BIRCHANDRA STATE CENTRAL LIBRARY, TRIPURA
The Sabdasakti Prakasika Of Jagadisa Tarkalamkara, Vol. 2
Front matter
THE
ŚABDAŠAKTI PRAKĀŚIKĀ
OF
JAGADĪŠA TARKĀLAMKĀRA
VOLUME TWO
Edited
WITH
BENGALI TRANSLATION AND ELABORATE EXPOSITION
Ву
MADHUSUDAN BHATTACHARYA NYAYACHARYA
TARKATIRTHA, TARKARATNA, TARKALAMKARA
Professor of Indian Philosophy (Retirod),
Department of Post Graduate Training and Research,
Sanskrit College, Calcutta
mm
मंस्कृत कलेज
SANSKRIT COLLEGE
CALCUTTA
1981
Published by
The Principal Sanskrit College
1 Bankim Chatterjec Street, Calcutta 700 073
Printed by
S. Mitra, BODHI PREM
5 Sankar Ghosh Lane, Calcutta 700 006
कनिकासा संमतमहाविद्यालय-गवेषणानन्यमाला-ग्रन्याः १२० जगदीशतर्कालकारविरचिता शब्दशक्तिप्रकाशिका द्वितीयः खण्डः वङ्गभाषयाऽनूद्य विवृत्या समलङ्क त्य कलिकाता राष्ट्रिय संस्कृतमहाविद्यालयस्य गवेषणाविभागीय- प्राक्तन-भारतीयदर्शनशास्त्राध्यापकेन तर्कतीर्थ-तरत्न-तकालमारोपाधिमता श्रीमधुसूदनभट्टाचार्य-न्यायाचायण सम्पादिता SAN . संस्कृत कलेज कालिकाता.१८२४ ११. बाद कलिकाता नगी प्रकाशिता
No text on this page.
মুখবন্ধু
মনীষী জগদীশ তর্কালঙ্কার রচিত শব্দশক্তি প্রকাশিকার দ্বিতীয় খণ্ড
প্রকাশিত হইল। তৃতীয় খণ্ডের মুদ্রণও অনেকাংশে অগ্রসর হইয়াছে—আশা
করা যায় শীঘ্রই পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইবে।
সংস্কৃত কলেজ
কলিকাতা
শ্রীবিষ্ণুপদ ভট্টাচার্য
অধ্যক্ষ
১০. ১২৮২
No text on this page.
নিবেদন বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করিয়া ‘শব্দশক্তি প্রকাশিকা’র দ্বিতীয় খণ্ড মুদ্রিত ও প্রকাশিত হইল। আলোচ্য গ্রন্থখানি প্রকাশনের ব্যাপারে আমাদের সংস্কৃত কলেজের মাননীয় সুযােগ্য অধ্যক্ষ শ্রীবিষ্ণুপদ ভট্টাচার্য মহােদয় যে প্রেরণা প্রদান করিয়া আমাকে উৎসাহিত করিয়াছেন এইজন্য তাহার নিকট আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। প্রকাশন বিভাগীয় প্রধান শ্রীননীগােপাল তর্কতীর্থ মহাশয় আলােচ্য গ্রন্থখানির প্রকাশনে অপরিসীম পরিশ্রম ও আনুকুল্য করার জন্য তাহাকে কৃতজ্ঞতার সহিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। কল্যাণীয়া শ্ৰীমতী মিনতি কর ডি, লিটু, শ্রীমতী সবিতা দত্ত এম. এ লিখনাদি কার্যে এবং শ্ৰীমতী গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায় এম. এ প্রুফ সংশােধনে সহায়তা করায় শ্রীভগবানের নিকট ইহাদের সমৃদ্ধি ও কল্যাণময় সুদীর্ঘ জীবন কামনা করি। ইতি শ্রীমধুসূদন ভট্টাচার্য ন্যায়াচার্য তাং ২১, ২, ৮২
No text on this page.
ভূমিকা খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর দ্বিতীয় পদে মহামনীষী গঙ্গেশ উপাধ্যায় গৌতমীয় ন্যায়দর্শনের প্রত্যক্ষানুমানােপমানশব্দাঃ প্রমাণানি’ এই তৃতীয় সূত্রকে উপজীব্য করিয়া উদ্দেশ, বিভাগ, লক্ষণ ও পরীক্ষা বিধি অনুসারে যে অভূতপূর্ব অভিনব তত্ত্বচিন্তামণি গ্রন্থ রচনা করেন ইহারই নাম ‘নব্যন্যায়। এই মণিগ্রন্থে প্রসঙ্গ- ক্রমে মহর্ষি গৌতম সম্মত ও বৈশেষিক সম্মত বিভিন্ন পদার্থরাশি বিবেচিত হইলেও প্রধানতঃ প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান ও শব্দ এই প্রমাণ চতুষ্টয় নিরূপণ করা হইয়াছে। যদিও মহর্ষি গৌতম আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক এই ত্রিবিধ তাপপীড়িত জীবকুলকে উদ্ধার করিবার জন্য প্রমাণ, প্রমেয় প্রভৃতি যােড়শ পদার্থের তত্ত্ব নিরূপণ করিয়াছেন, তথাপি প্রমাণ ব্যতীত আত্মা, শরীর প্রভৃতি কোনও প্রমেয় পদার্থের নিরূপণ সম্ভবপর নহে। কেননা প্রত্যক্ষ প্রভৃতি প্রমাণ চতুষ্টয় হইতেই জাগতিক সকল পদার্থ ব্যবস্থিত হইয়া থাকে। এইজন্য প্রমাণ সর্বাপেক্ষা প্রয়ােজনীয়। অতএব মহর্ষি গৌতমও ন্যায়-দর্শনের প্রথম সূত্রে প্রমাণ পদার্থেরই প্রথম উল্লেখ করিয়াছেন। মণিকার নিজেই বলিয়াছেন—“প্রমাণাধীনা হি সর্বেষাং ব্যবস্থিতিরিতি প্রমাণতত্ত্বমত্র বিবিচ্যতে” অর্থাৎ প্রমাণ ব্যতীত কোনও পদার্থের যথার্থ নির্ণয় সম্ভাবিত নহে। প্রথমেই সপরিকর প্রমাণতত্ত্ব বিবেচিত হইতেছে। মণিকার সর্বজ্যেষ্ঠ এবং সকল প্রমাণের উপজীব্য বলিয়া প্রথমেই প্রত্যক্ষ প্রমাণ নিরূপণ করেন। অনন্তর প্রত্যক্ষের কার্য অনুমান নিরূপণের পরে অবসরক্রমে উপমান ও শব্দপ্রমাণ নিরূপণ করিয়াছেন। এই প্রমাণ চতুষ্টয়কে অবলম্বন করিয়া গঙ্গেশ উপাধ্যায় অভিনব পরিভাষার মাধ্যমে যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচারশৈলী প্রদর্শন করিয়াছেন, এবং প্রসঙ্গক্রমে ন্যায় ও বৈশেষিক অপরাপর পদার্থরাশির পর্যালােচনা করিয়াছেন—ইহাই মণিগ্রন্থের বৈশিষ্ট্য। গঙ্গেশের পরবর্তীকালে মিথিলায়, বঙ্গদেশে এবং অন্যান্য প্রদেশে যে সকল নব্যন্যায়ের গ্রন্থ রচিত হইয়াছে, ঐ সকল গ্রন্থের আকররূপে ‘তত্ত্বচিন্তামণি’ গ্রন্থ গৃহীত হইয়াছে। মণিকার প্রত্যক্ষ- খণ্ডে মঙ্গলবাদ হইতে আরম্ভ করিয়া প্রামাণ্যবাদ, প্রমাণলক্ষণ, অন্যথাখ্যাতিবাদ, সন্নিকর্ষবাদ, সমবায়বাদ, অনুপলব্ধির অপ্রামাণ্যবাদ, অভাববাদ, প্রত্যক্ষকারণত্ব বাদ, মনের অণুত্ববাদ, অনুব্যবসায়বাদ, নির্বিকল্পকত্ববাদ এবং সবিকল্পকত্ববাদ আলোচনা করিয়াছেন। অনুমানখণ্ডে অনুমিতি লক্ষণ হইতে আরম্ভ করিয়া অনুমান লক্ষণ, অনুমানের প্রামাণ্য পরীক্ষা, ব্যাপ্তিবাদ, সামান্যলক্ষণ প্রকরণ, উপাধি প্রকরণ, পক্ষতা প্রকরণ, পরামর্শ প্রকরণ, কেবলাম্বয়ী প্রকরণ, অর্থাপত্তি প্রকরণ, অবয়বপ্রকরণ, হেত্বাভাস প্রকরণ, ঈশ্বরবাদ, শক্তিবাদ ও মুক্তিবাদ বিশদভাবে আলােচিত হইয়াছে। ইহাই অনুমানখণ্ডের প্রধান বিষয়। উপমান- খণ্ডে উপমান বা উপমিতি সংক্ষিপ্তভাবে আলােচিত হইলেও উপমান প্রমাণ এবং উপমিতিরূপ প্রমাণের ফল সুস্পষ্টভাবে নিরূপণ করা হইয়াছে। উপমান নিরূপণের পরে বিশদভাবে শব্দ পরিচ্ছেদের পর্যালােচনা করা হইয়াছে। এই শব্দখণ্ড বা শব্দচিন্তামণি প্রত্যক্ষ এবং অনুমানের ন্যায় অতি বিস্তৃত। এই শব্দখণ্ডের শব্দপরিচ্ছেদে প্রথমতঃ শব্দ প্রমাণের লক্ষণ, দ্বিতীয়তঃ চার্বাক, সৌগত, বৈশেষিক এবং মীমাংসক প্রভৃতির শঙ্কিত শব্দের অপ্রামাণ্য নিবৃঢ় ভাবে পরীক্ষিত ও খণ্ডিত হইয়াছে। অনন্তর শাব্দপ্রামাণ্যবাদ, আকাক্ষাবাদ, মােগ্যতা- বাদ, আসত্তিবাদ, তাৎপর্যবাদ, শব্দানিত্যবাদ, উচ্ছন্নপ্রচ্ছন্নবাদ, বিধিবাদ, অপূর্ববাদ, শক্তিবাদ, জাতিশক্তিবাদ, সমাসবাদ প্রভৃতি অতি বিস্তৃতভাবে পর্যালােচিত হইয়াছে। মণিকারের এই শব্দখণ্ডকে আকরগ্রন্থ রূপে অবলম্বন করিয়া পরবর্তীকালে বহু প্রকরণ গ্রন্থ প্রণীত হইয়াছে। মহামনীষী সর্বতন্ত্র স্বতন্ত্র জগদীশ তর্কালঙ্কারের অতুলনীয় কীর্তি শব্দশক্তি প্রকাশিকা'ও একখানি প্রকরণ গ্রন্থ। শব্দশক্তি প্রকাশিকা' শব্দতত্ত্বচিন্তামণি গ্রন্থের প্রকরণ গ্রন্থ হইলেও জগদীশ তর্কালঙ্কার অন্ধভাবে গঙ্গেশােক্ত শব্দতত্ত্বচিন্তামণির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেন নাই। পরন্তু স্থলবিশেষে স্বকীয় অলৌকিক প্রতিভাবলে মণিকারের মত খণ্ডন করিয়া নিজের অভিনব সিদ্ধান্ত স্থাপন করিয়াছেন, এবং স্থলবিশেষে ভর্তৃহরি এবং কাতন্ত্র পরিশিষ্টকার শ্রীপতি দত্ত প্রভৃতি শাব্দিক সম্প্রদায়ের মত পরিগ্রহ করিতেও কুণ্ঠিত হন নাই। শব্দশক্তি প্রকাশিকার প্রথম খণ্ডেও শব্দ- প্রামাণ্য হইতে আরম্ভ করিয়া নামের লক্ষণও রূঢ়, লক্ষক, যােগরূঢ় এবং যৌগিক ভেদে চতুর্বিধ নামের বিভাগ প্রদর্শন পূর্বক রূঢ়নামের নিরূপণ প্রসঙ্গে ভট্ট শ্ৰীকর মণ্ডনাচার্য ও প্রভাকর মীমাংসক সম্মত জাতিশক্তিবাদ বিস্তৃতভাবে আলােচনা- পূর্বক খণ্ডন করা হইয়াছে। উক্ত প্রথম খণ্ডে গ্রন্থকার ‘জাতিশক্তিবাদ’ বিস্তৃত ভাবে আলােচনা করিলেও প্রভাকর মতাবলম্বী কোনও সম্প্রদায়ের অভিমত ‘কুজশক্তিবাদ’ সম্বন্ধে কোনও আলােচনা করেন নাই। উক্ত কুজশাক্তবাদী প্রভাকর সম্প্রদায়ের বক্তব্য এই যে, গােঘটাদি পদের গাে-ঘটন্যদিরূপ জাতি ।
এবং গো-ঘটাদি ব্যক্তি উভয়েই শক্তি স্বীকার করিলেও ‘গােপদং গােত্বশং', ‘ঘটপদং ঘটশক্ত এই আকারের গােত্ব-ঘটাদি জাতিশক্তি জ্ঞান গােত্ব ঘটবাদি প্রকারক অন্বয় বুদ্ধির কারণ। গাে-ঘটাদি ব্যক্তিতে, গােঘটাদিপদের শক্তি স্বীকৃত হইলেও এই ব্যক্তিশক্তি জ্ঞানগােচর না হইয়াই অর্থাৎ স্বরূপসতী গাে প্রভৃতি ব্যক্তিগােচর অম্বয়বােধের কারণ হয়। কুজশক্তিবাদিমতে এই ব্যক্তিশক্তি স্বরূপসতী অর্থাৎ জ্ঞায়মান না হইয়াই পদার্থোপস্থিতির মাধ্যমে যক্রপ অন্বয়- বােধের উপযােগী হয় তদ্রুপ অন্বিতাভিধানবাদিগণের মতেও একপদার্থে অপর পদার্থের অন্বয়ে শক্তি কল্পিত হয় বটে কিন্তু এই অষয়গত শক্তিও ব্যক্তিগত শক্তির ন্যায় কুজাশক্তি, সুতরাং অজ্ঞায়মান হইয়াই অন্বয়গত শক্তি শব্দবােধের উপযােগী হইয়া থাকে—ইহাই অন্বিতাভিধানবাদিগণের সিদ্ধান্ত বুঝিতে হইবে। আবার কেহ বলেন, গােত্বাদিজাতি পুরস্কারে গবাদি ব্যক্তি বােধক গাে-প্রভৃতি পদস্থলে ন্যায় সিদ্ধান্তে গােবাদি জাতিতে, গবাদি ব্যক্তিতে এবং জাতি ব্যক্তির সমবায় সম্বন্ধে যেরূপ একই শক্তির জ্ঞান কল্পিত হইয়া থাকে। কার্যান্বিতশক্তি বাদী প্রভাকর মতেও গােত্বাদি জাতি, গবাদি ব্যক্তি এবং গাে-প্রভৃতি ব্যক্তিগত যে কার্যত্বের অন্বয় তাহাতেও একই শক্তি কল্পিত হইয়া থাকে পরন্তু একই শক্তি গোদি জাত্যংশে জ্ঞায়মান এবং গােপ্রভৃতি ব্যক্তিও ব্যক্তিগত অম্বয়াংশে স্বরূপসতী অর্থাৎ অজ্ঞায়মান থাকিয়াই অম্বয়বােধে মিলিতভাবে জাতি, ব্যক্তি ও অন্বয় ভাসমান হইয়া থাকে। গদাধর ভট্টাচার্য তৎকৃত শক্তিবাদ গ্রন্থের সামান্যকাণ্ডে অন্বিতাভিধানবাদিমতের আলােচনা প্রসঙ্গে ‘ইতরান্বিত ঘটো ঘটপদবাচ্যঃ অথবা ‘অন্বিতঘটে। ঘটপদবাচ্যঃ এই আকারের শক্তিগ্রহ স্বীকৃতি মূলে ঘটত্যাদি জাতির ন্যায় ঘটাদি ব্যক্তি এবং ঘটাদি পদার্থগত, তদিতর পদার্থের অম্বয়ও জ্ঞায়মান হইয়াই উক্ত মীমাংসকমতে শব্দবােধের উপযােগী হইয়া থাকে। এইভাবে অশ্বিতাভিধানবাদীর মত উপস্থাপিত করিয়া তৎসংসর্গক বােধ কিঞ্চিদ্ধর্ম পুরস্কারে সংসর্গক বিষয়ক না হওয়ায় বৃত্তিজ্ঞান হইতে উপস্থিতি ব্যতিরেকেও আকাক্ষাভাষ্য অন্বয়কে বিষয় করিয়া শাবােধ হইতে পারে অতএব অন্বয়ে বৃত্তি স্বীকার করা অনাবশ্যক। এই যুক্তিতে অন্বিতাভিধানবাদি- গণের মত খণ্ডন করিয়াছেন। ন্যায়সিদ্ধান্ত অনুসারে মীমাংসক সম্মত অন্বিতা- ভিধানবাদ খণ্ডনের পক্ষে আরও যুক্তি এই-ইতরান্বিত ঘটে শক্তি স্বীকৃত হইলে ‘ঘটমানয়’ ইত্যাদি স্থলে ‘ইতরান্বিততা ঘটে। ঘটপদবাচ্য এই আকারের শক্তি- গ্রহ হইতে কার্যান্বিত ঘট প্রভৃতির উপস্থিতি হইতে কার্যান্বিত ঘট বিষয়ক অন্বয়বােধ অঙ্গীকার করিতে হইবে। কিন্তু ইহা সঙ্গত নহে, কারণ অন্বয়বােধের পূর্বে তাদৃশ অন্বিত ঘটাদির উপস্থিতি সম্ভব নহে, অতএব মীমাংসক সম্মত এই অন্বিতাভিধানবাদ স্বীকৃত হইতে পারে না। ভট্ট সম্প্রদায় বলেন, “গামানয়’ ইত্যাদি স্থলে ‘গােশক্তং গােপদং এই আকারের গােপদার্থ গােচর অন্বয়বােধের অনুকুল শক্তিজ্ঞানের বিষয় গােপদকে অথবা গােপদজ্ঞানকে গােত্বপ্রকারক গাে বিশেষ্যক অন্বয়বােধের জনক বলা যায় , কারণ, শক্তি বিশিষ্ট গাে প্রভৃতি পদে অন্বয়বােধের জনকত্ব স্বীকৃত হইলে ‘পশ্যতঃ শ্বেতিমা রূপং হ্রেষা শব্দঞ্চ শৃন্বতঃ। খুরবিক্ষেপশাভ্যাং শ্বেতােহশখা বাবতীতি ধী। ইত্যাদি স্থলে এবং কবিকাব্যাদি স্থলে উৎপ্রেক্ষা সহকৃত মানস চিন্তাবিশেষ হইতেও কোন সময়ে বিলক্ষণ পদার্থের উপস্থিতি হইতে শ্বেতােহশখা ধাবতি’ এবং কবিকাব্যাদি হইতে বিচিত্র অর্থেরবােধ জন্মিয়া থাকে। অতএব কবি- কাব্যস্থলে উৎপ্রেক্ষার সহিত চিন্তাবিশেষরূপ কারণ সহকৃত মনােৰূপ অসাধারণ কারণ হইতেই দোষবিশেষ সহকারে উপস্থিত পদার্থসমূহ হইতে অথবা অনুমান প্রমাণ হইতেই উক্ত স্থলে সংসর্গজ্ঞান বা অসংসর্গের অগ্ৰহ হইবে । যেখানে শব্দ হইতেই আকাঙ্ক্ষাদি যুক্ত পদার্থসমূহের উপস্থিতি হইবে সেখানে কিন্তু পদার্থই শব্দবােধের কারণ হইবে। কারণ শাব্দী আকাক্ষা শব্দের দ্বারাই পূর্ণতা লাভ করে। এই ন্যায় অনুসারে শব্দ ব্যতিরেকে প্রকারান্তরে উপস্থিত পদার্থ সমূহের শব্দের দ্বারা উপস্থিত পদার্থের সহিত অন্বয়বােধ হয় না। বাস্তবিকপক্ষে যেখানে প্রকারান্তরে অর্থাৎ অর্থবিশেষের বােধক জ্ঞায়মান পদব্যতিরেকেও পদার্থের উপস্থিতি হইতে অন্বয়বােধ হয় সেখানে জ্ঞায়মান পদ বা পদজ্ঞানকে অন্বয়বােধের কারণ স্বীকার না করিয়া প্রকারান্তরে উপস্থিত যে গো-ঘটাদিরূপ পদার্থ তাহাতেই পদার্থ বিষয়ক অন্বয়বােধের কারণত্ব স্বীকৃত হইবে। ভট্ট সম্প্রদায় উক্ত রীতিতে উপস্থিত তত্তৎ পদার্থে অম্বয়বােধের কারণত্ব স্বীকার করিলেও নৈয়ায়িক সম্প্রদায় কিন্তু উক্ত ভট্টমত সমর্থন করেন না। কারণ ন্যায়- সিদ্ধান্তে ‘পশ্যতঃ শ্বেতিমা রূপ’ ইত্যাদি স্থলে উপস্থিত পদার্থ হইতে শ্বেতােহশখা ধাবতি’ এই আকারের যে বােধ হয় উক্ত বােধ অষয়বােধ নহে। পরন্তু দৃষ্ট শ্বেতরূপ প্রভৃতিকে লিঙ্গরূপে গ্রহণ করিয়া অনুমান প্রমাণ হইতে শ্বেতােহশখা ধাবতি’ এই আকারের অনুমান জনিত অনুমিত্যাত্মক বােধ স্বীকৃত হইবে। ‘মুখং বিকশিত স্মিত’ ইত্যাদি কবিকাব্যস্থলেও উৎপ্রেক্ষা সহকৃত মানস চিন্তা বিশেষ হইতে উপস্থিতিরূপ জ্ঞানলক্ষণা সন্নিকর্ষমূলে অলৌকিক মানস প্রত্যক্ষ- রূপ বােধ অঙ্গীকৃত হইবে, অন্বয়বােধ নহে। ১ শাব্দী হাকাঙ্ক্ষা শব্দেনৈৰ পূৰ্বতে।
জগদীশ তর্কালঙ্কার প্রাভাকর সম্মত কার্যান্বিত শক্তিবাদ খণ্ডন করিবার জন্য আলােচ্য দ্বিতীয় খণ্ডের আরম্ভেই শক্তি গ্রাহক বর্ণনা প্রসঙ্গে কার্যকস্তা- ষয়জ্ঞানে' ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে বলিয়াছেন, প্রাথমিক স্তরে ব্যুৎপন্ন কোনও উত্তমবুদ্ধের শব্দপ্রয়ােগজনিত ব্যুৎপন্ন মধ্যমবুদ্ধের যে ব্যবহার তাহা হইতে সম্মুখস্থ অব্যুৎপন্ন বালকের ‘গামানয়’ ইত্যাদি তবাক্য হইতে কার্যান্বিত স্বার্থে গগা প্রভৃতি কার্যতাসাকাঙক্ষ পদত্বাবচ্ছেদে কার্যাবিষয়ক অম্বয়বােধের প্রতি কারণ গৃহীত হইলেও পরবর্তীকালে অর্থবাদ বাক্য হইতেও কোষ, আপ্তবাক্য প্রভৃতি শক্তিগ্রহের মাধ্যমে অম্বয়বােধ উৎপন্ন হওয়ায় প্রভাকর সম্মত উক্ত হেতু উপেক্ষিত হইবে, অতএব প্রাভাকর মতসিদ্ধ কার্যান্বিত শক্তিবাদ স্বীকৃত হইতে পারে না। এইভাবে প্রভাকর মত পর্যালােচনা করিয়া খণ্ডন করিয়াছেন। ইহার পর আকাশ প্রভৃতি পদের উভয়াবৃত্তিশব্দ প্রভৃতি ধর্মপুরস্কারে শব্দাশ্রয় প্রভৃতির বাচকত্ব ব্যবস্থিত করিয়া আকাশপদের নিরবচ্ছিন্ন শক্তিবাদ খণ্ডন করা হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে পটত্ব প্রভৃতি জাতির দ্বারা উপলক্ষিত যে পটরূপধর্মী তদ্বিশেষ্যক শক্তিগ্রহের পটাদি পুরস্কারে পটাদির অন্বয়বােধের কারণত্ববাদী রঘুনাথশিরােমণির মত খণ্ডন করা হইয়াছে। অনন্তর যাহার জাতিবিশিষ্ট পদার্থে সংকেতবিশিষ্ট হইলেও চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি পদের এবং শাস্ত্রকারীয় সংকেত অনুসারে পক্ষতা, পরামর্শ প্রভৃতি পদের বা নদী, বৃদ্ধি প্রভৃতি পদকে পারিভাষিক বলেন তাহাদের মত প্রদর্শিত হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে আজানিক এবং আধুনিক ভেদে ভর্তৃহরি সম্মত দ্বিবিধ সংকেত প্রদর্শন পূর্বক আজানিক অর্থাৎ নিত্য সংকেতকে শক্তি রূপে নদী, বৃদ্ধি, পক্ষতা প্রভৃতি পদের এবং পিতা প্রভৃতি কর্তৃক কল্পিত পুত্ৰাদির চৈত্র প্রভৃতি নামের পারিভাষিকত্ব ও গগন প্রভৃতি নামের ঔপাধিক ব্যবস্থিত করিয়াছেন। ইহার পরে চৈত্রাদি পদের ন্যায় আধুনিক সংকেত স্বীকৃত হইলেও কঙ্গু প্রভৃতি শব্দ ধার্মিক ক্রিয়া- কলাপে প্রয়ােগ করা চলিবে না, কারণ ‘সাধুভির্ভাষিতব্য, ন বা অপভ্রংশিতবৈ, ন বা স্লেচ্ছিতবৈ” ইত্যাদি শ্রুতির দ্বারা ঐ সকল শব্দ ধার্মিক কার্যে নিষিদ্ধ হইবে এইমত সমর্থিত হইয়াছে। গদাধর ভট্টাচার্য গাছ, মাছ প্রভৃতি শব্দের বৃক্ষ, মৎস্য প্রভৃতি অর্থে শক্তি ভ্রম হইতে যেরূপ যথার্থ অম্বয়বােধ স্বীকার করেন তদ্রুপ ম্লেচ্ছমাত্ৰ সংকেতিত কঙ্গু (কাউন) প্রভৃতি শব্দকেও অপভ্রংশ বলেন, সুতরাং ঐ সকল মেম্মাত্রে সংকেতিত শব্দের শক্তিভ্রম বশতঃ কাউন প্রভৃতি অর্থ বিষয়ক যথার্থ অম্বয়বােধ স্বীকার করেন। কিন্তু জগদীশ তর্কালঙ্কার চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি নামের শক্তি স্বীকার না করিয়া নদী, বৃদ্ধি প্রভৃতি শব্দের ন্যায় আধুনিকসংকেতরূপ পরিভাষ স্বীকার পূর্বক এই সকল শব্দের পারিভাষিক ব্যবস্থিত করিয়া ভর্তৃহরির মতই সমর্থন করিয়াছেন। ভট্টাচার্য কিন্তু ‘দ্বাদশেহহনি পিতা নাম কুর্যাৎ এই শ্রুতি অনুসরণ করিয়া চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি শব্দেরও মিশ্রসম্মত ‘ঈশ্বরসংকেতরূপ শক্তি ব্যবস্থিত করিয়াছেন। আবার কোনও নবীন সম্প্রদায় সংকেতের অংশে নিত্যত্ব বা ঈশ্বরীয়ত্ব বর্জন করিয়া ‘ইদং পদমিমমর্থং বােধয়তু’ বা ‘অস্মাচ্ছাদয়মর্থো বােন্ধব্যঃ এই সংকেত মাত্রকে শক্তি স্বীকার করিয়া শাস্ত্রকারীয় সংকেতিত নদী, বৃদ্ধি প্রভৃতি পদের ন্যায় চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি আধুনিক নাম এবং প্রাদেশিক ও ম্লেচ্ছ সংকেতিত কঙ্গু প্রভৃতি শব্দেরও বাচকত্ব স্বীকার করিয়াছেন। এই মতটি বিশ্বনাথ ভাষাপরিচ্ছেদের শব্দখণ্ডে উল্লেখ করিয়াছেন। আশঙ্কা হইতে পারে প্রাদেশিক ও ম্লেচ্ছসংকেতিত ‘পারসিক শব্দে’রও যদি বাচকত্ব স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে ঐ সকল শব্দ ধার্মিক ক্রিয়াকলাপে প্রয়ােগ করা হয় না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে ঐ সকল শব্দ সাধুশব্দ নহে, “সাধুভির্ভাষিতব্য” ইত্যাদি শ্রুতি অনুসারে সাধুশব্দই ধার্মিক কার্যে প্রয়ােগ করিতে হইবে। সাধুশব্দের দ্বারা যে শব্দগত সাধুত্বের কথা বলা হইয়াছে এখানেও তত্ত্বচিন্তামণিকার তৎকৃত শব্দখণ্ডে বেদের অঙ্গ ব্যাকরণ প্রভৃতির দ্বারা নিম্পাদ্যত্বই শব্দগত সাধুত্ব বলিয়াছেন। ইহার পরে জগদীশ তর্কালঙ্কার গো প্রভৃতি শব্দের ন্যায়সিদ্ধান্ত অনুসারে কোথায় শক্তি কল্পিত হইবে এই আশঙ্কা করিয়া ‘জাত্যাকৃতিব্যক্তয়ঃ পদার্থ এই গৌতমসূত্র উল্লেখ পূর্বক প্রাচীন সম্প্রদায়ের বিস্তৃত সমালােচনা পূর্বক জাতি, ব্যক্তি এবং ব্যক্তিগত জাতির সম্বন্ধ এই ত্রিতয়ে অর্থাৎ গাে প্রভৃতি পদের গােত্বজাতি, গগা ব্যক্তি এবং জাতি ও ব্যক্তির সম্বন্ধ, সমবায় এই ত্রিতয়ে একই শক্তি সিদ্ধান্তরূপে অঙ্গীকার করিয়াছেন। গদাধর ভট্টাচার্য কিন্তু বলিয়াছেন তত্তৎ পদজন্য বােধ বিষয়তার ঐক্য নিবন্ধন শক্তির ঐক্য ব্যবহার হইলেও বাস্তবিক পক্ষে জাতিগত, ব্যক্তিগত এবং আকৃতি রূপ সম্বন্ধগত শক্তি বিভিন্ন হইবে, এই প্রসঙ্গে ইহাও বলা আবশ্যক—জগদীশ তর্কালঙ্কার জাতি, ব্যক্তি এবং জাতি-ব্যক্তির সম্বন্ধ এই তিনটিতে যে শক্তি স্বীকার করিয়াছেন ইহা নিজের গুরু রামভদ্র সার্বভৌমের সিদ্ধান্ত। আজানিকশ্চাধুনিক ইত্যাদি । ( ২৩ সংখ্যক) কারিকার বিবৃতিতে এই সম্বন্ধে বিস্তৃতভাবে আলােচনা করা হইয়াছে। ইহার পরে লক্ষক নামের পর্যালােচনার মাধ্যমে মীমাংসক সম্মত বাক্যগত লক্ষণার খণ্ডনও আলঙ্কারিক সম্মত ব্যঞ্জনা বৃত্তির খণ্ডনপূর্বক ‘অয়ং গৌরবিতাে মহা’, ‘মুখং বিকশিতস্মিত এবং বয়স্থ। নাগরাঙ্গাৎ শরীরং হস্তি বেদনা ইত্যাদি স্থলে শক্তি বা লক্ষণা রূপ বৃত্তি হইতে শক্যার্থ গােচর অম্বয় বােধের অব্যবহিত পরে আলঙ্কারিক সম্প্রদায় ব্যঞ্জনা বৃত্তি হইতে রমণীয় একটি বিলক্ষণ বােধ স্বীকার করেন কিন্তু ন্যায়সিদ্ধান্তে ইহা সঙ্গত নহে। সকল বাক্য হইতে শক্তি ও লক্ষণার দ্বারা উপস্থাপিত একবিধ পদার্থসমূহের অন্বয়বােধ হওয়ার পবে অন্যবিধ পদার্থসমূহের যে বােধ হয়, উক্ত বােধ উপনয় অর্থাৎ জ্ঞানলক্ষণ সন্নিকর্ষের মাধ্যমে মনােরূপ করণের সাহায্যে অলৌকিক মানস প্রত্যক্ষ সম্ভবপর হইতে পারে এবং মাননারথিক সুখবিশেষরূপে পর্যবসিত যে চমৎকারিতা তাহার প্রতি শাব্দজ্ঞান যেরূপ কারণ হয় তক্রপ মানস বােধেরও বিশেষভাবে কারণ এবং গচ্ছ গচ্ছসি চেৎ কান্ত পন্থানঃ সন্তু তে শিবা ইত্যাদি হলেও অনুমান প্রমাণ জনিত অনুমিত্যাত্মক বােধের কারণ কল্পিত হইতে পারে। সুতরাং স্বরূপতঃ ব্যঞ্জনাবৃত্তিরূপ পদার্থান্তর ও অম্বয় বােধে তাহার কারণতা কল্পনার অনুকূল কোনও প্রমাণ না থাকায় ব্যঞ্জনা বৃত্তি স্বীকৃত হইতে পারে না, এই সকল যুক্তির দ্বারা জগদীশ তর্কালঙ্কার ব্যঞ্জনা বৃত্তির খণ্ডন করিয়াছেন। অনন্তর জহৎস্বার্থ, অজহৎস্বার্থ, নিরূঢ় এবং আধুনিক প্রভৃতি ভেদে বিবিধ লক্ষণ ও লক্ষক নামের ভেদ ব্যবস্থিত করিয়াছেন। প্রভাকর সম্প্রদায়ের মতে লাক্ষণিক পদ, অম্বয়বােধের জনক নহে এই মতে “অগ্নৌ শৈত্যং স্পৃশেৎ” অর্থাৎ অগ্নিতে বর্তমান শৈত্যকে স্পর্শ করিবে । এই সকল স্থলে যেরূপ অগ্নিপদের শক্যার্থ বহ্নির সহিত অগৃহীতাসংসর্গক সপ্তমী বিভক্তির অর্থ শৈত্যগত আধেয়, উক্ত বাক্যজনিত অন্বয়বােধে প্রবিষ্ট হয় তদ্রুপ ‘গঙ্গায়াং ঘােষঃ এই সকল লাক্ষণিক পদঘটিত বাক্যস্থলেও গঙ্গাপদের লক্ষ্যার্থ তীরের সহিত অগৃহীত সংসর্গক সপ্তমী বিভক্তির অর্থ আধেয়ত্ব অম্বয়বােধে প্রবিষ্ট হইবে সুতরাং লাক্ষণিক পদ শব্দানুভবের জনক নহে। ন্যায়সিদ্ধান্ত অবলম্বন করিয়া উক্ত প্রাভাকর মত খণ্ডন করিবার জন্য জগদীশ তর্কালঙ্কার বলেন, উক্ত প্রাভাকর মত সমীচীন নহে, কারণ প্রকৃতির অর্থের দ্বারা বিশেষিত যে প্রত্যয়ার্থ তাহারই পদার্থান্তরে অন্বয়বােধ হইয়া থাকে—ইহাই ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ। অতএব গঙ্গাপদের লক্ষ্যার্থ তীরের দ্বারা বিশেষিত নহে—এইরূপ সপ্তমীবিভক্তির অর্থ আধেয়ত্বের ঘােষপদার্থে অন্বয় বােধ হইতে পারে না। প্রাভাকর সম্প্রদায় যদি বলেন ঘােষ প্রভৃতি শক্ত পদেরই নিজের সহিত সাকা গঙ্গাদি পদারের দ্বারা উপস্থাপিত যে পদার্থান্তর তাহার দ্বারা বিশেষিত ঘােষাদিপদার্থধর্মিক অম্বয়বােধের প্রতি কারণ স্বীকৃত হইতে পারে। অতএব এইভাবে অন্বয়বােধে লক্ষার্থের প্রবেশ সম্ভবপর হইতে পারে। প্রাভাকর সম্প্রদায়ের এই উক্তিও সমীচীন নহে। কারণ ‘কুন্তা প্রবিশন্তি এই সকল স্থলে কুন্ত পদের লক্ষ্যার্থ যে কুন্তধর তাহাতে অন্বয়বােধীয় বিশেষ্যতার অনুপপত্তি এবং ধূমাৎ’, ‘কুমতিঃ পশু এই সকল সার্বক্ষণিক বাক্য স্থলে কোনও শক্তপদ উক্ত বাক্যের অন্তর্গত না হওয়ায় গুরুমতে সর্বানুভবসিদ্ধ অন্বয়বােধের অনুপপত্তি হইবে। অতএব তত্তৎ পদার্থের উপস্থিতিকে দ্বার করিয়া শক্তিপ্রকারক পদজ্ঞান যেরূপ অম্বয়বােধের জনক হয় তদ্রুপ তত্তৎ পদার্থোপস্থিতির মাধ্যমে লক্ষণ প্রকারক গঙ্গাদি পদবিশেষ্যক জ্ঞানও অবশ্য অন্বয়ানুভবের জনক হইবে। এই সিদ্ধান্ত করিয়া লাক্ষণিক নাম নিরূপণের উপসংহার করিয়াছেন। লক্ষক নাম নিরূপণ করিবার পর, লক্ষণ ও বিভাগ প্রভৃতির মাধ্যমে যােগ- রূঢ় নাম নিরূপণ করিতেছেন। যেই নাম স্বকীর অবয়বগত বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের সহিত স্বকীয় সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত অর্থগােচর অম্বয় বােধের জনক হয় সেই নাম যােগরূঢ় হইবে। যােগরূঢ় নামের লক্ষণ করিয়া পঙ্কজ, কৃষ্ণসৰ্প প্রভৃতি নামকে লক্ষ্যরূপে পরিগ্রহ করিয়াছেন। যােগরূঢ় শব্দটির অর্থ পর্যালােচনা করিলে ‘যােগ’ শব্দ হইতে অবয়ব শক্তি এবং ‘রূঢ় শব্দ হইতে সমুদায় শক্তি প্রতীয়মান হওয়ায় গ্রন্থকার পঙ্কজ প্রভৃতি নামস্থলে ‘পঙ্ক’ পদোত্তর, ‘জন’ পদোত্তর ‘ড’ পদত্বরূপ আনুপূর্বী পুরস্কারে সাকা পঙ্কজ পদজ্ঞান হইতে পঙ্কজ পদের অবয়ব শক্যার্থ যে পঙ্ক- জনি-কর্তৃত্ব, তৎপ্রকারক সমুদায় শক্যার্থ যে পদ্ম তদ্বিশেষ্যক অন্বয়বােধ ব্যবস্থিত করিয়াছেন। এই প্রসঙ্গে মীমাংসক সম্প্রদায় বলেন যােগরূঢ় পদ হইতে কেবলমাত্র পঙ্কজনি কর্তৃত্বরূপ যােগাৰ্থ প্রকারক কৈরবাদি বিশেষক কিম্বা কেবলমাত্র সমুদায় শক্যার্থ পদ্মাদি বিষয়ক বােধকে ব্যাবৃত্ত করিবার জন্য রূঢ়্যর্থভিন্ন পদার্থবিশেষ্যক যােগাৰ্থ প্ৰকারক অন্বয়- বােধের প্রতি রূঢ়িজ্ঞান প্রতিবন্ধক হইবে। এইরূপ প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধক'ভাব কল্পনা করার ফলে পঙ্কজ প্রভৃতি পদের রূঢ়িজ্ঞান না থাকা কালেই কেবলমাত্র অবয়ব শক্তির দ্বারা পঙ্কজ কুমুদ’ এই আকারের ‘পঙ্কজনি’ কর্তৃত্ব প্রকারক, কুমুদ-বিশেষক অন্বয়বােধ হইবে এবং পঙ্কজ প্রভৃতি পদের অবয়ব শক্তির অনুপস্থিতি কালে ‘ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্নম’ এই সকল স্থলে পদ্মত্ব প্রকার স্থল- পন্থাদি বিশেষ্যক অম্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে। এই মীমাংসক মত এবং অপর মীমাংসক মত উপস্থাপিত করিয়া বৈয়াকরণ মত ও মণিকারের মতের সমালােচনা
পূর্বক খণ্ডন করিয়াছেন। ইহার পরে গ্রন্থকার লক্ষণ ও বিভাগ প্রভৃতির মাধ্যমে
যৌগিক নামের নিরূপণ পূর্বক নাম প্রকরণের উপসংহার করেন।
সংস্কৃত কলেজ
কলিকাতা
শ্রীমধুসূদন ভট্টাচার্য ন্যায়াচার্য
No text on this page.
সূচীপত্র বিষয় পৃষ্ঠা [১][৯] ... ৪ ০ ০ ০ ৪ ••• ... ০০০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ মুখবন্ধ নিবেদন ভূমিকা শক্তি গ্রহের উপায় সম্পর্কে প্রাভাকর সম্প্রদায়ের প্রশ্ন শ্লোকের মাধ্যমে উক্ত প্রশ্নের সমাধান উক্ত প্রশ্নের উত্তরে শাব্দিক সম্প্রদায়ের বক্তব্য সংকেতের পরিচয় সংকেতের বিভাগ ব্যুৎপন্ন বৃদ্ধের ব্যবহার হইতে বালকের শক্তিগ্রহ (মূল) উক্ত মূল গ্রন্থের তাৎপর্য বর্ণন (বিবৃতি ) ব্যবহারাধীন বালকের শক্তিগ্রহ স্থলে মদীয় স্তনপানরূপ অসঙ্গতি শঙ্কা ও তাহার সমাধান (বিবৃতি ) চেষ্টাত্ব হেতু স্বরূপাসিদ্ধি শঙ্কা ও তাহার নিরাস ( বিবৃতি ) অব্যুৎপন্ন বালকের অনুমানের উপযােগিতা প্রদর্শন (বিবৃতি) মূল প্রদর্শিত তৃতীয় অনুমানের পর্যালােচনা (বিবৃতি) ‘অসাধারণ হেতুকত্ব’ এই অংশের তাৎপর্য বর্ণন (পাদটীকা) উপমান প্রমাণ হইতে শক্তিগ্রহ প্রদর্শন (বিবৃতি ) প্রসঙ্গক্রমে প্রাচীন ও নবীন মত অনুসারে উপমান প্রমাণ ও ফলীভূত উপমিতির পর্যালােচনা (বিবৃতি) ব্যাকরণ ও কোষ হইতে শক্তি গ্রহের আলােচনা (মূল) শক্তি গ্রাহকরূপে অমর কোষের তিনটি বাক্য প্রদর্শন ও তাহার তাৎপর্য কথন (মূল ও বিবৃতি) প্রসিদ্ধপদের সান্নিধ্য বশত: শক্তিগ্রহ কথন (মূল) কৃষ্ণকান্ত যে বায়ুর প্রত্যক্ষত্ব প্রাচীন সম্মত বলেন তাহার খণ্ডনে যুক্তি প্রদর্শন (পাদটীকা) প্রসিদ্ধ পদ সান্নিধ্যের বিভিন্ন উদাহরণ প্রদর্শন করিবার যুক্তি (বিবৃতি) ••• ••• ১০ এ এ ১১ pp. ১৬ ০ ০ ০ পৃষ্ঠা ১৬-১৭ ০ ০ ১৮ ফুল) ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৩০ ০ ০ ০ ৩১ ৩১৩৪ বি বায়ুপদকে উপেক্ষা করিয়া নিরূপ প্রভৃতি পদক প্রসিদ্ধ পদরূপে গ্রহণ করিবার তাৎপর্য কথন (বিবৃতি ) ‘ই সহকার তরে মধুর পিকো রোতি’ মণিকার সম্মত এই প্রসিদ্ধ পদ সান্নিধ্যের উদাহরণের জগদীশ কর্তৃক খণ্ডনের আলােচনা (বিবৃতি) বাক্যশেষ হইতে ‘যব’ প্রভৃতি পদের শক্তিগ্রহ প্রদর্শন ( বাক্যশেষের দ্বিবিধ উদাহরণ প্রদর্শনের তাৎপর্য বর্ণন ( বিবৃতি ) প্রাভাকর সম্মত কার্ষান্বিত শক্তিবাদ ও তাহার খণ্ডন (মূল বিবৃতি) প্রাভাকর মতের তাৎপর্য বর্ণন ( বিবৃতি) পারিভাষিক ও ঔপাধিক সংজ্ঞা নিরূপণ (মূল) পারিভাষিকী সংজ্ঞা লক্ষণ ও উদাহরণ প্রদর্শন (মূল) আকাশাদি পদের নিরবচ্ছিন্ন শক্তিবাদ খণ্ডন এবং যুক্তির দ্বারা আকাশ পদের শবত্বাবচ্ছিন্নে শক্তি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন (মূল ও বিবৃতি) পটাদি পদের পটাদি ধর্মাবচ্ছিন্নে শক্তি স্বীকৃত নহে পরন্তু পটত্বাদি ধর্মের দ্বারা উপলক্ষিত পটাদি ব্যক্তিতেই শক্তি কল্পিত হইবে। রঘুনাথ শিরােমণির এই ব্যক্তি শক্তিবাদ খণ্ডন (মূল ও বিবৃতি ) আকাশ পদের ঔপাধিত্বশঙ্কা ও তাহার খণ্ডন ( বিবৃতি ) ন্যায়সিদ্ধান্তে চৈত্র প্রভৃতি পদের নৈমিত্তিক সংজ্ঞা কথন (বিবৃতি ) বৈয়াকরণ মতে আধুনিক সংকেত নদী, বৃদ্ধি, চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি নামের পারিভাষিকত্ব কথন (মূল কারিকা) উক্ত কারিকার ব্যাখ্যা (বিবৃতি) ভর্তৃহরি কথিত কারিকার দ্বারা উক্ত বৈয়াকরণ মত সমর্থন (মুল) যদুপাখ্যৰচ্ছিন্ন শক্তিমন্নাম দৌৰাধিক’-এই অংশের বিশদার্থ কথন (বিবৃতি) চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি নামের নৈমিত্তকত্ব শঙ্কা ও তাহার খণ্ডন ( বিবৃতি ) ভর্তৃহনি সম্মত নিত্য ও অনিত্য এই দ্বিবিধ সংকেতের সমর্থন ( বিবৃতি ) কাদাচিৎ কাধুনিক ইত্যাদি কারিকাংশের পর্যালােচনা (বিবৃতি) ৩৪৩৬ ৩৭ ৪০০ ৪ ০ ৪৩ ৮০ ) ৪৫ ৪৫ পৃষ্ঠা ০৮। ৫ ০ ০ ০ ৪৬-৪। ••• ৪৮ মূল • । ৫ । ••• ‘শাস্তুকারাদি এই আদিদের দ্বারা পিতা কর্তৃক কল্পিত চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি নামের পারিভাষিকত্ব কথন ঐ সকল নামের নৈয়ায়িক সম্মত বাচ্য-বাচক ভাবের পর্যালােচনা (টিপ্পনী) পারসিক ককু প্রভৃতি শব্দ আধুনিক সংকেত বিশিষ্ট হইলেও ধার্মিক কার্যে ঐ সকল শব্দের ব্যবহার না হওয়ার কারণ ( বিরতি ) গো প্রভৃতি পদের শক্তি নিরূপণ প্রসঙ্গে সাম্প্রদায়িক মত ( সংস্থান রূপ আকৃতি গােপদের শক্য হইলেও শকতার অবচ্ছেদক নহে। এ বিষয়ে যুক্তি প্রদর্শন ( বিবৃতি) ‘ন চ’ ইত্যাদি মূল গ্রন্থের তাৎপর্য বর্ণন (বিবৃতি) আকৃতি শ্যতাবচ্ছেদক না হইলেও অম্ববােধের বিশেষণরূপে ভাসমান হওয়ার যুক্তি ( বিবৃতি) ‘জাত্যাকৃতিব্যক্তয় পদার্থ:' এই সাম্প্রদায়িক মতের দোষ প্রদর্শন (বিবৃতি) গাে প্রভৃতি পদের শক্তি নির্ণয়ে নব্যমত প্রদর্শন (মূল) ‘নব্যমতে জাত্যাকৃতিব্যক্তয় পদার্থ: এখানে এক বচন প্রয়ােগের সার্থকতা প্রদর্শন ( বিবৃতি ) আকৃতি ও ব্যক্তিতে বিভিন্ন শক্তির পর্যালােচনা ন্যায় সূত্রের অন্তৰ্গত আকৃতি পদের অর্থ পর্যালােচনা (বিবৃতি ) ‘যন্থেবং ইত্যাদি মূল গ্রন্থের তাৎপর্য বর্ণন ( বিবৃতি ) ‘শকতায়া: কিঞ্চিদ্ধর্মাবচ্ছিন্নত্বনিয়মাৎ এই মূল প্রন্থের তাৎপর্য প্রদর্শন ( বিবৃতি ) নবীন মতের উপসংহার ( বিবৃতি ) গাে প্রভৃতি পদের ঔপাধিত্ব শঙ্কা ও তাহার সমাধান (বিবৃতি ) ‘জাত্যাকৃতিব্যক্তয়ঃ পদার্থ: এই ন্যায় সূত্রের অন্তর্গত আকৃতি পদটি জাতি ও ব্যক্তি উভয়ের সম্বন্ধ বােধক, রামভদ্র সার্বভৌমের এই সিদ্ধান্ত প্রদর্শন (মূল) উক্ত সার্বভৌম মতের পর্যালােচনা (বিবৃতি) লক্ষক নামের লক্ষণ (মূল ও কারিকা) লক্ষণার বীজ সম্বন্ধে আলােচনা (বিবৃতি ) অর্থগত লক্ষণার লক্ষণ উপেক্ষা করিয়া লাক্ষণিক নামগত লক্ষণ লক্ষণ করিবার যুক্তি প্রদর্শন (বিবৃতি) ০ ০ ০ ••• ৫৪ ••• ৫৭ ৮ ••• ১১ ग ০ ০ ০ ••• ৩১-৬৫ ••• . . . বিভিন্ন লক্ষণার উদাহরণ প্রদর্শন (বিবৃতি) বিবরণ এক্তে লাক্ষণিক নামের লক্ষণ (মূল) বিবরণ খােক্ত লাক্ষণিক নাম লক্ষণের পরসিত অর্থ ও ব্যাক্তি প্রদর্শন (বিরতি) শক্ষক নামের মতান্তরে কথিত লক্ষণ সমূহ প্রদর্শন পূর্বক গুন (মূল) অপভ্রংশ শব্দের লাক্ষণিক প্রসঙ্গে ‘ন চেষ্টা আপত্তি: এই অংশের তাৎপর্ষবর্ণন (বিবৃতি) আধুনিক সংকেত বিশিষ্ট চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি পদের সাধুত্ব সমর্থন ( বিবৃতি) পদগত সাধুত্বের আলােচনা (বিবৃতি) ‘চিত্রগু:' প্রভৃতি স্থলে মীমাংসক সম্মত বাক্যগত লক্ষণার আশংকা (মূল) ‘তয়’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে উক্ত মীমাংসক মত খণ্ডন ও ন্যায়সিদ্ধান্ত প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ‘চট চটা' প্রভৃতি অনুকরণ শব্দসমূহের, হং ফট' প্রভৃতি বীজ মন্ত্রের এবং ‘হবতে' প্রভৃতি স্তোত শব্দসমূহের স্বরূপ অর্থে অপভ্রংশ শব্দের ন্যায় শক্তিম হইতে শাহবাধের জনকত্ব সমর্থন (মূল) ‘গৌবাহিক' ইত্যাদি খুলে গো প্রভৃতি পদের লাক্ষণিকত্ব ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৭১ ••• ৭৩-৭৬ সমর্থন (মূল) ০৫ ০ ৭৭ ৮১-৮২ ৮৫-৮ ‘মুখং বিকশিতং স্মিত ইত্যাদি স্থলে আলঙ্কারিক লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তির পর্যালােচনা (মূল ও বিবৃতি ) আলঙ্কারিক সম্মত অভিধামূলক ব্যঞ্জন বৃত্তি প্রদর্শন (মূল বিবৃতি ) ন্যায়সিদ্ধান্তানুসারে মনোথিক সুখবিশেষরূপে পর্যবসিত চমৎকারের প্রতি অলৌকিক মানসবােধের কারণ। স্বীকৃত হইলেই ‘মুখং বিকশিতং স্মিত ইত্যাদি স্থূলীয় ৰধের উপপত্তি সম্ভব হওয়ায় লক্ষণামূলক বা অভিধামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তির কল্পনা অযৌক্তিক ও নিরর্থক (মূল ও বিবৃতি) লক্ষণার ভেদ কথন (মূল) ‘অহৎ স্বার্থ’ ও ‘অজহৎ স্বার্থ, নিরূঢ় ও আধুনিকাদি ভেদপ্রযুক্ত বিভিন্ন লক্ষণা নিরূপণ (মূল ও কারিকা) ০ ০ পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ১২ ৫০০ | ০ ০ ১-১৮ বিষয় লক্ষণাভেদ নিবন্ধন লাক্ষণিক নামের বিভাগ প্রদর্শন (বিবৃতি) ‘জহৎ স্বার্থ' লক্ষণার স্বরূপ ও উদাহরণ (মূল ও বিবৃতি) ‘অজহৎ স্বার্থ লক্ষণার স্বরূপত উদাহরণ (মুল ও বিবৃতি) নিরূঢ় লক্ষশার স্বরূপ ও উদাহরণ (মূল ও বিবৃতি) আধুনিক লক্ষণার রূপ ও উদাহরণ উক্ত কারিকার অন্তর্গত ‘আধুনিকাদিকা এই আদি পদের দ্বারা গৃহীত গৌৰ প্রভৃতি লক্ষণ প্রদর্শন। বিভাজক ধর্মের বিরুদ্ধত্ব নিবন্ধন বিভাগের ব্যাঘাত শঙ্কা ও তাহার সমাধান (বিবৃতি) ও প্রভাকর মতে লাক্ষণিক পদ শব্দবোধের জনক নহে, এই আশঙ্কা প্রদর্শন পূর্বক ন্যায়সিদ্ধান্তে শক্তপদের ন্যায় লাক্ষণিক পদের ও শাব্দবােধজনকত্ব স্থাপন (মূল ও বিবৃতি) মীমাংসক মত খণ্ডন প্রসঙ্গে ‘কুমতিপ্ৰসু প্রভৃতি সর্বক্ষণিক পদের উদাহরণ প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) মূল উক্ত ‘কুমতিপ্রসুরি’ত্যাদি এই আদি পদের দ্বারা ‘ধুমাৎ ইত্যাদি সর্বণিক পদ প্রদর্শন (মূল বিবৃতি ) পদার্থেপস্থিতির মাধ্যমে শক্তিজ্ঞান ও লক্ষণার জ্ঞান উভয়ই শাত্ববােধের কারণ হওয়ায় পরস্পরজনকার্যে ব্যভিচার শঙ্ক। (মূল ও বিবৃতি) কাতার অবচ্ছেদক কোটিতে তৎ কারণের অব্যবহিতােত্তর নিবেশ করিয়া শঙ্কিত ব্যভিচার বারণ ( বিবৃতি) যােগরূঢ় নামের লক্ষণ (মূল ও কারিকা) যােগরূঢ় লক্ষণ কারিকার ব্যাখ্যা ও দৃষ্টান্ত প্রদর্শন (বিবৃতি) মূল লক্ষণে পর্যবসিত অর্থ প্রদর্শন ( বিবৃতি) কৃষ্ণকান্ত ব্যাখ্যাত যোগরূঢ় লক্ষণের পর্যবসিত অর্থ ও লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় প্রদর্শন ( বিবৃতি) পঙ্কজ পদ ও মণ্ডপ পদের বৈলক্ষণ্য কথন (মূল ও বিবৃতি) ৰাতিক মত অনুসারে ‘পঙ্কজ কুমুদং’ ‘ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্ন ইত্যাদি হলে পঙ্কজ পদের লাক্ষণিকত্ব ব্যবস্থাপন (মূল ও বিবৃতি) নির্বিভক্তিক ও সবিভক্তিক পঙ্কজ পদস্থলে ব্যুৎপত্তি প্রদর্শন ও সূলবিশেষে উক্ত ব্যুৎপত্তির সংকোচ কথন (মূল বিবৃতি) নুপদের দোহন কর্মত্ব বিশিষ্ট গাে অর্থে যেরূপ রূঢ়ি ৰীকৃত হইবে তদ্রুপ পঙ্কজাতত্ববিশিষ্ট জলকমল রূপ অর্থে নয়। ১০২ ১৪ ১•১• ••• ১১•১১১ পৃষ্ঠা ••• ১১১-১১৩ ••• ১১২-১১৬ ০ ০ ০ ১১৬-১১৭ ১১৭-১১৮ ০ ০ ০ ১২১ বিষয় প্রভৃতি পদের রূঢ়ি স্বীকৃত হইবে না কেন? এই আশঙ্কা ও তাহার সমাধান প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) পঙ্কজ প্রভৃতি পদের পঙ্কজাতত্ব বিশিষ্ট রূপ অর্থে রূঢ়ি এবং কর্তৃবাচক ও প্রত্যয়ের পরুত্ব বিশিষ্টের লক্ষণাধীন ভান সম্ভব হওয়ায় পঙ্কজ পদের তাদৃশ অর্থের রূঢ়ি কল্পনা সংগত নহে, এই আশঙ্কা ও তাহার সমাধান প্রদর্শন (মূল বিবৃতি) একাক্ষর কোষ হইতে ‘ক’ ‘খ’ প্রভৃতির শক্তিগ্রহ মূলে লক্ষণার দ্বারা ‘বলাক’, ‘নখর’ প্রভৃতির লক্ষ্যার্থ বােধের শঙ্কা ও তাহার সমাধান (মূল ও বিবৃতি) উক্ত সমাধান অবলম্বন পূর্বক পঙ্কজ প্রভৃতি পদের সমুদায় শক্তির সমর্থন ( মূল বিবৃতি) ‘চিত্রগু' প্রভৃতি পদের চিত্র, গাে, স্বামী রূণ অর্থে পঙ্কজ পদের ন্যায় সমুদায় শক্তির আশঙ্কা ও তাহার খণ্ডন (মূল ও বিবৃতি ) ন্যায়মত বিলক্ষণ মীমাংসক মতের উপস্থাপনা (মূল বিবৃতি) পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নাম হইতে কেবল রূঢ্যর্থ ভিন্ন পদার্থ বিশেষ্যক যােগাৰ্থ প্রকার অন্বয়বােধের প্রতি রূঢ়ি জ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ববাদী মীমাংসক মত প্রদর্শন মূল শ্লোকও বিবৃতি) ‘তৈল’ শব্দ হইতে সমুদায় শক্তির এবং যােগশক্তির উপস্থিতিকালে তিল প্রভৰ তৈল বিষয়ক বােধ প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) সর্ষপ তৈলং' ইত্যাদি হলে রূঢ়র্থের অনুপস্থিতিকালে তৈল শব্দের কেবল যাের্থ বােধ প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) রূঢ়র্থ ভিন্ন বিশেষ্য যােগাৰ্থ প্রকার বুদ্ধি ও রূঢ়ার্থ জ্ঞানের প্রতিবধ্য ও প্রতিবন্ধক ভাব প্রদর্শন (মুল ও বিবৃতি) ‘ন চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে তাৎপর্যজ্ঞানের বিলম্ব বশত অথবা অযােগ্যতা ভ্রমরূপ প্রতিবন্ধক বশত সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থিত পদ্মের যােগার্থ পঙ্কজনিতত্বের অন্বয়বােধ না হইলেও সেখানে পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে কুমুদ বিষয়ক অম্বয়বােধের অনুপপত্তি শঙ্কা ও তাহার সমাধান, (মূল ও বিবৃতি) ‘যন্তু' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে প্রাচীন মীমাংসক সম্প্রদায়ের মত পর্যালােচনা (মূল ও বিবৃতি ) ১২১-১২২ ১২১-১২২ ১২২১২ ••• ১২-১৩ . ১৩২ পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ১৩২-১৩৬ ০ ০ ০ ১৩৬১৩১ ১৪৭ বিষয় এইমতে মােগাৰ্থ এবং রূঢ় জ্ঞানের প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধক তাৰ খণ্ডন পূর্বক কার্যকারণভাব প্রদর্শন ও তাহার খণ্ডন (মূল ও বিবৃতি ) পঙ্কজাদি পদ হইতে কেবলমাত্র সমূদায় শক্তিলভ্য পরেই বােধ হইবে, এই বৈয়াকরণ মত অনুসারে যােগরূঢ় নামের খণ্ডন প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) উক্ত বৈয়াকরণ মত খণ্ডন (বিবৃতি) পঙ্কজ প্রভৃতি পদস্থলে সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত অথবা পদান্তরের বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত ধর্মী বিশেষ অবয়ব বৃত্তিপত্য পদার্থ প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি আকাক্ষাদি নিশ্চয় রূপ কারণ কলাপই নিয়ামক মণিকারের এই বিলক্ষণ মত প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি ) সামাজিক ও তদ্ধিতান্ত ভেদে যােগরূঢ় নামের দ্বিবিধ বিভাগ প্রদর্শন (বিবৃতি ) কৃৎ প্রত্যয়ান্ত পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নাম সমাসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে সমাস হইতে অতিরিক্ত নহে (বিবৃতি ) কৃষ্ণসৰ্প, বাসুদেব, পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নামের যৌগিক নাম লক্ষণের অতিব্যাপ্তি বারণের উপায় কথন, ব্রাহ্মণী, শুক্র, শূদ্রা প্রভৃতি নামের পরবর্তী দীপ প্রভৃতি স্ত্রীলিঙ্গে বিহিত প্রত্যয়ের স্ত্রীত্ব বাচকত স্বীকৃত পক্ষে ঐ সকল নামের যৌগিকত্ব কথন (মূল ও বিবৃতি) ঐ সকল নামের পর্বত বন জীপ প্রভৃতি প্রত্যয়ের স্ত্রীত্ব বাকচত্ব স্বীকৃত না হইলে ঐ সকল না রূঢ় নাম রূপেই গণ্য হইবে। দ্ধিপত্র ••• ১৪১৪৬ ••• ১৪৭-৪৮ ••• ১৪১-৫০ ১৫০•১১ r pp
No text on this page.
शब्दशक्तिप्रकाशिका [ वङ्गानुवाद-विवृतिभ्यां समेता ] द्वितीयः खण्डः कलिकाता-संस्कृतमहाविद्यालयगवेपणाविभागीय- भारतीयदर्शनशास्त्राध्यापकेन श्रीमधुसूदनभट्टाचार्य न्यायाचार्येण सम्पादिता
No text on this page.
शब्दशक्तिप्रकाशिका বিনীতঃ ভ: सार्थकशब्द रूढ़नाम्नि शक्तिप्राहकवर्णनम् मूलम् स्यादेतत् , निरुक्तस्यैव सङ्केतस्य कुतः कथमतो ग्रहः, नोपमानान्न कोषान्न विवरणान्न प्रसिद्धार्थशब्दसामानाधिकरण्यान्नापि वाक्यशेषादमीषां शक्तिग्रहमूलकत्वेन पूर्व पृथुकस्य कस्यापि तदसत्वादत प्राह- सङ्केतस्य ग्रहः पूर्वं वृद्धस्य व्यवहारतः । पश्चादेवोपमानाद्यः शक्तिधोपूर्वकैरसौ ॥ २० ॥ অনুবাদ ইহা (গােত্বদিবিশিষ্ট গবাদি ব্যক্তিতে গােপ্রভৃতি পদের সংকেত) স্বীকৃত হইলেও উক্ত সংকেত প্রথমতঃ কোন্ উপায় হইতে গৃহীত হইবে ? (যদি বলা হয় ) উপমান, কোষ, বিবরণ, প্রসিদ্ধার্থক শব্দের সমানাধিকরণ এবং বাকশেষ হইতে সংকেতগ্রহ হইবে। এই উক্তি কিন্তু ঠিক নহে; কারণ, উক্ত উপায়সমূহ হইতে যে সংকেতগ্রহ হয় তাহার মূলে ( কারণরূপে ) শক্তিগ্রহ অপেক্ষিত। সুতরাং অব্যুৎপন্ন কোনও বালকের পক্ষে পুর্বে শক্তিগ্রহ না থাকায় উপমান প্রভৃতি উপায় হইতেও শক্তিগ্রহ হইতে পারে না। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন :- অব্যুৎপন্ন বালকপ্ৰভৃতির বৃদ্ধব্যবহারূপ উপায় হইতে পদ ও পদার্থের প্রাথমিক সংকেতগ্রহ হইয়া থাকে। পরবর্তীকালে উক্ত শক্তিগ্রহমূলক উপমান, ব্যাকরণ এবং কোষপ্রভৃতি উপায় হইতে শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইবে। ২০ | शब्दशक्तिप्रकाशिका বিবৃতি পূর্বোক্ত ক্রমে তার সম্প্রদায়ের জাতিশক্তিবাদ খণ্ডিত হইলে প্রাভাকর সম্প্রদায় অপগমবাদ অবলম্বনপূর্বক প্রশ্ন করিতেছেন—গােত্বাদিজাতিবিশিষ্ট গবাদিব্যক্তিতে গােপ্রভৃতি পদের সংকেত স্বীকৃত হইলেও কোনও উপায় না থাকায় উক্ত সংকেতগ্ৰহ কি করিয়া উৎপন্ন হইবে? এই প্রশ্নের উত্তরে যদি বলা হয়, প্রাচীন শাব্দিকসম্প্রদায়ের মতে, ব্যাকরণ, উপমান, কোষ, আপ্তবাক্য, ব্যবহার, বাক্যশেষ, বিবরণ এবং প্রসিদ্ধার্থক শব্দের সামানাধিকরণ্যরূপ উপায় হইতে সংকেতগ্রহ উৎপন্ন হইয়া থাকে, সুতরাং ঐ সকল উপায়ের অন্যতম উপমান প্রভৃতি উপায় হইতে সংকেত গ্রহ সম্ভবপর হইতে পারে। এই বক্তব্যের উত্তরে ন্যায়সিদ্ধান্ত অবলম্বনপূর্বক গ্রন্থকার বলিতেছেন, উপমান, কোষ, আপ্তবাক্য, প্রসিদ্ধার্থক শব্দের সমানাধিকরণ্য এবং বাক্যশেষ হইতে অব্যুৎপন্ন বালক প্রভূতির প্রাথমিক শক্তি গ্রহ হইতে পারে না; কারণ উপমান প্রভৃতি উপায় হইতে যেখানে শক্তিগ্রহ হইবে সেখানে উপমান প্রভৃতি উপায় ও শক্তিগ্রহমূলক হইয়া থাকে, সুতরাং উপমানাদিরূপ উপায় হইতে অব্যুৎপন্ন বালক প্রভৃতির শক্তিগ্রহ কিরূপে সম্ভবপর হইবে? এই প্রশ্নের সমাধানকল্পে গ্রন্থকার “সংকেতস্য গ্রহঃ পূর্বমি”ত্যাদি কারিকার অবতারণা করিতেছেন। “সংকেতন্য গ্রহ: পূর্ব এখানে ‘পূর্ব’ শব্দের দ্বারা উপমান প্রভৃতি শক্তিগ্রাহক যে উপায়ান্তর তাহার পূর্বে অর্থাৎ প্রথমে এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। ‘বৃদ্ধস্য ব্যবহারত' অর্থাৎ প্রযোজ্য বৃদ্ধের সহিত প্রযােজক বৃদ্ধের ব্যবহার হইতে প্রাথমিক সংকেতগ্ৰহ অর্থাৎ শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইবে। তাৎপর্য এই যে, কোনও একজন নিয়ােগকর্তা বৃদ্ধ ব্যক্তি যখন নিয়ােগযােগ্য মধ্যম বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে ‘গো আনয়ন কর’ (গামানয়) এইরূপ বাক্য প্রয়ােগ করেন প্রযােজ্য বৃদ্ধ ঐরূপ বাক্য শ্রবণ করিয়া গগাব্যক্তিকে আনয়ন করিলে, পার্শ্বে অবস্থিত বালক গােকমক আনয়নরূপ কার্যটি গো আনয়ন কর (মানয়) এইরূপ বাক্য হইতে সম্পন্ন হইয়াছে ইহা অবধারণ করে। সম্মুখস্থ বালকের উক্ত অবধারণ হওয়ার পরে আবার প্রযােজক বৃদ্ধ যখন বলেন গাে-ব্যক্তিকে লইয়া যাও (গাং নয়), ঘট আনয়ন কর (ঘটনানয়), এই সকল বাক্য হইতে উক্ত বালকের অন্বয়ৰ্যতিরেকমে, লেটু হি বিভক্তির অর্থ যে কাৰ্বত্ব তদন্বিতস্বার্থে গােত্রভৃতি পদের সংকেতগ্ৰহ অর্থাৎ শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হয়। পদের সহিত পদার্থের যে সম্বন্ধরূণ বৃত্তি-বিশেষ তাহার নাম সংকেত। এই সংকেতও কখনও পদবিশেষক কখনও বা অর্থবিশেষ্য হইয়া থাকে। আবার সংকেতপ্রকারক পদবিশেষক' বা অর্থবিশেষ্যক জ্ঞান হইতে পদার্থের উপস্থিতির মাধ্যমে একপদার্থে অপর পদার্থের অস্বয়বােধরূপ বাক্যার্থবােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে। এইজন্য উক্ত পদজ্ঞানজনিত পদার্থেপস্থিতি, শব্দবােধে ব্যাপাররূপে স্বীকৃত হইয়াছে। এই সংকেতও নিত্য, অনিত্য ভেদে বিবিধ। নিত্য সংকেতকে আখানিক সংকেত বলা হইয়া থাকে। এই নিত্য सार्यकशाग्दे नाम्नि शक्तिमाहकवर्णनम् সংকেতই শক্তিরূপে কীতিত হইয়াছে। ভর্তৃহৰিও এই অভিপ্রায়েই আানিক এবং আধুনিক এই দ্বিবিধ সংকেতের কথা বলিয়াছেন। গ্রন্থকার নিজেও ত্ৰয়ােবিংশতি কায়িকার বিবরণে বিশদভাবে আলোচনাপূর্বক ভর্তৃহরির উক্ত মত গ্রহণ করিয়াছেন। এই নিত্য সংকেত অর্থাৎ শক্তি সম্বন্ধেও বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত রহিয়াছে। ন্যায়- সিদ্ধান্তে অস্মাৎ শব্দাৎ অয়মর্থো বােদ্ধ ব্য: অথবা ‘ইমং পদং ইমমর্থং বােধয়তু’ এইরূপ ঈশ্বরেচ্ছ। বিষয়ত্ব শক্তিরূপে অঙ্গীকৃত হইয়াছে। পক্ষধর মিশ্রের মতে তাদৃশ ইচ্ছাযুক্ত ভগবদুচ্চৰিতত্বকে শক্তি বলা হয়। মীমাংসকমতে বহ্নিতে যেরূপ দাহের অনুকুল শক্তি ৰীকৃত হয় তক্রপ গবাদিপদেও গোত্বাধিকারক শব্দবােধের অনুকুল অর্থাৎ শাক- বােধের জনকতাবচ্ছেদক পদার্থান্তরূপ শক্তি স্বীকৃত হইয়াছে। আবার কোনও মীমাংসক পদগত অভিধানামক অতিরিক্ত পদার্থকে শক্তি বলিয়া থাকেন। ন্যায়সিদ্ধান্তবিরােধী ঐ সকল মত মীমাংসকসম্মত জাতিশক্তিবাদ খণ্ডন প্রসঙ্গে নিরাকৃত হইয়াছে। শক্তির স্বরূপ যাহাই হউক না কেন শক্তিগ্রহ যে, কোনও উপায় ব্যতিরেকে হয় না ইহা সর্বসম্মত। এই অভিপ্রায়ে কারিকায় বলা হইয়াছে, প্রাথমিক শক্তিগ্রহ, প্রযোজ্য প্রযােজক বৃদ্ধের ব্যবহাররূপ উপায় হইতে সম্পন্ন হইলে উক্ত ব্যবহারাধীন শক্তিগ্ৰহমুলে উপমান প্রভৃতি উপায় হইতে উক্ত শক্তি গ্রহ উৎপন্ন হইবে। উপমানাদি এই আদিপদের দ্বারা কোষ, আপ্তবাক্য প্রভৃতি গৃহীত হইবে। ন্যায়সিদ্ধান্তে উপমানরূপ উপায় হইতে গৰয় প্রভৃতি পদার্থে গবপদবাচ্যত্বরূপ শক্তিগ্রহ স্বীকৃত হইলেও, মীমাংসকমতে, গৰয় প্রভৃতি পদার্থে গো সাদৃশ্যের জ্ঞানরূপ উপমান প্রমাণ হইতে ‘মদীয়া সা গৌঃ এতৎ সদৃশী’ এইরূপ গােধর্মিক গয়াদি সাদৃশ্য জ্ঞানই উপমান-প্রমাণের ফল স্বীকৃত হওয়ায় এই মতে উপমান শক্তির গ্রাহকরূপে স্বীকৃত হইতে পারে না। স্কুলবিশেষে কোষ প্রভৃতি উপায় হইতে শক্তিগ্রহ, নৈয়ায়িক, মীমাংসক প্রভৃতি সকলেই স্বীকার করিয়া থাকেন। मूलम् प्रथमं पदेषु सङ्केतग्रहो वृद्धस्य व्युत्पन्नस्य शब्दाधीनव्यवहारादेव बालानाम्, तथा हि, गामानयेति केनचिनिपुणेन नियुक्तः कश्चन व्युत्पन्न- स्तद्वाक्यतोऽर्थं प्रतीत्य गवानयनं करोति, तच्चोपलभमानो बाल इदं गवा- नयनं स्वगोचरप्रवृत्तिजन्यं चेष्टात्वान्मदीयस्तनपानादिवदित्यनुमाय, सा गवानयनप्रवृत्तिः स्वविषयधर्मिककार्यताज्ञानजन्या, प्रवृत्चित्वानिजप्रवृत्ति- वदिति प्रवृत्तेर्गवानयनधर्मिककार्यताज्ञानजन्यत्वं प्रसाध्य गवानयनगोचर- शब्दशक्तिप्रकाशिका तजज्ञानमसाधारणहेतुकं कार्यत्वाद्घटवदित्येवमनुमिन्वानः समुपस्थित- त्वालाघवाच श्रुतं वृद्धवाक्यमेव तदसाधारणकारणत्वेनावधारयति। तदनन्तरच, गधादिपदानां प्रत्येकमावापोद्वापेन गवादिषुद्वौ जनकत्वमवगत्यानति- प्रसक्तये गवादिसङ्केतस्य तदनुकूलत्वं कल्पयति । पश्चात्तु, कचिदुप- मानाच्छक्तिगहो यथा गवादिपदशक्तिधीसाचिव्येन गोसादृश्यातिदेश- वाक्यात् गवयपदवाच्यत्वबोधोत्तरं गवयत्वजात्यवच्छिन्ने गोसादृश्यगृहात्, गवयो गवयपदवाच्य इत्याकारः । অনুবাদ ব্যুৎপন্ন ( কোনও) বৃদ্ধের শব্দপ্রয়ােগজনিত ব্যবহার হইতে ( অব্যুৎপন্ন ) বালকের প্রথমে (গােঘটাদিপদে) শক্তিগ্রহ হয়। যেরূপ, কোনও নিপুণ (বৃদ্ধ ) কর্তৃক “গো আনয়ন কর” (গামানয়) এইরূপ আদিষ্ট হইয়া কোনও একজন ব্যুৎপন্ন পুরুষ উক্ত বাক্যের অর্থবােধপূর্বক গােকৰ্মক আনয়নরূপ কার্যটি সম্পন্ন করেন, উক্ত গবান রূপ ক্রিয়াটি অবলােকন করিয়া পার্শ্বস্থিত অব্যুৎপন্ন বালক এই গবানয়নরূপ ক্রিয়াটি যেহেতু চেষ্টাবিশেষ অর্থাৎ চেষ্টাত্বের আশ্রয় অতএব উক্ত গবানয়ন কার্যখােচর প্রবৃত্তিজনিত ( হইবে)। যেরূপ মদীয় স্তন্যপানাদিক্রিয়া। এইরূপ গবানয়নপক্ষক তগােচরপ্রবৃত্তিজন্যত্বসাধ্য চেষ্টাত্বহেতুক অনুমান করিবার পরে, নিজপ্রবৃত্তিকে দৃষ্টান্তরূপে তাদৃশ গবানয়নগােচর প্রবৃত্তিকে পক্ষরূপে প্রবৃত্তিত্বকে হেতুরূপে গ্রহণ করিয়া গবানয়নধর্মিক কার্যতাজ্ঞানজন্যরূপ সাধ্যের অনুমান করে। এইভাবে তাদৃশ প্রবৃত্তিরূপ ধর্মীতে গবানয়নধর্মিক কার্যতাজ্ঞান- জনিতত্বের আনুমানিক নিশ্চয় করিয়া পুনরায় গবানয়নগােচকার্যতাজ্ঞানরূপ পক্ষে ঘটাদিরূপ দৃষ্টান্তমূলে কার্যত্বরূপ হেতুর দ্বারা অসাধারণকারণজন্যত্বের অনুমান করিয়া ‘গাম, আনয়' এই বৃদ্ধবাক্যটির সমুপস্থিতি ও লাঘবপ্রযুক্ত শ্রুত বৃদ্ধবাক্যকেই (তাদৃশকাৰ্যতাজ্ঞানের) অসাধারণকারণরূপে অবধারণ করিয়া থাকে। তদনন্তর গােপ্রভৃতি প্রত্যেকটি পদের অম্বয়ব্যতিরেকপ্রযুক্ত গাে প্রভৃতি প্রাণিবিষয়ক বুদ্ধির প্রতি গােপ্রভৃতি পদের জনকত্ব অবগত হইয়া অতিপ্রসক্তি বারণের জন্য গােপ্রভৃতিপদগত সঙ্কেতকেই গবাদিবুদ্ধির অনুকূল কল্পনা করিয়া থাকে। (এইভাবে প্রথমতঃ কার্যতান্বিতস্বার্থে গবাদিপদের সঙ্কেতগ্রহ হইলে) सार्थकमाब्दे रूदनाम्नि शक्तिमाहकवर्णनम् তাহার পরে কোনও সময়ে উপমান (প্রমাণ) হইতে শক্তিগ্রহ (উৎপন্ন হয়)। যেরূপগবাদিপদের শক্তিজ্ঞানসহকারে গােসাদৃশ্যবােধক অতিদেশ বাক্য হইতে গয়পদবাচ্যত্ববােধের পরে গবয়ত্বজাতিবিশিষ্টে গােসাদৃশ্যজ্ঞানের প্রত্যক্ষের) মাধ্যমে “গবয়ে গবয়পদবাচ্য:” এই আকারে গবয়পদার্থে গবয়পদের শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইয়া থাকে। বিবৃতি গ্রন্থকার “সংকেত গ্রহঃ পূর্বম্” ইত্যাদি কারিকার পূর্বার্থে প্রযােজকবৃদ্ধের কার্যতাবােধক “আনয়”, “নয়” প্রভৃতি পদঘটিত বাক্যজনিত প্রযোজ্যবৃদ্ধের যে, গবা- নয়নাদিরূপ ব্যবহার তাহা হইতে অব্যুৎপন্ন বালকের গবাদিপদের প্রথম সংকেতগ্ৰহ ( শক্তিগ্রহ) উৎপন্ন হয় ইহা বলিয়াছেন। কিভাবে তাদৃশ বৃদ্ধব্যবহারমুলে অবুৎপন্ন বালকের শক্তিগ্রহ হইবে—তাহার বিবরণ প্রদর্শন করিবার জন্য তথ। হি” ইত্যাদি গ্রহের অবতারণা করিতেছেন। কোনও একজন নিপুণ অর্থাৎ ‘গো' প্রভৃতি পদ গত শক্তিবিষয়ে বিশেষজ্ঞ পুরুষ, যখন অপর একজন ব্যুৎপন্নকে অর্থাৎ যিনি ‘গো' প্রভৃতি পদের অর্থ অবগত আছেন তাঁহাকেই “গাে আনয়ন কর” (গামানয়) এইরূপ বাক্য প্রয়ােগ করিয়া গবানয়ন কার্যে নিযুক্ত করেন, গবানয়নে নিযুক্ত উক্ত পুরুষও তাদৃশ বাক্যের অর্থ অবগত হইয়া একটি গাে আনয়ন করেন। গাে আনয়ন কর (‘গামানয়’) এই বাক্যটি প্রয়ােগের পরক্ষণে নিযুক্ত পুরুষ একটি গাে আনয়ন করিলেন, ইহা প্রত্যক্ষত: অবগত হইয়া সম্মুখস্থিত বালক, গােপদের, অপদের, আঙ, পূর্বক নী ধাতুর বা আখ্যাতের কোনরূপ অর্থ অবগত না হইলেও বালক এইটুকু বুঝিল-গামায়’ এইরূপ বাক্য প্রযুক্ত হইলে যাহার উদ্দেশ্যে উক্ত বাক্যটি প্রযুক্ত হইবে, তৎকর্তৃক গবানয়নরূপ কার্যটি সম্পন্ন হইয়া থাকে। অতঃপর আমার স্তন্যপানাদি চেষ্টার ন্যায় গবানয়নরূপ কার্যটি যখন চেষ্টাবিশেষ, অতএব তদগোচর প্রবৃত্তিজনিত, বালকের এইরূপ অনুমান হইয়া থাকে। বিবরণ গ্রন্থে যে স্বগােচরপ্রবৃত্তি জন্য সাধ্যরূপে গৃহীত হইয়াছে, সেখানেও ‘স্ব’পদের দ্বারা গবানয়নরূপ কার্যটিই গৃহীত হইয়াছে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে-জগদীশ যে উক্ত অনুমানে ‘মদীয়ন্তনপানকে দৃষ্টান্তুরূপে গ্রহণ করিয়াছেন, ইহা সঙ্গত নহে। কারণ, তরল কোন বস্তুর গলাধঃকরণের অনুকুল ব্যাপারকেই ‘পান' বলা হইয়া থাকে। সুতরাং, স্তন্যের আধার যে স্তন, তাহার পান সম্ভবপর নহে। এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে—লক্ষণা করিয়া স্তনপদটির অন্যরূপ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। বিবৃতিতে আমরাও স্তন্যরূপ অর্থই গ্রহণ করিয়াছি। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, প্রস্তাৰিত অনুমানে চেষ্টাকে যে হেতু করা হইয়াছে, উক্ত হেতু রূপাশিদ্ধ হইবে না কেন? কারণ, শারীরিক ক্রিয়াগত জাতিবিশেষকে d शब्दशक्तिप्रकाशिका চেষ্টাত্ব বলা হয়। শাস্ত্রে ও হিত বা অহিতের প্রাপ্তি বা পরিহারের উপযােগী শরীরগত ক্রিয়াই চেষ্টারূপে অভিহিত হইয়াছে। অতএব আনয়নরূপ ক্রিয়াটি কর্তৃশৱীগত না হইয়া গবাদিগত হওয়ায় তাহাতে চেষ্টাত্ব রূপ হেতু থাকিতে পারে না। এই আশঙ্কা সমীচীন নহে। আমরা পক্ষরূপে গৃহীত আনয়ন পদার্থটি পর্যালােচনা করিলে বেশ বুঝিতে পারি—গমনের অনুকুল ব্যাপার বিশেষ আনয়নপদার্থরূপে স্বীকৃত হইয়া থাকে। সুতরাং আনয়’ ইত্যাদি স্থলীয় আঙ, পূর্বক নী ধাতুর দ্বারা কর্তৃগত চেষ্টাই উক্ত গমনানুকুল ব্যাপাররূপে গৃহীত হইবে, গবাদিকর্মগত ক্রিয়া নহে। সুতরাং গােগত যে গতি, তদনুকুল ক্রিয়া যেরূপ গােতে থাকিবে, তদ্রুপ গবানয়নের কর্তা যে পুরুষ, তত গতিরূপ ক্রিয়া অনুকুল চেষ্টা কর্তৃশরীরগত অবশ্যই হইবে। উক্ত শারীরিক ক্রিয়ারূপ আনয়নকেই পক্ষরূপে গ্রহণ করায় চেষ্টাত্বরূপ হেতু পক্ষে অবশ্যই থাকিবে। সুতরাং তাহা রূপাসিদ্ধ হইবে না। ইহাই গ্রন্থকারের অভিপ্রায়। চেষ্টাত্বৰূপ হেতুর সাহায্যে অব্যুৎপন্ন বালকের গবানরূপ পক্ষে তদৃগােচর প্রবৃত্তি- জনিতত্বরূপ সাধ্যের যে অনুমান প্রদর্শিত হইল, এই অনুমানের উপযােগিতা কি ? এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে—অগ্রিম অনুমানের উপযােগী পক্ষতার অবচ্ছেদকধর্মপ্রকারক নিশ্চয় লাভের জন্যই এই অনুমানের অবতারণা করা হইয়াছে। কারণ, পক্ষতাবচ্ছেদক- প্রকারে পক্ষের নিশ্চয় না হইলে কোন স্থলেই অনুমিতি হইতে পারে না। এইভাবে চেষ্টাত্বলিঙ্গক অনুমিতি হওয়ার পরে উক্ত বালকের নিজপ্রবৃত্তিকে দৃষ্টান্ত- রূপে গ্রহণ করিয়া প্রবৃত্তিত্বকে লিঙ্গ করিয়া প্রস্তাবিত গবানয়নগােচর প্রবৃত্তিকে পক্ষ করিয়া প্রবৃত্তির বিষয় যে গানয়ন রূপ কাৰ্য, বিশেষ কার্যত্ব প্রকারক জ্ঞানজনত্বকে সাধ্যরূপে গ্রহণ করিয়া দ্বিতীয় অনুমান হইয়া থাকে। অনুমানের আকার বিবরণগ্রন্থেই প্রদর্শিত হইয়াছে। এখানে ‘কাভা' পদের অর্থরূপে কিন্তু কৃতিসাধ্যত্বকে গ্রহণ করিতে হইবে। “ নিপ্রবৃত্তি” পদের দ্বারাও স্বকীয় স্তন্যপানাদিগােচর কৃতি বুঝিতে হইবে। “প্রবৃত্তি ইতি”-এই সন্দর্ভের ‘ইতি’ এই পদটির অর্থ ‘এ প্রকারে। প্রবৃত্তে'—এখানে ষষ্ঠী- বিভক্তির অর্থ থে বৃত্তিত্ব তাহা অগ্রিম কার্যতাজ্ঞানজন্যত্বের ঘটক জত্বপদার্থে এম্বিত হইবে। প্রসাধ্য অর্থাৎ অনুমান করিয়া উক্ত বালকের তৃতীয় অনুমান হইয়া থাকে। এই দ্বিতীয় অনুমানও তৃতীয় অনুমানের পক্ষতাবচ্ছেদকপ্রকার নিশ্চয় লাভের জন্য এযুক্ত হইয়াছে। জগদীশ যে তৃতীয় অনুমানে গবানয়নগোচর তজ, জ্ঞানকে পক্ষ করিয়াছেন, এই ‘তজ, জ্ঞান’ পদের দ্বারা কার্যতাবিষয়ক জ্ঞান বুঝিতে হইবে। “অসাধারণ হেতুকত্বকে সাধ্য করা হইয়াছে, এখানেও “অসাধারণ হেতুক” পদের দ্বারা গবানয়নবিশেষককার্যতা- একাকজ্ঞানমাত্রগত যে কার্যতা, তন্নিরূপিত কাৰণতার আশ্রয় কোনও বস্তুনিরূপিত যে কার্ষতা, তাহার আশ্ৰয়ত্ব বুঝিতে হইবে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বুঝিতে পারি—উক্ত অনুমানে পক্ষ হইৰে গৰানয়নবিষয়ক কৃতিসাধ্যতা জ্ঞান (কার্যতাজ্ঞান), সাধ্য হইবে পূর্বোক্তার্থক सार्थकशब्दे नाम्नि शक्तिपाहकवर्णनम् আধাৰণহেতুক, হেতু হইবে কৃতিসাধ্যত্বরূপ কার্যত্ব। ঘটকে দৃষ্টান্তুরূপে গ্রহণ করিতে হইবে। ঘটে যেরূপ কতিসাধ্যত্ব এবং দণ্ডচক্রাদিরূপ অসাধাৰণকাৰণজন্য উভয় বাদিসি, সুতরাং উক্ত দৃষ্টান্তমূলে কার্যত্বজ্ঞানরূপ পক্ষে কৃতিসাধ্যত্বরূপ হেতুটি থাকায় উক্ত হেতু সাহায্যে কার্যতাজ্ঞানরূপ পক্ষে “গামানয়” প্রভৃতি কোনও একটি বাক্যরূপ যে অসাধারণকারণ তজ্জন্যত্বে অনুমান হইয়া থাকে। কোন বাক্যটি তাদৃশ কার্যতাবােধের জনক হইবে? এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ নিজেই বলিতেছেন—উপস্থিত হওয়ায় এবং লাঘববশতঃ শ্রাবণ-প্রত্যঙ্কের বিষয় নিপুণ বৃদ্ধ কর্তৃক প্রযুক্ত ( ‘গামানয় ) বাক্যটিই তাদৃশ কার্যতাবােধের অসাধারণ কারণরূপে অবধারিত হইয়া থাকে। সম্মুখস্থ বালকের এইভাবে বৃদ্ধকথিত উক্ত বাক্যের সহিত কতিসাধ্যতাজ্ঞানের কার্যকারণভাব নিশ্চয় এবং ঐ বাক্যের অন্তর্গত ‘গাে’ পদের, অম্ পদের, আঙ, পূর্বক ‘নী’ ধাতুর বা ‘হি’ পদের সমষ্টিগত বাক্যার্থের বােধ হইলেও ‘গাে’ প্রভৃতি পদের ব্যষ্টিগত অর্থের অবগতি হয় নাই। জগদীশ যে শ্রুত বৃদ্ধবাক্যকে প্রথম উপস্থিতিমূলে বা লাঘবমূলে গৃৰানয়নধর্মিক কার্যতাজ্ঞানের অসাধারণ কারণ বলিয়াছেন, এখানে ‘শ্রুত পদটির অর্থ জ্ঞায়মানরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। মীমাংসকগণের মতে শব্দের নিত্যত্ব স্বীকৃত হওয়ায় তাহারা আয়মান শব্দকে শাব্দবােধের কারণ বলিয়া স্বীকার করেন। জগদীশ উক্ত মীমাংসক মত অনুসরণ করিয়াই ‘গামানয়' এই বাক্যকে তাদৃশ কার্যতাবােধের অসাধারণ কারণ বলিয়াছেন। ন্যায়সিদ্ধান্তে শব্দ অনিত্য হওয়ায় শব্দ- জ্ঞানই শাত্ববােধের হেতু স্বীকৃত হইয়াছে। সুতরাং ন্যায়মত অনুসারে গােপদোত্তর অম্ পদোত্তর অনী পদোত্তর হি পদত্বৰূপ আনুপূর্বপুরস্কারে ‘গামানয় এই বাক্যজ্ঞান গােগত কর্মতার নিরূপক যে আনয়ন তদৃবিশেষ্যককতিসাধ্যত্ব প্ৰকাৰক অষয়বােধের অসাধারণ কারণ স্বীকৃত হইবে। এই প্রসঙ্গে ইহাও লক্ষণীয়, গ্রন্থকার যে সমুপতিত্বা- লাঘবাচ্চ’ এই দুইটি শ্রুত বাক্যার্থাবধারণের কারণ বলিয়াছেন ইহার একটি উদ্দেশ্য রহিয়াছে। তাৎপর্য এই যে, সমুপস্থিতত্বাৎ' এই অংশের প্রাথমিক উপস্থিতির বিষয়ত্ব রূপ অর্থ গ্রহণ করিয়া যদি গামানয়' এই বাক্যটি প্রাথমিক উপস্থিতির বিষয় হওয়ায় জায়মান ১। অসাধারণহেতুকত্ব’ এখানে ‘অসাধাৰণে হেতু (কার্য) তত্ত্বং' এইরূপ বহুব্রীহিসমাস নিষ্পন্ন অসাধারণহেতুক পদের পরে ভাববিহিত হুল প্রত্যয়ের দ্বারা ‘অসাধারণহেতুকত্ব’ পদটি নিষ্পন্ন হইয়াছে। এখন বিবেচনা করিতে হইবে অসাধারণ হেতু দ্বারা কোন্ হেতুকে বুঝিতে হইবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে অসাধারণ পদটি সাধারণ হেতু ব্যাবর্তক। ফলে তাবচ্ছিন্ন কার্যনিরূপিত কারণত্বকে অসাধারণ কারণত্ব বলা হয়। সুতরাং কাৰ্যমান্ত্রের প্রতি কারণ যে অদৃষ্ট প্রভৃতি তাহারাই কার্যমাত্রের সাধারণ কারণ। অতএব প্রকৃত স্থলে অসাধারণ হেতুকত্বকে সাধ্য না করিয়া কেবলমাত্র কারণজন্যত্বকে যদি সাধ্য করা হয় তাহা হইলে তাদৃশ অন্যত্বরূপ সাধারণহেতুকত্ব কার্যমাত্তে থাকায় পক্ষেও অবশ্যই থাকবে। ফলে সিদ্ধসাধনদোষ অবশ্য হইবে। কারণ ইহা উভয়দিসিদ্ধ। এই ন্যই অসাধারণকারণজন্যত্বকেই সাধ্য করা হইয়াছে।
