Makardah Saraswat Library, Howrah

Swami-stree

Sengupta, Shachindra · 2009/07/15

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

স্বামী-স্ত্রী
নাটক
AT LIEFCA
শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
রঙমহলে অভিনীত
গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স,
২০৩১১, কর্ণওয়ালিস্ ষ্ট্রীট, কলিকাতা

মাঘ, ১৩৪৪
গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এ সন্সের পক্ষে ভারতবর্ষ প্রিন্টিং ওয়ার্ক হইতে
শীগগাবিপদ ভট্টাচাৰ্য যারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত
২৩১১১, কর্ণওয়ালিস , কলিকাতা

পাত্র-পাত্রী
পুরুষ
মি: দাস-রিটায়ার্ড সিবিলিয়ন
ললিত-ঐ জামাতা ( লিলির স্বামী)
মােহন-ধনীর দুলাল
কয়লার খনির কর্মচারীগণ, কুলি-কামিন,
সর্দার প্রভৃতি।
জী
মিসেস্ দাস-মিঃ দাসের স্ত্রী
লিলি-ঐ কন্যা
মিনতি-লিলির মাসতুতাে বােন
শান্তা-লিলির বন্ধু
পার্বতী-শান্তার বন্ধু
পরিচারিকা।

No text on this page.

নাটকখানি মৌলিক নয়। পঞ্চাশ বছর আগেকার লেখা একখানি বিদেশী নাটক থেকে আমি এর উপাদান নিয়েচি। উনবিংশ শতকের শেষের দিকে ইউরােপে যে-নাটক রচিত ও অভিনীত হয়েছিল, বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়েও তা বাংলা-রঙ্গালয়ে অভিনীত হয়ে আধুনিক বলে আদর পাচ্ছে। তার কারণ হয়ত এই যে, এ নাটকের বিষয়বস্তু আজও পুরাণো হয়ে যায়নি। স্বামী-স্ত্রীর মনের মিল-অমিল অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। • এই দিক দিয়ে বিচার করে দেখলে এর মাঝে আধুনিকতার সন্ধান কিছু পাওয়া যাবে। কিন্তু আধুনিক নর-নারীর মনস্তত্ত্বের দিক দিয়ে যারা বিচার করে দেখবেন, তারা বুঝতে পারবেন নাটকখানি পুরাে আধুনিক নয়- আধুনিক লক্ষণযুক্ত মাত্র। আমার মনে হয় সেই কারণেই নাটকনি জনপ্রিয় হতে পেরেছে। এই ব্যাপার থেকেই জাতির প্রগতির পরিমাপ কতকটা পাওয়া যায়। ও-দেশে মানব-জীবনের নানা জটিল সমস্যা নাট্য-সাহিত্যে স্থান পেয়েছে। আমরা চোখ বুজে সব সমস্যাকেই এড়িয়ে চলি। তাই নাটকে আমরা চাই নানা আজগুবি ব্যাপার, নিরর্থক হাসি-কান্না, অহেতুক আস্ফালন, অনাবশ্যক নাচ-গানের জলসা। ফলে নাটক আর থিয়েটার আধুনিকও হতে পারছে না, জাতির জীবনেও নিজের স্থান করে নিতে পারছে না। শক্তিমান নট শ্রীযুক্ত দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এই নাটকখানি অভিনয়ের জন্য মনােনীত করেন। তার পরিচালনা, সু-অভিনেতা সন্তোষ সিংহের সহায়তা এবং সম্প্রদায়ের সকলের সহযােগিতা নাটকের

রূপ ও অভিনয় সৰ্বাঙ্গসুন্দর করে দিয়েছে। একটি সম্প্রদায়ের অকুণ্ঠিত
সহযােগ এর আগে এর চেয়ে বেশি করে আমি কোথাও পাইনি।
দুর্গাদাসের দাবি অনুসারে আমি শেষ অঙ্কটি রচনা করিচি এবং আরাে
কিছু কিছু পরিবর্তন সাধন করিচি।
শ্ৰীমণীন্দ্রনাথ দাস (নানুবাবু) এর দৃশ্যপট পরিকল্পনা করেছেন।
তার সুরুচির ও কলাজ্ঞানের সুখ্যাতি সকলের মুখেই শােনা যাচ্ছে।
শ্ৰীপ্রণব রায়ের সঙ্গীত রচনা যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমি সুন্দর হয়েছে
শ্রীতুলসী লাহিড়ীর দেওয়া সুর। দুজনাই আমার অনুজোপম।
দু’জনারই সুখ্যাতি, আমাকে আনন্দ দান করছে।
৮৪১২ গ্রেীট
কলিকাতা
শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত

শক্তিমান নট ও সুদক্ষ পরিচালক
শ্রীদুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রতিভাজনেমু-

No text on this page.

স্বামী-স্ত্রী আধুনিক আসবাবপত্রে সজিত একখানি ঘর । মেঝেয় পুরু কার্পেট, দেয়ালে দামী পিছনের দিকে দুটি দরজা। ডাইনের দরজা দিয়া বারান্দার একটা অংশ, বারান্দায় উঠিবার সিড়ি এবং বাগদের গোটা কত গাছ দেখা যাইতেছে। বয়ের দরজায় পর্দা ঝুলিতেছে। দু'পাশেও দুটি দরজা—দুটিই পর্দা নেওয়া। মঞ্চের পুরােভাগে বাঁ-দিক বেসিয়া একখানি কৌচে বসিয় মিঃ দাস খবরের কাগজ পড়িতেছেন। পাশে টিপয়ের ওপর আরো কাগজ রহিয়াছে। নিঃ দাসের বয়েস ষাট উত্তীর্ণ হইয়াছে। মাথার সব চুল পাকিয়া গিয়াছে। মুখে দাড়ি-গোফ রহিয়াছে ফ্রেঞ্চকাট। তিনি একটি ড্রেসিং গাউন পরিয়া আছেন। মঞ্চের পুরােভাগেই ডান দিক ঘেসিয়া আর একখানি কো5ে মিনতি বসিয়া আছে। তাহার হাতে একখানা বই। ছিপছিপে চেহারা, রিমলেস পাস-নে, পরণে ঢাকাই নীলাম্বরী, হাবিহীন ব্লাউজ। মঞ্চের মাঝখানে একখানি ইজিচেয়ারে মিসেস দাস বসিয়া গলাবন্ধ বুনিতেছেন। কাগজ হইতে মিসেস লাসের দিকে দৃষ্টি ঘুরাইয়া মি: দাস। কালকের টেম্পারেচার কত ছিল জান, রমা ? মিসেস দাস। আমি ও-সব দেখিনে ।

স্বামী-স্ত্রী
মিঃ দাস। ওয়েদার রিপাের্ট দ্যাখা ভালো। সতর্ক হওয়া যায়।
সাবধানে থাকা যায়। নইলে ( দু-তিনবার শব্দ করিয়া কাসিলে) এই
রকম ভুগতে হয়।
মিসেস দাস। তুমি ত সাবধানে থাকবেনা।
মিঃ দাস। আবার কি সাবধানে থাকব ?
মিসেস দাস। গলাটা খালি রেখে রােজ তুমি বিকেলে বাগানে
বােসে থাক কেন ?
মিঃ দাস। কি করি বল, তােমার ওই কমার তৈরী হতে শত
যে কেটে যাবে।
মিসেস দাস। চিরকাল যেন আমারই তৈরী কার্টার তােমাকে
ঠাণ্ডা থেকে বাঁচিয়েছে।
মিঃ দাস।
চিরকাল তােমারই দেওয়া কমাট আমার কাম্য হয়ে
রয়েচে, রমা।
মিসেস দাস। বুড়ো বয়সে ও কাব্যে কথা বলবার সখ ! মিনি
রয়েছে না।
মিনতি। ( উঠিয়া) আপনার ওষুধটা এনে দোব, মেসােমশাই ?
মিঃ দাস।
, না, ওঃধে কাজ নেই। তােমার মাসীমা কমফার্টার
তৈরী করছেন, তাই দেখেই আমার কাসি সেরে যাবে।
আবার কা.িত লাগিলেন
মিসেস দাস। ওঁর কথা শুনােন মিনি, তুমি ওষুধ এনে দাও।
মি: দাস। হুকুম ত করচ, কিন্তু জান বে ও-ওষুটা খেতে হয়
ব্রেকফাষ্টের পরে।
y
২

স্বামী-সী
মিসেস দাস। মিনি, দ্যাখ, তাে মা, ব্রেকফাষ্ট তৈরী কি না।
মিনতি পেছনের বাঁ-দিককার দরজার পর্দা ঠেলিয়া চলিয়া “ল
মিঃ দাস। লিলি, না ফিরলে ত ব্রেকফাষ্ট বসা যাবেনা।
মিসেস দাস। লিলির ফেরবার সময় হয়েছে।
মিঃ দাস। লিলি আমার ছেলে নয় মেয়ে। কিন্তু ঘােড়ায় চড়তে
শিখেচে আমারই মত। জান ত, আমার মত ঘোড়সওয়ার তখন বেশি
ছিল না। বিলেতেও আমি ঘােড়ায় চড়ে খ্যাতি পেয়েছিলুম।
মিসেস দাস। তােমার বিলেতেই বাড়ী করা উচিত ছিল।
মিঃ দাস। করতুমও তাই।
মিসেস দাস। কেন করলে না?
নিঃ দাস। তুমি যেতে রাজী হলেনা বলে।
মিসেস দাস। আমার বাবাকে আমি ব্যথা দিতে পারতাম না।
তিনি ছিলেন খাটি হিন্দু। অনাচার সইতে পারতেন না।
মিঃ দাস। তাই বুঝি বেছে বেছে এই সদাচারী লোকটিকেই ভাই
করলেন।
মিসেস দাস। আহা ! আচার-অনাচার বােঝবার বয়েস
তােমার ছিল কি না।
মি: দাস উঠিয়া দাড়াই ভুইত বলিন
মিঃ দাস। সত্যি! এত ছেলেবেলায় আমাদের নিয়ে হয়েছিল
মিনেস দাসের ইজিচেয়ারের পাশে একনায়ার
টানিয়া বসিলেন। মিসেস নসর খায় ?
লাইত নাইতে কহিলেন
কতদিন আগে আগে আমাদের বিয়ে হয়েছিল, রমা।

স্বামী-স্ত্রী
.
মিসেস দাস। তখন তোমার বয়েস ষােল আর আমার দশ।
মিঃ দাস।
এর মাঝে একটি দিনেও কিন্তু আমরা. ঝগড়া করিনি।
মিসেস দাস। আফশেষ থাকে আজ থেকে শুরু করে দাও।
মিঃ দাস। হাঁ, লিলি জানুক, ললিত বুঝুক বিবাহিত জীবন কেমন
করে কাটাতে হয় !
মিসেস দাস। মেয়েকে যা তুমি তৈরি করে।
মিঃ দাস।
ছেলে থাকলে তাকেই এই রকম গড়ে তুলতুম ?
মিসেস দাস। কিন্তু এটা কি ভালো?
মিঃ দাস। মন্দ কি দেখলে ?
মিসেস দাস। ''এই ঘোড়ায় চড়া, এয়ারােপ্লেনে ও••
মি: দাস। কি যে বল ! লিলি আমার মেয়ে, আমারই মতো
হবে না ?
মিসেস দাস। কিন্তু তার বিয়ে হয়েচে, স্বী মতামত রয়েছে।
মি: দাস। কেন, ললিত কিছু বলছে নাকি ?
মিসেস দাস।
বলতে পারে ।
মিঃ দাস। বলুক না ।
বল্প নিয়ে দেব না !
মিসেস দাস। কি শোনাবে ?
মিঃ দাস। আমার মেয়ে আমার মেয়ে ছেনে সে বিয়ে করেছিল।
আমার মেয়ে ঘােড়ায় চড়ব, মােটর হাঁকাবে, আকাশে উড়:1, রাইফেল
চুড়বে•••
বাইরে ইংরেও রর গান শোনা গেল
ওই লিলি আসদে
৪।

স্বামী-স্ত্রী
রাইডিং, ব্রিচেস পর। লিলি প্রবেশ করিল, হাত দুপ।
বয়েস সতেরো-আঠারো ।
লিলি। গুড মর্ণিং ড্যাড।
মি: দাস।
গুড মণিং ডালিং।
লিলি।
গুড় মণিং মা।
মিসেস দাস। গুড় মর্ণিং লিলি।
ললিত একখানি খবরের কাগজ দেতে তে
নিঃশব্দে আসিয়া ডান দিকের কে: বলি।
পচিশ-ছালিশ।
লিলি। য়াম্ আই ভেরি লেট কাদার ?
মিসেস দাস। আমরা ব্রেকফাস্টে বসতে পারছি না।
লিলি। সরি মাদার ভিয়ার। ঘোড়াটা হঠাৎ ক্ষেপে উঠছিল।
মিঃ দাস।
ফেলে দেয়নি ত তােমাকে ।
লিলি। চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি।
ললিত। তেমন চেষ্টা করলে হয়ত পারত।
লিখি।
লাগাম শুধু বরতে নয় কষতেও আমি জানি।
মিঃ দাস। মাই ব্রেভ গার্ল ।
লিলি এক্সকিউজ মি । আই উইল জয়েন ইউ ইন এ মােমেন্ট।
প:*ব ঘরে চলিয়া তে
ললিত।
মি: দাস।
ললিত।
জ্ঞে, বলুন।

স্বামী-স্ত্রী মিঃ 'দাস। আজ্ঞে । ললিত। আজ্ঞে হা, বলুন। মিঃ দাস। দ্যাখ, ও-সব আজ্ঞে-আসুন বােষ্টমী ভাব এ-বাড়ীতে ১লবে না। ললিত। আমাদের যে এই-ই অভ্যেস। মিঃ দাস। সে-অভ্যেস ছাড়তে হবে। মনে রাখতে হবে ?মি মিঃ দাস, রিটায়ার্ড সিবিলিয়ানের একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করেচ। ললিত। আজ্ঞে •ে-কথা এক মুহূর্তের জন্য ও আমি ভুলি না। লিলি আমায় ভুলতে দেয়না। ম; দাস। , তা ভুলাে না। কিন্তু একটি জিনি তােমায় ভুলতে হবে। লিত কাগ হইত মুল। তার দিকে চাহিল তােমাকে ভুলতে হবে সে তুমি গরীবের ঘরে জন্মেছিলে। মাকে ভুলতে হবে তােমার পরিবারের তােমার সমাজের সেকেলে আদব- কায়দা। আমাদের মেয়ে বিয়ে ক5ে বলে তাদের পায়ের ধূলো তােমাকে নিতে হবে না, আমাদের সঙ্গে তােমাকে কিন্তু হয়েও কথা কইতে হবে না। আমরা তােমাকে বন্ধু বলেই গ্রহণ করেছি, নিও আমাদের বন্ধু বলেই জেনো। উই আর অন্ ফ্রেণ্ডস্ হিয়ার। ললিত। মি: দাস। আবার। আবার ওই সেকেলে 'আজ্ঞে হ কথা শোনা করিয়া কান লাগিলেন

•?"।।
স্বামী-স্ত্রী
.f?
মিসেস দাস।
দ্যাখ ললিত
ললিত। আজ্ঞে বলুন।
মিসেস দাস। এ বাড়ীতে এর অমতে যেমন কোনো কাজ
করা চলে না, তেম্নি উনি যা পছন্দ করেন না, তাও কারু বলা
শোভা পায় না।
মিঃ দাস। কেউ কখনাে তা করেনি, কেউ কখনাে তা বলেওনি।
মিসেস দাস। আশা করি তুমিও তা করবেনা।
ললিত দু'জনার মুখের দিকে চাহিয়া দেল,
কাহাকেও কোন কথা না বলিয়া আবায় কাগজে
মন দিল।
মিঃ দাস। আমরা কারু ওপর হুকুন চালাতে চাইনা। উই ওয়ান্ট
টু মেনটেন এ ডিসিপ্লিন।
ললিত। ডিসিপ্লিন।
মিঃ দাস। হাঁ, জাত হিসেবে আমরা যত বেশি ডিসিপ্লিন্ড, হব,
তত শিগগীর আমরা উন্নতি করতে পারব।
মিনতি প্রবেশ করিল।
তাহার সঙ্গে দুই তরুণী
মিনতি। মাসীমা! এই দ্যাখ কে এসেছে।
মিসেস দাস।
কে । শান্তা না ?
শান্তা। চিন্তে ত পারলেন না দিদিমা !
মিসেস দাস। ওমা! তাই নাকি! (উঠিয়া) এস ভাই এস, বােস।
এ মেয়েটি কে?
৭

স্বামী-স্ত্রী
শান্তা। আমার এক বন্ধু, নাম পার্বতী।
মি: দাস। কী নাম বল্লে ?
শান্তা। পার্বতী।
মিঃ দাস। পাৰ্বতী।
শান্তা। হ, দাদা মশাই।
মিঃ দাস। আঃ ও-সব সেকেলে নাম আর কেন ? নামটা
বদলে দাও।
শান্তা। ওর বাবাকে আপনি জানেন, পাটনার মহেন্দ্র বাবু।
মিঃ দাস। 'আরে আমাদের মহেন্দরের মেয়ে ! বােস, বোস।
মহেন্দকে মনে আছে,রমা ?
মিসেস দাস।
মনে পড়ছে না ।
মিঃ দাস। সেই ডেপুটি-হাকিম গাে! পাটনায় ছিল, আর ছিল।
মিসেস দাস। হঁ্যা, হ্যা, নে পড়েছে।
মিঃ দাস। পড়বেই। তার পরিচয় ছিল পূজারী হাকিম।
সকাল-সন্ধ্যেয় ঘরে খিল দিয়ে শিব-পূজো করত।
পাৰ্বতী। এখনও তাই করেন।
মিঃ দাস। বেচারা ভাবছে কালস্রোতের গতি রােধ করবে।
আমি বলছি শান্তা, সে তা পারবেনা—আর পারেনি।
মিসেস দাস। তােমার সঙ্গে দেখা হয়েছে নাকি ?
মি: দাস। না।
মিসেস দাস। তবে কি করে জানলে যে পারেনি।
নিঃ দাস। এই তার মেয়েকে দেখে। পূজোরী-কাকিম মহেন্দরের
৮

স্বামী-স্ত্রী
মেয়ে হিল-তােন্না জুতো পরেচে, শাড়ীকে হবল-স্কার্ট করে তুলে, গায়ে,
একটা স্কাফ জড়িয়েছে ; দেখচনা!
পাৰ্বতী। কিন্তু আমার বাবা অন্তরে অন্তরে খাঁটি স্বদেশী। আর
আমিও তাই!
মিঃ দাস। তুমিও তাই !
পার্বতী। আমার বাইরের এই বেশ দেখে বিচার করলে ভুল
করবেন।
মি: দাল। আশা করি এটা তােমার অন্তরের কথা ?
পার্বতী। তা বিশ্বাস করতে পারেন।
মিঃ দাস। তা হলে সত্যি কথা বলতে কি তুমি অন্তরেও যা বাইরেও
তা, অর্থাৎ একেবারে ও-দেশী।
মিসেস দাস। কেন ওকে ওসব কথা বলচ, বলত ?
শান্তা। পার্বতী চমৎকার গান গাইতে পারে, দিদিমা ।
মিসেস দাস। তাই নাকি! আমাদের একখানা শােনাবে, মা ?
শান্তা। লিলিকে শােনাবাে বলেইত ওকে নিয়ে এসেছি। লিলি
কোথায় ?
মিসেস দাস। লিলি এখুনি আসবে।
শান্তা। দিদিমাকে একখানা গান শােনাবি ভাই পাৰ্বতী ?
পাৰ্ব । তােমার দাদামশাই যদি তাও সেকেলে বলেন?
মিসেস দাস। ওঁর কথা ছেড়ে দাও। উনি ওই রকমই বলেন।
মিঃ দাস। হ, মা, আমি চিরদিনই ওই রকমের। 'আমার মনেও
যা, মুখেও তাই। আমি বিশ্বাস করি কালস্রোতকে প্রতিরােধ করা

স্বামী-স্ত্রী
যায়না। তাই আমি স্রোতের অনুকূলে এগিয়েই যেতে চাই। আমি
বিশ্বাস করি সেকেলে জীবনযাপন একালে সম্ভবপর নয়, তাই সবরকমেই
আমি একেলে হতে চাই।
মিসেস দাস।
দেখ, তোমার বক্তৃতার রােগ 'আজ ও রসো।
মিঃ দাস। বক্তৃতা নয়, রমা। আমি খােলসা সব কথা বলতে
ভালবাসি। ঝিঙ্গে ভেজে তাকে পটোল বলে পরিবেশন
আমি নারাজ।
শান্ত। ঝিঙ্গেকে পটোল বলে চালাতে কে চায়, দাদামশাই ?
মিঃ দাস। অনেকেই চায়, দিদি, অনেকেই চায় ।
করতে
মিনতি হাসিয়া চলিয়া গেল।
মিসেস দাস। ও ছেলেমানুষ, অত সব কি বােঝ? তুমি মা
'আমাদের একটা গান শােনাও।
পার্বতী। শান্তা, আমি সে বাজিয়ে গাইতে পারিনা, ভাই।
মিসেস দাস। তার জন্য ভাবচ কেন ? ললিত!
ললিত। আজ্ঞে ।
মিঃ দস পায়চারি করছিলেন। দ্রুত তাহার
দিক ফিরিয়া চাহিলেন! শান্ত য়া ললিতের
কাছে গিয়া নমস্কার করিল।
শান্তা। আসুন ললিতবার, আমার বন্ধুকে একটু সাহায্য করবেন।
ললি? উঠিয়া মাড়াইল

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। তবু ভালো চিন্তে পারলেন।
শান্তা। অনেকদিন আগেই চিনেচি-আপনি কি রত্ন। আসুন ।
ললিত ঘরের অপর দিকে গিয়া পিয়ানোয় বসিল।
পাৰ্বতী।
ওর দরকার নেই। আমি একখানা কীৰ্ত্তন গাইব।
মিঃ দাস।
মিসেস দাস। তাই গাও মা, আমার বাবা ও গাইতেন, ছেলেবেলায়
শুনতুম।
মিঃ দাস কোন কথা ) বলিয়া বাহিরে চলিয়া
গেলেন। পাবতী কত্তন শুরু করিল ।
পার্বতীর গান-কীৰ্ত্তন
( যবে) যমুনার কুলে চাদ উঠেছিল, হেরেছিনু সখি তার
( তার ) নামটি জানিনা, তবুও সরমে শুধতে পারিনা ক'রে
( তার নাম জানিনা) ( সেই রূপ কিশােরের)
( সেই তো আমার জীবন মরণ, এই ছাড়া আর নাম জানিনা)
তার এমনিরপের মায়া,
বুঝিতে পারিনি কে যে চাদ আর কেবা সে চাদের ছায়া।
বেনু রবে যদি বনের হরিণ আপনি হয় অধীর,
( তার ) গৃহকোণে মোর মনের-হরি কেমন রহিবে রি ?
( সে যে ছুটে যেতে চায়) (গৃহ পিঞ্জর টুট।
( তটিনী যেমন সাগরে মিশায়, তেমনি করেই ছুটে যেতে চয় )
সখি, মনে মনে যারে চই,
( তরি)

স্বামী-স্ত্রী (১) নয়ন হইতে জানিনা কখন হৃদয় নিয়েছে ঠাই । ( সেই ) নীল তনু সুরি রাঙা বাস মোর- হয়েছে নীলাম্বরী, ( মোর) মঃর প্রণয় ফুল হয়ে ঝরে সেন' মধু মঞ্জরী। ( ঝরে পড়ে গো) ( আমার প্রেমের মধূ মঞ্জরী ( নবু হ'তে সেই চরণতলে এণাম হয়ে) কীৰ্ত্তন শেষ হইয়া গেল। সকলে চুপ করিয়া রহিল। মিঃ দাস প্রবেশ করলেন। । । ২ মিঃ দাস। বাইরে দাড়িয়ে শুনছিলুম, মা । চমৎকার গাইলে। বেশ লাগল। পার্বতী। সেকেলে গান, মনে রাখবেন কিন্তু। মি: দাস। ভুল করলে মা ! এসব কালের গণ্ডীতে আবদ্ধ রাখা GLAY--A thing of beauty is jov for ever! লিলি বেশ পরিবর্তন করিয়া ফিরিয়া আসিল। বাসন্তী রংয়ের শাড়ী, লাল ব্লাউজ, পা পাির। লিলি। আই ম্যাম রেডি ফাদার। মিঃ দাস। ইউ লুকস্ প্লেনডি ইন স্যেকরন। লিলি। ডু আই ড্যাড ? একখানা চেয়ারে বসিল মিঃ দাস। ডাজনট সি, মাদার? মিসেস দাস। বলতে নেই, কিন্তু সত্যি সুন্দর মানিয়েছে । ১২

স্বামী-স্ত্রী
।
fat: a1 1. Let us have the opinion of a more
C: mpe:
tent judge. ললি তুমিই বল । এ ব্যাপারে তােমারই মতের দাম বেশী ।
ললিত। আমি নীল রংই বেশী পছন্দ করি।
লিলি। মিনি-দি নীলাম্বরী পরে বলেই বােধ হয় ?
ললিত। না, আকাশ নীল বলে ; সাগর নীল বলে।
মিনতি প্রবেশ করিল। তাহার নীল
শাড়ী দেখিয়া লিলি কহিল
লিলি।• I hate blue !
শান্তা। লিলি, এই আমার বন্ধু পাৰ্বতী।
লিলি। উনিই বুঝি গান গাইছিলেন।
শান্তা। তােমাকে গান শােনাব বলেই ওকে এনেছি।
লিলি। ও-ঘর থেকেই শুনলুম। বেশ গাইলেন ।
পার্বতী।
সবে শিখচি।
মিনি। ব্রেকফাষ্ট তৈরি মাসিমা।
মিঃ দাস। Come clailing, ব্রেক ফাষ্টে বসে আমরা গানের
আলােচনা করব।
মিসেস দাস। তােমরাও চল, শান্তা।
লিলি। মিনিদি, তুমি এদের নিয়ে যাও। আমি একটু পরে
যাচ্ছি।
মিনতি। এস, শান্তা।
শান্তা। চল, মিনিদি
তাহারা চলিয়া গেল

স্বামী-স্ত্রী
মিঃ দাস। চলগাে! আমরাও এগিয়ে পড়ি।
মিসেস দাস। উত্তরে হাওয়ায় ও-ঘরটা বড় ঠাণ্ডা থাকে। এইটে
গলায় জড়িয়ে নাও।
মিঃ দাসের গলায় একটা স্কাফ চড়াইয়া দিলেন
মিঃ দাস। তােমার হাতের মতই নরম আর গরম।
মিসেস দাস। আঃ! মেয়ে-জামাই রয়েছে না।
fa: 77777 Nerer mind! We are all friends here !
সকলে সবাইকে সব কথা বলতে পারে।
কাসি: কসিত মিসেস দলের বহু অবলম্বন
করিয়া বাহির হইয়া লেন। লিলি ললিতের কাছে
য়। বড়াইল
।
লিলি। চল, ব্রেকফাষ্ট যাবে না ?
ললিত। ক্ষিদে নেই।
লিলি কোচ হাহ'র পাশে বসি
লিলি। আমাকে মা কর।
ললিত। তােমার অপরাধ ?
লিলি। মিনি-দির নীলাম্বরীর কথা বলেছিলুম বলে তুমি রাগ
কোরো না।
ললিত। মিনিকে নীলাম্বরী বেশ মানায়।
লিলি। কোন কিছু ভেবে আমি সে-কথা বলিনি।
ললিত। তবে বল্লে কেন ?
লিলি। নীল রং সত্যিই আমার ভালাে লাগে না।
১৪

স্বামী-স্ত্রী
কবে ?.
ললিত।
এক দিন লাগবে।
লিলি।
ললিত। চুল যে-দিন সাদা হবে, দৃষ্টি হবে ঘােলাটে।
লিলি। আমি কোন দিন ছেমন বুড়ো হব না। দেখাে তুমি !
ললিত লিলিকে কাছে টানিয়া লইল
ললিত। আমারও কামনা চির-যৌবনাই তুমি থাক।
লিলি। তােমার ত আমাকে একটুও ভালাে লাগে না।
লিলি নিজেকে মুক্ত করিয়া সরয়া বসি,
ললিত। কি করে জানলে ?
লিলি। তােমার মুখ দেখে।
ললিত। তুমি আমার দিদির চিঠির কথা ভুলে যাচ্ছ।
কাগজ তুলিয়া লইল
লিলি। ভুলিনি ত !
ললিত ।
কি ঠিক করে ?
লিলি। আমি যেতে পারব না।
ললিত। দু’দিনের জন্যে ও না ?
লিলি। ।
উঠয়া মিসেস দাস যে
বসিয়াছিলেন
সেই চেয়ারে গিয়া বসিল। ললিত কাগজ রাখি
তাহার দিকে চাহিয়া রহিল। তারপর উঠিয়া তাহার
সাম্নে গিয়া দাড়াইল
ললিত। তুমি কেন যেতে পারবে না ?
লিলি। যেতে পারব না, এটুকুই কি যথেষ্ট নয় ?

