Belgaria Sudha Smriti Pathagar
Dhabalgiri O Nakhatralok Ed.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ধবলগিরি-৩
নক্ষত্র লােক
(640wer
No text on this page.
পরমহংস শ্রীমৎ স্বামী প্রাণকৃষ্ণ তীর্থ প্রণীত
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
শ্রীসত্যম্বরূপ ব্রহ্মচারী দ্বারা প্রকাশিত।
প্রথম সংস্করণ।
ইংরাজী ১৯২৬ সাল।
কাশীধাম, রামকৃষ্ণ প্রিন্টিং ওয়ার্কস হইতে
শ্ৰীভূপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক মুদ্রিত।
All rights reserved.
মূল্য ১• পাচসিক।
০ ০ ০
০৩
পরমহংস প্রাণকৃষ্ণ তীর্থ কৃত অন্যান্য গ্রন্থ
১। আর্যজাতিবর্ণাশ্রমবিবেক
• আনা
২। প্রেতদর্শন
ঐ হিন্দীসংস্করণ
০
৫ ০ ০
{
•••
|
৩। ভগবংপ্রেম
৫০০
০ ০ ০
৪। অৰ্যসন্ধ্যাপতি
১০
প্রাপ্তিস্থান
গুরুবাক্যকাৰ্যালয়।
পােঃ দাসের জঙ্গল, জিলা ফরিদপুর।
: বড় বড় পুস্তফলিয়েও পাওয়া যায়।
আভাষ। আমি মীডিয় দ্বারা প্রেততত্ত্বের আলােচনা করিতাম এবং মডিয়কে পাহাড়ে পৰ্বতে পাঠাইয়া যােগীদিগের অনুসন্ধানও করিতাম। দৈবযােগে ধবলগিরির একজন যােগীর সঙ্গে মীডিয়মের দেখা হয়। সেই যােগী আমাদের প্রতি কৃপা পরবশ হইয়া মীডিমকে ধবলগিরির নানা স্থানের দৃশ্য দেখাইতেন এবং ধবলগিরির অন্যান্য যােগীদিগের সঙ্গে মীডিয়কে পরিচয় করাইয়া দিতেন। যােগীরা মডিয়কে নানাপ্রকার বিভূতি দেখাইতেন। এবং মডিয়কে নক্ষতলােকে লইয়া গিয়া নক্ষতলােকের দৃশ্য দেখাইতেন ও নক্ষত্রলােকের যােগী দিগের সঙ্গে পরিচয় করাইয়া দিতেন। ধবলগিরির যােগীদিগের বারা ধ্রুবলােক ও চন্দ্রলোকের যােগদিগকে আমাদের পৃথিবীতে আনাইয়া আমাদের দেশের সাধারণ লোেককে দেখাইব বলিয়া চেষ্টা করিতে ছিলাম। এই চেষ্টার প্রারম্ভ হইতেই আমাদের কাৰ্য্যে বিন্ন পড়িতে লাগিল। বারংবার বিঘ্ন পড়িতে থাকায় আমাদের কার্যসিদ্ধির অসম্ভাবনা দেখিয়া ঘােগারা অলৌকিক উপায়ে আমার মীডিয় বালকটাকে ধবলগিরিতে লইয়া গেলেন। মীডিম্ব বালকটকে লইয়া যাইতেই আমার সমস্ত উদ্যম ও চেষ্টার ইতি হইল। যােগীরা প্রত্যহ মীডিমকে যাহা দেখাইতেন, আমি তাহা নােট বহিতে লিখিয়া রাখিতাম। ১৪ চৌবৎসর পূর্বে মীডিয়ম বা ধবলগিরি ও নত্রলােকের যে সমস্ত বিষয় অনুভব করিয়া নােট বহিতে লিখিয়া রাখিয়া , ছিলাম, আর তাহাই প্রকৃত ভাষায় লিখিয়া প্রকাশ করিলাম।
স, মডিয়প বিজ্ঞান-নেত্র দ্বারা যাহা কিছু দেখিয়াছি, কর্ণ দ্বারা যাহা কিছু শুনিয়াছি, বাদ্বারা যাহা কিছু বলিয়াছি তাহাই এই গ্রন্থে বর্ণনা করা হইয়াছে, অতিরঞ্জিত করিয়া কিছুই বর্ণনা করা হয় নাই। এ হেতু এই গ্রন্থের কোন কোন বিষয়ে অসম্পূর্ণ ভাব থাকিয়া যাওয়ায় আরও জানিবার অপেক্ষা রহিয়া গিয়াছে। যথার্থ নিয়ে ব্যাখ্যা করিতে গিয়া অপেক্ষাদোষের নিবৃত্তি করিতে পারিলাম না। --- গ্রন্থকার।
সূচীপত্র।
পৃষ্ঠা
১১
বিষয়
১। ধবলগিরি
২। ধবলগিরির রাস্তা
৩। ধবলগিরি ও কৈলাস পর্বতে যােগী ও দেবতার বা
৪। যােগীর শক্তি
৫। যােগীদিগের গমনাগমন
৬। মাের্গীদিগের আশ্রম
৭। যেগীদিগের আহার
৪
৫
৭
৮। দেবতা
৯। দেবতার শক্তি
১০। দেবতা ও যােগীর মধ্যে প্রভেদ
১১। মডিয়
১২। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহ
১৩। মডিয়ম্ দ্বারা কথােপকথন
১৪। মডিয়মুরূপযন্ত্র
১৫। সূপা ও
১৬। মহাত্মা রজনীকুমার
১৭। ধবলগিরিতে দুইটী জ্যোতীৰ্ম্ময় মুক্তি
১৮। ধবলগিরিতে শিবের মূর্তি
১৯। মডিয়কে ধবলগিরির বস্তু দেখাইতে দেবতার আদেশ
২০। ধবলগিতিতে সাপের ন্যায় একটা বস্তু
১৩
( 70 ) পৃষ্ঠা ১৪ ১৮ বিষয় ১১। ইংরেজ পরিব্রাজকের ধবলগিরি হইতে বস্তু অনিবার চেষ্টা ২২। বাঙ্গালী মহাত্মা ২৩। ভারতে ইংরেজ রাজত্ব ২৪। ধবলগিরিতে বড় বড় পাখী ২৫। ধবলগিরিতে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ২৬। হলগরিতে প্রাচীনকালের লােক ২৭। ধবলগিরিতে দুর্গামূর্তি ২৮। ধবলগিরিতে রামলক্ষ্মণের মূর্তি ২৯। যােগীর শক্তিবলে মীডিয়মের ফল খাওয়া ৩০। হিন্দুস্থানী মহাত্মা ৩১। ভাতে হিন্দুর রাজত্ব ৩২। ধবলগিরিতে পক্ষিজাতীয় পৈরী ৩৩। সমস্ত পৃথিবীতে একধৰ্ম্ম ৩৪। ধবলগিরিতে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মূর্তি ৩৫। যােগীর শরীর পাথরে পরিণত ৩৮। যােগীর সূক্ষ্মদেহে অবস্থান ৩৭। দুইজন যােগীর শরীর শ্বেতপাথরে পরিণত ৩৮। একজন যােগীর শরীর কানপাথরে পরিণত ৩৯। ধবলগিরিতে জগদ্ধাত্ৰীমূর্তি ৪। দ্বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা ৪১। দ্বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মার বিভূতি প্রদর্শন ৪২। ধবলগিরিতে চন্দ্রলােক দেখিবার যন্ত্র ৪৩। যন্ত্র মধ্যে চন্দ্রের পৃথিবীর দৃশ্য २३ ২৪ ২৮ ৩২ ৩৭ ( 0 ) বিষয় পৃষ্ঠা 09 ৭ ৪০ ৪০ an ৪১ 82 82 ৪৪ ৪৪ 3 ৪৪। মহাত্মা রজনীকুমার কর্তৃক চন্দ্রলােকের বিবরণ ৪৫। চন্দ্রলােকে জাহাজ ৪৬। চন্দ্রলোক দেখিবার যন্ত্রে দ্বিতীয় দিবস ৪৭। চন্দ্রলােকে আমাদের পৃথিবী দেখিবার যন্ত্র ৪৮। সূর্য্যলােকে মানুষ ৪৯। ঝড়ের কপালে মহাত্মা রজনী কুমারের নাম ৫। ধবলগিরিতে গণেশমূর্তি ৫১। একসঙ্গে ২৬ জন যােগী ৫২। ধবলগিরিতে অসুরের মূর্তি ৫৩। শুৎমধ্যে যোগীর বাস ৫৪। আকাশ পথে কাঠের গাড়ি ৫৫। পুকুরের মধ্যে হীরকখণ্ড ৫৬। দ্বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা কর্তৃক চন্দ্রলােকের বিবরণ ৫৭। চন্দ্রলােক দেখিবার যন্ত্রে তৃতীয় দিবস ৫৮। চন্দ্রলােকবাসীর আমাদের পৃথিবীতে আসিবার চেষ্টা ৫৯। মীডিয়কে লইয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা নক্ষত্রলােকে গমন ৬। নক্ষত্রের পৃথিবীতে বায়ুভুজী জন্তু ৬১। নক্ষলােকে তিনটী গোলাকার উজ্জ্বল বস্তু ৬২। ভারতে জলপ্লাবন ও ইংরেজ রাজত্বের অবসান ৬৩। স্ত্রীমহাত্মা ৬৪। যােগেশ্বর ৬৫। মীডিয়মের জন্য যােগেশ্বরের ফলের গাছ সৃষ্টির সংকল্প ডু দেবতা দর্শন ৪৫ ৪৭ ৫৪
(।)
ग
বিষয়
৬৭। স্ত্রী মহাত্মার পূজা
৬৮। দ্বিতীয় স্ত্রীমহাত্মা
৬৯। মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের
শূন্যপথে গমন
৭০। শূন্যপথ হইতে আমাদের পৃথিবীর দৃশ্য
৭১। আমাদের পৃথিবীতে সূর্যের কিরণ
৭২। যােগেশ্বরের আশ্রমে মডিয়মের জন্য ফলের গাছ
৭৩। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কর্তৃক আমাদের কার্যে বিঙ্গ
৭৪। যােগেশ্বরের ক্রোধ
৭৫। সূর্যের তিনটা নল
৭৬। মহাত্মা রজনীকুমারের গল্পকথন
৭৭। মীডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের ধ্রুবলােকে গমন
৭৮। ধ্রুবলােকের আলামণ্ডলের নিকট হইতে বললােকের
৬৮
পৃথিবীর দৃশ্য
৭৫
৭।
৭৯। আমাদের পৃথিবী হইতে বললকের দূরত্ব
৮। ধ্রুবলােকের মানুষ ও ঘরবাড়ী
৮১। ধ্রুবলােকের ভাষা ও ধর্ম
৮২। ধ্রুবলােকে আমাদের পৃথিবী দেখিবার মন্ত্র
৮৩। ধ্রুবলােকের যন্ত্রদিয়া গগের ও মডিয়মের আমাদের
পৃথিবী দর্শন
। যােগেশ্বরের থাকিবার স্থান
৮। মীডিয়মের দেহে পোকায় কাটা
বলো দ্বিতীয় দিবস
• ) পৃষ্ঠা ১২ ৮২ ৮৪ ৫ বিষয় ৮৭। এবােকের যোগী-নিবাস-পর্বত ৮৮।বলােকের গরু ৮। বলােকে জাহাজ ১০। ধ্রুবলােকের আইন ১। বলােকের প্রধান খাদ্য ১২। ধ্রুবলােকের যােগী ১৩। ধ্রুবলােকের যোগীর আমাদের পৃথিবীতে আসিবার ইচ্ছা ৯৪। ধবলগিরিতে সরােবর ৯৫। মীডিয়কে গাছের আশীৰ্বাদ জ্ঞাপন ৬। পাহাড়ের মধ্যে দেবতাদের প্রবেশ ৯৭। বললকে তৃতীয় দিবস ৮ ৯৮। ধ্রুবলােকের যােগীর মীডিয়কে ধ্রুবলােকের দৃশ্য শন ৯৯। তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা ১০। তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা কর্তৃক শনিগ্রহের বিবরণ ১১। শনিগ্রহে যােগী ১২। তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা কর্তৃক শনিগ্রহের বিবরণ (২য় দিবস) ৯২ ১৩। শনিগ্রহের ললাকের চালচলন ১৪। ধবলগিরির যােগীর শনিগ্রহের লােককে যােগশিক্ষা নেওয়া ১৫। তৃতীয় শ্রীমহাত্মা ১৬। মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয়কে লইয়া অ বাঙ্গালী মহাত্মার শনিগ্রহে গমন ১৭। শনিগ্রহের আলােমণ্ডল ও পৃথিবীর বৃ ১০। শনিগ্রহের মানুষ গরু ও ঘরবাড়ী ৯৮ ( lo'o ) পৃষ্ঠা ১৮ ১৮ ১৯ ১২ মিয় ১৯। বলগিরি হইতে কয়েকজন যেগর কৈলাসপৰ্বতে গমন লেকে চতু দিবস ১১১। ধ্রুবকের পৃথিবীর দৃশ্য ১১২। ঐ লোকের যোগি-নিবা "-পৰ্বতে মন্দির ১১৩। বলোকের যে পীর বিভূতি প্রদর্শন ১১৮। মায়ামন্দির ১১৫। মীয়িমের পথে মায়ামানুষ যোর্গী দর্শন করিতে দুইজন প্রেতাত্মার ধবলগিরি যাইতে চেষ্টা ১১৭। বলগিরিতে গিয়া দুইজন প্রেতাত্মার যােগী দর্শন ১১৮। চতুর্থ বাঙ্গালী মহাত্মা ১১৯। নক্ষত্রলোকে একটী অন্ধকার স্থান ১২০। মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিমকে লইয়া যােগেশ্বরের চন্দ্রলােকে গমন ১২১। চন্দ্রলােকের ঘরবাড়ী ১২২। চন্দ্রলােকের পাহাড় ১২৩। চন্দ্রলােকের উপাসনা মন্দির ১২৪। চন্দ্রলােকের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা ১২৫। চলােকে ২য় দিবস ১২৬। চন্দ্রলােকের ফুলের বাগান ১২৭। চন্দ্রলােকের বাজার ১২৮। চন্দ্রলােকের গাড়ি ১২৯। চন্দ্রলােকে কালপাথরের মূর্তি ১০৬ ১০৬ ১৭ ( 10 ) বিষয় পৃষ্ঠা ১৩০। ৩০। চন্দ্রলোকের পুকুর ৪. চন্দ্রলোকের মাঠ ১৩২। মামিকে ২য় স্ত্রীসহায়ার শক্তিদান ১৩৩। চন্দ্রলোকে ৩য় দিন ১৩৪। আলােমণ্ডপের দৃশ্য ১৩৫। চন্দ্রলোকের যােগি-নিবাস-পৰ্ব্বত ১৬। চন্দ্রলােকের যােগী ১৩৭। চন্দ্রলোক হইতে আমাদের পৃথিবীর দৃশ্য ১৩৮। চন্দ্রলোকের যােগীকে আমাদের পৃথিবীতে অনিবার প্রস্তাব ১১৫ ১৩৯। চন্দ্রলোকের প্রজাপতি ও পাখী ১৪। ধবলগিরিতে শ্বেতহস্তী ১৪১। মহাত্মা রজনী কুমার কর্তৃক মডিয়মের সূক্ষ্মদেহ কোটায় আবদ্ধ ১১৭ চন্দ্রলােকে ৪র্থ দিবস ১৪৩। চন্দ্রলােকে শ্বেতপাথরের মূর্তি ১৪৪। যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয়কে দেখিতে চন্দ্রলােকের শতাধিক যােগীর আগমন ১২০ ১৪৫। চন্দ্রলোকের সাধারণ লােককে যােগেশ্বরের দেখা দিবার কথা ১২১ চন্দ্রলোকের প্রাচীন যােগী .১৪৭। চন্দ্রলোকের যােগীর আমাদের পৃথিবীর সাধারণ লােককে দেখা দিবার কথা ১৪২। ১৪৬। ১২১ ১২২ ১৪৮। চন্দ্রলোকের সহর ১৪৯। চন্দ্রশোকে লোহার পুল ১৫। চন্দ্রলােকের স্ত্রী পুরুষের পােষাক
( 1 )
১৩,
বিষয়
का
১৫১। চন্দ্রলােকের বাজারে টুপ, চিরুণ, বাদ্যযন্ত্র প্রভৃতির দোকান ১২৪
১৫। চন্দ্রলােকের গরু বাছুর
১৫৩। ধবলগিরিতে সাজান মন্দির
১৫৪। চন্দ্রলােক সম্বন্ধে মহাত্মা রজনীকুমায়ের অভিমত
১৫৫। মডিয়মের ভীতি
১২৮
১৫৬। আমার জ্বর ও কার্য্যে বিন
১৫৭। চন্দ্রলােকে মে দিবস
১৫৮। চন্দ্রলােকের যােগীর মায়ামূৰ্ত্তি প্রদর্শন
১৫৯। চলােকে ষ্ঠ দিবস
১৬। মডিয়মের ধবলগিরি যাইতে বিলম্ব ও কাব্যে বির
১৬)। চন্দ্রলােকে ৭ম দিবস
১২। চলােকের বােগীর অভাব
১৬৩। চলােকে ৮ম দিবস
১৩৪
১৬৪। চন্দ্রলোকের যােগীর ৰোগেশ্বরকে খুলশীর লইয়া চলােকে
যাইতে আদেশ
১৬। চন্দ্রলােকে ১ম দিবস
১৬৬। যােগের ও মহা মনীকুমারের শরীর লইয়া
চন্দ্রলােকে গমন
১৬৭। লােগে, মহাত্মা গজনীকুমার ও মীষ্টিয়কে দেখিতে চন্দ্রলােকের
সহস্রাধিক যােগীর আগমন
১৬৮। মীডিয় বাৰকটীর অন্তর্ধান ও আমার বিশ্ব
১৫। উপসংহার
১৩৪
stelsete
No text on this page.
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ধবলগিরি হিমালয়পর্বতের অংশবিশেষ। ধবলগিরিতে অনেকগুলি পৰ্বতস্তর আছে; এই পৰ্বতস্তরগুলি সৰ্ব্বদা তুষারাবৃত থাকায় অতি শুভ্র দেখায় বলিয়া পৰ্বততরগুলিকে ধবলগিরি বলা ধবলগিরি। হয়। হিমালয়ের স্বনামখ্যাত কাঞ্চনজঙ্ঘা ও এভারেষ্ট -নামা শৃঙ্গদ্বয় এই ধবলগিরি পর্বতেরই শৃঙ্গবিশেষ। কাঞ্চনজ্য সমুদ্র- গর্ভ হইতে ২৮১৪৬ ফিট ও এভারেষ্ট ২৯০০০ ফিট উচ্চ। স্যর জর্জ এভারেষ্ট নামক একজন ইংরেজ এভারেষ্ট শৃঙ্গটীর উচ্চতা নিরুপণ করেন বলিয়া তাহার নামানুসারেই এই শৃঙ্গটীর নাম মাউন্ট এভারেষ্ট হইয়াছে। মাউন্ট এভারেষ্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত বলিয়া বিখ্যাত। ধবলগিরি নেপাল ও সিকিমের উত্তরে এবং তিব্বতের দক্ষিণে অবস্থিত। ধবলগিরি দার্জিলিং হইতে সাড়ে তিন শত মাইল দূরে। দার্জিলিং হইতে ধবলগিরি ধবলগিরির যাইবার রাস্তা আছে। রাস্তাটী দার্জিলিং হইতে সিকিম ও নেপাল রাজ্যের মধ্যবর্তী চিয়াভঞ্জন- পর্বতের উপর দিয়া ধবলগিরি গিয়াছে। দার্জিলিং হইতে সিকিম রাজ্যের মধ্য দিয়া চিয়াভঞ্জনপর্বত পর্যন্ত ব্রিটিশ গভর্ণমেন্টের রাস্তা আছে; চিয়াভঞ্জন হইতে পা-পথ (লােকের চলাচল দ্বারা যে পথ হয়) গিয়াছে। ধবলগিরির পশ্চিমদিকে কৈলাসপৰ্বত অবস্থিত। কৈলাস- পর্বত ও ধবলগিরির মাঝখানে চন্দ্রলােক দেখিবার একটা অদ্ভুত যন্ত্র আছে। ধবলগিরি ও কৈলাসপৰ্বতে বড় বড় মুরঙ্গ আছে।
২ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। কোন কোন সুরজ শত মাইলেরও অধিক লম্বা হইবে। ধবলগির ও কৈলাসপৰ্বত কোনও রাজার রাজ্যের অর্গত নয়। সেখানে সাধারণ লােকের অধিকার নাই। ধবলগিরি, ও ধবলগিরি ও কৈলাসপৰ্বতে কৈলাসপৰ্বতে যােগী ও দেবতারা বাস করেন। যোগী ও দেবতার যােগীরা বাস করেন বলিয়া ধবলগিরি ও কৈলাস- পর্বতে কোনরূপ হিংসা নাই; তথায় বলে হরিণে এক সঙ্গে খেলা করিয়া থাকে। নির্বিকল্পসমাধি * হইতে যােগীদিগের, অণিমা মহিমা লঘিমা- পরিমা প্রাপ্তি কাম্য ঈশিত্ব ও বশিত্ব এই আট প্রকার সিদ্ধি বা ঐশ্বৰ্য্য লাভ হইয়া থাকে। যাহার যত অধিক যোগীর শক্তি। সময় নির্বিকল্পসমাধি হয়, তঁাহার ততােধিক শক্তি বৃদ্ধি হয়। নিৰ্ব্বিকল্পসমাধিমগ্ন যােগীর শসহস্র বৎসরও ক্ষণার্ধ বলিয়া বােধ হয়। যােগীরা নির্বিকল্পসমাধিতে থাকিয়াও অপরের আগমনাদি বার্তা জানিতে পারেন। যােগীরা সঙ্কল্পবলে যে কোনও বস্তু রচনা করিতে পারেন। যােগীদিগের সঙ্কল্প দুই প্রকার ; এক, দৃঢ়, অপর অদৃঢ়। দৃঢ়সঙ্কল্প সত্যসঙ্কল্প নামে ও অদৃঢ়সঙ্কল্প মায়া- সঙ্কল্প নামে কথিত হয়। যােগীদিগের সত্যসঙ্কল্প-রচিত বস্তুগুলি চিরস্থায়ী হয়, আর মায়াসঙ্কল্প বা যােগমায়া-রচিত বস্তুগুলি অচিরাৎ নষ্ট হইয়া যায়। আকাশাদি (আকাশ বায়ু অগ্নি জল ও পৃথিবী) পঞ্চভূত যােগীদিগের আজ্ঞাকারী হয়। ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় * সুষুম্না নাড়ীর মধ্য দিয়া সূক্ষ্মদেহের ব্রহ্মতালুতে গিয়া ব্ৰহ্মস্বরূপে লয়ের নাম নির্বিকল্পসাধি। ও অণিমা মহিমা চৈব গরিমা লঘিমা তথা। প্রাপ্তিঃ কাম্যমীশিত্বং বশিত্বং চাষ্টসিদ্ধয়।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
ভি, যােগীরা যােগসিদ্ধিবলে না করিতে পারেন, সংসারে এমন
কোনও কাৰ্য্য নাই। বিষয়সুখের তুলনায় অণিমাদি সিদ্ধির সুখ
শ্রেষ্ঠ হইলেও সমাধিমুখের তুলনায় অতীব তুচ্ছ। এইজই,
যােগরাে অণিমাদির সুখে লিপ্ত হন না, সর্বদাই সমাধিতে মগ্ন
থাকেন। যােগীরা ইচ্ছা করিলে কল্প পৰ্যন্ত শরীর রাখিতে
পারেন। যােগীরা ইচ্ছা করিয়া শরীর ত্যাগ না করিলে, তাহাদের
শরীর পতন হয় না । যােগীরা ইচ্ছা করিয়া দেখা না দিলে কেহই
তঁাহাদিগকে দেখিতে পায় না। যােগীরা পায়ে
ঘাগীদিগের
হাটিয়া কোথাও যান না, কোনও স্থানে যাইতে
গমনাগমন।
হইলে মার্গে যাইয়া থাকেন। একজন যােগ
আরও দুইজনকে সঙ্গে লইয়া শূন্যমার্গে গমনাগমন করিতে
পারেন। যােগীর সূক্ষ্মদেহ লইয়া গ্রহনক্ষত্রলােকে যাতায়াত করিতে
পারেন। এক নক্ষত্র হইতে অপর নক্ষত্রে যাইবার কালে যােগীদিগের
উল্কাবেগের ন্যায় দ্রুতবেগে গমন হইয়া থাকে। যােগর সূক্ষ্মদেহে
মিনিটের মধ্যে পাঁচ কোটি মাইলেরও অধিক যাইতে পারেন।
বহুদিনের যােগীরা সুলদেহ লইয়াও নক্ষত্রলােকে যাইতে পারেন।
ধবলগিরিতে এমন অনেক প্রাচীন যােগী আছেন, যাঁহারা সুলদেহ
লইয়া চন্দ্র-বাদি লােকে গমনাগমন করিয়া থাকেন।
লােকালয়ের আশ্রমের ব্যয় ধবলগিরির যােগীদিগের আলম
নয়, যােগীরা যে স্থানে থাকেন সেই স্থানই তাঁহাদের আশ্রম।
যােগীরা আশ্রমের নীচে পাথরের মধ্যে থাকেন;
যোগদিগের
কোন কোনও যােগী আশ্রমের উপরেও থাকেন।
আশ্রম।
যােগীরা পাথরের মধ্য হইতে যখন আমের
উপরে উঠেন, তখন পাথর ফাটিয়া ফাক হইয়া যায়, আবার ফা
বুজিয়া গিয়া পাথরখানা যেরূপ সেইরূপই হইয়া থাকে। পৃথিবীর
৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। উপর দিয়া গমনাগমনের ন্যায় যােগীরা পাথরের মধ্য দিয়া অনায়াসে গমনাগমন করিতে পারেন। যােগীরা কেহই কাহারও সঙ্গে বাস করেন না, একাকী বাস করিয়া থাকেন। ধবলগিরির সকল যােগীর আশ্রমেই একটা করিয়া ফলের গাছ আছে; কোন কোনও সেগীর আশ্রমে দুই তিনটাও আছে। যােগীরা সকলেই যােগীদিগের আপন আপন গাছের ফল খাইয়া থাকেন; কেহই আহার। অপর কাহারও গাছের ফল খান না। ধবলগিরিতে এমন ফলের গাছ আছে যে, তাহার একটা ফল খাইলে ছয় মাসের মধ্যে আর ক্ষুধা তৃষ্ণা লাগে না। যােগীদিগের সমাধিভঙ্গ হইলেই ফল খাইতে হয়। সমাধিকালে মন ও প্রাণ লয় হয় বলিয়া মন ও প্রাণের ধর্ম-ক্ষুৎপিপাসার অভাব হইয়া থাকে। অল্পদিনের যােগীরই ফল পাইতে হয়, থাইতে হয়, বহুদিনের যােগীর কিছুই খাইতে হয় না। দেবতারাও স্ত্রীপুরুষের মৈথুন হইতে জন্মিয়া থাকেন। দেবতাদের আকৃতি মানুষের মত ; তাহাদের রূপ অতি সুন্দর। দেবতা সংস্কৃতভাষায় কথাবার্তা বলিয়া থাকেন। দেবতার দেবতা। পাথরের নীচে সুরঙ্গের মধ্যে বাস করিয়া থাকেন। মানুষের ন্যায় দেবতারাও স্বজনবর্গের সহিত বাস করেন। দেবতা- দেরও জাগ্রৎ, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি হইয়া থাকে। দেবতাদের শরীরে আকাশের অংশ অধিক বলিয়া দেবতাদের জরা ব্যাধি হয় না। দেবতাদের শরীর কল্প পর্যন্ত স্থায়ী। তাঁহাৱা ইচ্ছা করিলে ও কল্পক্ষয়ের পূৰ্বে শরীর ত্যাগ করিতে পারেন না। দেবতারা দেবতার শক্তি। শু-পথে গমনাগমন করিয়া থাকেন। দেবতাদেরও অণিমাদি সিদ্ধি আছে। যােগীদিগের ন্যায় দেবতাদের অণিমাদি ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৫ সিদ্ধিগুলি নির্বিকল্পসমাধি হইতে আত নয় ; তাঁহাদের সিদ্ধিগুলি স্বভাবজাত অর্থাৎ জন্ম হইতে প্রাপ্ত। দেবতাদের দেবত। ও বােগীর অণিমাদি শক্তির সীমা আছে। দেবতাদের অণিমাদি মধ্যে প্রভেদ। নির্বিকল্পসমাধি হইতে জন্মে না বলিয়া দেবতাদের অণিমাদি শক্তির বৃদ্ধি হয় না। যােগীদিগের অণিমাদি শক্তির সীমা নাই। যােগীদিগের অণিমাদি শক্তি নির্বিকল্পসমাধি হইতে জন্মে বলিয়া ক্রমশ বৃদ্ধি হইয়া থাকে। দেবতারা পৃথিবীর সৰ্ব্বস্থানেই ভ্ৰমণ করিতে পারেন; তাহারা যােগদিগের ন্যায় গ্রহ- নক্ষত্রাদি লােকে যাইতে পারেন না। দেবতাদের নির্বিকল্পসমাধি হয় না। নির্বিকল্পসমাধি ভিন্ন স্কুলদেহ হইতে সূক্ষ্মদেহকে বাহির করিবার ক্ষমতা জন্মে না বলিয়া দেবতারা যােগীদিগের ন্যায় স্থূলদেহ হইতে সূক্ষ্মদেহকে বাহির করিতে পারেন না। যােগীরা দেবতাদের অদৃশ্য হইয়া থাকিতে পারেন ; দেবতারা যােগীদিগের অদৃশ্য হইয়া থাকিতে পারেন না। যােগীরা ইচ্ছা করিয়া দেখা না ল দেবতারাও তাহাদিগকে দেখিতে পান না। দেবতারা ভােগ, যগীরা বিরাগী ; দেবতারা মায়া-বদ্ধ জীব, যােগীরা মায়ামুক্ত মহাপুরুষ। যােগীরা দেবতা হইতে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তিকে মেসমেরিজ করা হয় তাহাকে মতিয় বলে। যে ব্যক্তি মেমেরিজ করে তাহাকে মেমেরাইজকারী বলে । মেমেরিজম দ্বারা মডিয়মের মনােময়কোষ স্কুল- মীডিয়ম্। দেহ হইতে বাহির হইয়া মার্গে বিচরণ করিতে সক্ষম হয়। মীডিয়মের মনােময়কোষকে মডিয়মের সুক্ষ্মদেহ বলা হয়। বস্তুতঃ প্রাণময়, মনােম ও বিজ্ঞানময় এই তিন কোষই সুন্ম- .
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। দেহের প্রকৃত স্বরূপ। মেসমেরিজমের শক্তি দ্বারা সূক্ষ্মদেহের প্রাণময় ও বিজ্ঞানময়কোষ সুলদেহ হইতে বাহির হইতে পারে না, কেবলমাত্র মনােময়কোষই বাহির হইয়া থাকে। এই মনােময়- মীডিয়ামের কোষই মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহ। মীডিয়মের সূক্ষ্ম দেহ দেই। বা মনােময়কোযের ছায়ার ন্যায় সূক্ষ্ম আকার আছে এবং সুক্ষ্মদেহে স্কুলদেহের অনুরূপ অঙ্গপ্রত্যঙ্গও আছে। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহটা একটা ছায়ামূর্তির ন্যায় দেখাইয়া থাকে। যােগ, দেবতা ও প্রেতাত্মা ভিন্ন অপর কেহই মীভিয়মের সুক্ষ্মদেহকে দেখিতে পায় না। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহে, চক্ষুঃ কর্ণাদি জ্ঞানেন্দ্রিয়ের দেখা শুনা প্রভৃতি কাৰ্য্যগুলি হয়। মীডিষমের সূক্ষ্মদেহে প্রাণময়- কোষ না থাকায় হস্তপদাদি কৰ্ম্মেন্দ্রিয়ের কাৰ্যগুলি হয় না। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহ তড়িদ্বেগে শূন্যমার্গে গমনাগমন করিয়া থাকে। মীভিয়মের সুমদেহ বা বা মনােময়কোষের শূন্যমার্গে ভ্রমণকালে মীডিয়মের বিজ্ঞানময়কাষের সহিত মনােময়কোষের বৃত্তির (মনের বৃত্তি ও পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়ের বৃত্তির) সংযােগ থাকে। মডিয়মের মনােময়কোব পাঁচ কোটি মাইল দূরে গেলেও, বিজ্ঞানময়কোষের সহিত মনােময় কোষের বৃত্তির সংযােগ থাকে বলিয়া মডিয়মের মনােময়কোষ পাঁচ কোটি মাইল দূরের বস্তুও স্পষ্ট দেখিতে পায় । সেই প্রকার, মীভিয়মের মনােময়কোষ পাঁচ কোটি মাইল দূরের শব্দ স্পর্শ রস ও গন্ধ অনুভব করিয়া থাকে। মনােময়কোষও যাহা অনুভব করে, বিজ্ঞানময়কোষও তাহা অনুভব করে। বিজ্ঞানময়- কোষের বৃত্তির (অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তি ও পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়ের বৃত্তির) সংযােগ ভিন্ন মনােময়কোষ কিছুই দেখিতে শুনিতে পারে না এবং মনােময়কোষের বৃত্তির সংযােগ ভিন্ন বিজ্ঞানময়কোষও কিছুই দেখিতে নিতে পারে না। বিজ্ঞানময় ও মনােময় এই উভয় ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৭ কোষের সংযােগেই দেখাশুনা প্রভৃতি কার্য হইয়া থাকে, এক কোষের অভাবে কোনই কাৰ্য্য হয় না। মীভিমুমের বিজ্ঞানময়কোষ, মনােময়- কোষ বা সূক্ষ্মদেহের কাৰ্যকলাপের অষ্টারূপে থাকে। মীডিয়মের মনােময়কোষ বিজ্ঞানমঘকোষের অধীন থাকে, আর বিজ্ঞানময়কোষ মেসমেরাইকারীর আদেশাধীন থাকে। মেসমেরাইকারী মীভিয়কে পরিচালনা করে। (মীভিয়ম্ শব্দ মীডিয়মের স্কুল ও সূক্ষ্মদেহ বােধ।) মতিয়ম্ যাহা কিছু দেখে শুনে, তাহা স্বভাবতঃই মেসমেরাইকারীকে বলিয়া থাকে। মীভিয় মেসমেরাইকারীর বীভূত বলিয়া মীছিয়ম্ যাহা কিছু দেখে বা শুনে, তাহা মেসমেরাইকারীকে না বলিয়া থাকিতে পারে না। মেমেকাইজকারীর প্রেরণায়ই মীভিয়ম্ যােগী বা প্রেতাত্মার সহিত কথাবার্তা বলিয়া থাকে অর্থাৎ মেসমেরাইজকারী মীদিয়কে যাহা বলিতে বলে, মীডিম্ তাহাই যােগ বা প্রেতাত্মাকে বলিয়া থাকে। মেসূমেরাইজকারীর প্রেরণা ভিন্ন মডিয়কে কদাচিৎ কোন আর উত্তর দিতেও দেখা যায়। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহে কৰ্ম্মেন্দ্রিয়ের কার্য হয় না বলিয়া মীভিয় সূক্ষ্মদেহে বাগিন্দ্রিয়ের দ্বারা কথাবার্তা বলতে পারে না; মডিয় মনােবৃত্তিদ্বারা যােগী বা প্রেতাত্মার সহিত মডিয়ম দ্বারা কথােপকথন করিয়া থাকে। মীডিয় সমভাবিং যােগ বা প্রেতাত্মার কথা শ্রবণ করিয়া বাগিন্দ্রিয়ের দ্বারা স্পষ্ট ভাষায় মেসমেয়াইজকারীকে বলিয়া থাকে। এবং মেমরাইকারীর কথা শ্রবণ করিয়া মনােবৃত্তি দ্বারা যােগ বা প্রেতাত্মাকে বলিয়া থাকে। মীডিম্ অভাষাবিতের কথা বুঝিতে পারে না বলিয়া অন্যভাষাৰিং যােগী বা প্রেতাত্মারা মনােবৃত্তি দ্বার। মীডিমকে তাহাদের মনের কথা বলিয়া থাকেন। মীডিয় কথোপকথন। !
