বলরে একবার নেশা ছুটবে নাগাে আর।
নামামৃত পান করিলে পাবি কি বাহার।
১। তত্ত, জানি ত্রিপুরারী, পঞ্চমুখে বলে হরি,
সােনার কাশী ত্যজ্যকরি, পাগল দিগম্বর।
২। চতুৰ্ম্মখে পদ্মযােনি, হরি বলে দিন রজনী,
বীণা যন্ত্রে নারদমুনি, জপে অনিবার।
{
৩। . হরিনামের তুল্য দিতে, কি আছে অবনীতে,
হরি হতে হরিনামের মহিমা অপার।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৭
৪। হরিনাম সুধাসিন্ধু , পান করিলে তার একবিন্দু।
অনায়াসে ভবসিন্ধু , হয়ে যাবি পার ।
দয়াল মহানন্দ বলে , অশ্বিনী তুই এই সকালে ,
হরি বলে তরী খুলে ; চল প্রেম বাজার ।
১৬ নং তালগড়খেমটা
আমার মন বড় দুরাশা।
বামন হয়ে হাত বাড়া’য়ে , চঁাদ ধরিতে কর প্রত্যাশা।
৩
১। যেন তেন চন্দ্র নয়রে তমঃ সন্দ নাশা ,
দেবদৈত্যনর , কীটাদি আর , যে চঁাদের করে ভরসা।
২। যােগী ঋষি দিবানিশি যে চঁাদ বলে নেশা ,
যে চঁাদ লাগি সৰ্বত্যাগী , শ্মশানে শিব বাঁধছে বাসা।
:
৩। গােলােকে ভূলােকে থাকে শুনতে কি তামাসা ,
ভক্তের হৃদয় হচ্ছে উদয় হারে যার সরল হৃদয় ।
দেল খােলাসা ।
৪। উঁদ বলে যে পড়ছে ঢ’লে হয়ে দশম দশা।
ও তার অন্তরে বাহিরে সদা দিতেছে রূপের ঝলক্স।
১৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
বলে স্বামী মহানন অশ্বিনী তুই চাষা
তাের কর্মদোষে ঘটুলনা উঁদ কার পরে বা কর গােনা।
১৭নং তাল—ইংরী
সংসার সাগর রূপে ভাই মানব মীন সেজেছে,
কালরূপী এক ধীবর, এসে, জঞ্জাল জাল পেতে রয়েছে।
১। জঞ্জাল জালে হ'য়ে বন্দী, আমি এড়াতে না পাই সন্ধি,
ব’সে সদাই কঁদি,
কাল হ’ল তাের দারুণ বিধি, জালের ফঁাস এটে দিতেছে ।
২। সাধু মােহান্ত মকর যারা, জালের ফাস কেটে যেতেছে তারা,
হৃদয় শক্তি পােরা।
অনুরাগে তনু ভরা, শিরে ভক্তিকরাত আছে।
৩। সাধু মকরের সঙ্গ নিলে, ও সে বন্দী রয়না জঞ্জাল জালে,
সঙ্গে যায় গাে চলে।
মুখে হরি হরি বলে, প্রেমানন্দে সুখে আছে।
,
এমন ভাগ্য কবে হবে, আমার মন মীন সাধুর সঙ্গ লবে,
ভবের জঞ্জাল যাবে।
গুরু গোসাইর দয়া হবে, কৰ্ম্মবন্ধন যাবে ঘুচে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। গােলােকচন্দ্র মকর হয়ে যাচ্ছে প্রেমসাগরে জোয়ার দিয়ে,
মত্ত মাতাল হয়ে।
অশ্বিনী তুই আকুল হয়ে এবার ঝাপ দে গােসাঁইর পাছে।
১৮নং তাল—ইংরী
যদি যাবি ওপার, কর শ্রীগুরু কাণ্ডারী, হরিনামের তরী,
হরিব’লে তরী খােল এবার।
১। যুতের হালির কঁাটা ধরি, এক নিরিখে ধর পাড়ি
( মন আমার।)
ওরে অনুরাগে পঁাড় মারি, হরিনামে সারি গাও অনিবার।
২। প্রেমবায়ু উঠবে মনের গুণে, ভক্তি বাদাম দাঙরে টেনে।
তােল সাধন মাস্তুল সযতনে, গুণের ডুরি লাগাওরে তার ।
৩। ঐহিকসুখে দিয়ে মাত্রা, কররে মন ভবযাত্রা।
কর সাধুসঙ্গে শুভযাত্রা, পাবিরে আনন্দ বাজার।
৪। এই সকালে ধর পাড়ি, সাধু মহাজন বহর ধরি।
তবে অনায়াসে উঠবে পাড়ি, জলের বাড়ি লাগবেনা আর।
২৩
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। গোঁসাই গুরুচঁাদকে কর নেয়ে, মহানন্দে যাওরে বেয়ে।
ওরে অশ্বিনী তুই কি সুখ পেয়ে, ভুলে র’লি ভবে এবার।
১৯ নং তাল ঠুংরী
ওড়াকান্দি প্রেম বারুণী প্রেমের মেলা দেখসে আয়।
দেখবি যদি নাই বিবাদী পাগলাদ আছে সহায়।
১। গৌরলীলা সাঙ্গকরি, ওড়াকান্দি এলেন হরি দয়াময়।
প্রভুর কড়ার ছিল মায়ের সনে গাে ঠেকে এলেন
ভক্তের দায় ॥
২। প্রভুর পিতা হন যশােমন্ত, শুদ্ধ শান্ত একান্ত সদাশয়।
প্রভুর দীক্ষাগুরু রামকান্ত [গাে] যার বরেতে জন্ম লয় ।
৩। সাঙ্গোপাঙ্গ ল’য়ে সঙ্গে, উদয় হলেন পরম রঙ্গে পুনরায়।
প্রভুর প্রিয়ভক্ত বিশ্বনাথ [গাে] ব্ৰজনাটু সঙ্গে রয়।
৪। শ্রীরাধার ভাণ্ডারের প্রেমধন, জগতে কবুলেন বিতরণ
গোরা রায়।
প্রেমেরভিনয় করতে বাকী ছিল [গাে] তাইতে পুনঃ
হয় উদয় ।
শ্রীহরি সঙ্গীত
২১
৫। পুনরায় প্রেমাভিনয় করি, গুরুচঁাদ হলেন ভাণ্ডারী
প্রেমালয়।
হলেন গােলোকচন্দ্র আবাদকারী [গো] মহানন্দ
প্রেম বিলায়
৬। হীরামন পেয়ে প্রেম রতন, উঘারিয়া করে ভােজন রসনায়।
হ’য়ে অনুরাগী সৰ্ব্বত্যাগী [গাে] জলের পর নেচে বেড়ায় ।
৭। তারকাদ প্রেম বণিক হয়ে, জাহাজ লয়ে বেড়ায় বেয়ে,
ও কে নিবি আয়।
প্রেম যে নিয়েছে সেই মেতেছে [গাে], পাথারে সাঁতার
খেলায়।
৮।
দশরথ মৃত্যুঞ্জয় লােচন, তারা হয় প্রেমের মহাজন এ ধরায়।
কত পূজক ধ্যানী কৰ্মী জ্ঞানী [গাে], প্রেম দিয়ে তাকে
ডুবায়।
৯। লক্ষ্মীখালীর গােপাল সাধু, পান করে হরিনামের মধু
মেতে যায়।
সে আপনি মেতে জগৎ মাতায় [গাে], যার নামেতে
বাঘ পলায়।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১০। হরিবর মনােহর তারা, ডুবল মুদি নয়নতারা,
প্রেম গােলায় ।
তারা ডুবাইল পুরুষ নারী [গাে] হরি চাঁদের প্রেম বন্যায়।
১১। বলে গোসাঁই মহানন্দ, অশ্বিনী তোর কৰ্ম্ম মন্দ দুরাশায়।
কেন অভিমানের স্তম্ভ করি [গাে], তুই বসে রলি
এ সময় ।
২০নং তাল—গড়খেষ্টা
আমার হরিচঁাদের প্রেমের মেল আনন্দ নগরে।
এই বেলা ভাই করগো মেলা হরিনামের তরী করে।
১। শ্রীহরির প্রেমের মেলা রয়েছে দোকান খােলা,
যতসব হরিবােলা, বেচকেনা করে।
এবার ব্রহ্মার বাঞ্ছিত হরিনাম বিকাইতেছে শস্তাদরে।
মেলার গুণ ব’ব কত, দীন হীন কাঙ্গাল যত,
পেয়ে ধন মনের মত, নিচ্ছে সিন্দুক পুরে।
মেলায় যে গিয়েছে সেই পেয়েছে, দিতেছে ধন
শ্রীহরি সঙ্গীত
৩। ছিল ধন অনপি, কলিতে সমর্পিত,
জীবের সৌভাগ্য কত, কে বলিতে পারে।
শ্রীরাধার খাস ভাণ্ডার ভেঙ্গে দিতেছে ধন অকাতরে।
৪। সুরসিক ভক্ত যারা, প্রেম রসে তনু পােরা,
সওদাগর হয়ে তারা ভক্তি নিক্তি ধরে।
এবার মন বুঝে ধন ক’ছে ওজন এক মনের কম
দেয়না কারে।
৫। গুরুচাঁদ প্রেমভাণ্ডারী, গােলোকচাঁদ প্রেম প্রহরী,
তারকচদি ধরে দাড়ি দিচ্ছে ওজন করে।
দয়াল মহানন্দ জাহাজ পুরে দিতেছে ধন ঘরে ঘরে।
ভণ্ড পাষণ্ড যত, ধন পেয়ে হ’ল মত্ত,
তজে সংসার অনিত্য, সবায় নৃত্য করে।
এবার রিপুর বশে, কৰ্ম্ম দোষে, অশ্বিনী ধন পেলনারে।
২১নং তাল—গড়খেষ্টা
তাের কি প্রেম করিবি.পাগল হবি ধ’রবি কি
পাগলের বুলি।
গৃহে থাক্ আছিস ভাল, তােরাই ভাল কেনে দিবি
কুলে কালি।
২৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। পাগলের পাগলা ধরণ, উল্টা করণ, রসের পাগল
প্রাণ পুতলী।
দেখলে পাগলের কর্ম ধর্মাধর্ম সকল দিবি জলাঞ্জলি।
২। থাকবেনা দিক্ কি বিদিক্, কেবল নিরিখ, মন থাকবে এক
মানুষ বলি।
পাগলের সঙ্গ নিবি পাগল হবি সা’রবেনা তা বিষ্ণু তৈলে।
৩। থাকবেনা তন্ত্রমন্ত্র, মূল মন্ত্র দীক্ষাশিক্ষা কপ্পী ঝুলি।
থাকবেনা সাধ্য সাধন, বেদের করণ, কঁদবি শেষে
গলি গলি
৪। গােপীদের রাগের ভজন, মন্ত্র যাজন, কোন গােপীদের
গ্রন্থে পালি।
গােপীর ভাব কৃষ্ণভক্তি, কৃষ্ণে আৰ্ত্তি প্রাণ বাঁচে সেই
কৃষ্ণ পালি।
৫। গােপীর ভাব দেহ অর্পণ, জীবনমন, এ দেহ সেই
কৃষ্ণের বলি;
গােপীর ভাব সেই স্বরূপে, বিষয় কূপে, তারক কেন
ডুবে রলি।
তারকচন্দ্র সরকার।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
২২নং তাল--একতাল
হরিনাম বলরে একান্তে।
প্রাণ সপে দেরে মন হরিপদপ্রান্তে।
১। সমপিত দেহ হলে, অনতি প্রেম ফলে,
হরিচাঁদ হৃদয় দোলে, থেকনা আর ভ্রান্তে।
হরি অনুগত হলে, তারে প্রণমে কৃতান্তে।
২। হরিনাম বড়ই মধুর , নিকটে নয় বহুদূর ,
যে ভজে সেই সে চতুর , ভাগবতে পাই শুনতে।
যেই নাম সেই হরি বলে সাধু মােহান্তে।
৩। সাধু ভাগবতের প্রমাণ , সে প্রমাণ নয় অপ্রমাণ,
করবে নাম সুধাপান সুখ পাবি যে অন্তে।
পঞ্চমুখে পরম সুখে নাম জপে উমাকান্তে।
৩ ।
নাম জপ ভক্ত যারা, সুধাপান করে তারা ,
প্রেমেতে মাতােয়ারা, কে পারে তাই চিন্তে।
আপনি মেতে জগৎ মাতায় হরিনাম মহামন্ত্রে।
শ্রীগুরুর বাক্য ধর , অনিত্য তর্ক ছাড় ,
এ দেহ সূক্ষ্ম কর , যাবে ভব চিন্তে।
অশ্বিনী তাের মানব জনম গেল কান্তে কান্তে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
২৩ নং তাল গড়খেমট।
ভূতলে চঁাদ নেমেছে ভুবন মােহন।
হ’ল তঁাদের আগমন , হরি চঁাদের আগমন
গেলে শ্রীধাম ওড়াকাদি পাবি দরশন।
১। সত্য ত্রেতা দ্বাপর গেল , পূরিতে পূর্ণশশী বাকী ছিল ,
এবার জীবের ভাগ্যোদয়, হ’ল পূর্ণ চঁাদ উদয় ,
জীবের চিত্ত তমঃ সন্দ করিতে মােচন।
২। ভকত চকোর যারা , হরিচাদের সুধাপানে মাতােয়ারা ,
হয়ে ভাবেতে বিভােল , হরিনামেতে পাগল ,
প্রেমে তনু ডগ মগ ঝেরে নয়ন।
৩। পূর্ববঙ্গ বাকী ছিল , পূরাইতে ভক্তের বাঞ্ছা পুনঃ এল ,
সঙ্গে ল'য়ে ভক্তগণ , প্রেমরসে মগন ,
জগতে প্রেমসুধা করে বরিষণ।
৪।
লেগে হরিচাদের কিরণ , মা’তল তারক মহানন্দ
গােলােক হীরামন,
হয়ে মত্ত মাতাল , মাতায় আকাশ পাতাল।
এবার দুঃখী তাপীর জুড়াইল তাপিত জীবন ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
२१
তাররচন্দ্র ব’লছে কঁদি , উদয় হ’লরে চঁাদ ওড়াকাদি ,
দয়াল মহানন্দ কয় , সে চাঁদ দেখবি কে কে আয় ,
অশ্বিনী দেখলি না চাদ ভরিয়া নয়ন।
২৪ নং তাল-গড়খেমটা
হরিচঁাদ রূপে পরাণ হ'রে নিল।
পরাণ হ’রে নিল নয়ন ভুলে গেল ,
এমন মােহন মূরতি তনু কেবা গড়িল ।
১। বাঁক। নয়ন যােড়া ভুরু, আজানুলম্বিত বাহু কটি সরু ,
তার রূপেরই ছটায়, কোটি চঁাদ পদে লােটায় ,
হরিচাদ হেরে চঁাদের কলঙ্ক গেল।
হেরে হরি চঁাদের ছবি, অধৈৰ্য্য হ’লরে প্রাণ ব’সে ভাবি ,
আমার একি হ’ল সই , আমি কিসে ধৈৰ্য্য রই ,
হরিচাদে হেরে আত্মা তন্ময় হল ।
৩। সুধাসিন্ধু মথে বিধি, নির্জনে গড়িছে সেই গুণ নিধি,
রূপের তুল্য দিতে নাই, গুণে বলিহারি যাই ,
রূপ নয়ন পথের ছিদ্র দিয়ে হৃদয়ে পশিল ।
নয়ন দিয়ে হরিচাদে, দিবানিশি হরিব’লে পরাণ কাঁদে,
ও তার রূপ খানি যেমন নামটি তেমন
জগতের সুধা এনে নামে মাখিল ॥
৪।
২৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। মহানন্দ চকোর হয়ে,পাগল হয়েছে চাদের সুধা পিয়ে ,
গোঁসাই তারকচন্দ্র কয়, হ’ল হরিচাদ উদয় ,
অশ্বিনীর ভাগ্যে সে দি কই ঘটিল ।
২৫ নং তাল-একতালা
মনে এক বাঞ্ছা ছিল ঘটলনা আমার।
আমার হৃদি পদ্মে হরিচাদে সাজা’য়ে মিলাব চাঁদের
বাজার।
ভক্তগণ হইয়া তারা, অামার হরিচাদকে ঘিরিয়ে সবে
দাড়াবে তারা,
ও সেই রূপে দিয়ে নয়ন তারা, আনন্দে রূপ রসে খে’ল্ব
সাঁতার।
২। প্রেম কান্তি শান্তি জননী, আমার হরিচাদের বামে এসে
দাড়াবেন তিনি।
দেখব চঁাদের সঙ্গে চঁদবদনী, রূপ দেখে যাবে মনের
আমার মন মঞ্জরী হয়ে, গেঁথে চঁাদের মালা চাদের গলে
দিবে দোলায়ে ।
দেবী শান্তি মায়ের আজ্ঞা পেয়ে, প্রেম সেবায় মত্ত রব
অনিবার।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
মনে আমার বড় অভিলাষ, সহস্ৰা কুঞ্জেতে সাজাইব
মহারাস।
হবে শান্তি হরিরূপে প্রকাশ, ঐরূপে করেন যদি রাস
বিহার।
প্রেম অনুগ মহানন্দ কয়, সেযে ভক্তের বাধ্য ভবারাধ্য
ভক্তের মন যোগায়।
এবার সাধন গুণে হবে সদয়,
অশ্বিনী সে সাধনা নাই
তােমার |
২৬ নং তলি--একতাল
।
কলিতে হরিচাদ হ’ল উদয় ।
গেল চিত্ত সন্দ, কৰ্ম্ম বন্ধ, আর কি জীবের আছে ভয়।
ভক্তগণ তারা হ'য়ে, হরিচঁাদকে ঘিরিয়ে ,
রয়েছে কিবা শােভা তায় ,
জীবের চিত্ত চকোর হয়ে বিভোর প্রেমানন্দে সুধা খায়।
লেগে সেই চঁাদের কিরণ, গোঁসাই গােলােক হীরামন ;
মহানন্দ তারক মৃত্যুঞ্জয় ;
তারা সুধা পিয়ে, মত্ত হয়ে, নাম দিয়ে জগত মাতায়।
১০
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩। তিনটী যুগ গত হ'ল, পূরতে চঁদ বাকী ছিল ;
তাইতে উঁদ এল পুণরায় ;
এবার পূরা’তে ভক্তের বাসনা তাইতে অবতীর্ণ হয়।
৪ |
এল চাঁদ ওড়াকাদি, যার জন্যে নিরবধি ,
ভক্তগণ কেঁদে বুক ভাসায় ;
এবার কলির মানুষ ক’বতে মানুষ, হ’ল যশােমন্ত তনয়।
। তারকাদ ডেকে বলে, অশ্বিনী মায়া জালে ,
ভুলে কেন রলি দুরাশায় ;
ও তাের মানব জনম ধন্য হবে, চঁাদের কিরণ লা’গলে গায়।
১৭ নং তাল-একতালা
ত্বরায় চল ভবপারে যাই,
হরিনাম তরণী এল ভাই।
হরিনাম তরণী, নৌকা খানি, কাণ্ডারী দয়াল নিতাই।
১। হরিনামের তরণী, বােঝাই প্রেম পরশ মণি,
ভক্তি রতন থরে থরে রূপের ছৈ খানি;
তাতে শ্রদ্ধা করে, চড়লে পরে, পারে যেতে বাধা নাই ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
হ১
২। আমার হরি দয়াময়, ঠেকে জীবের পারের দায়,
কলির শেষে বঙ্গদেশে হয়েছে উদয় ;
মুখে বল্লে হরি, নাইকে। দেরী, পার করে আপত্তি নাই।
৩। বড় দয়াল অবতার, হয় নাই হবে নারে আর,
অনৰ্পিত নাম দিতেছে নিয়ে পাপের ভার।
ও সে বিনামূল্যে পার করে দেয় এমন দয়াল দেখি নাই ।
৪। যাহােক তিন যুগেরই পর, ঘাটের উঠে গিছে কর,
হরিচাদ পাইনি এল অনেক দিনের পর ;
কত দুঃখী তাপী পার করে দেয়, ভব পারর মাশুল নাই।
দয়াল মহানন্দ কয়, পারে কে কে যাবি আয়,
পুষ্পবন্ত যােগ হয়েছে, জীবের ভাগ্যোদয়,
গোসাই গুরুচাদের দয়া বিনে অশ্বিনী তাের উপায় নাই।
(হরিবল বলরে)
২৮ নং তাল
-
রাণেটা
।
কি ধনে তুষিব গুৰু দিবানিশি ভাবি হৃদয়।
আমি তােমার ধন তােমাকে দিয়ে বসে আছি তােমার
আশায়।
৩২ শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত। ১। আমার ব’তে নাইক হেন ধন (হারে) কি ধনে তুষি। গুরু তােমার ঐ চরণ। তুমি আমার সৰ্ব্বস্ব ধন, জীবন যৌবন দিলাম তােমায়। ২। এদেহের মালেক তুমি হও, দিতে যে ধন বাকী থাকে সে ধন তুমি লও। তোমার শীতল প্রেম সাগরে ডুবাও এই বাসনা করি সদায়। এ ব্রহ্মাণ্ডে আছে যত ধন, সকল ধনের কর্তা তুমি ব্ৰহ্ম- সনাতন ; তুমি বায়ু রূপে জীবের জীবন, রক্ষাকর দীন দয়াময়। ৪। অনন্ত মহিমা তোমার, জীবে কি বুঝিতে পারে শিবের বুঝা ভার। তুমি কখন সাকার হও নিরাকার, আব্ৰহ্ম ব্ৰহ্ম জ্যোতির্ময়। ৫। হরিচাদ রূপে অবতার, মহানন্দ রূপে গুরু নিলে দেহের ভার; গোঁসাই তারকাদের বাঞ্ছা এবার, অশ্বিনী যেন ডুবে রয়। ২৯ নং তাল-গড়খেমটা চিত্তপত্র লিখি পাঠাও দেখি শ্রীগুরুর কাছে। লিখ বিনয়পূৰ্ব্বক, চির সেবক, গুরু ধন তােমারই কি প্রাণ বাঁচে।
শ্রীহরি সঙ্গীত
১। নয়ন জলে বানায়ে কালী, মন পাখী পাখারূপ কলম
করে লও তুলি
লিখে পাঠাও মনের কালী, যাতে তাের অন্তরের কালী ঘােচে।
২. শ্রীপাদপদ্মে এই নিবেদন, কোন্ দিন যেন তলব
পাঠায় সে শমন ;
সেই চিঠি করিতে বারণ, গুরুধন তােমা বই আর কে আছে।
*
৩। শ্রীচরণে এই প্রার্থনা, জন্ম মৃত্যু জরা ব্যাধি বিধির ঘটনা
অন্তরে মাের এই বাসনা, যাতে সেই বিধির লিখন যায় মুছে ।
৪।
যে দিন পদে শরণ ল'য়েছি, সেই দিন হ'তে এজীবনে
মঙ্গলে আছি ;
একবার দেখা পেলে প্রাণে বাঁচি, অধীনের নিবেদন
পদে যাচে।
৫। গোঁসাই তারক চঁাদের এই অভিলাষ, অশ্বিনী তাের মানব
দেহ ক’ব আমি খাস্ ;
এবার মন দিয়ে হ’গে গুরুর দাস, স্বামী মহানন্দ সহায়
আছে।
৩৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩০ নং তাল-ফুরী।
অপরূপ এক মানুষ এল ভাই, এল ওড়াকান্দিী।
বাকা নয়া জোড়া ভূরা, হোরে দিবানিশি কঁাদি।
১। আজানুলম্বিত বাহু, তারে গ্রাস করেছে প্রেমরূপ রাহু,
সঙ্গে ভক্ত বহু ;
দেখলে স্থির থাকেন। কেহ, তার নয়ন বনে বিন্ধি ।
২। দেখে তার রূপের চেহারা, কেউ বলে সই শচীর গােরা,
কেউ কয় মাখন' চোর।।
নব রসে তনু পােরা, বদন জিনি মদন ছ"দি ।
৩। কি কব সেই রূপের কথা, দেখলে “তি ছাড়ে পতিব্রতা,
খেয়ে ধৰ্ম্মের মাথা।
শ্রীচরণে নােয়ায় মাথা, তারা ত্যজিয়া বেদ বিধি ॥
৪। হেরিয়া তার মুখশশী, যােগ ভুলে যায় যােগী ঋষি,
পদে পােটায় আসি।
বলে গােসাই রাখ দাসী, মোদের ছজন ভজন বাদী।
৫। বলে গােসাই মহানন্দ, এবার ঘুচল জীবের চিত্ত সন্দ,
গেল সাধন ধন্ধ।
অশ্বিনী তুই তাজ্ঞানান্ধ, গুরুর চরণে হও বন্দী।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩১ নং তালগড়খেমটা
সাধ করে এই ভবে এসে হলিরে মায়ার মুটে।
গুরুদত্ত পরমার্থ নিলরে তাের সব লুটে।
১। মায়াবিনী পা'তল মায়াজাল থেকরে সামাল,
মায়াজালে বন্দী হলে ঘটবেরে জঞ্জাল।
যেমন মাকড়ের জালে মক্ষী বন্দী পড়ে শেষে সঙ্কটে।
২। যদি মায়াজাল এড়াতে চাও, করে জ্ঞানের অসি লও,
গুরু পদে মন মজা’য়ে মহানন্দে রও।
শেষে যে ধন চাবি, সেই ধন পাবি, থাকিবিরে
প্রেমের হাটে।
৩। হবে দেহে গুরুকৃপা বল, ছাড় মনের খল ;
হরির নাম পুটুলি কর পথেরই সম্বল।
ঘাটের ঘাট মাঝি সে হবে রাজি, পার করবে নিষ্কপটে।
৪। যদি মন কাটবি মায়াভাের, প্রেমানলে হও বিভাের ;
শ্রীগুরুর পাদপদ্ম ফুলে, হওরে মন ভ্রমর।
শেষে প্রেমের মধু পান করিবি, লাগবেরে বড় মিঠে ।
৫। দয়াল মহানন্দ কয়, শােরে দুরাশয়,
অশ্বিনী তাের মানব জনম বিফলেতে যায়।
এমর দুর্লভ জনম পেয়েছিলি, গেলি ভূতের বেগার খেটে ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩২নং তালগড়খেমটা
সে ফণীর
কামিনী কাল নাগিনী, ফণিনীর বিশাল বিষ।
ও যার নিঃশ্বাসে ব্ৰহ্মাণ্ড নাশে, না জেনে কেন হস্ত দিস্ ।
১। সে ফণীর ভঙ্গী বােঝা দায়, মুনির মন ভুলায়,
কত ওঝা বৈদ্য সাপুড়ে খেল, দেখতে লাগে ভয় ;
ও সে ইসারাতে মানুষ মজায়, নয়ন দেখে চিনে নিস্।
২।
যুগল মণি রয়, বক্ষে শােভা পায়,
দেখলে পরে একেবারে মানুষ ভেক্ লােভয়,
ওসে আকর্ষণে আহার যোগায়, তাই দেখে কেউ
দিনে হিস্।
সে ফণীর বিলাস বনে বাস, মনে অভিলাষ,
কাম্য বনে আসা যাওয়া করে বার মাস,
কেন গুরুচাদের বাক্য ফেলে সেই বনে ভ্রমণ করি ।
৪। সে ফণীর মন্ত্র শুন ভাই, শ্রীগুরুর দোহাই,
হরির নামটি মহামন্ত্র তা বিনে আর নাই,
গুরুর বাক্য করে ঐক্য, মা বলা ধূল পড়া দিস্ ।
৫। মহানন্দের ভারতী, তুই শুনরে দুৰ্ম্মতি ;
গুরু কল্প ইসার মূলে থাক্ দিবারাতি,
অশ্বিনী তাের হয় না মতি, ঘরে বসে কি করিস্ ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩৭
৩৩নং তাল-গড়খেমট।
হৰি ধন প্রাপ্ত হলে তা হলে কি হয় লাভ,
স্বভাব দোষে, সকল নাশে, যদি না থােচে স্বভাব।
১। যদি স্বভাব ঘুচে যায়, অভাব নাহি রয়,
প্রেমে তনু ডগমগ হরি তারে চায়,
যেন বংসের পিছে গাভী বেড়ায়, সদায় করে
* হাম্বা রব ।
২। স্বভাব দোষ এমনি অলক্ষ্মী, শুন তার সাক্ষী,
শ্রীরাম লক্ষ। পেয়েছিল, মাছরাঙ্গা পাখী,
পাখী জাননা তার মাহাত্ম্য কি, নিল মাছ ধরা বর
তাজে সব।
স্বভাব দোষ এমনি কুলক্ষণ, তার সাক্ষী কপিগণ,
বনে বসি শ্রীরাম শশী পেল সৰ্ব্বজন,
শেষে রাবণ মারি লঙ্কাপুরী, হ’ল রাম ত্যজে নারী-বল্লভ।
৪।
হনুমান স্বভাব ঘুচায়ে, পঞ্চজন লয়ে,
শ্রীরাম পদে মনকে বেঁধে থা’ ভাব ল’য়ে,
হনু রাম চরণে প্রাণ সাঁপিয়ে, পেল রাম পদ বল্লব ।
৩৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। গোঁসাই গুরুচাদ বলে, স্বভাব ঘুচিলে,
শঙ্করের হৃদনিধি হরিধন মিলে,
অশ্বিনী তাের এই কপালে, ঘটবে কি সেই গোসাইর ভাব।
৩৪নং ভাল-~-একতাল
হরিনাম সুধা পানে, পানে যে মেতেছে।
হয়ে নামে মত্ত, পেয়ে তত্ত্ব, জন্ম মৃত্যু এড়া’য়েছে।
(হারে জয় করেছে)
১। ক'রে সমুদ্র মন্থন, সুধা খেল দেবগণ ;
তারা জন্ম মৃত্যু এড়াইতে নারিল কখন।
হরিনাম সুধা পান যে করেছে কোণী ব্ৰহ্মার পতন
সেই দেখেছে। (হারে সেই দেখেছে)
২। হরিনাম সুধু সুধা নয়, প্রেম মধু নিস্কাম কৰ্পর তায়,
পঞ্চ রসে গিল্টি করা নব রসাশ্রয়।
আছে ভক্তি মাখা স্বরে ঢাকা, অনুরাগ সুতার বেন্ধেছে।
(হারে তার বেন্ধছে)
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩। হরির নাম এমনি রসাল, তত্ত্ব জেনে মহাকাল ;
পঞ্চ মুখে পান করে নাম হইয়ে বেহাল।
পিয়ে নামের সুধা ভব সূধা জন্ম মৃত্যু ঘুচায়েছে।
(হারে জয় করেছে।
৪। অনপিত ছিল হরির নাম,দয়া করি হরি গুণধাম,
কলির জীবে বিলাইল কেউরে না হয় বাম ।
তাইতে শিব হতে জীব ধন্য মানি হরির নাম প্রাপ্ত হয়েছে।
(প্রাপ্ত হয়েছে)
৫। নদের চঁাদ ছিল হরিদ, জীনের কাটতে মায়া ফঁদ,
শ্রীচরণে কোটী চন্দ্র ঘুচল চিত্ত অধি।
বলে মহানন্দ গেল সন্দ, অশ্বিনী কেন কঁাদিস মিছে।
(হারে ভাবিস মিছে)
৩৫নং তাল ঠুংরী
হরির্চাদের অপার লীলারে লীলা বুঝবে সাধ্য কার ।
ল’য়ে নিজ নারী ব্রহ্মচারী ঘুচাইতে ব্যভিচার ।
& ?