शब्दशक्तिप्रकाशिका উক্ত বাক্য বা উক্ত বাক্যঞ্জনকে তাদৃশ অযধারণের অসাধারণ কারণরূপে ৰীকার করা হয়, তাহা হইলে যেখানে যােগ্যতাজ্ঞান হওয়ার পরে তাকালাজ্ঞান উৎপন্ন হবে সেখানে বাক্যজ্ঞানটি প্রথমে উপস্থিত না হওয়ায় দৰ্থাৰধারণের জনক হইতে পারে না। এইজন্য ‘লাঘৰাৎ' এই দ্বিতীয় হেতুটির অনুসরণ করিয়াছেন। অভিপ্রায় এই যে শব্দবােধের পূর্বক্ষণে অবস্থিত ‘গমানয়” এই বৃদ্ধবাক্যকে পরিহার করিয়া অতিরিক্ত কোনও পদার্থে যদি উক্ত শব্দবােধের কাশতা কল্পনা করা হয় তাহা হইলে অবশ্যই গৌরব স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং তাদৃশ বৃদ্ধবাক্যটি গৰানয়নধর্মিক কৃতিসাধ্যত্বকারক শাক- বােধের জনক বলিয়া কলিত হইলেই লাঘব হবে। এইভাবে অবধারণ করি পর গোকে লইয়া যাও (গাং নয় ), অশ্বকে আনয়ন কর (অশ্বমানয় ) এইরূপও ৰক্যার শ্রবণ করিবার পর গাে-আ + নী প্রভৃতি পদে অষয়ব্যতিরেকমূলে গবাদিগোচর অন্বয়- বােধের জনকত্ব অবগত হইয়া ‘গামানয় এই বাক্যের অন্তর্গত গবাদি পদে লাক্ষণিক অর্থান্তরের অন্বয়বােধজনকত্বরূপ অতিপ্রসক্তি পরিহার করিবার জন্য গবাদিরূপ অর্থে গােপগত শক্তিকেই শাহবােধের অনুকুল সম্বন্ধুরূপে কল্পনা করিয়া থাকে। ‘পশ্চাৎ তু’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে কারিকার দ্বিতীয়ার্ধের ব্যাখ্যা করিতেছেন। এইভাবে প্রযােজ্য প্রযোজকবৃন্ধের শব্দ প্রয়ােগ, ব্যবহার এবং তন্মলক গােপ্রভৃতির আনয়ন দিরূপ কার্য প্রত্যক্ষ করিয়া গবাদিপদের গোত্বাদিবিশিষ্টে বৃদ্ধব্যবহামুলক শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হওয়ার পরে কালান্তরে উপমান প্রমাণ হইতে কিঞ্চিদ ধর্মবিশিষ্টে শক্তি উৎপন্ন হইয়া থাকে। কিতাবে উপমানপ্রমাণ হইতে শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হয়, তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য জগদীশ ‘বথা ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। “গবাদিপশক্তিধীসচিব্যেন” এই অংশের “গবাদিপদং গােত্বাদ্যবচ্ছিন্নে শক্ত- এই আকারের শক্তিজ্ঞান সহকারে-এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। তাৎপর্য এই যে, ন্যায়দর্শনে প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান ও শব্দ-এই প্রমাণচতুষ্টয় স্বীকৃত হইয়াছে। তৃতীয় প্রমাণ উপমান। সংজ্ঞাসংজ্ঞীর সম্বন্ধনকে ভাষ্যকার বাৎস্যায়ন উপমিতি বলিয়াছেন। বাচস্পতি মিশ্র এবং নবীন সম্প্রদায় উক্ত সংজ্ঞা-সংজ্ঞি সম্বন্ধকে বাচ্যবাচক ভাবরূপে গ্রহণ করিয়াছেন। সংজ্ঞা পদের অর্থ গয়াদি শব্দ। সং’িপদের দ্বারা গয়াদিরূপ পদার্থ গৃহীত হইবে। এতদুভয়ের সম্বন্ধ, বাচ্য-ৰাচকতাব অর্থাৎ শক্তি। সুতরাং “গয়ে শরয়পদ- বাচ্য:’-এই আকারে গৰয়ত্ববচ্ছিন্নবিশেষ্যক গৰয়পদবাচ্যত্বপ্রকারক যে যথার্থ অৰধারণ, ইহাই উপমান প্রমাণের ফলীভুত উপমিতি। উপমিতির করণ কে হইবে-এই সম্বন্ধে নৰীন ও সাম্প্রদায়িক মতে কিছু বৈষম্য আছে। সাম্প্রদায়িক মতে--কোনও গ্রামীণ পুরুষের গবয় কাহাকে বলে’ (কো গবয়ঃ) এই প্রশ্নের উত্তরে অভিজ্ঞ আরণ্যক পুরুষ কর্তৃক ‘গােসদৃশ জন্তু গৰয়পদের দ্বারা অভিহিত হইয়া থাকে’(গােসদৃশে। গৰয়পদবাচ্য) এইরূপ বাক্য প্রয়ােগের ফলে গ্রামীণ পুরুষের গােসাদৃশ্যবিশিষ্টে গৰয় পদবাচত্বকারক যে ক্যাৰ্থবোধ উৎপন্ন হয়, উক্ত বাক্যাৰ্থবােধ উপমিতির করণ হইয়া থাকে। পরে ঐ গ্রামীণ ব্যক্তি কোনও একটি গােসদৃশ জন্তুকে দর্শন করে। এই দর্শনের আকার হইবে— सायंकड़नाम्नि शक्तिमाहकवर्णनम् বয়ং পােশ। এই দর্শনকেই সাম্প্রদায়িকগণ উপমিতির সহকারী কারণ বলিয়া বীকার করেন, তাদৃশ সাদৃশ্যদর্শরূপ উদবােধকের দ্বারা গােসদৃশে। গৰয়পদবাচ্য’-এই আকারের অতীত ৰক্যাৰ্থ-বােধজনিত সংস্কার উদ্বুদ্ধ হওয়ায় তাদৃশ অতিদেশবাক্যার্থের বরণ হইয়া থাকে। এই অতিদেশবাক্যার্থ শরণই উপমিতিতে ব্যাপার বলিয়া বীকৃত হইয়াছে। উক্ত “রণের অব্যবহিত পরেই ‘গবয়ে। গবয়পদবাচ্য' এই আকারের গৰয়ত্ববিশিষ্টে গৰয়পদের বাচত্বরূপ শক্তিগ্রহ হইয়া থাকে। নবীনমতে অতিদেশ বাক্যার্থবােধ পরম্পরায় কারণ হইলেও উপমিতির করণ নহে। তাহারা গবরূপপিণ্ডে গােসাদৃশ্য দর্শনকে উপমান প্রমাণ স্বীকার করেন। ব্যাপার কিন্তু এই মতেও অতিদেশ বাক্যার্থস্মরণই হইবে। ফল অর্থাৎ উপমিতি ‘গবয়ে গবপদবাচা এই আকারের শক্তিজ্ঞান। যদিও গায়বিশেষে সাদৃশ্যজ্ঞান হইয়া থাকে তথাপি ফলীভূত উপমিতি কিন্তু লাঘবতঃ গবয়ত্বৰূপ সামান্য ধর্মাবচ্ছিন্নে শক্তিজ্ঞান উতয়মতেই স্বীকৃত। এই অভিপ্রায়ে জগদীশ বলিতেছেন ‘গােসদৃশে গবপদবাচ্য' ইত্যাদি। তাৎপর্য এই যে, উপমিতির কারণ উক্ত অতিদেশবাক্যাৰ্থবােধ হইতে গেলে বৃদ্ধব্যবহারজনিত গবাদিপদের শক্তিজ্ঞান সহকারে ‘গােসদৃশে। গৰয়পদবাচ্য: এইরূপ অতিদেশ বাক্য জ্ঞান হইতে গােসাদৃশ্যবিশিষ্টে গবয়পদবাচ্যত্বপ্রকারক উক্ত বাক্যাৰ্থবােধ হইবে। উক্ত বাক্যার্থ- স্মরণের মাধ্যমে ‘গবয়ে। গবয়পদবাচ্য' এই আকারের উপমনপ্রমাণমূলক শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইবে। मूलम् क्वचिच्च व्याकरणात्, यथा 'कर्मणि द्वितीया', 'कर्तरि परस्मैपद- मित्याद्यनुशासनात् कर्मत्वादौ द्वितीयादेः। कचित् कोपादपि, यथा "गुणे शुक्लादयः पुंसि गुणिलिङ्गास्तु तद्वति"। "शीतं गुणे तद्वदर्थाः হীমঃ য়িয়ািৰী অৰু”। “নূর্য দীঃ শথিলজ্জিী মূমালাকুল” इत्यादिकोषेभ्यः श्वत्यादौ शुक्लादिशब्दस्य । कचिद् विवरणादपि, यथा-पचति पाकं करोतीति तुल्यार्थकवाक्यात् कृत्यादौ तिडादेः । क्वचित् प्रसिद्धार्थकशब्दसामानाधिकरण्यादपि, यथा 'नीरूपस्पर्शवान् वायुनिस्पर्श मूर्तिमन्मन' इत्यादौ रूपशून्यस्पर्शवदादिषु वाय्वादिपदस्य, वायुत्वादिजा- तेरतीन्द्रियत्वेन स्वरूपतस्तदवच्छिमस्यानुपस्थित्या तत्र शकिगहायोगात्, १२ शब्दशक्तिप्रकाशिका যখা আ—“মনুলৰ কলা বলঃ ভূক্তৰ সূৰ” হনুফ- रीत्या कन्यादात्रादिषु कूकुदादिपदस्य । "इह सहकारतरौ मधुरं रौति पिक" इत्यादिकन्तु न युक्तमुक्तक्रमेण शक्तिगहस्योदाहरणं तिङर्थे धर्मिण्य- भेदेन नामार्थान्वयस्याव्युत्पन्नत्वात् , प्रत्यक्षसिद्धकोकिलत्वजात्यवछिन्न एव लाघवेन पिकशब्दस्य शक्त्यवच्छेदाच्च । অনুবাদ কোনও স্থলে ব্যাকরণ হইতে (শক্তিগ্রহ হইয়া থাকে, যেরূপ ‘কর্মণি দ্বিতীয়া’ ‘করি পরস্মৈপদম্ ইত্যাদি অনুশাসন অনুসারে কর্মত্ব প্রভৃতিতে দ্বিতীয়া বিভক্তির (শক্তিগ্রহ হইয়া থাকে)। আবার স্থলবিশেষে কোষ হইতে ও শক্তিগ্রহ হয়। যেরূপ ‘গুণবােধক শুরু শব্দ পুংলিঙ্গে এবং গুণিবােধক শুক্লাদি- শব্দ গুণিগত লিঙ্গে প্রযুক্ত হইয়া থাকে, ‘গুণবোধক শীত শব্দ ক্লীবলিঙ্গে এবং শৈত্যবিশিষ্ট অর্থের বােধক সুশীম, শিশির এবং জড়শব্দ পুংলিঙ্গে প্রযুক্ত হইবে, ‘চূর্ণ অর্থে ক্ষোদশব্দ ও অত্যন্ত আকুল অর্থে সমুৎপিঞ্জ এবং পিঞ্জল শব্দ পুংলিঙ্গে প্রযুক্ত হইবে’--এই সকল কোষবাক্য হইতে শৈত্যাদিরূপ অর্থে শুক্ল প্রভৃতি শব্দের শক্তিগ্রহ হইবে। কোনও স্থলে বিবরণ হইতেও শক্তিগ্রহ হইয়া থাকে। যেরূপ ‘পচতি' এই শব্দটি প্রয়ােগ করিবার পরে পাকং কয়রাতি এইরূপ তুল্যার্থক বিবরণবাক্য হইতে তিঙ, বিভক্তির প্রযত্নরূপ অর্থে শক্তিগ্রহ হইয়া থাকে। আবার স্থল- বিশেষে প্রসিদ্ধার্থক শব্দের সমানাধিকরণ্য অর্থাৎ সান্নিধ্যবশতঃ শক্তিগ্রহ হয়। যেরূপ ‘নীরূপম্পৰ্শবান বায়ু’, ‘নিস্পর্শং মূর্তিমন্মনঃ এই সকল স্থলে রূপশূন্য স্পর্শ- বিশিষ্টে বায়ুপদের ও স্পর্শশুন্য মূর্তপদার্থে মনঃপদের (প্রসিদ্ধপদের সন্নিধান- বশতঃ ) শক্তিগ্রহ হইয়া থাকে। বায়ুত্ব-জাতি বা মনত্ব-জাতি অতীন্দ্রিয় হওয়ায় স্বরূপতঃ বায়ুত্ববিশিষ্টের বা মনবিশিষ্টের উপস্থিতি সম্ভবপর নহে বলিয়া শুদ্ধ বায়ুত্ববচ্ছিন্নে বা মনত্বাবচ্ছিন্নে শক্তিগ্রহ হইতে পারে না। অথবা, সৎকার সহকারে যিনি অলঙ্কত কন্যা দান করেন, সেই কন্যা দাতাকে কুকূদ বলা হয়- এই সকল (শাস্ত্রীয় ) বাক্য হইতে (সৎকৃত্য প্রভৃতি পদের সন্নিধানবশত) কূকুদ প্রভৃতি পদের কন্যাদাতা প্রভৃতি অর্থে শক্তিগ্রহ হইয়া থাকে। এখানে আম্রবৃক্ষে পিক মধুর ধ্বনি করিতেছে”-এখানে আবৃক্ষরূপ প্রসিদ্ধপদের সান্নিধ্য- सार्यकशब्द रूढ़नाम्नि शक्तियाहकवर्णनम् ৭ বশতঃ ‘পিক’ শব্দের কোকিলে শক্তিগ্রহ হয়—ইহা যাহা বলেন, তাহা সঙ্গত নহে। এই বাক্যটি( ‘ইহ সহকারতরৌ মধুরং রৌতি পিকঃ) প্রসিদ্ধ পদসান্নিধ্যের উদাহরণ হইতে পারে না, কারণ—তি, প্রত্যয়ের অর্থ যে কর্তা, তাহাতে অভেদসম্বন্ধে নামাৰ্থের অন্বয় ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ নহে। (আরও বক্তব্য প্রত্যক্ষসিদ্ধ যে কোকিলত্ব জাতি, তদবিশিষ্টে লাঘববশতঃ ‘পিক’ শব্দের শক্তিনিশ্চয় সম্ভবপর হওয়ায় উক্ত বাক্যটি প্রসিদ্ধ পদসান্নিধ্যপ্রযুক্ত শক্তিগ্রহের উদাহরণ হইতে পারে না। বিবৃতি ব্যাকরণ হইতে শক্তি গ্রহের উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য কচিচ্চ ব্যাকরণাৎ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। ব্যাক্রিয়ন্তে, বুৎপাদ্যন্তে শব্দ। অনেন'—এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে ব্যাকরণ’ শব্দটির শব্দানুশাসনরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। মহর্ষি পতঞ্জলিও তাহার মহাভাবে প্রারম্ভে বলিয়াছেন—“অথ শব্দানুশাসনমূ।” ‘কর্মণি দ্বিতীয়। এখানে কর্ম পদটি এবং ‘করি পরস্মৈপদম্ এখানে কর্তৃপদটিও ভাবপ্রধানরূপে নির্দিষ্ট হওয়ায় ‘কমপদের কর্মত্বরূপ অর্থ এবং কর্তৃ পদটিও কর্তৃত্ব অর্থাৎ কৃতিরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। দ্বিতীয়াদে এই আদিপদের দ্বারা তৃতীয়া বিভক্তি এবং পরস্মৈপদ প্রভৃতি গৃহীত হইবে। তাৎপর্য এই যে, উপমান প্রমাণ হইতে যেরূপ ‘গবয়’ প্রভৃতি পদের শক্তি গ্রহ উৎপন্ন হয়, সেইরূপ দ্বিতীয়া বিভক্তির বিধায়ক ‘কর্মণি দ্বিতীয়, তৃতীয়া বিভক্তির বিধায়ক ‘করণে তৃতীয় এবং পরস্মৈপদাদির বিধায়ক ‘করি পরস্মৈপদম্ এই সকল বৈয়াকরণ অনুশাসন হইতে দ্বিতীয় বিভক্তির কর্মত্বৰূপ অর্থে, তৃতীয় বিভক্তির কারণত্বরূপ অর্থে, তিপ, তস প্রভৃতি পরস্মৈপদী বিভক্তি প্রভৃতির কর্তৃত্ব প্রভৃতি অর্থে শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইয়া থাকে। কোষ বাক্যজনিত শক্তি গ্রহের উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য “কচিৎ কোষাদপি” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। কোষাদপি’ অর্থাৎ কোষ বাক্য হইতে, এই পঞ্চমী বিভক্তির অর্থ অনুষঙ্গক্রমে পূর্বকথিত শক্তিগ্রহের সহিত অন্বিত হইবে। জগদীশ অমরকোষের তিনটি বাক্য শক্তিগ্রাহকরূপে উল্লেখ করিয়াছেন। প্রথম বাক্যটি গুণে শুক্লাদয়ঃ পুংসি” ইত্যাদি। ইহার অর্থ-শুক্ল, নীল, পীত প্রভৃতি শব্দ রূপের বােধক ১। “গুণে শুক্লাদয়: পুংসি গুণি লিঙ্গান্তু তদ্বতি ইত্যাদি কোষবাক্য হইতে জগদীশ যে ৩ প্রভৃতি পদের শুক্লাদি গুণবিশিষ্টে শক্তি গৃহীত হয় বলিয়াছেন ইহা কিন্তু বিশ্বনাথ এবং গদাধর প্রভৃতি নবীনদের সম্মত নহে। বিশ্বনাথ স্বকৃত সিদ্ধান্তমুক্তাবলী টীকায় এবং গদাধর ভট্টাচার্য স্বকৃত ব্যুৎপত্তিবাদ গ্রন্থে এই কোষকামতের প্রতিবাদ করিয়া বলিয়াছেন—“গুণিলিঙ্গান্তু তদ্বতি” এই কোষবাক্য হইতে শুক্লাদিরূপবিশিষ্টে শুক্লাদিপদের শক্তি গৃহীত হয়, এই মতবাদ নৈয়ায়িকসম্মত নহে; কারণ শুরুনীলাদিপদের ৭Y शब्दशक्तिप्रकाशिका হইলে ‘শুক্লো বর্ণ: এইরূপে শুরু প্রভৃতি শব্দ পুংলিঙ্গে বিহিত হইবে। সুতরাং কোষবাক্য হইতে শুরু, নীল প্রভৃতি শব্দের গুণ' অর্থাৎ শুরুরূপ, নীলরূপ প্রভৃতি অর্থে শক্তিগ্রহ হইবে। আবার যখন শুক্ল প্রভৃতি শব্দ শুকুরূপাদিবিশিষ্টের বােধক হইবে, তখন ক্লো ঘট, নীলঃ পট প্রভৃতি স্থলে শুরু, নীল প্রভৃতি শব্দ শুনীলাদি রূপবিশিষ্টের বােধক হওয়ায় গুণী যে ঘট-পটাদি তগত লিঙ্গ অনুসারে প্রযুক্ত হইবে। অতএব ‘গুণিলিঙ্গান্তু তদতি’ এই কোষবাক্য হইতে শুক্লাদিপদের শুক্লাদিরূপবিশিষ্টে শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইবে। টীকাকার কৃষ্ণ কান্ত বিদ্যাবাগীশ এলে ‘গুণে’-এই সপ্তম্যন্ত গুণপদটির সার্থকতা প্রদর্শন প্রসঙ্গে বলেন-যেস্থলে গুণত্ব উদ্দেশ্যতাবচ্ছেদকরূপে আসমান হইবে, তাদৃশস্থলেই শুরু প্রভৃতি শব্দ পুংলিঙ্গে যুক্ত হইবে। এই অতি প্ৰায়েই সমী বিভক্ত্যন্ত গুণে' এই পদটি প্রযুক্ত হইয়াছে। দীধিতি কারও যে, নঞ বাদে ‘রক্তং রূপং নাস্তি” এইরূপ প্রয়ােগ করিয়াছেন, সেখানেও ‘রক্ত’ পদের অব্যবহিতােত্তরবতী রূপ পদটি উদ্দেশ্যবােধক নহে, পরন্তু রক্তত্ব ধর্মটি উদ্দেশ্যতাবচ্ছেদক হওয়ায় ‘রক্ত’ পদটি উদ্দেশ্যবােধক বুঝিতে হইবে। সুতরাং শুক্লো গুণঃ” ইত্যাদিস্থলেও ‘গুণ’ পদ উদ্দেশ্য- বােধক, ‘গুণে শুক্লদিয়া ইত্যাদি কোষের দ্বারা ইহাই প্রতিপাদিত হইয়াছে। এই নিয়মের ব্যতিক্রম ব্যক্ত করিবার জন্য জগদীশ বলিতেছেন, ‘শীতং গুণে তদ্বদৰ্থা: সুশীমঃ শিশিরে জড়:' অর্থাৎ—‘শী ত’ প্রভৃতি শব্দ গুণবােধক হইলেও ক্লীবলিঙ্গ হইবে। সুতরাং ‘শীত প্রভৃতি শব্দ যখন গুণবােধক হইবে, তখন শৈত্য প্রভৃতি গুণরূপ অর্থে বাচক হইৰে। সেই সকল শব্দের দিগদর্শন করিবার জন্য কোষকার বলিয়াছেন, ‘সুশীমঃ শিশিরো এখন আমরা বুঝিতে পারি ‘শীত’ শব্দটি গুণবােধক হইয়া ক্লীবলিঙ্গে প্রযুক্ত হইলে শীত শব্দের অর্থ হইবে শৈত্যরূপ গুণ। উক্ত অর্থে তাদৃশ কোষবাক্য হইতে ‘শীত’ পদের শক্তি গৃহীত হইবে। এবং শৈত্যবিশিষ্টের বােধক ‘সুশীম’, ‘শিশির’, ‘জড়’ এই তিনটি শব্দের কোষবাক্যানুসারেই শৈত্যবিশিষ্টরূপ (গুণী) অর্থে শক্তি গৃহীত হইবে। জগদীশ ‘চূর্ণে ক্ষোদঃ সমুৎপিঞ্জশিঞ্জলো শকুলে’-এই কোষ বাক্যটি উদ্ধৃত করিয়াও চূর্ণ অর্থে ক্ষোদ’ শব্দের এবং অতিশয় আকুল অর্থে ‘সমুংপিঞ্জ’ ও ‘পিঞ্জল' এই দুইটি শব্দের উক্ত কোষবাক্যাধীন শক্তি গৃহীত হইবে বলিয়া সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। প্রথম দুইটি কোষবাক্যে গুণের প্রসঙ্গ অবতারণা করিয়া পরে গুণাতিরিক্তে শক্তিগ্রহের উদাহরণ রূপে তৃতীয় কোষবাক্যটি গ্রহণ করা হইয়াছে। চূর্ণ’-দ্রব্যবিশেষরূপে, এবং আকুলতা মনঃক্রিয়ার বোধক রূপে গৃহীত হইবে । শ্বৈত্যাদে শুক্লাদিশ’ এখানে প্রথম ‘আদি’ পদের দ্বারা নীলিমা প্রভৃতিরূপ গৃহীত হইবে। দ্বিতীয় আদি পদের দ্বারা ‘নীল প্রভৃতি শব্দকে গ্রহণ করিতে হইবে। ষষ্ঠী বিভক্ত্যন্ত শুক্লাদিশব্দের অনুষঙ্গক্রমে পূর্বকথিত শক্তিগ্রহের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। নানা শক্তি কোথাও কল্পিত হয় নাই। সুতরাং ‘শুরু’প্রভৃতি শব্দ তরূপ প্রভৃতি অর্থের বাচক হইবে এবং গুণিবােধক হইলে, অর্থাৎ শুরুরূপাদি বিশিষ্টের বােধক হইলে তাদৃশ অর্থে শুক্লাদিপদের লক্ষণাই স্বীকৃত হইবে।
सार्यकशन्दे नाम्नि शक्तिमाहकवर्णनम् শক্তিগ্রহের বিবিধ উপায়ের মধ্যে বিবরণত একটি উপায়। বিবরণ' শব্দের বারা প্রকৃত বাক্যাৰ্থবােধের অনুকুল মুস্পষ্ট তুল্যার্থক বাক্যন্তির কথনকেই বুঝিতে হইবে। বিরণের উদাহরণ প্রসঙ্গে জগদীশ বলিতেছেন—‘পচতি এই বাক্যটির ‘পাক করােতি —এইরূপ বিবরণ অর্থাৎ তুল্যার্থক বাক্যান্তর হইতে ‘পচ' ধাতুর উত্তরবর্তী তিঙাদি- প্রত্যয়ের কতি প্রভৃতি অর্থে শক্তি গৃহীত হয়। তিঙাদে’-এই ষষ্ঠ্যন্ত তিঙালি পদেরও অনুষঙ্গক্রমে পূর্বোপস্থাপিত শক্তিগ্রহের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। এইভাবে বিবরণকে শক্তিগ্রহের উপায়রূপে প্রতিপন্ন করিয়া তুলবিশেষে এসিার্থক শব্দের সমানাধিকরণ্য হইতেও যে শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হয়, তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য দৃষ্টান্ত- স্বরূণে নীরূপস্পর্শবান্ বায়ু ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। জগদীশ যে প্রসিদ্ধ পদের সমানাধিকরণ্যকে শক্তিগ্রহের উপায় বলিয়াছেন, উক্ত সামানাধিকরণ্য পদের দ্বারা উত্তরকাল ও পূর্বকালকে পরিহার করিয়া বর্তমান কাল অন্তর্ভাবে সামানাধিকরণ্য বুঝিতে হইবে। সুতরাং ‘নীরূপ এবং স্পর্শবৎ এই দুইটি শব্দের সমানাধিকরণ্য অর্থাৎ কালিকসম্বন্ধে স্বাধিকরণ যে কাল তন্নিরূপিত কালিকসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন বৃত্তিত্বৰূপ পূর্বোক্ত প্রসিদ্ধ পদদ্বয়ের সমানাধিকরণ্য ‘বায়ু’পদে থাকায় ‘বায়ু’পদের রূপৰহিত, অথচ স্পর্শবিশিষ্ট দ্রব্যবিশেষে শক্তিগ্রহ হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে প্রাচীন মতে বায়ুর প্রত্যক্ষ বীকৃত না হলেও রঘুনাথ শিরােমণি তাহার নবীন সিদ্ধান্তে (পদার্থতত্ত্বনিরূপণ গ্রন্থে) বায়ুর প্রত্যক্ষত্ব স্বীকার করিয়াছেন। সুতরাং এই নবীন মতে যখন প্রত্যক্ষ প্রমাণ হইতেই ‘ৰায়ু’পদের রূপশূন্য- স্পর্শৰিশিষ্টে শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইতে পারে, তখন প্রকারান্তরে অর্থাৎ প্রসিদ্ধ পদসমানাধি- করণ্যকে শক্তিগ্রহের উপায় কল্পনা করা নিরর্থক। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে জগদীশ ‘নীরূপ’–ইত্যাদি প্রথম স্কুলটি পরিহার কবিয়া ‘নিঃস্পর্শং মৃতিমন্মন—এই লান্ত। অনুসরণ করিয়াছেন। মনের প্রত্যক্ষত্ব নব্য বা প্রাচীনকাহারও সম্মত নহে। সুতরাং মনত্ব জাতিও প্রত্যক্ষের অযােগ্য হওয়ায় প্রত্যক্ষ প্রমাণমূলে মন জাতিবিশিষ্টে মন পদের শক্তিগ্রহ সম্ভবপর নহে। সুতরাং নিঃস্পর্শমূর্তিমৎ' এই পদদ্বয়েই সান্নিধ্যরূপ সামানাধিকরণ্য হইতে স্পর্শশূন্যত্বসমানাধিকরণমূতত্ববিশিষ্টে মন: পদের শক্তিগ্রহ যে উৎপন্ন হয়, ইহা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। ১। টীকাকার কৃষ্ণকান্ত এলে সামানাধিকরণ্য পদের স্বাব্যবহিত পূর্বোত্তন্য- কালাচ্ছির সামানাধিকরণ্যরূপ অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন। অচ্ছিন্ন’ এখানে কালগত অবচ্ছেদকতা অধিকৰণতাবিশেষ বুঝিতে হইবে। ২। কৃষ্ণকান্তু যে বলেন যেহেতু প্রাচীনমতে বায়ুর প্রত্যক্ষ স্বীকৃত এইজন্য গুলান্তর অনুসরণ করা হইয়াছে। বৈশেষিক দর্শনে ‘স্পর্শ বায়াে’ এই সূত্রের দ্বারা এবং প্রশস্তপদভাষ্যের ‘স্পর্শশব্দ ধৃতিকম্পলি ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে বায়ুর অনুমেয়ত্বই প্রাচীন স্যায়-বৈশেষিক সিদ্ধান্তে প্রতিপাদিত হইয়াছে পরন্তু কুত্রাপি বায়ুর প্রত্যক্ষ স্বীকৃত হয় নাই। সুতরাং কৃষ্ণকান্তের এই উক্তিটি আমরা সমীচীন মনে করি না।
৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका এখন প্রশ্ন হইতে পারে—বিভিন্ন শাস্ত্রে ‘বায়ু পদের উল্লেখ থাকায় ‘বায়ু’পদকে প্রসিদ্ধ পদরূপে গণ্য করা হইবে না কেন? যদি ইষ্টাপত্তি করা হয়, তাহা হইলে নিজের সান্নিধ্যবশে বায়ুপদের শক্তিগ্রহ স্বীকার করা যাইতে পারে। সুতরাং শক্তিগ্রহের উপায় রূপে ‘নীরূণ' প্রভৃতি পদকে প্রসিদ্ধ পদরূপে গ্রহণ করা হইয়াছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর প্রসঙ্গে বায়ু যে প্রসিদ্ধ পদ নহে, ইহা হল প্রতিপাদন করিবার জন্য ‘বায়ুাদিজাতের তীন্দ্রিয়ত্বেন’ ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, তত্তৎ ইন্দ্রিয়ের গ্রহণযােগ্য-ব্যক্তিগত যে জাতি, তাহাই তত্তৎ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা যেহেতু গৃহীত হইয়া থাকে, অতএব বায়ু অতীন্দ্রিয় হওয়ায় বায়ুত্বাদি জাতিও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নহে, ফলে স্বরূপত বায়ুত্বাবচ্ছিন্নের উপস্থিতি না থাকায় স্বরূপতঃ বায়ুত্বাবচ্ছিন্নে শক্তিগ্রহ সম্ভবপর নহে। যদিও ‘বায়ু’পদ প্রসিদ্ধ বটে, তথাপি শুদ্ধ বায়ুত্বপুরস্কারে বায়ুপদার্থের উপস্থিতি না থাকায় শক্তিগ্রহ হইতে পারে না। কারণ স্বরূপতঃ তদ্ধর্মগত প্ৰকাতার প্রতি স্বরূপতঃ শক্তি গ্রহনিরূপিত বিশেষ্যতার অবচ্ছেদকত্ব প্রযােজক হইয়া থাকে। সুতরাং ‘বায়ু পদ প্ৰসিদ্ধার্থক পদরূপে গৃহীত হইলেও তাহার সমানাধিকরণ্য বায়ুত্বপ্রকারক শাবােধের উপযােগী নহে। ‘আদি’ পদের দ্বারা মনাদি জাতিকে গ্রহণ করিতে হইবে। রঘুনাথ শিরোমণির মতে অণু পরিমাণ নবম দ্রব্য মন স্বীকৃত নহে। সুতরাং তাহার মতে পার্থিবাদি ব্রসরেণুস্বরূপ স্বীকৃত মন চক্ষুরিন্দ্রিয়াদির দ্বারা প্রত্যক্ষ হইতে পারে। অতএব প্রত্যক্ষসিদ্ধ সরেণুত্বপুরস্কারে মনঃপদের শক্তি প্রসিদ্ধ-পদসান্নিধ্য ব্যতিরেকেও গৃহীত হইতে পারে। এইরূপে দ্বিতীয় কল্পটিও প্রসিদ্ধ-পদসান্নিধ্যবশত: শক্তি গ্রহের সর্ববদি- সম্মত উদাহরণ না হওয়ায় ‘যথা বা ইত্যাদি তৃতীষ কল্প অনুসরণ করিতেছেন। ‘সৎকৃত্যালঙ্কতার কন্যাং দদানঃ কুকুদঃ খৃত:--এই কারিকাংশের মাধ্যমে, সৎকারপূর্বক অলঙ্কত কন্যাকে যিনি দান করেন, তাদৃশ কন্যাদাতা কুকুদ নামে অভিহিত হইয়া থাকেন ইহা বলা হইয়াছে। এখানে কুকুদ পদের শকতার অবচ্ছেদক তাদৃশ বিশিষ্ট-কন্যাদাতৃত্বরূপ ধর্মটি অতীন্দ্রিয় কালঘটিত হওয়ায় অতীন্দ্রিয় হইয়াছে। সুতরাং প্রত্যক্ষ প্রমাণমূলে ‘কুকুদ’ পদের শক্তিগ্রহের সম্ভাবনা না থাকায় এখানে প্রসিদ্ধ পদসান্নিধ্যভিন্ন অন্য কোনও উপায় হইতে শক্তিগ্রহ সম্ভাবিত নহে। ‘ইহ সহকারতরে। মধুর রোতি পিক'—গঙ্গেশ উপাধ্যায় প্রদর্শিত প্রসিদ্ধ পদ- সান্নিধ্যের এই উদাহরণ সিদ্ধান্তমুক্তাবলী’ প্রভৃতি গ্রন্থে বিশ্বনাথ ন্যায়পঞ্চানন প্রভৃতি পরবর্তী নৈয়ায়িকগণ কর্তৃক পরিগৃহীত হইয়াছে। জগদীশ উক্ত উদাহরণ খণ্ডন করিবার জন্য ইহ সহকারতরে ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিয়াছেন। উদাহরণটি প্রসিদ্ধ পদসান্নিধ্যের উদাহরণরূপে গৃহীত হইবে না, ‘ধর্মিণি ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা তাহা বলা হইয়াছে। তাৎপর্য এই যে, ইহ সহকারতরে মধুরং নৌতি পিক'—এই বাক্যজ্ঞান হইতে, যে (পক্ষীবিশেষ) সহকারতরুরূপ অধিকরণে মধুর বুব করিতেছে, সেই (পী বিশেষ) ‘পিক' পদবাচ্য হইবে-এইরূপ বােধ হইয়া কেন উক্ত सार्थकशब्द रूहनाम्नि शक्तिप्राहकवर्णनम् ৭০ থাকে। বৈয়াকরণমতে আখ্যাবিভক্তির কৃতিবিশিষ্ট শক্তি স্বীকৃত হওয়ায় আখ্য।তার্থ যে কর্তৃরূপ ধমী, তাহাতে ‘পিক’ পদের বাচ্য যে কোকিল তাহার অভেদসম্বন্ধে অন্বয়বােধ হইতে পারে না। কারণ আখ্যার্থের সহিত সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নামর্থের অম্বয় ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ নহে। বৈয়াকরণমত অনুসরণ করিয়াই জগদীশ ‘ইহ সহকারে ইত্যাদি মণিকারসম্মত উদাহরণটিকে খণ্ডন করিয়াছেন। ন্যায়মতে কিন্তু কৃতিবিশিষ্ট আখ্যাতবিভক্তির শক্তি কল্পিত হয় নাই। পরত কৃতিতেই শক্তি স্বীকৃত হইয়াছে। তদনুসারে ‘তিৰ্থে ধর্মিণি’-ইহার, তিঙর্থ যে কৃতি, তদবিশিষ্ট ধর্মীতে—এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। তাদৃশ ধর্মীতে অতেদসম্বন্ধে কেন নামাৰ্থের অন্বয় হইবে না। এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে—কৃত্যবচ্ছিন্ন-বিশেষক অন্বয়বােধের প্রতি নামপদজন্য কৃতিবিষয়ক উপস্থিতি অথবা তিও ভিন্নপদজনিত কৃতিবিষয়ক উপস্থিতি কারণ। এইরূপ কার্য-কারণভাব কল্পিত হওয়ায় আলােচ্যস্থলে নামপদ হইতে বা তিতিঃ পদ হইতে কৃতির উপস্থিতি না থাকায় তাদৃশ কৃত্যবচ্ছিন্নবিশেষ্যক অভেদসম্বন্ধে পিকপদবাচ্যত্বপ্রকার অন্বয়বোধ সম্ভবপর নহে। যদি উক্ত কার্য-কারণভাব স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে ‘পাচকো গচ্ছতি’–এইস্থলে যেরূপ পাককৃত্যবচ্ছিন্নে গমনানুকুল কৃতির অন্বয় হইয়া থাকে, তদ্রুপ ‘পচতি’, ‘গচ্ছতি’ এই হলেও ‘পচতি’-এই তিঙন্ত পদের ঘটক তিঙ, প্রত্যয়ের অর্থ যে কতি, তদবচ্ছিন্নবিশেষ্যক গমনানুকূল কৃতিপ্রকারক অষয়বােধের আপত্তি হইতে পারে। পচতি’, ‘গচ্ছতি এইরূপ বাক্যজনিত পাককৃত্যবচ্ছিন্নবিশেষ্যক অধ্যয়বােধ কিন্তু স্বীকৃত নহে। মণিকারের সমর্থকগণ উক্ত খণ্ডনের প্রতিবাদে বলিতে পারেন—“চৈত্র: পচতি চৈত্ৰত্বং' ইত্যাদি ন্যায়বাক্যজনিত মহাবাক্যার্থবােধ মণিকার স্বীকার করেন, সুতরাং নামপদজন বা তিন্নি পদজন্য:কৃতির উপস্থিতিরূপ কারণ না থাকিলেও তিও,পদজনিত উপস্থিতিমূলে ‘চৈত্রঃ পচতি ইত্যাদি ন্যায়বাক্য হইতে কৃত্যবচ্ছিন্নবিশেষক অম্বয়ৰােধ উৎপন্ন হওয়ায় উক্ত কার্য-কারণব মণিকারের মতে স্বীকৃত হইতে পারে না। অতএব ইহ সহকাৰতৰেী' ইত্যাদি বাক্য হইতেও কৃত্যবচ্ছিন্নবিশেষ্যক অভেদসম্বন্ধে পিকপদবাচ্যপ্রকারক অন্বয়বােধ হইতে পারে। উক্ত কার্য-কারণভাব অঙ্গীকৃত না হইলেও এই উদাহরণ যে গ্রহণযােগ্য হইবে না, ইহা প্রদর্শন করিবার জন্য জগদীশ ‘প্রত্যক্ষসিদ্ধ’ ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা দোষান্তর প্রদর্শন করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে, পিকপদার্থ চাক্ষুষাদি প্রত্যক্ষগােচর হওয়ার ফলে তগত পিকত্ব (কোকিত্ব) জাতি ও অবশ্যই প্রত্যক্ষসিদ্ধ হইবে। সুতরাং প্রসিদ্ধ পদসান্নিধ্যবশতঃ পিকপদের শক্তিগ্রহ অপেক্ষা লাঘববশতঃ এত্যসিদ্ধ কোকিত্বজাত্যবচ্ছিন্নেই পিকশব্দের শক্তি নিশ্চিত হইবে। পরন্তু সহকারবৃক্ষাধিকরণক-মধুরৱবণকর্তৃত্বরূপ গুরুধর্মাবচ্ছিন্নে পিকপদের শক্তিগ্রহ স্বীকৃত হইতে পারে না। অতএব, উক্ত উদাহরণ এসিদ্ধ পদসান্নিধ্যপ্রযুক্ত শক্তিগ্রহের উপযােগ নহে।
१५ शब्दशक्तिप्रकाशिका : मूलम् क्वचिद्वाक्यशेषादपि, यथा यवपदस्य कछुप्रभृतौ म्लेच्छानां, दीर्घ- शूके च शिष्टानां, व्यवहारादेकमात्रे शक्त: परिच्छेत्तुमशक्यत्वात् , नानार्थत्वस्य चान्याय्यत्वात् , “यवमयश्चरुर्भवतीति" श्रुतौ यवपदस्यार्थ- सन्देहे- 'वसन्ते सर्वशस्यानां जायते पत्रशातनम् । मोदमानास्तु तिष्ठन्ति यवाः कणिशशालिनः ।। इति विध्यर्थाकाझ्या प्रवर्त्तमानाद्वाक्यशेषाद्दीर्घशूक एव यवपदस्य शक्तिगहः, कणिशं शस्यमञ्जरी। यथा वा- यथा वा-"स्वाराज्यकामोऽनिष्ठोमेन यजेते"त्यादिविधिशेषीभूतेभ्यः- यन्न दुःखेन सम्भिन्न न च गस्तमनन्तरम् । अभिलाषोपनीतं च ततसुखं स्वःपदास्पदम् ॥ इत्यादिवाक्येभ्यः स्वरादिपदस्य ॥ २० ॥ অনুবাদ কোনও স্থলবিশেষে বাক্যশেষ হইতেও (শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হয়। যেমন- ‘যব’ পদের কঙ্গু প্রভৃতি অর্থে ম্লেচ্ছদের, এবং দীর্ঘশূকবিশেষরূপ অর্থে আর্যদের ব্যবহারের ফলে (অর্থাৎ ম্লেচ্ছগণ ধন্যবিশেষের প্রতিপাদকরূপেই এবং আর্যগণ দীর্ঘশূকবিশেষরূপ অর্থের বােধকরূপেই ‘যব’ পদের ব্যবহার করেন। সুতরাং ব্যবহার হইতে পূর্বোক্ত অর্থদ্বয়ের মধ্যে) একটি মাত্র অর্থে (যব’ পদের) শক্তি নিশ্চিত হইতে পারে না। (ঐ সকল পদস্থলে) নানাৰ্থ কল্পনা করাও উচিত নহে। (অতএব ) “বময় চরু উৎপন্ন করিতে হইবে” (যময়শ্চরুৰ্ভবতি’) এই প্রকার শ্রুতির অন্তর্গত ত্রুত ‘যব’ পদের অর্থসন্দেহ উপস্থিত হইলে “বসন্তকালে সকল শস্যের পত্র ঝরিয়া যায়, (তখন) শস্যমঞ্জরীর সহিত যুবসমূহ সানন্দে অবস্থিত থাকে”—বিধিবাক্যার্থের দ্বারা উত্থাপ্য আকাক্ষা (নিবৃত্তির জন্য) প্রযুক্ত এই বাক্যশেষ হইতে দীর্ঘশুকবিশেষেই যবপদের শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইয়া থাকে।
साकशब्दे सदनाम्नि शक्तिप्राहकवर्णनम् ৭ (কণিশশালিন'—এখানে) কণিশ’ শব্দটির শস্যমঞ্জরীরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। আবার—“রাজ্যকাম ব্যক্তি অগ্নিষ্টোম (নামধেয়) যাগ করিবেন” (স্বরাজ্য কামােইগ্নিষ্টোমেন যজেত) ইত্যাদি বিধায়ক বাক্যের পরিপূরক “যে (সুখ) দুঃখের সমানকালীন নহে, যাহা দুঃখের দ্বারা গ্রস্ত নহে, যে (সুখ) দুঃখ- প্রাগভাবের অসমানকালীন এবং অভিলাষমাত্রই উপনীত হয়, তাদৃশ সুখ ‘স্বর পদের প্রতিপাদ্য [ অর্থ ] হইবে”—এই সকল বিধিশেষ বাক্য হইতে ‘স্বর প্রভৃতি পদের (তাদৃশ অর্থে শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হয়)। বিবৃতি “কচিদবাক্যশেষাদপি” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে বাক্যশেষজনিত শক্তিগুহের মূল প্রদর্শন করিতেছেন। ম্লেচ্ছগণ কর্তৃক কঙ্গু প্রভৃতি অর্থে অর্থাৎ ধাবিশেষরূপ অর্থে ‘ব’ শব্দটি ব্যবহৃত হইয়া থাকে। কিন্তু শিগণ, যাহা যজ্ঞীয় চরুর উপকরণবিশেষ, তাদৃশ অর্থে ‘যব’ পদের ব্যবহার করিয়া থাকেন। সুতরাং আর্ষ ও ম্লেচ্ছ উতয়- সম্প্রদায়ই বিভিন্ন অর্থে ‘যব’ শব্দের ব্যবহার করেন। অতএব ময়শ্চর্ভবতি ইত্যাদি বাক্য, প্রযুক্ত হইলে, স্বভাবতঃই ‘যব’ পদের দীর্ঘশূকবিশেষরূপ অর্থে শক্তি গৃহীত হইবে—অথবা ধান্যবিশেষরূপ অর্থে (কতে) শক্তি গৃহীত হইবে—এইরূপ সন্দেহ উপস্থিত হয় । ইহাই জগদীশোক ‘অর্থসনেহ’ শব্দের দ্বারা প্রতিপাদন করা হইয়াছে। উক্ত সংশয় হওয়ায় পরে সন্দিগ্ধ ব্যক্তির সংশয়প্রযুক্ত তাদৃশ বিধিবাক্য শ্রবণের অনন্তর আকাঙ্ক্ষার অর্থাৎ জিজ্ঞাসার নিবৃত্তির অনুকুল, ‘বসন্তকালে সকল শস্যের পত্ৰ ঝরিয়া পড়ে কিন্তু শমঞ্জরীসমন্বিত যব (শবিশেষ) তখন সানন্দে অবস্থান করে (অর্থাৎ পুষ্ট অবস্থায় থাকে)—এইভাবে প্রযুক্ত বাক্যশেষরূপ উপায় হইতে ‘যব’ পদের শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হয়। ফলপাকান্ত তৃণসমূহকে শস্য বলা হইয়া থাকে। ধান, যব, গােধূম প্রভৃতি ইহার উদাহণ। শস্য' শব্দ তৃণ ও তাহার ফল—উভয় অর্থেই প্রযুক্ত হয়। জগদীশ যে বাক্যশেষাৎ' কথাটি ব্যবহার করিয়াছেন, এই বাক্যশে’ পদের বারা বিধিবাক্যের অন্তর্গত পদবিশেষে অর্থবিশেষের সংশয় উপস্থিত হইলে, বিধিবাক্যের অন্তর্গত উক্ত পদটি কোন্ অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে এই প্রকার জিজ্ঞাসা উপস্থিত হয়। এই জিজ্ঞাসার নিবর্তক অর্থবিশেষের শক্তিনিশ্চায়ক বাক্যকেই বাক্যশেষ বলা হয়। বাক্যশেষ অর্ধবাদ বাক্যের প্রকাবিশেষ। কারণ, স্তুতি ও নিন্দাবােধক বাক্য, যেরূপ বিধিবাক্য প্রয়ােগ- জনিত আকাঙ্ক্ষার নিবর্তক হইয়া থাকে, বাক্যশেষও অনুরূপভাবে প্রযুক্ত বিধিৰাক্য হইতে সমুদ্ভূত আকাঙ্ক্ষার নিবর্তক। ‘ব্যবহায়াৎ'—এখানে শক্তি গ্রহের অনুকুল ব্যবহারের অবগতির জন্য পঞ্চমী বিভক্তির প্রয়ােগ হইয়াছে। পরিচ্ছেত্তম’-এখানে পরিপূর্বক ছিদ ধাতুর নিশ্চয়প অর্থ বুঝিতে হইবে। “শকে ওই যষ্ঠীবিভক্তিযুক্ত শক্তি পদটি শক্তিপ্রকারত্বরূপ অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে।
शब्दशक्तिप्रकाशिका ‘ম্লেচ্ছনাং’ ও ‘শিষ্টানং' এই কর্তরি বিহিত ব্যস্ত পদদ্বয়ের প্রতিপাদ্য ম্লেচ্ছকর্তৃক এবং শিষ্টকর্তৃকত্ব–এতদুভয় ব্যবহার পদার্থে অন্বিত হইবে। ইহার ফলে ম্লেচ্ছকর্তৃক এবং শিষ্টকর্তৃক ‘স্ববপদের উক্ত দ্বিবিধ অর্থে ব্যবহারবশতঃ কেবলমাত্র প্রভৃতিতে অথৰ দীর্ঘশূকমাত্রে ‘যব’ পদের শক্তিনিশ্চয় করা সম্ভবপর নহে—ইহাই ‘যথা যৰপদস্য ইত্যাদি বাক্যের সমুদিত অর্থ প্রতীয়মান হইবে। এখন জিজ্ঞাসা হইতে পারে—যব’ প্রভৃতি পদস্থলে প্রত্যক্ষপ্রমাণমূলে শক্তিগ্রহ যখন উৎপন্ন হইতে পারে, তখন বাক্যশেষের শক্তিগ্রাহকত্ব অঙ্গীকার করা অযৌক্তিক হইবে না কেন? এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণমূলে যেখানে শক্তিগ্রহ সম্ভব নহে, সেখানে বিবরণ হইতে অথবা প্রসিদ্ধ পদ সান্নিধ্য হইতে শক্তিগ্ৰহ অঙ্গীকার করিলে ক্ষতি কি? এই জিজ্ঞাসার প্রকারান্তরে উত্তর দেওয়ার অনুকুলে, জগদীশ যেখানে প্রত্যক্ষের সম্ভাবনা নাই অথবা বিবরণ বা প্রসিদ্ধ পদ সান্নিধ্যরূপ উপায়ান্তরের সম্ভাবনাও নাই—এমন একটি স্থল আবিষ্কার করিবার জন্য “যুবময়শ্চরুৰ্ভবতি” এই স্থলটি প্রদর্শন করিয়াছেন। এই বিধায়ক শ্রুতি- বাক্যস্থলে যপদার্থ ইন্দ্রিয়সন্নিকৃষ্ট না হওয়ায় প্রত্যক্ষ প্রমাণ হইতে যেরূপ শক্তিগ্রহ সম্ভাবিত হইতে পারে না, তদ্রুপ ‘যব’ পদের সহিত সাকা ‘চ’ পদটির সান্নিধ্যপ্রযুক্তও দীর্বশবিশেষে ‘যব’পদের শক্তিগ্রহ সম্ভব নহে। কারণ দীর্ঘশূকবিশেষ হইতে যেরূপ চৰু উৎপন্ন হয়, কল্প (ধান্যবিশেষ) হইতেও সেইরূপ চরু উৎপন্ন হইতে পারে। সুতরাং সন্নিহিত ‘চ’পদ একমাত্র দীর্ঘশূকবিশেষরূপ অর্থে ‘যব’ পদের শক্তিগ্রাহক ইতে পারে না। ‘বিবরণের সম্ভাবনা এইস্থলে একেবারেই তিরােহিত। সুতরাং উপায়ান্তর না থাকায় উক্তস্থলে বাক্যশেষকেই শক্তি গ্রহের উপায় বলিতে হইবে । এখন প্রশ্ন হইতে পারে—বিষ্ণু, চন্দ্র প্রভৃতি বিভিন্ন অর্থে ‘হরি’ শব্দের ব্যবহারমূলে বিভিন্ন অর্থে যেরূপ ‘হরি’ পদের শক্তিগ্রহ স্বীকৃত হইয়া থাকে, তদ্রুপ “যময়শ্চর্ভবতি” -এই কালে প্রযুক্ত ‘যব’ পদটির দ্বিবিধ অর্থে ব্যবহারমূলে ‘হরি’ শব্দের ন্যায় নামার্থক যীকৃত হইবে না কেন? দীর্ঘশুক হইতে যেরূণ চরুর নিষ্পত্তি হয়, তদ্রুপ ক ইতেও চরুর নিষ্পত্তি হইতে পারে। এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন-“যৰ’ পদের বিভিন্ন অর্থে নানা শক্তি কল্পনা করা ন্যায্য নহে। তাৎপর্য এই যে, পদবিশেষের একটি মাত্র অর্থে শক্তি কল্পনা করিয়া উক্ত শক্তিগ্রহমূলক পদার্থের উপস্থিতির মাধ্যমে শাত্ববােধ সন্তাবিত হইলে, সেই পদের একটিই শক্তি লাঘবত: কল্পনা করা সমীচীন। সুতরাং দীর্ঘশুকৰিশেষরূপ একটি অর্থে ‘যব’ পদের শক্তি কল্পনা করিলেই যখন অভীষ্ট অন্বয়বােধ এবং তজ্জনিত শিষ্টাচার প্রভৃতি সম্পন্ন হইতে পারে, তখন অনর্থক বিভিন্ন অর্থে ‘যব’ পদের নানাশক্তি কল্পনাবশতঃ গৌরব স্বীকার করা সমীচীন নহে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে—শিষ্টগণ দীর্ঘশূকবিশেষরূপ অর্থে যখন ‘যব’ পদের ব্যবহার করেন, তখন শিষ্টগণের ব্যবহাররূপ উপায় হইতেই ‘যব’ পদের দীর্ঘশবিশেষে শক্তির যথার্থ নিশ্চয় হইবে, সুতরাং যব’ পদে অর্থসংশয়ের অবকাশ না থাকায় বাক্যশেষ ‘ব’ পদের শক্তিগ্রহের উপায় হইতে পারে না, এইজন্য , জগদীশ, বাক্যশে হইতে सार्यकशब्दे स्दनाम्नि शक्तिप्राहकवर्णनम् ২৭ শক্তিগ্রহের উদাহরণরূপে “স্বরাজ্যকামোহখ্রিষ্টোমেন যজেত' এই বিধি বাক্য প্রদর্শন করিয়া বাক্যশেষরূপে “য দুঃখেন সম্ভিন্নম্ ইত্যাদি শ্লোকের অবতারণা করিয়াছেন। উক্তবিধি বাক্যের অন্তর্গত ‘স্বরাজ্য' শব্দটির অর্থ পর্যালােচনা করিলে ‘ব স্বর্গে বাজতে ইতি টু’—(অর্থাৎ ইন্দ্র,) তস্য ভাবঃ স্বরাজ্য—এই ব্যুৎপত্তিমূলে ‘রাজ্য শব্দটির অর্থ হইবে ইন্দ্ৰত্ব। সুতরাং ‘ইত্বভেচ্ছু ব্যক্তিগণ উক্ত ফলপ্রদ অগ্নিষ্টোম নামক যাগ অনুষ্ঠান করিবেন--ইহাই উক্ত শ্রুতিবাক্যের অর্থরূপে প্রতীয়মান হইয়া থাকে। ‘বিধিশেষীভূতেভ্যঃ'-এই বাক্যটির ‘বিধি প্রযুক্ত আকাক্ষার নিবর্তক বাকা হইতে এইরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। এখানেও ‘রাজকামো ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যের অন্তর্গত ‘স্ব প্রভৃতি পদের অর্থসন্দেহ উপস্থিত হইলে তাদৃশ শ্রুতিবাক্য ‘স্ব’ পদঘটিত হওয়ায় উক্তশ্রুতি বাক্যার্থেরও যথাযথ নিশ্চয় হইতে পারে না। বিধিবাক্যার্থের নিশ্চয় ব্যতিরেকে অগ্নিষ্টোম যাগগােচর প্রবৃত্তিও সম্ভবপর নহে। অতএব উক্ত শ্রুতিবাক্যার্থের যথার্থ নিশ্চয়ের অনুরোধে ‘স্বরূ' পদের শক্তিনিশ্চয় আবশ্যক। উপয় ব্যতিরেকে শক্তিনিশ্চয় ও সম্ভব নহে। সুতরাং উপায়ান্তরের সম্ভাবনা না থাকায় উক্ত বিধিবাক্য হইতে উথাপিত আকাঙ্ক্ষার নিবর্তক—য দুঃখেন সন্তিন্নম্ ইত্যাদি বাকাশেষই উক্ত শ্রুতিবাক্যের অন্তর্গত স্বর পদের শক্তি গ্রাহকরূপে স্বীকৃত হইবে। উক্ত শ্লোকটির পর্যালােচনা করিলে আমরা বুঝিতে পারি, যে সুখ দুঃখের দ্বারা সন্তিন্ন নহে, অর্থাৎ দুঃখসমানকালীন নহে, যে সুখ দুঃখের দ্বারা গ্ৰন্ত নহে, অর্থাৎ দুঃখের অবচ্ছেদক যে শরীর, তাহার দ্বারা অবচ্ছিন্ন নহে, যে সুখ অনন্তর, গভাবের অসমানকালীন এবং যে সুখ অভিলাষােপনীত অর্থাৎ অন্যেচ্ছার অধীন তোগের বিষয় হইবে, এতাদৃশ অনির্বচনীয় সুখই ‘স্বরাটু’, ‘রাজ্য প্রভৃতি বাক্যের অন্তর্গত ‘স্ব’ পদের দ্বারা প্রতিপাদিত হইবে। ইহার ফলে দুঃখাসমানকালীন অথচ দুঃখের অবচ্ছেদক শরীরের বায়া অবচ্ছিন্ন নহে—এবং দুঃখ প্ৰাগতাবের অসমানকালীন ও অপরের ইচ্ছার অধীন—ভােগের বিষয় এবম্ভত যে সুখ, তাহাই ‘স্ব পদের শক্যার্থরূপে গণ্য হইবে। ২০ | অর্থাৎ দুঃখ | শক্তি গ্রাহক বর্ণন সমাপ্ত रूढ़नाम्नि प्राभाकरमतखण्डनम् मूलम् ननु व्यवहारादनुमितेर्गवाद्यानयनधर्मिककार्यत्वस्यान्वयज्ञाने, पदानां प्रथमतः कारणत्वं साकाङ्क्षपदत्वावच्छेदेन गृहीतमुपस्थितत्वादतस्तदुपपत्तये शाब्दसामान्यं प्रत्यवश्यं कार्यतावाचिपदस्य, तत्साकाङ्क्षपदस्य वा हेतुत्व- मुपेतव्यम्, तथा च कथं केवलकोषादितः शक्तिग्रहस्तस्य विध्यनाकाइ- त्वेनार्थवादतया शाब्दबोधानार्जकत्वादिति प्राभाकराशङ्कां निरस्यति- कार्यत्वस्यान्वयज्ञाने प्राग्गृहीतापि हेतुता । पदानामर्थवादेभ्यः पश्चाद्बोधादुपेक्ष्यते ॥ २१ ॥ অনুবাদ ব্যবহার জ্ঞানের অনন্তর (অব্যুৎপন্ন বালকাদিকর্তৃক) অনুমিত যে গােপ্রভৃতিগত কর্মতার নিরূপক আনয়নধর্মিক কার্যত্বপ্রকারক অন্বয়বােধ, তাহার প্রতি আয়মান গবাদিপদসমূহে যে প্রাথমিক কারণত গৃহীত হয়, উক্ত কাৰণতা কার্যত্বসাকাক্ষপদত্বাবচ্ছেদেই গৃহীত হইয়া থাকে, (যেহেতু কার্যতাসাকাক্ষপদ- সমূহের ) প্রাথমিক উপস্থিতি হইয়া থাকে। উক্ত কার্যকারণভাবের উপপত্তির জন্য অন্বয় বােধমাত্রের প্রতি কার্যতাবোধক পদের অথবা কার্যত সাকাক্ষ পদের কারণত্ব অবশ্য অঙ্গীকার করিতে হইবে। অতএব কেবল কোষ প্রভৃতি হইতে কেমন করিয়া শক্তিগ্রহ উৎপন্ন হইবে? কোষ প্রভৃতি কার্যতাবোধক পদের সহিত সকাজ না হওয়ায় অর্থবাদরূপে গণ্য হইবে। সুতরাং (ঐ সকল বাক্য) শাব্দবােধের জনক হইতে পারে না—প্রাভাকর সম্প্রদায়ের এই আশঙ্কা নিরস করিবার জন্য বলিতেছেন :—প্রথমতঃ কার্যতাসাকাক্ষ পদভাবচ্ছেদে কার্যত্ববিষয়ক অন্বয়বােধের প্রতি কারণত গৃহীত হইলেও পরবর্তীকালে অর্থবাদবাক্য হইতে অন্বয়বােধ উৎপন্ন হওয়ায় উক্ত হেতু উপেক্ষিত হইবে, অর্থাৎ স্বীকৃত হইবে না।
रूदनाम्नि प्राभाकरमतखण्डनम् ২। বিবৃতি একবিংশতি সংখ্যক কারিকার অবতরণিকা প্রসঙ্গে মনু' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে थापक মীমাংসকদের আশঙ্কা উথাপন করিতেছেন। ‘ব্যবহারাৎ'-এইলে ল্যলােপে পঞ্চমী বিভক্তি বিহিত হওয়ায় ব্যবহার উপলব্ধি করিয়া--এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। তাৎপর্য এই যে, প্রযােজকবৃদ্ধকর্তৃক ‘গো আনয়ন কর’-এইরূপ বাক্যপ্রয়ােগের পরে প্রযােজ্য বৃদ্ধকর্তৃক গবানয়নৰূপ কার্যটি সম্পন্ন হইলে পার্শ্ব বালক তাহা উপলব্ধি করিয়া গৰানয়নগোচর প্রবৃত্তিকে পক্ষরূপে গবায়নধর্মিক কার্যতা- জ্ঞানজত্বকে সাধ্যরূপে তাদৃশ প্রবৃত্তিকে হেতুরূপে গ্রহণ করিয়া অনুমিতি করিয়া থাকে। এইভাবে কার্যতাজ্ঞানজত্ব সাধন করিবার পর শ্রুত বৃদ্ধবাক্যকে তাদৃশ জ্ঞানের জনকত্ব রূপে কল্পনা করে। উক্ত কার্ষতার সহিত আকাঙ্ক্ষাযুক্ত গবাদি পদের প্রাথমিক উপস্থিতি- বশত: কাতসকাক্ষ গবাদিপদত্বাবচ্ছেদে কার্ষতাবিষয়ক অন্বয়বােধের জনকত্ব গৃহীত হয়। সুতরাং যে রূপ বৃদ্ধ ব্যবহারস্থলে বিধ্যর্থবােধক লােট বা বিধিলিঙের সহিত উচ্চারিত গবাদিপদ তাদৃশ কার্ষতাগােচর অন্বয়বােধের জনক হইয়া থাকে,তদ্রুপ যেখানেই অন্বয়বােব উৎপন্ন হইবে, সেখানে বিধিলিঙ, বা লোটু প্রভৃতি বিধ্যর্থবোধক পদসাকাঙ্ক অপরাপর পদের উপস্থিতি অবশ্যই অপেক্ষিত হইবে। এই অভিপ্রায়েই বলা হইয়াছে -কার্যতাবােধক লিঙ, প্রভৃতি পদ অথবা তাদৃশ লিঙ, প্রভৃতি পদের সহােচ্চারিত পদসমূহ অন্বয়বােধমাত্রের প্রতি কারণ হইবে। সুতরাং পূর্বকথিতগুণে ‘শুরুদয়: পুংসি’ ইত্যাদি কোষ বা উপমান প্রভৃতিস্থলে বিধ্যর্থের আকাঙ্ক্ষাশূন্য পদঘটিত ঐ সকল বাক্য অর্থবাদ- বাক্যে পর্যবসিত হওয়ায় অন্বয়বােধের জনক হইবে না। প্রভাকর সম্প্রদায়ের মতে যে বাক্যটি বিধি সাকাক্ষ নহে, সেই বাক্যটি বিশিষ্ট অন্বয়বােধের জনক নহে। সেই সকল অর্থবাদবাক্যের অন্তর্গত পদসমূহ হইতে পদার্থ সমূহের উপস্থিতি এবং একপদার্থে অপর পদার্থের অসংসর্গের অগ্রহবশতঃ প্রবৃত্তি নিবৃত্তিরূপ কার্য নির্বাহ হইয়া থাকে। অতএব কোষাদিবাক্য বিধিবােধক পদের সহিত সাকা না হওয়ায় শক্তিগ্রহের উপায় হইতে পারে না। ঐ সকল অর্থবাদ বাক্য অন্বয় বােধের জনক নহে—অতএব কি করিয়া শক্তিগ্রহের উপযােগী হইবে । এইরূপ প্রভাকর সম্প্রদায়ের আশঙ্কার উত্তরে ন্যায়মত অবলম্বন করিয়া জগদীশ কার্যত্বস্যান্নয়নে'—এই কারিকার মাধ্যমে বিধর্থপদের সহিত আকাঙ্ক্ষাশূন্য অর্থবাদ বাক্য হইতেও অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে -ইহাই প্রতিপাদন করিতেছেন। কার্যত্ব’ এখানে ‘কার্যত্ব’ পদটি কৃতিসাধ্যতার বােধক। অন্বজ্ঞানে ইহার অর্থ সংসর্গবিশেষের মাধ্যমে এক পদার্থে অপর পদার্থ গােচর বােধে। এইরূপ অর্থ হইলেও ১। ব্যবহারাদিতি ল্যবলােপে পঞ্চমী, তথা চ ব্যবহারং প্রতীত্যেত্যর্থ। কৃষ্ণকান্তী টাকা হ शम्दशक्तिप्रकाशिका কিন্তু সাক্ষাৎ পরম্পরা সাধারণ কার্যত্ববিষয়তা নিরূপিত বিষয়তাশালী বােধরূপ অর্থেই উক্ত বাক্যটি প্রযুক্ত হইয়াছে। একটু লক্ষ্য করিলেই আমরা বুঝিতে পারি, ‘ঘটমানয় এই সকল বাক্য হইতে প্রভাকর সম্প্রদায় অন্বয়বােধ স্বীকার করেন। উক্ত বাক্যের অর্থ পর্যালােচনা করিলে দেখা যায়-ঘট’ পদের অর্থ বট, অম্' পদের অর্থ কর্মত্ব, আঙ, +নী' ধাতুর অর্থ আনয়ন, ‘হি’ পদের অর্থ কার্যত্ব বা কৃতিসাধ্যত্ব। উক্ত কার্যত্ব আখ্যাতিক লােট ‘হি বিভক্তির অর্থ হওয়ায় সাক্ষাৎ সম্বন্ধে ধাত্বৰ্থ যে আনয়ন, তাহাতে অম্বিত হইবে। অতএব আনয়ন অংশে কার্য সাক্ষাৎ সম্বন্ধে (স্বরূপ সম্বন্ধে ) বিশেষণ হওয়ায় আনয়নগত বিষয়তার সহিত কার্যত্ব বিষয়তার (কাতার) সাক্ষাৎ নিরূপ্য নিরূপক ভাব থাকিবে। ঘট’ পদার্থ যে ঘট, ‘অম্’ পদার্থ যে কর্মত্ব, ইহাদের অন্যতরে কার্যত্ব সাক্ষাৎ সম্বন্ধে বিশেষণ না হওয়ায় উক্ত ঘটাদিবিষয়তার সহিত কার্যত্ব বিষয়তার সাক্ষাৎ নিরূপ-নিরূপকভাব থাকা সম্ভবপর নহে। অথচ কার্যত্বগােচর অন্বয়বােধে ঘট বা কৰ্মত্ব বিষয় হইয়া থাকে। এই জন্য সাক্ষাৎ পরম্পরা সাধারণ নিরূপ-নিরূপক ভাবাপন্ন কার্যত্ববিষতা নিরূপিত বিষয়তাশালি অন্বয়বােধ সামান্যের প্রতি কার্যতবােধক পদাকাক্ষ জ্ঞায়মান পদত্ব পুরস্কারে কারণ। কল্পনা করা হইয়াছে। গদাধর ভট্টাচার্য প্রাভাকার মত অবলম্বন করিয়া তাদৃশ অম্বষ- বােধরূপ যে কার্য তদনুকুল শক্তি ‘গাে’ প্রভৃতি পদে অঙ্গীকার করিয়াছেন। এই প্রভাকর মতের প্রতিবাদে জগদীশ বলিতেছেন—প্রথমত, অর্থাৎ প্রযােজ্য প্রযােজক বৃদ্ধব্যবহারকালে কার্যতাসাকাঙ্ক্ষ পদত্বপুরস্কারে সাক্ষাৎ পরম্পরা সাধারণ কার্যত্ববিষয়ক অন্বয়বোধ অঙ্গীকৃত হইলেও লটু, লিঙ, প্রভৃতি কার্যতাবােধক পদের সহিত নিরাকা “কাঞ্চ্যাং ত্রিভুবনত্রিলোকভূপতি:”, ‘গুণে শুক্লাদয়ঃ পুংসি’ এই সকল অর্থবাদ বাক্য হইতেও পরবর্তীকালে যেহেতু অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয়, অতএব অন্বয়বেধমাত্রের প্রতি কার্যতা সাকাহ্ন পদত্বপুরস্কারে প্রভাকর সম্প্রদায় যে কার্যকারণভাব স্বীকার করেন, তাহ নৈয়ায়িক সম্প্রদায় কর্তৃক পরিত্যক্ত হইবে। मूलम् साकाङ्क्षपदत्वावच्छेदेन कार्यताधीजनकत्वं पूर्वगृहीतमप्युत्तरकाल- मर्थवादेभ्यः शाब्दबोधानुरोधादुपेक्ष्यते । पूर्वगृहीतस्यापरिहार्यत्वानियमात्, प्रतिविम्बिते वस्तुनि व्यभिचारात्, न वोपस्थितधर्मावच्छेदेनैव जनकत्वस्य ग्रहनियमः, पटजनकं देयद्रव्यमित्यादौ तत्सामानाधिकरण्येनापि ग्रहाद, अन्यथाऽन्यथाख्यात्यापत्तेस्तत्रैव दुरितापत्तेः । न च कार्यतासाकाङ्क्ष- पदान्तविनैव शब्दानामन्वयानुभवहेतुत्वस्य कलप्तत्वादर्थवादस्थले न रूदनाम्नि प्राभाकरमतखएडनम् २५ शाब्दधीः, परन्त्वसंसर्गाग्रहमात्रमाकाङ्क्षान्तरकल्पने गौरवादिति वाच्यं, कार्यतानिराकाङ्क्षपदान्तावेनैव शाब्दधीहेतुत्वस्य कल्पनया विधिस्थले न शाब्दधीरित्यस्यापि सुवचत्वात्, उभयत्राप्यन्वयमत्रानुभविकत्वेनैकशेषस्य दुष्करत्वादिति दिक् ॥ २१॥ অনুবাদ কার্যতাসাকাক্ষপদত্বাবচ্ছেদে কার্যত্বগােচর অন্বয়বােধের জনকত্ব পূর্বে গৃহীত হইলেও পরবর্তীকালে অর্থবাদ বাক্য হইতে অন্বয়বােধের অনুরােধে উহা উপেক্ষিত হইবে। পূর্বে কোনও পদার্থ গৃহীত হইলেই (উত্তরকালে যে তাহা) অপরিহার্য হইবে, এইরূপ নিয়ম স্বীকৃত হইতে পারে না, কারণ প্রতিবিম্বিত (আরােপিত ) বস্তু স্থলে ইহার ব্যভিচার অনুভূত হইয়া থাকে। উপস্থিত ধর্মাবচ্ছেদে কারণত্ব- গ্রহ উৎপন্ন হইবে এইরূপ নিয়ম সঙ্গত নহে, কারণ ‘দানের যােগ্য দ্রব্যটি পটের জনক’ এই সকল স্থলে তাদৃশ দ্রব্যত্বসামানাধিকরণ্যে জনকত্বগ্রহ হইয়া থাকে। ( এখানেও যদি) দানযােগ্যদ্রব্যত্বাবচ্ছেদে পটজনকত্বের জ্ঞান স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে উক্ত জ্ঞানের ভ্রমত্বপত্তি নিবারণ করা দুষ্কর। যদি বলা যায়—কার্যতা- সাকাক্ষপদকে অন্তভূক্ত করিয়াই শাব্দসমূহে অন্বয়বােধের জনকত্ব প্রসিদ্ধ থাকায় অর্থবাদস্থলে শাব্দবােধ (উৎপন্ন ) হইবে না, কিন্তু (অর্থবাদস্থলে উপস্থিত পদার্থসমূহের) অসংসর্গের অগ্ৰহমাত্র (কল্পিত হইবে, তাহা হইলে তাদৃশ স্থলে কার্যতানিরাকাক্ষপদকে অন্তর্ভাব করিয়া অম্বয়বােধের কারণরূপে আকাক্ষান্তর কল্পনা করিলে গৌরব হইবে-প্রভাকর সম্প্রদায়ের এই যে আশঙ্কা, তাহার উত্তরে নৈয়ায়িক সম্প্রদায় বলেন- আমরা ও বলিতে পারি। কার্যতানিরাকাক্ষ- পদসমূহকে অন্তর্ভাব করিয়াই অন্বয়বােধের কারণত কল্পিত হইবে। (অগ্নিষ্টোমেন যজেত’ ইত্যাদি) বিধিবাক্যস্থলে শব্দবােধ উৎপন্ন হইবে না। (কার্যতাসাকাঙ্গ এবং কার্যতানিরাকাক্ষ ) এই উভয়স্থলেই অম্বয়বোধ অনুভবসিদ্ধ হওয়ায় উভয়ের একটি হইবে, অপরটি হইবে না—ইহা বলা দুষ্কর। বিবৃতি ‘কার্যাম্বয়ানে ইত্যাদি কারিকার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে জগদীশ বলিয়াছেন- অর্থবাদবাক্য হইতে যেহেতু অয়বােধ অনুভবসিদ্ধ, অতএব লবিশেষে কার্যতাসকাঙ্ক- পদহাবচ্ছেদে কার্ষতাগােচর অয়বােধের জনকত্ব প্রাথমিক স্তরে গৃহীত হইলেও পরবর্তী शब्दशक्तिप्रकाशिका কালে তাহা উপেক্ষিত হইবে। এই প্রসঙ্গে কার্যকাং পদং কার্যত্ববিষয়কম্বয়ােধ- জনক’ অর্থাৎ কার্যতাবােধক পদের সহিত আকাঙ্ক্ষাযুক্ত জ্ঞায়মান পদ (সমূহ), কাতা- বিষয়ক অষয়বােধের কারণ-এইরূপ কল্পিত কার্যকারণভাবের বিশেষভাবে আলোচনা করা আবশ্যক। আমরা একটু অবহিত হইলেই বুঝিতে পারি—কোনও একটি বিশেষ পদার্থে সম্বন্ধবিশেষে কোন একটি পদার্থকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া যে জ্ঞান উৎপন্ন হয়, উক্তজ্ঞান দুইভাগে নিষ্পন্ন হইয়া থাকে-(১) ধর্মিতাবচ্ছেদকাৰচ্ছেদে অথবা (২) ধর্মিতাবচ্ছেদকসমানাধিকরণ্যে। গ্রন্থকারের মতে যেখানে অবচ্ছেদকাবচ্ছেদে জ্ঞান উৎপন্ন হইবে, উক্ত জ্ঞানে ভাসমান সংসর্গাংশে ধর্মিতার অবচ্ছেদকরূণে স্বীকৃত ধর্মটির অবচ্ছেদ্যত্ব সংসর্গমর্যাদায় ভাসমান হইবে। সুতরাং কার্যতাসাকাজ্জপদত্বাবচ্ছেদ্যত্বজনকত্ব- গতকারতার নিয়ামক স্বরূপ সম্বন্ধে সংসর্গমর্যাদায় ভাসমান হইবে। ফলে উক্ত জ্ঞানটি কার্যতাসাকাহ্নপদত্বের দ্বারা অবচ্ছেদ্য স্বরূপসম্বন্ধে তাদৃশ জনকত্ব প্রকার হইবে। উক্ত বিশেষতাবচ্ছেদক ধর্মের অবচ্ছেদ্যত্বও স্বব্যাপক জনকত্বপ্রতিযােগিকত্বস্বরূপ বুঝিতে হইবে। স্ব’ পদের দ্বারা ধর্মিতাবচ্ছেদক গৃহীত হইবে। যেখানেই অবচ্ছেদাবচ্ছেদে জ্ঞান উৎপন্ন হইবে, সেখানেই প্রকারতার ঘটক সংসর্গ ধর্মিতাবচ্ছেদকব্যাপকবিশেষণপ্রতিযােগিক হইবে । প্রকৃত স্কুলে যে পদবিশেষক- জনকপ্রকারক জ্ঞানটি উপদর্শিত হইয়াছে, উক্ত জ্ঞানে কার্যতাসাকাঙ্ক্ষপদত্বরূপ যে ধর্মিতাবচ্ছেদক, তাহার ব্যাপকত্ব কার্যতাবিষয়ক অন্বয়বোধজনকত্বে আছে। আবার ঐ জনকত্ব স্বরূপসম্বন্ধের প্রতিযােগী হইয়াছে। সুতরাং কার্যতা সাকাহ্নপদত্বরূপ যে ধর্মিতাবচ্ছেদক ব্যাপক কার্যতাধীজনকত্ব প্রতিযােগিক স্বরূপসম্বন্ধবিষয়ক হওয়ায় উক্ত জ্ঞানকে ধর্মিতাবচ্ছেদকাবচ্ছেদ্যত্ব সংসৰ্গাবগাহী জ্ঞান বলা হইয়া থাকে। ধর্মিতাৰচ্ছেদক সামানাধিকরণ্যে যে ‘ভূতলং ঘটবৎ’ এইরূপ জ্ঞান উৎপন্ন হইয়া থাকে, এখানে কিন্তু ঘটগত প্রকারর নিয়ামক সংযােগরূপ সংসৰ্গাংশে ভূতলত্বাবচ্ছেদ্যত্ব সংসর্গমর্যাদায় ভাসমান হয় না পরন্তু শুদ্ধসংযোগত্বপুরস্কারে সংযােগ উক্ত জ্ঞানে সংসর্গমর্যাদায় ভাসমান হইয়া থাকে। প্রাভাকর সম্প্রদায় এই আশয় গ্রহণ করিয়াই সাকাশ্রুপদত্বাবচ্ছেদে কার্যতাধীজন- কত্বের জ্ঞান সর্বত্র স্বীকার করেন। জগদীশ বলিতেছেন--ব্যবহারাধীন শক্তিগ্রহস্থলে প্রথমে সাকা-পদত্বাবচ্ছেদে তাদৃশ অন্বয়বােধজনকত্ব গৃহীত হইলেও ইহা সার্বত্ৰিক নহে। সুতরাং কেবল কোষ হইতে অথবা বাক্যশেষ প্রভৃতি হইতে শক্তিগ্রহস্থলে কার্যতাসাকা- পদত্বাবচ্ছেদে যে কার্যতাধীজনকত্ব গৃহীত হইয়াছিল, তাহা অবশ্যই পরিত্যাগ করিতে হইবে। যদি অৰ্থবাদ বাক্য হইতে অন্বয়বােধ স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে সন্ধ্যামুপাসতে যে তু' ইত্যাদি অর্থবাদ বাক্য হইতে সন্ধ্যাবন্দনাদি কার্যের ব্ৰহ্মপদপ্রাপ্তিরূপ ফল প্রতি- পাদিত হইতে পারে না। নৈয়ায়িকের এই বক্তব্যের উত্তরে যদি প্রভাকর সম্প্রদায় বলেন—যাহা পূর্বে একবার গৃহীত হইয়াছে, তাহা উত্তরকালে পরিহার্য হইতে পারে না, ইহাই নিয়ম, অর্থাৎ ব্যাপ্তি, सदनाम्नि प्रामाकरमतबएडनम् २७ ইহার প্রতিবাদে এগদীশ বলিতেছেন যে ঐরূপ ব্যাপ্তি গৃহীত হইতে পারে না। বস্তু- বিশেষ আশ্রয়বিশেষে পূর্বে গৃহীত হইলেও পরে পরিত্যক্ত হইতে দেখা যায়। দৃষ্টান্ত স্বরূপে বলিতেছেন—কোনও একটি দর্পণে নির্মলতারূপ দোষ প্রযুক্ত মুখের প্রতিবিম্বত হয়। ঐ প্রতিবিম্বিত মুখ তৎকালপর্ষন্তই দর্পণে গৃহীত হইয়া থাকে, যে সময় পর্যন্ত অব্যবধানে দর্পণ মুখের সন্নিহিত স্থানে অবস্থিত থাকে। পরন্তু দর্পণ অপসারিত হইলে ব্যবহিত উক্ত দর্পণে প্রতিবিম্বিত মুখ কখনও দৃষ্ট হয় না। অনুরূপভাবে জবাকুসুমের সান্নিধ্যে জবাকুসুমতি রক্তিম রূপ স্ফটিকে অনুভূত হইলেও মূল জবাকুসুমের অসন্নিধানে পূর্বগৃহীত রক্তিমা স্ফটিকে গৃহীত হয় না। সুতরাং আশ্রয়বিশেষে কোনও বস্তুবিশেষ গৃহীত হইলেই যে তাদৃশ আশ্রয়গত ধর্মাবচ্ছেদে অপরিহার্যরূপে গৃহীত হইবে--এই নিয়মের দর্পণে বা স্ফটিকে ব্যভিচার হওয়ায় আশ্রয়বিশেষে গৃহীত বস্তুব অপরিহার্যত্বের নিয়ম স্বীকার করা সম্ভব নহে। এইভাবে প্রতিবিম্বিত বস্তুতে ব্যভিচার হওয়ার ফলে প্রতিবিম্বরূপে পূর্ব গৃহীত বস্তুর অপরিহার্যতার নিয়মটি বাধিত হইল। পূর্বে যে প্রতি- বিম্বিত বস্তুকে পক্ষ করিয়া অপরিহার্যত্বকে সাধ্য করা হইয়াছে উক্ত সাধ্যটি অব্যাণ্যবৃত্তি হওয়ায় অব্যাপবৃত্তিসাধ্যকস্থলীয় ব্যভিচারের লক্ষণটি হেতুমন্নিষ্ঠ প্রতিযােগিব্যধিকরণ- তাব প্রতিযােগিত্বরূপ অথবা প্রতিযােগিব্যধিকরণমাধ্যাভাববদ বৃত্তিত্বরূপ স্বীকৃত হইবে। ফলে ‘যৎ পূর্বগৃহীতং তত্তৎ পরিহার্যম’ এইভাবে গৃহীত ব্যাপ্তির বিরােধী ব্যতিচার প্রতিযােগিব্যধিকরণভাবঘটিত হওয়ায় তদঘটিত ব্যতিচার উক্তস্থলে সম্ভবপর নহে। যদি অপরিহার্যত্ব সাধ্যটি অব্যাপবৃত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রতিযােগিব্যধিকরণাভাবঘটিত ব্যভিচার স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে কপিসংযােগী এতদক্ষত্বাৎ' এই স্কুলীয় এতদ্ক্ষত্ব হেতুটি মূলাবচ্ছেদে কপিসংসােগাতাবৰদবৃত্তি হওয়ায় উক্ত এতদক্ষত্ব হেতুও কপিসংযােগরূপ সাধ্যের ব্যভিচারী স্বীকার না করিয়া উপায় নাই। অতএব অব্যাপবৃপ্তিসাধ্যস্থলে প্রতিযােগিব্যধিকরণাবটিত ব্যভিচার অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। তাদৃশ ব্যভিচার পূর্বোক্ত অপরিহার্যত্বরূপ সাধ্যের সাধক পূর্বগৃহীতত্বে না থাকায় শঙ্কিত নিয়মভঙ্গের সম্ভাবনা থাকিবে না। কোনও বিশেষ্য পদার্থে কোনও একটি বিশেষণ গৃহীত হইলে উক্ত বিশেষণ পদার্থটি যে বিশেষগত সামান্যধর্মাবচ্ছেদে গৃহীত হইবে এইরূপ নিয়মও স্বীকৃত হইতে পারে না। ইহা এতিপাদন করিবার জন্য জগদীশ “ন বােপস্থিতধর্মাবচ্ছে- দেনৈব” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, উপস্থিত ধর্মাবচ্ছেদে কত্বগ্রহ (নিয়ত না হওয়ায় লবিশেষে কার্যতাসাকাপদে তাদৃশপদত্বাবচ্ছেদে কার্যতাবিষয়বােধের জনকত্ব গৃহীত হইলেও অর্থবাদস্থলে শব্দবােধের জনকত্ব অবশ্যই স্বীকৃত হইবে। জ্যোতিষ্টোমেন যজেত' ইত্যাদি খুলে যখন কার্যতাসাকাদ্দপদত্বাব- চ্ছেদে কার্ষতাগােচর অম্বয়বােধের জনকত্ব গৃহীত) হয়, তখন সর্বত্রই কার্যতাসাকাক্ষ- ১। অপরিহার্য পদার্থটিকে শেষ পর্যন্ত অপ্রামাণ্য জ্ঞানবিষয়ত্বই বলিতে হইবে। জ্ঞান অব্যাপ্যবৃত্তি গুণ হওয়ায় যথার্থজ্ঞানবিষয়ত্বও অব্যাপবুভি হইবে।
२८ शब्दशक्तिप्रकाशिका পদত্বাৰচ্ছেদে অন্বয়বােধের হেতুতা গৃহীত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলেন, কার্যতালিকাভক্ষ হইলেও সর্বত্র যাগাদিপদস্থলে তাদৃশকারণগ্রহ স্বীকৃত হইতে পারে না। কারণ “পট জনকং দেয়দ্রব্যম” ( দান যােগ্য দ্রব্যটি পটৰূপ কার্যের জনক) এইরূপ কার্যতাসাকাক্ষ পদলেও দ্রব্যত্বসামানাধিকরণ্যে পটজনকত্বের যথার্থ জ্ঞান সমত সিদ্ধ হওয়ায় কার্যতাসাকা পদহাবচ্ছেদে কার্যতা বােধজনকত্বের জ্ঞান হইবে— এইরূপ নিয়ম স্বীকৃত হইতে পারে। এখানে দেয়’ পদটির দ্রব্যের বিশেষণরূপে উল্লেখ করিয়া দ্রব্যত্ব সমানাধিকরণ্যের সূচনা করা হইয়াছে। যদি উক্ত বাক্যস্থলে দ্রব্যত্বাবচ্ছেদে পটজনকত্বের জ্ঞান স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে উক্ত বাক্যজনিত অন্বয়বােধের যথার্থ রক্ষিত হইতে পারে না। কারণ দ্রব্যত্বাবচ্ছেদে অর্থাৎ দ্রব্য মাত্রে পটজনকত্ব থাকে না। সুতরাং তাদৃশ জ্ঞান ভ্রান্তিরূপে পর্যবসিত হইবে। অতএব তাদৃশ বাক্যজনিত অন্বয়বােধের মাত্বের অনুরােধে দ্রব্যসামানাধিকরণ্যে পাটজনকত্বের অন্বয়বােধ অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। ইহাই জগদীশ ‘অন্যথা—ইত্যাদি সন্দর্ডের দ্বারা ব্যক্ত করিয়াছেন। ‘ন চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে জগদীশ প্রাভাকর সম্প্রদায়ের একটি প্রশ্ন উত্থাপন করিতেছেন। কার্যতাসাকাচ্চ পদসমূহ যে বাক্যের অন্তর্গত থাকিবে, তাদৃশ বিধিবাক্যস্থলে কার্যত সাকাশ্রুপদসমূহের অন্বয়বােধের জনকত। যখন উতয়বাদিসিদ্ধ তখন ‘অর্থবাদবাক্য অন্বয়বােধের জনক নয়'—তার সম্প্রদায়ের এই সিদ্ধান্তের উপর যদি নৈয়ায়িক পক্ষ আশঙ্কা করেন—বিধিবাক্যস্থলে কার্যতাসাকা পদত্বাবচ্ছেদে কার্যতাবােধজনকত্ব আমরাও স্বীকার করি, কিন্তু অর্থবাদবাক্যে অন্বয়বােধের জনকত্ব স্বীকার না করিলে বিধিবাক্য হইতে উত্থাপিত যে আকাঙ্ক্ষা তাহার নিবৃত্তি কিরূপে সম্ভবপর হইবে। নৈয়ায়িক সম্প্রদায়ের এই আশঙ্কার উত্তরে প্রাভাকর সম্প্রদায় বলেন- অর্থবাদ বাক্য হইতে অন্বয়বােধ স্বীকৃত না হইলেও অর্থবাদ বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদার্থ বিশেষ্যবিশেষণভাবে উপস্থিতি এবং উপস্থিত পদার্থসমূহের যে অসংসর্গের অগ্ৰহ অর্থাৎ বাধনিশ্চয়ের অভাব তাহা হইতে অর্থবাদ বাক্যের উথাপক আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হইয়া থাকে। সুতরাং অর্থবাদ বাক্যের অম্ববােধ জনকত্ব স্বীকৃত নহে। প্রভাকর সম্প্রদায়ের এই বক্তব্যে নৈয়ায়িক সম্প্রদায় প্রতিবন্ধিমুখে উত্তর প্রদান প্রসঙ্গে বলেন, প্রাভাকর সম্প্রদায় যেরূপ বলিতেছেন—বিধিবাক্যস্থলেই কার্যতাসাকা পদসমূহ অন্বয়বােধের জনক হইবে এবং অর্থবদলে বাধনিশ্চয়ের অভাব কালীন বাক্যের অন্তর্গত পদার্থসমূহের ধর্মধর্মিতাবের অর্থাৎ বিশেষ্যবিশেষণভাবে উপস্থিতি মাত্র হইতে আকাঙ্ক্ষাৰ নিবৃত্তি হইবে তদ্রুপ অামরাও বলিতে পারি, সন্ধ্যামুপাসতে যে তু’ ইত্যাদি কার্ষতা নিরাকাক্ষ অর্ণবাদৰক্যের নিরূপ্যনিরূপকভাবাপন্ন বিষয়তা শালিবিশিষ্ট শব্দবােধের জনকত্ব কল্পনা করা হইবে, বিধিবাক্যস্থলে কিন্তু কার্যত সাকা পদ হইতে অন্বয়বােধ স্বীকার করা হইবে না। আমাদের মতে কিন্তু যেরূপ বিধিবাক্য হইতে অন্বয়বােধের উৎপত্তি হয় অনুরূপভাবে অর্থবাদবাক্য হইতেও শাৰবােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে। সুতরাং উক্ত উভয়বিধ বাক্যের একটি শব্দবােধের জনক হইবে না, অপরটি শাত্ববােধের জনক पढ़नाम्नि प्राभाकरमतखण्डनम् ২ হইবে-এইরূপ একশেষ অর্থাৎ বিশেষ বলা সম্ভবপর নহে। কারণ বিধিবাক্য জনিত অন্বয়বােধের পরে বা অর্থবাদ জনিত অর্থবােধের পরে যে অনুব্যবসায় উৎপন্ন হয় তগত কোনরূপ বৈলক্ষণ্য অনুতসিদ্ধ নহে। এই অভিপ্রায়ে কার্যতানিরাকাক্ষপণাস্ত- ভাবেনৈব’—ইত্যাদি হইতে ‘দুষ্করত্বাৎ’ পর্যন্ত সন্দর্ভের দ্বারা প্রতিপাদিত হইয়াছে। প্ৰাভাকরমতখন সমাপ্ত।
रूढ़नाम्नि पारिभाषिक्यौपाधिकीसंज्ञा-निरूपणम् मूलम् पारिभाषिकीमौपाधिकीच संज्ञां क्रमेण लक्षयति- उभयावृत्तिधर्मेण, संज्ञा स्यात् पारिभाषिको । औपाधिको त्वनुगतोपाधिना या प्रवर्तते ॥ २२ ॥ অনুবাদ উদ্দেশক্রমে পরিভাষিকী এবং ঔপাধিকী সংজ্ঞার লক্ষণ নির্দেশ করিতেছেন উভয়ে অবর্তমান যে ধর্ম, তৎপুরস্কারে সংকেত বিশিষ্ট যে নাম, তাহাকে পারি- ভাষিকী সংজ্ঞা এবং অনুগত ধর্মপুরস্কারে সংকেতবিশিষ্ট যে নাম তাহাকে ঔপাধিকী সংজ্ঞা বলা হয়। বিবৃতি “রূঢ়ং সঙ্কেতবন্নাম” ইত্যাদি ১৭ সংখ্যক কাৱিকায় নৈমিত্তিক, পারিভাষিক এবং ঔপাধিক—এই তিনপ্রকার রূঢ় অর্থাৎ সংজ্ঞা শব্দের ভেদ প্রদর্শিত হইয়াছে। “জাত্য- বচ্ছিন্ন সঙ্কেত” ইত্যাদি ১৯ সংখ্যক কারিকার মাধ্যমে নৈমিত্তিক সংজ্ঞা নিরূপণ করা হইয়াছে। অতঃপর অবসক্রমে পারিভাষিক ঔদাধিক সংজ্ঞাশব্দের লক্ষণ করিবার জন্য উতয়াবৃত্তিধর্মেণ” ইত্যাদি কারিকা উপস্থাপিত করিতেছেন। গ্রন্থলাঘবের জন্য একটি কারিকার মাধ্যমে পারিভাষিক ও ঔপাধিক এই দ্বিবিধ সংজ্ঞা শব্দের লক্ষণ বলিতেছেন। উক্ত কারিকার প্রথমার্ধের দ্বারা পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং দ্বিতীয়ার্ধের দ্বারা ঔপাধিক সংজ্ঞার লক্ষণ বলা হইয়াছে। উভয়াবৃত্তিধর্মেণ’-এখানে ধর্মাংশে যে উভয়াবৃতিত্ব বিশেষণ দেওয়া হইয়াছে, উক্ত উভয়াবৃতিত্ব একব্যক্তিমাত্রবৃত্তিত্ব, অর্থাৎ একটি মাত্র ব্যক্তিতে বর্তমানত্ব বুঝিতে হইবে। অর্থাৎ ‘আকাশ’, ‘ডিথ' প্রভৃতি শব্দের স্থলে আকাশগত শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ আকাশত্ব ধর্মটি এবং কাঠময় হস্তীৰূপ যে ডিথ পদার্থ, তগত তব্যক্তিত্বরূপ ধর্ম প্রভৃতি গৃহীত হইবে। ইহার ফলে আকাশত্ব পুরস্কারে সঙ্কেতিত যে আকাশপদ, এবং কাষ্ঠময় হস্তীতে বর্তমান তদ্ব্যক্তিত্ব পুরস্কারে সৰুেতিত যে ডিথ পদ, উপদসমূহ পারিভাষিক সংজ্ঞা নামে পরিচিত হইবে।
