Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jejurer Mitra-bansha
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জেজুরের মিত্র-বংশ
শ্রীসুধীরকুমার মিত্ৰ বৰ্মা প্রণীত
প্রাপ্তিস্থান :-
বঙ্গদেশীয় কায়-সভা
৫নং ললিত মিৰ লেন, কলিকাত।
No text on this page.
মেজুরের মিত্র বংশ।
( হুগলী জেলার অন্তর্গত জেজুর গ্রামের প্রসিদ্ধ
‘মিত্রবংশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, সন ১০৫০
সাল হইতে সন ১৩৪০ সাল পর্যন্ত )
শ্রীসুধীরকুমার মিত্র বর্মা প্রণীত
১
-
শ
প্রাপ্তিস্থান
এস, মিত্ৰ এণ্ড কোম্পানী
২নং কালী লেন, কালীঘাট
এভােলানাথ ঘােষ বর্মা
“বঙ্গদেশীয় কায়স্থ-সভা”
৫নং ললিত মিত্র লেন, শ্যামবাজার,
কলিকাতা
১৩৪০
প্রকাশক
সুধীরকুমার মিত্ৰবৰ্ম্মা।
“বিশ্বম্ভর-ধাম”
মূল্য-আট আনা মাত্র
( বিক্রয়লব্ধ অর্থ “মিত্রবাটী হিতকারী সমিতিতে দেওয়া হইবে।)
গ্রন্থকার কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
প্রিন্টার--শ্রীপূর্ণচন্দ্র দত্ত
“নলিনী প্রেস”
২৫নং বাগবাজার স্ট্রীট,
কলিকাতা
উৎসর্গ
পরমারাধ্য পরমপূজনীয় পূজ্যপাদ
পিতৃদেব
*
যুক্ত আশুতােষ মিত্ৰবৰ্মা মহাশয়ের
করকমলে
সুধীরকুমার মিত্রবর্মা
“আশুতােষ মিত্রের বংশাবলী” প্রথম পর্যায় হইতে সপ্তবিংশতি পর্যায় পর্যন্ত ( নিজ তালিকা ) ১। কালীদাস মিত্র। ২। শ্রীধর মিত্র । ৩। ভগবান্ ( শুক্তি ?) মিত্র। ৪। সােভরি মিত্র। ৫। হরিদাস মিত্র। সােমনাথ মিত্র। ৭। কেশবানন্দ মিত্র। মৃতা মিত্র। ৯। হুই মিত্র (বড়িষ। সমাজ )। ১০। নিশাপতি মিত্র। লম্বোদর মিত্র। ১২। কুবের চন্দ্র মিত্র। ১৩। নৃসিংহ মিত্র। ১৪ { অনুরাত্র মিত্র। জগদানন্দ মিত্র। ১৬। কেশবানন্দ মিত্র। ১৭। গােবিন্দরাম মিত্র। (জেজুর সমাজ ) ১৮। রামচন্দ্র মিত্র । ১৯। নন্দরাম মিত্র। ২০। হরেকৃষ্ণ মিত্র। জগন্নাথ মিত্র। ২২। শ্ৰদামচন্দ্র মিত্র। ২৩। বিশ্বম্ভর মিত্র। ২৪। রাধা রমণ মিত্র। আশুতােষ মিত্র। ২৬। সুধীর কুমার মিত্র। ২৭। পঙ্কজ কুমার মিত্র।
নিবেদন। পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে শৈলং মূকমাবর্তয়েৎ শ্রুতিং। যৎ কৃপা তমহং বলে কৃষ্ণ চৈতন্যমীশ্বরং ৷৷ নিজের পিতৃপুরুষদের কথা বলিতে বা শুনিতে ভালবাসে না—এরূপ লােক খুবই বিরল। বর্তমানে, কিন্তু আমাদের পিতৃ-পিতামহ-গণ কোন স্থানে, কি ভাবে, কোন সময়ে আবির্ভূত হইয়াছিলেন—তাহার বিষয়ে অনেকেই সম্যক্ কিছু অবগত নহেন। বৈদেশিক ভাবের ধাবা ক্রমশঃ আমাদের যে ব্যক্তিত্বহীন করিয়া ফেলিতেছে তাহা নিঃসন্দেহে বলা যাইতে পারে। পুরাকালে, পিতৃ-পিতামহের কোলে বসিয়া, শিশুগণ পিতৃমাতৃ কুলের পূর্বপুরুষদিগের নাম, তঁাহারা কি জাতি, সে জাতির লক্ষণ কি, সে জাতি কতদিনের, তাহারা কি কাৰ্য্য করিতেন প্রভৃতি জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি শিক্ষা করিত। বর্তমানে কিন্তু সে ধারা পরিবর্তিত হইয়াছে এবং তাহার ফলস্বরূপ—আমরা আজ পিতৃ-কুলের কোন পরিচয়ই দিতে পারি না। এই অভাব দূরিকরণার্থে, আমার পরমারাধ্য পূর্বপুরুষ- গণের সম্বন্ধে, যাহা জানিতে পারিয়াছি, তাহার কিঞ্চিৎ মাত্র আভাস এই পুস্তক মধ্যে সাধ্যমত লিপিবদ্ধ করিবার চেষ্টা করিয়াছি। আমি সঙ্কলন- কালে যে আনন্দ পাইয়াছি, পাঠকগণও পাঠকালে সেই আনন্দ পাইবেন এই আশা রাখি। বহুদিনের পরিশ্রম ও অনুসন্ধানের ফলে গ্রন্থখানি প্রকাশিত হইল। যদিও এই কাহিনীর সহিত বাহিরের কোনও সংস্রব নাই—তবুও আমি বিশ্বাস করি যে প্রত্যেক বংশের পূরাকালের ইতিহাসের দ্বারায় তৎকালীন ঘটনাবলীর কতকাংশ জানা যায় এবং ভবিষ্যৎ ঐতিহাসিকের উপাদান সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য ইহা বিশেষ ভাবে সহায়তা করে, এক্ষণে জেজু- ৬ [ ৬ ] রের মিত্র-বংশীয়দের এবং পাঠকদিগের, এই পুস্তক কোনপ্রকার প্রয়ােজনে আসিলে, আমি শ্রম সার্থক বােধ করিব। পরিশেষে, মদীয় অন্যতম পিতামহ কবিবর রাধামাধব মিত্রের হস্ত- লিখিত ‘তােমার কথা’ শীর্ষক পুস্তকখানি তদীয় কনিষ্ঠ পুত্র শশীগুণাকর মিত্র আমাকে দেখিতে দিয়া যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছিলেন এবং বঙ্গদেশীয় কায়স্থ-সভার কর্মাধ্যক্ষ শ্ৰীযুক্ত ভােলানাথ ঘােষ বর্ম। মহাশয় এই গ্রন্থ প্রকাশে বিবিধ প্রকারে সাহায্য করিয়া আমাকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করিয়াছেন। “বিশ্বম্ভর-ধাম” জেজুর—হুগলী সুধীরকুমার মিত্র বর্মা। ১০ই পৌষ ১৩৪০ “The boast of heraldry, the pomp of power, And all that beauty, all that wealth over gave, Awaits alike the inevitable hour- . The paths of glory lead but to the grave. ৮ । । Full many a gem of purest ray serene, The dark unfathom'd caves of ocean bear. Full many a flower is born to blush unseen And waste its sweetness on the desert air" Gray
কায়স্থজাতির আদিপিত।
চিত্রগুপ্ত দেব।
কালীদাস মিত্রের পূর্বপুরুষগণ ১। নারায়ণ (হিরণ্যগর্ভ ), ২। তৎপুত্র ব্রহ্মা (নারায়ণের নাভিপদ্ম হইতে ), ৩। তৎপুত্ৰ শ্ৰীশ্ৰীৰ্চিত্রগুপ্তদেব ( ত্রেতাযুগে ব্রহ্মার কায়া হইতে লেখনী ও ছেদনী হস্তে বহিভূত হন, ইনি কায়স্থ জাতির আদিপুরুষ “কায়েন তিষ্ঠতি যঃ স কায়স্থ ), ৪। তৎপুত্র জাতিমস্ত, ৫। তৎপুত্র প্রদীপ, ৬। তৎপুত্র চিত্রাঙ্গদা ( ইনি চিত্রকূট পৰ্বতে রাজা হন ও গৌতম ঋষি ইহার জাত কৰ্ম্ম করেন ), ৭। তৎপুত্র চৈত্ররথ, ৮। তৎপুত্র চিত্রভানু, ৯। তৎপুত্র চিত্রশিখণ্ডী; ১০। তৎপুত্র সােম, ১১। তৎপুত্র বেন, ১২। তৎ- পুত্র ভদ্রবাহু, ৩। তৎপুত্র বিশ্ব, ১৪। তৎপুত্র সুবল, ১৫। তৎপুত্র বান, ১৬। তৎপুত্র রুদ্র, ১৭। তৎপুত্র রুদ্রাসন, ১৮ | তৎপুত্র গালসেন, ১৯। তৎপুত্র মিথুন, ২০। তৎপুত্র ভদ্র, ২১। তৎপুত্র ভদ্রবাহু, ২২। তৎপুত্র অতিবাহু, ২৩। তৎপুত্র বীরবাহু, ২৪। তৎপুত্র হরিবাহু, ২৫। তৎপুত্র হর্ষ ২৬। তৎপুত্র সত্য, ২৭। তৎপুত্র সিন্ধু, ( সিন্ধু রাজ্যের স্থাপনকর্তা ), ২৮। তৎপুত্র নিত্য, ২৯ তৎপুত্র ইন্দু, ৩০। তৎপুত্র অগস্ত্য, তৎপুত্ৰ অগ্নিদেব, ৩২। তৎপুত্র শৃঙ্গব, ৩৩। তৎপুত্র আপস, (কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কর্ণ কর্তৃক নিহত হন), ৩৪। তৎপুত্র ক্রতু (শত যজ্ঞকারী ), ৩৫। তৎপুত্র হবিভূজ (সূৰ্য্যবংশীয় রাজা ও সঞ্জয়ের সখা ), ৩৬। তৎপুত্র দেব, ৩৭। তৎপুত্র লেখ, ( ইনি প্রজাপতি আখ্যা প্রাপ্ত হন ), ৩৮। তৎপুত্র মিত্র, ৩৯। তৎপুত্র বজ, ৪০। তৎপুত্র দাশরথি মিত্র, ৪১। তৎপুত্র কালীদাস মিত্র (ইনি আদিশূরের সভায় কনোজ হইতে বঙ্গে আসেন, এবং বঙ্গদেশে ‘মিত্র বংশের ইনিই স্থাপনকর্তা)।—মহাভারত আদিপর্ব ১৪৯৫ জেজুরের মিত্র বংশ প্রথম অধ্যায় পূর্বাভাষ। প্রায় হাজার বৎসর পূর্বে, বঙ্গদেশে মহারাজ আদিশূর বাঙ্গালার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তখন বৌদ্ধধৰ্ম্ম-বিপ্লবে বাঙ্গলার বৈদিক ধৰ্ম্ম একপ্রকার লুপ্ত হইয়াছিল। আদিশূর বৈদিকধৰ্ম্ম পুনরায় বাঙ্গলা- দেশে স্থাপন করিবার জন্য ও পুত্রেষ্টি যজ্ঞানুষ্ঠানের জন্য কতিপয় ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের আবশ্যকতা অনুভব করিয়াছিলেন এবং কান্যকুজাধিপতিকে কতিপয় ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয় প্রেরণ করিবার জন্য অনুরােধ করিয়াছিলেন কারণ কান্যকুজ তখনও বৌদ্ধধৰ্ম্মে কলঙ্কিত হয় নাই। প্রথমে কা- কুজাধিপতি বঙ্গে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় প্রেরণ করিতে অস্বীকার করেন পরে তিনি পাঁচজন ব্রাহ্মণ এবং পাঁচজন ক্ষত্রিয় এই দশজন দ্বিজ প্রেরণ করেন। ঘটকচূড়ামণিদের কারিকা গ্রন্থে তাহা নিম্নলিখিত ভাবে বর্ণিত হইয়াছে। আদিশূজাে মহারাজ পুত্রেষ্টিং সমনুষ্ঠিত। তদর্থে প্রেরিতা যজ্ঞে উপযুক্ত। দ্বিজা দশঃ।”
জেজুরের
মিত্র-বংশ
"সমাগত পুরু ব্রাহ্মণের নাম শ্রীহ, ভট্টনারায়ণ, দক্ষ, ছন্দড় ও
বেদগর্ভ এবং পঞ্চ ক্ষত্রিয়ের নাম, মকরন্দ ঘােষ, দশরথ বসু, কালীদাস
মিত্র, বিরাট গুহ ও পুরুষােত্তম দত্ত। এ সম্বন্ধে ঘটকচূড়ামণির সন ১০০৮
সালে বিরচিত-কায়স্থকারিকা’ নামক পুস্তকে উক্ত গাছে।
“পঞ্চ কায়স্থ আসে নৃপতি সন।
সসম্রমে নরপতি দিল আলিঙ্গন।
জিজ্ঞাসিলা নরপতি মুনিদের স্থানে।
এত শুনি কহে তবে পঞ্চ তপােধনে।
এই পঞ্চজন হয় ক্ষত্রিয় কুমার।
জিজ্ঞাসহ ইহাদিকে কি কহে উত্তর।
দশরথ, মকরন্দ কালিদাস কয়।
শিষ্য অনুগত মােরা শুন মহাশয়।”
তারপর উপরােক্ত পঞ্চ ব্রাহ্মণ এবং পঞ্চ ক্ষত্রিয়, কিংবদন্তী এইরূপ
যে ব্ৰত সমাপনান্তে দেশে প্রত্যাগমন করেন, কিন্তু তাহাদের জ্ঞাতিগণ
পাতিত্যের অপবাদে তাহাদের সহিত আচার ব্যবহার পরিত্যাগ করেন।
পরে, ঐ দশজন দ্বিজ সমাজচ্যুত হইয়া পুনরায় গৌড় নগরে ফিরিয়া
আসেন এবং নৃপতি আদিশূর তাহাদিগকে ভরণপােষণের নিমিত্ত বাসস্থান
এবং বহু জমি জমা দান করেন ও সেই সময় হইতে ব্রাহ্মণ এবং কায়স্থগণ
পরম মুখে এদেশে বসবাস করিতে লাগিলেন।
* কালীদাস মিত্র রাজার নিকট যাহা বলিয়াছিলেন তাহা পরিচয়ে
অষ্টব্য।
জেজুরের মিত্র-বংশ ১১ কালীদাস মিত্রের পরিচয় মহারাজ আদিশূর পঞ্চ কায়স্থকে প্রথমে আলিঙ্গন করেন পরে তাহাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে, পঞ্চ কায়স্থ তাঁহাদের স্ব স্ব পরিচয় দেন ( ‘কায়স্থ-পুরাণে দ্রষ্টব্য), তন্মধ্যে কালিদাস মিত্রের বিষয় আদিশূরের মহতী সভায় মুনিগণ যে পরিচয় দেন তাহার ভাবার্থ এই “ইনি কালীদাস মিত্র, যশস্বীদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, সৰ্বমান্ত, ধীর, সত্যবান। ইহার যশ শারদচন্দ্রের ন্যায় নির্মল । ইনি বৈষ্ণব প্রধান, রথীশ্রেষ্ঠ, প্রতাপশালী, শাস্ত্রজ্ঞানে সুপণ্ডিত ছন্দড়ের শিষ্য ও বিশ্বামিত্র গােত্র এবং শ্রীবাস্তবংশীয়।* ( চন্দ্ৰদেহ হইতে মিত্র)।” চিত্রগুপ্ত পুত্ৰ-কিন্তু অনেকের মতে ‘হরিবংশে উক্ত চন্দ্রবংশীয় ক্ষত্রিয়রাজ দিবােদাসের মিত্রাক্ষপুত্রগণই মিত্র বংশের আদি। কায়স্থ-কুমার’ পৃঃ ৬২ । । রাজা বল্লালসেন আদিশূরের রাজত্বের পর, মহারাজ বল্লালসেন বাঙ্গলার অধীশ্বর হইয়া বাঙ্গলাদেশ দুইভাগে বিভক্ত করেন ; (?) এক ভাগের নাম বারেন্দ্র অপর ভাগের নাম রাঢ়। উক্ত পঞ্চ কায়স্থের সন্তান সন্ততিগণ যাহারা রাঢ়ভূমে বাস করিলেন তাহারা ‘রাঢ়ীয় এবং যাহারা বারেন্দ্রভূমে বাস করিলেন তাহারা ‘বারে নামে অভিহিত হইলেন। এই প্রকারে রাঢ়ীয় ও বায়েলের সৃষ্টি হইল—পরে আবার যাহারা রাঢ়ভূমের উত্তরে বাস করিলেন তঁাহার ‘উত্তরাঢ়ীয়’ ও যাহারা রাঢ়ভূমের দক্ষিণে বাস * ইহাদের পূর্বপুরুষেরা কাশ্মীরের শ্রীনগরে রাজত্ব করিতেন বলিয়া এই আখ্যা প্রাপ্ত হন।-বঙ্গীয় কায়স্থ সমাজ, পৃষ্ঠা ১৪৪।
জেজুরের মিত্র-বংশ করিতে লাগিলেন তাহারা ‘দক্ষিণরাঢ়ীয়’ বলিয়া অভিহিত হইলেন। (গঙ্গার পশ্চিম তীরস্থ রাঢ়ভূমের যে অংশ অজয় নদের উত্তর তৎস্থান- বাসী কায়স্থগণ ‘উত্তররাঢ়ীয় এবং ভাগীরথীর পশ্চিম তীরস্থ রাঢ়ভৃমির যে অংশ অজয়নদের দক্ষিণ তৎস্থানবাসী ‘দক্ষিণরাঢ়ীয়’ বলিয়া খ্যাত)। যে সমস্ত কায়স্থগণ বারেন্দ্রভূমের পূর্বদিকে বাস করিতে লাগিল তাহার আবার ‘বঙ্গ’ আখ্যা প্রাপ্ত হইলেন। বাঙ্গলাদেশ দুইভাগে বিভক্ত হওয়া এবং কুলীন’ উপাধি দেওয়া সম্বন্ধে যথেষ্ট মতভেদ আছে। মহারাজ বল্লালসেনের সময় একটা সামাজিক বিপ্লব হয়—কারণ বল্লালসেন তান্ত্রিক ছিলেন এবং বলা বাহুল্য যে তান্ত্রিকদের খাদ্যাখাদ্যের বিশেষ বিচার ছিল না। উপাসনা চক্রে ব্রাহ্মণ, হাড়ী, ডােম প্রভৃতি সকলে একত্রে মাংসাদি পানাহার করিত | বল্লালও তৎস্পৃশ্যজাতীয় রমণীদের সহিত একত্র পানাহার করিতেন—ঐ জন্য নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ও কায়স্থগণ বল্লালর বিরােধী হইয়া তাহার কাৰ্যের প্রতিবাদ করিতে লাগিলেন, এমন কি তাহার পুত্র লক্ষণসেনও পিতার বিরােধী হইলেন-সমাজে ঘােরতর বিপ্লব উপস্থিত হইল। কিন্তু বল্লালসেন বিচক্ষণ রাজনীতিজ্ঞ ছিলেন তিনি দান ও ভেদনীতি অবলম্বন করিয়া সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করিতে সমর্থ হইলেন। বঙ্গদেশে যে সমস্ত ব্রাহ্মণ এবং কায়স্থ তন্ত্রের পক্ষপাতী ছিলেন বল্লালসেন তাহাদিগকে নিজ সভায় নিমন্ত্রণ করিয়া ভূমিদান কয়েন- এবং আধুনিক সময়ের ‘রায়বাহাদুর ইত্যাদি উপাধির গায় ঘােষ, বসু, মিত্র এবং গুহ এই সকল বিশিষ্ট কায়স্থদিগকে ‘কুলীন’ উপাধি দিয়া সন্মানিত কয়েন এবং তাহারা কায়স্থদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কায়স্থ বলিয়া পরিগণিত হয়। ।