৮ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। মনােবৃত্তি সংযােগে তাহাদের মনের কথা ধারণ করিয়া বাগ্দ্বারা আপনভাষায় মেমেরাইকারীকে বলিয়া থাকে। সকল ভাষা- বিতের মনােগত ভাষার স্বরূপ এক বলিয়া মীডিয়ম্ মনােবৃত্তি সংযােগে অন্যভাষাবিং যােগী বা প্রেতাত্মার কথা ধারণ করিয়া বুঝিতে সক্ষম হয় এবং অন্যভাষাবি যােগী বা প্রেতাত্মাও মনােবৃত্তি সংযােগে মডিয়মের কথা ধারণ করিয়া বুঝিতে সক্ষম হন। মীডিয়ম দিভাষীবৎ মেসমেরাইজকারী ও যােগী বা প্রেতাত্মার মধ্যবর্তী থাকিয়া উভয় পক্ষের কথাবার্তার আদানপ্রদান করিয়া থাকে। এই রূপেই মডিয়ম্ দ্বারা যােগী বা প্রেতাত্মার সহিত মেমেরাইজ কারীর কথাবার্তা হইয়া থাকে। বস্তুতঃ মীডিয়ম্ * মেসমেরাইজকারীর একটী চেতন যন্ত্র বিশেষ। মীডিয়ৰূপ যন্ত্র দ্বারা মেসমেরাইজকারী দেখে শুনে ও বলে। শীডিয়মরূপ যন্ত্র দ্বারা মেমেরাইজকারী পাঁচ কোটি মাইল দূরের কথাটিও এক সেকেণ্ডের অষ্টমাংশের মধ্যে শুনিতে মডিয়মূরূপ যন্ত্র । পায়। মীডিয়মুরূপ যন্ত্র দ্বারা মেসমেরাইজকা পাঁচ কোটি মাইল দূরের যােগীর সঙ্গেও পার্শ্বস্থ ব্যক্তির সঙ্গে কথােপকথনের ন্যায় কথাবার্তা বলিয়া থাকে। যেমন, তারহীন- টেলিগ্রাফ বিৎ তারহীন-যন্ত্র দ্বারা দেখে শুনে ও বলে ; সেইরূপ, মেমেৰাইজকারী মডিয়দ্রূপ যন্ত্র দ্বারা দেখে শুনে ও বলে। তারহীন-টেলিগ্রাফ বিতের যন্ত্রটি জড়, আর মেসূমেরাইকারীর যন্ত্রটি চেতন। জড়-যন্ত্র দ্বারা দেখিতে শুনিতে ও বলিতে পারিলে, চেতন-যন্ত্র দ্বারা দেখিবে নিবে ও বলিবে-তাহাতে আশ্চর্যের বিষয় কি? মডিয়মের বিশেষ বিজ্ঞান মৎকৃত প্রেতদশনে দেখ।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
লােকমুখে শুনিতে পাইতাম, যােগীরা পাহাড়ে পৰ্বতে থাকেন।
এ কথায় আমারও বিশ্বাস হইত। আমি মাঝে মাঝে মডিয়কে
পাহাড়ে পৰ্বতে পাঠাইয়া যােগীদিগের অনুসন্ধান
ত্রপাত।
করিতাম । আমি ইংরেজী ১৯১২ সালের ২৮শে
মে তারিখে মীডিয়কে ধবলগিরি পাঠাইলাম। মীডিয়ম্ ধবলগিরি
গিয়া ধবলগিরিপৰ্বতের দৃশ্য বর্ণনা করিলে পর, আমি মডিয়মকে
কোনও যােগীর খোঁজ করিতে বলিলাম । মীডিয়ম্ খুজিয়া
বলিল “একজন মানুষ দেখা যাইতেছে; তঁাহার একপার্শ্বে আগুন
জ্বলিতেছে।” আমি মডিয়মকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ঘঁহাকে
দেখিতেছ, তিনি মানুষ কি প্রেতাত্মা?” মডিয়ম বলিল, “প্রেতাত্মা
নয়, মানুষ। কারণ, তাহার সামনে আগুন জ্বলিতেছে। প্রেতাত্মারা
আগুনের কাছে থাকে না।” আমি মীডিয়কে তাহার নিকটে
যাইতে বলিলাম। মীডিয় তঁাহার নিকটে
তিনি
মীডিয়কে সূক্ষ্মদেহে যাইতে দেখিয়া একটু বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা
রলেন, “তুমি কি করিয়া আসিলে ?” মীডিয়ম্ তাহাকে বলিল
“একজন বিজ্ঞান বলে আমাকে পাঠাইয়াছেন। আপনি যােগবলে
অবশ্যই তাহা বুঝিতে পারিতেছেন। সেই ব্যক্তি মীডিয়মের
সহিত আলাপ করিতেই আমি বুঝতে পারিলাম, সেই ব্যক্তি
সাধারণ পুরুষ নয়, একজন যোগী হইবেন।
কেননা, যােগী ভিন্ন
সাধারণ লােকে মাডিয়মের সূক্ষ্মদেহের সঙ্গে আলাপ করিতে পারে
; এমন কি, মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে দেখিতে ও পায় না।
মডিয়ম্ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি ভারতবর্ষে যাইয়া
আমাদিগকে দেখা দিতে পারেন কি না?” তিনি বলিলেন, “আমি
যােগবলে স্থূলদেহ লইয়া দুইশত মাইলের অধিক যাইতে পারি না।”
.মডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “আপনার বয়স কত?” তিনি বললেন,
গেল।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। মহাত্মা “আমার বয়স ৩২ বৎসর; এখানে তিন বৎসর যাবৎ আছি।” মীডিয়ম জিজ্ঞাসা করিল, “তিন বৎসরে এত উন্নতি হওয়া সম্ভব কি ?” তিনি বলিলেন, “এখানে আসার পূর্বেও আমি অনেকদিন হইতে যােগাভ্যাস করিতাম। অদ্য যাও, প্রত্যহ আসিও।” আমি মীডিয়মকে বলিলাম, “মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আস।” মীভিয় মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া ধবলগিরি হইতে চলিয়া আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিল। এই মহাত্মার গৃহাশ্রমের নাম, রজনীকুমার দাস। ক্ষত্রিয়কুলে ইহার জন্ম হয়; ইহার জন্মস্থান, কালিবন। গ্রাম কালিবন যে বঙ্গদেশের কোন্ জিলার অন্তর্গত, তাহা বলিতে পারিলাম না। মহাত্মা রজনীকুমার ধবলগিরির রজনীকুমার। যােগীদিগের মধ্যে সৰ্ব্বকনিষ্ঠ যােগী । মহাত্মা রজনীকুমার মীডিমকে ধবলগিরির নানাস্থানের দৃশ্য দেখাইতেন এবং ধবলগিরি যােগীদিগের সঙ্গে মীডিয়মকে পরিচয় করাইয়া দিতেন। মহাত্মা রজনীকুমার মতিযমূকে যােগীদিগের সঙ্গে দেখা না করাইয়া দিলে মডিয়ম্ কোনও যােগীর সঙ্গে দেখা করিতে পারিত না। মহাত্মা রজনীকুমারের অনুগ্রহেই আমরা ধবলগিরির ৩৩ জুন যােগী ও তিন জন যোগিনীর দেখা পাই। আমরা ইং ১৯১২ সালের ২৮শে মে হইতে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহাত্মা রজনীকুমারের সঙ্গসুখ লাভ করি । তাহার উদারতার গুণে এই তিন মাসের মধ্যে ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক সম্বন্ধে যাহা কিছু জানিতে পারিয়াছি তাহাই পরে বলা যাইতেছে। ২৯শে মে মীভিয়কে ধবলগিরিতে মহাত্মা রজনীকুমারের নিকট পাঠাইলাম। মভি মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে গিয়া তাহাকে ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১১ প্রণাম . করিল। মহাত্মা তাহার কথামত মীভিয়কে যাইতে দেখিয়া অত্যন্ত খুসী হইলেন। মহাত্মা মডিয়কে শূন্যপথ দিয়া একটা স্থানে লইয়া গিয়া দুইটা জ্যোতির্ময় ধবলগিরিতে দুইটা জ্যোতির্ময় মুক্তি। ত্তি দেখাইলেন। মূর্তি দুইটার দুইটার এত যে, মূর্তি দুইটার দিকে তাকাইতেই মডিয়মের চক্ষু ঝলসিয়া গেল ; মীডিয়ম্ আর মূর্তি দুইটার দিকে তাকাইতে পারিল না। মূর্তি দুইটী দেখাইয়া মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “অন্য যাও।” আমি মীডিমকে চলিয়া আসিতে বলিলাম। মীডিম্ আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিল। ৩০শে মে মীডিয়মূকে মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে পাঠাইলাম। মতিয়ম্ মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মার আশ্রমে সুন্দর একটা ফলের গাছ আছে। গাছটীর পাতা '।উমাণা, ফল সাদা। মহাত্ম। সেই গাছের ফল খাইয়া থাকেন। মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া আকাশ-পথে * ঠাহর আশ্রম হইতে কয়েক মাইল দূরে একটা স্থানে গেলেন। সেই বলগিরিতে কানে মীভিমূকে একটা শিবের মূর্তি দেখাইলেন। শিবের মূর্তি। শিবের মূর্তির সামনে একটা ষাড়ের মূর্তি আছে। শিবের মূর্তিটা লিঙ্গমূর্তি নয়, মানবাকারমূর্তি। মহাত্ম। মভিয়কে শিবের মূর্তিটাকে প্রণাম করিতে বলিলেন। মীডিয়ম্ শিবের মূর্তিটাকে * মহাত্মা রজনীকুমার মীডিমকে ধবলগিরির দৃশ্য দেখাইবার সময়ে, তিনি স্কুলশরীরেই মডিয়কে লইয়া শূন্য-পথে গমনাগমন করিতেন।
১২ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। প্রণাম করিল। পরে, মাহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আলমে চলিয়া আসিলেন। মহাত্মা ও মাডিয়ম্ আসিয়া আশ্রমের উপরে দাড়াইতেই মহাত্মার সামনে দিয়া পাথর ফাটিয়া ফাঁক হইয়া গেল। মহাত্মা কাকের মধ্য দিয়া পাথরের নীচে গেলেন। মহাত্মা নীচে মডিয়মকে ধবল- যাইতেই ফাটী বুজিয়া গেল। আবার কয়েক গিরির বস্তু দেখাইতে সেকেণ্ডের মধ্যেই পাথর ফাটিয়া ফাক্ হইল । দেবতার অাদেশ। মহাত্মা ফঁাকের মধ্য দিয়া আসিয়া আশ্রমের উপরে উঠিলেন। মহাত্মা উপরে উঠিতেই ফাকটা বুজিয়া গিয়া পাথরখানা যেমন ছিল তেমনই হইয়া রহিল। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি পাথরের নীচে কেন গিয়াছিলেন?” মহাত্মা বলিলেন, “নীচে দেবতারা আছেন, তাহাদের নিকটে হুকুম লইতে গিয়াছিলাম—তোমাকে ধবলগিরির সব বস্তু দেখাইতে পারিব কি না। তােমাকে সব দেখাইতে পারিব।” এই কথার পর, মহাত্মা মডিয়কে বিদায় দিলেন। মীfডয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রম হইতে চলিয়া আসিয়া শরীরে প্রবেশ করিল ৩১শে মে মীডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি ভূত ভবিষ্যৎ বলিতে পারেন কি না?” মহাত্মা বলিলেন, “যিনি তােমাকে পাঠান, তাহার কথা ও তাঁহার সঙ্গিগণের * কথা বলিতে পারি।” আমরা মহাত্মা রজনীকুমারকে আমাদের অতীত * আমার কয়েকজন বন্ধু প্রত্যহ আমার সঙ্গে মেসমেরিক- বৈঠকে বসিত।
ধবলগিরি ওঁ নক্ষত্রলােক। ঘটনা সম্বন্ধে কয়েকটা প্রশ্ন করিলাম। তিনি তাহার যথাযথ উত্তর দিলেন। তারপর মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রম হইতে ৬ মাইল দূরে একটা স্থানে গেলেন। সেই স্থানে মীডিমকে ৬০০ হাত লম্বা একটা বস্তু দেখাইলেন। বস্তুটা দেখিতে ধবলগিরিতে সাপের সাপের মত, উহার মুখটা মানুষের মুখের মত । ন্যায় একটা বস্তু। মুখটী চকমক করিয়া জ্বলিতেছে। মহাত্মা মতিয়মকে বলিলেন, “এখানে একজন ইংরেজ পরিব্রাজক আসিয়া- ছিলেন। এইটা যে কি বস্তু তাহা তিনি ঠিক ইংরেজ-পরিব্রাজকের করিতে পারেন নাই। তিনি এই বস্তুটাকে ধবলগিরি হইতে লইয়া যাইতে চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু নিতে বস্তু আনিবার চেষ্টা। পারেন নাই, কেহ পারিবেও না।” মহাত্মা মীডিয়মকে বস্তুটা দেখাইয়া একজন যােগীর আশ্রমে লইয়া গেলেন। সেই যােগী পৰ্বতগুহার মধ্যে পাথরের খােদান ঘরে থাকেন। তঁাহার বয়স শত বৎসরের অধিক ; নী মহাত্মা। তিনি বাঙ্গালী । মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “আগামী কল্য এই সাধুর সঙ্গে তােমাকে আলাপ করাইয়া দিব । আলাপ করাইবার পূর্বে ইহার হুকুম লইতে হইবে। সাধুকে প্রণাম কর।” মীডিয় সেই বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। পরে মহাত্মা মীভিয়কে লইয়া সেই বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মীডিম্বকে বলিলেন, “প্রত্যহ ১২ মিনিটের মধ্যে তােমাকে দুইটা নূতন স্থান দেখাইব। তােমার অত্যন্ত পরিশ্রম হইয়াছে, জল খাও।” এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়মকে সাত গণ্ডুষ জল খাওয়াইলেন। মীডিয়ম্ যখন জল খাইতে ছিল ১৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। তখন মডিয়মের স্কুলদেহেও ঢােক গিলিতে দেখা গেল। 'জল খাইয়া মীডিয়মের শরীর খুব ঠাণ্ডা বােধ হইতে লাগিল। মহাত্মা। মডিকে বলিলেন, “অদ্য যাও।” মীডিয় চলিয়া আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিল। ১লা জুন মীডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে গেল। মহাত্মা মীডিয়মকে লইয়া, গতকল্য যে বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গিয়াছিলেন, সেই বাঙ্গালী-মহাত্মার আশ্রমে গেলেন। বাঙ্গালী-মহাত্মা মীভিয়কে দেখিয়া অত্যন্ত খুসী হইলেন। তিনি মীডিয়কে বর্তমান ভারতের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। মীডিয় তাহাকে ভাবতে ইংরেজ-রাজত্বের কথা কিছু বলিল। তিনি বলিলেন, ইংরেজ-রাজহ। “ইংরেজ-রাজত্ব আর বেশীদিন * নয়, সাড়ে তিন শত বৎসর আছে। পরে, বাঙ্গালীরাই ভারতে স্বাধীনতা স্থাপন করিবে।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল + “আপনি ভারতে গিয়া আমাদিগকে দেখা দিতে পারেন কি না?” তিনি বলিলেন “আগে কিছু দেখে শুনে নেও, পরে যাওয়া.যাইবে। অদ্য যাও।” * যােগীদিগের নিকট হইতে জানা গিয়াছে যে, প্রায় দুই হাজার বৎসর হইল মুসলমানেরা ভারতে আসিয়াছে। কাজেই, ভারতবর্ষ দুই হাজার বৎসর হইতে পরাধীন হইয়াছে। অতএব, দুই হাজার বৎসরের তুলনায় সাড়ে তিন শত বৎসর বেশী দিন নয়। * আমিই মডিয়ম্ দ্বারা যােগীদিগের সঙ্গে কথােপকথন করিতাম। আমি মডিয়মকে যাহা বলিতে বলিতাম, মীভিয়ম্ তাহাই যােগী- দিগকে বলিত। ভাষার শৃঙ্খলা ও সাধারণের গ্রন্থবােধের সুবিধার জন্য মডিয়মকে মুখ্য করিয়া “মীডিম্ বলিল বলিয়া লেখা হইল।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। মহাত্মা রজনীকুমার বাঙ্গালী-মহাত্মার আশ্রম হইতে মীডিয়মকে লইয়া অন্য একটা স্থানে গেলেন। সেই স্থানে একটা ছােট পুকুর আছে। চারিদিক হইতে বরফ-গলা-জল আসিয়া ধবলগিরিতে পুকুরের মধ্যে পড়িতেছে। পুকুরের এক পারে বড় বড় পাণী। সুন্দর সুন্দর কতকগুলি পাখী বসিয়া রহিয়াছে। পাখীগুলি খুব বড় বড় ; এক একটা ওজনে প্রায় আধ ম করিয়া হইবে। মহাত্মা পুকুরের পারে একখানা খড়ের আসনের উপরে পদ্মাসনে বসিলেন এবং মডিয়কে তাহার এক পার্শ্বে বসাইলেন। পরে, মহাত্মা চোখ বুজিয়া শূন্যমার্গে মডিয়মকে লইয়া পুকুর-পার তাহার আশ্রমে আসিলেন। মহাত্মা আশ্রমে আসিলে পর মীতিময় মহাত্মাকে বলিল, *প্রেতলােকের একজন ইংরেজ ও একজন বাঙ্গালী প্রেতাত্মা আপনাকে দেখিতে চাহেন ; আপনি আদেশ দিলে, তাহাদিগকে একদিন আপনার কাছে লইয়া আসিতে পারি।” " বলিলেন “আজকাল নয়, সময় মত বলিব। আমি তােমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।” এই বলিয়া মহাত্মা মীডিয়মকে লইয়া কতক- দূর শূন্তে উঠিয়া মডিয়কে ছুড়িয়া ফেলিলেন। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহ অতি বেগে আসিয়া সুলদেহে প্রবেশ করি। প্রবেশকালে সূক্ষ্মদেহের ধাক্কা লাগিয়া মডিয়মের স্থূলদেহ চমকিয়া উঠিল। . ২রা জুন মীডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া বাঙ্গালী-মহাত্মার নিকটে গেলেন। বাঙ্গালী- মহাত্মা তাহার মাথায় হাত দিয়া একটা সাপ বাহির করিলেন এবং মডিয়মের মাথায় হাত দিয়া আর একটা সাপ বাহির করিলেন। পরে মীডিয়মের গায়ে হাত বুলাইয়া দিয়া বলিলেন, “তােমার ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। সব ব্যাধি বাহির করিয়া দেওয়া হইল।” বাঙ্গালী-মহাত্মা যখন মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহে হাত বুলাইতেছিলেন, তখন মডিয়মের সূলদেহ শিহরিয়া উঠিয়া ছিল। বাঙ্গালী-মহাত্মা মডিয়মের হাতে, একটা শ্বেতপাথরের হনুমান্মূর্তি দিলেন। মীডিয়ম্ মূর্তিটা হাতে লইয়া তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এইটা কি?” তিনি বলিলেন, ‘খন তােমাদের নিকটে যাইব তখন এই মূর্তিতে যাইব।” মডিয়ম বলিল, “আমরা কি করিয়া বুঝিব যে, আপনি এই মূর্তি বরিয়া গিয়াছেন? তিনি বলিলেন, “আগে কোন প্রকার নিশানা দিয়া জানাইব। অদ্য যাও।” মহাত্ম রজনীকুমার মীডিয়মূকে বাঙ্গালী-মহাত্মার আশ্রম হইতে ৯ মাইল দূরে একটা স্থানে লইয় গেলেন। সেই স্থানে একখানা স্বচ্ছ পাথরের উপরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি আঁকা ধবলগিরিতে আছে। রাধা-কৃষ্ণের মূর্তির নিকটে সুন্দর একটা রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি। গাছ আছে ; গাছের উপরে সুন্দর সুন্দর দুইটা পাখী বসিয়া রহিয়াছে। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “সত্যযুগে এখানে শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়াছিলেন, দ্বাপরে তিনি বৃন্দাবনে গিয়াছিলেন।” (অর্থাৎ সত্যযুগে শ্রীকৃষ্ণ ধবলগিরিতে স্বভাবতঃই উৎপন্ন হন, কোনও যােনি হইতে উৎপন্ন হন নাই। তিনি সত্য ও ত্রেতাযুগে ধবলগিরিতে তপস্যা করেন, দ্বাপরে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়া বৃন্দাবনে লীলা করেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “শ্রীকৃষ্ণ মানুষ কি ভগবান্ ?” মহাত্মা বলিলেন, “যােগবলে সকলেই ভগবান্ হইতে পারে।” মীডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে কত সাধু মহাত্মা আছেন ?" মহাত্মা বলিলেন “অনেক আছেন, ক্রমে ক্রমে দেখিতে পাইবে। আগে উপর দেখাইব, পরে নীচে দেখাইব।” (অর্থাৎ মহাত্ম। প্রথমতঃ মীভিয়কে ধবলগিরিপৰ্বতের উপরের বস্তু দেখাইবেন ।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। পরে পাথরের নীচের বস্তু দেখাইবেন।) মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “পাথরের নীচেও কি পূর্বেকালের লােক আছেন? মহাত্মা ধবলগিরিতে প্রাচীনকালের লােক। বলিলেন, “অনেক আছেন।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “অশ্বত্থামা আছেন কি?” মহাত্মা বলিলেন, “তিনি অমর, তিনিও আছেন; পরে সব দেখিতে পাইবে।” এই কথার পর মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাঁহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “যিনি তােমাকে পাঠাইয়াছেন তাহাকে জিজ্ঞাসা কর,-তােমাকে কিছু খাওয়াইব কি ?” মহাত্মার এ কথা মীডিয় আমাকে জানাইল। আমি মডিয়কে বলিলাম, “মহাত্মা তােমাকে খুব খাওয়াইতে পারেন।” মহাত্মা মীভিয়কে এক টুকরা শিকড় খাইতে দিলেন। মীডিয় শিকড়ের একটু খাইয়া বলিল, “বড়ই মিষ্ট, আর খাইতে পারিতেছি না।” পারিতেছি না।” মহাত্মা বলিলেন, “বাকীটুক্ রাখিয়া দাও।” মীয়ি শিকড়ের টুকটা পাথরের উপরে রাখিয়া দিয়া মায়াকে জিজ্ঞাসা করিল, “এই শিকড়ের কি গুণ ?” মহাত্মা বলিলেন, “ইহাতে খুব শক্তি বাড়ে।” মহাত্মা মডিয়কে কয়েক কোষ জল খাওয়াইয়া বলিলেন, “তােমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।” এই বলিয়া মহাত্মা কাচের ন্যায় স্বচ্ছ একটা ঘটা বাহির করিলেন। সেই ঘটার মধ্যে মডিয়কে ভরিয়া বলিলেন, “যখন ঘটীটি ভাঙ্গিয়া দিব তখন তুমি চলিয়া যাইবে।” মহাত্মা ঘটটি পাথরের উপরে ফেলিয়া দিলেন। ঘটাটি ভাঙ্গিয়া গিয়া পাথরের সঙ্গে মিশিয়া গেল। মাডিয় চলিয়া আসিয়া সূল-শরীরে প্রবেশ করিল। ৩রা জুন জীডিয় মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে যাইতেছিল। মীডিয় কিছুদুর গেলে পর, মহাত্মা রজনীকুমার সুক্ষ্মদেহে আসিয়া মীডিকে ১৮ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। তাহার কোলে বসাইয়া তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা স্থদেহে প্রবেশ করিয়া খরম পারে দিলেন। খরসের বৌলা নাই তথাপি তাহার পায়ে দিতেই লাগিয়া রহিল। মীডিয়ম মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধবলগিরি হইতে বৃন্দাবনে গিয়াছিলেন কেন ?” মহাত্মা বলিলেন, “এখানে সাধারণ লােক আসিতে পারে না বলিয়া তিনি লােকশিক্ষার জন্য বৃন্দাবনে গিয়াছিলেন।” মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া তঁাহার আশ্রম হইতে ৯ মাইল দূরে একটা স্থানে গেলেন। সেই স্থানে একটী দুর্গামূৰ্ত্তি আছে। মহাত্মা মডিয়কে দুর্গামূর্তিটী দেখাইয়া বলিলেন, “তােমরা যে দেবীর পূজা ধবলগিরিতে কর, এইটা সেই দেবীর মূর্তি।” হঠাৎ দুর্গামূর্তিটা দুর্গামূর্তি। ঘুরিতে লাগিল এবং এপাশে ওপাশে যাইতে লাগিল। মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “প্রস্তর মুর্তিটা কি প্রকারে চলিতেছে ? ইহার কি জীবন আছে ?” মহাত্মা বলিলেন, 'না, আমি যােগবলে মৃত্তিটীকে ঘুরাইতেছি। দুর্গামূৰ্ত্তিটীর নিকটে তালগাছের ন্যায় তিনটা গাছ আছে। গাছ তিনটীর ডাল নাই, বড় বড় পাতা আছে। মডিয় মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এই গাছের কি গুণ ?” মহাত্মা বলিলেন, “যিনি এখানে থাকেন, তিনি এই গাছ তিনটীর ফল খাইয়া থাকেন।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “সকল যােগীরই কি ফলের গাছ আছে?” মহাত্মা বলিলেন, “হ', সকলেরই আলাদা আলাদা ফলের গাছ আছে।” মডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে যিনি থাকেন তিনি কোথায়?” মায়া বলিলেন, “তিনি নীচে আছেন। আগামী কল্য তাহার সঙ্গে দেখা করাইয়া দিব ।” মীড়িয় জিজ্ঞাসা করিল, “তঁাহার বয়স কত ?” মহাত্মা বললেন, “সােয়শ’ বছর, তিনি হিন্দুস্থানী।” এই কথার পর,
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক
১৯
• মহাত্মা রজনীকুমার মীডিয়কে একটা বরফাবৃত স্থানে লইয়া গেলেন।
সেইস্থানে রাম ও লক্ষ্মণের মূর্তি আছে, আর একটা
ধবলগিরিতে
মলদ্মণের মুর্তি।
স্ত্রীমূর্তি আছে। স্বীমুর্শ্বিটীর বগল পর্যন্ত পাথরের
নীচে আছে, বগলের উপরের ভাগ দেখা যাইতেছে।
স্ত্রীমূর্তিটী রাম-লক্ষ্মণের সম্মুখে হাত ঘােড় করিয়া আছে। হঠাৎ স্ত্রীমূর্তিটা
পাথরের উপরে উঠিয়া দাড়াইল, আবার পাথরের মধ্যে ঢুকিয়া গেল।
মহাত্মা ইহাও যােগলে দেখাইলেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা
করিল, “এই সমস্ত মুর্তি কে তৈয়ারী করিয়াছে ?” মহাত্মা বলিলেন,
“আপনা হইতেই হইয়া রহিয়াছে।” এই কথার পর মহাত্মা মডিয়মকে
লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন।
আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা গীডিকে বলিলেন, “যিনি তোমাকে
পাঠাইয়াছেন তাহাকে জিজ্ঞাসা কর -তােমাকে
ফল খাওয়াই
কি না ?” মহাত্মার এই কথা মীডিম্ আমাকে
যােগীর শক্তি বলে জানাইতে, আমি মডিয়কে বলিলাম, “মহাত্মা
--জীডিয়মের ফল
তােমাকে যাহা খাইতে দিবেন, তাহাই তুমি খাইতে
পার।” আমার এই কথায় মহাত্মা একটু হাঁসিয়া
মডিয়কে কয়েকটা ছােট ছোট ফল খাইতে দিলেন। মীডিম্ পাঁচটী ফল
খাইল, আর বেশী খাইতে পারিল না। ফল খাইবার সময়ে মডিয়মের
স্থূলদেহেও ওষ্ঠ নড়া চিবান ঢোকৃগিলা প্রভৃতি খাওয়ার লক্ষণ দেখা গেল।
মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এই ফলের কি গুণ ?” মহাত্মা
খাওয়া।
মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহ কোনও বস্তু ধরিতে বা খাইতে পারে না। কিন্তু,
যােগীদিগের যােগশক্তি বলে মডিয়মের সূক্ষ্মদেহ যে কোন বস্তু ধরিতে
ও খাইতে পারিত। মীডিম্ যখন সুক্ষ্মদেহে ফলমূলাদি খাইত, তখন
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ফল খাইয়া বলিলেন, “তুমি নিজেই ইহার গুণ বুঝিতে পারিবে।” মডিয়মের শরীর খুব ঠাণ্ডা বােধ হইতে লাগিল। মহাত্মা মডিয়কে (মডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে) একটা পাখী তৈরী করিয়া বলিলেন, “যখন তুমি বসিবে (অর্থাৎ শরীরে প্রবেশ করিবে। তখন মানুষ হইয়া যাইবে।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা পাখীটিকে উড়াইয়া দিলেন। মীডিয় পাখীরূপে আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল। কূল-শরীরে প্রবেশকালে মডিয়ম্ একটু চকিয়া উঠিয়া বলিল, “পাখী নাই। পরে মীডিয়মকে মেমেৰিক্ নিদ্রা হইতে জাগাইয়া দিলাম। ৪ঠা জুন মীডম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে যাইতেছিল। মীডিয় মহাত্মার আশ্রম হইতে ৫ মাইল দূরে থাকিতেই মহাত্মা তাহার আশ্রম হইতে হাত বাড়াইয়া * মডিয়কে তাঁহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। মহাত্মা মডিয়মকে পদ্মাসন করাইয়া বলিলেন, “আগে আগে চল।” মীডিয় পদ্মাসনে বসিয়া আগে আগে শূন্যমার্গে যাইতে লাগিল। মহাত্মা পদ্মাসনে বসিয়া মডিয়মের পিছে পিছে যাইতে লাগিলেন। এই ভাবে গিয়া মহাত্মা ও দীডিয়ম্, গতকল্য মহাত্মা যে হিন্দুস্থানী হিন্দুয়ানী মহাত্মা। যােগর সঙ্গে মডিয়কে দেখা করাইয়া দেওয়ার কথা বলিয়াছিলেন, সেই হিন্দুস্থানী যােগীর আশ্রমে পেীছিল। সেই হিন্দুস্থানী মহাত্মা তাহার আশ্রমের উপরে চোখ বুজিয়া বসিয়া রহিয়াছেন। মডিয়মের ক্ষুদেছে, ওষ্ঠ নড়া চিবান ঢােকৃগিলা প্রভৃতি খাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ গাইত।... মডিয়মের সূক্ষ্মদেহের খাওয়ায় মীডিমের স্কুলদেহেরও পুষ্টিসাধন হইত। * যােগসিদ্ধি বলে মহাত্মা রজনীকুমার তাহার হাত পাঁচ মাইল লম্বা কৰিছিলেন। ।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। তাহার মাথার উপরে একটা সাঁপ ফণা বিস্তার করিয়া আছে। তাহার * মাথা হইতে ঝর বহিয়া যাইতেছে। মীড হিন্দুস্থানী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। হিন্দুস্থানী মহাত্মা মডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি অন্য আসিয়াছ?” মীডিম্ বলিল, “আপনাদের আচরণ দর্শন করিতে আসিয়াছি। হিন্দুস্থানী মহাত্মা বলিলেন, “আর কি চাও? ভারতের খবর কি?” মীডিয়ম্ বলিল, “আজকাল ভারতে ভারতে হিন্দুর ইংরেজের রাজত্ব। হিন্দুধর্ম লােপ পাইতেছে, ভারতের বড়ই দুরবস্থা। হিন্দুস্থানী মহাত্মা বলিলেন, “আর বেশী দিন নয়, ৪০০ শত বৎসরের মধ্যেই হিন্দুর রাজত্ব হইবে। মডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি ভারতে গিয়া আমাদিগকে দেখা দিতে পারেন কি না?" হিন্দুস্থানী মহাত্মা বলিলেন, “পারি।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “কবে যাইবেন ? হিন্দুস্থানী মহাত্মা বলিলেন, “যখন আমার ইচ্ছা হইবে তখন যাইব।” এই কথা বলিয়া হিন্দুস্থানী মহাত্মা পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। মীডিম্ মহাত্মা রজনীকুমারকে জিজ্ঞাসা করিল, “তিনি নীচে গেলেন কেন?” মহাত্মা বলিলেন, “তিনি নীচেই থাকেন, তােমাকে দেখা দিবার জন্যই উপরে উঠিয়াছিলেন।” মডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “তিনি নীচে থাকেন কেন? মহাত্মা বলিলেন, “যাহারা বহুকাল যাব আছেন তঁাহারা নীচেই থাকেন। মীডি জিজ্ঞাসা করিল, “নীচে কত আছেন? মহাত্মা বলিলেন, “হ আছেন, জনে করে সখিতে পাইবে। কথার পর, মহাত্মা মডিয়াকে লইয়া হিন্দুস্থানী মহাত্মার আশ হইতে অন্য একটা স্থানে গেলেন। পক্ষিতীয় পৈী। সেই স্থানে একটা ঝরণা আছে। ফণায় জল নীচের দিকে বহিয়া যাইতেছে । ঝরণার ধারে কয়েকটা পশিদাতীয় ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। পৈরী * আছে। পৈরীগুলি দেখিতে ছােট ছােট মানুষের মত। উহাদের পাখীর ডানার ন্যায় দুইটী করিয়া ডানা আছে। উহারা উড়িতে পারে এবং নাচিতেও পারে। পৈরীগুলি দেখিয়া মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এইগুলি কি?” মহাত্মা বলিনে, “পৈরী।” মীডিম্ন জিজ্ঞাসা করিল, “আমাকে একটী দিতে পারেন কি ?” মহাত্মা বলিলেন, “না, ইহারা শােভার জন্য রহিয়া’ছ।” এই কথার পর, মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিলেন পর, মীডিম্ মহাত্মাকে বলিল, “আপনারা আমাদিগকে যাহা দেখাইতেছেন তাহা লােকের নিকট বলিলে, লােকে আমাদিগকে হাসিয়া উড়াইয়া দেয় ও আমাদিগকে পাগল বলে। মহাত্মা বলিলেন, “এই প্রকার যাহারা বলে, তাহারা মূৰ্থ ; তাহারা সংসারের কিছুই জানে না । কতকগুলি বই পড়িলেই বিন হয় না। তােমরা এই সব প্রকাশ করিতে পার, ইহাতে লােকের অনেক উপকার হবে। তােমাদিগকে তিন বৎসর দেখাইব। যাহা দেখিতেছ তাহা লিথিয়া রাখিও।” মীডিয়ম্ বলিল, সমস্ত পৃথিবীতে “আপনারা থাকিতে আমাদের হিন্দুধর্মের এক ধৰ্ম্ম। দুরবস্থা হইতেছে কেন ?” মহাত্মা বলিলেন, “সময় আসিতেছে, সমস্ত পৃথিবীতে একৰ্ম্ম স্থাপন করিব, কিছু সময় ম * এই পক্ষিজাতীয় পৈরী ভিন্ন আরও এক প্রকারের পৈরী আছে, তাহারা অপদেবতা। তাহাদের আকৃতি অবিকল মানুষের ন্যায়, তাহাদের রূপ' অত্যন্ত সুন্দর। মানুষের মত তাহারা কথাবার্তা বলিয়া থাকে। তাহাদের শূন্যপথে ভ্রমণাদি কতকগুলি অলৌকিক শক্তি আছে। তাহার শাহাড়ে পৰ্বতে বাস করিয়া থাকে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ২৩ বাকী * আছে। মডিয়ম্ ডিজ্ঞাসা করিল, “আমাদিগকে (অর্থাৎ মূলশরীর সহ মীডিমকে ও আমাকে) ধবলগিরিতে লইয়া আনিতে পারেন কি না?” মহাত্ম। বলিলেন, “আমি রাস্তা বলিয়া দিতে পারি। আমি দার্জিলিং হইয়া আসিয়াছিলাম। সময় মত বলিয়া দিব।-হােমরা ব্যতীত এ পর্যন্ত কেহই আমাদের দেখা পায় নাই। তােমরা তােমরা বিবাহ করিও না, তাহা হইলে আর আমাদের দেখা পাইবে না। তােমাদের কর্মফল কোনও অংশে খারাপ থাকিলে, ভাল করিয়া দিব।” এই কথার পর, মহাত্মা গীডিয়মের হাত পা ছিড়িয়া ছিড়িয়া কাছিমের হাত-পা করিয়া মীডিয়কে একটী কাছিম তৈরী করিলেন। পরে একটা ঝরণা রচনা করিয়া সেই ঝরণার জলে কাছিমটীকে ছাড়িয়া দিয়া বলিলেন, “ঘরে যাইবা মাত্র মানুষ হইয়া যাইবে।” মীডির কচ্ছপরূপে ঝরণার জলের মধ্য দিয়া চলিয়া আসিতে লাগিল। মেমেরি বৈঠকঘরে আসিব। মাত্র মীডিম্ “কাছিম নাই” বলিয়া চকিয়া উঠিল। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহ ঝুলদেহে প্রবেশ করিলে পর, মীডিয়কে মেমেরি নি। হইতে জাগাইয়া দিলাম। ৫ই জুন মীডিয়ম্ ধবলগিরি যাইতেছিল; ৯ মাইল যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মডিয়কে তাহার আশ্রমে লইয়া * ইংরেজী ২৩০ সালে ধবলগিরি হইতে কয়েকজন মহাপুরুষ লােকালয়ে আসিবেন। সেই সয়ে ইংরেজ ফরাসী চীনা জাপানী মুসলমান প্রভৃতি পৃথিবীর সমস্ত জাতিই হিন্দুধর্ম গ্রহণ করিবে। তখন সন্তু পৃথিবীতে এক বিষয় ভি, অন্য কোন ধৰ্ম্মমই থাকিবে না। সমস্ত পৃথিবীতে এক ইতে, এখনও ৩৭৫ বৎসর বাকী.:আছে। '।
২৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা সুলদেহে প্রবেশ করিয়া একটা ফুলের ঠোঙ্গা (ফুলের পাপড়ি রচিত দোনা) হইতে মীডিয়মকে মধু খাইতে দিয়া বলিলেন, “ইহা ভারতবর্ষের মধু, এখানে মধু হয় না।” মীভিয় মধু খাইলে পর, মীডিয়মের মুখে শূন্য হইতে জল পড়িতে লাগিল। মডিয়ম্ হা করিয়া জল খাইল। পরে মহাত্মা মডিয়কে একখানা আসনে বসাইয়া মডিয়কে আগে আগে যাইতে বলিলেন। মীডিয় শূন্যপথে আগে আগে যাইতে লাগিল। মহাত্মা একখানা আসনে বসিয়া, মডিয়ম্ হইতে একটু নীচে থাকিয়া মডিয়মের পিছনে পিছনে যাইতে লাগিলেন। এইরূপ ভাবে গিয়া মডিয়ম্ ও মহাত্মা বলগিরিতে কী একটা পুকুর-পারে দাঁড়াইলেন। সেই পুকুরের ও সরস্বতীর মূর্তি। পশ্চিম পারে সুন্দর সুন্দর দুইটা মন্দির আছে। মন্দির দুইটার মধ্যে সুন্দর সুন্দর দুইটা মূর্তি আছে। একটা লক্ষ্মীর মূর্তি, আর একটী সরস্বতীর মূর্তি। হঠাৎ পুকুরের চারি পারে সুন্দর সুন্দর অনেকগুলি গাছ দেখা গেল ; গাছের ডালে বসিয়া নানারঙ্গের পাখী ডাকিতেছে। ক্ষণপরে গাছ ও পাখীগুলি:ক আর দেখা গেল । মহাত্মা ইহা যােগবলে দেখাইলেন। মহাত্মা বলিলেন, “যােগবলে যাহা দেখাইব তাহা তখনই অদৃশ্য হইয়া যাইবে।” এই কথার পর, মহাত্মা মীডিম্বকে লইয়া অন্য একটা স্থানে গেলেন। সেই স্থানে একটা বড় গাছ আছে। গাছটার নীচে কাল যােগর পর পাথরের একটা মন্দির আছে। মন্দিরে চারি পাথরে পরিণত। চালে চারিটী সাপ আছে, আর মন্দিরের চূড়ায় একটা সাপ আছে। সাপগুলি যেন শিয়ের উপরে উঠিতে উঠিতে পার হইয়া গিয়াছে। মন্দিরের দুই পাশে দুইটী যাকের মুর্তি আছে। মন্দিয়ের মধ্যে একজন যােগীয় স্বেতপাথলে একটা প্রতিমূর্তি আছে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ২৫ যােগীর দেহে মহাত্মা মডিয়মকে বলিলেন, “এখানে একজন সাধু ছিলেন। তাঁহার আত্মা (জীবাত্মা বা সূক্ষ্ম-শরীর ) বাহির হইবার কালে তাহার শরীর (স্কুলদেহ) শ্বেতপাথর হইয়া গিয়াছে, আর এই মন্দিরাদি হইয়া গিয়াছে।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “তাহার শরীর কিরূপে পাথর হইল?” মহাত্মা বলিলেন, “তাহার সংঙ্কল্প বলে পাথর হইয়াছে।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “মলিয়াদি কিরূপে হইল ?” মহাত্মা বলিলেন, মনিরাদিও তাহার সঙ্কল্প বলে হইয়াছে। তিনি * সুম্মদেহ লইয়া এই পাহাড়েই থাকেন। তিনি মুক্ত-আত্মা, তাহার বান। সঙ্গেও তােমাকে দেখা করাইয়া দিব।” মহাত্মার এই কথার পর, মীডিয়ম্ ( অর্থাৎ মডিয়মের দেহস্থ বিজ্ঞানময়- কোষ) তাহার সুদেহকে (অর্থাৎ মডিয়মের মনােময়কোষকে) ও মহাত্মা রজনীকুমারকে সেই যােগীর মূর্তির নিকটে দেখিতে পাইল না। কিছুক্ষণ পরে মহাত্মা মডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে লইয়া পাথরের মধ্য হইতে তাহার আশ্রমের উপরে উঠিয়া বলিলেন, “আমি একজনকে সঙ্গে লইয়া পাথরের ভিতর দিয়া আসা যাওয়া করিতে পারি।” মীডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি আমাকে কিছু দিতে পারেন কি-যিনি আমাকে পাঠান তার জন্য লইয়া যাইতে পারি ?” মহাত্মা বলিলেন, “তুমি কিছুই ধরিতে পার না। তােমায় শরীরে কিছুই নাই।” (অর্থাৎ মডিয়মের সূক্ষ্মদেহে প্রাণময় কোষ না থাকায় মীডি নেহে কিছুই খনিতে পারে না।) এই গায় পর মহাত্মা *. এই মহাৱা নিৰ্মাণ মুক্তি না লইয়া সূক্ষ্মণেহে শীত অবস্থায় ক পৰ্যৰ থাকিবার ই করিয়াছেন। শেষে উহায় মৃন্ম ও কারা শরীরের নাশ হইয়া তাহায় নির্বাণ মুক্তি হইবে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। মডিয়কে কাল এক টুকরা শিকড় খাইতে দিলেন। মীডিয়মের কিছুই খাওয়ার ইচ্ছা ছিল ন', তথাপি মহাত্মার কথায় মডিয়ম্ শিকড়ের একটু খাইল। শিকড় খাইতেই মডিয়মের আপাদমস্তক বরফের ন্যায় ঠাণ্ডা বােধ হইতে লাগিল। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “তােমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।” এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়কে ঠুকিয়া ঠুকিয়া একটা বল তৈয়ারী করিলেন। বলটী ফু দিয়া উড়াইয়া দিয়া বলিলেন, “যখন তুমি শরীরে প্রবেশ করিবে, তখন বল দুইভাগ হইয়া যাইবে আর তুমি মানুষ হইয়া যাইবে।” মীডিয় বলরূপে অতি বেগে আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিল। মূলশরীরে প্রবেশকালে বলটী দুইভাগে ফাটিয়া গেল। মীডিয়মের স্কুলশরীর একটু উপর দিকে লাফাইয়া উঠিল। ৬ ই জুন মীডিয়মের সামান্য জ্বর হয়, তথাপি মীডিয়কে ধবলগিরি পাঠাই। মীডিয়ম্ ধবলগিরি যাইতে লাগিল। ৫০০ শত মাইল যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মডিয়কে তাঁহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা শরীরে প্রবেশ করিলেন। মীডিয় মহাত্মাকে তাহার জ্বরের কথা বলিল। মহাত্মা মডিয়কে ঔষধ খাওয়াইয়া দিয়া বলিলেন, “আজ আর কিছুই দেখাইব না, তােমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।” এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়মকে পাঠাইয়া দিলেন। মীডিম্ অতিবেগে * আসিয়া মূলশরীরে প্রবেশ করিল। স্কুলশীরে * যে দিন আমি মডিয়কে ধবলগিরি হইতে আনিতাম, সেইদিন মডিয়মের সূক্ষ্মদেহের ধবলগিরি হইতে আসিয়া দেহে প্রবেশ করিয়ে এক সেকেণ্ড লাগিত, আর যে দিন মহাত্মা রজনীকুমার মডিয়মকে পাঠাইয়া
