Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Rog O Pathya
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
রােগ ও পথ্য
কলিকাতা বৈদ্যশাস্ত্র পীঠের অধ্যাপক
“ধন্বন্তরি” সম্পাদক
কবিরাজ শ্রীধীরেন্দ্র নাথ রায় কবিশেখর, এম, এসি
প্রণীত
“ধন্বন্তরি” কাৰ্যালয়
১৯৭, বহুবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা
ইং ১৯৩৪
সৰ্ব্ব স্বত্ত্ব সংরক্ষিত ।
[ মূল্য এক টাকা নাই
কবিরাজ সতীশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
জ্যোতি: আয়ুর্বেদ নিকেতন
১৯৭, বহুবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
প্রিন্টার-হেমচন্দ্র মুখােপাধ্যায়
চিকিৎসাপ্রকাশ প্রিন্টিং ওয়ার্ক,
১৯৭, বহুবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
ভূমিকা এই পুস্তক রচনায় মূলতঃ ‘অমৃতবাজার পত্রিকা প্রভৃতি কয়েকখানি পত্রে ‘পথ্য সম্বন্ধে আমার কয়েকটী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। ঐ সকল প্রবন্ধ পাঠ করিয়া অনেকেই আমাকে বাঙ্গলা ভাষায় পথ্য সম্বন্ধে একখানি পুস্তক লিখিবার জন্য অনুরোধ করেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে ঔষধের ব্যবস্থা করিয়া যখন পথ্যের ব্যবস্থা করিতে হয়, তখন অনেক সময় লক্ষ্য করিয়াছি যে, পথ্য বিষয়ে সাধারণের জ্ঞান অতি অল্প। সেই সময়েই মনে হইয়াছে যে পথ্য সম্বন্ধে যদি একখানি ভাল পুস্তক থাকিত, তাহা হইলে সত্যই সাধারণের ও নবীন চিকিৎসকদিগের বিশেষ উপকার হইত। সাধারণের আগ্রহাতিশয্যই আমাকে উৎসাহিত করিয়াছে। শাস্ত্র উপদেশ দিলেন “বিনাপি ভেষজৈব্যাধি পথ্যাদেব নিবৰ্ত্ততে। ন তু পথ্যবিহীনস্থ ভেষজানাং শতৈরপি ” -ঔষধ না ব্যবহার করিয়াও কেবলমাত্র পথ্যের দ্বারা বােগ নিবারণ করা যাইতে পারে, কিন্তু যে ব্যক্তি পথ্য পালন না করেন, শত ঔষধ সেবনেও তিনি রােগমুক্ত হইতে পারেন না। এ কথা যে কত সত্য, তাহা চিকিৎসাক্ষেত্রে বিশেষভাবেই উপলব্ধি হইয়া থাকে। আজ যে দেশ এত রােগ-প্রবণ তাহার মূল কারণ যাহাই হউক না কেন, সুপথ্য পালন না করা যে একটি বিশেষ কারণ তাহাতে সন্দেহ নাই। সাধারণের অজ্ঞতা ও চিকিৎসকের সুপথ্য পালন সম্বন্ধে বিশেষ উপদেশ না দেওয়া—দুই-ই ইহার কারণ। পাশ্চাত্য সভ্যতার মােহে দেশ আজ আচ্ছন্ন, ফলে পাশ্চাত্য-চিকিৎসার প্রতিও দেশবাসী আকৃষ্ট। শুধু তাই নয়, পাশ্চাত্য চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গে সে দেশের পথ্যাদিও আমাদের দেশে প্রচলিত হইতেছে, বহু বিদেশী কৃত্রিম খাদ্য ও পথ্য এদেশে যথেষ্ট পরিমাণে আমদানী হইতেছে। বিজ্ঞাপনের ঢাকা নিনাদ এবং পাশ্চাত্যভাবে অনুপ্রাণিত এদেশবাসী চিকিৎসকদিগের ব্যবস্থার ফলেই ঐ সমস্ত কৃত্রিম খাদ্য আজ সামান্য একটু অসুখ করিলেই লােকে অবাধে ব্যবহার করিতেছেন। কিন্তু ঐ সমস্ত বিদেশী কৃত্রিম খাদ্য ও পথ্যের উপকারিতা সম্বন্ধে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যে দেশ হইতে ঐ গুলি আমদানী হইতেছে, সেই দেশেরই বহু কৃতবিদ্য চিকিৎসক ও বৈজ্ঞানিক ঐ সব কৃত্রিম খাদ্যের নিন্দা করিতেছেন, আর আমরা এখানে তাহাই সাদরে গ্রহণ করিতেছি। বাঙ্গালী আজ দরিদ্র, বাঙ্গালী আজ হীনবল ; কিন্তু এই ব্যাধি- পীড়িত বাঙ্গালীকে পথ্য দিবার জন্য মহার্ঘ বিদেশী পথ্যদ্রব্যের প্রয়ােজন কি ? যে দেশে ষড়ঋতু বৰ্তমান—সুজলা সুফলা বলিয়া যে দেশ খ্যাত যে দেশে স্বভাবতঃই প্রচুর পরিমাণে পথ্যদ্রব্যাদি উৎপন্ন হয়, সে দেশে কৃত্রিম পথ্য বা খাদ্যের যে কোনই আবশ্যকতাই নাই—তাহা একটু চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রেই সহজে বুঝিতে পারিবেন । স্ত্রীলােকেরা পর্যন্ত অসুখ হইলে অনুমণ্ড, খইমণ্ড, মুগ-মসুরের যুষ, দুধ- খই প্রভৃতি নিজেরাই ব্যবস্থা করিতেন, সে দেশে এখন মনমুগ্ধকর লেবেল-আটা টিনে-ভরা কৃত্রিম পথ্য ( যাহা কতদিনের পুরাতন তাহার ঠিক নাই ) ব্যবস্থা হইতেছে, ইহা অপেক্ষ। পরিতাপের বিষয় আর কি আছে ? এ দেশে পাশ্চাত্য চিকিৎসাশাস্ত্র শিক্ষা দেওয়া হয় বটে, কিন্তু এ দেশের উপযােগী পথ্য সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই শিক্ষা দেওয়া হয় না। ফলে পাশ্চাত্যশাস্ত্রবিৎ চিকিৎসকগণকে বাধ্য হইয়া বিদেশী পথ্য-খাদ্যের ব্যবস্থা করিতে হয়। • তাহাতে দরিদ্র দেশবাসীর অর্থ অযথা ব্যয় হয়, পক্ষান্তরে আশানুরূপ ফলও পাওয়া যায় না। তাই পথ্যের ব্যবস্থার জন্য অনেকস্থলেই এখনও আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসকদিগের নিকট পরামর্শ লইতে হয়। কারণ দেশবাসী কারণ দেশবাসী এটা জানেন যে আমাদের দেশের উপযােগী পথ্যাপথ্যের কথা আয়ুর্বেদশাস্ত্রে অতি বিশদভাবে বর্ণনা করা আছে। দিব্যজ্ঞান, মহাচেতঃ, বহুদর্শী ঋষিগণের গবেষণার ফলে আয়ুৰ্ব্বেদের উদ্ভব। তাহারা ভারতবর্ষের জলবায়ু ও লােকের প্রকৃতি বিচার করিয়া ভেষজ-পথ্যাদির বিষয় যাহা লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন বা রােগ বিশেষে পথ্যাদির উপকারিতা সম্বন্ধে যে বিশেষ বিশেষ নির্দেশ দিয়াছেন তাহা সম্পূর্ণ সত্য। আয়ুর্বেদের পথ্য-বিচার যে অতুলনীয় ইহা সর্বজনবিদিত বলিয়াই একই বাড়ীতে কবিরাজ ও ডাক্তার একসঙ্গে রােগীর নিকট উপস্থিত থাকিলে শেষ পর্যন্ত পথ্যের ব্যবস্থা কবিরাজ মহাশয়কেই দিতে হয়। অনেক ডাক্তারকে বলিতে শুনিয়াছি, “কবিরাজ মুহাশয়, পথ্যের ব্যবস্থাটা আপনিই করিয়া দিন।” কেননা, পাশ্চাত্য-চিকিৎসা নিপুন হইলে কি হয়, তিনিও ত’ আমাদের দেশের লােক। তাহার নিজের বাড়ীতে রােগ হইলেও সেই পটোল-কাচ কলা- মাণকচুরই ব্যবস্থা করিতে হয়। বাঙ্গলা ভাষায় খাদ্য সম্বন্ধে কয়েকখানি সুন্দর পুস্তক বাহির হইয়াছে । কিন্তু পথ্য সম্বন্ধে তেমন কোনও পুস্তক নাই। আমার এই ক্ষুদ্র পুস্তকখানির দ্বারা সে অভাব পূর্ণ হইবে কি না জানি না। তবে সাধারণের ও নবীন চিকিৎসকদিগের যাহাতে উপকারে আসে, সেই দিকে লক্ষ্য রাখিয়া প্রথমে সংক্ষেপে রােগের কারণ ও লক্ষণ বলিয়া তাহার পর পথ্য সম্বন্ধে আলােচনা করিয়াছি। পথ্যের দ্বারাতেই যে অনেক সময় ব্যাধির উপশম হইতে পারে—প্রথম হইতেই ;
আমি তাহা দেখাইবার চেষ্টা করিয়াছি। যে সকল পথ্য শাস্ত্রানুমােদিত এবং যেগুলি আমি আমার নিজের রােগীদের দিয়া ফল পাইয়াছি, আমি সেই সমস্ত পথ্যের কথাই বিশেষ করিয়া বলিয়াছি। নবীন ডাক্তারদিগের সুবিধার জন্য পরিশিষ্টে রােগসমুহের ডাক্তারি নামের একটা বর্ণানুক্রমিক তালিকা দেওয়া হইয়াছে। ইহা ছাড়া ফল-মূল ও শাক সজী প্রভৃতির সংক্ষিপ্ত গুণাবলী এবং উহা কোন্ রােগে পথ্য ও কোন্ রােগে অপথ্য তাহার একটী বিস্তৃত ‘চার্ট বা তালিকা দিয়াছি। সময়ােপযােগী করিবার জন্য ভাইটামিন বা খাদ্য প্রাণ সম্বন্ধেও সংক্ষেপে আলােচনা করিয়াছি। বন্ধুর কবিরাজ শ্রীইন্দুভূষণ সেন আয়ুৰ্বেদশাস্ত্রী মহাশয়ের আগ্রহাতিশয্য ব্যতীত এই পুস্তক এত শীঘ্র প্রকাশ করা সম্ভবপর হইত । পুস্তকখানির নামকরণ তাহারই এবং পুস্তক লিখিবার সময় তাহার নিকট বহু সাহায্য পাইয়াছি এজন্য তাহার নিকট চিরকৃতজ্ঞ রহিলাম । “চিকিৎসা-প্রকাশ” প্রেসের স্বত্বাধিকারী ডাঃ ডি, এন, হালদার মহাশয়ও এই পুস্তক প্রণয়নে সাহায্য করিয়া এবং পুস্তকের , মুদ্রণকার্যে সর্বপ্রকার সুবিধা প্রদান করিয়া আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করিয়াছেন। পরিশেষে বক্তব্য এই যে, যাহাদের জন্য এই পুস্তক লেখা হইল, তাঁহারা ইহার দ্বারা কথঞ্চিং উপকার পাইলেও আমার শ্রম সার্থক মনে করিব। সময়ের অল্পতা হেতু সমস্ত রােগের পথ্যাপথ্য দিতে পারিলাম । ভবিষ্যতে এই অভাব পূরণ করিবার ইচ্ছা রহিল। ইতি কলিকাতা ১৯৭, বহুবাজার উট ১৯শে পৌষু, সন ১৩৪০ সাল শ্ৰধীরেন্দ্র নাথ রায় সূচীপত্র ১ ৫ । E গ্রহণী এ ৫ + ৩৮ +++ বিষয় পত্রাঙ্ক বিষয় পত্রাঙ্ক অগ্নিমান্দ্য খাদ্যদ্রব্যের পরিপাককাল অজীর্ণ খাদ্যপরিচয় ১৪২ অজীর্ণ-জন্য অতীসার २२ গণােরিয়া অতীসার গর্ভিণীর পথ্যাপথ্য তরুণ উদরাময় অজীর্ণ-জন্য অৰ্তীসার ••• ৩৪ প্রবাহিকা ( আমাশয়) ২৪ নবজয় ... পুরাতন অতীসার কফজর ••• ২৮ পিত্তর জুরাতীসার বাতিক অর অপম্মার টাইফয়েড, ৪২ অম্লপিত্ত পুরাতন বা বিষমজর ৪৭ ম্যালেরিয়া ৪৯ শ্মরী কালার আমবাত ৮৭ অরাতীসার আমাশয় ••• ২৪ | টাইফয়েড, ৪২ উদরাময় ডাক্তার নামের তালিকা ১৩২ ৩৮ ডায়াবিটিস কালাজ্বর তরুণ উদরাময় কোষ্ঠকাঠিন্য নবজর ১২৮ নেত্ররােগ ** ৪ ০ ॥ ৬ ০ ers ০ ০ ০ ৬ ॥
* । yo পত্রাঙ্ক ••• বিষয় পথ্য প্রস্তুত-বিধি পরিপাক-কাল পিত্তর পুরাতন অতীসার পুরাতন জয়। ... ১২৩ পত্রাঙ্ক বিষয় ১৩৮ মূত্রকৃচ্ছ ও মুত্রাঘাত ১৫৩, মৃগী মেদবৃদ্ধি ম্যালেরিয়া ৪ ৭ যক্ষ্মা রক্তদুষ্টি ২৪ রক্তপিত্ত ১৩২ রক্তহীনতা ৪৯ ০ ০ ০ ••• প্রবাহিক। ফোড়া ৮৪ রক্তামাশয় ২৮ ৮৭ রক্তের চাপ-বৃদ্ধি ০ ০ ০ শোথ ৬ • • ৪১ ১৫৪ ৪৭ ১০৭ . . . বাতব্যাধি বাতিকর বিরুদ্ধভােজন বিষম-জ্বর বিশুচিকা বৃকপ্রদাহ ভাইটামিন মরিকা সিফিলিস, স্থৌল্য হাঁপানি হৃদ্শুল At t জদাম
রােগ ও পথ্য
অজীর্ণ ও অগ্নিমান্দ্য
( ডিপেপসিয়া )
-~স্লোগাঃ সর্বেহপি মন্দেহ গ্নৌ--সমস্ত রােগই
মন্দাগ্নি হইতে উৎপন্ন হইতে পারে।
সেইজন্য প্রথমেই অগ্নিমাল্যের কথা বলিতেছি।
আজকাল ডিসপেপসিয়ায় দেশ ছাইয়া ফেলিয়াছে।
বিশেষতঃ সহুরে বাবুদের ত’ কপাই নাই। ডিসপেপসিয়া
বলিতে অনেক কিছু বুঝায়। পেট ফাপা, চেঁয়া ঢেকুর উঠা,
পেটে বায়ু হওয়া, অম্বল হওয়া, পেটে যন্ত্রণা, পালা দাস্ত
হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, অক্ষুধা, গলা-বুক জ্বালা—ইত্যাদি বহু
উপসর্গের যে কোনও একটী হইলে লােকে সাধারণতঃ বলিয়া
পাকে, “আমি ডিসপেপসিয়ায় ভুগিতেছি”। অগ্নি ‘মন্দা হওয়া
অর্থাৎ ৎ ক্ষুধা ভাল না হওয়া এবং হজম ভাল না হওয়াকেই
আমি মােটামুটী ডিসপেপসিয়া বলিয়া ধরিতেছি এবং এখানে
তাহারই পথ্যের কথা কিছু বলিব। ডিসপেপসিয়া কেন হয়,
২
রােগ ও পথ্য
তাহার প্রতিকারের উপায় কি এবং তাহার চিকিৎসা—ইত্যাদি
বিশদভাবে বলিতে গেলে এক বৃহৎ ব্যাপার হইয়া পড়ে।
ডিসপেপসিয়ায় বাঁধাধরা পথ্য নির্দেশ করা যায় না।
কাহারও দুধ বেশ হজম হয়। কেহ বা দুগ্ধ মােটেই সহ্য
করিতে পারে না। কেহ ভাত খাইয়া ভাল থাকে, কেহ বা
রুটা খাইয়া ভাল থাকে। যাহা হউক, অজীর্ণ রােগীর আহার
সম্বন্ধে কতকগুলি নিয়ম পালন করিয়া চলা উচিত। ইহাই
তাহার প্রধান পথ্য।
সাধারণ আহার-বিধি
{১} সর্বপ্রথম এবং প্রধান কথা—নিয়মিত আহার
করিবে। আহারের মাত্রা এবং সময় উভয় বিষয়েই নিয়ম
করিতে হইবে।
আজ ১০টায় খাইলাম, কাল ১২টায়, পরশু ১টায়, আবার
তারপর দিন ১০ টায়--এইরূপভাবে আহার করিলে অতি শীঘ্রই
ডিপেপসিয়ায় ভুগিতে হইবে। যাহারা অজীর্ণে ভােগেন,
তাহাদের শতকরা ৯৯ জন এইরূপে রােগ লইয়া আসেন।
আবার কোনও দিন লঘু পথ্য করিলাম, কোনও দিন গুরু
আহার করিলাম। ইহাও উচিত নয়। অনেকে সপ্তাহের
ছয় দিন সকাল সকাল দুটী ভাত-ডাল মুখে গুজিয়াই আফিসে
ছুটেন। আর রবিবার কিংবা ছুটীর দিনে, বহু বেলায় গুরুপাক
আহার কণ্ঠ ভােজন করেন। এইরূপ অভ্যাস ডিসপেপসিয়া
রােগের একটী প্রধান কারণ।
অজীর্ণ ও অগ্নিমান্দ্য (২) আহারের সময়ের দিকেও যেরূপ দৃষ্টি রাখিতে হইবে, তাহার মাত্রার দিকে তদপেক্ষা বেশী দৃষ্টি রাখিতে হইবে। চরক বলেন,-মাত্রাশী স্যৎ-পরিমিত আহার করিবে অতিরিক্ত মাত্রায় আহার করিলে নানা রােগ আসিয়া উপস্থিত হয়। আবার হীনমাত্রায় আহার করিলেও উপযুক্ত পুষ্টির অভাৰে শরীরের ক্ষয় হইতে থাকে। { ৩) পূর্বের আহার জীর্ণ না হইলে পুনর্বার আহার করবে না। এ নিয়মটী অনেকেই অবহেলা করেন। সকালের খাওয়া সম্পূর্ণ হজম হয় নাই, তাহা সত্ত্বেও বৈকালে লােভ- শতঃ, কিংবা অভ্যাসবশতঃ অথবা অনুরােধে পড়িয়া আবার খাওয়া--ইহা বহুলােকের হইয়া থাকে। আর সেইজন্যই অজীর্ণেরও এত প্রাধান্য। কোষ্ঠ ঠিকমত পরিষ্কার হইলে, সময়মত ক্ষুধা-তৃষ্ণা হইলে এবং শরীর হাল্কা মনে হইলে বুঝিবে আহার সম্যকরূপে পরিপাক হইয়াছে। আহার সম্বন্ধে এই তিনটী নিয়ম সর্বদা মনে রাখিলে, কখনও অজীর্ণ রােগ আসিতে পারে না। যাঁহারা ডিসপেপসিয়ায় ভুগিতেছেন তাহাদের এ নিয়মগুলি মানিতেই হইবে, নতুবা সহস্র ঔষধ সেবনেও সম্পূর্ণরূপে নিরাময় হওয়া কঠিন। এই তিনটীই আহার-বিধির মুল। নিম্নে আরও কয়েকটা নিয়মের কথা বলিতেছি। সেগুলিও অবহেলা করা উচিত নহে। (৪) খুব তাড়াতাড়ি আহার করিবে না। খাদ্যদ্রব্য বেশ
৪
রােগ ও পথ্য
ভাল করিয়া চিবাইয়া খাইবে । তবে বেশীক্ষণ ধরিয়া বসিয়া
বসিয়া এবং অধিক গল্প বা হাস্য করিয়া আহার করা উচিত
এক ভাগ
(৫} বাসি বা পচা খাদ্য খাইবে না।
( ৬) খুব বেশী তরল জিনিষ—যেমন সােডা, লেমনে,
বরফ-জল, সরবৎ, চা প্রভৃতি--খাইবে না। মনে করিবে যে
তোমার পেটটী যেন তিন ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ ভাত,
ডাল, তরকারী, ফল প্রভৃতির দ্বারা পূরণ করিবে।
দুধ, জল প্রভৃতি তরল দ্রব্যের দ্বারা পূরণ করিবে। অবশিষ্ঠ
এক ভাগ খালি রাখিবে। এইরূপ করিলে হজমের কোনও
ব্যাঘাত ঘটিবে না, যথাসময়ে ক্ষুধার উদ্রেক হইবে এবং কোষ্ঠ
পরিষ্কার হইবে। খানিকটা রাখিয়া খাইলে সুস্থশরীরে দীর্ঘকাল
বাঁচিয়া থাকা যায়।
(৭) খাদ্যদ্রব্যে ছয় প্রকার রস থাকে-মধুর, অম্ল, লবণ,
কটু ( ঝাল ), তিক্ত ও কষায়। এই সব রকম রসই কিছু কিছু
খাইতে অভ্যাস করিবে। কেবলমাত্র এক প্রকার রসযুক্ত
দ্রব্যই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। আবার একটা রস
একেবারে বাদ দেওয়াও উচিত নয়।
(৮) আহারের অব্যবহিত পরেই নিদ্রা যাইবে না।
(৯) প্রত্যহ পরিমিত ব্যায়াম করিলে সহসাঅজীর্ণরােগে
ভুগিতে হয় না। ব্যায়াম দ্বারা অগ্নি বৃদ্ধি হয়, সুতরাং খাদ্যদ্রব্য
সহজে পাক হয়। অবশ্য যাঁহারা খুব বেশী ডিসপেপসিয়ায়
অজীর্ণ ও অগ্নিমান্দ্য ভুগিতেছেন, তাঁহাদের পক্ষে ব্যায়াম নিষেধ। ব্যায়াম বলিতে যে ডন-বৈঠক, কুস্তি প্রভৃতি বুঝায় তাহা নহে। দুই বেলা কয়েক মাইল করিয়া বেড়াইলেও ব্যায়ামের কাজ হইবে। {১০) আর একটা কথা না বলিয়া থাকা যায় না, সহরের রেষ্টুরেন্ট ও চায়ের দোকান। এগুলি যে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের স্বাস্থ্য কতদূর নষ্ট করিতেছে তাহা বলিবার নয়। এক কাপ চা অপেক্ষা এক কাপ গরম জল অনেক ভাল। সর্বাপেক্ষা ভাল এক বাটী গরম দুধ। আমি জানি অনেকের বেশ ক্ষুধা ছিল, খাইতে পারিত ভাল। পরে, দিনে ৩৪ বার চা-পান করিয়া ক্ষুধা একেবারে গিয়াছে। হােটেলের খাদ্য- পানীয় স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ হানিকর। তাই আয়ুর্বেদ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষেধ করিয়া উপদেশ দিয়াছেন—হােটেল হইতে আনীত খাদ্য ভােজন করিবে না। কেহ কেহ মনে করিতে পারেন, যে অনেকে ত' চা খান, হােটেলের চ-কাটলেট খান, কিন্তু কই তাহাদের শরীর ত’ খারাপ হয় না। তাঁহাদের বলি, ২৪ মাস, এমন কি ২৪ বুংসরেও হয়ত কোন রােগ হইল না। কিন্তু আহারের অত্যাচারের ফল পরিশেষে ভােগ করিতেই হইবে। আর যখন রােগে ধরিবে তখন সেটী ভীষণ আকার ধারণ করিবে। আজ- কাল আহার-বিহারের অনিয়মই আমাদের শীঘ্র জরাগ্রস্ত হইবার প্রধান কারণ। আসল কথা এই মনে রাখিতে হইবে যে—অত্যধিক পানীয়
রােগ ও পথ্য
ব্যবহার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অত্যধিক মানসিক চিন্তা,
অতিরিক্ত আহার, অত্যধিক শুক্রক্ষয়, রাত্রিজাগরণ, দিবানিদ্রা,
মলমূত্রাদির বেগধারণ ইত্যাদি কারণে অজীর্ণরােগের সূত্রপাত
হয়। তাই আয়ুর্বেদ বলেন,
“অত্যপানা বিষমাশনাচ্চ।
সংধারণাৎ স্বপ্নবিপৰ্যয়াচ্চ।
কালেহ পি সাত্মং লঘু চাপি ভুক্তম্।
অন্নং ন পাকং ভজতে নরস্য।”
।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি অত্যন্ত জল পান করে, আহারের নিয়ম মানে
, মলমূত্রাদির বেগ ধারণ করে এবং দিবানিদ্রা ও রাত্রিজাগরণ
করে, সে যথাসময়ে লঘু ও উপযুক্ত আহার করিলেও উহা
হজম হয় না।
অতএব অর্জীর্ণ রােগীর প্রথমেই এই সকল কারণ বর্জন
করিতে হইবে। রােগের কারণগুলিকে বর্জন করাই সেই
রােগের সর্বপ্রথম চিকিৎসা। ডিপেপসিয়ায় ঔষধের বেশী
প্রয়ােজন হয় না। আহার-বিহারের বিধি সকল পালন করাই
ইহার সর্বোৎকৃষ্ট ঔষধ।
এইবার কয়েকটা সাধারণ পথ্য-দ্রব্যের কথা বলি।
পথ্য
আদা-ডিসপেপসিয়া, পেটফাপা, শূলবেদনা,
কিংবা পেটে নানারূপ যন্ত্রণা প্রভৃতিতে আদা খুব উপকারী।
অজীর্ণ ও অগ্নিমান্দ্য
সকালে ভাত খাইবার পূর্বে কয়েক কুচি আদা ও একটু
সৈন্ধব লবণ খাইবে। ইহা হজমশক্তির সহায়তা করে।
প্রাতে এক কাপ চায়ের পরিবর্তে এক কাপ গরম জলে
এক তােলা ( আধ আউন্স} আদার রস ও একটু মিছরীর
গুড়া মিশাইয়া পান করিবে।
মুখের রুচির জন্য আদার মােরব্বা বা চাইনি ভাল ।
পেঁপে।-কঁচা পেঁপের আঠাতে খাদ্য হজম করাইবার
শক্তি খুব বেশী। তাই অনেক বিচক্ষণ রাঁধুনী মাংস সুসিদ্ধ
করিবার জন্য একটু পেঁপের আঠা মিশাইয়া দেয়। পেটে
আম জমিয়া থাকিলে, কিংবা একটু একটু যন্ত্রণা থাকিলে
পেঁপের আঠায় বেশ কাজ হয়। যাহাদের ক্ষুধা ভাল হয় না,
যকৃতের ক্রিয়া ভাল হয় না, বিশেষতঃ অত্যধিক মদ্যপানের
জন্য যাহাদের যকৃতের দোষ ঘটে, তাহাদের পক্ষে প্রত্যহ
টাকা কঁচা পেঁপের আঠা খানিকটা গরমজলে মিশাইয়া
সেবন করা বিশেষ হিতকর।
কঁচা পেঁপের তরকারি খাইবে। যাহাদের কোষ্ঠকাঠিন্য
তাহারা পাকা পেঁপে খাইবে। ছােট ছেলেমেয়েদের মধ্যে মধ্যে
কাঁচা পেঁপের ডা খাইতে দিলে অজীর্ণরােগ হইবার এবং
লিভারের দোষ হইবার-সম্ভাবনা কম থাকে।
বেল।-পেটের সব রকম গােলমালে ধেল পরম
উপকারী।
কোষ্ঠকাঠিন্যে পাকা বেল একটা সুন্দর
খাদ্যৌষধি। পাকা বেলের শাস একটু মিছরীর গুড়া মিশাইয়া
রােগ ও পথ্য
শ
খাইবে। কিংবা বেলের সরবৎ খাইবে ; তবে মাত্রা উপযুক্ত
হওয়া উচিত, নতুবা পেট ভার করিবে । আমসংযুক্ত
অজীর্ণে-বেলপাতার রস খুব ভাল। বেলপাতার রস
বাহির করা একটু কঠিন। প্রথমে কিছু টাকা বেলপাতা বেশ
করিয়া ধুইয়া লইবে। পরে উহা একটু জল দিয়া ছাঁচিয়া
একটা পাথর বাটী ঢাকা দিয়া রাখিবে,-যেন হাওয়া না
লাগে। আধ ঘণ্টা পরে ঐ পাতা আবার একটু জল দিয়া
ছচিলে সহজেই রস বাহির হইবে। ফেনা বাদ দিয়া এ
বেলপাতার রস প্রাতে ও বৈকালে এক তােলা হইতে দুই
ভােলা মাত্রায় খাওয়া চলে।
বেল সম্বন্ধে আরও অনেক কথা পরে বলা হইয়াছে।
ওলা-অজীর্ণয়ােগে যদি কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে এবং
অধিক দিন কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য যদি অর্শ দেখা দেয় তাহা হইলে
ওল-ভাতে কিংবা ওলের ডানা খাওয়া ভাল। ওলের চাটনি
পেটফাপা ও পেটের যন্ত্রণায় বেশ উপকারী। ১ ভাগ
গােলমরিচ, ২ ভাগ শুঠ, ৪ ভাগ চিতামূল, ৮ ভাগ ওল এবং
২৬ ভাগ গুড় লইয়া একত্রে মিশাইবে। প্রত্যহ প্রাতে ইহ
আধ তােলা হইতে এক তােলা করিয়া খাইবে ।
কুমড়া।-অজীর্ণ রােগী দেশী কুমড়ার মিঠাই বা কুমড়ার
মোরববা জলখাবারের সময় খাইবে। অজীর্ণ রােগীর যদি
বুকের দোষ থাকে তাহা হইলে ছাঁচি কুমড়ার রস ও তরকারী
প্রভৃতি খাওয়া বিশেষ উপকারী।
অজীর্ণ ও অগ্নিমান্দ্য
বিলাতী বেগুন-সুপক্ক বিলাতী বেগুনের টাটকা রস
হজমের বিশেষ সহায়তা করে। ইহাতে যথেষ্ট পরিমাণে
ভাইটামিন আছে। ইহা রক্ত-পরিষ্কারক এবং পাকস্থলী ও
যকৃতের কাজ ভাল করে । আমি জানি একটী রােগী বহুদিন
হইতে ডিসপেপসিয়ায় ভুগিতেছিলেন। কোন ঔষধে কিছু
হয় না। তিনি কেবল বিলাতী বেগুনের রস খাইয়া সারিয়া
যান। যতদিন ভাল পাকা বিলাতী বেগুন পাওয়া যাইবে,
ততদিন ইহার টাটকা রস প্রাতে ও বৈকালে এক ছটাক (দুই
তাউল করিয়া একটু চিনি বা মিছরীর গুড়ার সহিত
খাইবে।
নেৰু।--কমলানেবু, পাতিনেবু, কাগজিনেবু, বাতাৰীনেবু
প্রভৃতি সকল রকম নেবুই অজীর্ণের মহৌষধ। যাহাদের পেটে
বায়ু হয় তাহারা প্রাতে বা বৈকালে একপােয়া গরম জলে
একটী পাতি বা কাগজি নেবুর রস দিয়া খাইবেন ; ইহার
সহিত ছােট চামচের এক চামচ বিট লবণের গুঁড়া মিশাইয়া
লইলে বড় ভাল হয়। বাতাবী নেবু গােলমরিচের গুড়া ও
সৈন্ধব লবণসহ খাইলে খুব উপকার হয়।
নেবুতে লিভারের
কাজ ভাল করে।
দধি ও ঘােল।-দধি ও ঘােল ক্ষুধাবর্ধক, বিশেষতঃ
ঘােল ডিসপেপসিয়ার পক্ষে খুব ভাল। প্রত্যহ ভাত খাইবার
সময় নেবুর রস মিশাইয়া একটু করিয়া ঘােল পান অভ্যাস করা
ভাল। নিয়মিতভাবে ঘােলপান রােগের প্রতিষেধক।
১০
রােগ ও পথ্য
অজীর্ণ হয়।
গরম জল।—পূর্বেই বলিয়াছি যে অত্যধিক জলপানে
সােডা-লেমনেড, ও চা প্রভৃতি বেশী খাওয়া
একেবারেই ভাল নয়। না খাইলেই ভাল হয়। কিন্তু উপযুক্ত
মাত্রায় জল পান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে একান্ত আবশ্যক। দিনে-
রাতে ছয় গেলাস শীতল জল স্বচ্ছন্দে পান করা চলে। রাত্রে
শয়নকালে এক গেলাস ঈষদুষ্ণ জল পান করিলে আহার
শীঘ্র জীর্ণ হয় এবং প্রাতে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়। প্রত্যুষে দুটা
চাল চিবাইয়া এক গেলাস গরম জল পান—অজীর্ণ রােগের
পক্ষে ভাল।
উপসর্গ ভেদে পথ
এইবার উপসর্গের তারতম্য অনুসারে কিরূপ পথ্য দেওয়া
উচিত তাহাই বলিতেছি।
১। বঁহাদের পাতলা বা ভস্কা দাস্ত হয়, কোনও
জিনিষই হজম হয় না, অনেক সময় যাহা খান তাহাই গােটা
গােটা মলের সহিত বাহির হইয়া যায়, তাঁহাদের পক্ষে
নিম্নলিখিত পথ্যােলন হিতকর -
রােগের প্রাবল্য থাকিলে দুই বেলাই বার্লি বা শ্যা।
কোনরূপ কঠিন দ্রব্য এবং দুগ্ধ খাইবে না।
রােগ যদি
অনেক দিনের হয় এবং গা-সহা হইয়া গিয়া থাকে তাহা হইলে
একবেলা কাঠের জ্বালে সিদ্ধ সরু ও পুরাতন চাউলের ভাত,
গাঁদালের ঝোল অথবা সিঙ্গি বা মাগুর মাঝের ঝোল দিয়া
অজীর্ণ ও অগ্নিমান্দ্য
খাওয়া মন্দ ব্যবস্থা নহে। ঝােলে কঁচকলা, ২১টী পটল
ও ডুমুর ভিন্ন অন্য কিছু দেওয়া চলিবে না। মুসুর ডালের
যূষ খাওয়া চলে। টাটকা ঘােল ভাল। অম্বলের মধ্যে
পাতি বা কাগজি নেবুর রস, নেবুর জারক, পুদিনা কিম্বা
কয়েবেলের চাটনি। রােগ একেবারে না সারা পৰ্যন্ত রাত্রে
জলবার্লি বা শঠী।
জলখাবারের জন্য-বেলের মাের, কচি বেল পােড়
এবং একটু মিষ্ট ডালিম বা বেদানার রস। দুই বেলাই একটু
করিয়া ঘােল খাইবে।
২। যাঁহাদের দাস্ত মােটামুটী পরিষ্কার হয় অথচ ক্ষুধা
ভাল হয় না এবং পেটভার থাকে তাহাদের পক্ষে অগ্নিবৃদ্ধিকর
দ্রব্য খাওয়া উচিত।
এই সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে আদা পরম উপকারী।
প্রাতে কিছু আদার কুচি ও ছােলা ভিজান জল খাইবে। যদি
মনে হয় যে পূর্বদিনের আহার জীর্ণ হয় নাই তাহা হইলে এক
আনা শুঠের গুড়া ও এক আনা হরীতকীর গুড়া একটু সৈন্ধব
লবণের সহিত খাইয়া এক গেলাস শীতল জল পান করিবে।
কিংবা কেবল শুঠের গুড়। গুড়ের সহিত খাইয়া গরম জল
পান করিবে।
ভাত খাইবার সময় একটু হিং ঘৃতে ভাজিয়া প্রথম গ্রাসের
সহিত খাইবে, অথবা শাস্ত্রীয় ‘হিঙ্গষ্টক চূর্ণ ঘৃত সংযুক্ত করিয়া
প্রথম গ্রাসের সহিত খাইবে। পতার ঝোল, মুগ, মুসুর বা
রােগ ও পথ্য
অড়হড় ডালের ঘূষ, পটল, কচি মুলা, থােড়, মােচা, ডুমুর
প্রভৃতির তরকারি এবং পুরাণ তেঁতুলের অম্বল কিম্বা পুদিনা
ও কয়েদবেলের চাটনি ও নেবুর রসের সহিত ঘােল খাইবে।
রাত্রেও ভাত খাইবে।
জলখাবারের জন্য-রসগােল্লা বা সন্দেশ ১টী, হরীতকী ও
আমলকীর মােরব্ব, কুমড়ার মেঠাই ও নারিকেলের নাড় বা
সন্দেশ খাওয়া চলে। বাতাবী নেবু একটু গােলমরিচের গুড়া
ও সৈন্ধব লবণসহ খাইলে অগ্নিবৃদ্ধি হয়। যাহাদের দুধ খাওয়
অভ্যাস তাহারা একটী পিপুল দিয়া দুধ জ্বাল দিয়া সেই দুধ
খাইবে।
৩। যাঁহাদের খাইবার পরেই খুব অম্বল হয়, গলা-বুক
জ্বালা করে, পেটফঁপে—তাহারা উক্তরূপ লঘু আহার করিবেন;
এবং খাইবার পরেই ছােট চামচের এক চামচ মাত্রায় বিট
লবণ চূর্ণ, একটু নেবুর রস ও শীতল জলে মিশাইয়া খাইবেন।
পুরাতন তেঁতুলের সরবৎ করিয়া একটু একটু পান করিবেন।
যদি বমি হয় বা গা বমি-বমি করে, তাহা হইলে নিম্নলিখিত
ভাবে সরবং প্রস্তুত করিয়া খাইলে ভাল হয়। এক গেলাস
মিছরীর সরবৎ করিয়া তাহাতে একটা বড় এলাচ খুব মিহি