শ্রীশ্রীহরি, সঙ্গীত।
.
১। আপনি হইয়া নম্র, জীবকে শিক্ষা দিতে ধৰ্ম্ম,
পুনঃ হলেন অবতার।
গহস্থ্য প্রশস্ত ধৰ্ম্ম জগতে করলেন প্রচার।
জীবে দয়া নামে রুচি,... গুরু নিষ্ঠা সৰ্ব্ব শুচি,
করলেন এই তত্ত্ব সার।
হয়ে সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয় ঘুচাইলেন অহঙ্কার।
৩। বৈষ্ণবের কুটিনাটী, সাধন ভজন ময়লা মাটি,
এতে কুল পাবেনা আর।
হয়ে হরিবােলা প্রেমে ভােলা হরির নামটি কর সার।
৪। নাড়া দরবেশ গৌড়ে বাউল, ত্যজে প্রভু হলেন আউল,
অটল নিষ্ঠে ব্যবহার।
জীবের চিত্ত সন্দ কর্ম বন্ধ, ঘুচাইলেন অন্ধকার।
: গোঁসাই তারকাদের বাণী, স্বহস্তে লিখিলেন তিনি,
লীলামৃত প্রমাণ তার।
ওরে অশ্বিনী তাের যায় না ভ্রান্তি, মন হ’লনা সংস্কার
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪১
৩৬ নং তাল-একতাল
.
হরি গুণ ঘুণে দেহ দেহ জ্বারে নিল।
আমি না জানি,মাের গুণমণিরে,
কোন গুণে তনু জারিল আমার মন মজা’ল।
***
১। গুণাতীত গুণের সীমা নাই, তারে কোন্ গুণেতে পাই,
সত্ত্ব, রজঃ তমঃ ত্রিগুণ, ও যার গুণে পায়না ঠাই।
যেন কি গুন দিয়ে জাল হিয়ে, যেমন কঁচা বাঁশে
ঘুণ লাগা লাে(হারে এই করিল)
২। হরি গুণ বৈশম্পায়ন জ্বর, ও যার নাহি অবসর,
ধিক্ ধিক্ করে জীবন জ্বলে, হারে প্রাণে বাঁচা ভার।
ও তার প্রেমানলে, মলেম স্বলে রে অবশেষে এই করিল।
(হাৱে কোথায় গে) ?
৩। ফণীর বিষ কিসেতে গণি, হলাহল বিষের গুণ জানি,
কাল কুট বিষে কি করিবে, ও গাে সজনী।
আমার হরি বিষে, জীবন নাশেরে, মরমেতেছে। মারিল।
(জীবন জ্বলে গেল
৪২
শ্রীহরি সঙ্গীত
৪। হরি গুণ কে বলে ভাল, ঘুণে তনু জারিল ;
ঘরের বাহির করে আমায় পাগল করিল।
যেন হাই হুতাস বাতুলের মত, আমার কঁদতে ২ জনম
গেল। (ভাগ্যে এই কি ছিল)
܀
৫। স্বামী মহানন্দ কয়, সে ঘূণ লেগেছে যার গায় ;
প্রাণ ল’য়ে তার টানাটানি হারে গৃহে থাকা দায়।
গোঁসাই তারক বলে এই কপালে, অশ্বিনী তাের কই
ঘটিল। (হারে কই তা হল)
৩৭ নং তালগড়খেমটা
দেখে মতুয়ার খেলা, এবার দেখে মতুয়ার খেলা।
দক্ষিন দ্বারে দিয়ে তালা যম হয়েছে হরিবােলা।
১। কেঁদে বলে চিত্রগুপ্ত, আজ হইতে ঘুচল জ্বালা;
ওরে পাপ পুণ্য হ’ল শূন্য, হরিব’লে সার করিব বৃক্ষতলা।
২। কেঁদে বলে শমন দূতে হাতের দণ্ড ভূমে ফেলা।
ল’য়ে গলায় বসন, লইগে শরণ, মতুয়ারা দয়ার সাগর
হৃদয়-খােল।।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৪৩
৩। পূজকধ্যানী কম্মিজ্ঞানী বাহিরে জপে তিলক মালা;
দেখে মতুয়ার ধারা, ডু’বল তারা, আজ হ’তে তন্ত্রমন্ত্র
ঠেলে ফেলা।
৪। কাজের মতুয়া গােলক চন্দ্র সিংহের ধ্বনি জিনিয়া গলা ;
ও তার ধ্বনি শুনে বিপদ গণে, তরাসে কাম কলি কয়
পলা পল ॥
কাম কলির প্রতিজ্ঞা ছিল গৌর প্রেমে দিব ধুলা ;
এবার ঘাটে মাঠে বার উঠা’য়ে, শেষে মিলাইব কলির মেলা।
ও তার, সাক্ষাৎ প্রমাণ চঁাদারদহ জানে যত মেয়ে পােলা;
কত মারামারী, ব্যভিচারী, তেমনি বার সড়া হিজল
খেজুর তলা ।
৭।
ডেকে বলে তারকচন্দ্র বার দেখে কেউ হ’নে ভােলা ;
কেন সুধা থুয়ে গরল খাবি, অশ্বিনী ধর পাগলের করণ মালা।
৩৮ নং তালগড়খেমটা
এবার শুনলেম মতুয়া পাড়া, গিয়ে দেখলেম মতুয়া পাড়া।
যত মতুয়া মাতাল হয়ে বেহাল, কাজ করে বেদ বিধি ছাড়া
৪৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩।
১। মতুয়া পাড়া উঠছে সাড়া শু’লেম তাদের আইন কড়া;
কারুর কুলের গৌরব থাকূলে পরে, এদলে এসে কেহ
হ’নে ক্ষাড়া।
২। আদি মতুয়া ওড়াকাদি নদীয়ায় ছিলেন শচীর গােরা :
ওসে মায়ের কড়ার শুধ ব ব’লে এসেছে ওড়াকাদি
নিমাই নাড়া ।
কাজের মতুয়া নারিকেলবাড়ী অনুরাগে তনু পাের ;
ও যার হুহুঙ্কারে গােলােক লড়ে তার কাছে বাউল গৌড়ে
প’ল ধরা।
৪। আর এক মতুয়া নারিকেলবাড়ী প্রেমানন্দে মাতােয়ারা,
তারে দেখলে ভােলে পুরুষ নারী, নবদ্বীপ ছিলেন তিনি
নিতাই নাড়া।
৫। আর এক মতুয়া রাউৎখামার বীর করুণ রসে হয় ভরা ;
ওসে মরিলে বাঁচাইতে পারে, পাথারে ভ্রমণ করে নৌকা
ছাড়া।
৬। আর এক মতুয়া জয়পুরে রয় নবরসে তনু ভরা ;
ও যার নাম নিলে হয় শমন দমন, নামটী তার তারকব্রহ্ম
রসের চূড়া।
৭। মতুয়া নামের কি মাহাত্ম্য ইহা নি কেউ জানিস তােরা;
তারা কতক গােপী কতক কপি এ যুগে একমতে হয়েছে
জোড়া।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪৫
৮। অশ্বিনী কয় দিন বয়ে যায়, ধারুলামনা সেই মতুয়ার ধারা;
স্বামী মহানন্দের দয়া ধিনে, হয়েছি গুরুষ্টাদের চরণ ছাড়া
৩৯ নং তাল গড়খেমটা
যদি ধ’বি মতুয়ার বুলি, যদি ধবি মতুয়ার বুলি।
ত্যাজ্য ক সাধন ভজন, দীক্ষা শিক্ষা কল্পী ঝুলি।
১। মতুয়ার বুলি ধরতে গেলে জাত কুলে দে জলাঞ্জলি ;
হয়ে পাগল পারা মাতােয়ারা,
হরিব’লে কঁাদবি শেষে গলি গলি।
২। মতুয়া যারা প্রেমিক তারা, প্রেমানন্দে করছে কেলি ;
নিলে মতুয়ার স্বভাব ঘুচবে অভাব,
হারে তাের ফুটবেরে প্রেম কুসুম কলি।
| মতুয়া পাগল, হয়ে বিভােল, প্রেমপানে হও মত্ত অলি ;
ধরলে মতুয়ার করণ সাধন ভজন,
হারে তুই সন্ধ্যা আহ্নিক ফেলবি ঠেলি ।
$
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪। মতুয়া নামে, ধরাধামে বহিরঙ্গে দিত গালি :
এবার মতুয়া হয় জগৎপূজ্য,
মাধুৰ্য প্রেমের পাত্র প্রাণ পুতলি ।
ডেকে কয় তারক রসনা, অশ্বিনী আজ তােরে বলি;
যদি
মতুয়া
হবি প্রাণ জুড়াবি,
সব অঙ্গে মা’খ বি মতুয়ার চরণ ধুলি ।
৪০ নং তাল--ঠুংরী
নিদাঘেতে দাগ লাগালি রে হরি দয়াময়।
হারে তাের লাগি প্রাণ যায় ।
১। দুঃখ পাশা নয়ন তারা, পিশরা না যায় তােমায় ;
আমার মনপ্রাণ করে চুরি, পাগল করিলি আমায়।
২। তাের বিচ্ছেদ বিরহ দাহ, দহিছে আমার হৃদয় ;
আমার মনের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ, কি আগুণ
লাগালি গায়
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪৭
৩। চিন্তানল হইলে প্রবল, দাবানল লাগে কোথায় ;
ও তাের বিরহ বাড়বানলে, এ জীবন মাের স্কুলে যায়।
৪। সরল প্রাণে দাগা দিয়ে, গরল ঢালি দিলি গায় ;
ও তাের বিচ্ছেদ ভুজঙ্গ হয়ে, দংশেছে আমার হৃদয়।
বলে গোসাই মহানন্দ, অশ্বিনী হ নিরাশয় ;
আমার হরিচাদের নিহেতু প্রেম সহজে কি পাওয়া যায়
৪১ নং তাল-ঠুংরী
রত্ন ডাঙ্গার বিলের কূলেরে ওকে সাজালেন হরি।
দেখলেম রাখাল সনে, গােচারণে ভুবন মােহন রূপধারী।
কস্তুরী কুসুম তুলে, মালাগাঁথি দিচ্ছে গলেরে হেরে
ভুলিতে নারি,
যত রাখাল মিলে বহুতুলে, ব’লতেছে হরি হরি।
ব্রজে ছিল নন্দের দুলাল, সাজাইতে ব্ৰজ রাখাল রে
যেন সেই রূপ মাধুরী।
যেন সেই কালাচঁাদ, সেই রূপের উঁদ, গােপীর মন
করে চুরি।
৪৮
শ্ৰীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩। বিশ্বনাথ ব্রজনাথ সঙ্গে, ধেনু রাখে পরম রঙ্গে,
রে ব্রজের ভাব মনে করি।
গােষ্ঠে করে দর্প, কাল সর্প, খেলিছে লাঙ্গুল ধরি ।
৪। প্রিয় সখা বিশ্বনাথ, বিশুচিকায় হ’ল মৃত্যু রে,
ধূলায় যায় গড়াগড়ি ।
তারে বাঁচাইয়ে, গােধন ল’য়ে গােষ্ঠে যায় করে ধরি।
৫। গােলােক চাদের মনােচোরা, মহানন্দের মনহরারে ভক্তের
মনোরঞ্জনকারী।
ভেবে অশ্বিনী কয়, দীন দয়াময়, ঐ রূপ যেন নেহারী।
৪২ নং তাল—তুরী
নারিকেল বাড়ীর গােলােক পাগলরে, ও যার মহিমা অপার।
গিয়া গঙ্গাচন্নায়, প্রেমের বন্যায় কলেন গঙ্গা অবতার।
১। সাধু রাইচরণের বাড়ী, কদলী গাছ রােপন করিরে,
ঘটে দিয়ে আম্রস্বর ;
ল’য়ে পুরুষ নারী বলে হরি, ক’রলেন মহারাস বিহার।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪৬নং তাল—একতাল
মনের মানুষ ধরা, মন রে ফেরা মুখের কথা নয়।
তারে ধৰি যদি নিরবধি, (নে) বধিরান্ধ বােশ্রয়।
১। বধিরান্ধ বােবার স্বভাব ধর, তবে অধর ধরা পড়বে ধরা,
তারে ধরার মত ধর ;
থাক যুতের ঘরে রূপ নিহারে, তবে মানুষ পাওয়া যায়।
২। আমিত্ব দূর যখন হবে, (তবে) হবে সে ভাব বাহ স্বভাব,
কিছু না রবে ;
এই দশা তাের যখন হবে, দেখবি জগৎ মানুষ ময় ॥
মনের মানুষ যদি ধরতে চাও, আত্মস্বার্থ ত্যজে প্রেমে
নজে অনুগত হও;
হলে অনুগত মনের মত, মন মানুষ হবে সদয় ।
৪। প্রেমনগরে হয় তার বসতি, ও সে প্রেমিক বড় ভালবাসে,
প্রেমে যার আৰ্ত্তি ;
ও সে প্রেমিক পেলে, করে কোলে, প্রেমশূন্য
দেখিলে লুকায় ।
ডেকে বলে তারক রসনা, মনের মানুষ হরিশ্চন্দ্র
কর উপাসন।।
এবার অশ্বিনীর পু’রবে বাসনা, মহানন্দের করুণায়।
শ্রীহরি সঙ্গীত।
৪৭ নং তালগড়খেমটা
মাের কেন নবদ্বীপ যাব, শূন্য নদীয়ায় কি ফল পাব।
ও সে নদীয়ার চঁাদ এই হরিচঁাদ, হেরে জীবন জুড়া’বাে॥
গােসাই রাম কান্তের বরে, প্রভু যশোমন্তের ঘরে,
জীবের জন্য অবতীর্ণ, হ’ল এবারে,
এবার বর্তমানে, পেলেম তারে, কেন তীর্থবাসী হবে।
।
২। তীর্থে নাহি প্রয়ােজন, ও সে তীর্থের মহাজন,
ল’য়ে গয়া কাশী, তীর্থ রাশী, আরো বৃন্দাবন,
এবার ওড়াকলী এল সে ধন, গেলে বর্তমান
দেখতে পাবে।
৩। ভারত ভাগবত, রামায়ণ, তন্ত্র গ্রন্থ অগনন,
কোন, শাস্ত্রে নমঃশূদ্রের, না পাই নিদর্শন ;
এবার শাস্ত্র মতে, করে সাধন, কেমনে তারে পাবে।
৪। তাইতে পুনঃ অবতার, হ’ল হরিচাদ আমার ;
হরির লীলামৃত গ্রন্থ, দলিল আছে তার ;
কর দলিল গ্রাহ, ছাড় বাহ, আমরা সবে হরির
দাস হবাে ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। গুরুচঁাদের এই বাণী, ও তুই শােনরে অশ্বিনী,
যে চরণে জন্ম নিল, পতিতপাবনী,
এবার সেই মানুষ এল এদানী, ভব পারের বান্ধবাে৷
৪৮ নং তাল-গড়খেমটা
আমার মন চল যাই গুরুর দরবারে।
কেন সাধে সাধে, সংসারমেদে, বন্দি র লি কারাগারে।
---
১। নির্মল গুরুর কাছারি, তথায় নাই জুয়াচুরি;
কামুকের দণ্ড ভারি আইন অনুসারে।
গুরু পাস করেছে পরওয়ানা কপট মিথ্যাবাদীর যেতে মানা;
হিংসুকের হয় যন্ত্রণা, কৃপাদণ্ডে জব্দ করে।
২। তথায় হয় সাধুর দরবার, অসাধুর নাই অধিকার ;
হ’তেছে সূক্ষ্ম বিচার, সত্যের আইন ধরে।
এবার রতি মাষা কমি হলে, তারে অমনি ধ'রে দিচ্ছে জেলে;
ছোঁড়া এক কান্থা গলে, রা’খছে তারে-বেহাল ক'রে ॥
ভেঙ্গেছে গুরুর তবিল, করগে ভক্তি আপিল,
অনুরাগ রাখি উকিল, প্রেমিক জুরিদারে ।
তুই খালাস হবি অনায়াসে, শেষে যাবিরে মন,
মানুষের দেশে;
প্রেমিকের সহবাসে, থাক্বিরে মন শান্তিপুরে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪।
শ্রীগুরুর বিচার শুনে, যম রাজার শঙ্কা মনে।
শরণ লয়ে চরণে, ব’লছে করযােড়ে।
আমি আর যাবনা মতুয়া নগর, যত মতুয়া মাতাল
প্রেমে বিভাের,
ইচ্ছা হয় হইগে নফর, ঘটলনা তা কৰ্ম্মান্তরে।
৫। গুরুচঁাদ ত্রাণ কর্তা, হরিচাদ হরে আত্মা ;
গােলােকচঁাদ দিচ্ছে বার্তা, ডেকে উচ্চৈঃস্বরে।
দয়াল মহানন্দ ব’ছে কাদি উঠল প্রেমের তুফান
ওড়াকান্দী
অশ্বিনী তর্কবাদী ডুব দিলিনা রূপসাগরে ।
৪৯ নং তালগড়খেমটা
গুরুদ পাঠাইওনা যমের কাছারি ।
আমায় কৃপাড়ােরে বন্দি করে রেখ তােমার প্রেম হুজুরী ॥
}
১। হয়েছি অপরাধী, শ্রীপদে রাখ বাঁধি ;
হয় পাঠাও ওড়াকাদি, শান্তি মায়ের পুরী।
আমার খাটুনি দাওহে মনের মত, হব গুরুচাদের অনুগত ;
ক’ব ঐ চরণ ধৌত, দাও আমারে এই কামজারি।
শ্রিীহরি সঙ্গীত
৪৯
গঙ্গাচন্নার দক্ষিণ ভাগে, মধুমতীর মরা গােগে রে
করলেন লীলা চমৎকার ;
ল’য়ে ভক্তগণে, গঙ্গাস্নানে, গঙ্গাকে কৃ’রলেন সাকার।
মদনমােহন রামমােহন কার্তিক, গােসাইর পদে অতি
আৰ্তিরে, অক্রুর শম্ভু রামকুমার;
তারা হনুমান মূরতি হেরে পাথারে খেলায় সাঁতার ।
৪। মারুতি মূরতি হ'য়ে, সুরধনী মাথায় ল’য়েরে, যেন
সাক্ষাৎ গঙ্গাধর ;
গঙ্গা লয়ে শিরে, নৃত্য করে, বালে ঘাট হয় আবিষ্কার।
৫। রুহিদাসের চৰ্ম্মকাঠয়, ডালে গঙ্গা হ'লেন উদয় রে
আছে শাস্ত্রে তাই প্রচার ;
বলে তারকচন্দ্র ছাড় সন্দ অশ্বিনী হও নির্বিকার।
৪৩ নং তাল-একতালা
আয় না ভাই সবে মিলে যাই, দেখতে গুরুচাদে।
ভক্তি প্রেমের গুরু কল্পতরু, হারে যার পরাণ কাঁদে।
৫৩
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। শ্রীধাম ওড়াকান্দীতে, তথা যায় ছত্রিশ জেতে, প্রসাদ
খাচ্ছে একপাত্রে :
এবার যার যেমন মন, সে পায় তেমন, বঞ্চিত না হয়
প্রসাদে।
২। যত ভক্ত শুসারী, তারা যায় সারি সারি, বলে জয় জয়
শ্রীহরি
হরি নামের মধু, না পেলে সুধু, যায় কিরে সাধে সাধে।
৩। গোঁসাই জগদীশ ঠাকুর, তার মহিমা প্রচুর, ও তার
চরিত্র মধুর,
কুবের তিন্ কড়ির, তােড়ানী খেয়ে, গোঁসাই নাচতেছে
প্রেমানন্দে।
৪। জগদীশ গুণনিধি, করলেন কামনা নদী, তথা স্নান
করে যদি ;
ও তার মোক্ষ ফলের নাই অবধি, গুরুচঁাদ রাখেন পদে।
৫। গোঁসাই তারকচন্দ্র কয়, ধামে যাওয়া বড় দায়, ভাগ্যে
কি যেন কি হয়,
এবার অশ্বিনী ভুলিল মায়ায়, কেঁদে মরি ঐ খেদে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫১
৪৪ নং তাল—ফুরী
গুরুচঁাদ এমন চঁাদকে ভবে আনিল, কোন্ গুণে
জগমন বান্ধিল।
জগমন বান্ধিল, জগমন বান্ধিল।
এক পলকে দেখলে শতবার,,অনিবাৰ্য্য পিপাসা,
হারে বাড়ে অনিবার,
জীবের চিত্ত চকোর, হ’য়ে বিভাের, রূপরসে মেতে গেল।
২। না জানি কি মােহিনী জানে, বুলজার মন প্রাণ ধরিয়া টানে,
কিবা বাল্য বৃদ্ধ গুণে বাধ্য, রূপ দেখে পাগল হলাে।
৩। হরি নামের তরণী ল’য়ে, অকামনা প্রেম ভক্তি
বােঝাই করিয়ে,
প্রভুর ভক্তের সঙ্গে, পরম রঙ্গে জগতে বিলাইল গাে॥
৪। অকাতরে বিলায় প্রেম ধন, অচৈতন্য কলির জীব,
করিতে চেতন,
এল পরম দয়াল, দুঃখী কাঙ্গাল তাপিতের প্রাণ জুড়ালাে।
৫। আনন্দে উঁদ মহানন্দ কয়, কোটী চন্দ্র বিরাজে,
মাের গুরুদের পায়,
এবার অশ্বিনী ভুলিস্ না মায়ায়, প্রেমের বাজারে চলে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪৫ নং তাল-ঠুংরী
হরি চঁাদ, হেরে জীবন জুড়ালাে,
ও প্রেম রসে হারে জগৎ মাতালাে ।
১। দুঃখী তাপীর জুড়াতে জীবন, ওড়াকান্দি হরিচাদ এবার
করলেন আগমন,
তােরা দেখসে আসি, জগৎবাসী হরিচাদ উদয় হলাে।
নবরসে শ্ৰীঅঙ্গ মাখা, অধরে সুধাকর ও তার দু’নয়ন বাঁকা,
সে যে ব্রজ নাটুর প্রাণ সখা, ভাবেতে বােঝা গেল।
৩। শান্তি মায়ের হৃদয়েরই ধন, যােগে পায়না যােগীগণ,
তারা করে যােগসাধন,
তারে পাবার লাগি সৰ্ব্বত্যাগী, হীরামন পাগল হ’ল ।
৪। কি দিব তার রূপের তুলনা, গগণের চঁাদ মলিন হয়,
হেরে রূপের জ্যোৎস্না ;
এবার পুরা’তে জীবের বাসনা, হরিচাদ হুবে এল।
ডেকে বলে তারক রসনা, আমার মনের মানুষ হরিচাদে
কর উপাসনা ;