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
२१
৭ই জুন
প্রবেশকালে সূক্ষ্মদেহের ধাক্কা লাগিয়া মডিয়মের শরীর একটু
উপর দিকে লাফাইয়া উঠিল।
মহাত্মা রজনীকুমারের ঔষধ খাইয়া সেই দিনই মডিয়মের জ্বর ভাল
হইয়া গেল।
জুন মীডিয়ধবলগিরি যাইতেছিল ; ৯ মাইল যাইতেই
মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মডিয়কে তাহার মাথার
উপরে বসাইয়া তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন।
আশ্রমে গিয়া
মহাত্মা তাহার স্থূলশরীরে প্রবেশ করিয়া মীডিয়কে জিজ্ঞাসা
করিলেন, “তােমার শরীর কেমন আছে ?” মীডিম বলি, “খুব
ভাল আছে।” মীডিয়মের এই কথায় মহাত্ম একটু হাসিলেন।
পরে মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রম হইতে ১৭ মাইল
দূরে একটা স্থানে গেলেন। সেই স্থানে একটী ঋণ আছে,
ঝরণা হইতে সৰ্ব্বদা জল উঠিতেছে। ঝরণার জল দেন টবগ,
করিয়া ফুটিতেছে। চারি দিক হইতে বরফ-গলা-জল আলিয়া
ঝরণার জলের সঙ্গে মিলিয়া নীচের দিকে যাইতেছে। ঝণার কাছে
দুইটা ফলের গাছ আছে। মহাত্মা মীডিংকে বনি, “এখানে
একজন সাধু থাকেন, তিনি এই ঝরণার জল ও এই গাছ দুইটা
ফল খাইয়া থাকেন ।
তাহার সঙ্গে তােমাকে আলাপ
দিতেন, সেইদিন মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহ ধবলগিরি হইতে অতিবেগে
আসিয়া আধ সেকেণ্ডের মধ্যেই স্থূলদেহে প্রবেশ করিত। মীডিয়মের
সূক্ষ্মদেহ এত বেগে আসিত যে, স্কুলদেহে প্রবেশ করিবার সময়ে
সূক্ষ্মদেহের ধাক্কা লাগিয়া মীডিয়মের ধূলদেহ একটু উপর দিকে
লাফাইয়া উঠিত্ব ।
২৮ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। করাইয়া দিব।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি সেদিন যে বলিয়াছিলেন-যে মহাত্মার শরীর পাথর হইয়া গিয়াছে তাহার আত্মার সঙ্গে (শরীরের সঙ্গে আলাপ করাইয়া দিবেন, তাহার সঙ্গে কবে আলাপ করাইয়া দিবেন?' মহাত্মা বলিলেন, “তাহার আত্মার খোঁজ পাওয়া গেল না। এই কথা বলিয়া মহাত্মা মীডিয়কে ঝরণার নিকট হইতে ১২ মাইল দূরে অন্য একটা জন যোগীর স্থানে লইয়া গেলেন। সেই স্থানে দুই জন যােগর শরীর খেত দুইটা শ্বেতপাথরের প্রতিমূর্তি আছে। মূর্তি দুইটা পাথরে পরিণত। পরস্পর একহাত ব্যবধানে পাশাপাশি বসিয়া আছে। মূর্তি দুইটা বসার উপরেই পাঁচ হাত করিয়া উচা হইবে। মূর্তি দুইটীর সামনে কয়েক ছড়া পাথরের মালা পড়িয়া রহিয়াছে। সেই মালার মধ্যে একছড়া মাল। খুবই সুন্দর। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “প্রায় দেড় হাজার বৎসর হইল এই দুই জনের মুক্তি হইয়াছে। তখন ইহাদের শরীর পাথর হইয়া গিয়াছে।” মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “ইহাদের আত্মা (সূক্ষ্মদেহ) কোথায় ?” মহাত্মা বলিলেন, “ইহাদের আত্মা (সূক্ষ্মদেহ) নাই।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “মুক্তি হইলে কিরূপ অবস্থা হয় ?* মহত্মা বলিলেন, “যাহাদের মুক্তি হয় তাহা- দের আর জন্ম হয় না। তঁাহাৱা সর্বদাই ঈশ্বরের নিকটে থাকেন।” এই কথার পর মহাত্মা একটা লাফ দিয়া পাথরের মধ্যে ঢুকিয়া গেলেন। আবার কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই উপরে উঠিলেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি নীচে গিয়াছিলেন কেন? মহাত্মা বলিলেন, “আমার আশ্রমে যাওয়ার রাস্তা আছে কি না দেখিতে গিয়াছিলাম,-রাস্তা পরে মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক। ২১ আশ্রমে আসিলেন পর, মীডিয় আপনা হইতেই মহাত্মার নিকটে কিছু খাইতে চাহিল। মীডিয়ম্ ইচ্ছা করিয়া খাইতে চাহিল বলিয়া মহাত্মা মডিয়কে কিছুই খাইতে দিলেন না। মহাত্মা মডিয়কে “য়ােজ রেজি, খায় না” এই কথা বলিয়া মডিয়মের গায়ে জল ছিটাইয়া দিলেন। জল ছিটাইয়া দিতেই মডিয়মের শরীর খুব ঠাণ্ডা বােধ হইতে লাগিল। মহাত্মা মীডিকে সুপারির ন্যায় ছােট একটা কাল ফল * তৈয়ারী করিলেন। পরে মহাত্মা “আয় আয়” করিয়া ডাকিতেই মহাত্মার নিকটে একটী পাখী আসিল। মহাত্মা পাখীটিকে ফলটা খাওয়াইয়া দিয়া বলিলেন, “যখন পাখী মুখ হইতে ফল ফেলিয়া দিবে তখন মানুষ হইয়া যাইবে।” মহাত্মা পাখীটিকে হাত হইতে ছাড়িয়া দিলেন। পাখীটি চলিয়া আসিতে লাগিল। কিছু দূরে আসিয়া পাখীটি মুখ হইতে ফলটী ফেলিয়া দিল। ফলটা ফেলিয়া দিতেই মানুষ (অর্থাৎ মীডিয়) হইয়া গেল। মীডিয়ম্ আসিয়া স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিল। ৮ই জুন মীডিয়ম্ ধবলগিরি যাইতেছিল ৭ মাইল যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার দেহে আসিয়া মডিয়কে যেন উড়াইয়া তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিলেন। মীডিয় মহাত্মাকে বলিল, “প্রেতলােকের যে পরিচিত প্রেতাত্মার সঙ্গে দেখা হয়, সেই বলে-আমাকে উপরে (প্রেতলােকের উপরের স্তরে) তুলিয়া * মহাত্মা রজনীকুমার যােগলে মীড়িয়মের সূক্ষ্মদেহকে ফল, কচ্ছপ, পাখী প্রভৃতি তৈয়ারী করিলেও মাডিমের দেখিতে শুনিতে কোনও বাধা, হইত না।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। দেও।” * মহাত্মা বলিলেন, “তােমরা যে উপরে তুলিয়া দিতে পার, একথা যে প্রেতাত্মা শুনিবে সেই উপরে উঠিতে চাহিবে ।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “ভাত হইতে অনেকে এমেরিকায় গিয়া হিন্দুধর্ম প্রচার করিতেছেন। এমেরিকার অনেকে হিন্দুও হইয়াছে তাহারা সকলেই কি.হিন্দু হবে ?” মহাত্মা বলিলেন, “আজ কাল নয়, পরে সকলেই হিন্দু হইবে।” মীডির জিজ্ঞাসা করিল, “ক্রশ্চিয়ান্ ও মুসলমানদিগকে. হিন্দু করা যায় কি ?” মহাত্মা বলিলেন “ক্রশ্চিয়াকে হিন্দু করা ভাল, মুসলমানকে হিন্দু করা ভাল নয়।”+ মডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি যে বলিয়াছিলেন,-ভারত স্বাধীন হইলে পর, পৃথিবীর সমস্ত জাতিই হিন্দু হইৰে। মুসলমানদিগকে হিন্দু না করিলে তাহারা কি প্রকারে হিন্দু হইবে ?” মহাত্মা বলিলেন, মুসলমানেরা হিন্দুর আচার ব্যবহার দেখিয়া দেখিয়া আপনা হইতেই হিন্দু হইবে।” এই কথার পর, মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রম হইতে ১৮ মাইল উপরে একটী পর্বতস্তরে গেলেন। সেই পৰ্বতস্তরে একজন যােগীর একটী কাল পাথরের শীর কাল পাথরে প্রতিমূর্তি আছে। মূর্তিটা খুব মােটা ও বেঁটে। পরিণত। মূর্তিটীর ভূড়ি ঝুলিয়া পড়িয়াছে। মূর্তিটার মাথায় জটা আছে, বুকে ও কপালে চন্দনের দাগ আছে, গলায় একছড়া একজন যােগীর * আমি মডিয়ম দ্বারা প্রেতলােকের নিম্নস্তরের কয়েকজন প্রেতা- ত্মাকে প্রেতলােকের উপরের স্তরে তুলিয়া দিয়াছিলাম। আমাদের পরিচিত প্রেতাত্মারা ইহা জানিতে পারিয়া তাহারা সকলেই উপরের স্তরে উঠিতে । চাহিত। * গ্রন্থকর্তার মতে,-যে সমস্ত হিন্দু মুসলমান ধর্মগ্রহণ করিয়াছে, তাহাদিগকে শুদ্ধ করিয়া হিন্দু করা ভাল।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। মারা আছে। মূর্তিটার সামনে একটা পাথরের ঢোলক আছে। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “ইনি সাধনায় খুব উন্নতি করিয়াছিলেন। ৭• শত বৎসর হইল ইহার সমাধি হইয়াছে। ইনি নীচে আসিতে আসিতে ইহার শরীর কাল পাথর হইয়া গিয়াছে। মডিয় মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “ইনি কেন নীচে আসিতেছিলেন ? মহাত্মা বলিলেন, “ইনি নীচে আসিতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন।” মডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “ইহার আত্মা কোথায় আছে ?” মহাত্মা বুলিলেন, “অনেক উপরে আছে, ভগবানের কাছে আছে।” মডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “ইহার আর জন্ম হইবে কি না ?” মহাত্মা বলিলেন, “না, সমাধি * হইলেই মুক্তি হইয়া যায় আর জন্ম হয় না।” এই কথার পর, মহাত্ম মীডিয়কে লইয়া সেই স্থান হইতে ৯ মাইল দূরে অন্য একটা স্থানে গেলেন। সেই স্থানে একটা ধবলগিরিতে গাছ আছে। গাছটীর কেবল পাতাই দেখা যাইতেছে, জগদ্ধাত্রী মূর্তি। আর সব বরফে ঢাকা। গাছটীৱ উপরে কয়েকটা পাখী বসিয়া রহিয়াছে। গাছটীর কিছু দূরে একটী শ্বেতপাথরের জগদ্ধাত্রী মূর্তি আছে। মূর্তিটা সাড়ে তিন হাত। মহাত্মা শীডিয়কে বলিলেন, “ইনি জগদ্ধাত্রী দেবী, তোমরা যে দেবীর পূজা কর। আমি মূর্তি পূজা করি না।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া তাঁহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিলেন পর, মীডিয়ম্ আজও আপনা হইতে মহাত্মার নিকটে থাতে চাহিল। মীডিয়ম্ আপনা হইতে খাইতে চাহিল বলিয়া মহাত্মা কিছুই খাইতে না দিয়া একটী ফু দিয়া মীডিয়ক উড়াইয়া দিলেন। মীডয়ম্ আসিয়া স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিল। * এস্থলে যে গীদিগের আত্মার দেহত্যাগের নাম সমাধি।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৯ই জুন মীডিয় ধবলগিরি যাইতেছিল; কিছু দূর যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মীডিয়কে তাহার কোলে বসাইয়া তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা মূলদেহে প্রবেশ করিয়া মালার কৌপীন পরিলেন। মহাত্মা পাথরের মধ্য হইতে একটা বিশাল টানিয়া বাহির করিলেন। ত্রিশূল দেখিয়া মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এইটা কি ?” মহাত্মা বলিলেন, “এইটা আমার ভাই।” এই বলিয়া মহাত্মা ত্রিশূল্টীকে তাহার কঁাধের উপরে রাখিলেন। পরে মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রম হইতে ২২ মাইল দূরে একটা স্থানে গেলেন। সেই স্থানে এক প্রকার ছােট ছোট গাছ আছে। গাছগুলিতে অনেক ফল ফলিয়া রহিয়াছে ; ফলগুলি দেখিতে বড়ই সুন্দর। গাছগুলির উপরে অনেকগুলি পক্ষিজাতীয় পৈরী আছে। পৈরী দেখাইয়া মহাত্মা মডিয়কে লইয়া, গত পরশু (৭ই জুন) মহাত্মা মডিয়কে যে যােগীর সঙ্গে আলাপ করাইয়া দেওয়ার কথা বলিয়াছিলেন, সেই যােগীর আশ্রমে গেলেন। আশ্রমের মধ্যে দ্বিতীয় বাঙ্গালী দুইটা ফলের গাছ আছে; একটা ঝরণা আছে। ঝরণার কিনারে নানারঙের অনেক পাথর পড়িয়া রহিয়াছে। আশ্রমের চারিদিক-ই ফাকা, গাছ পালা নাই। আশ্রমটা দেখিতে খুব সুন্দর। আশ্রমের একটা গাছের তলায় সেই যােগ ‘শূল কঁাধে করিয়া চোখ বুজিয়া পদ্মাসনে বসিয়া আছেন। তাঁহার বড় বড় দাড়ি আছে। তাহার মাথায় এক ছড়া হীরার মালা জড়ান আছে। তিনি উলঙ্গ থাকেন। তাঁহার বয়স সাড়ে পাঁচ শত বৎসর। তিনি বাঙ্গালী। ক্ষত্রিয় কুলে তঁাহার জন্ম হয়। মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয় দ্বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই একঝাঁক পাখী আসিয়া দ্বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমের একটা গাছের উপরে ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৰসিল। বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা তাহার • ত্রিশূলটা পায়ের উপরে ছাড়িয়া দিলেন। ত্রিশলটা পাথরের উপরে দাড়াইয়া মহিল। একটা মপ আসিয়া ত্রিশূলের উপরে উঠিয়া ত্রিশূলের মধ্যে চলিয়া গেল। সঞ্জীকে.সার দেখা গেল না। ত্রিশূলের মাথায় আগুন জ্বলিয়া উঠিল। ত্রিশূলের হইতে নানারঙের জল বাহির হইতে লাগিল। বাঙ্গালী মহাত্মঃ পায়ে উপরে একটা চড় মারিলেন। চড় মারিতেই পাথরের উপরে ধপ করিয়া আগুন জ্বলিয়া উঠিল। আনের মধ্য হইতে একটা সাদা পাথরের মূর্তি বাহির হইল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা আর একটা চড় মারিতেই মুর্তিটা কতকগুলি বড় বড় সূচ হইয়া গেল। অাবার একটা চড় মারিতেই গুলি একগােছ চুল হইয়া গেল। চুলগােহ একটা জটা হইল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা জটাটা তাহার মাথায় জড়াইলেন। মাথায় জড়াইতেই জটাটা সাপ হইয়া গেল। মহাত্মা রজনীকুমার, মীডিম্বকে বলিলেন, “ইনি আজ আর বিভূতি দেখাইবেন না.আগামী কল্য আরও দেখাইবেন।” ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মহাত্মা-রজনীকুমারের সঙ্গে দুই চারিটি কথা বলিয়া অদৃশ্য হইয়া গেলেন। মহাত্মা রজনীকুমার ডিম্বকে বলিলেন, “ইনি আগামী কল্য তােমার সঙ্গে আলাপ করিবেন। এই কথা বলিয়া মহাত্মা গীডিয়মকে লইয়া ২য় বাঙ্গালী হায়ার আশ্রয় হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিতে লাগিলেন। আমের মাই দূরে থাকিতেই মহাত্মা তাহার বিলটা পাথরের মধ্যে ঢুকাই দিয়া আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। মহাত্মাও আশ্রমে আসিলেন হাজার শিলটাও পাথরের মধ্য দিয়া আসিয়া আমের উপরে উঠিল। মহাত্মা মীভিয়কে বলিলেন, “যাহার কাছে গিয়াছিলাম, তিনি ত্রিশূল খুব ভালবাসেন। এ কথার পর মহাত্মা তাহার মাথায় হাত দিয়া একটা সাপ বাহির করিয়া মীডিয়কে বলিলেন, “সাপটা ধর।”, মীডির । " ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। সাপটা ধরিতেই একটা শিকড় হইয়া গেল। মহা মীডিয়কে বলিলেন, শিকড়টা খাও।” মীডিম্ শিকড়ের একটু খাইল। শিকড়টা খুব মিট ছিল বলিয়া মডিয়ম্ বেশী খাইতে পারিল না। মহাত্মা মডিয়কে কে কোষ জল খাওয়াইলেন। জল খাওয়ার পরে মীডিয়মে । ঠাণ্ডা বােধ হইতে লাগিল। তারপর মহাত্মা খরের উপরে একটা কিল মারিয়া একটা সাদা ডিম..বাদি করিলেন। সেই ডিমের মধ্যে মডিয়মকে ভরিয়া, “ডিমটা কাককে দিয়া খাওয়াইব” এই বলিয়া , মহাত্মা মীন্ডিয়কে তামাসা করিতে লাগিলেন। পরে যা ডিটা উপরদিকে ছুড়িয়া ফেলিলেন। ঘােগমায়াত-ডিমে ইডিয় চলিয়া আসিয়া স্থূলশরীরে প্রবেশ করিল। ১ই জুন মীডিয়ম্ ধবলগিরি যাইতেছিল; অর্ধেক পথ যাইতেই মহাত্মা নীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মডিয়কে পদ্মাসন করাইয়া তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা স্কুলদেহে প্রবেশ করিলেন। কতিয়ম্ মহাত্মাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিল। মহাত্মা মডিয়াকে বলিলেন, ; ; “দুই দিন পর এক দিন # করিতে পারিবে, রাে: রােজ : নয়।” এই কপার পরে, মহাত্মা মডিয়মকে ইয়; দ্বিতীয়, বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গেলেন। শিয়া দেখিলেন, দ্বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা বসিয়া আছেন। # মডিয়ম্ ২য় বাঙ্গণী, মহাত্মাকে প্রণাম করিল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা গীডিয়কে তাহার কাছে ডাকিয়া নিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, *কচাও ?” মীডিয়ম্ বলিল, “আমরা আপনাদের কৃপা প্রার্থী।” ২ বাঙ্গালী মহাত্মা বললেন, “আচ্ছা।” (অর্থাৎ ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা আমাদের প্রতি কৃপা রাখিমে।.)।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। তারপর ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাথরের মধ্য হইতে একটা ত্রিশূল টানিয়া বাহির করিলেন। . ত্রিশূলটা পাথরের উপরে ছাড়িয়া দিলেন। বিলটা পাচটা ত্রিশূণ হইয়া পাথরের উপরে দাঁড়াইল। আবার দ্বিতীয় বাঙ্গালী ত্রিশূল পাঁচটা মিলিয়া গিয়া একটা বিশাল হইয়া এই বিভূতি ঈাড়াইয়া রহিল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার দুই পাশ প্রদর্শন লিয়া দুইজন বীরপুরুষ ধনুর্বাণ হাতে করিয়া পাথরের মধ্য হইতে উঠিল। গতকল্য ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমের একটা গাছের উপরে যে পাখীর ঝক্ আসিয়া বসিয়াছিল, সেই পাখীর ঝকে তীর ছুড়িয়া বীরপুরুষ দুইজনে দুইটা পাখী মারিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার হাতে আনিয়া দিল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাখী দুইটীকে একত্র করিয়া পাখী দুইটীর গায়ে একটা ফু দিলেন। ফুয়েতে আগুণ বাহির হইল। পাখী দুইটা সজীব হইয়া উড়িয়া গেল। বীরপুরুষের একজন পাথরের নীচে চলিয়া গেল আবার আসিয়া উপরে উঠিল। পরে অন্য জন পাথরের নীচে গেল আবার উপরে উঠিল। বীরপুরুষ দুইজনে ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার সামনে গিয়া বসিল। • ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা বীরপুরুষ দুইজনের মাথায় হাত দিতেই বীরপুরুষের একজন ভুগী ও একজন তবল হইয়া গেল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা 'ডুগী-তবল বাজাইয়া, গান করিতে লাগিলেন। একখানা পাথর শাসিয়া : বাঙ্গালী মহ'র সামনে পড়ল । পাখরখানা একটা পুতুল হইয়া গেল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা বাজাইতে লাগিলেন আর পুতুল নচিতে লাগল। নাচতে নাচিতে পুতুলটা পাথরের নীচে চলিয়া লে! : বাঙ্গালী মহাত্মা ডুগী-তবল ছুড়িয়া ফেলিয়া দিলেন। ডুগীতৰল ঘরের নীচে চলিয়া গেল । ২য় বাঙ্গালী নাস্তার সামনে একটা হাহ শাসয়া দাড়াইল। বাঘটা কুকুর হইয়া গেল। কুকুরটী বী হ , ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। হইল। বেজী সাপ হইয়া গিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে কামড়াইয়া দিল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। সাপটা গিয়া তাঁহার আসনের উপরে বসিল। একটু পরে আশ্রমে একটা গাছ হইতে একটা ফল পড়িল। ফল পড়িতেই ২য় বাঙ্গালী মহাত্মউপরে উঠিলেন, আর সপটী গিয়া গাছে চড়িল। বাঙ্গালী মহাত্মা মীডিয়কে বলিলেন, “গামী কল্য আরও হইবে।” এই বলিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা অদৃশ্য হইয়া গেলেন। আজ মহাত্মা রজনীকুমার ভূলক্রমে ত্রিশূল না লইয়াই ২য় বাঙ্গালী মহা- আর আশ্রমে আলিয়াছিলেন। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে ত্রিশূল বাহির করিতে দেখিয়া তাহার ত্রিশূলের কথা মনে পড়ায় তিনি তখনই ২য় বাঙ্গালী মহা- আর আশ্ৰম হইতে তাহার আশ্রমে ত্রিশূল আনিতে চলিয়া গেলেন। বাঙ্গালী মহাত্মা অদৃশ্য হইলেন পর মহাত্মা ত্রিশূল লইয়া পাথরের মধ্য হইতে ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমের উপরে উঠিয়া শীডিম্বকে বলিলেন, “ত্রিশূল না লইয়া আসিলে ইনি (২য় বাঙ্গালী মহাত্মা) সামনে আসিতে দেন না।” এই কথায় পর মহাত্মা রজনীকুমার মডিয়কে লইয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে ৭ মাইল পশ্চিমে একটা স্থানে গেলেন। সেইস্থানে চন্দ্রলােক দেখিবার একটা যন্ত্র আছে। যন্ত্রটা একটী ফলগিরি গােলাকার, হ্রদের ন্যায় দেখায়। যন্ত্রটীর পরিধি ৪২ ইল। যন্ত্রী পারদের ন্যায় এক প্রকার স্বচ্ছ ও ও উজ্জ্বল তরল পদার্থে পরিপূর্ণ। যন্ত্রের তরল পদার্থের মধ্যে চন্দ্রেয় পৃথিবীর প্রতিবিম্ব ..পডিয়া চন্দ্রের পৃথিবীকে খুব বড় দেখায়। মহাত্মা মীডিকে লইয়... যন্ত্রের তরল পদার্থের উপর দিয়া র পায় হাটিয়া গেলন। যাইবার সময়ে, মহাত্মার পা তরল পদার্থের বলিয়া যাইতেছিল, আবার পা তুলিবামায় বসস্থানটা তরল পদার্থে যাইতেছিল কিন্তু মহাত্মার পায়ে তরল পদার্থ লাগিয়া গেল না। নো দেখিবার মত।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। মখে চন্দ্রের মহাত্মা গীডিয়কে লইয়া যন্ত্রের মধ্যস্থানে গিয়া মডিয়ক যন্ত্রের মধ্যে তাকাইতে বলিলেন। মীডিয় যন্ত্রের মধ্যে তাকাইয়া একটা পৃথিবীর দৃশ্য দেখিতে পাইল এবং অনেকগুলি বড় বড় নক্ষত্র দেখিতে পাইল। মহাত্মা মডিয়মকে বলিলেন, চন্দ্রের মধ্যে বীর দৃশ্য। যে পৃথিবী তাহাই দেখা যাইতেছে।”“মীডিয় চন্দ্রের পৃথিবীর দৃশ্য দেখিতে লাগিল,-আমাদের পৃথিবীর ঠায় চন্দ্রের পৃথিবীতেও বড় বড় পাহাড় আছে, বড় বড় সমুদ্রও আছে। চন্দ্রের পৃথিবীর অর্ধেকটা দেখা যাইতেছে। (অর্থাৎ চন্দ্রের পৃথিবীর গােলার্কের অর্থভাগ দেখা যাইতেছে।) চন্দ্রের পৃথিবীতে অনেক জীবন্ত দেখা যাইতেছে। চন্দ্রলোকের মানুষগুলিকে পিপীলিকার ন্যায় ছােট ছােট দেখা যাইতেছে। মহাত্মা শীডিয়কে বলিলেন, “যে মহাত্মা রজনীকুমার মানুষগুলি দেখিতেছ, তাহারা আমাদের হাতের তিন কর্তৃক চন্দ্রলোকের বিবরণ। হাত লম্বা ; তাহাদের রঙ, খুব সাল। আমরা চন্দ্রের যে উজ্জ্বল আলােটা দেখিতে পাই, চন্দ্রের লােকেরা সেই আলােটা দেখিতে পায় না। (অর্থাৎ চন্দ্রের পৃথিবীর উপরে সূর্যের কিরণ পড়িয়া, চন্দ্রের পৃথিবীকে যে উজ্জ্বল দেখায় ও চন্দ্রের পৃথিবী হইতে যে কিরণ ছড়াইয়া পড়ে তাহা চন্দ্রলােকরাসীরা জানে না।) চন্দ্রলােকে হিন্দুধর্ম নয়, অষ্ট ধর্ম। চন্দ্রলোকেও যােগী আছেন। তাহাদের সঙ্গে আমি আলাপ করিতে পারি না। যাহার কাছে তােমকে নিয়া গিয়াছিলাম, তিনি আলাপ করিতে পারেন; আরও অনেকে পারেন। চন্দ্রলােকেও জাহাজ আছে। রেলওয়ে টেলিগ্রাফ প্রভৃতি নাই, অন্যান্য বিষয়ে শাহজ। তাহারা অনেক উন্নত। চন্দ্রলােকের বাড়ী-ঘর আমাদের দেশের গায় নয়, অন্য একার। আমাদের দেশের লােকেও লােকে ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। । . রাজা প্রজা আছে। চলাকে আমাদের দেশের ন্যায় আইন কানুন (আইনের বই ও আদালতাদি কাছা। নাই। আমি চলের সব বিষয় জানি না। এই কথা বলিয়া মহা মীডিয়মকে লইয়া সেই যন্ত্রের মধ্য হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিলেন পর, মীডিয়ম্ মহাত্মাকে বলিল, 'আজ খুক দেখাইলেন।” মহাত্মা বলিলেন, “এখন পর্যন্ত কিছুই দেখ নাই : এত অতি সামান্য *। তােমাদের দুইজনেরই দেখিবার খুব ইচ্ছা। তােমরা দুইজনে শরীর লইয়া আনিলেও দেখিতে পারিবে। যােগীমাত্রেই দেখিতে পারিবে, . অণ্ঠ লােকে দেখিতে পারিবে না।” এই কথার পর মহাত্মা মাডিয়কে এক টুকরা শিকড় খাইতে দিলেন। মীডিম্ মহাত্মাকে বলিল, “আমার খাইতে ইচ্ছা হইতেছে,ন।” মহাত্মা বলিলেন, “এই সব জিনিস দেখি তােমার খাইতে ইচ্ছা হইতেছে না।-তােমার অঙ্গ দেরি হইয়া গিয়াছে, তােমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।” এই বলিয়া মহাত্মা একটা শামুক বাহির করিলেন। সেই শামুকের মধ্যে মডিয়মকে ভরিয়া শামুকটা উপরদিকে ছুড়িয়া ফেলিলেন। যােগমায়া-রচিত-শামুকে মীড আসিয়া শরীরে প্রবেশ করিল। ১১ই জুন মীডিয় ধবলগিরি যাইতেছিল ; ১০ মাইল যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মীডিমকে এক প্রকার আসন করাইয়া তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা সূলদেহে প্রবেশ করিয়া মীডিয়কে বলিলেন, “কাল যে সাধুর নিকটে তােমাকে নিয়া গিয়াছিলাম, আজ তাহার নিকটে যাই যেখানে, চন্দ্রলোক দেখিবার এমন অদ্ভুত যন্ত্রটা অতি সামান্য ব, সেখানে (ধবলগিরিতে) না জানি কত কি আশ্চর্য বস্তু রহিয়াছে, * এইয়া নাই।
লগিরি ও নক্ষত্রকে। খর চল। না; মডিয়ম বলিল, “তিনি, আজ যাই বুলিয়াছেন।” মহুয়া বলিলেন, “বে, তাহার নিকটেই চল। এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়ই দ্বিতীয় বজালী মহাত্মাৰ দ্বাৰ "ফতে উদ্যত হলেন। এমন সময়, মীডিঃ মহাত্মায় যাতে ত্রিশূল : দেখিয়া মহাত্মাকে বলিল, “আজ ত্রিশূল লইলেন ? নডিয়ম্ ত্রিশূলের কথা মনে করিয়া দিতে মহাত্মা ত্রিশূল : লইলেন। পরে মহাত্মা মীডিয়মকে লইয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গিয় দেখিলেন, ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মা ও মডিয় ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়মুকে ডাকিয়া নিয়া তাহার কোলে বসাইলেন। মহাত্মা রজন কুমার দুই হাতের মধ্যে ত্রিশূল লইয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা একটু দূরে দাড়াইয়া রহিলেন। মীডির ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে বলিল, “আপনি চন্দ্রলােকের কথা বলুন।” ২য় বাঙ্গালী মহা বলিলেন, দুই দিন পরে চন্দ্রলােকের কথা বলিব।” এই কথা বলি ২৪ বাঙ্গালী মায়া পাথরের মধ্য হইতে দুইটা হাতী বাহির কবিনে হাতী দুইটীর শু’র দুইটা সাপ বিশেষ। হাতী দুইটা নিশ্বাস ফেলিতেই কতকগুলি ফুল পড়িল। ফুল পড়ি:তই হাত দুইটা অদৃশ্য হইয়া গেল। ২৪ বাঙ্গালী মহাত্মা সেই স্কুলের একটা হইতে নানা রকমের অনেকগুলি ফু বাহির করিলেন। যতগুলি ফুল বাহির করিলেন,সব ফুলগুলি দুই হাতের মধে, লইলেন। ফুলগুলি হাতের মধ্যে লইতে একছড়া মালা হইয়া গেল। ২২ বাঙ্গালী মহাত্মা ফুলের মালাছড়া শীডিমের গলায় পরাইয়া দিয়া বলিলে, ‘অঙ্গ যাও।” এই বলিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। মীডিম্ মহাত্মা, রজনীকুমারের কাছে গেল। মহাত্মা গীডিরুমে গলায় মা দেখিয়া জিলা করিলেন, কোয়াগাইয়?
৪০ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। মীডিম্ বলিল, “ঐ মহাত্মা দিয়াছেন। মহাত্মা মীডিমের গলা হইতে মালাংড়া তুলিয়া লইলেন। মীডিম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “মালাছড়া নিলেন কেন?” মহাত্মা বলিলেন,হহা মালা নয়, ইহাতে অনেক প্রকার জিনিস আছে।” এই কথা বলিয়াই মহাত্মা মালছড়া খাতের মধ্যে গুটাইয়া ফেলিলেন। হাতের মধ্যে গুটাইয়া ফেলিতেই মালাছড়া সাপ হইয়া গেল। মহাত্মা সাপটা তাহার মাথায় জড়াইয়া রাখিলেন। পরে মহাত্মা মডিয়কে লইয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে চন্দ্রলােক দেখিবার যন্ত্রের নিকটে গেলেন। আজ মহাত্মা যন্ত্রের মধ্যস্থলে না গিয়া যন্ত্রের এক পার্শ্বে পাহা- চলাে ধেবার ড়ের উপরে দাড়াইয়া মডিয়কে যন্ত্র-মধ্যে চন্দ্র- যন্ত ২য় দিবস। লোকের দৃশ্য দেখাইতে লাগিলেন। সীডিম্ দেখিতে লাগিল,-আজ চন্দ্রের পৃথিবীতে অনেক পাহাড় দেখা যাইতেছে। পাহাড়ের মধ্যে অনেক ঝরণা আছে, ঘােট ঘােট নদীও আছে। আজ চক্রের লােকগুলিকে কিছু বড় দেখা যাইতেছে। এখন চন্দ্রলােকে দিনের বেলা। মহাত্মা বলিলেন, “চত্নের পৃথিবীতে অষ্ণ চন্দ্র আলো দিয়া থাকে। চন্দ্রলােকেও অনেক যােগী আছেন। সাধুরা যোগবলে চলােকের যােগদিগের সঙ্গে কথা বলিতে পারেন। চন্ত্রের লােকেরা আমাদিগকে দেখিতে পায়। (অর্থাৎ চলােবাসীরা আমাদের পৃথিবীর লােককে দেখিয়া থাকে।) মীডিয় মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “চত্রের লােকেরা আমাদিগকে কিরূপে দেখিতে লোকে পায়? হায়া বলিলেন, “তারা আমাদের এই আমাদের পৃথিবী পৃথিবী দেখিবার জন্য একটা যন্ত্র তৈরী করিয়াছে। সেই দেখিবার । যন্ত্র দিয়া তাহার সকলেই আমাদিগকে দেখিয়া থাকে। আমাদের এই গট সত্যযুগের। এই একা আর কোনও পৃথিবীতে ধৰলগিরি ও নােক। ৪১ । নাই। চলােকের যত্নটা অল্পদিনের। সেই যন্ত্রটা ধাতু কার প্রভৃতি যারা তৈয়ারী। মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি সেইরূপ যন্ত্র তৈয়ারী করিবার প্রণালী বলিয়া দিতে পারেন কি ?” মহাত্মা বলিলেন, “আমি জানি কি প্রকারে তৈয়ারী করিতে হয়। তােমরা মাথা খাটাইয়া তৈয়ার করিতে পার।” মীডিম জিজ্ঞাসা করিল, সূৰ্যলােকে য্যেও কি লােক আছে?” মহাত্মা বলিলেন, “সূৰ্য্যেও মানুষ। লােক আছে। সূৰ্য্যলােক দেখিবার যন্ত্র নাই। আরও উচুদরের (অর্থাৎ ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা হইতেও উন্নত) সাধুর সঙ্গে আলাপ করাইয়া দিব। তাহাদের নিকট হইতে সূৰ্য্যলােকের খবর পাওয়া যাইবে।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা মডিয়কে লইয়া যন্ত্রের নিকট হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা, গতকল্য মডিয়কে যে শিকড়টা খাইতে দিয়াছিলেন, সেই শিকড়টা মীডিম্বকে খাইতে দিলেন। মীডিয়ম্ শিকড় খাইয়া শিকড়ের কোনই স্বাদ পাইল না কিন্তু, মীডিয়মের বেশ বােধ হইতে লাগিল। তারপর মহাত্মা ‘আয়’ ষাড়ের কপালে ‘আয় করিয়া ডাকিতেই মহাত্মার নিকটে প্রকাণ্ড মায়া রানী- একটা বড় আসিল। যাঁড়ের কপালে বাঙলা কুমারের নাম। অক্ষরে লেখা ছিল-রজনীকুমার দাস, কালিন। মহাত্মা গীডিয়মকে যাঙ্কের পিঠে বসাইয়া মীডিয়শের হাতে একটা ত্রিশূল দিয়া বলিলেন, “ত্রিশূলটা আমার বাঁড়কে দিও। বড়টা মডিয়কে লইয়া চলিয়া আসিতে লাগিল। যতই আসিতে লাগিল বড়টা তাই ছােট হইয়া যাইতে লাগিল। সুদূর আসিলে পর, নীডিয় ত্রিশূলট যক্ষকে দিল। বিলটা দিতেই এটাকে আর দেখা গেল। মাসি চলিয়া আসিয়া (রীরে প্রবেশ করিল।
৪২
নত্রকে।
১২ই জুন মীডিয় ধবলগিরি যাইতেছিল ১০ মাইল যাইইে মহাত্মা
রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া নীডিয়কে তঁাহার' আমে শুইয়া
গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা শরীরে প্রবেশ করিয়া মডিয়কে
বলেন, “গতকল্য ষাঁড়ের মাথায় আমারই নাম ছিল ' অপকাহাকেও
বলিও না।” এই কথার পর,হাত্মা মীডিমকে
লগিরিতে
কোলে বসাইয়া তাহার আশ্রম হইতে ৯ মাইল
দূরে
পণে৭-মূর্তি।
একটা স্থানে লইয়া গেলেন। সেই স্থানে কাল পাথরে,
একটা গণেশমূর্তি আছে। গণেশমূর্তি। সানে সুন্দর একটা ফুলের
বাগান আছে। বাগানে অনেক রকমের ফুল ফুটিয়া আছে। ফুলগুলি
বরফের সঙ্গে লাগিয়া রহিয়াছে।
গণেশের মূর্তিটা দেখাইয়া মহাত্মা মীডয়কে সেইস্থান হইতে ১৯ মাইল
দূরে আর একটা স্থানে লইয়া গেলেন। সেখানে একটা পুকুর আছে।
পুকুরের পশ্চিম পারে ছােট একটা গাছ আছে।
গাছর পাতার উপর পিঠে সাপের ন্যায় ছবি
২৬ জন যােগ।
আছে। গাছটার ফল লাল ও সুপারীর ন্যায় ছােট।
পুকুরের দুইপারে ২৬ জন যােগী বসিয়া রহিয়াছেন। তাহার
সকলেই উলঙ্গ। তাঁহাদের সকলের বয়সই ৫০০ শত বৎসরের
অধিক। মহাত্মা মীভিয়কে বলিলেন, “ইহা ইচ্ছা করিলে (অর্থাৎ
ইচ্ছাশক্তি বলে। মানুষকে মারিতেও পারেন এবং বাচাইয়া রাখিতে ও
পারেন। ইহারাই ভারত জয়ের বন্দোবস্ত করিতেছেন। (অৎ এই
যােপজিগের তপােৰলেই ভারতে হিন্দুর রাজক হইবে।). ইহা এই
পুকুরে জল একেবারে শুকাইয়া দেন, আবার লইয়া আনে। ইরা
ইমিলে এখান হইতে ষ ছাড়িয়া দিয়া সময় ভারতবর্ষণে
ডুবাইয়া দিতে পারে। মহাত্মা এই কথা বলিতেই পুকুটীজ জল
ধবলগিরি ও নক্ষকে। । - 4 একেবারে শুকাইয়া গেল। আবার একটু পরে এত জল বইলে যে, নেই, যেগীদিগের মাথার উপরে জল উঠিয়া গেল। মহাত্মা মক্সিকে বলিলেন, “এই সাধুদের সঙ্গে অন্তদিন আলাপ করাইয়া দিব। এই কথা ধাঁয়া,হায়' শীডাকে লইয়া সেই পুকুর পার হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিতেন । আশ্রমে আসিয়া হয়। মীডিয়মকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তােমরা শরীর লইয়া এখানে আসিতে পার কি না?* মডিয়ম্ বলিল, “যদি আপনি দার্জিলিং হইতে আমাদিগকে লইয়া আসেন তাহা হইলে আসিতে পারি।” মহাত্মা বলিলেন, “আমি এক জনকে আমার সনে ‘বসাইয়া লইয়া, আসিতে পারি। দার্জিলিং হইতে ধবলগিরি সাড়ে তিন শত মাইল। তােমাদিগকে রাস্তা বলিয়া দিব, তােমাদের আসিতে কোনই কষ্ট হইবে না।-আচ্ছ, কিছুদিন পরে তােমাদিগকে এখানে লইয়া আমায় বলোবস্ত করিব।” মীয়ি মহাত্মাকে বলল, “মঙ্গল এহের খবর বলিতে পারেন, এমন যােগী খুজিয়া দিবেন।” মহাত্মা মীডিয়মের এই কথায় কোনও উত্তর না করিয়া পাথরের মধ্য হইতে একটা ত্রিশূল বাহির করিয়া ত্রিশূলের মাথায় একটা গদি লাগাইলেন। পরে সেই ত্রিশূলের উপরে মডিয়কে বসাইয়া পাঠাইয়া দিলেন। মডিয়ম্ আসিয়া শরীরে প্রশেশ করিল। ১৩ই জুন শীডিয় ধবলগিরি যাইতেছিল; অর্ধেক রাস্তা খাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার সুন্নদেহে আসিয়া-ডিম হয় আমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা-সূলগীরে প্রবেশ করিয়া এভিয়কে দুইট, ফল ও এক কােষ জল খাওয়াইতেন।. জীডিয়' মহাকাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আমাদের কয়েক জন বন্ধু ধবলগিরিতেসিতে চান, *৪৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। মধ্যে আপনি সঁহাদিগকে লইয়া আসিবেন কি না? মডিয়মের এক মহাত্মা একটু হাঁসিয়া বলিলেন, “তােমরা এমন এক একটি প্রশ্ন যে, মুঝিলে পড়িয়া যাই=এখানে সকলে আসিতে পারে না।” কথার পর মহাত্মা মডিয়মকে লইয়ার্তাহার আ বলগিরিতে হইতে ২১ মাইল দূরে একটগােল মাঠে না অসুরের মূর্তি। খানে গেলেন। সেই মাঠের একপাশে ক পাথরের একটা বিকটাকার মূর্তি আছে। মহাত্মা মডিয়কৈ মুঠ দেখাইয়া বলিলেন, “এইটা অসুরের মূর্তি। এখানে অনুরের এ হইয়াছি।* মাঠের মাঝখানে শ্বেতপাথরের একটা গােল স্তম্ভ আর শুটী প্রায় ২৫ হাত উচু হইবে। স্তম্ভের কো দরজা নাই। মহা মীডিয়কে লইয়া স্ত যােগীর বাস। নিকটে যাইতেই স্তম্ভের পূর্বদিক দিয়া একটী দর হইয়া গেল। মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া সেই দরজা দিয়া স্ত ভিতরে গেলেন। স্তম্ভের ভিতরে যাইতেই মডিয়মের অত্যন্ত করিতে লাগিল। অঙ্কের ভিতরটা একটা গােলাকার কোঠা বিশে সেই কোঠার মধ্যে একজন যােগী চোখ বুজিয়া পদ্মাসনে বসিয়া আছে হার বয়স ৭০ শত বৎসর। মহাত্মা গীভিয়কে বলিলেন, “সাধু প্রণাম কর।” মীডিয় সেই যােগীকে প্রণাম করিতেই সেই যােগী ডান তুলিয়া মডিয়মকে আশীর্বাদ জানাইলেন। মহাত্মা মডিয়মকে বলিরে অ দিন এই সাধুর সঙ্গে তােমাকে আলাপ করাইয়া দিব।” মহা এই কথা বলিতেই শুতে পূর্বদিকের দরজাটা বন্ধ হইয়া গিয়া ॥ উত্তরমিক দিয়া আর একটা দরজা হইয়া গেল। মহাত্মা গীডিয় লইয়া সেই দরজা দিয়া ও বাহিরে আসিলেন। বাহিরে আসি রী বন্ধ হইয়া গেল। * ।