করিয়া বাটিয়া মিশাইয়া দিবে। পরে ভাল সাদা চন্দন জলে
ঘষিয়া উহাতে একটু মিশাইয়া দিবে। চন্দন-ঘষা সামান্য মাত্রায়
দিবে, যাহাতে বেশ ভাল গন্ধ হয় ; বেশী দিলে সরবৎ তিক্ত
হইয়া যাইবে। এই সরবৎ একটু একটু করিয়া খাইবে,
অজীর্ণ ও অগ্নিমান্দা
সমস্তটা একবারে খাইবে না। কেবল মৌরী ভিজান জল
খাইলেও উপকার হয়।
অজীর্ণ-মােগে প্রলেপ—যাহাদের পেট খুব বেশী
ফাপে তাহারা যােয়ন জলে বাটিয়া পেটের উপর প্রলেপ দিয়া
শুইয়া থাকিবে।
নিম্নলিখিত প্রলেপটী অজীর্ণ-রােগীর পক্ষে খুব ভাল ;
ইহাতে অজীর্ণ-দোষ দূর হয় -
হিং, শুঠ, পিপুল, গােলমরিচ ও সৈন্ধব লবণ—এই
সকল দ্রব্য সমান ভাগে লইয়া জলের সহিত বাটিয়া সমস্ত
পেটের উপর প্রলেপ দিবে। প্রলেপ দিবাভাগে দিতে হয় ।
যাহাদের প্রায়ই পেট ফাঁপে ও হজম হয় না তাহাদের
পক্ষে দুই বেলা আহারের পর আয়ুর্বেদীয় ‘
ধারিষ্ট বা
‘দ্রাক্ষরিষ্ট এক আউন্স মাত্রায় খাওয়া খুব ভাল। অনেক
ক্ষেত্রে ‘শঙ্খদ্রাবক’ (ইহা অনেকটা Dilute Hydrochloric
Acid এর মত) ৫ ফোটা মাত্রায় শীতল জল সহ খাইলে
বিশেষ উপকার দর্শে। অন্য কোনও ঔষধ না খাইয়া কেবল
ইহাতেই বােগ আরাম হইয়া যায়। অজীর্ণ রােগীর পক্ষে কাজিও
ভাল। কিছু ভাতে জল দিয়া ৪৫ দিন রাখিয়া দিলে উহা পচিয়া
যায়। পরে ঐ জল ছাঁকিয়া লইলেই কঁজি প্রস্তুত হইল।
কোষ্ঠকাঠিন্য
অজীর্ণরােগের আর একটী ভেদ-কোষ্ঠকাঠিন্য। আধুনিক
বৈজ্ঞানিকদিগের মত এই যে কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখিতে হইলে
১৪ রােগ ও পথ্য * * * বেশী ‘ছিবড়া’ যুক্ত খাদ্য—যেমন শাকসজী ও ফলমূল- অধিক খাওয়া উচিত। খাদ্য পরিপাক হইলে উহার সার ভাগ শরীরের পুষ্টি সাধন করে, আর অসার ভাগ মলরূপে পরিণত হয়। শাক-সজী ও ফল-মূলাদিতে এই অসার ভাগ বা ‘ভূষি-মাল’ বেশী থাকে। ইহার চাপে অন্ত্রের ক্রিয়া ভাল হয় এবং কোষ্ঠও পরিষ্কার হইয়া যায়। মাংস কিংবা সূক্ষম চূর্ণ আটা-ময়দা খাইলে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় না, কারণ এইগুলি পরিপাক হইবার পর বিশেষ কিছু অবশি থাকে না। শাকসজীর মধ্যে—পালং শাক, গাজর, কঁচা বরবট, কচি শিম বা মাখম শিম, লেটু ও বাঁধা কপি সর্বোৎকৃষ্ট। তরকারির মধ্যে কাঁচা পেঁপে ও ওল অতি উত্তম। ইহা ভিন্ন মােচা, ঘােড়, ডুমুর, কচি বেগুন, মূলা, পটল ও আলু প্রভৃতি সকল প্রকার তরকারি খাওয়া চলে। রাত্রে লাল আটার চাপাটী ( পাতলা রুটী নহে) তৈয়ারী করিয়া আলুর দম বা ডার সহিত খাইলে বেশ কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়। ডালের মধ্যে কঁাচা মুগ, অড়হড় ও ছােলা ভাল। ফল সময়ের ফল কিছু খাওয়া ভাল। ফলের মধ্যে পাকা পেঁপে, বেল, কলা, আঙ্গুর, আনারস ও আপেল খুব ভাল ! যদি হজম হয় তাহা হইলে বাদাম, পেস্তা, খেজুর, মনেকা প্রভৃতি মেওয়া খাওয়া উচিত বেলের ও ইসবগুলের সরবৎ ভাল। গরম দুধের সহিত আঞ্জীর বা কাবুলি ডুমুর { figs } সিদ্ধ করিয়া খাইলেও কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য
রাতে শয়নকালে কিছু ইসবগুলের ভূষি চিবাইয়া গরম
জলের সহিত খাইলে অনেক সময় উপকার হয়। যাহাদের
পেটে ‘আম’ জমে, পেট গরম হয় ও কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় না
তাহাদের পক্ষে নিম্নলিখিত ভাবে ইসবগুল খাইলে বিশেষ
উপকার হয়—
এক তােলা ইসবগুল ও দুই তােলা মিছরী এক পােয়
দুধ ও এক পােয় জলের সহিত সিদ্ধ করিয়া জল মরিয়া গেলে
ঐ দুধ রাত্রে শুইবার পূর্বে খাইবে ।
কোষ্ঠকাঠিন্য রােগীর মােটামুঢ়ী পথ্যের ব্যবস্থা নিম্নে
দেওয়া হইল :-
প্রাতে ৭ টায়-- টী কমলানেবু ও ১টী ডালিমের রস,
কিছু আঙ্গুর। পরে এক গেলাস জলে ৩৪ চামচ (ছােট
চামচের) খটী মধু ও একটী পাতি বা কাগজি নেবুর রস
মিশাইয়া পান করিবে। কিছু ভিজান ছােলা ও আদার কুচি
এবং খানিকটা গুড়। ইচ্ছা করিলে মাখম-রুটী ও আধসের
গরম দুধ। চা, কফি বা কোকো খাইবে না।
বেলা ১০ টায়-দুটী ভাত-বাকী লাল আটার রুটী।
পৰ্যাপ্ত পরিমাণে তরি-তরকারি, ডাল। বিশেষ ইচ্ছা হইলে
পুটপ মৎস্য বা মাংস। (একটী মাছের আঁস ছাড়াইয়া এবং
তাহার পেটের ভিতরকার নাড়ি-ভুড়ি বাহির করিয়া দিয়া আলু,
মটরশুটী ও মসলা প্রভৃতি পুরিয়া দিবে। পরে ধৃত মাখাইয়া
মাছটাকে কচি কলাপাতায় মুড়িয়া কাদার লেপ দিয়া, ঘুটের
রােগ ও পথ্য
আগুণে পােড়াইবে। এইরূপ পুটপ মৎস্য খাইতে অতি
সুস্বাদু হয়। ইহা পুষ্টিকারক 'ও বলবর্ধক এবং গুণে শ্রেষ্ঠ।
বেলা ৫ টায়-পাকা পেঁপে বা বেল, আঙ্গুর, আপেল
ইত্যাদি। সর সমেত আধ সের গরম দুধ। ইচ্ছা করিলে
ছােলা বা চীনাবাদাম ভাজা।
রাত্রি ৮lo টায়-চাপাটী, আলু প্রভৃতির তরকারি,
ডাল। মাংস খাইবে না ; দুই বেলা মাংস খাওয়া উচিত
নহে।
অম্লপিত্ত ও শূল
অজীর্ণ হইতে ক্রমশঃ অম্লপিত্ত রােগের উৎপত্তি হয়। এই
রােগে কোন জিনিষ হজম হয় না। গা বমি-বমি করে, কিংবা
বমি হইয়া যায়। চোয়া ঢেকুর উঠে। গলা-বুক জ্বালা করে।
খুব অরুচি হয়। ক্ষুধা একেবারে থাকে না। কেবলই বিষঃ
ভাব, কিছুই ভাল লাগে না। কাহারও কাহারও গায়ে চাকা
চাকা দাগ এবং চুলকানি প্রভৃতি হয়। স্ত্রীলােকদিগের
রজোদোষ ঘটে ; পুরুষদের শুক্রতারল্য, স্বপ্নদোষ, খড়ি-গােল।
জলের ন্যায় প্রস্রাব ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
অম্লপিত্ত ও শূল
অম্লপিত্ত হইতে শেষে শূলবেদনা আরম্ভ হয়। এই বেদনা
পেট হইতে ক্রমশঃ বুকের দিকে ঠেলিয়া উঠে। সাধারণ
শূলবেদনা অপেক্ষা অম্লশূলের বেদনা কঠিন এবং বহুক্ষণ পর্যন্ত
স্থায়ী হয়।
পথ্য
প্রাতে—পুরাতন চাউলের সুসিদ্ধ ভাত এবং ছােট
টাটকা মাছ বা কচি পাঁঠার ঝােল। ডালের ভিতর-কলাই,
কুলপকলাই বা মাষকলাই ; মুসুর ডাল খাইবে না।
তরকারির মধ্যে-পটল, কঁচকলা, কচি বেগুন, করলা, মােচা,
কচি মূলা, কঁকুড়, কাকরােল, বেতোশাক, শালিঞ্চেশাক এবং
সজিনার শাক ও কচি ডাটা। পুদিনা ও কয়েবেলের চাটনি
ভাল।
রাত্রে—ক্ষুধা না থাকিলে—দুধ-খই, বার্লি বা সাগু ;
অথবা খই গুড়া করিয়া তাহা মধু ও চিনির সহিত খাইবে।
ক্ষুধা থাকিলে—ফুলকা লুচি খাইতে পারা যায়।
যাহাদের লুচি হজম হয় না তাহারা রাত্রে ভাত না খাইয়া
নিম্নলিখিতভাবে রুটী প্রস্তুত করিয়া খাইবে —লাল আটায়
জল দিয়া বেশ করিয়া মাখিবে। মাখিবার সময় একটু সৈন্ধব লবণ
ও যােয়ানের গুড়া মিশাইয়া লইবে। পরে খুব পাতলা করিয়া
কটী বেলিয়া গরম গরম সেকিয়া খাইবে।
লােগ বৃদ্ধির সময়—ছােট চামচের এক বা দুই চামচ
চূণের জলের সহিত বা দুধ খাইবে। অথবা ৮১০ ফোটা কাচা
পেঁপের আঠার সহিত দুধ খাইবে।
২
১৮
রােগ ও পথ্য
;
জল কম খাইবে। যাহাদের খুব বেশী অম্লপিত্ত, তাহার ।
ভাত খাইবার পর দুই ঘণ্টার মধ্যে জলপান করিবে না। গরম
জল খাইবে; কিন্তু যাহাদের পিত্তশূল তাহারা জল গরম করিয়া
ঠাণ্ডা হইলে খাইবে । প্রত্যহ একটু করিয়া কঁজি বা ‘আমানি
খাওয়া ভাল।
অনেকের খাইবার পর গলায় আঙ্গুল দিয়া বমি করা অভ্যাস
আছে। ইহা খুব খারাপ। বরং খুব লঘু ও অল্প আহার করিবে ।
অম্লপিতে নারিকেল
ডিসপেপসিয়ায়, বিশেষতঃ শূল ও অশ্লপিত্তে, নারিকেল
অতি উত্তম খাদ্য ও ঔষধ ! ঝুনা নারিকেলের সহিত মুড়ি
খাইলে শূলরোগে বিশেষ উপকার হয়। দুইবেলা আহারের
পর ডাবের জল খাইলে পেটের বায়ু শান্তি হয়, পিত্তাধিক্য দূর
হয় এবং পেট গরম হয় না। ডিসপেপসিয়াগ্রস্ত বাঙ্গালীর জন্যই
বুঝি ভগবান্ পৃথিবীতে এমন সুন্দর খাদ্যৌষধি প্রেরণ করিয়াছেন।
অভাগা বাঙ্গালীরা কিন্তু তাহা বুঝিবে না। বাবুরা দুইবেলা (কেহ
কেহ দিনে ৪৫ বার কিংবা আরও বেশী) চা-পান করিয়া
ক্ষুধা ও জঠরাগি নষ্ট করিবেন, তথাপি এমন যে উপকারী
ও সস্তার খাদ্যনারিকেল ও মুড়ি—তাহা খাইবেন না।
সঁহাদের দাঁতের জোর কম, তাঁহারা মুড়ি গুড়া করিয়া
নারিকেল-কোড়ার সহিত খাইবেন। ইহাতে একটু চিনি
মিশাইয়া লইলে অতি উপাদেয় হয়। বাড়ীতে ভাল করিয়া
অম্লপিত্ত ও শূল
১৯
নারিকেল-নাড় ও নারিকেলের সন্দেশ প্রস্তুত করিয়া তাহাই
জলখাবারের জন্য ব্যবহার করিলে আজ আর আমাদিগকে এত
অজীর্ণে কষ্ট পাইতে হইত না। ছােট ছােট ছেলেমেয়েদের
বাজে বিস্কুট-চকোলেট প্রভৃতি না দিয়া বাড়ীতে প্রস্তুত
নারিকেল-নাড় দেওয়া উচিত।
অম্লপিত্তরােগে যাহাদের খুব বেশী গলা-বুক জ্বালা
করে-তাহাদের জন্য নিম্নলিখিতভাবে ‘নারিকেল-ক্ষার”
প্রস্তুত করিয়া দিবে।
একটী ভাল ঝুনা নারিকেল লইয়া তাহার মুখে একটী
ছিদ্র করিয়া অর্ধেক জল ফেলিয়া দিবে এবং হাতে সৈন্ধব
লবণ অথবা অর্ধেক সৈন্ধব লবণ ও অর্ধেক যােয়ান পুরিয়া
মুখটী বন্ধ করিয়া দিবে। পরে নারিকেলটীর উপর বেশ
করিয়া মাটীর লেপ দিয়া রৌদ্রে শুকাইয়া ঘুটের আগুনে
পােড়াইবে। শীতল হইলে ভিতরকার কাল শাঁস প্রভৃতি বাহির
করিয়া চূর্ণ করিয়া লইবে। এই চূর্ণ দুই আনা হইতে চারি
আনা মাত্রায়, ডাবের জল সহ দুই বেলা আহারের পর খাইলে
অম্লপিত্ত, গা বমি-বমি, গলা-বুক জ্বালা, অজীর্ণ, ডিসপেপসিয়া,
অক্ষুধা প্রভৃতি ভাল হয়। যাহাদের খুব বেশী অম্বল হয়
তাহাদের পক্ষে ইহার তুল্য অর ঔষধ নাই। এই চুর্ণের সহিত
একটু পিপুলের গুড়া মিশাইয়া গরম জল সহ দিনে দুইবার
করিয়া সেবন করিলে দারুণ শূল নিবৃত্তি হয়।
অতীসার বা উদরাময়
রােগ হইলে প্রথমেই রােগের কারণ বর্জন করিতে হয় ;
অতএব কি কি কারণে অতীসার হয় তাহাই দেখা যাউক।
(১) সাধারণতঃ খাইবার দোষে পেটের অসুখ হয়—
অপরিমিত এবং অনিয়মিত পান-ভােজনই জাতীসারের সর্বপ্রধান
কারণ। অতিরিক্ত খাওয়া, গুরুপাক ও রুক্ষ দ্রব্য বেশী
খাওয়া, খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম জিনিষ খাওয়া, শক্ত জিনিষ
কিংবা যাহা ভাল সিদ্ধ হয় নাই এরূপ খাদ্য আহার করা,
বিরুদ্ধ-ভােজন করা (যেমন একসঙ্গে দুধ ও মাংস খাওয়া ),
পূর্বের আহার জীর্ণ না হইলেও আবার খাওয়া, অরুচিপূর্বক
খাওয়া-ইত্যাদি কারণে অতীসার হয়। আর নিম্নলিখিত
কারণেও পেট খারাপ হইতে পারে,
(২) পচা বা বাসি খাদ্য আহার এবং অপরিক্বত জলপান।
বিষাক্ত দ্রব্য খাওয়া।
(৩) ঋতু-পরিবর্তন। গ্রীষ্মকালে খুব বেশী গরম পড়িলে
অনেকের, বিশেষতঃ ছােট ছেলেমেয়েদের, পেটের অসুখ হয়।
আবার অতিরিক্ত শীতের দরুণ কাহারও কাহারও পাতলা দাস্ত
(৪) খুব বেশীক্ষণ জলে থাকা। অনেকক্ষণ ধরিয়া
সাতার কাটিলে পেটের গােলমাল হইতে পারে। আর
অতীসার
সেইজন্য মেয়েদের বেশীক্ষণ ধরিয়া গা-ধােয়া বা জলে পড়িয়া
থাকা উচিত নহে।
(৫) শােক, ভয় বা অন্য কোন মানসিক উত্তেজনা।
(৬) মলমূত্রাদির বেগধারণ।
(৭) ক্রিমি। ক্রিমি-জন্য ছেলেদের প্রায়ই উদরাময়
তরুণ উদরাময়
অতীসার রােগের প্রথমাবস্থায়—উপবাস দিবে। নেবুর
রস মিশাইয়া একটু একটু জল-বার্লি ছাড়া আর কিছু খাইবে
না। ছানার জলও উপকারী। সম্পূর্ণ বিশ্রাম করিবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে এইরূপ পথ্য দিবার পর একটু মুসুর বা
অড়হড় ডালের ঘূষ, কঁচকলা ও কচি পটল সিদ্ধ, মাগুর বা
সিঙ্গি মাছের ঝােল, গাঁদালের ঝােল এবং একটু ঘােল দিবে।
অতি শিশু বা বৃদ্ধ এবং অতি দুর্বল ব্যক্তির যদি অতীসার
হয়, তাহা হইলে একেবারে উপবাস না দিয়া লঘু পথ্যের
ব্যবস্থা করিবে। বেশী তরল দাস্তের জন্য রােগী যাহাতে
অত্যন্ত দুর্বল না হইয়া পড়ে সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখা
কৰ্ত্তব্য।
রােগের প্রকোপ কমিয়া গেলে—প্রাতে পুরাতন
চাউলের সুসিদ্ধ ভাত, মৌরলা, সিঙ্গি প্রভৃতি মাছের ঝােল,
গাঁদালের ঝােল, গুগলির ঝােল, কাচকলার তরকারি, ঘােল
প্রভৃতি দিবে। তরকারি যত কম খাওয়া যায় ততই ভাল।
রােগ ও পথ্য
রাত্রে—জলবার্লি। বেশ ক্ষুধা হইলে একটু চিনি দিয়া
৪৫ খানি গরম লুচি খাওয়া চলে। ইচ্ছা করিলে ইহার সহিত
মুসুর ডালের যূষ খাইতে পারা যায়। মুসুর ডালের যূষ ধারক
ও বলকারক; সুতরাং ইহা অতীসারের পথ্য ও ঔষধ দুই-ই।
(ডালের যূষ প্রভৃতির প্রস্তুত-বিধি পরিশিষ্টে দেওয়া হইয়াছে।)
ক্ষুধা যেমন যেমন বাড়িবে আহারের মাত্রাও তদনুযায়ী
বাড়াইবে। সহসা আহারের মাত্রা বাড়াইবে না।
এখানে একটা কথা বলিয়া রাখি। পূর্বে আমাদের দেশে
কাঠের জ্বালে রান্না হইত। এখন কয়লার প্রচলন হইয়াছে।
অজীর্ণ, অম্লশূল, অতীসার প্রভৃতি রােগে কয়লার জ্বালে রন্ধন
পরিত্যাগ করা উচিত। আমার মনে হয়, কয়লার জ্বলে
রন্ধন ডিসপেপসিয়া রােগের অন্যতম কারণ।
অতীরে জলখাবারের জন্য—দুই বেলা বেদানার বা
ডালিমের রস, পাকা ছােট জাম, পাকা গাব, পানিফল ও
কেশুর, বেলের মােরব্বা এবং কচি বেল পোড়া খাওয়া যাইতে
পারে।
অজীর্ণ-জন্য অতীসার
খাদ্যদ্রব্য জীর্ণ না হওয়ায় অনেক সময় তরল মল ভেদ
হয়। এমনও দেখা গিয়াছে
যে, পূৰ্বদিন বেশী কিছু
গুরুপাক দ্রব্য খাওয়া হয় নাই, অথচ পরদিন ভাের হইতে
পাতলা দাস্ত-এমন কি পিচকারী দিয়া কেবল জলের মত
দাস্ত হইতে আরম্ভ হয়। এইরূপ ৮১০ বার, কি ১২ বার,
অতীসার
আরও অধিক বার ‘দান্ত হয় এবং রােগী খুব দুর্বল হইয়া
পড়ে। যাহারা ডিপেপসিয়ায় অধিক দিন ভুগিয়া থাকেন,
তাঁহাদের মাঝে মাঝে এইরূপ দশস্ত হয়।
এরূপ অবস্থায় ভেদ বন্ধ করিবার কোনরূপ চেষ্টা করা
একেবারেই উচিত নয়। পেট যাহাতে ঠাণ্ডা থাকে তাহার
জন্য কবিরাজী “শ্বেতচূর্ণ” (প্রচলিত ‘জার’) এক ঘণ্টা
অন্তর কপূর-বাসিত জল বা আতপ চাউল ধােয় জল সহ
দুই তিন বার খাইতে দিবে। কোনরূপ পরিশ্রম করা উচিত
নয়—সম্পূর্ণ বিশ্রাম করিবে। পেট একেবারে খালি
রাখিয়া, এগার-বারটার সময় বার্লি বা এরারুট খুব পাতলা
করিয়া প্রস্তুত করিয়া একটু নেবুর রসের সহিত মিশাইয়া
খাইবে। যদি পিপাসা থাকে তবে ইহাই মধ্যে মধ্যে খাওয়া
উচিত ।
যায়।
এইরূপ করিলে সন্ধ্যার দিকে দাস্ত আপনিই বন্ধ হইয়া
তখন যদি বেশ ক্ষুধার উদ্রেক হয়, তাহা হইলে
টাকা ছানা একটু ( খুব অল্প মাত্রায়) দিতে পারা যায়।
ইহাতে পেট ঠাণ্ডা থাকে। রাত্রে কয়েকখানি গরম গরম লুচি,
বৃতে ভাজা কাঁচকলা ও পটল এবং একটু চিনির সহিত খাইবে।
যদি সেরূপ ক্ষুধা না থাকে তবে কেবল জল-বালিই খাইবে।
আম ও পাতীসার—অতীসার রােগে পেটে যন্ত্রণা,
পেট কুন্ কুন্ করা, পেট ভারী এবং শক্ত মনে হওয়া, গা
বমি-বমি ভাব, পেটে গড়, গড়, শব্দ হওয়া প্রভৃতি উপসর্গ
রােগ ও পথ্য
থাকিলে তাহাকে আম বা অপক্ক অবস্থা এবং ঐরূপ উপসর্গ
থাকিলে তাহাকে নিরাম বা জীর্ণ অবস্থা বলে। আমাবস্থায়
কদাচ ভেদ বন্ধ করিবার চেষ্টা করিবে না। কারণ এ
অবস্থায় প্রথমেই ধারক ঔষধ প্রয়ােগ করিলে পেটের সঞ্চিত
দোষ সকল বাহির হইতে না পারায় পেট ফাঁপা, পেটে যন্ত্রণা,
শােথ, গুল্ম, শূল ও হৃদ্রোগ প্রভৃতি বােগ আসিতে পারে ।
এই সময় উপবাস বা অল্প এবং লঘু পথ্যই শ্রেষ্ঠ।
প্রবাহিকা (আমাশয় )
আমাশয় রােগে অল্পে অল্পে বার বার কোথ দিয়া দাস্ত হয়।
মলের সহিত সাদা সাদা ‘আম’ বা কফ মিশ্রিত থাকে। এই
রােগে পেটে, বিশেষতঃ নাভির চারিদিকে, খুব কামড়ানি
থাকে। আমাশয় রােগে অন্ত্রে অল্পবিস্তর ক্ষত হয়। যখন
মলের সহিত রক্ত নিসৃত হয়, তখন উহাকে রক্তামাশয় বলে।
যদি মল অল্পে অল্পে এবং কষ্টে বাহির হয় তাহা হইলে
প্রথমে হরীতকীর গুড়া, চারি আনা হইতে আধ ভােলা মাত্রায়
ঈষৎ গরম জল সহ খাইবে। ইহাতে সঞ্চিত দোষ নির্গত
হইয়া উদরাময়ের শান্তি হইবে, পেট বেশ হাল্কা মনে হইবে
এবং ক্ষুধার উদ্রেক হইবে ।
আমাশয় এবং অতীসার রােগে রােগীর পথ্য এরূপ হওয়া
উচিত যাহাতে অধিক মলের সৃষ্টি না হয়। এইজন্য বেশী
ছিবড়া যুক্ত খাদ্য—যেমন কলমূল, ডাটা, শাকসজী প্রভৃতি,
খাওয়া উচিত নহে। জল-বার্লি বা জল-সাবু, ছানার জল,
অতীসার
পানিফল বা শঠীর পালাে, যব ও চিড়ার মণ্ড প্রভৃতি আমাশয়
রােগে প্রশস্ত। প্রাতের ও রাত্রের আহার তরুণ অতীসারের
ন্যায়।
আমাশয় রােগে মুখ খুব বিস্বাদ এবং জিহ্বা অপরিষ্কার
থাকে। এই অবস্থায় চিড়া বা খই এর মণ্ড একটু মিছরীর
গুড়ার সহিত খাইতে দিবে। ইহা আমাতীরে অতীব
উপকারী। ভাতের মণ্ড ও কঁচকলা সিদ্ধ দিতে পারা যায় ।
অনেক সময় ডাবের জলে উপকার হয়।
আমদোষ পরিপাক হইলেও যদি রােগী কেঁথ দিয়া
বেদনাযুক্ত পিচ্ছিল এবং শক্ত মল বারংবার অল্প অল্প ত্যাগ
করে, তাহা হইলে কচি মূলার সহিত মুগের ডাল সিদ্ধ করিয়া
সেই ডালের যূষ ও অন্ন পথ্য দিবে; এবং পুদিনা ও থুলকুড়ি
শাক, দধি এবং জল দিয়া সিদ্ধ করিয়া ঘৃতে সাঁতলাইয়া
নেবুর রসের সহিত খাইতে দিবে।
পুরাতন অতীসার
অতীসার বা আমাশয় রােগ পুরাতন হইলে দুই বেলা ভাত
খাইবে। তবে যদি পেটফাঁপা বা পেট-ভার থাকে এবং
বিশেষ ক্ষুধা না হয়-তাহা হইলে বালি, যবের মণ্ড, পানিফলের
পালাে প্রভৃতি খাইবে। সহ হইলে ইহার সহিত অল্প দুগ্ধ
মিশ্রিত করা যাইতে পারে।
মুসুর বা অড়হড় ডালের যূষ, মাগুর, শিঙ্গি, কই, খলিসা ও
মৌরলা প্রভৃতি মৎস্যের ঝােল, গাঁদালের ঝােল, পটল, টাটকা
;
০
রােগ ও পথ্য
নরম বেগুন, ডুমুর, কাঁচা কলা, গাজর, কচি ঝিঙ্গা, মােচা,
বিশেষতঃ গর্ভমােচা, কচি মূলা, মাণকচু, থােড়, আমরুল,
থুলকুড়ি, আনাদি, বেতে, নুনে ও কঁকুড়ের শাক প্রভৃতির
ব্যঞ্জন দিবে ।
অম্নের মধ্যে-পুদিনা ও কয়েদূবেলের চাটনি, পাতি বা
কাগজি নেবু, ইচ্ছা হইলে খুব পুরাতন তেঁতুল। ভাল
আমসত্ত্ব অতি অল্প মাত্রায় খাইতে পারে।
অধিক দিন অতীসারে ভুগিয়া রােগীর শরীর খুব রােগা
হইয়া গেলে—তাহাকে অন্নের সহিত মাংসের যূষ দেওয়া
ভাল। কচি পাঁঠার মূষই প্রশস্ত। কুকুট-মাংসের ঘূষও
দেওয়া যাইতে পারে। শীতকালে পল্লীগ্রামে ‘বটের’ পাখী
খুব পাওয়া যায়। ইহার মাংস-যূষ অতীসার রােগীর পক্ষে
ভাল।
দুধ অতীসারের তরুণ অবস্থায় অর্থাৎ প্রথম ৫৬ দিন,
দুধ দিবে না। পরে দুধ দেওয়া উচিত। পেটের অসুখে
ভুগিয়া রােগী খুব দুর্বল হইয়া পড়ে; সেইজন্য তখন দুধ দেওয়া
একান্ত আবশ্যক। বার্লির সহিত দুধ মিশাইয়া খাইবে।
যাহাদের অনেক দিন পর্যন্ত তরল দাস্ত হইতে থাকে,
তাহাদের জন্য নিম্নলিখিতভাবে দুগ্ধ প্রস্তুত করিয়া দিতে হয়।
টাকা মুথা সংগ্রহ করিয়া বেশ করিয়া ধুইয়া লইবে।
এই মুথা ২ ভােলা লইয়া এক পােয়া ছাগলের দুধ ও এক সের
জলে সিদ্ধ করিয়া এক পােয়া থাকিতে নামাইবে। পরে মুথা
;
অতীসার
२१
গুলি ফেলিয়া দিয়া ঐ দুধ একটু মিছরীর গুড়ার সহিত পান
করিবে।
এইরূপ ভাবে বেলশুঠের সহিত দুগ্ধ সিদ্ধ করিয়া পান
করিলে আমাশয় রােগে খুব উপকার হয়। ছাগলের দুধ না
পাইলে গরুর দুধ দিবে।
বেল।-পূর্বেই বলিয়াছি যে সকল রকম পেটের গােলমালে
বেল খুব উপকারী। কঁচা বেল পােড়াইয়া মিছরীর গুড়ার
সহিত খাইলে পুরাতন পেটের অসুখ ভাল হয়। ইহা
একাধারে ঔষধ ও পথ্য। পেটে আম সঞ্চিত হইয়া শূল বেদনা
হইলে কঁচাবেল পােড়া গুড়ের সহিত খাইবে।
নূতন অতীরে বেলপােড়ায় বিশেষ উপকার হয় না।
বােগ পুরাতন হইলে ইহাতে বেশ ভাল কাজ হয়।
বেলের মাের।—ইহা অতি উপাদেয় এবং পুষ্টিকর
খাদ্য। পল্লীগ্রামে কাঁচা বেলের অভাব নাই। সকল গৃহস্থই
ইচ্ছা করিলে বাড়ীতে বেলের মােরবা প্রস্তুত করিয়া লইতে
পারেন। ছােট ছেলেমেয়েদের বাজারের খাবার না দিয়া ইহা
খাইতে দিলে তাহারা ঘন ঘন পেটের অসুখে ভােগে না।
বৃদ্ধেরাও ইহা তৃপ্তির সহিত খাইতে পারেন। কলেরার সময়
প্রত্যহ প্রাতে বেলের মােরব্বা বা বেলপােড়া খাইলে ঐ
রােগের হাত হইতে অব্যাহতি লাভ করিতে পারা যায়।
খই।—পুরাতন ধানের খই পেটের অসুখের পক্ষে ভাল।
খই খুব লঘু, বলকারক ও অগ্নিদীপক ; ইহা বমন, পিপাসা
২৮
রােগ ও পথ্য
ও অতীসার-নাশক। তবে দুধের সহিত খই মিশ্রিত করিয়া
খাইলে গুরুপাক হয়। খৈই ওঁড়া করিয়া উহাতে বেশী জল
দিয়া পাতলা করিয়া খাইবে। অল্প জল দিয়া কঠিন পিণ্ডাকার
করিলে গুরুপাক হইবে। খই ও মুগের ডাল একত্র জলের
সহিত ফুটাইলে খই এর ‘ও’ প্রস্তুত হয়। ভাল করিয়া
প্রস্তুত করিতে পারিলে ইহা বেশ মুখরােচক ও পুষ্টিকর হয়।
কঁচকলার মণ্ড—খুব লঘুপাক। যখন কোন খাদ্যই
সহজে হজম হয় না, তখন কাচকলার মণ্ড ব্যবস্থা করিবে।
প্রথমে কলার খোসা ছাড়াইয়া জলে উত্তমরূপে সিদ্ধ করিয়া
কষানি জলটুকু ফেলিয়া দিবে। পরে একটু গরম জলে ঐ সিদ্ধ
কঁচকলাগুলি বেশ করিয়া চটকাইয়া কাপড়ে ছাঁকিয়া লইবে ।
যাহাতে একটুও ছিবড়া না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি
রাখিবে। ইহাতে কোনরূপ মসলা মিশাইবে না। একটু
মিছরী বা চিনির সহিত এই মণ্ড খাইলে বেশ মুখরােচক হয়
এবং পেট আঁটিয়া যায়।
রক্তামাশয়
রক্তামাশয়ে-পথ্য আমাশয়রােগের ন্যায়।
রােগে গরুর দুধ না দিয়া ছাগলের দুধ দিলে ভাল হয়।
দুধের সহিত শতমূলী সিদ্ধ করিয়া সেই দুগ্ধ পান করিলে
রক্তাতীসার ভাল হয়। রক্তামাশয় রােগে ভুগিয়া বেশী দুর্বল
হইয়া পড়িলে, তাহার পক্ষে দুধ-ভাতই সর্বপ্রধান পথ্য।
যদি বেশী দিন ধরিয়া রক্ত পড়ে—তবে এক তােলা
তবে এই
অতীসার
বেলশুঠ ও এক তােলা কুড়চীর ছাল, এক পােয় ছাগদুগ্ধ এবং
এক সের জলে সিদ্ধ করিয়া এক পােয়া থাকিতে নামাইয়া
সেই দুগ্ধ একটু চিনির সহিত খাইবে। ইহাতে রক্তামাশয়ে
বিশেষ উপকার হয়।
বহুদিন যাবৎ রক্তামাশয়ে ভুগিলে রােগী খুব রক্ত-হীন ও
রােগা হইয়া পড়ে। সেই সময় তাহাকে মাংসের ঝুষ খাওয়াইবার
প্রয়ােজন হয়। কুকুট, খরগােস, পায়রা প্রভৃতির মাংস থুরিয়া
উহার রস বাহির করিয়া লইবে। এই মাংস-রস ধৃতে
সাঁতলাইয়া একটু জীরার গুড়া, সৈন্ধব লবণ ও নেবুর রসের
সহিত খাইতে দিবে।
রক্তামাশয়-রােগী প্রত্যহ প্রাতে ও বৈকালে আধ ছটাক
মাত্রায় দুর্বার রস একটু চিনির সহিত খাইবে।
জুরাতীসার
জ্বরাতীসারে-জ্বর না ছাড়া পর্যন্ত রােগীকে খৈয়ের
তবল মণ্ড এবং জল-বালি দিবে। অন্ন দিবে না ; ক্ষুধা বেশ
থাকিলে দুধ দিবে না। প্রথমাবস্থায় দুধ না দেওয়াই ভাল।
জ্বরাতীসার রােগীর পিপাসা থাকিলে এক তােলা পিপুল
ও এক ভােলা গজপিপুল চারি সের জলে সিদ্ধ করিয়া দুই
সের থাকিতে নামাইয়া ঐ জলের সহিত খৈ সিদ্ধ করিয়া সেই
মণ্ড খাইতে দিবে।
জ্বর ৰন্ধ হইলে সাধারণ অতীসারের পথ্য দিবে।
গ্রহণী
পেটের অসুখে ভুগিবার
পর, রােগ সারিয়া গেলেও
অনেকক্ষেত্রে রােগীর অগ্নিবল স্বাভাবিক অবস্থায় আসে না।
সেই অগ্নিমান্যের উপর যদি কেহ আহারে সতর্ক না হইয়া
কুপথ্যাদি করে, তবে তাহার গ্রহণী-রােগ হয়।
আমাদের আমাশয় বা পাকস্থলীর (Stomach) পরেই
অন্ত্র (Intestines ) আরম্ভ হইয়াছে। এই অন্ত্রের প্রথম
অংশের নাম গ্রহণী-নাড়া (Duodenum )। ইহা নাভির
ঠিক উপরে অবস্থিত। এইখানে খাদ্যদ্রব্যের সম্যক্ পাক হয়।
গ্রহণী-নাড়ী দূষিত হয় বলিয়াই এই রােগকে “গ্রহণী” বলে।
ইহা কষ্টসাধ্য ব্যাধি।
এই রােগে অগ্নির বল একেবারে কমিয়া যায়। সামান্য
হাল্কা, আহার করিলেও অনেক সময় রােগী তাহা হজম
করিতে পারে না। সাধারণ অতীসারে কেবল তরল দাস্ত
হয়; কিন্তু গ্ৰহণীরােগে মল কখন তরল, কখন কঠিন, কখনও
বা শুষ্ক হয়। আর গ্রহণীয়ােগে প্রায়ই বেদনা অনুভব হয়।
এই রােগে পিপাসা অধিক হয় এবং অরুচি, মুখের বিস্বাদ,
মুখ দিয়া জল উঠা, গা বমি-বমি করা, তিক্ত এবং অম্ল উদগার
প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। বার বার মলত্যাগ জন্য এবং
বহুদিন : ভুগিয়া রােগী অত্যন্ত দুর্বল এবং শয্যাশায়ী
;
গ্রহণী
হইয়া পড়ে। বােগ পুরাতন হইলে সমগ্র অন্নবহস্রোতঃ
( Alimentary Canal) অর্থাৎ আমাশয়, গ্ৰহণী ও অন্ত্রের
ভিতরকার শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি দূষিত হয়। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই
গ্রহণী-নাড়ীতে ক্ষত হয়। এই জন্য এই রােগে পথ্য সম্বন্ধে
বিশেষ সাবধান হওয়া আবশ্যক। (ডাক্তারি puodenal
Ulcer নামক রােগ গ্রহণীরােগের অন্তর্ভূত)।
গ্রহণীরােগীকে—খুব পুরাতন ও সরু চাউলের সুসিদ্ধ অন্ন
খাইতে দিবে।
ডাল।-কাঁচা মুগ এবং মুসুর ডালের যুষ প্রশস্ত। কচি
মূলা চাকা চাকা করিয়া কাটিয়া রৌদ্রে শুকাইয়া লইবে। এই
শুষ্ক মূলা বা উহার গুড়া ডালের সহিত সিদ্ধ করিয়া দিলে
আরও ভাল হয়। খাইবার সময় একটু গােলমরিচ ও সাদা
জীরার গুড়া মিশাইয়া লইবে। যাহাদের পা ফুলিয়াছে,
তাহাদের পক্ষে ই খুব উপকারী।
তরকারী গ্রহণীবােগীকে বেশী শাকসজী ও ছিবড়
