Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Prem-bandhan

Majumdar,natendrabhushan · 2009/10/8

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

প্রেম-বন্ধম
বা
( কবিতার বিবাহ।)
গীতি নাট্য।
শ্ৰীনটেন্দ্রভূষণ মজুমদার
প্রণীত।
."DIVERSI ASPETTI INUN
COMFUSI EIMISTI"
GEPOSAL. LIB. CANTO IV.,
কলিকাতা
৬২২ বিডন ষ্ট্রীট নিস্তার প্রেসে
সান্ন্যাল ব্রাদার কর্তৃক প্রকাশিত
৪
শ্রীতুলসীদাস সুর দ্বারা মুদ্রিত।
All rights reserved.
মূল্য ॥ আট আনা মাত্র
সুন ১৩১০ সাল

No text on this page.

নাটোলিখিত ব্যক্তিগণ।
0-0-
পুরুষ ।
গদ্য ।
কন্দর্প।
বসন্ত।
স্ত্রী।
কবিতা।
প্রকৃতি।
পূর্ণিমা।
প্রেম।
গীতি।
চিত্রা ।
রজনী।
নিত্রা।
সলিলবালা, উপদেবীগণ, অপ্সরী কিন্নরীগণ, মেদিনী,
তড়াগী ইত্যাদি।
অলিদল, বিহগদল, ফুলকল, ঋতুকল, আকাশ, সাগর
ইত্যাদি ।

No text on this page.

প্রেম-বন্ধন।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম গােঙ্ক।
কুঞ্জ-কুঠির।
( মলিন মধুর প্রভাতে পূর্ণিমার সহিত কবিতা করাে পৰি
কপােল বিন্যস্ত করিয়া উপবিষ্ট)
পূর্ণিমা। আহা কিবা ঘুমে হারা।
প্রভাতের কোলে তারা,
হের সথি নিবার ধারা,
সুনীল আলােক রাশি,
ফুটাল প্রভাতি হাসি
দেখ মেলি নয়ন তারা।

[ ২ ]
ক। প্রভাত আমার দুদিনের ছেলে
সুধুই হাসিতে শিখেছে সৈ;
পূ। মােলাম মাখান প্রভাত কুমার
আঁধারেও হাসি পরার সে
ফাটা ফু ট দিয়ে উকিদে প্রভাত,
ঘুমের চোখটা ফাটায়ে দে।
কবিতা। তােমরা যে বল সখি কেতকিনী ভাল,
কেতকি কৌতুকে আজ ঘটাল জঞ্জাল,
মন উড়ে গেল
কোথায় লুকাল,
আকুল ব্যাকুল অলি আমারে ঘেরিল,
চুষে নিল মধু সখি মরম মজা'ল।
( আঙ্গুল দিয়া সুখের চতুর্দিকের ভ্রমর
দল তাড়ান।)
পূ। কেতকির বন
কামের কানন,
সৌরভে পরাণ ধরি,
কাটা ফুটাইয়ে,
অলিদে দংশিরে
অবশেষে প্রাণ যায়।

[ ৩ ]
রাজার রমণী
রুপের রূপিনী
আছে সরে সবজিনী,
যা’ অলি সেখানে
মা মধুপানে,
কবিতা না কমলিনী,
(হাত নাড়িয়া অলিকুল খেদাইয়া দেওন )
"ক। ওই ওই সখি
আবার আমারে
ঘিরিল ভ্রমর কুল !
পূ। আঁধার আনন দেখিয়া সজনি
আসিছে এড়িয়া ফুল।
অলিদল। (গুন গুন স্বরে),
কেন মা জননী
অাধার মুখানি
কেন মা মলিন সাজ
কি মধু পিয়ার
কি ফুল আনিব
বনে বনে খুজে আজ ।
ক। যা অলি প্রাণের ফুল ফুটেছে যথায়,
আদরে আঙ্গুল দিয়ে তুলে নিয়ে আয়।
!

[ ৪
3
পূ।
নিশিতে তুমিই হাসাও আমারে
তাই সদা হাসি খুসী,
রাজত্ব তোমার জগৎ সংসার,
কেন বিষাদিনী বলি ?
( মৃদুস্বরে )
মধুর ভাঁড়ার,
কুসুম আমার
কেনরে কঠিন হেরি ।
বিহগের গান
আকুলিত প্রাণ
কেন বা করে আমারি,
মধুর মলয়
লায় হৃদয়,
আপনা পাশরি যাই
অাপনার ধন,
করি অযতন,
হারায়ে হারায়ে যাই,
সাধের তটিনী
নাচায় লহরী,
কেন না আদরি তারে,

[ ৫ ]
-
কি মন বেদনা,
মনই জানে না,
ক'ব বা কেমনে করে।
( ক্ষণেক বিপিন গানে চাহিয়া থাকিয়া
যাচিছে বিপিন রাজি আদর আমার,
চাবনা ওদিকে আমি আর,
( হেলিয়া দুলিয়া কবিতাকে ঘেরিয়া সমস্বরে )
লত রাজি। কবিতা খুজিয়া পাওনা কবিতা,
একি বা কবিতা আজি,
কাতরা কবিতা নেহারি জননী
কঁদিছে বিপিন রাজি,
শুখাল লতিকাকুল স্নেহ বারি বিনে,
চাও দেবি চালতা পানে।
ক। ( অধাে বদনে থাকিয়া)
চা’ব না কুসুম পানে চাব নাকো আর,
বিহগে বিষাদ ঢালে যাতনাই সার।
{ ঝাঁকে ঝাঁকে কবিতার কোলে পড়িয়া)
বিহগ দল। তুমুল তমালে বসি চেচায়ে ডাকিবরে
মা জননী মন তব গিয়াছে যথায়,
পবনে গগনে চড়ি উকিদে দেখিবরে
কবিতা, কাতরা কভু সাজে কি তােমায় ।

[ ৬ ]
লতা পাতা থরে থরে,
পাহাড়ে পাখীর ঘরে,
খুজিব যেখানে পাব আনিব তাহার,
মলিন মুখানি মাগো দেখা নাহি যায়
লহরী শ্রেণী । (কবিতার পা দুটি জুড়াইয়া ধরিয়া ।
গাহিয়া বাশরী স্বরে
নাচিয়। সমর ভরে
চলে যব দেশ দেশান্তরে,
পূর্ণিমা।
খুজি বন বনান্তরে
সাগরে কি সরােববে
এনে দেব তিন মা তোরে,
তোরে,
চ, ওমা ফুটাও হাসি একটু অধরে।
বসন ভূষণ,
পরে না" কবিতা,
কি কাজ তিনে তার,
বিজন বাসিন,
চির কাঙ্গালিনী
গলে দোলে ফুলহার,
বদনে ভূষণ, ডঃ মগে গাল,
অধরে ভূষণ হাসি,
নয়নে সে পরে, বাকা চাহনিটি,
মাথাতে চিকুর রাশি,

[ ৭ ]
ভুজের ভূষণ, মােলাম গড়ন,
বুকের ভূষণ স্তন,
পায়ের ভূষণ,
মরল গমন,
চায় না রতন ধন ।
( সখীগণের প্রবেশ।)
সকলে। জগতের রাণী, তুমি লাে সজনী
সংসার তোমার সিটি
চিনিলে তােম, প্রাণের প্রদীপ
করে সদা মিটি মিটা
জগতে কবিতা,
জনম দুখিনী,
দুখী চিনে দুখিনীরে,
যেথানে দাড়াই, যার কাছে যাই
সেই ভাৱে আখি নীরে।
চিত্রা। স্বপন অখিব ঘুমান নয়নে,
আশার ছবিটি হতাশ প্রাণে,
জরায় মরায় রাখি সমভাবে
প্রিয়ার মুখ’নি পতীর মনে,
জগতের পট অকিব সজনী
মােহিনী তুলিটী ধরে,
যাহারে পরাণ চাহিবে তোমার,
বেন্ধে এনে দেব করে,

[ ৮ }
কল্পনা।
৬।
বাহিরের পট অকিস লাে তুই
অন্তরের পট আমি,
দেখে না শুনে, না তুলিটা টেনে,
অকিব অবনী খানি
মনের জগতে মহারাণী আমি,
প্রাণ-সিংহাসনে বসি,
নবরসে আজ নওয়াব কবিতা
পরাব লো হাসি খুসী,
নীরস সরস আমারি প্রসাদে,
নীরস আকাশে ফুটাই ফুল,
মরুভূ মাঝারে করি কুঞ্জবন,
পাহাড়ে ছুটাই ফোয়ারা কুল।
পাখীর গলায় সরসরাগিনী,
সরস বাতাসে ভিজায় মন,
কোথা নবরস পাবিলাে সজনি
রসেতে রসাব কবিতা ধন।
প্রতি।
গীতি।
নাচাই হাঁসাই,
জগত কাদাই,
গলায় গলায় ফিরি,
রাঙা রাঙা রাগ ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে
মন প্রাণ করি চুরি ;

[ ৯
fe
]
মিহিটানে মাজি, মিঠে মেখে যাই
মনের মলিন তারে,
মিহিতানে আজি, মজায় মজারে
জগত ফিরাব জোরে ।
( গাইতে গাইতে ফুলভূষণ। কিন্নরীগণের পারিজাত ফুল
লুফিয়া ধরিতে ধরিতে ক্রমশঃ শূন্য হইতে ঝাঁকে ঝাঁকে
অবতরণ 1 )
রাগিণী সুরট জংলা।-তাল দাদা।
মুখ মুছায়ে,
ফুল ফুল ফুল, একুল ওকুল, ফুলের হাসি খুসি।
ফুল হারালে, কুল হারব, ফুলে হই উদাসি ।
সে যে ফুলের বালা, ফুলের মালা,
পবে হাসি হাসি,
ফুল ফুটায়,
আদর করে আসি
ক। ( উৰ্দ্ধপানে চাহিয়া )
আসিছে কিন্নরী কুল করিতে আদর,
মানে আদর প্রাণকেন সকাতর ।
( দাঁড়াইয়া দুহাত বাড়াইয়া
তাহাদের অভ্যর্থনা )
( কিন্নরীগণ অবতরণ পূৰ্ব্বক কবিতাকে ঘেরিয়া পুষ্পবর্ষণ

[ ১ ]
ও ঘেরিয়া এক এক করিয়া কবিতার মুখখানি ধরিয়া গাইতে
গাইতে ঘুরিয়া নৃত্য।
রাগিণীখাম্বাজ-তাল দারা ।
কবিতে কেন বল আজি মলিনে।
মিলাব প্রাণ ধনে।
হাস সখি একবার, পরিব জোছনা হার,
জগত হের আঁধার, জোছনা বিনে।
প্রাণধন উপার্জন কোথা গেলে হয়,
বল সখি বলনা আমায় ।
প্রাণধন কারে কয়, কোথা পাওয়া যায়,
পায় ধরি বলনা আমায় ।
কিন্নরীগণ। (সমস্বরে)
পিপাসি পরাণ, পুরিবে তােমার,
কহিনু সজনী ত্বরা ;
হাসলে কবিতে, হাসি নিরখিতে
এসেছি সবে আমরা।
ক। আফেরা নন্নীতে, পড়েছে পরাণ,
ফিরাতে বুঝি না পারি,
দহের মাঝারে, ডুবিল তরণী,
উপায় কি করি তারি,

[ ১ ]
}
অধরে ফুরালে, গেছে হাসি খুসি,
ঘটেছে বিষম জ্বালা,
বলল দেবিগণে, মরিবে তাদের
প্রাণের কবিতা বালা।
( কবিতাকে কুসুমে সাজাইয়া, মৃদুস্বরে গাইতে গাইতে,
জোছনায় জড়াজড়ি করিতে করিতে কিন্নরীগণের পূনঃ
আকাশে উথান।)
রাগিণী খাম্বাজ-~-তাল দাদা।
কবিতা কাতরা কালিমাখে ভাবনা।
ধীরি ধীরি বহ র বালা পাবে বেদনা।
ফুট’না বনেরি ফুল, কবিতা হবে আকুল
গেওনা কোকিল কুল, কবিতা পায় তাড়না।
আবেশে আপনা হানা, পলকে প্রলয়ে সারা,
ঢেল না সুধার ধারা, দিওনা দ যাতনা ।
সকলে। (সমস্বরে ।
কবিতা কাঁদিলে মেঘে ঢালে ধারা,
কৰিতা হাসিলে জোছনা ফোটে,
কবিতা চাহিলে, চায়ফুলদল,
মধুকরে মধু কবিতা বটে।

প্রথম অঙ্ক।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
মানস-সরােবর।
বসন্ত পূর্ণিমার রজনী।
( কমল বনে কবিতা, কল্পনা, পুর্ণিমা আদি সখীগণ সমভি
; বছরে উপবিষ্টা, কেহ বা কমল পত্র ব্যজন, কেহ বা কমল মধু
সিঞ্চন, কেহ বা সজল কমল দলে শয়ন করিতেছেন ; কবিতা
এলােকেশে আঙুল চুষিতে চুষিতে চাঁদের মুখ পানে চাহিয়।
রহিয়াছেন।
( গাইতে গাইতে প্রকৃতির প্রবেশ ।)
গীত।
রাগিণী-জংলা কালাংড়া ভাল কাওয়ালি ।
কবিতা কোমল মণি মানব-মলিনা-করে।
কবিতা সুধার খনি সংসার বিষ সাগরে
কাঙ্গালে কর্ধিত কেঁদে ভেসে যায়,

[ ১৩ ]
রাজার কবিতা প্রমােদে মাতায়,
মায়ায় কবিতা মা স্বরূপিণী,
প্রমােদা কবিতা প্রণয়ী নরে।
কবিতা। সই, কেন বা এমন হ’ল,
কে যেন অাসিয়া
মরমে বসিয়া
পরাণ টানিয়া নিল।
সই, একটি চিকণ কালা,
সরল হৃদয়ে
আঘাত করিয়ে
হৃদয় করিছে কাল।।
কল্পনা। সখিরে, পুরুষকঠিন বড়,
পরাণ বিলায়ে,
পরাণ লইতে,
পরাণে বাজিবে বড়,
কেমনে লাে সই,
দিয়ে তােরে পরে
থাকিব আমর! ঘরে,
কেমনে লো সই, পরের হইয়ে
রহিবি ভুলিয়া মােরে ।
ও সই, সে বড় কঠিন জন,
কেমন করিয়া
চিত্রা।

[ ১৪ ]
পরেরে পুষিবি,
ভুলিয়া আপন জন।
কবিতা।
জানি সজনি, পরেরে পুষিতে,
তুষিতে পরের মন,
প্রাণে যে কি চায়, বুঝে ওঠা দায়,
চিনিনে পর কখন।
সই,সেনয় তােমার পর,
যার তরে মন
এবে উচাটন,
হবে সে প্রাণের বর।
দেখ দেখ সই, দেখ হাত দিয়ে
প্রাণ ধুক ধুক করে,
সহেনা সহেনা, বাঁচিনা বাচিনা,
পরাণ কেমন করে,
(গীতির গাইতে গাইতে প্রবেশ ।
রাগিণী বেহাগ কালাংড়–দারা।
সরস বসন্তে সই, আজ তােমা একি হেরি ।
চুল কেন আলু থালু এলায়ে কপালে পড়ি,
ঢল ঢল মুখ শশী,
নাই কেনতায় ফুল হাসি,
কি ভাবিছ বললে সই তােমারে মিনতি করি ।

[ ১৫
الما
কবিতা ।
ও সই, প্রাণের ভিতর
'কে যেন আমার
বাজায় মধুর বাঁশী,
হাসিয়ে হাসিয়ে
সুধা ছড়াইয়ে,
মরমে চূমিছে আসি,
সখিরে ।
হৃদয়ে দারুণ জ্বালা,
যে দিকে তাকাই,
কিছুই না পাই,
সুধূসে চিকণ কালা।
সরল বুক,
শকতে করিলি,
কুচ তুলিলি তায়,
এখন কেনলাে, বলিল, সজনি,
বুক বিদরিয়ে যায়,
মধুর অধরে গরল ঢালিলি
শুনিলি না কারাে কথা,
কামড় খাইয়ে,
রকত ঝরায়ে
এখন পাইলি ব্যাথা,
নয়ন যুগাল, কুটিল করিলি,
বান্ধিলি তাহাতে বাণ,

[ ১৬ ]
এখন কেনলো সে নয়ন জলে
ভাসিছে চাদ বয়ান।
প্রেম দায়, প্রাণ যায়।
কিহবে উপায় গাে !
মনের মানুষ, এনে দেলাে তােরা,
এখনি আমায় গো ।
সখীরে,
আকাশে চাদ হাসে,
মাের হৃদি কঁাদে,
এ কেমন যাতনা সই,
বহিলে মলয়
জলে এ হৃদয়
| এ কেমন যাতনা সই
প্রম। তখনি তাে বলেছিনু, ও ফুল ফুয়ােনা সই
ঘটিবে বিষম জালা,
তখনি তাে বলে ছিনু, ও গান শুননা সই
প্রাণ হবে ঝালা পালা।
তখনি তো বলে ছিনু, ও জলে যেয়নারে
নে’যাবে ভাসায়ে কোন দেশে,
তখনি তাে বলেছি, ও হাসে ভেসনা লো,
চাদের রােদে ঝলসাবে শেষে,

[ ১৭
কবিতা। সখিরে--
কুসুম আমার
প্রাণের আধার,
বিহগ আমার বাঁশী,
লহরী আমার দুপুর দু’পার,
জোছনা আমার হাসি ;
মলয় বাতাস নিশাৰ প্ৰশাষ,,
নয়নের তারা তারা;
মেঘের আকাশ মম কেশ পাশ,
বরষা চোখের ধারা,
বিজলি আমার এ বুকের হার,
বসন্ত আমার সখা,
কি ল’য়ে থাকিব,
কেমনে বাঁচিব
দিয়ে তাদের দেখা,
প্রাণ প্রিয়ধন
দিয়া বিসর্জন,
কেমনে বাচিব বল,
কেমনে জানিব
আমারি সকলে
খা’য়াবে মেরে গরল।
প্রম । মদন ভূষণ কুসুম সদত,
মদনে মাতায় সুধু,
বিহগের গান, যুবতি জনেরে
গরল দে' বলে মধু,

[ ১৮ ]
তটিনীর নীর, মলয় সমীর,
মাতাতে যুবতী মন,
চাদের হাসিতে বেড়াইলে বল
কেনা খুজে
প্রিয়জন !
কবিতা। সখিরে-
ফুটাব না ফুল আর,
রাব না তারা হার
তাকাশেরে আর ।
গয়াব না বিহগেরে,
নাচাব না তটিনীরে,
মলয়ায় আজ হতে দেব না সাঁতার,
কবিতা দুখিনী ভবে কিছু নাই তার ।
প্রেম। কবিতার মুখখানি ধরিয়া)
কেন কেন বিষাদিনী মনের মানুষ মিলিয়ে দেব ।
অাধার মুখে হাসির রেখা নাগর দিয়ে পরিয়ে দেব।
মনের মতন
মন মত ধন,

[ ১৯ ]
মরমে তাের বসাইব ;
প্রমের বাঁধন প্রাণে দিয়ে, প্রাণটী লাে সই কেড়েনেব।
সই, পাথরেতে রত্ন জুটাই,
শুকনাে কাঠে কলি ফুটাই,
তবে কি বিয়ের ফুল ফুটিবেনা তাের,
মিলাব মিলাব আজ, নবীন নাগর,
অাবার কুসুমে আদর করা,
আবার চা’য়াব চাঁদের পানে,
আবার লহরী জড়ায়ে ধরা,
আবার মাতাৰ পাখীর গানে।
কবিতা। ( আকাশের দিকে চাহিয়া )
ছন্দে উঠিছে চন্দ্রিমা
ছন্দে উড়িছে চকোর,
ভাবায়ে ভাবায়ে সুছদ অামার
কে যেন করিছে আঙার,
ছি ছি শশধর কেন এত হাসি,
নাইকি সরম তাের ?
হাসিয়াই-আছ দিন রাত, তুমি,
আজি ও হাসিতে ভাের !

