Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Madhabi
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
মাধবী
শীতারাপ্রসন্ন ঘােষ প্রণীত।
প্রকাশক
শ্ৰী প্ৰ ভাতরঞ্জন মিত্র।
কলিকাতা
৮নং কলেজ স্কোয়ার, চেরি প্রেসে,
শীতুলসীচরণ দাস অারা:মুদ্রিত।
No text on this page.
উৎসর্গ পত্র।
কবি +
পূজা শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মহাশয়ের
শ্রীচবশে
উৎসর্গ করিলাম।
রামন বর্ধমান,
ফাল্গুন, ১৩৮ সাল।
বিনীত ভক্ত, .
তারাপ্রসন্ন।
No text on this page.
প্রকাশকে নিবেদন।
{
মাদ প্রকশি • ইং । ৫ ম ক মনুস} শ ৩০
গুণ প্রাপ্ত নানাপ্রকার বাধ বিপ সহ কবি।
পিয়া৮ে হবে এখম | গয
*{া জি• মন তাহা আ স প বা ষ লং
। ক খালি যমন ৩াহাৰ পৰিচয় প্রদান কবে
মাধবী বাণ’ ও ‘স প্রকাৰ শন fচ শাহবা গিয়াছে।
খৰ এক অন সম্পূণরূপে পৰি এৰ
অর্ণবয়স্ক
# জগ? ইহাৰ এই প্রথম প্রবেশ।
অনেকাল কবি । আমার বড় কার লাগিয়াছে। এখন
৬াল মন্দ বিচাৰ কৰিখাৰ ভাৰ জন সাধাৰণর পর শ্য
শহিল। লেখক সকল কিনযে আমাৰ পৰ ভর জিষা নিশি
কি? আমাক অন্যান্য কাযালী নাব
বাকি বাধা হওয়া, মুঞ্জণ কাম্য ও অন্যান্য বিষয়ের
মন দাস বহিয়া গিয়াছে। অাশা কবি সফদ পাঠকগণ
শামাদের * এটা মজ্জন। কবিৰেন। গান নায কানের
বাস মোকছু হসি হলেও এর কান তারতম্য
' ৩াগ গণ সমাজে অাদ ও না।
• পক্ষ এইষা কৰি • • না কিলে
‘ফান বা সহ মনােহৰ ছপ ও পিণ * অলঙ্কার
••• হক না কেন তাহা কবি নামে গ২ি৩ ই •
স। শা
• সঃ কান আশাৰ শবন
উচ্ছসিত
জিনিস এবং যাহা কিছু লেখকের হৃদয়ের উচ্ছ্বসিত ভাবের
পরিচায়ক তাহাই কবিতা, এ কথায় বােধ হয় সত্যেঃ
কোন অপলাপ হয় না। এই পুস্তকে সন্নিবিষ্ট কবিতাগুলি
সকল স্থানেই যে গভীর ও উচচাবে পূর্ণ সে সম্বন্ধে আমি
কিছু বলতে চাহি না, তবে এখানে কবি যাহা কিছু
বলিতেছেন তাহা উহার ‘হৃদয়ের ভাব মিশ্রিত
অথবা চিন্তা। প্রত্যেক মনুষ্যের জীবনী এক একটা বৃহৎ
গ্রন্থ। মানব হইয়া মানুষের প্রাণের কথা শুনিতে কেন
ভালবাসে :
প্রকাশক,
কলিকাতা .
২ ৫নং ফকিরচাঁদ মিত্রের ঔা,
১:০৭ সাল।
প্রভাতরঞ্জন মিত্র।
সূচীপত্র আবাহন ৫et ১১ প্রত্যাখান • ?? ৪ আমার প্রেম অনাদৃত স্থানঃ . * নিষেধ ৫ অাত্মদান••• প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ । । । অনুরােধ ••• লাময়ী ১ . কোথা হ' প্রভা অসম ... | এ। ৮), ৮৫ • ৭ : ৮ + ১৯৭ ১৮. এখনাে ফিরাও ২ কেন আমি • : • ৫। ২৮ রাখা • • সাধের তরী ৭৫ এ পান্থ বিষাদ ••• অভৃপ্তি * । । এ সাঝের গগন এমের অপমান } দেশ যাত্র! ৩৯ অন প্রেম সে দিনের কথা। = ৫। শুধু একবার ৫ ৪৬ ... শুষমা সুন্দরী টি কথা বুখা আশা শাপিয়া বিদেশিনী ৫;
ৰে গদি যাও কি পানু হয় • প্রতিশোধ পরিত্যক্ত মিলন সপ্ন - কুদাম শন্থি পা ও ও ৭ । নদী পথে সংগম প্রমথ ? নরেন? • + মাতৃভূমি আযাব ৭। বলম্বে ** । ।। . গ্রপেক্ষ •• • ভৈরবী +। মশ বেহাগ মিটি ৫০ + ৮ গ মাধবী রাণী • ৫৮ ৫ * v৭ "অবদান গান •
No text on this page.
মাধবী
আবাহন।
আজি মােৰ মাধবী-বিতানে
তােরি তরে পেতেছি আসন।
কি মাধুরী রূপে তাের
দেখেনি নয়ন মাের ;
দুর হতে শুনি শুধু বীণার গুঞ্জন,
মৃদুল মধুর আর নুপুর-নিকণ।
কি মদিরা ঢালে তায়,
পরাণ পাগল এয়,
উতলা হৃদয় লয়ে খুজে মরি ত্রিভুবন,
কোথা সে মাধুরী রাশি করে আহ বিকীরণ?
বিমুগ্ধ পরাণ মাের
তােরি ধ্যানে সদা ভোর,
এস দেবি! এস সতি। বিকাশিয়া ও কিরণ ;
সুষমায় সুষমায় ভরিয়া যাউক মন।
মাধবী।
. *বসিয়া হৃদয়াসনে,
বাজাও ত্রিদিব বীণে,
ফুটিয়া উইক মাের মুকুলিত ফুল-বন;
বিকসিত ভাষাহারে পুজি শুবও চরণ।
২০/১৩০৭।
কল্পনা।
হে কল্পনে! কহিতেছি তােরে শতবার,
আমারে লইয়া চল স্বদেশে তোমার।
উর্ধে উদ্দে বহু উর্দ্ধে সেই সে যথায়
জগতের কোলাহল গিয়াছে মিশায়
ক্ষীণ ক্ষীণতর হয়ে ; নীরব নির্জন
চারি দিকে রবে শুধু অনন্ত গগন।
আমি তার মাঝে বদি আত্মহারা হয়ে,
পূজিব তােমায় নিতি নব ফুল চয়ে।
ঝঙ্কারি তুলিবে বীণা—তব উপহার,
একমাত্র জীবনের সম্বল আমার
নিতি নব নব ছমে নব নব তান,
তোমারি আরতি গীতে ভরিবে বিমান
মুগধ অমরবালা প্রসূন-আসার,
; ঢালিবে আমার শিরে, আশীর্বাদ তার।
১৩। ১৩• ৭।
ত
প্রত্যাখ্যান।
প্রত্যাখ্যান।
ওগো : তুমি মুছই নয়ান।
মরুময় হৃদি মাের, কি করিব দান ।
বৃথা অভিমান করা,
বৃথা ফেল অশ্রুধারা,
পিপাসীর কাছে কোথা পাবে জল-পান।
'ত আছে শত আশা ; পাবে কত স্থান।
হের ওই শত অাখি,
তােমার বদন দেখি,
আকুল হয়েছে পদে বিকাইতে প্রাণ।
ওগো আমি শুধু হা হুতাশ;
দীঘল নিশ্বাস লয়ে আছি এ কুটীরে।
তোমার নির্মল প্রাণে,
বিষাদের ছায়া এনে,
কলঙ্ক পসরা কেন তুলে লব শিরে!
বৃথা তব করাঘাত মের ভগ্নদ্বারে ;
মিছে তব কাতরতা ;
কে হেথা ঘুচায় ব্যথা!
তব সুখ দুখ লয়ে তুমি যাও সরে'।
৯১১১৩• ৬।
মাধবী। আমার প্রেম। আমি তাই ওগো ওগাে আমি যারে তারে দিয়ে ফেলি প্রাণ। কথায় কথায় এত সহি অপমান। আমার প্রাণের ব্যথা তারা বুঝে না আমার নয়ন জল তারাত মুছে না ; দ্বারে দ্বারে ফিরি সাধিয়া বেড়াই, পাই না গো প্রতিদান । যারে তারে দিয়ে ফেলি প্রাণ। ওগো আমি তারা তারা জানে শুধু অভিমান করা, সাধিয়া সাধিয়া হয়েছি যে সারা, শুনেও শুনে না কাতর যাচনা, ফিরিগাে বুছি নয়ান। যারে তারে দিয়ে ফেলি প্রাণ! আমি মোর এসে আমি অবুঝ হৃদয় বুঝিবে কে আর, প্রেম নয়, শুধু অাখি-জল সার ; দুকুল হারায়ে হয়েছি পাগল, আকুলি উঠে পরাণ। যারে তারে দিয়ে ফেলি এণ। ১•১১১৩৬। ওগো আমি
যাচনা।
অনাদৃত।
"কোথা যাও ;”-কেন পুছ আর,
তুমি কি মুছাবে মাের নয়নের ধার ?
তুমিত ঠেলেছ পায়,
তাই যাই সরে ;
বিশাল জগৎ মাঝে স্থান কিনা পাই,
দেখি ঘুরে ফিরে।
সম্মুখে আশার দীপ রাখি,
চলে যাব যেথা যায় অাখি।
এ জগতে সকলেরি অাছে গাে মিলন
একা আর কে রহে কখন ?
তুমিই দিলে না ঠাই, তা বলে কি আর,
জগৎ দেখিতে হবে সকলি অাঁধার ।
১১১১১৩০৬।
যাচনা।
ওগাে
অমন করিয়া আর চেওনা !
আধ নিমীলিত অাখে,
আমার মুখের পানে
চেওনা ;
মাধবী। আমি তুমি তুমি তুমি আমি আমি তুমি হারায়ে ফেলি যে অাপনা। আসিও, নাহি ক্ষতি তায় ; চুমিও, কিবা এসে যায় ; হৃদয়ে রাখিয়া ধরিও চাপিয়া, কোন কথা কহিব না। আমার মুখের পানে চেওনা ; হারায়ে ফেলি যে আপনা! দিও প্রাণ আমি সইব, দিও প্রেম আমি তুষিব, যা আছে তােমার দিও উপহার, ফেলিব না ফেলিব না। আমার মুখের পানে চেওনা ; হারায়ে ফেলি যে আপনা! ১১১১১৩৬। তুমি তুমি আমি নিষেধ। ছি ছি না, ও কথা বলনা; কেন গাে পরেনি তরে, সবে তুমি অনন্ত যাতনা ?
সূৰ্য্যমুখি শুকে' যায় আপনারি ভুলে,
তাবলে' কি রবি আসে নামিয়া ভুতলে।
ভুল করে বেসে ছিনু ভাল, বুঝিনি তখন,
কণ্টকলতিকা হয়ে
গিয়াছিনু রসালেরে দিতে আলিঙ্গন।
অামি যে গাে শিখা লেলিহান,
হৃদয়ে লইয়া শেষে হারাবেকি প্রাণ?
তাই আজি শতবার নিষেধি তোমায় ;
তব দুখে মাের সুখ রহিবে কোথায় ?
অ তৃপ্ত বাসনা লয়ে আমি যাই সরে,
ব্যাধিতে চাহিনা তোম। প্রণয়ের ডোরে।
==
১৯। ১১|১৩০৬।
আত্মদান।
আমি শুধু এত টুকু নীহারের কণা ;
শত আঁখি চেয়ে আছ সতৃষ্ণ নয়নে,
কার তৃষ্ণা মিটাই বলনা?