যুক্ত ফলমূল খাইতে দিবে না, কারণ এগুলি মলকারক।
তরকারি সমস্ত অতীসারের ন্যায়।
যাহাদের মাংস খাওয়া, অভ্যাস, তাহাদিগকে মাংসের
যূষ দেওয়া যাইতে পারে। মাংসের মধ্যে ছাগ, হরিণ, খরগােস,
লাব, তিত্তির, বটের, হরিয়াল ও কুকুট-মাংসই ভাল।
ফল-দাড়িম, বেদানা, পানিফল, কেশুর, পাকা বৈঁচি,
রােগ ও পথ
পাকা গাব, খুব কচি তালশাস, জাম, পাকা বকুল ফল,
বেলপােড়া ও বেলের মােরব্বা দিতে পারা যায় ।
দুধ গ্রহণী-রােগী খুব দুর্বল হইয়া পড়ে। সেইজন্য
তাহাকে দুধ দেওয়া কর্তব্য। ছাগলের দুধই ভাল, তবে গরুর
দুধও দেওয়া যাইতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে গাভীর ও ছাগীর
দুগ্ধজাত বা দধিজাত মাখম দিতে পারা যায়। রােগ যখন
পুরাতন হইয়া যায়, তখন কবিরাজ মহাশয়রা রােগীকে
“পৰ্প টী” সেবন করাইয়া কেবলমাত্র দুগ্ধ পথ্য দিয়া থাকেন ।
বিশেষতঃ, গ্রহণীয়ােগে শােথ হইলে দুগ্ধানই একমাত্র পথ্য।
একবারে বেশী দুধ না দিয়া বারে বারে এক পােয় করিয়া
দিবে। পৰ্প টিী সেবন করিলে দিনে ৩৪ সের পর্য্যন্ত দুগ্ধ
খাওয়া চলে।
ঘােল।—সরের সহিত নিৰ্জ্জল দধি মন্থন করিলে ‘ঘােল’
প্রস্তুত হয়। চারি ভাগ দধি, এক ভাগ জলের সহিত মর্দন
করিলে তাহাকে ‘তক্র’ বলে। গ্রহণীরােগীর পক্ষে তক্র
অমৃততুল্য।
মহামুনি চরক বলেন,
“গ্ৰহণীদোষিণাং তক্রং দীপনং গ্রাহি লাঘবাৎ।
শ্রেষ্ঠ মধুরপাকিত্বান্ন চ পিত্তং প্রকোপয়েৎ ॥”
অর্থাৎ তক্ৰ লঘু, অগ্নিদীপক ও মল-সংগ্রাহক বলিয়া ইহা
গ্রহণীদোষাক্রান্ত ব্যক্তিগণের পক্ষে শ্রেষ্ঠ পথ্য। পেটের মধ্যে
ক
৫
গ্রহণী গিয়া ইহা মধুর রস"হয়, অম্ন হয় না ; সেইজন্য ইহাতে পিত্ত শান্তি হয় এবং পেট ঠাণ্ডা থাকে। গ্রহণীরােগী যখন কোন জিনিষ হজম করিতে পারিবে না, তখন তাহাকে একটু করিয়া তক্ৰ দিবে। আহারের পর শাস্ত্রীয় ‘তারিষ্ট’ বা ‘তক্রাসব’ পান করা খুব ভাল। ইহা ভিন্ন গ্রহণীয়ােগীকে খুব মৃদুবীৰ্য আয়ুর্বেদীয় মদ ও আসব দিতে পারা যায়। রাত্রে যদি ক্ষুধা না থাকে তবে খৈ বা চিড়ার মণ্ড, কাঁচা কলার মণ্ড, অথবা দুধ-বালি দিবে। অন্যান্য পথ্য পুরাতন অতীসারের ন্যায়। অতীসার ও গ্রহণীরােগে অপথ্য— ঘৃতপক্ক বা ভাজাপোড়া দ্রব্য ; গুরুপাক ও তীক্ষ্ণবীৰ্য্য দ্রব্য- যেমন লঙ্কা, গরম মসলা প্রভৃতি; অধিক জলপান, তরল দ্রব্যের অধিক ব্যবহার, কলাই, যব, ইক্ষু, শাক, গুড় ; নারিকেল, কলা, আম, কাঠাল প্রভৃতি ফল ; আঙ্গুর, কিসমিস, খেজুর প্রভৃতি মেওয়া ; তৈলমর্দন, স্নান, রাত্রিজাগরণ; শিম, আদা, লাউ, কুমড়া, আলু, ওল, সজিনা, পান, সুপারি, এবং অধিক অম্ল বা লবণরসযুক্ত ও ক্ষার দ্রব্য। পুনঃপুনঃ বিরেচক ঔষধ ব্যবহার করিলেও, বিরেচনের অতিযােগ হেতু অতীসার হইতে পারে ; অতএব তাহাও ; * বর্জনীয়।
আমরা সচরাচর দুই প্রকার জুর দেখিতে পাই,—(১) নূতন জ্বর এবং (২) পুরাতন জ্বর। এই দুই প্রকার জ্বরই আহার- বিহারের অত্যাচারে হইয়া থাকে। ইহা ভিন্ন আর এক প্রকার জ্বর হয় ; তাহাকে আগন্তু-জ্বর বলে। ইহা বাহ্যিক কারণে যেমন আঘাত নাগা এবং শােক, ভয় বা ক্রোধ-হেতু হইতে পারে ; ‘ছাঁয়াচে জ্বরও এই শ্রেণীর অন্তর্ভূত। প্রধানতঃ চারিটী লক্ষণ দ্বারা আমরা জ্বর বুঝিতে পারি ? (১) সর্বপ্রধান লক্ষণ—শরীরের সন্তাপ বা উত্তাপ বৃদ্ধি ; এবং সঙ্গে সঙ্গে মনের সন্তাপ অর্থাৎ ব্যাকুলতা ও বিমর্ষভাব। (২) অগ্নিমান্দ্য ও অরুচি। (৩) ঘাম না হওয়া (কেবল কোনও কোনও পিত্তজ্বরে ঘাম হয় ); প্রস্রাব কম ও লাল হওয়া। (4) হাত-পা কামড়ান, সর্বাঙ্গে বেদনা, মাথা ভার হওয়া ইত্যাদি । বিনাগরিশ্রমে শ্রান্তিবােধ, সকল কাজে আলস্য, গা-হাত- পা কামড়ান এবং ভার হওয়া, মুখের বিরসতা, হাই উঠা, চোখ দিয়া জল পড়া, চোখ জ্বালা, অরুচি ইত্যাদি লক্ষণ জ্বর হইবার পূর্বেই প্রকাশ পায়। অতএব এই সকল লক্ষণ প্রকাশ পাইলেই সাবধান হইয়া আহার-বিহারে সতর্ক হওয়া উচিত। আহার-বিহারের অত্যাচারেই হউক অথবা বাহ্যিক কারণেই হউক, শরীরের বায়ু, পিত্ত, কফ প্রভৃতি দোষ প্রকুপিত হয় এবং আমাশয় ও গ্রহণী-নাড়ীকে আশ্রয় করিয়া, জ্বর উৎপন্ন করে। অতএব জ্বর-রােগে যাহাতে পেট ঠাণ্ডা থাকে সে বিষয়ে সর্বদা দৃষ্টি রাখিতে হইবে; আর যাহাতে ক্ষুধা বৃদ্ধি হয় এবং রুচি হয় তাহারও ব্যবস্থা করিবে। (১) সামান্য জ্বর, (২) কফজ্বর ও ইফ্লুয়েঞ্জা, (৩) পিত্তর, (৪) বাতিক জ্বর এবং (৫) টাইফয়েড, নিউমােনিয়া প্রভৃতি সান্নিপাতিক জুর নবজুরের অন্তর্গত। জ্বরের প্রথম অবস্থায় লঙ্ঘনই উত্তম ব্যবস্থা। এখানে লঙ্ঘন বলিতে নিরঙ্কু উপবাস নহে,লঘু পথ্য বুঝিতে হইবে। শরীর ভার না হইয়া যাহাতে হাকা হয়, সেইরূপ পথ্যের ব্যবস্থা করিলেই অনেক সময়ে জ্বর আপনাপনিই ছাড়িয়া যায় । শাস্ত্রও এইজন্য বলিয়াছেন, “জ্বরাদৌ লঙঘনং পথ্য”। লক্ষন দ্বারা আমাশয়স্থ দোষসমুহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং রসের পাক হওয়ায় রােগীর ছছমে ও ‘রসাল’ ভাব দূর হয় ও ক্ষুধার * চরক বলেন,-“য কিঞ্চিল্লাঘবরং দেহে তল্লঙ্ঘনং স্মৃত”। অর্থাৎ যাহা কিছু—আহার-বিহার, দ্রব্য ও কর্ম বমন, বিরেচন প্রভৃতি) -শরীরের লঘুতা সম্পাদন করে, তাহাই লঙ্ঘন ।
রােগ ও পথ্য উদ্রেক হয়। কিন্তু লঙ্ঘনের এতাদৃশ উপকারিতা থাকিলেও রােগীকে এরূপভাবে উপবাস দেওয়াইবে, যেন তাহার শরীর খুব বেশী দুর্বল হইয়া না পড়ে। কারণ রােগীর বলের উপরই আরােগ্য নির্ভর করে। পথ্য।-এঅবস্থায় জল-সাবু, বার্লি, শঠী, খৈ, বাতাসা, মিছরী বা এলাচদানা দেওয়া যাইতে পারে। যদি সামান্য জ্বর হয়, তাহা হইলে গরম মুড়ি দিতে পারা যায়। সারা দিনে ৪৫ বার জল- সাবু দিবে। একবারে বেশী না দিয়া, একপােয়া করিয়া দিবে। প্রত্যেকবার খাওয়াইবার পূর্বে দাঁত ও মুখ বেশ করিয়া বােয়া উচিত। ইহাতে মুখের বিরসতা নষ্ট হয় এবং খাইবার জন্য আকাঙক্ষা হয়। যদি স্নানাহার করিয়া জ্বর আসে,তাহা হইলে প্রথম দিন কিছুই দিবে না। কেবলমাত্র একটু করিয়া গরম জল পান করিতে দিবে। বমি হইলে অথবা বমনােদ্রেক থাকিলে, মৌরী-ভিজান জল দিবে। জল-জ্বর-রােগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করিতে দিবে। তৃষিত জয়-রােগীকে কখনও জল বারণ করিবে না, সকল অবস্থাতেই জল দেওয়া উচিত। তবে একেবারে অকণ্ঠ জল পান করা উচিত নহে। যে কোনও রােগীকে জল দিতে হইলে পূর্বে জল সিদ্ধ করিয়া লওয়া উচিত। জল ফুটাইলে উহা যখন নিম্ফেন ও নিৰ্ম্মল হইবে, তখন নামাইয়া শীতল হইলে সেই জল রােগীকে
৩৭
পান করিতে দিবে। দিনে দুইবার—প্রাতে ও বৈকালে জল
সিদ্ধ করিবে। প্রাতের সিদ্ধ' জল সারাদিন চলিবে এবং
বৈকালের সিদ্ধ জল রাত্রে ব্যবহার করিবে। যে জল একবার
সিদ্ধ হইয়াছে তাহা পুনরায় সিদ্ধ করিয়া কদাচ ব্যবহার করিবে
। সিদ্ধ জল বাসি হইয়া গেলে তাহা আর পান করা উচিত
নয়।
দুধ।-নবজুরে জ্বর কম থাকিলে সামান্য দুধ দিতে পারা
যায়। তবে শুধু দুধ না দিয়া সাধু বা বার্লির সহিত মিশাইয়া
দিবে। কিন্তু অধিক জ্বর হইলে ( ১০২ ডিগ্রীর অধিক হইলে)
দুধ একেবারে বন্ধ করিয়া দিবে।
ফল।—জ্বর-রােগীকে ফল খাইতে দিতে পারা যায়।
ইহাতে শরীরের বলাধান হয় ও আহারে রুচি জন্মে। ফলের
মধ্যে মিষ্ট কমলানেবু, বেদানা ওমিষ্ট ডালিম প্রায় সব রােগীকে
দেওয়া চলে। পেটের গােলমাল ও বেশী সর্দি-কাসী না
থাকিলে—আঙ্গুর, কিসমিস, খেজুর, পেয়ারা, শশা, আখ,
আনারস ও বাতাবীনেবু অল্প পরিমাণে দিতে পারা যায়।
পিপাসা নিবারণার্থ-জামরুল, কেশুর, পানিফল, শাকআলু ও
আপেল দিবে। সমস্ত ফলই চিবাইয়া ছিবড়া ফেলিয়া দিবে।
জ্বর বন্ধ হইলে ও শরীরের ক্লেদ দূর হইলে-ক্ৰমশঃ সুজীর
ও আটার রুটী , পুরাতন চাউলের ভাত, ছােট টাটকা মাছ
যেমন শিঙ্গি, মাগুর, কই, মৌরলা—বা কচি মাংসের যুষ
দিবে। তরকারীর মধ্যে—অল্প আলু, কচি পটল, কঁচা কলা,
রােগ ও পথ্য
কচি বেগুণ, পতার বড়া ও ঝােল, নিমঝােল, উচ্ছে,
কাকরােল ইত্যাদি। কোনরকম ‘ট’ দিবে না। রুচির জন্য
কেবলমাত্র নেবুর রস বা অল্প নেবুর জারক দিতে পারা যায়।
কফজ্বর ওইফ্লুয়েঞ্জা
সর্দি-কাসী হইয়া যদি খুব বেশী জ্বর হয়, তাহা হইলে প্রথম
দিন সম্পূর্ণ উপবাস দিবে। কেবল মধ্যে মধ্যে একটু একটু
গরম জল খাইতে দিবে। উষ্ণ জল দ্বারা শ্লেষ্মা তরল হইয়া
যায়। দ্বিতীয় দিনে এক ছটাক করিয়া বেলপাতার রস একটু
গােলমরিচের গুড়া ও মধুর সহিত দিনে দুইবার খাইবে। রােগী
যদি খাইতে চায়, তাহা হইলে অল্প টাকা খই আদার কুচি ও
মিছরীর সহিত খাইতে দিবে। খাইবার কিছুক্ষণ পরে তবে জল
পান করিবে। পরে জ্বরের প্রকোপ কমিয়া গেলে সাবু দিবে ।
কিম্বা গরম গরম শুকনা মুড়ি আদার সহিত খাইবে। এই
সময় নিম্নলিখিতভাবে খৈএর ‘পেয়া’ প্রস্তুত করিয়া দিলে বড়
ভাল হয়।
একতােল। শুঠ ও একতােলা পিপুল একটু কুটিয়া চারি
সের জলে সিদ্ধ করিয়া দুই সের থাকিতে নামাইয়া ঘঁাকিয়া
লইবে। এই জলের খানিকটা লইয়া তাহাতে এক মুঠা টাটকাখৈ
দিয়া বেশ করিয়া চটকাইয়া ছাঁকিয়া লইলেই পেয়া প্রস্তুত
হইল! পেয়া খুব পাতলা হওয়া উচিত। ইহা একটু মিছরীর
গুড়ার সহিত খাইলে বেশ রুচিজনক হয় এবং ইহাতে
অগ্নিবৃদ্ধি হয়। সর্দি-কাসীযুক্ত জ্বরে শুধু দুধ মােটেই দিবে
না। দুধে শ্লেষ্ম বাড়ায়। যদি দুগ্ধ দিবার প্রয়ােজন হয়,
তাহা হইলে উহা ১১টী পিপুলের সহিত সিদ্ধ করিয়া দিবে। যদি
কাসী ও স্বরভঙ্গ থাকে, তাহা হইলে একটী হাতায় সামান্য
গব্য ধৃত লইয়া উহাতে ১৫/২০টী গােলমরিচ ভাজিয়াসেই বৃত
ও মরিচ এক বাটি গরম দুধের সহিত মিশাইয়া রাত্রে খাইবে।
আজকাল অনেকেই চায়ের ভক্ত। কিন্তু চা না খাইয়া
নিম্নলিখিত যােগটী প্রস্তুত করিয়া খাইলে চায়ের নেশাও
কাটিবে এবং জ্বর ও শ্লেষ্ম দূর হইবে ।
শুঠ ২টা, পিপুল ২টা, গোলমরিচ ১৫২টা, তেজপাতা
৩৪টী, মিছরী ২ ভােলা—এক সের জলে সিদ্ধ করিয়া এক
পােয়া থাকিতে নামাইয়া ছাঁকিয়া লইয়া গরম গরম খাইবে।
অথবা, চায়ের পাতা বা গুড়ার পরিবর্তে শুষ্ক তুলসীর
মঞ্জুরী দিয়া ঠিক চায়ের মত প্রস্তুত করিয়া খাইলেও বেশ
উপকার হয়।
পিত্তর
জ্বর-রােগীর যদি পিত্তের প্রকোপ বেশী থাকে, অর্থাৎ
গা-হাত-পা জ্বালা,চোখ জ্বালা, পিত্ত বমি হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ
থাকে,—তাহা হইলে নবজরের পথ্য ছাড়া তাহাকে কচি পটল
সেকিয়া তাহার রস অথবা পল্তার রস খাইতে দিবে। ইহাতে
পিত্ত শান্তি হইবে ও জুর দূর হইবে।
রােগ ও পথ্য
যাহাদের পিত্তের ধাত, বা গা বমি-বমি করে, কিংবা
বমি হইয়া যায়,—তাহাদিগকে ডাবের জল, অথবা মুড়ি-
ভিজান জল খাইতে দিবে। পাতলা দাস্ত না থাকিলে, কচি
তাল-শাস ও উহার জল দিতে পারা যায়। নিম্নলিখিতভাবে
চিড়ার জল প্রস্তুত করিয়া খাইলে পেট ঠাণ্ডা হয় এবং বমি,
পেটজ্বালা প্রভৃতি নিবারণ হয়।
সূক্ষ চিড়া প্রথমে বেশ করিয়া ধুইয়া জলে ভিজাইয়া
রাখিবে । এক ঘণ্টা পরে ঐ চিড়া যখন বেশ নরম হইয়া
যাইবে, তখন উহা জলের সহিত চট্ৰকাইয়া এক খণ্ড পরিস্কার
নেড়ায় ছাকিলে তলায় যে নিৰ্ম্মল চিড়ার জলটুকু পড়িবে
তাহা একটু নেবুর রস ও মিছরীর গুড়ার সহিত
খাইবে।
পিত্তজ্বরে গরম জল দিবে না ; জল সিদ্ধ করিয়া বেশ ঠাণ্ডা
হইয়া গেলে সেই জল পান করিতে দিবে। রাত্রে আধ সের
গরম জলে এক ভােলা ধনে একটু কুটিয়া ভিজাইয়া দিবে ।
পরদিন প্রাতে ঐ জল ছাঁকিয়া একটু চিনির সহিত খাইলে
পিত্তশান্তি হয়।
পিত্তজ্বরে অনেক সময় পাতলা দত্তি হয় এবং
তাহাতে পিত্ত মিশ্রিত থাকে। এরূপ ক্ষেত্রে ক্ষেত,
পাপড়ার রস এক ভােলা মাত্রায়, একটু চিনির সহিত দিনে
দুইবার খাইবে এবং একটু একটু ছানার জল ও খুব পাতলা
জল-বালি, নেবুর রস ও চিনির সহিত খাইবে।
৪১
যদি খুব বেশী গাত্রদাহ ও চুলকানি থাকে—তাহা হইলে
খাটী সরিষার তৈল ও জল বেশ করিয়া ফেনাইয়া গায়ে মাখিয়া
শুকনা গামছা বা ভােয়ালে দিয়া মুছিয়া ফেলিবে। অথবা,
সাদা চন্দন গায়ে মাখিয়া নিমপাতা কিংবা কচি কলাপাতা
বিছাইয়া শয়ন করিবে।
বাতিক-জ্বর
জ্বরে বায়ুর প্রকোপ বেশী থাকিলে—মাথার যন্ত্রণা, গা-
হাত-পায়ে অত্যন্ত বেদনা, কেবল হাই উঠা, জিহবা-মুখ প্রভৃতি
শুকাইয়া যাওয়া, পেট ফাপা, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি লক্ষণ
প্রকাশ পায়।
পথ্য।—এইরূপ জরে একেবারে উপবাস দিবে না,-লঘু
পথ্য দিবে। উপবাস দ্বারা বায়ুর বৃদ্ধি হয়।
কিছু কিছু ফল খাইতে দিবে। পিপাসা ওপেটাপা
থাকিলে—মৌরীভিজান জল ও ডাবের জলে বেশ উপকার হয়।
নেয়াপতি ডাবের শাঁসও দিতে পারা যায়। মধ্যে মধ্যে গরম
জল খাইবে।
যদি মাথার যন্ত্রণা বেশী হয়, তাহা হইলে ভিজা
গামছা দিয়া মাথা মুছিয়া দিবে। সাদা চন্দন ঘষিয়া একটু
কপূর মিশাইয়া মাথায় প্রলেপ দিলে মাথাধরা ও মাথার যন্ত্রণা
দূর হয়।
৪২
রােগ ও পথ্য
বাতিক-জ্বরে দিনে দুইবার করিয়া বেলপাতার রস খাইতে
দেওয়া উচিত। ইহাতে রসের পাক হয়, গায়ের বেদনা ও
মাথা ভার কমে এবং কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়।
এই সমস্ত জ্বর ছাড়া, বাত-পিত্ত, বাত-শ্লেষ্ম ও
পিত্ত-শ্লেষ্মা জনিত জ্বর হয়। ইহাতে দুইটী দোষের মিলিত
লক্ষণ প্রকাশ পায়—যেমন বাতপিত্ত জ্বরে মাথার যন্ত্রণা থাকে,
আবার হাত-পা-জ্বালা ও চোখ জ্বালাও থাকে। এই সকল
ক্ষেত্রে উপসর্গ অনুসারে পথ্যের ব্যবস্থা করিবে।
টাইফয়েড, একপ্রকার সান্নিপাতিক বিকার। ইহাতে
বায়ু, পিত্ত ও কফ তিনটী দোষই প্রকুপিত হয় ; তবে বায়ুর
প্রাধান্যই বেশী থাকে। অন্ত্রে ক্ষত হয় বলিয়া ইহাকে “আন্ত্রিক
জ্বরও বলে।
পাশ্চাত্যমতে টাইফয়েড, একটী সংক্রামক রােগ। শরী-
রের মধ্যে এক প্রকার জীবাণু প্রবেশ করিয়া রক্তকে দূষিত
করিলে এই রােগ উৎপন্ন হয়। দুইটী প্রধান কারণে এই
রােগ ছড়াইয়া পড়ে
(১) পয়ঃপ্রণালীর অব্যবস্থা
(২) দূষিত জল-সরবরাহ
এতদ্ভিন্ন—(১) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, (২)
একসঙ্গে বহুলােকের বাস এবং (৩) আলােক ও বাতাসের
অপ্ৰাচুৰ্য্য—এই তিনটী কারণ বর্তমান থাকিলে উক্ত জীবাণুর
আক্রমণের হাত হইতে ' রক্ষা পাইবার ক্ষমতা কমিয়া
যায়।
সাধারণতঃ দেখা
গিয়াছে যে,
৯ দিন হইতে ১৪ দিন
এবং কখনও কখনও ২২ দিন পর্যন্ত টাইফয়েডের ‘ঘাের
থাকে। এই রােগে জ্বরের প্রকোপ একেবারে হঠাৎ না
বাড়িয়া ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায়। টাইফয়েড় জ্বরের প্রধান লক্ষণ
(১) মাথার ও পেটের যন্ত্রণা
(২) পালা দাস্ত ; কাহারও কাহারও কোষ্ঠকাঠিন্য
(৩) পেট ফাঁপা
(৪) গুটিকা বা “ব্ল্যাশ” উদগমন
(৫) প্রলাপ ও মােহ
প্রথম সপ্তাহে-জ্বর ক্রমশঃ বাড়িয়া ১০৩ হইতে ১০৪
ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে। গায়ের উত্তাপের তুলনায় নাড়ী খুব
দ্রুত হয় না, কিন্তু মােটা হয় ; জিহ্বা অপরিষ্কার ও সাদা হয় ;
পেট ফাঁপে। সাধারণতঃ দেখা গিয়াছে যে, প্রথম সপ্তাহে
বােগী প্রলাপ বকে না; কিন্তু মাথার যন্ত্রণায় বড় কষ্ট পায়।
প্রথম সপ্তাহেই কাহারও পাতলা দাস্ত দেখা দেয়, আবার
কাহারও বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। ৬৭ দিন পরে প্লীহা
সামান্য বাড়িতে দেখা যায় ও
ওপেটে এবং গায়ে ছােট ছােট
ঘামাচির মত গােলাপী রংএর গুটিকা বা rash’ বাহির হয়।
এইগুলি প্রথম হইতেই লক্ষ্য করা উচিত। কারণ ইহা বাহির
38
রােগ ও পথ্য
হইলে জ্বরটী যে টাইফয়েড় সে বিষয়ে আর বিশেষ সন্দেহ
থাকে না।
দ্বিতীয় সপ্তাহে-পূর্বোক্ত লক্ষণগুলি আরও বৃদ্ধি পায়।
তখন মাথার যন্ত্রণা থাকে না, কিন্তু রােগী খুব ঝিমাইয়া পড়ে।
দ্বিতীয় সপ্তাহে রােগীর প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক।
দিবারাত্র রােগীর নিকট কোন-না-কোন অভিজ্ঞ শুশ্রুষাকারী
থাকা প্রয়ােজন, কারণ এই সময় রােগটী ভয়ানক আকার
ধারণ করে। রােগী প্রলাপ বলিতে থাকে, মাথা চালে এবং
অজ্ঞান হইয়া পড়ে; কখনও বা নাড়ী ছাড়িয়া যায় এবং
এমন
কি
মৃত্যু পৰ্য্যন্ত হইতে পারে।
তৃতীয় সপ্তাহে-জ্বর কমিতে থাকে। চতুর্থ সপ্তাহে জ্বর
ছাড়িয়া যায়, জিহ্বা পরিষ্কার হয়, পেটের গােলমাল থাকে
এবং ক্ষুধার উদ্রেক হয়।
কাহারও কাহারও চতুর্থ সপ্তাহে জ্বর না ছাড়িয়া পঞ্চম
ও ষষ্ঠ সপ্তাহ পর্যন্ত জ্বর হইতে থাকে। তবে প্রাতে একবার
করিয়া জ্বর সম্পূর্ণ ছাড়িয়া যায়। এই সময়ে পথ্য সম্বন্ধে
বিশেষ সাবধান না হইলে আবার পাল্টাইয়া পড়িয়া রােগীর
জীবন সঙ্কটাপন্ন হইতে পারে ।
টাইফয়েড-রােগীকে খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে রাখা
উচিত। যে ঘরে রােগী থাকিবে তাহাতে যেন কোনও ময়লা
বা দূষিত দ্রব্যাদি না থাকে। ঘরে যেন বেশ বাতাস খেলে
ও আলাে আসে। রােগীর কাপড় ও বিছানা প্রত্যহ বদলাইয়া
৪৫
দিবে। ঔষধপত্র রােগীর ঘরে না রাখিয়া অন্যত্র রাখাই
ভাল। ঘরে ২১ জন শুশ্রুষাকারী ছাড়া আর অধিক লােক
থাকিবে না। বেশী গােলমাল করিবে না।
টাইফয়েড-জ্বর অতি জটিল ব্যাধি। ইহার পথ্যাদি
সম্বন্ধে প্রথম হইতেই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করিবে।
এখানে মােটামুটী পথ্যের কথা বলা হইল।
পূর্বেই বলিয়াছি যে জ্বর রােগের প্রধান আশ্রয়—আমাশয়
ও গ্রহণী-নাড়ী। ইহার উপর টাইফয়েড-জ্বরে অন্ত্রে ক্ষত হয়।
অতএব এই রােগে এমন খাদ্য-দ্রব্য দিতে হইবে যাহা হজম
করিতে কিছুমাত্র কষ্ট না হয়। কোনরূপ কঠিন দ্রব্য না দিয়া
কেবলমাত্র তরল দ্রব্য আহার করিতে দিবে। নচেৎ দাস্ত
পাতলা হইবে, পেট ফঁপিবে এবং মলের সহিত অপক্ক খাদ্যদ্রব্য
বাহির হইবে এবং অন্ত্রের ক্ষতও বৃদ্ধি হইবে।
দুগ্ধ ও বালি। টাইফয়েড-রােগীর পক্ষে দুগ্ধ ও ছানার
জলই সর্ব প্রধান • পথ্য। তবে শুধু দুধ খাইতে দিবে না
পাতলা করিয়া বালি প্রস্তুত করিয়া তাহার সহিত অল্প পরিমাণে
দুগ্ধ মিশাইয়া দিবে। যদি পেটের কোনরূপ দোষ না থাকে,
তাহা হইলে সমান পরিমাণ জলের সহিত দুধ সিদ্ধ করিয়া
সেই দুধ দিতে পারা যায় । কিন্তু পেটফাঁপা অথবা পেটের
অসুখ থাকিলে দুধ বন্ধ করিয়া ছানার জল দিবে। গরম দুধে
নেবুর রস দিলে ছানা কাটিয়া যায়। এইরূপভাবে ঘরে ছানা
কাটিয়া সেই ছানার জল রােগীকে দিবে।
;
৪৬ রােগ ও পথ্য এক তােলা শুঠ ও এক ভােলা পিপুল চারিসের জলে সিদ্ধ করিয়া দুই সের থাকিতে নামাইয়া ছাঁকিয়া লইবে। এই জলের সহিত বার্লি সিদ্ধ করিয়া একটু মিছরীর গুড়া মিশাইয়া রােগীকে খাইতে দিবে। দুধ, বার্লি বা ছানার জল একবারে বেশী না দিয়া তিন ঘণ্টা অন্তর আধপােয়া করিয়া দিবে । প্রত্যেকবার খাওয়াইবার পর দাঁত ও মুখ বেশ ভাল করিয়া ধুইয়া দিবে ; ইহা যেন ভুল না হয়। জল টাইফয়েড, রােগীকে প্রচুর পরিমাণে জল পান করিতে দেওয়া উচিত। সারা দিনরাতে ৪৫ সের জল খাওয়া উচিত। প্রথম হইতেই দিনে অন্ততঃ ৩৪ বার “শ্বেত- চূর্ণ জলের সহিত দেওয়া উচিত। ইহাতে পেট ঠাণ্ডা থাকে, প্রস্রাব সরল হয়, পেটফাঁপার ভয় থাকে না এবং রােগের প্রকোপ বৃদ্ধি হইতে পায় না। টাইফয়েড রােগীকে জল দিতে হইলে, জল সিদ্ধ করিয়া যখন অর্ধেক মাত্র অবশিষ্ট থাকিবে তখন নামাইয়া উহা ঢাকিয়া রাখিবে। খােল রাখিবে না। পরে ঐ জল শীতল হইলে রােগীকে পান করিতে দিবে। এইরূপ জল খুব লঘু এবং ত্রিদোষগ্ন। ষড়ঙ্গপানীয়।-টাইফয়েড-জ্বরে তৃষ্ণা বেশী থাকে। সেইজন্য নিম্নলিখিতভাবে “ষড়ঙ্গপানীয় প্রস্তুত করিয়া সেই জল রােগীকে পান করিতে দিবে। ইহাতে পিপাসা ও জ্বর, শান্তি হয়।
৪৭
ঔ, মুথা, ক্ষেত পাপড়া, বেণার মূল, রক্তচন্দন ও বালা এই
ছয়ী দ্রব্য প্রত্যেকটী অৰ্দ্ধ তােলা করিয়া লইয়া /৪ সের জলে
সিদ্ধ করিয়া /২ সের থাকিতে নামাইয়া ছাঁকিয়া লইবে।
ইহা যে কোনও সান্নিপাতিক রােগীকে দেওয়া চলে। বিশে-
যতঃ টাইফয়েড, ও নিউমােনিয়ায় ইহা অবশ্য প্রয়ােগ করা
উচিত। ষড়ঙ্গপানীয় প্রাতে একবার ও বিকালে আর একবার
প্রস্তুত করিয়া লইবে।
টাইফয়েড,বােগীকে বেদানা ও মিষ্ট কমলালেবুর রস
দিতে পারা যায়। সােডা, লেমনেড, প্রভৃতি দিবে না।
অবস্থা বিশেষে চিকিৎসকের পরামর্শ লইয়া সুপক্ক আনারসের
রস ও আখের রস দেওয়া যাইতে পারে। বেশী পেটফাঁপা
থাকিলে ছানার জল ও ষড়ঙ্গপানীয় ছাড়া আর কিছু দিবে
।
টাইফয়েড-রােগীর জ্বর ত্যাগ হইলেও সহসা ভাত, রুটী
প্রভৃতি পথ্যের ব্যবস্থা করিবে না। তখনও তরল খাদ্য দিবে।
একটু শুনির ঝােল, মুগের বা মুসুর ডালের ঘূষ, বা মাগুর
মাছের ঝােল, একটী কচি পটল সিদ্ধ—পরে আস্তে আস্তে
একটু একটু করিয়া আহার বাড়াইবে।
পুরাতন না বিষম জ্বর
অনেক সময় নূতন জ্বর ছাড়িয়া যাইবার পরও অল্প দোষ
শরীরের মধ্যে থাকিয়া যায়, রােগী তাহা বুঝিতে পারে না।
৪৮
রােগ ও পথ্য
এই সময়ে আবার আহার-বিহারের অত্যাচার করিলে সেই
অল্প দোষ প্রবল হইয়া রস, রক্ত, মাংস প্রভৃতি শরীরের যে
কোনও একটা ধাতুকে আক্রমণ করিয়া বিষমজ্বর উৎপন্ন করে।
পালাজ্বরও বিষমজ্বরের অন্তর্গত।
পথ্য
পুরাতন জ্বরে রােগীকে অন্ন পথ্য দিবার ব্যবস্থা আছে।
তবে জ্বরের সময় বা জ্বরের দিন ত্যাগ করিয়া ভাত দিবে।
খুব অল্প জ্বর থাকিলেও অবস্থা বিশেষে ভাত দেওয়া যায়।
রাত্রে ভাত দিবে না; ক্ষুধা অনুসারে রুটী, পাউরুটী, সাবু বা
খৈ দিবে। ইহাতে একেবারে উপবাস দেওয়া উচিত
নহে। যকৃৎ বা প্লীহা বৃদ্ধি থাকিলে ঘৃত বন্ধ করিয়া দিয়া
অল্প পরিমাণে দুগ্ধ দিবে এবং যাহাতে কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকে
তাহার ব্যবস্থা করিবে।
তরকারির মধ্যে—পতার বড়া বা ঝােল, নিমঝােল,
নিমবেগুন, কচি মূলা, পটল, উচ্ছে, কঁকবােল, করলা, ঘােড়,
মােচা, ডুমুর, ঠোটে কলা, সজিনার ভাটা, অল্প আলু; মুসুর,
মুগ বা ছােলার ডালের যুষ, ক্ষুদ্র টাকা মৎস্যের ঝােল ; রােগী
দুর্বল হইলে পায়রা, কুক্কুট বা কচি ছাগ-মাংসের ঝুষ। অম্নের
মধ্যে—পাঁতি বা কাগজি নেবু।
অল্প বা দুধ দিতে পারা যায়। মাংস ও দুগ্ধ একসঙ্গে
খাইবে না।
৪৯
জলখাবার মিছরী, বাতাসা, এলাচদানা, মিষ্ট ডালিম,
কেশুর, পানিফল, আখ, কিসমিস, খেজুর, মনেক্কা, কুমড়ার
মেঠাই, আমলকী-হরীতকী-শতমুলী প্রভৃতির মাের, ইত্যাদি।
পুরাতন জ্বরের নানা প্রকার অবস্থা হইতে পারে ; সুতরাং
অবস্থা অনুসারে পথ্যের পরিবর্তন করিয়া লইবে। বহুদিন
ধরিয়া জ্বরে ভুগিয়া রােগী ক্ষীণ হইয়া পড়ে ; সেইজন্য যাহাতে
ক্ষয়ের পূরণ ও বল রক্ষা হয়, তাহার দিকে দৃষ্টি রাখিয়া পুষ্টি-
কর ও রুচিজনক আহারের ব্যবস্থা করিবে ।
ম্যালেরিয়া
;
ম্যালেরিয়া জ্বরে বায়ু ও পিত্তের প্রাধান্য থাকে ; তবে
পিত্তাধিক্যই সর্বাপেক্ষা বেশী। তাই ইহাতে তৃষ্ণা, গাত্রদাহ
ও মাথার যন্ত্রণা প্রবল থাকে এবং জ্বরও খুব প্রবল হয়। ইহা
ছাড়া জ্বর আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে প্রায়ই পিত্ত বমি হয়।
যখন শীত ও কম্প দিয়া জ্বর আসে তখন একটু একটু গরম
জল রােগীকে পান করিতে দিবে। পিপাসা, বমি ও পিত্ত
শান্তির জন্য ডাবের জল খুব উপকারী। ম্যালেরিয়া-জ্বরে
৩৪টী পর্যন্ত ডাব দিতে পায়া যায়। ইহাতে জ্বরেরও কিছু
উপশম হয়।
জ্বরের সময়—৩৪ ঘণ্টা অন্তর জল-সাবু বা জল-বালি খুব
পাতলা করিয়া প্রস্তুত করিয়া খাইতে দিবে ; ইহার সহিত
কাগজী বা পাতি নেবুর রস বেশী করিয়া মিশাইয়া দিবে।
৪
রােগ ও পথ্য
জ্বরের বেগ কমিয়া আসিলে দুধ-সাবু দিৰে ; কিংবা অর্ধেক
দুধ ও অর্ধেক সােডার জল মিশাইয়া খাইতে দিবে। অন্যান্য
পথ্য নবজ্বরের ন্যায়। ম্যালেরিয়ায় বেশী উপবাস দিবার
প্রয়ােজন নাই। ম্যালেরিয়া পুরাতন হইয়া গেলে, পুরাতন
জ্বরের ন্যায় পথ্য ব্যবস্থা করিবে।
কালাজ্বর -কালাজ্বরের পথ্য বিষমজুরের ন্যায় ।
কালাজ্বরে প্রবল ক্ষুধা থাকিলেও রােগীকে লঘু পথ্য দিবে এবং
মাংস একেবারে বন্ধ করিয়া দিবে ।
যক্ষ্মা
আজকাল বাঙ্গলাদেশে যক্ষমা ও ক্ষয়কাস রােগের খুব
প্রাধান্য হইয়াছে। বিংশ শতাব্দীর সভ্যতার যুগে ক্ষয়-রােগ
হইবার বহু কারণ বর্তমান। এখানে প্রত্যেকটী সম্বন্ধে
বিশদভাবে আলােচনা করা সম্ভৰপর নহে। আমি নিম্নে
মােটামুটী কয়েকটী কারণ উল্লেখ করিতেছি। আয়ুর্বেদ বলেন,
যক্ষ্মার কারণ চারিটী,-
১। মলমূত্রাদির বেগধারণ।
২। শরীরের ধাতুক্ষয়, বিশেষতঃ অতিরিক্ত শুক্রক্ষয়।
?
