Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Lal Marshal Ed.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
লাল মার্শাল--- ক্লেমভােশিলভ * v, | * G মন্সুর হবি প্রণীত ২ -ও- প্রাপ্তিস্থান শ্রীগুক লাইব্রেরী ২০৪, কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা দশ আনা
গ্রন্থকাব কর্তৃক ২৪৯, বহুবাজাব স্ট্রীট, কলিকাতা হইতে প্রকাশিত
(প্রথম সংস্করণ
আশ্বিন-১৩৪৮
পপুলার প্রিন্টি ওয়ার্কস ৪৭নং মধুরায় লেন, কলিকাতা হইতে
যামিনী মােহন ঘোষ কর্তৃক মুদ্রিত
উৎসর্গ
আজকে সারা পৃথিবীর উপর দিযে প্রলযেব ঝড় বইছে।
স্বাধীনতা, শান্তি ও প্রগতিব যাবা উপাসক তাদেব উপব
আজকে যে নির্যাতন চলেছে পৃথিবীর ইতিহাসে তার তুলনা
পাওয়া যায় না। তবু আজও আমাদেব সংগ্রাম অপ্রতিহত
আমবা নিবাশ নই, আমরা জানি একদিন এই ঘনকাব
কেটে গিয়ে নতুন দিনেব আলাে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। তাই
আজকে যাবা সেই ঘনন্ধকাৰ চিৰতবে দূব কবার জন্য
লেনিনগ্রাড়, শ্বেত বাশি ও উক্রেইনেব বণক্ষেত্রে জীবন
উৎসর্গ ক’বছে এবং ফ্রান্স, নবওযে, যুগশ্লাভিযা, রুমানিয়া,
বুলগাব্যি প্রভৃতি দেশে আন্তর্জাতিক দস্যুবৃত্তব বিরুদ্ধে
সংগ্রাম ক’বছে, অজ্ঞাত ও অচেনা সেই বীব বন্ধুদেব স্মবণ
কবে বাংলা নতুন যুগেব নতুন মানুষদের হাতে দিলাম ।
লেখক
যুদ্ধ আজ লেনিনগ্রাদেব দুয়ারে, সেই দুয়ারে প্রহরী
জাগছেন লাল পল্টনেব সেনাপতি মার্শাল ভরােশিলভ।
“লেনিনের শহরেই সেই নূতন জীবনের সাড়া প্রথম
জাগে। আর সেই “লেনিনের শহবেই” আজ এই নুতন
জগত বক্ষাব ভাব নিযেছেন—মজদুবের ছেলে সেনাপতি
ভরােশিলভ, তঁার লাল পলটন আর শহরেব মজদুর-বাহিনী।
দেব অভিনন্দন জানাচ্ছে আজ পৃথিবীর মজদুব ও
কিসানেরা—জানাচ্ছে ভারতবর্ষের মজদুব ও কিসান-শক্তিও।
অখিল ভারত কিসান সভার সেই বাণীই ধ্বনিত
কবেছেন তার দপ্তর-সচিব কবে, মনসুর হবিব এই
কয়টি পাতায়।
তরুণ বন্ধু মনসুবকে তাঁর কিসান ও
মজদুর সহযাত্রীরা যেরূপ সানন্দ প্রীতিতে গ্রহণ কনে,
তেমনি সুদৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে আজ গ্রহণ করবেন তঁাবা মনসুরেব
এই বাণী—সসাভিয়েট ইউনিয়ন জিন্দাবাদ।
ভারতীয় কিসান সভা আফিস,
২৪বি, বহুবাজার।
২৩শে সেপ্টেম্বর, ১৯৪১
গােপাল হালদার
-
No text on this page.
ক্লেম ভরােশিলভ ১লা মে ১৯৩৯ আজ ১লা মে। মস্কো রেড, স্কোয্যাবে আজ মহাসমাবোহ। প্রতি বৎসর এই দিনে সাবা জগতেব মজুবেব সাথে সাথ দিযে সােভিযেটেব অধিবাসিব মহাসমাবােহেব সাথে এই দিবসটী পালন কবে। বেড় স্কোয্যাব আজ লােকে লােকাবণ্য। স্কোয্যার হিসাবে বেড় স্কোয্যাব বেশ চওড়া কিন্তু অত্যধিক দৈর্ঘ্যের জন্য একে সৰুমত দেখায়। স্কোয্যাবেব দক্ষিণ- পশ্চিম কোণের দিকে ঘাসে ভরা ঢালু জায়গাটা আস্তে আস্তে উঠে ক্রেমলিনের গায়ে গিয়ে ঠেকেছে। উচুতে—অনেক উচুতে নীল আকাশ ভেদ ক'রে উঠেছে প্রাসাদ চূড়াগুলি। আব সেই চূড়ায আজ কাস্তে হাতুড়ি বুকে নিযে উড়ছে সৰ্ব্ব- হারাব পতাকা, লাল নিশান, যেখানে একদিন উডত অত্যাচারী জাবেব জুলুমের নিশান ঈগল পাখী খচিত ঝাণ্ডা। স্কোয্যারের আব একদিকে সেন্ট বেসিলের গীর্জাগুলি দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য গম্বুজ মাথায় নিযে। আর অন্যদিকে বয়েছে প্রকাণ্ড লাল গ্রানাইট পাথরের স্মৃতিসৌধ সৰ্বহারা বিপ্লবের নেতা
লাল মার্শাল
লেনিনকে বুকে নিয়ে। ঠিক তারি পশ্চাতে, সৌধের
দেওয়ালের নীচেই রয়েছে বিপ্লবের সহীদ কমুনিষ্টদের
দেহাবশেষ ও চিতাভস্ম। কেবল রাশিয়ার মৃত বিপ্লবীদেব
নয়, বিদেশীদেরও আছে, যেমন আছে বিখ্যাত মার্কিন
সাংবাদিক জন রীডের দেহাবশেষ।
ক্রেমলিন আজ কেবল বাশিযাব নয় সমগ্র বিশ্বের মুক্তির
প্রতীক, সব জাতিব সব মানুষের আশা আকাঙ্খা রযেছে তাব
সাথে জড়ান। যখন ওর মাঝে ধ্বনিত হয় গম্ভীর ঘণ্টা ধ্বনি
সে ধ্বনি কেবল রাশিযার জনমানবের কাছে পবিচিত শােনায়
না—শােনা সমগ্র জগতেব উৎপীড়িতের কাছে অতি আপনার
নিজস্ব জিনিযের মত। এই ধনি যখন বেতারেব সংযােগে
দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পডে তখন হাজার হাজার লােক
যারা শােনে তাদের কাছে এনে দেয় জীবনের সর্বময় আশার
বাণী। দুনিয়াব আজ অনেক দেশে এই ধ্বনিটী শুনবার
অধিকারও সাধারণের নাই, তাই সেখানকাব লােকে যখন
শােনে, তারা দরজা জানালা বন্ধ ক'রে শােনে, পাছে কোন
দুষ্ট প্রতিবেশী তাদের এই আইন লঙ্ঘন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়ে
তাদিকে কয়েদখানা বা বন্দীনিবাসে পাঠাবাব ব্যবস্থা ক'রে।
ফ্যাসিষ্ট দেশগুলিতে মস্কো বেডিও শােনাও আইন নিষিদ্ধ,
পাছে বলশেভিকবাদ ঐ সব দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
এই সমস্ত বিরােধী মতের পরস্পর বিরােধী দ্বন্দ্বের যদিও
ক্লেম ভরাে শলভ বিরতি নাই তবু আজকের এই সকালে রােদেভরা রেড়- স্কোয্যারের সামনে সে সমস্তই যেন নিত, পাণ্ডুব ও বিবর্ণ। পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বৃহৎ সেনানী লাল ফৌজেব আকস্মিক বাহিণীগুলি এই ক্রেমলিনেব সামনে আজ কুচকাওয়াজ ক'ববে। সূর্য কিরণে হাজার হাজাব সঙ্গীন আব ইস্পাতের টুপী গুলি ঝলমল ক’বছে। লাল ফৌজের পটনরা এখন নিস্তব্ধ হয়ে আছে। এখনও কুচকাওয়াজের সময় হয় নাই। লেনিনেব সমাধিব উপরে হঠাৎ একটু নড়ন চড়ন দেখা গেল। ষ্টালিন মঞ্চের উপর আসন নিলেন। এইখানেই লাল ফৌজের অভিবাদন জানাবাব স্থান। আজ লেনিনেব স্থানে ষ্টালিন তাদেব অভিবাদন গ্রহণ ক'ববেন। তঁাব সেই সদাহাস্য মুখে, সাধারণ বেশে, উচু টুপী আব উচু কলাব ওয়ালা কোটটি- প'বে লাল ফৌজের সামনে এসে দাঁড়াবেন তাদের অভিবাদন নিতে। কিন্তু ঠিক এই মূহুৰ্ত্তটাৰজন্য সকলের দৃষ্টি তার দিকে নাই। সকলে প্রতীক্ষা করছে আর একজনের জন্য । কে তিনি? মলােটভ ? না তিনি নন। প্রধান মন্ত্রী ও বৈদেশিক মন্ত্রী সদা গম্ভীর মলােটভও এই মূহুর্তের লােক নয়। কালিনিন, যিনি সােভিযেট বাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি, সুপ্রিম সােভিযোটের সভাপতি, তিনিও আজকে এই মূহুর্তেব লােক নন। বুলগারিয়ান কম্যুনিষ্ট সহাস্যমুখ ডীমিট্রভ যিনি রাইখ-
লাল মার্শাল
ষ্টাগ অগ্নি সংযোেগ মামলায় দৃঢ়তার সাথে জেনারেল গ্যোবিংএর
চক্রান্ত বিল কবে আন্তর্জাতিক কমুনিষ্ট সত্যের সম্পাদক
পদে আসীন হয়েছেন তিনিও সে লােক নন।
এ বা কেওই নন। এ বা সকলেই লাল গ্রানাইটেব মঞ্চের
উপর নিজের নিজের জায়গায় ব'সে আছেন। নিশুদ্ধ সৈনিক
ও স্থিব জনতাব মতই ভাবাও অপেক্ষা করে আছেন।
আজকের প্রধান ব্যক্তি এখনও আসেন নাই। একটু
পবেই আসবেন
...। এইবাব তিনি আসছেন। কিন্তু
কই তাব আসাব মধ্যে ত কোন সমাােেহ নেই। মুবেমবার্গে
জাৰ্ম্মাণ নাৎসী দল-সন্মেলনে প্রধান ব্যক্তি যখন আসেন
তখন তার উপব বৈদ্যুতিক আলো প্ৰেক্ষণ কোবে তাব
আগমনের গুরুত্ব বাড়ান হয় কিন্তু বই সে সব ‘ত' এখানে
দেখা গেল না।
কেবল ঘােড়াব পায়ের শব্দ, একটী ঘােডার খুবেব শব্দ
নিস্তব্ধতা ভেদ কবে প্রতিধ্বনি কবে গেল। সেই সাথে
ভবােশিলভ দুর্গের পরীখান্তব থেকে নিচে স্কোয্যারের মধ্যে
নেমে আসলেন—যেন এখনই একটী অশ্বারােহী সৈন্যের আক্রমন
পবিচালনা ক'বছেন। তার ঘােড়া অত্যন্ত দ্রুত ধাৰিত ।
এইবার লাল সােভিযেটের লাল মার্শাল, দেশরক্ষা
মন্ত্রী—ক্লেমেন্ট, এফরেমােভিচ ভরােশিলভ, লাল ফৌজের
কুচকাওয়াজ পরিচালনা আরম্ভ ক’বলেন।
৪
ক্লেম ভবােশলভ
।
অনেকের কাছে সংবাদপত্র এবং সংবাদ-চিত্র মারফতে
মােটামুটী ভাবে ইউ, এস, এস, আরেব এই মে-ডে বা মে-
দিবস পরিচিত হয়ে উঠেছে। আমব। অনেকে জানি যে এই
দিন বেড, স্কোয্যাবেব মধ্য দিয়ে অগনিত ট্যাঙ্ক দ্রুত ঢ'লতে
থাকে দুর্বার গতিতে—এক একটী ট্যাঙ্ক এত বড় যে দেখে
মনে হয় যেন এক একটি যুদ্ধ জাহাজ চলেছে হামাগুড়ি দিযে।
আমরা অনেকে জানি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ'বে লেনিনের সমাধির
সামনে দিয়ে চলে আদি অন্তহীন বাহিনীগুলি একেব পর
এক। পদাতিকবা চলে তাদের সর্বদা প্রস্তুত রাইফেল ধবে,
অশ্ববােহবা চলে, মেশিনগান চলে আকাশভেদী চক্রঘর্ষণের
শব্দ ক তে ক বতে, গােলন্দাজ বাহিনী চলে, সব যেন
সীমাহীন মানবের স্রোত, চলেছে—আব চলেছে। আমরা
কেও কেও হয়ত ছবিতে দেখেছি মস্কোব আকাশ আচ্ছন্ন কবে
চলছে খুব নিচু দিযে লাল বিমান বাহিনী।
একদিনকাব ভিধাবী বালক, ছিন্নবস্ত্র বাখাল, খনিব গােলাম,
আজকের এই ভবােশিলভ, নিশ্চয় আজকে এই দিনের জন্য
বিশেষ করে একটু গর্ব অনুভব ক ববেন বৈকি। বিশেষ, যখন
জগতে তার মত আর কেও জানে না যে এই সােভিযেটের
শক্তি প্রদর্শনের পিছনে কতটা বাস্তবতা লুকিযে ব’যেছে।
আজকের এইদিনে সােভিয়েট ইউনিয়নের আবও অন্যান্য
প্রধান প্রধান সহরে ঠিক এমনি বা কদাচ অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারে
লাল মার্শাল
সােভিযেট-শক্তি-প্রদর্শন-কুচকাওয়াজ চলেছে। লেনিনগ্রাডে
উটিস্কি স্কোয্যাবে উইন্টার প্রাসাদের সম্মুখে যে সমস্ত
বদল বটীক সাগব বক্ষায় নিযুক্ত, তাবা কুচকাওয়াজ করে
চলেছে। শ্বেত রাশিয়ার রাজধানী মিস্ক ও উক্রাইনের
রাজধানী কিযেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম সীমান্ত বক্ষী বাহিনী
কুচকাওয়াজ রত। আবাব পূর্বদিকে এসিযার সময় অনুযায়ী
কয়েকঘন্টা আগে ভ লাডিভষ্টকে হ'যেছে জাপানী সাম্রাজ্য
বাদেব চক্ষুশূল সুদূর প্রাচ্য-বাহিনীর কুচকাওযাজ।
দীর্ঘ চৌদ্দ বছর কাল ধ’বে তঁাব দেশবা সচিবের পদে
থাকা কালে ভােশিলভ যে বিবাট শক্তিকে গড়ে
তুলেছেন তার এক অংশ মাত্রই এই মে দিবসেব অভিবাদনে
যােগদান করে থাকে।
দীর্ঘ ১২ হাজার মাইল ব্যাপী স্থলসীমান্ত ও তার দ্বিগুণ
জল-সীমান্ত সম্পন্ন একটী রাষ্ট্র বঙ্গায় তার দাযিত্ব যে কত
গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা বিশেষ ভাবে উপলব্ধি করতে পাবি
যখন দেখি তার একদিকে ব’যেছে যুদ্ধ-বিক্ষত মহাচীন
আর একদিকে বলশেভিকদেব চিশত্রু রণউন্মত্ত নাৎসী
জাৰ্মাণী ।
আজ তাই লাল ফৌজেব লাল মার্শাল ঐ সব প্রকাণ্ড
প্রকাণ্ড ঝাণ্ডা অব সঙ্গীনেব সাবির অতীত পারে তার দৃষ্টি
প্রসারিত ক’বছেন। তিনি তার অন্তবেব দৃষ্টিতে দেখছেন তাবি
ক্লেম ভবােশিলভ
সৃষ্ট, বসতিহীন প্রান্তর, যার দুৰ্ব্বা-শ্যামল ঘাসের স্তবকের
নীচে লুকান রযেছে কংক্রীটেব সূদৃঢ় দূর্গ। তিনি মানসচক্ষে
দেখছেন কৃষ্ণসাগবেব তীবের সীমান্ত দূর্গগুলি আর জাপ
সমূদ্রেব সম্মুখে লুকিয়ে রাখা অলক্ষিত কামানগুলি।
তিনি দেখছেন
মধ্য
এসিযার দূর্ধর্ষ ঘােড়সাওযার
সৈন্যদেব মৰু-অভিযান। তারা সেখানকার পাহাড়ের উপর
চ’ডে তাদেব দূৰ্ব্বীন নিযে মঙ্গোলিয়াব দিকে চেয়ে দেখছে।
তিনি দেখছেন তার মানস চোখে শ্বেত পােষাক পরিহিত
ক্যাটেলিযাব স্কী বাহিনীকে যাবা উত্তর মেরুতে বিদেশী
আক্রমণকাবীদের সাথে শক্তি পৰীক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত
হ যে আছে —আসুক না তাবা যে যেদিক দিয়ে পাবে—সমুদ্র
পথে মূমাস্ক, আবকেলে দিযেই হক আর যীনল্যাণ্ডের
বনানীর অভাব থেকেই হােক। লালফৌজ তাদের জন্য
তৈবি আছে সদাসর্বদা। শেষ বক্তবিন্দু দিয়ে তারা ইউনিয়ন
অফ সােভিযেট ও সােস্যালিষ্ট গণতন্ত্রকে বহ্মা ক ববে।
ঠিক এই যৌজের জন্যই ১৯৩৬ সালে হিটলাব লর্ড লণ্ডন
ডেবীকে বলেছিল, “হঁা, একটা প্রথমশ্রেণীর ফৌজ বটে।”
আব এই লাল ফৌজই আজকের বিশ্বযুদ্ধের কি পবিণতি হবে
তাব শেষ কথা বলে দেবে।
ক্লেম ভবােশিলভ এই যৌজেব কেবল সামবিক অধিনায়ক
নন তিনি সােভিযেট বাষ্ট্রে প্রধান সমব-সচীবও বটে। আর
৭
লাল মার্শাল
তিনি সেই কযজন সােভিয়েট রাষ্ট্রনেতাদেব অন্যতম যাবা
সঙ্কটকালে এই ফৌজেব শক্তি কোন দিকে পরিচালিত হবে
তা নির্ধাবণ করে থাকেন।
অন্যদিকে তিনি শুধু সৈনিকদেব নেতাই নন তিনি বাষ্ট্র
নায়কও বটে। বাষ্ট্রনায়ক হিসাবে স্টালিনের পর যাদের
স্থান, তিনি তাদের অন্যতম। এইখানেই অন্যান্য দেশের
সেনানায়কদের সাথে ভরােশিলভেব প্রভেদ।
সংক্ষেপে বলতে গেলে বর্তমান জগতে ব্যক্তি-হিসাবে
যাদের হাতে জগতেব ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ভার রযেছে তিনি
তাদের অন্যতম।
তবুও আশ্চর্য্যেব বিষয় এই যে, বর্তমান সােভিযেট জার্মান
যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার আগে আমাদের দেশের বহু সম্রান্ত শিক্ষিত
ব্যক্তি এই লােকটীর নাম পৰ্যন্ত শােনেন নাই ।
৮
খনির মজুর
আজ থেকে ষাট বছর আগে—১৮৮১ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী
তাবিথে ক্লেম ভবেশিলভেব জন্ম। তার বাবা ছিলেন
মজুর। কলিযাবিব মজুর, বেলওয়ের ফটকওযালা ইত্যাদি
নানান রকম কাজ কবে তিনি জীবিকা নির্বাহ ক’বতেন।
তঁাব মাও চাকুবিব দ্বাবা জীবিকা অর্জন করতেন। ননদীব
একটী উপনদীর তীরে ভবেশিলভেব শৈশব কেটেছিল।
বৃহত্তম কয়লার খনি, বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য শক্তি কেন্দ্র
নানান প্রকাবের বৃহৎ শিল্প ব্যবস্থায় এই স্থান সমৃদ্ধ। এই
বিস্তৃত অঞ্চলের এক অংশ, উক্রাইনের উপর হিটলাবের লুব্ধ
দৃষ্টি আজ মহাসমবেব নূতন অধ্যাযেব সৃষ্টি করেছে, কারণ
উক্রাইন জগতেব শস্য-শ্যামল স্থানের অন্যতম, আবাব এখানেই
প্রচুর খনিজ পদার্থ ও ক্রমবর্ধমান বৃহৎ শিল্পের সংমিশ্রণ
হযেছে।
উক্রাইনের সমস্ত কিছুই ভরােশিলভেব নখদর্পণে।
তিনি জানেন উইক্রাইন বক্ষাব প্রযােজন কি এবং রক্ষা করার
জন্যই বা প্রযােজন কি ?
ভবােশিলভ উক্রাইনের খাদে, মাঠে, কাবখানায় দিনের
পর দিন কাটিয়েছেন—-ছােট থেকে হয়েছেন বড, উক্রাইনের
লাল মার্শাল
এরই বন্ধুর
বড় বড়
শিল্প-সমৃদ্ধিব সাথে সাথে । বড় হ'যে তিনি
ভূমির উপর দিয়ে শিশু-সােভিযেটকে রক্ষা করার জন্য সংগ্রাম
ক’বেছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ আর পূর্ব থেকে পশ্চিমে
চালিয়েছেন তার সৈনিক ঘােড়সাওয়ারদের।
যখন তিনি প্রথম চক্ষু মেলে চেয়েছেন তখন ভবাস
ছিল দ্রুত-বর্ধমান শিল্পের কেন্দ্র। বিদেশী ধনিকের ধনে
তখন রাশিয়ার এতদঅঞ্চলে চলছে আধুনিক শিল্প-প্রসার।
জীবনে প্রথম যে অর্থ টুকু ভিেশলভ নিজে রােজগার
করেছিলেন সে অর্থ ছিল ভিক্ষাজ্জিত। তখনকার বাশিয়ায়
ভিক্ষাকবাটা একটা তেমন ঘৃন্য ব্যপাব ছিল না।
ধনীলােকরা সেকালে ভিক্ষা দিয়ে পূণ্যার্জন করতেন।
কাজেই তারা যাতে পূণ্যার্জন করতে পাবেন সেজন্য ভিখাবী-
জিনিষটা তখনকার কালে প্রয়ােজনীয় বলে ধরা হত।
ভিখাবী না থাকলে ভিক্ষা দেবেন কাকে, আব ভিক্ষা না
দিলে পূণ্য হবে কোথা থেকে? মাত্র সাত বছর যখন তাঁর
বয়স তখন ভবেশিলভ নিজের খােরাবী বােজগাব ক’বতে
আর কবেন , প্রথমে খনিতে মাত্র দুআনা পরিমাণ বেতনে।
তারপর কিছুদিন খনিতেই বাতিধবাব কাজ ক'বতেন।
ছােটছেলেব মন, খনির কাজ ভাল লাগেনা,আলো-বাতাসের
মুখ দেখতে চায়। তাই বেশিলভ খনি ছেড়ে একটী
কৃষকের খামারে কাজ নিলেন। সেখানে কিছুদিন কাজ করার
ক্লেম ভরশিলভ
পর এক স্থানীয় জমিদাবের বাড়ী রাখালের কাজ জুটল।
যাহােক বাখালের কাজ তবু অনেক ভাল, মাঝে মাঝে
গৰু ছেড়ে গাছের গুডিতে হেলান দিয়ে একটু জিবনাে যায়—
অনেক জিনিষ ভাবতেও পারা যায়। তাই ভরােশিলভ
কেবল ভাবতেন “কেমন ক'বে লেখা পড়াটা শিখতে পাবি।”
আর বােগাবের পয়সা জমিযে জমিয়ে রাখতেন কারণ লেখা-
পড়া তিনি শিখবেনই-এ তার দৃঢ় সঙ্কল্প।
যখন তাঁব তের বছর বয়স তখন প্রাথমিক পাঠশালায়
ঢুকবাব এক সুযোগ জুটে গেল। ছ'বছবের জমা করা
বােজগার নিয়ে তিনি ঢুকলেন পাঠশালায় ।
মাত্র বছর দুই তঁাব পাঠশালায় থাকাব মেয়াদ। কিন্তু
ভবেশিলভ জানতেন তার কি দরকার। একবার তিনি
যদি লিখতে প'ডতে পারেন তাবপর তিনি নিজে ভাব কাজ
ক'বে নেবেন। তাই কোন রকমে লিখতে আর প'ডতে শিখে
আবাব পেটের ধান্দায় চল্লেন।
পাঠশাল' ছেড়ে ভবােশিলভ এলেন “লুগানস্কের” ধাতুর
কাবখানায়। সেখানে তিনি তার প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয়
দিতে লাগলেন এবং শীঘ্রই কপিকলের ইঞ্জিনিয়ারের কাজ
পেলেন। তখন থেকেই তিনি বিচ দিতে লাগলেন
সাথে কাজে লেগে থাকার প্রবৃত্তি অত্যন্ত
প্রবল।
১১
,
৮
লাল মার্শাল কিন্তু শীঘ্রই তিনি তার বুদ্ধিমত্তার পবিচ্য অন্যদিকেও দিতে লাগলেন। যদিও এদিকে তার প্রতিভার বিকাশটা কাবখানার মালিকদের মােটেই ভাল লাগত না। তিনি ভীষণ ভাবে পড়াশুনা আবস্তু ক'রলেন--আর তার পড়ার প্রিয়বস্তু হ'যে উঠল যত বেআইনী পুস্তিকা, যার আগাগােড়া বিপ্লবী রাজনীতিতে ভরা থাকত। কিন্তু তার চেযেও সাংঘাতিক কথা, তিনি আবার তার সহকর্মিদেব মধ্যে ঐগুলি বিলি করতেন এবং তাদের সাথে ঐগুলিরই উপর ভিত্তি করে অবিশ্রান্ত আলােচনা চালাতেন। ভয়ােশিলভের জীবনে মতবাদ এবং কার্যক্ষেত্রে তাব প্রযােগ কখনও খুব দূরে থাকে নাই। “কাৰ্যতঃ প্রযােগহীন মতবাদ হ’ল বন্ধ্য আর মতবাদ- হীন কৰ্ম্ম হ’ল অন্ধ” কমুনিষ্টদের মধ্যে অতি প্রচলিত এই কথাটী তখনও যদিও ক্লেমের কানে পৌছাষ নাই, কিন্তু যদি পৌছ ত তিনি তৎক্ষণাৎ তা সমর্থন করতেন। কারণ তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এই কথার মূল্য দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যক্ষ করতেন। বেআইনী কাগজপত্রে যে সব মতবাদ পড়তেন প্রতিনিয়ত সেগুলিকে তিনি কাজে পরিণত করার চেষ্টা করতেন। তার চেষ্টার ফল হল। ১৮৯৯ সালে লুগাস্কে প্রথম ধৰ্ম্মঘট হল। ভরােশিলভ ধর্মঘট পরিচালনা ক’বলেন ১২
ক্লেম ভরােশিলভ
তার জীবনে এই প্রথম ধৰ্ম্মঘট। তখন তার বয়স মাত্র ১৮
বছর ।
ঐ বছবেই আরও একটি ধৰ্ম্মঘট পরিচালনা ক'রে আংশিক
সফলতা পাওয়া গেল। কিন্তু পুরষ্কারস্বরূপ তিনি আর
নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারলেন না, গােযো-পুলীশের
নজরে প'ডতে হ’ল। কাজেই লুগাঙ্ক ছাড়তে বাধ্য হলেন।
পববর্তী তিন বছর কাল তিনি লুগানস্ক ছেড়ে এখানে-সেখানে
ঘুরে বেড়াতে থাকেন। এই সময় তার বিপ্লবী-জীবন
পুরাপুরি ভাবে আরম্ভ হয়।
৫;;
'WS,
1.