দয়াল মহানন্দের এই বাসনা, অশ্বিনী ধামে চলল।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
২। হয়েছি ফেরয়ারী, হস্তে দাও কৃপাড়ুরী ;
পদে দাও দয়া বেড়ী, রাখি বন্দী করি।
আমায় যদি দাওহে দ্বীপান্তরে, পাঠাও মায়াসিন্ধু পারে,
পুনঃ না আসি ফিরে, প্রেম দ্বীপে দাও চালান করি।
চরণে হ'লেম দোষী, গলায় দাও দয়া রসি;
অনুরাগের চাপড়াশী, তশীল করুক ভারী।
আমায় জুড়ে ভক্তি ঘানির গাছে, যেন কৃপা বেত্র
মারে পিছে ;
যাতে অপরাধ ঘুচে, শমন রাজার কি ধার ধারি ।
•
৪। গুরুর প্রেমের জেলা, তথায় নাই ত্রিতাপ জ্বালা
যত সব হরিবােলা করে চৌকিদারী।
আমায় শাসন করে আইন মতে, রাখবে সদা সূক্ষ্ম পথে;
ছােবেনা রবির সূতে, প্রেমানন্দে ব’লবাে হরি।
৫। ডেকে কয় তারকচন্দ্র, অশ্বিনী নাই তাের সন্দ;
সহায় তাের মহান কৃতান্ত ভয়বারী।
এবার হ’গে গুরুর দাসানুদাস, তুই এ মামলাতে
পাবি খালাস;
পুরবে মনের অভিলাস, করিস না আর জুয়াচুরী।
৫৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫০ নং তাল-গড়খেমটা
:
গুরু কৃপাদৃষ্টি দয় বৃষ্টি হচ্ছে বরিষণ।
দেহ কঠিন জমি জঙ্গলা ভূমি, জ্ঞানাস্ত্রে আবাদ কর
অবােধ মন।
১। নিষ্ঠা নিষ্কাম যুড়ে দুই আবাল,
ভাবের জোয়াঁল জুতের লাঙ্গল দিয়া যােভাও হাল ;
দেহ চাষ করলে তাের ফিরবে কপাল,
গুরুধন ভক্তিবীজ করবেন বপন।
২। তাের ভক্তি লতা বাড়বে অনুক্ষণ,
অনুরাগের বেড়া দিয়ে হুর থেক মন।
যেন ছয়টা অজা ছােয়না কখন,
এলে যাবে নিত্য বৃন্দাবন।
ও সে নিত্য ব্ৰজে আনন্দ কানন,
আলাদিনীর সঙ্গে গুরুর হ’তেছে মিলন।
তাের ভক্তি লতায় ক’বুলে বন্ধন,
আনন্দে দেখবি সে যুগল মিলন ॥
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪। তাের ভক্তি লতায় সিঞ্চ প্রেম বারি,
প্রতিষ্ঠারূপ ভালপাতা মন ফেলাগে ঝুড়ি।
এবার ফলাফলের আশায় ছাড়ি,
নিম্ফলের মর্ম জানে রসিক জন ।
৫। স্বামী মহানন্দের দয়া যে অপার,
তাের ভক্তি লতা বাড়বে যাতে কছে সে জোগাড়।
গোঁসাই তারকাদের বাঞ্ছা এবার,
অশ্বিনীর লতায় কলুক প্রেম রতন।
৫১ নং তাল-গড়খেমটা
মন মালী তাের দেল বাগিচায় উঠলরে ভক্তি মুকুল।
দিনে দিনে বাড়বে লতা ফুটবে প্রেমানন্দ ফুল ।
১। ফুটলে প্রেমানন্দ ফুল, হ'বে সৌরভে আকুল ;
মুক্তি আশা ভক্তির নাশার ভেঙ্গে যাবে মূল ; ·
নয়ন জলে ভাবে দুকুল, মিলবেরে অকুলের কুল।
২। লতা হইলে সবল, ফল বেরে সুফল ;
হার মাণিক ফলবে লতায় পথের সম্বল ;
সে যে সাধনের ধন চিন্তামণি অনাদি যার না পায় মূল।
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩। লতায় বিঘ্ন অতিশয়, শশারে মনুরায় ;
বৈষ্ণব অপরাধ, হাতী মাথা, যেন না লওয়ায়,
যদি লতা শুণ্ডে জড়ায়, এক কালে করবে নির্মল।
৪।
যেজন সুজন
মালী
হয়,
ঐ লতার কৃপায় ;
অনায়াসে প্রাপ্ত হয় সে হরি দয়াময় ;
শেষে, প্রেমানন্দে সাঁতার খেলায়, ভাসিয়ে দিয়ে
জাতিকুল ।
-
•
৫। মহানন্দের এই বাণী, শশারে অশ্বিনী ;
ভক্তিলতায় সিঞ্চন কর প্রেম তরঙ্গিনী ;
হুসার থাক দিন রজনী, দেখ জেন না হয় ভুল।
৫২ নং তালগড়খেমটা
আমার মন মধুকর হওরে বিভাের প্রেম মধুপানে।
ভক্তি পাখা তােল উড়ে চল, প্রেমমধু আছেরে মন যেখানে ।
১। শ্রীগুরু পাদপদ্ম কাননে, গুণ গুণ স্বরে যাওরে উড়ে
মধু যেখানে ;
মত্ত হও প্রেম মধু পানে, ভুলে আর যা’সনা বিষয় কাননে
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৬১
২। গুরু কল্প করুণা ডালে, গুরুকৃপা চাকে মনের সুখে
রও কুতুহলে ;
এবার সাধুসঙ্গ ফুলে ফুলে মধুপান করবে রাত্রি দিনে ।
৩। মতুয়া ময়রা রসের দোকানে, বিরাগ ভরে যাওরে উড়ে
আনন্দ মনে,
প্রেম রসগােল্লা রস পানে শান্তি পাবি সে রস
আস্বাদনে।
৪। মধুর মর্ম জেনে হীরামন, শ্রীগুরু পাদপদ্ম বনে থাকে
অনুক্ষণ;
দশরথ মৃত্যুঞ্জয় লােচন, মধু পান করে প্রফুল্লমনে।
৫। গোঁসাই গােলােকচঁাদ সেই মধুর মহাজন, দয়াল মহানন্দ
ঘরে ২ করছে বিতরণ,
স্বামী তারকাদের এই আকিঞ্চণ, অশ্বিনী মত্ত হও
মধুপানে।
৫৩ নং তালগড়খেমটা
এবার সুখ হ’লনা বসত করে নবরত্নের ঘরে।
ঘরে কাল কামিনী, দিন রজনী, চিতানলে দগ্ধ করে।
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। তিন গুরু ঐক্য হয়ে অষ্টাদশ রস মিশা’য়ে,
সাধের ঘর গড়াইয়ে, দিয়াছে ঠিক্ করে,
ও তার দুই খুটীর পর পাড়ে সারা, তিন গুণেতে
বন্ধন করে
২। শ্রীগুরুর তপার কীর্তি, মকার পর দু’ট বাতী ;
জ্বলতেছে দিবারাতি, জগৎ আলাে করে ;
সাড়ে চব্বিশ চন্দ্র বন্দে বন্দে, রয়েছে ঘরের ভিতরে।
৩। বাম্ দক্ষিণে রবি সােম, ক্ষিতি অপ, তেজ, মরুৎ ব্যোম ;
পঞ্চ তত্ত্বে পুরে দোম, রেখেছে মন্দিরে ;
ও তার আগম নিগম জানলে পরে, আব্ৰহ্ম,
ভেদ করতে পারে
৪। শ্রীগুরু যত্ন করে ; অমূল্য রত্ন পূরে;
রেখেছে সাধের ঘরে, সাত তালার উপরে ;
এমন অমূল্য ধন থাক্তে ঘরে, ভক্তি রতন কিলি নারে
৫। ডেকে কয় মহানন্দ, ছেড়ে দে চিত্ত সন্দ;
অশ্বিনী অজ্ঞানান্ধ, ব’ কি আর তােরে ;
আমার হরিচঁাদ এ ঘরের মালেক, দেখলি না রূপ
নেহার করে
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫৪ নং তাল—গড়খেমটা
করণ যুদ্ধ কর ধনুক ধর, শ্রীগুরুর সনে।
আপন মন হ'লে সই, সমরে জয়ী, হবি মন শঙ্কা কি
আছে মনে।
১। শ্রদ্ধারথে করি আবােহণ, ভজন পূজন অশ্ব যুড়ি ক’তে
চল রণ;
সারথি সাজাও মন পবন, মনা ভাই হানা দে গুরুর রণে।
২।: অনুরাগে ছাড় হুহুঙ্কার; জয় হরিবােল বলে দাও মন
ধনুকে টঙ্কার ;
সমরেতে হও অগ্রসর, সাজায়ে সামর্থ্য সৈন্যগণে ॥
৩। জ্ঞান ধনুকে যুড়ে ভক্তি বান, গুরুর প্রতি শীঘ্রগতি
কর সুসন্ধান;
সমরেতে হয়ে সাবধান, ভক্তিবান হান গুরুর চরণে।
করণ যুদ্ধ করে গােলােকচঁাদ, হরিদিকে প্রাপ্ত হল পেতে
প্রেমের ফাঁদ ;
তাই স্বহস্তে লিখলেন তারকাদ হরিচাদ, রাম দেখায়
হীরামনে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৫। গোঁসাই মহান করিয়া গর্জন, ডেকে বলে অশ্বিনী তুই
যুদ্ধের কথা শােন্।
যদি গুরুর সঙ্গে করিবি রণ, পলক মারিনা দুট নয়নে।
৫৫ নং তাল-যৎ
ভক্তি রতন না থাকিলে, কৃষ্ণ ধন কি মিলে।
ভক্তির বাধ্য ভবারাধ্য, নন্দের বাধা রয় গােকুলে।
১। (হায়) ভক্তির গুণে ব্ৰজঙ্গনা, কৃষ্ণ পতি পেলে ;
ভক্তির গুণে রাইচরণে স্বহস্তে দস্তখত দিলে।
২। ভক্তির গুণে প্রহলাদ ভক্ত, কৃষ্ণ ধনকে পেলে ;
ভক্তির জোরে, পাতাল পুরে, বলী রাজার দ্বারী হলে।
৩। ভক্তির গুণে যদু পতি, পাণ্ডব সখা হলে ;
ভক্তির গুণে, দীন দয়াময়, বিহুরের ক্ষুদ খেয়েছিলে।
৪। ভক্তির গুণে গুহক চণ্ডাল, রামা মিতে বলে ।
ভক্তির গুণে হনুমান ত, রামরূপ দেখে হৃদকমলে।
৫। ভূক্তির গুণে গােলােকচন্দ্র, হরির্চাকে পেলে ;
ভক্তি শূন্য দীন দৈন্য অশ্বিনী, তুই রইলি ভুলে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫৬ নং তাল-যৎ
তৃণ হতে সুনীচেন, নৈলে কি প্রেম ঘটে।
কৃষ্ণ প্রেমের নিম্ন গতি, উর্ধেতে প্রেম রয় না মােটে।
১। প্রেম পথের কণ্টক পঞ্চ, সাধু শাস্ত্রে রটে ;
জাতি বিদ্যা মহতঞ্চ, রূপ যৌবন মে বটে।
২। যােগী ঋষি কি সন্ন্যাসী, যে প্রেম পায়না মােটে;
গােপী কপি প্রাপ্ত হ’ল, রামে শ্যামে হয়ে নিষ্ঠে।
৩। রুহিদাস সে নত গুণে, কৃষ্ণ প্রেম তার ঘটে ।
গঙ্গা বলে ডাকলে পরে, চর্মকাঠয় গঙ্গা উঠে।
৪। কৃষ্ণ প্রেম সিংহ দুগ্ধ, সুনির্মল মিঠে ।
সুবৰ্ণ পাত্রেতে রয় প্রেম, মেটে পাত্র যায় গো ফেটে ।
৭
৫। পদ শূন্য প্রেম উদয় হ’লহরিচাদের হাটে ;
সবার ভাগ্যে প্রাপ্ত হ'ল, অশ্বিনীর ঘটল না ঘটে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫৭ নং তাল-ঠুংরী
গুরু নিষ্ঠ। নামে রুচি হ’ল কই।
অবােধ মন তােরে কই।
* -
১। (মন) যার হয়েছে নামে রুচি, মুচি হ'লে সৰ্ব্বশুচি :
নাম বিরুচি ব্রাহ্মণে কুলাবে কই।
যে হয়েছে গুরু নিষ্ঠ, চণ্ডাল হ'লে সর্বশ্রেষ্ঠ, ভাগবতে
প্রমাণ সই।
২। যত্নে গুরু বৈদ্য ধর, নামৌষধি সেবন কর,
কাম কুপথ্য ছাড়, রোগ আরোগ্য হই।
করিলে নিষ্কাম পথ্য, এ দেহ হবে সামর্থ্য, হবিরে মন
সৰ্বজয়ী।
৩। সাধুসঙ্গ কর মুষ্ঠিযোেগ, আরােগ্য হবে ভবরােগ ;
আর কত ভুগ, বি রােগ, তােরে বুঝাই,
পান কর পঞ্চ প্রেম পাচন, ভবয়ােগ হবে পরিত্রাণ ;
কৃপা করবেন কৃপাময়ী।
হয় অনুরাগের তেঁতুল গু’লে, পান কর মন হরিব’লে ;
নব রসের ডাবের জলে মহাভাবের কচি দই।
পান কর মন শ্রদ্ধা করে, ভব রােগ তাের যাবে সেরে ;
জাবিনা আর গুরু বই।
৪।
শ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। গোঁসাই তারকাদ কয় হওগে খাটি, ছেড়েদে সব ময়লা মাটি
অসৎ পচাল পঁচাপুটি ভব রােগের বৃদ্ধি ঐ।
মহানন্দের ভাবসাগরে, ডুব দেরে তুই বিরাগ ভরে ;
অশ্বিনী তােরে সুধাই ।
৫৮ নং তাল-ংৈর
পতিত পাবনে হবে রণ।
সমরে সাজ মন ।
১। (ও মন) তুই পতিত, হরি পাবন, সম্মুখ যুদ্ধে হানা দে মন,
মন্ত্রের সাধন না হয় এ দেহ পতন।
তাের পাপ সেনা মদ মত্ত, নাম অস্ত্রে হবে হত,
কামাদি সৈন্য ছয় জন।
২। ভবরঙ্গ মঞ্চ মাঝে, কুহকিনীর মায়ায় মজে,
চল্লিনা মন আপন বুঝে কি কারণ।
তাের তমঃ দেখে দীনবন্ধু, সঙ্গে সৈন্য ভক্তবৃন্দ, রণে এল
হরিধন ।
৩। হরি এল হয়ে বক্র, করে ল’য়ে দয়া চক্র ;
কাটুবেরে তাের মায়া নক্র ক’রূছে পণ।
তাের কুমতি মন্ত্রীর মুণ্ড, ভাঙ্গবে মেরে দয়াদণ্ড,
হবে না তাহা খণ্ডন।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪। তাের হিংসা নিন্দার বংশাবলী, কেটে দিবে জলাঞ্জলি,
যার বলে তুই এত বলি, বলি শােন্।
তাের অজ্ঞান অহঙ্কার বংশ, সবংশে করিবে ধ্বংশ,
এল রসিক হংসগণ ।
৫। হরিচাদের সেনা গােলােক, রণে এল হয়ে পুলক ;
হুঙ্কারে যার কাপে গােলােক বৃন্দাবন।
দয়াল মহানন্দের বাণী, শশারে দুর্মতি অশ্বিনী,
এ রণে ভাল মরণ |
৫৯ নং তাল—ফুরী
দেহ লঙ্কার শঙ্কা ঘুচাও দয়াময় ।
দুৰ্ম্মতি দুষ্ট দশানন, বাঁচি না তার যন্ত্রনায় ।
১। শান্তি সীতে অন্বেষণে, পাঠাও দাস্য হনুমানে ;
গিয়ে মুক্তি আম্র বনে ; খেয়ে করুন চূর্ণ তায়,
প্রেমের আগুণ দ্বালাইয়া, মায়া মন্দির পােড়াইয়া,
করুক লঙ্কা ভস্মময়
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৬৯
২। আমার কামরূপ সাগর বন্ধন করি, লঙ্কায় যাও রাম
ধনুকধারী,
সাঙ্গোপাঙ্গ সঙ্গে করি, এস হরি রসময়।
সে অলস পাপী কুম্ভকর্ণ, স্বহস্তে তায় কর চূর্ণ :
যার ভারে তাপিত হৃদয়।
৩। ব্ৰহ্ম জ্ঞান রূপ ব্ৰহ্মবাণে, দুর্মতিরূপ দশাননে ;
বিনাশ কর জানে প্রাণে, তবে অঙ্গ শীতল হয়।
সত্যরূপ লক্ষ্মণে পাঠাও, অজ্ঞান ইন্দ্রজিতে হটাও,
সবংশোতে করুক ক্ষয়।
৪। মাধুৰ্য্যরূপ বিভীষণে, বসাও হৃদি সিংহাসনে,
এ বাসনা রাত্র দিনে, তবে বাঞ্ছা পূর্ণ হয়।
সে যে চরিত্ররূপ মন্দোদরী, কর তারে পাটেশ্বরী,
বসুক বিভীষণের বায় ।
৫। তারকাদ কয় সন্দ কিরে, যে যেমন বাসনা করে,
বাঞ্ছা পূর্ণ করে তারে, হরিচাদ মাের দয়াময় ।
মহানন্দের চরণ তরি, অশ্বিনী তাই সম্বল করি,
ঘুচাও ভব পারের ভয়।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৬০ নং তাল-কাশ্মিরী
কে কে নিবি আয়না, তােরা, মধুর হরিনাম।
ঐ দেখ ডা’ছে হরি গুণধাম।
১। জীবের বড় ভাগ্য ছিল, হরি কল্পতরু এল,
নাম দিয়া জগৎ মাতা’ল, কেউকে ত না হ’ল বাম ;
সত্য ত্রেতা দ্বাপর গেল, যে তত্ত্ব না বিলাইল,
সেই ধন ল’য়ে ধরায় এল, পুরা’তে জীবের মনস্কাম।
৩। হরি বলতে আছে কত, এ জগতে অগণিত,
এ নাম নয় সে নামের মত, গােপনে ছিল, গােলােকধাম।
৪। রাধাকৃষ্ণ উভয়ঙ্গ, মথনে হয় প্রেম তরঙ্গ,
নাম উৎপত্তি প্রেমের রঙ্গ, গােলােকে করলেন রাধাশ্যাম।
৫। সেই হরিনাম ল’য়ে এবার, হরিশ্চন্দ্র আমার,
কলির জীব করিল নিস্তার অশ্বিনী নামে হ’ল বাম।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
হরি নাম সিংহ রবে, পলায় শমন বাঘ।
দেখে ভক্ত সিংহের প্রেম অনুরাগ ॥
১। ষড়রিপু পশু ছয় জন, ছেড়ে তারা হৃদয় কানন,
ভয় পেয়ে করে পলায়ন, ঘুচল দশ ইন্দ্রিয়ের জাঁক।
শুনে মধুব হরিধ্বনি; আনন্দে নাচে মেদিনী ;
নাচে গঙ্গ। সুরধনীঘু'জল কলির কলুষ দাগ ।
৩। হরি সিংহ শাবক যারা, হুহুঙ্কারে কঁপায় ধরা ;
কলির রাজত্ব তারা, কৈড়েলি দিল না ভগ ।
৪।
প্রেম রসেতে মাতায় জগৎ, কিবা কাঙ্গাল কিবা মহৎ :
জগতে না থাকবে অসৎ, সকলে সাধু মহাভাগ ।
৫। হরিচাদ জগতে এল, চিত্ত সন্দ ঘুচিয়ে গেল,
সকলে চৈতন্য হ'ল, অশ্বিনী হ’লনা সজাগ।
৬২ নং তালগড়খেমটা
৭
প্রেমের পাগল সাজলিনা মন, কিসে মিলবে গুরু বস্তু ধন।
ভবের পাগল সাজিয়া রৈলি, গােলমালে হলি পতন।
৭২
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
১। প্রেম নগরে উঠছে সাড়া, প্রেমের পাগল যারা যারা,
প্রেমানন্দে মাতয়ারা, ডুবু ডুবু দু'নয়ন।
;
২। প্রেম পাগলের এমনি রীতি, হৃদয়ে অনুরাগের বাতি
জ্বলিতেছে দিবারাতি, দেখতে পায় যুগলমিলন ॥
;
৩। প্রেম রসেতে মত্ত হয়ে, অষ্ট পাশ সে তেয়াগিয়ে
আহার নিদ্রা সাইকে দিয়ে, করে প্রেম আস্বাদন।
৪।
প্রেমের পাগল গােলােকচন্দ্র, আর মেতেছে মহানন্দ;
আর এক পাগল তারকচন্দ্র, আর পাগল সে হীরামন।
মহানন্দের এই মিনতি, ক’ব আমরা হরি পতি,
অশ্বিনী তাের কি দুর্গতি, ভজ, লিনা গুরুর চরণ।
৬৩ নং তাল-রাণেটী
কররে মন মানুষ বৰ্ত নিত্য মানুষের সাধনা।
অনুমান কায়া শূন্য ছায়ার কেন কর ভাবনা।
১। গুরুপদে সপে দেওরে মন, ( হারে) ঘুচবেরে তাের মনের
আঁধার জুড়াবে জীবন।
কর বর্তমানে ভজন পূজন, পূবে তাের মনের বাসনা।
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত
রামের ভক্ত ছিল হনুমান, বনের পশু হয়ে পেল ভজনের
সন্ধান।
হনু রাম পদে সপে দিয়ে প্রাণ, অন্য রূপ চক্ষে হেরে না।
৩। ঘুচবেরে তাের দশ ইন্দ্রিয়ের জাঁক, গুরু পদে মন মজায়ে
বাঁধ অনুরাগ।
যার লেগেছে সেই প্রেমের দাগ, নয়ন দেখলে যায় গাে
চেনা ?
৪।
যাগ যজ্ঞ পূজা মন্ত্র ধ্যান, ভাবটি দিয়া নামটি চেতাও
এত কর কেন।
গুরু রূপে মেঘ সাজা’য়ে, চাতক হয়ে চেয়ে থাক্ না ।
৫। দয়াল মহানন্দ আনন্দ হৃদয়, ডেকে বলে অশ্বিনী তাের
সময় বয়ে যায়।
এবার তারকাদকে করে সহায়, গুরুচাদের হওগে কেনা।
৬৪ নং তালরাণেটী
: দয়া করি দয়াল গুরু রেখ আমায় সেবা দাসী।
আমার আর কোন ধন নাই দরদি, কি দিয়া করিব খুসী
১। আমি তব দাসীর যােগ্য নই, (হারে) তবু পােড়া মনে
বলে সেবা দাসী হই,
বুঝালে মন বুঝে বা কই, তবু ঐ রূপ ভালবাসি।
.