স্বামী-স্ত্রী
•)
লবিত। আমি যদি তােমার স্বামী না হতুম, তাহলে ওইটুকুই যথেষ্ট
হােতাে।
লিলি। স্বামী হয়ে বলে সব কথাই তােমাকে বলতে হবে ?
ললিত। বলা উচিত।
লিলি। তাহলে তােমারও ত সব কথা আমাকে বলা উচিত ?
ললিত। নিশ্চয়।
লিলি। বেশ, তাহলে বল। কেন আমাকে তােমার দিদির বাড়ী
যেতে হবে ?
ললিত। আমার দিদি যেতে লিখেছেন বলে।
লিলি। তােমার দিদি লিখেছেন,
লিখেছেন, তুমি যাও।
আমি
কেন যাব ?
ললিত। তােমাকেই নিয়ে যেতে লিখেছেন যে !
লিলি। তিনি তােমার দিদি, কিন্তু আমার কে, সে আমাকেও
তিনি হুকুম করবেন ?
ললিত। হুকুম করেন নি, স্নেহের দাবি জানিয়েছেন।
লিলি। তাই আমার কোন দাবিই আর টিকবে না। না ?
ললিত। কেন এমন করছ বলত?
লিলি। তােমরা আমার মতামতের এতটুকু ও মূল্য দাও না বলে।
দ্রুত ঠয়া ঘরের বা পাশের দরজার পর্দা ধরিয়া
দাড়াইল। পেছন দিক বা পাশের দরজায় মিনতি
আসিয়া গড়াইল

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। মেলােমশাই তােমাদের জন্যে বসে রয়েছেন, লিরি
লিলি দ্রুত ঘাড় বাঁকাইয়া মিনতির দিকে চাহিল।
তারপর ললিতের দিকে, তারপর পর্দা সরাইয়া
চলিয়া গেল
ললিত।
মিনতি।
মিনতি আগাইয়া আসিল
মিনত্তি। লিলিকে ফের বুঝি চটিয়েচ ?
ললিত। লিলির কথা থাক। আমার কথাই শোন।
মিনতি। বল ।
ললিত। বােস আগে।
মিনতি কৌচে বসিল
মিনতি। বল এবার।
ললিত তাহার পাশে বসিল
ললিত। কাউকে বলবেনা, বল ।
মিনতি। কাউকে বলতে পারব না, এমন কোন কথা যদি থাকে,
তাহলে আমাকে তা বােলাে না।
ললিত। কেন ?
মিনতি। যদি গােপন রাখতে না পারি ?
ললিত। আমার জীবনের অনেক গােপন কথা তােমাকে বলিচি,
মিন।
মিনতির হাত ধৰি

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। এ আবার কি?
মিনতি হাত ছাড়াইয়া লইয়া সরিয়া বসিল
ললিত। এই ত প্রথম নয়।
ললিত তাহার দিকে সরিয়া বসিল
মিনতি। আগেকার সে-সব কথা ভুলে যাও।
ললিত। কেন ?
মিনতি। তুমি এখন বিবাহিত।
ললিত। না, বিয়ে আমার হয়নি।
মিনতি। তাই নাকি!
ললিত। হেলে উড়িয়ে দিও না মিনতি। তুমি বুদ্ধিমতী, তীক্ষ্ণ
তােমার দৃষ্টি। তুমি নিশ্চয় বুঝে, নিশ্চয়ই ধরতে পেরেচ যে, লিলিতে
আমাতে সত্যিকারের মিলন আজও হয়নি।
মিনতি। এই লিলিকেই কি তুমি চাওনি ?
ললিত। যাকে চেয়েছিলুম তাকে পাইনি।
মিনতি। পেয়েও যারা হারায়, তারা দুর্ভাগা।
ললিত। দুর্ভাগারাই চায় সান্ত্বনা। তােমার কাছে তা-ই আমি
চাই মিনতি।
মিনতি। আমার সাধ্য কি যে তােমায় দোব সান্ত্বনা !
মিনতি উঠিয়া দাড়াইল,
ললিত। বােস।
মিনতি। না, আর বােস না।
ললিত। আমার সব কথা বলা হয়নি, মিনতি।

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। তােমার সব কথা শােনবার অবসরও যেমন আমার নেই,
তেম্নি নেই কোন প্রয়ােজন।
ললিত। আমার ওপর রাগ করে ?
মিনতি। এ সন্দেহ কেন বলত ?
মিনতি বসিল
ললিত। কেবলই আমায় এড়িয়ে চল।
মিনতি। তাই চলাই ভালো।
ললিত ভালাে !
মিনতি। নয় কি ?
ললিত। কিন্তু তােমার স্নেহ পেয়েছিলুম বলেই ত এ বাড়ীতে আজ
স্থান পেয়েছি।
মিনতি। তুমি কী বলতে চাও !
ললিত। শক্‌ড না হয়ে শােন মিনতি। 'আমি তােমাকে নিয়ে
বায়ােস্কোপে যেতুম
লিলিও তােমার সঙ্গে থাকবে বলে, তােমাকে আমি
গান শােনাতুম, গল্প শােনাতুম লিলিও শুন্তে পাবে বলে।
লিলি ভাবত
তােমার সঙ্গে সঙ্গে থেকে সে তােমাকেই সাহায্য করছে, আর
মিনতি। আর আসলে আমিই তােমাকে সাহায্য করতুম লিলির
হৃদয় জয় করতে। না ?
ললিত। হাঁ, তাই করতে। কিন্তু না জেনে। আর সেইটেই হচ্ছে
সন।
মিনতি। হাঁ, সেইটেই সব চেয়ে মজার কথা !
ললিত। তারই মাঝে কানাকানি শুরু হােলাে। লােকে বলতে

স্বামী-স্ত্রী
লাগল তােমার সঙ্গেই আমার বিয়ে হবে, লিলি আমাদের দূতী। লিলির
সেই দুর্ণাম দূর করবার জন্যই আমাকে তাড়াতাড়ি সব করতে হােলাে।
মিনতি। তাড়াতাড়ি লিলিকেই বিয়ে করতে হােলো।
afal That was a big surprise! Was’ıt it?
মিনতি। হাঁ, সবাইকেই তুমি চম্‌কে দিয়েছিলে।
ললিত। তােমাকে ও !
মিনতি। স্বীকার করচি।
ললিত।
তােমার মেসো, মাসি, এমন কি লিলি অবধি বুঝতে
পারেনি যে তােমাকে ছেড়ে লিলিকেই আমি বিয়ে করতে চাইব।
মিনতি। বলতে তােমার বেশ আনন্দ হচ্ছে ?
ললিত। না। লা হচ্ছে।
মিনতি। লজ্জা হচ্ছে !
ললিত। লজ্জা হচ্ছে আমার নির্বুদ্ধিতার কথা মনে করে।
হচ্ছে বুদ্ধির দোষে আমি আমার জীবনের সুখ
জীবনের সুখ শান্তি বিসর্জন
দিয়েচি বলে।
মিনতি।
ওসব আমি শুন্তে চাইনা।
ললিত। সব না শুনেই চঞ্চল হয়ােনা, মিনতি। আমি জাম
লিলির বয়স কম । একেবারে ছেলেমানুষ। ভালােবাসার কিছুই সে
জানেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতুম সে যখন বড় হবে, তখন :-
জানবে ভালােবাসা কি। আজ ওকে দেখি আর আমার মনে হয়, ও-যেন
এমন একটি কুঁড়ি বা কখনো আর ফুটবেনা ।
উঠিয়া একটু দূরে গিয়া দাড়াইল ।

স্বামী-স্ত্রী
•..'
লিলি প্রবেশ করিল। সে শাড়ী বদলাইয়া,
আসিয়াছে-নীলাম্বরী পরিয়াছে।
লিলি। মিনিদি, তােমার এই নীল শাড়ীখানা আমি ভাই নিলুম।
মিনতি। আমার সবইত তােমার বােন্।
উঠিয়া দাড়াইল
লিলি। চমৎকার মানিয়েচে ত ।
মিনতি। আমি দেখে আসি ওঁরা কি করছেন।
ললিত । কিন্তু তােমাকে আমার সব কথা বলা হয়নি মিনতি।
মিনতি। আসছি ভাই, লিলি।
চলিয়া গেল। লিপি ললিতের স'য়ে গেল
লিলি। মিনিদিকে তুমি কি বলছিলে ?
ললিত। তােমারই কথা।
লিলি। সত্যিই আমি যেন কী হয়ে যাচ্ছি। তুমি কিন্তু রাগ
কারােনা।
ললিত।
তােমার ওপর রাগ করব আমি ।
লিলি।
তােমার দিদির বাড়ী আমি কেন যেতে চাইনা, জান?
ললিত। তাই জান্তেইত চেয়েছিলুম।
লিলি। মা-বাবাকে ছেড়ে আমি যেতে চাইনা বলে।
কৌচে বসিল
নত
-~-এই দু।
লিলি। হাঁ !
ললিত। দূর ! এও আবার একটা কারণ !

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। এতই কি তুচ্ছ !
ললিত। মােটেত দু’দিনের জন্যে যাব।
ললিত তাহার পাশে বসিল
লিলি। দুদিনও আমি আমার মা-বাবাকে, ছেড়ে থাকতে
পারবন।
ললিত। এ-কথা আর কাউকে বােলােনা, শুনে হাসবে।
লিলি। যারা হাসবে, তারা ত আমার মা-বাবার দুঃখ বুঝবেনা।
ললিত। তুমি আমার সঙ্গে গেলে তােমার মা-বাবা দুঃখ পাবেন ?
লিলি। জাননা, তারা আমায় চোখের আড়াল করতে পারেন না।
উঠয়া গিয়া চেয়ারে বসিল। ললিত- তাহার সায়ে
গিয়া দাড়াইল।
লতি। লিলি, তুমি আর ছেলেমানুষটি নেই।
লিলি। তা নেই বলেই মা-বাবার সুখ-দুঃখ আজ আমাকে বড়
করেই দেখতে হবে।
ললিত। কিন্তু তােমার মা-বাবা যে দুঃখ পাবেন, তাইবা তােমাকে
কে বলে ?
লিলি। তারাই বলেছেন। তাদের ইচ্ছে নয় যে আমি তােমার
সেই পাড়াগেঁয়ে দিদির বাড়ী যাই।
ললিত। কিন্তু আমার ইচ্ছামত কোন কাজই কি তুমি করবেন ?
লিলি। করব। কিন্তু মা-বাবার অমুখর।
ললিত। তুমি তাহলে আগে তাদে, মেয়ে, তারপর আমার স্ত্রী?
লিলি। তা কি মিথ্যে ?
২২

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। আজ তা সত্য নয়।
লিলি। একদিন যা সত্য থাকে আর একদিন তা মিথ্যে হ'তে
পারেনা।
ললিত। কিন্তু বিয়ের আগে তােমার মা-বাবা যা ছিলেন,এখন তা নেই।
লিলি। আগেকার চেয়ে তারা আমায় একটুও কম ভালো-
বাসেন না।
ললিত। আমি সে-কথা বলচিনে।
লিলি। তবে ?
ললিত। বিয়ের মানেই হচ্ছে•••
লিলির স্বামীর দাসত্ব স্বীকার ?
, , নতুন সংসার গড়বার প্রয়াস।
লিলি। নতুন করে সংসার গড়বার কথা ভাবব তখন...
ললিত। কখন ?
লিলি।
যখন এ সংসার ভেঙ্গে যাবে।
ললিত। তার মানে ?
যখন আমার মা-বাবা এ সংসার থেকে চিরকালের জন্যে
লিলি।
চলে যাবেন।
দুই হাতে মুখ ঢাকিল
তার আশ্ন নয় ?
ললিত।
লিলি।
, না।
ললিত তাহার পিছনে বসিল, তাহার পিঠে হাত
বুলাইতে লাগিল।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। তুমি কঁাদচ কেন ?
লিলি। তুমি আমায় কেবলই কাদাও কেন? ওঁরা কি মনে
করবেন, বল ত ?
ললিত। কারা ?
লিলি। মা আর বাবা ।
ললিত। কে তাদের বলবে ?
লিলি। কেঁদে কেঁদে আমার চোখ লাল হবে। দেখেই বুঝবেন
আমি কঁদছিলুম।
ললিত। সারা জীবন ধরে কঁদিবার চেয়ে দু-চার ফোটা চোখের জল
ফেলে বিষয়টার মীমাংসা এখনই করে ফেলা ভালো নয় কি ?
লিলি। কী আমি করিচি বলতে পার ?
ললিত। তুমি আমায় বিয়ে করে কিন্তু আমায় ভালােবাসনি।
কী যে তুমি করেছ, তাও তুমি বােঝনি। তাই তােমাকে কাছে পেয়েও
আমি তােমাকে আপন করতে পারলুমনা। আর তা পারলুমনা বলেই
সুখের বদলে দুঃখই পেলুম, ভবিষ্যতের জন্য ও সঞ্চয় করে রাখলুম নিরাশার
বেনা।
লিলি। সবই আমার দোষ ?
ললিত। না দোষ তোমার নয়, আমার। আমিই বােকার মত
ভেবেছিলুম আমার ভালােবাসা দিয়ে তােমারে ভালােবাসা জাগাতে
পারব। কিন্তু আমি তা পারিনি। আমি নিজেকে প্রকাশ করতে
পারিনি। ক্রটি আমার সর্বত্রই রয়ে গেছে। আজ..
লিলি। বল, আজ
।
২৪

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। আজ সমস্ত শক্তি দিয়ে শেষ চেষ্টা আমি করে দেখব।
লিলি। শেষ চেষ্টা।
ললিত। হাঁ, নিজেকে বােঝাবার শেষ চেষ্টা। লিলি । লিলি।
লিলি। বল, আমি শুনচি।'
ললিত। আমি বুঝিয়ে বলতে পারছিনা আমি তােমাকে কত
ভালবাসি !
লিলি।
ভালো যদি বাসতে তাহলে কি আমাকে তুমি ব্যথা দিতে
পারতে ?
ললিত। কিন্তু এতে ব্যথা পাবার কি আছে ?' দু’দিনের জন্য,
শুধু দু’দিনের জন্য, তুমি আমার সঙ্গে যাবে। আমার এই অনুরােধটুকু
রাখলেই আমি খুশী হব, ভবিষ্যতে অনেক কিছু পাবার আশা নিয়ে
ন্দে দিন কাটাতে পারব। বল, লিলি, বল তুমি যাবে।
লিলি ধীরে ধীরে উঠিয়া দাড়াইল।
লিলি। না, আমি যেতে পারব না।
লিলি আর অপেক্ষা না করিয়া সােজা ডাইনিং
হলের দিকে চলিয়া গেল। ললিত বাহুযুগলের মাঝে
মাথা গুঙ্গিয়া বসিয়া রহিল, মিনতি প্রবেশ করিল।
ধীরে ধীরে আসিয়া ললিতের পিছলে দাড়াইল।
মিনতি। তােমার কমল-কলি কি আজও ফুটল না ?
ললিত মাথা তুলিয়া চাহিয়া দেখিল।
ললিত। না মিনতি। মার অনুরাগে সে তাপ নেই, যার স্পর্শে
চুড়ি ফোটে।

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। দুঃখের কথা।
মিনতি ফিরিয়া যাইতে উদ্যত হইল।
ললিত। মিনতি।
উঠিয়া গিয়া তাহার হাত ধরিল।
তুমিই পার মিনতি, শুধু তুমিই পার।
মিনতি। কি পারি বলে তােমার মনে হয় ?
ললিত। আমার ওই কমল-কলি তুমিই ফুটিয়ে তুলতে পার।
মিনতি। পারলেই বা 'আমি তা করব কেন?
ললিত। তুমিই ত করবে। তােমার দয়া 'অাছে, মায়া আছে,
অপরের জন্যে স্বার্থত্যাগের শক্তি আছে। আর
মিনতি। বল আরাে কি বড় বড় কথা শুনিয়ে আমাকে ফুলিয়ে
ফাপিয়ে তুলতে চাও?
ললিত। আর এই বিয়ের ব্যাপারে তােমারও অনেকখানি দায়িত্ব
রয়েছে।
বৈকি !
মিনতি। আমার দায়িত্ব।
ললিত। তােমার ও দায়িত্ব রয়েচে
লিলিকে লক্ষ্য
রেখে তোমাকে উপলক্ষ্য করে আমি যা বললুম, তা যদি তুমি লিলির
কাছে পোঁছে না দিতে তাহলে লিলি হয়ত আজ ও কুমারী থাকত।
মিনতি। তােমার সেদিনকার সে ছলনা ধরতে পারিনি বলেই কি
আজ তােমার বিবাহিত জীবনে সুখ-শান্তি এনে দেবার দায়িত্ব আমাকেই
নিতে হবে ?
ললিত। লিলি বিয়ের জন্য আদৌ তৈরি ছিল না। বিবাহিত
২৬

স্বামী-স্ত্রী
| জীবনের স্বতন্ত্র ব্যবস্থার জন্য আজও সে তৈরি নয়। তুমি তাকে তৈরি করে
দাও মিনতি। তার বাপ-মায়ের স্নেহের নাগ-পাশ থেকে মুক্ত করে আমি
যাতে তাকে আমার স্ত্রীর আসনে বসাতে পারি, তারই ব্যবস্থা তুমি কর।
মিনতি। স্নেহের বাঁধনকে ‘নাগ-পাশের সঙ্গে তুলনা করে স্নেহের
অমৰ্যাদা তুমি কোরাে না।
ললিত। কিন্তু বাপ-মায়ের যে স্নেহ স্ত্রীকে তার স্বামীর কাছ থেকে
দূরে টেনে রাখে, সে স্নেহকেও তুমি মৰ্যাদা দিতে চাও মিনতি ? ওই
স্নেহের খরস্রোতেই ওর অন্তরে ভালােবাসার অঙ্কুর গজাতে পারছে না।
তুমি ওকে শুধু ওর বাপ-মার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে এনে আমার হাতে
সপে দাও।
মিনতি। আমি ?
ললিত। আমার এই উপকারটুকু তুমি করবে না ?
মিনতি। না।
ললিত। কেন করবে না ? তুমি ত তাকে ভালােবাস।
মিনতি। বাসি। কিন্তু এ কাজ
ললিত।
এ কাজ একা তুমিই করতে পার মিনতি। তুমি ঠিক
আমাদের মত নও। তুমি সহজেই মানুষের অন্তর স্পর্শ করতে পার•••
ভালােবাসা দিয়ে সবাইকেই তুমি জয় করতে পার।
মিনতি। চুপ! চুপ! ও-সব কথা আর বােলো না।
ললিত। বল, তুমি তা করবে ?
মিনতি। আমি পারব না, লিলির মনে আমি ভালােবাসা জাগিযে
তুলতে পারব না।
২৭,

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। কেন পারবে না ? চেষ্টা কেন তুমি করবে না। মিনতি ?
• বল। তোমাকে বলতেই হবে।
মিনতি। বল্লে ও তুমি বুঝবে না।
মিনতি যেন জবাবদিবার জন্য মুখ ফিরাইল। কিন্তু কোন
কথা না বলিয়া দ্রুত ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।
এটা এই বাড়ীর দোষ। এ বাড়ীতে মানুষ বাড়তে পাবে না, নিজেকে
প্রকাশ করতে পারবে না। মানুষের কথা কেউ এখানে শুনবে না, কেউ
বুঝবে না মানুষের ব্যথা।
মিনতি আর আসিয়া দরজার কাছে দাড়াইল।
এই যে মিনতি আবার এসেচ ! দ্যাখ দাড়িয়ে কেমন করে এ-বাড়ীর সব
নিয়ম-কানুন শৃঙ্খলা আমি ভেঙ্গে ফেলি। ওই টেবিলটা ওই কোনেই
কেন অচল থাকবে ?
ছুটিয়া টেবিলের কাছে যাইয়া সেটাকে টানিয়া
সরাইয়া রাখিল।
এই কোচখান কেন বােজ বােজ এক ভাবেই এখানে পড়ে থাকবে ।
ছুটিয়া কোম্পানিকে সরাইয়া দিল। চাহিয়া ঘরটা
ভালো করিয়া দেখিল তারপর কয়েকখানি চেয়ারের
কাছে গিয়া এক একখানি করিয়া ফেলিয়া দিতে
লাগিল।
এই চেয়ারগুলো সৃষ্টির আদি থেকেই যেন এখানে রয়েছে। মানুষকে
চলতে দেয় না, নড়তে দেয় না, পঙ্গু করে রাখে। আমি দূর করে ফেলে
দোব এসব। এনি করে, এম্নি করে...
দরের মাঝখানে দাড়াইয়া
২৮

স্বামী-স্ত্রী
০
এক বছর, জান-মিনতি, এক বছর তােমাদের এই পাপ-পুরীতে বাসা •
বেঁধেচি। এই এক বছর আমি ভালাে করে নিজের পায়ের শব্দও শুনিনি,
নিজের কণ্ঠস্বরও যেন আমি ভুলে গেচি। এরা সবাই চুপি চুপি কথা
কয় আর বসে বসে কাসে। আজ আমি সব নিয়ম বদলে দিলুম, তােমার
মেসাের সব ডিসিপ্লিন ভেঙে ফেলুম, আজ আমি মুক্ত, আমি মুক্ত।
সহসা থামিল। ডাইনিং হলের দরজায় মি: দাস,
মিসেস দাস, লিলি আসিয়া দাঁড়াইল। মিনতি
সরিয়া গেল।
মিসেস দাস। ললিত! ললিত ।
ললিত। আমায় বলছেন?
মিঃ দাস। এটাকে কি বাংলা থিয়েটারের ষ্টেজ মনে করেছ?
লিলি। এ-সব কি করেচ, তুমি !
ললিত। একটুখানি আমাদের আয়ােজন লিলি।
মিসেস দাস। জিনিষপত্তর সব এমন ওলট-পালট করলে কেন ?
ললিত। পরখ করে দেখলুম শক্তি এখনাে অবশিষ্ট আছে কি না।
অমন করে চেঁচাচ্ছিলে কেন ?
ললিত । পরখ করে দেখলুম আমি বােবা হয়ে গেছি কি না।
মিসেস দাস। কাছেই একটা বন আছে দরকার হলে সেখানে
গিয়ে গলা সেধে।
মি: দাস। পাশেই একটা মাঠ আছে দরকার হলে সেখানে গিয়ে
আবৃত্তি কোরাে।
মি: দাস।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। তার আর দরকার হবে না। আমি বুঝিচি, আমি বেঁচে
আছি, এখানকার শৃঙ্খলার শৃঙ্খল পরেও আমি বেঁচে আছি। কিন্তু
আমি ছিড়ব, ছি’ব এই বাধন!
লিলি। তুমি কি ক্ষেপে গেলে ?
ললিত। এখনাে একেবারে যাইনি, কিন্তু শিগগীরই যাব।
মিসেস দাস। কি হয়েছে তাই তুমি বল না।
ললিত। আমি তা বলে বােঝাতে পারব না।
দেশের কোন চিঠি এসেচে নাকি ?
মিসেস দাস। খারাপ থপর কিছু ?
ললিত। না, না, সে সব কিছুই নয়।
লিলি।
ললিত কিছুকাল পরের মাঝে পায়চারি করি
একখানি কৌচে বসিয়া পড়িল। মিঃ দাস তাহার
কাছে গিয়া দাড়াইলেন।
মি: দাস। ললিত! What ails you, my boy ?
ললিত। Sothing, sir, nothing!
হয়। অনিকে যাইতেছিল। মিসেস নাস তাহার
সায়ে গিয়া দাড়াইলেন।
মিসেস দাস ! ললিত, বাবা, আমি তােমার মা...
ললিত। মানলুম। বলুন কি করতে হবে।
মিসেস দাস। তােমাকে বলতে হবে তােমার কি হয়েছে।
ললিত সে। হইয়া মুখোমুখি দাড়াই।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। সত্যিই শুন্তে চান ?
মিঃ দাস। আমরা সকলেই শুন্তে চাই।
ললিত। বেশশুনুন তবে বলি। আপনাদের এখানে থেকে
আমি সুখী নই।
মিসেস দাস। সেকি কথা! এই ত সেদিন তােমাদের বিয়ে হেলো।
মিঃ দাস। তুমি সুখী নও, সেই কথাটি বােঝতে এত কাণ্ড তোমায়
করতে হােলো? টেবিল চেয়ার সব উল্টে দিতে হােলাে ? You have
a very odd way of showing your temper, my boy!
ললিত। মাঝে মাঝে এই ভাবেই বিদ্রোহ করতে আমার ইচ্ছে হয়,
ইচ্ছে হয় সব কিছু এম্নি করেই ওলট-পালট করে দি।
মিঃ দাস। সদিচ্ছা সন্দেহ নেই। কিন্তু কথাটা আর একটু
খােলসা করে কি বলা চলে না ?
ললিত। অনেকদিনই ভেবেচি কথাটা আপনাদের বলব।
মিসেস দাস। কেন বলনি বাবা?
ললিত। সাহস পাইনি।
মিসেস দাস। কেন আমরা কি তােমার সঙ্গে খারাপ ব্যাভার
কিছু করিচি ?
ললিত। না।
ati You are much too good to me.
আদরে রেখেছেন।
বড় বেশী
কোচে আসিয়া দুই হাতে মাথা চাপিয়া ধরিয়া
বসিয়া রহিল।

