Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Hindudharma O Parishistha

2010/02/3

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

হিন্দুধর্ম ও পলিশিই
মােট ৩ ৫ ৬.৪ )
হিন্দুধর্ম .
হিন্দী- ১৫৪৩৩ ও
বাঙ্গালা-১৫)৬৩৩
sein
gir
পরিশিষ্ট (হিন্দী ৩১১২৩)
হিন্দুধর্ম ও পরিসি
হিন্দী-(৩১৩৪
৩
রাজবৈধ শ্রীশক্তিচরণবিশায়
অলােপীবাগ, প্রয়াগরাজ।

No text on this page.

সূচী মঙ্গলাচরণ হিন্দুধর্ম ১ অ-শাস্ত্র ও বিচার ১। শাস্ত্রদ্রোহ ২। বিদেশীয় মত ৩। প্ল্যাঙ্ক ও নাস্তিকতা ৪। নূতনে প্রেম ৫। শাস্ত্র ভবঘা ক্য ৬। শাস্ত্র বিচারের নহে ৭। শাস্ত্রই হিন্দু শাস্ত্র ৮। বিশ্বাসই নববিজ্ঞানের মূল অনিচ্ছ ১। বিচারের ভাণ ১১। বিতণ্ডা। ২ অ—শাস্ত্রের মােটা কথা ১২। অবিশ্বাসই ভগবদদ্বেষ ১৩। অবিচারিত বিশ্বাস ১৪। নাস্তি- কত। পাপের রাজা ১৫। মিথ্যাদির কারণ অহঙ্কার ১৬। দীনতা ১৭। ভগবদিচ্ছা ১৮। অচিবৎপরতন্ত্র ১৯। মায়ার বৈপরীত্য ২০। মােক্ষই জীবনের লক্ষ্য ২১। কৰ্ম্মফল ২২। সঙ্গ প্রবল ২৩। সৎসঙ্গ ও অসৎসঙ্গ ২৪। সৎসঙ্গ তিন প্রকার ( সাধুসঙ্গ, ভগবৎ- সঙ্গ ও আগার ) ২৫। ভগবৎসঙ্গ ২৬। গুণ কীর্তন ২৭। আচার ২৮। অসৎসঙ্গ তিন প্রকার ( নারীসঙ্গ অনাচার ও ব্যর্থকৰ্ম্ম ) ২৯। নারীসঙ্গ। ৩ অ-নাস্তিকগণের বিপরীত চেষ্টা ৩ মােক্ষই জীবনের লক্ষ্য ৩১। শাস্ত্র ব্যবস্থা নয়টী ৩২। অহঙ্কার

[২]
ত্যাগ ৩৩। সৎসঙ্গ ও অসৎসঙ্গত্যাগ তিনটী ৩৪। অহঙ্কার বৃদ্ধি
৩৫। সংসঙ্গ নিন্দা ও অদংসঙ্গ পূজা ৩৬। নাস্তিক বিচার অপূর্ব
৩৭। মানুষ ভগবানের মালিক ৩৮। নারীসঙ্গই প্রাণ ৩৯। সংখ্যর্ষি
৪০। সংখ্যষি মত কোথায় চলে।
৪ অ—মায়া ও শাস্ত্রের মােটা কথার প্রমাণ
৪১। মায়ার বৈপরীত্য ৪২। সংসারবন্ধন ৪৩। বিশ্বাস ও দীনতাই
মূল
৪৪। বিপরীত বুদ্ধি ৪৫। যথার্থ বুদ্ধি ও মন
৪৬। বিচার নাই
৪৭। বিপরীত বুদ্ধিনাশই শাস্ত্রের লক্ষ্য ৪৮। দেহসর্গ
৪৯। চণ্ডাল
অস্পৃশ্য ৫০। অস্পৃশ্যতা অহঙ্কার নহে ৫১। চণ্ডাল পবিত্র কথন।
৫ অ—বিজ্ঞান দ্বারা শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা
৫২। বিচারের ভাণ ৫৩। নববিজ্ঞান ৫৪। Reason Science
and Shastras ৫৫। নববিজ্ঞানে মায়া ও বিশ্বাস ৫৬ | নববিজ্ঞানের
৫৭। হিন্দুর কর্তব্য। অলীক হিন্দু।
মাথা হেঁট
পলিশিই
৬ কতকগুলি মােটা কথা
৫৮। আচার-(১) কল্যাণ (২) সঙ্গ ত্যাগেই মুক্তি (৩) সঙ্গই
ভালমন্দের কারণ (৪) কায়িক বাচনিক মানসিক আচার (৫) অাচার
কলির তপস্যা (৬) কষ্ট করিবার অনিচ্ছা (৭) সমর্থোধর্মমাচরেৎ (৮) ঘৃণ।
ও অহঙ্কার (৯) নির্দোষ হয় না (১০) আচারের লাভ।

[ ৩ ] ৫৯। সেকাল ও একাল—১) বিধবা বিবাহ ইত্যাদি সেকালে চলিত (২) একবার দুইবার হওয়া (৩) সেকালে হইলেই একালে হয় (3) কালের প্রভাব (৫) দেশ কালাদি (৬) দেশ অনুসারে ফল (১০) সেকাল ও একালের প্রভেদের উদাহরণ। ৬০। জাতি ও অাচরণ—(১) আচরণ বড় অর্থাৎ ভগবান কিছুই না (২) কৰ্ম্ম অনুসারে জন্ম (3) এ জন্মের কৰ্ম্ম (3) জাতি ও আচরণ দুইটীই চাই। মিশ্ৰ কৰ্ম্ম। ৬১। একাকার ও সাম্য-(১) একাকার উচ্ছঙ্খল তার প্রাণ (২) মানুষ ঈশ্বরের সন্তান (৩) পাপ পুণ্য আছে কি নাই ? ভগবানের দয়া (৪) মানুষের পশু হওয়া উচিত (৫) ঘৃণা করা ভাল। দুগুণ বন্ধু (৬) ভেদপ্রিয় ভগবান্ (৭) বস্তু এক ও বটে ভিন্নও বটে (৮) ভেদ রাখা ও ভেদবৃদ্ধি ছাড়াই শাস্ত্রের ব্যবস্থা। ভেদ ছাড়া ভেদবুদ্ধি রাখাই নাস্তিক ব্যবস্থা (৯) মুসলমান খৃষ্টান প্রভৃতি ভেদবুদ্ধি রহিত ? (১০) অভেদের ফল (১১) পরস্ত্রী হিন্দুর কাছে পর অলীকের কাছে আপন (১২) মা ও স্ত্রী ভিন্ন থাকিবেই। ৬২। নারীসঙ্গ-(১) মােহিত করিবার জন্যই নারী (২) অহরহঃ নারীসঙ্গমুপাসীত (৩) নারীসঙ্গের ফল (৪) সতীত্ব বড় না নারীত্ব বড়? (৫) মেয়েমৰ্দ। (৬) কন্যাশিক্ষা (৭) গোপনই সংরক্ষণ মানুষের শরীর, বৃক্ষ ইত্যাদি (৮) স্ত্রীলোকের প্রতি অত্যাচার রব (৯) স্ত্রী স্বাধীনতা ও ব্যভিচার (১০) ব্যভিচারের সু সাজিবার চেষ্টা (১১) হিন্দু স্ত্রী তীর্থে যায় হাওয়াখােরী করে না (১২) ক্ষয়রােগও মুখরা প্রখর। ৬৩। বন্ধন-(১) বন্ধনই স্বাধীনতা ও স্বাধীনতাই বন্ধন (২) বন্ধন মনের, দেহের নহে (৩) বিধি নিষেধ। প্রাদ ও হিরণ্যকশিপু (৪) অধী- নতাই স্বাধীনতা ও স্বাধীনতাই অধীনস্থা। তাছায় উদাত্মণ (৫) ও [] কখনও স্বাধীন হয় না (৬) মনকে বশ করাই স্বাধীনতা (৭) কালেয় স্বাধীনতা কি ? (৮) মানুষ মাত্রেই পরাধীন (৯) দেশ স্বাধীন মানে কি ? (১০) ভোটাভুট (১১) জাৰ্মাণীর স্বাধীনতা (১২) ধর্মাধর্ম মানিলেই স্বাধীন। মায়ার উদাহরণ। ৬৪। গান ও বাজনা-(১) গান বাজনার ধুয়া (২) ধুয়াধারী মায়াতীত (৩) গানবাজনা কেবল উত্তম লােকের জন্য মুক্তি লাভের নিমিত্ত (৪) গীতবাদ্যের নিষেধ (৫) এখনকার গীতাদি হলাহল। ৬৫। অলীক ছুতা—(১) অলীক ছুতা (২) পরিবর্তনের প্রয়োজন সামান্য (৩) পরিবর্তন করার যােগ্যতা। আইন (৪) দলপুষ্টি সর্বনাশের মূল (৫) পুত্ৰও পর হয় ঔষধও আপন হয় (৬) হিন্দু ধর্মই স্বর্বস্ব ও ধৰ্ম্মের জয় (৭) হিরণ্যকশিপুর পরাভব সংখ্যা বড় নহে, ধৰ্ম্মই বড় (৮) অলীক হিন্দু মুসলমান হইলেই লাভ (৯) কড়া কথা কি ? (১০) কড়া কথার উদাহরণ (১১) কড়া কথার আপত্তি জুয়াচুরি মাত্র। ৭°—বিজ্ঞানভ্রান্ত ৬৬। রসায়ন Chemistry-(১) সকল পদার্থই Hydrogen হইতে (২) মূলপদার্থই মিশ্র পদার্থ (৩) স্থানের উপর বস্তুর গুণ নির্ভর করে (৪) Tartaric acid (৫) Ethyl Aceto Acetate (৬) গঙ্গার জলও H,0 ৭। পদার্থ বিজ্ঞান Physics-(১) নব বিজ্ঞান ও নব্য নব বিজ্ঞান (২) শক্তি ও অন্যান্যাকর্ষণ নাই (৩) ভারহীন ভাবান পদার্থ [Ether] (৪) পদার্থ বিজ্ঞানের ভেলকি (৫) প্রয়ােজন হইলেই ধরিয়া লই। সত্য মিথ্যায় আসে যায় না। ৬৮ | গণিত Mathematic-(১) গণিতের ভুল প্রমাণের [৫] উপায় :(২) নিউটনের | Newton ] ভুল ও জুয়াচুরি (৩) লাপলাসের [Laplace] দোষ (৪) গণিতের ভুল প্রমাণ অকাট্য মনে হয় (৫) গণিতের প্রমাণ ভাণ মাত্র ও মিথ্যা (৬) গণিতের যুক্তির পরিবর্তন। ৬৯। চিকিৎসাবিজ্ঞান Medicine-(১) চোখের দেখা ভুল x'Ray (২) নাড়ীভুড়ির গতি intestinal peristalsis ] (৩) লক্ষী- গোপাল বসায় ও অতি গ্রন্থি [ sympathetic Nervous System and Ductless glands ]। উহাদের কাৰ্য্য (৫) ডাক্তারেরা অন্ধ কেন ? (৬) উদরােগ ও লবণ (৭) মিথ্যাত্বসিদ্ধি। ৭০। জীবন বিজ্ঞান Biology—(১) ক্রমােয়তি কি? [ Evo lution] (২) ক্রমোন্নতি মিথ্যা উহার নামও মিথ্যা (৩) ক্রমোন্নতি হইতে পারে না (৪) ক্রমােন্নতি মিথ্যা ক্রমাবনতি। অ—শাস্ত্রই একমাত্র সত্য ৭১। সত্য কি—(১) সত্য সনাতন। বিজ্ঞানের উন্নতি (২) ভুলই * ৭২। অনুভব বিনা জ্ঞান হয় না—(১) অনুভব কি? (২) জলের ভিতর আম। পশুপক্ষীর মুক্তি (৩) বিচার বিশ্বাসযােগ্য নহে। ৭৩। কার্যকারণ সম্বন্ধ ও বিচার (১) কার্যকারণ ও বস্তু এক (২) না ধরিয়া প্রমাণ করা যায় না (৩) কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ নিত্য অতএব ভগবানের দয়া মিথ্যা (৪) কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ অনিত্য। দুইদল (৫) শাস্ত্র বলেন—কার্যকারণসম্বন্ধ নিত্য ও অনিত্য (৬) বিষ ও অমৃত। ৭৪। নিঃসন্দেহ প্রমাণ কি?—(১) প্রমাণ চারি প্রকার (২) অপ্তিপুরুষ ও সত্যপুরুষ (৩) আপ্তবাক্যই প্রমাণ। ৫। প্রত্যক্ষের ভুল ৭৬। ল অফ-(৩১) মূল ও সূক্ষ্ম [ ৬ ] বস্তু (২) স্কুল অল্প ও সূক্ষ্মই সব (৩) স্কুল ও সূক্ষ্ম ভেদ মিথ্য।। অষ্টসিদ্ধি ও ভগবৎকৃপা (৪) স্কুল সূক্ষ্মভেদ নাই তাহার স্কুল প্রমাণ । ৭৭। সূক্ষের প্রাধান্য-১) বিজ্ঞানের স্বীকার (২) সূক্ষ্মবস্তু বুঝা যায় না। Richet [রিশে] (৩) সূক্ষ্ম বুদ্ধি দিয়া কি স্কুলৰস্তু বুঝা যায় ? ৭। জ্যোতিষ Astrology—(১) কৰ্ম্মকলের নাশ নাই (২) জন্মান্তর (3) সঞ্চিত ও প্রারব্ধ (৪) প্রারব্ধ, ভ্য দৈব কাল স্বভাব প্রকৃতি [৫] প্রারব্ধবশে জন্ম [৬] অশীতিপক্ষ যােনি, ভেগদেহ ও মুক্তি দেহ (২) অহল্যা পাষাণী । নলকূবর [৮] উদ্ভিণ ও প্রাণী এক [৯] জ্যোতিষশাস্ত্র থাকিবেই [১০] প্রারদের প্রতীকার [১১] সংগ্রহ ( Sum: mary) সংক্ষেপে বলা [১২] জ্যোতিষের সার্থকতা [১৩] জ্যোতিষ- বিদ্বেষ। খাও দাও আর কাসি বাজাও [১৪] দেশের সকল দুঃখের কারণ অধৰ্ম্ম। ৭৯। বুদ্ধিভ্রান্ত-১] বুদ্ধি স্বৈরিণী (বে।) [২] বিজ্ঞানের স্বীকার [৩] কোষের ভুল [৪] হােমিওপ্যাথি [৫] সাধারণ মনুষ্যের কথা বলিতে হয় না [৬] পৃথিবীর আয়ু [৭] পুপকথ [8] জটায়ুর রথভাঙ্গা। ৮০। মায়ার কাৰ্য[১] বিজ্ঞানের মা স্বীকার [২] মনুষ্য একেবারে অন্ধ তাই মায়া দেখিতে পায় না [৩] শাস্ত্রে মায়ার উদাহরণ [৪] বিজ্ঞানে মায়ার উদাহরণ। ৮১। শাস্ত্রের বিরােধ—[১] শাস্ত্রের বিরােধে নাস্তিকের আনন্দ [২] শাস্ত্রবিদ্বেষই নাস্তিকের আনন্দের কারণ [৩] নাস্তিকের প্রকৃতি [8] শাস্ত্রের বিরােধই শাস্ত্রের গুণ [৫] বিরােধেই বিরােধ দূর ও অবি- রােধে বিরােধ [৬] বিশ্বাস ভিন্ন বুঝা যায় না (Plack) [৭] অবস্থাভেদে ব্যবস্থাভেদ ও ব্যবস্থাভেদে রূপভেদ [৮] চুবি করিলে কল্যাণ [৯] প্ৰয়াগ জাজ পশ্চিম ও পূর্কে। নানা মুনির নানা মত [১৬] বিরোধে বিক্ষোভ [৭] আছে ও নাই [১১] ক্ষীরােদ সমুদ্র পুষ্পক রথ ইত্যাদি গেজেলি ? [১২] ভেদাভেদ আছে ও নাই [১৩] সত্য মিথ্যা ধৰ্ম্মাধর্ম গুণ দোষ আছে ও নাই। মােড় ফিরান [১৪] কাঠের পুতুল ও পুরুষকার [১৫] বিচার করিতে নাই ও করিতে হয়। ৮২। শাস্ত্র বিশ্বাসযােগ্য—[১] বিজ্ঞান ভুল না হইয়াই পারে না। লক্ষণাভাব দোষ [২] শাস্ত্রের কথা হাসিয়া উড়াইয়া দিয়া পরে জ্ঞানকে নিজের বমিই খাইতে হইয়াছে [৩] বিজ্ঞানের বমি খাওয়ার উদাহরণ [4] সকল গুঢ় বিষয়ে শাস্ত্রই ঠিক [৫] গেজেলি বুদ্ধি ও বিশ্বাস [৬] অলীকহিন্দু গণিতের ভুলের নামে শিহরিয়া উঠে। ৮৩। শাস্ত্র মনির লাভ[১] ক্ষতি করিয়াও অহঙ্কার ত্যাগ ভাল [২] আর ছাগল পাতা খা [৩] অহঙ্কার করিয়া লাভ করিলেও ক্ষতি [4] উদাহরণ [2] নিজের বুদ্ধিতে জিত অপেক্ষা পবের বুদ্ধিতে হর ভাল। ৯°—বাঁদরামির বাঁদরামি কাহাকে বলে ৮৪। অনাসক্ত সত্যপ্রিয় পুরুষের প্রশ্নে অধিকার -[১] বিতণ্ডা বা বাদরামি [২] যার হারিয়া আনন্দ সেই বিচারের অধিকারী [] মিথ্যার জযই হার [৪] সাধন উপলিন্ত । ৮৫। বাঁদরামি কি—[১] বিতণ্ডা কি? [২] বিতণ্ডার উদাহবণ ৮৬। প্রশ্নের উত্তর কি করিয়া দিতে হয়? [১] সৃষ্টিতত্ত্ব হইতে আরম্ভ করিয়া উত্তর দিতে হয় [২] উদাহরণ। ৮৭। প্রশ্ন কি করিয়া বুঝিতে হয়। ৮৮। বাঁদরামির বাঁদরামি কেন দরকার—[১] ভারতের এই মহা দুর্দিনে বাঁদরামির উত্তর আবশ্যক [১] হিন্দু ধর্মেই প্রকৃত উত্তর আছে [৩] পশূনং লগুড়ো যথা।

[৮] ৮৯। বাদরামির প্রকৃত স্বরূপ-[১] প্রশ্নের ন্যায় উত্তর বাদ- .মি নহে [২] উত্তর দেখিতেই বাঁদরামি কিন্তু উহাতে মিথ্যার ছায়াও ই ৩] প্ৰশ্নরূপে উত্তর দেওয়ার লাভ। বাঁদরামির বাঁদরামি(হ য ব র ল) (হ) আচার [১] জুতা পরে খাওয়া [২] চামারে দেখিতেও দোষ [ত ছুয়াছুত [8] রান্নাঘরের ধর্ম [৫] পরিষ্কার হইলেই হল [৬] দুষ্ট ব্রাহ্মণ ও সাধু মুসলমান [] আচারে শুদ্ধি হয় [৮] আচারে অহঙ্কার [৯] আচারে ঘৃণ। [১০] অচারে বিরােধ [১১] আচারে লাভ নাই [১২] অাচার অত্মবঞ্চনা [১৩] অনাচারী ভাল [১৪] আচার অসম্ভব [১৫] বন্ধন পঙ্গু করে [১৬] ভারতের উন্নতির দিনে আচার ছিল না। (ঘ) জাতি [১৭] চারিশত জাতি শাস্ত্রে নাই [১৮] জাতি কলহ সৃষ্টি করে [৯] ব্যবহারেই ব্রাহ্মণ [২০] ব্রাহ্মণকে জাতিচ্যুত করা হয় না [২১] বামু- নের ছেলে বামুন [২২] মনুর ছেলে সব সমান অধিকার [২৩] অস্পৃশ্যের প্রতি অত্যাচার ও ঘৃণা [২৪] চণ্ডাল মুসলমান হইতে বাধ্য হইতেছে। (ব) নারীসঙ্গ [২৫] নারী কলেজে না পড়িলে পশু [২৬] নারীর হাওয়াখখারী [২৭] জুতা ছাতা নিষেধ [২৮] পূর্বে বাল্যবিবাহ ছিল না [২৯] নির্জল একাদশী [3] সতীদাহ কুপ্রথা। (র) শাস্ত্র [৩১] শাস্ত্র ভুল কেন না বিজ্ঞানবিদ্ধ [৩২) ক্ষীরসমুদ্র ইত্যাদি

[৯]
গাঁজাখােরী [৩৩] শাস্ত্রের সময় সভ্যতা ছিল না [৩৪] ভাগবত ও অন্য
পুরাণ একই লােকে লিখিতে পারে না [৩৫] ব্যাস উপাধি-নাম নহে [৩৬]
শাস্ত্রে সংস্কৃত ভূল অতএব প্রক্ষিপ্ত [৩৭] শ্লোকসংখ্যা মিলে না [৩৮] বেদ
ও পুরাণ ভিন্ন [৩৯] শাস্ত্র সেকালের লিখা এখন চলে না [৪]শাস্ত্র বদলায়
অতএব এখন বদলান চাই [৪১] শাস্ত্র বদলায় অতএব উহা মানা চলে
[৪২] ভারতের ভিন্ন স্থানে ভিন্ন আচার।
(ল) হিন্দুধর্ম
[৪৩] হিন্দুধর্মে বড় বড় কথা [৪৪] অদৃষ্ট মানিয়া জড়ভরত হইয়াছে
[৪৫] অহিংসা ও অক্রোধেই হিন্দুদের অবনতি [৪৬] জাতীয় উপাস
নাই [৪৭] হাঁ চ টিকটিকি যাত্রা কুসংস্কার।
ই
Books.
(Figs : refer to pages)
E-Eddington's Physical World.
H-Haas's New Physics.
He-Haldane's Possible Worlds.
J-Jeans' Mysterious Universe,
L-Lynds' Science Leading and Misleading.
N-Nature, March 1931,
P(s) - Planck's Where is Science Going ?
P(u)-Planck's Universe.
R-Bertrand Russell's Relativity,
Sc Science & Religion.
T-G, R. Thomson's Atoms.
R.S. -Reason Science & Shastras.

শ্লোক (সংখ্যানুক্রমিক) :- (১) হরে দয়ালাে ভব মে শরণঃ ধৰ্ম্মস্য বৃদ্ধিং জগতঃ কুরুষ। খলস্য নাশ সুবিপর্যয়ং চ সতাং প্রবৃদ্ধি সদনুগ্ৰহম্ভঃ১৫া২/৩ (২) জয়তি জয়তি কৃষ্ণো : দেবকী নন্দনাে যঃ। বসতি বসতি চিত্তে মােহ নিৰ্ণাশকোহসৌ। অবতি অবতি ধম্মং সত্যরূপ পরাত্ম চরণ শরণমাস্তাং বাসুদেবং নমামি n (৩) অহিংসা পরমাে ধৰ্ম্ম অহিংসা চ পরং তপঃ। অহিংসা পরমং জ্ঞানং অহিংসা চ পরং সুহৃৎ। (ভা ২১।২৩৮-৪০) (৪) কওঁ শ্চ সারথেৰ্হেতােরমুমােদিতুরের চ। কৰ্ম্মণাং ভাগিন : প্ৰেত্য ভুয়াে ভূয়সি তৎফুল। (ভঃ ১৭৫৪) (ভা ১১২৭৫৫) (৫) শরীরিণঃ শরীরং হি নিলয়ঃ পরমাত্মনঃ । সৰ্বভুত নিগুঢ়স্য অতাে হিংসাং বিবর্জয়েৎ। (ভঃ২১/২৩৫) সব ভূত গুহাবাসং বাসুদেবং জগদ্গুরু। (ভঃ ৬৮)-সব- ভুতস্থমেকং বৈ নারায়ণং কারণ পুরুষং অকারণং পরং ব্রহ্মো। (ভ ২৯৪৮) (৬) রক্ষাপেক্ষামপেক্ষতে (৭) মহতােভুতস্য নিঃশ্বসিতমেত যদৃশ্নেদো যজুর্বেদ সামবেদোহথবাঙ্গিরস ইতিহাসঃ পুরাণং। (বৃহদারণ্যক (২১৪১০) (৮) বেদ- প্রণিহিতাে ধমোহধস্তদ্বিপর্যয়। বেদো নারায়ণঃ সাক্ষাৎ স্বয়ম্ভুরিতিক্রম। (ভা ৩৬) (৯) ইতিহাস পুরাণানি পঞ্চনং বেদমীশ্বরঃ। সর্বেভ্য এব বঙ্কুে ভ্য সহজে সবদর্শনঃ (ভা ৩১২৩৯) (১০) তিতী মমৈবাষ্ট্রে উন্নজ্যেনৈৰ কহি চিৎ। আজ্ঞালী মমদ্বেষী মম্ভকোহপি হ্যবৈষ্ণবঃ। (১১) শ্ৰেীতে আৰ্ত্তে চ বিশ্বাসস্তদাস্তিক মুদাহৃতম্ । ( জাবালদর্শন) (১২) শ্রেয়স্ট প্রেয়স্ট মনুষ্যমেত : স্তো সংপরীত্য বিবিক্তি ধীর। শ্রেয়া হি ধীৰােহভি প্রেয়সস বণীতে শ্ৰেয়ো মদোষােগক্ষেমাদ বৃণীতে। (কঠ৭ ৫২) (১৩) শালগ্রামাে মানপিণ্ড সর্বে নাস্তিক বৃত্তঃ। শিবপূজা পরিত্যজ্য মানবানামুপাসন। ভ° ৩১১১) (১৪) ষঃ শাস্ত্রবিবিমুজ বৰ্ততে কামারুতঃ। ন স সিদ্ধিমৰা- [১১] গোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্। (গীতা ১৬২৩) (১৫) তস্মাচ্ছাস্ত্র প্রমাণ তে কাৰ্যাকাৰ্য ব্যবস্থিতো । জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানােক্তং কর্ম কমিহাহসি । (গীতা ১৬২৪) (১৬) উচ্ছাশ্রং শান্ত্রিতং চৈব পৌরুষং দ্বিবিধং মত। তদ্রোচ্ছা- সুমনায় পরমার্থায় শান্ত্ৰিতম্। ( মুক্তিকো ২১) (১৭) অশংসয়বতাং মুক্তিঃ সংশয়াবিষ্টচেতসাম্ ন মুক্তিজন্মজন্মান্তে তদ্বিশ্বাসমাপ্লয়াৎ। (মৈত্রেয়া ২০১৮) (১৮) পাতকে পরং জ্ঞেয়ং পাতকং নাস্তিকগ্রহ। সতাং বুদ্ধিপ্রদীপেন বুধঃ পশ্যেং যথাতথ। ( চরক) (১৯) বরং হুতবহজালং ভক্তোবাতি পিঞ্জরম্। বরং চ কণ্টকে বাসং বরং চ বিষভক্ষণম্ ॥ হরিভক্তি-বিহীনানাং ন সঙ্গং নাশকারণম্ । (ভ° ৫১৬—চণ্ডালাদধমঃ পাপী শ্রীকৃষ্ণবিমুখখা নর। নিষ্কলস্তস্য বৈ ধৰ্ম্মোনাধিকারী স কণা ৷i (ভ ৮৭)স্বপাকমিব নেক্ষেত লােকে বিপ্ৰমবৈষ্ণব। বৈষ্ণব বর্ণবাহােহপি পুনতি ভুবনয়ম্ । ( ভা১৮) (২০) অহঙ্কারাভিমানেন জীবঃস্যাদ্ধি সদাশিবঃ ॥ ( ত্ৰিশিখ ব্রাহ্মণ)। (২১) মােহমূলং অহঙ্কারঃ সংসারস্তৎ সমুদ্ভব। অহঙ্কারবিহীনানাং ন মােহা ন চ সংহতিঃ (দেবী ভ° ৩ ৬১/৬) (২২) অহঙ্কারাবৃতং বিশ্ব সম্বদ্ধং চান্‌তেন হি। মূলং ধর্মবিনাশস্য-প্রথমং স্যাদহঙ্কুতিঃ || (ভ° ৩৬১ দেবী।২) (২) অধীতা চতুরােবেদান্ দপাপহতচেতনঃ। ব্ৰহ্মতত্ত্বং ন জানাতি দীপাকসং যথা। (মুক্তিকোপ) (২৪) বিশ্বাসো গুরুবাক্যেযু স্বম্মিদীনত্বভাবনা। মননদোষজয়শ্চৈব কথায়াং নিশ্চলা মতিঃ।। (ভা মা ৮৫) (২৫) তম্মাদিষ্টমেব অনিষ্টমিব ভাতি। অনিমেব ইষ্টমি ভাতি অনাদি সংসার বিপরীতভ্ৰমাৎ। (ত্রিপাদবিভূতি°)। (২৬) যস্যামতং তস্য মতং মতং যস্য ন বেদ সঃ। অবিজ্ঞতং বিজানতাং বিজ্ঞাতমবিজানতাম্ | (মৈত্রেয় ২১১)। (২৭) যথা জাত্যন্ধস্য রূপজ্ঞানং ন বিদ্যুতে তথা গুরূপদেশেন বিনা করকোটিভি জ্ঞানং ন বিদ্যতে। (ত্রিপাদবিভূতি ৫থ )। (২৮) গুরু রূপী স্বয়ং কৃষ্ণঃ শিষ্যাণাং হিতকাময়। গুরুব্রহ্মা গুরুবিষ্ণুগুরুদেবে ' মহেশ্বর। গুরুদেব পৰংহ্ম গুরু পূজ্য পরাৎপরঃ। (না ‘প ২৮২)।

[১২] (২৯) শ্রীগুরুং পরতাখ্যং ভাস্বন্তং চক্ষুরতঃ। ভাগ্যহীন ন পশ্যন্তি অন্ধাঃ সূৰ্য্যমিবােদিতম্। (ব্র ৪৪৩৭১) (৩০) নিদাঘ তব নাস্ত্যজ জ্ঞেয়ং জ্ঞানৰতা বর। প্রজ্ঞয়া ত্বং বিজানাসি ঈশ্বরানুগৃহীতয়া (মহােপ ) (৩১) মদ্ভয়াঘাতি বাতােংয়ং সূৰ্যন্তপতিমদ্ভয়াৎ। বৰ্ষতীন্দ্রো দহত্যগ্নি মৃতুশ্চতি মদ্ভয়াৎ। (ভা ৩২৫৪২)। (২) পথিচ্যুতং তিষ্ঠতি দিষ্টক্ষিতং গৃহে স্থিতং তদ্বিহতং বিনশুতি। জীবত্যনাথােহপি তদীক্ষিতে। বনে গৃহেহপি গুপ্তোস্য হতাে ন জীবতি। (ভা ৭২১৫১ ) (৩৩) বিষয়তেহমৃতং কুত্ৰ বিষং চাপ্যতায়তে। বিষত্ব অমৃতত্বং চ জায়তে হীশ্বরেচ্ছয়।। ঈশ্বরস্য বসে-সৰ্ব্বং চরাচরমিদং জগৎ। কটাক্ষণ বিভােন্তস্য-স্বরূপেণাধিতিষ্ঠতি । (৩৪) ঈশ্বরঃ সৰ্ব্বভূতানাং হদ্দেশেহজুন তিষ্ঠতি। ভ্ৰাময়ন ' সৰ্ব্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়। তমেব শরণংগচ্ছ সৰ্ব্ব ভাবেন ভারত। তৎপ্রসাদাৎ পরাং শান্তি স্থানং প্রাপ সৃসি শাশ্বতম্ ॥ (গীতা ১৮৬১২) (৩৫) যুগপদ বিপরীতত্বং মায়ায় একলক্ষণ। —অস্তৃীতি নাস্তীতি পদার্থ নিষ্ঠয়াে-রেস্তয়ােভিন্ন বিরুদ্ধ ধৰ্ময়োঃ। (ভা ৬৪৩ )-আত্মা পরিজ্ঞানময়াে বিবাদে হস্তীতি নাস্তীতি ভিদার্থনিষ্ঠ ( ভা* ১২২২৩৩) (৩৬) প্রণমেণ্ডবদ ভূমাবাশ্বচাণ্ডাল গােখরম্। (যাক্স) (৩৭) সৰ্বজ্ঞেশশা মায়ালেশ সমন্বিতে ব্যষ্টিদেহং প্রবিশ্য তয়া মোহিত জী মগমৎ। (পৈঙ্গল ২ল অ°) (৩৮) পূৰ্বযােনি সহস্রাণি দৃষ্টানন্যব ততো ময়া। জাতশ্চৈব মৃতশ্চৈব জন্মাপায়ৌ পুনঃ পুনঃ। (গর্ভো) (৩৯) সজ, জ্ঞানেন মুক্তিঃস্যাৎ সমগ জ্ঞানে স্বয়ং গুরু। (তেজোবিন্দু) (৪০) যে কৈবল্যমসম্প্রপ্তা যে চাতীতাশ্চ মূঢ়তা। ত্রৈবর্গিক হক্ষণিকা আত্মানং ঘাতয়ন্তি তে। (ডা° ১১৫১৬) (৪১) কমণজায়তে জন্তু কম ণৈব বিলীয়তে। সুখং দুঃখং চা ক্ষেমং কম ণৈবাভিপদ্যতে।কর্ম ণৈব সমুৎপত্তিঃ সর্বেং সর্বদা ভৱে ') (ভা ১২৪১১৩) (দেবী° ৪২।৩)-লব্ধ নিমিত্তমব্যক্ত ব্যক্তাব্যক্তং ভবতুত। যথাযােনি যথাবীজং স্বভাবেন বলীয়। (ভা ৩১৫৪) (অব্যক্ত নিমিত্ত- অনুষ্টকারণ। বক্তজ্ঞ জাত। অব্যক্ত মৃত। (৪২) নাভূক্ত ক্ষীয়তে কর্ম [১৩] ককোটি শতরপি। মঙক্ত্যা ত বহুস্বল্পং বিপরীতমভক্ততঃ। (আদি) (৪৩) ভুরুন্ প্রারব্ধমখিলং সুখং বা দুঃখমেব বা। (অধ্যাত্ম” রামা) (৪৪) জ্ঞানে দয়াংপুরারব্ধং কর্ম জ্ঞানানু নশ্যতি। অদ। স্বলং লক্ষ্যমুদ্দিশ্যোংসৃষ্টবাণবং। (অধ্যাত্ম) (৪৫) প্রসঙ্গমজরং পাশমায়ুনঃ কবয়ে। বিহঃ। স এব সাধু কৃত নো ফরমপাবৃত। (ভা° ৩২৫২০) (৪৬) যদগ্ৰে বিষনীকাশং পরিণামেই মৃতােপম। তৎসুখং সাত্বিকং প্রােক্ত আত্মবুদ্ধি-প্রসাদজ। (গী ১৮৩৭) (৪৭) আহারগুদ্ধেী চিত্তস্য বিশুদ্ধির্ভবতি স্বতঃ। চিত্তশুদ্ধো কমাজ জ্ঞানং ট্যন্তি গ্রন্থয়ঃ ফুট। (পাশুপত) :(৪৮) (পাশুপত) :(৪) নৈযাং মতিস্তায় দুমাম্বিং স্পশত্যনৰ্থাপগমে যদৰ্থঃ। মহীয়সা পাদরজো ভিষেকং নিষ্কিঞ্চনানাং ন বৃণীত যাবৎ। (ভ° ৭৫৩২)—হুগণৈতপসা ন যাতি ন চেজয়া চেজয়া নিবপণাদ গৃহাদ্বা। ন ছন্দসা নৈবজলগ্নিসূৰ্য্যৈৰ্বিন মহৎপাদজোহভিষেক। (ভা ৫১২১২) (৪৯) ভাগোয়েন বহু জন্ম সমার্জিতেন সংসঙ্গমং চ লভতে পুরুষে। যদ। বৈ। অজ্ঞান হেতুকৃতমােহমদন্ধিকারনাশং বিধায় তদোদয়তে বিবেক। (ভা মা ২/৭৬) (৫০) ন মে প্রিয়শ্চতুর্বেদী মদ্ভক্তঃ স্বপচোহপি যঃ। তস্মৈয়ে ততােগ্রাহং. স চ পূজ্যো যখা হহম্ । (শিব) (৫১) বিগ নাতি চ্ছে ণ ভজেত গৃহমেধ্যপি যথাদেশ যথাকলিং যাবদ্দৈবােপপাদিতম্। (ভ°৭১৪১০) (৫২) নৈকান্তিফং তদ্ধিকৃতেহপি নিষ্কৃতং মনঃ পুনধাবতি চেদসৎপথে। তৎ- কর্মনিহারমভীপতাং হরে গুনানুবাদঃ খলু সত্ত্ব ভাবন। (ভা ৬২।১২)—যশঃ শিয়ামেব পরিশ্রমঃ পরাে বর্ণাশ্রমাচারতপঃ তাদিযু। অবিস্মৃতিঃ শ্রীধর পাদ- পদ্ময় গুণানুবাদ শ্রবণাদিভিহরে। (ভা ১২১২৫০) (৫৩) জিহং লাপি যে বিষ্ণুং কীৰ্ত্তনীয়ং ন কীৰ্তয়েৎ। লাপি মােক্ষনিঃশ্রেণীং নাৰােহতি স দুর্মতিঃ। (ভা° ৭১১৬) (৫৪) আচারঃ পরমমা ধর্ম আচারঃ পরমং তপঃ। • আচারঃ পরমং জ্ঞানং আচারাং কিং ন সাধ্যতে। (মনু” ১১০৮-মহাভারত) (৫৫) আচারাল্লভতে হায়ুঃ আচারাদীপিতাঃ প্রজা। আচারানমযামাচাবাে ক্ষণ। (ম:১৫৬) (৫৬) যঃ স্বাঢ়ার পরিজ্ঞ সাঙ্গদোগােহপি {১৪ ] চেৎ। স এব পতিততা জ্ঞেয়াে সব কৰ্ম্ম বহিষ্কৃতঃ। (বৃ” না) (৫৭) হরিভক্তি পরে বাপি হরি ধ্যানরতােহপি বা ভষ্টো যঃ স্বামাচারাৎ পতিতং (সাহভিধীয়তে। ( না) (৫৮) মন্দ মন্দ প্রজ্ঞস্য মন্দায় যথা বয়ঃ। হ্রিয়তে নিদয়া নং দিবা চ ব্যর্থ কৰ্ম্মতি। (ভা ১১৬ ৭) (৫৯) দ্বারং কিমেকং নরকস্য নারী। (মণিরত্নমালা) (৬০) ন তথাস্য ভবেগ্নোহ বন্ধশ্চান্য প্রসঙ্গত। যােষিৎ সঙ্গাৎ যথা পুসো যথা তং সঙ্গিসঙ্গতঃ।। (ভা ৩৩১।৩৪) (৬১) যং সঙ্গা সংক্ষয়ং যাতি পুমানগ্নিগতে। যথা। রচিতা দেব মায়েয়ং বিমােহায় নৃণামিহ। (আদি) (৬২) কিং বিয়া কিং তপস। কিং ত্যাগেন তেন বা। কিং বিবিক্তেন মৌনেন স্ত্রীভিস্য মনে। হৃতম্ । (ভা ১৯২৬১২) (৬৩) মাত্রা স্বা দুহিত্ৰা বা ন বিবিসিনে। ভবে। বল বানিন্দ্রিয় গ্রামে বিদ্বাংসমপি কতি। (ভা ৯১৯১৭) (৬৪) যেহপাতি শনৈ মায়া যােযিদ দেববিনির্মিতা। তামীক্ষে তাত্মনাে মৃত্যুং তৃণৈঃ কূপমিবাবৃতম্ ॥ (ভা ৩৩১৪১) (৬৫) দৈবােপসােদিতং মৃত্যুং মৃগয়ােগায়নং যথ।। (ভা ৩৩১৪১) (৬৬) নৃদেহ মাদ্যং লভং সুদুল ভং প্লবং সুকল্পং গুরুকর্ণধার। ময়ানুকূলেন নভম্বতেরিত: পুমা ভবান্ধিং ন তরেৎ স আত্মহা । (ভা ১১|২০|২৭) (৬৭) যঃ প্রাপ্য মানুষং লােকং মুক্তিদ্বারপাবৃতম্। গৃহে ভগবৎ সক্ত তমারূঢ়চুতং বিছঃ। (ভা* ১১।৭৪) (৬৮) একোহহং বহু- স্যাম্।-একমেবা দ্বয়ং ব্রহ্ম নেহ নানস্তি কিঞ্চন। (অধ্যাত্মাে)—সমস্তং খস্বিদং ব্ৰহ্ম সর্বমাত্মেদমাততম্। (মহােপ’ ৬১২)--অবিশেষেণ সর্বং তু যঃ পশ্যতি চিদ- স্বয়ম্। স এব সাক্ষাদ্বিজ্ঞানী স শিবঃ স হরিবিধিঃ মহােপ (৪৭৬) [৯] সৃষ্ট্য পায়রীং মায়াং বেল ক্লান্ত বেগিতাম্। মস্য তামবিজ্ঞায় কিমসৎ কর্ম ভি, ভবেৎ। [ভা ৬৫১৬] [৭] অহমান। অনানন্দা বিদ্যাহং অবিদ্যাহ। অজাহং অনজাহ। [দেবুপ°-২] [৭১] সুখানুধ্যান নিরতা জীবা মায়া বিমােহিত। যথার্থ সুখ হেতুং তং ন ধ্যায়স্তি হৃদীশ্বরম্ । [আদি] –বিমােহিতােহয়ং জন ঈশমায়য়া ত্বদীয়য়া ত্বং ন ভজত্যনদৃক। সুখায় প্রভূৰে সক্ষতে গৃহে যােষিৎ পুরুষ বঞ্চিত। ভে° ৫৪৭ [ ১৫ ] [৭৩] দেহাভিমানে গলিতে বিজ্ঞাতে পরমাত্মনি। যত্র ষত্র মনাে যাতি তত্র তত্র সমাধয়ঃ । [৭২] দেহং মনােমামিমং গৃহীত্ব মমাহমিত্যধিয়াে মনুষ্যাঃ। এবােহমন্তোহয়মিতি ভমেণ দুরন্তপারে তমসি এমস্তি। [ভা ১১২৩৫] -দেহােহমিতি যজজ্ঞানং তদেবাজ্ঞানমুচ্যতে ॥ [তেজোবিন্দু ৫৯৩] [দেহাত্ম- মতিং বিসর্জ। [ভা ৫১২৫] [৭৫] ভেদদৃষ্টি রবিন্বেয়ং সর্বথা তা বিসর্জয়েৎ। (মহােপ ৫১১৩]—সর্বথা ভেদকলনং দ্বৈতাদ্বৈতং ন বিদ্যতে। [তেজোবিপ° [৭৬] সুখস্য দুঃখস্য ন কোহপি দাতা পরাে দদাতীতি কুবুদ্ধিরেষা অহং করােমীতি বৃথহভিমান কর্মসূত্র গ্রথিতাে হি লােক। [অধ্যাত্ম] [৭৭] যস্য নাহংকৃতােভাবাে বুদ্ধিস্য ন লিপ্যতে। কুৰ্বতােহ কুৰ্বতে বাপি স জীবন্মুক্ত উচ্যতে [ বরাহপ’ ] [৭৮] যথেহাঙ্কুরতাে বীজং বীজততা বা যথাঙ্কুরং। [শিবাে] [৭৯] প্রবুদ্ধোস্মি প্রবুদ্ধোম্মি দুষ্ট শোনােয়মাত্মনঃ। মনে নাম নিহত্মোনং মনসাস্মি চিরং হৃতঃ। [মহােপ°] [৮] দানং স্বধর্মে নিয়মম যম তানি কৰ্ম্মাণি চ সদ্ব্ৰণি। সর্বে মনাে নিগ্রহলক্ষণাস্তাঃ পরে হি যােগাে মনসঃ সমাধিঃ ॥ [১১২০৪৩] [৮১] সর্বগং সচ্চিদানন্দং জ্ঞানচক্ষু নিরীক্ষতে। অজ্ঞান চক্ষুনে ক্ষেত ভাস্বন্তং ভানুমন্ধবৎ || "[হােপ ৪৮•] [২] যথা যথাত্মা পরিজ্যতেসৌ মং পুণ্যগাথা শ্রবণাভিধানৈঃ। তথা তথা পশ্যন্তি বস্তু সুক্ষ্ম চর্যথৈবাঞ্জন সং প্রযুক্ত। (ভা ১১১৪২৫) (৮৩) অথাপি তে দেব পদাজদ্বয় প্রসাদলেশানুগৃহীত এব হি। জানাতি তত্ত্ব ভগবন মহিয়াে ন চান্য একোহপি চিরং বিচিন্। (ভা” ১০/১৫/২৯) ন যস্য ধাতু নিপুণেন কশ্চিদবৈতি জন্তু কুমনীষ উতী। নামানি রূপাণি মনন বচোভি সংতন্বতাে নটচৰ্য্যামিবাজ্ঞঃ। (ভা ১৩৭) (৮৪) আলাপাদ গাত্র সংস্পর্শ শয়নাৎ সহভােজনাৎ সঞ্চরন্তি হি পাপানি তৈলবিন্দু বিবাভসা। (ন° প) (৮৫) অকৃতজ্ঞ মনাৰ্যঞ্চ দীর্ঘবােষ মজব। চতুরো বিদ্ধি চাণ্ডালান জাত্যা ভবতি পঞ্চম। (গরুড়) (৮৬) এবমষ্টবিধং চিহ্ন যস্মিন স্নেহেপি বৰ্ত্ততে। স বিপ্রেঃ মুনিঃ মান্ স যতিঃ স চ পণ্ডিতঃ। (শিব) (৮৭) সূৰগাহিনী [ ১৬ ] বুদ্ধিঃ কথং স্কুলে প্ৰবৰ্ত্ততে। (৮৮) শিবস্বরূপী শিবভাবিতানাং হরিরূপী হরিভাবিতানাম্। ভক্তানুকম্পার্থ গৃহীত দেহং সত্যং শরণ্যং শরণং পন্যে। (৮৯) চঞ্চলং হি মনাে দুষ্টং সঙ্গাচ্চ পরিবর্ততে। সৎসঙ্গাৎ সাধুতামেতি দুঃসঙ্গা যাতি দুষ্টতাম্। (আদি) (৯) তপাে মে হৃদয়ং সাক্ষাৎ তনুর্বিদ্যাহকৃতিঃ ক্রিয়া। আত্ম। ধর্মেসবােদেবাঃ অঙ্গানি তবাে মম। (ভ° ৩৯।৩০ = ৬ ৪৪৭)তপাে মে দুশ্চরং বীৰ্য্যং আত্মাহং তপসঃ সদা। জামি তপস। বিশ্ব রিভর্মি চ গ্রসামি চ। (ভ° ৩৯৩১ ভা ২৯২৩২৪) (৯১) বিদ্যাতপােবিত্ত, বপুয়ঃ কুলৈঃ সতাং গুনৈঃ ষড়ভি রসত্তমেতরৈঃ। স্মৃতো হতায়াং ভৃতমানদুদৃশঃ পশ্যন্তি মত্তা ন হি ধাম ভূয়সা। (ভা° ৪৩১৭) (৯২) বিপরীত গুণং সৰ্ব্বং যচ্ছে মুস্তদুপাস্যতাম্। (৯৩) সাপবাদা হি বিধষঃ। (অপবাদ = উল্ট। সাপবাদ = উণ্টাযুক্ত বিধি = নিয়ম) (৯৪) যত্ৰ ধৰ্মসুতাে রাজা গদাপাণিবৃকোদরঃ। কৃষ্ণোহী গাণ্ডিবং চাপং সুহৃৎ কৃষ্ণস্ততে বিপৎ। (ভা ১৯১৫) (৯৫) ত্বম্ময়য়া সংবৃত চেতসত্ত্বাং পশ্যন্তি নানান বিপশ্চিত যে। (ভা ১২২৮) (৯৬) আত্মৈব তদিদং বিশ্বং সৃজ্যতে সৃজতি প্রভু। ত্ৰায়তে ত্ৰাতি বিশ্বাত্মা হ্রিয়তে ইরতীশ্বরঃ। (ভা ১১ ২৮৬) (৯৭) আময়াে যশ ভূতানাং জাযতে যেন সুব্রত তবে হাময়ং দ্রব্যং ন পুনাতি চিকিৎসিত। এবং নৃণাং ক্রিয়াযােগাঃ সব্বে সংসৃতিহেতবঃ। তত্ৰবাত্ম বিনাশায় কল্পন্তে কম্পিতা পরে। (ভা ১১১৪২৩) (৯৮) আত্মবং সব্বভূতানি পরব্যাণি লােষ্ট্রবৎ। স্বভাবাও, ন বৈ ভীতেঃ পশ্যতি স পশ্যতি । (অন্নপূর্ণা ৫২৯/৩৮-জ্ঞানং চ সমদর্শন। (১৯) সন্ত্রীকে ধৰ্ম্মমাচরেৎ (১০০) অবিদ্যা সংসতেহে তুর্বিদ্যা তস্যা নিবর্তিকা। তম্মাদ যত্ন সদা কাৰ্য্যো বিদ্যাভ্যাসে মুমুক্ষুভিঃ। (অধ্যাত্ম রামা) (১০১) ন স্ত্রীঃ স্বাতন্ত্র- মহতি (১০২) মনসােভদয়াে নাশশা মনােনাশাে মহােদয়। জ্ঞমনাে নাম: ভ্যেতি মনােফজ্ঞস্য হি শৃঙ্খলা। (মহােপ) (১৩) মনােবশেহন্যে হ্যভব স্ম দেবাে মনশ্চ নান্যস্য বশং সমেতি। ভীষ্মে হি দেবঃ সহসঃ সহীয়া যুঞ্জা বশে তং স হি দেব দেব। (ভা ১১২৩৪৮) দ্য পুর। যা বিজিত্য লুম্পতাে মন্য [১৭] একে স্বজিতা দিশাে দশ। জিতাত্মনােইজ্ঞস্য সমস্য দেহিনাং সাধাের মােহ প্রভবাঃ কুতঃ পরে। (ভাণ৮১১) (১৫) সুখায় দুঃখমােক্ষায় সঙ্কল্প ইহ কর্মি। সদাগোতীহয়া দুঃখমনীহায়াঃ সুখাৰ্বতঃ। (ভা: ৭৭৪২) (১০৬) সব্ব পরবশং দুঃখ সৰ্ব্বং আত্মবশং সুখং। (১০৭) অধম মূল বৈগুণ্যং বাদীনা প্রজায়তে। অধর্মদ্ধি ভবেছােকো জনানাং নান্যথা কচিৎ। অধর্মভিভবাদ্দেশে বিকৃতিং যান্তি সৰ্ব্বধা। ঋতু বৃষ্টিস্তথা বায়ু ভূমিরােষধিৱেবচ। (চবক) (১৮) সংসার-দুঃখ-দগ্ধানাং উত্তমানামনুগ্ৰহাৎ। প্রভুণা শঙ্করেণাত্র গীতা বাদ্যং প্রকাশিত। (১০৯) গীতজ্ঞাে যদি গীতেন নাগরীতি পরমং পদম্ । স্যামুচরাে ভুত্ব তেনৈব সহ মােদতে। (১১৭) শিবাগারে ঝল্পকং চ সূৰ্য্যা- গারে চ শম্পকম্। দুর্গাগারে বংশীবাদ্যং মাধুরীং চ ন বাদয়েৎ। [১১১] পপৌ হালাহলং সদ্যঃ শিবায় জগতঃ শিবঃ। [১১২] তত্রাপি দর্শয়ামাস স্ববীৰ্যং জল কল্মষং। তার গলে নীলং যচ্চ সাধাের্বিভূষণম্। [১১৩] সংহতিঃ কাৰ্যসাধিকা [১১৪] সংহতি কাৰ্যবাধিকা। [ অনেক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট ]। [১১৫] পরােহপ্যপত্যং হিতকৃদ যথৌষধং স্বদেহজাহপ্যাময়বৎ সুতােহহিতঃ। ছিন্দ্যাৎ তদঙ্গং যদুতাত্মনােহহিতং শেষং সুখং জীবতি য বিব- র্জনাৎ। (ভা ৭৫৩৭] [১১৬] সর্বনাশে সমুৎপন্নে অৰ্দ্ধং ত্যজতি পণ্ডিতঃ (১১৭) যত ধৰ্ম্মস্ততাে জয়। (১১৮) ধর্মে রক্ষতি রক্ষিতঃ। (১১৯) সত্য নিরুত্তরং বাক্যং নিদারুণং বিদুর্ধিষঃ। প্রকৃতি প্রতিকূলত্বাৎ স্বীকারাে মর্মভেদক। { নিরুত্তরঃ—যাহার উত্তর নাই। নিদারুণং—কড়া ] (১২০) বিষ্ণুপাদোদ্ভবা গঙ্গা গজৈব পরমা গতিঃ। (১২১) অকৃত্যং মন্ততে কৃত্যং সুগমঞ্চ সুদুগম। অসত্য মতে সত্যং বাসন-প্রেরিতাে জন। (১২২) অণিমা মহিমা মূৰ্তেলঘিমা প্রাপ্তিরিন্দ্রিয়ঃ। প্রকাশ্য তদৃষ্টে শক্তিপ্রেরণ মীশিতা। গুণেষসঙ্গে বশিতা যৎকামস্তদবস্ততি। এত মে সিদ্ধয় সৌম্য অষ্টাবৌৎপত্তিকা মতাঃ। (ভা ১১১১৫৪) (১২৩) সমানং জিযু কালেষু সৰ্বা- বস্থাযু শাশ্বত। সনাতনং মতং সত্যং চীয়তে নাপচীয়তে। (১২৪) তন্ম- [ ১ ] { ৰাহ্মণেন ন ফ্লেচ্ছিতবৈ নাপভাষিতবৈ। মেছাে হ বা এষ দপশব্দ। (১২৫) এক শ সমগ, জ্ঞাতঃ সুপ্রযুক্ত স্বগে লােকে চ কামধুগ, ভৰতি। (১২৬) অভূত প্রমা প্রাণােহানুভূতিবজ্জিতা। ( প্রমা যথার্থ জ্ঞান। অপ্রম- অযথার্থজ্ঞানং) (১২৭) অনুভূতিং বিনা মূঢ়ো বৃথা ব্ৰহ্মণি মােদতে। এতিৰিতি শাখা-ফলাদিন মােদব। (মৈত্রেয়) (১২৮) যস্যা- সুভৱ পৰ্য্যন্ত বুদ্ধিস্তত্বে প্ৰবৰ্ত্ততে। তদ্দষ্টি গােচরাঃ সব্বে মুচ্যন্তে সৰ্ব্ব পাতকৈ খেচৰা ভূচর সৰ্বে ব্রহ্মবিদ দৃষ্টি গােচরা। সদ্য এব রিমুচ্যন্তে কোটি-জন্মা- র্জিতাথৈ। (ত্রিপাদ) (১২৯) প্রয়োগ নিকষেণৈব শশ্বৎ কাৰ্যং পরীক্ষণম্। ( নিকষ কষ্টি পাথর। শশ্বৎ সৰ্ব্বদা)। (সুত) (১৩০) সহস্রেণাপি হেতুৰা ৰাষষ্ঠাদির্বিরেচয়েৎ। মতিমানৰতিষ্ঠেত আগমে নতু হেতু। (সুত) (১) কাৰ্যকারণ বকৈ দৰ্শনং পটতন্তুবৎ। অবস্তুত্বাৎ বিকল্পস্য ভাবাদ্বৈত ছুচ্যতে ।(ভা” ৭১৫৬৩) (১৩২) কার্যং বৈ কারণাভিন্ন নােৎপন্নং হি কদাচন। (দেবী ভাগ) (১৩৩) মানানাঃ স্ববিষয়াৰভাসকত্ব আত্মসাপেক্ষ। (১৩৪) কারণেন বিনা কাৰ্যং নােদেতি। (১৩৫) আপ্তাপদেশঃ প্রত্যক্ষ অনুমানং চ যুক্তিকম্। চতুর্বিধা পরীক্ষা স্যাৎ আপ্তবাক্যমসংশয়। (১৩৬) আপ্তঃ সত্যঃ ঋফিপ্রোঃ দিব্যজ্ঞানসুসংযুতঃ। রাগন্বেষাদিভিমুক্তো ভ্রমাদিদোষ বিচ্যুতঃ। অতীন্দ্রিয়ানসংবেদ্যা ভবান যে দিব্যচক্ষু। পশ্যন্তি বচনং তে; ৰাষাৰেৰ বাধ্যতে। (১৩৮) অচিন্ত্যাঃ খলু যে ভাবা ন তাংস্তর্কেণ যােজয়েৎ। অতিত তর্কেং কস্তীর্ণ সংশয়াম্বুধি। (১৪০) ঘনাে যদাহৰ্ক প্ৰভবাে , বিদীতে চক্ষু স্বরূপং রবিমীক্ষতে তদা। যা হহঙ্কার উপাধিরাত্মনে। জিজ্ঞাসয় নশুতি তহনুস্মরেৎ। (ভা ১২৩২) (১৩৯) প্রত্যক্ষ স্বল্পমেব স্যাৎ অপ্রত্যক্ষ মনয়ক। ইন্দ্রিয়াণি পরােক্ষাণি লভেরন্নাগমাদিভিঃ। (চরক) (১১) প্রতিকুলং তথা দৈৰং পৌরুষেণ বিহন্যতে। মঙ্গলাচারযুক্তানাং নিত্যং উবানশালি। (মৎস্য) যদ্যপত্র তু নিশ্চয়ন কথিত নানাবিধং দুল। টোনা ৫ তথপুশন্তি মুনয় নানা প্রতীক। দেব-ব্রাহ্মণ পূজনেন - - [১] গুরুবা সম্পাদনেনাহ, সৎসঙ্গেন হতেন দান বনাদুষ্টং ফলং নাে ভবেৎ। (১৪৩) নানারূপাত্মননা বুদ্ধি স্বৈরিণীব গুণান্বিতা। তন্নিষ্ঠাগতস্যেহ কিমৎ কৰ্মভিতরে। (ভা ৩০২১১) (১৪৪) কৈবল্যং সাত্ত্বিক জ্ঞান রজো বৈকল্পিকং চ যৎ। প্রাকৃতং তামসং জ্ঞানং মন্নিষ্ঠং নিগুণ বৃত। (ভা ১১২৫২৪) (১৪৫) সর্বদা সৰ্বভাবানাং সামান্য বৃদ্ধি কারক। বিপরীতঃ সদা কল্ল্যো বিপরীত প্রশান্তয়ে। (চরক) (১৪৬) ভাবাভাস্বরূপা সা জগদ্ধে সনাতনী। (পদ্ম} (১৪৭) ভবকালে নৃণাং সৈব লক্ষ্মীবৃদ্ধিপ্ৰদা গৃহে। সৈভাবে তথা লক্ষ্মীর্বিশায়ােপজায়তে। (সপ্তশতী) (১৪৮) নিনভূত বিশ্ব বিদ্যা- বিদ্যেতি গীয়তে। ( পদ্ম) (১৪৯) যশ্চ মূঢ়তমােলােকে যশ্চ বুদ্ধে পরং গতঃ। তাবুতৌ সুখমেপেতে ক্লিত্যম্ভরিতাে জন।( নারদ) (১৫০) নাদ্বৈত দ্বৈত- সত্যং বা হসতা বা ইদং ন চ। বন্ধমােঙ্গাদিকং নাস্তি সঞ্চাইসা সুখাদি । (তেজোবিন্দু) বাচা বদতি যৎকিঞ্চিৎ সঙ্কল্পেঃ কল্পতে চ যৎ। মনসা চিন্ত্যতে যদ্যৎ সর্বং মিথ্যা ন সংশয়ঃ । ( তেজোবি) (১৫১) অবিবেক কৃতঃ পুস হর্থভেদ ইবাত্মনি। গুণদোষ-বিকল্প ভিদেব সুজিবং কৃত। (ভা ৬১৭) মনশ্চেদুষ্মনী ভুয়াৎ ন পুণ্যং ন চ পাতকম্। (যােগশিখা) (১৫২) কচি গুণােপি দোষ স্যাৎ দোযােহপি বিধিনা গুণঃ। গুণ দোযার্থ নিয়ম স্তম্ভিদামে বাধতে। (ভা* ১৪২১ ৬৬) (১৫৩) মন এব মনুষ্যাণাং কারণং বন্ধমােক্ষয়ে; বন্ধায় বিষয়াসক্তং মুক্তৈ নিৰ্বিয়ং স্মৃত। (ব্রহ্মবিন্দু) (১৫৪) জ্ঞান তদেতদমলং দুবাপমাহ নারায়ণণা নরখঃ কিল নারদায়। একাত্তিনাং ভগৰ- তস্তদকিঞ্চনানাং পাদারবিন্দ রজসাপ্লত দেহিনাং স্যাৎ । ( ভা° ৭৬২৭) (১৫) আর্যং ধর্মোপদেশং চ বেদশাস্ত্রাবিরােধিনা। এ তর্কেনানুসন্ধুতে স ধর্ম বেদ নেতঃ। (মনু) (১৫৬) পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে। পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে। (মুক্তিকা:৫৬৩) (১৫৭) মক্ষিকা ব্ৰণমিচ্ছক্তি পুৰীঞ্চৈব বিড়ভূজঃ। (১৫৮) মায়াসৃষ্ট জগৎসৰ্বং নির্দোষং ন কদাচন। (১৫৯) সূৰ্যাৎ ভবন্তি ভুতানি সুৰ্যেণ পালিতানি তুসূর্যে লয়ং প্রাঃৰতি [২] যঃ সূৰ্যঃ সােহমেব চ। (সূৰ্যোপনিষৎ) (১৬০) জানাং জনক কালাে জগতামায়াে মতঃ । (১৬১) অনুভ্যশ্চ মহত্ত্যক্ষ শাস্ত্রেভঃ কুশলােনর সব তঃ সামাদদ্যাৎ পুষ্পেভ্য ইব ষটপদ। (.° ১১৮১২) (১৬২) পর- দুঃখেন যাে দুঃখী সুখী পসুখেন হ। সংসারে বর্তমানােপ জ্ঞেয়ঃ সাক্ষাৎ হরি স্বয়ম্। (ভা ১১২ ও পদ্ম” পূ) (১৬০) সৰ্ব্বং সােড়, মলং মন্যে ঋতেহলীক- পরং নরম। (ভা ৮২০১৪) (১৬৪) মৃত্যুবুদ্ধিমতই পপ্যাহাে যাব বুদ্ধি। বলােয়ম্। যদ্যসৌ ন নিবৰ্তেত নাপরাঘােহস্তি দেহিন। (ভা ১০১৪৮) (১৬৫) মানাধীন। মেয়সিদ্ধি মান সিদ্ধি লক্ষণাৎ। [মান-প্রমাণ। মেয়-যাহা প্রমাণ করিতে হইবে লক্ষণ -Definition- যাহার দ্বারা জিনিসটি ঠিক চেনা যায়, অর্থাৎ বস্তুর স্বরূপ নির্ণয় হয়। Nothing can be proved if the proof is not based on difinition ] (১৬৬) কুতাঙ্গবােধস্য প্রমাদভীতিঃ (১৬৭)মূখস্য লাঠৌষধ পশুনা লগুড়ো যথা। (১৬৮) সত্যং পরংব্ৰহ্ম বিজ্ঞান রূপং সত্যং হি সৃষ্টি-স্থিতি-লীন কর্তৃ। সত্য হি সাম্যং কিল বস্তুধর্মঃ সতK শরণং শরণং প্রপথে। ২২শে সেপ্টেম্বর, ১৯২৫।