ব্যথা দিলে ব্যথা পেতে হবে;
নির্মম হৃদয়ে, কাহারে বিদায় দিয়ে,
কারে হৃদে তুলে লই তবে !
৭
শাধবী
শতবার করেছি বারণ,
তবু শুনিলে না,
তবু কেহ পরাণ থাকিতে,
অশ। দলি সরেত গেলে না।
এস তবে এত যদি সাধ,
আর নাহি করিব বারণ ;
এস এস !
একেবারে সবে, সবে মিলি কর আলিঙ্গন।
আমার এ ক্ষীণ প্রাণ
তােমাদের অনন্ত তৃষার মাঝে
নিমেষে শুকাবে ;
সুখ দুঃখ প্রেম লাজ
পুনঃ অর সহিতে না হবে।
২০১১১৩০ ৬।
প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ।
ভেবেছিনু তার পানে চা’ব না'ক আর।
দূরে বহুদূরে গিয়াছি চলি,
দেশ দেশান্তরে ;
বিস্মৃতির শত আবরণে,
ঢেকে ছিনু আপন অন্তরে।
প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ
।
হৃদয়-ফলক হতে তন্ন তন্ন খুজে,
তার ছবি দিয়াছিনু মুছে -
আজি দেখি সকলি বিফল,-
বালির বাঁধন কোথ। রুদ্ধ করে
প্রবাহের জল ?
চণ্ড তরঙ্গঘিতে ভাসায়ে দু’কুলে,
তাহারি চরণ তলে মোরে দিল ফেলে ।
শত স্মৃতি জাগিল আবার,-
বিরহ মিলন কত শত পুর্নিমার,
কার দুটি ছল ছল সজল নয়ন
মাের স্মৃতি পথে আসি দিল দরশন।
মৰ্ম্মের নীরব বাণী—দীর্ঘশ্বাস কার—
ধীরে ধীরে ছুয়ে গেল হৃদয় আমার!
ভেসে গেল মান অভিমান ;
ভেসে গেল হৃদয়ের প্রতিজ্ঞা অটল ;
দ্রবিল গাে কঠিন পাষাণ।
দেখিলাম,
লাজ-অবনত শিরে
তুলি ধীরে ধীরে,
তার সেই আনত বয়ান ;
মিশে গেল পরাণে পরাণ।
২১।১১।১৩৬।
৯
মাধবী
অনুরােধ।
ওগো তুমি আমারে বেধনা ;
বিমুক্ত পরাণ লয়ে
জগতে বেড়াই ধেয়ে,
নাহি কভু প্রণয় বাসনা।
কে ভাঙ্গিবে মান অভিমান ?
কে সহিবে বিরহ যাতনা ?
কে মুছাবে কথায় কথায়
নয়নের কণা?
কি লােভ দেখাও মােরে দিবে বলি’ প্রাণ ?
অাপনা বিকাতে হবে দিতে প্রতিদান !
অাধার কুটীরে থাকি, সেই মাের ভাল,
কাষ নাই এনে সেথী প্রদীপের আলো;
শিখা যদি বেড়ে উঠে কোন মতে তার,
সাধের কুটীর পুড়ে হবে ছারখার।
২|১১১২০ ৬।
লাজময়ী।
ওগো তুমি ঢেকনা বয়ান
আর কেন মিছে লাজ,
বুঝা গেছে সবি আজ,
লুকায়ে লুকায়ে দেখা হোক অবসান।
১০
কোথা হতে।
বসনে কি ঢাকাযায় হৃদয়ের বাণী।
তরঙ্গ উঠিলে বুকে,
চাহে নাক কোন দিকে,
দু’কুল ভাষায়ে যায় ছুটিয়া অমনি।
তুমি ছিলে পাতা ঢাকা ফুল ;
আড়ালে আড়ালে রয়ে,
সৌরভ ঢালিয়া বায়ে,
আমার পরাণ সদা করিতে ব্যাকুল।
তৃষিত ভ্রমর প্রায়, মাের দুটি অখি,
খুজিয়া খুজিয়া ফিরে
আজিকে ধরেছে তোরে
মিছে ও লুকায়ে থাকা, মিছে দাও ফাকি।
অবরণ খুলে দাও দেখাও বয়ান,
নয়ন তুলিয়া চাও,
ইদয়ে হৃদয় দাও,
মিশে যাক পরণে পরাণ।
৩১২/১৩০ ৬।
কোথা হতে।
কোথা হতে এলে তুমি লয়ে আঁখিজল ?
কে ভেঙ্গে তােমার প্রাণ
করে দিল খান খান,
কঠিন করেতে কেগো স্পর্শিল কমল।
মাধবী
৩
শতবার করেছিনু আমিত বারণ,
তুমি শুনিলে না ;
পুরাণ বাধন খুলে
জগতে ছুটিয়া গেলে,
খুজে ল’তে নূতন আশ্রম ;
শত তখি অনিমিখে
চাহিল তােমার দিকে,
শত ভাষা শুনিল শ্রবণ ;
আকুল আহবান মাকে
হারায়ে ফেলিলে নিজে,
ভাবিবার পেলে না সময় ;
ছুটিয়া নিকটে গেলে
আপনা সঁপিয়া দিলে,
চাহিলে না ভুলে বিনিময় ;
হেসে খেলে কেটে গেল বেলা-
প্রথম প্রেমের মেলা ;
মলিন সন্ধ্যায়,
সকলে রুধিল দ্বার,
মিছে হল, হাহাকার ;
সেথা . আর পেলে না আশ্রয়।
কে তুমি
সাধের তরণী লয়ে খেলিতে নদীর বুকে,
সেই ছিল ভাল ;
হায় কোন্ ভুলে ভুলে’
ছুটিলে জলধি কোলে,
তরঙ্গে তরঙ্গে সব ভেঙ্গে চুরে গেল।
৪|১২|১৩৭৬।
কে তুমি।
কে তুমি আমার দুয়ারে ?
আমি সন্ধ্যার বায়ে
প্রদীপ নিয়ে,
বসে আছি হেত। একারে
কোথা ছিলে বল প্রভাতের কালে,
কোথায় দীপ্ত দুপুর কাটালে ?
দিবা অবসানে, অ” ধারের সনে,
খুজিতে আসিলে আমারে ।
এখানেতে আর ললিতলহরে,
বাজে নাক বীণ। সপ্ত সুস্বরে,
ওগো, মৃদু হাসি রাশি আপনা বিকাশি,
ফুটেনাক আর অধরে।
আৰ্ত্ত কণ্ঠ, দীঘল-নিশাস
এখানেতে এবে করিতেছে বাস,
হেথা নয়নের জলে বয়ান ভাসিলে
মুছাতে নাহি যে কে রে?
১৩
মাধবী।
ভুল করে তুমি আসিয়াছ হেথা,
এবে নাহি কেহ ঘুচাইবে ব্যথা,
আমি আপনার দুখে
আপনি মরিয়ে,
পড়িয়া আছি এ কুটীরে !
৫|১১৩৬।
প্রভাতে।
বাসি কিনা বাসি ভাল
সে কথা জানাব এবে,
কেমন করে!
এখন প্রভাত কালে,
নবীন কিরণ জাগে,
শত আঁখি পড়ে ঢলে
তোমার পরে,
শত দিকে শত প্রাণ
গাহিছে তােমার গান,
শত জন ভাঙ্গে মান
চরণ ধরে'।
বাসি কিনা বাসি ভাল,
সে কথা জানাব এবে
কেমন করে
অসময়ে। আমার এ ক্ষীণ প্রাণ, স্বর ক্ষীণতর- সে ত পশিবে না এবে এবণে তোমার ; এত কোলাহল মাঝে, পথ নাহি পাবে সে যে, শত প্রতিঘাত সহে’ আসিবে ফিরে ! তাই শুধু হাসি দেখি, এখন ফিরিনু সখি ; মরমের কথা থাক, মরমে মরে। তোরে বাসি কি না বাসি ভাল সে কথা জানাব এবে, কেমন ক'রে। ৬১২১৩০৬। অসময়ে। অসময়ে কেন গো আহ্বান এখন প্রেমের খেলা হয়নি যে অবসান।
মাধবী।
এখন বসন্ত প্রাতে
শুনা যায় পিক-স্বর,
এখন মাধবী বনে
ফুটে ফুল থরে থর ;
এখন মধুর লােভে
ভ্রমর যে ঘুমে মরে,
এখন ফুটে যে হাসি
প্রভাত নীহার 'পরে।
এই প্রথম রাতি
আজিকে বাসর দিনে,
এখন গাহিনি গান,
এই ত বেঁধেছি বীণে!
বলিতে কোন কথা,
ঘুচিতে তার লাজ,
সুখের স্বপন ঘাের
তুমি ভেঙ্গে দিলে আজ।
আকুলি ব্যাকুলি মাের
কাদিয়া উঠিল প্রাণ,
সহসা সাধের বীণা
গাহিল বিদায় গান !
অসময়ে কেন গো আহ্বান !
৮।১২।১৩০৬।
শূন্য কুঞ্জ।
সন্ধ্যায়।
আর কেন বন্ধ কর খেলা,
ওই পড়ে এল বেলা।
এখনি আসিবে যামি, আঁধার লইয়া নামি
যেতে হবে দূর পথে, একান্ত একেলা।
বাঁধনের ফাস খুলে দাড়াও দুয়ারে,
উঠিলে আহ্বান গান কে রাখিবে ধরে'।
ও মােহ এননা আর, কাছে টেনে আপনার,
বাড়াবে বিদায় ব্যথা কেন ইচ্ছা করে ?
ফুটুক মাধবী কুঞ্জে ফুল থরে থরে,
প্রভাত আছে গো যার শুধু তারি তরে,
গাহক পঞ্চমে পিক, কাপায়ে বিতান,
সে গান শুনুক, যার নবীন পরাণ।
তােমাদের হাসি খেলা সাজে কিগাে আর।
সাঝের বাতাসে ভাসে বিষাদের ভার।
১৯১২১৩০৬।
শূন্য কুঞ্জ।
কোথা যাও ? ভ্রান্ত মন, ফিরাও চরণ ;
ও তমাল কুঞ্জ, আর শীত শীলাতল,
নারিবে ঘুচাতে তব হৃদয়-বেদন।
j
মাধবী।.
;
সে বঁশি বাজেনা আর, নাহি সেখা গান,
ছুটেনা যমুনা জল বহিয়া উজান ;
সেথা নাহি ফুটে ফুল, স্তব্ধ তরুলতা,
সমীর সৌরভ মেখে আসিবে না ছুটি,
তােমারে শুনাতে শত প্রণয়েরি গাথা।,
শিখাহীন দীপ কোথা আলো করে দান?
বারিহীন স্রোতশিনী
শীতল করে কি কভু তৃষিত পরাণ !
পিকরাজ উড়ে গেছে কোন্ দেশান্তরে,
শুধুই বাড়াতে ব্যথা
শূন্য কুঞ্জে চলিয়াছ বৃথা অভিসারে !
২১।১২১৩০৬।
করুণা।
ধীরে এস, ধীরে, ফেলগাে চরণ,
আসে পাশে আছে পড়ি শত ভগ্ন প্রাণ,
দেখ যেন কার হৃদে না লাগে বেদন।
বসন্তের অবসানে ঝরা ফুল মত
আজি তারা শুয়েছে ধুলায়,
বুঝি এককালে ছিল সৌরভ গৌরব,
এ বিখে হাসি শোভি স্বর্গ সুষমায় ।
১৮
আছে তব শত সুখরাশি,
কাজ নাই সে কথা জানায়ে,
তাহাদের মুখ চাহি,
আপনারে রাখ গাে লুকায়ে।
দুরে ফেল বেশ ভূষ বর-অভয়ণ,
ও সব সাজে না হেথা,
পরে এস শত-ছিন্ন-মলিন-বসন।
হের ওই ঝরে আঁখিজল,
পার যদি প্রবাহে প্রবাহ ঢালি
শান্ত কর উচ্ছসিত হৃদয় চঞ্চল।
২৩শে, চৈত্র, ১৩০৬।
কবে।
বল সখি বল কবে কেমন দিনে,
প্রথম মিলন হ’ল তমাল বনে।
সে দিন কি মধু রাতি, সলাজে প্রকৃতি সতী,
রজত অঞ্চল খানি দিছিল টেনে।
কালিন্দীর কাল জল ছুটে ছিল ছল ছল
ছড়ায়ে মুকুতা শত প্রতি চরণে,
রজনীগন্ধার বার
বহেছিল বনময়,
সৌরভে পাগল পারা মৃদু পবনে,
বল সখি বল কবে, কেমন দিনে।
মাধবী।
সে দিন আছিল কিগাে আঁধার রাতি ?
