Majhu Public Library, Howrah

Ramkrishna Vivekananda Prashanga

Bhattacharya, Padmanath · 2010/04/1

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সমাজ হিতকর’মালা-২
রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ।
PUBLIC LIBAAN
NAJU
০
RUIN, HOW
RALL
শ্রীপদ্মনাথভাৰ্ষ্য প্রণীত।
o কাম ব্রাহ্মণ সতা হইতে
লােগ শৰ্ম্ম সাংখ্যতীর্থ কতৃক

vাম, ভারত এসে, হেমেন্দ্রনাথ বাগচী মুদ্রিত। এধিস্থান- বায় ব্রাহ্মণ শা সােনারপুর চৌরাত বারাণসী। নিগমাগম পুস্তকালয় গৎগ বাণী।

মুখবন্ধ। ঐশ্রীকাগামস্থ ব্ৰাহ্মণ সা কর্তৃক প্রবর্তিক সমাজ হিতকর এনালার সিতীয় সংখ্যারূপে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এক প্রকাশিত ইল। এই গ্রন্থের মূল প্রবন্ধত্রয়ের মধ্যে প্রথমটি “সাহিঙ্* পত্রের ১৩২০ সালের পৌষ-মাঘ সংখ্যায়, বিতীয়টি ফান-চৈত্র সংখ্যায় এবং তৃতীয়টি ১৩২৮ সালের বৈশাখ হইতে খাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। সাহিত্য পযেই ঐ সকল প্রবন্ধের প্রতিবাদরূপে কতকগুলি লেখা বাহির হয়, ঐগুলির উত্তর ১৩২৮ সালের “সাহিত্যে পৌষ ও মাঘ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়—তাহা এই গ্রন্থের প্রথম পরিশিষ্টরূপে পুনর্মুদ্রিত হইল। তারপর ব্রাহ্মণ সমাজ" পত্রের সম্পাদক মহাশয়ের অনুরােধে একটি প্রবন্ধ ঐ পত্রে রামকৃষ্ণ পরমহংস ও তদীয় সম্প্রদায় এই শিরােনামে ১৩২৯ সালের মাঘ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ঐ প্রবন্ধের প্রতিবাদ ৰাহ্মণ সমা” ও “কায় পত্রিকায় বাহির হয় সেই প্রতিবাদ দুইটির উত্তর পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত কালীকির কাৰ-ব্যাকরণ-কায়-তীর্থ ও শ্রীযুক্ত ৰাৰু প্রস নারায়ণ চৌধুরী এই ময়ে হয় কর্তৃক যথাক্রমে “ব্রাহ্ম সমাজ পত্রের ১৩৩০ সালের ভাত্র ও পৌষসংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ব্রাহ্মণ সমাজের এই তিন প্রবন্ধ এত গ্রহের দ্বিতীয় পরিশিপে পুনদ্রিত হইল। উত্তর হইতেই প্রতিবাদ প্রবন্ধ সমূহের প্রতিপাদ্য কথা গুলি হৃদয় কম হইবে—তাই ঐসকল প্রতিবাদ এই গ্রন্থের অভুক্ত করা হইল না। পুনতি প্রত্যেক নেই কিৎি কি িসংশােধন ও সংযােজন করা হইল। সাহিত্যে ও স্বাক্ষণ সমাজ পরে মদীয় প্রবন্ধগুলি প্রকাশিত হইলে বহু ব্যক্তিই আগ্রহসহকারে পাঠ করিয়া সমাজের বিতরে এগুলি পুস্তকাকারে পুনঃ প্রকাশের নিমিত্ত অনুরােধ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ সম্বন্ধীয় প্রবন্ধ দুইটি (এই গ্রন্থের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিচ্ছেদ) হিন্দী ভাষায় অনুদিত হইয়া মৰ্য্যাদা” নামক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়- ইহাতেও প্রবন্ধগুলির গ্রন্থাকারে পুনঃপ্রচারে সমধিক উৎসাহ জন্মে। পরিশেষে কাশধাৰ ব্ৰাহ্মণসভা কর্তৃক প্রকাশভার গৃহীত হইলে এই অন্থ প্রকাশের সংকল্প কাষে পরিণত হইল। আমার পক্ষে ব্রাহ্মসমাজ” পরে প্রাগুক যে দুই মহােদয় প্রতিবাদের উত্তর প্রকাশ করিয়াছেন, অপিচ, যাহাদের নিকট হইতে এই সকল প্রবন্ধ গ্রন্থাকারে পুনঃ প্রচারার্থ উল্লেখিতনুরূপ উৎসাহ লাভ করিয়াছি, তাহাদের সকলেরই উদ্দেশ্যে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা বিজ্ঞাপিত করিতেছি। কিরূপে এবং কি উদ্দেশ্যে রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দ সম্বন্ধীয় আলােচনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলাম তাহা প্রবন্ধাবলীর মধ্যেই পরিদৃষ্ট হইবে—এস্থলে পুনরুল্লেখ অনাবশ্যক। ইতি- ৫ পদ্মনাথ দেবশর্মণ। ৪৫ নং হাউস কটর, কাথাম। লক্ষ্মীপূর্ণিমা, শকাব্দাঃ ১৮৪৮।

MAJU, HOWRAH PUBLIC LILRAM st. 102. রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। প্রথম পরিচ্ছুেক। রামকৃষ্ণ পরমহংস ও পণ্ডিত যুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি। গতবারে (১৩২৬ সালে) যখন পণ্ডিতপ্ৰৱ শ্ৰযুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি গৌহাটিতে আগমন করিয়াছিলেন, তখন একদা কথাপ্রসঙ্গে পরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সম্বন্ধে আলােচনা হয়। তাহার সহিত যে পরমহংসদেবের সাক্ষাৎভাবে আলাপ-পরিচয় ছিল, এ কথা অনেক গ্রন্থেই পাঠ করিয়া- ছিলাম ; তাই কৌতূহলী হইয়াই ঐ আলােচনায় প্রবৃত্ত হই—বিশেষত পরমহংস তাহার ‘চাপরাশ’ আছে কিনা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন এবং তিনিও যখন রামকৃষ্ণ গলনালীর পীড়ায় কই পাইতেছিলেন-তখন পীড়াযুক্ত স্থানে মন একাগ্র করিলেই পীড় সানিয়া যাইবে, একথা তাকে বলিয়াছিলেন; এই দুই বিষয় বিস্তারিত নিতে চাহিয়াছিলাম। তিনি ঐ সময় যাহা বলিয়াছিলেন, তাহা পরমহংস দেবের ভক্তগণের লিখিত বিবরণ হইতে বিশেষভাবে বিভিন্ন; এবং তাহার সম্বন্ধে চুড়ামণি মহাশয় সামান্যতঃ যাহা বলিয়াছিলেন, তাহাও পরমহংসের ভক্তগণের প্রচারিত গ্রন্থাদি পাঠে তৎসকাে যেরূপ অবগত হওয়া যায়—তাহা হইতে অনেক পৃথক কমে বােধ হইয়াছিল। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে আমি আন্তরিক শ্রদ্ধা করি—এবং একজন উচ্চদরের সাধু মাত্মা বলিত্বাই তাকে মনে করিয়া থাকি। তার গণের ৪s: জীবন-চতি ইত্যাদি ছাড়াও শপনে পিত ৩ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। পরমহংসদেসম্বন্ধে অনেক প্রবন্ধাদি পাঠ করিয়া আমি তাহার প্রতি ভক্তির ভাব পােষণ করি—এমন কি হিন্দু সাধনশাস্ত্র ও দেবদেবীতে যাদের বিশ্বাস আদৌ ছিল না, এমন অনেক লােককে আমি পরমহংস- দেবের উক্তি ও জীবন-চরিত পাঠ করিতে বলিয়াছি, কেহ কেহ তদ্বারা ফলও পাইয়াছেন। এ অবস্থায় তাঁহাকে খর্ব করিবার জন্য বর্তমান আলােচনায় প্রবৃত্ত হই নাই-বরং তিনি প্রকৃত যাহা ছিলেন, তাই। সাধারণ্যে প্রচারিত হউক—এই অভি প্রায়ই এই প্রবর্তনার কারণ। পণ্ডিত মহাশয়ের কথাগুলি যথাযথ লিখিয়া রাখিতে পারি নাই- তাই সেদিন তাহাকে অনুরােধ করিয়া লিখিয়াছিলাম যে, আমার নিকট তিনি যাহা বলিয়াছিলেন, তাহা যেন অনুগ্রহপূর্বক লিপিবদ্ধ করিয়া প্রেরণ করেন। তদুত্তরে তর্কচূড়ামণি মহাশয় যে পত্রখানি লিখিয়াছেন, তাহা সাধারণের অবগতার্থে প্রকাশিত করা গেল। পরন্তু আগে পূর্বপক্ষ সম্যক্ না বলিলে উত্তরপক্ষ ঠিক বােঝা যাইবে না। তাই রামকৃষ্ণদেবের ও পণ্ডিত তর্কচূড়ামণি মহাশয়ের মধ্যে ‘চাপরাশ’ ও মনঃসংযোেগ মারা রােগশান্তি বিষয়ে যে কথাবার্তা হয় তাকা, ডাক্তার রামচন্দ্র দত্ত যেরূপ বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন, সেইরূপই এ স্থলে উদ্ধৃত করা হইতেছে। “চাপরাশ” সম্বন্ধে কথা। “একদা এই রঙ্গমন্দিরের সম্মুখস্থিত ভক্তিভাজন ঈশানচন্দ্র মুখাে- পাধ্যায় মহাশয়ের বাটীতে রামকৃষ্ণদেবের আগমন হইয়াছিল। এই স্থানে পণ্ডিতপ্রবর শশধর তর্কচূড়ামণির নাম শ্রবণ করিয়া তাহাকে দর্শন করিবার নিমিত্ত তিনি গমন করেন। আমরা সকলেই পশ্চাৎগমন কন্ধিয়াছিলাম। আমাদের সহিত নরেন্দ্রও ছিলেন। চুড়ামণি মহাশয়ের নিকটে উপস্থিত হইয়া রামকৃষ্ণদেব বলিয়াছিলেন যে “হাগা তুমি যে ধর্ম প্রচার কয়িতেছ, তােমার চাপরাশ আছে?” চুড়ামণি মহাশয় কোন উত্তরপ্রদান করিতে প্রথম পরিচ্ছেদ। পারিলেন না এবং আমরা সকলে হা করিয়া রহিলাম। ঠাকুর পুনরায় কহিলেন, “দেখ যখন রাস্তায় অনেক লোক গােলমাল করে, তপন পাহারাওয়ালা আসিবামাত্র সকলে সরিয়া পড়ে। লােকের হিসাবে পাহারাওয়ালা স্বতন্ত্র কোন প্রকার জীব নহে। তবে লোকে কেন সরিয়া যায় ? কেন তাহাকে ভয় করে? কেন তাহার কথা শুনে ? পাহারাওয়ালা সামান্য লােক, তাহার বেতন ৩ টাকা, তাহাকে কেহ ভয় করে না। কিন্তু তাহার যে চাপরাশ আছে, তাহা দেখিয়া লােকে ভীত হইয়া থাকে, যেহেতু চাপরাশ মহাশক্তির পরিচায়ক। সেইরূপ ভগবানের আদেশ এবং ইচ্ছা না হইলে তাহার শক্তি কাহার ভিতর না প্রবিষ্ট হইলে, যে যত পণ্ডিত হউক, যে যত বহুদশী হউক, যে যত শাস্ত্রজ্ঞ হউক, যে যত সুবক্তা হউক, কেহ কখন লােকের মন হরণ করিতে পারে না ইত্যাদি ইত্যাদি • রামচন্দ্র দত্তের বক্তৃতাবলী-৪৮৪ পৃষ্ঠা। মানসিক একাগ্রতা দ্বারা রােগপ্রশমনের কথা। “শশধর তর্কচূড়ামণি পরমহংসদেবকে কতবার অনুরোধ করিয়াছিলেন যে, সমাধির সময় ক্ষতস্থানে কিঞ্চিৎ লক্ষ্য করিলে তৎক্ষণাৎ উহ আরােগ্য হইয়া যাইবে। পরমহংসদেব সে কথা অগ্রাহ করিয়া বলিয়া- ছিলেন, “সমাধি করিয়া রােগ আরােগ্য করিতে হইবে? এ অতি রহস্যের কথা।" । পরমহংসদেবের জীবনবৃত্তান্ত (তৃতীয় সংস্করণ) ১৪৫ পৃষ্ঠা। * এ বিষয়টি শ্ৰীম-কথিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত ১ম ভাগ একাদশ খণ্ডে ( দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিশেষতঃ ) বর্ণিত আছে ; তাতে একটু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়--ম-মহাশয় বেশ একটু মােলায়েম করিয়া লিখিয়াছেন। কিন্তু দুই জন “সাক্ষাৎ দ্রষ্টা”র বর্ণনায় এইরূপ পার্থক্য হওয়াটা একটু আশ্চৰ্যজনক নহে কি? + এ কথাটাও গ্রন্থাস্তরে আর এক রকমে আছে –ঠাকুরের তখন অসুখ- কাশীপুরের বাগানে—বাড়াবাড়ি। শ্ৰীযুত শশধর তর্কচূড়ামণি, সঙ্গে কয়েকঙ্গন, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ . «« এখন শ্ৰষুত তর্কচূড়ামণি মহাশয়ের পত্রখানি অবিকল উদ্ভূত করিতেছি। সদাশিবঃ শরণং। বহরমপুর পরম স্নেহাস্পদে-সানুনয় সমাবেদনমিং- মহাত্ম! । অনেকদিন হয় আপনার পত্রখানি পাইয়াছি, উত্তবে অনেক কথা লিখিতে হইবে, তাদৃশ অবকাশের প্রতীক্ষায় এতদিন বিলম্ব হইয়াছে। রামকৃষ্ণ মহাশয়ের (পরমহংসের) সম্বন্ধে আমি যতটা বিদিত আছি, তৎসমস্তই সংক্ষেপে জানাতেছি। এতদ্বারাই এতদ্বারাই আপনার জিজ্ঞাসিত সকল বিষয়ের উত্তর হইবে । রামকৃষ্ণ পরমহংস’ উপাধি কাহার নিকট পাইয়াছিলেন, তাহা অসুখের কথা শুনিয়া দেখতে আসিলেন। পণ্ডিতজী কথায় কথায় ঠাকুবকে বলিলেন, “মহাশয় শাস্ত্রে পড়েছি, আপনাদের ন্যায় পুরুষ ইচ্ছামাত্রেই শাবাব বােগ আরাম করিয়া ফেলিতে পারেন। আবাম হোক্ মনে করে মন একাগ্র কবে একবার অসুস্থ স্থানে কিছুক্ষণ মাখিলেই সব সেরে যায়। আপনার একবার ঐরূপ করিলে হয় না? ঠাকুর বলিলেন-“তুমি পণ্ডিত হয়ে এ কথা কি করে বলে গাে? যে মন সচ্চিদানন্দে দিয়েছি, তাকে সেখান থেকে তুলে এ ভাঙ্গা হাড়মাংসের খাচাটাব উপব দিতে কি আর প্রবৃত্তি হয় ?” পণ্ডিতজী নিরুত্তর হইলেন। ইত্যাদি স্বামী সারদানন্দপ্রণীত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণলীলাপ্রসঙ্গ-গুরুভাব-পূর্বাব্দ ৭৪ পৃষ্ঠা। অর্থাৎ ২৫শে পৌষ ১৩২৭। পূর্বে সনের অঙ্ক লেখাটাই সনাতনরীতি। পাশ্চাত্যের সঙ্গে এখানেও আমাদের প্রভেদ। (লেখক) + তর্কচূড়ামণি মহাশয় পণ্ডিত—এবং “বিদ্যানিয়সম্পত্রে ব্রাক্ষণে গৰি হস্তিনি। শুনি চৈৰ পাৰুে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ।তাই এই ক্ষুদ্রকেও এতাদৃশ সম্বােধন কৰিয়াছেন।

প্রথম পরিচ্ছেদ। আমি জানি না। খুব সম্ভব ইহা সাধারণ লােকের নিকটই পাইয়া- ছিলেন। আজকাল সাধারণ লােকেরাই ঋষি, মহর্ষি মুকানন্দ, অমুক স্বামী, অমুক পরমহংস ইত্যাদি উপাধি দিয়া থাকে। ইহার দৃষ্টান্ত কলিকাতা অঞ্চলে যুথেষ্ট আছে। রামকৃষ্ণের পরমহংস নামও বােধ হয় সেই ভাবেই হইয়াছিল। আর যদি তাহার গুরুই ঐ উপাখি দিয়া থাকেন, তবে তাহাও ভ্রান্তিমূলকই বুঝিতে হইবে, কারণ শাস্ত্রমতে যেরূপ অবস্থা হইলে পরমহয় যা যা সে লক্ষণ তাতে আমি দেখিতে পাই নাই। এ কারণে তাহার প্রতি ঐ উপাধিটি ব্যাবহার করিতে আমি সাহস পাই না, তবে তাহাকে আমি মাশয় লােক বলিয়া বুঝিয়াছিলাম, এই অ আমি তাহাই বলিয়া থাকি। আর আশ্রমের ভাবে ধরিলে তাহাকে কোনও সংজ্ঞাই অকুণ্ঠিতভাবে দেওয়া যায় না । তাহার পরমহংসের লক্ষণ যেমন ছিল না, তেমন ভাঙ্গার পূর্ববর্তি ব্রহ্মচর্যাদি আশ্রম-য়েরও শাস্ত্ৰতঃ লক্ষণ সৃষ্ট হয় নাইশীও ছিলেন না, তবে ভগবান শঙ্করাচার্যের ব্যবস্থামতে তাহাকে অবধূত আশ্রমী বলিলে নিতান্ত অসঙ্গত হয় না। অতএব আমার বিযেচনায় তাহাকে ‘রামকৃষ্ণ অবধূত’ বলাই উচিত। রামকৃষ্ণের সহিত আমার অনেকদিনই দেখা সাক্ষাৎ হইয়াছে। এখন তিনিই আমার কলিকাতার বাসায় গিয়ানি। তৎপরে আমিও তার নিকট গিয়াছিলাম, শেষে তিনিও মধ্যে মধ্যে কালিতেন, আমিও খে মধ্যে তাহার নিকট যাই। ধর্মশাখের ব্যাখ্যা করিতে তােমার কোন চাপরাশ আছে কি না আমাকে এতটুকু জিজ্ঞাসা করিবার অধিকর আমি তাহাকে দেই নাই। সুতরাং ঐ ভাবে আমাকে ঐ কথা লিসা করিতে পারেন না এবং তিনি করেন নাই। তিনি যে লেখাপড়া কিছু নিতেন না এবং শান্ত্র পড়েন নাই, এ বিষয়ে তিনি বেশ যা মাখবেন এবং আমি যে তখন ২৫ বৎসর

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ
তবে তিনি
পৰ্য্যন্ত যথাশক্তি শাস্ত্রের অনুশীলন করিয়াছি, তাহাও তিনি জানিতে।
আমাকে তিনি নিতান্ত অপাত্র বা তাহার অনুচরগণের একতম বলিয়াও
মন করিতেন না; কাযেই আমাকে ঐরূপ প্রশ্ন ফর তাহার পক্ষে
সবপন্ন নহে।
আমি কোন তত্ত্ব শিক্ষা বা উপদেশ লওয়ার নিমিত্ত তাহার
নিকট যাই নাই; কারণ তিনি কোন প্রকার খাই জানিতেন না।
সুতরাং আধ্যাত্মবিষয়, ঈশ্বতত্ত্ববিষয়, বা ব্ৰহ্মতত্বকিয় বা তৎপ্রাতি
সানাদি বিষয়ে কোন কিছুই তার বিদিত ছিল না। তাহার যাহা
বিদিত ছিল, তাহা সাধারণ জ্ঞানের বিষয়। শাস্ত্রবিষয়ে যারা
একেবারেই অজ্ঞ, তাহাদের পক্ষেই তা উপযােগী হইতে পারে ও হইত ;
‘আকৃষ্ণকথামৃত দেখিলেই তাহা বুঝিতে পারিবেন।
শাদি না নিলেও কেবল গুরুর উপদেশ অনুসারে নিজের অনুষ্ঠান
করিয়া অনেকটা উক্তি লাভ করিয়াছিলেন এবং সাংসারিক বনও
কতকটা কাটাইয়া উঠিয়াছিলেন; ইহা আমি বিশ্বাস করি এবং ভক্তি
ও তিনি অনেকটা অগ্রসর হইয়াছিলেন, ইহা আমি স্বীকার করি ;
কিন্তু সে অনুষ্ঠান বা ততটুকু ভক্তিশিক্ষা অনেকের আবশ্যক বা উপবােদ
হইলেও সকল মরে।
তাঁহার কি গান শুনিতে বড় ভাল লাগি, ভক্তির ভক
লেখিতেও আনন্দ হইত। তত তিনি কতটা উত হইতে পায়
ছিলেন, তাহা বুঝির অ কুতুহল ছিল। আর তিনি অকপট সা
কৃতিৰ ৰুে কলিম খায় নি।
এই মরুর কারণে তার নিকট মধ্যে মধ্যে যাইতাম। আর তিনি
সাগরণ লােকের নিকট হাসিতে হাসিতে যে সফল সেটা খ
বলিলে, তাও কে নিয়ে এগি। কিন্তু আশা নিকট তিনি কি
কায়ণে সময় সময় আসতেন জাবি বলিতে পারি না।

প্রথম পাদে।
শাস্থের ২। ৪টি কথা জিজ্ঞাসা করিতেন, ইহা অ৭ আছে। আর
আমাকে তিনি বিশেষ একটু মমতার দৃষ্টিতে দেখিতেন এইরুপ আমার
মনে হইত। আমি ব্যাখ্যাকাৰে ব্ৰতী ছিলাম, আহাতেও তিনি
বিশেষ আনন্দ ও উৎসাহ প্রকাশ করিতেন, মমতার কারণ বােধ হয়
তাহাই হইবে। তিনি আমার কিছু বয়ােজ্যেষ্ঠও ছিলেন।
উহার উন্নতি কি পরিমাণ ইয়াছিল, তাহা বির করিয়া বলা
সুকঠিন, তবে বােিয় যে সকল লক্ষণ দেখা গিয়াছে, তাহাতে তিনি যে
একজন সাধুএকৃতির লােক এক অধ্যাত্মরাজ্যেও এই স্কুলদেহের সম্বন্ধ
কাটাইয়া আক্তরাজ্যের নােম কোষ অর্থাৎ প্রথম ভূমিকায় আরোহণ
করিতে পারিতেন, ইভা বেশ বুঝিয়াছিলাম। অহঙ্কার, ক্রোধ, ঈর্ষা,
হিংসা প্রভৃতি কু-প্রবৃত্তিগুলিও তিনি অনেকটা দমন কফিতে পায়িয়া-
ছিলেম, ইহা বুঝিয়াছিলাম। তিনি সকলকেই প্রায় সগেহে হাস্যমুখে
কথা বলিতেন। ভােগ্যবস্তু বিষয়েও তাহার আসক্তি অনেকটা কমিয়াছিল,
ইহা আমার ধারণা। পূর্বেই বলিয়াছি—তিনি এক শ্রেণীর অবধূত,
সে অবস্থায় প্রসাদ ৎ ংলাদি তেন তাহার পক্ষে অব নহে;
কি খাইতেন কি না তাহা আমার শরণ নাই।
তবে রীতিমত তৈলতপূর্বক আন এবং বাংলা পান খা
দেখিয়াছি। লােদিগকে তিনি মাতৃৎ ব্যবহার করিতেন। তিনি
দক্ষিণেশ্বর কালী বীতেই থাকিতেন, সেখানে মায়ের মাঝি উন্ম
উ ভােগ দুই একে, সেই এলা খাইতে। ওপর হাম
গতি সাখায়ণে প্রকাশিত হইলে, অলোকে উষ্ণ অব লইয়া
তাকে নিজ বাড়ী নিও নেকে খাওয়াই। মুতাং গহন
জায় উৎই মতই ইত, বাসস্থানও উকই ছিল।
টাকাড়ি কোন মােনও ছিল না, তাই নিতেনও না। এ কে
তাকে উন্নত গই বলিতে হইবে। . প ফুলিতে
}