[ ২০
পূর্ণিমা। (কবিতাব মুখখানি ধরিয়া ঢুলিতে টুলিতে।
কুচি কুচি উঁদ চাঁদের দুপাশে,
সাগরেতে চাদ ভাসে,
জোনাকেতে চাদ উড়িয়া বেড়ায়,
মুখেতে তােমার হাসে,
শিশুর বদনে সদতই চঁাদ,
ফুল গাছে চাদ ফোটে,
প্রিয়ার নিকটে প্রাণ পতি চাদ,
নখে তব চাদ লােটে।
কবিত'। আকাশের ক্ষুদে মেয়ে
কি বলবে লাে ঘরে গিয়ে,
অযুত নয়ন পড়েছে তোমায়
নাই কি তিলেক লাজ,
কেঁদে মরি আমি, হাসিতেছ তুমি,
এই কি সখির কাজ ?
পূর্ণিমা। সই, খেয়েছি কুলের মাথা,
সরম খাইয়া,
মানি কি কাহারো কথা ?
সই, নবীন নাগর,
জুটিবে লো তাের,
অকুলে ভাসি,
নুতন সরম তাই,

[ ২১ ]
সরম খাইয়া
মরমে মবিয়া
পুরাণ হয়েছি ভাই,
ও সই, রেতের বেলা চিচিকে চঁাদ
আমি দ্বিতীয়ার,
কাল পাবে চাদ
হৃদয়ে তোমার।
}
দিনের বেলায়,
কবিতা ।
পরাণ কেমন কেমন করে,
হৃদয় মাঝারে, কে যেন আমার
হেলিয়া দুলিয়া ফেরে ;
কোথা হতে আসে, কোথায় নে’যায়,
কোথায় বসতি তার ;
লহরীতে ভাসে,
কি চাঁদের হাসে,
অথবা সাগর পার ;
গােলাবের বুকে,
কোকিলের ডাকে,
চাতকের পিপাসায় ;
;
চপল চমকে,
জলদের ভাকে,
বেলার বাতাসে বয় ;

[ ২২ ]
নবীন শাখায়,
পরীর পাখায়,
অথবা মানব মনে,
অবন্যার কুলে,
ফুলে কি মুকুলে,
ভ্রমরের গুন গুনে,
কোথায় সে রয়
বল না আমায়,
কল্পনা।
বঁচাও আকুল প্রাণ ।
মানুষের মনে
নিবসি সেজন,
হ'রে নিল কুল মন।
নিরমল বটে
প্রেম পারাবার,
দেখিতে বিমল জল,
বিরহ মকর
জলের ভিতর,
কে জানে বিধির ছল ;
না-কচু পানা
জ্ঞেয়াতি গজালো আছে,

[ ২৩ ]
কলঙ্ক কাদায়,
কুলের ছােলায়,
কেমনে পরাণ বাচে।
সে জলে আবার
ভুজগে জড়িত
সুখের কুমুদি ফেটে
ফুলের আশায়
ডুব দিলে তায় ;
কেলেশে কেউ বা ওঠে
প্রেমের নামে পাহাড় টলে,
প্রেমের জোয়ার উজান চলে
ঢেউয়ে জলে,
প্রেমের হাসি কুসুম মুখে,
প্রেমের বাতাস প্রাণের বুকে
সদাই খেলে,
জানে না প্রেম কেনা বেচা,
মানেনা প্রেম লােহার খাচা,
প্রেম।
পুরায় আশা,
নিভায়েদে প্রেম পিপাসা ;
করেদে প্রেম ভালবাসা,
প্রাণের বাসা।

[ ২৪
ফুটায় পিরিত
.
কাটা বনে
মনােহর ফুল,
মধুকরে
জুটায় পিরিত
নবীন মুকুল।
প্রেমের আকাশ, আকাশ ছাড়ায়ে,
প্রেমের পৃথিবী তাহার পরে,
প্রেমের পরাণ এখানে মিলেনা,
জানে সে হাসি অমর নরে ।
মজায়ে গাছের ফুল, স্বর লতিকায় ফুল
পড়ি আমি ফুটিয়া ফুটিয়া,
গত চাহিয়া দেখে, কুসুম তাকায়ে থেকে
পড়ে পায় লুটিয়া লুটিয়া ;
গলায় হাউই বাজি, খেলে কত দিগ বাজি
পড়ি আমি কেটে কেটে তারা,
গলা বেয়ে লতাইয়ে গলায়ে গরল হিয়ে,
বাতাসেতে হয়ে যাই হারা ।
পুর্ণিমা। প্রণমিরে চাঁদি পিরিতি পরা’য়ে
জোছনা মাখায় গায়,
বিরহিরে চদি বিষ জালায়ে
রেতে রােদে বালসায়।

[ ২৫ ]
গীতি।
কলমে গায়ে সই গলার সুরটী
কাগজে মাখায়ে আমি গাই,
আঙুলের আগাবেয়ে সুধার ফুটটা
সরু মােটা, কাণ পেতে খাই।
গােকুলে শ্যামের মূরলীতে বসি
বাজায়েছি আমি বশী,
কুলের বালায় অকুলে আনিয়ে
করেছি কালার দাসী ।
কল্পনা। বাঁকা চুড়া হেলে দুলে
কুলের বালা নেয় অকুলে
নয়নেরি জলে, যমুনারি জলে,
মিলিয়া মিশিয়া গেল,
কালা, তবুনা এখনাে এল।
প্রকৃতি। কি কবরে বিধি,
মরুভু মাঝারে
যদি বা ফুটালি ফুল,
ব্যাকুল বকুল,
ঝরিয়া পড়িল,
মিলিল না অলিকুল
কবিতা। আকাশের কোণে খুজিছে চাতকী
নবীন ধারাটা ওই,

[ ২৬ ]
কাপিয়া কাঁপিয়া নাচিছে শিখিনী
নেহারি নীৰদে সই,
তমালের কোলে, ওই দ্যাখ দোলে
মােহিনী মাধবী লতা,
আমার কপালে কেবলি কি দুখ
লিখেছে পােড়া বিধাতা ।
দ্বিতীয়
অঙ্ক।
তটিনী কুটীর।
( নির্জনে অল্লান্ধকারে কবিতা মুখে-হাত দিয়া অৰ্ধশায়িতা ;
চতুর্দিকে সখীগণ।)
প্রকৃতি। নির্জন কুমারী কবিতা আমার,
নিরজনে ভাল ফোটে
মানুষের গোল থই থই করে
এখানে কভু না জোটে।
কল্পন।। (পূর্ণিমাকে দেখাইতে দেখাইতে )
দ্যাখলে। ফুটিল বালা ফুলের বয়সে,

[ ২৭ ]
উরসে কুরে কুঁড়ি উঠিল ফুটিয়া,
চিবুকে রকতত রেখা দেখা দিল ভেসে
জুটিল মধুর হাসি অধর ফাটিয়া।
নয়নে বাঁকায়ে এল ভূলান চাহনী
বয়ানে লাজের এল বচন চাতুরী,
কপালে কুঞ্চিয়। পল কেশের বিউনী,
মনে মনে ক্রমে সে শিখিল মনচুরী ।
পূর্ণিমা। (কবিতার দিকে চাহিয়া হাসিতে হাসিতে)
করনা করনা,
পিরিতি করনা,
পিরিতি কঠিন বড়,
পরাণ বিলায়ে, পরাণ না পেয়ে,
পরাণে বাজিবে বড়।
প্রাণের উপর প্রেমের বাজার
কেন বসাইছ সই,
কেনা বেচা কিছু হয় না উহায়
গােলমাল থই থই,
ও কুচটি শেষে খুচিয়া খাইবে,
ও রাঙা গালটী ঢাকিতে হইবে
ও মধুর হাসি চাপিয়া যাইবে,
ও বাঁকা চাহনী জলে জড়াইবে ।

( ২৮ )
প্রকৃতি। সাধ করে প্রেমের ফাসি পরিতেছ গলে।
শেষে লাে কঁদিতে হবে প্রাণে ব্যাথা পেলে ।
প্রেম। আফোটা কুড়িটা চিরকাল তুই, রাখিবি কি কবিতাৰে,
কেমনে বা রবে বয়সের বালা, না ফুটে মধুর ভারে।
কবিতা। সই, প্রাণের দোষর কই,
জগতে সবারি
বঁধু দিল বিধি
আমি কেন তবে সই।
প্রেম।
চলিনু চলিনু জগত খুজিব,
নাগর আনিব তাের
রজনী প্রভাতে, দিব হাতে হাতে,
আনি তব মনচোর।
( সকলে প্রেমকে ঘিরিয়া ।
পূর্ণিম!। নিখুত নাগর যেন বেছে বেছে এনে প্রেম।
টুক, টুকে গাল হবে, গোপের রেখাটা সবে,
তবে সখি করিবে ববণ।
যোবন অরুণে
ডগমগ হবে,
মদন তুফানে
হাবু ডুবু খাবে,
তাজা তাজা ফুটিবে সে জন।
প্রকৃতি। ফুলেরে জানিবে আদর করিতে,
জোছনায় যেন জনি বেড়াইতে,

[ ২৯ ]
গীতি। বাতাসে বাজালে বীণা বিজন বিপিনে।
ছুটে যেন যায় যুবা শুনিতে সেখানে।
পূর্ণিমা। পেছনে দেখিলে ইচ্ছা জড়াইয়া ধরি,
সুমুখে দেখিলে যেন কোলে যেয়ে পড়ি
বুণিটা চুম্বিত যেন করে কবিতারে,
সুস্বর সমান স্পর্শে শিহরাবে তারে,
কল্পনা। হাসিতে চাবে না কিন্তু যে টুকু হাসিবে,
সে টুকু হাসিতে যেন মধু ঢেলে দিবে,
গীতি।
চিত্রা। না, না! ও হল না !
আঁধার করিতে গেলে হবে না আঁধার,
ফুটে ফুটে বাহিরাবে হাসি,
তুলীতে রাখিবে বেন্ধে কালের বিহার
তবে আমি বড় ভালবাসি।
প্রেম। বাকি রৈল যে,
নয়নে ঝিলিক ঝলকে পলকে
অলসে ঝলসে মুখে,
শয়নে চয়নে চমকে ঠমকে,
বিহরে চপলা সুখে,
কল্পনা। মােলাম মােমের মনিয়া ননিয়া মুখানি বিমল হবে
তবে তাে কবিতেমুখানি লইয়ে সে মুখে মিশায়ে রবে।

[ ৩ ]
প্রকৃতি। ননীর পুতুল হবে, বাতাসে মিলিয়ে যাবে,
পৃথিবীটে মােহ যাৰে দেখিলে তাহায়,
বাতাসে গুলিয়ে যাবে সে কোমলকায়
পূর্ণিমা। ( মুখ ঢালাইয়া)
ধার করে রূপ যতনের কাছে
না হয় খানিক মাখে ।
প্রেম । ( হাত নাড়িয়া)
চঁাদের জোছনা নিয়ে ভাল করে মাখাইয়ে,
না হয় আনি তাকে।
প্রকৃতি। পাখীর ওড়ন,
পরাণে পরিবে
মাছের সাঁতার পায়,
কবিতার বর
তবে সে হইবে,
সহজ কথাটি নয় !
প্রেম। চেঁচান কথায়, মলয়ার ঘাম,
চমকায়ে যেবা উঠে,
তার কি কখন মনের মতন
নাগর কোথাও জুটে ?
ফুতে উড়ে যায়, ছুতে যে শুখাৰ
শলকে পলক পড়ে,
বিধির ক্ষমতা হয় না যে তার
মনের মতন গড়ে।

( ৩১ ]
কবিতা যেমন :
আলােক বরণী
তেমনি আনিব কালী।
কবিতা মােদের রাই কমলিনী,
কালাে হবে বনমালী,
কল্পনা। কালাে যদি হয় মনের মতন,
কালােই মােদের ভাল,
কালাে যদি জানে জুড়াতে বেদন,
কালােই জগত আলাে।
পূর্ণিমা।
তা বৈ কি।
কালাে রূপে জ্বলে কবিতা মমাদের
কালােটা এনাে না ভাই।
কালাে ছাড়া আর, হােক না যেমন
তাতে বড় ক্ষতি নাই।
প্রকৃতি। কালাে পাখী সখি ভাল তাে বাসে না,
মনের কালীও মুছায়ে দেয়,
কালাে কুমেরে দেখেও দেখে না,
কলঙ্কের কালী চঁচিয়া নেয়,
প্রেম। (চাঁদের দিকে চাহিয়া)
পুরােণ চাদতে অরুচি আমার

[ ৩২
৩২ ]
নূতন চঁাদেরে আনিতে যাই,
স’র সুধাকর মােদের শশীর
মুখ খানি ধরে দেখিয়া যাই।
( মুখ খানি ধরিয়া চুম্বন ও কবিতাকে ধের্ডিয়া
গণ্ডি দিতে দিতে )
কবিতা রহিল একা ফুটনা কণ্টক,
ছুয়ন পােকা পেতিনী তায়,
মাকড় মেল মা জ্বাল, আসিও না জোঁক,
ঝিঝি পােক। ডেক না হেথায়।
( প্রেমের প্রস্থান )
প্রকৃতি। সুদুরে শানা’র সুরে বাজিছে বিহগরে
ফিরাতে তােমারি মন,
বিমল বিমানে ফাঙ্গ পাতিছে সুধাংশুরে
এনে দিতে প্রিয়জন।
আফোটা মালতী কুঞ্জে বিনত বদনে লো,
কে ফুটায় আজ, কলিকা।
চললল সজনী, আজ পােহব রজনীলে।
গাহিয়া গাঁথিয়া মালিকা।
(মুখ খানি ধরিয়া)
যামিনী প্রভাত

[ ৩৩ ]
৫.
সে মােহন মালা
পরাব প্রাণের গলে,
মাধবী লতাটী
দেবলে। জড়ায়ে
কবিতা।
কালকে তমাল মূলে ।
( একটী মৌমাছি উড়িয়া কবিতার আঙুলের উপর পড়িয়া )
কুমুদি মুদিল, নিশি শুখাইল
মধু বিনা যাই মরে ।
এ মুখ কমলে মধুর হাসিটী
বস অলি এ অধরে ।
( মৌমাছি ঠোটের উপর বসিয়া মধুপান ও মধু
লইয়া
কবিতার বেণীতে মধুচক্র বিরচন, কবিতা কর্তৃক শিশির সিঞ্চনে
কুমুদিনীর পুনর্বিকাশ )
কবিতা। জোছনার নিশি কেন সদাই না রয়।
কুমুদিনী। পদ্মিনীর তবে দেবি কি হবে উপায় !
কবিতা। রােদ এত ভাল বাসে কেনলাে পদ্মিনী,
আতপে মলিন মুখ হয় না কি ধনি ?
কুমুদিনী। যত রােদ, লাগে, ডগা মগ রাগে,
ততই সে ফুটে ওঠে,
বিলাস বাহার রােদেই তাহার,
ঝাঁকে ঝাঁকে অলি জোটে

[ ৩৪ ]
---
="। ।
চাদের হাসিটী রােদেই সে পায়,
রােদেই বিমল নিশি,
বসন্ত শরৎ একদিনে তার
রােদেই রয়েছে মিশি।
কবিতা। নিশির হাসিটী তাের বসন্ত বছাের,
সে নিশি নিমেষে সখি ফুল কি তাের !
কুমুদিনী। (কবিতার হাতে ধরিয়া)
ভাত কুমার, নিভাল পতিরে
সহমৃতা হব আমি,
ভ্রমরা আমার,
ক্ষুধায় কঁদিলে,
মধুতে দেবে মা তুমি ?
চকোরিণী । (মুখের কাছে উড়িতে উড়িতে।
সুধার শশীটি, মিশায়েছে মেঘে,
সারা নিশি উপবাসী,
কবিতা।
এ বদন বিধু রেখেছি ফুটায়ে,
হাসি খাও ভাসি ভাসি।
( মুখের চারি দিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া চকোরীর সুধাপান ও
কবিতা কর্তৃক ফু দিয়া দিয়া চাঁদের মুখ হইতে মেঘ অপসৃত
হজা।)

[ ৩৫ ]
কা
.
ঢাকিতে চাঁদের মুখ যদি অভিলাষি,
দিলাম বদন শশী ঢাক মেঘ আসি।
(মুখ বাড়াইয়া দেওন )
পুর্ণিমা। (মেঘােম্মুক্ত হইয়া )
নবীন তপন উকি ঝুকি দিল,
চলিলাম দেবি আমি,
চকোরী আমার কাঁদেনা মা যেন
সারা দিন দেখ তুমি।
কবিতা। এখনি চকোরী ঘুমায়ে পড়িবে
দিনেই রজনী তার,
আজকার মত হ’ল বুঝি সই
কাজটা সারা তােমার।
চাতকিনী। (উড়িতে উড়িতে কবিতার বুকে পড়িয়া )
শুখাইলগলা ধার বিহনে,
উড়িতে পারিনে আর,
এ দুটি নয়নে অবিরত ধারা
কিসের বিষাদ তার ।
( বুকে বসিয়া ঠোট তুলিয়া তুলিয়া চোখের ধারাপান)
বকের ঝকি। (কবিতার মস্তকোপরি উড়িতে উড়িতে )
কবিতার মুখ গিয়েছে শুখায়ে
বাতাস করিগে তায়,

[ ৩৬ ]
'
ডানার বাতাসে মেলাম মুখানি
তাজা যদি করা যায় ।
( উড়িতে উড়িতে ডানা দিয়া বাতাস দেওন)
ক্লাজহংসীদল । (কবিতার মুখে ঠোঁট বাড়াইয়া চুম্বন
করিতে করিতে।
নম্বন ঝিনুকে, গলিছে মুকুতা,
নিহারের কণা কমল দলে,
ক্ষীর সর ননী খায়না কবিতা
ভাল বাসে পাকা বনের ফলে।
মাখমে পূরিত ফল, সদা করে টল টল,
কবিতা তাহাই ভাল বাসে।
টুক টুকে রাঙা ফল, মজে থাকে থােল গােল
কবিতা তাহাই খায় হেসে।
{ পদ্ম শাঁস ঠোটে করিয়া কবিতার মুখে তুলিয়া দেওন।
খঞ্জনীর দল। (কবিতার মুখে নাচিতে নাচিতে )
মােমের পুতলী কবিতা মােদের,
ননিয়া মাখান মুখানি যার,
জোছনা ‘জড়ান
সে মূরতি কালী
নাচিতে তাইতে আসিনে আর
কবিতা। আজকে সাধের মেয়ে ফুরাবে তােদের,
কেন তাের কাছে আর এর ।

[ ৩৭ ]
ফুল কুল। (টুলিতে ঢুলিতে)
গাছের গরভে মুকুতা আমরা,
ফুটে ফুটে পড়ি ডালে,
ফুটু ফুটু ফুলে, টাপু টুপু মধু,
অলি আসেপালে পালে ।
প্রকৃতি। মানুষের কাছে কেন যাসরে কুসুম,
মানুষ ডাকাত বড় করে বসে খুন,
মানুষে ছিড়িয়া ফেলে,
তবু কেন তার কোলে,
থাক, গিয়ে ঝাড়ে ঝেড়ে তোরা লাে কুসুম !
• ফু, কু। পােয়াত, নিশিতে পােয়াতী কুসুম
সকালে কুসুম ফোটে,
বিকালে কুড়ির * কাল কুসুমের
হাসে ফুল কচি ঠোটে,
কবিতা। ( ফুল কুলকে ভয় দেখান।
আসিছে মানুষ ওই ! ছিড়ে ফেলে দেবে,
পালা লাে কুসুম তােরা, ধরে নিয়ে যাবে !
( ফুল কুলের এ্যস্তে চারিদিকে চাহিতে চাহিতে কবিতার
কোলে লুকান)
১. ফু, কু + ... গাছের কাঠের হিয়ে কোমল করিতে,
ফাটায়ে ফুটায় ফুল প্রভাতে কবিতে,

[ ৩৮ ।
গলাটী শুখায়ে গেছে কবিতার
তাজা হবে মধু খেলে,
পিয়ালা পুন্নিয়া দেতাে চাদ তাের
ছেকে ছেকে সুধা ঢেলে।
( পাপড়ি খুলিয়া জোছনায় ধরিয়া মধুর সহিত জোছন।
কবিতার মুখে দেওন )
কবিতা। মানুষের বনে যাসনে কুসুম,
ছিড়ে ফেলে দেবে তােরে,
ফুলের গায়েতে ব্যাথাটা বাজিলে
সেটিও লাগিবে মােরে।
(ফুলপানে চাহিতে চাহিতে বুকে হাত দিয়া মৃদুস্বরে)
এই ফুল তথা ফোটে, এই অলি তথা জোটে,
এই পাখি তথা করে গান,
তবু কেন তার হেন প্রভেদ পরাণ ।
যা মেঘ উড়িয়া যা, যা উড়ে মলয়া বা,
ভিজাগে সে পাষাণের মন।
যা পাখি মাতান স্বরে, লহরী শােকেরি ভরে,
নােয়াগে সে কঠিন মরম।
ফুলকুল! (পাহাড়ের দিকে হেলিতে হেলিতে
ধরতে পাহাড় তাের কঁাধে করে তুলে,

[ ৩৯ ]
দেখে আসি কোথায় সে জন,
দ্যাখনা বাড়ায়ে হাত আকাশের তলে,
লুকায়ে সে আছে কি কেমন,
অমন দেহটা যদি হইত মােদের,
খুজে খুজে পৃথিবীটে উল্টে দিতাম,
অমন শকতাে হাড় থাকিলে ফুলের,
এতক্ষণ কবিতার বর মিলাতাম।
কবিতা। ( প্রকৃতির হাত ধরিয়া যাইতে যাইতে জোছনার
দিকে চাহিয়া )
জোছনা,
একলা রেখে চলিলাম আমি,
হাসলােমােলাম মুখি কাদি গিয়ে আমি ।
জোছনা আমার কাদিতে জানে না,
মুখের হাসিটী চাপিতে পারে না,
সুধুই সে হেসে হেসে মাতারে দে মন,
একলা রাখিয়ে যেতে সরে না চরণ।
প্রকৃতি। কবিতার কচিছেলে প্রভাত কুমার,
আদরের কঁচা মেয়ে জোছন। তাহার
দুটি ভাই বেশনে ব’নে না তাদের
একে দেখি আর পালায়ে যায়,

[ ৪০ ]
ছেলেটী মায়েরে রােজ, দেখে যায়
মাসাদ্ধে মেয়েটা দেখা দে মায়
পাঁচদিন মেয়ে, শিশু সুকুমারী
পাঁচদিন দেখি কিশােরি তায়,
পুরােণ না হতে
পাঁচদিনে বালা ফুরায়ে যায়।
পুরণ যৌবন
*:
তৃতীয় অঙ্ক
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
মানস আশ্রম
( সাহিত্য বনে, তুণ ও ধনু স্কন্ধে গদ্য বৃক্ষ মূলে হরিণ বক্ষে
মাথা রাখিয়া নিদ্রিত, চারিদিকে উলঙ্গিনী উপদেবীগণ ফুল
ভূষণে ভূষিত। অৰ্ধশায়িতা, গুন গুন করিয়া আপন মনে গাইতে
গাইতে কৃণিনী ধরিয়া খেলা করিতেছেন।).