অগ্নি-দীক্ষা যে তিন বছর ভরােশিলভ তার পলাতক জীবন অতি- বাহিত ক’বছিলেন, ১৯০০ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত, এই তিন বছবে রাশিয়ার অভ্যন্তবে ভীষণ আলোড়ন চলছিল। এই সময রাশিয়ায় অর্থসঙ্কট বিশেষভাবে আঘাত করে। উক্রাইনেই কমপক্ষে ৩,০০০ হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। চারিদিকে মজুর-ছাটাই ও মজুরী-ছাটাই অবাধে চলতে থাকে। মজুববা এর প্রত্যুত্তর দিতে আরম্ভ করল, প্রথম প্রথম হরতাল ও অর্থনৈতিক ধৰ্ম্মঘট ক'রে । কিন্তু শীঘ্রই রাজনৈতিক দাবীও আবস্তু হল। শত শত লােক গ্রেপ্তাব হতে লাগল। ছাত্রদের মধ্যেও ভীষণ অসন্তোষ দেখা দিল। গভর্ণমেন্ট ইউনিভার্সিটি বা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে লাগলেন, শত শত ছাত্রদের বন্দী ক বতে লাগলেন এবং অনেককে সৈন্যদলে যােগ দিতে বাধ্য করলেন। ফলে ৩০,০০০ হাজার ছাত্র ও শিক্ষকদের সাধারণ-ধৰ্ম্মঘট আরম্ভ হল। এদিকে দমন-নীতি হ’ল আরও প্রবল। চারিদিকে ধর- পাকড় অসম্ভব বেড়ে গেল। কিন্তু তবুও এসময়ে ক্ষমতা থাকলে পুলিশের চক্ষু এডিয়ে থাকা যেতে পারত—আর ভরােশিলভের সে ক্ষমতা ছিল। তিনি কখনও প্লাক ১৪ ক্লেম রােলিত কখনাে ভলকা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে নিজেকে চালাতে লাগলেন। কিছুকাল এমনিভাবে কাটার পর ভবেশিলভ এখন গ্যাঙ্ক-এ প্রত্যাবর্তন করা অনেকখানি নিরাপদ ভাবলেন। তাই তিন বছর পরে মেসার্স হার্টম্যানের কারখানার বিজলী বিভাগে একটি চাকরি নিয়ে তিনি লুগাস্কে ফিরলেন। ইতিমধ্যে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বেড়েছে প্রচুর--যদিও বয়স তার তখন ২২ বছর মাত্র, তবুও লােকে তাঁর কথায় যথেষ্ট গুরুত্ব আরােপ করতে আরম্ভ করেছে। এই ১৯০৩ সালেই ভবােশিলভ রাশিয়ার তদানিন্তন সর্বাপেক্ষা অগ্রগামী দল সােস্যাল ডেমক্রাটিক পার্টিতে যোগদান করেন। এই পার্টিই পরে ভেঙ্গেচুরে লেনিনের হাতে বলশেভিক ও আরও পরে কমুনিষ্ট পার্টিতে পরিণত হয়। ভরােশিলভ লুগানস্ক ফিবতেই সেখানকার শ্রমিকরা তাদেব স্থানীয় কমিটির সভাপতিপদে তাকে নিযুক্ত করে দিল। এই সময়ে ভরেশিলভ বাজনীতিতে তার নিজস্ব অবদানের পরিচয় দিতে আরম্ভ করেন। ভরােশিলভ এইখানেই প্রথম সশস্ত্র প্রতিবােধের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেন। ২০ বছর পরে যেমন তিনি আধুনিক জগতের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ সৈন্যবাহিনীর নির্মাণ- কারীরূপে নিজের পরিচয় দেন তেমনি এইখানে তিনি
লাল মার্শাল
শ্রমিকদের রক্ষী বাহিনী সংগঠনকারীরূপে নিজের পরিচয়
দেন।
এই সময় যখনই কোন শ্রমিকদের সভা ইত্যাদি হত
তখনই “কসাক” সৈনিকদের দ্বারা সভা ভেঙ্গে দেওয়ার
সম্ভাবনা থাকত খুব বেশী । কসাইদের বুট আর চাবুকে
ভরােশিলভ এবং তার বন্ধুরা সকলেই অস্থর হয়ে উঠলেন।
শেষে তারা ঠিক করলেন যে, কসাকদিকে সশস্ত্র উপায়ে
প্রতিবােধ কবা প্রয়ােজন। শ্রমিকরা ছােট-ছােট দল গঠন
কবে বিদেশ থেকে আমদানি করা রিভলভারেব দ্বারা নিজেদের
সজ্জিত করতে লাগল এবং পুলিশ তাদিকে আক্রমণ
কবলে তাবাও প্রবল বেগে প্রতিআক্রমণ ক'বতে লাগল ।
এইভাবে তারা পুলিশের আক্রমণ থেকে সভান্ত সমবেত
জনতাকে রক্ষা করে তাদিকে নিরাপদ স্থানে সবিয়ে দেওয়ার
ব্যবস্থা করত। আবার সময় সময় পুলিশের হাত থেকে
নিজেদের ধৃত বন্ধুদের ছাডিযেও আনত।
কিন্তু তার এই ছােট দলটিকে ভালভাবে অস্ত্রসজ্জিত কব।
ভরােশিলভের পক্ষে খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। তবু
ভবােশিলভ ছাড়বার পাত্র নন। তিনি মেয়েদের পােষাকের
বাক্সের ভিতর লুকিয়ে ফিনল্যাণ্ড থেকে বিভলভার আমদানি
করতে লাগলেন। বােম তৈরী করা বা যােগাড করা
অবশ্য অনেকটা সােজা--তাও হতে লাগল। ওদিক থেকে
ক্লেম ভােশিলভ
যারা ভিনেমাইটের কাবখানায় কাজ করত তারা ছিনেমাইটের
যােগাড় করল। এমনকি সময় বুঝে ব্যবহারের জন্য দু’
একটা মেশিনগানেরও ব্যবস্থা হল। ভরােশিলভ অতি
ছােটখাট অস্ত্রকেও অকেজো বলে ফেলে দেবার লােক নন।
কথিত আছে, পকেটে বালি ভর্তি রেখে সময় বুঝে বিপক্ষের
চোখে ছুড়ে দেওয়ার কৌশল তিনিই প্রচলন করেছিলেন।
এই অভিনব “টিয়ার গ্যাস” বা “কাঁদুনে গ্যাস সময় সময়
আশ্চৰ্যরকম ফল দিত। এই প্রকার নানান উপাযে ভবো-
শিলভ তার ছােট দলটিকে বেশ একটী সুসংগঠিত দলে তৈরী
ক'বে সংগ্রামশীল করে তুলতে লাগলেন।
ইতিমধ্যে পুলিশ তাকে একবার ধ'রে ফেলে এমন মার
দিল যে তিনি অজ্ঞান হ'যে প'ডলেন। কিন্তু সারা জেলায়
সাধাবণ ধর্মঘটের ভযে পুলিশ শেষে তাকে ছেড়ে দিল।
ছােট্ট এই ব্যাপারটী থেকেই দেখা যায় জাগ্রত জনগণের শক্তি
কোন্খানে এবং বর্তৃপক্ষেরই বা দুর্বলতা কোথায়। পুলিশ
ভরােশিলভকে বন্দী ক’রল বটে, কিন্তু তাকে সেখানে রাখতে
পারল না—ভয়ােশিলভকে সেখানে রাখলে যে অবস্থার সৃষ্টি
হ'ত, তার সম্মুখীন হতে তাদের সাহসে কুলাল না। এই
লুগাস্কে থাকতে ভরােশিলভের আর একটা বিষয়ে জ্ঞান
হ'ল—সে জ্ঞান তার সৈনিক জীবনের সাথে ওতঃপ্রােতভাবে
জডিত। ভৰােশিলভ এই সময় প্রথম উপলব্ধি করেন যে,
১৭
লাল মার্শাল
তারা ঠিক
সৈন্যদের রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা এবং রাজনৈতিক ঘটনা সমূহ
সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা থাকা কত বেশী প্রয়ােজন। তাকে নানান
ধরণের লোক নিয়ে
কাজ করতে হত। এদের মধ্যে কাজ
করতে করতে তিনি দেখতে পান যে, যে-সব সৈনিকদের
মধ্যে লেনিনের শিক্ষা মজ্জাগত হয়েছে, তাদের শৃঙ্খলারক্ষার
জন্য তাকে মােটেই চিন্তা করতে হত না।
সমযের ঠিক কাজটী আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারত,
অথচ আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কাজে নামত না। অন্যদিকে
যাদেব রাজনৈতিক জ্ঞান অল্প ছিল তারা সব সময় গণ্ডগােল
পাকাত।
১৯৩৯ সালে সােভিযেট ইউনিয়নের কমুনিষ্ট পার্টির
অধিবেশনে তিনি ফৌজেব রাজনৈতিক জ্ঞান সম্বন্ধে বলেন,
“শান্তির সময় লাল যৌজ হ'ল একটা বিরাট পাঠাগার।
হাজার হাজার লােক এখানে এসে কেবল তাদের নিজস্ব বিষয়
সম্বন্ধেই শিক্ষালাভ করে না, কেমন কবে শত্রুকে ধ্বংস ক’বতে
হবে শুধু সেইটুকুর জ্ঞানই তারা পায় না, তাদের সবচেয়ে বড়
অধিনায়ক থেকে আরম্ভ করে ক্ষুদ্রতম সৈনিক পৰ্যন্ত সব সময়
রাজনৈতিক জ্ঞান বাড়াবার চেষ্টায় নিযুক্ত, সব সময়েই তারা
মার্কসবাদ-লেনিনবাদেব সূত্রগুলি মজ্জাগত করার
সচেষ্ট।”
তিনি বলেন, “বিদেশী ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির সৈন্যদের
জন্য
১৮
ক্লেম ভরােশিলভ
জন্য রাজনীতি-চর্চা নিষিদ্ধ কিন্তু আমাদের সৈন্যের আসল
শক্তিই হ'ল তার রাজনৈতিক জ্ঞান।”
ভরােশিলভ বরাবব এইরূপ মতবাদ নিয়েই কাজ ক'রে
এসেছেন। আর তার এই মতের প্রয়ােগ আরম্ভ হ'যেছে
লুগাস্কের রাস্তায, পার্কে, পুলিশের সাথে ছােট-খাট লড়াইয়ের
মধ্যে।
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই এই ছােট ফৌজের ভাগ্যে
সত্যিকাব একটা লড়াইযের সুযােগ এসে পড়ল।
১৯০৪ সালে বাবুতে পেট্রলের শ্রমিকদেব এক বিরাট
সাফল্যমণ্ডিত ধৰ্মঘট হযে গেল । ১৯০৫-এর ৩রা জানুয়ারী
সেন্টপিটার্সবার্গে (এখন লেনিনগ্রাড) ধর্মঘট আরম্ভ হল।
তাবপব একবছর ধরে, একদিকে রুশ-জাপ যুদ্ধে বিপৰ্যয় ও
অন্যদিকে অন্তবিপ্লবের মধ্যে জীর্ণ জাবতন্ত্র প্রতিদিন ধ্বংসেব
মুখে কাটাতে লাগল। “রক্তাক্ত ববিবাবে” জারের প্রাসাদের
সামনে নিরস্ত্র, বুভূক্ষু, সাহায্যপ্রার্থী জনতার উপব জারের
বন্ধীদল গুলি চালিয়ে ৩০০০ লােককে আহত ও নিহত
করল। ওদিকে কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধ-জাহাজ পােটেবিনের
নাবিকরা বিদ্রোহ কবে জাহাজ নিয়ে কমানিয়ায় পাড়ি দিল।
চারিদিকে শ্রমিক ধর্মঘট, কৃষকদের উত্থান, সিপাহী বিদ্রোহ
আব রাস্তায় রাস্তায় সশস্ত্র লড়াই দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে
দাড়াল। ভরােশিলভ এই বৎসরে তার কর্মক্ষমতার প্রকৃত
লাল মার্শাল পরিচয় দিলেন। দিনের পর দিন লেনিনের বিদেশ থেকে সম্পাদিত সংবাদপত্র “ই” বা “ফুলিঙ্গ” তিনি শুধু পড়ে আসেননি, তার কমরেডদের পডিযেছেন ও বুঝিয়েছেন। লেনিন এই ইস্ক্রায় লিখেছেন, শ্রমিকের পার্টি অবসর সমযের কাজ করা বিপ্লবীদের দিয়ে চলতে পারে না , বিপ্লবের প্রতি সহানুভূতিশীল অথচ বিপ্লব সম্বন্ধে ধারণা যাঁদের অস্পষ্ট এমন কৰ্ম্মি দিযেও বিপ্লব আসতে পারে না—আর বিপ্লব আপনাহ’তেও হয়ে যাবে না, তার জন্য সুসংবদ্ধ, নিয়ত কৰ্ম্ম- নিযুক্ত, মার্কাদের মতবাদেব সম্বন্ধে অসন্দিগ্ধ কম্মিদের নিয়ে গঠিত পার্টির প্রযােজন। কেবলমাত্র এই রকম পার্টির দ্বারাই বিপ্লব সম্ভব হ'তে পাবে।” ভাবােশিলভ লেনিনেব এই সব লেখা পড়তেন আর তার বন্ধুদেব পড়াতেন। লুগানস্কের বােটানিক্যাল গার্ডেনে যখন প্রেমিক প্রেমি- কাবা অবসর বিনােদনের জন্য বেড়াতে যেত, সেই সময় ঝোপ- কাপের মধ্যে ভবেশিলভ লেনিনের লেখাকে তার কস্থলে কাজে পরিণত করার জন্য কম্মিদিকে তৈরি করতেন। তাই যখন ১৯০৫ সাল এল, তার আগে থেকেই ভরােশিলভ জানতেন তাব কর্তব্য কি এবং বিপ্লবের জন্য কি করতে হবে। বিপ্লব যে ভাববিলাসী য্যানাষ্টি বা বা চেয়ারে ব'সে ব'সে থিওরি আওড়াতে আর বকর বকর করতে অভ্যস্ত শােস্যালিষ্টদের মুখের কথায় হবে না, একথা তার চেয়ে কেউ বেশী জানত না।
ক্লেম ভরােশিলভ তাই ভরে'শিলভ তার অঞ্চলের শ্রমিকদেব প্রস্তুত করার চেষ্টার ক্রটী কবেন নাই। ভরােশিলভের নেতৃত্বে লুগানস্কের মজুররা ১৯০৫ সালে, পেট্রোগ্রাড ও মস্কো প্রভৃতি সহবের মজুদের মত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কযেকবার বিশেষ বীরত্বের সঙ্গে সংগ্রাম চালায়। কিন্তু সমগ্র রাশিয়া তখনও প্রস্তুত ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত ১৯০৫ সালে বিদ্রোহে কোনপ্রকারে জাবতন্ত্র কাটিয়ে উঠল। জারতন্ত্র যদিও কিছু কিছু দাবী মেটাতে বাধ্য হযেছিল, তবুও বিপ্লব তা সাময়িকভাবে দমন ক’বতে সক্ষম হ'ল। একমাত্র লেনিনের পার্টি ছাড়া তখন আর কাবও বিপ্লব সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা ছিলনা, অথচ তখনও লেনিনের পার্টির প্রভাব খুব বেশী বিস্তার লাভ করতে পাবে নাই—বিশেষ কবে কৃষকদের মধ্যে পার্টিব কাজ তখনও বেশী দূর অগ্রসর হয় নাই। যাইহােক, ১৯০৫ সালের পর লেনিনের দল আবার সংগঠনে মন দিলেন। লেনিন ফিনল্যাণ্ডে আশ্রয় নিলেন— অন্যান্য নেতারা পশ্চিম ইউরােপে আশ্রয় নিলেন। আর লুগানকে এক যুবক গােলা-বারুদ, বন্দুক, রিভলভার সব স্থানান্তরিত করে লুকিযে রাখার জন্য নিষ্ঠার সাথে ও শৃঙ্খলাব সাথে ব্যবস্থা করলেন। তিনি জানতেন একদিন আবার এই সমস্তই কাজে লাগবে। কিন্তু তিনি তখন জানতেন না যে, একদিন লুগানস্কের নাম রাশিয়ার ম্যাপ থেকে উঠে যাবে আর সেই যায়গায় লেখা থাকবে—“ভয়ােশিলভগ্ৰাড়”।
পলাতক
১৯০৬
সাল।
স্টকহন্মে পাটি সম্মেলন। সবসমেত
১১১ জন সােস্যাল-ডেমক্রাটীক দলের সদস্য সেখানে সমবেত
হ'যেছেন। যদিও এই সময় বাশিয়ার সম্রাট জার, গণতন্ত্রের
ভেল্কি দেখাচ্ছিলেন তবুও পার্টি সম্মেলন রাশিয়ার মধ্যে ডাকা
সম্ভব হয় নাই, কারণ এক সঙ্গে সবাই ধরা পড়লে মহা বিপদ
হত।
১১১ জন যারা এসেছিলেন তারা সবাই প্রায যুবক।
কিন্তু সকলে লেলিনের সমর্থক নন। জন পঞ্চাশেক মাত্র তাব
সমর্থক। এই জন পঞ্চাশেকের মধ্যে ছিলেন ভােশিলভ।
তব জীবনের মাত্র কয়েকবার বিদেশযাত্রার মধ্যে এই স্টকহল্ম
আগমন অন্যতম। সুইডেন দেশ খুব সুন্দর—আব তার এই
রাজধানী ইউরােপের মনােমুগ্ধকর সহরের অন্যতম।
কিন্তু ভরােশিলভ শুধু সুন্দর হব দেখতে আসেন নাই।
তিনি এসেছেন পাটিব কাজে তিনি ষ্টকহল্মে এসে
দেখতে পেলেন পাটির আসল লােক-লেলিনকে—যার নির্দেশ
কাজে পরিণত করতে তিনি দৃঢ় সঙ্কল্প।
লেনিনের সঙ্গে ভবােশিলভ-এর এই প্রথম সাক্ষাতের
স্মৃতি ডেনিস হুইটলে লীপিবদ্ধ ক'বেছেন। ভরশিলভ
বলেছেন “আমার জীবনের সেদিনের ঘটনা আমার এখনও
কেম ভরােশিলভ পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে মনে আছে। আমার কাছে লেনিনের সব কিছুই যেন মনে হচ্ছিল অনন্য সাধারণ—তার কথা বলার ধরণ, তার সহজ অনবদ্য ভাব, সবের উপব তব তীক্ষ্ণ, সৰ্বভেদী, অন্তর উদঘাটনকাবী চোখ দুটো সম্পূর্ণ অনন্য সাধারণ মনে হচ্ছিল।” ১৯০৬ সালের এই সম্মেলনে লেনিন সাময়িকভাবে তার বিপক্ষপাতি বন্ধুদের হাতে পরাজিত হ'লেন। কিন্তু ভরােশিলভ দ্বিধাহীন চিত্তে লেনিনের সমর্থক রইলেন। শিল্পকেন্দ্র ও সহর থেকে আগত অধিকাংশ সদস্যই তাই ছিলেন। বিশুদ্ধতা এসেছিল ছােটখাট সহর ও পল্লী অঞ্চলের সদস্যদের কাছ থেকে। স্টকহল্ম সম্মেলনে আর একটী লােকের সাথে ভৰােশিলভের পরিচয় হয় এবং এর পর থেকে ক্রমে ক্রমে তিনি অতি ঘনিষ্ট- ভাবে তার সাথে কাজ করতে থাকেন। ষ্টালিনও স্টকহম সম্মেলনে সমবেত ছিলেন। ভবােশিলভ এর বয়স তখন ২৫ বছব, ষ্টালিনের ২৭ আব লেনিন সেই মাসেই ৩৬ সে পা দিযেছেন। এই সমস্ত চল্লিশ বছবের কম বয়স্ক সব যুবকবা জগতের এক প্রধান সমস্যার সমাধান ক'বতে সমবেত হ'যেছে এবং তারা তা ক’ববেই, একথা সেদিনকার পক্ককেশ রাজনীতিক বা অতিজ্ঞাণী সংবাদ পত্রের সম্পাদকদিকে বলতে গেলে তারা হেসেই উড়িয়ে দিত কিন্তু বাস্তব ঘটনায় দেখা
লাল মার্শাল
যাচ্ছে প্রায় ১০ বছরের মধ্যে তারা পৃথিবীর ছয় ভাগের এক
ভাগে মজুর কৃষকের স্বাধীনতা এনেছে এবং আর বাকি অংশের
মজুর কৃষকের ভবিষ্যতের উপরও তাদের অনন্য সাধারণ
প্রভাব বিদ্যমান।
স্টকহন্মের পবাজযের পর এক বছর কেটে গেল। ১৯০৭-এ
লনে আবার সম্মেলন বসল। মে মাসের বৌদ্রজ্বল লণ্ডন,
পার্কে পার্কে, গাছে গাছে, নতুন সবুজের অভিযান আবস্তু
হয়েছে। লেনিন তার বন্ধুদের নিয়ে সমস্ত দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন।
বৃটিশ মিউজিয়, যেখানে একদিন কালমার্ক ব'সে ব'সে
লিখেছেন তার “ড্যাস ক্যাপিটাল” লেনিন মহােৎসাহে বন্ধুদের
দেখাচ্ছেন সেই জায়গা। তিনি নিজেও সেখানে “রিচটার”
নামে পরিচয় দিয়ে বসে বসে কাজ করেন এখবরও দিচ্ছেন
বন্ধুদেব।
কিন্তু লেনিন কর্মক্ষেত্র থেকে আগত বন্ধুদের কাছে স্থানীয়
খবর জানতে ভালবাসতেন। দিকে প্রশ্ন করতে ও চুপ করে
ব'সে ব'সে তাদের বিবরণ শুনতে তার ভাল লাগত।
ভােশিলভ তার নিজের অঞ্চলের বেশ আশাপূর্ণ বিবরণ দিতে
সক্ষম হ'লেন।
জার নিজের তৈরি মাকাল ফল, ডুমা (বা পরিশদ )কে
যেটুকু কাজ করতে দিয়েছিলেন তার মধ্যে একটা হল
শ্রমিকদের ইউনিয়ন বা সংঘ গড়বার অধিকার দান। এই
২৪
ক্লেম ভবােশিলভ
অধিকার পাওয়া মাত্র ভরেশিলভ তার হাটম্যানের কারখানার
সহকর্মি শ্রমিক বন্ধুদের নিয়ে ইউনিয়ন সংগঠন করলেন।
তিনি হলেন সেই ইউনিয়নের সভাপতি এবং তার সভ্য
সংখ্যা অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজাব হযে গেল। তার
“লড়াযেব দল” সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা কবায় তিনি সংবাদ দিলেন যে
এখন তার থেকে নতুন একটী বাহিনী গড়া হ'যেছে। বেশীর
ভাগ তার হার্টম্যানের কারখানা বন্ধুদের নিয়ে গঠিত ৭০০
জনের এই বাহিনীর নাম দেওয়া হযেছে “রেড, গার্ড” বা
‘লাল বক্ষী'। সব মিলিয়ে ভবেশিলভকে ষ্টকহবে চেয়ে