ধবলগিরি ও নক্ষনােক।
৪৫
মহাত্মা ওমীডিয় শুভের বাহিরে আসিয়া কাশ-পনে একখানা
ঠের গাড়ি দেখিতে পাইল। গাড়িখানা দুইটা পাথরের মানুষমূর্তিতে
জক্ষিণপশ্চিম কোণই পূর্বোক্তর কোণের দিকে
আাথে
বায়ুবেগে টানিয়া লইয়া যাইতেছে। মীডিম্ মহাত্মাকে
কাঠের গাড়ি
জিজ্ঞাসা করিল, “আকাশপথে কাঠের গাড়ি কিরূপে
লতেছে ?” মহাত্মা যশিলৰকৈলাস পর্বত হইতে একজন সাধু
লিিি.আসিতেছেন, তঁাহার যােগশক্তি বলে গাড়িখানা চলিতেছে।”
খিতে দেখিতে গাড়িখানা আসিয়া ধবলগিরিতে নামিল। গাড়িখানা
মিতেই একটা ভীষণশব্দ হইল।
মহাত্মা মাঠের মধ্য হইতে মীডিয়কে লইয়া অন্য একটা স্থানে
গলেন। সেইস্থানে একটা চৌকোণা বাগিচা আছে। বাগিচার চারি
কাণে লাল, সাদা, সবুজ ও হলুদ এই চারি রঙের চারিটা গাছ
মাছে। যে গাছের যে রঙ, সেই গাছের পাতারও সেই রঙ।
গিচার পশ্চিমদিকে একটা তেপাথরের দেওয়াল আছে। দেওয়ালটা
গিচার পশ্চিমােত্তর কোণের ও পশ্চিমদক্ষিণ কোণের গাছের সঙ্গে লাগিয়া
মাছে। দেওয়ালের উপরে কয়েকটা পক্ষিজাতীয় পৈরী বসিয়া আছে।
বাগিচার মাঝখানে ছোট একটা গােল পুকুর আছে।
পুংয়ে মধ্যে
পুরুষের মধ্যে অনেক প্রকারের হীরা আছে। হীরক
খণ্ডগুলি জলের মধ্যে ঝম করিয়া জ্বলিতেছে।
ড় একখণ্ড গােল হীরা খুবই ঝম করিয়া জলিতেছে। হীরক খণ্ড
১বি পুকুটার জল আলাে করিয়া রাখিয়াছে। বাগিচা দেখাইয়া মহাত্মা
ডিয়কে লয় তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন।
আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “আমি গান করি
তুমি গান শুনিয়া পরে যাইও। এই কথা বলিয়া মহাত্মা একটা
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। বাদ্যযন্ত্র ও একটা সাপ, বাহির করিলেন। মহাত্মা বাদ্যযন্ত্র বাজাইয়া গান করিতে লাগিলেন। সাপটা নাচিতে লাগিল! গান শেষ, হইতেই সাপটা পাথরের নীচে চলিয়া গেল। সপটী নীচে যাইতেই মহাত্মা গজনীকুমারের ন্যায় মীডিমের রূপ হইয়া শূেল। মহাত্মা মডিয়মের পায়ে একজোড়া বৌলাশূন্য খরমপরাইয়া বলেন, হাতে, কি একটা কাল জিনিস দিয়া দিলেন। মতিয় মহাত্মা রজনীকুমারের রূপে চলিয়া আসিতে লাগিল। কিছুদূর আসিলে পর, মীডিয় এটা প্রজাপতি হইয়া গেল। মডিয়ম্ প্রজাপতিরূপে আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল। ১৪ই জুন মীডিয়ম্ ধবলগিরি যাইতেছিল ; অর্ধেক রাস্তা যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মীডিয়মূকে তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা স্কুলদেহে প্রবেশ করিলেন। পরে মহাত্মা মডিয়কে তাহার বামপাশ্বে বসাইয়া দ্বিতীয় বাঙ্গাণী মহাত্মার আশ্রমে লইয়া গেলেন। মীডিয় ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, পাথরের মধ্য হইতে ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার মাথাটা বাহির হইয়া আছে। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাথরের মধ্য হইতে ক্রমে ক্রমে তাহার শরীরটা বাহির করিয়া আশ্রমের উপরে উঠিয়া বসিলেন। মহাত্মা ও মীডয়ম্ ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমের একটা গাছের নিকট হইতে ছােট ছােট কয়েকটা গরু, বাহির হইল। গরুগুলি বিড়াল হইয়া গেল। বিড়ালগুলি পিপড়। হইয়া গেল। পচা গুলি একটা একটা করিয়া পাথার মধ্যে চলিয়া গেল।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। ৪৭ এই সমস্ত বিভূতি দেখাইয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা গীডিকে চন্দ্র- লােকের কথা বলিতে লাগিলেন,-“চন্দ্রলােকের মানুষ আমাদের হাতের তিন হাত। তাদের রঙ, খুব পরিষ্কার। তাহাদের দ্বিতীয় বাঙ্গালী ভাষা অন্য প্রকার। (অর্থাৎ সেইরূপ ভাষা আমাদের মহাত্মা কর্তৃচন্দ্র পৃথিবীতে নাই।) চন্দ্রলােকেও অনেক যােগী আছেন। লােকের বিবরণ। চন্দ্ৰশ্নেকে আমাদের দেশের ন্যায় ব্যবসা বাণিজ্য নাই। আমাদের পৃথিবী হইতে দেখিয়া দেখিয়া চন্দ্রলােকবাসীর অনেক প্রকার কলকজা তৈয়ারী করিয়াছে। বড় বড় জাহাজ তৈয়ারী করিয়াছে, রেলওয়ে শীঘ্রই তৈরী করিবে। তাহারা আমাদের এই পৃথিবী দেখিবার জন্য একটা যন্ত্র তৈরী করিয়াছে। সেই যন্ত্রদ্বারা তাহারা আমাদের পৃথিবীর সব দেখিতেছে। চন্দ্রলােকে একজন রাজা, এক ধৰ্ম্ম, এক ভাষা। (অর্থাৎ চন্দ্রলোকের সমস্ত পৃথিবীর উপরে কেবল মাত্র একজনই রাজা, একটা মাত্র ধর্ম ও একটা মাত্র ভাষা। চন্দ্রলােকে বার মাসই শীত। চন্দ্রলােকে আমাদের দেশের ন্যায় পাকা বাড়ী নাই; মাটীর দেওয়াল ও ফুলের ছাউনীর ঘর। রাজার বাড়ীতেও মাটীর দেওয়াল। চন্দ্রলোকে আমাদের দেশের ন্যায় এত ফল নাই, অনেক কম। আমাদের পৃথিবীতে যে সুৰ্য্যে আলাে দেয় চন্দ্রলােকেও সেই সূর্য্য আলাে নিয়া থাকে। চন্দ্রলােক হইতে আমাদের এই পৃথিবী কাল-স্থতের ন্যায় দেখায়। আগামী কল্য আরও বলিব, এই কথা বলিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। নীচে যাইতেই ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার ন্যায় একটা সাদা পাথরের মূর্তি আশ্রমের উপরে উঠিয়া বসিল । ২৪ বাঙ্গালী মহাত্মা অনেক প্রকার রূপ বদলাইতে পারেন। মহাত্মা রজনীকুমার মীডিয়মকে ইহা য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আনিলেন।
৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মীডিমকে পাঠাইয়া দিলেন। মডিয় আসিয়া স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিল। - ১৫ই জুন মীডিয় মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা মন্ত্র-পাঠ করিতেছেন। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “আজ দেরি করিয়া আসিয়াছ। যিনি চলােকের খবর দেন, আজ তিনি দিবেন না। সাড়ে দশটার পরে আসিলে সেই দিন আর দেখাই না! প্রসাদ খাও।” এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়কে কি একটা কষালু জিনিস খাওয়াইলেন। ত্রিশূল দিয়া পাথর ‘ড়িয়া জল বাহির করিয়া মীডিমকে জল খাওয়াইলেন। পরে মহাত্মা মডিয়কে অনেক দূরে একটা মূর্তি দেখাইলেন। মুর্তিটার মুখ সাদা, সমস্ত শরীর লাল, চুল কাল। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “আগামী কল্য এই মূর্তিটার বিষয় বলিব।” এই কথার পর, মহাত্মা মীডিয়মূকে ছােট একটা পাখী তৈরী করিয়া একটা গাছের উপরে বসাইয়া গাছটা ছাড়িয়া দিয়া বলিলেন, “কিছু দূরে গিয়া গাছটা নীচের দিকে চলিয়া যাইবে।” মীডিয়ম্ পাখীর রূপে গাছের উপরে বসিয়া চলিয়া আসিতে লাগিল। কিছু দুর আসিলে পর, গাছটা নীচের দিকে চলিয়া গেল। মডিয় আসিয়া স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিল। আমার শরীর অসুস্থ হইয়াছিল বলিয়া,১৬ই জুন হইতে ২৮শে জুন পৰ্য্যন্ত আমাদের কাৰ্য্য বন্ধ ছিল। ২৯ শে জুন মীডিমকে মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে পাঠাইলাম। মীডিম্ মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, আশ্রমের উপরে একটা ত্রিশূল দাড়াইয়া রহিয়াছে। মীডয় ত্রিশূলটী দেখিয়াই বুঝিতে পারিল যে, এতদিন ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক। ১৯ অামাদের কাৰ্য্য বন্ধ থাকায় মহাত্মা আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হইয়াছেন। অডিয় ত্রিশূলনীকে প্রণাম করল। প্রণাম করিতেই শূিলটা পাই- রের নীচে চলিয়া গেল। মডিয়ম মনে মনে মহাত্মার নিকটে ক্ষম। প্রার্থনা করিল। মহাত্মা পাথরের মধ্য হইতে হাত বাহির করা মডিয়কে চলিয়া আসিতে ইসারা করিলেন। মীডিম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া স্থূ-শরীরে প্রবেশ করিল। ৩০ শে জুন মীডয়ম মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া মহার ত্রিশূলটী ও খরম জোড়া দেখতে পাইল। মডিয়ম্ ত্রিশূল ও গরম জোড়াকে প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই ত্রিশূলটী পাগলের নীচে চলিয়া ..গল। মহাত্মার খরম জোড়ার নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিতে মহাত্মা ক্ষমা করলেন। মহাত্মা পাথরের মধ্য হইতে দশটা আঙ্গুল দেখাইয়া পরদিন রাত্রি ১০ টার মধ্যে মীডিগ্নমকে যাইতে ইস.. করলেন। মীডয়ম মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া স্কুল- শরীরে প্রবেশ করিল। মীয়ি ১লা জুলাই মীডিম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখি, মহাত্মা বলিয়া আছেন। মী:ডয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মীডিমকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তােমাদের শরীর কেমন আছে?” মীডিয়ম্ বলিল, “ভাল আছে।” মহাত্মা বলিলেন, “আমাদের নিকটে হুকুম না লইয়া তোমাদের কাৰ্য্য বন্ধ করা অন্যায় হইয়াছে।” আমরা মাত্মার নিকটে ক্ষমা চাহিতে মহাত্মা আমাদের অপরাধ ক্ষমা করিলেন। মহাত্মা পেঁয়াজের মত একটা ফল বাহির করিয়া ফলটী দুই টুকরা করিয়া কাটিয়া রাখিয়া দিয়া মীডিয়ক বলেন, “আগামী কল্য ইহা খাওয়াইব।” এই কথার পর মহাত্মা মীডিংমকে একটী ত্রিশূলের উপরে বসাইয়া ত্রিশূলটী পাথরের উপরে ছাড়িয়া ৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। দিলেন। ত্রিশূটী মীডিয়ক লইয়া চলিয়া আরিতে লাগিল। কিছুদূর আসিয়া ত্রিশূলটী অদৃপ্ত হইয়া গেল। মীডিম চলিয়া আনিয়া স্থূলশরীরে প্রবেশ করি। ২রা জুলাই মীডিম্ মহাত্ম রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া একটা কাল ঢিবি দেখিতে পাইল। গীতিয় চিবিটাকে প্রণাম করিতেই হত্মাকে দেখিতে পাইল । হাত্মা ডিকে বলিলেন, “তো আসিতে দেরি হইয়াছে আজ দেখাইব ল।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা গতকল। ষে ফলটী কাটিয়া রাখিয়া দিয়াছিলেন, সেই ফল ডিমক ওয়াইলেন। পরে মহত্মা ডিস্ক ল ত হ র শ্রম হতে কিছুদূর গ্রাসিয়া মীডিয়ক পাঠাইয়া দিলেন। মীডিম্ আসিয়া সুল শরীরে প্রবেশ করিল। ৩7 লাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসা আছেন। মহাত্মা মীডিগ্নকে দেখিয়া বলিলেন, “আজ ৭ মিনট (দতে আলয়াছ। আমি তখনই ঘটতে দেখিলাম,- ১টা বাজিয়া ৭ মিনিট হইয়াছে। মহাত্মা মডিয়ক লইয়া তাহার শ্ৰম হ'তে ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গেলেন। মীয়ি ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, একটী ত্রিশূল দাঁড়াইয়া আছে। নিশূটী খুব লাল লাল দেখা যাইতেছে। লিটী যে ক্রোধ প্রকাশ করিতেছে। মীডিয় ত্রিশূলীকে প্রণাম করিতে ত্রিশূলীই যেন ২য় বঙ্গী মহাত্ম হয়া লে। ২য় বঙ্গলী মহাত্মা ডিমকে জিজ্ঞাসা করিলে , “এত দিন আর নাই কেন? গয়ি বলল, “যিনি আমাকে পাঠান তঁহার শরীর অসুস্থ হয়া ছিল বলি। অলিতে পারি নাই।” ২বক লী মহাত্মা ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। চন্দ্রলোক বলিলো, “আমাদিগকে বলিয়া যাইতে হয়।” অমলা ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার কিটে ক্ষা চাহিলাম। তিনি আমাদিগকে ক্ষমা করিলেন। জয় বাঙ্গালী মহাত্মা মীরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি দেখিবে?” মীয় বলিল, “চন্দ্রলােকের দৃশ্য দেখিব।” ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা বলিলেন, “তবে সেই যন্ত্রের নিকটে যাইতে হইবে।” এই বলিয়া ২৪ বাঙ্গালী মহত্মা মণি মুকে লইয়া চন্দ্রলোক দেখিবর যন্ত্র। নিকটে গেলেন মহাত্ম রজনী কুমার দেখবার যন্ত্রে ২র বাঙ্গলী মহাত্মার আশ্ৰ:ম দাড়াইয়া রহিলেন। তৃতীয় দিন । ২য় ব ঙ্গ লী মহাত্মা যে কি ভাবে মডিয়কে সইয়া যন্ত্রে। নিকটে গেলেন, মীডিম্ তাহার কিছুই বুঝিতে পারিল না। ২য় বঙ্গলী নহ: যন্ত্রের ধারে পাহড়ের উপরে ডাইয়া বস্ত্র মতে মীডিমকে চন্দ্রলোকের দৃশ্য দেখাইতে লাগিলেন। চন্দ্রের পৃথিবীতে একটা শ্বেতপাথরের মনি। দেখাইলেন। একটা সমুদ্র দেখাইলেন। সমুদ্রের জল নড়ে না, মিয়া বক হইয়া আছে। অনেকগুলি প হ ড় দেখাইলেন ; পাহাড়, ওলির চ.পিশ না দেখ ইতেছে। একটা ফুলের বাগান দেখাইলেন। বাগানে সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটিয়া রহিয়াছে। চন্দ্রলােকবাসী. আমাদের পৃথিবী দেখিবার জন্য যে যন্ত্রটী বৈয়ারী করিয়াছে, আজ সেই যন্ত্রটা দেখা যাইতেছে। সেই যন্ত্রের নিকটে মানুষও দেখা যাইতেছে। ২৪ বাঙ্গালী মহাত্মা সেই যন্ত্রটা দেখাইয়া মীডিকে চলোকবাসীর বলিলেন, “ঐ যন্ত্রের সাহায্যে চন্দ্রের লোকেরা আমাদের অামদের পৃথিবীতে এই পৃথিবীতে আবার রাস্তা ঠিক করিতেছে । আসিবার চেষ্টা। তাহারা বিমানে (এপ্লেনে। অনেক দূর পর্য আদিয়ওছে। এমন দিন আসিবে, তহারা আমাদের পৃথিবীতে 'গিত পারিবে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। নত্রলােকে গমন। এই কথার পর ২য় বাঙ্গলী মহাত্মা পাহাড়ের উপরে তাঁহার স্কুল-শরীর রাখিয়া সূক্ষ্মশরীরে মীডিয়ুমকে লইয়া উল্কাবেগে উপর দিকে উঠিতে লাগিলেন। আধ মিনিটের মধ্যে একটি মডিয়মকে লইয়া নক্ষত্রের আলাে-মণ্ডলের * নিকটে গিয়া পোঁছিলেন। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আলো-মণ্ডলের নিকটবর্তী হইতেই ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা ও মডিয়মের ছায়া দুইটা করিয়া হইয়া গেল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা ও মীটিয়-মর সূক্ষ্ম-শরীরের উপরে সূর্যের কিরণ পড়িয়া নক্ষত্রের আলো-মণ্ডলের ভিতরে একটী করিয়া ছায়া পড়িল, আর নক্ষত্রের আলাে-মণ্ডলের আলো পড়িয়া আলাে-মণ্ডলের বাহিরে একটী করিয়া ছায়া পড়িল। নক্ষত্রের আলো-মণ্ডলের নিকট হইতে নক্ষয়ের পৃথিবীচের দিকে দেখা যাইতেছে। নক্ষত্রের পৃথিবীর পাহাড় ও সমুদ্র দেখা যাইতেছে। এই নক্ষত্রটী চন্দ্রের ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়ক জিজ্ঞাসা করিলেন, নক্ষত্রের । মধ্যে প্রবেশ করিবে কি? মীডিয়ম্ বলিল, “করিব।” নিকটে। * নক্ষত্রের আলাে-মণ্ডল-নক্ষত্রের পৃথিবীর মৃত্তিকাদি পদার্থ স্বচ্ছ বলিয়া নক্ষত্রের পৃথিবীর উপরে সূর্যের কিরণ পড়িয়া পৃথিবী হইতে একটা উজ্জ্বল আলো কতক দূর পর্যন্ত ছড়াইয়া পড়ে। পৃথিবী গােলাকার বলিয়া সেই উজ্জ্বল আলোট'ও গােলাকার হয়। সেই গােলাকার উজ্জ্বল আলােটাকে নক্ষত্রের অালো-মণ্ডল বা আলোক- মণ্ডল বলে। । নক্ষত্ৰ-নক্ষত্রের পৃথিবী সহ আলাে-মণ্ডলের নাম নক্ষত্র। আমরা নক্ষত্রের আলাে-মণ্ডলের আলােটাকেই নক্ষত্র বলিয়া দেখিয়া থাকি।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক। নাই। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা, মীডিয়মকে লইয়া নক্ষত্রের আলাে-মণ্ডলের মধ্য দিয়া নক্ষত্রের পৃথিবীতে গিয়া নামলেন। আলাে-মণ্ডলের মধ্য দিয়া যাইবার কালে আলাের তেজে মডিয়মের একটু কষ্ট বােধ হইতেছিল। নক্ষত্রের পৃথিবীতে নামিয়া মডিয়মের আর কষ্ট বােধ হয় নাই। সেই নক্ষত্রের পৃথিবী হইত সূৰ্য্য খুব তেজ দেখাইয়া থাকে । ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়কে নক্ষত্রের পৃথিবীতে এক প্রকার নক্ষত্রের পৃথিবীতে জন্তু দেখাইলেন। সেইরূপ জন্তু আমাদের পৃথিবীতে বায়ুজী জন্তু। সেই জন্তু কেবল হাওয়া খাইয়া থাকে। কেব? ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মীডিরকে বলিলেন, “এই পৃথিবীতে মানুষও আছে।” এই কথা বলিয়া ২য় বাঙ্গাী মাত্মা মডিয়কে লইয়া সেই নক্ষত্রের পৃথিবী হইতে দক্ষিণদিকে যাইতে লাগিলেন। আধ মিনিটের মধ্যে একটী আলাে-মণ্ডল-গঘরের * মধ্যে গিয়া বেশ করিলেন। সেই আলো-মণ্ডল তিনটা গোলাকার গহবরের মধ্যে ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়কে উজ্জ্বল বস্তু। রঙ্গের তিনটা গােপাকার উল দেখাইলেন। এ একটা বস্তু আমাদের এই পৃথিবীর ন্যায় বড় * আলাে-মণ্ডল-গহ্বর-নক্ষত্রের পৃথিবীর কোন কোনও স্থান অস্বচ্ছ থাকায় নক্ষত্রের পৃথিবীর উপরে সূর্যের কিরণ পড়িয়া সেই অস্বচ্ছ স্থান হইতে আলাে বিকিরণ হয় না। এই হেতু, নক্ষত্রের আলাে-মগুলের মধ্যে কোন কোন স্থান তেজোহীন থাকে। আলাে- মণ্ডলের মধ্যের এই তেজোহীন স্থানকে গর্বর ন্যায় দেখায়। আলােলণ্ডলের মধ্যের এই গর্তকে আললামণ্ড-গর বলে। এই অলে, এই গােলাকার বস্তু তিনটা একযােগে থাকায় বন্ত তিনটীর উপরে সূর্যের কিরণ পড়িয়া বৎ তিনটার একটা নালােক ধবলগিরি ও নক্ষলােক। অবসান। হইবে। বস্তু তিনটা আমাদের পৃথিবী হইতে পাঁচ কোটী মাইল দূরে। মীডিম্ ২য় বাঙ্গালী মহা ষ্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, ভারতে জলপ্লাবন “এই তিনটা কি ? বাঙ্গালী মহাত্মা বলিলেন, ও ইংরেজ রাজত্বের *এই তিনটী অামাদের পৃথিৰীয় ক্ষতির জন্যই তৈয়ারী হইয়াছে। ইংরেজী ২০০০ সালে এই তিনটী ফাটিয়া গিয়া তিনটী সমুদ্রের ন্যায় হইবে। তখন ভারত ৭ দিন পৰ্যন্ত জলে পূর্ণ থাকিবে। সেই সমুদ্র সকলেই (দখিতে পাইবে। সেই সময়ে ভারত হইতে ইংরেজের রাজত্ব যাইবে । বাঙ্গালী ভারতের উপরে প্রভুত্ব স্থাপন করিবে।” এই কথা বলিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা 'মডিয়কে লইয়া সেই আলাে-মণ্ডল গহ্বর হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা সু-শরীরে প্রবেশ করিয়া মডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােক দেখিবার যন্ত্রের নিকট হইতে তাঁহার অালো-মণ্ডল হইয়াছে। বস্তু তিনী গােল বলা বস্তু তিনটীর সংযােগ স্থলের মাঝখানটা কঁকা রহিয়াছে। সেই ফাকা স্থানে সূর্যের কিরণ পডিয়া ফাকা স্থান হইছে আলো বিকিরণ না হওয়ায় আলাে-মণ্ডলের মণ্যে সেই ফকের সমপ রমাণ স্থান তেজোহীন হইয়া রহিয়াছে। বস্তু তিনটীর আলাে-মণ্ডলের মধ্যে। এই তেজোহীন স্থানই আলাে মণ্ডল-গহ্বর। * মহাত্মারা যে বলিয়াছেন,-ইংরেজ-রাজত্ব আর সাড়ে তিনশত বৎসর আছে,” “৪০০ চারিশই বৎসরের মধ্যেই হিন্দুর রাজত্ব হইবে, “সমত, পৃথিবীতে একধ স্থাপন করিতে আর অল্পদিন বাকী আছে তা ইংরেজী ২০০০ সালের এই ঘটনাকে লক্ষ্য করিয়াই বলিয়াছেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আলিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মীডিয়কে বলিলেন, “আমি শরীর (স্কুল-শরীর ) লইয়া চন্দ্রলােকে যাইতে পারি •1। আমি জানি, ধবলগিরি হইতে কয়েক জন যােগী শীর লইয়া চন্দ্রলােকে গিয়া ছলেন। চন্দ্রলােকেও এমন যােগী আছেন যাহাঃ শরীর লইয়া আমাদের এই পৃথিবীতে আসিতে পারেন । -অদ্য যাও, অন্য দিন আরও দেখাইব ও বলিব।” এই বলিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। । মহাত্মা রজনীকুমার ম ডিমকে ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে লইয়া আসিয়া ৫ মাইল দূর হইতে একজন স্ত্রী মহাত্মাকে দেখাইয়া দিয়া বলিলে, “ঐ মেয়ে সাধুর নিকটে যাও।” স্ত্রী মহাত্মা। মডিয়ায় স্ত্রী মহাত্মার নিকটে গেল। মহাত্মা শুন্য- পথে দাড়াইয়া রহিনে। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মার নিকটে গিয়া প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই স্ত্রী মহাত্মার সামূনে ধপ করিয়া আগুন জ্বলিয়া উঠিল। স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন। “কোথা হইতে আসিয়াছ ?” মীডিয়ম্ বলিল, “বঙ্গদেশ হইতে আসিয়াছি।” স্ত্রী মহাত্মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “কিরূপে আসিয়াছ?” মডিয়ম্ বলিল, “আমাকে একজনে এখানকার একজন মহাত্মার নিকটে পাঠাইয়া থাকেন, সেই মহাত্মা আমাকে আপনার নিকটে পাঠাইয়া দিয়াছেন।” স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “তুমি আমার নিকটে থাক। তােমাকে দেখিয়া আমার অত্যন্ত মায়া হইয়াছে। আমার নিকট থাকিলে, আমি তাের * ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার এই কথা বলার তাৎপর্য এই যে, চন্দ্রলােকে শরীর লইয়া যাইতে পাঝেন, এমন যোগ অামাগ? জিয়া মতে ইঙ্গিত করিলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। শরীর লইয়া আসিব।” মডিয়ম্ বলিল, “আমরা ভারতবর্ষের লােক- দিগকে নক্ষত্রলােকের অনেক খবর দি। পরে আসিব। স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “আমিও তােমাদিগকে নক্ষত্রকের অনেক খবর দিব।” মডিয়ম্ বলিল, “এখানে আমিও আসিব আর যিনি আমাকে পাঠান তাঁহাকেও আপনার আনিতে হইবে।” শ্রী মহাত্মা বলিলেন, “আমি তাহাকে রাস্তা বলিয়া দিব, সর্বদা তাহার সঙ্গে রাস্তায় দেখা করিব। আমি তাহাকে লইয়া আসিব না ( অর্থাৎ শূন্যপথে লইয়া যাইবেন না)। মীভিয়ণ বলিল, “আপনি একবার বাঙলায় চলুন। স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “আমি সাধারণ লােককে দেখা দিতে পারি না। সাধারণ লােককে দেখা দিলে আমি আর এখানে আসিতে পারিব । এই কথার পর স্ত্রী মহাত্মা একখানা লাল কাপড় পরিয়া মডিয়মকে সঙ্গে লইয়া মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে আসিয়া বলিলেন, “এই ছেলেটা আমাকে দেও।* মহাত্মা বলিলেন, “এখন আমি দিতে পারি না। স্ত্রী মহাত্মা মহাত্মার এই কথায় কোনরূপ উত্তর না করিয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া গেলেন। শ্রী মহাত্মার বয়স সাড়ে তিন শত বৎসর। তাঁহার চুল পাকিয়া গিয়াছে। তাহার মাথায় জটাও আছে। তিনি উলঙ্গ থাকেন। তিনি ৫২ বৎসর বয়সের সময়ে সংসার ত্যাগ করেন। যখন তিনি সংসার ত্যাগ করেন তখন তঁাহার ছেলে মেয়ে ছিল। তিনি বাঙ্গালী। তাঁহার অষ্ঠ (ৰৈ) বংশে জন্ম হয়। জুনাগড়ে তাঁহার বাড়ী ছিল। মহাত্মা রজনীকুমার মীডিয়মকে লইয়া তাঁহার আশ্রমে চলিয়া এদিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহা মীডিম্বকে বলিলেন “মেয়ে সাধু তােমাকে রাখিতে চান, তুমি থাকিবে কি? মীডিয় বলিল, ‘শাকিব। আর যিনি আমাকে পাঠান, তাহাকেও আনিতে হবে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৫৭ মহায়া বলিলেন, “তাহাকেও নিয়া আসিব। মডিয়ম মহাত্মাকে 'জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে আরও স্ত্রী মহাত্মা আছেন কি?” মহাত্মা বলিলেন, “আরও দুই জন আছেন। তাদের একজন ভারতবর্ষের লােক, আর একজন ভারতবর্ষের নয়।” মীডিয় বলিল, “সাইডিং প্রেতের সঙ্গে আমাদের ঝগড়া হইয়াছে। আমরা তাহাকে ছাড়িয়া দিয়া অন্য প্রেতাত্মা'কে গাইডিং প্রেত করিতে চাই।” মহাত্মা বলিলেন, “তাহাকে ছাড়িও না । তাহা হইলে, সে তোমাদের ক্ষতি করিবার চেষ্টা করিবে। অপ্ত বা ৪ * অদ্য যাও * মডিয়ম্ মাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিল। ৪ঠা জুলাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহয়ার ত্রিশূলটা আশ্রমের উপরে দাঁড়াইয়া আছে। মডিয়ম্ বিলটাকে প্রণাম করিতেই মহাত্মা পাথরের মধ্য হইতে মুখ বাহির করিয়া মডিয়কে বলিলেন, “আজ আমার কাজ আছে, কোথায়ও যাইব না। তোমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।” এই বলিয়া মহাত্মা একটা আংটির উপরে মডিয়কে বসাইয়া আংটিটা ছাড়িয়া দিলেন। আংটি মডিয়মকে লইয়া চলিয়া আসিতে লাগিল। কিছুদূর আসিয়া আংটিটা একটা পাহাড়ে উপরে থামিয়া পড়িল। মীডিয় আংটি ছাড়িয়া চলিয়া আসিবার চেষ্টা করিতে মডিয়মের পা আংটিতে আটকাইয়া গেল। 'এইরূপ মায়াসঙ্কটে পড়িয়া মীডিম্ অাংটিটাকে নমস্কার করিল। ন্যায় * প্রেতলােকের যে প্রেতাত্মা মডিয়মের প্রেতলােকে বিচরণ কাৰেৰ তখন করে তাকে গাইজিতে বলে। (তনি খে)।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
করিতেই মীডিয়মের পা আংটি হইতে ছাড়িয়া গেল। মীডিয় চলিয়া
আসিয়া শরীরে প্রবেশ করল ।
৫ই জুলাই মডিয়ম্ প্রেতলােকে যাইয়া গাইডিংপ্রেতের সঙ্গে
কথাবার্তা বলিতেছিল। এমন সময়ে, মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মশরীরে
প্রেতলােকে গিয়া গাইডিংপ্রেতের সম্মুখ
হইতে মডিয়কে লইয়া
তাহার আশ্রমে চলিয়া গেলেন। গাইডিংপ্রেত ইহার কিছুই জানিতে
পারিল না। আশ্রয়ে গিয়া মহাত্মা শরীরে প্রবেশ করিয়া স্ফটিকের
ন্যায় স্বচ্ছ একখানা আসন বাহির করিয়া সেই আসনের উপরে
মাঁডিয়কে বসাইলেন। আসনের মধ্যে মীডিয়মের চেহারা দেখা
যাইতে লাগিল। মহাত্মা মীডয়মের গলায় একছড়া মালা পরাইয়া
দিলেন, মাথায় কতকগুলি
জটা লাগাইয়া দিলেন, জটার
উপরে একটা পাপ জড়াইয়া দিলেন, হাতে একটা ত্রিশূল দিলেন,
পায়ে একজোড়া খম পাইয়া দিলেন, গায়ে ভস্ম মাখিয়া
দিলেন।
এইরূপে মডিয়মূকে যােগীর বেশে সাজাইয়া মহাত্মা
আপনিও একড়া মালা গলায় পরলেন, মাথায় একটা সাপ
জড়াইলেন, হাতে একটা ত্রিশূল লইনে, পায়ে একজোড়া বৌলাশূন্য
খম পরিলেন, গায়ে ভস্ম মাখলেন। পরে, মীড়িয়মের অসনের উপরে
বলিয়া মডিয়ক লইয়া তাহার আশ্রম হতে পশ্চিম দিকে ১৩ মাইল
দূরে গিয়া একটা গাছের তলায় দাড়াইলেন। সেই গাছটাতে অনেক
গুলি সাপ আছে। মহাত্মা মডিয়কে প্রণাম করিতে
বললেন
মডিয়ম্ প্রণাম করিতেই গাছটার সামনে ধপ করিয়া আগুন জ্বলিয়া
উঠিল। মহাত্মা মীদিয়কে আবার প্রণাম করিতে বলিলেন।
ভয় পুনরায় প্রণাম করিছে পাথরের মধ্য হইতে একজন
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
-
০
ঘিকায় মহাপুরুষ বাহির হইলেন। এই মহাপুরুষের বয়স প্রায়
দুই সহস্র বৎসর। আমাদের পরিচিত যোগী দগের
যােগেশ্বর।
ম্য ইনি সকলের শ্রেষ্ঠ ছিলেন বলিয়া আমরা
হাকে যােগর বলিতাম।
• মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়ম্ যােগেশ্বরকে
ও পাম করিল।
ঘাগেশ্বর মীডিয়কে দেখিয়া খুব হাসিতে লাগিলেন। যােগেশ্বর মায়া
(জনীকুমারকে তাহার বামপার্শ্বে ও মডিয়কে হার ডানপাশে
সাইয়া মডিয়কে জিজ্ঞা। করিলেন, “কোথ। হতে আসিয়াছ ?
কন আসিয়াছ?” মীডিয়ম্ বলিল, “আপনাদের নিকটে সমস্ত খবর
জানিবার জন্য, বাঙল। হইতে একজনে আমাকে পাঠাইয়াছেন।”
যাগেশ্বর বলিলেন, “আমরা সব খবর দিব।- যিনি তােমাকে পাঠাইয়ান
তনি কিছু জানেন। আমরা যে এখানে আছি, তিনি কি কারে
জানিলেন ?” মীডিয়ম্ বলিল, “তিনি বিশেষ কিছু জানেন না। কেবল
মেসমেরিজবিদ্যা জানেন, যে উপায়ে আমাকে পাঠাইয়ছেন ।
আপনারা এখানে আছেন, এইরূপ অনুমান করিয়া তিনি আমাকে
এখানে পাঠান। দৈবযােগে এই মহাত্মার (মহাখা রজনীকুমারের)
ঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। যোগেশ্বর বললেন, “আচ্ছা”।
এই কথার পর, যােগেশ্বর মীডিয়কে খুব বড় একটা নদী দেখাইলেন
জল উপরদিকে চলিতেছে। নদীর মধ্য হইতে ধুয় উঠিতেছে।
দীর ভিতরে নানা রঙ্গের মার্বেল পাথর আছে। ক্ষণপরে নদীটিকে
মাত্র দেখা গেল না। যোগেশ্বর একখানা পাথরের উপরে হিন্দিতে
এক পংক্তি কি লিখিয়া পাথরখানা তাহার আশ্রমের গাছের ডালে
লাইয়া রাখিলেন। কি যে লিখিলেন, মী:ভস্ হিন্দি না জানায়
চাহা বুঝিতে পারল না। যােগেশ্বর মীডিয়শের আসনখানা চাহিলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
:
মডিয়ম্ তাহার আসনখানা যােগেশ্বরকে দিল। আসনখানা দিতে
যােগেশ্বর মডিয়মের প্রতি অত্যন্ত খুী হইলেন। একটু পরে আবার
মডিয়কে আসনখানা ফিরাইয়া দিলেন। যােগেশ্বর মীডি:কে একটি
ফল খাইতে দিলেন। মীডিয় ফটা খাইল।
মডিয়মের জন্য
ফলের মধ্য হইতে সাহা একটা বীচি বাহির হইল।
যোগেশ্বরের ফলের
গাছ সরি সংকল্প।
যােগেশ্বর মীডিয়মকে বলিলেন, “বীচিটা পুতিয়া দেও।”
নীডিয় যােগেশ্বরের আশ্রমের এক পালে বীচিটা
পুতিয়া দিল। (যাগেশ্বর বলিলেন, “তােমর জন্য গাছ হইয়া থাকিবে ।
তােমার ইচ্ছামত ফল খাইতে পারিবে। অঙ্গ যাও, আগামীকল
আসিও।” এই বলিয়া যােগেশ্বর মীডিয়কে বিদায় দিলেন। মীভিয়
যােগেশ্বরকে প্রণাম করিল। যােগের পাথরের নীচে চলিয়া
গেলেন। যােগেশ্বরের পিছে পিছে কতকগুলি সাপও পাথরের
মধ্যে ঢুকিয়া গেল। বোগেশ্বরের অনেকগুলি সাপ আছে।
কানপুরে বােগেশ্বয়ের জন্ম হয়। যােগের ৫০ বৎসর বয়সে
সংসার ত্যাগ করিয়া ধবলগিরিতে যান। যখন তিনি সংসার
ত্যাগ করেন, তখন তাহার ভাই ও ভগ্নী ছিল, স্ত্রী পুত্র ছিল না।
যােগেশ্বর পশ্চিম দেশীয় লােক হইয়াও অতি সুন্দর বাঙলা বলেন।
যােগেশ্বর কিছুদিন বঙ্গদেশেও ছিলেন।
মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরের আশ্রম হইতে মডিয়মকে নয়
ময়দানের ন্যায় একটা স্থানে গিয়া দাড়াইলেন। একজন দেবতা আসিয়া
মহাত্মাকে প্রণাম করিলেন। মীডিয় দেবতার মাত্র
দেষতাদর্শন।
হাত দুইখানিই দেখিতে পাইল, অত কোন এক
দেখিতে পাইল না। মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “ইনি কে?
মহাখা বলেন, ইনি একজন নেৰঞ্জ, তােরা বেই অফার পূজা
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। কর।* মীডিম্ ডিজ্ঞা করিল, “ইনি কোথায় থাকেন ?” মহাত্মা বলিলেন, “ইনি'সর্বত্রই থাকেন। আমি তােমার সঙ্গে গিয়া মােকে পাঠাইয় দিতেছি * মহাত্মা এই কথা বলিতেই মডিয়মের টা ত্রিশূলাদ যোগীর বেশটা আর দেখা গেল না। মহাত্মা মীয়েকে সঙ্গে লইয়া প্রায় দেড় শত মাইল আসিয়া মীয়িকে পাঠাইয়া দিলেন। মীডিয়ম্ আসিয়া স্থূল-শীরে প্রবেশ করিল। ২০ মাইল - - ৬ই জুলাই মডিয়ম্ তেলােকে যাইতেছিল। দীডিয় যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া ' মীয়কে তঁাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা সুলদেহে প্রবেশ করিয়া মীডিয়মের পূর্বদিনের আসনখানার ন্যায় একখানা আসন বাহির করিয়া মীডিয়কে বসিয়ে দিলেন। একটা পাথরের গ্লাসে একটা ফলের সরবৎ করিয়া মডিয়কে খাওয়াইলেন। সরবৎ থাইয়া মীনিয়মের শরীর বরফের ন্যায় ঠাণ্ডা বােধ হইতে লাগিল । মহাগ্না নীতিকে বলিলেন, “ন্ত্রী সাধু তোমাকে যাইতে বলিয়াছেন। তিনি তােমার জন্য ব্যাকুল হইয়া আছেন, তাঁহার নিকটে চল।” এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়কে তার আশ্রম হইতে লইয়া গিয়া তিন মাইল দুর হতে মহাত্মাক দেখাইয়া দিয়া আকাশ-পথে দাঁড়াইয়া র হলেন। মীডিয় শ্রী মহাত্মার নিকটে গেল। স্ত্রী মায়া মীডিকে দেখিয়া বড়ই খুশী হইলেন। স্ত্রী মহাত্মা ভীডিকে বলিলেন, “আমি তােমার জন্য ব্যস্ত হয় তােমাকে চারিদিকে খুজিতেছিলাম।” এই কথা বলিয়া শ্রী মহীয়া মডিয়কে একটা ফুল খাওয়াইলেন। ফুল খাওয়াইয়া স্ত্রী মহাত্মা গীডিম্বকে লইয়া তাহার আশ্রমে গেলেন। শ্রী মহাত্মা তাহার আনে ছিলেন না, অন্যত্র ছিলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
আশ্রমে গিয়া স্ত্রী মহাত্মা মীডিকে বলেন, “আমি পূজা করিয়া
ই, পরে আমার দু’জ। বন্ধু আছে। তাহাদের নিকট তােমাকে
লইয়া যাইব। এই বলিয়া শ্ৰী মহাত্মা' গল
মহাত্মার পূজা।
বনিলেন। তাহার সামনে তিনটী হীরার পুতুল
আসিল। স্ত্রী মহাত্মা কাঠ দিয়া পুতুল তিনী:ক পূজা করিলেন।
সেই কাঠ আমাদের ভারতবর্ষে পাওয়া যায় না। স্ত্রী মহাত্মা
মীতিক বলিলেন, “ঠাকুরকে নমস্কার কর।”
মীয়িম্ পুতুল
তিনটীকে নমস্কা করিতেই মডিয়মের মাথার উপরে একটা ফুল
পড়িল। স্ত্রী মহাখা সেই ফুলটী রাখিয়া দিলেন।
কী মহাত্মা এক জো ও খরম পায়ে দিলেন, মীয়িকেও এক
বড় খরম পরাইয়া দিলেন। প। স্ত্রী মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া
অন্য একজন স্ত্রী মহাত্মার নিকটে গেলেন। সেই
विधानको
স্ত্রী মহাত্মা পাথরের একটা গােল বেড়ার মধ্যে বসিয়া
রহিয়াছেন। তাহার সামনে আগুন জলিতেছে।
আগুনের পাশে একটা ভম্মের স্তুপ আছে। তিনি উলঙ্গ। তাহার
শীর খুব কশ, তঁাহার রঙ, খুব পরিষ্কার, তাহার চুল পাকে নাই,
তাঁহার পায়ে এক ছ সােনার হার জড়ান রহিয়াছে।
মডিকে লইয়া প্রথম স্ত্রী মহাত্মাকে যাইতে দেখিয়া দ্বিতীয়
মহাত্মা বিস্মিত হইয়া চকিয়া উঠিলেন। তিনি মীডিয়কে ডাকিয়া
নিয়া তাহার আননের উপরে বসালেন। ১ম স্ত্রী মহাত্মাকে একখানা,
আসন বসিয়ে দিলেন। ২য় স্ত্রী মহাত্মা কে জিজ্ঞাসা করিলেন
“তােমার নাম কি ?” মী উম্ বলিল, “আমার নাম তিলকরাম।
২। স্ত্রী মহাত্মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “তােমার বাড়ী কোথায় ?