[ ৪১ ]
উপদেবীগণ । ( মৃদু সুরে)
পিরিতি করিলে, কাঁদে যদি লােক,
কেন বা পিরিতি করে,
পিরিতে মজিলে বাড়ে যদি শােক
কি কাজ পিরিতি করে।
( গদ্যের মুখ পানে তাকাইয়া ।
এত খেলা ধুলাে, এত হাসি খুসী
কোথায় পড়িয়া র’ল,
প্রেমের লীলায় প্রেমের খেলায়
পাগলা ঘুমা’য়ে প’ল।
( চুপে চুপে প্রেমের প্রবেশ ।)
কোথায় ছিলাম, কোথা এলাম এখন,
হাওয়ায় ধুয়ে দিল তাপিত জীবন।
( গদ্যকে দেখিতে পাইয়া সুদুরে গাছের আড়ালে থাকিয়।)
কবিতা আমার কোমল কুসুম
তেমনি কঠিন বর
মায়ার সনেতে মিলাইব আজি
(ব্যোম শিব জটাধর।
কোমলের তরে গঠিত কঠিন
কোমলে কঠিন চায়
f)

[ ৪২ ]
মােলামে কঠিনে জড়াতে জানিলে
সুখে দিন কেটে যায় ।
( সহসা উপদেবীগণ কর্তৃক প্রেমের বেষ্টন
উপদেবীগণ । ধীরে ধীরে ফুল মেলিছে পাপড়ি,
ধীরে ধীরে ওঠে গাছের পাতা,
অতি ধীরে দোলে বিহগের নীড়
ধীরে ধীরে প্রেম প্রাণে দে ব্যাথা ।
প্রেম। চুপি চুপি চুপি পাটিপে পাটিপে
মাটিতে ফেল না পা,
নিশাষ, ফেলনা পাতাটা নেড়ন।
ছুয় না গাছের গা ।
ম উ দে। { চুপে চুপে )
একা কেন বনে কহ নাগরী ?
প্রেম। খুজি নটবরে নেযাব ধরি ।
কেনলো পিরিত এ সাজে আজ +
প্রেম । ভুলাতে তোদের হৃদয় রাজ।
৩য় উ দে। রাখ পরিহাস কহিল তোরে
নাজেনে মজিলে পড়িবে ঘােরে।
প্রেম।
ছলে লাে সজনী স্বপন করি
মনচোরা আজ লইব ধরি

[ ৪৩ ]
.
সকলে। অতি নিদারুণ, ওগাে সে বড় কঠিন
বাহিরে মােলাম বটে ভিতরে মলিন।
প্রেম। কঠিন মরম গলে যদি যায়
বিষম বেগটা তার।
কোথায় যে যায় . ভাসায়েনে’ তায়
বাধে বেন্ধে রাখা ভার।
( গাইতে গাইতে উপদেবীগণ প্রেমকে বেড়িয়া প্রেমের
হাত দুটি ধরিয়া)
গীত।
রাগিণী ভৈরবী-তাল পােস্তা।
পাষাণে প্রাণ সপে সই প্রাণে যে হলেম সার।
সুধা পাব বলে শেষে বিয়েতে করেছে জার।।
ধারে না সে প্রেমের ধার, সাধা কঁাদ। নাইকো তার
অসার অাধার সার, নয়নে গলে না ধারা।
প্রেম। মুখ নেব চাদের নিতম্ব অচলের,
চেয়ে নেব চাহনী তারার।
ফুলের হাসিটি নিয়ে অধরেতে বসাইয়ে
দেখাইব বিষম বাহার।
ভুজঙ্গের ল্যাজ নেব পিঠে তার দোলাইৰ
গরল মাখাব চোখে তার

[ ৪৪ ]
2.
সুমেরুর চুড়া খুলে বুকে তার দেব তুলে
দেখি যুবা কোথায় পালায়।
২য় উ দে। পাহাড় গলাতে পার তবে বাহাদুরী
নতুবাও প্রেম নাম বৃথা লাে সুন্দরী।
পাষাণের অবরােধ ভাঙ্গিয়া পিরিত
পাহাড় গলা’য়ে করে সাগরে মিলিত।
মানে পিরিতি অসান পাষাণ,
মানে সাগর তল,
না মানে পিরিতি লােহার নিগড়
আকাশ আগুন জল।
( মুখে হাত দিয়া ক্ষণেক নিস্তব্ধে চিন্তা
( শনৈঃ শনৈঃ হাত বুলাইয়া যাদু করিতে করিতে
প্রেমের স্মরণে নিদ্রাও কর্পের প্রবেশ ।)
নিদ্রা। চুরী করে আসি চুরী করে যাই
কাণে কাণে কথা কই,
মিটি মিটি চাই চোখ বুজে যাই
চুপি চুপি পা ফেলাই,
শিহরি তরাসে,
ফুল ঘায় মূচ্ছ। যাই,
মাছির ঝঙ্কারে
'ত্রাসিত অন্তরে
ডেঙ্গায় হুছট খাই।
পবন পরশে

[ ৪৫ ]
কর্প। ( পাখীদের ডাকিতে ডাকিতে )
সুধা পেড়ে খাব চাঁদে সাব
আয়রে বনের পাখী তােরা আয়,
বাতাসে ভাসিব
মেঘেতে মিশিব
আঁধার ঘরে কেন দু’বি আয়।
পাখীকুল। { ডাল হইতে)
শি দিয়ে ফিস্ করে বাতাসে বেড়াব
নব কিশলয়ে বসি পল্লবে শুইব,
রাঙা ঠোটে খাব খুঁটে, পালক ফুলায়ে,
নিত্য নুতন প্রেম করি কাননে মুকায়ে ।
প্রেম।
{ নিদ্রার কাণে কাণে ) :
ভাল করে এটে চোখের কপাট,
রাখলাে যুবার আজি,
সুখের স্বপনে অকিয়া মরমে
নাগরে করিব রাজি,
কামদেবের দিকে চাহিয়া হাসিতে হাসিতে
রূপ হ'য়ে বেচারির বিপদ ঘটিল,
চোখে চোখে ছড়িগুলা ছিনাইয়া নিল।
কন্দর্প । তােমারি সেগুণ দেবী তােমারি সে গুণ,
তুমিতাে জুটায়ে মােরে করে দিলে খুন

[ ৪৬ 1'
. প্রেম। অতি সাবধানে দেব ফের এ কাননে,
পাখিটা চেচায়ে যেন ওঠেন এখানে।
নিদ্রা। কিছুই করিতে কারাে হবেনাকো আর,
আনিব অনন্ত ঘুম কাননে তােমার ।
নয়ন উপরে
ঘােমের পাহাড়
চাপা’ব এখনি তার,
আচিন আঁধারে মিশাব যুবারে
সাড়াটী পাবেনা আর ।
কাণের নিকটে সাগর ডাকিলে,
চাবে না চোটী চিরে,
গায়ের উপরে
পাহাড় চাপালে
শােবে না পাশটী ফিরে ।
{ গুণ গুণ করিয়া ঘুমের গান গাইতে গাইতে অবারের
পাহাড় যুবার নয়নােপরি স্থাপন।)
প্রভাত আঁধারে উপরে আলােক,
সাজের আঁধারে নিচেয় শুধু,
ঘােমের অাঁধার নয়নেরি কোণে,
মনের আঁধারে মরম ধুধু !
কর্প। ( কাননের চারিদিকে ঘুবিতে ঘুরিতে)
ডাকিস্ নে পাখী মারিস নে উকি
জোনাক পাতার আড়ে,

[.
৪৭. 1
বাজাওনা আর বাতাস তোমার
রাজ না বাঁশের ঝাড়ে।
কোকিল। চাদে
চাদে চুম খাই, উড়িয়ে বেড়াই
আমরা বনেরি পাখী,
কথাটা না কয়ে মুখটা বুজিয়ে
বল না কেমনে থাকি।
কর্প। চেঁচাতে কি এত তুই পারিস, কোকিল,
ভেঙ্গে দেব গলা পাখি মেরে এক কিল ।
কোকিল। { উড়িতে উড়িতে।
বিধাতা ডাকিতে দিল মন দুখে ডাকি,
সবে চায় মারিতে আমায়।
কর্প। উঠিসনে অত উচু পড়ে যাধি পাখি,
ডাকিবার নেই কি সময় ।
কোকিল। মাণিক মাখালে চাদ গাছের পাতায়,
কেমনে কোকিল রবে ঘুমায়ে বাসায় !
{ কন্দর্প কর্তৃক সম্মােহন বাণে চতুর্দিক মােহিত করন।)
উপদেবীগণ। ( সচকিতে চারিদিকে চাহিতে চাহিতে)
এ আবার কোথা হতে আইল জ্বালাতে,
আর কি সময় নাই মদনে মাতাতে।

[ ৪৮ । } রমণী জনম [ হাঁটু গাড়িয়া হােড় হস্তে মদনের প্রতি) অমন করিয়ে মরমে নামেরে পরাণে মারিতে হয়, সরম হারায়ে কেমনে বলনা রয় । ( কন্দর্প কর্তৃক ধাবিত হইয়া চতুর্দিকে এলােমেলো উপ- বৈীগণ ছড়াইয়া পড়িতে পড়িতে বৃক্ষে মিশিয়া যান । প্রেম। এস সখিগণ, হরে নেব মন দেখিবে যুবার আজি, সুখের স্বপনে কবিতার ছবি অকিয়া করিব রাজি । উপদেবীগণ। (সহসা বৃক্ষ হইতে বাহির হইয়া নাচিতে মাচিতে। ােের বনে করি গান, বনে রাখি কুল মান, পবিত্র প্রণয় নীরে ফুটাই পূরাণ, মােরা বনেরি ফুলে বনমালা গাঁথি বনমালী পেলে তারি হইগাে সাথি। প্রেম। গাঁথ আফোটা কলি, মালা পরাব গলে, যদি না পরে গলে, দেব ভাসায়ে জলে । ( ইতস্তত বেড়াইতে বেড়াইতে ) বনের পিরিতি কেহই জানেনা,

[ ৪৯ ]
পিরিতের বন এখানে নাই,
বনের মানুষ এখানে মেলেনা,
মনের মানুষ শুধুই পাই,
বনের আহার, বনের বিহার
বনের বিমল বিষাদ গান,
মনের বিহারে মাতাল মানুষ,
বনেতে বসিতে কেউ না চান ।
বনের পিরিতি পাতার আড়ালে,
বনের হাসিটা চাদের সনে,
বনের বিহার কুসুমের ডালে,
নিষাদ বিবাদ মাখায় গানে।
ফুদ্দৰ্প। ( চারিদিকে চাহিতে চাহিতে ফুলের প্রতি অঙ,
হলিয়া)
চট করে ফুল,
পড়না ছটকে,
শবদ যাইবে কাণে,
চোখেতে মিলিয়া বাতাসে গলিয়া
পড়লে। ফাটিয়া গ্রামে।
ফুলকুল । ( টু শব্দে।
কাননে ফুটিলে ফুল কীটে কেটে দেয়,
লােকালয়ে গেলে ফুল তুলে নিয়ে যায়,
জোছনা যেখানে পড়ে,
৫।

[ ৫ ০ ]
কর্প।
ফুল তথা ফুটে পড়ে,
ফুটিতে এ বনে ফুল সদা বাসে ভয়,
আদর বিনে কি ফুল ফোটেরে তথায় ?
অরসিক নিরমম কি করিবে ফুলে,
বৃথা কেন হেথা ফুটে পড়িবরে ঢালে ।
বাগানে কে তোরে দেবেরে আদর,
ফুটিস, বাগানে বনে,
আদর পাইতে যদি আশা হয়
জুড়াগে বিউনি সনে।
ফুলকুল। মােলাম হাওয়ায়, মেলাম প্রায়
সবুজে শােভায় বসি,
বাগান ত্যজিয়ে মেলাম হারায়ে
শুখারে যাৰ যে খসি ।
মােলাম নারীর কর কোকনদ,
তা'হতে মােলাম বুক,
তাহ’তে মােলাম নয়নে চাহনী;
তাহ’তে গােলাম মুখ।
পুলকুল। কাননে কবিতা কুমারী মােদের,
আদরে মুখটা ধরে
বনদেবী হয়ে, বাগানে বসিয়ে,
নাচায়ে আদর করে ।

[ ৫১ ]
কন্দর্প। (আড়চোখে চোখে গােলাপের দিকে চাহিয়া)
গােলাবি গরবি বড় অটুট যৌবন,
ফুলের না ছােড় ছুড়ী আরক্ত আনন।
গােলাব। টুকটুকে গাল মাের যদি থাকে ভাল,
পাইবে সে কত শত যুবার চুম্বন,
সুগোল চুম্বনে কত লাল হবে গাল,
নাই বা পেলেম হেথা ফুটাতে বদন ।
কন্দর্প । একে সুরূপিনী তায় নবীন যৌবনী,
নাগরের অভাব কি তাের লাে সজনি
( একটি চাপা ধরিয়া )
খাঁটি সােনা দিয়ে বিধি গড়েছে চাপায়,
এ রঙ, যাবার কভূ নয়,
জলেনা ধুইয়ে যায়, রােদে না শুখায়,
কঁাচা কাচা সদাই সে রয়।
৩য়, উ, দে। জীয়ন্ত টাটকা ফুলে খেলি চিরকাল,
মরা বাসি ফুল শুকে মানুষ মাতাল ।
১ম উ, দে,
নব রাগে আজ ফুটিলে কলি,
মন সাধে সবে করিব কেলি।
২য় উ, দে। সখা যাইবে চলি,
বুঝি আর না খেলি।
{ আকাশে চাঁদ পানে চাহিয়া
।

[ ৫২ ]
শশী।
বেড়ায় একেলা চদি বিশাল গগণেরে,
একটিও তারা নাই সাথেতে তাহার,
( আকাশ হইতে।
মুখ ধুয়ে পান খেয়ে, পাটিটা পাড়ায়ে,
ভেসেছি একেলা চদি অসীম অকুলে,
ক। মুখখানি কেন শশী গিয়েছে শুখায়ে ?
দ্বিতীয়ে দিয়েছি আজ ঘােমটা টানিয়ে,
কর্প। দেতাে চাদ দুধ ঢেলে গাটা ধুয়ে যাই,
বিমল দুধটি তাের ভালবাসি ভাই।
ফুল। ফুটফুটে জোছনায়, ফুটে ফুটে পড়িতাম,
পাপড়ি পাতিয়ে গাছে শুই,
এখানে গড়ায় গায় অাঁধার সুধুই,
মন মজান, প্রাণ মাতান বয়ন। যথা বুলী,
ফুলে ফুলে কয়না কথা যথা ঢুলি ঢুলি
যে বনে স্বর্গের বায়ু ঢেউ টি না খেলায়,
সে বনে জোছনা (
যেই বড় ভয় পায়।
কন্দর্প। { গােলাপের দিকে চাহিয়া
গোলাবি বেলায়, গােলাবি বেলার,
কে তাের। বেড়াবি আয়,
গোলাবি বরণে, গােলাবি ধরণে,
গোলাবি যমুনা যায়,

[ ৫৩ ]
গােলাবি নেশায়, গােলাবি হাওয়ায়,
গরবি গােলাৰী সনে,
গােলাব ছুড়িব, গােলাবে ভুলিব,
বেড়াব গােলাব বনে ।
প্রেম। ( ফুল গাছের দিকে চাহিয়া উপদেবীগণকে ডাকিতে
ডাকিতে }
রাগিনী পিলু বারােঙা-দাদরা ।
কলি ফাটিল লে, বুঝি অলি এল,
না আসিতে অলি ফুল তােল তেল।
রাঙা ঠোটে রাঙা হাসি ফুটিল লো,
নীরবে নাগরে আদরের তরে
দুলিল সােহাগভরে ঢুলিল লল,
অধরে না ধরে মধু টলিল লো,
সুমৃদু সুরে ভাসি, অলিকুল সম্ভাষি,
এখনি কহিবে অলি, বয়ান খােল,
বয়ান খেলেফুল মুটা তেল ।
{ কুসুম केरल
মধু
লইয়া দূরে দাড়াইয়া দ্যের মনে
বপ্নে কবিতার ছবি অঙ্কন, ও কন্দর্প কর্তৃক চারিদিকে মূমূহ
কুসুম বান ক্ষেপণ।

[ ৫৪ ]
প্রেম।
( চক্ষু মুদিত করিয়া ।
মেঘে বিজলীর মৃদু আবিলি যেমন।
ঘুমের আঁধারে স্বপ্ন, অকলাে তেমন।
রামধনুখানি ছকিয়া সজনী,
বরণ বাহিরি নিলা,
ঢেউয়ানো রূপে
চেয়ানো যােবন
চিক্ মিক্ দেখা দিল ।
বসায়ে বসায়ে বসাল স্বপনে
নবীন যুবার মনে,
অলস অবশ ডুবিল যুবক
সােনার স্বপন সনে।
{ গুদের মুখের দিকে এক দৃষ্টে চাহি থাকি।
মজেছে মজেছে,
পা তার
সুখের স্বপন সনে।
হাসিছে 'কাদিছে কত কি করিছে
আপনি আপন মনে !
সরাও সরাও ঘুমের পাহাড়,
হয়েছে আমার কাজ,

[ ৫৫ ]
পালা 'ওলাে ঘুম,—পালাও মদন
সহেনা আর যে ব্যাজ।
কুহু কুহু কণ্ঠে আসিল,
ফুর ফুর, ফুত্র, পরা’ল প্রাণে
দুহাত বাড়ায়ে জাগিল যুবক,
প্ররিতে স্বপনে মদন বাণে।
এ নিদ্রাদেবীর সহিত কন্দপের কুসুম বান হানিতে হানিতে
ধরে নিমিলীত হওন )
২য় উ, দে। (ফুল হার গাথিতে গাঁথিতে)
ফুলের গায় ব্যাথা দিলে কয় না সে কথা,
তাই বলে লাগে না কি ব্যথা ?
৩য় উ, দে। ফুলের মিহি ব্যাথাটা তাকালেই পায়,
ছুতে কি ছিড়িতে নাহি হয়,
ফুলকুল । (হার হইতে মুখ তুলিয়া তুলিয়া)
কবিতা মােদের বড় ভাল বাসে,
ব্যাথাটা তাহারে কই,
মানুষে ফুলের দরদ জানেন,
কথাটা কইনে তাই।
( গাইতে গাইতে উপদেবীগণ।

[ ৫৬ ]
রাগিনী জংলা ঝিঝিট-তাল আড় খেমটা।
উড়ু উড় করে কেন প্রাণ,
বুঝি বিন্ধিবে ব্যাধেরি বাণ,
প্রাণ কোথায় জুড়াই, কিছু খুজিয়া না পাই,
ফাকা ফাঁকা চারি দিকে শুধুই যে চাই,
কে বা আছ-কর পরিত্রাণ ।
সকলে। কাদিয়া পেয়েছি মােরা সখা বিজনে।
তারে ভালবাসি,
তারে নিয়ে হাসি,
স খ। সকলি জানে,
সবা বিরাজে প্রাণে,
তাহারে ত্যজিয়া আজি বাচি কেমনে ।
{ মাল লইয়া )
গাছের গায় ব্যাথা দিয়ে তুলেছিনু ফুল,
গাছেরে পরায়ে যাই ভাসিগে অকুল।
২ নালার ফুল খুলিয়া খুলিয়া বৃন্তে বসাইয়া পুনৰিকাশ
করিতে করিতে।
বিচ্যুত বকুল ফুলে গাথিব রে মালা,
বারে বারে বৃন্তেরে দেবনা এ জ্বালা
প্রেমের কারণ এবং মালার অবশিষ্টাংশ লইয়া উপদেবীগণ

[ ৫৭ ]
ধর মােহন মালা গলে দে যদি কালা,
ভাসিব অকুলে মােরা সহেনা জ্বালা !
(প্রেমের হস্তে মালা দিতে দিতে ক্রমশঃ উপদেবীগণের
বাতাসে মিশিয়া যাওন )
ফুলকুল। (মালা হইতে মুখ ভুলিয়া তুলিয়া)
যুবার শতাে গায় যাবলাে শুখায়ে,
যতন না জানে সে মালার,
কবিতা কঠিন হবে পরাণ বিলায়ে,
আবেশে না আদরিবে আর ।
প্রেম! পিরিতে পরাণ পুরিবে যাহার
ফুলে সে আদর দেবে,
তােদের পাশে
কোমল হইয়ে যাবে ।
খুকুল। ফুলেতে ভূলিতে জানেন যে জন,
কবিতা কেমনে চিনিবে সে,
কেমনে কবিতা মিশাবে মরম,
ফুলেরে ফুটাতে জানে না যে ।
{ মালা লইয়া কর্তনের সুরে মৃদু মৃদু গাইতে গাইতে
পল্লববসনা প্রেমের ক্রমশঃ গদ্যের সুমুখে অগ্রসর হওন।)
কত ঘাট বট তট মঠ, নট
খুজিনু বহুত দেশ,
কঠিন পরাণ

[ ৫৮ ]
ওহে নটবর, নাপেয়ে খবর
সহেছি বহু কেলেশ।
কত কুসুমের কলি, ফুটায়ে দেখেছি,
পাইনি বুকেতে তার,
কত বিহগের নীড় নাড়িয়া দেখেছি
সাড়াটি নেই তােমার,
কত সাগরে ডুবিয়ে, ঝিনুক ভাঙ্গিয়ে
দেখেছি তাহার মাঝে,
কত খনির আঁধারে সাহসে পশিয়ে
ফিরিয়ে এসেছি লাজে,
কত মেঘের ভিতরে, আঁধারে অাধারে
খুজিয়া ভিজিয়া মরি,
আজ বিধাতা আমার কপাল খুলেছে
নেযাব নগরে ধরি ।
গদ্য।
( সচকিতে )
কে তুমি রূপসী, গহনে বিকাশি
খুজিছ বা কোন জন,
একেলা এবনে মিছ কেমনে
কোথা তব প্রাণ ধন ?
প্রম। ( বাঁকা হয়ে দাড়াইয়া আঙুল মুখে দিমা মুচকি
মুচকি হাসিতে হাসিতে

f ৫৯ ]
পিরিতি আমার নাম, নিবসতি ধরা ধাম,
নিবারিতে মনের অাঁধার,
মনেরই বনেরই, একাদোকা যারে পাই,
জোড়া বেন্ধে দিয়ে যাই তার।
জগতে সকাই প্রাণধন মাের,
সবারি পুরাই আশা,
তুমিও আমার প্রাণের আধার,
পুরাব প্রেম পিপাসা,
চারু চাদ মােরে, ফাঁদ পেতেধরে
নিশিতে নাগর মণি,
দিবসে তপন, রমন আমার
ভাল বাসে দিনমণি,
বসন্ত আমার প্রেমের পাথার,
সদা সে আমারি পাশে
কোকিল আমায় গলায় গলায়
(মোহন ফাগুন মাসে।
তবে কেন বালা, করে ধরে মালা,
নিতেছ বনে বনে,
মােহন মালাটী
গেল যে শুখামে
পরাও না কোন জনে।
( মালাটা ধরিয়া প্রেমের গীত।)

[ ৬ ]
।
রাগিণী প্রভাবতী-একতালা !
বড় সাধ করে গেথেছি মালা পরাতে প্রাণেরি গলে ।
বিপিনে ভাসিয়ে, কাহারো না পেয়ে, চলেছি ভাসাতে জলে।
মালাটা লইয়ে ভাসি বনে বনে
খাইল মালা ৰা হেরি সে জুনে,
যদি কভু পাই মনমত ধনে, পরাই তাহারি গলে।
পদ্য। ( ক্ষণেক নিস্তব্ধে থাকিয়া সুদীর্ঘ নিশ্বাসের সহিত )
যখনি দেখেছি সুখ স্বপনে,
মরম হিছে দুখ দহনে।
প্রেম। (গদ্যের মুখ পানে চাহিয়া
হৃদি নদী আজ কাহার তরে,
ভেসে বপু বেল। প্লাবিত করে
গদ্য। তাহলে পিরিতি মানি তােমায়,
বল দেখি প্রাণে কি আজ চায় ?
প্রেম ! ( ঈষৎ হাসিতে হাসিতে)
চাঁদের হাসিটা হবে, ফুর, ফুরে হাওয়া ব’বে,
কুসুমের হবে ছড়াছড়ি,
তরল তটিণী পরে, ভাসিবে তরণী করে,
পাশে রবে বিমােহিনী পরী।
চারিদিকে কুঞ্জবনে গাবে পাথীকুল,
সুদুরে শানাই বাজি করিবে আকুল ।

[ ৬১
السا
হলনা হলন। প্রেম ও অচি তােমার,
প্রেম। গননায় ভুল যেতে পারে আমার ।
( দীর্ঘ নিশ্বাসের সহিত )
অমল কমলে অলির.আবাস,
পাখীর গলায় বিরহ বসে,
চাঁদের আলােকে, আগুন ঝলকে,
পলকে নারীর প্রলয় খসে ।
নাচায় কাদায়, কামিনী আমায়
অকুলে ডুবায় শেষে,
নিজেও ডুবিবে, ধরে ডুবাইবে,
ধিক ধিক ভাল বেসে।
প্রম।
মরম হারালে বেদনা জানেন,
শােনে না সে জন নারীর কথা,
নবীন নাবিক তরাতে জানে না,
বাজে না নারীর ব্যাথায় ব্যাথা।
গদ্য।
যোবন ডরায় বড় রমনির নামে,
দেখিলে আয়েদ্দীকমে,
শুনিলে শিহরী
পরশনে অবশ যে কায়,
কেমনে বল না আমি মজিব তাহায় ?