; ৩। সাহস বা অযথা বল-আরম্ভ অর্থাৎ বলের অতিরিক্ত ব্যায়ামাদি শারীর-কৰ্ম্ম ; অথবা পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, অথচ পরিশ্রম করা। ৪। বিষমাশন অর্থাৎ আহারের অত্যাচার-অনিয়মিত ও অপরিমিত পান-ভােজন। ইহা ছাড়া আজকালকার দিনে বিশুদ্ধ ও উপযুক্ত খাদ্যের অভাব, অতিরিক্ত বিলাসিতা-শারীরিক ও মানসিক সংযমের অভাব, নির্মল বায়ু ও যথােপযুক্ত সূৰ্যাতপের অভাব প্রভৃতি কারণও যথেষ্ট বর্তমান। যক্ষারােগীকে প্রথমেই এই কারণগুলি বর্জন করিতে হইবে; আর এ রােগী ধূলি ও ধোয়া পরিপূর্ণ, বহুজনাকীর্ণ সহরে যত কম থাকে, ততই ভাল। যদি সম্ভবপর হয়, তাহা হইলে প্রথম হইতেই লােকালয় একেবারে ত্যাগ করিয়া বহুদূরে পাহাড়, জঙ্গল বা সমুদ্রের ধারে কোন স্বাস্থ্যকর স্থানে বাস করিবে। যক্ষমায়ােগের সর্বপ্রধান লক্ষণ—শরীরের ক্ষয়। শরীর যেন দিন দিন শুকাইয়া যায়; মাংস শুকাইয়া যায় ; মেদ বা চর্বি শুকাইয়া যায়; রক্ত কমিয়া যায় ; শেষে হাড় পর্যন্ত শুকাইতে আরম্ভ হয়। তাই এই রােগের আর একটী নাম- “শােষ”। সুতরাং যে কোনও প্রকারে হউক, এই ক্ষয় নিবারণ করা উচিত। রােগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর আহার
রােগ ও পথ্য
দিতে হইবে। যক্ষ্মারােগী কদাচ উপবাস দিবে না।
খাদ্য যাহাতে সহজে হজম হয় এবং অগ্নির বল সমান থাকে,
সে বিষয়ে যত্নবান হইতে হইবে। কোনরূপে যদি রােগীকে
বলশালী এবং একটু মােটা করিতে পারা যায়, তাহা হইলে
উপযুক্ত ঔষধ ও জলবায়ুর গুণে রােগ সারিয়া যায়। পাকযন্ত্রের
সামান্যমাত্র গােলমাল হইলে তৎক্ষণাৎ তাহার প্রতীকার
করিবে।
যক্ষ্মায় মাংসের ব্যবহার
চরক বলেন, “মাংস আপ্যায্যতে মাংসেন,” মাংসের
দ্বারা শরীরের অন্যান্য ধাতু অপেক্ষা মাংসেরই অধিক বৃদ্ধি হয়।
যক্ষারােগে প্রধানতঃ মাংসের ক্ষয়ই অধিক লক্ষিত হয়।
সেইজন্য এই রােগে মাংসের ক্ষয় পূরণের জন্য নানা প্রকার
মাংসের ব্যবস্থা আছে। “শরীরবৃংহণে নান্যদাদ্যং মাংসা-
দ্বিশিষ্যতে”—শরীরের পুষ্টিবিষয়ে মাংস যেমন উপযােগী, এরূপ
আর কোনও খাদ্য নহে।
যক্ষারােগীকে সাধারণতঃ ছাগ, পায়রা, কুক্কুট, ময়ূর,
তিতির, হাঁস, খরগােস, হরিণ এবং বন্য পক্ষীর মাংস (বটের
প্রভৃতি) খাইতে দিবে। কিন্তু অত্যধিক মাংসক্ষয় নিবারণের
জন্য মাংসাশী পশুপক্ষীর মাংসই শ্রেষ্ঠ। এই জন্য কাক,
শৃগাল, বন্য বিড়াল, শকুনী, ব্যাঘ্র, সিংহ, ভল্লুক প্রভৃতির মাংস
দেওয়া চলে। এতদ্ব্যতীত শজারু, পেচক, হস্তী, উষ্ট্র, গণ্ডার,
বানর, সাপ, কেঁচো, গর্দভ, অশ্ব, মহিষ প্রভৃতির মাংসেরও
যক্ষমা দিতে হয়। এ বাবস্থা আছে। তবে এই সকল মাংস রােগীর অজ্ঞাতসারে যেমন তিতিরের মাংস বলিয়া কাকমাংস, বাণ মাছ বলিয়া সাপের মাংস, অথবা মৎস্যের নাড়ীভুড়ি বলিয়া কেঁচো ভাজিয়া দিবে। হরিণের মাংস বলিয়া ব্যাঘ্র-সিংহ প্রভৃতির মাংস দেওয়া চলে। এইরূপ ছলপূৰ্ব্বক না দিলে, রােগী জানিতে পারিলে তাহার ঘৃণার উদ্রেক হয়। তাহাতে উপকার না হইয়া অপকার হয়। আজকাল এই সকল মাংস রােগীকে দিবার প্রথা নাই; আর এগুলি সংগ্রহ করাও কঠিন। এখানে ইহার উল্লেখ করিলাম,-শুধু দেখাইবার জন্য যে আয়ুর্বেদ- শাস্ত্রে যক্ষারােগে মাংসকে কত বেশী প্রয়ােজনীয় পথ্য বলা হইয়াছে। এমন কি চরক বলিতেছেন, “যদি ইন্দ্রিয়সংযম পূর্বক যক্ষারােগী কেবল মাংস আহার করে ও যথানিয়মে মধুজাত আসব—যেমন ‘দ্রাক্ষাসব’ পান করে এবং যদি ঐ রােগী ক্রোধ প্রভৃতি ত্যাগ করিয়া প্রশান্তচেতা হয়, তাহা হইলে যক্ষারােগ তাহার শরীরে অধিক কাল থাকিতে পারে না।” মাংসের মধ্যে এখন ছাগ, কুকুট ও পায়রার মাংসই বেশী ব্যবহৃত হয়। যেখানে তিতির, বটের, হরিয়াল প্রভৃতি পাখী পাওয়া যায়, সেখানে সেগুলি দিতে পারিলে বড় ভাল হয়। কারণ এই সকল পক্ষীর মাংস উষ্ণ এবং লঘু বলিয়া যক্ষারােগে অত্যন্ত প্রশস্ত। ভুতের মতে, শােষ-রােগীর পক্ষে ছাগমাংস, ছাগদুগ্ধ, রােগ ও পথ্য ছাগঘৃত, ছাগরক্ত, ছাগবিষ্ঠা, ছাগমূত্র এবং ছাগ মধ্যে বাস- সমস্তই উপকারী। ছাগ ও কুকুট প্রভৃতির মাংসের যূষ প্রস্তুত করিয়া, অথবা মাংস থুরিয়া উহার টাটকা রস (ইংরাজীতে যাহাকে raw neat-juice বলে) ঘৃত ও মসলার দ্বারা সুসংস্কৃত, সুস্বাদু ও সুগন্ধিযুক্ত করিয়া খাইতে দিবে। দুইবেলা মাংস খাইবে না। যে বেলা মাংস খাইবে, সে বেলা ভাত বা রুটীর সহিত আর দুগ্ধ খাইবে না। খুব প্রবল থাকে, তবে মাংস বন্ধ করিয়া দিবে। জ্বর যদি যক্ষারােগীর পক্ষে মাংসই সর্বোৎকৃষ্ট পথ্য। ইহা ছাড়া দুগ্ধ, ঘৃত ও মাখম উপযুক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত। যাহারা মাংস খাইতে অনিচ্ছুক, কিম্বা যাহাদিগকে মাংস দেওয়া চলিবে না, তাহাদিগকে এইগুলি পৰ্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হইবে। যক্ষারােগীকে দুধ দিবার পূর্বে সেই দুধ একটী পিপুলসহ সিদ্ধ করিয়া লইবে। অথবা নিম্নলিখিতভাবে দুধ প্রস্তুত করিয়া দিবে, আধসের দুধে দুই সের জল মিশাইবে। ইহার সহিত ৪ তােল। অশ্বগন্ধার মূল সিদ্ধ করিয়া আধসের থাকিতে নামাইবে। এই দুগ্ধ খুব পুষ্টিকারক। আবার ঐ দুগ্ধ হইতে ঘৃত প্রস্তুত করিয়াও খাওয়া চলে।
যক্ষা:
যাহাদের ফুসফুস খুব দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে, তাহাদিগকে
অশ্বগন্ধার পরিবর্তে শতমূলীর সহিত দুগ্ধ পাক করিয়া খাইতে
দিবে। দুগ্ধপানের পর একটু করিয়া মধু খাইবে। যক্ষা
রােগীর পক্ষে মধু খুব উপকারী।
ছাগলের দুধ হইতে ঘৃত প্রস্তুত করিয়া উহা একটু চিনির
সহিত খাইলে যক্ষমায় যথেষ্ট উপকার হয়।
অতিরিক্ত শুক্রক্ষয় জন্য যাহাদের যক্ষা হইয়াছে, তাহাদের
পক্ষে দুগ্ধ, ঘৃত ও মাংস-রস পথ্য করা বিশেষভাবে কর্তব্য।
প্রাতে মধু ও চিনির সহিত মাখম খাইলে ক্ষয়জনিত শরীরের
কৃশতা দূর হয়।
অন্ন।--যক্ষারােগীর আহারের জন্য একবৎসরের পুরাতন
ও সুগন্ধি চাউল প্রশস্ত। জ্বর বেশী না থাকিলে, প্রাতে এই
চাউলের সুসিদ্ধ ভাত ও মাংসের ঝােল খাইবে।
বেশী জ্বর থাকিলে, ভাতের পরিবর্তে সুজী বা আটার
রুটী দিবে ।
রাত্রে-ক্ষুধা থাকিলে উত্তমরূপে আহার করিবে। ভাত
খাইয়া রুটী বা লুচি খাইবে। বিশেষ ক্ষুধা না থাকিলে
দুধ-সাবু।
তরকারির মধ্যে-মােচা, ঘােড়, কাঁচকলা, সজিনার
ডাটা, পা, পটোল, ডুমুর, গাজর, ঢেড়স, কচি ঝিঙ্গা,
ছাঁচি কুমড়া ও অল্প আলু খাইতে পারে। বেগুন দিবে না।
মুগ ও ছােলার ডালের ঘূষ খাইতে পারে। অড়হড় ডালের
রােগ ও পথ্য যূষও দেওয়া চলে। ছােট চিংড়ী ও বাণ মাছ দিতে পারা যায়। সমস্ত তরকারী দ্বাতে পাক করিবে এবং সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করিবে। তৈলে পাক করা তরকারী ব্যবহার নিষিদ্ধ। আহারের পর মধুজাত আসব ও মদিরা পান করিবে। পরে মুখশুদ্ধির জন্য এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও যােয়ান খাইবে। পান খাইবে না। ফল।আঙ্গুর, কিসমিস, খেজুর, পাকা আম, বেদানা, ও মিষ্ট ডালিম, পানিফল, কেশুর, পাকা যজ্ঞডুমুর, ফলসা, নারিকেল ও কচি তালশাঁস যক্ষারােগীর পক্ষে ভাল। পাকা কঁঠালের রস সামান্য খাইতে পারে। আকের টাটকা রসও ভাল। জলখাবারের জন্য—ফল ছাড়া আমলকী ও শত- মূলীর মােরবা, দেশী কুমড়ার মাের ও মেঠাই, মিছরী, মধু, এবং ঘৃত ও অল্প মিষ্ট সংযােগে সুজি বা ছােলার বেসমে প্রস্তুত যে কোনও দ্রব্য,—যেমন মেঠাই, মােহনভােগ, গজ। ইত্যাদি দিতে পারা যায়। কুমড়ার মােহনভোগা-ছাঁচি কুমড়া খুব পুষ্টি- কারক এবং রক্তপিত্ত ও ক্ষয়-নাশক। ইহা “উরঃ সন্ধানকৃৎ —অর্থাৎ ফুসফুসে যদি ক্ষত হয়, তবে ইহার দ্বারা সেই ক্ষত জোড়া লাগে। সেইজন্য যক্ষারােগে ছাঁচি কুমড়া অতি উত্তম পথ্য। একটি সরু কুরুণীর দ্বারা কুমড়ার শাসি কুড়িয়া উহার রস
যম
নিংড়াইয়া রাখিবে। পরে ঐ শাস গব্য বা ছাগঘতে ভাজিয়া
মিছরীর গুড়া দিয়া মােহনভোগ প্রস্তুত করিবে।
জল দিবার
সময় পূর্বোক্ত কুমড়ার রসটুকু মিশাইয়া দিবে। ইহা খাইতে
বেশ সুস্বাদু ও ধাতু-পুষ্টিকর।
দেশী কুমড়ার টাটকা রস একতােল মাত্রায়, ১ রতি মুক্তা
ভস্মের সহিত প্রত্যহ প্রাতে সেবন করিলে যক্ষমায় খুব উপকার
হয়।
শাস্ত্রীয় “খণ্ডকুণ্ডক” প্রভৃতি ঔষধ পুরাতন ছাঁচি কুমড়ার
শাস দিয়া প্রস্তুত হয়।
বিশেষ পথ্য।যারােগীর যদি অরুচি থাকে-
তাহা হইলে এক তােলা যােয়ান ও এক ভােলা পুরাতন তেঁতুল
তিন পােয়া জলে সিদ্ধ করিয়া এক পােয়া থাকিতে নামাইয়া,
সেই জলে বেশ করিয়া কুলকুচা করিবে। অথবা যােয়ান
ও তেঁতুল বাটিয়া জিহ্বায় ঘষিবে। ইহাতে মুখের বিস্বাদ দূর
হয় এবং আহারে রুচি জন্মে। উৎকৃষ্ট আমসত্ত্ব দুধের
সহিত খাইতে দিতে পারা যায়। ইহাতেও অরুচি যায়।
অনেক সময় বায়ুপরিবর্তনেই অরুচি ও অগ্নিমান্দ্য দূর হয়।
যদি পেটের গােলমাল থাকে—তাহা হইলে ডালিম
গাছের কচি পাতার কাথ বাহির করিয়া (৪ তােলা পাতা
/১ সের জলে সিদ্ধ করিয়া আধসের থাকিতে নামাইয়া),
সেই জলে ধৃত ও সৈন্ধব লবণ দিয়া মুগের ডাল সিদ্ধ করিয়া
খাইতে দিবে।
রােগ ও পথ্য
কাসী বেশী থাকিলে-পিণ্ড খেজুর ও মনেকা একটু
যষ্টিমধু ও পিপুলের গুড়া এবং মধুর সহিত মাঝে মাঝে চাটিয়া
খাইবে।
খেজুর, কিসমিস, ফলসা, যষ্টিমধু ও পিপুল সহযােগে
ঘৃত পাক করিয়া ক্ষমারােগীকে খাইতে দিলেও কাস, শ্বাস,
ও স্বরভঙ্গের উপশম হয়।
মুখ দিয়া রক্ত উঠিলে—রক্তপিত্তের পথ্য চলিবে।
কোষ্ঠবদ্ধতা থাকিলে—গরম দুধের সহিত কিমিস্,
মনে ও খেজুর খাইবে। পথ্যের দ্বারাই যাহাতে কোষ্ঠ
পরিষ্কার হয়, তাহার ব্যবস্থা করা উচিত। যক্ষ্মারােগে
বিরেচক ঔষধ প্রয়োগ করিবে না। কারণ যক্ষা-
রােগীর মল সযত্নে রক্ষা করা উচিত। একবার পেট ভাঙ্গিলে
রােগীকে রক্ষা করা কঠিন।
সাধারণ নিয়ম
যক্ষারােগী প্রত্যহ দুইবার দন্তধাবন করিবে এবং বেশ
করিয়া মুখ ধুইবে ও কুলকুচা করিবে। বেশী জ্বর না থাকিলে
প্রত্যহ স্নান করিতে পারে; অন্ততঃ গরম জল দিয়া গা
মুছিবে। স্নানের পূর্বে সর্বাঙ্গে তৈলমর্দন করিবে। এই
জন্য শাস্ত্রীয় ‘চন্দনাদি তৈল’ খুব ভাল। সপ্তাহে ২৩ দিন
শ্বেতসরিষা বাটিয়া উহা সুগন্ধিযুক্ত করিয়া গায়ে মাখিবে।
স্নানের জল যষ্টিমধু, প্রভৃতি কোন পুষ্টিকারক দ্রব্যের সহিত
সিদ্ধ করিয়া লইলে ভাল হয়। শীতকালে এই জল ঈষদুষ্ণ
থাকিবে , গ্রীষ্মকালে শীতল হইলে ব্যবহার করিবে।
পর পরিষ্কার বস্ত্রাদি পরিধান করিবে এবং সুগন্ধ ফুলের মালা
ধারণ করিবে। যক্ষারােগীর গায়ে সর্বদা একটী জামা
রাখা কর্তব্য। গাত্রে শীতল হাওয়া লাগান কোনক্রমেই
উচিত নয়।
জল সিদ্ধ করিয়া ঠাণ্ডা হইলে সেই জল পান
করিবে।
যক্ষারােগীর ঘর ও বিছানা প্রভৃতি খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
হওয়া উচিত। দুইবেলা ঘরে সুগন্ধি ধূপ জ্বালিবে। বিছানায়
২১ ফোটা ভাল ‘সেন্ট’ দিয়া রাখিবে, এবং ঘরের মধ্যে ফুল
রাখিবে,—যেন ঘরটী সুগন্ধে ভরপুর হইয়া যায়। ফুলের
মধ্যে পদ্মফুলের গন্ধই সর্বাপেক্ষা প্রশস্ত। আসল কথা এই,
যে যক্ষারােগীর মন যাহাতে প্রফুল্ল থাকে, সর্বদাই তাহার
চেষ্টা করা উচিত।
যক্ষারােগী দেবতার অর্চনা ও সদালাপে দিন যাপন
করিবে।
নিষেধ যক্ষারােগী ক্রোধ, ঈর্ষা, শােক প্রভৃতি
ত্যাগ করিবে। কোনরূপ পরিশ্রম, ব্যায়াম ও স্ত্রীসহবাস
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনেকে একটু বল পাইলেই বেড়াইতে
আরম্ভ করে। ইহা খুব অন্যায়, আরােগ্যের মুখে সামান্য
পায়চারি করিতে পারে। কোনরূপ তর্কে প্রবৃত্ত হইবে না,
উচ্চৈঃস্বরে কথা বলিবে না বা গান গাহিবে না। বাঁশীবাজান
৬০
রােগ ও পথ্য
একেবারে নিষেধ। অসৎ , সাহিত্য ও বাক্যালাপ বর্জন
করিবে। ধূমপান করিবে না।
অপথ্য।-লঙ্কার ঝাল, অধিক লবণ, অম্ল ও কষায় রস,
কলাইএর ডাল, শাক, শিম, বেগুন, কঁকরােল, রশুন, হিং,
রুই, কাতলা প্রভৃতি মৎস্য, দধি, ক্ষার ও রুক্ষ দ্রব্য, তরমুজ,
এবং পান—এইগুলি যক্ষারােগে অপথ্য।
রক্তপিত্ত
রক্তপিত্ত দুইপ্রকার—উদ্ধগ ও অধােগ। মুখ, নাসিকা,
চক্ষু ও কর্ণ দিয়া রক্ত নির্গত হইলে, উহাকে উদ্ধগ রক্তপিত্ত
বলে। আর মলদ্বার বা মূত্রদ্বার দিয়া রক্ত পড়িলে উহাকে
তাধােগ রক্তপিত্ত বলে। লােমকূপ দিয়াও রক্ত বাহির হইতে
পারে। তবে চোক, কাণ বা লােমকূপ দিয়া রক্ত পড়া খুব
বিরল। সাধারণতঃ মুখ দিয়া মাঝে মাঝে রক্ত উঠিলেই আমরা
বলিয়া থাকি, যে রােগটা রক্তপিত্ত। যক্ষমায়ােগের একটা
প্রধান উপসর্গ রক্তপিত্ত—অর্থাৎ মুখ দিয়া বা থুথুর সহিত রক্ত
উঠা। কিন্তু মুখ দিয়া রক্ত উঠিলেই যে উহা যক্ষমা হইবে,
তাহা নহে।
রক্তপিত্ত
মুখ দিয়া বেশী রক্ত উঠিলে-সে দিন রােগী সম্পূর্ণ
বিশ্রাম করিবে। চুপ করিয়া বিছানায় শুইয়া থাকিবে—
নড়াচড়া করিবে না বা কথা বলিবে না। যদি রােগীর বল
থাকে তবে সেদিন উপবাস দিবে, নচেৎ খুব লঘু পথ্য
করিবে।
এই সময় রােগীকে দুইবেলা একছটাক করিয়া দুবা
অথবা আয়াপানের রস, একটু চিনির সহিত খাইতে দিবে।
রক্তপিত্ত, কাস ও ক্ষয়ে বাসক পরম উপকারী।
প্রত্যহ প্রাতে দুই ভােলা মাত্রায় ( এক আউন্স) বাসক
পাতার টাকা রস একটু মধুর সহিত সেবন করিবে। কাসী
বেশী থাকিলে ইহার সহিত একটু পিপুলের গুড়া মিশাইয়া
লইবে। পরে ছাগ-দুগ্ধ পান করিবে। বাসকের পাতা,
মূল ও ফুল সহ ধৃত পাক করিয়া উহা রক্তপিত্ত ও যক্ষমা
রােগীকে খাইতে দিলে খুব উপকার হয়। শাস্ত্রীয় “বাসালেহ”
মধুর সহিত চাটিয়া খাওয়াও ভাল। ইহাতে শরীর পুষ্টি হয়
এবং কাসী কমে।
পিপাসা থাকিলে ষড়ঙ্গপানীয় দিবে (৪৬ পৃঃ
দেখ )। অথবা ফলসা বা পাকা যজ্ঞডুমুরের সরবৎ প্রস্তুত
করিয়া দিবে। ডালিম বা আঙ্গুরের রস করিয়া দিলেও
উপকার হয়।
এক ছটাক কিসমিস দুইসের জলে সিদ্ধ করিয়া আধসের
থাকিতে নামাইয়া ছাঁকিয়া লইবে। এই কাথে পুরাতন ধানের
রোগ ও পথ্য
খৈ-চূর্ণ ৪ তােলা, মিছরী ২ ভােলা ও মধু ১ তােলা মিশাইয়া
সেবন করিলে পিপাসা দূর হয়। ইহা পুষ্টিকর, তৃপ্তিপ্রদ
ও রক্তপিত্তনাশক।
কিসমিসের পরিবর্তে পিণ্ড খেজুর, যষ্টিমধু বা ফর্সা
দেওয়া চলে। অথবা এই চারিটি দ্রব্য মিলিত করিয়া কাথ
প্রস্তুত করাও চলে।
পথ্য।একবেলা ভাত ও একবেলা রুটী বা লুচি। মুগ,
মসুর, অড়হড় বা ছােলার ডাল।
তরকারীর মধ্যে—পটল, ডুমুর, মােচা, কঁচকলা, ঘােড়,
লাউ, পুরাণ দেশী কুমড়া, কচি ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মানকচু, উচ্ছে,
পা, ব্রাহ্মী ও নটে শাক এবং তেলাকুচা। সামান্য আলু
দেওয়া চলে। অম্লের মধ্যে পাতি বা কাগজি নেবু ও কয়ে-
বেলের চাটনি।
এই রােগে যজ্ঞডুমুরের ঘূতপক্ক তরকারি বিশেষ উপকারী।
সকল প্রকার তরকারী সরিষার তৈলে পাক না করিয়া বৃত
ও সৈন্ধব লবণ সংযােগে পাক করা উচিত।
মাংসের মধ্যে ছাগ, মেষ, হরিণ, পায়রা, ঘুঘু, বটের,
শশক, বক ও হরিয়াল পাখীর মাংস।
মৎস্যের মধ্যে—চিংড়ী ও বাণ মাছ। মাছের ডিম বা
পক্ষার ডিম খুব অল্প পরিমাণে খাইতে পারে।
ফলের মধ্যে—খেজুর, আঙ্গুর, কিসমিস, মনেকা, পাকা
আমলকী, নারিকেল, পানিফল, কেশুর, মিষ্ট দাড়িম ও
অর্শ বেদানা, কচি তালশাঁস, ফর্সা, আখ, পাকা তাল ও ; জলখাবার।-ফল, লুচি, মােহনভােগ, গজা, কুমড়ার মেঠাই ও মাের, শতমূলী ও আমলকীর মােরব্বা, খৈ, চিনি ও মিছরী। রক্তপিও-রােগীর পক্ষে গব্য দুগ্ধ অপেক্ষা ছাগদুগ্ধই প্রশস্ত। উষ্ণ জল খাইবে না জল গরম করিয়া ঠাণ্ডা হইলে খাইবে । কপ্রবাসিত জল ভাল। মাঝে মাঝে অবগাহন স্নান ভাল। অপথ্যা-গুরুপাক, উষ্ণ, ক্ষার ও তীক্ষ্ণবীর্য দ্রব্য, ব্যায়াম, পথ-পৰ্যটন, রৌদ্র সেবন, ধূমপান, অশ্বাদিনে ভ্রমণ, স্ত্রীপ্রসঙ্গ, দধি, গুড়, বেগুন, শিম, রসুন, সর্ষপ, নিম, কলাই- এর ডাল, তিল, মদ্য এবং অতিশয় লবণ ও অম্ল দ্রব্য। অর্শ একপ্রকার মাংসের অঙ্কুর বিশেষ ; মলদ্বারের বলিতে ছােট-বড় মাংসের গাজ, বাহির হইলে তাহাকে অর্শ বলে । ইহা প্রধানতঃ দুই প্রকার--(১) একপ্রকার অর্শে রক্ত পড়ে, ইহাকে রক্তাশ বলে। (২) আর একপ্রকার অর্শে রক্ত পড়ে না, ইহাকে শুদ্ধার্শ বলে। অশে অনেক সময় অসহ যন্ত্রণা হয়।
৬৪
রােগ ও পথ্য
অর্শরােগীর সাধারণতঃ কোষ্ঠকাঠিন্য ও অজীর্ণ হয়। অনেক
সময় মলত্যাগকালীন দারুণ যন্ত্রণা হয়। সুতরাং রােগীর যাহাতে
কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকে, প্রথম হইতেই সে বিষয়ে যত্নবান
হইতে হইবে।
অর্শরােগীর যাহাতে বায়ু সাম্য থাকে, তাহার ব্যবস্থা করা
একান্ত আবশ্যক। সেইজন্য তাহার পক্ষে কোনও রুক্ষ
দ্রব্য কিংবা রাত্রিজাগরণ প্রভৃতি যে সকল কারণে শরীর রুক্ষ
হয়, সেগুলি একেবারে পরিত্যজ্য। লঙ্কার ঝাল বা বেশী
মসলা দিয়া প্রস্তুত ব্যঞ্জনাদি খাইবে না। চা-পান একেবারেই
ভাল নয়।
পথ্য
তরকারীর মধ্যে—অর্শরােগীকে পুরাতন চাউলের
অন্নের সহিত নিমবেগুন, উচ্ছে, পলতার শুক্ত, মুগ, ছােলা বা
কুলথ কলাইএর ডাল, পটোল, ডুমুর, ওল, কচি মূল, কঁচা
পেঁপে, থোড়, কঁকােল, ঠোটে কলা, দেশী কুমড়া, সজিনার
ডাটা, কঁঠালের বীজ, এঁচোড়, চিচিঙ্গা, কচি ঝিঙ্গা, ঢেড়স,
প্রভৃতি খাইতে দিবে। কয়েদবেলের চাটনি ভাল।
শাকের মধ্যে-নটে, বেত, পালঙ, ব্রাহ্মী, শাঞ্চের
শাক, ওলের ডাঁটা, পা, কুমড়ার ডাঁটা, কচিমূলার শাক,
ও মটর-শাক।
ফল।প্রায় সকল রকম ফলই অর্শরােগীর পক্ষে ভাল,
কারণ ইহাতে বায়ু শান্তি হয়।
অর্শ নেবু,কমলা পাকা পেঁপে, আনারস, ডালিম, কিসমিস, মনেকা, খেজুর, আঙ্গুর, আঞ্জির, ( কাবুলী ডুমুর বা ফিগ), পাকা যজ্ঞডুমুর, বাতাবি নেবু, আপেলু, বাদাম, আক্রােট, খােবানী, ছােলা বা মুগ ভিজান, কুমড়ার মিঠাই, শতমূলী, আমলকী ও হরীতকীর মােরব্বা ইত্যাদি জলখাবারের জন্য দিতে পারা যায়। দুধ, বিশেষতঃ ছাগলের দুধ, ঘৃত, মাখম, ধৃতপক্ক যে কোনও দ্রব্য ( অবশ্য গুরুপাক না হয় ), মিছরী ও কৃষ্ণতিল অর্শ- রোগীর পক্ষে খুব ভাল। অর্শরােগে মােল—অতি সুপথ্য। বিশেষতঃ শুষ্কার্শে ইহা পরম উপকারী। প্রত্যহ ঘােলের মাত্রা বাড়াইয়া ভাতের মাত্রা কমাইয়া দিবে ; এইরূপ একমাস করিবে। আবার দ্বিতীয় মাসে অন্নের মাত্রা কিছু কিছু বাড়াইয়া ঘােলের মাত্রা কমাইয়া দিবে। কিন্তু পরে ঘােল একেবারে বন্ধ করিবে । যাহাদের অর্শ আছে তাহারা-রােগ বৃদ্ধি হউক বা না হউক—প্রত্যহ একটু করিয়া ঘােল পান করিবেন। ইহার সহিত একটু সৈন্ধব লবণ ও গােলমরিচের গুড়া মিশাইয়া লইলে ভাল হয়। ইচ্ছা করিলে একটু জীরা ভাজার গুড়াও মিশান চলে। চরক বলেন যে, যে অর্শরােগীর জঠরাগ্নি খুব কম, তাহাকে কেবল তক্র পান করাইবে। (চারিভাগ দধি এক ভাগ জলের সহিত মন্থন করিলে তক্র হয়।) ৫
রােগ ও পথ্য
=
কিংবা খইএর ছাতু তর্জে 'আলােড়িত করিয়া সন্ধ্যার সময়
খাইতে দিবে। বঁহাদের ‘বাতশ্লেষ্মর ধাত, তাহাদের পক্ষে
তক্রের মত উৎকৃষ্ট পথ্য ও ঔষধ আর নাই। তাই চরক
বলিতেছেন
“নাস্তি তক্ৰাৎ পরং কিঞ্চিদৌষধং কফবাতজে ।”
আর বায়ু ও প্রধান অর্শরােগেও শুক্রের ন্যায় উত্তম
ঔষধ আর নাই--
“বাতশ্লেষ্মার্শসাং তাং পরং নাস্তাহ ভেষজম,
( চরক, চিকিৎসা, ১৪ অধ্যায় )
যাঁহাদের বেশী বায়ুর ধাত, তাঁহারা মাখম না তুলিয়া ঘােল
প্রস্তুত করিয়া লইবেন। যাঁহাদের বেশী কফের ধাত তাহারা
মাখম-রহিত গােল ব্যবহার করিবেন। চরক বলেন যে, তক্র
সেবনে একবার অশ প্রশমিত হইলে আর কখনও হয় না।
শুপার্শ-রােগীর পক্ষে মােলের জন্য মহিষের দুধের দধি
প্রশস্ত, রক্তাশে ছাগদধি শ্রেষ্ঠ। নিম্নলিখিত ভাবে দধি প্রস্তুত
করিয়া সেই দধি হইতে প্রস্তুত ঘােল পান করিলে সকল
প্রকার অর্শে উপকার হয়—
চিতাগাছের মূল বাটিয়া একটী মাটীর হাঁড়ির ভিতরদিকটা
লেপ দিবে; পরে সেই হড়ীতে যথারীতি দধি পাতিবে। এই
দধি পাতিবার জন্য ছাগদুগ্ধ ব্যবহার করিলে আরও ভাল হয়।
ওল।ঘােলের ন্যায় ওলও অর্শরােগীর অতি উৎকৃষ্ট
পথ্য। ওলের সময় ওল ভাতে বা ওলের ডানা খাইবে।
•
অর্শ
একটী ভাল ওল লইয়া তাহার উপর মাটীর লেপ দিয়া
শুকাইয়া লইয়া ঘুটের আগুনে পােড়াইবে। পরে সেই সিদ্ধ
ওলে একটু সরিষার তৈল ও সৈন্ধব লবণ মিশাইয়া খাইবে। ইহা
অর্শরােগের একটী উৎকৃষ্ট ঔষধ। নিম্নলিখিতভাবে ওলের
মােক প্রস্তুত করিয়া খাইতে পারিলে খুব ভাল হয়।
ভাল ওল চাকা চাকা করিয়া কাটিয়া রৌদ্রে শুকাইয়া
লইবে। পরে উহা গুড়া করিয়া কাপড়ে ছাঁকিয়া লইবে। এই
ওলচূর্ণ ১৬ তোলা এবং চিতামূল ৮ তােলা, শুঠ ৪ ভােলা ও
গোলমরিচ ২ তােলা ( প্রত্যেকের চূর্ণ) লইয়া দেড় পোয়া
আখের গুড়ের সহিত পাক করিবে। এই মােক প্রতিদিন
প্রাতে এক তােলা মাত্রায় শীতল জল সহ সেবন করিবে।
বিশেষ পথ্য
রার্শে--(১) প্রতিদিন টাটকা মাখম ও মিছরী
অথবা মাখম ও কৃষ্ণতিল খাইবে।
(২) কচি পদ্মপত্র বাটিয়া চিনির সহিত খাইয়া ছাগ-দুগ্ধ
পান করিবে।
(৩) খােসা-ছাড়া কৃষ্ণ তিল ১ তােল। ও আধ তােল। চিনি
এক ছটাক ছাগল-দুধের সহিত সেবন করিবে। ইহাতে
অর্শ হইতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
(৪) চিনির সহিত দাড়িমের রস খাইবে।
(৫) দুই ভােলা শতমূলী বাটিয়া এক পােয় ছাগ-দুগ্ধের
সহিত মিশাইয়া খাইবে।
রােগ ও পথ্য কোষ্ঠবদ্ধতায়—ঘােলের সহিত একটু যােয়ানের গুড়া ও বিট লবণ মিশাইয়া খাইবে। হরীতকীর গুড়া চারি আনা মাত্রায়, গুড়ের সহিত প্রত্যহ খাইলেও কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়। অথঝ ত্রিফলা চূর্ণ ঘােলের সহিত খাইবে । যাহাদের মল ভাঙ্গা ভাঙ্গা হয়—তাহাদিগকে শুল্ক মূলার খৃষ, কুলথকলাইয়ের ঘূষ, কিংবা কয়েতবেল ও বেল- শুঠের সহিত মুগের ডাল সিদ্ধ করিয়া সেই যূষ পান করিতে দিবে। অথবা অন্নের সহিত কচি পাঁঠার যুষ ঈষৎ ধৃত মিশ্রিত করিয়া দিবে। শূল বেদনায়—অর্ধপােয় দাড়িমের রসে দুই আনা যবক্ষারের গুড়া মিশাইয়া পান করিবে। উষ্ণ অবগাহন (Hot bath)—কুলপাতা বা বেলপাতা দিয়া জল সিদ্ধ করিয়া সেই উষ্ণ জলে কোমর পর্যন্ত ডুবাইয়া বসিয়া থাকিবে। মাংস—অর্শরােগীর বেশী মাছ-মাংস খাওয়া উচিত নয়। তাহার পক্ষে ময়ূর, তিতির, কুক্কুট ও বটের পাখীর মাংস ভাল। এই সমস্ত মাংস থুড়িয়া যূষ বাহির করিয়া সেই মাংস-রসে টক্ দই মিশাইয়া ঘৃতাদি দ্বারা সুসংস্কৃত করিয়া পান করিবে। ইহার দ্বারা মল ও বায়ুর বিবদ্ধতা নষ্ট হইবে। অপথ্য—পূর্বেই বলিয়াছি যে অর্শ রােগীর কোনরূপ রুক্ষ দ্রব্য সেবন করা উচিত নহে। অধিক জলপান,
ডায়াবিটিস
যানাদিতে অধিক গমন (বেশী ঘােড়ায় চড়া বা সাইকেল-চড়া)
ও উচু হইয়া বসা নিষেধ। মৎস্য ত্যাগ করাই ভাল।
বাঙ্গালীর মাছ ভিন্ন চলে না; তাই মৌরলা প্রভৃতি ছােট
টাটকা মাছ অতি অল্প পরিমাণে দিবে। অর্শরােগে ঘােল পথ্য ;
কিন্তু দধি অপথ্য। পাকা আম ও পাকা বেল বেশী খাইবে
। বাঁশের কেঁড়, মাষকলাই, লাউ, শালুক ও যে সকল
আহার করিলে পেট ভার করে সেগুলি নিষিদ্ধ।
ডায়াবিটি
-oo
আজকাল বাঙ্গালী ধনী লােকদিগের মধ্যে অনেকেই
বহুমূত্র বা ডায়াবিটিস্ রােগে ভুগিয় থাকেন। বিশেষত
যাঁহাদের অত্যধিক মানসিক পরিশ্রম করিতে হয় অথচ
শারীরিক পরিশ্রম নাই বলিলেই চলে, তাঁহারা প্রায় ৪৫ বৎসর
পার হইলেই কিংবা তাহার পূর্বেই এই রােগে আক্রান্ত
হন। আবার যাঁহাদের কায়িক বা মানসিক কোন পরিশ্রমই
করিতে হয় না, কেবল “আস্যাসুখং স্বপ্নসুখং”—শুধু বসিয়া বা
শুইয়া থাকা আর দিবানিদ্রা যাওয়াই যাঁহাদের কাজ
তাহাদের যে ডায়াবিটি হইবে তাহাতে কোনও সন্দেহ নাই।
৭০
রােগ ও পথ্য
প্রস্রাবের সহিত শর্করা নির্গত হওয়া, ঘন ঘন মূত্রত্যাগ,
প্রস্রাবের বেগধারণ করিবার কিছুমাত্র ক্ষমতা না থাকা,
শরীরের সাধারণ দুর্বলতা, মাথা টলা বা মাথা খালি খালি
মনে হওয়া, অত্যন্ত পিপাসা, গাত্রদাহ প্রভৃতি লক্ষণ সাধারণতঃ
এই রোগে প্রকাশ পায়।
ডায়াবিটিস প্রমেহ-রােগের অন্তর্ভুক্ত। ইহা একপ্রকার
ক্ষয়-রােগ। ইহাতে শরীরের বিভিন্ন ধাতু প্রস্রাবের সহিত
নির্গত হইয়া যায়।
অনেক সময়ে দেখা যায় যে ডায়াবিটিস
হইতে দারুণ ক্ষয়রােগ-যক্ষমা–দাড়াইয়া গিয়াছে। অতএব
প্রথম হইতেই সতর্ক হওয়া উচিত।
অন্যান্য রােগ অপেক্ষা ডায়াবিটিসে কেবলমাত্র পথ্যের
বিশেষ ব্যবস্থা দ্বারাই চিকিৎসা করা চলে। অবশ্য রােগ
যদি প্রবল হয় তাহা হইলে নিশ্চয়ই ঔষধ সেবনের আবশ্যকতা
আছে। কিন্তু ঔষধের দ্বারা রােগ কমিয়া আসিলে তখন পথ্যের
বিচার করিয়া চলিলে রােগ সম্পূর্ণ নিরাময় হইয়া যায় এবং
পুনরাক্রমণের সম্ভাবনা খুব কমই থাকে।
প্রথম কথা এই যে, ডায়াবিটিস রােগীকে সদাসর্বদা
আয়ুর্বেদের সেই উপদেশটি মনে রাখিতে হইবে,—“উদর
পরিপূর্ণ করিয়া খাইবে না। পেটের এক-তৃতীয়াংশ খালি
রাখিয়া খাইনে।”
মাঝে মাঝে উপবাস দিবে। একাদশী, অমাবস্যা এবং
পূর্ণিমায় উপবাস দেওয়া অভ্যাস করাই ভাল। অবশ্য
ডায়াবিটিস
উপবাস অর্থে নিরস্তু উপবাস নয়। কিছু ফলমূল ও সামান্য
একটু দুধ খাইয়া থাকিবে।
একটু একটু ব্যায়াম করিবে।
সকাল-সন্ধ্যায় মুক্ত
বায়ুতে খানিকটা বেড়াইলেও ব্যায়ামের কাজ হয়। ব্যায়াম
বলিতে যে সকল সময়েই ডন-বৈঠক বা মুগুর ভাঁজা বুঝায়
তাহা নহে।
এইবার কয়েকটি বিশেষ পথ্যের কথা বলিব।
শব।—প্রমেহ-রােগীর পক্ষে যব সর্ব প্রধান খাদ্য।
জাতায় ভাঙ্গিয়া আটা প্রস্তুত করাইয়া তাহার রুটি খাইবে।
ইহার সহিত বন্য পক্ষী ( শিকার করা পাখী), কুকুট, তিতির,
পায়রা, ময়ুর, হরিণ ও খরগােসের মাংস খাওয়া চলে।
ডায়াবিটিস রােগী বেশী মাত্রায় এবং গুরুপাক করিয়া মাংস
খাইবে না। টাটকা শাকসজী এবং মুগ, অড়হড় বা ছােলার
ডালের ঘূষ খাইবে
মধু সহ যবের ছাতু খাইবে। ডায়াবিটিস রােগীর কোনরূপ
“গুড়-বিকৃতি” অর্থাৎ মিষ্টান্নাদি খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু
মধু তাহার পক্ষে খুব ভাল পথ্য।
কলা-কলা গাছের প্রায় সমস্ত অংশই ডায়াবিটিসের
পক্ষে ভাল। পাকা ও কাঁচা কলা, মােচা, থােড় এবং কলার
এঁটে—সমস্তই উপকারী।
কলার রুভ কঁাচা কলা চাকা চাকা করিয়া
কাটিয়া রৌদ্রে শুকাইয়া গুড়া করিয়া লইবে। ইহাই ‘বেনানা-
१२
রােগ ও পথ্য
ফুড'। এই গুড়ার সহিত সামান্য গমের আটা মিশাইয়া
মাখিয়া রুটী প্রস্তুত করিবে। ইহা খুব লঘুপাক এবং
খাইতেও বেশ নরম এবং সুস্বাদু। যাঁহাদের দাত নাই
তাহারা ইহা খাইয়া পরম পরিতৃপ্তি লাভ করিবেন; মুখে
দিলেই মিলাইয়া যাইবে। ডায়াবিটিস রােগীদিগকে কলার
রুটী ব্যবস্থা করিয়া আমি বিশেষ ফল পাইয়াছি।
এই গুড় ঘৃতে ভাজিয়া মােহনভােগের মত করিয়া
খাওয়া চলে। অথবা দুগ্ধের সহিত সিদ্ধ করিয়া ঈষৎ মিছরীর
গুড়া দিয়া বার্লির মত পাক করিয়াও খাওয়া চলে। কিংবা
কেবল কলার গুঁড়া মধু সহ খাইতে পারা যায়।
ডায়াবিটিস-রােগী দুধের সহিত পাকা কলা খাইবে।
অথবা পাকা কলা ১টী, সুপক্ক আমলকীর রস ১ তােলা,
মধু ১ তােলা ও দুগ্ধ এক পােয়া একত্র মিশাইয়া ভক্ষণ
করিবে। ইহাতে বহুমূত্র রােগ উপশম হয়।
কলার মধু।—দুই সের পাকা কলার শাঁস ও আধ
পােয়া সিলেট চূণ বেশ করিয়া চাইয়া একটা শক্ত কাপড়ে
বাঁধিয়া (যেমন ছানা বাঁধিয়া রাখে ) ঝুলাইয়া দিবে। ইহা
হইতে টোপ, টোপ, করিয়া যে রস নীচে পড়িবে তাহাই
কলার মধু। পূর্ববঙ্গের অনেক স্থানে ইহাকে কলার গুড়ও
বলে। উহ! একটা পাত্রে ধরিয়া রাখিবে। এই মধু ছােট
চামচের এক চামচ হইতে দুই চামচ মাত্রায় শীতল জলের
সহিত মিশাইয়া খাইবে।
ডায়াবিটিস
যজ্ঞডুমুর।-যজ্ঞডুমুর ডায়াবিটিস রােগীর অতি উত্তম
খাদ্য ও পথ্য। পাকা যজ্ঞডুমুরের রস একটু মধুর সহিত