স্বামী-স্ত্রী
fa: 7771 And so you are playing the part of a
naugty boy ? যা ?
লিলি। ভেবেচ, বাবা তােমাকে বকবেন ?
মিসেস দাস। উনি কাউকে কখনাে বকেন না।
ললিত।
আপনারা আমার কথা বুঝতে পারচেন না। আপনারা
আমায় আদর দিয়ে দিয়ে নষ্ট করছেন। আপনাদের কৃপায় না চাইতেই
সব আমি পেয়েচি...
মিঃ দাস। আমাদের সে কাজটা বােধ হয় খুবই অন্যায় হয়েছে ?
ললিত। অন্যায়
অন্যায় আপনাদের নয়, অন্যায় 'আমার। 'আমারই
অন্যায় যে নিজেকে আমি আপনাদের কৃপার পাত্র করে রেখেচি, নিজের
শক্তি দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবার চেষ্টা করিনি, নিজের আশা-
আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করবার জন্য জীবনের পথে আজও আমি পা বাড়াইনি।
মি: দাস। Dear me !
what do you want, if you
please ?
ললিত। আমি কাজ চাই, খ্যাতি চাই, প্রতিপত্তি চাই।
মিঃ দাস। Really!
ললিত। যা বললুম তার একবর্ণও মিথ্যে নয় ।
মি; দাস। JVhat a foolish idea! এস মা লিলি, আমাদের
এখানে থাকবার দরকার নেই।
লিলি। বাবা !
fa: 2141 Vothing serious, darling.
লিলি। নিশ্চিত কেউ ওকে এই কুবুদ্ধি দিয়েছে, বাবা ।
।

স্বামী-স্ত্রী ললিত। জান, কে এই কুবুদ্ধি জাগিয়েছে ? লিলি। কে ! ললিত। তুমি। লিলি। আমি ! ললিত। হাঁ, তুমি ! মি: দাস। Look here sir ! What you need is a big dose of bromide to get your nerves cooled ! That's my opinion. afatal Most respectfully I beg to differ, sir ! মিঃ দাস। How dare you contradict me! প্রবলবেগে কাসিতে লাগিলেন লিলি। বাবা ! বাবা ! মিসেস দাস। ( ললিতকে) দ্যাখ কি করলে তুমি। afao i I am sorry, sir. মিঃ দাস। তুমি জান এ বাড়ীতে কখনাে কেউ আমার কোনো কা প্রতিবাদ করেনি, আমার মুখের ওপর কথা বলতে কেউ কখনাে সাহস য়নি।••• ললিত। আমি ত ঠিক এ বাড়ীর লােক নই । মি: দাস। এ বাড়ীর লােক নও! Do you mean to say yau area stranger here ! আমরা তােমাকে আমাদের সর্বস্ব দিলুম- মিসেস দাস। স্নেহ দিলুম, ভালবাসা দিলুম, আমাদের চোখের মণি এই লিলিকে দিলুম.•• ললিত। সবই দিয়েছেন কিন্তু নিয়েছেন কি জানেন ? আপনারা ৩৩

স্বামী-স্ত্রী
আমার স্বাধীনতা নিয়েছেন, শক্তি নিয়েছেন, কৰ্ম্মপ্রবৃতি কেড়ে নিয়েছেন।
আপনারা আমাকে একেবারে রিক্ত করে রেখেছেন। তাই আপনাদের
সৰ্বস্ব পেয়েও আমি আজ সৰ্বহারা। স্ত্রী ভালবাসেনা, বন্ধু বিশ্বাস
করে বিপদে সাহায্য করে না, আত্মীয়স্বজন করে পরিহাস—আর
আমি নিজেকে ভুলে, নিজের কৰ্ম্মশক্তি হারিয়ে পঙ্গুর মত আপনাদের
এখানে পড়ে রয়েছি।
মিঃ দাস। কি করতে চাও তুমি ?
ললিত। আমি কা করতে চাই।
মিসেস দাস। কোন্ দুঃখে তুমি চাকরি করবে, বাবা?
ললিত। চাকরি করব না, ব্যবসা করব ।
মিঃ দাস। মুদির দোকান, না বিড়ির দোকান?
ললিত। আপনি ভুলে যাচ্ছেন আমি এঞ্জিনিয়ার।
মিঃ দাস। এঞ্জিন চালাবে ? মালগাড়ীর, প্যাসেঞ্জার
ট্রেনের ? য় ?
দিও। আমি শিবপুর কলেজ থেকে সসম্মানে এঞ্জিনিয়ারিং পাশ
করিছি।
মি: দাস। ত্যালাপােকার তাই পাখা হবার সখ হয়েছে। কিন্তু
সে সখ মেটাবে কেমন করে ? এখানে ত দেখতে পাচ্ছ চারিধারে বন
আর মাঠ, দূরে দু চারটে পাহাড়। এখানে তােমার এঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যের
পরিচয় কি করে দেবে ?
ললিত। এলাহাবাদে আমার মামার একটা মাইন আছে। আমি
সেই মাইনের ভার নােব।
৩৪

স্বামী-স্ত্রী
মিঃ দাস। Virclessএ কাজ চালাবে নাকি ?
ললিত। মানে ?
মিঃ দাস। এখানে বসে এলাহাবাদের ব্যবসা চালাবে কি করে ?
ললিত। আমি এলাবাদেই যাব ?
মিসেস দাস। তুমি বলচ কি ললিত!
ললিত।
মনে মনে যা আমি স্থির করিচি।
মিঃ দাস। লিলির কথা ভেবে ?
ললিত। লিলিও আমার সঙ্গে যাবে !
মিঃ দাস।
লিলি তাের সঙ্গে যাবে !
মিসেস দাস। দর মত তুমি অামাদের • মেয়েকে কেড়ে
নিতে চাও!
ললিত।
আপনারা ভুলে যাচ্ছেন লিলি আপনাদের মেয়ে হলেও
আমার স্ত্রী।
মি: দাস।
But Lily is not your slave.
মিসেস দাস। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে তুমি নিয়ে যেতে পার না।
ললিত। Are you of the same opinion, sir ?
মিঃ দাস। No. The laiv has given you that right, I
believe.
afao's I hope you will not push the matter to such
an extreine.
মিসেস দাস। লিলিকে আমরা ছেড়ে দিতে পারব না।
ললিত। ধরে রাখলে তারই ক্ষতি করবেন।

স্বামী-স্ত্রী
মিঃ দাস। লিলির ক্ষতি করব আমরা ! 12t: art crazy,
man! You are crazy'.
মিসেস দাস। লিলির ভালো-মন্দ আমরা বুঝিনে !
ললিত।
দেখুন, কথাটা আপনারা
কেন বুঝতে পারছেন না
জানি না। আপনারাও চান লিলি সুখে থাক্ ! আমিও তাই চাই।
লিলি। সেই জন্যই কি তুমি আমাকে আমার মায়ের কোল থেকে
কেড়ে নিতে চাও ?
মিঃ দাস। এ দেখছি মােল্লার মুর্গী পােষা !
afgol Please don't misunder: tand me!
মিসেস দাস।" মেয়েকে পর করে দেবার জন্যে আমরা তার বিয়ে
দিইনি।
ললিত। বিয়ে কেন দিয়েছেন, তাই ভেবে দেখুন। বিয়ে দিয়েছেন
সে সুখী হবে বলে। কিন্তু আপনারা কি বিশ্বাস করেন যে স্ত্রী স্বামীকে
ভালাে না বেসে সুখী হতে পারে ?
fa:*777 i What do you mcan, sir ?
ললিত। লিলি আমাকে ভালােবাসতে পারে নি, ভালােবাসতেই
সে শেখেনি। আপনারা জানেন না কিন্তু মিনতি জানে।
মিসেস দাস। মিনতি আবার ভালােবাসার কি জানে? নিজে সে
কাউকে ভালােবাসে না। একটি নয়, দুটি নয়, কত ভালো ভালো ছেলের
সঙ্গে আমরা তার পরিচয় করিয়ে দিলুম, কারু সদয় সে জয় করতে
পারল না। এই তােমারই সঙ্গে তার, লিলির আগেই, আলাপ
হয়েছিল। পারলে তোমাকে ভালোবাসতে।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। মিতির ওপর আপনি অবিচার করছেন।
মিসেস দাস। আমার বােনের মেয়ে। খাইয়ে পরিয়ে লেখা-পড়া
শিখিয়ে আমি তাকে মানুষ করলুম আর আমি করব তার ওপর
অবিচার ! মিনি! মিনি!
••
মিনতি প্রবেশ করিল
কী তুমি লাগিয়েচ ললিতের কাছে ?
মিনতি। তুমি কি জান্তে চাও নাসিমা ?
মিসেস দাস। তুমি ললিতকে বলে লিলি তাকে ভালােবাসে না ?
ললিত। মিনতি কখনাে তা বলেনি।
মিসেস দাস। ওকেই বলতে দাও। মিনতি ।
লিলি। মিনিদি।
মিঃ দাস। মিনি !
মিনতি একে একে সকলের মুখের দিকে চাহিয়া দেখিল
মিনতি। আমি কাউকে কিছুই বলিনি। তবে আমি জানি...
মিসেস দাস। বল কি জান?
মিনতি। আমি জানি•••
লিলি। কী তুমি জান মিনিদি ?
মিনতি। জানি যে তােমরা সুখী নও।
লিলি মুখ ঘুরাইয়া বাড়াইল
ললিত। তুমি যা জেনেচ তাই সত্য মিনতি।
মিনতি কোন কথা না বলিয়া চলিয়া গেল

স্বামী-স্ত্রী
মিঃ দাস। মিনতি মিথ্যে কথা বলে না, আমি জানি।
ললিত। মিনতি জানে লিলি আমায় ভালােবাসে না।
মিঃ দসি। লিলি ।
লিলি মুখ ফিরাইল
লিলি।
ওর মাথায় কে যেন তাই ঢুকিয়ে দিয়েছে বাবা।
ললিত। ভালােবাসা কাকে বলে লিলি তা জানে না। অার যত
দিন এ বাড়ীতে থাকবে ততদিন তা জানবেও না।
মি: দাস ও মিসেস মাস। কেন ?
ললিত। লিলি ঃ 'আপনাদের ভালোবাসে।
মি: দাস।
Good Gud ! Tre you jcalous of u?
মিসেস দাস। এমন কথা জীবনে আমি কখনাে শুনিনি।
ললিত। শােনেননি বলেই তা মিথ্যে বলে উড়িয়ে দেবেন না।
আপনাদের আমি 'ভক্তি করি, শ্রদ্ধা করি। অাপনাদের স্নেহ
পেয়ে আমি ধন্য, 'অাপনাদের পরিবারে স্থান পেয়ে আমি
গৌরবান্বিত। তার এসব আমি পেয়েচি লিলিকে বিয়ে করবার
ফলেই।
মিসেস দাস।
দেখ, তুমি তা অস্বীকার করতে পার না।
ললিত। সবই পেয়েছি কিন্তু পাইনি লিলির ভালােবাসা। আমার
কাছে লিলির কোন দাবিই নেই, আমার থাকা না থাকার কোন অর্থ ও
নেই তার কাছে। সে চায় শুধু আপনাদেরই সুখা করতে আমাকে নয়।
আমি যেন তার খেলার পুতুল। খেলে সে 'আমোদ পাবে বলে আপনার
আমাকে তার হাতে তুলে দিয়েছেন।' পুতুলকে যতটুকু আদর করা চলে,

স্বামী-স্ত্রী
সে আমায় ততটুকুই আদর করে। অতিরিক্ত কিছু সে আমায় দেয় না,
আপনারাও তাকে তা দিতে দেন না।
মিঃ দাস। Ridiculous !
ললিত। আমার অনুরোধ কথাটা এমন করে উড়িয়ে দেবেন না।
লিলিকে আপনারা বাড়তে দেননি, কচি খুকিটিই রেখেছেন। খুকীরা
চকোলেট খেতে পারে, পুতুল নিয়ে খেলতে পারে, নেচে-গেয়ে আনন্দ ও
দিতে পারে—কিন্তু স্ত্রী হতে পারে না।
লিলি বাহির হইয়া লেল
মিসেস দাস। বিয়ের আগেও ত তুমি লিলিকে জান্তে। জেনেই
তাকে বিয়ে করেছিলে।
মি: দাস। বিয়ের আগে বার বার তোমাকে আমি সাবধান করে
দিইনি, বলিনি এখনও ও ছেলেমানুষ রয়ে5ে ।
মিসেস দাস। একদিন তুমিই কি বলনি, 'ওর জীবন একটা স্বপ্ন,
কঠোর আঘাত দিয়ে তা ভেঙ্গে দেওয়া কারু উচিত নয়।
ললিত। বিয়ের আগে যে দৃষ্টি দিয়ে ওকে দেখতুম, বিয়ের পর সে ।
দৃষ্টি দিয়ে ওকে দেখতে পারছিনা বলেই আমার এই অভিযােগ।
उन
ওকে প্রথম প্রভাতের মতই, সুন্দর বলে মনে হতাে, তাই ধ্যান মগ্নর
মতই দূরে বসে আমি ওকে দেখতুম । আমার কল্পনায় ও ছিল তখন
চির-কিশােরীর এক অপরূপ মূর্তি! বাস্তবের ঘটনা আমার কল্পনার সেই
মূর্তিকে রূপান্তর দান করেছে। কুমারী কিশােরী আজ স্ত্রী হয়েছে।
তাই আমারও, তার স্বামীরও, অন্তর জেগেচে তাকে আপন করবার
এক দুর্জয় বাসনা।
আমার স্ত্রীকে আমি একেবারে নিজস্ব করে পেতে

স্বামী-স্ত্রী
চাই, চাইনা যে তার স্নেহে তার ভালােবাসায় ভাগ বসাতে আর কেউ
আমাদের মাঝখানে থাকে।
মিঃ দাস। লিলিকে এত ভালােবেসে ও তুমি সুখী নও।
ললিত।
আমার এ ভালােবাসা একেবারে নিরর্থক হয়ে যাবে
যদি লিলিকে আমি হাত ধরে ঠিক পথে নিয়ে যেতে না পারি। আমি
যদি তা না করি তাহলে আমি আমার নিজের ক্ষতি করব, লিলির ক্ষতি
করব, হয়ত আপনাদের ও ক্ষতি করব। আপনাদের এখানে থাকতে
হচ্ছে বলেই লিলি আপনাদেরকেই তার সর্বস্ব বলে মনে করে। কিন্তু
আপনারা যখন আর বেঁচে থাকবেন না, তখন ?
তখন কাকে সে
আশ্রয় করবে, যদি আজ থেকেই তার স্বামীকে আপন বলে জান্তে বুঝতে
না পারে। এ বাড়ীতে থাকলে তা সে জানবেও না, বুঝবেও না।
সকলেই চুপ করিয়া রহিল। কেহ কোন কথা কহিল ন
মি: দাস। ললিত তুমি শুধু তােমাদের কথা ভাবচ ।
ভুলে যাচ্ছ
যে চার চারটি সন্তান পর পর এসেচে আর মৃত্যু একে একে তাদের
(ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। লিলি আমাদের শেষ সন্তান।
মিসেস দাস। সব শেষে পাওয়া বলেই ও আমাদের বড় আদরের।
মিঃ দাস।
বড় দুঃখের পর ওকে আমরা পেয়েচি, ললিত।
মিসেস দাস। তাই বুঝে মৃত্যুও ওকে কেড়ে নিতে হাত বাড়ায়নি।
মিঃ দাস।
মৃত্যুর চেয়ে ও কি তুমি কঠোর, ললিত?
মিসেস দাস। চেয়ে দ্যাখ ললিত, লিলি কাদছে ।
মিঃ দাস।
আমাদের সাম্নে দাড়িয়ে আমাদের মেয়েকে তুমি কঁাদাও
ললিত!
৪০

স্বামী-স্ত্রী * . ন:। লিলি। আমি কঁদিনি ! ললিত। আজ যদি আমার ইচ্ছেমত কাজ ও না করে, তাহলে সারা জীবমই ওকে কেঁদে কাটাতে হবে। মিঃ দাস। এ বাড়ীতে কোনদিন কেউ কারু সঙ্গে কখনো কঠোর ব্যবহার করেনি। আমার মনে হচ্ছে আমি যেন একটা দুঃস্বপ্ন দেখচি । সেই দুঃস্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়ার জন্য এত চেষ্টা করচি, কিন্তু কিছুতেই পারচি আমি পারছি না। বলিয়া খানিকটা নূরিয়া নড়াইলেন তারপর ললিতের সাম্নে খসিয়া দাঁড়াইয়া বলিতে লাগিলেন। শােন ললিত, আমার মেয়েকে তােমার হাতে সপে দেবার সময় তােমার কাছে কোন প্রতিশ্রুতিই আমরা চাইনি। আমরা তােমাকে সাদরে আম- দের মাঝে গ্রহণ করেচি, তােমার অর্থের অভাব ঘুচিয়েচি, ভবিষ্যতেও যাতে তুমি স্বচ্ছল অবস্থায় দিন কাটাতে পার, তারও ব্যবস্থা করিচি। আমরা আশা করেছিলুম বিনিময়ে আমরা তােমার কৃতজ্ঞতা পাব, তােমার ভালােবাসা পাব, অন্তত খানিকটা শ্রদ্ধা ও পাব। কিন্তু তোমার ব্যবহারে মনে হচ্ছে তুমি যেন দুৰ্যোগ-রাতের অকৃতজ্ঞ এক অতিথি। কোথাও ঠাই না পেয়ে আমাদেরই রুদ্ধদ্বারে এসে আঘাত করলে। আমরা দোর খুলে দিলুম, আশ্রয় দিলুম, সেবা দিলুম। আর সকালে উঠে দেখলুম তুমি চলে গেছ, বাড়ীর সব চেয়ে মূল্যবান সম্পত্তি নিয়ে আমাদের আতিথ্যের 'অবমাননা করে তুমি উধাও হয়েচ । তােমার হাতে আমাদের স্নেহের পুতুল, নয়নের মণি, একমাত্র সন্তানকে সপে দিলুম-তােমার হাতে, হৃদয়হীন কৃতজ্ঞতাবিহীন একটা অপদার্থের হাতে ! ৪ ১

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। 'আমি বুঝতে পারিনি যে মেয়েকে তার স্বামীর সঙ্গে
পাঠাতে আপনারা এমন বিচলিত হবেন। কিন্তু আপনার ব্যথা পাচ্ছেন
বলেই যদি আমি আজ এ-কথা চাপা দি, তাহলে আমাদের বিবাহিত
জীবন যেমন ব্যর্থ হবে, তেন্নি ব্যর্থ হয়ে যাবে আমাদের এতদিনকার
বন্ধুত্বের প্রীতি। আমরা সবাই ব্যথা পাচ্ছি আর তা পাচ্ছি বলেই এই
আলােচনা আজকেই আমাদের শেষ করে ফেলা উচিত।
মিসেস দাস। তুমি আমাদের একটুও সময় দেবে না ?
ললিত।
যত বেশী সময় নেবেন, তত বেশী ব্যথা পাবেন। আজই,
এখনই এ আলােচনা শেষ করতে হবে।
মিঃ দাস। ললিত, হয়ত তুমি যা বলচ তা সবই সত্য।
তােমার যাওয়াই উচিত। লিলিকে সঙ্গে নিয়েই যাওয়া উচিত। আমার
অধিকার থেকে তােনাকে বঞ্চিত করতে আমি পারি না। তাই অামার
কোন জোর নেই। কিন্তু ভিক্ষের অধিকার ত সবারই থাকে। কা
কারু কাছে আমি কিছু চেয়ে নিইনি। আজ তােমার কাছে আমি ভিক্ষে
চাইচি আমার মেয়েকে। তুমি দয়া কর ললিত, দয়া করে আমাদের
মেয়েকে কেড়ে নিয়ো না। 'আমি, লিলি, লিলির মা, আর কেউ তা
সইতে পারব না।
ললিত। অমন করে ও-কথা আপনারা বলবেন না। আপনাদের
ব্যথায় গলে আজ যদি আমি সঙ্কল্প হারাই, তাহলে চিরকালের জন্যে
লিলিকেও আমি হারাব। আপনারা, প্রসন্ন মনে লিলিকে আমার
সঙ্গে যেতে দিন।
মিসেস দাস। , না, লিলি যাবে না, আমরা তাকে যেতে দেব
৪২

স্বামী-স্ত্রী
। তুমি যদি সত্যিই লিলিকে ভালােবাসো তাহলে লিলির পাশে, •
এইখানেই, আমাদের এই বাড়ীতে তুমি থাকবে ।
লিলি। এইখানেই আমি থাকব না।
মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে
ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
মাকে জড়াইয়া ধরিল, ললিত অন্যদিকে মুখ
ফিরাইল। কিছুকাল কেহ কোন কথা কহিল না।
মিঃ দাস অনেকক্ষণ মাথা নীচু করিয়া ঘুরিয়া
বেড়াইলেন। তারপর যেন আপন মনেই কহিলেন
মিঃ দাস।
। বিয়ের দাবীকে আমরা ব্যর্থ করে দিতে পারি না।
স্ত্রী স্বামীর সহচরী, সহধৰ্ম্মিণী, স্বামীর পাশেই তার স্থান।
ইজিচেয়ারে শুইয়া চোখ বুজিয়া বলিলেন,
ললিত, যখন ইচ্ছে, যেখানে ইচ্ছে লিলিকে নিয়ে তুমি যেতে পারে।
লিলি। বাবা তুমিও এই কথা বলছ ?
মিঃ দাস।
বলতে বুক ফেটে যাচ্ছে মা, তবুও, বলচি। স্বামীর
সঙ্গে স্বামীর ঘরেই তুমি যাও।
মিঃ দাস ঘর হইতে বাহির হইয়া গেলেন
লিলি।
মা গাে!
মায়ের কাধে মাথা রাখিল
চল মা, আমরা ওঁর কাছেই যাই ।
লিলিকে লইয়া চলিয়া গেল। তাহার: চলিয়া
যাইবার পর ললিত দু-বাং উন্ধে তুলিল
ললিত। মুক্ত।
ক্তি! মুক্ত আমি।
মিসেস দাস।

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি প্রবেশ করিল
।
ললিত। মিনতি, তােমার সাহায্য না নিয়েও লিলিকে আমি জয় করব।
মিনতি। যে কুঁড়ি আপনি ফোটে না, জোর করে তাকে ফোটানাে
যায় না।
ললিত। তাই নাকি মিনতি দেবী !
মিনতি। এরই মাঝে পরিহাস বন্ধু ?
ললিত। শেষ দেখবার জন্য নিমন্ত্রণ রইল। শুধু যাবার আগে
তার কোরাে।
মিনতি। ধন্যবাদ ! কিন্তু লিলি গেলে আমাকেও যে যেতে হবে,
এ-কথা তােমার কেন মনে হয়নি ?
ললিত। তােমাকেও যেতে হবে ! কেন ?
মিনতি। নইলে তােমার ওই কমল-কলি কে ফুটিয়ে তুলবে ?
দুই হাতে ললিতের দুই কাধ ধরিয়া হি-হি করিয়া
হানিতে লাগিল। দ্রুত যবনিকা পড়িল
৪৪

দ্বিতীয় অঙ্ক
লােকালয়ের বহু দূরে এক বনানীর একটা অংশ। বড় বড় গাছ আকাশে মাথা
তুলিয়া দাড়াইয়া আছে। লতা-গুল্মেরও অভাব নাই। ছোট-ছোট প্রস্তরখণ্ডও ইতস্তত
দেখা যাইতেছে । সেই বনের মাঝ দিয়া একটি রাস্তা চলিয়া গিয়াছে। একখানি মোটর
দাড়াইয়া রহিয়াছে। মঞ্চের পুরোভাগে একটি মোটা গাছের গুড়িতে ঠেস দিয়া মিনতি
বসিয়া আছে। একটি ফার-কোট গায়ে দিয়া লিলি স্ব-পরিসর স্থানে দ্রুত পায়চারি
করিতেছে। মােহন মোটরের এfন দেখিছে। মােহনের বয়েস দেখিয়া মনে হয়
বাইশ তেইশের বেশি হবে না, সুন্দর যুবক। একটা আগুনের ধুতি জ্বলিতেছে। দের
আলােয় বন প্লাবিত।
মােহন এঞ্জিন দেখিতে দেখিতে
মােহন।
দোষ আমারই।
লিলি দ্রুত তাহার দিকে ঘুরিল
লিলি। বার বার ওই একই কথা কেন বলচ, বলত !
মােহন। কল-কা সম্বন্ধে কিছুই না জেনে গাড়ী চালানাে সত্যিই
একটা অপরাধ।
মাথা তুলিয়া কহিল
forfat i Rubish!
আবার পায়চারি করিতে লাগিল
মি। ড্রইভ করতে তুমি ত বেশ পার, মােহন।
৪৫

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। তাই কি ছাই ভালাে পারি ?
মিনতি। বেশ পার। Go ahead!
মিনতি অন্যদিকে মুখ ঘুরাইল। লিলি দ্রুত তাহার
কাছে অগ্রসর হইল
লিলি।
What do you mean to say fafafa ?
মিনতি। মােহন ছেলেমানুষ, ঘাবড়ে গেছে। তাই ওকে একটু
উৎসাহ দিলুম।
লিলি। তােমার ষ্ঠে ব্যঙ্গের সুর কেন ?
মিনতি। কই, না ত !
লিলি। আমি কি এতই বােকা, মিনিদি ?
মিনতি। কী করলে বলত মােহন। বনে বাঘ-ভল্লুকও ত থাকতে
পারে।
মোহন। , না, বাণ-টাণ এদিকে বড় দেখা যায় না।
লিলি। আর থাকলেই বা কি করচি বল ?
মিনতি। নাঃ, করবার কিছু নেই, কিন্তু ভাববার আছে অনেক।
আচ্ছা মােহন, গাড়ীর এঞ্জিন কি এমন বিগড়ে গেছে যে আর কিছুকাল
চেষ্টা করেও তুমি মেরামত করতে পারত না?
লিলি। মােহন, কিছুতেই তুমি এ প্রশ্নের জবাব দিয়াে না। আমি
বলচি, তুমি জবাব দিয়াে না।
মিনতি। কেন দেবে না ?
লিলি। ওই প্রশ্নের পিছনে অত্যন্ত অপমানকর একা। ইঙ্গিত রয়েছে।
মিনতি। না লিলি, প্রশ্নের পিছনে রয়েছে ভয়, উগ, উ,বা..
উ,বগু••
৪৬