অন্ধ দ্বিপ্রহরে, হলে সবে নিশুতি--
চরণমঞ্জীর খুলে
দিয়েছিলে দূরে ফেলে,
বন-পথে খেয়েছিলে চকিত-কাণে,
বল সখি বল কবে, কেমন দিনে।
সেকি তবে কিগাে কোন সাঁঝের কালে ?
হাসিলে মালতী-বন বিকচ ফুলে,
মুনায় জুল নিতে,
সাসিতে গাে বন-পথে,
কনক-কলসী কাকে নত নয়নে,
কাপাইয়া কার প্রাণ, রিনিক ঝিনিকি ঝন্টু
মঞ্জীর বাজিত পদে মধুর স্বনে,
বল সখি, বল কবে, কেমন দিনে!
সে কি কোন নিদাঘের দুপুর বেলা?
চারিদিকে কেহ নাহি একা নিরালা,
যমুনার স্থির জল
রবি করে ঝল মল,
ছায়া ভরা শিলা-তল-তমাল বনে,
বসে ছিলে চেয়ে কার পথের পানে ?
বিন্দু বিন্দু স্বেদ ঝরে, কাচলি খসিয়া পড়ে
অঞ্চল দুলায়ে, ডাক শীত পনে।
বল সখি বল কবে, কেমন দিনে।
সে দিন ছিল কি মেখে গগন ভরা ?
দিবধু কেদে কেদে হইল সারা;
কেতকী-সৌরভ মেখে, আর্দ্র বায়ু ধায় বেগে,
সজল পিছল পথে, রাখি চরণে,
চলে ছিলে বন মাঝে, সিক্ত-বসনে।
দামিনী কামিনী হাসি,, সঘনে কাপায় দিশি,
পরাণ শিহরি উঠে তাহারি সনে।
বল সখি বল কবে, কেমন দিনে।
সেকি গাে শরতে, • শিশির-সিঞ্চিত পথে
চলে ছিলে বন মাঝে, দ্রুত চরণে।
সেফালির ঝরা ফুল,
ছেয়েছিল এলাে চুল ;
বেজেছিল কার বাঁশি উদাসি প্রাণ।
বল সখি বল কবে, কেমন দিনে।
কি কোন মধুমাসে, মুকুলিত-ফুল-বাসে,
চলেছিলে তার আশে নিকুঞ্জ বনে,
কোকিল কুজন গুনি আকুল প্রাণে।
বল সখি বল কবে, কেমন দিনে
প্রথম মিলন হল, তাহারি সনে।
২৫শে, চৈত্র, ১৩৬।
২
মাধবী।
এখনাে ফিরাও।
।
এখনো ফিরাও তরী ওরে মুঢ় মন,
আজি যেই স্থির নীরে ভাসিয়া চলেছ,
কালে তায় উঠিবেক মহা প্রভঞ্জন।
অকুল অনন্ত সিন্ধু উঠিবে গর্জিয়া,
ও স্বচ্ছ আরসি খানি, হবে শােন;
সহ তরঙ্গ ভঙ্গ আসিবে ছুটিয়া,
ভীষণ ভাণ্ডব নৃত্যে আকুলিয়া প্রাণ।
এ বিষ-সৌন্দৰ্য, কোথা নিমেষে লুকাবে,
হৃদয়ের মুখচ্ছবি হইবে মলিন,
আধার ঘেরিবে আসি তব চারিভিতে,
বৃথাই চাহিৰে পিছে হয়ে আশা হীন।
তীরে যারা রবে তারা গুনিবেন। শুনি,
আকুল আহ্বান ব পরিত্রাণ তরে।
ভাঙ্গি শতখান হয়ে সাধের তরণী
ডুবিবে ডুবিবে হৃদে লইয়া তােমারে,
অনন্ত সমাধি লতি সাগর গবে।
sঠা বৈশাখ, ১৩০৭
:
কেন পি।
কেন আসি?
কেন আসি?
তোমারে জানাতে মাের শত দুখরাশি।
তুমি বেলাভুমি ওগো আমি নীলজল,
তরঙ্গ উঠিলে বুকে
ধাই বেগে ভর দিকে,
জানাতে আমার দুখ-কাহিনী সকল ;
কল কল আর্ত কাপে হৃদি ধর ধন,
এলায়ে পড়ে গাে মাের ফেনিল অঞ্চল
তুমি শতখান করে দাও গাে ভেঙ্গে চুরে
আমার হৃদয়,
কঠিন পাষাণ সম নির্মম নির্দয় ।
সহি শত অপমান তবু ও মানে না প্রাণ,
পুনঃ আসি ফিরে,
শত গুণ প্রেম ভরে প্লাবিয়া ফেলিগো তােরে,
লুকায়ে রাখতে চাহি হৃদয়ের নিভৃত কুটীরে।
সে অাশা অাশাই রয়, নিমেষেতে ভেঙ্গে যায়,
মুখের স্বপন ;
লাজে ম্রিয়মাণ হয়ে আবার লুটাই গিয়ে,
বেষ্টি তব যুগল চরণ।
তুমিই ঠেলেহ পায়,
আমি ত গো ভুলিতে পারিনি ;
মাধবী।
ও প্রাণেতে ব্যথা দিয়ে কি হবে গাে সুখ নিয়ে,
আপনার দুখে মরে থাকিগো আপনি।
ওগাে তাই চির তরে এত আনাগােনা,
কাতর ক্রন্দন আর রু আরাধনা ;
শুধু, তােমারে বুঝাতে মাের হৃদয় বেদনা!
৭২, ১৩৭।
আশা।
ওগাে এত ভাল নয়।
পরায়ে মন্দার মালা, স্বর্গীয় সুষমা ঢালা,
সুখ মন্দাকিনী নীরে,
ভাসায়ে দিওনা মাের জীবন ভেলায়।
নিরাশ প্রণয় ভরে যাক আজি বাক ফিরে,
উর্বশী, মেনকা, রম্ভা,
মলিন শােভায়।
নন্দনের উপবনে দাও যবনিকা টেনে,
কাজ কিগো,
পারিজাত মুকুলের সৌরভ ফুটায়ে।
রুদ্ধকর কুদ্বার, শেষ হােক অভিসার,
কাজ ওগো নাহি আর,
প্রণয়ের প্রতিমা জাগায়ে।
রায়।
w
অত উর্ধে উঠে যদি,
নিমেষে পড়িতে হয় অতলের তলে,
ভাঙ্গি এই হৃদিখান হবে যে গাে শত খান,
এত সুখ, স্বপ্ন, গান, কোথা যাবে চলে।
স্মৃতি শুধু বুকে ধরে’, মরিব কি ঘুরে ঘুরে,
জগতের প্রতি প্রান্ত করি অন্বেষণ ?
ষারে, কেহ কভু দেথে নাই, কেহ কভু পায় নাই,
নিস্ফল-আয়াস লতি, তাহার কায়ণ।
১৪া, ৩৭।
রায়খা।
কালের করাল কীৰ্ত্তি ঘােষিতে জগতে
রহিয়াছ অতীতের তুমি ভগ্নচুড়
গৌরব কেতন! কোথা তব প্রতিষ্ঠাতা ?
রাজা কিম্বা রাজ মন্ত্রী,-কোথা রাজ পুর,
কনক কিরীট, ভেদি অনন্ত গগন ?
কোথা তব বাঁধা ঘাট, কোথ। স্বচ্ছ নীল,
আকণ্ঠ পুরিত স, শীত, ঢল ঢল !
কোথা সেই রাজবালা? কোথা মুক্তচীর,
যৌবন-মদিরাম সহরিগণ,
কেলিত যাহারা তব হৃদয় ভিতরে,
-
মাধবী।
কৌতুক তরঙ্গে লাজ দিয়া বিসর্জন ?
আজি তাই মৌন ম্লান, বিক্ষুব্ধ অন্তরে
তোমারে হেরিগো আমি ; দুর স্মৃতি মোরে
টানিয়া ফেলিয়া দেয় অতীতের ক্রোড়ে।
১৮২, ১৩০৭।
একা রবি উঠে
গগণের কোলে,,
একাই ডুবিয়া যায়;
এক গ্রহ তারা ঘোরে নিজ পথে,
কে কারে বাধিতে চায় ;
এক। রাতি আসে, একা দিনমান,
কে কারে দিয়াছে ধরা ;
পূরাতন গেলে
নুতন এসেছে,
কভু কি মিশেছে তারা?
একা এ অসীম
উনার গগন,
রয়েছে জগৎ ছেয়ে ;
অনন্তের পথে
অনন্ত সময়
একাই চলেছে ধেয়ে ।
একা একা সব,
একা এ বিশ্ব
তবে মিছে কেন হয়?
সাধের তরী।
পরাণ বাধিতে
মিলন স্বাধনে,
বৃথা এ হৃদয় চায় ?
নিমেষের মিল,
নিমেষের খেলা,
নিমেষের অলাপন,
ঘুম না ভাঙ্গিতে
অাখি না মেলিতে,
মিলায় সুখ স্বপন।
ফুলে ফুলে খেলা, ফুলে মেশা-মিশি,
শুধু দুদিনেরি তরে,
যন্ত কাটিলে
মলয় থামিলে,
কে কোথা ঝরিয়া মরে।
একা চিরকাল, একা আসি যাই,
এই ত নিয়ম ভবে,
ক্ষণিকের তরে
আপনা বাঁধিয়া,
বলনা কি হবে তবে?