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এস। করিতে কিংবা অন্যের গান অথবা ঈশ্বরবিষয়ক প্রসঙ্গ শুনিলে কিছু কালের মত তাহার একপ্রকার সমাধির মত অবস্থা হইত, তখন হজ্ঞান থাকিত না কিয়ৎকাল পর জাগ্রত হইয়া উঠিতেন। এই সমাধির ভাব তাহার মনােয়াজো থাকিয়াই হইত, তাহার উপরে নহে কারণ তিনি ঈশ্বরের রুপগুণেই মগ্ন থাকিতেন, তাহার উপরে নহে। রূপানুভূতি মনােরাজ্যেই হইয়া থাকে, ইহা অধ্যাত্মবিদ্যার স্থিরীকৃত তাহার পর যে অধ্যাত্মরায়ে অসংখ্যথার তর আছে, সমাধিরও অসংখ্য অবস্থা আছে, আর সর্বোপরি যে নিত্যশুদ্ধ-বৃদ্ধ মুক্তভাব ব আছে, যেখানে গিয়া নিৰী বা নির্বিকল্প সমাধি ইতে পারে, যে সকল বিবরণ তিনি জানিতেনও না, সে সকল সমাধি Fওয়ার সবনাও তাঁহার ছিল না। সে সকল তত্ব যাহাতে আছে, সেই ব্যাপারী বা বিদ্যার গ্রন্থ তার একেবারেই অবিদিত ছিল। তিনি লেখাপড়া আদৌৰানিতেন না । সে সকল এত দুই কে মীতিমত দর্শন এবং উপনিষদ অধ্যয়ন ব্যতীত কেবল গুরু উপদেশে তাহার ধারণা বা জ্ঞান বা তাহাতে কোন অনুষ্ঠান কদাপি হতে পারে না, কাজেই তিনি স্কুলদেহ ছাড়িয়া উঠিতে পারিলেও মনােমর কোষ অতিক্রম করিতে পারেন নাই, ইহা বুঝিয়াছিলাম। হয় যে পাখির ভাব হইতে দেখিয়াছি, অহা সরি নিয়মানুসারে হয় নাই; গানাদি এবমাত্রে অমনি তৎক্ষণাৎ হইয়া গিয়াছে। আবার কিছুকাল পর ঠাৎই তাহা অঙ্গ হইত। এতায়া এই সমাধিকে ঠিক অনুষ্ঠানের ফলও ফলা যায় না। ইহা পন্ডিতে বিশেমের ফল হওয়াই অধিক সম্ভব। যাহারে মরি বিশেষ অধিক দুর্বল থাকে, তাহাদের কোন কোন বিষয়ে লায় বলাও খতি করলে মানাতেই, এখন বিশেষে কাহারও বাৰু মগ লােগ ইয়াও থাকে। গানাদি ও ই • প্রথম পরিচ্ছে। দেখা গিয়াছে। হাওড়ার নিকট শিবপুরে এক ব্রাহ্মণের একটি ছেলে দেখিয়াছিলাম, তার ৪৬ বৎসর বয়স হইতেই খােল করতালসহ কীৰ্ত্তনাৰি গান হইলে, অনেকক্ষণ বা সংজ্ঞর অভাব হইত, ১০২৫ পল বা অন্ধ , পর আবার সে প্রকৃতি হইত, পরে বয়ােবৃদ্ধির সঙ্গে জমে তা কমিতে লাগিল। ১৬ বৎসবের পর একেবারেই সারিকা গেল। তখন সে অতি কুপাত্র হইয়াছিল। ৫ বৎসরের সময় ইহার অবস্থা দেখিয়া নব্য অবতারের আবিষ্কারকগণ ইহাকে গৌরাঙ্গের অবর বলিতে আরম্ভ করিয়াছিল; অজ্ঞের মহিমা অপার! আমায় একজন শিষ্য দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও এরূপ অবস্থা হইত, এখন আহা সারিয়া গিয়াছে। এইরূপ দৃষ্টান্ত আরও আছে : রামকৃষ্ণ মহাশয়ের মস্তিষ্ণের অবস্থাও অত্যন্ত অনুভবশীল ছিল। কোন কুলােক ৰা লােকে তাকে স্পর্শ কৰিলে, কিংবা কোন পানভােন করিতে দিলে তারা তাহাদের শক্তি যেটুকু সংক্রান্ত হইত, তাহাও তাহার অনুরে আসিত। খাদি ধাতব বস্তু স্পশেও তিনি বিশেষত্ব অনুভব করিতেন। তাহার প্রতি তা কোমল থাকার অন্যায় প্রমাণও যথেষ্ট আছে। সেই কারণেই গান করা বা তাকালে তার ঐরূপ বাহ সং বিলােপ হওয়ায় অধির সাধনা। অজান বায় যে তিনি হঠাৎ দাড়াইয়া উঠতেন, সেই বিক্ষেপ ইহারই ফল বলিয়া মনে হয়। সমাধিশাস্তে ৭ হওয়ার সম্ভাবনা কথা বার । • যদি এই সিদ্ধান্ত সত্য হয়, তবে ঐরূপ অবস্থায় যে হায় মনোময় ৰকাৰে মাৰিয় কৰা উল্লিখিত হইয়াছে, অই এক. অরে তিনি বিজনে বসিয়া কতদুর কি করিতে পারিলে, তাহা তিনিই জানেন। কি নেহের গজ ত্যাগ করিয়া তিনি ই ফরলেই নােমর কোনে হতে পারতেন, ইহা বিন করিতে পাল্প বা নাই। তিনি দেহত্যাগ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ করার পূর্বে মাস ৫৬ পৰ্যত গলরােগের দারুণ যন্ত্রণায় অত্যন্ত কাতর হইয়াছিলেন। ইচ্ছাপূর্বক মনােমর কোষে উঠিতে পারিলে, তাহাকে ও যন্ত্রণা মােটই ভােগ করিতে হইত না। এই সময় আমার সহিত তার সাক্ষাৎ ছিল, তখন এই যন্ত্রণানিবৃত্তির জন্য এই জাতীয় একটা সুষ্ঠান করার পরামর্শ দিয়াছিলাম। তাহাতে তিনি বলিলেন যে, আমি একাগ্রতার চেষ্টা করিলে ইষ্ট দেবতার দিকেই লক্ষ্য বাড়ে। সুতরাং আমি ইহা করিতে পারি না। তাহা হইলেও তিনি, যােগ- শক্তিবলে মনােময় কোষাদিতে উঠিতে পারুন আর নাই পারুন, একটি সাধুপ্রতিসম্পন্ন মহাশয় লােক ছিলেন, একপ সিদ্ধান্তের কোনও বাধা নাই। কিন্তু দেহাবসানের কিছুদিন পূর্বে তিনি কিছু নামিয়া পড়িয়া- ছিলেন, ইহা বেশ অনুভব করতে পারিয়াছিলাম। আমি এইটুকু বুঝিতে পারিয়া একদিন তাহাকে বলিয়াছিলাম যে, আমি আত্মীয়ভাবে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছা করি, অল আপনার প্রতিকর হইবে কিনা ভাবিতেছি। তখন তিনি বলিলেন, পৰি এই তাহা বলিবে। আমি বললাম, আপনার সহিত আমার পরিচয় হইলে, প্রথমভাগে আপনার অবস্থা যেরুপ বুঝিতে পাঝিয়াছিলাম, এখন যেন তাহার একটু নিম্নদিকে পরিবর্তন মনে ইতেছে; ই স কিনা তাই জানিতে বাসনা, নিজের অষ আপনি নিশ্চয় বুঝিতে পারিবেন। তখন তিনি একটু বিষাদের সতি বলিলেন, আপনিতাে ঠিক্ ধরিয়াছেন। আপনি ই কেমন কম্বিয়া বুঝিলেন, আমি জে সর্বদাই আমার অন্তর সুৰ করিতেছি। ইৰ কারণ আপনার কি গুন হলু দেখি। আমি বলি, এ কি কারণ কিনে আমার অবিদিত পৰি কুসংসৰে আৰু পতিত হইয়া আছেন, যাই আমি প্রধান কারণ মনে করি। তিনি বলিলেন, ইয়া তে আপনি ঠিক বুঝিফেল, আমি ই দেশ অনুভব প্রথম পরিচ্ছেদ। ; করি এবং এ দল ত্যাগেরও চেষ্টা সর্বদাই করি। +यंत्रा যে আমারে ছাড়ে না। এখন আমি উহাদের খপ্পরের মধ্যে পড়িয়াছি। এখন এ কাল কাটানের কোন উপায় নাই। কাজেই এবার এই ভাবেই যাইবে। ইহার কিছুদিন পরেই তাহার গলরােগ, তৎপরে দেহাবসান হয়। তাঁহার যােগজ কোনও বিভূতি আমি দেখি নাই; তবে বক্ষাদিতে ইমণের আর কাহারও কারও বেদনাদি অল্পকালের অন্য তিরােহিত হইতে দেখিয়াছি। ইহা যৌগিক শক্তির কার্য নহে, নৈসিক শক্তির কাৰ্য্য; ইহা বৃহদারণ্যকে বর্ণিত আছে। ইর উপদেশের ধারায় কলিকাতা অঞ্চলে অনেক লােক উপকৃত হইয়াছিল। যাহারা পুরাতন পথেই অবস্থিত, তাদের পরমেশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং ধৰ্ম্মকর্মের আস্থা বৃদ্ধি পাইয়াছিল। এমন কি যায়। সনাতন পথভ্রষ্ট, তাহাদের মধ্যেও অনেকে প্রত্যাবৃত্ত হইয়া প্রস্থানে আসিবার চেষ্টা পাইয়াছিলেন। তখন শুনিছিলাম ৩ কেশবচন্দ্র সেন মহাশয় ও বিজয়কৃষ্ণ গােস্বামী প্রভৃতির নবাবিঙ্কত মতের পরিবর্তন ইহার যারাই সম্পন্ন হইয়াছিল, এ উপকার হিমায়ের চিরস্মরণীয়। বাম মায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এই মাত্র যথান আপনাকে বিদিত করলাম। আপনি ইচ্ছা করিলে, ইহা যে কোনমতে প্রকাশ করিতে পারেন। এই পরে প্রাণিসংবাদ সহ আপনার কুলৰার্তার অভিলা করি। অভাকাক্ষিণঃ ঐশশধৰ শৰ্মণঃ। পতি এ চুড়ামণি হয় না দেকে “পরমহলে লশান না দেখিয়া তাহাকে ধুত করিয়াছেন; অবধূত কে ‘পরমহংস অপেক্ষা কয় কি অহা মনে করা অনুচিত-অবধূতঃ * ৰােধ হয় কোনও কোনও ব্যক্তির নাম হইৰে। চূড়ামণি মহাশয় তাহারে উল্লেখ করা সমীচীন মনে নাই।

মামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এল। শিব সাক্ষাৎ অবধূত সদাশিব-ই অপেক্ষা উচ্চতর অবস্থা কি হতে পারে? এস্থলে ইহাও বক্তব্য যে, কোন্নগরনিবাসী প্রসি পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় ৮ দীনবন্ধু াব মহাশয় ৮ বামকৃষ্ণ দেবকে দেখিয়া সন্ন্যাসীর লক্ষণ না পাইয়া জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন—“আপনি কি আমার নম?” ( মচন্দ্র দত্ত-কত পরমহংসদেবের জীবন বৃত্ত) ৬২পৃষ্ঠা । তাৰপৰ ৩ রামকৃষ্ণেব ভাবাবেশসম্বন্ধেও তর্কচূড়ামণি মাশয় যাহা বলিয়াছেন, তাহা সঙ্গতই বােধ হইতেছে; কেন না তিনি সাধনভজনে প্রবৃত্ত হইবার পূৰ্ব্বেও এইরূপ মধ্যে মধ্যে অচেতন হইতেন। ৮ রামচন্দ্র দত্ত-কৃত জীবনবৃত্তান্তে আছে, ষ্ঠাকুর-দেবতার প্রতি রামকৃষ্ণের ভক্তি ছিল এবং অস্টে মৃত্তিকা ঠাকুব গড়িয়া পূজা কবিতেন ও সময়ে সময়ে তিনি তাবে আচতন হইয়া পড়িতেন। (৪ পৃষ্ঠা) অতএব এইরুপ ভাবাবেশ যােগ সমাধি নহে বলিয়াই বােধ * কিন্তু এইরূপ সন্দেহ করাতে ॥ বামচন্দ্র দত্ত মহাশয় উক্ত পণ্ডিতপ্রবরকে তীব্র আক্রমণ করিয়া লিখিয়া গিয়াছেন। ওরূপ ভাব ঠিক নহে। মনে রাখা উচিত, কেহই অন্তর্যামী নহে—বাহ আকার আচরণ দেখিয়াই লােকে অপরকে বিচার করিবে—বিশেষতঃ শাদশীরা শাস্ত্রের কষ্টিপাথরেই লােককে কবিয়া দেখিয়া তদ্বিষয়ে ধাৰণা করিবেন—ইহাই স্বাভাবিক। [ সম্প্রতি তারকেশ্বরের মহাসম্বন্ধীয় আন্দোলন উপলক্ষে বঙ্গীয় আহ্মণলভার পণ্ডিতবর্গ সন্ন্যাসীর এ বিষয়ে যে শাবাক্য উদাহৃত করিয়াছেন তাহাতে আছে- ও কম রঞ্চ রয়েং। নিত্যং প্রবাসী নৈক ল সন্ন্যাসীতি কীর্তিত। রামকৃষ্ণদেবে এ সকল লক্ষণ কতটা লক্ষিত হইত?

প্রথম পরিচ্ছে। • হয় ইহার অধিক বলিতে আমার অধিকার নাই—তবে ধসাধনে অভিজ্ঞ পণ্ডিত তর্কচূড়ামণি মহাশয়ের কথা যে প্রণিধানযােগ্য, তাহাতে সন্দেহ নাই। শেষাবস্থায় পরমহংসদেবের ‘কু-সংসর্গ' সম্বন্ধে চুড়ামণি মহাশয় যাহা বলিয়াছেন, তুষিয়েও কিঞ্চিৎ ইঙ্গিত আমরা ৮ রামচন্দ্র দ-কত জীবনবৃত্তান্তে পাইয়াছি-“তিনি বার বার বলিয়াছেন যে, তােমাদের সকলের পাপতা গ্রহণ করিয়া আমি অসুস্থতা ভােগ করিতেছি।" (১৫৪ পৃষ্ঠা) । মােটের উপর চুড়ামণি মহাশয় * রামকৃষ্ণদেব সম্বন্ধে অনুকূল ভাবই পােষণ করিয়াছেন,তবে তঁাহার ভক্তগণ যে সকল শক্তিমত্তা তাহার উপর আরােপ করেন—সে গুলি চূড়ামণি মহাশয় অনেকটাই স্বীকার করেন না। তিনি একজন প্রত্যক্ষদশী। অপর শ্রদ্ধাসহকাৱেই * খামক দেবের নিকটে ৰাইতেন। তাঁর কথাগুলি, সুতরাং সদরঘােগ্য। বিশেষত শা ও দেব-দেবীতে যখন বিশ্বাস হারাইয়া হিন্দুসমা বিধ্বস্তপ্রায় হইতে বসিয়াছিল-তখন যেমন রামকৃষ্ণ পরমহংসের আদর্শে ও উপদেশে সমাজের উপকার হইয়াছিল-পণ্ডিত শশধয়ের খবর যারা তাদৃশ—এমন কি তদপেক্ষা অধিক—উপকার হইয়াছিল। তাহার জনৈক শিক কর্তৃক প্রচারিত ও তৎকর্তৃক পৃষ্ঠপােবিত “বেঙ্গবাস পত্রে “সাধুদর্শন” শীর্ষক কতিপয় প্রবন্ধ প্রকাশিত • ব্রহ্মপ্রচারক ও শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয় ইহাকে পীড়া” বলিয়াছেন। তদীয় আচৰিতে আছে ভিন্ন তাহার ( অর্থাৎ পরমহংসের) একটি পীড়ার সঞ্চার হইয়াছিল, তাঁহার ভাবাবেশ হইলেই তিনি সংজ্ঞাহীন হইয়া থাকিতেন। (২৮ পৃষ্ঠা) [ ইহা “নার্ভাসনেস” বলিয়াই বােব হয়।] ও কৌতুহলী পাঠক জীবনবৃত্তান্তের এই প্রসঙ্গটি সম পড়ি। দেখিবেন।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রাঙ্গ। হইয়াছিল—তাহাতে ত্ৰৈলিঙ্গ স্বামী প্রভৃতির সঙ্গে রামকৃষ্ণেরও এস লিখিত হইয়াছিল। ইহা হইতেই অনুমিত হবে যে, তর্কচূড়ামণি মহাশয় সর্বদাই ৮ রামকৃষ্ণ দেবকে আদরের চক্ষেই নিরীক্ষণ করি আসিতেন । ৮ রামকৃষ্ণ সম্বন্ধে আমার যেটুকু ভক্তি বিশ্বাস পূর্বেই তাহা বলিয়াছি—অবশ্য তাহার ন্যায় সাধু মাত্মার সম্বন্ধে কথা বলার আমি নিতান্তই অনধিকারী। তথাপি স্বীয় ধারণা অনুযায়ী কয়েকটি কথা এস্থলে বলা প্রয়োজন মনে করিতেছি। শ্রীশ্রীভগবতীর ইচ্ছায় জগতের সমস্তই হইতেছে-এই যে রামকৃষ্ণ দেবের বঙ্গদেশের রাজধানীর সন্নিকটে আবির্ভাব, তাহাও তাহার একটা বিধান। সনাতন ধর্মের যখন সঙ্কটাপন্ন অবস্থ-সাকার উপাসনার তথা ধর্মসাধনে-সনাতন রীতির প্রতি যখন ইংয়েজীশিক্ষিত লােকের অনা হইতেছিল, তখন অনেকগুলি বিষয় মহামায়ার অঘটনঘটনপটীয়সী * এ স্থলে অপর একজন অতিবিশিষ্ট পণ্ডিত মহােদয়ের কথার উল্লেখ করিয়া পারিতেছি না; পঁচিশ বৎসর পূর্বে যখন দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ীতে যাই, তৎসময়ে পূর্বদিন আমার জনৈক পূজ্যপাদ অধ্যাপক মহামহােপাধ্যায় মহােদয়ের সহিত রামকৃষ্ণপরমহংস সম্বন্ধে আলাপ হইয়াছিল। তিনি বলিয়াছিলেন, “বাপু হে, লােকটি বেশ চতুর ছিলেন, কিন্তু তুমি যে বল, তিনি ভগবতীয় দর্শন পাইয়াছিলেন, এ সব বাজে কথা—এমন যে পূৰ্ণানন্দ পরমহংস—তিনিও সাক্ষাৎ পাইয়াছিলেন কি না সন্দেহ, কেননা তাঁহার গ্রন্থে এটাও হইতে পারে, ওটাও হইতে পারে,” এরূপ সন্দেহ আছে, যাব ভগবতীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার হইয়াছে, তঁার সন্দেহ থাকিবে কেন ?” উত্তরে বলিয়া- ছিলাম—মহাশয়, যে দেবতাকে এমন ব্যাকুলভাবে ডাকিলে বা ঈদৃশ কঠোর তপন্ন করিলেও দর্শন করা যায় না, এমন দেবতা আমি মানি নাপূর্ণানন্দের যে স্থলে সন্দেহ বলিতেছেন, তাহা যদি এমন হ যে, এটা ওটা উভয়টাতেই ঈপ্সিত বিষয় সমানভাবেই সিদ্ধ হইতে পারে, তাহ'লে ?” পণ্ডিতমহাশয় এই অঞ্জকে হঠাৎ জ্ঞের ন্যায় কথা বলিতে দেখিয়াই ৰােণ হয় “মৌমত্র হি শােভন মনে করিয়া আর তর্ক বাড়ান নাই।

প্রথম পরিচ্ছে। কৃপায় সংঘটিত হইয়াছিল রামকৃষ্ণ দেবের অদ্ভুদয়ও তাহার মধ্যে একটি । তাহার উক্তি ইত্যাদি শ্রদ্ধা সহকারে পাঠ করিয়া আমার প্রতীত এই জন্মিয়াছে যে, তিনি শান্তানুসারে সাধন ভজনাদি করিয়া যেপ ধর্মোপদেশ দিয়াছেন তাহা প্রায়শঃ শাস্ত্রের বিধিরই অনুযায়ী—এবং সনাতন ধরেই পােষক। তাহার কথায় ও আদর্শে অনৈকের স্বধৰ্ম্মে আস্থা হইয়াছে—ইহাতে সনাতনধর্মের উপকার হইয়াছে। চূড়ামণি • মাশরও একথা বলিয়াছেন। কিন্তু তাহার ভক্তগণ মধ্যে অনেকে সনাতন রীতি নীতির বিরুদ্ধে নানা উপদেশ প্রচার করিয়াছেন—এবং রামকৃষ্ণকে অবতার বলিয়া খাপিত করিয়া ছেন। তারা তাহাৱা, আমার ক্ষুদ্র বিবেচনায়, রামকৃষ্ণের মাহাত্ম্য খর্ব করিয়াছেন। যাহারা তাকে অবতার সাজাইয়াছেন-তঁাহারা অপর সাধু মহাত্মগণের জীবনচরিত আলােচনা করিয়া দেখিলেই বুঝিতে পারিতেন যে, অবতার’ না হইয়াও তাহাদের বর্ণনানুরূপ (যাহাতে বহু কথা অতিরঞ্জিত আছে) মরুষ ভারতবর্ষে অনেকেই ছিলেন। * বৈলিঙ্গস্বামী ৬ তায়ামন্দ স্বামী, বারদীয় ব্রহ্মচারী, বামাক্ষেপা, * রামদাস কাঠিয়া বাবা প্রভৃতি বহ মহাত্মা ভারতের নানাস্থানে অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরূপে আবির্ভূত হইয়া শিল্প ও ভক্তগণকে চরিঅর্থ করিয়া গিয়াছেন। মামকে আঁহারা মশি—তাহাদের গুরুদেবকে ভগবান মনে করা খুবই সঙ্গ কিন্তু 'অবতার” বলিয়া প্রচার করতে এই অনিষ্ট ইয়াছে যে, রামকৃষ্ণের দেখাদেখি বঙ্গদেশময় বহু কাতারের আবির্ভাব হইয়াছে—বং রাম এই সকল উটশ্রেণীর লােকের পৰ্যায়ভুক্ত হইয়া পড়িয়াছেন। অবতারবাণীয়া চৈতন্যের অনুকরণে রামকৃষ্ণের লীলা প্রচার করিতেছেন-ইহাতে চৈতন্যেরও কিৎি লাঘব হইতেছে। • চৈতন্যভাগবতাদি পড়িয়া জনৈক ব্যক্তির ধারণা হইয়াছিল, মহাপ্রভু --- রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। তারপর বিবেকানন্দ ‘হুঁড়িধৰ্ম্ম দুর্থ ইত্যাদি বলিয়া যাহা প্রচার করিয়াছেন, জানিনা, আজ ৮ রামকৃষ্ণদেব জীবিত থাকিলে তিনি শুনিয়া কি বলিতেন; লােকে যা’তা খাউক, যার তার পাত চাটুক এর উপদেশ তার উক্তি বা আচরণে কোথাও পাইয়াছি বলিয়া তাে মনে হয় না। ৮ রামচন্দ্র দত্ত-চরিত “জীৱয়ে আছে- তিনি অনন্তর ভক্তদিগের সহিত একত্রে ভােজন করিয়া অশেষ প্রতি লাশ করিতেন, কিন্তু এরপ স্থানে তিনি বর্শানুরূপ ব্যবস্থা করিতে কহিতেন। (১৩২ পৃষ্ঠা) ফলতঃ সাধু মহাত্মারা শাস্ত্রদৃষ্ট সনাতন রীতি নীতির বিরুদ্ধে চালনার জন্য উপদেশ দিবেন—বা তদনুরূপ আচরণ করিবেন, ইহা কদাপি সম্ভাষিত নহে। বা অবস্থাভেদে সাধারণের আচার আচরণ হইতে উদাসীন অবধূত কোনও সাধু বিভিন্ন আচারানুষ্ঠান করিলেও তাহা গহিত হইত না—তথাপি ৮ রামকৃষ্ণ পরমহংস রূপ কিছু করিয়াছেন বলিয়া তাে দেখা যায় না। তিনি বলিতেন, “আমি যদি দাঁড়িয়ে মুতি—ওরা দৌড়িয়ে মুতিবে। ” তাই নিজের আচরণের প্রতি যথেষ্ট সতর্ক দৃষ্টি রাখিয়াই চলিতেন । । সনাতন রীতিনীতির বিরুদ্ধে ৮ বিবেকানন্দ যে সকল কথা বলিয়াছেন এবং তিনি যে ভাবে জখন আপন করিয়া গিয়াছেন, তদ্বিষয়ে ইতোধিক কিছু বলা এলে অনুচিত মনে করিতেছি—ইচ্ছা আছে প্রবারে এতদ্বিষয়ে আলােচনা করি। একজন অবতারই হইবেন--তাই জন্মাষ্টমীর ন্যায় ফানী পূর্ণিমাতেও উপবাস করিতে আরম্ভ করিয়া দিলেন। কিন্তু রামকৃষ্ণের এ সকল জীবনচরিত পড়িয়া তাঁহার মনে হইল—যাহা ইদানীং ঘটিতেছে—৪•• বৎসর পূর্বে অবতঃ তাহাই হইয়াছিল—অর্থাৎ ভক্তেরা অত্যুক্তিপূর্ণ কাহিনী বুচিয়া গিয়াছেন। তাই তিনি এখন আর ঐ তিথিতে উপবাস করেন না। * শ্রীচৈতন্যচরিত্র গ্রন্থাবলীতেও এমন দেখা যায় না যে, চৈতন্যদেব ‘সলােট” হইবার জন্য উপদেশ দিয়াছেন। পুরীতে মহাসাদে স্পর্শজোৰ নাই—কথাপি সেখানেও তিনি বাপের বাড়ী ভিন্ন ভিক্ষাগ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া দেখা যায় নাই।. অথচ তিনি সন্ন্যাসী সুতরাং বর্ণভেদের অঙ্গীত ছিলেন। * অবশ্য, রামকৃষ্ণ কথামৃতে | লীলাপ্রসঙ্গে রামকৃষ্ণের আচৰণে ৰ বাক্যে শাস্ত্র ও সমাচার বিরোধী ভাব দেখা যায় । এসখন্ধে ইতঃপশ্চাৎ আলােচনা হই হইবে।

b দ্বিতীয় পরি। আসামে বিবেকানন্দ। আজ (১২১) ঠিক ২০ বৎসর হইল, স্বামী বিবেকানন্দ গৌহাটি শহরে সদলবলে আগমন করেন। এখানে কয়েকদিন অবস্থান করি। মাপা) দশনাতে শিলং যান এবং তথা হইতে প্রত্যাবৃত হইয়া ‘ন একদন এখানে থাকেন। তখন গৌহাটিতে সেনসাস আফিম ছিল-সেই আফিসে কাজ করতাম তাই বিবেকানন্দের দর্শনলাভের সুযােগ কাটিয়াছিল—শিলং ব্যাওয়া-আসা উত্তর কালেই তাঁহার সঙ্গে আমার আলাপ হইয়াছিল। ১৩০৭ সালের মহাবিষু সংক্রান্তির কয়েকদিন পূর্কে বাণী বিবেকানন্দ গৌহাটি শহরে আগমন করেন। সঙ্গে অনেক পুরুষ এবং দু-একজন স্ত্রীলােকও ছিলেন-তাহার জননী না কি মাখ্যা দশনা এখানে আসিয়াছিলেন। তাদের অবস্থানের নিমিত্ত একটি # সাহিত্য পত্রে প্রকাশিত হইবার জন্য যখন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী মহাশয়ের পর কয়েকখানি পাঠাই, তখন সুরেশ সমাজপতি মহাশয় জিজ্ঞাসা করেন, ঈশ আনাে চিঠিপত্র আছে কি না? উজবে লিখি, যে সকল চিঠি আছে, তাহার লেখকগণ সৌভাগ্যক্রমে জীবিত—তৰে আশী বিবেকান গৌহাটি আসিলে তঁাহার সঙ্গে যে সকল আলাপ আলােচনা হয়, তাহা লিপি বন্ধ করিয়া প্রকাশার্থে পাঠাইতে পাৰি-কিন্তু সে সব গীয় স্বামীজির তেমন গৌরবজনক না হবার কথা—বিশেষতঃ আমি তাহার ‘ ভও নহি। ইহার উত্তরে সুরেশ বাৰু লিখিয়াছিলেন, ' আমি বিবেকানৰে পৰম ভাল ট, কি আর কাহাও অঞ্জ দুইবার অধিকার নাই, তাহা মনে করি না। ইহাও বােৰ কৰি বিবেকাননেই শিক্ষা। সে যাহা হউক অব পাঠাইৰেল । পামতে আমার অঙ্গিকার আপনার আইৰ। ' এ 'সাহিতে” খেজিত ইল; কিন্তু সুবােৰু অভিপ্রায় হইতে ইহা ৰতি হইল। (লেখক) ২ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রকা। হৎ ‘বাংলো বর দেয়া হয়—এক গৌহাটি সর্বসাধারণ হইতে চাল সংগ্রহপূর্বক তাদের বাবা ও যাতায়াতের ব্যয় প্রান বিষুব সংক্রান্তির পূর্ব দিল অপরানৈক ভলােক সহ আমি ঐ বাজলো ঘরে যাই। বারান্দায় একখানি টুলের উপর একটি গৌরবর্ণ ‘গো ধুতি ও গেঞ্জি পরা লোক একাকী বসিয়া আছেন—চুলগুলি এলােমেলাে, পান চিবাইয়া ঠোট লাল হইয়াছে; দেখিয়া মনে করিলাম, ইনি বোধ হয় আমার কোনও চেলা হইবেন। ইহার যাশীজির ছবি দেখিয়াছিলাম বটে, কিন্তু বড় বড় দুইটি চোখ ছাড়া এই মুক্তির সঙ্গে,ৰি দেখিয়া যে মুক্তি না করিয়াছিলাম, তার বিশেষ কোনও সা দেখিতে পাই নাই। সে যাহা হউক, ইহাকেই বিতা করিম-বামীজির সঙ্গে দেখা করিতে আসিয়াছি-দেখা হইবে কি? ইনি ঈ হাসিয়া বলিলেন, আপনাদের কি কথা আছে বলুন। এখন বুঝিলাম, ইনিই ৰিবি ৰামী বিবেকানন্দ। সঙ্গী ভদ্রলােকটি আমার পরিচয় দিলেন। তখন নানা রূপ প্রসঙ্গ হইতে লাগিল কথায় কথায় উঠিলষদের প্রাচীন সভ্যতার কথা । * এখানে একটি অবান্তর কথা বলিতেছি। যতদূর মরণ হয়, স্বামীজির কপালে একটাখ-কাটার চিহ্ন—যেন দেখিয়াছিলাম ; কিন্তু তাহার ছবিতে কোনও দাগ দেখা যায় না। তাহার জীবনচরিতেও এই দাগের কথা আহে ( স্বামী বিবেকাননীযুত প্রমথনাথ বসু কৃত ২৮ পৃষ্ঠা)। তবে ছবিতে দাগটা কা কি ভক্তগণের অনভিপ্রেত ' বলিয়াই ইহা নাই। চরিতাখ্যানেও কি এপ হত্যৰলেপ ঘটিয়াছে? * এস্থলে ইহা যে, এতদিন পরে পুরণ কৰি লেখাতে অনেক কথাই লিখিত পারা গেল না-ৰাই লিখিত হইল, তাহাতেও ঠিক এইপ ভাষাতেই উক্তি প্রত্যুক্তি হইয়াছিল, একথা সাহস কৰিয়া বলিতে পারি না। তবে ‘ম’ এইরুপই ছিল, এটুকু বলিতে পারি। কিন্তু তাৰিখৰ ঠিকনা হইতে পারে, কেন না জামার কোনও ‘ডায়েরি নাই।