জেজুরের মিত্র-বংশ ১৩ যে সমস্ত কায়স্থ তান্ত্রিক মতের বিরােধী ছিলেন তাঁহারা বল্লালের রাজদরবার পরিত্যাগ করিয়া নরদাস দাস ও মুরারী চাকীর সহিত মিলিত হইয়া বল্লালের প্রতিদ্বন্দী ‘শৈলকূপার রাজা জটাধর নাগ ও ‘শরগ্রামের 'রাজা কর্কট নাগের আশ্রয় লইলেন এবং তথায় বারে শ্রেণীর কায়স্থের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করিলেন। বাঙ্গল। দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হইবার ইহাই একমাত্র কারণ বলিয়া মনে হয়। “কুলীন” মহারাজ বল্লালসেন প্রতি ৩৬ বৎসর অন্তর গুণাগুণ বিচার করিয়া ‘কৌলীন্য মৰ্যাদার উপযুক্ত পাত্রপাত্র স্থির করিতেন। তদনুসারে অনুসারে তাঁহার মৃত্যুর পর তৎপুত্র লক্ষণসেন রাজা হইয়া পুনরায় রাঢ়ীয় ও বরেন্দ্র শ্রেণীর ভিতর গুণাগুণের বিচার করেন এবং এই বিচারে রাঢ়ভূমের ‘গুহের’ এবং বারেন্দ্রভূমের পূর্বে (অর্থাৎ বঙ্গজ শ্ৰেণীর) যাহারা বাস করিতেন—তাহাদের মধ্য হইতে ‘মিত্রের কৌলীন্য কাড়িয়া লন। তজ্জন্য বর্তমান দক্ষিণরাঢ়ীয়দের মধ্যে ‘গুহ এবং বঙ্গজদের মধ্যে অনেক ‘মিত্র’ কুলীন নহে বলিয়া উক্ত হয়। উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থদের মধ্যে সৌকালীন ঘােষ এবং বাৎস সিংহ কুলীন এবং মিত্র, ঘােষ, বসু প্রভৃতি সন্মোলিক। দক্ষিণরাঢ়ীয় কায়স্থদের মধ্যে ঘােষ, বস্তু ও মিত্র কুলীন ; বারেন্দ্র কায়স্থের মধ্যে দাস, নন্দী ও চাকী কুলীন এবং বঙ্গজ কায়স্থের মধ্যে, ঘােষ, বসু, মিত্র এবং গুহ কুলীন বলিয়া খ্যাত। পণ্ডিত বানন্দ মিশ্র ‘কায়স্থকারিকাতে থােষ, বসু, গুহ, মিত্র এবং দত্তকে ‘আদি কুলীন’ ও ‘রাজবংশ অর্থাৎ ক্ষত্রিয় বলিয় অভিহিত করিয়াছেন। ;
১৪ জেজুরের মিত্র-বংশ “ঘােষগুহমিত্র দত্তশ্চ আদিকুলীনা। নষগুণৈন্তু সংযুক্তাঃ রাজবংশসমূঃবাঃ।” এবং যে নবগুণের উপর কৌলী প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল তাহা এই :- ১। আচার, ২। বিনয়, ৩। বিদ্যা, ৪। প্রতিষ্ঠা, ৫। তীর্থদর্শন, ৬। নিষ্ঠা, ৭। আবৃত্তি, ৮। দান, ৯। তপস্যা। মিত্রবংশের প্রতিষ্ঠা ১ কাকুজ হইতে যে পঞ্চকায়স্থ আসিয়াছিলেন তন্মধ্যে বাঙ্গলার “মিত্র- বংশের প্রতিষ্ঠাতা কালীদাস মিত্র অন্যতম। কালীদাস মিত্রের সহিত তাহার ভ্রাতা এবং ভাতৃজায়া বঙ্গে আসিয়াছিলেন বলিয়া শ্রুত হয়। কালীদাসের দুই পুত্র জন্মিয়াছিল—জ্যেষ্ঠ শ্রীধর এবং কনিষ্ঠ অশ্বপতি ; শ্ৰীধর দক্ষিণ রাঢ়ীয় সমাজের মিত্রবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং অশ্বপতি বঙ্গজ সমাজের মিত্রবংশের প্রতিষ্ঠাতা। শ্রীধরের পুত্র গবান (বা শুক্তি) দক্ষিণ রাঢ়ীয় সমাজে বল্লালসেনের নিকট হইতে কৌলীন্য প্রাপ্ত হন। তাঁহার অষ্টম অধঃস্তন বংশধর হুই মিত্র এবং গুই মিত্র যথাক্রমে ‘বড়িশা এবং ‘টাকী নামক দুই স্থানে বাস করিতে লাগিলেন এবং এই দুই ভ্রাতা হইতেই দক্ষিণ রাঢ়ীয় মিত্রবংশের বড়িশা সমাজ ও টাকী সমাজ এই দুই সমাজ বিভাগ হইয়াছে। জেজুরের মিত্রবংশ বড়িশা সমাজান্তর্গত এবং এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা কালীদাস হইতে সপ্তদশ পৰ্যয়ে জা । গোবিন্দরাম মিত্র। ইনি একজন কীর্তিমান ও স্বধৰ্ম্ম পরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন, মুসলমান রাজত্বকালে স্বীয় ধৰ্ম ভূলণ্ঠিত হইতেছে দেখিয়া ইনি বড়িশা গ্রাম ত্যাগ করেন এবং জেজুরে যাইয়া বাস করেন। ইহা বােধ হয় সম্ভবত ১০৫০ সালের কথা।
জেজুরের মিত্রবংশ জেজুরের ইতিহাস গােবিন্দরাম মিত্র যখন জেজুরে আসিয়া বসবাস করেন—তখন এই গ্রাম খুব সমৃদ্ধিশালা ছিল। দোল, দুর্গোৎসব, পূজা-পার্বণ, বানােয়ারী, যাত্রা, থিয়েটার প্রভৃতি পল্লীজীবনের আনন্দবিধায়ক কোন উৎসবেরই অভাব ছিল না। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমান ম্যালেরিয়ার বিভীষিকায় এই বর্ধিষ্ণু গ্রাম শ্মশানােপম জঙ্গলাকীর্ণ গ্রামে পরিণত হইয়াছে। তাহার উপর আবার দলাদলি, পরকুৎসা ও পরশ্রীকাতরতার জন্য সম্ব ব্যক্তি মাত্রেই জেজুর গ্রাম পরিত্যাগ করিয়া নিকটস্থ সহরে কি কলিকাতায় কর্মস্থলে বসবাস করিতেছেন। ফলে পল্লী জননী আধি- ব্যাধি ও অশান্তির নিকেতনে পরিণত হইয়া পূর্বেকার ঐ হারাইয়া ক্রমশই হত হইয়া পড়িতেছেন। পূর্বে এই গ্রামে দত্তদের সমাজ ছিল। (বঙ্গীয় কায়স্থ সমাজ, ৬২ পৃষ্ঠা।) জেজুর হুগলী জেলার অন্তর্গত শ্রীরামপুর মহকুমা অধীন একটি গও গ্রাম। কলিকাতা হইতে ই, আই, আর ট্রেনে ২৮ মাইল দূরে হরিপাল নামক ষ্টেষনে নামিতে হয়। জেজুরের নিকটে ‘আয়নাথ নামক তীর্থক্ষেত্র অবস্থিত। এবং হরিপাল ষ্টেসন হইতে তিন মাইল উত্তরে জেজু গ্রাম অবস্থিত। * ‘নবশক্তিতে—(১লা জুলাই ১৯৩২) জেজুরের ইতিহাস প্রকাশিত হইয়াছে। গোবিন্নয়নের বিষয় ‘নবশক্তি, উদান, পত্রিকা, প্রভৃতি বিবিধ পত্রিকায় বহু লেখা বাহির হইয়াছিল। + Report of the epidemic, remittent and intermittent fever occuring in parts of Burdwan and Nadia division, By Dr J, Elliot, 1888,
দ্বিতীয় অধ্যায়
বংশ পরিচয়
বঙ্গদেশে কালীদাস মিত্র মহাশয়,
আসেন কনােজ হতে খ্যাত দেশমম,
বঙ্গেশ্বর আদিশূর, রাজার সভায়
কুলের অপার মান—পান সমুদায়,
নবগুণ বিশিষ্ট উত্তম ‘সৰ্ব্ব-অংশে
প্রথম কুলীন তিনি হন মিত্র বংশে,
সেই উপাধিটা তিনি করেন বারণ
একের পৰ্য্যায় তাঁর-সংখ্যা নিরূপন।
কবিবর রাধামাধব মিত্র।
হুগলী জেলার অন্তর্গত ‘জেজুর’ গ্রামের মিত্র-বংশ কালীদাস মিত্রের
যােড়শ অধঃস্তন বংশধর গােবিন্দরাম মিত্র হইতে ( মিত্রবংশের) বংশক্রম
আরম্ভ হয়। ইহাদের আদি নিবাস বেহালার নিকটবর্তী ‘বড়িশা গ্রামে
ছিল বলিয়া, ইহারা বড়িশা-সমাজ” ভুক্ত বলিয়া খ্যাত। মিত্র-বংশের
অষ্টম অধঃস্তন বংশধর হুই মিত্র ‘বড়িশায় আসিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস
করেন বলিয়া ইহার বংশধরগণ অদ্যাপিও “বড়িশার-মিত্র বলিয়া খ্যাত।
হই মিত্রের ভ্রাতা গুই মিত্র ‘টাকিতে যাইয়া বাস করেন বলিয়া তাঁহার
বংশধরগণ “টাকীর মিত্র’ বলিয়া বর্তমানে পরিচিত।
জেজুরের মিত্র-বংশ একটী বহু প্রাচীন এবং সম্ভ্রান্ত দক্ষিণরাঢ়ীয়
জেজুরের মিত্রবংশ কুলীন কায়স্থবংশ। সম্ভবতঃ সন ১০৫০ সালে গােবিন্দরাম মিত্র বড়ি গ্রাম ত্যাগ করিয়া জেজুরে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি জেজুরে আসিবার সময় তাহার কুলদেবতা শ্ৰীশ্ৰীশ্ৰীধরজীউর বিগ্রহ এবং কুলপুরােহিত গােবিন্দচন্দ্র ঘােষাকে সঙ্গে আনিয়াছিলেন। তিনি কি কারণে বড়ি ত্যাগ করিয়া জেজুরে আসিয়া বাস করেন সে সম্বন্ধে যথেষ্ট মতভেদ আছে। গোবিন্দরাম সধর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। মুসলমান রাজত্ব কালে স্বীয় বৈদিকধৰ্ম্ম ভূলুণ্ঠিত হইতেছে দেখিয়া বড়িষা গ্রাম ত্যাগ করেন বলিয়া অনেকের অভিমত। এ সম্বন্ধে সঠিক করিয়া কিছু বলা অতি কঠিন। তবে বড়িষায় মিত্রগণ যে সুখে ছিলেন না তাহা নিম্নলিখিত কবিতা হইতে বেশ বুঝিতে পারা যায়। আকনতে গেল ঘোষ, মাহিনীতে বসু, বড়িশা রহিল। মিত্র, দুঃখ বহে কিছু। বালিতে রহিল দত্ত প্রতাপ প্রচুর। ব্ৰহ্মগ্রামে গেল সেন, দেও চিত্রপুর। সিংহপুরে রয় সিংহ, হরিপুরে দাস, পানিহাটী গত চন্দ্র, গুহ বঙ্গবাস।” ঘোষ, ব, মিত্র প্রভৃতি দশজন কায়স্থ দক্ষিণরাঢ়ের অন্তর্গত উপরােক্ত দশগ্রামে বাস করিয়াছিলেন। প্রচীন কুলপরিচয় গ্রন্থে উক্ত কবিতাটী লিখিত আছে। ‘কায়স্থ-কারিকা’ অনুসারে আদিশূরের সভায় কান্যকুজ হইতে শাগত কালীদাস মিত্র হইতে গণনা করিলে দেখা যায় যে বড়িশা-সমাজ * শ্রীনগেন্দ্র নাথ বসু লিখিত আদিশূর” নামক প্রবন্ধ হইতে। ‘পঞ্চপুষ্প” আশ্বিন ১৩৩৭ সাল।
১ জেজুরের মিত্রবংশ } ভুক্ত চতুর্দশ পর্যায়ে জাত অনিরুদ্ধ মিত্রের পুত্র জগদাননের “মধ্যাংশ ব? হইয়াছে। জগদানদের চার পুত্র জন্মে, কেশ, বাণী, বামন ও পরমানন্দ। কেশবের দুই পুত্র হয়—জ্যেষ্ঠ গােবিন্দরাম এবং কনিষ্ঠ পার্বতী। দক্ষিণরাঢ়ীয় সমাজের কুল-বিধি অনুসারে মধ্যাংশের জ্যেষ্ঠ পুত্র জন্মে মধ্যাংশ (কায়স্থ-সৰ্ত পৃষ্ঠা ৫৫)। কায়স্থ-কারিকা অনুসারে জেজুরের মিত্রবংশের কুল “মধ্যাংশ কুল” হইয়াছে। বর্তমানে জেজুরের মিত্রদিগের মধ্যে মধ্যাংশ কুল ও মধ্যাংশ দ্বিতীয় কুলের বংশাবলী দৃষ্ট হয়। হয়। মধ্যাংশ দ্বিতীয় কুলীনগণ গৌণকুলীন। গােবিন্দরামের আটটি পুত্র হইয়াছিল (কায়-বিকা—পৃষ্ঠা ৩), তাহাদিগের নাম রামচন্দ্র, রামকৃষ্ণ, রামভদ্র (ব! রামেশ্বর), যাদু, শ- নাম, মহাদেব, রামনারায়ণ এবং বিশ্বেশ্বর। গােবিন্দরামের ১ম পুত্র রামচন্দ্রের দুই পুত্র জন্মিয়াছিল (কা: কাঃ পৃষ্ঠা ৩) অনন্তম ও নন্দরাম। অনন্তরাম অকালে গতাসু হন। নন্দরাম জেজুরে স্থায়ীভাবে বাস করেন। গােবিন্দরামের ২য় পুত্র রামকৃষ্ণের তিন পুত্র হয় (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৬) নরোত্তম, বৃন্দাবন ও মুকূল। নরােত্তম অপুত্রক, বৃন্দাবনের পুত্র জানকীরম, তিলকরাম, রাম, কৃপারাম, গোরাচাদ ও দর্পনারায়ণ। বৃন্দাবনের ২ পুত্র তিলকরামের তিনপুত্র হয়। গৌরীচরণ, রামচরণ ও * এশনে ‘অনিরুদ্ধ’ নামটী মৎপ্রকাশিত বংশাবলীতে ‘অনুরা* হইয়াছিল। পাঠকগণ ঐ ভ্ৰমী সংশােধন করিয়া লইবেন। । প্রকৃত মূখ্য কুলীনের ২য় ও ৩য় পুত্র জন্মস্থার কনিষ্ঠ ও ‘মধ্যাংশ হয় (কা-সন্দর্ভ পৃঃ ৫৪)। । মধ্য-বংশের প্রথম পুত্র ব্যতীত অন্যান্য পুত্র “মধ্যাংশ ২য় পাে”। এই শাখায় কুলীন বেশী। (কায় সন্দর্ভ, পৃ ৫৫) জেজুরের মিত্র-বংশ বলরাম ইহারা খাটোয়” গ্রামে গিয়া বসবাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৬)। বৃন্দাবনের কনিষ্ঠ পুত্র দর্পনারায়ণ সােরাকেদারপুর গিয়া বসবাস করেন। রামকৃষ্ণের ৩য় পুত্র মুকুন্দরাম জেজুরের নিকটে “হরিপাল গ্রামে গিয়া বাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৭)। গগাবিন্দরামের ৩য় পুত্র রামেশ্বরের এক পুত্র হয় তাহার নাম সীতারাম ইহার পাঁচ পুত্র জন্মে। রামরাম, কৃষ্ণরাম, দামােদর, বলরাম ও শ্যাম। সীতারাম তাহার পঞ্চ পুত্র সহ সরকার ভদ্ৰক আড়পদো গ্রামে গিয়া বাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩)। সীতারামের ৪র্থ পুত্রের একপুত্র গঙ্গাপ্রসাদ ; তাহার চার পুত্র হয়। গােবিন্দপ্রসাদ, হরিপ্রসাদ, জগন্নাথ প্রসাদ ও লক্ষ্মীপ্রসাদ। ইহার মুর্শিদাবাদ জেলার ডাহাপাড়া” গ্রামে গিয়া বাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৭)। পরে গঙ্গাপ্রসাদের সহিত তাহার পুত্রদের মনােমালিন্য হয় এবং তিনি তাহার ৩য় পুত্র জগন্নাথপ্ৰসাদকে সঙ্গে লইয়া রংপুরে “ঘােড়াঘাটা গ্রামে গিয়া বাস করেন। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৭) গােবিন্দরামের ৪র্থ পুত্র যদুর বিষয় কিছু জানা যায় নাই—বােধ হয় ইনি অল্পবয়সে ইহলােক ত্যাগ করিয়াছিলেন। গােবিন্দরামের ৫ম পুত্র শম্ভুর তিন পুত্র হয়—কল্যাণ, কুশল ও নিধিরাম, ইহার জেজুর ত্যাগ করিয়া “দেবীপুর গ্রামে গিয়া বসবাস করেন। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৭) গগাবিন্দরামের ৬ষ্ঠ পুত্র মহাদেবের তিন পুত্র হয়—কাশীরাম, বীরেশ্বর ও বেচারাম। কাশীরাম ভাড়ারহাটী মহামায়া গ্রামে গিয়া বাস করেন। বিরেশ্বরের চার পুত্র হয়—শােভারাম, লামােদর, মধুসূদন ও গয়ারম। ইহারা জেজু ত্যাগ করিয়া “কানাইপুর গ্রামে গিয়া বাস করেন। শােরামের প্রপৌত্র জয়রাম মিত্র কলিকাতায় বটতলায়