লণ্ডন সম্মেলন অনেক ভাল লেগেছিল। গত বারের চেয়ে
সম্মেলন আরও অনেক বড় হয়েছিল আর তার চেয়েও বড় কথা
৩৩৬ জন প্রতিনিধিব মধ্যে বলশেভিকদেব কার্যকরী সংখ্যা-
গরিষ্ঠতা ছিল। এখন লেনিন আগের চেয়ে অনেক সুবিধাজনক
অবস্থায় ছিলেন। তাই ভরােশিলভ পার্টি সম্বন্ধে অনেকটা
স্বস্তিব ভাব নিয়ে দেশে ফিরলেন।
কিন্তু বেশীদিন তাকে পুলিশ তিষ্টতে দিলনা। ভাব এই, বার
বাব বিদেশে যাওয়া পুলিশের নজবে প'ডলে তারা বুঝতে পারল
ভরােশিলভ একজন নেহাত গােবেচারা ট্রেড ইউনিয়ন কম্মি-ই
নন-তিনি আরও অনেক বিপদজনক। সুতরাং তার গ্রেপ্তারের
আদেশ হ'ল।
কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি এখানে ওখানে ফেরারী হয়ে
২৫
লাল মার্শাল
কাটালেন। জনসাধারণও তাকে বাঁচাবার জন্য আপ্রাণ
সাহায্য করতে লাগল। পুলীশ তখন সাধারণ লােকের
মধ্যে গুপ্তচর বসাতে আরম্ভ করল এবং অর্থের লােভ দেখিয়ে
কিছু কিছু লােককে বস করতে লাগল। এই রকম একজন
বিশ্বাসঘাতক লােক একদিন ভবেশিলভকে পুলিশে ধরিয়ে
দিল। বিচারে ভরােশিলভের উপব তিন বছরের জন্য উত্তরে
শ্বেত সাগরের তীবে আরকেঞ্জে বন্দরে নববন্দী থাকার
আদেশ হ’ল। কিন্তু তিনি সেখানে বেশীদিন থাকলেন না।
একজন অভিজ্ঞ বিপ্লবীর পক্ষে নজরবন্দী অবস্থা থেকে পালন
এমন কিছু শক্ত কথা নয়। শক্ত হল পালিয়ে এসে পুলিশের
নজর এড়িয়ে থাকা। তাই ভােশিলভ আবকেলে থেকে
সরে এসে তখনকাব নত উক্রাইনে ফিরে যাওয়াটা নিরাপদ
মনে করলেন না এবং সেইজন্য ক্যাসপিয়ান হ্রদের তীরে
বিখ্যাত তৈলক্ষেত্র বাকু বন্দরে আশ্রয় নিলেন।
উবাসের দিগন্তব্যাপী সমতল আব ক্যাসপীযন সাগরের
তীরে ককেশাস্ পৰ্বতের পাদদেশে এই বন্দরের মধ্যে
পার্থক্য অনেক। এখানে সমবেত হযেছে নানান জাতিব
নানান লোক। জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, রাশিয়া, পারশিয,
জাৰ্মাণ, কুদ, ইহুদী এই সমস্ত বিভিন্ন জাতির বিভিন্ন ধবণের
কযেক লাখ লােক এখানে এসে জুটেছে। কেও এসেছে ধনের
উপর ধন বাড়াবার জন্যে আর কেও এসেছে কোনমতে তেলের
ক্লেম ভরােশিলভ
(म
খনির মজুর হ'যে পেটের খাবার জোগাড় করতে। কেবল
একটী মাত্র জিনিষ দিকে একত্রিত করে রেখেছে। সেটি
হ'ল তেল।
তেলের জন্যই বাকুর জন্ম এবং তেলই তার জীবন।
সময় বাকুতে ছােট বড় প্রায় ২৭০টী তেলের খনি কাজ
ক’বছিল। এই রকম একটী বিভিন্ন জাতিব সম্মেলন ক্ষেত্রে
পুলিশের দৃষ্টি এড়িয়ে থাকা অনেকটা সহজ।
বাকু আবাব স্টালিনের দেশে । স্টালিনের বাড়ী হল
টীফলিস, ক্যাসপিয়ান হৃদের বন্দর বাকু এবং কৃষ্ণ সাগরেব
তীবে বাটুম বন্দবেব ঠিক মাঝ পথে । এই বাটুম থেকেই
বাকুব তেল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বপ্তানীর জন্য জাহাজে
১৯১৭ সালের বিপ্লবের আগে ষ্টালিনের যা কিছু
কাজ তার অধিকাংশই এই তিনটী শহরের মধ্যেই হযেছে।
তবেশিলভ বাকুতে এসে ষ্টালিনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন
করে তার নির্দেশ মত কাজ ক’বতে আরম্ভ করলেন।
ষ্টালিনের কাছে তিনি অনেক বিষযে নূতন জ্ঞান পেলেন।
সােভিযেট রাষ্ট্রেব বাজনীতি কমােন্বতির মধ্যে ষ্টালিনের
সব চেয়ে বড় নিজস্ব দান হল তার রাষ্ট্রের অন্তর্গত বিভিন্ন
জাতিব জাতীয় সমস্যা বােঝবার ও তার সমাধান করার
অদ্ভুত দক্ষতা।
তখনকার রাশিয এই সমস্যা পৃথিবীর
অন্যান্য দেশের মতই তীব্র ছিল। ষ্টালিনের কাছ থেকে
তােলা হয়।
२१
লাল মার্শাল ভরােশিলভ এই বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ কবলেন। বিদেশে সম্মেলনাদিতে ট্রটস্কি প্রমুখ নেতারা যে সব ভূযা, হাওয়াই আন্তর্জাতিকতার বুজরুকি ঝাড়তেন সে সব সম্বন্ধে সঠিক ধারণা পেয়ে সেগুলিব গলদ কোথায় প্রত্যক্ষ বুঝতে পারলেন। ষ্টালিনই একথা বলেছিলেন যে, যদি কোনও দেশের অর্থ- নৈতিক ও রাজনৈতিক পদ্ধতিটা হয় সমাজতান্ত্রিক, তাহ'লে সে দেশের লােকের পক্ষে নিজস্ব জাতীয় ভাষা, সাহিত্য, আচার, রীতি, গান, নাচ, খেলা ধূলা সম্বন্ধে গৌরব বােধ করার মধ্যে কোন ক্ষতি নেই যদি অবশ্য সে সব আচাব ব্যবহার-গুলর মধ্যে খারাপ কিছু না থাকে। ভযােশিলভ জানতেন উক্রাইনের নিজস্ব জাতীয ধারা আছে এবং সে ধারা রাশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিন্ন এবং উক্রাইনবাসিদের মধ্যেও একটা জাতীয় মনােভাব আছে। এখনও এই মনােভাব বর্তমান এবং সােভিযেটের শত্রুরা মনে করে তারা এই মনােভাবকে অবাঞ্ছিত পথে চালিযে সােভিযেট থেকে উক্রাইনকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে। কিন্তু সে আশা ভুল। আজ সে রকম কোন পবিকল্পনার বিরুদ্ধে এমন একটী লােক জীবিত আছেন, উক্রাইনে যাব জনপ্রিয়তার সমকক্ষ কেও নাই। ষ্টালিনের কাছেই ভরােশিলভ শিখেছেন যে, নিজের দেশের নিজস্ব ভাষায় কথা বলায় বা তা নিয়ে গর্ব করায় বা তার দেশের প্রধান সহর কীভের সম্বন্ধে উচ্চ ধারণা পােষণ করার ক্লেম ভবােশিলভ মধ্যে কোন দোষ নাই, কোন ভূল নাই—তবে কেও যদি একথা বলতে চায় যে, সমগ্র সােভিয়েট যুক্তৰাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হযে উক্রাইনের কোন স্বাধীন সম্পর্কচুত রাজনীতি বা অর্থ- নীতি থাকতে পারে, তাহলে তার বিরুদ্ধে লাগা অত্যন্ত প্রযােজন—সে উক্রাইনের মিত্র নয়, সে শত্ৰু, সে উক্রাইনকে পঙ্গু কবে বিদেশী শাসকদের হাতে তুলে দিতে চায। ষ্টালিনের এই শিক্ষা শুধু ভবােশিলভের মধ্যে নয়, আজ সমগ্র উক্রাইন- বাসীব মধ্যে দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেছে। তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি দুর্ধর্ষ জার্মান যান্ত্রিক-বাহিনীকে কিভাবে আজ উক্রাইন বাসীবা প্রতিহত ক’বছে। লাল ফৌজ অবস্থাবিপাকে প্রযােজন বেধে পশ্চাদপসরণ করলেও উক্রাইনেব সাধাৰণ জনগণ গরিলা বাহিনী গড়ে তুলে জার্মান সৈন্যের পশ্চাতে তডিত আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত ক'বছে। ষ্টালিনের বাণী তাদিকে আজ এমনভাবে অনুপ্রাণিত ক'বেছে যে, তারা নিঃশঙ্ক চিত্তে ঘরদোর বাড়ী মাঠ এমন কি মাঠের ফসল পর্যন্ত জ্বালিয়ে পুড়িযে ধূলিসাৎ ক'রে দিচ্ছে জার্মান সৈন্যকে বাধা দেবার জন্য। কিন্তু এ জিনিষ একদিনে আসে নাই—অনেক দিনের অনেক সংগ্রামেব পব এসেছে এবং ভরােশিলভ সে সংগ্রামের প্রথম প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা পান বাকুতে। ষ্টালিন ও ভরােশিলত বাকুতে যদি এই জাতীয় সমস্যা সম্বন্ধে পূৰ্বোল্লিখিত ধারণার উপর ভিত্তি করে অগ্রসর না হতেন, তাহলে সেখানে কাজ ২৯
লাল মার্শাল
করা সম্ভব হত না। কারণ আমরা আগেই বলেছি যে, বাকু
ছিল এক নানান জাতির নানান সমাজের লােকের বাসস্থল।
অয়েল্ ম্যাগনেট বা তেলের রাজারা—ইহুদী মজুর ও
ক্রিশ্চিয়ান মজু, আর্মেনিয়ান মজুর ও রাশিয়ান মজুব,
মুসলমান ও রাশিয়ান মজুর এই সমস্ত বিভিন্ন জাতির মজুরদের
মধ্যে বিবাদ জিইয়ে রেখে তাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা
চেষ্টার ত্রুটী করত না। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্রে বাধা
হ'যে, দাড়ালেন দুটী লােক, ভরােশিলভ এবং স্টালিন।
ভৌগলিক অবস্থাব দিক থেকে দেখতে গেলে মধ্য ইউরােপ
থেকে এতদূরে পারস্যের কাছাকাছি এই সহবটীর রাজনীতিতে
অত্যন্ত পশ্চাদপদ হওযাব কথা। কিন্তু তা হতে পারে নাই।
আমরা দেখেছি ১৯০৫ সালের বিপ্লবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দিয়েছে
১৯০৪ সালের ডিসেম্বরেব বাবুর শ্রমিকদের ধর্মঘট।
পর থেকে বাকু ববাবরই সংগ্রামশীল শ্রমিকদের কার্যক্ষেত্র
থেকেছে।
ষ্টালিন ছিলেন এই সময় তাদের প্রধান
পথপ্রদর্শক আব ভরােশিলভ তাঁর প্রধান সহচর। যখন
ষ্টালিন গেছেন বিদেশে বা পুলিশের তাড়নায় লুকতে বাধ্য
হয়েছেন বা নির্বাসিত হ'যেছেন তখন তিনি তার বিশ্বস্ত
বন্ধুর উপর কাজের ভার দিয়ে গিয়েছেন এবং ভবােশিলভ ও
প্রকৃত বলশেভিকেব মত কাজকে এগিয়ে নিযেছেন। এই
সময়কার জয় বিপর্যয়ের মধ্যেই পরস্পর পরস্পরকে দ্বিধাহীন
এব
ক্লেম ভরােশিলভ
ভাবে বিশ্বাস করতে ও পরস্পরের সাথে সহযােগীতা ক'রে
কাজ করতে শেখেন। তাঁদের বাকুর এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে
সিভিল-ওয়াব বা অন্তবিপ্লবের সময় এবং সােভিযেটের
কর্ণধাররূপে সােভিয়েট পরিচালনার
সময় অনেক
সাহায্য করে।
৩১
জারের পতন
ইতিমধ্যে পশ্চিম
ইউরােপে মহাযুদ্ধ
ঘনীভূত হয়ে
উঠছিল...। বলশেভিকরা অনেক আগে থেকে দেশবাসীকে
ও শ্রমিক বন্ধুদিকে এই যুদ্ধে অবশ্যম্ভাবিতা ও যুদ্ধের সময়কার
কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করতে নিশ্চেষ্ট থাকেন নাই।
তাই যখন ১৯১৪ সালের অগাষ্ট মাস এল তখন সে যুদ্ধ
বলশেভিকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ভাবে আসে নাই।
মহাযুদ্ধ এল। ইউদােপের যত সব ভূযা সােস্যালিষ্টবা
রাতারাতি মত পাটীযে যুদ্ধ সমর্থন কবে বক্তৃতা দিতে আরম্ভ
ক'বলেন। কিন্তু লেনিন অষ্ট্ৰিযায় গ্রেপ্তার হ'লেন। পরে তাকে
সুইজারল্যান্ডে গিয়ে আশ্রয় নিতে অনুমতি দেওয়া হ'ল।
ষ্টালিন তখন সাইবেবিয সহশ্রম নির্বাসন ভােগ কবছেন।
আর ভবােশিলভ নিয়ত জাল দলীল দস্তাবেদের সাহায্যে
জারের সৈন্যদলে যােগ না দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। শীঘ্রই
তিনি গােলাবারুদেব কারখানায় নিযুক্ত হলেন এবং সেখানে
বিদ্রোহের আগুন জ্বালাবাব সম্পূর্ণ সুযােগ নিতে লাগলেন।
ভরােশিলভ নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্য যুদ্ধ থেকে সরে
থাকতে চান নাই আর নিছক শান্তিবাদীও ছিলেন না।
বলশেভিকরা যুদ্ধের আগের থেকেই বলে দিয়েছে যুদ্ধে তারা
৩২
ক্লেম ভরােশিলভ
কি পথ গ্রহণ করবে। তারা বলে দিযেছে ধনতান্ত্রিক সমাজ
বেঁচে থাকতে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী এবং সে যুদ্ধে শ্রমিক ও
জনসাধারণের কোন স্বার্থ নাই। কাইজারে আর জারের
লড়াইযে মজুরের কোন সুবিধা নাই—কেবল অত্যাচার
আছে —তাই তাদের উচিত হবে উভয়কেই উৎখাত করা—
সম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে অন্তযুদ্ধে পরিণত করা।
ভবােশিলভ তার পার্টির এই নির্দেশ নিযে বাকু ত্যাগ
ক'বলেন। কিন্তু লুগান্, বা ডাস তখনও তার জন্য
নিরাপদ নয ববং বেশী বিপদজনক। তাই তিনি বাকু থেকে
প্রথমে ভন্ন নদীর তীরে জাববিতসিনে আশ্রয় নিলেন। কিন্তু
জায়গাটা তাকে বড় একঘেযে মনে হ'ল। তাই সেখান থেকে
গেলেন তিনি পেট্রোগ্রাডে। পেট্রোগ্রাডে এসে ভরােশিলভ
গােলাবারুদের কাবখানায় ভর্তি হলেন। একদিকে সেখানে
দৈনিক বাব ঘণ্টা কাজ করেন আর অন্যদিকে বাকী যেটুকু সময়
পান তিনি পার্টির কাজে মন দেন। বলশেভিক পার্টির প্রভাব
এই সময় জনসাধাবণের মধ্যে বিশেষ ভাবে বাড়তে আরম্ভ
কবে। মজুবরা ছােট খাট থেকে আবন্ত করে বড় বড় সাধাৰণ
ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে নিজেদিকে প্রস্তুত ক বতে থাকে।
জাতন্ত্রেব শেষ সহায—সৈন্যদের মধ্যেও বলশেভিকরা
বিশেষ ভাবে কর্মতৎপরতার সাথে কাজ করতে
থাকেন।
৩
লাল মার্শাল ভারতন্ত্রের ফৌজদের মধ্যে সাধারণ সৈনিকদের দুর- অবস্থার সীমা ছিল না। তারা অধিকাংশ বুভুক্ষুকৃষকদের মধ্য থেকে পেটের দায়ে যুদ্ধ করতে আসত। তাদিকে না দেওয়া হ'ত শিক্ষা, না দেওয়া হ'ত ভাল থাকার ব্যবস্থা, না পেত তারা ভাল ব্যবহার। কোথাও কোথাও সহরেব পার্কে লেখা থাকতে দেখা যেত “কুকুব ও সৈনিকদের প্রবেশ নিষেধ।” অথচ যে সব অফিসাবর। তাদেবকে মৃত্যুর সামনে এগিয়ে দেওয়ার কাজ পরিচালনা ক’বত তারা সবই হ'ত বড় ঘবেব সন্তান, তারা মদ, মেযে আব ফুর্তির মধ্যে জীবন যাপন ক'বত। তাবা যদিও অনেক সময় দুঃসাহসী হত কিন্তু তাদেব কাৰ্যদক্ষতাব বালাই ছিল না। গােটা ফৌজটাই এক বৃশৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালিত হ'ত। চাবি দিকে ঘুসখােব অফিসাব আর বদমাইস ঠিকাদাবক সাধারণ সৈনিকদিকে দূর্ব- বস্থাব চবমে ফেলত। বলশেভিকবা এই অবস্থার সুযোেগ নিতে মােটেই ক্ৰটী কবে নাই। তাবা সৈনিকদের বুঝিযে দিল যে—“দেখ ওদের স্বার্থ রক্ষা ক'বতে, তােমরা আজ কামানের সামনে মরতে চলেছ অথচ ওবা আজ তােমাদেব কি অবস্থায় বেখেছে। ওরা তােমাদিগকে জমিহীন করেছে বলেই তােমবা এখানে এসেছ? তোমরা এদের হয়ে না ল'ডে এদেরই বিরুদ্ধে লড, এরাই হ'ল তােমাদেব আসল শত্রু।” বলশেভিকরা ধ্বনি তুললে “সৈনিকদের জন্য চাই শান্তি,
ক্লেম ভরােশিলভ
মজুরের জন্য চাই কটী আর কৃষকের জন্য চাই জমি।” দলে
দলে শ্রমিক, কৃষক ও সৈনিকগণ বলশেভিকদের এই ধ্বনির
পিছনে এসে দাড়াতে লাগল।
১৯১৭ সালের গােড়াতেই জাতন্ত্রের অবস্থা টলমল হয়ে
উঠেছিল। পূর্ব সীমানায় রাশিয়ান মােহডা সম্পূর্ণভাবে
ভেঙ্গে পড়ছিল। তখন জাৰ্ম্মাণী যুদ্ধ করছিল পশ্চিম সীমান্তে
ফ্রান্স, বৃটেন ইত্যাদি মিত্রশক্তিদের সাথে এবং পূৰ্ব্ব-সীমান্তে
বাশিযাব সাথে। বাশিয। যদি হেরে যায় তা হ'লে পূর্ব
সীমান্ত থেকে জাৰ্মাণী সৈন্য সবিয়ে এনে পশ্চিমে ফেলবে
এবং তাহলে সেই সমগ্ৰ জাৰ্ম্মাণ শক্তিকে মিত্র-শক্তিদের পক্ষে
ঠেকিয়ে রাখা সম্ভবপর হবে কিনা সে সম্বন্ধে যথেষ্ঠ সন্দেহ
ছিল। তাই সে সময় অনেকেই ভাবছিল যে, যদি বাশিয়ায়
পূবাতন ভূতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার স্থানে উন্নততব কোন শাবণ
ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় তা হলে বােধ হয় যুদ্ধের গতি পরিবর্তন
করা সম্ভবপর হবে। এই অবস্থায় কেবল সাধারণ সৈনিকরা
নয়, অফিসারগণ, সৈন্যধক্ষগণ, রাজনীতিকরা, এমনকি সম্রাটের
বংশের লােকেব পৰ্যন্ত বিপ্লবেব সম্বন্ধে কথা কইছিল। ফ্রান্স
ও বৃটীশ শাষক সম্প্রদায়ও ভাবছিলেন যে জারের শাষণের
বদলে যদি পাশ্চাত্যের ধরণে একটা কাৰ্যদক্ষ ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রই
হয় তাহলে যুদ্ধ পরিচালনার দিক থেকে বােধকরি ভালই
হবে। মােট কথা ১৯১৭ সালের গােড়াতেই বিপ্লব আজকালের
লাল মার্শাল
কবে যুদ্ধ
ব্যাপার হযে উঠেছিল। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে জার দ্বিতীয়
নিকোলাসকে সিংহাসনচ্যুত করা হ’ল। এই হল বিপ্লবের
প্রথম সংঘাত। যদিও এ সমযও বিপ্লবের আসল শক্তি
ছিলেন বলশেভিকরা কিন্তু সম্মুখে ছিলেন উচ্চ শ্রেণীর
লােকেরা, যাব। ধনতান্ত্রিক বিপ্লবের দ্বারা জাবতন্ত্রে বদলে
নিজেদেব শাষণ প্রতিষ্ঠা ক’ববেন স্থির ক'বেছিলেন। জার
বিতাড়নের পর এবা অস্থায়ী গভর্ণমেন্ট নাম নিযে শাষণভাব
গ্রহণ ক’বলেন। শাষণভাব গ্রহণ কবে ধূবন্ধব ধনিকদেব মত
তাবা চাইলেন জার্মানিব সাথে সন্ধি না ক'বে
চালাতে অথচ সৈন্যবা চেয়েছে যুদ্ধ-বিবতি, শ্রমিকরা
চেযেছে কটী—আব কৃষকবা চেয়েছে জমি , যুদ্ধ তারা কেউই
চাষ নাই।
ভবােশিলভ এবং তার বন্ধুরা কেউই ধনিকদের এই চক্রান্ত
মেনে নিতে রাজি নন—তারা শ্রমিকদিকে অন্য কথা
শিখিয়েছেন। ভরােশিলভ নিজে গােলা-গুলিব কারখানার
শ্রমিকদেব বার কবে এনে জারেব পতন সম্ভব কবেছেন।
তিনি ইসমাইলভস্কির রক্ষীদলের সাথে মিশে গিযে দিকে
জারের বিপক্ষে টেনে এনেছেন এবং সেই জন্যেই তারা সঙ্কট
সমযে শ্রমিকদের উপর গুলি ক'রে নাই। সে সব কি
ধনিকদের হ'য়ে যুদ্ধ চালাবার জন্যে করা
হযেছে ?