ডিম্ বলল, “আমার বাড়ী দুমকা, জিলা সাঁওতাল পরগণ।
মহাত্ম।।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। . ২য় স্ত্রী মায়া বলিলেন, “আমি ইকার নাম বইতে পড়িয়াছি।” 'মীডিমের পরিচয় * লইয়া ২য় স্ত্রী মহাত্মা মীডানের কাছে আমার . পরিদর জিজ্ঞাসা করিলেন। মীডিয়ম ২য় স্ত্রী মহাত্মাকে আমার পূর্বাশ্রমের নাম ও ঠিকানাদি বলিল। ডিয় ২য় স্ত্রী মহাত্মার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিতে ২য় স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “সংসারও আমাকে দয়া করিল না, আমিও সংসারকে দয়া করিলাম না।” মডিয় ২য় স্ত্রী মহাত্মার কথার অভিপ্রায় বুঝিতে ন পারিয়া তাহাকে বলিল, “অম আপনার এই কথার ভাব কিছুই বুঝিতে পারিলাম ।” ২য় স্ত্রী মহাত্মা বলিলে, “আমার ভার ফঁাহার উপরে ছিল তিনি আমাকে দয়া করেন নাই।-আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমি সংসার হতে বাহির হইয়া আসি। তখন আমার মা ছিলেন, আমি তাহার মৃত্যু দেখি নাই। আমি ২৫ বৎসর যাবৎ এখানে আছি। এখ। আমার বয়স ৫৯ বৎসর। বাঙ্গালী বৈষ্ণবকুলে আমার জন্ম হয়।” মীডিম্ ২য় স্ত্রী মহাত্মার গায়ে গহনা না দেখিয়া অপনা হইতেই { অর্থাৎ আমার কাদেশ ব্যতীতই ) ২য় স্ত্রী মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনার গহনা কোথায় ?” ২য় স্ত্রী ১হাত্মা বলিলেন, “আমি আ.সবার সময়ে আমার গহনা বাড়ীতে রাথিয়া আসিয়াছি।” ২য় স্ত্রী মহাত্মা ১ম স্ত্রী মহাত্মাকে বলিলেন, “আপনি এখানে অনেক দিন যাবৎ আছেন, আপনার কোন ভয় নাই। আমি অল্প দিন যাক আছি, আমাকে এই ছেলেটা দিন।” ১ম স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন কখন মীডি: বালকটার নাম তিলকাম। জাতিতে সাতাশ সাদীপ। বয়স ১৪ বৎস। জন্মস্থান দু, জিল সাওতাল পরগণ। মীডিয়ম পালকটা তালরূপ বাঙলা ভাব লিপিতে ও পড়তে পারি।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। এই ছেলেটী শরীর লইয়া আসবে, তখন তােমাকে দিব।” ২স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি এখানে কবে আসিবে ?” মীয়ম্ বলিল, “যে মহাত্মা আমাদিগকে সব দেখাইতেছেন, তিনি বলিয়াছেন,ধবলগিরির সব বস্তু দেখিতে তিন বৎসর লাগিবে। আমরা ধবলগিরির সব বস্তু দেখিয়া কষ লােককে খবর দিয়া পরে আনিব।” ২য় স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “এত দিন কি করিয়া থাকিব।” মডিয়ম্ বলিল, “আyি; মাঝে মাঝে আপনার কাছে আসিব। ২য় স্ত্রী মহাত্মা জ্ঞািসা করিলেন, “তুমি কি রােজই তেলােকে যাও ?” মডিয়ম্ বলিল, “আমি রােজই প্রেতলােকে যাইয়া থাকি।” ২য় স্ত্রী মহাত্মা বললেন, “আমি প্রেতলােকে গিয়া আমার মায়ের আত্মাকে খুঁজিয়া- ছিলাম, তঁাহাকে পাওয়া গেল না।” দ্বিতীয় স্ত্রী মহাত্মা মীডিয়মের গায়ে হাত দিয়া একখানা কাপড় বাহির করিলেন। সেই কাপড়ের অচলে কি একটা জিনিস বাঁধিয়া দিয়া মীডিমকে বলিলেন, “সাধুকে { মহাত্মা রজনীকুমারকে) কাপড়খানা দিয়া আস।” মীডিম্ কাপড়খানা লইয়া গিয়া মহাত্মা রজনী কুমারকে দিয়া ২য় স্ত্রী মহাত্মার নিকটে ফিরিয়া আসিল। ২য় স্ত্রী মহাত্মা দুঃখের সহিত মডিয়কে বলিলেন, “তুমি শীঘ্র শীঘ্র খবর দিয়া আসিও। বােজ আমার কাছে আসিতে চেষ্টা করি।” এই বলিয়া, ২য় স্ত্রী মহাত্মা মডিক বিদায় দিলেন। মীডিম ১ম ও ২য় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মায়া রজনীকুমারের নিকটে চলিয়া গেল। মহাত্মা মাডিয়কে বলিলেন, “আশ্রমে চল। গতকল্য বাহার নিকটে গিয়াছিলাম তঁহার নিকটে যাইতে হইবে। কিছুই নিয়া আসি নাই (অর্থাৎ জট। শূিলাদি কোন বস্তুই নিয়া যান নাই।” এই বিয়া মহা মীভিন্নকে লইয়া তাঁর কাছে গেলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। আশ্রমে গিয়া দাঁড়াইবামাত্র মীডিয়মের শরীরে পূর্বদিনের যযাগি- মেশের • রায় ষােগীর বেশ বিকাশ পাইল। আজ আর মহাত্মার সীড়িয়কে জটা ত্রিশূলাদির এক একটা বস্তু দিয়া অজমে সাজাইতে হয় নাই। মহাত্মা মডিকে বলিলেন, “তাড়াতাড়ি করিয়া যাইতে হইবে।” • এই বলিয়া মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে চলিয়া গেলেন। মডিয়ম্ যােগেশ্বরের আশ্রমে গিয়া দেখিল, গতকল্য যােগেশ্বর পাথরের উপরে হিন্দিতে যাহা লিথিয়া রাখিয়াছিলেন, আজ বাঙলা ও ইংরেজীতে তাহার অনুবাদ হইয়া রহিয়াছে। বাঙলা ভাষায় লেখা আছে—“ভারতসাগর মাঝে নাহি আর কেহই আমার।” মীডিম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “ইংরেজীতে কি লেখা আছে?” মহাত্মা বলিলেন, “আমি ইংরেজী জানি না, অন্য একজন সাধু ইহা, লিখিয়া গিয়াছেন। পরে তাহার সঙ্গেও তোমার দেখা হইবে।” মহা মীডিয়কে বলিলেন, “প্রণাম কর।” মীডিয় প্রণাম করিতেই ষাগের পাগরের মধ্য হইতে আশ্রমের উপরে উঠিয়া দাড়াইলেন। যােগেশ্বরের কপালে কি একটা বস্তু * অলিতেছে। সেই বস্তু হইতে একটা আলাে ৰাহির হইয়া দূরে গিয়া ছড়াইয়া পড়িয়াছে। আলােটা যে স্থানে পড়িয়াছে সেই স্থানটা কানের ব্যয় দেখাইতেছে। সেই বার এত তেজ যে, উহার দিকে তাকাইতে শীডিমের কষ্ট বােধ হইতেছিল। পবের মদনভন্ম কালের তৃতীয় নয়নের ন্যায় বােগেশ্বরের কশলের এই বস্তুটা যােগের তৃতীয় নয়ন। যােগ হইতে এই নয়নের উৎপত্তি হয় বলিয়া ইহাকে যােগনৱন বলে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। গমন। . যোগেশ্বর মীডিয়মের আসনখান নিলেন ও মডিয়কে তাহার আসনখানা দিলেন। যােগেশ্বর মহাত্মা রজনী কুমারকে তাহার আসনের একপাশে বসাইলেন এবং মডিয়কে তাঁহাদের দুইজনের মহাত্মা রজনীকুমার মাঝখানে বসাইলেন। যােগেশ্বর তাহার হাত হইতে ও সীডিয়কে লইয়া ত্রিশূলটী * ছাড়িয়া দিলেন। ত্রিশূলটা পড়িয়া যাইতেই যােগেশ্বরের শূন্যপথে যােগেশ্বর সূক্ষ্মদেহে মহাত্মা রজনীকুমারের সূক্ষ্মদেহ ও মাতিয়মুকে লইয়া বিদ্বেগে উপর দিকে-উঠিতে লাগিলেন। যােগের ও মহাত্মা রজনীকুমারের স্থূলদেহ পাথরের উপরে পড়িয়া রহিল। মােগেশ্বর মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয়কে লইয়া দুই সেকেণ্ডের মধ্যে সাত লক্ষ মাইল উপরে উঠিয়া থামিলেন। যােগেশ্বর মডিয়মকে নীচের দিকে তাকাইয়া আমাদের পৃথিবী দেখিতে বলিলেন। মীয় আমাদের পৃথিবী দেখিতে লাগিল—আমাদের শুন্যপথ হইতে পৃথিবী ঘুরিতেছে। আমাদের পৃথিবীতে তিন ভাগ আমাদের পৃথিবীর জল ও একভাগ স্থল। পৃথিবীর চারি দিকেই বড় দৃশ্য। বড় সমুদ্র। নদীগুলি বাকিয়া বাঁকিয়া গিয়া সমুদ্রে পড়িয়াছে। যােগেশ্বর আঙ্গুল দিয়া মীডিয়কে ধবলগিরি ও কৈলাস পৰ্বত দেখাইলেন। ভারতবর্ষ হইতে ধবলগিরি যাইবার রাস্তা দেখাইলেন। রাস্তাটা দার্জিলিং হইয়া ধবলগিরি গিয়াছে। দার্জিলিঙ্গের পরে আর মাটী নাই, কেবল পাহাড়। যােগেশ্বর বলির্কে আমাদের পৃথিবীতে সূর্যের সমস্ত কিরণ আমাদের সংসারে যায় না! সূর্যের কিরণ। সূর্যের নল আছে, সেই নলের ভিতর দিয়া সূর্যের অতি সামান্য কিরণ গিয়া আমাদের সংসারে পৌছে।” (যােগেশ্বর পৃথিবী * ধবলগিরির যােগীদিগের সকলেরই ত্রিশূল আছে। কোথায়ও যাইতে হইলে তাহারা ত্রিশূল লইয়াই যাইয়া থাকেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক। ফলের গাছ। সংসার বলিতেন।) এই কথার পর, যােগেশ্বর মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়মকে লইয়া শূন্যপথ হইতে ধবলগিরিতে নামিয়া আসিলেন। ••• ধবলগিরিতে আলিয়া যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার শরীরে প্রবেশ করিলেন। গতকল্য মীডিয় যােগেশ্বরের আশ্রমে যে ফলের বীচিটি পুতিয়া দিয়াছিল, আজ সেই বীচি হইতে যােগেশ্বরের আশ্রমে একটী গাছ হইয়া রহিয়াছে। যােগেশ্নর মীডিয়কে মীনিয়মের জন্য সেই গাছটা দেখাইলেন। গাছটাতে অনেক ফল ফলিয়া রহিয়াছে। ফলগুলি দেখিতে ডালিমের মত। যােগেশ্বর মডিয়কে সেই গাছের একটা ফল খাইতে দিলেন। মীড়িয় মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রম হইতে সরবৎ খাইয়া আসিয়াছিল বলিয়া ফলটী খাইতে পারিল না। যোগেশ্বর মীডিমকে বলিলেন, “তুমি শরীর লইয়া আসিলে ও এই গাছের ফল খাইবে। আজ যাও, কাল আসিও।” এই বলিয়া যােগেশ্বর তাহার ত্রিশূলটী আশ্রমের উপর রাখিয়া পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। যােগেশ্বর যে স্থান দিয়া নীচে গেলেন সেই স্থানে আগুন জ্বলিয়া উঠিল। মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয় যােগেশ্বরকে উদ্দেশ্য করিয়া নমস্কার করিল। নমস্কার করিতেই আগুন ও বিশুলটী অদৃশ্য হইয়া গেল। মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে পাঠাইয়া দিলেন। মডিয়ম্ আসিয়া স্থূলশরীরে প্রবেশ করিব। ৭ই জুলাই—আমার মীডিয় বালকটী একজন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বাড়ীতে থাকিত। সেই ব্রাহ্মণ অতি মুখ ছিল ও আমাদের এই কাৰ্য্যের বিদ্বেষী ছিল। সেই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ আমাদের কাৰ্যবন্ধ করার বৃদ্ধ বাঙ্কণ কর্তৃক অভিপ্রায়ে আজ মীডির বালকটাকে মেমেরিক মামাদের কার্যে বিপ্ন। বৈঠকে আসিতে নিষেধ করিল। মীডিম্ বালকটা তাহার আদেশ অমান্য করিয়া মেমেরি বৈঠকে আসিতে পারিল না।
৬৮ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক। পরে কয়েক জন ভদ্রলােক সেই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে অনুমোধ করিতে সে মীড: বালকটিকে মেমেরি বৈঠকে আসিতে আদেশ দিল। তাহার আদেশ পাইয়া মডিয়ম্ বালকটী রাত্রি ১১টার সময়ে মেয়েরি বৈঠকে আসিল : .. প্রত্যহ মীডিয়মকে রাত্রি ৯টার পরে ১০টার মধ্যে ধবলগিরিতে পাঠাইতাম। আজ রাত্রি ১১টার পরে মীডিয়কে ধবলগিরিতে পাঠাইলাম। মীডিম্বলগরিতে মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা যােগে বসিয়াছেন। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “আজ তােমার আসিতে দেরি হইয়াছে, কোথায়ও যাইব না।” মডিয়ম্ মহাত্মাকে দেরির কারণ জানাইল। তথাপি মহাত্মা মীডিয়কে লইয়া কোথায়ও গেলেন না। মহাত্মা মীডিয়মের দুই বগলে দুইটা পাখীর ডানা লাগাইয়া দিয়া মডিয়কে পাঠাইয়া দিলেন। মীডি: আসিয়া স্থূল-শরীরে প্রবেশ করিল। ৮ই জুলাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মহাত্মা মডিয়মকে আশ্রমের উপরে বসাইয়া রাখিয়া পাথরের নীচে গেলেন। আবার কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে উপরে উঠিয়া দুই ছড়া মলা, দুই থানা আসন ও দুইটা বিশাল বাহির করিলেন। মীডিয়ম্ ও মহাত্মা মালাদির এক একটা করিয়া লইলেন। মহাত্মা মডিয়মের মাথায় জটা লাগাইয়া দিলেন, গায়ে ভস্ম মাখিয়া দিলেন। মহাত্মা নিজের গায়েও ভয়, মাখিলেন। পরে মীডয়কে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন। মীডিয় যােগেশ্বরের আশ্রমে গিয়া প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই যােগেশ্বরের আশ্রমের গাছটী কঁপিয়া উঠিল। গাছটাকে কঁপিয়ে দেখিয়া মহাত্মা মীডিয়মকে বলিলেন, “কান সাধু যোগোয়েম ক্রোধ। নিকটে আর নাই বলিয়া সাধুর রাগ হইয়াছে। আবার প্রণাম কর।” মীডিয় পুনরায় প্রণাম করিল। গাছটা ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। আবার কঁপিয়া উঠি। মডিয়ম্ আরও একবার প্রণাম করিল। গাছটা . আবারও কঁপিয়া উঠিল। মীডিয় গাছটার নিকটে ক্ষমা চাহিল। তাহাতে গাছটা ভয়ঙ্কর শষ করিয়া উঠিল । মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরের সঙ্গে দেখা করিবার জন্য আশ্রমের নীচে গেলেন। মহাত্মা নীচে যাইতেই গাছটী আরও ভীষণ শব্দ করিয়া উঠিল। মহাত্মা উপরে উঠিয়া মডিয়কে বলিলেন, “আজ সাধুর সঙ্গে তোমার কিছুতেই দেখা হইবে না। যাহা হয় পরে দেখা যাইবে।” পূৰ্ব্বদিন ষে যােগেশ্বর মীডিয়মের আসনখানা নিয়াছিলেন, আজ সেই আসনখানা মহাত্মার নিকটে কিরাইয়া দিয়াছেন। মহাত্মা মীডিয়মকে লইয়া যােগেশ্বরের, আশ্রম হইতে চলিয়া আসিলেন। যােগেশ্বরের আশ্রম হইতে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে ৫ মাইল দূর হইতে প্রথম স্ত্রী মহাত্মার আশ্রম দেখাইয়া দিয়া শূন্যপথে দাঁড়াইয়া রহিলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, স্ত্রী মহাত্মা যােগনিদ্রায় আছেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই স্ত্রী মহাত্মা চকিয়া জাগিয়া উঠিয়া মডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলে, “কাল আস নাই কেন?” মীডিয়ম্ বলিল, “কাল মহাত্মার নিকটে আসিয়াছিলাম। কিন্তু আমার আসিতে দেরি হইয়াছিল বলিয়া মহাত্মা আমাকে কোথায়ও নিয়া যান নাই। স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “সাধুকে আমার নিকটে লইয়া আস।” মীডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে গিয়া বলিল, “আপনাকে স্ত্রী মহাত্মা যাইতে বলিয়াছেন।” মহাত্মা বলিলেন, “আমাদের মেয়ে মানুষের নিকটে যাইবার অধিকার নাই। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মার নিকটে ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “মহাত্মা বলিলেন যে, আপনাদের নিকটে তাঁহাদের আসিবার অধিকার নাই। জী মহাত্মা মডিয়মের মুখে মহাত্ম! রজনীকুমারের কথা শুনিয়া কিছুক্ষণ চুপ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। করিয়া রহিলেন। পরে মডিয়মকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “যিনি তােমাকে পাঠান তিনি এখানে আসবেন কিনা ?” মডিয়ম্ বলিল, “তিনি নিশ্চয়ই আসিবেন।” স্ত্রী মহাত্মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “তিনি কত দিন পরে.. আসিবেন?” মীডিয়ম্ বলিল, “তিনি যে কত দিন পরে আসিবেন তাহা এখনও ঠিক করিয়া বলিতে পারেন না।গতকল্য যোগেশ্বরের নিকটে যাইতে পারি নাই বলিয়া যােগেশ্বর রাগ করিয়া আজ দেখা দেন নাই।” স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “তুমি পিছন ফিরাইয়া দাঁড়াও, আমি বলিতেছি।” মীডিয় স্ত্রী মহাত্মার দিকে পিছন ফিরাইয়া দাড়াইল। একটু পরে স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “সাধু (যােগেশ্বর) দেখা দিবেন, মাপও করিবেন, কিন্তু পূর্বের ন্যায় খুসী হইবেন না।” তৎপরে স্ত্রী মহাত্মা একখানা পাথরের উপরে কি লিখিয়া পাথরখানা মডিয়মের হাতে দিয়া বলিলেন, “পাথরখানা সাধুর নিকটে লইয়া যাও, কি জবাব দেয় দেখ।” স্ত্রী মহাত্মা যে কোন্ ভাষায় লিখিলেন, মীডিয়ম্ তাহা বুঝিতে পারিল না। মীডিম্ পাথরখানা লইয়া গিয়া মহাত্মা রজনীকুমারকে দিল। মহাত্মা পাথরখানার উপরে জবাব লিখিয়া মডিয়মের হাতে পাথরখানা দিয়া বলিলেন, “স্ত্রীসাধুকে দিয়া আস।” মহাত্মা যে কোন্ ভাষায় লিখিলেন, মীডিম্ তাহা বুঝিতে না পারিয়া মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “কোন্ ভাষায়, লিখিলেন?” মহাত্মা বলিলেন, “আগে নিয়া দেও, পরে বলিব।” ডিয় পাথরখানা আনিয়া স্ত্রী মহাত্মাকে দিল। স্ত্রী মহাত্মা জবাব পড়িয়া পাথরখানা রাখিয়া দিলেন। পরে স্ত্রী মহাত্মা একটা খেত পাথরের গ্লাসে ফলের সরবৎ করিয়া মডিয়মূকে সরবৎ খালােইয়া বিদায় দিলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনী কুমারের নিকটে চলিয়া গেল।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৭১ মহাত্মা মডিয়মকে বলিলেন, “আর কোথাও যাওয়া হউক আর নাই হউক, তােমাকে স্ত্রী সাধুর নিকটে লইয়া আসিব।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা একটা পর্বতশিখরে তাহার স্থূলদেহ রাখিয়া সূক্ষ্ম- দেহে মডিয়কে লইয়া উপর দিকে উঠিতে লাগিলেন। অনেক দূর উপরে উঠিয়া থামিলেন। . মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “কত দূর আসিলেন?” মহাত্মা বলিলেন, “বেশী নয়, সাড়ে চারি কক্ষ মাইল।” মহাত্ম। সেখান হইতে মীডিরমকে সূর্যের সূর্যের তিনটি নল। একটা নল দেখাইলেন। নলটী আমাদের পৃথিবীর দিক হইতে উপর দিকে (অর্থাৎ সূর্যের দিকে ) ক্রমে মোটা হইয়া গিয়াছে। মহাত্মা বলিলেন, “সূর্যের তিনটী নল আছে ; উপরে নীচে ও ম্য। এইটী নীচের নল। এই নল হইতেই সূর্যের সামান্য আলাে আসিয়া আমাদের পৃথিবীতে পড়ে।” (সূৰ্য্যলােক সুৰ্য একটা গােলাকার অগ্নিপিণ্ড বিশেষ । সেই গােলাকার অগ্নিপিণ্ডের মধ্যে একটী পৃথিবী আছে। সেই পৃথিবীতে মানুষ ও অন্যান্য জীব জন্তুও আছে। যেমন জলচর জীবের শরীবে জনের অংশ অধিক বলিয়া জলচর জীবের জলের মধ্যে বাস করিতে কষ্ট হয় না; সেইরূপ সূর্যলােকের জীবের শরীরে অগ্নির অংশ অধিক বলিয়া সূৰ্য্যলােকের জীবের মূৰ্য্যলোকে বাদ করিতে কোনও কষ্ট হয় না। সূর্য এক স্থানেই আছে। সূর্যের তিন দিকে তিনটা নল আছে। নল ভিনটী তাত্যাদি অনেক প্রকার ধাতুতে প্রস্তুত। সূর্যের গােলাকার অগ্নিপিণ্ডের সীমাদেশ হইতে নল তিনটী ক্ৰমে সূক্ষ্ম হইয়া গিয়াছে। সুৰ্য্যের কিরণের শক্তিতে নল তিনটা খাড়াইয়া রহিয়াছে। সূর্যের ৭২ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। । নল তিনটা তাম্ৰাদি ধাতুতে প্রস্তুত বলিয়া সূর্যের কিরণের মধ্যেও তাম্ৰাদি ধাতুর অংশ দেখা যায়। সূর্যের আলো এই ক্রম-সূনলের মধ্য দিয়া আলিয়া পৃথিবীগুলিকে আলােকিত করে। ক্র-সূক্ষ্ম নলের মধ্য দিয়া আলো আসিলেই আলো বহুদূর পর্যন্ত ছড়াইয়া যাইতে সক্ষম হয়। ক্রম-সূক্ষ্মনল ভিন্ন আলাে বহুদূরে যাইতে পারে না। সূর্বের নল আছে বলিয়াই সূর্য হইতে আলাে আসিয়া পৃথিবীগুলিকে আলােকিত করিতে সক্ষম হয়। সূর্যের নল না থাকিলে সূৰ্য্য হইতে আলাে আসিয়া পুরস্থ পৃথিবী- গুলিকে আলােকিত করিতে পারিত না। সূর্যের এক একটী নলের আলো দ্বারা হুসংখ্যক পৃথিবী আলােকিত হইয়া থাকে। সুৰ্য্যের একটা নল হইতে অতি সামান্য আলাে আসিয়া আমাদের পৃথিবীকে আলােকিত করে। আমরা প্রকৃত সূৰ্য্যকে দেখিতে পাই না। সূর্যের নল-মুখের গােলাকার আলােটাকেই আমরা সূৰ্য্য বলিয়া দেখিয়া থাকি। সূর্যের তিনটা নল হেতু একই সূৰ্য্যে তিনটী সূৰ্য্য হইয়াছে। সূর্যের চারিদিক্ দিয়া পৃথিব্যাদি গ্রহগণের কক্ষপথ নয় অর্থ পৃথিব্যাদি গ্রহগণ সূর্যকে বেষ্টন করিয়া ঘুরে না। সূর্যের নল-মুখের সম্মুখদেশে পৃথিব্যাদি গ্রহগণের কক্ষপথ। সূর্যের যে নল-মুখের সন্মুখদেশে যে গ্রহ অবস্থিত, সেই নল-মুখের সন্মুখদেশেই সেই গ্রহে পরিভ্রমণ পথ। ধূমকেতুগুলির গতি গ্রহগণের গতির নিয়মের বহির্ভূত।) সুৰ্য্যের নল দেখাইয়া মহাত্মা মডিয়কে লইয়া পথ হইতে ধবলগিরিতে নামিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া মহাত্মা কুলদেয়ে প্রবেশ করিয়া মীডিয়কে লইয়া সেই পৰ্বতশিখর হইতে তাহার আশ্রয়ে চলিয়া আসিলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। ৭৩ গল্প কথন। মহাত্মা আমে আসিয়া মডিয়কে একটা উচু পাথরের উপরে বসাইয়া বলিলেন, “একটা গল্প শুনিয়া যাও।” এই বলিয়া মহাত্মা গল্প বলিতে লাগিলেন, “আমি যখন সংসারে ছিলাম মহাত্মা রজনীকুমারের তখন আমার ন্যায় কষ্ট কেহই পায় নাই। আমি দুঃখে দুঃখে সংসার হইতে বাহির হইলাম । হইলাম। যখন আমি আসি তখন আমার কাছে একটা পয়সাও ছিল না। আমি ভিক্ষা কবিতে করিতে এখানে আসি। তােমরা যখন আসিবে তখন কিছুই নিয়া আসিও না, কেবল পরমেশ্বরের নাম করিতে করিতে আসিও। এখানে (ধবলগিরিতে। আসিয়া আমার ভয় হইতে লাগিল। হঠাৎ একজন সাধুর সঙ্গে আমার দেখা হইল। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোথা হইতে আসিয়াছ?” আমি বলিলাম, “ভারতবর্ষ হইতে।” এই কথা বলিতেই সাধু অদৃশ্য হইয়া গেলেন। এ পর্যন্ত আর সেই সাধুর সঙ্গে আমার দেখা হয় নাই। অন্য একজন সাধু আমার গুরু। এখন আমার ন্যায় শশী অতি কম লােক। আমি এখান হইতে ভারতবর্ষের ও আমার বাড়ীর খবর সর্বদা পাই। আজ আর গল্প বলিব না, তােমাদের বৈঠকে প্রেতাত্মার আসার কথা আছে। অন্য দিন আরও বলিব।' এই কথা বলিয়া মহাত্মা প্রকাণ্ড বাহির করিয়া সাপটাকে একটা পাখী তৈরী করিলেন। সেই পাখীর উপরে মীডিমকে বসাইয়া খুব জোরে পাঠাইয়া দিলেন। মডিয়ম্ অতিবেগে আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল। মডিয়ম্ ধবলগিরি হইতে আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিলে পর, মীডিয়কে প্রেতলােকে পাঠাইলাম। মীডিয়ম্ প্রেতলােকে গিয়া আজ আমাদের প্রেতবৈঠকে যে প্রেতাত্মার আসিবার কথা ছিল, যেই প্রেতাত্মাকে লইয়া আসিল। একটা সাপ ৭৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। এত দিন মডিয়কে প্রথমতঃ প্রেতলােকে পাঠাইতাম। মডিয় থেতলােক হইতে ফিরিয়া আসিয়া স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিলে পর, মডিয়কে ধবলগিরিতে পাঠাইতাম। এই তারিখ (অর্থাৎ ৮ই জুলাই) হইতে মীডিমকে প্রথমতঃ ধবলগিরিতে পাঠাইতে লাগিলাম।' aীডিয় ধবলগিরি হইতে আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিলে পর, মীডিয়কে প্রেতলােকে পাঠাইতাম ৯ই জুলাই মীডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মহাত্মা মীড়িয়কে ডাকিয়া নিয়া তাহার আসনের উপরে বসাইয়া বলিলেন, “যিনি রাগ করিয়াছিলেন তাহার সঙ্গে বুঝিয়া আসিয়াছি।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা মডিয়মের গলায় একটা গলায় একটা সাপ জড়াইয়া দিলেন। মডিয়মের বগলে একখানা আসন ও হাতে একটা ত্রিশূল দিলেন। মহাত্মা নিজেও গলায় একটা সাপ জড়াইলেন, এবং একখানা আসন ও একটা ত্রিশূল লইলেন। পরে মীডিয়কে তঁাহার জানুর উপরে সাইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে লইয়া গেলেন। মীডিয় যােগেশ্বনের আশ্রমে গিয়া দেখিল, যােগেশ্বরের গাছটার নীচে কতকগুলি দা থর পড়িয়া রহিয়াছে। আজ মডিয়ম্ তাহার গাছটা দেখিতে পাই। গতকল্য মীডিয়ম্ তাহার গাছটীকে দেখিতে পায় নাই। মীডিয়ম্ প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই থােগেশ্বর পাথরের মধ্য হইতে আশ্রমের উপরে উঠিয়া বসিলেন। আজ তাঁহার চোখ খুব লাল দেখা যাইতেছে। যােগেশ্বর মীভিন্নকে তাহার কাছে ডাকিন্তা নিয়া বলিলেন, “তােমাদিগকে শীঘ্রই মিয়া আসিতে হইবে। তােমার গাছে ফল ফলিয়াছে, খাইৰে কি? চল, উপর হইতে আসি ।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক। ৭৫ . যােগেশ্বরের বলোকে গমন। পরে ফল খাইবে।” এই বলিয়া যােগেশ্বর মীডিয়মের আসনখানা নিলেন : ও মডিয়কে তাহার আসখান দিলেন। যােগেশ্বর একটা ত্রিশূৱ লইলেন। মডিয়মের পায়ে একজোড়া খরম পরাইয়া দিলেন। পরে যােগেশ্বর মহাত্মা রজনীকুমারকে তঁাহার বসিবার স্থানে বসাইয়া রাখিয়া সূক্ষ্মদেহে মডিয়কে লইয়া উল্লালেগে মীভিয়কে লইয়া উপরদিকে উঠিতে লাগিলেন।। যােগেশ্বরের সূলদেহ আশ্রসের উপরে পড়িয়া রহিল। যােগেশ্বর ডয়কে লইয়া এক মিনিটের মধ্যে একটী নক্ষত্রের আলাে-মণ্ডলের নিকটে গিয়া পৌছিলেন। আলোমণ্ডলের নিকট হইতে যােগেশ্বর মীদিয়মকে আমাদের এই পৃথিবী দেখাইয়া বলিলেন, “দেখ, আমদের সংসার ছােট দেখা যাইতেছে।” মীডিয় আমাদের পৃথিবী দেখিয়া বলিল, “আমাদের পৃথিবীকে একটা মালের ন্যায় ছােট দেখাইতেছে।” মডিয়ম্ যােশ্বেরকে জিজ্ঞাসা করিল, “এইটা কোন্ তারা ?" যােগেশ্বর বলিলেন, “কয়টা তার নাম ওনি ?” মীডিম ধ্রুব, শনি, মঙ্গল প্রভৃতি কয়েকটা তারার নাম লইল। যোগেশ্বর- বলিলেন, “প্রথমটা ( অর্থাৎ ধ্রুবতারা )।” ধ্রুব বলােকের নক্ষত্রের আলো-মণ্ডলের নিকট হইতে ধ্রুবনক্ষত্রের মণ্ডলের নিকট হইতে পৃথিবীকে ধুমাচ্ছন্ন ধ্রুবক্ষত্রের ধুমাচ্ছন্ন দেখাইতেছে। ধ্রুবলােকের পৃথিবীর পৃথিবীর জীবজন্তুও দেখা যাইতেছে। যােগেশ্বর তাহার ত্রিশূলটা আলো-মণ্ডলের আলােতে লাগাইতেই আলাে-মণ্ডলের মধ্যে একটা ফাক হইয়া গেল। যােগেশ্বর মডিয়কে লইয়া সেই ফাকের মধ্য দিয়া নক্ষত্রের পৃথিবীতে গিয়া নামিলেন। জলে মণ্ডলের মধ্য দিয়া যাইবার সময়ে মীডিরুষের শরীরে ( সুস্থ শরীরে বলােকের আলাে- ৭৬ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। অত্যন্ত তাপ লাগিতেছিল। ধ্রুবনক্ষত্রের পৃথিবীতে গিয়া মডিয়মের আর তাপ লাগে নাই। ধ্রুবনক্ষত্রের পৃথিবীতে আমাদের পৃথিবী নামিয়া যোগেশ্বর মডিয়কে বলিলেন, “আমাদের ইতে শোকের সংসার হইতে বলােক পাঁচকোটি মাইল দূরে।” এই কথা বুলিয়া যোগেশ্বর মীডিয়কে লইয়া বলােকের একটী গ্রামের নিকটে নিকটে গেলেন। মীডিয় ধ্রুবলােকের গ্রামের দৃশ্য দেখিতে লাগিল-সেখানের ধ্রুবলোকে মানুষ মানুষগুলি আমাদের হাতের সাড়ে পাচহাত লম্বা। ও ঘরবাড়ী। তাহাদের রঙ, খুব সাদা। তাহাদের সকলের পরিখানেই গেরুয়া রঙ্গের কাপড়। সেখানের গাছপালা ঘর দরজা সমস্ত বস্তুই সাদা, মাটীও সাদা। ঘরগুলি বঙ্গদেশের ধানের মােড়র থায় গেল। ধরগুলি যে জিনিসে তৈয়ারী সেই জিনিস আমাদের দেশে ( আমাদের পৃথিবীতে) হয় না। যোগেশ্বর মডিয়কে বলিলেন, “আমরা যে উজ্জ্বল আলােটা দেখিতে পাই, এই জায়গার লােকের সেই আলােটার উপলব্ধি নাই। অর্থাৎ আমরা ধ্রুব- নক্ষত্রের যে উজ্জ্বল আলােটা দেখিতে পাই, ধ্রুবলােকবাসীরা সেই আলােটা অনুভব করে না।) এই দেশের চন্দ্র সূৰ্য্য এক। এই দেশে কেবল সূর্যের আলােই আছে। । অর্থাৎ ধ্রুবলােকের কোনও চত্র নাই। ধ্রুবলোকে একমাত্র সূৰ্য্যই আললা দিয়া থাকে। সূর্যের আলাে থাকে বলিয়াই আমরা উজ্জ্বল দেখিতে পাই। (অর্থাৎ ধ্রুবলোককে উজ্জ্বল দেখিয়া থাকি।) এই দেশেও যােগী আছেন। তাহারা আমাদের দেশের যােগীর ন্যায় অত উন্নত নয়। এই দেশে পালী বলোকের ভাষা ও পালীৰ্ম্ম। এই দেশেও বড় বড় সমুদ্র আছে। ভাষা ও ধর। বড় বড় জাহাজও আছে, রেলওয়ে নাই। ७६ वरमा হইল এই দেশের লােকে আমাদের দেশ দেখিবার জন্ত একটা যন্ত্র তৈয়ারী ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ধ্রুবলােকের করিয়াছে। চন্দ্রলােকেও আমাদের দেশ দেখিবার জন্য একটা যন্ত্র তৈরী করিয়াছে। চল, সেই যন্ত্র দিয়া আমাদের ধ্রুবলােকে দেশ দেখি।” এই বলিয়া যােগেশ্বর মীডিয়কে লইয়া আমাদের পৃথিবী দেখিবার যন্ত্র। *লােকবাণীরা আমাদের পৃথিবী দেখিবার জন্য যে যন্ত্র তৈয়াৰী করিয়াছে সেই যন্ত্রের নিকটে গেলেন। যন্ত্রটা ধাতু কাচ ?ভৃতি দ্বারা তৈয়ারী। যন্ত্রটায় একটা নল আছে। নলটী খুব বড়। যন্ত্রের মধ্যে একটা আলাে জ্বলিতেছে। যােগেশ্বর ও মীডিয় সেই যন্ত্রের মধ্যদিয়া আমাদের পৃথিবী দেখিতে লাগিল আমাদের পৃথিবীতে জলের অংশ বেশী। যন্ত্র দিয়া যোগেশ্বর ও আমাদের পৃথিবীর পাহাড়গুল ধুমাচ্ছন্ন দেখ। মডিয়মের অামাদের যাইতেছে। আমাদের পৃথিবীর জীবজন্তুও দেখা পৃথিবী দর্শন। যাইতেছে। যােগেশ্বর মীডিকে বলিলেন, “আমাদের সংসারের ললাকে এখন পর্যন্তও এই প্রকার যন্ত্র তৈয়া;ী করে নাই।” যন্ত্রের নল দেখিয়া মডিয়মের সূধের নলের কথা মনে পড়ায় গডিয় যােগেশ্বরকে জিজ্ঞাসা করিল, “সূর্যের নল তিনটা কি দিয়া তৈয়ারী?” যােগেশ্বর বলিলেন, “অনেক প্রকার ধাতু দিয়া তৈয়া:। সূর্যের কিরণের শক্তিতে নল তিনটা দাড়াইয়া রহিয়াছে। সুর্য্য এক দায়গায়ই মাছে।” এই কথা বলিয়া যােগেশ্বর মডিয়কে লইয়া ধ্রুবলােকের সেই যন্ত্রের নিকট হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর স্থূলদেহে প্রবেশ করিয়া মী ডয়কে ফল খাইতে বলিলেন। মীডিম্ তাহার গাছে চড়িয়া কয়েকটা ফল খাইল। মীডিয়মের গাছের ফল খুব মিষ্ট। মীডিয়মের গাছটতে অনেকগুলি সাপ থাকে। যোগেশ্বর তাহার ত্রিশূলটা লইয়া পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। যােগেশ্বর নীচে যাইতেই তঁহার গাছটা ছােট ৭৮ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। হইয়া গেল। আজ আর যােগেশ্বর মডিয়মের আসনখানা মডিয়কে ফিরাইয়া দেন নাই। মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরের অশ্রম হইতে মডিয়মকে লইয়া আসিয়া ৯ মাইল দূর হইতে প্রথম স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে পাঠাইয়া দিয়া শূন্যপপে দাড়াইয়া রহিলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখল, স্ত্রী মহাত্মা পূজা করিতেছেন। স্ত্রী মহাত্মার চুল খােল। রহিয়াছে। তাহার কাছে আয়না চিরুণীও আছে। তাঁহার আশ্রমে অনেকগুলি পুতুল আছে। তাহার আশ্রমে একটী ভস্মের স্তুপ আছে। সেই স্তুপের উরে তিনি শুইয়া থাকেন। স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে দেখিতে পাইয়া তাহার কাছে ডাকিয়া নিয়া বসাইলনে। তিনি মীডিয়কে এক গ্লাস সবং খাইতে দিলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মাকে বলিল, “আমি ফল খাইয়া আসিয়াছি, আমার পেট ভরিয়া গিয়াছে, আজ আর সরবৎ খাইব না।” স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “আচ্ছা, অদ্য যাও।” মীডিয় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনী- কুমারের নিকট চলিয়া গেল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “সাধু (যােগেশ্বর) খুব খুনী হইয়াছেন। আমি তাঁহাকে তােমাদের অসুবিধা ও কষ্টের কথা জানাইয়াছি। তিনি বলিলেন, “আমি পুর্বে জানি নাই।” তিনি তােমাদিগকে মাপ করিয়াছেন।-তােমাকে দ্রুতবেগে পাঠাইয়া দিতেছি। নতুবা তােমাদের কাৰ্য্যের (প্রেতলােক সম্বন্ধীয় কার্য্যের) ক্ষতি হইবে। এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়মূকে একটা পাহাড়ের নিদেশ দিয়া পাঠাইয়া দিলেন। মডিয়ম অধিবেগে আসিয়া, স্কুল শবীরে প্রবেশ করিল।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। মডিয়ম্ মেমেরিক নিদ্রা হইতে জাগিয়া উঠিয়াও ধবলগিরিতে যে ফল খাইয়াছিল তাহার মিষ্টত্ব অনুভব করিতেছিল। ১০ই জুলাই মতিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। আজ মডিয়মের যাইতে কিঞ্চিৎ বিলম্ব হওয়ায় মায়া মডিয়মকে ' কোনও যােগীর নিকটে লইয়া গেলেন না। মহাত্মা তাহার শরীর আশ্রমের উপরে রাখিয়া শরীরে মডিয়কে লইয়া কয়েক শত মাইল শূন্যপথে উঠিয়া মডিয়কে পশ্চিম-দক্ষিণ কোণের দিকে একটী নী দেখাইলেন। সেই নদীর এক পাশে একটা পাহাড় আছে। নদীর মধ্যে একটা ফটক আছে। ফটকে দুইদিকে দুইটা পতাকা আছে। নদীর মধ্যে অনেকগুলি জাহাজ আছে। মহাত্মা মীডিমকে বলিলেন, “এইটী বিলাত যাওয়ার রাস্তা। ইংরেজের অল্পদিনের মধ্যে খুব উন্নতি করিয়াছে।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা গীডিয়কে লইয়া শূন্যপথ হইতে ধবলগিরিতে নামিয়া আসিয়া একটা গাছতলায় গিয়া দাড়াইলেন। মহাত্মা আঙ্গুল দিয়া সেই গাছটাকে স্পর্শ করিতেই গাছটাকে আর দেখা গেল না। মহাত্মা মীডিমকে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন । আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা স্কুলশরীরে প্রবেশ করিলেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি যে সেদিন { ৮ ই জুলাই) পাথরের উপরে স্ত্রী মহাত্মার কথার জবাব লিখিয়া দিয়াছিলেন, তাহা কোন্ ভাষায় ?” মহাত্মা বলিলেন, “উড়িয়া • ভাষায়।” মীডিয়ম্ জিজ্ঞাসা করিল, “আর একদিন (৬ই জুলাই) অপর স্ত্রী মহাত্মা কাপড়ের আচলে বাধিয়া আপনাকে কি জিনিস দিয়াছিলেন?” মহাত্মা বলিলেন, “ধুলা পড়িয়া দিয়াছিলেন। কেহ কিছু ধৰলগিরি ও নক্ষত্রলােক। গণিয়া পাঠাইলে সেই ধূলা যারা বুঝিতে পারা যায়। এই কথার পর মহাত্মা মীন্ডিয়কে পাঠাইয়া দিলেন। মীডিয় আসিয়া সুলশরীরে, প্রবেশ করিল। ০ ১১ই জুলাই মন্ িমহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে যাইতেছিল। মীডিগ্ন মহাত্মার আশ্রমের কিছু দুরে থাকিতেই মহাত্মাকে একটা গাছ- তলায় বসা দেখিতে পাইল। মহাত্মাকে দেখিতে পাইয়া মডিয় মহাত্মার নিকটে গেল। মহাত্মা মীডিমূকে লইয়া প্রথম স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমের কাছে গিয়া মডিয়মকে স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে পাঠাইয়া দিয়া একখানা উচু পাথরের উপরে দাঁড়াইয়া রহিলেন- মডিয় শ্রী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, স্ত্রী মহাত্মা কতকগুলি পণ্ড লইয়া খেলা করিতেছেন। স্ত্রী মহাত্মাই সেই পণুগুলিকে পুষিয়া থাকেন। মহাত্মা রজনীকুমার মডিয়মূকে ডাকিয়া বলিলেন, “সাধুকে নমস্কার করিয়া চলিয়া আস।” মীড়িয় স্ত্রী মহাত্মাকে নমস্কার করিতেই স্ত্রী মহাত্মা অদৃশ্য হইয়া গেলেন। মীড়িয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে চলিয়া গেল। মহাত্মা শীডিমকে লইয়া যোগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন। যােগের পাথরের মধ্য হইতে মীড়িয়কে তাহার নিকটে যাইতে বলিলেন। মীডির পাথরের মধ্যে গিয়া দেখিল, যােগেশ্বরের সামনে আগুন জলিতেছে। গােগেশ্বর ১৬ হাত পাথরের নীচে থাকেন। যে স্থানে থাকেন সেই স্থানটা একটা ছােট বাকির খান। কোঠার মত। যােগেশ্বর মডিয়মের গায়ে ভস্ম মাখিয়া যিলেন। ভন্ম মাখিয়া দেওয়ার পর, মীডিয়মের মাথার উপর দিয়া পাথর ফাটিয়া যাক হইয়া গেল। যােগেশ্বর মডিয়কে লইয়া সেই ধলগিরি ও নক্ষত্রলােক। বুহিল। এলােতে ফাকের মধ্য দিয়া আসিয়া আশ্রমের উপরে উঠিলেন। আশ্রমের উপরে উঠিয়া যােগের মডিয়মকে ফল খাইতে বলিলেন। মীডিয় তাহার গাছ হইতে একটা ফল ছিড়িয়া থাইল। ফল হিড়িবার মডিয়েই সূক্ষ্মদেহে সময়ে মীডিয়মের উরুতে একটা পােকায় কাটিয়া লােকায় কাটা। দিল। মীডিয়মের সূক্ষ্মদেছে সূক্ষ্মদেহে পােকায় কাটায় মডিয়মের মূলদেহের উরু হইতে রক্ত বাহির হইতে লাগিল। হঠাৎ যােগেশ্বরের সামনে ধপ করিয়া আগুন জ্বলিয়া উঠিল। আগুন জ্বলিয়া উঠিতেই যােগের সূক্ষ্মদেহে মডিয়কে লইয়া উষ্কাবেগে বনক্ষত্রের দিকে যাইতে লাগিলেন। যােগেশ্বরের ধূলদেহ আশ্রমের উপরে পড়িয়া মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরের আশ্রমেই বসিয়া রহিলেন। যােগেশ্বর মডিয়কে লইয়া এক মিনিটের মধ্যে আলাে-মণ্ডলের মধ্য দিয়া নক্ষত্রের ২য় দিবস। পৃথিবীতে গিয়া পৌছিলেন। যােগেশ্বর মডিয়মের গায়ে ভন্ম মাখিয়া দিয়াছিলেন বলিয়া আজ আর আলােমণ্ডলের মধ্য দিয়া যাইবার সময়ে মডিয়মের গায়ে (সূত্ম-শরীরে তাপ লাগে নাই । ধ্রুবলােকের পৃথিবীতে পৌছিয়া যােগেশ্বর লোকের যােগি মী ডয়কে লইয়া একটা পর্বতের উপরে গিয়া দাঁড়াই- পিত। লেন। পতটা একটা সমু’র তীরে অবস্থিত। এই পর্বতে লোকের যােগীরা বাস করেন। এই পর্বতটা ধ্রুবলােকের থােগি-নিবাস পর্বত । যােগেশ্বর মীয়িকে সেই পৰ্ব্বতের উপরে • Pল পৃথিবীতেই যােগদিগের বাসের জন্য একটা করিয়া যন্ত্র পর্বত আছে। সেই পৰ্বতে যােগ ভিন্ন সাধারণ লােকে বাস করিতে পারে না। বােগীরা বাস করেন বলিয়া সেই পৰ্ব্বতকে বগি-নিবাস-পৰ্বত বলে। যেমন, ধবলগিরি ও কৈলাস পর্বত আমাদের এই পৃথিবী যােগি-নিবাস-পত। { ২ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। একটা গাছ দেখাইলেন। গাছটীতে ডাল নাই, সাদা সাদা পাতা আছে। গাছটীতে তিনটা ফুল ফুটিয়া রহিয়াছে। যােগের অনেক দূরে মীড়িয়কে, একটী গ্রাম দেখাইলেন। গ্রামের ঘরগুলি গােল ও সাদা। ঘরগুলি মন্দিরের ন্যায় দেখাইতেছে। গ্রামের প্রান্তে অনেকগুলি গরু চরিতছে। গরুগুলি ছােট ছােট ও সাদা। যােগেশ্বর মডিয়কে দুরে একটা পাহাড় দেখাইনে। পাহাড়টীর মাঝখানটা সাদা আর চারিপাশ কাল। যােগেশ্বর মডিয়কে সেই हवामारक बांश। সমুদ্র মধ্যে বড় বড় কয়েক খানা জাহাজ দেখাইলেন। মীডিম্ যােগেশ্বরকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি এই দেশের সমাজ ও আইন কানুন সম্বন্ধে কিছু জানেন কি না?” যােগেশ্বর ধ্রুবলােকের আইন। বলিলেন, “আমি অতি সামান্যই জানি। এই দেশে আইন নাই; যাহার জোর বেশী তাহারই আইন। কি প্রকারে আইন হইবে, ইহারা তাহাই ভাবিতেছে ও চেষ্টা করিতেছে। এই দেশে লােক সংখ্যা অত্যন্ত কম। এই দেশে একই ভাষা, ধর্মও এক। এই দেশেও চাষ হয়, ধান হয় না। এই কথা বলিয়া ঐ লোকের প্রধান যােগেশ্বর মীডিমকে সরিষার ন্যায় ছােট ছােট কতকগুলি সাদা বীচি দেখাইয়া বলিলেন, “এই দেশে এই জিনিস হয়, ইহাই এই দেশের প্রধান খাদ্য। এই দেশটা খুব ঠাণ্ড'। আমাদের সংসার হতে বলােক অনেক বড়। আমাদের সংসার হইতে চন্দ্র ও বড়। এখান হইতে (ধ্রুবলোক হইতে) চন্দ্রলােক অনেক উচুতে।” যে গেশ্বরে ! এই কথা বলার পর, একজন দীর্ঘকায় পুরুষ আসিয়া মণি. যমের মুখে দাড়াইলেন। তাহার মাথায় লোকের যোগ জুট আছে। তিনি সেই দেশের একজন যােগ। ইর গতি সীমান্ত শক্ত । তিন সূক্ষ্মদেহ লইয়াও আমাদের পৃথিবীতে খণ্য'।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৮৩ আসিতে পারেন না। • ধ্রুবলােকের যােগী মীডিয়মের নিকটে আমাদের পৃথিবীতে আসিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। মীডিয় ধ্রুবলোকের যোগীর যোগেশ্বরকে বলিল, “ইনি আমাদের দেশে যাইতে আমাদের পৃথিবীতে চাহেন। যোগেশ্বর বলিলেন, “ইহার নিকটে এই আসিবার ইচ্ছা। দেশের সব খবর লইয়া, পরে ইহাকে ধবলগিরিতে লইয়া যাইব।” মডিয়ম্ বলিল, “ইহাকে বলগিরি লইয়া গেলে আমাদের নিকটেও কয়েক দিন রাখিতে হইবে।” যােগেশ্বর বলিলেন, “আগে ধবলগিরিতে নিতে দেও, পরে দেখা যাইবে।-ইহাকে নমস্কার কর।” মীডিম্ ধ্রুবলােকের যােগীকে নমস্কার করিতে ধ্রুবলােকের মােগী মডিয়মকে জড়াইয়া ধরিয়া বলিলেন, “আমাকে নীচে * নিম্না চল।” মডিয়ম ধ্রুবলােকের যােগীকে বলিল, “ইনি (যােগেশ্বর) বলিয়াছেন যে, আপনার নিকট হইতে আপনাদের দেশের সব খবর লইয়া পরে আপনাকে আমাদের দেশে লইয়া যাইবেন।” মীডিয় এই কথা বলিতেই ধ্রুবলােকের যােগী অদৃশ্য হইয়া গেলেন। ধ্রুবলােকের যােগী অদৃশ্য হইয়া গেলেন পর, যােগেশ্বর মডিয়কে লইয়া ধ্রুবলােক হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিয়া একটা সরোবরের তীরে দাড়াই লেন। সরােবরটা খুব বড়। চারিদিক হইতে বরফ- ধবলগিরিতে গল -জল আসিয়া সরােবরের মধ্যে পড়িয়েছে। সরাে- সরোবর। বরের মধ্যে সাদা সাদা অনেক কাছিম আছে। সােবর দেখাইয়া যােগেশ্বর ডিমকে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। * ধ্রুবলােক হইতে আমাদের পৃথিবী একটু নীচের দিকে যেখাই। থাকিবে। এই জন্য আমাদের পৃথিবীকে লক্ষ্য করিয়া বলােকের যােচ্ছ ‘নীচে' শব্দটী প্রয়োগ করিয়াছেন। আমাদের পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণমেরু হইতেও অনেক গ্রহনক্ষকে নীচের দিকে গেল ।
ধবলগিরি ও নরলােক।
আশ্রমে আসিয়া যােগের খুলশরীরে প্রবেশ করিয়া মডিয়কে
বলিলেন, “আমি শরীর (খুল-শরীর) লইয়াও বলােকে যাইতে পারি।
১০ মিনিটের মধ্যে যাওয়া আসা করিতে পারি। শরীর লইয়া যাইতে
একটু ভারি বােধ হয়। এই ভাবে । সূক্ষ্মদেহে) যাওয়াই - বেশ।
এই কথা বলিয়া যােগর পাথরের উপরে একটা চড় মারিলেন।
চড় মারিতেই ছাই উড়িয়া উঠিল। যােগেশ্বরকে আর দেখা গেল না।
মডিয়ম্ যােগেরকে উদ্দেশ্য করিয়া নমস্কার করিল।
শডিংকে গাছের
একলা খান।
মডিয়ম্ নমস্কার করিতেই যােগেশ্বরের গাছটা একটু
মুইয়া গিয়া মডিয়কে আশীর্বাদ জানাই।
মহাত্মা রজনীকুমার মীডিয়কে লইয়া যোগেশ্বরের আশ্রম হইতে তাঁহার
আশ্রমে আসিতে লাগিলেন। কিছুদূর আসিলে পর, মীডিয় অনেক
দূরে একটা পাহাড়ের মধ্যে কতকগুলি মানুষকে
পাহাড়ের মধ্যে
ঢুকিয়া যাইতে দেখিল। মানুষগুলির মুখ খুব লাল।
'নেতাদের এশি।
মানুষগুলিকে ঘােট ঘােট দেখা গেল। মীডিয়
মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “তাহার কে ?” মহাত্মা বলিলেন, “তাহারা
দেবতা। যাহাদের কৃপায় আমরা এখানে আছি।” এই কথা বলিতে
বলিতেই মহাত্মা মীন্ডিয়কে লইয়া তাহারা আসিয়া পৌছিলেন।
আশ্রমে আসিলেন পর মডিয়ম্ মহাত্মাকে বলিল, “আমার উরুতে বড়ই
লাল করিতেছে।” মহাত্মা বলিলেন, “ফলের উপরে বড় বড় পােকা
ছিল, সেই পােকায় কাটিয়াছে।” এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়মের উরুতে
একটা দিয়া দিলেন। ফু দিতে মীভিয়মের কালা চলিয়া
গেল। গডিয় মহাত্মাকে বলিল, “যােগের আজও আমাকে
লােকে লইয়া গিয়াছিলেন। লেকের একজন যােগ আমাদের
বেশ আসিতে চাহিয়াছেন।
বলিয়াছেন,-তাহাকে
বলগিরি ও নােক। বলগিরিতে ইয়া আসিবেন। মহাত্মা বলিলেন, বলােকে মানুষ নিয়া আনিলে আমিও দেখিব তােমাদের নিকটেও পাঠাইতে, চেষ্টা করি। তােমরা সাধুকে (যােগেষয়কে) রাগাইয়াই খারাপ কছি, নচেৎ অনেক সুবিধা হইত। এই কথার পর, মহাত্মা মভিরুকে একটা , এজাপতি তৈরী করিয়া পাঠাইয়া দিলেন। মভি প্রজাপতি রূপে আসিয়া ফুল-শরীরে প্রবেশ করিল। নার মডিয় বালকটা অপরের অধীনে থাকায় আমাদের কাব্যে অলুবিধা হইত। এইজ, মীডিয় বালকটীয় অধীনতা-পাশ ছিন্ন কৰিতে মনন করিয়া ১২ই জুলাই সেই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বাড়ী হইতে শীডিয়মকে লইয়া স্থানান্তরে গমন করিলাম। ইতিপূর্বেই মডিয়াকে স্থানান্তরিত করিবার জন্য মহায়া রজনকুমারের নিকটে আদেশ লইয়াছিলাম। আমি মীডিয় বালকটাকে লইয়া নানাস্থানে ঘুরিয়া, ফিরিয়া ২২শে জুলাই কলিকাতায় গিয়া মেসমেৰিক বৈঠকে ন ঠিক করি। এই কারণে ১২ই জুলাই হইতে ২২শে জুলাই পৰ্য্যন্ত আমাদের কাৰ্য্য বন্ধ ছিল। ২৩শে জুলাই মডিয়মকে ধবলগিরি পাঠাইলাম। মভিয় ধবল- গিরিতে মহাত্মা রজনকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। ভয় মহাত্মাকে এশা করিল। মহা মডিয়াকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তােমরা ভাল আছ ত?” সীভিয়বলিল, বাজে পায় নাম ভালই আছি।" এই কথার মহা মীঘিকে লইয়া যােগেয়ে আশ্রমে গেলেন। মীডি যােগেয়ে আনে গিয়া দেখি, আমের উপরে একজ বিল ৮৬ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। দাড়াইয়া আছে। মডিয় ত্রিশূলটকে প্রণাম করিল। প্রথম করিতেই ত্রিশূলের মাথায় যোগেশ্বরকে বসা দেখিতে পাইল। যােগের মডিয়কে বললেন, বলিলেন, “আজ কোথায়ও যাই না ফল খাইয়া যাইও।” এই কথা বলিয়া যােগের পাথরের উপরে একটা চড় রিলেন। চড় মারিতেই ধূল উড়িয়া উঠিল। যােগেশ্বর পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। মীডিম্ তাহার গাছ হইতে কয়েকটা ফল থাইল। মীডয় ফল খাইলে পর, মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরের আশ্রম হইতে মীডিয়কে লইয়া আসিয়া দূর হইতে প্রথম স্ত্রী মহাত্মার নিকটে পাঠাইয়া দিয়া শূন্যপথে দাড়াইয়া রহিলেন। মীডিয় স্ত্রীমহাত্মার নিকটে গেল। শ্রীমহাত্মা গীডিয়কে দেখিয়া বড়ই খুসী হইলেন। তিনি মীডিয়মকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এত দিন আস নাই কেন?” মডিয়ম্ বলিল, “আমরা পূর্বে যে স্থানে ছিলাম সেই স্থান পরিবর্তন করিতে হইয়াছে বলিয়া এত দিন আদিত পারি নাই।” স্ত্রীমহাত্মার সঙ্গে মীডিয়মের আরও দুই চারিটা কথা হইল । পরে স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে বিদায় দিলেন। ডিয় স্ত্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে চলিয়া আসিল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রমে আসিলেন আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মীডিয়কে একটা পাখী তৈরী করিলেন পাখীটি একটা ফল মুখে করিয়া আছে। মহাত্মা ফল-মুখে-পাখীটিবে হাত হইতে ছাড়িয়া দিলেন। ফল-মুখে-পাখীরূপ মডিয় চলিয় আসিয়া শরীরে প্রবেশ করিল। * এ মহাত্মা ও মহাত্মাদের সঙ্গে আম দের নিজেদের বিষয়ে যে সত কথা হইত, তাহার অনেক কথাই উল্লেখ করা হয় নাই।
। লইলেন। পরে ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৮৭ ২৪শে জুলাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিব, মহত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মা মডিয়কে একটা বিশাল একখানা আসন দিলেন। মহাত্মা নিজেও একটা ত্রিশূল ও একখানা আসন লইলেন। পরে, পরে, মীডিয়কে কোলে বসাইয়া যােগেখয়ের আশ্রমে লইয়া গেলেন। মতিয়ম যােগেশ্বরের আশ্রমে গিয়া দেখিল, যােগের বসিয়া আছেন। মীড বোগেশ্বরকে প্রণাম করিল। যােগেশ্বর মডিয়মের আসনের সঙ্গে তঁাহার আসনখানা বদল করিয়া যােগেশ্বর সূক্ষ্মদেহে মডিয়কে বলােকে দিবস। লইয়া উল্কাবেগে ধ্রুবলোকের আলােমণ্ডলের নিকটে গিয়া পৌছিলেন। আলােমণ্ডলের নিকটে গিয়া যােগেশ্বর মীডিয়কে তাহার আগে আগে যাইতে বলিলেন। মীডিয়ম্ আগে আগে যাইতে লাগিল। যােগেশ্বর পদ্মাসনে বসিয়া মডিয়মের পিছে পিছে যাইতে লাগিলেন। এই ভাবে যােগেশ্বর মীডিয়মকে লইয়া আলো- মণ্ডলের মধ্য দিয়া ধ্রুবলােকের যযাগি-নিবাস-পৰ্ব্বতের উপরে গিয়া দাড়াইলেন। ধ্রুবলােকের পরিচিত পরিচিত যােগী মীডিয়মের আসিয়া দাঁড়াইলেন। মীডিয় বললকের ঘােগীকে ধ্রুবলােকের মােসর ধ্রুবলােকের প্রধান প্রধান জিনিস দেখাইতে অনুরােধ মডিয়ংক ধ্রুব- করিল। বললকের যােগীর আজ মডিয়কে বাকের দৃশ্য প্রদর্শন। দেখাইতে বিশেষ ইচ্ছা ছিল না ; তথাপি তিনি মডিয়কে লইয়া গিয়া কয়েক খানা জাহাজ দেখাইলেন। জাহাজ দেখাইয়া তিনি মডিয়কে বললেন, “৫০ বৎসর হইল আমাদের দেশে জাহাজ তৈয়ারী * হইয়াছে।” তারপর মীজিকে একটা * ধ্রুবলােকবীরা আমাদের পৃথিবী দেখিবার জন্য যে যন্ত্রণা তৈরী করিয়াছে, সেই যন্ত্র দিয়া আমাদের পৃথিবীর জাহাজ দেখিয়া তাহার আহাজ তৈরী করিয়াছে।
bor
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
.