জেজুরের মিত্র-বংশ
বাস করেন—ইনি “জয় মিত্র” বলিয়া পরে খ্যাতি লাভ করেন (ইহার
নামানুসারে কলিকাতায় “জয় মিত্র স্ট্রীট” নামক রাস্তা হইয়াছে)।
শােরামের ২য় পুত্র রামকানাই ‘বনায় গিয়া বাস করেন। বীরেশ্বরের
২য় পুত্র দামোদর, মণ্ডলঘাট “ঝিকরা গ্রামে গিয়া বাস করেন।
(কঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৭ )
গোবিন্দরামের ৭ম পুত্র রামনারায়ণের পাঁচ পুত্র হয়তে, রাম,
জীবন, কানুরাম ও বলরাম। ইহারা “হরিনাভি গ্রানে গিয়া বসবাস
করেন। পরে ইহারা কলিকাতার “ঠনঠনে চলিয়া যান। (কাঃ কাঃ
পৃষ্ঠা ২৩৮)
গোবিন্দরামের ৮ম পুত্র বিশ্বেশ্বরের দুই পুত্র হয়—রাঘবরাম ও মুকুন্দন
রাম, মুকুন্দরামের পুত্র গৌরীচরণের দুই পুত্র হয়, মনোহর ও যুগল।
ইহারা জেজুর ত্যাগ করিয়া মেদিনীপুর জেলার “মীরগোদা গ্রামে
গিয়া বাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠ। ২৩৯)।
গোবিন্দরামের বিষয় “তােমার কথা” নামক একটা অপ্রকাশিত
কবিতার পুস্তকে নিম্নলিখিত রূপে পাওয়া যায়। কবিতাটী কবি
রাধামাধব কর্তৃক সন ১২৬০ সালে লিখিত হইয়াছিল।
“মহাত্মা গােবিন্দরাম হারপরায়ণ,
করিতেন সর্বদা বৈষ্ণব আচরণ,
গোস্বামীর শিষ্য তিনি, শ্রীচৈতন্য ভক্ত
শ্রীচৈতন্যের গুণগানে সদা অনুরক্ত,
তাহা হতে পবিত্র হয়েছে মিত্ত-কুল
তিনি বংশে হরিভক্তি আনিযার মূল।
তাহার চরণে করি অসংখ্য প্রণাম
ভক্তিপথ প্রদর্শক, তিনি ভক্তিম।”
জেজুরের মিত্র-বংশ কতিপয় প্রসিদ্ধ লোকের প্রসিদ্ধির কারণ উল্লেখ করিয়া তখনকার কলিকাতার লােকেরা নিম্নলিখিত ছড়া বাঁধিয়াছিল। বনমালী সরকারের বাড়ি, গােবিনম মিত্রের ছড়ি, আমিরাদের গাড়ি, হুজুরি মলের কড়ি।” * ইতিপূর্বে মল্লিখিত ‘জেজুরের ইতিহাস' নামক প্রবন্ধে, আমি জেজুরের পূর্ব নাম কসবা ছিল বলিয়া লিখিয়াছিলাম, কিন্তু তাহা ভ্রমাত্মক। প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব রায়সাহেব নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় বলেন, “জেজুরের নাম বহু প্রাচীন বৈষ্ণব গ্রন্থে দেখা যায়, সুতরাং উহা পরি বর্তিত নাম নহে।” যে সমস্ত গ্রন্থে জেজুরের নাম দৃষ্ট হয় তাহা ‘বিশ্ব- কোষ ২য় সংস্করণে উল্লিখিত হইবে। তারপর জেজুরে ‘নাগর’ নামক জনৈক হিন্দুরাজার রাজধানী ছিল বলিয়া যে জনশ্রুতি প্রচলিত আছে- তাহা সত্য কিনা—প্রত্নতত্ত্ববিদগণ সে বিচার করিবেন, তবে বন্ধে প্রেসিডেন্সির পুনা জেলায় জেজুর । নামক একটা তীর্থক্ষেত্র আছে এবং তথায় বহু নাগর ব্রাহ্মণ আজও বাস করেন। এস্থলে আর একটা কথা লেখা অত্যন্ত আবশ্যক বোধ করি। আদি- শূর বঙ্গে ব্রাহ্মণ এবং কায়স্থ আনাইয়াছিলেন বলিয়া যে 'বাদ আছে- প্রাচ্যবিদ্যাযহাব মহাশয়ের মতে তাহা সম্পূর্ণ ভুল। আবুলফজল লিখিত ‘আইন-ই-আকবরি’ নামক পুস্তকে লিখিত আছে যে মুসলমান রাজত্ব * শ্রীহরিহর শেঠ কর্তৃক লিখিত “প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়” শীর্ষক প্রবন্ধ হইতে—“ভারতবর্ষ” ১৮শ বর্ষ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১১। + ‘বিশ্বকোষে’ জেজুর শব-৭ম খণ্ড ১৫২ পৃষ্ঠা।
জেজুরের মিত্র-বংশ করিবার পূর্বে দুই হাজার বৎসর ধরিয়া এদেশে কায়স্থগণ রাজত্ব করেন —সুতরাং দক্ষিণরাঢ়ীয় কায়স্থগণের বীজপুরুষগণ আদিশূরের সময় সমাগত হন নাই-পূর্বে, এই স্থানেই বসবাস করিতেন, নচেৎ রাজত্ব করিলেন কিরূপে? বরং এ দেশেরই বহু কায়স্থ পশ্চিমাঞ্চলে গিয়া বসবাস করেন, তাম্রলিপি, শিলালিপি হইতে তাহাই প্রমাণিত হয় (বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস—দক্ষিণরাঢ়ীয় কায়স্থকাণ্ড ১ম খণ্ড দেখুন) এবং ঐ রাজগণের সময়ে মহামহোপাধ্যায় কল্প বহুসংখ্যক শাস্ত্রবিৎ কায়স্থও আবির্ভূত হইয়াছিলেন। তারপর কেহ কেহ বলেন যে যজ্ঞ করিতে ব্রাহ্মণের প্রয়ােজন হইতে পারে-কায়স্থের আসিবার প্রয়ােজন কি ? তদুত্তরে আবার অনেকে বলেন যে “আদিশূর ‘মধু-ষজ্ঞ করিয়া- ছিলেন, এই যজ্ঞে ভূস্বামী, স্বস্তি, পুণ্যাহ ও ঋদ্ধি বরণের জন্য শ্রেষ্ঠ ক্ষত্রিয়ের প্রয়োজন?” ( কায়স্থ-গীতা, পৃষ্ঠা ২৩)। যাহা হউক, এ সম্বন্ধে এই ক্ষুদ্র পুস্তকে বিশদভাবে আলােচনা করিতে হইলে-আমি যে কাৰ্য্য করিতে আরম্ভ করিয়াছি—তাহা অসম্পূর্ণ হইয়া থাকিবে। সুতরাং যে সমস্ত বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে আমি তাহা উল্লেখ করিয়া যাইলাম মাত্ৰ-অনুসন্ধিৎসুগণ ঐ সমস্ত পুস্তক পাঠে বিশদ বিবরণ জানিতে পারিবেন বলিয়া আশা করি। তবে, প্রকৃত সত্য নির্ধারণ করা যে উচিৎ, তাহা কে অস্বীকার করিবে? জেজুরের মিত্রবংশদ্ভুত বংশাবলী নিম্নলিখিত মিত্রবংশগুলি জেজুৱেয় মিত্রবংশ হইতে সম্ভত হইয়াছে অর্থাৎ সেজুয়ের মিত্রবংশ হইতে উদ্ভব এবং এই বংশেরই শাখা * বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, রাজকাণ্ড-২৫ পৃষ্ঠা। + কায়স্থ-পত্রিকা” ৩২শ বর্ষ, ১১শ সংখ্যা পৃষ্ঠা ৪৪।
জেজুরের মিত্র-বংশ প্রশাখা বলিয়া “কায়স্থ কারিকায় উল্লিখিত আছে। (পৃষ্ঠার নম্বর পার্শ্বে লিখিত হইল)। উড়িষ্যার ‘বজরপুরের মিত্র (২৩৫), জলেশ্বর ‘লক্ষণনাথের মিত্র (২৪), ‘পাতিয়ারপুরের মিত্র (২৩৫), ‘মিঠিপুরের মিত্র (২৩৬) সেরােকেদারপুরের মিত্র (২৩৭) “খাটোরার মিত্র (২৩৬) ‘হরিপালের’ মিত্র (২৩৭) বাগনানের মিত্র (২৪০) সরকার ‘আড়পদোর মিত্র (২৩৭) ছোট সার’ মিত্র (২৪) মেদিনীপুর ‘মীরগোদার’ মিত্র (২৩৯) মশুলঘাট ‘ঝিকরার মিত্র (২৩৪) ‘হরিনাভির মিত্র (২৩৮), কলিকাতা ‘বট তলার মিত্র (২৩৭) কলি- কাতা শশাভাবাজারের মিত্র (২৪০), কানাইপুরের মিত্র (২৩৭) ভাড়ারহাটী মহামায়ার মিত্র (২৩৭) দেবীপুরের মিত্র (২৩৭) মেমা- বীর মিত্র (২৪১) কলিকাতা ‘ঠনঠনিয়ার মিত্র (২৩৮),রংপুর ‘ঘোড়াঘাটার মিত্র (২৩৭), ‘পর্শপুরের মিত্র (২৪১) বরদার মিত্র (২৩৭) মুর্শিদা- বাদ ‘ডাহাপাড়ায় মিত্র (২৩৭) ও ‘সরি’ মিত্র (২৪)। * প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বে অনাথ নাথ বসু (হাতু বাবু) মহাশয়ের বাড়িতে কুলিনগণের ‘একজাই হইয়াছিল এবং বঙ্গের সমস্ত কুলীনগণ ঐ সভায় উপস্থিত হইয়া, তাহাদের কুল কিরূপ তাহা নির্ণয় করেন। পরে ঐ কুলবিধি এবং পর্যায়ক্রমে কুলিনদিগের নাম ‘ফায়স্থকারিকায় প্রকাশিত হয়। ঐ পুস্তক প্রকাশিত করিতে একলক্ষ মুদ্রা ব্যয় হইয়াছিল।
ততীয় অধ্যায়
বংশেতিহাস
গােবিন্দরামের জ্যেষ্ঠ পুত্র রামচন্দ্রই কেবল মাত্র জেজুরে বাস
করেন। তিনি একবার পার্টনার নবাবের কাছ হইতে একটা চাকুরী
পান-কিন্তু তাহার পিতা মুসলমানদের দ্বারায় উৎপীড়িত হইয়াছিলেন
বলিয়া তিনি স্ব-ইচ্ছায় নবাবের চাকুরী প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি
তিন পুত্র রাখিয়া পরলােক গমন করেন, কিন্তু একমাত্র নন্দরাম ব্যতীত
আর কাহারও বিষয় কিছু জানিতে পারা যায় না। কায়স্থ-কারিকা
ইহার দুই পুত্র বলিয়া লিখিত আছে।
রামচন্দ্র সম্বন্ধে নিম্নলিখিত কবিতাটা পাওয়া যায়।
“জেজুরের অধুনাতন মিত্রগণ যারা
রামচন্দ্র মহাত্মার বংশোদ্ভব তঁারা,
গণনায় আঠারর পৰ্য্যায় তাহার
প্রধান কুলীন তিনি সর্বত্র প্রচার।
তার তিন তনয়ের পাই পরিচয়
নাগটা নন্দরাম জ্যেষ্ঠর নিশ্চয়।
অপর পুত্রদ্বয়, কোথায় কিভাবে বন
তাদের বংশের কথা, জেজুরে গােপন।
জেজুরের ত্রি-বংশ ২৫ রামচন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পুত্র নন্দরাম পাঁচ পুত্র রাখিয়া লোকান্তরিত হন। জোষ্ঠ সন্তোষরাম, মধ্যম হরেকৃষ্ণ তৃতীয় রঘুনাথ, চতুর্থ দয়ারাম এবং কনিষ্ঠ জানকীরাম (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ৩) সন্তোষরাম খুব ধর্মপরায়ণ ছিলেন এবং তিনি তাহার ভ্রাতার সহিত পৃথক হইবার পর “লক্ষ্মী-জনার্দনের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। তাহার প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ অদ্যাপিও তাহার পুণ্যকীর্তির সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। সষেরামের বংশধরগণ “বড় মিত্র বলিয়া পরিচিত। তিনি সাত পুত্র রাগিয়া গতানু হন। তঁাহার পুত্রদের নাম :-বাঞ্ছারাম, রামশঙ্কর, ভবানী, রামহরি, রামজয়, রামলোচন ও রামকান্ত (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ৪) সন্তোষরামের বিষয়ে নিম্নলিখিত কবিতাটা পাওয়া যায়। “সন্তোষের বংশে যাদের জনম গ্রহণ, বড় মিত্র বলি তার প্রসিদ্ধ এখন। যখন সন্তোষরাম হরেকৃষ্ণ অর উ ওয়ে পৃথক হন সহ পরিবা, সন্তোষ সন্তোষ চিত্তে করিয়া যতন। প্রতিষ্ঠিত করিলেন, 'লক্ষ্মী-জনার্দন”। পুণকালে সবার মনে এই অভিজ্ঞান যে ভিটা ঠাকুর শুন্য সে ভিটা শ্মশান।” নন্দরামের মধ্যম পুত্র হরেকৃষ্ণ একজন সহৃদয় ও ক্রিয়াশীল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি দোল-দুর্গোৎসবাদি বিবিধ কীর্তি কলাপাদি করিয়া অল্পদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি জেজুর হইতে কৈকালা যাইবার পথে একটি শিবমন্দির তৈরী করাইয়া তথায় শালগ্রাম শিলা প্রতিষ্ঠা করেন। কেহ কেহ বলেন যে তিনিই ধরজীউর বিগ্রহ স্থাপনা করেন, আবার কেহ কেহ বলেন যে উহা পৈত্রিক কুলদেবতা,
খেজুরের মিত্র-বংশ
গােবিন্দরাম বড়িশা হইতে আসিবার সময় লইয়া আসেন। ইনি দুই
দারপরিগ্রহ করেন—রাম রাম প্রথমা স্ত্রীর গর্ভজাত এবং লালবিহারী,
তােতায়াম, দাতারাম এবং জগন্নাথ দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভজাত (কঃ কাঃ
পৃষ্ঠা ২৩৯)। হরেকৃষ্ণ অতিশয় সাহসী ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ২৭ বৎসর
বক্ৰম কালে স্বীয় ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বাটী হইতে বহির্গত হইয়া
কলিকাতায় আসেন, কিন্তু অর বাটী ফেরেন নাই। অতএব
সেইখানেই তাহার মৃত্যু হইয়াছিল মনে করিতে হইবে। তিনি বিখ্যাত
‘তালা পুষ্করিণীর পাড়ে গড়ের মাঠে, যাহা নাগর রাজার কেল্লা
ছিল বলিয়া বর্তমানে শ্রুত হয়, তথায় বাসোপযােগী স্থান ভাবিয়া,
হৃষ্ট মনে পুর্ব বাসস্থান ত্যাগ করিয়া তথায় নূতন বাসভবন নির্মাণ
কন।
হরেকৃষ্ণের বিষয় নিম্নলিখিত কবিতাটা পাওয়া যায় ।
নন্দরাম তনয় মধ্যম হরেকৃষ্ণ
যার মুখে লেগে ছিল সদা হয়েষ্ণ
মমাদের পূর্বপুরুষ সদাশয় তিনি,
বৈষ্ণবের চুড়ামণি বলি গণ্য যিনি।
লক্ষ্মীনার্দনে” ল্যেষ্ঠ করিলে স্থাপিত
ধরের সেবাকাৰ্য্য মধ্যমে অর্পিত,
দুটা শালগ্রামে মূর্তি দেখিবারে পাই
এখানে বিরাজমান, আছেন দুঠাই।”
নগরামের তৃতীয় পুত্র রঘুনাথের এক পুত্র হয় তাহার নাম কৃষ্ণ
প্রসাদইনি এক পুত্র রাখিয়া গতানু হন তাহার নাম রামসুন্দর।
রামসুন্দরের পুত্র রামমােহন জেজুর ত্যাগ করিয়া বাগনান” গ্রামে
গিয়া বাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪)
।