শ্লোক (বর্ণানুক্রমিক) অকৃতজ্ঞ মনাৰ্যঞ্চ অকৃত্য মতে কৃত্য অচিন্ত্যাঃ খলু যে ভাবাঃ অজ্ঞান চক্ষুনে ক্ষেত অণিমা মহিম। মূর্তে অনুভ্যশ্চ মহম্ভশ্চ অতীন্দ্রিয়া অসংবেদ্যা অথাপি তে দেব অধৰ্ম্মমূলং বৈগুণ্যং অধীত্য চতুররা বেদান্ অনুভুতিঃ প্রমাণে অনুভূতিং বিনা মূঢ়ো অবিদ্যা সংস্কৃতেহেতু অবিশেষেণ সৰ্বংতু অস্তীতি নাস্তীতি পদার্থ অসংশয়বতাং মুক্তি অহঙ্কারাভিমানেন 'অহঙ্কারাবৃত বিশ্ব অহমান অনানন্দা অহিংসা পরমাে ধৰ্ম্ম (৮৫) আচারঃ পরমাে ধর্ম (১২১) আচারাল্লভতে (১৩৮) আত্মবৎ সর্ব ভূতানি (৮১) আত্মা পরিজ্ঞানময়াে (১২২) আত্মৈব তদিদং বিশ্ব (১৬১) আপ্তোপদেশঃ প্রত্যক্ষ (১৩৭) আপ্তাঃ সত্যাঃ (৮৩) আময়ে যশ্চভূতানি (১৭) আর্যং ধর্মোপদেশঞ্চ (২৩) আলাপ গাত্রসংস্পর্শা (১২৬) আহার গুদ্ধে চিত্তস্য (১২৭) (১ ••) ইতিহাস পুরাণানি পঞ্চম (৬৮) ঈশ্বরঃ সৰ্ব্বভূতানাং (৩৪) উচ্ছাং শান্ত্রিতং চৈব (১৭) একঃ শফঃ সমগ, (২) একমেবায় ব্রহ্ম (৫৪) (৫৫) (৯৮) (৩৫) (৯৬) (১৩৫) (১৩৬) (৯৭) (১৫৫) (৮৪) (৪৭) (১) (৩৪) (১৬) (১২৫) (৬৮) (৬৮) (৭) একোহৰ বহু স্যাম (৩) এবষ্টবিধং চিহ্ন [২২] দৈবােপসাদিতং মৃত্যু কত্ত সারথেহেতাে (৪) তত্রাপি দর্শয়ামাস স্বকাৰ্য্য (১:২)" কণা জায়তে জন্তু (১) তন্মাচ্ছাস্ত্র প্রমাণং তে (১৫), কর্মন্যৈব সমুৎপত্তি (৪১) তস্মাদিষ্ট মেব অনিষ্ট (২৫) কারণেন বিনা কাৰ্যং (১৩৪) তস্মাৎ ব্রাহ্মণেন নম্নেচ্ছিতবৈ. (১২৪).. কার্যকারণ-ববৃৈক্যং (১৩১) ত্রিবগং নাতিচ্ছে ণ (৫১) কাৰ্যং বৈ কারণাদ্ভিন্ন (১৩২) দন্ পুরা ষন্ন (১০৪) : কুতােহবােধস্য (১৬৬) দানং স্বধৰ্ম্মো নিয়মমা (৮০) দেহাত্মমতি বিসসজ কৈবল্যং সাত্ত্বিক জ্ঞানং (১৪৪) (৭৪) দেহাভিমানে গলিতে (৭৩) কচিগুণােপি দোষঃ (১৫২) দেহােহমিতি যজ জ্ঞানং (৭২) কিঃ বিদ্য কিং তপস। (৬২) দেহং মননামাত্র (৭২) গীতজ্ঞাে যদি গীতেন (১৯) (৬৫) গুণদোষাে বিকল্পশ্চ (১৫১) দ্বারং কিমেকং নরক (৫৯) গুরূপী স্বয়ং কৃষ্ণঃ (২৮ ধৰ্ম্মো রক্ষতি রক্ষিত (১১৮) ঘনাে যদার্কঃ প্ৰভবে। (১৪) ন তথহস্য ভবেন্ মাহাে (৬০) ন মে প্রিয়শ্চতুর্বেদী (৫০) চঞ্চলং হি মনন দুষ্টং ন যস্য ধাতুর্নিপুণেন (৮৩) চণ্ডালাদধমঃ পাপী (১৯) ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমহতি (১০১) জানাং জনকঃ কালাে (১৬০) নানা রূপাত্মনাে’বুদ্ধিং (১৪৩) জয়তি জয়তি কৃষ্ণো নাভুক্তং ক্ষীয়তে কৰ্ম্ম (৪২) জিহ্বাং লক্কাপি যাে বিষ্ণু (৫৩) নাদ্বৈতং দ্বৈতসত্যং (১৫) জ্ঞানং চ সমদর্শন (৯৮) নিদানভুত বিশ্বস্য (১৪৮) জ্ঞানং তদেতদমলং দুরসেপ (১৫৪) নৃদেহমাদ্যং সুলবুলভং (৬৬) জ্ঞানােদয়াৎ পুরারব্ধং (৪৪) নৈকান্তিকং তদ্ধি কৃতেপি (৫২) তপো মে দুশ্চরং বীৰ্যং (৯০) নৈং মতিদ্ভাবদুরু ক্রমাচ্ছি (৪৮) তপে মে হৃদয়ং সাক্ষাৎ (৯) পথিচ্যুতং তিষ্ঠতি দিষ্টরিমতং (ها) [৩] 'পপৌহালাহলং সদ্য (১১১) মনােবশেন্যে-ভব স্মদোষা (১৩) পরদুঃখেন যাে দুঃখী :(১৬২) মদস্য মদ প্রজ্ঞস্য (৫৮) পরােপ্যপত্যং (১১৫) মহতাে ভূতস্য নিশ্বসিত পশুনাং লগুড়াে যথা (১৬৭) মাত্রা স্বা দুহিত্ৰায্য (৬৩) পশ্যন্তি নানা বিপশ্চিতত (৯৫) মানাধীন। মেয়সিদ্ধি (১৬৫) পাতকে পরং জ্ঞেয়ং (১৮) মানানাঃ স্ববিষয়া সভাসজ্জং (১৩৩) পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং (১৫৬) মায়া সৃষ্ট জগৎ (১৫৮) পূৰ্ব্ব যােনিসহস্রাণি (৩৮) মুখস্য লাঠেষিধিঃ ধম্ (১৬৭) প্রজ্ঞয়া ত্বং বিজানাসি (৩) মৃত্যুবুদ্ধিমতাই পােতহা (১৬৪) প্রণমেদ দণ্ডবভুম। (৬) মােহমূলং অহঙ্কার (২১) প্রতিকূলং তথা দৈবং (১৪১) যৎ সঙ্গা সংক্ষয়, যাতি প্রত্যক্ষং স্বল্পমেব স্যাৎ (১৩৯) যােধৰ্ম্মস্ততে জয় (১১৭) প্রয়ােগ নিষেণৈব (১২৯) যত্র ধর্মসুতো রাজা (৯৪) প্রবুদ্ধোন্সি প্রবুদ্ধোস্মি (৭৯) যথা জাত্যন্ধস্য রূপজ্ঞানং (২৭) প্রসঙ্গ মজরং পাশং (৪৫) যথা যথাত্মা পরিজ্যতে (৮২) ভবকালে নৃণাং সৈব পক্ষী (১৪৭) যথেহাঙ্কুরতাে বীজং (৭৮) ভাগ্যোদয়েন বহুজন্ম সমাজিত (৪৯) যদগ্ৰে বিষনীকাশ (৪৬) ভাবাভাব স্বরূপা সা (১৪৬) যদ্যপত্ৰতু নিশ্চযয়ন (১৪২) ভুজ প্রারব্ধ মখিলং (৪৩) যশঃ শিয়ামেব পরিশ্রম (৫২) ভেদদৃষ্টি রবিভেয়ং (৭৫) যশ্চমূঢ়তমাে লােকে (১৪৯) মক্ষিকা ব্ৰণ মিচ্ছস্তি (১৫৭) যস্য নাহঃ কতাে ভাবে (৭৭) মঙয়াদবাতি বাতােইয়ং (৩১) যস্যানুপৰ্যন্ত। (১২৮) মন এৰ মনুষ্যাণা (১৫৩) যস্যামতং তস্যমত (২৬) মনশ্চেদুষ্মনী ভুয়াৎ (১১) যুগপদ বিপরীতত্বং মায়ায়। (৫) মনসােদয়াে নাশে। (১২) যে কৈবল্যং মসংপ্রাপ্তা (•) [২৪] যােহপতি শনৈময়া যঃ প্রাপ্য মানুষ লােক যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎস্জ্য য: স্বাচার পরিভ্রষ্ট রক্ষাপেক্ষামপেতে বহুগণৈতত্তপসা (৬) লব্ধ। নিমিত্ত অব্যক্তং বরং হুবহজালাং বাচা বদতি যৎকিঞ্চিৎ বিদ্যা তপােবিত্তবপুর্বয়ঃ বিপবীত গুণং সৰ্বং বিমােহিতােহয় জন ঈশ বিশ্বাসে গুরুবাক্যে বিষয়তে মৃতং কুত্র বিষ্ণুপাদোদ্ভবা গঙ্গা বেদো নারায়ণঃ সাক্ষাৎ (৬৪) সজ আনেন মুক্তি (৩৯) (৬৭) সত্যং পরং ব্রহ্ম (১৬৮) (১৪) সতাং নিরুত্তরং বাক্যং (১১৯) (৫৬) সমস্তং খৰিদং ব্ৰহ্ম বিজ্ঞানরূপং (৬৮) সমানং ত্ৰিযু কালেষু (১২৩) (৪৮) সর্বজ্ঞেশশা মায়ালেশ (৩৭) সর্বথা ভেদকলন দ্বৈতাদ্বৈতং (৭৫), (৪১) সর্বদা সৰ্বভাবানাং সীমান্যং (১৪৫) (১৯) সর্বনাশে সমুৎপন্নে (১১৬) (১৫) সব্ব ভূত গুহাবাসং (৫) সৰ্ব্বং পরবশং দুঃখ (৯১) (১০৬) সৰ্ব্ব ভূতস্থ মেকং (৫) (৭১) সধ্বং সােঢ় মলং মনন্য (১৬৩) (২৪) সস্ত্রীকে ধৰ্ম্মমাচরেৎ (৯৯) (৩৩) সহস্রেণাপি হেতুনাং (১৩) সংসার দুঃখ দগ্ধানাং (১০৮) (১২০) সংহতিঃ কাৰ্য্য বাধিক। (৮) (১১৩) সংহতিঃ কাৰ্য্য সাধিকা (১১৪) (৫) সাপবাদা হি বিধয় (৯৩) (১৩) সুখস্য দুঃখস্য ন কোপি দাতা (৭৬) (৮৮) সুখানুধ্যান নিরতা (১১৫) সুখায় দুঃখ মােক্ষায় (১০৫) (২৯) সূক্ষ্মাবগাহিনী বুদ্ধি (৮৭ (১০) সূৰ্য্যাবন্তি ভূতানি (১৫৯) (১২) সৃষ্টপ্যয়করীং মায়া (৬৯) (১১) হরিভক্তিপরে! বাপি (৫৭) (১৯) হৱে দয়ালাে ভব মে শরণ্য শরীরিণঃ শরীরং হি শিবপূজাং পরিত্যজ্য শিবস্বরূপী শিব ভারিতানাং শিবাগারে ঝল্পকং ঐগুরুং পর তাখ্যং তিস্মৃতী মমৈবাে শ্রেয়শ্চ প্রেয়স্ট মনুষ্যমেতঃ শ্রোতে স্বার্নে চ বিশ্বাস শ্বপাকমিব নেক্ষেত Reference. (A) Maya or Contradiction--Planck says- There are two theorems that form together the cardinal hinge on which the whole structure of physical science turns...... To a certain degree these two statements are mutually contradictory. And this fact discloses the presence of an irrational or mystic element which adheres to physical science as to every other branch of knowledge. (P.S.82) (B) Order and Chaos-Planck says—The only kind of law in nature is statistical (P.U. 82) which according to Thomson, depends for its validity on the curious fact that the most irregular chaos has an order of its own. (T227) (C) Faith-Planck says-Science demands the believing spirit...... Over the entrance to the gates of the temple of Science are written the words. “Ye must have faith." It is a quality which the scientist cannot dispense with. (p. 214) We are always being brought face to face with the irrational. Else we could not have faith. And if we did not have faith but could solve every puzzle in life by an application of the human reason what an unbearable burden life would be. (p. 218 P.S.) (D). Blundering Reason-Planck saya Choicest mathematical speculations melt into thin air, unless substantiated by definite facts of ! experience (p. 105)...... A feeling of doubt persists [ 2 ] (p. 56). The most perfect world view would be no better than a bubble ready to burst at the first puff of wind if a living contact with the world of sense is lost (P. U. 56). Eddington says_Reason is. not infallible when practised by a blundering intelligence.(Sc. i30). (E) Reason a Sacrilege-Planck says-It would be a piece of stupid sacrilege on our part if we were to arrogate to ourselves the power of being able, on the basis of our own studies, to see as clearly as the eye of God sees and to understand as clearly as the Divine Spirit understands (P.S.103). (F) Truth intangible-Planck says-As the view of the physical world is perfected it recedes from the world perceived by the senses and approaches the world of reality, the world which lies beyond and behind the senses (P. U. 214) Richet. real world sends out vibrations around us. Some of them are perceived by our senses. Others, not perceptible to them, are disclosed by our scientific instruments. But there are still others which act upon certain human minds and reveal to them fragment of reality.” Richet- Our Sixth sense). (G) Mind and Matter-Jeans says-We are beginning to suspect the mind is the creator of matter. (J.148) Universe a world of pure thought (J. 140). (H) 'Truth' unattainable by Science Tulan rm_Crience cannot solve the ultimate says "The [ 3 ] mystery of nature. And that is because, in the last analysis, we ourselves are 'part of nature and therefore part of the mystery we are trying to solve" (p. 217.) "The most penetrating eye cannot see itself, no more than a working instrument can work upon itselt” (p. 104). There is a point where Science and therefore every causal method of research is inapplicable and will always remain inappli- 'cable. This point is the individual ego-embracing our emotional life, our will and our thought. (p. 161)-(P.S) (I) Truth no concern of Science-Russel says —"Science does not aim at immutable truths (R.163). Thomson (Arthur) says – "Science does not pretend to be a bedrock of truth. It is a partial abstract kind of knowledge. It is is not concerned with Truth or anything ultimate (Sc. 25). Eddington says “The physicist is unconcerned to whether atums or electrons exist (E. 326) Jeans says-(we think) according to tbe mood or convenience of the moment (J. 142) we can think of light as particles or as waves according to .convenience (J. 143). In the case of a single electron the wave motion must not be taken to exist (J. 121). Even energy the fundamental entity of the universe is an abstraction (J. 140). (J) Faithlessness-Planck scepticism is a universal feature of the world in our day" (p. 214) and "has darkened (all) fields of human activity" (p. 67). It laici its iconoclastic hands as says-General [ 4 ] sure first on religion then on Art and now it has invaded the temple of Science and begun to batter and shatter the very basis of man's knowledge (p. 65). The spirit of confusion and contradiction has begun to be active" even within the province of Science (p. 66) and is “significant of the all round unreliability of human knowledge,” (p. 67). "There is scarcely a scientific axiom that is not now-a-days denied by some body. And at the same time almost any nonsensical theory that may be put forward in the name of science would be almost to find believers and disciples somewhere or other. (p.65) (K) Innovation-In the introduction to the book “Where is Science going ?" is stated (pp. 32-33) -"The need for something radically different from the established order is a universal feature of our civilization !"......"The spirit of the age does not want to be considered the heir of old order and wishes to consider itself free from all laws. handed down through the authority of tradition.” (L) Admissions of Scientists-Jeans says. "Every conclusion is quite frankly speculative and! uncertain (J. 149) ... We are not in contact with. ultimate reality” (p. 127). Haldane says-"Every statement of a modern physicist is false. Many of our most cherished scientific theories contain: so much falsehood as to deserve the title of myths." (M) Mathematics and intuition-Intuition Gergoune says "A mathematical result is often guessed by intuition and is seldom reached by [ 5 ] arguments. The arguments are added afterwards to give the results an air of dignified but borrowed solemnity and can never therefore be properly and thoroughly grasped per se without the meritricious aid of previous knowledge (S. 35) See also L80,72 T 35, p. 71-R. 74, Mathematics -Eddington says "proof is an idol before whom the pure mathematician tortures himself. Mathematical logic has undergone revolution as profound as the revolutions of the physical theory. (E337) For Newton's and Laplace's mistakes See L. 63-64. (N) Physics-Force was known to be a mathematical fiction (R. 12) Laws of Gravitation reduced to Riemann's Geometry. R. 194 (P. U. 19) Ether imponderable, Ether an abstraction (J. 120) but more rigid than steel (L. 112) Heisenberg and Dirac deny Ether. Matter changes to radiation and radiation changes to matter (J. 74). The mass of a moving body varies with its speed. (J. 52) Mass and energy are identical (P. U. 19). Radiation has mass (J. 65). Weight of light and heat (J. 55) Light was a mere particle in the 17th century, waves in the 19th and both in the 20th (J. 58). (J.148) Poincare says "the earth moves and the heavens revolve are the same” (L. 118). Schrodinger (J. 121). (0) Chemistry-All the 92 elements derived from one and the same substance Hydrogen. Many of the elements are not even single substances are [ 6 ] but mixtures of different substances which together behave like single elements (H 107, H 68). Qualitative differences tend more' and more to be explained by quantitative differences (P.U. 14). (P) Medicine -The action of the ragus on the heart and on the intestines is opposed to that of the sympathetic nervous system. The vagus slows the heart and helps peristalsis while the sympathetic quickens the heart and inhibits peristalsis. (2) Biology-Haldane says--I have no doubt that biological theory is riddled with falsehood" (HI. 228). Eddington says "the doctrine of evolution is utterly one-sided and must be dropped. At any rate the theory of anti-evolution must be set along-side the theory of evolution as equally significant (N 458). (R) Causality and Indeterminacy-Jeans says-The Law of Causation dethroned by the Quantum theory (J. 20) and is being replaced by Heisenberg's Principle of Indeterminacy (J.25,P.38). Thus radiation is both a particle and a wave, but is not known what at any given time (J. 38) Dirac says same experiment yields different results (. 123). Jeans says, it seems possible that there may be some factor operating to neutralise the cast-iron inevitability of the old Law of Causation (J. 25). Eddington says, Something unknown is doing we don't know what that is what our theory amounts to (E. 291).

[ 7 ] а. (8) Mistakes in Lexicons-To give just a glimpse of the curious mistakes-Lantern is explained to mean case enclosing a light. It'should be a light enclosed in case. Toil is derived from dispute and strife (Oxford). “Others derive it from labour or tilling. To display is to betray (Oxford Concise). Infliction is troublesome boring experience (Oxford pocket). A blind alley is walled up at the end (Casell's New English). To desert has a bad meaning in the active and a good meaning in the passive voice (Webster). Among gems of English are found to be of a glowing white (Webster) and station on a piece of railway. or similibus curantar-like (T): Similia-Similia cures like, (U) Birdwood and Victor Cousin-Birdwood says-Sri Bharat and its sacrosanct people ...(the Mabaratta Brahman women) are perfect daughters, perfect wives, perfeot mothers,... The absolute power and the marvellous wisdom and tact of the Brahminical priesthood. Victor Cousin says-—"The Upanishads contain truths so profound that we are constrained to bend the knee before the philosophy of the East and to see this, the native land of the highest philosophy.”, C

( 8 )
References to paras and Subparas.
A-Maya or contradiction (55/2).
B-Order and Chaos (80/4).
C-Faith (8)
D-Blundering Reason (53/4).
E-Reason a Sacrilege (55/4)
F--Truth Intangible (77/1-2).
G-Mind and Matter (77/3).
H-Truth unattainable by Science (55/3).
1-Truth no concern of Science (53/6)
J-Faithlessness-(3/2).
K-Innovation (3/3).
L-Admissions of Scientists (53)
M-Mathemnatics and Intuition (68)
N-Physics (67)
0-Chemistry (66)
P-Medicine (69)
2- Biology (70).
R-Causality and Indeterminacy (73/3-4).
S-Mistakes in Lexicons (79/3).
T-Similia Similibus (79/4)
U-Birdwood-Victor Cousin (2)

হিন্দুধৰ্ম্ম ও পরিশিষ্ট মঙ্গলাচরণ হরে দয়ালাে ভব মে শরণ্য। ৰ্ম্মস্য বৃদ্ধিং জগতঃ কুরুথ। খলঙ্গ নাশং সুবিপৰ্যয়ং চ। সতাং প্রবৃদ্ধিং সনুগ্রহম্ ॥১॥ জয়তি জয়তি কৃষ্ণো দেবকীনন্দনাে যঃ। বসতি বসতি চিত্তে মােহনির্ণাশকোহসে । অবতি অবাত ধৰ্ম্মং সত্যরূপং পরাস্তা। চরণশরণমাস্তাং বাসুদেবং নমামি ১। ১। অর্থ-হে হরি তুমি দয়াময় তাই আমায় শরণ দাও। সমস্ত জগতের ধর্মের বৃদ্ধি কর, খলের নাশ কর, খলের সকল চেষ্টা একেবারে বিফল কর ও সাধুদিগের বিশেষ করিয়া বৃদ্ধি কর। কেন না সাধু পুরুষদের উপর অনুগ্রহ করাই তােমার স্বভাব। ২। হরে -প্রথমেই হরে বলিয়া সম্বােধন করিবার কারণ কি? এত নামের মধ্যে হরি নামটি বাছিয়া লওয়া হইল কেন? হৃ ধাতু হইতে হরি শব্দ ব্যুৎপন্ন হইয়াছে। হৃ ধাতুর অর্থ হরণ করা। যিনি মনুষের *.', 'মঙ্গলাচরণ পাপ চুরি করেন তাহাকেই হরি বলে। মনুষ মাত্রেরই পাপ বড় প্রিয়। মনুষ কখনই নিজের ইচ্ছায় পাপ ছাড়ে না। খলের ত আর কথাই নাই। অতএব মনুষের পাপ চুরি করা ভিন্ন আর উপায়ই নাই। সেই জন্যই হরিরূপে শ্রীভগবাকে স্মরণ করা হইল। ৩। দয়ালে, শরণ্য-হে হরি তুমি দয়াময়। পৃথিবীর ঘাের দুর্দশা দেখিয়া নিজ গুণে আমার প্রতি দয়া কর। কলির এই বিপৰ্যয় বাঁদরামির বিরুদ্ধে লাগি আমার এমন কি শক্তি? তুমি দয়া করিয়া আমাকে শরণদাও। তবেই বাঁদরামির প্রতীকার হইতে পারিবে। ৪। ধর্মস্য বৃদ্ধিং-ভারতের এই ঘাের দুর্দিনে তুমি ধর্মের বৃদ্ধি কর, কলিকালে পুণ্য চারি আনা মাত্র ও পাপ বার আনা থাকিবেই। ইহাই শাস্ত্রের আদেশ। অতএব কলিতে ধর্মের সম্পূর্ণ জয় হইতেই পারে না। ৫। কুরুত্ব—“কুরু” না হইয়া “কুরুন্ধ” হইল কেন? শ্রীহরি ফল নিজে গ্রহণ না করিলে সে ফল রক্ষা করিবার আর কাহারও সাধ্য নাই। সেই জন্যই আত্মনেপদী “কুরুষ” হইল, পরস্মৈপদী কুরু হইল না। ৬। খলস্য নাশং-খলের নাশ কর। এই হিংসার স্থান মঙ্গলা- চরণে হওয়া উচিত ছিল না। কেন না অহিংসাই পরম ধৰ্ম্ম, অহিংসাই পরম তপস্যা ও অহিংসাই পরম জ্ঞান ও অহিংসা: ভিন্ন আর বন্ধু নাই (৩)। এখন দেখিতে হইবে খল-নাশ কাহাকে বলে। খলের দেহ নাশ হইলে খল যেমন খল তেমনই থাকে। তাহার খলত্ব নাশ হইলে প্রকৃত খল নাশ হয়। অতএব খলের নাশ বলিতে খলবেরই নাশ বুঝায়। কাযেই শুনিতে হিংসা হইলেও খলনাশ অহিংসার চরম। ৭। সুৰিপৰ্যয়ং-সেইরূপ খলের সুবিপৰ্যয় হইলে সকল চেষ্টার মঙ্গলাচরণ বিপরীত ফল দিবে। অর্থাৎ খল যতই দুষ্টামি করিতে যাইবে ততই মন্দ ফল না হইয়া সুফল ফলিবে। ৮। সতাং প্রবৃদ্ধিং কুরুষ—সং শব্দের দ্বারা সাধুপুরুষ, সৎ কৰ্ম, সং সঙ্কল্প, সদিচ্ছা, সৎ আচরণ, সমস্তই বুঝায় অতএব এই সকল গুলিরই প্রবৃদ্ধি কর ইহাই প্রার্থনা। প্রবৃদ্ধি বলিলে বিশেষ বৃদ্ধি বুঝায়। ধর্মের প্রবৃদ্ধি চাওয়া হইল না কেন? কলিকাল বলিয়া হরির ইচ্ছায় ধর্মের বৃদ্ধি হইতেই পারে না। কলিকালে বার আনা পাপ থাকিবেই। ৯। সদনুগ্রহংহে হরি তুমি সদনুগ্রহ। সং বলিলে কি বুঝায় তাহা পূর্বেই বলা হইয়াছে। যাবতীয় সৎ বস্তুই তােমার অনুগ্রহের উপর নির্ভর করে। তােমার অশেষ অনুগ্রহ না হইলে কোন মানুষই সাধুপুরুষ হইতে পারে না। তােমার অনুগ্রহেই সদিচ্ছা, সৎ সঙ্কল্প ও সৎ কর্ম হইয়া থাকে। তােমার অনুগ্রহ বিনা এগুলি কখনই হইতে পারে না। আরও যাবতীয় সং বস্তু মাত্রেরই উপর তুমি অনুগ্রহ করিয়া থাক। ইহাই তােমার স্বভাব। যাবতীয় সৎবস্তু তোমার দয়ার উপর নির্ভর করে ও যাবতীয় সৎবস্তুর উপর তােমার দয়া স্বতঃই হইয়া থাকে। অতএব হে দয়াময় তুমি ধৰ্ম্মের বৃদ্ধি করিয়া সাধুদিগের বিশেষ বৃদ্ধি করিয়া ও খল নিগ্রহ করিয়া পৃথিবীকে নাস্তিক ইন্দ্রিয়ারাম মনুষ-পশুর হাত হইতে রক্ষা কর। ১০। জয়তি ইত্যাদির অর্থ—শ্রীকৃষ্ণের জয় হউক, জয় হউক। তিনিই দেবকীনন্দন। তিনি আমার চিত্তে সদাই বাস করুন, বাস করুন। তিনি সকল মােহ নিশ্চয়পূর্বক নাশ করেন (অতএব আমারও সকল মােহ সম্পূর্ণ বিনাশ করুন)। তিনি ধর্ম রক্ষা করুন, মঙ্গলাচরণ ধর্ম রক্ষা করুন ( ধৰ্ম্ম রসাতলে যাইতে বসিয়াছে। নতুবা ধর্মের নিস্তার নাই। কেন না তিনিই সত্য ও তিনিই পরমাত্মা। তাঁহার চরণকমলে আমি শরণ লই। আমি বাসুদেবকে প্রণাম করি। ১১। জয়তি জয়তি-বলিবার সার্থকতা কি? কৃষ্ণ নিরঙ্কুশ স্বতন্ত্র পুরুষ। তাঁহার জয় কি কামনা করিব? আমার চাওয়া না চাওয়াতে তাহার কি আসিয়া যায় ? তাহার কিছু লাভ না থাকিলেও আমার ত লাভ আছে। “কশ সারথেহেঁতাে রনুমােদিতু রেব চ” (৪)। অনুমােদন করিলেই যখন সমান ফল হয় তখন কামনা, কখনও নিস্ফল হইতে পারে? জয়তু না বলিয়া জয়তি হইল কেন? জয়তির অর্থ জয়তি ও জয়তু। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ সর্বদাই জিতিয়া থাকেন আর আমিও চাই তিনি সর্বদাই জয়যুক্ত হউন। কামনার মাত্রা বুঝাইবার জন্য দুইবার জয়তি হইল। ১২। কৃষ্ণঃ(কৃষ =কর্ষণ। টানা )—যিনি সকলের পাপ ও পাপজ ত্রিতাপ আকর্ষণ করেন অর্থাৎ জীবের অনিচ্ছা সত্বেও টানিয়া বাহির করিয়া নাশ করেন তিনিই কৃষ্ণ। তিনিই কাল। কেন না কালৰ ভিতর ভাল থাকে, দুঃখেই মুখ থাকে, কষ্টেই আনন্দ থাকে, ইহাই মায়ার খেলা। তিনিই কাল। কেন না, যখন ভয়ঙ্কর গ্রীষ্মে লােকের প্রাণ যায় যায় হয় তখন আকাশে গভীর মেঘ উঠিলে মানুষ আনলে নাচিতে থাকে। তাই ভগবান কালরূপ ধরিয়া জীবকে আশ্বাস দিতেছেন-“পাপী আমি আছি ভয় নাই। আমি তাের পাপের জালা জুড়াইয়া দিব।” ১৩। দেবকীনন্দনঃ ( দিব=দীপ্তি পাওয়া। দল= আনন্দ দেওয়া )—সূর্যের কিরণ সকল যায়গাতেই পড়ে, কেবল সমতল চক্চকে যায়গাতেই প্রতিফলিত হয়। সেইরূপ শ্রীভগবানের নির্হেতুক মসলাচরণ কৃপা সকল জীবের প্রতি হইলেও যাঁহার হৃদয় সমতল অর্থাৎ যাহার মন সমান (বিষম নহে) অর্থাৎ যিনি সর্বভূতে সমজ্ঞান করেন তাহারই মনে বিকশিত হয়, বিষমচিত্ত জীবের মনে বিকশিত হয় না। যাহার মনে ভগবৎকৃপা বিকাশ পায় তিনিই দেবকী ও তাহারই মনে ভগবৎকৃপা আনন্দ দিতে পারে অর্থাৎ ঠাই পায়। অতএব কৃষ্ণই দেবকীনন্দন। (দেবকীকে যিনি আনন্দ দেন)। ১৪। বসতি-যিনি নিশ্চয়ই মােহ বিনাশ করেন তিনি সকলেরই হৃদয় করে বাস করেন (৫)। তবে সকলের মােহ যায় না কেন? ইহাই মায়ার বৈপরীত্য। যারূঢ় মায়য়া তথাপি শরণং গচ্ছ। (তুমি কাঠের পুতুল, তথাপি তাহার শরণ লও) (৩৪) মােহ দুর করিবার জন্য তাহার শরণ লওয়া চাই। তিনি রক্ষা করিবার জন্য হাঁ করিয়া বসিয়া থাকেন-কবে জীব তাহার শরণ লইবে (৬)। কিন্তু শরণ না লইলে তিনি রক্ষা করিতে পারেন না। মােহনির্ণাশক শ্রীকৃষ্ণ সকলেরই হৃদয়মন্দিরে বাস করেন—বসতি। কিন্তু যতক্ষণ জীব “সতু” বলে ততক্ষণ তাহার মােহ কাটে না। যেমন সূৰ্য সমস্ত অন্ধকার দূর করেন তথাপি চোখ না তাকাইলে দেখিতে পাওয়া যায় না। ১৫। অবতি-ভগবান রক্ষা না করিলে ধৰ্ম্ম একেবারেই লােপ পাইত। তিনি ধর্ম রক্ষা করিতেছেন—অবতি। কিন্তু কলির জীব ধৰ্ম্মরক্ষা বিষয়ে প্রতিকুল হওয়াতে ধৰ্ম্ম রসাতলে যাইতে বসি- য়াছে। অতএব আমি তােমার অভয়চরণে কাতর হইয়া শরণ লইতেছি—ঠাকুর এই ছুতা লইয়া তুমি নিজগুণে নিজের ধর্মকে নিজেই রক্ষা কর—অবতু। ধর্মের প্রাণ সত্যই তােমার মূর্তি। তুমি প্রভু (পরমাত্মা ), আমি দাস। নিজগুণে আমার কামনা পূর্ণ কর।

মঙ্গলাচরণ ১৬। আন্তা (থাকুক)-ঠাকুর তােমার অভয় চরণে শরণ নিতে পারি আমার এমন সামর্থ্যই বা কোথায়, বুদ্ধিই বা কোথায় ? তাই মুখেই বলিতেছি তােমার চরণকমলে তােমারই নিৰ্হেতুক কৃপায় আমার শরণ লওয়া হইল। তবে কি আমি কেবল মুখে বলিয়াই ক্ষান্ত হইব? না, আমি সেই জন্যই তােমাকে বার বার প্রণাম করিতেছি। এই প্রণামের ছুতা লইয়া তুমি আমাকে প্রকৃত শরণ লওয়ার বুদ্ধি ও সামর্থ্য দাও। বাসুদেব বলা হইল কেন? যিনি জীবের হৃদয়ে, অজ্ঞানান্ধকার দূর করিয়া জ্ঞানালােক দেন সেই বাসুদেব কৃষ্ণই আমার কলির অন্ধকার দূর করুন!

হিন্দুধৰ্ম ১ অ—শাস্ত্র ও বিচার। ১। শাস্ত্রদ্রোহ-হিন্দুশান্ত্রের নিন্দা করা আজকাল সর্বত্র একটা নূতন ঢঙ হইয়া উঠিয়াছে। হিন্দুশাস্ত্র কি? উহাতে কি লেখা আছে? সে সকল কথা সত্য না মিথ্যা, ভাল কি মন্দ তাহা জানিবার কোনই প্রয়ােজন নাই। বরং হিন্দুশাস্ত্র বিষয়ে যে যত মুখ সে ততই হিন্দুশাস্ত্রের নিন্দা করিবার অধিকারী ও সে ততই নিন্দা করিয়াও "থাকে। হিন্দুশাস্ত্র বিন্দুমাত্র জানিতে পারিলে বিদেশীয় পণ্ডিতগণও একেবারে বিস্মিত হইয়া যান। কিন্তু আজ ভারতের এমনই দুর্ভাগ্য যে বিদেশীয় শিক্ষার মােহে এই শাস্ত্র গ্রন্থকেও অবজ্ঞা ও নিন্দা করা ভিন্ন স্বয়ং হিন্দুসন্তানের আর কোনও কাজ নাই ও হিন্দুশাস্ত্রের দুই এক পাতা পড়িয়া দেখিবারও প্রবৃত্তি কখনও হয় না। ২। শাস্ত্র ও বিদেশীয় মত।—পণ্ডিতগ্রগণ্য সার জর্জ বাঙ- উড “” নামক স্বীয় গ্রন্থে ভারতবাসিগণের সম্বন্ধে লিখিয়াছেন- “ভারত ও উহার পবিত্র হইতে পবিত্র জনগণ•••মহারাষ্ট্র দেশের ব্রাহ্মণীগণ নির্দোষ ক নির্দোষ পত্নী, ও নির্দোষ জননী। ব্রাহ্মণগণের জ্ঞান ও শক্তি অদ্ভূত।” (U) প্রসিদ্ধ দার্শনিক ভিক্টর কুজা বলিয়াছেন-“উপনিষদে এরূপ অদ্ভুত তত্ত্বজ্ঞান আছে, যাহা পড়িলে মন্তক আপনা হইতেই অবনত হইয়া হিন্দুধর্মশাস্ত্র ও বিদেশীয় মত। প্ল্যাঙ্ক ও নাস্তিকতা [ ৩-৪ পড়ে। সেই অদ্ভুত তত্ত্বজ্ঞান যে দেশে প্রকাশিত সে দেশকে দর্শন করিবার ইচ্ছা আপনা হইতেই চিত্তকে অধিকার করিয়া বসে।” (0) ৩। প্ল্যাঙ্ক ও নাস্তিকতা—১। ম্যাক্স প্লাঙ্ক আজকাল পদার্থ- বিদগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি “নব বিজ্ঞানের পরিণাম কি?” নামক পুস্তকে মাত্র দুই তিন মাস হইল লিখিয়াছেন— ২। আজকাল সর্বত্র নাস্তিকতা ছাইয়া ফেলিয়াছে। এই নাস্তিকতা প্রথমে ধৰ্ম্মকে আক্রমণ করিয়া পরে শিক্ষাকে আক্রমণ করে ও এক্ষণে বিজ্ঞানকেও অধিকার করিতে বসিয়াছে। ক্রমে যত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয় আছে সেই সকল বিষয়ের উপর নাস্তিকতা সন্দেহের কালি ঢালিয়া দিয়াছে। বিরোেধ ও কুতর্কের প্রবৃত্তি ক্রমশঃ বলবতী হইতেছে। যতই সত্য ও স্পষ্ট হউক না কেন এখন কেহ না কেহ তাহাকে মিথ্যা বলিবেই। আর বিজ্ঞানের নামে যতই মিথ্যা ও বােকার মত বলা যাক না কেন তাহাকে সত্য বলিয়া প্রতিপন্ন করিবার জন্য কেহ কেহ খাড়া হইবেই।(J) ৩। উক্ত পুস্তকে আরও লিখিত হইয়াছে যে—“নবীন সভ্যতার লক্ষণ এই যে—আমরা আমাদের বাপদাদার নিকট ঋণী নহি। অতএব সনাতন সত্যের পথ ত্যাগ করিয়া-মিথ্যা সত্য বিচার না করিয়া নূতন পথে চলাই একমাত্র কর্তব্য।” (K) ৪। নুতনে প্রেম ওপুরাতনে বিদ্বেষই নাস্তিকতা— সঙ্গ ও শিক্ষার দোষেই নাস্তিকতা এখন সর্বত্র ব্যাপ্ত। নব্য শিক্ষিত ব্যক্তিমাত্ৰই নাস্তিকতার করাল গ্রাসে পতিত হইয়া কুতর্কের দ্বারা স্বধর্মের নিন্দা করিবার জন্য সদাই ব্যস্ত। নূতনে প্রেম ও পুরাতনে বিদ্বেষ এই নাস্তিকতার প্রধান লক্ষণ। পুরাতন যতই সত্য হইবে বিদ্বেষও ততই অধিক হইবে ও নূতন যতই পুরাতনবিরুদ্ধ হইবে নূতনে প্রেমও ৫৬। হিন্দুধর্মশাস্ত্র ভগবাক্য ও মানিবার বস্তু বিচারের নহে ততই অধিক হইবে। এই নাস্তিকতার তরঙ্গ সমগ্র জগৎকে প্লাবিত করিয়া ফেলিয়াছে। যে মনুষ্য আপনার কল্যাণকামনা করে তাহার উচিত এই নাস্তিকতার তরঙ্গকে বাধা দিবার জন্য স্ব স্ব শক্তি অনুসারে চেষ্টা করা। তাহা হইলেই শ্রীভগবান্ নিৰ্হেতুক কৃপা দ্বারা সেই শুভচেষ্টা সফল করিয়া দিবেন ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। ৫। শাস্ত্র ভগবদ্বাক—হিন্দুশাস্ত্র মনুষের রচিত নহে। ভগবানের মুখ হইতে চারি বেদ, পুরাণ ও ইতিহাস নির্গত হইয়াছে (৭)। চতুর্বেদ সাক্ষাৎ নারায়ণ (৮)। সর্বজ্ঞ ঈশ্বর পুরাণ ও ইতি হাসকে পঞ্চম বেদরূপে সৃষ্টি করিয়াছেন (১)। বেদ ও স্মৃতি উভয়ই আঁভগবানের আজ্ঞা। অতএব যে ব্যক্তি বেদ পুরাণ ইতিহাস ও স্মৃতি মানে না সে ভগবদদ্রোহী ও শ্রীভগবানের আজ্ঞা লঙ্ঘন করার জন্য উহাকে শ্রীভগবানের শত্রু বলিয়া জানিতে হইবে। সে ব্যক্তি ভক্ত হইলেও বৈষ্ণব নহে (১০)। ৬। শাস্ত্র মানিবার বস্তু, বিচারের নহে-বদ ও পুরাণাদি শ্রীভগবানের মুখ হইতে নির্গত হইয়াছে। উহা তাঁহারই আজ। অতএব বেদ ও পুরাণাদি সকলেরই মানা উচিত। বেদ ও পুরাণাদিকে সন্দেহ করিয়া উহার আদেশ ভাল কি মন্দ বিচার করা কখনই উচিত নহে। এই কথা হৃদয়ে দৃঢ়রূপে অঙ্কিত করিবার জন্য শ্রীভগবান্ বেদ ও পুরাণ প্রভৃতির নাম শাস্ত্র রাখিয়াছেন। শাস্ত্র শব্দের ব্যুৎপত্তি শাস ধাতু হইতে হইয়াছে। শাস্ ধাতুর অর্থ শাসন করা। শাস্ত্র শাসনই করিয়া থাকে—আজ্ঞা দেয় বুঝায় না। অতএব কোন প্রকারে শাস্ত্রের শাসন বা আজ্ঞা লঙ্ঘন করা উচিত নহে। মনুষের কি করা উচিত বা অনুচিত--মনুষের কি ধর্ম ও কি অধৰ্ম ইত্যাদি বিষয়ে সর্বজ্ঞ পুরুষ কৃপাপরবশ হইয়া শাস্ত্রে আদেশমাত্র করিয়াছেন, হিন্দুধৰ্ম্মশাস্ত্র বলিলেই হিন্দুশাস্ত্র বুঝায় [ ৭-৮ বুঝান নাই। অতএব শাস্ত্রের আদেশ সকল শিবােধাৰ্য করা কল্যাণকামী মনুষমাত্রেরই একমাত্র কর্তব্য কর্ম। যে ব্যক্তি অহঙ্কারের বশে শাস্ত্র- বাক্য লঙ্ঘন করিয়া আপনার প্রবৃত্তি ও বিচার মানিয়া চলে—শাস্ত্র তাহাকেই নাস্তিক বলে (১১)। নাস্তিক ব্যক্তি সমূলে বিনাশ প্রাপ্ত হয় ইহাতে কি কখনও সন্দেহ হইতে পারে ? ৭। শাস্ত্র বলিলেই হিন্দুশাস্ত্র বুঝায়—বাইবেল ও কোরাণ প্রভৃতির নাম পবিত্রলিপি-শাস্ত্র নহে। অতএব শাস্ত্র বলিলে একমাত্র হিন্দুশাস্ত্রকেই বুঝায় অন্য ধর্মগ্রন্থ নহে। শ্রীভগবানের বাক্যে অবিচারিত ও অটল বিশ্বাস না করিলে ভগবদাজ্ঞা লঙ্ঘনের অপরাধ নিমিত্ত নাস্তিক ব্যক্তির সকল কর্মই নিস্ফল হইয়া থাকে, এ কথা স্পষ্ট হইতেও স্পষ্টতর করিবার জন্যই বেদ ও পুরাণাদির নাম শাস্ত্র রাখা হইয়াছে। ৮। বিশ্বাস নববিজ্ঞানের মূল—বিশ্বাস ত্যাগ করিয়া কেবল বিচারের দ্বারা কোন ফলই হয় না একথা এখন নব বিজ্ঞানও মানিতে আরম্ভ করিয়াছে। ধর্মের তত কথাই নাই, সকল বিষয়েই বিশ্বাসই প্রধান। প্ল্যাঙ্ক বলেন নব বিজ্ঞানের মন্দিরের দ্বারদেশে লেখা আছে—“এখানে বিশ্বাসী লােকদেরই প্রবেশাধিকার আছে, অবিশ্বাসীদিগের নহে (c)। বিশ্বাস ভিন্ন বিজ্ঞান অগ্রসর হইতে পারে না (C)। পদে পদে আমাদের সম্মুখে একটি অজ্ঞেয় বস্তু আসিয়া উপস্থিত হয়। তাহা না হইলে আমরা বিশ্বাস রাখিতে পারিতাম না। যদি আমরা সকল বিষয়ই বিচার করিয়া বুঝিতে পারিতাম তাহা হইলে আমাদের বিশ্বাসের প্রয়ােজনই হইত না, ও জীবন দুর্বিষহ তার হইত (C)।

১১ হিন্দুধৰ্ম্ম-শাস্ত্র মানিতে অনিচ্ছা কেন ৯। শাস্ত্র মানিতে অনিচ্ছা কেন?—এই কলিযুগে উচ্ছলতা মনুষের প্রাণ অপেক্ষাও প্রিয়। যে মনুষ্য শৃঙ্খল অর্থাৎ বন্ধন হইতে ভীত হয় শাস্ত্র তাহাকে উচ্ছল বলে। শৃঙ্খল অর্থাৎ বন্ধনই সকল কল্যাণের মুল। এই জন্যই শাস্ত্র বিচারে প্রবৃত্ত না হইয়া অর্থাৎ লােককে বুঝাইবার চেষ্টা না করিয়া শাসন করিয়াছেন। কল্যাণ- বিমুখ মনুষের নিকট বন্ধনের তুল্য কঠোর ও ভয়ানক এবং উচ্ছলতার তুল্য প্রিয় কিছুই নাই। অতএব এই কলিযুগে শাস্ত্রবিদ্বেষ মানুষের হৃদয়ে আপনা হইতেই স্ফুরিত হয়। যদি শাস্ত্র শাসন না করিয়া মনের অনুকুল কথা বলিত, তাহা হইলে উচ্ছল মনুয়র নিকট উহার কত না আদর হইত (১২)। কিন্তু আমি উচ্ছল অতএব শাস্ত্র মানিতে চাহি না এ কথা স্বীকার করা বড়ই কঠিন। অতএব এ কথার একটা আবরণ দিয়া বিচারের ভাণ করিতেই হয় এবং এইজন্যই আবালবৃদ্ধ বনিতা সকলেরই মুখে বিচার বিচার রব সর্বদাই শুনিতে পাওয়া যায়। ১০। বিচারের ভাণ—এই বিচার বিচার রব একেবারে মিথ্যা। এই কলিযুগে বিচারপরায়ণতা বিচারপলায়নতার মূর্তি মাত্র। বিচার বিচার রব যাহার কণ্ঠ হইতে যত জোরে বাহির হয় সেই ব্যক্তিই বিচার হইতে ততই দূরে পলায়ন করে। আজকাল বিচারের দুইটা অঙ্গ। ভ্রান্ত মনুষের মতকে অভ্রান্ত মানিয়া লওয়া(১৩) ও কুপ্রশ্ন করা ও জবাব না দেওয়া। প্রকৃত বিচার ছাড়িয়া অপরের ভ্রান্ত মত গ্রহণ করাই এই সকল লােকের স্বভাব কিন্তু যদি মত অভ্রান্ত হয় তাহা হইলে সে মত একেবারে অগ্রাহ। মত যতই ভ্রান্ত হইবে অর্থাৎ যতই উচ্ছল মনের অনুকুল হইবে ততই উহা গ্রহণের যােগ্য হইবে। অভ্রান্ত শাস্ত্র অর্থাৎ সনাতন ভগবাক্য উচ্ছল ব্যক্তির মনের সম্পূর্ণ বিপরীত। অতএব উহা কখনই মানা হিন্দুধৰ্ম্ম-নব্য বিচার বিচার নহে বিতণ্ডা মাত্র [ ১১-১২ উচিত নয়। কিন্তু বিচার বড়ই কঠিন কাজ অতএব বিচারের পরিবর্তে কুপ্রশ্নজাল বিস্তার করাই এক মাত্র আশ্রয়। ১১। নব্য বিচার বিচার নহে, বিতণ্ড। মাত্র—স্যায়- শাদির মতে বিচার তিন প্রকার-বাদ, জল্প ও বিতণ্ডা। বিচারের দুইটা অসাধন অর্থাৎ নিজ পক্ষ স্থাপন অর্থাৎ নিজের কথা প্রমাণ করা ও উপালম্ভ অর্থাৎ পরপক্ষদুষণ অর্থাৎ অপর পক্ষের দোষ ধরা ? যেখানে উভয়পক্ষেরই সত্য বাহির করা ভিন্ন অন্ত চেষ্টা থাকে না। তাহাকে বাদ বলে। যেখানে উভয়পক্ষই ছলনা বা মিথ্যার আশ্রয় করে তাহাকেই জল্প কিংবা বিতণ্ডা বলে। যেখানে সাধনের জন্য প্রমাণ ও তর্ক উপস্থিত করা হয় ও উপালম্ভের নিমিত্ত ছলনার আশ্রয় করে তাহার নাম জল্প। অর্থাৎ যেখানে নিজের কথা প্রমাণ করিবার চেষ্টা আছে ও মিথ্যা করিয়া অপর পক্ষের দোষ ধরা হয় তাহাকে জল্প বলে আর যেখানে সাধনের কোন চেষ্টা না করিয়া কেবল উপালন্তের জন্য ছলনাপূর্বক চেষ্টা করা হয় তাহাকে বিতণ্ডা বলে। অর্থাৎ যেখানে নিজের কথা প্রমাণের কোনও চেষ্টা না করিয়া কেবল মিথ্যা করিয়া অপর পক্ষের দোষ বাহির করিবার চেষ্টা করা হয় তাহাকে বিতণ্ডা বলে। আজকাল যত প্রকার বিচার দেখা যায় সে সবই বিতণ্ডা মাত্র। কি হওয়া উচিত, কেন হওয়া উচিত এ সকল কথার কোন প্রয়ােজন নাই, কেবল কুপ্রশ্ন দ্বারা শাস্বপক্ষের দোষ দেওয়াই একমাত্র কর্ম। অতএব বিতণ্ডাকারিগণকে ছাড়িয়া প্রথমে হিন্দুশাস্ত্র কি বলে তাহা দেখা উচিত। ২ অ-হিন্দুশাস্ত্রের মােটা কথা ১২। শাস্ত্র না মানিলে ভগবানের শত্রু হয়- শাস্ত্র ভগবাক্য অর্থাৎ ভগবানের আজ্ঞা। শাসূন করাই শাস্ত্রের কাৰ্য্য। :