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। কিসের এত ভয় শুনি ?
মিনতি।
জানােয়ারের।
লিলি। কোথায় জানােয়ার ?
মিনতি। তারা যে হঠাৎ দেখা দেয় লিলি। দেয় না মােহন ?
লিলি। কেন ওই ছেলেমানুষকে মিছিমিছি ভয় দেখাচ্চ মিনিদি ?
মােহন, আর পরিশ্রম তুমি কোরাে না। এস এক যায়গায় আমরা বসি ।
মােহন আগাইয়া আসিল
বােস ওইখানে।
মিনতির পাশে বসাইয়া দিল
মােহন। গাড়ীখানা খারাপ না
হলে, এতক্ষণ আমরা বাড়ী
পৌচে যেতুম ।
লিলি মোহনের পাশে একটা পাথরের ওপর বসিল
লিলি।
মায়ের জন্যে তোমার মন কেমন করচে মােহন ?
মােহন মাথা ঘুরাইয়া তাহার দিকে চাহিল
মােহন। কি যে বলেন আপনি।
লিলি। মায়ের জন্যে মন কেমন করা লজ্জার কথা নয়। আমার
'যে মা-বাবার জন্যে দিন-রাত মন কেমন করে। এই যে গাড়ী খারাপ
হয়ে যাওয়ায় আমাদের আজ এই বনেই রাত কাটাতে হচ্ছে,—এ-সময়
আমার বাবা যদি কাছে থাকতেন, তাহলে এমন গল্প ফেঁদে বসতেন যে
রাতটা কোথা দিয়ে কেটে যেত, তা আমরা বুঝতেও পারতুম না।
মিন_ি১ এঞ্জিনিয়ার সাহেব থাকলে কি করতেন লিলি?
৪৭

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। তাকে আমার চেয়ে তুমিই ভালো জান।
মিনতি। আমি বলতে পারি তিনি কি করতেন। ঘুরে ঘুরে
দেখতেন মাটির নীচে কয়লা পাওয়া যায় কি না।
মােহন। তিনি হয়ত আমাদের খুজতে বেরিয়েছেন।
আমরা যদি তার ঠিকেদার হতুম, তাহলে
তাহলে আমাদের
অদর্শনে নিশ্চিতই তিনি ব্যাকুল হয়ে বেরিয়ে পড়তেন। কিন্তু আমরা
ত তা নই।
মােহন। এঞ্জিনিয়ার সাহেবকে দেখলে আমার ভয় হয়। এমন
গম্ভীর তিনি।
মিনতি। তার মেমসাহেব কিন্তু তেমন নন।
মােহন। সত্যি! আপনাকে কিন্তু ভয় হয় না।
মিনতি। দেখলেই দাত বার করে হাসতে ইচ্ছে হয় ।
লিলি। ওর সঙ্গে কেন লাগবলত।
মিনতি। লাগব না ! এই গহন বনে কার জন্যে আমাদের রাত
কাটাতে হচ্ছে ?
লিলি।
ওর দোষ কি। ওকে ত '
আই এনেছিলুম।
মিনতি। কিন্তু গাড়ীর কলও কি আমরা খারাপ করে দিয়েছিলুম ?
লিলি।
ও কি ইচ্ছে করে তা করেছে ?
মিনতি। কিছু না জেনে গাড়ী চালাবার সখ ভালো নয়।
লিলি।
ও যতটুক চালিয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি চালিয়েচি
'আমি। হয়ত আমারই দোষে কল খারাপ হয়েছে।
মােহন। না, না আমারই দোষে।
৪৮

স্বামী-স্ত্রী
লিলি।
হয়েচে। বেশ হয়েছে। এত আফশেষ কিসের ? আমার
কাছে বনও যা গৃহও তা !
মিনতি। যথারণ্যং তথা গৃহং !
লিলি।
নয় কি ?
মােহন। আপনি কি এতই অসুখী ?
মিনতি। Buck up, boy, buck up !
লিলি। ফের মিনিদি।
মিনতি।• ওকে উৎসাহ দিচ্ছি, ছেলেমানুষ, পাছে ঘুমিয়ে পড়ে।
লিলি মোহনে কঁাধে দুই হাত রাখিল
লিলি। তােমার ঘুম পাচ্ছে মােহন?
মােহন। নাঃ। এম্নি করে সারারাত আমি বসে কাটাতে পারি।
মিনতি। Cheerio!
লিলি। মিনিদি, তুমি যে ইংরিজি জান মােহন তা বুঝেচে।
মিনতি। কিন্তু আমি যে Psychologyও বুঝি তা জানলে ও চুপ
করেই থাকত।
লিলি। জানলে মােহন, মিনিদি মাসিক কাগজে গল্প-টল্প লেখে।
মােহন। ও, আপনি একজন লেখিকা !
মিনতি। And an old maid too !
লিলি। সে খবরটা ওকে দিয়ে লাভ কি মিনিদি।
মিনতি। Don't you know my dear that a love forlorn
maiden is anxious to show her off ?
লিলি। তােমার সঙ্গে কথায় কে পারবে বল।
৪৯

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। সুতরাং তুমি মােহনের সঙ্গেই কথা কও।
লিলি। আর তুমি? তুমি বুঝি এখন ঘুমুবে ?
মিনতি। ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ক্ষিদেয় পেট যে জলে যাচ্ছে।
মােহন। খাবার ত গাড়ীতেই রয়েছে।
মিনতি। কিন্তু তাতেই ত পেট ভরবে না। যাই, নিয়ে আসি।
লিলি। একা পারবে তুমি ?
মিনতি। জীবনেই দোসর পেলুম না যখন, তখন এই বনে কি
আর পাব ?
১
মিনতি উঠিয়া দাড়াইল
মােহন। চলুন, আমি আপনার সঙ্গে যাচ্ছি।
লিলি। বাঃ রে! আমি বুঝি একা থাকব?
মােহন। চলুন আমরা তিনজনেই যাই।
মিনতি। হায়রে বােক। ছেলে! gfa ataat two is company
but three is none! আমি একাই চলুম।
মিনতি অগ্রসর হইল
লিলি। দরকার হলে আমাদের ডেকো, মিনিদি।
মিনতি গিয়া মােটরে উঠিয়া টিফিন বাস্কেট হইতে
খাবার বাহির করিতে লাগিল
।
মােহন। মিনতি দেবী সায়ে থাকলে আমি ভালাে করে কথা
কইতে পারি না।
লিলি। এখন ত নেই। এখন ভালো করে কথা কও।

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। কি কইব।
লিলি। তােমার যা ইচ্ছে।
মােহন। আমার কি বলতে ইচ্ছে হচ্ছে জানেন? আমার বলতে,
ইচ্ছে হচ্ছে গাড়ীর এঞ্জিন বিগড়ে ভালােই হয়েছে ।
লিলি। তারপর ?
মােহন। তারপর কি।
লিলি।
কেন ভালাে হয়েছে, বলত।
মােহন। বেশ একটা নতুন experience হলাে।
লিলি। এই বনে রাত কাটানাে ?
মােহন। না।
লিলি। তবে ?
লিলি মােহনের পাশে বসিল
মােহন। আপনার স্নেহের পরশ, আপনার সান্নিধ্য পাওয়া গেল।
লিলি। তােমার ভালাে লাগচে মােহন?
মােহনের হাত ধরিল
মােহন। হাঁ, বড়।
লিলি। আমার ভালাে লাগছে।
হাত ছাড়িয়া উঠিয়া দাড়াইল
মােহন। উঠলেন যে !
লিলি। আমার এত ভালো লাগছে যে স্থির হয়ে আমি বসতে
পারছি না।

স্বামী-স্ত্রী
নীরবে একটুখানি ঘুরিল। তারপর মােহনের কাছে
আসিয়া দাঁড়াইল।
আমার কি নতুন experience হােলো জান, মােহন ?
মােহন। না বল্লে কেমন করে জানব?
fafar I Guess it.
মােহন। আপনার কথা, আমি কি করে বলব?
লিলি। এই experience হলো যে রাতটা যারা ঘরের ভেতর
ঘুমিয়ে কাটায়, তারা কপার পাত্র। এমি চাদনি-রাতে পৃথিবীতে রূপের
বন্যা বয়ে যায় তার ঘুমকাতুরে যারা, তারা তা উপভােগ করতে
পারে না।
মােহন। আমি আজ একটুও ঘুমুবাে না।
লিলি। কি করবে ?
মােহন। আপনার দিকে চেয়ে থাকব।
লিলি। তাহলে তুমি ঠকবে, মােহন!
মােহন। কেন ?
লিলি। পৃথিবীর এই অপরূপ সৌন্দৰ্য্য তুমি দেখতে পাবে না।
মােহন। পৃথিবীর সব সৌন্দর্য্য যে আপনারই দেহে ঠাই নিয়েছে।
এ-কথা কেউ ত আমাকে কখনাে বলেনি।
মোহন। এমন করে আপনাকে দেখবার সৌভাগ্য কারু তাহলে
হয়নি।
লিলি। তুমি বেশ গুছিয়ে বলতে পার মােহন।
মােহন। মিনতি দেবী কাছে থাকলেই সব কেমন গুলিয়ে যায়।
লিলি।

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। মিনিদিকে ভয় কোরােনা মােহন। মিনিদি এমন মায়া
জানে যাতে সকলে সহজেই তার বশ হয়। আমার বিয়ে সহজ করে
দিয়েচে কে জান ? মিনিদি।
মোহন তাহার দিকে চাহিয়া রহিল। লিলি সহ
মােহনের মুখােমুখি বসিল।
আচ্ছা মােহন, আমাকে দেখচ ত ! দেখে তােমার কি মনে হচ্ছে ?
মােহন। মনে হচ্ছে আজকার রাত যেন অন্তহীন হয়, যুগান্তেও যেন
তা না পােহায় !
fafal That's absoldte flattery !
মােহন। No. That is my soul's desire.
লিলি।
ও কথা থাক। তুমি আমায় বল মােহন আমাকে দেখে
কি মনে হয় যে আমি ভালােবাসতে জানি না ?
মােহন। কেউ কি কখনাে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ?
লিলি। অনেকেই করে।
মােহন। তারা কপার পাত্র।
লিলি খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠল
হাসচেন ?
লিলি। তুমি বেশ বিজ্ঞের মত কথা বলতে পার।
মােহন।' মুহুর্তের ভালােবাসা মানুষকে যুগের অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
লিলি। তুমি তাহলে ভালােবেসে ? এত অল্প বয়সে !
মােহন। আমার বয়েস কত জানেন? বাইশ !
লিলি। বা-ই-শ।

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। বিস্মিত হচ্ছেন ?
লিলি। আমার চেয়ে বড়!
মােহন। হাঁ, চার পাঁচ বছরের।
farfar I But you look so young !
মোহন উঠিয়া দাঁড়াইল। লিলির কানের কাছে মুখ
আনিয়া কহিল
catral Am I in anyway worse for that?
farfar I No. You are beautifu!!
।।
মোহন হাত বাড়াইয়া তাহাকে ধরিতে যাইতেছিল
মিনতি।
(নেপথ্য হইতে) একটু এগিয়ে এস না লিলি। আমি
আর বইতে পারচি নে।
catsa | Nay I help you?
মোহন চলিয়া গেল। লিলি পাথরের উপর চুপ
করিয়া বসিয়া রহিল।
মিনতি। আমার সন্দেহ হচ্ছে মােহন, ধরিত্রী কি সত্যিই নারী!
এত ভার তিনি কি করে বহন করছেন?
মােহন। দিন, আমাকেই দিন।
মােহন মিনতির হাতের বােঝা লইতে উদ্যত হইল ।
মিনতি তাহাই চাপাইয়া দিল
মিনতি। মােহন নিজেই বােঝ তুলে নিল।
মােহন। ভাবছেন চিনির বলদের মত বােঝ বইবই, খেতে পাব না !
৫৪

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। তােমাদের ত ক্ষিদে নেই।
মােহন। তখন ছিল না। এখন হয়েছে।
মিনতি। ভাগ্যিস আমি আনলুম।
মােহন। আপনার সাহায্য চিরকাল মনে থাকবে।
মােহন গাড়ীর কাছে গেল
মিনতি। চিরকাল মনে রাখবার মত কিছু ঘটেচে নাকি,
লিলি ?
লিলি।' যে বলচে, তাকেই জিজ্ঞেস কর।
হন দুখানা কম্বল, কুশন লইয়া আসিল
কম্বল একখানা বিছিয়ে ফেলি।
মােহন।
কম্বল বিছাইয়া কুশান রাখিয়া
আসুন, বসা যাক।
মিনতি।
এস লিলি।
লিলি। তােমরা বােস মিনিদি, আমার ক্ষিদে নেই।
মিনতি খাবার বাহির করিতে লাগিল
মিনতি। সেই সকালে খেয়ে বেরিয়েচ।
মােহন লিলির কাছে গেল
মােহন। আসুন, কিছু মুখে দিতেই হবে।
লিলির হাত ধরিল
একি!
কাপচেন কেন ?

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। আমার বড় শীত করছে।
মিনতি। এই আগুনের কাছে এসে বােস
লিলি আগুনের পাশে ক লর উপর বসিল। মােহন
আর একটা কম্বল লইয়া লিলির পায়ে চাপা দিয়া
দিল ।
মােহন। বেশ করে বসুন।
লিলি। ফ্রাই আমি চাই না।
মােহন। এই যে স্যাণ্ডউইচ রয়েছে।
লিলির হাতে তুলিয়া দিল
মিনতি। তুমি এই সন্দেশটা নাও মােহন।
মােহন। ফাউল রােষ্ট ফেলে ?
fwafo I Are you very fond of meat ?
মােহন। Very !
লিলি। রাত কটা হােলো।
মােহন। বারােটা।
লিলি। আমি আর খেতে পারচি,না মিনিদি।
মিনতি। এইটুকু খেয়ে নাও বােন।
মোহন। We are gypsies!
মিনতি। নাচতে ইচ্ছে হচ্ছে নাকি ?
লিলি। আগুনটা নিভে যাচ্ছে মিনিদি।
মিনতি। মােহন খানকত কাঠ ফেলে দেবে এখন।

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। তেমন শীত ত নেই আজ।
মিনতি। হিম পড়চে। গাড়ীতে গিয়ে হুডের নীচে বসলেই ভালো হয়।
মােহন। সেই বাইরেই যদি থাকতে হােলে, তাহলে বদ্ধ যায়গায়
আর কেন ?
মিনতি। সব বাঁধন-ছেড়বার তাগিদ এসেচে নাকি?
মােহন। বলুন ত, মুক্ত জীবনের এ আনন্দ কজনার ভাগ্যে জোটে
মিনতি। লিলি, সত্যিই তুমি আর খাবে না?
লিলি। আর পারছি না, মিনিদি।
মিনতি ও মোহন নীরবে গাইতে লাগিল
মিনিদি!
মিনতি। কি বােন ?.
লিলি। তােমার শরীর ভালো নয়।
মিনতি। হাঁ, সেই পাঁজরের বেদনাটা আবার একটু কষ্ট দিচ্ছে।
মােহন। আমি ভাবচি gypsyর জীবনে কি আনন্দ। ঘর বাধবার
ভাবনা নেই।
মিনতি।
ঘর ভাঙতে তুমি এত ব্যাকুল কেন, মােহন?
লিলি।
ঘর কি, তাই যে ও জানলে না। আমিও জানলুম না।
মিনতি। আমিই শুধু জেনেচি ! না ?
লিলি। তুমিও নও মিনিদি !
মােহন। তিনটি গৃহহারা ছন্নছাড়া আজ আমরা একত্র মিলেচি।
লিলি। কিন্তু কেউ আমরা আনন্দ করতে পারছি না।
মিনতি। ঘরের ডাক এখানেও এসে আমাদের উতলা করে দিচ্ছে।

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। একটি রাতের জন্যও কি আমরা তা উপেক্ষা করতে পারিনা।
লিলি। পারি না, মিনিদি?
মিনতি। মনে গ্লানি না থাকলেই পারি।
মােহন হাত ধুইতে দূরে সরিয়া গেল
লিলি। আচ্ছা মিনিদি, আমি কাউকে ভালােবাসি না এ-কথা
কি সত্য?
মিনতি। আগে যা সত্য ছিল, এখন হয়ত তা সত্য নেই।
লিলি। কতদিন আমাকে শুন্তে হয়েছে যে আমি ভালোবাসতেই
জানি না।
মিনতি। যখন তা শুনেছিলে, তখন হয়ত সত্য কথাই শুনেছিলে।
লিলি। কিন্তু আমি যদি প্রমাণ করে দিতে পারি যে ভালােবাসতে
আমি জানি।
মিনতি। আমি বিস্মিত হব না।
লিলি চুপ করিয়া রহিল। তারপর প্রথমে গুনগুন
করিয়া পরে গলা ছাড়িয়া গাহিতে লাগিল
গান
কানন-পথের ধারে যে ফুল ঘুমায় প্রিয়,
(তারে) বরণ মালায় গাখি' (তব) কণ্ঠে দুলায়ে দিও।
কত না মাধবী রাতে না পেয়ে তোমার দেখা,
সাথিহারা বনফুল (বুখি) স্বপ্ন দেখেছে একা,
(তুমি) এবার জাগায়ে তারে (কর) অনুরাগে সময় ।
৫৮

স্বামী-স্ত্রী
(প্রিয়)
এত’ নহে শুধু ফুল, (এযে) মুদিত ভীরু হৃদয়,
( জেনাে ) গােপনে লুকানাে আছে (তার) যত মধু সঞ্চয়
(তুমি) বনের কুসুম সাথে (এই) মনের কুসুম নিও।
লিলির গান শেষ হইতে না হইতেই মােহন অন্যস্থান
হইতে গান ধরিল এবং গাহিতে গাহিতে লিলির
কাছে আগাইয়া আসিল
গান
দক্ষিণ সমীরণ ডাকে, শশানো শোনাে হে নিশিগন্ধা !
(তব) জাগার সাথী (জাগে) এ মায়া রাতি, হে নিশিগন্ধ !
(জাগো) আধো-আলো আধাে-জোছনাতে
( জাগো) মুকুলিত নব কামতে,
• ( আজি) গুঞ্জরে তোমারে ঘিরে
মাের যত গান মধুচ্ছল।
জাগাে জাগো হে নিশিগন্ধা ॥
মােহনের গান শুনিয়া মিনতি উঠিয়া দার গিয়া
দাড়াইল। মােহনকে লিলির কাছে উপস্থিত হইতে
দেখিয়া ডাকিল
মিনতি। মােহন! দিনের আলো যখন দেখা দেবে তখন আমাদের
মুখের দিকে অসঙ্কোচে চেয়ে দেখতে পারবে?
মােহন। না পারবার মত কোন কাজ ত করিনি।
মিনতি। লিলি পর-স্ত্রী, তা ভুলো না। তুমি যে ছেলেমানুষ নও,
তাও ভুলাে না।

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। আমি তা ভুলিনি। ছেলেমানুষ নয় বলেই ত আমি বুঝেচি
লিলি কারু ‘স্ত্রী’ নয়।
মিনতি। চুপ ! ওর ঘুম বড় হাল্কা ।
লিলি। আমি ঘুমুইনি মিনিদি।
মিনতি তাড়াতাড়ি তাহার মাথার কাছে গিয়া বসিল
মিনতি। বেশ ত আমার কোলে মাথা রেখে তুমি ঘুমােও বােন।
কোলে মাথা তুলিয়া লইল
লিলি। মােহনকে তুমি বকো না মিনিদি। মােহনের কাছে আমি
কৃতজ্ঞ।
মিনতি। কারণ ?
লিলি। তােমরা তা না-ই শুনলে।
মিনতি। কাকে শােনাবে ?
লিলি। শােনাবার দিন যদি আসে, তাহলে লােকের অভাব হবে না।
দুনেই চুপ করিয়া রহিল।
মিনিদি, বাইরের একটি রাত ভেতরে এত বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে ?
মােহন রিয়া বেড়াইতে লাগিল। মিনতি খুক খুক
কাসিতে লাগিল। লিলি উঠিয়া বসিল।
মােহন। আপনাদের সত্যিই অসুবিধে হচ্ছে। আমি ওই দিকে
গিয়ে বসি।
লিলি পপ, করিয়া তাহাকে ধরিল

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। সত্যিই যখন অসুবিধে হবে, আমরা তখন তা বলতে পারব।
মােহন। কিন্তু সব কথাই কি আপনারা বলে বােকন ?
মিনতি। না-বলা কথাও তুমি বুঝতে শিখেচ মােহন ?
লিলি। মিনিদি, তােমার কি খুবই কষ্ট হচ্ছে।
মিনতি। ব্যথাটা বেড়েই চলেছে। বােধ হয় ঠাণ্ডা লেগে ।
লিলি। তুমি গাড়ীতে গিয়ে বােস, মিনিদি।
মিনতি। তুমিও সঙ্গে চলো না।
মিনতি উঠিয়া *ড়াইল
লিলি। না, আমি একটু বাইরে থাকি।
মিনতি বুক চাপিয়া করিতে লাগিল
লিলি উঠিয়া দাড়াইল
লিলি
তােমার কাসিটা হঠাৎ বেড়ে উঠল, হিমে আর দাড়িয়ে
তুমি।
মিনতি তাহার দিকে চাহিয়া হাসিল
হাসচ যে !
মিনতি। ললিতের কথা মনে পড়ে গেল।
লিলি।
তার কথাই কি আমাদের জপের মস্তর হবে ?
মিনতি। শােনই না। সে যেদিন বিদ্রোহ ঘােষণা করল,
সেদিন আমাদের বাড়ীর কথা তুলে সে বল্ল, এ-বাড়ীতে সবাই
চুপি চুপি কথা কয় আর বসে বসে কাসে। সত্যি ! এই কাসিই
আমাদের কাল।
৬১.

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। চল তােমায় মােটারে বসিয়ে রেখে আসি।
মিনতি। যাতে কেসে তােমাদের বিরক্ত না করি?
লিলি। যা ইচ্ছে বল। কিন্তু ভুলাে না তােমার অসুখ হলে
আমাদের একটি দিনও চলবে না।
মিনতি। তােমাদের চালিয়ে নিতেই ত আমি জমিছি।
লিলি। মিনিদি।
মিনতি। কিছু ভেবে বলিনি, লিলি !
লিলি। তুমি এস।
তাহাকে লইয়া' নােটারে বসাইল। গায়ে একটা
কম্বল জড়াইয়া দিল।
বেশ সাবধানে থেকে। কিন্তু।
ফিরিয়া আসিয়া কম্বলে বসিল
লিলি। আচ্ছা মােহন, আমরা যে গান গাইলুম, তা তােমার
কেমন লাগল?
মােহন কাছে আসিল
মােহন। চমৎকার !
লিলি। আমাদের গান কি সবারই ভালো লাগে ?
মােহন। দুর্ভাগা সে, যার ভালাে লাগবে না।
লিলি। কিন্তু এমন করে রােজ আমি গাইতে পারি না।
পারি না বলতে পার?
মােহন। হয়ত এখানে সঙ্কোচ করবার কিছু নেই বলে।
লিলি।
সঙ্কোচের কারণ কখনােই আমার কিছু থাকে না।
কেন
জান

স্বামী-
মােহন, কখনো কেউ আমাকে শাসন করেনি, কেউ কখনাে আমার,
কোন কাজের প্রতিবাদ করেনি। শুধু
মােহন। শুধু এঞ্জিনিয়ার সাহেব করেছেন।
লিলি। কি করে জানলে তুমি।
মােহন। না জানলেও আমি বুঝতে পারি।
লিলি। এইখানে এসে বােস না তুমি।
মােহন বসিল
লিলি, আমার সব চেয়ে ব্যথা কি জান ?
মােহন। এঞ্জিনিয়ার সাহেবের অবহেলা।
লিলি। না। আমার সব চেয়ে বড় ব্যথা যে আমি মা-বাবার কাছে
থাকতে পাইনে।
মােহন। তাদের কাছে যেতে আপনার ইচ্ছে হয় ?
লিলি। হয় না ?
মােহন। তবে যান না কেন ?
লিলি। যাবার উপায় নেই বলে।
মােহন। এখানে যেমন করে এলেন, তেমন করেই যদি কোন
দিন চলে যান ?
লিলি। এখানে তবু বন আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু বাপ-মা তাও
দেবেন না
মােহন। তাড়িয়ে ত দিতে পারবেন না।
লিলি। তা দেবেন না। কিন্তু ভালো করে আমার সঙ্গে কথাও
কইবেন না, হয়ত সাহেবকে তার করবেন, তিনি গিয়ে ধরে আনবেন।

স্বামী-স্ত্রী
।
মােহন। তিনি ধরে আনবেন কেন ?
লিলি। তঁার যে অধিকার রয়েছে।
মােহন। কিসের অধিকার ?
লিলি। তুমি জান না, আইন স্বামীদের কি অধিকার দিয়েছে,
সমাজ তাদের কি অধিকার দিয়েছে ?
মােহন। আমি আইনও জানি না, সমাজও মানি না।
লিলি। সিবিলিয়ানের মেয়ে আমি, তাই আমাকে প্রথমটা জান্তে
হয়েছে, আর দ্বিতীয়টা মানতে হয়েছে আমার মা খাটি ব্রাণের বংশে
জন্মেছিলেন বলে।
মােহন। আপনার ব্রাহ্ম, না হিন্দু ?
লিলি। কিছুই নই ।
মােহন। খৃষ্টান ?
লিলি। তাও নই।
মােহন। সে কি !
লিলি। হতাশ হলে ?
মােহন। কেন ?
লিলি। কোন ধৰ্ম্মেরই নয় বলে।
মােহন। দেখুন, একটু আগে আমি বলেছিলুম আপনি কারু স্ত্রী
তারপর বুঝলুম আপনি কারু কন্যাও নন, এখন শুনচি আপনি
কোন ধর্মেরও নন।
লিলি। কি বুঝলে ?
মােহন। বুঝলুম আপনিই আমার আদর্শ নারী।
৬৪