[ ৬২ ]
প্রেম। যৌবনে যাহার, যাতনাই সার,
সে কেন যৌবন বয়
যে মুখে ললনা মুখ পরশে না
সে মুখ কেন বা বুম ?
দেখিতে পরশমণি, যেন কুসুমের খনি,
রমনী দুমূল্য মণি জুড়ায় জীবন,
আবার তাহাই হয় নিধন কারণ।
প্রেম ।
রমনীর সােহাগেতে গলেনা যেমন,
সে মন পাষাণ, তার অসার জীবন,
মুখেতে মধুর হাসি অন্তরে গরল,
কে বলে রমনী মন সদত সরল ।
প্রেম। আদরের মেয়ে প্রথমে রমনী
প্রেমের মানুষ মাঝে,
মায়ায় মানুষ তৃতীয়ে রমনি
সংসার তরণী সাজে।
গদ্য। দেখিয়াছি রমনীর কতই আনন
মনে মনে করেছি চুম্বন,
উচ্চ কুচ যুগে কত পড়েছে নয়ন,
প্রাণে প্রাণে করেছি মর্দন।
ছুড়িয়ে মেরেছি, কত ভালবাসা,
কতই যুবতী পরে,

[ ৬৩ ]।
কারাে বা নেগেছে, কারো ফোসকেছে,
আপনি গিয়েছি মরে।
কিছুতেই সুখ নাই, সংসার ভাবিয়ে ছাই
বসিয়াছি তাই,
পুরণে পৃথিবী ভাই, নূতন কিছুই নাই,
কিছুই না চাই।
( অধােমুখে অবস্থান।)
( বুকে হাত দিয়া সুরে ।
উন্নত বুক, আধ ঢাকা কুচ,
সুনীল বসনে সব ঢাকা,
দ্বিতীয়ার চাঁদ, পাতিতেছে ফাঁদ,
যে না দেখে তার সব ফাঁকা।
কাকাশে আগ্রাস না দেখেছে যে,
হাসির শশীতে কেন হাসিবেক সে।
সাজের আরতি কালে দেবীর মুখানি,
সাজান গাজান সুশােভিনী সে যেমন,
সেও মুখানি তেমন
গভীর মেঘের মাঝে ফুটিয়া উঠিতে,
যেমন দেখায় মরি সুধাংশু তখন,
সেও মুখানি তেমন
সেনা করিয়ে চাঁদ চুল ছেড়ে দিয়ে,

[ ৬৪ ]
রাঙ্গা ঠোটে পানখেয়ে বসিলে আকাশে,
তবে তার মুখখানি ভাসে-
সাদা মেঘে ঢাকে যবে ঝকমকে রবি
মােলাম মােলাম রােদ তখন যেমন,
তেমনি হে নটবর তাহার বরণ।
গদ্য। কুচভরে নমিতাঙ্গি, নধর দেহের ভঙ্গি,
নিবিড় নিতম্ব গুরুবড়
উরুর সু গুরু ভার,
তাহ’তে বেণীনি ভার,
ভারে ভারে সদা জড়সড়।
প্রেমের পাহাড় তার, সে বড় বিষম ভার,
নামাত পারিলে নারী এড়ায় সে দায়,
নিয়ে ছুটোছুটি করে, যে দেখে পালায় ডরে,
কার ঘাড়ে চাপাইবে খুজিয়া না পায় ।
প্রম। প্রেমের পাহাড়ে, ঢেলে দেয়া ঢাল,
যে জন চড়িবে তায়,
গড়ায়ে গড়ায়ে, কিছু না ধরিয়ে
পড়িবে নারীর পায়।
সকালে ঘােমতে নারী মােলাম গড়ন,
বিকালে যুবতীজনে প্রেমের বদন।
গদ্য। কত উপদেবী আসি প্রেম ভিখ, চায়,
আমি কোন দিন তবু তাকাইনে তায়।

[ ৬৫ ] প্রেম। (সুরে । তুমি যে পরেরি প্রাণ দেখেছি তা নয়নে, তুমি যে হবেনা সখা, জেনেছি তা পরাণে । গদ্য। (প্রেমের হাত ধরিয়া ঈষৎ হাসিতে হাসিতে ) আমার আর এটি আমি, যদি আমি পাই, দুর হতে দেখে তারে জীবন জুড়াই, তবু নিকটে না যাই- যাতনা ছাঁকিয়ে ভাল বাসা কেহ, যদি রে জানিয়ে দেয়, চোখটা বুজিয়া, নাকটা ধরিয়া চুষেনিতে পারিতায় । •( মুখে হাত দিয়া হাস্য। { সহসা আবার গম্ভীরভাবে ) হাসিলে কাদিতেহবে, কাদিলে হাসিব শেষে, প্রমােদে প্রমাদ ভবে, প্রমােদে যা বন ভেসে। প্রেম । প্রমােদে প্রমাদ কে বলে ঘটায়, প্রমােদে প্রেম দে মনে,

[ ৬৬ ]
হাসিলে শেষেতে যদিও ভাসায়,
আবার হাসায় প্রাণে।
{ প্রেমের গীত।
রাগিণী কালাংড়া-জলদ একতালা।
এমন কপাল কি তব হবে ।
কবিতার কোলে নিয়ে চাঁদ মুখে চুম খাবে ।
ফুলে দুলে হাত বুলাবে,
সুদ চাঁদ তুলে খাওয়াবে,
কোকিলে গান শুনাবে, নাচিব সুমুখে সবে ।
দ্য ।
! স্তভাৰে সুরে }
পল করেদে আমারে পাগল করে দে ।
করন ও নম শারে পলি করে দে ।
প্রম। (হাসিতে হাসিতে
কবিতা আমার ছট কিন্তু নয়,
ছটকে পড়েনা গায়,
প্রাণের ভিতর বসত তাহার
কেহনা নিতে পায় ।
{দ্য।
{ বুকে হাত দিয়া মৃদুস্বরে )
ধিকি ধিকি ধিকি দিপিছে অনল,
সরনে কেমনে সে জালা চাপি।

[ ৬৭
LA
পবনের ভরে পরাণ শিহরে
কোকিল কুজনে কেন গগ কঁপি !
প্রেম। সােনার আগুন, কোমল কেমন,
মােলাম মরম মত,
সে আগুনে কভু
পারে কি পােড়াতে
কঠিন মানুষ যত ?
দ্য । চাদের চুকী,
ফুলের ফুৰ্কী
আগুন ফুকী শুধু,
আকাশের চাদ, আগুন চাঙ ভা,
জ্বলিছে হৃদয়ে ধু ধু।
প্রেম নীরস হইলে
সকলেই জ্বলে,
নীরস মরম তব,
নীরস কাঠেরে ঘদিলে অাগুন,
বিধির কি দোষ দেব।
( ধিরে ধিরে চোখ দুটি মুদিত করিয়া ।
ভুলিবারে যাই, কেন ভুলিতে নারি,
সে যদি না চায় তবু আমিতো তারি,
জলি জ্বলি জলি, ভুলিতে না চাই,
জ্বলি যত তত হৃদয়ে লুকাই,
প্রাণে কিছুই না পাই ।

[ ৬৮ ]
প্রেম। ( হেলিতে দুলিতে)
যে খানে আগুন পাই,
সেই খানে দেখি ছাই,
ছায়েতে বুকেতে রাখে মুকায়ে আগুন,
সদত প্রেমের ভরে বরণ অরুণ,
প্রেম দরপনে
পলে প্রতিরূপ,
সে ছায়া কভু না ওঠে,
কায় চলে যায়, তবু ও ছায়াটা,
আমরণ প্রাণে ফোটে,
দরদে দরদী যদি হইতে তারি,
ব্যাথার ব্যাথি কি তবে ত্যজিত নারী ?
দ্য। কেবা অকুল পাথারে,
ডারিল আমারে,
জানি সাঁতার অমি।
এ যে বিষম তুফাণ, কিসে বঁাচে প্রাণ,
জান কি উপায় তুমি !
(প্রম। 'অকুল তুফাণে,
বিপদ ন গণে,
হাত পা ছড়ায়ে ভাস,
ঢেউয়ে ঢেউয়ে, নে’যাবে ভাসায়ে
লাগিবে কুলের পাশ।
যে কভু ভাসিতে
জানেনা কখন,
ভাসালে অকুলে তারে,

[ ৬৯ ]
আকুল হইয়া
নিজেও ভাসিয়া,
শিখাতে হয় সাতারে।
তিক তত পরাণে
মিঠে মাখে (প্রম,
নিঙ ডালে গলে সুধা,
ছানিয়া যে খায়,
ননী সেই পায়,
থাকেনা প্রাণেতে ক্ষুধ',
দুখের পিরিতি, সুখের বড়ই,
শুকিয়ে পিরিতে আরো,
পরিণয়ে প্রেম,
না হয় তেমন,
সে প্রেম সুধু সখের,
পতীর পিরিতে, রতীর আভাস
নুকান পিরিতে মধু,
গঞ্জনে লাঞ্ছনে, প্রমে জুনে বনে,
দেখিতে মুখ টা শুধু,
জগত বিলায়ে
দিতে পারে দাত ,
নিজেরে বিলায় প্রেম,
নব নটবর দাওনা উত্তর,
কেবা লােহা কেবা (হম ?
গদ্য।
নাচায় কাঁদায়,
পিরিতি আমায়,
পরাণ পােড়ায় শেষে,

t, ৭০
কামিনী কঁপায়, প্রেমের পীড়ায়,
ঝুলায় পাপের ফঁাসে,
প্রেম। অবলারে বল পরায় পিরিতি;
পুরুষে পরশে ভয়,
নিরস নিঠুর, করেদে মধুর,
লাজে না বাধাটি দেয়,
জগত বিলায়ে
দিতে পারে প্রেম,
ফকিরে পিরিতি পেলে,
সুরূপ কুরূপ চেনে না পিরিতি,
যায় না যৌবন চলে,
জাতি কি অ জাতি, দিবস কি রাতি
চেনে না পিরিতি ভাল,
সাগর সলিলে জোয়ার ভাটা নি,
সৰি এক ঢাল ঢাল ।
পরের পরাণ বিলায় পিরিতি
কামনা নাই কো তার,
আপন কি পর, জানে না পিরিতি
পরায়ে দে’ প্রেমহার,
সাধ, বাধা, কঁাদ,
প্রেমেরি ভূষণ,
মানের মেখলা তায়,

[৭১]
পিরিতে চাতুরী মরি কি মাধুরী,
কলঙ্কে কেবা উরায়,
পিরিতির ঢেউ পরাণে উঠিলে
মুখেতে ফুটায় হাসি,
পিরিতির বেগ খায়ে আসিলে
নয়নের জলে ভাসি,
প্রেমের তিনটি আঁখি, একটি তাে নয়,
একটীকে র। ঙাইয়ে একটাতে মজাইয়ে
একটাতে নিজেরে বঁছায়।
বিমল পিরিতে শুধুই কবিতে,
যে দিকে ফিরিয়ে চায়,
মনে কি নয়নে চলনে বলনে
সদাই কবিতে তায়।
দ। শুনিতে মধুর, সদা বটে প্রেম,
খেতেও মধুর বড়,
দেখিতেও ভাল লাগে ভালবাসা,
করিতেই জড়সড়,
প্রেম। খেতে ভাল মিঠে কথা,
দেখতে ভাল রূপ,
খেতে ভাল প্রেমের খেলা,
শুনূতে ভাল চুপ।

[ ৭২ ]
--
গদ্য।
( সজল নয়নে চাঁদ পানে চাহিয়া )
শশীর কয়টী কলা কে নিল মুছিয়া রে,
আমারি মতন,
যামে যামে রজনীর উঠি যে শিহরি রে,
কেন বা এমন ।
( সুরে )
চাঁদ আমার কে কেড়ে নিলি এনে দে চুদে আমায়
সাদরে সাধিরে সবে, ধরে তােদের দুটা পায় ।
( করুণ সুরে প্রেমের গীত।)
রাগিণী খাম্বাজ-দাদরা ।
কবিত। মােলাম করি কেন বিধি নিরমিল।
মােলাম করিল যদি কেন হেথা পাঠাইল ।
হেথা যদি পাঠাইল, মরম কেন না দিল,
মারিতে মােলামে বুঝি পাহাড়ে আছাড় দিল ।
( গাইতে গাইতে প্রেমের অদৃশ্য হওন।

তৃতীয় অঙ্ক।
দ্বিতীয় গভঙ্ক।
তরঙ্গাকুলিত সাগর ।
সময় অপরাহ্ন।
{ মগ্ন ভানু কিরণে সমুদ্রতীরে গদ্য বিমর্ষে দণ্ডায়মান, সমু
গর্ভে সূৰ্যাস্ত এবং আকাশ ও অর্ণবের অপূৰ্ব্ব মিলন দেখিতে-
'ছেন। ধুলাে কাদা মাখা উলঙ্গ বেলাবালকগণ, কেহ বা
বেলায় মুক্তা খুজিতেছে, কেহ বা জলে জল ছিটাইয়া ছিটাইয়া
মাছের সহিত খেলা করিতেছে।
গদ্য। ফাকা ফাঁকা ছাড়া ছাড়া মধুর মলিন,
ভানুর ফুরাণে রােদ হয়েছে যেমন,
প্রাণের সুখের স্বপ্ন হইয়া বিলীন,
আমাকেও আজ, দেব করেছে তেমন।
প্রম। (সলিলাভ্যন্তর হইতে মুক্তার মালা গাথিতে ১)
যে জলে নলিনী নাই সে জল কেমন,
কবিতা বিহীন প্রাণ আঁধার যেমন

[ ৭৪ ]
শশীর হাসি বিহীন যামিনী যেমন,
নাগর কবিতা বিনা তুমি ও তেমন।
গদ্য। ( সচকিতে )
ডুবিয়ে অতল জলে রয়েছ কেমনে,
বলনা পিরিতি“আজ কিসের কারণে,
প্রেম। ডুবিয়ে অতল জলে মণি নে সবাই,
ডুবিয়ে দেখি হে তাই পাই কি না পাই,
পদ্য। (সভয়ে চারিদিকে চাহিতে চাহিতে)
কবিতা আমার গিয়েছে ফুরায়ে,
চোখ দুটি ফাটাইয়ে,
স্বপনের সনে,
অপারের কোণে,
গেছে সবাফুরাইয়ে।
প্রেম। অতলে ডুবিয়ে মাণিক তুলিয়ে,
সকলে গলায় পরে,
অকুলে আকুলে
দেখিতেছি তাই,
নিতে পারি যদি ধরে,
১৭ বেলা বালক। (একটি মাছ ধরিয়া গম্ভীরভাবে )
কহিলে গেরাহ্য বুঝি হয় না তােমার,
ঘাড় ভেঙ্গে ফেলানা রে !
ল্যাজের বাড়িটিী মার, লাগেনা আমার।
দেখি ল্যাজে কত বড় জোর !
৫

[ ৭৫
لا
প্রেম। (সলিলাভ্যন্তর হইতে সুরে)
কোমল আঙুল তুলিলে কবিতা,
মুখ তুলে চায় জলের মাছে,
কোমল আঙুল ল নাড়িপে কবিতা,
ফুল ফুটে ওঠে বমের গাছে।
{ মাছের জলের উপর মুখ তুলিয়া তুলিয়া দেখা।
কলে। (হাত তালি দিতে দিতে )
কোমল আঙুল তুলিলে কবিতা,
মুখ তুলে চায় জলের মাছে,
কোমল আঙুল নাড়িলে কবিতা,
ফুল ফুটে ওঠে বনের গাছে।
: য় ব বা। ( একটি মাছের দিকে চাহিয়া )
আমারে সাতার মাছ, দে আগে শি খায়ে,
তান'লে তােদের সাথে খেলাব না আমি,
জলে যদি ডুবে যাই, দিবি কি উঠায়ে
ডুব দিতে ভাল করে জানিনে যে আমি ।
৩ম বে বা। ( হাত নাড়িয়া বারণ করিতে করিতে)
না ভাই দিসনে ডবকাণে জল যাবে,
ওদের সাথে ডব, পাড়িতে দম আটকাবে।
গদ্য। ছিটাসনে জল হেথা ছুটে আসে গায়,
আছাড় মারিব জল কাণে যদি যায়।

[ ৭৬ ]
শিশুর বদনে
প্রেম । ( জল মধ্য হইতে )
মুকুতা গজায়ে,
কচি কচি হাসি মাখে,
মােমের বুলিটা মুখেতে ফুটায়ে
কবিতা শিখায় তাকে।
সকলে । ( জল ছিটায়ে ছিটায়ে মাছের সহিত খেলা
করিতে করিতে )
সারাদিন জলে জলে বেড়াও খেলারে,
ধরা দিতে চাওনা তােমরা,
ধরিলে ডেঙ্গায় আজ দেবরে ফেলারে,
দেখি কোথা খেলাও তােমরা !
দ্য! অ, মরণ? কোথা হতে ছেলে গুলা এল,
ভ্রালার উপর জাল। এতে আরাে হল।
( মুদগর হস্তে বালকগণের দিকে ধাবমান।
সকলে। খেলাতে দিলে না, আচ্ছা থাক আজ তুমি,
মাকে বলে ওর সাজা দিতে পারি আমি----
{ সুরে)
কোমল আঙুল তুলিলে কবিতা,
মুখ তুলে চায় জলের মাছে,
কোমল আঙুল নাড়িলে কবিতা,
ফুল ফুটে ওঠে বনের গাছে।

[ ৭৭ ]
{ গাইতে গাইতে বেলায় মুক্তা খুজিতে খুজিতে এলে।
মেলে। বালক গণের প্রস্থান।)
প্রেম। (অনন্ত জলরাশি ভেদিয়া উঠিতে উঠতে)
কালো দিক, দেশ, কালাে জল স্থল,
সজীব কালিমা বয়,
কবিতা আমার,
কালি হ'য়ে আজ
নিবে পড়িয়া রয়,
সজীব সলিল,
সজীব জগত,
ঘুর পাক দিয়ে ধায়,
কবিতা আমার,
শুয়ে দোলনায়,
মরি কিবা দোল খায় ।
{ সলিলােপরি মুখ তুলিয়া তরঙ্গের চঞ্চল ভাব দেখিয়া )
কাতরে এ পুলক তরঙ্গ তােমার,
কবিতা কঁদিছে পড়ে অকুল পাথার,
প্রশান্ত গম্ভীর ভাব কেন নাহি আজ,
উলঙ্গ উন্মাদ হেরি পাই যে হে লাজ।
( কটিদেশ পর্যন্ত সলিললাপরি তুলিয়া ক্রোধ ভরে ঘাড়
ধাকাইয়া ও তর্জনী তুলিয়া তরঙ্গের প্রতি।
যে তােমা আনিয়ে দেয় তরল। তটিনী,
নিষেধ করিছে সেই থামাও নাচুনী,
যার তরে হেলে দুলে বেড়াও নাচিয়ে,