পুকুর পারে লইয়া গিয়া একটা লাল মশিম দেখাইলেন। মন্দির
দেখাইয়া ধ্রুবলােকের যােগী মডিয়মকে লইয়া যােগেশ্বরের নিকটে
আলিয়া অদৃশ্য হইয়া গেলেন। মীভি যােগেশ্বরকে শিক্ষা
করিল, “যে দেশে আইন কানুনের বন্ধন নাই সেই দেশের
লোকে কি প্রকারে জাহাজ তৈয়ারী কহিল ?”, যােগেশ্বর বলিলেন,
যদিও এই দেশে আইন কানুন নাই, তথাপি ইহারা সকলে মিলিয়া
জাহাজ তৈরী করিয়াছে।-এই দেশে অন্ধকার নাই, সর্বদাই
আলাে (অর্থাৎ ধ্রুবলােকে রাত্রি নাই, সর্বদাই সূর্যের আলাে
থাকে)।” এই কথার পর যােগের মীডিম্বকে লইয়া বলােক
হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন।
ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর
যােগেশ্বর স্কুলশরীরে প্রবেশ
মডিয়কে বলিলেন, “তাহার ( ধ্রুবলােকের যােগর) দেখান শেষ
হইলেই তাহাকে ধবলগিরিতে লইয়া আসিব। ইতিমধ্যে লােকের
বিশ্বসের জন্য তােমাদের ওখানেও কিছু করিব।" এই কথা বলার
পর যােগেশ্বরের সামনে ধপ,
করিয়া আগুন জ্বলিয়া উঠিল।
যােগেশ্বরকে আর দেখা গেলনা।
মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরের আশ্রম হইতে মীভিয়কে লইয়া
আসিয়া দূর হইতে প্রথম স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে পাঠাইয়া দিয়া
শূন্যপথে দাড়াইয়া রহিলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া
দেখিল, স্ত্রী মহাত্মা পূজা করিতেছেন। তার সামনে আগুন
জলিতেছে। আগুনের মধ্যে কতকগুলি পুতুল আছে। মীডিয়
মহাত্মাকে প্রণাম করিল। শ্রী মহাত্মা মডিয়কে ডাকিয়া নিয়া
তাহার কাছে বাইলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মাকে বলিল, “যােগের
আমাদিগকে বলােক দেখাইতেছেন। বলােকের এক অন যােণ
ধবলগিরিও নক্ষত্রলােক। আমার দেশে আসিতে চাহিয়াছেন। যােগে বলিয়াছেন,-তাহাকে ধবলগিরিতে লইয়া আসিবেন। স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “উহার সব করিতে পারেন। বলােকের মানুষ নিয়া আসিলে আমরাও দেখিব।” ' এই কথার পর স্ত্রী মহাত্মা মডিয়াকে বিদায় দিলেন। মডিয়ম্ শ্রী মহাত্মার, আশ্রম হইতে মহাত্মা এজনীকুমার যে স্থানে দাড়াইয়াছিলেন সেই স্থানে আসিয়া দেখিল, মহাত্মা সেখানে নাই, কিছুদূরে গিয়া দাঁড়াইয়া আছেন। মডিয়ম্ মহাত্মার নিকটে যাইতে লাগিল। মহাত্মা মডিয়কে দেখিয়া সরিয়া সরিয়া যাইতে লাগিলেন। এই ভাবে কিছুদূর গিয়া মায়া দাড়াইলেন। মীডিয়ম্ মহাত্মায় নিকট গিয়া পেীছিল। মডিয়ম হায়াকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি সেরিয়া সরিয়া যাইতে ছিলেন ?” মহত্মা বলিলেন, “এখন হইতে মেয়ে সাধুর নিকটে তােমার নিয়েই যাইতে হইবে। তুমি একা আসিতে পার কি না তাহাই পরীক্ষা করিয়া দেখিলাম। এই কথা বলিয়া মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া সিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা হাতে একটা সাপ লইয়া মীনিয়মকে বলি- লেন, “এই সাপটা খাও।” সাপ খাইতে দিতে দেখিয়া মীভিয় আমাকে বলিল, “আমি সাপ খাইব না, আমাকে সাপ খাইতে জিতেছেন।” আমি মীডিকে বলিলাম, “সাপটা পর। মডিয় সাকে ধরিতেই একটা ফল হইয়া গেল। মীয়ি ফটা খাইল। পরে মহাত্মা মডিয়মকে পাঠাইয়া দিলেন। মীডিয়ম্ আলিয়া ফুল এরীরে প্রবেশ করিল। ২শে জুলাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া মেৰিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মা মডিয়কে দেখিয়া পায়ের ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক। নীচে গিয়া দুই ছড়া মালা লইয়া উপরে উঠিলেন। মহাত্মা মডিয়মের গলায় একছড়া মালা পরাইয়া দিলেন আর একছড়া মাল নিজের গলায় পরিলেন। মীডিয়মের হাতে একটা ত্রিশূল দিলেন এব, নিজেও একটা ত্রিশূল লইলেন। পরে একখানা চাদর তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা। গায়ে দিয়া মহাত্মা ‘মডিয়কে লইয়া একজন বােগর আশ্রমের নিকটে গিয়া দাঁড়ালেন। মীডিয়মকে সেই স্থানে রাখিয়া মহাত্মা পেই থােগর নিকটে মীডিরমকে লইয়া যাইবার জন্য আদেশ লইতে গেলেন। সেই যােগী মডিয়কে তাহার নিকটে লইয়া যাইতে আদেশ দিলেন। মহাত্মা আসিয়া মীডিয়মকে সেই যােগীর নিকটে লইয়া গেলন। সেই যােগী পদ্মাসনে বসিসা আছেন। তাহার বয়স ১০৫ বৎসর। তাহার মাথায় খুব চুল আছে। তিনি বাঙ্গালী। মীডিয় তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। ৩য় বাঙ্গালী হায়া মডিয়মকে দেখিয়া অত্যন্ত খুসী হইলেন। তিনি মীদিয়মকে জ্ঞিাসা করিলেন, “কি জন্য আসিয়াছ ?” মীডিয় বলিল, “আপনাদের “আপনাদের নিকট হইতে নক্ষত্রলােকের খবর লইতে আসিয়াছি।” ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা বলিলেন, “আচ্ছ, আগামী কল্য আনিও।" এই বলিয়া ৩য় বগালী মহাত্ম মীন্ডিয়কে বিদায় দিলেন। মহাত্মা রজনীকুমার মীদিয়কে লইয়া ৩র বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে পাঠাইয়া দিলেন। মীডিয়ম্ আসিয়া স্কুল-শরীরে প্রবেশ করিল। ২৬শে জুলাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের "মে, গিয়া দেখিল, মহা বসিয়া আছেন। মহাত্মা মীডিয়কে দেখিয়া পাথরের ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৫ নীচে গেলেন আবার উপরে উঠিলেন। মহা তাহার গলায় একছড়া' মালা পরিলেন, হাতে একটা ত্রিশূল লইলেন, মডিয়মের হাতে একটা ত্রিশূল দিলেন। পরে মহাত্মা মীড়িয়কে লইয়া তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গেলেন। মীডিয়ম হয় বাঙ্গালী মহাত্মা আশ্রমে গিয়া দেখিল,, তিনি বসিয়া আছেন। তাহার কপালে সিন্দুর মাথান আছে। তঁাহার কাছে একটী ঘটী ও কাল একটা জল পাত্র আছে। মীডিম্ ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়কে তাহার কাছে বসাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোন্ কোন্ গ্রহের খবর পাইয়াছ?” মডিয়ম বলিল, “ধ্রুবগ্রহের, ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোন্ গ্রহের পর চাও?” মীডিয়ম বলিল, “মঙ্গলগ্রহের,” ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা বলিলেন, “আমি মঙ্গলগ্রহে যাইতে পারি না।” মডিয় বলিল, শনিগ্রহের খবর দিন।” ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা “আজ শনিগ্রহে যাইব , অন্য দিন যাইব।” এই কথা বলিয়া ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা শনিগ্রহের ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা কথা বলিতে লাগিলেন।-“শনিগ্রহে ৪০ শত কর্তৃক শনিগ্রহের বৎসর হইল মানুষ সৃষ্টি হইয়াছে। ইহার পূর্বে বিবরণ। শনিগ্রহ জলে পূর্ণ ছিল। শনি গ্রহের লােক আমাদের ন্যায় সাড়ে তিন হাত ; তাহাদের রঙ, লাল। শনিগ্রহে গৃহস্থ অতি কম, যােগই বেশ। সেই দেশে শনিগ্রহে যােগ। আড়াই শত বৎসরের যোগী আছেন, বেশ বয়সের নাই। আমাদের দেশের স্থায় সেই দেশ এত উন্নত নয়। সেই দেশের লােকে, গাছের ফল খাইয়া থাকে। সেই দেশে চাষ হয় না। অন্য দিন আরও বলব।” এই কথা বলিয়া ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়কে বিদায় দিলেন। বলিলেন,,
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
মহাত্মা রজনীকুমার ৩ বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে
মডিয়কে লইয়া আসিয়া দুর হইতে প্রথম স্ত্রী মহাত্মকৈ দেখাইয়া
দিয়া বলিলেন, “আমি আশ্রমে যাইতেছি, তুমি স্ত্রী সাধুর সঙ্গে দেখা
করিয়া আশ্রমে চলিয়া আসিও।” এই বলিয়া মহাত্মা তাহার আশ্রমে
চলিয়া গেলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মার নিকটে গেল। স্ত্রী মহাত্মা
মীভিয়কে এক গ্লাস সরবৎ খাওয়াইয়া বিদায় দিলেন। মীডিয়
স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে চলিয়া
গেল। মহাত্মা গীডিয়কে বলিলেন, “অঙ্গ যাও।” মডিয়
মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া ফুল-শরীরে প্রবেশ করিল।
২৭ শে জুলাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া
দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মা মডিয়কে তাহার আসনের
এক পাশে বসাইয়া তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মার নিকটে লইয়া গেলেন।
মীডিম্ ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রাণাম করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “শনিগ্রহে
কবে যাবেন ?” ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা বলিলেন, “আগে শনিগ্রহের খবর
দিয়া নেই, পরে তােমাকে শনিগ্রহে লইয়া যাই।”
৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা
এই কথা বলিয়া ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা শনিগ্রহের
কর্তৃক শনিগ্রহের
কপা বলিতে লাগিলেন।-শনিগ্রহ আমাদের সংসার
বিবরণ। (২য় দিবস)
(পৃথিবী) হতে অনেক ছােট। শনিগ্রহের
চাৰি পাশেই লােক আছে। লোক সংখ্যা আমাদের এই সংসার হইতে
শনিগ্রহের সাধারণ লােক চল্লিশ
শনি গ্রতে লােকের
পঞ্চাশ বৎসরের বেশ বাড়ে না। সেই কেশের
চালচলন।
চালচম অঙ্গ প্রকা, ভাষাও অপ্রকার (অর্থাৎ
আগে পৃথিবীর কোন জাতির মধ্যেই সেইরূপ আচার ব্যবহার নাই,
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। এবং সেইরূপ ভাষাও নাই)। সেই দেশে রাজা প্রজা নাই, সেই দেশের লােক,লেংটা থাকে। এখন পর্যন্ত কাপড় তৈয়ারী হয় নাই। তাহাদের লজ্জা সরম নাই। তাহারা সত্যবাদী। সেই দেশে গাছ পাল খুব কম। সেই দেশের লােকে মূর্তিপূজা করে না। মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “শনিগ্রহের! লােককে কে যােগ বলগিরির যােগীর শিখাইলেন ?” ৩য় বাঙ্গালী মহা বলিলেন, “ধবল- শনিগ্রহের লােককে গিরি হইতে একজন যােগী শনিগ্রাহে গিয়া যােগ যােগশিক্ষা দেওয়া। শিখাইয়া আসিয়াছেন।” এই কথা বলি। ৩র বাঙ্গালী মহাত্মা মীডয়কে বিদায় দিলেন। মহাত্মা রজনীকুমার মডিয়মকে লইয়া ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়মকে বলিলেন, অদ্য যাও।” মীডিম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া স্কুল- শরীরে বেশ করিল। ২৮শে জুলাই মডিয়, মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মা মডিয়কে তাহাব আশ্রম হইতে লইয়া গিয়া দূর হইতে প্রথম স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে পাঠাইয়া দিয়া শূন্যপথে বসিয়া রহিলেন। মীডির স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া তাঁহাকে প্রণাম করিল। স্ত্রী মহাত্মা একজোড়া খড়ম পায়ে দিলেন, গায়ে ভন্ম মাখিলেন, একটা আলখেল্লা পরিলে, একছড়া মালা গলায় শনিগ্রহের লােক নেংটা থাকিলেও তাহারা আস্তিক ও সভ্য জাতি। যে জাতির মধ্যে যােগ ও তত্ত্বজ্ঞানের চর্চা নাই সেই জাতি অতবা অর্ধসভ্য বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকে।
৯৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। দিলেন, কপালে সিন্দুরের টিপ পরিলেন, হাতে একটা চিমটা নইলেন এবং মীচিয়মের হাতেও একটা চিষ্টা দিলেন। পরে স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে লইয়া একজন স্ত্রী মহাত্মার নিকটে গেলেন।সেই তৃতীয় স্ত্রী মহাত্মা। স্ত্রী মহাত্মার বয়স সাড়ে তিন শত বৎসরের অধিক। তিনি ২০০ শত বৎসর যাবৎ ধবলগিরিতে আছেন। তিনি ভারত- বর্ষের লােক নহেন, ভুটান অথবা তিব্বত দেশীয় লােক হবেন। মীডিয় তৃতীয় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। ৩য় স্ত্রী মহাত্মা মীডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোথা হইতে আসিয়াছ?” মীডিম্ বলিল, “বঙ্গদেশ হইতে আসিয়াছি।” ৩য় স্ত্রী মহাত্মা জিজ্ঞাসা করলেন, “কি করিয়া আসিলে ?” মীডিয়ম বলিল, “একজনে আমাকে পাঠাইয়া- ছেন।” ৩য় স্ত্রী মহাত্মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি এখানে আসিয়া থাকিবে কি ?” মডিয়ম্ বলিল, “আজ কাল নয়, পরে আসিয়া থাকিব। ৩য় স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “আচ্ছা”। এই কথা বলিয়া ৩য় স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে বিয়ে দিলেন। প্রথম স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে লইয়া ৩য় স্ত্রী মহাত্মার আশ্রম হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। মীডিয়ম্ ১ম স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে চলিয়া আসিল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রমে আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়ক জিজ্ঞাসা করিলেন, “যিনি ধ্রুবলোেক দেখান তাহার নিকটে যাবে কি? মডিয়ম্ বলিল, “যদি তিনি রাগ না করেন তাহা হইলে আজ আর তাহার নিকটে যাইব না। আজ আমাদের বৈঠকে একজন প্রেতাত্মার ক্লাসিবার কথা আছে। মহাত্মা বললেন, “তিনি রাগ করিবেন না। আচ্ছা, তােমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।* এই বলিয়া মহাত্মা মীডিয় পাঠাইয়া দিলেন। মীডিয় আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
২৯শে জুলাই মীডিয় মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা
মীডিয়মকে বৃলিলেন, “আজ আমার কাজ আছে, কোথায়ও যাইব
।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা মডিয়ক বিদায় দিলেন। মডিয়
মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আনিয়া সুল-শরীরে প্রবেশ
• করিল।
৩০শে জুলাই মীডিয় মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল,
.মহাত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মা মডিয়কে দেখিয়া পথারের নীচে
গিয়া একটী সাপ লইয়া উপরে উঠিলেন। মহাত্মা তাহার মাথায়
সাপটা জড়াইলেন। একখানা চামড়ার আসন লইলেন, হাতে এক
চিষ্টা লইলেন, মীডিয়মের হাতেও একটা চিমটা দিলেন। পরে
মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তৃতীয় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গেলেন।
মীডি: ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, আশ্রমের একটা
গাছের ডালে তিনখানা ছবি ও অনেকগুলি মালা ঝুলান রহিয়াছে।
ছবি তিনখানার মধ্যে একখানা শ্রীকৃষ্ণের ছবি, একখানা গণেশের
ছবি আর একখানা একজন সাধুর ছবি। মীডিম্ ৩য় বাঙ্গালী
মহাত্মাকে প্রণাম করিল। ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা সেই মালা হইতে
কয়েক ছড়া মালা সইয়া তঁাহার গলায় পনিবেন।
মহাত্মা রজনীকুমার
মহাত্মা রজনীকুমারকে তঁাহার ডান পাশে ও
ও মডিয়াকে লইয়া
মীডিয়মকে তঁাহার বাম পাশে বসালেন। পরে ৩
এ বাঙ্গালী মহাত্মা
শনিগ্রহে গমন।
বাঙ্গালী মহাত্মা সূক্ষ্মদেহে মহামা রজকুমাজের
সূক্ষ্মদেহ ও ডিমকে লইয়া উল্কাবেগে উপর
দিকে উঠিতে লাগিলেন।
নিটের মধ্যে শনিগ্রহের
ধৰলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
আলােমগুলের নিকটে গিয়া পেীছিলেন। শনিগ্রহের কালােমণ্ডল খুব
লাল *। আলােমণ্ডলের নিকট হইতে শনিগ্রহের
শনিগ্রহের আলম
পৃথিবীর সমুদয় বস্তুই লাল দেখা যাইতেছে। ৩য়
ও পৃথিবীর বৃথা।
বাগলী মহাত্মা, মহাত্মা রজনীকুমার ও নীডিয়ক
লইয়া আলােমণ্ডলের মধ্য দিয়া শনিগ্রহের পৃথিবীর অতি নিকটে
গি শূণ্ঠপথে দাড়াইলেন। সেই শূন্যপথ হইতে মডিয়ম্ শনিগ্রহের
পৃথিবীর দৃশ্য দেখিতে লাগিল।—নিগ্রহের সমস্ত
শনিগ্রহের মানুষ
বই লাল। মানুষ অনেক দেখা যাইতেছে। মায়-
ও বর বাড়ী।
গুলিও এল।
তাহারা সকলেই লেংটা। গরুও
অনেক আছে। গরুগুলি ঘােট ঘােট। গরুগুলি লাল। গ্রামের
সমস্ত ঘরই গােল ও খুব উচু। ঘরগুলি সিন্দুরের ন্যায় লাল ও খুব
পালিস । জমি সমতল নয়, উচু নীচু। গাছপালা বেশী নাই, খুব কম।
গাছগুলিও লাল। সৰ্ব্বদাই তুষার পড়িতেছে। দেশটা খু। ঠাণ্ডা।
৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা গীডিয়মূকে বলিলেন, “অদ্য চল, অন্য দিন
পাহাড়ে (অর্থাৎ শনিগ্রহের যােগি-নিবাস-পৰ্বতে) লইয়া গিয়া এই
দেশের সাধুদের সঙ্গে আলাপ করাইয়া দিব।” এই বলিয়া ৩য় বাঙ্গালী
মহাত্মা, মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়কে লইয়া শনিগ্রহ হইতে ধবলগিরিতে
চলিয়া আসিলেন ।
বগিরিতে আসিয়া ৩য় বাঙ্গালী মহাত্মা ও মহাত্মা রজনীকুমার
খুলশরীরে প্রবেশ করিলেন। ৩র বালানী মহাত্মা মডিয়কে বলিলো,
* শনিগ্রহের পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু রক্তবর্ণ বলিয়া শনিগ্রহের
লােমলের অালাও রক্তাত দেখাইয়া থাকে। চন্দ্র বাদি গ্রহের
সালােমশু সাদা দেয়া থাকে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
৯৭
অঙ যাও।” মহাত্মা রজনীকুমার মীডিয়কে লইয়া ৩য় বাঙ্গালী
মহাত্মার আশ্রম হইতে তাহার আশ্রমে আসিয়া মীডিয়কে পাঠাইয়া
দিলেন। মীডিয়ম্ আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল।
৩১শে জুলাই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল,
মহাত্মা বসিয়া আছেন। তাঁহার সামনে বড় একখানা আয়না আছে।
আয়নার মধ্যে একটা পৈরীর ছবি আছে। মীডিয় হাতজোর
করিয়া মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মীডিয়ম্ প্রণাম করিতেই আয়নার
মধ্যের পৈরীর ছবিটী কালীর ছবি হইয়া গেল। আবার কালীর
ছবিটী একটা হলদে সাপের ছবি হইয়া গেল। সাপের ছবিটা একটা মানুষের
ছবি হইয়া গেল। মানুষের ছবিটার জিভ, বাহির হইয়া আছে।
এইটা যে কিসের ছবি তাহা বুঝিতে পারা গেল না। একটু পরে
আয়নখানা অদৃশ্য হইয়া গেল। পরে মহাত্মা মডিয়কে লইয়া
তাহার আশ্রম হইতে যোগেশ্বরের আশ্রমে যাইতে লাগিলেন। কিছুদূর
গেলে পর মীডিয় দেখিল, কয়েকজন যােগী ধবলগিরি
ধবলগিরি হইতে
হইতে একের পর একে শূন্যপথে উঠিয়া বায়ুবেগে
কয়েকৰ যােগীর
পশ্চিমদিকে যাইতেছেন। মডিয়ম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা
কৈলাসপৰ্বতে গমন।
করিল, “যােগীরা কোথায় যাইতেছেন?” মহাত্মা
. বলিলেন, “কৈলাস পৰ্ব্বতে সাধুদের সঙ্গে দেখা করিতে যাইতেছেন।”
দেখিতে দেখিতে যগীরা চােখের আড়ালে চলিয়া গেলেন।
মডিয়মূকে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে গিয়া পৌছিলেন। মহাত্মা ও
মডিয় যােগেশ্বরের আশ্রমে গিয়া দাড়াইতেই কয়েকটা সাপ আনি
মীডিয়ক জড়াইয়া ধরিল। একটা সাপ আসিয়া মডিয়মের
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ধ্রুবলােকে ধ্রুবলোকের মাথার উপরে উঠিল। যােগেশ্বর আশ্রমের উপরে উঠিয়া মডিয়মের গায়ে একটা ফু দিলেন। ফু দিতেই সাপগুলিকে আর দেখা গেল না। যােগেশ্বর সূক্ষ্মদে মীডিয়কে লইয়া উদ্ধাবেগে ধ্রুবনক্ষত্রের দিকে যাইতে লাগিলেন। এক মিনিটের মধ্যে বনক্ষত্রের আলোমণ্ডলের একটা গহ্বরের নিকটে গিয়া পৌছিলেন। আলাে-মণ্ডল- গহবরের নিকটে পৌছিয়া যােগের মডিয়কে বলিলেন, ৪র্থ দিবস। “এই গর্তের মধ্যে প্রবেশ কর।” মীডিয়ম্ আলাে- মণ্ডল-গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করিল। যােগেশ্বর মডিয়মের পিছে আলাে- মণ্ডল-গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করিয়া মডিয়ক লইয়া আলো-মণ্ডল- গহ্বরের মধ্য দিয়া ধ্রুবলোকের পৃথিবীর নিকটস্থ হইয়া, মডিয়কে ধ্রুবলােকের পৃথিবীর দৃশ্য দেখাইতে দেখাইতে ধ্রুবলােকের যােগি-নিবাস-পৰ্ব্বতের দিকে যাইতে পৃথিবীর দৃশ্য। লাগিলেন। ধ্রুবলােকের গাছপালা, ঘর দরজা প্রভৃতি সমস্ত বস্তুই সাদা ও উজ্জ্বল। মাটী ও সাদা। মানুষগুলি দুধের ন্যায় সাদা ও খুব লম্বা। জলাশয়গুলি নীলাকাশের ন্যায় দেখা যাইতেছে। যােগেশ্বর মডিয়কে লইয়া লােকের যােগি-নিবাস- ধ্রুবলোকের পৰ্বতে পৌছিয়া মডিয়কে একটী মন্দির দেখাইলেন। যােগিনিবাস- পতে মন্দির। মন্দিরটা শ্বেতপাথরের। মন্দিরের চারিপাশ দিয়া টপ, টপ করিয়া জল পড়িতেছে। মন্দিরের গায়ে গােল গেল অক্ষরে কি লেখা আছে। কি যে লেখা আছে তাহা যােগেরও বুঝিতে পারিলেন না। মন্দিরের কাছে ধ্রুবলােভের ধ্রুবালাকের যােগীর বিভূতি প্রদর্শন। দুইজন যােগী বসিয়া রহিয়াছেন। যােগেশ্বর মীডিয়কে বলিলেন, “সাধুদিগকে প্রণাম কর।” মীডিয় ধ্রুবলােকের যােগী দুইজনকে প্রণাম করিতেই মডিয়মের কারণ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১৯ দেহটা (সূক্ষ্মদেহটী) ** সাদা হইয়া গেল। ধ্রুবলোকের যােগ দুইজনে মিলিঙ্ক গিয়া একজন হইয়া গেলন। আবার পৃথক হইয়া দুইজনই হইলেন। তাহাদের একজন সাপ হইয়া গিয়া মী ডিয়মের মাথার উপরে উঠিলেন। আর একজন একখণ্ড পাথর হইয়া গেলেন। ক্ষণপরে পাথরখণ্ড,ও সাপটা অদৃশ্য হইয়া গেল। যােগেশ্বর মীডিয়কে বলিলেন, “অন্য এক দিন এই সাধুদের সঙ্গে আলাপ করাইয়া দিব।” মীডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “ইহাদের বয়স কত ?” যোগেশ্বর বলিলেন, “ইহাদের বয়স ৫০০ শত বৎসর করিয়া হইবে। এই দেশের সাধারণ লােক শত বৎসরের অধিক বাঁচে না।” এই কথার পর যােগেশ্বর শীডিয়মকে লইয়া ধ্রুবলােক হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর স্থূলদেহে প্রবেশ করিয়া মডিয়মকে ফল খাইতে বলিলেন। মীডিয়ম্ তাহার গাছ হইতে কয়েকটা ফল খাইল। যােগেশ্বর পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। মহাত্মা রজনীকুমার মডিয়মকে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রম হইতে তাহার আশ্রনে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মীডিমকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আরও কিছু দেখিবে কি ?” মীড বলিল, “দেখিব।” মডিয়ম্ এ কথা বলিতেই অনতিদূরে সুন্দর একটা ফুলের মন্দির যায়ামলিম। দেখিতে পাইল। মন্দিরের দেওয়ালগুলি সবুজ ফুলের। দৈওয়ালের গায়ে সুন্দর সুন্দর ছবি ঝুলান রহিয়াছে। মন্দিরের মধ্যে * স্কুলদেহের আকৃতি ও বর্ণের অনুরূপই সূক্ষ্মদেহের আকৃতি ও বর্ণ হইয়া থাকে। মীডিয় বাৰুটী কৃষ্ণবর্ণ ছিল বলিয়া মীডিমের সূক্ষ্মদেবও ধৰলগিরি ও নক্ষত্রলােক। দুইটা পক্ষিজাতীয় পৈরী নাচিতেছে। নাচিয়ে নাচিতে পৈরী দুইটা চারিটী পৈরী হইয়া নাচিতে লাগিল। ক্ষণপরে মন্দিরাদি. অদৃশ্য হইয়া গেল। মহা মীডরকে বলিলেন, “এখন যাও।” মীডিয় সীডিয়মের পথে মহাখাকে প্রাণম করিয়া চলিয়া আসিতে লাগিল। কিছুদুরে আসিয়া দেখিলে, তাহার আসিবার পথে কে মায়ামানুষ। একজন শূন্যে চিৎ হইয়া শুইয়া আছে। মডিয়ম সেই মানুষটীকে ধরিতে গেল। মানুষটা সরিয়া সরিয়া যাইতে লাগিল। এইরূপে কিছুদুর গিয়া মানুষটা অদৃশ্য হইয়া গেল। মীডিয় চলিয়া আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল। ১লা আগষ্ট মীডিয়ম্ ধবলগিরি যাইতেছিল; কিছুদূর গেলে পর মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মডিয়কে তাহার আশ্রমে লইয়া গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা স্থূলশরীরে প্রবেশ করিয়া মডিয়মের মাথায় কয়েকটা জটা লাগাইয়া দিলেন, হাতে একটা ত্রিশূল দিলেন, গায়ে ভন্ম মাখিয়া দিলেন। পরে মহাত্মা মডিয়কে লইয়া দ্বিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গেলেন। মীডিয়ম্ ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, আশ্রমের উপরে আগুন জ্বলিতেছে। মীডিয় প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা আগুনের মধ্য হইতে বাহির হইয়া মডিয়মকে বলিলেন, “আজ কোথায়ও যাইব । অন্ত যাও।” মীডিয়ম্ । ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করি। প্রণাম করিতে ২য় রাঙ্গালী মহাত্মা, অদৃশ্য হইয়া গেলেন। মা সুজনীকুমার ২য় পাগলী মহাত্মার আশ্রম হইতে ৰীডিয়কে লইয়া আসিয়া দূর হইতে প্রথম স্ত্রীমহাত্মার আশ্রমে পাঠাইয়া দিয়া শূন্যপথে দাঁড়াইয়া রহিলেন। মীডিয় শ্রীমহাত্মার আশ্রমে গিয়া ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১১ = । দেখিল, শ্রীমহাত্মা ফুলের মালা গাথিতেছেন। স্ত্রীমহাত্মা মীডিম্বকে দেখিয়া দুঃখ করিয়া বলিলেন, “দুই তিন দিন হইতে মালা শুকাইয়া । যাইতেছে, তুমি আস নাই, কাহাকে দিব ?” এই বলিয়া স্ত্রীমহাত্মা তাহার হাতের মালাছড়া মীডিয়মের গলায় পরাইয়া দিলেন। মালা পরাইয়া দিয়া স্ত্রীমহাত্মা একটা লাল আলখেল্লা গায়ে দিলেন, কপালে সিন্দুরের টিপ দিলেন, হাতে একটা চিষ্টা লইলেন, মডিয়মের হাতেও একটা চিষ্টা দিলেন। পরে স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে লইয়া দ্বিতীয় , মহাত্মার আশ্রমে গেলেন। ২য় স্ত্রীমহাত্মা তাহার আশ্রমে নাই, অন্যত্র গিয়াছেন। ২য় স্ত্রীমহাত্মাকে দেখিতে না পাইয়া স্ত্রীমহাত্মা মীডিয়কে বলিলেন, “তােমার মালাছড়া এখানে রাখিয়া যাও।” মডিয়ম্ তাহার গলা হইতে মালাছড়া খুলিয়া ২য় স্ত্রীমহাত্মার আসনের উপরে রাখিয়া দিল। স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে লইয়া ২য় শ্রীমহাত্মার আশ্রয় হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে এক গ্লাস সরবৎ খাওয়াইয়া বিদায় দিলেন। মীডর স্ত্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে চলিয়া গেল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার, আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা গীডিয়মকে বলিলেন, “এখন যাও।” মীডিয় চলিয়া আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল। ২রা আগষ্ট :-আমাদের পরিচিত প্রেতাত্মাদের মধ্যে একজন ইংরেজ ও একজন বাঙ্গালী রেতাত্মার সঙ্গে আমাদের কথা ছিল যে, তাহাদিগকে এক দিন মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে লইয়া 'যােগী দর্শন করিতে যাই। আজ সেই প্রেতাত্মা দুইজনকে মহাত্মা দুইজন তোমায় ধৰলগিমি যাইতে রজনীকুমারের নিকটে লইয়া যাইবার জন্য মডিয় তেলােকে গেল। প্রেতলােকে গিয়া মীডিয় সেই চেষ্টা। প্রেতাত্মা দুইজনকে সঙ্গে লইয়া প্রেতলােক হইতে বৰলগিরির দিকে যাইতে লাগিল। প্রেতলােকের সীমা ছাড়াইয়া কিছুর
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
।
গেলে পর, প্রেতাত্মা দুইজন মডিয়কে কিছু না বলিয়াই প্রেতলােকে চলিয়া
গেলেন। মীডিয় একাকীই ধৰগিরিতে মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে
চলিয়া গেল। মীডিয় মহাত্মার নিকটে গিয়া বলিল, “প্রেলােক
হইতে দুইজন প্রেতাত্মা' আপনাকে দেখিবার জন্য আমার সঙ্গে
আসিতে ছিলেন । কিছুদূর আসিয়া তাহারা আমাকে কিছু না
বলিয়াই প্রেতলােকে ফিরিয়া গেলেন। মহাত্মা বলিলেন, “আমার
আদেশ লইয়া যাও নাই বলিয়া তাহারা আসিতে পারে নাই।
আগামী কল্য পেত দুইজনকে লইয়া আসিও।-আজ আর কোথায়ও
যাই না, চলিয়া যাও।” মডিয়ম মহাত্মাকে প্রণাম করিল।
প্রণাম করিতেই মহাত্মা তাহার হাত হইতে একটা ত্রিশূল চুড়িয়া
ফেলিয়া দিলেন। মীডিম্ চলিয়া আসিয়া শরীরে প্রবেশ করিল।
৩রা আগষ্ট মডিয়ম্ প্রেতলােকে গিয়া সেই প্রেতাত্মা দুইজনকে
জিজ্ঞাসা করিল, “কাল আপনারা কেন ফিরিয়া আসিলেন ?”