জেজুরের মিত্রবংশ নন্দরামের চতুর্থ পুত্র দয়ারামের দুই পুত্র হয়—কৃপারাম ও গুরু- প্রসাদ। কৃপারাম দুই পুত্র রাখিয়া গতানু হন। তাহার পুত্রদের নাম বংশীধর ও লক্ষ্মণ। গুরুপ্রসাদের এক পুত্র হয় তাহার নাম রামর, ইহার পুত্র রামধন জেজুর ত্যাগ করিয়া জলে লক্ষ্মণনাথ” গ্রামে গিয়া বসবাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪০ ) নন্দরামের কনিষ্ঠ পুত্র জানকীর বংশ বর্তমানে বিলুপ্ত হইয়াছে তজ্জন্ত তাহার বিষয় কেহ বিশেষ কিছু জ্ঞাত নহেন। সন্তোষরামের জ্যেষ্ঠ পুত্র বাঞ্ছারাম ছয় পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন—তাহাদের নাম যজ্ঞেশ্বর, কৃষ্ণচন্দ্র, ব্রজমোহন, গােপীমােহন, গৌরমােহন ও রামনারায়ণ (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪১ ) বাঞ্ছারামের জ্যেষ্ঠ পুত্র যজ্ঞেশ্বর সদাশয় এবং ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন, তিনি তিন পুত্র রাখিয়া লােকাগরিত হন, রামতনু, মদন ও গােপাল। রামতনুরও তিনটি পুত্র জন্মে, বনমালী পঞ্চানন ও নবীন ( কায়কারি পৃষ্ঠা ৪) যজ্ঞেশ্বরের পুত্র মদনমােহন পাঁচ পুত্র রাখিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ শ্যাম, মধ্যম প্রেম, তৃতীয় পাঁচকড়ি, চতুর্থ সীতানাথ এবং কনিষ্ঠ মেহেয়। প্রেম এবং মেহের নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। বাঞ্ছারামের ২য় পুত্র কৃষ্ণচন্দ্রের চারপুত্র হয় তাহারা জেজুর ত্যাগ করিয়া মেমারী” যাইয়া বাস করেন। তাহার পুত্রদের নাম—দুর্গাদাস, রূপনারায়ণ, গঙ্গাধর ও হলধর। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪১) বাঞ্ছারামের ৩য় পুত্র ব্রজমােহন তিন পুত্র রাখিয়া গতানু হন। ঠাকুরদাস, কৃষ্ণ ও নীলমণি। নীলমণি জেজুর ত্যাগ করিয়া “পর্শপুরে” গিয়া বাস করেন। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪১) বাঞ্ছারামের ৪র্থ পুত্র গােপীমোহনের এক পুত্র হয় তাহার নাম ২ জেজুরের মিত্র-বংশ গঙ্গানারায়ণ। বারামের কনিষ্ঠ পুত্র রামনারায়ণের এক পুত্র হয় তাহার নাম সুধাকৃষ্ণ। তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় গতানু হন বলিয়া তাহার বংশ বর্তমানে লােপ পাইয়াছে। সন্তোষের মধ্যমপুত্র রামশঙ্কর দুই পুত্র রাখিয়া গত হন—রাধামােহন ও শ্যামমােহন। রাধামােহনের দুই পুত্র শ্রীকৃষ্ণ ও রামকৃষ্ণ জেজুর ত্যাগ করিয়া কলিকাতার শোভাবাজারে বসবাস করেন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪১) সন্তোষের তৃতীয় এবং পঞ্চম পুত্রের বিষয় কিছু জানা যায় নাই। সন্তোষের চতুর্থ পুত্র রামহরি দুই পুত্র রাখিয়া গতানু হন—প্রাণকৃষ্ণ ও নবকৃষ্ণ। প্রাণকৃষ্ণের তিন পুত্র হয় শম্বুরাম, বিশ্বনাথ শ্রীরাম ও নবকৃষ্ণের দুই পুত্র হয় রাজকৃষ্ণ ও ভজকৃষ্ণ। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪১} সন্তোষের যষ্ঠ পুত্র রামলােচনের পুত্র রামাদ দুই পুত্র রাশিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠের নাম নীলমাধব এবং কনিষ্ঠের নাম গােবর্ধন। (কঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪১) সন্তোষের কনিষ্ঠপুত্র রামকান্ত পাঁচপুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। তাহার পুত্রদিগের নাম গঙ্গাগগাবিন্দ, ভাগবত, বৃন্দাবন, হীরাশােহন ও মখুরমােহন (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪১) হরেকৃষ্ণ পাঁচটী শিশু পুত্র রাখিয়া কলিকাতায় যান, এবং তথায় নিরুদ্দেশ হন-তজ্জন্য তাহার পুত্রদের শৈশবস্থায় অতিশয় কষ্ট পাইতে হইয়াছিল, তবে তাহার পুত্রগণ স্বীয় অধ্যবসায় গুণে বহু কষ্টে মানুষ হন। তাহাদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এরূপ ভ্ৰাতৃভাব ছিল, যে তাহা কথায় বর্ণনা করা যায় না? পুরাকালে রামচন্দ্রের ভ্ৰাতৃভাবের ঋথা শুনিয়া লােকে তাঁহার গুণগান করে আর একালে রাম রাম প্রভৃতির ভ্ৰাতৃভাব দেখিয়া, তৎকালের সমাজস্থ ব্যক্তিগণ বিস্ময়ে আশ্চ- বান্বিত হইত। হরেকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাম রাম চার পুত্র রাখিয়া জেজুরের মিত্র-বংশ গতায় হন-দর্পনারায়ণ সূর্যনারায়ণ, মদনমােহন, জয়গোপাল (কঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৩৯)। তাহাদের ভ্ৰাতৃভাব কিরূপ ছিল, তাহা নিম্নলিখিত কবিতার দুটী আইন হইতেই বেশ প্রমাণীত হয়। “হরেকৃষ্ণের দুই জায়ার জন্মে পাঁচ সুত, পরস্পর ভাতৃভাব—অতীব অদ্ভুত।” হরেকৃষ্ণর মধ্যম পুত্র লালবিহারী জেজুর গ্রাম ত্যাগ করিয়া সঙ্গ গিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪০ ) তজ্জন্য জেজুর গ্রামে তাঁহার কোন বংশীয় নাই। তিনি, কিজন্য জেজুর ত্যাগ করিয়া সরসায় যান, তাহার সম্পূর্ণ ইতিহাস কেহ জ্ঞাত নহেন। তিনি তাঁহার নিজ অংশের, সমুদায় সম্পত্তি তাহার অপর চার ভ্রাতাকে সমান অংশে ভাগ করিয়া দেন। বর্তমানে তাঁহার বংশধরগণ সরকার-মিত্র বলিয়া জনসমাজে পরিচিত হন। তাহার বিষয় নিম্নলিখিত কবিতাটী পাওয়া যায়। “মিত্র লালবিহারী, মধ্যম বলি গণ্য সর্শা গ্রামে যান, বাস করিবার জন্য, আপন সহােদরে তিনি, দেন নিজ অংশ কাজেই জেজুর গ্রামে নাই তার বংশ।” হরেকৃষ্ণের তৃতীয় পুত্র তােতারাম, একজন সদালাপী ও সধর্মপরায়ণ পুরুষ ছিলেন, তিনি স্বীয় অধ্যবসায় গুণে অশেষ উন্নতি সাধন করেন। ইনি অকালে চার পুত্র রাখিয়া গতাসু হন। জ্যেষ্ঠ গােকুল হরি, মধ্যম রামমােহন, তৃতীয় পরাণকৃষ্ণ এবং কনিষ্ঠ নবকৃষ্ণ। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪০) হরেকৃষ্ণের চতুর্থ পুত্র দাতারাম সলচিত্ত, সদালাপি এবং সত্য সত্যই দাতা ছিলেন। তিনি দয়া ও দাক্ষিণ্যের জন্য সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি পৈত্রিক দেবসেবা, দেবমন্দির সংস্কার ও স্থাপন প্রভৃতি জেজুরের মিত্র-বংশ বিবিধ ক্রিয়াকলাপানি করিয়া খ্যাতি লাভ করেন। ইহার সময়ে মুসল- মান রাজত্বের পতন হয় ইংরাজদের অদ্যুত্থান হয়। এবং তিনি কলি- কাতায় গিয়া ওয়ারেন হেষ্টিংসের নিকট কৰ্ম্ম করেন। তঁাহার সহিত মিঃ মাউট নামক এক ইংরাজও কর্ম করিত। ইংরাজি প্রায় ১৭৭৫ খৃষ্টাব্দে কাশীর রাজা চৈৎসিং ইংরাজ সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করিয়া বিদ্রোহ-ধ্বজা উড়ান করেন। হেষ্টিংস তজ্জন্ত মিঃ মাউটকে তাহার বিশ্বস্ত কর্মচারী লইয়া কাশীতে আসিতে অনুরােধ করেন। আউট সাহেব তাহার কথামত দাতারামকে সঙ্গে লইবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দাতারাম ইহাতে যে বহু অর্থ পাইবেন, তাহারও আশ্বাস দেন। দাতারাম যাইতে স্বীকৃত হন, এবং তজ্জন্ত কাশী যাইবার পূPে, জেজুরে তাহার আত্মীয় পরিজনদের সহিত দেখা করিবার মানসে, জেজুরে যান এবং তথায় তার সমূদায় কথা শ্রবণ করিয়া তাহার বাল-বিধবা ভগ্নী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী তাহার অমঙ্গল হইবে ভাবিয়া, তাহাকে গৃহে বদ্ধ করিয়া রাখেন-তজ্জন্ত তাহার যাওয়া হয় নাই। পরে, যুদ্ধ শেষে মাউট সাহেবের নিকট যাইলে, মাউট সাহেব তাকে ৭৫ হাজার টাকা দেন। তিনি তাহার ভগ্নী বিষ্ণুপ্রিয়ার জন্য মদনগোপাল জীউর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাকে তাহার বৈধব্য যন্ত্রণা ভুলাইবার জন্য উহার সেবিকা নিযুক্ত করেন। তিনি গ্রামের মধ্যেও একটা শিবমূর্তি স্থাপনা করেন—তাহার প্র•িষ্ঠিত শিবমন্দির এবং মদনগোপালের মন্দির অদ্যপিও তঁাহার পুণ্য কীর্তির সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। ইনি চার পুত্র রাখিয়া ৪৪ বৎসর বয়সে পরলােক গমন করিলে, ইহার সঙ্গী খধ্বী স্ত্রী শ্রীমতী হরিপ্রিয়া দেবী স্বামীর সহিত সহমৃতা হন। ইহার জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম গৌরহরি, মধ্যম শ্রীহরি, তৃতীয় রাধাকৃষ্ণ এবং ফনিষ্ঠ রামধন। (কায় কারিকা পৃষ্ঠা ২৩৯) জেজুনের মিত্র-বংশ দাতায়ামের বিষয় নিম্নলিখিত কবিতাটি পাওয়া যায় । “মিত্ৰকুল চূড়ামণি যশের আলয় চৈতন্য প্রভুর ভক্ত সরল হৃদয়, হিন্দী * পারস্য, ভাষায় সুপণ্ডিত হয়ে মান্যগণ্য তিনি হলেন নিশ্চিত। একমাত্র দা তুমি, করুণা নিধন- আচম্বিতে দাতারাম কর অর্থ দান ; হরেকৃষ্ণের কনিষ্ঠ পুত্ৰ জগন্নাথ একজন সুশিক্ষিত এবং দয়া দাক্ষিণ্য ও দানধৰ্ম্মের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ইনি, ইহার পিতা এবং ন-দাদার কীৰ্ত্তি কলাপাদি সুসম্পন্ন করিতে সর্বদা চেষ্টিত হইতেন। পরােপকার ইনি জীবনের কর্তব্য কাৰ্য্য বলিয়া মনে করিতেন এবং পরহিতার্থে মুক্ত হস্তে দান করিতেন। ইনি পারস্য ভাষায় একজন সুপণ্ডিত ছিলেন, এবং ঘােড়ায় চড়িতে অতিশয় ভাল বাসিতেন। ইনিও দেশসেবা এবং দেবমন্দির সংস্কার প্রভৃতি ক্রিয়াকলাপাদি করেন। দাতারাম প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরের প্রাঙ্গণে ইনি চড়কের প্রবর্তন করেন। ইহার স্বীয় বাস- ভূমিতে, জায়গার সঙ্কুলান না হওয়ার দরুন, ইনি নিজ বাসভূমি ‘তালা পুষ্করিণীর উত্তর পাড়ে স্থানান্তরিত কয়েন এবং তথায় আলাদা সদরবাড়ি নির্মাণ করাইয়া, খুব জাক জমকের সহিত দোল দুর্গোৎসবাদি করিয়া তৎকালিন সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ইহার প্রবর্তিত চড়ক পূজা অদ্যাপিও বর্তমান রহিয়াছে। ইনি খুব সাহসী ছিহেন, কিন্তু কষ্ট সহিষ্ণু ছিলেন না। ইনি খুব হরিভক্ত এবং নিষ্ঠাবান ব্যক্তি ছিলেন। ইনি ৯৬ বৎসর বয়ঃক্রম কালে চার পুত্র রাখিয়া সজ্ঞানে পরলােকগমন করেন। জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম কৃষ্ণকান্ত, মধ্যমের নাম কৃষ্ণ প্রসাদ, তৃতীয়ের নাম, দামচ এবং কনিষ্ঠের নাম সুবলচন্দ্র। (কা কা পৃষ্ঠা ২৩৯)
জেজুরের
মিত্রংশ
জগন্নাথের বিষয় নিম্নলিখিত কবিতাটী পাওয়া যায় :-
“হরেকৃষ্ণ মহাত্মার কনিষ্ঠ তনয়
যোগপত্র জগন্নাথ মিত্র মহােদয় ।
প্রথমতঃ ভ্রাতৃধনে, পুত্র ধনে পরে
জীবন কাটান সুখে ধরণী-ভিতরে।
দীর্ঘায়ু পুণ্যাত্ম তিনি, বিদিত সংসার
হরিনাম জপমাল ছিল অনিবার।
দুষ্টলােকে যম সম হারে দেখিত
শিষ্ঠ লােক উপকারী সতত ভাবিত।”
রামামের পুত্র জয়গোপাল চারপুত্র রাখিয়া দেহত্যাগ করেন—জ্যেষ্ঠ
হলধর, মধ্যম মধুসূদন, তৃতীয় শম্ভুনাথ এবং কনিষ্ঠ ঈশ্বরচন্দ্র । ইহার
জ্যেষ্ঠ এবং তৃতীয় পুত্র হলধর এবং শম্ভুনাথ অকালে নিঃসন্তান অবস্থায়
পরলােকগমন করেন শিয়া-হাদের বংশ বর্তমানে লোপ পাইয়াছে।
তােতায়ামের জ্যেষ্ঠ পুত্র গােকুলহরি একজন সহৃদয় ব্যক্তি ছিলেন,
তিনি ছয় পুত্র রাখিয়া লোকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ ঠাকুরদাস, মধ্যম
গুরুদাস, তৃতীয় বিপ্রদাস, চতুর্থ রামদাস, পঞ্চম নবীনদাস এবং কনিষ্ঠ
শ্যাম। ইহার তৃতীয় পুত্র বিপ্রদাস নিঃসন্তান অবস্থায় গতাসু হন বলিয়া
উহার বংশক্রম বন্ধ হইয়া গিয়াছে।
তােতারামের মধ্যম পুত্র পরাণকৃষ্ণ পাঁচ পুত্র রাখিয়া দেহত্যাগ
করেন—জ্যেষ্ঠ দৈবকী, মধ্যম কৈলাস, তৃতীয় দ্বারিকা, চতুর্থ কৃষ্ণ এবং
কনিষ্ঠ শ্ৰনাথ। তন্মধ্যে ইহার তৃতীয় এবং চতুর্থ পুত্র দ্বারিকা এবং
কৃষ্ণদাস ইহার জীবদ্দশাতেই লোকান্তরিত হন।
তােতারামের কনিষ্ঠ পুত্র নবকৃষ্ণ দুই পুত্র রাখিয়া গত হন-জ্যেষ্ঠ
রামতারণ এবং কনিষ্ঠ দীনতারণ। দীনতারণ নিঃসন্তান অবস্থায়
অকালেই লােকান্তরিত হন।