ই
নিতীয় পরিচ্ছে।
বামীজি বললেন, “বৌদ্ধ-যুগের পূর্বে এদেশে স্থাপয় শিল্পের উৎকৃষ্ট
দিন তেমন * পাওয়া যায় না। আমি বলিলাম, “কেন রামায়ণ
মহাতায়ত হিতে কত উৎই সৌধ প্রভৃতির বর্ণনা পাওয়া যাইতেছে।
তিনি বলিলেন— সব অত্যুক্তিপরিপূর্ণ বর্ণনা।
প্রসঙ্গতঃ বলিলেন-“এই যে আপনার গলায় পৈতা,
পারসীদের কাইহইতে পাওয়া গিয়াছে। আমি বলিলাম “সে কি,
উপবীত শােধনের যে বেদমন্ত্র আছে তাতে কােপৰীত শব্দটিও তো
স্পষ্ট রহিয়াছে। তিনি বলিলেন-“আচ্ছ, ঐ মন্ত্রটা পড়ন তাে ?
পড়িলাম, “যজ্ঞােপবীতং পরমং পৰিং ইত্যাদি। তখন বলেন,
“দেখুন, এ যন্ত্র প্র; ইহার শব্দ ও ছন্দঃ আধুনিক। আমি একটু
উত্তেজিত হইয়াই বলিলাম। বলে স্বামীজি আপনাতে আর
দােনলে • কোনও প্রজে দেখিতেছি না; এরূপ অবস্থায় কোনও
তর্ক চনিতে পারে না । ফলত ঐরূপ আলােচনায়
ঐখানেই বাধা
পড়িল-মার কোনও তর্ক বিতর্ক উঁশির সঙ্গে আমার হয় নাই ।
অতঃপর আরও কিছুকাল কথাবার্তা হইল-বশেষে জানা গেল
স্বামীজি পরদিন সংক্রান্তিতে(খুব সম্ভব) কামাখ্যা দর্শন করিবেন,
এবং পরদিন ৰশিঙানে যাইবেন।
সা লােটার গহিত পরশ করিয়া আমরা কয়েকজন
মিলিয়া নির্দিষ্ট দিনে বশিষ্ঠাশ্রমে গেলাম। ' আশা হি, ৰামৰি
সালে যেখানে যাইবে তার সঙ্গে কথােপকথন হইবার খে
সময় ও সুবিধা পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাকে বড়ই নিয়া
হইতে হইল-কোনও কারণে তিনি সেদিন বশিষ্ঠৰে বাইতে পারেন
নাই। মনে শহরে ফিরিয়া আসিয়া নিলখালী িবক্তা
হইতেছে; গতিতে, তার জায়গায় প্রিয়া দেখি, লােকারণ,
# পাঞ্জাব প্রভৃতি অঞ্চলে সমাজে এত্তক কাজী দােনশ সাহা।
=
"

রামকৃষ্ণ বিবেকানন এল।
এই ভিড় ঠেলিয়া তাহার নিকটবর্তী ওয়া তখন সব হই
গড়াইয়াছে৷ শুনিলাম ইতঃপূর্বে সভায় পাণ্ডত (পয়ে মহামহোপাধ্যায়)
ময়েশচাৰ্য মহাশয়ের সঙ্গে না কি স্বামীজির সংস্কৃত ভাষায় কিঞ্চিৎ
কথােপকথন হইয়াছিল; সকলেই তাহার সংস্কৃত আলাপে দক্ষতা দেখিয়া
বু হইয়াছিলেন ।
আমি যখন গিয়া গনতার পশ্চাদ্ভাগে কথৰণি পাড়াইতে সমর্থ
হইলাম, তখন সভা নিৰূ-মীজি দণ্ডায়মান হইয়া বক্তৃতা দিবেন
, বসিয়াহ দু’চারি কথা বলবেন। তিনি বারংবার বলিতে লাগিলেন,
একটা প্রসঙ্গ তুলুন-কোনও প্রশ্ন জজ্ঞাসা করুন, তদবলম্বনে কিছু
বলিতে পারি। কিন্তু সমবেত জনগণের মধ্যে হেই অগ্রসর হইয়া
কোনও এ করিতেছেন না দেখিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন সেই
ভার্জি কোথায় ?” একজন, “ভাজির সঙ্গে স্বামীজির সেই দিনের
বিতর্কের কথা এখ হয় শুনিয়াছিলেন, তাই, বুঝিতে পায়
উপর দিলেন-“উনি বশিষ্ঠাশ্রমে গিয়াছেন। তখন কিন্তু খোদ
ভটার্জি জনতার অন্ধরাণে-গাড়া দির অবস্থায় না থাকাতে
চুপ করিয়াই হিয়াছিলেন। সে ৰাহ
সে বাহা হউক—এই প্রশ্নোত্তরে সভার
নীরবতা ভঙ্গ হইল—তাই অপর একজন ঐ সময়ে বলিলেন,-“
বিচায় উপলরিয়া কিছু বলুন।
তদুত্তরে মীলি বাহা বলিলেন, তোতিভেদের উপকারিতা
এখতঃ প্রদর্শন করিলেন; অবশেৰে উৰু সঙ্গে ৰেশ্যাম্প
বিচার কি রহিয়াছে ৩টি বহু বলিলেন। সেই সময়েই দুইটি
কৰ অহাৰ মুখ এইতে গুমি; (১) মির্শ ৫) দুর্থ।
গুন, খুলি বায়ে খ গ ট—তিবিচার জি
না প্রসঙ্গ চলিতে অগিল। এই জঙিটা একটা পা লেই
...রুর মা হতে ইজৰে লিয়াখােমাপি সুদানাে-

দ্বিতীয় পরিবে।
বনঃ পর। নতীয় প্রকাঃএটা কি ভাল? এইরূপ জড়তায়
দেশ ইন হইতে বসিয়াছে—খুজি খাটাইয়া একটা কিছু করা হয়
বড় দরের একটা চুরি ডাকাতি কর-তবুও বুদ্ধি খুগু, ইত্যাদি ইত্যাদি
বহু কথা বলিলেন। তার সেইদিনকার বক্তও অনিয়াই স্বামী
বিবেকানন্দ সম্বন্ধে আমার পূর্ব ধারণা বহুল পরিবর্তিত হইয়া যায়;
তার ‘চিকাগাে বক্ত অথবা অপর যে সকল যা পড়িতে
পাইয়াছিলাম, তাতে নে হইয়াছি, ইনি একজন বেঙ্গাবাদী
ধর্মপ্রচারক। কিন্তু ঐ দিনকার বতায় বুঝিলাম যে, এটার একটা
'খােলস আভিতরে শত ভাৰ। ৰাতিটা তাহার মতে নিতি-
এটা জাগিয়া উঠুক-উঠিয়া একটা নাড়া-চাড়া দিউক; খাদ্যখাত বিচার
ইত্যাদিতে তাহা মতে সমগ্র জাতিকে সঘবদ্ধ হইতে দিতেন না, সেটা
উঠিয়া যাউক, ইত্যাদি। এত ধৰ্ম্মৰক্তা বাতিটার উপর একটা মােয়র
আবরণ দেখিয়া উবুদ্ধ ঝরিতে চেষ্টা করিৰেন বটে—কি হয়
বৈশিষ্ট্য যা আছে, তাহা দুর করিয়া দাও, না হয় একটা বড় করে
চুরি ডাকাতি করিয়া যুক্তি খােত এইরূপ উপদেশ কখনও দেন না।
অতঃপর মীজি শিলং যাত্রার পূর্বে পাৰায় দুই দিন তা
হয়। সেই দুই ৰক্ততা ইংরেজীতে নিয়মমত বিজ্ঞাপন বিষয়
নির্দেপূর্বক এত হয়। প্রথম দিন নৈ বাণী প্রবীণ উকীল
সভাপতি হন—পর দিন লাল ভ্যালি ডিভিশনের কমিশনার মিঃ এ,
পােট বাহার গাতি ইয়াছিলেন। একদিন বিকযিন
Transmigration of the Sou* এটা খুবই গরম।
পর দিনের গরুর সিটি ক য় নাই; ভাতে বা সুপর্ণা
সমু সয়া ইত্যাদি উপনিষ ছিল, ইহায় মান -
ved in tnden i এই একটা বিষয় ছিল।
এই একটা কল আহে। আর তাই

রামকৃষ্ণ বিবেকানএস।
উহা বক্তৃতা শুনিবর জিনিসই বটে। কি সুমি আগা,
কি সুন্দর গাড়ি-ফি শব্দবােসনা • বিশেষতঃ প্রথম দিন যাহাকে
দেখিয়া বিবেকাৰণ বলিয়া ধরিতে পারি নাই—তাহার সেই পাগড়ী,
সেই আলখেল্লা দেখিয়া মনে কইল, । নিই সেই স্বামী বিবেকানন্দ
যার ছবি পূর্বে দেখিয়াছি। তাহারা বক্তৃতার রীতি ছিল পায়চারি করিয়া
ঘুরিয়া ঘুরিয়া বলা, যেন যাত্রার দলের অধিকারী। তার উজ্জ্বল
বিশাল নেয়, সন্মিত সুন্দর প্রতিভাদীপ্ত মুখমণ্ডল এও এক দেখিবার
তিনি। ফলতঃ আজ বিশ বৎসর পরেও
আজ বিশ বৎসর পরেও যেন সেই মূর্তি চোখে
লিতেছে-সেই কার কা বাজিতেছে। সাধে কি আমেরিকা
নেপিয়াছিল।
এই দুই তার দিন অনেক সাহেব বিবি সত্য হইয়া থানীতির
বক্তৃতা শুনিয়া ঘন ঘন কালিয় না হৃদয়ের আনন্দোচ্ছাস পরিব্যক্ত
করিয়াছিলেন।
অতঃপর বাজি শিলং চলিয়া যান। সেখানেও তাঁহার
অবস্থান ও অভ্যর্থনায় বাঙ্গালী ভদ্রলােকগণ চাঙ্গা তুলিয়াছিলেন।
সেখানে একদিন মাত্র ৰক্ততা ছিল। তারপর সকাশে অভিভূত
উখালদের বৈঠকখানা আলােচনা হইয়াছিল, তাহাতে নাকি কেহ কেহ
বলিয়াছিলেন, বােয় নূতন কিছুই নাই-পূর্কে প্রদত্ত বক্তৃতারই পুনরাবৃত্তি
করা হইয়াছে-মুখ শক্তি খুব অদ্ভুতই বটে। মাত্রাজেয় নটেশান প্রকাশিত
বামীজির বড়তাবলী ঐ বিষয়ৰু ৰক্ত তাতেই ‘সুপর্ণা' শ্লোকের উল্লেখ
ও তাই।
# শুনিয়াছি, চেহারা, চাকচিক্য বিধানা নাকি মামীজি খ্রিসেৰি
ব্যবহার করতেন।
* শীৱিৰ সিং খাওয়ার কয়েক মাস পরেই আমিও লেসের
কাছে শিলং গিয়াছিলাম—এবং তত্রত বহুবর্গের মুখাং তাঁহার কাহিনী
নিহিলা—তাই যত দু'একটি কক্ষ লিখিতে পারিনা।

•ভিীর পরিচ্ছেদ। হইয়া পড়াতে তা দিতে পারেন নাই, বৈঠকী আলােচনা এই হইয়াছিল। লােকপ্রিয় শাসনকর্তা (খায়) হেনরী কটন চিফ, কমিশন ছিলে। তিনি এমীরি খুব ভান করিয়াছিলেন। তিনি সভায়ও যথেসা করিলে, স্বামীজি তাকাতে বলিলেন- তীর্থস্থান পত্রিমণই সন্ন্যাসীদের কর্তব্য, তাই কামাখ্যা হইয়া শিলঙে আসিয়াছি। এস্থানেও হেল্পী কটনের গায় সাধু পুরুষ মহিয়াজন- তাই ইও একটি তীর্থ-তীখৰুৱতি ইত্যাদি। শিলং শহরে পাঠা খুব শতা, আহাৰ্য্য বর মধ্যে মাংসলভারই সমধিক থাকি—একদিন তাতে কিছু টি ঘটাতে সয় না কি জোধ প্রকাশ করিয়াছিলেন। শিলং হইতে ফিরিবার কালে ফেলে বােতলে * পাথেয়ন্ত্রণ আনীত হইয়াছিল। এই সকল কাশে, বিশেষতঃ জনৈক নিষ্ঠাবান বৈষ্ণবষয়াবলী ভদ্রলােকের একটি প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজি একটা অশ্লীল কথা বলতে, • শিলঙে অনেক উহা উপর বীতশ্রদ্ধ হইয়াছিলেন। নদী ভানটের ৰৈ গােমি জনৈক অত্যুচ্চপদস্থ কর্মচারী বিবেকানন্দ আমার গা দিয়াছিলেন বলিয়া শাপগ্রস্ত হয়। একদিন না কি উল করিয়াছিলেন। শিলং ২২তে ফিরিয়া স্বামীজী গৌহাড়িতে দুই চারিনি বন করিয়াছিলেন। এবারও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়া আলাপ * সেই ভলােকাট এবিষয়ে যাহা (সম্প্রতি লিখিয়াছেন, তাহা উত হইল- কথাপ্রসঙ্গে মামীজি নামকুপ মিথ্যা বলিয়া উঠিলেন। আমি তাহা শুনিয়া বিনীতভাৰে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম “যদি তাহাই হয় তবে, 'নিত্যলীলার অর্থ কি ? এই কথা শুনিবামাত্র গালি কোধে অগ্নি হইয়া তারে বলিয়া উঠিলেন ঐ নিখ্যতি আর ঐ নিত্যযােনি কি, তাহা আমি জানি না। বলাবাহুল্য, এ বিষৰ কটুক্তি নিয়া আমি ও আমার সঙ্গে স ে গাদা প্রভৃতি দােষ্ণেই মাহত হইলেন। ## উত্তর দিবা ফল আমি উড়ত, তল ও ৫ দাগ কাকে লইয়া তাহার বাসায় গেলেন। এ নামক কি। মিনি। একটি রুমে তিনি আমি নিনে বসিয়া কথাবার্তা বলিনি—তিনি অকপটে এবং ভয় কি ভাবেই আলাপ করিয়াছিলেন। পানিতে বড়ই ॥ পাইতেছেন দেখি জিজ্ঞাসা কৰি, আৰী, শুনিয়াছি বােগীদের সের উপনি জন্মে এ দেখিতেছি এল না। উপর অধিকার করিয়া বলিল! ইহার অর্থ কি? তিনি উত্তরে যা বলিলেন-“টচার্জ মাশয়, ৰ, ৰ।” মি আয় বাড়াবাড়ি করি নাই- নে মনে যাহা গৰিলাম- শুহা (বৰ শরিফে বলিতে সাশী হই নাই, তখন) এলেও না বলাই শত। আর তা আমেরিকার কাৰে ৰিয় উথাপিত হইল। তিনি বলিলেনসেখানে এমন নিছি যে, এখন যে কেহ গিয়া করেফায়ে বেশ থাকতে পারবে, ণৌ সমুৎীর্ণে সুবে। সিফিলের কথা উঠল। আমি একটু প্রশংসাই করিলাম-“এরা সেই আকামই শায়ে হল। প্রচার করিতেছেন। উত্তরে স্বামীরি যেন একটু উত্তেগিয়ে বলিলেন,-“সাহেৰে৷ আমাদের উপরে সব যিয়েই মতে, মায়ায় এবিষয়েও আসিয়া রুগিরি করি, তা অতি সহিতে পারি না। আমার জীবনের এক # এই কথাটি আমার কাছে বড়ই ভাল লাগিয়াছিল—১৯১১ অৰুে ময়মনসিংহ সাহিত্যসম্মেলনে যখন মুত হীৰেন্দ্ৰনাথ দত্ত মহাশয়ের সঙ্গে একত্র কয়েদিন অবস্থান করি, কখন একদিন জাহাব কাছে এৰিষয় উজে করিয়াছিলাম, এবং বিবেকানন্দ ঠিকই বলিয়াছেন এপও বলিয়াছিলাম। হীরেন্দ্র বা বং বিয়সকি দলের একজন নেতৃরূপ। তিনি বলিয়াছিলেন- সাহেবের ও ইৰ কেন। তাদেরও জো নে অয়দেরই অগণ। আমি বলিলাম, মহাকায় এদেশে কি শােক পাইলেন না যে, অলট, #ভট ক্ষির ভ ল ? উত্তরে বােধ হয় তিনি এই লিলি- সমগ্ৰ গল কাম কৰিাৰ সলােৰু মরে গেলে কোথায়? এদের যারা ইউবােপ আমেৰিকা এহুতি সমর গন্থে কৰি একা কমে। ১

বি কি।
তবে দিবোবা ৰে, কথা যই সাহেব বিবি বা
পা টেপাইছি। কথায় কথায় হায় ‘চিকাগে’ তার সে
বলিলাম, কি ব্যাপার গুদের ষ
পৰমহংস তাে প্রতি অর্জন করিয়া চৰম সিজি, ছিলেন।
আপনি তালে চিকাগো বক্তৃতায় কিরূপে এফৰ বলিলেন, ফrom
high soaring lights of Vedanta philosophy to valgar
ideal of idolatry i fatti f* Valgarypus eratfe afacana,
'আমি ও Vulgar' বলিয়াছিলাম? আমি বললাম আর তত যেন
তাই মনে কর।' তিনি বলিলেন তাহলে Vulgas people, Vulge
অর্থ ‘popular এই আমি মীন’ করিয়াছিলাম • আমি বলি তা
ফলে Vulgar’ না বলিয়া সােলানি popular বিয়েই তো
পারিতেন?” অতঃপর এ বিষয় আয় কথা চলে নাই।
আরও বহু কথা হইল- গণও নাই-একটা কথা উপরে
উল্লেখিত ছাড়) মনে আছে তাহা নানা কারণে একাণযােগ্য নয়।
তবে পূর্বের বৈঠী বা অনিয়া যে ধারণা ছিল, এই আলাপের
যারা ভাল চীভূত হইল। মনে হইল কে
মনে হইল যে, এই সন্ন্যাসীর লাশ
লােকটি যেন মোদিত এক কেশরী!
আলাপানে বিদায় গ্রহণের সময় তিনি ফঞ্চ নভেল’ দুকগানি
পাঠাই দিতে পারি কিনা ভিসা করিলেন; সাথে মিনার
আমাদের দেশের অনেকেও এদের প্রতি শ্রদ্ধাৰিয়াসের আধিক্যবশতঃ উপকৃত
হইতেনে”
® সত্যের আলােৰে এখানে বলিতে হইল যে, আল নৃত্যশারের
আমি তঁাহাৰ ৰাৰ ঐ বাক্যাংশটি উদ্ধত করিয়াছিলাম। ইদানীং একাশিত
তাঁহার ঐ বক্তৃতায় ফটি এ খাবে আছে “From the high spiritual
flight of Vedantke Philosophy *** tho low ideas of
idclatry." 761 low' wm2, 'valgar Lowront of
কিরূপে বুঝাইতেন, জানিনা।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রাণ। পােটি স্ সাহেব নিকটে চিঠি দিয়া শােক পাঠাইয়াছিলাম, কিন্তু তিনি তাহা পাঠাইয়াছিলেন কি না ইত্যাদির খবর আর নেই নাই। সন্ন্যাসীর ‘ফ্রেঞ্চ নভেল পাঠের স্পাটা আমার কাছে তত ভাল ঠেকে নাই । আসামে স্বামী বিবেকানন্দের পরিভ্রমণতি আমাদের পক্ষ হইতে বিবৃত করা হইল। ঐ সম্বন্ধে তাহার নিজের স্মৃতিও এ স্কুলে আলােচনা- যােগ্য মনে করিতেছি। বেলুড় মঠে প্রত্যাবৃত হইয়া তিনি পূর্ববঙ্গ ও আসামের গল্প করিয়াছিলেন । * কামাখ্যায় তন্ত্রমন্ত্রের প্রাধান্ত উল্লেখ করি বলিলেন-“এক র’ দেবের নাম শুন তিনি ও অঞ্চলে অবতার বলে পূজিত হন। গুনম তার সম্প্রদায় খুব বিস্তৃত; ঐ ‘ঙ্কর দেব আর শঙ্করাচার্য্য একই লােক কিনা বুঝতে পারিলাম না । তবে লােক গুলিকে দেখিয়া বােধ হইল ত্যাগী-সম্ভবত তান্ত্রিক সন্ন্যাসী কিংবা শঙ্করাচার্যেরই সম্প্রদায়বিশেষ • যাহারা তসর, তারা এইটুকু পড়িয়া স্বামীজির গবেষণার এর দানে স্তম্ভত হইবেন, সন্দেহ নাই। আসামে বৈষ্ণবধর্মের প্রচারক মহাত্মা শঙ্কর দেবের নামটি ‘হঙ্কর দেব এই তুচ্ছভাবে উল্লেখ করা কতদূর সমীচীন, তাহাও বিবেচ্য। কোথায় কায় বৈষ্ণব গৃহস্থ শঙ্কৰদেব, আর কোথায় ৰাহ্মণ বৈদাতিক সন্ন্যাসী শঙ্করাচাৰ্য। জানি তিনি কার কাছে শঙ্করদেবের কথা শুনিয়াছিলেন, এবং কাহাদের দেখিয়া ত্যাগী বােধ করিয়াছিলেন। ফলতঃ ইহা বড়ই আশ্চর্ষের এবং আক্ষেপের বিষয় যে, ধৰ্ম্মপ্রচারক বলিয়া বিখ্যাত স্বামী বিবেকানন্দ আসাম অঞ্চলের এই বিখ্যাত ধর্মপ্রচারকের প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধানকয়ে যুত প্রমাণ বনু প্রীত 'বামী বিবেকানন্দ—৪র্থ খণ্ড ১২৪~- ২৫ পৃষ্ঠা।