১৩-১৪ ] হিন্দুধৰ্ম্ম-অবিচারিত বিশ্বাস যে শাস্ত্রের আজ্ঞা লঙ্ঘন করে সে ভগবানের শক্ত, সে ভক্ত হইলেও বৈষ্ণব নহে (১৩)। ১৩। অবিচারিত বিশ্বাস-শাস্ত্ৰবাক্যে অবিচারিত বিশ্বাস সকল কল্যাণের মূল। শাস্ত্রের কথা কখনই মিথ্যা হইতে পারে না, এই নিশ্চয় জ্ঞানকে অবিচারিত বিশ্বাস বলে। যেখানে শাস্ত্রবাক্য যুক্তির বিরুদ্ধ বলিয়া প্রতীত হয় সেখানেও নিজের বিচার কিছুই নয় ও শাস্ত্র- বাক্যই অভ্রান্ত সত্য এই অটল বিশ্বাসের নাম অবিচারিত বিশ্বাস। ব্যক্তি শাস্ত্র না মানিয়া আপনার বিচার কিংবা মনকে অবলম্বন করে তাহার কোন কর্মই সফল হয় না। তাহার ইহকালেও সুখ নাই আর পরকালেও গতি হয় না (১৪)। অতএব সকলেরই শাস্ত্র মানিয়া ভালমন্দ ও কর্তব্য অকৰ্তব্য ঠিক করা উচিত (১৫)। শাস্ত্রানুসারে যে চেষ্টা বা কৰ্ম্ম করা হয় তাহাকে শান্ত্রিত চেষ্টা বলে। উহা দ্বারা পরমার্থ লাভ হয়। শাস্ত্রবিরুদ্ধ চেষ্টা বা কর্মকে উচ্ছাস্ত্র চেষ্টা বলে। উহার দ্বারা পরম অনর্থ হইয়া থাকে (১৬)। যে ব্যক্তি শাবাক্যে কিছুমাত্র সন্দেহ করে, কোন কালে তাহার মােক্ষ হয় না। অতএব সদা শাস্ত্রে বিশ্বাস রাখিতে চেষ্টা করা অবশ্য কর্তব্য (১৭।। ১৪। নাস্তিকতার তুল্য পাপ নাই-শাবাক্যে অবি- চারিত বিশ্বাসের নাম আস্তিক এবং শাবাক্যের সত্যতা বিষয়ে অণুমাত্র সন্দেহ করাই নাস্তিকতা (১১)। নাস্তিকতার তুল্য পাপ আর কিছুই নাই(১৮)। নাস্তিক ব্রাহ্মণ চণ্ডাল হইতেও অস্পৃশ্য ও বর্জনীয় (১৯)। নান্তিক কখনও হিন্দু হইতে পারে না আর হিন্দু কখনও নাস্তিক হইতে পারে না। হিন্দু হইলেই আকি হইতেই হইবে। ১৫। অহঙ্কার হইতে নাস্তিকতা, মিথ্যা ও পাপের উৎপত্তি—অহঙ্কার সকল অনর্থের একমাত্র কারণ। অহঙ্কার এমনই ১৪ হিন্দুধৰ্ম্ম-অহঙ্কার হইতে নাস্তিকতা, মিথ্যা ও পাপের উৎপত্তি [ ১৫-১৬ পদার্থ যে স্বয়ং ভগবানও অহঙ্কারের প্রভাবে জীব হইয়া গিয়াছেন (২০)। মােহ হইতে অহঙ্কার ও অহঙ্কার হইতেই সংসারের উৎপত্তি। যাহার অহঙ্কার নাই, তাহার মােহও নাই সংসারও নাই (২১)। অহঙ্কার হইতে মিথ্যার উৎপত্তি ও অহঙ্কার হইতেই ধৰ্মনাশ হয় (২২)। অহঙ্গার থাকিতে সমস্ত শাস্ত্র কণ্ঠস্থ করিলেও ভগবানকে জানিতে পারা যায় না। যেমন হাতা রসে ডুবিয়া থাকিয়াও রসের আস্বাদ গ্রহণ করিতে পারে , তেমনিই অহঙ্কারী ব্যক্তি সকল শাস্ত্রে সুপণ্ডিত হইলেও শাস্ত্রের অর্থ বুঝিতে পারে না (২৩)। অহঙ্কার হইতে নাস্তিকতা, নাস্তিকতা হইতে অজ্ঞান ও অজ্ঞান হইতেই যত কিছু পাপের উৎপত্তি হইয়া থাকে। ১৬। অহঙ্কার ত্যাগের নাম দীনতা—দীনতাই সমস্ত জ্ঞানের মূল। অহঙ্কার ত্যাগের নামই দীনতা (২৪)। আমি কিছুই বুঝিতে পারি না, আমার বুদ্ধি বিপরীত, আমি ভালকে মন্দ এবং মন্দকে ভাল বলিয়া মনে করি—এই জ্ঞানের নামই দীন (২৫)। বেদ বলিয়াছেন—যে বলে আমি জানি সে কিছুই জানে না, আর যে বলে আমি কিছুই জানি না সেই সব জানে। যে জ্ঞানের অভিমান, করে সে অজ্ঞানী ও যে অজ্ঞানের অভিমান করে, তাহাকে পরম জ্ঞানী বলিয়া জানিতে হয় (২৬)। এই দীনতার জন্য শাস্ত্র ও গুরুবাক্যে অবিচারিত বিশ্বাস করা উচিত। গুরুকৃপা ব্যতীত জ্ঞান কখনও হয় না (২৭)। ভ্রান্ত জীবের উদ্ধারের নিমিত্ত স্বয়ং শ্রীভগবান্ গুরুরূপে আবির্ভূত হন (২৮)। যাহার দেখিবার ইচ্ছা হয় সেই দেখিতে পায়। কেবল মন্দভাগ্য মনুষই দেখিতে পায় না (২৯)। ১৭। ভগবানের ইচ্ছাই সকল কার্যের কারণ- ভগবদিচ্ছাই সমস্ত বস্তুর কারণ। শ্রীভগবানের পূর্ণ কৃপা না হইলে জ্ঞান ১৭-১৯ ] হিন্দুধৰ্ম্ম-ভগবানের ইচ্ছাই সকল কার্যের কারণ হইতে পারে না (৩০)। জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও নাশ ভগবানের ইচ্ছা- তেই হয়। তাহারই ইচ্ছায় পবন বাতাস দেন, সুৰ্য উত্তাপ দেন, ইন্দ্র বৃষ্টি দেন, অগ্নি দগ্ধ করেন, যম জীবগণকে নাশ করেন (৩১)। শ্রীভগ- বানের ইচ্ছা না হইলে আগুনে পােড়ে না, জলে ডুবিতে পারে না, সাপে কামড়াইতে পারে না, রােগ হইতে পারে না, আর মৃত্যু ও ভয় পলায়ন করে (৩২)। জগতের উৎপত্তি রক্ষা ও নাশ যেমন শ্রীভগ- বানের ইচ্ছায় হইতেছে তেমনি শ্রীভগবানের ইচ্ছাতেই সকল বস্তুই আপনার স্বরূপে অবস্থান করে অর্থাৎ যে বস্তু যাহা, সে বস্তু তাহাই থাকে ও সেইরূপ কাৰ্য্য করে। ভগবানের ইচ্ছাতে কখন কখন এক বস্তু অপরের তুল্য কাৰ্য্য করিতে থাকে অর্থাৎ ভগবদিচ্ছায় কখন কখন বিষ অমৃতের কাৰ্য্য করে এবং অম্বলও বিষের কাৰ্য্য করে, সেই জন্য বিষ খাওয়াইলে মানুষের জীবনরক্ষা হয়, আর অমৃত খাওয়াইলে মানুষের প্রাণবিনাশ হয় (৩৩)। ১৮। মানুষ ভগবানের হাতের পুতুল—অচিবৎ পরতন্ত্র—জগতে যাবতীয় বস্তুই অচিৎবং শ্রীভগবানের পরতন্ত্র। জড়- পদার্থ সকল যেমন আপন ইচ্ছায় কিছুই করিতে পারে না, তেমনি মনুষ্য প্রভৃতি চেতন জীবসকলও আপন ইচ্ছায় কিছুই করিতে পারে না (৩৪)। যেমন কুম্ভকারের হাতে মাটি, ছুতােরের হাতে কাঠ তেমনই মানুষ শ্রীভগবানের হাতে খেলনামাত্র। তিনি যাহাকে যাহা করান সে তাহাই। করে। আপনা হইতে কেহ কিছুই করিতে পারে না। ১৯। সংসার মায়ার দ্বারা সৃষ্ট ও উল্টা পাল্টা- মনুষ্য চেতন হইলেও অচেতন, একথা বড়ই বিপরীত বলিয়া মনে হয়। কিন্তু জগৎ মায়া হইতে সৃষ্ট। মায়ার স্বরূপই বিপরীত অর্থাৎ মায়া দ্বারা , হিন্দুধৰ্ম্ম-মােক্ষই মনুষ্যজীবনের উদ্দেশ্য [ ২০-২১ সব বস্তুই উল্টা পাল্টা বলিয়া মনে হয় (৩৫)। এই বৈপরীত্য জ্ঞান অর্থাৎ উল্টা পাল্টা জ্ঞান ভিন্নপ্রকৃত জ্ঞান কখনই হয় না। এই জন্যই শাস্ত্র আদেশ করিয়াছেন—শাস্ত্র ও গুরুবাকে অবিচারিত বিশ্বাস রাখিও তবেই তােমার প্রকৃত জ্ঞান হইবে। অর্থাৎ বিচার ত্যাগ করিলেই তােমার বিচার ও জ্ঞান হইবে। সেই জন্য আপনাকে অজ্ঞানী জড় মনে করিয়া শাস্ত্রের আদেশ অনুসারে কাৰ্য করা উচিত। এই জন্য দীন হইলে জ্ঞান হয়, আমি অজ্ঞানী জানিলে জ্ঞান হয় ও চণ্ডাল অস্পৃশ্য হইয়াও পূজনীয় হইয়া থাকে (৩৬)। মােক্ষই মনুষ্যজীবনের উদ্দেশ্য। মুক্তি না হইলে আত্মঘাতী-মায়া হইতেই বৈপরীত্য অর্থাৎ উল্টা পাল্টার সৃষ্টি (৩৭)। বৈপরীত্য হইতে মােহ অর্থাৎ ধোকার উৎপত্তি। ধোকা হইতে সংসার অর্থাৎ চিরকাল যাওয়া আসা বা পুনঃ পুনঃ জন্ম মৃত্যু হয় (৩৮)। স সারে পুনঃ পুনঃ যাতায়াত বন্ধ হওয়ার নামই মুক্তি বা মােক। যেমন চাকায় কাদা লাগিলে সেই কাদা চাকার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরিতে থাকে ও চাকা হইতে ছিটকাইয়া গেলে কাদ। আর ঘুরিতে থাকে না, সেইরুপ মানুষ এই সংসারচাকায় অজ্ঞানের দ্বারা বদ্ধ ও সংসা- রের চাকার স}ে সঙ্গে অনবরত জন্মিতে ও মরিতে থাকে ও অজ্ঞান নাশ হইলে সংসারচাকা হইতে ছিটকাইয়া পড়ে অর্থাৎ মুক্তিলাভ করে (৩৯)। সংসার হইতে মুক্তিলাভ করাই মনুষ্যজীবনের একমাত্র লক্ষ্য। যে মনুষ দুলভ মানবজীবন লাভ করিয়াও মুক্তিলাভ করিতে পারে না, শান্ত তাহাকে আত্মঘাতী বলে (৪০)। ব্ৰহ্মহত্যা, গােহত্যা ও গুরুহত্যা হইতেও আত্মহত্যা মহাপাতক। ২১ কৰ্ম্মফল সঞ্চিত ও প্রারব্ধ-সংসারী মনুষ্য নিজের নিজের কর্মফল অনুসারে জন্মগ্রহণ করে (৪১)। কৰ্ম্মফল কখনও নাশ % ২২-২৩] হিন্দুধর্ম—সঙ্গই সকলের চেয়ে প্রবল কর্ম হয় না উহা অবশ্যই ভােগ করিতে হয় (৪২)। মনুষ্য একদেহে যত কর্ম করে তত কর্ম সে ঐ দেহে ভােগ করিতে পারে না। অতএৰ কৰ্ম্ম কেবলই জমিতে থাকে ও তাহাকেই সঞ্চিত কর্ক বলে। এই রাশীকৃত সঞ্চিত কর্মের যৎসামান্য অংশমাত্র ভােগ করিবার জন্য জীব দেহলাভ করে। সঞ্চিত কর্মের এই যৎসামান্য অংশকে প্রারব্ধ বলে (যাহা ভােগ করিতে আরম্ভ হইয়াছে (৪৩)। জ্ঞান হইলে সঞ্চিত কর্মের হাত হইতে সুক্ষা পাওয়া যায়। প্রব্ধের হাত হইতে রক্ষা পাওয়া যায় না (৪৪) জ্ঞান না হইলে কি প্রারব্ধ কি সঞ্চিত কোন কৰ্ম্মই নাশ হয় না। শ্রীভগবানের চরণারবিন্দে ভক্তি হইলে যাবতীয় অশুভকর্মের ফল কম হয় ও অভক্তির দ্বারা বৃদ্ধি পায় (৪২)। ২২। সঙ্গই সকলের চেয়ে প্রবল কয়—মনুষের সকল কর্মের মধ্যে সঙ্গই সর্বাপেক্ষা প্রবল (৪৫) একথা শুনিতে বিপরীত বলিয়া মনে হয়। কিন্তু দুই চারিটী দৃষ্টান্ত দ্বারা ইহা সুস্পষ্টভাবে বুঝিতে পারা যায়। রেল অথবা মােটরগাড়ীতে কোনও জড়পদার্থ রাখিয়। দিলে সেও ঘােড়ার চেয়ে দ্রুত গমন করিতে পারে। নৌকা যখন গঙ্গায় ডুবে তখন সেই নৌকার আরােহীগণও সেই সঙ্গে ডুবিয়া যায়। আগুন লাগিয়। যখন ঘর পুড়িয়া যায় তখন সেই ঘরে যে থাকে সেও তখন পুড়িয়া যায়। মোটর গাড়ীতে ধাক্কা লাগিয়া যখন গাড়ী উল্টাইয়া যায়, তখন তাহার আরােহীও সেই সঙ্গে উল্টাইয়া পড়ে। উচু হইতে কঠিন পাথর প্রভৃতির উপর পড়িলে হাত পা সব চূর্ণ বিচুর্ণ হইয়া যায় কিন্তু ঘাসের গাদায় পড়িলে কোন চোটই লাগে না। এই সংসারের সৃষ্টিও সঙ্গহইতেই হইয়াছে। অতএব সঙ্গ যে সকলের চেয়ে প্রবল ইহাতে আর আশ্চর্য্য কি? ২৩। সৎসঙ্গ ও অসৎসঙ্গ—সঙ্গ দুই প্রকার, সং ও অসং।

১ * হিন্দুধর্ম—সৎসঙ্গ তিন প্রকার সাধুসঙ্গ, ভগবৎসঙ্গ ও আচার [ ২৪-২৫ সৎসঙ্গ শ্রেয়ঙ্কর ও অসৎসঙ্গ প্রেয়স্কর অর্থাৎ সৎসঙ্গ হইতে কেবল কল্যাণ হয় ও অসৎসঙ্গ কেবল প্রিয় (১২)। যাহা প্রিয় ও আপাত মধুর তাহা অসৎ (৪৬) এবং যাহা হইতে মানুষের পরম কল্যাণ হয় যাহা মুক্তির পথে অগ্রসর করিয়া দেয়—তাহাই সৎসঙ্গ। সৎসঙ্গ না হইলে অসৎসঙ্গ নিশ্চিত হইয়া থাকে ; অসৎসঙ্গ দুই প্রকার—একপ্রকার সৎসঙ্গের বিপরীত আর একপ্রকার সংসঙ্গের অভাব মাত্র। উভয় প্রকার অসৎসঙ্গ হইতেই ক্ষতি হইয়া থাকে। যে অসৎসঙ্গ সংসঙ্গের বিরুদ্ধ তাহাতে অত্যন্ত ক্ষতি হয় ও যাহা সৎসঙ্গ নহে পরন্তু সংসঙ্গের বিরুদ্ধও নহে সেই অসৎসঙ্গ হইতে ক্ষতি অল্প হয় এই মাত্র বিশেষ। ২৪। সৎসঙ্গ তিন প্রকার সাধুসঙ্গ, ভগবৎসঙ্গ, ও আচার-সাধুসঙ্গ অর্থাৎ ভতসঙ্গ, ভগবৎসঙ্গ ও আচার অর্থাৎ সদা- চার। আচারকে আহারও বলা যায় (৪৭)। এই তিন প্রকার সঙ্গে মধ্যে ভক্তসঙ্গই সর্বাপেক্ষা উত্তম ও অত্যন্ত প্রবল। এজন্য সৎসঙ্গ বলিলে ভক্তসঙ্গই বুঝায়। ভক্তসঙ্গ ব্যতীত মনুষের কল্যাণ কখনও হইতে পারে না (৪৮)। কোটি কোটি জন্ম ব্যাপিয়া পূজাদি করিলেও সৎসঙ্গ অর্থাৎ ভক্তসঙ্গ মিলে না। কোটি কোটি জন্মের সঞ্চিত পুণ্যের ফলে যখন ভাগ্যোদয় হয়, অর্থাৎ শ্রীভগবানের কৃপা লাভ হয়, তখনই ভক্তাক্ত লাভ হয়। ভক্তসঙ্গ লাভ হইলে অজ্ঞান, মােহ, অহঙ্কার প্রভৃতি সবই নাশ হয় ও শেষে বিবেক অর্থাৎ ভাল মন্দ জ্ঞান হয় (৪৯)। ভক্তমাহাত্ম এমনই অপরূপ যে শ্রীভগবানের ভক্ত অস্পৃশ্য চণ্ডাল হইলেও সেই অস্পৃশ্য চণ্ডালই লাক্ষাৎ ভগবান তুল্য হইয়া থাকেন। শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণেরও সেই চণ্ডাল ভক্তকেই ভগবানের ন্যায় পূজা করা উচিত (৫০)। ২৫। ভগবৎসঙ্গ শাস্ত্রচর্চা, নামরণ ও গুণ কীর্তন । ১৯ w ২৬-২৭ হিন্দুধর্ম-গুণবাদ বা গুণকীর্ত -ভক্তসঙ্গ হইতেই প্রকৃত ভগবৎসঙ্গ হইয়া থাকে। যতদিন ভক্তের কৃপালাভ করিতে না পারা যায় ততদিন আর ভগবানের সহিত প্রকৃত সম্বন্ধ হয় না। তথাপি সকল মনুষ্যই যথাসাধ্য শাস্ত্র চর্চা, নামস্মরণ, জপ ও অবশেষে শ্রীভগবানের গুণকীর্তন করিতে পারে। সংসার যাত্রা নির্বাহের নিমিত্ত দিন রাত ঘুরিয়া বেড়ান অনুচিত। শাস্ত্রে ধৰ্ম্ম অর্থ ও কামকে ত্রিবর্গ এবং ধৰ্ম্ম অর্থ কাম ও মােক্ষকে চতুর্বর্গ বলে। সংসারের জন্য অর্থ ও কামের কোন্ কথা, ধর্মের জন্যও অতিকৃচ্ছ অর্থাৎ অত্যন্ত পরিশ্রম, অত্যন্ত প্রযত্ন বা অত্যন্ত চেষ্টা করা একান্ত অনুচিত (৫১)। পরমার্থের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় পৃথক্ করিয়া রাখা উচিত। সেই সময়ে শাস্বচৰ্চ্চা প্রভৃতি করা উচিত। সংসারের সকল কাজের মধ্যেও অনেক সময় নাম স্মরণ করা যাইতে পারে। ২৬। গুণবাদ বা গুণকীর্তন—শ্রীভগবান্ কি করিয়া ভক্তকে রক্ষা করিয়া থাকেন ইহাকে শ্রীভগবানের গুণ বা লীলা বলে । শ্রীভগবানের ভক্তরক্ষারূপ গুণকীর্তন করার নাম গুণবাদ। নাম স্মরণ অপেক্ষা গুণবাদ লক্ষগুণ ফলদায়ক (৫২)। এই গুণবাদের জন্যই মনুষ্যের জির সৃষ্টি। পশুর জিহ্বার দ্বারা গুণবাদ হইতে পারে না- ইহাই মনুষ ও পশুর মধ্যে বিশেষ। যে মনুষ্য শ্রীভগবানের গুণগান করে না তাহার তুল দুবুদ্ধি আর কেহ নাই। সেই পাপিষ্ঠ, ব্যক্তি অত্যন্ত দুবুদ্ধির বশে বৈকুণ্ঠের সিড়ি পাইয়াও আরােহণ করে (৫৩)। ২৭। আমার তিন প্রকার সংসঙ্গের মধ্যে আচারই সকলের সাধ্য। সহজসাধ্য বলিয়া তিন প্রকাৰ্ব সংসঙ্গের মধ্যে আচারই সর্বশ্রেষ্ঠ। সকলেই আচার পালন, করিত পারে। আচারই ধৰ্ম্ম, আচারই তপস্যা ও আচারই জ্ঞান। আমার হইতে না হয় এমন কোন বস্তুই ২হিন্দুধৰ্ম্ম-অসৎসঙ্গ তিন প্রকার নারীসঙ্গ, অনাচার ও ব্যর্থকৰ্ম্ম [ ২৮-২৯ নাই (৫৪)। আচার হইতে আয়ুও অক্ষয় ধনলাভ হইয়া থাকে। আচারই মানুষের যাবতীয় দুলক্ষণ নাশ করিয়া থাকে (৫৫)। যে সৰ্বশাস্ত্রে পণ্ডিত কিন্তু আচার পালন করে না সে পতিত। সে কোন প্রকার শুভকৰ্ম্ম করিবার অধিকারী নহে (৫৬)। অবশাস্ত্ৰজ্ঞের কোন্ কথা-পরম ভক্তও আচারভ্রষ্টহইলে পতিত হইয়া থাকে (৫৭)। আচারের অশেষ গুণ স্মরণ করিয়া হিন্দুমাত্রেরই তপস্যা জ্ঞানে আচার যথাসাধ্য পালন করা উচিত। ২৮। অসৎসঙ্গ তিন প্রকার নারীসঙ্গ, অনাচার ও ব্যথ কম-সৎসঙ্গ যেমন তিন প্রকার, অসৎসঙ্গও তেমনি তিন প্রকার -নারীসঙ্গ, অনাচার ও ব্যর্থকৰ্ম্ম। আচারের গুণ হইতে অনাচারের দুগুণ স্পষ্টই বুঝিতে পারা যায়। মন্দভাগ্য ও মন্দবুদ্ধি ব্যক্তির সময় বৃথা ব্যয় হয়। তাহার রাত্রি নিদ্রায় ও দিন বৃথা কৰ্ম্মে কাটিয়া যায় (৫৮)। সময় বৃথা নষ্ট করা অত্যন্ত অপরাধ। সময়ের সমষ্টিই জীবন। যদি প্রত্যহ চারি ঘন্টা করিয়া বৃথা কর্মে কাটান যায়, তাহা হইলে প্রতি ছয় বৎসরে এক বৎসর করিয়া আয়ুঃ কমিয়া যায় অর্থাৎ ছয় বৎসর জীবন না হইয়া পর্চ বৎসর মাত্ৰ হয়। অতএব বৃথা কল্প করা আর আত্ম- হত্যা করা একই কথা। ২৯, নারীসঙ্গ সৰ্ব্বনাশের হেনারীসঙ্গের তুল্য পর- মার্থনাশক বস্তু আর কিছুই নাই। শঙ্করাচাৰ্য্য বলিয়াছেন-নরকে যাইবার একমাত্র পথ—নারী (৫৯)। নারীসঙ্গ ও নারীসঙ্গীর সঙ্গ হইতে যেরূপ মােহ ও সংসার বন্ধন হয়, এমন আৰু, কোন প্রকার সঙ্গ হইতে হয় না (৬০)। সংসারের পুষ্টির নিমিত্তই মনুষ্যকে, মােহিত করিবার জন্য মায়া' হইতে নারীর সৃষ্টি হইয়াছে। অতএব অগ্নিতে পত, প্রভৃতি যেমন পুড়িয়া যায় তেমনি নারীসমেনুষ্য ক্ষণকালের।

• ]: হিন্দুধর্ম—মােক্ষই মনুষ্যজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মধ্যে বিনাশ প্রাপ্ত হয় (৬১)। যাহার চিত্ত স্ত্রীসঙ্গে আসক্ত, যাহার খ্রীসঙ্গই প্রিয়, তাহার আবার বিদ্যাই বা কি আর তপস্যাই বা কি? তাহার ত্যাগই বা কোথায়? (৬২)। নারীসঙ্গ এমনই ভয়ানক যে, সর্বজ্ঞ শাস্ত্র নারীগণের উৎপত্তির দিকে দৃষ্টি রাখিয়া আদেশ করিয়াছেন। আপনার মাতা, ভগিনী বা কন্যার সহিতও একাকী মিলিত হইবে না, ইন্দ্রিয় অত্যন্ত প্রবল। সে কোন বাধা মানে না। জ্ঞানী পুরুষেরও বুদ্ধিভ্রংশ হয় (৬৩)। মায়াই নারীর রূপ ধরিয়া মনুষ্যের নিকট আসিয়া উপস্থিত হয়। বুদ্ধিমান মনুষ্য নারীকে মৃত্যুর স্বরূপ বলিয়া দেখেন। তৃণাচ্ছন্ন কুপ হইতে যেমন পৃষ থাকিতে হয় তেমনি নারী- সঙ্গ হইতেও সর্বদা নিজেকে বাঁচাইয়া চলা উচিত (৬৪)। মৃগ যেমন বাধের সঙ্গীতে মােহিত হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয়, মনুষও তেমনি নারীসঙ্গে মােহিত হইয়া বিনাশ প্রাপ্ত হয় (৬৫)। ৩অ-নাস্তিকগণের শারব্যবস্থার বিপরীত চেষ্টা। ৩০। মােকই মনুষ্যজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মােক্ষ বা মুক্তিলাভই মনুষ্যজীবনের একমাত্র সার্থকতা। মনুষ্যদেহ অত্যন্ত দুর্লভ। : লক্ষ লক্ষ জন্মে মনুষজন্ম ভাগ্যক্রমে লাভ হয়। অনুষ্য দেহই ভবসাগর পারের নৌকা। গুরু এই দেহনৌকার মাঝি। ভগবংকৃপা ইহার অনুকুল বায়ু। এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও যে মনুষ্য ভবসাগর পার হইতে পারে না সে; আত্মঘাতী (৬৬)। যে সংসারে লক্ষ জন্ম ঘুরিতে ঘুরিতে মনুষ্যদেই প্রাপ্ত হয় সে সংসারখাঁচার দ্বার খােল। পাইয়াছে জানিতে হইবে। পাখী যেমন খাঁচার দ্বার খােলা পাইয়াও তুচ্ছ ছোটাকতক ছােলা বা দানার লােভেখাচা ছাড়িয়া বাহির হইতে হিন্দুধৰ্ম্ম-শাস্ত্রের ব্যবস্থা নয়টা ( ৩১-৩৪ চাহে না সংসারাক্ত মানুষও তেমনি মনুষদেহ পাইয়াও তুচ্ছ সংসার সুখের জন্য মুক্তির কোন চেষ্টাই করে না। অতএব সে বৈকুণ্ঠে চড়িয়াও সংসারে পড়িয়াছে জানিবে (৬৭)। ৩১। শাস্ত্রের ব্যবস্থা নয়টী নাস্তিকগণের প্রতিকুল ব্যবস্থা নয়টী-সংসার বন্ধন অহঙ্কার হইতেই হয়। সঙ্গগুণে এই অহঙ্কার নষ্ট হয় ও সঙ্গদোষে এই অহঙ্কার বাড়িতে থাকে। অতএব মােক্ষলাভের জন্য শাস্ত্র নয়টী প্রধান ব্যবস্থা করিয়াছেন—অহঙ্কারের ৩টী সংসঙ্গের ৩টা ও অসৎসঙ্গের টী। নাস্তিকগণও ধৰ্মনাশের জন্য এই নয়টী ব্যবস্থারই প্রতিকূল ব্যবস্থা করিয়াছে। ৩২। শাস্ত্র ব্যবস্থা-অহঙ্কার ত্যাগের ৩টী-অহঙ্কার ত্যাগের জন্য শাস্ত্রে তিনটী মুখ্য ব্যবস্থা আছে। যথা—(১ম) শাহ ও গুরুবাক্যে অবিচারিত বিশ্বাস (২য় সংসারী মনুষের বুদ্ধি বিপরীত অর্থাৎ সংসারী মনুষ ভালকে মন্দ ও মন্দকে ভাল বলিয়া মনে করে ও সংসারী ব্যক্তির বিবেক বুদ্ধি একেবারে নাই জানিয়া নিজেকে অত্যন্ত দীন মনে করা ও (৩য়) ভগবানই মালিক। মানুষ তাহার হাতের পুতুল—এই কথা অভ্যাস করা ও শরণাগত হওয়া। ৪৩। শাস্ত্র ব্যবস্থা—সৎসঙ্গের ৩টী ও অসৎসঙ্গ- ভাগের ৩টী-সঙ্গ সকলের চেয়ে প্রবল, এজন্য (৪র্থ) আচার (ম) ভগবৎসল অর্থাৎ শাস্ত্র চর্চা, নামস্মরণ, জপ ও গুণবাদ ও (৬ষ্ঠ) ভক্তসঙ্গ বা সংসদ সর্বদা যথাসাধ্য করা উচিত। অসৎসঙ্গে সর্বনাশ হয়। অতএব (৭ম) নারীসঙ্গ (৮ম) অনাচার ও (৯ম) বৃথা কর্ম ত্যাগ করা অবশ্য কর্তব্য। ৩৪। নাস্তিক ব্যবস্থা অহঙ্কার বৃদ্ধিধৰ্মনাশের । ৩৫-৩৬] হিন্দুধৰ্ম্ম-নাস্তিক ব্যবস্থা—সৎসঙ্গের নিন্দা ও অসৎসঙ্গের পূজা ২৩ ব্যবস্থাও ঠিক শাস্ত্রব্যবস্থার প্রতিকূল। অহঙ্কার ত্যাগ করাই সকল জ্ঞানের মূল। অতএব বিচার বিবেকের মিথ্যা ভাণ করিয়া অহঙ্কারের বৃদ্ধি করাই ধৰ্মনাশের সর্বপ্রথম ব্যবস্থা। সংসারান্ধ অজ্ঞানী জীবের মিথ্যা বিচার ও বিবেকের বিরুদ্ধে যে শাস্ত্র, সে শাস্ত্র শাস্ত্রই নয়, আর যদিও বা উহা শাস্ত্র হয় তত প্রক্ষিপ্ত নিক্ষিপ্ত বা বিক্ষিপ্ত এই তিন প্রকার বাক্যের মধ্যে কোন প্রকার ক্ষিপ্ত—ইহাই নাস্তিক- গণের মত। যাহা শাস্ত্রে ছিল না পরে মিথ্যা করিয়া ঢুকাইয়া দেওয়া হইয়াছে তাহাকে প্রক্ষিপ্ত বলে। ক্ষিপ্তলােকই অর্থাৎ পাগলেই প্রক্ষিপ্ত বলিয়া শাস্ত্র না মানিবার ছুতা করে। ৩৫। নাস্তিক ব্যবস্থা-সৎসঙ্গের নিন্দা ও অসৎ- সঙ্গের পূজা-সৎসঙ্গই মুক্তির কারণ ও অসংসদ সর্বনাশের কারণ। অতএব আচারের প্রতি অবজ্ঞা ও উপহাস এবং অনাচারের পূজা করা শাস্ত্র, গুরু ও ভগবানের নিন্দা করা এবং বৃথা সময় নষ্ট করা প্রভৃতি ধৰ্মনাশের পন্থা। এই সৰ উপায়ে জমি তৈয়ারী করিয়া ধৰ্মনাশকারী নাস্তিকগণ নারীসঙ্গের প্রতিষ্ঠা ও পূজা আরম্ভ করিয়া দিয়াছে। কেন নারীসঙ্গ অসৎসঙ্গের ব্রহ্মাস্ত্র। পতঙ্গ যেমন অগ্নিতে পড়িলে ক্ষণমাত্রেই ভস্মীভূত হয়, মনুষও তেমনি নারীসঙ্গে অতি সত্বর নাশপ্রাপ্ত হয়। ৩৬। নাস্তিকবিচার এক অপূর্ব বস্তু—নাস্তিক বিচার ও বিবেক এক অপূর্ব বস্তু। ভগবান্ নাই। যদি কেহ সৃষ্টিকর্তা থাকে ত সে সৃষ্ট জীবের তুলনায় কিছুই নয়। যদি স্বীকার করা যায় সৃষ্টিকর্তা সৃষ্ট জীব হইতে শ্রেষ্ঠ তাহা হইলেও শাস্ত্র ভগবদ্বাক্য নহে। আর যদি শাস্ত্র ভগবাক্যই হয় তবে নিজের অভ্রান্ত বিচার ত্যাগ করিয়া ভ্রান্ত ভগবাক মানিয়া চলা মুখতার চরম। যদি ভগবদ্বাক্য অভ্রান্ত মানা যায় • হিন্দু ধৰ্ম্ম-কলির মানুষ দুনিয়ার মালিক [ ৩৭-৩৮ তাহা হইলেও প্রক্ষিপ্তাদি অস্ত্রপ্রয়ােগ করিয়া উহাকে একেবারে ভ্রান্ত প্রতিপন্ন করা কিছুমাত্র কঠিন নহে। অর্থাৎ উহা প্রক্ষিপ্ত বলিয়া মিথ্যা করিয়া উড়াইয়া দেওয়া বড়ই সহজ। শাস্ত্র বাক্য অভ্রান্ত বা ভ্রান্ত যাহাই হউক কলিযুগের মনুষ্যের অভ্রান্ত বিচারের নিকট ভগব- বাক্য সর্ব প্রকারে অগ্রাহ্য। ৩৭। কলির মানুষ দুনিয়ার মালিক —সত্য প্রভৃতি যুগে মনুষ্য সর্বপ্রকারে ঈশ্বরের বশীভূত ছিল, এখন এই কলিযুগে মানুষই দুনিয়ার মালিক। আপনার বিচার ও বুদ্ধির বলে কলিযুগের মনুষ্য সৃষ্টি স্থিতি লয় সবই করিতে পারে। বিনা কষ্টে উহারা অস্পৃশ্য চণ্ডালকে পূনীয় করিয়া দিয়াছে, ত্রিকালজ্ঞ ও নিস্পাপ ঋষিগণকে স্বার্থপর মিথ্যাপ্রিয় ও ভ্রান্ত বলিয়া ঠিক করিয়া ফেলিয়াছে, ধৰ্ম্ম ও জ্ঞানের একমাত্র কারণ আচারকে পাগলামি বলিয়া প্রমাণ করিয়াছে, মনুষের ধর্মনাশক অনাচারকে আচারের আসনে বসাইয়াছে ও মনুষ্যত্ব বিনাশক সংসারবন্ধনের মূল ও অজ্ঞানের একমাত্ৰ হেতু নারীসঙ্গকে সর্বদা ভক্তিপূৰ্ব্বক সেবা করা উচিত—ইহাও উচ্চৈঃস্বরে ঘােষণা করি- আছে। কিমাশ্চৰ্যমতঃ পরম্। ৩৮। নারীসঙ্গই প্রাণ—দুঃশাস্ত্র উহার নিন্দা করে— শাস্ত্র বলেন—“অহরহঃ সন্ধ্যামুপাসীত” অর্থাৎ দিন রাত সন্ধ্যা পূজা করিবে। আর কলিযুগের বিচার বলে “অহরহ নারীসঙ্গমুপাসীত” দিন রাত নারীসঙ্গের পূজা করিও অর্থাৎ নারীসঙ্গ ছেড়ে এক মিনিটও । কাটাইও না। স্কুল কলেজে পড়িবে—নারীসঙ্গ না হইলে বিদ্যাবুদ্ধি খুলিবে কেন ? সন্ধ্যার সময় বেড়াইতে যাইবে তখনও যদি নারীসঙ্গ হয় তবে প্রাণ রাখা যাইবে কি করিয়া ? নারীসঙ্গই বিশুদ্ধ পরমা- নন্দের এক মাত্র কারণ। দুষ্ট শান্তই দুবুদ্ধিপরবশ ইয়া এই বিশুদ্ধ ৩৯-৪৩ ] . বিচারের অদ্ভুত হিন্দুধর্ম—সংখ্যৰি, অপূৰ্ব নাস্তিকবিচারের অদ্ভুত সহায় আনন্দকে নাশ করিবার জন্য উত্তম হইতেও উত্তম নারীসঙ্গকে অযথা হইতেও অযথা ভাবে নিন্দা করিয়াছে। ৩৯। সংখ্যর্যি, অপূর্ব নাস্তিক সহায়-১। নাস্তিক বিচার যেমন অপূৰ্ব্ব, নাস্তিক বিচারের সহায়ও। তেমনি অদ্ভুত। ভগৰাক্য ও ত্রিকালজ্ঞ ঋষিগণের বাক্য অগ্রাহ করিয়া সংখ্যষি বাক্য শিরােধার্য করাই কালেয় বিবেক বিচারের চরম পরিণাম। কলিকালের আশ্চৰ্য্য বিচার বিবেককে কালেয় বিচার বিবেক বলা যায় ও ভােটই কলিকালের নবীন ঋষি ও তাহার নাম সংখ্যৰি ( সংখ্যা+ঋষি)। ২। আজকাল ভাল মন্দ ঠিক করিবার একমাত্র উপায় ভােট লওয়া। অর্থাৎ অধিক লােক ভাল বলিলেই ভাল হইল আর অধিক লােক মন্দ বলিলেই মন্দ হইল। জিনিসটা প্রকৃত ভাল কি মন্দ তাহাতে কিছুই আসিয়া যায় না। যতই ভাল জিনিষ হউক না কেন অধিক লােক মন্দ বলিলে ঐ শ্রেষ্ঠ হইতে শ্রেষ্ঠ বস্তুকেই মন মানিতেই হইবে যদি অধিকাংশ গাধা মিলিয়া ঠিক করে তাহারাই পণ্ডিত ও ত্রিকালজ্ঞ। ঋষিরা গাধা তাহা হইলে অবশ্যই মানিতে হইবে ত্রিকালজ্ঞ ঋষিরাই গাধা অতএব সংখ্যা বা ভােটই কলিকালের ঋষি ও উহার নাম সংখ্যা ঋষি বা সংখ্যষি। ৪০। সংখ্যর্ষি মত ধর্ম প্রভৃতি বাজে বিষয়ে গ্রাহ ও আসল বিষয়ে অগ্রাহ্য-এই মিথ্যা কলিযুগের সবই মিখ্যা। ধনাশের নিমিত্ত সংখ্যৰ্ষির নিকট ত্রিকালজ্ঞ ঋষিও তুচ্ছ হইতে তুচ্ছ। কিন্তু আসল আসল কথায় সেই সংখ্যর্ষিকে মানিবার কল্পনা করে এমন মানুষ তাে দেখা যায় না। গণিতশাস্ত্র বিষয়ে সংখ্যধির মত কখনও চলে না, চলিতে পারে না। বিজ্ঞান, চিকিৎসা।

হিন্দুধৰ্ম্ম-সৃষ্টি করিবার ইচ্ছাই মায়া [ ৪১-৪২ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি বিষয়ে সংখ্যমিত সর্বদাই অগ্রাহ্য। এমন কি যুদ্ধ বিবাহ প্রভৃতি স্থূল স্কুল বিষয়েও ভােট চলে । কেবল ধর্মবিষয়ক সূক্ষ্ম হইতে সূক্ষ্মতম কথা হইলে সখ্যৰ্ষিমতই সকলের চেয়ে প্রবল হয় ইহাই কলিযুগের বৈচিত্র্য। ৪র্থঅ-মায়া ও শাস্ত্রের মােটকথার প্রমাণ। w ৪১। সৃষ্টি করিবার ইচ্ছাই মায়া-মায়া বিপরীত। শ্রীভগবানের ইচ্ছা হইয়াছিল আমি এক, বহু হইব (৮)। ইহারই নাম সৃষ্টি করিবার ইচ্ছা। এই সৃষ্টি করিবার ইচ্ছার নামই মায়া (৬৯)। মায়া ও সৃষ্টি করিবার ইচ্ছা একই কণা। মায়ার স্বরূপ বৈপরীত্য (৭০)। কেননা মায়া অর্থাৎ সৃষ্টির ইচ্ছাতেই একই ভগবান হইতে বছ মূর্তির উৎপত্তি। এক কখনও বহু হইতে পারে না। ও বহু কখনও এক হইতে পারে না। এই বৈপরীত্য মনুষ কখনই ধারণা করিতে পারে না। যে বস্তু যাহা সে বস্তু তাহাই অন্য বস্তু নহে, ইহাই মনুষ বিচারের ভিত্তি। যে বস্তু যাহা, সে বস্তু তাহা নয়-ইহা মনুষ ধারণাও করিতে পারে না। গরু গরুই, ঘােড়া ঘােড়াই—গরু ঘােড় নয় আর ঘােড়াও গরু নয়—ইহাই মনুষ্য বিচার। গরু গরু নয়, ঘােড়া ঘােড়া নয় এই উল্টা পাল্টা কথা মানুষ ধারণাও করিতে পারে , বােঝা ত দূরের কথা। এই বৈপরীত্যতেই মায়া প্রতিষ্ঠিত। অতএব মায়া বুদ্ধির গম্য নহে এবং মায়ার বিষয়ে বিচারও চলিতে পারে না। ৪২। মায়া হইতে সংসারবন্ধন কি করিয়া হয়-- মায়ার বৈপরীত্য হইতে মােহ (৩১) অর্থাৎ অজ্ঞানের উৎপত্তি। মােহ অর্থাৎ অজ্ঞান হইতে বিপরীতবুদ্ধি (২৫) ও বিপরীত বুদ্ধি ৪৩] হিন্দুধৰ্ম্ম-বিশ্বাস, দীনতা, শরণাগতি মূল কেন হইতেই অহঙ্কার। আমিই দেহ (৭২) এই অজ্ঞানের নাম অহঙ্কার, দেহাভিমান (৭৩) বা দেহাত্মবুদ্ধি (৭৪)। এই অহঙ্কার হইতেই আমি অন্য হইতে পৃথক্‌ এই ভেদবুদ্ধি উৎপন্ন হয় (৭৫)। ভেদবুদ্ধি হইতে আমি কৰ্ত্তা, আমি ভােজা অর্থাৎ আমিই করি, আমিই খাই এই প্রকার অভিমান উৎপন্ন হয় (৭৬) অর্থাৎ এই কাৰ্য আমি করিয়াছি অন্য কেহ নহে, এই জিনিষ আমি খাইয়াছি আর কেহ নহে এই অভিমান বা অহঙ্কার উৎপন্ন হয়। ইহাকেই কর্তৃত্বাভিমান বলে। এই কর্তৃত্বাভি- মান হইতে কৰ্ম্মফলের উৎপত্তি (৭৭) ও কৰ্ম্মফল হইতে সংসার অর্থাৎ বার বার যাওয়া আসা বা পুনঃ পুনঃ জন্ম মৃত্যু হইতে থাকে (৪১)। যাহার কর্তৃত্বাভিমান নাই তাহার কৰ্ম্মফলও নাই অর্থাৎ তিনি জীবন্মুক্ত পুরুষ কৰ্ম্ম করিয়াও কৰ্ম্ম করেন না (৭৭)। ৪৩। বিশ্বাস, দীনতা, শরণাগতি শরণাগতি মূল কেন? ১। মােক্ষই মনুষ্যজীবনের একমাত্র লক্ষ্য। অহঙ্কার হইতে সংসারের উৎপত্তি। অতএব অহঙ্কার ত্যাগই মনুষ্যের একমাত্র কাৰ্য। ২। অজ্ঞান হইতে অহঙ্কার। অতএব বীজাঙ্কুর ন্যায়ে (৭৮) অহঙ্কার হইতে অজ্ঞান উৎপন্ন হইয়াছে। যেমন বীজ হইতে অঙ্কুর (গাছ) হয় ও অঙ্কুর (গাছ) হইতে বীজ হয় বলিয়া আঁটি হইতে গাছ ও গাছ হইতে আঁটি দুইই বলা যায় অর্থাৎ প্রত্যেকটাই সব কয়টির কারণ সেইরূপ অজ্ঞান হইতে অহঙ্কার হয় বলিয়া অহঙ্কার হইতে অজ্ঞান হয় ইহাও বলা যায়। ৩। এই কারণেই অহঙ্কার ত্যাগ করিলেই জ্ঞান হয়। অতএব জ্ঞান ও মুক্তির জন্য অহঙ্কার ত্যাগই মনুষের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান কাৰ্য। এই জন্যই সর্বশাস্ত্র জ্ঞানলাভের জন্য বিশ্বাস, দীনতা, শরণাগতি ও সেবার ব্যবস্থা করিয়াছেন।

২৮ হিন্দুধৰ্ম্ম-বিপরীতবুদ্ধি ভিন্ন মনুষ্য হয় না [ ৪৪.৪৭ ৪৪। বিপরীত বুদ্ধি ভিন্ন মনুষ্য হয় না—মায় অর্থাৎ বৈপরীত্য হইতে মােহ অর্থাৎ অজ্ঞান ও অজ্ঞান হইতে বিপরীত বুদ্ধির উদয় হয়। এই বিপরীত বুদ্ধি হইতেই আত্মা দেহ এই অহঙ্কারের সৃষ্টি ও সংসার। অতএব সংসারী জীবের বিপরীত বুদ্ধি ত্যাগ করিয়া যথার্থ বুদ্ধির উদয় হইতেই পারে না। সংসারে ভ্রমণ করিতে করিতে যখনই জীবের যথার্থ বুদ্ধির উদয় হয়, তখনই জীব সংসার হইতে মুক্ত হয়। ৪৫। যথার্থ বুদ্ধি কি? মন পরম শত্রু—এই যথার্থ বুদ্ধি কি ? সংসারী মনুষ্যমাত্রের বুদ্ধি বিপরীত এই জ্ঞানের নাম যথার্থ বুদ্ধি বা যথার্থ জ্ঞান। যতদিন সংসারী মনুষের এই যথার্থ জ্ঞানের উদয় না হয়, ততদিন আর তাহার কোন বিষয়ে বিপরীত জ্ঞান ভিন্ন যথার্থ জ্ঞান হইতে পারে না। এই জন্য সর্বজ্ঞ শাস্ত্র দীনতা। ও মন বশ করা সৰ্বশ্রেষ্ঠ বলিয়াছেন। মনই আত্মাকে নাশও করিয়া থাকে (৭৯)। অতএব মনের কথা কখনও শুনিবে না (৮০)। এ কথা সৰ্বত্ৰ সুবিদিত। প—৬৩) ৪৬। মনুষ্যের বিচার থাকিতেই পাবে না বিপরীত বুদ্ধি যতদিন নাশ না হয় ততদিন আর বিচারের কথা মুখে আনা ধৃষ্টতা মাত্র (৮১)। বিশ্বাস, দীনতা, মনকে সন্দেহ করা প্রভৃতির অভ্যাস করিলে বিপরীত বুদ্ধি ক্রমশঃ লােপ পাইতে থাকে। যে পরিমাণে বিপরীত বুদ্ধির লােপ পায়, সেই পরিমাণেই প্রকৃত বিচার ও বিবেকের উদয় হইতে থাকে (৮২)। ৪৭। বিপরীতবুদ্ধি নাশই শাস্ত্রের একমাত্র লক্ষ্য এই কথা বুঝিলেই শাস্ত্র বুঝা যায়-বিপরীত বুদ্ধির নাশই ৪৮-৪৯ ] হিন্দুধৰ্ম্ম-দেহসঙ্গ হইতে সংসার শাস্ত্রের একমাত্র লক্ষ্য। সৰ্বজ্ঞ শাস্ত্র এই বিপরীত বুদ্ধির নাশের জন্যই সকল ব্যবস্থা করিয়াছেন। এই গূঢ় কথা মনে রাখিলে শাস্ত্র বুঝা অতি সহজ হয়। বিপরীতবুদ্ধি মনুষ্য কখনও শাস্ত্ৰ বুঝিতে পারে না। এই জন্যই শাস্ত্র বুঝাইতে চেষ্টা না করিয়া আদেশ অর্থাৎ শাসন করিয়াছেন। বিপরীত বুদ্ধি যেমন যেমন দূর হইতে থাকে মনুষ্যের শাস্ত্ৰ বুঝিবার শক্তিও তেমন তেমন বাড়িতে থাকে। এ জন্য শাস্ত্র কিছু কিছু তত্ত্ব কথাও বুঝাইয়াছেন। মায়ার জন্যই শাস্ত্ৰতত্ত্ব মনুষ্য বুদ্ধির অগম্য। ভগবং কৃপা ব্যতীত প্রকৃত তত্ত্ব কেহ কখন জানিতে পারে না (৮৩)। ৪৮। দেহসঙ্গ হইতে সংসার—অতএব সঙ্গই সৰ্ব্বা- পেক্ষা প্রবল -আমি দেহ এই অজ্ঞান হইতেই দেহসঙ্গ ও দেহসঙ্গ হইতেই সংসার উৎপন্ন। অতএব সঙ্গই সংসারের কারণ। সেজন্য সঙ্গই সংসারের মধ্যে সকলের চেয়ে প্রবল। সৎসঙ্গ হইতে ভাল ও অসৎসঙ্গ হইতে মন্দ ফল হয়—ইহা বুঝা কিছু কঠিন নয়। অতএব অনাচার বর্জন ও আচার পালন করাই ধৰ্ম্ম। উহাই তপস্যা, আর উহাই জ্ঞান। ৪৯। চণ্ডাল অস্পৃশ্য কেন?-শাস্ত্র বলেন অপরের সহিত আলাপ, স্পর্শ, শয়ন বা ভােজন করিলে উহার পাপ নিজের উপর চড়িয়া যায় (৮৪)। অতএব পাপীর সঙ্গ কদাপি করিবে না। চণ্ডাল সকলের চেয়ে পাপী। ঘাের পাপ বশেই মনুষ্য চণ্ডাল কুলে জন্ম লয়। চণ্ডাল পাঁচ প্রকার—জাতিতে চণ্ডাল এক প্রকার ও আচরণে চণ্ডল চারি প্রকার। চণ্ডালবংশে জন্মিলে চণ্ডাল হয়, পবিত্র ব্রাহ্মণকুলে জন্মিয়াও যে অকৃতজ্ঞ, অনাচারী, ক্রোধী হিন্দুধৰ্ম্ম-অস্পশ্যতা অহঙ্কার নহে [ ৫০-৫১ ও শঠ বা ঠগ হয় তাহাকে আচরণে চণ্ডাল বলিয়া জানিবে (৮৫)। ভগববিমুখ ব্যক্তি চণ্ডাল হইতেও অধিক পাপী। অর্থাৎ যে নাস্তিক শাস্ত্র মানে না কিম্বা ভগবানের নাম পর্যন্তও স্মরণ করে না সে চণ্ডালেরও অধম (৮৫) এই সকল ব্যক্তির সঙ্গ আত্মরক্ষার জন্য বিষবৎ বৰ্জন করিবে (১৯)। ৫০। অস্পৃশ্যতা অহঙ্কার নহে—মূখ নাস্তিক ব্যক্তি নিজের দুষ্ট ও বিপরীত বুদ্ধিতে ইহাকে “ছুৎমার্গ” বলিয়া উপহাস ও নিন্দা করে। কোনও কোনও নাস্তিকের মূখতা ও অহঙ্কারের মাত্রা এতই অধিক যে এই অস্পৃশ্যতার জন্য জগৎপূজ্য হিন্দুশাস্ত্রের সবই অগ্রাহ্য—ইহাও তাহারা বলিতে কুণ্ঠিত হয় না। শাস্ত্রের বিধান অনুপম ও নির্দোষ ইহা বলিবারও প্রয়ােজন নাই। সৰ্ব্ব শাস্ত্র বলেন “আত্মরক্ষার নিমিত্ত চণ্ডাল প্রভৃতির সঙ্গ বিষবৎ ত্যাগ করিবে ও অহঙ্কার হইতে নিজেকে বাঁচাইবার জন্য ঐ অস্পৃশ্য চণ্ডালকে দণ্ডবৎ প্রণাম করিবে (৩৬)। অর্থাৎ চণ্ডাল আত্মরক্ষার জন্য অস্পৃশ্য ও অহঙ্কার ত্যাগের জন্য নমস্য। ৫১। চণ্ডাল কি করিয়া পবিত্র হয়?-১। চণ্ডালাদির ঘাের অপবিত্র দেহকে পবিত্র করিবার নিমিত্ত সর্বজ্ঞ শাস্ত্র আচার ও ভগবদ্ভক্তির ব্যবস্থা করিয়াছেন। মুখ নাস্তিকগণ যাহাতে চণ্ডা লাদির অপবিত্রতা আরও বাড়ে তাহারই ব্যবস্থা করিয়া চণ্ডালদিগকে শুদ্ধ করিতে চাহিতেছে। তাহাদের মতে আজকালকার লেখা পড়া, পয়সা রােজগার ও শাস্ত্র নিন্দা করিতে পারিলেই চণ্ডাল উদ্ধার হইল। আজকালকার লেখাপড়াকে শাস্ত্র, বিদ্যা না বলিয়া অবিদ্যা বলেন, কেন না উহাতে সাংসারিক লাভ হয় বটে কিন্তু পরকালে কেবল ক্ষ ৩৬ ৫২] হিন্দুধৰ্ম্ম-বিচারের ভাণ করিয়া শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা হয়। শাস্ত্রের ব্যবস্থাই যে ঠিক ও নাস্তিক ব্যবস্থাই যে চণ্ডালাদির সর্বনাশের কারণ তাহাও কি বিস্তার করিয়া বুঝাইতে হইবে ? ২। যে ব্রাহ্মণ হইয়াও ভক্ত নহে সে চণ্ডাল। তাহার দিকে তাকানও উচিত নহে। যিনি জাতিতে চণ্ডাল হইয়াও ভক্ত হন তিনি স্বর্গ মর্ত্য পাতাল তিন লােকই পবিত্র করেন (১৯)। ব্রাহ্মণ যদি সৰ্বশী জানে তাহা হইলে আমার প্রিয় হয় না। আমার ভক্ত চণ্ডাল হইলেও আমার প্রিয়। সেই চণ্ডালকে দান করিবে, তাহার হাত হইতে দান গ্রহণ করিবে ও তাহাকে ভগবানের ন্যায় পূজা করিবে (৫০)। চণ্ডালের কোন্ কথা ম্লেচ্ছও ভগবদ্ভক্ত হইলে তাঁহাকে শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ মুনি ও জ্ঞানী বলিয়া জানিবে (৮৬)। ৫ম অ-বিজ্ঞান দ্বারা শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা ৫২। বিচারের ভাণ করিয়া শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা। ১। সাধারণ লােকের কলিযুগে বিচারের গন্ধও নাই তাহা দু একটী: কথায় স্পষ্ট বুঝা যায়। মানুষ মাত্রের বিচারের অভাব এমনই প্রবল যে, যে বিষয়ের সহিত সারা জীবনের পরিচয়, সেই বিষয় সম্বন্ধেও মানুষ কিছুই জানে না। দেহের সহিত মানুষের যেরূপ ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ, তেমন আর কোন বস্তুর সহিত নহে। তথাপি কোন মনুষ্য রােগ হইলে বুঝিতে পারে না। এমন কি স্বয়ং চিকিৎসকও নিজের কিংবা স্ত্রী- পুত্রাদির চিকিৎসা করিতে পারে না ২। দেহের পর ভাষার সহিত মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ। কিন্তু মানুষ, যে শব্দকে প্রতিদিন ব্যবহার করে, সে শব্দের প্রকৃত অর্থ জানে না। এমন কি শব্দের প্রকৃত অর্থ জানিতে হয় ও উহাকে শশাস্তু বলে— ইহাও মানুষ জানে না।

হিন্দুধৰ্ম্মনববিজ্ঞানের দ্বারা শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা [ ৫৩ দেহ ও ভাষা অপেক্ষা যে সকল বস্তুর সহিত পরিচয় কম, সেই সকল বিষয়ে নিজের বিচার সম্পূর্ণ অসহায়—এ কথা বলিবারই দরকার নাই। • এক কথায় ইহা বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে দুই বৎসর পড়িয়া দশটী প্রশ্নের মধ্যে কেবল তিনটী মাত্র প্রশ্নের উত্তর করাই যাহার কঠিন বলিয়া মনে হয় সেও সূক্ষ্ম হইতে সূক্ষ্ম বিষয়ে বিচারের ভাণ করে, ইহা অপেক্ষা অধিক আশ্চর্যের বিষয় আর কি হইতে পারে ? অথবা যে বুদ্ধি সূক্ষা বস্তু বুঝিতে পারে, সে কি কখনও স্কুল বস্তু বুঝিতে পারে? (৮৭) যে চালনী দ্বারা সূক্ষ্ম বস্তু চালা যায়, তাহা দ্বারা কি স্থূল বস্তু চালা যায় ? ৫৩। নব বিজ্ঞানের দ্বারা শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা যখন বিচারের দ্বারা শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা বিফল হয় তখন কলিযুগের মনুষ্য নূতন ওজর সৃষ্টি করে। যদিও সাধারণ মনুষ্যের বিচারের অভাব আছে কিন্তু নববিজ্ঞান বিচারে ভরা এক সকলকেই মানিতে হইবে। শাস্ত্র নববিজ্ঞানের মতের বিরুদ্ধে অতএব কদাপি শাস্ত্র মানা উচিত নয়। যে নব বিজ্ঞানের দোহাই দিয়া শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা করা হয় সেই নব বিজ্ঞান যে কি বস্তু তাহা নববিজ্ঞানের পাণ্ডাগণ নিজমুখেই স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছেন। নব বিজ্ঞানের সমস্তই আন্দাজমাত্র। (L) কোনও কথারই ঠিক নাই ও থাকিতে পারে না। (L) কেন না মনুষ্যবুদ্ধি ভ্রান্ত।(b) সত্য সক্ষ। অতএব স্কুল দৃষ্টিতে সত্যের নির্ণয় হয় না।(F) বিজ্ঞান সত্য জানিতেই পারে না। ( A) শুধু তাহাই নহে বিজ্ঞান সত্য জানিতেও চাহে না।(P) বিশ্বাস ভি নহয় না।( A) জীনল বলেন নব বিজ্ঞানের প্রত্যেক কথা আন্দাজমা ও অনি- ৫৩ ] হিন্দুধর্যশববিজ্ঞানের দ্বারা শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা চিত। আমরা সত্যের সন্ধান পাই নাই। হ্যালডেন বলেন নৰ বিজ্ঞানের প্রত্যেক মত মিথ্যা। নব বিজ্ঞানের প্রধান প্রধান মতের মধ্যে এতই মিথ্যা আছে যে উহাদিগকে কাল্পনিক বলা উচিত। (L) প্ল্যাঙ্ক বলেন গণিত শাস্ত্রে কিছুমাত্র বিশ্বাস করা যাইতে পারে । গণিত শাস্ত্রে যতই প্রমাণ দ্বারা নির্ণয় হউক না কেন খাটাইয়া না দেখা পর্যন্ত আর তাহাতে অনুমাত্র বিশ্বাস করা যায় না। সকল প্রমাণেই সন্দেহ থাকিয়াই যায়। সৃষ্টিতত্ত্ব যতই নিখুত হউক না কেন একটা যৎসামান্য ঘটনার দ্বারাই উল্টাইয়া যায়। এডিংটন বলেন মনুষের বুদ্ধি ভ্রান্ত। অতএব :বিচার কখনই অভ্রান্ত দুইতে পারে না। (D) প্ল্যাঙ্ক বলেন স্কুল জগৎ মিথ্যা ও সূক্ষ্ম জগৎ সত্য। যে জগৎ চোখ দিয়া দেখা যায় তাহাকে স্থূল জগৎ বলে। আর যে জগৎ চোখ দিয়া দেখা যায় না অর্থাৎ যাহা স্কুল জগতের ভিতর আছে তাহা সূক্ষ্ম জগৎ। নব বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হইতেছে ততই সূক্ষ্ম জগৎ সত্য প্রমাণ হইতেছে ও স্কুল জগৎ হইতে নব বিজ্ঞান ততই দুরে পড়িয়া যাইতেছে। রিশে বলেন কতকগুলি বিষয় ইন্দ্রিয়ের দ্বারা জানিতে পারা যায়। আর কতকগুলি কোনরূপেই ইন্দ্রিয় গ্রাহ নহে। কেবল কোনও বিশিষ্ট শক্তিমান্ পুরুষই 'সেইগুলি মনশ্চক্ষুর দ্বারা জানিতে গারেন। (J), রাসেল বলেন সনাতন সত্যকে জানা বিজ্ঞানের লক্ষ্যই নহে। টম বলেন বিজ্ঞানে সনাতন সত্যের স্থান নাই। সূক্ষ্মতত্ত্বের সহিত বিজ্ঞানের কোন সম্বন্ধ নাই। বিজ্ঞানে কেবল আংশিক সত্য আছে। এডিংট বলেন পদার্থবিদগণ পরমাণু ও ইলেক্ট্রন সত্য সত্য আছে কিনা একথা ভাবিয়াও দেখেন না।জীন বলেন আমাদের যখন ।