स्तनाम्नि पारिभाषिक्यौपाधिकोसशा-निरूपणम् ‘ভূত’, ‘দূত’ প্রভৃতি শব্দস্থলে ভূতত্ব, দূতত্ব প্রভৃতি অনুগত উপাধি অর্থাৎ অনুগত ধর্ম পুরস্কারে পঞ্চভূতরূণ অর্থে ‘ভূত’ শব্দ এবং ক্রীড়াবিশেষ রূপ অর্থে ‘দূত’ শব্দ সঙ্কেত বিশিষ্ট হওয়ায় ঐ সকল পদ পারিভাষিক সংজ্ঞা নামে প্রতীয়মান হইবে। এই অভিপ্রায়েই শ্লোকের শেষার্ধে “অনুগত ধর্ম পুরস্কারে যে সংজ্ঞা প্রবৃত্ত হইবে”—ইহা বলা হইয়াছে। ‘প্রবৃত্তি’ শব্দটি এখানে শক্তিরই বােধক বুঝিতে হইবে। অন্যান্য বিশদ আলােচনা বিবরণের বিবৃতি প্রসঙ্গে করা হইবে। मूलम् उमयावृत्तिधर्मावच्छिन्नसङ्केतवती संज्ञा पारिभाषिकी, यथाऽकाश- डेत्यादि, सा हि द्वितयावृत्तिधर्मेणैव शब्दादिना रूपेण तदाश्रयमभिधत्त; न चाकाशादिपदस्य गगनादौ निरवच्छिन्न व शक्तिः, पटादिपदस्यापि বয়াৰী মাহাকালঃ, এই যদি ঘণৰ ন ন্যান্সিয়াক্কি- दित्यादिग्रहोत्तरं ततः पटत्वविशिष्टस्याननुभवादवश्यं तच्छक्तिरवच्छिन्नति चेत्, शब्दवत्त्वावच्छिन्नशक्तिमदित्येवं ग्रहदशायामाकाशादिपदात् न शब्द- वत्वेन गगनस्य प्रतीतिरतस्तस्यापि शब्दवत्त्वावच्छिन्न व तत्र शक्तिरिति विभाव्यताम् ॥ অনুবাদ উভয় পদার্থে (অর্থাৎ একাধিক পদার্থে ) বর্তমান নহে, এইরূপ কোনও ধর্মবিশিষ্টে সঙ্কেতবিশিষ্ট যে নাম, তাহাকে পারিভাষিক সংজ্ঞা শব্দ বুঝিতে হইবে। ইহার উদাহরণ আকাশ এবং ডিথ প্রভৃতি শব্দ। ঐ সকল সংজ্ঞা শব্দ উভয়ে অবর্তমান শব্দ প্রভৃতি ধর্মপুরস্কারে শব্দাশ্রয় প্রভৃতি পদার্থের বাচক হইয়া থাকে। ( আশঙ্কা হইতে পারে) আকাশ প্রভৃতি পদের গগন প্রভৃতি অর্থে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কল্পিত হইবে (না কেন? এই আশঙ্কা সমীচীন নহে, কারণ আকাশ পদের নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কল্পিত হইলে)। ঘট’, ‘পট’ প্রভৃতি শব্দেরও ‘ঘট’, ‘পট' প্রভৃতি অর্থে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কল্পিত হইতে পারে। (যদি বলা হয়) পটরূপ অর্থে শক্তিবিশিষ্ট ‘পট’ পদ, পটত্ববিশিষ্টে শক্তিমান্ নহে এইরূপ জ্ঞানের পরে পটত্ব- বিশিষ্টবিষয়ক অনুভব উৎপন্ন হয় না, অতএব পটপদের পটত্বাবচ্ছিন্নে শক্তি অবশ্য কল্পনা করিতে হইবে-( এই উক্তিও সমীচীন নহে, কারণ) শব্দাশ্রয়ে শক্তিবিশিষ্ট ३२ शब्दशक्तिप्रकाशिका ‘আকাশ’ পদ শব্দাশ্ৰয়ত্ববিশিষ্টে শক্তিবিশিষ্ট নহে এইরূপ জ্ঞান থাকা কালে ‘আকাশ’ প্রভৃতি পদ হইতে শব্দাশ্ৰয়ত্বপুরস্কারে গগন বিষয়ক প্রতীতি না হওয়ায় আকাশপদেরও শব্দায়ত্ববিশিষ্ট গগনে শক্তি কল্পনা সমীচীন—এ বিষয়ে অবহিত হওয়া প্রয়ােজন। বিবৃতি ‘উভয়াবৃত্তিধর্মেণ’ ইত্যাদি কারিকার পূর্বার্ধের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে পারিভাষিক সংজ্ঞার লক্ষণ নির্দেশ করিয়া লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য ‘উতয়াবৃত্তি ধর্মাবচ্ছিন্ন' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করা হইয়াছে। এখানে ধর্মাংশে যে ‘উভয়াবৃত্তিত্ব বিশেষণ দেওয়া হইয়াছে, এই উভয়াবৃত্তিত্ব’ পদার্থটির পর্যালােচনা করিতে হইবে। যদি উভয়ে, অর্থাৎ দ্বিত্ব সংখ্যার অাশ্রয়ে অবৃত্তি ধর্মকে উতয়াবৃত্তি ধর্ম বলা হয়, তাহা হইলে আকাশত্ব বা তদূ্যক্তিত্ব-ইহাদের কোনটিই উভয়াবৃত্তি ধর্ম হইতে পারে না, কারণ আকাশ অথবা কাষ্ঠময় হস্তীরূপ তদ্ব্যক্তি-ইহারাও ঘট এবং আকাশগত, ঘট এবং কাঠময় হস্তীগত দ্বিত্বের আশ্রয় হইয়া থাকে। যদি উতয়াবৃত্তিত্বের ঘটক উভয়ত্বকে একবিশিষ্টারত্ব বলা হয়, তাহা হইলেও সম্বন্ধ বিশেষে তাদৃশ উভয়ত্ব আকাশ প্রভৃতিতেও বিদ্যমান থাকায় আকাশত্ব প্রভৃতি ধর্ম উতধবৃত্তি হইতে পারে না। একমাত্রবৃত্বিকেও উতয়াবৃত্তিত্ব বলার উপায় নাই, কারণ একেতরাবৃত্তিত্বে সতি একবৃত্তিত্ব’ রূপ ‘মা’ পদার্থ অপ্রসিদ্ধ হইবে—কারণ একত্ব সংখ্যাটি কেবলম্বী হওয়ায় ‘একতরত্ব’ অপ্রসিদ্ধ হইবে । অতএব ‘উভয়াবৃত্তিত্ব’ শব্দের যথাশ্রত কোনও অর্থ নির্দোষ না হওয়ায় পারিভাষিক অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। স্বপ্রতিযােগিবৃত্তিত্ব ও স্বানুযােগিবৃত্তিত্ব—এই উভয় সম্বন্ধে ভেদ বিশিষ্ট যে ধর্ম, তদ- ভিন্নত্বকেই উভয়াবৃত্তিত্ব বলিতে হইবে। সুতরাং উক্ত উভয় সম্বন্ধে ভেদবিশিষ্ট নহে- এইরূপ ধৰ্মই উভয়াবৃত্তি ধর্ম হইবে। “আকাশ পদস্থলে আকাশত্ব ধর্মটি ‘আকাশং ন'— এইরূপ তেদের প্রতিযােগী আকাশে বৃত্তি হইলেও অনুযােগীতে (ঘটাদিতে) বৃত্তি না হওয়ায় তাদৃশ উভয় সম্বন্ধে ভেদবিশিষ্টান্ত হইয়াছে। ঘটত্ব প্রভৃতি ধর্ম ‘নীলঘটো ন-- এই ভেদের প্রতিযােগী নীলঘট এবং অনুযােগী পীতঘট~এতদুভয়ে বৃত্তি হওয়ায় তাদৃশ ভেদ বিশিষ্ট হইয়াছে। অতএব ঘটত্ব প্রভৃতি ধর্ম উভয়াবৃত্তি ধর্ম নহে। এইরূপ উতয়াবৃত্তিধর্মবিশিষ্টে সঙ্কেতবিশিষ্ট যে নাম, তাহাই পারিভাষিক সংজ্ঞা নামে অভিহিত হইবে। উক্ত পারিভাষিক সংজ্ঞা শব্দের উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য “যখাকাশভিখাদি' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করা হইয়াছে। আকাশ’ পদস্থলে শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ আকাশত্ব ধর্মটি উভয়াবৃতিধর্মরূপে গৃহীত হওয়ায় তবিশিষ্ট আকাশরূপ অর্থে ‘আকাশ’ পদটি সঙ্কেতবিশিষ্ট হইয়াছে। অতএব আকাশণস্বরূপ সংজ্ঞা শব্দটি পারিভাষিক শব্দ নামে অভিহিত হইবে।
रूढ़नाम्नि पारिभाषिक्योपाधिकीसंज्ञा-निरूपणम् সঙ্কেত ও লক্ষণাভেদে পদ ও পদার্থের বৃত্তি যেরূপ দ্বিবিধ স্বীকৃত হয়, তদ্রুপ নিত্য এবং অনিত্য ভেদে সঙ্কেতও দ্বিবিধ স্বীকৃত হইয়াছে। আজানিক সঙ্কেতকে বলা হয় নিত্যসঙ্কেত এবং আধুনিক সঙ্কেতকে বলা হয় অনিত্যসঙ্কেত। পারিভাষিক ‘আকাশ’ পদের নিত্য সঙ্কেত গৃহীত হওয়ায় পারিভাষিক সংজ্ঞা শব্দগত অনিত্য সঙ্কেত প্রদর্শন করিবার জন্য ‘আকাশ’ পদ উল্লিখিত হওয়ার পর ‘ডিথ’ পদটি উল্লিখিত হইয়াছে। ‘ডি’ শব্দটির কাষ্ঠময় হস্তীরূপ অর্থে তগত ত্যক্তিত্বরূপ উভয়াবৃত্তিধর্মপুরস্কারে আধুনিক সঙ্কেত গৃহীত হওয়ায় উক্ত সঙ্কেত বিশিষ্ট ডিথ পদটি পারিভাষিক সংজ্ঞা শব্দ বুঝিতে হইবে—‘সা হি ইত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা জগদীশ এই অভিপ্রায়ই ব্যক্ত করিয়াছেন। “সা হি” এখানে তৎপদের দ্বারা আকাশ ও ডিথ প্রভৃতি পারিভাষিক সংজ্ঞা গৃহীত হইবে। জগদীশ কথিত ‘দ্বিতয়াবৃত্তিধর্ম' শব্দের দ্বারা পূর্বোক্ত উভয়াবৃত্তি ধর্মই গৃহীত হইবে। ‘শাদিনা'—এই আদি পদের দ্বারা ডিথাদি পদার্থগত তদব্যক্তিত্বরূপ ধর্মকে গ্রহণ করিতে হইবে। অভিপ্রেত আকাশ’ পদকে লক্ষ্য করিয়া শব্দরূপ ধর্মটির উল্লেখ করিয়াছেন। এবং আদি পদের দ্বারা ডিথ প্রভৃতি পদার্থগত তত্তব্যক্তিত্বরূপ উভয়াবৃত্তিধর্ম গৃহীত হইয়াছে। 'তদায়মভিধতে অর্থাৎ শব্দের আশ্রয় যে গগন এবং তদব্যক্তিত্বের আশ্রয় যে কাষ্ঠময় হস্তী তাহাদের বাচক হইয়া থাকে। ইহার দ্বারা শব্দের আশ্রয়ে আকাশ পদের শক্তি, তদ্ব্যক্তিত্বের আশ্রয়ে ডিথ পদের শক্তি সূচিত হইয়াছে। এখন একটি প্রশ্ন হইতে পারে ‘চৈত্র’ ‘মৈত্র’ প্রভৃতি শব্দ পারিভাষিক সংজ্ঞা হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে ‘চৈত্ৰত্ব’ ‘মৈত্ৰত্ব’ প্রভৃতি ধর্ম বাস্য কৌমার ভেদে নানা শরীরবৃত্তি হওয়ায় জাতিরূপে গণ্য হইবে। সুতরাং চৈত্র প্রভৃতি শব্দ জাতি- বিশিষ্টের বাচক হওয়ায় নৈমিত্তিক সংজ্ঞাই হইবে, পারিভাষিক নহে। “ন চ” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে জগদীশ একটি আশঙ্কা উত্থাপন করিয়া সমাধান করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, নিরবচ্ছিন্নশক্তিবাদিগণ বলেন, আকাশপদের যে গগনরূপ অর্থে শক্তি কল্পিত হইয়াছে, ঐ শক্তি নিরবচ্ছিন্ন অর্থাৎ শব্দাশ্রম্নত্বৰূপ উপাধিবিশেষের দ্বারা অবচ্ছিন্ন নহে। আকাশ পদের পারিভাষিক সংজ্ঞা হইতে পারে না। এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলেন —যদি আকাশ পদেৰ শব্দাশ্রয়ে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে পটাদি পদেরও নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কল্পিত হইবে না কেন? যদি বলা হয় পটরূপ অর্থে শক্তিবিশিষ্ট ‘পট’ পদ পটত্ববচ্ছিন্নে শক্তিবিশিষ্ট নহে, এইরূপ জ্ঞানের পরে পটপদগত শক্তিগ্রহ হইতে পটত্ব- বিশিষ্টের শব্দানুভব যেহেতু উৎপন্ন হয় না অতএব পটত্বাদি জাতিবিশিষ্ট পটাদিপদের শক্তি অবশ্যই কল্পনা করিতে হইবে। এই বক্তব্যের উত্তরে সিদ্ধান্তিগণ বলেন, আকাশপদ লেও শব্দাশ্ৰয়ৰূপ অর্থে শক্তিবিশিষ্ট আকাশপদ, শব্দাশ্ৰয়ত্বাবচ্ছিন্নে শক্তিবিশিষ্ট নহে। এইরূপ জ্ঞান থাকা কালে আকাশপদের শক্তিজ্ঞান হইতে শব্দাশ্রম্নত্বপুরস্কারে গগনের অন্বয়বােধও অনুভব সিদ্ধ নহে। সুতরাং আকাশপদস্থলেও শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ উপাধিবিশিষ্ট গগনরূণ অর্থে শক্তি অবশ্য কল্পনা করিতে হইবে। ব ३४ शब्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् एतेन पटत्वायु पलक्षिते धर्मिण्येव शक्तिगहस्य ताद्प्येण पटाद्यनु- भवं प्रति हेतुत्वान्मास्तु पटादिपदस्यापि पटत्वाद्यवच्छिन्ने शक्तिः, परन्तु पटत्वायु पलक्षितव्यक्तित्वे वेति शिरोमण्युक्तमपि प्रत्युक्तम् , शब्दोपलक्षित- धर्मिणि शक्तिगहादेवाकाशादिपदाचदंशे निर्विकल्पकात्मकस्मरणमन्वयानु- भवश्चोत्पद्यत इति तु नानुमविकं, न वा यौक्तिकम् । या चानुगतो- पाध्यवच्छिन्ने सङ्केतवती संज्ञा, सा त्वौपाधिकी, यथा भूत तादिः, सा हि सचेतनावृत्तिविशेषगुणवत्त्वं, वाताहारकत्वाद्यनुगतोपाधिपुरस्कारेणैव प्रवर्तते, शब्दादिकन्तु सखण्डत्वेनोपाधिरपि नानुगतो द्वितयावृतित्वादतः पारिभाषिके गगनादिपदे नातिप्रसङ्गः । घटत्वादिजातेः संस्थानवृतित्वमते यदि घटादिपदं विलक्षणसंस्थानवत्वेन शक्तं, तदौपाधिकमेव, यदि च परम्परया वैलक्षण्यवत्त्वेन, तदा नेमितिकमेव, वस्तुतः सामान्यस्य शाब्द- बुद्धौ स्वरूपतः प्रकारत्वं समवायेनैवेत्यभिहितं प्रागिति ॥ २२ ॥ অনুবাদ ইহার ফলে, পটত্ব প্রভৃতি জাতির দ্বারা উপলক্ষিত যে পটরূপ ধর্মী তদ্বিশেষক শক্তিগ্রহে পটাদি ধর্মপুরস্কারে পটাদিগােচর অন্বযবােধের কারণত্ব স্বীকৃত হওয়ায় পটাদিপদের পটাত্ববচ্ছিন্নে শক্তি স্বীকৃত হইবে না পরন্তু পটাদি ধর্মের দ্বারা উপলক্ষিত যে পটাদি ব্যক্তি তাহাতেই (শক্তি কল্পিত হইবে) রঘুনাথ শিরােমণির এই প্রকার সিদ্ধান্ত ও নিরাকৃত হইল। (যাহার বলেন) আকাশপদের শব্দোপলক্ষিত গগনাদিরূপ ধমিতে শক্তিগ্রহ হইতে গগনাংশে নির্বিকল্পাত্মক স্মরণ এবং অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয়, ইহা কিন্তু অনুভবসিদ্ধ অথবা যুক্তিযুক্ত নহে। অনুগত ধর্মবিশিষ্ট সঙ্কেত বিশিষ্ট যে সংজ্ঞা, তাহাকে ঔপাধিক সংজ্ঞা বলে । যেরূপ ভূত এবং দ্রুত প্রভৃতি শব্দ। (ঐ) সকল সংজ্ঞা শব্দ সচেতনে বর্তমান নহে ঈদৃশ বিশেষগুণের আশ্ৰয়ত্ব এবং বার্তাহারকত্বরূপ যে অনুগত स्दनाम्नि पारिभाषिक्यौपाधिकीसंज्ञा-निरूपणम् উপাধি তৎপুরস্কারেই শক্তির আশ্রয় হইয়া থাকে। আকাশাদিপদস্থলে শব্দা- শ্ৰয়ত্ব প্রভৃতি সখণ্ডধর্ম হওয়ার ফলে উপাধি হইলেও অনুগত ধর্ম নহে। (কারণ) ঐ সকল ধর্ম একাধিক পদার্থে বিদ্যমান নহে। অতএব পারিভাষিক গগন প্রভৃতি পদে ঔপাধিক সংজ্ঞা লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। যাঁহারা অবয়বসংযােগরূপ সংস্থানগত ঘটত্বাদি জাতি অঙ্গীকার করেন তাহাদের মতে ঘটপ্রভৃতি পদ বিলক্ষণ অবয়ব সংযােগ রূপ সংস্থানের আশ্ৰয়ত্ব পুরস্কারে যদি শক্তিবিশিষ্ট হয়, তাহা হইলে ঘটাদি শব্দও ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে। যদি পরম্পরা সম্বন্ধে বৈজাত্যের আশ্ৰয়ত্ব পুরস্কারে ঘটপদের শক্তি অঙ্গীকৃত হয়, তাহা হইলে ( ঘটপদ) নৈমিত্তিক সংজ্ঞা হইবে। বাস্তবিকপক্ষে শাব্দবােধের ( ঘটত্ব প্রভৃতি) জাতিগত প্রকার নিয়মিত ভাবে সমবায় সম্বন্ধের দ্বারাই অবচ্ছিন্ন হইবে, ইহা আমরা পুর্বেই বলিয়াছি বিবৃতি ‘এতেন' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে জগদীশ রঘুনাথ শিরােমণির মত খণ্ডন করিতেছেন। ‘এতেন’ পদটির যেহেতু, পটরূপ অর্থে শক্তিবিশিষ্ট পটপদটি পটত্বাবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয় নহে—এই প্রকার জ্ঞানের পরে পটত্ববিশিষ্ট পটের শব্দানুভব উৎপন্ন হয় না, অতএব, এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। গুণকিরণাবলীগ্রন্থে বর্ধমান উপাধ্যায় যে ধর্মটি স্বয়ং বাচ্য হইয়া বাচ্যপদার্থে বর্তমান থাকিবে এবং বাচ্যপদার্থটির স্মরণে বিশেষণরূপে ভাসমান হইবে সেই ধর্মটির (বাচকপদের) প্রবৃত্তিনিমিত্ত হইবে, এইরূপ প্রবৃত্তিনিমিত্তের লক্ষণ বলিয়াছেন। রঘুনাথ শিরােমণি উক্তপ্রবৃত্তি নিমিত্তের লক্ষণে বাচত্নে সতি' এই বিশেষণটি নিষ্প্রয়ােজন মনে করেন। রঘুনাথ বলেন—গো’, ‘ঘটাদি’ পদস্থলে ‘গােত্ব’ ‘ঘটত্ব প্রভৃতি ধর্মের ন্যায় আকাশ পদস্থলে আকাশত্বরূপ ধর্মের কোনরূপ বৈলক্ষণ্য নাই অর্থাৎ আকাশ পদস্থলে আকাশত্ব ধর্মটি যেরূপ উপলক্ষণ ‘গাে’, ‘ঘটা’দিস্থলে গোত্ব-ঘটত্ব প্রভৃতিধর্ম অনুরূপভাবে উপলক্ষণ হইবে। সুতরাং শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ আকাশত্বের যেরূপ শ ক্যত্ব স্বীকৃত হয় না, অনুরূপভাবে গােত্ব-ঘটত্ব প্রভৃতি গােঘটাদিপদের শক্যবচ্ছেদক ধর্মেও অনুরূপভাবে শক্তি কল্পিত হইবে না। অতএব উক্ত প্রবৃত্তিনিমিত্তে লক্ষণে ‘বাচ্যত্বে সতি’ এই সত্যদলটি নিরর্থক। এই অভিপ্রায়ে জগদীশ শিরােমণির অতিপ্রায় ব্যক্ত করিবার জন্য বলিয়াছেন পটত্বপ্রভৃতি ধর্মের দ্বারা উপলক্ষিত যে পটপ্রভৃতি ধর্ম তগতশক্তিগ্রহ পটাদিপুরস্কারে পটাদিবিষয়ক শব্দানুভবের প্রতি কারণ হওয়ায় পটাদিপদের পটাদি ধর্মবচ্ছিন্নে শক্তি স্বীকৃত হইবে না। পরন্তু পটত্বাদিধর্মের দ্বারা ১। চ্যত্বে সতি বাচ্যবৃত্তিত্বে সতি বাচ্যোপস্থিতিপ্রকাৱত্ব”-গুণকিরণালী একা।
शब्दशक्तिप्रकाशिका পটাদিব্যক্তিসমূহে পটাদিদের শক্তি কল্পিত হইবে। এইরূপ শিয়ােমণির মতকে খণ্ডন করিবার অন্য রঘুনাথশিরোমণি যে শব্দ (শব্দাশ্ৰয়ত্ব) রূপ ধর্মের দ্বারা উপলক্ষিত শব্দের আশ্রয়গত আকাশপদের শক্তিজ্ঞান হইতে অাকাশের অংশে নিৰিকল্পকাত্মক অরণের মাধ্যমে শাশ্ৰয়ত্বপুরস্কারে শব্দবােধ উৎপন্ন হয় বলিয়াছেন। রঘুনাথের বক্তব্য এই যে, ‘অস্তু বা পদাদপি নিৰিকল্পকম্' অর্থাৎ আকাশাদি পদ হইতে নির্বিকল্প (জ্ঞান) উৎপন্ন হইয়া থাকে। এই প্রাচীন উক্তির অন্তর্গত নির্বিকল্পপদটি আকাশাদি পদের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থ বিশেষের দ্বারা বিশিষ্ট নহে এইরূপ ( শব্দানুভবের জনক) নির্বিকল্পক স্মরণ বুঝিতে হইবে। জগদীশ শিরােমণির উক্ত মত খণ্ডন করিবার জন্য বলেন—নির্বি- কল্পক স্মরণ হইতে যে শব্দবােধ উৎপন্ন হয়-ইহা অনুতবসিদ্ধ নহে। যদি বলা হয়- ইহা অনুভব সিদ্ধ নহে। যদি বলা হয় অনুকুল যুক্তি তাদৃশ অনুভবের সাধক হইবে- এই উক্তিও সঙ্গত নহে। অর্থাৎ তাদৃশ অনুভবের অনুকুল কোন যুক্তিও অনুভূত হয় না। এই অভিপ্রায়ে জগদীশ বলিয়াছেন—‘ন বা যৌক্তিকমিতি। কারিকার দ্বিতীয়ার্ধ ব্যাখ্যাপ্রসঙ্গে ঔপাধিক সংজ্ঞা শব্দের নিরূপণ করিতেছেন— অনুগত উপাধিবিশিষ্ট যে সংজ্ঞা শব্দ তাহাই ঔপাধিক সংজ্ঞা বুঝিতে হইবে। এখানে অনুগত শব্দটি ধর্মের বিশেষণরূপে নির্দিষ্ট হইয়াছে। নব্যমতে বৃত্তিম' অর্থাৎ সম্বন্ধ- বিশেষে কোনও একটি আশ্রয়ে বর্তমান যে পদার্থ তাহাকেই ধর্ম বলা হইয়াছে। অতএব ‘বৃত্তিমত্বং ধর্মত্ব এইরূপ ধর্মের লক্ষণ বলা হয়। ধর্মাংশে অনুগ তত্ব বিশেষণটি থাকায় তাহার অর্থ পর্যালােচনা করিলে সাধারণত: অনেক বৃত্তিত্বকেই ‘আনুগতত্ব’ বলা হইয়া থাকে। প্রস্তাবিত ঔপাধিক সংজ্ঞাস্থলে অনেকবৃত্তিত্বৰূপ অনুগতত্ব সম্ভব নহে। কারণ অনেকবৃত্তিধর্মই যদি ঔপাধিক ধর্ম হয়, তাহা হইলে রূপরস প্রভৃতি বিশেষগুণ অনেকবৃত্তি না হওয়ায় ভূত প্রভৃতি নাম ঔপাধিক সংজ্ঞা হইতে পারে না। অতএব এখানে একটি সম্বন্ধের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যে অনেক নিরূপিত বৃত্তিতা, তদবচ্ছেদকবিশিষ্ট ধর্মই অনুগত ধর্ম বুঝিতে হইবে, ভূতশব্দস্থলে অনুগত ধর্ম হইবে—সচেতনে অবস্থিত নহে এইরূপ বিশেষগুণ বা তাহার আশ্ৰয়ত্ব। রূপ রস প্রভৃতি বিশেষগুণ সচেতন যে আত্মা তাহাতে ১। এই ক্ষেত্রে আপত্তি হইতে পারে তৎপ্রকারক তদ্বিশেষুক স্মৃতির প্রতি তৎকাৰকতদ্বিশেষক অনুভব কারণ হইয়া থাকে। আলােচ্যস্থলে বিশিষ্টানুভব হইতে বিশিষ্ট সংস্কারের মাধ্যমে নির্বিকল্পক স্মরণ কেমন করিয়া উৎপন্ন হইবে—এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে বলিতে হইবে তদ্ধগত প্রকারতাভিন্ন প্রকার নিরূপিত নহে, এইরূপ ধর্মিবিষয়তার নিরূপক যে মরণ তাহার প্রতি তদ্ধৰ্ম প্ৰকারতানিরূপিত তর্মনিষ্ঠ বিশেষতানিরূপক অনুভবতৃপুরস্কারে কাৰণতার কল্পনা করার ফলে নিৰিকল্পক অরণের প্রতিও বিশিষ্টানুভবের কাৰণতা সম্ভবপর হইবে। ২। এক সম্বন্ধাবচ্ছিন্নানেকনিরূপিত বৃত্তািবচ্ছেদকাৰচ্ছিন্নত্ব”—ইহাই অনেক বৃত্তিধর্মের স্বরূপ বুঝিতে হইবে। টীকাকাৰ কৃষ্ণকান্ত এইভাবে অনুগত ধর্মের পরিষ্কার করিয়াছেন—শক্তিপ্রকাশিকা পৃঃ-১৩৫।
सहनाम्नि पारिभाषिक्योपाथिकीसंशा-निरूपणम् ২০ অবস্থিত নহে। অতএব এইসকল গুণ যথাক্রমে পঞ্চভূতে বর্তমান থাকায় ইহারাই অনুগত উপাধিরূপে গৃহীত হইবে। যথা ‘ভুতদূতাদি ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা সংজ্ঞা শব্দের উদাহরণ এবং তাহাতে ঔপাধিক সংজ্ঞার লক্ষণের সমন্বয় প্রদর্শন করিতেছেন। ভূত ও দূত শব্দ- খুলে স্বভাবতই প্রশ্ন হইবে, ভূতত্ব ও দূতত্বের ধর্মের স্বরূপ কি? ভূতত্বরূপ অনুগত উপাধির স্বরূপ প্রতিপাদন করিবার জন্য সচেতনাবৃত্তিবিশেষগুণবত্ত্ব’ এই অংশের অবতারণা করিয়াছেন। ঈশ্বর সাধারণ সচেতনকে বুঝাইবার জন্য সুখবদত্তি’ না বলিয়া ‘সচেতনা- বৃত্তি’ পদটি বিশেষণের বিশেষণপদরূপে উল্লিখিত হইয়াছে। সচেতন শব্দের অর্থ জ্ঞানের আশ্রয়, জ্ঞান, ইচ্ছা প্রভৃতি বিশেষণের আশ্ৰয়ত্ব আত্মাতেও থাকায় ভূতত্বের আপত্তি হইতে পারে। এইজন্য বিশেষণাংশে সচেতনাবৃত্তিত্ব বিশেষণটি দেওয়া হইয়াছে। সচেতনে অর্থাৎ আত্মাতে বর্তমান নহে এইরূপ বিশেষ গুণ যে রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ ও শব্দ -ইহাদের আশ্রয়ত্বৰূপ অনুগত উপাধি পৃথিবীর জল, তেজ, বায়ু ও আকাশরূপ ভূতবর্গে থাকায় ভূতশব্দে ঔপাধিক সংজ্ঞা লক্ষণ সময় হইবে। দূতশব্দস্থলে ও বার্তাহারকত্বরূপ দূতত্ব অনুগত উপাধি হওয়ায় তদ্বিশিষ্টে দূতশব্দের সঙ্কেত গৃহীত হইবে। অতএৰ পঞ্চ- ভূতরূপ অর্থে ভূতশব্দটি সেইরূপ ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে। জগদীশ যে বার্তাহারকত্বৰূপ অনুগত উপাধি বলিয়াছেন, ইহার দ্বারা ভিন্নদেশ কোনও ব্যক্তিবিশেষের বার্তাবহনের অনুকুল কর্তৃত্বই বার্তাহারকত্বপদের দ্বারা বুঝিতে হইবে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন আমরা বুঝিতে পারি পূর্বোক্তরূপ ভূতত্ব এবং দূতত্ব অনুগত উপাধিৰিশেষ হওয়ায় তাদৃশ অনুগত উপাধি (ধর্ম) পুরস্কারে যথাক্রমে ভূতশব্দের এবং দূত শব্দের ভূতবর্গরূপ অর্থের এবং বার্তাহারকরূপ অর্থে সঙ্কেত গৃহীত হওয়ায় উক্তশব্দদ্বয় ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, শব্দ বা শব্দাশ্ৰয়ত্বাদিরূপ উপাধি পুরস্কারে আকাশপদের শক্তিগৃহীত হওয়ায় আকাশ শব্দ শব্দাশ্রয়রূপ অর্থে ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে জগদীশ বলিতেছেন, শব্দ বা শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ আকাশত্ব প্রভৃতি ধর্ম উপাধি হইলেও অনুগত নহে। কারণ শাশ্ৰয়ত্বদিরূপ উপাধি গগনরূপ একটি মাত্র ব্যক্তিতেই অবস্থিত থাকে, একাধিক ব্যক্তিতে নহে। অতএব আকাশ প্রভৃতি পদে ঔপাধিক সংজ্ঞা লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। ইহার উপরেও আশঙ্কা হইতে পারে, যাহারা ঘটত্বাদি জাতিকে ঘটাদিব্যক্তিগত স্বীকার না করিয়া অবয়ব সংযােগরূপ সংস্থান স্বীকার করেন তাহাদের মতে সংস্থান বিশেষরূপ ঘটাদিগত সখণ্ড উপাধি বিশেষ পুরস্কারে শক্তি কল্পিত হওয়ায় ঘটাদিপদও ঔপাধিক সংজ্ঞা হইতে পারে। এই আপত্তির উত্তরে ইষ্টাপত্তিপূর্বক জগদীশ বলিতেছেন ঘটপ্রভৃতি শব্দ যদি বিলক্ষণ সংস্থানের আশ্ৰয়ত্বপুরস্কারে শক্তিমান হয়, তাহা হইলে ঔণাধিক সংজ্ঞাই হইবে। জগদীশ বিজাতীয় অবয়ব সংযােগ অর্থে বিলক্ষণ সংস্থান শব্দটি প্রয়ােগ করিয়াছেন। বিলক্ষণ সংযােগবত্ত্বেন’ এই তৃতীয়া- বিভক্তির অবচ্ছিন্ন অর্থ গৃহীত হইবে। যদি বলা হয় ঘটাদি পদ ঔপাধিক সংজ্ঞা হইতে পারে না কারণ ঘটে রূপকার্যের অৱসিদ্ধাত্মিক সহিত দণ্ডাদিরূপকারণসমূদায়ের কার্যকারণভাব অবশ্যই কল্পিত হইবে। উক্ত কার্যকারণ ভাবের অবচ্ছেদক হইবে ঘটত্ব এবং দণ্ডত্ব। সুতরাং ঘটত্বাবচ্ছিন্নের প্রতি দণ্ডত্বাদিরূপে দাদির কারণ কল্পিত হওয়ায় তাদৃশ কাৰণতানিরূপিত কার্যতার অবচ্ছেদ ঘটত্ব হওয়ার ফলে ঘটত্বকে অবশ্যই জাতিবিশেষ স্বীকার করিতে হইবে। এই উক্তির প্রত্যুত্তরে জগদীশ বলেন—হ্যা, যদি উক্ত কার্যকারণভাবের অনুরােধে ঘটাদিগত বৈলক্ষণ্য অর্থাৎ বৈজাত্য স্বীকার করিতে হয় তাহা হইলে ঘটাদিশ জাত্যবচ্ছিন্ন সঙ্কেতবিশিষ্ট হওয়ায় নৈমিত্তিক সংজ্ঞাই হইবে, ঔপাধিক নহে। জগদীশ আরও বলেন, শব্দবােধে কোনও ব্যক্তিবিশেষের বিশেষণরূপে যদি সামান্য (জাতি) ভাসমান হয়, তাহা হইলে উক্ত সামান্য সাক্ষাৎ সমবায় সম্বন্ধেই ভাসমান হইবে, পরস্পর সম্বন্ধে নহে। সুতরাং সাক্ষাৎ সম্বন্ধে ভাসমান জাতি পুরস্কারে ঘটাদি শব্দ সাক্ষাৎ শক্তিবিশিষ্ট হওয়ায় ঘটাদিপদ নৈমিত্তিক সংজ্ঞা রূপে গণ্য হইবে। ইহাই সমীচীন। | পারিভাষিক্যোপাধিকী সংজ্ঞা নিরূপণ সমাপ্ত रूढ़नाम्नि वैयाकरणमतम् मूलम् तु जात्यवच्छिन्नसङ्केतवतामपि चैत्रादिपदानां पारिभाषिकत्व- माहुस्तेषां मते त्रैविध्यमन्यथा निर्वक्ति- यद्वाधुनिकसङ्केतशालि स्यात् पारिभाषिकम् । जात्या नैमित्तिकं शक्नमौपाधिकमुपाधिना ॥ २३ ॥ অনুবাদ যাহারা জাতিবিশিষ্ট অর্থে সঙ্কেতবিশিষ্ট হইলেও চৈত্রপ্রভৃতি পদসমূহের পারিভাষিকত্ব বলেন, তাহাদের মতে প্রকারান্তরে (শকের) ত্রিবিধ লক্ষণ বলিতেছেন। অথবা আধুনিক সঙ্কেতবিশিষ্ট নাম পারিভাষিক, জাতিবিশিষ্ট অর্থে সঙ্কেত বিশিষ্ট নাম নৈমিত্তিক, এবং উপাধিবিশিষ্ট অর্থে শক্তিবিশিষ্ট নাম ঔপাধিক সংজ্ঞা রূপে গণ্য হইবে। বিবৃতি ‘যে তু’ ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা বৈষাকরণদিগের মত উত্থাপন করিতেছেন। জাত্য- বচ্ছিন্নসঙ্কেতবতামপি’ এই অংশের দ্বারা নৈয়ায়িকদের মতে চৈত্র প্রভৃতি শব্দ নৈমিত্তিক সংজ্ঞা হইবে—ইহা সূচিত হইয়াছে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, চৈত্র প্রভৃতি শব্দকে যে জাত্যবচ্ছিন্ন সঙ্কেত বিশিষ্ট বলা হইয়াছে, ইহা কি করিয়া সম্ভবপর হইবে, কারণ কোনও ধর্ম অনেক ব্যক্তিতে সমবেত না হইয়া জাতি হইতে পারে না। চৈত্রত্ব ধর্মটি কিন্তু চৈত্রীয় শরীর রূপ একমাত্র ব্যক্তিতে বিদ্যমান, অতএব চৈত্ৰত্ব জাতি হইতে পারে না। চৈত্ৰত্ব জাতি না হইলে চৈত্ৰত্ব প্রভৃতি শব্দ কায়মতে নৈমিত্তিক সংজ্ঞা বা বৈয়াকরণ মতে ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে না। এই আশঙ্কা কিন্তু সমীচীন নহে। কারণ বাল্য, কৌমার, প্রৌঢ়ত্ব ভেদে চৈত্রীয় শরীরও বিভিন্ন হওয়ায় চৈত্ৰত্ব ধর্মটি অনেক সমবেত অবশ্যই হইবে। অতএব চৈত্ৰত্ব ধর্মটির জাতি হওয়ার পক্ষে কোনরূপ বাধক না থাকায় চৈত্র প্রভৃতি শব্দ शब्दशक्तिप्रकाशिका জাত্যবচ্ছিন্ন সঙ্কেতের আশ্রয় অবশ্যই হইবে। ফলে বৈয়াকরণ মতে চৈত্র প্রভৃতি শব্দের পারিভাষিকত্ব এবং ন্যায়মতে নৈমিত্তিক সিদ্ধ হইবে। বৈয়াকরণ মতেও শব্দের ত্রিবিধ সংজ্ঞা স্বীকৃত। উক্ত ত্রিবিধ সংজ্ঞা নিরূপণ করিবার জন্য ‘যুদ্বা ইত্যাদি শ্লোকের অবতারণা করিতেছেন। শ্লোকের প্রথমার্ধের দ্বারা পারি- ভাষিক সংজ্ঞা নিরূপিত হইয়াছে। পারিভাষিক সংজ্ঞার স্বরূপ প্রদর্শন করিবার জন্য বলিয়াছেন, আধুনিক সঙ্কেতবিশিষ্ট যে শব্দ তাহাই পারিভাষিক সংজ্ঞা হইবে। অর্থাৎ যে সকল শব্দ নিত্য সঙ্কেতবিশিষ্ট নহে, সেই সকল শব্দই বৈয়াকরণ মতে পারিভাষিক শব্দ হইবে। যদিও ন্যায়মত অবলম্বন করিয়া জগদীশ প্রথমে নৈমিত্তিক সংজ্ঞা, তাহার পরে পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং অন্তে ঔপাধিক সংজ্ঞার কথা বলিয়াছেন। বৈয়াকরণ মতে পারিভাষিক সংজ্ঞার যে স্বরূপ বলা হইয়াছে, তাহা নায়মত বিরুদ্ধ। ঐ জন্য নৈয়ায়িকো ক্রম পরিত্যাগ করিয়া প্রথমে বৈয়াকরণ সম্মত পারিভাষিক শব্দ নিরূপণ করা হইয়াছে। ‘জাত্যা’ এই তৃতীয়াবিভক্ত্যন্ত জাতিপদের জাত্যবচ্ছিন্নত্বৰূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। শক্তিমৎ' পদের অর্থ শক্তিৰিশিষ্ট। উক্ত শক্তিবিশিষ্টের একদেশ যে শক্তি তাহাতে জাত্যবচ্ছিন্নত্ব অন্বিত হইবে। নাম পদটি অধ্যাহার করিয়া জাত্যবচ্ছিন্ন শক্তিবিশিষ্ট নাম নৈমিত্তিক সংজ্ঞা রূপে পরিচিত হইবে। “ঔপাধিকমুপাধিনা’ এখানেও তৃতীয়া- বিভক্তির অর্থ অবিচ্ছিন্নত্ব বুঝিতে হইবে। শক্ত পদটির অনুষঙ্গ করিয়া তাহার একদেশ শক্তিতে অবচ্ছিন্নত্বের অন্বয় করিতে হইবে। এখানেও শব্দ পদে অধ্যাহার করিয়া উপাধির দ্বারা অবচ্ছিন্ন যে শক্তি, তদ্বিশিষ্ট নামকে ঔপাধিক সংজ্ঞা বুঝিতে হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, ধর্ম মাত্রই যখন উপাধি তখন গােত্ব ঘটত্ব প্রভৃতি জাতিও উপাধি হওয়ায় তদবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয় গাে ঘটাদিপদ ঔপাধিক হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে-ঔপাধিকমুপাধিনা। এখানে উপাধি পদের দ্বারা বৈয়াকরণ সম্প্রদায় সখণ্ড ধর্মকেই গ্রহণ করেন। অতএব গােত্ব, ঘটত্ব প্রভৃতি জাতি অখণ্ড হওয়ায় তদ্বিশিষ্ট শক্তির আশ্রয় গো ঘটাদি পদের ঔপাধিক প্রসক্তি হইবে না। এই মতে চৈত্র প্রভৃতি পদ পারিভাষিক শব্দের, গে ঘটাদি পদ নৈমিত্তিক শব্দের এবং আকাশ প্রভৃতি পদ উপাধিক শব্দের উদাহরণরূপে গ্রহণ করিতে হইবে। मूलम् यत्रार्थ यनामाधुनिकसङ्केतवत्तदेव तत्र पारिभाषिकं, यथा- पित्रादिभिः पुत्रादौ सङ्केतितं चैत्रादि, यथा वा शास्त्रभिः सिद्मभावादी पक्षतादि । ज्यात्यवच्छिाशक्तिवनाम नैमित्तिकं यथा गो-गवयादि, सदनाम्नि वैयाकरणमतम् ৭ यदुपाध्यवच्छिमशक्तिमन्नाम तदोपाधिकं, यथाऽऽकाशपश्वादि । মা- निकस्तु सङ्केतो न शक्तिनित्यस्यैव तस्य तथात्वात। तदुक्तं भर्तृहरिणा- आजानिकरचाधुनिकः, सङ्कतो द्विविधो मतः । नित्य श्राजानिकस्तत्र, या शक्तिरिति गीयते ॥ कादाचित्कस्त्वाधुनिकः शास्त्रकारादिभिः कृत इति । न च पित्रादिना सङ्केतिते चैत्रादिपदे नित्यसङ्केतवचे मानमस्ति, "द्वादशेऽहनि पिता नाम कुर्यादिति" श्रुतेः पितृकर्तव्यसङ्केतविधायकमात्र- परत्वात्, चैत्रादिपदस्य शक्तिमत्वे पूर्वपूर्वप्रयुक्तत्वापाताच, तस्य तन्नियत- स्वादित्युक्तत्वात् । অনুবাদ যে অর্থে যে নামটি আধুনিক সঙ্কেত বিশিষ্ট হইবে, সেই অর্থে সেই নামটি পারিভাষিক ( হইবে) যেরূপ পিতা প্রভৃতি কর্তৃক (তদীয় পুত্র প্রভৃতি অর্থে সঙ্কেতবিশিষ্ট “চৈত্র’ প্রভৃতি নাম এবং শাস্ত্রকারগণ কর্তৃক সিদ্ধ্যভাবাদিরূপ অর্থে সঙ্কেতবিশিষ্ট ‘পক্ষতা প্রভৃতি (নাম পারিভাষিক হইয়া থাকে), জাতিবিশিষ্ট রূপ অর্থে শক্তির আশ্রয় যে নাম, (তাহ) নৈমিত্তিক হইবে, যেরূপ—গাে, গবয় প্রভৃতি নাম। (সখণ্ড) উপাধি দ্বারা অবচ্ছিন্ন শক্তিবিশিষ্ট (যে ) নাম, ( তাহা) ঔপাধিক নাম হইবে। যেরূপ—‘আকাশ’, ‘পশু' প্রভৃতি শব্দ। আধুনিক সঙ্কেত কিন্তু শক্তি নহে, (কারণ) নিত্য সঙ্কেতই শক্তিরূপে স্বীকৃত হইয়াছে। ভর্তৃহরি (তাহাই ) বলিয়াছেন—“আজানিক ও আধুনিক ভেদে দ্বিবিধ সঙ্কেত স্বীকৃত হইয়াছে উভয়ের মধ্যে আজানিক ( শব্দটি) নিত্য অর্থে অভিহিত হওয়ায় ( উক্ত নিত্য সঙ্কেত) শক্তি নামে কীর্তিত ( হইয়াছে )। যাহা কদাচিৎ শাস্ত্রকার কর্তৃক কল্পিত হইয়াছে, তাহা আধুনিক সঙ্কেত। পিতা প্রভৃতি কর্তৃক সঙ্কেতিত ‘চৈত্র’ প্রভৃতি পদে যে নিত্য সঙ্কেত বিদ্যমান —এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ নাই। (পুত্রাদির জন্মের পরে ) দ্বাদশ দিনে পিতা (পুত্ৰাদির) নামকরণ করিবেন’-এই শ্রুতিবাক্য পিতার কর্তব্য যে সঙ্কেত তাহার বিধায়করূপেই প্রযুক্ত হইয়াছে। (আরও বক্তব্য এই, যে-) চৈত্রাদি *২ शब्दशक्तिप्रकाशिका পদ যদি শক্তির আশ্রয় হয়, তাহা হইলে চৈত্রদিপদের পূর্বপূৰ্বকালীন প্রয়ােগ বিষয়ত্বের আপত্তি হইবে। (কারণ নিত্য সঙ্কেত মাত্রই) পূর্বপুর্ব-প্রয়ােগ নিয়ত—ইহা বলা হইয়াছে। বিবৃতি ‘যত্র ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা ‘যদ্বা’ ইত্যাদি কারিকার বিবরণ প্রদর্শন করিতেছেন। যে অর্থে যে নামটি আধুনিক সঙ্কেতের আশ্রয় হইবে, সেই নামটি সেই অর্থে পারিভাষিক । সঙ্কেত’ পদটির পর্যালােচনা করিলে আমরা বুঝিতে পারি—পদ এবং পদার্থের সম্বন্ধ বিশেষকে বৃত্তি বলা হইয়াছে। সঙ্কেত এবং লক্ষণাভেদে বৃত্তিও দ্বিবিধ বিবক্ষিত হইয়াছে। ঐ সঙ্কেতও আবার এই শব্দ হইতে অমুক অর্থের বােধ কউক’ ( অস্মাচ্ছাদয়র্থো বােদ্ধ ব্য:) এবং এই পদটি অমুক অর্থ গােচর বােধের জনক হউক ( ইদং পদং ইমমর্থং বোধয়তু)—এই দ্বিবিধ ইচ্ছাকে সঙ্কেত রূপ বৃত্তি বলা হইয়াছে। উক্ত ইচ্ছদ্বযের অন্তর্গত প্রথম ইচ্ছাটিতে (ঘট' ইত্যাদি) পদ বিশেষজনিত বােধবিষয়ত্ব বিশেষণ, এবং অর্থবিশেষ ( ঘটাদি বস্তু) বিশেষ্য হওয়ায় উক্ত সঙ্কেতকে তাদৃশ বােধবিষয়ত্ব প্রকারক অর্থবিশ্যেক সঙ্কেত বলা হয়। আবার দ্বিতীয় ইচ্ছাতে ঘটাদি অর্থগােচর বােধের জনকত্ব বিশেষণ এবং ঘটাদি পদ বিশেষ্য হওয়ায়, উক্ত সঙ্কেতকে তাদৃশ বােধ জনকত্ব প্রকারক এবং ঘটাদি পদ বিশেষ্য বলা হয়। এই সঙ্কেতও নিত্য সঙ্কেত এবং অনিত্য সঙ্কেত ভেদে ধিবিধ। যদি ইচ্ছাবিশেষরূপ উক্ত সঙ্কেত নিত্য, অর্থাৎ ঈশ্বরগত হয়, তাহা হইলে উক্ত সঙ্কেতকে শক্তি' বলা হইবে। আবার, উক্ত সঙ্কেত যদি অনিত্য, অর্থাৎ জীবগত হয়, তাহা হইলে উক্ত সঙ্কেত পরিভাষা নামে পরিচিত হইবে। ঘট’ প্রভৃতি পদস্থলে ‘ঘটে। ঘটপদশক:—এইরূপ শক্তিজ্ঞান হইলে সেখানে ‘ঘট’ পদ হইতে ঘটত্ববিশিষ্টবিষয়ক বােধ হউক, অর্থাৎ ঘটত্ববিশিষ্ট ঘটটি ‘ঘট’ পদ জনিত বােধ বিষয়ত্ববিশিষ্ট হউক-এই আকারে ঈশ্বরেচ্ছা রূপ নিত্য সঙ্কেত গৃহীত হইবে। আবার ‘ঘট পদ ঘটত্ববিশিষ্টে শক্ত ( ঘটপদং ঘটত্বাবচ্ছিন্নে শক্ত) এই আকারের শক্তিগ্রহ হইলে শক্তির আকার হইবে—‘ঘট পদটি ঘটত্ববিশিষ্টবিষয়ক বােধের জনকতা বিশিষ্ট হউক’ ( ঘটপদং ঘটত্বাবচ্ছিন্নবিষয়কৰােধজনকতাব ভবতু)। এই আকারে শক্তি গৃহীত হইলে এই পদ বিশেষ ইচ্ছা ঈশ্বরগত হওয়ায় এই ইচ্ছাকে অবলম্বন করিয়াই ভর্তৃহরি নিত্য সঙ্কেতের কথা বলিয়াছেন এবং নিত্যসঙ্কেতকে শক্তিরূপে গ্রহণ করিয়াছেন এবং পিত্রাদি গত অনিত্য সঙ্কেতকে পরিভাষারূপে অঙ্গীকার করিয়াছেন। এই অভিপ্রায়েই পিত্রাদিসকেতিত ‘চৈত্র’ প্রভৃতি পদ বা সিদ্ধ্যভাবাদি অর্থে শাস্ত্রকারাদি সঙ্কেতিত পক্ষতা প্রভৃতি পদকে পারিভাষিক এবং গোদিজাতিবিশিষ্টৰূপ অর্থে শক্তিবিশিষ্ট গাে’ প্রভৃতি পদকে নৈমিত্তিক সংজ্ঞা বলা হইয়াছে। ১। “সঙ্কেতে লক্ষণা চার্থে পদবৃত্তি।'—গদাধর ভট্টাচার্যত শক্তিবাদ পৃঃ ১।
रूढ़नाम्नि वैयाकरणमतम् সিন্ধ্যভাৰ পদটি এখানে ‘সিষাধয়িষাবিরহবিশিষ্ট সিদ্ধ্যতাৰ অৰ্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। প্রথম ‘আদি’ পদের দ্বারা ব্যাপ্তিপ্ৰকাৰক পৰু ধৰ্মতা নিশ্চয় প্রভৃতি এবং দ্বিতীয় আদি পদের দ্বারা পরামর্শ প্রভৃতি গৃহীত হইবে। জাত্যবচ্ছিন্ন শক্তিমন্নাম’-এখানে পূর্বকথিত ‘যার্থে যন্নাম’ এই অংশের অনুষঙ্গ করিতে হইবে। ইহার ফলে যে অর্থবিশেষের বােধক রূপে যে নামটি জাত্যবচ্ছিন্ন শক্তিবিশিষ্ট হইবে, সেই নামটি তাদৃশ অর্থে নৈমিত্তিক সংজ্ঞা ‘যপাধ্যবচ্ছিন্ন ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে ‘ঔপাধিকমুপাধিনা'—এই অংশের ব্যাখ্যা করা হইয়াছে। এখানেও ‘যত্ৰার্থে' ইত্যাদি অংশটির অনুষঙ্গ করিতে হইবে। ইহার ফলে যাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট শব্দটি যাদৃশ অর্থে সখণ্ড ধর্মাবচ্ছিন্ন শক্তিবিশিষ্ট হইবে, তাদৃশ অর্থে ঐ শব্দটি ঔপাধিক সংজ্ঞা হইৰে। ইহার দৃষ্টান্ত ‘আকাশ' এবং পশু প্রভৃতি শব্দ। আকাশ’ শব্দটি শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ সখণ্ড উপাধির দ্বারা অবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয়, এবং পশু পদটি লােমবৎলাঙ্গলবত্ত্বরূপ সখণ্ড উপাধি বিশিষ্ট রূপ অর্থে শক্তির আশ্রয় হইতেছে, অতএব উক্ত উভয় পদই ঔপাধিক সংজ্ঞারূপে গণ্য হইবে। প্রাচীন সিদ্ধান্তে ‘আকাশ’ পদের নিরবচ্ছিন্ন শক্তি স্বীকৃত হইয়াছে। এই মতে শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ সখণ্ড ধর্মবিশিষ্টে আকাশপদের শক্তি স্বীকৃত নহে। সুতরাং আকাশপদের ঔপাধিত্বে বিপ্রতিপত্তি থাকায় গ্রন্থকার সর্ববাদী সম্মত ঔপাধিক শব্দের দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিবার জন্য ‘পাদি’ পদের উল্লেখ করিয়াছেন। পশ্বাদি’ এই আদি পদের দ্বারা কুকুদ প্রভৃতি ঔপাধিক নামকে গ্রহণ করিতে হইবে। কারণ কুকুদ শব্দ দান কর্তৃত্ব রূপ সখণ্ড ধর্মাবচ্ছিন্নে শক্ত অর্থাৎ শক্তির আশ্রয় হইয়াছে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, আধুনিক সঙ্কেত বিশিষ্ট “চৈত্র’ ‘মৈত্র’ প্রভৃতি পারিভাষিক শব্দসমুহও চৈত্রত্ব মৈত্ব প্রভৃতি জাতির দ্বারা অবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয় হওয়ায় ঐ সকল শব্দ নৈমিত্তিক সংজ্ঞা হইবে না কেন? এবং নদী’ ‘বৃদ্ধি’ প্রভৃতি শব্দ উপাধিবিশেষাবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয় হওয়ায় ঔপাধিক শব্দরূপে গণ্য হইবে না। কেন? যদি ইষ্টাপতি করা হয় অর্থাৎ ‘চৈত্র মৈত্র প্রভৃতি শব্দকে নৈমিত্তিক শব্দরূপে ১। টিপ্পনী-আকাশশব্দের যদি নিরবচ্ছিন্ন শক্তি স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে আকাশ শব্দের যেরূপ ঔপাধিকী সংজ্ঞা লক্ষণের অলক্ষ্য হইবে, তদ্রপ পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং নৈমিত্তিক সংজ্ঞাও লক্ষণের অলক্ষ্য হওয়ায় শব্দের ত্রিবিধ বিভাগ ব্যাহত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে নৈমিত্তিক নামের লক্ষণে যে জাতবচ্ছিন্ন সঙ্কেতের কথা বলা হইয়াছে এখানে জাত্যবচ্ছিন্ন পদের উপাধ্যনবচ্ছিন্ন শক্তিমত্ত্বরূপ তাৎপর্ষার্থ গ্রহণ করিয়া আকাশপদের নিরবচ্ছিন্ন শক্তিবাদিগণের মতে আকাশপদকে নৈমিত্তিক নাম- লক্ষণের লক্ষ্যরূপে গণ্য করিতে হইবে।
शब्दशक्तिप्रकाशिका এবং নদী’ ‘বৃদ্ধি’ প্রভৃতি শব্দকে ঔপাধিক শব্দরূপে গণ্য করা হয়, তাহা হইলে পারিভাষিক, নৈমিত্তিক এবং উপাধিক এই ত্রিবিধ বিভাগ ব্যাহত হইবে। কারণ পরস্পর বিরুদ্ধ ধর্মপুরস্কারে ধর্মীয় প্রতিপাদনকেই বিভাগ বলা হয়। এই আশঙ্কায় সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন :আধুনিক সঙ্কেত অর্থাৎ পিতা প্রভৃতির নিজ পুত্ৰাদিরূপ অর্থে চৈত্ৰাদি পদগত যে সঙ্কেত তাহা শক্তি নহে। কারণ নিত্যসঙ্কেতকেই বৈয়াকরণ মতে শক্তি বলা হইয়াছে। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকারও বলিয়াছেন, “নিত্যস্যৈব তস্য তথাত্বাৎ” অর্থাৎ নিত্য যে সঙ্কেত তাহারই শক্তিত্ব স্বীকৃত হইয়াছে। এই বৈয়াকরণ মতটি মহা মনীষী ভর্তৃহরির উক্তির দ্বারা সমর্থন করিবার জন্য বলিতেছেন—“তভুক্ত ভর্তৃহরিণা ভর্তৃহরি বলেন—“আজানিক ও আধুনিক ভেদে দ্বিবিধ সঙ্কেত বৈয়াকরণ দিগের অভিপ্রেত।” উক্ত উভয়বিধ সঙ্কেতের মধ্যে যে সঙ্কেত নিত্য হইবে তাহাই হইবে আজানিক সঙ্কেত। উক্ত অজানিক সঙ্কেতই শক্তিরূপে কীর্তিত হইয়া থাকে। নাপ্তি জনিরুৎপত্তিস্য অসাবজনি: এইরূপ বহুব্রীহি সমাসনিস্পন্ন ‘অজনি’ শব্দের পরে স্বার্থে ‘ই’ প্রত্যয় করিয়া ‘অজানিক’ শব্দটি নিষ্পন্ন হওয়ায় নিত্যরূপ অর্থেই আজানিক শব্দটি প্রযুক্ত হইয়াছে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, ‘নিত্য আজানিক: এখানে তুল্যার্থক নিত্যপদ এবং আজানিক পদ একসঙ্গে প্রযুক্ত হওয়ায় পুনরুক্তি দোষ ঘটিবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে ‘নিত্য অজানিক’ এখানে অজানিক পদটি অজানিক পদ প্রতিপাদ্যত্বরূপ অর্থের বােধক হওয়ায় পুনরুক্তি দোষ ঘটিবে না। অতএব যা শক্তিৱিতি গীয়তে এই অগ্রিম গ্রন্থেও নিত্যসঙ্কেতের প্রত্যায়ক যৎশব্দটি সমার্থক শক্তিপদের সহিত উচ্চারিত হইলেও পুনরুক্তি দোষ ঘটিবে না, কারণ ‘য শক্তিৱিতি গীয়তে এখানে যৎপদের দ্বারা উপস্থিত যে নিত্যসঙ্কেত তাহাই ‘শক্তিপদ- প্রতিপাদ্য’ এইরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। এইভাবে প্ৰজাবতী ভ্রাতৃজায়া এই সকল স্কুলেও পুনৰুক্তি দোষ বারণ করিতে হইবে। ‘কাদাচিৎকাধুনিক: এখানে কাদাচিৎক শব্দটি ধ্বংসের প্রতিযােগিরূপ অনিত্য বােধক এবং আধুনিক পদেরও পূর্বরীতি অনুসরণ করিয়া আধুনিক পদ প্রতিপাদ্যত্বরূপ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। অতএব শাস্ত্রকারগণ কর্তৃক কৃত দীর্ঘ ঈকার, দীর্ঘ ঊকার অর্থে নদী প্রভৃতি পদের যে সঙ্কেত তাহা অনিত্য হওয়ায় আধুনিক সঙ্কেত বলা হইয়াছে। ‘শাস্ত্রকারাদি’ এই আদি পদের দ্বারা ম্লেচ্ছ প্রভৃতিকে গ্রহণ করিতে হইবে। যেরূপ ‘যব’ পদের ‘ক’ অর্থাৎ বিশেষরূপ অর্থে ম্লেচ্ছ সংকেত গৃহীত হইয়া থাকে। ন চ পিত্রাদিনা” এখানে “ন চ” এই অংশটি অগ্রিম অন্তি” পদের সহিত এন্বিত হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে “দ্বাদশেখহনি পিতা নাম কুষাৎ” এই শ্রুতি বাক্যই চৈত্র প্রভৃতি পদে যে নিত্যসংকেত রহিয়াছে তাহার প্রমাণ। এই আশঙ্কার উত্তরে বৈয়াকরণসম্প্রদায় বলেন, উক্ত শ্রুতিবাক্যপুত্ৰাদিরূপ অর্থে চৈত্রাদিপদগত নিত্য সংকেতের আপক নহে। পরন্তু উক্ত শ্রুতিবাক্য পিতার কর্তব্য যে সংকেত তাহারই বিধায়ক বুঝিতে হইবে। ইহার ফলে উক্ত শ্রুতি বাক্যের অন্তর্গত নাম পদটি পুত্রবিষয়ক বােধ লালি মাকসব জনক যে পিতৃসংকেত, তদবিশেষ্যক ইষ্টসাধনতাপ্রকারক ভগবৎ তাৎপর্যের গ্রাহক স্বীকার করিতে হইবে। আধুনিক চৈত্ৰাদিপদগত শক্তির অনুকুল সাধক প্রমাণের অভাব বলার পর এক্ষণে বােবকপ্রমাণ প্রদর্শন করিবার জন্য ‘চৈত্ৰাদিপদস্য'—ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতে- ছেন। তাৎপর্য এই যে গাে ঘটাদিপদসমূহ যেরূপ ইদানীন্তন কালে আমরা তৎ তৎ অর্থে প্রয়ােগ করিয়া থাকি তদ্রুপ পূর্বতনকালেও ঐ সকল শক্ত পদের প্রয়োগ শাস্ত্র প্রভৃতিতে দৃষ্ট হইয়া থাকে। সুতরাং যে কোনও পদ যে অর্থে শক্তিবিশিষ্ট হইবে, সেই সেই অর্থে সেই সকল পদেরও পূর্ব পূর্বকালীন প্রয়ােগ থাকা আবশ্যক। পিত্রাদিসঙ্কেতিত রামপ্রভৃতি পুত্রের নামকরণস্থলে ঐ সকল নাম বিশেষ নিজ নিজ পুত্র অর্থে তাদৃশ নামকরণের পূর্বে কোথাও প্রয়ােগ হইতে দেখা যায় না। সুতরাং বাম প্রভৃতি পদের শক্তিবিষয়ত্বের ব্যাপক যে পূর্বপ্রয়োগবিষয়ত্ব তাহা না থাকায় রাম প্রভৃতিতে শক্তির বিষয়ত্ব স্বীকৃত হইলে ব্যভিচার নিবন্ধন শক্তিবিষয়ত্বের সহিত পূর্বপূৰ্বপ্ৰয়ােগ বিষয়ত্বের ব্যাপব্যাপকতাব রক্ষিত ১। ন্যায়সিদ্ধান্তে পিতাপ্রভৃতি যে পুত্ৰাদির যে ‘ম’, ‘শ্যাম' প্রভৃতি নামকরণ করেন, উক্ত ‘রাম’, ‘শ্যাম' প্রভৃতি নামে রামত্ব, শামত্ব প্রভৃতি ধর্মাবচ্ছিন্ন--বিষয়ক বােধজনকত্বপ্রকারক ভগবদিচ্ছাবিষয়ত্ব, অথবা ‘রাম’, ‘শ্যাম ইত্যাদি পদজন্য বোধবিষয়- প্রকারক ভগবদিচ্ছীয় বিশেষ তার পরম্পরানি রূপকত্বরূপ বাচকত্ব না থাকায় পুত্ৰাদিরূপ অর্থের সহিত নাম প্রভৃতি পদের বাচ্যবাচকভাব কিরূপে সম্ভবপর হইবে? বস্তুত “রামপদং মৎপুত্রং বােধয়তু”—এই রূপ পিত্রাদিগত আধুনিক সংকেত বিষয়ত্ব রাম প্রভৃতি পদে প্রতীয়মান হওয়ায় ‘রাম’ প্রভৃতি পদ বৈয়াকরণদের অতিপ্রেত পারিভাষিক রূপেই গণ্য হইবে নৈমিত্তিকরূপে নহে। এই আপত্তির উত্তরে নৈয়ায়িক সম্প্রদায় নামকরণ বিধায়ক ‘দ্বাদশেহনি পিতা নাম কুর্যাৎ' এই শ্রুতি বাক্যের অন্তর্গত ‘না’ পদটি পদজনিতবােধৰিষয়তাবিশিষ্ট পুত্রবিষয়ক সঙ্কেতের বােধক বলেন। কুর্যাৎ'- এই ‘ক’ ধাতুর অর্থ আশ্ৰয়ত্ব । এইরূপ নাম পদ এবং ‘ক’ ধাতুর অর্থ বিশেষ বিবক্ষিত হওয়ায় উক্ত শ্রুতিবাক্য হইতে দ্বাদশাহাধিকরণক ইষ্টসাধনীভূত যে পদজন্য বােধ- বিষয়ুতাবিশিষ্ট পুত্রবিষয়ক ইচ্ছার আশ্ৰয়ত্ব, তদ্বান্ পিতা—এইরূপ শব্দবােধ স্বীকৃত হইবে। উক্ত শব্দবােধের অনুকুল যে ঈশ্ব সমবেত বুবােধয়িষ। তাহা পদ অন্য বােধবিষয়ত্ব পুরস্কারে পুত্র বিষয়ক হওয়ায় ‘রাম’ প্রভৃতি পদগত নিত্যসঙ্কেতরূপে স্বীকৃত হইয়া থাকে । ইহার উপরেও বৈয়াকরণসম্প্রদায় আপত্তি করিতে পারেন-যাদৃশ আনুপূর্বী পুরস্কারে পদ, এবং যাদৃশ ধর্মপুরস্কারে অর্থ ভগবদিচ্ছারূপ সঙ্কেতের বিষয় হইবে, তাদৃশ আনুপূর্ববিশিষ্ট পদের সহিত তাদৃশ ধর্মবিশিষ্ট অর্থের বাচ্যবাচকভাব গৃহীত হইৰে-ইহাই নিয়ম। ‘দ্বাদশেহহনি পিত। নাম কুৰ্ষাৎ'—এইস্থলে নামত্ব পুরস্কারে ‘রাম’ প্রভৃতি পদ এবং পুত্ৰত্ব পুরস্কারে ‘রাম’ প্রভৃতি পদার্থ উপস্থাপিত হইয়াছে। অতএব রামপ্রভৃতি পদত্বৰূপে ‘ম’ প্রভৃতি পদের সহিত পুত্ৰাদিগত রামত্বাদি জাতিপুরস্কারে ‘রাম’ পদ এবং ‘রাম' নামক ব্যক্তি—এতদুভয়ের বাচ্যবাচকতাব কেমন করিয়া গৃহীত হইতে পারে ? ইহার উত্তরে নৈয়ায়িক সম্প্রদায় বলেন, উক্ত শ্রুতির অন্তর্গত নাম পদটি নামত্বের সামানাধিকরণ্যের দ্বারা উপলক্ষিত ধর্মবিশিষ্টের বােধক হওয়ায় রামপদত্বপুরস্কারে রামপদের সহিত পুত্রত্বের সমানাধিকরণ্যের দ্বারা উপলক্ষিত রামত্ব পুরস্কারে রাম পদার্থের বাচ্যচকতাৰ থাকিবে। ।
शब्दशक्तिप्रकाशिका হইতে পারে না। এই অভিপ্রায়েই জগদীশ বলিয়াছেন, “চৈত্ৰাদিপদক্ষ শক্তিমন্ত্রে পূর্ব- পূর্বযুক্তত্বাপাতাৎ” অর্থাৎ চৈত্র বা রাম প্রভৃতি যে কোন আধুনিক শব্দ শক্তিৰিশিষ্ট বীকৃত হইলে ঐ সকল শব্দের নামকরণের পূর্বেও প্রয়ােগের আপত্তি হইবে। কেন আপত্তি হইবে তাহার আপাদক প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন, “ত তন্নিয়তত্বাৎ অর্থাৎ যেহেতু নিতসঙ্কেতৰত্বৰূপ শক্তিমত্ত্ব পূর্বপূর্ব প্রয়োগবিষয়ত্বের ব্যাপ্য অতএব ব্যাণ্যের আশ্রয় ব্যাপকে অবস্থিতির অনুরােধে রাম প্রভৃতির আধুনিক পদসমূহের পূর্বপূৰ্বকালীন প্রয়ােগবিষয়ত্বের আপত্তি হইবে। ইহাই উক্তসন্দর্ভের তাৎপর্য । मूलम् चैत्रादिपदानामिव पारसिकादिशब्दानां सङ्केतवत्त्वाविशेषेऽपि, न तेषां धर्मकर्मण्युपयोगः, "साधुभिर्माषितव्यं नापभ्रंशितव न लच्छितव" इति श्रुत्या तत्र तनिषेधात्, म्लोच्छितवै प्लेच्छमात्रसङ्कोतितः, खरादि- शब्दास्तु, रासभादौ म्लेच्छरिवारपि सङ्केतिताः । অনুবাদ চৈত্র প্রভৃতি পদের ন্যায় ‘ক’ প্রভৃতি পারসিকশব্দেও অনুরূপভাবে সঙ্কেতত্ত্ব থাকিলেও ঐ সকল পারসিক শব্দের ধার্মিক কার্যে উপযােগ ( ব্যবহার ) হইবে না। কারণ ধার্মিক কার্যে সাধুশব্দের ব্যবহার করিতে হইবে। অপভ্রংশ বা ম্লেচ্ছ শব্দ নহে। এই শ্রুতি অনুসারে ধার্মিক কার্যে ঐ সকল শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ হইয়াছে। “শ্লেচ্ছিতবৈ” এই শব্দটির দ্বারা ম্লেচ্ছমত্রের দ্বারা সঙ্কেতিত শব্দকে বুঝিতে হইবে। “খর” প্রভৃতি শব্দসমূহ কিন্তু রাসভ (গদর্ভ) প্রভৃতি অর্থে যেরূপ ম্লেচ্ছ কর্তৃক সঙ্কেতিত হইয়া থাকে তদ্রুপ আর্যগণ কর্তৃকও সঙ্কেতিত হয়। বিবৃতি এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, গাে ঘট প্রভৃতি শব্দে যেরূপ নিত্য সঙ্কেত বীকৃত হয় তপ চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি পদে যদি নিত্য সঙ্কেত স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে আধুনিক সঙ্কেত বিশিষ্ট ঐ সকল পদের দৈৰ, পৈ প্রভৃতি ধর্মকার্যে উপযােগ হইতে পারে না অর্থাৎ অভিলাপাক্যে ঐ সকল পদ উল্লিখিত হইতে পারিবে না। কারণ নিত্য সঙ্কেতেরূপ যে শক্তি বিশিষ্ট পদসমূহই ধার্মিক কার্ধে উল্লিখিত হইয়া থাকে। যদি ইহা স্বীকৃত না হয় मनाम्नि.वैयाकरणमतम् তাহা হইলে আধুনিক সঙ্কেতবিশিষ্ট পারসিক অর্থাৎ মেসকেতিত শব্দসমূহও ধর্মকর্ষের অভিলাপ বাক্যে অন্তর্ভূক্ত হইতে পারে। অন্তভূক্ত হইতে পারে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে জগদীশ বলিতেছেন, চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি পদ যেরূপ আধুনিক সঙ্কেতের আশ্রয় হইয়াছে, অনুরূপভাবে পারসিক বা ঐশ্লামিক শব্দসমূহ আধুনিক সঙ্কেতসম্পন্ন হইলেও ধর্মকার্যে ব্যবহৃত হইবে না। কারণ সাধুভির্ভাষিতব্যং নাপভ্রংশতবৈ” এই সকল শ্রুতিবাক্যের দ্বারা শাস্ত্রীয় অভিশাপ বাক্যে ঐ সকল ম্লেচ্ছ শব্দ নিষিদ্ধ হইয়াছে। জগদীশ ম্লেচ্ছমত্রের দ্বারা সঙ্কেতিত যে শব্দ তাহাই ন বৈ স্লেচ্ছিতৰৈ।” এখানে “ম্নেচ্ছিতবৈ” শব্দের অর্থ করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে, শ্রুতি বলিয়াছেন ধর্মশাস্ত্রীয় ক্রিয়া যখন অনুষ্ঠিত হইবে তখন অনুষ্ঠানের অঙ্গ অভিলাপ অর্থাৎ সংকল্প বাক্য প্রভৃতিতে সাধু শব্দ ব্যবহার করিতে হইবে। পরন্তু ‘গাছ’, ‘মাছ' প্রভৃতি অপভ্রংশ শব্দ এবং মসজিদ’ প্রভৃতি আনুষ্ঠানিক শব্দ ক্রিয়ায় ব্যবহার যােগ্য নহে। শ্রুতি বাক্যে যে সাধুশব্দের প্রয়ােগের কথা বলা হইয়াছে সেখানে, যে শব্দটি ধর্মকার্যে প্রযােগ করিলে বক্তা প্রত্যয় ভাগী হননা সেই শব্দই সাধুশব্দ রূপে গণ্য হইবে। জগদীশ যদিও ‘শ্লেচ্ছিতবৈ’ এই শব্দটির ম্লেচ্ছ মাত্র দ্বারা সঙ্কেতিত শব্দরূপ অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন পানিণীয় ব্যাকরণের বৈদিক অংশে কিন্তু “কৃত্যার্থে তবৈ-কেন-কেন-ত্বেন” (বৈদি-৩-৪-১৪) এই সূত্রানুসারে ম্লেচ্ছকৃত্য অর্থে ‘স্লেচ্ছিতবৈ’ শব্দটি নিম্পন্ন হইয়াছে। যাহাই হউক অপভ্রংশ শব্দের ন্যায় ম্লেচ্ছ মাত্রের দ্বারা সঙ্কেতিত শব্দের যে ধর্মকার্যে ব্যবহার হইবে না এই বিষয়ে শাস্ত্রকারগণের সকলেরই মতৈক্য রহিয়াছে। ‘ম্লেচ্ছমাত্র সঙ্কেতিত’ এখানে জগদীশ মাত্ৰ পদটি প্রয়ােগ করিয়াছেন তাহার সার্থক্য প্রদর্শন করিবার জন্য খরাদিশা” ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, রাসভরূপ অর্থে ‘খ’ প্রভৃতি শব্দ যে রূপ আর্যগণ কর্তৃক (শাস্ত্রকারগণ কর্তৃক ) সঙ্কেতিত হইয়াছে, অনুরূপ ভাবে ম্লেচ্ছগণ কর্তৃক ও সঙ্কেতিত। সুতরাং খর’ প্রভৃতি শব্দ ম্লেচ্ছ মারে যারা সঙ্কেতিত না হওয়ায় ঐ সকল শব্দের ধর্মকার্যে ব্যবহারের পক্ষে কোনও বাধা নাই। এখানে মাত্র পদটির উল্লেখ থাকায় স্নেচ্ছেতরের দ্বারা অসঙ্কেতিত অথচ ম্লেচ্ছসঙ্কেতিত শব্দ প্রতীয়মান হইবে। সুতরাং খর প্রভৃতি শব্দ ম্লেচ্ছভিন্ন আর্যগণ কর্তৃক অসৰুেতিত না হওয়ায় ম্লেচ্ছমাত্ৰ সঙ্কেতিত হইবে না। ভাষাপরিচ্ছেদের টীকাকার বিশ্বনাথ এবং শক্তিবাদ গ্রন্থে গদাধর ভট্টাচার্য ‘গাহ মাছ' প্রভৃতি অপভ্রংশ শব্দের ন্যায় ম্লেচ্ছ সঙ্কেতিত শব্দসমূহকেও অপভ্রংশ শব্দরূপে গণ্য করিয়াছেন। শক্তিম হইতে যথার্থ শব্দৰেধ উৎপন্ন হইলে উক্ত শব্দবােধের জনক শব্দকে অপভ্রংশ শব্দ বলা হয়। যেরূপ বৃক্ষ প্রভৃতি অর্থের বােধক গাছ প্রভৃতি শব্দ বা মৎসরূপ অর্থের বোধক ‘মা’ প্রভৃতি শব্দ। “মেহেৰৈ অপশব্দঃ” এই শ্রুতিতে কিন্তু অপশব্দকে ম্লেচ্ছ বলা হইয়াছে। । বৈয়াকরণমত সমা।
रूढ़नाम्नि गवादिपदानां शक्तिनिरूपणम् न मूलम् ननु गवादिपदं गोत्वादिनेव संस्थानप्रमेदेनापि विशिष्ट एव गवादौ शक्तमिति तत्रापि तदौपाधिकं स्यात् , न स्याच्छक्यत्वाविशेषेऽपि गोत्वाद्यपेक्षया गुरुत्वेन संस्थानस्य गवादिपदशक्यतानवच्छेदकत्वात् । च संस्थानमशक्यमेव गवादिपदस्येति देशनोयं, गवादिपदाद् गोत्वादि- जात्या इव सास्नादिलक्षण-विलक्षणा कृत्यापि नियमतो गवादेरनुमवेन तस्यापि तच्छक्यत्वात् , तथा च न्यायसूत्रं, "जात्याकृतिव्यक्तयः पदार्थः" पदार्थो गवादिपदशक्यः, त्रिष्वेकशक्तेर्लाभार्थमेकवचनम् , अन्यथा विभिन्न- शक्तौ विशकलितानामेव तासामनुभवस्य गोगुणो वेत्यादौ लक्षणाद्यमावस्य च प्रसङ्गादिति साम्प्रदायिकाः । অনুবাদ ( আশঙ্কা) গো প্রভৃতি পদ গােত্বাদিজাতির ন্যায় সংস্থানবিশেষের দ্বারা বিশিষ্ট হইয়াই গাে প্রভৃতি পদার্থে শক্ত হইয়া থাকে। অতএব তাদৃশ অর্থে গােপ্রভৃতি পদ ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে না কেন? (সমাধান) এই আশঙ্কা সঙ্গত নহে কারণ সংস্থানে শকত্ব ভুলরূপে থাকিলেও গােজাপেক্ষা সংস্থান গুরুধর্ম হওয়ায় গবাদিপদের শক্যবচ্ছেদক एशेव ना। কেহ কেহ যে সংস্থান গাে প্রভৃতি পদের শক্যই নহে—এইরূপ আশঙ্কা করেন, ইহা কিন্তু সমীচীন নহে, কারণ, গাে প্রভৃতি পদ হইতে গােঙ্গাদি জাতি পুরস্কারে যেরূপ ( গবাদিব্যক্তির শব্দানুভব হইয়া থাকে) তদ্রুপ সাদি স্বরূপ বিলক্ষণ আকৃতি পুরস্কারেও নিয়মিতভাবে গবাদিব্যক্তির শব্দানুভব স্বীকৃত হওয়ায় সাহ্মাদিস্বরূপ সংস্থানও গােপদের শক্য হইবে। ন্যায়সূত্রেও सनाम्नि गवादिपदाना शक्तिनिरूपणम् ve বলা হইয়াছে “জাত্যাকৃতিব্যক্তয়ঃ পদার্থ” অর্থাৎ গােত্ব প্রভৃতি জাতি গােগত সংস্থানরূপ আকৃতি এবং গবাদিব্যক্তির—এই তিনটিই গবাদিপদের অর্থ । পুত্রের অন্তর্গত পদার্থ পদটির গবাদিপশ্যরূপ অর্থ করিতে হইবে। (জাতি, আকৃতি এবং ব্যক্তি ) এতৎ ত্ৰিতয়ে গবাদি পদের একই শক্তি লাভের জন্য সুত্রে একবচনান্ত পদার্থ পদটি প্রযুক্ত হইয়াছে। অন্যথা অর্থাৎ জাতি, আকৃতি এবং ব্যক্তিগত একটি শক্তি স্বীকৃত না হইলে বিভিন্ন শক্তি কল্পনা করার ফলে বিশকলিত অর্থাৎ বিশেষ্যবিশেষণভাবাপন্ন জাতি, আকৃতি এবং ব্যক্তির স্বতন্ত্র- ভাবে অনুভবের আপত্তি হইবে । এবং গৌর্নিত্যা, গৌগুণঃ-এই সকল প্রতীতি স্থলে (গােপদের) লাক্ষণিক অর্থ স্বীকারের কোনও উপযােগিতা থাকিবে না। সুতরাং (ঐ সকলস্থলে) লক্ষণ ভাবের প্রসক্তি হইবে ইহাই সাম্প্রদায়িকগণ বলিয়া থাকেন। বিবৃতি গ্রন্থকার ‘ন গবাদিপদ” ইত্যাদি সম্পর্ভের মাধ্যমে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করিয়া তাহার সমাধান করিতেছেন। প্রশ্নটি এই, গো প্রভৃতি পদে যেরূপ গােত্বাদিজাতি বিশিষ্ট গবাদিরূপ অর্থে শক্তি গৃহীত হয়, তদ্রুপ গবাদি ব্যক্তিগত যে সংস্থানবিশেষ, তডিশিষ্ট গবাদি ব্যক্তিতেও শক্তি গৃহীত হওয়ায় গােত্ব প্রভৃতি জাতির ন্যায় গবাদিগত সংস্থানবিশেষ গবাদিগত শক্যতার অবচ্ছেদক হইবে না কেন? যদি ইষ্টাপত্তি করা হয়, তাহা হইলে গো প্রভৃতি শব্দ গোদিজাত্যবচ্ছিন্নসংকেতবিশিষ্ট হওয়ায় যেরূপ নৈমিত্তিক সংজ্ঞা হইবে, তদ্রুপ সংস্থানবিশেষরূপ উপাধির দ্বারা অবচ্ছিন্ন সংকেতবিশিষ্ট হওয়ায় ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন গােঙ্গাদিজাতির ন্যায় গবাদিগত সংস্থান গােপদের শক্য হইলেও শকতার অবচ্ছেদক হইবে না, কারণ, সংস্থানবিশেষ গােত্বাদি- জাতি অপেক্ষা গুরুধর্ম হওয়ায় গবাদিগত শক্যতার অবচ্ছেদক হইবে না। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, যে পদার্থটি যে পদের শক্য হইবে না সেই পদার্থটি সেই পদনিরূপিত শক- তার অবচ্ছেদক হইতে পারে না। অতএব সান্নাদিমত্ত্ব বা কম্বুগ্রীবাদিম প্রভৃতি ধর্ম যখন গগ ঘটাদি পদের শক্য নহে, তখন ঐ সকল ধর্মের লাঘব গৌরব বিবেচনাপূর্বক শক্যবচ্ছেদকত্বের খণ্ডন করিতে যাওয়া অপ্রাসঙ্গিক হইবে না কেন? ‘ন চ সংস্থানম- শকমেৰে’ত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা এই আশঙ্কাই ব্যক্ত করিয়া সাদিমত্ত্ব বা কন্ধুগ্রীবাদিমত্ব প্রভৃতি সংস্থান যে গাে ঘটাদি পদের শক্য ইহাই গ্রন্থকার ‘চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে প্রতিপাদন করিতেছেন। ন চ এই অংশটি অগ্রিম ‘দেশনীয়’-এই ‘দেশনীয়’ পদের সহিত মন্বিত হইবে। ইহার ফলে সংস্থান অর্থাৎ সাশ্নাদিম প্রভৃতি আকৃতি গাে প্রভৃতি পদের শক্য নহে—এইরূপ আশঙ্কা সমীচীন নহে, ইহাই ‘ন চ’ ইত্যাদি বাক্যের সমুদিতার্থ • शब्दमक्तिप्रकाशिका প্রতীয়মান হইবে। কেন এরূপ আশঙ্কা সমীচীন নহে ইহা ব্যক্ত করিবার জন্য গবাদি পদাং ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। গবাদিপদাৎ এখানে পঞ্চমী বিভক্তির অন্যত্ব রূপ অর্থ গৃহীত হইবে। উক্ত অন্যত্ব অগ্রিম অনুভ’ পদার্থে অম্বিত হইবে। গােত্বাদি জাত্যা এবং সাদিমত্ত্বলক্ষণাকৃত্যা উভয়স্থলেই তৃতীয়া বিভক্তির অর্থ প্রকারকত্ব অগ্রিম অনুভব পদার্থে অন্বিত হইবে। তাৎপর্য এই যে গােপদ হইতে গােব্যক্তিবিষয়ক যে শাধে উৎপন্ন হয়, উক্তববাদের বিশেষরূপে গগাব্যক্তির যেরূপ ভান হইয়া থাকে তপ বিশেষণরূপে গােত্বজাতি ও সাদিমত্ত্বরূপ আকৃতিও নিয়মত ভাসমান হয়, সুতরাং গােপদজবােধৰিষয়ত্ব প্রকারক গােবিশেষক যে শক্তি তাহার বিষয় যেরূপ গাে- ব্যক্তি হইৰে তপ গােত্ব এবং গােগত আকৃতি ও শক্তির বিষয় হওয়ায় গাে গােত্বের ন্যায় আকৃতিরূপ সংখানও যে গােপদের শক্য, ইহা অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। গগ গত শকতার অবচ্ছেদক নহে এইরূপ কোন ধর্মের ও কদাচিৎ গােপদজনিত বােধে বিশেষণরূপে তান সম্ভবপর হইতে পারে এইজন্য নিয়মিত এই অংশটি দেওয়া হইয়াছে। ইহার ফলে গােব্যক্তি প্রভৃতি যেরূপ গবাদি পদের শক্য হইবে অনুরূপভাবে গােত্বজাতি ও সংস্থানরূপ আকৃতিও অবশ্যই গােপদের শক্য হইবে। অতিপ্রায় এই যে সাম্প্রদায়িকমতে যে পদার্থ শকতার অবচ্ছেদক হইবে সেই পদার্থই ফলীভূত অম্বয়বােধ গগা প্রভৃতি বিশেষাংশে প্রকার হইবে। সুতরাং অন্বয়বােধীয় প্রকার নিয়ামক হইবে শক্তিবিষয়তার অবচ্ছেদকত্ব। যদি সংস্থানে শক্তিবিষয়তার অবচ্ছেদকত্ব স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে নিয়মিতভাবে সংস্থান বিশেষণরূপে শাব্দবােধের বিষয় হইতে পারে না। অতএব উক্তবিশেষণতার অনুপপত্তিই আকৃতিগত অবচ্ছেদকতার নিয়ামক ইহা স্বীকার করিতে হইবে। স্যাপি' অর্থাৎ আকৃতিরূপ সংস্থানেরও। “তচ্ছক্যত্বাৎ” এই অংশে প্রবিষ্ট তচ্ছক্য পদের গবাদিপদ শক্যত্বরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। যদি আকৃতি গবাদি পদের শক্য হয় তাহা হইলে নিয়মিতভাবে তৎপ্ৰকাৰক শব্দবােধের অনুপপত্তি হইবে ইহাই গ্রন্থকারের অতিপ্রায়। এই প্রসঙ্গে আরও বক্তব্য এই যে, আকৃতিরূপ সংস্থানে শক্যবচ্ছেদকত্ব ব্যবস্থাপিত করিবার মত কোনও নিয়ামকও সিদ্ধ নহে। কারণ, অবচ্ছেদ্যতা সম্বন্ধে গবাদিপদজন্য বােধবিষয়তাংশে যে সংকেতীয় একারত্ব ইহাই শকতা- বচ্ছেদকত্বের নিয়ামক। উক্ত সংকেতপ্রকারত্ব গােত্বজাতিতে থাকায় গােত্বই নােগত শকতার অবচ্ছেদক হইবে, সংস্থান নহে। কারণ গােত্ব অপেক্ষায় আকৃতিরূপ সংস্থান গুরু ধর্ম হওয়ায় অবচ্ছেদ্যতা সম্বন্ধে উক্ত বােধবিষয়ত্বাংশে সংকেত প্রকার সংস্থানে স্বীকৃত নহে। এক্ষণে প্রশ্ন হইতে পারে সংস্থান যদি শক্যবচ্ছেদক না হয় তাহা হইলে গােপদ- জন্য পাবােধে সংস্থান বিশেষ্যরূপে ভাসমান হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে গােপদজনবােধ বিষয়ংশে সংকেতীয় বিশেষতাই শব্দবােধীয় বিশ্যেতার নিয়ামক। সংস্থান তাদৃশ সংকেতীয় প্রকারতাবিশিষ্ট হওয়ায় শব্দবােধে উভয়ই প্রকার- ৰিয়া ভাসমান হইৰে বিশেষ্যবিয়া নহে। সংকেতীয় গােত্বগত প্রকার অবচ্ছেদ্য स्वनाम्नि गवाविपदाना शक्तिनिरूपणम् সম্বন্ধে এবং সংস্থানগত প্রকায়ত সামানাধিকরণ্য সম্বন্ধে বােধবিষয়ত্বাংশে ভাসমান হইবে। এখানে সংস্কানবতী গৌঃ গােপদাদ বােন্ধব্য' এই আকারের ঈশ্বরেরূপে সঙ্কেত ৰীকৃত হইবে। উক্ত সংকেতাংশে সংস্থান এবং গােত্ব উদ্দেশ্যতাবচ্ছেদকরূপে এবং বােধবিষয়ত্ব বিধেয়রূণে ভাসমান হইবে। ইহার ফলে গােত্বের ন্যায় সংস্থানেও বােধ- বিষয়ত্বাংশে সংকেতীয় একারত্ব উপলয় হইবে। গবাদি ব্যক্তিগত আকৃতিরূপ সংস্থানও যে গবাদিপদের শক্য ইহা প্রমাণিত করিবার জন্য গ্রন্থকার ‘জাত্যাকৃতিব্য: পদার্থ এই নাসূত্রের উল্লেখ করিয়াছেন। গুণ-কর্ম-প্রভৃতি পদার্থ আকৃতিশূন্য হওয়ায় গুণ-কর্ম- প্রভৃতি পদের আকৃতিতে শক্তি কল্পনা করা সম্ভবপর নহে। সুতরাং সামান্যভাবে অকৃতিতে জাতি ও ব্যক্তির অনুরূপ পদার্থত্ব কল্পনা সম্ভবপর নহে। এইজন্য ‘পদ’ শব্দের দ্বারা পদবিশেষকে অর্থাৎ গবাদি পদকে গ্রহণ করা হইয়াছে। এবং অর্থ পদটি যাহাতে লক্ষ্যার্থের বােধক না হয় এইজন্য সূত্রোক্ত পদার্থ’-পদের গবাদিপদবিশেষের শক্যরূপ অর্থ প্রতিপাদন করিবার জন্য ‘পদার্থ: গবাদিপদশক' এইরূপ অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন। গবাদি এই আদি পদের দ্বারা ঘট প্রভৃতি পদকে গ্রহণ করিতে হইবে। এইক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে অন্বয়বােধ স্কুলে উদ্দেশ্যবোধক শব্দের সহিত বিধেয়বােধকপদের প্রায়শঃ সমান বচন নির্দিষ্ট হইয়া থাকে, ইহাই নিয়ম। জাত্যাকৃতিবাক্ত পদার্থ: এখানে বিধেয় বাচক পদার্থ পদটির পরে প্রথমাবিভক্তির একবচন নির্দিষ্ট হইলেও উদ্দেশ্যবাচক ‘জাত্যা- কৃতিব্যক্তি’ শব্দের পরে প্রথমাতিজির বহুবচন নির্দিষ্ট হওয়ায় উদ্দেশ্য বিধেয়বাচক পদের সমানবাচকত্ব নিয়মটি এখানে ব্যাহত হইয়াছে কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে সূত্ৰোক্ত পদার্থ’ পদের অন্তর্গত অর্থ পদটির শক্য- রূপ অর্থ গৃহীত হওয়ায় জাত্যাকৃতিব্যক্তয়ঃ পদার্থ: এই পদার্থ পদ হইতে পদশকরূণ অর্থ গৃহীত হইবে। অতএব পদার্থ পদের পরবর্তী প্রথমার একবচন ‘’ বিভক্তির অর্থ একত্ব যদি পদশকরূপ পদার্থে অম্বিত হয় তাহা হইলে উক্ত বাক্যটি অযােগ্য হইবে কারণ উক্ত পদার্থ এক নহে এইজন্য পদশকরূপ পদার্থের একদেশ যে শক্তি তাহাতেই সু বিভক্তির অর্থ একত্ব সংখ্যা অষয় স্বীকার করিয়া উক্ত বাক্যটির যােগ্যতা সম্পাদন করিতে হইবে। এই অভিপ্রায়ে সূত্রকার জাতি, আকৃতি এবং ব্যক্তি এই ত্রিবিধ অর্থে গবাদি পদের একটি শক্তি ইহা ব্যক্ত করিবার জন্যই পদার্থ: এইরূপ বহুবচন নির্দেশ না করিয়া ‘পদার্থ এইরূপ একবচন নির্দেশ করিয়াছেন। যদি ৰহৰচন নির্দেশমূলে জাতি, আকৃতি এবং ব্যক্তিতে বিভিন্ন শক্তি কল্পিত হয় তাহা হইলে শিকলিত অর্থাৎ বিশেষ্যৰিশেষণভাবশূন্য গােত্বাদি রূপ জাতি সংস্থানরূপ আকৃতি গৰাদি ব্যক্তি এতদ সমুদায়ের যতন্ত্রভাবে শব্দবোধে আপত্তি হইবে। যদি বলা হয় সিদ্ধান্তিগণ যেৰূপ জাতি, আকৃতি এবং ব্যক্তিতে একটি শক্তি কল্পনা করিয়া গৌনিত্যা, গৌণঃ ৰা গৌদ্রব্যম—এই সকল সুযােগের সাধুত্বের অনুরােধে ‘গোর্লিত্যা’ এখানে গগ পদটির গােত্বজাতিতে ‘গৌণ: এখানে গােপদটির আকৃতিতে (অৰয়ৰ সংঘােগে) এবং গৌৰ এখানে গো পদটির গােব্যক্তিত্রে লক্ষণ যীকার A ५२ করিয়া যথার্থ শব্দৰােধের উপপত্তি করেন তদ্রুপ গবাদিপদের জাতি, আকৃতি এবং ব্যক্তিতে যাহারা বিভিন্ন শক্তি স্বীকার করিবেন তাহাদের মতেও ‘গৌর্নিত্যা’ এইরূপ বাক্যের অন্তর্গত গােপদ হইতে শক্যার্থ গােত্বজাতির উপস্থিতি হইতে উক্ত জাতিতে নিত্য পদার্থের আবার গৌগুণ: এইরূপ বাক্যের ঘটক গােপদ হইতে শক্যার্থ অবয়ৰ সংযােগরূপ সংস্থানের উপস্থিতিক্রমে গাে পদের শক্যার্থ সংস্থানে গুণপদার্থের এবং গৌঃ দ্রব্য এইরূপ বাক্যের অন্তঃপাতা গােপদের ক্যার্থ গােব্যক্তির উপস্থিতির মাধ্যমে গােব্যক্তিতে দ্রব্যপদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্বয়বোধের উপপত্তি স্বীকৃত হইবে না কেন? গােপদের বিভিন্নশক্তিবাদিগণের এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার গবাদিপদের নানা শক্তি খণ্ডন করিবার এন বলেন ‘গৌনিত্যা’ ‘গৌণ’ ‘গৌদ্রব্যম’ এই সকল স্থলে সর্বানুভবসিদ্ধ গো পদের লক্ষণ। স্বীকৃতি মূলে যথাক্রমে গােত্বজাতি, গােগত সংস্থানরূপ গুণ এবং গবাদিব্যক্তিরূপ যে লাক্ষণিক অর্থের উপস্থিতিক্রমে অনুভবসিদ্ধ অম্বয়বোধ উৎপন্ন হয় তাহা অপলাশের প্রসক্তি হইবে। কারণ, গােপদের তাদৃশ বিভিন্ন অর্থে নানা শক্তি কল্পিত হইলে শকার্থের উপস্থিতি হইতে তাদৃশ বিভিন্ন অর্থের অন্বয়বােধ যখন উপপন্ন হইতে পারে তখন উক্ত বােধের অনুরোধে লক্ষণার অনুসরণ করা নিরর্থক হইবে। গ্রন্থকার যে, “লক্ষণদুতাব: প্রক্তে অর্থাৎ লক্ষণাদ্যভাবের প্রসক্তির কথা বলিয়াছেন এখানে লক্ষণাদি এই আদি পদের দ্বারা তাৎপর্য প্রভৃতির অনুপপতিও গৃহীত হইবে। এখানে আরও বক্তব্য লক্ষণ। শক্যসম্বন্ধরূপ স্বীকৃত। সুতরাং কোনও পদের একটি শক্যার্থ যদি থাকে তাহা হইলে শক্যসম্বরূপ লক্ষণার গৃহীত হইতে পারে। পরন্তু যেখানে শকদার্থের উপস্থিতি হইতেই অম্বয়বােধ উপপন্ন হয় সেখানে তাদৃশ অর্থের উপস্থিতিমূলক অম্বয়বােধে কোনও সম্প্রদায়ই লক্ষণার অনুসরণ করেন না। ইহাই প্রকারের গুঢ় অতিপ্রায়। উপসংহারে গ্রন্থকারের ইতি সাম্প্রদায়িকাঃ এই উক্তির দ্বারাও একটি বিশেষ তাৎপর্য সূচিত হইয়াছে। কারণ, সাম্প্রদায়িক মত অনুসারে জাতি এবং আকৃতি বিশিষ্ট গগা ব্যক্তির উপস্থিতির মাধ্যমে গবাদি পদ হইতে শব্দবোধ অবশ্য অঙ্গীকার করিতে হইবে। বাস্তবিক পক্ষে কিন্তু ‘গান্তি’ ‘গামানয়’ ইত্যাদি বাক্য হইতে কেবলমাত্র গােত্বাদি জাতি পুরস্কারে গবাদি ব্যক্তির বােধ অনুভবসিদ্ধ হওয়ায় সাম্প্রদাদ্রিক মত অনুসারে আকৃতিরূপ সংস্থানের অনুপস্থিতিকালে তাদৃশববাধের অনুপপত্তিরূপ অস্বরসই ‘সাম্প্রদায়িকা এই উক্তির দ্বারা ব্যক্ত হইয়াছে। नव्यास्तु, जातिव्यक्तयोरेकशक्तिप्राप्त्यर्थ सौत्रमेकवचनम् । प्राकृति- रूपन्तु संस्थानं पृथगेव शक्यम्, शक्पश्चकपदोपस्थाप्ययोरप्याकतिव्यक्यो- रूढ़नाम्नि गवादिपदानां शक्तिनिरूपणम् ५३ भैदान्वयबोधनं गवादिशब्देन, व्युत्पत्ति चित्रगत्, अतएव, संस्थानानु- पस्थितौ केवलगोत्वादिप्रकारेण व्यक्तेरवगमः शक्त्यैव सम्पद्यते । यद्य संस्थानव्यक्तयोरेवैकशक्तिर्गोत्वादिजातादेव शक्यन्तरं, तौशिष्ट्यं तु पदार्थ- विधया युष्माकमिवास्माकं वाक्यार्थविधया भासते इत्येव किं न स्यात्, स्यादेव, समवायेन गोत्वादिमदपेक्षया परम्परया संस्थानवतः परमगुरुत्वेना- शक्यत्वात्, शक्यतायाः किश्चिद्धर्मावच्छिन्नत्वनियमात्, शुद्धगोत्वादौ तदयोगाच्चेत्याहुः। न অনুবাদ নবীন সম্প্রদায় বলেন জাতি ও ব্যক্তি এত উভয়গত একটি শক্তি প্রাপ্তির অনুকুলে (জাত্যাকৃতিব্যক্তয়ঃ পদার্থ এই সূত্রে) একবচন প্রদত্ত হইয়াছে। আকৃতি স্বরূপ সংস্থান কিন্তু পৃথক ভাবে (গবাদি পদের) শক্য হইবে। একপদের দ্বারা উপস্থাপিত শক্যাথদ্বয়ের অন্বয় অবুৎপন্ন—এই ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার করিয়া গো প্রভৃতি একটি পদের দ্বারা উপস্থাপিত অকৃতি ও ব্যক্তিরূপ শব্যার্থ দ্বয়ের অন্বয় বােধ সমর্থন করা যাইতে পারে। অতএব সংস্থানের অনুপস্থিতিকালে কেবল গােজাদিপ্রকারক গবাদিব্যক্তি বিশেষ্যক অন্বয়বােধ শক্তির দ্বারাই সম্পন্ন হইবে । এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে (নব্যমতে গবাদিপদের জাতি এবং ব্যক্তি এতদুভয়ে একটি শক্তি কল্পনা করিয়া জাতি এবং ব্যক্তি এতদুভয়ের বৈশিষ্ট্য যদি পদার্থরূপে ভাসমান হইতে পারে তাহা হইলে) আমাদের মতেও সংস্থান এবং গবাদি ব্যক্তিতে একটি শক্তি কল্পনা পূর্বক গােত্বাদি জাতিতে পৃথক্ শক্তি কল্পিত হইবে, এবং গােত্বাদিজাতি এবং ব্যক্তি বাক্যার্থরূপে অন্বয়বােধে ভাসমান হইবে এইরূপ স্বীকৃত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে ( নব্যমত অবলম্বন করিয়া) গ্রন্থকার বলিতেছেন—না, তাহা হইতে পারে না কারণ সমবায় সম্বন্ধে গগাবাদিবিশিষ্ট অপেক্ষায় পরম্পরা সম্বন্ধে সংস্থান বিশিষ্ট অতি গুরুতর হওয়ায় গবাদিপদের শক্য হইতে পারে না (আর ও বক্তব্য), শকতা কোন একটি ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হইবে ইহাই নিয়ম। অতএব শুদ্ধ গোত্ব প্রভৃতি জাতিতে শক্তি কল্পনা করা সম্ভব নহে।