৭৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
২। হৃদ কমলে তােমায় বসা’ব, মনে বলে নয়ন জলে চরণ
থােয়াব।
কেশ দিয়া মােছাইব, এই ভাবনা ভাবি বসি।
৩। কথায় কথায় বলে অনেক জন, ভস্ম ফেলতে ভাঙ্গা কুলার
কারে প্রয়ােজন ;
আমায় দাসী রেখ তেমূনি মতন, সে যােগ্য নই বাঞ্ছা বেশী ।
৪।
•
তব দয়া গয়াতে যাব, কামনা জননী মায়ের শ্রাদ্ধ করিব
ভ্রান্ত পিতার নামে পিণ্ড দিব, হব ও প্রেম তীর্থবাসী।
৫। হরি চাদের মহিমা অপার, তারকাদকে জামিন রেখ
অশ্বিনী বর্বর ;
তবে গুরুচাদ তাই করবেন স্বীকার, মন তুমি যার
অভিলাষী।
৬৫ নং তাল--যৎ
হরি নাম বিনে আর বন্ধু নাই ভাই ভবপার যেতে।
আমার দয়াল হরি দয়া করি এল জগতে।
১। দেবের দুলভ প্রেম ভক্তি, ল’য়ে অগতির গতি ;
সদয় হ'য়ে জীবের প্রতি এসেছে দিতে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৭।
গুরু নিষ্ঠা নামে রুচি, এই ধৰ্ম হয়, সর্ব শুচি ;
এবার প্রাপ্ত হয়ে হাড়ি মুচি, গিয়াছে মেতে।
ন্যাস কুম্ভক কুটীনাটী, রেচক পূরক ময়লা মাটী,
কলিতে নাম যজ্ঞ খাটী, সব ধর্ম হতে।
৪। যােগীন্যাসী কর্মী জ্ঞানী, ব্রহ্মচারী পূজক ধ্যানী ।
করে মলাট ল'য়ে টানা টানি, বঞ্চিত প্রেমেতে ।
দয়াল মহানন্দ বলে, কাজ কিরে আর ফলাফলে,
অশ্বিনী তুই হরি বলে, ডুবদে প্রেমেতে ।
৮৬নং তাল-~-একতালা
কেন কর ভাই দ্বেষ দ্বেষী, এস সবে করি মেশামেশি
হয়ে দেল খােলস গুরু ভরসা, হব গুরুর সেবাদাসী ।
১। ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র, যােগী ঋষি কি সন্ন্যাসী।
তার কাছেতে সবাই সমান, স্বর্গ নরক গয়া কাশী ।
২। কেন কর ভাই দলাদলি, কোলাকোলি কর আসি।
ভবে এক পিতা বই, পি আছে কই, এক পিতা
এই ৰিলােক বাসী।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩। জাতি বিদ্যা মহত্বঞ্চ, রূপ যৌবন সৰ্ব্বনাশী।
ভবে এই পঞ্চজন, ভক্তির কণ্টক, তাদের কেন ভালবাসি।
৪। একই ক্ষেত্রে এক বীৰ্যেতে, জন্ম নিলাম জগৎবাসী।
রইল এ বড় খেদ, আত্মবিচ্ছেদ, ক'রে হিংসা নীরে ভাসি।
ডেকে বলে তারকচন্দ্র, ধারণ কর তত্ত্বমসি,
অশ্বিনী তাের কর্ম সূত্র, কেটে আমায় কর খুসী।
৬৭ নং তালগড়খেমটা
আমাকে ছুম্নালে প্রাণ সজনী।
আমার জাত মেরে রেখেছে, ঘরে হরিচঁাদ গুণমণি।
১। আমার বাতাস লাগলে তােদের গায়, শেষে ঠেবি
বিষম দায় ।
কুলমান যাবে পাছে কবি কি উপায়।
সদায় হরিব’লে কাদতে হবে গাে,
সব লােকে বলবে লাে কলঙ্কিনী।
২। হরির প্রেম ত সহজ নয়, যেমন বিষে উজান ধায় ;
ধিক্ ধিক্ করে জ্বলবে হিয়ে, কবিরে হায় হায়,
শেষে প্রেমানলে, মরুবি জ্বলে গাে,
পথিক লােকে ব’লবে গাে পাগলিনী।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৭৭
৩। তার বিরহে জ্বলে মলেম সই, মনের দুঃখ কার কাছে
বা কই ;
উড়ু উড়ু করেলাে প্রাণ কিসে ধৈৰ্য রই।
সে যে মন নিল প্রাণ নিল গগ,
হরিরা নিল এ নয়ন মণি
৪। আমাতে আমি কি আছি, কি করতে কিনা করিতেছি ;
আমার হরির্চাদের প্রেম সাগরে, সদায় ভাতেছি।
আমি
ক্ষণে
হাসি ক্ষণেক কাদি গাে ;
প্রবােধ না মানে দিবা রজনী।
ডেকে স্বামী মহানন্দ কয়, হরিপ্রেম লেগেছে যার গায় ;
সেই সে জানে প্রেমের জ্বালা, কেঁদে বুক ভাসায়।
গোঁসাই তারকচন্দ্ৰ ডেকে সুধায় গাে,
হরি প্রেম নিলিনা দীন অশ্বিনী ধ
৬৮ নং তালগড়খেমটা
আমি কি আমাতে আছি ;
হরিচাদের রূপে নয়ন দিয়ে (হারে)
ঘরের বাহির হয়েছি।
আমার মন পােড়া এক রােগ হয়েছে সখি,
সেই জ্বালায় জ্বলে মরতেছি।
৭৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
মন পােড়া রােগের রীতি, (হারে) সদায় জ্বলে বিষের বাতি ;
আমার মন হয়েছে ছন্নমতি, কি করতে কিনা করতেছি।
হয়ে পাগল পারা, মাতােয়ারা, সখি কুলের ভয় ভুলে
গিয়াছি।
২। এ বড় কঠিন ব্যারাম, কিছুতে না হয় গাে আরাম,
কেবল বলি মলে ম’লেম্ মরমে মরে রয়েছি।
হরি চিন্তামনি ঔষধ দে গাে এনে তবে সই পরাণে বাঁচি।
(কেউ যদি বান্ধব থাক গাে)
৩। হরি প্রেম বিচ্ছেদ রােগে, আমি বাঁচিনা তার ভার উদ্বেগে,
আমার মন লাগে না ভেগে যােগে, যে রােগে রােগী
হয়েছি।
আমি ক্ষণেক হাসি ক্ষণেক কঁদি সখি, মন পােড়া বাউরি
সেজেছি।
৪। লেগে সেই রূপের ছটা, আমার সখে পল পঞ্চ কাটা,
জাত কুলের পর দিয়ে বাটা, তরঙ্গে সাঁতার খেতেছি ;
যেদিক ফিরাই অখি, সেই দিক দেখি সখি, হরিময়
জগৎ দেখিতেছি।
৫। তারকাদ ডেকে বলে, স্বামী মহানন্দের সঙ্গ নিলে,
তার এই দশা ঘটে কপালে, স্বচক্ষে কত দেখেছি;
এবার অশ্বিনী ঐ রােগে মরুক জ্বলে, তা হলে
আনন্দে নাচি।
শ্রীহরি সীত।
৭৯
৬৯ নং তাল-ঠুংরী
রূপ সাগরে যে জন ডুবেছে।
সে যে স্বরূপ রূপে নয়ন দিয়ে, মনের মানুষ বলে
কাদতেছে ।
হয়ে সে রূপের আশ্রিত, ডুব দিয়ে জনমের মত ;
ও সে হয়ে রূপের অনুগত, প্রেম সাগরে ভাসতেছে।
২। ডুবু ডুবু নয়ন তারা, দুনয়নে বহে ধারা ;
তার প্রেম তনু দ্বারা ঘারা, মরমে দাগ লেগেছে।
৩। হাইহুতাশ বাতুলের মত, কেঁদে বেড়ায়
অবিরত ;
ও সে সমর্পিয়া আত্মস্বার্থ, সাঁই বলে হাই ছাড়তেছে ।
৪। হরিচাদের প্রেম বাতাসে, গােলােকচঁাদ তরঙ্গে ভাসে;
দয়াল মহানন্দ ঐরূপ রসে, পাগল বেশে ঘুরতেছে ।
ডেকে বলে তারকচন্দ্র; অশ্বিনী তাের যায় না সন্দ ;
ঐ দেখ উদয় হ’ল হরিচন্দ্র, জগৎ আলো করেছে।
৭নং তাল--ঠুংরী
নিষ্কাম নগরে চল মন।
কেন কামাখ্যা নগরে এসে হারা হলি পরম ধন ।
৮০
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। নিষ্কাম নগরে যাবি, স্বরূপের রপ দেখতে পাবি ;
প্রেমানন্দে সুখে রবি (রে) জুড়াবে তাপিত জীবন ।
২। নিষ্কাম রাজ্যের রসিক ময়রা, প্রেম রসেতে মাতােয়ারা;
প্রেমের দোকান পেতে তারা, করছে বেচা কেনা অনুক্ষণ।
৩। নিষ্কাম রাজ্যের এম্নি রিতি, কাম গন্ধ হীন প্রেম পিরীতি,
জ্বেলে অনুরাগের বাতি, তারা দেখতে পায় যুগল মিলন।
নিষ্কাম রাজ্যের রাজা যিনি, হরিচাদ প্রেম শিয়ােমণি ;
ভক্তবৃন্দ ল’য়ে তিনি, সদায় করতেছে প্রেম বরিষণ।
৫। নিষ্কাম রাজ্যে মহানন্দ, বিলাইতেছে প্রেমানন্দ,
অশ্বিনী তুই অজ্ঞানান্ধ, করলি না রূপ দরশন।
৭১ নং তাল-টু’রী
গুরুষ্টাদের বিল ভেঙ্গে ভাই হলেম অপরাধী।
আমার মত কেউ হওনা, এবার ভাল চাওরে যদি ৷
১। গুরুচঁাদ তাই করছে মানা (হারে) জরিমানা কেউ খেওনা,
সে আর কুল পাবে না।
অকুলের কুল দিতে হরি, উদয় হ’ল ওড়াকান্দি ।
২। অবতীর্ণ জীবের জন্য, নিহেতু প্রেম দিবার জন্য
আপনি হলেন দৈন্য,
মন বিনা সে চায়না অন্য, আমার হরি গুণনিধি ॥
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৮১
৩। হরির্চাদের নির্মূল করণ, একবিন্দু পেয়েছে যে জন,
সে হয় প্রেম মহাজন ।
ও তার সাক্ষী গােলােকদ হীরামন, তারা পার হ’ল
বেদ বিধি ॥
৪। গুরুচাদের এই ভারতী, স্বেলে অনুরাগের বাতি,
ভজ হরিপতি।
প্রাপ্ত হবে মধুর রতি, ও তার সুখের নাই অবধি।
৫। অশ্বিনী তাই করে, হেলা, খেলতে গিয়ে ভবের খেলা,
ঘটছে বিষম জ্বালা।
অর্থ লােভে সাধুর পােলা, হ’ল হরিপ্রেম বিরােধী।
৭২ নং তালগড়খেমটা
গুরু তত্ত্ব ক’য়ে ভারি গোঁসাই সেজেছ ।
গুরু কি ধন চিলিনা মন, সে রসে তুমি নি তাই মজেছ ।
১। লােক সমাজে হরি কথা কও,
বাবার ঠাকুর হ’য়েরে মন, পায়স অল্প খাও,
তার নি উমান পাও, সাধু নাম কোলাও,
হরি না দিয়া জগৎ মাতাও, মনা ভাই,
তুমি নি তায় মেতেছ ।
৮২
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
২। দোষ লুকায়ে গুণের কথা কও ;
হ’য় করণ বিহীন, আপনি প্রবীণ জগতে জানাও,
ভাটে নৌকা বাও,
প্রতিষ্ঠা
বাড়াও,
হারে চোরের নৌকায় সাধুর নিশান, আমার মন টেনে
কেনে দিয়াছ ।
৩। লােক ভুলাতে হরিকথা কও,
অন্তরেতে দুষ্ট, মুখে মিষ্ট কথা কও ;
কাজের কাজি নও, কপট সাধু হও,
গুরু তত্ত্ব পরমার্থ, না জেনে, গুরুর ভূষণ পরেছ ।
আর ভাব দেখা’য়ে ভাবের কথা কও;
সিংহের মত ভঙ্গি দিয়ে অনুরাগ দেখাও,
প্রেমের প্রেমিক নও, ঢলুয়া প্রেম দেখাও,
যে দিন শমন এসে, বাঁধবে কসে, এড়াতে সম্বল কি তার
করেছ
৫। তারকাদ কয় ছাড় জাহিরী,
সূক্ষ্ম পথে না থাকিলে মিলবে কি হরি,
দেখনা বিচারী, ছাড়, জুয়াচুরি,
অশ্বিনী তুই ব্যাভিচারী, আপন কৰ্ম্মদোষে হয়েছ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৮৩
৭৩ নং তাল-ঠুংরী
আমি গুরু বৈমুখ হয়ে র’লেম ভাই, এ মুখ কেউ দেখ না।
এ পােড় মুখ দেখলে পরে, ওতার দুঃখ আর যাবে না।
হরি বৈমুখ হলে পরে, গুরু গােসাই রাখতে পারে ।
বিচার অনুসারে।
গুরু বৈমুখ হলে পরে, তারে কেউ রাখতে পারে না।
গুরু গোসাইর দয়া ছিল, কৰ্ম্ম দোষে নিদয় হ’ল, শেষে
বিদায় দিল,
ভবকুপে ফেলে দিল, আমায় কেউ ডেকে সুধায় না।
৩। বন্ধু বান্ধব ছিল যার, আমার বিপদ দেখে পলায় তারা
ভেবে হলেম সারা।
তবিল ভেঙ্গে গেলাম মারা, আমার মন মতি ভাল না।
৪। গুরু গোঁসাই দয়া করে আমায় পাঠাইল প্রেম বাজারে,
লােভে এলেম ফিরে।
এমন সুধা মধু ত্যজ্য করে, এসে খেলেম গরল পানা ।
৫। মহানন্দ ব’লছে দুঃখে, এমন অপরূপ রূপ দেখে চক্ষে,
মজলি ঐহিক সুখে।
অশ্বিনী তাের নাইরে রক্ষে, আমার গুরু চন্দ্র বিনা।
*
৮৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৭৪ নং তাল-'আন্দা
হুজুরে পড়েছি ধরা, আমারে কেউ ছুনে তােরা ।
আমার বাতাস লাগলে পরে, পাবি না আর কুল কিনারা,
১। আইন জেনে আইন লঘি, লােককে দেখাই সাধুর ভঙ্গি;
কেউ হওনা আমার সঙ্গী, জানে প্রাণে যাবি মারা।
২। পিতা মাতার পুণ্যের জোরে, গিয়েছিলাম প্রেমবাজারে ;
কৰ্ম্মদোষে এলেম ফিরে, চিলেম না সেই প্রেমের ধারা।
৩। স্বার্থলােভে তত্ত্ব হারাই, সদাই করি অর্থের বড়াই ;
ষড়রিপুর ফুৰ্ত্তি বাড়াই, ঐ দুঃখেতে হ'লেম সারা।
৪। কি দোষ দিব বিধাতারে, সকলই স্বকৰ্ম্মে করে ;
ঝি টী শিখায় বৌ টী মেরে, জানতে পারে ভাবুক যারা।
৫। গুরুষ্টাদের মধুর বাণী, কৰ্ম্মগুণে হয় রাজরাণী ;
কর্মগুণে হয় বারাণী, সাক্ষী তার অশ্বিনী ফেরা।
৭৫ নং তাল-একতালা
কত গুণের হরি আমার, গুণের বলিহারি ।
হরি বিনে রাত্রি দিনে, ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরি।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১।
সত্ত্ব রজঃ তম গুণ, দিবানিশি গায় গুণ ;
গুণেতে হয়ে নিপুণ, বৈষ্ণবী শঙ্করী।
যার গুণে সেই দিনমণি, অন্ধকার হরেন তিনি।
সুশীতল চন্দ্র যিনি, গঙ্গা পেল, শীতল বারি।
৩। যার গুণেতে জগৎ বন্দী, অনাদি না পেল সন্ধী,
বিধানে না পেয়ে বিধি, হলেন ব্রহ্মচারী।
৪।
যার গুণে সেই সমীরণ, ব্যাপীত এ ত্রিভূবন,
তেজঃপুঞ্জ হুতাশন, দাহিকাশক্তি যাহারি ।
যার গুণে সেই মহানন্দ, বিতরিল প্রেমানন্দ,
অশ্বিনী তাের যায় না সন্দ, বিষয়ে বিষ পান করি
৭৬নং তাল-একতালা
তত্ত্ব জ্ঞানে মত্ত হয়ে, নিত্য বস্তু জান।
অনিত্য সংসারে রে মন, সং সেজে তুই বৈলি কেন
১। অনিত্য সংসার ছাড়, নিত্যধন অন্বেষণ কর :
মন মানুষে দিয়া ভার, বিবেক আর অনুরাগ আন ॥
২। অনুরাগের এমনি ধারা, মনকে করে মাতােয়ারা ;
করিয়া সে পাগল পারা, প্রেমামৃত করায় পান ।
৮৬
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
পান করিলে প্রেমামৃত, মন মাতঙ্গের হয় সামর্থ্য ;
দলিয়া সংসার অনিত্য, মন মানুষের পায় সন্ধান।
৪। বিবেক বন্ধুর এমনি রীতি, মনকে করে ছন্নমতি ;
ঘুচা’য়ে সে বাহ স্মৃতি, প্রেমানন্দ করে দান।
৫। প্রেমানন্দ উদয় হলে, মহান গুরু মিলে ;
অশ্বিনী তাের এই কপালে, সে আনন্দ ঘটবে কেন।
৭৭ নং তাল-ঠুরী
কেনরে শ্রীগুরুর পদে কি বিষাদে, এ দেহের ভার দিব।
আমি যেমন মানুষ তেমনি হব, গুরুকে কেন দায় ঠেকাব।
১। মনে মম এই সাধ, শ্রীগুরুর শ্রীকমল পদ ;
কমলার সুসম্পদ, দূরে থেকে নিরখিব ।
যে চরণে চন্দন দিতে, শঙ্কা হয় গােপীর চিত্তে
সে চরণে আমা হতে, কেনরে বেদনা লাগাব।
গুরু আমার থাকুক সুখে, আমি যেন কাদি দুঃখে ;
কাঙ্গাল বেশে ক’ব ভিক্ষে, গুরুর গুণ গেয়ে বেড়াব।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৮৭
ও।
গুরু আমার পবিত্র ময়, অপবিত্র মম হৃদয় ;
দিবানিশি ভাবি সদায়, কেন সরলে গরল মিশা’ব।
৫। দয়াল গুরু মানন, পদে প্রেম মকরন্দ,
পান ক’লিনা তার একবিন্দু, অশ্বিনী তাের নাই
সে ভাব।
৭৮ নং তাল-একতাল
এ পাপ দেহ গুরু পদে কেন করব দান।
আমার দান দিবার এক বস্তু আছে, নেও যদি করি সম্প্রদান।
প্রেম ভক্তি ধর্ম পুণ্য, রেখেছি নাথ তােমার জন্য;
আমি মেঙ্গে খাব হয়ে দৈন্য মনে করেছি এই বিধান।
২। সুখ শান্তি তােমায় দিয়ে, অধৰ্ম্ম অশান্তি লয়ে,
আমি থাকব মহাপাপী হয়ে, তবু না দেহ করিব দান ।
৩। পবিত্রময় তব অঙ্গ, বহিতেছে প্রেম তরঙ্গ ;
আমি কেন করব সে ভাব ভঙ্গ, এ দেহ পাপেতে পাষাণ ।
৪। নারকী হইয়া রব, তবু না পদ পরশিব ;
আমি যেমন ব্যক্তি তেমনি রব, ও পদে নিতে চাই না স্থান।
৮৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
মহানন্দের বাক্য ল’য়ে, দুঃখের পাষাণ বক্ষে দিয়ে :
অশ্বিনী থাক্ চাতক হয়ে, করিস্ না অন্য বারি পান।
৭৯নং তাল--ঠুংরী
স্বার্থ ত্যাগী অনুরাগী হওরে মন।
নিম্বার্থ নগরে যাবি, পাবি রূপের দরশন।
•
১। নিস্বার্থ নগরে যাবি, কত যে আনন্দ পাবি
প্রেমানন্দে সুখে রবি, মিলবে গুরু পরম ধন।
২। স্বার্থময় সংসারে এসে, মত্ত হলি অর্থের বশে ;
মায়া পিচাশী এসে, স্বহস্তে কল বন্ধন।
দেখে শুনে হয় না জ্ঞান, করছ অভিমান সুরাপান ;
প্রতিষ্ঠা শুকরের বিষ্ঠা, দিবা নিশি ক’ছ ভক্ষণ ।
৪। পুণ্য মুক্তি ভােগ অভিলাষ, ছাড়রে কামিনীর কুরস ;
অতি সরস নাম সুধা রস, সদায় করাে আস্বাদন।
৫। মহানন্দ উচৈঃস্বরে, ডেকে বলে অশ্বিনীরে,
এমন প্রেম ভক্তি রস নিলিনারে, ভবে আলি অকারণ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৮০ নং তালগড়খেমটা
যদি শান্তি ধামে যাবি, নিস্বার্থ গুরুতত্ত্ব, পরমার্থ অর্থ পাবি।
প্রবৃত্তি মহিষী তারে নির্বাসন করিবি-
নিবৃত্তি মহিষীর সঙ্গে, পরম রঙ্গে কাল কাটাবি।
১। নিত্য ধন বল যারে, রয়েছে শান্তিপুরে ;
শান্তিমার হােগারে, গেলে দেখা পাবি।
সে যে শান্তি মায়ের সাধনের ধন, প্রাণ সপে তায় দিবি।
এক মন দিলে, সে ধন মিলে, প্রেমানন্দে সুখে রবি ।
২। সুজন মন উজান বেয়ে, শান্তিপুর চল ধেয়ে,
ত্রিবেণী এড়াইয়ে প্রেমের জোয়ার পাবি,
শ্রদ্ধা পাল অনুরাগ মাস্তুল, বাদাম টেনে দিবি ;
যুতের হালির কাটা ঠিক রাখিয়া, শান্তিপুরে নাও লাগাবি।
৩। মাধুৰ্য ভক্ত যে জন, শান্তিপুরের মহাজন,
বিলা’চ্ছে অমূল্য ধন, আয় তােরা কে নিবি।
পবিত্রময় দেহ হলে, সেই সে প্রাপ্ত হবি ;
অপবিত্র দেহ হলে, সঞ্চিত ধনে বঞ্চিত হবি।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
••
৪। শান্তিপুর ভাবের পাগল, প্রেমরসে হয়ে বিভোল
ক’তেছে প্রেমের কল্লোল, দেখলে পাগল হবি।
হরি বলে বাহুতুলে, সেই দলে মিশিবি,
নেই পাগলের সঙ্গ নিলে, তাপিত অঙ্গ জুড়াইবি।
৫। পাগলের শিরােমণি, হরিচঁাদ গুণ মণি :
শান্তিপুর দিন রজনী, উদয় অক্ষয় রবি ।
গোঁসাই গােলােকচন্দ্র মহানন্দ সেই পাগলে ভাবি ;
অশ্বিনী তাের চিত্ত সন্দ, একে কালে সব ঘুচাইবি।
৮১ নং তাল- 'আদ্দা
প্রেম নগরে বঁধগে বাসা।
প্রেমিকেরই সঙ্গ নিলে ছুটবে না তাের প্রেমের নেশা।
১। প্রেমিক রাজার রাজ্যে যাবি, প্রেম প্রতিমা দেখতে পাবি ;
প্রেমানন্দে সুখে রবি, ঘুচবে না তাের প্রেম পিপাসা।
প্রেমের পােস্তায় প্রেমের পুরী, প্রেমের শয্যায় শয়ন করি ;
প্রেমিক গুরুর সঙ্গ করি, কগেরে মন প্রেম তামাসা ।
৩। মিলাইয়া প্রেমের মেলা, দোলাইয়া প্রেমের দোলা;
খেলবিরে মন প্রেমের খেলা, পাতিয়া সেই প্রেমের পাশা
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৯১
দাড়িয়ে সেই প্রেমের তীরে, স্নান কর মন প্রেম সাগরে;
দিলে সেই প্রেমের নীরে, ঘ’বেরে তাের প্রেমের দশা।
প্রেম রাজ্যের রাজা যিনি, হরিচাদ প্রেম শিরােমণি,
প্রেমের দোকান প্রেমের খনি, প্রেমিক মতুয়ার এই ব্যবসা
৬। প্রেমিক মহানন্দ বলে, হরিপ্রেম কি কথায় মিলে ;
প্রেমিক তারক ডেকে বলে, অশ্বিনী প্রেম ভক্তিনাশা।
৮২ নং তাল-আন্দা
মন কাঁদে মন মানুষ বলে।
বিষম বিরহানলে, মনের আগুণ দিগুণ জ্বলে।
মন মানে না ধৰ্ম্মের শাসন, পুণ্য মুক্তি তুচ্ছ দুজন :
দেখতে চায় মন মানুষ রতন, বয়ান ভাসে নয়ন জলে।
রুদ্র আগুন সইতে পারি, ব্ৰহ্ম আগুন তুচ্ছ করি ।
বিচ্ছেদ আগুন সইতে নারি, প্রাণে মরি জ্বলে জ্বলে ।
মনের মানুষ মনােচোরা, মন না দিলে যায় না ধরা ;
মনের মানুষ ধ’বুবি তােরা, ডুব দিগে তার রূপ সলিলে।
১২
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪। মনের মানুষ পাবার লাগি, গােলােকচঁাদ হ’ল বিরাগী ;
হীরামন হয় সর্বত্যাগী, প্রেমসাগরে সাঁতার খেলে।
বলে গোসাই মহানন্দ, মনের মানুষ হরিচন্দ্র :
অশ্বিনী তুই অজ্ঞানাঙ্ক, দেখলিনা রূপ নয়ন মেলে।
৫
৮৩ নং তাল—একতালা!
আমার হরিচাদের রূপের কিরণ, লেগেছে যার গায়।
ও তার রসে তনু ডগমগরে,ভাবে তনু ডগমগ, নয়ন দেখলে
চেনা যায়।
১।
রূপ নেহারী ভক্ত যে জন হয় .