জেজুরের মিত্র-বংশ পাতায়ামের জ্যেষ্ঠ পুত্র গৌরহরি খুব সাহসী ছিলেন, এবং স্বীয় অধ্যবসার গুণে অবস্থার উন্নতি করেন। তিনি একপুত্র রাখিয়া পরলোক গমন করেন। তাহার নাম হরিশ্চন্দ্র। দাতারামের মধ্যম পুত্র শ্রীহরি খুব তেজস্বী পুরুষ ছিলেন, ইহার শৈশবাবস্থায় পিতৃবিয়োেগ হওয়াতে খুব কষ্ট পান এবং তিনি পুনরায় তাহার পিতৃবন্ধু মাউট সাহেবের নিকট যাইবার মনস্থ করেন, কিন্তু আত্মীয়বর্গ তাহাকে নিরস্ত করেন। তিনি দুই পুত্র রাখিয়া দেহত্যাগ কৱেন-জ্যেষ্ঠ মধুরানাথ এবং কনিষ্ঠ স্বরূপচন্দ্র। (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪ ) হরির বিষয় নিম্নলিখিত কবিতাটী পাওয়া যায় - “এ ধরায় যাবতীয় আছে যে ব্যাপার দেখা যায় সমুদায়-সুখের আগার, দুখের সহিত শুধু করিতে সমর শ্রীহৰি জন্মেন মাত্র অবনী ভিতর ; সহিষ্ণুতা গুণ তারে—কিছুতে ব্যাকুল করিতে যে পারে নাই—তাহা নিল।” দাতারামের তৃতীয় পুত্র রাধাকৃষ্ণ যৌবনের প্রারম্ভেই এক পুত্র আখিয়া লােহারিত হন—তাহার নাম কাশীনাথ। দাতারামের কনিষ্ঠ পুত্র রামধন এক পুত্র রাখিয়া গতাসু হন—তাহার নাম ভােলানাথ। ভোলানাথও এক পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। তাহার নামে হেমচ। হেমচন্দ্র অকালেই দেহত্যাগ করেন। জগন্নাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র কৃষ্ণকান্ত সদালাপী এবং সহৃদয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছয় পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ গােরাচা, মধ্যম কালাচাদ, তৃতীয় বৈকুণ্ঠ, চতুর্থ গােপাল, পঞ্চম রূপাদ এবং কনিষ্ঠ ৩৪ খেজুরের মিত্র-বংশ বদনাদ (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪•)। ইহার চতুর্থ এবং পঞ্চম পুত্ৰ গােপাল এবং রূপাদ নিঃসন্তান অবস্থায় অকালে পরলােকগমন করেন বলিয়া ইহাদের বংশ বর্তমানে লােপ পাইয়াছে। জগন্নাথের মধ্যম পুত্র কৃষ্ণপ্রসাদ ধার্মিক এবং সধর্মপরায়ণ ছিলেন। তিনি খুব সাহসী পুরুষ ছিলেন। হরিনামের তুল্য যে অার কিছু পৃথিবীতে নাই তিনি তৎবিষয়ে সকলকে শিক্ষা দিতেন। তিনি তিন পুত্র রাখিয়া দেহত্যাগ করেন—তাহাদের নাম পরমানন্দ, অদ্বৈত ও দামােদর (কাঃ কাঃ পৃষ্ঠা ২৪*)। কৃষ্ণপ্রসাদের বিষয় এইরূপ কবিতাটা শত-হয়—“কৃষ্ণপ্রসাদ হরিভক্ত হরিপরায়ণ-আত্মত্যাগী তিনি, তাঁর কৃপাতেই হন।” জগন্নাথ মিত্রের তৃতীয় পুত্র শ্রীদামচন্দ্র একজন স্বনামধন্য সাধক পুরুষ ছিলেন। ইনি স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠ, সদালাপী ও পরােপকারী ব্যক্তি—ইহার প্রগাঢ় মাতৃভক্তি ছিল। ইনি পরঃঃখে অতিশয় কাতর হইতেন- এবং পরদুঃখ মােচনার্থে যথাসাধ্য চেষ্টিত হইতেন। ইনি গােপনে বহু দরিদ্রকে বহু অর্থ দান করিতেন । পিতা এবং পিতামহের পদাফ অনুসরণ পূৰ্ব্বক দেশহিতকর বহু কাৰ্য্য করিয়াছিলেন। ইনি একজন নিষ্ঠাবান হিন্দু ছিলেন—এমন কি হৰিনাম না করিয়া জলগ্ৰহণ করিতেন না। ইনি স্বীয় অধ্যবসায় গুণে নিজ অবস্থার অশেষ উন্নতি সাধন করেন, এবং দেলদুর্গোৎসবাদি প্রভৃতি বিবিধ হিন্দু শাস্ত্রোক্ত নিত্যনৈমিত্তিক ক্রিয়া কলাপানি করিয়া তৎকালীন সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ইহার বংশ “এক-পুরুষে বংশ” বলিয়া খ্যাত। অর্থাৎ ইহার বংশধরগণের প্রত্যেকেরই একটা করিয়া পুত্র জন্ম এবং বিশেষত্ব যে কাহারও প্রায় কন্যা হয় নাই ৰা হইলেও বাঁচে না। ইনি এক পুত্র রাখিয়া সজ্ঞানে ভগবানের নাম জেজুরের মিত্র-বংশ করিতে করিতে দেহত্যাগ করেন। ইহার পুত্রের নাম বিশ্বম্ভর (কায় কায়িকা পৃষ্ঠা ২৪০)। শ্রীদামচন্দ্রের বিষয় নিম্নলিখিত কবিতাটা পাওয়া যায়- “জগন্নাথ মহাত্মার তৃতীয় তনয় সুমতি দামচন্দ্র বহু গুণালয়। ধরায় যে ধর্মপথ, পরে তিনি পান সে আশ্রয়ে মনে তার জন্ম দিব্য জ্ঞান ; তাতে সহিষ্ণুতা-গুণ এত বৃদ্ধি পায়, সহজে, সংসার জ্বালা সহিলেন তার। জগন্নাথের কনিষ্ঠ পুত্র সুবলচন্দ্র চার পুত্র রাখিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ হরিদাস, মধ্যম বৈষ্ণব, তৃতীয় গোঁসাইদাস এবং কনিষ্ঠ ভগবান। তাঁহার একমাত্র কনিষ্ঠ পুত্র ভগবান ব্যতীত অপর সকলে নিঃসন্তান অবস্থায় লোকান্তরিত হয় বলিয়া তাহাদের বংশ বর্তমানে লােপ পাইয়াছে। শম্ভুনাথ চার পুত্র-রাখিয়া লােকান্তরিত হন—জ্যেষ্ঠ রাধানাথ, মধ্যম উমাচরণ, তৃতীয় ব্ৰজ এবং কনিষ্ঠ রঘুনাথ ; তন্মধ্যে উমাচরণ, ব্ৰজ এবং অধুনাথ নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। রামলােচনের জ্যেষ্ঠ পুত্র নীলমাধব তিন পুত্র রাখিয়া ইহধাম ত্যাগ করেন। জ্যেষ্ঠ তিনকড়ি, মধ্যম ভোলানাথ এবং কনিষ্ঠ হরিপদ। হরিপদ নিঃসন্তান অবস্থায় গতাসু হন বলিয়া তাহার বংশ বর্তমানে বিলুপ্ত হইয়াছে। রামলােচনের কনিষ্ঠ পুত্র গােবর্ধন এক পুত্র রাখিয়া গতানু হন তাহার নাম অধর। অধর অকালে পরলােক গমন করেন। জয়গোপালের মধ্যম পুত্র মধুসূদন পাচপুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন—জ্যেষ্ঠ নিত্যানন্দ, মধ্যম পরমানন্দ, তৃতীয় রামানন্দ, চতুর্থ শিবানন্দ খেজুরের মিত্র-বংশ এবং কনিষ্ঠ সদানন্দ। ইহার মধ্যম এবং কনিষ্ঠ পুত্র পরমানন্দ ও সানন নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। জয়গােপালের কনিষ্ঠ পুত্র ঈশ্বরচন্দ্র দুই পুত্র রাখিয়া পরলােক গমন করেন জ্যেষ্ঠ অষিকা এবং কনিষ্ঠ অধর; ইহারা দুই ভাই নিঃসন্তান বস্থায় গতানু হন। গােকুলহরির জ্যেষ্ঠপুত্র ঠাকুরদাস একজন মিষ্টভাষী ও সদালাপী ব্যক্তি ছিলেন; ইনি দুই দার পরিগ্রহ করেন। প্রথমার গর্ভে নন্দলাল এবং দ্বিতীয়ার গর্ভে শচীদুলালের জন্ম হয়। ইনি দুইপুত্র রাখিয়া গতানু হন। নন্দলাল একজন কৃতী পুরুষ ছিলেন এবং জনহিতকর বহু কাৰ্য্য করিয়া প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি কন্ট্রোলার অফ পােষ্ট অফিসের, সুপারিন্টেন্টে কাৰ্য্য করিয়া পরিশেষে সরকারী বৃত্তি পান এবং বহু দরিদ্রের চাকুরী করিয়া দেন। তিনিই প্রথমে জেজুর ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতি হন, এবং তাহারই ঐকান্তিক চেষ্টায় ‘জেজুর-হড়া রােভ’ নামক রাস্তাটা আমূল পরিবর্তিত হইয়া প্রস্তুত হয়। তিনি এক পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন—তাহার নাম অমূলকৃষ্ণ। শচীদুলাল দুই পুত্র রাশিয়া গতাসু হন। জোষ্ঠ ননীলাশ এবং কনিষ্ঠ পান্নালাল । তাহারা কৃর্তমানে দেশ ছাড়িয়া দিয়াছেন এবং কলি- কাতায় চাকুরী করেন। গােকুলহরির মধ্যম পুত্র গুরুদাস চার পুত্র রাখিয়া পরলােক গমন করেন—জ্যেষ্ঠ কিশােরী মধ্যম বিহারী, তৃতীয় ব্ৰজ এবং কনিষ্ঠ নিমাই। ইনি মিলিটারি একাউণ্ট অফিসে চাকুরী করিতেন। বিহারী এক পুত্র রাখিয়া গতানু হন—তাহার নাম জগন্নাথ। কিশােরী এবং ব্রজ নিঃসন্তান অবস্থায় লােকান্তরিত হন। নিমাই এক পুত্র রাখিয়া ইহধাম ত্যাগ করেন—তাহার নাম হরি হরির পুত্রের নাম সত্যকিঙ্কর।
জেজুরের মিত্র-বংশ গােকুলহরি চতুর্থ পুত্র রামদাস একজন দয়ালু ব্যক্তি ছিলেন এ বীয় অধ্যবসায় বলে প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন। তিনি দুই পুত্র রাখিয়া পরলােক গমন করেন—জ্যেষ্ঠ গােপাল এবং কনিষ্ঠ গােষ্ঠ। গােপাল একজন ক্রিয়াশীল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিবিধ দান এবং সদনুষ্ঠানের জন্য সকলের প্রিয় পাত্র ছিলেন। তিনি তাহার স্বৰ্গগত পিতৃদেবের স্মৃতি রক্ষার্থে ‘কানা নদীর উপর যানবাহন চলা- চলের জন্য বহু অর্থ ব্যয়ে একটা পুল নির্মাণ করাইয়া দেন। তিনি কূলপুরােহিতদের কৃষ্ণ বলরাম জীউর বিগ্রহ থাকিবার কোনরূপ মনিয়াদি না থাকায় তথায় একটী মন্দির করাইয়া দেন। তিনি আরও বহু জন- হিতকর কাৰ্য্য করিবার সংকল্প করিয়াছিলেন—কিন্তু অকালে নিঃসন্তান অবস্থায় গতাসু হন বলি য়া তাহার কাৰ্য্য সমুদায় অসম্পূর্ণ রহিয়া যায়। গােষ্ঠ নিঃসন্তান অবস্থায় লােকান্তরিত হন। নবীনদাস মুক্তারী করিতেন। তিনি পাঁচ পুত্র রাখিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ ব্রজ, মধ্যম কানাই এবং কনিষ্ঠ হীরালাল ও অপর দুইজনের নাম অজ্ঞাত। কনিষ্ঠ হীরালাল ছাড়া সকলেই নিঃসন্তান অবস্থায় পরলােক গমন করেন। হীরালাল ডেপুটী একাউন্টেন্টে জেনারেল অফিসে কাৰ্য্য করিতেন এবং বর্তমানে সরকারি বৃত্তি পান। তাহার একমাত্র পুত্র নারায়ণ পিতার অফিসে কাৰ্য্য করিতেন কিন্তু অকালে গত হন। মধুসূদন চার পুত্র রাখিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ যুগল, মধ্যম ব্রজ তৃতীয় গােপাল এবং কনিষ্ঠ হাবু। এক মাত্র গােপাল ছাড়া সকলেই নিঃসন্তান অবস্থায় পরলােক গমন করেন। গােপালের দুই পুত্র, জ্যেষ্ঠ জিতেন, কনিষ্ঠ সুরেন।
জেজুরের মিত্র-বংশ
দৈবকী নন চাকুরী করিতেন এবং এক পুত্র রাখিয়া গতানু হন।
তাহার পুত্রের নাম মনীন্দ্রনাথ।
মনীন্দ্রনাথ গভর্ণমেন্ট টেলিগ্রাফ ষ্টোরের বড় বাবু ছিলেন এবং এক
পুত্র খিয়া লােকান্তরিত হন। তাহার পুত্রের নাম সন্তোষকুমার।
কৈলাস সহৃদয় এবং
মিষ্টভাষী ব্যক্তি ছিলেন, তিনি তিন পুত্র
রাখিয়া পরলােক গমন করেন। জ্যেষ্ঠের নাম ব্রহ্মা, মধ্যম বিষ্ণুপদ
এবং কনিষ্ঠের নাম মহেশ্বর। ব্রহ্মা এবং মহেশ্বর নিঃসন্তান অবস্থায়
গত হন।
বিষ্ণুপদ একজন নিষ্ঠাবান, সদাশয়, সদালাপী এবং মিষ্টভাষী ব্যক্তি
ছিলেন। তাহার ন্যায় ধর্মভীরু ব্যক্তি আজকাল অতি বিরল। তিনি
বিখ্যাত সওদাগর থেকার স্পিঙ্ক এণ্ড কোম্পানির অফিসে প্রায় ৫৭ বৎসর
চাকুরী করিয়া পরে পেনশন পান। তিনি জেজুরের বহু । জনহিতকর
কার্যে অগ্রণী ছিলেন
জেজর-হড়া-রােড নামক স্থাটি
পরিবর্তিত করাইবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তিনি তিন পুত্র রাখিয়া
দেহত্যাগ করেন। জ্যেষ্ঠ দেবনারায়ণ, মধ্যম নরােত্তম এবং কনিষ্ঠ
এ 1;
অদ্বৈত।
দেবনারায়ণও একজন মিষ্টভাষী ব্যক্তি। ইনি ই, বি, রেলওয়েতে
‘পি, ডবলিউ, আই-এর কাৰ্য্য করিয়া বিত্তশালী হন। তিনি শালিকায়
সুবৃহৎ আবাস ভবন নির্মাণ করিয়াছেন এবং গ্রামে জলকষ্ট নিবারণার্থে
একটি নলকুপ করাইয়া দেন। ইহার একপুত্র নাম হারাধন ।
নয়ােত্তম সৈদপুরে চাকুরী করেন।
অদ্বৈত একজন সুশিক্ষিত ব্যক্তি ইনিও ই, বি রেলওয়েতে
চাকুরী করেন।
শ্রীনাথ একপুত্র রাখিয়া গত হন, তার নাম দেবেন্দ্র।
জেজুরের মিত্র-বংশ মামতারণ চাকুরী করিতেন, এবং তিনপুত্র, রাখিয়া পরলােক গমন করেন। জ্যেষ্ঠ, গােপাল, মধ্যম প্রিয়নাথ এবং কনিষ্ঠ গৌরচন্দ্র, ইহার প্রথম দুই পুত্র নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। গৌরচন্দ্র একপুত্র রাখিয়া গত হন। তাহার নাম লক্ষ্মণচন্দ্র। হরিশ্চন্দ্র তিন পুত্র রাখিয়া পরলােক প্রাপ্ত হন, জ্যেষ্ঠ কালীকৃষ্ণ মধ্যম রামকৃষ্ণ এবং কনিষ্ঠ জয়কৃষ্ণ। রামকৃষ্ণ নিঃসন্তান ছিলেন। কালীকৃষ্ণ তিন পুত্র রাশিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ নবগােপাল, মধ্যম শ্যাম এবং কনিষ্ঠ মন্মথ। তন্মধ্যে নবগােপাল নিঃনি অবস্থায় গত হন। শ্যাম একজন সদালাপী ও মিষ্টভাষী ব্যক্তি ছিলেন, ইনি মাটিন এণ্ড কোম্পানিতে চাকুরী করিতেন। ইনি অকালে বিসূচিকা রোগে একপুত্র রাখিয়া গত হন। তাহার পুত্রের নাম সরেশচন্দ্র। সরেশচন্দ্রও পিতার ন্যায় একজন সদালাপী ব্যক্তি, ইনিও পিতার অফিসে চাকুরী করেন। ইহার একপুত্র, তাহার নাম বাসুদেব। কালীকৃষ্ণের কনিষ্ঠ পুত্র মন্মথ ভ্রাতৃশােকে অকালে তিনপুত্র রাখিয়া গতা হন। জ্যেষ্ঠ সত্যপ্রসাদ, মধ্যম পরেশচন্দ্র এবং কনিষ্ঠ মনীন্দ্রনাথ। সত্যপ্রসাদও একজন পরােপকারী ব্যক্তি। ইনি ব্যবসায় করেন ও কংগ্রেসের একজন সভ্য। ইহার একপুত্র জন্মে, কিন্তু পুত্রটি অকালে প্রাণত্যাগ করে। হরিশ্চন্দ্রের কনিষ্ঠ পুত্র জয়কৃষ্ণ একজন সদালাপী ব্যক্তি ছিলেন। ইনি গণিতজ্ঞ গৌরীশঙ্কর দের একজন বিশিষ্ট বন্ধু ছিলেন। ইনি দুই পুত্র রাখিয়া পরলােক গমন করেন। জ্যেষ্ঠ প্রসাদচন্দ্র এবং কনিষ্ঠ প্রবােধচন্দ্র । প্রসাদচন্দ্র ই, বি, রেলওয়ে চাকুরী করিতেন এবং অকালে একপুত্র রাখিয়া গতাসু হন। ইহার পুত্রের নাম ননীগােপাল।