। কখনই নয়। বিপ্লবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে
ক্লেম ভবােশিলভ
পল্লী ও
হবে—থামলে চলবেনা-ধনিকদের
ষড়যন্ত্র
ভাঙ্গতেই
হবে।
ইতিমধ্যে পেট্রোগ্রাডের সৈনিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি-
বর্গ জগতের শ্রমিকদের সম্বােধন কবে এক ঘােষণা প্রেরণ
কবেন, তাতে লেখা ছিল :—“জগতেব শ্রমিক ভাইবা মৃত
ভ্রাতৃবর্গের শবদেহ আকীর্ণ দেশের উপর দিযে, নির্দোষ রক্ত
ও অশ্য প্রবাহের উপর দিয়ে,
ধ্বংসস্তুপে পৰিণত
জনপদের উপর দিয়ে, কৃষ্টিব ধ্বংস প্রায় মূল্যবান বতু সমূহের
উপব দিযে আমবা আমাদেব ভ্রাতৃত্বেব হস্ত তােমাদের কাছে
প্ৰসাৰিত ক'বছি। এস আবাব, আমরা আন্তর্জাতিক একতা
ফিবিয়ে আনি ও শক্তিশালী কবি, কেবলমাত্র এরই মধ্যে
ভবিষ্যতের সমস্ত জয়ের এবং মানবের সম্পূর্ণ মুক্তির আশ্বাস
আছে। দুনিয়ার শ্রমিক এক হও।”
মার্চ মাসের সমস্ত শশাভাযাত্রা ও মিছিলেব গােড়ায় যে
সব লাল নিশান থাকত তাতে লেখা থাকত সাধারণতঃ তিনটী
কথা :-
“জার ধ্বংস হােক” “যুদ্ধ ধ্বংস হােক” আর “আমরা কটী
চাই”। এই তিনটার মধ্যে জার ‘ত’ ধ্বংস হ'যেছিলেন।
কিন্তু “যুদ্ধ ধ্বংস হােক” এর বেলায় অস্থায়ী গভর্নমেন্ট কথা
কয় না তারা ত, উল্ট আরও জোবেব সাথে যুদ্ধ চালাতে
আব কটীর বেলায় ত কথাই নাই, অস্থায়ী
চায়।
৩৭
লাল মার্শাল
গভর্ণমেন্ট কটীর বদলে বুট আর বুলেটের ব্যবস্থার জন্য বেশী
সচেষ্ট।
ভরােশিলভ বুঝলেন আসল বিপ্লবের সূচনা এবার দেখা
যাচ্ছে। অস্থায়ী গভর্ণমেন্টকে ভাঙ্গতে হবে—যুদ্ধ বিরতি হ'তে
হবে জনসাধারণের মধ্যে আস্তে আস্তে এই ধাবণা
পরিষ্কার হ'যে মনে গেঁথে গেল।
“সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দীর্ঘজীবি হক” ১৯১৭ সালের এপ্রিল। স্টালিন তাঁর সাইবেরিয়ার নির্বাসন থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সুইজারল্যাণ্ড থেকে লেনিন ফিরেছেন দেশে। ৩ এপ্রিল লেনিনকে অভার্থনা করার জন্য যা পেট্রোগাডে অপেক্ষা করছিলেন ভরােশিলভ তাদের অন্যতম। ফিনল্যাণ্ড বেলওয়ে ষ্টেশন এবং তার সম্মুখেব পার্কটী লােকে লােকারন্য । দলে দলে সৈনিক, নাবিক, শ্রমিক সব উদ্বিগ্ন হ'যে অপেক্ষা করে আছে তাদের মুক্তিসংগ্রামের পথ প্রদর্শকের নির্দেশ নেওয়ার জন্য। লেনিন ট্রেণের থেকে নামতেই ভরােশিলভ তাঁকে রাশিয়ার প্রচলিত কায়দায় এক হােড়া ফুল হাতে দিয়ে অভ্যর্থনা ক’বলেন। তারপর লেনিনকে কাঁধে চড়িয়ে বাইরে স্কোয়্যারে নিয়ে আসা হল। সেখানে তিনি একটী আর্মার্ড কার বা অস্ত্র- সজ্জিতমােটরে চ'ডে এক উদ্দীপনাময় বক্তৃতা করলেন। “সমাজ তান্ত্রিক বিপ্লব দীর্ঘজীবি হউক” এই অতিগুরুত্বপূর্ণ কথাটী ব'লে মহান লেনিন তার বক্তৃতা শেষ ক'বলেন। তার এই বাণীর প্রভাব বিদ্যুত গতিতে সারা পেট্রোগ্রাডের সৈনিক, শ্রমিক, ও নাবিকদেব মধ্যে ছড়িয়ে গেল। তারা যে ঠিক ঐ কথাটীৰ অপেক্ষাতেই ছিল।
লাল মার্শাল
কিন্তু বিপ্লব সাফল্যমণ্ডিত ক’বতে হ'লে কেবল প্রধান
সহবে বিপ্লব হ'লে চলবেনা তারজন্য বিপ্লবেব পাকা ভিত্তি
দেশাভ্যন্তবেও হওয়া চাই। ভরশিলত বুঝতে পারলেন
তাব নিজস্ব স্থান উন্বাসে , সেখানে তার ফিরে যাওয।
দবকাব। উক্রাইনেব শিল্প কেন্দ্রগুলিকে সংঘবদ্ধ কবে
সেখানকার শ্রমিক, কৃষক, জনসাধারণকে বলশেভিকদের পক্ষে
নিয়ে আসার জন্য তঁাব মত উপযুক্ত ব্যক্তি কেও ছিল না।
সুতরাং তিনি লুগাস্কে প্রত্যাবর্তন করে, নিজের পুরাতন
স্থানে অধিষ্ঠিত হ'যে নবােদ্দমে কাজ সুরু করলেন।
তাব প্রথম ও প্রধান কাজ হ’ল যেমন ক'বে হ'ক লুগাস্ক
সােভিযেটে বলশেভিকদের সংখ্যাগবিষ্ঠতা আনতে হবে।
সােভিযেট বা সােবিয়েত কথাটাব মানে হ'ল “পবিষদ।”
রুশ বিপ্লবেব ফলে এর অর্থ দাডিযেছে, একটা কোন বিশিষ্ট গণ্ডি
যেমন একটী সহর, একটী গ্রাম বা একটী সৈন্যদলেব রেজিমেন্টের
লােকদেব নির্বাচিত পবিষদ। এই সােভিযেটগুলি বিপ্লবেব
ফলে মজুর, সৈনিক ও কৃষকদের মধ্য থেকে গড়ে উঠেছে
গভর্ণমেন্টে বাশাষনতন্ত্রের প্রাথমিক বুনিয়াদরূপে। ঐতিহাসিক
নজবে দেখতে গেলে প্যাবিস-কমুন বা ফবাসীদেশে বিগত
শতাব্দীর শেষ ভাগে যে মজুব বিপ্লব হ'যেছিল এবং তার মধ্য
থেকে মজুররা নিজেদের গভর্ণমেন্ট প্রতিষ্ঠা করবার জন্য যে
কমুন' গঠন করেছিল এই সােভিযেট গুলি তাবি বংশধব।
৪০
ক্লেম ভবােশিলভ
১৯০৫ সালে বিপ্লবেও সােভিযেট গঠিত হয়েছিল অনেক
জাযগায়, কিন্তু তাবা বেশীদিন টীকতে পাবে নাই। ১৯১৭
সালে মধ্যভাগে তা চাবিদিকে ব্যাঙেব ছাতির মত গডে
উঠছিল এবং পুরাতন জাবতান্ত্রিক বাষ্ট্র ব্যবস্থার স্থানীয় শাষকদের
বিচুত কবে সােভিযেট শাষণ-প্রতিষ্ঠা ক’বছিল। এই সােভিযেট
গুলি কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমগ্র জনসাধাৰণএর প্রতিনিধিত্ব
ক’বতনা কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠদেব প্রতিনিধিত্ব ক বত। উচ্চ
শ্রেণীব লােকে, ব্যবহাবজীবিবা, ব্যবসাদার, পাডী ও
ধৰ্ম্মযাজকবা, সমৃদ্ধশালী চাষীবা অফিসার ইত্যাদি
অনেকেই এব থেকে বাইবে থাকত।
এই সব সােভিযেটে যে সব লােক নির্বাচিত হচ্ছিল তারা
যে সব সময় লেনিনের সমর্থক হচ্ছিল তা নয়। অনেক
স্থানেই লেনিনবাদীরা বা বলশেভিকরা সংখ্যায় কম ছিল।
কিন্তু ১৯১৭ বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম এবং গ্রীষ্ম থেকে শরৎ পৰ্যন্ত
এই কয়েক মাসে বলশেভিকরা তাদের নির্ভিকতার জন্য ও
সঠিক পথ প্রদর্শনেব ফলে আস্তে আস্তে সব জায়গাতেই
সংখ্যাগবিষ্ঠ হ যে পডছিল। অন্য কোন পাটীর বা দলেবই
কোন সঠিক পৰিকল্পনা ছিলনা। কোন্ অবস্থায় কি করতে
হ'বে তার সম্বন্ধে সঠিক ধাৰণাও ছিলনা। আব একাগ্রতায়,
দৃঢ়তায় ও কাৰ্যদক্ষতায় বলশেভিকদলের সামণে দাড়াবার
মত ক্ষমতা কোন দলেরই ছিলনা—তাই বছর যত গড়িয়ে
৪১
লাল মার্শাল চলতে লাগল ততই বলশেভিকদের শাষণ ক্ষমতা হস্তগত করার দিন ঘনিয়ে আসতে লাগল। লুগান্স্কৈ সমস্ত বিষয় গুছিয়ে ঠিক করে হাতের মধ্যে আনতে ভরােশিলভের বেশীদিন লাগল না। তিনি লেনিনের কার্যপ্রণালী ও নীতি ভবাসীদের কাছে প্রচার করার জন্য “ভনেস্কি প্রলোবি” নামে একটী সংবাদ পত্র প্রকাশ করলেন। “শান্তি এবং ৰুটী চাই” এই দুটী কথা তিনি দৈনন্দিন বক্তৃতায আব কাগজে ক্রমাগত লােকেব মনে গেঁথে দিতে লাগলেন। যুদ্ধ বিবতি এবং খাওয়ার ব্যবস্থা এইত’ ছিল তখন সকলের দাবী। শান্তি চাই, কটী চাই, অস্থায়ী সরকার ধ্বংস হােক- সমস্ত ক্ষমতা সােভিয়েটের হাতে চাই। এই কথাগুল সমগ্র উক্রাইনে ভবােশিলত নিরন্তর বিশ্রামহীন ভাবে বলে চল্লেন। গ্রীষ্মেব কটা মাস বাশির আভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলাম হ'যে দাড়িয়েছিল। একদিকে জার্মান রাশিয়ান সৈন্যদের পশ্চাদ ধাবণ করছে , পালাতক সৈন্য সব হাজারে হাজারে ফিরছে ঘবে। অন্যদিকে বুভুক্ষ জনতার ‘কটী চই'এর চিৎকারে অস্থায়ী সরকারের অবস্থা সঙ্গীন হ'যে প'ডেছে। প্রথমে প্রিন্স লওভের নেতৃত্বে, পরে আইনজীবি কেরেনস্কির নেতৃত্বে অস্থায়ী গভর্ণমেন্ট সঙ্কটের পর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল। অবশেষে এমন একটা অবস্থা হয়ে দাড়াল যে হয় - ৪২
ক্লেম ভরােশিলভ
অস্থায়ী গভর্ণমেন্টকে সরিয়ে বলশেভিকরা রাষ্ট্র ক্ষমতা অধিকার
ককক আর নয়ত অস্থায়ী গভর্ণমেন্টের অকৃতকাৰ্যতার দৃষ্টান্ত
দেখিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলদের সঙ্ঘবদ্ধ কবে পুনরায় জাতন্ত্র
ফিবে আসবে। এই সময় আস্থায়ী গভর্ণমেন্টের এতদূর
দুর্ণাম হযেছিল যে বলশেভিকরা যদি বিপ্লব ক'রে ক্ষমতা
হাতে না নিতেন তাহলে নতুন আকারে জাতন্ত্র ফিরে
আসত। কিন্তু লেনিনের মত নেতা থাকতে বলশেভিক
এমন সুযােগ ছাড়বাব পিত্রনয়। লেনিন অস্থায়ী গভর্নমেন্ট
অপসাবণেব জন্য বিপ্লব ঘঘাষণা করলেন।
১৯১৭ সালের ৭ই নভেম্বর বলশেভিকরা পেট্রোগ্রাডে
শাষন ক্ষমতা হস্তগত ক’বলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এত সহজে
এত গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব খুব কম হ'যেছে। এত অল্প রক্তপাতে
এত বড় বিপ্লব আবও কম হযেছে। গভর্ণমেন্ট জারের
উইন্টব প্যালেস বা প্রাসাদে আশ্রয় নিয়েছিল। ছ' তারিখের
বাত্রে বলশেভিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল সৈনিক এবং
নাবিকবা সশস্ত্র শ্রমিকদের সাথে একত্রিত হযে উইন্টার
প্যালেস ঘিবে ফেলে। প্রাসাদের বক্ষীদলের সাথে সংগ্রাম
আরম্ভ হয়। দুই পক্ষেই হতাহত হতে থাকে। শেষে
প্রাসাদ, বিপ্লবীদের হাতে সমর্পণ করা হয়। অধিকাংশ
মন্তিকেই গ্রেপ্তাব করা হয় কিন্তু প্রধান মন্ত্রি কেবেল্স্কি সরে
প'ডতে সক্ষম হন।
৪৩
লাল মার্শাল
৭ তারিখে বাত পৌনে ১১টার সময় স্মলনি ইনষ্টিটিউটে
নিখিল রুশ সােভিযেট মহাসভাব অধিবেশন আরম্ভ হয়।
কযেক ঘণ্টা পরেই এই মহাসভা নিজেকে শাষণ ক্ষমতাব
সর্বোচ্চ অধিকাবি বলে ঘােষণা করে এবং অবিলম্বে যুদ্ধ
বিরতিব দাবী ক'রে এক ঘােষণা দেয়। অপর একটী ঘােষণা
দ্বাবা জমিব উপর সমস্ত ব্যক্তিগত স্বত্ত্ব বিনষ্ট করা হয়। তারপর
পৃথিবীর সমস্ত জাতির গভর্ণমেন্ট ও জনসাধাৰণ , শত্রু ও মিত্র,
সকলকার নিকট একটী ইস্তাহাব প্রেবণ করা হয়, তাতে
অবিলম্বে যুদ্ধ বিবতিব জন্য ও বিনা ক্ষতিপুবণ ও বিনা স্থান
অধিকারে ন্যায় সঙ্গত শান্তি স্থাপনের জন্য সকলকে আহ্বান
করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় অধিকাংশ গভর্ণমেন্টই
বলশেভিক গভর্ণমেন্টের এই আবেদন সম্পূর্ণ অবহেলা কবেন
এবং যে সব জনসাধারণকে আহ্বান কবে সেই ইস্তাহাব দেওয়া
হযেছিল সেই সব জনসাধাৰণ অনেককাল পর্যন্ত এই
ইস্তাহাবের খববই জানত না।
এই নিখিল রুশ সােভিযেট মহাসভাব অধিবেশনে ভবােশিলভ
লুগাবে প্রতিনিধি হযে যােগদান ক’বতে এসেছিলেন।
শাষণ-ক্ষমতা ত’ হাতে এল কটী ও শান্তির প্রতিশ্রুতিও ত
দেওয়া হ’ল কিন্তু এখন এই নতুন গভর্ণমেন্টকে বাঁচিয়ে রাখা
যায় কি ক'রে সেইটাই হল প্রধান সমস্যা। একদিকে
জার্মান ক্রমাগত অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে কেবেস্কি
৪৪
ক্লেম ভরােশিলভ
এমন কি
এবং এই
পালিয়ে গিয়ে বিদেশী সরকারদের সাহাযয্য জেনাব
কাসনভেব অধীনে একটী কসাক বাহিনী পাঠিয়েছেন
সােভিযেটগুলিকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য।
পেট্রোগ্রাডে পৰ্যন্ত বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্র চলছিল।
সব কারণে সব সময় বিপ্লববিবােধী বিদ্রোহের সম্ভাবনা ছিল।
ভবােশিলভের হাতে অনেক কাজের ভাব পড়ে গেল।
সইর বক্ষা করার জন্য ও নিবাপত্তার জন্য যে বক্ষা কমিটী
হ'যেছিল ভবােশিলভেব হাতে তাব ভার দেওযা হ’ল। ২৩
বছর আগে সেদিনকাব সদ্যজাত সােভিযেটে প্রধান নগরী
পেট্রোগ্রাড় বক্ষাব ভাব তার হাতে পড়েছিল, আবার
ইতিহাসের গতিতে, নবপরিস্থিতে, সমৃদ্ধ নগরী, লেনিনের পুত
নামধাবী লেনিনগ্রাডকে জাৰ্মাণ ফাসিবাহিনীব হাত থেকে
রক্ষা কবাব ভার তারই হাতে পড়েছে।
পেট্রোগ্রাড বক্ষাব কাজে ভবােশিলভ বেশী দিন আর
থাকতে পারলেন না। আবার ব ডাক পড়ল উক্রাইনে।
জার্মানবা উক্রাইনে প্রবেশ ক'বছিল। উক্রাইনের শস্যক্ষেত্র ও
শিল্পকেন্দ্র যদি শত্রুব হাতে যায় তাহ'লে সদ্যজাত সােভিযেটেব
পক্ষে বেঁচে থাকা দুব। ভবােশিলভের মনে পড়ল তার
লুগাস্কের “লাল পল্টন” ভাইদের কথা। তারাই হ’ল আসল
লােক যাবা জাৰ্মানদিকে বিতাড়িত ক'রে আবার শিল্পের চাকা
ঘুরিয়ে দেবে। তাই ভরােশিলভ আবার সুগাঙ্কে ফিরলেন।
৪৫
শ্রমিক সেনানীর নেতা লুগাবে পথে ট্রেনে যেতে যেতে ভবােশিলভের তখনকার অবস্থাটা কতকটা গুছিযে বুঝবাব অবসব মিলল। তিনি দেখলেন পবিস্থিতি খুব আশাপ্রদ নয়। একথা সত্যি যে তার লুগাবে বন্ধুদের কাছে গিযে তিনি পেট্রোগ্রাডে ও মস্কোতে বলশেভিকদের জযেব কথা বলতে পারবেন কিন্তু অসংখ্য শত্রুদেব যে বুহ সােভিযেট অভিমূন্যকে ঘিবেছিল তাদের পরাস্থ ক'বে টিকে থাকা প্রায় অসাধ্য সাধন মনে হচ্ছিল। কিন্তু একটা শুভ খবব এই ছিল যে, বলশেভিকব। ক্ষমতা হস্তগত কাবাব সময় বাশিয়ার লােকের মধ্য থেকে সেরূপ সজদ্ধ কোন বাধাই পায় নাই। ২৭শে মার্চ আমেবিকার বাষ্ট্রদূত মিঃ ফ্রান্সিস মস্কোস্থিত তাৰ স্বদেশবাসী আমেরিকাব বেডক্রস দলের নেতা কর্ণেল রবিন্সকে একটা অত্যন্ত অর্থপূর্ণ টেলিগ্রাম করেন , টেলিগ্রামে লেখা ছিল- “আপনি কি সােভিযেট গভর্ণমেন্টের বিরুদ্ধে কোন সংঘবদ্ধ বিবােধিতা দেখতে পাচ্ছেন ? আমি ‘ত পাই নাই।” পবেব কযেক সপ্তাহ ধরে ধাবাবাহিক ভাবে কয়েকটা টেলিগ্রামে পুনঃ পুনঃ জানান হয় যে দেশের অভ্যন্তরে” ১৯১ সালেব
ক্লেম ভরােশিলভ
কোন সংঘ শক্তি তিনি সােভিয়েটের বিরুদ্ধে নিযুক্ত
দেখছেন না।”
এখানে ‘অভ্যন্তবে’ কথাটী লক্ষ্য করা দবকাব ।
কাবণ ১৯১৮ সালে রাশিয়ার একমাত্র ইচ্ছা ছিল ইউরােপিয়
যুদ্ধ থেকে সরে থাকা, কিন্তু সে দেখতে পেল যে শুধু রাশিযাব
জাতন্ত্রেব আমলেব বিপক্ষ পাতি জাৰ্মানী নয় তার তখনকাব
মিত্রবাও তাৰ বিৰুদ্ধে সমবেত হযেছেন।
যখন জাৰ্মাণবা উক্রাইন ও বাল্টীক দেশগুলির মধ্য দিয়ে
প্রবেশ ক'রছিল তখন বৃটাশ সৈন্যদল সুদ্ব উত্তবে মুমাসক ও
আর্কেঞ্জেলে ও দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগবেব তীব অঞ্চল অধিকারে
ব্যস্ত ছিল।
জাপানিবা ভলডিভস্ট বন্দর ও সুদূব প্রাচ্যে
প্রদেশগুলি দখল ক’বে বসেছিল। চে ট্রান্স সাইবেবিয ন
বেলপথ ধ'রে অগ্রসর হচ্ছিল। অন্যান্য স্থানে ফবাসী কমানিয়ান
ও অর্ধেক সংখ্যক প্রাক্তন মিত্রেব দল নিজের নিজের শিবির
গেডে ফেলেছিল। অর্থাৎ ১৯১৮ সালে রাশিযাব চারিদিকে
একটা প্রতিহিংসা-পযন জাতিসংঘ গড়ে উঠেছিল—আর
তার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বলশেভিকবাদকে ধ্বংস করা।
স্বাধীন বাশিয়া মাত্র মস্কো ও পেট্রোগ্রাডকে কেন্দ্র ক'রে
দু' তিনটি বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ হ'যে গিয়াছিল। এই
সহরগুলির সামনে আবার বুভূক্ষার কবাল ছাযা ঘনীভূত
হ'যে উঠছিল । এই সময় কটী নিয়ন্ত্রণ নিয়ম অনুযায়ী
৪৭
লাল মার্শাল
ফিরলেন,
একদিন অন্তর জন পিছু মাত্র দু’ আউন্স ক রে কটী পাওয়া
যেত।
ভরশিলভের ঠিক এই
অবস্থাটাই তার লুগাস্কের
বন্ধুদের বুঝিয়ে বলার প্রযােজন ছিল কাবণ একমাত্র