স্বামী-স্ত্রী
লিলি।
লিলি। তার মানে ?
মােহন। নারীর যা হওয়া উচিত আপনি ঠিক তাই
লিলি। নারীর কি হওয়া উচিত ?
মােহন। কথাটা শুন্তে ভালো শােনাবে না।
লিলি। তবুও বল।
মােহন। জাত, কুল, সংস্কার সবই তুচ্ছ করে তার আত্মপ্রকাশ
করা উচিত।
লিলি । আর নরের ?
মােহন। তারও তাই করা উচিত।
এমন নর-নারী কটি তুমি দেখেচ, মােহন ?
মােহন। একটি নারীই দেখিচি।
লিলি।
সে ত আমি !
মােহন। হাঁ।
লিলি। আর নর ?
মােহন। তেমন কারু সঙ্গে আমার পরিচয় হয়নি।
লিলি। হয়ত একটিও নেই ?
মােহন। নিজে যতক্ষণ বেঁচে রয়েছি, ততক্ষণ সে-কথা বলতে
পারি না।
লিলি। ও, তাহলে অদ্বিতীয় সেই নর হচ্ছ তুমি ।
মােহন। আপনি আমাকে ঠাট্টা করচেন ?
মমাটেও না। আচ্ছা মােহন, আদশ নর ভুমি, আর আদর্শ
নারী আমি, যদি কোথাও মিলনের একটা যায়গা করতে পারি?
লিলি।

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। এও কি সম্ভব।
লিলি। ধর যদিই সম্ভব হয় ?
মােহন। তাহলে আমরা নতুন সমাজ গড়তে পারি, মানুষকে
নব-জীবনের অধিকারী করতে পারি। পারবেন আপনি? আসবেন
আমার সঙ্গে ?
লিলি। কোথায় !
মােহন। যেখানেই হােক।
লিলি। যদি নরকে নিয়ে যাও?
মােহন। আর যদি স্বর্গে স্থান দি।
লিলি মােহনের মুখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে চাহিল।
তারপর হাসিল ।
লিলি। তুমি অনেক অর্থহীন কথা বলতে পার, মােহন।
মােহন।
অর্থহীন।
লিলি। । কিন্তু, তবুও শুন্তে তা ভালাে লাগছে।
মােহন। আমার কথা শুন্তে আপনার ভালাে লাগছে ।
লিলি। হাঁ। বােজ বােজ প্রেম আর জীবন সম্বন্ধে তত্বপূর্ণ উপদেশ
শুনে শুনে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়িচি। তাই আজ তােমার অর্থবিহীন
কথাও আমার ভালাে লাগছে।
মােহন।
you expect me to take this
as a
compliment ?
লিলি। শুধু তােমার কথাই ভালাে লাগছে না মােহন, তােমাকে

স্বামী-স্ত্রী
দেখতেও বড় ভালাে লাগচে। তােমার চোখ থেকে থেকে জ্বলে উঠচে, ।
তােমার গলার শিরা ফুলে উঠচে, হয়ত গাল দু’থানিও লাল হয়ে উঠেছে।
মােহন, তুমি সত্যিই সুপুরুষ।
মােহন। মিথ্যে বলব না সুপুরুষ বলে মনে মনে সত্যিই আমার
অনেকখানি অহঙ্কার ছিল। কিন্তু•••
লিলি। কিন্তু ?
মােহন। কিন্তু যতই আপনাকে দেখচি, আপনার ওই দুটি চোখ,
ওই দুখানি ঠোট..
লিলি। মােহন! মােহন!
মােহন তাহার হাত
আর্তনাদ করিয়া উঠিল।
দু’পানি চাপিয়া ধরিল।
লিলি।
মােহন। বলুন, কি আপনি চান ?
তােমার ঠোঁট নড়চে••তােমার গা কাপচে•••তােমার চোখ
দিয়ে আগুন বেরুচ্ছে:
মােহন। হাঁ, হাঁ, আমি জানি আমি সুপুরুষ।
মােহনলিলিকে বাঁ হাত দিয়া জড়াইয়া ধরিল। মিনতি
নিঃশব্দে গাড়ী হইতে নামিয়া আসিল।
লিলি।' মােহন।
মােহন। আমি শুধু সুপুরুষই নই লিলি, শক্তিমান পুরুষও আমি।
লিলি ডান হাত দিয়া মােহনকে দুরে রাখিবার চেষ্টা
করিতে করিতে বাঁ-হাত কামড়াইতে লাগিল।
৬৭

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। শক্তির পরিচয় সত্যিই যদি দিতে পার, তা আমরা
স্বীকার করব তুমি শক্তিমান পুরুষ!
লিলিকে ছাড়িয়া দিয়া মােহন মিনতির দিকে
চাহিল।
উঠে এস।
মােহন উঠিয়া গিয়া তাহার সাম্নে দাড়াইল
শক্তির দম্ভ করতে তাের লজ্জা করেনা, কাপুরুষ! এতখানি ছলনা
এই বয়েসেই তুমি শিখেচ।
লিলি ধীরে ধীরে উঠিয়া দাড়াইল
শক্তিমান পুরুষ ! কেন তুমি মিথ্যে কথা বলে এই গভীর রাতে আমাদের
এই গহন বনে ফেলে রেখেচ ? এই তােমার শক্তির পরিচয়।
লিলি। মিনিদি।
মিনতি।
ওইখানে দাড়িয়ে শােন লিলি, শক্তিমান, সত্যবাদী ওই
পুরুষ মিথ্যে করে আমাদের বলেচে যে মােটারের এঞ্জিন খারাপ
হয়ে গেছে।
লিলি।
সে কথা মিথ্যে !
মিনতি। পারে অস্বীকার করুক।
লিলি মােহনের পিছনে আসিয়া দাড়াইয়া কহিল
লিলি।
সে কথা কি মিথ্যে, মােহন? •
মােহন মাথা নীচু করি
৬৮

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। বল শক্তিমান সত্যাশ্রয়ী পুরুষ !
মােহন। মিথ্যে !
লিলি। একটা মিথ্যে কথা বলে সারা রাত কেন তুমি আমাদের এই .
বনে ফেলে রাখলে ?
মিনতি। কেন রেখেচে তা কি এখনও বােঝনি ?
লিলি। এত নীচ তুমি !
মিনতি তাহার ওভার কোটের পকেট হইতে একটা
রিভলভার বাহির করিয়া একটু দূরে সরিয়া
দাড়াইল।
মিনতি।
দেখচ আমার হাতে এটা কি ?
মােহন। আপনি•••আপনি কি আমাকে খুন করবেন ?
লিলি। মিনিদি, এবারটি ওকে ক্ষমা করাে।
মিনতি। শক্তির পরিচয় দিতে সাহস হয় ?
লিলি। মিনিদি, তুমিও কি ক্ষেপে গেলে!
মিনতি।
এখন একবার ওর মুখের দিকে ভালাে করে চেয়ে দ্যাখত
লিলি, দ্যাখত ও কেমন সুপুরুষ! ভয়ে ঠোট সাদা হয়ে গেছে, চোখ
পাথরের চোখের মত ঘােলাটে হয়ে গেছে, নিটোল সেই গাল গেছে
চুপসে: দ্যাখ আর বল ওই কি সেই সুপুরুষ.!
লিলি। মিনিদি! ক্ষমা করাে, আমাকেও তুমি ক্ষমা করাে।
মিনতি। পর বীর? পার শক্তির পরিচয় দিতে? অবলা
লিলিব সর্বনাশ করতে উদ্যত হয়েছিলে সেই লিলিও
ভেবে যে

স্বামী-স্ত্রী
পারে অব্যর্থ লক্ষ্যে একটা গুলি ছুড়ে তােমার ওই গোবর-পােরা
মাথার খুলি উড়িয়ে দিতে।
উড়িয়ে দিতে। আমিও পারি। চাও আমাদের
শক্তির পরিচয় ?
মােহনকে লক্ষ্য করিয়া রিভলভার ধরিল
লিলি। মিনিদি। মিনিদি।
ললিত । ( দূর হইতে) লিলি ! লিলি !
লিলি। মিনিদি, আর ভয় নেই। ও এসেচে। এই যে আমরা
এখানে।
ললিত কাছে ছুটিয়া আসিল
ললিত। ভালাে আছ ত লিলি।
লিলিকে বাহুপাশে বাধিল। মিনতিকে দেখিয়া
ছুটিয়া তাহার কাছে গেল।
মিনতি। তােমার হাতে রিভলভার কেন ? গুলি ছুড়ে কাকে
তুমি মারবে ?
মিনতি। একটা জানােয়ার বেরিয়েছিল, 'ভয় পেয়ে আবার তার
গর্তে
ঢুকেচে।
হয়ত আবারো বেরুবে।
ললিত।
চল, এখন বাড়ী ফিরি।
মিনতি মােহনের দিকে ফিরিয়া দাড়াইল
মিনতি। জানলে মােহন, এমি করে রিভলভার ধরলে লক্ষ্য কখনাে
ব্যর্থ হয়না।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। মােহন বুঝি খুব ভয় পেয়েছিল।
মিনতি। মােহন জানােয়ার দেখিয়েছে।
হাতে রিভলভার নাড়িতে নাড়িতে মােহনের দিকে
চাহিয়া কহিল
কিন্তু রিভলভারের কথা ভাবেনি।
দত যবনিক' ছিল
৭১.

RASVAT L'CHARI তুতীয় অঙ্ক ললিতের বসিবার বর। ঘরখানি অবিকল মিঃ দাসের ঘরের অনুরূপ, মার আসবাব- পত্র। কৌচে বসিয়া মিনতি একখানা বই পড়িতেছে। অগানে বসিয়া লিলি গা গাহিতেছে । গান তুমি কি ফিরে গেছ মনের দ্বার থেকে, ভোরের পাখী সম মধুর সুরে ডে। আবার তুমি কবে অামারে ডেকে সবে (তাই) রেখেছি, মালাখানি অচল তলে ঢেকে তুমি কি ফিরে গেছ মনের দ্বার থেকে। গান শেষ হইলে লিলি উঠিয়া দাড়াইল। একটু ভাবিয়া মিনতিকে ডাকিল লিলি। মিনিদি। মিনতি তাহার দিকে চাহিল মিনিদি, একটু আগে যে বইখানা শােনাচ্ছিলে:.. ৭২

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। এই যে আমার হাতেই রয়েছে।
লিলি। পড় না, তার পর থেকে।
মিনতি। বেশ, শােন।
পাতা উল্টাইয়া যায়গাটা বাহির করিয়া পড়িতে
লাগিল
p
মিনতি। “দৃঢ়কণ্ঠে সে কহিল –“না।”
সে কহিল না। তার পর দুজনাই নীরব
প্রথম অপরাধ স্বামীই করিয়াছিল। স্বামী তাহাকে তাহার
পিতৃগৃহ হইতে পরিচিত আত্মীয় বান্ধবদের নিকট হইতে বাপ-মায়ের মেহের
কোল হইতে টানিয়া আনিয়াছিল সত্য। কিন্তু তার পর? তার পর
কি সে তাহার এই কঠোরতার জন্য বার বার ক্ষমাপ্রার্থনা করে নাই ?
নানা রকমে সে কি তাহাকে বুঝাইতে চেষ্টা করে নাই সে তাহাকে কত
ভালােবাসে? ধনী পিতার আদরে স্ফীতা কন্যা স্বামীর প্রেম নিবেদন
প্রতিবারই প্রত্যাখ্যান করিয়াছে, পদে পদে করিয়াছে স্বামীর অপমান...”
লিলি। মিনিদি, সত্যিই কি তুমি ওই বই থেকে পড়?
মিনতি। তাই পড়চি লিলি।
লিলি। সত্যিই ওই সব লেখা রয়েছে ?
মিনতি। নিজে পড়ে দেখনা।
মিনতি বইখানা তাহাকে দিল। লিলি বইখানি লইয়া
পড়িয়া দেখিল। তার পর বইখানি মুড়িয়া রাখিল।
লিলি। আমাদের জীবনের কথা। একেবারে অক্ষরে অক্ষরে মিলে
যাচ্ছে।
কে লিখলে, মিনিদি?

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। টাইটেলেই লেখকের নাম রয়েছে।
লিলি বইখানি লইয়া আবার দেখিল
লিলি। আমার মনে হচ্ছে এটা একটা Pseudonym ! কিন্তু
যেই হােক, আমাদের কথা কি করে সে জানলে ?
মিনতি। জেনে কি আর লিখেচে। উপন্যাসের এমন
কথা কত লােকের জীবনে বাস্তব হয়ে দেখা দেয়—It is a mere
ccuicidence।
লিলি। না, মিনিদি, আমার তা মনে হয়না। এ বই যে লিখেচে
( সে অতি হীন প্রকৃতির লােক। এই রকম একটা কিছু কোথাও সে
দেখেছে। কিন্তু, বাপ-মায়ের স্নেহ যে কত পবিত্র তা বােঝবার তার শক্তি
নেই। তা নেই বলেই সেই স্নেহ নিয়ে সে পরিহাস করেছে। হতভাগা
হয়ত জীবনে স্নেহ কখনাে পায়নি। আর যদি পেয়েও থাকে, তাহলেও
তার মূল্য দিতে পারেনি।
মিনতি। এতটা উত্তেজিত হবার কারণ এতে কি আছে 'ভাই ?
লিলি। আমি সইতে পারিনা মিনিদি, স্নেহের এই অমর্যাদা
আমি সইতে পারিনা। সন্তান মা-বাপের স্নেহকে 'অমূল্য বলে মনে
করবেনা? একনিষ্ঠ ভালােবাসা দিয়ে মা বাবাকে তুষ্ট করতে
চাইবেনা ?
মিনতি। ও-প্রশ্নের জবাবও এখানে রয়েছে। শােন : “শৈশব
থেকে কৈশাের, কৈশাের থেকে যৌবন এবং যৌবন থেকে বার্ধক্য যেমন
আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনিয়া দেয়, তেম্নি মেহের পাত্রেরও হয়
পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কর্তব্যও হইয়া
।
৪

স্বামী-স্ত্রী
উঠে নিত্যই নূতন। শৈশবে পিতা-মাতার প্রতি অবিচলিত নিষ্ঠা রাখিতে,
হয়, বিবাহিত জীবনে সেই নিষ্ঠা থাকা প্রয়ােজন স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি
পরস্পরের, আর বার্ধক্যে সন্তান-সন্ততি সেই নিষ্ঠার দাবিদার হইয়া
দাড়ায়।
লিলি। আর পড়তে হবে না মিনিদি। আমি আর ও-সব
চাই না। জঘন্য বই ! শুধু তুমি আমায় বলে দাও শেষটায় ওদের
কি হােলাে।
মিনতি। কাদের কথা জানতে চাইছ ?
লিলি। ওই বইয়ের নায়ক নায়িকার।
মিনতি। মিলনান্ত নয়।
লিলি। কার জীবন ব্যর্থ দেখানাে হয়েছে ?
মিনতি।
বল ত কার ?
লিলি। (সেলাই করিতে করিতে) নিশ্চয়ই ওই স্ত্রীরই।
মিনতি। তুমি ঠিকই অনুমান করে। স্ত্রীর জীবনে অন্য এক
পুরুষ দেখা দেয়।
লিলি। অন্য এক পুরুষ !
মিনতি। হাঁ।
হা। জীবনের কোন না কোন এক সময়ে নারীর অন্তরে
প্রেমের বান ডাকে। সে সময়ে সে যদি তার স্বামীকে ভালােবাসতে
না পারে, তাহলে ওই বন্যার স্রোতেই ভেসে গিয়ে পরপুরুষের কণ্ঠলগ্ন
হয়। পুরুষকে ভালাে না বেসে নারীর উপায় নেই—হয় স্বামী, নয়
অপর কেউ !
লিলি। পরপুরুষ পৰ্য্যন্ত তাকে যেতে হবে !
৭৫.

স্বামী-স্ত্রী
(
মিনতি। তাও হবে।
feifer I That is horrible !
আপন মনে একটু সেলাই করিল। সেলাই
রাখিয়া দিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। মিনতি তাহাকে
দেখিতে লাগিল। লিলি আবার বসিল, সেলাই
তুলিয়া লইল।
(তারপর, স্বামীটির কি হলো?
মিনতি। কোন্ স্বামীর?
লিলি। তােমার ওই বইয়ে বার কথা লেখা রয়েছে।
মিনতি। তার অসুখ হােললা, শক্ত অসুখ। সেই সময় একজন
এসে তার সেবায় আত্মনিয়ােগ করল। পুরুষ নয়, নারী। আর সেই
নারীই তাকে শান্তি দিল ।
লিলি। কি করে তা হােলাে মিনিদি ?
মিনতি। হবারই ত কথা। স্বামীটির হৃদয় ছিল শূন্য। সেই শু
হৃদয়ে নিজের আসন করে নিতে শুশকারিণী সুভাষিণীর বেগ
পেতে হবে কেন ?
লিলি। এই নারীর পরিচয় কি রয়েছে ?
মিনতি। মামুলি হতাশ-প্রেমিকা। ব্যর্থ প্রেমের-স্মৃতি নিয়েই যায়
দিন গোয়ায়, তাদেরই একজন।
লিলি স্থিরদৃষ্টিতে মিনতির মুখের দিকে চাহিয়া
রহিল, তারপর দৃষ্টি না ফিরাইয়াই কহিল
লিলি। মিনিদি! তুমি ! তুমি কি এমন কাজ করতে পার?
৭৬
s

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। না। প্রেমের দ্বিতীয় সংস্করণের প্রতি আমার লােভ
নেই। I must be first or nothing!
লিলি। আচ্ছা, স্ত্রীর কি হােলো ?
মিনতি। স্ত্রীর ?
লিলি। হ্যা, স্বামীর ওই ব্যবহারের পর ?
মিনতি। স্ত্রী যখন দেখলে স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত, তখন
স্বামীকে ফিরে পাবার চেষ্টা করতে লাগল।
লিলি। পারল ?
মিনতি। না। It was too late then! .
লিলি গালে হাত দিয়া কিছুকাল চুপ করিয়া বসিয়া
রহিল, তারপর সহসা উঠিয়া দাড়াইল। দ্রুত ছুটিয়া
গেল কোণে স্থাপিত একটা টেবিলের কাছে।
একট। টানা খুলিয়া কি যেন খুজিল। না পাইয়া
কিছু কাল মাথা তুলিয়া দাড়াইয়া ভাবিল, তারপর
আবার খুজিতে লাগিল।
কি খুজছ তুমি ?
লিলি। একখানা ফোটোগ্রাফ ?
মিনতি, ললিতের ?
লিলি। না।
আবার খুজিবার ছল করিল
এখানেই ছিল
কি হােলো বলতে পার?
৭৭

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। একদিন তুমি বলেছিলে ফোটোখানা তুমি ছিড়ে ফেলবে।
তাই আমি সেখানা লুকিয়ে রেখেচি ।
লিলি। তুমি !
মিনতি উঠিয়া দাড়াইল
মিনতি। হাঁ। চাইলেই ফেরত দেব বলে।
তাহার ওয়ার্ক টেবিলের টানা খুলিয়া ফোটোখানি
বাহির করিয়া লিলিকে দিল
।
এই নাও।
লিলি। তুমি দখল করেছিলে!
মিনতি।
মিনতির দিকে চাহিয়াই ডুয়ারে ফোটো রাখিয়া
ভুয়ার বন্ধ করি সােফায় আসিয়া বসিল। তখনই
আবার উঠিয়া গিয়া ড্রয়ারে চাবি লাগাইল
ও পড়চে ওই বই ?
কে, ললিত?
লিলি। আর কে আছে আমাদের এখানে।
মিনতি। পড়েছে কি না জানিনা। দোব পড়তে ?
লিলি। তােমার ইচ্ছে। হয়ত তুমিই তাকে পড়ে শােনাতে চাও?
পরিচারিকা আসিয়া চিঠি দিল। লিলি চি
লইয়া দেখিল
আমার বাবার চিঠি ।
পরিচারিকা চলিয়া গেল
মাও লিখেছেন।
৭৮

স্বামী-স্ত্রী
লিলি চিঠি খুলিতে খুলিতে বলিল
শুধু তােমরাই আমায় ভােলনি মা, তােমরাই আমায় ভােলনি বাবা।
চিঠি লইয়া লিলি পাশের ঘরে চলিয়া গেল। ঠিক
সেই সময় সাহেবী কাজের পােষাক পরিয়া
ললিত প্রবেশ করিল। পঁাড়াইয়া দেখিল লিলির
পিছনে পর্দা পড়িল। টুপীটা • টেবিলের ওপর
ফেলিয়া সে কলি
ললিত। আমাকে দেখলেই ও পালিয়ে যায় !
মিনতি। (উঠিয়া দাড়াইয়া) এখন কিন্তু পালিয়েছে অন্য কারণে।
একটু আগাইয়া গেল
তােমার কি হয়েছে, ললিত!
ললিত। মনটা আজ ভালো, নেই মিনতি।
চেয়ারে বসি
নতুন নভেলখানা তুমি পড়ে ?
মিনতি। কোন্‌খানা?
ললিত। কাল যেখানা আনলুম।
মিনতি। ও। সেইখানাই ত লিলিকে পড়ে শােনাচ্ছিলুম।
ললিত। লিলিও পড়েচে !
মিনতি। হ্যা, লিলির মতে গল্পটা বাজে।
ললিত। বাজে নয়,
। পড়তে পড়তে আমি বার বার
চমকে উঠছিলুম। নিজেকে যেন নিজেরই চোখের সাম্নে দেখতে
৭৯
অসাল।

স্বামী-স্ত্রী
পাচ্ছিলুম। আরাে আশ্চৰ্য্য, যে-সব ভাব ভালো করে আমার মনে দানাও
বাঁধেনি, তাও যেন আমার মন থেকে নিয়ে ওই বইয়ে স্পষ্ট করে লেখা
হয়েচে।
মিনতি। সব ভালাে বইয়ে এমন কিছু-না-কিছু থাকে।
ললিত। আমি তােমায় বলে রাখচি মিনতি, বইয়ের ওই স্বামীর
জীবনে যা ঘটেচে আমারও জীবনে তা সবই ঘটবে।
মিনতি। নতুন ডাক্তাররা শুনিচি তাদের পড়া সব ব্যাধির উপসর্গই
নিজেদের দেহে অনুভব করে।
ললিত। না, না, এ আমার নিছক কল্পনা নয়, মিনতি। প্রলােভন
মূৰ্ত্তি ধরেই আমার সাম্নে রয়েছে ।
মিনতির দিকে চাহিয়া রহিল
মিনতি। সাম্নে তুমি কি দেখতে পাচ্ছ ?
ললিত। ওই নভেলের নায়ক যা দেখেছিল। সেবাপরায়ণা,
নেহশীলা একটি নারী।
মিনতি। আমার মনে হয় লেখক বােঝাতে চেয়েচে যে স্ত্রীর
ভালােবাসা পেতে হলে স্বামীকেও সাধনা করতে হয়, স্ত্রী সম্বন্ধ সহিষ্ণু
হতে হয়।
ললিত। মানি। কিন্তু কলেজ হষ্টেলের ছাত্র-বন্ধুদের সঙ্গে হৈ হৈ ।
করে যে প্রথম যৌবন কাটিয়ে দিয়েছে, তেমন কোন পুরুষ কি নারী সম্বন্ধে
অতটা ওয়াকিবহাল থাকতে পারে? সে কি সত্যিই বুঝতে পারে
নারীকে আপন করবার জন্য কয্যের, কত বিবেচনার, কত যতের
প্রয়ােজন হয় ? বিয়ে একদিনেই হয়ে যায়, কিন্তু বিবাহিত জীবনটা দিনে

স্বামী-স্ত্রী
দিনে গড়ে ওঠে। সে জীবনের দায়িত্ব বহন করবার শক্তি পুরুষকে ধীরে
ধীরে অর্জন করতে হয়। লিলিকে তার বাপ-মায়ের কাছ থেকে নিয়ে
আসবার আগে আমি তার প্রতি কোন অবিচারই করিনি। নিয়ে যে
এসেছি, তাও কেবলি আমার প্রয়ােজনে নয়, তারও প্রয়ােজনে। নিয়ে
আসবার পর যখনি আমি বুঝিচি যে আমি তাকে ব্যথা দিয়িচি তখন
থেকেই অবিরাম চেষ্টা করচি তার ব্যথা দূর করতে। কিন্তু আশ্চর্য এই
যে, যতই চেষ্টা আমি করি, ততই দূরে সে সরে যায়। আমার জীবনের
পথে সে যেন আলেয়ার আলাে। কিন্তু মিনতি, আমারও বাসনা রয়েছে,
কামনা রয়েছে। আমিও চাই নারীর সঙ্গ, নারীর ভালােবাসা। তারই
তাগিদে মাঝে মাঝে আমি বিচলিত হয়ে পড়ি। তখনই আমি মনে মনে
এমন একটি নারীর সন্ধান করি যার বুকে মাথা রেখে আমি জীবনের এই
জ্বালা জুড়ােবার অবসর পাই।
উঠিয়া দুয়ারের দিকে অগ্রসর হইল
মিনতি। ললিত!
ললিত ফিরিয়া দাড়াইল, তারপর ধীরে ধীরে
মিনতির মাঝে আসিয়া দাড়াইল
ললিত। মিনতি !
একটুকাল চুপ করিয়া রহিল
তুমিই মিনতি, তুমিই আমায় সান্ত্বনা দিয়ে, আমার জীবনের বহু অভাব
পূর্ণ করে তুমি।
মিনতি। ক্রমে লিলিও করবে। সবে ত একটি বছর তােমাদের
বিয়ে হয়েছে।
৮১

স্বামী-স্ত্রী ** ললিত। এই একটা বছর কি দুর্ভোগেই না কাটিয়েছি। এম্নি করে আরো একটা বছর কাটাতে হবে ভাবতেও গায়ে আমার কাঁটা দেয়। তােমাকে সত্যি বলচি মিনতি, এই বইখানিই আমার মনে ভয় জাগিয়ে দিয়েছে। মিনতি। ভালােই হয়েছে। ললিত। এই এক বছরে কি এম আমি করিচি, তা তো তুমি দেখেচ। কিন্তু কাকে তুষ্ট করতে পারলুম ? কর্তব্যনিষ্ঠ একটা চাকরও যে পুরস্কার পায়, তাও আমি পাইনি। একটুখানি হাসি, এতটুকু কৃতজ্ঞতাও আমার ভাগ্যে জোটেনি। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে ঘরে ফিরিচি, কেই ডেকে আদর করে আমায় কাছে বসায়নি। রাতের পর রাত আমি নীরবে কাজ করে কাটিয়েছি, কিন্তু যার জন্যে প্রাণপাত পরিশ্রম করিচি, সে কি একবারও আমার দিকে ফিরে চেয়েচে মিনতি ? মিনতি। তােমার এ প্রয়াস বিফলে যাবে না, ব্যর্থ হবে না। ললিত। এই যে তাকে তুষ্ট করবার জন্য এত অর্থ ব্যয় করে এই বাড়ীটি ঠিক তার বাপের বাড়ীর অনুকরণে গড়ে তুলিচি’ এই-ই কি সে লক্ষ্য করেছে? কেউ যদি তাকে বলে দেয় যে তাকে ভালােবাসি বলেই এমনটি আমি করেচি, তাহলে সে ঠোট উল্টে নিশ্চয়ই বলবে- ‘করবার দরকার ছিল কি, আমার বাবার বাড়ীত ছিলই। মিনতি। এইবার তােমার নব-জীবন শুরু হবে। ললিত। তুমি কি বলতে চাও, মিনতি ? মিনতি। চুপ! ওই লিলি আসছে। লিত। কি হয়েছে মিনতি। ওর মুখ-চোখ অমন হয় কেন ? ৮২

স্বামী-স্ত্রী
খােলা চিঠি হাতে লইয়া লিলি ঘর্ষে ঢুকিল, লতি
দূরের কৌচে গিয়া বসিল। লিলি মিনতির কাছে
গিয়া দাড়াইয়া নিম্নস্বরে কহিল
লিলি। আমরা চলে এসেচি বলে মা আর বাবা বাড়ী থাকতে
পারছেন না। তাঁরা বিলেত চলে যাচ্ছেন। আর যাবার আগে একবার
আমাকে দেখবার জন্য এখানে আসচেন।
মিনতি। এখানে আসছেন! কবে ?
লিলি । আজই। হয়ত ট্রেন এতক্ষণ এসে পড়েছে।
মিনতি। ললিতকে বল।
লিলি। আমি বলব !
মিনতি। হ্যা, তুমিই বলবে।
লিলি। আমি ?
মিনতি। ললিত, লিলি তােমাকে কি যেন বলতে চায়।
লিলি। মিনিদি।
ললিত। This is something new,
ঝিলি। মিনিদি, তুমিই ওকে বল।
D
মিনতি কিছু না বলিয়া পিছনের দরজার কাছে গিয়া
দাড়াইল। ললিত উঠিয়া লিলির সাম্নে আসিয়া কহিল
ললিত। কি বলতে চাও, তুমি ?
লিলি মাথা নীচু করিল। কুণ্ঠার সহিত কহিল
শিলি। মা আর বাবা আসছেন।
।
৮৩ .