তৃতীয় পরিবে। নেও এযত্ন করেন নাই; তাহা করিলে তিনি পানিতে পারি যে হাই সতীয় একজন মহাপুরুষ পাঁচ শত বৎসর পূর্বে এই কাপ অঞ্চলে কি এক এষ ধর্মাকোলন করিয়া গিয়াছেন। শ্রীচৈতন্য যেরূপ বঙ্গদেশে আপামর সাধারণের হিতার্থে হরিনাম সংকীর্তন প্রবর্তন করিয়া গিয়াছেন, তাকে আশ্রয় করিয়াই যেমন সাহিত্য পুষ্টিমান্ত করিয়াছে, এই মহাত্মাও তা কীর্তি রাখিয়া গিয়াছেন। জাতীয়েরাও আজ তাহার প্রদর্শিত পথে চলিয়া ধিৰ্ম্মের গণ্ডীর ভিতরে আসিতেছে—আসামীতা তারই বরচিত কীর্তন ভাওনা (নাটক) প্রভৃতির এর পরিপােষিত হইয়াছে। স্বামী বিবেকানন্দ সন্ধে সবিশেষ আলােচনা করিবার বাসনা মহিল। তৃতীয় পরিচ্ছেদ। স্বামী বিবেকানন্দ। স্বামী বিবেকানন্দ-সম্বন্ধে আলােচনায় বৃক্ষেপ করিয়া পূর্বে তাহার গুরু বামরুষ্ণ পরমহংসদেব সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ বলিব। রামকৃষ্ণ পরমহংসে জীবনচরিত পাঠ করিলে প্রীত হয় যে ইহার পূর্বজন্মের বহু তপস্যা সঞ্চিত ছিল। বাল্যাবধি ভগবদ্বিষয়ে তার টা প্রবল আকর্ষণ দেখা যায়। বিশেৰত চীনাং সুতাং গেছে যােগন্দ্ৰয়োহভিজায়তেপয় ধৰ্ম্মনিত পিতা, শুচিশীলা সাধ্বী মাতা, প্রাক্তন পুণাক্ষলেই লাভ করিয়াছিলেন। গৃহে দেবতা প্রতিষ্ঠিত ছিলেন-ক্তিসহকারে তদীয় পূজার্চা হইত। সাধু সন্ন্যাসীর একটা যাহাৱা শঙ্করদেবসন্ধে বিস্তারিত জানিতে সমুনুক, তাঁহারা বঙ্গদেশীয় কায়স্থ সভা হইতে প্রকাশিত এযুত উমেশচন্দ্র দেব-প্রণীত ‘শঙ্কর দেব’ এখানি পাঠ করিতে পারেন।

রাম বিৰেন এস। মাও-গয় বাড়ীর নিকটে জনৈক ভক্ত গৃহস্থের অতিথিশালায় ছিল—তিনি ঐ স্থানে গিয়া সতত সাধুসঙ্গ করিতেন। লেখা পড়া না শিখিলেও শরণশক্তি দেখা যায় বেশ ছিল-সাধুদের মুখে যে সকল ও যাত্রা ইত্যাদিতে যে সব গান শুনিয়াছেন, তত্তাবৎ যথেষ্ট মনে রাখিয়াছিলেন । তারপর ভাগ্যক্রমে তার সঙ্গে কালীমন্দিরের সেবার সহকারী হইলেন। প্রাণটি প্রাক্তন কৃতিবশতঃ সয়ল ছিল লেখাপড়ার—বিশেষতঃ এ যুগের পাশ্চাতগন্ধি শিক্ষার দ্বারা চিত্ততি বিকৃত হয় নাই। আনমনা হইয়া জগদম্বার অচর্চনা করিতে পারিয়াছিলেন। ফল শীঘ্রই ফলি-ভগবৎসাক্ষাৎকারের জয় ব্যাকুলতা আসিল। ভগবানে চিত্তের প্রগাঢ় অভিনিবেশ হইলে যাহা হয়, আমরা চরিত্রে দেখিতে পাই। এখানেও সাধনপথের প্রদর্শক গুরু, উত্তরসাধক ‘তোতাপুরী’ ব্রাহ্মণ’–ইত্যাদি ধুটিতে লাগিলেন সাধনার সনাতনপদ্ধতিতে কাজ করিয়া তিনি আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করিলেন, তাহাতে সনাতন ধর্ম- সাধনের উপারলর বাথার্থ্য প্রমাণিত হইল। যখন সাকামোপাসনা ও সনাতন সাধনপথ অসার বলিয়া খৃষ্টান ও ব্রাহ্মসম্প্রদায় হিন্দু সমাজের উপর আঘাত করিতেছিলেন, তখন এই রামকৃষ্ণ পরমহংসের অ্যুদয় সমাজের কল্যাণর্থেই ঘটিয়াছিল। তাঁহার অহর্নিশ অনচিত্র হইয়া শ্রীজগদার পাদপয়ে মনােনিবেশ, ভগবষিয়িণী কথা ভিন্ন এ প্রসঙ্গে পরাগতা, কামিনী ও কাঞ্চনে অনাসক্তি, বালকের ন্যায় রামকৃষ্ণ। ••• আমি মূৰ্বোত্তম। তা হলে আপনার থেকে বাে বেদা-তা ছাড়া আরাে কত কি-বেয়ােয় কেন? রামকৃষ্ণ। (সহীতে) কিন্তু ছেলে লাহাদের ওখানে (কামার পুকুরে) সাধুরা যা পড়লে বুঝতে পারতাম । শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত ৪ ভাগ—৯২ পৃষ্ঠা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। সরলতা, হতাদি অনন্যসাধারণ অবস্থা দেখিয়া হিন্দুর ত কথাই নাই, যারা সনাতনপথ পরিত্যাগ করিয়াছিলেন, তাঁহারাও বিমুগ্ধ হইয়া গেলেন-অনেকে পুনশ্চ এ পথে ফিরিয়া আসিলেন। রাণী রাসমণির কালীবাড়ীতে নানা সাধু সন্ন্যাসী জ্ঞানের সমাগম হইত ; তাহাদের কাছ হইতেও নানাত তিন ভাত হতেন। এইরূপ বাঝে ও সাধনাবস্থায় সাধুসঙ্গ ৫ গুরু ও উত্তর সাধকের নিকট হইতে তিনি অধ্যায় জ্ঞান আহরণপূর্বক নিজের সাধনল অভিজ্ঞতাদ্বারা ঐগুলি আয় করিয়া সরল ভাষায় যে সকল উপদেশ দিতেন, তাহা অতি অমূল্য জিনস-এ সকল রাও হিন্দুসাধারণের আতশয় উপকার সাধিত হইয়াছে। তাহার কাছে আসিয়া যাহারা উপকৃত হইয়াছেন, তন্মধ্যে এমনও দু’একজন ছিলেন, যাহারা ঈদৃশ অপর কোন সাধু মাত্মা দেখেন নাই বলিয়াই বােধ হয় তাহাকে অবতার বলিয়া থাপিত করিতে লাগিলেন। রামচন্দ্র দত্ত মহাশয় তন্মধ্যে প্রধান ছিলেন। পরমহংসের অনিষ্ট সাধিত হল । বালকের তার সব পরম অনবরত এই অবতার* ভাবে সংক্তিত হইয়া পরিশেষে নিজেকে যেন তাহাই মনে করিতেন—শেষ অবস্থার যে সকল কথােপকথন একথামৃত প্রভূতিতে লিপিবদ্ধ রহিয়াছে, তাহা হইতে ( ভক্তের অত্যুক্তিবাদ বর্জন করিলেও) আমরা যেন হাই দেখিতে পাই। এগদায় একা নির্ভরশীল ভক্ত ও সাধক রামকৃষ্ণদেব বার বছর আন্দাজ অতি কঠোর গুণ যারা স্বাহা সঞ্চয় করিয়াছিলেন, তাহা এই অবতার” সাজাতে কত কয়িত হইতে লাগিল—পরিশেষে তিনি দুশিকি বাধিগ্রস্ত হইয়া সংবৎসরকাল অসহ যন্ত্রণা ভােগ করিয়া দেহত্যাগ করিলেন । কেবল যে তাহার নিজের অনিষ্ট হইল এমন নহে, তাহা সাধনার জীবন যে সদৃষ্টান্ত সমাজের সমক্ষে উপস্থাপিত করিয়াছিল-শেষে, কতকটা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ, প্রসঙ্গ। ‘ অর’ বলিয়াই হউক, বা পীড়ান্ত বলিয়াই হউক, তিনি তাহার পূর্বজীবনের সেই আদর্শানুযায়ী জীবন যাপন করিতে পারেন নাই-ইহাতে সন্ন্যাস বা অবধূত আশ্রমের সমুন্নত ভাবে কিছুটা খর্ব হইল; তাহাতে সমাজেরও কিঞ্চিৎ আনষ্ট হইল। তবে এটা বরং অতি সামান্য, কিন্তু এই অবতারবাদের যারা প্রােৎসাহিত হইয়া কতস্থানে যে কত ‘অবতার দেখা দিতে লাগিলেন এবং কত উদ্ভট আচরণ ও উপদেশ বার যে সমাজের কি পর্যন্ত অনিষ্ট করতে প্রবৃত্ত হইলেন,, তাহা যাহারা পূর্ব- বঙ্গের কোনও অবতার বিশেষের কথা সাবশেষ অবগত আছেন, তাহাদের অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম হইবে। পরন্তু পরমহংস রামকৃষ্ণের অবতারবাদটা প্রথমতঃ তেমন জমাট বাধে নাহ। ভক্ত-রামচত্র জীবনচরিত অথবা অক্ষয়কুমার সেন- রচিত কাব্যে অবতারবাদের কথা থাকলেও সাধারণ ঐ কথা শিষ্যর গুতি শাৰ মনেকরিয়াছিল। এই অবতারবাদের অবতারণা দেখিয়াই বােধ হয়, রামচন্দ্রদ-কত জীবনচরিতখানি পরিব্রাজক শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন ছাপাহৰার জন্য নিয়াও তাহা প্রকাশিত করিতে নিরস্ত হন। কিন্তু যখন স্বামী বিবেকানন্দ চিকাগাে ধৰ্ম্ম-সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়া ঠাৎ লােকসমক্ষে মধ্যাহ্ন মাৰ্ত্ততের ন্যায় দীপ্যমান হয়। প্রকাশিত হইয়া পড়িলেন, তখন রামকৃষ্ণ-ভক্তগণ অবাধে মনের সাথে তার মহিমা কীর্তন আরম্ভ করিয়া দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে বিবেকানন্দ সম্বন্ধেও তখন নানা কাহিনী প্রচারিত হইতে লাগিল। এতক্ষণে আমরা আমাদের প্রবন্ধের নায়কের নিকটে উপস্থিত ইলাম। স্বামী বিবেকানন্দ একজন অতি বড় লােক। # যথা, স্ত্রীর সেবা গ্রহণ * * আমার মাগ ( ভক্তদের মা) পায় হাত বুলায়ে ঐশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত-৪র্থ ভাগ ৯০ পৃষ্ঠা।

তৃতীয় পরিচ্ছে। হইলেও যখন আমরা তাঁহার প্রথম বার্তা পাইলাম-চিকাগাের - মহাসতাম তাহার বক্তৃতা পাঠ করিলাম-তখনই বুঝিলাম, এ ব্যক্তি যে-সে কি নহেন। অদম্য সাহস, দৃঢ় অধ্যবসায়, ইংরেজী ভাষায় অসামান্য অধিকার, জগতের ধর্মমতগুলিতে অভিজ্ঞতা, বিশিষ্ট বাগ্মিতা, ইত্যাদি এই একই ব্যাপারে সূচিত হইয়া পড়িল। বিশাল চীন সাম্রাজ্যকে পরাভূত করিয়া ক্ষুদ্র জাপান যেমন সহসা আমাদের নিকটে এক পরাক্রান্ত রাজ্য বলিয়া প্রতিভাত হইয়াছিল—বিবেকানও-ষে পাশ্চাত্য ভূভাগ হইতে মিশনায়ীরা আসিয়া এদেশের সনাতন ধৰ্ম্মের নিন্দাষাদপূৰ্ব্বক খ্রীষ্ট ধর্মের সুসমাচার প্রচার করিতেছিলেন—সেই পাশ্চাত্য দেশে গিয়া সমস্ত সভ্যজগতের নানা ধর্মাবলম্বীর সবেত ধৰ্ম্মমহাসভার বক্তৃতা मिया বিজয়মাল্য বিভূষিত হইয়া আমাদের নিকটে এক অতি মহান পুরুষসিংহ- রূপে আবির্ভূত হইলেন। সমগ্র ভারতে তাহার জয়ধ্বনি হইতে লাগিল— নানাদিদেশ হইতে সঁহার নিকটে অভিনন্দনপত্র প্রেমিত হইল। তারপর জাপান যেমন কৃষিয়াকে পরাভূত করিয়া সমধিক গৌরবান্বিত হইল— বিবেকানন্দও যখন আমেরিকা ও ইংলণ্ডে বেদাধর্ম প্রচার—তথা অনেক খোকায় নরনারীর গুরুরূপে পূজা লাভ-করিয়া বরেণ্য হইলেন তখন এ দেশের লােক তাহাকে সমধিক আদরের চকে নিরীক্ষণ করিতে লাগিল। তিনি দেশে প্রত্যাবৃত্ত হইয়া ভারতবর্ষের যে যে স্থানে উপস্থিত হইলেন, সর্বত্রই রাজােচিত অভ্যর্থনা লাভে আপ্যায়িত হলেন। জাপানের গৌরবে যেমন সমগ্র এশিয়া গৌরব বােধ করিয়াছে বিবেকানন্দের বিয়লাতে তেমনি ভারতবর্ষের বিশেষত যাদেশের সমুদয় হিন্দু গৌরবানুভব করিয়াছে। ভারপর জাপান সম্বন্ধে যাহা, বিবেকানন্দসম্বন্ধেও তাহাই—তঃ সনাতনধর্মাবসীর কাছে—ঘটি মাছে। জাপানের গৌরবে আমরা যতই স্ফীতলক্ষা হই না কেন—এখৰ দেখা গেল এটা এক পাশ্চাত্যের একান্ত অনুকরণে গঠিত-প্রাচ্য রামক বিবেকানন্দ প্রস। আধ্যাত্মিকতা-বিজি-চাকচিক্যময় সভ্য', পরিণামে যে কি হইবে, তাই গবানই জানেন; জাপানীরা আপনাদের স্বার্থষত্র যোজনা বুঝে—এশিয়াবাসী উঠিয়া দাঁড়াক, এমন কল্পনা আপাততঃ উদের মধ্যে মােটে দেখা যাইতেছে না। এই যুদ্ধের সময় যে সকল মাল জাপান ভারতবর্ষে চালাইয়াছে তাহাতেই এরা কতদূর প্রবঞ্চক দেখা গিয়াছে এবং এই সকল দেখিয়া শুনিয়া আমরা হতাশ হইয়াছি। পােজল ময়ূখমণ্ডিত মার্তণ্ডর বিয়ে আপাতদৃষ্টিতে রশ্মিচ্ছটা ব্যতিরেকে অপর দুই পরিদৃষ্ট হয় ন'পরন্তু কোনও ক্রমে বিণমালা পত হইলে যেমন তাহাতে উৎপাতসূচক ভীষণ কৃষ্ণবরক্তি লক্ষিত হ—সেইরূপ স্বামী বিবেকানন্দ মন পাশ্চাত্য শ্বজয় করিয়; ভারতে প্রত্যাবৃত্ত হলেন, ক্রমশঃ যখন তাহা হইতে বিজয় অবরণ সরিয়া হতে লাগিল, তাঁকে আমাদের মধ্যে দেখতে পারলাম, এখন তাহার ভিতরকার ভাব আমরা অনেকটা ধরতে পালাম, বুঝলাম সনাতন বর্ণাশ্রম ধর্মের উপর লড়াঘাতই যেন ইহার প্রচ্ছন্ন অভিপ্রায়। কথাটা ক্রমশঃ পরিষ্কার করিবার চেষ্টা করিব প্রথমতঃ ধরা বা ছক, বিবেকা- নয়ে সন্ন্যাসগ্রহণ। * অর্থাৎ তিনি যে নামে নিজেকে জগদ্বিখ্যাত # প্রসঙ্গতঃ একদিন স্বর্গীয় স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ীতে স্বামী বিবেকানন্দ সন্ধে আলাপ হয়-- বৈশাখ ১৩২৩; হাওড়ার শঙ্কর মঠের যুক্ত পরমানন্দপুরী মহারাজও সেখানে ছিলেন)। স্যার গুরুদাস বলিয়াছেন, যে যখন বিবেকানন্দ আমেরিকা হইতে প্রত্যাবৃত্ত হইয়া কলিকাতায় আসেন, তখন কেহ কেহ [ স্যার গুরুদাস নাম বলিয়াছিলেন—কিন্তু তাই খুব স্পষ্টরূপে মনে না থাকায় উল্লেখ করিলাম না] আসিয়া তাহাকে বিবেকানন্দের অভিনন্দন সভায় সভাপতিত্বের জন্য অনুরােধ করেন। তিনি তখন বলিয়াছিলেন “আপনারা যদি স্বামী বিবেকানন্দ' না বলিয়া নরেন্দ্রনাথ দত্ত' বলিয়া তাহাকে অভিনন্দন দেন, তা হলে আমি সভাপতি হইতে পারি।” যাহারা আসিয়াছিলেন, তাহারা তাব গতিক বুঝিয়া সৰিয়া পড়েন। অতএব দেখা যাইতেছে যে, যাঁহারা সতর্ক সাবধান—তাহারা পূর্বাবধিই বিবেকানন্দের পরিচয় পাইয়াছিলেন। + এই নাম সম্বন্ধেও বেশ বৃহৎ আছে। যুক্ত প্রমথনাথ বসু এম-ও, বি-এল, প্রণীত “স্বামী বিবেকানন্দ” (২ খসর্বশেষ পৃষ্ঠায়) আছে—“হাৰ তৃতীয় পরিচ্ছেদ। A করিয়াছেন-সেই নামেয় তিনি কতটা এধিকারী। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস হইতে সন্ন্যাসে দীক্ষালাভ করেন। সেই স্বীকার ইতিহাসটুকু *এই সময়ে একদিন রামকৃষ্ণদেব নরেন্দ্রাদি কয়েকজন যুবক ভক্তকে নিকটে ডাকাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহারা ভিক্ষাপাত্র হস্তে লইয়া গায়ে মারে ভিক্ষা করিতে প্রস্তত আছেন কি না? তাহার। তাহার বাক্যে অতিশয় উৎসাহ প্রকাশ করিয়া তৎক্ষণাৎ পল্লীমধ্যে ভিক্ষায় বহির্গত হইলেন এবং ভিক্ষালব্ধ অর স্বহস্তে পাক করিয়া তাহাকে নিবেদন করিলেন । তিনি এতদ্দর্শনে বুঝিলেন—তাহারা প্রকৃতই বৈরাগ্যবান্ ও নিরহঙ্কার, এবং অতিশয় হৃষ্ট হইয়া তাহাদিগকে স্বহস্তে গেরুয়া প্রদান ও সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত করিলেন। (যুক্ত প্রমথনাথ বসু-কৃত স্বামী বিবেকানন্দ” ১ম খণ্ড ১৩৯ পৃঃ) ‘এই সময়ে অর্থাৎ মৃত্যুৰ অল্প দিন পূর্বে যখন পরমহংস ক্যান্সার রােগে পীড়িত হইয়া কাশীপুর বাগানে অবস্থিত । তিনি তখন ‘অবতার। সুতরাং তাহার কাৰ্য্যের উপর কার কি বলিবার সাধ্য। পরন্তু পূর্বেই বলিয়াছি, আমরা 'অবতারত্বে’ আস্থাবান নহি-অপিচ ঈদৃশ উদ্ভট অনুষ্ঠান বা সমাজের অনিষ্ট সংসাধিত হইয়াছে। বিবেকানন্দ কায়- সন্তান ; কায়স্থেরা শূদ্র-সং’; ইদানীং ক্ষয়িত্বের দাবিদায়- যে বিবেকানন্দ নাম হইয়াছিল, তাহা তঁাহার গুরুভাইয়েরা কেহ জানিতেন —কারণ স্বামীজি আমেরিকা যাত্রায় অব্যবহিত পূর্বে এই নাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইহঃপূর্বে তিনি পরিচিত লােকদের হাত এড়াইবার জঙ্গ অনেকবার নিজনাম পরিবত্তন করিয়াছিলেন। কখনও নিজকে ‘বিবিদিষানন্দ কখনও সচ্চিদানন্দ’ কখনও বা অন্য কিছু বলিয়া পরিচয় দিতেন। অবশেষে খেতড়ীর বাজার একান্ত অনুৰােধে ‘বিবেকানন্দ নামই বজায় রাখিয়াছিলেন।” ইহাহাৱা যেন বােধ হয় “বিবেকানন্দ’ এই নাম রামকৃষ্ণপ্রদত্ত নহে। অপিচ ইহা হইতে বিবেকানন্দের প্রকৃতিও অনেকটা পৰিচয় পাওয়া যায়।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। কিন্তু সেই দাবি কতটা বিচারসহ বলিতে পারি না। বিবেকানন্দের অ্যুদয়ের পরেই উপনয়নের বাড়াবাড়ি হইয়াছে—কিন্তু স্বধক্ষে প্রকৃত আস্থাবান অতি কম কায়স্থই ঐ দলভুক্ত হইয়াছেন। । সে যাহা হউক, উপনয়নাদি সংস্কার নাই, ব্রহ্মচৰ্যাদি আশ্রম নাই, তথাপি সন্ন্যাস ধৰ্ম্মে দীক্ষিত হইয়া গেলেন! ‘অধিকারী’ ‘অনধিকার’ বিচার, সন্ন্যাস ’ দীক্ষায় শাশ্নানুযায়ী পদ্ধতি ইত্যাদির কথা নাই তুলিলাম। রামকৃষ্ণ একদিন ভিক্ষাটা দেখিয়াই ‘বৈরাগ্যবান’ ‘নিরহঙ্কার’ স্থির করিয়া ফলিলেন। কিন্তু তিনি তো স্বয়ং নিজনাম রামকৃষ্ণ পরিত্যাগ করেন নাই—কেন না ইহাতে ‘অভিমান হয়। ( রামচন্দ্র দত্তকৃত পরমহংসদেবের জীবন বৃত্তান্ত-৩য় সংস্করণ ৬২ পৃঃ দ্রষ্টব্য)। কিন্তু বিবেকানন্দ, স্বামীজি’ সাজিয়া গেরুয়া পরিয়া রাজরাজড়ার মাথায় পা দেওয়া তো অল্প কথা, ব্রাহ্মণকে পর্যন্ত শিষ্য করিয়া, তাহার দ্বারা পদসেবা করাইয়াছেন । ( দৃষ্টান্ত স্বামিশিষ্য সংবাদ প্রণেতা )। # সিষ্টার নিবেদিত লিখিত স্বামীজির সহিত ভমণকাহিনীতে আছে : e & “বর্তমান বাঙ্গালী কায়স্থেরা যে প্রাক মৌৰ্য ক্ষত্রিয়জাতির বংশধর, এ সম্বন্ধে তাঁহার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল।” ( স্বামী বিবেকানন্দ ৮৩৭ পৃঃ) অপিচ কোন মিত্র- গৃহিণী গীয় পত্রে ‘দাসী’ লেখায় আপত্তি করিয়া তিনি তাঁহাকে ক্ষত্রিয়া বলিয়া ‘দেবী’ লিখিতে উপদেশ করিয়াছিলেন। স্বামীজির পত্রাবলী ১ম ভাগ পৃষ্ঠা।) + মণিপুরী, কাছাড়ী, কোচ, তিপ বা প্রভৃতি অনেক শ্রাতিই “উপবীত- ধারী” ক্ষত্রিয় সাজিয়াছে—ইহাতে ক্ষত্রিয়ত্ব’ থাপনপুৰ্ব্বক উপবীত গ্রহণ তেমন গৌরবজনকও বহে নাই। বুদ্ধিমান্ কায়স্থগণ অবশ্যই এইটুকু বুঝিয়াছেন। ও এই বিষয়ে তিনি তাঁহার কোনও ভক্ত আমেৰিকান স্ত্রীলােককে লিখিয়াছেন—আর প্রিয়ম-এই পা দুখানা বােধ হয় শখানেক রাজবংশীয় ব্যক্তি কর্তৃক থােয়ান মুছান হইয়াছে ও পূজা পাইয়াছে” (স্বামী বিবেকানন্দ চতুর্থ ভাগ ৭৪৩ পৃষ্ঠা)। “একদা আহারাদির পর শরৎবাবু (শিষ্য চক্রবর্তী। জাহার ( গুৰু স্বামীজির পদসেবা করিতেছিলেন।” & ৯•• পৃষ্ঠা [ ভবিষ্যতে এই ‘স্বামী বিবেকানন্দ গ্রন্থ ‘বি’ অক্ষর দ্বারা সূচিত হইবে । ] তৃতীয় পরিচ্ছেদ। তারপর জাতিভেদটা যে একটা কাল্প নক, এটা কেবল মুখেই বলিয়াছেন, তাহা নহে, যদৃচ্ছক্ৰমে যাকে তাকে উপনয়ন প্রদানপূর্বক ‘দ্বিজ বানাইয়াছেন। নীলাম্বর বাবুর বাগানে শিশুরা অনেকগুলি পৈতার যােগাড় করিয়া বলিলেন—" • • আজ ঠাকুরের (অর্থাৎ রামকৃষ্ণ পরমহংসের) জন্ম দিন। যে সব ভক্ত আজ এখানে আসবে, তাদের সকলকেই আজ পৈতে পরিয়ে দিতে হবে। দ্বিজাতি মাত্রেরই উপনয়ন- সংস্কারের অধিকার আছে। বেদ স্বয়ং তার প্রমাণস্থল। এরা সব ব্রাত্য অর্থাৎ পতিত-সংস্কার হয়ে গেছে বটে, কিন্তু শাস্ত্রে বলে, ব্রাত্য প্রায়শ্চিত্ত করিলেই আবার উপনয়ন সংস্কারের অধিকারী হয়। আজ ঠাকুরের শুভ জন্মতিথি—সকলেই তার নাম নিয়ে শুদ্ধ হবে। তারপর এ ভাবে পতা পরা হইলে, বলিলেন-“কালে দেশের সকলকেই ব্রাহ্মণপদবীতে উঠিয়ে নিতে হবে; ঠাকুরের ভক্তদের তাে কথাই নাই। হিনুমাত্রেই পরস্পর পরস্পরের ভাই * ইত্যাদি (বিঃ ৮০৪–৫ পৃষ্ঠা) আর ব্রাহ্মণদের প্রতি স্বামীজির কি অগাধ প্রেম! তাহার অভিধানে ৰাহ্মণ শব্দ দুষ্ট পুরুত দ্বারা অভিহিত। স্বামীজি এই ‘ষ্ট পুরুত’দের সম্বন্ধে বলিতেছেন “এস মানুষ হও। প্রথমে ‘দুষ্টপুরুত’গুলােকে দূর করে দাও। কারণ এই মস্তিষ্কহীন লােকগুলো কথন ভাল কথা শুনবে —তাদের হৃদয় শূন্যময়, তারও কথন প্রসার হবে না। শত শত শতাব্দীর কুসংস্কার ও অত্যাচারের মধ্যে, তাদের জন্ম ; আগে তাদের নির্য ল কর । এস মানুষ হও” মাত্ৰাজী বন্ধুদের নিকটে লিখিত ইংরেজী পত্রের বাঙ্গালা অনুবাদ (পত্রাবলী নং ৩-প্রথম ভাগ ১৬ পৃষ্ঠা) * বিবেকানন্দে এই ব্রাহ্মণদেব তদীয় অনুচরদির হৃদয়ে কিরুপ ক্রিয়। করিতেছে, তাহার উদাহরণ দিতেছি। উপাসনা” পত্রিকায় এম “" , ব্রাহ্মণ” নামক কবি। এ ভাবে আর করিয়াছেন—(১৩২৫ চৈত্র) “ম৪ে * ব্রাহ্মণ তােদ' শেi - পূ• :: । শেষ জলোচ্ছাস?” তপ; ; : দিকে যাছে- রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ AN “দুষ্ট পুরুতগুলাের সমাজের প্রত্যেক খুটিনাটি বিষয়ে অত গায়ে পড়ে বিধান দেবার কি দরকার ছিল? তাতেই তাে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। ঐ নং (৮) মাদ্ৰাজী শিষের নিকট লিখিত ইংরেজী পত্রের অনুবাদ—৪৯ পৃষ্ঠা। “আর পুরােহিতের দলকে এমন ধাক্কা দিতে হইবে যে, তাহার। যেন ঘুরপাক খাইতে খাইতে একেবারে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়া পড়ে—ব্রাহ্মণই হউন, সন্ন্যাসীই হউন, আর যিনিই হউন। পৌরো- হিত্য, সামাজিক অত্যাচার একবিন্দুও যাহাতে না থাকে, তাহা করিতে হইবে।” ইত্যাদি মান্দ্রাজীদের প্রতি। ঐ নং ১১-৬৪ পৃঃ। অলমতিবিরেণ। এই গেল ব্রাহ্মণের প্রতি পেটের ভাব। ত্রিয়ের প্রতি ভাব অন্যরূপ, বােধ হয় তাহার ‘স্বজাতি বলিয়া! পূর্বোক্তত ৮নং পত্রেই পদাঘাত বাক্যালা আজ তাের কিরীটের কনকভূষণ।” ইত্যাদি; এই ‘পদাঘাত ও বাক্যজালা'র প্রমাণার্থেই বােধ হয় “ঐ পৱেই ( ১৩২ ৭-মাধ- সংখ্যায় দুঃখের দায়ে ইতিশীর্ষক একটা গল্পে) নিরীহ ব্রাহ্মণ পােষ্টমাষ্টারের উপর পােষ্ট সুপারিন্টেন্ডেন্ট সাহেব দ্বারা পদাঘাত' দেওয়াইয়া বলান হইয়াছে “এই তােমার উপযুক্ত শাস্তি।” [ এই উপাসনার সম্পাদক একজন ব্রাহ্মণ এবং স্বত্বাধিকারী একজন অতি নিষ্ঠাবান দেবজিসেবী ভক্ত বৈষ্ণব!] * আমি ‘পেটের ভা” এজন্য বলিলাম যে, এই সকল উক্তি চিঠির মধ্যে লিখিত কথা বিবেকানন্দ তাে ভাবেন নাই যে, এলি প্রকাশিত হইয়া “গুমর ফাক করিবে। প্রকাশ্যভাবে ব্রাহ্মণের প্রতি অনুগ্রহের ভাবও আছে- মাত্ৰাজেই কোন এক সভায় বক্তৃবিশেষ অন্যান্য জাতি অপেক্ষা বিশেষভাবে ব্রাহ্মণ জাতিকে শিক্ষাদান প্রথার দোষ প্রদর্শন করিলে স্বামীজি বলেন- “এই প্রথার ভাল মন্দ দু’দিকই আছে। ব্রাহ্মণগণ হিন্দুজাতির সমুদয় জ্ঞান ও চিন্তা সম্পত্তির অক্ষরূপ। যদি তাহাদিগকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়া অন্নের সংস্থান করিতে হয়, তবে তাঁহাদের জ্ঞানচর্চার বিশেষ ব্যাঘাত ঘটিৰে ও সমগ্র হিন্দুজাতি ক্ষতিগ্রস্ত হইবেন। বিঃ ৬৭৩ পৃষ্ঠা। অপিচ, পঞ্জাব প্রভৃতি অঞ্চলে স্বামীজি যে সব উপদেশ দিয়াছিলেন, তাহাতে আন্তর্জাতিক তৃতীয় পরিচ্ছেদ। আছে- • ত্রিয়ের মাংসই খা, আর নাই থাক, তারাই হিন্দুধৰ্ম্মের ভিতর যাহা কিছু মহৎ ও সুন্দর জিনিস দেতে পাচ্ছ, তার জন্মদাতা। উপনিষ লিখেছিল কারা? রাম কি ছিলেন ? কৃষ্ণ কি ছিলেন। বুদ্ধ কি ছিলেন ? জৈনদের তীর্থঙ্করেরা কি ছিলেন ? যখনই ক্ষত্রিয়ের ধর্ম উপদেশ দিয়াছেন, তারা জাতিনির্বিশেষে সব্বাইকে ধর্মের অধিকার দিয়েছেন আর যখনি ব্রাহ্মণেরা কিছু লিখিয়াছেন, তারা অপরকে সকল রকম অধিকার থেকে বঞ্চিত কবুবেন এই ভাব তাদের দেখা যায়। আহম্মক, গীতা আর ব্যাস পড় অথবা আর কাকু ঠেঞে শুনে নাও। গীতার মুক্তির রাস্তায় সকল নরনারী সকল জাতি, সকল বর্ণের অধিকার দিয়াছেন, আর ব্যাস গরীব শূদ্রদের বঞ্চিত করবার জন্য বেদের কপােলঞ্জিতঅর্থ করছেন।” (পত্রাবলী ১ম ভাগ নং ৪০ পৃষ্ঠা) আবার সিষ্টার নিবেদিতা-প্রীত স্বামীজির সহিত ভ্রমণকাহিনীতে আছে, তিনি “ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের দ্বন্দ্বের বিষয় আলােচনা করিয়া দেখাইতেন, ভারতের ইতিহাস কেবলমাত্র এই দুই জাতির সংঘর্ষের দৃশ্য, আর বলিতেন, ক্ষত্রিয়েরাই বারবার এদেশের লােকের আল মােচনের চেষ্টা করিয়া আসিয়াছে। * ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়কে তিনি দুইটি বিভিন্ন সত্যতর স্রোত বলিয়া চিৰিত করিতেন—একটি চিরচলিত রীতি পদ্ধতি ও প্রাচীন আদশের গভীর খাতে ধীর গপণ, গতিতে প্রবাহিত । অপরটি ভাবােচ্ছ সে উদ্বেলিত বিশ্বব্যাপী উদারদৃষ্টি লইয়া যুগযুগান্তরের বিবাহ প্রথার প্রচলন দ্বারা জাতিভেদের উচ্ছেদসাধন প্রধান কর হইলেও “তিনি ব্রাহ্মণাদি উচ্চ বর্ণের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা তাহাদের নিন্দা গ্লানি প্রচার করিতে নিষেধ করিতেন; কারণ তারাই এই বিদ্যাকে (অর্থাং সংস্কৃত বিদ্যাকে রক্ষা করিয়াছেন এবং তাঁহাদের সাহায্য ব্যতীত এক্ষণে ভারতের কুত্রাপি সংস্কৃত বিদ্যার অস্তিত্ব থাকিত না।” বিঃ ৭৯৭-৮ পৃষ্ঠা। তবে ইহাও বক্তব্য যে, বিবেকানন্দের মতের স্থিরতা খুব কমই ছিল। ঈদৃশ অসামঞ্জস্য পশ্চাৎ ভূরিশ প্রদর্শিত হইবে।