প্রেতাত্মারা বলিলেন, “আমরা আর যাইতে পারিলাম না।” মীডিয়
বলিল, “মহাত্মা আপনাদিগকে আজ লইয়া যাইতে বলিয়াছেন।”
প্রেতাত্মারা বলিলেন, “তবে চল।” মডিয়
ধবলগিরিতে গিয়া
প্রেতাত্মা দুইজনকে সঙ্গে লইয়া থেতলােক হইতে
দুইজন প্রেতাত্মার
মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। আশ্রমে গিয়া,
যােগ দর্শন।
দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। প্রেতাত্মা দুইজন,
ও মীডির মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মহাত্মা প্রেতাত্মা দুইজনকে
জিজ্ঞাসা করিলেন, “তােমরা কোথায় থাক?” প্রেতাত্মা, দুইজন
মহাত্মার সঙ্গে কথাই বলিতে পারিলেন না। মহাত্মা প্রেতাত্মা
দুইজনকে আবার জিজ্ঞাসা করিলেন, “তােময়া সাধু দর্শন ।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। করিতে আসিয়াছ,—কি নিয়া আসিয়াছ ?” প্রেতাত্মা দুইজন মডিয় দ্বারা মহাত্মাকে বলল, “আজ আমরা কিছুই নিয়া আসি নাই, অন্য দিন আপনার জন্য কিছু নিয়া আসিব!” মহাত্মা বলিলেন, “আচ্ছ।” এই বলিয়া মহাত্মা প্রেতাত্মা দুইজনকে বিদায় দিলেন। প্রেতাত্মা দুইজন মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া প্রেতলােকে চলিয়া গেল। মাত্মা মডিয়কে তাহার আশ্রম হইতে লইয়া গিয়া দূর হইতে প্রথম স্ত্রীমহাত্মার আশ্রম দেখাইয়া দিয়া শূন্যপথে দাঁড়াইয়া রহিলেন। মডিয় স্ত্রী হাত্মার অশ্রিমে গিয়া দেখিল, শ্রীমহাত্মা শুইয়া আছেন। মীডিয় স্ত্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিল। প্রণাম করিতেই স্ত্রীমহাত্মা” জাগিয়া উঠিয়া মডিয়মকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আমার জন্য কি নিয়া আসিয়াছ ?” মীডিম্ বলিল, আমার কিছুই লইয়া আসিবার শক্তি নাই। স্ত্রীমহাত্মা বলিলেন, “তােমার শক্তি আছে। মীডিয়ম্ বলিল, “আমার শক্তি থাকে ত আমাকে যিনি পাঠান তাহাকে আমা দ্বারা কিছু পাঠাইয়া দেন।” স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “তােমা দ্বারা তাহাকে ফল পাঠাইয়া দিব।” মডিয় জিজ্ঞাসা করিল, “কবে দিবেন?* শ্রীমহাত্মা বলিলেন, “পরৈ দিব।” এই বলিয়া স্ত্রীমহাত্মা একটা গ্লাসের মধ্যে কি একটা জিনিস ভরিয়া দিয়া মীডিয়কে বলিলেন, “গ্লাসটা সাধুকে দিয়া আস।” মীডির গ্লাসটী লইয়া গিয়া মহাত্মা রজনীকুমারকে দিয়া স্ত্রী মহাত্মার নিকটে ফিরিয়া আসিল। স্ত্রীমহায়া মীডিয়কে দুই একটা কথা রলিয়া বিদায় দিলেন। মীডিম্ শ্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাকা নিকটে চলিয়া গেল। মহাত্মা গডিয়মকে লইয়া তাহার আশ্রমে চবিদ্যা আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মডিয়কে বলিলেন, “এখন বাও।” মীয়ি চলিয়া আসিয়া শরীরে প্রবেশ করিল।
১০৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ৪ঠা আগষ্ট মীডিয়ম্ ধবলগিরি যাইতেছিল। যে কোন কারণ বশতঃই হউক, আজ মীডিমুম্ ধবলগিরি যাওয়ার রাস্তা ভূলিয়া গেল। এমন সময়ে মহাত্মা রজনীকুমার সূক্ষ্মদেহে আসিয়া মীডিকে তাঁহার আশ্রমে লইয়া। গেলেন। আশ্রমে গিয়া মহাত্মা স্কুলদেহে প্রবেশ করিয়া মীডিম্বকে বলিলেন, “আজ কোথায়ও যাইব না, চলিয়া যাও।” মীডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া স্থূলশরীরে প্রবেশ করিল। মহাত্মা । ৫ই আগষ্ট মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া একজন যােগীর আশ্রমে গেলেন। সেই চতুর্থ বাঙ্গালী যােগী পদ্মাসনে বসিয়া আছেন। তাঁহার বয়স ৩০০ শত বৎসর। তিনি বাঙ্গালী। মীডিয় চতুর্থ বাঙ্গালী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। ৪র্থ বাঙ্গালী মহাত্মা মীডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কি করিয়া আসিলে?” মীডিয়ম্ বলিল, “আমাকে একজনে পাঠাইয়াছেন।* ৪র্থ বাঙ্গালী মহাত্মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “আজ কাল ভারতের অবস্থা কি?” মীডিয়ম্ বলিল, “আজ কাল ভারতে বড়ই দুঃখ দৈন্য ও ধর্মের গ্লানি উপস্থিত হইয়াছে।” ৪র্থ বাঙ্গালী মহাত্মা বলিলেন, “আর বেশী দিন নয়, সাড়ে তিন শত বৎসর পরে ভারতের অবস্থা পরিবর্তন হইবে।” মীডি বলিল, “আপনি এবার ভারতে চলুন। ৪র্থ বাঙ্গালী মহাত্মা ধ্বলিলেন, “এখন নয়, পরে দেখা যাইবে।” এই বলিয়া ৪র্থ বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়াকে বিদায় দিলেন। মহাত্মা রজনীকুমার ৪র্থ বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হইতে মীডিয়মকে লইয়া ৱিতীয় বাঙ্গালী মহাত্মা আমে গেলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
একটা পর্বতশৃঙ্গে
দুইটী, মন্দির
কায় স্থান।
আশমে যাইতেই ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা পাথরের মধ্য হইতে আশ্রমের
উপরে ' উঠিয়া বসিলেন।
মীডিয়ম্ , ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে
প্রণাম করিল। ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা সূক্ষ্মদেহে নীভিমকে লইয়া
উপর দিকে উঠিতে লাগিলেন। কিছু দূর উপতে উঠিয়া মডিয়কে
দেখাইলেন। মন্দির দেখাইয়া ২য়
বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া একটা নক্ষত্রের
নত্রলােকে একা
নিকট দিয়া একটা অন্ধকারপূর্ণ স্থানে গেলেন।
সেই স্থানে গাঢ় অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই নাই।
মডিয়ম ২য় বাঙ্গালী মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে অন্ধকার
কেন?” ২৪ বাঙ্গালী মহাত্মা বলিলেন, “এ সম্বন্ধে অন্য দিন বলিব।”
এই কথা বলিয়া ২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মডিয়কে লইয়া সেই অন্ধকার
স্থান * হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া
২য় বাঙ্গালী মহাত্মা মূলশরীরে প্রবেশ করিয়া পাথরের নীচে চলিয়া
গেলেন। মহাত্মা রজনীকুমার ২য় বাঙ্গালী মহাত্মার আশ্রম হতে
মীডিকে লইয়া তাহার আশ্রমে আসিয়া মডিয়কে পাঠাইয়া
দিলেন। মীডিঃ আসিয়া স্কুল শরীরে প্রবেশ করিল।
৬ই ও ৭ই আগষ্ট মীডিয় ধবলগিরিতে গিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের
দেখা পায় নাই।
৮ই আগষ্ট মীডিয় মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল,
মহাত্মা বসিয়া আছেন। মডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মহাত্মা,
মডিয়কে লইয়া যােগেৱের আশ্রমে গেলেন। আশ্রমে বাইতেই
যােগের পাথরের মধ্য হইতে আশ্রমের উপরে, উঠিয়া বসিলেন।
•,নক্ষত্রলােকের এই অন্ধকারময় স্থানটা একটা নুতন পৃথিবী
সৃষ্টির সূত্রপাত বলিয়া অনুমান হইতেছে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। । চলোকে গমন মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়ম্ যোগেশ্বরকে প্রণাম করিল। যােগেশ্বর মডিয়কে বলিলেন, “আঙ্গ চন্দ্রলােক দেখাইব।” “এই বলিয়া যােগেশ্বর মহায়া রজনীকুমারকে তাহার আসনের একপাশে বসাইলেন। এবং মডিয়মকে আঁহাদের দুইজনের মাঝখানে বসাইলেন। পরে যােগেশ্বর সূক্ষ্মদেহে মহাত্মা রজনীকুমারের সূক্ষ্মদেহ মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিকে লইয়া এক মিনিটের মধ্যে চন্দ্রলােকের ও মাডিয়যুকে লইয়া পৃথিবীর নিকটে গিয়া পৌছিলেন। চন্দ্রের পৃথিবীতে যোগেশ্বরের ন'মিয়া পৃথিবী হইতে কিছু উপরে থাকিয়া যােগেশ্বর মডিয়কে চন্দ্রের পৃথিবীর দৃশ্য দেখাইতে লাগিলেন। যেখান হইতে দেখাইতেছেন, সেখান হতে চন্দ্রের পৃথিবীর অর্ধেকটা দেখাযাইতেছে অর্থাৎ চন্দ্রের পৃথিবীর গােলার্ধের অদ্ধভাগ দেখা যাইতেছে। চন্দ্রের পৃথিবীর সেই অর্ধেকে তখন দিনের বো। যােগেশ্বর মডিয়মকে চন্দ্রলােকের একটী সহর দেখাইলেন। সহরের ঘরগুলি সবই গােল ও সাদা। ঘরগুলি খুব চলােকের উচু ও বড় বড়। সহরে বড় বড় দালানও আছে। ঘর বাড়ী। দালানগুলিও সাদা। দালানের ফ্যান্ আমাদের দেশের দালানের ন্যায়। দালানগুলি ইটের নয়, মাটার। সহরের মাটীও সাদা। সহরের মধ্যে বড় বড় গাছ আছে। গাছগুলিও একটা পাহাড় দেখাইলেন। পাহাড়ের লােকের পাহাড়। মধ্য হইতে অনেক নদী বাহির হইয়াছে। নীলি খুব বড় বড়। নদীর জল আকাশের ন্যায় নীল দেখাইতেছে। একটা মন্দির দেখাইলেন। মনিরের চারি ধারেই ফুলের চলােকে বাগান। বাগানের গাছগুলিও সাদা, গাছের ফুল- উলালা মন্দির । গুলিও সাদা। মন্দিরের মধ্যে কোন মূর্তি নাই। যােগের মীডিয়কে বলিলেন, “এই দেশের লােকে এই মন্দিরে আসিয়া সাদা।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। উপাসনা করে। এই দেশের লােকে মূর্তি পূজা করে না।-এই দেশের চন্দ্র আছে। আমাদের দেশে যে দিন পূর্ণিমা, সেই দিন এই দেশে অমাৎস্যা। আমাদের দেশে যে দিন অমাস্তা, সেই চন্দ্রলােকের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা। দিন এই দেশে পূর্ণিমা। এই দেশেও বহুদিনের যোগী আছেন। অদ্য চল।” এই বলিয়া যােগেশ্বর মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়কে লইয়া চন্দ্রলোক হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার স্কুলশরীরে প্রবেশ করিলেন। স্থূলশরীরে প্রবেশ করিয়া মহাত্মা রজনীকুমার, যােগেশ্বরের আসন হইতে উঠিয়া একটু দূরে গিয়া দাড়াইলেন। যােণশ্বর একটী ফু ফিলেন। দিতেই কতকগুলি শ্বেতপাথরের পুতুল আসিয়া যােগেশ্বরের সামনে নাচিতে লাগিল। আর একটা ফু দিতেই পুতুলগুলি অদৃশ্য হইয়া গেল। তারপর, মীডিয় দেখিল কি, যােগেশ্বর যেন মডিয়কে লইয়া একটা পৰ্বত-গুহার মধ্যে প্রবেশ করিতেছেন। গুহার মধ্যে প্রবেশ করিয়া যোগেশ্বর গীডিগমকে প্রকাণ্ড একটা বাঘ দেখাইলেন। বাঘটী শুইয়া আছে। ক্ষণ পরে দেখিল, বাঘও নাই গুহাও নাই। মীডিয় যেখানে দাড়াইয়া ছিল সেইখানেই দাড়াইয়া আছে। যােগেশ্বরও যেখানে বসিয়াছিলেন সেইখানেই বসিয়া আছেন। যােগ-মায়ার এই অদ্ভুত খেলা দেখাইয়া যেগের মীডিমের গলায় একছড় হীরার মালা জড়াই দিলেন। মীডিয় যােগেশ্বরকে বলিল, “মালাছড়া আমাকে দিন। যােগের বলিলেন, “তোমার শক্তি থাকে ত নিয়া নেও{* যােগে এ কথা বলিতেই মডিয়মের গলা হইতে মালাছড়া খসিয়া #ড়িল। মডিয়ম্ মালাছড়া ধরিতে গেল। মালাছড়া সরয়া সক্রিয় ১০৮ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। যাইতে লাগিল। মীডিয় বারংবার চেষ্টা করিয়া ও মালাছড়া ধরিতে পারিল না। যােগেশ্বর মালাছড়া: তাহার পায়ে জড়াইয়া পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। মীডিম্ প্রণাম করল। প্রণাম করিতেই আশ্রমের উপর দিয়া ছাই উড়িয়া গেল। মহাত্মা রজনীকুমার মডিয়কে বলিলেন, “ফল খাইয়া আস।” মীডিয়ম্ তাহার গাছে চড়িয়া অনেক গুলি ফল খাইল। মীডিয়ম্ অনেক দিন যাবৎ ফল খায় নাই বলিয়া মীডিয়মের ফলের গাছটী ঘােট হইয়া গিয়াছিল। মীডিম্ ফল খাইতেই গাছটী বড় হইয়া গেল। মহাত্মা মডিয়ক কয়েক কোষ জল খাওয়ালেন। পরে মীডিয়কে লইয়া যােসেরের আশ্রম হইতে তাঁহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মীডিয়কে পাঠাইয়া দিলেন। মীডিয়ম্ আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল। ৯ই আগষ্ট মীডিম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা মডিয়মকে তাহার আশ্রম হইতে লইয়া গিয়া দূর হইতে প্রথম স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে পাঠাইয়া দিয়া শূন্যপথে দাড়াইয়া রহিলেন। মডিয় স্ত্রী মহাত্মার আশ্রমে গেল। স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে তঁাহার কাছে নিয়া বইলেন। মীডিয় স্ত্রী মহাত্মাকে বলিল, “আপনি যে বলিয়া- ছিলেন,-যিনি আমাকে পাঠান তাঁহাকে ফল পাঠাইয়া দিবেন। আজ ফল পাঠাইয়া দিবেন কি?” স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “আমার নিকটে রােজ আসিলে ফল পাঠাইয়া দিব।” এই কথার পর স্ত্রী মহাত্মা মীডিয়মের হাতে একমুষ্টি ভন্ম দিয়া বলিলেন, “ইহা সাধুকে দিও।” এই বলিয়া মডিয়কে বিদায় দিলেন। মীডিয় ভস্মমুষ্টি লইয়া আসিয়া মহাত্মা রজনীকুমারকে দিল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আদিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মীডিষকে ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। বলিলেন: “অন্ত যাও।”, মীডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়, স্থূলশরীরে প্রবেশ করিল । ১০ই আগষ্ট মীডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা মীডিয়ক লইয়া কিছুদুর শূন্যে উঠিয়া মডিয়মকে একটা পৰ্বত-পৃষ্ঠে মুনর একটী মনি। দেখাইলেন। মন্দির দেখাইয়া মহাত্মা মীয়িক লইয়া শূন্যপথ হইতে নামিয়া আসিয়া যােগেশ্ববের আশ্রমে গেলেন। আশ্রমে যাইতেই যােগেশ্বর পাথরের মধ্য হইতে আশ্রমের উপরে উঠিলেন। মহাত্মাও মীডিয় যােগেশ্বরকে প্রণাম করিল। যােগেশ্বর সূক্ষ্ম দেহে মডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােকে যাইতে লাগিলেন। চন্দ্রলােকের দিবস। এক মিনিটের মধ্যে চন্দ্রলোকের আলো-মণ্ডলের মধ্য দিয়া * চন্দ্রলােকের পৃথিবীর নিকটে গিয়া শূন্যপথে দাড়াইলেন। সেখান হইতে আজ পূৰ্বদিন অপেক্ষা চন্দ্রের পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেখা যাইতেছে। যােগেশ্বর মীডিয়মকে লইয়া ফুলের বাগান। চন্দ্রের পৃথিবীতে নামিয়া একটা ফুলবাগানের মধ্যে গিয়া দাড়াইলেন। বাগানের গাছগুলি খুব ছােট ছােট। সকল গাছেই চন্দ্রলোকের * পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের কিরণ পড়ে সেই অংশে দিনের বেলা আর যে অংশে সূর্যের কিরণ পড়ে না সেই অংশে রাত্রিকাল। গ্রহ- নক্ষত্রের পৃথিবীর যে অংশে দিন থাকে সেই অংশেই আলোমগুল হয় আর যে অংশে রাএি থাকে সেই অংশে আলােমগুল হয় না। নক্ষত্র- লোকের যে পৃথিবীতে দিবারাত্রি হয় সেই পৃথিতে আলাে-মণ্ডলের মধ্যদিয়াও যাওয়া যায় এবং আলাে-মণ্ডল ছাড়াও যাওয়া যায়। নক্ষত্র লােকের মধ্যে এমন পৃথিবীও আছে, যে পৃথিবীতে সর্বদাই দিন থাকে। যেমন 'বনক্ষত্র।
ধবলগিরি ও মক্ষত্রলােক। সাদা সাদা ফুল ফুটিয়া রহিয়াছে। ফুলবাগান দেখাইয়া যােগেশ্বর মীডিয়কে লইয়া একটা বাজারের মধ্যে গেলেন। এক লােকের বাজার। বাজারের মধ্যে অনেক বড় বড় ঘর আছে। ঘরগুলি ধানের ষােড়ার ন্যায় গােল ও খুব উচু। বাজারে নানাবিধ জিনিসের দোকান আছে। ফলের দোকান ও অনেক আছে। বাজারের এক পাশ দিয়া একটা রাস্তা গিয়াছে। রাস্তা দিয়া নানারঙের ছােট ছােট অনেক গাড়ি চলিতেছে। ঘোড়ার ন্যায় চন্দ্রলােকের গাড়ি। এক প্রকার ঘােট ঘােট জন্তুতে গাড়িগুলি টানিতেছে গাড়িগুলি সবই দুই চাকার। গাড়িগুলিতে দুইজনের অধিক বসিতে পারে না। রাস্তার একপাশে মুগীর ন্যায় কতকগুলি পাখী আছে। পাখীগুলির রঙ, কাল। বাজার দেখাইয়া যােগেশ্বর মডিয়কে একটী পাহাড়ের উপরে লইয়া গেলেন। সেই পাহাড়ের মাঝে মাঝে সাদা পাথর ও মাঝে মাঝে কাল পাথর। পাহাড়ের উপরে চন্দ্রলােকে অনেকগুলি কাল পাথরের মূর্তি আছে। সেইপ্রকার কালপাথরের মূর্তি। মুৰ্ত্তি মীডিম্ আর কখনও দেখে নাই। মুৰ্ত্তি দেখাইয়া যােগেশ্বর মীডাকে সেই পাহাড়ের নিম্নদেশে লইয়া গিয়া একটী পুকুর দেখাইলেন। পুকুরটার চারি পার শ্বেতপাথরের প্রাচীর চন্দ্রলােকের পুকুর। দিয়া ঘেরা। পুকুরের এক পারে একটা শ্বেতপাথরের বধান ঘাটুলা আছে। পুকুর দেখাইয়া যােগেশ্বর শীডিমূকে লইয়া একটা মাঠের মধ্যে গেলেন। মাঠের মাটীও সাদা, চন্দ্রলােকের মাঠ। ঘাসও সাদা। মাঠ দেখাইয়া যােগেশ্বর মীডিম্যক লইয়া চন্দ্রলােক হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর খুলশরীরে প্রবেশ করিয়া আশ্রমের নীচে চলিয়া গেলেন। নীচে যাইতেই অবিকল যােগেশ্বরের মত একটা ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১১১ পাথরের মূর্তি আসিয়া যােগেশ্বরের বসিবার স্থানে বসিল। মহাত্মা রজনীকুমার মীডিম্বকে লইয়া যােগেশরের আশ্রম হইতে তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মীডিমকে বিদায় দিলেন। 'মডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিয়! চলিয়া আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিল। মডিয়মের শরীর অসুস্থ হইয়াছিল বলিয়া ১১ই আগষ্ট হইতে ১৪ই আগষ্ট পর্যন্ত আমাদের কাৰ্য্য বন্ধ ছিল। ১৫ই আগষ্ট মডিয়কে ধবলগিরি পাঠাইলাম। মডিয়ম্ ধবল গিরিতে মায়া রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিম্ মহাখাকে প্রণাম করিল। মীডিম এত দিন যে মহাত্মার নিকটে কেন যায় নাই, সে সম্বন্ধে মহাত্মা মডিয়মের নিকটে কিছুই জিজ্ঞাসা করিলেন না। মহাত্মা তাহার আশ্রম হইতে মীডিক লইয়া গিয়া দূর হইতে প্রথম স্ত্রীমহাত্মাকে দেখাইয়া দিয়া শূন্যপথে দাড়াইয়া রহিলেন। মীডিম্ শ্রীমহাত্মার নিকটে গেল। স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে দ্বিতীয় স্ত্রীমহাত্মার নিকটে লইয়া গেলেন। মডিয়ম্ ২য় স্ত্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিল। २२ স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি আমাদের নিকটে বােজ কেন আস না?” মীডিম্ বলিল, “যিনি মডিয়মকে ২য় স্ত্রী আমাকে লইয়া আসেন, তিনি নিয়া আসেন না হাত্মার শক্তিদান । বলিয়া আসিতে পারি না।” ২য় স্ত্রীমহাত্মা বলিলেন, “আচ্ছা, তােমাকে শক্তি দিয়া দিতেছি।” এই বলিয়া ২২ ক্রীমহাকা মীতিমের মাথায় হাত বুলাইয়া তিনটা ফু দিয়া বলিলেন, “এখন আর ধবলগিরি ও ননএনে নক্ষত্রলে তােমাকে কেহই আটকাইতে পারিবে না।” মডিয়কে ২য় খ্রীমহাত্মায় শক্তি দানের পর ১ম খ্রীমহাত্মা ২য় শ্রীমাত্মার আশ্রম হতে মডিয়কে। লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া শ্ৰীমহাত্মা ভীডিয়কে কি একটা মিষ্ট জিনিস খাইতে দিলেন। মীডিয় সেই জিনিসটা খাইল। পরে স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে বিদায় দিলেন। মীডিয় স্ত্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের নিকটে চলিয়া গেল। মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “অন্ত যাও।” শাভিয়ম মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিল। ১৬ই আগষ্ট মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা মীভিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন। গিয়া দেখিলেন, যােগর আমের উপরেই বসিয়া আছেন। मशंगा শীডিয় যােগেরকে প্রণাম করিল। যোগেশ্বর পায়ের নীচে , গিয়া বালার রায় কি একটা লাল জিনিস লইয়া উপরে উঠিলেন। নােগশ্বর সেই বাল বালাটা তাঁহার হাতে পরিলেন। পরে সূক্ষ্মদেহে মডিয়কে লইয়া উপর দিকে উঠিতে লাগিলেন। যােগেশ্বরের সূক্ষ্ম দেহের হাতেও সেই লাল আটা পরা আছে । যােগের মডিকে অইয়া যতই উপরে উঠিতে লাগিলেন গীডিমের ততই ঠাণ্ডা চােখ হইতে লাগিল। ষােগর ডিয়কে লইয়া চলােকের দিকে ইতে * কোথাও যাইবার সময়ে বোপ বেসন্ত বর মিয়া সাজিয়া ধীকে সেই সময় তাদের দেহে থাকে।
বলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১১৩ লাগিলেন। চন্দ্রের নিকটবর্তী হইলে পর, চন্দ্রকে একটা নক্ষত্র বলিয়া মডিয়মের ভ্রম হইল। মীডিয় চন্দ্রকে দেখিয়া চন্দ্রলোকে বলিল, “নক্ষত্রটী অতিদ্রুতবেগে ঘুরিতেছে। নক্ষত্রটা ৩য় দিবস। যেন আগুনের ন্যায় জ্বলিতেছে।” চন্দ্রের আরও নিকটবর্তী হইলে পর, মাড়িয়ম্ চন্দ্রের আলাে-মণ্ডলের আলাে দেখিয়া বলিল, “নক্ষত্রের পৃথিবীটী যেন একটা গােলাকার আলােমগুলের দৃশ্য। আললা দিয়া ঘেরা। নক্ষত্রের পৃথিবী হইতে আলো আসিয়া নীচের দিকে পড়িতেছে। সেই আলোটা শ্যায় দেখাইতেছে। যােগেশ্বর মীডিয়কে লইয়া অালাে- মণ্ডলের মধ্য দিয়া চন্দ্রলােকের পৃথিবীতে গিয়া চন্দ্রলােকের যােগি- একটী পৰ্ব্বতের উপরে দাড়াইলেন। সেই পৰ্বতী নিবাস-পর্বত। চন্দ্রলােকের যযাগি-নিবাস-পৰ্বত। পতে চন্দ্রলােকের যােগীরা বাস করেন। যোগেশ্বর সেই পর্বতের উপরে মীডিয়কে একটা মন্দির দেখাইলেন। মন্দির দেখাইয়া যােগেশ্বর মডিয়কে চন্দ্রলোকের একজন সমাগীর চন্দ্রলোকের নিকটে লইয়া গেলেন। মীডিয় চন্দ্রলােকের যােগকে প্রণাম করিল। চন্দ্রলােকের যোগী মীডিয়ক জিজ্ঞাসা কেিলন, দুলােকের যােগী । 4 নক্ষত্রের পৃথিবীর উপরে সুর্যের কিরণ পড়িয়া সেরূপ আলো- মণ্ডল হয়, চক্ষ পৃথিবীর উপরে সুর্যের কিরণ পঙিয়া সেইরুপই আলোমগুল । এ হেতু নক্ষত্র ও চন্দ্রের দৃশ্য মধ্যে কোনরূপ প্রদ দেখায় না। নক্ষত্র হইতে চন্দ্র আমাদের পৃথিবীর নিকটে বলিয়াই সময়। নক্ষত্র হতে চলুকে রূপ দেখিয়া থাকি অর্থাৎ নক্ষত্রে। ন্যায় খিনা। এবং ত্রের আলো-খণ্ডলের আলােয়া রাখিলে আমাদের পৃখি ১১৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোেক । “তুমি কি জন্য আসিয়াছ ?” মডিয়ম্ বলিল, “আপনাদের দেশের সব খবর লইতে আসিয়াছি।-আপনি আমাদের দেশে যাইতে পারেন কি না ?” চন্দ্রলােকের ঘষাগী বললেন, “আমি বেশী উপরে * যাইতে পারিনা। আমাদের দেশেও বহু দিনের যােগী আছেন, তারা তােমাদের দেশে যাইতে পারেন। আমি তাহাদের খোঁজ করিয়া দেখিব। আগামী কল্যও আসিও।” মডিয় বলিল, “যিনি আমাকে নিয়া তানিয়ছেন, তিনিও আপনাকে আমাদের দেশে লইয়া যাইতে পারেন। ডিম্ এই ক"! বলিতেই পাহাড়ের উচ্চদেশ হইতে চন্দ্রলােকের আর একজন যােগী আসিয়া মডিয়মকে জিজ্ঞাসা করিতেন, “তুমি কোন দেশ হইতে আছি ? কি প্রকারে আসিয়াছ ?” মামি নােগেশ্বকে দেখাইয়া চন্দ্রলােকের দ্বিতীয় যােগীকে বলিল, “ইনি আমাকে ইয়া আসিয়াছেন।” তারপর, মীডির উপর দিকে আলোকিত হইয়া থাকে। সমান দূর হইতে নক্ষত্রকেও বেরূপ দেখায়, চন্দ্রকে ও সেরূপ দেখায়। এই জন্যই চন্দ্রকে দেখিয়া মডিয়মের নক্ষত্র বলিয়া ভ্রম হইল। * আমরা যেমন চন্দ্রকে আমাদের উপরে দেখি, সেইরূপ চন্দ্রলােক- বাণীরাও আমাদের পৃথিবীকে তাহাদের উপরে দেখিয়া থাকে। কেননা, কল পৃথিবীর লােকেই আপনাপন পৃথিবীকে লক্ষ্য করিয়া উৰ্দ্ধ ও : নিশ্চয় করে অর্থাৎ আপন পৃথিবীকে অধঃ দিক ও শূন্যপকে উ৷ দিক নিশ্চয় করিয়া থাকে। যেহেতু আমাদের শূন্য পথে চন্দ্র তি এবং চন্দ্ৰলােকবীর শূন্যপথে আমাদের পৃথিবী স্থিত। সুতরাং আমরা চন্দ্রলােককে উপরে দেখি ও চন্দ্রলােকশীরা আমাদের পৃথিবীকে উপরে দেখিয়া থাকে।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১১৫ আঙ্গুল দিয়া আমাদের এই পৃথিবী দেখাইয়া বলিল, “ঐ যে কাল স্থল ও জলের ন্যায় দেখা যাইতেছে * সেই দেশ চন্দ্রলােক হইতে আমাদের।” চন্দ্রলোকের ২য় মােগী মাডিয়মকে জিজ্ঞাসা আমাদের পৃথিবীর করিলেন, “কি জন্য আসিয়াছ ?” ডিম বলিল, দৃশ্য। “আপনাদের দেশের ১ব খবর লইতে আসিয়াছি। আপনাদের দুইজনকে আমাদের দেশে লইয়া গিয়া চন্দ্রলোকের যােগীকে আমাদের দেশের লোককে দেখাইবার ইচ্ছা করি।” আমাদের পৃথিবীতে চন্দ্রলােকের ২য় যােগী বলিলেন, “আমি তােমাদের আনিবার প্রস্তাব। দেশে যাইতে পারিনা। যিনি যাইতে পারেন এমনযোগীর খোঁজ করিয়া দেখিব। আগামী কল্য আলি ও।* মডিয়কে এই কথা বলিয়া চন্দ্রলােকের ২য় যােণী যােগেশ্বরের সঙ্গে আলাপ করিতে লাগিলেন। যোগেশ্বর ও চন্দ্রলোকের ২য় বাের মধ্যে যে কি যে কি কথা হইল, মীডিয় তাহা বুঝিতে পারিল যােগেশ্বরের সঙ্গে কথাবার্তা সঙ্গে কথাবার্তা বলিয়া বলিয়া চন্দ্রলােকের ২য় যােগ গেলেন। ২য় যোগীর চন্দ্রলােকের প্রথম মােগী ও অদৃশ্য হইয়া গেলেন। চন্দ্রলোকের যােগী দুইজন অদৃশ্য না। অদৃশ্য হইয়া * গ্রহ নক্ষত্রের পৃথিবীর মৃত্তিকাদি পদার্থের ন্যায় আমাদের পৃথিবীর মৃত্তিকাদি পদার্থ স্বচ্ছ নয় বলিয়া আমাদের পৃথিবীর উপরে সূর্যের কিরণ পড়িয়া গ্রহ নক্ষত্রাদির পৃথিবীর ন্যায় আমাদের পৃথিবীর আলো- মণ্ডল হয় না। গ্রহ নক্ষত্রাদির পৃথিবীর আলোমগুল হয় বলিয়া আমাদের পৃথিবী হতে গ্রহ নক্ষত্রাদির পৃথিবীকে উজ্জ্বল দেখাইয়া থাকে। আর আমাদের পৃথিবীর আলাে-মল হয় না বলিয়া গ্রহ নক্ষত্রাদির পৃথিবী হইতে আমাদের পৃথিবীকে কাল স্কুল ও জলের ন্যায় দেখাইয়া থাকে।
১১৬ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।' চন্দ্রলোকের হইয়া গেলেন পর, যােগেশ্বর মীডিয়কে লইয়া সেই পৰ্বতের নিম্নদেশে গেলেন। সেই স্থানে যােগেশ্বর মডিয়কে কতকগুলি বড় বড় ফুলের গাছ দেখাইলেন, বড় প্রজাপতি ও পাখী। বড় কয়েকটা প্রজাপতি দেখাইলেন, আর হলদে রঙের একটী পাখী দেখাইলেন। পাখীটি বড়ই সুন্দর, পাখীটি অতি মধুর স্বরে ডাকিতেছে। পাখী দেখাইয়া যােগেশ্বর মডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােক হইতে ধবলগিরিতে আসিতে লাগিলেন। কিছুদূর আসিলেন পর মীডিম্ বলিল, “এখনও আমাদের পৃথিবীকে ছােট দেখাইতেছে।” দেখিতে দেখিতে যােগের মডিয়কে লইয়া আসিয়া ধবলগিরিতে পৌছিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর স্থূলশরীরে প্রবেশ করিয়া আশ্রমের নীচে চলিয়া গেলেন। মীডিম্ চন্দ্রলােক হইতে আসিয়া মহাত্মা রজনীকুমারকে যােগেশ্বরের আশ্রমে দেখিতে পাইল না। চন্দ্রলােকে যাওয়ার পূর্বে মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরের আশ্রমেই দাঁড়াইয়া রহিয়াছিলেন। মহাত্মাকে দেখিতে না পাইয়া শীডিম দ্বিতীয় স্ত্রীমহাত্মার প্রদত্ত শক্তিবলে যােগেশ্বরের আশ্রম হইতে ২য় শ্রীমহাত্মার আশ্রমে চলিয়া গেল। ২য় স্ত্রীমহাত্মার আশ্রমে যাইতে আজ আর মীডিয়মের মহাত্মা রজনীকুমারের সাহায্য লইতে হয় নাই। মীডিয় ২য় স্ত্রীমহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, ২য় স্ত্রী মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিয় ২য় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিল। ২য় শ্রী মহাত্মা গীষ্টিয়কে লইয়া তাহার আশ্রম হইতে একটা পর্বতশুরে গিয়া ধবলগিরি একটী মন্দিরের নিকটে গড়াইলেন। মন্দিরের নিকটে বেতহস্তী। এক জলাশয় আছে। জলাশয়ের মধ্যে ছােট ছােট কয়েকটা শ্বেতহস্তী খেলা করিতেছে। ২য় শ্রী মহাত্মা ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। বলগিরি ১১৭ "p মডিয়কে মন্দিরের মধ্যে লইয়া গিয়া বলিলেন, “আমি কখন কখন এখানেও খাকি।” মন্দির দেখাইয়া ২য় স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া ২য় স্ত্রী মহাত্মা মডিয়মকে বিদায় দিলেন। মীডিয় ২য় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের অাশ্রমে চলিয়া গেল। আশ্রমে গিয়া মডিয় মহাত্মাকে বসা দেখিতে পাইল। মহাত্মা মীডিয়মকে দেখিয়া হাসিতে লাগিলেন। হাসিতে হাসিতে মীডিয়কে বলিলেন, “স্ত্রী সাধুর নিকটে গিয়াছিলে?” মডিয়ম্ বলিল, “শ্রীমহাত্মা যে আমাকে শক্তি দিয়া দিয়াছেন তাহা কি আপনি জানিতে পারিয়াছেন ?” মীডিয়মের কথায় মহাত্মা মাথা নাড়িয়া হাঁ জ্ঞাপন করিলেন। তারপর মীডিয়কে বলিলেন, “অঞ্চ যাও। আগামী কল্য আমিও চন্দ্রলােকে যাইব।” মীনি বলিল, “আপনি আমাকে পাঠাইয়া দিন, তবেই যাইব; নতুবা যাইব না।” মহাত্মা বলিলেন, “তবে থাক।” মীডিয় বলিল, “আমার স্কুলশীর লইয়া আসুন তবে থাকিব।” মহাত্মা বলিলেন, “তবে বলিলে কেন, আমি থাকিব ?” মীডিয়ম্ বলিল, “বলিয়া দেখিলাম, আপনি কি করেন। এই বলিয়া মীডিম্ মহাত্মাকে মহাত্মা রজনীকুমার প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিতে লাগিল। কিছুদূর কর্তৃক মীডিয়মের আসিলে পর, মহাত্মা আসিয়া মীডিয়কে তাঁহার আশ্রমে লইয়া গিয়া বলিলেন, “এখানে থাক।” এই কথা, বলিয়া মহাত্মা ঝটিতি মীডিয়কে (মডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে) একটা কৌটার মধ্যে বন্ধ করিয়া ফেলিলেন। মহাত্মা মডিয়মের দেহ বা মনােময়কোষকে কোঁটার মধ্যে বন্ধ করিয়া ফেলিতেই মী:ডয়মের মনােময়কোষের সূক্ষ্মহে কোটায় ১১৮ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। পড়িল। বৃত্তি লােপ হইয়া গেল । মনােময়কোষের বৃত্তির লােশ হওয়ায় মীডিয়মের বিজ্ঞানময়কোষের বৃত্তি ও লােপ হইয়া গেল। মডিয়মের বিজ্ঞানময়কোষের বৃত্তি লােপ হওয়াতে, মহাত্মা যে মীডিমের সূক্ষ্মদেহকে কৌটার মধ্যে বন্ধ করিয়া ফেলিয়াছেন তাহা আমি জানিতে পারিলাম না। এদিকে, মীfডয়মের মনােম ও বিজ্ঞানময়কোষে। বৃত্তি লােপ হওয়াতে, মীডিয়মের স্থূলদেহট মুচ্ছিত ব্যক্তির ন্যায় ঢলিয়া মীডিয়মের শ্বাসপ্রশ্বাস চলিতেছে কি না চলিতেছে, তাহা বুঝিতে পারা গেল না। অামি ডাকিয়া ডাকিয়া মডিয়মের কোনই উত্তর পাইলাম না। ডিয়মের শরীরে ধাক্কা দিয়াও মীডরমের কোনরূপ সারাশব্দ পাইলাম না। ডিয়কে এইরূপ অচৈতন্য অবস্থায় তুই তিন মিনিট কাল পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া, বিশেষতঃ মহাত্মা বে মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে বন্ধ করিয়া রাখিয়াছেন তাহা বুঝিতে না পারিয়াই আমার ভয় হইতে লাগিল। আমার ভয় হইতেই হাত্মা কোটার মধ্য হইতে মীডিয়কে (মডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে) ছাড়িয়া দিয়া বলিলেন, “ভয় নাই।” ডিমকে ( মীডয়মের সূক্ষ্মদেহকে) ছাড়িয়া দিতেই মীডিয়মের নােময় ও বিজ্ঞানময়কোযের কাৰ্য্য আরম্ভ হইল এবং মীডিয়মের স্থূলদেহও সতেজ হইয়া উঠিল। মহাত্মা মীডিয়কে বলিলেন, “কাল সকাল করিয়া আসিও।” এই বলিয়া মহাত্মা মীড়িয়কে বিদায় দিলেন। মীডিয় চলিয়া আসিয়া স্থূলশরীরে প্রবেশ করিল। * মডিয়মের সূক্ষ্মদেহ বা মনােময়কোষ ও মনােময়কোষের বৃত্তি কোন বস্তুতেই আবদ্ধ হয় না। মহাত্মা রজনীকুমার যােগবলে মীডিমের মনোময়কোষকে কৌটার মধ্যে বন্ধ করিয়া মনােময়কোষের বৃত্তি লােপ করিয়া দিয়াছিলেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১১৯ ১৭ই আগষ্ট মডিয়’একটু সকালেই মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। শ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। আমাকে বলিলেন, “কাল ভয় করিয়াছিলে কেন? তােমরা ভয় করিও ।” আমি মহাত্মাকে বলিলাম, “আপনি যে, মীডিয়মকে বন্ধ করিয়া রাখিয়াছিলেন, তাহা বুঝতে না পারিয়াই আমার ভয় হইয়াছিল । আমরা যখন আপনাদের আশ্রয়ে আছি, তখন আর আমাদের কিসের ভয় ? আমরা কাহাকেও ভয় করি না।” মহাত্মা বলিলেন, “কাহাকেও আর ভয় করিতে হইবে না।” আমি বললাম, “আমরা যাহা করিতেছি, তাহা কেহই বুঝিতে পারিতেছে না।” মহাত্মা বলিলেন, * এ সমস্ত সকলের ধারণায় আসিতে পারে না।” এই কথার পর, মহাত্মা তাহার গায়ে ভস্ম মাখিলেন, কপালে সিলর মাখিলেন, খরম পায়ে দিলেন। তারপর, মীডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন। যােগেশ্বরের আশ্রমে গিয়া দেখিলেন, পাথরের মধ্য হইতে জল উঠিয়া আশ্রমের উপরেই জমি বরফ হইয়া যাইতেছে। ইহা দেখিয়া মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “পরমেশ্বরের নাম কর।” মীন্দ্রিয় কয়েক বার পরমেশ্বরের নাম করিতেই জলও নাই বরফও নাই। যোগেশ্বর পাথরের মধ্য হইতে আশ্রমের উপরে উঠিলেন। আশ্রমের চন্দ্রলােকে উপরে উঠিয়া দাড়াইবামাত্র যােগেশ্বরের সামনে ৪র্থ দিবস। ধ, করিয়া আগুন জ্বলিয়া উঠিল। যােগেশ্বর সূক্ষ্মদেহে” মহাত্মা রজনীকুমারের সূক্ষ্মদেহ ও মডিয়াকে লইয়া চন্দ্রলােকে যাইতে লাগিলেন। যােগেশ্বরের আশ্রমের উপরে লােকে, আগুন জ্বলিতেই রহিল। যােগেশ্বর মহাত্মা রজনীকুমার শ্বেতপাথরের মূর্তি। ও মীডিম্কে লইয়া এক মিনিটের মধ্যে চন্দ্রলােকে গিয়া একটা নদী তীরে দাড়াইলেন। নদীটা খুব বড়। নদীর তীরে ।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। । হলদে রঙের একটা লম্বাপান দালান আছে। দালানের মধ্যে অনেকগুলি শ্বেতপাথরের মূর্তি আছে। সেই স্থানের লােকগুলি খুব ফেটাসােটা। তাহারা কুঁচিয়ে কুঁচিয়ে কাপড় পরিয়া থাকে। সেই নদীর তীর হইতে যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিমকে লয়া চন্দ্রলােকের যােগি-নিৰাস-পৰ্বতে গেলেন। চন্দ্রলােকর প্রথম পরিচিত যােগী পাথরেরর মধ্য হইতে বাহির হইয়া আসিয়া যােগের ও মহাত্মা রজনীকুমারকে প্রণাম করিলেন। চন্দ্রলোকের পরিচিত যােগী মহাত্মা রজনীকুমারকে লক্ষ্য করিয়া মডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আর একজন কে ? ইনি ত গতকল্য আসেনাই ?” যোগেশ্বর মহাত্মা মডিয়ম্ বলিল, “ইনিও আমাদের দেশের একজন রজনীকুষার ও যােগী। ইনিই আমাকে আমাদের দেশের যােগী- মীয়কে দেখিতে দিগের সঙ্গে আলাপ করাইয়া দিয়া থাকেন।” চন্দ্রলােকের শতাধিক মােগীর আগমন। মীডিম্ এই কথা বলিতেই চারিদিক হইতে চন্দ্রলােকের শতাধিক যােগী আসিয়া নাগেশ্বর, মহাত্মা রজনী কুমার ও মীডিয়মের চারিদিক দিয়া ঘেরিয়া দাড়াইলেন। সেই যােগীরা কোনরূপ কথাবার্তা না বলিয়া যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়কে দেখিতে লাগিলেন। চন্দ্রলােকের যােগীদিগকে দেখিয়া মীডিয়ম্ , মীডিয়ম্, চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনাদের দেশে কত যােগ আছেন?” চন্দ্র- লােকের পরিচিত যােগী বলিলেন, “অনেক যােগী আছেন।” মডিয়ম জিজ্ঞাসা করিল, “কত দিনের যােগী আছেন?* চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগ কলিলেন, অনেক কালের বােগ আছেন।-তোমার সঙ্গে যাহারা আসিয়াছেন, তাহারা ও তুমি আমাদের দেশের সাধারণ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১২. লােককে * দেখা দিতে পার কিনা?” মীডিয় বলিল, “আমি পারি না। তাহারা, ইচ্ছা করিলে দেখা দিতে চন্দ্রলোকের সাধারণ পারেন।* চলেকের পরিচিত যােগী বলিলেন, “তবে লোককে মােগেশ্বরের তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর।*, মীডিয়ম্ যােগেশ্বরকে দেখাদিবার কথা। জিজ্ঞাসা করিল, “আপনারা এই দেশের সাধারণ লােককে দেখা দিতে পারেন কি না ?” যােগেশ্বর বলিলেন, “পরশুর পর দিন দেখা দিতে পারি { অর্থাৎ ৪র্থ দিবসে যােগের ও মহাত্মা রজনী- কুমার স্কুলদেহ লইয়া চন্দ্রলােক গিয়া চন্দ্রলোকের সাধারণ লােককে দেখা দিতে স্বীকৃত হইলেন।) মডিয়ম্ চলােকের পরিচিত যােগীকে বলি, “তাহাৱা পরশুর পরদিন আপনাদের দেশের সাধারণ লােককে দেখা দিতে পারেন। চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগী বলিলেন, “আমরা সাধারণ লােককে দেখা দিতে পারি না। তথাপি যে কোন উপায়েই হউক, আমরা লােকালয়ে যাইয়া সাধারণ লােককে খবর দিয়া রাখিব ।” চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীর এই কথা বলার পরেই অনেক দূরে একটা পর্বতস্তরে আগুন জ্বলিয়া উঠিল। হঠাৎ আগুন জ্বলিতে দেখিয়া মডিয়ম্ চন্দ্রলােকের পরিচিত বােগীকে জিজ্ঞাসা করিল, চন্দ্রলােকের “ওখানে আগুন জ্বলিয়া উঠিল কেন ?” চন্দ্রলােকের প্রাচীনযােগী । পরিচিত যােগ বলিলেন, “ওখানে অনেক কালের একজন সাধু থাকেন। তিনি তােদর দেশে যাইতে পারেন । একটু . সাধারণ লােক বলিতে দীন ভিখারী হইতে চক্রবর্তী রাজা পর্যন্ত বুঝায়। যােগীরা সাধারণ লোেক নহেন, তাহারা মহাপুরুষ। । লােকের এই প্রাচীন যােগ স্কুলশরীর লইয়া আমাদের পৃথিবীতে আসিতে পারেন।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