১৯২, ১৩০৭।
সাধের তরী।
সাধের তরণী খুলি চলেছি ভেসে,
কি জানি কোথায় এক অজানা দেশে।
নাহি কুল, নাহি তীর, অসীম সে জলধির,
সুনীল গভীর নীর নাচিছে হেসে;
কল কল ছল ছল কত কি ভাষে।
২
মাধবী।
বহে যায় বহে যায় সাধের তরী,
পুলক আলোকে হৃদি গিয়াছে ভরি ;
সাহানা ললিত রাগে পরাণ উঠেছে জেগে,
স্বপন-আবেশ অাঁখি আসিছে ঘিরি।
ধরা যেন ধরা নয় অরগ পুরী।
মাধুরী উঠেছে ফুটি নীলগগনে,
চেয়ে দেখি তার পানে উদাস প্রাণে,
অসীম পাখার নীচে উদার আকাশ উচে,
প্রসারিয়া আপনারে শতেক টানে,
পরাণ মিশিতে চায় তাদের সনে।
ক্রমশঃ কাটিল বেলা, বহিয়া তরী,
ক্লান্ত রবি ক্ষান্ত হয়ে পড়িল সরি,
দূরে ওই দেখা যায়
দ্বীপ এক শোভাময়,
ওখানে বাঁধিব মাের সাধের তরী।
বহে চল, এল রাতি নভ অধারি।
কে ডাকে কে ডাকে ওই, অমিয় ঢালা
স্বর যেন, “এই কুলে ভিড়াও ভেলা,
নন্দনের উপবন
হেথা আছে অগনন,
হেথা পাবে পরাণের নুতন খেলা।”
কে ডাকে কে ডাকে ওই, ভিড়াও ভেলা।
২৮
ভ্রান্ত পাই
যেমনি ভিড়ান্ত তরী কূলেতে এসে,
অমনি তরুণী এক মধুর হেসে,
কোমল চরণ যায়,
ভাঙ্গিল তরণী হায়,
ডুবিলাম নিরুপায় অতল-শেষে,
আশা ভাষা কোথা গেল অকুলে ভেবে।
২১২, ১৩০৭।
ভ্রান্ত পান্থ।
ওরে পান্থ আজিও কি রবে তুমি বসে,
ওই ত বাড়িয়ে বেলা, দিনান্তে ফুরাবে মেলা,
জান নাহি যেতে হবে দূর, দূর দেশে।
শত যাত্রী চলিয়াছে হের ওই পথে,
নাহি শান্তি, নিরলস,
লভিতে অনন্ত যশ,
রাখিতে অনন্ত কীৰ্ত্তি জগতের সাথে ।
উঠি পড়ি শত বার, চল চল চল ;
ধৈর্য্যের ধরগগা হাত, উড়ে যাক প্রতিঘাত,
বাধা বিঘ্ন ভূমীসাৎ যা রসাতল।
বল তাদের আর কি অাছে সম্বল।
সাহসে বাঁধগো বুক, থেমে যাক ধুক ধুক,
হৃদয়ের সব টুকু দৌর্বল্য কেবল।
২৯
মাধবী।
এই বেলা এই বেলা আয় আয় আয়,
আরাে যে গো শ্রান্ত হৰি, উঠিলে প্রখর রবি;
তপ্ত ধূলি-রাখি-পথে চলা হবে দার ।
ভেবেছ কি বিকাশেতে জাগাবে পরাণ '?
বৃথা, বৃথা ভ্রান্ত মন, বৃথা অশি অকারণ,
ঘন অবসাদ অসি ছাইবে নয়ান।
হের, ওই চেয়ে দেখ সুনীল গগণে,
কত মূৰ্ত্তি জ্যোতির্ময়, বিমল কিরণে ভয়,
জাগ জাগ উহাদের মহত্ত্ব দর্শনে।
উহারা তােমারি মত পান্থ কয় জন
সাধিয়া আপন কাজ, এ মর জগৎ মাঝ,
জ্যোতির্ময় করিয়াছ আপন জীবন।
উঠ পাস্থ, উঠ ভ্রান্ত, চল চল চল ;
পথ পাপের ছায়, কেন মিছে পড়ে হায় ;
মহত্ত্ব দেখায়ে কর জীবন সফল।
২২শে ২, ১৩৭।
বিষাদ।
ওগো, তােমরা হেসে খেলে উগমি যাও গো,
আমি থাকি শুধু পড়িয়া,
অাধার গৃহু কোণে,
ঢাকিয়া দুনয়নে
মরমে মঙ্গমে মরিয়া।
৩০
বিষাদ।
ওগাে তােমরা যেন তারা, সাঁঝের গগণে,
অাছে আশা, সুখরাতি গো,
আমি গো উহা তার', মলিন অশা-হারা,
নিমেষের তরে অাছি গো।
ওগো তােমরা যেন ওই বরষা তটিনী।
দুকুল চলেছ প্লাবিয়া,
আমি গাে যেন, আর,
নিদাঘে দামোদর,
কল গনি গেছে থামিয়া।
ওগো তােমরা হের চঁাদ নীলিম গগণে,
ফুটেছে মাধুরী বিকশি,
আমার কাছে হায়,
সে যেন বিষময়,
হৃদয় দেয় গো বিবশি।
ওগো তােমরা ফাগুনের দখিণ-বাতাসে
ফুটে উঠ ফুল যত গো;
আমারে সে যে হায়, শুকায়ে চলে যায়,
শিশির কণিকা মত গো।
ওগাে তােমরা প্রেম ভরে উঠগে শিহরি,
শুনিয়া কোকিল কাকলী,
যখন তাতে হায়, আমার টুটে যায়,
নয়ন বহে গো উথলি।
৩১
মাধবী
ওগো তোমরা এ জগৎ দেখেছ সুখময়,
নয়নে কি যেন মাখিয়া,
কি জানি কেন ভাই, আমি যে পারি নাই,
কালিমা হৃদয়ে ভরিয়া।
ওগো তােমরা চেয়ে চল, কত না হিয়া গাে
লুটায়ে পড়িবে চরণে,
হয় আমার মুখ হেরে, সকলে যায় দূরে
কেহ না মুছায় নয়নে।
২৩শে ২, ১৭ |
তাই।
তাই এত ভাল বাসি তােরে,
না বলিতে না কহিতে, আপনি সাধিতা,
প্রাণ তুমি সপে দিলে মােরে।
বাসি কি না বাসি ভাল সে কথা পুছ নি,
মুছাতে নয়ন জল কভুত বলনি।
দূর হতে যাও দেখি, চাহিলে ফিরাও অৰি
পাছে বুঝে ফেলি তব হৃদয় কাহিনী।
সাধিলেও কথা নাহি কও,
সপিলেও লওনা পরাণ,
কাছে গেলে, দূরে তুমি করগো পয়ান।
কুসুমের অযাচিত সৌরভের মত,
আমার পরাণ সদা কর আমােদিত।
২৪শে ২, ১৩০৭।
আজি তবে শেষ।
ছিড়ে ফেলি বকুল মালিক,
ভেসে যাক বিস্মৃতির জলে
আমাদের অতীতের কাহিনী অশেষ।
ঘুরিছে যে ছায়া খানি হৃদয়ের কাছে,
আজি তারে শােয়াইব সমাধির মাঝে।
মিছে অশ্রু মিছে হাহাকার,
চির দিন নহেত কাহার'।
ফুল ফুটে, ফুল ঝরে যায়,
যত দিন মহে প্রাণ, সৌরভ করে সে দান;
শুকালে কি জগৎ শুকায় ?
তুমি গেলে, তবুও গো রহিব ধরায়।
মাধবী।
কাজ নাই আর কথা কয়ে,
কাজ নাই শেষ চাওয়া চেয়ে ;
তুমি যাও নিজ পথে, আমি যাই বিপরীতে,
বিস্মৃতি জাগুক মাঝে, অতীতরে (ছয়ে।
২৫শে ২ ১৩• ৭।
অতৃপ্তি।
ঢাল ঢাল অারো ঢাল
পিয়াস মিটেনি মাের, :
পাগল হয়েছি আমি,
পিয়ে সে মদিনা তোর।
জ্ঞানহীন, স্পন্দ হীন,
পড়ে আছি নিশিদিন,
নয়নে লেগেছে যেন,
বরগ স্বপন ঘােষ।
নীলিমায়, নীলিমায়,
কিরূপ আকাশে তায়,
প্রকৃতি বধুর হাসি,
কাড়ছে পরাণ মাের।
আরাে ঢাল, আরে ঢাল,
পিয়াস মিটেনি মাের।
,
৩ঃ
অতৃপ্তি। চাদের বিমল হাস, ফুলের সুরভি খাস মিশাইয়া দিও তায় আমার পরাণ-চোর ? সাঁঝের কালিমা কোলে ওই বিষাদিনী দোলে, দিও আর এক ফোটা তাহার নয়ন পাের, তোমার মদিরা পিয়ে, হেসে কেঁদে হই ভোর। আরো ঢাল অারো ঢাল, পিয়ান মিটেনি মাের। কেন, ক্ষীণ নিরিণী, বিজনে কাদিয়া মরে, তটিনী উলসি ধায়, অাপনা সপিতে কারে। অথির সাগর নীয়, কার তরে করে সোয়, জাগাবে সে কথা প্রাণে মদির মাধুরী তাের। ফুল ফোটা, ফুল হাস, তারার নীরব ভাষ-
মাধবী।
আধ নিমিলিত অাখে,
কি যেন প্রেমের নেষা-
জাগিবে জাগিবে প্রাণে,
ফুটিবে কতই ভাষা
আর ঢাল আরো ঢাল,
আমার পরাণ-চোর,
তােমার মদিরা তৃষা,
এখনো মেটেনি মাের।
}
১৭/ ৩, ১৩৭
সাঁঝের গগন।
কোথায় লুকান ছিল
বল তাের এ রতন।
এমন মাধুবী রাশি,
প্রাণ মন বিমোহন।
ওদিকে উদার নীর,
নাহি কুল নাহি তীর,
নীলিমায় নীলিমায়
ছাইয়াছে ত্রিভুবন।
অচল তরঙ্গ গুলি
ঘুমে যেন নিমগন ।
সাঁঝের গগন।
এ দিকে আঙ্গুরে ভায়
পৰ্বত কালিমাময়,
ছুটেছে কনক নদী
কত দিকে অগণন,-
ঝলকে ঝলকে ভার
কি মাধুরী, কি কিরণ।
কত শত মেঘচয়
নীল পীত আভাময়,
স্বর্গীয় সুষম রাশি
করে যেন বিতরণ;
আবার নিমেষে তায়
কিবা রূপ বিবৰ্ত্তণ।
হোখায় অদুর কোণে,
লুকায়ে পাতার বনে,
চপলা নয়ন হানে ;
শিহরিয়া উঠে প্রাণ।
জাগে ভাবুকের মনে
কত ভাষা কত গান
হেরি নাই এ নয়নে,
ক; আর এ জীবনে,
এমন সুষমা হাসি,
বিষের ভুলায় মন।
মাধবী।
এ জীবনে পুন আর,
হবে কিগো দরশন।
অন্দরে মধুরে মেশা,
আহা, কি মদির নেষা :
জ্ঞান হীন, স্পন্দ হীন,
হেরিতেছি কি স্বপন ?
সুমায় সুষমায়,
বিয়া গিয়াছে মন।
৮। ৪, ১৩০৭ ।
প্রেমের অপমান।
শ'র কেন, বুঝ গেছে সব ;
আপনার প্রাণ দিয়ে,
কি ব্যথা পেয়েছে হিয়ে,
এ জগতে কে করিবে প্রেমের গৌরব ।
নিশি দিন আরাধন,
প্রাণ ভরে আকিঞ্চন ;
সহ সহ ব'লে, শুধু কাতর যাচনা।
কি ফল লভিনু তায়,
রূকুটি নয়ন খায়
হৃৎপিণ্ড ছিড়ে যায়,---সহেনা যাতনা
যদেশ যাত্রা :
উপেক্ষা কথার ছলে,
পদাঘাতে প্রাণ দলে,
নিরাশায় ডুবে, ফেলি হারায়ে আপন।
ছলনা ছলনাময়
এ এম কিছুই নয়,
অাজ যেথা ফুটে ফুল, কাল লেখা ফুণ ।
কথায় সে প্রতিদান,
প্রোয়ে শুধু অপমান ;-
এ ই দে পাবেন। স্থান ও প্রতিমা আর ।
দাও ভেঙ্গে চুরে ফেলে
অগাধ বিস্মৃতি জলে,
রাজুক বিমল শান্তি হৃদয়ে আমার
১ই শ্রাবণ ১৩০
স্বদেশ যাত্রা।
তোমায় আমায়,
চল চল ভেসে চল,
ডাকিছে সুনীল জল
কল কল চুল চল,-কতকি ভাষায় {
ভাসায়ে দিয়েছি, তরী,
আর কেন মিছে দেরি,
বাজিয়া উঠেছে ভেরী, দূর কিনারায় ।
মাধবী ।
বহিছে ৰায় ওই,
তুলে দাও পাল সই,
এবারের মত লই, বিদায় বিদায়
পিছনে অপার বিশ্ব
নিমেৰে হ'বে অদৃশ্য ;
মায়া মমতার দাস্য রহিবে কোথায় ?