৩৮ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। লৌহনিগড় গুপ্ত করিতে উদ্যত এবং সামাজিক বিধানের প্রস্তর পকে অপত করিয়া তাহার স্থলে নূতন ভাব প্রতিষ্ঠিত করিতে সমুৎসুক। তিনি বলিতেন—এটি একটি ঐতিহাসিক অভিব্যক্তির সুস্পষ্ট ধারা যে রাম, কৃষ্ণ বা বুদ্ধ সকলেই ক্ষত্রিয়বংশে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন, কেহই ব্রাহ্মণবশে জন্মগ্রহণ করেন নাই, আর ব্রাহ্মণের অসম্ভবকে সম্ভব করিবার জন্য ব্রাহ্মণদের প্রবল প্রতাপের প্রত্যুত্তর প্রদানের জন্যই জাত্যভিমান চূর্ণ করিবার বিরাট মুদগাহন্তে ‘ক্ষত্রিয়দিগের উদ্ভাবিত বৌদ্ধর্মের অ্যুদয়। বিঃ ৮৩৭-৩৮ পৃষ্ঠা। বিবেকানন্দের এই সকল উকি তব পাঠক হয়ত বিবেকান্ধ মূঢ়তা” মনে করিয়া হাসিয়া উড়াইয়া দেওয়াই যথেষ্ট মনে করিতে পারেন। কিন্তু আমি এতদুপলক্ষে দু’চারটি কথা আলােচনাচ্ছলে না বলিয়া পারি না-ইনি লােকচকে কিরূপ ধূলি প্ৰক্ষেপ করিয়া গিয়াছেন, তাহা কতকটা দেখান সঙ্গত মনে করিতেছি। হিন্দুধর্শ্বে যা কিছু মহৎ ও সুন্দর-তন্মধ্যে বুকে এবং জৈনদের তীর্থরদিগকে আনিয়াছেন; এরা কি এরুপক্ষে হিন্দু’? এরা তো ‘বেদ’ না মানাতেই হিন্দু অর্থাৎ সনাতন ধর্মের বহিভূত। ব্রাহ্মণদের প্রভাবের উপর মুদগরাঘাত করিবার জন্যই যখন বৌদ্ধধর্মের অভ্যুদয়, তখন স্বামীজির মতে বুক অবশ্যই হিন্দুধৰ্ম্মের ‘মহৎ ও সুন্দর’রূপে পরিগণিত হইবেনই! কিন্তু এই বৌদ্ধধর্মের অভ্যুদয়ে যে ভারতের অধঃপতন—এটাও স্বামীজিই বলিয়াছেন- * “বৌদ্ধ ধর্মের অভুদয় বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এদেশে মাংস ভােজনের প্রথ। ক্রমণ হ্রাস প্রাপ্ত হইয়াছে নার এটাও ঠিক্ যে আমিষ- ; অথচ স্বামীতি প্যারিস নগরীতে এক বক্তৃতায় বলিয়াছিলেন-- “বেদই হিন্দু ধর্ম বৌদ্ধধর্ম ও ভারতীয় সকল ধর্মেরই ভিত্তিভূমি!” ( বিঃ ৯৬ পৃষ্ঠা।)

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। ভােলন প্রধার অনাদর হওয়াতেই এদেশের লােকের শক্তি সামর্থ্য এত হীন ও জাতীর অবনতি এত গুরুতর হইয়া পড়িয়াছে।” ইত্যাদি (বিঃ ৩৩২ পৃ) * উপনিষদ্ লিখিয়াছিল কাহার ? এই প্রশ্নের সঙ্গে যে সকল ব্যাপার জড়িত হইয়া পড়ে (যথা বেদের অপৌরুষেয়তা) ইত্যাদি তাহা না-ই ধরিলাম। কিন্তু তিনি যে মনে করিতেছেন—এটা ক্ষত্রিয়দেরই প্রচারিত বিদ্যা—এ বিষয়েরই আলোচনা করিব। কোনও কোনও আধ্যাত্মিকতত্ত্ব ক্ষত্রিয়ের নিকট হইতে ব্রাহ্মণ শিক্ষা করিয়াছেন—এরুপ কাহিনী উপনিষদে আছে। পরন্তু তদ্বিষয়ে মহামহােপাধ্যায় চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার তাহার বেদান্ত লেচারে’ কি বলিয়াছেন, দেখা যাউক। পঞ্চাশ দেশের রাজা প্রবাহর নিকট হইতে কিরূপে অরুণির পুত্র শেতকেও পঞ্চায়ি বিদ্যা শিক্ষা করিয়াছিলেন, সেই গল্পটি বিবৃত করিয়া পূজ্যপাদ তর্কালঙ্কার মহােদয় বলেন, “বৈদিক আখ্যায়িকার কিন্তু যাথার্থ্য নাই । অভিপ্রেত বিষয়ের উৎকর্ষখ্যাপনের জন্য আখ্যায়িকাগুলি পরিকল্পিত হইয়াছে। প্রস্তাবিত আখ্যায়িকার যাথার্থ্য বীকার করিলেও কেবল পঞ্চাগ্নি বিদ্যা ব্রাহ্মণেরা বিয়ের নিকট শিক্ষা করিয়াছিলেন, উক্ত আধ্যাত্মিক বা এই মাত্র প্রতিপন্ন হইতে পারে। কেননা ঐ প্রশ্নাবলী ও তাহার উত্তরে (রাজা প্রবাহ কতৃক) পাখি বিদ্যই বিবৃত হইয়াছে। পাপ্পি বিদ্যা কিন্তু প্রকৃত ব্ৰহ্মবিদ্যা নহে। এত বিস্তা ব্রাহ্মণেরা জানিতেন এবং উপদেশ করিতেন। ভূরি ভূরি আখ্যায়িকাতে ইহা পরিব্যক্ত রহিয়াছে, বহলাভয়ে তৎসমস্ত উত হইল না।” * আমরা স্বামীজির নিজের কথায়ই নিজের প্রতিবাদ প্রদর্শনার্থ ইহা উদ্ধত করিলাম! এইরূপ অসঙ্গতি আরও দেখান যাইবে। আমরা বৌদ্ধ- ধর্মের অদয়ে ভারতের অধঃপন অন্য কারণে হইয়াছে মনে করি এবং সেটা সনাতন ধর্মের হীনতা—যেমন এই যুগেও ঘটিতেছে।

৪০ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। গােপাল বসু মল্লিক ফেলােশিপের লেকচার-২য় বর্ষ প্রথম লেকচার ৩৪-৩৫ পৃষ্ঠা। অপর নাম ও ফের কথা। • রামচ গুরু বশিষ্ঠের নিকটে কিরূপ উপদিষ্ট হইয়াছিলেন—যােগশিষ্টই প্রমাণ; হরিবংশে শ্রীকৃষ্ণ সাশীপনি মুনি কর্তৃক সম্যক্ শিক্ষিত হন, এ কথা বর্ণিত হইয়াছে। রামচত্র কোনও দিন ৰাহ্মণবিরােধী তো হন-ই নাই। বরং অব্ৰহ্মণ্য কিঞ্চিৎ দশনার্থ যাহা করিয়াছিলেন, তাহাতে তাহার নামগ্রহণে বামীজির সাবধান হওয়াই উচিত ছিল—আজ রামরাজত্ব থাকিলে সর্বাদে বাগীজি (সন্ন্যাস গ্রহণের নিমিত্ত, অত) দণ্ডকারণ্যের শূদ্র-মুনির দশাপ্রাপ্ত হইতেন! ধময় মহাক্রমের মূলরূপে শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্ম ও ব্রাহ্মণ পরিকল্পিত;সেই ঐকৃষ্ণ ৰাহ্মণের সেবা ভিন্ন ভবিরােধি কোনও কিছু কদাপি করিয়াছেন—এমন তত পুরাণেতিহাসে পরিদৃষ্ট হয় না। স্বামীজি ব্ৰহ্মপুত্র ও ভগবদগীতার বিয়ােধ কল্পনা করিয়াছেন; সুত্রের প্রথমেই ‘থাতে ক্ষতিসা আছে—অথ’ এবং অত এর অর্থ স্মরণ করিয়া স্বামীজি অসুবিধা বােধ করিতে পারেন, সন্দেহ নাই, কেননা তাহা হইলে তাহার ‘বেই যে মাটি হইয়া যায়। আর গলায় কি সর্বর্ণের সমান ব্যবস্থা আছে। বরং ক্ষণিক বৈরাগ্যে মুহমান হইয়া অঞ্জন তাহার জিলেচিত ধর্ম পরিত্যাগ করিতে উদ্যত হওয়া তাহাকে ভগবান বারংবার তিরস্কার করিয়াছেন—বং বহু আনের কথা উপদেশ করিয়া শ্রেয়ান ধর্মে বিশঃ পৰধৰ্ম্মাৎ - ষ্ঠিতাৎ* এই সিদ্ধান্ত স্থাপনপূর্বক অর্জনকে সময়ে নিয়ােজিত করিয়া- # ভগবান্ রাম, কৃষ্ণ ও বুদ্ধ রূপে ক্ষত্রিয়যংশেজাত হইয়াছিলেন বলিয়া যদি ক্ষত্রিয়ের শ্লাঘার কারণ হ-তৰে সৰাদৌ মণ কুৰ্ম বৰাহ শ্লাঘ্য হইয়াছে। ব্রাহ্মণ বামন পরশুরাম ও ভৰিব্যক্তির কথাও বিস্তৃত হওয়া অনুচিত। তবে শেষের দু’জনের কথা ক্ষত্রিয় সেচ্ছল ব্যক্তির হৃৎকম্পকৰী হইবারই সম্ভব! ৮.

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। ছিলেন, এই তে, গীতার শিক্ষা। * গীতায় কদাপি সকলকে সফল রকম অধিকার দেওয়া হয় নাই। এই গীতায়ই শ্রীভগবান বলিয়াছেন, ‘মুনীনাপাহং ব্যাসঃ সেই ব্যাসদেব এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে স্বামীজি ধর্মোপদেশ বিষয়ে পার্থক্যের •আরােপ করিয়াছেন। ইহা অপেক্ষা বিড়ম্বনার বিষয় আর কি হইতে পারে ? তারপর খাদ্যখাদ্য-বিচার-স্পশ্যাম্প-বিচার সনাতন ধর্মের আচারানুষ্ঠানের একটা মন্ত বিষয়—বিবেকানন্দ এটার প্রতি এত চটা যে তিনি 'হাঁড়িপৰ্ম্ম ‘ছুৎমার্গ বলিয়া ইহাকে বিজপ করিয়াছেন। এবিষয়ে শৈশষাবধিই তিনি স্বাধীন মতের পরিপোষক-ছেলে বেলায়ই মােসলমানের স্পষ্ট খাদ্য খাইতেন, মােসলমানের হকার মুখ দিতেন- তাঁহার পিতা যেন খাদ্যদ্যবিচার কম করিতেন (বিঃ ২৭ পৃষ্ঠা)। বিবেকানন্দ যৌবনের প্রারম্ভে ব্রাহ্মসমাজের খাতায় নাম লিখাইয়াছিলেন (বিঃ ১০২ পৃষ্ঠা) এবং কিয়ৎকাল পরে পরমহংসদেব কর্তৃক দীক্ষিত হইয়া যতির বেশ অবলম্বন করিলেও তিনি আহারবিষয়ে বলোট ছিলেন। মেথরের ক’কে নিয়ে খাওয়া (বিঃ ১৮৭পৃষ্ঠা) হইতে মূচির প্রস্তুত রুটি খাওয়া (কি ৩৪৯ পৃঃ) এমন কি কয়েকদিন এক মেথর পরিবারে বাসক (বিঃ ৩৫৩ পৃষ্ঠা) পর্যন্ত ঘটিয়াছে। আর খাদ্য বিষয়ে এই মাত্র বলিলেই হবে যে, মৎ মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে কেহ কিছু বলিলে, তিনি, পূর্বে যে গােমাংস পর্যন্ত ঋষিৰা ভক্ষণ করিতেন, সে কথাটুকু না বলিয়া ছাড়িতেন না। (বিঃ ৩১২ পৃঃ ও ১১১ পৃঃ) $ দুই হাজার বছর পূর্বে মহাকবি কালিদাস কর্তৃক পরিকল্পিত এক অশিক্ষিত মৎস্যজীবী নিজের 'বেসা' সমর্থন করিতে গিয়া গীতার প্রতিধ্বনি করিয়া বলিতে পারিয়াছিল—“সহজে কিল জে বিনিলিএ শছ সে কয় বিবণীয়ে (সহজং কৰ্ম্ম কৌন্তেয় সদাশমপি ন ত্যজেৎ-গীতা)। ফলতঃ শান্তানুসারে ধ জাতিগত আচার পালনেই ভারতের আপামর সাধারণ আবহমান কাল হইতে উপদিষ্ট হইয়াছে।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন প্রসঙ্গ - বিশেষতঃ মেরিকা ও ইউরােপে গিয়া আশ মিটাইয়া নির্বিবাদে রসনার তৃপ্তি সাধন করিয়াছিলেন; অতএব ইহার নিকট হইতে আমরা খালাম্পবিচারের আর কি সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করিতে । বিবেকানন্দ তে গীতার প্রশংসাবাদী ছিলেন—সেই গীতার নাবিক, রাসি, তামসিক এই ৱিৰি আহার বিচার বহিয়াছে। ব্রাহ্মসমাজের প্রথমাবস্থায়ও তাহাদের মধ্যে বড় বড় শোক নিমিষ আয়ের পক্ষপাতী ছিলেন । ৮ অক্ষয়কুমার দত্ত একু-লিখিত গ্রন্থের নুসরণে বাহর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচারে আহারের বিচার করিয়া গিয়াছেন। সাহেবদের মধ্যেও নিয়মিত অনেক আছেন। ফল কথা খাদ্যখাদ্য বিচার একটা শকল সমাজেই দেখা যায়। বিবেকানন্দের যেমন দর--এ বিষয়েও বিপরীত কথা অর্থাৎ খাত বিচারের কথা—তাহার উপদেশমধ্যে দেখিতে পাই। পঞ্জাব ও পুতানায় ভ্রমণকালে তিনি শিল্প ও সঙ্গীদিগকে বিশেষভাবে নিবান হইতে এবং আমিষ আহার বর্জন করিতে উপদেশ দিয়াছিলেন। বলিয়াছিলেন, “ঠার ও ৰায়ে বছর নিরামিষাশ হইলে সিদ্ধ পুরুষ হওয়া যায়। (বিঃ ৭৯৬ পৃষ্ঠা)। যে সে লােকের হাতে খাদ্য-পানীয় অহণ অর্থাৎ তা বিচার সন্ধে রামকৃষ্ণ পয়মহংসের আচরণ এরাও মুক্তিযুক্ত প্রমাণিত হয়। "ঠাকুর জল খাইতে চাহিলেন। তার কাছে এক গ্লা জল রাখা হইয়াছিল। সে আল খাইঙে পারিলেন না, আর এক গ্লাস জল আনিতে বলিলের। শরেনা গেল যে, কোনও ঘাের ইলিয়াসক্ত ব্যক্তিল স্পর্শ কৰিছিল। খামৃত ১ ভাগ ১০২ পৃষ্ঠা। এই যে, স্পর্শর সিফার রােগমুক্তি, যাতে * এইরূপকলা ও আনোয় পা বে কাহার জাহার হাতে জল গাইতেন না বা বাহার তার ই ভ্যাদি এহণ কৰিজেন না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। স্বামীজিরুও বিশ্বাস ছিল—ইহার রাও শ্যাম্পত্যবাদ প্রমাণিত হয়। ফলতঃ সকল জীবেয়ই পরস্পর স্পর্শে ভাল মন্দ ভাবের আদান প্রদান হয়—তবে অধ্যাত্মশক্তির বিকাশ অনুসারে পরিমাণে তারতম্য হয় মাত্র । অধ্যাত্মবৃষ্টি সম্পন্ন না হইলে ইহা অনুভব করা কঠিন; কিন্তু তাই বলিয়া এটা উড়াইয়া দেওয়া অসঙ্গত। • এই বিষয়ে বিচারবিমূঢ়তার ফল আমরা একপ্রকার প্রত্যক্ষই দেখিতেছি-যত্র তত্র যা তা খাইয়া আমরা নিজে এবং আমাদের সত্যি যে কিরুপ আগােগতির পথে চলিয়াছে, আমাদের জীবনী শক্তি যে কিরূপ ক্ষয় প্রাপ্ত হইতেছে, তাহা সমাজহিতৈষী মাত্রেই দেখিতে পাইতেছেন। আচারল্লভতে বায়ুরাচারাদীপ্সিতাঃ প্রাঃ।” “প্রমাদাদরদোষাক্ত মৃত্যুর্বিপ্রানজিঘাংসতি—এই মনুর বাক্য যারা তাহার সত্যতা প্রমাণীত হইতেছে। আমাদের শাস্ত্রোপদিষ্ট প্রাচীন রীতিতে ধারা জীবন যাপন করিতেছেন—সেই অধ্যাপকগণ প্রায়শঃ নীরােগ ও দীর্ঘজীবী, আর নব্য চালচলনে অভ্যস্ত হইতেছেন যারা-তারা অনেক পীড়াগ্রস্ত হইয়া অকালে প্রাণত্যাগ করিতেছেন। এই বিবেকানন্দই আয় এক প্রমাণ। এমন সুন্দর সবল দেহ-যৌবনের মধ্যভাগেই রােগগ্রস্ত হইয়া পড়িল-চল্লিশ বৎসরের মধ্যেই ধ্বংস প্রাপ্ত হইল। নরেন্দ্র (বিবেকানন্দ) মনে কৰিলে উহা কুসংস্কার মাল, কিন্তু পরমহংস দেবকে জিল্লা করিলে তিনি বলিয়াছিলেন-ঐ লোকগুলি বিশুদ্ধচবিত্র নহে। প্রথমে এ কথা নয়রে তত বিশ্বাস হয় নাই; কিন্তু পরে বিশেষ অনুসন্ধান করিয়া তিনি জানিতে পারেন, বাবিকই লােকগুলি অতি হীশচরিত্রের। বিঃ ১৩২ পৃষ্ঠা এই বিষয়ে এবারেও কিঞ্চিৎ আলােচনা করা হইয়াছিল- ডাঃ প্রফুচন্দ্র রায় মহাশয়ে বাঙ্গালী মস্তিষ্কের অপব্যবহার প্রবন্ধের প্রতিবাদে এই বিবেকানন্দেরই উক্তিৰ অসমীচীনতা দেখান হইয়াছে- অনুসন্ধিৎসু পাঠক বৈলিকের জাতি নিরাস ১৭-২ পৃষ্ঠা খেতে পারেন, উহাতে জনৈক ইউরােপীয় ডাক্তারের পরীণ তথ্যও উল্লেখ আছে। ;