ও তার চিত্ত চকোর হয়ে বিভাের চঁাদের সুধা খায়।
হ'য়ে অনুরাগী সৰ্ব্বত্যাগীরে, সুধাপানে মত্ত হয়।
২।
গগন চঁাদে জগৎ আলাে হয়,
আমার হরির্চাদের কিরণেতে, মনের আঁধার যায় ।
অগণিত রবি শশি, উদয় হরিচঁাদের পায় ।
৩। কি কব সেই রূপের মাধুরী,
নয়ন পথে ছিদ্র পেয়ে, মন করে চুরি।
আমার সর্বস্ব ধন, ক'রে হরণ, নয়ন পথে ঝলক দেয়।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
যার লেগেছে সে চঁাদের কিরণ :
দিবানিশি চঁাদের সুধা করে আস্বাদন।
ও সে প্রেমানন্দে হ'য়ে মগন, ধূলায় গড়াগড়ি যায়।
৫। গােলােকাদ সেই ঘঁদের রূপ হেরে ,
ও তার হৃদয় আলােক, হু’য়ে পুলক পলক না মারে।
মহানন্দের বাণী শোন অশ্বিনী, তাের দরশনের সময় যায়
৮৪ নং ল-- একতলা
দয়াময় দীনবন্ধু হরি :
কত দয়া করছ দয়ার বলিহারী।
তুমি আমার লাগিয়া হে,
ক্ষুধার অন্ন হয়ে, পিপাসা হলে পিয়াও বারি ।
১।
কত সুমিষ্ট সুপক্ক হে,
ফল লক্ষ লক্ষ, আমা লাগি রাখছ বৃক্ষোপরি ।
কত চিনি সন্দেশ মিঠা, পায়স অন্ন পিঠা,
খাওয়াইতেছ আমায় অখিল পুরি
৯৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
তুমি আমার কারণে হে,
বিবিধ বসনে, শয়নে দিতেছ শয্যা করি।
আমি যখন ঘুমে থাকি, মুদে দু’ট আঁখি,
তুমি এসে তখন হও প্রহরী।
কত বিদ্যা বুদ্ধি দানেহে,
সর্বত্র সম্মানে, করেছ আমায় মান্য মান ভারি,
আমায় দাসদাসী দিয়ে, গোঁসাইজি বানা’য়ে ;
করে দিলে তায় আজ্ঞাকারী ।
৪। তুমি আমারে তুষিতে হে,
সুখ শান্তি দিতে, দিয়েছ দারা কুমার কুমারী।
দিলে ঘর বাড়ী জমি, সুখের নাইক কমি,
অশেষ সুখ দুঞ্জ,লে হরি।
দয়াল মহানন্দ বলে হে ;
প্রেমানন্দ মিলে অনুরাগী হলে ফকিরি,
গোঁসাই তারকচন্দ্র সুধায়, অশ্বিনী তুই সদায়,
হরিব’লে হ'গে প্রেমভিখারী
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৯৫
৮৫ নং তাল--আড়া
হবি পরাণ পুতুল আমার পরাণ পুতুল।
নয়নের মনি হরি, জীবন জাতি কুল।
;
বসন ভূষণ হরি হরি আমার হস্তের চুরি ;
হরি আমার শঙ্খ শাড়ী, হরিকর্ণের দুল।
২। হরি পতি হরি গতি, হরি আমার রতি মতি ;
হরি আনার দিবারাতি, হরি নাকের ফুল ।
৩। হরি মাতা হরি পিতা, হরি গুরু জ্ঞান দাতা ;
হরি আমার পুত্র ভাতা, হরি অনুকূল।
৪। হরি ধ্যান হরি জ্ঞান, হরি আমার কুল মান,
হরি আমার ধন প্রাণ, হরি সর্ব
৫। হরি আমার মহানন্দ, হরি আমার তারকচন্দ্র,
হরি বিনা নিরানন্দ, অশ্বিনী আকুল ।
মূল।
৮৬ নং তাল-যৎ
গুরুর কাছে হুকুম নিয়ে, কাম রতির রনে দে হানা।
শুন না ন না কারুর মানা ॥
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। নিষ্কাম রথে আরােণ করি, শম দম অশ্ব যুড়ি ;
ধৈৰ্য্য ধনুক করে ধর, সহজ বাণ কর যােজনা ।
২। কামের সহায় কলি রাজা, যড়রিপু তাহার প্রজা ;
জীবাত্মাকে দিচ্ছে সাজা, লুট করে নেয় উপাসনা।
ক্রোধ কলির সেনাপতি, দয়া মায়া নাই এক রতি,
সুমতির ঘটায় কুমতি, এক জোটে আছে ছয় জনা।
৪। হরি নামের ডঙ্কা মারি, অনুরাগের ত্রিশূল ধরি ;
তত্ত্বমসি তরবারি, ধারণ করলে ভয় রবে না ।
দয়াল মহানন্দ বলে, গুরু পদে প্রাণ সপিলে ;
শঙ্কা নাই তাের কোন কালে, অশ্বিনী কেন বুঝ না
৮৭ নং তালগড়খেমটা
উঠল ভাবসাগরে প্রেমের তুফান চলগে ডুবে মরি,
স্বার্থ বল ছাড়ি
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৯৭
১। যদি মরতে পার মরার মত, হ’য়ে রূপের অনুগত ;
ত্যজিয়া সংসার অনিত্য, ভ্রান্ত মায়া ছাড়ি ;
তবে পাবি রতন, মনের মতন, অপরূপ রূপের মাধুরী।
২। ডুব দিয়ে যে না ছাড়ে উস, ঢেউ লেগে সে হয়েছে বেহুস্;
পেয়েছে সে মনের মানুষ, তারে কই ডুবারী;
এবার জা’গলে পরে পাবা না রে, ধরে ধর সন্ধান করি।
প্রেম লহরে রত্নাকরে, কাল মাণিক বিরাজ করে ;
ধ’রতে হবে নিরিখ ধরে, ছেড়ে সব জাহিরী;
হয়ে বেহাল, পথের কাঙ্গাল, মন মাতাল হওগে প্রেম
ভিখারী।
৪। পান কর প্রেম সুধাসিন্ধু, সই রেখে তাের নাদবিন্দু।
ইন্দু মাঝে বিরাজ করে, কিশাের কিশােরী;
হলে প্রেমে আৰ্ত্তি, যুগল মূৰ্ত্তি, আনন্দে দেখবি নয়ন ভরি।
৫। প্রেমসাগরে অতল বারি, মহানন্দের ডু’বল তরি ;
তারকাদ কয় ডুবে মরি, ব’লে হরি হরি ;
অশ্বিনী কেন বসে রলি, অলসেতে দিন কাটালি, এ
সময় সয়নারে আর দেরী।
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত।
৮৮ নং তাল-গড়খেমটা
মন চোরা দুঃখ পাশ দেখবি যদি তারে।
নিত্যধাম আনন্দ নগরে, চল যাই উজান মেরে ।
১। সে অন্তরঙ্গ ভক্তের সঙ্গে, বিরাজ করে পরম রঙ্গে,
সাতার খেলে প্রেম তরঙ্গে, পুলক অন্তরে ;
সে যে প্রেমের বাধ্য ভবারাধ্য, মরিস কেন তপ
তপস্যা করে।
২। যােগী ঋষি দিবানিশি, তত্ত্ব জ্ঞানী তত্ত্বমসি ;
সাধন করে বনে বসি, থাকি অনাহারে :
তবু পায় না দেখা, বাঁকা সখা, যতদিন প্রেম নাহি সঞ্চারে |
৩। প্রেমানুগা হও মন আগে, ডা’করে তারে অনুরাগে ;
কাজ কিরে তাের যােগে যাগে, সাধ্য সাধন করে ।
ছেড়ে সাধন ভজন পৈশাচ বৃত্তি, বসে থাক নিবৃত্তি আগারে।
ধন্য কলি যুগ ধন্য, জীবকে হইয়ে সুপ্রসন্ন ;
জন্ম নিল শ্রীচৈতন্য, যশােমন্তের ঘরে ;
এবার নিহেতু প্রেম দিবার জন্য, এসেছে মানব দেহ ধ'রে।
৪ ।
৫। ওড়াকান্দী নিত্য ধামে, মত্ত আছে সহজ প্রেমে ;
গেলে পরে ভাগ্যক্রমে, দেখবি সে অধরে ।
গোঁসাই গুরুদের দয়া বিনে, অশ্বিনী দেখবি কেমন করে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত। ৯৯ ৮৯ নং তাল ঠুংরী পথ ছাড়রে ছজন বাদী। আমি দেখতে যাই হরি গুণনিধি। পথে দিয়ে বিষয় কাটা, ব'সে আছে ছয় বেটা ; একেত সংসারের লেটা, ঐ দুঃখেতে বসে কাদি। ২। হরি ঈশনে যাব, যা যদি আয় সঙ্গে নিব প্রেমানন্দে সুখে রব, দেখব ঐ রূপ নিরবধি ॥ ৩। তুইত আমার মিত্র ছিলি, তবে কেন শত্ৰু হলি : করিস্ না আর জোরামালী, ভাল এবার চাওরে যদি ৪। হরি প্রেমের প্রেমিক হব, প্রেম সুধা লুটে খাব । যম বেটাকে ফাকি দিব, সে সুখের আর নাই অবধি ॥ ৫। মহানন্দের দয়া হলে, দীনবন্ধু হরি মিলে ; অশ্বিনী তাের এই কপালে, ঘুটবে কি অনাদির আদি ১০ নং তাল- কে বলেরে রিপু ছয় জন। এরা গুরু সেবার মূল মহাজন
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। কামকে লাগাও গুরু সেবায়, ক্রোধ ভক্ত দ্বেষী জনায়,
লােভ সাধু সঙ্গে সদায়, করুক হরি নাম সংকীর্তন।
২। মােহ রূপ দরশনে, মত্ত থাকুক নিশি দিনে ;
মদ হরি গুণ গানে, করুক সদা প্রেম আস্বাদন।
৩। মাৎসর্য্য মত্ত মাতঙ্গ, মহাভাবে দোলাক অঙ্গ;
যার গুণে হয় প্রেম অরঙ্গ, শীতল করে তাপিত:জীবন
৪। দেহ চালায় এই ছয় জনে, নিবে নিত্য বৃন্দাবনে ;
দেখাইবে হরি ধনে, শঙ্করের সাধনেরই ধন।
গুরু পদে মতি রাখ, সদায়ে সাবধানে থাক;
অশ্বিনী তাের নাই বিপাক, পাবি হরির যুগল চরণ।
৯১ নং তালগড়খেমটা
যে জন রক্ষা করে পিতৃধন,
সেই সে ভবে বাপের বেটা বিচক্ষণ ॥
পিতৃবন না করে যতন, ও.সে অধােপ্যতে অভাজন
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। পিতৃধনের উপরে, হরিধন বিরাজ করে,
ল’য়ে রাসেশ্বরী, রাসবিহারী মহারাস করে,
যে জন অটল মানুষ, প্রেমে বেহুস, সেই করে রূপ দরশন
২। পিতৃধন রাখা বড় দায়, কইতে লাগে ভয় ;
চুম্বক লােহার আকর্ষণে নার, লােহা, খসায় ;
তেমনি মায়াবিনী চুম্বক লােহায়, পিতৃধন করে হরণ।
৩। নিষ্কাম সুখ বড় আনন্দ, তাতে নাই কামের গন্ধ ;
যে জন ভবে করেছে সেই মদনকে বন্ধ,
ও তার হৃদয় দোলে প্রেমানন্দ, নিরানন্দ নাই কখন।
৪। ও যার গুরুতে আর্তি, ও তার অখণ্ড রতি
দিবানিশি দেখতে পায় সে, রসরাজ মূর্তি ;
সে প্রাপ্ত হয়ে প্রেম পিরীতি যুগল সেবার মহাজন ।
৫। গোঁসাই তারকচন্দ্র কয়, যে জন উদ্ধরেতা রয়,
কাম গন্ধ হীন প্রেম পিরীতি, সেই সে প্রাপ্ত হয়,
ওরে অশ্বিনী মােহিনীর মায়ায়, কাম কুপে হ’লি পতন ॥
১২নং ভাল-একতালা
ধন্যরে যুগ পুষ্পবন্ত কলিকাল।
মানব দেহ ধরি দয়াল হরি হ’ল যশােমন্ত দুলাল ;
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। শ্রীধাম ওড়াকান্দি হরি, হ’ল পরকাশ :
পাপ তাপ দূরে গেল, তিমির বিনাশ,
ভকত চাকার যারা সুধাপানে মাতােয়ারা,
পেয়ে প্রেম সুধারস, জগৎ হইল বশ,
প্রেমানন্দে বাড়ায়ে উল্লাস ( হায় গাে )
পূরলরে মনের অভিলাষ, ফিরলরে চঁাদের কপাল ॥
২। অনপিত চরিং চিরাৎ, যে ধন বাকী ছিল,
এই না দয়াল অবতারে, সে ধন বিলাইল,
কেউ না বাকী র’ল, প্রেম সুধা সবে পেল ;
যারে দেখে আপন কাছে, করে ধরে প্রেম যাচে;
এমন দয়াল আর কি ভবে আছে ( হায় গাে )
জীবে কৰ্ম্ম বন্ধ গেল ঘুচে, এলরে পরম দয়াল।
নাম সিন্ধু করি মন্থন, হরি গুণ মণি,
উঠাইল প্রেম সুধা সুরস নবনী,
ল’রে সব ভক্তগণ, করে প্রেম বিতরণ,
ব্ৰহ্মার বাঞ্ছিত ধন, পেয়ে নাচে সর্বজন,
অনুদিন বাড়ে অনুরাগ ( হায় গাে )
প্রেমে তনু ডগমগ হ’লরে মত্ত মাতাল।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৮
৪। নদীয়ার চন্দ্র হরি, নদীয়া ছাড়িয়ে ;
পুনরায় হ’ল উদয়, ভক্তগণ লয়ে ;
ভক্তগণ ল'য়ে সাথে, কলুষ নাশিতে :
নব রসের গােরা, প্রেম রসে মাতােয়ারা,
দুনয়নে বহে প্রেমধারা { হয় গাে )
ও সেই ব্ৰজ গােপীর মনচোরা, এলরে সেই নন্দদুলাল।
৫। হরি প্রেমের প্রেমিক আমার তারক মহানন্দ ;
অকাতরে বিলাইতেছে, হরি প্রেমানন্দ ।
উদিত হরিচন্দ্র, ঘুচিল তমঃ সন্দ ।
প্রেমানন্দ বাড়িল, নিরানন্দ ছাড়িল,
প্রেমানন্দে ধূলায় গড়ি যায় ( হায় গাে )
হরি প্রেমধন পেল সবায়, পেলনা অশ্বিনী কাঙ্গাল ।
৯৩নং ল-একতালা
দয়া করি এস হরি দয়াময় ।
প্রিয় ভক্তের সঙ্গে, রস রঙ্গে, এস হৃদি আঙ্গিনায় ।
১। এই বাসনা রাত্রি দিনে, বসা’য়ে আঙ্গিনে,
শ্রদ্ধারস, সচন্দন, দিব ঐ চরণে,
তাই বা হবে কেন, নাহি মম ভক্তি ধন,
মনে মম এই সাধ, কমলা সেবিত পদ
১০ ও
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
মনােধে হেরিব নয়নে, (হায়' গাে )
• এই বাসনা রাত্রি দিনে প্রাণ সপে দিব ঐ পায় ।
ভক্তবৃন্দ সঙ্গে লয়ে, কীৰ্ত্তনরূপ হরি,
প্রেমানন্দে, কর কীৰ্ত্তন, আমি শ্রবণ করি,
প্রমানন্দে ভাসিব, হাসিব, কঁদিব,
প্রেম সাগরে অতল নীর, ডুব
দিব বিরাগভবে :
পুনঃ ফিরে না আসিব, ঘরে, ( হায় গাে )
দেখব ওরূপ নয়ন ভরে, বাসনা মম হৃদয়।
#
৩। উচ্চৈঃস্বরে কর কীৰ্ত্তন, খোল করতাল লয়ে,
আমার মন পাষণ্ড, হবে দলন, সে ধ্বনি শুনিয়ে,
শুনে মধুর হরিনাম, পুরাববা মনােষ্কাম ;
শুনে হরি সিংহ রব, পলাইবে রিপু সব,
সিংহ ভরে যেন করী ধায়, হায় গাে )
কাম রিপু হবে পরাজয়, কি ক’রূবে রবির তনয় ।
৪। হৃদি আকাশ ঈশাণ কোনে, হও এসে উদিত,
অনুক্ষণ বরিষণ কর প্রেমামৃত,
মন মতি চকোর, সুধা পিয়ে বিভাের,
পিয়ে হরি প্রেম সুধা ঘুচাইবে ভব ক্ষুধা,
মায়া ধাঁধা হবে বিসর্জন ( হায় 'গাে )
দেখিব ও রূপ ভুবন মােহন, মােহন চুড়া হে’লবে বায়
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫! গােলােকচন্দ্র, তারকচন্দ্র, প্রেমিক মহানন্দ,
অন্তরঙ্গ ভক্ত ল'য়ে, করে প্রেমানন্দ,
প্রেমানন্দ আসিবে, নিরানন্দ নাশিবে,
কলির কলুষ দাগ, যাবে দশ ইন্দ্র যাগ,
অনুরাগে ছাড়, হুহুঙ্কার (হায় গাে )
অশ্বিনী তাের মনের বিকার
ঘুচবে
শ্রীগুরুর কৃপায় ।
৯৪ নং তাল-কাওয়ালী
.
মান অপমান যাহার সমান, তার মত আর মানী কে ;
শুভ অশুভ সমজ্ঞান, তার তুল্য নাই ত্রিলােকে।
১। ভূণ হ’তে সুনীচেন, তার কাছে নাই অভিমান
প্রাপ্ত হ'য়ে তত্ত্বজ্ঞান, ভাসে প্রেম পুলকে।
২। তরুরেব সহিষ্ণুতা, অমানীণ মান দাতা ;
সদায় বলে হরিকথা, অন্য বুলি নাই মুখে।
:
৩। সুখে দুঃখে সদায় খুসী, ভুক্তি মুক্তি হয় তার দাসী ।
ধৰ্ম পুণ্য দিবানিশি, স্থান দিতে চায় মস্তকে।
৪।
তাতে না হয় বশীভূত, মহা ভাবেতে উন্মত্ত ;
জীবকে দিতে গুরুতত্ত্ব, ভূমণ করে ভূলােকে ।..
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫। নিজের হেতু নাইক মােটে, জীবের জন্য ভবের হাটে ;
হয়ে জীবের পরের মুটে, জীবকে পাঠায় গােললাকে।
মহানন্দ হয়ে দৈন্য, কেঁদে ফিরে জীবের জন্য ;
অশ্বিনী তুই ভক্তি শূন্য, মত্ত হ’লি ঐহিকে।
৯ নং তাল-একতালা
কি মধুর নাম আ’লেন হরি, জীবের ভাগ্য ক্রমে ;
নামে জগৎ মাতিল, বাকী নাহি র’ল,
মধুর
হরিনামে ।
১। এযে অনৰ্পিত নাম, হরি গুণধাম, অশিলেন ধরাধামে ;
করতে পাষণ্ড ঈলন, যশােমন্ত নন্দন, মজলি রাধা প্রেমে।
২। পিয়ে হরিনাম সুধা, গেল ভব ক্ষুধা, পাষণ্ড হৃদয় রমে;
আহা না কর বিরাম, মধুর হরিনাম লওরে দোমে দোমে।
৩। নাম ব্রহ্মার বাঞ্ছিত, তুলনা রহিত, অবর্ণিত বেদাগমে,
এবার নামের কল্লোলে, প্রেমের হিল্লোলে, ঢেউ উঠেছে
৪। নামে প্রেম সুধা ক্ষরে, জপরে অধরে, জারিবে
লােমে লোমে ;
এ নাম অতি সুমধুর, মধুর মধুর, অপার মহিমে॥ :
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৫। এ যে দয়াল অবতার, হরিচঁাদ আমার প্রেম বিলায় অধমে ।
মূঢ় অশ্বিনী যে কয়, দেখা দাও আমায়, রাইকে ল’য়ে বামে
৯৬ নং তাল -একতালা
হারে ও তম দূর হলাে, হরিচাদের আগমনে।
যত ভকত চকোর, প্রেমেতে বিভাের মত্ত সুধা পানে।
এ চঁাদ অতি সুনির্মল, বড় সুশীতল, হেরিলে নয়নে।
করে প্রেমে মাতােয়ারা, দুনয়নে ধারা, বহে রাত্রি দিনে ॥
২। এ চঁাদ করলে দরশন, কিম্বা পরশন, যে করে যখনে ।
ও তার কুল মান রাশি, অম্নি পড়ে খসি, দাসী হয় চরণে।
এ চঁাদ গােলােকেতে ছিল, ভূলোকেতে এলাে, পুলকিত
মনে।
ও চঁাদ কাউরে নহে বা, সবার মনস্কাম, পুরায় নিজগুণে ॥
এ চঁাদ হইয়ে সদয়, ভূতলে উদয়, যশােমন্তের ভবনে।
এ চঁাদ অনাদির আদি, গেলে ওড়াকান্দি, দেখবি
বর্তমানে
৫। দয়াল মহানন্দ কয়, হরিদ উদয়, জীবের ভাগ্য গুণে।
যাবে তম সন্দ তোর, অশ্বিনী বর্বর, হরিচঁাদের কিরণে।
১৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
৯৭ নং তাল—ফুরী
বাঁকা সখা হরি হে, দেখা দিয়ে প্রাণ রাখ।
আমি জঙ্গলে, জঙ্গলে, ফিরি কাঙ্গাল পানে চেয়ে দেখ।
না দেখিলে প্রাণে মরি, বিচ্ছেদ জ্বালা সইতে নারি ;
তবে জ্বালা সহিতে পারি ; তুমি যদি সুখে থাক।
২। তুমি আমার গুণ মণি, মন ভুলানে তনু খানি ।
তাইতে ওরূপ দিন রজনী, দেখতে চায় মাের মন চাতক।
৩। ভকত চাতক যত, ভব রূপের অনুগত ;
যে হয় তােমার মনের মত, দিবানিশি তার, হৃদয়ে থাক।
=
৪। গােলোকাদ সেই রূপ দেখি, পাটীতে নারে আঁখি ;
ভক্তের হৃদয় সদায় থাকি, ঘুচালে ভক্তের দুঃখ ।
৫। মহানন্দ হেরে সে রূপ, জন্মের মত দিয়াছে ডুব ;
অশ্বিনী দেখলি না সে রূপ, ঘুচল না সংসারের পাক।
৯৮ নং তালগড়খেমটা
মরি তাই ভেবে মাের, আর কি সে দিন হবে।
যখন বাল্যকালে, মায়ের কোলে, ছিলাম সুনির্মল স্বভাবে
শ্রীহরি সঙ্গীত
১। পিতামাতা তুত আমায় আনন্দ উৎসবে,
আমি কান্না নিলে, কর্ণমূলে, হরির নাম শুনাইত মধুর রবে
২। মেরেছি ধরেছি কত, চঞ্চল স্বভাবে।
তবু নাইক কষ্ট, সদায় তুষ্ট কত রস খাওয়াইত মিষ্ট ভেবে।
৩। গিছে বয়স বেড়ে, সে ভাব ছেড়ে যৌবনের প্রভাবে ;
পেয়ে পুত্র দারা, সে ভাব হারা, ডুবেছি সংসার রৌরবে ।
৪। গুরুর তবিল না হ’ল মিল, গ’ণে দেখি এবে;
আমি হুজুরে কি জবাব দিব, যখন এসে হিসাব ল'লে।
মহানন্দের বাণী, শোন্ অশ্বিনী, মরিস না আর লােভে ;
তাের স্বভাব গেলে, অভাব যাবে, পড়ে থাকগে
গুরুচঁাদকে ভেবে।
১৯ নং তালগড়খেমটা
এ মহাদেশে, তার হরির অভাব কিসে।
ও যার চরিত্র পবিত্র হৃদয়, সদা প্রেমানন্দে ভাসে।
১। জলে হরি স্থলে হরি, হরি হৃদয় বাসে;
ওরে অনলে অনিলে হরি, হরিরূপ রসে গেছে মিশে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
=
২। যার হরিকথা হৃদয় গাঁথা, তার তুলনা কিসে ;
ও সে হরিকথা কইতে কইতে, নয়ন জলে বয়ন ভাসে।
৩। হরিনামামৃত অবিরত পান করে যে বসে ;
হয়ে নামে রুচি সৰ্ব্ব শুচি, নেচে বেড়ায় বেহাল বেশে।
৪। হ’য়ের নামে নিপুণ, নিদ্রা মৈথুন তাড়িয়াছে দ্বেষ, দিসে ;
হয়ে পাগল পারা, মাতােয়ারা, একবার কঁদে একবার
হাসে
৫। মহানন্দ, পাগলা ছন্দ, প্রেম দিয়ে কাম নাশে ;
অশ্বিনী তুই রইলি ভুলে, হরি প্রেম ঘটুলনা তাের
কৰ্ম্মদোষে
১০০ নং তাল--ঠুংরী
বড় ভাব লাগায়ে গেলি মনে।
প্রেমে তনু ডগমগ ধারা বয় নয়নে রে।
১। তাের ভাবনা ভেবে মরি, ধৈৰ্য্য হ'তে নাহি পারি ।
কি করিতে কি না করি, ভাবি নিশি দিনে (রে)।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১১১
তাের ভাবনা যার অন্তরে, সে কি ঘরে রইতে পারে ।
তার দিবানিশি পরাণ পােড়ে, তাের ভাবনাগুণে রে।
। তাের ভাবনা বক্ৰগতি, মানুষ করে ছন্নমতি ;
তার হৃদয় জ্বলে বিষের বাতি, প্রবােধ নাহি মানে রে।
ভাবনা রােগ হ’ল বৃদ্ধি, কি করিবে মহাঔষধি ;
ভাবনা রােগের নাইক বিধি, আয়ুর্বেদ নিদানে রে ।
৫। মহানন্দের ভাবনানল, হৃদ মাঝারে হ’ল প্রবল ;
অশ্বিনীর মন করে চঞ্চল, ওরূপ অদর্শনে রে।
১০১ নং তাল-আড়া
আপন বলিতে আমার, কেউ হ’লনা ভবে।
যারে এত ভালবাসি, সেও ডুবায় রৌরবে।
১। যার সুখের আশে, আশাময় আকাশে,
চঁাদ ধ’ব বলে উঠিলাম হরিষে।
সেও করিয়া ছল, দিল রসাতল, পরিণামে কি হবে
১১২
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
২। যাহার জন্যেতে ক্ষুধা তৃষ্ণা শীতে
অর্থ সঞ্চয় করি সে দুঃখ নাশিতে,
সেও হয়ে বৈমুখ, দিল অশেষ দুঃখ, এখন মরি ভেবে।
৩। সাধু সঙ্গে নাহি হ’ল সৎ অন্তর, অসৎ সঙ্গে হ’ল
সদায় বিহার ,
যে আনিল মােরে, এ ভব সংসারে ;
তারে গণিনা গৌরবে ৷
৪। দীনবন্ধু হরি সকরুণ স্বরে
সুধা করে ল'য়ে ডাকিল আমারে ;
নাহি চাহিলাম ফিরে, করমেরই ফেরে অকুলে মরিলাম
ডুবে।
দয়াল মহানন্দ, প্রেম সুধা লয়ে,
ঐ যে চলে গেল যাচিয়ে যাচিয়ে,
তাহে না ভজিলাম, গরলে মজিলাম, অশ্বিনী মরিল লােভে।
১০২ নং তাল-সুংরী
দেহ পবিত্রময় হলে হৃদয়, সেই দেহে হয় ভাবের উদয় ।
অপবিত্র দেহ হলে, তারে দেখলে মহাভাব লুকায়।
শ্রীহরি সঙ্গীত
১। ভাবগ্রাহি জনার্দন, ভাবুক জনে কয়,
ভাবের ভাবুক যারা, জানে তারা, ভাব ছাড়া হরি নাহি রয়,
ইহা সাধু শাস্ত্রে কয়।
২। সদানন্দ হরি আমার ভাবুকের হৃদয়,
যােগী হৃদয় নচ নচ বৈকুণ্ঠ আলয়,
হরি ভক্তের কাছে রয়।
। ভাবিলে ভাবুকের দেহে কত ভাব উদয়,
ভাব যোগ্য দেহ হলে, শেষে হরিদকে পাওয়া যায়,
ইহা কভু মিথ্যা নয়।
৪। ভাবের পাগল, প্রেমে বিভােল, আনন্দ হৃদয়,
ও সে প্রেমানন্দে সাঁতার খেলে, ধূলায় গড়ি যায়,
কত কেঁদে বুক ভাসায়।
প্রেমের পাগল মহানন্দ প্রেমধন বিলায়,
জগৎ ভরি পেল সে প্রেম, একবিন্দু অশ্বিনী না পায়,
ও তার কঠিন হৃদয়।