জগতের কার্ষা শেষ,
ঘুচে গেছে হিংসা দ্বেষ,
জয়া ব্যাধি ভস্মশেষ, নাহি আর ভয়।
হৃদয়ে বিমল শান্তি,
ঘুচে গেছে ভুল ভ্রান্তি,
পরাণের সব ক্লান্তি পাইয়াছে লয় ।
এখনি মধুর হাসি
সম্মুখে উঠিবে ভাসি,
বিমল কিরণ রাশি পুলকি হৃদয়।
মিছে খেলা অবসান;
এস মিলে গাই গান,
ফিরেছে প্রবাসী প্রাণ আপন আলয়।
স্তম্ভিত সমস্ত বিশ্ব
দেখুক অপূর্ব দৃশ্য ;
অধরে খেলুক হাস্য, আয় আয় আয় ।
১ই শ্রাবণ, ১৩০৭}
অনন্ত প্রেম।
অনন্ত প্রেম।
ওগাে তাই যদি হয় ;
তবে আর মিছে কেন,
হৃদি মাঝে টেনে আন,
কাজ নাই বড়য়ে প্রণয়।
দুদিনেরি তরে যদি, এ বাহু বন্ধন,
আমি চাহিনাক তব প্রেম আলিঙ্গন
প্রাণ যদি দিতে পার
চির দিন তরে;
এস তবে হৃদয় ভিতরে ।
বুক-ভরা ভালবাসা করিয়া যতন
রাখিয়াছি, সব তােমা' করিব অর্পণ।
নতুবা, মুছগো আঁখি
অঞ্চলে তোমার,
আজি শেষ হােক অভিসার ;
খুজিতে জগৎ মাঝে আমি চলে যাই,
অনন্ত এণয় দেখি পাই কিনা পাই।
১৮ই মাঘ, ১৩৬
৪১
মাধবী
সে দিনের কথা।
সে যেন গো সকলি স্বপন ?
হাসে শশী সুবিমল,
উজলিয়া বনস্থল,
আমি বসে হারায়ে আপন
সম্মুখে বাঁধের জল,
জাছনায় বাল মল,
সমীরণ, খেলায় হিল্লোল :
ভেঙ্গে কুটি কুটি হয়ে,
চাদিম। যেতেছে বয়ে,
“কলনে উঠেছে কল্লোল ?
৩ট-রু ছায়া জলে
নাচিয়েছে তালে তালে,
ঢাকা তার আবেশে নয়ান :
তরুশিরে তরু পাতা
গাহিছে মরম গাথা,
আলো ছায়া মাখা তার প্রাণ।
লতাটা একটি ধারে
জড়াইয়া তরুটীরে,
হাসিতেছে ফুল ফুল হাসি ।
২
সে দিনের কথা।
কি ভাষা তাহাতে রয়,
বুঝিয়ে না বুঝা যায়,
পরাণেরে করিছে উদাসী?
শেফালীর তরু দুটি,
ফুল ভারে পড়ে লুটি,
সুরভিতে পরাণ বিকায়;
ভাষা নাহি, আশা নাহি,
প্রতিদান নাহি চাহি,
জগতেরে আপনা বিলায়।
অদূরে পলাশ বন ;
কত কুঞ্জ নিকেতন
গড় অাছে বুনি তার তলে ;
দেখিয়া টাদিনী রাতি,
পাইয়ে প্রাণের সাথি,
৬:য়িণী তায় যেন খেলে ।
বুঝিবা বাজায় বাঁশী,
অধরে খেলায় হাসি,
মেশা মিশি নয়নে নয়লে ;
মনে হয় সমীরণ,
পথ হারা তার তান,
ধীরে ধীরে প্রাণে দেয় এনে ।
মাধবী
আবার ওদিকে ওই
গাছের আড়ালে রই
দেখা দেয় কয়টি কুটার ;
প্রেম, প্রীতি, ভালবাসা,
সেথা কিগো আছে আশা?
কিম্বা শুধু নয়নের নীর :
করুণ করুণ তান,
মাঝে মাঝে উঠে গান,
ভাষা তার বুঝা নাহি যায় ;
হাদয়ের স্তরে স্তরে,
আঘাতিয়া ধীরে ধীরে,
বিষাদের সহরী জাগায়।
মাধুরী মদিরা পিয়ে,
আবেশে অবশ হিয়ে,
ঢুলু ঢুলু দুইটা নয়ন।
এত যে সুষমা ভায়,
জগতে সব নয়;
মনে হয় সকলি স্বপন।
আজি এ নীরবে বসে,
সেই সব মনে আসে,
অকুলিয়া সমস্ত পরাণ ;
শুধু একবার
প্রতি তঙ্গী উঠে জেগে,
গলিত ললিত রাগে
ঝঙ্কারিয়া ধরিয়াছে তান।
১৪শে শ্রাবণ, ১৩০৭।
শুধু একবার।
শুধু একবার,
ভােমাতে আমাতে দেখা, সেই সে বিতান তলে
মাধবী লতার।
কভু কা'রে দেখি নাই, কভু কা'রে চিনি নাই,
একান্ত নুতন যেন, দুইটী হৃদয় ;
নয়নে নয়নে চাই, আর কোন ভাষা নাই,
বু পড়া হয়ে গেল তােমায় আমায় ।
মুখমুখি দুই জনে বসিয়া নিভৃত কোণে--
জগতের কোলাহল নাহি পায় স্থান ;
অাত্মহারা দুটী প্রাণ, না ভাবিয়া পরিণাম,
আপনার সবটুকু করে দিনু দান।
তার পর, তার পর স্বপন ভেঙ্গেছে ;
কোথা তুমি, কোথা আমি, জানেন অন্তর্যামী
কি ব্যথার বােঝা হয়ে তরণী ভেসেছে।
অব। সেই হতে ঘুরে ঘুরে বেড়াই সাগর নীরে, পেনু তােমায় ; নাহি পাই কোন ঠাই, ক্ষণিক অারাম নাই- জগৎ নিদয় । কেহবা বোঝে না ভাষা, কেহবা দেয়না আশা, কেহ উপহাসে, ব্যথা ভুরা তরী মোর, কোন কুলে পাবে কোর, নাহি জানি; নিরুপায় ডুবিবে কি শেষে ? যখনি একথা ভাবি, তব স্মৃতি উঠে জাগি আকুলি পরাণ ; সুদয়ের উৎস টুটী', করুণা উঠে গা ফুটি', ভেসে যায় অাখি নীরে, দুইটী নয়ান। ২৯শে শ্রাবণ ১৩. । । আয় আয় বৰষ। আবার। হাসিয়া চপলা হাসি, মেঘ কৃষ্ণ কেশ রাশি, এলাইয়া, দুলাইয়া, ছড়ায়ে বাহার । আয় আয় বরযা আবার ।
বরষা।
তৃষিত চাতক ওই,
আছে তব পথ চাই,
বকুল মুকুল ডালে, কেতকী, কলার ।
আয় আয় বরষা আবার।
ভরা নদী যাক ছুটে,
একুল ওকুল লুটে,
লাইয়া দেশে দেশে করুণার ধা।
অায় আয় বরষা আবাৰ।
গাহি নদী কল গান
প্রাবুক পুলকে প্রাণ,
তুলুক কবির বীণা মধুর ঝঙ্কা।
আয় অঙ্গ বৰ। আবার।
ক্ষেতে জল থই থই,
কৃষাণ উঠিল গাই',
গ্রাম শস্য শীর্ষ নাচে, কাতারে কাতার।
আয় আয় বরষা আবার।
তরু লতা ঢল ঢলে,
বিধৌত তােমারি জলে,
বিমল অমল মুক্তি প্রকৃতি প্রিয়ার।
আয় অমি বরষা আবার
মাধবী
বলাকা আকাশে উঠে,
বেড়ায় আমােদে ছুটে,
মেঘে মাখা রবি-কর, মধুরী অপার।
আয় আয় বরষা আবার।
সমস্ত জগৎ মম
হেন যেন মনে হয়,
সুসের লহরী রাশি, খেলে অনিবার।
আয় আয় বরষা আবার।
কাণে তেনে আসে তান,
নিভৃতে কে গায় গান,
আকুল করেগাে প্রাণ, জলদ মল্লার।
আয় আয় বরখ। আবার।
২৯শে শ্রাবণ, ১৩০৭
সুষমা সুন্দরী।
বরি ধরি ধরি করি
ধরিতে পারিনা তােরে ;
আমারি কি আসে পাশে
সদাই বোও ঘুরে ?
সুষমা সুন্দরী
ওই যুথিকার ফুল
হােত। কিগো আহু বসি।
টগর মল্লিকা ফুটে,
ওরা কি তােমার হাসি ?
চপলা আলােকে কিগো
তােমারি কটাক্ষ ভায়,
ঘন-কৃষ্ণ-মেঘ রাশি,
তােমারি কুন্তল, নয় ?
তারকার যৌন দৃষ্টি
তােমারি প্রেমেরি ভাষা';
নীলিমার নীলারী
নহে কি তােমারি ভূষা?
তটিনীর কলবন,
কোকিলের কুহ গান,
এ সব বৈচিত্রময়,
তামারি করে তান।
বরণীয় খমিল,
জোছনার পর,
তােমার রূপেরি, মরি,
দিয়ে যায় কি আভা।
এই তুমি, এই সব,
হেন যেন মনে লয়,
মাধ।
অমনি ধরিতে ধাই,
-এযে শুধ চুয়ায় ?
ঘুচে যায় স্বপ্ন থাের,
আত্মহারা মাের প্রাণ,
কাদিয়া জাগিয়া উঠে,
; ঝর ঝর দুনয়ান।
বেড়াই পাগল পারা
খুজে খুজে সারা বেলা,
হৃদয়ে রাখিব তােরে,
তবে কেন অবহেলা ?
৩৬। •ণ।
দুটি কথা।
শুনাতে দুইটী কথা
সদাই ব্যাকুল প্রাণ,
বলি বলি বলি করি,
অমনি ভুলায় মন ।
কাছা কাছি হয়ে আসি
নয়নে নয়নে চায়,
আমার হৃদয় কথা.
.কোথায় আসিয়া যায়।
দুটি কথা
নদী ধায় বলিবারে;
সাগরে মনের কথা,
না ফুটিতে, কোন বাণী,
আপনা হারায় যথা ।
কারণ, দারুণ বিধি,
পুরলনা মোর অশ,
৪াখিয়াছে মোর তরে
ব্যাকুলতা, হাহুতাশ :
অামি বলি .সেই ভাল,
শুনল' শুনল’ ধনি,
বিধি সে দারুণ নয়,
তােমারি এ এম গণি ।
সে কথা বলিলে পরে
ভেঙ্গে 'যেত সব খেলা,
প্রেমের গলায় হতে
খসে যে হ মোহমাল।
তারকা গগন কোলে
থির অাখি মেলি চায়,
কত শত কথা যেন
তাহাতে লুকান বয়।
পরান কাড়িতে চাহে
চেয়ে শকি মুখ পানে,
***
মাধবী
এই এই ফুটে ভাষা,
সদা যেন হয় মনে।
সে কথা ফুটিলে পরে,
মিটে যাবে সব আশা,
কে আর শুনিবে তবে
তাহার পুরাণ ভাষা।
আধ আধ বাধ বাধ,
সেই ভাল, সেই চাই,
সব কথা বলে দিলে,
কি রবে ভুলাতে ভাই ।
৩০শে শ্রাবণ, ১৩০৭।
বৃথা আশা।
সন্ধ্যা নেমে আসে ধীরে,
ঘনায়ে আধার ছায়া,
সম্মুখে অসীম সিন্ধু,
উদ্বেলিত ক্ষুব্ধ কায়া।
প্রথম প্রভাত হ'তে,
একাকী অনন্ত কুলে,
বসে আছি সারা বেলা ;
কে গেছে আসিবে ব'লে।
৫২
বৃথা আশ
ভাসায়ে দিল সে তরী
তরুণ: অরুণ করে,
দুই ফোটা আঁখিজল,
বুঝি, পড়ে ছিল ঝরে।
“আরম্ভ করিনু খেলা,
না হইতে কোন কাজ,
অমনি চলিলে বঁধু,
পরিয়ে বিদায় সাজ।
কোন কুলে, কোন দেশে,
ভিড়াবে তোমার তরী ?