৪৪ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। পরমহংসের কৃপা এবং বিবাহ না করিয়া ব্ৰহ্মচর্যের কিঞ্চিৎ পরিপালন সত্বেও চারব্যত্যয়ে বিবেকানন্দ অকালে জিয়া পড়িলেন। ছুৎমার্গ ব্যাপারেও যেন বিবেকানন্দের শেষকালে উন্টার দেখা গিয়াছে। মঠের এক কুকুর ঠাকুর পূজার জন্য আনীত জল নষ্ট করিয়া দেওয়ায় যে ব্রহ্মচারীর উপর উহার তত্বাবধানের ভার ছিল, তাহাকে খুব বকিয়াছিলেন। [ বিঃ ১৭৬ পৃষ্ঠা) স্বামীজির গুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসদে সম্বন্ধে এলে নরপি কতকগুলি কথার আলোচনা করা আবশ্যক মনে করিতেছি। হায় ভক্তেরা তাহাকে সর্ব ধর্মসমম্বয়ের অষতার বলিয়া থাকেন অর্থাৎ তিনিই স্বয়ং সাধনা করিয়া প্রমাণ করিয়াছেন যে, সমস্ত ধৰ্ম্মের প্রতিপাদ্য বস্তু এক এবং সেই এক বন্ধুই ৰক্ষ। এইটি একেবারেই কোনও অভিনব বিষয় নহে। এভগবান তো গতায় “যে যা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব উজাম্য বলিয়া সমস্ত সাধক মণ্ডলীকেই আশ্বাস দিয়া গিয়াছেন। সপ্তশতীতেও ঐশ্রীজগন্মাতা ব্ৰহ্মাণী প্রভৃতি সৰ্থদেব- * বিবেকানন্দের জীবনচরিতলেখকের কথায় প্রত্যয় করিলে বলিতে হয়, এই উন্মার্গগামিতার নিমিত্তে পরমহংসও কিয়ৎপরিমাণে দায়ী ছিলেন। তিনি নাকি বলিতেন “ও হচ্ছে আগুন,ওর স্পর্শে পাপ তাপ সব পুড়ে খাক হয়। ও যদি শাের গরুও খায় কোন দোষ হইবেন। (বিঃ১৩৩ পৃঃ) ঐ পৃষ্ঠা ফুটনােটে আবাে আছে—“ভগবদ্ভুক্তির হানি হইবে বলিয়া পরমহংস দেব স্বয়ং নানা নিয়ম পালনপূর্বক ভক্ত সকলকে তদ্রুপ করিতে সর্বদা উপদেশ দিতেন। কিন্তু তিনিই আবার বলিতেন, নরেন্দ্র ঐ সকল নিয়ম লঙ্ঘন করিলে কিন্তু তাহার কোনও প্রত্যয় হইবে না। নরেন্দ্রের ভিতর জ্ঞানায়ি সর্বদা প্রজ্বলিত খাকিয়া সৰ্বপ্ৰকাৰ আহাৰ্য্য দোষকে ভস্মীভূত করিয়া দিতেছে,” ইত্যাদি। নরেন্দ্র ( বিবেকানন্দ) যদি এরূপই ছিলেন, তবে তাে স্বামীজির ছুৎমার্গাদি কথা বলিতে অধিকতর সাবধান হওয়াই উচিত ছিল; কেৰ না, সকলের ভিতর (এমন কি স্বয়ং পরমহংস ও তদীয় অন্যান্য ভক্তদের মধ্যেও যেন জানাগ্নি’ তেমন তীব্রভাবে প্রজ্বলিত ছিল না। ফল কথা বিবেকানন্দের সঙ্গে পরমহংসও এরূপে জড়িত হইয়া বিড়ম্বিত হইয়াছেন—ইহা অতীব দুঃখের বিষয়। ;

তৃতীয় পরিচ্ছে। «। শক্তিকে বীর শরীরে বিলয় করিয়া কাকে বলিয়াছেন—একৈবাহ জগতৰ চিতীয়া কা মমাপরা। পুষ্পদন্ড মহিলােত্রে বলিয়াছেন- “য়ী সংখ্যঃ যােগঃ পশুপতিমত বৈবমিতি। প্রতি প্রস্থানে পরদিমদঃ পণ্যমিতি । চীনাং বৈচিত্র্যাজুকুটিলতানপথজুষাং মেকো গমমসি পয়লামণব ই। মহাপ্রভূ শ্রীচৈতন্য শিবমন্দির দেবীমমির প্রভৃতিতে গিয়া বন্দনা করিয়া নৃত্যাদি করিয়াছেন। ভক্ত রামপ্রসাদ গাহিয়াছেন- “ঐ সে কালীকৃষ্ণ বিরাম সকল আমার এলােকেশ ” ত্রিপুরার দেওয়ান রামদুলাল আরো দূর অগ্রসর হইয়া বলিয়াছেন, মেনেছি জেনেছি তার তুমি জান ভােজের বালি। যে তােমায় যে ভাবে ডাকে তাতেই তুমি হও মা রাজী। মগে বলে রাতারা গড় বলে ফিরিঙ্গী বাবা-মা আল্লা বলে ডাকে তােমায় সৈয়দ পাঠান মােগল কাজী। ইত্যাদি এবং সব্বশেষ বলিয়াছেন- এক বিধা ভেবে মন আমার হয়েছে পাতা।” ইহাতে দেখা যাইতেছে যে, এই সমন্বয়ের অব হিন্দু ধর্মে বরাবরই রহিয়াছে—দু’চার স্থলে অজ্ঞ বৈষ্ণব ও মূখ শাক্ত পম্পর এ করিয়াছে- তাও কৰি দাশুরায় শেষটায় সমন্বয় করিয়া দিয়াছেন। এই সময় দেখানের জন্য সাধনা, সুতরাং নাক ছিল। যাহা তখন আবশ্যক ছিল, তাহা সাকারবাদের এষাতকানা ব্রাহ্মধর্মের প্রবল প্রতিবাদ হইয়াছেএবং রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাধনা, উক্তি প্রকৃতি আর সনাতন সাধনীতি ও ধর্মচবার সারবত্তা প্রমাণিত হইয়া উন্মগতি অনেকের উপকার হইছে। এসকল কথা পূর্কেও ৪ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। W বলিয়াছি। রামকৃষ্ণের আবির্ভাবের সার্থকতা এইখানেই--এবং এইজন্য তিনি আমাদের বরেণ্য। কিন্তু ব্রাহ্মধর্মের প্রতিবাদ কেবল তাহারই দ্বারা হইয়াছে—একথাও মনে করা উচিএ নহে। জ্বর প্রবল হইয়া খুব ঘৰ্ম্ম হইলে যেন উপশম আরম্ভ হয়-তেমনই যখন ১৮৭২ সালে কেশবসেনের তিন আইন পাস্ হইল, তখনই প্রতিক্রিয়া আরব্ধ হইল—সুপ্রসিদ্ধ আদি ব্রাহ্ম রাজনারায়ণ বন্ধু মহাশয় “হিন্দুধৰ্ম্মের শ্রেষ্ঠতা” বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান করেন। সেই বক্তৃতায় দেশে বিদেশে হুলুস্থুল পড়িয়া গিয়াছিল। সােমপ্রকাশ’সম্পাদক লিখিয়াছিলেন “হিন্দুধৰ্ম্ম ডুবতেছিল-রাজনারায়ণ বসু তাহা রক্ষা করিলেন। পুণ্যশ্লোক ভূদেব বলেন, “আমাদিগের দেশের চূড়ামণিস্বরূপ শ্ৰীযুক্ত বাবু রাজনারায়ণ বসু মহাশয় হিন্দুধর্মের উৎকর্ষ ৪ সর্বপ্রাধান্য প্রকটন পূর্বক স্বাভিমত ব্যক্ত করায় অনেকানেক স্বল্পবিষ্ক অপরিণামদর্শী অনুচিকীর্ষাপরায়ণ ব্যক্তিবৃহের প্রভঞ্জন এবং মোহান্ধকার তিরােহিত হইবার উপক্রম হইয়াছে। ইহা দেখিয়া আমার অন্তঃকরণে যে আনন্দোৎসব উচ্ছলিত হইয়াছে, তাহা বাক্যাতীত। বােধ হয় এই সময়েই হিন্দুমেলার’ও সৃষ্টি হয়-এবং তদ্বারা স্বদেশেরও পূর্ব গৌরব স্মৃতি উদবুদ্ধ হইয়া লােকের মােহ’ কাটিবার সহায়তা হইয়াছিল। এবং প্রায় এই সময়েই থিওসফির দল ভারতে আসিয়া যােগ-মাহাত্ম্য প্রমাণিত করিয়াছিলেন। সে যাহা হউক পরমহংসদেশের তথা বিবেকানন্দের ভক্তগণ কর্তৃক * বিবিধ প্রবন্ধ দ্বিতীয় ভাগ-১৫২পৃঃ। ভূদেব বাবু পরমহংসদেব সম্বন্ধে এই গ্রন্থে কিঞ্চিৎ উল্লেখ করিয়াছেন—কৌতূহল তৃপ্তার্থে উদ্ধৃত হইল। “ইনি গতি সরল ভাষায় হিন্দুমতবাদের শাস্ত্রসম্মত সামঞ্জস্য করিয়া যে সকল উপদেশ দিয়াছেন, তাহার প্রকৃত অর্থ তাহার নিজের জীবনচবিত হইতে বুঝিয়া যদি কত তান্ত্রিক সাধনায় বাঙ্গালী ভক্তিপূৰ্ব্বক বহ হয়, তাহা হইলে আবার মামধ্যে একাগ্রচিং, মশীল, নির্ভীক, কশ্মী ও ধার্মিক লোকের বৃদ্ধি অবশ্যই হইবে।” ১৬৪ পৃষ্ঠা।

তৃতীয় পরিচ্ছে। লিখিত ও প্রচারিত গ্রন্থ সমূহের এবং স্বামীজির বক্তৃতাদিতে গুরু শিষ্য উভয়ের পরস্পর সম্বন্ধে যেপ উক্তি দেখা যায়, তাহার আলােচনা করিব। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মের পূঝে তাহার মাতা পুত্ৰপ্রাপ্তির জন্য ব্যাকুল হইয়া • কাশতে বীরেশ্বর শিবের অর্চনা করাইয়াছিলেন— নিজেও শিবের ধ্যানে নিমগ্ন থাকিতেন। অতঃপর একদিন স্বপ্ন দেখিলেন “যেন যােগন্দ্র শঙ্কর যােগনিদ্রা হইতে উখিত হইয়া পুত্ররূপে তাহার সম্মুখে উপস্থিত হইয়াছেন।” (বিঃ ১০ ও ১১ পৃষ্ঠা) পুত্রের জন্ম হইলে তাই জননী নাম রাখিয়াছিলেন বীরেশ্বর’ (১২ পৃঃ)। * এদিকে যখন বিবেকানন্দ পরমহংসদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার জন্য প্রথম বার । গিয়াছিলেন, তখন তখন পরমহংসদেব (নয়ের গান শনিবার পরে) “হঠাৎ উঠিয়া তাহার হাত ধরিয়া উত্তরের বারান্ডায় লইয়া গেলেন ও ঘরের দরজাটি বন্ধ করিয়া দিয়া দৰিগলিত-ধারে অশ্রু তাগ করিতে করিতে যেন বহুদিনের পরিচিতের ন্যায় বলিতে * ঢাকা দেওভােগের নাগ মহাশয় (শেষ অবস্থায় স্বামীজির সহিত ক্ষাৎ করিতে আসিয়াও বলিয়াছেন-“ # জয় শঙ্কর জয় শঙ্কর সাক্ষাৎ শবদর্শন হল।” (বিঃ ১১৮ পৃঃ। * ইহাই শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতলেখকের মত। লীলাপ্রসঙ্গকার বলেন, এইটি দ্বিতীয় বারের সাক্ষাৎকার। (বিঃ ১০৭ পৃ: ফুটনােট) অথচ উভয়েই স্বীয় অভিজ্ঞতা হইতে লিখিতেছেন! এস্থলে ইহাও বক্তব্য, রামচন্দ্র দত্ত মহাশয়-কৃত পরমহংসদেবের জীবনচরিতে বিবেকানন্দসম্বন্ধীয় এত সব কথা নাই--অথচ তিনি (রামচন্দ্র বাবু) বিবেকানন্দের আত্মীয় ও পিতৃ অল্পে পালিত “রাষদাদা ছিলেন (বিঃ ১০৬৭)। [ পরমহংসদেব চৈত হইলে ৰামচন্দ্র দত্ত ‘অদ্বৈত (কেননা তিনি সর্বাদৌ রামকৃষ্ণকে 'অবতার’ বলেন) এবং বিবেকানন্দ নিত্যানন্দ ছিলেন। “ভারতের ধর্মপ্রবকগণ” শীর্ষক, একটি চিত্রে দেখিলাম-চৈতন্য যেমন অদৈত ও নিত্যানন্দ সহ বিরাজমান রামকৃষ্ণও রামচন্দ্র এবং বিবেকানন্দ সহ সমাসীন। এইরূপে প্রচার করিতে এই সম্প্রদার কোনও কসুর করেন নাই। বাগচীর পঞ্জিকা ক্লামনবমীতে রামচন্দ্রে অথবা ফাঙ্গুনী পূর্ণিমায় মহাপ্রভুর কোনও চিত্র নাই-কিন্তু পরমহংসের জন্মতিথিতে তাহার ছবি দেওয়া হইতেছে!]

৪ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। লাগিলেন, এতদিন পরে আতে হয়। আমি যে তাের পথ চেয়ে হা করে বসে আছি তা কি একটি বারও মনে কর্তে নেই ? বিষয়ী লােকেদের সঙ্গে কথা কয়ে কয়ে আমার যে ঠোট পুড়ে যাবার মতন হয়েছে এই কথা বলিয়া তিনি লােদন করিতে লাগিলেন। কিঞ্চিৎ পরে আবার কৃতাঞ্জলি হইয়া তাহাকে বলিতে লাগিলেন ‘প্রভু আমি জানি তুমি কে? তুমি সেই পুরাতন ঋষি, নরনারায়ণ, জীবের দুর্গতিনিবারণের জন্যই তােমার শরীর খারণ হইয়াছে’–ইত্যাদি । (বিঃ ১৭৮ পৃঃ)। পরে আছে, নরেন্দ্রের সম্বন্ধে “তিনি (পরমহংস) প্রায়ই বলিতেন ‘ও খাপখােলা তলােয়ার। পুরুষের ভাব ওর ভেতর। ও অথরে ( নিরাকারের) ঘর সপ্তর্ষির একজন নরনারায়ণ ঋষির নয়’ ইত্যাদি ইত্যাদি। (বিঃ ১৩০ পৃষ্ঠা। সপ্তর্ষির মধ্যে নয়- নারায়ণ ছিনে কি ?এবং একই ব্যক্তি নয় (বা নারায়ণ) ও সর্ষির একজন কিরূপে হইতে পারে ? আরও দেখুন; “পরমহংসদেব বলিয়াছেন। ••• ও (অর্থাৎ বিবেকানন্দ) যখন নিজকে জানতে পারবে ওকে তখনই দেহ ত্যাগ করবে। (বিঃ ১৮৫ পৃঃ) অথচ বিবেকানন্দ যে জাতিস্মর ছিলেন, তৎসম্বন্ধেও লেখা আছে; গােপালের বাগানে অবস্থান কালে, ১৮৯৭ অব্দে) হঠাৎ একজন স্বামীজিকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আচ্ছা স্বামীজি, আপনি আপনার পূর্ব পূর্ব জন্মের বিষয় জানেন? তিনি উত্তর করিলেন, নিশ্চয়ই। কিন্তু যখন তাহার অতীতের বনিকা উত্তোলন করিবার জন্য তাঁকে নির্বাতিশয় সহকারে পুনঃ পুনঃ অনুরােধ করিতে লাগিলেন, তখন তিনি বলিলেন “লীলাপ্রসঙ্গপ্রণেতা বলেন, দক্ষিণেশ্বরে প্রথম দর্শনের দিনই পরমহংসদেব স্বামীজিকে এই কথা বলিয়াছিলেন, কিন্তু কথামৃতে (৩য় ভাগের প্রথম সংস্করণে ২৮৭ পৃঃ আছে )প্রথম দিন নয়, কিন্তু অন্য আর একদিন। বিঃ ১০৮ পৃঃ ফুটনােট। পূর্ব পা-টাকায় উল্লেখিত ১৭ পৃ ফুটনােটর সঙ্গে এইটুকুৰ তুলনা করিয়া যিনি যাহা পারেন বুন।]