জেরে মিত্র-বংশ । প্রবােধচন্দ্র চিকিৎসা বিষয়ক ব্যবসায়াদি করেন, ইহা একপুত্র নাম রবীন্দ্রনাথ। স্বরূপ একজন পরােপকারী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এরূপভাবে চলাফেরা করিতেন যে সত্যসত্যই তাহার স্বরূপ কেহ চিনিতে পারিত না। তাহার দাদা বলিয়া একটী খ্যাতি ছিল। তিনি তিন পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ গোবিন্দ, মধ্যম রাধামাধব এবং কনিষ্ঠ ধামাধব। গােবিন্দ এবং সুধামাধব নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। রাধামাধব • একজন কৃতী ব্যক্তি ছিলেন। ইনি একজন উচ্চ- শিক্ষিত এবং তৎকালীন সিনিয়র স্কলারশিপ প্রাপ্ত। ইনি যেমন সধৰ্ম্ম- পরায়ণ ও সদালাপী ব্যক্তি সেইরূপ রাজভক্ত ও কাব্যানুরাগী ছিলেন। ইনি ভারত সম্রাট পঞ্চম জর্জের ভারতে আগমন কালে, সরকার কর্তৃক রাজকীয় অভ্যর্থনা সমিতির একজন সদস্য মনােনীত হন এবং সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর অভ্যর্থনা শীর্ষক” কয়েকখানি পুস্তক প্রণয়ন করেন। ইহার ‘কবিতাবলী’ প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ, তৃতীয় ভাগ, চতুর্থ ভাগ, পঞ্চম ভাগ, “বােধেন্দুদয়” “শারদীয়া মহােৎসব” স্ত্রী-পুরুষে দ্বন্দ্ব”, “ভাব- লহরী” প্রভৃতি বিভিন্ন পুস্তকাবলী ইহার অলৌকিক কবিত্ব শক্তির পরি- চায়ক। ইহার ‘ভাবলহী’ নামক পুস্তক তদীয় পুত্র কর্তৃক প্রকাশিত হইলে “বঙ্গবাণী” নামক দৈনিক পত্রিকায় নিম্নলিখিত সমালােচনাটী বাহির হয় “কবিবর রাধামাধব মিত্র কবি ঈশ্বর গুপ্তের মৃত্যুর পর সংবাদ প্রভা করের” সম্পাদক হন। তৎকালীন সময়ে ইহার কবি নামে বিশেষ * রাধামাধবের বিষয় ১৩২৮ সালের সাহিত্য-পত্রিকায় এবং ১৩৩৮ সালের “কায়স্থ-পত্রিকায় নালিকুল-বড়গাছিয়া নিবাসী যুক্ত ভোলানাথ ঘােৰ বৰ্মা কর্তৃক বিশদভাবে লিখিত হইয়াছে।
জেজুরের মিত্র-বংশ ৪১ খ্যাতি ছিল, কিন্তু তাহার সর্বাপেক্ষা বেশী খ্যাতি ছিল ধর্মানুশীলনের জন্য, তিনি সহজ ধর্মের উপাসক ছিলেন এবং ঐ সহজ ধর্ম যে কি, তাহ তাহার রচিত গানের বই হইতে বেশ বুঝা যায়”। ইনি সিল ফ্রি কলেজের হেডমাষ্টার ছিলেন এবং পরিশেষে কবিবর” উপাধি পান। ইনি ঈশ্বর গুপ্তের শিষ্য ছিলেন, এবং “সংবাদ প্রভাকর” “দ্বিজরাজ” ও “সুধাকর” নামক তিনখানি পত্রিকার সম্পাদনা করেন। ইহার পাঁচ পুত্রের মধ্যে মধ্যম, তৃতীয় এবং চতুর্থ তাহার জীবদ্দশাতেই প্রাণত্যাগ করে, এবং তিনি দুই পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ সৰ্বগুণাকর, মধ্যম রসগুণাকর, তৃতীয় সত্যগুণাকর চতুর্থ গুরুগুণাকর এবং কনিষ্ঠ শশী- গুণাকর। সর্বগুণাকর * একজন সুশিক্ষিত, সহৃদয় ও সদালাপী ব্যক্তি ছিলেন, ইনি ইঞ্জিনিয়ারী করিতেন ও তদ্বারা প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন। ইনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সহপাঠী ছিলেন এবং সমূদয় জনহিতকর কাৰ্য্যে অগ্রণী ছিলেন। ইনি হুগলী ডিষ্ট্ৰীক্টবাের্ডের একজন বিশিষ্ট সভ্য ছিলেন এবং হুগলী জেলার উন্নতি বিধানার্থে শ্রীরামপুরে “হুগলী সম্মি লনী” নামক এক সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। ইনি প্রাদেশিক কংগ্রেসের একজন সভ্য ছিলেন। ইনি বিডন স্ট্রীটের পৈত্রিক বাড়ী ত্যাগ করিয়া কালীঘাটে সুবৃহৎ আবাসভূমি নির্মাণ করেন। ইনি পাঁচ পুত্র রাখিয়া গতা হন। জ্যেষ্ঠ সুশীলগুণাকর, মধ্যম সুবোধগুণাকর, তৃতীয় সুজন গুণাকর, চতুর্থ সুধীরগুণাকর এবং কনিষ্ঠ সুবীরগুণাকর। শশীগুণাকর, পিতার অপ্রকাশিত দু-একখানি পুস্তক প্রকাশ করেন। তাহার এক পুত্র নাম সুনীলগুণাকর। কাশীনাথ পাচ পুত্র রাখিয়া পরলােকগমন করেন। জ্যেষ্ঠ পিয়ারী, “কায়স্থ-পত্রিক।”—৩২শ বর্ষ, পৃষ্ঠা-১৭০, ৩১শ বর্ষ, পৃষ্ঠা-৪১২ সেজুয়ের মিত্র-বংশ মধ্যম রাইচরণ, তৃতীয় কিশােরী চতুর্থ সাধু এবং কনিষ্ঠ রাধাচরণ। তন্মধ্যে সাধু এবং রাধাচরণ নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। পিয়ায়ী একজন সহৃদয় ব্যক্তি, এবং পারস্য ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন, তিনি অকালে এক পুত্র রাখিয়া পরলােকগমন করেন। তাহার পুত্রের নাম মতিলাল। মতিলাল ব্যবসায়াদি করিয়া যথেষ্ঠ অর্থোপার্জন করেন এবং দুই পুত্র রাশিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ অমূল্য এবং কনিষ্ঠ জীবন। অমূল্য দেশ- ত্যাগ করিয়া যে কোথায় বাস করিতেছে তাহা কেহ জানে না। এবং জীক হাবা, তবে তা হইলেও বিড়ির ব্যবসা করিয়া মাতা এবং ভগিনীর ভরণপােষণ চালায়, জীবনের ন্যায় পরােপকারী এবং সদাশয় ব্যক্তি খুবই বিরল। রাইচরণ একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি ছিলেন এবং তাহার ভয়ে গ্রামস্থ সকলে ভীত থাকিত। তিনি অতিশয় দুর্দান্ত ছিলেন। এবং দুই পুত্র রাখিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ মাখনলাল এবং কনিষ্ঠ নৃত্যগোপাল মাখনলাল একজন স্পষ্টবক্তা ও সহৃদয় ব্যক্তি ছিলেন। ইনি খিড়কি পরিণীর পঙ্কোদ্ধার ও শ্ৰীশ্ৰীশ্ৰীধরজাউর মন্দির সংস্কার কাইয়া দেন এবং নিজ অবস্থার অশেষ উন্নতিসাধন করেন। ইহার চার পুত্রের মধ্যে মধ্যম এবং কনিষ্ঠ উহার জীবদ্দশাতেই অকালে গতা হয়। জ্যেষ্ঠ বীরেন্দ্র মধ্যম ধীরেন্দ্র, তৃতীয় সুরেন্দ্র এবং কনিষ্ঠ নরেন্দ্র নৃত্যগােপাল ব্যবসায়াদি করিতেন এবং দুই পুত্র রাখিয়া গতাও হন। জ্যেষ্ঠ পরেশচন্দ্র এবং কনিষ্ঠ সুরেশ চন্দ্র। কিশোরী এক পুত্র রাখিয়া পরলােকগমন করেন—তাহার নাম গােষ্ঠবিারী।
জেজুরের মিত্র-বংশ 3 গোষ্ঠবিহারী চারপুত্র রাখিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ বিভূতিভূষণ, মধ্যম শশীভূষণ, তৃতীয় ফণিভূষণ এবং কনিষ্ঠ ননীভূষণ। কৃষ্ণকান্তের জ্যেষ্ঠ পুত্র গােরাচাদ দুইপুত্র রাখিয়া পরলােকগমন করেন। জ্যেষ্ঠ রাধাবিনোদ এবং কনিষ্ঠ রাখাগতি। রাধাবিনােদের একপুত্র হয় নাম সৃষ্টির এবং রাধাগতি নিঃসন্তান অবস্থায় গতানু হন। কৃষ্ণকান্তের মধ্যম পুত্র কালাচাদ দুই পুত্র রাখিয়া লোকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ বেনীমাধব এবং কনিষ্ঠ হরিমাধব। বেণীমাধৰ একজন নিষ্ঠাবান ও সদালাপী ব্যক্তি ছিলেন। ইনি কলিকাতায় চাকুরী করিয়া নিজ অবস্থায় অশেষ উন্নতি সাধন করেন। ইনি খুব কষ্ট সহিষ্ণু ব্যক্তি ছিলেন। ইনি তিনবার দারপরিগ্রহ করেন, প্রথমার গর্ভে সন্তানাদি হয় নাই, দ্বিতীয়ার গর্ভে এক পুত্র এবং তৃতীয়ার গর্ভে চার পুত্র হয়। ইনি পাঁচ পুত্র রাখিয়াই গত হন। জ্যেষ্ঠ পঞ্চানন, মধ্যম পুলিনবিহারী, তৃতীয় পতিতপাবন, চতুর্থ হৃদয়ভূষণ এবং বনিষ্ঠ ভূপেন্দ্রনাথ। হরিমাধব একজন সুশিক্ষিত এবং সহৃদয় ব্যক্তি। ইনি জনহিতকর বহু কাৰ্য্য করিয়া গ্রামস্থ সকলের কাছে ধন্যবাদাহঁ হন। ইনি পোষ্ট মাষ্টার জেনারেলের অফিসে চাকুরী করতেন এবং বর্তমানে সরকারী বৃত্তি পান। ইহ'র স্ত্রী গাঙ্গু হওয়ার পর ইনি আর দারপরিগ্রহ করেন নাই। ইহার চেষ্টায় জেজুর পােষ্ট অফিস এবং জেজুর বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। হুড়া জেজুর রোড’ প্রস্তুত করাইতে ইনি একজন প্রধান উদ্যোগী ছিলেন। ইনি ‘ছােট-মিত্রদের ব্যবহারের জন্য আলাদা সদরবাড়ী নির্মাণ করাইয়া দেন। ইহার বিনয় নামে এক পুত্র হয়, কিন্তু পুত্রটা অকালেই পরলােক গমন করে। কৃষ্ণকান্তের তৃতীয় পুত্র বৈকুণ্ঠ এক পুত্র রাখিয়া ইহধাম ত্যাগ ০ ঃ খেজুঞ্জেয় মিত্রংশ করেন। তাঁর নাম । বল্লভের একপত্র নাম সত্য। সত নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। কৃষ্ণকান্তের কনিষ্ঠ পুত্র বদনাদ দুই পুত্র রাখিয়া পরলােকগমন করেন। জ্যেষ্ঠ বন্ধু এবং কনিষ্ঠ কুঞ্জ। ইহারা দুইজনেই নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। কৃষ্ণ প্রসাদের পুত্র পরমানন্দ একজন ‘আ’ নিকােলা সাধক ছিলেন। ইনি নিষ্ঠাবান, সদালাপী এবং মুক্তহস্ত পুরুষ ছিলেন। তিনি পদব্রজে ভারতবর্ষের বহু তীর্থস্থান পর্যটন করেন এবং বৃন্দাবন হইতে একটা তমালবৃক্ষ নিয়া তালা পুষ্করিণীর পাড়ে রােপণ করেন বলিয়া, সেই স্থানটী বর্তমানে তমালতলা নাম ধারণ করিয়াছে । ইনি শশদ্ভাগবত শুনিতে বড় ভাল বাসিতেন, এবং যেখানেই ভাগবত পাঠ হইত তথায় যাইতেন, তিনি তিন পুত্র রাখিয়া সজ্ঞানে পরলোকগমন করেন। জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম রাখাল, মধ্যম কিশােরী এবং কনিষ্ঠ গৌর। রাখাল একপুত্র রাখিয়া গত হন তাহার নাম নগেন্দ্রনাথ। এবং কিশােরী ও গৌরচন্দ্র নিঃসন্তান অবস্থায় গতানু হন। শ্রীদামচন্দ্র একপুত্র রাখিয়া ইহধাম ত্যাগ করেন তাহার নাম বিশ্বম্ভর । বিশ্বম্ভর নিষ্ঠাবান, সদালাপী, মিষ্টভাষী এবং মুক্তহস্ত পুরুষ ছিলেন। ইনি জাহাজের কাৰ্য্য করিতেন, এবং স্বীয় অধ্যবসায়গুণে ঐ কাৰ্য্য করিয়া প্রভূত অর্থ উপার্জন পূর্বক যাবতীয় ক্রিয়া কলাপালি করিয়া তৎকালীন সমাজে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। ইনি পিতৃপুরুষদের প্রতিষ্ঠিত যাবতীয় ক্রিয়া কলাপাদিতে সর্বদা গৌরব অনুভব করিতেন এবং তাহাদের সুনাম যাহাতে চিরদিন অক্ষুন্ন থাকে তাহা করিতে সর্বদা * ইহার জীবনী কায়-পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছে। (৩২শ বর্ষ পঞ্চম সংখ্যা পৃষ্ঠা ১৬৯)।
ক্রুেষের মিত্র-বংশ চেষ্টিত হইতেন। ইনি তাঁহার পিতৃপিতামহের অনেক গুণের অধিকারী হইয়া অল্পবয়সেই যশস্বী হন। এই সাফুর, অমায়িক, বন্ধুবৎসল ও পৰােপারীপুর বহু অনাথ বিধবা স্কুল কলেজ ও টোলের হাদিগকে মাসিক সাহায্য নিতেন। কন্যাদায় এবং পিতৃমাতৃ দায়গ্রস্থ ব্যক্তিগণ তাহর সাহায্য লাতে কখনও বঞ্চিত হন নাই। তাহার মাতার দানসাগর শ্রদ্ধে, তৎকালীন সময়ে তিনি প্রায় চার সহস্র টাকা খরচ করেন। ইনি শালিকায় সুরম্য অৰাস ভবন নির্মাণ করাইয়া তথায়ও যথাযথ . ভাবে হিন্দু শাস্ত্রোক্ত বহু ক্রিয়া করেন। ইনি কেটলের ঘােষেদের বাড়ি বিবাহ করেন। তিনি জাহাজের রসদ যোগাইতেন, কার্য্যে গােযােগ বশতঃ তাহার রাজদণ্ড হয় এবং কারাবাস কালেই তার জীবনের অবসান হয়। তৎকালীন স্বনামধন্য ব্যবহারাজীব (পরে জজ) সারদাচরণ মিত্র মহাশয় বিচার কালে তাঁহার পক্ষাবলম্বন করিয়াছিলেন। হাইকোর্টে এই মামলা চালাইতে তৎকালে প্রায় পঞ্চ সহস্র মুদ্রা ব্যয় হইয়াছিল। ইগার পুত্রের নাম রাধারণ। এবং ইহাদের বংশ *একপুরুষে বংশ” বলিয়া প্যাত। কবির রাধামাধব, তিনি পরলােক গমন করিলে সংবাদ সুধাকরে তাহার জীবনী আলােচনা প্রসঙ্গে নিম্নলিখিত কবিতাটি লেখেন- “এ কালে কি সে কালে কোন কালে আর এরূপ মহতী কীৰ্ত্তি খেজুরের বা কার ? * ‘সংবাদ সুধাকর-১৫ই বৈশাখ ১২৭৭ কায়স্থ-পত্রিকা-সন ১৩৪০, ভাদ্র পৃষ্ঠা ১৬৯।
জেজুরের মিত্র-বংশ বিশ্বম্ভরের পুত্র রাধারমণ ইষ্ট ইণ্ডিয়ান রেলওয়েতে চাকুরী করিতেন, কিন্তু তিনি বড় খামখেয়ালী ব্যক্তি ছিলেন এবং তাহার স্ত্রী পরলােক গমন করিবার পর, তাহার মস্তিস্ক বিকৃত হইয়া যায়; তিনি একপুত্র রাখিয়া গতা হন—তাহার পুত্রের নাম আশুতােষ। সুবলচন্দ্রের কনিষ্ঠ পুত্র ভগবান একজন নিষ্ঠাবান ও সদালাপী ব্যক্তি ছিলেন। ইহাকে মিত্র বাড়ির সকলে বাঘের ন্যায় ভয় করিত। ইনি তৎকালীন সমাজে সমাজপতি ছিলেন এবং ইহার ন্যায় স্পষ্টব্যক্তা ব্যক্তি খুবই কম দেখা যায়। ইনি দুই পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ নারায়নচন্দ্র এবং কনিষ্ঠ দাশরথি । তন্মধ্যে দাশরথি অকালে ইহধাম ত্যাগ করেন। নারায়ণচন্দ্র একজন সদালাপী ও মিষ্টভাষী ব্যক্তি ছিলেন। ইনি গভর্ণমেন্ট টেলিগ্রাফ ষ্টোলের ষ্টোদের ষ্টোর কিপার ছিলেন। ইনি দুই দারপরিগ্রহ করেন—প্রথমার গর্ভে তিনটা পুত্র ও দ্বিতীয়ার গর্ভে একটা পুত্র হয়। জ্যেষ্ঠ দুলালচন্দ্র, মধ্যম পূর্ণচন্দ্র তৃতীয় যতীশচন্দ্র এবং কনিষ্ঠ ক্ষিতীশচন্দ্র। তন্মধ্যে জ্যেষ্ঠ এবং তৃতীয় উহার জীদ্দশাতেই অকালে গত হয়। ইনি দুই পুত্র রাখিয়া লোকান্তরিত হন । পূর্ণচন্দ্র এক সওদাগরী অফিসে কাৰ্য্য করেন। ক্ষিতীশচন্দ্র একজন কংগ্রেসের সভ্য এবং আইন অমান্য আন্দোলনে বিদ্যালয় ত্যাগ করে ও পিকেটিং করিতে গিয়া দুইবার কারাদণ্ড ভােগ করেন। ইনি দেশের কাজে মনােনিবেশ করিয়াছেন। মদনমােহনের জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্যাম এক পুত্র রাখিয়া গত হন—তাহার পত্রের নাম নন্দলাল। নন্দলাল দুই পুত্র রাখিয়া পরলােক গমন করেন। জ্যেষ্ঠ উপেন্দ্র এবং কনিষ্ঠ শশী।