আবার আসিও বঁধু,
আবার আসিও ফিরি।
দুর অনন্তের কোলে
তরী ত ভাসিয়া যায়,
আমার এ ক্ষীণ কণ্ঠ
পশে কি এবণ হয় ?
“আসিবে আসিবে ফিরে,
কে যেন কহিল কাণে,
“থাক এ অনন্ত তীরে,
থাক বসে সুলোচনে।”
কত তরী বয়ে এল,
কত তৃতী বয়ে যায়,
মাধবী।
আমার বন্ধুর কথা
কেহ ত বলে না হয়।
পাগলিনী, পাগলিনী
; কেহ উন্মাদিনী বলে,
কেহ হাসি উপহাসি,
চরণেতে যায় ঠেলে।
করণ কাহার প্রাণ,
শুনিয়া কাহিনী মোর,
নীরবে সহ্য ব্যথা,
: ফেলে যায় অখিলাের।
নাহি জানি, নাহি জানি
কি মােরে ভাবে গো তারা,
হেরি, হেরি, হেরি সব,
-আমি হই আত্মহারা ।
কোথায় নিদয় বঁধু,
সে দেশ কি এত প্রিয় ?
আমা হতে কোন জন,
: পেয়েছ কি সাধি শ্রেয় ?
খেলিছ খেলিছ খেলা,
ভুলিয়া অতীত কথ?,
মনে নাহি পড়ে অার,
আছে গো ঘুচাতে ব্যথা।
পাপিং
এল মাছে কি সত,
তোমার ও স্মৃতি টুকু,
{র, ছাড়া আঁখি জলে ?
সির কাতর গান
পশে না তোমার কানে,
আমার হৃদয় ব্যাখা
জেলা তোমার প্রার্শ
বুখা অশি, আর কেন,
ফুরায়েছে সব (খলা
৪া মারি উদ্দেশে আজি,
সাব অনষ্টে ভেলা
৩১শে যাণ, ১৩৪ *
পাপিয়া।
গার আবার পাখি,
গারে আবার গান,
জাগাই। ব্যথা প্রাণে
তোমার বিষাদ তান।
দে যার ব্যাথা লাগে,
সেই বুঝে গো ব্যথ,
মাধবী
অপরে বুঝিবে তাকি?
তাদের কশার কথা।
আমি চাহি বুঝি বারে,
নিখিল ক্রন্দন ধ্বনি,
কার প্রাণে কোন ব্যথা,
কত টুকু, কত খানি ।
মাধবী ও লবনে
কেন মুখ টেকে নয়,
শেফালী অধারে ফুটি,
কেন গো ঝরিয়া যায় ?
কালিমার রেখা কেন
সাঝের বদনে হেরি,
কাল অাখি কাদম্বিনী
কেন কাঁদে ঝর ঝরি !
কবির বীণায় কেন,
উঠে গো কাতর তান,
কি ব্যথা জানায় ওই,
ছল ছল দু নয়ন।
পাগলিনী, উন্মাদিনী,
ওই ওই ধেয়ে যায়,
কি দুখ তাহার হৃদে,
সদাই লুকান রয়।
বিদেশিনী
শশ্মানে, চিতার পাশে,
কি ব্যথা কঁাদিয়া মরে,
তোমার করুণ গানে,
সকলে লইব ধরে।
গলিবে পাষাণ হৃদি,
বহিবে নয়ন লাের,
পরাণের ব্যথা বুঝে
পরাণ হইবে ভােয়।
গারে আবার পাখী
গারে আবার গান,
বাজুক আমার প্রাণে
তােমার বিষাদ তান!
৩১শে শ্রাবণ,
বিদেশিনী।
বিদেশিনী, কহ লে আমায়,
এ মার প্রবাসী প্রাণে কেন ধরে রাখ টেনে,
দুদিনে ফিরিতে হবে অালয় ।
মাধবী।
বহু ডোরে মিছে ও বন্ধন।
শুনায়ে প্রেমের কথা ভূলাতে নারিবি বৃথা,
তুলাইে নারিবে তাের কাতর ক্রন্দন ।
আছে তব রূপরাশি ঐশ্বর্য অতুল ;
ষ দিন হেথা বই, বাসনা মিটায়ে সই,
ভাসিতে পারি গাে সুখে,একুল ওকুল ।
জানি আছে সাধের বাগান,
যতনে তুলিয়া ফুল,
গাথিয়া বিনোদ দুল,
সােহগে সাজাতে পারি তব দুটি কাণ।
আছে তব কনক তরণী,
তোমারে বসায়ে তায়,
ভাসাইয়া যমুনায়,
পারি যেতে গান গেয়ে, যেয়ে দাঁড় টানি।
যামিনী হাসিলে পশী করে,
নিভৃতে নিকুঞ্জ বনে, হৃদি রাখি হৃদাসনে
চুমিয়া অমিয়া পিতে পারি গাে অধরে,
অবহেলে কর যদি মান,
শত বার পায়ে ধরে সাধিতে পারিও জােরে,
মাপনার প্রাণ পদে করে দিয়ে দান;
আমার কথা।
কিন্তু, সগি বলি এই বেলা
এ সৰ দুদিন তরে আমারে ডাকিলে পরে
নিমেষে চলিয়া যাব ভেঙ্গে দিয়ে খেলা।
পাগলিনী হইবি সজনি,
সুখ কোথা যাবে, কি লয়ে রকিবি ভবে।
বৃথাই দোষিবি মােরে ওগো বিদেশিনী।
কোথা আমি, কে মুছাবে লাের ?
তাই বলি, তাই বলি এখনো যাওগে! ভুলি,
লহ হ হ খুলি প্রণয়ের জাের।
৩২শে শ্রাবণ, ১৩০৭।
আমার কথা।
ফুল, তুমি ফুটিও না ওরে,
দুদিনের পরে যদি জান যাবে ঝরে,
পিবধু গাহিও না গান,
বসন্ত কাটিলে যদি করগো পয়ান ;
ক্ষণিকের হাসি, আর
ক্ষণিকের গানে
পৰী।
ব্যথাই অনিয়া দেয়
আমার পরাণে।
চাদ, তুমি হাসিও না আর
অমার আঁধারে যদি লুকাবে আবার
নদী তব খক কল তান,
নিদাঘে যদিগো হতে হয় মৃয়মান।
প্রণাখির প্রেম চাই
আমি চির তরে,
তিলেক বিচ্ছেদ হলে
থাই যে মরে !
৩২শে শ্রাবণ, ১৩. ক।
যাবে যদি যাও।
যাবে যদি যাও !
যত টুকু হাসি, আর যত টুকু গান
দিয়াছিলে
আজি ফিরে লও।
বসন্ত সে, কেটে গেল যদি,
কুল, হাসি কেন মিছে আর ?
কি পাই হায় ।
বৃথা 'কুহু কুহু শুনে
পিক গায় সােহিনী বাহার ;
{
স, শুধু বাড়াতে ব্যথা,
স্মৃতি টুকু হৃদয়ে জাগায়।
যামিনী হাসে কি কভু,
চাদিমা ডুবিয়া গেলে রাখি তারকায় ?
তুমি যাবে,
সব হাসি গান রবে শুধু বাড়াতে বোন ;
তোমার মুরতি আসি
বেড়াবে হৃদয়ে ভাসি,
শাগিবে দারুণ ভূষা, কোথা জলকণা।
তাই বলি
যাবে যদি যাও,
আপনার প্রাণ ফিরে লয়ে
মাের প্রাণ ফিরে দিয়ে যাও।
এই ভাদ্র, ১৩: *
কি পাইনু হায়।
কি গাইনু হায়!
সম অগও ভুলে
নিনু তোরে বুকে তুলে,
প্রীতির প্রতিমা খানি ভরা যায়।
মাধবী।
কি পাই হায় ! ·
কত হাসি! কত গান । তােমারে করেছি দান
কত প্রেম উপহার যুথি মালিকায়।
কি পাই হায় !
সারাটা বসন্ত ধরি কত গাখা রচি’ কােরি,
কাটায়েছি তােরি ধ্যানে শত পুর্ণিমায়,
কি পাইঃ হায় !
তোরে ভালবাসা দিয়ে ছিনু আত্মহারা হয়ে,
জগৎ লইল লুটে যা ছিল যথায়,
কি পাই হায় !
নিতান্ত কাতর দীন, সাজিয়া ভিখারী হীন,
ফিরিতেছি দ্বারে দ্বারে দিবস নিশায়,
কি পাইনু হায়!
সহে যাই নত শিরে, নীরবে মুছিয়া নীরে,
কত উপহাস হাসি কত উপেক্ষায়,
কি পাইমু হায়!
তােমারি আসে ভুলি, বড় সাধে তরী খুলি
অসীম অনন্তু নীরে দিছিনু ভাসায়,
কি পাইনু হায়!
কোথায় প্রবাল দ্বীপ ? আলােড়িয়া দশ দিক
তরঙ্গ আসিছে ছুটে এসিতে আমায় ।
কি পাই হায় !
প্রতিশােধ।
এই কি গো প্রতিদান? এই কি প্রীতির দান?
অধীর আপিছে নামি, আজি কে কোথায়!
কি পাইনু হায়!
৪ঠা অশ্বিন, ১৩৭
প্রতিশােধ।
আমি
কোন
চিনি না, তােমারে চিনি না।
তরুণ উষার করুণ কিরণে
গিয়াছিনু আমি আকুল পরাণে,
তােমারি দুয়ারে চরণে সপিতে
আপন,
আমি
আমি
আমি জানি না।
চিনি না, তােমারে চিনি না।
পরিব না তব যুথিকার হার,
চরণে ধরিয়া মিছে কেন আর,
বৃথা ও মিনতি, পাষাণ হৃদয়ে
বাজেন
আমি
তুৰ বেদনা।
চিনি না, তােমারে চিনি না।
কত জনে আসে, কত ফিরে যায়,
মাধবী
অাপনারে আমি পিৰ হয় :
পশে না শ্রবণে তাদের কাত
যাচনা,
অামি
অমি
কভু, পশেনা।
চিনি না তোমারে চিনি না।
রচিয়াছি হেতা শান্তি-কানন,
অাপনার ধ্যানে আপনি মগন,
পরের পরাণ, পরের প্রণয়
চাহি না ;
আমি
যদি,
*সে যে যাতনা।
চিনি না, তােমারে চিনি না।
ফিরাতে পেরেছ, তবে ফিরে যাও,
মরমের ব্যথা আজি বুঝে লও;
ছিড়েছি বাঁধন, বাঁধিতে কাহারে ।
দিব না
আর ভুলি না।
চিনি না, তোমারে চিনি না ।
১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৩ +
আমি
|
.
পরিত্যক্ত।
যদি
তবে
দেখা দিয়া কিবা ফল ।
পরাণের ব্যথা বুঝাবারে গিয়ে
পরাণে মরি কেবল
দেখা দিয়া কিবা ফল।
চাহিবে না ফিরে, যাবে সরে দুরে
অামার হৃদয় যাবে ভেঙ্গে চুরে ।
মরমে মরি কেবল,
ফেলিব কি আঁখি জল ?
দেখা দিয়া কি ফল ।
দেখা দিয়া কিবা ফল
নিজ মুখ তরে পরের পথের
কাটাই হই কেবল।
দেখা দিয়া কিবা ফল !
ভেসে যায় সুখে, অাছে বুকে বুঝে
আমি তার মাঝে যাব কোন মুখে ?
আঁখিতে ভরিয়া জল
প্রাণে দিতে হলাহল !