৭৮
parang
-
তার তরে আওি দেব পড়েছি ঝাঁপিয়ে ;
অথির 'ওনা ঢেউ হাবু ডুবু খাই,
কবিতার তরে আজ,
দিতেছি দোহাই।
( তরঙ্গাবলীর নতশিরে শান্তভাব বার ।
f
{ তরঙ্গোপরি দাঁড়াইয়া বুকে হাত দিয়া এলোকেশে
আকাশ প্রতি চাহিয়া প্রেমের গীত 1 )
রাগিণী--সাহান,--ঝাঁপতাল ।
কি দোষ করিল বিধি কবিতা তােমারি পায় ।
(মালাম বলিয়া এত তারে কি গলাতে হয় ।
কবিতা তােমারি ধন, হেথ। কে চেনেন সে ধন,
নিহারে নিভিবে কেন, জলন্ত আগুন হয় ?
অাঁধার সলিল মাঝে প্রদীপ্ত মূরতি,
সহসা ফুটিল প্রেম প্রসন্ন বদন,
কবুঝরে চুল গুলি ঝরিয়। কপালে,
জলের মুকুতা গুলি দুলে দে চুম্বন,
চক্ চকে সাজা গাজ। বেণী লিখি।
প্রেমের উচ্ছাস নিহিতায়,
সাগরে নাগর পানে হইল ধাবিত,
হাতে ধৰি মিল মালায় ।

৭৯ ]
প্রেম। শিশুরে শিখায়, ধুলো খেলাইতে,
পুতুলের দিতে বিয়ে,
যুবারে শিখায়,
প্রেমের বুলিটা
নিজে প্রমােদিনী হ'য়ে,
বুড়রে কবিতা
বনেতে বসায়ে
শুনয় বিষাদ গান ;
পূৰ্ব্ব স্মৃতি যত তুলে জীবনের,
উঠায় উদাস তান।
{দ্য। ( ক্ষণেক নিওক্কে থাকিয়া মৃদুস্বরে )
না জেনে না শুনে
পিরিতে মৰি,
পরে কি পাগল হব,
ইনি।
কোথায় সে জন্য হয় বা কেমন,
শেষে কি হারাব সব ।
মধুপ যা খায়,
কবিত। তা খায়,
ফুল যা’তে, শেয় তাতে,
বিহগ যথায়,
উড়িয়ে বেড়ায়,
কবিতা ওড়ে তাহাতে।
মনের মােহিনী। মাঝি কবিত! কুমারীরে,
প্রেমের নদীটি চেনে শুধু,
যখন যে মেঘ ওঠে,
বঁচায়ে নে সে শঙ্কটে,

মানুষ মরম হীন,
মথিলে মন সাগর
[ ৮০. ]
মেঘ দেখি বেগ চেনে বালা,
সদা সবে করে পার না জুবায়ে ভেলা
গদ্য। কবিতারে শুধু চেপে চেপে মারে,
কালি মেখে গায়,
বেচিতে নে যায়
মানুষ মায়া বিহীন।
প্রেম। কবিতা পড়িতে মুখ নাই তবে,
দেখিতে নয়ন নাই,
বুঝিতে কবিতা মরম নি ভবে
কবিতার দশা তাই।
গানেতে গলেন, মরন যাদের
কবিতায় নারে কাপাতে প্রাণ,
ছবিতে ছাপে না
হৃদয় তাদের
মাটীতে মিশেছে পরাণ খান।
মানুষের হাত দিয়ে,
কাঠের কলম বয়ে,
যে কবিতা গলে গলে পড়ে,
সে কবিতাপােকা কাটে, বিকায় বাজারে হাটে
কাগজে সে শুধূই আঁচড়ে ।
ওঠে যে কবিতা,
সে কবিতা বড়ই মধুর,

[
লুটিয়া বিদ্যা ভাণ্ডার তুলিলে কবিতা,
জলে জলে সে বড় বেসুর ।
বিধির হাতের
কবিতা কোমল,
দিগদেশ জুড়ে বিকাশ হয়,
নরের কবিতে, শুধুই কবিতে,
সে কবিতা ঘন গহনময়।
সে মুখ সুগােল নয় চাঁদের মতন,
সে বুকে মতির মালা দোলে না কখন,
সে মুখে মেঘ না ওঠে,
সদত জে।ছনা ফোটে,
যত হেরি তবু হিয়া তির পিত নয়,
নয়নে নবীন রূ প সকল সময়।
কবিতা পায়েতে আলতা পরে না,
কবিতা গলেতে মাখেন। লাল,
পল্লবিত কেশ জড়াতে জানে না,
এলােন ছড়ান চিকুর জাল।
কবিতার চোখে চপলা খেলে না,
পিকেতে পাকেনা অধর তার,
নয়ন যুগল কাজলে অকেনা,
সিন্দুরে মাজেনা দশন হার।

[ ৮২ ]
আঙুল নাড়িয়ে,
বাহুটা দুলায়ে,
কটী হেলাইয়ে কহেনা কথা,
ঘাড় বাঁকাইয়ে, হাব ভাব দিয়ে,
দেয় না কবিতা মরমে ব্যাথা।
ছ’ মাসের মেয়ে যে চোখে তাকায়,
কবিতা আমার সে চোখে চায়,
ফাকা ফাঁকা ফেলে গােলাম চাহনী,
চোর। দেখা কভু নাই কো তায়।
দ্য। পাব কি পুরণ দেখা কবিতে তােমার,
প্রাণভরে দেখে আঁখি নিভাবে নিহার ।
প্রেম। চাচা ছােলা বুলি, জানে না কবিতে,
ফিসফিসে কথা কয় না কাণে,
আজকে কবিতে
কাতরা আমার,
জ্বলিছে শুধুই মদন বাণে।
সে শিশু চিকুরগুলি ছড়ায়ে কপালে,
নয়ন নিহারে মুখ কমল শুখানে,
সে নারী কিশােরী, নাই প্রেমেরি চাতুরী,
এখনো পূর্ণ বিকাশ হয়নি মাধুরী।
লাজের পবিত্ৰ পৰ্দ। ঘােমট। নরের,
সে মেয়ে ধারে না কভু ঢাকুনীর ধার,

[ ৮৩ ]
চাদের মুখে অমানিশা ঘােষ্ট। নরের,
সতীত্ব ঝাপিতে নেই পরদা তাহার ।
চন্দন চর্চিতা,
মৃগমদ মণ্ডিতা,
হয় না সে বিরহ জ্বালায় ।
শােয়না সজলদলে; শুখায় না মালা গলে,
বিষাদ বহে না সে না সাধু ।
কোমলিনী কমলিনী,
কবিতা কোমলা বাণী,
চোখের জলের পরে রাজত্ব তাহার,
অকুল সে জলে করে সারিয়ে পার
মনের মােলাম রাণী,
মায়ার মানুষখানি,
প্রাণের পরশমণি গলে দোলে তার,
ধারায় ভাসিলে দেয় আশ্রয় তার।
আকাশের চাদে
অরুচি মােদের
সদত দেখে সে চাদ।
ধরে নিতে তাই,
এসেছি পাতিয়ে ফাদ ।
গদ্য। বছরে বারােটা বার হেরি পূর্ণ মুখ,
যদি হয় অরুচি তােমার,
নূতন চাদেরে

[ ৮৪
]
কে আছে এমন উঁদ নিত্য দেবে সুখ,
কোথা পাবে হেন চাঁদ আর !
প্রেম। (গদ্যের মুখখানি ধরিয়া)
মােরা পলকে পলকে, ঝলকে ঝলকে,
নুতন
নিরখি তায়।
তার কপাল ফলকে, চাদের আলােকে
কত কি রােজ, দেখায়।
সে ভুরুলতায়, বিহরে বিজলী,
অধরে। বিজলি গলে ।
কপোল কমলে,
শুয়ে সৌদামিনী,
চিবুকে চপলা ঝলে।
গদ্য। বিজলীর বুকে সদা অশনি নিবাস,
তবে বুঝি বৃথা প্রেম তােমায় প্রয়াস।
প্রেম। সে যদি বিজলী, তুমি অশনি তাহার,
দুজনে জড়ায়ে রবে ভাবনা কি তার ।
গদ। সে বালা সদত নাকি কাদিয়ে কাটায়,
জনম দুখিনী বালা সকলেই কয়।
হাসির কুঁড়িটা ঠোঁটে ফুটিয়া পড়িল,
সজল নয়নে প্রেম কহিয়া উঠিল ।

]
প্রেম। সবে ভাবে বুঝি কবিতে আমার,
শুধু শুধি কেঁদে ভাসিয়ে যায়।
বা কেহ দেখেনি কিন্তু দেখিবারে চায়,
কবিতা যে তাহাই'দেখায়।
মরু ভূমি মাঝে আতপে তাপিত,
বীজটী শুখায়ে যাবে,
কবিতা কাদিবে নয়ন গলিবে।
চারাটী গজাবে তবে ।
কবিতা কাদিলে সে নয়ন জলে
নবীন অন্ধুর ফোটে,
কবিতে আমার,
তাই নিশি দিন,
কাদিয়ে কঁদিয়ে কাটে।
( কীৰ্ত্তনের সুরে )
চন্দ্র মাড়িয়া বদন চন্দ্র,
ইন্দু মাড়িয়া বিন্দু,
পশাঙ্ক ছানিয়ে সে কোমলা
শুধু সে সুধার সিন্ধু ।
প্রাণের কুমারী শিখেছে কি গুণ,
সহিল না কভু সে গুণ তায়।
স্বার তার প্রাণ মাতাতে সে জানে,
কবে বুঝি বালা কঁাদায়ে যায় ।

[ ৮৬
৮৬ ]
গুণের জীবন
এখন তখন,
এ ধরা জানে না ধরিতে তায়।
সে গুণে গলিতে মেলে না মরম
কাজেই জীবন কাদিয়ে যায়।
এখানে কেহই
চায় না যাহারে,
পরমেশ তারে করেন কোলে।
এখানে যে কথা, কেহই শােনে না,
পরমেশ প্রাণ তাতেই ভােলে ।
খায় বা না খায়, সবে সে মাতা,
সদা গলে চোখে দুখেরি ধার।
চোখে চোখে তারে, শুখা’ল সকলে,
তাই বলি ওণ স’ল না তার !
{ কহিতে কহিতে ক্রমশঃ প্রেমের উন্মাদিনী অবস্থা
ও নাগর কর্তৃক শুশ্রুষায় পুনঃ পূৰ্বভাব প্রাপ্তি)
গদ্য। কহিতে ও কথা যদি কেলেশ তােমার,
থাক তবে শুনিব না আর
প্রেম্ । মিঠে কথা নেই লিখিতে কবিতা,
মােলাম ভাষাও এখানে নাই,
মনের মতন মনও মিলে না,
কবিতার আশা মিটে না তাই।

[ ৮৭ ]
(কীর্তনের সুরে )
কঁদে কোকিলে, কুহু কুক তুলে,
অৰি সঞ্চারে না কুসুমে।
দীন সমীর, ধীরে ধীরে চলে,
ব্যাথা পেলে বালা মরমে।
১টী লতা। (পল্লবে মুকুলে ফুলে ফুলে জড়াজড়ি করিতে
করিতে গদ্যের গায় পড়িয়া কহিয়া উঠিল।)
ফুলের বয়সে ফুটেছে কবিতা
শিশুর সরলতা তবু মরমে,
কুচের কুঁড়িটা উঠেছে উরসে।
অলি সঞ্চারে নি সে কুসুমে।
১টা পাখি । (গদ্যের মাথার উপর দিয়া উড়িয়া যাইতে
হইতে বলিয়া গেল।
গলে কোকিলে,
কুহু কুহু বলে,
নয়নে নাচে খঞ্জনী
চক্রবাক করে
বুকেতে বসতি,
মলিন জোছনা বরণী।
{প্রম। কবিতা কাদে না
হাতে ঢেকে চোখ,
অধরে চাপিতে জানে না হাসি।

[ ৮৮ ]
মনের বেদনা মুকাতে পারে না,
প্রেমে সে পরে না লাজের ফাসি ।
নয়নে ঘােমটা পরে না কবিতা
লাজের পাতাটা দিয়ে।
আড় চোখে চোখে চায় না কবিতে
মুখেতে পরদা দিয়ে ।
পুরুষে শুধুই মজায় নারীরে
নারীরা সদাই পুরুষ চায়,
পুরুষ কি নারী, পশু কি মানুষ,
কবিতা সবারি মাতায়ে দেয় ।
সে তটিনী কভু সঁড়েতে ফঁাড়ে না,
সে বিহগে কভু বাধেতে বিন্ধে না,
সে নিহারে কভু অনল জ্বলে না,
সে জোছনা কভু মানুষে মাড়ে না?
দ্য।
{ প্রেমের হাত ধরিয়া )
কোথা গেলে পাওয়া যায়, কোথায় সে রয় ।
প্রেম। ফুলে ফুলে কথা কয় বাতাসে যথায়।
মােটা মনে কভু মেলে না কবিতা
মিহি মন চাই চিনিতে তারে,
প্রাণের পটুয়া কবিতা আমার,
বিনি রঙে অাঁকে দেখে নি যাত্বে।

[ ৮৯ ]
মরমের কোণে মজে মজে থাকে
কবিতা সবারি বুকে,
তবুও তাহারে কেহই খোজে না,
দেখে না কেহই দেখে।
চাতকির পরে চড়ে,
কবিতা আকাশে ওডে,
পেড়ে পেড়ে ধারা করে পান।
মরালের পিঠে বসে, সুনীল সলিলে ভাসে,
ক্ষেতে দোলে হয়ে শিশুধান।
কবিতা ব্ৰজের বনে রাধা বিনােদিনী,
কবিতা নরের কোলে নব প্রণয়িনী।
বিরাগী মরম
কে কোথায় নিল,
রাঙা মুখখানি কেনরে তায়,
টেনে টেনে মোরে,
মধুর সাগরে
মধুতে কে আজি ভিজায়ে দেয়।
তপন তাপিতে, বিলায় কবিতে,
মলয়া মাখান ছায়া,
মরম তাপিতে এনেদে কবিতে,
শান্তির শীতল কায়া।
গদ্য ।
প্রম।
আকাশের গায় মেঘ মেখে বালা,
বিজলীর দাগ দেয়,

لسا
আকাশের গায়
বসায়ে তারায়,
নয়ন গলামে চায় ।
ত্যজি ধনজন,
পথের পথিকে
খুজে দে কবিতে
হারাণ পথটা তার,
পিপাসা পীড়িতে, এনে দে কবিতে
নাচান তাহরী সার।
বিরাগে ভরিলে বিজনে বইয়ে
শুনায় পাখী র গান।
তাই যোগীগণ,
সদত বিপিনে যান।
কবিতাব তরে
পাগল হইয়ে
খুজিব গহনে বনে,
কবিতা আমার, আমি কবিতার ,
জপির কবিতা মনে।
প্রেম। টাপুর টুপু টল মল, যৌবন জোয়ার জল,
ঢল ঢল কানে কানে বেলায় বেলায়,
কুচভরে অবনত, সলাজে বয়ান নত,
কবে বুঝি বেলা ভেঙ্গে দেশটী ডুবার।
বিষাদ আঁধারে ভয় পায় না সে বালা,
পুলকের শলকেতে লাজে দেনা জ্বালা ;

[ ৯১ ]
শােকের শুননা ঝড়ে এলো থেলো করি,
মাটিতে মিশায় না সে বিমল কুমারী।
জীবনের ভরা পুরে। দুপুর বেলায়,
গরবের ঘাম কভু ছােটেনা সে গায়,
বাতাসে গুলিয়ে যায় সে কোমল কায়,
অঙ্গের ভুজঙ্গেতে দংশে না তাহায়।
প্রমাদে কবিতা শান্তি স্বরূপিনী,
প্রমােদে কবিতা আনন্দ রূপিনী,
অধরে কবিতা ঢালে হাসি খুসী,
পাপীরে পরায় রােদনের রাশি।
গীতায় হয় না ভীত কবিতা আমার
ধরম করম নাহি জানে,
মানে অসতী সতী বিচার আচার,
সদা ভাসে বিকশিত প্রাণে।
কবিতা গীতায় গায়, পুরাণেতে কথা কর,
কবিতায় কথা কন তারা ত্রিনয়নী,
বাতাসে হাত বুলায়, ঢেউতে চুম্বন দেয়,
সে নয়নে তাকায় হরিণী,
সে বদনে সলিলেতে ফোটে সরােজিনী।
প্রাণের পরম সাথি কবিতা আমার,
ছাড়িবনা জীবন থাকিতে,

[ ৯২ ]
দুখের দমকা ঝড়ে ছিড়িলে সংসার,
কবিতারে নারিব ছাড়িতে,
প্রেম। আকাশে চাঁদের দানা কে দিল ছড়ায়েরে !
আমারি কবিতে সে যে আর কেহ নয়,
ফুলের কোমল গায় কে বাস মাখায়রে,
আমারি কবিতে বিনে আর কেহ নয় !
কমল মুদিলে, সে মুখ কমলে,
হেসেদে অলিরে মধু,
চলে গেলে চঁাদ, সুধ। দে চকোরে
হাসায়ে বদন বিধু।
তুলিটা হারালে চলে না চিত্রার,
গলা ভেঙ্গে গেলে গায়না গীতি,
কবিতে আমার, * কিছুই চায়না,
ধারে না সে কোন ধরার রীতি।
কবিতা দেখিতে কবিরাই পারে,
কবিতা পড়িবে ভাবুক জন,
কবিতা লিখিবে মায়ার অন্তরে,
নিরমমে নয় কবিতা ধন।
সে যদি না ভাল বাসে, আমি তারে বাসি,
সে যদি না চায় ফিরে, পায় ধরে সাধিব।

[ ৯৩ ]
প্রেম। বিজ্ঞানে অজ্ঞান হয়ে দেয় না। সাঁতার,
ব্যাকরণে অকারণে ভাবে না অপার,
ভূগােলে সুগােল দৃষ্টি পড়ে না তাহার,
অবােধ মুগধ বালা কবিতে আমার ।
কবিতে দেখেন,
কোন্ দেশ কোথা
কত টুকু গেছে বেয়ে,
কোন্ নদীটিতে কত টুকু জল,
কবিতা দেখেনা গিয়ে ।
*
কবিতে কালীর নয়, শুধু সে মরম ময়,
ভেবে ভেবে কালীর বরণ,
কবিতে দেখার নয়,
লেখা কি পড়ার নয়,
শুধুই সে ভাবিবার ধন।
কবিতার মিহি খেটা মােটা মনে নয়,
হাড়ে বিধি মানুষ গড়ায়,
মােলম তুলিটা দিয়ে সজীব সে ছবি,
মানুষে তা মুছে ফেলে দেয়।
বুকের দুখের রক্ত কলমে করিয়ে,
মােলাম ময়ান দিয়ে মায়ায় মাড়িয়ে,
মন ছিড়ে, প্রণ ছিড়ে লিখে যায় কবি,
মানুষে তো বুঝে তার যত্ন জানে সবি।

[ ৯৪
৯৪ ]
দশেতে শতেক জন প্রপীড়িত জ্ঞানে,
শতেকে দশটি জন কবিতা না চেনে।
আখরের মরালতা পুথিতে লতায়,
কবিতা জিয়ায়ে তারে কুসুম ফুটায়।
মরিলে নিরথে গুণ মানুষে যেমন,
কবিতা জীয়ন্তে দেখে চিনে নে সে জুন
কবিতার ছেলে, নয়নের জলে
সদত ভাসিয়ে যায়,
জনম অন্তরে অমর সে নরে,
শুধু এ আশাটা তায়।
নয়নেতে জল, অধরেতে হাসি,
অপূৰ্ব্ব মিলন আয়,
শােকের সুখের বিমল মিলন,
কে দেখিবি চলে আয়
রোদেলত মা খান মেঘের ধারাটি,
যদিরে দেখিতে চাও,
নয়নের জলে হেসে টুলে ঢলে
কবিতার কোলে যাও।
( সজল নয়নে)
কবিতার নেশা মাতাল করিল,
বুঝি না পরাণ বঁাচে,
:

[ ৯৫ ]
পায়ে ধরি প্রেম এনে দে আমায়,
কোথায় কবিতা আছে।
প্রেম। (হাসিতে হাসিতে )
মরম মাঝারে গরম আগুন
নরমম জ্বলিছে যার,
সে কভু জানে না, সে কভূ চেনে না,
মেলে না কবিতে তার ।
গদ্য।
কেন ঘােম আসি আজ, নয়নের বাড়ি,
অনাহুত অতিথি হইলি !
প্রাণের সুখের ধন সব নিয়ে কাড়ি
দাবানল হৃদয়ে আলিলি !
কে জানে বিষের নদী সে তৃণের তলে,
পা দিলেই যাইব ডুবিয়া,
কাল ভুজঙ্গিনী থাকে কে জানে মৃণালে,
ধরিলেই দেবে সে দংশিয়া !
কাতরে কতরে কাঁদিব আর,
কেউ নি মুছাতে চোখের ধার।
প্রেম। ( নাগরের চোখ মুছাইতে মুছাইতে )
বেদনা কেদনা,
কি মনােবেদনা,
মিলাব নিখুত নাগরী,

[ ৯৬ ।
বামে বসাইছে,
হাসিয়ে হাসায়ে,
দেব সে কবিতা কুমারী।
গদ্য। আমি বসিব বনে, জ্বালা কব গহনে,
স্বপনে করিব খেলা তাহারি সনে।
প্রেম। সজীব স্বপনে যদি পারি মিলাইতে,
কিব। তবে মিলিবে আমার ?
গদ্য। যা আছে আমার দেবি সকলি তােমায় ।
প্রম। ( মালা ধরিয়া ।
মালা মলিন হল, যদি সাধ কর,
মম সঙ্গে চল, মালা গলে পর।
}
( মালাটী গলায় পরিয়া )
হিয়ার অমরাপুরী, কেবা মিল করে চুরী,
কোথা গেলে পাইব তাহায়,
রাগে না রঞ্জন করে, কি লয়ে বা প্রাণ ধরে
রব আর কাহার মায়ায়।
পায় ধরি চল প্রেম আছে সে মথায় ।
{ প্রেমের পা জড়াইয়া ধরা )
প্ৰম। (সাগ পানে চাহিতে চাহিতে )
মানুষের খেলা, মানুষের লীলা,
এখানে আসিয়ে ফুরায়ে যায়,