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। “আমি সবই নি এবং ইচ্ছা করিলেরোনিতে পারি, কিন্তু এগন্ধে নি যাই ভাল। (বিঃ ৭৫পৃষ্ঠা) তিনি নিজের পূর্ণ কথা—তিনি যে কি—তাহা জানিতেন; তার পরেও পাঁচ বৎসর কাল দেহ ধারণ করি। গিয়াছেন। ইহাতে পরমহংস দেবের কথাটা প্রমাণিত হইল কি? আরাে আছে-“স্বামীজির জন্মের অব্যবহিত পূর্বে শ্রমকৃষ্ণদে দেখিয়াছিলেন যেন একটা উজ্বল জ্যোতিঃ দিল উদ্ভাসিত করিয়া আকা- শের উত্তরপশ্চিম দিক হইতে কলিকাতার উত্তরভাগে শিমলা পল্লীর দিকে আসিতেছে। ইহা দেখিয়া তিনি বলিয়াছিলেন 'এইবার যে আমায় কাজ করবে সে এল। এবং উত্তরপশ্চিম প্রদেশের কোন শহরে সহিত তাহার আগমনের সম্বন্ধ আছে এইপ আভাস দিয়াছেন। কে বলিবে সেই শহর কাশীধামকি না ?” (বিঃ ১৬৬-৬৭ পৃষ্ঠা ফুটনােট।) বিবেকানন্দের জন্ম ১৮৬৩-জানুয়ারী; অতএব জ্যোতিদর্শন ১৮৬২ অব্দের মার্চ-এপ্রিল মাসে হইবার কথা। তখন রামকৃষ্ণ কোন অবস্থায় ছিলেন—সেটাও বিবেচ্য। সে যাহা হউক, এই জ্যোতি নরনারায়ণের স্থান বা সপ্তর্ষি মণ্ডল হইতে আইসে নাই—কেননা উত্তর পশ্চিমের শহর বিশেষের সহিত ঐ আগমনের স লি। এবংবিং নানা প্রকার কণা পরৰহংস রা কথিত, এইরূপ প্রকাশ হওয়াতে তার প্রতি আপনাদের ভক্তি কি পরিমাণ অব্যাহত থাকিতে পারে পাঠকবর্গ বিবেচনা করিবেন তারপর বিবেকানন্দ পরমহংসদেব সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছে, তাহা নমুনা দিতেছি-তার বল্পে তাকে ছােট করা হয়। (বিঃ ১৫১ পৃষ্ঠা) “পরমহংস ইচ্ছা করিতে লাখাে বিবেকানন্দ তৈরী করিতে পাবেন। (বিঃ অৰতরণিকা ১৩ পৃষ্ঠা)রামকৃষ্ণের মত এত উন্নত চরিত্র কোন কালে কোন মহাপুরুষের হয় নাই (পাবলী নং পত্র রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। ৪৫ পৃষ্ঠা)। * ইত্যাদি। অবশ্য এগুলিতে বিন্দুমাত্রও অত্যুক্তি নাই । এদিকে তো এই পৰ্য্য-পয় পরমহংস দেবের জীবনের টনাগুলিরও খবর তিনি ঠিক ঠিক রাখিতেন কিনা সন্দেহ। My Master বিষয়ক বক্তৃতায় পরমহংসদেবের স্ত্রীর যৌবন প্রাপ্তির পরে প্রথম সাক্ষাৎ করা সম্বন্ধে তিনি বলিয়াছেন,- • The husband had entirely forgotten that he had a wife. In her far off home the girl bad heard that her husband had become a religious enthusiast .... She resolved to learn the truth for herulf,80 she set out and walked to the place where hor husband was. When at last she stood in bor busband's presence be at once admitted her right to his life; The youngman fell at the feet of bis wife and said: I have learnt to look upon every woman as Mother but I am at your service." The maiden was a pure and noble soul, and was able to understand her husband's 'aspirations and sympathise with them. She quickly told him that she had no wish to drag him down to life of worldliness; bat that all she desired was to Tomain with bim, to serve him sod to learn of him," (pp. 21-22 Natesan's collection of Speeches of Swami Vivekananda.) অথচ ৮ রামচ দকৃত জীবনবৃত্তান্তে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে বর্ণিত হইয়াছে এবং তাহাই স্বাভাবিক বলিয়া মনে হয়। তাঁহার স্ত্রী যখন ষােড়ণবৰে উপনীত হন সেই সময় তাঁহার শশুরালয় * বুদ্ধদেব সম্বন্ধেও তাে স্বামীজি বলিয়াছেন—“মনুষ্যজাতির মধ্যে ইনি সৰ্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। (বিঃ ৮৬১ পৃঃ)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। গমন করিবার ইচ্ছা হইয়াছিল। *** তন্ত্রমতে নাকি বেড় পূজার বিধি আছে, তিনি তার স্ত্রীতে সেই কাৰ্যা সমাধা করিয়াছিলেন। তারপর, কিরুপে তিনি ঐ পূজা সম্পাদন করিলেন, সেই সকল অধয়ে (১৬শ অধ্যায়ে বর্ণিত হইয়াছে। পরিশেষে আছে, “পরমহংস দেবের স্ত্রীর মনের ভাব বিশেষ পরিবর্তন হয় নাই। তিনি দেশবর্ষে পতিত হইলে কি হইবে, তাহার তখন পর্যন্ত কুমারী ভাব ছিল। পতি কাহাকে বলে, তাহা তাঁহার সে পর্যন্ত জ্ঞান হয় নাই, তমিমি এক্ষেত্রে তিনি ভালমন্দ কিছুই উপলব্ধি করিতে পারেন নাই।” আবার দেখুন, যখন প্রতিভাববিলনে তিনি কিয়দিন শ্রীকে। ধারণ করিয়াছিলেন--তদ্বিষয়ে ঐ বসুতায় বিবেকানন্দ বলিতে (89,-"He began to think that ho was a woman; he dressed like a woman and lived among the women of bis own family, (p. 23. Natesan's collection of lectures). রামচন্দ্র দত্তকুত জীবনবৃত্তান্তের দ্বাদশ ও এয়ােদশ অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে এবং তিনি যে পানবাজারে মধুর বাবুর বাড়ীর অন্তঃপুরে তখন অবস্থান করিতেন, সে কথা স্পষ্ট রহিয়াছে। পরের অন্তঃপুরে স্ত্রীবেশে থাকাটা খ্রীড়নক মনে করিয়াই কি স্বামীকি পরমহংসদেবকে স্বীয় পরিবার মেয়েদের সঙ্গে অবস্থা কইয়াছেন। তারপর পরমহংসদেব, জীবনের উদ্দেশ্য কি, এ বিষয়ে স্পষ্ট শল্পিককে উপদেশজুলে যাহা বলিয়াছিলেন, “কথামৃত হইতে তাহা উদ্ধত করা হইতেছে :-“শম্ভ বলে, এই আশীৰ্বাদ করুন, যা টাকা আছে সেগুলি সয়ে যায় ; হাসপাতাল ডিস্পেন্সারি ঝরা, কুয়ো করা এই সব! আমি বন্ধু, এ সৰ কৰ্ম্ম অনাসক্ত হয়ে কবতে পাল , • রামচন্দ্র দত্তকৃত পরমহংসদেবের জীবনবৃত্তান্ত তৃতীয় সংস্কৰণ পৃষ্ঠা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। --- কিন্তু তা বড় কঠিন। আর যাই হােক, এটা যেন মনে থাকে যে, তােমার নবজয়ের উদ্দে ঈশ্বরলাত, হাসপাতাল ডিস্পেনারি করা ** এই সব অনিত্য বৰু, ঈশ্বরই এ আর সব অন্তু, তাকে লাভ হলে আবার বোধহয় তিনিই কর্তা, আর আমরা আকর্তা। তবে কেন তাহাকে ছেড়ে নানা কাজ বাড়িয়ে মরি ? তাকে লাভ হলে, তার ইচ্ছায় অনেক হাসপাতাল, ডিস্পেন্সারি হতে পারে। শ্রীরামকৃষ্ণ কথা-প্রথম ভাগ ১২৭ পৃষ্ঠা।) এইরূপ আরাে দু-এক স্থানে তিনি বলিয়াছেন।” মীজি এ বিয়ে বিপরীত পথেই চলিয়াছেন। রামকৃষ্ণ মিশন • সংস্থাপনে এখন হাস্পাতাল ডিস্পেন্সারিই সার ও মুখ্য সাধন বলিয়া প্রচারিত হইয়াছে। তাহার গুরুত্ৰাতারা ইহা পরমহংস- দেবের মতের বিরোধী বলিয়াই মনে করিয়াছিলেন; বিন্তু বিবেকানন্দের সঙ্গে তর্কে আঁটিয়া উঠা তাঁহাদের কর্ম নয়। “মিশন স্থাপিত হইলেও যখন একদিন জনৈক গুরুত্ৰাতা ব্যাপারটা ঠিক হইতেছে না বলিলেন, তখন খামাজি প্রথম সৰগালি দিয়া, উৎপর ক্রোধে গর্জন করিয়া বলিতে লাগিলেন, “তােমরা মনে করেছে, যে তােমরাই তাকে বুঝতে পেৱেছ, আর আমি কিছুই পারি নি। তােমরা মনে কর নটা একটা নীরস ওক জিনিস। তার চর্চা করতে গেলে প্রায় কোমল ভাবটাকে একেবারে গলাটিপে মারতে হয়। মারতে হয়। তােমরা যাকে ভক্তি বছে সেটা যে দারুণ আহাম্মক, কেবল মানুষকে দুর্বল করে আজ, তা বুঝচো না। যাও, * মিশন সম্বন্ধে এই প্রবন্ধে আলােচনা করা হইল না—প্রয়ােজন হই পশ্চাৎ কয়া যাইতে পারিবে। উদ্দেশ্য মহৎ সন্দেহ নাই এবং কাজ কিছু কিছু হইয়া থাকে। তবে মাতাপিতা প্রভৃতি অভিভাবকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নযুৰণ মঠে মিশনে আসিয়া চির-কৌমার্চ ত অবলম্বন করে- কখনই সানবােগ্য হইতে পারে না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। ; কে তােমার রামকৃষ্ণকে চায়? কে তোমার কি মুক্তি চায়। দেখতে চায় তােমার শাস্ত্র কি বলছে ? যদি, আমি আমার দেশের লােককে মেকূপ’ থেকে তুলে মানুষ করে গড়তে পারি, যদি তাদের ভেতর কযোগের আদর্শ জাগিয়ে তুলতে পারি, আহলে হাসতে হাসতে সহস্র নাকে যেতে রাজী আছি। আমি বাৰু টাকার কথা শুনতে চাইনি । যে অামার মতলব, অনুসারে কাজ করতে চায়, তারই কথা নবাে। আমি রামকৃষ্ণ কি কারুরই দাশ নই—শুধু যে নিজের ভক্তি ৰা মুক্তি গ্রাহ না করে পরের সেবা করতে প্রস্তুত, তারই দাস। ( বিঃ ৭২৩-২৪) এই ঝড়ের পর কিকি বৰণও হইয়াছিল; ঐরূপ, বলিয়া গৃহষধ্যে প্রবেশপূর্বক কিছু সময় পরে যখন স্বামীজি বাহিৰে আসিলেন, তখন ঠাকুরের জন্য যে তার কত ভক্তিবেগ তা প্রকাশ করিয়া বলিলেন, “ওঃ এখনও আমার অনেক কাজ বাকি রহিয়াছে। আমি প্রীরামকৃষ্ণদেবের দাসানুদাস, তিনি আমার ঘাড়ে যে কাজ চালিয়ে গেছেন, যত দিন না কাজ শেষ হয়, ততদিন আমার বিশ্রাম নেই * ইত্যাদি ( বিঃ ৭২৫ পৃঃ)। এই ঘটনা হইতে বুঝা গেল যে, তিনি দেবে। বা অমিত, তাহার অকুল ছিলেন না। মানুষ গিলেই শেটের কথা বাহির হইয়া যায়—এক্ষেত্রেও বিবেকানন্দ মনের কথাই স্পষ্ট করিয়া" বলিয়া ফেলিয়াছিলেন তিনি সর্বত-কাহান্নে দাস হইবার লােক ছিলেন না। কারো ভূত নয়। তবে দল না বাঁপিলে চলে না—তাই গুরু দের সঙ্গে আপােষ করিয়া চলিয়া- ছেন—গুরুত্ৰাতারাও বুদ্ধিমানের ন্যায় বুঝিয়াছিলেন যে ইয়ই নাম-ডাকের সঙ্গে তাদের দেশের তথা সম্প্রদায়ের সম্মাননায় , বিজড়িত। তাই বােধ হয় এ বিষয়ে অতঃপর আর তাহাতে কে 'কোনও ৰাঙ নিষ্পত্তি করে নাই। - রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। . কথায় ও কাজে বৈপরীত্য সূচক দু'একটি বিষয় আমরা পুর্বেই প্রদর্শন করিয়াছি সম্প্রতি আরাে দেখান যাইতেছে। লাহোর ইসমাজকে তিনি এত বলিয়াছিলেন-আর শাস্ত্রের গোড়ামী অপেক্ষা মানুষের গোড়ামী (ব্যক্তিবিশেষকে বলিয়া তার আশ্রয় লইলেই মুক্তি- এইরূপ প্রচার) ব্যায়া আরও . অদ্ভুতরূপে ও অতি শীঘ্র সম্প্রদায়ের বিস্তৃতি হয়, ইহাও আমার বিলক্ষণ জানা আছে। আর আমার হস্তে সেই শক্তিও আছে। আমার গুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসকে ঈশ্ববতার রূপে প্রচার করিতে আমার অন্যান্য গুরু ভাইগণ সকলেই বদ্ধপরিকর, একমাত্র আমি ঐ প্রচারের বিরােধী। কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস মানুষকে তার নিজ বিশ্বাস ও ধারণানুযায়ী ধীরে ধীরে উন্নতি করিতে দিলে, যদিও অতি ধীরে ধীরে এই উন্নতি হয়, কিন্তু উহা পাকা হইয়া থাকে । যাহা হউক চার বৎসর অন্ততঃ এইরূপ উদার ভিত্তির উপর দণ্ডায়মান হইয়া প্রচার করিব। যদি উহাতে ফল না হয় (ফল হইবে বলিয়া যদিও আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তবে আমিও গোড়ামী, প্রচার করিব।” (কােৱতে বিবেকানন্দ-২য় সংস্করণ, ৩৭৩ পৃষ্ঠা) ফখ তিনি ১৮৯০ সনের নভেষয়ে নেন। এ দিকে ঐ কায় তিন মাস মাত্র পর (ফেব্রুয়ারি ১৮৯৮) [ মতান্তরে ১৮৯৭ অব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে অর্থাৎ ঐ কথার ৯১০ মাস পূর্বেই তিনি নবগােপাল ঘােষের বাড়ীতে রামকৃষ্ণের পাের্সলেনের প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠায় যােগ গিয়াছিলেন এবং সন্ত্রাদি বলিয়া যথানিয়মে পূজা করিয়াছিলেন। প্রণাম- শও রচিত হইয়াছিল—তাহাই বাপকায় চ ধর্ষক সর্বধর্মপিণে । এবার বলিয়ায় আমার তে নমঃ।* বিঃ ১-৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। ঠাকুরের জন্মদিনে ব্রাত্য যি সকলেই তাহার নাম লইয়া শুদ্ধ হইয়াছিল- কথা ইতঃপূর্বেই উলেখ করা হইয়াছে। গোড়ামী আর কাকে বলে? • অথচ ঢাকায় তাকে একটি ছেলে কোনও ব্যক্তি একখানি ফটো তৃতীয় পরিচ্ছেদ। n যখন রামকৃষ্ণদেবের তিরােভাষের চারি বৎসর পরে তিনি দ্বিতীয়বার ভারতভ্রমণে বহির্গত হন, তখন একদা একজন কৃতবি থিয়ােসসাফিষ্টকে রেল গাড়ীর কামরায় পাইয়া মহাত্মথের অলৌকিক শক্তিসম্বন্ধে তাঁহার অনুসন্ধিৎসা দেখিয়া ৰামৰি তাহার সহিত কিঞ্চিৎ কৌতুকালাপের পরে উপদেশস্থলে বলিলেন- অলৌকিক ব্যাপারে বা সিদ্ধির যে নিত্যসম্পর্ক আছে, এটা কেমন করে তােমার মাথায় সেধুল? কিন্তু এটা দেখছ না ঐরূপ সিক্তির ব্যবহার যাহার করে তাহা কত বড় কানার দাম? অস্কারের টেছি। যথার্থ ধৰ্ম্ম মানে চরিত্র—সেইটাই হচ্ছে প্রকৃত শকি। চরিত্রবান পুরুষের রিপু দমন ও বাসনা ক্ষয় হয়েছে। আর যারা সিভি সিদ্ধি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও একটা অলৌকিক শক্তি চাচ্ছে, তারা জীনস সা- ধানের পথে একটুও এগােয় নি, খালি দৈহিক ও মানসিক শক্তি। অপব্যবহার কচ্ছে ও স্বার্থপকে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। শক্তি-ফক্তির ললাতে ছুটো না। ও সব আলেয়া। (বিঃ ৩০ পৃঃ) কিন্তু যখন তিনি ঐ নারই বরাহনগর মঠ হইতে হিমালয় যাইবেন বলিয়া বাত্রা করেন, তখন গুরু ভাইদিগকে বলিছিলেন, “এবার আর পত্র লােককে বদলে ফেলতে পারার ক্ষমতা কাজ না করে ফিরছি দেখাইয়া ইনি ‘অবতায় কি না পুনঃ পুনঃ জিজ্ঞাসা করাতে, স্বামীজি বলিয়াছিলেন-“বাবা, এখন থেকে একটু ভাল করে খেয়ে দেয়ো। তা হলে মাথাটা খুলবে। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে তােমার মাথার ঘিলু একেবারে শুকিয়ে গেছে। আবার বলিলেন গুরুকে লিয্যের অবতার বলতে পারে বা যা ইচ্ছে ধারণা কতে পারে। কি তাই বলে দেশ লােক অৱতাৰ গায়ে, ও কি রকম? ভগবানের অাের যেখানে সেখানে বা যখন তখন হয় না। ইত্যাদি) বিঃ ১২০ পৃঃ)। এই অবতার গজাইনার জন্য যে তাহার সম্প্রদায়ের লােকেরাই প্রধানতঃ শায়ী ইতঃপূর্বেই এ কথা বলা হইয়াছে। ফলত অর’ সাজার মত নিরাপদ আর কিছুই নহে-- “” বলিলে ৰা কৰিলে ঠাকুরের লীলা” মা বলিলেই সৰু সঙ্গ হইয়া যায়।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। মা। (বিঃ ২৫ প) এটা কি অলৌকিক কিছু নয়। এটা যে একটা স্পৃহীয় ও প্রশংসার জিনিস, তা তো পরমহংসদেবের ভাব- শেষরক্ষিত কৌটাটি” গঙ্গাজলে ধুইয়া মির্ভয়াল ৰামীকে খাওয়াইয়া উহাকে ১৭ ডিগ্রী আ হইতে মুক্ত করিয়া বলিয়াছিলেন, “ চা ঠাকুরের শক্তি দে। তিনি কি না করতে পারেন।*(বিঃ ১৫৩ পৃ) এমন যে সর্বশক্তিমান ঠাকুর, তিনি যার শক্তিতে শক্তিমান ছিলেন, সে পদার্থ টা তে ঠাকুরের মৃত্যুর পূর্বে তাহার শৱীয়েই সংক্রামিত হইয়াছিল। সে কথা তিনিই শিল্প শরৎ বাবুকে বলিয়াছিলেন—“বামীজি। বসে থাকার যে আছে কি বাবা ঐ যে ঠাকুর যাকে ‘কালী কালী বলে ডাকতেন, ঠাকুরের দেহ আর দু তিন দিন আগে সেইটে এই শরীরে ঢুকে গেছে। সেইটেই আমাদের এদিক ওদিক কাজ করিয়ে নিয়ে বেড়ায় ইত্যাদি, এই বলিয়া প্রথম এতে (বিঃ ১৪৮ পৃঃ) উল্লেখিত পরমহংস দেব কর্তৃক তাঁহার মধ্যে শক্তি সঞ্চারের ঘটনাটি বিত করেন। ( বিঃ ১০৩৪৩৫ পৃঃ) অসৎ কালী খাঁর দেহ মধ্যে বিরাজ করিতেছেন—তার আর কোনও সিদ্ধাই অর্জনের দরকার ছিল কি? সর্বশক্তিমান পরমহংস তত তাহাকে ইহাও বলিয়াছিলেন—“তাের ভিতর দিয়েই আমার সিয়াই কাজ করবে। ( বিঃ ১৪৯ পৃষ্ঠা) পাঠকবর্গ এই সকল কথার সতি বিধান করুন। আমীজি কাশ্মীরে (জুলাই ১৮৯৮) নামে গেলে নাকি “রং অমরনাথ তাহাকে দর্শন গিয়া কৃতার্থ করিয়াছিলেন । এবং মৃত্যুঞ্জয় শিবের কৃপায় তিনি ইচ্ছামৃত্যু বরলাভ করিয়াছিলেন। (বিঃ ৮৭ প) প্রায় সেই সময়েই (মে ৮৯৮) নৈনিতালে জনৈক নােলন তৰালী নাকি ‘ীতি দর্শনে , তার মালিক * দুগ্যে নােগে ভুগিয়া অকালে ৩৯ বৎসর বয়সে যিনি মুখে পতিত হন-স্কিনি নিশ্চয়ই ইচ্ছামৃত্যু বরপ্রাপ্ত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। -~- শক্তির পরিচয় পাইয়া বলিয়াছিলেন, “আমি যদি ভবিষ্যতে কেহ কখনও আপনাকে অবতার বলিয়া জারী করে, তাহা হইলে মনে রাখিবেন-আপনার এই মুসলমান বান্দাই তাহাদিগের সকলের অগ্রণ ইবে। (বিঃ ৮২৮-২৯ পৃঃ) কিন্তু বিবেকানন্দের কোমর তেমন জোব ছিল না । তাই তিনি অবতায় টেলেন না—কিন্তু তাহার হিগিতে তার প্রতিমূর্তির সাক্ষাতে ঘটস্থাপনপূর্বক পূর্জা ইয়াছে-এ সংবাদ আমরা শুনিতে পাইয়াছি। কি উদ্দে তিনি আমেরিকা গমন করেন, এ বিষয়ে হায়দ্রাবায়ে My mission to the west” শীর্ষক বক্তৃতায়, সর্বশেষে তিনি নি জীবনের উদ্দে ব্যক্ত করিয়া বলিলেন—“এই উদ্দেশ্য মাতৃভূমির গৌয় উদ্ধার ব্যতীত আর কিছু নহে। সায় তিনি সুস্পর বাক্যে প্রকাশ করিলেন যে, এই সংকল্প সিদ্ধির জ তাহাকে এ প্রচারকের বেশে দূরতম পাশ্চাত্য প্রদেশে যাইতে হইবে এবং কাে- বেদায়ে অতুলনীয় মহিলা আগতের সমক্ষে প্রকাশ করিতে হইবে। (বিঃ ৩৭৪৩৭৫ পৃ) পরক্ত মাত্রায় প্রত্যাবর্তন করিয়াই যেন উজের কিঞ্চিৎ ব্যত্যয় হইল—তিনি আমেরিকা যাত্রার নিমিত্ত এ সংগ্রহের সময়ে বলিয়াছিলেন-আমার যাওয়া যদি মার অভিপ্রেত , তবে সাধারণ লােকদের নিকটই ভি পাওয়া উচিত; কারণ আমি যে আমেরিকা যাইতেছি সে শুধু ভারতের ত্রি বা সাধারণ নারীর (বিঃ ৩৭৬ পৃঃ) বােধ হয় হায়দ্রাবাদে আমীর ওমরানের সভায় দরিত্রের কথাটা শীনি মনে উদিত হয় নাই। “প্রিয় এ নিটে লিখিত চিঠিতে কি •ে••জীবনের • এই কথাটা আমার কপােলকল্পিত নহে—বিবেকানন্দের দেহপতি শনি ধর্ষস্থানে উচ্চাচিলাষী পরমহংসের শনি দু বা উচ্চা। সুতরাং তাহাৰ (পরমহংসের তুলনায় (শনি) আর ফল এবং সেই জন্যই ইনি ( বিবেকানন্দ) তাহার শিষ্য স্বীকার করিয়াছেন।” (বি কোই বিচার ব্য।)

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। সারাংশটা আমেরিলয় কাটিয়ে এলুম, নিজের যতটা শক্তি ছিল, সব খােয়ানুশ-কেন? না, ও দেশের লােককে উদা উন্নত কর জয় ও ওদের আধ্যাত্মিক মার্গে নিয়ে যাবার জন্য।” (বিঃ ৭৪৪ পৃঃ)। পরন্তু আমার বোধ হয় গুরাটে পােরবন্দর রাজসভায় পণ্ডিতেরা যায়। বলিয়াছিলেন, তাতেই বিবেকানন্দের পাশ্চাত্য দেশে যাইবার জন্য তাহারা বলিয়াছিলেন “তাই স্বামীজি, ভারত আপনার উপযুক্ত স্থান নহে। আপনি পাশ্চাত্য দেশে গমন করুন এবং সে দেশে আগুন আলিয়া ম-দেখিবেন এ দেশের লােক আপনার প্রত্যেক কথায় উঠিতেছে, বসিতেছে।” (বিঃ ২৭৮-৭৯ পৃঃ) একটা বড় কিছু হ—এই উৎসর্পিণ বাসনা-ইংরাজীতে যাকে এশিন’ (ambition) বলে—বিবেকানন্দের প্রকৃতিতে অতীক ৰাষী ছিল। এইরূপ লােকের একটা এল মাআদর প্রাফেসামান্য লােকের বিষয়ে ঐটাই গল্প বলিয়া আঞ্চত হয়। মহাকবি ভবভূতির প্রতিধ্বনি করিয়া 'ভাতী সম্পাদিকার নিকটে লিখিত পত্রে তিনি বলিয়াছেন, কিন্তু আশা এই-সম্পৎতে িমম কোহপি সমান, কালােয় নিবধিবিপুল চ পৃথী।” (শত্রালী নং ১৫ প্রথম ভাগ ৮২ পৃষ্ঠা)। তিনি ইউরােপ হইতে এক পত্রে শিদিগকে লিখিয়াছেন-মামি ভারতের যেমন, সমুদয় জগতেরও তেমনি। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্চি • তদীয় জীবনচরিতের অবতরণিকায় (৩ পৃষ্ঠায়) গ্রন্থকাৰ লিখিয়াছেন- প্রাচীন কালের জুলিয়াস সীজার, আলেকজাণ্ডার দি গ্রেট ও ইদানীন্তন কালের মহাবীর নেপােলিয়ন প্রতি ২৪টি মহাগুণ সম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত তাঁহার কায় সর্ববিষয়ে শক্তিশালী পুরুষ বােধ হয় ঐতিহাসিক যুগের মধ্যে দেখিতে পাওয়া যায় না। এই বাক্যে উৎকট অত্যুক্তি থাকিলেও কিছুটা যথার্থতা আছে-সীজার, আলেকজাণ্ডার ও নেপােলিয়া ইহারা সকলেই দুরাকাজ ব্যক্তি ছিলেন লােক ছিলেন, কিন্তু পুণ্যলােক ছিলেন না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। আমার পশ্চাতে এক মহাশক্তি দাঁড়িয়ে আমায় চালাচ্ছেন। আমি কারও সাহায্য চাই না। *(বিঃ ৫২৫ পৃঃ) শিলংএ নাকি পাসের পীড়ায় কাতর হইয়া আপনা-আপনি বলিয়াছিলেন—যা মৃত্যুই যদি হয়, তাতেই বা কি আসে যায়। স্বা দিয়ে গেলুম দেড় হাজার বছরের খোরাক (১২৩) { তিনি না ‘ইচ্ছামৃত্যু বরপ্রাপ্ত-তবে এই মৃত্যুই যদি হয় ইত্যাদি কেন ? শিষ্যকে বলিতেছেন,-হীন সাহস হইলে ভাবিবে—আমি । অমুকের (অর্থাৎ স্বয়ং স্বামীজির) চেলা, •• এইরূপ খুব অভিমান রাখবি *( বিঃ ১৫০-৫১) মৃত্যুর দিনেও নাকি অস্ফুট স্বরে স্বামীজি বলিয়াছিলেন—“ঘদি আর একটা বিবেকানন্দ থাকতাে, তবে বুঝতে পারত বিবেকানন্দ কি করে গেল। কালে কিন্তু এমন শত শত বিবেকানন্দ জন্মাবে।” (বিঃ ১৮৭ পৃঃ)। এ সকলের উপর টীকা অনাবশ্যক। স্বামীজি আমেরিকায় গিয়া তত্ৰত্য স্ত্রীলােকদের হইতে যখন খুব প্রশংসা ও সহায়তা লাভ করিতে লাগিলেন, তখন তাদের সম্বন্ধে যে সব চিঠিপত্র লিখিয়াছিলেন, তাহাতে উহাদের অতিশয় সুখ্যাতিপূর্ণ কথা বলিয়াছিলেন। মাদ্রাজে শিষ্যগণের নিকটে ২১১৯৩ তারিখের চিঠিতে অছে--আর ইহাদের মণীগণ সকল স্থানের মণীগণ অপেক্ষা উন্নত (পাবলী ১ম ভাগ ৩১পৃষ্ঠ:)। শ্রীযুক্ত হরিপ মিত্রের নিকটে লিখিত ২১২৯৩ তারিখের চিঠিতে আছে *** এদেশের গ্রীদের মত । কোথাও দেখি নাই। • এ দেশের তুষার যোনি , • বিবেকানন্দ মহাসভায় বক্তৃতা দিয়া নামজাদা হইবার পূর্বে মাদ্রাসী শিষ্যদের নিকট লিখিত পত্রে তে সাহায্য প্রেরণের জন আত্তনাদ করিয়া- ছিলেন! (পাবলী--এখ, গ ১৫-২৭ পৃষ্ঠা অ।ৈ তখন ‘মহাশক্তি কোথায় ছিলেন?

রামকৃষ্ণ বিবেকানন এল।
তেমনি হাজার হাজার মেয়ে দেখেছি। আর এ কেমন স্বাধীন।
*** আর এদেশের মেয়েরা কি পৰি। ২/৩ বৎসরের ককে
কার বিবাহ হয় না। আর আকাশের পর এ স্বাধীন। আর
আমরা কি করি? আমার মেয়ের ১১ বৎসরে যে না হলে খারাপ হয়ে
যাবে। আমরা কি মানুষ?
ছেলেদের যেমন ৩ বৎসর
পর্যন্ত ব্রহ্মচর্য করে বিদ্যাশিক্ষা হবে, তেমনি মেয়েদেরও করিতে হইবে।
কিন্তু আমরা কি করছি? তোমাজের মেয়েদের উন্নত করিতে পার।
৩বে আশা আছে। নতুবা পশু ঘুচিৰে না। (পত্রাবলী ১ম ভাগ
৩০ ও ৩৭ পৃষ্ঠা) খেতড়ি রাকে ১৮৯৪ অকে যে পত্র দেন, তাহাতে
ছি। আমি আমেরিকার পারিগরিক এখন সন্ধে অনেক বাজে গল্প
শুনিয়াছি শুনিয়াছি নাকি সেখানে নারীগণের নানীর ত চাল-চলন
নহে-তাহারা নাকি এখীনতা-তাৰে উন্মত্ত হইয়া পারিবারিক জীবনের
সকল সুখ, শান্তি পদদলিত করিয়া চূর্ণ বিচূর্ণ করিয়া ফেলে, এবং আরও
এ প্রকারের নানা গুৰি কথা শুনিয়াছি। কিন্তু কলে একবৎসর
কাল আমেরিকার পরিবার ও আমেরিকার নারীগণের পরে অতি
লাভ করিয়া দেখিতেছি, ঐ প্রান্তের মতামত কি ভয়ঙ্কর মূল ও
। আমেৰিাবাহিনী জনগণ! তােমাদের ঋণ আমি শক্ত নেও
শােধ করিতে পারি না। তােমাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আমি
ভাষায় প্রকাশ করি। উটিতে পারি না। তারপর ফিরলে তিনি
সহায় অবস্থায় ঐ এল রমণীদের নানাঝকারের সাহায্য লাভ কয়েন,
তাহা বর্ণনা করিয়াছেন—পরে বলিয়াছেন- শত স্থায় পারিবারিক
জীবন আমি দৃষ্টিগােচর করিয়াছিত শত এমনী দেখিয়াছি বাহানের
দিল চরিত্রেরহারে লিখা পত্যৰেহে না কৰাি ভাৰ
নাই শত কন্যা ও কুমারী দেখিয়াছি হায় গান দেৰীৰ
ললাট তুষারকণির গয় নিলয় বিল শিক্ষিত এবং