দেখা দেখা কি ফল ।
১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৩০৭।
যদি।
সত
মাধবী। মিলন স্বপ্ন। কুম্ভ রবি শান্ত হয়ে ফিরিবে যবে ভবনে আঁধার আসি ঘনাবে তরু ছায়ে, সাঁঝের বায়ে উঠিবে ফুটি মাধবী বনবিতানে, সুরভি তার মাখিয়া তব গায়ে অসিও তুমি বনের পথে, করুণ অাখি তরুণ, প্রাণের বন্ধু ভরসা বাধি বুকে, যমুনা ধারে তােমারি তরে রাখিব বাধি তরণ। ভাসিয়া যাৰ দুজনে খুলি’ সুখে, তাহার পর, জগৎ যদি পাষাণ হেন হৃদয়ে ফিরিয়া চায় কঠোর অখি তুলি, কঠিন করে ধরিয়া গলে দেয় গো যদি তাড়ায়ে, ক্ষতিই কি তা, হাসিয়া যাব চলি। দূরের দেশে, বই সে দূরে, জগৎ রাখি পিছে গো, যেথায় নাহি কঠোর কোন প্রাণ, শ্যামল সেই বনের মাঝে, তটিনী তট কাছে গাে, -মধুর স্বরে গায় যে সদ। গান- কুটীর মাের। বাধিব দেহে মাধবী লতা জড়ায়ে, সেফালি দ্বারে গােপিয়া দিব আমি, নিতিই নব কুসুম তুলি অলকে দিব পরায়ে, গাপিয়া মালা গলেতে দিও তুমি। =
কৃতদাস:
ময়ুর সাথে ময়ুরী কত নাচিবে আসি দুয়ারে,
পাপিয়া কত গাহিয়া যাবে গান,
অামরা দোহে আকুল হয়ে ভাসিব প্রেম পায়ারে।
-বিরহ কভু দিবে না ব্যথা দনি।
১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৩০৭।
কৃতদাস।
কেমনে করিলে মোরে তব কৃতদাস ?
হে চারুহাসিনী ।
কি দিয়ে কিনেছ তুমি সর্বস্ব অামার
আমি ত জানিনি।
তােমারি ইঙ্গিতে মোের কঠ উঠে ফুটি,
গেয়ে উঠি গান,
তোমারি আদেশে হেরি বিশ্বভরা হাসি
মেলিয়া নয়ন,
তুমিই রেখেছ মাের সমস্ত হৃদয়
কধি অনিবার,
কি সাধ্য নেই গাে আমি পর করে সপি
কণা মাত্র হার।
মাধবী ।
তােমারি তুষিতে মন ব্যস্ত আছে সদা
পদাশ্রিত প্রায়।
কণিকা থাকিলে পথে দেই বুক পাতি,
পাছে বাজে পায়।
ঘদিই লয়েছ দেবি দয়া করে মােরে,
সেবিতে চরণ,
বিদায় দিও না কভু অকরুণা হয়ে,
-সেবি অাজীবন।
১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৩৪ ।
শ্রান্ত পান্থ।
শ্রান্ত পথিক।
যেওনা, তুমি যেওনা।
আঁধার নামিছে চারিধার,
বাদল ঢালিছে বারিধার,
অজিকের মত অামার কুটিরে
এসনা।
শান্ত পথিক।
যেওনা, তুমি যেওনা।
সমুখে, বিজন ঘন বন।
শ্রান্ত পান্থ
হারাইৰে পথ অকারণ,
প্রতি পদে পদে চরণে বাজিবে
বেদনা ।
শান্ত পথিক।
যেওনা, তুমি যেও না।
নয়ন তােমার কি যে বলে,
বদনে কি যেন মায়া খেলে।
কাড়িয়া লয় যে আমার প্রাণের
আপনা:
कानि
শ্রান্ত পথিক।
যেওনা, তুমি যেওনা।
তােমায় দিয়াছি নিজ প্রাণ,
চাহিনা তার প্রতিদান,
অজিকার মত চরণ সেবিতে
দিও না।
ওগো,
শ্রান্ত পথিক।
যেওনা, তুমি যেও না।
হেতা সুখে কেটে যাবে নিশি,
আমি হয়ে রব তব দাসী,
সেবি চরণ রবে না সেনা,
রবে না।
মাধবী
তুমি
শ্রান্ত পথিক।
যেও না, তুমি যেও না।
প্রভাত হইলে যেও চলি ;
স্মৃতি ল’য়ে শুধু রব খালি,
তোমারি চরণ করিব সদাই
কামনা।
এ পথিক!
যেও না, তুমি যেও না।
১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৩০৭
নদীপথে ।
প্রভাত বায়ু বহিয়া যায়, স্বপ্নালস ছড়ায়ে,
নদীর বুকে তুলিয়া শত লহরী,
বকুল ভালে কোকিল বধু পাতার 'অড়ে লুকায়ে
কুহু স্বরে উঠিল ওই কুহুরি ;
বনের ফুল, ভাসায়ে কুল বিলায়ে দিল সুরভি,
মধুর হাসি হাসিয়া কম অধরে,
তরুণ রবি করুণ করে আধেক ফোটা করবী
চুমিছে আসি সিক্ত শীত নীহারে।
এ হেন কালে, নদীর জল কাকেত লয়ে গাগরী,
আমারি সেই আসিছে বুঝি, গাহনে,.
৭০
নদাপথে।
নুপুর রবে শরীর মােৰ উঠিল যেন শিহরি,
তড়িৎ বেগে খেলিয়া গেল পরাণে।
তৃষিত পাখী দুইটী অাখি পড়িল তার বদনে,
কি জানি, তাতে মিটিল কি না পিয়াসা :
নিমেষে তার নয়ন দুটি পড়িল মাের নয়নে,
সরমে বালা ফিরাল মুখ সহসা !
উঠিল বালা গাহন করি, সিক্ত নীল বসনে,
ভরিয়া বারি লইয়া কাকে গাগরী,
বনের পথে ফিরিল ধীরে চাহিয়া নত নয়নে,
-উছুলী পড়ে শরীর হতে মাধুরী!
আমারি, সেই বকুল তলে, চকিত হয়ে সহসা
নয়ন দু’টি পড়িল তার নিমিখে,
আধেক মােদা আধেক ভাষা, স্বপন ঘোরে বিবসা,
বাজিয়া মোর উঠিল যেন সমুখে ;
বুঝিতে তাহা পাগল হয়ে আপনা গেনু হারামে,
-সেও কি তবে আমারে বাসে ভাল গাে?
নয়ন তুলি তাই কি মােরে সে কথা গেল জানায়ে,
-আমিই তার হৃদয় করি আলো গো!
১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৩০৭।
A
মাধবী ।
সংযম।
আবার কেন কুসুম চাহে ফুটিতে হৃদি মাঝারে
আমি যে তারাে করেছি মরুময়।
যে বনে ফুল ফুটিত সদা, নিতিই নব বাহারে
ঢেকেছি তারে তপ্ত বালুকায়।
চাহিনা, ফুল চাহিনা, তব মধুর হাসি মাধুরী,
সুরভি লয়ে পুরিতে নিজ প্রাণ,
কি জানি, যদি লুকায়ে রহে নিভৃত কোণে তােমারি
কঠিন কীট করিতে ব্যথা দান।
ডুবিব কিগো সহস, আসি ভাসিতে সুখ পাখারে ?
ভাঙ্গিয়া যাবে সাধের গড়া তরী।
ফুলের হাসি মিশায়ে গিয়া, ভীষণ ফণী সজোরে
দিবে কি হৃদে তিক্ষণ ক্ষত করি ?
সহেছি ক্ষত কই সে বার দগ্ধ হৃদি আমার এ
মরুর মাঝে রেখেছি তাই প্রাণ ;
মধুর হাসি হাসিয়া তুমি ভুলাতে চাও কাহারে
অলিত চিত। অনলি করে দান।
মরুর মাঝে ফুটিতে চাও বৃথাই আশা-দুরাশা;
শুকাবে তুমি, শুকাবে তব লতা,
হেথায় শুধু কঠিন প্রাণ নাহিক কোন ভরষা,
পাষাণে পড়ি বুঝিবে কঠোৱতা।
১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৬৭
१३
শবে;
প্রমথ।
নহে যবে অরুণের তরুণ কিরণে
উদ্ভাসিত হয় মাের সমস্ত গগণ,
নহে যবে প্রাণ প্রিয় কোকিল কুজলে
মুখরিত রহে মাের মঞ্জু কুঞ্জ বন,
নহে যবে চপলার চরণ চঞ্চল
দৃঢ় ভােরে বাঁধা থাকে আমার দুয়ারে,
তোমারে চিনেছি আমি হে বন্ধু অখল,
চির অকৃত্রিম ; কিন্তু সেই মহাঘােরে,
বিষাদ অাধার যৰে নামি এল মোর
গৃহ চার পাশে, ডাকিনু কাতর প্রাণে,
ক্ষীণ আরে,-কে আছ মুছাতে লোর।
সে কঠ পশিল প্রিয় শুধু তর কাণে ;
মাতৃস্নেহ ভ্রাতৃস্নেহ ঢালি একাধারে
চরম পরীক্ষা তব দিলে বন্ধুবরে।
১২ই পৌষ, ১৩০।
নরে।
দীনা জন্মভূমি কোলে উজ্জ্বল রতন
তুমি, হে বন্ধু
অামার ;
চির আকাঙ্ক্ষিত
মাধবী
গৌরব জননী বক্ষে করিয়া ধারণ
চুমে তোমা শতবার, ঝরে অবিরত
হের তপ্ত বারিকণা অাখি হতে তার ;
ক্ষীণ হৃদয়ের সেই মৌন আবেদন।
তোমারে কহিছে সদা “হে পুত্র আমার
দীনতা ঘুচাও মাের, পাতি সিংহাসন
আমারে বসাও তাতে সাম্রাজ্ঞির বেশে"।
সেই ভিক্ষা ধরি বক্ষে হও আগুসার
আপন জীবন পথে; কোন নিশি শেষে
অব আনিবে বি ভরষা আমার
ঘুচাতে আঁধার ঘাের ; প্রীতিপূর্ণ হিয়া
তোমারে পুজি। সবে দেবতা মানিয়া।
১২ই পৌষ, ১৩০৭।
কৃতঘ্ন।
কোন মুখে নিন্দ তুমি ওরে কুলাঙ্গার
তোমার জনম ভূমে! প্রতি রক্ত ধার
বহিছে যা অহরহ তব ধমনিতে,
হারি সে বক্ষজাত শস্য-শ্য হতে
করেছ সঞ্চয়। কোন প্রাণে পদ খাতি
।
৭৪
মাতৃ ভূমি
মা’র বক্ষ মাঝে চলে যাও দুরে অতি
কোন নব দেশে, গৌরব সৌরভে যা’র
পুর্ণ আজি ধরা, হেরিয়া দীনতা তঁার ?
তব জন্মভূমি যদি দীনহীনা হয়
তােমারি সে দোষ মূ* জানিও নিশ্চয়।
যতই গরিমা তব করগো প্রচার
জননীর নীরে হবে তা অঙ্গার ;
তােমার থাকিতে অর্থ দীনা রে জননী।
কৃতঃ তুমি সে ঘৃণ্য ঘােষিবে অবনী।
১৩ই পৌষ, ১৩৫৭
মাতৃ ভূমি
তুমি চির স্বর্গ মাের অয়ি মাতৃভূমি !