Y शब्दशक्तिप्रकाशिका বিবৃতি জাতি এবং আকৃতিবিশিষ্ট গবাদিব্যক্তিতে গাে প্রভৃতি পদের শক্তি কল্পিত হইলেও আকৃতিরূপ সংস্থানের অনুপস্থিতিকালে গো প্রভৃতি পদ হইতে অনুতসিদ্ধ গােত্ব প্রকায়ক গবাদিৰিশিষ্যক অন্বয়বােধের অপলাপের প্রসক্তি হইবে। সাম্প্রদায়িক মতে এইরূপ অষরল থাকায় ‘নব্যাস্তু’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে নব্যমত প্রদর্শন করিতেছেন। জাতি এবং ব্যক্তি এতদুভয়ের যে একটি শক্তির কথা বলা হইয়াছে এখানে জাতি ও ব্যক্তি এতদুভয় মাত্রেই একটি শক্তি কল্পনা করা হইবে, এইরূপ অৰধারণে গ্রন্থকারের তাৎপর্য থাকায় সংস্থান এবং ব্যক্তি এতদুভয়ে একটি শক্তি কল্পনার সম্ভাবনা তিরােহিত হইল। এখন প্রশ্ন হইতে পারে আকৃতি স্বরূপ সংস্কানে যদি গবাদিপদের শক্তি স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে গবাদিপদ হইতে গবাদিব্যক্তিতে সংস্থানকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া সংস্কৃানবর্তী গৌ: এই আকারের অন্বয়বােধ কি করিয়া সম্ভবপর হইবে? এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার নবীন সিদ্ধান্ত অবলম্বন করিয়া বলিতেছেন “আকৃতিরূপন্তু সংস্থানং পৃথগেব শক্য” তাৎপর্য এই যে, আকৃতি এবং গবাদি ব্যক্তিতে একটি শক্তি কল্পিত না হইলেও আকৃতিস্বরূপ যে সংস্থান অর্থাৎ অবয়বসংযােগবিশেষ তাহাতে গবাদিপদের পৃথগ ভাবে একটি শক্ত্যন্তর কল্পিত হওয়ায় গােপদের শক্তান্তরের দ্বারা উপস্থাপিত আকৃতিকে বিশেষণ রূপে এবং গােশদের শ্যার্থ-গােত্ব বিশিষ্ট গােকে বিশেষ্য রূপে গ্রহণ করিয়া অন্বয় বােধের উপপত্তি হইবে। আকৃতি পদটি যদি অঙ, পূর্বক ধাতুর উত্তর ভাববাচ্যে বিহিত জিন প্রত্যয়ের দ্বারা নিম্পন্ন হয় তাহা হইলে আকৃতি পদটি অভিব্যক্তি রূপ প্রত্যক্ষ বিশেষের বােধক হইয়া থাকে। সূত্র আকৃতি পদের কিন্তু তাদৃশ অর্থ সম্ভাবিত নহে। কারণ প্রত্যক্ষ বিশেষ আকৃতি গবাদিব্যক্তিতে বিশেষণ রূপে অন্বয়বােধের বিষয় হইতে পারে না। অতএব আকৃতি পদটি যে, ভাববাচ্যে নিষ্পন্ন নহে ইহা বুঝাইবার জন্য গ্রন্থকার বলিয়াছেন “আকৃতি- রূপন্তু সংস্থানম্” অর্থাৎ সূত্রস্থ আকৃতি পদটি ‘আক্ৰিয়তে অতিব্যজ্যতে অনেন' এইরূপ করণ বাচ্যে নিষ্পন্ন আকৃতি পদটির সংস্থানরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে যদি গাে প্রভৃতি পদের আকৃতিরূপ অর্থে পৃথগ ভাবে শক্ত্যন্তর কল্পিত হয় তাহা হইলে একই গো পদের শক্যার্থ যে আকৃতি তাহার সহিত উক্ত গাে পদের অপর শক্যার্থ যে গো ব্যক্তি এতদুভয়ের বিশেষণ বিশেষ ভাবে স্বাশ্ৰয় সমবেতত্বৰূপ ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় বােধ উৎপন্ন হইতে পারে না। কারণ, একটি পদের দ্বারা উপস্থাপিত শক্যার্থ দ্বয়ের ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় অব্যুৎপন্ন অর্থাৎ ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ নহে এইরূপ ব্যুৎপত্তি থাকায় তাদৃশ অন্বয় বােধ হইতে পারে না। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন একই গাে পদের বিভিন্ন শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত আকৃতি এবং ব্যক্তি এতদ উভয়ের অন্বয় বােধ উক্ত ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার করিয়া সমর্থন করা যাইতে পারে। গ্রন্থকার যে, বলিয়াছেন—“ব্যুৎপত্তিবৈচিত্র্যাৎ” এখানে ব্যুৎপত্তি পদের দ্বারা পূর্বকথিত ব্যুৎপত্তি গৃহীত হইবে। তাৎপর্য এই যে, পচতি প্রভৃতি সূলে আখ্যাতিক ‘তিপ’ প্রত্যয়ের দ্বারা বর্তমান रूदनाम्नि गवादिपदाना शक्तिनिरूपणम् কাল ও কৃতিৰূপ বিভিন্ন শক্যার্থ এবং ‘এব’শব্দের দ্বারা অন্যযােগ ও ব্যবচ্ছেদ রূপ বিভিন্ন শ্যার্থ গৃহীত হইলেও উক্ত ব্যুৎপত্তিতে ‘তিবাদি’ প্রত্যয় ভিন্নত্ব এবং এব’ শব্দ ভিন্ন নিবেশ করিয়া যেরূপ উক্ত ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার করিতে হইবে, তদ্রুপ ব্যুৎপত্তির অন্তর্গত যে, ‘এ’ পদ তদংশে গবাদি শব্দ ভিন্নত্বও নিবেশ করিতে হইবে। ইহার ফলে এই সকল পদ হইতে অতিরিক্ত যে ‘এক পদ’ তাহাই তাদৃশ ব্যুৎপত্তির ঘটক হইবে, ইহাই এখানে ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য বুঝিতে হইবে। নব্য মতে আকৃতিরূপ সংস্থানে গবাদি পদের পৃথক শক্তির কেন কল্পনা করা হইয়াছে, তাহার প্রয়ােজন প্রদর্শন করিবার জন্য অতএব ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। এখানে ‘অতএব’ শব্দটির গবাদি পদের সংস্থান রূপ অর্থে পৃথকু শক্তি কল্পিত হওয়ার ফলে—এরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। কেবলং গােত্বাদি প্রকারেণ এখানে কেবল’ শব্দটি থাকার ফলে আকৃতির প্রকাবত্ব নিষিদ্ধ হইয়াছে। তাৎপর্য এই যে, নব্য সম্প্রদায় গবাদি পদের জাতি ও ব্যক্তিতে একটি শক্তি এবং সংস্থানে অপর একটি শক্তি কল্পনা করার ফলে সংস্থানের অনুপস্থিতি কালে সংস্থান বিশেষণরূপে ভাসমান না হইলেও এই মতে শুদ্ধ গােত্ব প্রকার গােব্যক্তি বিশেষ ক শব্দবোধ শক্তির দ্বারাই উপপন্ন হইবে। গবাদি পদের সংস্থানগত স্বতন্ত্র শক্ত্যন্তর কার বিরুদ্ধে জগদীশ ‘যদ্যেবং' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে একটি আশঙ্কা উথাপন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, নবীন সম্প্রদায় যেরূপ গবাদি শব্দের গোত্বাদি জাতি এবং তদাশ্রয় গবাদিব্যক্তিতে একটি শক্তি স্বীকার করিয়া সংস্থানরূপ আকৃতিতে অপর একটি শক্তি স্বীকার করেন, তদ্রুপ বিরােধী পক্ষও বলিতে পারেন, বিনিগমনাৰিরহ প্রযুক্ত আকৃতি এবং ব্যক্তি মাত্রে গবাদি পদের একটি শক্তি এবং গােত্বাদি জাতিতে অপর একটি শক্তি কল্পনা করা হইবে। যদি বলা হয় জাতিতে ভিন্ন শক্তি কল্পিত হইলে উক্ত জাতি বিশিষ্ট গো ব্যক্তি গো পদের শক্য না হওয়ায় গােত্বজাতি গাে ব্যক্তিতে বিশেষণ রূপে সমান হইতে পারে না, এই উক্তির প্রত্যুত্তরে বিরােধী পক্ষও বলিতে পারেন নবীন মতে যেরূপ শক্যার্থ রূপে গােত্ব প্রকাকে গােবিশেষ্যক অম্বয়বােধ স্বীকার করা হয়, আমাদের মতেও বাক্যার্থ রূপে অর্থাৎ গােপদের শক্ত্যন্তরের দ্বারা উপস্থাপিত যে গােত্ব তাহার শক্যার্থ যে সংস্থান বিশিষ্ট গোব্যক্তি তাহাতে অন্বয়বােধ স্বীকত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে নব্য মত আশ্রয় করিয়া গ্রন্থকার বলিতেছেন, না, গােপদের শক্যার্থ গােব্যক্তিতে গােত্বাদিজাতির বাক্যার্থরূপে অন্বয়বােধে ভাণ হইবে না। কেন হইবে না তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য সমবায়েন ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, গােত্ব বিশিষ্ট গগাব্যক্তিতে গো পদের শক্তি কল্পিত হইলে গােত্বাদির বৈশিষ্ট্য সমবায় সম্বন্ধ স্বরূপ হওয়ায় লাঘব হইবে। যদি সংস্থান বিশিষ্টগােব্যক্তিতে শক্তি কল্পনা করিতে হয়, তাহা হইলে উক্ত বৈশিষ্ট্য রূপ সম্বন্ধ হইবে পরস্পর অর্থাৎ স্ব সময়িসমবেতত্ব, অতএব শুরু সম্বন্ধকে বৈশিষ্ট্য রূপে গ্রহণ করিয়া শক্তি কল্পনা অপেক্ষা লঘু সম্বন্ধ সমবায়কে গােত্বাদি জাতির বৈশিষ্ট্য রূপে গ্রহণ করিয়া গােত্বাদি বিশিষ্ট ব্যক্তিতে শক্তি কল্পিত হইলে লাঘব शम्दशक्तिप्रकाशिका হইবে। সুতরাং লাঘব রূপ বিনিগমন। প্রযুক্ত গােত্বাদি জাতি বিশিষ্টেই গােপদের শক্তি কল্পিত হইবে সংস্থান বিশিষ্টে নহে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, যেই মতে সংস্থান গত গােজাদি জাতি স্বীকৃত হয় সেই মতে গবাদিব্যক্তিতে গোত্বদ জাতির পরম্পরা সম্বন্ধ স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং গোদিবিশিষ্ট ব্যক্তিতে গবাদি পদের শক্তি কল্পিত হইলেও পরম্পরা সম্বন্ধে শক্তি কল্পনা নিবন্ধন গৌরব উভয় পক্ষেই তুল্য। সুতরাং বিনিগমনা বিরহ না থাকার প্রতি কোন কারণ নাই। এই আশঙ্কার উত্তরে নবীন মতের সিদ্ধান্ত অবলম্বন করিয়া জগদীশ বলিতেছেন- ‘ক্যতায়া কিঞ্চিত্তদ্ধর্মাবিচ্ছিন্নত্বনিয়মাদিতি। তাৎপর্য এই যে, যে কোন পদে পদার্থ বিশেষে শক্তি কল্পিত হইলে উক্ত পদার্থগত শক্যতাকে কোন একটি ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হইতে হইবে। প্রকৃত স্থলে গােপদের সংস্থানবিশিষ্টে শক্তি স্বীকার করিয়া যদি গোত্ব জাতিতে গােপদের পৃথক শক্তি স্বীকার করা হয়, তাহা হইলে গােত্বাদিগত উক্ত শক্যতাকে অবশ্য কোন একটি ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হইতে হইবে। সেই ধর্মটি কিন্তু গােত্বত্বভিন্ন অন্য কিছু নহে। গােত্বত্ব ধর্মটি আবার গবেতাবৃত্তিত্বে সতি সকলগােবৃত্তিস্বরূপ। সুতরাং সংস্থানগত বৈজাত্য অপেক্ষায় গােত্বত্ব ধর্মটি অতি গুরুতর হওয়ায় উক্ত ধর্মে গােপদের পৃথক শক্যবচ্ছেদকত্ব কল্পনা নিবন্ধন গৌরব হইবে। অতএব, লাঘবতঃ সংস্থানে গবাদি পদের শক্ত্যন্তর কল্পনার ফলে সংস্থানগত বৈজাত্যে শক্যবচ্ছেদকত্ব স্বীকৃত হইবে। আকাশপদের যেরূপ নিরবচ্ছিন্ন শক্তি স্বীকৃত হয়, গবাদিপদেরও তদ্রুপ গােঙ্গাদিজাতিতে স্বতন্ত্র নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কল্পিত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে নবীন মতে, আকাশ পদেরও নিরবচ্ছিন্ন শক্তি স্বীকৃত নহে, পরন্তু শব্দাশ্ৰয়ত্বরূপ আকাশত্বাবচ্ছিন্নে শক্তি স্বীকৃত হইয়াছে। এই অভিপ্রায়েই জগদীশ বলিয়াছেন, “শকতায়া কিঞ্চিদ্ধমা- বচ্ছিন্নত্বনিয়মাৎ এখানে শকতাপদের অর্থ করিতে হইবে শক্তি নিরূপিত বিশেষ্যতা। এই রূপ অর্থ বিবক্ষিত না হইলে শুদ্ধগােত্বে শক্তিনিরূপিত নিরবচ্ছিন্ন অবচ্ছেদকতা রূপ শক্তিবিষয়তা থাকায় শুদ্ধ গােত্বাদিপর্মেও শক্তিবিষয়ত্ব সম্ভবপর নহে—এই উক্তিটি সঙ্গত হইতে পারে না। ইহাই নবীন সিদ্ধান্ত। मूलम् मिथो वैशिष्ट्यविधुराभ्यां चन्द्रत्वसूर्यत्वाभ्यामवच्छिन्न कशक्तिमतः पुष्पवन्तपदस्येव गोत्वसंस्थानप्रभेदाभ्यामेवावच्छिन्न कशक्तिमतो गवादिपद- स्थापि जात्यवच्छिमशक्तिमत्तया नौमित्तिकसंज्ञात्वेऽपि नौपाधिकसंज्ञात्वम्, सखण्डोपाधिमात्रावच्छिनशक्तिमत एव नाम्नस्तथात्वादिति वस्तुगतिः ।
रुड़नाम्नि गवादिपदाना शक्तिनिरूपणम् ২০ অনুবাদ পরস্পর বিশেষ বিশেষণ ভাব শূন্য চন্দ্ৰত্ব এবং সূর্যত্ব পুরস্কারে পুষ্পবন্ত পদের চন্দ্রসূর্যরূপ অর্থে যেরূপ একটি শক্তি কল্পিত হইয়া থাকে। তদ্রুপ গােত্ব (জাতি) এবং সংস্থান বিশেষ ( আকৃতি বিশেষ ) এতদুভয় ধর্ম পুরস্কারে গবাদি পদ জাত্যবচ্ছিন্ন শক্তি বিশিষ্ট হওয়ায় নৈমিত্তিক সংজ্ঞা হইলেও ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে না, কারণ সখ কোন উপাধি বিশেষের দ্বারা অবচ্ছিন্ন যে শক্তি তদ্বিশিষ্ট নামকেই ঔপাধিক সংজ্ঞা বলা হয়। ইহাই বস্তুস্থিতি। বিবৃতি সাম্প্রদায়িক মতানুসারে এবং নব্যমতে গবাদি পদের নৈমিত্তিক সংজ্ঞা ব্যবস্থাপিত করিবার পরে “মিথো বৈশিষ্ট্যবিধুবাভ্যাম্” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে নিজ মতানুসারে গবাদিপদের নৈমিত্তিক সংজ্ঞ প্রতিপাদন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, একমােজ। পুস্পৰন্তৌ দিবাকরনিশাকরো” ইত্যাদি অমরকোষ অনুসারে পরস্পর বিশেষ বিশেষণ ভাব শূন্য চন্দ্ৰত্ব এবং সূর্যত্ব এই দুইটি পরস্পর বিরুদ্ধ ধর্ম পুরস্কারে চন্দ্র ও সূর্য রূপ অর্থে পুষ্পবন্ত পদের যেরূপ একটি শক্তি স্বীকৃত হয়, সেইরূপ গবাদিসংজ্ঞা শব্দ স্থলেও গােত্ব এবং সংস্থান বিশেষরূপ বিশেষ্য-বিশেষণবানাপন্ন দুইটি ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন (বিশিষ্ট) গােরূপ অর্থে একটি শক্তি স্বীকৃত হইবে। এখন আপত্তি হইতে পারে গােত্বরূপ জাতি এবং সাম্নাদি রূপ সংস্থান বিশেষ এই উভয় ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন গােব্যক্তিতে গােপদের একটি শক্তি স্বীকৃত হইলে গােপদ জাত্যবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয়রূপে যেরূপ নৈমিত্তিক সংজ্ঞা হইবে, তদ্রপ সংস্থান বিশেষরূপ উপাধি দ্বারা অবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয় হওয়ার ফলে ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন, গবাদি পদ জাত্যবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয়রূপে নৈমিত্তিক সংজ্ঞা হইলেও ঔপাধিক সংজ্ঞা হইবে না। কারণ, সখণ্ড উপাধি মাত্রের দ্বারা অবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয় যে পদ তাহাই হইবে ঔপাধিক সংজ্ঞা। প্রকৃতস্থলে যদিও গবাদি পদ সখণ্ড সামাদিমত্ত্বরূপ উপাধির দ্বারা অবচ্ছিন্ন শক্তির আশ্রয় হইয়াছে, তথাপি ঐ শক্তি কেবলমাত্র সখণ্ড উপাধির দ্বারা অবচ্ছিন্ন নহে, পরন্তু গোত্বাদি- রূপ জাতির দ্বারাও অবচ্ছিন্ন হইয়াছে অতএব গবাদি পদের ঔপাধিক সংজ্ঞা স্বীকৃত হইবে না। বাস্তবিক পক্ষে যে নামটি জাতিবিশেষের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হইবে না, অথচ সখণ্ড কোন উপাধির দ্বারা অবচ্ছিন্ন হইবে তাহাই হইবে ঔপাধিক সংজ্ঞা। যেরূপ আকাশ প্রভৃতি পদ উপাধিক সংজ্ঞারূপে কীর্তিত হইয়াছে। যদি কোনও নামের জাতি এবং উপাধি এতদুভয়ের ধারা অবচ্ছিন্ন শক্তি স্বীকৃত হয়, সেই নামটি কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে নৈমিত্তিক সংজ্ঞাই হইবে, ঔপাধিক সংজ্ঞা নহে। ইহাই গ্রন্থকার বস্তুস্থিতি এই উক্তির দ্বারা সমর্থন করিয়াছেন।
शाम्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् सौत्रमाकृतिपदं न संस्थानपदं परन्तु करणव्युत्पत्या श्राकारनिरूप- कार्थकं जातिव्यक्त्योः संसर्गपरमेव, अन्यथा समवायादेरपि सम्बन्धविधया गवादिपदशक्यत्वेन तदनुक्त्या मुनेन्यं नत्वापत्तेः। कादाचित्कस्तु, जाति- संस्थानाभ्यां गवादेरवगमो, गवादिपदस्य जात्याकृतिविशिष्टे शक्तिभ्रमेण लक्षणया वा सम्पाद्य इति पुनायरहस्ये अम्मद्गुरुचरणाः । ॥ २३ ॥ অনুবাদ ন্যায়সূত্রে যে আকৃতি পদের উল্লেখ আছে উক্ত আকৃতি পদ সংস্থান বিশেষের বােধক নহে। পরন্তু করণ ব্যুৎপত্তি অনুসারে আকার নিরূপকরূপ অর্থের বোধক হওয়ায় আকৃতি পদটি গােত্ব প্রভৃতি জাতি এবং গো প্রভৃতি ব্যক্তি এতদুভয়ের সংসর্গ বােধক রূপে স্বীকৃত হইবে। তাহা না হইলে সমবায়াদি সম্বন্ধেও (জাতি ও ব্যক্তির) সংসৰ্গরূপে গবাদি পদ নিরূপিত শক্তি বিষয়তা থাকাসত্ত্বেও উক্ত সম্বন্ধগত শক্যতা উক্ত না হওয়ায় মহষির ন্যূনতা প্রসক্তি হইবে। যদি সময় বিশেষে গবাদি পদ হইতে গােত্ব প্রভৃতি জাতি ও আকৃতি এতদুভয়কে বিশেষণ রূপে গ্রহণ করিয়া গবাদিব্যক্তির অন্বয় বােধ অনুভব সিদ্ধ হয় তাহা হইলে জাতি এবং আকৃতি বিশিষ্ট গাে ব্যক্তিতে গবাদিপদের শক্তিভ্রম অথবা লক্ষণার দ্বারা উক্ত অন্বয় বােধের উপপাদন করিতে হইবে। ন্যায় রহস্য টীকায় আমার গুরুদেব ইহাই (প্রতিপাদন করিয়াছেন)। বিবৃতি নিজের অধ্যাপক রামভদ্র সার্বভৌমের সিদ্ধান্ত অনুসরণ পূর্বক গ্রন্থকার জগদীশ তর্কালঙ্কার “জাত্যাকৃতিব্যক্তয় পদার্থ এই ন্যায়সূত্রের অন্তর্গত আকৃতি পদের সংস্থান- রূপ অর্থ পরিত্যাগ করিয়া জাতি ও ব্যক্তির (সমবায়) সম্বন্ধরূপ অর্থ প্রতিপাদন করিবার জন্য “সৌমাকৃতিপদ” ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, সাধারণভাবে “আকৃতি” পদটি যদিও গােপ্রভৃতি ব্যক্তিগত সংস্থানবিশেষের বােধ হয় তথাপি ‘আক্ৰিয়তে অনেন’ এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে আঙ, পূর্বক ধাতুর পরে করণ- বাচ্যে জিন প্রত্যয়ান্ত আকৃতি পদটি আকারের নিরূপক এইরূপ অর্থের বােধক হইবে।
रूढ़नाम्नि गवादिपदानां शक्तिनिरूपणम् সুতরাং গবাদিব্যক্তিতে গােত্বাদি জাতির যে সমবায়সম্বন্ধ তাহাই পূর্বোক্ত ন্যায়সূত্ৰেয় অন্তর্গত আকৃতিপদের দ্বারা প্রতিপাদিত হইয়াছে। মহর্ষি গৌতমের উক্ত অভিপ্রায় ব্যক্ত করিবার জন্য জগদীশও বলিয়াছেন করণব্যুৎপত্তি অনুসারে আকারের নিরূপকরূপ অর্থের প্রত্যায়ক হওয়ায় আকৃতি পদের সংস্থানরূপ যথাশ্রুত অর্থ পরিহার করিয়া জাতি ও ব্যক্তির সম্বন্ধরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। কেন উক্ত সম্বন্ধরূপ অর্থ গৃহীত হইবে তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য গ্রন্থকার বলেন, যদি আকৃতি পদের দ্বারা জাতি ও ব্যক্তি এতদুভয়ের সমবায় সম্বন্ধ গৃহীত না হয় তাহা হইলে গােপ্রভৃতি পদস্থলে জাতি ও ব্যক্তির ন্যায় সমবায়ও সংসর্গরূপে গবাদিপদের শক্য ইহা অনুভব সিদ্ধ। সুতরাং শক্য ও শক্যবচ্ছেদক ধর্ম যেরূপ শক্তিস্য হইবে তদ্রুপ শক্তি নিরূপিত বিশেষ্য তাবচ্ছেদকতার ঘটক সম্বলরূপে জাতি ও ব্যক্তি উভয়ের সমবায় সম্বন্ধ ও শক্তি ভাস্য হইবে। ইহা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। অতএব শব্দবোধে একটি পদার্থে অপর পদার্থের সংসর্গ যেরূপ বাক্যগত আনুপূৰ্ব্বী বিশেষরূপ আকাঙক্ষ। ভাগ হইয়া থাকে তদ্রুপ শব্দবােধে ভাসমান গাে প্রভৃতি ব্যক্তিতে গোত্ব প্রভৃতি জাতির যে, সমবায় সম্বন্ধ তাহা ও গোব্যক্তি বা গােত্বজাতির ন্যায় শক্তিস্য হইবে, ইহাই সিদ্ধান্ত। যদি “জাতকৃতিব্যক্ত পদার্থ:” এই সূত্রের অন্তর্গত আকৃতি পদের দ্বারা জাতি ও ব্যক্তি এতদুভয়ের সম্বন্ধ প্রতীয়মান না হয় তাহা হইলে শক্তিস্য তাদৃশ সম্বন্ধের কথা না বলায় মহর্ষি গৌতমের নূনতা দোষের প্রসক্তি হইবে, অতএব উক্ত সূত্রের অন্তর্গত আকৃতি পদটির, জাতি ব্যক্তি উভয়ের সংসৰ্গরূপ অর্থে মহর্ষি গৌতমের তাৎপর্য স্বীকার করিতে হইবে। এক্ষণে আপত্তি হইতে পারে সূত্ৰোক্ত আকৃতি পদের তাদৃশ সংসৰ্গরূপ অর্থে মহর্ষির তাৎপর্য স্বীকৃত হইলে সংস্থান রূপ আকৃতি গােপ্রভৃতি পদের শক্য হইতে পারে না। যদি সংস্থান গােপ্রভৃতি পদের শক্য না হয় তাহা হইলে কোন সময়ে যে গােপ্রভৃতি পদ হইতে জাতি এবং সংস্থান এতদুভয়ধর্ম পুরস্কারে গবাদি ব্যক্তির বােধ হয় তাহা কি করিয়া সম্ভবপর হইতে পারে ? এই আপত্তির সমাধান কল্পে জগদীশ ‘কাদাচিৎকন্তু ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, সময় বিশেষে গােপ্রভৃতি পদ হইতে গােত্বজাতি এবং গো প্রভৃতি ব্যক্তিগত সংস্থান এই উভয় ধর্মপুরস্কারে, গো প্রভৃতি ব্যক্তিকে বিষয় করিয়া যে অম্বয় বােধ উৎপন্ন হয় উক্ত-অম্বয়বােধ, গােত্বাদি জাতি ও সংস্থান এই উভয় ধর্ম বিশিষ্ট গো প্রভৃতি ব্যক্তিতে শক্তির ভ্রম হইতে তাদৃশ উভয় ধর্ম বিশিষ্ট গবাদি ব্যক্তির উপস্থিতির মাধ্যমে উৎপন্ন হইয়া থাকে, সুতরাং সময় বিশেষে তাদৃশ অন্বয় বােধের অনুপপত্তি হইবে। যদি বিরােধী পক্ষ বলেন :—দোষঘটিতসামগ্রী বিদ্যমান না থাকিলে উক্ত ক্রমে ১। তদমুক্তিজ্ঞানজ্ঞাপ্যতজ জ্ঞানশূন্যত্বই এখানে গ্রন্থকর্তৃগত নূ্যনত্ব বুঝিতে হইবে। ২। “কাদাচিৎকন্তু এই পাঠ কৃষ্ণকান্ত সম্মত। টীকাকার রামভদ্র ‘কাচিৎকন্তু এইরূপ পাঠ গ্রহণ করিয়াছেন।
शब्दशक्तिप्रकाशिका জাতি ও সংস্থানরূপ আকৃতিবিশিষ্ট গবাদিব্যক্তিতে শক্তি ভ্রম হইতে পারে না কারণ দোষ ঘটিত সামগ্রীব্যতীত কোনও ভ্ৰমজ্ঞান উৎপন্ন হয় না। বিরােধী পক্ষের এই উক্তির প্রত্যুত্তরে গ্রন্থকার বলেন “লক্ষণয়া বা সম্পাদ্যঃ” অর্থাৎ সর্বত্র শক্তি ভ্রম সম্ভবপর না হইলেও অন্ততঃ গবাদিণদের গোবাদি জাতি ও সংস্থান রূপ আকৃতি এতদুভয়বিশিষ্ট গােব্যক্তিতে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে। তাৎপর্যানুপপত্তি মূলক উক্ত লক্ষণ। জ্ঞান হইতে উক্ত উভয় ধর্মবিশিষ্ট গবাদি ব্যক্তির উপস্থিতিক্রমে গােত্বাদি জাতি ও সংস্থান রূপ উভয় ধর্মবিশিষ্ট গবাদি ব্যক্তির শাৰ বােধ উপপন্ন হইবে। এইমতটি প্রকারান্তরে সমর্থন করিবার জন্য জগদীশ উপসংহারে বলিতেছেন “ইতি পুনৰ্যায়- রহস্যেহস্মগুরুচরণাঃ” অর্থাৎ আমার অধ্যাপক রামভদ্র সার্বভৌম, “জাত্যাকৃতি ব্যক্ত পদার্থ:” এই সূত্রের ন্যায়রহস্য টীকায় এই মতকে সিদ্ধান্তরূপে গ্রহণ করিয়াছেন। টাকা- কার কৃষ্ণকান্ত এই মতটির ব্যাখ্যার প্রারম্ভে বলিয়াছেন “দেবীপুত্র মতমাহ সৌমিতি” এই দেবীপুত্র কি রামভদ্র সার্বভৌমের নামান্তর অথবা দেবীপুত্ৰনামধেয় সার্বভৌমের পূর্ববর্তী কোনও নৈয়ায়িকের উক্ত মতবাদ সমর্থন করিবার জন্য সার্বভৌম নিজ নায়রহস্য টীকায় উক্ত মতবাদ সিদ্ধান্তরূপে গ্রহণ করিয়াছেন। শেষােক্ত মতটি আমাদের সমর্থন যােগ্য মনে হয় কারণ রঘুনাথ শিরােমণির সময়েও উক্ত মত প্রচলিত ছিল। ২৩ ॥ ॥ সার্থক শব্দে রূঢ়নাম নিরূপণ সমাপ্ত ।
सार्थकशब्दे लक्षकनाम निरूपणम् = मूलम् लक्षकं नाम लक्षयति- यादृशार्थस्य सम्बन्धवति शक्तन्तु यद्भवेत् । तत्र तल्लक्षकं नाम, तच्छतिविधुरं यदि ॥ २४ যে নামটি যাদৃশ অনুবাদ ক্রমপ্রাপ্ত লাক্ষণিক নামের লক্ষণ করিতেছেন। অর্থের সম্বন্ধবিশিষ্টে শক্তিবিশিষ্ট হইয়া তাদৃশ অর্থে যদি শক্তিশূন্য হয় তাহা হইলে সেই নাম তাদৃশ অর্থে লাক্ষণিক নামরূপে অভিহিত হইবে। বিবৃতি পূর্বে ‘রূঢঞ্চ লক্ষ কঞ্চৈব’ ইত্যাদি (১৬) কারিকার রূঢ় লাক্ষণিক যােগরূঢ় এবং যৌগিক ভেদে চতুর্বিধ, নামের যে বিভাগ করা হইয়াছে বিভক্ত উক্ত নাম সমূহের মধ্যে রূঢ় নামের লক্ষণ এবং বিভাগ প্রভৃতির মাধ্যমে রূঢ় নাম নিরূপণ করিবার পরে অবসরসংগতির দ্বারা লাক্ষণিক নাম নিরূপণ করিবার জন্য লক্ষক নাম লয়তি' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। কারিকার অন্তর্গত “যাদৃশার্থস” এখানে যাদৃশার্থ শব্দের দ্বারা যে পদার্থ গৃহীত হইবে “অগ্রিম তত্র* এই সপ্তমী বিভক্তির প্রকৃতি তৎপদের দ্বারাও সেই পদার্থই গৃহীত হইবে। দৃশার্থস্য এখানে নিরূপিতত্ব অর্থাৎ প্রতিযােগিত্বরূপ যে ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থ ইহার অন্বয় করিতে হইবে। অগ্রিম মতুপ, প্রত্যয়ের প্রকৃতি সম্বন্ধ পদার্থে, ‘ত’ এখানে সপ্তম্যর্থ যে নিরূপিতত্ব তাহার লক্ষক পদের একদেশ লক্ষণ। পদার্থে অন্বয় হইবে সম্বন্ধবতি অর্থাৎ সম্বন্ধবিশিষ্টে। শক্তন্তু এখানে শক্ত পদটি নিত্য অনিত্য উভয়বিধ সঙ্কেতবিশিষ্টের পরিচায়ক তস্মিন্ শক্তি: তচ্ছক্তি' এইরূপ সপ্তমী- তৎপুরুষ সমাসের ফলে তাদৃশার্থ নিরূপিত শক্তি শূন্যত্ব রূপ অর্থ পর্যবসিত হইবে। যদিও মৌলিক ও প্রকরণ গ্রন্থসমুহে শক্তি নিরূপণ করিবার পরে লক্ষ্য নামার্থ গত শক্যসম্বন্ধরূণ লক্ষণা নিরূপিত হইয়াছে। তথাপি ষােড়শ সংখ্যক পূর্ব কারিকায় রূঢ় শক্ত ও শক্ষক- ভেদে নাম বিভক্ত হওয়ায় গ্রন্থকার “যাশ সম্বন্ধবতি ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে शब्दशक्तिप्रकाशिका নামগত লক্ষণ—নিরুক্তির অভিপ্রায়ে লাক্ষণিক নামের লক্ষণ নিরূপণ করিতেছেন। ‘গঙ্গায়াং দ্বেষ ইত্যাদিলে গঙ্গাপদের জলপ্রবাহরূপ শক্যার্থ গৃহীত হইলে উক্ত শক্যার্থ ঘােষ পদার্থে অন্বিত হইতে পারে না। সুতরাং শক্যার্থের অম্বয়ানুপপত্তি বা তাৎপর্যের অনুপপত্তি হয় বলিয়া গঙ্গাপদের গঙ্গাতীররূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইয়া থাকে। এইজন্য অন্বয়ের অনুপপত্তি জ্ঞান উক্ত লক্ষণার গ্রাহক স্বীকৃত হয়। বাস্তবিক পক্ষে বিশেষে অন্বয়ের অনুপপত্তি জ্ঞান হইতে লক্ষণ প্রতীয়মান হইলেও “যষ্টী: প্রবেশয় ইত্যাদিস্থলে যষ্টিপদের শক্যার্থ গৃহীত হইলেও যষ্টি পদার্থের সহিত প্ৰবেশন ক্রিয়ার অন্বয়ের অনুপপত্তি হয় না। কারণ যষ্টিপদের শক্যার্থ যে যষ্টি তাহার প্রবেশন ক্রিয়া সম্ভবপর হইতে পারে। অতএব ষষ্টী: প্রবেশয়’ এই স্থলে যষ্টিপদের শক্যার্থ গৃহীত হইলে ভােজনতাৎপর্ষের উপপত্তি হয় না, এইজন্য যষ্টি পদের সষ্টিধরে লক্ষণ। স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং তাৎপর্যের অনুপপত্তি জ্ঞানই লক্ষণার বীজ অর্থাৎ গ্রাহক সর্বত্র স্বীকৃত হইবে। আরও বক্তব্য, যদি অন্বয়ের অনুপপত্তিকে পঙ্গণার বীজ স্বীকার করা হয়, তাহা হইলে ‘গঙ্গায়াং থােষ' ইত্যাদি পূলে কোনও সময়ে গঙ্গাপদের তীরে কোনও সময়ে ঘোষ পদের মৎস্য প্রভৃতিতে যে লক্ষণ। স্বীকৃত হয়, এই নিয়ম ব্যাহত হইবে। অতএব তাৎপর্যের অনুপপত্তিজ্ঞান লক্ষণার বীজ স্বীকার করিতে হইবে। জহৎস্বার্থ ও অজহৎস্বার্থ প্রভৃতি কেদে লক্ষণ। বিবিধ ইহা পরে লক্ষণার বিভাগ কারিকায় ব্যক্ত হইবে। যে ধর্মপুরস্কারে যে অর্থ বিশেষে লক্ষণা গৃহীত হইবে তাদৃশ লক্ষণাধীন লক্ষ্য পদার্থের উপস্থিতি ও শাব্দবােধ তৎ তৎ ধর্মপুরস্কারে তৎ তৎ লক্ষ্যার্থবিষয়ক হইবে । শকতার অবচ্ছেদক ধর্মে যেরূপ শক্তি গৃহীত হয়, লক্ষ্যতার অবচ্ছেদক ধর্মে কিন্তু লক্ষণ। স্বীকৃত নহে, অতএব শীরত্ব পুরস্কারে তীররূপ অর্থে যখন গঙ্গাদের লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে, তখন গঙ্গাপদ হইতে লক্ষ্যতাবচ্ছেদক তীরত্ব পুরস্কারে তীরের বােধ হইবে, আবার যখন গঙ্গাতীরত্ব পুরস্কারে গঙ্গাতীরে গঙ্গা পদের লক্ষণ গৃহীত হইবে, তখন গঙ্গা পদ হইতে গঙ্গাতীরত্ব পুরস্কারে গঙ্গাতীরের বোধ হইবে। এই লক্ষণাকে জহৎস্বার্থ লক্ষণ বলে। “কাকেতো দধি রক্ষতা” এই স্থলে কাকপদের শক্য যে কাক তাহাতে এবং কাকের মার্জার প্রভৃতিতে বর্তমান দধুপঘাতকত্ব রূপ লক্ষ্যবচ্ছেদক ধর্ম পুরস্কারে কাপদের দধুপঘাতক রূপ অর্থে যে লক্ষণ। স্বীকৃত হয় তাহার নাম অজহৎ স্বার্থলক্ষণ। অর্থাৎ কোনও একটি পদে শক্য এবং শক্যেতর পদার্থগত লক্ষ্যবচ্ছেদক ধর্ম পুরস্কারে যে লক্ষণা গৃহীত হইবে উক্ত লক্ষণাকে অজহৎ স্বার্থলক্ষণ বুঝিতে হইবে। “ছত্রিণো গচ্ছপ্তি” ইত্যাদি স্থলেও এক স্বার্থবাহিত্বৰূপ লক্ষ্যবচ্ছেদক ধর্ম পুরস্কারে ছত্রী পদের অজহৎয়ার্থ লক্ষণা গৃহীত হওয়ায় উক্ত ছত্রীপদের দ্বারা একটি প্রয়ােজন সাধনের উদ্দেশ্যে ছত্ৰী কুণ্ডলী প্রভৃতি যে সকল ব্যক্তি গমন করিতেছে সেই সকল ব্যক্তি প্রতীয়মান হইবে । দ্বিরেফ পদ হইতে লক্ষণমূলে যে ভ্রমরূপ কীটবিশেষের বােধ হয় উক্ত স্কুলে দ্বিয়েফ পদার্থের সাক্ষাৎ সম্বন্ধরূপ লক্ষণা না থাকিলেও স্ব বাচ্য রেখাদ্বয় ঘটিত পদবাচ্যত্বরূপ ১। উক্ত পরম্পরা সম্বন্ধের ঘটক স্ব পদের দ্বারা ঘিরেফপদ গৃহীত হইবে। দিনেফ सार्यकशब्दे लक्षकनामनिरूपणम् পুৱম্পয়াসম্বন্ধু মরে থাকায় দ্বিরেফপদের দ্বারা লক্ষ্যার্থ ভ্রমরের উপস্থিতির মাধ্যমে অবয়বােধ হইবে। এই পরম্পরা সম্বন্ধরূপ লক্ষণাকে গ্রহান্তরে লক্ষিতলক্ষণ বলা হইয়াছে। শাস্ত্রান্তরে ‘সিংহে মানবক ইত্যাদি স্থলে সিংহ সদৃশ শৌর্যাদিরূপ অর্থে একটি গৌণীবৃত্তি স্বীকার করা হয়। ন্যায় সিদ্ধান্তে কিন্তু তাদৃশ গৌণীবৃত্তি স্বীকৃত নহে। পরন্তু ‘সিংহে মানৰক’ ইত্যদিলে সিংহ পদের সিংহসদৃশ রূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হইয়া থাকে। मूलम् यादृशनामार्थसम्बन्धवति यन्नाम सङ्केतितं, तदेव तादृशाथै लक्षक, यदि तादृशार्थे शक्तिशून्यं भवेत् । सैन्धवादयस्तुरगादिसम्बन्धिनि लवणा- दाविव तुरगादावपि शक्ता एव, गङ्गादयस्तु तोरादावसङ्कोतितास्तत्सम्बन्धि- नीरादिशक्तत्वेन गृहीता एव तीराद्यन्वयं बोधयन्तीति, तत्र ते लक्ष्यका एव । शक्तत्वे पूर्वपूर्वप्रयुक्तत्वापत्तेः तस्य तद्व्याप्यत्वात्, कथश्चित्तीरादि- सम्बन्धित्वेन गृहीतादपि गङ्गादिपदात्तीरादेरन्वयाबोधेन तीराद्यशक्तत्वे सति तत्सम्बन्धितामात्रन्तु न लक्षणा, गङ्गा गङ्गायां घोष इत्यादावपि गङ्गा- गङ्गोतिभागस्य निरुक्तलक्षणायाः सत्त्वेन वैयर्थाभावप्रसङ्गाच्च । অনুবাদ যে নামটি যাদৃশ নামর্থের সম্বন্ধবিশিষ্ট সংকেতবিশিষ্ট হইবে, সেই নামই তাদৃশ অর্থে লাক্ষণিক হইবে যদি তাদৃশ নামাৰ্থে (সেই নাম) শক্তিশূন্য হয়। ‘সৈন্ধব’ প্রভৃতি শব্দ যেমন তুরগ প্রভৃতি নামর্থের সম্বন্ধী লবণ প্রভৃতিতে ( শক্তি বিশিষ্ট হইয়া থাকে) তদ্রুপ তুরগ প্রভৃতিতে শক্তিবিশিষ্ট ( হওয়ায় লাক্ষণিক হইবে না)। গঙ্গা প্রভৃতি নাম কিন্তু তীর প্রভৃতি নামাৰ্থে সংকেত বিশিষ্ট নহে, (পরন্তু) তীর সম্বন্ধী যে নীরাদি, তন্নিরূপিত শক্তি পুরস্কারে গৃহীত হইয়াই তীর প্রভৃতি গােচর অন্বয়বােধের জনক হইয়া থাকে। অতএব, তীর প্রভৃতি অর্থে গঙ্গা প্রভৃতি শব্দ লাক্ষণিক হইবে। (যদি গঙ্গা পদের তীর রূপ অর্থে শক্তি স্বীকার করা হয়, তাহা হইলে) উক্ত অর্থে গঙ্গা পদের পূর্ব পূর্ব পদের বাচ্যার্থ হইবে রেফদ্বয়। অর্থাৎ দুটি রকার। তদঘটিত পদ মর পদ। তাহার বাচ্য ভ্রমরূপ কীটবিশেষ ।
शब्दशक्तिप्रकाशिका প্রয়ােগের আপত্তি হইবে। কারণ, শক্তিবিশিষ্ট পূর্ব পূর্ব প্রয়ােগ বিষয়ত্বের ব্যাপ্য হইয়া থাকে। গঙ্গাদি পদ ( যে কোন সম্বন্ধে ) তীর সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গৃহীত হইলেও তাদৃশ গঙ্গাদি পদ হইতে তীর প্রভৃতি বিষয়ক অম্বয়বােধ উৎপন্ন না হওয়ায় তীরদি নিরূপিত শক্তি শুন্যত্ব সমানাধিকরণ তীরাদি সম্বন্ধিত্বমাত্রকেই লক্ষণা বলা যায় না। বিশেষতঃ “গঙ্গা-গঙ্গায়াং ঘােষঃ” এই সকল স্থলেও ‘গঙ্গা-গঙ্গা' এই অংশে তীর নিরূপিত শক্তি শূন্যত্ব এবং তীর সম্বন্ধিত্ব রূপ লক্ষণ থাকায় (একটি গঙ্গা পদের ) ব্যর্থতা সম্ভবপর হইতে পারে না। বিবৃতি ‘যাদৃশার্থ’ ইত্যাদি কারিকার বিবরণ প্রসঙ্গে প্রথমে গ্রন্থকার লাক্ষণিক নামের পবিষ্কৃত লক্ষণ করিতেছেন। কারিকাস্থ যাদৃশার্থ পদটির যাদৃশ নামার্থরূপ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। সম্বন্ধব তি’ ইহার অর্থ হইবে সম্বন্ধবিশিষ্টে। যন্নাম এখানে নাম পদটির আনুপূৰী বিশেষ বিশিষ্ট অর্থ গৃহীত হইবে। “তদেব’ এই পদটি তাদৃশ আনুপূর্বী বিশেষ নামের উপস্থাপক। “যাদৃশনামার্থ সম্বন্ধবতি” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে লাক্ষণিক নামের লক্ষণ প্রদর্শন করিতেছেন। যন্নাম’ ইহার যাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট নামটি এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। ‘তদেব’ এই পদটির তদৃশ ‘আনুপূর্বী বিশিষ্ট নামটি’-এই অর্থ করিতে হইবে। “তাদৃশার্থে শক্তিশূন্যং ভবেৎ” এই অংশের দ্বারা “তচ্ছক্তিবিধুরং যদি এই কারিকাংশের, ব্যাখ্যা করা হইয়াছে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘যাদৃশ আনুপূর্বীবিশিষ্ট নামটি যাদৃশার্থে শক্তিশূন্য হইবে, অথচ যাদৃশ অর্থসম্বন্ধ বিশিষ্ট পদার্থে শক্তিবিশিষ্ট হইবে, সেই নামটি তাদৃশ অর্থেই লাক্ষণিক হইবে। টীকাকার কৃষ্ণকান্ত ও যাদৃশানুপূর্বী বিশিষ্ট (নাম) যদ্ধর্ম বিশিষ্ট নিরূপিত শক্তিশূন্য হইবে অথচ যদ্ধর্ম-বিশিষ্টের সম্বন্ধীরূপ অর্থে শক্ত হইবে তদ্ধর্মবিশিষ্টরূপ অর্থে তাদৃশানুপূর্বী বিশিষ্ট নাম লাক্ষণিক হইবে ইহাই পর্যবসিত লক্ষক নামের লক্ষণ বলিয়াছেন। তাদৃশর্থে শক্তিশুন্যং ভবেৎ' এই অংশের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করি- বার জন্য “সৈন্ধবাদয় শব্দা' ইত্যাদি গ্রন্থের তাৎপর্য এই যে, সৈন্ধব প্রভৃতি নানার্থক শব্দ শশ ও তুরগ অর্থে শক্ত হইয়া থাকে। যদি লাক্ষণিক শব্দের লক্ষণে যদ্ধর্মবিশিষ্ট যম্নিরূপিত শক্তি শূন্যত্বে সতি” এই সত্যদল প্রবিষ্ট না হয়, তাহা হইলে সৈন্ধব এই নামটিও লবণৰূপ অর্থের সম্বন্ধী যে তুরগপদার্থ, তাহাতে শক্তিমান হওয়ায় ‘সৈন্ধব পদে লাক্ষণিক পলক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। এই অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য লক্ষণে পূর্বোক্ত সত্যন্তদল’ প্রবিষ্ট হইয়াছে। সৈন্ধবাদি এখানে ‘আদি’ পদের দ্বারা নানাৰ্থক ১। “যাদৃশানুপূর্ববচ্ছিন্ন (নাম) যদ্ধর্মবিশিষ্ট নিরূপিত শক্তি শূন্যত্বে সতি শুদ্ধ- বিশিষ্টযগ্নিরূপিত সম্বন্ধুৰন্নিরূপিত শক্তিনিরূপকং, তদ্ধর্মপ্রকাৱকতদ্বিশেষ্যবোধে তাদৃশানু- পূর্ববচ্ছিন্নং (নাম) লক্ষকম।
सार्थकशन्दे लक्षकनामनिरूपणम् হরি প্রভৃতি শব্দকে গ্রহণ করিতে হইবে। তুরগাদি এই আদিপদের দ্বারাও হরি পদের শ্যার্থ ‘বিষ্ণু প্রভৃতিকে গ্রহণ করিতে হইবে। “গঙ্গাদয় ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিতেছেন। গঙ্গায়াং ঘােষ' এই সকল ঘােষাদি পদ সমভিব্যাহত গঙ্গাদি পদে যেরূপ তীর নিরূপিত শক্তিশূন্যত্ব রহিয়াছে, তদ্রুপ তীর সম্বন্ধী যে জল প্রবাহ, তন্নিরূপিত শক্তিমত্ব গৃহীত হওয়ায় উক্ত গঙ্গা পদে সত্যন্তদল ও বিশেষ্যদল থাকায় লক্ষণ সমন্বয় হইবে। এই প্রসঙ্গে আরও বক্তব্য এই যে, কারিকাস্থ শন্তু যৎ তবে ‘তচ্ছক্তি বিধূরং যদি এই উভয়স্থলে শক্ত এবং শক্তিপদের দ্বারা সংকেতমাত্র গৃহীত হইবে। অতএব লক্ষণ সমন্বয় প্রসঙ্গে জগদীশ ‘তীয়াদে অশক্ত’ না বলিয়া ‘অসংকেতিতা বলিয়াছেন। সত্যন্তদলে যদি শক্তিপদের নিত্যসংকেতরূপ অর্থ গৃহীত হয়, তাহা হইলে আধুনিক সংকেতিত কোন পদের অর্থে কোনও পদান্তর লাক্ষণিক হইতে পারে না, কারণ বিশেষ্যদল থাকিলেও শক্তি ঘটিত ‘সত্যস্তদল’ সেখানে অপ্রসিদ্ধ হইবে। আবার বিশেষ্যদলে যদি শক্তি পদের দ্বারা কেবলমাত্র নিত্যসংকেতই গৃহীত হয়, তাহা হইলে চৈত্র, মৈত্র প্রভৃতি আধুনিক সংকেত বিশিষ্ট পদে সত্যন্ত দল থাকিলেও বিশেষ্যদল না থাকায় লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। অতএব ‘সত্যন্ত এবং বিশেষ উভয় দলেই শক্তি পদটির দ্বারা সংকেতমা গৃহীত হইবে। তৎসম্বন্ধী এখানে তৎপদের দ্বারা তীররূপ অর্থ গৃহীত হইবে। সুতরাং তৎসম্বন্ধী পদের তীরসম্বন্ধীরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। “গৃহীত। এব’ এই এবারের দ্বারা তীরশক্তত্বেন অগৃহীত গঙ্গাদি পদ হইতে তীরদি বিষয়ক অন্বয়বােধ নিরাকৃত হইয়াছে।‘বােধয়ন্তি’ ইহার বােধজনকতা নিরূপিত বিষয়বিষয় অবচ্ছেদক এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। যদি মীমাংসক মত অবলম্বন করিয়া জ্ঞায়মান পদে অন্বয় বােধের জনকত্ব স্বীকৃত হয় তাহা হইলে ‘বােধয়ন্তি’ এই পদের যথাশ্রুত অর্থ যে, বোধজনক তাহাই স্বীকৃত হইবে। ‘তত্র অর্থাৎ তীরদিরূপ অর্থে, গঙ্গাপ্রভৃতি শব্দসমূহ, লক্ষকা এব’ লাক্ষণিকই হইবে। এবারের দ্বারা শক্তত্ব ব্যবচ্ছিন্ন হইয়াছে। যদি কেহ আপত্তি করেন, ‘গঙ্গাপদং তীরে শক্ত, তীর্থকত্বে প্রযুক্তত্বাৎ'—এই অনুমান প্রমাণের মূলে গঙ্গাপদের তীররূপ অর্থে শক্তি গৃহীত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে জগদীশ বলিতেছেন—তীররূপ অর্থে গঙ্গালদের শক্তি স্বীকৃত হইলে তীররূপ অর্থে তীরপদের যেরূপ অনাদিকাল হইতে প্রয়ােগ হইয়া আসিতেছে তদ্রুপ গঙ্গাদের ও তীররূপ অর্থে পূর্ব পর্ব প্রয়োগের আপত্তি হইবে। টীকাকার কৃষ্ণকান্ত বলেন, পূর্বে জগদীশ যে, তত্র তে লক্ষকা এব” এই এব কানের দ্বারা গঙ্গাদিপদের তীদিরূপ অর্থে যে, শক্তত্ব নিরীকৃত হইয়াছে তাহাই যুক্তির দ্বারা সমর্থন করিবার জন্য ‘শক্তত্বে পূর্ব পূর্ব প্রযুক্তত্বাপতেঃ এই সন্দর্ভের অবতারণা করা হইয়াছে। তাৎপর্য এই যে, গঙ্গা প্রভৃতি পদের তীদিরূপ অর্থে শক্তি স্বীকৃত হইতে পারে না, কারণ পূর্ব পূর্ব প্রয়ােগ বিষয়ত্ব হইৰে শক্তিমত্ত্বের ব্যাপক এবং শক্তিমত্ত্ব বা শক্তত্ব হইবে পূর্ব পূর্ব প্রয়ােগ বিষয়ত্বের ব্যাপ্য। যদি গঙ্গাপদের তীররূপ অর্থে শক্তি शब्दशक्तिप्रकाशिका স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে, তাদৃশ শক্তত্ব পূর্ব পূর্ব প্রয়ােগৰিষয়ত্বের ব্যভিচারী হওয়ায় উক্ত ব্যাপ্য ব্যাপক ব্যাহত হইবে। সুতরাং কোন ক্রমেই গঙ্গাপদের তীররূণ অর্থে শক্তত্ব স্বীকার করা চলিবে না। ইহার ফলে, গঙ্গাপদ যদি তীরণ অর্থে শক্ত হয়, তাহা হইলে গঙ্গাপদ, শক্তিভ্রম এবং সক্ষণাগ্রহ ব্যতিরেকে তাদৃশ অন্বয়বােধের জনক হউক, এইরূপ আপত্তিমূলে আপাদ্যাভাবের দ্বারা আপাদক যে তাদৃশ শক্তত্ব তাহার • অভাৰ সিদ্ধ হইবে। টীকাকার কৃষ্ণকান্তের ও ইহাই অতিপ্রেত। চিন্তামণিকার, তীরাদি নিরূপিত শক্তিশূন্যত্বে সতি তীরসম্বন্ধিত্বমাত্রেই লক্ষণার স্বরূপ স্বীকার করিয়াছেন। উক্ত মত খণ্ডন করিবার জন্য “কঞ্চিদি*ত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে ছলক্রমে কারিকাস্থ শক্ত পদের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিতেছেন। ২ তীর সন্ধি শক্তত্ব রূপ পরম্পরা সম্বন্ধ গঙ্গাপদে গৃহীত হইলে তাদৃশ তীরসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গঙ্গাপদের লাক্ষণিক অর্থে ইষ্টাপত্তি হইবে। এই জন্য কঞ্চিৎ পদটি প্রয়ােগ করা হইয়াছে কঞ্চিৎ তীরদি সম্বন্ধিত্বে ইহার দ্বারা কালিকাদি সম্বন্ধ গৃহীত হইবে। তাৎপর্য এই যে, তীরনিরূপিত শক্তিশূন্যত্বে সতি তীরসম্বন্ধিশক্তত্বৰূপ গঙ্গাপদগত যে লক্ষণ। তাহার বিশেষ্য দলে শক্তত্ব নিবেশ না করিয়া যদি কেবলমাত্র সম্বন্ধিত্ব নিবেশ করা হয় তাহা হইলে গঙ্গাপদের তীররূপ অর্থে লক্ষণার স্বরূপ হইবে তীর নিরূপিত শক্তি শূন্যত্বে সতি তীর সম্বন্ধিত্ব-তাদৃশ তীর সম্বন্ধিত্বৰূপ লক্ষণ। স্বীকৃত হইলে কালিকাদি সম্বন্ধে তাদৃশ- তীরসম্বন্ধিত্ব পুরস্কাবে গৃহীত গঙ্গাপদ হইতেও তীদিগােচর উপস্থিতির মাধ্যমে ‘গঙ্গাতীরবৃত্তিঘোষঃ এই আকারে অম্বয়বোধের প্রসক্তি হইবে। বাস্তবিকপক্ষে তাদৃশ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গঙ্গাপদ জ্ঞান হইতে গঙ্গাতীরাদি-গােচর অন্বধবােধ হয় না। অতএব তাদৃশ তীর সম্বন্ধি ‘গঙ্গাপদ' এই জ্ঞান হইতে গঙ্গাতীর-গােচর অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য সম্বন্ধিত্ব মাত্র না বলিয়া সম্বন্ধিশক্তত্ব নিবিষ্ট হইয়াছে। আরও বক্তব্য, “গঙ্গায়াং ঘােষ ইত্যাদি স্থলে সপ্তম্যন্ত গঙ্গাপদে যেরূপ তীরপ্রতিযোগিক কালিকাদি সম্বন্ধ বিদ্যমান থাকে; তদ্রুপ গঙ্গা গঙ্গায়াম্ এই স্কুলেও তাদৃশ সম্বন্ধ বিদ্যমান থাকায় “গঙ্গা-গজায়াং ঘােষ:* এখানেও লক্ষণার আপত্তি হইবে। এ বিষয়ে ইষ্টাপত্তি করিবারও উপায় নাই, কারণ, ন্যায় সিদ্ধান্তে বাক্যে লক্ষণ। স্বীকৃত হইতে পারে না। আরো বক্তব্য এই যে, যদি ‘গঙ্গা-গঙ্গায় এলে তাদৃশ লক্ষণ। স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে একটি গঙ্গাপদের উক্তির ব্যর্থতা নিবন্ধন অপার্থক রূপ নিগ্রহস্থান প্রযুক্ত উক্ত বাক্য শব্দবােধের জনক হইতে পারে না। ১। গঙ্গাপদং যদি তীরশক্তং স্যাদা তাদৃশে। বােধজনক স্টাদিত্যাভ্যা বিপর্যয়ামানেন তত্র শত্বাভাবসিদ্ধি। কৃষ্ণকান্তী পৃ: ১৩৬ साकशब्दे लक्षकनामनिरूपणम् ৩ मूलम् एतेन तोराघशक्तत्वे सति तीरादिपरत्वं तीरादिसम्बन्ध्यनुभावकत्वं वा तल्लक्षणकत्वमित्यपि प्रत्युक्तम्, अपभ्रंशस्यापि लक्षकत्वापाताच, न चेष्टा- पत्तिः, शक्तिलक्षणान्यतरवृत्तिमत्त्वे तस्य साधुत्वापत्तेः, पदसाधुतायां वृत्ति- मत्वस्यैव तन्त्रत्वात् । किश्चानुमावकत्वं यद्यनुभवस्योपधायकत्वं, तदा घोषादिपदसाकाङ्क्षस्य गङ्गादिपदस्य तीरलक्षकता न स्यात्, तेन तीर- सम्बन्धिनो नीरस्यानुभवानर्जकत्वम्, स्वरूपयोग्यत्वन्तु गङ्गायामिति वाक्यस्य दुर्वारं तस्याप्याधेयताधर्मिकतीरानुभवं प्रति नीरार्थकनामोत्तरसप्तमीत्वेन तथा- त्वाद, नीराधेयत्वस्य च तीरसम्बन्धित्वानपायात् । অনুবাদ ( কোন সম্প্রদায় যে বলেন) তীররূপ অর্থে শক্তিশূন্য হইয়া তীরদিপৰত্ব ( তীরাদি প্রতীতি গােচর ইচ্ছা প্রযুক্ত উচ্চারণ বিষয়ত্ব) অথবা তীরাদিসম্বন্ধি গোচর অনুভব জনকত্বই তীররূপ অর্থে লক্ষণা, এই উক্তিও বক্ষ্যমাণ দোষ নিবন্ধন নিরাকৃত হইল। (বক্ষ্যমাণ দোষ কি ? তাহাই বিবৃত করিতেছেন) যদি উক্ত- রীতিতে লক্ষণ নিরূপিত হয় তাহা হইলে অপভ্রংশ শব্দের ও লাক্ষণিকত্ব প্রসক্তি হইবে। এই বিষয়ে ইষ্টাপত্তি করাও সম্ভবপর নহে কারণ যদি অপভ্রংশ পদে লক্ষণা স্বীকৃত হয় তাহা হইলে এই সকল পদেরও সাধুত্ব প্রসক্তি হইবে, কারণ লক্ষণা এতদুভয়ের-অন্যতর বৃত্তি বৈশিষ্ট্যই সাধুত্বের প্রযোজক, ( নিয়ামক ), আরও বক্তব্য এই যে পূর্বপক্ষিগণ যে অনুভব জনকত্ব বলিয়াছেন উক্ত জনকত্ব কি অনুভবােপধায়কত্ব অথবা অনুভবস্বরূপযােগ্যত্ব ? যদি বলা হয়—অনুভবের উপধায়কত্বই তাদৃশ অনুভব জনকত্ব, তাহা হইলে ঘােষপদ সাকাক্ষ ‘গঙ্গা’ পদ তীরসম্বন্ধী যে নীর তাহার বােধ না হওয়ায় লাক্ষণিক হইতে পারে যদি স্বরূপযােগ্যত্বরূপ তাদৃশ অনুভব জনকত্ব বিবক্ষিত হয় ইহাও সঙ্গত নহে, কারণ স্বরূপযযাগ্যত্বরূপ জনকত্ব স্বীকৃত হইলে সপ্তম্যন্ত ‘গঙ্গায়াং’এই বাক্যের লাক্ষণিকত্বের আপত্তি হইবে। কারণ নীররূপ অর্থের প্রতিপাদক নামের ( গঙ্গাপদের) অব্যবহিতােত্তরবৃত্তি সপ্তমী বিভক্তিত্ব পুরস্কারে ‘গঙ্গায়াং' এই शब्दशक्तिप्रकाशिका বাক্যটিও আধেয়তা ধর্মিক নীরগোচর বােধের স্বরূপযােগ্য হওয়ায় আধেয়ত্বেও তীর সম্বন্ধিহের কোন হানি হইবে না। বিবৃতি যাহারা বলেন, তীর নিরূপিত শক্তিশূন্য হইয়া তীদি বধেয়া উচ্চৰিতত্বরূপ তীরাদিপ অথবা তীনাদিনিরূপিত শক্তি শূন্য হইয়া তীরদিসম্বন্ধি গোচর অনুভব জনকত্বই লক্ষণ। তাহাদের মত খণ্ডন করিবার জন্য এতেন ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিয়াছেন। এতেন এই পদটির বক্ষ্যমাণ দোষ নিবন্ধণ এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। অর্থাৎ বক্ষ্যমাণ দোষ বশতঃ উক্তকল্পদ্বয়ের কোন কল্পই সমীচীন নহে। ইহাই উক্ত সন্দর্ভের দ্বারা বিবৃত হইয়াছে। বক্ষ্যমাণ দোষ প্রদর্শন করিবার জন্য ‘অপভ্রংশস্যাপি লকত্বাপাতাক্ষ'। এই অংশের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে যদি পূর্বোক্তৰূপ লক্ষণা স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে কদাচিৎ তীরবিষয়ক বােভেচ্ছা বশত উচ্চরিত গাছ মাছ প্রভৃতি অপভ্রংশ শব্দেও তীরদি নিরূপিত শক্তি শূন্যত্বের সমানাধিকরণ তীরদি গােচর প্রতীতীচ্ছা প্রযুক্ত উচ্চরিতত্বৰূপতীরাদিপরত্ব এবং তীরাদি নিরূপিত শক্তিশূন্যত্বের সমানাধিকরণ তীরাদি সম্বন্ধি বৃক্ষাদি গোচরানুভব জনকত্বরূপ লক্ষণ থাকায় তীররূপ অর্থে গাছ মাছ প্রভৃতি পদের লক্ষণার প্রসক্তি হইবে। অতএব গাছ মাছ প্রভৃতি অপভ্রংশ শব্দের লক্ষণার প্রসক্তি বারণ করিবার জন্য তীদি নিরূপিত শক্তি শূন্যত্বের সমানাধিকরণ তীয়দিপরত্ব বা তাদৃশ তীরদি সম্বন্ধি গােচর অনুভব জনকত্ব পরিহার করিয়া লক্ষ্যরূপে অভিমত যে তীদি তন্নিরূপিত শক্তি শূন্যত্বে সতি তীরদি সম্বন্ধি শক্তত্ব রূপই গঙ্গাদি পদগত লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। গাছ, মাছ প্রভৃতি অপভ্রংশ শব্দে তাদৃশ শক্তত্বৰূপ লক্ষণ। না থাকায় অতিপ্রসক্তি হইবে না। অপভ্রংশ শব্দের লাক্ষণিকত্ব প্রসঙ্গে ইষ্টাপত্তিও করা সম্ভবপর নহে। এই অভিপ্রায়ে বলিতেছেন ‘ন চেষ্টাপত্তি:', তাৎপর্য এই যে গাছ, মাছ প্রভৃতি অপভ্রংশ শব সমুহের যদি শক্তি বা লক্ষণ। স্বীকৃত হয় তাহা হইলে গঙ্গা প্রভৃতি শব্দ যেরূপ তীররূপ অর্থে সাধু শব্দরূপে গণ্য হইয়া থাকে তদ্রুপ গাছ, মাছ প্রভৃতি শব্দ ও লাক্ষণিক হওয়ার ফলে সাধুশব্দরূপে গণ্য হইতে পারে। কেননা পদগত সাধুত্বের প্রতি শক্তি অথবা লক্ষণারূপ বৃত্তিমত্ত্বই নিয়ামক হইয়া থাকে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে শক্তি বা লক্ষণারূপ বৃত্তিমত্ব যদি পদগত সাধুত্বের নিয়ামক হয় তাহা হইলে অনিত্য সংকেত বিশিষ্ট চৈত্র মৈত্র প্রভৃতিপদের সাধুত্ব উপপন্ন হইতে পারে না। কারণ নিজসিদ্ধান্তে চৈত্র মৈত্র প্রভৃতি পদের অনিত্য সংকেত স্বীকৃত হইয়াছে নিত্যসংকেত নহে, বিশেষত: চৈত্র মৈত্র প্রভৃতি পদের সাধুত্ব নিরাকৃত হইলে } ১। গবাদিপদের নিত্যসংকেতরূপ শক্তি স্বীকৃত হইলেও গ্রন্থকারের মতে চৈত্র প্রভৃতি পদে নিত্যসংকেতরূপ শক্তি স্বীকৃত নহে,এইজন্য নৈমিত্তিক সংজ্ঞা লক্ষণের কারিকায় নিত্যনিত্য দ্বিবিধ সংকেতকে গ্রহণ করিবার জন্য শক্তিপদ উল্লিখিত না হইয়া সংকেতপদ सार्थक शब्दे लक्षकनामनिरूपणम् ঐ সকল নাম ধার্মিক ক্রিয়াকলাপের অভিলাপ বাক্যে প্রয়ােগ হইতে পারে না। কারণ “সাধুভির্ভাষিতব্য” ইত্যাদি শ্রুতি মূলে ধার্মিক কার্যে সাধু শব্দেরই ব্যবহার করিতে হইবে। অসাধু শব্দ নহে। এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে বলিতে হইৰে যদিও গ্রন্থান্তরে শক্তিমাজন লক্ষণাগ্ৰহাজ শাব্দবোধক জনক জ্ঞান বিষয়িতার নিরূপকতাবচ্ছেদকা- পূর্বীম রূপ পদগতসাধুত্বের কথা বলা হইয়াছে। এখানে তাদৃশ সাধুত্ব গৃহীত হইতে পারে না, কারণ উক্ত সাধুত্ব গােটাদি শক্তপদে থাকিলেও লাক্ষণিক গঙ্গা পদে থাকিতে পারে না। অতএব গ্রন্থকার যে সাধুত্বের আপত্তি প্রদর্শন করিয়াছেন এখানে সাধুত্ব পদের দ্বারা যে শব্দটি উচ্চারণ করিলে প্রত্যবায় ভাগী হইতে হয় তাদৃশ শব্দ তিন্ন শব্দত্বই সাধুত্ব প্রতীয়মান হইবে। আরও বক্তব্যগ্রন্থকার যে, ‘পদসাধুতায়াং বৃত্তিমত্বত্যৈৰ তত্বাৎ এই অংশের, পদসাধুত্ব আপাদ্যমান হইলে পূর্বপঠিত বৃত্তিমত্ত্বই আপাদকরূপে গৃহীত হইবে, ইহার ফলে অপভ্রংশাদি শব্দ যদি শক্তি লক্ষণান্যতর রূপ বৃত্তিবিশিষ্ট হয় তাহা হইলে প্রত্যয় জনক স্বগত উচ্চারণ বিষয় ( শব্দ) ভিন্ন না হউক (অপভ্রংশাদি শব্দে। যদি শক্তি- লক্ষণাতররূপবৃত্তিমান স্যাৎ তা প্রত্যবায়জনকস্বেচ্চারণকভিন্ন সাৎ) এইরূপ আপত্তি পর্যবসিত হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে অপভ্রংশাদিপদে যে লক্ষ কলক্ষণের অতিব্যাপ্তি প্রদর্শিত হইয়াছে ইহা সঙ্গত নহে। কারণ, অতিপ্ৰসঙ্গ অপেক্ষায় অব্যাপ্তি অধিক দোষ। সুতরাং অব্যাপ্তি দোষের সম্ভাবনা যেখানে আছে সেখানে অব্যাপ্তি দোষ প্রদর্শন না করিয়া অতিব্যাপ্তি দোষ প্রদর্শন করা সঙ্গত নহে। এই আশঙ্কার সমাধান করিবার জন্য অনুভাবকত্ব পদটির বিতর্কিত অর্থ প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুতবােপধায়কত্বৰূপ ব্যাখ্যাত অর্থে লক্ষণের অব্যাপ্তি দোষ প্রদর্শনপূর্বক স্বরূপ যােগত্বরূপ অনুভজনকত্ব পক্ষে অতিব্যাপ্তি দোষ যােজনা করিবার জন্য ‘কিঞ্চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। মুলােক্ত “অনুভবষ্যোপধায়কত্ব” এই অংশের দ্বারা স্বাব্যবহিতপূৰ্বত্ব-স্বজনকত্ব উভয়সম্বন্ধে তাদৃশ অনুভব বিশিষ্টত্ব রূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। “গঙ্গায়াং ঘােষমৎস্যো * এই সকল বাক্যস্থলে মৎস্যাদিপদ সাকা গঙ্গা পদের তীরাদিসম্বন্ধী যে নীতদ্বিষয়ক অনুভবো- পধায়কত্ব সম্ভবপর হওয়ায় গঙ্গাদি পদাংশে “ঘােষাদিপদসাকাঙ্ক্ষত্ব” এই বিশেষণটি দেওয়া হইয়াছে। কেন ঘোষাদিপসাকাক্ষ গঙ্গাপদ তীর রূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে না তাহার কাৰণ প্ৰদৰ্শন করিবার জন্য ‘তেন' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ ঘােষাদিপদসাকা গঙ্গা পদ যেহেতু তীরসম্বন্ধী নীরগােচর অনুভবের উপধায়ক হয় না অতএব তাদৃশ অনুভাবকত্বৰূপে লক্ষলক্ষণের লক্ষ্য হইবে না। সুতরাং উক্ত লক্ষণ অব্যাপ্তি- উল্লিখিত হইয়াছে। সংকেত পদের দ্বারা নিত্যসংকেতরূপ শক্তি এবং আধুনিক সংকেত উভয়ই গৃহীত হইয়াছে। গদাধর ভট্টাচার্য তাহার শক্তিবাদে কিন্তু মণিকারের মত অনুসরণ করিয়া ক্লিষ্টকল্পনা কৌশল অবলম্বনে “দ্বাদশেহহনি পিতা নাম কুর্যাৎ” এই শ্রুতির অন্তর্গত নামপদের দ্বারা সাদি চৈত্র মৈত্র প্রভৃতি পদের ঈশ্বরেচ্ছারূপ শক্তি স্বীকার করিয়াছেন।
शब्दशक्तिप्रकाशिका দোষ গ্রন্ত হইবে। এখানে আশঙ্কা হইতে পারে যদি ঘোষাদিপদে সাকা গঙ্গাদের তীরসম্বন্ধী বিষয়ক অনুভবের উপধায়কত্ব না থাকে তাহা হইলে লাক্ষণিক শব্দমাত্রে লক্ষণ সমন্বয় না হওয়ায় লক্ষণটি অসম্ভবরূপ দোষগ্রন্ত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে ‘গঙ্গায়াং ঘােষঃ এই স্থলে লক্ষণের সমন্বয় সম্ভবপর না হইলেও “গঙ্গায়াং ঘোষমৎস্যো :” এই স্থলে ঘোষপদ সাকা গঙ্গা পদটি তীর সম্বন্ধী যে নীৰ তবিষয়ক বোধের উপধায়ক হওয়ায় তাদৃশ অনুতাবকত্বৰূপ লক্ষণার লক্ষণ উক্ত গঙ্গা পদে সমন্বয় হওয়ায় অসম্ভব দোষ হইবে না। আরও বক্তব্য স্বাব্যবহিতপূৰ্বত্ব-স্বজন কত্ব উভয় সম্বন্ধে তাদৃশ তীর সম্বন্ধী নীরবিষয়ক বাধবিশিষ্টত্বরূপ উপধায়কত্বের অপ্রসিদ্ধিনিবন্ধন লক্ষণে অসম্ভব দোষ হইবে না কেন—এই আশঙ্কাও ঠিক নহে। কারণ “গঙ্গায়াং ঘোষৎস্যো ওঃ এই স্থলীয় গঙ্গাপদে তাদৃশ উপধায়কত্ব খাকায় অপ্রসিদ্ধি দোষ সম্ভাবিত নহে। উপধায়কত্ব পক্ষে ‘গঙ্গায়াং ঘােষ এইস্থলে গঙ্গাপদে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিয়া স্বরূপযােগ্যত্ব রূপ জমকত্ব পক্ষে অতি ব্যাপ্তি প্রদর্শন করিবার জন্য “স্বরূপযােগ্যত্বন্তু” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, অনন্যথাসিদ্ধ নিয়ত পূর্ববতিতাবচ্ছেদক ধর্মবত্ত্বকেই স্বরূপযােগ্যত্ব বলা হয়। স্বরূপযোগ্যত্ব রূপ কারণত্ব যদি তাদৃশ অনুভাবকত্ব শব্দের দ্বারা গৃহীত হয় তাহা হইলে ‘গঙ্গায়াং' এই সপ্তম্যন্ত গঙ্গ। পদের লাক্ষণিকত্ব প্ৰক্তি হইবে। অতএব স্বরূপযোগ্যত্ব- রূপ অনুভাবকত্বও বলা সম্ভব নহে। “গঙ্গায়াং ঘােষ:* এই বাক্যের অন্তর্গত গঙ্গায়াং এই অংশে কিরূপে তাদৃশ স্বরূপযােগ্যত্ব লক্ষণের অতি ব্যাপ্তি হইবে তাহা ব্যক্ত করিবার জন্য “তস্থাপ্যাথেয়তাধমিক” ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তত্বাৎ’ এখানে তন্ত্র শব্দের দ্বারা স্বরূপযােগ্যত্ব বিহিত হইবে। তাৎপর্য এই যে, তীরদিনিরূপিত শক্তিশূন্য হইয়া তীনাদিসম্বন্ধী গােচর অনুভবের স্বরূপযােগ্যত্বকে যদি লক্ষণা বলা হয় তাহা হইলে ‘গঙ্গায়াং' এই শব্দটিরও সপ্তমী বিভক্তির অর্থ যে আধেয়ত্ব তদংশে প্রকৃত্যৰ্থ জলপ্রবাহ বিশেষণ হওয়ায় গঙ্গাদের শক্যার্থ যে নীর অর্থাৎ জলপ্রবাহ নিরূপিতত্ব সম্বন্ধে তৎপ্রকারক আধেয়ত্ব বিশেষ ক শব্দানুভবের প্রতি স্বরূপযােগ্যরূপ কারণ হওয়ায় ‘গঙ্গায়াং' এই সপ্তমী বিভক্ত্যন্ত গঙ্গাপদে, উক্ত অনুভাবকত্বৰূপ লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। উক্ত সপ্তম্য গঙ্গাপদ, তীর নিরূপিত শক্তিশুন্য যে রূপ হইয়াছে তদ্রুপ তীর সম্বন্ধী গােচর অনুভবের স্বরূপযােগ্য হইয়াছে , এইজন্য উক্ত বাক্যে অতিব্যাপ্তি প্রদর্শন করিবার জন্য জগদীশ বলিয়াছেন, উক্ত বাক্যে ও “আধেয়তা ধর্মিক নীরকারক অনুভবের প্রতি নীররূপ অর্থের বোধক গঙ্গাপদের অব্যবহিতােত্তরবর্তী সপ্তমীবিভক্তিত্ব পুরস্কারে যােগ্যতারূপ কারত্ব রহিয়াছে। যদি কেহ শঙ্কা করেন গজাপদের অব্যবহিত উত্তরবতী সপ্তমী বিভক্তির অর্থ যে আধেয়ত্ব তাহাতে তীর নিরূপিত শক্তি শূন্যত্ব থাকিলেও তীরসম্বন্ধিত্ব থাকিতে পারে না, এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন “নীরধেয়ত্বস্য চ তীরসম্বন্ধিত্বানপায়াৎ”। তাৎপর্য এই যে, উক্ত নীর নিরূপিত আধেত্বও যথা কঞ্চিৎ সম্বন্ধে অর্থাৎ কালিকাদি সম্বন্ধে তীর সম্বন্ধী হওয়ার ফলে ‘গঙ্গায়ং’ এই বাক্যে তাদৃশ স্বরূপযােগ্যত্বৰূপ লক্ষণের অতিব্যাপ্তি नार्थकसम्दे लक्षकनामनिरूपणम् ০৭ হইবে। তাদৃশ বাক্যে লাক্ষণিকত্বের আপত্তিকে ইষ্টাপত্তিও করিবার উপায় নাই। কারণ ন্যায়সিদ্ধান্তে বাক্যে শক্তির স্বীকৃতি না হওয়ায় শ্যসম্বন্ধরূপ লক্ষণ। স্বীকৃত হইতে পারে না। অতএব মণিকারসম্মত উক্ত লক্ষণ অব্যাপ্তি ও অতিব্যাপ্তিদোষের দ্বারা কলঙ্কিত হওয়ায় ‘গঙ্গায়াং ঘােষ' ইত্যাদিলীয় গঙ্গাদিপদের তীদি নিরূপিত শক্তি- শূন্যত্বে সতি তীর সম্বন্ধিশক্তত্বই গঙ্গাপ্রভৃতি লক্ষক পদের লক্ষণ স্বীকৃত হইবে। मूलम् ननु वाक्यमपि लक्षकं भवत्येव, कथमन्यथा चित्रगुसमुदायस्य लक्षणया चित्रगोस्वामिनां बोधः १ कथं वा गभीरायां नद्यां घोष इत्यादौ गभीरनदोतीरस्य ? न हि तत्र नदीपदं तोरलक्षकं, गभीरायामित्य- स्यानन्वयापत्तेः, न हि तोरं गभीरं, नापि गभीरपदं तथा, नद्यामित्य- स्यानन्वयापत्तेः, न हि तीरं नदी, तस्माद्वाक्यमेव तत्र गभीरनदीतीरलक्षक- मिति मीमांसकाः। অনুবাদ মীমাংসক সম্প্রদায় বলেন গঙ্গা প্রভৃতি পদের ন্যায় বাক্যও লাক্ষণিক হইবে। যদি ইহা স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে ‘চিত্রগু’ সমুদায়ের লক্ষণ প্রযুক্ত চিত্র গাে আমি বিষয়ক অন্বয়বােধ কেমন করিয়া উপপন্ন হইবে এবং “গভীরায়াং নগ্নাং ঘােষ” এই সকল বাক্যস্থলে গভীর নদীতীরের বােধও কি প্রকারে সম্ভবপর হইবে? যদি সিদ্ধান্তিগণ বলেন উক্ত বাক্য স্থলে নদী পদটি ত্রিবিধরূপ অর্থে লাক্ষণিক স্বীকৃত হইবে এই উক্তি সঙ্গত নহে। কারণ তাহা হইলে সপ্তমী বিভক্ত্যন্ত গভীরপদার্থটি লাক্ষণিক অর্থ যে তীর তাহাতে অম্বিত হইতে পারে না। কেন না তীর গভীর নহে। যদি বলা হয় গভীর পদটির গভীর নদীতীর রূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে এই উক্তিও ঠিক নহে। কারণ, গভীর পদটির গভীর নদীতীর রূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইলে “দ্যাং” এই সপ্তমী বিভক্ত্যন্ত নদী- পদার্থের তাদৃশ তীররূপ লাক্ষণিক অর্থে অম্বিত হইতে পারে না। কেননা গভীর নদীতীর নদী নহে। অতএব ‘গভীরায়াং নদ্যাং' এই বাক্যে গভীর নদীতীর রূপ অর্থে লক্ষণ অঙ্গীকার করিতে হইবে।