তারাই জাৰ্মানদিকে তাডিযে ফসল পাঠিযে, মস্কো ও
লেনিনগ্রাডকে বুভুক্ষা থেকে বাঁচাতে পাবত। সুতবং
ভবােশিলভ লুগান্সকে
প্রত্যক্ষ সৈনিক-এব
কাজ নিয়ে নয বাজনীতিক হিসাবে , বিপ্লবের নীতি
জনগণেব কাছে বলতে, তাদেব
তাদেব সাহস দিতে
যাতে বিপ্লবের কাজ ভাল ভাবে অগ্রসর হয় তার তত্ত্বাবধান
ক'বতে। তখনকার দিনে এই বকম কাজ অনেককেই ক’বতে
হ'ত, ঐ বা যে পদ অধিকাৰ ক'বে থাকতেন তার নাম ছিল
পলিটক্যাল কমিসাব বা রাজনীতিক কমিসাব। প্রত্যেক
সংগ্ৰামত দলের সাথে তখন একজন কবে পলিটক্যাল
কমিসার থাকতেন। বিগত ফিনিশ যুদ্ধে পব এই পদ লাল
ফৌজ থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু আবার বর্তমান যুদ্ধে এই
পদে পুনরায় তােক বহাল করা হযেছে।
বিপ্লবের সময়
পলিটক্যাল কমিসাবদের কাজ ছিল প্রচাবের তত্ত্বাবধান
করা ও কমাণ্ডারদের বা অধিনায়কদের উপর বিশেষভাবে লক্ষ্য
রাখা। এই শেষের কাজটী অত্যন্ত প্রযােজনীয ছিল , তার
কারণ তখনকার লাল ফৌজের যারা কমাণ্ডার হ'তেন তাবা
৪৮
ক্লেম ভরােশিলভ অধিকাংশই ছিলেন পুরাতন জার আমলের কমাণ্ডার। খাটী ও বিশ্বস্ত বলশেভিক কমাব সব সময় পাওয়া যেত না বলে এদের উপর নির্ভর ক’বতে হ'ত, অথচ বিপ্লবের জন্য এদের দরদ খুব বেশী ছিল না। বিপ্লবের জযের পথে এরা এসে জুটে ছিলেন বটে কিন্তু চারিদিক থেকে শত্রু বেষ্টিত হ'লে এদের দরদ কতটুকু টীকে থাকবে সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ ছিল। বলশেভিকরা ভয় ক'বতেন যে সঙ্কটের সময় এব বিশ্বাস- ঘাতকতা করে শত্রুর সাথে যােগ দেবে বা তাদের পদমর্যাদার সুবিধা নিয়ে তলায় তলায় ভাঙ্গনের কাজ ক’ববে। এইরূপ সন্দেহেব যে যথেষ্ট কাবণছিল তা বােঝাযায মার্শাল তুকা- চেভস্কির বিচাব ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা থেকে। তুকাচেভস্কি পুরাতন জাবতন্ত্রের ফৌজের অফিসার ছিলেন। সােভিয়েট গভর্ণমেন্ট তাকে হুকাল বিশ্বাস করে এসেছিল ও তাকে লালফৌজেব নানাবিধ সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত বেখেছিল। কিন্তু পরে জানা গেল তিনি আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সব লুকিয়ে বেখে সােভিযেট বন্ধু সেজেছিলেন অথচ তলায় তলায় সােভিযেটের শত্রুদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। সােভিযেট গভর্ণমেন্ট এব গুপ্ত অভিসন্ধি ধ'বে ফেলেন এবং ১৯৩৭ সালে বিচারে এব মৃত্যু দণ্ড হয়। তুকাচেভ স্কির মৃত্যু দণ্ড নিয়ে তৎকালীন ইংলণ্ডে ও সােভিয়েটের বাইরে অন্যান্য- দেশে ধনতান্ত্রিকদের পরিচালিত সংবাদপত্রের কৃপায় বেশ একজন ৪১ ৪
লাল মার্শাল
একটু হৈ চৈ পড়েছিল। সােভিয়েট বিরােধীরা এই
নিয়ে সােভিয়েটের তথাকথিত দৃণিতি প্রমাণ করবার জন্য
ব্যগ্র হয়ে লেগেছিলেন। এদের উত্তবে বিখ্যাত কমুনিষ্ট
নেতা ও লেখক রজনী পাম দত্ত নিউ ষ্টেটসম্যান পত্রিকায়
ধারাবাহিক ভাবে পত্র লিখে দেখিয়েছিলেন যে ইতিহাসে
মীরজাফরের অভাব কোথাও হয় নাই। প্রত্যেক বিপ্লবেই
দেখা গেছে কতকগুলি লােক পিছনে পিছনে বিপ্লবের শত্রুতা
করেছে।
লুগাস্কের শ্রমিকগণ এই বিপদ সম্বন্ধে বিশেষ সচেতন
ছিল, তাই তারা অন্য কারও উপর তাদের যুদ্ধ পবিচালনার
ভার দিতে সম্মত হয় নাই। তারা চেয়েছিল তাদের অতি
পবিচিত বিশ্বস্ত বন্ধুকে, যদিও তিনি কোন দিন কোন সৈন্যদলে
যােগ দেন নাই এবং তাঁব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা লুগাস্কেব রাস্তার
উপরেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
তাই ভবােশিলভকেই উক্রাইনে বক্ষার ভার নিতে হল।
তিনি তার সৈন্যদল উত্তর-পশ্চিমে রাশিযাব তদানিন্তন তৃতীয়
সহর ও উক্রাইনেব বিবাট শিল্প কেন্দ্র খারখবেব দিকে
পরিচালনা করলেন, তখন খাবখব ছিল রাশিয়ার বারমিংহামের
মত। জার্মানরা খারখব দখলের জন্য অগ্রসর হয়েছে। যদি
খারখবকে বাঁচান’ যায় তাহলে বলশেভিকদের বিশেষ লাভ
হ'বে কারণ এর কারখানার সাহায্যে বিধ্যস্ত রেল লাইনগুলি
ক্লেম ভবাশিলভ
সৈন্য চলাচলের জন্য স্বক্রিয় করা যাবে। সৈন্যদের অন্ত্রের
ব্যবস্থা ও কাপড়ের ব্যবস্থা ইত্যাদি সবই করা যাবে।
কিন্তু খারখব রক্ষা করা গেল না। দ্রুত সংগৃহিত
সৈন্য ও অনভ্যস্ত নেতাদের পরিচালিত লালফৌজ জার্মান
সৈন্যের সূদৃঢ় আক্রমণ প্রতিহত ক রতে পারলেন।
খাব রক্ষায় নিয়ােজিত সমগ্র লালফৌজ, যার একটা
ইউনিটির নেতা ছিলেন ভরােশিলভ, শুধু পরাজিত হ'ল না,
প্রায় নিশ্চিহু হ'য়ে গেল।
এদিকে পিছনে বলশেভিকদের বিরুদ্ধে কসাকরা বিদ্রোহী
হয়েছে।
কসাকরা বরাবরই শ্রমিকদের বিরুদ্ধ করে এসেছে।
কাকদের মধ্য থেকেই 'জাব' তার সৈন্য সংগ্রহ করতেন।
তারা অত্যন্ত পশ্চাৎপদ অঞ্চলের কৃষক শ্রেণীর লােক।
তাদের দেশে ফসলও ভাল হ'ত না। তারা রাশিয়ার
ষ্টেপ্লজ অঞ্চলে বাস করে, আর দীগন্ত বিলীন মকর মধ্যে
ঘােড়ার পিঠে থেকে থেকে ঘােড সাওযার খুব ভাল হয়।
তাদের এই বিশিষ্ট গুণ থাকার জন্য এবং তাদের দাবিদ্রের
সুবিধা নিয়ে জার দিকে দিযে যত প্রকার হীন কাজ
গুল করিয়ে নিত। তাদের মধ্যে
মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা
মােটেই ছিল না, কাজেই বলশেভিক বিরােধীরা তাদিকে
কাজে লাগানাে খুব সুবিধা জনক মনে করত।
লাল মার্শাল কানভ নামে একজন জার আমলের জেনারল এই কসাকদের হাত ক'রে বিদ্রোহ ঘােষণা করলেন। বল- শেভিকরা ক্ষমতা হস্তগত করব কিছুদিন পরে তিনি পেট্রোগ্রাডে এইরূপ একটী বিদ্রোহেব চেষ্টা কবেন। म সময় তিনি পরাজিত হ'যে বন্দী হন। পবে তিনি একজন অভিসার ও ভদ্রলােক” হিসাবে বলশেভিক বিরােধী কার্য- কলাপ থেকে বিরত থাকবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুক্তি লাভ করেন। কিন্তু মুক্তি লাভ করার পরই কসাকদের নিয়ে এই ভাবে তার প্রতিশ্রুতি বক্ষার ব্যবস্থা কবেন। খাবখব পতনের পর ভবােশিলভ তঁাব অবশিষ্ট সৈন্য সামন্ত নিয়ে একটা অত্যন্ত বিপদজনক অবস্থায় পড়লেন। পশ্চিমে সামনে থেকে তার পলায়নপর সৈন্যদেব পদে পদে জাৰ্মানব। অগ্রসর হচ্ছে পিছনে কসাকবা ভাব পূৰ্বদিকে পালাবার পথ রুদ্ধ কবেছে। তার ক্ষুদ্র শ্রমিক-সৈন্যদলকে শত্রুরা একেবাবে ঘিরে ফেলেছে। তাদের পথ একমাত্র লুগাস্ক পর্যন্ত উন্মুক্ত। যদিও সেখানেও কোন স্থায়ী নিবাপত্তাব ব্যবস্থা নাই তবুও আর যখন কোনও উপায় নাই তখন সুগাঙ্কের দিকেই তারা পেছু হাঁটতে লাগলেন। পথে লােক সংগ্রহ করতে করতে ও রসদ যােগাতে যােগাতে চল্লেন। মাঝখানে হঠাৎ একবার থেমে অতি-নিশ্চিন্ত ও অপ্রস্তুত জার্মানদিকে একবাব তড়িৎ প্রতি-আক্রমন করে খানিকটা
old
১
বৈঠক
ক্লেম ভরােশিত
ঘাযেল করে দিয়ে। একটী সমগ্র জান আম্মিকোরকে
সাময়িক ভাবে পিছন হটীযে অত্যন্ত মূল্যবান ২০ টি
মেশিনগান এবং আর-কিছু জমি জিনিষ পত্র হস্তগত
করলেন।
কিন্তু তাদের এই সাময়িক জযকে এগিয়ে নিয়ে যাওযার
মত বেশী সৈন্য-সামন্তু সাথে ছিল না তাই লুগানস্কের দিকেই
অগ্রসর হলেন।
সেখানে পৌছিযেই
যুদ্ধ পরিষদের
একটী
হল।
লুগাস্কেই থেকে গিয়ে নিজেদের সহব রক্ষা করার ইচ্ছা
অনেকের ছিল। আব নিজের সহরের জন্য ভাবাবেগ হওয়াও
একটু স্বাভাবিক। কিন্তু সামরিক পরিস্থিতি ভাবাবেগ মেনে
চলে না। ঐ সামান্য শক্তি নিয়ে লুগাস্কে টিকে থাকা
অসম্ভব। ভরােশিলভ
প্রস্তাব ক রলেন যে, ডনেট
নদী পেবিয়ে, ডন পেরিযে, ভৱাব পারে, জারিত সিনে
পশ্চাদোপসরণ করা দরকার। জাবিতসিনে তিনি একবার
গােলাবাৰুদের কারখানায় মহাযুদ্ধের প্রথম দিকে কাজ
কবেছেন। সেখানে এখনও একটা লালফৌজ সহর
রক্ষায় নিযুক্ত রযেছে। সেখানে গিয়ে পৌঁছলে অনেকটা
শক্তিশালী হওয়া যাবে—ভরােশিলভ এই রকমই আশা
করেছিলেন।
লাল মার্শাল
একজন বলে উঠলেন—“সে একবারে অসম্ভব। সে যে
প্রায় হাজার ভার্সট রাস্তা (অর্থাৎ ৬৫০ মাইল)
আর একজন বল্লেন “কসাকব। ত সবখানেই রযেছে,
জাবিতসিনে যাচ্ছ কি করে ? পথেব কথাটা ভেবেছ ?”
আর একজন বল্লেন “পিছনে পিছনে যখন জার্মান এসে
পডছে তখন আমরা লুগাস্কে স্ত্রী পুত্র ছেড়ে যাই কি ক'বে?”
ভরােশিলভ প্রত্যেককে তাদের কথাব জবাব দিলেন। তিনি
বলেন “একা বসাকদের জন্য ভয় করার দরকার নাই-তাদিকে
ঠেলে এগিয়ে যাব। স্ত্রী পুত্র সঙ্গে নেব আর দূরত্বের জন্য
রেল লাইন ব্যবহার করব।” রেল লাইনের কথাটা অনেকের
কাছে বিদ্রুপ মনে হয়েছিল , কিন্তু ভরােশিলভ সে বিষয়ে
অত্যন্ত স্থিরপ্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি মনে করলেন যে বেলে
যাওয়া যাবে-তাতে যতই বাধা হক না কেন—সে সব বাধা
অতিক্রম করতে হবে।
তাই বেলপথে ভ্রমণের ইতিহাসে এক অদ্ভূত নূতন অধ্যায়
আরম্ভ হ'ল। সামবিক দিক থেকেও এমনি পশ্চাদোপসরণও
অত্যন্ত দৃঢ়তা ও বিচিত্ততাৰ পরিচায়ক।
এই রকম একটা অদ্ভুত ব্যবস্থা কোন অভিজ্ঞ সামরিক
নেতা অবলম্বন ক'বতে সাহস পেতেন কিনা খুবই সন্দেহ।
* কিন্তু প্রকৃতপক্ষে লুগাঙ্ক থেকে জারিতসিনের দুরত্ব হাজার
ভাসটের বা ৬৫০ মাইলের কম
থেক।
৫৪
ক্লেম ভরােশিলভ
কিন্তু ভবেশিলভের পক্ষে এমন প্ল্যান নেওয়া সম্ভব হয়েছিল
তার কারণ তিনি নিজে ছিলেন একজন অভিজ্ঞ মিস্ত্রি
( মেকানিক) এবং জানতেন যে সঙ্কটের সময় কি করা সম্ভব ও
কি করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া তার আস্থা ছিল তার শত শত
বন্ধু মজুরদের উপর—তারা কেওই অভিজ্ঞ সৈনিক না হ'তে
পারে, কিন্তু প্রতেকেই কলকজায় সিদ্ধ হস্ত; রেলের কাজেরই
বিভিন্ন বিভাগে তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা।
লুগাস্ক, অনেকগুলি রেলপথের সংযােগে অবস্থিত।
কয়েক দিনের মধ্যে প্রচুর বেলওয়ের আসবাব পত্র
যােগাড়
হ'যে গেল। যখন এই পলায়মান বাহিনী গন্তব্যস্থানে
পোঁছেছিল তখন দেখা গিয়েছিল যে এর সাথে ৫০০টী ট্রেন
ছিল। ভবােশিলভএর সাথে ছিল মােট প্রায় হাজার পনেরাে
সৈন্য এবং প্রায় তার দ্বিগুণ বেসামৰিক লােক। কতকগুলি
ট্রেন অস্ত্র সজ্জিত ও কামান লাগান ছিল। আর বাকীগুলতে
ছিল গােল বারুদ ও রসদ।
লুগাঙ্ক, থেকে জারিতসিন যেতে সাধারণতঃ খুব বেশী
লাগলে ট্রেনে একদিন লাগে, কিন্তু ভয়ােশিলভেব লাগল
প্রায় তিন মাস।
তার চাবিদিক শত্রু পরিবেষ্টিত। বেল পথের প্রত্যেকটি
গজ পবিমাণ স্থান বিপদ শল। যিশপ্লেটের কয়েকটী বল্ট,
খুলে দেওয়া থেকে আরম্ভ ক'রে মাইন বিস্ফোরণ পৰ্য্যন্ত যে
লাল মার্শাল
কোন বিপদ, যে কোন মূহুর্তে ঘটে যাওয়ার সম্ভাবন।
তাছাড়া এমনি তডিত আক্রমণের সম্ভাবনা ত ছিলই।
সৌভাগ্যক্রমে তখনকার দিনে এখনকার মত এবােপ্লেনেব
বিধ্বংসী শক্তির এত বেশী প্রযােগ ছিল না বা এতটা ব্যবহার
হত না। একেবারে যে হয় নাই তা নয় , লুগাঙ্কের
সামনে যুদ্ধের সময় কয়েকটী জার্মান বিমান ভবেশিত
হস্তগত ক'রেছিলেন।
যাই হােক এই তিন মাসে ভরােশিলভ প্রমাণ করে দেন
যে তিনি একজন প্রথম শ্রেণীর নেতা ও পরিচালক , শুধুমাত্র
অপবের আদেশবাহী নন। তিনি একই সঙ্গে সামরিক
অধিনায়ক, আবার বাজনীতিক প্রচারক, ইঞ্জিনিয়ার—আবার
ট্রাফিক কন্টোলার সব কিছুরই কাজে নেতৃত্ব ক বেছেন এই
তিন মাস।
যদি ভেবে দেখা সম্ভবপর হয় তাহলে একবার ভেবে দেখলে
বােঝাযাবে যে, ভবােশিলভ কি অদ্ভুত দায়িত্বের মধ্যে নিজেকে
টেনে এনেছিলেন। সত্যই একবার ভেবে দেখা দরকার এই
কয়েক শাে ট্রেন নিয়ে শত শত মাইল পথ শত্রু পরিবেষ্টিত
হয়ে অতিক্রম করাটা কতদূর বিস্ময কব ব্যাপার। কোথায়
আর্মার্ড ট্রেন গুলি থাকবে, সৈন্যদের ট্রেনগুলী কোন যায়গায়
থাকা দরকার, রসদের ট্রেনগুলী আবার নিরাপদে রাখা যায়
কি ভাবে, কি ভাবেই বা বেসামরিক জনতাকে রাখার ব্যবস্থা
ক্লেম ভবােশিলভ করা যায়—এই যে সমস্যাগুল এর প্রতিবিধান যে কতদূর জটিল তা আমাদের পক্ষে সত্যই কল্পনা করাও সম্ভব নয় । এই বিরাট পলায়নপর বাহিনীর খাবার ব্যবস্থা, জলের ব্যবস্থা, অসুস্থের চিকিৎসার ব্যবস্থা, জ্বালানি কাঠ বা কয়লার ব্যবস্থা, ইঞ্জিনের রসদ, ভাঙ্গা গড়া মেরামত, এই সমস্ত একবার কল্পনা নয়নে ভেবে দেখবার চেষ্টা ক’বলৈ বুঝতে পারা যাবে ভেরােশিলভ কী অসাধারণ শক্তিশালী ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নেতা ও তার ধৈর্য্য ও অধ্যবসায় কতদূর কষ্ট সহিষ্ণু। ভরােশিলভ শত বিপদ সত্ত্বেও মূহুর্তের তরে হতাশ নন। তিনি শুধু জানেন তিনি তার বাহিনীকে নিয়ে জারিতসিনে পৌছাবেনই। তাঁর এই দৃঢ়তার ভিতর ছিল তার শ্রমিক বন্ধুদের উপর অগাধ বিশ্বাস। যে বিশ্বাস আজ আবার লেনিন গ্রাড রক্ষার সম্বল হ'যে দাড়িয়েছে। ভােশিলভের বাহিনী মাইলের পর মাইল আস্তে আন্তে প্রতিপদক্ষেপ গুণে গুণে এগিয়ে চলেছে। জাৰ্মানব ক্রমে পিছনে পড়ে গেল। এখন তঁাদের প্রধাণ শত্রু কসাকরা। মাঝে মাঝে দু একটি সহরের অধিবাসীরাও তাদিকে বাধা দিচ্ছে। এই সব সহর তখন বলশেভিক বিরােধী মেন- শেভিকদের হাতে বা অনুরূপ আর কারও হাতে ছিল যারা বলশেভিকদের দূববস্থা দেখে বিপ্লব বিরােধীদের সাথে যােগ দিয়েছিল। ভরােশিলভ এই সমস্ত বাধা অতিক্রম করছেন,
লাল মার্শাল
মাঝে মাঝে লড়াই করছেন, শত্ৰুদিকে পিছনে হটীয়ে আবার
অগ্রসর হচ্ছেন।
এইভাবে বহুকষ্টে তারা ডন নদীর তীরে এসেউপস্থিত হলেন।
এখানে এসে পৌছাবার জন্য তাঁরা অনেকদিন ধ'বে আশা করে
ছিলেন। এই জায়গায় পৌছিয়ে একবার ডন পেরতে পারলে,
আর মাত্র ৭০ মাইল। ঠিক এই যায়গায় ভন আর ভরা নদী
খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এখানে এসে পৌঁছলে জারিতসিন
থেকে কিছু সাহায্য পাবারও সম্ভাবনা আছে। এই সব আশায়
সকলেই ডনেব তীর দেখতে পাবার জন্য ব্যগ্র হয়েছিলেন।
কিন্তু তাদের সামনে ছিল বিরাট হতাশা। ডন এ জায়গায়
ভয়া থেকে খুব কাছে বটে কিন্তু ডন নিজে অত্যন্ত প্রশস্ত।
এদিকে বিপক্ষ পাতিব ডনেব প্রকাণ্ড ব্রীজটী পূৰ্বের থেকেই
ধরাশায়ী করে রেখে দিয়েছিল। নদী পার হওয়া প্রায়
অসম্ভব । এখন কি করা যায়। এই সমস্ত লােকজন, রসদ
ইত্যাদি ছেডে, ট্রেন পরিত্যাগ করে, কেবল সৈন্যদের নিযে,
সাঁতবে নদী পার হবেন এবং হেঁটে বাকীটা পথ অতিক্রম
করবেন, না ছােট ঘােট গবীল দলে বিভক্ত হ'যে ছড়িয়ে
প'ড়বেন ? যাই করতে যান মেযেদেব ও বেসামরিক লােকদের
কোনও ব্যবস্থা হয় না। এদিকে সাথের আসবাব পত্র সবই
ফেলে যেতে হয়। আবার ট্রেন নিয়ে পাব হ'তে হ'লে
পুল বঁধতে হয়। কিন্তু সে কি সম্ভব?