৩৪ fragersReason Scicnce and Shastras [ ৫৪-৫৫ যেমন সুবিধা তখন তেমনই বলি। আলােককে আমরা পদার্থও বলিতে পরি তরঙ্গও বলিতে পারি যখন যেমন সুবিধা। একটি ইলেকট্রোণের (electron) বিষয়ে তরঙ্গের ন্যায় গতি ( wave motion) কেবল কল্পিত মাত্র, সত্য নহে। এমন কি যে শক্তি (energy) জগতের ভিত্তি তাহাও কল্পনা মাত্র। (P) ৫৪। Reason Science and Shastras- নববিজ্ঞানের খােদ কর্তাগণকে এখন স্বীকার করিতে হইয়াছে-নব- বিজ্ঞানের মত সদাই ভ্রান্ত ও পরিবর্তনশীল।—“Reason Science and Shastras” নামক গ্রন্থে এই কথা স্পষ্ট হইতেও স্পষ্ট করিয়া দেখান হইয়াছে। নববিজ্ঞান সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত নহে। নব বিজ্ঞানের মত কাল্পনিক। স্থূল জগৎ মিথ্যা ও সূক্ষম জগৎ সত্য। অর্থাৎ যাহা চোখে দেখিতে পাওয়া যায় উহা মিথ্যা আর যাহা চোখে দেখা যায় না তাহাই সত্য। হিন্দু-শাস্ত্র লক্ষ লক্ষ বৎসর হইতেই এ সব কথা বলিতেছেন। মুখ নববিজ্ঞান নিজের ধৃষ্টতা বশে এ সব কথা এত দিন হাসিয়া উড়াইয়া দিত। কিন্তু এক এক করিয়া নববিজ্ঞানকে অনেক কথাই মানিতে হইয়াছে। এ সকল কথা “Reason Science: and Shastras” নামক পুস্তকে বিশেষভাবে দেখান হইয়াছে। ৫৫। নববিজ্ঞানের মায়া বিচার ও বিশ্বাস—১। এক বৎসরের কিছু উপর হইল Reason Science and shastras বাহির হইয়াছে তখনও নব বিজ্ঞান মায়া বৈপরীত্য বিশ্বাস প্রভৃতির কথাই জানিত না। Reason Science and Shastrasপুস্তকে এই সব কথার ব্যাখ্যা বাহির হইবার পর এই সব কথা নব বিজ্ঞানেও স্থান পাইয়াছে। শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ ম্যাক্স হিন্দুধৰ্ম্ম-মৰবিজ্ঞানের মেয়াদবী ত্যাগ ব্যাকআজ ২৩ মাস হইল “নব বিজ্ঞানের পরিণাম কি ? নামক পুস্তকে লিখিয়াছেন- ২। “দুইটী মতের উপর নববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত। সে মত দুইটপরস্পর বিরুদ্ধ। ইহা দ্বারা জানা যায় যে জ্ঞাতব্য সমুদয় বস্তুতেই একটী বিরুদ্ধ ও অজ্ঞেয় অংশ আছে। অর্থাৎ কোন জিনিষই জানা যাইতে পারে না। কেন না সকল জিনিষেই দুইটী অংশ আছে যাহার এক অংশ অপর অংশের একেবারে উল্টা। অতএব বিশ্বাস ভিন্ন জ্ঞান হয় না(A)।” ৩। “বিচার অল্প দূর পর্যন্ত অগ্রসর হইতে পারে, শেষ পর্যন্ত যাইতে পারে না। এই জগৎ কি? সৃষ্টি কেমন করিয়া হয়? মনুষ্য প্রকৃতি কেমন ? মন ও বুদ্ধিই বা কি? এ সকল কথা কখনও বিচারের দ্বারা জানা যাইতে পারে না। এক কথায় মানুষ বিচারের দ্বারা নিজেকে জানিতে পারে না কেন না মানুষ নিজেই সৃষ্ট পদার্থ। চক্ষু যেমন নিজেকে দেখিতে পায় না তেমনি সৃষ্ট মনুষ্য কখনও নিজেকে জানিতে পারে না ও সৃষ্ট্ৰি বুঝিতে পারে না।” (H) ৪। বিশ্বাস ব্যতীত নববিজ্ঞানেও প্রবেশ করিতে পারা যায় না। (C) সূক্ষ্ম বিচারের তত কথাই নাই। ভগবদ্বাক্য বিচারের দ্বারা উড়াইয়া দেওয়া মুখতা নাস্তিকতা ও ধৃষ্টতার চরম (D) (E)। ৫৬। নববিজ্ঞানের বেআদবী ত্যাগ ও শাস্ত্রের চরণে মাথা হেঁট-নববিজ্ঞানের স্কুল বুদ্ধি ভিন্ন সূক্ষ্মৰুদ্ধি আদৌ ছিল না, অতএব চিরকাল অত্যন্ত বেআদবী করিয়া নববিজ্ঞান শাস্ত্রের সূক্ষ্ম কথা সকল হাসিয়া উড়াইয়া দিত। অতি অল্পদিন হইল নববিজ্ঞানের অনে অতি অল্প অল্প করিয়া সূক্ষম কথা সকল কোনরকমে ঠাই পাইতে আরম্ভ করিয়াছে অতএব বে-আদবী ছাড়িয়া মাথা হেঁট করিয়া অনেক কথাই মানিতে আরম্ভ করিয়াছে।

হিন্দুধর্ম হিন্দুমাত্রের কর্তব্য [ ৫০ শাস্ত্র বলেন মায়' হইতেই সংসার (৬৯)। মায়ার স্বরূপ বৈপরীত্য। অতএব সংসারে সবই উল্টা পাল্টা (৩৫)। নব বিজ্ঞান আজ ২৩ মাস হইল মানিয়াছে উল্টা পাল্টা সকলের ভিতরই আছে (A)। শান্ত্র বলেন মায়ার বৈপরীত্য হইতে বুদ্ধিবিপরীত (২৫) হইয়াছে -অতএব বিচারের দ্বারা জানা যায় না। বিচার ত্যাগই জ্ঞানের রাস্তা (৮৩) প্ল্যাঙ্ক এডিংটন প্রভৃতিও একথা মানেন (D, H ) কিন্তু সংসারী লােকের বিপরীত বুদ্ধি এ কথার এখনও সন্ধান পায় নাই। শা বলেন বিচার ছাড়িয়া বিশ্বাস করাই একমাত্র জ্ঞানের মূল। (২৩) প্ল্যাঙ্ক বলিয়াছেন বিশ্বাস ভিন্ন কিছুই হয় না। কিন্তু পূর্বে বিচার ত্যাগ না করিলে যে বিশ্বাস আসে না একথা তিনি এখনও ধরিতে পারেন নাই। শাস্ত্র লক্ষ লক্ষ বৎসর হইতে বলিতেছেন যে সূক্ষাই সত্য স্কুল সত্য নহে। প্ল্যাঙ্কও এখন একথা স্বীকার করিয়াছেন। (F) ৫৭। হিন্দুমাত্রের কর্তব্য নববিজ্ঞান যখন এত চেষ্টা করিয়াও সত্যের সন্ধানই পায় নাই তখন সাধারণ মানুষ বিনা চেষ্টায় ভাল মন্দ সত্য মিথ্যা বুঝিতে পারিবে এ কথা বলা অহঙ্কার ও পাগ- লামীর চরম উহাতে কোন সন্দেহ নাই। যেখানে শ্রেষ্ঠ হইতে শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিও ঘােল খাইয়া যায় সেই জিনিস সামান্য বুদ্ধি বুঝিতে পারে ইহার চেয়ে মূর্খতা আর কি হইতে পারে? বিদ্যা বুদ্ধি ও বিচারের দ্বারা ভগবানের ইচ্ছা বুঝা কখনই সম্ভবপর নহে। (৮৩) কলিকালের আশ্চর্য্য প্রভাবে এক নূতন জীবের সৃষ্টি হইয়াছে। এই নূতন জীবের নাম অলীকহিন্দু। অর্থাৎ যাহার হিন্দুকুলে জন্ম লাভের ভাগ্য ঘটিয়াছে কি হিন্দু হইবার ভাগ্য হয় নাই, সেই মিথ্যা হিন্দুকেই অলীক হিন্দু বলে। যাহার হিন্দুকুলে জন্মলাভের ভাগ্য ঘটে হিন্দুধৰ্ম্ম-হিন্দুধর্মের কর্তব্য ও অধিকন্তু হিন্দু হইবারও ভাগ্য হয়, সেই ধর্মধ্যান শাস্ত্রজ্ঞান হিন্দুকেই কেবল হিন্দু বলে। অলীক হিন্দু সর্বত্রই বিচারহীন। কেবল শাস্ত্রের কথা হইলেই এই বিচারহীনতার কলঙ্ক দূর করিবার জন্য অলীকহিন্দু লালায়িত। শাস্ত্রের বিষয়ে অলীক হিন্দুর যত বিচার অন্য বিষয়ে এই অলীক হিন্দু অচেতন অসহায় ও নির্বিচার। হিন্দু ধৰ্মই প্রাণ ধৰ্মই জ্ঞান ও ধৰ্মই ধ্যান। হিন্দুর শাস্ত্রই ধর্ম। নিজের বিচার অর্থাৎ খেয়াল কখনও হিন্দুর কাছে ধৰ্ম্ম হইতে পারে না। হিন্দু কখনও শাস্ত্রের উপর টেক্কা মারে না। শাস্ত্রে অবিচারিত বিশ্বাসই হিন্দুর হিন্দুত্ব। হিন্দু কখনও নানা মুনির নানা মত, কাহাকে মানিব, সংস্কৃত ছাপা হইলেই শাস্ত্র হয় না, শাস্ত্রে অনেক কথাই প্রক্ষিপ্ত ইত্যাদি রূপ পাগলামি করিয়া শাস্ত্র উড়াইবার চেষ্টা করে না। অতএব বিচিত্র কলিযুগে হিন্দু দুই প্রকার—হিন্দু ও অলীক হিন্দু। যে হিন্দুর ধর্ম নাই তাহার কিছুই নাই—সে অলীক হিন্দু। যে হিন্দু ধর্ম আছে তাহার সবই আছে—সে হিন্দু। যে সামান্য সুখের জন্য আপনার ধর্ম ত্যাগ করিয়া নাস্তিকের শরণ লয় সেই অলীক হিন্দুর কি মুখ দেখাইতে লজ্জা করে না? সেই অলীক.হিন্দু মিথ্যা হিন্দু নাম ধরিয়া হিন্দুধর্মকে কলুষিত করে কেন? পুতনা যেমন বালকৃষ্ণকে মারিবার জন্য পরম মিত্ৰবেশে উপস্থিত হইয়াছিল সেইরূপ নাস্তিকগণ হিন্দুধর্মকে নাশ করিবার জন্য অলীক হিন্দুবেশে ‘আমরা হিন্দু এই মিথ্যা রবে পৃথিবী ফাটাইয়া ফেলিতেছে। হিন্দুগণ ! তােমরা কি কে হিন্দু ও কে অহিন্দু, কে শত্রু কে মিত্র চিনিতে শিখিবে না ? কিংবা স্বরাজ্য প্রভৃতি মিথ্যাসুখের লােতে তােমরা অলীক হিন্দু হইয়া নাস্তিকরূপ কালসৰ্পকে আদরে বুকে জড়াইয়া ধরিবে? যাহা লক্ষ লক্ষ বৎসর সত্য তাহা আজ হঠাৎ এত মিথ্যা ও ঘৃণিত হিন্দুধর্ম—হিন্দুধর্মের কর্তব্য [৫৭ হইল কিরূপে? এখন নববিজ্ঞানকেও মানিতে হইতেছে শাস্ত্র সত্য। তাই বুঝি তুমি হিন্দুসন্তান হইয়া শাস্ত্র মিথ্যা বলিবার জন্য ছটফট করিতেছ? অলীক হিন্দু তুমিই ধন্য। ধন্য তােমার কৃতিত্ব! হিন্দুগণ তোমাদের শরীরে কি পিতৃপুরুষের রক্ত নাই? নাস্তিক বিষে জর্জর হইও না। মােহনিদ্রার আর কতই ঘুমাইবে। একবার তাকা- ইয়া দেখ নাস্তিক কালসর্প তােমাদিগকে দংশন করিয়া কালকূটে জর্জ রিত করিতে বসিয়াছে। বাঁধ বাঁধি কোমর বাঁধ। পিতৃপিতা- মহের নাম ও ধর্মের জন্য প্রাণ পৰ্য্যন্ত ত্যাগ করিতে সঙ্ক কর। আপনার অজ্ঞান ও বিপরীতবুদ্ধি স্মরণ করিয়া শাস্ত্রের শরণ লও, ভক্ত ও জ্ঞানীর চরণে আত্মসমর্পণ কর। যিনি ভক্তের প্রতি দয়া করিয়াই দেহ ধারণ করেন, যিনি শৈবের কাছে শিব ও বৈষ্ণবের কাছে হরি, সেই সত্যরূপী শরণাগতপালক ভগবানের চরণকমলে আমরা শরণ গ্রহণ করি। শিবস্বরূপী শিবভাবিতানাং হরিস্বরূপী হরিভাবিতানা। ভানুকম্পার্থগৃহীত-দেহং সত্যং শরণ্যং শরণং পন্যে। (৮৮) ভদ্রং কর্ণেভিরিতি শান্তিঃ।

পরিশিষ্ট ১ম অধ্যায়-কতকগুলি মােটা কথা। ৫৮। আচার-১। আচারে মানুষের পরম কল্যাণ হয় অতএব কলির জীব অনাচার করিতেই ব্যস্ত। ২। জীব অহঙ্কার বশে দেহাভিমান করে অর্থাৎ দেহকে আপন মনে করে। জীবের সহিত দেহের কোনই সম্বন্ধ নাই। জীব ও দেহ একেবারেই ভিন্ন। তথাপি সেই ভিন্নদেহকে আপন মনে করে বলিয়া সেই ভিন্ন দেহের সঙ্গ হয় ও সেই ভিন্ন দেহসঙ্গের জন্য জীব সংসারে ঘুরিতে থাকে। চিরকাল সংসারে ঘুরিতে ঘুরিতে যে মুহূর্তে জীবের সেই সঙ্গ ঘুচিয়া যায় সেইক্ষণেই জীব মুক্ত হয়। এই জন্য সঙ্গই সংসার বন্ধনের একমাত্র কারণ ও সঙ্গই সংসার হইতে মুক্তির একমাত্র কারণ। কাজেই সঙ্গ হইতে বন্ধন ও মুক্তি দুইই হয়। ৩। সঙ্গই ভালমন্দের একমাত্র কারণ বলিলেই হয় (৯)। "অতএব কাহার সঙ্গ করা উচিত, কাহার সঙ্গ করা উচিত নহে ইহাই মানুষের সকলের আগে দেখা উচিত। যে জিনিষের সঙ্গ করিলে মানুষের প্রকৃত কল্যাণ হয় তাহাকেই সংসঙ্গ বলা যায়। এই সৎসঙ্গই আচার ও ইহাকেই দুর্জন নাস্তিক চুচিবাই বলিয়া ঠাট্টা করিয়া আপনার নিদারুণ মূখতার ও অহঙ্কারের পরিচয় দেয়। উপনিষদে বলে আচার শুদ্ধ হইলে চিত্ত আপনা হইতেই শুদ্ধ হয়। চিত্তশুদ্ধির পরিশিষ্ট-আচার জ্ঞান হইতে থাকে। শেষে হৃদয়গ্রন্থি ভিন্ন হয় অর্থাৎ অজ্ঞান ও সংসারাসক্তি দূর হয়। (৪৭) ৪। এই আচার তিন রকম-কায়িক বাচনিক ও মানসিক অর্থাৎ দেহের, বাক্যের ( কথার) ও মনের। আমার মনের জিনিষ বাহিরের নহে বলিয়া দুষ্ট লােক আচার উড়াইতে চাহে। আচার আগে বাহিরের জিনিষ, পরে বাহিরের ও ভিতরের (কথার ), ও সকলের শেষে ভিতরের ( মনের)। মনের আচার বাহিরের আচারের চেয়ে বড়। আবার বাহিরের আচার মনের আচার অপেক্ষা বড়। মনের আচারই আসল। কিন্তু বাহিরের আচার না হইলে মনের আচার হইতেই পারে না। অতএব বাহিরের আচার মনের আচার অপেক্ষা বড়। বাহিরের আচার ও মনের আচার এই দুইএর মধ্যে বিরােধ করা কেবল দুষ্টামি ভিন্ন আর কিছুই নহে। হিন্দু মাত্রেরই বাহিরের অাচার ও মনের আচার দুইটাই যথাসাধ্য পালন করা উচিত। যদি কখনও দেখা যায় কাহারও মনের আচার আছে কিন্তু বাহিরের আচার নাই তাহা হইলে সেই লােক বড়ই মন্দভাগ্য বলিয়া জানিতে হইবে। তাহার সহস্র সদ্গুণ ভস্মে ঘি ঢালা হইবে—কাজে আসিবে না ( ৫৬)। বাহিরের আচারে প্রবৃত্তি না থাকায় তাহার দেহে অহঙ্কার বিকটরূপে বিরাজ করিতেছে ইহা স্পষ্টই জানা যায়। ৫। আচার কলিকালের তপস্যা। তপস্যার প্রাণ কষ্ট স্বীকার। এই তপস্যাই ভগবানের হৃদয়, মন ও দেহ। তপস্যা হইতেই সকল রকম কল্যাণ হয় (৯০)। কলির মনুষ্যের শক্তি নাই বলিয়া' শ্রীভগবান অশেষ কৃপা করিয়া আচারের ব্যবস্থা করিয়াছেন। আচারের জন্য যেটুকু কষ্ট করিতে হয় সেইটুকু স্বীকার করিলে কলিক পরি-আচার তপস্যা করা হইল। কষ্টেই কৃষ্ণ মিলে। “কুম্ভ বলে কষ্ট বিনা কৃষ্ণ নাহি মিলে”। ৬। হতভাগ্য কলির জীব কষ্ট করিতে চাহে না। আমােদ আহলাদ করিয়াই জীবন কাটাইতে চাহে। কাষেই আচার না করিবার চুল বাহির করাই তাহার কাজ। হতভাগ্য কলির জীব কাযেই বলে এখনকার দিনে আচার করা অসম্ভব, আচার করিলে অহঙ্কার ও ঘৃণা করা হয়। ধর্ম অন্তরের জিনিষ বাহিরের নহে। আচার চুচিবাই ইত্যাদি। এইসব মিথ্যা ছুতা করিয়া নিজের বদমায়েসি ঢাকিতে চায়। ৭। আজকাল আচার পালন করাই যায় না ইহা একেবারেই মিথ্যা কথা। সমর্থো ধৰ্ম্মমাচরেৎ—ইহাই শাস্ত্রের নিয়ম। যথাসাধ্য পালন করিবে ইহাই শাস্ত্রের আদেশ। শাস্ত্রের অতিরিক্ত করিতে বলা দূরে থাক নিষেধই আছে। আত্মানং সততং রক্ষে (দেহকে সর্বদা রক্ষা করিবে)। পারা না পারা সম্বন্ধে শাস্ত্রের কি রকম দৃষ্টি ভাবিলেই অবাক হইতে হয়। নিজের বাড়ীতে যে রকম, ধর্মপালন করিতে হয় প্রবাসে অর্থাৎ পরের বাড়ীতে তাহার অর্ধেক ও রাস্তায় সিকি ধৰ্ম্ম পালন করিলেই যথেষ্ট হইল। ছান্দোগ্য উপনিষদে আছে উশন্তি চণ্ডালের উচ্ছিষ্ট খাইয়া নিজের প্রাণ বাঁচাইয়াছিলেন। কিন্তু প্রাণ বাঁচিবামাত্র আর সেই চণ্ডালের হাতে জলও খাইলেন না। ধর্মশাস্ত্রে বলে দুর্ভিক্ষের সময় প্রাণ যাইতে বসিলে, বিপদে আপদে ও নােগে আচারের কথা ভাবিতেও নাই। এমন কি উৎসবে আচার সম্পূর্ণ পালন করিতে হয় না। ৮। আচারের মুলে ঘৃণাও নাই অহঙ্কারও নাই। অহঙ্কার করা ও পরকে ছােট করাই মানুষের স্বভাব। কাযেই মানুষ ছুতায় পরিশিষ্ট-সেকাল একাল ( ৫৯ নাতায় অহঙ্কার করে ও ঘৃণা করে। তাই বলিয়া ভাল কার্যের নিন্দা হয় না। ভাল কাৰ্য্য করিলেই লােক অহঙ্কার করে। সে স্বভাবের দোয, ভালকাৰ্য্যের দোষ নহে। তাই মহাদেব বলিয়াছেন বিদ্যা, তপস্যা, ধন, সুন্দর দেহ, আয়, ও কুল—এই ছয়টি সাধু পুরুষেরই গুণ। দুষ্টের এইগুলি দোষেরই কারণ হয় অর্থাৎ অহঙ্কার বৃদ্ধি করে(৯১) ৯। অহঙ্কার বাড়াইবার জন্য আচার করা অপেক্ষা আচার না করাই ভাল। সঙ্গ ত্যাগের জন্য ভরত রাজা শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণকুলে জন্মলাভ করিয়াও গায়ত্রী পর্যন্ত শিখেন নাই। আচারের ত কথাই নাই। আচার পালন করিলেই অহঙ্কার বাড়ে বলিয়াই আচার ছাড়া উচিত নহে, অহঙ্কার ছাড়িবার চেষ্টা করা উচিত। সংসারের নিয়মই এই যে ভালর সঙ্গে মন্দ থাকে। মন্দের সঙ্গে ভাল থাকে। এই পৃথিবীতে সকল জিনিসই উল্টা পাল্টা গুণযুক্তৃ। অতএব মােটের উপর যাহাতে কল্যাণ হয় তাহারই উপাসনা করিও অর্থাৎ তাহাই করিও (৯২) ১০। আচার করার সবই লাভ। আচার করিলে শাস্ত্র মানা হয়। অতএব অহঙ্কার ছাড়া হয় ও ভগবানের কথা শুনার জন্য ভগবানের সন্তোষ হয়। কাযেই মােক্ষ হয়। কষ্টই আচারের একমাত্র ক্ষতি। কিন্তু এই কষ্টই পরম লাভ। “কুম্ভ বলে কষ্ট বিনা কৃষ্ণ নাহি মিলে।” ৫৯। সেকাল ও একাল-১। এখন লােকে কথায় কথায় বলে কোলে এক জাত হইতে আর এক জাত হইত, বিধবা বিবাহ হইত, ক্ষেত্রজ সন্তান হইত, একস্ত্রীর পাঁচ স্বামী হইত, হিন্দুরা গােমাংস খাইত ইত্যাদি, ইত্যাদি। ২। একবার দুইবার যে জিনিষটি হয়, তাহাকে হয় বলিয়া বলা • একেবারেই মিথ্যা কথা। যথা যদি কোন কুপুত্র বাবাকে মারে তাহা হইলে ছেলেরা বাপকে মারে একথা হয় না। কোন পাপিষ্ঠ যদি কন্যা পরিশিষ্ট-সেকাল ও একাল ৪ “গমন করে ত এই কালে কন্যাগমন করাই দস্তুর বলার ন্যায় মিথ্যা আর নাই। লক্ষ লক্ষের ভিতর যাহা একবার হয় তাহাকে মিথুক লােকই হয়’ বলে, যাহার সত্যের গন্ধ আছে সেই হয় না বলে। প্রত্যেক বিধির অপবাদ আছে (৯৩)। অর্থাৎ প্রত্যেক নিয়মেরই উল্টা আছে। ইহাই মায়ার নিয়ম। তাহাতে নিয়মের দোষ হয় না। কখনও কখনও বাঘিনী ও সিংহিনী মানুষের শিশুকে পালন করে। তাই বলিয়া আপন শিশুকে কেহ বাঘিনী সিংহিনীর হাতে সমর্পণ করে না ও বাঘ ও সিংহেই মানুষের শিশু পালন করে একথাও হয় না। তা মনে কর পূর্বকালে এই সব দুই একবার না হইয়া বরাবরই হইত। তাই বলিয়া একালে সেই সব করিতে হইবে তাহার কারণ কি? একাল ভ সেকাল নহে। দেশ কাল পাত্রের উপর বস্তুর গুণ নির্ভর করে শাস্ত্র বরাবরই এই কথা বলেন। দেশ কাল হইতে বস্তু মাত্রই উৎপন্ন এখন আইনষ্টাইনের ধূয়া ধরিয়া সভ্য জগৎ বলিতে ব্যস্ত। অতএব ওকালে হইয়াছে বলিয়াই একালে হইতেই হইবে এমন কথা হইতেই পারে না। একালে উহা হইতেও পারে, না হইতেও পারে। ৪। আমাদের শাস্ত্রে বলে কাল অনুকূল হইলে ধূলামুটি ও সােণামুটি হয় ও কাল প্রতিকূল হইলে সােণামুটিও ধূলামুটি হইয়া যায়। ভীষ্মদেব পঞ্চপাণ্ডবকে বলিয়াছিলেন—যেখানে ধর্মপূত্র রাজা অর্থাৎ ধৰ্মই রক্ষক,, পরম বলশালী ভীম গদাহন্তে রক্ষা করিতেছেন, কৃষ্ণুরূপী অর্জুন অস্ত্রধারী , ও গাণ্ডীবই ধনু এবং এমন কি যেখানে স্বয়ং জগদীশ্বরই সহায় সেখানেও বিপদ ছাড়ে না। উঃ বুঝেছি, সারা দুনিয়াই কালের বশে ও কালের প্রভাবেই সমস্ত বিপদ দূর করিবার সমস্ত আয়ােজনই ব্যর্থ হইয়াছে (৯৪)। ৫. বস্তুর ফলাফল বিচার করিতে গেলে দেশ কাল পাত্র মাত্রা পরিশিষ্ট-সেকাল ও একাল প্রভৃতি সকল অবস্থারই বিচার করিতে হয়। দুএকটা উদাহরণ দিয়া দেখান যাইতেছে। ৬। দেশ অনুসারে ফল, যথা—খােলা যায়গায় রৌদ্র বৃষ্টি লাগে, ঢাকা জায়গায় লাগে না। চারিদিকে বন্যায় ডুবিয়া গেলে উচু যায়গা ডুবে না। যে দেশে খুব কলেরা হইতেছে সেই দেশে যাইলে কলেরা হওয়ার সম্ভাবনা। পুকুর ভরান জমিতে বাড়ী করিলে ভিত, বসিয়া গিয়া বাড়ী ফাটিয়া যায়। উচু হইতে পড়িলে হাত পা' ভাঙ্গিয়া যায়। সমান জমিতে পড়িলে হাত পা ভাঙ্গে না। ৭। কাল অনুসারে ফল, যথা—মনে কর একটী লােক গঙ্গায় গান করিতেছে। এমন সময় দূর হইতে একটী কুমীর তাহাকে দেখিয়া । ডুব মারিয়া ধরিতে আসিল। তখন কুমীর সেই জায়গায় উপস্থিত হইবার এক মিনিট পূর্বে লােকটী যদি ডাঙ্গায় উঠিয়া যায় ত কুমীর কিছুই করিতে পারে না। আর যদি একটা মিনিট দেরী হয় ত" লােকটীর কুমীরের হাতে প্রাণ যায়। অতএব মরা বাঁচা কেবল একটা মিনিটের উপর নির্ভর করে। সেইরূপ সাপ ছােবলাইবার এক সেকেণ্ড আগে সরিয়া গেলে প্রাণ বাঁচিয়া যায়। সেইরূপ সরিয়া যাইবার এক সেকেণ্ড পরে উচু হইতে পাথর পড়িলে কিংবা গুলি মারিলে মানুষ মরে না। সমস্ত আয়ােজন ঠিক থাকিয়াও এক মিনিট কি এক সেকেণ্ডে মরা বাঁচার তফাৎ হয়। ৮। পাত্র অনুসারে ফল, যথা কাঠে আগুণ লাগে বলিয়া জলে আগুণ লাগে না। কঠিন জিনিষ কাটিয়া দুই খণ্ড হয় বলিয়া জল কি হাওয়া কাটিয়া দুই খণ্ড হয় না। সাপে কামড়াইলে সাপ । মরে না। মাত্রা অনুসারে ফল,-পাতলা জিনিষে কাটে * • ] পরিশিষ্ট-জাতি ও আচরণ আর মােটা জিনিষে থেতলাইয়া যায়, কাটে না। কিন্তু রেলগাড়ীর চাকা অত মােটা হইলেও উহার দ্বারা মানুষ কাটা যায়। হালকা জিনিষ ভােলা যায় বলিয়া ভারি জিনিষ ভােলা যায় না। লাঠি দিয়া মারিলে সাপ মরে কিন্তু ছড়ি দিয়া মারিলে সাপ কামড়াইয়া দেয় ও মানুষই মরে। ১০। সে কালে ভাল, কাজেই একালেও ভাল, যাহারা বলে, তাহারা পাগল। সেকালের জিনিষ একালে খাটিবে কিনা জানিতে গেলে দেশকাল পাত্র মাত্রা প্রভৃতি বিচার করিতে হয়। আয়ুর্বেদে যেরূপ বমন ও বিরেচনের ব্যবস্থা ছিল একালের লােক তাহার শতাংশেই মরিয়া যায়। আয়ুর্বেদে ঔষধের যাহা মাত্রা তাহার অর্ধেকও এখনকার কাহারও সহ হয় না। পূর্বে ম্যালেরিয়া ছিল না বলিলেই হয় এখন ম্যালেরিয়ায় ভরিয়া গিয়াছে। পূর্বে গঙ্গার ধারা অন্যত্র প্রবাহিত হইত। পূৰ্বে লােকে সংস্কৃত জানিত ইংরাজী জানিত না আর এখন লােকে ইংরাজীই পড়ে সংস্কৃতের ধারই ধারে না। পূৰ্বে ফুটবল খেলা ছিল না আর এখন এই পৈশাচিক খেলার জন্য লােক পাগল। পূর্বে বাইয়ােস্কোপ প্রভৃতির নাম গন্ধও ছিল না, এখন বাইয়ােস্কাপ ও সিনেমা, ব্যভিচার ও ডাকাতিতে দেশ ভাসাইয়া দিতে বসিয়াছে ইত্যাদি, ইত্যাদি। কালে কালে অনেক তফাৎ হইয়াই থাকে। অতএব সেকালে ছিল কাজেই একালে থাকিবে একথা বলা কেবল মুখতার পরিচয়। ৬০। জাতি ও আচরণ—১। যাহারা জাতি উঠাইয়া মানবজাতির সৃষ্টি করিতে চায়, তাহারা বলিতে চায় জাতি কিছুই নহে ও আচরণই সব। তাহারা একবার ভাবিবারও অবসর পায় না যে এ কথার অর্থ ভগবান কিছুই নহে মানুষই সব।

পরিশিষ্ট একাকার ও সাম্য ২। পূর্ব জন্মের কর্মের উপর মনুষের জন্ম নির্ভর করে। যাহার যেরূপ কৰ্ম্ম ভগবান তাহাকে সেইরূপ জন্ম দেন। (৪১) যে অনেক ধন দান করে সে ধনীর কুলে জন্মগ্রহণ করে। যে বিদ্যা উপা-- র্জনে প্রাণপণ চেষ্টা করে সে বিদ্বান্ বংশে জন্মগ্রহণ করে। কাহার কৰ্ম্মফল কিরূপ ও কোন্ কুলে জন্ম হইলে তাহার কৰ্ম্মফলের ভােগ হয় ইহা ভগবানই ঠিক করিয়া দেন। কাজেই নাস্তিকেরা জাতি কিছুই নহে বলিয়া ভগবানকে উড়াইতে ব্যস্ত। এ জন্মের আচরণ মানুষ নিজেই দেখিতে পায়। অহ- স্কারে ভরপূর হইয়া নাস্তিক লােক নিজের দেখাই বড় করে ও ভগবানের বিচারকে উড়াইয়া দেয়। ৪। প্রকৃত প্রস্তাবে জাতি ও আচরণ দুইটার কোনটাই অগ্রাহ্য করা উচিত নহে। দুইটীর মধ্যে সাধারণতঃ জাতিই প্রধান। কিন্তু আচরণ এমন প্রবল হইতে পারে যে জাতির উপর উঠিয়া যায়। যথা নরহত্যাকারী গোহত্যাকারী ব্রাহ্মণ। তাহাকে দেশের বাহির করিয়া দেওয়া উচিত। আবার ভক্ত চণ্ডালকেও পূজা করা উচিত। যাহার পূর্বজন্মের কর্ম বিপরীত তাহারই এরূপ বিপরীত দশা হয়। সে-ই ব্রাহ্মণ হইয়া হত্যা করে ও চণ্ডাল হইয়া ভক্ত হয়। কৰ্ম্মফল বুঝা বড়ই কঠিন। যাহারা সামান্য বােগ বুঝিতে পারে না তাহাদের কৰ্ম্মফল বুঝিতে যাওয়া মদোন্মাদ ( অহঙ্কারবশে পাগলামি) ভিন্ন কিছুই নাই। (৭৮) ৬১। একাকার ও সাম্য-১। একাকারই উচ্ছল মানুষের প্রাণ ও সর্বনাশের প্রধান উপায় বলিয়াই মানুষ সাদা চোখে একাকার ভাল বলিতে পারে না। তাই একাকারের পক্ষে বলিতে মানুষকে কতকগুলি জুয়াচুরির দোহাই দিতে হয়।

৬১ ] পরিশিষ্ট-একাকার ও সাম্য ৪৭ যথা, সকল মানুষই ঈশ্বরের সন্তান মানুষে মানুষে তফাত করা উচিত নহে। কাহাকেও ঘৃণা করা উচিত নহে। অহঙ্কার করা ভাল নয় ইত্যাদি। এই কথাগুলি যে কত বড় জুয়াচুরি তাহা একটু ভাবিয়া দেখিলে বুঝা যায়। ২। যে বলে মানুষ ঈশ্বরের সন্তান সে হতভাগ্য, সে হিন্দুত্বের গন্ধও রাখে না একথা আর কোনও হিন্দুকে বলিতে হইবে না। হিন্দু শাস্ত্র মতে মানুষ ঈশ্বরের সন্তান নহে। কি মনুষ্য কি পশু কি জড়বস্তু সমস্ত জগৎই শ্রীভগবানের মূর্তি। তিনি এক হইয়া বহু হইয়াছেন। প্রকৃত প্রস্তাবে বহু নাই। সবই এক। যাহারা অজ্ঞানী তাহারাই নানা অর্থাৎ ভিন্ন দেখে। (৯৫) ৩। কাজেই চুরি চামারি পরস্ত্রীগমন, ব্যভিচার, জুয়াচুরি, ন্যায় অন্যায় ভালমন্দ কিছুই নাই। সবাই যখন ঈশ্বর তখন কে কাহার চুরি করে? কে কাকে ঠকায়? পরস্ত্রী কেমন করিয়া হয়? পরপুরুষ কেমন করিয়া হয়? সেই পরমাত্মাই জগৎরূপে আবির্ভূত হইয়াছেন। তিনিই বিশ্বের আত্মা, তিনিই প্রভু, তিনিই ঈশ্বর। তিনি নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেন। তিনি নিজেই নিজেকে ত্রাণ ( রক্ষা) করেন। তিনি নিজেই নিজেকে চুরি করেন। তিনিই চোর, যাহার চুরি করেন সেও তিনি, আর যাহা চুরি করেন তাহাও তিনি (৯৬)। ঈশ্বর ত আর অন্যায় কি মন করিতে পারেন না। তবে ন্যায় অন্যায় ভাল মন্দ কি করিয়া হইতে পারে ? এই সব গূঢ়তত্ত্ব লইয়া ফকুড়ি করা চলে, বুঝা যার তার কর্ম নহে। শ্রীভগবান নিৰ্হেতুক কৃপা করিয়া যাকে যতটুকু বুঝান তিনি ততটুকুই বুঝেন। ৪। সকল মানুষই যদি ঈশ্বরের সন্তান হয় তবে সকল প্রাণীও ঈশ্বরের সন্তান। অতএব মানুষ ও পশুতে ভেদ করা উচিত :৪৮ পরিশিষ্ট—একাকার ও সাম্য নয়। কাজেই গরু জাৰ খায় নাও জাৰ খাইবে। জানােয়ারে হাগিয়া ছোঁচায় না মানুষও হাগিয়া ছেচাইবে না। জানােয়ার শীতে গায়ে কাপড় দেয় না, মানুষও শীতে গায়ে কাপড় দিতে পারিবে না। জানােয়ার গরম হইলে হাওয়া খায় না, মানুষও হাওয়া খাইবে না। জানােয়ার বান্ধিয়া খায় না, মানুষও বঁধিতে পারিবে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। ৫। অবশ্য কাহাকেও কখনও ঘৃণা করা উচিত নহে। তাই বলিয়া দোষকে ঘৃণা না করিলে নিজের সর্বনাশ ডাকিয়া আনা হয়। অর্থাৎ দোষের কাৰ্য্যকে প্রাণপণে ঘৃণা করিবে। কিন্তু যে দোষ করে তাহাকে ঘৃণা করিবে না, দয়া করিবে ও উপেক্ষা করিবে। যদি ঘৃণা করা সকল সময়েই দোষ হইত ভগবান্ ঘৃণার দৃষ্টি করিলেন কেন? আমরা যেগুলি আমাদের দুগুণ বলি সেগুলি আমাদের পরম বন্ধু। কেবল মোড় ফিরাইয়া দিলেই হইল। যে কারণ হইতে বােগ উৎপন্ন হয় সেই কারণই কিছু পরিবর্তিত হইলে সেই রােগ দূর করে। সেইরূপ মনুষের যে যে কারণে সংসার বন্ধন হয় সেই সেই কারণেই তাহার মােক্ষ হয় যদি সেই কারণগুলি ভগবানের চরণে লাগান যায়। (৯৭)যথা অহঙ্কার কাম ক্রোধ ইত্যাদি সংসারবন্ধনের দৃঢ় কারণ। আর এইগুলি ভগবানের চরণে লাগাইলে সংসার হইতে তৎক্ষণাৎ মুক্ত করে। অতএব অহঙ্কার ঘৃণা প্রভৃতি যেমন শত্রু তেমনই মিত্র। ৬। ভেদপ্রিয় ভগবানের অনন্ত ভেদ সর্বত্রই সকলে দেখিতে পায়। যে ইচ্ছা করিয়া দেখিৰে না সেও না দেখিয়া থাকিতে পারে না। শ্রীভগবানের তে এতই প্রিয় যে দুটী মানুষকে এক রকম করেন নাই। একই মানুষের একই দেহের সব ভিন্ন ভিন্ন .

৬১ ] পরিশিষ্ট-একাকার ও সাম্য ৪১ চোখ, মুখ, হাত, পা আঙ্গুল ইত্যাদি। অথচ শ্রীভগবান নিজেই ভিন্ন ভিন্ন মূৰ্ত্তি ধরিয়াছেন বলিয়া এই অনন্ত ভিন্ন ভিন্ন বস্তুকে এক বলিয়া মানিতে হইবে। ইহাকেই বলে জগৎ ভেদাভেদময়। অর্থাৎ জগতে ভেদের অন্ত নাই অথচ সবই এক। কাযেই জানিতে হইবে ভেদের ভিতর অভেদ ও অভেদের ভিতর ভেদ আছে। অর্থাৎ সব জিনিষ একও বটে ভিন্নও বটে, ভিন্নও বটে একও বটে। (৬৮) ৭। এই সংসার মায়ার সৃষ্টি। (৬৯) মায়ার কাৰ্য বৈপরীত্যময়। {৩৫) অতএব অসংখ্য বস্তু একও বটে ভিন্নও বটে, ভিন্নও বটে একও বটে। সবই এক বলিলে শ্রীভগবান অনন্ত ভেদ করিয়াছেন এই কথা মিথ্যা বলিয়া উড়াইয়া দেওয়া হয় । সবই ভিন্ন ভিন্ন বলিলে সমস্তই যে শ্রীভগবানের যুক্তি ইহা অস্বীকার করা হয়। অতএব সমস্তই ভিন্ন ভিন্ন ও সমস্তই এক ইহাই স্বীকার করিতে হইবে। অথচ ইহা মনুষ্যবুদ্ধির অগম্য। মানুষ কখনও ইহা বুঝিতেই পারে না ধারণা করার ত কথাই নাই। অতএব প্রকৃত বৈপরীত্য ত্যাগ করিয়া সকল বস্তুই ভিন্ন ভিন্ন মানিতে হইবে ও সমস্তই শ্রীভগবানের মূর্তি মনে রাখিয়া সমস্তই এক জানিতে হইবে। সর্বত্র ভেদ বা বৈচিত্র্য স্বীকার করিয়া ভেদ- বুদ্ধি বা ভেদজ্ঞান ত্যাগ করাই জ্ঞানীর কাৰ্য্য। ৮। ভেদ স্বীকার করিয়া ভেদবুদ্ধি ত্যাগ করাই শাস্ত্রের ব্যবস্থা। ভেদ অস্বীকার করিয়া ভেদ রাখাই নাস্তিক ব্যবস্থা। শাস্ত্রও ভেমাভেদ স্বীকার করেন। নাস্তিকও ভেদাভেদ মানে। তবে শাস্ত্র যেখানে ভেদের ব্যবস্থা করিয়াছেন নাস্তিকেরা সেইখানেই অভেদ চাহে আর যেখানে শাস্ত্র অভেদ ব্যবস্থা করিয়াছেন, নাস্তিক সেখানে ভেদ চাহে। এক কথায় আচার, জাতি, সতীত্ব রক্ষার জন্যই শাস্ত্রের ভেদের ব্যবস্থা ও ঐগুলি নাশের জন্যই নাস্তিকের অভেদ ও সাম্যের ব্যবস্থা। ৪ পরিশিষ্ট-একাকার ও সাম্য [ ৬১, নাস্তিকদের ভেদবুদ্ধির সীমা নাই। কাষেই আচার জাতি সতীত্ব নষ্ট করিয়া একাকার সৃষ্টি করিবার জন্য নাস্তিকেরা অভেদ বা সাম্যের দোহাই দিয়া জগৎ ফাটাইয়া ফেলে। উদাহরণ দিয়া উহা স্পষ্ট করা যাইতেছে। ৯। হিন্দুরা ভেদবুদ্ধিতে ভরা আর মুসলমান খৃষ্টান প্রভৃতি একেবারে ভেদবুদ্ধি রহিত—অভেদ ও সাম্যের অবতার। কাযেই কয়টা ভােট পাইবে এই লইয়া আজ চারি বৎসর মুসলমানেরা চীৎকারে আকাশ ফাটাইয়া ফেলিল। আমার এত গুলা ভােট চাই, আমার অতগুলা ভােট চাই এই বলিয়া কতই চীৎকার, কতই দরবার, কতই কলহ তাহার কে ইয়ত্তা করিতে পারে। ইহাতেও যদি ঈশ্বরের সন্তান, অভেদ, সাম্য, সকলেরই সমান হক ইত্যাদি প্রমাণ না হয় ত আর কিসে হইতে পারে ? হিন্দু তুমিই ধন্য! এই সােজার সােজা কথাও বুঝিতে পার না। ১০। অভেদ সাম্য ও একতার বলে ভারতের মুসলমানেরা এতই হীনবল যে সাম্যবুদ্ধির চরম দেখাইয়া হিন্দুদের হাত হইতে আত্মরক্ষা করিতে তাহারা এই চারি বৎসর উদব্যস্ত। এদিকে হিন্দুদের পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য আদর্শের প্রভাবে যতই ভেদবুদ্ধি দূর হইয়া একাকারের জ্ঞান হয় ততই স্বদেশী, পিকেটিং, লুকাইয়া গুলিমারা বােমামারা প্রভৃতি অকাট্য অভেদের ফল ফলিতে থাকে। নিজের দেশের জিনিষ বেশী দাম দিয়া কিনিতে হইবে তবুও পরের দেশের ভাল জিনিষও সস্তায় কিনিব না, ইহাতেও যদি আপন পর করা ছাড়িল তবে কিসে আপন পর করা ছাড়িবে? পিকেটিং করিতে গেলে ছুড়ি চাই, ছোড়ার কৰ্ম্ম নয় ; ইহাতেও অভেদ সাম্য হইল না।

৬২ ] পরিশিষ্ট-নারীসঙ্গ অধিক বাড়াইয়া আর কি হইবে? যে যত ভণ্ড, যত কদৰ্য্য, যত নাস্তিক সে তত অভেদ সাম্য প্রভৃতির দোহাই দেয়। ১১। অলীক হিন্দুরা যেমন অভেদ ও সাম্যের বিকট চীৎকারে জগৎ ফাটাইয়া ফেলে, হিন্দুরা তেমন পারে না। তাহারা জানে যে ভগবানই সর্বত্র ভেদ করিতে আদেশ করিয়াছেন ও ভেদবুদ্ধি বিষবৎ বৰ্জন করিতে বলিয়াছেন। তাহারা জানে যে পরের পয়সা পরেরই পয়সা আপনার নহে। কাযেই পরের পয়সা দিলেও লয় না। অথচ আপন পয়সা যথাসাধ্য পরের কাৰ্যে খরচ করিতে হয়। (২৮) হিন্দুদের কাছে পরের স্ত্রী একেবারেই পরের স্ত্রী তাহাদিগের দিকে তাকাইতেও নাই। অলীক হিন্দুদের কাছে আপন পর উঠিয়া গিয়া পরের স্ত্রীর গায়ে হাত দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। ১২। জগতে সকল মানুষ সমান। মেয়ে পুরুষ সমান ইত্যাদি অভেদ বা সাম্য কখনও হয় নাই, হইবেও না, হইতে পারে না। ইহা কাহাকেও বুঝাইতে হয় না। যেখানে তাকাও সেখানেই ভেদ। বৈষম্য আছে, থাকিবেই, যাইতেই পারে না। মা ও স্ত্রী সর্বদাই ভিন্ন থাকিবে। বাপ ও ছেলে সৰ্ব্বদাই ভিন্ন থাকিবে। এখানে অভেদ কল্পনাও করিতে পারে এমন পাপিষ্ঠও বিরল। যত প্রকার ভেদ আছে সমস্ত মানিয়া ভেদবুদ্ধি ত্যাগ করাই মানুষের উচিত। ৬২। নারীসঙ্গ।—১। আমাদের শাস্ত্রে বলে মনুষকে মােহিত করিবার জন্যই নারীর সৃষ্টি। (৬৩) মায়াই নারীরূপ ধরিয়া মনুষের নিকট আসে। অতএব নারীসঙ্গের ন্যায় সৰ্ব্বনাশের কারণ জগতে আর দ্বিতীয় নাই। (৬৪) নারী অগ্নি ও পুরুষ পতঙ্গ। কাযেই পুড়িয়া মরিবার জন্যই নারীসঙ্গের প্রয়ােজন। (প ২৯) ২। কলিকালে শাস্ত্রের বাক্য একেবারে হেয়। প্রকৃত ও পরিশিষ্ট-নারীসঙ্গ [ ৬২ বিশুদ্ধ আমােদর জন্যই ঈশ্বর নারীর সৃষ্টি করিয়াছেন। মােহের জন্য নহে। কাযেই নারীসঙ্গে আমােদ প্রমােদে কাল কাটানই বিশুদ্ধ আমােদর সনাতন রাস্তা ও একমাত্র উপায়। হরিনাম করার ন্যায় যাহাতে অহরহঃ নারীসঙ্গ করা যায় তাহার ব্যবস্থার জন্য খ্রীস্বাধীনতা চাই। স্ত্রীলােকদের ঘরে আটকে রাখা বড় অন্যায়। স্ত্রীলােকেরা হাওয়া খাইতে যাইতে পারে না, জুতা পরিতে পায় না ইহা বড় অন্যায়। ছেলে মেয়ে একসঙ্গে স্কুল কলেজে পড়ান হয় না ইহা মহাপাপ ইত্যাদি নানা প্রকার ছুতার সৃষ্টি হইয়াছে। নারীসঙ্গের প্রকৃত ফল কি বুঝিবার শক্তি নাই, কেবল ঈশ্বরের সন্তান, সাম্য, অভেদ প্রভৃতি লম্বা লম্বা কথার দোহাই দিয়া নারীসঙ্গ ভিন্ন আর কিছুই ভাল নাই ইহাই প্রতিপন্ন করিবার চেষ্টা। ৩। কলিকালে জীব ও শাস্ত্র এই দুইএর মধ্যে কাহার কথা মানা উচিত সে বিষয়ে মানুষের সন্দেহ থাকিতেই পারে না। যদি অহঙ্কারে বুদ হইয়া নারীসঙ্গের ফলাফল দিয়াই বিচার করা যায় তাহা হইলেও নারীসঙ্গ কি ভয়ঙ্কর বিষ তাহা বুঝা মুস্কিল নহে। যে সব কথা মুখে আনিতে হিন্দু চাও লজ্জা পায় নারীসঙ্গ ফলে এখন সেই সব কথার কতই প্রশংসা শুনতে পাওয়া যায়। এক কথায় মান্য গণ্য লােকে অহঙ্কার করি বলে সতীত্ব উঠাইয়া দিয়া আমরা যথেচ্ছ ব্যভি- চারের প্রতিষ্ঠা করিয়াছি। ( Mr H. G. wells.) যাহাদের বেজম্মা হইবার সাধ হইয়াছে, যাহারা বাপের বেটা হওয়াই লজ্জার কথা মনে করে তাহাদের বুঝাইতে যাওয়া পাগলামী। শত হস্তেন বাজিনা এই কথার অনুসরণ করিয়া তাহাদের কাছ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। ৪। যেখানে নারীসঙ্গ প্রবলভাবে চলিতেছে সে সব দেশের কথা দূরে থাক, যে ভারতবর্ষে নারীসঙ্গের আধ আধ বুলি এখনও ৬২ ] পরিশিষ্ট-নারীসঙ্গ ফুটে নাই সেখানেও ভদ্রলােকের মেয়ে ভদ্রলােককে অম্লানবদনে জিজ্ঞাসা করিতে পারে সতীত্ব বড় না নারীত্ব বড়। ইহাই নারীসঙ্গের অপার মহিমা। নারীত্ব কথাটী সংস্কৃত। যে সব নারী নারীত্ব বড় না সতীত্ব বড় এই কথা বড়াই করিয়া জিজ্ঞাসা করিতে পারে তাহারা যে সংস্কৃতের ধারও ধারে না ইহা আর বলিতেও হইবে না। নারীত্ব শব্দের সাধারণ সংস্কৃত অর্থ গ্রহণ করিলে প্রশ্নটীর যাহা অর্থ হয় তাহা মনে করিলেও শরীর শিহরিয়া উঠে। ৫। এখন নারীদের সাধ হইয়াছে তাহারা পুরুষের ন্যায় সকল কাষই করিবে। নারী নারী পুরুষ পুরুষ ইহাই শ্রীভগবানের সৃষ্টি। নারী সহস্র চেষ্টাতেও পুরুষ হইতে পারে না, নকল করিতে পারে। নারীর কাৰ্য্য পৃথক ও পুরুষের কাৰ্য্য পৃ। তাই বলিয়া নারী পুরুষের ন্যায় কিছুই করিবে না এমত নহে। চোখ কাণ প্রভৃতি দিয়া শ্রীভগবান জানাইয়া দিতেছেন যে নারী পুরুষের ন্যায় দেখিবে শুনিবে, খাইবে ইত্যাদি। পুরুষের নিকট গ্রহণ করিয়া নারী সন্তান প্রসব করে। কাযেই স্পষ্টই বুঝা যায় সংসার পালনের ভার নারীর উপর, সংসার চালানর ভার পুরুষের উপর। অর্থাৎ সংসার রক্ষার ভার পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের উপর। উভয়ে মিলিয়াই সংসার রক্ষা করে। তবে উভয়ের কাৰ্য ভিন্ন ভিন্ন। সেইরূপ পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ে মিলিয়া ধর্মকাৰ্য্য করে (৯৯)। যথা গয়াধামে পিণ্ড দিতে গেলে পতি মন্ত্র- পাঠ করে ও পত্নী পিণ্ডাদি প্ৰস্তুত করিয়া দেয়। এইরূপ সর্বত্রই পুরুষ ও স্ত্রী মিলিয়া মিশিয়া কায করে ও বিবােধ কোথাও নাই। মেয়ে মর্জা হইয়া এখন সর্বত্রই বিরােধেরই সৃষ্টি হইতেছে। মর্জা মেয়ের জন্য বিদেশে অনেক পুরুষই কৰ্ম্ম হারাইয়া নিরয় হই- তেছে। আবার মন্দা মেয়েও মর্দানি কমিলেই অর্থাৎ যৌবন পার ।