शब्दशक्तिप्रकाशिका বিবৃতি গ্রন্থকার মণিকারের অতিমত লক্ষণার খণ্ডন করিবার পরে মীমাংসক মত খশুনে প্রবৃত্ত হইয়া ‘ননু ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে মীমাংসক মত উপস্থাপিত করিতেছেন। বাক্যমপি লকং ভবত্যেব’ এখানে বাক্য পদটির পূর্বে উপস্থাপিত ‘গঙ্গায়াং' ইত্যাদি বাক্যরূপ অর্থ বিহিত হইবে। মীমাংসক সম্প্রদায়ের অভিপ্রায় এই যে, বাক্যবিশেষে শক্তি না থাকার ফলে শক্তির অভাব প্রযুক্ত লক্ষণও গৃহীত হইতে পারে না। এইরূপ উক্তি বিচারসহ নহে, অতএব বাক্যগত লক্ষণ যুক্তির দ্বারা ব্যবস্থিত করিবার জন্য “কথমন্যথা” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। যদি পদসমূহরূপ বাক্যে লক্ষণ। স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে চিত্র গোস্বামীর বােধক যে চিত্রগু’ শব্দ তাহা হইতে নানারূপ বিশিষ্ট গাে স্বামী প্রভৃতির অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইতে পারে না। চিত্রগু’ প্রভৃতি বাক্যের অন্তর্গত চিত্র বা ‘গো’ একটি পদের তাদৃশ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হইলে অপরপদটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইবে। সুতরাং চিত্ৰগু' এই সমুদায়েই লক্ষণা অঙ্গীকৃত হইবে। যদি কেহ আশঙ্কা করেন চিত্রগু প্রভৃতি সমস্ত বাক্য শক্তি শূন্য হইলেও লক্ষণ। হইবে। কারণ শক্তির অভাব প্রযুক্ত লক্ষণার অভাবে যাহা বলা হয় তাহা সমাস ব্যতি- ক্তি বাক্যগুলে, সমাস স্থলে নহে এইরূপ আশঙ্কার পরিহার স্থলে মীমাংসকগণের বক্তব্য এই যে, যদি সমাস ব্যতিরিক্তবাক্যস্থলে লক্ষণ অঙ্গীকৃত না হয় তাহা হইলে “গভীরায়াং নদ্যাং ঘােষঃ প্রতিবসতি”—এইরূপ বাক্যের অন্তর্গত গভীরায়াং নদ্যা’—এই খণ্ডবাক্যে লক্ষণ স্বীকৃত হইবে না, ইহার ফলে তাদৃশ বাক্য হইতে ‘গভীর নদীতীর’ বিষয়ক অনুষ- বােধের অনুপপত্তি হইবে। যদি বিরােধী পক্ষ বলেন-গভীরায়াং নদ্যাম’ এইবাক্যের অন্তর্গত ‘নদী’ পদটির গভীর নদীতীররূপ অর্থে লক্ষণ। কল্পিত হইবে। এই উক্তি সমীচীন নহে। কারণ নদীপদের লাক্ষণিক অর্থ যে গভীর নদীতীর’ তাহাতে গভীর পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্বয়বােধ হইতে পারে না। কেননা তীরে গভীরত্ব থাকে না। গভীর নদীতীরে অভেদ সম্বন্ধে গভীর পদার্থের অন্বয় সম্ভবপর নহে। যদি বলা হয় গভীর পদেরই গভীর নদীতীর রূপ অর্থে লক্ষণ। কল্পিত হইবে—এই উক্তিও সঙ্গত নহে। কারণ ঐরূপ লক্ষণ৷ স্বীকৃত হইলে লাক্ষণিক অর্থ যে, গভীর নদীতীর তাহার সহিত ‘দ্যাং' এই অংশের অন্বয় স্বীকার করিতে হইবে। পৰম্ভ কোনক্রমেই তাহা সম্ভবপর নহে। কেননা নদীতে তীরত্বধর্ম না থাকায় তাদৃশ পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে নদীপদার্থ বাধিত সুতরাং অযােগ্যবাক্য বলিয়া গভীরায়াং নদ্যা’ এই বাক্য হইতে যথার্থ শব্দবােধ উৎপন্ন হইতে পারে না। কারণ, তীর কখনও নদী নহে। এইভাবে ‘গভীরায়াং নদ্যা’ অথবা চিত্রগু’ এই সকল বাক্যের অন্তর্গত কোনও পদের লক্ষণ কল্পিত হইলে তাদৃশ বাক্যজনিত অন্বয়- বােধের অনুপপত্তি হওয়ায়, উপসংহারে মীমাংসক সম্প্রদায় নিজের সংক্ষিপ্ত অভিমত ব্যবস্থিত করিবার জন্য বলিতেছেন যেহেতু “গভীরায়াং নাম্” ইত্যাদি সমস্ত বাক্যের এবং চিত্ৰগু’ প্রভৃতি বাক্যের লক্ষণ। স্বীকৃত না হইলে তাদৃশ বাক্য হইতে বাক্যাৰ্থবােধের উপপত্তি অতএব सार्यकशब्दे लक्षकनामनिरूपणम् হয় না। অতএব ‘চিত্র' এই বাক্যের চিত্র-গাে-খামীরূপ অর্থে এবং গভীরায়াং নগ্রাম এই বাক্যের গভীর নদীতীরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকার করিয়া অম্বয়বােধের উপপত্তি করিতে হইবে। ইহাই মীমাংসক সম্প্রদায়ের অভিপ্রায়। मूलम् तन्न, गभोरायां नद्यामिति विभक्त्यन्तभागस्य तादृशतीरलक्षकत्वे घोषादावाधेयत्वेन तदन्वयानुपपत्तेः, समासादन्यत्र नामार्थयोर्भेदान्वयस्या- व्युत्पन्नत्वात् । एतेन तादृशतोरवृत्तितायामेव तद्भागस्य लक्षणयापि न निस्तारः, तादृशतीरवृत्तेश्च लक्ष्यत्वे घोपादावभेदेन तदन्वयायोगात्, समासभिन्नस्थले नामार्थयोरभेदान्वये नाम्नोः समासविभक्तिकत्वस्य तन्त्रत्वात् । न च गभीरायां नदीति भागस्यैव तादृशतोरलक्षकत्वम् , तदर्थ विभक्त्यर्थस्यानन्वयापत्तेः, न हि स भागः प्रकृतियन तदर्थे विभक्त्य- थस्यान्वयः स्यात्, गभीरायां नो व्रजेत्यादितोऽपि गभीरनदीतीरकर्मक- त्वादिबोधापत्तेस्तद्भागस्य वासादन्यत्वाच, तस्मादगभोरापदं, नदीपदं वा तत्र गभीरनदीतीरलक्षक, पदान्तरन्तु तत्र तात्पर्यग्राहकमिति सिद्धान्तविदः। অনুবাদ উক্ত মীমাংসক মত সমীচীন নহে। কারণ “গভীরায়াং নাম্” এই বিভক্ত্যন্ত বাক্যটি যদি গভীর নদীতীররূপ অর্থে লাক্ষণিক হয়, তাহা হইলে, আধেয়তা সম্বন্ধে উক্ত লাক্ষণিক অর্থের ঘােষ প্রভৃতি পদার্থে অম্বয় হইতে পারে না। কারণ, সমাস ব্যতিরিক্ত স্থলে, নামাথদ্বয়ের ভেদ ( আধেয়ত্বাদি) সম্বন্ধে অম্বয় ব্যুৎপত্তি- সিদ্ধ নহে। বক্ষ্যমাণ দোষ নিবন্ধন, গভীরায়াং নাম্ এই বিভক্ত্যন্ত বাক্যটির গভীর নদীতীরবৃত্তিত্ব রূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইলেও নিস্তার নাই। কারণ গভীর নদীতীরবৃত্তিরূপ লক্ষ্যার্থের ঘােষাদি পদার্থে অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধ হইতে পারে কেননা সমাসভিন্নস্থলে অভেদ সম্বন্ধে নামার্থদ্বয়ের অন্বয়বােধের প্রতি সমানবিভক্তিক নামদ্বয় কারণ। মীমাংসকগণ বলিতে পারেন, ‘গভীরায়াং না’ এখানে গভীরায়াং নদী’ এই ভাগেরই গভীর নদীতীররূপ অর্থে লক্ষণ স্বীকৃত Y शब्दशक्तिप्रकाशिका হইবে বিভক্ত্যন্ত ভাগের নহে। মীমাংসকগণের এই উক্তিও সঙ্গত নহে। কারণ, তাদৃশ লক্ষার্থে, সপ্তমী বিভক্তির অর্থ যে আধেয়ত্ব তাহার নিরূপকত্ব সম্বন্ধে অন্বয় হইতে পারে না। প্রকৃতির অর্থে বিভক্তির অর্থ অন্বিত হইয়া থাকে। ইহাই নিয়ম, ‘গভীরায়াং নদী’ এই বাক্যাংশ কিন্তু উক্ত সপ্তমী বিভক্তির প্রকৃতি নহে। অতএব উক্ত লক্ষ্যার্থে সপ্তমী বিভক্তির অর্থ আধেয়ত্বের অন্বয় সম্ভাবিত নহে। আরও বক্তব্য এই যে, ‘গভীরায়াং নদীং ব্রজ’ (এই সকল অযােগ্য বাক্য হইতেও) গভীর নদীতীরবৃত্তি কর্মতার নিরূপকত্ব রূপ অর্থবিষয়ক অম্বয়বোধের আপত্তি হইবে (যদি বাক্যাংশের লক্ষণা স্বীকৃত হয়)। বিশেষতঃ গভীরায়াং নদী- এই অংশের বাক্যত্বও স্বীকৃত নহে। অতএব ‘গভীরায়াং নদ্যাং' এই স্থলে গভীরাপদের অথবা নদীপদের গভীর নদীতীররূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকার করিতে হইবে। পদান্তর, তাদৃশ লাক্ষণিক অর্থে তাৎপর্য গ্রাহক রূপে গণ্য হইবে। ইহাই স্যায়সিদ্ধান্ত। বিবৃতি মীমাংসক সম্প্রদায়ের অভিমত চিত্রগু' প্রভৃতি বাক্যগত লক্ষণার খণ্ডন করিবার জন্য গ্রন্থকার তন্ন' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, সমাসের অতিরিক্ত স্থলে নিপাতভিন্ন নামার্থদ্বয়ের আধেয়ত্ব প্রভৃতি তে সম্বন্ধে অন্বয় শাব্দিক সম্প্রদায় স্বীকার করেন না। অতএব বাক্যে যদি লক্ষণা স্বীকৃত হয় তাহা হইলে গভীরায়াং নাম এই বাক্যটির গভীর নদীতীররূপ অর্থে লক্ষণ। কল্পিত হইবে। ইহার ফলে উক্ত বাক্য সমুভি- ব্যাহত ‘ঘােষ’ পদার্থে তাদৃশ লক্ষার্থের আধেয়ত্ব সম্বন্ধে অন্বয় হইতে পারে না। কারণ ‘ঘােষ’ রূপ পদার্থে তাদৃশ বাক্যের লক্ষ্যার্থ যে গভীর নদীতীর ইহার অন্বয় করিতে হইলে অভেদ-সম্বন্ধে অন্বয় করিতে হইবে। অথচ, তাদৃশ তীররূপ অর্থ অতেদসম্বন্ধে ‘ঘােষ পদার্থে বাধিত। কেন অভেদ সম্বন্ধে ঘােষ পদার্থের অন্বয় হইবে না তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য জগদীশ বলিতেছেন—সমাসভিন্ন স্থলে নামার্থদ্বয়ের অন্বয় বুৎপত্তিসিদ্ধ নহে। প্রকৃতস্থলে, গভীর নদীতীররূপ লক্ষ্যার্থটি ‘গভীরায়াং নাম্ এই বাক্যের অর্থ হওয়ায় মীমাংসকগণকে নামার্থও স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং তাদৃশ নামাৰ্থের ঘােষরূপ নামাৰ্থে আধেয়ত্ব সম্বন্ধে অন্বয় হইতে পারিবে না। গ্রন্থকার যে সমাসাদন্যত্র এই অংশটি নামার্থদ্বয়ের বিশেষণ দিয়াছেন, ইহার কারণ, ‘রাজ্ঞ: পুরুষঃ ‘রাজপুরুষঃ এইরূপ সমাস বা ব্যাসবাক্যস্থলে সমার্থক বােধের অনুরােধে ‘রাজ্ঞঃ পুরুষ: এখানে ষষ্ঠী বিভক্তির স্বত্ব সম্বন্ধরূপ অর্থ যেরূপ গৃহীত হয় তদ্রুপ রাজপুরুষঃ এই সমাসের স্থলেও রাজ- স্বরূপ সম্বন্ধে লক্ষণ। স্বীকৃতি মুলে ‘রাজসম্বন্ধবান পুরুষ: এইরূপ অম্বয়বােধের উপপতি হইবে। যদি মীমাংসক সম্প্রদায় বলেন, গভীরায়াং নাম এই বাক্যস্থলে, গভীর নদীতীর বৃত্তিতে উক্ত সপ্তম্যন্ত বাক্যটির লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে, ইহার ফলে গঙ্গাতীরবৃত্তিরূপ যে सार्थकपन्दे लक्षकनामनिरूपणम् লক্ষ্যার্থ তাহার ঘােষ পদার্থে অভেদ সম্বন্ধে অবােধ হইতে পারিবে। মীমাংসকগণের এই বক্তব্যও বক্ষ্যমাণ দোষনিবন্ধন সমীচীন নহে। কারণ তাদৃশ তীরবৃত্তিরূপ লাক্ষণিক বাক্যার্থের ঘােষপদার্থে অষয়বােধ সম্ভাবিত নহে, কেন সম্ভাবিত নহে তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন—“সমাস ভিন্নস্থলে নামার্থবয়ের অভেদসম্বন্ধে অম্বয়- বােধের প্রতি নামদ্বয়ের সমানবিভক্তিকত্ব নিয়ামক। নীলঘট' নীলােৎপল’-এই সকল সমান্তৰ্গত ঘটপদার্থে বা উৎপলপদার্থে নীল পদার্থের অভেদসম্বন্ধে অবয়বােধ, উক্ত সমাসঘটক পদদ্বয় সমানবিভক্তিক না হইলেও স্বীকৃত হওয়ায় সমাসতিস্থলে—এই বিশেষণটি দেওয়া হইয়াছে। ইহার উপরে আশঙ্কা হইতে পারে ‘গভীরায়াং নাম এই সপ্তমীবিভক্ত্যন্ত বাক্যের লক্ষণস্বীকৃতি পক্ষে পূর্বোক্তদোষ হইলেও সপ্তমীবিভক্তিকে পরিত্যাগ করিয়া ‘গভীরায়াং নদী’ এইভাগের লক্ষণা কল্পিত হইতে পারে। এই আশঙ্কাও যুক্তিযুক্ত নহে। কারণ, ঐরূপ লক্ষণা স্বীকৃত হইলে প্রকৃত্যৰ্থান্বিত-ার্থবােধকত্বং প্রত্যয়ানা এই নিয়মানুসারে সপ্তমীবিভক্তির অর্থ যে আধেয়ত্ব তাহার সহিত গতীর নদীতীর রূপ লক্ষার্থের অন্বয়বােধ হইতে পারে না। কেন পারে না তাহাই বলিতেছেন—ন হি স ভাগ: প্রকৃতি:- অর্থাৎ শুদ্ধ নদী পদটি সপ্তমীবিভক্তির প্রকৃতি হইলেও ‘গভীরায়াং নদী এই সমুদায় অংশটি সপ্তমীবিভক্তির প্রকৃতি নহে। সুতরাং উক্ত সমুদায় অংশের লক্ষ্যার্থ যে গভীর নদীতীর তাহার সপ্তমীবিভক্তির অর্থ আধেয়তার সহিত অন্বয় হইতে পারে না। কারণ, ‘গভীরায়াং নদী এই অংশ প্রকৃতি লক্ষণের লক্ষ্য না হওয়ায় প্রকৃতি নহে। যদি ‘গভীরায়াং নদী এই অংশের ‘কন্ত কাল ইত্যাদি শব্দের ন্যায় প্রকৃতিত্ব স্বীকৃত হয়, তাহা হইলেও “গভীরায়াং নদীং ব্রজ” এই বাক্য হইতেও গভীর নদীতীরগত কর্মত্ববােধের আপত্তি হইবে। তাৎপর্য এই যে, মীমাংসক মতে বাক্যেও লক্ষণ। স্বীকৃত হওয়ায় গভীয়াং নাম—এখানে যদি সপ্তম্যন্ত গভীরাপদ সহকৃত নদী ভাগের গভীর নদীতীর অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে গভীরায়াং নদী এই অংশের পরবর্তী ‘অম’ বিভক্তির অর্থ কর্মতার সহিত তাদৃশ তীররূপ লাক্ষণিক অর্থের অম্বয়বােধের আপত্তি হইবে। বাস্তবিক পক্ষে কিন্তু তাদৃশ অন্বয়বােধ মীমাংসক এবং নৈয়াকি উভয় মতেই অনুভববিরুদ্ধ। আরও বক্তব্য ‘গভীরায়াং নদী’ এই ভাগের বাক্যত্বও স্বীকৃত হইতে পারে না, কারণ সাকাক্ষ পদসমুংকেই বাক্য বলা হয়। গভীরায়াং নদী’ এই অংশের ঘটক পদসমূহ পরস্পর সাকাঙ্ক নহে বলিয়া বাক্য নহে। সুতরাং বাক্য না হইলে ঐরূপ নিরাকাক্ষ পদসমূহে মীমাংসক সম্প্রদায়ও লক্ষণ। স্বীকার করিতে পারিবেন না। এই প্রসঙ্গে টীকাকার রামভদ্র ১। অত্র, বিশেষ্যতাসম্বন্ধে তদ্ধর্মাবচ্ছিন্ন অতেদসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন-একাৱতাক অন্বয়বােধ প্রতি তদ্ধর্মাবচ্ছিন্নার্থক-নামােত্তরবিভক্তি-সজাতীয়বিভক্ত্যন্ত-সমাসঘটকনামােপস্থাপ্যত্ব প্রােজকমিতি প্রযােজ্যষােভাবঃ কল্পনীয়। ২। সােপস্থাপ্য যাদৃশার্থান্বয়বােধং প্রতি ব্যবহিতােত্তরােত্তসম্বন্ধে যাদৃশশব্দ- নিশ্চয়াে হেতুস্তাদৃশশব্দসৈৰ তাৰ্থে প্ৰকৃতিত্বাদিত্যাশয়ঃ ।
शब्दशक्तिप्रकाशिका যে বলেন “গভীরায়াং নদী” এই অংশটি যেহেতু বাক্য অতএব বাক্যের শক্তি না থাকায় ফলে শক্যসম্বরূপ লক্ষণাও কল্পিত হইতে পারে না, সুতরাং তাদৃশ তীরগত কর্মতার নিরূপকত্ব বিষয়ক অন্বয়বােধও সম্ভবপর নহে। এই আশঙ্কার উত্তরে বলা হইয়াছে ‘গভী- রায়াং নদী' এই অংশটি বাক্য নহে। রামভদ্রের এই উক্তি সঙ্গত নহে, কারণ, বাক্যের লক্ষণাবাদী মীমাংসক সম্প্রদায়ের মতে বাক্যে শক্তি অপেক্ষিত নহে। অতএক বাক্যে শক্তি না থাকার ফলে লক্ষণ। স্বীকৃত হইতে পারে না, রামভদ্রের এই উক্তি ঠিক নহে। ‘গতীয়াং নদ্যাং ঘােষ এইসকল স্থলে গভীর নদীতীররূপ অর্থে যদি গভীরায়াং নদ্যাং' এই বাক্যের লক্ষণ। স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে গভীরায়াং নদ্যাং ঘোষ: এই সকল স্কুলে গভীর নদী তীরবৃত্তি ঘােষ বিষযক তাদৃশ বাক্যার্থগোচর অন্বয়বােধ কিপ্রকারে উৎপন্ন হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার স্বকীয় সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করিবার জন্য ‘তস্মাৎ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে এই প্রসঙ্গের উপসংহার করিতেছেন। গ্রন্থকারের সিদ্ধান্ত এই যে, ‘গভীরায়াং নদ্যাং ঘােষ:' এই বাক্যের অন্তর্গত গভীরাপদটির অথবা নদীপদটির গভীর নদীতীররূপ অর্থে লক্ষণ। অঙ্গীকৃত হইবে। বাক্যে শক্তি না থাকিলেও বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদের বিভিন্ন শক্তি থাকায় মণি কারসম্মত শক্যসম্বন্ধ রূপ লক্ষণ। গভীরাপদে বা নদীপদে অবশ্যই থাকিবে। কেবলমাত্র গভীরাপদে লক্ষণ। স্বীকৃত হইলে বিনিগমনাৰিহপ্রযুক্ত নদীপদের লাক্ষণিকত্ব স্বীকৃত হইবে না কেন? এই প্রকার আপত্তি পরিহার করিবার জন্য গ্রন্থকার ‘নদীপদং বা এই উক্তির দ্বারা নদীপদটিও গ্রহণ করিয়াছেন। ইহার ফলে উক্ত বাক্যের অন্তর্গত গভীপদের যখন লাক্ষণিকত্ব স্বীকৃত হইবে, তখন তাৎপর্য গ্রাহক হইবে নদীপদ। আবার নদীপদের যখন গভীর নদীতীরূপ অর্থে লক্ষণ। কল্পিত হইবে তখন তাদৃশ অর্থে গভীরা-পদ হইবে তাৎপর্যগ্রাহক। গ্রন্থকারের এই সমাধান যে স্বকপােলকল্পিত নহে ইহ প্রতিপাদন করিবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন, ইতি সিদ্ধান্তবিদ:”। অর্থাৎ পূর্বতন নৈয়ায়িক সম্প্রদায়ের ইহাই সিদ্ধান্ত। ৭ मूलम् चटचटाद्यनुकरणस्य, हुम्फट हुवा ३ दिस्तोभस्य,' च स्वानु- भावकत्वमपभ्रंशानामिव शक्तिभ्रमादेव, गौर्वाहिक इत्यादौ तु शक्यार्थ- सदृशत्वावच्छिन्नबोधकतया गौणं गवादिपदं गोसदृशादौ लक्षकमेवास्तु, न तु ततो लक्षकाद्भिद्यते। ১। দুমিতি ক্রোধবীজম-ক্রোধাখ্যো হু তনুত্ৰঞ্চ শস্ত্ৰাদৌ রিপুসংক। “ফট অস্ত্রীজম-ফড়ং শস্ত্রমায়ুধ। ইতি-বীজাভিধান। তোভা-সামগতিপূরণার্থানি অক্ষণি, হাবু হাবু হবু ইত্যাদীনি। ইতি ছন্দোগ্যে, প্র°,এ, ১৩। ৪। মহাভা, শা, মাে°,। ৩ सार्थकशब्दे लक्षकनामनिरूपणम् ge অনুবাদ “চটচটা” প্রভৃতি অনুকরণ-শব্দসমুহের, যু”, ‘ফট' প্রভৃতি বীজমন্ত্রের এবং হুবা ৩ প্রভৃতি স্তোত শব্দসমূহ, স্বরূপ অর্থে, অপভ্রংশ শব্দের ন্যায় শক্তির ভ্রম- জনিত শব্দানুভবের জনক স্বীকৃত হইবে। গৌবাহিক ইত্যাদি স্থলে কিন্তু গােপদটি নিজ শক্যার্থ যে গগ তৎসাদৃশ্য বিশিষ্টের বােধক হওয়ায় তাদৃশ অর্থে, গৌণ গাে পদটি লাক্ষণিক হইবে। সুতরাং (গােসদৃশরূপ অর্থে) উক্ত গােপদ, লক্ষক নাম হইতে ভিন্ন নহে। বিবৃতি কোনও সময়ে বশ প্রভৃতির দলদ্বয় বিভাগ হইতে উৎপন্ন ‘চটচটা’ প্রভৃতি শব্দ শ্রবণ করিয়া কোনও ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ঐ শব্দের স্বরূপ বুঝাইবার জন্য ‘চটচটা' প্রভৃতি শব্দের অনুকরণ রূপে উচ্চারণ করিয়া থাকে। উক্ত অনুকরণরূপ ‘চটচটা' প্রভৃতি শব্দে শক্তিগ্রহের অনুকুল কোনও উপায় না থাকায় ঐ সকল শব্দে শক্তি স্বীকৃত হইতে পারে না। সুতরাং উক্ত চটচটা প্রভৃতি শব্দ শক্ত না হওয়ায় শক সম্বন্ধরূপ লক্ষণাও সম্ভবপর নহে। চটচটা প্রভৃতি শব্দে স্বরূপ অর্থে যদি আধুনিক নদী, বৃদ্ধি প্রভৃতি শব্দের ন্যায় আধুনিক সংকেত স্বীকৃত হয় তাহা হইলে আধুনিক সংকেতমূলেই স্বার্থে বােধ সম্ভবপর হইতে পারে। এই জন্য গ্রন্থকার , ফটু ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিয়াছেন। , ফটু প্রভৃতি মন্ত্রবিশেষের একদেশ হইলেও বীজ অভিধানে ‘” এই মন্ত্রাংশকে ক্রোধবীজ এবং ‘ফট’ এই অংশকে অস্ত্র বীজ রূপে বর্ণণা করা হইয়াছে। স্তোত শব্দের দ্বারা সামগীতির পূরণার্থক ‘বা বা হুব’ প্রভৃতি স্তোতশব্দ যেরূপ গৃহীত হইবে তদ্রুপ হবাদি এই আদিপদের দ্বারা হাবু হবু হাবু' প্রভৃতি স্তোভশব্দও গৃহীত হইবে। গ্রন্থকার বলিতেছেন চটচটা প্রভৃতি অনুকরণ শব্দের , ফটু প্রভৃতি মন্ত্রাংশের এবং হুবা ৩ প্রভৃতি স্তোভশব্দের, অপভ্রংশ শব্দের ন্যায় নিজ নিজ স্বরূপ অর্থে শক্তিমাধীন শব্দানুভবের জনকত্ব অঙ্গীকৃত হইবে। এই প্রসঙ্গে ইহাও বিবেচনা করিতে হইবে ঐ সকল শব্দে যদি নদী, বৃদ্ধি প্রভৃতি পদের ন্যায় আধুনিক সংকেত গৃহীত না হয় তাহা হইলেই উক্ত শব্দসমূহে শক্তিমাধীন শাত্ববােধের জনকত্ব স্বীকৃত হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে অপভ্রংশ শব্দকে যে শক্তিভ্রমের দৃষ্টান্তরূপে উল্লেখ করা হইয়াছে ইহা সঙ্গত নহে, কারণ অপভ্রংশশব্দেও আধুনিক সংকেতের স্বীকৃতি মূলে অন্বয়বােধের উপপত্তি হইতে পারে। অপভ্রংশ শব্দ প্রভৃতিতে আধুনিক সংকেত স্বীকৃত হইবে না। যদি কেহ বলেন, এই উক্তিও সমীচীন নহে, কারণ, গ্রন্থকার নিজে ভর্তৃহরির ‘আদানিকাধুনিক’ ইত্যাদি কারিকার বিবৃতি প্রসঙ্গে পারলিক শব্দের আধুনিক সংকেত স্বীকার করিয়াছেন, অতএব, তুল্য যুক্তিতে অপভ্রংশাদি = शब्दशक्तिप्रकाथिका শব্দেও আধুনিক সংকেত জগদীশের অভিপ্রেত। গ্রন্থকার যে “শক্তিমাদেৰ” এখানে এৰকারের প্রয়ােগ করিয়াছেন উক্ত এবারের দ্বারা শক্তিপ্ৰমার ব্যবচ্ছেদ করা হইয়াছে। শাব্দিক ও আলঙ্কারিকগণ শক্তি ও লক্ষণার অতিরিক্ত একটি গৌণীবৃত্তি স্বীকার করিয়া পৌবাহিক প্রভৃতি স্থলে গােশব্দটি উক্ত গৌণীবৃত্তিজনিত গােসদৃশের উপস্থাপক হইয়া অম্বয়বােধের জনক বলেন। নায়মতে শক্তিলক্ষণাব্যতিরিক্ত গৌণীবৃত্তি স্বীকৃত না হওয়ায় বাহিক পদার্থে গো সদৃশের অন্বয়বােধ কিপ্রকারে উপপন্ন হইবে? এই জিজ্ঞাসা সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘গৌবাহিক' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, গৌবাহিক এখানে গােপদটি গােসদৃশ অর্থে লাক্ষণিক হইবে। অর্থাৎ গােপদের শ্যার্থ যে গাে তাহার সাদৃশ্যবিশিষ্টে লক্ষণা অঙ্গীকৃত হওয়ায় বহনকর্তৃরূপ ‘বাহিক পদার্থে অভেদসম্বন্ধে উক্ত গােসদৃশের অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। সুতরাং আলঙ্কারিকাদি- সম্মত গোণীবৃত্তি অঙ্গীকার করার কোনও প্রয়ােজন নাই। ন্যায়মতে উক্ত স্থলে গােপদটি গােসদৃশরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিয়াছেন, শক্যার্থ যে গো তৎসদৃশের বােধক গৌণী গবাদিপদ গােসদৃশৰূপ অর্থে লক্ষক হইবে । “গোবাহিক এই স্কুলে গােপদটি (বাহিকগত) সাদৃশ্যবিশিষ্টরূপ অর্থে শক্তিশুন্য হইয়া উক্ত সাদৃশ্যবিশিষ্টরূপ লক্ষ্যার্থের সম্বন্ধী যে গােস্বরূপ অর্থ তন্নিরূপিত শক্তিবিশিষ্ট হওয়ার পূর্বে গ্রন্থকার যে নিরূপিত শক্তিশূন্যত্বের সমানাধিকরণ স্বসম্বন্ধি (নিরূপিত) শক্তিমত্ত্ব রূপ লক্ষক নামের লক্ষণ বলিয়াছেন উক্ত লক্ষণ সমন্বয় হওয়ায় বাহিকপদ সাকাঙ্ক গােপদটি লক্ষক নামেই অন্তর্গত হইবে অতিরিক্ত নহে। অতএব ‘রূঢ় লক্ষকঞ্চৈব ইত্যাদি কারিকায় যে নামের বিভাগ প্রদর্শন করিয়াছেন উক্ত বিভাগ ব্যাহত হইবে না। । मूलम् यादेतत् "मुखं विकसितस्मित"मित्यत्र विकसितपदेन विस्तृतार्थ- लक्षणया मुखस्य प्रकटितस्मितवत्तामनुभाव्योत्तरकालं कुसुमतुल्य- सौरमादिमत्त्वं तस्य, लक्षणामूलकव्यञ्जनया वृत्त्या बोध्यत इति रूढादिवद्- व्यञ्जकमपि शब्दान्तरमास्थेयं, न हि तत्र विकसितादिपदं कुसुमसदृशादौ रूड़मसंकेतितत्वात्, नापि यौगिकं, स्वावयववृत्या तदप्रापकत्वात् , न वा लक्षक, उपस्थितार्थानुपपत्तिधीरूपस्य लक्षणाबीजस्य বন্বষাৰীৰ বাৰিষ্যা- लङ्कारिका वदन्ति । ১। চৈত্ৰাদিপদানামিব পারসিকশব্দানামাপ সংকেত বত্বাবিশেষেহপি ন তেষাং যমকর্মণি উপযােগ ইতি। ইতি শব্দশক্তি सार्यकशम्बे लक्षकनामनिरूपणम् অনুবাদ (আলঙ্কারিকগণের পূর্বপক্ষ)-মুখং বিকসিতং স্মিত” এই স্থলে বিকসিত পদের দ্বারা (প্রথমতঃ ) বিস্তৃত অর্থে লক্ষণামূলক মুখগত বিস্তৃত হাস্যবত্তা বিষয়ক অনুভব হওয়ার পরবর্তীকালে মুখে যে কুসুমতুল্য সৌরভের আশ্ৰয়ত্ব অনুভূত হয়, তাহা কিন্তু পূর্বোক্ত লক্ষণামুলক ব্যঞ্জনারূপ বৃত্তিবিশেষের দ্বারাই সম্পন্ন হইয়া থাকে। অতএব রূঢ় প্রভৃতি নামের ন্যায় ব্যঞ্জক নামান্তরও স্বীকার করিতে হইবে। যদি বলা হয় বিকসিত প্রভৃতি পদ কুসুমসদৃশরূপ অর্থে রূঢ় নাম স্বীকৃত হইতে পারে—ইহা সঙ্গত নহে। কারণ, কুসুমসদৃশ অর্থে বিকসিত শব্দ, সংকেতবিশিষ্ট নহে। যৌগিক নামও বলা যায় না, কারণ, বিকসিত পদের অবয়বার্থের দ্বারা কুসুমসদৃশ রূপ অর্থ প্রতীয়মান হয় না। লাক্ষণিকও বলিবার উপায় নাই, কারণ শক্যার্থের অন্বয়ানুপপত্তি জ্ঞানরূপ লক্ষণার বীজ সেখানে বর্তমান নহে। ইহাই আলঙ্কারিকগণের (ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার করিবার পক্ষে ) বক্তব্য। বিবৃতি গ্রন্থকার ব্যঞ্জনাবৃত্তির খণ্ডন করিবার জন্য “স্যাদেতৎ মুখং বিকসিতং স্মিতম” ইত্যাদি সর্ডের মাধ্যমে আলঙ্কারিকগণের অভিপ্রেত লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তির উপস্থাপনা করিতেছেন। “বিকসিতং স্মিত” এই অংশটি মুখের বিশেষণরূপে নির্দিষ্ট হইয়াছে। এক্ষণে প্রশ্ন হইতে পারে বিকসিত স্মিত এই সমস্ত বাক্যটি কর্মধারয় সমাসনিম্পন্ন অথবা বহুব্রীহি সমাসনিম্পন্ন—এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে উক্ত বাক্যটি বিকসিতঞ্চ তৎ স্মিতঞ্চেতি এইরূপ কর্মধারয়নিস্পন্ন স্বীকৃত হইতে পারে না। কারণ কর্মধারয়নিস্পন্ন বাক্যের বিকাস- বিশিষ্ট হাস্যরূপ অর্থ অভেদসম্বন্ধে মুখে বাধিত, সুতরাং বিকাসবিশিষ্ট হাস্যরূপ অর্থ অভেদসম্বন্ধে মুখে অন্বিত হইতে পারে না। অতএব গ্রন্থকার যে পরবর্তী গ্রন্থে বলিয়াছেন ‘মুখে প্রকটিতস্মিতবত্তাম্ অনুভাব্য গ্রন্থকারের উক্ত উক্তি হইতে মুখে প্রকটিত হান্যের আশ্ৰয়ত্ব লাভের অনুরােধে উক্ত সমস্ত বাক্যটির বিকসিতং স্মিতং যত্র এইরূপ বহুব্রীহি সমাস ব্যতীত অন্য কোনও সমাস সম্ভাবিত নহে। সুতরাং বহুব্রীহি সমাসনিষ্পন্ন বিকসিতষ্মিত এই সমস্ত পদটির বিকাসবিশিষ্ট হারে আশ্রয়রূপ অর্থ গৃহীত হইবে, উক্ত বিকসিতস্মিত পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে মুখে অন্বয় হওয়ার ফলে বিকসিত হাস্যের আশ্ৰয়ত্ব মুখে প্রতীয়মান হইতে পারিবে, এই অভিপ্রায়েই গ্রন্থকার ‘প্রকটিতস্মিতত্ত্বাং শব্দটির প্রয়ােগ করিয়াছেন। আলঙ্কারিক সম্প্রদায়ের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিবার জন্য গ্রন্থকার মুখং বিকসিতস্মিতং বসিবক্তি মপ্ৰেক্ষিত। সমুচ্চলিতবিভ্রম গতিরপান্তসংমিতি।
चन्दशक्तिप्रकाधिका উল্লেমুকুলিতন্তনং জঘনংসৰন্ধোহুরং, বতেদূৰদনাতনে তরুণিমােগমে মদতে।” (ইতি কাব্যপ্রকাশে, দ্বিতীয় উল্লাসে চতুর্থশ্লোকে) এই কারিকার অন্তর্গত বিকসিতস্মিতং এই অংশে নিবিষ্ট বিকসিত শব্দটি বিস্তৃতরূপ অর্থে লক্ষণা কল্পিত হওয়ায় উক্ত বিকাল পদের লাক্ষণিক অর্থ যে বিস্তার বিশিষ্ট তাহার স্মিত পদার্থ যে হাস্য তাহাতে অন্বয় করিতে হইবে। বহুব্রীহি সমাসের ফলে তাদৃশ হাস্যের অধিকরণত মুখাবয়বে অনুভূত হইবে। তাদৃশ অনুভবের ফলে উক্ত লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনা বৃত্তির দ্বারা মুখাবয়বে কুহমতুল্য সৌরতের যে প্রতীতি হয় ইহা বিকসিত পদের লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তির দ্বারাই উপপন্ন হইয়া থাকে। অতএব রূঢ় ও লক্ষক প্রভৃতি নামের ন্যায় ব্যঞ্জনামরূপ একটি অতিরিক্ত নাম স্বীকার করিতে হইবে। এক্ষণে প্রশ্ন হইতে পারে বিকসিত শব্দটি বিপূর্বক কসধাতুর উত্তর ‘ক’ প্রত্যয়ের দ্বারা নিষ্পন্ন হওয়ায় বিকসিত শব্দটি বাক্যরূপে স্বীকৃত হইবে। নামতে বাক্যে শক্তি না থাকায় শক্য সম্বন্ধরূপ লক্ষণাও কল্পিত হইতে পারে না। সুতরাং গ্রন্থকার বিকসিত পদের কিপ্রকারে বিস্তৃত রূপ অর্থে লক্ষণ। কল্পনা করিয়াছেন। এই প্রশ্নের উত্তরে বক্তব্য এই যে, গ্রন্থকার যে বিকসিত পদটি লাক্ষণিক বলিয়াছেন সেখানে চিত্র প্রভৃতি শব্দের অন্তর্গত গোপদের যেরূপ চিত্ৰ গো স্বামিরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকার করিয়াছেন তদ্রুপ বিকসিত শব্দ স্থলেও উক্ত শব্দের অন্তর্গত কসধাতুরই বিস্তৃতরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। সুতরাং ন্যায়মতেও তাদৃশ লক্ষণ ব্যাহত হইবে না। কেহ কেহ যে বলেন আলঙ্কারিকদের মতানুসারে এই প্রসঙ্গ উথাপিত হওয়ায় বিকসিত পদটি বাক্য হইলেও লক্ষণা স্বীকৃত হইতে পারে। কারণ তাহারা বাক্যেও লক্ষণ। স্বীকার করেন। এই উক্তি ঠিক নহে। কারণ, বিকসিত’ শব্দটি শক্য না হওয়ায় শক সম্বন্ধরূপ লক্ষণীও সেখানে স্বীকৃত হইতে পারে না। পরবর্তী গ্রন্থে গ্রন্থকার ‘অসঙ্কেতিহাৎ ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা বিকাসবিশিষ্ট রূপ অর্থে সঙ্কেতিত নহে ইহা বলা হইয়াছে। এখন বিবেচনা করিতে হইবে তরুণী মুখাবয়বে বিকাসবিশিষ্ট হাস্যের অনুভব হওয়ার পরে সহৃদয় ব্যক্তিগণের বিকসিত সুগন্ধি কুসুমের ন্যায় যে সৌরভ বিশেষের অনুভূতি হইয়া থাকে উক্ত অনুভব শক্তি বা লক্ষণামূলক শাব্দবােধ নহে, সুতরাং তাদৃশ অনুভবের অনুকুল শক্তিও লক্ষণার অতিরিক্ত একটি বৃত্ত্যন্ত স্বীকার করিতে হইবে। ঐ বৃত্ত্যস্তরকে আলঙ্কারিকগণ ব্যঞ্জনা বৃত্তি বলিয়া থাকেন। মুখং বিকসিতং স্মিত এই স্থলে লক্ষণা- জনিত বিকাসবিশিষ্ট হাস্যযুক্ত মুখাবয়বের শাব্দানুভব হইলে তাহার পরে উক্ত লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তির দ্বারা পূর্বানুভূত মুখে কুসুমতুল্য সৌরভের অনুভূতি হইয়া থাকে। ইহাই আলঙ্কারিকদিগের অভিপ্রায়। যদি কেহ বলেন বিকসিত পদটির কুসুমতুল্য অর্থে রূঢ় নাম স্বীকৃত হইবে, এই উক্তিও সমীচীন নহে। কারণ আলঙ্কারিকগণের মতে বিকসিত পদের শক্তিরূপ সঙ্কেত স্বীকৃত হয় না। শক্ত পদভিন্ন নাম রূঢ় হইতে পারে না। যদি বলা হয় বিকসিত পদটি রূঢ় নাম না হইলেও যৌগিক নামৰূপে গণ্য হইতে পারে। এইরূপ আশঙ্কাও ঠিক নয়। কারণ, বিকশিত পদের অৰয়ৰ যে বিধাতু ও ‘ক্ত প্রত্যয় साकशन्दे लक्षकनामनिरूपणम् ৭ ইহাদের বৃত্তিলভ্য অর্থের দ্বারা কুসুমতুল্য সৌরভগােচর বোধ না হওয়ায় অবয়ববৃত্তির দ্বারা বিকশিত পদ তাদৃশ অর্থের বােধক হইতে পারে না। বিকসিত পদের তাদৃশ অর্থ, লাক্ষণিকও বলা চলে না। কারণ শক্তিদ্বারা উপস্থাপিত অর্থের অনুপপতিরূপ লক্ষণার বীজ এখানে অনুভূত নহে। ইহাই আলঙ্কারিকদিগের অভিপ্রেত। मूलम् तत्र अन्वयानुपपत्तिज्ञानस्य लक्षणाबीजत्वं हि न तज्जनकत्वं शक्यसम्बन्धात्मिकाया लक्षणायास्तदजन्यत्वात्, नापि तद्द्वापकत्वं मुख्यार्थान्वयानुपपत्तिज्ञानमन्तरेणापि प्रमाणान्तरेण तद्ग्रहसम्भवात् , अतएव न लक्ष्यार्थतात्पर्यग्राहकत्वमपि प्रकरणादिभ्योऽपि लक्ष्यार्थपरत्वग्रहात्। न च लक्षणाजन्यान्वयबोधं प्रति तस्याः कारणत्वमेव लक्षणाबीजत्वमिति साम्प्रतम् , यष्टीः प्रवेशयेत्यादौ व्यभिचारात्, तादृशहेतुतायां प्रमाणा- } কৰাৰ। অনুবাদ আলঙ্কারিকগণ ব্যঞ্জনাবৃত্তি অঙ্গীকার করিবার জন্য অনুপপত্তি জ্ঞানকে যে লক্ষণার বীজ বলিয়াছেন, (ইহা কিন্তু ঠিক নহে কারণ ) এই বীজত্ব যদি জনকত্বরূপ স্বীকৃত হয় তাহা হইলে শক্যসম্বন্ধরূপ যে লক্ষণ তা কিন্তু অনুপপত্তি জ্ঞানজন্য নহে। যদি লক্ষণার জ্ঞাপকত্বকে লক্ষণার বীজ বলা হয় তাহাও সঙ্গত নহে, কারণ স্থলবিশেষে মুখ্যার্থের অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান না থাকিলেও প্রমাণান্তর হইতে লক্ষণার জ্ঞান উৎপন্ন হইয়া থাকে। অতএব লক্ষ্যার্থের তাৎপর্য গ্রাহককেও লক্ষণার বীজ বলা সম্ভবপর নহে। কারণ, প্রকরণাদি হইতেও লক্ষ্যার্থগােচর তাৎপর্যজ্ঞান হইয়া থাকে। (আশঙ্কা হইতে পারে) লক্ষণাজনিত অন্বয়বােধের প্রতি মুখ্যার্থের অম্বয়ানুপপত্তির জ্ঞানগত যে কাৰণতা তাহাই লক্ষণার বীজত্বরূপে স্বীকৃত হইবে। এই আশঙ্কাও সমীচীন নহে। যষ্টঃ প্রবেশয়’ ইত্যাদি স্থলে মুখ্যার্থের অনুপপত্তি জ্ঞান না থাকিলেও যষ্টিপদ লাক্ষণিক হওয়ায় উক্ত স্থলে ব্যতিরেক ব্যভিচার বশতঃ অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান লক্ষণার বীজ হইতে পারে না। সুতরাং লক্ষণাগ্রহ এবং অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান এতদুভয়ের কার্যকারণ ভাব প্রমাণসিদ্ধ নহে।
52 शब्दशक्तिप्रकाशिका বিবৃতি আলঙ্কারিকগণের অভিপ্রেত লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনা বৃত্তির অসম্ভাব্যতা প্রতিপাদন করিবার জন্য গ্রন্থকার, “তত্ত্ব ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তন্ত্র' এই সপ্তমী- বিভক্ত্যন্ত তৎপদের, ‘লাক্ষণিক গঙ্গাদি পদস্থলে, এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। আলঙ্কারিক সম্প্রদায়,শক্যার্থের অম্বয়ানুপপত্তির জ্ঞানকে যে লক্ষণার বীজ বলেন, গ্রন্থকার, বীজ শব্দের বিভিন্ন অর্থ পরিগ্রহপূর্বক উক্ত আলঙ্কারিক মত খণ্ডন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ‘লক্ষণাবীজং' এখানে বীজগত বীজত্বধর্মটিকে জনকত্ব বলা সম্ভবপর নহে, কারণ, ‘গঙ্গায়াং ঘােষঃ ইত্যাদি স্থলে, অম্বয়ানুপপত্তিজ্ঞান ব্যতিরেকেও ‘গঙ্গাপদং গঙ্গাতীলকম্ তীরনিরূপিতশক্তিশূন্যত্বে সতি গঙ্গাপদত্বাৎ' ইত্যাদি অনুমানাদিরূপ প্রমাণান্তর হইতেও গঙ্গা পদের গঙ্গাতীররূপ অর্থে লক্ষণা গৃহীত হওয়ায় ব্যতিরেক ব্যভিচার দোষদুষ্ট অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান লক্ষণ জ্ঞানের জনক হইতে পারে না। যদি আলঙ্কারিকগণ বলেন মুখ্যার্থের অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞানে লক্ষণার জনকত্ব বা জ্ঞাপকত্ব রূপ লক্ষণার বীজত্ব স্বীকৃত না হইলেও লক্ষণার অনুকুল যে বক্তৃ তাৎপর্য জ্ঞান তজ্জনকত্বই লক্ষণার বীজত্বৰূপে স্বীকৃত হইবে। অর্থাৎ অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান লক্ষণার অনুকূল তাৎপর্যজ্ঞানেরই জনক স্বীকৃত হইবে। ফলে মুখ্যার্থের অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান হইতে উংপন্ন বক্তৃতাৎপর্যজ্ঞানের মাধ্যমে শক্য- সম্বন্ধরূপ লক্ষণ জ্ঞান স্বীকৃত হইতে পারে। আলঙ্কারিকগণের এই আশঙ্কাও ঠিক নহে, ইহাই ‘অতএব ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা জগদীশ প্রতিপাদন করিতেছেন। অতএব শব্দটির এখানে ‘ব্যাভিচার হয় বলিয়া এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। তাৎপর্য এই যে, ‘গঙ্গায়াং ঘােষ:' ইত্যাদিস্থলে লক্ষণগ্রহের প্রতি তাৎপর্যজ্ঞানের সাক্ষাৎ জনকতা স্বীকার করিয়া উক্ত তাৎপর্যজ্ঞানের প্রতি অন্বয়নুপপত্তি জ্ঞানকে কারণ স্বীকার করিলে ইহাই হইবে আলঙ্কারিকদের মতে পরম্পরা কারণত্বরূপ লক্ষণাবীজত্ব। জগদীশ বলিতেছেন, আলঙ্কারিকগণের এই মত সমীচীন নহে, কারণ কেবলমাত্র অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান হইতেই তাদৃশ তাৎপর্যজ্ঞান উৎপন্ন হয় না, পরন্তু প্রকরণাদি জ্ঞান হইতেও লক্ষণার অনুকূল তাৎপর্যজ্ঞান উৎপন্ন হইয়া থাকে। সুতরাং এই কল্পেও ব্যতিরেক ব্যভিচার নিবন্ধন তাৎপর্যজ্ঞান এবং অন্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান এতদুভয়ের কার্যকারণভাব কল্পনা করা সম্ভবপর নহে। আলঙ্কারিকগণ বলিতে পারেন, মুখ্যার্থের অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান লক্ষণাগ্রহের প্রতি বা তাৎপর্যজ্ঞানের প্রতি ব্যতিরেক ব্যভিচার দোষ নিবন্ধন কারণ না হইলেও লক্ষণগ্ৰহজনিত যে বাক্যাৰ্থবােধ তজ্জনকত্বই লক্ষণাবীজত্ব’ শব্দের দ্বারা প্রতি- পাদিত হইবে। সুতরাং ‘গঙ্গায়াং ঘােষঃ” ইত্যাদি স্থলে গঙ্গাতীররূপ লক্ষ্যার্থগােচর বক্যাৰ্থবােধের প্রতি অম্বয়ানুপপত্তি জ্ঞান জনক হইবে। আলঙ্কারিকগণের এই কল্পনাও সমীচীন নহে, জগদীশ ‘ন চ' ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা এই শঙ্কাই ব্যক্ত করিয়াছেন। উক্ত শঙ্কার সমাধান করিবার জন্য ‘ঘষ্ট প্রবেশয় ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে, লক্ষণজনিত অবয়বােধের প্রতি অম্বয়াত্ত্বিজ্ঞানের জনকতারণ বীজত্ব सार्थक शब्दे लक्षकनामनिरूपणम् কল্পিত হইতে পারে না, কারণ ষষ্ঠীঃ প্রবেশয়’ এখানে ‘যষ্টি পদের মুখ্যার্থ যে যষ্টি তগত প্রবেশনক্রিয়ায় অম্বয়ানুপপত্তিজ্ঞান বিদ্যমান না থাকিলেও তাৎপর্যানুপপত্তি জ্ঞানবশতঃ বৃষ্টিধরাদিপ লাক্ষণিক অর্থের উপস্থিতি ও তদ্বিষয়ক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে। অতএব এখানেও অম্বয়ানুপপত্তিজ্ঞান লক্ষ্যার্থবােধের ব্যভিচারী হওয়ায় তাদৃশ বােধের কারণ হইতে পারে না। যদি বলা হয়, লাক্ষণিক বাক্যার্থবােধ এবং অন্বয়নুপপত্তিজ্ঞান এতদুভয়ের কার্যকারণভাৰ যেহেতু প্রমাণসিদ্ধ সুতরাং তাদৃশ শব্দবােধের পূর্বে অম্বয়ানুপভিজ্ঞান কল্পিত হইবে, যেখানে যথার্থ অম্বয়ানুপপত্তিজ্ঞান সম্ভবপর নহে, সেখানে অগত্যা ভ্রমাত্মক অম্বয়ানুপপত্তিজ্ঞানের কারণত্ব স্বীকৃত হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলেন, ‘তাদৃশহেতুয়াং প্রমাণাভাবাচ্চ'-অর্থাৎ লক্ষণাগ্রহ- জনিত অন্বয়বােধের প্রতি অম্বয়ানুপপত্তিজ্ঞান যে জনক এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ নাই। - मूलम् अथास्ति, नानार्थशब्दः प्रकरणादिसाचिव्यात् क्वचिदेकविधा- नामर्थानामन्वयबुद्धरनन्तरमप्यन्यविधानामन्वयानुभवः सहृदयस्य । -यथा "अयं गौरवितो महान्" इत्यादौ, यथा वा "वयस्था नागरासङ्गादङ्गानां हन्ति वेदना"मित्यादौ। स चायमनुभवो न शक्तिधीप्रभवः, शक्यार्थ- बुद्धौ तत्परत्वग्रहस्य तद्ग्राहकप्रकरणाद्यवगमस्य वा हेतुत्वेन तदसत्त्वात्, नापि लक्षणाप्रयुक्तः, शक्यार्थे तदयोगात् , परन्त्वमिधामूलव्यञ्जनयव নায়। নৱ- प्रस्तावाद्यौनियन्त्रिते। एकत्रार्थेऽभिधामूलव्यञ्जनान्यस्य बोधिका ।" इति चेन, तात्पर्य धियो हेतुत्वस्य पूर्व परास्तत्वात् अतएव, प्रकरणादीनामननुगतानां कचिदसत्त्वेऽपि क्षत्यभावात् । "अनेकार्थस्य शब्दस्य, অনুবাদ (আলঙ্কারিকগণ যদি বলেন, লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তি খণ্ডিত হইলেও অভিধা- মূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার করিতে হইবে কারণ,) প্রকরণাদি কারণান্তর সহকারে নানার্থক শব্দ হইতেও কোন সময়ে, একবিধ অর্থসমুহের অন্বয়বােধ হওয়ার পরে शब्दशक्तिप्रकाशिका সহৃদয় ব্যক্তির অন্যবিধ পদার্থসমূহের অম্বয়ানুভব হইয়া থাকে। যথা ‘অয়ং গৌর- বিতে মহান’ (ইনি পূজ্য এবং মহৎ) এই সকল বাক্য স্থলে এবং “বয়স্থা নাগরা- সঙ্গাঙ্গানাং হন্তি বেদনা” (হরীতকী শুণ্ঠীসহযােগে সেবন করিলে শরীরের বেদনা প্রশমিত হয়। এই সকল স্থলে, সহৃদয় ব্যক্তির যে অভিনব একটি বােধ হয়, ঐ বােধকে তৎ তৎ পদগত শক্তিজ্ঞানজনিত বােধ বলা যায় না, কারণ, শক্যার্থ বােধের প্রতি কারণ যে তাৎপর্যগ্রহ অথবা তাৎপর্যগ্রাহক প্রকরণাদি- জ্ঞান জনকরূপে উক্তবােধের পূর্বে উপস্থিত থাকে না। লক্ষ্যার্থজনিতও উক্ত বােধ হইতে পারে না, কেননা শক্যার্থে লক্ষণা স্বীকৃত নহে, অতএব, অভিধামুলক ব্যঞ্জনাবৃত্তির দ্বারাই তাদৃশ অভিনব বােধ সম্পাদন করিতে হইবে। অলঙ্কার- শাস্ত্রেও উক্ত হইয়াছে “অনেকার্থক শব্দ প্রকরণবিশেষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইলে একটি অর্থে অভিধামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তি অপর অর্থের বােধক হইয়া থাকে।” (আলঙ্কারিকগণের) এই উক্তি ঠিক নহে, কারণ তাৎপর্যজ্ঞানের কারণ পূর্বেই নিরস্ত হইয়াছে। অতএব অননুগত প্রকরণাদি জ্ঞান স্থলবিশেষে না থাকিলেও ক্ষতি নাই। বিবৃতি পূর্ববর্তী সন্দর্ভের মাধ্যমে লক্ষণামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তি খণ্ডন করিবার পর গ্রন্থকার, অভিধামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তি খণ্ডন করিবার জন্য ‘অথাস্তি’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে আলঙ্কারিকগণের মত উপস্থাপিত করিতেছেন। অস্তি’ এই অংশটি পরবর্তী ‘অন্বয়ানুভব এই অংশের সহিত অম্বিত হইবে। একটি মাত্র অর্থেই শক্ত যে পদ তাহা হইতে অপর পদার্থের অম্বয়ানুভব কখনও সম্ভবপর হইতে পারে না। এইজন্য গ্রন্থকার নানাৰ্থ এই অংশটি শব্দের বিশেষণৰূপে উল্লেখ করিয়াছেন। নানার্থক শব্দটির নানা শক্তি বিশিষ্টরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। প্রকরণাদিসচিব্যাৎ'-এই অংশের প্রকরণাদি সহকারে এইরূপ যথার্থ হইলেও অজ্ঞায়মান প্রকরণ অম্বয়ানুভবের জনক না হওয়ায় এখানে প্রকরণ শব্দটির প্রকরণজ্ঞানরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। ‘আদি’ পদের দ্বারা শাব্দবুদ্ধির অন্যান্য কারণ গ্রহণ করিতে হইবে। রামভদ্র আদি পদের দ্বারা যে তাৎপর্যজ্ঞানাদি পরিগ্রহ করিয়াছেন ইহা সমীচীন নহে। কারণ গ্রন্থকার নিজেই পূর্বে তাৎপর্যজ্ঞানের অম্বয়ানুভব- জনকত্ব ধন করিয়াছেন। যদি বলা হয় ন্যায়মত অবলম্বন করিয়া গ্রন্থকার তাৎপর্যজ্ঞানের শব্দবোধ-কারণত্ব খণ্ডন করিলেও আলঙ্কারিক মতে তাৎপর্যজ্ঞান শব্দবােধের কারণরূপে স্বীকৃত, এইজন্য একরণাদি এখানে ‘আদি’ পদের দ্বারা তাৎপর্যজ্ঞান গৃহীত হইতে পারে। এই উক্তিও সংগত নহে। আলঙ্কারিকমতে একরণ জ্ঞানের হেতু যখন স্বীকৃত তখন তাৎপর্যজ্ঞানের सार्थकशब्दे लक्षकनामनिरूपणम् কারণত্ব স্বীকার করা নিম্প্রয়ােজন, অতএব প্রকরণাদি এই আদিপদের দ্বারা তাৎপর্যজ্ঞান গৃহীত হইতে পারে না। “অম্বয়ানুভব” এই শব্দটির দ্বারা শব্দবােধ গৃহীত হইয়াছে। ‘সহৃদয়’পদটি—এখানে, তৎ তৎ বিচিত্র বিষয় সম্বন্ধ অনুকরণ যাহার’ তৎ তৎ ব্যক্তির বােধ। কীদৃশ স্থলে অন্যবিধ বিষয়কে অবলম্বন করিয়া অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয় এই জিজ্ঞাসার উত্তরে ‘যথা ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। “অং গৌরৰিতো মহান” এই বাক্য হইতে “ইনি পূজ্য এবং মহাশয় ব্যক্তি এইরূপ বাক্যার্থবােধ হওয়ার পরে এই গরুটি মেষ হইতে বৃহৎ’ (অয়ং গৌঃ অবিতে। মহান্) এইরূপ অভিধামূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তি হইতে একটি বিলক্ষণ শালবােধ হইয়া থাকে। প্রথমে “অয়ং গৌরবিতে। মহান এই তিনটি পদ হইতে সমুদায় শক্যাৰ্থবােধ উৎপন্ন হওয়ার পরে গৌরবিত’ শব্দের একদেশ প্রথমান্ত গোপদ হইতে গােব্যক্তির, পঞ্চম্যন্ত অবিশ হইতে মেষ ও অবধিমত্ত্ব পদার্থের এবং প্রথমান্ত মহৎ পদ হইতে মহৎ পদার্থের উপস্থিতি ক্রমে বিলক্ষণ অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে। এইভাবে সমুদায় শক্যাৰ্থবোধ এবং অবয়বক্যার্থবােধের দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিবার পর প্রত্যেক শক্তির দ্বারা বিভিন্ন বিষয়ের ব্যঞ্জনাবৃত্তিলত্য পদার্থান্তর- গােচর অন্বয়বােধের যথা বেত্যাদি’ গ্রন্থের মাধ্যমে অপর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করিতেছেন। টীকাকার রামভদ্র বলেন “অয়ং গৌরবিতো মহান এই প্রথমদৃষ্টান্তস্থলে ‘গৌরবিত’ এই বাক্য হইতে পূজ্যত্বপ্রকারক যে অন্বয়বােধ হইয়াছে। উক্ত পূজত্বৰূপ অর্থ বাক্যার্থরূপেই প্রতীয়মান হইয়াছে পদার্থরূপে নহে, এইজন্য নানাৰ্থক “বস্থা প্রভৃতি পদকে গ্রহণ করিয়া অপর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হইয়াছে। বয়স্থা নাগসঙ্গাদিত্যাদি কানিকাংশের যুবতি (নারী) নাগরের (যুবা পুরুষের) সহিত মিলিত হইলে অঙ্গের বেদনা প্রশমিত হয় এইরূপ প্রকৃতার্থ অর্থাৎ যথার্থ প্রতীয়মান হওয়ার পরে পক্ষান্তরে বয়স্থ। শব্দটি হরীতকীর বােধক এবং নাগর শব্দটি শুষ্টির বোধক হওয়ায় উক্ত উভয় দ্রব্যের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মিশ্রণজনিত যে ঔষধি প্রস্তুত হয় উক্ত ঔষধি সেবন কৰিলে শারীরিক বেদনার উপশম হয় ইহাই উক্ত শ্লোকাংশের শক্তিমূলক ব্যঞ্জনাবৃত্তি মূলে শ্লিষ্টার্থ প্রতীয়মান হইবে। পূর্বোক্ত বাক্যদ্বয়ের মধ্যে প্রথম বাক্য হইতে পূজ্যত্ব- প্রকারক বােধ হওয়ার পরে মেষকে অবধি করিয়া যে খুলত্বের বােধ হয়, এবং দ্বিতীয় বাক্য হইতে যুবতি প্রভৃতির বােধ হওয়ার পরে যে হরীতকী প্রভৃতি অর্থের শব্দানুভব উৎপন্ন হয়, উক্ত অনুভব শক্তিজ্ঞানজনিত অনুভব হইতে পারে না। ইহাই ‘স চাষমতব ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে প্রতিপাদন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, কোনও শক্ত পদজ্ঞান হইতে শাব্দবােধ উৎপন্ন হইলে শ্যার্থগেচির অম্বয়বােধের পূর্বক্ষণে তাদৃশ অর্থে তাৎপর্যজ্ঞান অথবা তাৎপর্যের গ্রাহক প্রকরণাদিজ্ঞান কারণরূপে স্বীকৃত হওয়ায় পূর্বোক্ত বাক্যদয়স্থলে কিন্তু শিষ্টার্থ বােধের পূর্বে তাৎপর্যজ্ঞান কিংবা প্রকরণাদি- জ্ঞান অনুভবসিদ্ধ নহে। অতএব, উক্ত অন্বষবােধ, উক্ত বাক্যদ্বয়ের অন্তর্গত শব্দগতশক্তি- জ্ঞান হইতে উদ্ভূত নহে। যদি আলঙ্কারিকগণ বলেন, উক্ত বিলক্ষণবােধ শক্তিজ্ঞান হইতে উৎপন্ন না হলেও তাশার্থে লক্ষণ। স্বীকৃতিমূলে লক্ষণাজ্ঞান হইতে তাদৃশ বিলক্ষণবােধ शब्दशक्तिप्रकाशिका স্বীকৃত হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন, উক্ত বােধ লক্ষণাজ্ঞান হইতেও উৎপন্ন হইতে পারে না, কারণ, পূর্বোক্ত ‘অবি’ পদের অর্থ যে মেষ এবং বয়স্থা’ পদের অর্থ যে হরীতকী এই সকল পদের অর্থ সেই সেই পদের শক্যার্থ হওয়ায় শ্যাথমাত্রে লক্ষণ। কোন সম্প্রদায় স্বীকার করেন না। গ্রন্থকার লক্ষক নামের লক্ষণ কারিকায় “তচ্ছশক্তি- বিধুরং যদি অর্থাৎ লক্ষ্যার্থরূপে অভিমত যে অর্থ তন্নিরূপিত শক্তিশূন্য যে পদ তাহাতেই লক্ষণা স্বীকার করিয়াছেন। এই অভিপ্রায়েই জগদীশ বলিয়াছেন, “নাপি লক্ষণাবযুক্ত শক্যার্থে তদযােগাৎ”। মেষরূপ যে অবিপদের শক্যার্থ এবং হরীতকী রূপ যে বয়স্থা পদের শ্যার্থ তাহাতে তৎ তৎ পদের লক্ষণ। স্বীকৃত হইতে পারে না। ‘পরন্তু’ ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা আলঙ্কারিক মতের উপসংহার করিতেছেন। “অভিধা- মূলকব্যঞ্জনয়ৈব” অর্থাৎ “অয়ং গৌরবিতো মহান” এবং “বয়স্থ নাগরাসজাৎ” ইত্যাদি বাক্যস্থলেও অভিধামূলক, অর্থাৎ শব্দশক্তিমূলক ব্যঞ্জনারূপ শক্তি ও লক্ষণ। হইতে বিলক্ষণ যে বৃত্তি তাহার দ্বারাই পক্ষান্তরে উক্ত বাক্যদ্বয়জনিত বিলক্ষণ অন্বয়ানুভব সম্পাদন করিতে হইবে। উক্ত ব্যঞ্জনাবৃত্তির সমর্থনকল্পে আলঙ্কারিক দর্পণকারের “অনেকাৰ্থস্য শস্য প্রস্তাবাদ্বৈর্নিয়ন্ত্রিতে* ইত্যাদি শ্লোকটি উল্লেখ করিতেছেন, উক্ত কারিকাটির অর্থ এই যে বিভিন্নার্থক কোনও শব্দের প্রকরণ প্রভৃতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একবিধ অর্থ প্রতীয়মান হওয়ার পরে অভিধামূলক ব্যঞ্জনা বৃত্তি অন্যবিধ অর্থের বােধক হইয়া থাকে। প্রস্তাবাদি এই আদিপদের দ্বারা আকাঙ্ক্ষা, যােগ্যতা এবং আসত্তি প্রভৃতি গৃহীত হইবে। নিয়ন্ত্রিত পদটির অবগতরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। সপ্তম্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পদটির একদেশ যে নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ অন্বয়বােধ তদংশে “প্রস্তাবাছৈ?” এই প্রকরণাদি প্রযােজ্যত্বরূপ অর্থের অন্বয় করিতে হইবে। প্রস্তাব শব্দটি এখানে প্রকরণের বােধক এবং তৃতীয়াবিভক্তির প্রযােজ্যস্বরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে । এই পর্যন্ত ব্যঞ্জনাবৃত্তিবাদী আলঙ্কারিকগণের মত প্রদর্শিত হওয়ার পরে ন্যায়সিদ্ধান্ত অবলম্বন করিয়া গ্রন্থকার “ইতি চেন্ন” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে উক্ত মত খণ্ডন করিতেছেন। “ইতি চেন্ন” অর্থাৎ আলঙ্কারিকগণের ব্যঞ্জনাবৃত্তি সম্বন্ধে উক্ত মতবাদ সমীচীন নহে। কেন সমীচীন নহে এই জিজ্ঞাসার উত্তরে বলিতেছেন তাৎপর্যজ্ঞানের যে শব্দবােধকারণ তাহ পূর্বেই অর্থাৎ শব্দপ্রামাণ্য প্রকরণে নিরাকৃত হইয়াছে। সুতরাং তাৎপর্যগ্রহকে কারণরূপে কল্পনা করিয়া ব্যঞ্জনবৃত্তির সাহায্যে বিলক্ষণ অন্বয়বােধ সম্ভবপর নহে। আলঙ্কারিকগণের মতে যদি তাৎপর্যজ্ঞান কারণ না হইলেও প্রকরণাদিজ্ঞানকেই ব্যঞ্জনা- বৃত্তিমূলক অন্বয়বােধের কারণ স্বীকার করা হয়, ইহাও ঠিক নহে। কারণ, অননুগত প্রকরণাদিজ্ঞানকে অন্বয়বােধের কারণ বলা যায় না, প্রকরণজ্ঞান না থাকিলেও মূল- বিশেষে শাব্দবােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে। যেমন, নীলে ঘট: বা, রাঃ পুরুষ ইত্যাদি মূলীয় অভেদ সম্বন্ধে বা ভেদ সম্বন্ধে যে শব্দবুদ্ধি উৎপন্ন হয় তাহার পূর্বে প্রকরণাদিজ্ঞান কারণরূপে অপেক্ষিত নহে। আরও বক্তব্য এই যে, অনগত তৎ তৎ প্রকরণাদি গোচর জ্ঞান শাত্ববােধের কারণরূপে স্বীকৃত হইলে অনুগত কার্যকারণ ভাব কল্পনানিবন্ধন গৌরব सार्यकशन्दे लक्षकनामनिरूपणम् নও স্বীকার করিতে হয়। গ্রন্থকারও নানাবিধানাং' এই উক্তির দ্বারা তাদৃশ কার্যকারণ সূচনা করিয়াছেন। ভাবের গৌরব मूलम् वस्तुतः शक्तगधु पस्थितानामेकविधानां पदार्थानामन्वयमतेरनन्तरं यद्यन्यविधानामन्वयबोधः स्यात्, स्यादपि तदनुरोधेन व्यञ्जनास्वीकारः, न चैवं, तत्तदर्थकशाब्दसामान्यं प्रत्येव तत्तदर्थनिस्तात्पर्यकत्वधियः प्रतिबन्धकत्वात् , तत्तदर्थानां यथाकथञ्चिदुपनयनवशेन मनसैव विशिष्ट- धोसम्भवात् , मानोरथिकसुखप्रभेदपर्यवसितं चमत्कारं प्रत्यपि शाब्दस्येव मानसस्यापि बोधस्य विशिष्यहेतुताया सुवचत्वात्, अतिरिक्तस्य व्यञ्ज- नाख्यपदार्थान्तरस्य स्वरूपसत्तया अन्वयबुद्धौ तद्धतुत्वस्य च प्रमाण- विरहेणासत्वाच्चेति संक्षेपः ॥ অনুবাদ বাস্তবিক পক্ষে, শক্তির দ্বারা বা লক্ষণার দ্বারা উপস্থাপিত একবিধ পদার্থ- সমুহের অন্বয়বােধ হওয়ার পরে যদি অন্যবিধ পদার্থের অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয় তাহা হইলে উক্ত অম্বয়বােধের অনুরােধে ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার করা আবশ্যক হইতে পারে। প্রকৃতপক্ষে কিন্তু, উক্ত অন্বয়বােধ সম্ভবপর নহে। কারণ তৎ তৎ অর্থগােচর শব্দবুদ্ধি সামান্যের প্রতি তৎ তৎ অর্থগােচর তাৎপর্যশূন্যত্ব জ্ঞান প্রতিবন্ধক হইবে। (অতএব ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকৃত না হইলেও) অন্যবিধ পদার্থ- সমুহের, যে কোন প্রকারে উপনয় সন্নিকর্ষের মাধ্যমে, মনােরূপ করণের সাহায্যে অলৌকিক বিশিষ্ট মানস প্রত্যক্ষ সম্ভবপর হইতে পারে, এবং মানােরথিক সুখবিশেষরূপে পর্যবসিত যে চমৎকারিতা তাহার প্রতি শাব্দজ্ঞান যেরূপ জনক হয়, তদ্রুপ মানসবােধেরও বিশেষভাবে হেতুতা, অবশ্য বলা যাইতে পারে। (অতএব অতিরিক্ত ) ব্যঞ্জনা নামক স্বরূপ সৎপদার্থান্তর এবং অম্বয়বুদ্ধির প্রতি তাহার হেতু কল্পনার অনুকুল কোনরূপ প্রমাণ না থাকায় ব্যঞ্জনাবৃত্তির অস্তিত্ব স্বীকৃত হইতে পারে না।
ময়কিসবিকা বিবৃতি ব্যঞ্জনাবৃত্তিৰাদিগণের মূল বক্তব্য, ব্যঞ্জনাবৃত্তি যদি স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে নানার্থক শব্দ হইতে একবিধ অর্থবােধের পরে অন্যবিধ অর্থের বােধ কি করিয়া সম্ভবপর হইবে। বিশেষত: শক্তি জ্ঞানাদিরূপ কারণ হইতে পদার্থেপস্থিতির মাধ্যমে বিভিন্ন শক্যার্থের একই সময়ে অষয়বােধের আপত্তি হইবে। যদি বলা হয়, ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকৃত হইলেও একবিধ শক্যার্থবােধের সমকালীন অন্যবিধ শক্যার্থবােধ হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে ব্যঞ্জনাবৃত্তিবাদী আলঙ্কারিকগণ বলেন, ব্যঞ্জনা বৃত্তিজনিত বিলক্ষণ বােধরূপ কার্যের অংশে তৎ পদগত একশক্তি প্রযােজ্য অর্থবিশেষ বিষয়ক বােধের আনর্য নিবেশ করিলেই ব্যঞ্জনাবৃত্তি প্রযােজ্য তাদৃশ বিলক্ষণ অম্বয়বােধের উপপত্তি হইতে পারে। আলঙ্কারিকগণ আরও বলিতে পারেন, ব্যঞ্জনাবৃত্তি হইতে যাদৃশ বিশিষ্ট অর্থের অন্বয়বে হইয়া থাকে তথাবিধ অন্বয়বােধের প্রকারান্তরে উপপত্তি সম্ভবপর নহে, অতএব তাদৃশ বিলক্ষণ অন্বয়বােধের সাধক ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার করিতে হইবে। ব্যঞ্জনাবৃত্তিবাদিগণের এই বক্তব্যের উত্তরে সিদ্ধান্তিগণের বক্তব্য এই যে, ব্যঞ্জনাবৃত্তািজনিত তাদৃশ বিলক্ষণ হুম্বয়বােধই অপ্রসিদ্ধ, সুতরাং তদনুরােধে ব্যঞ্জনাবৃত্তির কল্পনা করা নিষ্প্রয়োজন। ইহাই গ্রন্থকার ‘বস্তুতঃ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে বিবৃত করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পদবিশেষগত শক্তি অথবা লক্ষণারূপ বৃত্তিজ্ঞান হইতে একবিধ পদার্থের অম্বয়বােধ হওয়ার পরে যদি উক্ত পদগত শক্তি বা লক্ষণারূপ বৃভ্যন্তর হইতে বিলক্ষণ কোনও অষয়বােধ অনুভবসিদ্ধ হয়, তবেই উক্ত বিলক্ষণ অন্বয়বােধের অনুরােধে ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার করিতে হয়। তাদৃশ বিলক্ষণ অন্বয়বােধের অপ্রসিদ্ধি ব্যক্ত করিবার জন্য বলিতেছেন “ন চৈব” অর্থাৎ তাদৃশ বিলক্ষণ অন্বয়বােধ প্রসিদ্ধই নহে। সুতরাং তাদৃশ বিলক্ষণ অন্বয়বােধের অনুরােধে ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার করা অযৌক্তিক। এখন প্রশ্ন হইতে পারে নানাৰ্থক পদ হইতে শক্তি প্রযােজ্য একবিধ অর্থের অন্বয়বােধের পরক্ষণে অন্যবিধ শকার্থের অম্বষবােধ হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন, তত্তদর্থগােচরশাদসামান্য প্রত্যেবে’ত্যাদি। গ্রন্থকারের অভিপ্রায় এই যে, তথগােচর শব্দবােধ সামান্যের প্রতি তৎ পদধর্মিক তদ অর্থগোচর তাৎপর্যশূন্যত্বের জ্ঞান প্রতিবন্ধক হইয়া থাকে, সুতরাং একবিধ শার্থগােচর অম্বয়বােধের উৎপত্তির পরক্ষণে অন্যবিধ শক্যাৰ্থবােধের প্রসক্তি হইবে না। এখানে গ্রন্থকার তত্ত অর্থগােচর শব্দবােধ সামান্য মাত্ৰকে পদধর্মিক নিস্তাৎপৰ্যকত্বজ্ঞানের প্রতিধ্য বলায় পূর্বোক্ত নামার্থক শব্দ হইতে একবিং শ্যার্থবাধের পরে অলৌকিক মানসপ্রত্যক্ষ হইতে পারিবে ইহাই শাসামান্য প্রত্যেব এই এবারের দ্বারা সূচিত হইয়াছে। এখন জিজ্ঞাস্য এই যে, “অয়ং গৌরবিতো মহান” এবং “বয়স্থ নাগরাসাদ ইত্যাদি খুলে একবিধ শক্যার্থবােধের পরে অন্যবিধ পদার্থের বােধ হয়-ইহা সকলেরই অনুভব সিদ্ধ । যদি নৈয়াকি সম্প্রদায় ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার না করেন, তাহা হইলে ঐ সকল বাক্য साकशब्दे लक्षकनामनिरूपणम् হইতে পদার্থারের বােধ কি করিয়া সম্ভবপর হইবে। এই জিজ্ঞাসার উত্তরে গ্রন্থকার, “তদর্থানাম” ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পূর্বোক্ত বাক্যস্থলে, এবিধ বাক্যাৰ্থবােধের পরে যে অন্যবিধ অর্থের বােধ হয়, তাহা আমরাও স্বীকার করি। কিন্তু উক্ত বিলক্ষণ বােধের উপায়রূপে ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকার করার কোনও প্রয়ােজন নাই। কারণ, যে কোনও প্রকারে তাদৃশ বিলক্ষণ পদার্থসমূহের উপস্থিতিরূপ জানলক্ষণ সন্নিকর্ষ হইতে অলৌকিক মানস প্রত্যক্ষরূপ বিশিষ্টজ্ঞান উৎপন্ন হইবে, পরন্তু বিশিষ্টশাধী নহে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, তাদৃশ বিলক্ষণ অন্বয়বােধের পরেই উক্ত শাবােধের আশ্রয় আত্মতে সুখবিশেষ উৎপন্ন হইয়া থাকে। কিন্তু অন্যবিধ বােধ হইতে নহে, সুতরাং অন্বয়-ব্যতিরেক মূলে তাদৃশ সুখবিশেষের প্রতি তথাৰিধ অন্বয়বােধের কারণত্ব কল্পনা করাই যুক্তিযুক্ত। যদি উক্ত কার্যকারণভাব স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে অনুতবসিদ্ধ তাদৃশ সুখবিশেষের অপলাপের প্রসক্তি হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার “মানো- রথিকসুখপ্রভেদ” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। “মাননারথিক’ শব্দের মনােজন্য লৌকিক প্রত্যক্ষের বিষয়রূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। ইহার দ্বারা সুখবিশেষের যে অপলাপের আশঙ্কা করা হইয়াছিল, তাহা নিয়াকৃত হইল। সুবচত্বাদিতি'। তাৎপর্য এই যে, সুখ- বিশেষরূপ চমৎকারের প্রতি আলঙ্কারিকগণের অভিমত অম্বয়বােধের কাৰণতা স্বীকার না করিলেও ক্ষতি বা গৌরবের সম্ভাবনা নাই। কারণ, পূর্বোক্ত নামার্থক শব্দস্থলে শক্তি বিশেষ জ্ঞানজনিত একবিধ পদার্থের অম্বয়বােধরূপ উদ্বোধকের দ্বারা উদ্ভুদ্ধ সংস্কার হইতে তাদৃশ বিলক্ষণ পদার্থের উপস্থিতিরূপ জ্ঞানলক্ষণা সন্নিকর্ষ হইতেই বিলক্ষণ পদার্থগােচর অলৌকিক মানস প্রত্যক্ষরূপ বােধ উৎপন্ন হওয়ার পরে তাদৃশবােধজনিত আনন্দের অনুভূতি হইয়া থাকে। সুতরাং অনুতবসিদ্ধ আনন্দের অনুরােধে গুরুতর ব্যঞ্জনবৃত্তি কল্পনা নিষ্প্রয়ােজন। ব্যঞ্জনাবৃত্তিবাদিগণ প্রশ্ন করিতে পারেন, নৈয়ায়িক সম্প্রদায় যেরূপ অনুতসিদ্ধ চমৎকারিত্বের প্রতি অলৌকিক মানসবােধের জনকতা স্বীকার করিবেন, আলঙ্কারিক মতেও বিনিগমনাৰিৱহপ্রযুক্ত ব্যঞ্জনাবৃত্তিজনিত শালবােধ উক্ত চমৎকারিত্বের জনক স্বীকৃত*হইবে না কেন? এই প্রশ্নের সমাধানকল্পে, জগদীশ, অতিরিক্ত ব্যঞ্জনাখ্য পদার্থান্তর’েত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। ব্যঞ্জনাখ্যপদার্থান্তর এই অংশের ‘প্রমাণবিরহেণাসত্ত্বাৎ' এই অগ্রিম অংশের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। গ্রন্থ- কারের অভিপ্রায় এই যে, ব্যঞ্জনবৃত্তি প্রমাণের দ্বারা সিদ্ধ হইলেই তজ্জনিত শাকবােধ সিদ্ধ হইতে পারে, এবং শব্দবোধের পরে চমৎকাররূপ আনন্দবিশেষের উদ্ভব ও তাহার প্রতি ব্যঞ্জনবৃতিরূণ পদার্থটি প্রযােজক হইতে পারে। বাস্তবিক পক্ষে ইহা সম্ভবপর নহে। কারণ ব্যঞ্জনাবৃত্তি পদার্থের অস্তিত্ব কোনও প্রমাণের দ্বারা সিদ্ধ নহে। সুতরাং তাহাতে শব্দবোধজনকত্ব বা চমৎকারিত্বের প্রযােজকত্ব কল্পনা অপরাহত। অতিরিক্ত পদার্থান্তর” এই অংশের দ্বারা অতিরিক্ত ব্যঞ্জনাবৃত্তি কল্পনানিবন্ধন গৌরবও সুচিত ৫০ शब्दशक्तिप्रकाशिका হইয়াছে। অর্থাৎ ব্যঞ্জনাবৃত্তি স্বীকৃতিপক্ষে ফলীভূত শব্দজ্ঞানে যেরূপ শব্দত্ব জাতি থাকিবে, সিদ্ধান্তপক্ষেও উপনীত জ্ঞানরূপ মানস প্রত্যক্ষে মানসত্ব জাতি স্বীকৃত হইবে। সুতরাং জাতি হিসাবে উভয়তুল্য হইলেও আলঙ্কারিক মতে শাব্দত্ব পুরস্কারে তাদৃশ চমৎকারের জনকত্ব কল্পনা করিতে হইবে। অধিকন্তু উক্ত জন্যজনকভাবের অনুরােধে তাদৃশ শব্দবােধের উপায়রূপে ব্যঞ্জনাবৃত্তি কল্পনারূপ গৌরব স্বীকার করিতে হয় । কায়মতে কিন্তু কপ্ত মানসবােধে, চমৎকার জনকত্ব কল্পনানিবন্ধন লাঘব অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। যদি আলঙ্কারিকগণ বলেন, শব্দবিশেষকে পক্ষরূপে তদর্থগােচর অন্বয়বােধের অনুকুল শক্তিভিন্ন যে বৃত্তি তদায়ত্বকে সাধ্যরূপে গ্রহণ করিয়া উক্ত শার্ধগােচর অন্বয়বােধের অনুকুল শব্দত্বকে হেতু করিয়া অনুমান প্রমাণের দ্বারাই ব্যঞ্জনাবৃত্তি সিদ্ধ করা যাইতে পারে, সুতরাং ব্যঞ্জনাবৃত্তি অপ্রামাণিক নহে। তাদৃশ ব্যঞ্জনাবৃত্তি কল্পনানিবন্ধন গৌরব ও কার্যকারণভাবরূপ ফলের অনুকূল হওয়ায় দূষণীয় নহে। ইহার প্রতিবাদে গ্রন্থকার বলিতেছেন, “স্বরূপসত্তয়া” ইত্যাদি অর্থাৎ যদি অজ্ঞায়মান ব্যঞ্জনাবৃত্তি শাত্ববােধের কারণরূপে আলঙ্কারিকগণের অভিপ্রেত হয়, তাহা হইলে উক্ত অনুমানের সাহায্যে ব্যঞ্জনাবৃত্তি সিদ্ধ হইতে পারে না। উক্ত অনুমানে সাধ্যের অন্তর্গত অনুকূলত্ব শব্দটি যদি তাদৃশ শাব্দৰােধের জনক পদার্থোপস্থিতির জনকত্বৰূপ অর্থে প্রযুক্ত হইয়া থাকে, তাহা হইলে উক্ত অনুকূলত্ব লক্ষণারূপ বৃত্তিতে প্রসিদ্ধ হইলে ও তাদৃশ বৃত্তিমত্ত্ব ব্যঞ্জক শব্দে বাধিত হইবে। যদি অনুকুলত্ব শব্দটি জনকত্ব অর্থে প্রযুক্ত হয়, তাহা হইলে সাধাপ্রসিদ্ধি দোয-নিবন্ধন উক্ত হেতুর দ্বারা তাদৃশ সাধ্যের অনুমান সম্ভাবিত নহে। এই অভিপ্রায়েই জগদীশ বলিয়াছেন, স্বরূপসৎ ব্যঞ্জনাবৃত্তিরূপ পদার্থে অন্বয়বুদ্ধির কারণত্ব স্বীকার করা সম্ভবপর নহে। টীকাকার রামভদ্র যে অতিরিক্তায়। ব্যঞ্জনাখ্যপদার্থান্তর এইরূপ পাঠগ্রহণ করিয়াছেন ইহা কিন্তু সমীচীন নহে। কারণ ঐরূপ পাঠ গৃহীত হইলে ঐ অংশের অগ্রিম ‘পদার্থান্তরস্য’ এই অংশের সহিত অভেদ-সম্বন্ধে অন্বয় হইতে পারে না। এইজন্য আমরা অতিরিক্তায়’ স্থলে অতিরিক্তস্য” এই পাঠই সমীচীন মনে করিয়া গ্রহণ করিয়াছি। मूलम् लक्षकं नाम विभजते- जहत्स्वार्धाजहत्स्वार्थनिरूदाधुनिकादिकाः । लक्षणा विविधास्ता निर्लक्षकः स्यादनेकधा ॥ २६ सार्यकशब्दे सक्षकनामनिरूपणम् অনুবাদ লাক্ষণিক নামের বিভাগ করিতেছেন। জহংস্বার্থ, অজহৎস্বার্থ, নিরূঢ়, আধুনিক প্রভৃতি ভেদে লক্ষণা বিবিধ প্রকার হওয়ায় লাক্ষণিক নামও অনেকবিধ হইবে। যে বিবৃতি পূর্বে চতুর্বিংশতি সংখ্যক লাক্ষণিক নামের কারিকায়, যাদৃশ আনুপূর্ববিশিষ্ট নামটি যাদৃশ অর্থনিরূপিত শক্তিশূন্য হইয়া যাদৃশার্থ সম্বন্ধি নিরূপিত শক্তিবিশিষ্ট হইবে তাদৃশ আনুপূর্ববিশিষ্ট নাম তাদৃশ অর্থে লাক্ষণিক হইবে, এই প্রকার লাক্ষণিক নামের লক্ষণ করা হইয়াছে। লক্ষণার বিভিন্নতা ব্যতীত লাক্ষণিক নামের বিভাগ সম্ভবপর নহে, এই জন্য বর্তমান কারিকায় লাক্ষণিক নামের বিভাগের উপযােগী লক্ষণার প্রকারভেদ প্রদর্শন করিবার জন্য “জহংস্বার্থাজহৎস্বার্থ ইত্যাদি কারিকার অবতারণা করিতেছেন। লাক্ষণিক শব্দটি নিজের শক্যার্থকে পরিত্যাগ করিয়া কেবলমাত্র লাক্ষণিক অর্থের বােধক হয়, সেই শব্দগত যে লক্ষণ তাহাই হইবে ‘জহৎস্বাৰ্থলক্ষণা'। দৃষ্টান্ত স্বরূপে ‘গঙ্গা’ পদটি উল্লেখ করা যাইতে পারে। গঙ্গায়াং ঘােষঃ এখানে ‘গঙ্গা’পদের জলপ্রবাহরূপ শক্যার্থ গৃহীত না হইয়া কেবলমাত্র গঙ্গাতীর রূপ লক্ষ্যার্থই গৃহীত হইয়া থাকে, এই জন্য গঙ্গা- তীররূপ অর্থে গঙ্গাপদগত লক্ষণ। জহত্যার্থ লক্ষণা নামে অভিহিত হইবে। আবার যে লাক্ষণিক শব্দটি নিজের শক্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ উভয়ের বােধক হয়, সেই শব্দগত লক্ষণা “জহংস্বার্থলক্ষণ।” হইবে। উদাহরণরূপে ‘ছব্রিণাে গচ্ছন্তি' এই হলটি উল্লেখ করা যাইতে পারে। এই স্কুলে একস্বার্থবাহিত্বরূপ অনুগত লক্ষ্যতার অবচ্ছেদক ধর্মপুরস্কারে ছত্ৰী যেরূপ প্রতীয়মান হইবে তদ্রুপ দণ্ডী প্রভৃতি (পুরুষ) প্রতীয়মান হইয়া থাকে। এইজন্য ছত্ৰীপদগত লক্ষণ। অজস্ৰাৰ্থ লক্ষণা নামে অভিহিত হইয়া থাকে। আদিত্যো বৈ ঘূপঃ “আয়ুৰৈ ঘৃত” ইত্যাদি শ্রেতিবাক্যে আদিত্যপদের আদিত্যসদৃশৰূপ অর্থে এবং আয়ুঃ পদের আয়ুর্জনকরূপ অর্থে যে আদিত্যপদগত বা আয়ুপদগত লক্ষণা গৃহীত হয়—এই সকল লক্ষণাকে গৌণী লক্ষণা বলা হইয়া থাকে। নীলে ঘট” ইত্যাদি স্থলে ‘নীল’ পদের নীলরূপবিশিষ্টে যে লক্ষণা স্বীকৃত হয় উক্ত লক্ষণ নিরূঢ় লক্ষণ। নামে অভিহিত হয়। এই নিরূঢ়লক্ষণ। আজানিক লক্ষণা নামেও অভিহিত হইয়া থাকে। লক্ষণার মূলে অনাদি তাৎপর্য রহিয়াছে সেই লক্ষণাই নিরূঢ় লক্ষণ বা আজানিক লক্ষণ। নামে অভিহিত হইবে। আধুনিক লক্ষণা--পটেন জলমাহর* এখানে ‘পট’ পদের ঘটরূপ অর্থে যে লক্ষণ হয় তাহাকে বলা হয় আধুনিক লক্ষণ। আদি পদের দ্বারা ‘দ্বিরেফ’ পদের ভ্রমররূপ অর্থে পরম্পরা সম্বন্ধৰূপ লক্ষিত লক্ষণা গৃহীত হইবে। বেদান্তিগণ তত্ত্বমসি’ ইত্যাদি বাক্য হইতে অখণ্ড চিত্ৰবােধের অনুকুল যে তৎ’ বা ‘’ পদের চিত্র তাৎপর্যে অহদ- বস্তুত: যে शब्दशक्तिप्रकाशिका জহৎব্যর্থ নামক একটি লক্ষণ। স্বীকার কয়েন, উক্ত লক্ষণ। নৈয়ায়িকসম্মত নহে। কারণ ন্যায়মতে পূর্বোক্ত শ্রুতিবাক্য অখণ্ড চিত্রের বােধক নহে, পরন্তু “নিরঞ্জনঃ পরমং সাম্য- মুপৈতি” এই সকল শ্রুতির সহিত সামঞ্জস্য রক্ষার অনুরােধে ‘তত্ত্বমসি’ এখানে “ত্ব পদটি শক্যার্থজীবের বােধক এবং পরমাত্মবোধক তৎ পদটি পরমাত্মসদৃশ অর্থে লাক্ষণিক স্বীকৃত হইবে। নিদুঃখত্বাদি ধর্মপুরস্কারে জীব, ঈশ্বসদৃশ হইয়া থাকে—ইহাই উক্ত শ্রুতির তাৎপর্য। সুতরাং তত্ত্বমসি” ইত্যাদি স্থলে তৎপদের ঈশ্বরসদৃশপ অর্থে গৌণী লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। मूलम् काचिल्लक्षणा शक्यावृत्तिरूपेण बोधकतया जहत्स्वार्थेत्युच्यते, यथा तीरत्वादिना गङ्गादिपदस्य। काचिच्छक्यलक्ष्योभयवृत्तिना शक्यवृत्तिव वा रूपेणानुभावकत्वादजहतस्वार्था, यथा द्रव्यत्वादिना, नीलघटत्वादिना च घटपदस्य, काचिल्लक्ष्यतावच्छेदकोभूततत्तद्रूपेण पूर्वपूर्व प्रत्यायक- त्वानिरूड़ा, यथा, पारुण्यादिप्रकारेण तदाश्रयद्रव्यानुभावकत्वादरुणादि- पदस्य। काचिच्च पूर्वपूर्व तादूप्येणाप्रत्यायकत्वादाधुनिकी, यथा, घटत्वा- दिना पटादिपदस्य । आदिना शक्रसदृशत्वप्रकारेण बोधकतया गौण्युप- মুম্বই, यथा अनिर्माणवक इत्यादावनिसदृशत्वादिना अग्नगदिपदस्य । तदेवं विविधलक्षणावत्त्वाल्लक्षकं नामापि जहत्स्वार्थाजहत्स्वार्थादिभेदादनेक- विधमित्यर्थः । অনুবাদ কোন লক্ষণ, (লাক্ষণিক পদের) শক্যার্থে বর্তমান নহে এইরূপ কোন একটি ধর্মপুরস্কারে অর্থবিশেষের বােধক হইলে উক্ত লক্ষণা জহৎস্বার্থ লক্ষণা নামে অভিহিত হইবে, যথা তীরত্বাদি পুরস্কারে (তীররূপ অর্থে) গঙ্গাদিপদের লক্ষণ। কোন লক্ষণ, শক্য এবং লক্ষ্য উভয়ে বর্তমান ধর্মপুরস্কারে অথবা শকমাত্রবৃত্তি- পুরস্কারে লক্ষার্থের অভাবক হইলে, তাদৃশ লক্ষণা, অজহৎস্বার্থ লক্ষণা হইবে, যথা দ্রব্য পুরস্কারে অথবা নীলঘটত্বপুরস্কারে ঘটপদের লক্ষণ। আবার কোন सायंकशब्ने लक्षकनामनिरूपणम् লক্ষণা লক্ষ্যতার অবচ্ছেদক তৎ তৎ ধর্মপুরস্কারে পূর্ব পূর্ব প্রতীতির জনক হইলে উক্ত সক্ষণা নিরূঢ় লক্ষণা (বুঝিতে হইবে)। অরুণাদি পদগত লক্ষণা অরুণিমা পুরস্কারে দ্রব্যবিশেষের অনুভজনক হওয়ায় অরুণ পদের রক্তরূপ বিশিষ্টে নিরূঢ় লক্ষণা। আবার কোন লক্ষণা লক্ষাবচ্ছেদক ধর্মপুরস্কারে পুর্ব পূর্ব প্রতীতির প্রযােজক না হইলে লক্ষ্যবচ্ছেদ ঘটত্বাদি ধর্মপুরস্কারে পটাদি পদের লক্ষণা হইবে আধুনিক লক্ষণ। (কারিকাস্থ ) আদিপদের দ্বারা শক্যার্থের সদৃশ ধর্মপুরস্কারে অম্বয়বােধর প্রযােজক লক্ষণা গৌণী লক্ষণা নামে পরিচিত হইবে। যথা-“অগ্নিৰ্মাণৰকঃ” ইত্যাদি বাক্যস্থলে অগ্নি সদৃশত্বাদি ধর্মপুরস্কারে অগ্নি প্রভৃতি পদগত যে লক্ষণ। উক্ত লক্ষণা হইবে গৌণী লক্ষণ। উক্ত বিবিধ লক্ষণার আশ্রয় লাক্ষণিক নামও জহংস্বার্থ অজহৎস্বার্থ ইত্যাদি ভেদনিবন্ধন অনেকবিধ হইবে। বিবৃতি কারিকায় যে বিভিন্ন লক্ষণার কথা বলা হইয়াছে, বিবরণগ্রন্থে গ্রন্থকার উক্ত লক্ষণ- সমূহের প্রত্যেকটি লক্ষণার লক্ষণ এবং উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য কাচিল্লক্ষণা' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। প্রথম উল্লিখিত অহংস্বার্থলক্ষণার লক্ষণ বলিতেছেন-- কাচিল্লক্ষণা শক্যাবৃত্তিরূপেণ ইত্যাদি। তাৎপর্য এই যে, লক্ষ্য অর্থটি যে ধর্মের দ্বারা বিশিষ্ট হইবে, সেই ধর্মটি যদি লক্ষণার আশ্রয়ীভূত পদের শক্যার্থে অবস্থিত না থাকে তাহা হইলে সেই ধর্মপ্রকাকে লক্ষ্যার্থ- বিশেষক বােধের অনুকুল যে লক্ষণ। তাহাই হইবে জহত্যাৰ্থলক্ষণ। দৃষ্টান্ত স্বরূপে “গঙ্গায়াং ঘােষ—এই বাক্যের অন্তর্গত গঙ্গাপদটিকে গ্রহণ করা যাইতে পারে। গঙ্গপদের তীরত্বরূপ ধর্মবিশিষ্টে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে উক্ত লক্ষ্যতার অবচ্ছেদক যে তীত্ব ধর্ম তাহা গঙ্গালদের শক্যার্থ যে জলপ্রবাহ, তাহাতে অবস্থিত থাকে না। অতএব গঙ্গাপদগত তীরত্ববিশিষ্ট নিরূপিত যে লক্ষণ। তাহাকে জহৎস্বার্থলক্ষণ। বলা হইবে। এইভাবে অন্যান্য স্থলেও জহংস্বার্থলক্ষণ বুঝিতে হইবে। ‘কাচিদি’ত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা অজহৎস্বার্থলণার লক্ষণ নিরূপণ করিতেছেন। কাচিৎ এই অংশটি পূর্বোক্ত লক্ষণার সহিত অন্বয় করিতে হইবে। অর্থাৎ লক্ষ্যতা যেই ধর্মের যারা অবচ্ছিন্ন হইবে উক্ত ধর্মটি যদি শক্যপদার্থে এবং লক্ষ্যপদার্থে বিদ্যমান থাকে তাহ হইলে উক্ত ধর্মপ্ৰকাৰক অনুভবের প্রযােজক যে লক্ষণ। তাহাই হইবে অজৎ- ১। মূলে ‘শ্যাবৃত্তিরূপেণ এখানে আবৃত্তিত্বের ঘটক বৃত্তিটি শক্যবচ্ছেদকতার ধটক সম্বন্ধের ধারা অবচ্ছিন্ন হইবে। যে কোন সম্বন্ধে ব্যক্তিত্বকে গ্রহণ করিলে তীত্বৰূপ ধর্মটি কালিকাদি সম্বন্ধে গঙ্গা পদের শক্যার্থ জলপ্রবাহে বৃত্তি হওয়ায় গঙ্গাপদগত লক্ষণ। অহংকার্ধলক্ষণ হতে পারে না।