৫৮
ক্লেম ভরােশিলভ
ভবেশিলভ বল্লেন “হঁা সম্ভব। যেমন ক'রে হক ঐ
ভাঙ্গা পুলের উপর দিয়ে ট্রেন পার করার মত একটা পুল,
কিম্বা নিদেন পক্ষে একটা বাঁধও তৈরী করতে হবে।
তাই ছােট ছােট ছেলে, মেযে বুডো, জোযান সবাই মিলে
লেগে গেলেন বাঁধ বঁধতে। একমাস অতিবাহিত হ'ল। বঁধ
অনেকটা হ'যে গেছে, এমন সময় শত্রুর আক্রমণ করলে।
সকলে গাইতি কোদাল ছেড়ে তৎক্ষণাৎ বাইফেল নিযে
ছুটলেন। শত্ৰুবা পিছন হাঁটল। আবার সব রাইফেল ফেলে
গাইতি তুলে নিয়ে চল্লেন বাঁধ বাঁধার কাজে। এইভাবে
প্রতিনিয়ত শত্রুর আক্রমণ ও তার প্রতি আক্রমণের মধ্যে
অনেক কষ্টে বাঁধ বাঁধা হ ল। তার উপর বেল লাইন পতা হ'ল
চল্প ভরােশলভেব বাহিনী নদী পেরিযে।
কিন্তু ইতি মধ্যে সামনে লাইন সব শত্রুবা ভেঙ্গে চুরমার
ক'বে দিয়ে গেছে। লালফৌজের অগ্রগামীবা বেল লাইন
পাততে পাততে এগিয়ে চ'লে আব তার পিছন পিছন অতি
মন্থর গতিতে চলে ভবােশিলভেব বাহিনী। পথে জারিতসিন
থেকে খবর এল , কিন্তু সে খবর খুব ভাল নয়। সেখানে
লালফৌজ খুব সঙ্কটাপন্ন। তঁাবা আসছিলেন জাবিত সিনে
অপেক্ষাকৃত সুবিধাজ আশ্রযেব 'অন্তুি সেখানে পৌছিয়ে
দেখলেন তাই রক্ষার একমাত্র ভরসা।
حلمي
ব
ষ্টালিনের সাথে অবরুদ্ধ
ভয়ােশিলভ জারিতসিনে পেঁৗছবামাত্র তাকে জারিতসিনের
লালযৌজদের প্রধান সেনাপতি করে দেওয়া হ'ল।
কিছুদিনের মধ্যেই ভবােশিলভেব কাছে এলেন একজন
পলিটক্যাল কমিসাব। তিনি আর কেও নয়, ভবােশিলভএর
পূবণ বন্ধু-ষ্টালিন। আবার দুই বন্ধুতে লেগে পড়লেন
কাজে।
ষ্টালিনের সাহায্য পেযে ভবেশিলভ খুবই খুসী হলেন।
কারণ স্টালিনের আসার আগে পর্যন্ত প্রত্যেকটী খুটানাটী
ব্যাপারে তাকেই মাথা ঘামাতে হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদশি
তখনকার অবস্থার বিববণে বলে গেছেন “ভয়েশিলভকে
সবখানেই দেখা যেত। লােকে যেখানে শষ্য গুদামে তুলছে
প্রােজন বােধে সেখানে ভবােশিলভ গিয়ে হাজির হচ্ছেন।
আবার মেনশেভিকবা যেখানে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে
সেখানে তাদের তাড়াতে ছুটছেন তিনিই , আবার কেও
নিরাশ হয়ে পড়লে সেখানে ছুটছেন তাদিগকে উৎসাহিত
করতে।” ষ্টালিন এসে পড়ায় রাজনীতিকদিকটার ভাব
তার উপর ছেড়ে দিয়ে ভােশিলভ অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়ে
সামরিক দিকটায় বেশী নজর দিতে লাগলেন।
ক্লেম ভরােশিলভ
নদী বেযে
সামরিক দিক থেকে জারিতসিন এই সময় অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ঘটী হয়ে দাড়িয়েছিল। জারিতসিনের অবস্থাটা
তখন ঠিক শ্বেত সৈন্যদের পাজবের ভিতর দিয়ে গেঁথে
দেওয়া একটী লাল ভােঙ্গালীব মত। অর্থনৈতিক দিক
থেকেও তখন জারিতসিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
মস্কো ও পেট্রোগড় প্রভৃতিতে যে খাদ্য
বােঝাই জাহাজ যাতায়াত ক’বছিল তাব নিবপত্তা বক্ষা
জারিতসিনের উপবই নির্ভর ক'বছিল। লেনিন শ্রমিকদের
কথা দিয়েছেন—“কটী মিলবে”। তাই ষ্টালিন ও ভবােশিলভ
তাব কথা রক্ষা ক’বছেন। এদিকে জেনারেল ক্রাসনভের
সৈন্যদল জাবিতসিনকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেল্ল।
জানবা গােপনে গােপনে ক্রাসনভকে সাহায্য পাঠাচ্ছিল।
কেবল সহবে পূর্ব দিকে একটী খােলা পথ দিয়ে
বাইবেব জগতের সাথে সংস্পর্শ বাখা সম্ভব হচ্ছিল। ভবেশিলভ
তাব সেই নানান ধরণের লােকের সমাবেশ, জগা খিচুড়ী
সৈন্যদেব একত্রিত করে সােভিয়েট রিপাবলিকের দশম
বাহিনীতে পরিণত ক'বলেন। শত শত মাইল দূরে লড়াইয়ে
নিযুক্ত গরিলা বাহিনীর সাথে সর্বদা সংযােগ বক্ষার জন্য
তিনি তার বাহিনীকে যতদূর দ্রুত চলনশীল ক'রে তােল
সম্ভব তার দিকে নজর দিলেন। এই উদ্দেশ্যে জেলায় যত
মটর যান ছিল তিনি সবকে সামরিক কাজে ডেকে নিলেন
লাল মার্শাল
এবং সেগুলিকে দিয়ে পদাতিক সৈন্যদের দ্রুত চালনা করবার
ব্যবস্থা করলেন। সেই সঙ্গে তিনি তাঁর আর্মার্ড ট্রেনগুলিকেও
যতদূর সম্ভব ব্যবহার করতে লাগলেন।
এইরূপ অবস্থা বিপাকের মধ্য দিয়েই জগতের সামরিক
নেতাদের মধ্যে ভবােশিলভই প্রথম বর্তমান যান্ত্রিক বাহিনীর
উদ্ভাবনা ক'বলেন। ২০ বছর পবে তিনি তাঁর সেদিনকাব
স্বপ্নকে স্বপ্নতীত সফলতায় পবিণত করেন।
বিতসিন নগর অবরােধের সময় ভবেশিলভ প্রথম
বুদেনিব সংস্পর্শে আসেন এবং পবে বুদেনিব গুণাবলী বুঝতে
তার পদন্নোতি করেন। বুদেনি পুরাতণ জার সৈন্যদলের
অশ্বাবােহী সৈন্যের সার্জেন্ট ছিলেন। বিছুকাল পবে
ভয়ােশিলভ যখন অশ্বারােহী সৈন্যদেব একটা দল সংগঠন
করার প্রয়ােজন অনুভব কবেন তখন তিনি বুদেনির উপর
সেই কাজেব ভার দেন। সেই পুরাতণ অশ্বাবােহী সার্জেন্ট,
অন্তযুদ্ধের রূপ কথার নাযক, আজ আবার সােভিযেটকে
বাঁচিযে ফ্যাসিজমকে জগত থেকে বিলুপ্ত করার জন্য সেই
দক্ষিণ কশেই জীবন মরণ সংগ্রামে লিপ্ত।
আজকের মত সেদিনও বুদেনি, ষ্টালিন আব ভবােশিলভ
সমস্ত অবস্থা বিপাক ও নৈরাশ্যকে উপেক্ষা কবে দৃঢ়তার
সাথে নগর রক্ষা করছিলেন। ক্রাসনভু, বার বার চেষ্টা
ক'বেও জারিতসিন অধিকার করতে পারলে না।
৬২
ক্লেম ভরােশলভ
যখন শবতের মধ্য রাত্রির অন্ধকারে কামানের গর্জন
খানিকক্ষণের জন্য থেমে যেত তখন ভরােশিলভ আর লিন,
দুই বন্ধুতে ব'সে ব'সে কথা কইতেন। তাদের পিছনে
ফেলে আসা দিনের কথা বলাব সময় ছিল না , তারা
বর্তমানের কথা বলতেন,
সেইদিনকার কথা বলতেন।
বিশেষ করে তারা বলতেন ট্রটস্কিব কথা।
এদেশে অনেকের ধারণা আছে ট্রটস্কি এবং ষ্টালিনের মধ্যে
সম্ভবতঃ একটা কোন ব্যক্তিগত লড়াই ছিল। লেনিনের মৃত্যুর
পর তারা যেন ধনীর অপগও সন্তানদেব
মত সম্পত্তির
ভাগ নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে লেগেছিলেন এবং তাই নিয়েই
যত গণ্ডোগােল। আসলে কিন্তু ব্যাপারটার মধ্যে মােটেই কোন
ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিলনা। আব ব্যাপারটাও আজকালকের
ব্যাপার নয়। বছর পনােবাে আগে যখন ট্রটস্কিকে সােভিয়েট
ইউনিয়ন থেকে বহিষ্কাব কবে দেওয়া হয় তার অনেক আগের
থেকেই ট্রটস্কিব রাজনৈতিক মতামতের সম্বন্ধে ষ্টালিন ববাবব
বিরােধীতা কবেছেন। যেকোন সঙ্কট মূহুর্তে ট্রটস্কি যখন
লেনিনকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন ব’বেছেন তখন ষ্টালিন এসে দাঁডিযেছেন
লেনিনের পাশে। এমনকি বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই
দেখাযায ষ্টালিন ববাবরই লেনিনের সাথে ট্রটস্কির অদূরদর্শিতা
ও সুবিধাবাদী উগ্রবামপন্থী মনকে বাধা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু
এই বিরােধ খুব বেশী প্রকট হল জারিতসিন অবরােধের সময়ে।
লাল মার্শাল
ট্রটস্কি তখন সমর সচিব। তার নির্বাসন কাল আমেরিকায়
কাটিয়ে এসে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হ'য়ে একেবারে
ডিক্টেটারী চালে চছিলেন। কাজেই তার এই রকম হাবভাব
যারা দেশের মধ্যে থেকে এতদিন বিপ্লবটাকে সজীব করে
বেখেছেন দিকে মােটেই ভাল লাগছিল না । এতকাল
আমেবিকায় কাটাযে হঠাৎ এসে সব বিষযে, কাবণে অকাবণে
ট্রটস্কির মােড়লী চালানােটা যারা বিন্দু বিন্দু রক্তদিযে বিপ্লব
সাধন করেছেন তাদের কাছে নিতান্তই অসহ্য মনে হত।
ট্রটস্কিব বিৰুদ্ধে প্রধান অভিযােগ ছিল যে তিনি জার তবে
আমলেব সামবিক অফিসাবদেব (যেমন ভ্যাজেটিস ইত্যাদিকে)
বেশী পছন্দ করতেন অথচ বিপ্লব-সৃষ্ট সামবিক নেতা (যেমন
ভবেশিলভ ইত্যাদিকে) মােটেই আমলদিতে চাইতেন না,
এমন কি বিবােধীতাও করতেন। যদিও নিয়মতান্ত্রিক
ব্যবস্থা অনুযায়ী ভরােশিলভ বহুদূবে অবস্থিত একজন পূরাতন
জারতান্ত্রিক অধিনায়কের অধীনে ছিলেন তবুও ভবােশিলভ
সেটাকে খুব একটা বড় জিনিষ মনে ক’বতেন না। কাবণ
তখনকাব অবস্থা ঠিক সেরকম ছিলনা। তখন স্থানীয
নেতাদের উপরই যুদ্ধের প্রায় সমস্তটাই নির্ভর ক’বত। কিন্তু
ট্রটস্কির আমলাতান্ত্রিক মন কিছুতেই এযুক্তি মানতে
রাজি ছিলনা। তার মতে ভরােশিলভের অধিনায়ক
ভ্যাজেটস, তিনি জারিতসিনেব স্থানীয় অবস্থা জানুন আর নাই
৬৪
ক্লেম ভােশিলত
জানুন তিনি হলেন একজন ঝানু সামরিক অফিসাব অতএব
ভবােশিলভকে ভাজেটীসেব আদেশ নিয়ে কাজ করতেই
হবে। ভরােশিনভেব কাছে তার মােটব-বাহিনী যতই
প্রযােজনীয় মনে হ'ক না কেন ভ্যাজেটীস যদি তা উদ্ভট মনে
কবেন তাহ'লে ট্রটস্কিব মতে ভবেশিলভকে মােটর-বাহিনী
পবিতাগ ক'বতে হবে। ট্র, ঋব এই সমস্ত পীড়াদায়ক
আমলাতান্ত্রিক মনােভাব ভবােশিলভ কখনই সহ ক'বতেন
। ভযোলিভেব দিক থেকে ট্রটস্কিকে অবিশ্বাস করার
এছাড়া আরও অনেক কাবণ ছিল।
যে কারনেই হক যখনই ট্রটস্কিব কাছথেকে জাবিতসীনেব
জন্য সৈবে আবেদন কবা হ'যেছে তখন হয ট্রটস্কি তা পাঠান
নাই কিম্বা এমন সব সৈন্য পাটিয়েছেন যারা সঙ্কট কালে
শত্রুপক্ষের সাথে গিয়ে যােগ দিয়েছে। এবম যে একবার
হযেছে তা নয়, বাব বাব হ'যেছে। কাজেই ষ্টালিন বা
ভবেশিলভ কেই তাদের সমব সচীবেব উপর শ্রদ্ধা পােষন
ক বতে পাবেন নাই।
ট্রইস্কি যেসব জিনিষ পাঠাতেন তার মধ্যে একটী জিনিষ
ছিল খুব খাটী আব নির্জলা। প্রতিনিয়ত যে টেলিগ্রাম গুল
ট্রটস্কি পাঠাতেন তার মধ্যে কোন ভেজাল থাকতনা।
কৈফিয়ৎ তলব কবে, কখনও আদেশ মানবার দাবী ক'রে,
কেখনও
লাল মার্শাল কখনও ভীষণ শাস্তির ভয় দেখিযে, প্রত্যহ টেলিগ্রাম এসে হাজির হ'ত। সেই সময়কার ইতিহাসকেভিত্তিক’বে বর্তমানে সােভিয়েটে যে মিউজিয়াম বা যাদুঘর আছে সেখানে গেলে আজও একটী টেলিগ্রাম দর্শকরা দেখতে পাবেন যাতে বিজযগর্বে ভরােশিলকে আদেশ দেওযা হ'যেছে নসােভিচ নামে একজন জাবতান্ত্রিক সমব নাযককে কৰ্ম্মভাব বুঝিয়ে দিতে। সেই টেলিগ্রামের উপর হাতে লেখা একটী মন্তব্য বযেছে, লেখাটী ষ্টালিনেব। যা লেখা আছে তাৰ অৰ্থ হ'ল :——“এই বিষয়ে কোন বিবেচনাব দবকাব নেই।” কিন্তু এমনি ক'বে আর বেশদিন চলে না। ট্রটস্কি দেখলেন তার সমব সচীবের পদ নিবৰ্থক হ'যে উঠছে। তিনি লেনিনের আশ্রয় গ্রহণ ক'লেন। লেনিনের কাছে নানান ভাবে ষ্টালিনেব এবং ভরােশিলভের বিরুদ্ধে অভিযােগ করলেন। অন্যদিকেও নানা ভাবে চেষ্টা করে তিনি স্টালিনকে জারিতসিন থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা ক'রে, স্বশীরে জারিতসিনে ভরােশিলভেব কাছে এসে হাজির হলেন। উভয়ের মধ্যে নাটকীয় ভাবে এক সাক্ষাৎকার হ ল। ট্রটস্কি ভবেশিলভেব কাছে জানতে চাইলেন “বলুন কমরেড়। জাতরিসিনে সমর সচীবের এবং অন্যান্য অধিনায়ক- দের আদেশ কি ভাবে পালিত হয়েছে ?”
ক্লেম ভরােশিলভ
ভয়ােশিলভ অত্যন্ত সংক্ষেপে উত্তর দিলেন “আমরা সেই
সব আদেশ ঠিক ভাবে পালন ক'রেছি যেগুলি পালনের
উপযুক্ত মনে করেছি।”
ট্রটস্কি বল্লেন, “আমিও ঠিক তাই জানতাম। কিন্তু কমরেড
এখন থেকে আপনাকে প্রত্যেকটী আদেশ অক্ষরে অক্ষরে
পালন করতে হবে। যদি কোন একটী আদেশ অমান্য করা
হয় তাহলে আপনাকে তৎক্ষণাৎ বিপ্লবী বিচারালয়ের সামনে
আনা হবে আর গুলি করা হবে।
বুঝেছেন? বাঙ্গ।”
ভরােশিলভ এই স্বর্তে কাজ করতে অস্বিকার করলেন।
সুতরাং তাকে উক্রাইনে বদলী করে দেওয়া হ'ল।
কিছুদিনের মধ্যেই জেনাবে র্যাঙ্গেলের হস্তেজারিতসিনের
পতন হ ল।
৬৭
ডেনিকিনের অবসান
১৯১৮ সালে ১১ই নভেম্বব মহাযুদ্ধের পরিসমাপ্তি হ'ল।
কিন্তু শিশু সােভিয়েটের বিরুদ্ধে বৈদেশিক ধন-তান্ত্রিকদেব
ষড়যন্ত্রের অবসান হ'ল না। ১৯১৯ সালের ১৭ই নভেম্বর
তদানীন্তন বৃটীশ প্রধান মন্ত্রি লযেড জর্জ হাউস্ অফ কমন্সে
বলেছিলেন “আমাদেব এ দেশের মত পৃথিবীর কোন দেশ
বাশিব বিপ্লব বিবেধীদেব সাহায্যে টাকা ঢালে নাই. একটী
দেশও না। ফ্রান্স, জাপান, এমবিকা সবাই টেলেছে বটে—
কিন্তু বৃটেন এই সমস্ত শক্তি একত্রে যা খবচ কবেছে তাব
চাইতেও বেশী টাকা ঢেলেছে। ম্যাক্স হাউসে আব একটী
বক্তৃতায় তিনি হিসাব দিয়েছিলেন যে বৃটীশ গভর্ণমেন্ট প্রায়
১০০ মিলিয়ন অর্থাৎ দশ কোটী পাউণ্ড খরচ ক'বেছে
সােভিযেটকে ক্ষমতা চ্যুত করার জন্য। ভবােশিলভ হ'লেন
তাদের একজন যাদেব বাবণে এই বিবাট অর্থব্যয় (যার জন্য
এখনও আমবা ট্যাক্স বহন ক’বছি ) ইঙ্গিত ফল দিতে
পারে নাই।
১৯১৮ সালে যখন জাৰ্মাণীর পতন হ’ল তখন স্বভাবতই
উক্রাইন ও অন্যান্য স্থান থেকে জার্মান বাহিনী অপসারিত হ'ল।
কিন্তু এর তুলনায় জার্মান যুদ্ধ বিরতির সুযােগ পেযে মিত্রশক্তি
যে ভাবে চাপ দিতে লাগলেন তাতে সােভিয়েটের অবস্থা
৩৮
ক্লেম ভরােশিলভ
আরও খারাপ হয়ে দাড়াল। তিনজন হােযাইট রাশিয়ান
জেনাবেল বা বিপ্লব বিবােধী অধিনায়ক, এদের সাহায্য
পেযে বলশেভিক ক্ষমতাকে সঙ্কটাপন্ন ক'বে তুল্ল।
বাটীক দেশগুলিব থেকে ইউজেনিচ পেট্রোগ্রাডের সামনে
অগ্রসর হচ্ছিল। ওদিকে কচ্চা সাইবেরিয়াব থেকে পশ্চিমে
চাপ দিযে ইৰানে এসে পড়ছিল। তার লক্ষ্য ছিল ইউৰােপীয়
রাশিযাব সমতল
ভাগের উপব । আব দক্ষিণে যেখানে
ভবােশিলভ ছিলেন, ডেনিকি মহােল্লাসে মস্কোর প্রায় ২০০
মাইলের মধ্যে এসে পড়েছিল। “ডেলি-এক্সপ্রেস” পত্রিকার
যে প্রতিনিধি ডেনিকিনেব ফৌজের সাথে ছিলেন তিনি বিববণ
দিয়েছেন কেমন ভাবে বৃটীশ বৈমানিক, গােলন্দাজ ও অন্যান্য
বিশেষজ্ঞবা নিয়ত ডেনিকিনকে সাহায্য করছিল ও কেমন
ভাবে সময় সময় তাদের হস্তক্ষেপের ফলে ডেনিকিন নির্ঘাত
পতন থেকে বেঁচে যাচ্ছিল।
আবাব সাইবেরিয়াতেও সেই রকম কশ্চাকের নামে
সাধারণ লােকে একটা গানই বেঁধে ফেলেছিল
ব্রিটীশশব পােষাকে
ফবাসীব সাজ,
জাপানীর তামাক খেযে
কলচাকের নাচ।
লাল মার্শাল
পােষাক ত ছিল
সাজও ত’ গিয়েছে
তামাকু ফুরােল
কলাচাক 'মরেছে।
এই গানের থেকেই বােঝা যায় যে এই সমস্ত বিদেশী
শক্তির সাহায্য এতদূব প্রকট ছিল যে সাধারণ লােকেও গ
নিয়ে গান বেঁধে ফেলেছিল। মােট কথা সােজা ভাষায়
বলতে গেলে বিদেশী সাহায্য না পেলে কচ্চা ডেনিকি বা
ইউটেনিচ প্রভিতির একদিনও টীকে থাকার সামর্থ ছিল না।
১৯১৯ সালের প্রথম দিকে ভরােশিলভ উক্রাইনের
পিপস্ কমিসার, খারখব সামরিক অঞ্চলের মিলিটাবি
কমাণ্ডার আবাব চতূর্দশ সেনাদলের অধিনায়ক এই তিনটি
পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। গ্রীষ্মের সমষ ডেনিকি খারখব অধিকার
ক'রে সাবা উক্রাইন দখলীভূত করল। ১৩ই অক্টোবর
মধ্যে ডেনিকি মস্কো থেকে ২০০ মাইল দূবে ওবেলে
পৌছিযে টুলার দিকে দূত অগ্রসর হচ্ছিল। টুলা হাতে
এলে সামরিক দিক থেকে এক অতি মূল্যবান স্থান
ডেনিকিনের দখলে আসে, রাজধানী খুবই নিকটে এসে পড়ে।
ওদিকে ইউডেনিচ একেবারে পেট্রোগ্রাডের সামনে হাজিব।
জগতের ধনতান্ত্রিকরা তখন মহা উল্লাসে মত্ত , তারা ধরে
নিযেছে বলশেভিকদের পরমায়ু আর কযেকদিন মাত্র।
৭০
ক্লেম ভরােশিলভ । চারিদিকে এই রকম সঙ্কট ও হতাশার ঘনান্ধকারের মধ্যে রােশিলভ আবার তার স্বস্থানে ফিরে এলেন। লেনিন নির্দেশ দিলেন যা কিছু আছে ডেনিকিনেব বিকদ্ধে সংগ্রামে লাগাও।' ষ্টালিন, ভৰােশিলভ আর বুদেনিকে পাঠান হ'ল বিপর্যস্ত দক্ষিণ মােহড়াকে বেঁধে ফেলবার জন্য। ষ্টালিন এই স্বর্তে কাজেব ভার নিতে স্বীকৃত হ'লেন যে, ট্রটস্কি তাঁদেব কাজে কোন বকম হস্তক্ষেপ করতে পাবেন না। চারিদিক থেকে লালফৌজ ডেনিকিনকে বাধা দেওয়ার জন্য সমবেত হচ্ছিল। ঐট স্কি আর তার বন্ধুবা মিলে পাল্টা আক্রমণের একটা পরিকল্পনা ঠিক করেছিলেন। ভবশিলভ তার অনন্য সাধারণ সামরিক দূরদর্শিতার জন্য তৎক্ষণাৎ এই পরিকল্পনার মারাত্মক ক্ৰটীগুলি ধবে ফেল্লেন। ষ্টালিনকে তিনি সেগুলি বুঝিয়ে দিয়ে স্টালিনের পরামর্শে একটী নূতন পরিকল্পনা খাড়া কবলেন। ট্রট স্ফির দল প্রস্তাব করেছিলেন পূর্ব দিকে কসাকাদব দেশের মধ্য দিযে পা-টা আক্রমণ চালাতে হবে। ভরােশিলভ দেখিয়ে দিলেন যে কসাকরা বরাবর বিপ্লব বিরােধী, ওদের দেশের মধ্যে দিয়ে আক্রমণ চালালে উট ওবাই আরও জোরে প্রতি আক্রমণ চালাবে ফলে, লাল- ফৌজ বিপর্যস্ত হবে। কিন্তু যদি উক্রাইনে খাবয়বের উপবে ডনবাসের মধ্য দিয়ে আক্রমণ চালানাে যায় তাহলে বন্ধু ভাবাপন্ন উক্রাইন ও বিপ্লবী ডনবাসীরা ববাবরই লালফৌজকে ৭১
লাল মার্শাল
সাহায্য করবে। ভরােশিলভের পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কমিটীতে
পাঠানাে হলে তারা সেটা গ্রহণ করলেন এবং ভরােশিলভকে
বিচ্ছিন্ন অশ্বাবােহী সৈন্যদেব সমবেত ক'রে সােভিয়েটের
প্রথম অশ্বাবােহী বাহিনী গঠন ক'বতে আদেশ দিলেন।
ভবেশিলভ কাজে লাগলেন আব তঁাব দক্ষিণ হস্ত হ'য়ে বাজে
লাগলেন বুদেনি। অক্টোবব, নবেম্বর ও ডিসেম্বর এই তিন
মাসে পৃথিবীর ইতিহাসে আর একটি স্মরণীয় অশ্বাবােহী
সৈবে সংগ্রাম হয়ে গেল।
১৯শে অক্টোবব লালফৌজ ওবেল থেকে ডেনিকিকে
হ'টীয়ে দিল। ২৩সে শুভ সংবাদ এসে পৌছল যে আগেব
দিন ইউটেনি, পেট্রোগ্রাডেব মাত্র আট মাইল দূরে থাকতে
একেবাবে বিধবস্ত হযেছে। এই সমস্ত আশাপূর্ণ সংবাদ পেযে
মহোল্লাসে লাল ফৌজ এগিয়ে গিযে ভবােনেজ, দখল কবল।
অক্টোববেব শেষ তাবিথে ডেনিকি দ্রুত পিছু হাঁটতে
লাগল , মস্কোর নিবপত্তা ফিবে এল । কিন্তু থামলে চলবে
। প্রথম অশ্বাবোহী বাহিনী ঝডেব মত দক্ষিণে এগিয়ে চল্ল।
১৯শে নভেম্বব লালফৌজ বুর্গে পৌছাল। ডেনিকি
এখন মূল বাশিয়া থেকে বিতাড়িত । এবার ক্রাইন
পবিবের পালা।
১১ই ডিসেম্বর লালযৌজ আবার খারখবে ফিল। ১৯১৯
সালের শেষ তারিখে লালফৌজ ডেনিবিনের প্রধান সৈন্যদল
१२
ক্লেম ভবােশিলভ
আর তঁাব
দ্বিধাবিভক্ত কবে ফেল্লে আব ডােনেটুসের কয়লার খনিগুলাে
তাদের হাতে চলে এল।
পশ্চিমে লালফৌজ উক্রাইনের প্রধান সহব কীয়েভ দখল
করল। পূৰ্বে ৩ জানুয়াবী আজকাল যাব নামকরণ
হ'য়েছে ৪ালিনগ্রাড সেই জাবিতসিনে সােভিযেটব লাল
পতাকা আবার উডতে লাগল। ভবােশিলভ
ঘােড়সাওযাব তবুও ছুটে চললেন। ১০ই জানুযাৰী ডেনি-
কিনকে বসটভ থেকে তাড়িয়ে উত্তব ককেশাসের প্রান্তরে
পাঠিয়ে দিলেন।
তবুও ডেনিকি আর একবার শেষ চেষ্টার জন্য তার
সৈন্যদেব পুনৰ্ব্বাব সঙ্ঘবদ্ধ ক'বল। কিন্তু ভবেশিলভ
আগের থেকে তার পরিকল্পনা বুঝতে পেরে এমন ভাবে তডিত
আক্রমণ ক'বলেন যে ডেনিকিনেব শেষ চেষ্টা ধূলিস্মাত হ যে
গেল। যাবা বেঁচে রইল তারা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে কৃষ্ণ
সাগবের তীবে তাদের জন্য অপেক্ষারত বৃটাশ ও ফবাসী
জাহাজ গিয়ে উঠে প্রাণ বাঁচাল।
১ এপ্রিল কষ্টান্টিনােলেব বৃটীশ হাই কমিশনার
ডেনিকিনের কাছে লাল সমব নাযকদের প্রদত্ত সাবলী গ্রহণ
ক'বতে নির্দেশ দিয়ে ডেনিকিন সম্বন্ধে নিম্নলিখিত মন্তব্য
করেন :-
“বৃটীশ গভর্ণমেন্ট পূর্বে তাকে প্রচুর সাহায্য করেছেন
লাল মার্শাল
এবং সেইটিই হল একমাত্র কারণ যার জন্য তিনি এতদিন
পর্যন্ত সংগ্রাম চালাতে পেরেছেন।
সুতরাং তারা (অর্থাৎ
বৃটীশ গভর্ণমেন্ট ) আশা করে যে তিনি (ডেনিকিন) এই সমস্ত
প্রস্তাব গ্রহণ করবেন।”
তাহ'লে দেখা যাচ্ছে ভরােশিলভের সেদিনের জয় শুধু
ডেনিকি বিজয় নয় সেদিনকার ইউরােপে যারা সর্বময়
কর্তা তাদের উপর জয়। বৃটশ ও ফরাসী ধনতান্ত্রিকদের শত
চেষ্টা সত্ত্বেও ডেনিকি জিততে পারল না। তাকে পরাজযই
স্বীকাব করতে হ'ল।
৭8
আবার ষড়যন্ত্র
১৯২০ সালের মাঝামাঝি ইউরােপীয় রাশিয়ার অধিকংশেই
সােভিযেট শক্তি সমস্ত বিরোধী শক্তিদের পরাজিত করে
মাথা তুলে দাডিযেছে। ভবােশিলভের শৈশব, কৈশাের ও
যৌবনের লীলা ভূমি ডাস্ স্বাধীন
মুক্ত হয়েছে।
ভরােশিভেব সামনে এখন প্রশ্ন এল তিনি কি করবেন ?