খাইবে। অথবা উহার বীজের গুড়া মধু সহ খাইবে কিংবা
এই বীজ চূর্ণের সহিত মিছরী দিয়া সরবৎ প্রস্তুত করিয়া পান
করিবে। ইহাতে তৃষ্ণা দূর হয় এবং প্রস্রাবের সহিত যদি
চিনি যায়, তবে তাহাও দূরীভূত হয়।
যজ্ঞডুমুর চাকা চাকা করিয়া কাটিয়া রৌদ্রে শুকাইয়া
গুড়া করিয়া লইবে। ইহার হালুয়া অতি উপাদেয় খাদ্য।
পাকা যজ্ঞডুমুর দুধের সহিত সিদ্ধ করিয়াও খাওয়া চলে।
যজ্ঞডুমুর সিদ্ধ এবং উহার তরকারী ডায়াবিটিস রােগীর
পক্ষে খুব ভাল। আঞ্জির বা কাবুলী ডুমুর বলিয়া এক
প্রকার বড় ডুমুর ( চাকা চাকা করিয়া কাটা) মেওয়ার
দোকানে পাওয়া যায়। ঐগুলি খাইতে বেশ সুস্বাদু। ইহা
কঁচা খাওয়া চলে। দুধের সহিত সিদ্ধ করিয়া খাইলে
অতি উপাদেয় হয়। ইহা কোষ্ঠ পরিষ্কারক এবং খুব পুষ্টিকর।
ইহাতে বায়ু শান্তি হইয়া বহুমূত্র রােগ প্রশমিত হয়।
জামা-কালজামও ডায়াবিটিস রােগে খুব উপকারী।
জামের বীজ চূর্ণ চার আনা হইতে আধভােলা মাত্রায় একটু
মধুর সহিত নিয়মিতভাবে খাইলে প্রস্রাবের শর্করা কমিয়া
যায়। ডায়াবিটিস রােগে অত্যন্ত পিপাসা থাকিলে জামের
বীজ গুড়া করিয়া তাহার সরবৎ প্রস্তুত করিয়া পান করিবে।
জামের সময় পাকা জাম প্রত্যহ খাওয়া উচিত। পাকা জামের
৭৪
রােগ ও পথ্য
রস ও পাকা আমের রস সমান সমান মাত্রায় মিশাইয়া
খাইলেও উপকার হয়।
আমলকী -যখন টাটকা আমলকী পাওয়া যাইবে,
তখন সেই সুপক্ক আমলকীর রস আধ ছটাক হইতে এক
ছটাক মাত্রায় মধু সহ খাওয়া ভাল। আমলকীর মােরববা
ডায়াবিটিস রােগীর অতি উত্তম পথ্য। তৃষ্ণার সময় আমলকীর
রসে মধু মিশাইয়া এবং ইচ্ছামত কয়েকটা কিসমিস্ দিয়া
খাবে।
শালুক ।-শালুকের ডাঁটা বা পদ্মের ডাটা শাকের
মত রাঁধিয়। খাওয়া ভাল। শালুকের বীজকে ভেট বলে।
ভেটের খই ডায়াবিটিস রােগীর পক্ষে উত্তম পথ্য।
তালমাখনা ঘৃতে ভাজিয়া একটু গােলমরিচের গুড়া
মিশাইয়া খাওয়া ভাল।
তেলাকুচা।-তেলাকুচা পাতার শাক বা বড় এবং
কাচা তেলাকুচা ফল (কুঁরুকি) তরকারি করিয়া খাইবে।
পাকা কুঁরুকি আগুনে সেকিয়া খাইতে পারা যায়।
ইহা ব্যতীত পস্তা, বেতােশাক, পটোল, নরম বেগুন,
কচি মূলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গে, সজিনার ডাটা ও শাক, শালিঞ্চ
শাক, করােলা, কাঁকরােল, পানিফল, কেশুর, আপেল প্রভৃতি
খাইবে।
ডায়াবিটিস রোগে “টনিক-ফুড”—অনেকে প্রাতে
গরম দুধের সহিত নানারূপ বিদেশী টনিক-ফুড খাইয়া
ডায়াবিটিস
৭৫
থাকেন। তাহারা তৎপরিবর্তে নিম্নলিখিত খাদ্যটী প্রস্তুত
করিয়া খাইলে বিশেষ উপকার পাইবেন—
প্রথমে টাকা ভুইকুমড়া চাকা চাকা করিয়া কাটিয়া
রৌদ্রে শুকাইয়া গুড়া করিয়া লইবেন। এই ভূমিকুণ্ড
চূর্ণ এক ছটাক, যষ্টিমধু চূর্ণ এক ছটাক, মাষকলাই চূর্ণ দুই
ছটাক ও চিনি দুই ছটাক একত্র মিশাইয়া কাপড়ে ছাঁকিয়া
একটী শিশিতে ভাল করিয়া ছিপি আঁটিয়া রাখিয়া দিবেন।
এই গুড়া আধ ভােলা হইতে এক তােলা মাত্রায় প্রত্যহ
প্রাতে গরম দুগ্ধ ও মধু সহ খাইবেন।
অপথ্য।যে সকল জিনিষে মেদঃ বৃদ্ধি হয় এরূপ
খাদ্য ডায়াবিটিস রােগে পরিত্যাগ করিবে। সেইজন্য অধিক
ঘৃত ও দুগ্ধ খাওয়া উচিত নহে। দুগ্ধের সহিত উপরি লিখিত
কোনও একটী দ্রব্য ( যথা কলা, আঞ্জির ইত্যাদি) মিশাইয়া
তবে খাওয়া উচিত। অধিক মিষ্টান্ন, নূতন চাউলের অন্ন
এবং দধি খাইবে না। অধিক অম্ল ও লবণ দ্রব্য খাইবে না।
তরকারির মধ্যে শিম, কুমড়া ও লাউ একেবারে পরিত্যাগ
করিবে। মৎস্য খাওয়া উচিত নয়। লঙ্কা বা তৈল প্রভৃতি
দিয়া গুরুপাক করিয়া রন্ধন করা ব্যঞ্জনাদি খাইবে না।
দিবানিদ্রা, ধূমপান, মল-মূত্রের বেগধারণ ও অধিক স্ত্রী-
সহবাস নিষিদ্ধ।
৭৬
রােগ ও পথ্য
সােথ
আহার-বিহারের অত্যাচারের ফলে শরীরের বায়ু প্রকুপিত
হইয়া অনেক সময় রক্তকে দূষিত করে এবং মাংসস্থিত শিরা-
সমূহে প্রবেশ করিয়া ঐগুলির পথ রােধ করে ; তখন বায়ু,
ও রক্ত ঠিকমত চলাচল করিতে না পারায় ঐ স্থান স্ফীত
ও কঠিন হইয়া শােথ উৎপন্ন করে। ইহা সর্বাঙ্গে শরীরের
কোন এক স্থানে হইতে পারে। আবার জ্বর, অতীসার,
গ্রহণী, যক্ষা, পাণ্ডু, উদরী, প্রদর, ভগন্দর ও অর্শ প্রভৃতি
রােগে বহুদিন ভুগিলে এবং প্লীহা-যকৃৎ বৃদ্ধি হইলে সােথ
হয়। কুষ্ঠ এবং অন্যান্য চর্মরােগেও শােথ হইতে পারে।
আজকাল যে ‘বেরিবেরি হয়—তাহাও একপ্রকার সােথ
রােগ।
সকল রােগেই পথ্য পালন বিশেষ আবশ্যক, এ কথা
আমি পূর্বেই বলিয়াছি। শােথরােগে যদি পথ্যের প্রতি
বিশেষ দৃষ্টি রাখা না যায়, তাহা হইলে ইহা দুঃসাধ্য হইয়া
থাকে। নিম্নলিখিত পথ্য পালন করিলে অনেক সময় বিনা
ঔষধেও বােগ আরােগ্য হইয়া থাকে।
পথ্য
প্রথম অবস্থায় একবেলা পুরাতন চাউলের অন্ন
(৩ বৎসরের পুরাণ গদখানি চাউল হইলেই ভাল হয়)
শােথ ৭৭ এবং একবেলা যব বা গমের আটার রুটী। রাত্রে বিশেষ ক্ষুধা না থাকিলে—দুধ-সাবু বা দুধ-খই খাইবে। তরকারির মধ্যে—পটল, কঁচকলা, মােচা, ঘােড়, ডুমুর, কচি বেগুন ও মূলা, লাউ, গাজর, সজিনার ডাটা, ওল, মাণকচু, পেঁয়াজ, রশুন, আদা, কঁকবােল, উচ্ছে ও অন্যান্য তিক্ত দ্রব্য। শাকের মধ্যে—পতা, পুনর্নব, নিমপাতা, বেত, কুল- খাড়া ও কাকমাচী শাক। ডালের মধ্যে—মুগ বা কুলথকলাইয়ের ঝুষ। মাংসের মধ্যে—কুকুট, তিতির, ময়ুর, গােসাপ, ও জাঙ্গল মাংস (হরিণ, খরগােস বা শিকারের পাখীর মাংস) প্রশস্ত। মৎস্য নিষিদ্ধ। শােথয়ােগে লবণ ও জল বন্ধ করিলেই ভাল হয়; কিন্তু যদি ঐ দুইটী বন্ধ করিলে রােগীর বিশেষ কষ্ট হয়, তাহা হইলে অতি অল্প পরিমাণে দিবে। জল সিদ্ধ করিয়া শীতল হইলে পান করিবে। ঝুনা নারিকেলের জল দিতে পারা যায়। অন্য কোন লবণ ব্যবহার না করিয়া সৈন্ধব লবণ (ঈষৎ ভাজিয়া) অতি অল্প পরিমাণে ব্যবহার করিবে। শােথে দধি খাওয়া উচিত নহে, কিন্তু ঘােল দিতে পারা যায়। ছানা ও ছানার জল ভাল। মধু অতি সুপথ্য। রােগের প্রাবল্যে-বােগ যদি প্রবল হয় অর্থাৎ হাত-পা-মুখ সমস্ত ফুলিয়া যায় এবং শশাথে ভুগিয়া হৃৎপিণ্ড দুর্বল হইয়া পড়ে, নিশ্বাস-প্রশ্বাস ফেলিতে কষ্ট হয়, বা
৭৮
রােগ ও পথ্য
হাঁপানি থাকে—তাহা হইলে লবণ-জল একেবারে বন্ধ করিয়া
দিবে। এই অবস্থায় দুধ পরম উপকারী। জুর না থাকিলে
দুইবেলা গরম ভাত দুধের সহিত খাইতে পারে। যদি
ইচ্ছা হয় তাহা হইলে রাত্রে ভাত না খাইয়া একটু মিছরীর
গুড়া দিয়া দুধের সহিত রুটী খাইতে পারে। বিশেষ ক্ষুধা
থাকিলে কেবল মাণদণ্ড অথবা দুধ-খই খাইবে। কোনরূপ
তরকারি খাওয়া চলিবে না। যদি জল খাইবার একান্ত আবশ্যক
হয়,তবে অন্য কোন জল না দিয়া নারিকেলের জল দিবে। স্নান
করিবে না। জলখাবারের জন্য দুইবেলা একটী করিয়া ভাল
সন্দেশ খাইবে ।
শােথরােগীর দাস্ত ও প্রস্রাব যাহাতে সরল থাকে সেদিকে
বিশেষ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। প্রস্রাব সরল করিবার জন্য
কবিরাজী “শ্বেতচূর্ণ” পাথরকুচীপাতার রস
সহ দিনে
দুইবার খাওয়া উচিত। দাস্ত পরিষ্কারের জন্য “পুনর্নবাষ্টক
পাচন” (শ্বেতপুনর্নবা, নিমছাল, পতা, শুঠ, কটকী, গুলঞ্চ,
দারুহরিদ্রা ও হরীতকী—প্রত্যেকটী চারি আনা মাত্রায় লইয়া
আধসের জলে সিদ্ধ করিয়া আধপোয়া থাকিতে নামাইয়া )
প্রত্যহ একবার কিংবা প্রয়ােজন হইলে দুইবার সেবন করিবে।
ইহাতে শােথের বিশেষ উপকার হয়।
শোথ দূর হইবার পরও একমাস কাল লবণ বন্ধ করিয়া
রাখিবে। ক্রমে ক্রমে একটী পটল বা আলু সিদ্ধ এবং লবণ
দিয়া তরকারী প্রস্তুত করিয়া দিবে।
সােথ
শােথে জল হইলে—মুসুরডালের যূষ এবং সজিনার
শাক, ফুল ও ডাটা খাইবে।
পেটে জল হইলে—বিশেষতঃ পেট বায়ুর দ্বারা পূর্ণ থাকিলে
—যােয়ান বাটিয়া পেটের উপর প্রলেপ দিবে।
রােগ পুরাতন হইয়া, যদি ক্ষুধামান্দ্য হয়-
তাহা হইলে নিম্নলিখিতভাবে “বাগ্” প্রস্তুত করিয়া খাইতে
দিবে,--
পিপুল, পিপুলমূল, চৈ, চিতা ও শুঠ—এই পাঁচটী দ্রব্যের
প্রত্যেকটী সিকি ভােলা করিয়া লইয়া /৪ সের জলে সিদ্ধ
করিয়া /২ সের থাকিতে নামাইয়া ছাঁকিয়া লইবে। এই
জলের সহিত এক ছটাক পুরাতন চাউল সিদ্ধ করিয়া লইলে
তণ্ডুলের বাগ্ প্রস্তুত হইল।
চাউলের পরিবর্তে যবের
গুড়া দিয়া যবাগ্ প্রস্তুত করিলে আরও ভাল হয়। ইহা
একাধারে ঔষধ ও পথ্য।
কুলখকলাইএর (কুলতিকলাই ) যুষ, একটু পিপুলচূর্ণ
দিয়া পান করিলেও বিশেষ উপকার হয়।
শােথ-রােগীকে দুধ দিবার পূর্বে একটী পিপুলের সহিত
দুধ সিদ্ধ করিয়া লওয়া উচিত। ইহাতে অগ্নিবৃদ্ধি হয়।
শােথ-রােগীর বেশী পাতলা দাস্ত হইতে থাকিলে—
জীরা ভাজার গুড়ার সহিত মাণমণ্ড খাইবে। অথবা মাণের
গুড়ার সহিত অর্ধেক পরিমাণ মুথার গুড়া মিশাইয়া মণ্ড প্রস্তুত
করিয়া খাইবে।
,
রােগ ও পথ্য
ঘরে দধি পাতিয়া উহার সহিত এক-চতুর্থাংশ জল মিশাইয়া
ঘােল প্রস্তুত করিবে। একটু গােলমরিচের গুড়া, সৌবচ্চল
লবণ ও মধুর সহিত এই ঘােল পান করিলে মল-ভেদে উপকার
হইয়া থাকে।
শােথে মাণকছু
শােথরােগে মাণকচু অতি উৎকৃষ্ট ঔষধ ও পথ্য।
মাণমণ্ড—মাণমণ্ড প্রস্তুত করিতে হইলে মাণকচুর
গুড়া ১ তােলা, পুরাতন আতপ চাউলের গুড়া ২ তােলা, খাঁটি
গাে-দুগ্ধ এক পােয়া, জল এক পােয়া ও মিছরীর গুড়া
প্রয়ােজন মত লইতে হয় । প্রথমতঃ একটী পুরাতন মাণকছু
লম্বাভাবে চিরিয়া কুরুণীর দ্বারা তাহার ভিতরকার শাঁস বাহির
করিয়া কিংবা মাণকচু খুব পাতলা চাকা চাকা করিয়া
কাটিয়া) রৌদ্রে শুকাইয়া লইবে। পরে হামামদিস্তায় গুড়া
করিয়া কাপড়ে ছাঁকিয়া লইলেই মণ্ডের উপযােগী হইল।
মঞ্চের উপযােগী চাউল খুব মিহি ও পুরাতন হওয়া উচিত।
প্রয়ােজন হইলে চাউল হাত-বাছাই করিয়া উত্তমরূপে গুড়া
করিয়া লইতে হইবে।
প্রথমে এক পােয় দুধ জ্বালে চড়াইবে; একটী বলক
উঠিলে তাহাতে মাণকচুর গুড়া দিয়া আস্তে আস্তে নাড়িতে
থাকিবে এবং কিছুক্ষণ পরে এক পােয়া জলে চাউল ও মিছরীর
গুড়া মিশাইয়া পাকপাত্রে ঢালিয়া দিয়া বেশ করিয়া নাড়িতে
সােথ
উঠিবে তখন
থাকিবে। যখন সুজীর পায়সের মত ঘন হইয়া
উহা নামাইয়া লইলেই মাণমণ্ড প্রস্তুত হইল।
ইহা অধিক পরিমাণে করিতে হইলে উপাদানগুলি দ্বিগুণ
বা তিনগুণ করিয়া লইবে।
মাণমণ্ড ছাড়া মাণকচু-ভাতে ও বড়া, মাণকচুর তরকারি ও
ঝোল, মাণকচুর মেঠাই ও হালুয়া প্রভৃতি প্রস্তুত করিয়াও
খাওয়া চলে।
যাঁহাদের প্রায়ই পা ফুলিয়া থাকে, তাহারা নিম্নলিখিতভাবে
ঘৃত প্রস্তুত করিয়া নিয়মিত সেবন করিলে বিশেষ উপকার
পাইবেন—
পুরাতন মাণ (এক বৎসরের অধিক পুরাতন হওয়া উচিত)
চাকা চাকা করিয়া কাটিয়া /১৬ সের জলে সিদ্ধ করিয়া
/৪ সের থাকিতে নামাইবে। পরে /১ সের গব্যঘৃত জ্বালে
চড়াইয়া, ঘৃত গলিয়া গেলে উক্ত মাণের ক্বাথ ঢালিয়া দিবে।
কিছু পরে / • এক পােয়া মাণ একটু জলের সহিত র্থেত
করিয়া উহার সহিত মিশাইয়া নাড়িতে থাকিবে। যখন সমস্ত
জল মরিয়া যাইবে, তখন নামাইয়া ছাঁকিয়া লইবে। এই
ঘৃতকে ‘মাণক ঘৃত’ বলে। এই ঘৃত প্রত্যহ বৈকালে অর্ধ
তােলা হইতে এক ভােলা মাত্রায় ঈষৎ গরম দুধের সহিত
শােথরােগীকে খাইতে দিবে।
এইরূপ ভাবে শ্বেতপুনর্নবার কাথের সহিত ঘৃত পাক
করিয়াও দেওয়া চলে।
রােগ ও পথ্য
শ্বেতপুনর্নব শাকের রস প্রত্যহ প্রাতে ও বৈকালে আধ
ছটাক মাত্রায় খাইলে প্রস্রাব সরল হয় ও শশাথে উপকার
হয়। ইহা শাকের মত ভাজিয়া বা সিদ্ধ করিয়া খাইলেও
উপকার হয়।
আদা।-প্রত্যহ প্রাতে পুরাতন গুড় ও আদা সমান
সমান লইয়া খাইবে। প্রথমে আধভােলা (গুড়। আনা, আদা
• আনা) হইতে আরম্ভ করিয়া ক্রমশঃ মাত্রা বৃদ্ধি করিয়া
২ তলা পর্যন্ত করিবে। এইরূপ এক মাস খাইবে। ইহা
খাইবার ২৩ ঘণ্টা পরে দুধ-ভাত, কিংবা মাংসের ফুষের
সহিত
অন্ন পথ্য করিবে ।
আদার পরিবর্তে শুঠের গুড়ার সহিত গুড় খাইয়া দুই
তােলা ( এক আউন্স) শ্বেতপুনর্নবার রস খাইলেও শশাথে
বিশেষ উপকার হয়।
উদরীর শােথে গরম দুগ্ধের সহিত আদার রস
মিশ্রিত করিয়া পান করিবে।
বেলপাতা।-বেলপাতার রস শােথরোগে খুব
উপকারী। প্রত্যহ প্রাতে ও বৈকালে এক ছটাক মাত্রায়
বেলপাতার রস, একটু গােলমরিচের গুড়ার সহিত খাইবে।
বেরিবেরিতে ইহার দ্বারা প্রত্যক্ষ ফল পাওয়া যায়—ইহা
আমি বহু ক্ষেত্রে দেখিয়াছি।
গােত্র।আজকাল কেহ গােমূত্র পান করিতে চাহে
। কিন্তু সকল প্রকার শােথে গােমূত্র একটী সহজ অথচ
।
শােথ।
৮৩
উৎকৃষ্ট ঔষধ। পথ্য হিসাবে প্রত্যহ একটু করিয়া গােমূত্র
পান করিলে খুব ভাল হয়।
গােমূত্রের জন্য বনা বাছুরের মূত্র সংগ্রহ করিয়া ছাঁকিয়া
লইবে এবং উহা টাকা টাকা পান করিবে। প্রথসে অতি
অল্পমাত্রায় (আধ ছটাক বা এক-ঝিনুক) আরম্ভ করিতে হয় ।
পরে ক্রমশঃ মাত্রা বাড়াইয়া এক ছটাক বা দুই আউন্স পর্যন্ত
করিবে । নাসিকা টিপিয়া খাইলে আর গন্ধের তীব্রতা অনুভব
হয় না। গােমূত্র পানের পর গরম জল বা গরম দুগ্ধ পান
করিবে।
দাস্ত পরিষ্কার না থাকিলে—গােমূত্রের সহিত চারি আনা
মাত্রায় হরীতকী চূর্ণ মিশাইয়া লইবে।
যাহাদের পেটে জল জমিয়া উদরী হইয়াছে, কিংবা
ষৎ ও প্লীহা বড় হইয়া পেট মােটা হইয়াছে, তাহাদের
হাত-পা ফুলিলে-গােমূত্র সেবনে অত্যন্ত উপকার হয়। প্রায়ই
ম্যালেরিয়ায় ভুগিয়া যাহাদের পেটজোড়া প্লীহা হইয়াছে,
তাহাদের পক্ষে গাের্মূত্র পান ও গােমূত্রের সেক খুব ভাল।
শােথে অপথ্য।—দূষিত ও শীতল বায়ু, দূষিত ও
শীতল জল পান, শীতল জলে স্নান, মল-মূত্রাদির বেগধারণ,
নূতন চাউল, লবণ, অদ্রব্য, অধিক মিষ্টান্ন, দধি, উগ্র মদ্য,
দিবানিদ্রা, তিল, শিম, শাক, মৎস্য, জলজ মাংসু, অধিক
পরিশ্রম ও ব্যায়াম, গুরু ও বিরুদ্ধভােজন এবং মৈথুন—এই
গুলি শােথরােগী বজ্জন করিবে।
৮৪
রােগ ও পথ্য
রক্তহীনতা
৩০০-
পূর্বেই বলিয়াছি যে, জ্বর প্রভৃতি রােগে বেশী দিন ভুগিলে
হাত-পা-মুখ ফুলিতে পারে। ইহার কারণ এই যে বহুদিন
রােগে ভুগিলে যকৃৎ ও প্লীহার ক্রিয়া-বিকৃতি ঘটিয়া থাকে এবং
শরীরের রক্তের ভাগ কমিয়া যায়। এইরূপ ক্ষেত্রে, যে যে
রােগে ভুগিয়া রক্তহীনতা হইয়াছে, সেই সেই রােগের পথ্য ও
ঔষধ ছাড়া রােগীকে এমন পথ্যের ব্যবস্থা দেওয়া উচিত
যাহাতে যকৃৎ ও প্লীহার কাৰ্য ভাল হয় এবং শরীরে নূতন
রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। ইহাতে শোথও আপনা আপনি
বিলীন হইয়া যায় ।
সুলেখাড়া ( কাটাকুলে )।-যকৃতের ক্রিয়া ভাল
করিতে ও নূতন রক্তকণিকা সৃষ্টি করিতে কুলেখাড়া (সংস্কৃত
নাম-কোকিলাক্ষ ) অদ্বিতীয়। বহুরােগর উপর কুলেখাড়া
প্রয়ােগ করিয়া দেখা গিয়াছে যে, যকৃতের উপর ইহার যেরূপ
অসাধারণ ক্রিয়া আছে, অতি শীঘ্র রক্তহীনতা দূর করিতেও
ইহার সেইরূপ সমান ক্ষমতা আছে। ইহা বৃষ্য বা শুক্ৰবৰ্ধক
বলিয়া শরীরের যথেষ্ট পুষ্টিসাধক ও কৃশতানাশক। সুন্দর
মূত্রকারক" বলিয়া ইহা শােথেও বিশেষ উপকারী।
কুলেখাড়া শাক-পাতা, ডাঁটা, মূল সমস্ত-জলে সিদ্ধ
করিয়া অথবা ঘৃতে ভাজিয়া খাইলে রক্তহীনতা এবং পাণ্ডু-
রক্তহীনতা
৮৫
৫
কামলা (ন্যাব-jaundice) ও শোথরােগে বিশেষ উপকার
হয়। কুলেখাড়ার শুতানিও ভাল।
কুলেখাড়ার বড়া—মুগের ডালের সহিত কুলেখাড়া পাতা
বাটিয়া পলর বড়ার মত বড় করিয়া খাইলে বেশ মুখরােচক
বেসনের সহিত গুলিয়া ভাজিয়াও খাওয়া চলে।
কুলেখাড়া ভস্ম-মূল-পাতা সমেত সমগ্ৰ গাছ পােড়াইলে
যে ছাই পাওয়া যাইবে, উহা দুই আনা হইতে চারি আনা
মাত্রায় গরম জল বা গােমূত্রের সহিত খাইলে পাণ্ড ও শােথ
বিনষ্ট হয়।
কুলেখাড়া বীজ-খুব পুষ্টিকারক। দুই আনা বীজচূর্ণ
একটু মধু ও গরম দুগ্ধের সহিত খাইলে রক্তহীনতা দূর হয় এবং
শরীরে বলাধান হয়।
ফল।-রক্তহীনতায় ফল অতি উত্তম পথ্য। মিষ্ট ডালিম,
আঙ্গুর ও কমলানেবু খুব ভাল। সুপক্ক বিলাতী বেগুনের রস
একটু চিনির সহিত খাইলে খুব উপকার হয়। শীতকালে
যখন বেশ ভাল আমলকী পাওয়া যায়, তখন তাহার টাকা রস
এক ছটাক মাত্রায় একটু মধুর সহিত খাইলে রক্ত পরিষ্কার
হয় এবং দেহে নূতন রক্ত জন্মায়। আমলকীর মােরব্বাও
ভাল। হজম শক্তি থাকিলে পেস্তা, খােবানি, মনেকা, আখরােট
প্রভৃতি খাইতে পারা যায়। কিন্তু যদি পেটে বায়ু জমে, তাহা
হইলে এগুলি বন্ধ করিয়া দিতে হইবে।
মাছ-মাংস-মৌরলা প্রভৃতি ছােট মাছ, মুরগী ও
৮৬
রােগ ও পথ্য
অন্যান্য ছােট পক্ষীর মাংস এবং পাঁঠার মাংসের যূষ দেওয়া
চলে। যদি হজমের গােলমাল না থাকে তবে অর্ধ সিদ্ধ ডিম
দিতে পারা যায়। পাঁঠার ‘মেটে’ ঘৃতে ভাজিয়া খাইলেও বেশ
উপকার হয় ; কিংবা মেটে থুরিয়া যে টাটকা রস বাহির
হইবে, তাহা ঘৃতে সাঁতলাইয়া একটু এলাচ ও দারুচিনির
গুড়া এবং সৈন্ধব লবণ মিশাইয়া খাইবে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষয় জন্য যাহাদের দেহ পাণ্ড হইয়া গিয়াছে,
তাহাদিগকে পৰ্যাপ্ত পরিমাণে ছাগ-দুগ্ধ ও টাকা ছাগ-রক্ত
খাইতে দিবে। টাকা মাংস-রস ঘৃতে সাঁতলাইয়া দিলেও
ভাল হয়।
রক্তহীনতায় সর্ব প্রধান লক্ষ্য করিবার বিষয়-রােগীর
হজমশক্তি। অগ্নি বৃদ্ধি করিতে না পারিলে, মাংস বা দুগ্ধ
দিলেও কিছুই ফল হইবে না, বরং অপকার হইবে।
খুব লঘু পথ্য দিয়া, ক্রমশঃ অগ্নি-বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আহারের
মাত্রা বাড়াইবে।
অপথ্যা-গুরুপাক দ্রব্য খাইবে না; একবারে অধিক
মাত্রায় খাইবে না। অধিক তৈল বা ঘৃত সংযােগে প্রস্তুত
খাদ্য একেবারে বর্জনীয়। উগ্রবীৰ্য মদ্য বা অন্য নেশার
জিনিষ পরিত্যাগ করিবে।
৮৭
বাত (RHEUMATISM )
গাঁটে গাঁটে বেদনা হইলে ও ফুলিলে, চলিত কথায় উহাকে
“বাত’ বলে। আয়ুর্বেদে এই রোগের নাম ‘আমবাত'। ইহা
সাধারণতঃ অজীর্ণ হইতে উৎপন্ন হয়। আহারের অত্যাচারের
ফলে হজম শক্তি নষ্ট হইলে, খাদ্যদ্রব্য ঠিকমত পরিপাক হয় না
এবং সেইজন্য পেটে এক প্রকার অপক্ক রস জন্মে। এই
অপৰু আহার-রসকে ‘আমরস’ বলে। বায়ু কুপিত হইয়া যখন
ঐ আমরসকে শরীরের চারিদিকে বিক্ষিপ্ত করে, তখন হাত, পা,
মাথা, কোমর, ঘাড় এবং শরীরের অন্যান্য সন্ধিস্থলে বেদনাযুক্ত
শােথ উৎপন্ন হয় ; আর সেই স্থানে বিছার কামড়ের ন্যায়
অত্যন্ত যন্ত্রনা হয়। ইহাতে জুর, অরুচি, দেহ ভার, তৃষ্ণা,
অগ্নিমান্দ্য, কোষ্ঠবদ্ধতা, পেটে বায়ু প্রভৃতি উপসর্গ দেখা
দেয়।
পথ্য-রােগের তরুণ অবস্থায়-প্রথম ২১ দিন লঙ্ঘন
দিবে, কেবল একটু করিয়া জল-বার্লি নেবুর রসের সহিত
খাইবে। পরে, দিবসে পুরাতন চাউলের অন্ন এবং রাত্রে রুটী
খাইবে। যবের রুটী এইবােগে খুব ভাল পথ্য।
পিপুল, পিপুলমূল, চৈ, চিতা ও শুঠ—এই পদচটী দ্রব্য
প্রত্যেকটী আধভােলা করিয়া লইয়া /২ সের জলে সিদ্ধ করিয়া
১ সের থাকিতে নামাইয়া, সেই জলের সহিত যবের গুড়া সিদ্ধ
৮৮
রােগ ও পথ্য
করিয়া বার্লির মত খাইলে বিশেষ উপকার হয়। ইহাতে অগ্নি
বৃদ্ধি হয় এবং আমরসের পাক হইয়া বাতের শান্তি হইয়া
থাকে।
তরকারির মধ্যে-মুগ ও কুলখকলাইএর ডাল, পটল,
ডুমুর, ঘােড়, মাণকচু, উচ্ছে, করােলা, সজিনার ডাটা, এচোড়,
বেগুন, রসুন, আদা, গাঁদাল, নিমপাতা, পা শাঞ্চে,
সুষুনী, পুনর্নব, কুলেখাড়া ও বেতােশাক এবং পুরাতন
তেঁতুলের অম্বল ভাল। জাঙ্গল পশুপক্ষীর মাংসের যূষ সামান্য
পরিমাণে দিতে পারা যায়। সপ্তাহে ২৩ দিন ভাতের সহিত
৩৪ কোয়া রসুন ঘৃতে ভাজিয়া খাইলে উপকার হয়। প্রত্যহ
এক আউন্স করিয়া নেবুর রস একটু মধুর সহিত মিশাইয়া
খাইবে।
নিসিন্দা পাতার রস মধুর সহিত প্রাতে ও বৈকালে খাইতে
পারিলে ভাল হয়।
প্রস্রাব সরল করিবার জন্য—কুলথ কলাইএর মূষ
খাইবে।
জলখাবার—যদি পেটে বেশী বায়ু না জমে, তাহা হইলে
লুচি, মােহনভােগ, গজা প্রভৃতি অল্প পরিমাণে খাইতে পারে।
কিসমিস্, ছােয়ারা, খেজুর প্রভৃতিও সামান্য দিতে পারা যায়।
ঘােল অল্প পরিমাণে খাইবে। প্রথম অবস্থায় দুধ খাইবে না।
যাহাদের দুগ্ধ খাওয়া অভ্যাস তাহারা একটী পিপুল দিয়া অল্প
পরিমাণ দুধ সিদ্ধ করিয়া খাইবে। ধৃত কম খাইবে।
বাত
৮৯
ঈষদুষ্ণ জল খাইলেই ভাল হয়। নচেৎ জল গরম করিয়া
শীতল হইলে খাইবে। উষ্ণ জলে স্নান করিবে। স্নান যত
কম হয়, ততই ভাল। গায়ে একটী মােটা জামা রাখিবে ।
সপ্তাহে একদিন করিয়া রেড়ীর তৈলের জোলাপ লইবে।
আমবাতে রুক্ষ স্বেদ—যথা ফ্লানেল গরম করিয়া সেক অথবা
নূনের পুটলির সেক--দিবে।
সচরাচর ৪০ বৎসরের ঊর্ধেই বাত দেখা দেয়। সুতরাং
এই বয়সে আহার সম্বন্ধে বিশেষ সাবধান হইবে। অতিরিক্ত
ভােজন, বিরুদ্ধ ভােজন, অজীর্ণে ভােজন প্রভৃতি একেবারে
ত্যাগ করিবে। অজীর্ণ রােগে যে সকল সাধারণ আহার-বিধি
ও পথ্যের কথা বলা হইয়াছে সেগুলি বিশেষভাবে মানিয়া
চলিবে।
অপথ্য।—দধি, মৎস্য, গুড়, অধিক মিষ্টান্ন, দুগ্ধ, মদ্য,
পুইশাক, মাষকলাই, পিষ্টক, দূষিত ও শীতল জল এবং গুরু-
পাক দ্রব্য ও যে সকল খাদ্যে অম্ন হয় বা পেটে বায়ু হয়,
সেগুলি ত্যাগ করিবে। হিম লাগান, রাত্রিজাগরণ প্রভৃতি
বর্জন করিবে।
৯০ রােগ ও পথ্য বাতব্যাধি (Diseases of the Nervous System ) sa ? পক্ষাঘাত, ধনুষ্টঙ্কার, শরীরের কোন স্থানে কন্ কন, ঝন্ ঝন্ বেদনা, হাত-পা-ঘাড় প্রভৃতি টানিয়া ধরা, মুখ বা চোয়াল বাঁকিয়া যাওয়া, জিহ্বার জড়তা প্রভৃতি বহু বাতবিকার বাত- ব্যাধির অন্তর্গত। চরকের মতে ৮০ প্রকার বাত-বিকার আছে এবং ভিন্ন ভিন্ন রােগে পথ্যেরও প্রভেদ আছে। সমস্ত বিষয় বিশদভাবে বলা এখানে অসম্ভব। আমি নিম্নে সাধারণ বাত- ব্যাধির পথ্যাপথ্যের কথা বলিতেছি। বায়ুরােগাক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে স্বাদু, অম্ল ও লবণ রসযুক্ত স্নিগ্ধ আহার, তৈলাদি মর্দন ও স্নেহবস্তি-ক্রিয়া ( গ্লিসারিন বা রেড়ীর তৈলের পিচকারী দেওয়া ) প্রভৃতি কর্তব্য। বায়ু শান্তির জন্য তৈলই সর্বোৎকৃষ্ট। গায়ে মাখিবার জন্য তিল তৈল ব্যবহার করা উচিত। শাস্ত্রীয় যে কোনও একটী তৈল মধ্যমনারায়ণ, মহাদশমূল, বিষ্ণু, শ্ৰীগােপাল—প্রভৃতি ব্যবহার করা ভাল। বায়ুরােগে বেশী উপবাস দিবে না। দুগ্ধ ও ঘৃত- বহুল আহার করিবে। দুগ্ধের সহিত শতমূলী, ভুইকুমড়া প্রভৃতি সিদ্ধ করিয়া খাইলে ভাল হয়। পথ্য—দুইবেলা পুরাতন চাউলের অন্ন ; রুই, মাগুর, শিঙ্গি, কই, বাণ, পাবদা ও বেলে মাছ এবং মৌরলা, খলিসা, বাতব্যাধি ; প্রভৃতি ছােট টাটকা মাছের ঝােল ; মাংসের যুষ। পাঁঠার মুড়ি খুব ভাল। ইচ্ছা করিলে রাত্রে লুচি খাওয়া চলে। ডালের মধ্যে-কলাইএর ডাল সর্বাপেক্ষা উত্তম। মাষ- কলাই ও কুলতি কলাইয়ের যুষও দেওয়া যাইতে পারে। তরকারীর মধ্যে—পটল, মাণকচু, দেশী কুমড়া, চিচিঙ্গে, বেগুন, মােচা, ঘােড়, এচোড়, সজিনার শাক ও ডাঁটা, নিম, পতা, গাঁদাল, ঢেড়শ, ঝিঙ্গা ও অল্প আলু এবং পুরাতন তেঁতুলের অম্বল। কঁজি বা “আমানি’ ভাল। জলখাবারের জন্য—সব রকম ফল, ধরােষ্ণ দুগ্ধ, মাখম, দধি, ঘােল এবং লুচি, মােহনভােগ, মিঠাই, গজা প্রভৃতি। পরিপাকের কোনও গােলমাল না হয়—ইহা লক্ষ্য রাখিয়া এইগুলি খাইবে। হরীতকী, আমলকী, শতমূলী, কুমড়া প্রভৃতির মােরব্বা বিশেষ উপকারী। স্নান-প্রত্যহ বেশ করিয়া তৈল মাখিয়া স্নান ও অল্প রৌদ্র-সেবন বাতব্যাধিতে হিতকর। পক্ষাঘাত হইলে-শীতল জলে স্নান না করিয়া উষ্ণ জলে স্নান করা উচিত এবং স্নান কম করা উচিত। মধ্যে মধ্যে উষ্ণ জলে অবগাহন ( Hot bath ) করিলে অথবা বাষ্প- স্বেদ (vapour bath) লইলে ভাল হয়। ইহার জন্য ভেরেণ্ডার পাতা বা অন্য কোন বাহর দ্রব্য দিয়া জল সিদ্ধ করিয়া সেই জল বা উহার বাষ্প ব্যবহার করা উচিত। অপথ্য।মুগ ও ছােলার ডাল, যব, শিম, বরবটী, ৯২ রােগ ও পথ্য করােল, অধিক কষায়, তিক্ত ও ঝাল দ্রব্য, যজ্ঞডুমুর এবং লাউ, কুমড়া প্রভৃতির ডাটা ও পত্র। ফলের মধ্যে-জাম, কেশুর, তালশাঁস ও সুপারী ত্যাগ করিবে। পান খাওয়া ভাল, কিন্তু সুপারী না দিয়া পান সাজিতে হইবে। চিন্তা, শােক, ক্রোধ, মদ্য, রাত্রিজাগরণ, অধিক পরিশ্রম ও স্ত্রীসহবাস এবং অধিক পথভ্রমণ ত্যাগ করিবে। মূত্রকৃচ্ছ, ও মূত্রাঘাত মুত্রাদির বেগধারণ ও রুক্ষ ভোজনাদির দ্বারা শরীরের বায়ু, পিত্ত ও কফ কুপিত হইয়া মূত্রকৃচ্ছ, ও মুত্রাঘাত রােগ উৎপাদন করে। অশ্মরী বা পাথুরী রােগের সর্বপ্রধান লক্ষণ-মূত্র- কৃচ্ছ তা। গণােরিয়ার প্রথম অবস্থায় বিশেষভাবে মূত্রকৃচ্ছতা দেখা দেয়। অনেক সময় দেখা যায় যে, বেশীক্ষণ পর্যন্ত টেণে থাকিলে, কিংবা ঘােড়া, সাইকেল প্রভৃতিতে বেশী চড়িলেও মূত্রকৃচ্ছ হয়। মূত্ৰকৃচ্ছে অতি কষ্টে বার বার সামান্য প্রস্রাব হয়। প্রস্রাব করিবার সময় দারুণ যন্ত্রণা হয়। মূত্রাঘাতে প্রস্রাব করিবার সময় তেমন যন্ত্রণা হয় না, কিন্তু ইহাতে মুতের বিবদ্ধতা
;
মূত্রকৃচ্ছ ও মূত্রাঘাত
খুব বেশী থাকে। মূত্রাঘাতরােগে বৃক্কের (kidney) কাজ
ভাল হয় না বলিয়া মূত্র তৈয়ারীই খুব কম হয় ; সুতরাং বস্তিতে
(bladder) মূত্র আসিয়া জমে না। কিন্তু শরীরের বহু ক্লেদ
সাধারণতঃ মূত্রের সহিত নির্গত হইয়া যায়। বৃক্কের ক্রিয়া ভাল
না হওয়ায়, এই সকল দূষিত পদার্থ মূত্রের সহিত বাহির হইতে
পারায় শেষে অনেক সময় রক্তের সহিত মিশ্রিত হইয়া
ঘােরতর ব্যাধির সৃষ্টি করে। অতএব মূত্রাঘাতের প্রারম্ভেই
তাহার প্রতিবধান করিবে। যাহাতে মূত্রনালী (urethra)
ও মূত্রবহ স্রোতঃ সকল ( ureter প্রভৃতি) পরিষ্কার থাকে,
প্রস্রাব সরল হয়, এবং মূত্রের বর্ণ বিশুদ্ধ হয়, এরূপ ঔষধ ও
পথ্যের ব্যবস্থা করিতে হইবে ।
গোক্ষুর।- মূত্রকৃচ্ছ হর দ্রব্যের মধ্যে গােক্ষুর সর্বশ্রেষ্ঠ
ইহাই চরকের মত এবং ইহা বহু পরীক্ষিত। গাের যে কেবল
বস্তিবিশােধক তাহা নহে, ইহা স্রোতােবিশােধকও বটে।
তাহা ছাড়া ইহা বায়ু সরল করে। সেইজন্য মূত্রকৃচ্ছ,
মূত্রাঘাত ও অশ্মরীতে ইহা পরম
উপকারী। গােক্ষুর
আমাদের দেশে খুব সুলভ ; সর্বত্র বাজারে কিনিতে পাওয়া
যায়।
দুই তােলা গােঙ্কুর আধ সের জলে সিদ্ধ করিয়া আধ
পােয়া থাকিতে নামাইয়া ছাঁকিয়া একটু চিনির সহিত খাইবে।
ইহাতে মূত্রকৃচ্ছ তা ভাল হয়।
যদি বেশী যন্ত্রণা ও কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে, তাহা হইলে এই
৯৪
রােগ ও পথ্য
কাথের সহিত দুই আনা যবক্ষারের গুড়া
মিশাইয়া
খাইবে।
গােঙ্কুর ছাড়া, কুলস্থকলাই, পাথরকুচীর পাতা
এবং শতমূলীও বিশেষ উপকারী।
সকালে-বিকালে এক ছটাক করিয়া পাথরকুচীপাতার রস
এক আনা যবক্ষারের গুড়ার সহিত খাইবে। অথবা টাটকা
শতমূলীর রস একটু চিনির সহিত খাইবে। ইহাতে প্রস্রাবের
জ্বালা-যন্ত্রণা দূর হইবে। দুধের সহিত শতমূলী সিদ্ধ করিয়া
খাইলেও উপকার হয়। ইহা খুব পুষ্টিকারক। শতমূলীর
পরিবর্তে ভুইকুমড়া দিলেও বেশ উপকার হয়।
কুলকলাই ভিজান জলের গুণ ‘লিথিয়া ওয়াটারের
(litia water ) ন্যায়। দুই ভােলা কুতি কলাই একটু
কুটিয়া আধ পােয়া গরম জলে ভিজাইয়া দিবে। ৩৪ ঘণ্টা
ভিজিবার পর সেই জল ছাঁকিয়া খাইবে। এইরূপে এক
তােলা কুলতি কলাই ও একতােলা গােঙ্গুর ভিজাইয়া সেই জল
পান করিলে আরও ভাল হয়। ইহা মূত্রকারক এবং ইহাতে
বৃক্কের ক্রিয়া ভাল হয়।
মূত্রাঘাতে-কজি বা আমানি খুব ভাল। প্রত্যহ প্রাতে
এক বাটী আমানি একটু সৈন্ধব লবণ মিশাইয়া খাইবে। ইহার
সহিত কাকুড়ের বীজ চূর্ণ তােলা মিশাইয়া লইলে আরও
ভাল হয়।
মূত্রকৃচ্ছ ও মূত্রাঘাত
৯৫
ছাচি কুমড়ার রস একটু যবক্ষারের গুড়া ও চিনির সহিত
খাইলে মূত্রকৃচ্ছ, মূত্রাঘাত ও পাথুরীতে উপকার হয়।
কাঁচা হলুদের রস একটু চিনির সহিত খাইলে গণােরিয়া
প্রভৃতিতে প্রস্রাবকালিন যে জ্বালা হয়, তাহার শান্তি হইয়া
থাকে ।
দুগ্ধ, দধি ও খােল বিশেষ সুপথ্য। কুড়চির ছাল
গােদুগ্ধে উত্তমরূপে পেষণ করিয়া পান করিলে সুদারুণ মূত্রকৃচ্ছ,