১০৩ নং তাল-ঠুংরী
-
হরি তােমারই তুলনা তুমি।
কোন্ গুনে কার সনে, হরি তুলনা করিব আমি ।
১১৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
সােনা, চুনি মনি, পরশ পাথর জানি,
তব রূপ সনে, কিসে বল গণি,
তুমি গুণময়, অন্ত কেবা পায়, অনন্তময় অন্তর্যামী।
ইন্দ্র, চন্দ্র সূৰ্য, তুমি সবার পূজ্য,
তােমার লাগিয়া সব করি ত্যজ্য,
দেব মৃত্যুঞ্জয়, হয়ে নিরাশ্রয়, তােমারই আশায় বেড়ায় জমি।
অনাদির আদি, তুমি গুণনিধি,
বেদ বেদাঙ্গ বিধাতার বিধি,
তুমি গুণাকর, গুণের সাগর, স্থাবর জঙ্গম ভূমি।
লক্ষ্মী দাসী যার, ভাণ্ডারী কুবের,
অনন্ত গুণময় শিরােমণি শিবের,
বিপদ ভঞ্জন, শ্রীমধুসূদন, জগৎ রঞ্জন জগৎ স্বামী।
৪।
প্রেম সম্বন্ধে বলে মহানন্দে,
ব্ৰহ্মা শিব যারে, করযােড়ে বলে,
তুল্য নাহি যার, মহিমা অপার, অশ্বিনী কীটন্য কীট কৃমি।
১৪ নং তালকারফা
তার রূপের কথা গুণের কথা বলা ভুল।
তার কি গুণ কব, কি বর্ণিব, অনাদি যার পায় না মূল
শ্রীহরি সীত
১। তার রূপের কথা, ব’লব কােথা, চঁাদ সূৰ্য নয় সমতুল ;
ও তার অবর্ণিত রূপ রাশি, রূপ সাগরের নাহি কূল।
২। তার গুদের কাছে, কি গুণ আছে, সেই গুণেতে দিব তুল;
সেত গুণাতীত, গুণমণি, যার গুণে জগৎ আকুল।
৫
অনন্ত না পেল অম্ভ, মহিমা ভেবে এক ধূল,
ও সে বণেশ্বরী বর্ণেহারী, সমর্পিল জাতিকুল।
ও তার রূপ গুণের শেষ, না পেয়ে শেষ,
পাতালেতে কল স্কুল।
ও তার নাম মাহাত্ম ব্ৰহ্মার সুত, জাতে গিয়ে নামাকুল।
৫। বলে স্বামী মহানন্দ, অশ্বিনী তুই হ আউল ;
ও তুই কি সুখ পেয়ে ভুলে বলি, দেখে ভবের শিমুল ফুল।
১০৫ নং তালগড়খেমটা
গুরু পুণ্য ফাসি গলায় দিলে ধর্মবেড়ী পায়।
লয়ে তত্ত্বমসি দাড়াও আসি,
যাতে মাের মুক্তির বন্ধন কেটে যায়।
১১৬
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
১। ভুক্তি মুক্তি দুই চাপড়াশী,
আমায় ভোগ বিলাসে, অষ্টপাশে বাঁধতে চায় আসি,
তাই দেখে চিন্তা মহিষী, নয়ন জলেতে বয়ন ভেসে যায়।
২। নিবৃত্তি নামেতে ভগিনী,
আমার বন্ধন দেখে, মনইঃখে হয় বিষাদিনী,
আমার শান্তিময়ী জননী যিনি, ঐ দুঃখে পাষাণে বুক
বেঁধে রয়।
গুরুকৃপা সত্যের কাছারী,
হ'য়ে শশব্যস্ত, এই দরখাস্ত, করি হুজুরী,
যেন স্বর্গ জেল এড়াতে পারি, নিবেদন করি গুরুর
রাঙ্গা পায় ||
৪। বিবেক নামেতে ভাই আমার,
আপীল করতে প্রেম বিলাতে হ'লেন অগ্রসর,
রেখে অনুরাগ ভক্তি জুরিদার, শ্রদ্ধা অর্থব্যয় করল
এ মামলায় ॥
৫। তারকাদ, কেঁদে কেঁদে কয়,
এই মানসা ওড়াকান্দি, হরির্চাদের পায়,
অশ্বিনী যদি খালাস হয়, চির দাস করে দিব রাঙ্গা পায়।
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত।
১০৬ নং তাল-গড়খেমটা
তুমি নাই রূপে কানাই, তােমায়ে পলকে হারাই।
আড়ালে লুকায়ে রলি, খুজে নারে পাই,
কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাই।
১। তুইরে আমার চক্ষের মণি, বক্ষের ধন দুঃখ হানি,
মরিরে মোর গুণমণি, ল’য়ে তাের বালাই ।
২। আমারে কঁদালে দুঃখে, তুমি যদি থাক সুখে,
দুঃখের বােঝ দাও আমাকে, বহিয়া বেড়াই ।
৩। সুখময় সুখের নিধি, সুখে থাক নিরবধি,
আমি দুঃখে থাকি যদি, তাতে ক্ষতি নাই ।
৪। ভুক্তি মুক্তি সুখ শান্তি, তাতে সুখ নাই এক ক্রান্তি,
তুমি যাতে থাক শান্তি, তার মত সুখ নাই।
৫। তারকাদ ডেকে বলে, অশ্বিনী তুই অবোধ ছেলে,
যত্ন বিনে রত্ন মিলে, কভু, শুনি নাই ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১০৭ নং তাল-কারফা
চলরে স্বদলে সেই ভজন বাদীর রণস্থলে।
এ রণে না জয়ী হইলে, পড়বিরে বিষম গােলমালে ।
কর আঁশের ষড়যন্ত্র, শুদ্ধ রেখ হৃদয় যন্ত্র,
ছেড়ে অন্য তন্ত্রমন্ত্র (হরি) নামের কামান লওরে তুলে।
শ্রদ্ধা রথে কর রথী, বিবেক বন্ধু সেনাপতি ;
মন পবন কর সারথি, চলবে রথ তালে তালে।
রণে পাঠাও মন মাতঙ্গ, রণে যেন দেয় না ভঙ্গ,
বিপক্ষের সেনা অনঙ্গ, যেন তার রণে পড়ে না ঢলে।
3
অনুরাগকে পাঠাও রণে, যুদ্ধ করুক ক্রোধের সনে ;
বিনাশ করুক সহজ বাণে, শঙ্কা যায় সেই ক্রোধ মলে ।
লোভ মােহ মদ মাৎসর্য্য, তারে মারুক ধৈৰ্য্য সহ ,
হবে দেহে সিংহ বীৰ্য, গুরুর পদে প্রাণ পিলে
৬। অশ্বিনী তাের কিসের সন্দ, সহায় গুরু মহানন্দ,
শক্তি দিচ্ছে গােলােকচন্দ্র, যার হুঙ্কারে পাষাণ গলে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১১
১০৮ নং তালগড়খেমটা
বাম করে ধর ভাবের গােবর্ধন।
আমার অজ্ঞান ইন্দ্রের, ঝড়ি বৃষ্টি ঘুচাও হে মধুসুদন।
১। জীবাত্মা ব্রহ্মার ভ্রান্তি দূর, কর হে কাঙ্গালের ঠাকুর,
আমার মুক্তিরূপ জমাল বৃক্ষ করহে সংচুর :
আমার হৃদ কম্ব তরুমূলে গো,
প্রেম ধারার সঙ্গে ও যুগল
মিলন।
২। মাৎসর্য কংশ যে অসুর, ক্রোধরূপ তৃণাবর্তনুর,
আমার লােভ মােহ, অঘা বকা নাশ কর ঠাকুর,
আমার কাম কালীয় কর দমন গাে,
হিংসারূপ পুতনা কর নিধন ॥
৩। জ্ঞান মিশ্রানালয়ে যাও, আনন্দে নন্দের বঁাধা বও,
আমার মতি যশােমতীর কোলে, গোপাল বেশে রও,
তুমি বাৎসল্য রস নবনী খাও গো,
সকেতে ল’য়ে সখ্য রাখালগণ।
৪।
অাত্মারূপ বলা’য়ের সনে যাও মোদের সাধন তাল বনে,
আমার মদন্ধকার, বৃষাসুরকে বধ কর প্রাণে,
নববিধ ভক্তি ধেনুগণে গাে,
অনিলে চরাও হৃদি বৃন্দাবন ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
হরিচঁদ রূপে অবতার, করিলে কলির জীব নিস্তার,
মহানন্দ রূপে গুরু, নিলে দেহের ভার,
গোসাই তারকাদের বাঞ্ছা এবার গো
তাধিনী পায় যেন যুগল চরণ।
১০৯ নং তাল-গড়খেমটা
জগৎ পাগল করতে পাগল এল পাগল হরিচঁাদ ।
পাগলে পাগল করে পাতিয়া প্রেমের ফঁাদ ।
পাগলে পাগলে মো, হ’তেছে পাগলের খেলা,
সহজ পাগল হরিচাদ মাের নিশরিকালা, “
ও তার করণ ধারী, নিৰ্ব্বিকারী, মত্ত পাগল গােলোকদ
২। সেই ফঁাদে বেঁধে হীরামণ, দশরথ মৃত্যুঞ্জয় লোচন,
পাগল হ’ল সৰ্বস্বধন, দিয়া বিসর্জন,
পাগল মহানন্দ, তারকচন্দ্র, আর এক পাগল বদনাদ।
জুটে সব ভাবের পাগল, প্রেমরসে হয়ে বিড়ােল,
পুরুষ নারী কল পাগল, বলে হরিবােল,
'য়ে পাগল সবায়, যােণ কলায় ওড়াকান্দি পূর্ণ চাঁদ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪।
শুনে পাগলের হুহুঙ্কার, নাচে ঐ পাগল দিগম্বর,
মিলেছে পাগলের মেলা, আনন্দ অপার,
জীবের শঙ্কা গেল, হরিবল, পায়ের কা পাগলাদ।
৫। নিলে সেই পাগলের সঙ্গ, উঠবে তাের প্রেমতরঙ্গ,
তালে তালে নাচবেরে মন, মত্ত মাতঙ্গ ;
অশ্বিনীর জুড়াবে অঙ্গ, ডেকে বলে তারকাদ ।
১১০ নং ভাল-একতালা
হরি প্রেম বন্যা এসে ভেসে যায়।
আমার জ্ঞান মার্গ, চতুৰ্বর্গ ধৰ্ম্ম পুণ্য হ’ল ক্ষয়।
১। হরিনাম পূবন ডেকেছে, সাগরে তুফান চেতেছে,
যত অভিমানী কৰ্মী জ্ঞানীর, নৌকা
ডুবেছে,
তারা কুল পাব কুল পাব ব'লে গাে,
হরি প্রেম পাথারে সাতার খেলায়।
২। মহাভাব মেঘেরই উদয়, অনুরাগ দেওয়া গর্জে তায়,
নব রসের বৃষ্টি হয়ে, ধরা ভেসে যায়,
হল নাম সংকীৰ্ত্তন শিলা বর্ষণ গাে
মন্ত্র বীজ শস্যাদি হইল লয়।
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত।
যত সব ফলাফল ছিল, মূল সহ ভাসাইয়া নিল,
আমার মুক্তি তরুর মূলে ভেঙ্গে, বন্যায় ডুবাল,
যত বৈদিক ক্রিয়া, গেল ধুয়ে গে,
তাই দেখে চিত্রগুপ্ত অবাক হয় ।
৪। প্রেম বা প্লাবিত হয়ে, ত্রিভুবন গেল তলাইয়ে,
গোঁসাই মহানন্দ, তারকচন্দ্র, যায় জোয়ার দিয়ে,
গোসাই গােলােকচন্দ্র মকর হয়ে গাে,
হুঙ্কারে কাম কুম্ভীর তাড়িয়ে দেয়।
৫। হরিচাদের ভক্ত যত, দেখে সেই প্রেম বন্যার স্রোত,
পরমহংস হয়ে কেলী করে, হয়ে উন্মত্ত,
গোঁসাই মহানন্দ ব’লছে ডেকে গো,
অশ্বিনী ডুব দেরে প্রেমের গােলায়
১১১ নং তাল---একতাল
হরি প্রেম সাগরে বান ডেকেছে, ঘটেছে মহা প্রলয় ।
হয়ে, নামের পূবন, উঠল তুফান, ভীষণ প্রলয় হয়েছেরে
১। সত্য ত্রেতা দ্বাপরেতে, যে প্রলয় না ছিল,
এবার কলির শেষে, হরিচঁাদ এসে সেই প্রলয় ঘটা’লরে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
২। আইল প্রেমেরই বন্যা, বীজ মন্ত্র নাশ হল ।
এবার তা দেখিয়া, পঞ্চ জনার আনন্দ বাড়িল রে।
যে দিন শ্রীধাম ওড়াকান্দি, হরিদ উদয় হ’ল ;
জীবের চিত্ত সন্দ, কর্ম বন্ধ, সকল ঘুচে গেলরে।
৪। ওড়াকান্দির প্রেমের বন্যায় তরঙ্গ বাড়িল,
ও সে নারিকেল বাড়ী ডুবু ডুবু, জয়পুর ভেসে গেলরে।
প্রেমের বন্যায় পাক পড়িয়া, উথলে উঠিল,
গোঁসাই দশরথ লোচন, গােলোক হীরামন, মৃত্যুঞ্জয়
ঝাঁপ দিলরে।
৬। অভিমানী কৰ্মী জ্ঞানী, যাৱা বাকী ছিল,
এবার প্রেম সাগরের ঢেউ লাগিয়া, তারা সব ডুবিল।
ডেকে এলে মহানন্দ, কি আনন্দ হ’ল
এবার অশ্বিনী বিহনে প্রেমে জগৎ মাতিল।
১১২ নং তালগড়খেমটা
যে দিন গুৰু কৃপা করেছে,
আমার ভ্রান্তি মসি; তম নিশি, সেই দিন সুপ্রভাত হয়েছে
আমার হৃদাকাশে চিদানন্দ, রবি উদয় হয়েছে।
১২৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। হেরে আনন্দ ভাস্কর, ভয় পেয়ে ছয় রিপু তস্কর,
ভেবে তারা বিষম দুষ্কর, হারে পলায়ে গিয়াছে,
আমার হৃদ সরােজে, শান্তিময়ী পুষ্কর বিকাশ হয়েছে।
২। পূর্বাহ্ন কি সায়হ্ন, আমার সব ঘুচে হ’ল মধ্যাহ্ন,
শ্রীগুরুর কৃপা ধন্য, সন্ধ্যাকে বন্ধ্যা করেছে,
তাইতে না পেলাম ঠিক, সন্ধ্যা আহ্নিক, আত্মা তন্ময় হয়েছে।
৩। পােহাল তমঃ নিশি, অনুরাগ এক সিংহ আসি,
চিত্ত গিরি শৃঙ্গে বসি, হারে সে হুঙ্কার ক’রূতেছে,
আমার কাম ক্রোধরূপ, হস্তী শাদ্দল, ভয়ে পলায়ে গিছে।
৪। হেরে সেই রূপের আলাে, নিরানন্দ উলুক লুকাইল,
জ্ঞান আত্মার মত্ততা গেল, জ্ঞান শূন্য বিরাগ এসেছে,
তারা আলোক পেয়ে, পুলক হয়ে দোহে নৃত্য করতেছে ।
৫। দয়াল মহানন্দ কয়, আমার হরি সূৰ্য্য হ’ল উদয়
কুআশা কুতম লুকায়, জীবের আর ভাবনা কি আছে ;
ভেবে অশ্বিনী কয় হরি বিনে, ভবে বন্ধু কে আছে।
১১৩ নং তাল--'আদ্দা
গুরু পতির ব'সে বামে।
ও তাের এ দেহ দক্ষিণা দিয়ে, যেও না দক্ষিণাশ্রমে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
গুরু সন্তোষ অন্তঃপুরে, বসে থাক্ মন জ্যোতির ঘরে ,
তবে ঐহিকে পরপুরুষ তােরে, ছােবেনা মন কোনক্রমে।
গুরু শাসন শাশুড়ীর পায়, ভক্তি রেখ রে মন সদায় ;
তবে বধুভাব হইবে উদয়, থাবিরে মন শান্তিধামে ।
গুরুচিন্তা শঙ্খ শাড়ী, সাধ করে মন ধারণ করি,
গুরুকৃপা শয্যায় শয়ন করি, মজে থাক্ মন গুরুর প্রেমে
৪।
গুরু পতি ক'লে রমণ, পুত্র হবে মনের মতন,
ও তাের অনুরাগ হইবে নন্দন, কন্যা হবে ভক্তি নামে।
৫। তারকাদের বাক্য ধর, গুরু পতির করণ কর,
স্বামী মহানন্দের দয়া বড়, অশ্বিনী, কেন ডুবলি ভ্রমে।
১৪ নং তাল--একতাল
হরিচাদ প্রেমের আগুণ লাগল গায়।
আমার হৃদ কাননে, আগুন লেগে, ধৰ্ম্ম মন্দির দগ্ধ হয়।
১। মন্দিরে পুণ্য ধন ছিল, ও তা পুড়ে ছাই হ'ল,
আমার সাধন ভজন, গিল্টির গহনা, সব পুড়ে গেল ;
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
আমার ঘৃণা আসন লজ্জা বসন, গাে,
এক কালো পুড়ে হ’ল ভস্মময় ।
২। নলের সহায় মন পবন, প্রেম ঘৃত ঢা’লছে গুরু ধন,
আমার হিংসা নিন্দা, মহিষ গণ্ডার, মল গনণ,
ও সে কাম বাঘিনী ত্য’জল জীবন গো
ক্রোধ গজ পুড়ে ঋণী লােটায়।
৩। কুলমান পড়সী যারা, দেশ ছেড়ে পলা’ল তারা,
আমার মুক্তিবাগে, আগুণ লেগে, পড়ে হয় সারা,
আমার যোগ নিদ্রা, বিমাতা ছিল গো,
অষ্ট পাশ ছেড়ে মা, পলায়ে যায়।
৪। প্রতিষ্ঠা ভগিনী ছিল মাের, তানল দেখে সে করে সাের,
আমার প্রেমের আগুণ, নিবাইতে ক’ল বহু জোর,
ও তার পুড়ে গেল, মান্য বাসর গাে,
তাই দেখে বিবেক, ভাই নেচে বেড়ায়।
আনলের তরঙ্গ দেখে, তারকাদ বলেছে ডেকে,
ও তাের জীবন যৌবন আহুতি দে, কাজ কি প্রাণ রেখে ;
গোঁসাই মহানন্দ, ব’ছে সুখে গাে
অশ্বিনীর মহাযজ্ঞের সময় যায়।
শ্রীহরি সঙ্গীত
১১ নং তাল-~-একতালা
করেছি মহাহজ্ঞের, আয়ােজন।
ল’য়ে যজ্ঞেশ্বরী, এস হরি, ক্ষীরােদশায়ী নীরদবরণ
।
১। জ্বলিয়া বিচ্ছেদ হুতাশন, এ দেহ কাষ্ঠ সম্মিলন,
আমার হৃদয় ঘটে, চিত্রপটে দিয়াছি আসা,
আমার ভজন পূজন, অশ্ব দিব গাে
আহুতি দিব এ জীবন যৌবন ।
২। করিব পুণ্যক্ষয় যজ্ঞ, ধর্মকে করলেম উৎসর্গ,
পঞ্চবিধা ভুক্তি মুক্তি, দিব তায় অর্ঘ্য,
আমি বর্গফল, আমেশ্বর দিব গাে,
এ যজ্ঞে দি, প্রতিষ্ঠা চন্দন ।
এ যজ্ঞের শুন পরিণাম, সর্বস্ব ত্যাগ সৰ্বস্ব বাম,
নাহি স্বর্গ নাহি মৰ্ত্ত, ফলে নিস্ফল কাম,
আমার লক্ষ্মী ভাগ্য যজ্ঞে দিব গাে,
মনেতে করেছি, এই অকিঞ্চণ।
১২৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
-
৪।
দশ দশা দশমী দিনে, ব'সে প্রেম গঙ্গা পুলিনে,
আমি মহাযজ্ঞ, সাঙ্গ করিব, যােগাসনে,
যে দিন, ব্ৰহ্মরন্ধ্র যাবে ফেটে গাে,
সেই দিনে হবে যজ্ঞ সমাপন।
৫। স্বামী মহানন্দ কয়, এই দশা ঘটুবে যে সময়,
আমার হরিচঁাদের শীতল,কিরণ, লাগবে তখন গায়,
ওরে অশ্বিনী তুই, হ নিরাশয় গাে,
এ যজ্ঞের ফলে কি তাের প্রয়ােজন।
১১৬ নং তাল—রাণেটা
আর কবে ঘুচিবে গুরু, সাধন ভজন পৈশাচ বৃত্তি।
আমার সুখাভিলাষ, হবে বিনাশ, গুরুপদে হবে আত্তি।
। নিষ্কাম বৃক্ষ, মূলেতে যাব (হারে) বিচ্ছদ অগ্নিকুণ্ড জ্বেলে
বসিয়া রব।
চিন্তাভস্ম গায় মাখিব, ক’ব বলে গুরুপতি।
২। ধৰ্ম পুণ্য হবে বিসর্জন, কবে হবে গুরুপদে, আত্ম সমর্পন।
আমার জ্ঞান পুত্রের হইবে মরণ, ঘটবে প্রেম অবলার
রীতি।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
কবে আমার, ঘুচবে শুচি বাই, অঘাের পন্থী হয়ে সদা
কাঁদিয়া বেড়াই।
সন্ধ্যার মুখে মাখিয়া ছাই, মধ্যাহ্নকে ক’বুব স্থিতি।
কবে অামার ঘুচবে আমিত্ব, গুরুর পদে মন মজাইয়ে,
করিব নৃত্য।
হব গুরু পতির আনুগত, জ’লবে হৃদয় বিচ্ছেদ বাতি।
৪।
৫। দয়াল মহানন্দ আনন্দ রবি, কবে হৃদয় উদয় হবে,
ব’সে তাই ভাবি।
গোঁসাই তারকাদ কয়, দেখতে পাবি, অশ্বিনী হ ছন্নমতি।
১১৭ নং তাল—গড়খেমটা
আমায় কি সপ্ন দেখালে, গুরু কি সপ্ন দেখালে।
আমার সর্বস্ব ধন, ক'রে হরণ, আজ আমার
দেউলা নাম লেখা’য়ে দিলে ।
আমার দেহ জমি, রাজ্য ভূমি, বাকীর যায়, নিলাম করিলে,
আমার বাস্তু বাড়ী, নিলে কাড়ি, আজ আমায় চিন্তা কান্থা
গলায় দিলে ।
২। আমার সাধন ভজন, ভ্রাতা দুজন, রাজ্য হতে তাড়িয়ে দিলে,
আমার পুণ্য অর্থ, ছিল যত, আজ হতে খাস বাজারে
লুঠাইলে।
গ্রহরি সঙ্গীত।
৩। আমার সুখ সুন্দরী, বিলাস নারী, ছিলাম যাহার
মায়ায় ভুলে,
আমার, দুঃখের ভরা, দেখে তারা, সেও আমাকে
গেল ফেলে ।
৪। আমার শুচি মাতা, আচার পিতা, চিরকাল যার
ছিলাম কোলে,
আমার, দশা দেখে, মনের দুঃখে, তারা আমায় ফেল্ল ঠেলে ।
৫। বলে গোঁসাই মহানন্দ, অশ্বিনী তুই অবােধ ছেলে,
যারে মাতা ছাড়ে, পিতা ছাড়ে, অন্তিমে হরিদ তারে
কারে কোলে।
১১৮ নং তাল-একতাল
হরিচাদ দৃষ্টি ভূতে, ভূতে পেল যারে ।
কি অদ্ভুদ সেই ভূতের দৃষ্টিরে, পঞ্চ ভূতের দফা সারে
হারে কর্ম সারে।
১। নাই তার গুরু জনার ভয়, কখন প্রলাপ বাক্য কয়,
কখন হাসে কখন কঁাদে, কখন ধূলায় গড়ি যায়,
কখন বীরাচারে, হুঙ্কার ছাড়েরে, কখন করুণ স্বরে রোদন করে,
কত রােদন করে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
২। নিরাশ্রয় ছাড়া ভিটায় রয়, নাই তার ঘৃণা লজ্জার ভয়,
আহার বিহার দেখলে পরে, জীবের লাগে ভয়,
ও তার লম্ফ ঝম্প, দেখলে পরে, কত গৃহবাসী গৃহ ছাড়ে,
হারে গৃহ ছাড়ে।
৩। ভৈরবী ভৈরব রবে, কি যেন, বলে কি ভেবে,
সে ভারতী বুঝতে শক্তি, ধরে কি সবে, ও তা বুঝলে,
পরে, কৰ্ম্ম সারে, অমনি দৃষ্টি ভূতে ধরে তারে,
হারে ধরে তারে ॥
৪। দৃষ্টি রােগের নাহি বিধান, আয়ুৰ্বেদ খুজিলে নিদান,
তন্ত্রে মন্ত্রে সারে না রােগ, হ’ল বৈদ্য হতজ্ঞান, কত ওঝা
বৈদ্য হ’ল হদ্দ, দৃষ্টি রােগ না সারতে পারে,
হারে সারতে পারে।
সে রােগের রােগী হীরামণ, গােলােকাদ মৃত্যুঞ্জয় লােচন,
যার হয়েছে দৃষ্টিনােগ, সে আর সা’রূবে না কখন,
বলে গোঁসাই তারক, সে দৃষ্টিরােগ, অশ্বিনী তাের ঘ’টুল নারে,
হারে ঘটুল নারে,
১১৯ তাল-একতালা
হরি প্রেম মদের নেশা, নেশা যার লেগেছে।
হয়ে মত্ত মাতাল, হাছে বেহাল, প্রেমের মদ খেয়ে,
সে মেতে গিছে, হারে মেতে গিছে।
শ্রীহরি সঙ্গীত
১। গাঁজা ভাং ধুতরায় কি করে, মুষ্টিযােগ দিলে যায় সেরে,
যার লেগেছে, প্রেমের নেশা, ও তার অনুক্ষণ বাড়ে,
ও সে নেশার ঝেকে প্রলাপ বকে, সাইজি বলে হাই
ছাড়তেছে, শুধু হাই ছাড়তেছে,
প্রেমের নেশার নাই বিরাম, তিলেক দণ্ডে নাই আরাম,
কখন বলে হরেকৃষ্ণ, কখন বলে রাম, ও সে নেশার ভরে,
নৃত্য করে, নয়ন জলে ভাসিতেছে হারে ভাসিতেছে ।
প্রেমের নেশাতে পাগল, ও সে কেটে ভবের গােল,
আর কোন বােল নাইরে মুখে, কেবল ব’লছে হরিবােল,
তার হরির নামে, লোমে লোমে সৰ্ব্ব অঙ্গ জ্বারিতেছে,
হারে জারিতেছে ।
৪।
প্রেমের নেশাতে অজ্ঞান, ধৰ্ম্ম পুণ্য দেয় না স্থান ;
অষ্ট পাশের দফা সারা, বেদ বিধি মানবে কেন, ও তার
সন্ধ্যা আহ্নিক, নাই কোন ঠিক, মন মানুষে, মিশে গিছে
হারে মিশে গিছে।
৫। স্বামী মহানন্দ কয়, প্রেমের মদ নিবি কে আয়,
গুরুর আনন্দ মেলায়, প্রেমের মদ বিকায়,
বলে, তারকাদে, বিষয় মদে, অশ্বিনী ভুলে রয়েছে,
হারে পড়ে পেচে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১২ নং ওলি-~-একতাল।
আমার জন্ম মৃত্যু দু’ট অশৌচ প’ল।
তাইতে পূজা ব্রত, হ’ল হত, অামার বৈদিক ক্রিয়া বাদ
পড়িল, হারে বাদ পড়িল।
১। হরি প্রেম রোগে আক্রমণ, আমায় করিল যখন,
ছিল অষ্ট পাশে, মা মহামায়া, ত্যজিল জীবন,
গুরু কৃপা ক্রমে, বিবেক নামে, সেই দিনে এক পুত্র হ’ল
হারে পুত্র হ ল।
২। ঠেকেছি, গুরুদশার দায়, ভাগ্যে কি যেন, কি হয়,
শৌচ আচার, ত’জল আমায়, হলেম অশৌচী আশ্রয়,
আমায় সাজিয়ে বেহাল, পথের কাঙ্গাল, ভাবের উত্তরী,
এক গলায় দিল, হারে গলায় দিল ।
৩। হরিপাদ পদ্ম গয়ায়, শ্রী গুরু পাঠালেন আমায়,
যোগ মায়া জননীর শ্রাদ্ধ করিবার আশায়, আমার
সব, ঘুচা'য়ে মন মুড়ায়ে, মন পােড়া আউল করিল,
আউল করিল।
৩৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৪। কটিতে কটকৌপিন দিয়ে, অনুরাগ ভাের তায় পরায়ে,
নিহতু এক শিক্ষা শিরে, দিল ঝুলায়ে, আমায় ভক্তি
তিলক ফোটা দিয়ে, বিনা সূতের মালা দিল,
হারে মালা দিল ।
৫। মহানন্দের ভারতি, এইরূপে সেজে প্রকৃতি,
দিবা নিশি সেবা কর শ্রী গুরু পতি, অশ্বিনী তাের
কি দুর্গতি, গুরুর প্রতি রতি না হ’ল, হারে মতি না হ’ল।
১১১ নং তাল--কাশ্বিরী
কেউ যদি ঢেউ ধরতে পার, প্রেম সরােবরে।
অখণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড সে ঢেউ, চলে ভেদ করে ।
১। ঢেউ লেগেছে যার অন্তরে, সেও কি ঘরে রইতে পারে,
ঝাঁপ দিয়ে সেই প্রেম সাগরে, আর ফিরে এলনা ঘরে।
২। ঢেউ লেগে কেউ হয়েছে মাতাল, মাতাইল আকাশ পাতাল,
জয় করে সেই কাল মহাকাল, ঢেউ দিয়ে জগৎ পাগল করে ।
৩। দুই এক জনার যােগ ভাগ্যে, পাগল হ’ল সেই ঢেউ লেগে,
অনুজ্জ্বলে অনুরাগে, প্রেমানন্দে নৃত্য করে ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
১৩৫
৪। ঢেউ লেগে সেই গোলােক পাগল, মুখেতে নাই আর
কোন রােল,
জয় হরিবােল গৌর হরিবোল, বলে সদায় হুঙ্কার ছাড়ে।
মহানন্দ সেই ঢেউ ধরি, রেখেছে ঢেউ হৃদয় পুরী,
মাইল পুরুষ নারী, অশ্বিনী তুই নাতলি নারে ।
১২২ নং -কাশ্মিরী
নিদান আমার বন্ধু বটে, এই ভবের হাটে।
নিদানে পড়িলে মনে কত ভাব উঠে ।
১। নিদান বন্ধু ধরে যারে, ভােগ বিলাসের দফা সারে,
সুখ পৈশাচি তাড়িয়ে দূরে, দুঃখ সম্পত্তি দেয় গাে জুঠে।
মুখ পেলে মন রয় না খাটি, ধরতে চায় সে বিষের বাটি,
বােঝাই করে ময়লা মাটী, ডুবে মরে ভবের ঋটে।
দুঃখ ভাৰ্য। তা। রজকিনী, মনের ময়লা ঘুচান তিনি,
দণ্ড সাবান জ্বলিয়া ধনি, মনকে কা শাসন পাটে ।
৪। দীনবন্ধু হরি যিনি, নিদানেরই বন্ধু তিনি,
তওঁ জেনে শূলপানি, সদায় সে শ্মশানে ছোটে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৫! দয়াল মহানন্দ বলে, গুরু দণ্ড না হইলে,
কিসে মনের ময়লা খােলে, অশ্বিনী তুই যাস না চটে।
১২৩ নং তাল-কাশ্মিরী
মন চল যাই বিদেশ ছেড়ে নিবৃত্তিপুরে।
তথায় আছেন শান্তি মা তামার, স্নেহ মন্দিরে।
১। বিদেশে বানিজ্য দিয়ে, মা আছেন পথ পানে চেয়ে,
ভুলে র’লি কি সুখ পেয়ে, এদেশে তাের বন্ধু কেরে ।
২। হয়ে রলি মায়ার সেবক, খুলে খেল মনি মজক,
দুদিন পরে দেখবি নরক, দেশে যাওয়া হবে নারে।
এদেশে রয় দিশে হরি, দিক ভুলা'য়ে করে চুরি,
নৌকায় দিবে কুঠার মারি, আপন আপন বলিস, যারে ।
৪।
ধর অনুরাগের ব’ঠে, বেয়ে চল প্রেমের হাটে,
নাও লাগা’সনে ভবের ঘাটে, শুল্লুক জাহাজ যাচ্ছে বুড়ে
গুরুদ তাই করছে মানা, ভবের ঘাটে কেউ যেও না,
অশ্বিনী তাের মন ভাল না, ডাকলে কেন শুননারে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৩৭
১২৪ নং তাল--কাশ্মিরী
মনে ভাবি কাঙ্গাল হব, বেহাল সাজিব।
ছেড়া কান্থ করিয়া ধারণ, গাছতলায় যাব।
১। মহামায়া মাতা যিনি, কাতর বাক্যে বলেন তিনি,
কোথায় যাওরে যাদুমণি, কোন প্রাণে তােরে বিদায় দিব।
২। প্রবৃত্তি মহিষী এসে, বঁধতে চায় সে ভােগ বিলাসে,
ভুলাতে চায় মায়া রসে, কেমনে তারে প্রবােধ দিব।
১। লােভ মােহ পুত্র ছয়জন, বিনয়বাক্যে করে বারণ,
পুত্রের মায়া করে ছেদন, প্রাণান্তে না যেতে দিব ।
আমােদ আহলাদ প্রতিবেশী, যাত্রা ভঙ্গ করে আসি,
কি দুঃখে হও বিদেশবাসী, গৃহে তােমার কি অভাব।
৫। পাগলাদ কয় অনুরাগে, আর কতকাল ম’বি ভুগে,
অশ্বিনী তুই এই সুযােগে, বাহির হ তাের সঙ্গে যাব।
১২৫ নং তাল-কাশ্মিরী
আমি পিতৃমাতৃ হ'লেম ত্যাগী বিষয় বিরাগী।
ঘরে বসে কঁদিবে বিলাস, ভাৰ্যা অভাগী।
১৩৮
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
=
১। ত্যাগ করিলাম পুত্ৰ কন্যে, গৃহে থাকি যাহার জন্যে,
মন মতি হয়েছে হন্যে, কি যেন কি বস্তু লাগি ॥
২। পিতা কঁালে ক'রে হায় হায়, কঠিন পাষাণ বলি তোমায়,
ব’ল ভবে কেউ কারাে নয়, পাষাণে বুক বাঁধ রাগি।
৩। পাখী যত আছ ডালে, মা কঁদিলে পুত্র বলে ।
তােমরা ডেক মা বােল বলে, প্রহরে প্রহরে জাগি।
৪। ভাৰ্যা কঁা’দলে চিকণ স্বরে, কাল ভ্রমর কই তােমারে,
বুঝাইও গুণ, গুণ, স্বরে, কেউ কাবে নয় দুঃখের ভাগী।
৫। গুরুদের শাসন চোটে, ভব বন্ধন গিছে কেটে,
কতে হবে ঘটে মাঠে, অশ্বিনী হও প্রেম বৈরাগী।
১২৬ নং তাল-কাশ্মিরী
এই দেখা ত শেষ দেখা ভাই, বালাই ল'য়ে যাই।
এ ক্ষেপে দেখা পাই কি না পাই ।
দেখা হ’ল কত শত, হয় না দেখা মনের মত;
মনের দুঃখ আর ব’লব কত, জন্মের মত বিদায় হতে চাই
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
২। যা হবার তা হয়ে গেল, ভবের খেলা সাঙ্গ হ’ল ;
বন্ধুবর্গে হরিবল, যার আমি ভাই তারে যেন পাই।
৩। আশীর্বাদ কর সকলই, শিরে দিয়ে পদধূলি ;
মুখে হরি হরি বলি, যেন সাধুসঙ্গে বেড়াই।
২। হরিচঁাদের ভক্তের সঙ্গে, ছিলাম আমি পরম রঙ্গে ,
কর্ম দোষে ঘাের তরঙ্গে, ডুবে
ম’লেম কুল নারে পাই।
৫। তারকাদ তাই ব'ছে ডেকে, ভাবের ভষ্ম অঙ্গে মেখে :
কাজ কিরে তাের গৃহে থেকে, অশ্বিনী তাই তােরে সুধাই।
: ২৭ নং তাল-সাদ্দা
সমর্পিত দেহ মম আমিত্ব কি আর।
আমিত্ব স্বামিত্ব তুমি সৰ্ব্ব মূলাধার।
১। মহাভাব ভাবিনীর বশে, মহাসাগর মহারসে;
দেহ তরী যাচ্ছে ভেসে, না পেলাম কিনার।
২। তুমি নিত্য নবীন নেয়ে, এ তরীর কাণ্ডারী হয়ে ;
প্রেম সাগরে বেড়াও বেয়ে, ওহে গুণাঁধার ॥
ঐশ্রীহরি সঙ্গীত।
তব কৃপা অনুযোগে, হরিনাম বাতাসের বেগে ;
চলছে তরী অনুরাগে, আনন্দ বাজার।
৪।
গুরুর কৃপায় ঘু'চল ভ্রান্ত, আমি কান্তা তুমি কান্ত
পূৰ্বে মন যদি তাই জাত, থাকত না। বিকার ।
৫। স্বামী মহানন্দ বলে, মন প্রাণ না সপিলে ;
কোথায় হরি পতি মিলে, অশ্বিনী বর্বর।
১২৮ নং তাল-~'আদ্দা
বিপদ সুপ মম উভয় একাকার।
নিরাশা দরিয়ার মাঝে, দিয়াছি সাঁতার
১। সুমতি কুমতি দুজন, দ্বন্দ ঘুচে হ’ল মিলন,
হয়ে তারা প্রেমের ভাজন, হ’ল নির্বিকার ।
২। ভক্তির কণ্টক যে পঞ্চজন, প্রেমানলে হ’ল দাহন,
তাই দেখে কামাদি ছয়জন, কঁদে অনিবার।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
৩। মোগা হ'ব বলে, আসিতেছে নয়ন জলে,
ঝপ দিতে চায় প্রেম সলিলে, অকুল পাথার।
৪;
প্রেম উন্মত্ত হয়ে সবে, হুঙ্কার ছাড়ে সিংহরবে,
প্রাণ দিয়ে সেই প্রাণ বল্লভে, কামন। কি আর ।
ডেকে বলে 'তারকচন্দ্র, মহানন্দের কি আনন্দ,
দেখলি না অশ্বিনী গন্ধ, আনন্দ অপার ।
১২৯ নং তাল --- আব্দ।
যারে নয়ন ধ’রগে তারে, যে রূপে প্রাণ নিল হ'রে ।
দেখতে দেখতে নয়ন হ'তে, পলক দিতে যায় গো স'রে ।
১। তুই নয়ন মাের বান্ধব ছিলি, তবে কেন পলক দিলি,
পলকে রূপ হারাইলি, আর কি দেখা পাব ফিরে।
২। তুই নয়ন থাকূতে প্রহরী, তবে কেন সেই চোরা হরি,
মন প্রাণ করে চুরি, মরে যায় পাগল করে ।
১২
খ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
যে রূপেতে মন মজিল, মেও যদি আজ ছেড়ে গেল,
এ জীবনে কাজ কি বল, কাজ কি এ ছার জীবন ধরে
৪। মন প্রাণ দিলাম যারে, সেও যদি কাজ না চায় ফিরে,
এ দুঃখ আর ব’ব কারে, ঐ দুঃখে মোর বুক বিদরে।
গােলেকদের মনােচোরা, মহানন্দের মনােহরা,
ব’রবি যদি পর ধরা, অশ্বিনী থাক জীয়ন্তে ম'রে।
১৩০ নং তাল- আড়খেষ্টা
হরি দয়াময় করলে কি আমায়,
তব বিচ্ছেদ জ্বরে দহিছে হৃদয়।
প্রেম দাহানলে, সদায় মরি জ্বলে,
এই ছিল কপালে করি কি উপায়।
তব বিচ্ছদ জ্বর হইল প্রবল,
চিন্ত।পথ্য তায় কুপথ্য ঘটাল।
স্বাত্ত্বিক বিকারে ক্ষেত বৃদ্ধি করে,
হরি বারি বিনে পিপাসায় প্রাণ যায় ।
।
শ্ৰীশ্রীহরি সঙ্গীত।
বুঝতে নারি গতি, যেন সান্নিপাতি,
দুরন্ত পিপাসা, না হয় নিবৃত্তি।
দুৰ্ব্বৈদ্য আসিয়া, শিয়রে বসিয়া,
এক বিন্দু বারি, না দিল আমায়।
ধৈৰ্য উলুৰ্বান না কোন জ্ঞান,
জলধর বিনে জ্বলে যায় প্রাণ।
জ্বরে তনু জ্বর, শুষ্ক, ওষ্ঠাধর,
নিরস রসনা পিপাসায় প্রাণ যায় ।
তৃষ্ণা তন্দ্র। নিদ্র মােহ কম্পকায়,
স্বেদ তা পুলক বিকারে প্রাণ যায় ।
হেন নাহি বন্ধু, হরি কৃপাসিন্ধু,
এক বিন্দু বারি এনে দেয় আমায়
বলে মহানন্দ হরি প্রেম সিন্ধু,
অশ্বিনী তাের ভাগ্যে ঘ’লনা এক বিন্দু
গুরুদের পদ করে সম্পদ,
তবে পাৰি সে ধন শ্রী গুরুর কৃপায় ।
১৪৯
শ্রীহরি সঙ্গীত।
১৩১ নং ওযং
হরিনামে পাপ খণ্ডে, কহে কোন ভণ্ড।
হরিভক্ত এমনি শক্ত, চায় না বিধাতার ব্ৰহ্মাণ্ড।
১। হ কার উচ্চারণ মাত্র, অষ্টাদশ সিদ্ধ হয় প্রাপ্ত,
ভুক্তি মুক্তি দূরীভূত, লুক্কায়িত কর্মকাণ্ড।
। রি, কার উচ্চারণ হ'লে অনতি প্রেম ফলে,
মোক্ষ ফল সে ফেলায় ঠেলে, ধর্ম তার কাছে হয় দণ্ড।
| হরিভক্ত সিংহ শাবক, অন্তরে অনুরাগ পাবক,
নরের আর থাকে না নরক, শরণ নিলে তিলেক দণ্ড।
৪। গঙ্গাস্নানে পপি হত, গঙ্গাকে করে পবিত্র ;
পরশ মাত্র হরিভক্ত, সাধু হয় যত পাষণ্ড ।
৫। গোঁসাই তারকাদের বাণী, শ্রবণ মাত্র হরিধ্বনি,
প্রাপ্ত হয় প্রেম আহলাদিনী, অবিশ্বাস অশ্বিনী গুণ্ড।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৩২ নং তাল-যৎ
ভক্তিকে যে তুচ্ছ করে, মুক্তি করে শ্রেষ্ঠ,
হরিনামে পাপ খণ্ডে, ব্যাখ্যা করে সেই দুষ্ট।
১। মাঘে, প্রয়াণে, করলে স্নান, কোটী কন্যা করলে দান,
সুমেরু সুবর্ণ দান, নাম হ’তে অতি নিকৃষ্ট ॥
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরে, নামের গুণ না বলতে পারে,
হরিনামে কি ফল ধরে, কে করে তাহার নির্দিষ্ট।
৩। কোটী তীর্থ করলে ভ্রমণ, কল্পান্তর করলে যােগ সাধন,
নামের তুল্য না হয় কখন, ভাগবতে বলে স্পষ্ট।
সত্যভামা করি ব্ৰত, পেয়েছিল কিঞ্চিত তত্ত্ব,
হরি হ’তে নাম মাহাত্ম্য, ওজনেতে হ’ল শ্রেষ্ঠ।
৫। তারকাদের এই ভারতী, হরিনামে হলে আর্তি,
ঘটিবে প্রেম মধুর রতি, অশ্বিনী তাের দুরদৃষ্ট।
১৪৬
@@হরি সীত
১৩৩ নং তাল-গড়খেমট।
হরি প্রেম সাগরে বান ডেকেছে ভাই,
এবার ঘুচলরে দেশের বালাই, গেলরে ভবের বালাই
যত কুল মান ছিল, অকুলেতে ডুবিল,
অভিমানের পাহাড় ভেঙ্গে উথলে উঠিল।
কত কুলজার কুল ভেসে গেল, গেলরে কুলের বড়াই।
২। যত ভকত বেহাল, হয়ে প্রেম রসে মাতাল,
ব্ৰহ্ম তালে রুদ্র তালে, কেউ ধরেছে তাল।
মাইল আকাশ পাতাল, জগতে কেউ বাকী নাই ।
দেখে প্রেমের তরঙ্গ, বুচল কাম কলির রঙ্গ,
হৰি ভক্তের নফর হয়ে, নাচে অনঙ্গ।
কলি বাঞ্ছে সাধুর সঙ্গ, রাজ্যধনে কাৰ্য্য নাই।
৪। যত যাগ যজ্ঞ ছিল, তাহা অযােগ্য হল,
হরিনাম সংকীর্তন মহাযজ্ঞে, সবে মাতিল।
যাহা পঞ্চ জনার বাঞ্ছা ছিল, পুরাতে এসেছে তাই।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৪৭
৫। গোঁসাই তারকচন্দ্র কয়, হ’ল হরিদ উদয়,
অশ্বিনী তাের কিসের শঙ্কা, গেল ভব ভয়।
দয়াল মহানন্দ, আছে সহায়, তিনি সেই দয়াল নিতাই।
১৩৪ নং তালগড়খেমটা
উত্তাল তরঙ্গ দরিয়ায়, ডুব দেরে প্রেমের গােলায়।
এবার { ঝাপ দেরে প্রেমের গােয় )
১। কলিযুগ ধন্য, জীবের ঘুচাতে দৈন্য,
ওড়াকান্দি অবতীর্ণ, হরি চৈতন্য।
হরিনাম বিনে গতি নাই অন্য, পান কর নাম রসনায়।
২। হরি প্রেম মদে হওরে ভাের, নেশা ছুটবে নারে তাের,
হরিনামের গাঁজা খেয়ে, ইওরে নেশাখাের।
মহাভাবে হ'য়ে বিভাের, ডুবে থারে সদায়।
। মহাভাবের মাতাল হও, সদায় হরি গুণ গাও,
সাধুর দোকানে, ভূক্তি রতন কিনে লও।
গুরু চিন্তা চন্দন অঙ্গে মাখাও, সাধুর বাতাস লাগবে গায়।
১৮
শ্রীহরি সঙ্গীত
৪। বড় সুযােগ পেয়েছ, কেন বসে রয়েছ,
হরি বলে বাহু তুলে আনন্দে নাচ।
হরি ভক্তের কাছে প্রেম ধন যাচ, দিবে প্রেম তুলে হৃদয়
৫। দয়াল নিতাই চঁা। যিনি, মহানন্দ চঁাদ তিনি,
সেই বুঝি নগরে এসে দেয় হরিধ্বনি।
এবার ডুবাইল ধনী মানী, অশ্বিনী ডু’ব না তায়।
১৩৫ নং তাল-একতাল
মনরে ক্ষেপা ক্ষেপে যা একবার।
আপন সেরে কামের ঘরে, অনুরাগের কপাট মার।
ক্ষেপ যদি ক্ষেপার মত, হ’গে রূপের অনুগত ।
তেয়াগিয়া আত্ম স্বার্থ, প্রেম পাথারে দে সাতার।
২। যদি হবি সুজন ক্ষেপা, ধারণ কর রূপের ছাপা,
গুরুর কাছে করে রফা ভােগ বিলাসের দফা সার ।
ত্যজ্য কর বেদের বিধি, ছেড়ে দিয়ে অষ্ট্রসিদ্ধি,
বিবেক ভাইয়ের দিয়ে বৃদ্ধি, চল আনন্দ বাজার।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৪
৪।
এক ক্ষেপেছে গােলোকচন্দ্র, সরি ক্ষেপেছে মহানন্দ,
দিয়া ইরি প্রেমানন্দ, ক্ষেল এ ত্রিসংসার।
তারকচন্দ্ৰ ডেকে বলে, যে জন বাবার ক্ষেপা ছেলে,
সায় থাকে বাবার কোলে, বুঝলি না অশ্বিনী ছার
১৩৬ নং তাল--একতাল।
সহজ অনুরাগে ক্ষেপেছে যে জন,
হয়ে আত্মহারা পাগলপার, মানে না বিধির বন্ধন।
১। বায়ু পিত্ত করে নাড়ী, ঘুরছে মথি। চঞ্চল ভারী,
পােড়ায়ে সে মায়াপুরী, জালিয়া প্রেমের হুতাশন
২।
অন্তরে অনন্ত দাহ, জ্বলিতেছে অহরহ,
ঠিক যেন সেই ক্ষিপ্ত সিংহ, সাই ব'লে ক’রছে গর্জ
হয়ে সে রূপের আশ্রিত, ব্রহ্মদর দৃষ্টির মত,
কঁদিতেছে অবিরত, পলকহীন দুটী নয়ন।
৪। ঠিক যেন সেই পাগল। ভােলা, ঘুচাইয়া ভবের জ্বালা,
প্রেম উন্মও হরিবোলা, তার আর কিছুতে সয় না মন ।
জহরি সঙ্গীত।
মহানন্দ ডেকে বলে, সহজে কি মানুষ মিলে,
অনুরাগী না হইলে, অশ্বিনীর নাই সে সাধন।
১৩৭ নং তাল-একতাল
ভালবেসে গুণমণি এ দশা করেছেন তিনি।
মন প্রাণ হরিয়ে নিয়ে ক’রুল আমায় পাগলিনী।
আমায় বড় ভালবাসে, তাইতে রাখলনা বাসে,
দীন হীন দীর বেশে, করল আমায় কাঙ্গালিনী।
সে যাহারে ভালবাসে, জাতকুল মান আগে নাশে,
সর্বস্ব ধন নিয়ে শেষে করে মণি হারা ফণী ।
অসহ বিরহ আগুন, মরমে স্ব’লেছে দ্বিগুণ,
কি ব’ গুণমণির গুণ, ক’বুল আমায় বিরহিণী।
৪। বঁটা’য়েছে বিষম দশা, সদায় বাড়ে প্রেম পিপাসা,
ছােটে না তার প্রেমের নেশা, কেঁদে বেড়ায় দিন রজনী।
৫। মহনন্দের হৃদয়ের ধন, প্রেম ছাড়া সে রয় না কখন,
অশ্বিনী ক’বলি না যতন, কিসে পাবি রতন মণি।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৫e
১৩৮ নং তাল ঠুংরী
অহৈতুকী প্রেমভক্তি কই ঘটল অবলার ভাব।
মুক্তির আশে, আছ ব'সে, হ’ল না সেই ভক্তি লাভ।
ধর্ম পুন্য বােঝাই করি, সাজায়েছ মানব তরী ;
যেতে চাও বৈকুণ্ঠপুরী, করতেছ ধৰ্ম্মের গৌরব।
২। পহিল। নব অনুরাগ, মরমে লা’গল না সে দাগ,
ঘটল না বৈরাগ্য বিরাগ, পেলেম না সে মহাভাব ।
৩। মহাভাব ভাবিনীর রসে, মহানন্দ বেড়ায় ভেসে ;
গােলােকচন্দ্র সেই রূপ রসে, করে হরি সিংহ রব।
৪। তারকাদ সেই রসে মাখা, পেয়ে সে স্বরূপের দেখা,
অশ্বিনী তুই এমনি বােকা, নিলি না রূপের সৌরভ।
১৩৯ নং তাল--একতালা
হরি তােমায় করি, আশীৰ্বাদ,
এবার পুরুক তোমার মনােসা,
ওহে গুণনিধি, নিরবধি কর রাধার প্রেমাদি ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১। অামার সুকৃতি যত, তােমায় অপিলাম নাথ,
ভক্তের সঙ্গে রসরঙ্গে হও প্রেমে মত্ত,
আমি কল্যানির ঠাই এই ভিক্ষা চাই, ঘুচুক তোমার সব প্রমাদ ।
১। তুমি মহা সুখী হও, মহারাসে রও,
শান্তিময় কদম্ব ডালে বাঁশরী বাজাও,
প্রেমানন্দে রাধার গুণ গাও, পুরাও ব্রজবাসীর সাধ।
৩। প্রিয় রাখালগণ লয়ে, দেহ গােষ্ঠেতে গিয়ে,
চিত্ত সিংহাসনে বস মহারাজ হয়ে,
আমার হৃদপদ্মে পাদপদ্ম দিয়ে, কর শাসন সিংহনাদ ।
৪। অন্তরঙ্গ সখিগণ, লয়ে শ্রীমধুসূদন,
সহস্রার কুঞ্জেতে গিয়ে হও যুগল মিলন,
তােমার প্রেমময়ী রাইকে ল'য়ে, কর আনন্দ আহ্লাদ।
৫। গুরুষ্টাদের এই বাণী, তুই শােনরে অশ্বিনী,
হরিকে আশীর্বাদ করা প্রলাপ কাহিনী।
ওরে তুচ্ছ মুখে উচ্চ কথা, ভজনে পড়িবি বাদ।
শ্ৰীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৪০ নং তালগড়খেমটা
হরিদাস খুঁজে পেলেন না ত্রিলােকে।
হরিদাস পরিচয় দেওয়া, মিছে লােকে ভুল বকে।
ভক্তের অধীন, নাম ভক্তাধীন, বলে তারে সব লােকে ;
ও সে ভক্তের বােঝা ব’য়ে ফেরে, বিচারে দাস হবে কে।
২। খুজে আগম নিগম, অনেক রকম, সাধন করে সাধকে ;
তারা মেরে মজা, পাপের বােঝা, উঠাইয়া দেয় হরিকে।
ধ্রুব প্রহলাদ, হ'য়ে আহলাদ, হবিলে পুলকে ;
তাদের বিপদের ভার, হরি আমার, ধারণ করে মস্তকে।
তান্তরঙ্গ কি বহিরঙ্গ, ভূলােকে কি গােলােকে
তারা সকলে হরিকে খাটায়, হরির খাটুনি খাটে কে ।
৫। অশ্বিনী কয় দিন বয়ে যায়, জানাব কি তােমাকে :
এবার জেনে শুনে যাহা কর, তােমা বই আর আছে কে।
১৪১ নং তালগড়খেটা
আমার এক চাকর আছে ভাই,
মনের ভাব জেনে সে কাৰ্য্য করে, হারে এমন নফর দেখি নাই।
ও তার গুণের কথা, বলব কোথা, গুণের বলিহারী যাই।
১৫৪
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
যখন যাহা বাঞ্ছা করি, পলকে না হতে দেরী,
অমনি দেয় সে, যােগাড় করি, হারে তার মান অভিমান নাই,
সে কোথায় থাকে, কেউ না দেখে, তারে খুঁজে নারে পাই ।
২। যখনে ঘুমে থাকি, সে তখনে দেয় গাে চৌকি,
আমার সুখেতে সুশী, হারে তার আত্ম সুখ আর নাই ।
আমার পিপাসার জল, ক্ষুধার অন্ন, মনে করিলে, অনি পাই।
৩। খাটুনির বিরাম নাই মােটে, সে পাটুনী হয়ে পারের ঘাটে,
পার করে দেয় নিষ্কপটে, হারে তার পারের মাশুল নাই।
আমার এই বাসনা রাত্রি দিনে, মরি ল'য়ে তার বালাই ।
সে আমার এমনি ভৃত্য, কে জানে তাহার মাহাত্ম্য
কিঞ্চিৎ জানিয়া তত্ত্ব, পাগল হয় ভােলানাথ গোঁসাই।
ও সে ত্যজে কাশী, শ্মশানবাসী, অঙ্গে মাখে চিতার ছাই।
কখন শ্যাম কখন শ্যামা, ত্রেতায় রাম অপার মহিমা,
রূপের তার নাই উপমা, ভারত পুরানে শুনতে পাই।
ও সে ওড়াকান্দি হরিচন্দ্র, নবদ্বীপ ছিল নিমাই।
৬। অশ্বিনী তুই ভান্ত মনে, তারে চাকর বলিস্ কোন পরাণে,
শঙ্কা কি নাই তাের মনে, চুপে থাক শ্রীগুরুর দোহাই।
সে যে কোটী ব্ৰহ্ম শিয়ােমণি রে, তার তুল্য দিতে নাই।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৪২ নং তালগড়খেমটা
হরি ভজব কি আর তােমায়।
ইচ্ছা হয় ও দয়াময়, ভজ’সে আজ আমায় ।
আমার বলতে যে ধন ছিল, সব দিয়াছি তােমায় ;
আমি তােমার, ধন তােমাকে দিয়ে, বসে আছি
তােমার আশায়।
ভক্তের অধীন, নাম ভক্তাধীন, বলে সবে তােমায়,
(দয়াময় ও দয়াময়)
তুমি ভক্তের বাঞ্ছা পূর্ণ কর,আমি ঠেকাবনা সে দায়।
এ দেহের ভার ঘুচাইতে, যদিচ দুঃখ হয় ;
তােমার দুঃখ আমায়, দিয়ে, তুমি সুখে থাক সদায়।
২।
ভক্তগণে ভক্তির গুণে, বেঁধে তােমায় ঘুরায় ;
আমি সে ধৰ্ম্মে দেই জলাঞ্জলি, যাতে তােমার শান্তি না হয়
৫। হরির্চাদের প্রেমসাগরে, ভাসি শেলকার প্রায়,
দয়াল মহানন্দের এই বাসনা, অশ্বিনী যেন ডুবে রয়।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৪৩ নং তাল-~~যৎ
চন্দ্র তুল্য অভিমনু পল রণে ।
গিয়ে দ্রোণ বুহিচক্ৰমধ্যে নিগম না জেনে।
১। মাতুল যাহার শ্রীকৃষ্ণধন, পিতা যাহার নর নারায়ণ,
সহায় থাকতে আত্মস্বজন মলে পরাণে ।
তত্ত নিগম না জানিলে, কি হয় গুরু সহায় বলে,
রক্ষা নাই তার কোন কালো, কাম দ্রোণের বাণে ।
তত্ত্ব নিগম জান আগে, জয় কর রিপু ছয় ছাগে,
কাম দ্রোণকে হঠাও আগে, সূক্ষ্ম সন্ধানে।
৪। তত্ত্ব নিগম যে জন জানে, টলে না কাম দ্রোনের বাণে,
যুগল মিলন নিশি দিনে, দেখে নয়নে।
৫। তারকাদ কয় কবে বিক্রম, শােন বলি কাশ্বিনী ধম.