স্বামী-স্ত্রী,
ললিত। এখানে ?
'লিলি। হ্যা।
ললিত। কবে ? আজই কি?
লিলি। হ্যা। এখুনি হয়ত এসে পড়বেন।
ললিত। আর কথাটা আমাকে জানানােও দরকার বলে মনে
হয়নি! বেশ!
দ্রুত ফিরিল, টুপীটা তুলিয়া লইল
ললি। কোথায় যাও?
ললিত। মাইন-এ। যতদিন তারা এখানে থাকবেন, ততদিন
মাইন-এই আমি থাকব।
দুয়ারের দিকে অগ্রসর হইল
লিলি। যেয়াে না !
ললিত ফিরিয়া দাড়াইল
ললিত। আমাকে দেখতে তারা আসচেন না, আর দেখেও খুব
খুশী হবেন না।
লিলি। তবুও তুমি যেয়ােনা।
মিনত মাঝে আসিয়া দাড়াইল
মিনতি। যেয়ােনা ললিত।
ললিত। তারা দিনকত থাকবেন ত ;'
লিলি। তােমায় যদি অমত না থাকে, তাহলে তােমার ঘরটাতেই
তাদের থাকতে দোব।
৪

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। আমি জানতুম এই-ই হবে, একদিন, আর বাড়ীতে
আমারই ঘরে তারাই এসে জেঁকে বসবেন আর আমাকেই গড়তে
হবে সরে।
মিনতি। সরে পড়তে হবে কেন? তুমি আমার ঘরে থাকবে।
লিলি আর আমি তার ঘরেই একটা দিন কাটিয়ে দেব। কারু কোন
অসুবিধে হবেনা।
মিনতি চলিয়া গেল
ললিত। তারা আসছেন বলে তােমাদের খুশী হওয়াই স্বাভাবিক।
আমিও বেঁচে যাব যদি তাদের কাছ থেকে দূর থাকতে পারি। কিন্তু দুদিন
আগে বল্লে কি ক্ষতি হােত? আমি নিজেকে তৈরি করতে পারতুম ।
মিনতি। কিসের জন্য নিজেকে তৈরি করতে?
ললিত। তাঁরা আসচেন লিলিকে নিয়ে যেতে। লিলি যাবে।
তুমিও যাকে মিনতি। এখানকার খেলা এই ভাবে হঠাৎ শেষ করে চলে
যেতে তােমরা ব্যথা পাবে না জানি, কিন্তু আমাকে কি হারাতে হবে, তা
কি তােমরা ভেবে দেখে ?
লিলি। এই চিঠি পাবার আগে আমি জানতুমন তারা আসছেন।
ললিত। আসচেন ত তােমারই চিঠি পেয়ে, আমার বিরুদ্ধে তােমার
অভিযােগ শুনে।
লিলি। অহিযােগ আমি কখনাে করিনি।
ললিত। শুধজানিয়েচ এখানে তােমার জীবন দুৰ্ব্বহ হয়ে উঠেচে !
পিলি। না। তাও জানাইনি।
০

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। তাহলে বােজ বােজ তুমি কেন চিঠি লিখতে? কি লিখতে
চিঠিতে?
লিলি। লিখতুম আমরা সবাই ভালাে আছি, সুখে আছি।
ললিত। কেন তা লিখতে ?
লিলি। না লিখলে তাঁরা যে কষ্ট পেতেন।
ললিত।
ও, তারা কষ্ট পাবেন বলে !
লিলি। আমরা সুখী নই, তা জানলে তারা কি খুশী হতেন।
ললিত। তাদের জন্য সত্যিই আমি আজ দুঃখিত।
লিলি। কেন ?
ললিত। এসেই তারা দেখতে পাবেন কী সুখেই আমরা রয়েছি।
লিলি। এখানে তারা দিন দুই থাকবেন। তারপরই বেরিয়ে
পড়বেন।
ললিত। কোথায় ?
লিলি। বিলেতে। মার এতদিন অমত ছিল। কিন্তু আমাকে
ছেড়ে সে বাড়ীতে তিনি থাকতে পারছেন না বলেই দেশত্যাগ করছেন।
ললিত। তাদের সঙ্গে তুমিও তাহলে যাচ্ছ? এ-দেশের কিছুই
তােমার পছন্দ হয়না।
লিলি। তুমি ত যেতে পারবেনা।
ললিত। তাই তুমি চলে যাচ্চ। এ বাড়ীতে থাকব শুধু আমি
আর মিনতি। ঠিক মিলে যাচ্ছে ওই নভেলােনার ঘটনার সঙ্গে।
লিলি। মিনিদি আর তুমি ?
ললিত। আমি আর মিনতি।
।
• ৮৬

! স্বামী-স্ত্রী
লিলি। আচ্ছা, ওঁদের সহৈমগিদি যেতে পারে।
ললিত। মিনতি না থাকলে এ বাড়ীতে মানুষ এক মুহূর্তটিকতে
পরেবে না।
লিলি। আমি না থাকলে যখন এ বাড়ীর কিছুই এসে যায়না, তখন
আমারই যাওয়া উচিত।
ললিত। যা তুমি ভাল বােঝে।
লিলি। জানি আমি না থাকলে তােমার ভালােই হয়। কিন্তু
তবুও আমি যাবনা, আমি এইখানেই থাকব।
ললিত। থাকবে। অামার কাছে।
লিলি। হাঁ।
ললিত। শুধু তুমি আর আমি !
লিলি। হাঁ।
ললিত। আমাদের বাড়ীতে আমরাই শুধু থাকব।
লিলি'। হাঁ, তাই থাকব।
ললিত। এটা কিন্তু তােমার মা-বাবাকে খুশী করবার জন্য বলছনা।
লিলি। না।
ললিত। তুমি আমায় ঠাট্টা করচ না ত ?
লিলি। না।
মিনতি প্রবেশ করিল
মিনতি। কে কোথায় থাকবে তারই ব্যবস্থা করে এলুম। তুমি
অথচ্ছ না ত ললিত ?
৮৭.

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। ঠিক বলতে পারছিনা। আমার মনে হয় মিনতি ( লিলির
দিকে চাহিয়া ) যে ক’দিন ওঁরা এখানে থাকবেন, সে কয়দিন আমার
মাইন-এ থাকাই ভালো। তাই আমি যাই।
মিনতি। তাহলে আমিও যাব। ললিত।
লিলি। তুমি কোথায় যাবে মিনিদি।
ললিত। তুমি !
মিনতি। হাঁ। তুমি চলে গেলে এখানে যা হবে তা দেখবার জন্যে
আমি এখানে থাকতে পারব না।
তিনজনেই তিনজনের দিকে চাহিল
ললিত। এখন কি হবে মিনতি ?
মিনতি। সে আর মুখ দিয়ে বার নাই করলুম।
ললিত। তােমার বােনের প্রতি কি বড় বেশী অবিচার করচ নামিনতি?
লিলি। মিনিদি আমার আপনার বােন নয়।
ললিত। বন্ধু বটে ।
লিলি। তাও নয়।
ললিত। তাও নয় !
লিলি। দিনের পর দিন যে শুধু প্রতারণাই করে এসেছে, সে আমার
বন্ধু নয়।
ললিত। মিনতি প্রতারণা করেছে ! কী তুমি বলচ, লিলি।
লিলি। মিনতির ওকালতি করতে তুমি পঞ্চমুখ হবে তা আমি
জানি। তবুও আমি বলচি, তােমার এই মিনতি শুদবীর জন্যেই আজ
আমি অসুখী। ছেলেবেলা থেকেই আমাকে চালিয়ে নিয়ে এসে
৮৮

স্বামী-স্ত্রী এই দুঃখ-দুর্দশায় ডুবিয়ে দিয়েছে। ও আমাদের বাড়ীতে না এলে আমাকে আজ বিয়ে করতে হতো না, মা-বাবাকে ফেলে আমাকে এমন করে এখানে চলে আসতে হােতনা। ও বলে, ও এসেচে আমাকে সাহায্য করতে। কিন্তু আমি জানি সে-কথা সত্য নয়। ও নীরবে নিজের কাজ করে যায়, গােপনে আমার সব-কিছু লক্ষ্য করে আর সুযােগ পেলেই নিজের সুবিধে করে নেয়। তােমাকে ও আদর করে, যত্ন করে, তার কারণ-থাক সে কথা আমি বলব না।•••কর তােমাদের যা ইচ্ছে তাই, যত পার কর ষড়যন্ত্র তােমরা দুজনায়—দ্যাখ আজও আমি অবুঝ রয়েচি কি না। গাছকে মাটির বুক থিকে উপড়ে এনে টবে বসিয়ে তােমরা কর ফলের প্রত্যাশা ! আজ ডাল ধরে যতই নাড়া দাও,ফল তার কাছে পাবে না, জেনাে। ওই জঘন্য নভেলের বাজে গল্প শােনাতে ওর আনন্দ উছলে ওঠে, কিন্তু ও জানেনা যে ওই গল্পের পরিণতি ভেবে আমি এতটুকু ভয় পাইনা। হােক আমাদের জীবনের সেই পরিণতি, তবু কারু ভালো- বাসা আমি ভিক্ষে মেগে নােবনা।•••মা আসচেন, বাবা আসচেন••• আসছেন তাদের মেয়ের বাড়ীতে। এসে তারা দেখবেন মেয়ে তাদের কি সুখেই রয়েছে, তার স্বামী তাকে কি সুখেই-রেখেচে। তাই দেখুন তারা, তাই বুঝুন তার, তাই-ই আমি চাই। ডুকাইয়া কাঁদিয়া ঘর ছাড়িয়া চলিয়া গেল। মিনতি আর ললিত পরস্পর পরস্পরের দিকে চাহিয়া চুপ করিয়া দাড়াইয়া রহিল। প্রথমে কথা বলিল ললিত ললিত। এর অর্থ কি, মিনতি ? মিনতি। কিছুতেই আমাকে আর সইতে পারছে না। ৮৯

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। কবে থেকে এমন হােলা ?
মিনতি। ধীরে ধীরে ওর অন্তর-ভরে ঘৃণা জমে উঠেছে।
ললিত। মনের কথা তােমাকে আর কি ও বলেনা?
মিনতি। আমাকে ও অবিশ্বাস করে।
ললিত। একদিন সবাইকেই ও বিশ্বাস করত।
মিনতি। আজ কাউকেই করে না।
দুজনাই একটু চুপ করিয়া রহিল
ললিত। আমি আরাে একটা জিনিষ লক্ষ্য করলুম, মিনতি। আমি
ভুল করিনি। ও তােমাকে হিংসা করে।
মিনতি। হাঁ, তাও করে।
ললিত। আমাকে নিয়ে তােমাকে ও হিংসা করবে! আশ্চর্য্য।
কোন কারণইত•••
কথা শেষ না করিয়া মিনতির দিকে চাহিল। মিনতি
অন্যদিকে সরিয়া গেল
মিনতি। ভারচ কেন ? তাতে তােমারই ভালাে হোলাে।
ললিত। কি ভালো হােলো মিনতি ?
মিনতি। এখন ও তােমাকে ভালােবাসতে পারবে। ওর মত মেয়ে
শুধু ওই কারণেই ভালােবাসতে পারে।
ললিত। তােমার প্রাপ্য হবে ঘৃণা ?
মিনতি। আমি যে ওতেই অভ্যস্ত।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। তুমি কি জাননা ভালােবাসা কি ?
চমকাইয়া উঠিল। পরে নিজেকে সামলাইয়া লইল
ললিত।
মিনতি। জানি। আমি নিজেও ভালাে বেসেছি।
হয়ত অসুখীই হয়েচ ?
মিনতি। সুখী হইনি। কিন্তু কেন জান্তে চাইচ, বল ত ?
ললিত। ভালােবেসে যারা প্রতিদান পায় না, আর তা না পেয়েও
ভালবাসাকে যারা শ্রদ্ধার চোখে দেখে, তারাই পারে স্বার্থের
উর্ধে উঠতে।
মিনতি। ভালােবাসার মানেই হচ্ছে পরের কাছে নিজেকে উৎসর্গ
করে দেওয়া।
ললিত। কখনাে কখনাে তাতেও দুঃখ পাওয়া যায়।
মিনতি। দুঃখ তারাই পায়, যারা নিঃস্ব হয়ে পড়ে, মর্যাদা
হারিয়ে ফেলে।
ললিত। তােমার সঙ্গে আমার পরিচয় যত নিবিড় হচ্ছে, ততই
মনে হচ্ছে তােমাকে আমি আজও চিনিনি। আমি ভাবচি মিনতি
সে লােক কেমন, যে তােমার ভালােবাসাকেও উপেক্ষা করতে
পেরেচে।
মিনতি। সে আমার উপকারই করেছে—বিয়ে করবার দায় থেকে
আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে।
ললিত। তুমি কি বলচ মিনতি !
মিনতি। ঠিকই বলচি। Marriage is not my vocation.

স্বামী-স্ত্রী
of70 l What is your vocation then ?
মিনতি চুপ করিয়া রহিল
বল, জীবনে কি তুমি চাও?
মিনতি। এ-কথা এখন থাক। কামনার ধন পাবার অাগে তা
ব্যক্ত করতে নেই। ভালােবেসে প্রত্যাখ্যাতা না হলে এ-সত্যও আমি
বুঝতে পারতুম না।
ললিত। জীবনে কি তুমি শান্তি পেয়েচ? কিছুই কি চাওনা
তুমি ?
মিনতি। হাঁ চাই, চাই ছুটে যেতে, দূর-দূরান্তে। লােকালয়ের
বাইরে ; মনে একে রাখতে চাই অতীত দিনের নানা মনােরম ছবি।
তােমার তােমার যদি আমার প্রতি এতটুকু শ্রদ্ধা থাকে ••
ললিত। শ্রদ্ধা যে আছে, তা ত তুমি জান, মিনতি।
মিনতি। তাহলে লিলিকে তােমার কাছে টেনে নাও।
ললিত। তােমার কথা আমি বুঝতে পারচি না।•••
মিনতি। লিলিকে তুমি কাছে টেনে নিলেই আমি এখান থেকে
চলে যেতে পারব। আমি যদি দূরে চলে যেতে না পারি, তাহলে
আমার অন্তরের এক মহামূল্য বস্তু চিরকালের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে।
ললিত। মিনতি, তােমার কোন কথাই আমি অবিশ্বাস করিনা।
তুমি চেতে চাইছ ; বেশ, তাই তুমি যেয়ো।
মিনতি। কিন্তু যতক্ষণ লিলির সঙ্গে তােমার মনের মিল না হচ্ছে,
ততক্ষণ যে তােমাদের আমি ছেড়ে যেতে পারব না। আমাদের
তিনজনেরই জীবন কী ব্যর্থ হয়ে যাবে ?

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। তিন জনের!
মিনতি। না, না, কথাটা ঠিক আমি গুছিয়ে বলতে পারি নি।
ললিত। তুমি কি সত্যিই অসুখী, মিনতি ?
মিনতি। না। কিন্তু তুমি সুখ না পেলে আমি অসুখীই হব।
আর অসুখী হব, যদি এখান থেকে দূরে—অনেক দূরে চলে যেতে না পারি।
ললিত। আমি কি তােমার কোন উপকারই করতে পারি না?
মিনতি। পার। লিলির মা আর বাবাকে সাদরে গ্রহণ কর।
তাদের বুঝতে দাও যে তােমরা সুখে আছ, শান্তিতে আছ। তাতেই
আমার উপকার করা হবে।
ললিত। আর লিলি?
মিনতি। লিলিও তােমাকে সাহায্য করবে।
ললিত। তুমি ঠিক জান?
মিনতি। আমি যে পথ তৈরি করে দিয়েছি।
ললিত। তুমি !
মিনতি। না, না, আমি কেবলই আজ ভুল বলচি!
ললিত। আমার কাছে কিছু গােপন করাে না, মিনতি।
মিনতি। তােমার কমল-কলি ফোটেনি বলে তুমি একদিন দুঃখ
করেছিলে, তুমি আমার সাহায্য চেয়েছিলে •••
ললিত।' সেই থেকেই তুমি এই চেষ্টাই করে এসেচ ।
মিনতি। না, তা করিনি। কিন্তু সেদিন বনে রাত কাটাবার সময়
প্রথম লক্ষ্য করলুম, তােমার কমল-কলি ফোট-ফোট হয়েছে, শতদল মেলে
প্রেমের সৌরভ ছড়িয়ে দেবার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছে। সেই দিনই আমি

।
স্বামী-স্ত্রী
বুঝতে পারলুম তােমাদের মিলনের সময় আসন্ন,সেই দিনই বুঝলুম তােমাদের
মাঝখানে আর বেশি দিন থাকলে লিলির আর তােমার সর্বনাশ হবে ।
সেই দিন থেকেই আমি তােমাদের মিলনের পথ তৈরি করে এসেছি।
ললিত। তার আগে ?
মিনতি। তার আগেকার কথা আর তুলল না। তখন আমি
তােমাকে ভালাে করে চিনিনি, আর তা ছাড়া নিজেকেও•••
ললিত। এতদিন যা খুজে বেড়িয়েচি, এত কাছেই যে তা ছিল,
আগে আমি তা বুঝিনি, মিনতি। তা যদি বুঝতুম:
বাহিরে গাড়ীর শব্দ হইল
মিনতি। ওই তারা এসে পড়েছেন। লক্ষ্মীটি, তুমি যাও।
ললিত। আমি গিয়ে কি করব মিনতি !
মিনতি। ওঁদের অভ্যর্থনা করে নিয়ে এস। ওই দ্যাখ লিলি গেছে।
এই সময়ে তুমি তার পাশে গিয়ে দাড়াও। তার মা-বাবার কাছে তাকে
আর ছােট কোরাে না।
ললিত চলিয়া গেল
এই ঠিক হােলাে। এইবার সত্যি সত্যিই আমি জয়ী হলুম !
সেও বাহিরে চলিয়া গেল। অন্য দরজা দিয়া
মিসেস দাস লিলিকে জড়াইয়া ধরিয়া প্রবেশ
করিলেন। একটু পরে মিঃ দাস ও ললিত।
মিসেস। এলুম তােমার বাড়ী-ঘর দেখতে। বেশ বাড়ী করেচে ললিত।
এতদিন পরে তােমাকে বুকে পেয়ে কি ভালােই যে লাগচে, লিলি। দেখি,
চিবুকে হাত দিয়া মুখ তুলিয়া ধরিল
৯৪

স্বামী-স্ত্রী
দেখতে ঠিক তেমনটিই আছ মা, মুখের রংটা একটু যেন—তা সে ত হবেই,
গিন্নীর গােলাপী গাল ঠিক মানায় না। না ? মায়ের কথা মনে করে
বােজ তুমি চিঠি লিখতে, তাই তােমার বুড়ো বাপ-মাকে বাঁচিয়ে রাখত,
জানলে ? এমন মিষ্টি করে চিঠি লিখতে কে শেখালে! ললিত বুঝি।
মিঃ দাস গায়ের ওভারকোট খুলিতে উদ্যত হইলেন,
ললিত আগাইয়া গেল।
ললিত। May I ?
fa: Yol Thank you. I can manage quite well
myself.
ললিত। আমাকে দিন, আমিই রেখে আসছি।
fy: 775 I Much obliged. I will do it myself.
বাহিরে চলিয়া গেলেন। ললিত তাহার পিছু পিছু গেল
মিসেস দাস। উনি ত কিছুতেই আসবেন না। রাগটা এখনাে
একেবারে যায় নি। আমি বল্লম আমার লিলিকে না দেখে আমি যেতে
পারব না। ওরও মনটা নরম হােলো।
মি: দাস প্রবেশ করিলেন। পিছনে পিছনে ললিত
ললিত। পথে আপনাদের কোন কষ্ট হয়নি ত ?
মিঃ দাস। কিছু না।
ললিত। ঠাণ্ডাও লাগেনি।
মিঃ দাস। সামান্য। কাসিটা একটু রয়েচে। You are well?
afarol Very well. Thank you.

স্বামী-স্ত্রী
মিসেস দাস।
মিসেস দাস। ওগো দেখে?
মিঃ দাস। কি বলত।
ওমা! তুমি লক্ষ্য করনি ?
মিঃ দাস। না।
মিসেস দাস। এ যে আমাদেরই বাড়ীতে ফিরে এসেছি। এ যে
আমাদেরই বসবার ঘর, দেখচ না।
মিঃ দাস। (চারিদিকে চাহিয়া ) Upon my word !
মিসেস দাস। কার্পেট, কার্টেন, চেয়ার, টেবল, কোচ, সােফা
সবই যেন আমাদের। যেখানে যে-জিনিষটি যেমন আমাদের ঘরে রয়েছে,
ঠিক তেমনটি? ললিত বাবা, আমার লিলিকে যে তুমি কত ভালােবাস
তা এই থেকেই বােঝা যাচ্ছে। কেমন গো, তাই নয় ?
মিঃ দাস। Yes. হাঁ, তা মানতেই হবে।
মিসেস দাস। ( লিলির কাছে গিয়া) দুষ্ট মেয়ে এ-সব কিছুই
আমাদের জানাওনি, তুমি !
মিনতি। শুধু এই ঘরটাই নয় মাসিমা, সারা বাড়ীটাই আপনাদের
বাড়ীর মত করে তৈরি হয়েছে।
মিসেস দাস। সত্যি! ওগাে, শুনচ।
মিঃ দাস। তরুণী স্ত্রীকে খুশী করবার এর চেয়ে ভালাে ব্যবস্থা কেউ
কখনাে করেছে বলে আমি শুনিনি—It is the most clfarming way
of giving pleasure to a young wife.
মিসেস দাস। কিন্তু আমি আশ্চর্য্য হচ্ছি এই ভেবে যে লিলি এসব
কিছুই আমাদের কেন জানায়নি।

ট
১. মিঃ দাস। কিছুই জানায়নি।
মিসেস দাস। কেন, তুমি লিলির চিঠি পড়তে না।
মিঃ দাস।
ও সেই কথা বল। তা জানাবে কি! লিলি বােজ
বােজ এই ঘর দেখচে। আর জান ত মানুষ রােজ যা দেখে দেখে অভ্যস্ত
হয়, তার নতুনত্ব তাকে চিঠি লেখবার সময় প্রেরণা দেয় না।
জন্যেই লিলি চিঠিতে এসব কিছু লেখেনি। Am I ?03 right
darling ?
মিসেস দাস। আর এসব ললিত করেছে তার নিজের চেষ্টা।
সেটাও কম আনন্দের কথা নয়।
মিঃ দাস। Aren't you proud of that, my dear?
মিসেস দাস। ললিত আমাদেরই সন্তান-তুল্য, শুনে আমরা শী
হতুম।
মিঃ দাস। কিন্তু আমার লিলি মা যে মনের কথা খুলে প্রকাশ করে
। যাকে ও যত বেশী ভালােবাসে, তার সম্বন্ধে ও তত কম
কথা কয়।
মিসেস দাস। আর হালে ওর চিঠিতে থাকত শুধু ভালােবাসা
সম্বন্ধে নানা রকমের গবেষণা।
লিলি। মা !
মিসেস দাস। আমি ললিতকে সব বলে দোব।
লিলি। না মা, ওসব কথা তুমি এখন তুলো না ।
মিসেস দাস। আচ্ছা ললিত তােমায় এত সব নিলে আর তুমি
ললিতকে কি দিয়েচ, মা।

স্বামী-স্ত্রী
মিঃ দাস। একটা কমফরটার কি আর কিছু বুনে দাওনি। এই
দ্যাখ তােমার মা এতদিনে এটা শেষ করে দিয়েছেন।
মিনতির দিকে ফিরিয়া
মিনি-মা, এই দ্যাখ তােমার মাসিমার জয়-পতাকা।
মিনতি। মাসিমা বেশ বােনেন।
মি: দাস। ললিত কোথায় ?
মিনতি। আমি দেখছি কোথায় গেল ।
মিঃ দাস। ওই যে, এসেচে। তােমার হাতে ও কি ললিত।
একখানি টের ওপর দু’গ্লাস শেরি লইয়া ললিত প্রবেশ করিল
ললিত। মাঝে মাঝে একটুখানি শেরি আপনি ভালােবাসতেন।
তাই নিয়ে এলুম।
মিঃ দাস।
You remember that!
মিসেস দাস। ললিত আমাদের সত্যিই ভালােবাসে।
মিঃ দাস একটি প্লাস তুলিয়া লইলেন, ললিতও আর একটি
ললিত। আপনারা এসেছেন বলে লিলি আর আমি বড় খুশী হয়েছি।
আপনাদের সেবা করবার সুবিধে দিয়ে আপনারা লিলিকে আর আমাকে
অনুগৃহীত করলে আমরা আরাে খুশী হব।
মিঃ দাস। আমরা এসেচি বলে তােমরা খুশী হয়েচ। আর তােমরা
খুশী হয়েচ জেনে আমরা, তােমাদের বুড়ো বাপ-মা, মনের আনন্দ চেপে
রাখতে পারছি না। সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের বড় ভয় ছিল।
তবুও আমাদের আসতে হােলা শুধু আমাদের সন্তানকে ••
০

স্বামী-স্ত্রী
. মিসেস দাস। দুটি সন্তানকে।
মিঃ দাস। হাঁ হাঁ, আমাদের এই দুটি সন্তানকে, অন্তত চোখের দেখা
দেখে যাবার জন্য। লিলি তার চিঠিতে জানাত যে তােমরা বেশ সুখেই
আছ, এসে দেখলুম সত্যিই তােমরা সুখে আছ। এবে তােমরা
যে সুখের সন্ধান পাবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। আর তা
পারিনি বলেই আমরা তােমাদের চলে-আসা সমর্থন করিনি। আজ
বুঝতে পারচি এসে তােমরা ভালােই করে। ভয়ের আর কোন কারণ
নেই। দীর্ঘকাল তোমরা সুখে কাটাবে এ বিশ্বাস আমার হয়েচে। I have
complete trust in you, Lalit, my dear son-God bless you.
মিঃ দাস ললিতে করমর্দন করিলেন
মিসেস দাস। আমার একটি কথা জান্তে বড় ইচ্ছে হচ্ছে। তােমরা
কেউ বলতে পার তা কি ?
না।
সকলে।
মিসেস দাস। ললিত আমাদের শােনাক কেমন করে লিলিকে সে
জয় করল।
লিলি। তােমার কি হয়েচে বল ত মা।
মিসেস দাস। কেন, এতে লজ্জার কি আছে। আমাদের যে শুন্তে
ভালাে লাগে। স্বামীর ভালােবাসা পাওয়া নারীর ভাগ্য।
মি: দাস। তােমার মা ঠিক কথাই বলেচেন লিলি। এস সবাই
'আমরা এখানে বসে বসে ললিতের কাহিনী শুনি।
মিসেস দাসের কানের কাছে মুখ লইয়া
আর আমাদের কাহিনীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। কি বল ?