[ ৯৭ ]
সুখের হাসিটী, দুখের ধারাটী,
আসিয়ে এমনি চলিয়ে যায়
গদ্য। নাহি কুল, নাহি স্থল, অথই অথই জল,
ঠিক যেন অভাগারি আকুল মরমতল!
প্রেম। ( সাগরে নয়ন গলাইয়া!)
দিক দেশ জুড়ে, জলের পাহাড়
গড়ায়ে গড়য়ে যায়,
অথই অথির, অকুল কিনারা
জগত গিলিতে ধায়।
গদ্য। তরল তরঙ্গ ভাসে নাচিয়ে নাচিয়ে,
মন আজ তবু কেন উঠিছে কঁদিয়ে ।
প্রেম।
সঙ্কীর্ণ শীর্ণ মন এখানে আসিয়ে,
বিশদ বিশাল হয়ে যায়,
উচু প্রাণ নিচু করে, নিচুটি উঠিয়ে,
দিল, খােল। শুধু করে দেয় ।
( মরাল বাহিত পুষ্প তরীতে সাগরে সলিল বসনা
সলিলবালা বেশে উপদেবীগণ।)
সলিল বালা। মোরা অকুলেই!রই,
কুল কলঙ্কিনী নই,
লাজের জিয়ান জলে আমরা না যাই,
প্রেমের ফটিক জলে ভাসিয়ে বেড়াই।

[ ৯৮ ]
সকলে।
কুলের জলেতে জাল ফেলে সব,
কেনলো জড়াব জালে,
টোপ গেঁথে কুলে বসে আছে সব,
ধরিবে লােভেতে ফেলে।
মধুর জলের মরাল আমরা,
কুলেতে কাদা যে মেলা,
সমল সলিলে, যাইনে আমরা,
গায়েতে ধরিবে মলা।
প্রেম। সমল সলিলে, সরােজি বিকাশে,
মধুতে কমল ভরা,
অকূল পাথারে লােনা লাগে গায়
কেমন ভাসিস, তাের।
সকলে। অকূলে ডুবিলে, মুকুতা মিলিবে,
কুলেতে গুগলি শুধু,
অকূলে ফুটিলে, অলি না আসিবে
নেবে না লুটিয়ে মধু।
প্রেম । (অঙল দিয়া সলিলবালাগণকে দেখাইতে
দেখাইতে )
সুনীল সলিল তুলে গা ঢাকিতে যায়,
• ফুটে ফুটে কুচ দুটা তবু দেখা দেয়।

[ ৯৯ ]
স, বা, গণ । (ক্রমশঃ নিকটবর্তি হইয়া তরণী পরে নাচিতে
নলচিতে )
ঢেউয়ে হাসি, ঢেউ ভালবাসি,
কুলে ফুল ফোটে তাই কুলেতে আসি।
প্রেম। জঙ্গলে কাটার ডালে কাঠে ফোটে ফুল,
কাঁটা ফুটে, হুল ফুটে, ছিড়েদে দুকুল।
স, বা। যত অকূলে যাব, কূলে ফিরিয়ে চাব,
বিপদে পড়িলে তারে তুলিয়া নেব।
প্রেম। ধীরে ধীরে তােরা ভাসি কূলে,
মন প্রাণ মম ভাসে অকূলে ;
নাগরে নাগাতে পারিলে কুলে,
ভরে দেব তরী মুকুলে ফুলে ।
সকলে। (গদ্যের দিকে চাহিয়া )
বেলার বালিতে কেন হে বসিয়া,
বেলা যে বহিয়ে গেল,
ভাসাইবে বেলা,
অবেলায় আজি
বসে কি ভাবিছ বল,
রতন অাশায়,
বসি কি বেলায়,
এস না তরণী পরে ?
অতলে ডুবিয়ে, অমূল রতনে,
দেব দুটি হাত ভরে।
-

[ ১০২ )
প্রেম। (তরণীপরি সাগর বক্ষে ভাসিতে ভাসিকে
আকাশ পানে চাহিয়া )
উপরে জলের ঢেউ অকিয়াছে মেঘে,
নিচেয় জলের ঢেউ খেলিতেছে, বেগে।
আকাশের গায়, দুধের সরটা
মেঘ দে' কবিতা মাখে,
তাহার নিচেয় সরের স্তরটী
ধবল বকের ঝাঁকে।
স, বা। মাড়িয়ে জলের সর তরণীর যায়,
বাতাসের সর মাখায় গায়,
সরের সরু স্তরটা মাখা জোছনায়,
চাঁদের সরনী ভাসিয়ে যায় ।

চতুর্থ অঙ্ক।
বেলা ভূমি।
সময় গোধূলি।
বেলফুল। অত তাড়াতাড়ি পাথী কেনরে উড়িস, ?
হলদে পাখী। কবিতার বিয়ে, কেন পিছনে ডাকিস।
ভাল করে আজ হলুদ মাখিয়ে
হলদে হইয়ে যাই
কবিতার গায় হলুদ মাখায়ে
দেখিব নব জামাই।
ফুলকুল। শাদাসিদে রঙে শাদাসিদে মনে
আমরা যাবলাে ভাই,
হলদে পাখী। শাদাসিদে রঙ বেরঙা হইবে
দেখিলে নব জামাই।
ফুলকুল । ( তাড়াতাড়ি চুলিয়া ঢুলিয়া বাতাসে জড়াজড়ি
করিতে করিতে )
আতর মাখিয়ে পান চিবাইয়ে
বাতাসে পাচারি করে,

[ ১০৪ ]
চললাে সকলে মধুর হাসিয়ে
দেখিয়ে আসিগে বরে।
কল্পনা। ( সুদুর হইতে সাগরে নয়ন গলাইয়া )
তরঙ্গ মাতােয়ারা,
করিয়ে দিশে হারা,
উল্লাসে গড়য়ে আসে মেঘেতে মিশিয়ে,
কে যেন আসিছে তায় নাচিয়ে নাচিয়ে ।
প্রকৃতি। ( সবিস্ময়ে )
ফুল ছড়ায়ে ফুল ছড়িরা
কোরচে ফুলে খেলা,
ফুল ফুটায়ে
ভােরুচে ফুলের ডালা।
হলুদে পাখী। (কল্পনার কাণের কাছে উড়িতে উড়িতে)
আসিতেছে বর, দিলাম খবর,
তাড়াতাড়ি সার কাজ, দেখ তার পর।
ফুল ছিড়িয়ে
কল্পনা। ( কবিতার মুখখানি ধরিয়া)
কেন সখি আর কাপাও হৃদি,
ওই যে সাগরে রতন নিধি
প্রকৃতি। ছড়ান|মনে, চাহি শূন্য পানে,
চোখের ফুটটি আর কেন বয়ানে।

[ ১০৫
L
পূর্ণিমা।
আয়লো কবিতে হলুদ মাখায়ে
করিগে মােহন বেশ,
এল প্রাণধন
মনের মত
চিত্রা।
চল লো বান্ধিণে কেশ।
আকাশের রাণী, তুমিও আপনি
হলুদ মাখিয়ে, যাও,
সভাটা করিয়ে মিলিয়ে মিশিয়ে,
হলুদ মাখাতে দাও।
মেঘ রাগে গীতি গাহিয়া উঠিলা,
গগনে গরজি ঘন,
কবিতার পরে বিজলী জড়িত
সুধাকরে বরিষণ।
অাপনিই চাঁদ
হলুদ মাখাল,
নিজের জোছনা দিয়ে,
নিজে তরঙ্গিনী লহরী ঢালিযে
সেনান করালা গিয়ে,
ফুলকুল।
( কল্পনার প্রতি )
নব রস বড় ভাল বাসে বালা,
নায়।' লে নয়টা রসে,

[ ১০৬ ]
কলন।
অতর তােদের দে’নালো ঢালিয়ে,
কেন ফুল কুল বসে।
( মধুর সহিত নবরস কবিতার মাথায় সিঞ্চন)
কাম শরাসন।
টানিয়া মদন,
রচিলা যুগল ভুরু ,
ত্যাধার আনিয়া ঘসিয়া ঘদিয়া
কাজল পরালা সরু,
চঁাদের চাহনী মাখিরে মদন
করুন।
ফুলের দোলন সনে,
কোকিলের গান, মদনেরি বাণ
হানে যেন যুবা জনে ।
চন্দনের চাঁদ অকিল। চলিম।
নিজের মুখানি দেখে,
ফুল রেণু মেখে
ননিয়া মুখানি
সাজাল। মনের সুখে।
অধরে অমিয়
রাখিলা বিজলী,
তারার টিপটা ভালে,
নিজের বরণ
ছানিয়া বিজলী
রাঙিলা কপােলে গলে ।

[ ১০৭ ]
ফুলদল দিয়া
ফণিনী আসিয়ে চাঁচর চিকুরে
ৰেণী বিনাইয়া দোলে,
মিটি মিটি তারা ছিড়িয়া ছিড়িয়া
বয়ান ঢাকিলা জালে ।
কাচলি করিয়া
ঢাকিল। কোমল কুচ,
মৃণাল বলয়ে শােভিল বালার
যুগল মৃণাল ভুজ,
নবীন পল্লব
পরিলা সজনী
অলির নুপুর পায়,
রুণু রুণু রুণ
গাহিয়া গাহিয়া যায় ।
আকাশ। বিন্দু বিন্দু ইন্দু গুলি ছড়ান পড়িয়ে ছিল,
তাদিয়ে চঁাদিমা মালাটী গাথিয়ে,
পরাতে পাঠায়ে দিল ।
( কবিতার গলে তারাহার পরাইয়া দেওন।)
মেদিনী। সবুজ শ্যামা ঘাসের সাড়িটী আমার,
রাখিয়াছি এতদিন যতনে যতনে,
কটিতে করিতে আজ পরায়ে তােমার,
মিটাইব মন আশা জুড়ায়ে নয়নে।

[ sobu
]
( সাড়ি কবিতাকে পরাইয়া দেওন )
সাগর। প্রাণের তটিনী তব বড় আদরিণী,
পাঠায়েছে মল এই জল তরঙ্গিনী,
( মল কবিতার পায় পরাইয়া দেওন )
তড়াগী। সুনীল শেয়ালাময়ী সাড়িটা আমার,
কবিতে, এটিও তুমি পর একবার ।
প্রকৃতি।
গাওরে কোকিল, বাজাও অনিল
নাচ লাে লহরী কুল,
সাজাও হে সভা ঋতুরাজ তুমি,
পাতিয়ে মুকুল ফুল ।
ছড়াও হরিণী সুরভি তােমার,
ছড়াও পিযুষ শশী,
ধীরি বীরি বহ
মলয় সমীর
ধীরি ধীরি যাও ভাসি।
( কবিতার সুমুখে দাড়াইয়া )
স্বভাবের কাজ করি খাই বা না খাই,
আজ দেবী অবসর চাই,
যার যা বাসনা থাকে করুক সবাই,
যদি দেবী অনুমতি পাই ।

[ ১০৯
১০৯ ]
কবিতা |। যা ইচ্ছ। তােমার কর
সুখী যদি বাস প্রাণে,
অনুমতি তরে সখি
কেন চেয়ে মম পানে।
( প্রকৃতির হাতে ধরিয়া)
অযত্নের ধন মাের পাদপ নিকর,
আবাল বৃদ্ধ বনিতা বিরাজিছে বনে,
দেখ যেন ব্যাথা কেহ দেয়না তাদের,
তাহারা আমার যেন খেলে খুসি মনে।
প্রকৃতি। বিধির অর্জিত গাছ গহনে সকল,
নিজে বিধি দেখেন যাদের,
ওখালে চালিয়ে দেন নিজ হাতে জল,
কি ভাবনা সজনী তাদের।
কবিতা।
গানের কোকিল মাের হইলে মাতাল,
দেখ যেন কেহ তারে তা চটী না করে,
বড় সােহাগিনী সই কুসুম আমার,
তাহাদের কেহ যেন মাড়ায়ে না মারে।
কাদিছে মেদিনী বসি সাগরের কুলে,
আদরে আনিতে তারে যেওনা কো ভুলে
উল্লাসিনী তটিনীরা আমােদে মাতিয়ে,
দেখ যেন সাগরেতে যায় না গুলিয়ে।

[ ১১০ ]
অগুরু গুলিলা তটিনীর গায়,
চন্দনের নদী বহিয়ে যায়,
মধু মাখাইলা মেদিনীর পরে
মধুর মলয়া মাতায়ে দেয়।
মকরন্দ দিলা আকাশে ছিটায়ে,
মরকত দিলা মহীতে বিছায়ে,
সরােজিনী দিল। সরসী ছাইয়ে,
তড়াগে মীণেরে দিল। খেলাইয়ে।
চিত্র। নাচলাে প্রকৃতি আজি উলঙ্গিনী বেশে,
সকলে খেলা আজ মিলে মিশে হেসে।
খুলে দাও,সজনীলো শাসনের ফাস
কবিতার বিয়ে আজ উন্মাদ উলাস।
আকাশের চাঁদ উদিল ভুতলে,
'নাচিল তটিনী আকাশে গিয়ে,
তমালের গায় রসাল মুকুলে,
কাড়িতে লাগিল অলির হিয়ে।
নাচিব মনিয়া ময়রী হইয়ে,
কুজিল প্যাচায় কোকিল স্বরে,
আকাশের তারা গাছেতে ফুটিয়ে
মধু বিনে অলি আকুল করে।

[ ১১১ ]
মুখতুলি জলদল চেচায়ে গরবে,
তীর ছাড়ি ছুটে এল মদ মাতেয়ারা।
( প্রকৃতির দিকে চাহিয়া )
গাছেরা ঢুলুক সব গহনা পরিয়ে
সাজাইয়ে দাও ভাল করে,
প্রকৃতি। গাছেতে গহনা পরে ফুল ধন দিয়ে,
সে গহনা মাখান আতরে।
কন্দর্প। ছিড়ে ফেলে ফল সব ছিরি ফল দাও,
সার বেন্ধে দিয়ে গাছে ঝুলাও ঝুলাও।
চিত্রা। ( গাছের পাতায় লালরঙ মাখিতে মাখিতে )
হরিত পাতায় লােহিত মাখিব,
পাখীর পােয় মাখিব লাল,
লাল ফল ডালে ঝুলাইয়া দিব,
তমালে বসাব রসাল ডাল।
প্রকৃতি। আকাশে অপক হাতে মাখারে অমনি,
এলাে মেলো এক পোঁচ ধুসর সজনি ।
চিত্রা। বিষাদ বরণ কেনলাে মাখিব,
লালে লাল আজ করিয়ে দেব,
ছায়ে রঙ, যত মুছিয়ে ফেলিব,
এমন দিন কি আবার পাব।

( ১১২ ]
মাখায়ে রঙ, ভাল করে সখি,
দেতােরে মাখায়ে ৰঙ, গাছের পাতায়।
সাল নদী চলে লাল মাটী বয়ে,
লাল বনে ফোটে লোহিত ফুল,
লাল রাম ধনু
অাকিলা আকাশে
লাল চাদে ঘেরে তারকা ফুল।
বাতাসে আঙুল দিয়ে যেই ঠো’না দিল,
অমনি সবুজ কলি ফাটিয়া পড়িল,
ভাসিল তাহ’তে ফুল জোছন। বরণী।
সারি সারি শুধু ফেলে তারার চাহনী।
প্রকৃতি। ( ফুলের দিকে চাহিয়া )
জড় শড় হয়ে আজ থেক না দাঁড়ায়ে,
ঢলে ঢলে কথা কও হাসিয়ে হাসিয়ে ।
গীতি। উড়ে যেতে জানে গান ডানা নেই তার,
ঘুরিয়ে বেড়াক আজ, সুমুখে সবার।
কাকলি লহরীবৎ নহবত এসে,
মজায়ে ছিটায়ে দিল আকাশ প্রদেশে ।

[ ১১৩ ]
রসয়ে রসন চৌকি কেঁপে কেঁপে গেল,
মিশায়ে সমীর তাহা মুছে মুছে নিল ।
সুরের আবেশ গুলি জোছনায় মিশি,
ফুলের সুবাস সনে, ফুর ফুরে সমিরণে,
কভু লহরীর সনে নেচে নেচে যায়,
কভূ বা মিশায়ে যায় গাছের পাতায়।
ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে থাকে বহিল লহরী,
থরে থরে ঢেউগুলি মরি কি মাধুরী ।
কাণে কাণে জল টাপুর টুপু বুক,
ভেসে ভেসে ঢেউ এসে,
মুখটা তুলিয়ে চুমিয়ে চুমিয়ে
চলে গেল ভেসে ভেসে।
কল্পনা। রজনী বায়না নেবে আমােদের,
দিবস বায়না লইবে শ্রমের,
বায়না লইয়ে
বায়না করিলে
পাইবে সে জন টের।
পূর্ণিমা। যামিনী যদি না পারে কুলাইতে,
দিবস করিব যামিনী,
আমােদে মাতিব
হাবু ডুবু খাব,
দেখিবে জগত মাতুনী

[ ১১৪ ]
বেলা গড়াইয়ে গেল দেখা দিল চঁাদ,
মৃদু মৃদু বিভা রাশি ফুটিল তাহায়,
পাশেতে পড়িয়া ছিল পূর্ণিমার থাল,
ধীরে ধীরে ছোট হয়ে উঠিল মাথায়।
আইল শব্দরী দেখি সাজিল যুবতী,
কালো জলে কুমুদিনী টু ক্ টুকে সতী।
শদ। শদ জোছনরা যেখানে সেখানে,
পড়িয়া পড়িয়া শুধু গড়াগড়ি যায়।
তাহারা আজ কে যেন সমাদর পায়।
কবিতা।
ভাঙ্গিয়া পড়িল দিন পশ্চিমের ঘাড়ে,
কবিতার বিয়ে তাই শশাঙ্ক সকালে,
জোছনায় পৃথিবীটে ধুয়ে করে ছাপ,
যেখানে ময়লা ছিল,
জোছনায় ধুয়ে দিল,
অলে। 'আলো মেখে গেল অখিল ভুবন
( জ্যোৎস্নাময়ী রজনীর দিকে চাহিয়া )
নবীন যােবনা, রূপসী ললনা,
পূর্ণিমার নিশি মোর,
আটারো বছুরে বালারে আজকে
হতে দেবনা ভোর।

[ ১১৫ ]
( চঁাদের দিকে চাহিয়া )
বর্ষার মলিন শশী মােলাম যেমন,
মধু ঢালে মােহন গহনে,
তেমনি মােলামে শশী হাসলে। এখানে।
কল্পনা। ( অঙল তুলিয়া ) •
বিরহিনী যদি কেহ থাক এ ভুবনে,
কঁদিও না এমন সময়,
শােকাতুর। মণিহারা আছ যে যেখানে,
হা হতাশ ঢেলনা কোথায়।
,
আকাশে সুনীল সাটিন পাতিলা,
শ্যাম মখমল মাটিতে দিল,
ঢেউর উপরে ধােয়ান চাদর,
বিবাহের তরে বিছায়ে দিল ।
( পুষ্প তরণীতে ভাসিতে ভাসিতে বর ও বর যাত্রীগণের
বেশ।)
পূর্ণিমা। ( আঙুল দিয়া দেখাইতে দেখাইতে )
এল এল ওই, এললো নাগর,
একিলো সজনী হেরি ।
সাগরের বুকে,
নাচিয়ে নাচিয়ে
আসিছে কেমন করি।

[.
لا
লহরীর পরে
ফুলের তরণী,
মরালে টানিয়ে যায়।
একি একি বর, ঝাকড় মাকড়,
একিলাে ঘটিল দায়,
হরি হরি হরি । কবিতা সুন্দরী
বরটা পেলিলে। ভাল,
ভ্রুকুটি ভঙ্গিম, ললাটে কালিমা,
বসিয়ে গিয়েছে গাল।
কি চিন্তার দাগ মেখেছে কপালে,
কুটিল যেনরে মন,
কোঠর হইতে ছুড়িছে চাহনী,
রাঙ রাঙা দুনয়ন।
সাবাস্ লাে প্রেম বাছিয়া বাছিয়া,
জামাই জুটালি ভাল,
কবিতা কুমারী
সুন্দরী অপ্সরী,
নাগর নিখুত কালাে ।
সারি সারি সারি দুধারি দুধরি,
নমিল বনের ফুল,
দুপারে পাদপ
দুলে দুলে দিল,
আবাহন সমতুল।

[ ১১৭
1.
এল এল ওই
এল ঋতু কুল,
এল ঋতুরাজ ফুটায়ে ফুল,
ঋতুবতী ধরা, ফল ফুল ভরা,
প্রকৃতি পরিলা ফুলের দুল।
আইলা শরৎ চঁাদিমা পরিয়া,
মধু ছড়াইয়া মহীর গায়,
মধু মধু ময়
সকল ভুবন
মধুর তুফান বহিয়া যায়।
নিহার লইয়ে হেমন্ত হিমানী,
হিমের নণকে ননি :ম,
বরষা দুখিনী দামিনীরে নিয়ে,
কাদিয়ে ধারায় ভাসিয়ে যায়।
আইল নিদাঘ
নিঠুর যুবক
রাগিয়া রাঙিমা কপােল তার,
ঘামিয়া ঘামিয়া কোমর বান্ধিয়া,
দহিয়া দুনিয়া করিলা ক্ষার।
কম্বল গায়ি কনকনে শীত,
কাপিয়। কঁাপিয়া সভায় যায়,
লাঠি হাতে বুড় গল। নড় বড়
শীতে জড় সড় যে দিকে চায় ।