উপশমিত হয়। মূত্রের সহিত রক্ত পড়িলে ইহাতে
বিশেষ উপকার হয়। এ ক্ষেত্রে গােদুগ্ধের পরিবর্তে ছাগদুগ্ধ
দিলে আরও ভাল হয়।
ফলের মধ্যে-শসা খুব ভাল। ডালিম, আঙ্গুর, তালশাস,
তালআঁটীর শাস, পানিফল, কেশুর, নেয়াপাতি ডাবের শাস
ও জল এবং আখ খাওয়া ভাল। আখের রসে প্রস্রাব সরল
হয়। মধ্যে মধ্যে এক গেলাস করিয়া টাটকা আখের রস
খাইলে বৃক্কের ক্রিয়া ভাল হয়।
নারিকেল, তাল ও খেজুর গাছের মাথি ভাল।
তরকারির মধ্যে—পটল, তেঁড়শ, ছাঁচি কুমড়া, ঝিঙ্গে,
চিচিঙ্গে, কুমড়ার ভাটা, পুনর্নবা ও হুড়হুড়ে শাক, বকফুল
ভাজা ও বকফুলের বড়া, কচি বেগুন, মানকচু, ঘােড়, তিক্ত
জলজ শাক এবং অল্প আলু খাইতে পারে।
ডালের মধ্যে -মুগ ও কুলখকলাইএর যূষ।
মাছ বেশী খাইবে না। ছােট টাট্রা মাছ অল্প দেওয়া
রােগ ও পথ্য
যাহতে পারে। মাংসের মধ্যে—কচি ছাগ ও পক্ষীর মাংস
দিতে পারা যায়।
মূত্রকৃচ্ছ ও মূত্রাঘাতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করা
উচিত। জলের সহিত কপূর মিশাইয়া লইলে আরও ভাল
হয়। চিনির সরবৎ প্ৰস্তুত করিয়া তাহাতে একটু শ্বেতচন্দন
ঘষা মিশাইয়া পান করিলে প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা নিবারণ
অপথ্য।অধিক অম্ল ও কষায় রস, লবণ,লঙ্কা বা অন্যান্য
উষ্ণবীৰ্য্য ও রুক্ষ দ্রব্য, অধিক মৈথুন ও পরিশ্রম, রাত্রিজাগরণ,
অশ্বাদি যানে গমন, তীক্ষ মদ্য, সর্ষপ, আদা, হিং, খেজুর,
কয়েদুবেল, জাম, শুদ্ধ খাদ্য দ্রব্যাদি, পিষ্টক, পান, তিল এবং
প্রবল বায়ু ও সূর্যকিরণ বর্জন করিবে। কদাচ মলমূত্রাদির
বেগ ধারণ করিবে না। বেশী সুপারি খাইবে না; ইহাতে
পাথুরী জন্মে।
অশ্মরী (পাথুরী)
অশ্মরীরােগে পথ্যাপথ্য মূত্রকৃচ্ছ, ও মূত্রাঘাতের ন্যায়।
ইহাতে বরুণ গাছের কচিপাতার রস ও বরুণ ছালের কাথ
বিশেষ উপকারী।
৩
গণােরিয়া ।
সংসৰ্গদোষে অনেকে গণােরিয়া-রােগে ভুগিয়া থাকে।
ইহা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ব্যাধি। এই রােগে পথ্যের প্রতি
বিশেষ দৃষ্টি না দিলে যন্ত্রণা ও অন্যান্য উপসর্গ ক্রমশঃ বৃদ্ধি
পাইতে থাকে। নিম্নে এই রােগের কয়েকটা বিশেষ পথ্যের
কথা লিখিত হইল।
গণোরিয়ার প্রথম অবস্থায়—অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
পূর্বেই বলিয়াছি যে গণােরিয়ার প্রথম অবস্থায় সর্বপ্রধান
উপসর্গ-মূত্রকৃচ্ছ তা। এই সময় অতিশয় জ্বালা ও যন্ত্রণার
সহিত অল্প অল্প প্রস্রাব হয় এবং প্রস্রাবের সহিত পূয নির্গত
হয়। সেইজন্য ইহাতে এমন পথ্য দিতে হইবে যাহাতে প্রস্রাব
খুব সরল হয়, শরীর স্নিগ্ধ থাকে এবং মেহদোষ দূর হয়।
গণােরিয়া রোগে কোষ্ঠ যাহাতে পরিষ্কার থাকে, তাহার
প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। কারণ অন্ত্রে মল জমিয়া
থাকিলে, মলাশয়ের চাপ মূত্রাশয়ের উপর গিয়া পড়ে ; তাহাতে
যন্ত্রণা আরও বৃদ্ধি পায়।
পথ।—ভাত এই রােগে সুন্দর ব্যবস্থা। ভাত খাইলে
প্রস্রাব অনেকটা সরল থাকে এবং শরীরও বেশ স্নিগ্ধ থাকে।
দুই বেলাই ভাত খাইবে। তবে যাহাদের রাত্রে ভাত খাওয়া
অভ্যাস নহে, তাহারা গব্য ঘৃতে লুচি ভাজিয়া গরম গরম
খাইবে।
৭
রােগ ও পথ্য
তরীতরকারীর মধ্যে-পটল, ডুমুর, থোড় প্রভৃতির
ব্যঞ্জনাদি খাইবে। মাছ-মাংস মােটেই খাইবে না; কেননা
আমিষ খাদ্যে পূয পড়া বাড়ে, প্রস্রাব আরও ‘কমিয়া যায়
এবং শরীর রুক্ষ হইয়া থাকে। মিষ্ট দ্রব্য যত কম খাওয়া
যায়, ততই ভাল।
এই রােগে প্রত্যহ প্রাতে এক পােয়া করিয়া বারােষ্ণ
দুগ্ধের সহিত এক পােয়া শীতল জল মিশাইয়া খাইবে। যদি
পূব খুব বেশী পড়ে ও জ্বালা বেশী থাকে—তাহা হইলে মিছরীর
সহিত আধ তােলা তারবী গদ ভিজাইয়া সেই জল পান
করিবে। ইহা ছাড়া মূত্ৰকচ্ছের পথ্যাপথ্য পালন
করিবে।
হৃদ্রোগ
যে সকল কারণে অজীর্ণ রােগ জন্মে, প্রায় সেই সেই
কারণে হৃদ্রোগও হইতে পারে। নিরন্তর চিন্তাও হৃদ্রোগের
একটী কারণ। আবার পেটে ক্রিমি জন্মিলে অনেক সময়
হৃদ্রোগ হয়।
কুপি বায়ু প্রভৃতি দোষ বসেদেশে উপস্থিত হইয়া তত্রস্থ
রস ও রক্ত ধাতুকে দূষিত করিয়া হৃদয়ে নানা প্রকার বেদনা
উৎপন্ন করিলে তাহাকে হৃদ্রোগ বলে। এই রােগে অনেকদিন
হৃদ্রোগ
ভুগিলে শােথ, অরুচি, অগ্নিমান্দ্য, মুখ দিয়া জল উঠা, গা বমি
বমি, শরীরের অবসাদ, সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তিবােধ ইত্যাদি
উপসর্গ প্রকাশ পায়।
পথ্য।-স্নিগ্ধ, পুষ্টিকর অথচ লঘু আহার হৃদ্রোগে ব্যবস্থা
করা উচিত। যাহাতে পেটে বায়ু জন্মে এরূপ খাদ্য ত্যাগ
করিবে। সাধারণ অজীর্ণের পথ্য পালন করা বিধেয়।
হৃদ্রোগে দুধ, মৃত ও মাখন অতি সুপথ্য। অবশ্য পেটে
বায়ু না জন্মে, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখিতে হইবে। এজন্য প্রয়ােজন
হইলে কোন ‘হজমি’ ঔষধ খাওয়া উচিত।
দুগ্ধের সহিত দুই আনা মাত্রায় অর্জুনছালের গুড়া ও
একটু মধু মিশাইয়া খাইলে ভাল হয়। ইহা রসায়ন, বলকারক
ও বায়ুনাশক।
জাঙ্গল মৃগ-পক্ষীর মাংস-রস ঘৃত-সংযুক্ত করিয়া খাইলে
হৃদ্রোগে উপকার দর্শে।
হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতায়—মধু অতি সুপথ্য।
মধু সহজেই হজম হয় এবং ইহা বেশী পরিমাণে খাইবার
প্রয়ােজন হয় না; সামান্য মাত্রাতে খাইলেই শরীরের যথেষ্ঠ
পুষ্টি সাধন করে। মাংসপেশী সমূহের তেজঃ বৃদ্ধি করিতে
ইহার বিশেষ ক্ষমতা আছে। দেহের সমস্ত মাংসপেশীরই
কিছু না কিছু বিশ্রাম আছে; কেবল হৃৎপিণ্ডের, কোনও
বিশ্রাম নাই, দিবারাত্র অবিরাম উহার কাজ চলিতেছে। এই
নিয়ত-ক্রিয়াশীল হৃৎপিণ্ডকে সবল করিতে মধু বিশেষ কার্যকরী।
;
রােগ ও পথ্য
প্রত্যহ প্রাতে আধ ছটাক ( এক আউন্স) করিয়া মধু
এক গেলাস শীতল জলের সহিত খাইবে। ইহার সহিত
খানিকটা পাতি বা কাগজি নেবুর রস মিশাইয়া লইলে আরও
ভাল হয়। রাত্রে শয়নকালে আবার ঐরূপ মধু খাইবে।
অপথ্য।গুরু, উষ্ণ, কষায়, তিক্ত ও অম্ন দ্রব্য ; মল,
মূত্র, বমি, তৃষ্ণা, শ্বাস, অধােবায়ু, উদগার প্রভৃতির বেগধারণ ;
অধিক ব্যায়াম ও পরিশ্রম এবং স্ত্রীসহবাস প্রভৃতি হৃদ্রোগে
বর্জনীয়।
রক্তের চাপ-বৃদ্ধি
(High Blood Pressure )
;
জলের যেমন একটা চাপ’ ( pressure) আছে, সেইরূপ
আমাদের শরীরে যে রক্ত চলাচল করিতেছে তাহারও একটা
স্বাভাবিক চাপ আছে। অনেক কারণে এই চাপের মাত্রা
বৃদ্ধি পাইয়া থাকে ; তখন উহাকে high blood-pressure
বা রক্তের চাপ-বৃদ্ধি রােগ বলা হয়। আজকাল প্রায়ই এই
‘রাড়-প্রেশার রােগের কথা শুনিতে পাওয়া যায়। ব্লাড়,
প্রেশারের নাম শুনিলেই সাধারণের মনে ভীতির সঞ্চার হয়।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই ভীতি অমূলক।
; রক্তের চাপ-বৃদ্ধি ১০১ অতিরিক্ত আহার বা হীনাহার, অত্যধিক মানসিক চিন্তা, তীক্ষ্ণ ও উগ্রবীৰ্য দ্রব্য সেবন, মল-মূত্রাদির বেগধারণ, অতিরিক্ত ধাতুক্ষয়, রাত্রিজাগরণ প্রভৃতি যে সকল কারণে বায়ু প্রকুপিত হয় সেই সেই কারণে রক্তের চাপও বাড়িতে পারে। সিফিলিস, প্রমেহ ও ডায়াবিটিস এবং মূত্রযন্ত্রের পীড়ায় ভুগিলে অনেক সময় রক্তবহ শিরাগুলির প্রাচীর একটু শক্ত হইয়া যায়; তখন উহার ভিতর দিয়া রক্ত নির্বাধে চলাচল করিতে পারে না। এইরূপ অবস্থাকে arterio-sclerosis বা ‘ শিকাঠিন্য’ বলে। শিরাকাঠিন্যের ফলে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়। অত্যধিক মানসিক চিন্তা বা শারীরিক পরিশ্রম এবং অতিরিক্ত আহার ও মদ্যপানের জন্যও এইরূপ হইতে পারে। আবার বৃদ্ধ বয়সে স্বভাবতই রক্তবাহী নালীগুলির মৃদুভাব (elasticity) নষ্ট হইয়া উহারা কিঞ্চিৎ কঠিন হইয়া পড়ে এবং উহাদের স্বাভাবিক আকুঞ্চন-প্রসারণ শক্তি হ্রাস পায়। বৃদ্ধ বয়সে মানুষের শরীরে বায়ুর ভাগ কিছু বেশী হয়। বায়ু, রুক্ষ ও অত্যন্ত শােষক বলিয়া উহা শীঘ্রই কোনও জিনিষকে শুষ্ক করিয়া দিতে পারে। এইজন্য বৃদ্ধবয়সে স্বভাবতই শিরা- কাঠিন্য হইতে পারে। যাহা হউক, বায়ু-বৃদ্ধির জন্যই যে রক্তের চাপ বৃদ্ধি হয়, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই। অতিরিক্ত আহার ইহার একটী প্রধান কারণ। সেইজন্য এই রােগে, বিশেষতঃ বুড়া
১০২
;
রােগ ও পথ্য
বয়সে, আয়ুর্বেদের সেই মহাবাক্য—“পেটের এক-তৃতীয়াংশ
খালি রাখিয়া খাইবে”-বর্ণে বর্ণে পালন করিয়া চলিবে।
তাই বলিয়া আহার একেবারে বন্ধ করিয়া দেওয়া উচিত নয় ।
ব্লাড প্রেশার রােগীর বায়ু অত্যন্ত উগ্র হইয়া থাকে। উপবাসে
বায়ু বাড়ে; সুতরাং রক্তের চাপবৃদ্ধিতে সম্পূর্ণ উপবাস দেওয়া
কোন মতেই উচিত নয়,লঘু পথ্যের ব্যবস্থা করিবে। অতি-
রিক্ত লঙঘন-আয়ুর্বেদে যাহাকে বলে লঙ্ঘনের অতিযােগ
—তাহার ফলে শরীরের উপকার না হইয়া বেশীর ভাগ কুফলই
হইয়া থাকে। অনেক সময় সুস্থ ব্যক্তিও রােগীতে পরিণত হয়।
ব্লাড প্রেশার রােগী সাধারণ আহার-বিধিগুলি মানিয়া
চলিবে। মল-মূত্রের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। মুখ
যাহাতে বিস্বাদ না হয়, জিহ্বা পরিষ্কার থাকে এবং ঘাম বন্ধ
হয় তাহাও দেখা উচিত।
পথ্য।—দুগ্ধ, ছানা, সর্বপ্রকার ফল এবং কিছু টাকা
শাক-সজী—ইহাই ব্লাড প্রেশারে সর্বশ্রেষ্ঠ পথ্য। একবেলা
ভাত ও একবেলা দুধ বা দুধ-খই এবং কিছু ফল খাইয়া
থাকিবে। মুগ ও কলাইএর ডাল ভাল। কুলখকলাইএর
যুষে বৃক্কের কাজ ভাল হয় এবং প্রস্রাব পরিষ্কার হইয়া বায়ু
সরল হয়। তরকারীর মধ্যে পটল, ডুমুর, কঁচকলা, ঘােড়
প্রভৃতি খাইবে। শাকের মধ্যে ব্রাহ্মী, সুষুনী ও সজিনার শাক
ভাল। মাছ মাংস খুব কম খাইবে। মাংস ত্যাগ করাই ভাল।
মাছের মধ্যে কই-মাগুর প্রভৃতির ঝােল খাইতে পারে।
রক্তের চাপ-বৃদ্ধি ১০৩ এই রােগে বৃক্ক বা মূত্রযন্ত্রের কাজ ভাল হয় না, সেইজন্য নেবুর রস খাওয়া খুব ভাল। বায়ুনাশক দ্রব্যের সহিত তৈল পাক করিয়া সেই তৈল পান করিতে পারিলে ভাল হয়। কিন্তু ইহা আজকাল কেহ খাইতে চায় না। পরিবর্তে একটী সহজ উপায় হইতেছে—এক কাপ, জলে ১টী বা ২টী নেবুর রস ও একটু গ্লিসারিণ মিশাইয়া খাওয়া। নেবুর রস ছাড়া আঙ্গুর, বেদানা ও কমলানেবুর রস দেওয়া যাইতে পারে। রক্তস্রোতে রক্ত চলাচল ঠিক রাখিবার জন্য এবং হৃৎ- পিণ্ডের ক্রিয়া সবল রাখিবার জন্য মধু সর্বোৎকৃষ্ট-ইহা পূর্বেই বলিয়াছি। হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ক সবল রাখিবার জন্য দুগ্ধের সহিত শতমূলী, ভূঁইকুমড়া, বেড়েলা-মূল প্রভৃতি সিদ্ধ করিয়া খাইবে । টাকা শতমূলীর রস মধুর সহিত খাইলে ব্লাড প্রেশারে উপকার হয়। শতমূলীর মােরও ভাল । স্নান—প্রত্যহ বেশ করিয়া তৈলমর্দন করিয়া স্নান করিবে। গায়ে মাখিবার জন্য তিল তৈলই সর্বোৎকৃষ্ট। নাথায় ফুলেল তৈল মাখিবে। অবগাহন স্নান করিতে পারিলে ভাল হয়। প্রত্যহ নদীতে অবগাহন স্নান করিলে ব্লাড প্রেশারে বিশেষ উপকার হয়। তৈলমর্দন ও স্নানের দ্বারা লােমকূপগুলি পরিষ্কার থাকে এবং বায়ুর শান্তি হয়। মধ্যে মধ্যে গরম জলে পা বেশ করিয়া ধােয়া অর্থাৎ foot-bath লওয়া ভাল। এই সময় ঐ গরম জলে একটু সরিষার গুড়া মিশাইয়া লইবে ।
১০৪
রােগ ও পথ্য
রক্তের চাপ অতিরিক্ত বৃদ্ধি
বৃদ্ধি পাইলে জোঁক বসাইয়া
রক্তমােন করিলে উপকার হয়।
ত্রিফলা।—ব্লাডপ্রেশারে কোষ্ঠ পরিষ্কার থাকা চাই-ই।
এইজন্য ত্রিফলার জল অতীব উপকারী। বহু রােগীর উপর
প্রয়ােগ করিয়া আমি ইহার, উপকারিতা সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ
হইয়াছি। হরীতকী, বহেড়া ও আমলকী—প্রত্যেকটী এগার
আনা করিয়া লইয়া, অথবা ২টী হরিতকী, ৪টী বহেড়া ও ৮ট
আমলকী লইয়া একটু কুটিয়া আধ পােয় জলে রাত্রে ভিজাইয়া
দিবে। পরদিন প্রাতে উহা বেশ করিয়া চটকাইয়া ছাঁকিয়া
সেই জলটুকু খাইবে। এইরূপ ভাবে ৩৪ দিন খাইবার পরও
যদি কোষ্ঠ পরিষ্কার না হয়, তবে হরীতকী আরও ২১টী
বাড়াইয়া দিবে। ইহাতে কেবল যে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়
তাহা নাহ, বায়ুও সরল হয় এবং ব্লাড প্রেশার কমিয়া যায়।
অবশ্য রােগ প্রবল হইলে ইহার সহিত ঔষধ খাইবারও
প্রয়ােজন হয়।
অপথ্য।-মদ্যপান বা অন্য কোনও নেশার জিনিষ
একেবারে বর্জনীয়। চা, তামাক, কফি, কোকো প্রভৃতি
ত্যাগ করিবে। অজীর্ণরােগে যে সকল অপথ্যের কথা বলা
হইয়াছে, ব্লাডপ্রেশার রােগেও সেগুলি অপথ্য। পেটে
যাহাতে বায়ু হয়, এরূপ দ্রব্য খাইবে না। অধিক বায়ু বা
রৌদ্র সেন এবং অধিক পথভ্রমণ ত্যাগ করিবে।
৩
রক্তদুষ্টি । অতিশয় লবণ, ক্ষার ও অম্ল দ্রব্য সেবন অতিরিক্ত মদ্য- পান ; দূষিত এবং তীক্ষ্ণ ও উষ্ণবীৰ্য মদ্যপান ; অধিক পরিমাণে তৈল, মূল, চুবরি আলু, শিম প্রভৃতি খাওয়া; বেশী মাছ-মাংস খাওয়া; পরস্পর সংযােগ-বিরুদ্ধ দ্রব্য এবং পচা দ্রব্য খাওয়া ; গুরু আহার করিয়া দিবানিদ্র যাওয়া ; অতি- ভােজন ও অজীর্ণে ভােজন ; ক্রোধ, রৌদ্র ও অগ্নির উত্তাপ অধিক সেবন; বমির বেগ ধারণ ; যথাকালে স্নান না করা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম—এই সকল কারণে রক্ত দূষিত হইয়! থাকে। শরৎকাল পিও-প্রকোপের সময় ; সেই সময় সহজেই রক্ত দূষিত হইতে পারে। সেইজন্য শরৎকালে পিত্তপ্রশমক দ্রব্য খাওয়া উচিত। রক্ত দূষিত হইলে রক্ত-বিকৃতি জনিত নানাপ্রকার রােগ উৎপন্ন হইয়া থাকে। যথা—নাসিকা ও মুখের দুর্গন্ধ, গুল্ম, রক্তপিত্ত, রক্তমেহ, প্রদর, দেহের বিবর্ণতা, অগ্নিমান্দ্য ও ও অরুচি, শরীরের দুর্বলতা, মুখ লবণাক্ত হওয়া, মুখে ও গলায় ঘা, উপদংশ, বিসর্প ( Erysipelas), কতরক্ত বা গায়ে চাকা চাকা দাগ, কুষ্ঠ, ঘা-ফোড়া, চুলকানি এবং অন্যান্য চৰ্ম্মরােগ—এই সকল ব্যাধি দূষিত রক্ত হইতে জন্মিয় রােগ ও পথ্য থাকে। অতএব কোন কারণে রক্ত দূষিত হইলে সর্বাগ্রে রক্তদুষ্টির পূর্বোক্ত কারণগুলি বর্জন করিবে। পথ্য -প্রাতে পুরাতন দাদখানি চাউলের ভাত। রাত্রে পুরাতন যব বা গমের রুটী কিংবা লুচি। সহ্য না হইলে খই- ভালের মধ্যে-মুগ, ছােলা ও অড়হড় ডালের যুষ। কলাইএর ডাল খাইবে না। তরকারির মধ্যে-পটল, ডুমুর, মাণকচু, ওল, উচ্ছে, সজিনার ডাটা, এঁচোড়, ঝিঙ্গা, হুঁচি কুমড়া, ঠোটেকলা ও থােড় ভাল। আলু খুব কম খাইবে। শাকের মধ্যে নিমপাতা, পস্তা, সুষুনী, বেত, কর্মী, বেতের ডগা, পুই, কুলেখাড়া, কাকমাচী, হুড়হুড়ে, ব্রাহ্মী, পুনর্নবা ও হেলেঞ্চা শাক উপকারী। প্রত্যহ কোন একটা তিক্ত দ্রব্য খাইবে। তৈলে পাক করা তরকারী ব্যবহার না করিয়া ঘূতপক ব্যঞ্জনাদি খাইবে। ধৃত যত সহ্য হয় ব্যবহার করিবে। মৎস্য ও মাংস খাইবে না। যাহাদের বেশী মাংস খাওয়া অভ্যাস, তাহারা কুকুট বা অন্য ছােট জাঙ্গল পক্ষীর মাংসের যূষ খাতে পারে। জলখাবার—ঘৃত, আটা, সুজি ও অল্প মিষ্ট সংযােগে প্রস্তুত যে কোনও ব্য—যেমন লুচি, মোহনভােগ, গজা, মেঠাই ইত্যাদি। চিনির পরিবর্তে মিছরী দিলে ভাল হয়। হজম
সিফিলিস্
১০৭
হইলে পেস্তা, বাদাম, কিসমিস, খােবানী প্রভৃতি খাইতে
পারে। ফলের মধ্যে-বেদানা, পাকা তাল ও আখ ভাল।
কুমড়ার মেঠাই এবং আমলকী প্রভৃতির মােঝ সুপথ্য।
স্নান—উষ্ণজল শীতল করিয়া স্নান করিবে। স্নানের
পূর্বে সরিষার তৈল গরম করিয়া বেশ করিয়া গায়ে মাখিবে।
‘পারদ-দুষ্ট’ রােগীর স্নান যত কম হয় ততই ভাল।
ছাগলের দুধের সহিত তৈল মিশাইয়া গায়ে মাখিলে ভাল হয়।
মধু মিশ্রিত জলে গা ধুইলে বাতরক্তে উপকার হয়।
সময় পিত্ত প্রকুপিত হইয়া গায়ে চাকা চাকা দাদের মত হয়।
স্নান করিবার পূর্বে মূলা-শাকের রস গায়ে মাখিলে ইহাতে
বিশেষ উপকার হয়।
অপথ্য।—নূতন চাউলের অন্ন, অধিক লবণ ও অম্ল রস,
লঙ্কার ঝাল, কলাইএর ডাল, বিলাতী কুমড়া, লাউ, দধি,
মৎস্য, মদ্যপান, দিবানিদ্রা, রৌদ্র ও অগ্নি সেবন এবং রাত্রি-
জাগরণ—এইগুলি রক্তদুষ্টিতে বজ্জন করিবে।
অনেক
সিফিলিস
সিফিলিস্ আমাদের দেশে পূর্বে বড় একটা দেখা যাইত
না। আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে এই রােগ দেশে ছড়াইয়া
পড়িয়াছে। বিদেশীর সংস্পর্শে আসিয়া ভারতে এই রােগের
১০৮ রােগ ও পথ্য -- প্রথম সৃষ্টি হইয়াছে ; সেইজন্য কেহ কেহ ইহাকে ফিরঙ্গ- রােগও বলিয়া থাকেন। এই রােগ একবার হইলে পুরুষানু- ক্রমে সেই সংসারে বাসা বাঁধিয়া থাকে। কিন্তু প্রথম হইতেই যদি সাবধানতা অবলম্বন করা হয়, তাহা হইলে ইহার সংক্রামতার হস্ত হইতে অব্যাহত থাকিতে পারা যায়। এই রােগ দেখা দিলেই সুচিকিৎসকের আশ্রয় লওয়া উচিত এবং রােগ সারিয়া যাওয়ার পরও তাঁহার উপদেশ মত চলা উচিত। রক্তদুষ্টির জন্য যে সকল পথ্যাপথ্যের কথা উপরে বলা হইল, সিফিলিস রােগেও সেইগুলি পালন করা আবশ্যক। নিম্নে এই রােগের কয়েকটী বিশেষ পথ্যের কথা বলিতেছি। এই রােগে এমন পথ্য পালন করা উচিত যাহাতে রক্তের পরিশুদ্ধি হয় এবং পারদদোষ দূরীভূত হয়। অনন্তমূল।-রক্তদুষ্টি নাশ করিতে, বিশেষতঃ উপদংশের বিষ দূর করিতে—অনন্তমূল বিশেষ কার্যকরী। তাহা ছাড়া ইহা মূত্রকারক ও ক্ষতনাশক বলিয়া সিফিলিসের দূষিত ক্ষতে অতীব উপকারী অনন্তমূলের ক্বাথ বা টাটকা রস নিত্য খাওয়া উচিত। অথবা অনন্তমূল চূর্ণ করিয়া চারি আনা হইতে আধ তােলা মাত্রায় একটু মধু সহ খাইবে। অনন্তমূলের পাতা শাকের মত ভাজিয়া খাওয়াও চলে। সাহারা দুর্বল তাহাদের পক্ষে দুই ভােলা অনন্তমূল, আধ
সিফিলিস
পােয়া গব্য দুগ্ধ ও দেড় পােয়া জল এক সঙ্গে সিদ্ধ করিয়া
আধ পােয়া থাকিতে নামাইয়া ছাঁকিয়া সেবন করা বিশেষ
হিতকর।
ইহা ভিন্ন প্রত্যহ খানিকটা ছােলা ভিজান জল খাওয়া
ভাল। ছােলার শাক ও বেতো শাক এ রােগে খুব সুপথ্য।
কলমীশাকও—এই রােগে বিশেষ হিতকর। পারা-
দোষ’ নিবারণ করিতে ইহার যথেষ্ট ক্ষমতা আছে। প্রত্যহ
দুই ভােলা হইতে চারি ভােলা মাত্রায় টাকা কলমীশাকের
রস বা কৰ্মীশাক সিদ্ধ করিয়া খাইবে। রােগ সারিয়া
যাওয়ার পরও কিছুকাল নিয়মিতভাবে কৰ্মীশাক খাইবে।
কমীশাকের ন্যায় গুলঞ্চের পাতা খাইলেও উপকার হয়।
নিষেধ।—সিফিলিস রােগী কদাচ স্ত্রী-সহবাস করিৰে
। রােগ সম্পূর্ণ সারিয়া যাইবার পরও এক বৎসর স্ত্রী
হইতে বিরত থাকিবে। কারণ ইহা অতীব সংক্রামক ব্যাধি
এবং স্বামী হইতে স্ত্রী ও পরে সন্তানাদিতে বায়।
এই রােগে মাছ-মাংস মােটেই খাইবে না। মিষ্ট দ্রব্য যত
কম খাওয়া যায় ততই ভাল। সিফিলিস রােগীর পক্ষে এক
দিনও রাত্রিজাগরণ করা উচিত নহে।
মরিকা বা বসন্ত
সাধারণ বিধি-বসন্তের প্রথম অবস্থায় যাহাতে
গুটিকাগুলি বেশ ভাল করিয়া বাহির হইয়া যায়, তাহার ব্যবস্থা
করা উচিত। গুটিকাসমূহ নিঃশেষে অর্থাৎ ঝাড়িয়া বাহির
হইলে বিপদের বিশেষ আশঙ্কা থাকে না।
যখনই গায়ে হামের মত কিছু দেখা দিবে, তখনই প্রাতে
ও বৈকালে একবার করিয়া আদার রস ও তুলসীপাতার রস
এক বিনুক করিয়া একত্র মিশাইয়া একটু মধু সহ সেবন করা
কৰ্ত্তব্য। হাম বা বসন্তের প্রথম অবস্থায় ইহা সেবন করিলে
বেশ উপকার হয়—ইহা আমি বহুবার পরীক্ষা করিয়া
দেখিয়াছি। ইহা সর্বাপেক্ষা সহজ, অথচ বিশেষ ফলপ্রদ।
বসন্তরােগে হিঞ্চে শাকের রস, অথবা কলমীশাকের ঝােল
খুব ভাল।
করলাপাতার রসে হরিদ্রা চূর্ণ মিশাইয়া পান করিলে
অথবা শিয়ালকাটা গাছের মূল বাসি জলের সহিত বাটিয়া
খাইলে হাম ও বসন্ত প্রশমিত হয়।
বসন্তরােগে রােগীর অত্যন্ত গাত্রদাহ হইয়া থাকে। এই
গাত্রদাহ নিবারণের জন্য কর্মশাকের রস গায়ে মাখাইলে
বিশেষ উপকার হয়।
চোখের মধ্যেও বসন্ত হইতে পারে ; সুতরাং পূর্ব হইতে
মসূরিকা বা বসন্ত
সাবধান না হইলে চক্ষু নষ্ট হইতে পারে। বসন্ত-রােগীর
চক্ষে শামুকের কোষাভ্যন্তরস্থ জল ঘেঁটা ফোঁটা করিয়া প্রয়ােগ
করিলে চোখের কোন উপদ্রব উপস্থিত হয় না। চোখ
লালবর্ণ হইলেও ইহাতে খুব উপকার হয়। এরূপ অবস্থায়
গুলঞ্চ ও যষ্টিমধু জলে বাটিয়া একটী কাপড়ের পুটলিতে
বাঁধিবে এবং নিঙড়াইয়া সেই জল চক্ষুদ্বয়ে সেচন করিবে।
ইহাতে চোখ ঠাণ্ডা থা৫ে।
বসন্তে নিম অমৃততুল্য-বসন্ত-রােগীর বিছানাপত্রে
নিমপাতা চুড়াইয়া রাখা, নিমের ডালে ব্যজন করা এবং
মধ্যে মধ্যে নিমপাতা শুকিতে দেওয়া হিতকর।
যে ঘরে
রােগী থাকিবে, তাহার দরজা ও জানালায় পাতা-সমেৎ
কয়েকটী নিমের ডাল ঝুলাইয়া দিবে।
বসন্তের গুটিকা শুকাইবার সময় কাঁচা হলুদ বা নিমপাতা
বাটিয়া গায়ে মাখান কর্তব্য।
রােগীর গায়ে সাদা একটা মােনা কাপড় রাখা উচিত।
বাসগৃহখানি প্রশস্ত এবং পরিচ্ছন্ন হওয়া উচিত।
পথ্য।-রােগের প্রথমাবস্থায়—ক্ষুধা অনুসারে দুধ সাবু
বা দুধ-বালি প্রভৃতি লঘু পথ্যের ব্যবস্থা করিবে। চিনির সহিত
খৈ-চূর্ণ বেশ ভাল পথ্য। পরে ক্ষুধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এবং
জরাদির অবস্থা বিবেচনা করিয়া পুরাতন চাউলের ভাত এবং
মুসুর বা মুগের ডালের যুষ পটল, ডুমুর, কচি বেগুন,
সজিনার ডাটা, কাঁচকলা, ঘােড়, উচ্ছে, কাঁকরােল প্রভৃতির
দিবে।
রােগ ও পথ্য
তরকারি এবং নিমপাতা ও নিসিন্দাপা ভাজা খাইতে দিবে।
পায়রার মাংরেস যূষ দিতে পারা যায়। গুটি শুকাইবার পর
ভাতের সহিত ছােট পেঁয়াজ ঘৃতে ভাঙ্গিয়া খাইলে উপকার
হয়। বেদানা, কিসমিস্, আঙ্গুর, কমলালেবু, আনারস প্রভৃতি
ফল সুপ”।
' চক্রদত্ত বলেন যে, বসন্তের পরিপক্ক গুটীকা বায়ুর দ্বারা
শুষ্ক হইতে থাকে, অতএব তৎকালে শােষক আহার না
দিয়া, পুষ্টিকর আহারের ব্যবস্থা করাই যুক্তিসঙ্গত। এই
সময়ে ঘৃতপ আহার বিশেষ উপকারী ।
অপথ্য।--মৎস্য, মাংস ও ডিম এবং উষ্ণবীৰ্য ও গুরু-
পাক দ্রব্য ভােজন, শিম, শাক, তৈলমর্দন ও শীতল বায়ু
সেবন—এই রোগে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ।
প্রতিষেধক বিধি ।—(১) গোঁড়ামি ত্যাগ করিয়া
টীকা লইবে। যাঁহারা একবার টীকা লইয়াছেন, প্রতি বৎসর
আর একবার করিয়া টীকা লওয়া তাহাদের অবশ্য কর্ত্তব্য।
পাশ্চাত্য মতে ইহাই বসন্তের সর্বোৎকৃষ্ট এবং একমাত্র
প্রতিষেধক বলিয়া উক্ত হয়।
(২) কঁচা কণ্টকারীর মূল দুই আনা ও গােলমরিচ দুই
আনা একত্র শীতল জলে বাটিয়া সপ্তাহে দুইদিন করিয়া এক
মাস কাল প্রাতঃকালে সেবন করিলে বসন্ত রােগ হয় না।
ইহা বহু পরীক্ষিত। ছােট ছেলেমেয়েদের জন্য মাত্রা বিবেচনা
করিয়া কম করিয়া লইবে।
নেত্ররােগ
(৩) বসন্তের প্রাদুর্ভাব হইলে প্রত্যহ বীজ সহিত উচ্ছে
ভাতে খাওয়া হিতকর। করলা দ্বতে ভাজিয়া একটু সৈন্ধব
লবণ সহ খাইলে আরও ভাল হয়।
বসন্তের সময় পা ও নিমপাতা বা নিসিন্দাপাতা ভাজা
খাওয়া খুব 'ল। শাকের মধ্যে-পাট, হেঞ্চা, নাস্তা ও
ব্রাহ্মী শাক ভাল । মধ্যে মধ্যে হেঞ্চা শাকের টাটকা রস
খাইলে বিশেষ উপকার হয়। ইহার সহিত একটু সাদাচন্দন
ঘষা মিশাইয়া লইলে আরও ভাল হয়।
নেত্ররােগ
আজকাল বাঙ্গালী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চোখের অসুখ
খুব বেশী দেখিতে পাওয়া যায়। পূর্বে চল্লিশের উর্দ্ধে লােকে
চশমা ব্যবহার করিত। এখন কিন্তু বহু যুবক-যুবতীর চোখে-
চশমা। এত শীঘ্র চোখ খারাপ কেন হয়, সে সম্বন্ধে কোন
আলােচনা করিব না। এখানে কেবল চক্ষুরোগের কয়েকটা
পথ্য সম্বন্ধে সামান্য কিছু বলিব।
চক্ষুরােগে দুগ্ধ, ধৃত ও মাখম সর্বোৎকৃষ্ট
পথ্য। মাছ খুব কম খাইবে। কুকুট ও ময়ূয়ের মাংস
হিতকর। পাঁঠার ‘মেটে’ ভাল। গুগলির ঝােল চোখের
৮
১১৪
রােগ ও পথ্য
পক্ষে খুব ভাল, ইহাতে চোখের দৃষ্টি বাড়ে। ডালের মধ্যে
মুগ এবং শাকের মধ্যে শাঞ্চে, কাকমাচী ও পুনর্নবা এবং
গর্ভমােচা ভাল। ফলের মধ্যে সুমিষ্ট পাকা আম, পাকা কলা
ও আঙ্গুর অতি উত্তম পথ্য।
ত্রিফলা-চক্ষুরোগে বিশেষ উপকারী। হরীতকী,
অমলকী ও বহেড়া প্রত্যেকটী // পাঁচ ছটাক করিয়া লইয়া
/৪ সের জলে করিয়া /১ সের থাকিতে নামাইবে। এই
কাথের সহিত ১ সের দুগ্ধ মিশাইয়া /১ সের গব্য ঘৃতের সহিত
পাক করিবে। পাক শেষ হইলে নামাইয়া ছাঁকিয়া রাখিবে ।
প্রত্যহ প্রাতে এই ধৃত আধ তােলা হইতে এক ভােলা মাত্রায়
একটু চিনির সহিত খাইয়া শীতল জল পান করিবে। ইহাতে
সমস্ত রকম ছেরে অসুখে উপকার হয়।
ত্রিফলার গুড়া একটু যষ্টিমধু ও চিনির সহিত খাইলেও
উপকার হয়। আমলকী ভিজান জল খাওয়াও ভলি।
নেত্ররােগে মাঝে মাঝে উপবাস দেওয়া ভাল। আমাদের
দেশে ছােট ছেলেমেয়েদের চোখে কাজল’ দিবার যে প্রথা
আছে, তাহা অতি উত্তম ব্যবস্থা। ছেলে-বুড়াে সকলেরই
মাঝে মাঝে কাজল লওয়া উচিত। ইহাতে দৃষ্টি শক্তি ভাল
থাকে।
অপথ্য—উফ, তীক্ষ্ণ ও গুরুপাক দ্রব্য, অধিক অম্ল,
লবণ ও বাসি দ্রব্য, অধিক রাত্রে ভােজন, শাক, দধি, মৎস্য,
জাঙ্গল ভিন্ন অপর মাংস, তরমুজ, পান, সুপারি, অধিক
প্রদর
রৌদ্র, ধূলি ও ধোয়া লাগান, অতি উজ্জ্বল ও সূক্ষ বস্তু দর্শন,
ক্রোধ, শােক, অশ্রুর বেগধারণ, অধিক স্ত্রীসঙ্গম, অত্যধিক
জল বা তরল দ্রব্য পান এবং অ ধক সুনিচক্ষুর হিতকামী
ব্যক্তি এই গুলি বজ্জন করিবে।
প্রদর
তাহার-বিহারের অত্যাচার এবং আধুনিক বিলাসিতার
ফলে আজকাল আমাদের দেশের মেয়েদের মধ্যে প্রদর, বাধক
এবং অন্যান্য স্ত্রীরােগ খুব বেশী দেখা যায়। মল-মূত্রের
বেগধারণও একটী প্রধান কারণ। তাহা ছাড়া ঋতুকালীন
অনাচারও আছে!, শাস্ত্রের বিধান এই যে, মাসিক ঋতুর
সময় স্ত্রীলােকেরা ব্রহ্মচারিণীর ন্যায় থাকিবে। একবেলা
হবিষ্যান্ন ভােজন করিবে, সকল প্রকার বিলাসিতা ত্যাগ
করিবে, ভূমির উপর কম্বল পাতিয়া শুইবে এবং স্বামীর সহিত
সম্ভাষণ করিবে না। এমন কি সুশ্রত বলেন যে, এ সময়ে
স্ত্রী স্বামীদর্শন পৰ্যন্ত করিবেন না। কিন্তু কয়জন স্ত্রীলােক
আজ এগুলি মানিয়া চলে ? শাস্ত্রের নিয়ম মানিয়া চলে না
বলিয়াই আজ তাহাদের রােগও এত বেশী।
রোগ ও পথ্য
স্ত্রীলােকদিগের মাসে মাসে যে রজঃস্রাব হয় তাহা ৪৫
দিনের বেশী থাকা উচিত নয়। ঐ রজঃ বা অব-রক্ত যদি
পিচ্ছিল, দাহ বা দুর্গন্ধ যুক্ত অথবা নানারূপ বেদনাযুক্ত এবং
অত্যধিক বা অত্যল্প না হয় তাহা হইলে বুঝিতে হইবে যে
ঐ আৰ্ত্তব বিশুদ্ধ। বিশুদ্ধ আর্ত-শােণিতের রঙ, কুঁচের
ন্যায় রক্তবর্ণ। এই রক্ত কাপড়ে লাগিলে ধুইলেই উঠিয়া যায়,
কাপড়ে কোনরূপ দাগ লাগিয়া থাকে না।
রক্তপ্রদর –ঋতুকালে আৰ্তবশােণিত অতিমাত্রায়
নির্গত হইলে অথবা দীর্ঘকাল ব্যাপিয়া থাকিলে, কিংবা
ঋতুকাল ভিন্ন অন্য সময়েও আর্তব নির্গত হইলে বা বিশুদ্ধ
আৰ্ত্তবলক্ষণের বিপরীত লক্ষণাক্রান্ত হইলে তাহাকে ‘অস্দর
বা রক্তপ্রদর বলে। রক্ত প্রদরের পথ্যপিথ্য রক্তপিত্তের ন্যায়।
শ্বেতপ্রদর শ্বেতপ্রদরে স্ত্রীলােকদিগের শুক্লবর্ণের
স্রাব নির্গত হয়। ইহা ঋতুর সময় ছাড়া অন্য সময়েও হয়।
অনেক সময় ‘থকা থকা সাদা এবং দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হয়।
অন্যান্য কারণ ছাড়া কটু ( ঝাল ), অম্ল ও লবণরসাম্বিত এবং
ক্ষারবহুল দ্রব্য সেবন করিলে শ্বেতপ্রদর জন্মে।
প্রদর-রােগী এগুলি বর্জন করিবে।
প্রায়ই দেখা যায় যে প্রদর-রােগীর পিত্ত খুব প্রবল হয় -
চোখ, হাত-পা-গা প্রভৃতি জ্বালা করে, উষ্ণ ও দুর্গন্ধবিশিষ্ট
স্রাব হয়, প্রস্রাব কম হয় এবং প্রস্রাব করিবার সময় জ্বালা
করে। এরূপ ক্ষেত্রে ধনে-পল্তা ভিজান জল অতীব উপকারী।
অতএব