শিক্ষা দিব তত্ত্ব নিগম, থাক চেতনে।
১৪১ নং তাল-যৎ
পঞ্চ আত্মা পাণ্ডবের সহায় হও শ্রীহরি।
দুৰ্ম্মতী দুষ্ট দুর্বোধন মম অরি।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৫৭
দেহ কুরুক্ষেত্র মাঝে, সেজে এলাে রণ সাজে,
সঙ্কট তরঙ্গ মাঝে ডুবে মরি।
ধৰ্ম্মত্মারূপ ধৰ্মত, সদায় তােমার অনুগত,
ডাকে অনুরাগ বৃকোদর কতগর্জন করি ।
সূক্ষ্ম রসরূপ বীর ধনঞ্জয়, ডাকে তােমায় দীন দয়াময়,
সারথীর বেশে হও উদয়, কৃপা করি ?
৪।
সম বসরাপ উকে নকুল, দম রস সহদেব আকুল,
এ বিপদে হও অনুকুল বিপদ হার।
৫। ভক্তি রসরূপ যাজ্ঞসেনী, ডাকে তােমায় চিন্তামনি,
ভক্তিবিহীন দীন অশ্বিনী এস মুরারী
১২৫ নং তাল ~~একতাল
আয়রে ও মন মত্ত করি।
আমরা দুজন হয়ে, সুজন গুরুর চরণ তত্ত্ব করি ।
১।
+
সংসার কানন, করিয়া দলন, যথ। গাছে গুরু করি অন্বেষণ,
পেলে দরশন জুড়বি জীবন, শেষে প্রমাদ নৃত্য করি ।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
২। সংসার কাননে আর কত দিন রবাে, যথা আছে গুরু
তথা মাের যাব,
চরণ ভজিব প্রেমেতে মজিব; নেচে ২ দেখব ঐ রূপ
নয়ন ভরি।
৩।
যদি গুরু তােরে করে আরােহণ, নিবে গুরু তােরে নিত্য
বৃন্দাবন,
যথা শান্তিনিকেতন, শান্তি অনুক্ষণ, সেথা রাস করে গুরু
রাসবিহারী।
মহারাসে গুরু হয়ে রাসেশ্বর, রাসেশ্বরী ল’য়ে করে
রাসবিহার,
মহারাস হেরিব, মহারাস করিব, তথা মেতে রব প্রেমরস
পান করি।
গুরু মহানন্দ লয়ে প্রেমরস, প্রেমসুধা দিয়ে, জগৎ
করলে বশ,
অশ্বিনী নীরস নিলিনা সে রস, তুই হলি না রসের
অধিকারী।
১৪৬ নং তাল-রাণেটী
হাট কর মন সাধন গঞ্জ মদনগঞ্জ যাস, না ভুলে।
তবে প্রাপ্ত হবি সিদ্ধিগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ যাব চলে ।
১। মদন গঞ্জের এমনি অবিচার (হারে) সে হাটে হয় কলি
রাজার ছয়জন তশীলদার,
তারা ফাকী দিয়ে রং দেখায়ে ধন কেড়ে লয় লাভে মূলে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
২। নারায়ণগঞ্জে গেলে আমার মন (হারে) তার বামেতে
লক্ষ্মীগঞ্জ পাবি দরশন,
কত যােগী ঋষি দিবানিশি কান্দে ঐ রূপ দেখবাে বলে ।
তার দক্ষিণে গোপালগঞ্জ রয় (হারে) তার বামেতে রাধাগঞ্জ
কিবা শােভা পায়,
যে জন কাটল মানুষ, প্রেমে বিহুস, সেই মােকামে
যায় গো চলে ।
৪। সেই মোকামে যেতে যদি চাও (রে) হরিনামের শাদ।
বাদাম টেনে এবার দাও,
হরির নামের গুণে ছাড়বে প্রেমবায়ু, চলবে
তরী
নামের বলে ।
৫। সেই দুই মোকাম হ'য়ে একত্তর (হারে) ওড়াকান্দি করছে
লীলা অতি চমৎকার,
গােসাই তারকাদের বাঞ্ছা এবার, অশ্বিনী তাের
নাই কপালে।
১৪৭ নং তাল-গড়খেমটা
সাধের এক ময়না পুষে ঘটলো যন্ত্রণা।
কত চাল, ছােলা তাের ঠোঙ্গায় দিলাম, পাখী তাের
ঘ্যা ঘ্যাজিলে বউ গেল না।
শ্ৰীশ্রীহরি সঙ্গীত
১।
সাধ করে পুষেছি ময়না, তােরে সাজবাে ব। ভক্তিরসে
গড়েছি গয়না,
পাখী শান্তি হরিচাদ বলে না, আমার ঐ খেদে আর প্রাণ
বাঁচে না।
২। শােন বলি ও ময়না পাখী, এবার হরি গুরু গানে আমায়
করে সুখী,
ও সেই কাল বিড়ালকে দিব ফাকী, তা হলে ভবপারের
ভয় রবে না ।
৩। কত না সমাদর করে, কত চিনি সন্দেশ মণ্ডা মিঠা
খাওয়ালাম তােরে,
ব’লবি হরিকথা বদন ভরে, তান্তরে ছিল আমার
এই বাসনা।
রেখে মাের হৃদি পিঞ্জিরায়, কত দিবানিশি হরিকথা
সুধালাম তােমায়,
পাখীর তা না হলো ভাবের উদয়, চিরদিন রইলাে
মনে এই বেদনা ।
৫। অশ্বিনী মননদুঃখে কয়, পাখী হরিগুরু বােল বলে না
করি কি উপায়,
ও সে বাহ্য কথা বলে সদায়, পাখী তাের জুলি ভাষা
ত্যাগ হল না।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
১৪৮ নং তাল--একতালা
শ্রীধাম ওড়াকান্দি চল যাই, এমন দিন আর হবে নারে ভাই।
এল দয়া করি, দয়াল হরি, হেরে তাপিত প্রাণ জুড়াই।
১। প্রভুর মনে অভিলাস, জগৎ ক’রুতে হরিদাস, হরিচন্দ্র
নামে এবার হয়েছে প্রকাশ,
এবার পুরা’তে ভক্তের অভিলাস, এল ক্ষীরােদের গোঁসাই।
২। প্রভু ব’ছে বারে বার, কার সত্য অঙ্গীকার,
হরিনামটি বিনে জীবের গতি নাই রে আর,
হরিনাম ভিন্ন গতি নাই অন্য, সাক্ষী তিন কড়ি গোঁসাই।
যত যােগী ঋষিগণ, তারা ছেড়ে যােগসাধন,
বৈষ্ণবের কুটি নাটি দিয়ে বিসর্জন ;
এবার প্রেমানন্দে করে কীৰ্ত্তন, হরিবলে ছাড়ে হাই ৷৷
অন্য তন্ত্র মন্ত্র ধ্যান, ছাড় ধর্ম কর্ম জ্ঞান,
প্রেমানন্দে কর হরির নামামৃত পান
হরিপ্রেম সাগরে উঠেছে বান, আনন্দের আর সীমা নাই।
৫। গোঁসাই মহানন্দ কয় যে জন ওড়াকান্দি যায়,
গয়াকাশী দিবানিশি তারে দেখতে চায়।
গোঁসাই তারকাদ কয়, দিন বয়ে যায়, অশ্বিনী
তাের ভাগ্যে নাই।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৪৯ নং তাল-গড়খেষ্টা
কৃপাসিন্ধু দীনবন্ধু হরি দয়,ময় ।
অনন্ত না পেয়ে অন্ত (রে) নাম রাখলেন নময় ।
১। রসবতী শ্রীমতী রমণ, প্রেম' রসেতে তনু মাখা বাঁক। দুনয়ন,
মুখে মৃদু হাসি, করে বাঁশী (রে), মোহনচূড়া হেলেছে বায় ।
ভকত চকোর মনােমোহন, ভক্ত বাঞ্ছা কল্পতরু চারুচন্দ্রানন,
বনমাল। গলে দোলে দেখলে তাপিত প্রাণ জুড়ায় ।
৩। ব্রহ্মার বাঞ্ছিত সেই ধন, কলির শেষে বঙ্গদেশে
করলেন বিতরণ,
পাষণ্ড করিলে দলন, জগৎ ভাসাও প্রেম বন্যায় ॥
৪। কলির জীবের বড় সৌভাগ্য, কলিযুগে প্রচারিল
হরিনাম যজ্ঞ,
তারা তুচ্ছ করি চতুৰ্বর্গ প্রেম রসেতে মেতে যায়।
৫। গুরুচঁাদ সেই প্রেমের ভাণ্ডারী, গোঁসাই মহানন্দ তারকচন্দ্র
বিতরণকারী,
এবার দিচ্ছে জীবের করে ধরি, অশ্বিনী পেল না তায়।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৫০ নং তালগড়খেমটা
গুরু কি ধন চিলি না মন মানব জনম যায় বিফলে।
ও তাের প্রেম অনুরাগ ভক্তি বিবেক, হলো না তা
হবার কালে ।
মন গুরুর সহযােগে, স্থলের ঘর বাঁধ আগে,
প্রবর্তে অনুরাগে ফেলাও মনের কপাট খুলে :
এবার যে ঘুচাবে মনের তধার, ঠিক কর তায় গুরু বলে :
গুরু ঠিক হলে পরে, গিয়ে সাধকের ঘরে,
এ দেহে সাধ তারে, সদয় হবে সাধন বলে ;
হ'লে গুরু সদয় প্রেমের উদয়, দেখবি রে তাের হৃদ কমলে।
গুরুমুখের পদ্মবাক্য, হৃদপদ্মে কর ঐক্য,
এ দেহ হবে সূক্ষ্ম, কাজ কিরে তাের মােক্ষ ফলে ;
গিয়ে সিন্ধের ঘরে, পাবি তারে, অনন্ত সাগরে মিলে।
৪। শ্রীগুরু অনন্তময়, অনন্ত তান্ত না পায়,
যাবি সে গুরুর কৃপায়, অনন্ত সাগরে চলে ;
ও তার কাম মহাকাম হবে বিরাম, দেখবি সে রূপ দ্বিদল দলে
বলে তারক রসনা, অশ্বিনী সে রস নে না,
যে রস, তাের উপাসনা, গুরু দিল কর্ণমূলে ;
ও তাের সাধনের ধন, মহানন্দ, প্রাণান্ত তুই যাস্না ভুলে
১৬৪
শ্রীহরি সঙ্গীত
১৫১ নং তাল-একতাল
মনা ভাই আয় না রে যাই তীর্থ ভ্রমণে।
ক’রুব মনের মত তীর্থ ভ্রমণ, তীর্থ রাজ আছে গুরুর চরণে।
১। তুমি আমি মিলিয়া দুজন, গয়া গঙ্গা তীর্থ কাশী করিব ভ্রমণ,
আছে গুরুর পদে শ্রীবৃন্দাবন, সব তীর্থ বিরাজ করে সেখানে।
২। শুনেছি শ্রীগুরুর মুখে, ওরে সাধুসঙ্গ মহাতীর্থ চল পুলকে,
তথায় তীর্থ আছে লাখে ২, প্রেম গঙ্গা ঢেউ খেলে রাত্র দিনে।
৩। দ্রুবময়ী গঙ্গা যাহার নাম, যেতে সাধুসঙ্গ মহাতীর্থ
বাঞ্ছা অবিরাম,
গেলে ভব ব্যাধি হবে আরাম, রুচি হবে হরির নাম সুধাপানে।
৪।
গুরু পদে আছে প্রেম তীর্থ, যাওয়া মাত্র এ দেহ তাের
হবে পবিত্র,
শেষে পান করিবি প্রেমামৃত, হরিচঁদ দুলবে হৃদয় আঙ্গিনে।
৫। ত্রিজগৎ করতে পবিত্র, আমার হরিচন্দ্র অবতীর্ণ
লয়ে প্রেমতীর্থ,
বলে মহানন্দ জেনে তত্ত্ব, অশ্বিনী ঝাপ দে প্রেম গঙ্গাস্নানে।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
১৫২ ন তাল-একতালা
প্রেম শূন্য জীর্ণ দেহে কিবা প্রয়োজন।
যার নাই ভক্তি রতন প্রেমাস্বাদন, অকালে কালের মুখে হয় পতন।
প্রেম ভক্তি শক্তি যার আছে, ও সে সাধনের ধন
মদনমােহন বন্দী তার কাছে।
যেমন ছায়া ফেরে কায়ার পিছে, সেই মত অনুগত হরিধন।
২। সাক্ষী তার ব্ৰজ রাখালগণ, যাদের ভক্তি গুণে উচ্ছিষ্ট ফল
খেলেন কৃষ্ণধন,
বালাখেলার ছলে সব রাখলে, শ্রীকৃষ্ণের স্কন্ধে করলেন
আরােহণ
৩। প্রেম ভক্তি এমনি বলবান, তুচ্ছ রজু আনি নন্দরাণী
বাঁধলেন ভগবান,
আছে নন্দ রাজা আরাক প্রমাণ, যার বঁধা মস্তকে
বয় নীলরতন ।
আরাক প্রমাণ আছে ভাগবতে, হরি ভক্তিগুণে সারথি
হয় অর্জুনের রথে,
ও সে অশ্বরঞ্জু ধরে হাতে, যুদ্ধেতে রথ চালায় মধুসূদন।
৫। আনন্দে মহানন্দ কয়, ও প্রেমভক্তি ধন বিকাইতেছে
শ্রীগুরুর মেলায়,
অশ্বিনী তুই দীন দুরাশয়, মন দিয়া কিলি না ভক্তি রতন।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত।
:৫৩ নং তাল--ঠুংরি
আমার নিদান দেখে ফেলে গেলিরে,
কোথায় লুকালি হরিচাদ পরাণ পুতলি।
কাঙ্গালের ধন দুখ নিবারণ, দুঃখীর পরাণ জুড়ালি,
ও তুই বে; বিচারে আমার শিরে দিলি ক্যান্ দুঃখের ডালি ।
ভক্তের অধীন নাম ভক্তাধীন, দয়াময় নাম ধরিলি,
অামি ভক্তিশূন্য দীন দৈন্য আমায় ক্যান্ নিদয় হলি।
৩। দীনবন্ধু ভবসিন্ধু তরাতে নাবিক হলি,
আমার নাইকো কড়ি, দীন ভিখারী কুলে বসে কান্দালি।
৪। কাউকে রাজ। কাউকে প্রজা কাউকে কাঙ্গাল সাজালি,
ও কারুর বুকের মাণিক কেড়ে নিয়ে দুঃখ সাগরে ভাসালি।
ডেকে বলে তারকচন্দ্র অশ্বিনী তারে বলি,
এমন প্রেমের বাজার ভেঙ্গে গেল, কার আশায় বসে রলি।
.৫৪ নং তাল-একতালা
আর কত কলাবি আমায় ওহে গুরুধন।
একবার বিনােদ বেশে, দাড়াও এসে দেখে লই জন্মের মতন।
শ্রীশ্রীহরি সঙ্গীত
: তুমি আমার সাধনের ধন, দুখ পাশা নয়নতারা,
অমূল্য রতন,
আমার আর কোন ধন নাই দরদী, পূজি কেবল ঐ চরণ
আমার মনে এই আকিঞ্চন, হৃদ কমলে বসাইয়ে
পূজিব চরণ,
আমার অনুরাগ তুলসী দিব, দিব শ্রদ্ধা রস চন্দন ।
৩। এই ভবে এলেম কতবার, কতবার হইল গত ভজ লেম
একবার,
আমার এইবার যদি যায় বিফলে, ভবে বেচে আর কি প্রয়ােজন।
তোমায় যদি পেয়েছি এবার, প্রান্তে ছাড়বো না
তােমায় প্রতিজ্ঞা আমার।
গুরু তুমি যদি ছাড় আমায়, আমি ছাড়বো না কখন।
কেন্দে ২ বলে অশ্বিনী, কাতরে করুণা কর হে চিন্তামনি,
তােমার দীন দয়াময় নামটী শুনি, ঐ ভরসায় নিলাম স্মরণ।
১৫৫ নং তাল--একতা
তোমাকে বাসিব ভাল এই ভিক্ষা চাই।
আমায় বাস বা না বাস ভাল, তাতে কোন দুঃখ নাই ।
হরি সঙ্গীত।
এই ভাবনা ভাবি রাত্র দিন, তুমি হইও গহীন গঙ্গা
আমি হব মীন,
তােমার রূপ সাগরে ডুবে রব, জাগিব বাসনা নাই।
২। তুমি গুরু হইও শালগ্রাম, তুলসী হইয়া পদে
থাকবো গুণধাম,
তােমার যুগল চরণ বক্ষে রেখে, যেন আমি মেঙ্গে খাই।
কৰ্ম্ম পাকে যদি হই ফনী, তুমি গুরু হইও আমার
মস্তকের মণি,
তোমায় দিবানিশি রাখবে শিরে, ভবে তোমার মত কেহ নাই।
৪। তুমি আমার পরাণ পুতলি, হৃদয়ে রাখিয়া মনের
ঘুচাব কালি,
তােমার শ্রীপাদপদ্মে হয়ে অলি, যেন প্রেম মধু খাই।
করুণস্বরে অশ্বিনী বলে, দীন হীন কাঙ্গাল বলে
ফেলনা ঠেলে,
গুরু তুমি আমায় উপেক্ষিলে, ভবে দিব আমি কার দোহাই।
সমাপ্ত।
শুদ্ধি পত্র পৃষ্ট। পংক্তি ভজ প্রভু ১ অশুদ্ধ ভজ হরিচন্দ্র জয় বৈষ্ণবদাস প্রেমেরভিনয় প্রেমাভিনয় ৮ হরিচন্দ্র জয় শ্রীবৈষ্ণবদাস হেমের ভিয়ন প্রেম ভিয়ন ১০ । বেচ কেনা বেচা কেনা করবে নাম কররে নাম ২? ১ তাররচন্দ্র তারকচদ ২৭ এমর দুর্লভ এমনদুল্লভ যার পরাণ কঁাদে যার জন্যে পরাণ কাদে ৪৯ রয় গােকুলে বয় গোকুলে হরিশ্চন্দ্র আমার এলহরিশ্চন্দ্র আনার ৭০ আমার সখে পল আমার খসে পল ৭৮ স্বরূপের রপ স্বরাপের রূপ অরঙ্গ লরে বয়ন মহাহারে লয়ে বয়ান মহাযজ্ঞের ১৬ ও তার কাম ও তাের কাম কত কন্দাবি কত কান্দাবি
।
৮৭।
ম। মই। পর জাপাম ৬ান্দির ভক্ত সম্প্রদায়কে
জানান জাইতেছে যে, এ অশ্বিনীকুমাৰ গোস্বামী মহাত্মা গান
লিখে| সা ১৪ সালে ১ব। আষাঢ় সমাপনৰ মাকছু
সব কার্গো নিজ হইয়াছেন। গোসাইল কল গান ন
* “য়াম •াহ। প্রথম স র ম হয় নাই। বর্তমান
সময় মহাপg শাহৰি চাদের গা। অসাব পাসাপ। ৮।
কৰিম টলা গান লি এই সৰণ লিপিবদ্ধ করা হই।
রিন নয়।
।।
পুকে পানি।
লি শ্ৰাত্র শুন্যকুমাৰ ঠাকুন, পণী ও গ্রন্থাসল।
শহরিচাদের সদ্বান স গ্র'এব শ্রী শ্রীহলি স’**
তব শ। উপন্যাস .ম, “য় খণ্ড : শী৷ শাহাব সঙ্গৰ খি-
স্থান শ্রী শযুক্ত সাৰ পৰিপসন্ন ঠাকুৰ, গ। ৬াকান্দি
(ফ পুৰ)
শযুক্ত বব হবিব সকাল, সা’ দুর্গাপুর, পো: ওয়াপুৰ, (ফরিদপুর)
বিপদ বা, সা কুষপুৰ পো সাহা,
কুঞ্জবিহাৰা মুলা, সা কান্দি, পে’ এড়াকান্দি
বনানন্দ ৰায় এ গেন্দ্রনাথ বা, সাং আমছিয়া
পোঃ দীদলিঃ', (ফরিদপুর)
পদক বিশ্বাস ও সুপারচন্দ্র বিশ্বাস, স। আপাছা
| ভঙাৰ হাট দোকান, (ফশিদপুর)
বাম দ বিশ্বাস, সা গঙ্গ6ণ, পাে মাটি বিশাল
নগেনাথ 'স, সা” শাখা, পোজেরগাতী,
কণিপুর। ।
গােপালগঞ্জ, সাধনা সে মুদ্রিত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.