তিনি কি ডনসেরই উন্নয়নের জন্য কাজে লাগবে, না
আবাবও ঘােড'ব পিঠে থেকে অন্যান্য স্থান থেকে সােভিযেট
শত্রুদের সরিয়ে দেবার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হবেন।
ভােশিলভেব হয়ত মনে মনে ডম্বাসের শিল্পকেন্দ্রগুলিকে
পুনবায সবদ্ধ করে সােভিযেট এর শিল্প উন্নতির জন্য চেষ্টা
কৰাব ইচ্ছা ছিল।
কিন্তু কমুনিষ্ট কোথায় কাজ ক'ববে, কোথায় থাকবে
এ বিষয়ে যদিও তাদের ব্যক্তিগত মতামতের দিকে লক্ষ
রাখা হযে থাকে তবুও পার্টির সিদ্ধান্তই হ'ল তাদের শেষ
সিদ্ধান্ত। পার্টি যেমন নির্দেশ দেয কমুনিষ্ট সেই মতই
ক'বে থাকে। পার্টি যেখানে যেতে ব'লে সেইখানেই যায়।
পার্টির সঙ্গে তাদের জীবন ও কাজ একেবাবে ওতঃপ্রােত
ভাবে জড়িত। পার্টির বাইবে কম্যুনিষ্টদেব ব্যক্তিগত জীবন
৭৫
লাল মার্শাল
সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানা যায় না। সেইজন্য ভােশিলভেবও
ব্যক্তিগত জীবন সম্বন্ধে খুব বেশী কিছু জানা সম্ভব নয়।
কম্যুনিষ্ট নেতারা আবার নিজেদের সম্বন্ধে কখনও বেশী কিছু
বাইবে বলেন না। তবুও একটা ছোট্ট ব্যক্তিগত খবর
পাঠকদেব ব'লে দেওযা দৰকাৰ। আমাদের কমবেড়
ভরােশিলভ এবই মাঝে একদিন একজন সুন্দবী নৃত্যশিল্পী
মহিলাকে বিয়ে কবে ফেলেছেন। মহিলাটীব নাম ক্যাথবিণ
ডাভিড়ােনা। এই মহিলাব সম্বন্ধে নানারূপ বােমাঞ্চকব
কাহিনী মাঝে মাঝে শােনা যায় অবশ্য সে সব গল্লব
সত্যতা সম্বন্ধে যথেষ্ট সন্দেহেব কাবণ আছে। এসব ব্যাপাব
নিয়ে অন্যান্য দেশের মত সােভিযেটে খুব বড় একটা আলােচনা
হয় না। সেখানকার জনসাধারণও মনে ক'ব তাদেব
নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন তাদেব নিজস্ব ব্যাপার , ওনিযে
মাথা ঘামার কোন প্রযােজন সাধারণের নাই। নেতারাও
সেজন্য ব্যক্তিগত স্মৃতি নিয়ে আত্মজীবনী বচনা করেন না।
বিদেশী সংবাদপত্র প্রতিনিধিবাও সােভিযেটে গিয়ে কমুনিষ্ট
নেতাদের সম্বন্ধে এসব সংবাদ সংগ্রহ ক বতে গিয়ে হতাশ
হন। তঁারা ত আব জানেন না যে এইসব নেতাদের জীবন
পার্টির সাথে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। তাই ১৯২০ সালে
ভবেশিলভ যখন হয়ত ডাসের উন্নয়নের দিকে মনােনিবেশ
কবার ইচ্ছা করে থাকবেন তখন তার উপর আদেশ এল
৭৬
ক্লেম ভবােশিলভ আবাব সৈন্য পরিচালনা করার জন্য । পােল্যাণ্ড এই সময় স্বাধীন হযেছে কিন্তু পােলিশ ধনিকরা তাতে ক্ষান্ত না হযে তারা ১৭৭২ সালে তাদের যে ক্ষান্মা সাম্রাজ্য হয়েছিল, যাব সীমানা উক্রাইন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল সেই সাম্রাজ্য পুনস্থাপনের স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ ক বল। পােল্যাণ্ড সামবিক অধিনায়কত্বের অধীনে স্বেচ্ছাচাবী রাষ্ট্রে পরিণত হ'ল। এই সমযেব টাইমস্ পত্রিকাব ওয়াবসব সংবাদাতা জানান “বাস্তাব মধ্যে প্রত্যেক পাচ জনাব মধ্যে একজনকে সমরসজ্জায় সজ্জিত দেখা যাচ্ছে। কি দুঃখের বিষয় যে, এইসব যুবকবা যাদেব এখন ক্ষেতে খামাবে কাজ কবাব বা শিক্ষা সমাপ্ত করার সময় তাবা সেইসব ছেড়ে চলেছে যুদ্ধ করতে।” এখানেও ফবাসী ও বৃটাশ সবকাববা পােদিগকে উৎসাহিত করার জন্য বহুলাংশে দায়ী। ১৯২০ সালের ৫ই জানুযাবীব মর্ণিং পােষ্ট পত্রিকা লেখেন “বসন্তকালে বলশেভিকদের বিরুদ্ধে একটী পোলীশ অভিযান পৰিচালিত হ'বে কি না এ প্রশ্নের উত্তর অনেক খানিই নির্ভর ক’বছে ফ্রান্স ও বৃটেনের উপব।” দু’দিন পবে টাইমস পত্রিকায় লেখা হ'ল :- “যদি সােভিযেট উচ্ছেদের জন্য পােলাকে ইংলণ্ড ও ফ্রান্সের দ্বারা সাহায্য ও উৎসাহিত করাই ঠিক হ'য়ে থাকে তা হলে এটা জানা দরকার যে শুধু সামরিক প্রযােজনীয় নয় এব ঠিক ৭৭
লাল মার্শাল
ছিল।
পােলাকে তার ঘর সামলান ও অর্থনৈতিক দূরবস্তার
উন্নতির জন্য সাহায্য করা খুবই দরকার।”
পােলা?ওর আভ্যন্তরীণ অবস্থা এই সময় অত্যন্তই খারাপ
চারিদিকে দুর্ভিক্ষ, টাউবাসিস,টাইফুস, ও
ডিসেন্টারী ভীষণ মহামারীর আকার ধারণ করেছিল। সত্যই
এ সময় পােলবাসীদিকে সােভিযেটের বিরুদ্ধে উৎসাহিত না
করে তাদের ঘর সামলাতে উপদেশ ও সাহায্য দিলে তাদের
অনেক উপকার হত। কিন্তু ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রনীতি অপরকে
সাহায্য করে তার নিজের স্বার্থ বজায় করার জন্য, সাহায্য
গ্রাহকের স্বার্থে নয়। আজকে যেমন কন্টনেন্টাল ইউরােপ
থেকে অপসারিত বৃটীশ শক্তি সােভিযেটের সঙ্গে মিতালী
করতে উৎসাহিত সেদিন তেমনি ইউরােপের ভাগ্য বিধাতা,
ফরাসী ও বৃটীশ শক্তি সােভিযেটকে উৎখাত করবার জন্যই
ব্যগ্র ছিল।
ভবেশিলভকে এই সময় কি রকম বিপদের সম্মুখীন হতে
হয়েছিল সেইটুকু বােঝার জন্য উপবােল্লিখিত ইতিহাসটুকু
জানার দরকার। বিশেষ আজও যখন অনেকের ধারণা আছে
যে সােভিযেট ১৯৩৯ সনে পােলাণ্ডে ও ফিনল্যাণ্ডে যা করেছে
তা নিতান্তই অন্যায় তখন এটা জেনে রাখা ভাল যদি তাই
হ যে থাকে তা হলেও তার যথেষ্ট কারণ ছিল। এইখানে
বলে রাখা ভাল ফিনল্যাণ্ডের ইতিহাস এদিক থেকে ঠিক
৭৮
, ০ ৭ কারণ মে ভরােশিলভ } পােলাণ্ডেরই মত। কিন্তু তাই বলে যদি কেও মনে করেন যে এইজন্য ভরােলিভএর পােল ও নুিধাসীদের উপর জাত- ক্রোধ আছে তা হলে তিনি অত্যন্ত ভুল করবেন। ভরােশিলভ সে ধাতেরই লােক নন। তিনি নিজে একজন শ্রমিক, একজন কমুনিষ্ট , তিনি নিজেকে একজন আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের কম্মি ব'লে জানেন। তিনি বিশ্বাস করেন জগতের শ্রমিক চাষীরা সব এক। তাদের মধ্যে অন্তর্নিহিত ঐক্য সর্বদাই বর্তমান। তিনি জানেন যে তাদের এই অন্তনিহিত ঐক্য, উপরের সমস্ত বাধা বিপত্তি অতিক্রম ক'বে একদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেই। কাজেই তার পক্ষে কোন জাতির কোন মানুষের প্রতি জাতক্রোধ থাকা অস। পােল, জাৰ্মাণ, ফিনিশ, হাঙ্গেরিয়ান, রুমানিয়ান জনতাদের তিনি কোনদিন ঘৃণা করতে পারেন না—তাদের সম্বন্ধে তার ধারণা, হিটলার, ম্যানরহিম, আটানেক্কু প্রভৃতির সম্বন্ধে যে ধারণা তার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। শেষের ব্যক্তিদের যেমন তিনি ঘৃণা কবেন তাদের দেশবাসীদের তিনি তেমন ভালবাসেন যদিও একাধিকবার তাদের অনেকের সাথে তাকে লড়তে হয়েছে ও হচ্ছে। তার এই মনােভাব অতি সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছিল বছর দু’তিন আগে লাল ফৌজের নিকট প্রদত্ত তার একটা বক্তৃতায়। লাল ফৌজের শত্রুকে পরাজয় করার ক্ষমতা
লাল মার্শাল
সম্বন্ধে তার স্বাভাবিক আস্থা জ্ঞাপন করে তিনি বল্লেন আমরা
শত্রুকে পরাজিত করতে চাই—“কিন্তু সব চেয়ে কম লােকক্ষয়
ক'রে, শুধু নিজেদের নয বিপক্ষেবও।”
এই কথা কযটী ভবােশিলভেব চিত্তকে অতি স্পষ্ট ভাবে
আমাদের সামনে তুলে ধবে ।
ভরােশিলভ বক্তপিপাসু
সমববীদ নন। তিনি যুদ্ধে জযগান গান না। তিনি শুধু
জানেন ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্র পবিবেষ্টিত শিশু সমাজতান্ত্রিক সমাজের
বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধের প্রয়ােজন আছে, তাই তিনি যােদ্ধা।
তাই তিনি বর্তমান লালফৌজেব শ্রষ্টা। আসলে অন্তরের
থেকে তিনি যুদ্ধ জিনিষটা চান না, তাকে ঘৃণা কবেন।
কিন্তু এখনকাব লাল ফৌজ আব ১৯২০ সালে তিনি যে
লালফৌজ নিয়ে পােলিশ সমবনায়কদের বিবদ্ধে অগ্রসব
হযেছিলেন এ দুইএ আকাশ পাতাল প্রভেদ।
পােল্যাণ্ডের সমব নাযকবা ডেনিকিনের পরাজয় নিশ্চিত
হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কবে ব'সে ছিলেন। বাবণ তা জানতেন
যে ডেনিকিন যদি জেতে ও বাশিয়াব শাসক হয় তাহলে
শেষ পর্যন্ত পােলাণ্ডকে আবার সে রুশ সাম্রাজ্যের ভিতর
টেনে আনবে। পােলাণ্ডেব অপেক্ষা করে থাকার আবও কারণ
এই ছিল যে যদি ডেনকিনই সােভিযেট উচ্ছেদে সফল হয়
তাহলে ইংলণ্ড ও ফ্রান্স আবপােলাকে সাহায্য করতে আসবে
না। আর ওদের সাহায্য না পেলে কিছুই হবে না।
মে ভরশিলভ
তাই যখনই দেখা গেল যে ডেনিকিন নাজেহাল, হ'য়েছেন
তখনই পােলাণ্ড সােভিয়েটের কাছে এমন কতকগুলি দাবী
উত্থাপন করল যেগুলি টাইমস পত্রিকা পৰ্যন্ত “কিন্তু তকিমাকার”
বলে বর্ণনা করেছিল।
বলা বাহুল্য এই সব দাবী প্রত্যাক্ষিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে
পােলীশ সৈন্য তড়িৎ গতিতে সমস্ত পশ্চিম উক্রাইন পদানত
করে কীযেতে প্রবেশ কবে। সম্রাট পঞ্চম জর্জের নামে
এই সময় পােলাণ্ডের রাষ্ট্রনেতা পিড়স্কির নিকট অভিবাদন
জানিয়ে একটি টেলিগ্রাম পাঠানাে হয়।
ডেনিকিনের সৈন্যের শেষাংশে পিছনে ধাবমান প্রথম
অশ্বাবােহী বাহিনী ও ভবােশিলভেব উপব তৎক্ষণাৎ উক্রাইনে
ফিববার জন্য আদেশ এল। তাদিকে দ্রুত সংগঠিত সােভিযেট
মােহব বামে অর্থাৎ দক্ষিণে রাখা হ'ল। ভযােশিলভকে
তুকাচেভ স্কিৰ সৰ্বময় ক্ষমতার অধীনে থাকবার আদেশ
দেওযা হল
ষ্টালিন আবাব ভবােশিলভেব পাশে এসে দাড়ালেন, আর
বুদিনিও থাকলেন সাথে। ওদিকে তুকাচেভস্কি রইলেন সমর
সচিব ট্রটস্কিব সাথে নিয়ত সংযােগে | সুতরাং ১৯২০ সালেই
বিভেদের সীমারেখা বেশ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল ব'লতে হবে।
আবার, ভবােশিলভ এবং বুদেনি দুর্বার বেগে এগােতে
আরম্ভ করলেন। ঠিক ডেনিকিনের মতই পােলীশ সৈন্যকেও
লাল মার্শাল
তাঁর দ্বিধাভক্ত কবে’ ফেললেন। জুনের গােডাতেই তারা
কীযেভ পরিবেষ্টন কবে পােলাণ্ডের সাথে রেলপথ যােগাযােগ
ছিন্ন কবে পােলদিকে কীযেভ পবিত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
তারপর উক্রাইনেব সীমা অতিক্রম করে গ্যালিসিয়া পর্যন্ত
দুৰ্ব্বাব বেগে এগিয়ে গেলেন। অনিচ্ছুক অভিজ্ঞদেরও স্বীকার
করতে হযেছে যে অশ্বাবােহী সৈন্যের এমন আক্রমণ নেপাে-
লীযনেব পব আব হয় নাই । ওদিকে উত্তরে ও মাঝে
সােভিযেট ফৌজ আগিয়ে গিযে ভীসচুলা অতিক্রমণ ক’বলে।
জুনের শেষ তাবিথে ৫০০ মাইল দীর্ঘ ব্যাপী সমগ্ৰ মোহড়ায়
পােলীশ সৈন্য পশ্চাতে হ'টতে লাগল। আগষ্টেব মাঝামাঝি
তুকাচেভস্কি ওযাবস’র বহির ভাগেব দুর্গবেষ্টনীব সামনে এসে
পড়লেন।
এব পব বে ঠিক কি হযেছে সে সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের
মধ্যে খানিকটা মত বিবােধ আছে। যে কাৰণেই হ'ক এই
সময় ষ্টালিন ও ভরােশিলভ তড়িৎ গতিতে তুকাচেভ স্কির
সাহায্যে না এসে দক্ষিনেই তাদের আক্রমণ চালাতে থাকেন।
যে কারণেই হক এ সময় ষ্টালিনের সমর্থনে ক্লেম, তুকাচেভস্কির
আদেশ অমান্য করেন। এদিকে ফরাসী অধিনায়ক জেনারল
ওয়েগার অধীনে পােলর যে প্রতি আক্রমণ চালালো তুকা-
চেভস্কি তা ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন না।
যেমন গতিতে
তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন তেমনি ভাবে আবার ফিরে
৮২
ক্লেম ভরােশিলভ আসলেন। অক্টোবর মাসে রীগাতে যে সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হ’ল, তাতে সােভিয়েট বিগত ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরে পুন- রধিকৃত স্থান গুলি ছেড়ে দিল। ভবােশিলভ তার সৈন্য সামন্ত ঠিকভাবে বাঁচিয়ে ফিরৎ আনলেন। এইভাবে ফিরে আসা সম্ভব হত না যদি ভৰােশিলভ তুবাচেভস্কির আদেশ পালন করতেন। এদিকে রীগার চুক্তি স্বাক্ষর হতে না হ'তে ডেনিকিনের পুরাতন বন্ধু জেনাবল ব্যাঙ্গেল ক্রিমিয়াকে কেন্দ্র ক'রে, এক বিদ্রোহ ঘােষণা করে, উইক্রানের মধ্য দিযে, মস্কোর দিকে অগ্রসর হ'তে আরম্ভ করেন। আবার ভাবােশিলভকে সেখানে পাঠানাে হ'ল। ভবেশিলভ ব্যাঙ্গেলকে পিছন হটীয়ে, ক্রিমিয়াব সমুদ্র তীরে এনে, নভেম্ববের এক অন্ধকার রাত্রে সমুদ্রেব জল ঠেলে এমন এক আকস্মিক আক্রমণ করলেন যে কোনমতে তারা পালিযে ফবাসী ও বৃটীশ জাহাজে উঠে কন্সটান্টিনােপলে গিয়ে প্রাণ বাঁচাল। ভরােশিলভ উত্তরে ফিরলেন। কিন্তু তাঁর বিশ্রাম নাই। ১৯২১ এর মার্চ মাসে সােভিয়েট ইউনিয়নের কনিষ্ট পাটির দশম সাধাৰণ অধিবেশনে যােগদানের জন্য তিনি প্রতিনিধি হয়ে গেলেন। কিন্তু অধিবেশন বসবাব দশদিন আগে কনষ্টাডে সৈন্য ও নাবিকদের মধ্যে বিদ্রোহ হ'ল । কনষ্টাড়, হ’ল লেনিনগ্রাডের সম্মুখের সমুদ্র রক্ষার নৌবহরের
লাল মার্শাল
টী। আবার ভৰােশিলত বরফ ঢাকা সমূদ্রের উপর দিয়ে
আক্রমণ চালালেন এবং চিরদিনকাব কথিত অভেদ্য দুর্গের
পতন হ'ল। সেখান থেকে পাটী সম্মেলনে ফিরতেই তাকে
পাটীব কেন্দ্রীয় কমিটীতে নির্বাচিত করা হ'ল। এব পূর্বে
আর কখনও তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হন নাই।
পার্টীব দশম সম্মেলন অনেক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই সময় পাটাব মধ্যে ভীষণ সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। অধিবেশনে
লেনিনেব প্রস্তাব, ষ্টালিন, ভরােশিলভ ও অন্যান্য খাটী
বলশেভিকদেব সমর্থনে শেষ পর্যন্ত গৃহীত হল। এর পর্ব
পাটীব প্রায় এক লক্ষ সব হাজাব সভ্যকে অর্থাৎ প্রায়
একের চাব ভাগ সভ্যকে পাটী থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর থেকেই বােঝা যায় যে, যে অধিবেশন এতগুলি সভ্যকে
বাব কবে দিতে বাধ্য হয় তার গুরুত্ব কত বেশী। অথচ এই
গুৰুত্বপূৰ্ণ অধিবেশনই ভবেশিলভকে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে
নিযুক্ত কবে।
এই বছবেবই শেষের দিকে চীন গভর্ণমেন্টের সাথে
“চাইনীজ ইষ্টার্ণ রেলওযে” নিয়ে আবার একটী যুদ্ধের প্রযােজন
হল। সেখানে যুদ্ধ চালিযে তিনি ব্যাপাবটীর সামযিক
ভাবে মীমাংসা কবে এলেন। কিন্তু এই যুদ্ধের ফলে সুদূর
প্রাচ্য, বিশেষ করে বর্তমাণ জাপানী পাপেট বাষ্ট্র মাধুকুও
যেখানে অবস্থিত সেই অঞ্চল সম্বন্ধে তিনি সরজমীনে অবস্থা
৮৪
ক্লেম ভরশিলভ
বুঝবার সুবিধা পেলেন। এই সময়কার অভিজ্ঞতা পরে
আধুনিক সুদূর প্রাচ্যের লালফৌজ গড়ার সময় তার প্রচুর
কাজে লেগেছে।
লালফৌজের বিশ্বকর্মা
এরপব রাজনৈতিক নেতা ও সমবজ্ঞ অধিনায়ক দুই
হিসাবেই ভবােশিলভের প্রতিপত্তি ক্রমে ক্রমে আরও শক্তি-
শালী হ'তে লাগল।
১৯১২ সালে তিনি যেখানে ভাব ডেনিকিন বিজয় সমাপ্ত
হয় সেই উত্তব ককেশাশের অধিনায়ক হযে থাকলেন। এই
সমষকার স্মৃতি বক্ষা ক’বছে আজ কিউবান নদীব তীরে
একটী ছােট্ট সহর যার নাম দেওয়া হ'যেছে ভরােশিলভ স্ক।
১৯২৪ সালে লেনিনের মৃত্যুর পর তাঁকে মস্কো অঞ্চলের
কমাণ্ডারেব পদে নিযুক্ত কবা হ'ল।
পরের বছব তদানীন্তন সমর সচীব মাইকেল ফুঞ্জের মৃত্যু
হলে ভবােশিলভ তব স্থানে সমব সচিব হলেন এবপব
থেকে বৰাববই তিনি এই পদ অধিকার কবে বযেছেন।* একই
ব্যক্তি পর পৰ এতবছর ধরে সমব দপ্তরেব কর্তা হ'যে থাকা-
সমসামযিক ইউরােপে একটা বিবল ব্যাপার।
সমব সচিব
হওযার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ভরােশিলভ কমুনিষ্ট পাটীব সর্বাপেক্ষা
শক্তিশালী কেন্দ্র, দশজন নেতৃস্থানীয কমুনিষ্ট নিয়ে গঠিত পলিট
* বর্তমান সােভিয়েট-জার্মান যুদ্ধের জন্য সমর সচিবের দপ্তবেব কাজ
একটা ছােট দেশ রক্ষা পৰিষদেব হাতে ন্যস্ত হয়েছে।
ক্লেম ভরােশিলভ বুবো বা “বাজনৈতিক চক্রে” নির্বাচিত হন। পলিই ব্যুরাের কাজ হল সােভিয়েটেব মূল নীতি গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে আলােচনা ক'বে পার্টির সাধারণ সভ্যদেব পৰিচালনা করা। পলী ব্যুরাের সদস্য হওয়ার পবথেকে বলা যেতে পাবে যে সােভিয়েটেব যা কিছু শেষ সিদ্ধান্ত যে কয়জন ব্যক্তি দ্বাবা হয ভবেশিলভ তাদেবই অন্যতম। ক্রেমলিনে বেশ দৃঢ় ভাবে অবস্থিত হ যে ভােশিলভ এখন একটী সুদক্ষ ও সুশিক্ষিত অপ্রতিদ্বন্দী ফৌজ গঠন করার দিকে মননানিবেশ ক'বলেন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত শুধু স্থল- সৈন্য নয় নৌবাহিনীর ভাবও তার দপ্তবে ছিল। কিন্তু নৌবিভাগের কাজ বেড়ে যাওয়ায় কিছুদিন হ'ল পৃথক নৌবিভাগ স্থাপিত হযেছে। বিবাট সােভিয়েট সীমান্ত বেখার প্রায় সব অঞ্চলে ভবােশিলভ নিজে যুদ্ধ চালিয়েছেন, এমন কি সূদূর প্রাচ্যে পর্যন্ত। আবার তিনি লুগাস্কের শ্রমিক বাহিনীৰ দলনেতা থেকে আবম্ভ করে আজকের সর্বোচ্চ সমব নায়কের পদ পৰ্যন্ত সমস্ত অবস্থাতেই কাজ কবেছেন ও কাজের অভিজ্ঞতা লাভ ক'বেছেন। ইউবােপের সমর নায়কদের মধ্যে ঠিক এত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আর কারও লাভ কবাব সুযােগ হয় হযেছে কিনা সন্দেহ। আবাব এরই মধ্যে ভাব সাধারণ নাগরিকদেব অথনৈতিক ৮৭