৫৪ পরিশিষ্ট-নারীসঙ্গ হইলেই নিজের অন্ন হারাইয়া বিপন্ন হয়। এখন জার্মানীতে মর্পামেয়েদের মন্দামি কমাইবার চেষ্টা হইতেছে। ৬। শাস্ত্রে বলে কন্যাকেও অতি যত্ন করিয়া শিক্ষা দিবে। এই কথার ছুতা পাইয়া নারীসঙ্গ-পাগলেরা বলে মেয়েদের স্কুল কলেজে পড়াইতে হইবে গান বাজনাও শিখাইতে হইবে। ছেলেমেয়ে এক সঙ্গে পড়িতে আরম্ভ করিয়া যেরূপ ব্যাভিচারের সৃষ্টি হইয়াছে তাহা একটা কথা দিয়াই বুঝা যাইবে। যে স্কুল বা কলেজে ছেলেমেয়ে একসঙ্গে পড়ান হয় সেখানে ছেলেরা দলে দলে ঝাঁকে ঝাঁকে ঢােকে। আর বেথুন কলেজ (কেবল মেয়েদের পড়িবার জন্য ) প্রায় উঠিয়া যাইবার যােগাড় হইয়াছে। শিক্ষা বলিলে ধৰ্ম্মশিক্ষা বুঝায়। ব্যভিচার শিক্ষা কি বাইজী হইতে শিক্ষা বুঝায় না। হিন্দুদের শাস্ত্র ভিন্ন কিছুই পড়িতে নাই। শাস্ত্রই একমাত্র বিদ্যা আর সব অবিদ্যা (১০০)। যদি মানিয়া লওয়া যায় অবিদ্যা না পড়িলে এখন চলে না তাহা হইলে পুরুষদের অবিদ্যা পড়িলেই যথেষ্ট হইল। অবিদ্যা শিখাইয়া মেয়েদের মাথা খাওয়ার কোন প্রয়ােজন নাই। যাহাতে মেয়েদের ধর্ম নিষ্ঠা হয় যাহাতে মেয়েরা শাস্ত্রগ্রন্থ পড়িতে পারে এইরূপ শিক্ষা দেওয়াই পিতার কর্তব্য। ৭। সর্বত্রই দেখা যায় গােপনই সংরক্ষণের উপায়। যাহা রাখিতে হয় তাহা ঢাকিতে হয়। না ঢাকিয়া রাখিলে জিনিষ তৎক্ষণাৎ নষ্ট হইয়া যায়। মানুষের শরীরই ইহার শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত। ইহাতে ঢাকার ভিতর ঢাকা, তার ভিতর ঢাকা, তার ভিতর ঢাকা, ঢাকার আর অন্ত নাই। শ্রীভগবা ঢাক পিটাইয়া বলিতেছেন যাহা কিছু মূল্য- বান সব বিশেষ করিয়া ঢাকিয়া রাখিও তবেই থাকিবে নতুবা সব নষ্ট হইয়া যাইবে। দেহ চামড়া ও চর্বি দিয়া ঢাকা মাংস ৬২] পরিশিষ্ট-নারীসঙ্গ 'চামড়া দিয়া ঢাকা (fascia ) তাহার তলায় হাড় আবার চামড়া দিয়া ঢাকা (priosteum)। তাহাতেও নিস্তার নাই। হৃৎপিণ্ড ফুসফুস (ফুপ ফুস, প্লীহা যকৃৎ সমস্তই চামড়া দিয়া ঢাকা (pericardium, pleura and peritoneum), afect offeface sta57 (meninges) তথাপি মাথার দিকে চামড়া। সেইরূপ ফল মাত্রেই খােসা বা ছাল দিয়া ঢাকা গাছমাত্রেরই ছাল আছে, পাতারও ঢাকা আছে। সেইরূপ "হিন্দুর মেয়েকেও রক্ষা করিবার জন্য ঘরে ঢাকিয়া রাখিতে হয় যাহাতে নজর খারাপ হইয়া না যায়। তাই মন্ত্র গােপন করিতে হয়, পণ্ডিত হইয়া নেকা সাজিতে হয়, ধনরত্ন লুকাইয়া রাবিতে হয়। গােপনই যে রক্ষা তাহা ঐ শব্দের অর্থ হইতে জানা যায় গােপন বলিলে লুকান ও রক্ষা করা বুঝায়। যদি বল ঢাকিতে হয় ত পুরুষদের ঢাকিতে হয় কেন? যে রক্ষা করে সেই ঢাকে। চামড়া কি ঢাকিতে হয় ? খােলা ও ছালকে কে ঢাকে? ৮। অনুকরণ করাই যাহাদের একমাত্র সম্বল, অন্ধের ন্যায় হাত ধ্বরিয়া চলাই যাহাদের সতত অভ্যাস, হিন্দুশাস্ত্রে অবিচারিত অবিশ্বাসই যাহাদের একমাত্র বিচারের পরিচয় সেই অলীক হিন্দুরাই কেবল স্ত্রীলােকের প্রতি অত্যাচার রব তােলে। স্ত্রীলােকেরা কিন্তু লক্ষ লক্ষ বৎসর শাস্ত্রের এই পৈশাচিক অত্যচার হাসিমুখে সহ্য করি- তেছে। কথায় বলে মার চেয়ে যে আপন তাকে বলেন। অলীক হিন্দুমাত্রই জানেন। ৯। স্ত্রীস্বাধীনতা না হইলে জাতধৰ্ম্ম মান থাকে না কেন? স্ত্রী- স্বাধীনতার ফলে আমরা কি দেখিতে পাই? স্ত্রীস্বাধীনতার ফলে স্ত্রীলােক স্কুল কলেজে পড়িতে শিখিয়াছে, স্ত্রী স্বভাব ছাড়িয়া পুরুষের মত হইতে শিখিয়াছে, সভা করিতে শিখিয়াছে ও পিকেটিং করিতে পরিশিষ্ট-নারীসঙ্গ [ ৬২ শিখিয়াছে। এক কথায় ব্যভিচারের তাণ্ডব নৃত্য দেখা দিয়াছে। সর্বজ্ঞ শাস্ত্র এই ব্যভিচার নিবারণের জন্যই স্ত্রীস্বাধীনতা নিবারণ করিয়াছেন (১০১)। শাস্ত্রের কথা ব্যর্থ হইবার নহে। ব্যভিচারের এমনই বাড় হইয়াছে যে সভ্য জগতে অনেকই বলিতে চাহে যে বিবাহ তুলিয়া দেত্তয়া উচিত। স্ত্রীলােক বিষয় সম্পত্তি নহে যে এক যায়গায় বাঁধা থাকিবে, ইচ্ছা হইলেই সেই মূহুর্তেই অন্যত্র যাইবে। ১০। ব্যভিচারের এত বাড় সত্ত্বেও ব্যভিচার জানে যে সে ব্যভিচার। তাই সু-সাজিবার জন্যই ব্যভিচার না বলিয়া বিবাহ বলিতেই ব্যস্ত। পরীক্ষা করিয়া বিবাহ, সাহচৰ্য্য বিবাহ ইত্যাদি কথা সৃষ্টি করিয়া ব্যভিচার আপনাকে ঢাকিতেই ব্যস্ত। সেইরূপ নারীত্ব, নারীপ্রগতি প্রভৃতি অনর্থক কথার সৃষ্টি করিয়া ব্যভিচার আপনাকে ঢাকিতেই চাহে। ১১। হিন্দুরা স্ত্রীলােকদের বাহির হইতে দেয় না ইহা একেবারেই মিথ্যা কথা। বাপ, স্বামী কিম্বা উপযুক্ত পুত্রাদির সহিত হিন্দু স্বীলােক প্রয়ােজন হইলেই স্বচ্ছন্দে অন্যত্র যাইতে পারে ও যাইয়াও থাকে। কেবল হাওয়াখখারী করিবার জন্য, স্কুল কলেজে পড়িবার জন্য যাইতে পারে না। তীর্থে যাইতে কোন বাধা নাই। এমন কি অন্যান্য জানা মেয়ে মানুষের সঙ্গে থাকিলে স্বামী পুত্র ভিন্ন অন্যের সহিতও তীর্থে গমন করে। ১২। নারীদুঃখে যে সব অলীক হিন্দুর হৃৎপিণ্ড গলিয়া খরস্রোতে প্রবাহিত হয়, তাহারা স্ত্রীলােক হাওয়াখখারী করিতে যাইলে কি লাভ ও না যাইলে কি ক্ষতি তাহা একবার ভাবিবারও অবসর পায় না। স্ত্রীস্বাধীনতার যাহা আসল বিষময় ফল তাহা ইঙ্গিত করা হইয়াছে। অধিকন্তু দেখা যায় ক্ষয় রােগ পরদাকে ভয় করে

৬৩]
পরিশিষ্ট-বন্ধন
ও স্বাধীন স্ত্রীকে ভয় করে না। পরদা স্ত্রী অবলা ও স্বাধীন স্ত্রী সবলা,
তাই বলিয়াই কি ক্ষয় বােগ পরদা স্ত্রীকে ছাড়িয়া মুখরা চোখরা
প্রখরা স্বাধীন স্ত্রীকে আক্রমণ করে ? কিম্বা স্ত্রীলােকের সহিত
লড়াই করিতে নাই এই শাস্ত্রের আদেশ শিরােধার্য্য করিয়া ক্ষয় রোেগ
মেয়ে মর্দার সহিত লড়াই করে। অবলা স্ত্রীলােকের সহিত
লড়াই করে না।
৬৩। বন্ধন।--১। বন্ধনই স্বাধীনতা আর স্বাধীনতাই
বন্ধন। বন্ধনেই মুক্তি, মুক্তিতেই বন্ধন। ইহা শুনিতে পাগলামি
দেখিতে বড়ই সত্য।
প্রকৃত বন্ধন ও প্রকৃত স্বাধীনতা একই কথা।
ইহাই মায়ার খেলা। বন্ধন কাহাকে বলে? স্বাধীনতা কাহাকে
বলে? এই দুইটী কথা বিচার করিলেই, এই দুইটীর স্বরূপ জানিতে
পারিলেই, এই কথাগুলি স্পষ্টই বুঝা যায়।
২। মনের বন্ধনই বন্ধন।
দেহের বন্ধন বন্ধন নহে।
মনের জয়ই স্বাধীনতা, মনের অধীনতাই অধীনতা। মনের বাড় হইলে
মানুষের নাশ হয় ও মনের নাশ হইলেই মানুষের চরম উন্নতি হয় (১০২)
মনই আত্মার চোর অর্থাৎ মনের বশে যাইয়া মানুষ উচ্ছন্ন যায়।
এই মনকে নাশ করাই মানুষের কাৰ্য অর্থাৎ মনের বশে চলা দূর করাই
মানুষের কাজ (৭৯)। দান প্রভৃতি যাবতীয় ধৰ্মকাৰ্য্য, যম, নিয়ম,
বেদ ও কর্ম সকলেরই একমাত্র উদ্দেশ্য মন বশ করা। মন বশ করাই
পরম যােগ (৮০)। মনের বশে জগৎ চলে। দেবতাদিও মনের
বশে। মন কিন্তু কাহারও বশে নহে। মনই কঠোর দেবতা।
এই মনকে জয় করিতে পারিলেই সে দেবতারও দেবতা হইতে
পারে (১০৩)।
৩। সেই জন্যই বুদ্ধিমান ব্যক্তি আপনাকে আসটে

পরিশিষ্ট-বন্ধন [ ৬৩ পিসটে বধিতেই ব্যস্ত। অধিকাংশ জিনিস তাহার করিতে নাই (নিষেধ)। কতকগুলি জিনিষ তাহাকে করিতেই হইবে (বিধি)। বুদ্ধিমান্ ব্যক্তি এই বিধি নিষেধ দিয়া আপনাকে বাঁধিতেই ব্যস্ত। সংযমই তাহার প্রাণ। নিয়মই তাহার জীবন। মন বশ করাই তাহার একমাত্র লাভ। মনের অধীন হওয়াই তাহার একমাত্র ক্ষতি। মকা কহ না কভি নহি করুন। প্রদ হিরণ্য কশিপুকে বলিতেছেন-হে রাজন্ (পিতা নহে) তুমি বাহুবলে দশদিক জয় করিয়া অর্থাৎ পৃথিবী স্বর্গ ও পাতাল প্রভৃতি জয় করিয়া নিজেকে স্বাধীন মনে করিতেছে এটী তােমার একেবারেই ভুল। তুমি কাম ক্রোধাদির বশে অতএব মনকে জয় করিতে পার নাই। কাযেই তুমি মােহগ্রস্ত ও আমার কাছে তােমার কোন জারিজুরি খাটিবে না (১০৪) ৪। অধীনতাই যে স্বাধীনতা ও স্বাধীনতাই অধীনতা তাহা দুই একটী দৃষ্টান্ত দ্বারা স্পষ্ট ইইবে। যে সত্যের অধীন যে মিথ্যা বলিতে ভয় পায়—সে স্বাধীন কি পরাধীন ? আর যে সত্যের অধীন নহে যে মিথ্যা বলিতে আসলে পিছায় না—সে স্বাধীন না পরাধীন? যে চুরিচামারি করিতে পারে না সে স্বাধীন? না চোর চামার স্বাধীন? যে চরিত্রবান্ যে ব্যভিচারের নামে শিহরিয়া উঠে সে স্বাধীন? না যে পরস্ত্রীগামী সে স্বাধীন ? বিধি-নিষেধ মানিয়া বিধিনিষেধের অধীন হওয়া স্বাধীনতা? না বিধিনিষেধ না মানিয়া মনের কথা শুনাই স্বাধীনতা ? ৫। যদি বল দেহের বন্ধনই অধীনতা ও দেহ কাহারও অধীন না হইলেই স্বাধীনতা হয়। প্রথমতঃ দেহ কাহারও অধীন নহে ইহা কখনও হইতেই পারে না। দেহ যে ক্ষুধা তৃষ্ণা নিদ্রা প্রভৃতির ৬৩ ] পরিশিষ্ট-বন্ধন অধীন তাহা কাহাকেও বুঝাইতে হয় না। অধিকন্তু লােকে পয়সার জন্য করে না এমন কাজ নাই। অতএব দেহ সর্বদাই পয়সার বশে। আর যাহার দেহ অন্যের বশে কিন্তু মন অন্যের বশে নহে সে অন্যের অধীন হইয়াও অধীন নহে। কিন্তু যাহার দেহ পরের বশে নহে কিন্তু মন পরের বশে সে স্বাধীন দেখাইলেও প্রকৃত পরাধীন। ৬। মনকে বশে রাখাই স্বাধীনতা ও মনের বশে হওয়াই পরাধীনতা ইহাই সৰ্বজ্ঞ শাস্ত্রের আদেশ। সভ্য কলিতে এই সত্যের ঠাই নাই। এখন স্বাধীনতার এক অপরূপ অর্থ আরম্ভ হইয়াছে। সে অর্থ যে কি তাহা বুঝিবার যাে নাই। স্ব ও অধীনতা এই দুইটা শব্দ হইতে স্বাধীনতা শব্দটী হইয়াছে। অতএব স্ব শব্দের অর্থের উপর স্বাধীনতা শব্দের অর্থ নির্ভর করে। শাস্ত্রে স্ব শব্দের দ্বারা পুরুষকেই বুঝায়। সভ্য কলি স্ব শব্দের দ্বারা কি বুঝে বুঝা বড় কঠিন। ৭। কালেয় স্বাধীনতা অর্থাৎ কলিকালের স্বাধীনতা কি ? এই সভ্য কলিযুগে যে যত উচ্ছঙ্খল হইতে পারিবে, যে যত বিধিনিষেধাতীত হইতে পারিবে অর্থাৎ যে যত নিয়ম কানুন না মানিয়া নিজের ইচ্ছামত চলিতে পারিবে, যে যত কামস্রোতে গা ভাসান দিতে পারিবে সে ততই স্বাধীন। অতএব স্ব শব্দ এখানে কাম ইচ্ছা ও উচ্ছ,ঙ্খলতা বুঝায়, পুরুষকে বুঝায় না। আবার স্বাধীন দেশ বলিলে নিজের দেশের অধীন বুঝায়, পুরুষকে বুঝায় না। এক কথায় সভ্য কলিতে স্বাধীনতা শব্দে স্বশব্দ কাম, ইচ্ছা, উচ্ছলতা ও দেশ বুঝায়, পুরুষ বুঝায় না। ৮। এই কালের অর্থ-বিপৰ্যয় ত্যাগ করিয়া অর্থাৎ সভ্য কলিতে যে স্বাধীনতা শব্দের উল্টা অর্থ করিয়াছে সেই উল্টা অর্থ ছাড়িয়া এখন দেখা যাউক যে “কালেয় স্বাধীনতা” কি অপরূপ বস্তু। নিজের ইচ্ছামত চলিতে পারিলেই, যা খুসী তা করিতে পারিলেই, মানুষ স্বাধীন • পরিশিষ্ট-বন্ধন 1 ৬৩ হয় কিন্তু মানুষের ইচ্ছামত করিবার শক্তি কতটুকু? মানুষ সর্বদাই সুখের চেষ্টায় ঘােরে, কিন্তু সর্বদাই দুঃখ পায় (১৫)। কে বােগ চায়? কে পুত্রশােক চায়? কে মনঃকষ্ট চায় ? কে গরীব হইতে চায়? কে চায় আমি ধনে মানে কুলে শীলে শ্রেষ্ঠ হই ? ইত্যাদি। কয়জনেরই বা ইচ্ছাপূর্ণ হয় ? মানুষ ইচ্ছার দাস ইচ্ছা মানুষের দাস নহে। কাষেই মানুষমাত্রই পরাধীন। ৯। দেশ স্বাধীন বলিলে কি বুঝায়? দেশ দেশের অধীন হয় না। মাটি কেমন করিয়া শাসন করিতে পারে ? দেশ দেশের লােকের অধীন হয় না। দেশ যদি সকলেরই অধীন হইল তাহা হইলে অধীন হইল কে ? দেশ যদি কতকগুলি লোকের অধীন হইল ত দেশের লােকেরা স্বাধীন বলা যায় কি পে? কালেয় বুদ্ধিতে এই সব বুঝা সুকঠিন। কাযেই উদাহরণ দিয়া স্পষ্ট করা হইতেছে। ১০। এখন দেশের লােকেরা স্বাধীন, দেশের লােকেরা রাজা, এই কথা বলিলে কেবল সংখ্যষি শাসনই গায় অর্থাৎ ভােটাভুটি করিয়া রাজ্যশাসন করা বুঝায়। ভোটাভুটির ফলে ন্যায় অন্যায় ধৰ্মা ধর্ষ ছাড়িয়া লােকে দল বাধে ও কতকগুলি দলের সৃষ্টি হয়। নিজের দলের প্রস্তাব হইলে দলের কলকে পরাধীন হইয়া ধর্মাধর্ম ছাড়িয়া ভােট দিতেই হইবে। ভােটাভুটিতে যখন যে দল জিতে সেই দলই শাসন করে। দেশ সকল সময় একটা দলের অধীন। কখনও কখনও একটী দল সকল দলকে হারাইতে পারে না। তখন ২৩টী দল মিলিয়া প্রধান হয়। ১১। এখন জাৰ্ম্মাণি যে স্বাধীন দেশ একথা কেহই অস্বীকার করিবে । এই স্বাধীন জার্মানিতে নাজিল বড়ই প্রবল হইয়াছে। তাহারা যাহা ইচ্ছা অত্যাচার করিতেছে ও সকলকেই নীরবে সহ্য করিতে ৬৩] পরিশিষ্ট-বন্ধন হইতেছে। তাহারা জাৰ্মাণ দেশবাসীর বিষয় সম্পত্তি কাড়িয়া লইতেছে অনেকের রােজগার বন্ধ করিয়া দিয়াছে। অনেকের ধৰ্মনাশ করিতেছে ও শেষে এই আইন করিয়াছে যে যে নাজিদলের বিরুদ্ধে যাইবে তাহা- রই জেল হইবে এমন কি প্রাণদণ্ডও হইতে পারে। যত জার্মান নাজিদল ভুক্ত নহে তাহারা যে স্বাধীন তাহাও কি বলিতে হইবে? আজ নাজিদলের যাহারা এই ঘাের অধৰ্ম্ম করিতে অনিচ্ছুক তাহারাও স্বাধীনভাবে এই ঘাের অধৰ্ম্ম করিতেছে। ১২। কালেয় রাস্তায় স্বাধীনতা নাই স্বাধীনতা থাকিতেও পারে না; স্বাধীনতা বলিলে স্বাধীনতা বুঝায় না অধীনতা বুঝায়। যে যত বিথি নিষেধের অধীন, যে যত ধৰ্ম্মের অধীন, যে যত অধর্ম ত্যাগ করে সে ততই স্বাধীন। যে দেশে যতই ধৰ্ম্মাধর্ম মানিয়া চলে সে দেশ ততই স্বাধীন। ইহাই মায়ার খেলা। ইহাই মায়ার বৈপরীত্য। মায়ার বৈপরীত্য যে কি রকম সত্য তাহা বিজ্ঞানের দ্বারা নিঃসন্দেহে বুঝা যায়। শ্রীভগবান্ মাযের নিজের শরীরেই সেই মায়ার খেলা অনবরত দেখাইতেছেন। তাই মলত্যাগ করিতে হইবে বলিয়াই ত্যাগ করিতে দেন না, হৃৎপিণ্ডকে জোরে চালাইয়া আস্তে আস্তে করেন, রক্তে চিনি বাড়াইয়া কমাইয়া দেন—ইত্যাদি (প° ৬৯৫)। তাই প্ল্যাঙ্ক বলিয়াছেন—পদার্থবিদ্যা দুইটা বিপরীত জিনিষের উপর খাড়া আছে (A)। এখন কোন দেশই স্বাধীন নহে সকল দেশই পরাধীন। সেই জন্যই কোন দেশেই সুখ নাই। খাইবার যথেষ্ট আছে অথচ লােকে খাইতে পায় না। কত লােকের যে উপার্জন বন্ধ তাহা আর বলা যায় না। এই জগদ্ব্যাপী দুঃখের প্রতীকারের কতই না চেষ্টা হইতেছে কিন্তু সবই ব্যর্থ। শাস্ত্রে বলে নিজের বশে থাকাই সুখ ও পরের বশে থাকাই দুঃখ (১০৬)। দুঃখ সাগরে পৃখি- পরিশিষ্ট-গান বাজনা [ ৬৪ বীর সকল দেশ ভাসাইয়া শ্রীভগবান্ জানাইয়া দিয়াছেন সকল দেশই পরাধীন। শাস্ত্র আরও বলেন অধৰ্ম্ম হইতেই দুঃখ ধৰ্ম্মেই সুখ (১০৭)। কাজেই শ্রীভগবান্ ঢাক পিটাইয়া বলিতেছেন- সকল দেশেই ধৰ্ম্ম নাই, তাই এই জগধ্যাপী দুঃখ। ৬৪। গান বাজনা-১। আজ কাল গানবাজনা ও নাচ শিখাইবার এক ধুয়া উঠিয়াছে। ধুয়ার স্বভাব জ্ঞানলােপ করা। এখা-- নেও তাহাই হইতেছে। ছেলে বুড়ো জ্ঞান হারাইয়া নাচিতে আরম্ভ করিয়াছে। ৭২ বৎসরের বুড় সকলের সম্মুখে স-দাড়ি নাচি- বার জন্যই পাগল। কেন নাচে? নাচিয়া কি লাভ? এ সব ভাবিবার অবসরই নাই। এক কথায় ধুমােয় পড়ে নাচি লাভ আবার কি? ধুয়ােই লাভ। ২। ধুয়াের এক মস্ত গুণ যে ধুয়ার বস্তুকে একেবারে নির্দোষ দেখায়। মায়াতেই সংসার সৃষ্ট। মায়ার বৈপরীত্য জন্য জগতে কোন বস্তু নির্দোষ নহে। কিন্তু ধুয়ার বস্তু মায়াতীত কাযেই নির্দোষ। মায়ার সং-রে থাকিয়া ধুয়ার বস্তু মায়াতীত হইল কিরূপে? জীবন্মুক্ত পুরুষ যেমন সংসারে থাকিয়াও মায়াতীত সেইরূপ ধুয়াধারী সংসারে থাকিয়াও মায়াতীত। জীবন্মুক্ত পুরুষ মায়ার বশে না থাকিয়া মায়াতীত। ধুয়াধারী মায়ার বশে থাকিয়া মায়া না মানিয়াই মায়াতীত এই মাত্র তফাৎ। ধুয়াধারী যখন নিজে মায়াতীত তখন তাহার সাধের ধুয়ার বস্তু মায়াতীত হইবে ইহা আর বিচিত্র কি ? ৩। গান বাজনা ও নাচ কলাবিদ্যা। সৰ্বশুদ্ধ চৌষট্টি কলা আছে। গান বাজনা ও নাচ উহাদের মধ্যে তিনটি। কাযেই এই তিন কলাও শিখিতে হয়। শাস্ত্রে গীতের অনেক প্রশংসা আছে। সংসার দুঃখে যে সৰু উত্তম লােক পীড়িত তাহাদেরই অনুগ্রহের নিমিত্ত ভগবান্ ৬৪ ] পরিশিষ্ট-গান বাজনা মহাদেব গীতবাদ্য প্রকাশ করিয়াছেন (১০৮)। কাজেই গীতবাদ্য কেবল উত্তম লােকের জন্য আর কাহারও জন্য নহে। গীতের দ্বারা পরমপদ পাওয়া যায়, অন্ততঃ রুদ্রলােকও পাওয়া যায় (১০৯) অতএব গীত জনচিত্ত হরণ পরমানন্দ বিবর্ধন ও বিমুক্তি বীজ অর্থাৎ গীতের দ্বারা মানুষের চিত্ত বশীভূত হয়, পরমানন্দ প্রাপ্তি হয় ও মুক্তি লাভ হয়। ৪। এখন দেখা যাইতেছে গাত হইতে মুক্তিলাভ হয় বলিয়াই গীতের প্রশংসা। কাযেই যে গীতের দ্বারা মুক্তি লাভ হয় সেই গীত অতি উত্তম। অন্যগীত ভয়ঙ্কর। কেন না মন বশ করিয়া কুপথে লইয়া যায়, ভগবদ্বিমুখ করি দেয়। বাদ্য ও নৃত্য গীতের সহচর। গীত বাদ্য ও নৃত্য কেবল ভগবানের সম্মুখে ও ভগবৎ প্রাপ্তির জন্যই করা যায়। নতুবা এই তিনই বিষবৎ বর্জনীয়। এমন কি ভগবৎ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যেও সকল বাদ্য ভাল নহে। যথা শিব মন্দিরে করতাল বাজাইতে নাই। সেইরূপ সূৰ্য্যমন্দিরে শঙ্খ আর দুর্গামন্দিরে বাঁশী ও মাধুরী বাজাইতে নাই। (১২০) ৫। এখনকার গীতাদিতে ভগবানের সম্বন্ধও নাই। উত্তমাধম বিচারও নাই অর্থাৎ যে গীতাদি করিল সে লােক ভাল কি মন্দ বিচার করিয়া দেখিবারও দরকার নাই। কাষেই এখনকার গীতাদি বিষবৎ ত্যাগ করা উচিত। অধিকন্তু এখনকার গীতাদি যে সব জিনিষের সম্বন্ধ করে তাহাতে উহা বিষের বিষ, হলাহল। মহাদেব ভিন্ন এই দুর্জয় বিষ কাহারও হজম করিবার যাে নাই। যখন সমুদ্র মন্থনে হলাহল উঠিয়া সমগ্র জগৎ ধ্বংস করিতে বসে তখন , দেবতারা অন্য উপায় না পাইয়া মহাদেবের শরণাগত হন। মহাদেব পরিশিষ্ট-কতকগুলি অলীক ছুতা [ ৬৪ সেই কালকূট হাতে মাড়িয়া তৎক্ষণাৎ খাইয়া ফেলেন (১১১)। কাল- কূট সেখানেও আপনার প্রভাব দেখাইতে ছাড়িল না। মহাদেবের গলা নীল হইয়া গেল। মহাদেব নীলকণ্ঠ হইলেন। ইহাই সাধুপুরুষের সর্বোত্তম অলঙ্কার [ ১১২ ] ৫৬। কতকগুলি অলীক ছুতা-১। অলীক অলীক হিন্দুদের কতকগুলি অলীক অর্থাৎ মিথ্যা ছুতা আছে, যথা। [১] চিরকাল এক নিয়ম চলিতেই পারে না। পরিবর্তন চাই। টেনিসনও বলিয়া- ছেন যে যতই ভাল রীতি হউক কালক্রমে উহাই খারাপ হইয়া যায়। '[২] দলপুষ্টি না হইলে কিছুই হয় না। অতএব যাহাতে অন্ত্যজের মুসলমান কি খৃষ্টনি না হয় সেই জন্য অস্পৃশ্যতা ত্যাগ করিয়া অন্ত্যজের সহিত ব্রাহ্মণের এক হওয়া চাই। যখন শাস্ত্রের বিরুদ্ধে বলিবার আর কিছুই নাই তখনই কথাগুলি বড় কড়া বলিয়া আপত্তি। ২। পরিবর্তন-পরিবর্তন যে প্রয়ােজন তাহা শাস্ত্রই বলিতেছেন ও সেই জন্য শাস্ত্রে কলিকালের ভিন্ন ব্যবস্থা করিয়াছেন। অন্য কিছু পরিবর্তন প্রয়ােজন হইলে শাস্ত্র নিজেই তাহার ব্যবস্থা করিতেন। পরিবর্তন যেমনই প্রয়ােজন সংরক্ষণ [ পরিবর্তন না করা ] তেমনই প্রয়ােজন। ইহাই মায়ার খেলা। জগতের সৃষ্টি হইতে লােকে চোখ দিয়া দেখে, কান দিয়া শুনে, পা দিয়া চলে ইত্যাদি। পরিবর্তন চাই বলিয়া কি কান দিয়া দেখিতে হইবে, চোখ দিয়া শুনিতে ও হাত দিয়া চলিতে হইবে? না চোখ দিয়া হাঁটিতে ও হইবে ও পা দিয়া দেখিতে হইবে। ৩। একটু তাকাইয়া দেখিলে দেখিতে পাওয়া যায় যে পরিবর্তনের প্রয়ােজন সামান্য। অধিকাংশ জিনিসেরই পরিবর্তনের প্রয়াে- জন নাই। পরিবর্তন করিতে গেলেও পরিবর্তন করিবার যােগ্যতা পরিশিষ্ট-কতকগুলি অলীক ছুতা থাকা চাই। এই ঘােগ্যতা যে কি দরকার ও এই যােগ্যতার যে কত অভাব তাহা সুল আইনের চর্চা করিলে জানিতে পারা যায়। দেশের বাছাই বাছাই লােক যখন এই সামান্য আইনই পরি- বৰ্তন করিতে পারে না, তখন সূক্ষ্ম আইন পরিবর্তন করিতে পারে এমন শক্তি কাহারও নাই। দলপুষ্টি—দলপুষ্টি যে বিশেষ প্রয়ােজন তাহা কেহ অস্বীকার করে । [১১৩]। কিন্তু মায়ার খেলায় দলপুষ্ট যে সর্বনাশের কারণ ইহাও মনে রাখিতে হইবে [১১৪] কে না জানে আঙ্গুল সাপে কামড়াইলে সে আঙ্গুলই তৎক্ষণাৎ কাটিয়া ফেলিতে হয় ? কে না জানে যখন হাত কি পা পচিয়া যাইতে থাকে আর পচা কিছুতেই নিবারণ হয় না তখন প্রাণ বাঁচাইবার জন্য সেই হাত কি পা কাটিয়া ফেলিতে হয় ? ৫। হিরণ্যকশিপু বলিয়াছেন—পরও হিতকারী হইলে ছেলের মত হয়। যেমন ঔষধ। নিজের দেহজাত পুত্র কখন কখন অহিতকারী হয়। যেমন দেহের রােগ। যে অঙ্গ অহিত অর্থাৎ প্রাণনাশকারী সে অঙ্গ কাটিয়া ফেলিবে যাহাতে অবশিষ্ট অঙ্গ সুখে জীবিত থাকে অর্থাৎ -যাহাতে প্রাণ বাঁচে (১১৫)। কথায় বলে সর্বনাশ উপস্থিত হইলে অর্ধেক ত্যাগ করিয়া বাকি অংশ বাঁচায় (১১৬)। ৬। কোথায় ত্যাগ করিতে হইবে ও কোথায় দলপুষ্টি করিতে হইবে তাহা লাভ লােকসানের উপর নির্ভর করে। হিন্দুর কাছে ধৰ্ম্মই সর্বস্ব। প্রাণ যাক ধৰ্ম্ম থাক ইহাই হিন্দুর কামনা। ধর্মের জন্য একলা বনে বাস করাও ভাল তবু ধৰ্ম্ম থােয়াইয়া রাজা হওয়া ভাল নহে। হিন্দু জানে ধর্মপালন করিলে ইহ জন্মে তাহার যতদূর সুখ সম্ভব ততদূরই হইবে ও পরজন্মে পরম পদ মিলিবে। যে সুখ ভাগ্যে হইল। পরিশিষ্ট-কতকগুলি অলাক ছুতা [৬৫ নাই ধৰ্মত্যাগ করিলেও সে সুখ মিলে না। অতএব সর্বস্ব খােয়াইয়া ধৰ্ম্মপালন ভাল ও সর্বস্ব লাভ করিয়াও ধৰ্ম্ম খােয়ান উচিত নহে। ধৰ্ম্ম থােয়াইয়া যাহারা দলপুষ্টি করিতে যায় সেই মুখ নাস্তিকগণ জানে না যেখানে ধসেখানেই জয় (১১৭) কেননা স্বয়ং ভগবান্ ধর্মের পক্ষে (১১৮) ৭। হিরণ্যকশিপুর মত প্রতাপী হয়ও নাই, হইবেও না, হইতে পারেও না। যাহার ভঙ্গিতেই (চোখরাঙ্গানিতেই ) দেবতারা স্বর্গে অজ্ঞান হইয়া পড়িতেন সেই হিরণ্যকশিপুকেও শিশু প্রহলাদের কাছে সকল রকমে পরাজিত লাঞ্ছিত হইয়া শেষে প্রাণ হারাইতে লক্ষ লক্ষ পাপিষ্ঠ মিলিলে একজন সাধু হয় না। একজন সাধু যাহা করিতে পারেন লক্ষ লক্ষ পাপিষ্ঠ তাহা করিতে পারে না। ৮। অলীক হিন্দুদের ধর্ম নাই ধর্মের ভাণ আছে। অতএব উহারা কথায় কথায় ধর্ম খােয়াইতে ব্যস্ত। এই অলীক হিন্দুরা খৃষ্টান কি মুসলমান হইলে অর্থাৎ হিন্দুসমাজ হইতে বহিষ্কৃত হইলে হিন্দুসমাজ সবলই হইবে। দুর্বল হইবে না। হিন্দুদের উচিত যে অলীক হিন্দুদের তাড়াইয়া আপন ধৰ্ম্ম রক্ষা করে। ৯। কড়া কথা-কড়া কথা কাহাকে বলে ? যে কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্য, যাহার আর উত্তর নাই যাহা ঘাড় পাতিয়া মানিতেই হইবে অথচ যাহা নিজ প্রকৃতি বিরুদ্ধ যাহা মানিতে বড় কষ্ট হয় তাহাকেই কড়া কথা বলে (১১৯)। কথা প্রকৃত যতই কড়া হউক না কেন যদি তাহার অনায়াসেই উত্তর দেওয়া যায় ত তাহা কড়া কথা নহে আর যদি কথা একেবারে সত্য হয় ও তাহার জবাব না থাকে তাহাকে কড়া কথা বলিয়া জানিবে। এই কড়া কথার হাত হইতে নিষ্কৃতি, পরিশিষ্টয়ায়ন পাইতে গেলে খাঁটি সত্য বলিলে কখনই চলিবে না অপর পক্ষের মিথ্যা অহঙ্কারের পুষ্টির জন্য, সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিলাইতে না পারিলেই কড়া কথা হয়। ১০। যথা, অশ্রুতি-গ্রন্থিগুলির জন্য ডাক্তারী শাস্ত্র ভগবানকে গাধা বলিয়া একেবারে উড়াইয়া দিল। ইহা কড়া কথা নহে: কেন না ইহা নাস্তিকদের পক্ষে। কিন্তু যখন দেখা গেল অশ্রুতিগ্রন্থিই সব তখন ডাক্তারী শাস্ত্রকে মুখ নাস্তিক ধৃষ্ট বলিলে কড়ই কড়া কথা হয়। কেন না কথাগুলি অক্ষরে অক্ষরে সত্য। কিন্তু যদি সত্য উড়াইয়া দিয়া মিথ্যার আশ্রয়ে ডাক্তারী-শাস্ত্রের এই সদগুণের কীর্তন করা যায় তাহা হইলে আর কড়া কথা হয় না। ১১। অর্থাৎ এক কথায় ভগবানকে শাস্ত্রকে ও সত্যকে যে যত গালি দিতে পার দেও। কোনও বাধা নাই। বরং ভাল। কিন্তু যদি শাস্ত্রের পক্ষ হইয়া নাস্তিকের বিপক্ষে বলা যায় উত্তর করা না যায় উহা অবশ্যই বড়ই কড়া কথা হইবে। জুয়াচোর লােকই কড়া কথা বলিয়া নিজের দোষ ঢাকিতে চায়। মানুষ হইলে মুক্তকণ্ঠে আপনার দোষ স্বীকার করে কিম্বা কথার উত্তর দেয়। মানুষ কখনও কড়া কথা বলিরা জুয়াচুরি করে না। O= ৭অ-বিজ্ঞান ভ্রান্ত ৬৬। রসায়ন (Chemistry)E১। রসায়ন চিরকালই বলে পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন। শাস্ত্র বলেন পদার্থ কেবল দেখিতে ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু প্রকৃতই এক, কেন না শ্রীভগবান্ একাই অনেক মুক্ত ধারণ করিয়াছেন (৬৮)। সমস্ত পদার্থই শ্রীভগবানের মূর্তি। কাযেই পরিশিষ্ট-সায়ন | ৬৬ তারা প্রকৃতই এক। ভগবান্ ভিন্ন জগতে আর কিছুই নাই। অন্তু। লক্ষ লক্ষ বংসার আগে এই সব বলিয়াছেন। আজ প্রায় ২৫০ লুর মাত্র রসায়নের উৎপত্তি। তথাপি অহঙ্কারে মত্ত ও অন্ধ হইয়া হুমায়ন এই লক্ষ লক্ষ বৎসরের সত্যকে হাসিয়াই উছাইয়া দিল সঙ্গে সঙ্গে কলির ভেড়ার দল শাস্ত্রকে পাগল মাজাখােরী, অসভ্য, কুসংস্কার-পূর্ণ বলিয়া গালি দিতে লাগিল। কিন্তু জ প্রায় ৩০ বৎসর হইল রসায়নকেও মানিতে হইয়াছে ভিন্ন ভিন্ন -হর্থ নাই সোণ। রূপা তামা লৌহ পারা গন্ধক কয়লা প্রভৃতি ভৱই এক পদার্থ-সমস্তই হাইড্রোজেন হইতে উৎপন্ন (O) কলির ছাদের তথাপি চৈতন্য নাই অনুতাপ নাই। সােণা রূপা প্রভৃতি কন পদার্থ। হাইড্রোজেন বায়ুর ন্যায় চঞ্চল। তথাপি এই বায়ুর বন্ত চঞ্চল হাইড্রোজেন হইতে লৌহের ন্যায় কঠিন পদার্থও উৎপন্ন হইছে। রসায়ন মতে পদার্থ দুই প্রকার—মূল পদার্থ ও মিশ্র শা। মূন পদার্থ ১২টী ও মিশ্র পদার্থ অসংখ্য। এ পবার্থই পাওয়া যায়, দুই রকম পাওয়া যায় না। দুইটা কিংবা শাহর চেয়ে অধিক মূল পদার্থ মিশাইয়া মিশ্র পদার্থ হয়। যেমন সােণা, ছে4 তামা লৌহ পর গন্ধক কয়লা প্রভৃতি মূল পদার্থ। ইহাদের ছিঃ অন্য কোন পদার্থ নাই। অর্থাৎ সােণাতে কেবল সােণা আছে g ৰায় কেবল রূপা আছে ইত্যাদি। আর জল বায়ু কাঠ মাটি প্রভৃতি কৰই মিশ্র পদার্থ। জলের ভিতর দুই মূল পদার্থ আছে, বায়ুর ভর মোটামুটি দুই মূল পদার্থ আছে, ইত্যাদি। যখন সকল পদার্থই = ইন হইতে উৎপন্ন তখন আর মূল পদার্থ ও মিশ্র পদার্থ—এই কতেই পারে না। তা ছাড়া রসায়ন নিজেই বলে ৯২টী মুল মূল পদার্থে পরিশিরসায়ন পদার্থের মধ্যে অনেকগুলিই মিশ্র। যেমন পারা ছয়টা পর মিশাইয়া হয়। তেমনই দস্তা ৭টা সীসা ৬টা, রাং টিন) ১১টা পদার্থ মিশাইয়া হইয়াছে। (0) ৩। দেশ কাল অবস্থার উপর বস্তুর গুণ নির্ভর করে এই কথা শাক লক্ষ লক্ষ বৎসর ধরিয়া বলেন। বহুকাল ধরিয়া এই কথা অস্বীকার করিবার জন্য রসায়ন কতই গোঁজা দিল। কিন্তু কিছুতেই পাচ্ছি। উঠিল না। শেষে স্থান অর্থাৎ দেশের উপর ও অবস্থার উপর বস্তুর গুণ নির্ভর করে একথা মানিতেই হইল। ৪। অণুর ভিতর পরমাণুর স্থান হিসাবে একই টাটারি অ্যাসিড চারি প্রকার হয়। Four kinds of Tartaric Acita owing to different positions of atoms in the molecules Molecule= অণু। Atom =পরমাণু, অত্যন্ত ছােট অণু। চান্তি প্রকারই একই পরমাণু দ্বারা গঠিত। কোনও বিশেষ নাই। কেবল চারি প্রকারে অণুর ভিতরে পরমাণুর স্থান ভিন্ন ভিন্ন, এই প্রভেদ। ৫। Ethyl aceto-acetate (এখিল-অ্যাসিটো অ্যাক্সি টেট) এর গুণ অবস্থার উপর নির্ভর করে। গুণের তারতম অনুসারে বস্তুর কোনই তারতম্য নাই। কাষেই ভিন্ন আচর করিলেও দুইটীকেই একই বস্তু বলিতে হইবে। Ethylaceto icetateএর (এথিল অ্যাসিটো অ্যাসিটের) পরমাণুগণ এক, অণুর ভিতর পরমাণুর স্থানও এক, অথচ একই বস্তু এক সময় একরকম আচ রণ করে ও আর এক সময়ে আর একরকম আচরণ করে। ৬। শাস্ত্র বলেন, ভগবানের চরণ হইতে গঙ্গা বাহির হইয়াছে। (১২০)। অতএব গঙ্গার জল অন্য জলের ন্যায় নহে। ইহা দেহ ও মনকে পবিত্র করে। রসায়ন এই কথা শুনিয়া কতকাল ধরিয়া পাগরে পরিশিষ্ট-পদার্থবিজ্ঞান [ ৬৭, হাসি হাসিল। রসায়ন মতে সব জল এক (80) জলে জলে জফাত হইলে রসায়নশাস্ত্ৰই মিথ্যা। কিন্তু এই পাগলের হাসিও সত্যকে চাপিয়া রাখিতে পারিল না। আজ ৪। ৫ বৎসর বাহির হইয়াছে যে গঙ্গাজলের কি আশ্চৰ্য্য মহিমা, Contesta foto ( Bacteria ) হাতে তিষ্ঠিতেই পারে না। Ethyl aceto acetate ( এথিল নিটো অ্যাসিটেটু) যেমন Ethyl aceto acetate (এথিল অ্যাসিটো অ্যাসিটেটু) হইতে ভিন্ন সেইরূপ জলও জল হইতে ভিন্ন। অর্থাৎ পদার্থ নিজেই নিজ হইতে ভিন্ন। রসায়নের সাধের পাগলামি কালের বশে ভাঙ্গিয়া গেল কিন্তু শাস্ত্রের দ্বেষ অর্থাৎ সত্যের দ্বেষ ঘুচিল না। ৬৭। পার্থ বিজ্ঞান ( Physics )—১। পদার্থ বিজ্ঞানকে মােটামুট দুই ভাগ করা যায়-নববিজ্ঞান (ইংরাজী ১৬৫০-১৯০০ ল) ও নব্য নববিজ্ঞান (ইংরাজী ১৯০০-১৯৩৩ সাল)। নববিজ্ঞান যাহা যাহা বলিয়াছে নব্য নববিজ্ঞান প্রায় সবই উল্টাইয়া দিয়াছে। অর্থাৎ নব্য নববিজ্ঞান অনুসারে নববিজ্ঞান একেবারে ভুল। অর্থাৎ ২৫০ বৎসরের অটুট অকাট্য সিদ্ধান্ত আজ ৩০ বৎসর হইতে একেবারে ভুল হইয়া গিয়াছে। অথচ এই অটুট অকাট্য ভুলের উপর অটুট অকাট্য বিশ্বাস করিয়া কলির ভেড়ার দল সনাতন শাস্ত্রের অটুট অকাট্য সত্যকে পাগল বলিয়া উড়াইয়া দিয়াছে। ধন্য ভেড়ার ভেড়ামি। si strator Matter ), ff (Force ), otor*** Gravitation) * ও ভারহীন ভারবান্ পদার্থের তরঙ্গ (waves * জগতের প্রত্যেক বস্তু প্রত্যেক অপর বস্তুকে আকর্ষণ করে অর্থাৎ টানে। ইহাকেই অন্যোন্যাকর্ষণ বলে।

পরিশিষ্ট-পদার্থবিজ্ঞান in Ether ), তেজ (Energy) এই পাঁচটা বস্তুর উপর নববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ নির্ভর করে। নব্য নববিজ্ঞান বলে শক্তি ও অন্যোন্যাকর্ষণ নাই। (N) এই দুইটা মিথ্যা হইলে নববিজ্ঞানের বার আনা সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যা হইয়া গেল। Statics ( স্থিতি বিজ্ঞান), Dynamics (গতিবিজ্ঞান), Hydrostatics (জলবিজ্ঞান) প্রভৃতি force ( শক্তি) ও gravitation (অন্যোন্যাকর্ষণ) না থাকিলে থাকিতেই পারে না। ৩। ভারহীন অথচ ভারবান্ পদার্থ।—ইহা নববিজ্ঞানের ও নব্য নববিজ্ঞানের এক অপূর্ব কল্পনা। নব ও নব্যনব উভয়েই বলে পদার্থ মাত্রেই ভারবান্ অর্থাৎ পদার্থ মাত্রেরই ভার আছে। ঈথার ( Ether ) পদার্থ। কাজেই ভারবান্ অথচ নব ও নব্যনব মতে ঈথার ভারহীন অর্থাৎ ঈথারের ভার নাই। অর্থাৎ নব ও নব্যন- বিজ্ঞান মতেখারের ভার আছে ও ভার নাই (N)। এতখানি উল্টা পাল্টাও কলির সভ্য মানুষের পেটে অক্লেশে হজম হয়। কোনও রকম কাটা খোচা বাধে না। ইচ্ছা থাকিলেই সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য করিতে কোনও কষ্ট নাই। “বাসনা প্রেরিতাে জনঃ”(১২১)। ইচ্ছার বশে পারে না এমন কুকাৰ্য্যই নাই। Heisenberg হেইজেনবার্গ ও Dirac (দিরাক):ঈশ্বরের তরঙ্গ স্বীকার করেন না। ইহারা আজকালকার শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক বলিয়া সকলেই স্বীকার করে। ৪। পদার্থবিদ্যার পাঁচটা উপাদানের ভিতর তিনটীর এই দশা। বাকি রহিল দুইটী পদার্থ ও তেজ। এ সম্বন্ধে পদার্থবিদ্যার মত শুনিলে বুদ্ধি হত হইয়া যায়। পদার্থ নাই। পদার্থ ঈথারের তরঙ্গ মাত্র। পদার্থ আছে ঈথারের তরঙ্গও আছে। পদার্থ নাই তেজ হইতেই ৭২ পরিশিষ্ট-গণিত [ ৬৮ পদার্থ হইয়াছে। পদার্থ নাই পদার্থ তড়িৎ শক্তি। এই তড়িৎ শক্তি কখনও ঈথারের তরঙ্গ কখনও পদার্থ। অতএব পদার্থ কখনও পদার্থও কথনও পদার্থ নহে কেবল ঈথারের তরঙ্গ মাত্র (N)। ৫। পদার্থবিজ্ঞান পদে পদে মায়ার বৈপরীত্য দেখিয়াও দেখিতে রাজী নহে। তাই পদার্থবিজ্ঞানের এত ধাঁধা। তাই পদার্থবিজ্ঞানকে বলিতে হইয়াছে “আমরা যখন যেমন সুবিধা দেখি তখন তেমনি বলি। আমরা যাহা বলি তাহা সত্য কি মিথ্যা আমাদের দেখিবার প্রয়ােজন নাই। আমাদের প্রয়ােজন হইলেই আমরা তাহা ধরিয়া লই। তাহা মিথ্যা হয় হউক আর সত্য হয় হউক। আমাদের কিছুই আসে যায় না (L)।” সেই জন্যই হালডেন বলিয়াছেন বৈজ্ঞানিকগণের প্রত্যেক কথাই মিথ্যা ও বিজ্ঞানকে গেঁজেলি মই বলা উচিত (L)। ৬৮। গণিত (Mathematics )-১। গণিত শাস্ত্রের ভুল তিন রকমে প্রমাণ করা যায়-১) গণিতশাস্ত্রের দোষ ধরাইয়া দিয়া। (২) গণিতশাস্ত্রের যে সব ভুল পরে ধরা পড়িয়াছে সেই গুলি দিয়া ও (৩) গণিতশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণের কথা দিয়া। প্রথমটী সাধারণের বেলা খাটে না। এমন কি যাহারা গণিতশাস্ত্র ভাল করিয়া পড়িয়াছে তাহারাও গণিতশাস্ত্রের নামে পলায়ন করে। ধৈৰ্য্য ধরিয়া মন দিয়া শুনিলে অনেকেই গণিতের প্রমাণের দোষ বুঝিতে পারে। কিন্তু এই বিলাসপ্রিয় কলিযুগে প্রায় কেহই মন দিয়া শুনিতে চায় না। অতএব প্রথম উপায়টী কলিযুগে চলে না। বাকী দুইটা উপায় দিয়া গণিতশাস্ত্র নির্ভরযােগ্য নহে তাহাই দেখান যাইতেছে। ২। নিউটন (Newton) একটী গণনার ভুল করেন ভুল কেহই ধরিতে পারে না। কাযেই এই ভুল-মুক্তিই অকাট্য ৬৮ ) পরিশিষ্ট-গণিত প্রমাণ বলিয়া পণ্ডিত মাত্রেই মানিয়া লয়। কিছুদিন পরে বেরই ( Bernoulli ) নিউটনের ভুল ধরাইয়া দেন। সত্যপরায়ণ নিউটন সেই ভুলটি চুপে চুপে হজম করেন। কাজেই তখনও সেই ভুলই অকাট্য সত্য বলিয়া চলিতে থাকে। কিছুদিন পরে নিউটন নিজেই চুপে চুপে ভুলটী সংশােধন করিয়া দেন। তখনই সকলে বুঝিতে পারে যে নিউ টনের অকাট্য প্রমাণটী অকাট্য ভুল (M)। ৩। লাপলাস ( Laplace) তাহার বিখ্যাত মেকানী সেলেস্ত (Mecanique Celeste) নামক গ্রন্থে কতকগুলি প্রমাণের ত্রুটী করেন। কেহই তাহা ধরিতে পারে না ও তাহা অকাট্য বলিয়া চলিতে থাকে। শেষে কোণি ( Cauchy) ও গাউস (Gauss) লাপ- লাসের প্রমাণের দোষ ধরাইয়া দেন (M)। ৪। নিউটন ও লাপলাস এই দুইজনের ন্যায় গণিতজ্ঞ আজ পর্যন্ত হয় নাই। ইহারা দুই জনেই ভুল প্রমাণ করিয়া তাহা অকাট্য বলিয়া মনে করিয়াছিলেন। অন্য সব গণিতজ্ঞ পণ্ডিতদের ত কথাই নাই। কাযেই দেখা যাইতেছে গণিতের বিশেষ দোষ যে গণিতের ভুল প্রমাণ প্রায়ই অকাট্য প্রমাণ বলিয়া মনে হয়। অর্থাৎ গণিত প্রমাণের ভুল কেহই ধরিতে পারে না। অতএব গণিতের প্রমাণ অকাট্য মনে হইলেও ঠিক কি ভুল বােঝা যায় না ও নির্ভরযােগ্য নহে। ৫। গণিতের প্রমাণ সত্য কি মিথ্যা ঠিক করা যায় না কেন? ইহার কারণ এই যে গণিত প্রমাণ চুপে চুপে এত কথাই ধরিয়া লয় যে সে গুলির দিকে মানুষের দৃষ্টিই পড়ে না। এক কথায় গণিত ধাপে ধাপে যায় না, লাফাইয়া লাফাইয়া চলে ও ভুল করে। ধাপে ধাপে যাইলে সেই ভুল ধরা পড়ে। তবে গণিত ধাপে ধাপে চলে না কেন ? ইহার উত্তর গেরগন (Gergonne) দিয়াছেন। Gergonne *৭৪ পরিশিষ্ট—ডাক্তারী বা চিকিৎসাবিজ্ঞান [ ৬৯ বলেন “গণিতের প্রমাণ ভাণমাত্র। প্রথমে উত্তরটা জানিয়া শেষে মিথ্যা করিয়া প্রমাণটা বসাইয়া দেওয়া হয়। প্রমাণের দ্বারা উত্তরটী বাহির করা হয় না। অর্থাৎ গণিত আবিষ্কার করে না, আবিষ্কৃত বিষয়ের সম্মান দিবার জন্য প্রমাণের সৃষ্টি করে। গণিতের প্রমাণ এমনই মিথ্যা যে উত্তরটা না জানিলে গণিতের প্রমাণ বুঝাই যায় না (M)। ৬। এডিংটন (Eddington) স্বীকার করেন যে গণিতের যুক্তি এখন যে কতই উল্টাইয়া গিয়াছে তাহা বলা যায় না। চিরকাল যে সকল যুক্তি অকাট্য ছিল এখন আর সে গুলি চলে না। ভুল বলিয়া সেগুলি এখন ত্যাগ করা হইয়াছে (M)। প্ল্যাঙ্ক ( Planck ) বলেন যতই গণিতের দ্বারা অকাট্য প্রমাণ কর না কেন তাহার উপর নির্ভর করা যায় না। একটুতেই তাহা উলটাইয়া যায়। গণিতে নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না (D)। ৬৯। ডাক্তারী বা চিকিৎসাবিজ্ঞান (Medicine) ১। ডাক্তারেরা লক্ষ লক্ষ মড়া কা টয়া ঠিক করিল উদরের চেহারা এই রকম। যখন এরে (X.Ray) বাহির হইল তখন দেখা গেল যে লক্ষ লক্ষ বার চোখে দেখিয়া যাহা ঠিক করা হইয়াছে তাহা একেবারেই মিথ্যা। ২। পেটের মধ্যে নাড়ীভুড়ি জোঁকের মত নড়ে। ইহাকে intestinal peristalsis বা অস্ত্রের , জলোকস-গতি বলে ( অন্ত্র = নাড়ীভুড়ি। জলোকস=জোক )। লক্ষ লক্ষ মড়া কাটিয়া ডাক্তারীতে ঠিক হইল এই জলৌকসগতি উপর হইতে নীচের দিকেই হয় ও নীচের দিক হইতে উপর দিকে হইলে প্রাণ থাকে না। এখন এক্সরে (X-Ray) পরিশিষ্ট—ডাক্তারী বা চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্বারা দেখা গিয়াছে যে এই কথা মিথ্যা। জলৌকস-গতি মায়ার বশে • একবার উপর হইতে নীচে ও আবার নীচের দিক হইতে উপরের দিকে হয় ও তাহাতেই প্রাণ বাঁচে। অর্থাৎ নাড়ীভুড়ি একবার উপর হইতে নীচে ও আবার নীচে হইতে উপরে নড়িয়াই কাৰ্য্য করে। ৩। ডাক্তারীমতে তিন প্রকার বসা (nerve) আছে। এরকম দিয়া সুখ দুঃখ অনুভব হয়। দ্বিতীয় রকম দিয়া হাত পা নাড়া যায়। তৃতীয় রকমে Sympathetic nervous system বা সাক্ষীগােপাল বচয় বলে। সেইরূপ মনুষ্য শরীরে অসংখ্য গ্রন্থি বা বিচি (glands) আছে। এই গ্রন্থি (gland;) দুই রকম। এক রকমের মুখ (duct) আছে অর্থাৎ তাহা হইতে রস বাহির হয়। দ্বিতীয় রকমের মুখ নাই • (ductless) ও তাহাদিগকে অশ্রুতি গ্রন্থি বলে। ৪। ডাক্তারেরা বহুকাল ধরিয়া এই Sympathic nervous system ও ductless glands এর (সাক্ষীগােপাল বচয়ের ও অশ্রুতি গ্রন্থির ) কোনও প্রয়ােজন না দেখিয়া অহঙ্কারে দিশেহারা হইয়া ঠিক করিল ভগবান বড়ই বােকা তাই বিনা প্রয়ােজনে এত অসংখ্য জিনিষ শরীরের মধ্যে দিয়াছেন ! বুদ্ধির আধার ডাক্তারেরা এতকাল পরে দেখিতে বাধ্য হইয়াছে যে Sympathetic nervous system and ductlees glands (সাক্ষীগােপাল বসায় ও অশ্রুতি-গ্রন্থি) দ্বারাই শরীরের সকল প্রধান কাৰ্য হয়, এমন কি চরিত্র ও বিদ্যাও এই গ্রন্থির উপর নির্ভর করে। ৫। এত বড় কথা ডাক্তারেরা দেখিতে পাইল না তাহার কারণ কি ? ইহার কারণ জাকারদের সত্য দেখিতে নাই। যাহা মনের অনুকূল তাহাই সত্য আর অন্য সমস্তই মিথ্যা ইহাই ডাক্তারী চরিত্র। “বাসনা-প্রেরিতাে জনঃ” (১২৯)। মায়াবশে জগৎ সৃষ্ট হইয়াছে।

পরিশিষ্ট—ডাক্তারী বা চিকিৎসাবিজ্ঞান | ৬৯ মায়ার স্বরূপ বৈপরীত্য অর্থাৎ দুইটা উল্টা পাল্টা জিনিষ দিয়া একটা কাৰ্য্য হয়। এই মায়া জানিলেই নিজের বুদ্ধি কিছুই না, বুঝিতে হয়। তাই এত আপত্তি। কিন্তু শত আপত্তি থাকিতেও ডাক্তারদের মানিতে হইয়াছে যে মানুষের শরীরের সকল কাৰ্য্যই বিপরীত। যেমন হংপিণ্ড কে একজন আসিয়া আস্তে আস্তে চালায় ও আর এক জন তাড়াতাড়ি চালায় (P) ও নাড়ীভুড়ির গতি একজন নীচের দিকে করায়, আর একজন উচু করায় (P) অশ্রুতিগ্রস্থ গুলি দুই দলের (এক দল রক্তে চিনি বাড়ায় ও আর একদল চিনি কমায়, একদল ক্যালসিয়ম (যাহা চুনের ভিতর বিশেষ পাওয়া যায় -calcium) বাড়ায় ও আর একদল ক্যালসিয়ম কমায়। ৬। উদর রােগে লবণ দেওয়া চিরকালই নিষিদ্ধ। ডাক্তারেরা বলিলেন লবণে প্রস্রাব করায়। অতএব লবণ উদর রােগে মহৌষধ। লক্ষ লক্ষ বৎসরের আয়ুর্বেদের নিষেধ হাসিয়া উড়াইয়া দিয়া ডাক্তারেরা উদর রােগে লবণ দিয়া সুখে নরহত্যা করিতে লাগিল। তাহার পর যখন উহাদের মধ্যে একজন বলিল লবণে বিশেষ ক্ষতি হয় তখনই ভেড়ার দলের হাসি উড়িয়া গেল ও উদর রােগে লবণ নিষিদ্ধ বলিয়া চীংকার করিতে লাগিল। ৭। কাষেই দেখা যাইতেছে মিথ্যা বলিতে ও অহঙ্কার করিতেই ডাক্তারী জন্মগ্রহণ করিয়াছে। শাস্ত্রে অষ্টসিদ্ধি আছে অর্থাৎ আট প্রকার গুণ চেষ্টার দ্বারা লাভ করা যায়। যথা পাথরের ভিতর প্রবেশ করিতে পারা, পর্বতের ন্যায় দেহ করিতে পারা, অকাশে উড়িতে পারা, যাহা চোখে দেখা যায় না তাহা দেখিতে পাওয়া ইত্যাদি (১২২)। ডাক্তারীর প্রভাবে একটী নূতন সিদ্ধির সৃষ্টি হইয়াছে। তাহার নাম মিথ্যাত্বসিদ্ধি অর্থাৎ যাহা বলিব তাহা মিথ্যা হইবেই। কখনই ৭৭ ৭• ] রাশঃ-জীবনবিজ্ঞান সত্য হইবে না। ডাক্তারী মিথ্যা-সিদ্ধি করিতেই জন্মিয়াছে বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। ৭০। জীবন বিজ্ঞান (Biology)-১। জীবন বিজ্ঞান মতে জীবের অসংখ্য শ্ৰেণী আছে। এক শ্রেণীর জীব অন্য শ্রেণীর জীবের অপেক্ষা উচু ও আর এক শ্রেণীর জীবের অপেক্ষা নীচু। নিম্ন- শ্ৰেণীর জীব হইতে উচ্চ শ্রেণীর জীব হইয়াছে। এইরূপ বানর হইতে মনুষের সৃষ্টি হইয়াছে। ইহাকেই বলে কমােন্নতি বা Evolution ( এভলিউসন্)। ২। এই ক্রমােন্নতি-মত যে শাস্ত্র বিরুদ্ধ ইহা বলা বাহুল্য। এই ক্রমােশ্নতি নিজে ও মিথ্যা ও উহার নামও মিথ্যা। ইংরেজী Evolution (এভলিউসন্) শব্দে ক্রমবিকাশ বুঝায় না। নক্সা প্রভৃতি গােল করিয়া গুটাইয়া রাখা হয় ও একটু একটু করিয়া পােলা হয়। ইহাই Evolution (এভলিউসন্) শব্দের অর্থ। কাযেই Evolution (এভলিউসন্) বলিলে যাহা ছিল তাহাই খুলিয়া দেখা বুঝায় উন্নতি বুঝায় না। ৩। কমােন্নতি জগতের নিয়মের বিরুদ্ধ। যাহা নাই তাহা আসে কেমন করিয়া ? রূপার গহনা ভাঙ্গিলে রূপাই পাওয়া যায় সােণা কি করিয়া পাওয়া যাইতে পারে ? যদি সােণা পাওয়া যায় ত রূপার ভিতর সােনা আছে বলিতেই হইবে। ৪। এখনকার প্রসিদ্ধ জীবন বিজ্ঞানবিং হালডেন বলেন জীবন বিজ্ঞান যে মিথ্যা তাহাতে কোনও সন্দেহ নাই। এডিংটন বলেন ক্রমােন্নতি-মত ছাড়িয়া দেওয়া উচিত। যদি ক্রমােয়তি থাকে ত ক্রমাবনতি অবশ্য আছে। অর্থাৎ উঠিতে পারিলে নামিতেও পারে (O)।