স্বামী-স্ত্রী
মিসেস দাস। আঃ ওরা শুন্তে পাবে।
কোচে বসিলেন
মিঃ দাস। এস লিলি, তুমি তােমার মায়ের পাশে বসবে।
লিলিকে ধরিয়া তাহার মায়ের পাশে বসাইয়া দিল
মিনি-মাকে নিয়ে আমি এইখানেই বসি। ললিতের কথা শুনব আর
লিলির মুখ দেখব।
সাম্নের কৌচে বসিলেন। দু'খানি কোচের মাঝখানে
একখানি আসন লইয়া ললিত বসিল।
1;
মিসেস দাস। ললিত, কিছু লুকোতে কিন্তু পারবে না বাবা।
ললিত। বলা যায় এমন সব কথাই বলব।
মিঃ দাস। Good.
লিলি। কিন্তু ও যা বলবে...
ললিত। চিঠিতে যে-সব কথা লিখতে তুমি ভুল করে, তাই শুধু
আমি বলব। আসল যা, তা ত আগেই তুমি জানিয়ে রেখেচ।
মিসেস দাস। বােস মা। চুপটি করে শােন। ভুল কোথাও যদি
করে তুমি শুধরে দিয়ে। বল ললিত ।
ললিত। আপনারা ত জানেন যে আমাদের মনােমালিন্য বড় কম
ছিল না•••
fa: 777 | Please pass over that, pass over that !
ললিত। আপনাদের ছেড়ে এসে লিলি যে কত কষ্ট পাচ্ছিল প্রথম
প্রথম তা আমি তেমন বুঝতে পারিনি। তখন ভেবেচি দুদিনেই শান্ত
১০০

স্বামী-স্ত্রী
হবে। কিন্তু ও তা হােলল না। আমাকে সাম্নে দেখলেই ওর সারা দেহ
কেঁপে উঠত—হয়ত রাগে। ভাবলুম স্বামীত্বের দাবির জোরে ওকে ওর
বাপ-মায়ের কাছ থেকে নিয়ে আসতে পারলুম, কিন্তু সেই দাবির জোরে
ওর ভালােবাসা ত অর্জন করতে পারলুম না।
মিসেস দাস। লিলি ছেলেমানুষ হলেও লিলি জানত যে, দাবির
জোরে দেহ অধিকার করা গেলেও হৃদয় জয় করা যায় না।
মিঃ দাস। হাঁ, হাঁ, আসবার দিন এমি একটা কথাই ও বলেছিল।
আমার বেশ মনে আছে।
ললিত। ক্রমে আমিও তাই বুঝতে পারলুম। মুহুর্তের ভুলে যে-
ভালােবাসা আমি হারিয়েচি, তাই ফিরে পাবার জন্য আমি তার সেবায়
আত্ম-নিয়ােগ করলুম। বাড়ী-ঘর সবই আপনাদেরই অনুকরণে তৈরি
করলুম, সংসারের বিধি-ব্যবস্থা এমন করলুম যাতে করে লিলি তার অভ্যস্ত
কোন কিছুরই অভাব অনুভব করতে না পারে। বুঝতেই পারচেন এ-সব
করতে দিন-রাত আমাকে পরিশ্রম করতে হােত।
মিসেস দাস। সেত আমরা বুঝতেই পারছি।
ললিত। লিলিও বুঝত। আমাকে দেখলেই ও পালিয়ে যেত সত্য,
কিন্তু আমি বেশ বুঝতে পারতুম আমি বাইরে চলে গেলে আমার জিনিষ
পত্তর কত যত্ন করে ও গুছিয়ে রাখত।
লিলি। না, না, আমি তা করতুম না।
লজ্জা কি লিলি, এক সময়ে আমিও তাই
করতুম।
মিঃ দাস।
তােমার মা আবার তার উপস্থিতি বােঝাবার জন্য
মিসেস দাস।
১০১

স্বামী-স্ত্রী
আমার বইয়ের পাতার মাঝে চুলের কাটা গুজে রেখে যেতেন। কলেজে
একদিন ছেলেরা আবার তা আবিষ্কার করেও ফেল্ল।
মিসেস দাস। তােমার কথা কত আর শুনব, এইবার ললিতকে
বলতে দাও।
ললিত। লিলি যে বড় নরম মেয়ে, তা আপনারা জানেন। সারারাত
আমার ঘরে বসে ওরই সুখের উপাদান যােগাবার জন্য আমি কাজ
করতুম, আর পাশের ঘরে ও জেগে বসে থাকত, মাঝে মাঝে আমি
যেন ওর পায়ের শব্দ শুনতে পেতুম। সারাদিন মাইন-এ কাজ করে
আমি বাড়ী ফিরে এলে ও দৌড়ে আমার কাছে যেত না, হেসেও পাশে
বসত না—কিন্তু নানা রকমে ও আমায় বুঝিয়ে দিত আমার নিষ্ঠার মূল্য
দিতে ও জানে। আমার পরিপূর্ণ ভালােবাসা না পেয়ে ও আমাকে ধরা
দেবেনা এই ছিল ওর সঙ্কল্প।
লিলি উঠিয়া দাড়াইল
লিলি।
এ-সব ও কি বল্‌চে।
মিসেস দাস তাহাকে টানিয়া বসাইল
মিসেস দাস। বেশ বলছে। ওকে বলতে দাও।
মি: দাস। সুখের সন্ধান সহজে তােমরা পাওনি ?
ললিত। না।
যে সুখ সহজেই পাওয়া যায়, তাকে বেশি দিন
ভােগ করা যায় না।
মিসেস দাস। কিছুই আমাদের জানায়নি।
ললিত। আপনাদের ভালােবাসে বলেই জানায়নি, আপনারা ব্যথা
পাবেন বলেই জানায়নি।
১০২

স্বামী-স্ত্রী মিঃ দাস। তুমি এত কৃপণ তা তাে জান্তুম না, লিলি। ললিত। আমাকে না বুঝে ও আত্মদান করতে পারেনি। কিন্তু বুঝতে ওর দেরিও হােলােনা। অল্প ক'দিনেই ও বুঝতে পারল যে স্বভাবতই আমি কঠোর নই। ভুল করেই আমি কঠোর হয়েছিলুম আর । সেই ভুলও করেছিলুম ওকে বড় বেশী ভালােবাসতুম বলে। ক্রমে ও আমার সাম্নে আসতেও লাগল, মাঝে মাঝে কথাও বলা শুরু করল। তারপর এক শুভ প্রভাতে, ঠিক আজকার মতই এক সু-প্রভাতে আমরা দু’জনা বসে একখানা বই পড়ছিলুম। সেই বই পড়তে পড়তে আমরা যেন শুন্তে পেলুম আমাদের জীবনের সুখ-শান্তি সম্বন্ধে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী । দুজনাই আমরা ভয় পেলুম। ভয়ে আমরা এক হলুম। দুজনই দুজনার কাছে আশ্রয় চাইলুম, সান্ত্বনা চাইলুম । লিলি ও ললিত পরস্পর পরস্পরের দিকে চাহিয়া রহিল। মিসেস দাস। তারপর, তারপর ললিত। ললিত। তারপর সহসা যেন উতলা বসন্ত-বায়ু আমাদের ঘরের দুয়ার জানালা সব খুলে দিল। এল আপনাদের চিঠি। উষ্ণ হাওয়ায় ঘর ভরে উঠল। আনন্দে লিলির মুখের দিকে চেয়ে দেখলুম আমার কমল-কলি যেন দলে দলে ফুটে উঠেছে। আমি আর থাকতে পারলুম । তার সাম্নে হাঁটু গেড়ে বসে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে চুপি চুপি আমি বলুম—তােমার মা-বাবার কথা ভেবে দেখ, ভেবে দেখ কিসে তারা শান্তি পাবেন ; আমার কথা ভেবে দেখ, ভেবে দেখ কতকাল আর আমি soo

স্বামী-স্ত্রী
ভুলের এই শাস্তি ভােগ করব; তােমার নিজের কথাও ভেবে দেখ,
ভেবে দেখ তােমার অন্তরের সঞ্চিত স্নেহ ভালােবাসা আর কতদিন
প্রকাশের পথ না পেয়ে তােমাকে পীড়া দেবে। সব ভেবে দ্যাখ লিলি-
ভেবে দ্যাখ পরস্পর পরস্পরকে পেয়ে আমরা ধন্য হতে পারি কি না।
মি: দাস। লিলি কঁদছে।
মিনতি। চলুন মাসিমা, বাড়ীটা এইবেলা দেখে নেবেন।
মিসেস দাস উঠিয়া মিঃ দাসের কানের কাছে মুখ
লইলেন।
মিসেস দাস।
চল ওই দিকে।
মিঃ দাস উঠিলেন।
মি; দাস। কিন্তু লিলি যে কঁদছে।
মিসেস দাস। আঃ একটুও বৃদ্ধি নেই তোমার !
মি: দাস। ও হো-হো মনে পড়েছে, মনে পড়েছে, হঠাৎ আনন্দ হলে
তুমিও কঁদতে।
মিসেস দাস। আঃ ।
মি: দাস।
But we are alſ freinds here !
তাহারা ঘরের বাহির হইয়া গেল। ললিত লিলির
পাশে গিয়া বসিল। ধীরে ধীরে তাহাকে কাছে
টানিয়া লইল।
ললিত। কঁাচ কেন, লিলি !
লিলি। না জেনে কত ব্যথাই তােমাকে দিয়েছি।
১০২

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। তােমার মা বাবার কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলুম বলে
এখনও কি তুমি দুঃখিত ?
লিলি। না। এখন যে তােমার বুকে ঠাঁই পেয়েছি।
ললিত। চিরদিনই এম্নি থাক তুমি।
লিলি। আমার মনের সব কথা তুমি কেমন করে জানলে ?
ললিত।
দেখলে ত একটিও মিথ্যে কথা বলিনি।
লিলি। মিনিদি যদি মা-বাবার সঙ্গে যেতে চায়, তুমি অমত
কোরাে না।
ললিত। সে-কথা আজ কেন ? ওরা দিনকত থাকবেন যে।
লিলি। না। আজই চলে যাবেন !
ললিত। না, না, তা কি করে হবে। আজই যাবেন কি করে।
তুমি ওঁদের ধরে রেখাে।
লিলি।
না। আমি তা রাখব না।
ললিতা, সে কি !
লিলি। আমি তা পারব না। কিছুদিন আমি তােমার সঙ্গে একা
থাকতে চাই, শুধু তুমি আর আমি !
ললিত। বেশ তাই-ই হােক ।
লিলি উঠিয়া বাড়াইল
লিলি। আমি একবার মার কাছে যাই। তুমি কিন্তু কোথাও
যেয়ােনা।
ললিত। একবার ঘণ্টাখানেকেরু জন্যে মাইন-এ যাব।

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। না, না, মাইন-এর কুলীরা খেটে-খেটে কালাে হয়ে গেছে
তাদের দিন কত ছুটি চাই। আজ থেকে মাইন বন্ধ। আমার হুকুম !
ললিত উঠিয়া দাঁড়াইয়া সেলাম করিল
ললিত।
Your most obedient servant !
লিলি দৌড়াইয়া ঘরের বাহির হইয়া গেল। ললিত
নভেলখানা তুলিয়া লইয়া লুফিতে লাগিল।
ধীরে মিনতি প্রবেশ করিল।
ধীরে
মিনতি।
ললিত।
ললিত তাহার দিকে ফিরিল
আমি আজ ওঁদের সঙ্গে চলে যাব।
ললিত। চলে যাবে!
মিনতি। হঁ্যা।
ললিত। কবে ফিরবে ?
মিনতি। আর ফিরব না।
ললিত। আমাদের ভুলে যাবে না ?
মিনতি। ভুলতে কি পারব ? :
ললিত। তুমি সব পার, মিনতি।
মিনতি। পারব না শুধু তােমাকে ভুলতে ।
ললিত। বেশ ! দেখা যাবে।
মিনতি। আমার নতুন নভেল বেরুলেই তােমায় পাঠিয়ে দেব।
ললিত। তােমার লেখা নভেল।

স্বামী-স্ত্রী
মিনতি। তােমার হাতেই একখানা রয়েছে যে।
ললিতের হাত হইতে বইখানা পড়িয়া গেল। ললিত
সেখান তুলিয়া লইতে মাথা নীচু করিল। মিনতি
সেই অবসরে ঘরের বাহির হইয়া গেল। ললিত
মাখা তুলিতে তুলিতে ডাকিল
ললিত। মিনতি।
লিলি প্রবেশ করিল
লিলি। মিনিদিকে কেন ডাকছিলে ?
ললিত। মিনতি কোথায় ?
লিলি। কেন ?
ললিত। সে কি সত্যই চলে যাবে ?
লিলি। হাঁ, যাবে।
ললিত। সে বলছিল, আর এখানে ফিরে আসবে না।
লিলি।
আসাই উচিত।
ললিত। মিনতি ধূপের মতই নিজেকে পুড়িয়ে আমাদের আজ
আনন্দের অধিকারী করেছে, লিলি।
লিলি। মিনতির কথা ছাড়া কোন কথাই কি তুমি জাননা?
কোন কথাই কি আর তুমি বলতে পারনা? মিনতি, মিনতি, মিনতি
আমি শুন্তে পারি না, তাও তুমি বােঝনা।
ললিত। লিলি, লক্ষ্মীটি, আজকার দিনে কারু অমর্যাদা তুমি
কোরাে না। ভুল না, আজই আমাদের সত্যিকারের মিলন হয়েছে ।
লিলি। না, না, মিলন আমাদের হয়নি-মিনতি বেঁচে থাকতে মিলন
১০৭
০

স্বামী-স্ত্রী
আমাদের হবে না। থাক তুমি
থাক তুমি তােমার মিনতিকে নিয়ে তােমাদের
এই বাড়ীতে মনের আননে-আমি আমার মা-বাবার সঙ্গে আজই
চলে যাই...
ললিত। লিলি। লিলি !
মাইন-এর সাইরেণ বাজিয়া উঠিল, ললিত দৌড়াইয়া
গিয়া দুয়ায়ের কাছে দাড়াইল, সাইরেণ আর্তস্বরে
সাহায্য চাহিতে লাগিল।
ললিত লিলির সাম্নে
আসিল।
লিলি, মাইন-এ কোন বিপদ ঘটেছে। আমি এখুনি যাচ্ছি। তুমি
আমায় ভুল বুঝাে না, ফিরে এসে আমি তােমাকে বুঝিয়ে দোব আমাদের
জীবনে মিনতির স্থান কোথায়।
ললিত বেগে বাহির হইয়া গেল। মিনতি বেগে
প্রবেশ করিল।
মিনতি। ললিত কোথায় ?
লিলি। জানিনা মিনিদি, আমাকে তােমরা আর প্রশ্ন করাে না।
মিনতি। ললিত কি মাইনে চলে গেল ?
লিলি।
পথ ত তুমি চেন মিনিদি, ইচ্ছে হয় যাও।
মিনতি।
ওরে অভাগী, তাকে তুই কেন যেতে দিলি। মাইনে
আগুন লেগেছে, তারই মাঝে তুই তাকে ঠেলে দিলি।
লিলি। মিনিদি।
১০৮

স্বামী-স্ত্রী
মিনতির দুই হাত চাপিয়া ধরিল। মিঃ দাস ও
মিসেস দাস প্রবেশ করিলেন।
মিঃ দাস। তােমাদের মাইন-এর এঞ্জিনটা কি ক্ষেপে গেছে।
লিলি ছুটিয়া মিঃ দাসের বুকে ঝাপাইয়া পড়িল।
লিলি। বাবা, মাইন-এ নাকি আগুন লেগেছে !
মিসেস দাস। ললিত ? ললিত কোথায় ?
লিলি। সে সেইখানেই চলে গেছে, মা।
মিঃ দাস। সেই আগুনের মাঝে!
মিনতি। আমি ললিতকে নিয়ে আসচি, মেলােমশাই।
মিনতি ছুটিয়া চলিয়া গেল
লিলি। আমিও যাব, বারা, আমিও যাব।
মিঃ দাস। তুমি সেখানে গিয়ে কি করবে মা?
লিলি। কিছু না পারি, তার পাশে দাড়িয়ে থাকব।
লিলি অগ্রসর হইল
মিসেস দাস। পাগলের মত কী তুই বলচিস লিলি ?
লিলি ফিরিয়া দাঁড়াইল।
লিলি। তােমরাই ত বলেছিলে মা, স্ত্রী স্বামীর সহচরী, স্বামীর
পাশেই তার স্থান। আমার স্বামীর পাশেই আমার স্থান।
উত্তরের অপেক্ষায় না থাকিয়া চলিয়া গেল । মিঃ দাস
তাহার পিছু পিছু খানিকটা অগ্রসর হইলেন। দ্রুত
যবনিকা পড়িল।

চতুর্থ অল্প
মাইন-এর অভ্যন্তর। চারিদিকে সুড়ঙ্গ চলিয়া গিয়াছে, মাঝে মাঝে থাম, কাটা কয়লার
দেওয়াল। নীচু হইতে দিকে দিকে ধোঁয়া বাহির হইতেছে। বহু নর-নারী স্তব্ধ হইয়া
দাড়াইয়া রহিয়াছে। এক-কোণে কয়েকজন কর্মচারীর সহিত ললিত কথা কহিতেছে।
১ম।
ললিত। কোন কিছু করবার নেই?
।
ললিত। অতগুলাে লােক মাটির নীচে পুড়ে মরবে ? আমরা তাদের
তুলতে পারব না?
২য়। লিফট নষ্ট না হয়ে গেলেও চেষ্টা করবার উপায় ছিল।
ললিত। ওই ক্রেনটা ? ওটা রয়েছে কিসের জন্যে ।
ওতে যে শেকল রয়েছে, তা অত নীচু পর্যন্ত পৌছুবে না।
ললিত। সে ব্যবস্থা আমি করছি।
১ম।
ললিত অগ্রসর হইল অনেকগুলো নর-নারী ললিতকে
ঘিরিয়া দাড়াইল।
।
নর-নারী। হুজুর, ওদের কি হবে হুজুর?
নারী। হামার আদমী নীচে হুজুর।
নর। হামার জরু।
বৃদ্ধা। হামার ছেলে হুজুর।
১১০

স্বামী-স্ত্রী
অনেকে। হুজুর তাদের কি হবে ?
ললিত।
ক্রেনে চেন লাগাও। বাকেট নামাও।
১ম কৰ্ম্মচারী। তাতেও কোন লাভ হবে না। এখুনি হয়ত ভীষণ
একটা explosion হবে। আমরা শুদ্ধ উড়ে যাব।
২য় কর্মচারী। মাটিতে কান লাগিয়ে শুনতে পেলুম—উঃ কী সে
ভীষণ শব্দ।
৩য় কর্মচারী। উড়ে যাবে, এ খাদও উড়ে যাবে।
ললিত। তােমরা সব এখানে কি করচ ? চলে যাও ওপরে।
অনেকে। আমরা যেতে পারব না।
১ম কর্মচারী। যেতে পারবি না। সবাই মরব ?
ললিত।
তােমরা ওদের ওপরে তুলে দাও। আমি ক্রেনটা ঠিক
করে ফেলি।
একটা সুড়ঙ্গ দিয়া চলিয়া গেল।
২য়। ওপরে চলে যা।
আমার হুকুম।
অনেকে। তুমারা হুকুম নেহি মানেগা।
১ম কর্মচারী। সাহেবের হুকুম !
অনেকে। সাহবকা হুকুম হি মানেগে।
ললিত ছুটিয়া আসিল।
ললিত। কে মানবে না আমার হুকুম ?
অনেকে। উও লােগকো ছােড়কে হ লােগ ক্যভী গৃহী যায়েঙ্গে।
তুম মত হুকুম দেও, তুমহারা হুকুম হলােগ নেহী মানেঙ্গে।
ললিত রিভলভার বাহির করি
.
১১১
• ।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। আমার হুকুম, এখুনি সব ওপরে চলে যাও।
একবৃদ্ধ। মারাে গােলী। হম লােগকে জৰু লড়কাকে। জমীনকে
নীচে জালাকে মারাে, হম্ লােগকো গােল সে মারদো, ব্য, অ্যাব, কেয়া
দেখতে হাে।
২য় কর্মচারী। ওরে, এখানে থাকলে তােরা যে মরে যাবি।
একজন যুবক। ইয়ে তো তুম্হী করাতে হে।।
ললিত। ব্যস! ব্যস! আর কোন কথা নয়। একটি লােকও
এখানে থাকতে পাবে না। যে যেতে না চাইবে, তাকে আমি গুলি করব।
যাও, যাও সবাই ওপরে !
কর্মচারীরা লোকগুলিকে টানিয়া সরাইয়া দিতে
লাগিল, কিন্তু তাহারা আবার গর্তের মুখে ভিড়
জমাইল।
একজন। উও লােগকো উপর উঠাও তব হ লােক যায়েঙ্গে।
আর একজন। জমীনকে নীচে সবকেই জালকে ভস্যম্ হো জায়গা,
উনকো বানেকে লিয়ে কোই হাত নহী উঠায়েগা।
কর্মচারী। তােরাও যে তাদেরই সাথে পুড়ে মরবি।
অনেকে। হাঁ, হাঁ, হম্‌ লােক এক সাথহী মরেঙ্গে।
ললিত। তবে তাই তারা ম।
গুলি চুড়িল, একটা লােক আৰ্তনাদ করিয়া
পড়িয়া গেল।
এক মিনিট দাড়ালে আবার গুলি করব, ভাগাে, সব ভাগে।
১১২

স্বামী-স্ত্রী
লােকগুলো ভয়ে জড়সড় হইয়া পিছাইয়া গেল, ললিত
আরো আগাইয়া আসিল।
যাও; সব ওপরে যাও।
লােকগুলো পিছনে হটিতে লাগিল।
আমি কাউকে নীচে থাকতে দেব না, তােমাদের কাউকে না।
লােকগুলাে অদৃশ্য হয়ে গেল।
কর্মচারী। কিন্তু আপনি এ করচেন কি ?
ললিতণ আমি ওই ক্রেন ঠিক করব, নীচে নেমে যাব।
কর্মচারী। কিন্তু রি মাঝে যদি মাইন explode করে।
ললিত। যদি তা না করে ?
কর্মচারী। করবার সম্ভাবনাই বেশি।
ললিত। যদি তা না করে, তাহলে অতগুলাে লােক নীচেয় পুড়েই মরবে।
কর্মচারী। আর যদি করে ?
ললিত। তাদের সঙ্গে আর একটি মাত্র বেশী লােক মারা যাবে।
কর্মচারী। আপনি বলছেন কি?
ললিত। দেখলে ত ওদের জন্য ওদের আত্মীয়-স্বজনের ব্যাকুলতা,
ওদের জন্যে ওদের সংসারে যে হাহাকার উঠবে, আমার জন্যে তা উঠবে
। তােমরা নিজেদের জীবন বিপন্ন কসাে না। যখনই বুঝবে অবস্থা
গুরুতর, তখুনি তােমরা ওপরে উঠে যাবে, আমার জন্য ভেবাে না, আমার
জন্য অপেক্ষা করাে না।
ললিত চলিয়া গেল।
১ম। লােকটার মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি!