লাল মার্শাল
ও শিল্প সমৃদ্ধি সম্বন্ধেও অভিজ্ঞতা কম নেই। তিনি জানেন
শিক্ষা ও সৎ প্রচাবের কি মূল্য। “শিক্ষা' এই শব্দটী তার জীবন
আলোচনার আগা গােডা সবখানেই বিদ্যমান। তিনি চান
তার লালফৌজকে জগতের সবচেয়ে শিক্ষিত সৈন্যদল হিসাবে
দেখতে, কেবল মাত্র কামানের গুলি চালান আর গুলি খাওযা
প্রতিহিংসা পরায়ণ খুনী হিসাবে নয়।
সব সৈন্যাধক্ষই নিজেব ফৌজকে সামৰিক আঙ্গিকের
দিকথেকে অপ্রতিদ্বন্দী কবে তুলতে চান। বিশেষ করে
বর্তমান যান্ত্রিক বাহিনীর যুগে বিভিন্ন প্রকাবের জটিল মবণাস্ত্র
সমূহ ব্যবহাব অভিজ্ঞ করার জন্য প্রত্যেক সৈন্যাধ্যক্ষই তার
সৈন্যদেব এবিষয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা কবে থাকেন।
কিন্তু ভবােশিলভ তার চাইতে বেশী চান। তিনি তাদের
রাজনৈতিক চেতনাব সম্পূর্ণ উম্মেষ পেতে চান। শুধু কেমন
কবে যুদ্ধ করতে হবে তাই নয়, কেন যুদ্ধ ক’বতে হবে
এবিষযেও তিনি লালফৌজকে সম্পূর্ণ সচেতন করতে চান।
তাছাড়া তিনি লালফৌজের কৃষ্টিগত শিক্ষার উন্নতির জন্য আরও
যত্নবান। প্রত্যেক লাল সৈন্যকে ইংবাজি, ফরাসী বা জার্মান
প্রভৃতি যে কোন একটা বিদেশী ভাষা শিক্ষার জন্য উৎসাহ
দেওয়া হয়ে থাকে। লালসৈন্যদের নিয়মিত ভাবে মিউজিযম,
শিল্প প্রদর্শনী ইত্যাদি অনুধাবন করতে পাঠানাে হয়। লাল
ফৌজের নিজস্ব থিযেটার, সংবাদ পত্র, মাসিক পত্র, নাটুকে
by
ক্লেম ভবােশিলভ
দল, সাহিত্যিক চক্র, তৈল চিত্র ও অন্যান্য চাক শিল্প প্রদর্শনী
ইত্যাদি কৃষ্টিৰ উন্মেষের জন্য সমস্ত উপকণই আছে।
সনে বিগত কমুনিষ্ট পাটীর অষ্টাদশ অধিবেশনে তিনি
বলেছেন :
“লাল ফৌজের গ্রন্থাগার সমূহে যত বই আছে তার সংখ্যা
হবে ২৫ মিলিয়ন (অর্থাৎ আড়াই কোটী)। সৈন্যরা
প্রত্যহ ১,৭২৫,০০০ সংখ্যক সংবাদ পত্র কেনে, ৪,৭১,৫০০
সাময়ীক পত্র নিয়মিত ভাবে পড়ে। কৃষ্টি ও শিক্ষার জন্য
এখন ব্যয় হয় ২৩০ মিলিযন কব যেখানে ১৯৩৪ সালে হযেছে
মাত্র ৭২ মিলিয়ন।”
এই স্থানে স্মরণ রাখা দবকাব সােভিযােটে সাধারণ শিক্ষা-
সমাপ্তিব ব্যস হ’ল ১৮ বছর আর সৈন্যদলে যােগদান-সমর্থ
যুবকদের মাত্র একের তিন ভাগ স্থাযী সৈন্য দলে প্রতি বৎসর
যােগদান কবে। দীর্ঘ দিন সমর নায়ক থাকা কালীন
ভবােশিলভের প্রধান অবদানের মধ্যে প্রথম হ'ল দেশরক্ষাব
সুদৃঢ় ব্যবস্থা। তাঁর ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে সােভিয়েট সীমান্তে
ভূগর্ভস্থ দুৰ্গসকল নিশ্মিত হয়েছে। তিনি দেখেছেন যে এত
বড় দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে ম্যাজিনন বা সিগফ্রীড লাইনের মত
একটি একটানা লাইন বাখা সম্ভব নয়। তার পরিবর্তে বিভিন্ন
গুরুত্ব পূর্ণ স্থানে এমন ভাবে সমগ্র সীমান্ত দেশগুলি জুড়ে
ভূগর্ভস্থত শক্তিশালী দুর্গ সমস্ত সুক্কায়িত বেখেছেন যে শত্রু
৮১
লাল মার্শাল
একদিক দিয়ে অগ্রসর হ'লেও এই সমস্ত ঘাঁটিগুলিকে সহজে
কোন মতেই ঘাযেল ক'বতে পারবে না। এই সমস্ত ঘাঁটি
গুলি দদুলামান শ্যামল দুৰ্ব্বাব নিচে লুকান এবং এগুলি এমন
ভাবে নির্মিত যে বােমা বা গ্যাস এদের কিছু ক’বতে
পাবে না। ঠিক এই ভাবেই কৃষ্ণসাগরেব ও প্রশান্ত মহা-
সমুদ্রের তীরেও এইরূপ ঘটি সমূহ লুকানাে বযেছে। যাবা
সেগুলিব ভিতব গেছেন তারা শুধু এদেব রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থারই
প্রশংসা কবেন না, আরও বলেন যে এদের মধ্যে থাকার
ব্যবস্থাও অতি চমৎকার। পবিধাব, পবিচ্ছন্ন ও মনােবম
দৃশ্যাবলীতে ভিতটী সাজান , তার মধ্যে গ্রামােফোন, রেডিও
সেট, বইএব আলমাবী সবই দেওয়া আছে।
অগ্নিবর্ষণের শক্তিই হ'ল বৰ্ত্তমান যুগের সমর নিপুণতার
মাপ কাঠি। যাঠ হাজার সৈন্যের একটি বাইফেল কোবের
দৃষ্টান্তকে মাপকাঠি করে ভরােশিলভ দেখিয়েছেন :-
একটি জার্মান রাইফেল কোন্ মিনিটে ৫৯,৫০৯ কিলাে-
গ্রাম বর্ষণ করে।
একটি ফবাসী বাইফেল কোব মিনিটে ৬০,৯৮১ কিলাে-
গ্রাম বর্ষণ কবে।
একটি সােভিয়েট রাইফেল কোর মিনিটে ৭৮,৯৩২
কিলােগ্রাম বর্ষণ কবে।
কিন্তু শুধু অগ্নি বর্ষণ করলেই ত চলে না তার লক্ষ্য ভেদ
ক্লেম ভবােশিলভ
হওয়া দরকার। তাই ভরােশিলভ সােভিযেট জনসাধারণকে
অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের মধ্যে এক
আন্দোলন প্রচলিত কবেছেন। ভবােশিলভ নিজেও খুব ভাল
শিকাবী তব লক্ষ্যভেদও অব্যর্থ। তার নামে একটি ছােট্ট
পদক আছে। এই পদক, যারা বন্দুক ছােড়ায় অব্যর্থ লক্ষ্য
হ'যে উঠে দিকেই দেওয়া হয়। এই ব্যাজ বা পদক এখন
লক্ষ লক্ষ সােভিযেট জনসাধারণ, এমন কি মেযেব পর্যন্ত
গর্বেব সাথে প'বে থাকে। ভবােশিলভেব এই প্রচেষ্টার ফলে
সােভিযেট লক্ষ্যভেদ কারীবা গ্রেট বৃটেনে
লক্ষ্যভেদ প্রতিযােগীতায় ১৯৩৫, ১৯৩৭ এবং ১৯৩৮ সালে
বিজয়ী হয়।
ভবােশিলভ ববাববই যান্ত্রিক বাহিনীর জন্য উৎসাহী।
সেইজনাই লালফৌজ আজ সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক যন্ত্র সজ্জিত
ফৌজে পবিণত হয়েছে এবং তাকে জাৰ্ম্মাণী ও ইটালির মত
পেট্রোল সঙ্কটেব ভয় ক’বতে হয় না কারণ তার দেশেই
তেলেব ব্যবস্থা আছে।
আবার ভবােশিলভই প্রথম ছত্রধাবি বাহিনী উদ্ভাবন
আন্তর্জাতিক
কবেন।
এদিকে ভবােশিলভ সুদূরপ্রাচ্যে ইউবােপীয বাশিয়া থেকে
সম্পূর্ণ স্বাধীন দুটী প্রথম শ্রেণীর ফৌজ সদা-সর্বদা প্রস্তুত
রেখেছেন। সেই ফৌজ ট্রান্স সাইবেবিয়ান বেলের উপর
লাল মার্শাল
নির্ভর করে না এবং ইউৰােপীয় রাশিয়ার বিনা সাহায্যে
জাপানকে ঘায়েল করতে সমর্থ।
এতদসত্বেও ভরােশিতের দৃষ্টি কোনদিনই কেবল সামরিক
ব্যাপারেই নিবন্ধ থাকে নাই। ষ্টালিনের সাথে এ বিষয়ে
তাঁর বেশ সাদৃশ্য আছে। তিনি যে কোন সময় তার চিন্তাকে
নূতন কোন বিষয়ে বেশ নিপুণভাবে চালনা ক’বতে পাবেন
এবং অল্পতেই আসল ব্যাপাবটী বুঝে নিযে অধীনস্ত
কম্মিকে তার প্রয়ােজনীয় কর্তব্যটী তাকে বুঝিয়ে দেন।
ভবােশিলভ এবং ষ্টালিন উভযেই ব্যক্তিগত ভাবে সােভিযেট
বৈজ্ঞানিকদের উত্তর-মেরু অভিযানে বিশেষ উৎসাহ
দিযেছিলেন। তারা উভযেইএব প্রাথমিক আলােচনা থেকেই
যােগদান কবেছিলেন। তারপর যখন সােভিযেট বীব
মেরুদেশ জয় করে ফিবে এল তখন তারা উভযেই দিকে
রাশিয়ান কায়দায় চুম্বন ও পুষ্প শােভিত ক'রে অভ্যর্থনা
করার জন্য মস্কো বিমান ঘাটীতে উপস্থিত ছিলেন।
চাষবাসেব ব্যাপারেও ভরােশিলভেব বেশ উৎসাহ বিদ্যমান।
তাকে যৌথ কৃষি সবে সভা ইত্যাদিতেও মাঝে মাঝে দেখা
যায় এবং সে বিষযেও বেশ ভাল ভাবে আলােচনা ক'বতে
পারেন।
কিছুকাল আগে একটা ছবি তােলার ব্যাপাবেও তিনি
খানিকটা হাত পাকাচ্ছিলেন। মস্কো স্টুডিওতে “প্রথম
৯২
ক্লেম ভরােশিলভ
অশ্বারােহী ফৌজ” নামে এব আগে বণিত পােলীশ যুদ্ধের
একটি ঐতিহাসিক ছবি ভােলা হচ্ছিল। পােলীশ যুদ্ধে তাঁর
সাথে যাবা যুদ্ধ ক'বেছিলেন তাঁদের মধ্যে ভিশনেভস্কি নামে
একজন যােদ্ধা এর গল্পাংশ রচনা করেছেন। ছবিতে ৪ালীন,
বুদেনি ও ভবােশিলভের বেশ ধরে অভিজ্ঞ ফিল্ম অভিনেতারা
এই সমস্ত নেতাদের সংগ্রাম দর্শকদের দেখাবেন। ভবেশিভ
এই ছবিব গল্পাংশ লেখককে অনেক বিষয়ে সাহায্য কবেছেন ও
ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে ভুলচুক সংশােধন কবে দিয়েছেন।
তবুও এই সমস্ত বিষয়ে তাঁর যতই উৎসাহ থাক না কেন
ভবােশিলভ প্রধাণতঃ ও মূলতঃ হ'লেন লালফৌজেব বিশ্বকর্মা
এবং জগত তঁাকে তাই বলেই জানবে।
৯৩
অবশ্যম্ভাবি সংঘাত
বিগত ২২শে জুন জার্মানীর বিশ্বাসঘাতক ফাসিষ্টরা
সােভিয়েট গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান সুরু করেছে। এই
সংঘাত লালফৌজের কাছে অপ্রত্যাশিত ভাবে আসে নাই।
লালফৌজ ববাববই জানত যে একদিন তাকে আন্তর্জাতিক
ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে। ইতিপূর্বে
ফিল্যাণ্ডে লালফৌজ এই সংঘাতের পূর্বাভাষ পেযেছে
এবং সেই সংগ্রামে তারা জয়ী হ'যে ফিরেছে। লালফৌজের
কিন্তু বা তার অধিনায়কের বিরাম নাই। ভরােশিলভের উপর
এসেছে আবার সােভিয়েট রক্ষার দায়িত্ব। এবাবও তাব সাথে
রযেছেন তব পুরাণ বন্ধু বুদেনি। ভবােশিলভ রযেছেন
উত্তরে, লেনিনগ্রাড রক্ষায় নিযুক্ত, আব দক্ষিণে রয়েছেন
বুদেনি। মধ্য খানে আছেন বিগত ফিনিশ
যুদ্ধের
বীব মার্শাল
তিমােশেঙ্কো। আজ দু হাজার মাইলেবও উপর দীর্ঘ মােহলা
ব্যাপী তিন মাসের উপর যুদ্ধ চলেছে। জাৰ্মানী, কমেনিয়া,
হাঙ্গেরী, ইটালী, ফিল্যাণ্ড, স্পেন ইত্যাদি ইউরােপের
প্রধান প্রধান রাষ্ট্র গুলির ধনিকশ্রেণী আজ এই যুদ্ধে হিটলাবের
সাথে যােগ দিয়েছে। এই সম্মিলিত শক্তিকে একা প্রতিরােধ
করছে লালফৌজ। কেও কেও বলতে পারেন যে লালফৌজের
১৪
ক্লেম ভরােশিলভ
এখনও
।
এত যে শক্তি শুনলাম তবে তারা পেছু হটছে কেন?
জবাব হ’ল যুদ্ধ এখনও চলছে। প্রায় সারা ইউরােপের
ধণতান্ত্রিকদের সংহত শক্তিকে পবাজিত করাটা সময় সাপেক্ষ
ব্যাপার। এরই মধ্যে বিচলিত হবার কোন কারণ নাই।
লালফৌজ দৃঢ়তার সাথে সংগ্রাম করছে। ইতিমধ্যেই
মাঝখানে প্রতি আক্রমণ শুরু হযেছে। যুদ্ধ চলছে এবং
অনেক দিন চলবে।
জয লালফৌজেরই
নিশ্চিত তার কাবণ দুই আব দুইএ চাব হয, পাঁচ হয় না।
ফ্যাসিবাদের মধ্যে এমন কোন বস্তু নাই যা তাকে জিইয়ে
রাখতে পারে। ফ্যাসিবাদ বা তার সামবিক যন্ত্রের নিজস্ব এমন
কোন ক্ষমতা নাই যা দিয়ে সে বেচে থাকতে পারে ফ্যাসিবাদ
সম্পূর্ণ ভাবেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উপব নির্ভশীল।
ফ্যাসিবাদ যে সামরিক অর্থনীতিৰ সৃষ্টি করেছে সেটা চিবদিন
থাকতে পাবেনা কারণ তা স্বাভাবিক নয অস্বাভাবিক অর্থনীতি।
ফ্যাসিবাদের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা এই যে সে এই অস্বাভাবিক
অর্থনীতির উপর নির্ভশীল।
ইতিমধ্যে জার্মানরাই স্বীকার করেছে যে, তারা যে ভাবে
আজ প্রতিহত হচ্ছে সারা ইউরােপে আর কোথাও তারা
তেমন প্রতিরােধের সম্মুখীন হয় নাই। এর থেকে অন্ততঃ
এইটুকু ত নিঃসন্দেহে বলা যায় যে অন্যান্য সব দেশের সৈন্য
থেকে যে লালফৌজ অনেক গুণে শ্রেষ্ঠ এটা প্রমাণিত হ'য়ে
লাল মার্শাল
গেছে। এখন তাকে প্রমাণ করতে হবে যে সে বৃটেন ব্যতীত
সমগ্র ইউরােপের ফাসিবাদের সম্মিলিত সৈন্যের চেযেও শ্রেষ্ঠ।
এটা যে সে প্রমাণ করতে পারবে তা আমরা নিঃসন্দেহে
বলতে পারি। কি জন্যে পারি? আধাত্মিক কোন কারণে নয়,
অত্যন্ত জাগতিক কারণে—স্টালিন একবার বলেছিলেন :-
“বলশেভিকবা আমাদিকে গ্রীক পৌবানিক বীর আনেটীউসের
কথা স্মরণ কবিয়ে দেয়। তারা আনেটীউসের মত শক্তিশালী
কারূণ তাবাআনেটীউসের মত, যে দিকে জন্ম দিয়েছে, স্তন
দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে, তাদিকে মানুষ করে তুলেছে, সেই
জনগণের সঙ্গে তারা বরাবব সংস্পর্শ বেখে এসেছে।
যতদিন তারা তাদের মাযেব সমান জনগণের সঙ্গে ওতপ্রােত
ভাবে জড়িয়ে থাকবে ততদিন তাদেরকে কেও হটয়ে দিতে
পারবে না। বলশেভিক নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিৰিব সেইটাই
হ’ল আসল কাবণ।”
এই উক্তিকে সামনে
রেখে আমরা স্টালিন বর্তমান
যুদ্ধে সােভিযেটবাসীর প্রতি যে বাণী দিযেছেন এবং ভবােশিলভ
যে আহ্বান কবেছেন লেনিনগ্রাডবাসীকে তাদের সহব রক্ষাব
জন্য সেই দুটী বিবৃতি প'ডে দেখলে বুঝতে পারব লালফৌজের
আসল শক্তি কোথায়। ষ্টালিন আহ্বান করেছেন অধিকৃত
অঞ্চলের জনগণকে, তাদের বলেছেন, সমস্ত দেশ জ্বালিয়ে
পুড়িয়ে ছাই করে দাও, গরীলা বাহিনী ক'রে ফ্যাসিষ্টদের
ক্লেম ভরােশিলভ পিছনে সংগ্রাম কর। মােট কথা তিনি বলেছেন লাল- ফৌজেব সংগ্রামকে প্রত্যেক নরনাবীর সংগ্রামে পরিণত করতে। অন্যদিকে ভবােশিলভ লেনিনগ্রাডেব প্রত্যেক কারখানা ও ঘরবাডীকে এক একটা ছােট বড় দুর্গে পরিণত ক'রে, প্রত্যেক নগরবাসীকে অস্ত্র ধারণ করিযে, ব'লেছেন, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত দিয়ে নগর রক্ষা কর। আমরা দেখেছি কি ভাবে ফ্রান্সের বিশ্বাসঘাতক বা দুই শতাধিক বছরের ইতিহাসের নমুনা মজুত থাকা সত্ত্বেও পাছে ১৮৭১ সালের প্যাবিস কমুনেব মত শ্রমিক অভূথান হয় সেই ভয়ে প্যারিসকে খােলা সহব বা “ওপন্ সিটী” করে জার্মানদেব হাতে সমর্পণ ক'বেছে। অন্যদিকে আমবা দেখছি লেনিনগ্রাড রক্ষার জন্য ভাবশিলভ কি ব্যবস্থা অবলম্বন কবেছেন। কেমন ভাবে তিনি প্রত্যেক নাগরিকের হাতে নগব রক্ষার সম্পূর্ণ ভার অর্পণ করেছেন। যদিও তিনি সবাবই চেয়ে বেশী জানেন যে পৃথিবীতে আমেরিকা ছাড়া আর কোন দেশ নাই যাব এত বেশী শিল্পকেন্দ্র শত্রু বিমান হানাব সীমার বাইরে আছে। যদিও তার চেয়ে আর কেও 6720 7779 67 "Even it Leningrad, Moscow Kiev, Klankov, and Odessa could be paralysed by an attack, there are many new industrial cities iu the Ural mountains, in Siberia, and in Soviet ১৭
লাল মার্শাল
Central Asia which could carry on uninterrupted
with the manufacture of munitions, planes, and
other necessaries of war” * অর্থাৎ যদিই বা শত্রু বিমান
হানার দ্বারা লেনিনগ্রাড, মঙ্কো, কীযেভ, খারখব এবং ওডেসা
সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় হ'যে যায় তাহ'লেও উরাল পর্বতে,
সাইবেবিয ও সােভিযেট মধ্য এশিয়ায় এমন বহু নূতন
নূতন শিল্প-সমৃদ্ধ
সহব বযেছে যেখান থেকে, গােলা বারুদ,
বিমান ও যুদ্ধের
যাবতীয প্রযােজনীয় নিত্য নৈমিত্তিক
সরাবরাহ কব যেতে পারবে। এসব জানা সত্ত্বেও তিনি শেষ
বক্ত বিন্দু দিয়ে লেনিনগ্রাড অধিবাসীদিকে নগর বক্ষা ক’বতে
বলেছেন। তাঁর এই আহ্বানে লেনিনগ্রাডের প্রত্যেক
নাগরিক সাড়া দিয়েছে। বেতাব যােগে তারা সমগ্র সােভিযেট
বাসিকে ও দুনিযাব জনসাধারণকে জানিয়েছে “বন্ধুগণ।
আমরা আজ আমাদের পিতৃভূমির বৃহৎ বাণিজ্য ও কৃষ্টি কেন্দ্র
রক্ষায় নিযােজিত বয়েছি। যেখানে জগতে প্রথম সাম্যবাদী
বিপ্লবের জয়ধ্বজা সগর্বে উড্ডীয়মান হযেছে আমরা আমাদের
সেই মনােবম নগরীকে রক্ষা ক’বছি। আমাদের দেশের
সেইসব মহান পুরুষগণ যারা মানবের উন্নতির জন্য এই
নগরীতে কর্মময় জীবন অতিবাহিত ক’বছেন, সেই পুশকি,
গােগােল, চাইকোভস্কি ও গকিব স্মৃতি জড়িত নগরকে আমরা
এই উক্তিটী বছর দুই আগে করা হয়েছিল।
৯৮
ক্লেম ভবােশিলভ
T
শত্রুর হাতে তুলে দেব না। কোন দিন কোনও শত্রু আমাদের
নগরীতে প্রবেশ করতে পারে নাই। একটী নাৎসী ডাকুও
কোনদিন প্রবেশ করতে পারবেন
লেনিনগ্রাড অধিবাসীদের মধ্যে ভরােশিলভ এই যে
দৃঢ়তা এনেছেন, এ তার জনগণের উপব অসীম বিশ্বাস ও
আস্থাবই পবিচাষক। ষ্টালিন, ভৰােশিলভ, বুদেনি, তিমশেঙ্কো
প্রভৃতিব বিবৃতিগুলি পড়লে আমরা কি দেখতে পাইনা যে মজুর
কৃষক, যুবক, ছাত্র প্রভৃতি সৰ্বসাধারণের কার্যক্ষমতা সম্বন্ধে
অদ্ভুত অটল বিশ্বাস তাদের প্রত্যেকটী ছত্র, প্রত্যেকটী অক্ষরে
তীব্র হয়ে ফুটে উঠছে ?
এব থেকেই আমরা বুঝতে পাবি যে বলশেভিকরা কখনই
তাদেব জন্মদাতৃ জনগণকে ভুলে যায নাই, বরং আজকে তাদের
সঙ্কটের সময় তাকেই আবও জোব কবে আঁকড়ে ধ'বছে।
আর সেইজন্য আমবাও স্টালিনের কথা প্রতিধ্বনি ক'রে বলতে
পাবি “যতদিন বলশেভিক তাদের মাতৃসম জনগণকে
ভুলবেনা-গভীর ও নিবিড়তম বন্ধন দিয়ে তার সাথে নিজেদের
বেঁধে বাখতে পারবে ততদিন তারা,
তার অমর,
তারা চিবঞ্জীব।”
#w,
h
novu
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.