পরিশিষ্ট-সত্য কি [ ৭১-৭২ ৮অ-শাই একমাত্র সত্য ৭১। সত্য কি?—১। যাহা ভূত ভবিষ্যত ও বর্তমান এই তিনকালেই একরকম থাকে, যাহা সকল অবস্থাতেই এক, যাহা সনাতন, যাহার হ্রাসবৃদ্ধি নাই অর্থাৎ যাহা কমে বাড়ে না, . তাহাকেই সত্য বলে। (১২৩) কলিকালের সত্য অন্যরূপ। একালে । যাহা কেবলই বদলায় তাহাই সত্য ও যাহা বদলায় না তাহাই মিথ্যা, কেননা পুরাতন। আজ এককথা বললাম, কাল আর এক কথা, পরশু আবার অন্য কথা, তথাপি কথা একই রহিল কেবল উন্নতি , হইল মাত্র। ইহা কলিকালেই সম্ভব। সত্যের এতটুকুও মৰ্যাদা। থাকিলে সম্ভব হইতে পারি না। ২। সত্যের মর্যাদা শাস্ত্রই দিতে জানেন। আর কেহই জানে না। শাস্ত্র বলেন ব্রাহ্মণ ভুল কথা বলিবেন না। কেননা ভুল ? কথা বলিলেই ম্লেচ্ছ হয়। ভুলই মেচ্ছ (১২৪)। একটী শব্দ সম্যক জানিয়া ঠিক ব্যবহার করিলে ইহকালে ও স্বর্গে বাঞ্ছা' পূর্ণ হয় (১২৫)। ৭২। অনুভব ভিন্ন জ্ঞান হয় না—১। আমাদের শাস্ত্রে অনুভবই যথার্থজ্ঞানের প্রাণ আর অযথার্থ জ্ঞান অনুভব বর্জিত। অর্থাৎ অনুভবের দ্বারাই যথার্থ জ্ঞান হয় ও অনুভব না হইলে যথার্থ জ্ঞান হয় না। (১২৬) যতই বিচার কর না কেন অনুভব না করিলে প্রকৃত জ্ঞান হইতে পারে না। যে জিনিষ অনুভব করা যায় সেই জিনিষেরই প্রকৃত জ্ঞান হয়। না খাইলে খাওয়ার সুখ বুঝা যায় না। গাড়ী চড়িলে গাড়ী চড়ার আনন্দ পাওয়া যায় না। সেরূপ কষ্ট অনুভব ৭৩ ] পরিশিষ্ট-অনুভব ভিন্ন জ্ঞান হয় না করিলে কষ্টের জ্ঞান হয় না, সুখ অনুভব না করিলে সেই সুখের জ্ঞান হয় না ইত্যাদি। ২। তাই শান্ত বলিয়াছেন, যে মূঢ় (অজ্ঞান) সে ভগবাকে অনুভব না করিয়াই বৃথা আনন্দ করিতে থাকে তাহার আনন্দ কি রকম? পুকুরের পাড়ে আম গাছ থাকিলে তাহার ছায়া পুকুরের জলের উপর পড়ে। সেই জলের ভিতর যে আমি দেখা যায় তাহা খাইয়া যে রকম আনন্দ হইতে পারে সেই রকম।(১২৭) অনুভব না করিলে আনন্দই মিথ্যা। অনুভবের দ্বারা অসম্ভবও সম্ভব হয়। তাই শাস্ত্র বলিয়াছেন, যিনি এই জগতের স্বরূপ (তত্ব) অনুভব করিয়া জানিয়াছেন অর্থাৎ যিনি শ্রীভগবানকে অনুভব করিয়াছেন তাহার কৃপাদৃষ্টি মাত্রেই পশু পক্ষী কীটও মুক্তিলাভ করে। জীব মনুষ্যদেহেই তরিতে পারে। পশুপক্ষী কীট-দেহে তরিতে পারে না (১২৮)। ৩। প্ল্যাঙ্ক (Planck) এডিংটন (Eddington) প্রভৃতিও স্বীকার করেন যে অনুতব ভিন্ন বিচারের উপর আসলে নির্ভর করা যায় না। (D)। শাস্ত্র বলেন বিচারে বিশ্বাস করিবে না খাটাইয়া দেখিবে (১২৯)। বুদ্ধিমান্ ব্যক্তি শাস্ত্রে বিশ্বাস বিশ্বাস করিবে বিচারে নহে [১৩] ৭৩। কাৰ্য কারণ সম্বন্ধ ও বিচার—১। কারণ হইতে কাৰ্য হয় ও কাৰ্য্য হইতে বস্তুর সৃষ্টি হয়। যেমন তুলা হইতে সুতা ও সুতা হইতে কাপড় হয়। এই তিন দেখিতে ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু প্রকৃতই এক। কেননা এ জগতে ভেদ নাই সকলই ভগবানের মূর্তি যদি কারণ কাৰ্য্য ও বস্তু প্রকৃতই ভিন্নই হইবে তবে একী হইতে আর একটা হইবে কেমন করিয়া ? যাহাতে যাহা নাই তাহা হইতে সেটি পরিশিষ্ট-কাৰ্য্যকারণ সম্বন্ধ ও বিচার [ ৭৩ কেমন করিয়া হইতে পারে? যেমন রূপা তামা কি লৌহ দিয়া সােনার হার কেমন করিয়া হইতে পারে? কিংবা সােনা দিয়া কি করিয়া কাঠের পুতুল করা যায় ? সােণার হার বলিলেই সােণা দিয়া তৈমারী, কাঠের পুতুল বলিলেই কাঠ দিয়া গছা বুঝিতেই হইবে। এই জন্য শাস্ত্র বলেন :কাৰ্য কারণ ও বস্তু এক। যেমন তুলা সুতা ও কাপড়। বিকল্প [ভেদ] নাই। ইহাকেই ভাবাদ্বৈত বলে [১৩১]। কারণ হইতে কাৰ্য কখনই ভিন্ন হয় না [১৩২] যাহা কারণে নাই তাহা কাব্যেনাই যাহা কাৰ্য্যে আছে তাহাকারণেই আছে। ২। এই জন্যই বেদান্ত বলেন প্রমাণের বিষয় প্রমাণেরই অন্তর্গত অর্থাৎ যাহা প্রমাণ করিতে হইবে তাহা প্রমাণেই আছে (১৩৩)। যাহা প্রমাণের ভিতর নাই সেই জিনিষে সেই প্রমাণ পাওয়া যাইতেই পারে না। যেমন সকল মানুষই মরে। রাম মানুষ। অতএব রাম মরিবে। এখানে রাম মরিবে এইটাই প্রমাণের বিষয়। সকল মানুষই মরে ও রাম মানুষ এইটা প্রমাণ। রাম মরিবে এই প্রমাণের বিষয়টা সকল মানুষই মরে এই প্রমাণের ভিতরই আছে অর্থাৎ যখন সকল মানুষই মরে বলা হইল তখন রাম মরে ধরিয়াই লওয়া হইল। রাম যদি পরশুরাম কি মার্কণ্ডেয়ের ন্যায় অমর হইত তাহা হইলে রাম মানুষ হইয়াও মরিত না। কাযেই দেখা যাইতেছে প্রমাণ বা বিচার মাত্রই আত্মসাপেক্ষ বা অাত্মাশ্রয়দোষ-দুষ্ট বা অন্যোন্যাশ্রয়ী বা ইতরেতরাশ্রয় বান্ (Petitio Principii) অর্থাৎ ধরিয়' লইয়াই বিচার বা প্রমাণ করা হয়, না ধরিয়া বিচার বা প্রমাণ করা যায় না। ৩। কাৰ্যকারণ সম্বৰূ লইয়া বিজ্ঞান বিষম মুস্কিলে পড়িয়াছে। বিজ্ঞান বরাবর জানিত কাৰ্য্যকারণ সম্বন্ধ নিত্য অর্থাৎ একই ৭৩। পরিশিষ্ট-কাৰ্য্যকারণ সম্বন্ধ ও বিচার কারণ হইতে একই কাৰ্য্য হয় ও হইতেই হইবে, অন্য কাৰ্য্য হই- বারই জো নাই (R)। এই নিত্যতার উপর নির্ভর করিয়া মনের সুখে বিজ্ঞান ভগবান্‌কে উড়াইয়া দিল। যখন একই কাৰ্যের একই ফল হইবে তবে ভগবান্ থাকিলেই বা কি, না থাকিলেই বা কি? তিনি ত আর কার্যের ফল উল্টাইতে পারিবেন না। কাযেই ভগবানের দয়া ভক্তি প্রভৃতি সমস্তই মিথ্যা কথা। আজ ২০/২৫ বৎসর মাত্র হইল বিজ্ঞান দেখিতে পাইতেছে: কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ অনিত্য অর্থাৎ একই কারণে ভিন্ন ভিন্ন, কার্ষ হয়। (R) দিরা বলেন একই কাৰ্যের ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ফল হয়। জীন বলেন বােধ হয় একটা কিছু আছে যাহার দ্বারা কাৰ্য কারণ সম্বন্ধের নিত্যত্ব থাকে না। এডিংটন বলেন কোনও অজ্ঞাত ৰস্তু কোনও অজ্ঞাত কাৰ্য্য করে এই আমাদের মত। অর্থাৎ কিসে কি হয় আমরা বলিতে পারি না। (R) ভূতের মুখে রামনাম করিতে নাই। তাই ইহারা ঈশ্বর না বলিয়া। একটা কিছু বলিতেই ব্যস্ত। এক-চক্ষু হরিণের ন্যায় বিজ্ঞান একটাই দেখিতে পায়, তাহার দুইটা দেখিতে নাই। কাযেই তাহাকে কার্যকারণ সম্বন্ধ নিত্য ইহা ছাড়িতে হইতেছে। অথচ কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ ছাড়িলে বিজ্ঞানই থাকে না। বিষম সমস্যা। দিশেহারা হইয়া বৈজ্ঞানিকগণ দুইদল হই- আছেন। একদল বলেন কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ নিত্য। আর একদল । বলেন কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ অনিত্য। ৫। শাস্ত্র বলেন কাৰ্যকারণসম্বন্ধ নিত্য (১৩৪) ও মায়া- বশে অনিত্য অর্থাৎ এক কারণ হইতে একই কাৰ্য্য হয়, ভিন্ন ভিন্ন २ পরিশিষ্ট-নিঃসন্দেহ প্রমাণ কি [ ৭৪ কাৰ্য হয় না। কিন্তু কখনও কখনও ভিন্ন ভিন্ন কাৰ্যও হইয়া থাকে। ঈশ্বরের সাধারণ ইচ্ছাতেই কাৰ্যকারণ-সম্বন্ধ নিত্য ও তাঁহার বিশেষ ইচ্ছাতেই কাৰ্যকারণ-সম্বন্ধ উলটাইয়া যায়। তাহারই সাধারণ ইচ্ছায় পবনদেব হাওয়া দেন, সূৰ্য্য উত্তাপ দেন, ইন্দ্র বৃষ্টি দেন, অগ্নি দাহ করেন ও যম দণ্ড দেন (৩১)। কিন্তু তাহারই ইচ্ছা হইলে পবন হাওয়া দিতে পারেন না, সূৰ্য্য উত্তাপ দিতে পারেন না, ইন্দ্র বৃষ্টি দিতে পারেন না, অগ্নি পােড়াইতে পারেন না ও যম দণ্ড দিতে পারেন না। এ জন্য নৌকা জলে ডুবিলে সাঁতার জানা লােৰু তুবিয়া যায় ও সাঁতার না জানা লােকেও বাঁচিয়া যায় (৩২)। এই জন্যই পাহাড়ে আগুন লাগিলে ২০/২৫ মাইল পুড়িয়া ছাই হইয়া যায় তথাপি মধ্যে মধ্যে দু'একটা গাছ পুড়ে না। এই জন্যই বৃষ্টিতে সর্বত্র ভাসিয়া যাইলেও একটুখানি জায়গায় বৃষ্টি হয় না। ৬। ভগবানের ইচ্ছায় বিষ ও অমৃতের ন্যায় হয় ও অমূতও বিষের ন্যায় হয়। বিষত্ব ও অমৃতত্ব বিষ বা অমৃতের গুণ নহে, ভগবানের ইচ্ছায় হইয়া থাকে ; ভগবানের ইচ্ছায় বিষ বিষ ও বিষই অমৃত। সেইরূপ ভগবানের ইচ্ছায় অমৃত অমৃত ও অমৃতই বিষ। সমস্ত জগৎ ভগবানের শে। তাহার ইচ্ছাতেই বস্তুর গুণ হয় (৩৩)। ৭৪। নিঃসন্দেহ প্রমাণ কি?-১। প্রমাণ চারিপ্রকার {1} প্রত্যক্ষ [২: অনুমান [৩] যুক্তি ও [৪] আপোপদেশ বা আপ্তবাক্য। হাদের মধ্যে প্রথম তিনটিতে মােটামুটি কাজ হয়, নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না। কেবল আপ্তবাক্যই নিঃসন্দেহ প্রমাণ (১৩৫)। নারিয়া যে, মনুষ্য প্রমাণ বা বিচার করিতেই পারে না তাহা এইমাত্র দেখান হইল। অতএব মনুষের প্রমাণ বা বিচার নিঃসন্দেহ হইবে একথাই উঠিতে পারে না। * ৭৫ ] পরিশিষ্ট-প্রত্যক্ষের ভুল ৮৩ ২। যাহার কোনও জিনিষে আসক্তি নাই, যিনি মনের দাস নহেন মনই যাঁহার দাস, যিনি ইচ্ছার বশে নহেন ইচ্ছাই যাহার বশে তিনিই সর্বস্ব ছাড়িয়া সত্য ধরিতে পারেন। সেই জন্য তাহার অজ্ঞান থাকে না, তাহার ভুল হয় না ও তিনি সকল জিনিষই ঠিক ঠিক দেখিতে পান। এই পুরুষকেই আপ্তপুরুষ বলে যিনি আসক্তিশূন্য, সত্যই যাঁহার প্রাণের প্রাণ সেই সত্যসৰ্বস্ব, অজ্ঞানবর্জিত ত্রিকালদর্শী ভ্রম প্রমাদ-বর্জিত পুরুষকেই আপ্তপুরুষ বলে (৩৬)। এককথায় সত্য- পুরুষই আগুপুরুষ। এই সত্যপুরুষের কথা যে সত্য হইবে তাহা কি আর কাহাকেও বলিতে হয় ? ৩। এই জন্যই শাস্ত্র বলেন—যে সব জিনিষ ইন্দ্রিয়ের অগােচর অর্থাৎ যে সব জিনিষ চোখে দেখা যায় না, কানে শুনা যায় না, এক- কথায় যে সব জিনিস মানুষ জানিতেই পারে না সেই সব ইন্দ্রিয়ের অগােচর জিনিষ যিনি দিব্য চক্ষুর দ্বারা দেখিতে পান অর্থাৎ ভগবৎ কৃপায় দেখিতে পান তাহার কথা বিচার করিয়া উলটান যায় [১৩৭]। যে সকল বিষয় মন ধারণা করিতে অক্ষম সেই সব বিষয়ে বিচার করিতে নাই। আপ্তপুরুষের কথা আয় করিয়া বিচার না করিলে কখনও কি সন্দেহ-সমুদ্র পার হওয়া যায় ? [১৮]। অর্থাৎ সামান্য মনুষ্য সূক্ষমবস্তু সম্বন্ধে কখনও বিচার করিবে না। কেন সে বিষয় তাহার বুঝিবার জো নাই। সে বিষয়ে দিব্যচক্ষুঃ আপ্ত- পুরুষের কথাই একমাত্র প্রমাণ। ৭৫। প্রত্যক্ষের ভুল। শাস্ত্র বলেন চোখের দেখাতেও সন্দেহ থাকে। প্রত্যক্ষ প্রমাণও নি:সন্দেহ নহে ও আপ্তবাক্যের কাছে চোখের দেখা কিছুই নহে; চোখের দেখা যে কিছুই নহে, চোখ যে কেবল মিথ্যা দেখে আহার কতকগুলি উদাহরণ দেওয়া যাইতেছে ।

৫৪ পরিশিষ্ট-প্রত্যক্ষের ভূল 1 ৭৫ a A ১। পৃথিবী সমতল দেখায় কিন্তু ভাটার ন্যায় গােল। ২। চাদ থালার মত দেখায় কিন্তু ভাটার ন্যায় গােল। রেল মােটার প্রভৃতি চড়িলে গাছ প্রভৃতিই দৌড়াইতেছে। মনে হয় ও কাছের সার গাড়ীর উল্টা দিকে ও দূরের সার গাড়ীর সঙ্গে যাইতেছে দেখায়। ৪। রেল লাইন দুইটা যতদুর দেখ ততই ‘মিশিয়া যাইতেছে বলিয়া বােধ হয়। ৫। পাহাড় অনেক দূরে থাকিলেও খুব কাছে মনে হয়। ৬। পাখা কিংবা চাকা বেশী ঘুরিলে দেখা যায় না। ৭। কাঠের ভিতর ছিদ্র দেখা যায় না। ছিদ্র না থাকিলে পেরেক ঢুকিত না। ৮। অন্ধকারে দড়িকে সাপ মনে হয়। ৯। ভূত দেখা। ১০। দাম গজাইয়া পুকুর ঢাকিয়া গেলে জল কি ডাঙ্গা বুঝা যায় না। ১১। আরসিতে মুখ দেখা। ১২। লাল চশমা পরিলে সাদা লাল দেখায় ও সবুজ কাল দেখায়। ১৩। লাঠি আধখানা জলের ভিতর ডুবাইলে ভাঙ্গা বােধ হয়। ১৪। পরিষ্কার জলের ভিতর টাকা পড়িলে টাকা যেখানে থাকে তাহার চেয়ে উচুত দেখায়। ১৫। দূরবীক্ষণ ও অনুবীক্ষণ যন্ত্র (Telescope and Microscope) দ্বারা যত জিনিষ দেখা যায় শুধু চোখে সে সকল গুলিই দেখিতে পাওয়া যায় না। ১৬। আলােক একটা বস্তু নহে। অসংখ্য বস্তুর সমষ্টি *, পরিশিষ্ট-সুল ও সূক্ষ্ম ১৭। আলােক সাদা নহে। লাল হলদে সবুজ প্রভৃতি মিলিয়া সাদা দেখায়। ১৮। বিজ্ঞান বলে চোখে উল্টাইয়া দেখায়। ১৯। আলাে কম হইলেও দেখা যায় না বেশী হইলেও দেখা যায় না। ২০। সেইরূপ শব্দ কম হইলেও শুনা যায় না, বেশী হইলেও শুনা যায় না। ২১। উদরের চেহারা XRay দিয়া উল্টাইয়া গিয়াছে (পৃ৬৯১) ২২। নাড়ীভুড়ির গতি XRay দিয়া উল্টাইয়া গিয়াছে৷ (পৃঃ৬৯২) ৭৬। স্কুল ও সুর—১। বস্তু দুই প্রকার, স্থূল ও সূক্ষ্ম। 'যে বস্তু ইন্দ্রিয় গ্রাহ, যে বস্তু ইন্দ্রিয়গােচর অর্থাৎ যাহা দেখিতে পাওয়া যায় কি শুনিতে পাওয়া যায় কিম্বা অন্য ইন্দ্রিয়ের দ্বারা বুঝা যায় তাহাকে স্থূল বস্তু বলে। আর যাহা অতীন্দ্রিয়, যাহা ইন্দ্রিয় গ্রাহ নহে, যাহা ইন্দ্রিয়ের অগােচর যাহা দেখিতেও পাওয়া যায় না, শুনিতেও পাওয়া যায় না কিংবা অন্য রকমে বুঝা যায় না তাহাকে সূক্ষম বস্তু বলে। চোখ মুখ নাক কাণ ইত্যাদি স্থূল, আর প্রাণ মন আত্মা ইত্যাদি সূক্ষম। এই জীবনে যে কর্ম করা যায় তাহা স্কুল আর প্রারব্ধ অদৃষ্ট সূক্ষ। পদার্থ স্কুল আর পদার্থের ভিতর ছিদ্র সূক্ষ্ম। আলাে সাদা ইহা স্কুল আর আলাে সাদা নহে উহা লাল হলদে সবুজ নীল প্রভৃতি মিলাইয়া সাদা হইয়াছে ইহা সূক্ষ্ম। ২। লােকে মনে করে জগতে স্কুল বস্তুই আছে, সূক্ষ্ম বস্তু নাই কিংবা যদি থাকে ত অল্প। কিন্তু ইহার ঠিক বিপরীতই সত্য। অতি অল্প জিনিষই দেখিতে শুনিতে পাওয়া যাষ। অধিকাংশ জিনিষই পরিশিষ্ট-সুল ও সুর { +৬ ইন্দ্রিয়ের অগােচর অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা বুঝা যায় না। আলােক খুব অল্প হইলে দেখা যায় না, বেশী আলাে হইলেও দেখা যায় না। সেই রকম শব্দ আস্তে হইলেও শুনা যায় না? জোরে হইলেও শুনা যায় না কেবল মধ্যখানে একটু শুনা যায় মাত্র। দূরের জিনিস দেখিতে পাওয়া যায় না। দূরবীক্ষণ যন্ত্র ( Telescope) দ্বারা কত অসংখ্য তারাই দেখা যায়, চোখে সেগুলি দেখা যায় না। অনুবীক্ষণ যন্ত্র ( Microscope) দ্বারা কত অসংখ্য জীবাণই দেখিতে পাওয়া যায়, চোখ তাহাদের সন্ধানই পায় না ইত্যাদি। তাই শাস্ত্র বলেন প্রত্যক্ষ (অর্থাৎ ইন্দ্রিয় গ্রাহ বস্তু) অতি অল্প ও অপ্রত্যক্ষ বা পরােক্ষ (অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের অগােচর বস্তু) অনেক। এমন কি যে ইন্দ্রিয়ের দ্বারা আমরা দেখি সেই ইন্দ্রিয়ও পরােক্ষ (দেখা যায় না) এই পরােক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ বিষয় জানিতে হইলে শাস্ত্র প্রমাণ ও যুক্তি দ্বারা জানিতে হয়। (১৩৯)। ৩। প্রকৃত প্রস্তাবে স্কুল ও সক্ষম এই ভেদ মায়ার খেলা ও মিথ্যা। কাজেই যে পরিমাণে মায়া কাটে সেই পরিমাণেই সূক্ষ বস্তু স্কুল হইয়া পড়ে। অর্থাৎ যাহা দেখিতে পাওয়া যাইতেছিল না তাহা দেখিতে পাওয়া যায়। সংসার রক্ষার জন্য মায়া কতকগুলি জিনিস দেখিতে দেয় ও কতকগুলি দেখিতে দেয় না। গুলি মায়া দেখিতে দেয় সে গুলিকেই সাধারণতঃ স্কুল বলে, আর যে গুলি দেখিতে দেয় না সে গুলিকেই সচরাচর সূক্ষ্ম বলে। শাস্ত্রে সিদ্ধিলাভ করিবার উপায় বলা আছে। সেই উপায়ে সিদ্ধিলাভ করিতে পারিলে সূক্ষা বিষয় স্কুল হইয়া পড়ে। শ্রীভগবানের কৃপা লাভ করিতে পারিলে ত আর কথাই নাই। এই জন্যই অপ্ত পুরুষের কাছে সবই স্কুল ও তাহার কথা অভ্রান্ত। শাস্ত্র বলেন:

৩৭] পরিশিষ্ট-সুরে প্রাধান্য শ্রীভগবানের লীলা শ্রবণ ও কীৰ্ত্তন করিতে করিতে যে পরিমাণে মায়া। কাটে সেই পরিমাণেই মনুষ্য সূক্ষ্ম বস্তু দেখিতে পায় অর্থাৎ তাহার কাছে সেই পরিমাণেই সূক্ষ্ম বস্তু স্থূল হইয়া পড়ে (৮২)। মেঘ দূর হইলেই যেমন সূৰ্য্য দেখা যায় সেইরূপ অহঙ্কার দূর হইলেই মানুষের দৃষ্টি খুলিয়া যায় ও সূক্ষ্ম বস্তু স্থূল হয় ( ১৪০ )। অল্প যেমন হৰ্য্য দেখিতে পায়.ন? সেইরূপ অহঙ্কারী ভাগ্যহীন মনুষ্য সম্মুখে জাজ্বল্যমান গুরুকেও দেখিতে পায় না (২৯)। ৪। স্থূল ও সূক্ষ্ম ভেদ যে নাই তাহা স্কুল দৃষ্টিতেও দেখা যায় যাহার চোখের জ্যোতি খুব বেশী সে যতদূর দেখিতে পায় সাধারণ মনুষ্য ততদূর পায় না। শকুনি এই উভয়ের চেয়ে বেশী দূরে দেখিতে পায়। কাযেই যাহা সাধারণ মানুষের কাছে সক্ষম তাহ। তীক্ষ্ণ জ্যোতিসম্পন্ন মনুষ্য ও শকুনি উভয়ের কাছেই স্কুল। পেঁচা, বিড়াল বাঘ রাত্রিতে দেখিতে পায়, মানুষ পায় না। কোনও জন্তু মঃ ষ অপেক্ষা অনেক দূর হইতে শুনিতে পায় ও গন্ধ পায়। কাষেই মনুষ্যের পক্ষে যাহা সক্ষম বা ইন্দ্রিয়ের অগােচর পেঁচা প্রভৃতি জন্তুর পক্ষে তাহা স্কুল। অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের শক্তির উপরে স্কুল সূক্ষ্ম নির্ভর করে। ৭৭। লক্ষ্মর প্রাধান্য—১। স্থূল ও সূক্ষ্ম এই দুই প্রকায় বস্তুর মধ্যে সূক্ষবস্তুই অধিক ও সূক্ষম বস্তুই প্রধান। চোখ মুখ নাক কান প্রভৃতির চেয়ে প্রাণই যে বড় তাহা কাহাকেও বুঝাইতে হয় না। আজ ৩০ বৎসরের ভিতর বিজ্ঞানকে মানিতে হইয়াছে সূক্ষ্ম বস্তুই আসল। #্যা বলেন বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হইতেছে ততই স্কুল জগৎ হইতে সরিয়া পড়িতেছে ও সূক্ষ্ম জগতের দিকে যাইতেছে অর্থাৎ ক্রমশঃ ক্রমশঃ বিজ্ঞান দেখিতেছে যে স্থূল বস্তু মিথ্যা পরিশি—জ্যোতি [ ৭৮ সূল বস্তুই সত্য। এই ধারণা এখন এতই বদ্ধমূল হইয়াছে যে অধিকাংশ বিজ্ঞানবিগণ এখন বলিতে আরম্ভ করিয়াছেন পদার্থ মনেরই সৃষ্টি অর্থাৎ পদার্থের আস্তিত্ব কেবল মনেই আছে। (G) অতএব প্রারব্ধ বা অদৃষ্টই প্রধান আর দৃষ্ট কৰ্ম্ম অর্থাৎ জীবনের কর্ম তাহার কাছে কিছুই নহে। ২। রিসে (Richet) স্বীকার করিতেছেন সূক্ষ বস্তু কেহই বুঝিতে পারে না। কেবল কোন কোন মনুষ্যই বুঝিতে পারে। (F) স্থূল বস্তু ইন্দ্রিয়গ্রাহ অর্থাৎ দেখা যায় আর সূক্ষ্ম বস্তু দেখা যায় না কাযেই স্থূল বস্তু বুঝা অপেক্ষা সূক্ষ্ম বস্তু বুঝা যে লক্ষ লক্ষ গুণ কঠিন তাহা আর কাহাকেও বুঝাইতে হয় না অথচ আজকাল যে মার্কামারা হতবুদ্ধি লেও সুক্ষ্ম বিষয়ে মাথা নাড়া দিতেই ব্যস্ত, কিন্তু স্কুল বিষয়ে ভেদৌড়। ইহাই কালের মহিমা। ৩ মার্কামারারা বলিতে পারে তাহাদের আর দোষ কি তাহাদের সূক্ষাবুদ্ধি আছে স্কুলবুদ্ধি নাই। কাযেই তাহারা সূক্ষ্ম কথাই বুঝিতে পারে স্থূল কথা পারে না। তাহাতে আর আশ্চৰ্য্য কি ? বাহার সামান্য টাকা আছে তাহার অনেক টাকা নাই ইহা ত হইতেই পারে। সূক্ষ্মবুদ্ধি দিয়া কি স্থূল বিষয় কখনও বুঝা যায় ? যে চালনীর জ্বারা সূক্ষ্ম বস্তু চালা যায় সেই চালনীর দ্বারা কি স্কুল বস্তু চালা যাইতে পারে? সরু মিহিন জিনিষ সরু গর্তের ভিতর দিয়া যায়। মােটা জিনিষ সেই সব গর্তের ভিতর দিয়া কি করিয়া যাইবে ? মিনি চালনীর দ্বারা মােটা জিলি চালা যায় না। সেইরূপ সূক্ষ বুদ্ধির হ্মার স্কুল বিষয় বুঝা যায় না। (৮৭) (Astrology)। নব বিজ্ঞান ও নব্য জ্যোতিষ ৭৮ ] পরিশিষ্ট-জ্যোতি নববিজ্ঞান উভয়েই স্বীকার করে যে, বস্তুর নাশ নাই, বস্তুর মুক্তি বদলায় মাত্র। ইহাদের চেতন বস্তুর সম্বন্ধ রাখিতে নাই। কাযেই মানুষের কর্মফল সম্বন্ধে নববিজ্ঞানে ও নব্যনববিজ্ঞানে কোনও কথাই নাই। তবে অচেতন বস্তু সম্বন্ধে যখন সর্বত্রই নাশ নাই তখন মানুষের কৰ্ম্মফল যে আপনা আপনি নাশ হইবে ইহা কখনই সম্ভব না। আরও সর্বত্রই দেখা যায় যে, কর্মফলের নাশ নাই। রাম যদি শ্যামকে মারে আর শ্যামও রামকে মারে তাহা হইলে শােধ বােধ হইয়া যায় বটে কিন্তু উভয়েরই আঘাত লাগে। সেটা শােধ যায় না। সেইরূপ একজন অপরের কাছে ধার লইয়া ধার শােধ দিলে ঋণ থাকে না কিন্তু দেওয়া লওয়াটা থাকে। একটু ভাবিলেই দেখা যাইবে যে এইরকম কোন কম্মেরই নাশ নাই। প্রত্যেক কর্মেরই ফল আছে। তাই শাস্ত্র বলেন কর্ম ভােগেই ক্ষয় হয়, ভােগ ভিন্ন কর্ম কখনই নষ্ট হয় না (৪২)। ২। কৰ্ম্মফল তিন রকম ইহা স্পষ্টই দেখা যায়। কোনও কোনও কার্যের ফল হাতে হাতে মিলে। অনেক কার্যের ফল তখন তখন মিলে না, বিলম্বে মিলে। অধিকাংশ কৰ্ম্মের ফল কিন্তু ফলিতেই দেখা যায় না। কৰ্ম যখন নিস্ফল হইবার জো নাই তখন যে কর্মের ফল ফলিতে দেখা গেল না, তাহা ভােলা রহিল। পরে ফলিবে ইহা ভিন্ন আর কিছু হইবার উপায় নাই। অতএব এক জন্মেই মানুষ ফুরাইয়া যায় না। জন্মান্তর অাছে মানিতেই হইবে। শাস্ত্র বলেন জন্মকোটিশতৈরপি (কোটি কোটি জন্ম)। ৩। জীবনের অধিকাংশ কৰ্ম্মের ফল সেই জীবনে মিলে না। সেই সেই কৰ্ম ভােলা থাকে ও তাহাদের সঞ্চিত কৰ্ম বলে। সঞ্চিত কর্ম সকল এক জীবনে ভােগ করা যায় না। কাযেই সঞ্চিত কৰ্ম্মরাশি হইতে পরিশিষ্ট-জ্যোতিষ ( ৭৮ সামান্য অংশমাত্র ভোগ করিবার জন্য জীব জন্মগ্রহণ করে। সঞ্চিত করে এই অংশকে প্রারব্ধ বলে। এই প্রারন্ধের নাম ভাগ্য, দৈব, কাল, অদৃষ্ট, স্বভাব ও প্রকৃতি। (ক) প্রারব্ধ (প্র+আ+রভ, +ত)-যাহা বিশেষ করিয়া আরম্ভ করা হইয়াছে। ভাগ্য (ভজ, + ণ্যৎ )- যাহা ভাগ করা হইয়াছে। দৈব (দেব+ষ্ণ)= যাহা প্রদত্ত । কাল সময়। অদৃষ্ট (ন+ দৃষ্ট)= যাহা দেখা যায় না। স্বভাব ( স্ব+ভূ+ ঘ)= যাহা নিজের সহিত জন্মিয়াছে। প্রকৃতি (প্র+ক +তি)= যাহার দ্বারা গঠিত হইয়াছে=স্বভাব। ৪। সঞ্চিত কর্মের যে অংশ ভােগ করিবার জন্য জীব জন্মগ্রহণ করে সেই কৰ্ম্মকে প্রারব্ধ কৰ্ম বলে। যাহা ভােগ করিতে আরম্ভ করিয়াছে তাহাকে প্রারব্ধ বলে। যাহা সঞ্চিত হইতে ভােগ করিধার জন্য ভাগ করিয়া দেওয়া হইয়াছে তাহাকে ভাগ্য বলে। যাহা ভােগ করিবার জন্য দেবতারা ভাগ করিয়া দিয়াছেন তাহাকে দৈব বলে। যাহা কাল বশে ফল দেয় তাহাকে কাল বলে। যে কৰ্ম্ম দেখা যায় না, যাহা পূৰ্ব জন্মেই হইয়া গিয়াছে তাহাকে অদৃষ্ট বলে। যাহার উপর জীবের স্বভাব নির্ভর করে তাকে স্বভাব বা প্রকৃতি ৫। এই প্রারব্ধ বা অদৃষ্ট সূক্ষ। সূক্ষ্ম স্কুল হইতে লক্ষ লক্ষ গুণ প্রধান বলিয়া অদৃষ্ট বা প্রারব্ধ দৃষ্ট কৰ্ম্ম হইতে লক্ষ গুণ সবল। অর্থাৎ প্রারব্ধ কোনওরূপে কাটান যায় না। কাযেই স্বভাব বদলায় না ও নীচ নীচই থাকিয়া যায়। কি করিয়া প্রারব্ধ কাটান যায়, কি করিয়া স্বভাব পরিবর্তন করা যায়, কি করিয়া জাতির ফল কাটে তাহা পরে বলা যাইবে। তাই শাস্ত্রে বলিয়াছেন এই এই প্রারব্ধ কৰ্ম্মবশেই মানুষের জন্ম ও মৃত্যু হয়। এই প্রারব্ধ কর্ম.

৭৮] পরিশিষ্ট-জ্যোতিষ বশেই মানুষের সুখ দুখ বিপদ আপদ ও কল্যাণ হইয়া থাকে (৭৬)। মানুষ অদৃষ্টবশেই জন্মায় ও মৃত্যু লাভ করে। যাহাতে প্রারব্ধ কর্মের ভােগ ভাল করিয়া হয় জন্মাইবার সময় সময় সেইরূপ বাপ ও মা খুজিয়া মানুষ বলবান্ প্রারব্ধবশেই জন্মগ্রহণ করে (৪১)। ৬। মানুষই প্রারঝ বশে পশু পক্ষী কীট বৃক্ষ প্রন্তর প্রভৃতি হইয়া অশীতি লক্ষ যােনিতে ভ্রমণ করে। এই অশীতি লক্ষ যােনির ভিতর মনুষযােনিই কৰ্ম্মযােনি ও বাকি সকল যােনিই তােগ- যােনি মাত্র। অর্থাৎ পশু পক্ষী প্রভৃতি কেবল প্রারব্ধ ভােগ করিবার জন্যই জন্মায়। তাহারা নূতন কৰ্ম্ম করিতে পারে না, তরিতেও পারে । তাহাদের সেই দেহের সঙ্গে সঙ্গে সেই দেহের প্রারব্ধ ক্ষয় হয় এই মাত্র। তাহারা মুক্তিলাভ করিবার জন্য জন্মায় না। মনুষ্য মুক্তি- লাভ করিবার জন্যই জন্মায়, ভােগের জন্য নহে। অশীতি লক্ষ যােনিতে ভ্রমণ করিতে করিতে যখন জীবের মুক্তির সময় আসে তখনই জীব মনুষ্যদেহ পায়। মনুষদেহ মুক্তিদেহ ও অন্যান্য সকল দেহই ভােগদেহ। প্রারব্ধ ভােগ করিতে করিতে নৃতন কৰ্ম্ম করিয়া জীব মুক্তি পাইতে পারিবে এই জন্যই জীব মনুষ্যদেহ পায়। অতএব মুক্তিদেহই কৰ্ম্মদেহ। ৭। অহল্যা পাষাণী হইয়াছিলেন। কুবেরের পুত্র মণিগ্রীব ও নলকুবর যমলাৰ্জ্জুন অর্থাৎ জোড়া অৰ্জন বৃক্ষ হইয়াছিলেন, সেইরূপ নহুষ রাজা সর্প, নৃগরাজা বৃকলা, ইন্দ্রদ্যুম্ন গজেন্দ্র, হুহু গন্ধৰ্ব্ব কুমীর হইয়াছিলেন। মনুষ্য পশু পক্ষী কীট ও জড় বস্তুর কোনই প্রভেদ নাই। সমস্তই এক পরমাত্মার মূর্তি মাত্র। ৮। ডাক্তারী মতে রােগের বীজানু উদ্ভিদ পদার্থ ( vege. table)। কিন্তু উহাদের মধ্যে অনেক গুলিই প্রাণীর ন্যায় আপনা পরিশিষ্ট-জ্যোতিষ ৭৮ : হইতে নড়ে চড়ে। অর্থাৎ এই খানে উদ্ভিদই প্রাণীর স্যায় আচরণ করে। অতএব উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভেদ নাই। কাজেই দেখা যাইতেছে পশু ও বৃক্ষের ভেদ নাই। আবার মায়ার নিমিত্ত উহাদের ভেদ আছে। অর্থাৎ পশু ও বৃক্ষের মােটামুটি ভেদ আছে প্রকৃত ভেদ নাই। ৯। জ্যোতিষ শাস্ত্রের দ্বারা মানুষের এই প্রারব্ধ কর্ম জানা যায়। যখন মনুষ্য জীবনের জন্ম হইতে মৃত্যু পর্যন্ত সমস্তই রন্ধের উপর নির্ভর করে তখন এই প্রারব্ধ জানিবার যে উপায় থাকিবে তাহা সহজেই অনুমান করা যায়। এই প্রারব্ধ গ্রহগণের দ্বারা সূচিত হয় অর্থাৎ জন্মসময়ে রবি চন্দ্র মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রাহু ও কেতু কোথায় আছেন তাহা হইতে মানুষের জীবনে যাহা যাহা হইবার জানা যায়। ইহাকেই গ্রহগণের ফল বলে। এই সব গণনা অত্যন্ত কঠিন। এখন আর প্রায় কেহই সমস্ত ঠিক ঠিক গণিতে পারে না। তবে গণিয়া অনেকে অনেক কথা বলিতে পারে। আচারবান্ ভক্তিনিষ্ঠ ও নিস্পাপ তিনি ততই ঠিক ঠিক গণিতে পারেন। ১০। গ্রহগণের ফল অর্থাৎ প্রারব্ধ কাটাইবার জন্য জ্যোতিষশাস্ত্রেই নানা প্ৰতীকারের ব্যবস্থা আছে। ইহাদের গ্রহশান্তি বলে। গ্রহ শান্তির সকল উপায়ের মধ্যে শ্রীভগবানে ভক্তি ও বিশ্বাস ও তাঁহার অনুকুল আচরণই শ্রেষ্ঠ। শাস্ত্র বলেন যে মনুষ নিজের কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সদাই ব্যস্ত, আচারবানও হটিয়াও হটে না তাহার প্রারব্ধও কাটিয়া যায় । তাহার মন্দভাগ্য দূর হইয়া সৌভাগ্যের উদয় হয় (১৪১)। জ্যোতিষ শাস্ত্রেই আছে—এই জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহগণের নানা প্রকার মন্দ ফলের কথা বলা হইল তথাপি মুনিগণ নানা প্রতি- যিনি যত ।

৭৮] পরিশিষ্ট-জ্যোতিষ কারের ব্যবস্থা করিয়াছেন, দেবতা ও ব্রাহ্মণের পূজা, গুরুবাক্য সমস্তক্ষণ কায়মনােবাক্যে পালন, সৎসঙ্গ, যজ্ঞ ও দানের দ্বারা গ্রহগণের দুষ্ট ফল কাটিয়া যায় (১৪২)। ১১। সংক্ষেপে জগতে কোনও বস্তুর নাশ নাই। কাই কৰ্ম্ম- ফলের নাশ নাই। দেখিতে পাওয়া যায় অধিকাংশ কর্মেরই ফল সেই জীবনে মিলে না অতএব সেই কর্মের ফল ভুগিবার জন্য জন্মান্তর অবশ্যই থাকিবে ও যাহাতে সেই কর্মভােগ হয় সেইরূপ জন্মই হইবে । যে কবশে মানুষের জন্ম মৃত্যু সুখ দুঃখ হয় সেই কৰ্ম্ম জানি- বার উপায় থাকিবে না ইহা সম্ভব নহে। কাজেই জ্যোতিষ শাস্ত্র আছে। আরও বিশেষ বিশেষ চেষ্টার দ্বারা যখন কৰ্ম্মফল কাটান যায় তখন মানুষকে তাহার কৰ্ম্মফল জানাইয়া: দেওয়ার বিশেষ দরকার। অতএব জ্যোতিষশাস্ত্র যে আছে তাহার আর সন্দেহ নাই। জ্যোতিষ গণনা বড়ই কঠিন। ১২। বিদ্যাবুদ্ধির দ্বারা জ্যোতিষ গণনা ঠিক হয় না। কাযেই আজকাল জ্যোতিষ গণনার অনেক ভুল হয়। তথাপি এখনও জ্যোতিষ শাস্ত্রের দ্বারা এত কথাই বলা যায় যে, ভাবিলে অবাক হইতে হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্রের দ্বারা দোষগুণ বিপদ আপদ সহায় সম্পদ জানাইয়া দিয়া মানুষকে প্রকৃত কল্যাণপথে প্রবৃত্তি দেয়, ইহাই জ্যোতিষের সার্থ- কতা। শাস্ত্রে বিশ্বাস আচার ও ভক্তিদ্বারা প্রারব্ধ কাটিয়া যায়, এই কথা মনে রাখিয়া মানুষের সর্বদাই এইগুলির জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করা উচিত। ১৩। জ্যোতিষ শাস্ত্রের এত গুণ আছে বলিয়াই উচ্ছল, কলির জীবের জ্যোতিষের প্রতি এত বিদ্বেষ। জ্যোতিষ । মানিতে গেলেই কৰ্ম্মফল জন্মজন্মান্তর পরকাল আসিয়া পড়ে। কাযেই ১৪ পরিশিষ্ট-বুদ্ধিভ্রান্ত ও তাহার উদাহরণ [৭৯ “মজা করে পাপ কর। কলা দেখিয়ে সরে পড়” এই সাধের কথায় বাদ পড়ে। ইহাই জ্যোতিষের ও শাস্ত্রের বড়ই দোষ। পাপফল ভুগিতে হয় বলিয়া কলির জীবকে ভয় দেখাইয়া তাহার সুখের স্বপন ভাঙ্গাইবার চেষ্টা করা উহাদের যারপর নাই অন্যায়। উহাদের ঢাক পিটান উচিত ছিল— খাও দাও আর কাসি বাজাও। ড্যাং ডেঙ্গিয়ে চলে যাও। মনের সাধে পাপ কর। ফলভােগের ভয় না কর । উহারা তাহা ত করিলই না বরং পাপ হইতে দেশের সর্বনাশ হয় ইহাই বলিতে লাগিল। ১৪। শাস্ত্রের কথায় দেশের সকল অকল্যাণের কারণ অধম বা পাপ ও অধৰ্মত্যাগ করিয়া ধমপথে চলিলে দেশের সকল রকম কল্যাণ অনায়াসেই হইয়া থাকে। অধম হইতে বায়ু প্রভৃতি বিপরীত হয়। অধৰ্ম্ম ভিন্ন মানুষের কখনই শােক হইতে- পারে না। যখন অধর্ম দেশকে অভিভূত করে অর্থাৎ যখন দেশ অধর্মে ভরিয়া যায় তখনই ঋতু, বৃষ্টি, বায়ু, মাটি ও ঔষধ সবই বিকৃত হয়, অর্থাৎ তথনই গরমকালে বর্ষা, বর্ষায় জল নাই, অসময়ে শীত, অনাবৃষ্টি, অতি বৃষ্টি অসময়ে বৃষ্টি প্রভৃতি হইয়া থাকে (১০৭)। ইউরােপ ও আমে- রিকার এখনকার অবস্থাই এই বাক্যের জ্বলন্ত প্রমাণ। ৭৯। বুদ্ধিভ্রান্ত ও তাহার উদাহরণ—১। শাস্ত্র বলেন সংসারী মনুষের বুদ্ধি বিপরীত, বেশ্যার ন্যায় নানারূপ ধরে ও সর্বনাশ করে (১৪৩)। রাজসিক পুরুষ কোন জিনিষই ঠিক জানিতে পারে না (১৪৪) বুদ্ধিমান ব্যক্তি শাস্ত্রেই বিশ্বাস করিবে বিচারে নহে। (৬৯) অর্থাৎ ঠিক ভুল, ভালমন্দ পাপপুণ্য ধর্মাধর্ম সমস্তই শাস্ত্রের দ্বারা ঠিক করিবে, বিচারের দ্বারা ঠিক করিবে না [১৩০]।