১১৮ ]
বিহঙ্গ কুল। (উড়িতে উড়িতে )
দেহটা ডানায় তুলে উড়িয়ে বেড়াই,
আয়াসে পাখাটা নেড়ে বাতাস বিলাই,
( উড়িতে উড়িতে ডানা দিয়া সকলকে ব ।স
করিয়া যাওন।
প্রকৃতি। ও খানে ওখানে পাখী করগে বাতাস,
নিদাঘ বলিষ্ঠ বড় করে হাঁশ ফঁশি।
নিদাঘ।
পবনের পশলায় ভিজায়েনি গা,
রােদের কুয়াশায় যে হয়েছি ঝলসা।
বরষা। নীল জলে ভাস, ইওরে উদাস,
মধূময় মহী কিবা শােভিল নয়নে ।
মুছে ফেলি ধারা আজ, হাসির সদনে।
আকাশের কোণ হ'তে আইল চাতকরে,
কালো মেঘ হ'তে ধারা,
কুসুমের বুক হতে মাতাল ভ্রমররে,
গগন তেয়াগী তারা।
আঁধারের কোল হ'তে আইল রজনরে
পরিয়া কপালে চঁাদ,
সমীর তেয়াগী সুরভি সজনীরে
আইলা পাতিতে ফাদ ।

[ ১১৯
L।
দুর, ফুরফুর,
আইল চকোর
চকোরী চাদিমা নিয়ে,
নদী পরিহরি নাচিয়া লহরী,
আইল দেখিতে বিয়ে।
হরিণ তেয়াগী
আইল হরিণী,
চামরী তেয়াগী দল,
তটিনী তেয়াগী এল মৃণালিনী,
কুমুদিনী ত্যজি জল।
এড়ি নিধুবন এল রাগ গণ
ছ' ছটী রাগিণী ঘিরি,
গ মগ রাগে রাগিণী ছাড়িয়ে
ভাসাল কবিতা পুরী।
এল শুক শারি
ময়ুর ময়ুরী,
এল পিক রাজ চড়িয়া শাখে,
পাতা ঢাকা ফুল
গােলাপ বকুল,
কিশলয়ে বসি আইল জাকে।
জোনাকের ঝাড় জ্বলিয়া আইল,
ফেলিয়া গাছের গা,
মল শস্য হেলিয়া আইল
মাটীতে পড়েনা পা।

[ ১২০ ]
নবীন প্রবীণ আইল বিটপী
পলব পোষাক গায়,
মালতী রূপসী, নবীন সন্ন্যাসি
বটের জট মাথায়।
আইল রসাল,
লালে লালে লাল,
রসের পিয়ালা ভরি,
চ্যুত মুকুল ফুটাইল স্থল,
উহু মরি মরি মরি।
প্রকৃতি।
( চাদের পানে চাহিয়া )
বিদ্যার নখে
লােটাইয়ে চাদ,
কলঙ্ক মেখেছে গায়,
কবিতার পাম দেখ গড়াইয়ে,
যদি সে কলঙ্ক যায় ।
চিরদিন তুমি
সুধার ভাড়টা
বুকে বুকে করি শশী,
ভেঙ্গে ফেল ভাঁড়
আজকে তােমার
ঘুচিবে কলঙ্ক রাশি।
( চঁাদিমার সুধা ঢালিয়া দেওন )

[ ১২১ 1.
কুসুমের কলি
নাড়িয়া আঙলি,
প্রকৃতি বরিল বর,
চোখ চোখি হয়ে
বামে বসাইয়ে,
বান্ধিলা দুয়ের কর।
চারিদিকে ফুলকুল ঘিরিয়া দাড়াল,
মাঝে মাঝে চপলার চকয়ে দিল।
উকি দল অন্তরীপ সাগরের কোলে,
চুলে ঢুলে ঢেউ গুলি দেখে মুখ তুলে ।
পাহাড় দাড়ায়ে দেখে মাথাটা তুলিয়ে,
দুলের ফুলকী গুলি উকি ঝুকি দিয়ে ।
প্রজাপতি চেয়ে র’ল চোখ ঘুরাইয়ে,
মিটির মিটির যায় জোনাক চাহিয়ে।
সলিল শয্যায় শুয়ে,
ফুল গুলি হাসাইয়ে
দ্বীপেরা দেখিল,
ডুবিয়ে পয়ােধি পয়ে
প্রবাল শীর্ণকায়ে,
চাহিয়া পড়িল।

[ ১২২ ]
.
পূর্ণিমা। (প্রেমের দিকে চাহিয়া )
ভাল করে প্রেম বান্ধি যেনলে।
যায় না কখনাে খুলে,
প্রাণের সজনী কবিতারে যেন,
প্রাণে প্রাণে রাখে তুলে।
প্রেম। অনেক আয়াসে মিলেছে নাগর,
বলিতে হবে না তাের,
এমন বান্ধনে বাঁধিব দুকর,
যাবে না করিলে জোর।
( গীতির গীত।)
রাগিণী--সাহানাদারা।
প্রাণে প্রেমে জড়াইলে সে প্রাণ কি কেউ খুলতে পারে।
টানাটানি যত করে তত সে জড়ায়ে ধরে।
প্রেমের বাঁধন প্রাণে প্রাণে, বাহিরে তা কেই বা জানে,
মরমে নরমে টেনে, কেউ যে তারে খুলতে নারে।
প্রেম।
*
মৃণাল সূত্রে বরকন্যার হাত বাঁধিতে বাধিতে।
যে প্রেমে খেলে মেঘ বিজলীর সাথে লাে,
সে প্রেমে বান্ধি আমি তােদের দুজনে লো,

১২৩ ]
।
যে প্রেমে বান্ধা চঁাদ কুমুদিনী সনে লল,
সে প্রেমে বান্ধি আমি তােদের দুজনে লো।
যে প্রেম ভানুমণ্ডলে, বান্ধে পদ্মে ধরাতলে,
যে প্রেমে, ফুটিলে কলি, অমনি জুটায় অলি,
যে প্রেমে শিখিনী নাচে হেরি পয়ােধর ।
যে প্রেম অধর সনে, করে হাসি প্রাণপতে,
যে প্রেমে নয়ন ছােটে, রূপ-পদ্ম যথা ফোটে,
যে প্রেমে জড়ায়ে গ্রহ ঘােরে দিগন্তর ।
যে প্রেমে পৰ্বত করে আকাশ চুম্বন,
যে প্রেমে সমীর করে তরু আলিঙ্গন,
যে প্রেমে লহরী ধায় যথায় সাগর,
সে প্রেমে আমিও মালা বদলি তাের।
( কল্পনার গীত।)
নােলাম লতি কা আমার জড়াল তমালে ।
কি যেন মায়ার ছায়া প্রাণের মাঝে খেলে।
মা'র কি মধুর তান, মাখায়ে দিতেছে প্রাণ,
প্রাণের মুখে গাওয়ায় গান, যাইবা বুঝি গলে।
মধুমাস, মধুচাদ, মধুর রজনী,
মধুর পিরিতি চোখে পাইল দুজন,
বরষার পল্লবিত পুলিন মতন,
টাপুটুপু হ’ল প্রেমে দুজনার মন।

[ ১২৪ ]
( কমলােপরি বীণাহস্তে বীণাপাণির আভাময়ী মূর্তিতে
অন্তরীক্ষে আবির্ভাব ও চন্দ্রমণ্ডলের চতুর্দিক হইতে এলাে থেলো
অপ্সরী ও কিন্নরীগণের গাইতে গাইতে চাদের কিরণজালের
মালা জড়াইতে জড়াইতে ক্রমশঃ অবতরণ।)
গীত।
রাগিণী বাহার মিশ্র—আড় খেমটা ।
উড়, প্রাণ পুরলাে প্রেমে কওন। কথা বয়ান তুলে।
এখন প্রাণে প্রাণে কইবে কথা লুকায়ে মুকুলে ফুলে।
পিপাসী পরাণ পুরে, মেঘে বারি দেবে চেলে,
আর কি কবিতে ভুলে চাইবে নয়ন খুলে।
বীণা পাণি। (শূন্য হইতে বলায় কম্পিত সুরে)
ছায়াময়ি, লহ এই আশিষ, আমার,
প্রতিভা পৃথিবী পূরে হউক প্রচার।
, কি, গণ । ( সমস্বরে )
ছায়াময়ি, লহ এই আশিষ, আমার,
প্রতিভা পৃথিবী পুরে
হউক প্রচার।
( বর ও কন্যা বােড়হস্তে প্রণত মস্তকে দণ্ডায়মান, ও
বীণাপাণির আকাশে মিশিয়া যাওন।)
অ, কি, গণ। (চন্দ্র কিরণের মালা হাতে ধরিয়া উড়িতে

[ ১২৫ ]
উড়িতে শূন্য হইতে)
যে মালা তটিনী পরে,
যে মালা তরুর তরে,
চেনে না নয়ে,
যে মালা চাদের গলে,
আকাশের বুকে দোলে,
তােমারি তরে।
গােলাম মলিন, মধুর মােহন,
এ মালা পরা’বকার লে ।
।
মানুষে জানে না, মানুষে চেনে ন',
এ মালা ফেলায় তারা ঠেলে ।
{ উড়িতে উড়িতে মুখ বাড়াইয়া কবিতার মুখচুম্বন, ও
মালা গলায় পরাইয়া পুনঃ গাইতে গাইতে আকাশে উত্থান।)
রাগিণী ঝিঝিট-থেষ্ট।।
কেন প্রাণ আসে উড়ে কেন এত ভালবাসি।
কবিতা কি গুণ জানে রে, তাইতে তারে দেখতে আসি।
পলকে নুতন হেরি, মন প্রাণ করে চুরি,
ভাঙ্গা প্রাণ যােড়া দে’দের, পরায় প্রাণে মধুর হাসি।

[ ১২৬ ]
( তারা ছিড়িয়া ছিড়িয়া দম্পতীর মস্তকোপরি ছড়াইতে
ছড়াইতে অ, কি, গণের জোছনায় হারাইয়া যাওন।)
কল্পনা। ( বরের দিকে চাহিয়া )
কবিত। কোমল বড়, ছুতে হয় জড় সড়,
লাবতী লত। সে আমার ।
অতি সাবধানে বর, চোখ, দিও তার পর,
যে কঠিন চেহারা তোমার !
পূণিমা। সুনীল পােষাকে শুধু মুখখানি বার,
পাপড়ি ফাটিয়া ফুল ফুটেছে কেমন
চেও না কঠিন চোখে ফুটিবে । আর,
শুৰ না নয়ন দিয়ে ও ফুলে অমন ।
বলনা। কোমল নয়নে হবে কোমল চাহনী,
ফাকা ফাকা চাহিবে যখন,
ফুলপানে চোখ দিতে শিখিবে তখনি,
কবিতায় চাহিও তখন।
প্রকৃতি।
{ বরের হাতটা ধরিয়া
বাতাসে ফুলের গায় যে হাত বুলায়,
সে হাতটা থাকে যদি চুয় কবিতায় ।
(বরের মুখখানি ধরিয়া)
উষার জুভান গাটা থাকিলে তোমায়,
সে ১ায়ে মিশতে পার বাধনা তার।
চিত্রা।

১২৭ ] .
প্রকৃতি।
যে কোলে সাগর, গেলে প্ৰবাহিণী,
আদরে তুলিয়ে নেয়।
সেই কোল যদি, থাকে হে তােমার,
বসাও কবিতা তায় ।
পূর্ণিমা। বুকের অমিয় ভাণ্ড গেল যে শুথামে,
কেন বর ওদিকে তাকায়ে-
দ্য।
(কবিতার হাতখানি ধরিয়া)
কুচি কুচি চাদ, চাঁদের দুপাশে,
রণ চাদের পাশে,
হৃদয়ের চাদ তুমিই কবিতে,
এসেছি'তােমারি আশে ।
নয়নের কোণে উদয় হইয়ে
উদাস করিলে প্রাণ।
মরমের (কাণে এসলে। কবিতে
জুড়াই জ্বালার প্রাণ।
কবিত।। ( সকাতরে গদ্যের প্রতি।)
তােমারি কারণে, এ বনে ও বনে
কেঁদেছে আমার ফুল ।
ফুলের সে ব্যাথা, পরাণে পশিয়ে
করেছে মােরে অকুণ।

[ ১২৮ ]
তােমারি কারণে, গুন গুন স্বনে,
ঘুরেছে ভ্রমর কুল।
পেয়ে কঁদিয়ে এসেছে ফিরিয়ে
জোটেনি নবমুকুল।
অধরে ফুরায়ে গেছে হাসি থুস,
কঁদিয়া তােমারি তরে।
মনসাধ যত, নিবিয়াছে মনে,
শুধু আছি প্রাণ ধরে।
তোমারে ডাকিয়া বিপিনে বসিয়া
ভেসেছি নয়ন জলে,
যদি প্রাণসখা, দিলে আজ দেখা,
রাখ দুটী পদতলে ।
( কবিতার জানু পাতিয়া গদ্যের পা দুটি ধরাও গদ্য কর্তৃক
প্রমালিঙ্গন।)
গদ্য। কি যেন পরাণে আজ, প্রবেশ করিল রে,
শুনে হৃদয়ে।
কবিতে কি মায়া জানে কেই বা শিখাল রে,
কেড়ে নিতে হয়ে।
বুকের ভিতরে রাখিলে তােমায়,
পাছে হাড় ফোটে গায়।

১২৯ ]
প্রাণের ভিতরে রাখিলে তোমায়,
মল। যদি ধরে গায় ।
উঠ উঠ তবে
মরমেতে রাখি,
মরমের ধন তুমি।
আজি হতে প্রাণ তােমারি আসন,
তোমারি কবিতে আমি ।
প্রেম।
( নারকে দেখাইতে দেখাইতে )
মেদিনীর মহারাণী, প্রকৃতি সুন্দরী ইনি,
প্রণাম করহ এর পায় ।
আকাশের অধিশ্বরী, ইনি সুধাংশু সুন্দর
আড় চোখে চেওনা হয়।
২ার উলটো পিঠ আকাশে উদয়,
সদর পিঠটী শুধু পাই কবিতায়।
মৌনবতী ম্লানমতী,
কেওই আসিছে সতি?
দ্য।
প্রেম।
কল্পনা সুন্দরী এই আসেন এখন,
মনের ভাণ্ডারে ইনি মুকন রতন,
মনের তটিনী পরে, নাচেন লহরী ভরে,
মরের মনের চোখে সােণার ছবিটা,
একে একে করে দেন খাঁটি।

[ ১৩০ ]
( ফুলকলের দিকে তাকাইতে তাকাইতে নলিনীর দিকে চাহিয়া )
বড় সােহাগিনী ইনি,
কুসুম কুলের রাণী,
সদার’ন মাখিয়া আতর।
তপনের প্রণয়িণী, কবিতার আদরিণী,
কত দেখ’ দেবেন আদর।
গরম নাগর পেয়ে,
গরিমে রঙিন হয়ে
সদা র’ন সলিলে ডুবিয়ে ।
পনে চুয়ে যায়,
অমনি ইনিও তায়,
.চাখ বুজে পড়েন ঘুমায়ে ।
( টুলু ও মনিকার দিকে চাহিয়া )
চৈতের চিকণ ফুল,
ইনিই মল্লিকা ফুল,
পচাবাস পরেন না কভু।
মায়ের আদুরে মেয়ে, সােহাগেন গলিয়ে,
শুথালেও সুবাসে না কাবু।
{ সরমের বকলের দিকে চাহিয়া )
নাগর ইনি বকল, মজান মানুষকল,
বৈশাখের বিমলা সুন্দরী
গাথিতে চিকণ হার, ইহারি বড় বাজার,
মিহি বাসে মন নেন হরি।
-

পঞ্চম অঙ্ক। পৰ্বত কন্দর। ফুল রজনী। ( বিকশিত কুসুম কুঞ্জে চালােকে কবিতা ও নাগৰ ফুল- প্যার উপবিষ্ট, চতুর্দিকে সলিলবালা, বনবালা, উপদেবী ও অপ্সরী কিন্নরীগণ, প্রকৃতি, পূর্ণিমা ইত্যাদি।) হীরা জহরত মণি মরকত, পরাল নাগর গায়, কুসুম ভূষণ সাজিলা কবিতা কুসুমে কুসুম কায় । হীরে চুণি মণি কোমল গলা যে কাটিয়া যায়, হীরে চুণি মণি ত্যজিয়ে সজনী, কুসুমের হার পরিলা তায়। কঠিন গলায়,

[ ১৩২ ]।
কবিতা। ( নাগরের দিকে চাহিয়া মৃদুস্বরে )
জগতে দুখিনী
কাহারো চেনেনা,
কাহারো জানেনা তােমারে বই,
তুমিই আমার হৃদয়ের ধন,
তােমারি হৃদয়ে সদত বই,
তুমিই আমার চাদিমার হাসি,
তুমিই আমার ফুলের বুক,
সদয় সাগরে
তুমিই লহরী,
তুমিই আমার পাখীর মুখ।
দ্য । থির সৌদামিনী, তুমি বিনােদিনী,
অমিয় ছিটাও জগত পরে,
কুসুম ত্যাজিয়।
বিহগে ভুলিয়া
ভাসিবে কি আজ দুখীর তরে।
কে ফুল ফুটাবে, কে অলি জুটাবে,
কে প্রেম মাখাবে পাপীর হিয়ে,
পাখীর পাখায় কে রঙ মাখবে,
চাদেরে হাসাবে জোছনা দিয়ে।
কবিঙ্গা।
হৃদয় বন তুমি প্রাণধন,
দুখিনী খেলিবে তোমারি বুকে,
লহরী নাচাব,
পাখীরে গয়াব,
নিকুঞ্জ সাজাব তােমাতে সুখে।

[ ১৩ ]
গদ্য।
তুলে ফুল ভার,
গেথে তারা হার,
সাজাব দোলাৰ মােহন গলে,
কঠিন মম
নরম করিব,
তব হৃদে বসি প্রেমের জলে।
নিপট নিড়র কুরূপ কাঙ্গাল,
কেলেশে সদত অলি,
ও নব যৌবন
কাঙ্গালে সপিয়া
কেমনে করিবে কালী
কবিতা দুখিনী চির কাঙ্গালিনী,
সকত কালিমা মাখা,
কবিতা।
রূপের বাজার
রূপের পশার,
জানে না সে প্রাণসখা ।
দ্য।
এস তবে প্রিয়ে, প্রাণের ভিতর,
ভাসিয়ে প্রেমেরি ভরে,
আজি হতে তুমি জোছনা ঝরাবে,
জাধার মরম পুরে।
এম ।
( কবিতাকে তুলিয়া ক্রোড় দেশে স্থাপন )
(গদ্যের দিকে চাহিয়া )
বড় বেরসিক
তুমি হে নগর,
বিবাহ দিলাম আমি,

[ ১৩৪ ]
কনা।
নাগর পাইয়ে
চুপি চুপি চুপি সখীরে শিখায়ে,
লইতে এসেছ তুমি।
পরে কি পরে চিতে পারে,
আপন হলে লাে চিনিয়ে নেয়,
প্রাণের সঙ্গনী,
আমাদের বুঝি ভুলিয়ে যায়।
নয়ন মুদিলে তুমিই কল্পনে,
নিরজন দেশে তুমি,
মনের মাঝারে তুমিই সজনী,
ভুলিতে কি পারি আমি !
কবিতা।
{ গীতির গাইতে গাইতে প্রবেশ)
গীত।
রাগিণী-সুরট জংলাদর।
নিয়ে প্রেমিক বরে, প্রেমের ভরে, প্রেম পাথারে যাব।
প্রেমের ঘোেলায়, প্রেমের কাদায়, প্রেমে আছাড় খাব।
(মােদেয়) প্রেমের তরী, প্রেম কাণ্ডারী, প্রেম বাতাসে বা
(না হয়) অকুল পারে, প্রেম জোয়ারে, হাবু ডুবু খাব।

[
.
১৩৫ ]
গীতি।
হাস হাস শশী,
হাস প্রাণ ভরে,
নেচে নেচে হাস কামিনী ফুল,
অধরেতে হাসি
অবনীতে হাসি,
আকাশে কাসিন্সে ভাসাও কুল,
হাস হাস তারা, হাস ফল ফুল,
হাসিয়ে জগত ভাসিয়ে যাও।
নাগরের কোলে কবিতা কুমারী,
বিমল হাসিতে দেখিয়া নাও।
প্রকৃতি। নাচলাে লহরী নাচ প্রাণ ভরি,
নেচেরে বাতাস বাজায়ে যা,
ডানা নেড়ে নাচ, চাতক বিহগ,
আকাশে ঢালিয়ে সােনার গা,
নাচ নাচ অলি, সুপুর বাজামে,
আঙুল তুলিয়ে নাচলাে ফুল,
নাচ রে মলম।
অাঁচল নাড়িয়ে,
ঢুলে ঢুলে নাচ লহরী কুল।
নাচ তার। চয় বাকা চাহনীতে,
ময়ুর মধুরী
গেয়ে নাচ পিক বধু,
কেঁপে কেঁপে নাচ
কবিতা পাইল বঁধু।

[ ১৩৬
]
পূর্ণিমা।
মাতাল পবন, মাতাল মদন,
ঢুলু ঢুলু আঁখি দুলিয়ে যায় ।
মাতাল ভ্রমরা সবি মাতােয়ারা
নাগর পড়িছে নাগরী গায় ।
পিয় পিয় সুধা,
পিয়াল পুরিয়া,
প্রেম।
জগত জুড়িয়ে মাতাব অর্জ,
মাতুক ঋতুরা
রাগরাগিনীরা
মতাে ফুলশৰ মাতরে অজ।
বরষা তেয়ারী,
নয়নের ধারা
বরষ কুসুম আজ,
বরষি হিমানী মুকুতার ধারা
কর কুমারীর সাজ,
বরষ বাতাস সুবাস বাসরে,
বরষ চাঁদিমা সুধা,
আরও ঝরা ও
অমিয় তোমার
নিবাও মনের ক্ষুধা।
চিত্র।।
ঝররে ঝরণা
ছিটাও ছিটাও গােলাব জল,
করাও রজনী
আতর আসরে,
বসরে ছড়ায়ে মুকুত ফল।