র বমিলিত লক্ষণ। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, শক্য এবং লক্ষ্য উভয়বৃত্তির ধর্মবিশিষ্টের অভাবক লক্ষণা যদি অর্থলক্ষণারূপে স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে নীল-খটত্ব প্রকারে ঘটদে লক্ষণ। শক্য এবং লক্ষ্য উভন্ধবৃত্তি না হওয়ায় অতিরিক্ত স্বীকার করিতে হয়, ফলে গ্রন্থকার যে লক্ষণার বিভাগ প্রদর্শন করিয়াছেন তাহা ব্যাহত হইবে—এই আশঙ্কা পরিহার করিবার জন্য প্রকারান্তরেও অজহৎস্বার্থলক্ষণার লক্ষণ বলিতেছেন-ক্যবৃত্তি নৈব বেতি” অর্থাৎ শক্যমাত্রবৃত্তি কোনও একটি ধর্মকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া অয়বােধের অনুকুল যে লক্ষণ। তাহাও হইবে অহৎস্বার্থপক্ষণ।। দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন যথা—দ্রব্যত্বাদিনা ঘটত্বাদিনা চ ঘটপদ।” অর্থাৎ ঘটপনিরূপিত লক্ষণ যখন ঘটপটাদি সাধারণ ব্যত্ব ধর্মের দ্বারা অথবা নীল-ঘটত্বরূপ বিশেষ ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হইবে তখন উক্ত ঘটপদের লক্ষণ। অতহৎস্বার্থলক্ষণা রূপে গণ্য হইবে। কাচিদ লক্ষ্যবচ্ছেদকীভূত’ ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা নিরূঢ় লক্ষণার লক্ষণ বলিতেছেন। অর্থাৎ লক্ষ্যতার অবচ্ছেদক তং ধর্মপুরস্কারে পূর্ব পূর্ব প্রতীতির জনক যে লক্ষণ তাহাই হইবে নিরূঢ় লক্ষণ।। ফলে অনাদি তাৎপর্যমূলক তত্তদ ধর্মপ্রকারক অন্বয়বােধের অনুকূল লক্ষণাই হইবে নিরূঢ় লক্ষণ।। যথে’ত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা নিরূঢ় লক্ষণার দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, “অরুণয়ৈক হয়। গবা সােমং ক্রীণাতি” এই শ্রুতিবাক্যস্থলে, উক্ত বাক্যের অন্তর্গত তৃতীয়াবিভক্ত্যন্ত অরুণাপদার্থের অভেদ সম্বন্ধে গােপদার্থে অৱবােধের অনুকুল অনাদি তাৎপর্য রহিয়াছে। যদি অরুণাপদে রক্তিমৰূপ শ্যার্থ গৃহীত হয়, তাহা হইলে উক্ত তাৎপর্যের অনুপপত্তি হইবে। এইজন্য অরুণাপদের অরুণিমা-বিশিষ্ট দ্রব্যে অনাদি তাৎপর্যমূলক নিরূঢ় লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। আধূনিক লক্ষণা নিরূপণ করিবার জন্য কাচিচ্চ” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। যে লক্ষণার মূলে লাক্ষণিক অর্থটি পূর্ব পূর্ব শব্দপ্রতীতির বিষয় হয় নাই সেই লক্ষণা হইবে আধুনিক লক্ষণা; অর্থাৎ অস্মাদির আধুনিক তাৎপর্যমূলক যে লক্ষণ। তাহারই নাম আধুনিক লক্ষণ। দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন “যথা ঘটত্বাদিন। পটাদিদ। অর্থাৎ পটাদি’ পদের যখন ঘটরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে তখন পটাদি পদনিরূপিত লক্ষণাটি ঘটত্বরূপ ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং উক্ত লক্ষণ। আধুনিক তাৎপর্যমুলক হইয়া থাকে এইজন্য উক্ত লক্ষণা আধুনিক লক্ষণা হইবে। কারিকায় “আধুনিকাদিকা:* এখানে উল্লিখিত ‘আদি’ পদের সার্থক্য প্রদর্শন করিবার জন্য ‘আদি’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, কাৰিকাস্থিত ‘আদি’ পদের দ্বারা গৌণী নামধেয়া অপর একটি লক্ষণ সংগৃহীত হইয়াছে। দৃষ্টান্তস্বরূপে “অগ্নিৰ্মাণৰক” এই ভুলটি প্রদর্শিত হইয়াছে। অগ্নিৰ্মাণৰক:’ এখানে ‘অগ্নি’ পদটির যদি শ্যার্থ গৃহীত হয়, তাহা হইলে মাণবক পদার্থে অগ্নি পদার্থের অভেদান্বয়বােধ ইতে পারে না। এইজন্য ‘অগ্নি’ পদের অগ্নি সদৃশত্বরূপ ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন লক্ষণ। বীকার করিতে হইবে। ফলে, মাণৰক পদার্থে অগ্নি সদৃশত্বাবছিয়ে অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধ নির্বাহ হইবে। ইত্যাদৌ এই আদি পদের দ্বারা আদিত্যো বৈ যুপ सार्षकादे लक्षानामनिरूपणम् ‘আয়ুৰৈ ঘতম এই সকল স্থলে আদিত্য পদের আদিত্য সদৃশত্ববিশিষ্ট এবং আয়ুঃ পদের অায়ুর্জনক বিশিষ্টে গৌীলক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, নিরূঢ়লক্ষণাতে এবং আধুনিক লক্ষণাতে জহৎার্থত্ব ধর্মটি অবস্থিত থাকায় এবং জহৎ স্বার্থশক্ষণাতেও নিরূঢ়ত্ব প্রভৃতি ধর্ম অবস্থিত থাকার ফলে জহৎস্বার্থ প্রভৃতি লক্ষণার বিভাগ অসঙ্গত হইবে না কেন? যদি বলা হয়, অহৎদ্বাৰ্থ প্রভৃতি লক্ষণ। অর্থাৎ উপধেয় সঙ্কীর্ণ (অভিন্ন) হইলেও উপাধি যে জহৎস্বার্থত্ব প্রভৃতি ধর্ম তাহা বিভিন্ন হওয়ায় তদ উপাধি পুরস্কারে লক্ষণার বিভাগ সঙ্গত হইবে। এই উক্তিও ঠিক নহে, কারণ পরস্পর বিরুদ্ধধর্মপুরস্কারে পদার্থের বিভাগ হইয়া থাকে। সুতরাং সামান্য ধর্মবিশিষ্ট পদার্থসমূহগত বিরুদ্ধধর্মসমূহই বিভাজক ধর্ম হইবে। জহৎব্যর্থলক্ষণা বা নিরূঢ়াদি লক্ষণাগত জহৎদ্বার্থত্ব বা নিরূঢ়ত্বাদি ধর্মসমূহ কিন্তু সমানাধিকরণ হওয়ায় পরস্পর বিরুদ্ধ নহে। সুতরাং তত্ত ধর্মপুরস্কারে লক্ষণার বিভাগ হইতে পারে না। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে বলিতে হইবে, বিভাজক ধর্মসমূহ পরস্পর বিরুদ্ধ হইলে যেরূপ তদ্ভদ ধর্ম- পুরস্কারে পদার্থের বিভাগ উপপন্ন হয়, তদ্রুপ বিভাজকতাৰচ্ছেদক ধর্মসমূহ পরস্পরবিরুদ্ধ হইলেও তত্ত ধর্মবিশিষ্ট ধর্মপুরস্কারে তদায়ীভূত ধর্মীয় বিভাগ স্বীকৃত হইয়া থাকে। প্রকৃতস্থলে লক্ষণার বিভাজক ধর্মগত ধর্মসমূহ পরস্পরবিরুদ্ধ হওয়ায় জহৎস্বার্থত্বাদিরূপে লক্ষণার বিভাগ উপপন্ন হইবে। অথবা জহৎস্বার্থ, অস্বার্থ, নিরূঢ় এবং আধুনিকাদি লক্ষণাগত তত্তদ ধর্মসমূহের বিভাগই এখানে গ্রন্থকারের অভিপ্রেত। তগত বিভাজক ধর্মসমুদায় পরস্পরবিরুদ্ধ হওয়ায় লক্ষণার বিভাজক ধর্মের বিভাগ উপপন্ন হইবে। আশঙ্কা হইতে পারে “রূঢ় লক্ষকঞ্চৈব” ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে রূঢ়লক্ষক প্রভৃতি নাম- সমূহ পূর্বে প্রস্তাবিত হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে প্রস্তাব বহিভূত লক্ষণার বিভাগ প্রদর্শিত হওয়ায় অর্থান্তরূপ দোষ হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার দেব- মিত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা লাক্ষণিক নামের বিভাগের উপযােগী রূপে লক্ষণাৰিভাগের সার্থকত্ব প্রদর্শনপূর্বক লাক্ষণিক নামের বিভাগ সুস্পষ্টভাবে প্রতিপাদন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, জহৎস্বার্থা প্রভৃতি লক্ষণ। যেহেতু বিভিন্ন, অতএব বিভিন্ন লক্ষণার আশ্রয় লাক্ষণিক নামও জাৎস্বার্থাদি ভেদে নানাবিধ হইবে। “জহংস্বার্থাদি এই আদি পদের দ্বারা অজহংস্বার্থ, নিরূঢ়, আধুনিক এবং গৌণী নাম গৃহীত হইবে । मूलम् स्यादेतद्, यदि तीरादिलक्षकतया गङ्गादिपदस्य ज्ञानं तोराधनुभवे भवेद्धतु भवेदप्युतक्रमेण लक्षकाणां विभागः, न त्वेतदस्ति, तीराधन्वय- बोधं प्रति तीरादि शक्तत्वेनैव पदज्ञानस्य लाघवेन हेतुतया लक्षकाणा- शब्दशक्तिप्रकाशिका मननुभावकत्वात् , गुरूणा-“ममौ शैत्यं स्पृशे दित्यादौ शक्येन दहनादिनेव 'गङ्गायां घोष' इत्यादौ लक्षितेन तीरादिना सार्धमगृहीतासंसर्गकस्यैव सप्तम्यर्थाधेयत्वादेरन्वयबोध-प्रविष्टत्वादिति ; चेन, प्रकृत्यर्थावच्छिमस्यैव प्रत्ययार्थस्य धर्म्यन्तरेऽन्वयबुद्ध व्युत्पन्नतया तीराबविशेषितस्य सुवांधेय- वादे!षादावन्वयबोधयोगात् । न च शक्तपदस्यैव स्वसाकाङ्क्षपदान्त- रोपस्थाप्यान्वितस्वार्थधर्मिकान्वयबोध प्रति हेतुत्वादन्वयबुद्धौ लक्ष्यार्थस्य प्रवेशा, कुन्ताः प्रविशन्तीत्यादौ लक्ष्यस्य कुन्तधरादेरन्वयविशेष्यत्वानुप- कुमतिः पशुरित्यादौ लक्ष्यार्थयोमिथोऽन्वयबोधस्याप्यानु- मविकत्वाच्च, तस्माच्छतेवि भक्तरपि ज्ञानमनुभावकं भवत्येव, कार्यता- वच्छेदकस्य सङ्कोचाच्च न व्यभिचारः । বে। অনুবাদ শঙ্কা) যদি তীর প্রভৃতি অর্থে লাক্ষণিকত্ব পুরস্কারে গঙ্গাদি পদের জ্ঞান তীদি গােচর অনুভবের প্রতি কারণ সম্ভবপর হয় তাহা হইলেই পূর্বোক্তক্রমে লাক্ষণিক নামের বিভাগ (সঙ্গত) হইতে পারে। পরন্তু ইহা এইরূপ নহে (লাক্ষণিক পদজ্ঞান লক্ষ্যার্থবােধের কারণ নহে), তীরদিগােচর অম্বয়বােধের প্রতি লাঘববশতঃ তীনাদিনিরূপিত শক্তিমত্ত্বপুরস্কারে পদজ্ঞানের কারণত্ব কল্পিত হইবে। অতএব লাক্ষণিক নাম অন্বয়বােধের যােগ্য নহে। গুরুমতে (“অয়ে শৈত্যং স্পৃশেৎ”) অগ্নিতে বর্তমান শৈত্যকে স্পর্শ করিবে, এখানে যেরূপ অগ্নি পদের শক্য বহ্নির সহিত অগৃহীতা সংসর্গক (শৈত্যগত) সপ্তমী বিভক্তির অর্থ আধেয়ত্ব অম্বয়বােধে প্রবিষ্ট হইয়া থাকে তদ্রুপ “গঙ্গায়াং ঘােষ” এই সকল লাক্ষণিকপদঘটিত বাক্যস্থলেও গঙ্গাপদের লক্ষ্যার্থ তীরের সহিত অগৃহীতা সংসর্গক সপ্তমী বিভক্তির অর্থ (ঘােষগত) আধেয়ত্ব ও অন্বয়বােধে প্রবিষ্ট হইবে। উক্ত আশঙ্কা সমাধানকল্পে বলিতেছেন “ইহা ঠিক নহে”। কারণ, প্রকৃত্যর্থবিশিষ্ট প্রত্যয়ার্থেরই পদার্থান্তরে অন্বয়বােধ হইয়া থাকে, ইহা ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ। সুতরাং গঙ্গাপদের লক্ষ্যার্থ ভীয়ের দ্বারা বিশেষিত নহে এইরূপ সপ্তমী বিভক্তির অর্থ আধেয়দের ঘােম পদার্থে অন্বয়বােধ হইতে পারে না। যদি বলা হয় শক্ত পদেরই साकसद लक्षकनामनिरूपणम् তৎপদের সহিত সাকা পদারের দ্বারা উপস্থাপিত (লক্ষ্য) পদার্থানুষের দ্বারা বিশেষিত তৎপদার্থধর্মিক অন্বয়বােধের প্রতি কারণ স্বীকৃত হইবে। অতএব অন্বয়বােধে (এইভাবে ) লক্ষ্যার্থের প্রবেশ সম্ভবপর হইতে পারে। এই উক্তিও ঠিক নহে। কারণ ‘কুন্তাঃ প্রবিশন্তি এই স্থলে কুন্ত পদের লক্ষ্যার্থ যে কুন্তধর তাহাতে অন্বয়বােধীয় বিশেষত্বের অনুপপত্তি হইবে। (আরও বক্তব্য) “কুমতি পশু” এই সকল সার্বক্ষণিক পদঘটিত বাক্যস্থলে কোনও শক্তপদ উক্ত বাক্যের অন্তর্গত না হওয়ায় গুরুমতে অম্বয়বােধের অনুপপত্তি হইবে। অতএব শক্তির ন্যায় লক্ষণাও অম্বয়ানুভবের জনক স্বীকৃত হইবে। কার্যতার অবচ্ছেদক ধর্মের সঙ্কোচনিবন্ধন ব্যভিচারদোষের সম্ভাবনাও তিরােহিত হইবে। বিবৃতি এখন আশঙ্কা হইতে পারে নৈয়ায়িক সম্প্রদায় “গায়াং ঘোষ:” ইত্যাদি বাক্যের অন্তর্গত গঙ্গা প্রভৃতি পদ হইতে তীর প্রভৃতির অন্বয়বাধের অনুরােধে গঙ্গাপদের তীররূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকার করিয়া থাকেন। যদি গজাপদের লক্ষণ। স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে তীর রূপ অর্থে বৃতিবিশিষ্ট গঙ্গাপদের জ্ঞান তীররূপ অর্থ বিষয়ক অন্বয়বোধের জনক হইতে পারে না। অতএব, ‘গঙ্গাপদ তীরগােচন্বয়বোধামুকুলবৃত্তিমতীগোচরায় বােধজনক যথার্থজ্ঞানবিষয়ুশব্দত্বাৎ' এইরূপ অনুমান প্রমাণের সাহায্যে লক্ষণার ইতর বৃত্তির বাধনিশ্চয় বশত: গজাপদের তীররূপ অর্থে লক্ষণ। সিদ্ধ হইবে। নৈয়ায়িকপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিকুলে, প্রভাকরসম্প্রদায় বলেন, উক্ত অনুমান প্রমাণমুলে গঙ্গাদের লক্ষণা সিদ্ধ হইতে পারে না, কারণ, উক্ত অনুমানে পক্ষ যে গঙ্গাপদ তাহাতে তাদৃশ শব্দত্বরূপ হেতু না থাকায় উক্ত হেতু রূপাসিদ্ধ হইবে। সুতরাং স্বরূপাসি হেতুর দ্বারা লক্ষণার অনুমান হইতে পারে না। “স্যাতেদিত্যাদি গ্রহের মাধ্যমে প্রাক সম্প্রদায়ের উক্ত মত প্রদর্শন পূর্বক খণ্ডন করিতেছেন। “ তীতবে এখানে অনুভব পদের দ্বারা অম্বয়বােধ প্রতীয়মান হইবে। তাৎপর্য এই যে, যদি “গঙ্গাপদং তীরসঙ্গকং” এইরূণে লক্ষণাকায়ক গঙ্গাপদবিশেষজ্ঞান তীরবিষয়ক মন্বয়বােধের কারণ হয়, তাহা হইলে নৈয়ায়িকসম্মত জহত্যার্থ, অহত্যার্থ, নিরূঢ় আধুনিকভেদে লক্ষণার বিভাগ সঙ্গত হইতে পারে। বাস্তবিকপক্ষে কিন্তু লাক্ষণিক গঙ্গাদিপদজ্ঞান শব্দবােধের জনকই নহে। মীমাংসকগণের উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নৈয়ায়িকসম্প্রদায় যদি বলেন তদগােচর অন্বয়বােধের প্রতি তন্নিরূপিত বৃত্তিম ধর্মপুরস্কারে পদজ্ঞানের কারণ। অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। যদি উক্তরূপে কার্যকারণভাৰ স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে লক্ষণাৰ ন্যায় শক্তিরও বিলয় এসক্তি হইবে। অতএব শাবােধের কাৰণতাবছেদকরূপে শক্তি যেরূপ বীকৃত । তদ্রুপ লক্ষণও এখীকার করিতে হইবে।
शब्दशक्तिप्रकाशिका । নৈয়ায়িকগণের এই বক্তব্যের উত্তরে মীমাংসকসম্প্রদায় বলেন, শাবােধের প্রতি শক্তিবিশিষ্ট পদের জ্ঞানই কারণ, লাক্ষণিক পদজ্ঞান নহে, কেননা তীদিবিষয়ক সম্বয়- বােধের প্রতি লাঘবত তীনাদিনিরূপিত শক্তিপ্ৰকারক পদবিশেষ কজ্ঞানই কারণ, লাক্ষণিক পদজ্ঞান কখনও অম্বয়বােধে কারণ হইবে না, ইহার উপরে আশঙ্কা হইতে পারে, প্রাভাকমতে অন্যথাখ্যাতিরূপ ভ্রম স্বীকৃত নহে। সুতরাং এই মতে তীরনিরূপিত শক্তি পুরস্কারে গঙ্গাদের জ্ঞান সম্ভাবিত নহে। ফলে ‘গঙ্গায়াং ঘােষ ইত্যাদি বাক্য খুলে তীপদার্থের সহিত ঘোষ পদার্থের আধা-আধেয়ভাব প্রতীয়মান হইতে পারে না। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার ‘গুরূণমিত্যাদি’ সন্দর্ডের দ্বারা প্রাকমতের উপসংহার করিতেছেন। তাৎপৰ্থ এই যে, ‘অগ্নৌ শৈত্যং স্পৃশেৎ, এই বাক্যস্থলে অন্যথাখ্যাতিবাদী নৈয়ায়িকগণের মতে অগ্নিপদের অব্যবহিত উত্তরবতী সপ্তমী বিভক্তির বৃতিত্বৰূপ অর্থ, শৈত্য- পদের শীতস্পর্শরূপ অর্থ, পৃশ, ধাতুর ত্বগিন্দ্রিয়জন্য লৌকিক প্রত্যক্ষরূপ অর্থ এবং আখ্যা- তিক লিঙ, প্রত্যয়ের আশ্ৰয়ত্বরূপ অর্থ প্রতীয়মান হওয়ায় অগ্নিপদার্থ নিরূপিতত্ব সম্বন্ধে বৃত্তিত্বে, বৃত্তিত্ব স্বরূপসম্বন্ধে শীতস্পর্শে, শীতস্পর্শ বিষয়ত্ব সম্বন্ধে স্পৃশ,ধাতুর অর্থে এবং স্পৃশ,ধাতুর অর্থ গিন্দ্রিয়জন্য লৌকিকপ্রত্যক্ষের আখ্যতার্থ আশ্ৰয়ত্বে অম্বিত হওয়ায় অগ্নিনিরূপিত- বৃত্তিমৎ শৈত্যৰিষয়ক ত্বা,প্রত্যক্ষ নিরূপিত আশ্ৰয়তাবা এইরূপ শব্দবোধ হইবে। উক্ত ক্যান্তৰ্গত অগ্নিপদার্থে শীতস্পর্শরূপ শৈত্য বাধিত হওয়ায় অগ্নি এবং শৈত্য এতদুভয়ের যথার্থ অধ্যরাধেষভাব প্রতীয়মান হইতে পারে না। ইহার ফলে উক্ত শব্দবােধের বিষয় শৈত্যগত বৃত্তিত্বে নিরূপিতত্বসম্বন্ধে অগ্নি না থাকায় উক্ত বৃত্তিতাংশে অগ্নির ভ্রম স্বীকৃত হইবে ইহাই নৈয়ায়িকগণের অভিপ্রেত। মীমাংসক প্রভাকরের মতে মজ্ঞান স্বীকৃত না হওয়ায় উক্ত বাক্যস্থলে সপ্তমী বিভক্তির অর্থ যে ব্যক্তিত্ব তাহার শৈত্যাংশে অয় স্বীকৃত হইলেও উক্ত বৃত্তিত্বাংশে অগ্নি পদার্থের ভ্রম স্বীকৃত হইতে পারে না। এইজন্য উক্ত বিশকলিত বৃত্তিাদিগােচর জ্ঞানের বিষয় যে বৃত্তিত্ব তাহাতে অগ্নিপদার্থের অসংসর্গের অগ্ৰহ স্বীকৃতি মূলে বহ্নিপদের শকাৰ্থ দহন প্রভৃতির সহিত অগৃহীতা সংসর্গকবৃত্তিপদার্থের যেরূপ অবােধ হইয়া থাকে। “গঙ্গায়াং ঘােষ' এইস্থলেও তদ্রুপ গঙ্গাপদের লক্ষ্যার্থ তীয়প্রভৃতির সহিত অগৃহীতাসংসর্গক সমর্থ আধেয়ত্বপ্রভৃতির অম্বয়বাধে প্রবেশ সম্ভবপর হইতে পারে। ইহাই প্রভাকর সম্প্রদায়ের পূর্বপক্ষ। গ্রন্থকার নৈয়ায়িকসিদ্ধান্ত অবলম্বন করিয়া উক্ত প্রভাকরমত খণ্ডন করিবার জন্য ‘প্রকৃত্যৰ্থাৰচ্ছিন্নবৈ’ ইতাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ঘটমাময়' ইত্যাদি বাক্যস্থলে ঘটপদোত্তর অম্ বিভক্তির অর্থ কর্মত্বের নিরূপকত্ব সম্বন্ধে আনয়ন পদার্থে এবং আঙপূর্বক নী ধাতুর উত্তৰতী লােট হি প্রত্যয়ের অর্থ যে কৃতি তাহার ত্বম্ পদার্থে যে অবােধ হয় সেখানে উক্ত অম্ প্রত্যয়ে অর্থ কর্মত্ব, প্রকৃতির অর্থ ঘটবিশিষ্ট হইয়া এবং হি প্রত্যয়ের অর্থ কৃতিও অনুকুলসম্বন্ধে যাত্বৰ্থ ৰানয়নবিশিষ্ট হইয়াই পদার্থান্তর যে আনয়ন বা ত্বং পদার্থ তাহাতে বিশেষণরূপে জৰিত হইয়া থাকে। অগ্নৌ শৈত্যং স্পশেৎ’ এখানে প্রকৃতির অর্থ যে এগি, নিরূপিতা साकशाब्बे समकनामनिरूपणम् সম্বন্ধে বিশিষ্ট হইয়াই সপ্তমী বিভক্তির অস্তিত্ব, শৈত্য পদার্থ যে শীতস্পর্শ তাহাতে বিশেষণরূপে অন্বিত হইবে। বিশকলিত ব্যক্তিত্ব পদার্থের অবয়বােধ ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ নহে, কারণ, প্রকৃত্যৰ্থাৰচ্ছিন্ন-ৰাৰ্থৰোধত্বং প্রত্যয়নাম’ এইরূপ ব্যুৎপত্তি সকলেরই অনুভৰসিদ্ধ। এই অভিপ্রায়েই জগদীশ বলিয়াছেন তাদৃশ অন্বয়বুদ্ধি যেহেতু ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ, অতএব করমতে, ‘গঙ্গায়াং ঘােষ এই সকল লাক্ষণিক পদঘটিত বাক্যস্থলে গঙ্গাপদের লক্ষ্যার্থ যে তীর তাহার দ্বারা বিশেষিত না হইয়া বিশকলিত সপ্তমী বিভক্তির অর্থ আধেয়ত্ব প্রভৃতির ঘােষ পদার্থে অন্বয়বোধ সৰপর নহে। যদি প্রভাকর সম্প্রদায় বলেন; তাহাদের মতে লাক্ষণিক পদজ্ঞান অন্বয়বােধের জনক স্বীকৃত না হইলেও লাক্ষণিক পদ সমভিব্যাহত যে শক্তপদ, উক্ত শক্ত পদজ্ঞানই শপদের সহিত সাকা যে ক্ষণিক পদান্তর তাহার দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের দ্বারা অম্বিত যে স্বার্থ (শকাৰ্থ ) তদ্বিশেষক অম্বয়বােধের প্রতি কারণ কল্পিত হইবে, অতএব ‘গঙ্গাস্থাং ঘোষ?' এই সকল লাক্ষণিক পদ ঘটিত বাক্যস্থলে, আভীরপল্লীরূপ অর্থে শক্তিবিশিষ্ট ঘােষণদের জ্ঞান হইতেই ‘গঙ্গাঙ্গীর বৃত্তি ঘোষ এই আকারের, গঙ্গাতীরবৃত্বিকারক ঘোষপদার্থবিশেষক শব্দবােধ হইতে পারিবে। সুতরাং প্রাকমতে এইভাবে লক্ষ্যার্থ বিশেষণরূপে অন্বয়ৰৰাধের বিষয় হওয়ায় শকার্থের ন্যায় ক্ষ্যার্থও অম্বয়বােধে প্রবিষ্ট হইবে। গ্রন্থকার বলিতেছেন, প্রাকসম্প্রদায় যে লক্ষ্যার্থ প্রকারক শক্যার্থ বিশ্যেক অন্বয়বােধের প্রতি শক্ত পদজ্ঞানের কারণ তা কল্পনা করেন ইহা কিন্তু সমীচীন নহে। কারণ ‘কুন্তা: বিশন্তি’ এই বাক্যের অর্গত প্ৰথমৰ ৰচন্ত কুন্ত পদটি কুন্তধর অর্থে লাক্ষণিক হইলেও কুন্তধর রূপ লক্ষ্যার্থটি প্রবেশন ক্রিয়ার আশ্রয় রূপে বিশেষ্য হইয়াছে। অতএব প্রাকসম্প্রদায় যে বলেন শক্যার্থরূপ ধমীতে লক্ষ্যার্থ বিশেষণরূপে তান হয় । সঙ্গত নহে। যদি প্রভাকরসম্প্রদায় বলেন ‘কুন্তা: বিশস্তি' ইত্যাদি স্থলে প্রবেশনক্রিয়ার আশ্ৰয়ত্ব পুরস্কারে কুম্ভধাবিশেক অন্বয়বােধ স্বীকৃত না হইলেও উক্ত বাক্য হইতে লক্ষ্যার্থ এবং শক্যার্থের উপস্থিতি মাত্র হইবে এবং উক্ত বাক্যঘটক লক্ষার্থে ক্যার্থের অসংসর্গের অগ্ৰহমাত্র স্বীকৃত হইবে। প্রাতকর সম্প্রদায়ের এই উক্তির প্রত্যুত্তরে গ্রন্থকার বলেন, প্রাভাকর সম্প্রদায় যদি শক্ত পদজ্ঞানকেই অন্বয়বােধের জনক স্বীকার করেন তাহা হইলে ‘গঙ্গায়াং ঘােষ' ইত্যাদি বাক্যস্থলে কঞ্চিৎ অন্বয়বােধের উপপত্তি সম্ভবপর হইলেও যেখানে বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদ লাক্ষণিক হইবে, সেখানে কি করিয়া একাকর- সম্প্রদায় অম্বয়বােধের উপপাদন করিবেন, গ্রন্থকার এই অভিপ্রায়ে সালাক্ষণিক পদঘটিত বাক্যের দৃষ্টান্তরূপে ‘কুমতিঃ পশু' এই বাক্যটির উল্লেখ করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে উক্ত বাক্যস্থলে ‘কুৎসিতা মতির্যস্ত অসৌ কুমতিঃ এই বহুব্রীহি সমাসের ফলে কুমতি পদটি কুবুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষে লাক্ষণিক এবং পশু পদটি পশু সদৃশরূপ অর্থে লাক্ষণিক কুবুদ্ধিৰিশিষ্ট পুরুষ পশুসদৃশ এইরূপ পশুসদৃশপ্রকারক কুৎসিতবুদ্ধিবিশিষ্ট পুরুষ বিশেষ অৱৰােধ হইয়া থাকে। সুতরাং এই সকল বাক্য হইতে সকলের অনুভবসিদ্ধ অন্বয়বােধের অপলাপ প্রভাকসম্প্রদায় করিতে পারেন না। পরিত্যাদৌ शब्दशक्तिप्रकाक्षिका এখানে আদিপদের দ্বারা ব্যায়াৰৱৰে অন্তৰ্গত ‘ধূমাৎ' ইত্যাদি সার্বক্ষণিক পদঘটিত হেতুবাক্য গৃহীত হইবে। “ধুমাৎ এখানেও ধূমপদটি ধূমজ্ঞানে লাক্ষণিক এবং পঞ্চমী বিভক্তির প্যত্বে লক্ষণ স্বীকৃত হওয়ায় ধুমজ্ঞানজন্য জ্ঞানবিষয়ত্বরূপ উক্ত ক্যার্থের বােধ শক্তিজ্ঞান পদার্থেপস্থিতিকে ধার করিয়া যেরূপে শব্দবোধের জনক এ অনুরূপ- ভাবে লক্ষণীয় জ্ঞানও শব্দবােধের জনক। এই অভিপ্রায়েই তস্মাৎ শক্তেবি’ ইত্যাদি গ্রন্থে দ্বারা আলােচ্য প্রসঙ্গের উপসংহার করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ‘কুমতি পতঃ এই সকল সার্বক্ষণিক পদঘটিত ৰাক্যস্থলে যেহেতু অন্বয়বােধ অনুভবসিদ্ধ, অতএব পদার্থে। পস্থিতির মাধ্যমে শক্তি প্রকারক পদজ্ঞান যেরূপ শব্দানুভবের জনক হয় তপক্ষণাপ্রকারক পদজ্ঞানও পদার্থোপস্থিতিকে ধার করিয়া অনুভবের জনক হইবে ইহা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। “শজেরিব’ ‘ভক্তেরপি' এই উতস্থলে ষষ্ঠীবিভক্তির প্রকারত্বরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। এখানে শক্তি পদের দ্বারা ঈশ্বরসংকেতরূপবৃত্তি, ভক্তি পদের দ্বারা লক্ষণরূপবৃত্তি বুঝিতে হইবে এবং জ্ঞান’ পদের দ্বারা পদজ্ঞান প্রতীয়মান হইবে । ‘তবত্যেব এই এবারের অর্থটি অনুবক পদের অর্থ যে অনুভজনক তদংশে অন্বয় করিতে হইবে। ইহার ফলে শক্তিম পদজ্ঞানের ন্যায় লাক্ষণিক পদজ্ঞানেরও শাত্ববােধ জনকত্ব অবশ্য স্বীকৃত হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে পূর্বোক্ত যুক্তিতে শক্তিকারক পদজ্ঞান এবং লক্ষণাকারক পদজ্ঞান উভয়ই যদি শব্দবােধের জনক হয় তাহা হইলে শক্তিজ্ঞানমাত্র হইতে যেখানে শব্দবােধ উৎপন্ন হইবে সেখানে অন্বয়বােধের পূর্বে লক্ষণগ্রহ থাকায় এবং যেখানে লক্ষণাকারক পদজ্ঞান হইতে শাব্দবােধ উৎপন্ন হইবে সেখানে শাত্ববোধের পূর্বক্ষণে শক্তিপ্রকারক পদজ্ঞান অবস্থিত না থাকায় পরস্পর জন্য কার্ষে পরস্পরের ব্যভিচার অর্থাৎ শক্তিপ্রকার জ্ঞান এবং লক্ষণাপ্রকাৱকজ্ঞান এতদুভয়ের ব্যতিরেকব্যভিচার হইবে, সুতরাং উক্ত জ্ঞানদ্বয়ের কোন জ্ঞানই শাত্ববােধের জনক হইতে পারে না। গ্রন্থকার উক্ত ব্যতিরেক-ব্যভিচার শঙ্কা নিৱাস করিবার জন্য বলিতেছেন কার্যবচ্ছেদক সঙ্কোচাচ্চ ন ব্যতিচার তাৎপর্য এই যে স্বাব্যবহিতারত্ব সম্বন্ধে শক্তি- একারক জ্ঞানবিশিষ্ট শব্দবােধের প্রতি শক্তিপ্রকারক পদজ্ঞানের এবং স্বাৰ্যৰহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে লক্ষণাপ্রকারক পদানবিশিষ্ট শব্দবােধের প্রতি লক্ষণাপ্রকারক পদজ্ঞানের জনকত্ব কল্পনা করিতে হইবে। এইভাবে তৎকারণজনিত শব্দবুদ্ধিত্বরূপ কার্যাবচ্ছেদক ধর্মের সঙ্কোচনিবন্ধন শঙ্কিত ব্যভিচার বারিত হইবে। উক্ত কার্যকারণভাৰ সঙ্কুচিত ১। ফলিতাৰ্থ এই যে তথ্যাৎ ইত্যাদি তৰত্যেৰ ইত্যন্ত গ্রন্থ হইতে যেহেতু সাৰ্বলা- ক্ষণিক ‘কুমতি: পশু ইত্যাদি স্থলে শাত্ববােধ অনুভবসিদ্ধ, অতএব তৎপদার্থের উপ- স্থিতিকে দ্বার করিয়া শক্তিপ্রকাৱক পদজ্ঞান যেরূপ অন্বয়বােধের জনক হয় তদ্রুপ তত্ত- পদার্থেপস্থিতির মাধ্যমে লক্ষণকারক গঙ্গাদিপদবিশেষজ্ঞানও অবশ্য অনুভবের জনক হইবে।
सार्यकशन्दे लक्षकनामनिरूपणम् ৭০৭ হওয়ার ফলে শক্তিপ্ৰকাৰকপঞ্জনের অব্যবহিভােন্তরক্ষণে সায়মান অষয়বােধের প্রতি লক্ষণাকারক পদজ্ঞান কারণ নহে। এবং লক্ষণাকারক পদজ্ঞানের অব্যবহিতােত্তর- ক্ষণে জায়মান শব্দবােধের প্রতি শক্তিপ্রকারক পদজ্ঞানও কারণ নহে। সুতরাং তত্ত্ব কার্ধের অব্যবহিতপূর্বক্ষণে কারণের অবস্থিতিনিবন্ধন ব্যতিরেক-ব্যভিচারের সম্ভাবনা তিরােহিত হইল। ॥ সার্থকশষে লকনামনিরূপণ সমাপ্ত ।
सार्थकशब्दे योगरूढ़नामनिरूपणम् मूलम् योगरूढ़ नाम लक्षयति- स्वान्तर्निविष्टशब्दार्थ-स्वार्थयोर्बोधन्मिथः । योगरूड़ न यत्रैकं विनाऽन्यस्यास्ति शाब्दधीः ॥ २६॥ অনুবাদ যােগরূঢ় নামের লক্ষণ করিতেছেন—নিজের অন্তর্গত শব্দসমুহের অর্থ এবং স্বকীয় অর্থ এতদুভয়ের পরস্পর নিরূপ্যনিরূপকভাবাপন্ন বিষয়তাশালি বােধের জনক নামকে যােগরূঢ় নাম কহে। যেখানে যােগার্গ এবং রূঢ্যর্থ এতদুভয়ের একটিকে পরিত্যাগ করিরা অপরটির অন্বয়বােধ হয় না। বিবৃতি “রূঢ় লক্ষঞ্চৈব যােগরূঢ়ঞ্চ যৌগিকম” ইত্যাদি কারিকোক্ত নামসমূহের মধ্যে রূঢ় ও লাক্ষণিক নাম নিরূপণ করিবার পর ক্রমপ্রাপ্ত যােগরূঢ় নামের লক্ষণ বলিবার জন্য ভূমিকা করিতেছেন—“যােগরূঢ়ং নাম লক্ষতি”। অর্থাৎ, নামবিভাগ কারিকায় উল্লিখিত রূঢ়নাম এবং দক্ষকনাম, লক্ষণ বিভাগ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিরূপিত হওয়ার পর ‘স্বান্তর্নিবিষ্ট ইত্যাদি শ্লোকের দ্বারা তৃতীয়নামরূপে ক্রমপ্রাপ্ত যােগরূঢ়নামের লক্ষণ বলিতেছেন। যান্তর্নিবিষ্ট এবং স্বার্থ এই উভয় স্থলেই স্বপদের দ্বারা যােগরূঢ় নামলক্ষণের লক্ষ্যরূপে অতিমত নামকে গ্রহণ করিতে হইবে। অন্তর্নিবিষ্ট পদটি অবয়বরূপ অর্থে অভিহিত হইয়াছে। কোন একটি শব্দের অবয়ব অর্থাৎ ঘটক শব্দসমূহের শক্যঅর্থকে যােগার্থ বলা হইয়া থাকে। আবার উক্তশব্দটির যদি অর্থবিশেষে সমুদায়গত শক্তি স্বীকৃত হয় তাহা হইলে উক্তশব্দটি মিলিতভাবে সমুদায়-ক্যার্থে অবয়বলত্য শক্যার্থের নিরূপ নিরূপকতাবাপন্ন বিষয়তাশালিবােধের জনক হওয়ায় উক্তশদ যােগরূঢ় শব্দরূপে অভিহিত হইৰে। আরও বিশেষ এই যে, উক্তশব্দ কেবল মাত্র অবয়ব-ক্যার্থের বা কেবলমাত্র সমুদায় ক্যার্থের বােধক হইবে না। দৃষ্টান্তরূপে, আমরা পঙ্কজশব্দটিকে গ্রহণ করিতে পারি।
सार्थकशब्दे योगदनामनिरूपणम् ৭০০ পঙ্কজশব্দটি পন্ধে জাত এই অর্থে পঙ্ক উপপদের সহিত জন্ ধাতু ড প্রত্যয় করিয়া নিম্পন্ন হইয়াছে। (পঙ্ক - জন +ড) পঞ্চশব্দের অর্থ কর্দম, জনধাতুর অর্থ উৎপত্তি, ড প্রত্যয়ের অর্থ কর্তৃত্ব বিশিষ্ট, অতএব পঙ্ক - উৎপত্তি-কর্তা ইহাই পঙ্কজ পদের যৌগিকঅর্থ, এবং সমুদায়শ্যার্থ অর্থাৎ রূঢ্যর্থ পদ্ম। সুতরাং পঙ্কজশদ হইতে পঙ্কজান কর্তৃক পরিত্যাগ করিয়া কেবলমাত্র পদ্মত্ববিশিষ্ট পদ্মের অথবা পদ্মকে পরিত্যাগ করিয়া কেবলমাত্র পঙ্কে জাতরূপ পঙ্কজনি কর্তৃত্বের আশ্রয়ের উপস্থিতি বা শব্দবােধ হইবে না। পরন্তু পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব বিশিষ্ট পদ্মত্ব পুরস্কারেই জল কমলের বােধ হইবে। কোন ক্রমেই যােপার্থের দ্বারা অবিশেষিত কেবল রূঢ়ার্থের অথবা রূঢ্যর্থের বিশেষণতাশূন্য কেবল যােগলভ্য শক্যার্থের বােধ হইবে না। मूलम् यन्नाम स्वावयववृत्तिलभ्यार्थेन समं स्वार्थस्यान्वयवोधकृत् तन्नाम योगरूढ़, यथा-पङ्कज-कृष्णसाधर्मादि, तद्धि स्वान्तनिविष्टानां पङ्कादि- शब्दानां वृत्तिलभ्येन पङ्कजनिक दिना समं स्वशक्यस्य पद्मादेरन्वयानु- भावकं, पङ्कजमित्यादितः पङ्कजनिक पद्ममित्यनुभवस्य सर्वसिद्धत्वात् । অনুবাদ যেই নাম নিজ অবয়বগতবৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের সহিত স্বকীয় অর্থের অন্বয়বােধ জনক হয়, সেই নাম যােগরূঢ় (হইয়া থাকে)। যেমন পঙ্কজ, কৃষ্ণসর্প এবং অধর্ম প্রভৃতি নাম। সেই সকল যােগরূঢ় নাম নিজের অন্তর্গত পঙ্কপ্রভৃতি শব্দগত বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনি-কর্তৃ প্রভৃতির সহিত স্বকীয় (পঙ্কজ শব্দের) শক্যার্থ যে পদ্ম প্রভৃতি তগােচর অন্বয়ানুভবের জনক হইয়া থাকে। অতএব পঙ্কজ প্রভৃতি পদ হইতে পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব বিশিষ্ট পদ্মবিষয়ক শাব্দানুভব সবাদি-সম্মত। বিবৃতি বিশদভাবে যােগরূঢ় নামের লক্ষণ নিরূপণ করিবার জন্য ‘যন্নাম' ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে কারিকার পূর্বাধের বিবরণ প্রদর্শন করিতেছেন। নামপদটি যদিও কারিকায় উল্লিখিত হয় নাই তথাপি চতুর্বিধ নামের প্রস্তাব ক্রমে বিবরণ গ্রন্থের প্রারম্ভে নাম পদটি উল্লিখিত হইয়াছে। “স্বাবয়ববৃত্তিলভ্যার্থেন সমং” এই অংশের দ্বারা নিজের ঘটক পদগত ৭০ शब्दशक्तिप्रकाशिका শক্তিরূপ বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের সহিত” এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। কারিকায় উল্লিখিত “মিথঃ* এই শব্দটি থাকার ফলে উক্ত সাহিত্যরূপ অর্থের লাভ হইয়াছে। ‘স্বার্থস্য’ এখানে স্বার্থ শব্দের দ্বারা স্বগত শক্তিরূপ বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত পদ্মপ্রভৃতি পঙ্কজপদের সমুদায়ার্থ গৃহীত হইবে। ষষ্ঠীবিভক্তির অর্থ বিশেষ্যত্ব, বােধকৃৎ অর্থাৎ অন্বয়- বােধের জনক। উক্ত আলােচনার ফলে যাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট বিশেষ নামটি নিজের অবয়বপদ সমুহের বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থের সহিত স্বকীয় সমুদায় শক্তিলভ্য অর্থবিষয়ক অন্বয়বােধের জনক হয় ; তাদৃশ আনুপূর্ব-বিশিষ্ট বর্ণ সমুদায়ত্ব হইবে যােগরূঢ়নামের বিবরণােক্ত লক্ষণ। এক্ষণে আপত্তি হইতে পারে তাদৃশ আনুপূর্বীর আশ্ৰয়ত্ব যদি যােগরূঢ় নামের লক্ষণ হয় তাহা হইলে অব্যবহিতােরত্ব সম্বন্ধে পূর্বপূর্ব বর্ণ বিশিষ্ট চরমবর্ণরূপ আনুপূর্ব কেবলমাত্র চরমবর্ণে থাকায় পঙ্কজ প্রভৃতি নামে যোগরূঢ় লক্ষণের অসম্ভব রূপ দোষ হইবে না কেন ? এই আপত্তির উত্তরে বলিতে হইবে অব্যবহিতোত্তরত্ব সম্বন্ধে পূর্বপূর্ব বর্ণ বিশিষ্ট চরমবর্ণত্ব যেরূপ আনুপূর্বী হইবে তদ্রুপ অব্যবহিত পূৰ্বত্ব সম্বন্ধে উত্তরােত্তর বর্ণ বিশিষ্ট প্ৰথম বৰ্ণত্ব ও আনুপূর্বীরূপে গৃহীত হইবে। অতএব উক্ত রীতিতে বিশেষ বিশেষ আনু- পূবীকে গ্রহণ করিয়া পঙ্কজাদি পদঘটক বর্ণ সমুদায়ে তাদৃশ আনুপূর্বীর আশ্ৰয়ত্ব থাকিবে। টীকাকার কৃষ্ণকান্ত, অন্বয়বােধের অনুপধায়ক পঙ্কজাদিপদে যােগরূঢনাম লক্ষণের অব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য—যাদৃশানুপূর্ব নিজ আশ্রয়ের শক্য যাদৃশ অর্থধর্মিক স্বাশ্রয়ের অবয়ব ত বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত যাদৃশ অর্থপ্রকারক অন্বয়বােধগত জনকতাব- চ্ছেদক হইবে তাদৃশ আপূর্বীবিশিষ্ট নাম তাদৃশ অর্থঘটিত তাদৃশ অর্থে যােগরূঢ় হইবে; এইরূপ পর্যবসিত যােগরূঢ় নামের লক্ষণ বলিয়াছেন। এই লক্ষণ কিন্তু শাবােধের প্রতি জ্ঞায়মান শব্দের কারণত স্বীকৃতি পক্ষে সম্ভবপর হইতে পারে। নবীন সিদ্ধান্তে জ্ঞায়মান শব্দের কারণত স্বাকৃত নহে, পরন্তু উচিতানুপূর্বক সাকা-শব্দ সমুহের জ্ঞানকেই অন্বয়বােধের কারণরূপে স্বীকার করা হইয়াছে। অতএব পূর্বোক্ত অব্যাপ্তি বার করিবার জন্য যাদৃশানুপূর্বী স্বশ্রযসমুদায় গত শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত যাদৃশ অর্থ বিশেষ্যক স্বায়বট ক পদগত বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত যাদৃশ অর্থপ্রকারক অন্বয়বােধ-নিষ্ঠ- জন্যতা নিরূপিত জন কতবচ্ছেদক বিষয়িতা নিরূপকতার অবচ্ছেদক হইবে তাদৃশ আনু- পূর্ববিশিষ্ট পদ সমুদায়ত্বই হইবে যোগরূঢ় নামের পর্যবসিত লক্ষণ। পঙ্কজপদ হলে পারােত্তব অকারােত্তর কারোর কারোত্তর অকারোত্তর জকারোত্তর অকারােত্তর ডকারােত্তর অস্বরূপ আনুপূর্বাকে গ্রহণ করিয়া তাদৃশ আনুপূর্বীর আশ্রয় ‘পঙ্কজ’ এই সমুদায়গত শক্তিলভ্য ‘পদ্ম’ রূপ অর্থধর্মিক উক্ত পঙ্কজপদের অন্তর্গত ‘পঙ্কজন + ড’ রূপ অবয়বগত বৃত্তিলভ্য পঙ্কজনিকতৃকারক অম্বয়বােধের প্রতি পঙ্কজপদজ্ঞান জনক হওয়ায় উক্ত জ্ঞানগত জনকতার অবচ্ছেদক বিষয়িতা [ পঙ্কজপদগত ] নিরূপকতার অবচ্ছেদকত্ব তাদৃশ পঙ্কজপদগত আনুপূর্বীতে থাকার ফলে পঙ্কজপ্রভৃতি যােগরূঢ়নামে উক্তলক্ষণের সমন্বয় হইবে। সুতরাং এই পর্যবসিত লক্ষণটিই নির্দোষ লক্ষণরূপে গৃহীত হইবে। • सार्यकशब्दे योगरूढ़नामनिरूपणम् १०५ যােগরূঢ় নাম লক্ষণের লক্ষ্য প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন-যথা, পঙ্কজ কৃষ্ণ- সর্পাধাদি। এখানে ‘আদি’ শব্দের দ্বারা যুধিষ্ঠির প্রভৃতি যােগরূঢ়নাম গৃহীত হইবে। লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য তদ্ধি ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতাষণা করিতেছেন। ‘স্বান্ত নির্বিষ্টানাং এখানে স্বপদের দ্বারা পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নাম গৃহীত হইবে। অন্তনিবিষ্ট এই অংশের দ্বারা পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নামের ঘটক অর্থাৎ অন্তর্গত এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। পঙ্কাদি’ এই ‘আদি’ পদের দ্বারা ‘জন' ধাতু এবং ‘ড' প্রত্যয়কে গ্রহণ করিতে হইবে। স্বশকা' এই অংশের পঙ্কজপদগত শক্তি লভ্য রূপঅর্থ অগ্রিম পদ্মপদার্থে অন্বিত ‘বৃওিলভেন' এখানে বৃত্তি শব্দের দ্বারা পঙ্কজ পদের অবয়বগত শক্তি প্রতীয়মান হইবে, কারণ অবয়বের শক্তি দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থকেই যৌগিক পদার্থ বলা হইয়া থাকে । ‘পঙ্কজ' পদস্থলে অবয়ব শক্তির দ্বারা কীদৃশ অর্থ প্রতীয়মান হইবে তাহা প্রতিপাদন করিবার জন্য বলিতেছেন পঙ্কজনি ক'দিন'। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ নিজের অন্তর্গত ‘পঙ্ক’ পদার্থবিশেষিত ‘জন’ ধাত্বৰ্থ বিশেষিত ‘ড’ প্রত্যার্থ কর্তৃ-- রূপ যােগার্থের সহিত সমুদায় অর্থাৎ পঙ্কজ পদের সমুদায় শক্তিলত) পদ্মাদি বিষয়ক অম্বয়ানুভবের জনক হওয়ায় পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ হইতে পঙ্ক-জনিক প্রকার? পদ্ম বিশেষ ক অন্বয়বোধ সকল মতেই স্বীকৃত হইয়া থাকে। এই তিতে কৃষ্ণ সর্প প্রভৃতি শব্দও যােগরূঢ় নাম রূপে গণ্য হইবে। मूलम् इयांस्तु विशेषो यद्रूड्मपि मण्डप-रथकारादिपदं योगार्थविना- कृतस्य रूढार्थस्येव रूढार्थविनाकृतस्यापि योगार्थस्य बोधक, मण्डपे शेते, इत्यादौ योगार्थस्य मण्डपानकादेरिव, मण्डपं भोजयेदित्यादौ समुदिता- र्थस्य गृहादेरयोग्यत्वेनान्वयावोधात् । योगरूढन्तुपङ्कजादिपदमवयववृत्त्या रूढार्थमेव, समुदायशक्त्याचावयवलभ्यार्थमेवानुभावयति, नत्वन्यत्, व्युत्- पत्तिवैचित्र्यात्तथैव साकासत्वात् । अतएव, “पङ्कजं कुमुद" मित्यत्र पङ्कजनिक त्वेन, “भूमौ पङ्कजमुत्पन" मित्यादौ च पनत्वेन पङ्कजपदस्य लक्षणयव कुमुदस्थलपद्मर्योबोध इति वार्तिकम् ।
৭০৫ शब्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ [ কারিকার দ্বিতীয়ার্ধের ব্যাখ্যা করিবার জন্য বলিতেছেন ] ইহাই বিশেষ যে মণ্ডপ শব্দ এবং ‘রথকার' প্রভৃতি শব্দ রূঢ় নাম হইলেও যােগার্থকে পরিত্যাগ করিয়া কেবল ‘রূঢ়ি কেবল ‘রূঢ়ি’ অর্থের যেরূপ বােধক হয়, তদ্রুপ ‘রূঢ়ি অর্থকে পরিত্যাগ করিয়া কেবল যােগার্থেরও বােধক হইয়া থাকে। মণ্ডপে শেতে অর্থাৎ মণ্ডপে শয়ন করে ইত্যাদি বাক্যস্থলে যােগার্থ মণ্ডপান কর্তার যেরূপ বােধ হয় না তােপ মণ্ডপং ভােজয়েৎ( মণ্ডপান কর্তাকে ভােজনকরাইবে ) এইরূপ বাক্যস্থলে মণ্ডপপদের সমুদায় শক্যার্থ যে গৃহাদি তাহার যােগ্যতা না থাকায় অন্বয়বােধ হইবে না। যােগরূঢ় পঙ্কজ প্রভৃতি পদ ( কিন্তু ) অবয়ব শক্তির দ্বারা অবয়ব সমুদায় শক্যার্থের এবং সমুদায় শক্তির দ্বারা সমুদায় শক্যার্থ সহকারে অবয়ব শক্যার্থের বােধ হইয়া থাকে, এতদ্ব্যতিরিক্ত অন্য কোন বিষয়ের অনুভাবক হয়না। বুৎপত্তির বৈচিত্র্যবশতঃ যােগরূঢ় পদের যােগাথ এবং রূঢ্যথ পরস্পর সাকাক্ষ হইয়া থাকে। অতএব ‘পঙ্কজ কুমুদ’ এখানে পঙ্ক জনি কর্তৃত্ব প্রকারে কুমুদের এবং ‘ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্নম্ এই সকল স্থলে পদ্মত্ব পুরস্কারে পঙ্কজ পদের লক্ষণাবশতঃই স্থলপদ্মের বােধ হইয়া থাকে—ইহাই বাত্তিককার বলিয়াছেন। বিবৃতি এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, যােগরূঢ় নামের অবয়ব শকাৰ্থ বিশেষিত সমুদায় শ্যার্থগােচর অম্বয়ানুভব জনকতার অবচ্ছেদ কবিষয়িতানিরূপকতার অবচ্ছেদক যে আনুপূর্বী, তাদৃশ আনুপূর্বীর আশ্ৰয়ত্বরূপ যাহা পর্যবসিত লক্ষণ হইয়াছে, উক্ত লক্ষণ অসম্ভব দোষ গ্রস্ত হইবে না কেন? কারণ পঙ্কজপদ হইতে কোন সময়ে পজাতত্ব পুরস্কারে শৈবাল বা কুমুদের অন্বয়বােধ এবং কখনও শুদ্ধ পদ্মত্ব ধর্ম পুরস্কারে স্কুল কমলের বােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে, যদি উক্ত অসম্ভব দোষ বারণ করিবার জন্য অবয়ব শক্যার্থ- বােধ জনকতাবচ্ছেদক বিষয়িতা নিরূপকতারচ্ছেদকত্বে সতি সমুদায় শক্যার্থ বোধজনক- তাবচ্ছেদক বিষয়িতা নিরূপকতাবচ্ছেদিকা যা আনুপূর্বী, তদ্বত্ত্বরূপ পর্যবসিত লক্ষণ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে উক্ত অসম্ভব দোষ বারিত হইলেও স্থলবিশেষে কেবল সমুদায়ার্থের বােধক মণ্ডপ, রথকার প্রভৃতি শব্দে যােগরূঢ় নাম লক্ষণের অতি ব্যাপ্তি হইলে, কারণ ঐ সকল শব্দগত আনুপূৰীও তাদৃশ জনকতাবচ্ছেদক বিষয়িতা নিরূপকতার অবচ্ছেদক হইয়াছে। এই আশঙ্কার সমাধান করিবার জন্য ‘ইয়াংস্তু’ ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে কারিকার পরার্থের ব্যাখ্যা পূর্বক মণ্ডপ, রথকার প্রভৃতি শব্দের লক্ষ্যতা বারণ করিতেছেন।
सायंकशन्दे योगरूड़नामनिरूपणम् ৭০০ কারিকার ন যকৈং ইত্যাদি অংশের দ্বারা যে শব্দ নিজ অবয়বার্থকে পরিত্যাগ করিয়া কেবল সমুদায়ার্থগােচর শব্দবােধের জনক হইবে না, সেই শব্দ যােগরূঢ় নামে অভিহিত হইবে, ইহাই প্রতিপাদিত হইয়াছে। পরন্তু শ্লোকের ঐ অংশ যােগরূঢ় নাম লক্ষণের অন্তর্গত নহে। রথকারাদি’ এই আদি পদের দ্বারা উদ্ভিদ প্রভৃতি শব্দকে গ্রহণ করিতে হইবে। ইয়াং বিশেষ অর্থাৎ রূঢ় নাম অপেক্ষায় যােগরূঢ় নামের ইহাই বিশেষত্ব। তাৎপর্য এই যে, মণ্ডপ ও রথকার প্রভৃতি শব্দ যােগরূঢ় নামের অন্তর্গত হইতে পারে না, কারণ, ঐ সকল শব্দ যেরূপ যােগাৰ্থ বহির্ভাবে কেবল রূঢ়ার্থের অম্বয়বােধ উৎপন্ন করে, তদ্রুপ রূঢ় বহির্ভাবে কেবলমাত্র যােগার্থের অন্বয়বােধও উৎপন্ন করিয়া থাকে। ইহার উপরে আশঙ্কা হইতে পারে-মণ্ডপ প্রভৃতি শব্দ যােগার্থ বহির্ভাবে কেবল সমুদায়ার্থ যে গৃহ বিশেষ তাহার বােধক হইবে, এবং গৃহবিশেষরূপ সমুদায়ার্থ পরিত্যাগ করিয়া মণ্ডপান কর্তারূপ কেবল যােগাৰ্থগোচর অম্বয়বােধেরও জনক হইবে, ইহার অনুকুলে কোনও প্রমাণ আছে কিনা? যদি না থাকে তাহা হইলে যোগাৰ্থসহকারে সমুদায়ার্থে বােধ ঐ সকল শস্থলে অঙ্গীকার করিতে হইবে ,ফলে, মণ্ডপ প্রভৃতি শব্দের যােগরূঢ় লক্ষণের লক্ষ্যতা স্বীকার না করিয়া উপায় কি ? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার “মণ্ডপে শেতে ইত্যাদৌ” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। আদিপদের দ্বারা মণ্ডপে উপবিশতি’, ‘মণ্ডপে গচ্ছতি এই সকল বাক্য গৃহীত হইবে। তাৎপর্য এই যে, যদিও মণ্ডপশব্দ কোনও সময়ে মণ্ডপান কর্তার বোধক হয় তথাপি ‘মণ্ডপে শেতে' ইত্যাদি তিঙন্তু শী ধাতু সমভিব্যাহৃত মণ্ডপশব্দটি কখনও মণ্ডপান কর্তার বােধক হইবে না। পরন্তু গৃহবিশেষেরই বােধক হইবে। আবার গৃহরূপ সমুদাষার্থে যােগার্থের যােগ্যতা শূন্য হওয়ায় ‘মণ্ডপং ভােজয়েৎ' এইরূপ তিঙন্তু ভুজ ধাতু সমভিব্যাহৃত দ্বিতীয়াবিভক্ত্যন্ত মণ্ডপপদটি গৃহবিশেষরূপ সমুদায়ার্থের বোধক হইবে না, পরন্তু কেবলমাত্র মণ্ডপান কর্তার বোধক হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে “পঙ্কজং শৈবাল” এই সকল বাক্য হইতে পঙ্কজপদের সমুদায় শক্তিলভ্য অর্থের এবং “ভূমে পঙ্কজমুৎপন্নম্” এই সকল বাক্য হইতে অবয়ব শক্তিলভ্য পঙ্কজাতত্ব রূপ অবয়বার্থের অযােগ্যতানিবন্ধন অম্বয়বােধ উৎপন্ন না হওয়ায় যােগরূঢ় নাম লক্ষণের লক্ষ্যের অপ্রসিদ্ধ নিবন্ধন লক্ষণটি অসম্ভব দোষের দ্বারা কলঙ্কিত হইবে না কেন? এই আশঙ্কা পরিহার করিবার জন্য গ্রন্থকার “যােগরূঢ়ন্তু পঙ্কজাদিপদ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিয়াছেন। পঙ্কজাদি এই আদি পদের দ্বারা ‘কৃষ্ণসর্প ‘পদ্ম- নাত প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ গৃহীত হইবে। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ হইতে অবশক্তিলভ্য যে পঙ্কজাতরূপ অর্থ তদ্বিশেষিত হইয়াই সমুদায়শক্তিলভ্য পদ্মরূপ অর্থের বােধ হইবে। ইহার ফলে সমুদায়ার্থকে বিশেষ্যরূপে গ্রহণ করিয়াই তাহার বিশেষণরূপে অবয়বশক্তিলত্য অর্থের অবগতি হইবে, এবং সমুদায় শক্যার্থরূপ যে রূঢ় তাহার ও অবয়ব শক্যার্থের বিশেষরূপেই পঙ্কজাতত্ববিশিষ্ট পদ্মের অবয়বােধ হইবে । সুতরাং এই তাৎপর্যেই গ্রন্থকার বলিয়াছেন—“পঙ্কজাদিপদমবয়ব। রূঢ়র্থম ৭ शवशक्तिप्रकाशिका সমুদায়াচ অবয়বলভ্যার্থমেব অনুভবয়তি”। ইহার অন্যথা কখনও হইবে না। অর্থাৎ পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ অবয়বলভ্য অর্থকে পরিত্যাগ করিয়া কেবল সমুদায়- শক্যার্থের বােধক হইবে না এবং সমুদায়শ্যার্থকে পরিহার করিয়া কেৰল পঙ্কজাত- রূপ অবয়বশক্তিলভ্য অর্থের বােধক হইবে না। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, একটি শব্দের দ্বারা একাধিক অর্থের উপস্থিতি হইলেও একটি শব্দের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থদ্বয়ের বিশেষ বিশেষণভাবে অন্বয়বােধ ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ নহে। সুতরাং পঙ্কজাদি শব্দ হইতে পঙ্কজাত এবং পদ্ম এতদুভয়ের বিশেষবিশেষণভাবে কিরূপে অন্বয়বােধ সম্ভবপর হইবে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে জগদীশ বলিয়াছেন—“ব্যুৎপত্তি-বৈচিত্ৰাৎ তথৈব সাকাক্ষাত্বাৎ”। তাৎপর্য এই যে, যদিও হরি প্রভৃতি পদের দ্বারা উপস্থাপিত বিভিন্নপদার্থের বিশেষণ বিশেষ্য- ভাবে অন্বয়বােধ ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ নহে, তথাপি “চৈত্র পচতি ইত্যাদি সাকাঙ্ক্ষবাক্য জ্ঞান হইতে উক্ত ব্যুৎপত্তির সংকোচ স্বীকার করিয়া আখ্যাতিক তিপ, প্রত্যয়ের কৃতি ও বর্তমানস্বরূপ অর্থদ্বয়ের বিশেষ বিশেষণভাবে যেরূপ অম্বয়বােধ স্বীকৃত হইয়া থাকে, তদ্রুপ পূর্ব কথিত ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার করিয়া পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ হইতে ও অবয়বশক্তি এবং সমুদায়শক্তি এই উভয়শক্তিলভ্য পঙ্কজনিকর্তৃত্ব অর্থাৎ পঙ্কজাতত্ব এবং পদ্ম এই উভয়পদার্থের উপস্থিতিক্রমে পঙ্কজ পদরূপ সাকা পদজ্ঞান হইতে পঙ্কজাতত্ব বিশিষ্ট পদ্মের অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। একপদের দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনিকর্তৃত্ব এবং পদ্ম এতদুভয়ের বিশেষবিশেষণভাব ক্রমে শাত্ববােধ, এবং তাদৃশ আকাঙক্ষা জ্ঞানের কার্যকারণভাব কল্পনা করার ফলে পঙ্কজাদি পদস্থলে কেবল পঙ্কজনিকর্তৃত্বের বোধ বা পদ্মত্ব পুরস্কারে কেবল পদ্মবিষয়ক-বোধ কার্যতা- বচ্ছেদক ধর্মশূন্য হওয়ায় পঙ্কজাদি পদ হইতে কেবল যােগাৰ্থ বা কেবল সমুদায়ার্থগােচর অন্বয়বােধের আপত্তি বারিত হইবে । এইরূপ কার্যকারণভাব কল্পিত হওয়ার ফলে যােগরূঢ় লক্ষণের অন্তর্গত আনুপূর্বীতে যেরূপ স্বাশয় শক্য যাদৃশৰ্থধর্মিক স্বাশয় অবয়বশপস্থাপ্য যাদৃশার্থপ্রকারক অন্বয়বােধনিষ্ঠ জন্মতানিরূপিত জনকতার বিষয়বিধয়া অবচ্ছেদকতার অবচ্ছেদকত্ব নিবেশ করা হইয়াছে, তদ্রুপ উক্ত আনুপূর্বীতে সমুদায় শক্যার্থ ভিন্ন বিশেষ্যক- বােধ জনকতার বিষয়বিয়া অবচ্ছেদকতার অনবচ্ছেদকত্বও বিশেষণ দিতে হইবে। ইহার ফলে মণ্ডপপদগত আনুপূর্বীতে তাদৃশ সমুদায়শক্য তিন্নবিশ্যেক বােধজনকতার বিষয় বিধয়া অবচ্ছেদকতার অবচ্ছেকত্ব থাকায় তাদৃশ আনুপূর্বীমত্বৰূপ ধর্মকে গ্রহণ করিয়া মণ্ডপাদি পদে যােগরূঢ় লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। পঙ্কজ, কৃষ্ণসর্প, অধর্ম প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ হইতে একবিধ শক্যার্থকে পরিত্যাগ করিয়া অন্যবিধ শক্যাৰ্থবােধ যে উৎপন্ন হয় না, এই বিষয়ে বার্তিককারের গ্রন্থ উদ্ধৃতিক্রমে প্রমাণিত করিবার জন্য “অতএব” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যেহেতু পঙ্কজ পদগত শক্তিদ্বারা উপস্থাপিত একটি মাত্র অর্থের অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয় না সেইহেতু ৰার্তিককার পঙ্কজ কুমুদ এখানে পঙ্কজ পদ হইতে সমুদায়ার্থকে পরিহার করিয়া কেবলমাত্র পঙ্কজাতরূপ অর্থের বােধ এবং “ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্নং” এখানে অবয়বার্থকে পরিহার করিয়া কেবলমাত্র सार्थकावे योगरूदनामनिरूपणम् १०६ সমুদায়ার্থ পঙ্গুত্ব পুরস্কারে পদ্মবিষয়ক বোধের অনুরােধে পঙ্কজপদের পঙ্কজাতরূপ অর্থে এবং পদ্মরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকার করিয়া প্রথম বাক্য স্থলে পজাতত্ববিশিষ্ট কুমুদবিষয়ক এবং দ্বিতীয় বাক্য স্থলে স্থল-পদ্মবিষয়ক বােধের উপপত্তি করিয়াছেন। मूलम् ननु, पुष्पं पङ्कजेत्यादौ पङ्कजादेरन्वयस्याबोधात् , बोधाच पङ्कज- पुष्पमित्यादौ निर्विभक्तिकेन पङ्कजादिपदेनोपस्थाप्यार्थस्यान्वयधीसामान्यं प्रत्येव, तादृशपङ्कजादिपदोत्तरशब्दोपस्थाप्यत्वं तन्त्रम् , एवं पुष्पं पङ्कजमित्यादौ अन्वयबोधदर्शनात्तदनुरोधेन सविभक्तिकपङ्कजादिपदोपस्थाप्यार्थान्वयबोधं प्रति, स्वसमानविभक्तिकपदोपस्थाप्यत्वच, अतस्तदुपस्थापितस्य पङ्कजातादेः कथं पदान्तरानुपस्थापिते पद्मादावन्वय इति चेत्, "अपङ्कजवृत्तिः सत्ते"- त्यादौ "स्खलदक्षरसंशोभि तरुण्या मुखपङ्कज" मित्यादौ च व्यभिचारा- दुक्तव्युत्पत्तेः सङ्कोचेनेति गृहाण । न च धेनुपदस्य धानकर्मत्वविशि- ष्टायां गवीव पङ्कजादिपदस्यापि पङ्कजातत्वादिविशिष्टे पद्मादौ रूदिरेवास्तु, न तु योगरूढ़िरिति साम्प्रतम् । अन्यत्र क्लप्तशक्तिभ्यः पङ्कजन्यादिपदेभ्य एवाकाङ्क्षादिसाचिव्येन पङ्कजनिकर्त त्वादेलाभसम्भवे तद्विशिष्टस्य पद्मस्य गुरोः समुदायाशक्यत्वादनन्यलभ्यस्यैव शब्दार्थत्वात् । অনুবাদ আশঙ্কা হইতে পারে, ‘পুষ্পং পঙ্কজ এইরূপ বাক্য হইতে পঙ্কজ বিষয়ক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয় না। আবার পঙ্কজপুস্পম এইরূপ বাক্যের অন্তর্গত নির্বিভক্তিক পঙ্কজ পদের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের পুষ্পপদার্থে অন্বয়বােধ হইয়া থাকে অতএব নির্বিভক্তিক পঙ্কজ প্রভৃতি পদের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের অম্বয়- বােধমাত্রের প্রতি তাদৃশ (নির্বিভক্তিক) পঙ্কজাদি পদোত্তরবর্তিপদের দ্বারা উপস্থাপ্যত্বই কারণ এবং পুষ্পং পঙ্কজ এই সকল স্থলে অন্বয়বােধ অনুভবসিদ্ধ বলিয়া তাদৃশ অম্বয়বােধের অনুরােধে সবিভক্তিক পঙ্কজাদিপদের দ্বারা উপস্থাপিত ৭৭০ शब्दशक्तिप्रकाशिका অর্থবিষয়ক অন্বয়বােধের প্রতি সমানবিভক্তিক পদোপস্থাপ্যত কারণ। (ইহা স্বীকার করিতে হইবে)। ফলে পঙ্কজপদের দ্বারা উপস্থিত পঙ্কজাতরূপ অর্থের পদান্তরের দ্বারা উপস্থাপিত নয় এইরূপ পদ্মরূপ অর্থে কেমন করিয়া অন্বয় হইবে ? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতেছেন, এই আশঙ্কা ঠিক নহে কারণ ‘অপঙ্কজবৃত্তিঃ সত্তা’ এইস্থলে নিবিভক্তিক পঙ্কজ পদার্থের নর্থভেদে অন্বয়বােধ হওয়ায় এবং স্থালদক্ষর- সংশােভি তরুণ্যা মুখপঙ্কজম’ এখানেও সবিভক্তিক পঙ্কজ পদার্থে যে পঙ্কজ সদৃশ তাহার সহিত মুখপদার্থের অভেদান্বয় হওয়ায় উক্ত কার্যকারণভাব ব্যতিরেক- ব্যভিচার দোষের দ্বারা দূষিত হওয়ায় উক্ত কার্যকারণভাবদ্বয় সঙ্কুচিতরূপে গ্রহণ করিতে হইবে। ইহার উপরেও শঙ্কা হইতে পারে, ধেনুপদ যেরূপ দোহন কর্মবিশিষ্ট গোরূপ অর্থে রূঢ় হইয়া থাকে তপ পঙ্কজ প্রভৃতি পদেরও পঙ্কজাতত্ববিশিষ্ট পদ্মরূপ অর্থে রূঢ়ি স্বীকৃত হইবে; যােগরূঢ়ি নহে। এই আশঙ্কাও সমীচীন নহে। কারণ, অন্যত্র গৃহীত শক্তিম যে পঙ্কজন্যাদি পদ তাহা হইতে আকাভক্ষাদি সহকারে পঙ্কজাতত্ব প্রভৃতি অর্থে লাভ সম্ভবপর হয় বলিয়া পঙ্কজাতত্ববিশিষ্ট পদ্মরূপ গুরুতর পদার্থে পঙ্কজাদিপদের শক্তি কল্পিত হইতে পারে না। কারণ প্রকারান্তরে যে অর্থের লাভ সম্ভবপর নহে তাদৃশ অর্থেই পদের শক্তি কল্পিত হইয়া থাকে। বিবৃতি গ্রন্থকার, পঙ্কপদোত্তর জনপদোত্তর ড-পদত্বরূপ আনুপূর্বী পুরস্কারে সাকা পঙ্ক জপদ- জ্ঞান হইতে অবয়ব শক্যার্থ পঙ্কজনিকর্তৃত্বপ্রকারক সমুদায়শকাৰ্থ পদ্মবিশেষক অন্বয়ৰােধ ব্যবস্থিত করিয়া ‘ননু পুষ্পং পঙ্কজ’ ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে পূর্বোক্ত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী একটি প্রশ্ন উত্থাপন করিতেছেন। প্রশ্নের তাৎপর্য এই যে ‘নীলােৎপল এইরূপ কর্মধারয় সমাসনিম্পন্ন নীলােৎপলম্ এই বাক্য হইতে অতেদসম্বন্ধে নীলপ্রকারক উৎপলবিশেষক অম্বয়বোধ উৎপন্ন হইয়া থাকে এবং ‘নীলমুৎপল এইরূপ অসমস্ত বাক্য হইতেও অভেদ প্রকারক বা অভেদ সম্বন্ধে নীলপ্রকারক উৎপলবিশেষ্যক অন্বয়বােধ অনুভবসিদ্ধ। এইজন্য সমাসস্থলে বিশেষতা সম্বন্ধে নির্বিক্তিক নীলপদোপ- স্থাপ্য নীলপদাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি নীলপদোত্তর পদ জনিত উপস্থিতি বিষয়তা স্বরূপ সম্বন্ধে কারণ, এবং নীলমুৎপলম এইরূপ অসমস্ত বাক্যস্থলে, বিশেষতা সম্বন্ধে বিভক্তিক নীলপদোপস্থাপ্য নীলপ্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি নীলপদ সমানবিভক্তিক পদ জন্য উপস্থিতিবিষয়ত্বস্বরূপ সম্বন্ধে যেরূপ কারণ হয় তদ্রুপ ‘পঙ্কজ পুষ্পম্ এইরূপ সমস্ত- বাক্যস্থলে নির্বিক্তিক পঙ্কজাদি পদের দ্বারা উপস্থাপিত যে পঙ্কজাতপ অর্থ বিশেষতা- सार्थकचम्दे योगरूदनामनिरूपणम् ৭৭৭ সম্বন্ধে তৎপ্রকারক অন্বয়বোধমাত্রের প্রতি নির্বিভক্তিক পঙ্কজপদোন্তব পদের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্বের স্বরূপ সম্বন্ধে কারণত স্বীকৃত হইবে, এবং পুষ্পং পঙ্কজম’ এইরূপ সবিভক্তিক পঙ্কজপদস্থলে পুষ্পপদার্থে পঙ্কজপদার্থের অন্বয়বোধ সর্বানুভবসিদ্ধ হওয়ায় তদনুরােধে বিশেষতা সম্বন্ধে সবিভক্তিক পঙ্কজপদের দ্বারা উপস্থাপিত যে পঙ্কজাত রূপঅর্থ তৎপ্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি স্বরূপ সম্বন্ধে পঙ্কজপদ সমান বিভক্তিক পদজন্য উপস্থিতি বিষয়ত্বের কারণত্ব অবশ্য কল্পিত হইবে। কারণ ‘পুষ্পং পঙ্কজ’ এইরূপ নির্বিভক্তিক পঙ্কজপদার্থের পুষ্পপদার্থে অন্বয়বােধ কোনমতেই স্বীকৃত নহে। পূর্বোক্ত দ্বিবিধ কার্য কারণব কল্পিত হওয়ার ফলে শুদ্ধ পঙ্কজপদস্থলে পঙ্কজপদের দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজাতরূপ পঙ্কজ পদার্থের পদারের দ্বারা উপস্থাপিত নহে এইরূপ পদ্মপদার্থে অন্বয়বােধ কি করিয়া সম্ভবপর হইবে। কারণ পর্বোক্ত দ্বিবিধ কার্যকারণ ভাবরূপ ব্যুৎপত্তির কোনটিই শুদ্ধ পঙ্কজ পদস্থলে বিদ্যমান নহে। এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে জগদীশ, পূর্বোক্ত কার্যকারণভাব দ্বয়ের ব্যভিচারবশতঃ দ্বিবিধ কার্যকারণভাবের সঙ্কোচ করিবার জন্য ইতি চেং পঙ্কজ বৃত্তি:সত্তা ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পূর্বপ্রদর্শিত কার্যকারণভাবদ্বয়ের মধ্যে নিবিভক্তিক পঙ্কজপদস্থলীয় প্রথম কার্যকারণভাব স্বীকৃত হইলে ‘অপঙ্কজবৃত্তি: সত্তা’ এইস্থলে নিভিত্তিক পঙ্কজপদার্থের পূজপদের পূর্ববর্তী নঞর্থ যে ভেদ তাহাতে বিশেষ্যতা সম্বন্ধে অন্বয়বােধরূপ কার্যটি থাকিলেও পঙ্কজপদোত্তর পদের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্বরূপ কারণটি স্বরূপ সম্বন্ধে তথায় না থাকায় ব্যতিরেক ব্যভিচার হইবে। এবং উক্ত কার্যকারণ- তাবদ্বয়ের মধ্যে বিভক্তিক পঙ্কজ পদস্থলে যে কার্যকারণভাব কল্পিত হইয়াছে তাহারও ‘স্থলদক্ষরসংশােতি তৰুণ্যা মুখপঙ্কজ এইরূপ সবিভক্তিক পঙ্কজ পদস্থলে মুখ পদার্থে পঙ্কজপদ সমানবিভক্তিক পদের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্বরূপ কারণটি স্বরূপ সম্বন্ধে না থাকিলেও সেখানে সবিভক্তিক পঙ্কজসদার্থের অন্বয়বােধ হইয়াছে। অতএব উক্ত দ্বিবিধ কার্যকারণভাব ব্যভিচার দোষ কলঙ্কিত হওয়ায় উক্ত ব্যভিচার দোষ বারণের জন্য পূর্ব- কথিত উভয়বিধ কার্যকারণভাবের অন্তর্গত কার্য যে তাদৃশ অন্বয়বোধ তদংশে সমুদায় শক্যবচ্ছেদক ধর্মের দ্বারা অনবচ্ছিন্ন যে বিশেষত তল্পিরূপকত্ব কার্যতার অবচ্ছেদক- রূপে নিবেশ করিয়া কার্যকারণভাব কল্পনা করিতে হইবে। ইহার ফলে নিবিভক্তিক পঙ্কজ পদস্থলে পঙ্কজপুস্পম’ এখানে নির্বিভক্তিক পঙ্কজ পদের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থ- প্রকারক সমুদায় শকতাবচ্ছেদকানবচ্ছিন্ন বিশেষ অম্বয়বােধরূণ কার্যের প্রতি পঙ্কজ পদোত্তর পদ জন্য উপস্থিতি বিষয়ত্ব স্বরূপসম্বন্ধে পুষ্পপদার্থে থাকায় উক্ত কার্যকারণ- ভাব থাকিবে। পুষ্পং পঙ্কজ’ এখানেও পুষ্প পদার্থ বিশেষ হওয়ায় তগত বিশেষত সমুদায় শক্যবচ্ছেদ কানবচ্ছিন্ন বিশেষক অন্বয়বােধরূপ কার্যটি বিশেষ্যতা সম্বন্ধে পুষ্প পদার্থে উৎপন্ন হওয়ায় সেখানে পঙ্কজপদসমান বিভক্তিক পদজনিত উপস্থিতি বিষয়তা- রূপ কারণ অবস্থিত থাকায় ব্যতিরেক ব্যভিচার হইবে না। বাস্তবিক পক্ষে পুর্বে যে কাৰ্ধকারণভাদ্বয় কল্পিত হইয়াছে সেখানে কাৰণতার অবচ্ছেদক সম্বন্ধ বলা হইয়াছে ৭৭ং शब्दशक्तिप्रकाशिका স্বরূপ এবং কার্যতার অবচ্ছেদক সম্বন্ধ বলা হইয়াছে বিশেষ্যত্ব। সুতরাং বিশেষ্যত। সম্বন্ধে কার্যকারণভাব কল্পিত হইলে সেখানে কার্ষতার অবচ্ছেদক কোটিতে স্বতন্ত্রভাবে বিশেষত্বের নিবেশ করা হয় না। অতএব প্রথমােত কার্যকারণভাব যাহা কল্পিত হইয়াছে তদন্তৰ্গত কার্যতাবচ্ছেদক সংসর্গ যে বিশেষত উক্ত বিশেষতার সংকোচ করিয়া সমুদায় শক্যবচ্ছেদক ধর্মানবচ্ছিন্ন নামার্থগত বিশেষ্যত্বরূপে উক্তবিশেষ্যতা প্রথমােক্ত কার্যকারণভাবস্থলে কার্যতার অবচ্ছেদক সম্বন্ধ হইবে। ইহার ফলে সমুদায় শকতা- বচ্ছেদক ধর্মানবচ্ছিন্ন বিশেষ সম্বন্ধে নিবিভক্তিক নামৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয় বুদ্ধির প্রতি নির্বিভক্তিক নামােত্তর নামের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব স্বরূপ সম্বন্ধে কারণ হইবে। এবং দ্বিতীয় কার্যকারণভাবস্থলে বিশেষ্যতাসম্বন্ধে সবিভক্তিক নামার্থপ্রকারক অন্বয়বোধের প্রতি তত্তন্নামােত্তর বিভক্তি বিজাতীয় বিভক্তিশূন্য নামের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব স্বরূপ সম্বন্ধে কাবণ স্বীকৃত হইবে। এখন আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে পারি ঐ সঙ্কুচিত কার্য- কারণ ভাৰদ্বয় কল্পিত হওয়ার ফলে শুদ্ধ পঙ্কজপদজ্ঞান হইতে পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে পদ্ম- বিষয়ক অন্বয়বােধ হওয়ার পক্ষে কোনরূপ বাধা থাকিবে না, কল্পিত প্রথমােক্ত কার্যকারণ ভাবের অন্তর্গত কারণও যেরূপ পঙ্কজপদের দ্বারা উপস্থিত সমুদায় শকাৰ্থ পদ্মে থাকিবে না তদ্রুপ তাদৃশ বিশেষ্যত সম্বন্ধে পঙ্কজ পদে।