স্বামী-স্ত্রী
২য়। না হয় ক্রেনে করে নীচে নেমে গেল, কিন্তু কে তুলবে ?
৩য়। ওই দ্যাখ এই খদেও আগুন আসছে।
১ম। পালাও! আর এক মুহূৰ্ত্ত এখানে নয়।
তাহারা পালাইয়া গেল। সেই সময়ে ক্রেনের মুখ
ঘুরিয়া আসিল, শেকলে বাঁধা বাকেট পিটের মুখে
আসিয়া দাঁড়াইল। একটি মজুরের সঙ্গে মিনতি ।
প্রবেশ করিল।
মজুর। হিয়া, মেমসাব, সাহেব কে হাম হিয়া দেখা থা।
মিনতি। কিন্তু কোথায় তিনি? ললিত! ললিত!
মজুর। মেমসাব! মালুম হােত সাহাব নীচু মে গিয়া।
মিনতি। কোন পথে নীচে যেতে হয়?
মজুর। এহি বাকেটপ বৈঠকে যানা পড়ত হয়।
মিনতি। আমি যাব।
মজুর। তব তত এই বাকেটপর বৈঠনে পড়েগা।
মিনতি। আমায় বসিয়ে দাও,দোহাই তােমার, আমায় বসিয়ে দাও।
মজুর। আইয়ে মেম-সাব।
।
মিনতিকে বসাইয়া দিল, ক্রেনের চেন হড় হড় করিয়া
নামিয়া যাইতে লাগিল। মজরটা নীচু হইয়া
দেখিল, তারপর পাগলের মতো হাসিয়া উঠিল
অকেলা হামার আদমী সব নীচুমে জলকে মরতা হায়—আভি তুম
যাও, মেম-সাব তুম যাও, হেঃ হেঃ হেঃ।
ললিত ছুটিয়া আসিল
১১৪

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। হাসতাহে কেঁও উল্ল ?
মজুর। হামারা আদমীসব নীচুমে জলকে ম্যতা হয়, হামারা
আদমীকো তুমনে গােল কিয়া হায়—আভি তােমার মেম-সাব...
ললিত। মেমসাব!
মজুর। হাঁ, হ, তুমহারা মেমসাবকোভী হাম নীচুমে ভেজা হায়।
ললিত ঝাঁপাইয়া তাহার টু’টি টিপিয়া ধরিল
ললিত। সাচ, বােললা, উল্লু।
মজুর। সাচ, হি বােলতা যায়, সাব।, অব সঝাে হামারা
আদমিকো ওয়াস্তে হামারা কলিজামে কেইসে দরদ লাগতে হায়।
ললিত। তুমি আমার মেমসাহেবকে নীচে ওই আগুনের মাঝে
পাঠিয়ে দিয়েচ ?
মজুর। হাঁ, হ, হামারা আদমীকে। পাস ভেজা হয়।
ললিত। তােমাকে আমি গুলি করে মারব।
মজুর। মারাে।
ললিত ইতস্তত করিল
ললিত। যাও, ক্রেন ঘুমাও।
মজুর। নেহি সকো।
ললিত। ঘুমাও ক্রেন, বাকেট উঠাও।
মজুর। আরে সাব তুম পাগল হো গয়া? দেখতা নেহি বাকেট
নীচুমে পৌছা চুকা, মেম-সাভ ভি উতরা গিয়া।
Go to hell, you devil!
ললিত্ব লাফাইয়া চেন ধরিয়া নিচে নামিয়া গেল
ললিত।
১১৫

স্বামী-স্ত্রী মজুর। হােঃ হোঃ হোঃ টলিতে টলিতে লিলি প্রবেশ করিল লিলি। ওগাে, তুমি কোথায়? কোথায় তুমি ? মজুর। এ ফিন কোন্ আতা হ্যায়? দুসরে ঔরৎ ! লিলি। তুমি কে ? মজুর। বাউরা আদমী, মায়ী। বাউরা আদমী। লিলি। তােমাদের সাহেবকে দেখে ? মজুর। হাঁ, হাঁ, দেখিয়েচি, ওই নীচুমে, ওই পাতালমে, যাহা আগ হায়, যাহা হামরা আদমীসব জ রহা হয়। লিলি। সাহেব নীচেয় রয়েছে ? মজুর। সাহেব হয়, মেমসাহেব ভী হয়। হমার আদমীকে সাথ স্ব জ্যকে মরেগা ! হাঃ হাঃ হাঃ। বলিতে বলিতে দুরে সরিয়া গেল লিলি। ওগাে! শােনন ! মজুর। ( দূরে ) হাঃ হাঃ হাঃ। লিলি। তুমি যেয়ােনা, আমার একটুখানি উপকার করে যাও। মজুর। ( দূরে ) হাঃ হাঃ হাঃ। লিলি। আমার স্বামীকে বাঁচাও, আমি তােমায় সর্বস্ব দেব। মজুর। ( আরাে দূরে ) হাঃ হাঃ হাঃ। লিলি। শুনলে না। আমি কি করি, কেমন করে ওকে বাচাই- কে আছ এখানে কেউ নেই আমার কেউ নেই আজ... হাটু গাড়িয়া সেইখানে বসি পড়ি ১১৬

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। স্বামী ! আমার স্বামী
।
সেইখানে লুটাইয়া পড়িল। শেকলটা নড়িয়া
উঠিল, তাহার শব্দে লিলি চমকাইয়া উঠিয়া চাহিয়া
দেখিল।
নীচু থেকে কে উঠে আসছে। কে ! কে !
ললিতের হাত দেখা দিল
তুমি! ওগাে তুমি এসেচ ।
ললিতের মাথা দেখা দিল, মুখ
ললিত। লিলি! তুমি এখানে !
লিলি। ওগাে !
ওগাে! তুমি আমায় ক্ষমা কর।
ললিত উঠিতেই লিলি তার পায়ের তলায় পড়িল ।
ললিত তাহাকে তুলিতে তুলিতে কহিল
ললিত। ওঠ লিলি ! তােমার ওপর আমি রাগ করিনি। তুমি
আমায় ভুল বুঝেছিলে?
লিলি। সে ভুল আমার ভেঙে গেছে।
ললিত। ভালােই হয়েছে। এখন আমরা সুখে থাকতে পারব।
এইবার ওই পথ ধরে তুমি ওপরে উঠে যাও। মিনতি নীচে রয়েছে, আরো
অনেক লােক রয়েছে, বাকেটে করে তাদের তুলতে হবে। ক্রেন ঘােরাবার
লােক নেই। আমাকে তা নামাতেও হবে তুলতেও হবে। তুমি যাও।
লিলি।. আমি যাবনা।

স্বামী-স্ত্রী
ললিত। লিলি, আর সময় নষ্ট করােনা। নীচে মিনতি, আরাে
অনেক লােক, প্রতি মুহূর্তেই তাদের প্রাণ বিপন্ন, এর সব পালিয়েছে-
একা আমায় অনেক কাজ করতে হবে।
লিলি। আমি তােমাকে সাহায্য করব।
ললিত। তুমি! তুমিত তা পারবে না। আর তা ছাড়া•••
লিলি।
বল, তা ছাড়া ?
ললিত। তা ছাড়া এখানেও যে-কোন সময়ে বিপদ ঘটতে পারে।
লিলি। আর তােমাকে সেই বিপদে ফেলে রেখে, নিজের প্রাণ বাঁচাব?
ললিত। তাহলে থাক তুমি এইখানে দাড়িয়ে। বাকেটে মিনতি
আসবে। তাকে টেনে তুলবে। আমি ক্রেন ঘােরাতে চলুম। এর
সবাই আমাদের ফেলে পালিয়েছে।
ললিত চুটিয়। পিছন দিকে গেল
ভয় পেয়ােনা লিলি।
লিলি। না, না, ভয় আর আমি করবনা,
আর আমি করবনা, সব ভয় আমি
জয় করিচি।
মােহন ছুটিয়া প্রCেশ করিল
মােহন। একি! আপনি এখানে একা দাড়িয়ে রয়েচেন কেন ?
লিলি। মােহন! তুমি !
মােহন। হাঁ। আপনাদের বাড়ী গিয়ে শুনলুম, সাহেব, আপনি,
মিনতি দেবী সবাই এখানে। ওপরে যারা দাড়িয়ে আছে, তাদের কেউ
নামতে রাজী হয় না। আপনাদের কী দুঃসাহস !
১১৮

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। তােমারও সাহস কম নয়, মােহন। ওরা কেউ এলনা, কিন্তু
তুমিত এলে !
মােহন। আসতে পারলুম মিনতি দেবীর জন্য ।
লিলি। কার জন্য ?
মােহন। মিনতি দেবীর জন্য । তিনি সেদিন আমায় যে
শিক্ষা দিয়েছেন, তাই আমাকে মানুষ করে দিয়েছে। তিনি
কোথায় ?
লিলি। মিনিদি নীচে।
মােহন। নীচে !
লিলি। এখনই উঠে আসবে। তাকে দেখতে পেলেই তুমি ধরে
নামিয়ে কিন্তু।
মােহন। সাহেব ?
তিনিও কি নীচে ?
লিলি। না, তিনি ক্রেন ঘােরাচ্ছেন।
মিনতি দেবী নীচে গেলেন কেন?
লিলি। তা তাে জানিনা, হয়ত সাহেবকে খুজতে।
মােহন। মিনতি দেবীর মত মেয়ে আমি দেখিনি।
লিলি। এইবার ওপরে আসছে, সাহেব বাকেট তুলচেন।
মােহন।
মােহন গর্ত দেখিয়া
মােহন। কিন্তু ওত মিনতি দেবী নয়।
লিলি। কে!
মােহন। দেখুন কে !
১১১

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। যেই হােক ধরে নাও, মােহন।
বাকেট উপরে উঠিল। দেখা গেল একটা কুলী।
মােহন তাহাকে ধরিয়া নামাইল। ললিত ছুটিয়া
আসিল
ললিত। মিনতি। মিনতি।
লিলি। মিনিদিত আসেনি।
ললিত। তবে ?
মােহন। এই কুলীটাই এল।
ললিত। মেমসাহেব কোথায় ?
কুলী। এলেন না। আমাকে উঠতে বল্লেন।
ললিত। বাকেট নামিয়ে দাও মােহন। এইবার মিনতি আসবে।
আমি চলুম ক্রেন ঘােরাতে। লােকটাকে ওপরে পাঠিয়ে দাও।
ললিত চলিয়া গেল
মােহন। তুমি ওপরে উঠে যেতে পারবে?
কুলী। পারব।
মােহন। তবে যাও, আর দেরী করােনা।
লিলি। মােহন!
মােহন। বলুন!
লিলি। তুমিও ওপরে চলে যাও।
মােহন। মিনতি দেবীকে নীচে রেখে ?
আপনাদের এইখানে
ফেলে ?
১২০

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। সাহেব বলেচেন এখানেও বিপদের ভয় আছে। দেখচ
ওই আগুন!
মােহন। ও অগুন কি শুধু আমাকেই পােড়াবে? আপনাদের
নয় ?
লিলি। তুমি ছেলেমানুষ মােহন।
মােহন। কিন্তু আপনার চেয়ে যে বড় তাত আপনি জানেন।
লিলি। ওই বাকেট ওপরে উঠচে, এইবার মিনিদি নিশ্চিতই এল।
মিনিদি।
মােহন। মিনতি দেবী !
বাকেট উপরে উঠিল
লিলি। মিনিদি ত নয় মােহন!
ললিত। (দুর হইতে) মিনতি এলে?
লিলি। ওগাে, আসেনি, মিনিদি আসেনি।
ললিত ছুটিয়া আসিল
ললিত। আসেনি।
লিলি।
কে এল দ্যাখ।
মােহন লােকটাকে নামাইয়া দিল
মােহন। যাও, ওপরে চলে যাও।
লিলি। মিনিদির কি হবে।
ললিত। মােহন!
মােহন। বলুন!
ললিত।, ক্রেন ঘােরাতে পারবে?

স্বামী-স্ত্রী
মােহন। পারব!
ললিত। এস, তােমায় দেখিয়ে দি। তারপর আমি নেমে যাই।
লিলি। তুমি !
ললিত। মিনতিকে নিয়ে আসি।
লিলি। না, না, তােমাকে আমি যেতে দেব না।
ললিত। মিনতির কি হবে, লিলি ?
লিলি। কেন সে আসচে না? ইচ্ছে করে কেন সে বিপদ বরণ
করে নেবে ?
লালত। হয়ত সে আসবে না।
মােহন। হয়ত তিনি এবার আসবেন।
বলিয়া বাকেটটা নামাইয়া দিল।
ললিত। শুধু এইবার আমি দেখব, লিলি।
ললিত আবার ক্রেনের কাছে ছুটিয়া গেল।
লিলি। মােহন!
মােহন। বলুন কি করতে হবে।
লিলি। তুমি ওপরে যাবে না?
মােহন। না, নীচে যাব। মিনতি দেবী এবার না এলে আমি নীচে
গিয়ে তাকে নিয়ে আসব।
লিলি। তুমি কেন যাবে, মােহন?
মােহন। যাব তাকে শ্রদ্ধা করি বলে।
লিলি। মােহন!
মােহন। বলুন।
•১২২

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। তুমি বলেছিলে তুমি ক্রেন ঘােরাতে পার।
মােহন। পারি বৈকি।
লিলি। তুমি যাবে সেই কাজে ?
মােহন। আপনি বল্লেই যাব।
লিলি। তুমি গিয়ে সাহেবকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবে ?
মােহন। এখুনি যাচ্ছি আমি।
যে দিকে ললিত ছিল, সেই দিকে অগ্রসর হইল।
লিলি ।
মােহন, শােন।
মােহন ফিরিয়া আসি
সাহেবকে কেন পাঠিয়ে দিতে বলুম, জান ?
মােহন। জানি। এ-সময়ে তার আপনার কাছে থাকা ভালো
বলে।
লিলি। তুমি বুঝেচ, মােহন।
মােহন। আগেকার মত আমি আর বােকা নেই।
লিলি।
হয়ত এখুনি একটা কিছু হয়ে যাবে। যতটুকু কাল বেঁচে
থাকব আমি তার পাশেই থাকতে চাই, মােহন।
মােহন।• আমি বুঝেচি। এখুনি তাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
মােহন যাইতে উদ্যত হইল
লিলি। সেদিন বড় কড়া কথা বলেছিলুম! তার জন্য ক্ষমা কোরাে।

স্বামী-স্ত্রী
মােহন ফিরিয়া দাড়াইয়া শুনিল, তারপর কহিল
মােহন। সেদিন
সেদিন আপনারা আমাকে মানুষ হতে শিখিয়েছেন।
তার জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
মােহন চলিয়া গেল
লিলি। মােহন আজ সত্যই মহান্ ।
একটি পাতহীন বৃদ্ধা আসিয়া লিলির সম্মুখে দাড়াইল
তুমি কে?
বৃদ্ধা। কাদের বউ গা তুমি ?
লিলি। এটা আমাদেরই খনি ।
বৃদ্ধা। পুড়ে যাবে! ছাই হয়ে যাবে ।
লিলি ভয়ে পিছিয়ে গেল
লিলি। কি পুড়ে যাবে ?
বৃক্কা। এই যা দেখচ সব কিছু। তিন-তিনটে খনি আমি এমি
করে পুড়তে দেখেচি। এটাও দেখতে এলুম, এটাও যাবে। নীচে যারা
আছে, তারা আর উঠবে না । ওই যে আগুন, ও আগুন আর নিভবে
। আমি দেখেছি কিনা।
লিলি। তুমি কি চাও?
বৃন্ধ। কিছু না। দেখতে এসেছিলুম, দেখে গেলুম! তুমি বাছা
অার এখানে দাড়িয়ে থেকোনা। দুম করে আওয়াজ হবে আর সব
ফুরিয়ে যাবে। দেখেছি কিনা, তাই বলে গেলুম।
১২৪

স্বামী-স্ত্রী
বৃদ্ধা চলিয়া যাইতে উদ্যত হইল ললিত দ্রুত
আগাইয়া আসিল
ললিত।
কে যায় ?
বৃদ্ধা ফিরিয়া দাঁড়াইল
তুমি কি চাও এখানে ?
বৃদ্ধা। দেখতে এসেছিলুম, দেখে গেলুম—আর বেশীক্ষণ নয়।
বৃদ্ধা চলিয়া গেল
লিলি। আচ্ছা, সব লােক কি পাগল হয়ে গেল ?
ললিত। এম্নি বিপদে মানুষের মাথা খারাপ হয়ে যায়।
লিলি।
এ বিপদ কখন কাটবে ?
ললিত। হয়ত কাটবে না।
লিলি।
ওগাে, আর কি হবে ?
ললিত।• যা হবে, তা ত হবেই লিলি। তুমি বল, আমাকে কেন
ডেকে পাঠিয়েচ ?
লিলি। শেষের সেই সময়ে তােমাকে কাছে পাব বলে।
ললিত। তােমার ভয় হচ্ছে, “লিলি?
লিলি। না। তুমি পাশে রয়েচ, আমার কিসের ভয়?
ললিত। যদি আর উপরে উঠে যাওয়া না হয় ?
লিলি। তাতেই বা ক্ষতি কি।
ললিত। হয়ত এইখানে এক সঙ্গেই হবে আমাদের সবার সমাধি
আমার, তােমার, মিনতির, মােহনের আর আমার ওই মজুরদের।
১২৫

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। ওদের নীচে ফেলে রেখে আমরা কেমন করে পালাব ?
আমাদেরইত আশ্রিত ওরা।
ললিত। কিন্তু আমি ঠিক জানি লিলি, আমার কর্মচারীরা সকলে
মিলে যদি চেষ্টা করত, তাহলে বহুলােককে তারা বাঁচাতে পারত।
লিলি। চেষ্টা কেন তারা করছে না ?
ললিত। প্রাণের ভয়ে সবাই পালিয়েছে।
লিলি। দ্যাখ, এইবার হয়ত মিনিদি আসচে।
ললিত। আমার ভয় হচ্ছে লিলি, মিনতি হয়ত আর আসবে না।
লিলি নীচের দিকে ঝুকিয়া দেখিয়া আর্তনাদ করিয়া
লিলি। আসেনি ত!
ললিত। নীচের একটি লােককেও ফেলে রেখে সে উঠে আসবে না
আমি তাকে জানি।
লিলি। কিন্তু সব লােককে তােলবার সময় কি সে পাবে ?
ললিত।
লিলি।
তাবে ?
ললিত।
এবার আমিই নেবে যাব।
লিলি। তুমি গেলেই কি সে আসবে ?
ললিত। একবার চেষ্টা করে কেন না দেখব?
বাকেট পিটের মুখের কাছে আসিল, লোকটাকে
নামাইয়া দিয়া ললিত কহিল
যাও, ওপরে চলে যাও।
১২৬

স্বামী-স্ত্রী
লােকটা চলিয়া গেল। ললিত বাকেটের চেন
ধরিল
ললিত। এবার লিলি।
লিলি।
এবার কি ?
ললিত। এবার বিদায়।
লিলি। না, না, ও-কথা তুমি বােলো না।
ললিত। মিনতি যদি আসে তাহলে সে এক সৰ্তে আসবে,
লিলি। সে বলবে একটি লােকও নীচে থাকতে সে ওপরে উঠবে না।
যদি প্রতিশ্রুতি দি একটি লােকও নীচে থাকতে দোব না, তাহলে
লিলি। তাহলে•••ভাবচ, সে উঠে আসবে তােমাকে ফেলে?
মিনিদি তা আসবে না। আর তুমি যদি নীচে যাও, তুমিও আসবার
অবসর পাবে না।
ললিত। তাহলেও কি আমাকে যেতে হয় না, লিলি? মিনতি
নীচে পড়ে থাকলে তুমি, আমি, আমরা কেউ কি স্থির থাকতে পারি ?
লিলি। না, তা পারি না।
ললিত। তবে কেন আমি যাব না ?
লিলি। যুক্তি দিয়ে তা আমি তােমায় বােঝাতে পারব না—তবুও
আমি বলব তুমি যেও না, ওগাে, তুমি যেয়াে না।
ললিতের কাধে মাথা রাখিয়া কঁদিতে লাগিল।
মােহন আগাইয়া আসিল
মােহন। মিনতি দেবী এবারও এলেন না ?
গলিত। 'না মােহন, এবারও সে এলাে না
১২৭

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। আমাদের সবারই যখন একই পরিণতি, তখন কারু আসা-
-আসাকে বড় করে দেখে কি হবে ?
মােহন। আপনি কি বলছেন ?
লিলি। বলচি এই কথাই মােহন, যে, আজ আমাদের কারু নিস্তার
নেই। নীচে মিনিদির যা হবে, এখানে আমাদেরও ঠিক তাই-ই হবে।
সবাই আমরা মরব। তাই, কখন কে কি ভাবে মরব, সেই আলােচনায়
সময় নষ্ট না করে, যে কটি লােককে বাচাতে পারি তার চেষ্টা করাই কি .
ঠিক নয় ?
ললিত। মােহ, তুমি ক্রেনে যাও।
মােহন। ক্রেনটা আপনি একটিবার দেখে আসবেন ?
ললিত।
কেন, খারাপ হয়ে গেছে নাকি ?
মােহন। একটিবার দেখে এলেই ভালো হয় ।
ললিত। বেশ, আমি এখুনি দেখে আসছি।
গলিত চুটিমা গেল
লিলি। ক্রেনটাও কি খারাপ হয়েচে, মােহন ?
মােহন। না।
লিলি।
তবে তুমি মিথ্যে কথা বলে সাহেবকে সরিয়ে দিলে কেন?
মােহন। সাহেবকে সরিয়ে না দিলে আমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হােত না।
লিলি। আবার কি উদ্দেশ্য নিয়ে তুমি এখানে এসেচ, মােহন!
বল তুমি। তােমাকে তা বলতেই হবে।
আপনাকে বলব বলেই ত সাহেবকে সরিয়ে দিয়েছি।
হন।
১২৮

স্বামী-স্ত্রী
লিলি।
বল।
মােহন বাকেটটা পিটের মুখে টানিয়া এক
বাকেটে তুলিয়া দিল
ও তুমি কি করচ মােহন?
মােহন। এই করব বলেই ত সাহেবকে সরিয়ে দিলুম—আমি চলুম
নীচে মিনতি দেবীকে সঙ্গে না করে আর ওপরে উঠবনা।
লিলি। মিনতি তােমার কে ?
মােহন। যে আমাকে মানুষ হতে শিখিয়েছে,
অামার
আরাধ্যা।
লিলি। না, না, মােহন, তুমি যেয়ােনা।
মােহন। আর যদি না ফিরি, তাহলেও এই মােহনকে মনে
রাখবেন।
মােহন বাকেটে উঠিল, বাকেট হু হু করিয়া নীচে
নামিয়া গেল
লিলি। মােহন! মােহন!
ললিত দৌড়াইয়া আসিল
ললিত। কি হয়েছে লিলি, মােহন কোথায় ?
লিলি। মােহন নীচে নেমে গেল ।
ললিত। নীচে নেমে গেল।
লিলি।
হা বলে গেল, মিনিদিকে সঙ্গে না নিয়ে আর সে ওপরে
উঠবেনা।
১৯
৯

স্বামী-স্ত্রী
ললিত।
লিলি !
আমারই কর্তব্যের বােঝা মােহন তার কাধে তুলে নিল।
লিলি। মােহন যদি বলে যে সে ওপরে উঠবেনা, তাহলে মিনিদি
নীচে থাকতে পারবেনা। আর মিনিদি উঠে
এলে, মােহনও নীচে
থাকবেনা। নীচের মজুরদের জন্য মােহনের কোন মাথা ব্যথা নাই।
ললিত।
শুন্তে পাচ্ছ।
লিলি। হাঁ, নিচে যেন কী একটা ভীষণ কাণ্ড ঘটছে।
ললিত। লিলি ।
লিলি। শেষের সেই সময় কি সত্যই ঘনিয়ে এল ?
ললিত।
লিলি! এ নিও তুমি ওপরে চলে যাও। ওপরে তোমার
মা আছেন, তােমর বাবা আছেন।
লিলি।
আর এখানে যে আছেন আমার স্বামী।
ললিতকে জড়াইয়া ধরিল, সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ একটা
explosion-রুণ আর্তনাদ, তারপর সব স্থির,
ধোঁয়ায় চারিদিক আচ্ছন্ন।
ধোয়া
কাওয়া গেল।
ললিত। লিলি! লিলি !
লিলি। স্বামী।
ললিত। তুমি আর আমি ছাড়া কেউ হয়ত বেঁচে নাই।
লিলি। মিনিদি। মােন? ওরা সব ?
ললিত। কেউ নয়, লিলি। এর পর নীচে কেউ বেচে থাকতে
পারেনা।

স্বামী-স্ত্রী
লিলি। কিন্তু আমরা কেন বেঁচে রইলুম? তুমি আর আমি এক
সঙ্গে ছিলুম বলেই কি ?
ললিত তাহার মুখের দিকে চাহিল তারপর কহিল
ললিত।
হয়ত তাই।
লিলি। হয়ত
আমাদের মিলনে বিচ্ছেদ
বিচ্ছেদ ঘটাতে
মৃত্যুরও
মায়া হােলো।
ললিত সৰ্বস্ব দিয়ে আজ তােমাকে পেলুম। কিন্তু আমাদের
এই মিলনে সব চেয়ে যে সুখী হতো, সে আজ কোথায় রইল, লিলি !
লিলি। তুমি ঠিকই বলেছিলে। ধূপের মতাে নিজেকে পুড়িয়ে
মিনিদি আমাদের আনন্দের অধিকারী করে গেল।
ললিত। মিনতি মানবী নয় লিলি, মিনতি দেবী।
লিলি।
এস এই শ্মশানে এক সঙ্গে মিলে উদ্দেশে তাকে
প্রণাম করি।
দুইজনে মাটিতে মাথা নুয়াইয়া তাহাকে প্রণাম
করি—ধীরে ধীরে যবনিকা পড়িল।

পরিচালক-শ্রীদুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গীত রচয়িতাশ্রী প্রণব রায় সুর-শিল্পী-শ্ৰী তুলসী লাহিড়ী প্রযােজক—দি ষ্টেজ প্রােডিউসাস সঙ্গী-ঘণ্টের পরামাণিক কমল বন্দ্যোপাধ্যায় কালীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় মথুরানাথ শেঠ । মঞ্চ-শিল্পী-এমীন্দ্রনাথ দাস ( নানু বাবু) আলােক-শিল্প- প্রফু চন্দ্র ঘোষ সন্তকুমার গাঙ্গুলী শরকুমার ভট্টাচায্য দুলালচন্দ্র দাস विमान স্মারক-একালীপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম রজনীর অভিনেতৃগ মি: দাস-ঐসন্তোষ সিংহ নিসেস দান-যমী পদ্মাবতী লিলি– মহী রাণবালা , মিনতি—এমী উষা নেৰী ললিত-দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মােহন—হর গাঙ্গুলী স্থা-বে পাবী- মতী জ্যোতি পরিচারিকা-এমী মহামায়া ১ম কারী-বয় মজুমদার ২ কা---শান্তি | 23 ৩য় কী-ই গ্য সার-বয়কাধিক পদ বৃদ্ধাশ্রম " শী

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Swami-stree

Author
Sengupta, Shachindra
Title
Swami-stree
File name
Swami-stree
Text
OCR done
Citation
1937
Published
2009/07/15
Publisher
Gurudas Chattapadhaya And Sons, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
149
Library
Makardah Saraswat Library, Howrah
Classification
Drama. Plays.
Keywords
Drama
DLI number
551719
Barcode
4990010021161.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
b12TrUSBpFu
Download PDF

Swami-stree