স । ‘৭৯) পরিশিষ্ট-বুদ্ধিভ্রান্ত ও তাহার উদাহরণ ২। বিজ্ঞানের স্বীকার—অহঙ্কারে মত্ত হইয়া দুচারটি ঝুটে। আবিষ্কারের মােহে অন্ধ হইয়া বিজ্ঞান এত দিন একথা কানেও ঠাঁই দেয় নাই। কাযেই পদে পদে ভুল করিয়া বিজ্ঞানকে ভ্রান্তি সাগরে ডুবিতে হইয়াছে। বিজ্ঞান যে কি রকম ভ্রান্ত তাহা পূৰ্বেই স্পষ্ট করিয়া দেখান হইয়াছে [ প° ৬৬–৭০ দেখ ]। এখানে আর নূতন করিয়া বলিবার প্রয়ােজন নাই। পদে পদে ঠেকিয়া, হাতে হাতে মত বদলাইয়া, ভুলের ভিতর ডুবিয়া বিজ্ঞানের উপর চৈতন্যের ছায়া পড়ি আছে। তাই প্ল্যাঙ্ক এডিংটন জী, রাসেল, টমস, হালডেন প্রভৃতিকে মানিতে হইয়াছে মনুষ্য বুঝি ভ্রান্ত ও যতই বিচার কর না কেন সন্দেহ থাকিয়াই যায়। ৩। কোষ (Dictionary)-মানুষের বিচার যে কি রকম ভুল: তাহা বিজ্ঞান হইতে যেমন স্পষ্টই বুঝায় ইংরাজী কোষ হইতেও তেমনই স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। কত লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়া সর্বশ্রেষ্ঠ পণ্ডিতগণ মিলিয়া কত বৎসর ধরিয়া কত বৎসর পরিশ্রম করিয়া এক একখানি কোষ লিখিয়াছেন। তথাপি প্রত্যেকখানিই ভুল পূর্ণ। Oxford Dic: tionary ( অক্সফোর্ড ডিক্সনারি) প্রায় ২০০০ শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত মিলিয়া ৪৫ বৎসরে লিখেন। প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। তাহাতেও ভুল। তাহার পরই Century Dictionary ( সেঞ্চরি ডিক্সনারি) বড়। সেখানিও ভুল। Reason Science & Shastras পুস্তকে ৬ -১০ পৃষ্ঠায় কতকগুলি মাত্র ভুল দেখান হইয়াছে (a)। ইংরাজী বলিয়া সেগুলি এখানে দেওয়া গেল না। (s) ৪। হােমিওপাথি (Homaeopathy)—আয়ুৰ্বেদ বলেন যে কারণে রােগ হয় সেই কারণে রােগ বাড়ে ও বিপরীত কারণে রােগ সারে। অর্থাৎ সমানে বাড়ে বিপরীতে সারে। (১৪) পরিশিষ্ট-বুদ্ধিভ্রান্ত ও তাহার উদাহরণ { ৭ • যেমন ঠাণ্ডা লাগিলে গরম করিতে হয়, ঠাণ্ডা করিলে আরও বাড়ে। গরম হইলে ঠাণ্ডা করিতে হয়, গরম করিলে বাড়ে। পেটের অসুখ করিলে বাহ বন্ধ করিবার ঔষধ দিতে হয়, বাহে করিবার ঔষধ দিলে বাড়ে। শাস্ত্র বলেন যে কারণে রােগ হয় সেই কারণেই রােগ কমিতে পারে যদি সেই কারণ চিকিৎসিত হয় অর্থাৎ সেই কারণের মােড় ফিরাইয়া দেওয়া যায় বা কিছু বদলাইয়া দেওয়া যায়। অর্থাৎ সমানে বাড়িয়া কমে যদি সমান চিকিৎসিত হয় (৯৭)। ডাক্তারী মতে সমানে বাড়ে বিপরীতে কমে। হােমিওপ্যাথি বলে সমানে কমে (T)। হোমিওপ্যাথি মত একেবারেই ভুল। সমানে কমিতেই পারে না। সমান চিকিৎসিত হইলেই কমাইতে পারে। হােমিও- প্যাথি না জানিয়া ঔষধগুলি চিকিৎসিত করিয়াই লয় তাই উহার ভিতর একটু সত্য আছে। ৫। কলিযুগে যে দিকে তাকাও দেখিবে ভুলে ভুলে ছয়লাব। কি কোষ গ্রন্থ, কি হােমিওপ্যাথি, কি ডাক্তারী, কি জীবন- বিজ্ঞান, কি রসায়ন, কি পদার্থবিদ্যা, কি গণিত কেহই আর বাদ যায় নাই। সকলেই ভুলেই ভুল। যাহারা মাথার মাথা, যাহাদের তুল্য বিদ্বান ও বুদ্ধিমান এখন মিলে না তাহাদেরই যখন এই দশা তখন সামান্য মনুষের বুদ্ধি ও বিচারের কথা তােলাই পাগলামি। ভ্রান্ত বিচারের উদাহরণ পূর্বে যথেষ্টই দেওয়া হইয়াছে। এখানে আরও কয়েকটি দেওয়া গেল। ৬। পৃখিবীর আয়ু-প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বে টন্ বলেন পৃথিবী মাত্র ৪০০০ বৎসর পরে নিশ্চয়ই ধ্বংস হইবে। সভ্য জগৎ পরের মুখে ঝাল খাইয়া শাস্ত্র গাঁজাখােরী বলিয়া ঠাট্টা করিতে লাগিল। কিন্তু, তাহার ২০ বৎসরের মধ্যেই রেডিয়ম (Radium) আবিষ্কৃত হইল, পরিশিমার কাৰ্য ও দেখা গেল শায়ই ঠিক আর বিজ্ঞান পাগল। যা মুখে আসে তাই বকে, আর পৃথিবী অন্ততঃ দেড় লক্ষ কোটী বৎসর থাকিবে। অর্থাৎ টনের পাগলামিতে সভ্য জগৎ পৃথিবীর আয়ু লক্ষ লক্ষ বৎসর স্থানে তিনমাস করিয়াছিলেন। ৭। পুষ্পকথ—আজ ৪০ বৎসর আগেও পুষ্পকথ লইয়া কত ঠাট্টাই না শুনা যাইত। ভেড়াবুদ্ধি নাস্তিকগণ বিজ্ঞান গাজায় দম দিয়া ঠিক করিল আকাশ দিয়া উড়িয়া যাওয়া মানুষের পক্ষে কখনই সম্ভব নহে। তাহার পর ২০ বৎসর যাইতে না যাইতেই এরােপ্লেনে (aeroplane) জগৎ ভরিয়া গেল। যতলােক পুষ্পকরঞ্চ গেজেলি বলিত তাহাদের মধ্যে একজনও বলিল না “হায় হায় আমাদের কি দুর্বল ছি আমরা মুখের বাড়ি। তবুও শাস্ত্রের উপর টেক্কা মারিতে যাই।” ৮। জটায়ুর রথভাজা-রামায়ণে আছে রাবণ সীতা হরণ করিয়া আকাশ দিয়া তীরবেগে যাইতেছিল তখন পাখী জটায়ু আসিয়া রাবণকে আক্রমণ করে ও রথ ভাঙ্গিয়া দেয়। পাখীতে রথ ভাঙ্গিয়াছে শুনিয়াই গেজেলি নাস্তিকগণ শাস্ত্র গাঁজাখখারী বলিয়া চীৎকার করিতে লাগিল। এখন দেখা গিয়াছে সামান্য শকুনি আক্রমণ করিয়া এবােপ্লেন (aeroplane) ভাঙ্গিয়া দিয়াছে। শকুনি কি করিয়া এবােপ্লেন ভাঙ্গিল সুবুদ্ধি নাস্তিকগণ ঠিক করুন। ৮। মায়ার কাৰ্য্য-১) এই সংসার মায়ার সৃষ্টি। মায়ার স্বরূপ বৈপরীত্য ( উল্টা পালটা)। শাস্ত্রে ইহা যেখানে সেখানে দেখা যায়। বিজ্ঞান এতকাল ইহা পাগলের কথা বলিত ও মধ্যে মধ্যে দেখিতে পাইয়া গোঁজা দিয়া উড়াইয়া দিত। আজ ২৫/৩০ বৎসর শঝিশিমায়ার কাব্য (৮• বিন সর্বত্রই মায়ার বৈপরীত্য দেখিতে পাইয়া থমকাইয়াছে তথাপি স্বীকার করে নাই। মাত্র, মাসকতক হইল বিজ্ঞানকে মায়া মানিতে হইয়াছে। ২। ভগবান্ মায়া যেমন লুকাইতে ব্যস্ত তেমনই জানাইতে ব্যস্ত। যাহাতে মায়ার বৈপরীত্য স্পষ্ট হইতে স্পষ্টতর হয় সেই জন্যই মনুষ্ট শরীরের ভিতর সর্বত্রই মায়ার খেলা করিয়াছেন (প° ৬৯৫)। একটু তাকাইয়া দেখিলে মায়ার খেলা চারিদিকেই দেখিতে পাওয়া যায়। মানুষ একেবারে অন্ধ তাই দেখাইলেও দেখে না দেখিয়াও দেখে না। তাই এত স্পষ্ট জিনিস জানিতে পারে না। কয়েকটি উদাহরণ দিয়া বুঝান যাইতেছে । ৩। শাস্ত্র-১। ঈশ্বর আপনিই আপনাকে সৃষ্টি করেন, আশনিই আপনাকে রক্ষা করেন, আপনিই আপনার জিনিষ চুরি করেন (১৬)।২। যিনিই ভাব তিনিই অভাব অর্থাৎ যিনিই আছেন তিনিই নাই (১৪৬)। যিনিই লক্ষ্মী তিনিই অলক্ষ্মী অর্থাৎ যিনিই ঐশ্বৰ্য দেন তিনিই ঐশ্বৰ্য্য নাশ করেন (১৪৭)। ৪। যিনিই বিদ্যা তিনিই অবিদ্যা অর্থাৎ জ্ঞান ও অজ্ঞান এক (১৪৮)। ৫। জ্ঞানী ও অজ্ঞানী এক (১৪৯)। ৬। মানুষ কাঠের পুতুল তথাপি তাহার পুরুষকার আছে অর্থাৎ তাহার কাজ করিবার শক্তি আছে (৩৪)। ৭। সত্য মিথ্যা আছে ও নাই, (১৫০) গুণ দোষ আছে ও নাই (১৫১)। । ওই দোষ ও দোষই গুণ (১৫২)। ৯। ভেদই অভেদ ও অভােই ভেদ (৭৫)। ১০। কামক্রোধাদি পরম রিপু ও পরম মিত্র(৯৭)। ১১। দুনিয়া আপন ও পর (৯৮)। ১২। মনই বন্ধের কারণ ও মনই মুক্তির কারণ (১৫৩)। ১৩। সঙ্গই সর্বনাশের কাজল ও সঙ্গই মােক্ষাভের কারণ (৪৫)। ১৪। বন্ধনই মুক্তি ও •) পরিশিষ্ট মায়ার কাৰ্য মুক্তিই বন্ধন (প° ৬৩ দেখ)। ১৫। কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ নিত্য ও অনিত্য (প” ৭৩)। ১৬। কাষ্যকারণ ও বস্তু এক ও ভিন্ন (প° ৩)। ১৭। ঈশ্বরই মায়ায় মুগ্ধ করেন ও ঈশ্বরই মায়া কাটান (প ৬২ দেখ)। ১৮। ঈশ্বরই নারী সৃষ্টি করিয়াছেন ও ঈশ্বরই নারী ভয়ঙ্করী বলিয়া ঢাক পিটাইতেছেন (প ৬২ দেখ)। ১৯। মা ও স্ত্রী উভয়েই নারী। ২০। জ্ঞান করিলে জ্ঞান হয় না (১৫৪)। ২১। কষ্ট করিলেই কষ্ট যায় (প ৫৮)। ২২। নিজের ক্ষতি করিলেই লাভ (প° ৮৩)। ২৩। শাস্ত্রবিষয়ে বিচার করিতে নাই ও করিতে হয় (১৫৫)। ২৪। প্রমাণের বিষয় প্রমাণেই আছে (প° ৭৩)। ২৫। না ধরিয়া প্রমাণ করা যায় না (প ৭৩)। ২৬। স্কুল ও সূক্ষ আছে ও নাই (প° ৭৬)। ২৭। বাহিরের আচার মনের আচার হইতে বড় ও ছােট (প° ৫৮)। ২৮। চণ্ডাল অস্পৃশ্য কিন্তু তাহাকে দণ্ডবৎ প্রণাম করিবে (৩৬)। ২৯ সৎকাৰ্য্য করিলেই অহঙ্কার হয় অর্থাৎ সৎকার্যে অসৎফল (৯১)। ৩০ সমানে বাড়ে ও সমানে কমে (১৪৫)। ৩১ মানুষ মুক্তি- দেহ পাইয়া বন্ধনের জন্যই ব্যস্ত (৭১)। ৩২ মানুষ সুখের চেষ্টায় দুঃখ জড়াইয়া ধরে (৬৭)। ৩৩ পূর্ণ হইতে পূর্ণ লইলে পূর্ণই থাকে (১৫৬)। ৪। বিজ্ঞান মানুষের শরীরের সকল কাৰ্যই বিপরীত (প° ৬৯)। ২ জীবাণু উদ্ভিদ হইয়া প্রাণীর ন্যায় আচরণ করে (প ৭৮)। দুইটা বিপরীত বস্তু সর্বত্রই আছে (হিন্দুধৰ্ম্ম প°৫৫)। ৪ বিশ্বাস ভিন্ন জ্ঞান হয় না। মানিয়া লইয়াই জ্ঞান হয় ( প° ৫৫)। ৫ বিজ্ঞা- নের সকল বড় আবিষ্কারই অবিচারিত অর্থাৎ আপনা হইতেই বাহির হইয়া পড়িয়াছে, বিচার করিয়া বাহির করা হয় নাই (M)। ৬ গােলমালের ভিতরই নিয়ম ও নিয়মের ভিতরই গােলমাল २ कक्षा পরিশি-মায়ার কাৰ্য "(৮• থাকে (B) ইহাকেই বলে বিধি ও অপবাদ (নিয়ম ও তাহার ব্যতিক্রম)। তাই শাস্ত্রে বলে সাপবাদা হি বিধয়ঃ অর্থাৎ সকল নিয়মেরই উল্টা আছে। নিয়ম সর্বত্র খাটে না। ৭ কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ নিত্য ও অনিত্য (প ১৬)। ৮ পদার্থ পদার্থও বটে পদার্থ নয়ও বটে (প ৬৭৪) ৯ বস্তুর গুণ স্থান ও অবস্থার উপর নির্ভর করে (৬৬৩)। ৫। মূলদৃষ্টি—১ খ্রীপুরুষ না হইলে সৃষ্টি হয় না। পাইলে খায়। কাযেই যতটুকুই ক্ষুধা ততটুকুই খাইবে। তাহা হইলে চলিবে না। ক্ষুধার অতিরিক্ত খাইয়া অতিরিক্ত অংশ বাহে করিয়া ত্যাগ করিতে হইবে। অর্থাৎ ওজন করিবার সময় বামদিকে ২ সের ও ডান দিকে ৫ রে চড়াইয়া ৩ সের কমাইয়া দিলে সমান হয়। অর্থাৎ ২সের ২ সের নহে, ৫ সের হইতে ৩ সের কমাইলে ২ সের হয় (a+b+a+b=a+b+c-c)। প্রয়ােজন মত লইলে প্রয়ােজন মত হয় না অধিক লইয়া খানিকটা ত্যাগ করিলে প্রয়ােজন মত হয়। ৩ সেইরূপ তৃষ্ণায় অধিক জল খাইয়া মূত্রত্যাগ করিতে হয়। ৪ শরীর ধারণের জন্য যে যে জিনিষ প্রয়ােজন কেবল সেই সেই জিনিষ সেই মাত্রায় থাকিলে শরীর থাকে না। অনেক বাজে জিনিষ খাইতে হয় তবেই শরীর থাকে। Berthelot ( বেরথেলাে) শ্রেষ্ঠ রসায়ন বিৎ ছিলেন। শরীর ধারণের যে যে জিনিষ প্রয়ােজন হয় মাত্র সেই সেই জিনিষ খাওয়াইয়া তিনি দেখেন দুদিনে শরীর জীর্ণ শীর্ণ হইয়া গেল। আর সেই সেই জিনিষের সঙ্গে বাজে জিনিষ মিশাইয়া খাওয়া- ইলে শরীর বেশ থাকে। অর্থাৎ মাত্রা বা পরিমাণ (bulk)কে তুচ্ছ করা যায় না। যে যে জিনিষ প্রয়ােজন সেই সেই জিনিষে সেই সেই জিনিষ হয় না সেই সেই মাত্রায় সেই সেই জিনিষ হইলেই সেই সেই জিনিষ হয়। ৫ চিবাইয়া খাইলে ও রস করিয়া খাইলে ৮) পরিশিষ্ট-মার কাৰ্য্য উভয়ের ফলের অনেক তফাৎ হয়। আম ও আমের , লিম ও ডালিমের রস, বালি ও বালির রুটি অনেক তফাৎ। ৬ মিছরী চিনি ও বাতাসা একই জিনিস কিন্তু তাহাদের ফল ভিন্ন ভিন্ন। ৭ ঘুম না হইলে প্রাণ বাঁচে না। অর্থাৎ বাঁচিবার জন্য মরিতে হয়। চলিতে গেলে যে দিকে যাইতে হয় সেই দিকে যাইতে নাই। পা তুলিয়া ফেলিয়াই পশু চলে, ডানদিকে ও বামদিকে পাখা ঠেলিয়াই পাখী চলে, ডানদিকে ও বামদিকে বাঁকিয়াই সাপ চলে। অর্থাৎ দুইটা বিপরীত বন্তু মিশিয়া একী হয়। সােজা এগুতে কেহই পারে না। ৯ বসিলে কি দাড়াইলে যে জিনিসের উপর বসা কি দাঁড়ান যায় সেই জিনিষও সঙ্গে সঙ্গে ঠেলে, নতুবা পড়িয়া যাইতে হইত। ১০ সেই রূপ ঘােড় যখন গাড়ী টানে তখন গাড়ীও ঘােড়াকে টানে, নতুবা গাড়ী ঘােড়ার ঘাড়ের উপর যাইয়া পড়িত। অর্থাৎ একটা কাৰ্য্য হইলে মায়ার বশে তাহার বিপরীত কাৰ্য্য আপনা হইতেই হয়। ১১ স্কুল ও সূর্গের ভিতর সূক্ষই প্রধান (প ৭৭)। অথচ সুলই দেখিতে পাওয়া যায় সূক্ষ্ম দেখিতে পাওয়া যায় না। কাজেই স্কুলই প্রধান হওয়া উচিত ছিল। ১২ অদৃষ্টই প্রধান, দৃষ্ট কৰ্ম ( এ জীবনের কৰ্ম্ম ) তাহার কাছে কিছুই নহে। ১৩ গাড়ীর চাকা ঘুরিবে বলিয়াই কসিয়া আটকাইতে হয়, ঢিলা হইলেই খুলিয়া পড়িয়া যায় ও প্রাণ যায়। ১৪ ফলের ছাল ছাড়াইয়া রাখিলে ফল শীঘ্রই নষ্ট হয়। অর্থাৎ ফলটাকে রক্ষা করিবার জন্য যাহার আদৌ প্রয়ােজন নাই সেই ছালের দরকার। ১৫ সেইরূপ শরীর চামড়া দিয়া ঢাকা। ১৬ সেইরূপ সংসার মায়ার আবরণ (চামড়া) দিয়া ঢাকা। ১৭ রাখিতে গেলেই ঢাকিতে হয়। হিমেয়েদের ঘরে ঢাকিয়া রাখিতে হয়, যাহাতে কেহ নজর দিতে না পারে। গােপন শবে রক্ষা করা ও ঢাকা দুইই বুঝায় পরিশিষ্টশন্ত্রের বিরােধ : (৮১ ৮১। শাস্ত্রের বিরােধ-১ মধ্যে মধ্যে শাস্ত্রে বিরুদ্ধ কথা পাওয়া যায়। অর্থাৎ শাস্ত্রের এক জায়গার কথা অপর যায়গার কথার সঙ্গে মিলে না। ইহাতে নাস্তিকগণের মহা আনন্দ। তাহারা মনে করে শাস্ত্রকে হাসিয়া উড়াইয়া দিবার ইহাই উত্তম অবসর। তাহাদের এই চেষ্টা যে কতখানি দুষ্ট তাহা তাহাদের আচরণে সর্বত্র দেখিতে পাওয়া যায়। ২ বিজ্ঞান ত পদে পদে ভুল। তবে সেই ভ্রান্ত বিজ্ঞানকে হাসিয়া উড়াইয়া দিবার কথা দূরে থাকুক মানিতে এত ব্যস্ত কেন ? সত্য মানুষ জগতে দেখিতে পাওয়া যায় না। তবুও এই মানুষকেই বিশ্বাস করিতে ব্যস্ত কেন? তবে আর আদালত কেন? সাক্ষ্য লওয়া কেন? শরীর চিরকাল থাকে না। তবে আর বাঁচা কেন? খাইলে কিছুক্ষণ পরে ক্ষুধা পায়! তবে আর খাওয়া কেন? সংসারে সকল জিনিষেই দোষ আছে। তাই বলিয়া কিছুই ত ত্যাগ করি না। তবে শাস্ত্রে যদি দু চারিটী ভুলই থাকে তাহা হইলেও শাস্ত্র হাসিয়া উড়াইয়া দিবার কারণ কি? কাজেই দেখা যাইতেছে যে শাস্ত্রবিদ্বেষই এই দুষ্ট চেষ্টার মূল। উচ্ছলতাই এই শাস্ত্রবিদ্বেষের মূল ও বিপরীত বুদ্ধিই এই উচ্ছজ্বলডার মূল। ৩ পূর্বে যাহা লিখা হইয়াছে তাহা ভাল করিয়া পড়িলেই বুঝা যাইবে শাই একমাত্র সত্য আর সব সত্যের ধারই ধারে না। যাহারা দুই চাৰিটী ভুলের জন্য এত বড় সত্যের মাথায় পদাঘাত করিতে পারে তাহাদের বুদ্ধি কি রকম দুষ্ট তাহাদের প্রকৃতি কি রকম নষ্ট তাহা সহজেই বুঝা যায়। মাছি ঘা খুজে, শূকর বিষ্ঠা খুজিয়া বেড়ায় (১৫৭)। সেইরূপ ইহা শাস্ত্র না মানিবার ছুতা খুজিয়া বেড়ায় মায়ার বশে সংসারের সব জিনিষই দোষে গুণে হয়।

১৩ ৪ ৮১) পরিশিষ্টশান্ত্রের বিরােধ কোন জিনিষই নির্দোষ নহে (৫৮)। অতএব কেবল শাস্ত্রের বেলাই দোষে গুণে হইলে এত আপত্তি হয় কেন? এতক্ষণ ধরিয়াই লওয়া হইতেছে শাস্ত্রে দোয় আছে শাস্ত্রের কথা ভুল ইত্যাদি। অহঙ্কার ত্যাগ করিয়া, মনের দৌরাত্ম্য ছাড়িয়া সত্যই ঈশ্বর ও ঈশ্বরই সত্য ইহা সর্বদা মনে রাখিয়া, সত্যকে মাথায় করিয়া রাখিয়া, মিথ্যাকে লাথি মারিয়া দূর করিয়া, স্থিরচিত্তে দেখিলেই বুঝিতে পারা যাইবে শাস্ত্রের এই আপাত (দেখতা) দোষই শাস্ত্রের গুণের প্রমাণ, শাস্ত্রের এই আপাত (দেখতা ভুলই সত্যতার প্রমাণ। ৫। শাস্ত্রে বলেন ভগবানই জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন, তেজই জগতের কারণ ও কাল হইতে সকল বস্তু উৎপন্ন। এই তিনটি কথা দেখিতে যে বিরুদ্ধ (উল্টা পাল্টা) তাহার কোনও সন্দেহ নাই। কিন্তু ইহাদের ভিতর প্রকৃত বিরােধ কিছুই নাই। ভগবানই জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন তিনিই সূৰ্য্যরূপে সকল তেজের আধার ও তেজের দ্বারাই জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন (১৫৯)। তিনিই কালরূপী ও কালবশেই জগতের সৃষ্টি ও নাশ হয় (১৬০)। শাস্ত্রে আরও বলে মনই জগৎ ও মনই কৰ্ম্ম সৃষ্টি করে। এই মনই ভগবানের সৃষ্টি ও এই মনের আসক্তিই সংসারের কারণ একই কথা নানাদিক হইতে দেখিয়া নানাভাবে বলিলে কথাগুলি দেখিতে পরস্পর বিরুদ্ধ (উল্টা পালটা) ও ভুল বলিয়া মনে হয়। কিন্তু সকল গুলিই সত্য, বিরুদ্ধভাবে না বলিলে সমস্ত সত্য প্রকাশ হইত না ও ভুলই হইত। কাযেই বিরােধেই বিবােধ দূর হয় ও অবি বােধেই বিরােধ হয়। উল্টা পালটাই সােজা ও সােজাই উলট পালটা ইহাই মায়ার খেলা। ইহাই বুদ্ধির অগম্য। ৬। বিরােধেই বিবােধ দূর হয় ও বিরােধ না থাকিলেই বিবােধ ১• পরিশিষ্টপাত্রের বিনােথ হয়। এই কথা স্মরণ রাখিলে শারে বিনােথই শারের ৩ তাহা বুঝিতে পারা যায়। এই মায়ার কাৰ্য বুঝা একেবারেই অসম্ভব। ভগবান্ নিহেতুক কৃপা করিয়া যাহাকে যতটুকু জানাইয়া দেন তিনিই ততটুকু জানিতে পারেন। (৮৩) ইহা গুরুমুখগম্য। লিখিয়া বুঝান যায় না। গ্যাও স্বীকার করিয়াছেন বিশ্বাসেই এই কথা বুঝা যায়, বিশ্বাস না করিলে কিছুতেই বুঝা যায় না। (৩) ৭। জগৎ মায়ার বশে ইহা বুঝাইবার জন্য ভগবান চারিধিকে বিরোধের সৃষ্টি করিয়াছেন। শরীরের ভিতর সর্বত্রই বিবােধ। বাহজগতে ( বাহিরে ) সর্বত্রই বিরােধ (পঃ ৮)। তেমনই শাস্ত্রেও সর্বত্রই বিরােধ ইহাতে দোষ না হইয়া গুণই হইয়াছে। এক কথায় অবস্থাতেদেই ব্যবস্থা ভেদ ও ব্যবস্থা ভেদেই রূপ ভেদ হইয়াছে (রূপভেদ - বিৰােধ )। মায়ার সংসারে এই ব্যবস্থা কখনই সৰ্বত্ৰ চলিতে পারে না। এই জন্যই শাস্ত্র নানা অবস্থায় নানা ব্যবস্থা করিয়া কাহার কোনটা ঠিক জানিবার জন্য জ্ঞানী গুরুর ব্যবস্থা করিয়াছেন। ৮। শান্তু আরও বলেন, যে মনুষ্য প্রকৃতই আপনার কল্যাণ চাহে সে সর্বত্রই ভ্রমরের ন্যায় খুজিয়া আপনার কল্যাণ বাছিয়া লইবে। (১৬১) ভগবানের অশেষ কৃপা ভিন্ন মানুষের কিসে কল্যাণ হয় কোন মানুষই বলিতে পারে না। কাহারও চুরি করিলেই কল্যাণ হয়। কাহাকেও ভগবানের নাম করিতে, জপ করিতে নিষেধ করিতে হয়। কাহাকেও মন্ত ও মাংস খাইতে বলিতে হয়। কিন্তু সকল সময়েই শাস্ত্রের গণ্ডির ভিতর থাকিয়া চলিলে প্রকৃত কল্যাণ হয়। ৯। দুই একটা সামান্য ভুল দৃষ্টান্ত দ্বারা অবস্থাভেদে ব্যবস্থা ভেদ কথাটা বুঝাইয়া দেওয়া যাইতেছে। মনে কর একজন বলিতেছে ১) পরিশিইশান্তের বিরােধ এয়াগরাজ পশ্চিমে ও আর একজন বলিল প্রয়াগরাজ পূৰ্বে। দুই জনের কথা দেখিতে বিরুদ্ধ কিন্তু দুইটাই সত্য। বরং দুইজনেই যদি প্রয়াগরাজ পশ্চিমে বলিত তাহা হইলেই মিথ্যা হইত। সেইরূপ প্রয়াগ- ‘রাজকে কেহ উত্তরে কেহ দক্ষিণে কেহ পূৰ্বোত্তর কোণে কেহ পশ্চিম- দক্ষিণে বলিবে। তবেই ঠিক হইবে। অর্থাৎ বিরুদ্ধ কথা হইলেই -ঠিক হয় বিরুদ্ধ না হইলেই ভুল হয়। তাই নানা মুনির নানা মত। তাই শাস্ত্রের বিবােধ। সেইরূপ একই লােক ছেলে, ভাই, স্বামী, বাবা ইত্যাদি হয়। তাহাতে বিরােধ ত হয়ই না। বরং বিবােধ না হইলেই বিরােধ হয়। সেইরূপ একই জিনিষকে কঠিনও বলা যায় নরমও বলা যায়, সাদাও বলা যায় ময়লাও বলা যায়, বড়ও বলা যায় ছােটও বলা যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। কাযেই বিরুদ্ধ কথা না বলিলেই দোষ হয় ও বিরােধের দ্বারাই বিরােধ দূর হয়। ইহাই মায়ার কাৰ্য। ইহাই মায়ার বৈপরিত্য। ১০। অবশ্য তাই বলিয়া পাগলামি ভাল নহে। বিরােধ নাই ইহা যদি সত্য হয় তাহা হইলে মায়ার দ্বারা ইহার বিপরীতও সত্য হইবে অর্থাৎ বিরােধে বিরােধ আছে ইহাও সত্য। সেইরূপ বিরােধে বিরােধ আছে সত্য হইলে বিরােধে বিরােধ নাই ইহাও সত্য। অর্থাৎ বিরােধে বিবােধ হইলেই বিরােধে বিরােধ আছে হইল। অর্থাৎ বিরােধে বিরোেধ খাকেও বটে থাকেও না বটে। ইহা মনুষ বুদ্ধির অতীত। এই বৈপরীত্য মনুষ্য ধারণাও করিতে পারে না। অথচ মনুষ এমনই হতভাগ্য যে এই কথার উপর সর্বদাই নিজ ঘাের দুবদ্ধি বশে টেক্কা মারিতে ব্যস্ত। বিরােধে কোনখানে দোষ ও কো- ‘খানে গুণ ইহা নির্ণয় করা মনুষ্যের সাধ্য নহে। শাস্ত্রে যেখানে পরিশিষ্ট-শারে বিবােধ دعا ) যেখানে বিবােধ আছে সকল গুলি বুঝাইয়া দেওয়া সম্ভব নহে। অতএব দুচারিটা মাত্র বুঝাইয়া দেওয়া যাইতেছে। ১১। শাস্ত্রে বলে গঙ্গাজল পবিত্র, পুষ্পকথ, ক্ষীনােদ- সমুদ্র, হনুমান শত যােজন (৮০০ মাইল) সমুদ্র লাফ দিয়া পার হইয়া ছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। অন্ধ দুষ্টবুদ্ধি বিপরীতগামী মনুষ্য ইহার জন্যই শাস্ত্র গেঁজেলি বলিয়া শিয়ালক ডাকিতে থাকে। কেন না সেই সব সৰ্বজ্ঞের মতে এইগুলি হইতেই পারে না। কিন্তু তাহারা জানিল কিরূপে? এই রকম হইতে তাহারা কখনও দেখেও নাই শুনেও নাই ইহা ঠিক। কিন্তু সেই সব সর্বজ্ঞেরা যাহা দেখেও নাই শুনেও নাই সেই জিনিষই পরে হইয়াছে কি তাহারা দেখেও নাই শুনেও নাই ? তাহা যদি হয় তবে তাহারা একে বারে মুখ এই পর্যন্তই বলা যাইতে পারে। কে কবে মনে করিয়াছিল Rontgen ray, Aeroplan, Wireless Telegraphy Television প্রভৃতি শত শত জিনিষ হইবে ? মুখ অন্ধ মনুষ্যই এইগুলির জন্য শাস্ত্রে অবিশ্বাস করিতে পারে। কিন্তু এইগুলির মধ্যে প্রকৃত বিবােধ আদৌ নাই। কেবল এতদিন হইতে দেখে নাই এই পর্যন্ত। যে যে কথাগুলির ভিতর প্রকৃত বিরােধ আছে তাহাদের ভিতর কয়েকটা বুঝাইয়া দেওয়া যাইতেছে। ১২। ভেদাভেদ আছে ও নাই-শাস্ত্র বলেন ভেদ আছে। আবার সেই শাস্ত্র বলিল ভেদ নাই (৪৫)। ক্ষীরােদসমুদ্র, পুষ্পক রথ প্রভৃতি কেবল মুখের কাছেই বিরুদ্ধ। এই বাক্য দুইটি কিন্তু প্রকৃতই বিরুদ্ধ। ভেদবুদ্ধি সংসার বন্ধনের একমাত্র কারণ। ভেদবুদ্ধিই সকল অধর্মের মূল। যাহার ভেদবুদ্ধি নাই যাহার আপনপর নাই, যে পরকে ঠিক আপনার মত করে, যাহাকে পরেও পরিশিষ্ট-শাস্ত্রের বিরােধ ১০৭ বাপমার চেয়ে আপন দেখে, যাহার কাছে আসিয়া লােকে নিজের বাড়ীর চেয়ে সুখে স্বস্তিতে থাকে সেই ভেদবুদ্ধিরহিত সৰ্ব্বভূতে সমজ্ঞান পুরুষকে সাক্ষাৎ ভগবান বলিয়া জানিবে (১৬২)। আবার ভেদবুদ্ধি না থাকিলে মা স্ত্রী ও কন্যা এক হইয়া পড়ে, চুরি পরস্ত্রীহরণ প্রভৃতি গুণ হইয়া পড়ে ও পাপপুণ্য ধৰ্ম্মাধর্ম, ন্যায় অন্যায়, সত্য মিথ্যা কিছুই থাকে না। আবার ভেদবুদ্ধি ত্যাগ করিলে বিষে প্রাণ যায়, সাপের কামড়ে, বাঘের হাতে, কুমীরের মুখে, জলে ডুবিয়া আগুণে পুড়িয়া মরিতে হয়। অতএব ভেদবুদ্ধি রক্ষা করা সৰ্ব্বততভাবে কৰ্ত্তব্য। অর্থাৎ ভেদবুদ্ধি যেমন দোষের তেমনই গুণের, যেমন রাখা উচিত তেমনই ত্যাগ করা উচিত। তবে কি করা উচিত? সর্বত্র ডেদ মানিয়া ভেদবুদ্ধি ছাড়িতে যাওয়া উচিত। পরের জিনিষ ছুইতে নাই। পরের স্ত্রীর দিকে তাকাইতে নাই। পরের দানও লইতে নাই। আবার পশু পক্ষী কীট প্রভৃতি সকলকেই আপনার ন্যায় ' করিতে হয়। এমন কি বড় বজ্জাতকেও যথেচ্ছ ব্যবহার করিতে নাই, সযতনে ব্যবহার করিতে হয়। নিজের লাভের বেলায় আপন পর করিবে। নিজের লােকসানের বেলায় আপন পর থাকিবে না। মানুষের মধ্যে সর্বদাই দুইটা বিপরীত প্রবৃত্তি থাকে- একটী সংপথে চলিবার ও একটী অসৎপথে যাইবার, একটী ভাল হইবার অপরটী মনের বশে চলিবার। যে মানুষ নিজেকে দুই ভাগে ভাগ করিয়া সৎপ্রবৃত্তির দিকে হইয়া আপনিই আপনাকে জব্দ করিবার জন্য উঠিয়া পড়িয়া লাগে সেই মানুষই উদ্ধার পায়। নিজেই নিজের বিরুদ্ধে লাগা, নিজেই আপনা হইতে ভিন্ন হওয়া, অসৎ প্রবৃত্তি ত্যাগের একমাত্র ছুতা। ১৩। সত্যমিথ্যা, ধর্মাধর্ম, পাপপুণ্য গুণদোষ আছে ও পরিশি শান্তের বিনােথ (১ নাই-শাস্ত্র বলেন সত্যমিথ্যা আছে ও সত্যমিথ্যা নাই। সেইরূপ ধর্মাধর্ম, পাখপুণ্য ও দোষ আছে ও নাই। যাহাই বাক্যের দ্বারা বলা যায়, যাহাই মনে ভাবা যায় সেই সমস্তই মিথ্যা (১৫)। সত্য- মিথ্যাদি না থাকিলে যে জগৎ অচল হয় ইহা সহজেই বুঝা যায় (১৬৩)। সত্যজগতে সত্যতার চাপে অনেকেরই এমন বুদ্ধিভ্রংশ হইয়াছে যে তাহাদের পাপের ওকালতী না করিলে আর প্রাণ বাঁচে না। তাহাদের ব্যভিচার চুরি প্রভৃতির নিন্দা প্রাণে সহে না। সে সব লােকের কথা ধরিবারই প্রয়ােজন নাই। তবে সত্য মিথ্যাদি নাই কি করিয়া হইতে পারে ? যতদিন মনুষ্য মায়ার অধীন থাকিবে ততদিন সত্যমিথ্যাদি থাকিবেই। কেবল মানুষ যখন শ্রীভগবানের নির্হে- তুক কৃপায় জীবন্মুক্ত মায়াতীত হইতে পারিবে তখনই তাহার সত্য- মিথ্যা ধর্মাধর্ম প্রভৃতি থাকিবে না ও সেই পুরুষ বিধিনিষেধাতীত হইতে পারিবেন। মনুষ যতদিন বিধিনিষেধাতীত হইতে না পারিবে ততদিন তাহার সত্যমিথ্য। ধধৰ্ম প্রভৃতি থাকিবে। মনুষের ক্রমান্বয়ে তিনটী অবস্থা হয়—১] সত্য মিথ্যা আছে [২] সত্য মিথ্যা আছে ও নাই [৩] সত্য মিথ্যা নাই ৷ (১) মানুষ যতদিন মনের বশে চলে ততদিন তাহার সত্যের দিকে টান থাকিতেই পারে না। ততদিন তাহার প্রাণপণে সত্যপালন ও মিথ্যা ত্যাগ করা উচিত। এই রকম প্রাণপণে চেষ্টা করিতে করিতে শত সহস্র জন্মে (২) যখন সত্যে প্রকৃত টান হয় ও মিথ্যা প্রায় চলিয়া যায়—তখন সঙ্কল্প করিতে হয় প্রাণ যাইলেও নিজের জন্য মিথ্যা বলিব না। কিন্তু পরের জন্য প্রয়ােজন হলে মিথ্যা বলিব। সংসারী মনুষ নিজের এতটুকু প্রয়ােজনেই মিথ্যা বলে ও ধৰ্ম্মাধর্ম পাপপুণ্য বিসর্জন দেয় কিন্তু পরের বলায় বড়ই সত্যবাদী সাজে। এই ভীষণ রােগ সত্য কথা বলি ।

১) পরিশিষ্ট-শারে বিরােধ সত্যের উপর টান করিয়া যায় না যাইতেও পারে না। এই ভীষণ নােগের একমাত্র ঔষধ সত্য মিথ্যার মােড় ফিরাইয়া দেওয়া (ন পুনাতি চিকিৎসিত?)। অর্থাৎ নিজের বেলায় প্রাণ দিব তবু সত্য ছাড়িব না কিন্তু পরের বেলায় বিশেষ প্রয়ােজন হইলে মিথ্যা বলিতে রাজি। ইহা পড়িয়া বুঝিবার নহে করিয়া বুঝিবার জিনিষ। (৩) যখন সত্য মিথ্যার মােড় ফিরাইয়া দেওয়া যায় তখন মনুষ্য সত্বরই মায়াতীত ও জীবন্মুক্ত হয়। তখন তাহার সত্য মিথ্যা থাকে । ১৪। মানুষ কাঠের পুতুল ও তাহার পুরুষকার আছে। যারূঢ় তথাপি শরণং গচ্ছ [ গীতা ১৮৬১/৬২ ]। কাঠের পুতুল কি করিয়া শরণ লইতে পারে ? কাঠের পুতুলের কোনও শক্তি নাই তথাপি সকল শক্তি আছে। এক কথায় মানুষের পুরুষকার আছে ও নাই। ইহা কি রকম? মানুষকে জানিতে হইবে তাহার নিজের কোনই পুরুষ- কার নাই। ভগবদিচ্ছা ব্যতীত কোনও কাৰ্য্যই হইতে পারে না পে ১৭)। ইহা জানিয়া, ইহা সকল সময়ে মনে রাখিয়া প্রাণপণে চেষ্টা করিতে হইবে। মনুষের মৃত্যু কিছুতেই হটে না। তথাপি সেই মৃত্যুও হঠাইবার চেষ্টা করা উচিত। যতখানি বুদ্ধি ও যতখানি শক্তি ততখানি চেষ্টা করিলেও যদি সেই মৃত্যু নিবারণ না হয় তাহা হইলে মানুষের দোষ নাই। আর যদি মানুষ দৈবের দোহাই দিয়া হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকে তাহা হইলে তাহার দোষ হয় (১৬৪)। যদি আমার কিছু করিবার শক্তিই নাই তবে চেষ্টা করিব কেন? ভগবানের ইচ্ছাতেই এই মায়ার সংসারে আমার পুরুষকার না থাকিলেও আছে। অতএব নাই ও আছে এই দুইএরই মৰ্য্যাদা দিতে হইবে। পুরুষকার নাই ইহার মর্যাদার জন্য মানুষকে সর্বদা মনে রাখিতে হইবে সে কাঠের পুতুল। পুরুষকার আছে ইহার মর্যাদা দিবার জন্য মানুষকে পৱিশিশান্ত্রের বিবােধ (৮১ : সর্বদা-প্রাণপণে চেষ্টা করিতে হইবে। কাষেই কাঠের পুতুল মনে রাখিয়া প্রাণপণে চেষ্টা করিতে হয় (৩৪)। তাই শাস্ত্র বলিয়া- ছেন যে বলে আমি জানি না সেই জানে, আর যে বলে আমি জানি সেই জানে না (২৬)। ১৫। বিচার করিতে নাই ও করিতে হয়। মানুষের বুদ্ধি বিপরীত। এই বিপরীত বুদ্ধির দ্বারা বিপরীতই হইতে পারে, ঠিক বিচার ত হইতেই পারে না। এই জন্য বিচার একেবারে ত্যাগ করিতে হয়। কিন্তু তাহা হইলে চলে কি রকমে। আমার ক্ষুধা পাইয়াছে কি না যদি আমি বিচার না করিব তবে আমার হইয়া কে বিচার করিবে? আমার শীত করিতেছে ইহাও আমাকে বুদ্ধি দ্বারা ঠিক করিতে হইবে। এইরূপ সকল বিষয়ই। তবে আর কি করিয়া বুদ্ধি ও বিচার ছাড়া যায় ? জড়ভরত বিচার ছাড়িয়া জড় হইয়াছিলেন। সেই জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করিয়াও গায়ত্ৰী পৰ্যন্ত শিখেন নাই ও ব্রাহ্মণের আচার একেবারে পরিত্যাগ করিয়া পশুর ন্যায় থাকিতেন। তিনি ভাল জিনিসমস্তই ছাড়িয়া- ছিলেন বটে কিন্তু কৈ পা দিয়া চলা ত ছাড়েন নাই। রাজা বহুগণের পাকি বহিবার জন্য যখন তাহাকে ধরিয়া লইয়া যায়, তিনি কোনও আপত্তি না করিয়াই পালকি বহিতে আরম্ভ করিলেন। কিন্তু তাহাকে কে বলিয়া দিল পা ফেলিয়া চলিতে হইবে? ইহা তাহার বুদ্ধিইত বলিয়া দিল। অতএব নিজের বুদ্ধি ও বিচার ছাড়িবার জো নাই। তাহাতে বিপরীত হয়ত হইবে। কি করা যাইবে ? আবার দেখিতে পাওয়া যায় ক্ষুধা পাইলে, শীত করিলে, জানিতে পারা যায়। তবে আর বুদ্ধি বিপরীত হইল কি রকমে ? মায়ার বশেই মনুষের বুদ্ধি বিপরীত। মায়ার কাৰ্য্য উল্টাপাল্টা ১১১ r৮২) পরিশিষ্ট-শাস্ত্র বিশ্বাসযােগ্য, বিজ্ঞান বা বিচার নহে (বৈপরীত্য)। অতএব মানুষের বুদ্ধি বিপরীতও বটে, সােজাও বটে। সংসার রক্ষার জন্য মায়ার সৃষ্টি। অতএব সংসার রক্ষার জন্য মা- ষের বুদ্ধি সােজা ও সংসার হইতে উদ্ধার পাইতে গেলেই মা ষের বুদ্ধি বিপরীত। ইহা সবত্রই দেখা যায়। মানুষ ক্ষুধা পাইলে শীত করিলে জানিতে পারে বটে কিন্তু যখন অসুখ হওয়ার প্রয়ােজন হয় তখন আর বুঝিতে পারে না। মানুষ বিচারের দ্বারা আপন প্রাণ সদাই রক্ষা করে কিন্তু মরিবার সময় হাতে মরিতে পারে তাহাই করে। এখন উপায়? শাস্ত্র বলিতেছেন বুদ্ধি বিচার প্রভৃতি দুই রকম (১) উচ্ছাস্ত্র ও (২) শান্ত্রিত। যাহা শাস্ত্রের বশে নহে তাহাকে উচ্ছাস্ত্র বলে। যাহা শাস্ত্রের বশে তাহা শাস্ত্রিত। উচ্ছাস্ত্র পুরুষকার মহান্ অনর্থের মূল ও শান্ত্রিত পুরুষকার পরমার্থ প্রদান করে (১৬)। অতএব সৰ্ব্বদাই শাস্ত্র মানিয়া, শাস্ত্রের অজ্ঞা মাথায় করিয়া লইয়া শাস্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়া শাস্ত্রের উপর টেক্কা না মারিয়া, শাকে অভ্রান্ত মনে করিয়া, শাস্ত্র ভুল হইতে পারে একথা মনের কোণে ঠাই না দিয়া তাহার পরে শাস্ত্ৰ বুঝিবার জন্য বিচার করা উচিত (১৫৫)। তাহা হইলে শাস্ত্রে যে সমস্ত দুজ্ঞেয় কথা আছে যাহা উচ্ছাস্ত্র বুদ্ধিতে গেজেলি বলিয়া মনে হয় সেই সমস্তই শ্রীভগবান নিহেতুক কৃপা করিয়া ক্রমে ক্রমে বুঝাইয়া দিবেন। নতুবা সমস্ত কথা মনুষ্যবুদ্ধির অগােচর। ৮২। শাস্ত্র বিশ্বাসযােগ্য, বিজ্ঞান বা বিচার নহে। ১। বিজ্ঞান যে কিরূপ ভ্রান্ত তাহা পূৰ্বেই দেখান হইয়াছে (অ৭)। বিজ্ঞান শুধু ভুল নহে। উহা ভুল না হইয়া ঠিক হইবারই । উপায় নাই। শাস্ত্রে বলে—লক্ষণ হইতে মান ও মান হইতে পরিশিষ্ট-ণাস্ত্র বিধাসযােগ্য, বিজ্ঞান বা বিচার নহে (+২ মেয় সিডিহয় (১৬৫)।' অর্থাৎ কোন জিনিষ প্রমাণ করিতে হইলে যে সব জিনিষ হইতে তাহা প্রমাণ করা যাইবে প্রথমেই সেই জিনিষ গুলির নিশ্চয় করিতে হইবে। তাহার পর সেই জিনিষগুলি হইতে প্রমাণের সাহায্যে যে জিনিষের প্রমাণ চাই তাহা প্রমাণ করিতে হইবে। যেমন পদার্থ কি ইহা না বলিয়াই পদার্থবিদ্যা ও রসায়নবিজ্ঞান আরম্ভ করা হয়াছে। ইহাকেই বলে লক্ষণাভাব দোষ। কাষেই রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা ভুল হইতেই হবে। সেইরূপ গণিতেও লক্ষণা- ভাৰ দোষ সর্বত্রই দেখা যায়। কাযেই গণিতও ভুল। লক্ষণাব দোষ হইলেই প্রমাণ ভুল হইতেই হইবে। পদার্থ কি তাহার ঠিক নাই পদার্থের বিদ্যা কেমন করিয়া হয়? মানুষ কি তাহার ঠিক নাই, সকল মানুষ মরে কিনা কেমন করিয়া বিচার হইতে পারে ? ইত্যাদি। বিজ্ঞানেরই যখন এই দশা তখন সামান্য বিচারের কথা বলিবারই প্রয়ােজন নাই। ২। শাস্ত্র যাহা লক্ষ লক্ষ বৎসর পূর্বে বলিয়াছেন বিজ্ঞান তাহা প্রথমে হাসিয়াই উড়াইয়া দিয়াছে। বহুকাল পরে আবার সেই কথাই সত্য বলিয়া বিজ্ঞানকে মানিতে হইয়াছে। কথায় বলে নির্বোধের নাই। প্রমাদের ভয় (১৬৬)। কাযেই সত্যকে হাসিয়া উড়াইয়া দিবার জন্য অন্ধ বিজ্ঞানকে আর ভাবিতে হয় না। কিন্তু সত্য বড়ই ছাচছা কাহারও খাতির রাখে না। অন্ধ বিজ্ঞানের সাধের নিশার- স্বপন ভাঙ্গিতে সত্যের একটুও কষ্ট হয় না। ৩। যাহা বরাবর হাসিয়া উড়াইয়া দিয়াছে তাহা এত কাল পরে মানিতে বেহায়া বিজ্ঞানের এতটুকু লজ্জা নাই। যদি বল ভুল। স্বীকার করায় দোষ কি? বিজ্ঞান ত ভুল স্বীকার করে না। যাহা বরাবর হাসিয়া উড়াইয়াছে তাহাই আবার পরে অম্লান বদনে ৮২। পরিশিষ্ট—শাস্ত্র বিশ্বাসযােগ্য, বিজ্ঞান বা বিচার নহে ১১৩ যেন, ৭ ৭ রলে। ড়, হেঁটও নাই, ভুল স্বীকার করাও !.নাই। দুইটাই সত্য। । ৪৮ যে যেষিয়ে শাস্ত্রের কথাই বিজ্ঞানকে শেষে মানিতে হই- য়াছে, তাহা নানাস্থানে- বন্ধু হইয়াছে। সুবিধার জন্য এখানে একত্র করিয়া দেওয়া গেল। ১। মায়া বিপরীত ও বিপরীত হইতেই জগৎ ‘ষ্ট। ২.; বিশ্বাস ভিন্ন জ্ঞান হয় না। ৩। ভগবানের কূপা ভিন্ন জ্ঞান হয়:নন hসকলেই “হ্বীকার করে বিজ্ঞানের সকল বড় বড় আবিষ্কারই অবিচারিত ( by intuition) অর্থাৎ আপনা হইতেই বাহির হইয়া পড়িয়াছে। বিচার করিয়া বাহির করা হয় নাই। ৪। মনুষ্য কোন জিনিষই ঠিক জানিতে পারে না। ৫। বুদ্ধি ভ্রান্ত ও সন্দেহ থাকিয়াই যায় (প° ৭৯ ৬, সূক্ষ্মই আসল, স্কুল বা প্রত্যক্ষ তাহার কাছে কিছুই নহে (প ৭৬-৭৭)। ৭। কাৰ্যকারণ সম্বন্ধ নিত্য ও অনিত্য (প” ৭৩)। ৭৩)। ৮। ভগবানের হাতেই বস্তুর গুণ হয় (প ৭৩)। ৯। দেশ কাল এবং অবস্থার উপর বস্তুর গুণ নির্ভর করে। ১০। পদার্থ দেখিতে ভিন্ন প্রকৃতই এক। ১১। বীজাণু উদ্ভিদ। কযেই মানুষ পশু পক্ষী কীট ও জড়বস্তু সবই (প ৭৮)। ১২। গঙ্গার জল পবিত্র । ১৩। পৃথিবীর আয়ু লক্ষ কোটি বৎসর। ১৪। তেজ হইতে জগৎ সৃষ্ট ১৪। তেজ হইতে জগৎ সৃষ্ট।" ১৫। মন হইতে জগৎ সৃষ্ট হইয়াছে। প্রায় সকল বৈজ্ঞানিকগণই এই কথা মানিতে আরম্ভ করিয়াছেন (G) (L)। ১৬। পুষ্পক রথ। ১৭। জটাযু রাবণের রথ - ভাঙ্গে। ১৮। উদর রোগে লবণ। ১৯ ক্রমােন্নতি (Evolution) থাকিলেই ক্রমাবনতি থাকিবেই অহল্যা পাষাণী। মণিগ্রীব ও, নলকুবর যমলাৰ্জন ইত্যাদি। অতএব দেখা যাইতেছে সকল গুঢ় বিষয়ে শাস্ত্রের কথাই ঠিক , ; * • ক } ১১ পরিণি-শাস্ত্র বিশ্বাসযােগ্য, বিজ্ঞান ৰা ৰিচাৰ নহে কামেই বিজ্ঞান ও বিচার অপেক্ষা শাহ যে লক্ষগুণ বিসযােগ্য তাহাতে আর সন্দেহ নাই। বিমানেরই যখন এই দশা তখন অন্য মনুষের কথা ত উঠিতেই পারে না। কাযেই ময় বুদ্ধিতে শাস্ত্রের উপর টেকা মারিতে যাওয়ার ব্যয় বাঁদরামি আর কিছুই নাই। ৬। বিজ্ঞান শত সহস্র চেষ্টাতেও যে শাস্ত্রের নাগাল আজও পায় নাই, যে শান্তের বিরুদ্ধে বাদামি করিয়া বিজ্ঞানকে পদে পদে ঘাড় হেঁট করিতে হইয়াছে সেই পপশারে অপপসত্যকে গেলে বলিয়া উড়াইয়া দেওয়ার চেষ্টাকে গেজেলি বুজির গেজেলি ধোয়া ভিন্ন আর কিছুই বলা যায় না। গেজেলি বুদ্ধিতে যাহার নাগাল পাওয়া যায় না তাহাই গেজেলি বলিয়া ঠিক করাই গেজেলি বুদ্ধির চরম পরিচয়। কথায় বলে, কত হাতী গেল রসাতল, মশা বলে কত জল । যেখানে বিজ্ঞানই থই পায় না সেখানে সামান্য বুদ্ধিতে টেকা মারিতে যাওয়া গেজেলি খৃষ্টতার চূড়ান্ত। শাস্ত্র বুঝিতে গেলে একটা বিশেষ জ্ঞানের দরকার যাহা প্রায় কোন মানুষেরই হয় না। রসেও [ Richet ] এই কথা স্বীকার করিয়াছেন। প্ল্যাঙ্ককে মানিতে হইয়াছে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্ জ্ঞান দ্বারা সত্য বুঝা যায় না। বিশ্বাস চাই। ৭। যাহারা অলীক হিন্দু অর্থাৎ যে হতভাগ্যেরা ভাগ্যক্রমে হিন্দুকুলে জন্মলাভ করিয়াও হিন্দু হইবার ভাগ্য লাভ করে নাই তাহারা নিজের দুষ্পবৃত্তি পােষণ করিবার জন্য শাস্ত্রের ছল ধরিতেই ব্যস্ত। শাস্ত্র দােষযুক্ত দেখাইতে পারিলেই শাস্ত্রের বন্ধন হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া জীবন্মুক্ত হইতে পারা যায়। এই অলীক হিন্দুরা শাস্ত্রের ছল ধরিবার জন্য কতই না এলােধাপাড়ি প্রশ্ন করে। কিন্তু অন্য কোনও বিষয়ে তাহার একটাও প্রশ্ন করে না। গণিত শাস্ত্রে ৩] পরিশিষ্ট--শাস্ত্র মানার অশেষ লাভ ১১৫ কতই ভূল আছে। গণিতের ভূল বিষয়ে এ দূরে থাকুক অলীক হিন্দু সে কথা কাণে যাইবামাত্র কাণে আঙ্গুল দিয়া সে কথায় শিহরিয়া উঠে। ৮। শাস্ত্র মার শেষ লাভ-১। অহঙ্কার হইতেই মনুষের সংসার বন্ধন। মুক্তি মন্মজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। অতএব অহঙ্কার ত্যাগ মনুয়ের সর্ব প্রধান কর্তব্য কাবেই ক্ষতি করি শহর ত্যাগ করা বাপ নাইল ও লাভ করিয়াও অহঙ্কার রাখা যারপর নাই মল। জহার ত্যাগ করিয়া বিশ্বাস করিলে যে কি মহালাভ হয় তাহা মেছুনির কথায় স্পষ্ট বুঝা যায়। এক জুয়াচোর ব্রাহ্মণ তাহাকে ঠকাইয়া চিরকাল ভাল ভাল মাছ খাবার জন্য তাহাকে বলে “মেছুনি তুই মন্ত্র লবি?” মেছুনি বলে “আমি ছােট জাত আমায় আর কে মন্ত্র দিবে?” ব্রাহ্মণ বলে “আমি দিব” ও জুয়াচুরি করিয়া বলে “জয় ছাগলি পাতা খা” এই মন্ত্র জপ করিবি। অল্প দিনেই মেছুনি এই জুয়াচুরি মন্ত্রেই সিদ্ধিলাভ করিল। ঠাকুর ছাগলী হইয়া পাতা খাইতে আরম্ভ করিলেন। বহুদিন পরে ব্রাহ্মণ মনে মনে করিল মেছুনি বরাবরই উহার শ্রেষ্ঠ মাছটা তাহাকে দিয়া যায়, এখনও সে তাহার জুয়াচুরি ধরিতে পারিল না কেন? তাহার পর যখন সে নিজে দেখিল ঠাকুর সত্য সত্যই ছাগলী হইয়া পাতা খাইতেছেন সে তখন মেছুনীর পায়ে পড়িয়া আপন বদমায়েসি স্বীকার করিল ও শেষে নিজেও তরিয়া গেল। অহঙ্কার ছাড়িলে নিজে ত তরিতেই পারে আর অন্যকেও তরাইতে পারে। লাত করিয়া অহঙ্কার ছাড়া যায় না, অহঙ্কার ছাড়িয়া লাভ করা যায়। অর্থাৎ অহঙ্কার ছাড়িবার জন্য উঠিয়া পড়িয়া লাগিলে

শিও প্রশ্নে অধিকার। বাদবামি
{ ৮৩
তবেই আল হইতে পাবে নতু নহে। গত এৰ শাস্ত্র ভুল হইলেও
হিন্দুদের উহা অলিচারে মানা উচিত। আহা হইলে অনুজ্ঞা
ছাড়া এই মহানাভ হইল। বিচাবের দ্বারা শাস্ত্রের ভুল ধরিলেও
আঞ্জার বৃদ্ধির ফলে সর্বনাশইইকে
৪। মনে কব জুতা পায় দিয়া (ইক্লোন দোষ নাই। শাস্ত্রে
কিন্তু উহাকে অনাসব-রলেন মনে কর ই বুই দা এখন
লাভ লাকমান দেখা যাউরু। ফ্লাল্প নৃ মালি-ভঃ ৰে কবল
একটু সুবিধা। শাস্ত্র মানিলে শাভ-অহাব, ত্যাগ, শাস্লমান ও
মুক্তি পথে অগ্রসন।
৪। অতএব অন্যাব কবি শাস্ত্র মানিলেও মহল। ও ঠিক কবিয়া
শাস্ত্র না মানিলেও মাঙ্গতি। কযেই শাস্ত্রেব উ বি টেকা নাবিতে
যাও। কোন মতেই উচিত নহে। নিজের বুদ্ধিতে জিত হও
অপেক্ষাপরের বুদ্ধিতে আরও ভার। জ্ঞান লাভের এই
এক মাত্র উপায়।
f

•
৯ অ-বাঁদরামির বাঁদরামি কাহাকে বলে।
৮৪। অনাসক্ত সত্যপ্রিয় জ্ঞানাপুরুষেরই প্রশ্নে
অধিকার-১। শাস্ত্র সম্বন্ধে যে সকল আপত্তি চতি আছে সে সকল
গুলিকে শাস্ত্রীয় " ভাষায় বিতণ্ডা বলে। চতি ভাষায় ঐ গুলিকে
বাঁদরামি বলা যায়। আপত্তি করিতে গেলে প্রথমেই আসক্তিশূন্য
হইতে হয়।
২। জিতের ইচ্ছা ও হারের ভয় থাকিতে বিচারে প্রবৃত্ত হওয়া যায়
না। যখন হারিয়াই আনন্দ তখনই বিচারের অধিকারী।
“ঠিক বলেছ” বলে:যে আহলাদ করিতে পারে না তাহার মুখে বিচার
ভণ্ডামি মাত্র।
যে বিচার করিতে চাহে তাহার সত বাহির করা ভিন্ন অন্য
লক্ষ্যই খাকিবে না। তাহার কাছে মিথ্যার জিভ হওয়াই হার
৬ তে জিভ হওয়াই জিভ।
যে বিচার চাহে সে সত্যের জয়
ভিন্ন অব কিছুই চাহে না।
১। তাহার পর সাধন অর্থাৎ নিজ পক্ষ প্রমাণ ও উপাত্ত অর্থাৎ
পর খণ্ডন, এ দুই টীর ৬ান থাকা চাই। ক।যে কোটী কোটী
মার ধ্যে শাহ ও আপত্তি করিবার অধিকার নাই।
বদরামি ?—১। মাথামুণ্ড প্রশ্ন করিয়া শাস্ত্রের দোষ
ধরতে চেষ্টা করার নাম বিভণ্ডা বা বাঁদরামি! বিতণ্ডা শব্দের
অর্থ ওড়না তথাৎ কেবল লাঠালাঠি (ক); (গ) বিতণ্ডায় বা
(গ) {1 + ত + অ (খ্রিয়াপ) = বিতণ্ডা। ত ৫, ধাতু = ত ৮, ধাতু =
[ব (বিশেষণ) তওতে (তাড়তে ) পরপক্ষ তা ইতি বিতণ্ডা =
যাহাব বা পরপক্ষ তাড়ন করা যায় অর্থাৎ নিজ স্থাপন না করিয়া কেবল
পরপক্ষ দুষণের চেষ্টাকে বিতণ্ডা বলে ।
তাড়া ।

পরিশিষ্ট-বাদরামি কি? প্রশ্নের উত্তরান [ ৮৬ বাদরামিতে কেবল এলােধাপাড়ি প্রশ্ন আছে। নিজে কি বলিতে চাই সে কথা বলা মাথার দিব্য দিয়া বারণ। নিজের কথা প্রমাণ করার ঠাঁই তত থাকিতেই পারে না । ২। যথা, জুতা পায়ে দিয়া খাইলে কি হয়? ঘরের কোণে জুতা থাকিলেও কি দোষ? ইত্যাদি প্রশ্ন করিয়াই বিতণ্ডাকারী চুপ। বিতণ্ডাকারী কি বলিতে চায় ভুলিয়াও বলে না। সমস্ত ক্ষণই কি জুতা পায়ে রাখিতে হইবে, ঘরের কোণে কি কি আবর্জনা রাখা চলিবে, এ সব কথা বিতণ্ডাকারী ভুলিয়াও মুখে আনে না। বিতণ্ডাকারী কেন এই রকম প্রশ্ন করে সে কথা ত উঠিতেই পারে না। ৮৬। প্রশ্নের উত্তর কি করিয়া দিতে হয় ?—। কোনও একটি প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দিতে গেলে শ্রীভগবান্ হইতে আরম্ভ করিয়া সৃষ্টিতত্ত্বের বিচার করিয়া উত্তর দিতে হয়। যেমন কোনও পাত্রে অম্বল রাখা যায় কিনা জানিতে হইলেই পাত্রটী কিসের, সেই জিনিষের স্বরূপ কি, অম্বল রাখিলে টকিয়া যায় কিনা, টকিয়া যাইলে কি হয় ইত্যাদি সকল কথা জানিতে হয়। শুধু অম্বল রাখিলে কি হয় এ প্রশ্নও হয় না ও রাখিলে দোষ কি এ উত্তরও হয় না। ২। জুতা পায়ে দিয়া খাইলে কি হয় ? এই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর এই।জীব মােহবশতঃ দেহসঙ্গ করিয়া সংসারে ঘুরিতে থাকে। সসারে অনবরত ঘুরিতে ঘুরিতে কদাচিৎ মরুষদেহ পায়। এই মনুষ্য দেহেই মুক্তিলাভ করিতে পারা যায়। অন্য দেহে হয় না। কাযেই সংসার হইতে মুক্তিই মনুষ্যজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। সংসার হয় বলিয়া সঙ্গই বন্ধ ও মুক্তির কারণ। যে সঙ্গের দ্বারা মুক্তিলাভ হয় তাহাকেই সৎসঙ্গ বলে। যাহার দ্বারা সংসারবন্ধন আরও দৃঢ় হয় তাহাকেই অসৎসঙ্গ বলে। মনুষ্য মাত্রেরই সৎসঙ্গ করা উচিত ও অসৎ- সঙ্গ হইতে ৮৮-৮ ] পরিশিষ্ট—প্রশ্ন বুঝ। বাঁদরামির প্রয়ােজন সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত। জুতা অপবিত্র বস্তু। অপবিত্র বস্তুর সঙ্গে দেহ ও মন অপবিত্র করে, কাজেই অসং বলিয়া সর্বদাই উহা ত্যাগ করিতে হইবে। যখন নহিলে নহে তখনই ব্যবহার করিতে হয়। কাজেই জুতা পায়ে দিয়া খাইলে কি হয় এই একটা প্রশ্ন হইতে জীব, মােহ, সঙ্গ, সংসার, মনুষদেহ, মুক্তি, সৎসঙ্গ, অসৎসঙ্গ, পবিত্র, অপবিত্র এই সকল কথাই উঠে। ইহাদের ঠিক ঠিক মীমাংসা করিয়া এই একটী প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দিতে হয়। ৮৭। প্রশ্নের উত্তর কি করিয়া বুঝিতে হয়।১। মনে কর প্রশ্ন হইল রামচন্দ্র কে? উত্তর—অযযাধ্যার রাজা দশরথের তনয় পূর্ণব্রহ্ম সনাতন। এই উত্তরটী বুঝিতে গেলে এই কয়টী কথা বুঝিতে হইবে। অযােধ্যা কি? রাজা কি? দশরথ কে ? তনয় কাহাকে বলে? পূর্ণ কি? ব্ৰহ্ম কি? সনাতন কি? রামচন্দ্র কেন অবতীর্ণ হইয়াছিলেন? ইত্যাদি ইত্যাদি। কাজেই ঝুপ করিয়া প্রশ্ন করা ঝুপ করিয়া উত্তর দেওয়া উভয়ই বাঁদরামি। ৮৮। বাঁদরামির বাঁদরামি কেন দরকার? -১। এই বাঁদরামির উত্তর না করাই উচিত। কিন্তু ভারতের এই মহা দুদ্দিনে পাপিষ্ঠ নাস্তিকদলের পীড়নে আর উত্তর না করিয়া চুপ করিয়া থাকা চলে না। ২। যাহা প্রকৃত উত্তর তাহা “হিন্দুধর্ম” নামক পুস্তকে করা হইয়াছে। যাহারা বুঝিতে চায় তাহাদের পক্ষে উহা যথেষ্ট। যাহারা সঙ্গদোষে বিতণ্ডাকারী তাহারাও “হিন্দুধর্ম” মন দিয়া বার বার পড়ি- লেই নিজেদের ভুল জানিতে পারিবে। ৩। কিন্তু হায়! হতভাগ্য ভারতে কতকগুলি জীবের উৎপত্তি 2. ৭, । পরিশিষ্ট-বাদরামির স্বরূপ ৮৯ হইয়াছে যাহারা বুঝাইলে বুঝে না। “যাহাদের কাছে লাঠিই একমাত্র ঔষধ। বাঁদর' :যেমন বাঁদরের ভাষাই বুঝে তেমনই বিতণ্ডাকারী বিতণ্ডার ভাষাতেই কাবু হয়। সেই সব ভাগ্যহীন বিতণ্ডাকারীদের বিতণ্ডাই একমাত্র ঔষধ। অন্য ঔষধে তাহাদের সাড় হয় না। যেমন কফে আচ্ছন্ন হইয়া পড়িলে দারুণ সাপের বিষই একমাত্র ঔষধ। 'সেইরূপ অহঙ্কার ও মােহে আচ্ছন্ন বিতণ্ডাকারীর পক্ষে বিতণ্ডাই পরম মহৌষধ। কযেই বাঁদরামির বাদরামি করিতে বাধ্য হইতে হইল। ১াদরামির প্রকৃত স্বরূপ-১... একটু বিবেচনা কায়। দেখিলেই দেথা যাইবে প্রশ্ন গুলি যেমন বাঁদরামি উত্তরগুলি ঠিক সেইরকম বাঁদরামি নহে। প্রশ্নগুলি প্রকৃত বাদরামি। উত্তরগুলি দেখিতে বাঁদরামি মাত্র, প্রকৃত বাঁদরামি নহে। ২। প্রশ্ন করিয়া উত্তর করা হইয়াছে বলিয়া উত্তর গুলি দেখিতে বাঁদরামির মত। কিন্তু ভাল করিয়া বিচার করিয়া দেখিলে দেখা যাইবে উত্তরগুলি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ও ঐগুলিতে মিথ্যার ছায়াও নাই। প্রশ্নাকারে উত্তর হওয়ার এক মহালাভ এই—যাহারা বদ- রামি করিতে আসে তাহাদের মুখ তখনই বন্ধ হয়। হার বিশেষ অসুবিধা যে প্রকৃত উত্তর কি তাহা উত্তর হইতে সহজে বুঝ! যায় না। “হিণুধৰ্ম” ও “হিন্দুধর্মের পরিশিষ্টের” পূধ্বাংশ মন দিয়া পড়িলেই উত্তর : গুলি বুঝা যাইবে। যায়গায় যায়গায় ব্যাখ্যা দেওয়া হইয়াছে। ।