পস্থাপ্য পঙ্কজাত প্রকারক বােধরূপ কার্যও তাদৃশ সমুদায়ার্থ পদ্মে থাকিবে না। সুতরাং পঙ্কজ পদ হইতে পঙ্কজাত পদ্ম এইরূপ যােগাৰ্থ সহকৃত রূঢ়ৰ্থ্যবিষয়ক বােধের প্রতি উক্ত কার্যকারণভাব বাধক হইবে । পরন্তু সবিভক্তিক নামস্থলীয় কার্যকারণ ভাব পঙ্কজ পদস্থলেও সঙ্গত হইবে। কারণ ‘পঙ্কজ’ এইরূপ প্রথমান্ত পঞ্চ জপদটি পঙ্কজ পদোত্তর প্রথম বিভক্তি বিজাতীয় বিভক্তির প্রকৃতি ভিন্ন হওয়ায় তদুপস্থাপিত পদ্মরূপরূঢ়ার্থে তাদৃশ নামোপস্থাপ্যত্বৰূপ কারণটি ও অবস্থিত থাকিবে। मूलम् न च धेनुपदस्य धानकर्मत्वविशिष्टायां गवीव पङ्कजादिपदस्यापि पङ्कजातत्वादिविशिष्टे पद्मादौ रूढिरेवास्तु, न तु योगरूढ़िरिति साम्प्रतम् , अन्यत्र क्ल तशक्तिभ्यः पङ्कजन्यादिपदेभ्य एवाकाङ्गादिसाचिव्येन पङ्कजनि- कर्त त्वादेलभिसम्भवे तद्विशिष्टस्य पद्मस्य गुरोः समुदायाशक्यत्वादनन्य- लभ्यस्यैव शब्दार्थत्वात् । यद्यपि कर्तवाचक डप्रत्यय एव पनत्व- विशिष्टस्य लक्षणया भानसम्भवाम पङ्कजमागस्य तत्र शक्तिरुचिता, प्रकारान्तरालभ्यस्यैव शब्दशक्यत्वमित्युक्तत्वात् । कृतिवर्तमानत्वयोरिवैक- सार्थकशब्दे योगदनामनिरूपणम् ৭৭ संभवित्वात् , पदार्थयोरपि कर्त पायोमिथोऽन्वयस्य तथाप्यवयवानों शक्तरग्रहे, ग्रहेऽपि वा पद्मादौ तदर्थस्यान्वयधीविरोधिधोदशायां पङ्कजमस्ती- त्यादितः पद्ममस्तोत्याद्यनुभवार्थमवश्यं पात्वादिविशिष्टे पङ्कजादिभागस्य रूढिरुपेया, इतरथा, प्रकृत्यर्थावच्छिन्नस्यैव प्रत्ययार्थस्य पदार्थान्तरेणा- न्वयस्य व्युत्पन्नतया डप्रत्ययोपस्थापितस्यापि पद्मस्यास्तित्वादिना सहान्व- यानुपपत्तेः। अतएव पङ्कादिपदागृहीतशक्तिकस्य पुंसः पङ्कजमस्तोत्यादितो जात्वपि कर्तास्तीत्याकारको नान्वयवोधः, प्रत्यमात्रोपस्थाप्यस्य कर्तु- रन्यत्रान्वये निराकासत्वादिति वक्ष्यते । অনুবাদ এখন আশঙ্কা হইতে পারে, ধেনু পদের দোহন কমত্ব বিশিষ্ট গােতে যেরূপ রাঢ়ি স্বীকৃত হয় তােপ পঙ্কজ প্রভৃতি পদেরও পঙ্কজাতত্ববিশিষ্ট পদ্ম প্রভৃতিতে রূঢ়ি স্বীকৃত হওয়া সমীচীন, যােগরূঢ়ি নহে। এই আশংকা কিন্তু ঠিক নহে। কারণ অন্যত্র পক্ষ উৎপত্তি এবং আশ্রয় প্রভৃতি অর্থে শক্তি স্বীকৃত হইয়াছে এইরূপ পঙ্কপদ, জনধাতু এবং ডপ্রত্যয় হইতে ও আকাক্ষা সহকারে পঙ্কজনি এবং কর্তৃরূপ অর্থের লাভ সম্ভবপর হওয়ায় পঙ্কজনি কর্তৃত্ববিশিষ্ট পদ্মরূপ গুরুপদার্থে পঙ্কজপদের সমুদায় শক্তিরূপ রূঢ়ি স্বীকৃত হইতে পারে না। কারণ প্রকারান্তরে যে অর্থের লাভ সম্ভবপর নহে সেই অর্থেই পদের শক্তি কল্পনা করা হইয়া থাকে। ( আশঙ্কা) যদ্যপি (পঙ্কজ পদস্থলে) কর্তৃবাচক প্রত্যয়েই পদ্মত্ব- বিশিষ্টে লক্ষণস্বীকার করিলেই পদ্মত্ব বিশিষ্টের ভান সম্ভবপর হইতে পারে। সুতরাং পদ্মত্ববিশিষ্টে পঙ্কজভাগের শক্তিকল্পনা করা উচিত নহে। কারণ প্রকারান্তরে যে অর্থ লভ্য নহে সেই অর্থেই শব্দগত শক্তি কল্পিত হইয়া থাকে, পচতি প্রভৃতি স্থলে যেরূপ তিপ, প্রত্যয়ে কৃতি ও বর্তমানত্বরূপ অর্থদ্বয়ের বিশেষ্যবিশেষণভাবে অন্বয়বােধ হইয়া থাকে তােপ একই (পঙ্কজপদের অন্তর্গত) প্রত্যয়ের কর্তা এবং পদ্ম এতদুভয়ের পরস্পর বিশেষবিশেষণভাবে অন্বয়বোধ সম্ভবপর হইতে পারে। ( এই আশংকার উত্তরে বলিতেছেন, তথাপি পঙ্কজপদের অন্তর্গত পঙ্ক, জন ও ডপ্রত্যয়ের যখন শক্তিগ্রহ থাকিবেন। অথবা (শক্তিগ্রহ থাকিলেও) যদি ‘পদ্ম পঙ্কজাত নহে এইরূপ পদ্মধর্মিক পঙ্কজাতত্ব ৭৭৮ शब्दशक्तिप्रकाशिका বিশিষ্ট পদ্মবােধের বিরােধী জ্ঞান থাকে তখনও কিন্তু ‘পঙ্কজমন্তি' এই বাক্য হইতে অস্তিত্ববিশিষ্ট পদ্মগোচর শব্দানুভবের উপপত্তির জন্য পদ্মত্বদিবিশিষ্টে পঙ্কজাদি পদের সমুদায় শক্তি অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। যদি সমুদায় শক্তি স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে প্রকৃতির অর্থের সহিত সম্বদ্ধ যে প্রত্যয়ার্থ তাহারই পদার্থান্তরের সহিত অন্বয়বােধ ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ ( এই নিয়ম থাকায় ) ভপ্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থাপিত লাক্ষণিক অর্থ যে পদ্ম তাহার অস্তি পদার্থ বর্তমান- ত্বের সহিত অন্বয়বোধ হইতে পারে না। অতএব পঙ্ক প্রভৃতি পদের শক্তি- গ্রহশূন্য যে পুরুষ তাহার ‘পঙ্কজমস্তি’ ইত্যাদি বাক্য হইতে কখনও ‘কর্তা অস্তি’ এইরূপ অম্বয়বােধ উৎপন্ন হয় না। কারণ প্রত্যয়মাত্রের দ্বারা উপস্থাপিত কর্তা অন্যত্র অন্বয়বােধে আকাক্ষাশূন্য হইয়া থাকে-- ইহা পরে বলা হইয়াছে। বিবৃতি ‘ন চেত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা বক্ষ্যমান আশঙ্কা উপস্থাপিত করিতেছেন। ন চ এই নঞ, পদার্থটি অগ্রিম সমীচীনার্থক সাম্প্ৰতম্ পদার্থের সঙ্গে অন্বয় করিতে হইবে। শঙ্কাটি এই যে ধেনু পদের যেরূপ ধান অর্থাৎ দোহন কর্মত্ববিশিষ্ট গো অর্থে রূঢ়ি স্বীকৃত হইয়া থাকে তদ্রুপ যােগরূঢ়রূপে অভিমত পঙ্কজ প্রভৃতি পদেরও পঙ্ক জনি কর্তৃত্ব বিশিষ্ট পদ্মে রূঢ়ি স্বীকৃত হইবে না কেন? ইষ্টাপত্তি কৰিলে সর্বত্রই যোগরূঢ় শব্দরূপে অভিমত শব্দ সমূহ রূঢ় নামে পর্যবসিত হওয়ায় পূর্বে যে যােগরূঢ় নামকে অন্তর্ভাব করিয়া ‘রূঢ়ঞ্চ লক্ষকঞ্চে’ত্যাদি কারিকার মাধ্যমে চতুবিধ নামের কথা বলা হইয়াছে তাহা ব্যাহত হইবে । এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন পূর্বোক্তরূপ আশঙ্কা যুক্তিযুক্ত নহে। কেন যুক্তিযুক্ত নহে তাহা বিবৃত করিবার জন্য অন্যত্র ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের তৎপৰ্য এই যে, প্রকারান্তরে অর্থাৎ পঙ্কজ এবং বথকার প্রভৃতি পদ হইতে পঙ্ক-জন-ড প্রত্যয় এতৎ সমুদায়ের প্রত্যেক পদগত শক্তিলভ্য পঙ্ক, উৎপত্তি এবং কর্তৃ প্রভৃতি রূপ শক্যার্থ সমুহের তত্তৎ পদসমূহগত আকাঙ্খা হইতে পরস্পরের সহিত পরস্পরের সংসর্গবােধরূপ অন্বয়বােধের উপপত্তি সম্ভবপর হওয়ায় পঙ্ক-জনি-কর্তৃত্বরূপ বিশেষণবিশিষ্ট পদ্মাবচ্ছিন্নে পঙ্কজাদি পদের কঢ়ি অর্থাৎ সমুদায় শক্তি কল্পিত হইতে পারে না। কারণ‘অনন্যলভ্যো হি শক্যার্থ: অর্থাৎ প্রকারান্তরে যে যে পদার্থের লাভ সম্ভবপর নহে সেই সেই পদার্থেই পদের শক্তি স্বীকৃত হয়। সুতরাং পঙ্ক-জনধাতু এবং ড প্রত্যয় হইতেই পঙ্কজাত রূপ অর্থের উপস্থিতি সম্ভবপর হওয়ায় গুরুতর পঙ্কজাতত্ববিশিষ্ট পদ্মরূপ পঙ্কজ পদের সমুদায় শকাৰ্থ স্বীকৃত হইবে না। যদি ইহার উপরেও আশঙ্কা করা হয়, পঙ্ক উপপদে জন ধাতুর পরে যে ড প্রত্যয় করা হইয়াছে উক্ত প্রত্যয়ের পদ্মত্ববিশিষ্টে যখন লক্ষণ। স্বীকৃত হইতে পারে তখন পঙ্কজ এই সমুদায়ে শক্তি কল্পিত হইবে কেন? কারণ ‘অনন্যলভ্যো হি শক্যার্থ এই सार्यकशम्दे योगरूदनामनिरूपणम् ११५ নিয়মানুসারে উপায়ান্তর হইতে যে পদার্থটি উপস্থাপিত হইতে পারে না সেই পদার্থ শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত হইয়া থাকে। যদি বলা হয়, প্রত্যয়ের কোনওরূপ শক্যার্থ না থাকায় পদ্মত্ববিশিষ্টে শক্যসম্বরূপ লক্ষণা কিরূপে স্বীকৃত হইবে? এই আশঙ্কার উত্তরে বক্তব্য এইযে, পঙ্ক উপপদে জন্ ধাতুর পরে ‘সপ্তমী পঞ্চম্যাৎ জনে ডঃ এই সূত্রানুসারে তাদৃশ , জন ধাতুর পরে কর্তৃবাচ্যে বিহিত ড প্রত্যয়ের কর্তৃরূপ শকাৰ্থ অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং ড প্রত্যয়ের পদ্মত্ববিশিষ্টে লক্ষণ স্বীকৃত হইলে শক্যসম্বন্ধরূপ লক্ষণার অনুপপতি হইবে না, ইহাই পূর্বপক্ষবাদীর বক্তব্য। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে কর্তৃবাচ্যে বিহিত ড প্রত্যয়ের কর্তৃরূপ শক্যার্থের সহিত ও প্রত্যয়ের লক্ষ্যার্থ যে পদ্ম এতদুভয়ের বিশেষ্যবিশেষণভাবে অম্বয়বােধ কি করিয়া সম্ভবপর হইবে। কেননা একটি পদের দ্বারা উপস্থাপিত যে অর্থদ্বয়, বিশেষে বিশেষণভাবে তদুভয়ের অন্বয়বোধ অনুভবসিদ্ধ নহে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘কৃতি বর্তমানত্বয়ােরিব' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে চৈত্র: পচতি এই সকল স্থলে পাকনুকূল বর্তমাণকালীন কৃতিমাংশ্চৈত্ৰ:' এইরূপ শব্দবােধ সকলেরই অনুতসিদ্ধ হওয়ায় উক্তস্থলে তিঙ প্রত্যয়ের কৃতি এবং বর্তমান ত্বরূপ অর্থদ্বয়ের যেরূপ বিশেষ্যবিশেষণভাবে অন্বয়বােধ সিদ্ধান্তিগণের ও স্বীকৃত তদ্রুপ পঙ্কজপদস্থলেও লক্ষ্যার্থ যে পদ্ম তাহাতে কর্তৃবাচো বিহিত ড প্রত্যয়ের অর্থ কর্তৃত্ব বিশেষণরূপে অন্বিত হইবে। পূর্বপক্ষিগণের উক্ত পূর্বপঙ্কের সমাধান করিবার জন্য ‘তথাপি ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পঙ্কজ প্রভৃতি পদের অবয়বগত শক্তির জ্ঞান যখন থাকিবেন। অথবা পঙ্কজনিকর্তৃ প্ৰকাৰক অন্বয়য়বােধের বিরােধী ‘পদ্মং ন পঙ্কজাত এইরূপ বাধজ্ঞান থাকিবে তখন কিন্তু ‘পঙ্কজাতং পদ্মম্ এইরূপ অন্বয়বােপ কাহারও অনুভবসিদ্ধ নহে পরন্তু তাদৃশ বিরোধী জ্ঞান থাকা কালেও‘পঙ্কজমন্তি’এইরূপ বাক্য হইতে অস্তিত্বপ্রকারক পদ্মাবচ্ছিন্ন বিশেষ্যক অন্বয়বােধের অনুরােধে পদ্মাদিবিশিষ্টে পঙ্কজাদি পদের সমুদায় শক্তি অবশ্যই অঙ্গীকার করিতে হইবে। উক্ত বাধ নিশ্চয় থাকার ফলে অর্থাৎ অবয়বগত শক্তিলত্য অর্থের অভাবনিশ্চয় থাকায় পঙ্কজ পদের ঘট ক ড প্রত্যয়ের লক্ষণাও সম্ভবপর নহে, অতএব ড প্রত্যয়ের লক্ষণা হইতেও পদ্মের উপস্থিতি হইতে পারিবে না। সুতরাং পঙ্কজপদের সমুদায়শক্তি অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। পঙ্কজপদের পদ্মত্ববিশিষ্টে সমুদায়শক্তি স্বীকার না করিলে দোষান্তর প্রদর্শন করিবার জন্য ‘ইতরথা ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন, ‘ইতরথা অর্থাৎ পঙ্কজ পদের পদুত্ব- বিশিষ্টরূপ সমুদায় শক্যার্থ স্বীকৃত না হইলে, তাৎপর্য এই যে তণ্ডুলং পচতি’ ইত্যাদি স্থলে তণ্ডুলপদোত্তরবর্তী অম পদার্থ যে কর্মত্ব তাহার নিরূপকত্ব সম্বন্ধে পাক পদার্থে অন্বয় করিতে হইলে অম্ বিভক্তির প্রকৃতি যে তণ্ডুল পদ তদীয় অর্থের সহিত অম্বিত হইয়াই অম্ পদের দ্বারা উপস্থাপিত কর্মত্ব পাকপদার্থে অম্বিত হইয়া থাকে। কোন প্রকারেই প্রকৃতির অর্থের সহিত অন্বিত না হইয়া প্রত্যয়ের অর্থ অপর কোন পদার্থে স্বতন্ত্রভাবে ११६ शब्दशक्तिप्रकाशिका অন্বিত হয় না। অতএব, পঙ্কজপদের পদ্মরূপ অর্থে সমুদায়শক্তি স্বীকৃত না হইলে ‘ড’ প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থাপিত যে পদ্ম তাহার অস্তিত্বাদি ক্রিয়ার সহিত অস্বয়বােধের উপপত্তি হইতে পারে না, কারণ, নিজপ্রকৃতির অর্থবিশিষ্ট যে প্রত্যয়ার্থ তাহারই পদার্থান্তরে অন্বয়বােধ হইয়া থাকে, ইহাই নিয়ম। অতএব, ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা প্রকৃতির অর্থ বিশেষিত হইয়াই যে প্রত্যয়ার্থ পদার্থান্তরের সহিত বিশেষ্যবিশেষণভাবের অন্বয় হয়, তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, প্রকৃত্যর্থবিশিষ্ট হইয়াই প্রত্যয়ার্থ পদার্থান্তরের সহিত অন্বিত হয় এই নিয়ম থাকার ফলে, যে ব্যক্তির পঙ্কজ পদস্থলীয় ‘পঙ্ক’পদের কদমরূপ অর্থে এবং ‘জ' ধাতুর উৎপত্তিরূপ অর্থে শক্তি গৃহীত হয় নাই অথচ ‘ড’ প্রত্যয়েব কর্তৃরূপ অর্থে শক্তি গৃহীত হইয়াছে, তাদৃশপুরুষের পক্ষে পঙ্কজমস্তি এই বাক্য হইতে ‘ড’ প্রত্যয়ের অর্থ কর্তার উপস্থিতি হইলেও কোনক্রমেই ‘কর্তাপ্তি' অর্থাৎ অস্তিত্ববিশিষ্ট কর্তৃত্বের অন্বয়- বােধ হয়না, কারণ, প্রত্যয়মাত্রের দ্বারা উপস্থাপিত কর্তা অস্তিত্ব প্রভৃতি পদার্থের সহিত নিরাকাঙ্ক্ষ হইয়া থাকে। এই বিষয়ে পূর্বেও বিস্তৃতভাবে আলােচনা করা হইয়াছে। উক্ত পর্যালােচনার ফলে গ্রন্থকারের সিদ্ধান্তানুসারে পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দস্থলে রূঢ্যর্থকে পরিত্যাগ করিয়া পঙ্ক-জনি কর্তৃরূপ কেবল যোেগশক্তিলভ্য অর্থের অথবা পঙ্কজনি- কর্তৃৰূপ যৌগিকাৰ্থকে পরিত্যাগ করিয়া সমুদায় শক্যার্থ কেবলমাত্র পদ্মের অন্বয়বােধ কখনও হইবে না, পরন্তু যৌগিক অর্থ পঙ্ক-জনি-কর্তৃবিশিষ্ট হইয়াই সমুদায়শ্যার্থ পদ্মত্ব- বিশিষ্টের অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে। যদি কখনও ‘পঙ্কজং শৈবাল’ বা ‘পঙ্কজং কুমুদ এইরূপ শৈবাল পদের সহিত বা কুমুদ পদের সহিত সাকাঙ্ক পঙ্কজপদের প্রয়ােগ হয় তাহা হইলে সেখানে পঙ্কজপদের পঙ্কজনি-কর্তৃত্ববিশিষ্টে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে, শক্তি নহে। আবার কখনও যদি ‘ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্নম্ ইত্যাদি বাক্য হইতে পঙ্কজ পদের দ্বারা লকমলের বােধ হয়, তাহা হইলে সেখানেও পঙ্কজপদের স্থলকমলে অর্থাৎ কেবলমাত্র পদ্মত্ববিশিষ্টে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। मूलम् किञ्चैवमेकाक्षरकोषावधृतशक्तिकानां कखादिप्रत्येकवर्णानामेव निरुद- लक्षणया तत्तदर्थानुभावकत्वसम्भवाद् वकनखादिसमुदायस्यापि तत्तदर्थे शक्तिर्विलीयेत, कादिप्रत्येकवर्णस्य शक्निग्रहं विनापि वकादिशब्दाद्- वकादेरनुभवार्थ तत्र समुदाये शक्तिरिति तु प्रकृतेऽपि समानम् , डादिप्रत्यय- पद्मादौ वृत्तिमत्वाग्रहेऽपि पङ्कजादिसमुदायात् पद्मादेरनुभवस्य सर्वसिद्धत्वात् । मात्रस्य सार्यकशन्दे योगदनामनिरूपणम् ৭৭৬ न चैवं चित्रगुरित्यादावपि चित्रगोस्वाम्यादौ समुदायस्य शक्ति- प्रसङ्गः, समासत्वस्याविशिष्टत्वादिति वाच्यम् , अगृहीतावयववृत्तिकस्य पुंसस्ततोऑनधिगमेनावयवानां वृत्तेरवश्यापेक्षायां तेषामेव तथाविधार्थ- बोधकत्वौचित्यस्य वक्ष्यमाणत्वादिति ॥ २६ ॥ (বৰ্ক, অনুবাদ ইহা স্বীকৃত হইলে আরও দোষ-এই যে, একাক্ষর কোষ হইতে ক, খ প্রভৃতি প্রত্যেক বর্ণের শক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরে তৎ তৎ বর্ণের নিরূঢ় লক্ষণার দ্বারা নখ প্রভৃতি শব্দ হইতে) বলাকা বা নখরাদিগােচর শব্দানুভব সম্ভবপর হওয়ায় বক, নখ ইত্যাদি বর্ণসমুদায়ের তৎ তদর্থে শক্তিও বিলীন হইবে। (যদি বলা হয় ) ক, খ প্রভৃতি প্রত্যেক বর্ণের শক্তিগ্রহ ব্যতিরেকেও বক, নখ প্রভৃতি শব্দ হইতে বলাকা কিংবা নখর প্রভৃতি পদার্থ বিষয়ক অম্বয়ানুভবের অনুরােধে বক, নখ পদস্থলে সমুদায়ে শক্তি স্বীকৃত হইবে, (তাহা হইলে ) সিদ্ধান্তিগণও বলিতে পারেন, আমাদের পক্ষেও পঙ্কজাদিপদস্থলে একই যুক্তি, কারণ পঙ্কজাদি পদের ঘটক ড প্রভৃতি প্রত্যয়মাত্রের পদ্ম প্রভৃতি অর্থে বৃত্তিমত্ত্বগ্রহ না থাকা কালেও পঙ্কজ এই বর্ণসমষ্টি হইতে পদ্মাদিবিষয়ক শব্দানুভব সকলেই স্বীকার করেন। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, চিত্র প্রভৃতি সমুদায়েও চিত্ৰগােস্বামিরূপ অর্থে সমুদায় শক্তি স্বীকৃত হইবে না কেন? যদি বলা হয়, চিত্রও শব্দের সমাসত্ব নিবন্ধনই সমুদায়শক্তি স্বীকৃত হইবে না এই আশঙ্কাও ঠিক নহে, পঙ্কজশব্দস্থলেও অনুরূপ সমাসত্ব থাকা সত্ত্বেও সমুদায়শক্তি সর্বানুভবসিদ্ধ। উক্ত আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন, যে পুরুষের পক্ষে চিত্র প্রভৃতি পদের অবয়বশক্তি গৃহীত হয় না, সেই পুরুষের পক্ষে উক্ত পদ হইতে অর্থের বােধ হয় না বলিয়া উক্ত পদের ঘটক চিত্র এবং গাে পদের বৃত্তি অবশ্য অপেক্ষিত থাকার ফলে সেই সকল অবয়বেরই তথাবিধ অর্থবােধকত্ব থাকা উচিত। এই বিষয়ে পরে আলােচনা করা হইবে। বিবৃতি প্রত্যয়মান্ত্রের দ্বারা উপস্থাপিত কর্তৃরূপ পদার্থের পদার্থান্তরে অন্বয়বােধের প্রতি যে নিরাকাঙ্ক্ষত্ব দোষ প্রদর্শিত হইয়াছে, উক্ত দোষ সর্ববাদিসম্মত হইতে পারে না, কারণ, ৭৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका ৩ মণিকারের মতে,পঙ্কজ প্রভৃতি পদের অন্তর্গত পঙ্ক প্রভৃতি অবয়বের শক্তি গৃহীত না হইলেও পঙ্কজমন্তি’ এই বাক্য হইতে পদ্মবিশেষক অস্তিত্বপ্ৰকাৰক অন্বয়বােধ স্বীকৃত, প্রাচীন মতে কিন্তু, তাদৃশ অন্বয়বােধ স্বীকৃত নহে। সুতরাং প্রাচীন মতে, উক্ত দোষও সম্ভবপর নহে; কেননা প্রাচীনগণ, যােগার্থকে বর্জন করিয়া কেৰল সমুদায় শক্তিলভ্য রূঢ্যর্থকে গ্রহণ করিয়া অন্বয়বােধ স্বীকার করেন না। এইজন্য প্রাচীন ও নব্য উতসম্মতদোষ প্রদর্শন করিবার জন্য কিঞ্চৈবং' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। এবং’ শব্দের দ্বারা পঙ্কজ পদের যদি শক্তি স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে, এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজপদ প্রভৃতির অবয়ব অর্থাৎ একদেশ যে পঙ্কজড এই তিনটি পদ তাহা হইতে অর্থাৎ পঞ্চপদের পঙ্করূপ অর্থে জনপদের উৎপত্তি রূপ অর্থে এবং ৬ পদের কর্তারূপ অর্থে শক্তি স্বীকার করিয়া পঙ্কজ এই সমুদায়ে যদি শক্তি স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে একাক্ষর কোষানুসারে ক, খ প্রভৃতি প্রত্যেক বর্ণের অর্থ বিশেষে শক্তি গৃহীত হইবার পরে ‘বকোহস্তি’ ‘নখােমন্তি’ এইরূপ বাক্য হইতে বক, নখ প্রভৃতি শব্দের অন্তর্গত প্রত্যেক বর্ণের নিরূঢ় লক্ষণ। স্বীকৃতি মূলে বক শব্দ হইতে বলাকারূপ অর্থে, নখ শব্দ হইতে নখর রূপ অর্থে, অস্তিকাদি ক্রিয়ার অন্বয়বােধ সম্ভবপর হওয়ায় উক্ত অন্বয়বােধের অনুরােধে বক, নখ প্রভৃতি শব্দের তৎ অর্থে সমুদায় শক্তি কল্পনা করা নিরর্থক। সুতরাং অবয়বের বৃত্তির দ্বারা পদার্থের উপস্থিতি মূলে সর্বত্র অন্বয়বােধের উপপত্তি হইবে। অতএব, বক, নখাদি পদের সমুদায় শক্তি কল্পনা করা অযৌক্তিক। এখন প্রশ্ন হইতে পারে, বক নখাদি শব্দস্থলে উক্ত শব্দের ঘটক ক খ প্রভৃতি প্রত্যেক বর্ণের একাক্ষর কোষাদিমূলে যখন শক্তি গৃহীত হইবে না, তখন ক খ প্রভৃতি প্রত্যেক বর্ণগত শক্তিগ্রহ ব্যতিরেকেও বকখাদি শব্দ হইতে বলাকা অথবা নখর প্রভৃতি পদার্থের অন্বয়ানুভবের অনুরােধে বক নখ প্রভৃতি শব্দের অবশ্য শক্তি কল্পনা করিতে হইবে। এই বক্তব্যের উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন, পঙ্কজ শব্দস্থলেও একই ব্যবস্থা অবলম্বনীয়, অর্থাৎ বকখাদি শব্দের যেরূপ বকাঝাদি প্রত্যেক বর্ণের শক্তিগ্রহ না থাকা কালে সমুদায়ে শক্তি স্বীকার করিয়া অন্বয়বােধের উপপত্তি করিতে হইবে, তদ্রুপ পঙ্কজ শব্দস্থলেও পঙ্ক প্রভৃতি পদের শক্তিগ্রহ না থাকা কালেও পঙ্কজাদি পদের সমুদায়ে শক্তি স্বীকার করিয়া উক্ত শক্তিগ্রহ হইতে পদ্মাদিগােচর অম্বয়বােধের উপপত্তি করিতে হইবে, কারণ পঙ্কজ পদের ঘটক, ড’ প্রভৃতি প্রত্যয়মারে পদ্মাদিরূপ অর্থে বৃত্তিমত্ব গ্রহ না থাকা কালেও পঙ্কজ এই সমুদায় শব্দ হইতে পদ্মাদিবিষয়ক শাবানুভৰ সৰ্বদিসম্মত। এখন, (সমাস শক্তিবাদী)বৈয়াকরণ সম্প্রদায়, ন্যায়মতের বিরুদ্ধে ‘ন চৈ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে একটি আশঙ্কা উথাপন করিতেছেন—ইহাদের বক্তব্য এই যে, নামতে পঙ্কজ এই সমাসবদ্ধ পদের যদি শক্তি বীকৃত হয়, তাহা হইলে ‘চিত্র' প্রভৃতি সমাস স্থলে চিত্ৰ গােস্বামী প্রভৃতি অর্থে ‘চিত্রগু’ এই সমুদায়ের শক্তি স্বীকৃত হইবে না কেন? চিত্ৰণ্ড যেরূপ সমাসবদ্ধ পদ, পঙ্কজপদটিও তদ্রুপ সমাসবদ্ধ। সুতরাং পঙ্কজ পদের ন্যায় চিত্ৰণ্ড শব্দে সমুদায়ের শক্তিৰীকৃত হইতে পারে।
सार्थकमब्दे योगदनामनिस्पणम् ११९ এই আশঙ্কায় সমাধানকল্পে জগদীশ বলিতেছেন, পঙ্কজপদস্থলে পৰু প্রভৃতি অবয়ব পদের শক্তি গৃহীত না হইলেও পঙ্কজ এই সমুদায়ের পদ্মৰূপ অর্থে শক্তিগ্রহ হইতে পদ্ম বিষয়ক উপস্থিতিকে দ্বার করিয়া পদ্মবিষয়ক অন্বয়বােধ হইয়া থাকে। কিন্তু ‘চিত্রগু’ এই সমস্ত পদটি সেরূপ নহে, অর্থাৎ চিত্ৰগু’ শব্দস্থলে উক্ত শব্দের অন্তর্গত চিত্ৰ-গাে এই দুইটি পদেয় ঘটক প্রত্যেকটি পদের শক্তিজ্ঞান যেই পুরুষের নাই, সেই পুরুষের পক্ষে চিত্রও এই সমস্তপদ হইতে অন্বয়বােধ কেহই স্বীকার করেন না। অতএব, সমাস পূলে সমাসের ঘটক প্রত্যেক শব্দের যখন শক্তি বা লক্ষণারূপ বৃত্তি অঙ্গীকার করিতে হইবে, তখন সমাসের অন্তর্গত গো অথবা চিত্র পদের চিত্র-গো-খামীরূপ অর্থে লক্ষণারূপবৃত্তি স্বীকৃতি মূলে তাদৃশ সমুদায়ার্থগোচর অন্বয়বােধের জনকত্ব কল্পনা করাই সমীচীন। বিষয়ে সমাস প্রকরণে আরও আলােচনা করা হইবে। ২৬। मूलम् पङ्कजादिपदेभ्यः केवलस्यव योगार्थस्य रूढ्यर्थस्य वा बोधव्युदा- सार्थ तादृशार्थयोमिथः साकासत्वनियमो न कन्प्यते, परन्तु रूट्यर्थमिन्न योगार्थस्य बोधं प्रति, रूढिधियः प्रतिबन्धकत्वम्, तेन रूढेरप्रतिसन्धान- दशायामवयवशक्त्यैव पङ्कजं कुमुदमित्यादौ पङ्कजनिक वादिना कैरवा- देवगमः । तथाचावयवशक्त रनुपस्थितौ समुदायशक्त्यैव भूमौ पङ्कज- मुत्पन्नमित्यादौ पनत्वप्रकारेण स्थलपद्मादेः, अतएव, तैलपदं योगेन तिल- प्रभवं, रूढ्या च विलक्षणद्रवद्रव्यपर्यवसितं स्नेह बोधयद्योगरूढमपि तैलं पत्रमित्यादौ, सर्पपस्य तैलमित्यादौ च, शक्त्यैव प्रत्येकस्य बोधक- मिति मीमांसकानां मतमुपन्यस्यति ।- रूढ्यर्थमिन्ने योगार्थबुद्धौ रूढेविरोधिताम् । वदन्ति केचिदेकैकबुद्धिस्त : कचिदिष्यते ॥ २७ ॥ অনুবাদ (মীমাংসক সম্প্রদায় বলেন) পঙ্কজ প্রভৃতি পদ হইতে কেবলমাত্র যােগার্থের কিংবা কেবলমাত্র রূঢ্যর্থের অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য উক্ত উভ ৭২০ शब्दशक्तिप्रकाशिका বিধ অর্থের পরম্পর সাকাঙ্ক্ষত্ব নিয়ম কল্পিত হইবে না, পরন্তু রূঢ্যর্থভিন্ন পদার্থ বিশেষ্যক যােগাৰ্থ প্ৰকারক অন্বয়বােধের প্রতি রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব (কল্পিত হইবে)। ইহার ফলে, পঙ্কজ প্রভৃতি পদের রূঢ়ি জ্ঞান না থাকা কালে, কেবলমাত্র অবয়বশক্তির দ্বারাই “পঙ্কজং কুমুদ” ইত্যাদি বাক্য হইতে পঙ্কজনিকর্তৃত্বপ্রকারক কুমুদবিশেষ্যক অম্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে । প্রভৃতি পদের অবয়ব শক্তির অনুপস্থিতি কালে, কেবলমাত্র সমুদায় শক্তির দ্বারাই “ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্নম্” এই সকল স্থলে, পদ্মত্ব প্রকার স্থলপদ্মাদিবিশেষ্যক অন্বয়বােধ হইবে। অতএব ‘তৈল’ পদটি, যােগশক্তি মূলে তিল হইতে উৎপন্নরূপ যােগার্থের এবং সমুদায় শক্তিমূলে বিজাতীয় দ্রবদ্ৰব্যরূপে পর্যবসিত স্নেহ পদার্থের বােধক হওয়ায় যােগরূঢ় হইলেও ‘তৈলং পত্রম্ এই সকল স্থলে এবং ‘সর্ষপস্য তৈল ইত্যাদি স্থলেও তৈলপদ শক্তির দ্বারাই প্রত্যেকের ( কেবল যােগার্থের বা কেবল রূঢ্যর্থের ) বােধক হইয়া থাকে। এই প্রকার মীমাংসক মত উপস্থাপিত করিবার জন্য গ্রন্থকার “রূঢ্যর্থ ভিন্নে” ইত্যাদি কারিকার অবতারণা করিতেছেন, অর্থাৎ রূঢ্যর্থভিন্ন বিশেষ্যক যােগাৰ্থ প্ৰকারক বুদ্ধির প্রতি কোনও সম্প্রদায় রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব স্বীকার করেন। তাহাদের মতে পঙ্কজ প্রভৃতি পদ হইতে কখনও কেবলমাত্র যােগাৰ্থবােধ কখনও বা কেবলমাত্র রূঢ্যর্থবােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে। বিবৃতি ‘পঙ্কজাদি পদেভ্য ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে মীমাংসক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তপ্রদর্শনপূর্বক ‘রূঢ্যর্থভিয়ে’ ইত্যাদি শ্লোকের ভূমিকা রচনা করিতেছেন।‘কেবলবৈ যােগার্থ রূঢ্যর্থ’ ইত্যাদি সন্দর্ডের দ্বারা ন্যায়মতের উল্লেখপূর্বক উক্ত ন্যায়মত হইতে বিলক্ষণ মীমাংসক মত উপস্থাপিত করিতেছেন। কেবল এই অংশটি যেরূপ যােগাৰ্থে অন্বিত হইবে তদ্রুপ রূঢ়ার্থেও অন্বিত হইবে। বােধবুদাৰ্থ এই অংশের অর্থ করিতে হইবে, অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য। “তাদৃশার্থয়াে” এখানে ‘তশার্থ’ পদের যােগাৰ্থ এবং রূঢ্যর্থরূপ অর্থদ্বয় গৃহীত হইবে। সাকাঙ্ক্ষত্বনিয়মেন কল্পতে অর্থাৎ যােগাৰ্থ প্ৰকারক রূঢ্যর্থ- বিশেষক অন্বয়বােধজনকত্ব রূপ সাকাঙ্ক্ষত্ব স্বীকৃত হইবে না। তাৎপর্য এই যে, ন্যায়- সিদ্ধান্তে ‘পঙ্কজ’পদ হইতে কেবলমাত্র অবয়বশক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনিকর্তৃত্বপ্রকারক কৈরবাদি বিশেষ অন্বয়বােধের অথবা পঙ্কজপদের সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত কেবলমাত্র পদ্মকে গ্রহণ করিয়া লকমলবিষয়ক অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য তাদৃশ অর্থদ্বয়ের পরস্পর সাকা, অর্থাৎ ন্যায় মতে, অবয়ব শক্যার্থ যে পঙ্কজনিকর্তৃত্ব এবং সমুদায় শক্যার্থ যেপদ্ম এতদুভয়ের সাকাক্ষ পদোণস্থাপ্যত্ব প্রযুক্ত পরস্পর নিরূপ্য নিরূপক सार्थकशब्दे योगस्नामनिरूपणम् १२१ ভাবাপন্ন বিষয়তাশালী অন্বয়বােধের ‘জনক’ত্বই ‘পঙ্কজ’পদে স্বীকৃত হইয়াছে। নিরূপ্য নিরূপ ভাবাপন্ন বিষয়ুশূন্য কেবল যােগার্থের বোধ বা কেবল সমুদায়ার্থের বােধ ন্যায়সিদ্ধান্তে স্বীকৃত নহে। মীমাংসক সম্প্রদায় কিন্তু তাদৃশ অন্বয়বোধ বারণ করিবার জন্য অবয়বশক্তিলভ্য যে ঘােগার্থ এবং সমুদায়শক্তিত্য যে রূঢ্যর্থ এতদুভয়ের পূর্বোক্তরূপ সাকাঙ্ক্ষত্ব কল্পনা করেন না। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে যদি মীমাংসক সম্প্রদায় পূর্বোক্ত যােগাৰ্থ এবং সমুদায়ার্থ এতদুভয়ের পরস্পর সাকাঙ্ক্ষত্ব কল্পনা না করেন, তাহা হইলে সমুদায় শক্তিলভ্য রূঢ্যর্থের উপস্থিতি কালে কেবল অবয়ব শক্তিলত্য যােগাৰ্থ প্ৰকাৰক কৈবদিবিশেষ্যক অন্বয়বােধ কেমন করিয়া বারিত হইবে? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে, জগদীশ মীমাংসক মত অবলম্বন করিয়া বলিতেছেন—‘পরন্তু’ ইত্যাদি। মীমাংসক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত এই যে, রূঢ্যর্থভিন্ন কোন পদার্থকে বিশেষরূপে গ্রহণ করিয়া অবয়ব শক্যাৰ্থ প্ৰকাৰক অম্বয়- বােধের প্রতি পঙ্কজং পদ্মশ” এই আকারের রূঢ়িজ্ঞানপ্রতিবন্ধক হইবে। সুতরাং রূঢ়িজ্ঞান থাকাকালে কেবল যােগাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধ সম্ভাবিত নহে। ইহার ফলে যখন রুটিজ্ঞান না থাকিবে, তখন কেবল অবয়ব শক্তির দ্বারা পঙ্কজ কুমুদ” এই আকারের রূঢ্যর্থভিন্ন যে কুমুদ, তদ্বিশেষক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। আবার যখন অবয়বশক্তির দ্বারা পঙ্কজনি কর্তৃত্বের উপস্থিতি থাকিবে না, অথচ সমুদায় শক্তিমাত্রের দ্বারা পদ্মমাত্রেরই উপস্থিতি থাকিবে, তখন কিন্তু ‘ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্নম্ এই আকারের পদ্মত্বপুরস্কারে লকমলের বােধ হইবে। ইহাই মীমাংসক সম্প্রদায়ের অভিপ্রেত প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধকতাব কল্পনার ফল। উক্ত মীমাংসকমতের উপর আশঙ্কা হইতে পারে, পঙ্কজপদটি সন্দিগ্ধ, অতএব অন্য কোথাও (খুলন্তরে) রূঢ্যর্থের অনুপস্থিতিকালে রূঢ্যর্থকে পরিত্যাগ করিয়া কেবল অবয়ব শক্যার্থের বােধ এবং অবয়ব শক্যার্থের অনুপস্থিতিকালে কেবল রূঢ়ার্থের বােধ যদি প্রমাণসিদ্ধ হয়, তাহা হইলে উক্তববাধের অনুরােধে পূর্বোক্ত প্রতিবধা-প্রতি- বন্ধকতাব কল্পিত হইতে পারে, কিন্তু সন্দিগ্ধ স্থলীয় দৃশবােধের অনুরােধে নহে। এই আশঙ্কার উত্তরে অতএব ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা তৈল পদটিকে সবদিসিদ্ধ যােগরূঢ়পদের উদাহরণরূপে গ্রহণ করিয়া উক্ত পদ হইতে রূঢ্যর্থের অপ্রতিসন্ধানকালে কেবল অবয়বার্থের এবং যােগার্থের অপ্রতিসন্ধানকালে কেবল রূঢ্যর্থের বােধ সকল সম্প্রদায়ই স্বীকার করেন। সুতরাং তাদৃশ বােধের অনুরােধে রূঢ্যর্থভিন্নৰিশ্যেক যােগাৰ্থপ্রকারক বুদ্ধির প্রতি রূঢ়ি জ্ঞানের প্রতিবন্ধকতা অবশ্য কল্পনা করিতে হইবে। ‘তৈল’ পদটির মােগাৰ্থ প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন তিলপ্ৰভব’—অর্থাৎ তিল হইতে উৎপন্ন। তৈলপদের রূঢ্যর্থ প্রতিপাদন করিবার জন্য বলিতেছেন-“রূঢ়া চবিলক্ষণ- দ্রব্যপর্যবসিত ইত্যাদি। ইহা হইতে আমরা স্পষ্ট বুঝিতে পারি, যােগরূঢ় তৈল পদ হইতে রূঢ়ার্থের এবং যােগার্থের উপস্থিতিকালে তিল হইতে উৎপন্ন বিলক্ষণ দ্রব্য- রূপ স্নেহপদার্থ যে তিল-তৈল তাহারই বোধ হইবে। আবার যখন রূঢ়্যর্থের উপস্থিতি থাকিবে না তখন তৈলং পত্ৰ' ইত্যাদিলে পত্রবিশেষক তিলপ্ৰভবত্ব প্ৰকাৰক অম্বয়বোধ १२२ शब्दशक्तिप्रकाशिका এবং যােগার্থের অনুপস্থিতি কালে ‘সর্ষপ তৈল ইত্যাদিস্থলে সর্ষণভবত্ব একারক বিলক্ষণ সুষ্যরূপ স্নেহপদার্থ বিশেষ্যক অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। উক্ত মীমাংসক সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করিবার জন্য চ্যর্থভিন্ন যােগাৰ্থ ইত্যাদি কাৰিকাটি উপস্থাপিত করিতেছেন। উক্ত কারিকাটির বিশদার্থ এই যে, কোনও মীমাংসক সম্প্রদায় বলেন রূট্যর্থভিন্ন কোন পদার্থকে বিশেষ রূপে গ্রহণ করিয়া অবয়ব শক্তিলভ্য যােগাৰ্থপ্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি সমুদায় শক্তিরূপ রূঢ়ির জ্ঞান প্রতিবন্ধক। এই সকল মীমাংসকের মতে সমুদায় শক্তিলভ্য অর্থ এবং অবয়বশক্তিলভ্য অর্থ এতদুভয়ের মধ্যে কদাচিৎ কেবলমাত্র অবয়ৰ শক্যার্থের উপস্থিতি থাকিলে কেবলমাত্র অবয়ব-ক্যার্থের এবং কেবলমাত্র সমুদা শক্তিলভ্য অর্থের উপস্থিতি থাকিলে কেবলমাত্র সমুদায় শক্যার্থের প্রতিপত্তি হইয়া থাকে। "कचित्" समुदायावयवयोरेकमात्रस्य शक्तिप्रतिसन्धानस्थले । यद्यपि पमान्य धर्मिकपङ्कजातत्वान्वयबोधसामान्यं प्रति पङ्कजपदं पद्मशक्क- मित्येवं रूढिज्ञानत्वेन न विरोधित्वम् तादृशधीसत्त्वेऽपि कर्दमजादिशब्देभ्य- स्ताद्रूप्येण कैरवादेवगमात् , नापि पङ्कजपदजन्य तादृश बोधं प्रत्येव तथात्वेन विरोधित्वम् , रूढिज्ञानदशायामपि समुदायस्य लक्षणया शक्ति- भ्रमेण वा पङ्कजपदात् पङ्कजातत्वेन कुमुदबोधस्य सर्वैरुपगमात् । तथाप्य- वयवशक्त्या पङ्कजपदजन्यपद्मान्यधर्मिकपङ्कजातत्वान्वयबोधं प्रत्येव रूढि- ज्ञानत्वेन प्रतिबन्धकत्वम् । न च कुमुद एव पनत्वेन रूढिभ्रमदशायां ताद्रूप्येण कुमुदस्य बोधो न स्यात् विरोधिन्या रूढिधियः सत्त्वादिति वाच्यम् । 'पद्मान्यधर्मिके त्यनेन पद्मत्वानवच्छिन्नविशेष्यताकत्वस्योक्त- त्वात् । पद्मस्येव कुमुदस्यापि समुदायशकत्वधीदशायामवयवशक्त्या "पङ्क- जातं कुमुद"मित्याकारकधीस्वीकारे तु कुमुदादिशक्तत्वज्ञानाजन्यत्वेनापि प्रतिवध्यं विशेषणीयम् । ১। পঙ্কজপদং পদ্মশ এইরূপ রূঢ়ি জ্ঞানকালেও পদ্মবিশেষ্যক পঙ্কজাতকারক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে, এইজন্য ধর্মীয় অংশে ‘পদ্মায় বিশেষণটি দেওয়া হইয়াছে। ২। উক্ত শঙ্কিত প্রতিবধপ্রতিবন্ধকতাৰ খণ্ডন করিবার জন্য ‘তাশীলজেপি’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন।
सार्थक शब्दे योगहनामनिरूपणम् १२३ অনুবাদ ‘রূঢ্যর্থভিগ্নে' ইত্যাদিকারিকার অন্তর্গত “কচিৎ” পদটির সমুদায় এবং অবয়ব এতদুভয়ের মধ্যে একটি মাত্রের শক্তি নিশ্চয় স্থলে, এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। ( আশঙ্কা) যদ্যপি পদ্মবিশেষ্যক পঙ্কজাতত্বপ্রকারক অন্বয়বুদ্ধি সামান্যের প্রতি ‘পঙ্কজপদং পদ্মশক্ত এই আকারের রূঢ়িজ্ঞানত্ব পুরস্কারে প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করা যায় না, (কারণ) উক্ত রূঢ়িজ্ঞান থাকা কালেও কর্দমজ প্রভৃতি শব্দ হইতে উপস্থাপিত পঙ্কজাতত্বপ্রকারক কুমুদাদিবিশেষ্যক অন্বয়বােধ হইয়া থাকে। যদি কেহ বলেন পঙ্কজ পদ জন্য পঙ্কজাতত্ব প্রকারক পদ্মাধর্মিক অন্বয়বােধের প্রতি উক্ত রূঢ়িজ্ঞানত্ব পুরস্কারে প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করা হইবে, এই উক্তিও ঠিক নহে, কারণ, “পঙ্কজাতং পদ্ম” এইরূপ রূঢ়ি জ্ঞান থাকা কালেও পঙ্কজপদসমুদায়ে কুমুদ রূপ অর্থে লক্ষণা বা শক্তিমবশতঃ পঙ্কজ পদ হইতে পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে কুমুদ- বিষয়ক বােধ সকলেই স্বীকার করিয়া থাকেন। (যদ্যপি ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা উপস্থাপিত আশঙ্কার উত্তরে বলিতেছেন) তথাপি অবয়বশক্তিপ্রযােজ্য পঙ্কজপদজনিত পদ্মভিন্নধর্মিক পঙ্কজাতত্ব প্রকারক অন্বয়বােধমাত্রের প্রতি পূর্বোক্ত (পঙ্কজপদং পদ্মশক্ত ) রূঢ়িজ্ঞানত্বপুরস্কারে প্রতিবন্ধকত্ব কল্পিত হইবে। ইহার উপরেও আশঙ্কা হইতে পারে, যখন পদ্মত্ব পুরস্কারে কুমুদে পঙ্কজ পদ সমুদায়ের লক্ষণ বা শক্তিম থাকিবে তখন পদ্মত্ব পুরস্কারে কুমুদের বােধ হইতে পারে না, কারণ উক্ত বােধের বিরােধী রূঢ়িজ্ঞান বিদ্যমান রহিয়াছে। এই আশঙ্কা কিন্তু ঠিক নহে, (কারণ) ‘পদ্মাধর্মিক’ যাহা বলা হইয়াছে, এই অংশের, পদ্মত্বের দ্বারা অবচ্ছিন্ন নহে এইরূপ যে বিশেষ্যতা তন্নিরূপকত্বরূপ অর্থে তাৎপর্য গ্রহণ করিতে হইবে। পদ্মের ন্যায় কুমুদেও সমুদায় শক্তিজ্ঞানকালে অবয়বশক্তির দ্বারা যদি পদ্মজাতত্বপ্রকারক কুমুদবিশেষ্যক অন্বয়বােধ স্বীকৃত হয়, (তাহা হইলে) কুমুদাদি শক্তিজ্ঞানজন্য ভিন্নরূপ ধর্মটির দ্বারা প্রতিবধ্য জ্ঞানটি বিশেষিত করিতে হইবে । বিবৃতি সমুদায়বিয়বয়োয়েকমাত্র শক্তিপ্রতিসন্ধানস্থলে এই অংশের দ্বারা কায়িকার অন্তর্গত ‘কচিৎ' শব্দটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। প্রকৃত স্থলে পঙ্কজ পদের পঙ্কজ এই সমুদায় অথবা পঙ্ক প্রভৃতি অবয়ব এতদুভয়ের অন্তর্গত একটিমাত্রের অর্থাৎ কেবল সমুদায়ের ৭২ शब्दशक्तिप्रकाशिका অথবা কেবল অবয়বের শক্তি যখন গৃহীত হইবে তাদৃশ স্থলে, ইহাই, কচিৎ’পদের সমুদিতার্থ বুঝিতে হইবে। রূঢ্যর্থ এবং ঘােগাৰ্থ এতদুভয়ের শক্তি গৃহীত হইলে মীমাংসকমতে যােগাৰ্থমাত্রের অন্বয়বােধ স্বীকৃত নহে। এই জন্য একমাত্র বলা হইয়াছে। যদ্যপি’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে যােগাৰ্থ বুদ্ধি এবং রূঢ়িজ্ঞান এতদুভয়ের প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকতাবের অনুপপত্তি প্রদর্শন করিতেছেন। জগদীশ বলিতেছেন, পদ্মভিন্ন (পদার্থ) বিশেষ্যক পঙ্কজাতত্ব প্ৰকাৰক অন্বয়বুদ্ধি সামান্যের প্রতি পঙ্কজপদং পদ্মশ এই আকারের পদ্মনিরূপিত শক্তি প্রকারক পঙ্কজ পদবিশেষ্যক জ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করা যায় না। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজপদং পদ্মশক্ত এইরূপ রূঢ়িজ্ঞান থাকা কালে পঙ্কজাতং কুমুদ’ এইরূপ কুমুদ বিশেক পঙ্কজাতত্ব রূপ অবয়বাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য পূর্বোক্ত প্রকারে প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধক তার কল্পনা করিলে পঙ্কজং কুমুদ এই অন্বয়বােধ বারণ হয় বটে, কিন্তু পঙ্কজপদং পদ্মশ—এইরূপ রূঢ়িজ্ঞান বিদ্যমান থাকিলেও ‘কদমজ’ শব্দ হইতে উপস্থাপিত যে পঙ্কজাতত্ব তং প্রকারক কুমুদবিশেষ অম্বয়বােধ সকলেই স্বীকার করেন। যদি পূর্বোক্তরূপে প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধক ভাব কল্পিত হয়, তাহা হইলে কদমজ পদের অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে কুমুদের বোধ হইতে পারে না, কারণ, পঙ্কজাতত্বরূপ অর্থটি যে কোন পদ হইতে উপস্থাপিত হউক না কেন তৎপ্রকারক অন্বয় বুদ্ধিসামান্যের প্রতি পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এই রূঢ়িজ্ঞান প্রতিবন্ধক হইবে, ইহাই বলা হইয়াছে, সুতরাং উক্ত প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকভাব কল্পিত হইলে কর্দমজং কুমুদ’ এই বাক্য হইতেও তাদৃশ অন্বয়বােধ হইতে পারিবে না। উক্ত অন্বয়বোধের অনুপপত্তি বারণ করিবার জন্য প্রকারান্তরে কল্পিত প্রতিবধ্য-প্রতি- বন্ধকতাবও সমীচীন হইবে না, এই অভিপ্রায়ে ‘নাপি' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করা হইয়াছে। নাপি’ এই অংশটি অগ্রিম বিরোধিত্বম্ এই অংশের সহিত যােজনা করিতে হইবে। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এই রূঢ়িজ্ঞানকালে কদমজ প্রভৃতি যৌগিক শব্দান্তর হইতে পঞ্চজাতত্বপ্রকারক পদ্মাবিশেষ্যক অন্বয়বােধের উপপত্তি করিবার জন্য প্রতিবধ্যাংশে পঙ্কজপদজনত্ব নিবেশ করিয়া যদি পঙ্কজ পদ হইতে—উৎপন্ন পঙ্কজাতত্ব প্রকারক পদ্মবিশেষ্যক যে অন্বয়বােধ, তাহার প্রতি, পঙ্কজপদং পদ্ধশক্তং এই রূঢ়ি- জ্ঞানের প্রতিবন্ধকতা কল্পনা করা হয়, তাহাও সঙ্গত হইবে না। কেন সঙ্গত হইবে না তাহা প্রতিপাদন করিবার জন্য ‘রূঢ়িজ্ঞানদশায়ামপি’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এই প্রকার রূঢ়িজ্ঞান থাকা কালেও পঙ্কজাতত্বরূপ অর্থে নিরূঢ়লক্ষণ অথবা শক্তিভ্রম থাকিলে পঙ্কজাতং কুমুদ’ এইরূপ অন্বয়বােধ সকলেই স্বীকার করিয়া থাকেন। পূর্বোক্ত প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকতাব স্বীকৃত হইলে লক্ষণাগ্রহাধীন ৰা শক্তিমাষীন তাদৃশ অম্বয়বােধ হইতে পারিবে না। প্রশ্ন হইতে পারে, পঙ্কজ পদসমুদায়ের লক্ষণাবৃত্তিকে গ্রহণ করিয়াই যখন পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে কুমুদবিষয়ক বােধ সম্ভবপর হয়, তখন শক্তিমাখীন তাদৃশবােধ অনুসরণ করিবার প্রয়ােজন কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে, পঙ্কজপদজনত্ব যাহা প্রতি सार्यकशब्दे योगदनामनिरूपणम् १२५ বধ্যাংশে নিবেশ করা হইয়াছে, সেখানে পঙ্কজপদজনত্ব স্থলে যদি পঙ্কজ পদশক্তিগ্ৰহজত্ব নিবেশ করা হয়, তাহা হইলে পঙ্কজপদের লক্ষণাধীন শাত্ববােধের অনুপপত্তি হইবে না, কারণ লক্ষণজনিত তাদৃশ শাবুদ্ধি ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ’—এই রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য নহে এইজন্য লক্ষণগ্ৰহজনিত শব্দবুদ্ধির অনুপপত্তি প্রদর্শন করিয়া পঙ্কজপদের শক্তিভ্রমজনিত শাবােধের অনুপপত্তি প্রদর্শন করিয়াছেন। যদ্যপি ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে পূর্বপক্ষ- স্থাপন করিয়া ‘তথাপি ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা উক্ত পূর্বপক্ষের সমাধান করিতেছেন। ‘অবয়বশ্যা’ অর্থাৎ পঙ্কজ পদের ঘটক পঙ্ক প্রভৃতি প্রত্যেক পদের শক্তির দ্বারা, ‘নিরুক্ত রূঢ়িজ্ঞানত্বেন' এই অংশের ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এই আকারের সমুদায় শক্তি গােচর জ্ঞানত্ব পুরস্কারে, এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে! তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজ পদের অবয়বশক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্রকারক পদ্মভিঃবিশেষ্যক অন্বয়বােধের প্রতি পঙ্কজপদং পদ্ম- শক্ত এই আকারের রূঢ়িজ্ঞান প্রতিবন্ধক হইবে। এইরূপ প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকতাব কল্পনার ফলে, পঙ্কজপদ হইতে পঙ্কজাতত্বপ্রকারক পদ্মভিন্ন যে কুমুদাদি তদ্বিশেষক বােধের আপত্তি যেরূপ ৰারিত হইবে, তদ্রুপ পঙ্কজ পদের লক্ষণ বা শক্তিভ্রমজনিত পঙ্কজাত প্রকারক কুমুদবিশেষক অম্বয়বােধের অনুপপত্তিও হইবে না। ‘ন চ' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে গ্রন্থকার অপর একটি শঙ্কা উত্থাপন করিতেছেন। ‘ন চ’ এই অংশটি অগ্রিম “বাচ” এই অংশের সহিত অন্বিত হইবে। কুমুদ এব পদ্মত্বেন রূঢ়িভ্রমদশায়া ইত্যাদি। তাৎপর্য এই যে, যখন পঙ্কজপদের পদ্মত্বপুরস্কারে কুমূদে শক্তির ভ্রম হইবে, তখন কিন্তু পঙ্কজাতত্বরূপ যৌগিক অর্থপ্রকারক পদ্মত্বপুরস্কারে কুমুদবিশেষ্যক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে । পূর্বে যে, পদ্মানধর্মিক পঙ্কজাতত্ব প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকতা কল্পনা করা হইয়াছে, বর্তমান ক্ষেত্রেও উক্ত রূঢ়িভ্রম হইতে পদ্মত্বপুরস্কারে পদ্মভিন্ন যে কুমুদ তদ্বিশেষক অন্বয়বােধের বিরােধী পঙ্কজাতং পদ্মম এই আকারের ‘দুত্ববচ্ছিন্ন কুমুদবিষয়ক রূঢ়িজ্ঞান প্রতিবন্ধক হওয়ায় তাদৃশ অন্বয়বােধের অনুপপত্তি হইবে, কারণ উক্ত অম্বয়বোধের বিরােধী ভ্রমরূপ রূঢ়িজ্ঞান বিদ্যমান রহিয়াছে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘পদ্মাণধর্মিকেতনে” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ প্রতিবধ্য কোটিতে প্রবিষ্ট বােধে যে, ‘পদ্মানধর্মিক’ বলা হইয়াছে ইহার দ্বারা পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষ্যতাকরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। ইহার ফলে পঙ্কজাতত্বপ্রকারক পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষতানিরূপক অম্ববোধের প্রতি পঙ্কজ পদং পদ্মশ’ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞান প্রতিবন্ধক হইবে। ঈদৃশ প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকতাৰ কল্পনা করার ফলে পদ্মত্বপুরস্কারে কুমুদ পদার্থে রূঢ়িভ্রম কালেও পঙ্কজাতং পদ্মম্ এই আকারের পঙ্কজাতত্ত্ব প্রকারক পদ্মত্বাবচ্ছিন্ন কুমুদবিশেষ্যক অম্বয়বােধ উপপত্ন হইবে, কারণ উক্ত অয়বােধ পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষ্যতার নিরূপক না হওয়ায় ভ্রমাত্মক তাদৃশ রূঢ়িতানের প্রতিবধ্য নহে, ইহাই গ্রন্থকারের তাৎপর্য। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, প্রতিবধ্যজ্ঞানে পদ্মত্বভিন্ন ধর্মাবচ্ছিন্ন বিশেষতকত্ব নিবেশ করিলেই যখন পদ্মপুরস্কারে কুমুদ বােধের উপপত্তি হইতে পারে, তখন প্রতিবধ্যাংশে १२१ शब्दसतिप्रकाशिका পদ্মবভিন্নধর্মাবচ্ছিন্ন বিশেষ্যত্ব নিবেশ না করিয়া পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষতাকত্ব নিবেশ করিবার প্রয়ােজন কি? এই আশঙ্কার উত্তরে কৃষ্ণকান্ত বলেন, উক্ত আশঙ্কা ঠিক নহে, কারণ, পঙ্কজপদং পদ্মশ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞান থাকা কালেও ‘সসি পঙ্কজমুৎপন্নম ইত্যাদি বাক্য হইতে সরােবরাধিকরণক ‘উৎপত্তিমদতিং পঙ্কজম’ এই আকারের পঙ্ক- জাতত্বাবচ্ছিন্নবিশেষক অভেদসম্বন্ধেন উৎপত্তিমৎকারক অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে। উক্ত অম্বয়বােধে বিশেষ্যতার অবচ্ছেদক যে পঙ্কজাতত্ব, তদংশে কোনও ধর্মিতা বচ্ছেদকের ভান না হওয়ায় অবশ্যই উক্তবােধ পঙ্কজাতত্বাংশে নির্ধমিতাবচ্ছেদকক হইবে, সুতরাং পদ্মত্বভিন্ন ধর্মাবচ্ছিন্ন বিশেষতক হইবে না। অতএব তাদৃশ বােধে পদ্মা- ভিন্নধর্মামবচ্ছিন্ন বিশেষতাকত্ব থাকার জন্য উক্তবােধ পূর্বোক্ত রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্যও হইতে পারে না। সুতরাং উক্তববাধের প্রতিবধ্যত্ব রক্ষার অনুরােধে প্রতিবধ্যাংশে পদ্মত্বভিন্নধর্মাব- চ্ছিন্নত্ব নিবেশ না করিয়া পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষতাকত্ব নিবেশ করা হইয়াছে। ইহার ফলে, উক্তবােধ পঙ্কজাতত্বাংশে নির্ধর্মিতাবচ্ছেদকক হইলেও পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষতক হওয়ায় রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য হইতে পারিবে। এখন আপত্তি হইতে পারে ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞান সমকালে পঙ্কজ পদং কুমুদশক্ত এই আকারের রূঢ়িম থাকিলে তাদৃশ রূঢ়িজ্ঞান হইতে যেরূণ পঙ্কতত্ব প্রকারক পদ্মবিশেষক অন্বয়বােধ স্বীকৃত হয় তদ্রুপ পঙ্কজ তত্বপ্রকারক কুমুদবিশেষ্যক অন্বয়বােধও স্বীকৃত হইয়া থাকে, পূর্বোক্ত রূপ প্রতিবধ-প্রতিবন্ধকতাব কল্পিত হইলে পঙ্কজাতত্বকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া কুমুদবিশেষক অম্বয়বােধ হইতে পারে না, কারণ উক্ত বােধ পদ্মত্বভিন্ন যে কুমুদত্বরূপ ধর্ম তদবচ্ছিন্ন বিশেষ্যতার নিরূপক হইয়াছে, সুতরাং ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এই রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য হওয়ায় তাদৃশববাধের অনুপপত্তি হইবে না কেন? এই আপত্তির সমাধান কল্পে গ্রন্থকার “পদ্মসেব কুমুদস্যাপি ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, “পঙ্কজপদং পদ্মশ” এইরূপ যথার্থ রূঢ়ি- জ্ঞান সম কালে যদি পঙ্কজপদং কুমুদশক্তং এই আকারের সমুদায় শক্তির ভ্রম উপস্থিত থাকে এবং তদুত্তরক্ষণে ‘পঙ্কজাতং পদ্মম এইরূপ পঙ্কজাতকারক পদ্মত্বাবচ্ছিন্ন বিশেষক অয়ৰােধ যেরূপ উৎপন্ন হইবে, অনুরূপভাবে, ‘পঙ্কজাতং কুমুদ' এই আকারের পঙ্কজাতত্ব প্ৰকাৰক কুমুদবিশেষ্যক অন্বয়বােধ যদি স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে উক্ত অম্বয়বােধের উপপত্তি করিবার জন্য প্রতিবধ্য জ্ঞানে যেরূপ পদ্মনবচ্ছিন্ন বিশেষ্যতাকত্ব নিবেশ করা হইয়াছে তদ্রুপ কুমুদাদি শক্তিজ্ঞানগত জনকতানিরূপিত জনতা শূন্যত্বও নিবেশ করিতে হইবে। উক্ত নিবেশের ফলে তাদৃশ সমুহাবলম্বন রূঢ়িজ্ঞান হইতে উৎপন্ন পঙ্কজাতত্বকারক কুমুদৰিশেষক বােধটি পঙ্কজপদং কুমুদশক্ত এইরূপ রূঢ়িজ্ঞানজনিত হওয়ায় পঙ্কজপদ পদ্মশ এই রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য হইবে না। বাস্তবিক পক্ষে পঙ্কজ “পদং পদ্মশ” এই রূঢ়িজ্ঞান সমকালে পঙ্কজপদং কুমুদশক্ত’ এই আকারের রূঢ়িম থাকিলেও তদুত্তরক্ষণে উৎপন্ন বােধটি যে পঙ্কজাতত্বকারক কুমুদবিশেষক হইবে, ইহার অনুকুল কোনও প্রমাণ অনুভবসিদ্ধ নহে। সুতরাং প্রমাণ सार्यकशम्दे योगरूड़नामनिरूपणम् १२७ সিদ্ধ নয় এইরূপ বােধের অনুরােধে কুমুদশক্তত্বজ্ঞানান্যত্বরূপ একটি বিশেষণ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নহে। এই অভিপ্রায়েই পঙ্কজাতং কুমুদমিত্যাকারকধীস্বীকারে তু’ এই তুকারের ৰাৱ গ্ৰন্থকার তাদৃশবােধের সন্দিগ্ধতা ব্যক্ত করিয়াছেন। मूलम् न च यत्र तात्पर्यादिधीविलम्बादयोग्यताभ्रमादिना प्रतिबन्धकाद्वा, रूढ्योपस्थिते पद्म योगार्थस्य पङ्कजनिकर्तुरनन्वयस्तत्रावयवशक्त्या पङ्कजातत्वेन कुमुदादिबोधो न स्यात् विरोधिनो रूढिज्ञानस्य सत्त्वादिति वाच्यम् । मीमांसकानामिष्टत्वात् , ते हि 'मण्डपं भोजयेदित्या'दावपि गृहादौ रूढिधीसच्चे मण्डपादिपदानामवयवशक्त्या मण्डपानकादेर्न मन्वते बोधम् , भ्रमत्वग्रहानास्कन्दितस्येव रूढ्यर्थगोचरतत्तदयोग्यताज्ञानाधभावविशिष्टस्यैव रूढिज्ञानस्य विरोधिताया सुवचत्वाच्च । यदि च समुदाय एव पङ्कजनि- कर्तृ त्वेन पद्मत्वेन च शक्त्योः भ्रमप्रमाभ्यां पङ्कजातं पद्ममित्याकारको बोधः प्रामाणिकः, तदानीं च पङ्कजनिकत त्वेन कुमुदस्य नान्वयधीः तदावयवशक्त्येत्यपहाय पङ्कजपदघटकशब्दशक्त्येति प्रतिवध्यकुक्षौ निक्षेप- णीयम् । तद्घटकत्वञ्च तद्विषयिताव्यापकविषयिताकत्वमानं तदवयव इव तत्राप्यविशिष्टम् । অনুবাদ ( আশঙ্কা) যেখানে তাৎপর্যজ্ঞানের বিলম্ববশতঃ অথবা অযােগ্যতামরূপ প্রতিবন্ধকবশতঃ (পঙ্কজপদের) সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থিত পদ্মে যােগাৰ্থ পঙ্কজনিকর্তৃত্বের অন্বয়বােধ হয় না, সেখানে পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে কুমুদাদিবিষয়ক বােধ হইতে পারে না, (কারণ) ( তাদৃশবােধের) বিরােধী রূঢ়িজ্ঞান বিদ্যমান রহিয়াছে। (উক্ত আশঙ্কার সমাধান) ইহা মীমাংসকগণেরও অভিপ্রেত। (কারণ, মীমাংসক সম্প্রদায়) “মণ্ডপানকর্তাকে ভােজন করাও ইত্যাদি স্থলে মণ্ডপপদং গৃহে শক্ত এইরূপ গৃহাদিতে রূঢ়িজ্ঞান বিদ্যমান থাকিলে মণ্ডপাদি- পদের অবয়ব শক্তিমূলে মণ্ডপানকর্তা প্রভৃতির অম্বয়বােধ স্বীকার করেন না।
१२८ যকিসাগ্নিকা এইজন্য ভ্রমত্বজ্ঞানবিরহ বিশিষ্টের ন্যায় রূঢ়র্থ বিষয়ক তৎ তৎ অযােগ্যতাজ্ঞানাদির অভাব বিশিষ্ট রূঢ়িজ্ঞানের বিরােধিত্বও বলা যাইতে পারে। যদি পঙ্কজ পদ সমূদায়মাত্রেই পঙ্কজনিকর্তৃত্ব পুরস্কারে এবং পদ্ম পুরস্কারে শক্তিম ও প্রমাবশতঃ পঙ্কজাতং পদ্ম’ এই আকারের (পঙ্কজনিকর্তৃত্ব প্রকারে পদ্মের) বােধ প্রমাণসিদ্ধ হয়, এবং তাদৃশ বােধ কালে পঙ্কজনিকর্তৃত্ব পুরস্কারে কুমুদবিষয়ক অন্বয়বােধ না হয়, তাহা হইলে, অবয়ব শক্তি প্রযােজ্য যাহা বলা হইয়াছে তাহা পরিহার করিয়া পঙ্কজ পদ ঘটক পদশক্তি প্রযােজ্যত্ব প্রতি বধ্যকোটিতে নিবেশ করিতে হইবে। এখানে ত ঘটকত্বও তদ্বিষয়িতাব্যাপক- বিষয়িকত্ব মাত্র বুঝিতে হইবে। ইহার ফলে উক্ত ঘটকত্ব পঙ্ক প্রভৃতি অবয়বে যেরূপ থাকিবে, পঙ্কজ এই সমুদয়েও অনুরূপভাবে থাকিবে। বিবৃতি “পঙ্কজপদং পদ্মশং” এই আকারের রূঢ়ি জ্ঞান থাকা কালীন পঙ্কজাতত্বপ্রকারক পদ্মবিশেষক অম্বয়বােধের অনুকুল কারনান্তর যদি না থাকে অথবা পদ্মং পঙ্কজাতভিন্ন এইরূপ ভ্রমাত্মক অযােগ্যতাজ্ঞান থাকে তাহা হইলে পঙ্কজাতত্বপ্রকারক পদ্মবিশেষক অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইতে পারে না। পরন্তু এই ক্ষেত্রে পঙ্কজপদের যােগাৰ্থ যে পঙ্কজনিকর্তৃত্ব তৎপ্রকারক কুমুদবিশেষ্যক অন্বয়বােধ হওয়াই সমীচীন, কিন্তু পঙ্কজপদের যােগাৰ্থ যে পঙ্কজাতত্ব তৎপ্রকারক পদ্মানবচ্ছিন্ন বিশেষক অন্বয়বােধের প্রতি পঙ্কজপদং পদ্মশক্ত এই রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব কল্পিত থাকায় পঙ্কজ কুমুদ এই আকারের পঙ্কজাতত্বপ্রকারক কুমুদবিশেষ্যক অম্বয়বোধ সম্ভবপর নহে। ‘ন চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে এই আশঙ্কাই ব্যক্ত হইয়াছে।‘ন চ’ এই অংশটি ‘অগ্রিমবাচ্যম্ এই অংশের সহিত অন্বিত হইবে।‘তাৎপর্যাদি ধী বিলম্বাৎ’ এখানে আদি পদের দ্বারা আসত্তি প্রভৃতির জ্ঞান গৃহীত হইবে। যদি তাৎপর্য জ্ঞান না থাকে তাহা হইলে পঙ্কজাতত্বপ্রকারক কুমুদবিশেষক অন্বয়বােধও স্বীকৃত হইবে না। এইভাবে যদি ইষ্টাপত্তি করা হয়, তাহা হইলেও পদ্মত্ববিশিষ্টে পঙ্কজাতত্বের অভাব নিশ্চয়কালে পঙ্কজাতং কুমুদ” এই আকারের বােধ উৎপন্ন হইতে পারে না। এই অভিপ্রায়ে বলিতেছেন অযােগ্যতা ভ্ৰমাদিনা প্রতিবন্ধাবা”। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজাতত্বশূনং পদ্ম অথবা পঙ্কজনিকর্তৃভিন্নং পদ্মং এই আকারের অযােগ্যতার ভ্রমাত্মক নিশ্চয় থাকিলে উক্ত নিশ্চয় পঙ্কজাত পদ্ম” এইরূপ অন্বয়বােধের বিরােধী হইবে, সুতরাং তাদৃশ নিশ্চয়ের পরক্ষণে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক পদ্মবিশেষ্যক অথবা অভেদ সম্বন্ধে পঙ্কজনিকর্তৃকারক পদ্ম- বিশেষ অন্বয়বোধের সম্ভাবনা না থাকায় সেখানে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক কুমুদাদি বিশেষকবােধ উৎপন্ন হওয়াই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তাদৃশবােধও উৎপন্ন হইতে পারিবে না। কারণ, পঙ্কজাদিপদ জনিত যােগাৰ্থ প্ৰকাক কুমুদাদি বিশেষক অম্বয়- साकशब्दे योगदनामनिरूपणम् ৭ং বােধের বিরােধী রূঢ়িজ্ঞান তাদৃশ অযােগ্যতা প্রমকালে বিদ্যমান রহিয়াছে, এই আশঙ্কাই *ন চ ইত্যাদি বাচ্যমিত্যন্ত* সন্দর্ডের দ্বারা ব্যক্ত হইয়াছে। উক্ত আশঙ্কার সমাধানকল্পে যােগাৰ্থ-বুদ্ধির প্রতি রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকতাবাদি মীমাংসক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করিয়া গ্রন্থকার বলিতেছেন—“মীমাংসকানমিষ্টত্বাৎ” অর্থাৎ তাদৃশ অযােগ্যতা অমকালীন রূঢ়িজ্ঞান ও পঙ্কজাতত্বপ্রকারক কুমুদাদি বিশেষ্যক অন্বয়বােধের বিরােধী হওয়ায় উক্ত বােধ উৎপন্ন হইবে না। ইহা মীমাংসকমতসিদ্ধ হওয়ায় মীমাংসকগণ উক্ত বােধের অনুৎপত্তি বিষয়ে ইষ্টাপত্তি করিবেন । কেন মীমাংসকগণ উক্ত যােগাৰ্থ বােধের অনুৎপত্তি বিষয়ে ইষ্টাপত্তি করিবেন তাহাই “তে হি ইত্যাদি ন মম্বতে বােধ” ইত্যন্ত সন্দর্ভের দ্বারা সমর্থন করিতেছেন। “মণ্ডপং ভােজয়েৎ” অর্থাৎ মণ্ডপয়ীকে ভােজন করাও এই স্থলে “মশুপপদং গৃহে শক্ত” এইরূপ রূঢ়িজ্ঞান মণ্ডপায়ীর ভােজনরূপ যােগাৰ্থ বুদ্ধির বিরােধী হওয়ায় উক্ত যােগাৰ্থবুদ্ধি উৎপন্ন হইবে না। ইহা যেমন মীমাংসকগণের সম্মত, তদ্রুপ পঙ্কজপদস্থলেও তাদৃশ অযােগ্যতা ভ্রমকালীন রূঢ়িজ্ঞানও বিরােধী হওয়ায় পঙ্কজনি কর্তৃত্ব প্রকারক কুমুদাদিবিশেষ্যক অন্বয় বুদ্ধিও উৎপন্ন হইবে না। ইহাই মীমাংসক সম্প্রদায়ের অভিপ্রেত। “মণ্ডপং লােজয়েৎ” এখানে ‘ভােজয়েৎ' এই ক্রিয়াপদটি থাকার ফলে মণ্ডপপদের রূঢ্যর্থ গৃহাদি গােচর অন্বয়বােধ যে এই ক্ষেত্রে কোন প্রকারেই সম্ভাবিত নহে; ইহা সুচিত হইয়াছে। যদি উক্ত অযােগ্যতা প্রমকালীন রূঢ়িজ্ঞান থাকা কালেও পঙ্কজং কুমুদং” এই বাক্য হইতে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক কুমুদবিশেষ্যক অন্বয়বােধ অনুভবসিদ্ধ হয়, তাহা হইলে ইহার অনুকূলেও সমাধান প্রদর্শন করিবার জন্য ভ্রমত্ব গ্রহানাস্কন্দিতম্ভেব” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যােগাৰ্থবুদ্ধির প্রতি পূর্বোক্তক্রমে কঢ়িজ্ঞানের যে প্রতিবন্ধকত্ব কল্পিত হইয়াছে, উক্ত রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকতাতে ‘ইদং জ্ঞানং তদভাববতি তৎ প্রকারক এইরূপ অপ্রামাণ্যজ্ঞান উত্তেজক হওয়ায় উক্ত অপ্রামাণ্যগ্রহাভাব বিশিষ্ট রূঢ়িজ্ঞানের যেরূপ প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করিতে হয়, তদ্রুপ অযােগ্যতা জ্ঞান ও উক্ত প্রতিবন্ধকতাতে উত্তেজক হওয়ায় রূঢ়ধর্মিক তাদৃশ অযােগ্যতাজ্ঞানাদ্যভাববিশিষ্ট রূঢ়িজ্ঞানের দৃশ যােগাৰ্থবুদ্ধির প্রতি প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করিতে হইবে। সুতরাং প্রকৃতস্থলে রূঢ়িজ্ঞান, রূট্যর্থধর্মিক অযােগ্যতান-বিরহ বিশিষ্ট না হওয়ায় উক্ত রূঢ়িজ্ঞান থাকাকালে পঙ্কজপদজনিত পঙ্কজাতত্বপ্রকারক কুমুদাদিবিশেষক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। ইহাই গ্রন্থকার, ‘ভ্রমত্বগ্রহানাস্কৃতিসেব’ ইত্যাদি ‘সুবচত্বাচ্চ’ ইত্যন্ত সন্দর্ভের মাধ্যমে ব্যক্ত করিয়াছেন। তগােচর শব্দবােধের প্রতি তদ্বিষয়ক উপস্থিতির মাধ্যমে তদ্বিষয়ক শক্তিজ্ঞান কারণ হয়। পঙ্কজপদের পঙ্কজনি কর্তৃরূপ অর্থে ভ্রমাত্মক শক্তিগ্রহকালে অর্থাৎ পঙ্কজপদং পঙ্কজাত- শক্ত এইরূপ পঙ্কজ পদ সমুদায়ের ভ্রমাত্মক রূঢ়িজ্ঞানকালে, পঙ্কজপদং পদ্মশং এই ৭০ मान्दशक्तिप्रकाशिका আকারের পদ্মাবচ্ছিন্নে পঙ্কজ পদের যথার্থ সমুদায় শক্তিগ্রহ হইতে যদি পাতং পদ্ম’ এইরূপ পঙ্কজনি কর্তৃত্ব প্রকারক পদ্মবিশেষ অম্বয়বােধ প্রমাণসিদ্ধ হয় এবং পঙ্কজাত প্ৰকাক কুমুদাদি বিশেষ্যক অম্বয়বােধ যদি প্রমাণসিদ্ধ না হয় যদি চ’ ইত্যাদি গ্রন্থে মাধ্যমে গ্রন্থকার এই আশঙ্কা উত্থাপন করিতেছেন। যদি চ’ এই অংশটি পরবর্তী বােধ- প্রামাণিক: এই অংশে এবং নান্বয়ধী: এই অংশে অন্বিত হইবে। সমুদায় এৰ' অর্থাৎ পঙ্কজ-৫-এতৎ সমুদায়মাৰে। “পদ্মজনি-কর্তৃত্বেন পদ্মছেন চ ভ্রমপ্রমাভ্যাম” এখানে যথাক্রমে ভ্ৰমাংশে তৃতীয়ান্ত পঙ্কজনি-কর্তৃত্বপদের দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনি-কর্তৃত্বরূপ ধর্মবিশিষ্টের, এবং প্রমাংশে তৃতীয়ান্ত পদ্মত্বপদোপস্থাপিত পদ্মত্বরূপ ধর্মবিশিষ্টের অন্বয় করিতে হইবে। কোনও কোনও পুস্তকে প্রমামাভ্যাম্ এইরূপ পাঠ দেখা যায়। এইরূপ পাঠ কিন্তু সংগত নহে, কারণ, ক্রমিক দুইটি পদার্থ উল্লিখিত হওয়ার পরে পরবর্তী দ্বন্দ্ব- সমাসের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থদ্বয়ে, পূর্বের উল্লিখিত ক্রম অনুসারে পদার্থদ্বয়ের অন্বয় হইয়া থাকে ইহাই নিয়ম। পূর্বে তৃতীয়ান্ত পঙ্কজনি-কর্তৃত্বেন পদ্মহেন এইরূপ উল্লিখিত হওয়ার পরে যদি প্রমামাভ্যাম্ এইরূপ দ্বন্দ্বসমাস নিষ্পন্ন পদ উল্লিখিত হয় তা হইলে উক্ত প্রমা এবং ভ্ৰম পদার্থে তৃতীয়া বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থের বিপরীত ক্রমে অন্বয় স্বীকার করিতে হয়। যেখানে ক্রম অনুসারে অন্বয় সম্ভবপর হয় সেখানে বিপরীত ক্রমে অন্বয় বুৎপতিবিরুদ্ধ। অতএব ভ্রমপ্রমাভ্যাম্ এই পাঠই সমীচীন। পঙ্কজাতং পদ্ম’মিত্যাকারক- বােধঃ প্রামাণিক:' ইত্যাদি। অর্থাৎ পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্রকারে পঙ্কজ পদ সমুদায়ে শক্তি ভ্ৰমকালীন উক্ত সমুদায়ে পদ্মত্ব প্রকারে যথার্থ শক্তিজ্ঞান হইতে পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্রকারক পদ্মবিশেষক শব্দবােধ যদি প্রমাণসিদ্ধ হয় এবং তাদৃশ শক্তিজ্ঞানের পরে পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব একাক কুমুদবিশেষক অন্বয়বােধ যদি প্রমাণসিদ্ধ না হয়। এখানে যদি পদটির উভয় হলে অন্বিত হওয়ায় তাদৃশ স্থলে, পঙ্কজ পদ সমুদায়ের দ্বারা শক্তিমাধান উপস্থাপিত পঙ্ক-জনি-কর্তৃত্ব প্রকার কুমুদ বিশ্যেক অন্বয়বােধে বিশেষণ পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব, পঙ্কজ পদের অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত না হওয়ায় পঙ্কজপদং পদ্মশ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য হইবে না। সুতরাং কোনরূপ বাধক না থাকায় তাদৃশ রূঢ়িজ্ঞান থাকিলেও পরবর্তীক্ষণে ‘পঙ্কজাতং কুমুদ এইরূপ পঙ্কজপদের সমুদায় শক্তি দ্বারা উপস্থাপিত পৃ- জনি কর্তৃত্ব প্রকাৱক কুমুদবিশেষক অন্বয়বােধ অবশ্যই উৎপন্ন হইবে। যদি চ’ পদের দ্বারা এই পক্ষান্তর সৃচিত হইয়াছে। “পঙ্কজপদ পদ্মশ এই রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য কোটিতে যে অবয়বক্তা পঙ্ক- জাতত্ব প্রকাৱকত্ব নিবিষ্ট হইয়াছে সেখানে অবয়ব পদের যথাশ্রুত অর্থ গ্রহণ করিলে শঙ্কিত সূলে পঙ্কজগদম্ পঙ্কজনিকর্তৃশক্ত এইরূপ শক্তি ভ্রম জনিত পঙ্কজনিকর্তৃত্ব প্রকারক অষয়বোধ পঙ্কজপদ পদ্মশ” এই রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিধ্য হইতে পারে না, কারণ উক্ত জ্ঞানে প্রকারীভূত পয়জনিকর্তৃত্বৰূপ ধর্মটি অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত নহে। এইভাবে শঙ্কাগ্ৰন্থ উপস্থাপিত করিয়া গ্রন্থকার প্রতিবধ্যতাবচ্ছেদক কোটিতে প্রবিষ্ট অবশব্দটির যথাত অর্থ পরিত্যাগ করিয়া ঘটকত্বৰূপ লাক্ষণিক অর্থ গ্রহণ सार्थकशब्दे योगरूपनामनिरूपणम् ৭২৭ . পূর্বক উক্ত শঙ্কার সমাধান করিবার জন্য “তদায়ৰশক্ত্যেত্যপহায়” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজণদের ঘটক শব্দের শক্তি দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজাতত্ব প্রকারক পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষ অম্বয়বোধের প্রতি পঙ্কজপদ পদ্মশ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকতা কল্পিত হইবে। সুতরাং পঙ্কজনিকর্তৃৰূপ অর্থে পঙ্কজপদসমুদায়ের শক্তিমজনিত অন্বয়বােধ পঙ্কজপদের অবয়বশক্তিলভ্য অর্থ- প্রকারক না হইলেও পঙ্কজপদের ঘটক যে পঙ্কজ শব্দ তদগতশক্তিমাধীন উপদর্শিত লীয় পঙ্কজাতত্বপ্রকারক কুমুদাদিবিশেষক হওয়ায় উক্ত বােধ ‘পঙ্কজপদম্ পদ্মশক্ত” এই রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য হইতে পারিবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে-অবয়বশ্যা এই স্থলে পঙ্কজপদঘটক শব্দশক্তি প্রযােজ্য এইরূপ অর্থ গৃহীত হইলেও তাদৃশ পঙ্কজনিকর্তৃবিষয়ক বােধ পঙ্কজপদের ঘটক শব্দশক্তির প্রযােজ্য হইতে পারে না। কারণ, তদ্ভিন্ন হইয়া তদ্বিষয়িতার ব্যাপক যে বিষয়িত। তন্নিরূপকত্বকেই ঘটকত্ব বলা হইয়াছে। সুতরাং পঙ্কজপদে পঙ্কজপদভিন্নত্ব না থাকায় পঙ্কজ পদ পঙ্কজপদের ঘটক হইতে পারে না। এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন এখানে পঙ্কজপদের ঘটকত্বগর্ভে পঙ্কজপদভিন্নত্ব নিবেশ করার কোনরূপ প্রয়ােজন না থাকায় ভেদগর্ভ ঘটক পরিহার করিয়া কেবলমাত্র তদ্বিষয়িতা ব্যাপক বিষয়িতাকত্বমাত্রই ঘটকত্বৰূপে গৃহীত হইবে। অতএব পঙ্কজপদ বিষয়িতার ব্যাপক বিষয়িতারূপে যেরূপ পঙ্কবিষয়িতা জন্ধাতুবিষয়িতা, ড প্রত্যয় বিষয়িতা গৃহীত হওয়ার ফলে পঙ্কজনু + ড এই প্রত্যেক পদে যেরূপ পঙ্কজ পদের ঘটকত্ব থাকিবে, তদ্রুপ পঙ্কজ পদ বিষয়িতার ব্যাপক বিষয়িতারূপে পঙ্কজ এই সমুদায় বিষয়িতাও গৃহীত হওয়ায় তাহার নিরূপক পঙ্কজ এই সমুদায়াত্মক পদটিও পঙ্কজপদের ঘটক হইতে পারিবে। এই অভিপ্রায়ে জগদীশ বলিয়াছেন, তদঘটকত্বঞ্চে তদ্বিষয়িতাব্যাপক বিষয়িকত্ব, তদ অবয়ব এব তত্রাপি অবিশিষ্ট। मूलम् यत् तु, स्वावयवशक्त्या पङ्कजपदजन्यं पङ्कजनिकट त्वेनान्वयबोधं प्रति पद्मत्वं हेतुस्तत्र कार्यस्य विशेष्यत्वं तदवच्छेदकत्वं वा कारणस्य तु समवायस्तादात्म्यं वा, प्रत्यासत्तिरित्येतावतेव योगार्थमर्यादया कुमुदादेबोध- व्युदाससम्भवात् , उनकमेण प्रतिबन्धकतायां मानामावः, प्रयोगोपाधिरिति प्राचीनप्रवादस्याप्युक्तार्थ एव पर्यवसानादिति । पनत्वं पङ्कजपद- १३२ शब्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ কোনও (প্রাচীন) মীমাংসক সম্প্রদায় বলেন স্বকীয় অবয়ব শক্তি প্রযােজ্য পঙ্কজ পদজনিত পঙ্কজাতত্ব প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি পদ্মত্ব (ধর্ম) কারণ সেখানে কার্যের বিশেষ্যত্ব অথবা বিশেষ্যতার অবচ্ছেদকত্ব ( সম্বন্ধ ) কারণের কিন্তু সমবায় অথবা তাদাত্ম সম্বন্ধ হইবে। এই উপায়েই যােগার্থ মর্যাদায় (যােগাৰ্থ প্রকারক) কুমুদাদি বিশেষ্যক অন্বয়বােধ বারিত হইবে । পূর্বোক্ত ক্ৰমে যে, প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধক ভাব কল্পিত হইয়াছে (তাহা) প্রামাণিক নহে। পদ্মত্ব (ধর্মটি) পঙ্কজ পদ প্রয়ােগে উপাধি হইবে। এই প্রাচীনপ্রবাদেরও উক্ত (কার্যকারণভাবরূপ ) অর্থেই পর্ষবসান হইবে । বিবৃতি যাহারা পদ্মত্বকে পঙ্কজ পদ প্রয়ােগের উপাধি স্বরূপ বলেন ‘য' ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে, উক্ত প্রাচীন মীমাংসক সম্প্রদায়ের মত উপস্থাপিত করিতেছেন। ইহারা বলেন পঙ্কজপদের অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত যে পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব তৎ প্রকারক অন্বয় বােধের প্রতি পদ্মত্ব কারণ। এখানে তাদৃশ অন্বয়বােধ কার্য এবং তাহার কারণ বলা হইয়াছে পদ্মত্ব। যদি সমবায় সম্বন্ধকে কার্য ও কারণের নিয়ামক সম্বন্ধ স্বীকার করা হয়, তাহা হইলে তাদৃশ বােধরূপকার্যটি সমবায় সম্বন্ধে আত্মাতে থাকায় এবং পদ্মত্ব ধর্মটি সমবায় সম্বন্ধে পদ্মে বর্তমান থাকায় কার্য ও কারণ ব্যধিকরণ হওয়ায় কার্যকারণভাব কল্পনা করা সম্ভবপর নহে, এইজন্য অর্থাৎ তাদৃশ অন্বয় বােধরূপ কার্য এবং পদ্মত্বৰূপ কারণ এতদুভয়ের সমানাধিকরণ্য ব্যবস্থিত করিবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন ‘কার্যস্য বিশেষত্বং তদবচ্ছেদত্ব বা। কারণ তু সমবায়স্তাদাত্মং বা প্রত্যাসত্তিঃ অর্থাৎ বিশেষতা সম্বন্ধে তাদৃশ অন্বয়বােধ রূপ কা প্রতি সমবায় সম্বন্ধে পদ্ম কারণ। এইরূপ কার্যকারণভব কল্পিত হওয়ার ফলে উক্ত অম্বয়বােধের কারণ পদ্মত্ব ধর্মটি পদ্মরূপ ধর্মীতে অবস্থিত থাকায় উক্ত ধমীতে পঙ্কজপদের অবয়ব শক্তির দ্বার উপস্থাপিত পঙ্কজাতত্ব প্রকাকে অন্বয়বােধ বিশেষ্য সম্বন্ধে উৎপন্ন হইতে পারিবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, পদ্মরূপ ধর্মীটি বর্তমান থাকিলে উক্ত কার্যকারণভাব মূলে উক্ত ধমীতে পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্রকারক অন্বয়বােধ সম্ভবপর হইলেও অতীত বা অনাগত পদ্মকে বিশেষ্যরূপে গ্রহণ করিয়া যখন পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্ৰকাৰক শব্দবােধ উৎপন্ন হইবে তখন পদ্ম অনুপস্থিত থাকায় সমবায় সম্বন্ধে কারণীভূত পদ্মত্ব ধর্মটি অতীত বা অনাগত পদ্মরূপ ধর্মীতে না থাকায় সেখানে বিশেষ্যতা সম্বন্ধে তাদৃশ অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইতে পারে না। কারণ বিষয়ক (জ্ঞানাদি ) ভিন্ন কোনও পদার্থ যে কোনও সম্বন্ধে বিনষ্ট অথবা অনাগত পদার্থে বিদ্যমান থাকে না অথচ উক্তস্থলে বিশেষ্যটি অতীত বা অনাগত হইলেও তাহাকে सार्यकशब्दे योगदनामनिरूपणम् অবলম্বন করিয়া পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্রকাৱক অৱয়বােধ, বিশেষতাসম্বন্ধে উৎপন্ন হয় ইহা সবদিসম্মত-ফলে, বিশেষতা সম্বন্ধে কার্যের অধিকরণে অতীতপদ্মে সমবায় সম্বন্ধে পদ্ম- ধর্মটি কার্যের অব্যবহিত পূর্বক্ষণে বর্তমান না থাকায় ব্যতিরেক ব্যভিচার হইবে, সুতরাং তাদৃশ কার্যকারণভাৰ কল্পিত হইতে পারেনা। এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার উক্ত কার্যকারণ ভাবের নিয়ামক বিশেষ্যত্ব ও সমবায় সম্বন্ধকে পরিত্যাগ করিয়া বিশেষ্যতাবচ্ছেদকত্ব এবং তাদাত্ম সম্বন্ধকে কার্যতায় এবং কাৰণতার নিয়ামক সম্বন্ধ স্বীকার করিয়াছেন। ইহার ফলে উক্ত মীমাংসক মতে বিশেষ্যবচ্ছেদকত্ব সম্বন্ধে তাদৃশ পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি তাদাত্ম্য সম্বন্ধে পদ্মত্বজাতি কারণ—এইরূপ কার্যকারণভাব কল্পনা করিতে হইবে। পদ্মত্বজাতিটি নিত্য হওয়ায় তাদৃশ অন্বয়বােধের পূর্বক্ষণে তদাত্ম সম্বন্ধে অবশ্যই পদ্মত্বে বিদ্যমান থাকিয়া উক্ত অম্বয়বােধের কারণ হইতে পারিবে। পূর্বকল্পিত প্ৰতিবধ্য প্রতিবন্ধকতাৰ উপেক্ষা করিয়া প্রাচীন মীমাংসক কল্পিত কার্যকারণভাব কল্পনা করার অনুকূলে যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য ‘ইত্যেবতৈব যােগাৰ্থমর্যাদয়ে’ত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। প্রাচীন মীমাংসকগণের বক্তব্য এই যে পদ্মন্য ধর্ষিক পঙ্কজশঘটক পদোপস্থাপ্য পঙ্কজনি- কর্তৃত্ব প্রকারকবােধের প্রতি যে রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করা হইয়াছে, উক্ত প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধকভাব কল্পনা না করিলেও উক্ত কার্যকাৰণতাৰ স্বীকৃতির ফলে পদ্মা ধর্মিক অবয়বশক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজাতত্ব প্রকার অন্বয়বােধের প্রসক্তি যখন বারিত হইতে পারে তখন উক্ত প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধকতাব প্রমাণসিদ্ধ নহে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে উক্ত কার্যকারণভাব স্বীকৃত হইলে, পদ্মত্বকে বৃদ্ধ মীমাংসক সম্প্রদায় যে পঙ্কজপদপ্রয়ােগের উপাধি বলেন এই প্রাচীন (পদ্মত্বং পঙ্কজপদ- প্রয়ােগােপাধি:) প্রবাদবাক্যটি কি করিয়া সঙ্গত হইবে এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার উক্ত মীমাংসক মত সমর্থন করিবার জন্য বলিতেছেন ‘পদ্মত্বং পঙ্কজপদপ্রয়ােগােপাধি: যাহা বলা হইয়াছে, তাহার পূর্বোক্ত কার্যকারণভাবেই তাৎপর্য পর্যবসিত হওয়ায় উক্ত প্রবাদবাক্যের কোনরূপ অসঙ্গতি হইবে না। मूलम् तत्तुच्छं, पनागृहोतशक्तिकस्यापि पुंसः पङ्कजनिकट त्वेनावयव- शक्त्या कुमुदस्य बोधानुदयप्रसङ्गात्, न चेष्टापत्तिरनुभवविरोधात्, न च रूविज्ञानकालोनमेव योगार्थस्य बोधं प्रत्युक्तरीत्या पनत्वस्य हेतुत्वम् , तथा सति रूड़िधोदशायामपि तदसमानकालीनस्य पङ्कजातत्वेन कुमुदबोधस्य ৭ शब्दशक्तिप्रकाथिका सामान्यसामग्रीमहिम्ना दुरितापत्तेः, रूढ़िज्ञानासमानकालीनतादृशवोधं प्रति विशेषतो हेत्वन्तरस्याक्लप्तत्वात्, तत्कल्पने चातिगौरवात् । অনুবাদ (পূর্বোক্ত ) প্রাচীন মীমাংসক সম্প্রদায়ের এই মত তুচ্ছ অর্থাৎ গ্রহণের অযােগ্য কারণ পূর্বোক্ত কার্যকারণভাব গৃহীত হইলে যেই পুরুষের পদ্মে সমুদায়- শক্তি গৃহীত হয় নাই সেই পুরুষের পক্ষে পঙ্কজপদের অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনিকর্তৃত্বপ্রকারক কুমুদ বিশেষ্যক বােধ উৎপন্ন হইতে পারে না, উক্ত বােধের অনুৎপত্তিকে ইষ্টাপত্তি করাও সম্ভব পর নহে, কারণ তাহা হইলে অনুভবের বিরােধ হইবে। যদি বলা হয়, রূঢ়িজ্ঞানকালীন যােগাৰ্থ বােধের প্রতি পূর্বোক্ত রীতিতে পদ্মত্বের কারণত্ব কল্পনা করা হইবে, এই উক্তিও সঙ্গত নহে। (কারণ) তাহা হইলে রূঢ়িজ্ঞান থাকা কালেও সামান্য সামগ্রী হইতে রূঢ়িজ্ঞানের অসমানকালীন পঙ্কজাতত্বপ্রকারক কুমুদবিশেষ্যকবােধের আপত্তি বারণ করা যাইবে না। কেননা, রূঢ়িজ্ঞানের অসমানকালীন তাদৃশ বােধের প্রতি কোনও বিশেষ কারণান্তর কল্পিত হয় নাই। (যদি তাদৃশববাধের প্রতি বিশেষ কোনও কারণান্তর কল্পনা করা হয় তাহা হইলে তন্নিবন্ধন মহাগৌরব হইবে।) বিবৃতি ‘পঙ্কজ’পদের অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজাতত্ব প্রকারক কুমুদাদি বিশেষক অর্থাৎ পদ্মাবিশেষ্যক অন্বয়বােধের প্রতি পূর্বোক্তনীতিতে পদ্মত্বধর্মটিকে প্রতিবন্ধক স্বীকার করিলে পঙ্কজাদিপদের ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এই আকারের রূঢ়িজ্ঞান না থাকা কালেও পঙ্কজাদি পদ হইতে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক কুমুদাদি বিশেষক অন্বয়বােধ হইতে পারেনা, এইরূপ আশয় গ্রহণ করিয়া শঙ্কিত ‘ঘ’মত অর্থাৎ প্রাচীন মীমাংসকগণের মত ‘ততুচ্ছ’ ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা খণ্ডন করিতেছেন। কেন বৃদ্ধমীমাংসক সম্মত উক্ত কার্যকারণভাব গৃহীত হইবেনা, এই প্রশ্নের উত্তরে ‘পদ্মাগৃহীতশক্তিকন্যাপি পুংসং ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যেই পুরুষের পদ্মত্ববিশিষ্টে পঙ্কজপদের রূঢ়িজ্ঞান উৎপন্ন হয় নাই তাদৃশ রূঢ়িজ্ঞানশূন্য পুরুষের পক্ষে পঙ্কজাদি পদ হইতে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক কুমুদাদিবিশেষ্যক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইতে পারেন। যদি উক্তববাধের অনুপপত্তি ইষ্টাপত্তি করা হয় ইহাও সঙ্গত নহে। কারণ ‘ভূমৌ পঙ্কজমুৎপন্নম্ অথবা তৈলং পত্ৰ এই সকল স্থলে পঙ্কজ’ বা ‘তৈল’ পদ হইতে যথাক্রমে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক বা তিলপ্রভৰত্ব প্রকার অন্বয়বােধ সকলেরই অনুভবসিদ্ধ হওয়ায় তাদৃশ অনুভবের বিরােধ হয় বলিয়া ইষ্টাপত্তি করা সম্ভবপর নহে।