প্রদর ১৭ ধনে-পী- তােল পা (কাঁচা বা শুকনা) ও ১ তােলা ধনে একটু কুটিয়া অধিপােয়া গরম জলে রাত্রে ভিজাইয়া দিবে। পরদিন প্রাতে বেশ করিয়া চটকাইয়া ছাঁকিয়া ঐ জল পান করিবে। ইচ্ছা করিলে ইহার সহিত একটু চিনি বা মিছরী দেওয়া যাইতে পারে। ২৩ মাস নিয়মিতভাবে ইহা সেবন করিলে প্রদর ও বাধক রােগে খুব উপকার হয়। ইহাতে বায় ও পিত্ত শান্তি হয় এবং কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়। স্ত্রীলােক- দিগের ঋতু সম্বন্ধে সামান্য কিছু গােলমাল হইলেই ইহা সেবন করা উচিত। অশােকচ্ছাল।-রক্ত প্রদর, শ্বেতপ্রদর প্রভৃতি রােগে অশােকছাল বিশেষ উপকারী। প্রত্যহ অশােকছালের টাটকা রস একটু চিনির সহিত খাইবে, অথবা ছালের ক্বাথ করিয়া খাইবে। নিয়মিতভাবে তিন-চারি মাস শাস্ত্রীয় ‘অশােকারিষ্ট দুই বেলা খাওয়া খুব ভাল। অশােকছালের সহিত ঘৃত বা দুগ্ধ পাক করিয়া খাইলেও উপকার হয়। পথ্য।-দিবসে পুরাতন চাউলের অন্ন ; মুগ ও ছােলার ডাল ; পটল, ডুমুর, পুরাতন দেশী কুমড়া, ঘােড়, কঁচকলা, মােচা, উচ্ছে, করােলা, কচি মূলা ও বেগুন এবং আলু প্রভৃতির তরকারি ; ছাগ প্রভৃতি মাংসের যূষ। মাছ না খাওয়াই ভাল , যদি দিতে হয় তবে অল্প পরিমাণে ক্ষুদ্র মৎস্যের ঝােল দিবে। তৈলে পাক করা তরকারি ব্যবহার না করিয়া ঘৃতপক্ক ব্যঞ্জনাদি খাইবে। দুধ অল্প খাইবে।
রােগ ও পথ্য
গরম জলে
রাত্রে ক্ষুধা অনুসারে রুটী বা লুচি ও তরকারি এবং ইচ্ছা
হইলে মাংসের ঝুষ। দুই বেলা মাংস খাইবে না। ক্ষুধা না
থাকিলে দুধ-খই।
ফলের মধ্যে খেজুর, দাড়িম, পানিফল, কিসমিস্, আম
ইত্যাদি ভাল।
স্নান সহমত ৩৪ দিন অন্তর করিবে।
স্নান করা উচিত।
জুরাদি উপসর্গ থাকিলে স্নান বন্ধ করিয়া দিবে এবং খুব
লঘু আহারের ব্যবস্থা করিবে।
গর্ভ ছাড়া অন্য কারণে যদি স্ত্রীলােকদিগের রজঃ বন্ধ হয়,
তাহা হইলে মৎস্য, মাষকলাই,
নেবু,
তিল, গােমুত্র এবং দধি ও ঘােল-এই সকল দ্রব্য পান-ভােজনে
ব্যবস্থা করিবে। রজোয়ােধে এহ সকল দ্রব্য এবং স্নিগ্ধ ক্রিয়া।
বিশেষ হিতকর।
অপথ্য।-বেশী অম্ল, লবণ ও ঝাল দ্রব্য, কলাইএর
ডাল, শাক, গুরুপাক দ্রব্য, দধি, বৃহৎ মৎস্য, অধিক দুগ্ধ,
রৌদ্র সেবা, ভারি জিনিষ ভােলা, অধিকবার উচ্চ স্থানে উঠা-
নামা, ঠাণ্ডা লাগান বা বেশী জল ঘাঁটা, রাত্রিজাগরণ,
অধিক পথভ্রমণ ও উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা, এইগুলি প্রদর-রােগী
ত্যাগ করিবে। কদাচ মল-মূত্রের বেগধারণ করিবে না।
কুলখকলাই,
কাজি,
গর্ভিণীর পথ্যাপথ্য গর্ভাবস্থায় স্ত্রীলােকদিগকে বিশেষ সাবধানে থাকা উচিত। এ সময়ে আহার-বিহারে অত্যাচার করিলে গর্ভস্থ শিশু ও গভিণী উভয়েরই বিপদের যথেষ্ট আশঙ্কা আছে। গর্ভাবস্থায় কোন পীড়া হইলে তৎক্ষণাৎ সুচিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করিবে, কোনরূপ অবহেলা করিবে না। পথ্য।—গর্ভিণীকে লঘুপাক অথচ পুষ্টিকর এবং রুচিজনক খাছ আহার করিতে দিবে। পুরাতন চাউলের ভাত, যব বা গমের আটার লুচি, মুগ, ছােলা, কলাই প্রভৃতির ডাল, মৎস্য ও মাংসের ঝােল এবং পটল, ডুমুর, আলু, বেগুন, কঁচকলা, মাণকচু প্রভৃতির তরকারি খাইবে। তরকারিগুলি গুরুপাক করিয়া রাঁধিবে না, যেন পাচ্য হয়। পাকা কলা, কাটাল, আম এবং অন্যান্য সুমিষ্ট ফল খাইবে । আনারস বেশী খাইবে না। কাঁচা আনারস বা যে আনারস ভাল পাকে নাই, তাহা খাইবে না; কারণ কঁচা আনারসে গর্ভনাশ হইতে পারে। কিসমিস্ , পেস্তা, খেজুর প্রভৃতি মেওয়া খাইতে পারে। খৈএর ছাতু চিনির সহিত পাওয়া ভাল। জলখাবারের জন্য সুজীর পায়স, মােহন- ভােগ, গজা এবং শতমূলী, আমলকী প্রভৃতির মােরবব ভাল ।
১২০ রােগ ও পথ্য দুধ, ঘি, মাখম, ঘােল, দধির মাত প্রভৃতি বিশেষ সুপথ্য। গর্ভিণীকে প্রত্যহ একটু করিয়া দুধ-ঘি দেওয়া একান্ত আবশ্যক। সুত বলেন,—গর্ভিণী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসে মধুর, শীতল ও তরল দ্রব্য ভােজন করিবে। তৃতীয় মাসে ভাতের সহিত উপযুক্ত মাত্রায় দুগ্ধ খাইবে। চতুর্থ মাসে দুগ্ধ ও ধৃত দ্বারা প্রস্তুত খাদ্য এবং জাঙ্গল মাংসের সহিত অন্ন তৃপ্তিপূর্বক ভােঙ্গন করিবে। পঞ্চম, ষষ্ঠ প্রভৃতি মাসেও দুগ্ধ, ঘৃত ও মাখম সংসৃষ্ট আহার করিবে। গর্ভের পুষ্টির জন্য দুগ্ধের সহিত যষ্টিমধু, অশ্বগন্ধা, শতমূলী, ভুইকুমড়া, অনন্তমূল প্রভৃতি সিদ্ধ করিয়া সেই দুগ্ধ পান করিতে দিবে। মাছের ডিম অথবা হাঁস বা মুরগীর ডিম গর্ভপুষ্টির জন্য খুব ভাল। যাহাদের বার বার গর্ভ নষ্ট হইয়া যায়, তাহাদিগকে প্রথম হইতে নিয়মিতভাবে ডিম খাইতে দিলে অনেক সময় বেশ ভাল ফল হয়। গর্ভাবস্থায় কোন রকম ডিম না খাওয়ার যে প্রচলিত সংস্কার আছে—তাহা ভুল। নিষেধ ।গভিণী স্ত্রী ক্রোধ ও ভয়জনক বিষয় পরিহার করিয়া সর্বদা আনন্দচিত্তে ও শুচিভাবে থাকিবে। বিকটদর্শন দ্রব্যাদি দেখিবে না ; পচা বা বাসি খাদ্য খাইবে না; গৃহের বাহিরে আঁধিকদূর যাইবে না; একাকী কোথাও যাবে না; জনশূন্য ও শ্মশান প্রভৃতি স্থানে যাইবে না; যানাদিতে গমনা গমন করিবে না। ভার বহন, উচ্চৈঃস্বরে কথপােকথন এবং ;
গর্ভিণীর পথ্যাপথ্য
অধিক পরিশ্রম ও মৈথুন ত্যাগ করিবে। উচু হইয়া বা কঠিন
স্থানে বসিবে না, চিৎ হইয়া শুইবে না। রাত্রিজাগরণ ও দিবা-
নিদ্রা করিবে না। উপবাস দিলে না। উষ্ণ ও গুরুদ্রব্য এবং
মদ্যপান ত্যাগ করিবে। বেশী মাংস খাইবে না।
প্রসবান্তে কর্তব্য। প্রসবের পর কিছুদিন প্রসূতিকে
বিশেষ সাবধানে রাখা আবশ্যক। প্রসবের দিন হইতে তিন
দিন পর্যন্ত কেবল দুধ ও দুধ-সাবু খাইতে দিবে ।
প্রথম দিন
বাদ দিয়া দুধ-ভাত দেওয়া চলে। তিন দিনের পর ভাত ও
সহজপাচ্য তরকারি দিবে। রাত্রে ভাত না দিয়া লুচি দিবে।
আগুনের সেক এবং শুঠ, মরিচ, পিপুল, প্রভৃতি দিয়া জল সিদ্ধ
করিয়া যে ‘ঝাল খাওয়ান’র প্রথা আছে, তাহা বিশেষ
উপকারী। প্রসূতিকে উপযুক্ত পরিমাণে দুধ ও ঘি খাইতে
দেওয়া উচিত। শতমূলী, ভুইকুমড়া প্রভৃতি দিয়া দুধ সিদ্ধ
করিয়া দিলে স্তনের দুগ্ধ বাড়ে। প্রসূতির সাৎ সেতে জায়গায়
থাকা এবং ময়লা কাপড় চোপড়-ব্যবহার করা উচিত নহে।
ময়লা শয্যাদি সর্বদা পরিবর্তন করিয়া দেওয়া একান্ত
আবশ্যক।
সূতিকা।—প্রসবের পর স্বভাবতঃ ৬৭ মাস বা আরও
অধিক কাল ঋতু বন্ধ থাকে। আজকাল নানারূপ বিলাসিতার
ফলে ৩৪ মাস পরেই অনেকের ঋতুদর্শন হয়। প্রসবের পর
পুনরায় ঋতু না হওয়া পর্যন্ত সময়কে ‘সূতিকাক্ষেত্র বলে।
এই সময় আহার-বিহারের অত্যাচারে বায়ু প্রকুপিত হইয়া
১২২
রােগ ও পথ্য
নানারূপ শূলবেদনা উৎপন্ন করে, এবং জ্বর, কম্প, শােথ,
অতিসার প্রভৃতি রােগ দেখা দেয়। এইগুলিকে, বিশেষতঃ
প্রসবের পর জ্বর ও অতিসার হইলে, উহাকে সূতিকারােগ
বলে।
সূতিকারােগে বায়ুনাশক ঔষধ ও পথ্যের ব্যবস্থা করিবে
এবং যে যে রােগ হইবে সেই সেই রােগের পথ্যাপথ্য পালন
করিবে। অজীর্ণ রােগের পথ্যগুলি বিশেষভাবে পালন করা
উচিত।
পরিশিই (ক) (১) হৌল্য ও তাহার প্রতীকার ( উপবাসের উপকারিতা) সামান্য জ্বর বা শরীর খারাপ হইলে লােকে প্রথমেই বলে, ‘লঙ্ঘন দাও”। সেখানে লঙ্ঘন বলিতে সচরাচর উপবাসই বুঝায়। কিন্তু আয়ুর্বেদশাস্ত্রে যেখানে লক্ষনের ব্যবস্থা আছে সেখানে ঘন বলিতে কেবল যে উপবাস বুঝায়, আর কেবল যে জ্বরেই লজ্যন উপকারী তাহা নহে। যাহার দ্বারা শরীরের লঘুতা সম্পাদন হয় তাহাকে লঙ্ঘন বা অপতৰ্পণ বলে। আর যাহা কিছু শরীরের পুষ্টিসাধন করে, তাহার নাম বৃংহণ বা সন্তর্পণ! লঙ্ঘন দ্বারা শরীরের কৃশতা সম্পাদন হয়। ছারা কৃশ শরীর মােটা হয়। এখন কি কি দ্রব্য এবং কি কি কৰ্ম্ম শরীরের লঘুতা সম্পাদন করে দেখা যাউক। বমন, বিরেচন, আস্থাপন (কোন দ্রব্যের ক্কাথ প্রস্তুত করিয়া সেই কাথের ডু দেওয়া ) ও শিয়ােবিরেচন (নস্য লওয়া) এবং পাচন ঔষধ, ব্যায়াম, ক্ষুধা-নিগ্রহ অর্থাৎ উপবাস, তৃষ্ণা-নিগ্রহ এবং বায়ু ও রৌদ্র সেবন—এইগুলি লঙ্ঘন। কারণ ইহাদের দ্বারা দেহ লঘু বা হাল্কা হয়। আমি এখানে বিশেষভাবে উপবাসের কথা বলিব। উপবাস যে স্বাস্থ্যরক্ষার একটি প্রধান সহয়, এ কথা আয়ুৰ্বেদশাস্ত্র- কারগণ বহু পুরাকালেই আমাদের দেশে • প্রচার করিয়া গিয়াছেন।
১২৪ রােগ ও পথ্য হিন্দু ধর্মের অনেক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যকে লক্ষ্য করিয়া। তাই ব্রত-পাৰ্বণ, পূজা-তিথি উপলক্ষে উপবাসের ব্যবস্থা। ইহাই ধর্মশাস্ত্রের নির্দেশ, স্বাস্থ্য কথা না মানিলেও নিষ্ঠাবান হিন্দু এখনও ধর্মকথা মানে। লঙ্ঘনীয় কে ?-যাহারা মেহ, আমদোষ ও অজীর্ণ, জ্বর, প্লীহা-যকৃৎ, উরুস্তম্ভ, কুষ্ঠ, বিসর্প, বিদ্ৰধি (ঘ-ফোড়া), শিরঃপীড়া, কণ্ঠরােগ ও নেত্ররােগ দ্বারা আক্রান্ত এবং যাহারা অতিস্থূল তাহাদের সকল ঋতুতেই মাঝে মাঝে লঘন দেওয়া উচিত। ইহা ভিন্ন অপর সমস্ত রোগীকে অন্য ঋতু বাদ দিয়া হেমন্ত ও শীতকালে লঙ্ঘনের ব্যবস্থা করিব । রোগীদের মধ্যে যাহাৱা অতিস্থূল ও অতি বলবান এবং যাহাদের রােগের বল ও খুব বেশী তাহাৱা বমন-বিরেচন প্রভৃতির দ্বারা লঙ্ঘন দিবে। যাহারা মধ্যবল-বিশিষ্ট তাহাদিগকে পাচন ঔষধ প্রয়ােগ করিবে। এইরূপ ব্যক্তির রােগ যদি খুব প্রবল না হয়, তাহা হইলে ব্যায়াম এবং রৌদ্র ও বায়ু সেবন রূপ লঘন দ্বারাই অনেক সময়ে অতি সহজেই বােগ আরাম হইয়া থাকে। যাহাদের শারীরিক বল খুব কম এবং রােগও অল্পবলবিশিষ্ট তাহার উপবাস করিবে। ইহাই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের কথা। আমাদের দেশের বেশীর ভাগ লােক এখন হীনবল ; সেইজন্য বমন, বিরেচন, অস্থাপন ও নস্য কৰ্ম্ম ক্রমশঃ উঠিয়া যাইতেছে। কারণ এইগুলি লোকে এখন সহ্য করিতে পারে না; সুতরাং এখন উপবাসই একমাত্র লঙ্ঘন হইয়া দাঁড়াইয়াছে। কিন্তু শুধু উপবাসেরও উপকারিতা যথেষ্ট। আয়ুৰ্ব্বেদের উপদেশ বর্ণে বর্ণে পালন করিয়া যদি কেহ সম্পূর্ণ উদরপূৰ্ত্তি না করিয়া এক-তৃতীয়াংশ খালি রাখিয়া খাইত, তাহা হইলে স্থােল্য ১২৫ উপবাসের বিশেষ প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু কয়জন লােক পরিমিতাহারী? প্রয়ােজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণই ত’ আমাদের স্বাস্থ্যভঙ্গের প্রধান কারণ। অত্যধিক আহার করিলে উহা ঠিকমত হজম হয় না। শরীরের যেটুকু প্রয়োজন, খাদ্য হইতে উহা সেইটুকু সার অশ গ্রহণ করে, বাকী অংশ পেটে সঞ্চিত হয়। পরে এই অবশিষ্ট অংশ অন্ত্রের মধ্যে বিকার প্রাপ্ত হইয়া নানারূপ বিষাক্ত পদার্থ উৎপাদন করে। অবশেষে এই বিষাক্ত পদার্থের কিয়দংশ যখন রক্তের সহিত মিলিত হয়, তখন উহা শরীরকে দূষিত করিয়া অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, পেটে যন্ত্রণা, যকৃতের দোষ, শিরঃপীড়া প্রভৃতি নানা রােগ সৃষ্টি করে। ক্রমশঃ বহুমূত্র, বাত প্রভৃতি দেখা দেয় । এই জন্যই আমাদের শাস্ত্র বলিয়াছেন, “অনাত্মবন্তঃ পশুব দুঞ্জতে যেহপ্রমাণতঃ। রােগানীক তে মূলমজীর্ণং প্রাবন্তি হি।” অর্থাৎ যে নির্বোধ ব্যক্তি পশুর ন্যায় অপরিমিত আহার করে, সে সমস্ত রোগের মূল অজীর্ণকে প্রাপ্ত হয়। একাদশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা প্রভৃতি তিথিতে উপবাস দিলে অন্ত্রগুলি সপ্তাহে অন্ততঃ একদিনও বিশ্রাম পায়! মধ্যে মধ্যে বিশ্রাম দিলে পেটে অধিক দোষ সঞ্চিত হইতে পারে না, আর যে দোষ থাকে তাহও ক্রমে ক্রমে নির্গত হইয়া যায় । তবে ভাত এবং মাছ-মাংস বন্ধ করিয়া, পেট ভরিয়া লুচি-তরকারি প্রভৃতি খাইয়া একাদশী বা পুর্ণিমা পালন করিলে উপবাস দেওয়া হইল না। বিধবার ন্যায় নিরন্থ উপবাস না করিলেও, সকালের দিকে একটু একটু গরম জল এবং সন্ধ্যয় ২১টী সন্দেশ ও সামান্য কিছু ফল, খুব জোর একটু দুধ খাইলেই যথেষ্ট। এইরূপ না করিলে উপবাসের কোন ফলই পাওয়া যাইবে না। যাহার রােগ ও পথ্য , ডিসপেপসিয়ায় ভােগেন, তাহারা মাঝে মাঝে এইরূপ উপবাস দিলে বিশেষ উপকার পাইবেন। মেদঃবৃদ্ধি।—মোটা হওয়া একটা পাপ। চলিতে, ফিরতে, উঠিতে, বসতে, শুইতে কিছুতেই অতিস্থূল ব্যক্তির আরাম নাই, একটুতেই ঘঁপাইয়া পড়ে। হাঁপাইয়া পড়ে। চরক আট প্রকার পুরুষকে নিন্দনীয় বলিয়াছে। যথা—অতিদীর্ঘ, অতিহ্রস্ব, অতিশয় লােমযুক্ত, একেবারে লােম-রহিত, অতিশয় গৌবর্ণ, অতিশয় কৃষ্ণবর্ণ, অতিশয় স্কুল এবং অতি কৃশ। কিন্তু অতিস্থাল্য অপেক্ষা অতিকা বরং ভাল । কারণ রােগীকে চেষ্টা করিয়া তবু, মােটা করা চলে ; কিন্তু একবার প্রতি মােটা হইয়া পড়িলে তাহাকে কমান একরূপ অসাধ্য। অতএ মোটা হইবার লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাবধান হওয়া উচি; কিসে সাবধান হইতে হইবে বুঝিতে হইলে, কেন মােটা হয় তা জানা উচিত। স্থেল্যের সেই কারণগুলি প্রথম হইতে বর্জন করিলে স্বাস্থ্য বজায় থাকিবে । লোকে মােটা হইয়া পড়ে কেন, ইহা চরক বেশ চমৎকার ভাবে বলিয়াছেন। প্রথমেই বলিয়াছেন—“অতিসংপূরণ-আহারাৎ' অর্থাৎ গৎেপিণ্ডে খাওয়া; ইহা ছাড়া গুরু, মধুর ও স্নিগ্ধ দ্রব্যের অতি সেবন, ব্যায়াম না করা, দিবানিদ্রা, সর্বদা আমােদপ্রমােদে কালক্ষেপ এবং চিন্তাশূন্যতা—এই কয়েকটি কারণে দেহ অতিশয় স্থূল হইয়া থাকে। এইরূপ আহার-বিহার করিলে শরীরের অন্য কোনও ধাতু বর্ধিত হইয়া কেবল মেদ বা চৰ্বি বাড়ে এবং ক্রমশঃ ভুড়ি গজায়। ভুড়ি কমাইবার সর্বপ্রধান উপায়–লজ্যন। এক্ষেত্রে লঙ্ঘনের মধ্যে ব্যায়াম অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রম নিতান্ত প্রয়ােজন। তবে সৰ্বশ্রেষ্ঠ এবং সহজ উপায়-উপবাস। মাসে উপরি উপরি ৩ দিন স্থৌল্য ১২৭ উপবাস দিবে। সামান্য একটু করিয়া জল ছাড়া আর কিছু খাইবে না। একাদিক্রমে তিন দিনের অধিক উপবাস দিবে না। উপবাস দেওয়া অভ্যাস করিলে, সপ্তাহে একদিন না খাইয়া থাকিলে বিশেষ কোনও কষ্ট হয় না। এইরূপ উপবাস দিবার পূর্বে একটি বিষয় স্মরণ রাখা উচিত, পেটে যেন মল সঞ্চিত না থাকে। পূৰ্ব্বে রেড়ীর তেলের জোলাপ লইয়া কোষ্ঠ পরিষ্কার করিয়া লইলেই ভাল হয় ; কেননা উপবাসের সময় পূৰ্ব্বসঞ্চিত মলের কিছু বিষাক্ত অংশ রক্তের সহিত মিশিতে পারে। আর উপবাসের সময় বেশী পরিশ্রম করাও উচিত নহে। এতক্ষণ উপবাসের উপকারিতার কথা বলিলান। কিন্তু কোন জিনিষেরই ‘অতি’--ভাল নয়। উপবাসেরও একটা সীমা আছে। যখন মল, মূত্র ও অধােবায়ু সহজভাবে প্রবর্তিত হইবে, গাত্র লঘু হইবে, তন্দ্রা ও ক্লান্তি দূর হইবে, হৃদয়ে কোন চাপ বােধ হইবে না, উদগার, কণ্ঠ ও মুখের শুদ্ধি হইবে, ঘৰ্ম্মের উদ্রেক হইবে, অন্নে রুচি জন্মিবে, সম্যকৃভাবে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার উদ্রেক হইবে এবং চিত্ত প্রসন্ন থাকিবে, তখন জানিবে যে লঙ্ঘন যথারীতি পালন করা হইয়াছে। যদি অতিরিক্ত লঙ্ঘন হইয়া থাকে তাহা হইলে সর্বাঙ্গে, বিশেষতঃ গাঁটে গাঁটে বেদনা হয়, মুখ শুকাইয়া যায়, ক্ষুধা কমিয়া যায়, অরুচি, তৃষ্ণা ও কাসী হয়, দর্শন ও শ্রবণ শক্তির হ্রাস হয়, চিত্তচাঞ্চল্য ও বল-হানি হয় এবং বায়ু উপর দিকে ঠেলিয়া উঠে। অতএব শরীর বিশেষ দুর্বল হইয়া পড়ে, এরূপভাবে উপবাস দিবে না। শিশু, বৃদ্ধ, দুব্বল, গর্ভিণী স্ত্রী, ক্ষয়রােগী, কাসরােগী এবং শ্ৰমাৰ্ত্ত ব্যক্তি উপবাস দিবে না। যাহাদের বায়ুর ধাততাহারা বেশী উপবাস দিবে না।
১২৮ রােগ ও পথ্য (২) কৃশতা ও তাহার প্রতীকার রােগ ছেলেকে মােটা করিবার ইচ্ছা সকল মা-বাপেরই হয়; আর সেজন্য তাহারা সকল রকম চেষ্টাও করিয়া থাকেন। মানুষ মাত্রেই মােটা হইতে চায়। কেই বা জীর্ণ-শীর্ণ চিররুগ্ন থাকিতে চায় ? সুগােল, বলিষ্ঠ চেহারা-দেখিতেও সুন্দর, আর দেখিয়া নয়ন-মনও তৃপ্ত এখন প্রথমে দেখা যাক্ যে লােকে—কৃশ হয় কেন ? সাধারণতঃ উপবাস ও অল্পভােজন, সুনিদ্রা না হওয়া অথবা নিদ্রা- নাশ, রুক্ষ দ্রব্যাদি সেবন, সৰ্ব্বদা রােগগ্রস্ত এবং শােক, চিন্তা প্রভৃতি কারণে অতিকৃশতা জন্মে। জরাগ্রস্ত হইতেও মানুষ ক্ষীণ হইয়া পড়ে। তবে বহুদিন রােগে ভুগিয়াই সচরাচর ললাকে রুগ্ন হইয়া পড়ে। অনেকের আবার ‘রােগার ধাত-তাহারা চিরদুর্বল । আবার এমনও দেখা যায় যে, অনেক ছেলেমেয়ে দুইবেলা বেশ খায় অথচ হৃষ্টপুষ্ট হয় না। এরূপ ক্ষেত্রে একটু অনুসন্ধান করিলে দেখা যাইবে যে, হয় তাহাদের ক্রিমি বা যকৃতের দোষ আছে, নচেৎ তাহাদের আহাৰ্য্য দ্রব্য ঠিকভাবে নির্বাচিত হয় না ; কোন না কোন পুষ্টিকর দ্রব্যের অভাব থাকে। বৃংহণ কি ?—যাহা কিছু শরীরের পুষ্টি সাধন ७२९ যাহার দ্বারা শরীরের বৃহত্ত্ব সম্পাদিত হয় অর্থাৎ শরীর মােটা হয় তাই বৃংহণ। বৃংহণের অপর নাম সন্তর্পণ, ইহা পূর্বেই বলিয়াছি। বৃংহণীয় কে ?—যাহার ব্যাধি এবং অতিরিক্ত ঔষধ সেবন, মদ্যপান, স্ত্রীসঙ্গ অথবা শােক দ্বারা কর্শিত দেহ ; যাহার ভারবহনে ও পরিশ্রমে ক্ষীণ ; যাহাদের বায়ুপ্রধান ধাত, এবং যাহারা রুক্ষদেহ, দুৰ্বল, গর্ভিণী, নবপ্রসূতা, বালক বা বৃদ্ধ—তাহাদিগকে বৃংহণ-দ্রব্য দ্বারা তর্পিত করিবে। অন্যান্য ঋতু অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে মানুষ স্বভাবতই বেশী দুর্বল হইয়া পড়ে। সেইজন্য যে সকল ব্যক্তি নিত্য পথ-পৰ্যটন করে এবং যাহারা প্রতিদিন স্ত্রী ও মদ্যসেবা করিয়া থাকে, তাহারা গ্রীষ্মকালে বিশেষভাবে বৃংহণীয়। কৃশতা দূর করিতে এবং চিরদুৰ্বল ব্যক্তির বলাধান করিতে বৃংহণই সৰ্বশ্রেষ্ঠ ঔষধ। যাহারা লােগ এবং অল্প বা হীনাহার (inalnutrition) জন্য ক্ষীণ হইয়া পড়িয়াছে, তাহাদিগকে উপযুক্ত মাত্রায় পুষ্টিকর আহার প্রদান করিলে শীঘ্রই পূর্বের বল ফিরিয়া পায়। কিন্তু যাহারা স্বভাবতঃ কৃশ ও দুর্বল, তাহাদিগকে ধৈৰ্য্যসহকারে বহুদিন ধরিয়া বৃংহণ ঔষধ ও পথ্য সেবন করা উচিত। তাই চরক বলিতেছেন, “সদ্যঃ ক্ষীণে হি সঙ্গে বৈ তর্পণেনেপচীয়তে । নৰ্ত্তে সন্তর্পণাভ্যাসাচ্চিরক্ষীণস্তু পুতি।” -চরক, সূত্রস্থান, ২৩ অধ্যায় অর্থাৎ রােগাদির দ্বারা যে সদ্য ক্ষীণ হইয়াছে, সন্তর্পণ দ্বারা তাহার সদ্যই পুষ্টিলাভ হইয়া থাকে। কিন্তু চিরক্ষীণ ব্যক্তি দীর্ঘকাল সন্তর্পণ অভ্যাস না করিলে কখনই পুষ্টিলাভ করিতে পারে না। বৃংহণ-দ্রব্য :- মাংসের মূষ, দুগ্ধ, ঘৃত, চিনি, স্নান, তৈলাদির দ্বারা গাত্রমর্দন, মুখে নিদ্রা এবং মেহস্তি ( ঘৃত-তৈল প্রভৃতি মিগ্ধ দ্রব্যের ডু)—এইগুলি বৃংহণ কার্যে শ্রেষ্ঠ। বৃষ্য এবং রসায়ন ঔষধ সেবনেও অতিকৃশতা নিবারণ হয় এবং শরীরের পুষ্টি হইয়া থাকে। কোন বিষয়ে অত্যধিক চিন্তা না করিয়া স্নিগ্ধ ও পুষ্টিকর আহার তৃপ্তিপূৰ্ব্বক ভােজন এবং সর্বদা সুখময় নিদ্রাভোগ, এই সকল উপায়ে মানুষ বরাহের ন্যায় পরিপুষ্ট হইয়া থাকে।
রােগ ও পথ্য। গ্রীষ্মকাল ভিন্ন সাধারণতঃ দিবানিদ্রা নিষেধ। কিন্তু অতিকৃশ ব্যক্তি সর্বকালেই দিবানিদ্রা সেবন করিতে পারে। ইহাতে ঐ সকল ব্যক্তির ধাতুসমূহের সমতা হয় এবং তজ্জন্য দেহের বল বৃদ্ধি হইয়া থাকে। কৃশ ব্যক্তি কদাচ অধিক স্ত্রীসঙ্গম ও রাত্রিজাগরণ করিবে না। মাংস শরীর মােটা করিবার জন্য—দেহে মাংস গজাইবার জন্ত-মাংসই সৰ্বশ্রেষ্ঠ। তাই চুরক লবেন, “শরীরবৃংহণে নান্যদাদ্যং মাংসাদিশিষ্যতে”—শরীরের পুষ্টিসাধনে মাংস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বস্তু আর নাই। বাগ ভটেরও তাই মত; তিনি বলেন, ন হি মাংসসমং কিঞ্চিদন্ত দেহবৃহত্ত্বকৃৎ।” যে সকল ব্যক্তি ক্ষয়, গ্ৰহণী ও অর্শ রােগে পীড়িত, তাহাদের শরীরের মাংস বাড়াইবার জন্য মাংসাশী পশুপক্ষীর মাংসই প্রশস্ত । মাংসভােজী প্রাণীদিগের মাংস প্রায়ই লঘু হইয়া থাকে। বৃংহণ-কাৰ্যে যে সকল পশুপক্ষীর মাংস ব্যবহার করিতে হইবে, বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে যেন সেই সকল পশুপক্ষী বিষাক্ত বাণাদির দ্বারা বিদ্ধ বা কোন রােগ-পীড়িত না হয়। যৌবনান্বিত, হৃষ্টপুষ্ট পশুপক্ষীর মাংসই বিশেষ বলকারক। বৃদ্ধ ও ক্ষীণ পশুপক্ষীর মাংস বর্জন করিবে। কৃশ ব্যক্তিকে মাংস দিতে হইলে মাংসের যূষ অথবা মাংসের রস দিবে। মাংস থুরিয়া তাহার টাটকা রস (raw meat-juice) বাহির করিবে; এই রস ধৃতাদির দ্বারা সাঁতলাইয়া খাইতে দিবে। দুগ্ধ ও ধৃত -হারা মাংস খাইতে অভ্যস্ত কোন কারণে মাংস খাইতে অনিচ্ছুক, তাহাদিগকে উপযুক্ত পরিমাণে দুগ্ধ ও ধৃত খাইতে দিবে। দুগ্ধ, ধৃত ও শর্করা সকলেরই পক্ষে উপযােগী ও সকল প্রকার রােগীর পুষ্টিকারক। নহে, কিংবা কৃশতা গাছ-গাছড়ার মধ্যে—অশ্বগন্ধা, শতমূলী, বেড়েল, ভুইকুমড়া, আলকুশী, গােরক্ষচাকুলে, শালপানি, ক্ষীরুই ও বনকাপাস বৃংহণকার্যে শাস্ত্রে অশ্বগন্ধার বিশেষ প্রশংসা করা হইয়াছে। অশ্বগন্ধার মূল ২ ভােলা, এক পােয় দুগ্ধ ও এক পােয়া জলের সহিত সিদ্ধ করিয়া এক পােয় পাকিতে নামাইয়া ছাকিয়া একটু চিনি মিশাইয়া খাইলে খুব উপকার হয়। এইরূপে শতমূলী, ভুইকুমড়া বা বেড়েলার মুল দুধ দিয়া সিদ্ধ করিয়া খাওয়া চলে। শ্বেতবেড়েলার মূল হৃৎপিণ্ডকে সবল করে। শিশুদের কৃশতায় অশ্বগন্ধার মূল চূর্ণ দুই আনা, একটু চিনি ও গরম দুধের সহিত খাইতে দিবে। নব্যবিজ্ঞানের মত এই যে, শরীরের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য ভাইটামিন ‘ডি’ একান্ত আবশ্যক। শিশুদের আহাৰ্য-দ্রব্যে ইহার অভাব হইলে তাহারা পুষ্টিহীন হইয়া পড়ে। দুগ্ধ, ঘৃত, মাখন, ডিমের কুসুম ও মাছের তৈলে ভাইটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে আছে। আর ভাইটামিন ‘ডি’ পাইবার জন্য কিছু কিছু সূর্যের কিরণ গায়ে লাগান উচিত।
(৩) রােগসমূহের ডাক্তারি নামের তালিকা Abscess ( ফোড়া)-ফোড়া হইলে ভাত বন্ধ করিয়া যব বা গমের আটার রুটী খাইবে । রাত্রে বিশেষ ক্ষুধা না থাকিলে খৈয়ের মণ্ড খাইবে। মুগ, মুসুর ও অড়হড় ডালের যুষ এবং পটল, ডুমুর, কচি মূল, বেগুন, কঁকুড়, এঁচোড়, উচ্ছে, করােলা, কঁচকলা, মােচা ও থােড়ের তরকারি ভাল। তরকারির সহিত রসুন দেওয়া চলে। শাকের মধ্যে প, সুষুনী, কলমী, শাঞ্চে, নটে ও বেতো শাক এবং নিমপাতা ভাজা দিতে পারা যায়। ঘূতপক তরকারি খাইবে। ধৃত ও মধু অতি উত্তম পথ্য। মাছ-মাংস খাইবে না; তবে জাঙ্গল মাংসের যুষ দিতে পারা যায়। অর থাকিলে জ্বরের পথ্য পালনীয়। মিষ্টান্ন, গুরুপাক এবং অদ্রব্য, অধিক ঝাল ও লবণ রস সংযুক্ত দ্রব্য, শীতল জল, মদ্য, মৎস্য, জাঙ্গল ভিন্ন অপর মাংস, পান, অধিক বায়ু, রৌদ্র, ধূম ও ধূলা লাগান, রাত্রিজাগরণ, দিবানিদ্রা ও মৈথুন-বা-ফোড়া প্রভৃতিতে এই গুলি অপথ্য। Albuminuria-ইহাতে মূত্ৰষন্ত্রের কাজ যাহাতে ভাল হয় এবং প্রস্রাব পরিষ্কার হয়, সেরূপ ব্যবস্থা করা উচিত। পথ্য সম্বন্ধে ডায়াবিটি ( ৬৯ পৃঃ) দেখ। Anaemia-রক্তাল্পতা (৮৪ পৃঃ) Aneurism ( শিরা-অৰ্ব্বদ)-ইহাতে সৰ্ব্বপ্রকার কায়িক পরিশ্রম ও মানসিক উদ্বেগ পরিত্যাগ করিবে। কাস বা শ্বাসকষ্ট হইলে তৎক্ষণাৎ তাহার প্রতিবিধান করিবে। রােগীকে পুষ্টিকর, লঘু আহার ৯ পুস্তকের মধ্যে যে যে রােগের পথ্যাপথ্যের কথা বলা হয় নাই, এখানে সংক্ষেপে সেগুলির কথা বলা হইল ডাক্তারি নামের তালিকা দিবে। দুগ্ধ ও মধু অতি সুপথ্য। মদ্যপান বা অন্য কোন উত্তেজক পদার্থ একেবারে নিষেধ। Angina Pectoris (হৃৎশূল)-পথ্য হৃদ্রোগের ন্যায় (৯৮ পৃঃ)। সম্পূর্ণ বিশ্রাম একান্ত আবশ্যক। রােগী যাহাতে খিট খিটে না হয় এবং যাহাতে তাহার কোনরূপ মানসিক উদ্বেগ না আসে, তাহার জন্য যত্নবান হইতে হইবে। Arterio-sclerosis (শিরা-কাঠিন্য)-১০১ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য Arthritis ( গাঁটবাত )—৮৭ পৃষ্ঠা Asthma ( শ্বাস বা হাঁপানি)—শ্বাসরােগে বায়ু যাহাতে অনুলােম বা সরল থাকে সে বিষয়ে প্রথমেই যত্নবান হইতে হইবে। অনেক সময় বায়ু সরল করিলেই শ্বাসকষ্ট দূরীভূত হয়। হাঁপানি-রােগী (১) কদাচ আকণ্ঠ ভােজন করিবে না; (২) রাত্রে খুব লঘু আহার করিবে এবং অধিক রাত্রে খাইবে না; (৩) অজীর্ণরােগের পথ্যাপথ্য পালন করিবে। মংস্য নিষিদ্ধ, তবে ছােট টাটকা মাছ সামান্য খাইতে পারে! ছাগ-কুকুট প্রভৃতি মাংসের ঘুষ দিতে পারা যায়। চা, তামাক, বিড়ি, সিগারেট প্রভৃতি ত্যাগ করিবে। বেশী গুড় বা মিষ্টান্ন খাইবে না। দুগ্ধ, ঘৃত, মধু, কিসমিস, গরম জল প্রভৃতি সুপথ্য। Beri-beri-পথ্য শশাথের ন্যায় ( ৭৬ পৃঃ) Bilious fever—পিত্তজর (৩৯ পৃঃ) Blood Pressure,High-রক্তের চাপাধিক্য (১০০ পৃঃ) Bronchitis-পথ্য কফজরের ন্যায় (৩৮ পৃঃ) Calculus-অশ্মরী ( ৯৬ পৃঃ) Chlorosis-রক্তহীনতা (৮৪ পৃঃ) Cholera ( বিচিকা)-বােগের প্রবল অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করিবে। কলেরা-রােগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান ১৩৪ রােগ ও পথ্য করিতে দিবে। জল সিদ্ধ করিয়া ঠাণ্ডা হইলে, সেই জল দিবে। প্রথম হইতেই এক ঘণ্টা বা আধ ঘণ্টা অন্তর কবিরাজী “শ্বেতচূর্ণ” কপূর- বাসিত জল সহ দিলে রােগ বাড়িতে পায় না। বমি নিবারণের জন্য মৌরি-ভিজান জল দিবে। মাঝে মাঝে একটু করিয়া ডাবের জল দিলে বমি ও পিপাসার শান্তি হয়। ছানার জল দিতে পারা যায়। Colitis, mucous-ইহাতে অস্ত্র স্ফীত হয় এবং অন্ত্রে ‘আম সঞ্চিত হয়। মলের সহিত আম নির্গত হয় ; অনেক সময় শূল বেদনা থাকে। রােগী খুব অস্থির ও বায়ুগ্রস্ত হয়। অনেক সময় প্রথমে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। সাধারণতঃ আমাশয়ের পথ্য দিবে ( ২৪ পৃঃ)। কোষ্ঠ যাহাতে পরিষ্কার হয় তাহার ব্যবস্থা করিবে। দুগ্ধ, ঘৃত ও ফল অতি সুন্দর পথ্য। মাছ-মাংস ত্যাগ করিবে। দধি ও ঘােল খুব ভাল। ঘরে দই পাতিয়া সেই দধির সরের সহিত একটা চাপা কলা মিশাইয়া খাইলে বিশেষ উপকার হয়। চিড়ার মণ্ড সুপথ্য। Constipation, Costiveness.-কোষ্ঠকাঠিন্য (১৩ পৃঃ) Consumption-ক্ষয়-রােগ (৫• পৃঃ) Diabetes- ৬৯ পৃঃ) Diarrhoea-অতীসার (২০ পৃঃ) Dropঃy (জলােদর)-পথ্য শশাথের ন্যায় (৭৬ পৃঃ) Duodenal Ulcer-পথ্য গ্রহণীর ন্যায় (৩০ পৃঃ) Dysentery-রক্তামাশয় ( ২৮ পৃঃ) Dyspepsia-অজীর্ণ-অগ্নিমান্দ্য (১ম পৃষ্ঠা) Endocarditis-হৃদ্রোগ ( ৯৮ পৃঃ) Enteritis ( অস্ত্রপ্রদাহ)—পথ্য টাইফয়েড (৪২ পৃঃ) ও অতীসারের ন্যায় (২ পৃঃ)।
ডাক্তারি নামের তালিকা
Epilepsy ( অপপ্যার, মৃগী)-পথ্য বাতব্যধির ন্যায় (৯০ পৃঃ)।
উদর পূর্তি করিয়া খাইবে না। মাংস না খাওয়াই ভাল। নিরামিষাশী
হইয়া থাকিলে অনেক সময় উপকার হয়। রাত্রে খুব লঘু আহার
করিবে। খাইবার অব্যবহিত পরেই নিদ্রা যাইবে না। কোষ্ঠ পরিষ্কার
রাখা একান্ত আবশ্যক।
Erysipelas ( বিসর্প )—ইহাতে খুব লঘু ও পুষ্টিকর খাদ্য দিবে।
পৰ্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা ভাল। জয়কালীন জ্বরের পথ্য ব্যবস্থা
করিবে।
Eye Diseases-নেত্ররােগ (১১৩ পৃঃ)
Fever—জর । ৩৪ পৃঃ)
Fibrositis ( পেশীবাত )—পথ্য বাতের ন্যায় ( ৮৭ পৃঃ)। যে
যে মাংসপেশীতে বেদনা হয় সেগুলিকে বিশ্রাম দিবে। যাহাতে ঠাণ্ডা না
লাগে সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখিব।
Fistula (ভগন্দর)-পথ্য অর্শে ন্যায় ও ৬৩ পৃঃ)।
Gal-stones (পিত্তাশ্মরী )—পথ্য মূত্রকৃচ্ছ, ও
ও অশ্মরীর ন্যায়
১ ৯২ পৃঃ)।
Gastritis (পাকস্থলীর প্রদাহ)-পথ্য অজীর্ণের তায় ( ১ম পৃঃ)।
Gonorrhcea-৯৭ পৃঃ দ্রষ্টব্য
Gout—পথ্য বাতের ন্যায় (৮৭ পৃঃ)
Haemoptysia-রক্তপিত্ত ( ৬০ পৃঃ)
Heart Disease-হৃদ্রোগ ( ৯৮ পৃঃ)
Hysteria-পথ্য বাতব্যাধির ন্যায় (৯০ পৃঃ)
Influenza-৩৮ পৃঃ দ্রষ্টব্য