' শ •? - 1 , • st বাদরামির বাঁদরামি (হ য ব র ল )। # " ঃ [ ব্যাখ্যা সহ ] (হ) আচার প্রশ্ন ১-১৬)। ১। প্রশ্ন:-(১) জুতা পায়ে দিয়ে খেলে কি হয় ? (২) ঘরের এক কোণে জুতা থাকিলেও কি দোষ ? (৩) চাড়াল মুসলমান ভাতের দিকে তাকালেও দোষ ? উত্তর—বিষ্ঠা গায়ে মাখিয়া খাইলে কি হয় ? মড়ার হাড় গলায় পরিয়া থাকিলে কি হয় ? বেশ্যার পল্লীতে নান করিলে কি হয় ? বেশ্যার কাহিনী শুনিলে কি হয় ? নেট মেয়ের ছবিতে কি হয় ? লিঙ্গে কল্যাণ ওর কে না শুনি- আছে? ডাইনীর দৃষ্টিব কথা কে না জানে? সুক্ষ্ম কথা. চক্ষু প্রভৃতির দ্বার। জানা যার কি না? স্বচ্ছ কাচে হাত দিলে কি হয় ? দেওয়ালে হয় না কেন? Chemica 'alance কাচের ভিতর রাখা হয় কেন ? Catalytic action কি ? :: :: ::it)1 কি ? কি করিয়া হয়? ব্যাখ্যা-জুতা পায়ে দিয়ে খেলে অনাচার হ, শাস্ত্রদ্রোহ হ, অহঙ্কারের চূড়ান্ত হয়। কাজেই সংসারবন্ধন দৃঢ় হয়। ক্ষতির 'আর বাকী কি?--নিজের বুদ্ধিতে ণিত হওয়া অপেক্ষা বন্ধুর বুদ্ধিতে হাও শাস্ত্র মানিয়া ঠকিলে ও পরম লাভ। ( প° ৮৩১- ( প° ৮৩১-- } ২। প্রশ্ন-- লাভের কাছে বসতে পারে—ানুষ ঘরের কোণে থাকলেও দ্রুত নষ্ট হয়? উওর- বিড়াল পাভের কাছে বসিয়া থাকে না)। বিড়াল ঘরের সর্বত্র গতিবিধি করিতেছে। তাহার জল্প ঘর ধুইতে হয় না। বিড়ালের ন্যায় মনুষ বিষ্ঠাত্র মাড়াইয়া ঘরে আসিলে চলে না কেন? মাছি বিষ্ঠা । ভাল।

२२ বাঁদরামি-হ) আচার বাইয়ে এড়া প্রভৃতিতে বসিয়া গায়ে বসে। তাহাতে শুদ্ধির দরকার নাই কেন? হাওয়া অপবিত্র বস্তু স্পর্শ করিয়া গায়ে লাগিলে স্নান করিতে হয় না কেন? অমুখের সময় উপবাস করিয়া বরাবর উপবাস করে না কেন? ব্যাখ্যা-যাহা পারা যায় না তাহার আর উপায় কি ? সমর্থো ধৰ্মমাচরে অর্থাৎ যথাসাধ্য ধর্ম পালন করিবে (প° ৫৮৭)। মানুষকে আটকান যায় আর বিড়াল মাছি ও হাওয়া আটকান যায় । কাযেই মানুষের বেলায় নিষেধ, বিড়াল মাছি ও হাওয়ার বেলায় নিষেধ নাই। মানুষও যদি বিছাল হইত তবে মানুষের বেলাতে "আপত্তি হইত না। ৩। প্রশ্ন-সনাতন হিন্দুধর্ম এখন “ছুচি পরিণত হইয়াছে। উক্ত—Surgeryর (ডাক্তারদের) ছু চি বাইয়ে আপত্তি নাই কেন? হিন্দুধর্মের ছুচিবাই অপেক্ষা শতগুণ বলিয়া কি? যে সকল জিনিষ পচা পাতকো ঘাকে শােধন করে তাহাদেরও শােধন চাই ইহাই ডাক্তারদের ধারণা। বঞ্চ ডাক্তারী ছুচি বাই!—স্পৃষ্টাসৃষ্টি (ছোয়াছুরি) যে কি রকম দরকার ডাক্তারদের আচরণই তাহার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ। হিন্দুধর্ম যখন সনাতন তখন ছুচিবাই ত বরাবর আছে। তবে এখন ছুচিবাইয়ে দাঁড়াইয়াছে কি করিয়া হইতে পারে ? পরের মুখে ঝাল খেয়ে হাম সব জান্তা বড় বিষম বাই, এই বিষম বাইয়ের চেয়ে ছুচিবাই সহস্রগুণ ভাল নয় কি? (প ৫৮২-৩)। ৪। প্রশ্ন-হিন্দুধর্ম হয়েছে-রান্নাঘরের ধর্ম ! খাওয়ার সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক কি? ধর্ম অন্তরের কথা বাহিরের নহে। কে না জানে খাদ্যের উপরেই শরীর নির্ভর করে ? কে না জানে জমির উপরই ফল নির্ভর করে (ভাল জমি নহিলে ভাল ফল বাঁদরামি-হ) আচার ? হয় না) ?-গাছের গােড়ায় আফিমের জল দিলে গাছ মরিয়া যায় কেন? গাছের গােড়ায় তামাক পাতার জল দিলে গাছ নধর হইয়া গজায় কেন? আওতায় গাছ বাড়িতে পায় না কেন? অন্তর ও বাহির এই ভেদবুদ্ধিই যদি রহিল তবে ছোয়াছুয়ি এই ভেদ- বুদ্ধিতে আপত্তি কেন? অন্তর কাহার? বাহির কাহার? এই দুইয়ের সম্বন্ধ কি ? দুধের কড়া মলমূত্রের উপরে রাখিলে দোষ কি? ঘরের ছাদ টিনেরই হউক আর পাকাই হউক তফাৎ কি? পায়ে জুতা থাকিলে কাটা ফুটে না কেন? ব্যাখ্যা-ধৰ্ম্ম অন্তরের কথা খাওয়া বাহিক ইহা কেবল মূৰ্থ অহঙ্কারী নাস্তিকই বলে । দেহ বাহিরের ও আত্মা অন্তরের বটে। কিন্তু এই দেহ না থাকিলে আত্মার কল্যাণ কি করিয়া করা যায়? এই জন্যই শাস্ত্র বলিয়াছেন সমস্ত খােয়াইয়া দেহ রক্ষা করিবে। এই জন্য দেহের আর একটী নাই আত্মা। (প ৫৮৪) ৫। প্রশ্ন-ছোঁয়াছুইতে দোষ কি ? পরিষ্কার হলেই হ’ল।-উত্তর -পরিষ্কার কি করিয়া জানা যায় ? চোখে দেখে না কাণে শুনে? Microscopeএর নাম শুনিয়াছ কি? Microscopeএ কি করে? চোখের দেখা দেখিবার জন্যই কি Microscopeএর সৃষ্টি ? Infection, Contagion প্রভৃতি কি? যদি পরিষ্কার হইলেই হয় ত অপরিষ্কারে আপত্তি নাই কেন? রুমালে থুথু ফেলিয়া মুখ পরিষ্কার করা কেমন? জলপাত্রে কুলকুচা করিয়া ফেলিয়া সেই জল দিয়া মুখ হাত পা ধােয়া কেমন ? কোন 'অনাচারের বিরুদ্ধে কখনও বলিয়াছ কি ? ব্যাখ্যা-পরিষ্কারের জন্যই ছোঁয়াছুয়ির ব্যবস্থা। পরিষ্কার অপরিষ্কার চোখে দেখা যায় না। অনেক সাধুপুরুষ দেখা যায় যে তাহাদের যার তার দেওয়া ফল খাইলেই অসুখ করে। যার ফল তাহার গুণ সেই ফলে লুকাইয়া থাকে। ইহা ১২৪ বাঁদরামি-হ) আচার চোখে দেখা যায় না। ইহাকেই বলে আশ্রয় দুষ্ট (৫৮৪)। যাহারা ছোঁয়াছুয়ি বলিয়া হাসে ও পরিষ্কার হলেই হল বলে, তাহারা প্রায় বড়ই অপরিষ্কার হয়। তাহারাই রুমালে থুথু ফেলিয়া মুখ মুছে, কুলকুচা কৰিয়া, সেই জল দিয়া মুখ-হাত ঘােয়। তাহারাই না দেখিয়া যেখানে সেখানে বসে। রেলগাড়ীতে গদির উপর এক ধ্যাবড়া কফ। একজন আসিয়া না দেখিয়াই তাহার উপর বসিল। কিছুক্ষণ পরে কফটী পেন্ট, লনে করিয়া সে উঠিয়া গেল। তাহার পরই আর একজন আসিয়া সেই জায়গার বসিল। সেও সেও একটু পরে কফের বাকি অংশ পেণ্টলনে করিয়া লইয়া গেল। যায়গা দেখিতে পরিষ্কার হইয়া গেল। ইকেই বলে পরিষ্কার। ৬। প্রশ্ন-অসচ্চরিত্র ব্রাহ্মণের হাতে খাও, সাধু শূদ্র বা মুসলমানের হাতে খাও না। উভৱ --সুন্দর মাকাল ফল খাও না অর নটুরে আলু খাও নে? বেতো ঘোড়ায় চড়া ভাল, না ভাল গাথায়? (গাধায় চডিলে বােব হয় )। যাহার লক্ষ টাকা পুজি ও মাসে মাসে ২০০ টাকা করিয়া ধার হয় সে ভাল, যার মাসে মাসে ২০ টাকা আয় কিন্তু লক্ষ টাকা ধার সে ভাল? কেন? ব্যাখ্যা – অসচ্চরিত্র ব্রাহ্মণ ও সচ্চরিত্র চণ্ডাল বা মুসলমান উভয়ই দুষ্ট। কাহারও হাতে খাইতে নাই। ভগবান্ যখন উহাকে ব্রাহ্মণ করিয়াছেন তখন তাহার ব্রাহ্মণের ন্যায় অনেক গুণই আছে সন্দেহ নাই। ৭। :-(১) যে নিজে 'অসচ্চরিত্র অখাদ্যভােজী তার আবার আচার কি? আঁচার তো পবিত্রতার জন্য যে মিথ্যা বলে, জুয়াচোরী করে ইত্যাদি, আচার তাহাকে কতটুকু পবিত্র করিবে ? (২) যার অপরের ছোঁয়া খেলে ক্ষতি হয় এরূপ উন্নত লােক ক বাদামি-হ) আচার ব্ধিরল। প্লায়ু সব লােকই এত, নিম্নস্তরের যে, অপরের ছোঁয়াতে তাদের কিছুই ক্ষতি হয় না । অতএব,ছোয়াছুয়িক ৰিচারের প্রক্ষেজন নাই। উরুযে দুর্বলতার স্কৰ এজারের দুরুকার কি? দুই মাস শষাগত.এক ডালিমের রস খেয়ে কি হয়,? প্রায় কেহই তু পয়সা, রােগার করিতে পারে তবে, স্কার, পয়সা ঙ্গেরিরার চেষ্টাকে লেখাপড়ায় প্রায় সকলেই ধনুর্ধর। তবে স্কন্তু কুলেজ, উমাইয়াদেও না কেন ? ,ব্যাল্প- (১).য়ে জুয়াচুরি,প্রভৃতুি ছাড়িতে চায় আছার:তাহার পরম সুহায়! যে জুয়াচুরি ঢাকিবার জন্য আচার করে তাহার অপরাধ আরও বাড়িয়া যায়। দেহ মন শুদ্ধি করিবার জন্যই হ্রচারের ব্যবস্থা, বদমায়েসি করি- বার জন্য নহে। যে স্বভাববশতঃ মিথ্যাবাদী ও জুয়াচের প্রাণপণে আচার পালন করিলে তাহার এই জুয়াচুরি স্বভাবও. কাটিয়া যায়। (২) ছোঁয়াছুইতে যখন ক্ষতি হয় তখন কাহারও না কাহারও তু ক্ষতি হইবে? কাহারও ত ক্ষতি করা উচিত নহে। অতএব আচার সকল সময় সকলের পক্ষেই ভাল। ৮। প্রশ—আচারের মুলে, অহঙ্কার-অপরকে ছুলে, তােমার ক্ষতি হবে.! কেন? তুমি তাদের চেয়ে মন্দ হলে ক্ষতিটা ত হবে তাদের। তাদের চেয়ে নিজেকে এত ভাল ভাব কি করিয়া? উত্তর -হিন্দুদের এত দোষ দেওয়া—উঃ কি অহঙ্কার ! তুমি কোন সাহসে বিচার করিতে আস? তুমি এত অহঙ্কার কর কেন? তুমি এত বুঝ কিসে? নিজের বুদ্ধিতে না চলিয়া শাস্ত্রের কথা শুনার ন্যায় অহঙ্কার আর কি হইতে পারে ? ঠিক। অহঙ্কার ছাড়িতে গেলে নিজের কথাই সাত কাহন করিতে হয়। তুমি বলিতেছ আমি মন্দ হলে তাদের ক্ষতি। তাহা হইলে তাহারা মন্দ হইলে বাদামি-হ) আচার আমারই ক্ষতি। ক্ষতি করা কাহারও উচিত নহে। অতএব সকল দিক্‌ দিয়াই আচার করিতেই হইবে। ব্যাখ্যা - ০৮১-৩৪৮। ১। প্রশ্ন-মায়ের মুল। সবাই অস্পৃ। মানুষে মানুৰে এত তফাৎ করা বড় অন্যায়। উত্তর-ঈশ্বরের সন্তানকে ঘৃণা করা যদি এতই মন তুমি হিন্দুদের এতক্ষণ। করিছে কে? যা তা খাও ন', যাকে তাকে শ্রী কর না, যাকে তাকে বাবা কর না—ছি! ছি! মায়ের হাত হইতে রক্ষা পাইতে গেলে একাকার চাই। চোর ডাকাত জালিয়াত খুনে লম্পটের সহিত গলায় গলায় কর না, তাদের সঙ্গে ছেলেদের মানুষ কর না-এত ঘৃণা? ব্যাখ্যা-প’ ৫৮১-৩ ও প ৬১)। ১০। প্রশ্ন-আচারে: দয়ামায়াতে বিনােথ লেগে যায়-ক্লিষ্ট রুগ্ন ভিখারীকে স্থান দেওয়া যায় না, স্পর্শ করা যায় না আচারে আটকায়। নােগাছেলে ১ বার হাগছে তাকে ছোয়া যায় না, ধর যায় না আচারে আটকায়। উত্তর-উদাহরণ গুলি আদৌ ঠিক নহে। যদি দয়ার সঙ্গে বিরােধ হলেই অন্যায় হয় ত ছেলে পিলেদের খাওয়ান মহা অধম। যে অর্থ ছেলেপিলেদের খাওয়াতে যায়—তাহাতে গরীব দুঃখীদের দয়া করা যায় না। আত্মরক্ষা করা বড়ই নিষ্ঠুরের কাৰ্য। আত্মরক্ষা করতে গেলে পরের প্রতি দয়া করা যায় না। আচারে চোরের সহবাস করা যায় না, খুনে ডাকাত জালি- য়াত লম্পটের সঙ্গে একসঙ্গে থাকা চলে না অতএব আচার বড়ই ছাই। ব্যাখ্যা-বিরােধই জগতের নিয়ম। একটা কার্য করিতে গেলে অন্য কার্য করা যায় না। একদিকে তাকাইলে সেই সময় অন্য দিকে তাকান যায় না। একটা টাকা একজনকে দিলে সেই টাকা আর অপরকে দেওয়া যায় না। জগতের এই সবই দোষযুক্ত। ইহাই জগতের নিয়ম।

বামি-হ) আচার
।
অতএব কোনও ৰন্ত নির্দোষ নহে বলিলে দোষ হয় না। দোষযুকং
জগৎসব নির্দোষং ন কদাচন।
১১। প্রশ্ন-মাচায়য়ায় সাত কি! কোন লাভ দেখতে
পেলে ইচ্ছ। করে নিজেকে কষ্ট দিব কেন? ওর-লোেক
কোন লাভ না থাকিলেও ইচছা করিয়া কষ্ট করে যে তােক না-
লাইনে না তাহাকে বুঝাই লাভ কি? তােমার এমনই
অহঙ্কার যে তাহাকেও বুঝাইতে চাও? আরামই যদি চাও তবে মন যা
চায় তাই কর না কেন ? (প ৫৮১ ৬১০)
১২। প্রশ্ন-(১) আচার নিজেকে ঠকাইবার উপায়
ভক্তি জ্ঞান ইত্যাদির চেষ্টা পৰ্যন্ত নাই। অহঙ্কার ত্যাগ দূরে থাকুক
অারে যথেষ্ট পুষ্টিই হচ্ছে। কেবলই আমি আচার করি,
অসের চেয়ে ভাল, জানি পবিত্র এই মিথ্যা জমি। (২) উচু
জাত-অহঙ্কারে পুষ্ট। ব্যবহার কিন্তু অতি নীচ।
লেখাপড়া শিখিলে অন্যের চেয়ে বড় হয়, অতএব লেখাপড়া শিখা
উচিত নহে। সেইরূপ সংকুলে জন্ম, রূপ, চরিত্র, বিদ্যাপটতা সবই
অহঙ্কার ডাকিয়া আনে। অতএব বেজ, কুৎসিত, দুশ্চরিত্র,
মুখ ও অপদার্থ হইতে হইতে হইবে? ব্যাখ্যা-মাচায় ভিন্ন
ভক্তি জ্ঞান বৈরাগ্য হয় না। আচারের সামান্য কষ্টেই যে পালায়
সেই ইন্দ্রিয়ানাম কাপুরুষের মুখেই এইরূপ লম্বা লম্বা অর্থহীন ওজর
সাজে। (৭) (৫৮১-১০)
১৩। প্রশ্ন-চারী লােক অনাচারীর চেয়ে অনেক
সময় খারাপ। উর-কথাটা মিথ্যা। উদাহরণ ? সকল
বিষয়েই অনাচারী কি আচারী অপেক্ষা ভাল? (প ৫৮১)
১৪। প্রশ্ন—আধুনিক সময়ে যে ভাবে লােকের জন্মসংস্থানের
।।

১২৮ বাঁদরামি-হ) আচার { । *, জু, কৰ্ম্ম করিতে হয়, তাহাতে আচার রক্ষা করা সুকঠিন। উত্তর—সমর্থো ধম মাচরেৎ। কোথায় বুলিয়াছে আচার করিয়া মরিতে হইবে ? (৭){g/); ৯: '' * * ।... ১৫.। ১৫. প্রশ্ন—পঁচিশরকমের আঁধন্ত মানুষকে পঙ্গু করে ফেলে। এরকম আইনকানুনের বাঁধন নাই বলিই,ইংরাজদ্রের এত উন্নতি। উস্ত্রর মানুষের শরীরটাইৰধরে পুরাঙ্গা। আসটে পিসটে বাঁধন না থাকিলে মানুয চলিতে পারত না, হাত নাড়িতে পারিত না, কথা কহিতে পারিত না, দেখিতে পাইত না, শরীর টুকুরাটুকরা হইয়া খসিয়া পড়িয়া যাইত। একটা গাছের কত বাঁধন। যতগুলি শিকড় ততগুলি বাঁধন-একটা বাক্স করিবে, কেবল বাঁধনবাড়ী করিবে কেরল বাঁধিনু, এমন কি খুলিবার দ্বাৰু তাহা তেও বাঁধুন। আধুনিক সভ্যজাতির বাধনের কথা শুনিলে গরীব হিন্দুর ভয়ে প্রাণ উড়িয়া যায়। ছেলেকে স্কুলে দেওয়া হয় নাই বাপের জরিমানাবাড়ীতে অসুখ হইয়াছে খবর দেওয়া হয় নাই অমনি জরিমানা-ছেলের বুদ্ধি একটু কম কি কম নহে, অমনি ধরিয়া • গলা গারদে মেয়ে ধেড়ে না হইয়া বিবাহ অমনি জরিমানা বা জেল সনাতন প্রথানুসারে স্বামীর সঙ্গে চিতাবােহণ, সুদীর্ঘ জেল। এমন কি সরকারী রাস্তা দিয়া চলিবে, যখন তখন নিষেধ। রাস্তার ডান দিকে যাইলে জরিমানা। গাড়ী রাখিলে জরিমানা। প্রশ্ন (১) যখন ভারতের উয়তি ছিল তখন আইন কানুনের বাড়াবাড়ি ছিল না—তখন চিকিৎসকেরামড়াও কাটুতেন, মুদ্রযাত্রাও নিষেধ ছিল না, তখন সূর্ত মুনিদের কাছে শাস্ত্র ব্যাখ্যা করিতেন, ব্রাহ্মণও মাংস খেত, আর যার তার হাতে খেতে আপত্তি ছিল ।

বাঁদরামি (য) জাতি না। (২) জাতিভেদ সনাতন প্রথা নয়। বৈদিক সময়ে এরূপ কড়া জাতিভেদ ছিল না। (৩) পুরাণেও একই লােকের সন্তানেরা কেউ ব্রাহ্মণ, কেউ ক্ষত্রিয় ও কেহ বৈশ্য। উত্তর-মনে কর এই সব কথা সবই সত্য। তাহা হইলেই বুঝা যাইতেছে যে শাস্ত্রে এই সব নিষিদ্ধ ছিল না সেই শাস্ত্রই এখন নিষেধ করিয়াছে। অতএব বুঝিয়া সুঝিয়া নিষেধ করা হইয়াছে। সেকালের আর একালের তফাত যে বুঝে না তাহার বুঝিতে যাওয়াই পাগলামি। সাপ চলে গেলে লাঠি মারিলে মরে না কেন? দিনে সূৰ্য্য উঠে রাত্রে উঠে কেন ? (প ৫৯ ) (য) জাতি (প্রশ্ন ১৭-২৪) ১৭। প্রশ্ন-ভগবান করিলেন ৪ বর্ণ, মানুষ তাকে করেছে ৪০০ জাত। তাতে শাস্ত্রের অমৰ্যাদাই হয়েছে। উত্তর- যখন চারিবর্ণ ভিন্ন আর কিছুই নাই, তখন মা, ভগিনী ও কন্যার সহিত বিবাহ চলে না কেন—তখন চোখ কান হাত পা সব সমান হয় না কেন? তখন রাজা মন্ত্রী প্রজা ইত্যাদি হয় না কেন? এত যে ভগবানকে মানিবার ইচ্ছা তাহা সর্বত্র লােপ পায় কেন? অহঙ্কারে বুদ হইয়া ভগবানের শাস্ত্রকে উড়াইয়া দিবার এত চেষ্টা কেন ? শাস্ত্র মানিলেই আর কোন গােলই থাকে না। ব্যাখ্যা চারিবর্ণ ভিন্ন জগতে অনেক জিনিষই আছে । সকল কথা বিচার করিয়া ব্যবস্থা করিতে হয় । ১৮। প্রশ্ন-(১) জাতি বিভাগে কেবল কলহ বিবাদেরই সৃষ্টি হয়। (২) যে দেশে ৫০০ রকমের জাতি কেহ কাহারও সঙ্গে খায় , সে দেশের উন্নতির আশা অসম্ভব। জগতের কুত্রাপি এমন নাই।

১৩০ বাঁদরামি—(য°) জাতি উওর-ভিন্ন হলেই যদি বিবােধ হয় ত পরস্ত্রী হইতে ভিন্ন হলে বিরােধ হয় কি? নিজ স্ত্রী হইতে পরপুরুষ ভিন্ন বলে বিরোেধ হয় কি? আমার বাপ তােমার বাপ নয় বিরােধ হয় কি? আমার জিনিষ তোমার জিনিষ নয়, আমার টাকা তােমার টাকা নয়, আমার সম্পত্তি তােমার সম্পত্তি নয় আমার কায তােমার কায নয়, তােমার হয়ে আমি খাই না আমার হয়ে তুমি খাও না এই সব বলিয়া বিরােধ হয় কি ? বিবােধ কিসে হয় ? মনের মিল হইলে শত সহস্র ভেদেও কি বিবােধ করিতে পারে ? মনের মিল না হইলে বাপ ছেলের, স্বামী স্ত্রীর কি বিরােধ হয় না!—উন্নতি কাহাকে বলে ? পয়সা? লাম্পট্য ? পরের মাথায় কাঠাল ভাঙ্গা? পরের রাজ্য ছুতা করিয়া কাড়া ? লড়াই? খুনােখুনি? ব্যাখ্যা-ধৰ্ম্মত্যাগই কলহ বিবাদের একমাত্র কারণ। যদি সকলেই ধৰ্ম্মপথে চলে তাহা হইলে কলহ বিবাদ হইতেই পারে না। একমাত্র সত্যের আশ্রয় লইলে কলহ বিবাদ উপিয়া যায়। মিথ্যা জুয়াচুরি ভিন্ন কলহ হয় না। যদি শাস্ত্র মানিয়া সকলকেই শ্রীভগবানের মূর্তি বলিয়া স্বীকার করা যায় তাহা হইলে ভেদবুদ্ধি কি করিয়া থাকিতে পারে ও কলহ, যুদ্ধ, রাগারাগি ঘেষাঘেষি কি করিয়া হইতে পারে ? যাহারা একাকার করিয়া কলহ বিবাদ উঠাইতে চাহে তাহারা ভণ্ড ও নাস্তিক। ১৯। প্রশ্ন-১) শাস্ত্র বার বার বলেছেন ব্যবহারেই ব্রাহ্মণ এবং চণ্ডাল হয়।-জন্মগত জাতি অপেক্ষা ব্যবহারগত জাতিরই প্রাধান্য দেখিয়েছেন। (২) চৈতন্য দেবের ধৰ্ম্মে বৈষ্ণব দীক্ষার জাত থাকে না। চৈতন্যদেব শাস্ত্র মানতেন না বা জানতেন না ইহা ভাবা যায় না। (৩) জাতিতে এত সংমিশ্রণ হইয়াছে যে সমাজে যাহা- দিগকে ব্রাহ্মণ বলে অনেকেই ব্রাহ্মণ নহে। (৪) মেয়েদের লেখাপড়া

বাদবামিষ) জাতি
১৩
শেখায় দোষ, গান বাজনা শেখায় দোষ,অথচ হিন্দুদের অভ্যুত্থানের
সময় এ বড়ই আদরের বস্তু ছিল। উত্তর—শাস্ত্র মানিলেই হইল।
হিন্দুদের শাস্ত্র মানিতে কখনই আপত্তি হইতে পারে না। হিন্দু হইলে
আর কে শাস্ত্র মানে না? (প ৬০ )
প্রশ্ন—যে সব কৰ্ম্ম করিলে ব্রাহ্মণ জাতিভ্রষ্ট হয়
তাহা ত শতকরা ৯৯৯ জন ব্রাহ্মণ করিতেছেন তবু তাদের ব্রাহ্মণ বলে
স্বীকার করা শাস্ত্রেরই বিরুদ্ধাচরণ হচ্ছে। উত্তর—নিশ্চয়ই
তাহার জন্য নাস্তিকরাই দায়ী। বরাবর ইহারা একঘরে হয়েছে।
এখনও হওয়া উচিত।
২১। প্রশ্ন-বামুনের ছেলে বামুন-সে চোরই হউক আর
ছেচড়ই হউক। আর শূদ্রের ছেলে শূদ্র সে যত বড় সাধু ভক্ত জ্ঞানীই
হউক। উত্তর—আম গাছে আম ও আমড়া গাছে আমড়াই হইয়া
থাকে। আম টক্ বলিয়া কেহ তাহাকে আমড়া বলে না, আর
আমড়া গুড়ের মত মিষ্ট বলিয়া কেহ তাহাকে আম বলে না। যতই
দুগুণ হউক না কেন আম আমই থাকে আর যতই সদগুণ হউক না
কেন আমড়া আমড়াই থাকে। (প ৬০)
২২। প্রশ্ন-সবাই মনু থেকে জাত মানব। মানুষের
মত ব্যবহার পাইবার অধিকার সকলেরই আছে। সবারই কতকগুলি
হক আছে। উত্তর—মনু হইতে জাত বলিয়া মানব মাত্রই যদি
এক হয় তবে প্রাণ আছে বলিয়া মানুষ ও জানােয়ার এক নহে
কেন? মানুষ জানােয়ার ও জড়বস্তু সবই বস্তু। অতএব মানুষ
জড়বস্তু নহে কেন? তবে কি মানুষকে জানােয়ার ও জড়
বস্তুর মত ব্যবহার করিতে হইবে? অতএব মানুষ ও জানােয়ার
এক নহে কেন ? মানুষে জানােয়রে তফাত কর কেন ! মানুষের

১২
বাঁদরামিষ) জাতি
।
মত ব্যবহার পাবার যদি হক থাকে ত জন্তুর মত ব্যবহার পাবার হক
নাই কেন? জড়পদার্থের ন্যায় ব্যবহার পাবার হক হয় না কেন? ডােম
ডােকলা সকলেরই সঙ্গ করিতে চাও বাঘ সাপের :সঙ্গ করিতে
চাও না কেন? হক কে দিল? কবে? কোথায় ? কেন ?
কিরূপে? হ যদি থাকে ত বাঘে খায় কেন? সাপে
কামড়ায় কেন? কুমীরে খায় কেন? আগুনে পােড়ে কেন ?
জলে ডুবে কেন ? রােগ হয় কেন ? ছেলে মরে কেন ? খেতে
পায় না কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যাখ্যা—একাকার ও সাম্য
দেখ (৪)। শিবজীর গুরু রামদাস স্বামীর কাছে বাঘ পােষা বিড়ালের
কান্তি থাকিত। শিব সাপ গলায় জড়াইয়া রাখিতেন। শিব কালকূট
পান করিয়াছিলেন। সামর্থ্য থাকিলে সবই সাজে।
২৩। প্রশ্ন-অস্পৃশ্যদের প্রতি অত্যাচার! ছােট জাতি-
হের প্রতি ঘৃণা। উত্তর-ঘৃণা নিশ্চয়ই খারাপ। তবে শাস্ত্রে
ওবর্ষে মৃণার চেয়ে অস্পৃশ্যদের উপর অত্যাচার ও ছােট
জাতির উপর ঘৃণা লক্ষগুণ ভাল। (প ৫৮)
২৪। প্রশ্ন-ছােট জাতির প্রতি অত্যাচারের ফলে হাজার
হাজার হিন্দু খৃষ্টান হয়ে যাচ্ছে—হিন্দুসমাজ দুর্বল হচ্ছে।
উর-হাত পা কাটিয়া ফেলিতে হয়। ছেলেও ত্যাগ
করিতে হয়। যেন তেন প্রকারেণ যদি দলপুষ্টিই চাই তবে আর
এর কথায় কাষ কি? খুননাখুনি জুয়াচুরি বাটপাড়ির রাস্তাই
ভাল। ব্যাখন—যাহাদের ধর্মের উপর এতটুকু টান নাই যাহারা
কায় কথায় ধৰ্মত্যাগ করিতে পারে তাহাদের লইয়া দলপুষ্ট করিতে
মেৰে ধৰ্মনাশই হইবে কল্যাণ হইবে না। (প ৬৫৪)
?

বাঁদরামি-(ব) নারীসঙ্গ (ব) নারীসঙ্গ (প্রশ্ন ২৫-৩০) ২৫। প্রশ্ন—মেয়েদের স্কুল কলেজে পড়িতে না দিয়া জন্তু করে রাখা মহাপাপ। উত্তর—যাহারা জন্তুর পেটে জন্মে তাহারাই এই কথা বলিতে পারে। স্কুল কলেজে যাইয়া কতকগুলি ছাই ভস্ম শিখিলে মানুষ হয়। আরও কত কি শিখে তাহা সকলেই জানে। বেথুন কলেজ উঠিয়া যাইতে বসিয়াছে, কেন না উহা মেয়েদের কলেজ। আর যে কলেজে ছেলেমেয়ে এক- সঙ্গে পড়ান হয় সেই কলেজে যাইবার জন্য মেয়েরা ছটফট করে। কলেজে শিখা মেয়ে কি রকম মানুষ হয় ইহা হইতেও যদি না বুঝা যায় তবে আর বুঝিবার উপায় নাই। (প° ৬২) প্রশ্ন-(১) স্ত্রীলােককে বেরুতে না দেওয়া হাওয়া খেতে না দেওয়া বড়ই অন্যায়। (২) স্ত্রীলােককে বন্ধ করে রাখলে জাতের উন্নতি কি করিয়া হইবে ? অর্ধাঙ্গ বিকল হইলে সে দেহ দ্বারা কিছুই হয় না। (৩) বিলাতে স্ত্রীলােকেরা কত উন্নত। উত্তর- (১) গায়ে জলীয় হাওয়া লাগতে দেয় না, দুপুর রৌদ্রে দৌড়া- দৌড়ি করতে দেয় না, যা তা খেতে দেয় না, উত্তম জিনিষও ভরা পেটে খেতে দেয় না, গাড়ী চাপা পড়তে দেয় না, ছাদ থেকে পড়তে দেয় না—উঃ কি জুলুম?–(২) গুহ্যদ্বার না দেখাইয়া বেড়াইলে কি উন্নতি হয় ? অর্ধাঙ্গ গােপন ছি! ছি!—(৩) বিদেশীর স্ত্রীলােক কত উন্নত-ইহার অর্থ কি? শরীর উচু? উন্নতি কাহাকে বলে? কোন্ দিক উচু কোন্ দিক নীচু ? মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কি? মানুষ মরি লে কি হয়? কথা কহিতে গেলে কি কোনই কথা বুঝি বার দরকার হয় না? বিদেশীয় স্ত্রীলােকদের কথা হিন্দুসমাজ

১৪
বাঁদরামিব) নারীসঙ্গ
অনেক সময়ে কানে আঙ্গুল দিয়াও শুনিতে পারে না।
ব্যাখ্যা-প° ৬২)। ভেদবুদ্ধিতে ভরপুর না হইলে এত সাম্যের
ভাণ আসে না।
২৭। প্রশ্ন-মেয়েরা শীতে জুতা পরতে পারে না-রৌত্রে
ছাতা মাথায় দিতে পারে না-কি অত্যাচার ! উত্তর-পুরুষেরা
খাটিয়া খাটিয়া মরে দুৰ্বাক্য সহ্য করে বোঝা বহে কি অত্যাচার।
পা, হাঁটি হাঁটিয়া মরে, অন্য অঙ্গ কিছুই করে না, কি অত্যাচার।
হাত হাতের কার্য করিয়া মরে কোনও অঙ্গই সাহায্য করে না কি
অত্যাচার ! পেট কিছুই করে না কেবল হজম করে। কি অত্যাচার !
শীতকালে গায়ে জামাজোড় দাও, মুখে দাও না, কি অত্যাচার !
নিজের দেহেই এত ভেদবুদ্ধি ? গায়ে কামিজ কোট দাও, পায়ে কেবল
মােজা, মাথায় আবার মােজাও দাও না? মেয়েরা বাড়ীর বাহিরই হয়
, জুতা পরিবে কখন ?
২৮। প্রশ্ন—পূর্বে বাল্যবিবাহ ছিল না—ইতিহাসে পুরাণে
বয়স্কা কন্যারই বিবাহ দেখিতে পাই। উর-সেকাল আর একাল
এই তফাত।
২৯। প্রশ্ন—বিধবার বেলায় নির্জলা একাদশী, কিন্তু
বিপত্নীকের আবার বিয়ে। উত্তর—নির্জলা একাদশী না করি-
লেই পারে। লাম্পট্যই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নহে। পেটের
অসুখে ধারক ও বাহে না হইলে সারক, বড়ই অন্যায়।
প” ৬১)
৩০। প্রশ্ন—সতীদাহ, কুলীন ব্রাহ্মণের বহু বিবাহ
ইত্যাদি কুপ্রথা ইংরাজের আইনের অনুগ্রহে দূর হইয়াছে। উত্তর
সতীদাহ অবশ্যই কুপ্রথা। আইন ও আইন অমান্যকারীদের অনুগ্রহে
*

বাঁদরামির) শাস্ত্র সতীত্বও দূর হইতে বসিয়াছে। তখন স্ত্রীলােক আর বাহির করিতে হইবে না আপনিই বাহির হইবে। শাস্ত্রের উপর টেক্কা মারা মুখেরই সাজে। (র) শাস্ত্র (৩১-৪২) ৩১। প্রশ্ন—শাস্ত্র বিজ্ঞানের সহিত মেলে না—অতএব শাস্ত্র ভুল ও ত্যাজ্য। উত্তর-শাস্ত্র ও বিজ্ঞান অনেক সময় মিলে না একথা ঠিক। কাযেই শাস্ত্র ভুল বিজ্ঞান ভুল নহে। রাম কি শ্যাম এই কাৰ্য্য করিয়াছে। অতএব রাম করিয়াছে শ্যাম করে নাই। আহা কি সুন্দর যুক্তি! এত গুণ না থাকিলে আর অলীক হিন্দু হইতে পারে? কিন্তু বিজ্ঞান যে নিজেই বলিতেছে বিজ্ঞান ভুল। তা হলে কি হয় ? নাস্তিক অলীকহিন্দু কি বলিতে পারে বিজ্ঞান ভুল! রাম রাম, ও কথা মুখেও আনিতে নাই। কাযেই নিঃসন্দেহ প্রমাণ হইল শাস্ত্রই ভুল ও অগ্রাহ। এখানেও মুস্কিল। বিজ্ঞান আপন ভুল স্বীকার করিয়া শাস্ত্রের কথাই মানি- তেছে। তা হউক্। শাস্ত্র ঠিক বলিয়া কি করিয়া মানা যায় ? তাহা হইলে অলীক হিন্দুর নাম যে বৃথা হইল ? ৩২। প্রশ্ন-শাস্ত্রে যত গাঁজাখােরী কথা—ক্ষীর সাগর, স্বর্ণমেরু, বাসুকীর মাথায় পৃথিবী, গ্রহণের সময় রাহু চন্দ্রকে গ্রাস করে, ইত্যাদি। উত্তর—গাজাখােরী কি দিয়া জানিলে? যে বুদ্ধি দিয়া ঠিক করিয়াছিলে জল H,9, ভিন্ন কিছুই নহে, পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন, পুষ্পক রথ গেঁজেলী, পৃথিবী লক্ষ লক্ষ বৎসর থাকিতেই পারে না, বস্তুর গুণ দেশকালাদির উপর নির্ভর করিতেই পারে না ইত্যাদি ইত্যাদি সেই বুদ্ধি দিয়া ?—মনে কর এই গুলি অসম্ভব বাঁদরামি-(র) শাস্ত্র ঐগুলি বাদ দিয়া যে লক্ষ লক্ষ সত্য আছে সেগুলি লও না কেন? আমের খােসা ও আঁটি থাকে বলিয়া আম ফেলিয়া দাও না কেন? সত্যেই আপত্তি ? (প° ৮২) ৩৩। প্রশ্ন-শাস্ত্রে অনেক মিথ্যা কথা আছে—তখনও মানুষ ভাল সভ্য হয় নাই। উত্তর—তােমার.বাপ দাদা যে অসভ্য তাহাতে কোনও সন্দেহ নাই। অসভ্য কালে অসভ্য জন্ম গ্রহণ করিয়া নিজে অসভ্যতার পরিচয় দিতেছ। দাও। তাই বলিয়া কি সকলেই তােমার ন্যায় অসভ্য হইবে? যে হিন্দু শাস্ত্রের নিকট বিজ্ঞান লাঞ্ছিত পদানত সেই হিন্দু শাস্ত্রকে অসভ্য বলিবার হক্‌ অসভ্যেরই থাকে। (প ৮২) ৩৪। প্রশ্ন—শাস্ত্র বলে সব পুরাণই ব্যাসদেবের লেখা। ভাগবতের অপূৰ্ব্ব লেখা আর অন্য পুরাণের অসম্বন্ধ লেখা দুইই এক- জনের লেখা হয় কি করিয়া ? উতর-অদ্বিতীয় পণ্ডিতও ছেলের সহিত অতি সােজা ভাষায় বলে অতএব সে তখন পণ্ডিতই নহে। ধন্য নাস্তিক বুদ্ধি! তা না হলে স্কুল বুঝিতে দাত কপাটি আর সূক্ষম হইলেই লাফালাফি। ব্যাখ্যা—যাহাদের সত্যের অট নাই তাহারাই এরূপ যা তা বকে। বিচার কাহাকে বলে সে কথার এ সব লােক ধারই ধারে না। তাহাদের অপূৰ্ব্ব বিচারের ধারা এইরূপ । লােকটা মাথায় বড়, অতএব বুদ্ধিতে বড় ও সাধুপুরুষ ! লােকটা বেটে অতএব বুদ্ধিহীন ও দুষ্ট! একই মানুষ দাড়াইলে একজন, বসিলে একজন ও শুইলে আর একজন হয় ! একই মানুষ বাঙ্গালা বলিলে বাঙ্গালী, ইংরাজী বলিলে সাহেব ও উর্দ, বলিলে মুসলমান হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি। ৩৫। প্রশ্ন-একইবিষয় ভিন্ন ভিন্ন পুরাণে ভিন্ন রকমে

বাঁদরামির) শাস্ত্র
১৩।
রহিয়াছে—কাযেই তাহারা একজনের লেখা নহে। “বস্তুতঃ ব্যাস
একজন কাহারও নাম নহে। উহা উপাধি মাত্র” (রবীন্দ্রনাথ)।
উত্তর—এর ওর তার মতই যার প্রমাণ, সেও শাস্ত্র বিষয়ে
প্রমাণ চায়—ধন্য অলীক হিন্দু। ব্যাখ্যা-দেশ কাল পাত্র ভেদে
অবস্থাভেদ ইহাও যে জানে না সেও বিচারের কথা মুখে আনে--ধন্য
অহঙ্কার! ( ৩৪ প্রশ্নের উত্তর দেখ )
৩৬। প্রশ্ন-সংস্কৃত ভুল, ব্যাকরণ ভুল ইত্যাদি ঝুড়ি
ঝুড়ি রয়েছে। তাতে মনে হয় আসল গ্রন্থগুলির বহু স্থান আমাদের
কাছে পৌছায় নাই। বাজে লােকের লেখা বহু শ্লোক প্রক্ষিপ্ত আছে।
শাস্ত্র বলিয়া তাহা মানা মূখত।। উত্তর-পুরাণ বাড়ীতে, এখানে
পলস্তারা ভাঙ্গা, ওখানে মেজে উঠা থাকে। তাই বলিয়া কি কেহ
বাড়ী ত্যাগ করে ?—প্রক্ষিপ্ত থাকিতে পারে, তাই বলিয়া ক্ষিপ্ত
লােকই তাহার বিচারক হইবে
৩৭। প্রশ্ন—অনেক কথা শাস্ত্রে প্রক্ষিপ্ত আছে তাহা
বেশ প্রমাণ পাওয়া যায়। যথা শ্লোক সংখ্যা মিলে না ইত্যাদি।
উত্তর—অপূৰ্ব্ব প্রমাণ ৫০ ০০ শ্লোকের জায়গায় ৪৯০০ হইলে
১০০ শ্লোক বাড়িয়াছে বুঝায় !
৩৮। প্রশ্ন-বেদে যে পুরাণের উল্লেখ আছে তাহা
প্রচলিত পুরাণ সকল নহে। বেদের ভাষা ও পুরাণের ভাষাই
তাহার প্রমাণ। উত্তর- যথা? তােমার নিজের ভাষা কিসের
প্রমাণ।
৩৯। প্রশ্ন—শাস্ত্র কবেকার লেখা--এখন চলে না।
উত্তর—নিশ্চয়ই। যাহা চিরকাল সত্য তাহা কি করিয়া
চলিতে পারে? রােজ রােজ যদি বদলই না হইল তবে আর সত্য
?

১৩৮
বাঁদরামি-(র:) শাস্ত্র
একটা
হইল কি করিয়া, আজ এক রকম কাল এক রকম পরশু আর এক রকম
তবেই না সত্য? আচ্ছা বাপছেলে সম্বন্ধ যে এই সংসারে বদল
হয় না, তবে কি বাপ ছেলে সম্বন্ধ মিথ্যা ?
নূতন কিছু কররে ভাই
নূতন কিছু কর।
ভাবা চিন্তা নাইক কিছু বাঁচি আর মর।
নূতনই সত্য নূতনই ভাল। পুরাণই মিথ্যা পুরাণই কাল ।
ধর নূতন ছাড় পুরান। তবে জীবন সার্থক জান।
ডাকিয়া সবে নাস্তিক কয়। শাস্ত্রের জুলুম আর না সয় ।
৪০। প্রশ-শাস্ত্র সময় অনুসারে বদলায়—এখন বদলান
নূতন কথা আবিষ্কার
হইতেছে। উত্তর—তাই
বলিয়া কি যে সে শাস্তুসংস্কার করিবে ? সকল বিষয়েই যােগ্যতা
চাই কেবল শাস্ত্র সংস্কারের বেলাই যােগ্যতার দরকার নাই ? শাস্ত্র
বদলায় বলিয়াই কি কবেকার লেখা এখন চলে না? কোন
কোন্ আবিষ্কারের জন্য শাস্ত্র বদলান দরকার? কিরূপ বদলান
দরকার ও কেন ?
৪১। প্রশ্ন—শাস্ত্র বদলায় কাযেই তা ধরে চলবে কেমন
করে। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা দরকার। উত্তর—অবস্থা বুঝে
ব্যবস্থা কি ? পরিবর্তন? পরিবর্তন দরকার বলিয়াই পরিবর্তন
থাকিলে ত্যজ্য। ব্যাখ্যা -শাস্ত্র বদলায় না অতএব অগ্রাহ্য
( প্র° ৩৯)। শাস্ত্র বদলায় অতএব তা ধরে চলা যায় না ( প্র৪২)।
অর্থাৎ বদলাইলেও অপরাধ বদলাইলে কেন? ন' বদলাইলেও অপরাধ
বদলাইলে না কেন ? ধন্য নাস্তিক! ধন্য তােমার প্রতিভা ! ধন্য
তােমার শাস্ত্রবিদ্বেষ ! অতএব তােমারই যে শাস্তুসংস্কারের ষােগ্যতা

বাঁদরামিল) হিন্দুধর্ম
আছে তাহাও কি আর কাহাকেও বলিতে হইবে ? শাস্ত্রে অন্ধ বিদ্বেষ
না থাকিলে এত সংস্কারের চেষ্টা হয় না।
৪২। প্রশ্ন—শাস্ত্রের অর্থ নানা স্থানে নানা প্রকার।
বাঙ্গালা ও U, P. তে একাদশী। এঁটো। বিবাহ-মাদ্রাজে মাতুল
কন্যা বিবাহ, দিনে বিবাহ ইত্যাদি। উর-তাহাতে আসল
কথায় কিছু যায় আসে না কেবল বাঁদরামির পরিচয় পাওয়া যায় মাত্র।
আচার ভিন্ন ভিন্ন বলিয়া আচার ত্যাগ করিতে হইবে। আম নানা
প্রকার বলিয়া আম খাওয়া ত্যাগ করিতে হইবে। সকলের
বাবা ভিন্ন ভিন্ন বলিয়া বাবা ত্যাগ করিতে হইবে।
(ল) হিন্দুধর্ম (৪৩–৪৭)।
৪৩। প্রশ্ন-হিন্দুধর্মের মস্ত মস্ত কথা-কথার সঙ্গে লােকে-
দের আচরণের কিছুমাত্র সামঞ্জস্য নাই। উত্তর--শাস্ত্রে অন্ধ
বিদ্বেষকারীদের ছােট ঘােট কথা ও কাযে কথায় ঠিক
এক-কেমন? গণিত শাস্ত্রের মস্ত মস্ত কথা, সাধারণের মাথায়
সে সব ঢুকেই না। অতএব গণিতশাস্ত্ৰ উঠাইয়া দেওয়া উচিত। এই
মন্ত মন্ত কথার জন্য এখনও হিন্দুরা সকলের চেয়ে খুন
করিতে নারাজ। সভ্য জার্মানির লড়াইয়ে লােক খুন করিবার
চেষ্টার আর বিরাম নাই। তাতেও মন উঠে না, এখন যাহাতে
আপােসে খুননাখুনি করিতে পারে তাহার ব্যবস্থা করিয়াছে
( Duel )। নাস্তিক! কখনও কি আরসিতে মুখ দেখ নাই,
যে কাযে কথায় অমিল দেখিয়া শিহরিয়া উঠিলে ? ধন্য তােমার
আত্মবঞ্চনা !
৪৪। প্রশ্ন-পরকাল অদৃষ্টব’লে বলে হিন্দুরা জড়ভরত

১৪ : বাদরামিল) হিন্দুধর্ম হইয়া গিয়াছে। ইহকালের চেষ্টাই নাই ভাল হয় কি করিয়া ? উত্তর-লক্ষ লক্ষ বৎসর পরকাল মানিয়া এতকাল পরে কেবল আজই জড়ভরত হইয়া গিয়াছে ! পরকাল না মানিয়াই ত এই বুদ্ধি। চেষ্টার মধ্যে ত কেবল বাঁদরামি এক কলম লিথিতে হইলে হাতে পায়ে বুকে খিল ধরে একটা পয়সা রােজগার করিতে হই- লেই পায়ে ধরা, জুতা চাটা। শাস্ত্র ছাড়িয়া এখন কত উন্নতি হইয়াছে—বােমা মারা, লুকাইয়া গুলি করা, মাগি মিসে ডাকাতি করা ইত্যাদি। ব্যাখ্যা—শাস্ত্র মানিয়া লক্ষ লক্ষ বৎসর হিন্দুরা জগতের শ্রেষ্ঠ। আজ শাস্ত্র না মানিয়াই এই অধঃপতন হইয়াছে। আবার শাস্ত্র মানিতে ও পালন করিতে আরম্ভ করিলেই ভারতের সকল দুঃখই ঘুচিয়া যায়। নাস্তিকতার জন্যই ভগবান্ বিরূপ হইয়াছেন ও ভারতের দুর্দশার আর সীমা নাই। নাস্তিকতা ত্যাগ করিলেই ভগবান্ প্রসন্ন হইবেন ও ভারতের দুঃখ কষ্ট হীনতা সবই দূর হইবে। ৪৫। প্রশ্ন—বুদ্ধদেবের অহিংসা আর বৈষ্ণবের “অক্রোধ এতেই হিন্দুদের এত অবনতি। উত্তর-এত প্রখর বুদ্ধি না হলে আর সর্বত্রই পলায়নপরায়ণ হওয়া যায়। সেই জন্যই বুঝি nonviolence (অহিংসা) এর জন্য পাগল ? ব্যাখ্যা অহিংসা ও অক্রোধে অবনতি আর হিংসা ও ক্রোধে উন্নতি। অর্থাৎ, পশুর পশু হইতে পারিলে উন্নতি ও মানুষের ন্যায় মানুষ হইলেই অব- নতি। বলিতে লজ্জাও নাই সরমও নাই এমনই উন্নতি ! ৪৬। প্রশ্ন-১) মুসলমান ও খৃষ্টানধর্মে মানবদের এক- সঙ্গে মিলিয়া মিশিয়া কায করিতে শিখায়। (২) হিন্দুধৰ্ম্ম তাহা নষ্ট করে। হিন্দুধর্ম প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন। মুসলমান ও খ্ৰীষ্টানধর্ম ১৪১ বাঁদরামিল) হিন্দুধর্ম জাতীয় ধৰ্ম্ম। (৩) তাই হিন্দু ধর্মে সকলের এক উপাসনা নাই। Dog-(s) Communal award, Wars, Conference, Unemployment etc. etc. খ্ৰীষ্টান ও মুসলমানদের একতার অকাট্য প্রমাণ দিতেছে। (২) জীব ভগবানের মূর্তি এই কথা শিখাইয়া হিন্দুধর্ম মানুষে বিরােধ সৃষ্টি করে ! ভেদবুদ্ধি ত্যাগ না করিলে মানুষের কল্যাণ হয় না এই কথা শিক্ষা দিয়াই ত হিন্দুধর্ম বিরােধ করিতে শিখায়! ধন্য নাস্তিক! ধন্য তােমার মিথ্যা বলিবার ইচ্ছা ও মিথ্যা বলিবার শক্তি! (৩) সকলের এক উপা- সনা চাই। সকলের এক বাবা চাই না কেন? ৪৭। প্রশ্ন-হিন্দুধর্মের কুসংস্কারে দেশটা গেল—হাঁচি টিকটিকী, দিন দেখা ইত্যাদি। উত্তর-বাঁদরামির চরম। দেশ কি করিয়া যায় ? সত্য বলে ? যাহারা হাড় মিথক মিথ্যাতেই যাহাদের নাড়ী কাটা তাহারাই সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য বলিতে ভাবিয়াও দেখে না। যাহারা বিজ্ঞানের কেলেঙ্কারীকে উন্নতি বলিতে পারে তাহাদের মুখেই এই রকম বাঁদরামি শােভা পায়। (প° ৭৯ ও ৭৮)। ব্যাখ্যা-এক উচ্চ সাহেব কৰ্মচারি মফস্বলে যাইরার দিন স্থির করিতেছেন। তাহার সঙ্গের কেরাণী বলিল “সাহেব, ঐ দিনে যাইবেন না। ঐ দিন মঘা।” সাহেব অহ- স্কারে বুদ হইয়া বলিলেন। “Damn your Magha” (রেখে দাও তােমার মঘা)। পরে সেই দিন মফঃস্বলে যাইয়া ইরাবতী নদীতে ডুবিয়া এক মাইল জল খাইতে খাইতে ভাসিয়া যাইয়া কোনও রকমে সেদিন সাহেবের প্রাণরক্ষা হইল। এইবার সাহেবের অহঙ্কার চূর্ণ হইল। আর মঘায় মফঃস্বলে যাইতেন না। মফঃস্বলে যাইবার দিন ঠিক করিবার পূর্বেই কেরাণীকে জিজ্ঞাসা করিতেন “শালা মঘা কোথায়?”

১৪২ বাঁদরামিল) হিন্দুধর্ম। হায়! অহঙ্কারের এই বিষম পরিণাম কলির জীব দেখিয়াও দেখে না। তাই না সংসারে এত হিংসা এত দ্বেষ, এত কলহ, এত অশান্তি, এত দুঃখ, এত কষ্ট। সত্যকে তাড়াইয়া মিথ্যার আশ্রয় না করিলে পৃথিবী বৈকুণ্ঠ হইবে। সত্যংপরং ব্রহ্ম বিজ্ঞানরূপং সত্যং হি সৃষ্টি-স্থিতি-লীন-কর্তৃ। সত্যং হি সাম্যং কিল বস্তুধর্ম সত্যং শরণ্যং শরণং প্রপদ্যে ॥১৬৮ ও শান্তিঃ ও তৎসৎ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Hindudharma O Parishistha

Author
Not Available
Title
Hindudharma O Parishistha
File name
Hindudharma O Parishistha
Text
OCR done
Citation
1925
Published
2010/02/3
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
184
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Other Hindu Sects
Keywords
Shastra Bichar
DLI number
512693
Barcode
4990010019743.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
b0BcotgVhN5
Download PDF

Hindudharma O Parishistha