জেজুরের মিত্র-বংশ উপেও একজন কৃতী পুরুষ, ইনি খুব মিষ্টভাষী এবং বিদ্বান ব্যক্তি ছিলেন। ইনি ইষ্টারণ বেঙ্গল রেলওয়ের কলিকাতা অফিসে চিন্তার কিপারি করিয়া প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন। তিনি কলিকাতার বাদুড়বাগানে সুবৃহৎ আবাসভবন নির্মাণ করেন এবং জেজুরে লক্ষ্মী জনার্জনের একটী মন্দির প্রস্তুত করাইয়া দেন। ইনি স্বীয় অধ্যবসায়গুণে স্বীয় অবস্থার অশেষ উন্নতি সাধন করেন এবং অকালে দুই পুত্র রাখিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ বীরেন্দ্র এবং কনিষ্ঠ হীরেন্দ্র। শশী ইষ্ট ইণ্ডিয়ান রেলওয়ের ষ্টেশন মাষ্টার ছিলেন এবং তিন পুত্র রাখিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ ধীরেন্দ্র, মধ্যম হরেন্দ্র এবং কনিষ্ঠ শৈলেন্দ্র। বীরেন্দ্র ইষ্টারন বেঙ্গল রেলওয়ের ডিপাে ষ্টোর কিপার। ইহার আট পুত্ৰ-জ্যেষ্ঠ নীরেন্দ্র, মধ্যম গিরীন্দ্র, তৃতীয় ভূপেন্দ্র, চতুর্থ হেমেন্দ্র, পঞ্চম রমেন্দ্র, ষষ্ঠ সত্যেন্দ্র, সপ্তম সৌরেন্দ্র এবং কনিষ্ঠ সমরেন্দ্র । হীরেন্দ্র ইলেকটিকের ব্যবসায়াদি করেন। ইনি খুব সদালাপী ব্যক্তি এবং দেশাহতকর কাৰ্যে সর্বদা অগ্রণী হন। ইহার দুই পুত্র নাম রবীন্দ্র এবং অতন্দ্র। ধীরেন্দ্র চাকুরী করেন এবং ইহার পাঁচ পুত্ৰ-জ্যেষ্ঠ অতীন্দ্র, মধ্যম ক্ষিতীন্দ্র, তৃতীয় রমেন্দ্র চতুর্থ সৌরেন্দ্র এবং কনিষ্ঠ সত্যেন্দ্র। হরেন্দ্র জি, মেকাঞ্জি এণ্ড কোম্পানির একাউনটেন্ট -ইহার চার পুত্র, জ্যেষ্ঠ বারীন্দ্র মধ্যম গিরীন্দ্র, তৃতীয় মনীন্দ্র এবং কনিষ্ঠ শুকে। মদনমােহনের তৃতীয় পুত্র পাঁচকড়ি এক পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন, তাহার নাম ভােলানাথ। ভােলানাথও নিঃসন্তান অবস্থায় পরলােক গমন করেন বলিয়া, তাহার সাধ্বী স্ত্রী হরিবালা দেবী, তাহার স্বর্ণগত স্বামীর স্মৃতি রক্ষার্থে “জেজুর-হড়া নােড নামক একটা রাস্তা প্রস্তুত করাইয়া দেন। এই বৃহৎ রাস্তাটা অদ্যাপিও ইহার স্ত্রীর পুণ্য কীৰ্ত্তির পরিচয় দিতেছে।
জুরের মিত্র-বংশ মদনমােহনের চতুর্থ পুত্র সীতানাথ একপুত্র রাখিয়া গত হন। তাহার নাম দীননাথ। দীননাথ দুই পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ ভূতনাথ এবং কনিষ্ঠ নকুড়। তাহারা দু-ভ্ৰাতাই নিঃসন্তান অবস্থায় গত হন। শম্ভুনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাধানাথ দুইপুত্র রাখিয়া পরলােকগমন করেন—জ্যেষ্ঠের নাম দেবেন্দ্র এবং কনিষ্ঠের নাম অমৃত। নীলমাধবের জ্যেষ্ঠ পুত্র তিনকড়ি পাঁচ পুত্র রাখিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ বলাই, মধ্যম কালীদাস, তৃতীয় বিজয়, চতুর্থ বসন্ত, এবং কনিষ্ঠ ভূষণ। বলাই অবিবাহিত, কালীদাস একজন পরােপকারী ব্যক্তি, ইহার এক পুত্র নিত্যনারায়ণ । বিজয় শিক্ষকতা করেন-ইহার একপূত্র সত্য- নারায়ণ। বসন্ত এবং ভূষণ অকালে পরলোক গমন করেন। নীলমাধবের দ্বিতীয় পুত্র ভােলানাথ পাঁচ পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ সুরেন্দ্র, মধ্যম নগেন্দ্র তৃতীয় জ্ঞানেন্দ্র, চতুর্থ কৃষ্ণ এবং কনিষ্ঠ কানাই। সুরেন্দ্র তিন পুত্র রাখিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ সুদীন, মধ্যম সুখী এবং কনিষ্ঠ সুনীল। নগেন্দ্র নিঃসন্তান অবস্থায় পরলােকগমন করেন। জ্ঞানেন্দ্র একজন সদালাপী এবং মিষ্টভাষী ব্যক্তি। ইনি গ্রেট ইষ্টার্ণ হােটলে কাৰ্য করেন-ইহার একপুত্র নাম সুকুমার। কৃষ্ণ মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরে হিন্দু-মিশন কর্তৃক শুদ্ধির দ্বারা পুনরায় হিন্দু হয়। ইনি ব্যবসায়াদি করেন। কানাই নিঃসন্তান অবস্থায় গত হয়। মধূসুদনের জ্যেষ্ঠ পুত্র নিত্যানন্দ তিন পুত্র রাখিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ কৃষ্ণগতি, মধ্যম বাধাগতি এবং কনিষ্ঠ হরিগতি।
জেজুরের মিত্র-বংশ ৪৯ কৃঞ্চগতির দুই পুত্ৰ-জ্যেষ্ঠ যতীন্দ্র এবং কনিষ্ঠ সুরেন্দ্র, হার। উভয়েই নিঃসন্তান অবস্থায় গতানু হন বলিয়া তাঁহাদের বংশ বর্তমানে বিলুপ্ত হইয়াছে। রাধাগতির একমাত্র পুত্র নাম নারায়ণ । হরিগতি দুই পুত্র রাখিয়া ইহধাম ত্যাগ করেন—জ্যেষ্ঠ তুলসী এবং কনিষ্ঠ চরণ। ইহারা কলিকাতায় বাস করেন। মধুসূদনের তৃতীয় পুত্র রামানন্দ তিন পুত্র রাখিয়া গতানু হন। জ্যেষ্ঠ মােগী মধ্যম পঞ্চানন এবং কনিষ্ঠ হৃষীকেশ। যােগী চির-কুমার এবং একজন সাধক পুরুষ। পঞ্চানন পরােপকারী এবং স্পষ্টভাষা ব্যক্তি। ইনি বহু দরিদ্রকে অর্থ সাহায্য করেন। ইনি কেটেলওয়েল বুলেনের বড় বাবু। ইহার তিন পুত্র ; বিধুভূষণ, সুকুমার ও লক্ষ্মীনারায়ণ । হৃষীকেশ ব্যবসায়াদির দ্বারা স্বীয় অবস্থার অশেষ উন্নতি সাধন করেন—ইহার পাঁচ পুত্র জ্যেষ্ঠ সুশীল, মধ্যম সন্তোষ, তৃতীয় সুনীল, চতুর্থ সুবােধ এবং কনিষ্ঠ সনৎ। মধুসূদনের চতুর্থ পুত্র শিবানন্দ দুই পুত্র রাখিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ রাখাল এবং কনিষ্ঠ গোপাল । রাখাল একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের এম, এ উপাধিধারী, উচ্চশিক্ষিত এবং সদালাপী ব্যক্তি ছিলেন। ইনি আগরা কলেজে প্রফেসারি করিতেন এবং সেইখানেই বসবাস করিতেন। ইনি তিন পুত্র রাখিয়া লােকান্তরিত হন। জ্যেষ্ঠ সরােজ, মধ্যম কুমুদ এবং কনিষ্ঠ শচীন। গোপাল ইঞ্জিনিয়ার করেন। ইনি খুব সদাশয় ব্যক্তি। ইনি বিদেশে থাকেন। ইহার এক পুত্র নাম ময়। নন্দলালের একমাত্র পুত্র অমূল্যকৃষ্ণ বাণীর বরপুত্র। ইনি যেমন মিষ্টভাষী, সদালাপী, ও পরােপকারী সেইরূপ সুবিদ্বান, সুবক্তা, সাহিত্যানুরাগ, স্বদেশহিতৈষী মনীষী। ইনি স্বীয় প্রতিভাবলে জেজুরের মিত্র-বংশ বিশ্ববিদ্যালয় হইতে এম এ, বি, এল উপাধি পাইয়া যেরূপ কৃতিত্ব দেখাইয়াছেন, সেইরূপ ওকালতী ব্যবসায়ে ব্ৰতী হইয়া আইনজ্ঞে, সাধুতায় ও সততায় শ্রেষ্ঠ উকিল বলিয়া পরিগণিত হইয়াছেন। ইনি খিদিরপুরে বাস করেন। পূবে ইনি লাহাের ডি, এ, ভি কলেজের প্রফেসার ছিলেন। ইহার দুই পুত্র জ্যেষ্ঠ অচ্যুতকুমার এবং কনিষ্ঠ অজিত কুমার। অচ্যুতকুমার একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ। অসহযােগ আন্দোলনের সময় ইনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বর্জন করিয়া ন্যাশনাল কলেজে শিক্ষিত হন। ইনি ময়ূরভঞ্জ রাজপরিবারে থাকিয়া ভারতের লুপ্ত গৌরব সমুহের উদ্ধার সাধনার্থে মনােযােগী হইয়াছেন। ১৯২৮ খৃষ্টাব্দে ইনি রিসার্চ স্কলারশিপ প্রাপ্ত হন এবং রিসার্চ বিষয়ক বহু প্রবন্ধ বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছে। ইনি কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট সদস্য। অজিতকুমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কৃতী ছাত্র ছিলেন এবং এ এস, সি, পরীক্ষা দিবার পূর্বে হঠাৎ পুরিসী রােগে আক্রান্ত হইয়া লােকান্তরিত হন। ইনি, ম্যটি কুলেসনে, আই, এসি, এবং বি, এ, সি পরীক্ষায় প্রতিবার শীর্ষস্থান অধিকার করিয়া সরকারী বৃত্তি প্রাপ্ত হন। বাল্যকাল হইতে সাহিত্যালােচনায় ইনি খুব আনন্দ উপভােগ করিতেন। ইনি গ্রামস্থ ব্যক্তিদের জলকষ্ট দেখিয়া স্বীয় স্কলারসিপের টাকার দ্বারা একটা নলকুপ খনন করাইয়া দেন। ইহার ন্যায় পরােপকারী এবং সুবিধান ব্যক্তি তৎকালে হুগলী জোয় খুবই বিরল ছিল। ইনি মৃত্যুর পূর্বদিন, উহার নিকট যে স্কলারশিপের ৫০ (পঞ্চাশটাকা) ছিল তাহা ‘চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে দিবার জন্য অনুরােধ করিয়া খান। ইহার মৃত্যুসংবাদ ১৩ই জানুয়ারী ১৯২৯ তারিখের liberty বাণী প্রভৃতি পত্রিকায় জীবনীসহ প্রকাশিত হইয়াছিল। কায়স্থ পত্রিকায়ও ইহার বিষয় লিখিত হইয়াছেন ১৩৪ সাল-প.১৬ সেজুরের মিত্রবংশ মাখনলালের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীরেন্দ্র একজন সুশিক্ষিত এবং সদালাপী ব্যক্তি। ইনি নিজ অধ্যবসায়গুণে খুব উন্নতি করেন। ইনি বর্তমানে ডেপুটা একাউন্ট্যান্টের অফিসে রেকর্ড ও এসটাবলিসমেন্ট সুপায়ি- স্ট্যান্টে। ইহার দুই পুত্র, জ্যেষ্ঠ প্রতাপসিংহ এবং কনিষ্ঠ রণজিসিংহ। প্রতাপসিংহ একজন সহৃদয় যুবক, এবং জনহিতকর কাৰ্যে অগ্রণী- বর্তমানে শিক্ষার্থী ; রণজিত সিংহ বিদ্যাসাগর কলেজে পাঠ করেন। সুরেন্দ্রনাথ একজন উচ্চ শিক্ষিত,বিনয়ী ও পরােপকারী ব্যক্তি। ইনি প্রথমে ই, বি, রেলওয়েতে চাকুরী করিতেন, পরে চাকুরী ত্যাগ করিয়া ব্যবসায়াদি আরম্ভ করেন। ইনি কলিকাতার প্রসিদ্ধ কাগজ ব্যবসায়ী এস, কে, মিত্ৰ এণ্ড সন্সে প্রতিষ্ঠাতা এবং সত্বাধিকারী। ইনি পর- হিতার্থে বহু অর্থ দান করেন। ইহার ছয় পুত্র জ্যেষ্ঠ ৰলাইকুমার, মধ্যম কানাই লাল, তৃতীয় শিশির কুমার, চতুর্থ কৃষ্ণপদ, পঞ্চম সুবলচ, এবং কনিষ্ঠ থােকা। নৃত্যগােপালের পুত্র নরেশচন্দ্র গ্রেট ইউরােপিয়ান ওয়ারে ষান্ এবং তথা হইতে ফিরিয়া আসিয়া অকালে প্রাণত্যাগ করেন। সুরেশ একজন মিষ্টভাষী ব্যক্তি-ইনি ডি, এ, জির অফিসে কর্ম করেন—ইহার তিনপুত্ৰ জ্যেষ্ঠ মৃত্যুঞ্জয়, মধ্যম বিশ্বনাথ, এবং কনিষ্ঠ কাশীনাথ। বিশ্বনাথ অকালে গত হয়। বেণীমাধবের জ্যেষ্ঠ পুত্র পঞ্চানন একজন উচ্চ শিক্ষিত এবং সদালাপী ব্যক্তি, ইনি স্বীয় অধ্যবসায় গুণে প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন, এবং কালীঘাটে ‘মিত্র-নিলয়’ নামক সুবৃহৎ আবাস ভূমি নির্মাণ করান। ইহার তিন পুত্র জ্যেষ্ঠ নিৰ্ম্মল চন্দ্র, মধ্যম, মদনমােহন এবং কনি কিরণ চন্দ্র। উপর জ্যেষ্ঠ পুত্র নির্মল চন্দ্র একজন ছাত্র ছিল, কিন্তু অকালে এণত্যাগ করে। মান এবং কিরণ বর্তমানে শিক্ষার্থ।
তেজুরের মিত্রবংশ পুলিন যিহারীর তিনপুত্র, জ্যেষ্ঠ রজনী, মধ্যম প্রভাত এবং কনিষ্ঠ প্রভাস। তন্মধ্যে প্রভাস অকালে গত হয়। পতিতপাবন গ্রেট ওয়ারে যান এবং তথা হইতে ফিরিয়া আসিয়া বর্তমানে ব্যবসায়াদি করেন। ইহার এক পুত্র নাম সূৰ্য্যকান্ত । হৃদয় একজন উচ্চ শিক্ষিত এবং সদালাপী ব্যক্তি ছিলেন। ইনি ভি, এ, জির অফিসে কৰ্ম্ম করিতেন এবং বিবাহ করিবার মাত্র তিনমাস পরে অকালে পরলােক গমন করেন। ভূপেন্দ্র একজন শিক্ষার্থী। পরমানন্দের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাখাল, একপুত্র রাখিয়া গত হন, তাহার নাম নগেন্দ্রনাথ। নগেন্দ্র একজন শিক্ষিত এবং পরােপকারী ব্যক্তি ছিলেন। ইনি কৃষ্ণা ল ব সাকের ছাত্র ছিলেন এবং বসে সাকাসের বিখ্যাত খেলােয়াড় ‘মাষ্টার মিত্র বলিয়া খ্যাত ছিলেন। ইনি শালিকায় আবাস ভূমি নির্মাণ করান এবং দুই পুত্র রাখিয়া গত হন। জ্যেষ্ঠ মােহিনীমোহন এবং কনিষ্ঠ অনঙ্গমোহন। বিশ্বম্ভর মিত্রের পুত্র রাধারমণ সংসারে উদাসীন ছিলেন বলিয়া রাধা- রমণের পিসতুতো ভাই বেণীমাধব বসু মল্লিক* উহার একমাত্র পুত্র আশুতোষকে লালন পালন করেন। বলা বাহুল্য বিশ্বম্ভর মিত্ৰই বেণী- মাধবের পিতা ভৈরবচন্দ্র বসু মল্লিককে, জেজুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করান। বেণীমাধবের চার পুত্র, রাধাগােবিন্দ, রাধাবিনােদ, রাধাশ্যাম ও রাধামাধব ! কায়স্থ-পত্রিকায় ইহার বিষয় লিখিত হইয়াছিল ৩২শ বর্ষ-৫ম সংখ্যা পৃষ্ঠা ১৬৯। .