রােগ ও পথ্য Intestinal Diseases—অজীর্ণ (১ম পৃঃ), অতীসার (২০ পৃঃ)। গ্রহণী ( ৩০ পৃঃ), ও টাইফয়েড (৪২ পৃঃ) দেখ। Jaundice-রক্তহীনতা (৮৪ পৃঃ) ও শােথর জন্য (৮৬ পৃঃ) দেখ। Kala-azar-( ৫৩ পৃঃ) Kidney Diseases—মূত্রকৃচ্ছ, মূত্রাঘাত ও অশ্মরী (৯২ পৃঃ) দেখ । Leprosy ( কুষ্ঠ )—পথ্য রক্তদুষ্টির ন্যায় ( ১০৫ পৃঃ) Malnutrition-পুষ্টিহীনতা ( ১:৮ পৃঃ) Malaria-(৪৯ পৃঃ) Measle৪-১১০ পৃষ্ঠা দেখ। Nephritis (বৃক-প্রদাহ )-পথ্য মূত্রকৃচ্ছ, ও মূত্রাঘাতের ন্যায় (৯২ পৃঃ)। দুধ, ঘােল ও ছানার জল খুব ভাল পথ্য। প্রয়ােজন হইলে প্রথম কয়েক দিবস কেবল দুধ পথ্য দিয়া রাখিবে। খুব পাতলা জল- বালি ও ফলের রস দিতে পারা যায়। মাছ-মাংস ত্যাগ করাই ভাল। প্রস্রাবের সহিত রক্ত নির্গত হইলে সম্পূর্ণ বিশ্রাম আবশ্যক। Nervous System, Diseases of—৯০ পৃঃ দ্রষ্টব্য Neuralgia (স্নায়ুশূল ) Neurasthenia (বায়ুরোগ ) Neuritis ( স্নায়ুপ্রদাহ ) Obesity (স্থ্যে, মেদঃবৃদ্ধি )—১২৩ পৃঃ Paralysis ( পক্ষাঘাত )—পথ্য বাতব্যাধির ন্যায় (৯০ পৃঃ)। Phthisis-যক্ষ্মা (৫• পৃঃ) Ples-অর্শ ( ৬৩ পৃঃ) Pleurisy-ফুসফুসের আবরক-ঝিল্লির প্রদাহ। জ্বর ও শ্লেমাধিক্য এবং বক্ষোবেদন ইহার প্রধান লক্ষণ। পরে ঝিল্লি ও ফুসফুসেরু ত তত f
ডাক্তারি নামের তালিকা
১৩৭
মধ্যবর্তী স্থানে জল বা শ্লেষ্ম জমে। তরুণ অবস্থায় পথ্য কফ-জ্বরের
ন্যায় ( ৩৮ পৃঃ)। রােগ পুরাতন হইলে যক্ষ্মার সাধারণ বিধি পালনীয়।
Pneumonia (নিউমােনিয়া)—টাইফয়েড জ্বরে যে সকল পথ্যের
কথা বলা হইয়াছে, ইহাতে তাহাই চলিবে ( ৪২ পৃঃ)।
Rheumatism-বাত (৮৭ পৃঃ)
Rickets-১২৮ পৃঃ দেখ।
Small-pox-বসন্ত (১১০ পৃঃ)
Syphilis-১০৭ পৃঃ
Tuberculosi্যক্ষ্মারােগ দ্রষ্টব্য ( ৫০
Typhoid-8293
পৱিশিই (খ) (১) পথ্য প্রস্তুত-বিধি ডালের ঘূষ-রােগীর জন্য মুগ, মুসুর, অড়হড় প্রভৃতি ডালের যুষ প্রস্তুত করিতে হইলে, প্রথমে ডালগুলি উত্তমরূপে বাছিয়া ধুইয়া লইবে। পরে উপযুক্ত পরিমাণে জল দিয়া মৃদু জ্বালে চড়াইবে। জল ফুটিতে আরম্ভ হইলে সামান্য হলুদ, ধনে ও জীরাবাটা, দারুচিনি, আদা ও তেজপাতা ছাড়িয়া দিবে। ডাল উত্তমরূপে গলিয়া গেলে তাহাতে সৈন্ধব লবণ মিশাইয়া বেশ করিয়া ঘুটিয়া দিবে। জল যেম বেশী মরিয়া ডাল ঘন হইয়া না যায়। সাধারণতঃ এক ছটাক ডালে দুই সের জল দিয়া আধ সের থাকিতে নামাইলে ডাল বেশ সুসিদ্ধ হইয়া যায় এবং পাতলা থাকে। নামাইবার পর সাঁতলাইয়া রাখিয়া দিবে থিতাইলে উপরের জলীয়াংশ আস্তে আস্তে ঘঁাকিয়া লইবে। রােগীর ইচ্ছানুসারে ইহার সহিত পাতি বা কাগজি নেবুর রস মিশাইয়া দেওয়া যাইতে পারে। মাংসের ঘূষ-শূষের উপযুক্ত মাংস কচি ও চর্বি-প্রহিত হওয়া উচিত। প্রথমে হাড় সমেত মাংস খণ্ড খণ্ড করিয়া লইবে। মাংসের মধ্যে চৰ্বি প্রভৃতি থাকিলে তাহা বাছিয়া লইবে। পরে অল্প পরিমাণে ধনে ও হলুদ বাটা, লবঙ্গ, তেজপাতা, ছােট এলাচ এবং দারুচিনি দিয়া কিছুক্ষণ রাখিয়া উহা ফুটন্ত জলে ছাড়িয়া দিবে এবং পাত্রের মুখটী ঢাকিয়া দিবে। রুচি অনুসারে মাংসের সহিত দুই এক পথ্য প্রস্তুত-বিধি ১৩৯ কোয়া রসুন বা পেঁয়াজ এবং একটু চিনি দেওয়া চলে। জল ফুটিতে আরম্ভ হইলে প্রয়ােজনমত লবণ দিবে এবং মাঝে মাঝে খুলিয়া দেখিবে যে জল বেশী মরিয়া যাইতেছে কি না। জল বেশী কমিয়া গেলে আরও একটু গরম জল মিশাইয়া দিবে। যুষের জন্য এক পােয় মাংস চারিগুণ জলে সিদ্ধ করাই নিয়ম। মৃদু আঁচে ২৩ ঘণ্টা কাল মাংস সিদ্ধ হওয়া উচিত। মাংস সুদ্ধ হইয়া গেলে নামাইয়া একটু শীতল হইলে উহা এক খণ্ড পরিষ্কার মােটা বস্ত্রে উঁকিয়া সেই যুষ রােগীকে পথ্যরূপে দিবে। মাংস-রস।কচি মাংস থুরিয়া “কিমা” প্রস্তুত করিয়া উহার সহিত একটু শীতল জল ও লবণ মিশাইয়া ২১ ঘণ্টা ঢাকিয়া রাখিয়া দিবে। পরে উহা উত্তমরূপে চটকাইয়া ছাঁকিয়া লইবে। এই মাংস-স ঘৃতাদির সহিত সাতলাইয়া নােগীকে খাইতে দিবে। ইহাকেই আয়ুর্বেদে “মাংস-স” বলে। ছানার জল।-একটা নূতন মাটীর হাঁড়ি উত্তমরূপে ধুইয়া উহাতে আধ সের আন্দাজ খাঁটি দুগ্ধ দিয়া মৃদু জালে চড়াইবে। পূৰ্ব্ব হইতে একটা পাতি রা কাগজি নেবু কাটিয়া রাখিবে। দুপ ফুটিতে আরম্ভ হইলে, ঐ নেবুর রস গালিয়া সেই ফুটন্ত দুগ্ধে ঢালিয়া দিবে। ছানা কাটিয়াছে দেখিলেই হাঁড়িটী নানাইয়া এক খণ্ড পরিষ্কার নেকূড়ায় ছাঁকিয়া লইলেই ছানার জল প্রস্তুত হইল। ইচ্ছা করিলে খাইবার সময় ইহার সহিত সামান্য একটু লবণ বা মিছরীর গুড়া মিশান চলে। অতীর, অজীর্ণ ও টাইফয়েড জ্বরে ছানার জল একটা উৎকৃষ্ট পথ্য। খৈ-মণ্ড—পুরাতন ধানের টাকা খই হইতে ধান প্রভৃতি বাছিয়া লইবে। পরে প্রয়ােজনমত খই লইয়া গরম জলে ঢালিয়া ১০/১৫ মিনিট রাখিয়া মৃদু জ্বালে চড়াইবে। জল ফুটিয়া উঠিলে বেশ করিয়া ১৪• রােগ ও পথ্য নাড়িবে। যখন খইগুলি বেশ গলিয়া যাইবে তখন নামাইয়া একটু শীতল হইলে পরিষ্কার কাপড়ে ছাঁকিয়া লইবে। ইহার সহিত চিনি বা মিছরীর গুড়া মিশাইয়া রােগীকে খাইতে দিবে। তাড়াতাড়ি দরকার হইলে টাটকা বাছ খই গরম জলে ফেলিয়া বেশ ভিজিয়া গেলে চটকাইয়া কাপড়ে ছাঁকিয়া লইবে। প্রয়ােজন হইলে ইহার সহিত গরম দুগ্ধও মিশান চলে। খইএর ওগরা।-খইএর ওগরা খু লঘু, মুখরােচক পুষ্টিকর পথ্য। পুরাতন অতীসার ও অজীর্ণ রােগের পক্ষে ইহা খুব ভাল। অর্ধেক খই ও অর্ধেক সােনামুগের ডাল একত্র লইয়া একটু বেশী জল দিয়া উড়মরূপে সিদ্ধ করিবে। জল ফুটিয়া উঠিলে সামান্য হলুদ ও প্রয়ােজনমত লবণ দিবে; অন্য মসলা দিবার আবশ্যক নাই। বেশ সুসিদ্ধ হইলে পাতলা থাকিতে থাকিতে নামাইয়া গরম গরম রােগীকে খাইতে দিবে। রােগীর অবস্থা বুঝিয়া ইহার সহিত একটু গব্য ঘৃত মিশান চলে। চিভার মণ্ড—পরিষ্কার, সৰু চিড়া প্রথমে উত্তমরূপে বাছিয়া লইয়া গরম জলে এক ঘণ্টা কাল ভিজাইয়া রাখিবে। পরে ছাকিয়া লইয়া, প্রয়ােজনমত জল মিশাইয়া একটী মাটীর হাঁড়িতে মৃদু জ্বলে চড়াইবে। চিড়াগুলি সুসিদ্ধ হইলে, জ্বাল হইতে নামাইয়া একখানি পরিষ্কার বস্ত্রখণ্ডে ছাকিয়া লইবে। রােগীর রুচি অনুসারে এই মঞ্চের সহিত একটু চিনি কিংবা লবণ ও নেবুর রস মিশাইয়া দিবে। ইহা অতীসার, আমাশয় ও অজীর্ণ প্রভৃতি রােগে সুপণ্য। মাণমণ্ড-৮০ পৃষ্ঠায় প্রস্তুত-বিধি দেখ। পানিফলের পালাে।-বাজারে শুদ্ধ পানিফল বা উহার গুড়া কিনিতে পাওয়া যায়। তবে বাড়ীতে টাটকা পানিফল ছাড়াইয়া পথ্য প্রস্তুত-বিধি ১৪১ রৌদ্রে শুকাইয়া লইয়া গুড়া করিলেই ভাল হয়। গুড়া না লইয়া কাঁচা পানিফল বেশ মিহি করিয়া বাটিয়া লইলেও চলে। পালো প্রস্তুত করিতে হইলে একটা পাত্রে এক পােয় দুগ্ধ ও এক পােয় জল মৃদু জ্বলে চড়াইয়া উহা ফুটিয়া উঠিলে দুই তােলা পানিফলের গুড়া (বা পানিফল বাটা) ঢালিয়া দিয়া ঘন ঘন নাড়িতে থাকিবে। মােহনভােগের মত হইলে নামাইয়া লইবে। ইহার সহিত মিছরীর গুড়া মিশাইয়া লইলে বেশ মুখরােচক হয়। পানিফলেব পালে খুব লুঘু এবং পেটের গােলমালে বিশেষ উপকারী।
(২) খাদ্য-পরিচয় ফন রােগে পথ্য কোন রােগে বিশেষ অপথ্য অতীসার, সর্দি-কাসী আরসারক, কফ- | রক্তপিত্ত, যক্ষ্ম!, জ্বর, শ্বাস, কারক, শুক্ৰবৰ্ধক বাত, কামলা, মূত্রকৃচ্ছ, পিপাসা, দাহ, মদত্যিয়, নেত্ৰয়ােগ আতা—রক্ত ও মাংসবর্ধক, রক্তদুষ্টি, দাহ, তৃষ্ণা, বমি স্মােজনক জ্বর, অতীয়ার, সর্দি-কাসী আনারদ-সারক, বায়ু- ক্রিমি নাশক, লেম্মানক আম পাকা)—বায়ুনাশক, পাণ্ডু, যক্ষ্মা, অরুচি, বমি, পিত্তকারক, পুষ্টিকর | বাতব্যাধি, শুল, হৃদ্রোগ, শিরঃপীড়া গর্ভাবস্থায় ( কঁাচা আনারস } অতীসার, অর্শ } কাচা কয়েদুবেল কয়েদবেল-পিত্ত ও বায়ু- জ্বর, অতীসার, অর্শ, রক্তপিত্ত, নাশক, পাচক অরুচি, বমি, তৃষ্ণা, উন্ম দি, শুল, প্রমেহ, অম্লপিত্ত, হিক্কা কলা ( পাকা )—শু ও রক্তপিত্ত, হৃদ্রোগ, প্রমেহ, মাংসবর্ধক চক্ষুরােগ কঁঠাল-মাংস ও বলবর্ধক, | রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, দাহ, উন্মাদ, ব্রণ ওজনক, কফকারক গুল্ম, মন্দাগ্নি অতীসার কুল-কফ ও পিত্তকারক, | অরুচি, বমি, তৃষ্ণা, বাতব্যাধি রক্তপিত্ত, দাহ, নেত্রবােগ বাতব্যাধি কেয়ধারক, বায়ুজনক শুক্র ও শুষবর্ধক খাদ্য-পরিচয় ১৪৩ ফল কোন রােগে পথ্য কোরােগে বিশেষ অপথ খেজুর—ক্ষত ও ক্ষয়নাশক, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, কাস-শ্বাস, তৃষ্ণা, বলকারক মদাত্যয়, দাহ, গুল্ম, মূত্রকৃচ্ছ, প্রমেই গাব-ধারক, পিত্ত ও রক্ত- অতীসার, অরুচি, প্রমেহ, রক্তদুষ্টি স্বরভেদ, বাতব্যাি দোষ নাশক জাম-ধারক, বাতবৰ্ধক, অতীসার, প্রমেহ, শ্বাস, কাস, | অজীর্ণ, স্বরভেদ, অগ্নিদৃষক দাহ, ক্রিমি, রক্তদোষ, ব্রণ বাতব্যাধি তরমুজ-পিত্তকারক, বায়ু- নাশক জ্বর, যক্ষ্মা, নেত্ররােগ তাল (পাকা)—রক্ত ও শুক্র। রক্তপিত্ত, বাতব্যাধি, কুষ্ঠ বহুমূত্র বর্ধক তাল শাদা (কচি)—বায়ু রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, অরুচি, তৃষ্ণা, | অজীর্ণ, বাতব্যা ও পিত্তনাশক দাহ, প্রমেহ দাড়িম-ধারক, বল ও জ্বর, রক্তপিত্ত, অরুচি, বমি, জধাবর্ধক মূৰ্ছা, উন্মাদ, দাহ, বাতব্যাধি, গুল্ম, হৃদ্রোগ, ব্রণ, অম্লপিত্ত, বিসর্প, মসুরিকা, শিরঃপীড়া নারিকেল (কচি)—বস্তি- রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, বমি, মূচ্ছ, শােধক, পুষ্টিকারক. | মদাত্যয়, দাহ, উন্মাদ, মূত্রকৃচ্ছ, বায়ু ও পিত্তনাশক মূত্রাঘাত, রক্তদুষ্টি, শিরঃপীড়া, বাতব্যাধি নেবু-(কাগজি, পাতি অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য, অর্শ, অগ্নিদীপক, পাচক ক্রিমি, বিসুচিকা, ক্ষয়, বমি, তৃষ্ণা, মদৰত্যয়, বাতব্যাধি, শূল, গুল্ম, মসুরিকা, শিরঃপীড়া, বাতরােগ নবজর পালি-মারক, পুষ্টিকর | রক্তপিত্ত, দাহ, প্রমেহ, বহুষ্টি বাতব্যাধি ১৪৪ রােগ ও পথ্য ফল কোন রােগে পথ্য কোন রােগে বিশেষ অপথ্য পিয়াল-পিত্ত, কফ ও রক্ত- | রক্তপিত্ত, শূল, দাহ, জর, পিপাসা অতীসার দোষনাশক, সারক পেঁপে-অগ্নিদীপক, পাচক, অর্শ, রক্তপিত্ত, প্লীহা, গুল্ম অতীসার সারক ফা-পিত্ত, বায়, ও রক্ত- | রক্তপিত্ত, মদাত্যয়, বাতব্যাধি, দোষনাশ গুল্ম, দাহ, রক্তদুষ্টি বেল ( পাকা মৃদুরেচক, কোষ্ঠবদ্ধতা পুষ্টিকারক বেল (কাঁচা)-ধারক, পাচক, অতীসার, প্রবাহিকা, রক্তামাশয়, অগ্নিদীপক, কফ ও গ্রহণী বায়ুনাশক বৈী-বায়ুনাশক শব্দ-(কচি)-পিত্তনাশক মূত্রকৃচ্ছ, রক্তপিত্ত জ্বর, অরুচি আমরুল - অগ্নিদীপক, | অজীর্ণ, অতীসার, গ্ৰহণী, বাত, পিত্তকর অর্শ, কুষ্ঠ কমী-শুক্র ও গুন্তবর্ধক, রক্তদুষ্টি, সিফিলিস রপরিষ্কারক অশ্বরী, কুমড়ার ডাটাবন্তি- মূত্রকৃচ্ছ, শােধক কুলেখাড়া-বস্তিশােধক, | যকৃন্দোষ, শােথ, আমবাত, রক্তবর্ধক, বায়ুনাশক, অশ্মরী, শূল, পাণ্ডু পুষ্টিকর রক্তহীনতা, উদরী, বাতরক্ত, রক্তদুষ্টি গাদাল-বাতঃ, বলকারক | বাতব্যাধি, বাতরক্ত, অর্শ, শােথ তেলাকুকফনাশক, জর, পাণ্ড, রক্তপিত্ত, শ্বাস, { বমি, উন্মাদ কাস, দাহ, শোথ, প্রমেহ শু খাদ্য-পরিচয় ১০ কোন্ রােগে পথ্য কোরােপে বিশেষ অপথ্য নটে-মূত্র ও রক্তপরিস্কারক, | পাণ্ড, রক্তপিত্ত, শ্বাস, মুচ্ছা, অগ্নিদীপক মদত্যিয়, উন্মাদ, বাতরক্ত, ব্রণ, রক্তদুষ্টি নাতে ( পাট -বাত- ক্রিমি, রক্তপিত্ত প্রকোপ নিমপাতা-পিত্তনাশক,রক্ত- জ্বর, কাস, তৃষ্ণা, অরুচি, ক্রিমি, পরিস্কারক, বায়ুবক। রক্তপিত্ত, উরুস্তম্ভ, শােথ, ব্রণ, কুষ্ঠ, বিস্ফোট, মহুরিকা, রক্ত- দুষ্টি, চক্ষুরােগ পতা-পিত্তনাশক, অগ্নি- জ্বর, কাস, ক্রিমি, রক্তপিত্ত, দীপক, পাচক, বৃষ্য যক্ষ্মা, শােথ, উরুস্তম্ভ, উদরী, বিসর্প, নাসা পালং-~-কফকর, শ্বাস, রক্তপিত্ত, মদত্যয় বলকারক পূননবা—অগ্নিদীপক, মৃদু- পাণ্ডু, উদরী, শােথ, হৃদ্রোগ, | অতীসার রেচক, মূত্রকারক বৃদ্ধি, বিধি, উপদংশ, কুষ্ঠ, নেত্ররােগ, রক্তদুষ্টি “ইকফ ও নিদ্ৰাজনক, তৃষ্ণা, মুচ্ছা, বাতরক্ত অজীর্ণ, অতীসার, বায়ু ও পিত্তনাশক, অর্শ, কাস, আম- পুষ্টিকর বাত, অন্ত্রবৃদ্ধি বেতের ডগা-পিত্ত, কফ | রক্তপিত্ত, ক্রিমি, অরুচি, বমি, ও রক্তদোষনাশক বাতরক্ত, উরুস্তম্ভ, শােথ, গলগণ্ড, ব্রণ, ভগন্দর, কুষ্ঠ, শীতপিত্ত, অম্লপিত্ত, বিসর্প, বিস্ফোট বেতা-অগ্নিদীপক, পাচক, | জ্বর, অজীর্ণ, অপি, ক্রিমি, | অতীসার মৃদুরেচক, শুক্ৰজনক, অর্শ, শ্বাস, কাস, রক্তপিত্ত, বলকারক উন্মাদ, প্লীহা, বাতরুক্ত,উরুস্তম্ভ, এ ১৪৬ রােগ ও পথ্য কোন রােগে পথ্য কোন রােগে বিশেষ অপথ ব্রাহ্মী—সারক, স্মৃতি-মেধা- | জর অর্শ, প্লীহা ও যকৃৎ বৃদ্ধি, জনক, আয়ূর, রসায়ন, পাণ্ড, মেহ, শােথ, উদরী, কাস, স্বরবর্ধক রক্তদুষ্টি, উন্মাদ, অপর, বায়ু- রােগ, স্বরভঙ্গ শাঞ্চে-অগ্নিবর্ধক, বাং ও অর্শ, বাতরক্ত, উরুস্তম্ভ, আম- কফনাশক বাত, শূল, গুল্ম, প্রমেহ, উদরী, গলগণ্ড, বিধি, ব্রণ, উপদংশ, শীতপিত্ত, নেত্ররােগ সজিনা-বায়ু ও রক্তদোষ বাতব্যাধি, উরুস্তম্ভ, আমবাত, নাশক শূল, গুল্ম, প্রমেহ, শােথ, মরিকা, কর্ণ, নেত্র, নাসা ও শিরােরােগ সজিন-ভূটা--অগ্নি জ্বর, অজীর্ণ, অরুচি, ক্রিমি, শূল, অতীসার দীপক, কফ ও ক্ষয়, শ্বাস, শ্লীপদ, উদরী, বৃদ্ধি, পিত্তনাশক উপদংশ, কুষ্ঠ সুষুনী-ধারক, অগ্নিদীপক, জ্বর, শ্বাস, কাস, রক্তপিত্ত, দাহ, মেধা ও বলকারক, ব্রণ, বাতরক্ত, কুষ্ঠ, মেহ, নিদ্ৰাজনক উরুস্তম্ভ, কর্ণরােগ হেলেঞ্চা-কফ ও পিত্ত- জর, পাণ্ড, 'শােথ, অম্লপিত্ত, নাশক কুষ্ঠ, মরিকা তরীতরকারি আদা—বায়ু ও কফনাশক, অরুচি, শ্বাস, কাস, শূল, পেট- মূত্রকৃচ্ছ। রক্তপিত্ত অগ্নিবর্ধক ফাপা, কোষ্ঠবদ্ধতা, আমবাত, দাহ, কুষ্ঠ হৃদ্রোগ, শােথ, উদরী, আল-কফ ও বায়ুবৰ্দ্ধক, অরুচি, কোষ্ঠবদ্ধতা মরিকা বলকারক, শুক্র স্তন্যজনক এ } খাদ্য-পরিচয় ১০৭ 6 হরীতরকারি কোন্ রােগে পথ্য কোরােপে বিশেষ অপখ উচ্ছে, করােলা-অগ্নি- | জ্বর, অজীর্ণ, অম্লপিত্ত, অরুচি, { যক্ষ্মা, উন্মাদ, দীপক, মৃদুরেচক, ক্রিমি, পাণ্ডু, শূল, প্রমেহ, শােথ, বাতব্যাধি রক্ত-পরিষ্কারক আমবাত, রক্তদুষ্টি, কুষ্ঠ, মরিকা, কর্ণ, নেত্র, শিয়ােরােগ প্রভৃতি ওল-অগ্নিদীপক, রুচিকর অর্শ, অরুচি, গুল্ম, শূল, ক্রিমি, কাস, শ্বাস,রক্তপিত্ত, প্লীহা কুষ্ঠ, দাদ, চুলকনা কাকরােল অগ্নিদীপক, জ্বর, অজীর্ণ, অম্লপিত্ত, গুল্ম, যক্ষ্ম মলনাশক খাস, কাস, প্রমেহ, সােথ, অরুচি, শীতপিত্ত, কুষ্ঠ, মরিকা, নাসা, নেত্ৰয়ােগ কাকুড়–পিত্ত ও কফ- তৃষ্ণা, দাহ, ব্রণ অতীসার নাশক, কাচকলা-কফ, বল- | অতীসার, অজীর্ণ, রক্তপিত্ত, কারক যক্ষ্মা, প্রমেহ, পা, হৃদ্রোগ, মরিকা কুমড়া (সাদা)-পিত্ত- পাণ্ডু, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, অরুচি, | বাতব্যাধি নাশক, শুক্র ও মাংস তৃষ্ণা, মূচ্ছা, দাহ, প্রমেহ, উন্মাদ বর্ধক, বন্তিশােধক বাতরক্ত, হৃদ্রোগ, মূত্রকৃচ্ছ, * মূত্রাঘাত, অশ্মরী, অমপিও গাজর-অগ্নিদীপক, কফ ও পুরাতন জ্বর, রক্তপিত্ত, অর্শ, বায়ুনাশক গ্রহণী, শােথ চাতা-পিত্ত ও রক্তদোষ- অতীসার, অরুচি, হৃদ্রোগ, ব্রণ, কেশের বিসর্প, কুষ্ঠ, স্ফোটক হিতকর ডুমুর—পিত্ত, কফ, রক্তদুষ্টি ও প্রমেহ, রক্তপিত্ত, ক্ষয়, পাণ্ডু, বাতব্যাধি ক্ষয়নাশক কামলা, অর্শ, ব্রণ, কুষ্ঠ (থাড়-অগ্নি ও রুচিবর্ধক রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, প্রমেহ, অঙ্গর, যােনিদোয় নাশক, ১৪৮ রােগ ও পথ্য হরীতরকারি কোন রােগে কোন রােগে পথ্য বিশেষ অপথ্য পটোল-পাচক, অগ্নি সমস্ত রােগেই কচি দীপক, শুক্রকারক, পটোল সুপথ্য ত্রিদোষনাশক বেগুন (কচি)কফ ও | জ্বর, অজীর্ণ, পাণ্ডু, কাস, শ্বাস, পিত্তনাশক অগ্নি- অরুচি, বাতব্যাধি, আমবাত, দীপক শূল, শােথ, ব্রণ, কর্ণ, নাসা ও নেত্ররােগ, মেদঃবৃদ্ধি রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, মানকচ-লঘু, পিত্তনাশক শােথ, উদরী মুলা বাতরক্ত { কচি-পাচক, | জ্বর, অজীর্ণ, কাস,শ্বাস, স্বরভেদ, ত্রিদোষনাশক অরুচি, ক্রিমি, গুল্ম, শূল, হৃদ্রোগ, অর্শ, শােথ, ব্রণ, ভগন্দর, উপদংশ, মুখ-কণ্ঠ-নাসা ও নেত্রকােগ মােচা-বায়ু, পিত্ত ও ক্ষয়- অতীসার, ক্রিমি, রক্তপিত্ত, নাশক যক্ষ্মা, মূচ্ছ, দাহ, প্রমেহ, ব্রণ, অম্লপিত্ত, নেত্রয়োেগ রমুন, পেঁয়াজ-পাচক, অগ্নিমান্দ্য, জীর্ণজ্বর, ক্রিমি, রক্তপিত্ত, যক্ষা, -শুক্র-মেধা-বর্ধক, অরুচি, অর্শ, পাণ্ডু, কাস, শ্বাস, | বিসর্প রসায়ন, পিকারক শূল, গুল্ম, হৃদ্রোগ, বাতব্যাধি, আমবাত, প্রমেহ, শােথ, উদরী, কুষ্ঠ, ফোড়া, স্বরভেদ, নাসা, নেত্রয়োেগ লাউ-পুষ্টকারক, ধাতু ও | রক্তপিত্ত, দাহ অতীসার,কাস,অর্শ, সুবৰ্ধক, বাতব্যাধি, প্রমেহ খাদ্য-পরিচয় ১৪৯ ০ ভাল কোন রােগে পথ্য কোন রােগে বিশেষ অপথ্য শিম-শ্লেষ্মবর্ধক, দাহজনক, | শােথ, বিধি (ফোড়া) অতীসার, রক্ত- বলকারক পিত্ত, যক্ষ্মা, অর্শ, পাও, শ্বাস, বমি, বাতব্যাধি, বাত- রক্ত, মসুরিকা ডাল (খৃষ)- মুগ (কাচা মুগ)—লঘু, এর, পাণ্ডু, রক্তপিত্ত, যক্ষ্ম। বাতব্যাধি ধারক, চক্ষুর হিতকর, | প্রভৃতি প্রায় সমস্ত রােগে পথ্য ; অনিবারক (সমুদায় ডালের সূপের মধ্যে ইহার সূপ উত্তম) মসুরমলসংগ্রাহক, কফ- অতীসার, জ্বর, পাণ্ডু, রক্ত- পিত্ত-রক্তদোষ ও জ্বর পিত্ত, তৃষ্ণা, দাহ, মেদবৃদ্ধি, ব্রণ, নাশক কুষ্ঠ, বিসর্প, বিস্ফোট প্রভৃতি ছােলা—বায়ুজনক, পিত্ত- | জ্বর, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, তৃষ্ণা, দাহ, বাতব্যাধি রক্তদোষ- বাতরক্ত, প্রমেহ, মেদঃবৃদ্ধি, নাশক বিসর্প, বিস্ফোট অড়হড়-কফপিত্ত ও অতীসার, পাণ্ডু, রক্তপিত্ত, রক্তদৃষ্টিনাশক, ধারক, বাতরক্ত, প্রমেহ, ব্রণ, কুষ্ঠ, বর্ণপ্রসাদক বিসর্প মটর--আমদোষকারক, মৃচ্ছ, মদাত্যয় অতিশয় বায়ুজনক বরবটি-বাতবৰ্ধক, বল- বাতব্যাধি কারক, অন্যজনক মাষকলাই-অতিশয় বায়ু- বাতব্যাধি, হৃদ্রোগ, শূল, | যক্ষ্মা, রক্তপিত্ত, নাশক, শুক্র ও স্তন্য | মসুরিকা অতসার, শ্বাস, বর্ধক, পুরুষত্ব বৃদ্ধি বাতরক্ত, আমবাত, করিক ক্রিমি, পাণ্ডু, মেদঃ- বৃদ্ধি, কুষ্ঠ, অম্ন পিত্ত, মুখরােগ প্রশমক, ১৫০ রােগ ও পথ্য দুগ্ধ-বর্গ তরুণ কোন্ রােগে পথ্য কোন রােগে বিশেষ অপথ্য কলাই (বিউলি গুণ প্রায় মাষকলাইএর ন্যায় কুলখকলাই-সংগ্রাহী, কাস, খাস, হিক্কা, অর্শ, জ্বর, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, মুত্ৰকারক, কফ ও আমবাত, বাতব্যাধি, গুল্ম, বাতরক্ত, অম্লপিত্ত বায়ুনাশক, রক্তপিত্ত- | ক্রিমি, মূত্রকৃচ্ছ, মূত্রাঘাত, অশ্মরী, প্রমেহ, মেদবৃদ্ধি, শােথ, উদরী, বিধি, শীতপিত্ত নাসা, মুখরােগ দুগ্ধ-বাতপিত্তন্ন, সদ্যঃ শুক্র- | পুরাতন জ্বর, গ্রহণী, রক্তপিত্ত, | নবজর, কারক, ওজঃবর্ধক, যক্ষ্মা প্রভৃতি প্রায় সমস্ত রােগেই | অতীসার,আমবাত, জরা ও ব্যাধিনাশক, দুগ্ধ পথ্য প্রমেহ, মেদবৃদ্ধি, রসায়ন, সকল প্রাণিরই সাত্ম কুষ্ঠ, অম্লপিত্ত ঘৃত-অগ্নিদীপক, আমুয্য, | পুরাতন জ্বর, অর্শ, অগ্নিমান্দ্য, | নবজর, অতীসার, বাতপিত্তন্ন, কফ- পাণ্ডু, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, কাস,শ্বাস, | যকৃদ্দোষ, প্রমেহ, কারক, চক্ষু, বয়ঃ- অরুচি, দাহ, উন্মাদ, বাতব্যাধি | মেদঃবৃদ্ধি মূত্রকৃচ্ছ, গলগণ্ড, ব্রণ, কুষ্ঠ, মসূরিকা, নেত্ররােগ প্রভৃতি মাখম (টাকা)—অগ্নি- | রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, কাস, শ্বাস,অর্শ, বন্ধক, ধারক, শুক্র- | গ্রহণী, অরুচি, অগ্নিমান্দ্য, পাও, জনক, বায়ুনাশক দাহ, নেত্ররােগ ছানা--গুরু, শ্লেষ্মকর, বল- অগ্নিমান্দ্য, গলগণ্ড, স্থাপক, দধি (মিষ্ট)—অগ্নিদীপক, | অতীসার, অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য, রক্তপিত্ত, জ্বর, অর্শ, শুক্রবন্ধক অরুচি, মূত্রকৃচ্ছ, মূত্রাঘাত, বাতরক্ত, আম- বাত,প্রমেহ, শােথ, শূল, গুল্ম, ক্রিমি, ভগন্দর, উদরী, প্লীহা ও যকৃন্দোষ, পাণ্ডু, হৃদ্রোগ, কুষ্ঠ, উপদংশ, রক্তদুষ্টি খাদ্য-পরিচয় মাংস কোন,রােগে পথ্য কোন রােগে বিশেষ অপথ্য ঘােল—ধারক, অগ্নিদীপক, অতীসার, গ্রহণ, অর্শ, শােথ, কুষ্ঠ, উপদংশ, শুক্রবন্ধক,বায়ুনাশক উদরী, অরুচি, অগ্নিমান্দ্য, বাতরক্ত, ব্রণ, আমবাত, শূল, গুল্ম, ক্রিমি, তরুণ জর ভগন্দর, প্লীহা ও যকৃদ্দোষ,পাণ্ডু, হৃদ্রোগ, বিষমজুর, মেদঃবৃদ্ধি, মূত্রকৃচ্ছ, প্রমেই মধু-অগ্নিদীপক, চক্ষুর হিত- একমাত্র বাতব্যাধি ছাড়া অপর বাতব্যাধি পুষ্টিকারক, সমস্ত রােগে পুরাতন মধু সুপথ্য তেজঃবর্ধক বাতব্যাধি ; অতীসার, জ্বর মৎস্য-পুষ্টিকারক, জ্বর নবজর,অর্শ, কাস, বদ্ধক, কফপিজনক প্রভৃতিতে ক্ষুদ্র টাটকা মৎস্যের শ্বাস, আমবাত, ঝােল সুপথ্য মেদবৃদ্ধি, রক্তদুষ্টি, নেত্ররােগ মাংল-মূষ-শ্রেষ্ঠ বৃংহণ বা পুরাতন জর, অতীসার, পাণ্ডু, নবজর, অর্শ, শরীরের পুষ্টিকারক, রক্তপিত্ত, যক্ষ্মা, কাস, শ্বাস, ক্রিমি, মেদবৃদ্ধি, বায়ুনাশক অরুচি, বমি, বাতব্যাধি, শূল, যকৃন্দোষ গুল্ম, হৃদ্রোগ, মূত্রকৃচ্ছ, প্রমেহ, উদরী, শােথ, কুষ্ঠ, কর্ণরােগ, নেরােগ প্রভৃতি ( এখানে মাংসের যুষ বলিতে জাঙ্গল পশুপক্ষীর মাংস বুঝিতে | হইবে। জলে ও জলাভূমিতে বিচরণকারী পশুপক্ষী ছাড়া অপর পশুপক্ষীকে ‘জাঙ্গল বলে।)
রােগ ও পথ্য মধুর- গলগণ্ড, কোন রােগে পথ্য কোন রােগে বিশেষ অপথ্য রক্তপিত্ত, অরুচি, দাহ, বাত- নবজর, ক্রিম, ব্যাধি, মূত্রকৃচ্ছ, ব্রণ প্রমেহ, মেদবৃদ্ধি, শীতপিত্ত অতীসার, বাতব্যাধি, শূল, জ্বর, ক্রিমি, পা, মূত্রকৃচ্ছ, নাসা রক্তপিত্ত, বাতরক্ত, হৃদ্রোগ, প্রমেহ, গলগও, ব্রণ, কুষ্ঠ, অম্লপি, মরিকা, মুখরােগ, নেত্ররােগ লবণ- . অতীর, অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য, পাণ্ডু, রক্তপিত্ত, বাতব্যাধি,শূল, মূত্রকৃচ্ছ, নাসা বাতরক্ত, প্রমেহ, উদরী, শােথ, ব্রণ, অম্লপিও, নেত্ররােগ টু-- অগ্নিমান্দ্য, ক্রিমি, আমবাত, রক্তপিত্ত, শােথ, গলগণ্ড, মুখরােগ, নাসা | মুচ্ছা, দাহ, বাত- ব্যাধি, বাতরক্ত, ব্রণ, অম্লপিত্ত, মসুরিকা অগ্নিমান্দ্য, ক্রিমি, পুরাতন জর, নবজর, যক্ষ্মা, অরুচি, বাতরক্ত, আমবাত, স্বরভেদ শূল, প্রমেহ, উদরী, শোথ, ব্রণ, কুষ্ঠ,অম্লপিত্ত,মুখরােগ,নেত্রবােগ কষায়- অতীসার, ক্রিমি, রক্তপিত্ত, শূল, বাতব্যাধি, প্রমেহ, ব্রণ হৃদ্রোগ পরিশিষ্ট (৩) কয়েকটা সাধারণ খাদ্যদ্রব্যের পিরপাক-কাল দ্রব্য—পরিপাক-কাল -পরিপাক-কাল | দ্রব্য- দ্রব্য-পরিপাক-কাল! দ্রব্য~-~-পরিপাক-কাল ( ঘণ্টা) (ঘণ্টা) (ঘণ্টা) ২ ৮ ০ ০ বেগুন (কচি) বেল আনারস ২} আম ••• ૨ ১ ২|| ডালের ঘূষ- মসূর কলাই •• ২ ছােলা। অড়হড় মটর ডিম (কাচা ) (অর্ধসিদ্ধ) (সিদ্ধ) ৩|| তৈল দাড়িম দুগ্ধ---গে। ছাগ মহিষ নারিকেল, ঝুনা • ৩ আল এরারুট এঁচোড় কচুরী, সিঙ্গাড়া ... কাচকলা কাটাল খই খরমুজ খিচুড়ী খােবানি ০ ০ ৩ মৎস্য, ক্ষুদ্র हिरो রুই ইলিশ মাংস -- ছাগ মেষ হরিণ মুরগী হাস পায়রা বন্যপক্ষী কচ্ছপ ৪ ০ ০ ০ ••• ১) ২ ১ ১) ৪ ১) . ৪ * ৫ গােলাপজাম ২/ পটল মাখন পায়স । * * ৪ • ৮ । এ + গ মিছরী ৫ | মুড়ি ১৷ মূলা (কচি) २ * * চিনি চিড়ার মণ্ড ছানা ছােলা ঝিঙ্গা t ২। যবের ছাতু পােলাও ৩ ফুটি ৪ ফুলকপি ২া বাতাসা ১। বাদাম বালি বাঁধাকপি २ ৪ রুটী লুচি ••• ডালের যুষ- ১ মুগ ••• ১৫৪ রােগ ও পথ্য } (৪) বিরুদ্ধ-ভােজন আমরা সচরাচর যে সকল খাদ্যদ্রব্য ব্যবহার করিয়া থাকি, তাহাদের মধ্যে এমন অনেকগুলি দ্রব্য আছে যেগুলি একত্র ভোজন করিলে পরস্পর বিরুদ্ধগুণ হইয়া থাকে। বাঙ্গলায় আমরা এইরূপ অনেকগুলি বিরুদ্ধভােজন করিয়া থাকি,যেমন দুধ বা দধির সহিত কলা খাওয়া, দুগ্ধের সহিত অন্ন-দ্রব্য খাওয়া, দই-মাছ, ইত্যাদি। এইরূপ বিরুদ্ধ- ভােজনে শিশুকাল হইতেই অভ্যস্ত হওয়ায় উহা বাঙ্গালীর সাত্ম হইয়া গিয়াছে। কিন্তু যতদূর সম্ভব বিরুদ্ধ-ভােজনে অভ্যস্ত না হওয়াই ভাল ; কারণ বিরুদ্ধ-ভােজন দ্বারা বহু রােগের সৃষ্টি হয়। নিম্নে কয়েকটা বিরুদ্ধ-ভোজনের কথা বলা হইল। দুগ্ধের সহিত- ১) মৎস্য ও মাংস (২) কুল (৩) জাম (৪) কয়েদবেল (৫) নারিকেল (৬) পেয়ারা (৭) কঁঠাল (৮) চালতা (৯) কুমড়া (১০) শিম (১১) ডেও মাদার (১২) মাষকলাই (১৩) কুলথ কলাই (১৪) মােচা (১৫) আমলকী ( ১৬) কদলী (১৭) দাড়িম (১৮) লবণ এবং (১৯) করচ, কামরাঙ্গা, তেঁতুল ও সর্বপ্রকার অশ্লদ্রব্য একত্র ভোজন করা বিরুদ্ধ বলিয়া জানিবে । মূলা প্রভৃতি কঁচা জিনিষ এবং রসুন, সজিনাশাক ও তুলসী ভক্ষণ করিয়া দুগ্ধ পান করিবে না। তাল, দুগ্ধ, দধি বা ঘােলের সহিত কদলী খাইবে না। মধু, গুড়, তিল, মাষকলাই, মূলা ও পদ্ম বা শালুকের ডাটা ইহাদের কাহারও সহিত মাংস একত্রে ভোজন করিবে না। কুকুট-মাংস দধির সহিত খাইবে না। পায়রা বা হরিয়াল পাখীর মাংস সরিষার তৈলে ভাজিয়া খাইবে না। কাঁসার পাত্রে ঘৃত দশদিন থাকিলে আর খাইবে না। মাখনের সহিত শাক খাইবে না। তিলবাটা ও পুইশাক একত্র খাইবে না।
ভাইটামিন ভল্লাতক (ভেলা) ও উষ্ণজল পরস্পর বিরুদ্ধ । মধু উষ্ণ করিয়া পান, মধু পান করিয়া উষ্ণজল খাওয়া, মধুর সহিত মূলা এবং সমপরিমাণ ধৃত ও মধু একত্র অথবা সমপরিমাণ মধু ও জল একত্র পান বিরুদ্ধ। (৫) ভাইটামিন ভাইটামিন একটা পৃথক্ খাদ্য নহে। চাল, ডাল, তরতরকারি, দুধ, ঘি, জল প্রভৃতি খাদ্য লইয়া আমরা যেমন নাড়াচাড়া করিতে পারি, ভাইটামিন লইয়া সেরূপ নাড়াচাড়া করিতে পারি না, অথবা চোখে ও দেখিতে পাই না। অথচ এই ভাইটামিন প্রাণিদিগের প্রাণধারণের জন্য একান্ত আবশ্যক, না হইলে চলে না,—ইহাই নব্যবিজ্ঞানের মত। দুধে ভাইটামিন আছে—অর্থাৎ দুধে এমন “একটা কিছু আছে যাহাতে উহা শরীরের বিশেষভাবে পুষ্টিসাধন করে। দুগ্ধস্থিত এই অজ্ঞাত পদার্থকে ‘ভাইটামিন’ বলে। যে যে খাদ্যদ্রব্যে ভাইটামিন আছে সেগুলি অপরাপর খাদ্যদ্রব্য অপেক্ষা অধিক পুষ্টিকারক। জীবের প্রাণস্বরূপ বলিয়া ইহাদিগকে ‘খাদ্যপ্রাণ” বলে। আজকাল অনেক প্রকার ভাইটামিন আবিষ্কার হইয়াছে। বিভিন্ন বিভিন্ন ভাইটামিনের বিভিন্ন বিভিন্ন গুণ। নিম্নে প্রধান পাচটি ভাইটামিন কোন্ কোন খাদ্যদ্রব্যে আছে, তাহার একটী মােটাটী তালিকা দেওয়া হইল। ভাইটামিন ‘এ’-ব্যাধি-প্রতিষেধক, রক্তপরিষ্কারক ও চক্ষু- রােগ নাশক দুগ্ধ, মাখন, ঘৃত, ছানা, দধি, ঘােল, বড় মাছ, মাছের তেল, মেটে, ডিমের কুসুম, পালং শাক, লেটুস, ধনের শাক, বাঁধাকপি, মূলার শাক,
রােগ ও পথ্য
বাঁশের কেঁাড়, রাঙ্গা আলু, বিলাত বেগুন, গাজর, তিল, ভুট্টা প্রভৃতিতে
যথেষ্ট পরিমাণে আছে ; আম, পেঁপে, নারিকেল, নেবু প্রভৃতি ফল এবং
ডালে সামান্য আছে।
ভাইটামিন ‘বি’—শােথনাশক
দুগ্ধ ( বিশেষতঃ ধারােঞ্চ দুগ্ধ ), দধি, ঘোল, ঢেকিছাটা চাউল,
লাল আটা, সুজী, বালি, ভুট্টা, ছােলা, সকল প্রকার ডাল, সকল প্রকার
মেওয়া, মাংস, মেটে, ডিমের কুসুম, মৎস্য, প্রায় সকল রকম ফল ও
শাক-সজীতে আছে।
ভাইটামিন ‘সি’—দন্তরােগনাশক, রক্ত ও কোষ্ঠপরিষ্কারক
প্রায় সকল প্রকার ফল ও টাটকা শাকসজীতে প্রচুর পরিমাণে
আছে। দুগ্ধ, দধি ও ঘোলে অল্প পরিমাণে আছে।
ভাইটামিন ‘ডি’-কৃশতা-নাশক
দুগ্ধ, মাখন, ঘৃত, ডিমের কুসুম, মাছের তেল, পটার মুড়ি ও মেটে
প্রভৃতিতে আছে।
ভাইটামিন ‘ই’-বন্ধ্যাত্বনাশক
ঢেকিছাটা চাউল, চিড়া, চাউলের কুঁড়া, যব, গম, ভূষি সমেত
আটা, ভুট্টা, সুজী, অঙ্কুরিত ছােলা ও মুগ, ডিমের কুসুম, পটার মুড়ি,
মেটে, মাছের তেল, বিলাতী বেগুন, পালং শাক, লেটুস, প্রভৃতিতে
আছে; দুগ্ধে এবং ডালিম, আঙ্গুর, আপেল, কমলানেবু ও গোড়ানেবুতে
সামান্য আছে।
সমাপ্ত
No text on this page.
No text on this page.