साकशब्दे योगदनामनिरूपणम् শঙ্কা হইতে পারে, বৃদ্ধমীমাংসক সম্প্রদায় যে পঙ্কজাদিপদ জনিত অবয়বশক্তিমূলে বিশেস্যতা সম্বন্ধে অথবা বিশেষ্যবচ্ছেদকত্ব সম্বন্ধে যােগাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি সমবায়সম্বন্ধে অথবা তাদাত্ম সম্বন্ধে পদ্মত্বধর্মকে কারণ বলেন, উক্ত কার্যকারণ- ভাবের অন্তর্গত তাদৃশ অম্বয়বােধরূপ কার্যাংশে রূঢ়িজ্ঞান সমানকালীনত্ব নিবেশ করিয়া উকার্যকারণভব কল্পনা করিতে হইবে। সুতরাং যে পুরুষের ‘পঙ্কজপদ-পদ্মশ এই আকারের রূঢ়িজ্ঞান থাকিবে না সেই পুরুষের পক্ষে পঙ্কজাদি পদ হইতে অবয়বার্থ প্রকারক কুমুদাদি বিশেষ্যক অন্বয়বােধ হইতে পারিবে। এই আশঙ্কাও ঠিক নহে। যদি রূঢ়িজ্ঞান সমান কালীনত্বরূপ বিশেষণের দ্বারা কার্যটিকে বিশেষিত করা হয়, তাহা হইলে ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞান যে পুরুষের থাকিবে সেই পুরুষের পক্ষে রূঢ়িজ্ঞান সমান কালীন যোগার্থগােচর শব্দবােধ উৎপন্ন না হইলেও সামান্যসামগ্রী বশত: রূঢ়িজ্ঞানের অসমানকালীন পঙ্কজাতত্ব প্রকারক কুমুদাদি বিশেষ্যক অন্বয়বােধের আপত্তি বারণ করা সম্ভবপর নহে। জগদীশ যে সামান্য সামগ্রী মহিমা' বলিয়াছেন এখানে সামান্য সামগ্রী পদের দ্বারা যে সামগ্রী হইতে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক পদ্মবিশেষ্যক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে সেই সামগ্রীকে অর্থাৎ পঙ্কজাতত্ব এবং পদ্মবিশিষ্টের উপস্থিতি ঘটিত সামগ্রী এখানে বিশেষ সামগ্রী বুঝিতে হইবে। এবং পদ্মত্বের অনুপস্থিতি ঘটিত পঙ্কজাতত্ব প্রকারক অন্বয়- বােধের সামগ্রী হইবে সামান্য সামগ্রী। তাদৃশ সামান্য সামগ্রী হইতে রূঢ়িজ্ঞানাসমান- কালীন যােগার্থ প্রকারক অন্বয় বােধের আপত্তি প্রদর্শিত হইয়াছে। এখানে ইহাও বুঝিতে হইবে পদ্মত্বঘটিত বিশেষ সামগ্রী না থাকার ফলে রূঢ়িজ্ঞান সমানকালীনত্ব বিশেষিত যােগাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধরূপ বিশেষ কার্যটি উৎপন্ন না হইলেও পদ্মাঘটিত তাদৃশ সামান্য সামগ্ৰীকালে রূঢ়িজ্ঞানাসমানকালীন পঙ্কজাতত্ব প্রকারক কুমুদবিশেষ্যক অন্বয়- বােধের আপত্তি অবশ্যই হইবে। উক্ত বােধের প্রতি কোনও রূপ বিশেষ কারান্তর কল্পিত না থাকায় তাদৃশ বােধের প্রতি সামান্য সামগ্রী নিয়ামক হইবে। যদি বৃদ্ধ মীমাংসক সম্প্রদায় বলেন, রূঢ়িজ্ঞানের অসমান কালীন তাদৃশ অম্বয়বোধের প্রতি রূঢ়ি- জ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব স্বীকার করিলেই তাদৃশ রূঢ়িজ্ঞানের অভাব উক্ত অন্বয়বােধের বিশেষ কারণরূপে প্রসিদ্ধ হইতে পারে। মীমাংসকগণের উক্ত বক্তব্যের উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন ‘তৎ কল্পনে চাতিগৌরবাৎ' অর্থাৎ রূঢ়িজ্ঞানাসমান কালীন পঙ্কজাতত্ব প্রকারক অন্বয়বােধর প্রতি রূঢ়িজ্ঞানের অভাবকে কারণ স্বীকার করিলে গুরুতর কার্যকারণভাব কল্পনা নিবন্ধন মহা গৌরব হইবে। ১। পূর্বে যে পঙ্কজপদের যােগ শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজাতত্ব প্রকারক পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষ্যক শাত্ববােধের প্রতি পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এইরূপ রূঢ়িজ্ঞানত্ব পুরস্কারে প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করা হইয়াছে, যার ফলে তাদৃশ অন্বয়বােধের প্রতি উক্ত রূঢ়িজ্ঞানের অভাব কারণ কল্পিত হইবে। এখানে পদ্মানবচ্ছিন্নবিশেক পঙ্কজতিত্ব একারক অন্বয়বােধগত প্রতিবধ্যতার অবচ্ছেদককোটিতে পদ্মস্থানবচ্ছিন্ন বিশেষতকত্ব নিবেশ না করিয়া যদি রূঢ়িজ্ঞানসমানকালীনত্ব নিবেশ করা হয়, তাহা হইলে পদ্মান- ৩ सान्दत्तिप्रकाषिका मूलम् যথিবহূলনন বকুলৱিঘানা চিৰি থকুল- पदान ताप्येण पद्मस्य बोधः परन्तु पद्यत्वमात्रेण, योगार्थमर्यादया पङ्कजातत्वप्रकारकबोधसामान्यं प्रत्येव पनत्वविशिष्टे रूदिज्ञानस्य लाघवेन विरोधित्वात्, पद्मान्यधर्मिकत्वादेगौरवेण प्रतिवध्यकोव्यप्रविष्टत्वादतो योगरूड़े नामैव नास्ति, युधिष्ठिरादिशब्दादपि रणस्थिरत्वादिकं योगार्थं परित्यज्य व वैजात्यादिप्रकारेण कुन्तोपुत्राधवगमात् । यदुक्कमभियुक्तः- या बृत्तिरजहत्स्वार्था सेयमत्रोपपादिता' जहत्स्वार्था तु तत्रैव यत्र रूढ़ि विरोधिनी ॥ पङ्कजं मनसादेवी पद्मनाभो युधिष्ठिरः॥ इति ॥ অনুবাদ যাহারা (যে বৈয়াকরণ সম্প্রদায়) বলেন, পঙ্ক-জনন এবং কর্তৃরূপ অর্থে পঙ্কজাদি পদের অবয়বশক্তি বিদ্যমান থাকিলেও পঙ্কজপদ হইতে পঙ্কজনিকর্তৃত্ব পুরস্কারে পদ্মবিষয়ক বােধ হইবে না, পরন্তু কেবলমাত্র পদ্মত্বপুরস্কারে (পদ্ম- বিষয়ক বােধ হইবে)। ইহারা বলেন যে পঙ্কজপদের অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনিকর্তৃত্ব প্রকারক অন্বয়বােধ সামান্যের প্রতি পদ্মত্ববিশিষ্টে রূঢ়ি- জ্ঞান প্রতিবন্ধক হইবে, এইরূপ কল্পনা করিলে লাঘব হইবে। গৌরব হয় বলিয়া প্রতিবধ্য কোটিতে পদ্মান্যধর্মিকত্ব প্রভৃতি প্রবিষ্ট হইবে না। সুতরাং এই মতে যােগরূঢ় নামক কোনও সার্থক শব্দের অস্তিত্ব স্বীকৃত নহে। বচ্ছিন্ন বিশেষতকত্ব অপেক্ষায় রূঢ়িজ্ঞানাসমানকালীনত্ব বিশেষণটি পঙ্কজপদসমুদায় শক্তিগ্রহসমানকালীনত্বৰূপ অধিক পদার্থ ঘটিত হওয়ায় শুরুধর্মাবচ্ছিন্ন কাৰ্যতা কল্পনা নিবন্ধন গৌরব স্বীকার করিতে হয়। ইহাই তৎকল্পনে চাতিগৌরবাৎ’এই সন্দর্ভের দায়া ব্যক্ত হইয়াছে। ১। অতিপ্রাচীন মুদ্রিত পরিশিষ্টে’ সমাপ্রকরণ ‘নায়াং' সূত্র, পৃঃ ৪২৮। ২। অতিপ্রাচীন মুতি পরিশিষ্টে’ সমাস একরণ ‘নায়াং সূত্ৰ পৃঃ ৪২৯।
सार्थकसम्दे योगसनामनिरूपणम् ৭৮ বিবৃতি পঙ্কজপদ প্রভৃতি পদস্থলে বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের একটি বিশিষ্ট মত পরিলক্ষিত হয়, তাহারা বলেন, পঙ্কজ প্রভৃতি পদ যােগরূঢ় নহে; পরন্তু সার্থক শব্দ,কখনও যৌগিক কখনও বা রূঢ় হইবে। ইহার অতিরিক্ত যােগরূঢ় নামক কোনও সার্থক শব্দের অস্তিত্ব স্বীকৃত নহে। গ্রন্থকার যদ্যপি ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে উক্ত বৈয়াকরণমত পূর্বপক্ষরূপে আশঙ্কা করিয়া খণ্ডন করিতেছেন। পঙ্ক-জনি-কর্তৃষ্ণু এখানে একবচন নির্দেশ না করিয়া যে বহুবচন নির্দেশ করা হইয়াছে, ইহারও একটি বিশেষ তাৎপর্য রহিয়াছে। তাৎপর্যটি এই—দুসমাসের মাধ্যমে পঙ্কজপদের ঘটক পঙ্ক প্রভৃতি প্রত্যেকটি পদের অর্থ ব্যর্থ হইয়াছে। ‘পরুজাদিপদানা’ এখানেও যেরূপ পঙ্ক পদ এবং জন্ ধাতু গৃহীত হইয়াছে তদ্রুপ আদি পদের দ্বারা ড প্রত্যয়ও গৃহীত হইৰে। শক্তিসত্ত্বেপি’ পঙ্ক অর্থাৎ পঞ্চপদের পঙ্করূপ অর্থে, জন ধাতুর উৎপত্তিরূপ অর্থে এবং ড প্রত্যয়ের কর্তৃরূপ অর্থে শক্তি থাকিলেও পঙ্কজ পদ হইতে পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব প্রকারক পদ্মবিশেষ্যক অষয়বােধ স্বীকৃত হইবে, পরন্তু পঙ্কজাদি পদ হইতে কেবলমাত্র পদ্মত্ব প্রকারক পদ্ম বিশেক ক্ষয়বােধ উৎপন্ন হইবে। এখন জিজ্ঞাস্য-পঙ্কজ পদের পঙ্ক প্রভৃতি অর্থে শক্তি থাকা সত্ত্বেও পঙ্কজনিকর্তৃত্ব প্রকারক পদ্ম বিশেষ্যক অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে না কেন? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে বৈয়াকরণ সম্প্রদায় বলেন যে, পঙ্কজপদের ঘটক প্রত্যেকটি শব্দের দ্বারা উপস্থাপিত যে পঙ্কজনি-কর্তৃত্ব তৎপ্রকারক অন্বয়বােধমাত্রের প্রতি পঙ্কজপদং পদ্মশক্ত এই আকারের রূঢ়ি অর্থাৎ সমুদায় শক্তিজ্ঞান প্রতিবন্ধক হইবে। সুতরাং উক্ত রূঢ়িজ্ঞান থাকাকালে কোনক্রমেও পঙ্কজাতত্ব প্রকারক অন্বয়বােধ হইতে পারিবে না। এই বৈয়াকরণমতে লাঘবও পরিস্ফুট, কেননা পূর্বে মীমাংসক মতে যে অবয়বাৰ্থবোধের প্রতি রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব কল্পনা করা হইয়াছে সেখানে প্রতিবধ্য জ্ঞানাংশে পদ্মত্বানবচ্ছিন্ন বিশেষ্যকত্ব প্রভৃতি প্রবিষ্ট থাকার ফলে উক্ত প্রতিবধ্য প্রতিবন্ধকতাব গৌরবগ্রস্ত হইবে। ঐ সকল বিশেষণ প্রবিষ্ট না থাকায় স্পষ্টতঃই লাঘব হইবে। এক্ষণে প্রশ্ন হইবে-জগদীশ যে বলিয়াছেন বৈয়াকরণমতে যােগরূঢ়ং নামৈব নাস্তি*– ইহা কি করিয়া সম্ভবপর হইতে পারে। যদি যােগরূঢ় নাম থাকে তাহা হইলে যােগরূঢ় নামের অভাব সিদ্ধ করা যায় না, যদি যােগরূঢ় নাম না থাকে তাহা হইলেও যােগরূঢ় নামের অভাব সিদ্ধ হইতে পারে না; কারণ, কোনও একটি আশ্রয়ে প্রতি যােগীর প্রসিদ্ধি না থাকিলে আশ্রয়ান্তরে তৎ প্রতিযােগীর অভাবও সিদ্ধ হইতে পারেনা। প্রকৃতস্থলে যােগরূঢ় নাম বৈয়াকরণ মতে অলীক হওয়ায় কোনও আশ্রয়ে তাহার প্রসিদ্ধি সম্ভবপর হইবে না। প্রতিযােগীর প্রসিদ্ধি না থাকার ফলে অলীক প্রতিযোগী যে যােগরূঢ় নাম তাহার অভাবও অপ্রসিদ্ধ হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে, জগদীশ যে বলিয়াছেন ‘যােগরূঢ়ং নামৈব নাস্তি’এখানে শান্তি পদের দ্বারা যােগরূঢ় নামের তাৰ বিৰক্ষিত নৰে। পৰ যােগরূঢ় নামের গােনর এসিকির অভাবই বিৰক্ষিত ৭৪ शब्दशक्तिप्रकाशिका হওয়ায় প্রসিদ্ধি বা অপ্রসিদ্ধি নিবন্ধন অভাব ব্যাহত হইবে না। ইহার ফলে রূঢ় লক্ষকঞ্চৈব’ ইত্যাদি কারিকায় নামের যে চতুর্বিধ বিভাগ প্রদর্শিত হইয়াছে বৈয়াকরণ মতে যােগরূঢ় নাম অপ্রসিদ্ধ হওয়ার ফলে উক্ত বিভাগের ব্যাঘাত হইবে। টীকাকার কৃষ্ণকান্তও এইভাবেই “যােগরূঢ়ং নামৈব নাস্তি” এই সন্দর্ভের তাৎপর্য বর্ণনা করিয়াছেন। এখন আপত্তি হইতে পারে যদি বৈয়াকরণমতে যােগরূঢ় নাম স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে ‘যুধিষ্ঠির’ প্রভৃতি নাম হইতে রণকালীন স্থিরতা প্রকার কুন্তীপুত্রত্ব বিশিষ্ট বিশেষ অষয়বোধ সম্ভবপর হইতে পারে না। এই আপত্তির উত্তরে জগদীশ বৈয়াকরণ- মত অনুসরণ করিয়া যুধিষ্ঠিরাদিশাদপি” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে ইষ্টাপত্তি করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যুধিষ্ঠির প্রভৃতি শব্দ হইতে রণকালীন স্থিৰত্বৰূপ যােগাৰ্থকে পরিহার করিয়! কেবলমাত্র যুধিষ্ঠিরত্বরূপ জাতি বিশেষ পুরস্কারে কুন্তীর প্রথম পুত্র বিষয়ক অম্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে। যুধিষ্ঠিরাদি’ এই ‘আদি’ পদের দ্বারা পদ্মনাভ প্রভৃতি শব্দকে গ্রহণ করিতে হইবে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে পারি, যেখানে পঙ্কজ, যুধিষ্ঠির বা পদ্মনাভ প্রভৃতি শব্দের তৎ জাতি বিশেষ পুরস্কারে রূঢ়িজ্ঞান থাকিবে তখনই ঐ সকল শব্দের যােগার্থকে পরিহার করিয়া কেবল রূঢ়ার্থের বােধ হইবে। যদি ঐ সকল পদের রূঢ়িজ্ঞান না থাকে, তাহা হইলে কিন্তু ঐ সকল পদ যােগলভ্যার্থন্ত্রের বােধজনক হওয়ায় যৌগিক শব্দরূপেই গণ্য হইবে। কাতন্ত্র ব্যাকরণের পরিশিষ্টকার পতিদত্তকৃত সমাস প্রকরণের ‘নায় এই প্রথম সুত্ৰেয় ‘ষা বৃত্তিরজহৎ স্বার্থা ইত্যাদি কারিকার উল্লেখ করিয়া পূর্বোক্ত বৈয়াকরণমত বিবৃত করিতেছেন। যা বৃত্তিরজহৎ স্বার্থ। এখানে বৃত্তি শব্দের দ্বারা সমাস, তদ্ধিত- প্রত্যয়যুক্ত, কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত এবং ক্যঙ, কচ, কাম্য প্রত্যয়ান্ত শব্দসমূহ গৃহীত হইবে। তাষ্যকার পতঞ্জলির মতেও উক্ত বৃত্তি শব্দসমুহকে রূঢ় বলা হয়। শ্রীপতি দত্ত বলেন যে বৃত্তি- শব্দমাত্রই যে রূঢ় শব্দ রূপে পরিচিত হইবে তাহা নহে কারণ নীলােৎপল, রাজপুরুষ প্রভৃতি সমাস বৃত্তিশব্দ হইলেও ঐ সকল শব্দ অবয়ব শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের বােধক হইয়া থাকে। এই অভিপ্রায়েই বলিয়াছেন ‘সেয়মত্রোপপাদিত। তাৎপর্য এই যে নীলােৎপল বা রাজপুরুষ ইত্যাদি বৃত্তিশব্দ নীলপদ, উৎপলপদ প্রভৃতি অবয়ব শব্দের শক্তি বা লক্ষণার দ্বারা উপস্থাপিত নীল পদার্থ এবং উৎপল পদার্থের অতেদ সম্বন্ধে বিশেষণ বিশেষ ভাবক্রমে অন্বয়বোধের জনক হওয়ায় এই সকল শব্দকে শ্রীপতি দত্ত ‘অজহৎস্বার্থ বৃত্তি শব্দরূপে পরিগ্রহ করিয়াছেন। অজহৎব্যর্থ এই অংশটির ‘ন জহ স্বার্থে যস্য' এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে যে শব্দটি সমাসের অন্তর্গত প্রত্যেক শব্দের বৃত্তিলভ্য অর্থকে পরিত্যাগ করে না, সেই শব্দটি হইবে অহৎব্যার্থরূপ বৃত্তিশব্দ। এই কারিকাটিরই পরাধে শ্রীপতি ১। যা বৃত্তিরজহংস্বার্থ সেয়মত্রোপপাদিতা। পদানাং প্রত্যয়ৈর্যোগে সমাসাহে বৃহুয়া। ( কলাপপরিশিষ্ট সমাসের ১ম সূত্র।)
सार्यकशब्दे योगदनामनिरूपणम्
দত্ত বৃত্তি শব্দের পরিচয় প্রদান করিবার জন্য ‘পদানাং প্রত্যয়র্যোগে সমাশ্চেহ বৃত্তয়ঃ
অর্থাৎ কোনও পদের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হইলে ঐ সকল প্রত্যয়ান্ত পদ এবং সমাস, বৃত্তি-
শব্দরূপে গণ্য হইবে। উক্ত রীতিতে অহৎব্যর্থবৃত্তি নিরূপণ করিবার পরে অহৎস্বার্থ-
বৃত্তি নিরূপণ করিবার জন্য ‘জৎস্বার্থা তু তত্রৈব যত্ৰ কঢ়ি বিরােধিনী’।পঙ্কজং মনসাদেবী
পদ্মনাভো যুধিষ্ঠির। এই কারিকার মাধ্যমে জগদীশ বৈয়াকরণ সম্মত উদাহরণ প্রদর্শন
পূর্বক ‘জহৎ স্বার্থাবৃত্তি’ নিরূপণ করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পঙ্কজ যুধিষ্ঠির প্রভৃতি শব্দ
নিজ নিজ অবয়ব শক্তি বা লক্ষণার দ্বারা উপস্থাপিত অর্থকে পরিহার করিয়া বৈজাত্যরূপে
(জাতিবিশেষ পুরস্কারে) পদার্থ বিশেষের প্রতিপাদক হওয়ায় ঐ সকল শব্দ জহৎস্বার্থ
বৃতিশব্দরূপে গণ্য হইবে। কেন শক্যার্থ গৃহীত হইবে না। এই আশঙ্কার উত্তরে,
বলিতেছেন ‘যত্র রূঢ়ি বিরােধিনী’, সমুদায় শক্তিরূপ রূঢ়িজ্ঞান এবং অবয়বলভ্য শক্যার্থ
উপস্থিত হইলে উক্ত অবয়ব শক্যাৰ্থবােধের প্রতি রূঢ়িজ্ঞান প্রতিবন্ধক হওয়ায় পঙ্কজ
প্রভৃতি পদ হইতে কেবলমাত্র পদ্মত্ব ধর্ম পুরস্কারে পদ্মেরই বোধ হইবে, পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে
নহে। ইহাই উক্ত বৈয়াকরণ মত।
मूलम्
तदेतद्वैयाकरणमतं पङ्कजमस्तीत्यादितः पङ्कजातं पद्ममस्तीत्याधनु-
भवस्य न्यायमीमांसादिसकलतन्त्रसिद्धत्वेन गौरवस्य प्रामाणिकत्वादना-
देयम्, अन्यथा अवयवशक्तरपि प्रतिवध्यतायामप्रवेशापत्तेलाघवेन पङ्कजा-
तत्वप्रकारकशाब्दसामान्यं प्रत्येव रूढिधियः प्रतिबन्धकत्वस्य सुवचत्वात् ।
नन्वेवं द्रव्ये “सरसिजमस्ती"त्यादितो द्रव्यनिष्ठं सरोजमिव
द्रव्याभिन्न सरसि जातं पद्ममपि प्रतीयेत, नामार्थयोरभेदान्वये तन्त्रस्य
नानोः समानविभक्तिकत्वस्यानपायादिति चेत् ।
सत्यम्, सविभक्तिकनामार्थस्य नामान्तरार्थान्वये वृत्तिशब्दैकदेशा-
न्येनैव समानविभक्तिकनामान्तरेण स्मारितत्वस्य तन्त्रतायाः स्वीकार्यत्वा-
दिति ॥ २७॥
৭০ शब्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ এই ব্যাকরণ মত গৃহীত হইতে পারে না। কারণ ‘পঙ্কজমস্তি’ (পঙ্কজ বিদ্যমান) এইরূপ বাক্য হইতে ‘পঙ্কজাতং পদ্মমন্তি’ (পঙ্কে উৎপন্ন পদ্ম বিদ্যমান ) এইরূপ শব্দানুভব ন্যায়, মীমাংসা প্রভৃতি সকল শাস্ত্রসম্মত হওয়ায় প্রামাণিক বলিয়া পূর্বোক্ত রূপে প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকভাব কল্পনা নিবন্ধন গৌরব দোষাবহ নহে। যদি তাদৃশ গৌরবনিবন্ধন পূর্বোক্ত প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকতাব স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে লাঘববশতঃ প্রতিবধ্যাংশেও অবয়ব শক্তি প্রযােজ্যত্ব নিবেশ না করিয়া কেবলমাত্র পঙ্কজাতত্ব প্রকারক শব্দানুভব সামান্যের প্রতি রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব বলা যাইতে পারে। বৈয়াকরণ সম্প্রদায় উক্ত ন্যায়সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বলেন, যদি যােগরূঢ় নাম স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে ‘দ্রব্যে সরসিজমস্তি’ দ্রব্যে সরােজ রহিয়াছে, এই সকল বাক্য হইতে দ্রব্যগত সরােজের ন্যায় দ্রব্যাভিন্ন যে সরােবর হাতে জাত পদ্ম প্রতীয়মান হইবে না কেন? কারণ নামার্থদ্বয়ের অভেদান্বয়বােধের নিয়ামক নামদ্বয়ের সমানবিভক্তিকত্ব স্বরূপতঃ বিদ্যমান রহিয়াছে। বৈয়াকরণ- গণের এই আপত্তিও সমীচীন নহে। কারণ উক্তস্থলে নামদ্বয় সমানবিভক্তিক হইয়াছে সত্য কিন্তু তাহা হইলেও সবিভক্তিক কোনও নামাৰ্থের অপর কোনও নামাৰ্থে অম্বয়বােধের প্রতি বৃত্তিশব্দের একদেশভিন্ন যে সমান বিভক্তিক নামান্তর তজ্জনিত উপস্থিতিবিষয়ত্ব কারণ। এইরূপ কার্যকারণভাব স্বীকার করিতে হইবে। বিবৃতি ‘যদ্যপি ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে যে বৈয়াকরণমত প্রদর্শিত হইয়াছে, উক্ত বৈয়াকরণ- মত খণ্ডন করিবার জন্য গ্রন্থকার, “তদেতদবৈয়াকরণমতং ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। বৈয়াকরণমতং' এই অংশটি ‘অনাদেয় এই পরবর্তী অংশের সহিত অম্বিত হইবে ! অদেয় এই অংশের অগ্ৰাহরূপ অর্থ গৃহীত হইবে । উক্ত বৈয়াকরণ মত কেন গ্রহণ যােগ্য নহে তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য পঙ্কজমপ্তি ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পঙ্কজমন্তি' এই সকল বাক্য হইতে কেবলমাত্র পঙ্কজাতত্ব প্রকারক বােধ অথবা পদ্ম পুরস্কারে কেবলমাত্র পদ্ম বিষয়ক বােধ অনুতসিদ্ধ নহে, পরন্তু নৈয়ায়িক, মীমাংসক প্রভৃতি সকল দার্শনিক সম্প্রদায়ই পঙ্কজাতত্বপ্রকারক পদ্মবিশেক অম্বয়বােধ স্বীকার করেন, সুতরাং পঙ্কজ প্রভৃতি পদ হইতে পঙ্কজপদের অবয়বার্থ যে পঙ্কজাতত্ব তৎকাৰকসমুদায় শক্যার্থ যে গল্প सार्यकमब्द योगमनामनिरूपणम् তদবিশ্যেক অন্বয়বােধ সকলদার্শনিক সম্প্রদায়ের অনুভবসিদ্ধ হওয়ায় বৈয়াকরণ সম্প্রদায় যে যােগরূঢ়নামের অপলাপ করিয়া পঙ্কজ প্রভৃতি পদ হইতে কেবলমাত্র যােগার্থবিষয়ক অথবা কেবলমাত্র রূঢ্যর্থবিষয়ক বােধ স্বীকার করেন তাহা সঙ্গত নহে। যদি বৈয়াকরণ সম্প্রদায় বলেন যােগরূঢ় নাম সিদ্ধ হইলে, রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবধ্য যে যােগাৰ্থবুদ্ধি তগত প্রতিবধ্যতার অবচ্ছেদক কোটিতে পদ্মান্য ধর্মিকত্ব অথবা পদ্মানবচ্ছিন্ন বিশেষকত্ব নিবেশ নিবন্ধন গৌরব হইবে, অতএব তাদৃশ গৌৱৰ স্বীকার না করিয়া পঙ্কজ এভৃতি পদস্থলে, যােগরূঢ় নামের অপলাপ করিয়া কেবল যােগার্থ বা কেবল রূঢ্যর্থ গোচরবােধের অনুকূল যৌগিক নাম এবং রূঢ় নাম স্বীকার করাই সমীচীন হইবে । বৈয়াকৰণ সম্প্রদায়ের এই উক্তির প্রতিবাদে যােগরূঢ় নাম সমর্থন করিবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন—“গৌরব প্রামাণিকত্বাৎ”। গ্রন্থকারের অতিপ্রায় এই যে, পঙ্কজ প্রভৃতি পদ হইতে “পঙ্কজাতং পদ্ম” ইত্যাদিবােধ যখন ন্যায়, মীমাংসাদি সকল সম্প্রদায় কর্তৃক স্বীকৃত তখন উক্ত অনুভবসিদ্ধ বোধের অনুরােধে পঙ্কজ পদস্থলে, ‘পঙ্কজপদং পদ্মশ’ এই রূঢ়ি জ্ঞানের প্রতিবধ্যতাবচ্ছেদক কোটিতে পদ্মানধর্মিকত্ব বা পদ্মানবচ্ছিন্ন বিশেষ্ণুতাকত্ব নিবেশ নিবন্ধন গৌরব ফলানুরােধে অবশ্যই প্রামাণিকরূপে স্বীকৃত হইবে। অতএর উক্ত বৈয়াকরণ মত গৃহীত হইতে পারে না। যদি বৈয়াকরণ সম্প্রদায় উক্ত ফলমুখ গৌরব’ সমর্থনযােগ্য স্বীকার না করেন । তাহা হইলে পূর্বোক্তবৈয়াকরণ মতও সিদ্ধ হইতে পারে —এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার অন্যথা ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে বৈয়াকরণ সিদ্ধান্তেরও অনুপপত্তি প্রদর্শন করিতেছেন। অন্যথা” অর্থাৎ সকল মত সিদ্ধ অনুভবের অপলাপ স্বীকৃত হইলে। তাৎপর্য এই যে ন্যায় মীমাংসাদি সকল সম্প্রদায় সিদ্ধ অনুভবের অপলাপ যদি বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের অভিপ্রেত হয় তাহা হইলে বৈয়াকরণ মতেও রূঢ়ি জ্ঞানের প্রতিবধ্যতাবচ্ছেদক কোটিতে যে অবয়ব শক্তি প্রযােজ্যত্বনিবেশ করা হইয়াছে সেখানেও উক্ত নিবেশ নিবন্ধন গৌরব হয় বলিয়া, অবয়ব শক্তি প্রযােজ্যত্ব রূপ বিশেষণটি পরিহার করিয়া লাঘবত: পঙ্কজাতত্ব প্রকারক শাবুদ্ধি সামান্যের প্রতি রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব কল্পিত হইবে না কেন? অতএব বৈয়াকরণ সম্প্রদায় তাহাদের অনুভবের অনুরােধে যদি এতিৰধ্যতাবচ্ছেদক কোটিতে গুরুতর অবয়বশক্তি প্রযােজ্যত্বনিবেশ করিতে চাহেন তাহা হইলে ন্যায়মীমাংসক সম্প্রদায়ও অবশ্যই বলিতে পারেন যে তাহারাও ‘পঙ্কজপ্রভৃতি অনুভবসিদ্ধ মােগাৰ্থ প্ৰকাৰক রূঢ্যর্থ বিশেষক অম্বয়বোধের অনুরােধে পদ্মাণধর্মিকত্ব বা পদ্মনবচ্ছিন্ন বিশেষ্যকত্ব নিবেশ করা সমীচীন হইবে। উক্ত রীতিতে নৈয়ায়িক প্রতি কর্তৃক বৈয়াকরণ মত খণ্ডিত হইলে ক্ষুব্ধ বৈয়াকরণ সম্প্রদায় নৱেবং ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে যােগরূঢ় নাম যাহারা স্বীকার করেন, তাহাদের মতবাদের উপর দৃঢ়তার সহিত একটি পূর্বপক্ষ উত্থাপন করিতেছেন-এবং’ অর্থাৎযােগরূঢ় নাম যদি স্বীকৃত হয় তাহা হইলে দ্রব্যে সমিতি ইত্যাদি বাক্য হইতে যােগরূঢ় নাম শীতিপকে যেরূপ ব্যগত সজে-এতীয়মান হইয়া থাকে তদ্রুপ দ্রব্য হইতে অভিন্ন সরােবরে জাত পদ্মবিষয়ক ব্যাভিয়ে সম্বলি জাতং পদ্মম এইরূপ অন্বয়বােধও হওয়া ৭ सान्दशक्तिप्रकाशिका উচিত, কারণ, নামার্থদ্বয়ের অভেদান্বয়বােধের কারণ (হেতু) নামদ্বয়ের সমানবিভক্তিত্ব উক্তবাক্যে স্বরূপত বিদ্যমান রহিয়াছে। অতএব কারণ বিদ্যমান থাকায় সিদ্ধান্তিগণের মতেও দ্রব্যে সরসিজমন্তি’ এই বাক্যে ‘সসি’ এই সপ্তমী বিভক্ত্যন্ত সরঃ পদার্থে সপ্তম দ্রব্যপদার্থের অভেদান্বয়বােধ অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। গ্রন্থকার উক্ত পূর্বপক্ষের সমাধানকল্পে বলিতেছেন সবিতক্তিক নামাৰ্থে নামান্তরার্থের অম্বয়বােধ করিতে হইলে উক্ত নামান্তরার্থটি বৃতি শব্দের একদেশ হইতে ভিন্ন হইবে। সুতরাং বিশ্যেতা সম্বন্ধে অভেদসংসৰ্গাবচ্ছিন্ন বিভক্তিক নামর্থপ্রকারােক অবাধের প্রতি বৃত্তিশব্দের একদেশ- ভিন্ন স্বমানবিভক্তিক নামান্তরের দ্বারা উপস্থাপিতত্ব, স্বরূপসম্বন্ধে কারণ-এইভাবে কাৰণতার অবচ্ছেদক কোটিতে নামান্তরাংশে বৃতিশব্দের একদেশভিম্নত্ব নিবেশ করিবার ফলে দ্রব্যে সরসিজমন্তি’ এই বাক্যের অন্তর্গত ‘সসি’ এই অংশ বৃত্তিশব্দের একদেশ হওয়ায় বৃত্তিশব্দের একদেশভিন্নত্ব থাকিবে না। অতএব তাদৃশ একদেশভিন্নত্ব ঘটিত তাশ উপস্থাপিতত্বরূপ কারণ না থাকায় ব্যাভিন্ন সরােবরে জাত পদ্মবিষয়ক অন্বয়বােধ হইবে না। পদানাং প্রত্যয়ৈর্যোগ: সমাসাহে বৃত্তয়: শ্রীপতিদত্তের এই উক্তি অনুসারে সুপতিঙন্ত পদের পরে কোনও প্রত্যয় যুক্ত হইলে ঐ সকল শব্দ এবং সমাস বৃত্তি শব্দরূপে ব্যপদিষ্ট হইবে। ইহার ফলে দ্রব্যে সরসিজমন্তি’ এখানে অলুকসমাসের দ্বারা নিম্পন্ন ‘সরসিজ এই শব্দটিও অবশ্যই বৃত্তি শব্দরূপে গণ্য হইবে। রাজপুরুষোহস্তি’ এইরূপ বাক্যস্থলে রাজপদে লাক্ষণিক অর্থ যে রাজসম্বন্ধী তাহার তদাত্ম সম্বন্ধে অন্বয়বােধ হইয়া থাকে। উক্ত অম্বয়বােধে ব্যভিচার বারণ করিবার জন্য নামান্তরে সমানবিভক্তিকত্ব বিশেষণ দেওয়া হইয়াছে। বাস্তবিকপক্ষে বৃতিশকের একদেশানত্ব এই অংশের দ্বারা প্রত্যয় সাকাহ্নপদভিন্ন হইয়া সমাজভিন্নত্বই প্রতীয়মান হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, ‘দ্রব্যে সরসিজমন্তি’ এই বাক্যান্তৰ্গত ‘সর' রূপ যে নাম তাহাতে সমাসতিত্ব থাকায় উক্ত কার্যকারণভাবমূলে অন্বয়বােধের আপত্তি হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে বলিতে হইবে সমান্যপদের দ্বারা সমাসের ঘটক পদ ভিন্নত্ব গৃহীত হইবে। সুতরাং সপ্তমী বিভক্ত্যন্ত সরসি' এই পদটিও সমাসের ঘটক হওয়ায় সমাসের ঘটক ভিন্ন হইবে না। ইহার উপরেও আশঙ্কা হইতে পারে সমাসঘটক ভিন্নত্ব নিবেশ করিলেই যখন উক্ত অতেদান্বয়ের আপত্তি বারিত হইতে পারে, তখন বৃত্তি শব্দের অন্তর্গত প্রত্যয় সাকাভক্ষ- পদের তে নিবেশ করা নিরর্থক হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে ইষ্টাপতি কৰিয়া বলিতে হইবে মুলে যে বৃত্তিতে শকৈদেশাত্ব’ নিবেশ করা হইয়াছে, বাস্তবিক পক্ষে সমাস- ঘটকতিত্বরূপ অর্থেই উক্ত মুলের তাৎপর্য গৃহীত হইবে। মূলে যে সমানবিভক্তিকত্ব’ নিবেশ করা হইয়াছে, উক্ত সমানবিভক্তিকত্ব পদের বিরুদ্ধ বিভক্তি রাহিত্যরূপ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। এই রূপ অর্থ গৃহীত না হইলে নীলপীতে। ঘটপটৌ' ইত্যাদি স্থলের সৰিঙক্তিক নীলপদ এবং সমান বিতর্কিক ঘটপদ না থাকায় নীলপদার্থের সহিত ঘট পদার্থের অন্বয়বােধ হইতে পারিবে না। এইজন্য সমানবিভক্তিক পদের দ্বারা বিজাতীয় বিভক্তি শূন্যত্বৰূপ অর্থ অবশ্য গ্রহণ করিতে হইবে।
सार्यकशब्दे योगरूदनामनिरूपणम् ৭ मूलम् यद्यदाकाङ्कितं योग्यं सनिधानं प्रपद्यते । तेन तेनान्वितः स्वार्थः पदैः समधिगम्यते ॥ इति रूढ्यर्थयोगार्थयोयुगपदुपस्थितयोराकासादिसाचिव्यादाहत्यान्वयबुद्धि- स्थल एव योगार्थस्य रूढ्यर्थस्य वा नान्यत्रान्वयो, न तु तयोरेव मिथः साकासत्त्वम्, अन्यत्र योगार्थस्य बोधने रूढिधियः प्रतिबन्धकत्वं वा, प्रमाणाभावात्, एवश्च यत्र योगार्थरूढ़िलभ्यार्थयोस्तात्पर्य्याद्यग्रहाद्वि- रोधिसमवधानाद्वा न प्रथममन्वयधोस्तत्र योगार्थमर्यादया पङ्कजातत्वेन कुमुदादेः समुदायशक्तग च पद्मत्वेन स्थलकमलस्य बोधो भवत्येवेति मणि- कृन्मतं दर्शयति- रूढ्यर्थेऽन्यत्र वा यत्र यदाऽकासादि निश्चयः । तदैव तत्र योगार्थस्यान्वयो मणिकृन्मतः ॥ २८ ॥ অনুবাদ যে যে পদার্থ স্বকীয় অর্থের সহিত সাকাক্ষ, যােগ্যতা বিশিষ্ট এবং আসন্ন হয় সেই সেই পদার্থের সহিত অন্বিত যে স্বকীয় অর্থ, তাহাই স্বার্থাদিবােধক পদ সমূহের দ্বারা অন্বয়বুদ্ধির বিষয় হইয়া থাকে। অতএব, যেখানে (কোন পদের) সমুদায়ার্থ এবং যৌগিকাৰ্থ এতদুভয়ের উপস্থিতি হইলে, উক্ত পদার্থদ্বয়ের আকাঙ্ক্ষাদিকারণকলাপ হইতে প্রথমতঃ অন্বয়বুদ্ধি হইবে, তাদৃশ স্থলেই যােগার্থকে পরিত্যাগ করিয়া রূঢ্যর্থের অথবা রূঢ্যর্থকে পরিত্যাগ করিয়া যােগার্থের অম্বয়- বােধ হইবে না, কিন্তু যােগার্থ এবং রূঢ্যর্থ উভয়মাত্রেরই পরস্পর সাকাঙক্ষত্ব অথবা রূঢ্যর্থভিন্ন যােগাৰ্থবুদ্ধির প্রতি রূঢ়িজ্ঞানের প্রতিবন্ধকত্ব স্বীকৃত নহে, কারণ, তাদৃশ প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকভাবের অনুকুল কোন প্রমাণ অনুভুত নহে। সুতরাং যেখানে যােগাৰ্থ এবং রূঢ়ি-লভ্য পদার্থদ্বয়ের ( অম্বয়বােধের অমুকুল) তাৎপৰ্যাদি গ্রহ থাকিবে না, অথবা (অম্বয়বােধের বিরােধী কোন জ্ঞানাদি) উপস্থিত থাকার ফলে প্রথমতঃ অম্বয়বােধ হইবে না, সেখানে কিন্তু) যােগাৰ্থমাত্রকে অবলম্বন शम्दशक्तिप्रकाशिका করিয়া পঙ্কজাতত্ব পুরস্কারে কুমুদাদি বিষয়ক এবং সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত স্থলকমলের অম্বয়বােধ অবশ্য স্বীকৃত হইবে।—এই যে মণিকারের মত তাহা বিবৃত করিবার জন্য বলিতেছেন—“রূঢ়িজ্ঞানের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থে অথবা অন্যবিধ পদার্থে যখন আকাঙ্ক্ষাদির নিশ্চয় থাকিবে, তখনই সেই পদার্থে যােগার্থের অন্বয়বােধ হইবে, ইহাই মণিকারের মত।” বিবৃতি শব্দবােধের প্রতি যোগ্যতাভান, এবং আকাক্ষাজ্ঞান এবং আসত্ত্বিজ্ঞান সাক্ষাৎ কারণ—ইহা আমরা শব্দপ্রামাণ্য প্রকরণে সবিশেষ আলোচনা করিয়াছি। এখন বিবেচনা করিতে হইবে—ঘটমানয়' ইত্যাদি বাক্য হইতে যে ঘটগতকৰ্মতার নিরূপক আনয়নের অনুকুল কৃতিবিষয়ক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয় তাহা কিখলে কপােতনায়’ রীতিতে ‘বিশেষে বিশেষণ, তত্রাপি বিশেষণান্তর’-এইভাবে উৎপন্ন হয় ? অথবা প্রথমে ঘট- পদার্থের সহিত কর্মপদার্থের অন্বয়বােধ, অর্থাৎ অবান্তর বাক্যাৰ্থবােধ উৎপতিক্রমে বিশিষ্টবৈশিষ্ট্যাবগাহী মহাবাক্যাৰ্থবােধ উৎপন্ন হইবে । এই দ্বিবিধ বােধের মধ্যে প্রথমটি অর্থাৎ ‘খলে কপােতন্যায়রীতিতে অম্বয়বােধ প্রাচীনসম্মত। দ্বিতীয়টি অর্থাৎ বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্যাবগাহী বােধ তত্ত্বচিন্তামণিকার প্রভৃতি নবীনসম্প্রদায়ের অভিমত। উক্ত মতদ্বয়ের মধ্যে প্রাচীনসম্প্রদায়ের অভিপ্রায় এই যে, বৃদ্ধ, যুবা ও শিশু কপােতবৃন্দ শ্রেণীবদ্ধভাবে যেরূপ অঙ্গনে পতিত হয় তদ্রুপ, ‘ঘটমানয়' ইত্যাদিবাক্যের অন্তর্গত প্রথমােক্ত পদের সহিত দ্বিতীয় পদের, দ্বিতীয় পদের সহিত তৃতীয় পদের আকাঙ্ক্ষা যােগ্যতা এবং আসত্তিবিষয়ক যথার্থজ্ঞানরূপ কারণ হইতে বিশেষ্যবিশেষণভাবক্রমে ঘট, কর্মত্ব, আনয়ন, কৃতি ইত্যাদি পদার্থের যুগপৎ অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে। উক্ত বােধে কর্মত্বের অংশে বৃত্তিত্বসম্বন্ধে ঘট, আনয়ন অংশে নিরূপকত্বসম্বন্ধে কৰ্মত্ব বিশেষণ। আবার কৃতির অংশে অনুকুলত্বসম্বন্ধে আনয়নজির। বিশেষ্য-বিশেষণভাবে ভাসমান হইবে। এই প্রকারবােধকে ‘খলে কপােতনায় অন্বয়বােধ বলা হয়। বিভিন্ন সন্নিকর্ষ হইতে যেরূপ একটি প্রত্যক্ষ উৎপন্ন হয়, পূর্বানুভূত পদবিষয়ক সংস্কারের সহিত চরমপদবিষয়ক অনুভবরূপ উদ্বোধক হইতে সমুহলম্বন পদার্থসমূহের উপস্থিতি হইতে শাব্দবােধ স্বীকৃত হইয়াছে। ইহাই প্রাচীন নৈয়ায়িক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত। মণিকার উক্ত মতের বিরুদ্ধে বলেন- যথদাকাক্ষিতং যােগ্যং সন্নিধানং প্রপদ্যতে। তেন তেহন্বিত স্বার্থ পদৈরেবাবগম্যতে ॥ অর্থাৎ ‘ঘটমানয়’ ইত্যাদিলে ঘট প্রভৃতি পদের অর্থ যে ঘটাদি তাহার সহিত আকাঙ্ক্ষিত (ঘটপদ প্রয়ােগজনিত জিজ্ঞাসা বিষয়ীভূত) ষােগ্য (ঘটাদি পদার্থের সহিত মােগ্যবিশিষ্ট) যে যে পদার্থসন্নিহিত (অর্থাৎ ঘটাদিপদার্থবিষয়ক সমূহলম্বন सापकमले योगमनामनिरूपणम् উপস্থিতির বিষয় হয় সেই সেই পদার্থের সহিত সম্বদ্ধ ঘটাদি পদার্থ অন্ধ বােধের বিষয় হইয়া থাকে। ইহার ফলে প্রথমতঃ ঘটকে ব্যক্তিত্বসম্বন্ধে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া কর্ম বিশেষক অবান্তর বাক্যাৰ্থৰোধ হওয়ার পরে ঘটত্তিকর্মতানিরূপক যে আনয়ন তদনুকুল কৃতি বিষয়ক মহাবাক্যার্থ বােধ হইবে। ইহাই মুক্তাবলী গ্রন্থে মতান্তর বলিয়া অতিহিত হইয়াছে। জগদীশ কিন্তু উক্ত কারিকাটিকে সুস্পষ্টভাবে মণিকারের মত ৰশিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। मूलम् समुदायशक्त्युपस्थापिते, पदान्तरवृत्युपस्थापिते वा, यत्र धर्मिणि अवान्तरवृत्तिलभ्यार्थस्य यदाकासानिश्चयादिस्तदैव तत्र तस्यान्वयबोध उत्पद्यते, सम्भूतसामग्रीकत्वात्, रूढ्यर्थभिन्न योगार्थस्यान्वयबोध- ब्युदासाय तु रूढेर्योगापहारिता प्रवादो रूढ्यर्थमात्रे योगार्थस्यान्वयबोध- सामग्रीस्थलाभिप्रायक इति चिन्तामणिकृतां मतम् ॥ २८ ॥ অনুবাদ সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত অথবা পদান্তরের বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত যে ধর্মী, তাহাতে অবয়ববৃত্তিলভ্য পদার্থপ্রকারক (অন্বয়বােধের অনুকুল) আকাঙ্গানিশ্চয়াদিরূপ কারণকলাপ যখন থাকিবে তখন তাহার পরবর্তীক্ষণে সেই সেই ধর্মীতে যােগাৰ্থপ্রকারক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হয়, যেহেতু পূর্বক্ষণে মিলিতভাবে ( অম্বয়বােধের) সস্তৃত সামগ্রী অবস্থিত থাকে। রূঢ্যর্থ ভিন্নে যােগাৰ্থপ্রকারক অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য রূঢ়ির যােগাপহারিতা এইরূপ প্রবাদ কিন্তু রূঢ্যর্থনাত্রে যােগার্থকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া অম্বয়বােধের সামগ্রী যে স্থলে অবস্থিত থাকিবে, তাদৃশ স্থলাভিপ্রায়েই বলা হইয়াছে—ইহাই তত্ত্বচিন্তা- মণিকারের সিদ্ধান্ত। বিবৃতি বিবরণ গ্রন্থোক্ত সমুদায় শক্তপস্থাপিতে” এই অংশের দ্বারা কারিকো রূঢ়ার্থের বিবরণ প্রদর্শিত হইয়াছে। যদি কেবলমাত্র ‘সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থে এইমাত্র বলা হয়, তাহা হইলে “পঙ্কজং পদ্ম” এই স্থলের পদ্মপদের দ্বারা উপস্থাপিত পদ্মরূপ অর্থটি সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত না হওয়ায় উক্ত পদ্মরূপ ধর্মীতে পঙ্কজপদে शब्दशक्तिप्रकाशिका যৌগিক অর্থ যে পঙ্কজাত, তাহার অন্বয় হইতে পারে না, এইজন্য “পদান্তর বৃহুপস্থাপিতে এই অংশটি কারিকো অন্যত্র’ শব্দের বিবরণ রূপে উপস্থাপিত হইয়াছে। ‘অবান্তর বৃত্তিলভ্যার্থস’ ইহার বার পঙ্কজ পদের অন্তর্গত পঙ্ক প্রভৃতি প্রত্যেকটি শব্দের বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত পঙ্কজনিকর্তৃত্ব রূপ ‘যৌগিক অর্থ প্রতীয়মান হইবে। যদা'-যখন ‘আকাঙক্ষাদি নিশ্চয় এখানে ‘আদি’ পদের দ্বারা যােগ্যতা, আসক্তি ও তাৎপর্য প্রভৃতিকে গ্রহণ করিতে হইবে। তদৈব-তখনই। ত—পূর্বোক্ত ধর্মীতে। ‘ত'-যােগার্থের। তাৎপর্য এই যে, পঙ্কজ পদের সমুদায় শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত অথবা পদ্মপ্রভৃতি পদের দ্বারা উপস্থাপিত পদ্মপ্রভৃতি ধর্মীতে পঙ্কজ পদের যৌগিক অর্থ, যে পঙ্কজনি কর্তৃত্ব তৎপ্রকার অন্বয়বােধের অনুকূল আকাঙ্ক্ষা যােগ্যতা, আসত্তি এবং তাৎপর্যজ্ঞানরূপ শব্দবােধ সামানের সামগ্রী যখন অবস্থিত থাকিবে, তখনই ‘পঙ্কজাত পদ্মম্ এইরূপ পঙ্কজাতকারক পদ্মাদিবিশেষ্যক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। কেন উৎপন্ন হইবে তাহা বুঝাইবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন—‘সস্তৃত সামগ্ৰীকত্বাৎ' অর্থাৎ তাদৃশ অন্বয়বােধ সামান্যের উৎপাদক আকাক্ষা মােগ্যতা, আসত্তি ও তাৎপর্যজ্ঞানঘটিত কারণ- কলাপ উক্ত অন্বয়বােধের পূর্বক্ষণে অবস্থিত রহিয়াছে, অতএব পঙ্কজ পদের সমুদায়ার্থ যে পদ্ম এবং পদ্ম, কুমুদ প্রভৃতি শব্দান্তরের বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত পদ্ম, কুমুদ প্রভৃতি ধর্মীতে ও পঙ্কজ পদের যােগশক্তিলভ্য যে পঙ্কজনিকতৃত্ব, তৎপ্রকারক শব্দবােধ অবশ্য উৎপন্ন হইবে। মণিকারের এই সিদ্ধান্তের উপরে আপত্তি হইতে পারে, রূঢ্যর্থভিন্নে যােগাৰ্থপ্রকারক অম্বয়বােধ পরিহার করিবার জন্য প্রাচীনগণ যে রূঢ়িজ্ঞান কেবল যােগাৰ্থ প্ৰকারক বােধের বিরােধী বলেন এবং সমুদায় শক্তিরূপে রূঢ়িকেই যােগাপহাক বলেন—ইহার কি গতি হইবে ? এই আপত্তির সমাধানকল্পে মণিকারের মত অবলম্বন করিয়া জগদীশ বলিতেছেন—রূঢ়ি যােগাপহারিত্ব যাহা বলা হইয়াছে উক্ত প্রবাদ কেবলমাত্র সমুদায় শক্তিলভ্য পদ্মরূপ ধর্মীতে যখন যােগার্থের অন্বয়বােধের অনুকুল সামগ্রী থাকিবে, তখনই যােগাৰ্থ প্ৰকারক সমুদায় শক্তিলভ্য রূঢ্যর্থ পদ্মাদি বিশেষ্যক অন্বয়বােধ হইবে। ইহাই তাদৃশ প্রবাদের তাৎপর্য। পঙ্কজপদস্থলে রূঢ়িজ্ঞান থাকাকালে পদারের দ্বারা উপস্থাপিত কুমুদ প্রভৃতি ধর্মীতে আকাঙ্ক্ষা নিশ্চয়াদিরূপ অম্বয়বােধের অনুকুল কারণ কলাপ থাকিলেও সেখানে সমুদায় শক্তির দ্বারা-উপস্থাপিত পদ্মে পঙ্কজাতত্ব প্রকারক অন্বয়বােধ অনুভবসিদ্ধ। সুতরাং এই অনুভবের অপলাপ মণিকার কি রূপে করিবেন। যােগরূঢ় শব্দলে সর্বত্র যােগাৰ্থমাত্র মর্যাদায় রূঢ্যর্থভিয়ে অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য তাদৃশ প্রতিবন্ধকাভাবের কারণত্ব কল্পনা করিলে গৌরব স্বীকার করিতে হইবে। অতএব গৌরব প্রযুক্তই উক্ত প্রতিবধ্য-প্রতিবন্ধকতাব কল্পিত হইবে না। মণিকারের এই উক্তিও সমর্থন করা যায় না। কারণ প্রতিবন্ধকাভার কারণে যদি অপলাপ করিতে হয়, তাহা হইলে জগতে প্রায়শঃ কার্যকারণভাবের বিলুপ্তি ঘটিবে। গ্রন্থকার মত এই উক্তি দ্বারা মণিকারোক্ত উদ্ধৃতির এই অবয়স সূচনা করিয়াছেন। (২৮) सार्चकशब्द मोगहनामनिरूपणम् योगरूढ़ विमजते- सामासिकं तद्धितासमिति योगरूड़े कृदन्तस्य समासत्वव्यवस्थितः ॥ २६ ॥ तद्विविधं भवेत् । অনুবাদ যােগরূঢ় নামের বিভাগ করিতেছেন-সমাস ও তদ্ধিতভেদে সেই যােগরূঢ় নাম দ্বিবিধ হইবে। কৃদন্ত (যােগরূঢ় ) সমস্ত হওয়ায় সমাসরূপেই ব্যবস্থিত হইবে। বিবৃতি যােগরূঢ় নাম সম্পর্কে উদ্দেশ লক্ষণ ও পরীক্ষাবিধি বিশদভাবে পর্যালােচিত হইয়াছে। কোনও পদার্থ নিরূপণ করিতে হইলে উপায়রূপে উদ্দেশ লক্ষণ ও পরীক্ষা যেরূপ প্রয়ােজনীয় তদ্রুপ বিভাগও অপরিহার্য। এইজন্য প্রসঙ্গত: ‘সামাসিমিত্যাদি’ কারিকার মাধ্যমে যােগরূঢ় নামের বিভাগ প্রদর্শন করিতেছেন “যোগরূঢ়ং বিভজতে”। অর্থাৎ পূর্বে ( ১৬ কারিকায়) উদ্দিষ্ট যােগরূঢনামের বিভাগ প্রদর্শন করিতেছেন। সমাস পদের পরে স্বার্থে ইক প্রত্যয়ের দ্বারা সামাসিক পদটি নিষ্পন্ন হওয়ায় সমাসরূপ অর্থে সামাসিক পদটি প্রযুক্ত হইয়াছে। সমাস রূপ যােগরূঢ় নামের দৃষ্টান্তরূপে লােহিতশালি, পদ্মনাভ, মহেশ্বর প্রভৃতি শব্দ গৃহীত হইবে। তদ্ধিতাক্ত পদের অর্থ তদ্ধিতান্ত। তদ্ধিতান্ত যােগরূঢ় নামের উদাহরণ—রাঘব, বাসুদেব প্রভৃতি। এইভাবে যােগরূঢ় নাম বিভক্ত হওয়ায় উক্ত যােগরূঢ় নাম দ্বিবিধ হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে কৃদন্ত যােগরূঢ় নাম বিভক্ত না হওয়ায় ন্যূনতা হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে ‘কৃদন্তস্য ইত্যাদি সর্ডের অব- তারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে কৃদন্ত পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় শব্দ সমাস রূপে ব্যবস্থিত হওয়ায় সমাস বিশেষ হইবে, অতএব সমাস ও তদ্ধিতান্ত ভেদে যােগরূঢ় নাম দ্বিবিধ হওয়ায় তদ্ধিতান্ত নামের স্বতন্ত্রভাবে বিভক্ত না হওয়ায় ন্যূনতার সম্ভাবনা নাই। ২১।
প্রতিমঞ্চায়িকা मूलम् तद् योगरूडम्, सामासिकं समासात्मकं, कृष्णसर्पादि । तद्धितातं वासुदेवादि। कृदन्तस्य पङ्कजादि योगरूदस्य सामासिक एवान्तर्भाव इति नाधिक्यम् । অনুবাদ (কারিকার অন্তর্গত) তৎপদের অর্থ যােগরূঢ়। “সামাসিক” স্বরূপ ( যথা) কৃষ্ণসৰ্প প্রভৃতি (নাম)। তদ্ধিতাক্ত (অর্থাৎ ) তদ্ধিতাক্ত (নাম) যথা বাসুদেবাদি। কৃৎ প্রত্যয়ান্ত—পঙ্কজ প্রভৃতি কৃৎ প্রত্যয়ান্ত—পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নাম সমাসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ফলে অধিক অর্থাৎ সমাস হইতে অতিরিক্ত নহে। বিবৃতি বুদ্ধিৰিৰয়তাবচ্ছেদকথোপলক্ষিত ধর্মাবচ্ছিন্নে তৎপদ স্বীকৃত। সুতরাং কারিকায় উল্লিখিত তৎপদের দ্বারা বুদ্ধিবিষয়বচ্ছেদকতােপলক্ষিত ধর্মবিশিষ্ট কে হইবে? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন তৎযােগরূঢ় অর্থাৎ যােগরূঢ় নামই এখানে তৎপদের দ্বারা পরামৃষ্ট হইবে। কারিকায় উল্লিখিত ইকন প্রত্যয়ান্ত সামাসিক পদটির সমাসরূপ অর্থ প্রতিপাদন করিবার জন্য বলিতেছেন-“সামাসিক”-“সমাসত্মক। সমসরূপ যােগরূঢ় নামের উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন কৃষ্ণ সর্পাদি”। কৃষ্ণসৰ্পপদ হইতে কৃষ্ণসৰ্পৰূপ বৈজাত্য পুরস্কারে কৃষ্ণাভিন্ন বিজাতীয় সর্পের বােধক রূপে নিত্যকর্মধারয় সমাস হইয়াছে। অতএব উক্ত নামটি যােগরূঢ় নাম। কৃষ্ণসপাদি এই আদি পদের দ্বারা পদ্মনাভ প্রভৃতি সমাস গৃহীত হইবে। কারিকো তদ্ধিতাক্ত নামের উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন তদ্ধিতাং বাসুদেবাদি”। বাসুদেবপদটি অপত্যরূপ অর্থে অণ, প্রত্যয়ান্ত হইলেও কেবলমাত্র বসুদেবের অপত্যবােধক নহে পরন্তু বসুদেবপত্যত্ব পুরস্কারে কৃষ্ণবিশিষ্টের বােধক হইয়াছে। সুতরাং এই পদটি ও সরসিজ এই পদটির ন্যায় যােগরূঢ় নাম হইবে। বাসুদেবাদি এই আদি পদের দ্বারা পার্থপ্রভৃতি তদ্ধিতা যােগরূঢ়নাম পরিগৃহীত হইবে। “কদন্ত পঙ্কজাদি যােগরূঢ় ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা কৃদন্তস্য সমাসত্ব ব্যবস্থিতেঃ এই কারিকাংশ ব্যাখ্যাত হইয়াছে। তাৎপর্য এই যে সমাস এবং তদ্ধিতান্ত নামকে গ্রহণ করিয়া বিবিধ যােগরূঢ় নাম বর্ণিত হইয়াছে। ইহা কিরূপে সঙ্গত হইবে? পঙ্কজএভৃতি তৃতীয় যােগরূঢ় নাম প্রসিদ্ধ থাকায় যােগরূঢ় নাম ত্রিবিধ হইবে না কেন? এই জিজ্ঞাসার सार्यकशवे योगहनामनिरूपणम् ৭ উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন সরসিজ, পঙ্কজ প্রভৃতি নাম কৃদন্ত হইলেও সমাসও বটে। অতএব ঐ সকল নাম সমাসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সমাস অপেক্ষা অধিক নহে। এইজন্য যােগরূঢ় নাম দ্বিবিধই হইবে; ত্রিবিধ নহে। मूलम् यौगिकं नाम लक्षयति विभजते- योगलभ्यार्थमात्रस्य बोधकं नाम यौगिकम् । समासस्तद्धितातं च कृदन्तश्चेति तत् त्रिधा ॥ ३० ॥ অনুবাদ যৌগিক নামের লক্ষণ ও বিভাগ করিতেছেন—যােগলভ্য পদার্থছাত্রের বােধক নাম যৌগিক নাম রূপে কীর্তিত হয়। সমাস, তদ্ধিত সম্বদ্ধ ও কৃদন্ত- ভেদে সেই (যৌগিক নাম ) ত্রিবিধ | ৩০। বিবৃতি ‘রূঢ়ঞ্চ লক্ষকঞ্চৈব ইত্যাদি (১৬) কারিকায় যে চতুর্বিধ নাম বিভক্ত হইয়াছে তাহাদের মধ্যে রূঢ়, লক্ষক ও যােগরূঢ়—এই ত্রিবিধ নাম নিরূপণ করার পরে অবসর সঙ্গতির দ্বারা ক্রমপ্রাপ্ত চতুর্থ যৌগিক নাম নিরূপণের উপযােগী ভূমিকা রচনা করিতেছেন। “যৌগিকং নাম লক্ষয়তি বিভজতে চ’ অর্থাৎ যৌগিক নাম লক্ষিত ও বিভক্ত হইতেছে। কারিকার প্রথমার্ধের দ্বারা যৌগিক নামের সামান্যলক্ষণ বলা হইয়াছে। লক্ষণের অন্তর্গত ‘মা’ পদের দ্বারা যোগরূঢ় নাম ব্যাবৃত্ত হইয়াছে, “সমাসশুদ্ধিতাক্ত কৃদন্তঞ্চেতি তৎ ত্রিধা* এই দ্বিতীয়ার্ধ দ্বারা যৌগিক নামের বিভাগ প্রদর্শন ছলে তিনটি বিশেষ লক্ষণ অভিহিত হইয়াছে। সমাসরূপ যৌগিক নামের লক্ষণ হইবে সমাসত্ব, তদ্ধিতাক্ত নামের লক্ষণ হইবে তদ্ধিতক্তত্ব। বহুগুড়ো দ্রাক্ষা’ এই সকল নামের পূর্বে বহুচ, প্রত্যয় হওয়ায় তদ্ধিতান্তত্বৰূপ লক্ষণ স্বীকৃত হইলে উক্ত বহুচ, প্রত্যয়যুক্ত যৌগিক তদ্ধিত নামে লক্ষণ সময় হইতে পারে না। এইজন্য তদ্ধিতান্ত না বলিয়া তদ্ধিতারূপে তদ্ধিত নাম বিভক্ত হইয়াছে। কৃদন্ত এই অংশের দ্বারা কৃদন্ত নামের কৃদন্তত্বরূপ বিশেষ লক্ষণ প্রতীয়মান হইবে। কৃষ্ণসর্প, বাসুদেব, পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নামে উক্ত বিশেষ লক্ষণসমূহের অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য “রূঢ়াৰত্বে সতি” এই সত্যন্ত দল নিবেশ করিতে হইবে।
१५० शब्दशक्तिप्रकाथिका तच्च यौगिक मूलम् यन्नाम स्वान्तर्निविष्टशब्दानां योगलभ्यस्यैव यादृशार्थस्यान्वय- बोधं प्रति हेतुस्तन्नाम तादृशार्थे यौगिकम् । योगरूढ़स्तु कृष्णसर्पादिपदं योगेनावच्छिन्नस्य रूढ्यर्थस्य बोधकं न तु तन्मात्रस्य । त्रिविधम् -समासः, तद्धिताकम्, कृदन्तश्चेति । द्वन्द्वोऽपि समासः स्वघटकशब्दानामाकामया लभ्यस्य धव-खदिराद्यर्थस्यान्वयबोधकतया यौगिक एव। सर्वश्चेदं रूढान्यत्वेन विशेषणीयं नातः कृष्णसर्पादौ, वासुदेवादी, पङ्कजादौ च योगरूढ़े नातिप्रसङ्गः। 'ब्राह्मणी, श्वश्रुः, शूद्रेत्यादौ, डोवादेः स्त्रीत्ववाचित्वे तादृशं नाम यौगिकमेव । तु स्त्रीत्वादिमति तत्तदर्थे रूढ़मेव नातो विभागस्य व्याघातः । इति श्रीजगदीश-तर्कालङ्कारकृतौ शब्दशक्तिप्रकाशिकायां अन्यथा नामप्रकरणं समाप्तम् । অনুবাদ যেই নাম নিজের অন্তর্গত শব্দসমূহের যােগলভ্য যাদৃশ অর্থগােচর অম্বয়- বােধের প্রতি কারণ হয়, সেই নাম তাদৃশ অর্থে যৌগিক হইবে। যােগরূঢ় কৃষ্ণসৰ্প প্রভৃতি পদ কিন্তু, যােগলভ্য অর্থের দ্বারা অবচ্ছিন্ন রূঢ়ি-অর্থের বােধক হয়, কেবল মাত্র যােগার্থের নহে। সেই যৌগিকনাম সমাস, তদ্ধিতাক্ত ও কৃদন্তভেদে ত্রিবিধ। দ্বন্দ্বসমাসও নিজের ঘটক শব্দসমূহের আকাক্ষার দ্বারা সভ্য ধব খদির প্রভৃতি অর্থগােচর অন্বয়বােধের জনক হওয়ায় যৌগিকই হইবে। এই সকল যৌগিক নামের বিশেষ লক্ষণসমূহ রূঢ়ভিন্নরূপ বিশেষণের দ্বারা বিশেষিত করিতে হইবে। অতএব কৃষ্ণসৰ্প, বাসুদেব এবং পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নামে অতিব্যাপ্তির প্রসক্তি হইবে না। ব্রাহ্মণী, শ, শূদ্রা ইত্যাদি নামের পরবর্তী ঙীপ, প্রভৃতি প্রত্যয়ের স্ত্রী বাচকত্ব স্বীকৃত হইলে তাদৃশ নাম যৌগিক নামরূপেই পরিগণিত হইবে।
सार्यकशब्दे योगरूड़नामनिरूपणम ৭৭ অন্যথা (যদি জীপ, প্রভৃতি প্রত্যয়ের স্ত্রী-বাচকত্ব স্বীকার না করা হয় তাহা হইলে) স্ত্রীদি রূপ জাতি-বিশিষ্ট-তত্তৎ অর্থে উক্ত নাম রূঢ় নামই অতএব নামের যে বিভাগ করা হইয়াছে, তাহার কোনও ব্যাঘাত হইবে না। ৩০ | হইবে। বিবৃতি ‘যোগলভ্যামাত্ৰস’ ইত্যাদি কারিকার পূর্বাধের দ্বারা যে যৌগিক নামের লক্ষণ বলা হইয়াছে (৩০) তাহার বিশদার্থ প্রদর্শন করিবার জন্য যন্নাম ইত্যাদি বিবরণ গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। যাদৃশ আনুপূৰী বিশেষের দ্বারা বিশিষ্ট যে নাম নিজের অন্তর্গত শব্দমাত্রের দ্বারা উপস্থাপিত যাদৃশ বিশিষ্টার্থ বিষয়ক অন্বয় বুদ্ধিত্বৰচ্ছিন্ন জনতা নিরূপিত জনকতার বিষয়িত্ব সম্বন্ধাবচ্ছিন্ন অবচ্ছেদকতার আশ্রয় হইবে, তাদৃশানুপূর্ব- বিশিষ্ট নামত্বই হইবে যৌগিক নামের পর্যবসিত লক্ষণ। রাজপুরুষ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাস স্থলে, রাজপদোত্তর পুরুষ পদত্ব রূপ আনুপূৰী বিশিষ্ট রাজপুরুষ এই সমসাত্মক নামটি, স্বত্ব সম্বন্ধে রাজবিশিষ্ট পুরুষ বিষয়ক অন্বয়বােধগত জনতা নিরূপিত জনকতার বিষয়িত্বসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন অবচ্ছেদকতার আশ্রয় হওয়ায় রাজপুরুষরূপ যৌগিক নামে লক্ষণ সময় হইবে। এইভাবে কেবল যৌগিক অর্থমাত্রের অন্বয়বােধক অন্যান্য সমাসে তদ্ধিতাক্ত নামে এবং কৃদন্ত নামে যৌগিক নামের লক্ষণ সমন্বয় করিতে হইবে। যােগরূঢ় নামে যৌগিক নাম লক্ষণের অতিব্যাপ্তি পরিহার করিবার জন্য যােগরূঢ়” ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, কৃষ্ণসৰ্প, পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নাম তৎনামগত যে অবয়বশক্তি তৎপ্রযােজ্য অর্থের বােধক হইলেও সমুদায় শক্তি প্রযোজ্য যে রূঢ়ার্থ বিজাতীয় সর্প ও পদ্ম প্রভৃতি, তাহার বােধক হওয়ায় যােগাৰ্থ মাত্রের বােধক নহে বলিয়া ঐ সকল যােগরূঢ় নামে যৌগিক নাম লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। ‘কৃষ্ণসপাদি’ এই ‘আদি’ পদের দ্বারা পঙ্কজ, পদ্মনাভ, যুধিষ্ঠির প্রভৃতি যােগরূঢ় নাম গৃহীত হইবে। “তচ্চ যৌগিকং ত্রিবিধ” ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা সমাস, তদ্ধিতাক্ত এবং কৃদন্ত ভেদে যৌগিক নামের ত্রিবিধ বিভাগ প্রদর্শিত হইয়াছে। এক্ষণে আপত্তি হইতে পারে তদ্ধিতা না বলিয়া তদ্ধিতাক্তরূপে তদ্ধিত প্রত্যয়যুক্ত নামের বিভাগ প্রদর্শিত হইয়াছে— কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বক্তব্য, তদ্ধিত প্রত্যয়যুক্ত যৌগিক নাম সর্বত্রই তদ্ধিতান্ত নহে কারণ, বহুগুড়ো দ্রাক্ষা’ এই সকল স্থলে বহুচ, প্রত্যয় প্রকৃতির পূর্বে বিহিত হওয়ায় তদ্ধিতান্ত নহে, অতএব ঐ সকল তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত নাম যাহাতে যৌগিক নাম রূপে সংগৃহীত হইতে পারে—এইজন্য তদ্ধিতা না বলিয়া তদ্ধিতা রূপে একটি যৌগিক নাম বিভক্ত হইয়াছে। এক্ষণে আপত্তি হইবে সমাজত্বপুরষ্কারে সমাসমাত্র যৌগিক নাম হইতে পারে না। কারণ “ব-খদিরপলাশাংশ্চিন্ধি ইত্যাদি দ্বন্দ্ব-মাসলে ৭২ सम्वक्तिप्रकाशिका সমাস ঘটক ধব প্রভৃতি প্রত্যেক পদই প্রধান হওয়ায় ধব খদির প্রভৃতি পদসমূহের অর্থসমূহ প্রত্যেকেই প্রধান। কোন নামের অর্থ কোন নামাৰ্থের বিশেষণ নহে। সুতরাং উক্ত দ্বন্দ্ব সমাস বিশিষ্ট অর্থের বোধক না হওয়ায় সেখানে যৌগিক নাম লক্ষণের , অব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার দ্বন্দোৎপি সমাস ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। “ঘটক পদানামাকায় লভ্যস্যেত্যাদি।” তাৎপর্য এই যে “ধব-খদিয়-পলাশান ছিন্ধি বাক্যের অন্তর্গত সাকা ধব-খদির- পলাশ শব্দসমূহ হইতে উপস্থাপিত যে ধব-খদির পলাশরূপ অর্থসমূহ তাহাদের প্রত্যেকটি পদার্থের স্বাধীনভাবে ছিদ ধাতুর অর্থ ছেদন ক্রিয়াতে ধব-খদির-পলাশপদগত আকাঙ্ক্ষা *ওস্থ অম্বয়বোধ হওয়ায় সমাসও যােগলভ্য বিশিষ্টার্ণমাত্রের বােধক হওয়ায় সেখানেও লক্ষণ সমন্বয় হইবে। অতএব দ্বন্দ্বসমাস যৌগিক নামরূপে গণ্য হইতে পারিবে। উক্ত বিশিষ্টার্থণােচর অন্বয়বোধের অনুকুলে একদৈকক্রিয়া যােগাদ ভবতি দ্বন্দ্বসংজ্ঞকঃ” এই শাব্দিক প্রমাণও রহিয়াছে। সমাসত্ব, তদ্ধিতাক্তত্ব, কৃদস্তত্ব যৌগিক নামের এই বিশেষ লক্ষণয় রূঢ়ান্যত্বরূপ বিশেষণের দ্বারা বিশেষিত করিবার জন্য গ্রন্থকার “সর্বঞ্চেদং রূঢ়াননে বিশেষণীয় ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে-সমাসত্ব, তদ্ধিতাক্তত্ব এবং কৃদন্থত্ব এইরূপ যৌগিক নামের বিশেষ লক্ষণত্রয় স্বীকৃত হইলে উক্ত লক্ষণত্রয় যথাক্রমে কৃষ্ণসৰ্প, বাসুদেব এবং পঙ্কজ এই সকল যােগরূঢ় নামে যৌগিক নামের বিশেষ লক্ষণসমুহের অতিব্যাপ্তি হইবে। উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য যৌগিক নামের প্রত্যেকটি বিশেষ লক্ষণকে রূঢ়াত্ব-এই বিশেষ ধরণের বিশেষণের দ্বারা বিশেষিত করিতে হইবে। ইহার ফলে “রূঢ়াত্বে সতি সমাসত্ব” এই বিশেষ লক্ষণ কৃষ্ণসর্প প্রভৃতি কোনও যােগরূঢ় নামে, “সমাসত্বে সতি তদ্ধিতাক্তত্ব” এই বিশেষ লক্ষণের বাসুদেব প্রভৃতি যােগরূঢ় নামে এবং “সমাসত্বে সতি কৃদস্তত্ব” এই বিশেষ লক্ষণের পঙ্কজ প্রভৃতি যােগরূঢ় নামে অতিব্যাপ্তি হইবে না, কারণ ঐ সকল যােগরূঢ় নাম রূঢ়ভিন্ন নহে। এক্ষণে প্রশ্ন হইবে ‘ঙীপ, উ’, ‘টাপ’ এই সকল স্ত্রীলিঙ্গে বিহিত প্রত্যয়সমূহ স্ত্রীত্বের বাচক হওয়ায় ব্রাহ্মণী, শ্মশ্রু, শূদ্রা প্রভৃতি নাম যৌগিক হইবে অথবা রূঢ় হইবে । •*এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন “ভীবাদেঃ স্ত্রীবাচকত্বে তাদৃশং নাম যৌগিকমেৰ” অর্থাৎ ব্রাহ্মণপদের পরবর্তী জীপ, প্রত্যয়, শ্বশুর পদের পরবর্তী উঞ, প্রত্যয়, শূলদের পরবর্তী টাপ, প্রত্যয় যদি স্ত্রীত্বের বাচক হয়, তাহা হইলে উক্ত শব্দসমূহ যৌগিক হইৰে। ভীবাদে এই আদি পদের দ্বারা ‘উ' এবং ‘টাপ' প্রত্যয় গৃহীত হইবে। কোন কোন শাব্দিক সম্প্রদায়ের মতে ভীষাদি প্রত্যয়ের স্ত্রীত্বের বাচক ধীকৃত হইলেও তায়সিদ্ধান্তে ‘ীপ' প্রভৃতি প্রত্যয়ের স্বরূপার্থকত্ব স্বীকৃত হইয়াছে। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার অন্যথা ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ ভীণ প্রভৃতি প্রত্যয় যদি স্ত্রীত্বের বাচক না হয় পৰম্ভ রূপার্থক হইয়া কেবলমাত্র পদ
साकश पोगमनामनिरूपणम्
সংস্কারের সাধক রূপে স্বীকৃত হয় তাহা হইলে ব্রাহ্মণী, শত্রু এবং শত্রা প্রভৃতি স্ত্রীলি
শব্দসমূহ স্ত্রীত্ববিশিষ্ট রূপ অর্থে রূঢ় নামই হইবে, যৌগিক নহে। ইহাই গ্রন্থকাৰে
অভিপ্রেত।
ইতি শ্রীমধুসূদন ভট্টাচার্য ব্যায়াচাৰ্যকৃত
শক্তিপ্রকাশিকার নামকরণের বিবৃতি শমাও।
নামপ্রকাণান্ত দ্বিতীয় খণ্ড
সমাপ্ত।
No text on this page.
শুদ্ধিপত্র পৃষ্ঠা পংক্তি ১১ গবাদিবুদ্বেী অাধারণহেতুক বায়ুনিস্পর্শ যিনি বিধ্যাকাঞ্চয়। রাজ্যকামমাংগ্রিষ্ঠোমেন ২২ গবাদিবুদ্ধে অসাধারণহেতুকত্ব বায়ুনিঃস্পর্শ যিনি বিধর্থাকায় রাজ্যকামােংখ্রিষ্টোমেন আর্য ১ ১৮ ১১ ১; ১৯ ২৫ উদাহণ অন্তর্ভুক্ত স্ফটিকে পরিভাষিকী ভিথ। অন্তর্ভুক্ত স্ফটিকে পারিভাষিকী ডিখ ১১ অমুকুল বলিতে ২৮ ৪১ ৪. ৪৬ ৪৭ ৪ ১৮ অনুকুল বলিতে বলিতে তথাৱাত স্লেজৈৱির্বার্থেরপি গর্ভ পানিণীয় গােগুণে বেত্যাদে সমানবাচকত্ব অতঃপাতা তাহা গৗরক্তি অনুকূলে গতিবিশ্যিক किन নিপা ত তথাৎ স্নেচ্ছৈরিবাঘৈরপি গর্দভ পাণিনীয় গৌনির্তা গুণে বেত্যাদে সমানৰচনকত্ব অতঃপাতী তাহার গৌরন্তি অনুকুলে গাণিবিশেষ ক্তি নিস্পন্ন ১১ ૦૨ ৪ ১৬ শবের " ৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका পৃষ্ঠা পংক্তি ৬৫ ৬৮ গ্রন্থসমুহে ইত্যদিলে গঙ্গাপ্রভৃতি সমুহের মুলােক্ত তীরসম্বন্ধ। তদ্বিষয়ক বিশেষণ গ্রন্থসমূহে ইত্যাদিস্থলে গঙ্গাপ্রভৃতি সমূহের মূলােক্ত তীরসম্বন্ধী তদ্বিষয়ক বিশেষণ তীরং ২৮ ৭০ ৭১ তোরং ৭৬ ১৮ ৮২ সম্প্রদায়েয় বর্ণণ। উৎপন্ন দোয-নিবন্ধন তীরাদিনিরূপিত সম্প্রদায়ের বর্ণনা উৎপন্ন দোষ-নিবন্ধন তীরাদিনিরূপিত ১৮ ৩ ৭ ঘােষ ব্যবহিতারত্ব ২৪ ঘোষ স্বাববহিতােরত্ব যেহেতু পরস্পর ৯ যেহেতু পরস্পর ১০২ ১০৪ সমুহের ১৪ জনকতবদেক ১৮ ১০৮ নিরূপকতারচ্ছেদকত্বে যাদৃশধর্মিক অবছেকত্ব পজাতত্ববিশিষ্ট পর্বোক্ত পঙ্কজসদার্থের সমুদায় বনমান সমূহের জনকতাবচ্ছেদক নিরূপকতাবচ্ছেদকত্বে যাদৃশার্থধর্মিক অবচ্ছেদকত্ব পঙ্কজাতত্ববিশিষ্ট পূর্বোক্ত পঞ্চপদার্থের সমুদায় ১১১ ১১১ ১১১ ২০ ১১৪ ১২ বক্ষ্যমাণ ১১৪ ১. ১০ ২৫ সমুহের বিশেষে অন্তিবিশিষ্ট সমূহের বিশেষ অস্তিত্ববিশিষ্ট উভয়
शुद्धिपत्रम्
ও;
পৃষ্ঠা
পংক্তি
১২৪
শক্তিমান
২১
০
১৩
১৪
শক্তিমাখন
স্বীকার
বিরুদ্ধে
বিজাতীয়
অনুকুল
নিরূপকত্বসম্বন্ধে
१७वात
১৪২
স্বাকার
বিরুব্ধে
বিজাতীর
অনুকুল
নিরূপকত্বসম্বন্ধে
৩৩
১৪৪
১০
১৪৪
২১
১৪৮
इत्राम