[ ১৩৭ ]
বিহগের গলে সুধার ঝরণা,
ফুলে ফুলে ঝরে মধু,
নাগরী অধরে
অমিয় ঝরিছে,
নাগর অধরে সিধু।
নিদ্রা।
(নিদ্রা ও রজনীর প্রবেশ ।)
কঠিন চেহারাটীয়ে মােলাম করিয়ে,
খেলি আমি নয়নেরি কোণে,
প্রাণের বিভিষিকাটা বয়ানে মাখা,
হাসাই কাঁদাই কতজনে।
গরভে শিশুরে রাখি ঘুমাইয়ে,
ষাটের বাছাটী মোর,
বয়সের ভরে
বিনত বুড়রে,
সদাদি' ঘােমের ঘাের।
শশীরে ঘুমায়ে,
নিশিতে পাখিরে ঘুমাই কোঠরে,
ঘুমাই বনের ফুল,
উষার আকাশে
ঘুমায়ে দি তারা কুল,
পরাণ তাপিতে
বিরাম বিলাতে
ঢেলে দি ঘােমের তার,

[ ১৩৮ ]
ঘুমায়ে কবিতে
রজনী।
জীরণে। জরার যাতনা নিবাতে
ঘােম পাড়ায়ে দি তার,
সলিল উপরে নলিনারে আমি
ঘুমাই সাজের বেলা,
মানুষের মনে
করিতে দেই না খেলা।
আফোটা কুঁড়িটা নিয়ে, নিহারের ফোঁটা দিয়ে,
খেলি আমি একাকিনী আঁধারে মুকায়ে,
চাঁদের জোছনা দিয়ে, পবিত্র কবিয়ে হিT.
যেখানে সেখানে আমি পড়িলে গড়ায়ে,
কবিতার চাকরাণী, আমি বুড়ী নিশিথিনী,
আকাশের মণি সদা মম পাহারায়,
কে চায় কোমল মণি, তাের নয়নেরি মপি,
কৰ শত মণি মাের গড়াগড়ি যায়।
মানুষ যেখানে যায়
দলিত করিয়ে যায়,
রাখি আমি তোমাজে তাদের,
কুমুদিরে কোলে নিয়ে, তটিনীরে নাচাইয়ে,
চকোরিরে সুধাদি চাঁদের।
আমােদ প্রমােদ রাশি, মদনে সদত ভাসি,
গানে গানে ফুলুমমে পাহাহ পরাণ,
জোড়া জোড়া ভালবাসি জড়ান জড়ান।

[ ১৩৯ ]
নীরব নিথর মহী, এলাটা আমি রহি,
প্রদীপ জ্বলিলে পরি সিথায় সিঁদুর,
নয়নে সয়না সই কিরণ ভানুর ।
সুধাংশু মণ্ডলে পশি,
মাথিলাে চাঁদের হাসি,
হেথা চাঁদ আসিয়াছে দেখিবারে বিয়ে,
আমিও দেখিতে তাই আসিয়াছি ধেয়ে ।
চাদমুখে চুম খেয়ে,
চাদের সাথে কথা কয়ে,
ঊষায়
ঘুমায়ে
পড়ি চাদেরে লইয়ে,
আসিতে দেব না দিম বাসরে বসিয়ে ।
প্রকৃতি। কবিতা নিশিতে নীলমণি নডে
দিবসে কবিতা বিকাশিনী ভবে ।
বেশ হাওয়াটা বেশ উড়ায়ে,
আবেশে দেয় চোখ বুলায়ে !
.( নিদ্রার দিকে চাহিয়া )
কেন উকি ঝুকি ঘােম পাড়িছ হেথায়,
আজকে এখানে কেউ চায় না তােমায়।
পূর্ণিমা। পুথি হাতে করে শিশু বসিয়ে যথায়,
য। ঘােম তাহার চোখে, হেথা আজ নয় ।
প্রকৃতি। বিজনে একটা মনে মালা জপে যারা,
যা ঘােম তাদের চাকু নয়নেরি তারা।
নিদ্রা।
রজনী।

[ ১৪০ ]
কলনা। হারায়ে প্রাণের মণি গড়াগড়ি যায়,
যা ঘােম মুছাগে তার ধারা এ সময় ।
প্রেম। পুরায়ে মদনােৎসব অবসন্ন কায়,
লাজের চাৰিটী আখি ঢাগে তথায়।
নি।।
লাজের অযুত অাখি চারিটী তো নয়,
অগাধ ঘেমেও তার। চোখ চোখি রয়।
প্রকৃতি। ( সুজনীর সহিত গলাগলি যাইতে যাইতে )
রাঙ্গা রজনীরে আজ, দেব না পােহাতে রে
দেব না পােহাতে।
বড় ভালবাসে সখী আমােদে মাতিতে রে,
আমােদে মাতিতে।
ঋতুকুল। আমোদ কুমারী
রজনী মােদের,
গানে গানে চায় কাটাতে প্রাণ ।
মুখের গানেতে, আমােদেতে মেতে,
নে’যেতে দেব না চাঁদিমা থান।
প্রকৃতি । (মেঘের দিকে চাহিয়া )
অাসিবে তপন যেই, ঢাকিস্ অমনি,
যেতে যেন না পারে রজনী-
( ঋতুকুলের দিকে চাহিয়া )
আজিকার নিশি,
শুধু বসন্তের,
নাই কারো অধিকার।

[ ১৪১
১৪১ ]
যাও ঋতুকুল
যাও যে যেখানে,
চাইনে আজকে আর ।
যাও যাও শীত, তপন কিরণে, ?
এখন এখানে নয়।
কে বল কঁপিবে, আগুন পােহাবে,
বাসরেতে এ সম।
( কাপিতে কাপিতে)
র প গেছে, গুণ গেছে,
কঙি ফেলয়ে গেছে,
নিয়ে আছি শুধু আশিৰ্ব্বাদ,
কবে মরে যাব যাই পুরাইয়ে সাধ ।
শীতের নিশিতে তারা তুষার টুকরা,
আকাশেতে ফুটে ফুটে রয়,
যথায় শশীর হাসি একা ভেসে যায়,
দেখিবে না কেউ এ ধরায়।
যাও হে নিদাঘ,
সাগরের তলে,
বসগে আঁধারে সে।
কেবল আমারে জালাবে পােড়াবে,
কাজ নেই তব হেথা ।
যাওলাে বরষা মরুভু মাঝারে,
কে তােরে অভাগি চায়।

( ১৪২ ]
সুখের সময় চোখের জলেতে
কেন বা ভাসিবি হায় ।
কল্পনা।
কবিতা কহে না বসন্ত কখন,
ফুলের ঋতুটী সে ।
কবিতা কখন বরষা বলে না,
ধারার ঋতুটী যে।
চিত্রা ।
শরং তার জোছনার ঋতু,
রাগের ঋতুটা নিদাঘ তার ।
হিমানী তাহার
মুকুতার ঋতু,
পিরিতের ঋতু শীতটা তার ।
কবিতা নিশিতে চাঁদ, দিবসে নলিনী,
বিকালে আর মেঘে গগন শােভিন,
প্রভাতে সোনার ভানু, প্রদোষে বিজন,
তর তরে হ্রদে খেলে, জোছন। যখন।
কাঙ্গালের ঘরে ঋতু খেলা করে,
বেড়ার ফাটা দিয়ে।
বড়র বাড়িতে
পেরে ঢুকিতে,
যায় না সে দিক দিয়ে ।
প্রকৃতি।

১৪৩ ]
(ফুলকুলের প্রবেশ।)
ফুলকুল। কাননের ফুল, আমরা সজনী,
চললাে সকলে ফুটি।
ফুটে ফুটে আজ
ফাটিয়ে ফাটিয়ে,
মধুদেব সবে লুটি।
বহিছে মলয়,
এই বেলা আয়
দুলে দুলে কথা কব।
হেলিয়ে দুলিয়ে,
গলা জড়াইয়ে
মলয়া লইয়ে রব।
গােলাপ। আজকার নিশি তােমারি মালতী,
কপাল খুলেছে তাের।
মালতী। কেনহে গােলাব কেন এ বিরাগ,
তােমারি কপাল জোর।
বেলা।
সামাল সামাল। সামাল চামেলী,
সামাল বকুল ফুল।
না জেনে না চিনে
গলা জড়াইয়ে,
মজানে যেন কুল।
চামেলী । কত জনে বেলা
দরদ দেখাবি,
কতরে বিলবি হিয়ে।
বাসর মাঝারে আপনা হারাবি,
দেখিতে আসিয়ে বিয়ে।

[ ১৪৪ ]
মালতী। আছেই তাে যাতি, অনিল অলিটী,
ভ্রমর জুটালি আনি।
আয়ের চাইতে ব্যয় বাড়াইলি,
দেউলী হইবি ধনি।
চামেলী ঝরিয়ে গিয়েছে যৌবন কলিকা,
খসেছে রূপের ফুল।
নাে লতিকে
তুইলাে মালতী,
কথায় মজা কুল।
টগর। মিটি মিটি মিটি,
ওলো বনফুল,
কি দেখি মিটি মিটি ?
ফুলের শয্যায়
আজিলল তােমার।
করিয়ে ছাড়িযে সিঠি।
বনফুল। ভাবিয়ে ভাবিয়ে
শফেদ হইলি,
পাঙাস্ করিলি গাল ।
দ্যাখ তাে কেমন,
চিবাইয়ে পান
ঠোটটা করেছি লাল।
টগর। পগবগে লতা, টুকটুকে ঠোট,
সফেদের পাশে চাই।
পাকা ঠোট দুটি
ঠেকাঠেকি করি,
ফাটানে যেন ভাই।
।

[ ১৪৫ ]
বকুল। গাছের উপরে রই,
গাছের সাথে কথা কই,
গাছেতে বাতাস দেয় পাতার পাখায়।
কুসুমের কাচা বাস, কুসুমের মিহি হাস,
সৌরভ সুরভি সুরা দেব কবিতায়।
( কন্দর্পের প্রবেশ।)
কর্প। ধাঁকা হয়ে চলি, ভাঙ্গা চোরা বলি,
আড় নয়নে চাই, মন মজায়ে যাই,
টকে টকে পড়ি, দেখতে পেলে কুড়ি।
( প্রকৃতির দিকে আড় চোখে চাহিতে চাহিতে )
পাকিলে যৌবন ফল ক’দিন বা রয়,
দুদিনে গাছের ফল যেমন ফুরায়।
( চারিদিকে চাহিতে চাহিতে )
উচু উচু কুচগুলি মেদিনী মাতায়,
বাসর বিনে কি কুচ বেছে নেয়া যায় ।
( হেলিতে দুলিতে)
সব সামাল সামাল, সব সামাল সামাল,
ফুল ফুটাবে,
কুল মজাবে,
জুটবে অলির পাল।
কর্প। হাসিনে অত ফুল ঠোট ফেটে যাবে,
আজকে ফুরালেকাল, কি হাসিবি তবে।
ফুলকুল।

[ ১৪৬ ]
ফুলকুল। ফুলের হাসিই কথা কয়,
চোখেই সে কথা শােনা যায় ।
কন্দর্প। কবিতার কথাগুলি, ধরিয়ে মােহিনী তুলী,
একে যায় চির ছবি প্রাণের পাতায়।
কাণে না তা শােনা যায় মনই মাতায়।
অলি । ( নলিনীর নিকট গিয়া গুন গুন করিতে করিতে
পাপড়ি গুটিয়ে, প্রাণেতে পুরিয়ে,
রাখলাে আমার ফুল।
মদন আসিয়ে
জ্বালায়ে পােড়ায়ে,
করিছে মােরে আকুল।
নলিনী। (মুখ ঢুলাইয়া ঢালাইয়া অলিকে বারণ করিতে
করিতে )
কি কর কি কর অলি এস না এখন,
প্রজাপতি ওই দ্যাখ রয়েছে চাহিয়া,
ঘুরায়ে ঘুরায়ে চোখ দেখিছে কেমন,
সকলেরে দেবেও কহিয়া।
( অলির দিকে চাহিয়া )
দুপুরে দশের মাঝে করেন প্রণয়,
এখন তত নহে সে সময় ।
কন্দর্প।
সদত সুবাস পরে নলিনী সুন্দরী,
অতি সরু সুন্দর বসন,

[ ১৪৭ ]
দেখিলে কোলে করিতে ইচ্ছা নয় যার,
কিবা আর মরম বা তার।
কাননের মহারাণী, উনি বড় কোমলিনী,
মাটিতে না পাটা দিয়ে কঠিন বলিয়ে,
তরল জলের পরে বেড়ান ভাসিয়ে ।
কন্দর্প।
(হাসিতে হাসিতে)
সাগয়ে ফুটিলে পাছে লােণা ধরে গায়,
পচা পুকুরের জলে বিরাজে তায়।
বসন্ত। ( চারিদিকে চাহিতে চাহিতে )
ফুলের ফুটনী ভাল গলাতে নয়ন,
তারার চাহনী ভাল জুড়াতে অলন।
কর্প। কবিতার হাসি নিয়ে বনে ফুল ফোটে,
চাহনীটী নিয়ে তার তারাকুল ওঠে।
প্রকৃতি। ফুলের আসর, ফুলের বাসর,
নাগর নাগরী ফুলের পরে।
ধর ফুল ধনু,
হান ফুলবান,
ফুলের উপরে ফুলের শরে।
নাচ ফুলে ফুলে, হেলে দুলে ফুলে,
খেল ফুল দলে ফুলের খেলা।
ছড়া ছড়া ফুল, ফুলের মুকুল,
ছড়া ছড়। পরাফুলের মালা।

[
১৪৮ ]
পিয় ফুলমধু,
কর ফুল দোল,
ফুলধন লােঠ মনের মত ।
ফুলের শয্যায় নাগর নাগরী,
ছড়ালাে সকলে কুসুম যত ।
কেনলাে সজনী,
কেন এত রাগ
কোমল কুসুমে তাের।
কুসুমেরি দশা হেরি প্রণয়িণী ;
পরাণ ফাটিছে মাের ।
নিমেষে মুছিয়ে যায় সে গােলাম কায়,
চাহনীও কেঁপে যায় তাকাইতে তায় ।
অমনি মদন নাগরে চাহিলা,
নাগর ঠারিলা অাঁখি।
হাটুগাড়ি দিয়ে
হানে ফুলবান,
ব্যাধে যথা বিন্ধে পখি ।
ছটফট বানে
করে ঋতু রাজ,
খাইল লাজের মাথা।
প্রকৃতিরে চায়, চুনিবারে যায়,
পিছে ধায় যায় যথা।
কন্দর্প ।
কাড়াকাড়ি জড়াজড়ি দেখিতে সুন্দর,
এ যদি হয় প্রেমের সে সব,

لا ১৪৯ ] নহিলে বৃথা বিবাদে শুধু কলরব । প্রকৃতি। প্রাণের ঘরে সিঁদ কেটে কি করিলে চুরী ? মরি মরি কিবা কারিকরী ! বসন্ত। পায় পড়ি প্রিয়তমে ফিরে চাও একবার, করে ধরি মনােরমে কথা কও একবার। প্রকৃতি। একি ঋতুরাজ, এ কেমন কাজ, সরম নাইকি তাের। সবার মাঝারে এ কিরে করিলি, মাথাটি খাইলি মাের। ওমা ওমা আমি কোথায় লুকবাে, ধরণী দুভাগ হ! টারে গোলাব, পাপড়িতে মােরে, ঢাকিয়া বুজিয়া র । পুষ্পিত বন, অগুরু চন্দন, সকলি আছিস হেথা, মরিলাে সরমে মদনেরি বানে, কেন না কহি কথা । বসন্ত। কেন কেন, তােমা প্রিয়ে কত ভালবাসি, তবে কেন ছুটোছুটি এস এলােকেশি ! | হাসিতে হাসিতে প্রকৃতির দিকে চাহিয়া সুরে প্রেম পিপাসায়, প্রেমের আশায়, গীতি। প্রেমের চাতক হব,

[ ১৫০ ]
কদর্প।
s
প্রেম আকাশে, হেসে ভেসে,
প্রেমের ধারা থাব।
(গীতির দিকে চাহিয়া )
ফুট ফুটে কচ দুটি দুই করে ঢাকি,
কেনলে। যতন অত উড়িবে না পােষাপাখি।
( বসন্তের দিকে চোখ ঠারিয়া দেখান )
( মুখ ঢুলাইয়া )
ছেলে ছোড়া কি করিব নবীন যুবতী,
নবীন যুবক পেলে করি প্রাণ পতি,
গীতি।
ডগ মগ রাগে সরমে সজনী,
এলো কেশে বেশে ধায়,
যেদিকে পালায়, পিছু পিছু ধায়,
বসন্ত ধরিতে যায় ।
কন্দর্প। রাগ চেয়ে রঙ্গ ভাল, মন মজান যায়,
ভাসা চেয়ে আশা ভাল, পেলে ও পা’য়া যায়
যে দিকে বাড়ায় হাত, ফুল ফুটে যায়,
কুঁড়িতে লুকাতে গেলে বসন্ত ফুটায়।
কসুমের দলে, 'লুকাহতে গেলে,
অলিতে ফুটায় হল,

[ ১৫১ ]
কাল সজনী,
নবীন পল্লব
আড়ালে মুকালে,
বাতাসে ভাসায় কুল।
চাদের বুকেতে
কলঙ্ক মাখিল গায়,
মেঘের মাঝারে ঢুকিল প্রকৃতি,
দামিনী দেখায়ে দেয় ।
কর্প। (হাসিতে হাসিতে আকাশ পানে চাহিয়া )
হাস হাস তারা বদন ভরিয়া,
তােমার কিসের লাজ,
টোপা টোপ ফুল
পড়লো হাসিয়ে,
হাসাহ তােদের কাজ।
( প্রকৃতির দিকে চাহিয়া মুচকি মুচকি হাসিতে হাসিতে )
আসি বলে বাসি হও,
কথা দিয়ে ব্যথা দাও,
লাজের জিয়াননা জলে ডুবিয়ে বেড়াও,
খুঁজে নেবে ফুল বান যেখানেই যাও।
প্রকৃতি। আয়রে জোনাক,
নিবে নিবে থাক,
অভাগীরে আজ পাখায় পুরে,
চল, পাখী চল, ডানায় ঢাকিয়ে,
দুখিনীরে নিয়ে উড়িয়ে দূরে !
( করিতা কর্তৃক নিবারিত হওন )

[ ১৫২ ]
গীতির গীত।
রাগিনী বাহার মিশ্র—আড়খেমটা ।
প্রাণের ব্যাথ। বিষম বাজে মারের ব্যাথা কেই বা মানে।
প্রাণের টানে পরাণ কাদে টলেন। প্রাণ জোরের টানে।
প্রাণ দিয়ে প্রাণ প্রাণে মারে, পারে না প্রাণ প্রেমের জোরে।
কথার ব্যথা বিষম বড়, প্রেমের ব্যথা প্রাণেই চেনে।
পূর্ণিমা।
শােকের চোখের ধারাটা কবিতা,
অধরে কবিতা হাসি,
পাখীর গলায়
কুজন কবিতা,
পাপে পরিতাপ রাশি।
মনের মাঝারে মরন কবিতা,
নয়ন মাঝারে তারা,
নয়ন থাকিতে
হারায়েছে তারা,
যে জন কবিতে হারা।
সাপের মাথায়
মণিটী কবিতা,
মেঘেতে কবিত। ধারা,
আকাশের কোলে আমিই কবিতা,
ছড়ান কবিতা তারা।
সাগরের বুকে
লহরী কবিতা,
খনিতে মণির বিভা,
।

' ( ১৫৩ ]
লতায় পাতায়
প্রসূন কবিতা,
কুসুমে অলির শােভা।
ঋতু কুলে নিজে
বসন্ত কবিতা,
ঋপু কুলে নিজে কাম,
সুন্দরীর চোখে সলিল কবিতা,
শিশুতে হাসির ঠাম ।
রাত পােহালে, প্রভাত হলে,
কবিতা জাগিয় ওঠে,
ল্পনা।
নিশি ভােরে
ঘোমের ঘরে,
স্বপনে কবিতা ফোটে ।
জননীর কোলে
কুমার কবিতা,
জনকের কোলে মাতা,
বিলাপির আশা সদা সুখময়ী,
আলাপে মধুর কথা,
ধারার মাঝারে
বিজলীর ঝল,
মেঘেতে তড়িত লতা,
মন মরু ভুমে
প্রীতি কবিতা
শান্তি কানন যথা।
মায়ের মনের মায়াটা কবিতা,
প্রেয়সীর প্রাণে প্রেম,

[ ১৫৪ ] 1. নীরস নাগরে আজকে কবিতা, হীরকে জড়া’ল হেম। পূর্ণিমা। পিরিতি পিরিতি তিনটী আখর, পিরিতি রসের সার, কবিতে আমার সরল পিরিতি, পিরিতি কোথায় তার। নীল কলেবর, পীত বসনে বসি ওই, কন্দর্প । চন্দন চৰ্চিত বনমালা গলে অাখি কিবা ঢোলে, হেন নাগর সখি কই। চিত্র।। সখির আমার, চাদের বরণ, সথার বরণ কালি । প্রেম। চাদের বুকেতে কালী না থাকিলে, চোখৃ হত ঝিলিমিলি। পুরুষ প্রকৃতি জগত মাঝারে, সবে এই দুই জাতি। পুরুষ আপনি নাগর মােদের, প্রকৃতি কবিতা সতী ।

[ ১৫৫ ]
কল্পনা।
কমে নরম,
করিলা বিধাতা,
তা হতে নরম মন,
মরম হইতে
নরম করিলা,
মােদের কবিতা ধন।
পাঠক, প্রথম প্রয়াস আজ এই খানেই বলি
সম্পূর্ণ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Prem-bandhan

Author
Majumdar,natendrabhushan
Title
Gitinatya
File name
Prem-bandhan
Text
OCR done
Citation
1903
Published
2009/10/8
Publisher
Sannyal Brother, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
164
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Chitra
DLI number
513097
Barcode
4990010020107.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
b1iLJVzGov8
Download PDF

Prem-bandhan