জেজুরের মিত্র-বংশ শ্ৰীযুক্ত আশুতােষ মিত্র আশুতোষ যেমন কৃতবিদ্য, বিনয়ী পরোপকারী, সেইরূপ একজন উচ্চ পদস্থ কর্মচারী। ইনি নিজে বাল্যে পিতৃ মাতৃহীন হইয়া অপরের কাছে দারিদ্র্যের মধ্যে মানুষ হন বলিয়া--দরিদ্রের কষ্ট মনেপ্রাণে অনুভব করেন এবং তাহাদের কষ্ট নিবারণ করিতে অকাতরে অর্থ ব্যয় করেন। ইনি আজ পর্যন্ত বহু দরিদ্র ব্যক্তিকে চাকুরী করিয়া দিয়া দেশের সকলের কাছে ধন্যবাদাহ হইয়াছেন। ইনি স্বীয় অধ্যবসায় শুনে প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন, এবং তদীয় পিতামহ বিশ্বম্ভর মিত্রের স্মৃতি জেজুরের মিত্র-বংশ রক্ষার্থে জেজুরে “বিশ্বশুর-স্মৃতিধাম” নামক একটা সুবুহৎ বাটী নির্মাণ করান এবং কালীঘাটেও “মিত্ৰ-কটেজ” নামক স্বীয় অবাস ভূমি নির্মাণ করিয়াছেন। ইহাদের বংশ এক পুরুষে বংশ বলিয়া খ্যাত। ইহার একপুত্র নাম সুধীর কুমার। সুধীর ব্যবসায়াদি করে। শ্রীসুধীরকুমার মিত্র সুধীর কুমার আত্মীয় পরিজনের নিকট ‘বুড়ান’ বলিয়া বঙ্গদেশীয় কায়স্থ-সভার কর্মাধ্যক্ষ মহাশয় কর্তৃক লিখিত এবং হার অনুরোধেই পুস্তক মধ্যে সন্নিবেশিত করা হইয়াছে-গ্রন্থায়।
জেজুরের মিত্র-বংশ খ্যাত, একজন শিক্ষিত এবং সদালাপী ব্যক্তি। ইনি দেশ হিতকর সকল সদনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোগী । ‘বাঙ্গালার শিল্প ধ্বংস, ‘কৃষির অবস্থা’, ‘চাষীয় দুরবস্থা’, ‘বাঙ্গলা দেশ কাহার ‘পণপ্রথা, ‘বাঙ্গালার ভবিষ্যত’, ‘বাঙ্গালার জনবল, প্রভৃতি বিবিধ প্রবন্ধাবলী ইহার সাহিত্যানুয়াগের পরিচায়ক। ইহার বহু প্রবন্ধ এবং কবিতা বিবিধ সাময়িক পত্রিকায় ইতিপূর্বে প্রকাশিত হইয়াছে। ইনি কায়স্থের ক্ষত্রিয়ত্বে সম্পূর্ণ বিশ্বাসবান এবং কায়স্থজাতির কল্যাণার্থে আত্মনিয়ােগ করিয়াছেন। বিগত ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৩৪০ সালে ‘নায়কের সম্পাদক ডাঃ পি, সি, গুহ রায় ইহার ‘আদিশূর কায়স্থ না বৈদ্য ?” শীর্ষক প্রবন্ধের উপর মন্তব্য করিয়া লিখিয়াছিলেন......এই প্রবন্ধে তিনি আদিশূরকে কায়স্থ প্রমাণ করিবার জন্য যথাসাধ্য প্রয়াস পাইয়াছেন” সুধীর বাবুর স্বজাতি প্রীতির জন্য আমরা তাহাকে ধন্যবাদ জিতেছি।” ইনি ‘মিত্র বাটা হিতকারী সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইহার চেষ্টাতেই জেজুর গ্রামে সকল জাতির ও বর্ণের বালকদিগের শিক্ষার্থে ‘জেজুর নৈশ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ইনি জেজুরে কংগ্রেস কমিটি স্থাপিত হইলে প্রথম সভাপতি মনােনীত হন এবং প্রাদেশিক কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট সভ্য ছিলেন। ইনি বঙ্গীয় বেকার যুবকসয়ে এবং বাঙ্গলা বাঙ্গালীর সমিতি’র অন্যতম স্থাপনকর্তা এবং ইহার পরিচালনায় বেকার যুবকগণের মুখপত্র “বুভুক্ষা” নামক একটা পাক্ষিক পত্রিকা বাহির হয়। ইনি ইতিপূৰ্ব “মিত্র বংশাবলী প্রকাশ করেন—এবং জেজুরের মিত্রবংশের লেখক। ইনি ‘কালীঘাট ছাত্র সমিতির, সম্পাদক ছিলেন এবং বঙ্গদেশী কায়স্থ-সভার কাৰ্যনিৰ্বাহক সমিতির ও কালীঘাট সত্যচরণ ইনষ্টিটিউটেয় একজন হিতৈষী সভ্য। সুধীরকুমারের একমাত্র পুত্র পঙ্কজকুমার ২শে সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালে
জেজুরের মিত্রবংশ
জন্মগ্রহণ করে এবং ২৯শে অক্টোবর ১৯৩৩ সালে ‘ডিপ থিরিয়া রােগে
বেলিয়াঘাটায় তাহার মাতুলালয় ‘অক্ষর নিবাসে’ পরলােকগমন করে।
:
পঙ্কজকুমার মিত্র
তাহার মৃত্যুসংবাদ সুবিখ্যাত সংবাদ সরবরাহকারী United Pressএক্স
*** ya 'Forward' 'Advance' 'Amrita Bazar Patrika,
বসুমতী, আনন্দবাজার, “হিন্দী বিশ্বামিত্র এবং অগ্রহায়ণ মাসের
জেজুরের মিত্র-বংশ কায়স্থ পত্রিকা প্রভৃতি বহু পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল। নিয়ে Forward ‘আনন্দবাজার পত্রিকা এবং কায়স্থ-পত্রিকায়’, যাহা বাহির হইয়াছিল তাহা মুদ্রিত হইল। OBITUARY. "Sreeman Pankaj Kumar Mitra the only son of Sreejut Sudhir Kumar Mitra--the wellknown Congress worker, formerly President of tho Jajur Congress Committee died on Sunday the 29th October at 4. 30 A. M. at Belliaghata. We cffer our sincerest condolence to Sudhir Babu, for his sad bereavement" 'Forward'. 30th October. 1983. শোক-সংবাদ “গত রবিবার ২৯শে অক্টোবর ভাের সাড়ে চার ঘটিকার সময় বিশিষ্ট কংগ্রেস কর্মী এবং জেজুর কংগ্রেস কমিটির ভূতপূর্ব সভাপতি শ্ৰীযুক্ত সুধীরকুমার মিত্রের একমাত্র পুত্র শ্রীমান পঙ্কজকুমার মিত্র মাত্র একদিনের জ্বরে পরলােকগমন করিয়াছে। আমরা সুধীর বাবু এবং তাহার বৃদ্ধপিত। শ্ৰীযুক্ত আশুতােষ মিত্র মহাশয়কে তাহাদের এই শােকে আন্তরিক মবেদনা জ্ঞাপন করিতেছি। আনন্দবাজার পত্রিকা–১৫ই কার্তিক ১৩৪। জাতীয় সংবাদ। আমরা গভীর দুঃখের সহিত জানাইতেছি যে বঙ্গদেশীয় কায়স্থলভার সভ্য জেজুরের শ্রীযুক্ত সুধীরকুমার মিত্রের একমাত্র পুত্র মান পঙ্কজকুমার মিত্র বিগত রবিবার ২৯শে অক্টোবর ভোের ৪৷ ঘটিকার সময় ৰেলিয়াঘাটায় পরলােকগমন করিয়াছে। আমরা সুধীরবাবু এবং তাঁহার বৃপিতা শ্রীযুক্ত বাবু আশুতােষ মিত্র মহাশয়কে তাহাদের এই শােকে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করিতেছি। ‘কায়স্থ-পত্রিকা-অগ্রহায়ণ, ১৩৪০
চতুর্থ অধ্যায়
জেজুরের ইতিহাস
[ কবি রাধামাধব মিত্র সন ১২৯৯ সালে তাঁহার লিখিত “তােমার
কথা” নামক কবিতা পুস্তকে জেজুরের যে ইতিহাস লিপিবদ্ধ করিয়া
গিয়াছেন তাহা এই স্থানে উদ্ধৃত করিয়া বর্তমান গ্রন্থের উপসংহার
করিলাম।]
বঙ্গদেশ অন্তর্গত হুগলী জেলায়,
শত শত কত গ্রাম বলা নাহি যায়।
সে সমূহ গ্রাম মধ্যে গণ্য এক গ্রাম
‘জেজুর বলিয়া খ্যাত আছে যার নাম। ৪।
সুবিখ্যাত হুগলী শ্রীরামপুর আর
দেওয়ানী, ফৌজদারী আদালত যার।
বন্দীপুর* ডাকঘর হরিপাল থানা
যে নদীর তীরে স্থিত সে নদীটী কানা। ৮।
অধুনা তারকেশ্বর রেলপথ যুক্ত
হয়েছে যে ইষ্টিশান হরিপাল উক্ত,
সেই ইষ্টিশান হতে ক্রোশেক উত্তয়ে
কথিত জেজুর গ্রাম অবস্থিত করে। ১২।
* বর্তমানে জেজু ডাকঘর হইয়াছে
খেজুরের মিত্রংশ
জেজুরের স্থিতিকাল করিতে নির্ণয়,
চতুর্সীমাস্থিত গ্রাম বিবরিত হয় ।
উত্তরে ময়নাপাতা ‘জীনপুর মেশড়া,
‘মাদড়া’, ‘মােগলপুর, চেলাে, নন্দীপাড়া,। ১৬।
পশ্চিমে ‘নইটী’, ‘সতঘরী ‘রাইপুর,
‘পানশেওলা, সােনাটিক্ৰী’, অার অলীপুর।
দক্ষিণে ‘কাকড়াজোল, নারায়নপুর,
‘আগেছে’ ‘মান্নাপাড়া, 'ভগবতী’ পুর। ২।
পূৰ্বে ‘অঙ্কপাড়া, গজা, আর বন্দীর
‘চিত্রশাল আদি করি সহ লালপুর।
পূৰ্ব্বাপর জনশ্রুতি রয়েছে যেমন,
প্রথমত সেইরূপ করিব বর্ণন। ২৪।
জনশ্রুতি নিতান্ত যে অমূলক নয়,
মূলে তার কিছু সত্য আছয়ে নিশ্চয় ।
ধরাতলে একভাবে কিছুই না রয়,
সময়ে সময়ে ঘটে কত বিনিময়। ২৮
জল হইতেছে স্থল, স্থল হয় জল,
কালেতে অচল তৃণ হয়ে যায় চল,
যেখানেতে নী নাই, নদী হতে পারে
নী মুছে কাল ক্রমে ভূমি একেবারে। ৩২।
নগর অর হর—অরণ্য নগর,,
বাসস্থান মূছে—হতে পারে তেপান্তর।
অশান হইতে পারে রাজবাটী যথা
এবার শান যথা, রাজবাটী তথা। ৩৬।
খেজুরের মিত্র-বংশ
পূরাকালে রাজধানী ছিল এ জেজুর,
লক্ষণে প্রমাণ করি, পারি যতদূর।
পূর্বকালে জেজুরে ছিলেন এক ভূপ,
‘নাগর’ তাহার নাম শুনি এইরূপ। ৪০।
কোন বংশে জন্ম তঁার, কিছুই না জানি,
অন্য জাতি নন তিনি, হিন্দু বলি মানি ।
স্বাধীন কি পরাধীন, কে বলিতে পারে ?
অনুমনি স্বাধীন--লক্ষণ অনুসারে। ৪৪।
রয়েছে একটি মাঠ, আজো বিদ্যমান,
এখনাে গড়ের মাঠ-ষার অভিধান।
গড় যদি না থাকিত, তা হলে যে আর,
নামটি গড়ের মাঠ হ'লো কেন বার? ৪৮।
বহুস্থানে পুষ্করিণী খনন সময়-
ইষ্টক নির্মিত, রত্ন, আবিষ্কৃত হয়।
এককালে নগর যে ছিল এই স্থান, •
প্রশস্ত মৃর্তিকাবৃত পথে সপ্রমাণ। ৫২}
রাজবাড়ি যথা ছিল, করি অনুমান,
হইয়াছে সেখানেতে এখন শ্মশান।
ছিল বলি তথায় নাগর রাজধাম,
হয়েছে নাগর-গাছি’ শ্মশানের নাম। ৫৬
শশ্মানের সন্নিকট আছে যত ঠাই,
কতস্থানে কত চিহ্ন দেখিবারে পাই।
অনেকে নােহর টাকা, মাটির ভিতরে,
হঠাৎ পেয়েছে তথা, প্রকাশ না করে। •
'-
জেজুরের মিত্র-বংশ
এখনাে মৃত্তিকাবৃত কত কি যে রয়,
কে বলিতে পারে তাহা, কেহ জ্ঞাত নয়।
যথা হৰ্ম অনুভূত, সে স্থানের কাছে
‘রানিয়া নামেতে এক পুষ্করিণী আছে। ৬৪।
সরসীর পূর্বমনাই পরিসর,
হ্রাস করা হইয়াছে জানে বহুনর ;
পঙ্কোদ্ধার কালে আমি কি বলিব আয়,
সকলে হেরিয়াছে অদ্ভুত ব্যাপার। ৩৮।
পুকুরের গর্ভ হতে পঙ্কের সহিত,
উঠিল ঠাকুর কত পাষাণ নির্মিত।
চতুভূজ, দ্বিভূজ দেবী দৃষ্ট হয়,
নারায়ণ মূৰ্ত্তি, আর শিব মূৰ্ত্তি রয়। ৭২।
কেহ বলে অনুভবে বুঝিয়াছি সার,
এ সব ঠাকুর ছিল নাগর বাজার।
কেহ বলে কালাপাহাড় অতি পূর্বকালে,
হিন্দুদের দেব-দেবীর দুর্দশা ঘটালে। ৭৬।
জেজুরে ভীষণ বেশে
সে এসে নিশ্চয়,
নাক কান কেটে গেছে, ভূপে করি জয়।
অনুমান কোন মতে নহে অসঙ্গত,
সব ঠাকুরের দশা কেন এক মত। ৮০।
কালে কালে কত কি যে, হতেছে ধরায়
সম্ভব কি অসম্ভব, ভাবে বুঝা যায়।
যে ‘ফানা নদীর ধারে জেজুর বিরাজে,
আরে আর নদী বলা এখন না সাজে। ৮৪।
ভেজুৱে নিবেশ
পূৰ্বমত গভীয়তা কিছুই না রয়,
নিম জলাভূমি বলিলেও হয়।
বেগবতী স্রোতস্বতী ছিল যে নিশ্চয়।
নিতান্ত সামান্য নয়, পাই পরিচয়। ৮৮।
নদীগর্ভ যে যখন করেছে খনন।
অপরূপ কত কি, হয়েছে বিলােকন।
তরি বা জাহাজ, ভেলা, কাষ্ঠ কত শত,
বহিস্কৃত তথা হতে, হয়েছে ক্রমাগত। ৯২।
হয়েছিল যখন জেজুর রাজধানী,
এই নদী বশবতী, ছিল মনে মানি।
সমীপন্থ গ্রামের অনেক অভিধান,
তাতে রাজধানী ছিল, সমান। ৯৬।
ভূপের যে সব চাই, থাকিলেই ভূপ, .
প্রদর্শিব গ্রামের নামেতে সেইরূপ।
‘বন্দীপুর কারাগার বুঝাবার ভাবে,
হাতসেও হাতী শাল, লােকে অনুভবে। ১০।
‘চিত্রশাল’ ছবিঘর অমূলক নয়,
‘নই যে নৰহাট কে আর না কয়?
কোন কালে রাজবাটী, পুড়িল অনলে।
লােকে ‘পােড়াবাজার আপিলে।১৪।
হয়তো রাজার ছিল এ ধর,
তাইতো গরহাটি না হয় ।
হয় উন্নী ছিলেখক বাশার,
জেগেল নায়।
খেজুরের মিত্র-বংশ
প্রতিষ্ঠিত জগবতী দেবীর বন,
‘ভগবতীপুর নাম হয়েছে গ্রহণ;
বড় বড় মানা লোক, রায় বাহাদুর,
বসতি করিল বলি, নাম স্নাইপুর। ১১২।
ছিল বলি নৃপতির জামাতা বাটা,
তাইতো হয়েছে নান জামাই বাটী।
সােণার ব্যবসাস্থান, ছিল যে বলিয়া,
‘সােনাটিক্রি’ নাম তাই গিয়াছে হইয়া। ১১৬
রাজার বিহার তরে পুষ্প উপন
ফুটিয়া থাকিত যথা নানা ফুলগণ ;
অলিকুল পুষ্পসব লােঙে অবিরাম,
তথায় থাকিত বলি ‘অলিপুর নাম। ১২।
মান্যলােক বাসকৰি থাকিত সদাই
মান্যপাড়া ‘মান্নাপাড়া নাম হয় তাই,
ছিল বলে ভূপতির বড় আশ্ৰাদ্যান,
হইয়াছে ‘আত্মগেছে সেত আখ্যান। ১২৪।
জেজুর যে পূর্বে ছিল রাজার ভবন,
লক্ষণেতে হলে প্রায় সংশয় ভঞ্জন।
রাজধানী ছিল বটে, জানি অনুৰে
বলিতে না পারা যায় কোন কালে কবে?১২।
খাতলে চিরদিন সমান নাহি যায়,
উন্নতি অবনতি-আছে পানি পায়
এপ ব্যাপার ত,
সকলি সবে,
কালে ধরাতলে কিছু নহে ল। ১৩২।
জেজুরের মিত্র-বংশ জেজুর নগর মুছে, হয়েছিল বন’ আবার কিছুই নাই তার নিদর্শন। কতদিন নাকারে ছিল কে জানে, কতশত বর্ষগত কে শুনেছে কানে। ১৩৬। শেষ আমাদের বংশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখা সমাপ্ত হইল। বর্তমানে এই দেশের দুরবস্থা অতি শোচনীয় আকার ধারণ করিয়াছে। পূর্বেকার সে ঐ আর নাই। ভূ-সম্পত্তি অধিকাংশ প্রায়, পরহস্তে চলিয়া গিয়াছে। শিক্ষিতের সংখ্যাও পূৰ্ব্বাপেক্ষা কমিয়া গিয়াছে। পূর্বে মিত্র- বাটীর তিনটী সদর-বাড়িতে তিন খানি দুর্গা প্রতিমার পূজা হইত এবং মিত্রদের সালিকার বাড়িতেও পূজা হইত। কিন্তু আজ পূজা হওয়া দুরে থাকুকু-পূজার মণ্ডপ পর্যন্ত ধূলিস্যাৎ হইয়া গিয়াছে। এই বংশের ব্যক্তিগণ ইচ্ছা করিলে যে পূজা করিতে পারেন না এমত নহে-বে পূর্বের মত সরলতা ও একতা নাই। সকলেই দেশত্যাগ করিয়া সহরে বসবাস করিতেছেন। বর্তমানে প্রত্যেকেই চাকুরীর উপর নির্ভর করেন। আজ সর্বত্রই হতাশের ছবি-এ বংশের গৌরব রবি আর কখনও উদিত হইবে কি-না তাহা কে বলিতে পারে।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.