তােমার পবিত্র ধুলি শতবার চুমি
আকাঙ্খা মিটেনি কভু। দেশে দেশে ঘুরে
দেখিয়াছি বহু স্থান সুরমা নগরে,
প্রাসাদ শোভিত কত কেলি-কুঞ্জবন,
লাজে, নত যার কাছে ইন্ত্রের নন্দন :
দেখিয়াছি প্রকৃতির কত শত শত
প্রিয় ক্রীড়া ভুমি, কিন্তু, কভু নাহি মাতঃ
৭
মাধবী
হ’ল এ হৃদয়ে মোর সে শাস্তি সঞ্চার,
তব কোলে খাকি যাহা ভুঞ্জি অনিবার।
তােমার সে বৃদ্ধ বট দীর্ঘিকার জল,
উদাৰ সে পথ ঘাট প্রান্তর অমিল,
সব চেয়ে প্রিয় মাের জননী আমার,
এ জগতে নাহি হেরি উপমা তাহার ।
১৩ই পৌষ, ১৩ •
; মায়াবী।
আজিও চিনিনি তােম, কে তুমি মায়াবি ।
কভু অকরুণ, ক পূর্ণ অনুরাগী,
কভু কর পদাঘাত ধরিলে চরণ,
কভু এস মাের দ্বারে করি অন্বেষণ
আমারে ধরিতে বক্ষে, যাচি' শতবার,
চুম্বনে ঢাকিয়া দাও বদন আমার,
দৃঢ় আলিঙ্গনে বাঁধি উন্মাদের প্রায়
কত কথা বলে দাও উন্মুক্ত হিয়ায়।
প্রেমের আবেগ ভরা জ্বলন্ত সে ভাষা
হৃদে মাের আনি দেয় কত দীপ্ত অশা।
তােমারে সঁধিনু ভাবি আমি চির তরে,
কিন্তু হায়, দুদিনেই দুরে পড়ে সরে।
বিলম্বে
পরে কভু দেখা 'লে, নিতান্ত মস্কো
পাশ দিয়া চলে যাও প্রহেলিকা রচে।
১৩ই.পৌষ, ৫৩ + }
বিলম্বে।
গগন হয়েছে সঘন আঁধার,
{মগে মেঘে ঘিরিয়াছে চারিধার,
জাগিয়া উঠেছে অকুল পাথার
নৃত্য করি।
খুলনা তরী
সুরি
বীজলি উজলে থাকি থাকি থাকি,
ভীষণ অশনি সাথে উঠে ডাকি,
বুকের মাঝারে কাপে প্রাণ পাখী
যে খর থরি।
খুলনা তরী
ও সুন্দরি ।
উঠে ঢেউ যেন চুমিল আকাশ,
পড়িছে তরঙ্গি তুলি ফেন রাশ,
আসে বেগে পৃথী করিতে গরম
কুলেরোপরি।
মাধবী ।
খুলনা তরী
ও সুন্দরি।
হুতাশ জেগেছে প্রাণে ধরণীর
লণ্ড ভও প্রকৃতি অণির,
বহিছে ঝ। গরজি গভীর
প্রলয় করি।
খুল না তন্নী
ও সুরি।
আগে যারা গেছে ভেসে গেছে সুখে,
তখন বাতাস বহি সুদিকে,
পাল তুলে দিয়া থির নীর বুকে
গাহিয়া সারি।
খুল না তরী
ও সুশরি?
প্রভাত অরুণ উঠিল যখন
আমরা ঘুমানু আলসে তখন,
বৃথা ডেকে ডেকে কত শত জন
গেল গো ফিরি।
খুল না তরী
ও সুন্দরি
বেলা বয়ে গেছে জাগিনু সে যবে,
ছুটে এ তীরে পারে যেতে হবে,
৭৮
কাল বৈশাখী উঠিল গবে
হুঙ্কারি।
খুল না হরী
ও সুন্দরি।
যারা পারে গেছে তাৱা যাক ভাই,
অামাদের আর যেয়ে কাজ নাই,
এ পারেই এস খুজিবারে ঠাই
ঘুরিয়া মরি।
খুল না তরী,
ও সুন্দরি !
১৫ই পৌষ, ১৩০৭।
অপেক্ষা।
সাথীর তরে বসিয়া আছি,
যাত্রা নাহি হ’ল ;
প্রভাত কবে চলিয়া গেছে,
দুপুর হয়ে এল।
সমুণে সেই অসীম নীর,
বুকেতে নাহি ভরসা ধর,
কেমন করে একলা তরী
৭৯
: মাধবী।
छोमा निरन
দেখা না (কই দিল ।
ঋদ্র তে ক্ষুদ্র অতি
(মাস ক্ষুদ্র তরী,
রাখিতে হবে পারি কি একা
তুফান হলে ভরি।
যদি গো পাই দেখা সে কার
স পিয়া তারে হালের ভার,
ফেলিয়া দাঁড় সুখেতে ভাসি’
গাহিয়া যাব সারি :
কিছুতে নাহি ডরি।
তুফান যদি এতই বাড়ে
ডুবায় তরী জলে।
ক্ষতিই কি তা, সুখই আছে
এমন করে মলে।
একই সাথে দুইটা প্রাণ
উঠিবে গাহি মরণ গান,
আঁধার পথে ধরিয়া হাত
সাহসে যাব চলে,
সকল ব্যথা ভুলে!
পারুক যত বাড়ক বেলা ;
স্পসাব নাত তরী,
;
একাকী কভু অসীম: নীরে ...
: বসেছি পণ করি।
আশা কি নাহি মিটিবে হায়।
বিলম্বেতে ফলি পায় ;
-অামার বুঝি মিলিবে সাখী,
চরণ ছুয়ে যা'রি
তুফান: যাবে মরি'।
১৬ই পৌষ, ১৩৯৭।
ভৈরবী।
।
লহ, লহ, লহ. সখি সাধের যুথিকা হার,
প্রেমের সুরভি রাশি ভাসে তায় অনিবার।
বিরহ বিধুর। বালা
ঘুচিৰে সকল জ্বালা,
হৃদয়ে তাতিরে আলা, শুকা'কে নয়ন ধায়।
আজি এ বিজন বনে
বসন্ত সমীর সনে
তাহারে, আনিবে প্রাণে,-যে; তব. জীবন সার
কুহরি উঠিবে পিক
মুগরিয়া দশ দিক,
চালিৰে পূর্ণিমা শশী বিমল কিরণ ধার
{
১
মাধবী।
প্রাণে প্রাণে মিশি’ গিয়া
গাহিয়া উঠিবে হিয়া,
ধো, শুধাে সে সময়ে তোমার প্রেমের ধার ।
১৮ই শ্রাবণ, ১৩০৭।
মিশ্র বেহাগ।
চল চল চল
উজলি বিমল
শোভন ভূষণ সাজে,
রিণিকি ৰিণিকি ঝিণিকি ঝিণিকি
নূপুর চরণে বাজে।
ওই শুন শুন বাজিছে বাঁশরী
বিরহ বিধুর পরাণ পাগরী !
গেহ পরিহরি
চল ত্বরা করি
পাশরি ভরম লাজে।
মুগধা যমুনা বহিছে উজান
প্রাণে প্রাণে তার লাগিয়াছে টান।
বাধা কি গো মানে আমাদের প্রাণ,
ভাসিব প্রবাহ মাঝে।
কুঞ্জ-কুটীর উঠিবে উজরি,
গা’ মােয়া সবে নবীন নাগরী,
ঝিঝিট।
ঘিরি ঘিরি ফিরি’ ব্রজের শ্রীহরি,
প্রেম ভিখারিণী সাজে!
হৃদয়ে খেলিবে জোছনা আলোক,
জোছনা আভায় ছাইবে ভুলোক;
হারায়ে আপন ভাসিব তখন ।
পুলক পাথর মাঝে।
১৮ই শ্রাবণ, ১৩০৭।
ঝিঝিট।
আমি
মরি,
নিতি নিতি তাই অসি প্রাণ সই
কুঞ্জ-কুটীরে হেরিতে রে!
তরুণ নয়নে করুণ চাহনি,
অধরের মৃদু হাসি রে,
প্রতি পলকেতে কি মাধুরী ভায়।
বৃদনে সুষমা ভাসে রে!
নয়ন চকোর হয়েছে পাগর,
পিয়ে আশা, নাহি মিটে রে।
রবির কিরণ তুহিনে গলায়,
নিৰ্কর তায় ছুটেরে!
বিমল বিভায় হৃদি ঐবি মোর
বিধ প্ল্যবিতে খায় রে।
সখি,
মাধবী।
ওগো
দুর
কুসুমের বাস নহে চিরকাল,
দু’দিনে মিশায়ে যায় রে ।
প্রেমের সৌরভ আমার হৃদয়ে
চিরদিন ভরি’ রবে রে।
তােমার চরণে এ জনম সই
সপিয়া দিয়াছি প্রাণ রে,
তােমারি আশায় রহিবে হৃদয়,
তব সুখ-শ্রোতে ভাসি' রে।
সখি,
২শে শ্রাবণ ১৩০.৭
:
বেহাগ।
সেই
কেন প্রাণ চায়,
অতীতের স্মৃতি আনি নিতি নিতি,
আমারে কঁাদাতে হয়।
চকিত পলকে অখির মিলন।
হৃদি দিয়া তার হৃদি পরশন।
হসিত বয়ানে সলাজ ছলন,
প্রণয়ের ভাষা চয়!
হৃদয় নিকুঞ্জে প্রেম অভিসার
ছায়া দিয়া' গড়া প্রতিমা তাহার।
সেই
সেই
৮৪ ৫,
মাধবী রাণী ।
(সই
নীরবের ভাষা নীরবে বুঝিয়া
নীরবেতে অভিনয় !
৯ই আশ্বিন, ১৩০৭।
মাধবী রাণী
.
.
শত শতদলে গড়া,
জোছনা ভূষণ গায়,
ঊষার নবীন আলাে
যুগল কপােলে ভায়,
দুইটী নয়ন কোণে
স্থির সৌদামিনী রাজে,
যুথিকার মৃদু হাসি
কম অধরের মাঝে।
কুঞ্চিত কুন্তল পাছে
পড়িয়াছে এলাইয়ে,
পূর্ণিমার পাশে যেন
অমানিশা লুকাইয়ে !
কণক চম্পকে গড়া
দুল দুটি কাণে দোলে,
নীহার মুকুতা ওই
~মাস অাগে ঝলঝলে,
মাধবী।
সরণ লতিকা তুলি
যতনে জড়ায়ে তায়
পরেছে মৃণাল ভুজে,
-হেম-বালা লাজ পায়
নিতম্বে মেখলা খেলে
ইত্ৰচাপ রূপ ধরি,
চরণে মঞ্জীর বাজে
যমুনা লহরী ঘিরি,
ফুটন্ত বকুল মালা
সােহাগে উরষে দোলে,
বিশ্বের মাধুরী যেন
তাহাতে বেড়ায় খেলে।
খরগের পারিজাত
সুরভী মাখান গায়,
কোকিল পঞ্চন তান
কনক বীনায় গায় ও
অমল বিমল মূর্তি,
বিশ্বপ্রাণ, পাগলিনী,
প্রেমিকের প্রাণ ধন
আমার মাধবী রাণী।
১৯শে শ্রাবণ, ১৭।
অবসান গান ।
অবসান গান ।
এই শেষ, আর কিছু
পাহিবার বাকি নাই,
তােমারি চরণে দেবী
আজিকে বিদায় চাই।
থেক, থেক চিরদিন
আমার মাধবী-বনে,
গাহিও মধুর গান
ঝঙ্কারি ত্রিদিব বীণে,
যদি কোন শ্রান্ত পাই
দাড়ায় বিন তলে
ঢালিও মদিয়া তব
প্রাণ যেন যায় গবে ।
বড় সাধ আছে মনে,
পুরিবে কি এ জীবনে ?
অথবা হইবে ছাই
শ্মশানে চিতার সনে ?
আবার আসিব দেবি
পূজিতে তােমায় আমি
চন্দ্রিকা কুসুম ল’য়ে-
কোন পূর্ণিমার যামি,
মাধবী।
৮ে৬ চে৩ দস সমূহে ।
দাসের মুখের পানে
ফিবিতে না হয় যেন
অশ্রু লয়ে দুনযনে।
৩০(শ শাৰণ, ?? ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.