পরেই সেই আগুনের মধ্য দিয়া একজন যােগী কিছুদূর শূ উঠিয়া
যােগী দগকে দেখা দিয়া আবার নীচে চলিয়া গেলেন। আগুনও
নিবিয়া গেল। মডিয়ম্ চন্দ্রলােকের পরিচিত
চন্দ্রলােকের যোেগীর
যােগীকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনারা আমাদের দেশে
আমাদের পৃথিবীর
যাইয়া আমাদের দেশের সাধারণ লােককে দেখা
দেখা দিবার কথা।
দিবেন কি না?” চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগী
বলিলেন, “তােমরা দেখা দিতে পারিলে, আমরা কেন
পারিব না?—পরে দিন ঠিক করিয়া দিব।” ডিয়ন্ বলিল, “আমাদের
সাধারণ লোককে
fl
চন্দ্রলােকের যােগীরা স্থূলশরীর লইয়া আমাদের পৃথিবীতে আসিতে
পারেন বলিয়া চন্দ্রলােক হইতে কোনও যােগীকে আমাদের পৃথিবীতে
লইয়া আসিতে যোগেশ্বরের অধিকার নাই। যে গ্রহের যােগীরা
সুসশরীর লইয়া আমাদের পৃথিবীতে আসিতে পারেন না, সেই গ্রহের
যােগীকেই যােগেশ্বর আমাদের পৃথিবীতে লইয়া আসতে পারেন।
এইরূপ নিয়ম যে,-যে পৃথিবীর যােগীরা স্থূলশরীর লইয়া অপর
পৃথিবীতে যাইতে পারেন সেই পৃথিবীর যােগীকে অপর পৃথিবীর যােগীরা
তাহাদের পৃথিবীতে লইয়া যাইতে পারেন না। আর যে পৃথিবীর যােগীরা
শরীর লইয়া অপর পৃথিবীতে যাইতে পারেন না সেই পৃথিবীর
যােগীকেই অপর পৃথিবীর যােগীরা তাহাদের পৃথিবীতে লইয়া যাইতে
পানে।
যে যােগী স্থূলশরীর লইয়া অপর পৃথিবীতে যাইতে পারেন সেই যােগই
অপর পৃথিবীর যােগীকে লইয়া আসিতে পারেন। তার যে যােগ
দুগণীর লইয়া অপর পৃথিবীতে যাইতে পারেন না সেই যােগ অপর
পৃথিবীর যােঞ্জকে লইয়া আসিতেও পরেন না।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। দশে সাদা কালা অনেক রকমের লােক আছে ; ভাষাও অনেক প্রকার আছে । চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগী বলিলেন, “তােমাদের তিন জনকে ত কালই দেখিতেছি।” মডিয়ম্ বলিল, “সাদাও আছে।” লােকের পরিচিত যােগী বলিলেন, “আমাদের মত কি?” মীডিম লিল, “ঠিক আপনাদের মত নয়, একটু কম।” চন্দ্রলােকের পরিচিত যাগী বলিলেন, “তবে আর আমাদের মত সাদা নয়।” মীথিয় বলিল, বিনি আমাকে পাঠান তিনি ও আমি সংসারেই আছি।” চন্দলােকের পরিচিত যােগী বলিলেন, “সংসারে থাকিলে কিছুই হবে না।” ডিম্ বলিল, “আমরা দুই বৎসর পরে যােগীদিগের নিকটে চলিয়া চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগী বলিলেন, “তহাই করিও। চন্দ্রলােকের পরিচিত যোগী এই কথা বলিব মাত্র দ্রলোকের যােগীরা সকলেই অদৃশ্য হইয়া গেলেন। চন্দ্রলােকের যাগীরা অদৃশ্য হইয়া গেলেন পর, যােগেশ্বর মহাত্মা রজনীকুমার ও মীছিয়মকে লইয়া চন্দ্রলোকের যােগি-নিবাস- লােকে পৰ্বত হইতে চন্দ্রলোকের একটা সহরে * গেছেন। সেই সহরের বাড়ী ঘর গাছপালা মস্ত বই চন্দ্ৰলৈকে সাদা, সাটাও সাদা। সহরের মধ্য দিয়া একটী নদী লােহারপুল। গিয়াছে। নদীর উপরে একটা লােহা। পুল আছে। পুলটা খুব উচু। শহরের পুরুষ ও মেয়েরা সকলেই চলোরে মােটা কাপড় পরিয়া থাকে। মেয়েরা ঘোমটা দেয় পুবের পােক। মেয়ে সুন্দর সুন্দর হনাগুলি মুকার। পুরুষের মাথায় টুপী পরে। খগেশ্বর, মহাত্মা * আমাদের দেশের লণ্ডন কলিকাতা প্রভৃতি শহরের ন্যায় চন্দ্রলোকে এত বড় বড় সহর নাই। লােকের সহ।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রদে। রজনীকুমার ও মডিয়কে লইয়া সহরের একটা বাজারের মধ্যে গেলেন। বাজারটা দেখিতে বড়ই সুন্দর। বাজারে ছেলেদের চন্দ্রলােকের বাজারে খেলিবার নানা রকমের পুতুলের দোকান আছে। টুপী, চিরুণী, বাদ্যযন্ত্র টুপীর দোকান আছে। নানাপ্রকারের চিরুণী ও কাচের প্রভৃতির দোকান। চুরীর দোকান আছে। নানা প্রকারের বাদ্যযন্ত্রের দোকান আছে। থালা বাসনের দোকান আছে। থালা বাসনগুলি শ্বেতপাথরের বাসনের ন্যায় দেখায়। নানা রকমের তরকারীর দোকান আছে। গােল গোল সাদা সাদা এক প্রকার তরকারী আছে। তরকারীগুলি দেখিতে আমাদের দেশের অলুির ন্যায়। তাহ। সেই দেশের আলু হইবে। বাজারে মাছ মাংসের দোকান নাই। চন্দ্রলােক বানীরা মাছ মাংস খায় না। বাজারে গরু বিক্রয় ত্রিলোকের গরু ও বাছুরগুলি খুব সুন্দর। বাজার গরু বাছুর। দেখাইয়া ষোগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুর ও মাডিয়কে লইয়া নদীর সেই পুলের উপরে গিয়া দাড়াইলেন। হত সমস্ত সহরটী দেখা যাইতেছে। সহরের মধ্যে অনেক ফুলের বাগান আছে। ফুলের বাগানগুলি দেখিতে বড়ই সুন্দর। পুলের উপরে গিয়া মডিয়মের খুব শীত করিতেছিল। দেশটা বড়ই ঠাণ্ডা। বােগশ্নর মীডিমকে বলিলেন, “এই সব দেশ আমিও কখন দেখি নাই। অদ্য চল।” এই বলিয়া যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিম্বকে লইয়া চন্দ্রালােক হইতে বলগরিতে আসিতে লাগিলেন। কিছুদূর আসিলে পর, মী'ডরমের একটু গরম বােধ হইতে লাগিল। বােগশ্বর মামা রজনীকুমার ও মডিয়কে লইয়া ধবলগিরিতে আসিয়া পেছিলেন। যােগেশ্বর আজ চলোকে প্রায় ৮৯ মিনিট কাল বিল করিয়াছিলেন। অন্য কোন দিনই নক্ষত্রলোকে এত বিং করেন নাই। পুলের উপর ১৪ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১২৫ ধবলগিরিতে আসিয়া যােণশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার শরীরে প্রবেশ করিলেন। সূলশরীরে প্রবেশ করিয়া যােগেশ্বর একটা ফু দিয়া তাহার আশ্রমের উপরে যে আগুন জ্বলিতেছিল সেই আগুনটা নিবাইয়া দিলেন। আগুন নিবিয়া যাইতেই আগুনের জায়গায় কতকগুলি সাপ আসিয়া খেলা করিতে লাগিল। সাপগুলি খেলিতে খেতে আসিয়া মীডিয়মের গায়ের উপরে উঠিল আবার নাবিয়া সাপগুলি যােগেশ্বরের কাছে গেল। যােগেশ্বর সাপগুলিকে লইয়া কত আদর করিতে লাগিলেন। সাপগুলির মুখে চুমা খাইতে লাগিলেন। সাপগুলি গিয়া যােগোরের গায়ের উপরে উঠিল। সাপগুলি যােগেশ্বরের গায়ের উপরে উঠতেই যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার অদৃশ্য হইয়া গেলেন। যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার অদৃশ্য হইয়া গেলেন পর, ডিম্ যােগেশ্বরের আশ্রম হইতে দ্বিতীয় স্ত্রীমহাত্মার আশ্রমে গেল। ২য় স্ত্রীমহাগা মডিয়কে লইয়া তাহার আশ্রম হইতে একটী জলাশয়ের নিকটে গেলেন। সেই জলাশয়ের তীরে সুন্দর একটা 'ধবলগিরিতে মন্দির আছে। মন্দিরের মাঝখানে একটা চৌবাচ্চা সাবান মন্দির। আছে। চৌবাচ্চার জলে সুন্দর সুন্দর অনেক গুলি জলজন্তু খেলা করিতেছে। ২য় স্ক্রীমহাত্মা নানা রকমের ছবি দিয়া মন্দিরের ভিতরটা সাজাইয়া রাখিয়াছেন। ছবিগুলি কাঠের ফ্রেমে আমনায় বাধান। মীভিয়ম ২য় স্ত্রীমহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিল, “এ সব ছবি’কোথায় পাইলেন?” ২য় স্ত্রীমহাত্মা বলিলেন, “আমাদের কোথায় ও যাইতে হয় না, ইচ্ছা কৰিলেই আমাদের সব হইয়া যায়।” মডিয় বলল, “আমাকে একখানা ছৰি দিন।” ২য় স্ত্রীমহাত্মা বললেন, “নতে পারিলে সেও।” মীয়েম্ একখানা ছকি ধরিতে গেল। ছবিখানা নয়া শরিয়া যাইতে লাগিল। মীডিম্ যাবার চেষ্টা করিয়াও M ধবলগিরি ও নক্ষত্রলোক। ছবিখানাকে ধরিতে পারিল না। ২য় স্ত্রীমহাত্মা মডিয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “এখন কি করবে?” মডিয়ম্ বলিল, “অন্য , স্ত্রীমহাত্মা নিকটে যাইব। তিনি বলিয়াছেন,-আমাকে যিনি পাঠান তাহা জন্য ফল পাঠাইয়া দিবেন। আপনি তাহার জন্য কিছু পাঠাইবেন না ? ২য় স্ত্রীমহা মীডিয়মের হাতে একটি ফল দিয়া বলিলেন, “এই ফলট সেই স্ত্রী সাধুকে দিও; অন্য দিন দেখিব, যিনি তােমাকে পাঠা তাঁহার জন্য ফল পাঠাইতে পারি কি না।” এই বলিয়া ২য় স্ত্রীমহায় মডিয়কে বিদায় দিলেন। মীয়ি ফলটা লইয়া ২য় খ্রীমহাত্মা আশ্রম হইতে প্রথম স্ত্রীমহাত্মার আশ্রমে গেল। আশ্রমে গিয়া দেখিল মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিয় স্ত্রীমহাত্মাকে ফলটী দিয়া প্রণ করল। স্ত্রীমহাত্মা অনেক দিন পর মীডিয়কে দেখিয়া অত্যন্ত খু হলেন। মীডিয়ম্ প্রত্যহ তাহার নিকটে যায় না বলিয়া তি।। দুঃখ করিতে লাগিলেন। মীডিয় শ্রীমহাত্মাকে বলিল, “যিনি আমার পাঠান তাহাকে ফল পাঠাইবেন না?” শ্রীমহাত্মা বলিলেন, “এ প্রকার করিলে কি করিয়া পাঠাইব? রােজ আমার নিকটে আসি ফল পাঠাইব।” মীডিম্ বলিল, “বােজ আসিতে চেষ্টা করিব। স্ত্রীমহাত্মা বলিলেন, “অস্ত যাও। আমি আমার বড় বন্ধুর নিক বাইতেছি।” এই কথা বলয় ১ম স্ত্রীমহাত্মা তৃতীয় স্ত্রীমহাত্মার নিক চলিয়া গেলেন। মীডিয়ম্ ১ম স্ত্রীমহাত্মার আশ্রম হইতে মহাত্মা রজনী কুমারের আশ্রমে চলিয়া আলি মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে আসিয়া মীডিয় মহাত্মাকে দেখিয়ে পাইল না। কিন্তু মহাত্মার হাসির শব্দ শুনিতে পাইল। একটু পর মহাত্মা মীডিয়কে দেখা দিলেন। মীডিম্ মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করি “চন্দ্রলােক কেমন দেখিলেন, আমাদের দেশ হইতে ভাল কি না ৫
ধলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
১২৭
মহাত্মা বলিলেন, “আমাদের দেশ হইতে অনেক অংশে ভালও দেখিলাম।”
মীডিয় বলিল, ‘চন্দ্রলােকের যােগ আমাদের দেশে
চন্দ্রলােক গম্বন্ধে
আসিয়া সাধারণ লোককে দেখা নিলে আপনাদের
মহাত্মা রজনীকুমারের
অভিমত।
ও আমাদের নাম চিরস্মরণীয় হইয়া থাকিবে।
মহাত্মা বুলিলেন, আমার এই ইচ্ছা।-তুমি
বড়ই ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াই, তােমাকে পাঠাইয়া দিতেছি।” এই বলিয়া
মহাত্মা মডিয়মকে পাঠাইয়া দিলেন। মডিয়ম্ অতিবেগে আসিয়া
স্থূলশরীরে প্রবেশ করিল।
%
১৫ই আগষ্ট মীডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল,
মহাত্মা বসিয়া আছেন। মডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মহাত্মা
মীডিয়মকে বললেন, “আজ কোথাও যাইতে ইচ্ছা হইতেছে না।”
একটু পরে বলিলেন, “চল, যিনি চন্দ্রলােক দেখান তাহার নিকটে যাই।”
এই বলিয়া মহাত্মা মডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন।
'মহাত্মা } যোগেশ্বকে আশ্রমের উপরে দেখিতে না পাইয়া
পাথরের মধ্যে প্রবেশ করিলেন। একটু পরেই যােগেশ্বরকে সঙ্গে
করিয়া আশ্রমের উপরে উঠিলেন। মীডিয় যােগেশ্বরকে প্রণাম
করিল। মহাত্মা মডিয়কে বলিলেন, “ইনি আজ কোথাও যাইবেন
। তুমি স্ত্রী সাধুর নিকটে হইয়া আস।” মীভিয়ম্ ২য় স্ত্রীমহাত্মা
নিকটে গেল। ২য় স্ত্রীমহাত্মা মীডিমকে একটা ফল খওয়াইয়া বিদায়
দিলেন। মীডিয় ২য় স্ত্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিয়া যােগেশ্বরের
আশ্রমে চলিয়া আসিল। মীডিয় যােগেশ্বরের আশ্রমে আরিয়া
দেখিল, যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজকুমাৰ কি পৰ্শ করিতেছেন।
•া যে কি পরামর্শ করিতেছেন, শীলি তাহা বুলি
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলাে}#। পারিল না। পরামর্শ করিয়া যােগেশ্বর পাথরের নীচে চলিয়া গেলেন। মহাত্মা মডিয়চে লইয়া তাহার আশ্রমে চলিয়া আসিলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা মডিয়কে বিদায় দিলেন। মীডিয় মহাত্মার শাশ্রম হইতে চলিয়া আসিল। মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশু হইতে আসিয়া প্রেতলােকে যাইতে লাগিল। কিছুদুর যাইতেই মডিয়মের স্কুলশরীর কঁপিতে লাগিল। মীডিয়মের শরীর কঁপিতে দেখিয়া আমি মডিয়মের ভীতি। বুঝিতে পারিলাম যে, মীডিম্ ভয় পাইয়াছে। আমি মীডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলাম, “তােমার ভয় হইতেছে কেন?” মডিয়ম্ আমার কথায় কোনই উত্তর দিতে পারিল না। মডিয়কে। ভয়ে বিবশ দেখিয়া তৎক্ষণাৎ মীডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে স্থূলশরীরস্থ করিয়া মডিয়কে মেমেরিক নিদ্রা হইতে জাগাইয়া দিলাম। মীডিয় নেমেরিক নিদ্রা হইতে জাগিয়া উঠিয়া তাহার বসিবার চেয়ারের নীচে কি খুজিতে লাগিল আর বলিতে লাগিল, “এখানে কে ছিল? কে ?-কালীমূৰ্ত্তি ?” আমি মীডিয়কে বলিলাম, “এখানে ত কেহই ছিল না ?” মীডিয় বলিল, “ফালীমূৰ্ত্তি খঙ্গ হাতে লইয়া আমাকে ভয় দেখাইতে ছিল।” কিছুক্ষণ পরে মীডিয়মের ভয় চলিয়া গেল। ১৯শে আগষ্ট মীডিম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা মডিয়মকে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন। আশ্রমে গিয়া দেখিনি, যােগেশ্বর বসিয়া আছেন। মহাত্মা ও মীডিয় যােগেশ্বরকে প্রণাম করি। যােগেশ্বর মডিয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কাল ভয় পাইয়াছিলে কেন?” মীডিম বলিল, “কালীমূৰ্ত্তি দেয়া। যােপের বলিলেন, “ভয় পাইলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভব। তবে, মাঝে মাঝে এই একা।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
১২৯
.
ভয় পাইলে তখন আর উপরে (শূন্যপথে) থাকিও না । আজ
আর কোথায়ও যাওয়া হইবে না।” মহাত্মা রজনীকুমার মীডিয়কে
বললে, “স্ত্রী সাধুর নিকটে হইয়া আস।” 'মীডিয় দ্বিতীয় স্ত্রীমহাত্মার
নিকটে গেল। ২য় স্ত্রীমহাত্মা মীডিয়মের সঙ্গে দুই একটা কথা বলিয়া
মীভিয়কে বিদায় দিলেন। সীডিম্ ২য় শ্রীমহাত্মাকে প্রণাম করিয়া
যােগেশ্বরের আশ্রমে ফিরিয়া আসিল। ইতিমধ্যে যােগেশ্বর ও মহাত্মা
রজনীকুমার কোনরূপ পরামর্শ করিয়া থাকিবেন। যােগের
মডিয়কে বলিলেন, “কাল সকাল করিয়া আসিও।”
এই বলিয়া
যােগেশ্বর আশ্রমের নীচে চলিয়া গেলেন। মহাত্মা রজনীকুমার মডিয়মকে,
লইয়া তাহার আশ্রমে চনিয়া আসলেন। আশ্রমে আসিয়া মহাত্মা
মডিয়কে বিদায় দিলেন। মীডিয়ম্ মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া
আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল।
২০শে আগষ্ট আমার অত্যন্ত জ্বর হয়। তথাপি আমি মীলিমকে
মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে পাঠাইলাম। মীডিয়ম্ মহাত্মার আশ্রমে
গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীড়িয়
আমার বর ও
মহাত্মাকে প্রণাম করিল। মহাত্মা মডিয়মকে
কার্শে বিদ্যু।
( মডিয়মের সূক্ষ্মদেহকে) নিস্তেজ ও বিকৃতভাবাপন্ন *
দেখিয়া বললেন তুম এইরূপ ভাবে কেন আসিলে?” মডিয়
নিল,“যিনি আমাকে পাঠান তাহার অত্যন্ত জ্বা হইয়াছে।” মায়া
বলিলেন, “অঙ্গ উপরে (চন্দ্রলােকে) যাইতে পারিবে না, চলিয়া যাও।
মডিয়ম্ কি মেমোইজকারীর শরীর অসুস্থ হলে, মীডরমের
হদেহ নিস্তেজ ও বিকৃতভাবাপন্ন হইয়া থাকে। (গ্রেশন দেখ।)
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। আমি সাধুর নিকটে যাইতেছি।” এই বলিয়া মহাত্মা যোগেশ্বরকে আমার অসুখের কথা জানাইতে গেলেন। মীডিয়ম্ মহাত্মার আশ । হইতে চলিয়া আসিয়া স্থূলশরীরে প্রবেশ করিল। আজ যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমারের চন্দ্রলােকের সাধারণ লােককে দেখা দিবার কথা ছিল। কিন্তু আমার জ্বর হইয়া পড়ায় তাহা হইল না। আমার অসুস্থতা বশতঃ ২১শে আগষ্ট হইতে ২৬শে আগষ্ট পর্যন্ত আমাদের কার্য্য বন্ধ ছিল। ২৭শে আগষ্ট মীডিয়কে মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে পাঠাইলাম মীডিম্ মহাত্মার আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন মডিয়ম্ মহাত্মাকে ওণাম করিল। মহাত্মা মডিয়মকে জিজ্ঞা করিলেন, “তােমরা কেমন আছ ?” মীডিম্ বলিল, “আমরা ভাল আছি।” এ কথার পর, মহাত্মা মডিয়কে লইয়া যোগেশরের অংশ গেলেন। মহাত্মা ও মীডিয় যােগেশ্বরের আশ্রমে যাইতেই যােগে পাথরের মধ্য হইতে আশ্রমের উপরে উঠিয়া বসিলেন। মহাত্মা মীডিয় যােগেশ্বরকে প্রণাম করিল। खाटमारक সূক্ষ্মদেহে মহাত্মা রজনীকুমারের সূক্ষ্মদেহ ৫ম দিবস। মীডিরকে লইয়া চন্দ্রলােকে যাইতে লাগিলে চন্দ্রলােকের আলােমণ্ডলের নিকটবর্তী হইলে পর যােগেশ্বর, মহাত্মা রজঃ কুমার ও মীডিয়মের ছায়া দুইটী করিয়া হইয়া গেল। ইগরে তিনজ সুশরীরের উপরে সূর্যের কিরণ পড়িয়া চন্দ্রের আলেমলে ও এক করিয়া ছায়া পড়িল, আর চন্দ্রের আলােমগুলের মালা প ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১৩১ অনলামণ্ডলের বাহিরে একটা করিয়া ছায়া পড়িল। যােগেশ্বর মহাত্মা, রজনীকুমার ও মডিয়মকে লইয়া চন্দ্রলােকের যােগি-নিবাস-পৰ্ব্বতে পৌছিয়া কতকগুলি মায়ামূৰ্ত্তি দেখিতে পাইলেন। চন্দ্রলােকের যােগীর আবার মুর্তিগুলিকে অদৃশ্য হইয়া যাইতে দেখিলেন। মায়ামূর্তি প্রদর্শন। মায়ুমুর্তিগুলি দেখিয়া যােগেশ্বর মডিয়কে বলিলেন, “একটু অসুবিধা হইতেছে।” ২০শে আষ্ট চন্দ্রলােকের সাধারণ • লােককে যােগেশ্বরের দেখা দিবার কথা ছিল। কিন্তু কথামত কাৰ্য্য হয় নাই বলিয়া চন্দ্রলােকের যােগী বা যােগমায়া বলে কতকগুলি বিশ্রী মূর্তি দেখাইয়া যােগেশ্বরকে অজ্ঞা ক:ি লেন । যােগেশ্বর চন্দ্রলােকে আর বিলম্ব না করিয়া তখনই মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়মকে লইয়া চন্দ্রলােক হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবল- গিরিতে আসিয়া যােগের ও মহাত্মা রজনীকুমর স্থূলশরীরে প্রবেশ করিয়া অদৃশ্য হইয়া গেলেন। মীডিম্ ধবল গরি হইতে চলিয়া আনিয়া স্থূলশরীরে প্রবেশ করিল। ২-শে আগষ্ট মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা মডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন। মীডিয়ম যােগেশ্বরের আশ্রমে গিয়া দেখিল, যােগেশ্বর বসিয়া আছেন। মীডিয় যােগেশ্বরকে প্রণাম করিল। যােগেশ্বর সুম্মদেহে মহাত্মা রজনীকুমারের সূক্ষ্মদেহ ও মডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােকে যাইতে লাগিলেন। এক মিনিটের মধ্যে ক্ত দিবস। চন্দ্রলােকের যােগি-নিবাস-পতে গিয়া পেীছিলেন। যােগি-নিস-পতে পেীছিয়া যােগেশ্বর চন্দ্রলোকের পরিচিত যােগীর আশ্রমে' গেলেন। চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীকে আশ্রমের উপরে ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক দেখিতে না পাই; যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়কে আশ্রমের উপরে রাম চন্দ্রলোকের যােগীর সঙ্গে দেখা করিবার জন্য আশ্রমের নীচে গেলেন। চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীর সঙ্গে যােগেশ্বরের দেখা হইল বটে, কিন্তু তিনি আশ্রমের উপরে উঠিলেন না। তিনি মডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরকে পরেরদিন যাইতে বলিলেন। যোগেশ্বর মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােক হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার স্কুলশরীরে প্রবেশ করিয়া অদৃশ্য হইয়া গেলেন। মীডিয়ম্ ধবলগিরি হইতে চলিয়া আসিয়া সুলশরীরে প্রবেশ করিল। মীডিয়মের ধবলগিরি মীডিয়মকে ২৯শে আগষ্ট মীডিম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গিয়া দেখিল, মহাত্মা বসিয়া আছেন। মহাত্মা মডিয়মকে বলিলেন, “আজ দেরি করিয়া আসিয়াছ।” এই কথা বলিয়া মহাত্মা মডিয়কে লইয়া ঘােগেশ্বরের আশ্রমে গেলেন। যাইতে বিলম্ব ও গিয়া দেখিলেন, যােগেশ্বর আশ্রমের উপরেই বসির। কার্যে বিঃ। আছেন। মীডিয় যােগেশ্বরকে প্রণাম করিল। যােগেশ্বর শীডিয়কে বলিলেন, “তোমার আসিতে বিলম্ব হইয়াছে। আজ চলােকে যাওয়া হইবে না। এই কথা বলিয়া যােগেশ্বর আমের নীচে চলিয়া গেলেন। যােগেশ্বর নীচে যাইতেই মহাত্মা রজনীকুমার অদৃশ্য হইয়া গেলেন। মীডিয়ম্ ধবলগিরি হইতে চলিয়া আসিয়া ফুল শরীরে প্রবেশ করিল।
বলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
আজ চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীর নিকটে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু, আমাদের কর্মদোবে আজিও তাহার ব্যতিক্রম ঘটিল।
চন্দ্রলােকে
৩০শে আগষ্ট মডিয়ম্ হাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা
মডিয়কে লইয়া যােগেশ্বরের অশ্রমে গেলেন। যােগেশ্বর সূক্ষ্মদেহে মহাত্মা
রজনীকুমারের সূক্ষ্মদেহ ও মডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােকে
যাইতে লাগিলেন এক মিনিটের মধ্যে চলােকের
৭ম দিবস।
যােগি-নিবাস-পৰ্ব্বতে গিয়া পৌছিলেন। যােগি-নিবাস
পৰ্বতে পৌছিয়া যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিয়মকে একটু
রাখিয়া চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীর অাশ্রমে গিয়া পাথরের মধ্যে
প্রবেশ করিলেন। একটু পরে চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীকে সঙ্গে
করিয়া যােগেশ্বর মীডিয়মের নিকটে আসিলেন। মীডিয়ম্ চন্দ্রলােকের
বােগীকে প্রণাম করিল। চলােকের যােগী মীডিয়মকে বলিলেন, “তােমাদের
TTR
কথার ঠিক থাকে না। এইরূপ হইলে আর
চত্রলােকের মােয়র
আমাদের দেখা পাইবে না।” মীডিয়ম্ বলিল,
আসবে।
“গতকল্য যােগীদিগের নিকটে আমার আসিতে
বিলম্ব হইয়াছিল বলিয়া যােগীরা আমাকে লইয়া আসে নাই। আর
সে দিন আমাকে যিনি পাঠান তাহার শরীর অসুস্থ হইয়া ছিল বলিয়া
আসিতে পারি নাই। চন্দ্রলােকের যােগ বলিলেন, “আচ্ছ। আগামী
কল্য আসিও।” এই কথা বলিয়া চলােকের পরিচিত ৰােগ অদৃশ্য হইয়া
গেলেন। যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মীডিমকে লইয়া চন্দ্রলােক
হইতে লগিরিতে চলিয়া আসিলেন।
১৩ ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ধবলগিরিতে মাসিয়া যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার স্কুলশরীরে প্রবেশ করিয়া অদৃশ্য ইয়া গেলেন। মীডিয়ম্ ধবলগিরি হইতে চলিয়া আসিয়া শরীরে প্রবেশ করিল। চন্দ্রলোকে ৩১শে আগষ্ট মডিয়ম্ মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে গেল। মহাত্মা মীভিয়কে ইয়! যোগেশরের আশ্রমে গেলেন। যােগেশ্বর মহাত্মা ভনীকুমারের সূক্ষ্মদেহ। ও. মডিয়মকে লইয়া উল্কাবেগে চন্দ্রলােকে যাইতে ৮ম দিবস। লাগিলেন। এক মিনিটের মধ্যে চন্দ্রলোকের যােগি-নিবাস-পতে গিয়া পৌছিলেন । যােগি-নিবা-পৰ্ব্বতে পৌছিয়া চন্দ্রলােকের পরিচিত যােগীর আশ্রমে গেলেন। চন্দ্রলােকের পরি- চিত যােগী তাহার আশ্রমের উপরেই বসিয়া রহিয়া- চন্দ্রলােকের যােগীর ছিলেন। মীবিয়ম্ চন্দ্রণোকের যােগীকে প্রণাম করিল যোগেশ্বরকে চন্দ্রলােকের যােগী মী:ডয়কে বলিলেন, “আগাম শরীর লইয়া চন্দ্র- লোকে যাইতে ক শরীর লইয়া আসিও।” (অর্থাৎ এগেশ্বরবে স্থূলশীর লইয়া যাইতে বলিলেন।) এই কথা বলিয়া याटमा চন্দ্রলােকের যােগী অদৃশ্য হইয়া গেলেন। বারংবা আমাদের কথার ব্যাতিক্রম হওয়ায় যােগেশ্বর স্থূলশরীর লইয়া চন্দ্রলাের যাইতে পারেন কি না, এইরূপ সন্দেহ করিয়া চন্দ্রলােকের যাে যােগেশ্বরকে স্থূলশরীর লইয়া চন্দ্রলােকে যাইতে বলিলেন। চন্দ্রলােকের বােগ অদৃশ্য হইয়া গেলেন পর, যােগেশ্বর মহা দুজনীকুমার ও মডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােক হইতে ধবলগিরিতে চতি আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া ভোগেশ্বর ও মহাত্মা নতুন
ধৱলগিরি ও নক্ষত্রলােক।
ফুলশরীরে প্রবেশ কন্নিয়া অদৃশ্য হইয়া গেলেন। ডিম ধংলগিরি
হইতে চলিয়া আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল।
১লা, সেপ্টেম্বর একটু সকাল করিয়াই মডিয়ম্ মহাত্মা রজনী-
কুমারে আশ্রমে গেল। মহাত্মা মডিয়মকে লম্বা যােগেশ্বরের আশ্রমে
গেলেন। গিয়া দেখিলেন, যােগেশ্নর পদ্মাসনে বসিয়া
চন্দ্রলােকে
আছেন। মহাত্মা ও মীডিয় যােগেশ্বরকে প্রণাম
৯ম দিবস।
করিল। মােগে থর একটু হাসিয়া গীডিমকে বললেন,
“আজ শরীর লইয়া চন্দ্রলােকে যাইব।” এই কথা বলিয়া যােগেশ্বর
মহাত্মা” রজনীকুমারকে তঁাহার ডানপাশে ও মীডিয়কে তঁহ র
বামপাশে সাইলেন। তারপর, যােগেশ্বর মাত্মা
যোগেশ্বর ও মহাত্মা
রজনীকুমার ও মীডিয়মকে লইয়া চন্দ্রলােকে যাইতে
রজনীকুমারের
লাগিলেন। দুই মিনিটের মধ্যে । চন্দ্ৰলৈকে।
তুলশীর লইয়া
যােগ-নিবাস-পর্বতে গিয়া পৌছিলেন। চন্দ্রলােকের
পরিচিত মাের্গী যােগেশ্বর ও মহাত্মা রক্ষীকুমাকে
স্থূলশরীর { লইয়া যাইতে দেখিয়া খুব হাসিতে লাগিলেন। চন্দ্রলােকের
পরিচিত যােগী “সকলকে ডাকিয়া দিয়া আসি” এই কথা বলিয়া অদৃশ্য হইয়া
লােকে গমন।
* অদ্য প্রাতে মীয়িম্ বালকটার উপর দিয়া একটী অলৌকিক
ঘটনা ঘটিয়া গেল। মহাত্মা রজনীকুরের নিষেধ থাকায় সেই ঘটনাটা
এখানে প্রকাশ করিতে পারিলাম না।
'। যােগীদিগের সূক্ষ্মদেহের গতি হইতে স্থূলদেহের গতি একটু
কম হয় বলিয়া আজ স্থূলদেহ লইয়া যােগেশ্বরের চন্দ্রলােকে যাইভে
ই মিনিট সময় লাগিল। অন্যান্ত দন যােগেশ্বরের সূক্ষ্মদেহে চন্দ্রলােকে
যাইতে এক মিনিট সময় লাগত।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। গেলেন। দুই তিন সেকেণ্ডের মধ্যে চন্দ্রলােকের সহস্রাধিক যগী আসিয়া • গেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার ও মডিয়মের চারিদিক যােগের, দিয়া ঘেরিয়া দাড়াইলেন। যােগেশ্বর ও মহাত্মা বাণীকুমায় ডি- কে দেখিতে - রজনীকুমারকে স্থূলশরীরে যাইতে দেখিয়া চন্দ্রলােকের লোকের সংগ্রাধিক যােগীরা সকলেই হাসিতে লাগিলেন। মীডিয় চন্দ্র- মাের্গর আগমন। লেকের পরিচিত যােগীকে বলিল, “আপনি বােধ হয়, আমাদের যােগী রা স্থূলশরীর লইয়া আপনাদের দেশে- আসিতে পারেন কি না, সন্দেহ করিয়াছিলেন ?” চন্দ্রলােকের যােগী বলিলেন, “তােমরা কি করিয়া বুঝিলে?” মীডিয়ম্ বলিল, “আমরা বুঝিতে পারিয়াছিলাম।” চন্দ্রলােকের যােগী বলিলেন, “আমরা সাধারণ লােককে দেখা দিতে পারি না। তথাপি যে কোন প্রকারেই হউক, একটা জায়গা ঠিক করিয়া সাধারণ লােককে খবর দিয়া রাখিব। অঙ্গ যাও, আগামী কল্য আসিও-সাধারণ লােককে দেখা দিবার দিন ঠিক করিয়া দিব।” চত্রলােকের পরিচিত যােগী এই কথা বলিতেই চন্দ্রলােকের যােগীরা সকলেই অদৃশ্য হইয়া গেলেন। যােগেশ্বর, মহাত্মা রজনীকুমার মীডিয়কে লইয়া চন্দ্রলােকের যােগি-নিবাস-পৰ্বত হইতে ধবলগিরিতে চলিয়া আসিলেন। ধবলগিরিতে আসিয়া যােগেশ্বর মীডিকে বলিলেন, “কাৰ্য্যটা হইলেও হইতে পারে *।” এই কথা বলিয়া যােগেশ্বর পাথরের নীচে * বর্তমান যুগে যােগি-নিবাস-পৰ্বতের যােগীরা সাধারণ লােককে দেখা দিতে পারেন না। কাজেই যােগি-নিবাস-পৰ্বতের যােগীদিগের পক্ষে সাধারণ লােককে দেখা দেওয়া অতি গুরুতর কাৰ্য। এ কারণে যােগের বলিলেন, “কাৰ্য্যটা (অর্থাৎ চন্দ্রলােকের সাধারণ লােক দেখা দেওয়া) হইলেও হইতে পারে।”
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। ১৩৭ চলিয়া গেলেন। মহাত্মা রজনীকুমার যােগেশ্বরে আশ্রম হইতে তঁাহারা আশ্রমে চলিয়া গেলেন। মীডিয় যােেেরর আশ্রম হইতে দ্বিতীয় স্ত্রীমহাত্মার আশ্রমে গেল । গিয়া দেখিল, দ্বিতীয় স্ত্রী মহাত্মা বসিয়া আছেন। মীডিয় দ্বিতীয় স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া বলিল, “আজ যােগেশ্বর ও মহাত্মা রজনীকুমার স্কুলশরীর লইয়া চন্দ্রলােকে গিয়াছিলেন। চন্দ্রলােকের যােগর বলিয়াছেন যে, যদি ঘােগেশ্বর চন্দ্র- লােকের সাধারণ লােককে দেখা দেন; তাহা হইলে চন্দ্রলোকের যােগীও আমাদের দেশে আসিয়া সাধারণ লােককে দেখা ‘দবেন।” দ্বিতীয় স্ত্রী মহাত্মা বলিলেন, “চন্দ্রলােকের যোগীরা আসিলে আমরাও দেখিব " এই কথার পর দ্বিতীয় স্ত্রী মহাত্মা মডিয়কে বিদায় দিলেন। মীডিয় দ্বিতীয় স্ত্রীমহাত্মার আশ্রম হইতে প্রথম স্ত্রীমা স্নার আশ্রমে গেল। প্রথম স্ত্রী মহাত্মা মডিয়মূকে এক গ্লাস সরবৎ খাওয়াইয়া বিদায় দিলেন। মীডিয় প্রথম স্ত্রী মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া মহাত্মা রজনীকুমারের আশ্রমে চলিয়া গো। মহাত্মা মীডিয়কে বলিলেন, “অদ্য যাও”। মীডিয় মহাত্মাকে প্রণাম করিয়া চলিয়া আসিয়া স্কুলশরীরে প্রবেশ করিল। ২রা সেপ্টেম্বর-অন্ত আমাদের মেমেরি বৈঠকের এক ঘণ্টা পূর্বে রাত্রি ৮ টার সময়ে যােগীরা অলৌকিক উপায়ে আমার মীডিয় } * মডিয়মকে এত্যহই শ্ৰীমহাত্মাদের নিকটে যাইতে হইত। কিন্তু মহাত্মাদের সমন্ধে বিশেষ কোনও উল্লেখযােগ্য ঘটনা না থাকায় ১৯শে গেটের পর আর শ্রীমহাত্মাদের কথা উল্লেখ করা হয় নাই।
ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক। * ৰালকটকে ধবল-রিতে লইয়া গেলেন। কি জানি কি কৰ্ম্মদোষে মডিয়ম্ বালকটা আমার হাতছাড়া হইয়া গেল, মীডিয় বালকটীর তাহা কে বলিবে ? মীডিয় বালকটী আমার অন্তধন ও আমার হাতছাড়া হইতেই আমি আনন্দরূপজাহাজ হইতে বিষাগ বিষাদরূপসমুদ্রে নিমগ্ন হইলাম। হায়! যোগীরাও নিয়তি চক্রের গতিকে উল্টাদিকে ফিরাইতে পারিলেন না। বিষাদ-সাগরের মনস্তাপরূপ জলস্রোতে ভাসিতে ভাসিতে আশারূপ- তটে আসিয়া উঠিলাম। আশাতটে ঠিয়া বিচাৱরূপ-ত্রিকে সঙ্গে করিয়া দৈবের পথ ধরিয়াই যাইতে লাগিলাম । উপসংহার। আর ভাবিতে লাগিলাম,অহহ! যােগীদিগের কি অচিন্ত্য-অদ্ভুত-ক্ষমত।। যােগীরাই পরমেশ্বরের তাদ্ভুত বিস্তৃতি। যােগীরাই এ সংসারের আশ্চর্য্য বস্তু। যোগী হওয়াই মানব জীবনের চরমােৎকর্য। আমি যােগী হইতে পারিব না কি? নেই বা পারিব ? যে। গীরাও মানুষ, আমিও মানুষ। তবে কেন আমি যাগী হইতে পাবি না? নিশ্চয়ই পারিব। হইলেও যােগীরা আমার মনােনের তদৃশ্য হইতে পাখিলেন কৈ? তঁাহারা কখনই আমার মননেত্রর অদৃশ্য হইতে পারিবেন না । এই প্রকার যােগদগের কথা ও আমার ভাবী জীবনের কথা ভাবিতে ভানিতে কিছুদিন কাটিয়া গেল । হঠাৎ অবচার-শত্রু আসিয়া অবিবেক- অস্ত্র দ্বারা আমার বিচার-মিত্রকে নাশ করিয়া আমাকে ভােগরূপ- জালে আবদ্ধ করিয়া ফেলিল। রিপুরাজ কাম আসিয়া আমার হৃদয় রাজ্য অধিকার করিয়া বসিল। স্ত্রী আঙ্গি ভােগই রিপুদাজের শাসননীতি। যােগীদিগের কৃপায় আমায় বিষয় ভোগের বাসনা শিথিল হইয়া গেলেও বিষয়ই যেন আমাকে ভোগ করিতে লাগিল। আমার মীডিয়মরূপ-নেত্র সন্তষ্ঠিত { ধবলগিরি ও নক্ষত্রলােক ১৩৯ যমদুত গুলিও আমাকে সন্তাপ নিতে ক্ৰটী কর্ণিত না। ভােগে ও রােগে, সড়ে তিন বৎসর কাটিয়া গেলু। নেবের ভরসা ছাড়িয়া দিয়া, পুরুষকা:দেবের আরাধনা করিতে লাগিলাম। পুরুষকাদেব আমাকে বিবেকরূপময় প্রদান করিলেন। বিবেক-অস্ত্রে অবিচার- শঐকে নাশ করিয়া বৈরাগ্যরূপমৃত-সঞ্জাবনী দ্বারা বিচার-মিত্রকে সজীব করিয়া তুলিম। বিচার-মত্র সজীব হইয়াই আমাকে আলিঙ্গন করিয়া বলিল, “ভাই! বৈরাগ্যই একমাত্র অভয়। বৈরাগ্যবান্ পুরুষই ধর্মগরিতে যাইবার অধিকারী। বৈরাগ্যবান্ পুরুষই যােগ হতে পারে। বৈরাগ্যীন পুরুষের যােগী হইতে আশা দুরাশ মাত্র। বৈরাগ্যকেই আশ্রয় কর। বৈরাগ্যকুঠারে বাসনা বৃক্ষকে করিয়া যােগাদের চরণকমলে স্থান পাইবার হতাশায় দার্জিলিং হইয়া ধবলগিরির অভিমুখে যাইতে লাগিলাম। যাইতে যাইতে সিকিম ও নেপালরাজ্য অতিক্রম করিয়া কাবেলী গঙ্গার উৎপত্তিস্থান কুম্ভকর্ণ পৰ্ব্বতে গিয়া উপস্থিত হইলাম। কিন্তু দৈবই আমার মইদুদ্দেশ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হইল। দেবের আজ্ঞাবহ প্রারব্ধ নাম দূতের কঠোর শৃঙ্খলে হইয়া, হায়! পুনরায় মাকে ভারতে ফিরিয়া আসিতে ল। মীডেয়ম্ বাকটা বর্তমানে ধবলগিরিতে আছে । যােীদিগের কৃপায় ডম বালকট একজন যােগবিৎ-তত্ত্বজ্ঞানী মহাপুরুষ। ছে,
No text on this page.