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। সর্ববিধ মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতিসম্পন্না। তবে তিনি তার মন্দ ভাগও যে দেখেন নাই—তা নয়—কিন্তু তাহার উল্লেখ কি সংযত ভাবে ও সাবধানে করিয়াছেন—তবে কি আমেরিকার নারীগণ সকলেই দেবীরা? তাহা নহে, ভাল মন্দ সকল স্থানেই আছে। কিন্তু যাহা- দিগকে আমরা অসৎ নামে অভিহিত করি, জাতির সেই পদার্থ অসার অংশ দর্শনে সমগ্র জাতির ধারণা করিলে চলিবে না, কারুণ উহারাও আগাছার মত পাতে পড়িয়াই ৰাকে ; যাহা সৎ, উদার ও পবিত, তাহারাই জাতীয় জীবনের নির্মল ও সতেজ প্রবাহ নিৱপিত হইয়া থাকে।” (বিঃ ৭৫১-৫৩ পৃঃ) খুব উদার কথা সন্দেহ নাই। কিন্তু দুই বৎসর পরে আমেরিকা হইতে ইউরোপে আসিয়াই যেন বলিয়ে গেল যতটা। ১৯ অকে বিলাতে বক্তৃতায় তিনি বলিয়াছিলেন। "The Lindas to produce a little clastity in the race, have degraded all their children by child marriage, which in the long ron has degraded tbe race. † At the same time I cannot deny that this child marriage makes the race more chaste. What would you have ? # কথাগুলি সমস্তই জানা আবশ্যক বলিয়া একটু বিস্তৃত ‘কোটেশন' কর। হইল। বিবেকানন্দের জীবনী লেখক এই সকল কথার উল্লেখ করেন নাই- করিলে ব্যাৰােজ বিবেকানদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযােগ করিয়াছিলো , তাহা যে অন্ততৃ আংশিক সত্য, এটা স্বীকার করিতে বাধ্য হইতেন। * এটা কি ঠিক? তিনি তাে “y Master" বিষয়ক বক্তৃতায় বলিয়া- (6-This boy (#743*) had been married at the age of about 'eighteen to a little girl of five. Of course sach'a marrige.. but a betrothal. The real marriage takes place when the wife grows older when it is customary for the husband to go and bring his wife to bio own bouse (Natesan's Cottections p 21 ). 1" রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। If you want the nation to be more chaste, you degrado men and women pbysically by this awful child marriage. On the other hand, are your safe on your side ? No, because chastity is the life of a nation. Do you not find in the history that the first death sign of a nation has come through anchastity ? When that has entered, the end of the nation is in sight Where skall we get a solution of these miseries then ? If parents select husbands and wires for thir own children, then this evil of love is prevented. The daughters of India are more practical than sentimental. Very little of poetry remains in their lives. Again, if people select their own basbands and wives that does not bring much happiness. The Indian woman is very happy, there is scarcely & Case of quarrelling between husband and wife. On the other hand, in the United States, wbere the greatest liberty obtains, scarcely is there a happy home. There may be some, but the duaber of anbappy homes and marriages is so large that it passes all description. Scarcely could I go to a meeting or society but I found three quarters of the women present bad turned out their busbands and children. It is so here there and everywhere." Natesan's Collection:a. "Maya and Ilosion-PP 203-204). এই গেল আমেরিকায় নারীবিষয়ক কথা। এখানে এইটুকু তৃতীয় পরিচ্ছেদ। উল্লেখ করা আবশ্যক খনে করিতেছি যে, যিনি সভাপতিশে তদানীং অপরিচিত বিবেকানন্দকে চিকাগাে ধৰ্ম্মমহাসভায় বক্তৃতার জন্য উৎসাহিত করিয়াছিলেন, সেই ডাঃ ব্যারােজ ভারতবর্ষে পরিভ্রমণ করিয়া স্বদেশে গিন্ধা বিবেকানন্দ সম্বন্ধে কতকগুলি অভিযােগ করেন- তন্মধ্যে আমেরিকার নারীগণের অষণা নিন্দাও একটা বিষয়। এই অভিযােগের উত্তরে স্বামীজি আমেরিকায় জনৈক বন্ধুকে যে পত্র লিখিয়াছিলেন, তাহাতে বলিয়াছেন—“একটা বক্তৃতায় আমি শিশুদের (অর্থাৎ মিশনাতিদের) সম্বন্ধে ও তাদের উৎপত্তি নিয়ে একটা কথা বলেছিলাম-অব ইংরেজ ধর্মযাজকদের বাদ দিয়ে—আর সেই সঙ্গে আমেরিকায় চার্ল্ডওয়ালা স্ত্রীলোেকদের ও তাদের কুৎসা উষনের শক্তিসৰ্বন্ধে একটু উল্লেখ করেছিলাম। এটাকে নিয়ে মিনুরা খুব লাফালাফি করে বলে বেড়াচ্ছে, আমি নাকি সমস্ত আমেরিকার নারীজাতির নিন্দা করেছি-মভল আর কিছুই নয়-ওদেশে আমি যে একটা করে এসেছি, সেটা পণ্ড করা। ইত্যাদি (বিঃ ৭৪৩ পৃ) এ সকলের সঙ্গতিবিধান পাঠকগণ নিজেই করিবেন। অমিতে। দেখিতেছি কেবল আয়া ও ইলিউশন’ ভারতের নামীগণের সন্ধেও বিবেকানন্দের দু’রােখা খা উপরে উন্নত হইয়াছে। সাধারণ জনগণ সন্ধেও তদীয় মতামত উল্লেখযোগ্য মনে করিতেছি। আমেরিকার পথ হইতেই চীন ও জাপান শুনাতে মাদ্রাজী বন্ধুগণের নিকটে লিখিত চিঠিতে আছে-শত শত যুগের অবিচ্ছেদ সামাবিক অত্যাচারে তোমাদের সব অনুষটা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে, * বিবেকানন্দচলিতলেখক মহাশও বলিয়াছেন কিন্তু প্রকৃত পক্ষে স্বামীজীর কোন লেখায় বা বস্তায় আমেরিকান রমণীগণের বিরুদ্ধে একটি কথাও দেখিতে পাওয়া যায় না।" ইত্যাদি (বি ৫৮১ পৃঃ।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ তােমরা কি বল দেখি?” আবার আছে এসাে না হও। নিজেদের কীর্ণ গর্তথেকে বেরিয়ে এসে বাইরে গিয়ে দেখ সব জাতি কেমন উন্নতিপথে চলেছে তারপর জিজ্ঞাসা করিতেছেন- এমন কতকগুলি নিঃস্বার্থ যুবক দিতে প্রস্তুত-যারা দরিত্রের প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন হবে তাহাদের ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন প্রদান করবে, সর্বসাধারণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার কবুবে আর তােমাদের পূর্বপুরুষদের অত্যাচারে যায় পশুপদবীতে উপনীত হইয়াছে তাদের মানুষ কৰাৰ এয়ে আমরণ চেষ্টা করবে ?” (পৱাবলী ১ম ভাগ ১৩.১৪ পৃষ্ঠা) তারপর ভারতে একদিন এক শিশুকে বলিয়াছিলেন-সংগ্রামগণতাই জীবনের চিহ্ন, যে জাতির চেষ্টা নেই, আত্মরক্ষার ক্ষমতা নেই, সে তটা মরেছে-যেমন আমাদের আত। (বিঃ ৬৯৮ পৃঃ) এখন পাশ্চাত্য সমাজের লােকসাধারণের কিরূপ অবস্থা বর্ণিত হইয়াছে, দেখা যাউক। মাদ্রাজ শিগণের নিকটে ২১১৯৩ তারিখে চিকাগো হইতে লিখিত পত্রে আছে এখানকার একজন রেলের কুলি তােমাদের অনেক যুবক এবং অধিকাংশ রাজা রাজা হইতে অধিক শিক্ষিত। আমরাও কেননা উহাদের মত শিক্ষিত হইব। অবশ্য হইব। আমরা দঘি বলিয়া যদি ওজুহাত দেই—এই মনে করিয়া তিনি লিখিয়াছেন মনে করিওনা আমরা পরিত্র ; অর্থ এগতে শক্তি নহে, সাধুতাই, পবিতাই শক্তি। আনিয়া দেখ, সমগ্র জগতে ইহাই প্রকৃত শক্তি কিনা।” (পত্রাবলী এখভাগ ৩৪ পৃষ্ঠা) এই পাশ্চাত্য শিক্ষিত # অথচ আমেরিকায় পথ হইতে লিখিত পরে একস্থানে আছে চীন ও ভারৱাসী বেসভ্যতালােপানে একপদ অগ্রসর হইতে পরিতেছে না, জঙ্গিদ্রের প্রতি দাবিই তাহার এক প্রধান কারণ। সাধারণ হি ৰা চীনবাসীর পক্ষে তাহার প্রাত্যহিক অভাবই তাহার সময়ের এত ব্যাপৃত করিয়া রাখে যে, তাহাকে আর কিছু ভারি খসর জো না। (পুৱাৰ ১ম ভাগ ৮ পৃষ্ঠা)। • তৃতীয় পরিচ্ছেদ। কুলি প্রভৃতির জ্ঞান ও চরিত্র কিরূপ, স্বামীজির বর্ণনায় দেখা যাইবে। তিনি গল্প করিয়াছিলেন, এক বিশপ একদিন এক কয়লার খনিতে গিয়াছিলেন •••• জিজ্ঞাসা করিলেন, “তােমরা কি খ্ৰীষ্টকে জানাে ? তাহাতে শ্রোতৃবর্গের একজন বিশেষ ঔৎসুক্যের সহিত উত্তর করিল, ' আছে তার নম্বরটা কত? এই বলিয়া স্বামীজি গভীর হইয়া বলিতে লাগিলেন, পাশ্চাত্যের লােকেরা এশিয়ার লােকের মত বাশ নহে। সাধারণের মখে ধৰ্ম্মর চিন্তাই নাই। একজন ভারতবাসী লন্ডন বা নিউইয়র্কে গেলে প্রথমেই দেখে—সেখানকার দুনীতিপরায়ণতা তাহার ফতি নরকের চেয়েও বেশী। এশিয়ার লোক যতই অধঃপতিত হউক, লগুনের হাইপার্কে দিন দুপুরে যে সৰ কাণ্ড ঘটে তা দেখলে তারও মনে ঘৃণা হয়, তিনি বলিতেন, “পাশ্চাত্য দেশের নিম্নশ্রেণীর লােকেরা শুধু যে তাদের ধর্মশাস্ত্র সম্বন্ধে অজ্ঞ, তা নয়, এদিকে খুব গোড়া ও অসভ্য। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলেন, এক কয়লার গাড়ীর গাড়ােয়ান তাহার প্রাচ্য পােৰাকের উপর একটা কয়লার চাই ছুড়িয়া মারিয়াছিল। (বিঃ ৮৩১ পৃ.তবে আমাদের দেশের নিম্নশ্রেণীর জন্য স্বামীজির এত দরদ কি ? এদের পশু কোথায়? দারিদ্র্য তো নিন্ম শ্রেণীতে সীমাব নহেমন্ত শ্রেণীতেই তাহা অন্যধিক রহিয়াছে-- পুরােহিতশ্রেণীতে তো দারিদ্র নিত্যসিদ্ধ। তারপর ‘জাটা মরেছে লিছিলেন-আবার তিনিই অনুপও বলিয়াছেন। বলিত, ভারতীয় জাতি অরা হইয়া অকর্মণ্য হইয়া পড়িয়াছে, তা # কিন্তু ভারতে অপৰাধীর সংখ্যা অল্প বলায় নাকি তিনি সিষ্টার নিবেদিতাকে বলিয়াছিলেন, “হা ভগব। এরূপ না হইয়া যদি ইহার বিপরীত হইত। কারণ এই আপাতদৃষ্ট ধর্মভাব বা অপরাধের অল্পতা, এটা মৃত্যুর লক্ষণ। (বিঃ ৯৩৫ পৃষ্ঠা) এর উপর আর কথা চলে না। ইহাইকি প্রচারকের উক্তি ?

১ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রাণ। হইলে তিনি নানা উদাহরণ তারা দেখাইতেন, জাতিটা প্রাচীন হইলে বুর খায় সবল ও সতেজ আছে, তাহার প্রমাণ এই, এদেশের সমাজ যত বিদেশের সভ্যতাকে আপন শরীরের অংশবিশেষে পরিণত করিয়া নয়, অপর কোনও সমাজ তাহা পারে না। (তি ২০২১ পৃঃ)। তিনি পাশ্চাত্য দেশের সঙ্গে ভারতবর্ষের তুলনা করিয়া এক ইংয়ে বক্তৃতায় বলিয়াছেন—“Social matters in India have not been free, but religious opinion h48., Bere (aparte 1576 CTC) a wag may dress any way be likes, or eat what he likes, no one says nay or objects, but if be misses attending the Church Mrs. Grundy is on him. Maya and the conception of God”-Natesan's Collection P. 229 (ৰাহুয়ভয়ে অধিক উন্নত হইল না)। কিন্তু এই তুলনা কি ঠিক? এখানে কি কেহ কোনও পােষাকে কোনও দিন জাপতি করিয়াছে। এই যে ইংরেজীশিক্ষিতের দল কেহ কোট-প্যান্ট, কেহ চোগা চাপকান্, কে.হেট-কোট, কেহ ‘পাগড়ী, কেহ শালা, কেই ক্যাপ, নানারূপ পােষাক পরেন-এজন্য কি কেহ সমাজচ্যুত হইয়াছেন। অ খাদ্যাখান্থ বিচার, একটা আছে—কিন্তু তাহাতেও কেহ ভাত, কে লুচি, কেহ বৎ মাংস, কেই নিরামিষ ভােজন করিতেছে। কে কবে সমাহিত হইয়াছে? আর পাশ্চাত্যে এখানে আসিয়া গ্রীয়ের মধ্যেও ধুতি পরে না—তাহাদের আট-শাট পােৰই পরিখান কয়েকচিং ভাত খায়—পর মঘমাংসভুয়িষ্ঠ আই করে। ও দিকে বিদেশীমেরা পাশ্চাত্য দেশে গিয়া যদি অন্যরূপ পোষাক পরে, ৰে যে বিড়ম্বনা হয়, ইতপূর্বে আমীজির উক্তি উন্নত কম্বিয়াই দেখান ইয়াছে। তাহার একখানি পলেও আছেঃ-দেশের সীলােকেরা পুরুষের পােষাক সম্বন্ধে বড়ই পুংখুতে, আর এদেশে তাহাদেরই তৃতীয় পরিচ্ছেদ। এভূ-পত্রাবলী ১ম ভাগ ২ পৃঃ) তৰেই তো কেবল বিদেশ নয়. ওদের দেশের লােকেরাও যাচ্ছা পােষাক পরিতে পারে না। আবার সবেও বিবেকানন্দই প্রমাণ। তিনি বঁটাচামচের পরিবর্তে শুধু হাত দিয়া খাইতে চাহিতেন, প্রথম প্রথম ও দেশের লােকেরা তাহাকে শুধু হাতে খাইতে দেখিলে যেন স্তম্ভিত হইয়া যাইত-কারণ ওদেশে; কাঁটাচামচে ব্যবহার না করা ঘােয় সভ্যতার চিহ্ন।” (বিঃ ৫৩) তা হলে স্বাধীনতা কোথায়? বরং এনেৰে এইটুকু উদারতা আছে যে, বিশেষ যাচ্ছিক আহার বা পােষাক সম্বন্ধে কেহ কুত্রাপি কটাক্ষপাতও করিবে না। বামিজী এদেশে কাহাকেও ইউরােপীয় পরিচ্ছদ পরিহিত দেখিলে বিরক্ত হইতেন। কতিপয় সিংহলবাসীয় ঐরূপ পােবা দেখিয়া তিনি বলিয়াছিলেন, এরূপ অন্ধ অনুকরণ অতীৰ হেয়। বিশেষ ইউরােপীয় পরিচ্ছন্ন ভারতের পক্ষে অচল। কালা চেহারায় এসব ষোটেই মানায় না। (বিঃ ৬৩ পৃঃ) তিনি আরও বলিয়াছেন- “যখন ভারতবাসীকে ইউরােপীয় বেশভূষামণ্ডিত দেখি, তখন মনে হয় বুঝি ইহার পদদলিত বিদ্যাহীন সরিঞ্জ ভারতবাসীর সহিত আপনাদের জাতীয় বীকার কয়িতে লজ্জিত।” (বিঃ ১১) উত্তম কথা। কিন্তু তিনি যখন শেষের বার পাত্য দেশ বেড়াই ভারতে এত্যার হইয়াছিলেন, তখন তার পােযাকটি কি রকম ছিল? বোম্বাই হইতে ফলিকার পথে *স্বামীজি ইউরােপীয় পরিচ্ছেদ পরিয়াছিলেন বলিয়া প্রথমে স্মথ বাবুও তাহাকে ভালরূপ চিনিতে পারেন নাই-ইতস্তত করিতেছিলেন, কি জানি যদি অন্য কেহ হয়।” বেলুড় মঠ উপনিত হইলে বাগানের মালী চুটিয়া গিয়া মঠের লােকদিগকে সংবাদ দিল একো সাহেব আউচি” (বিঃ ৯৮ পৃষ্ঠা)। তিনি ব্যাখ্যা যে ভাবে করিয়াছেন, তাহাও অনেক সময়েই আপত্তিজনক। তিনি বলিয়াছেন ‘প্রেতপূজাতেই হিন্দুধর্মের আন্ত।

রাগ বিবেকাম এল। ANA এখয়ে ব্যক্তিবিশেষের শরীরে কোন মৃত আত্মীয়ের প্রেতাত্মাকে আবাহন করিয়া তদুদ্দেশ্যে পূজাও বলি প্রদানের প্রথা ছিল। দৃষ্ট হইল যে, যে সকল ব্যক্তির শরীরে প্রেতের আবির্ভাব হয়, তারা বড় পাখীরিক দৌর্বল্য অনুভব করে, সুতরাং এ প্রথার পরিবর্তে কুশপুত্তলীতে প্রেতনয়নের ব্যবস্থা হইল এবং তাহাই উদ্দেশ্যে পিত ও পূজা প্রদত্ত হইতে লাগিল্প। বৈদিক যুগের দেবতাদির জানান ও পূজাও তিনি এই তেপূজারই পরিণাম বলিয়া নির্দেশ করিলেন। (বিঃ • পৃঃ)। শিবলিঙ্গ ও শালগ্রাম সম্বন্ধে তিনি (প্যারিসে নেও এক সাহেবের প্রবন্ধের আলোচনায় ) বলিয়াছেন “বেদে, বিশেষত অথর্ববেদসংহিতায় ঘূপশুম্ভকে পৱব্ৰহ্মের প্রতিকৃতি ওলিয়া কজন করা হইয়াছে। ইহা হইতেই পরে শিবলিঙ্গের প্রচলন হয়। এই বলিয়া কান্ত হইলেও পারিতেন কিন্তু তাহা নয়, আবার বলিলেন—“পরে হয়তাে বৌদিগের আমলে এই শিবলিকপূজার পদ্ধতি আরও ক্ষত্তিলাভ করিয়াছে; কারণ ঐ সময়ে বৌকে যে সকল কাপ নিৰ্ম্ম করিত, তন্মধ্যে স্বয়ং বুদ্ধ বা বৌদ্ধ ভিক্ষুগণের কোন একটি শ্রয়-চিকিত হইত এবং ঐ পৰুে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে দেখা হইত। দরি বৌদ্ধেরা ধনাভাৰে অতি ক্ষুদ্র পাতি শ্রীমুদ্ধের উদ্দেশে অর্পণ কতে কালে সম্ভবতঃ ঐ ক্ষুদ্রায় আরফপও পূর্বোক্ত স্তম্ভের স্থাৰ অধিকার করিয়া বলিয়াছে ও আকপের প্রতি সন্ধান অন্তাকায় শিকলিজপূজায় পরিণত হইয়াছে। বৌদ্ধপের অপর নাম ধাতুগর্ভ। প মথ শিলার মধ্যে প্রমি বৌদিগের গুল্মছি রক্ষিত ত। লালগ্রাম শিলা উক্ত অহি ওয়াদি ক্ষণ শিলার একতিক প্রতিরূপ। অতৰ প্রথমে বৌদ্ধ পুজিত হইয়া কালে যৌগতের অন্যান্য অন্যায় বৈষ্ণৰঞ্জদারে প্রবেশ না করিয়াছে ।*(বিঃ ৯৫৬)। * এইরূপ কথা কোনও সাহেবের মুখ হইতে বাহির হইল বং সহনীয় তৃতীয় পরিচ্ছেদ। স্বামীজি যখন প্রায় জীবনপ্রান্তে পেীহিয়াছেন, তখন একদিন তিনি শিদিগকে বলিয়াছিলেন,খেল করতাল বাজিয়ে লক্ষ অল্প করে দেশটা উচ্ছন্ন গেল। একে ত এই dyspeptic (পেটরােগা ) রােগী দল-তাতে অত লাফালে ঝাপালে সইবে কেন ? কাগইন উচ্চ সাধনার অনুকরণে দেশটা যাের তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে গায়ে গায়ে যেখানে যাবি দেৰি খােল ঋতাই বাজছে। ছেলেবেলা থেকে মেয়েমারি বাজনা শুনে শুনে দেশটা যে মেয়েদের দেশ হয়ে গেল। এর চেয়ে আর কি অধঃপাতে যাবে। * যে সব music (গীতবাদ্য) মাগষের soft feelings ( হৃদয়ের কোল ভাবসমূহ) উদ্দীপিত করে, সে সকল কিছু দিনের জন্য এখন বন্ধ রাখতে হবে ইত্যাদি। তবে কি করিতে হইবে, তিনি লিখেছেন। “ঢাক ঢােল দেশে কি তৈরী হয় না? তুরী ভেৱী কি ভারতে মিলে -ঐ সব গুরু গভীর আওয়াজ ছেলেদের শােনা। ত শিঙ্গা বাজাতে হবে, ঢাকে ব্ৰহ্মরুদ্রতলের দুন্দুভিদ তুলতে হৰে মহাবীর মহাবীর ধ্বনিতে এবং হর হর বােম্ বােম্ শব্দে দিশে কম্পি কতে হবে। * বৈদিক ছন্দের মেঘমন্ত্রে দেশটার প্রাণ সঞ্চার কর্তে হয়ে। সকল বিষয়ে বীরত্বের কঠোয় মহাশতা খাতে হবে।” ইত্যাদি (বিঃ ১৪৯-৫ পৃষ্ঠা)। খােল করতাল বানিয়ে লম্ফ ঝম্প নিলে পেট রােগা হইতে পারে কি না-এ বিষয়গিরিশ ঘােবকে সাক্ষী আনিতে পারা যায়। উতলীলায় বোধ হয় তিনি গাই গাই বা বলাইছেন, সারারাতি কর্তন করা । কিদে গিয়ে নেয় আর চিন্তার দিয়া সুচি সাবাড় করে। বৈ হইত। একজন সন্ন্যাসিকেশধারী চায় এসি হিপুৰ পৰুে এপ ব্যাখ্যা কিরূপ শোভন-ভিভিব্য। (মরপঝখ্যা এপ আমি “এ শে দেখা গিয়াছে। ৰাহুল্যভরে উন্নত হই না ) রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এস। বর্ণনায় পতিত কৰিও তো বলিয়াছেন,-“কীর্তন পতনে শরীর। আর তুরী তেৰীয় আওয়ারে ম্যালেরিয়াগ্রত সােজয়-বিশেষত শিশুদের শীতে চাইবে না কি? ‘কামগন্ধহীন উচ্চসাধনার অনুকরণে দেশ মোর তমসা হয়, আর ডমরু শিলা আজাইয়া ‘বীর’ (অর্থাৎ হনুমানজীর) ধ্বনি করিলে দেশটা খুৰ সাত্বিক হইবে! (হনুমানের বাসিক প্রকৃতি যে পাইৰে-চপল স্বামীজিই ইন্সর প্রমাণ। বাজি চান দেশে কেবল একতাল-রু তালই বাজুক, আর বৈষ্ণৰ গুৰ তিরােহিত হউক! এই কি শেষ সময়। কথা কাশীজির জৰ ৰজাৰ সন্ন্যাসিবের বিরােধী-তিনি এত যাহা ছিলেন—তাহা সন্ন্যাসীর সাজে আবৃত ছিল মাত্ৰ-কি বাক্যে ও কাধ্যেতামতই প্রকট হইত। সেই সম্বন্ধেই এখন আলােচনা কৰিব । তাঁহার চরিতাখ্যায় বলিতেছেন—তার চরিত্রে দুইটি অসম প্রকৃতি কি মুসংসপে পরস্পর বেষ্টিত হইয়া বিয়া করিত—একটি ত্যাগ ও বৈরাগ্যের ভাব, অপয়টা আনন্দের শুদ্ধবিগ্ৰহৰূপে, গৎ-নুস আস্বাদনের ভাষ। (বিঃ ৯০ পৃঃ) এটা সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বের কথা হইলেও, তাঁর সমগ্র জীবনেই এই দুটি ছি—তবে জীবনচরিতকার যে ভাবে ব্যাখ্যা করিতেছেন, সেভাবে নয়। মুখে ও পােষাকে ত্যাগ অর্থাৎ সন্ন্যাসি, কি আচার আচরণে পূর্ণ গানের তাব।” এই দুইটিতে সময় (৫) যদি হয়—তবে এভাবেই হইয়াছে। ত্যাগের মধ্যে এই মাত্রই দেখা যায় যে, তিনি বিবাহ করেন নাই— বিক করিলেই যে সংসারের নানা ঝাট-ভোগের আয় হইয়া দাড়ায়, এটাও বিবেচ্য। সাংৱিক কৰ্ম্ম করিলে তিনি হয়তো একটা দুই * আশ্চর্যের বিষয়, যে মুরাসিক যুক্ত অমৃতলাল বসু সেদিন কোনও এতে (মালিক ৰমতী অগ্রহায়ণ ১৩৩১ বিনিমিয়ােণামে)লিখিয়াছেন “এদেশে সিজার একেকজাণ্ডার পোেলিয়ন ৰী নহেন, এদেশে ৰীৰিকোন তৃতীয় পরিচ্ছে। উ কল (পাৰণী ১ম ভাগ-১৩ পৃষ্ঠা) হইতে পারিতেন, কিন্তু সন্ন্যাসী সায় যে আজ ও আরাঢ়ার রা পলে করন যায় এটাও আদত ফায়েতের ছেলে বিবেকানন্দ বিলক্ষণই বুঝিয়াছিলেন। সন্ন্যাসী পাজিয়া বিবেকানন্দ ত্যাগ যে কতটা করিয়াহিলেন, তাহা একবার দেখা যাউক। চা চুরুট মৎ মাংসাদি শ ত চলিতই- ‘না’ প্রিয়তার জন্য মধ্যে মধ্যে মিথ্যা ওজুহাতও দিতে হইত। এক লে আছে—লঙ্কায়িত এভূক্তি ভঙ্গ বা বাজির বড় প্রিয় ছিল। কারণ জিজ্ঞাসায় একদিন বলিয়াছিলেন-পৰ্যটনকালে সরাসীদের দেশ- বিদেশে নানাপ্রকার দূষিত জল পান করিতে হয়; তাতে শরীর খারাপ করে। এই দোষ নিবারণের জন্যই তাদের মধ্যে অনেকেই গাজা চল এহুতি নেশা করিয়া থাকেন। আমিও সেই জন্য এই খাই। ( বিঃ ২৯৬) আমেরিকায় অবশ্যই নানাপ্রকার দূষিত জল পানের আশঙ্কা ছিল না—সেখানের ওকুলত শুকুন-“তিনি তরকারিতে এত ঝাল দিতেন যে, আর কেহ তাহা খাইতে পারি না। তিনি নিজে ঝাল ভালবাসিতেন বলিয়া যে দিতেন শুধু তাহাই নহে, কামী, ত্রৈলঙ্গ স্বামী, ভাষানল মী প্রভৃতি। * ত্যাগই এদেশে বিজয়ী। অত. বাৰু, ত্রৈলঙ্গ স্বামী ও ভাস্কৰণ স্বামী প্রভৃতিকে এভাৰে ( বিবেকানন্দের সঙ্গে—তাও আবার পরেশাম এহণ করিয়া) অবমাননা কেন করিলেন বুঝিতে পারিলাম না। এ যে ‘খানং যুবন যখনমাহ’! # এ স্থলে উল্লেখ আবশ্যক যে, তিনি সন্ন্যাসী হইয়াও কায়স্থ গৃহ গিরীশ বাবুকে প্রণাম করিয়াছেন (বিঃ ৬৯ পৃঃ) ও নাগ মহাশয়কে পত্রে ‘অসংখ্য সাষ্টা জানাইয়াছেন (পত্রাবণ ১ ভাগ ১০ পৃঃ) এবং সাক্ষাৎকালে এমবিঃ৯১৮) করিয়াছেন। [এই নাগ মহাশয় সম্বন্ধে একি বলিয়াছিলেন, পৃথিবীর বহন শ্রমশ করিলাম, কি নাগমহাশয়ের মত মহাপুরুষ কোথাও দেখিলাম । (বিঃ ৯২৫পৃঃ) অথচ পাওহরিবাবা সম্বন্ধে তিনি বলিতেন, “স্বাম দেবের পর পাহাঝিবার খান।(বি+১ পৃঃ) তবে কি না হায় পরমহংসও পাওছারি বা অপেক্ষাও বড় ছিলেন?]

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এস। । নেক সময়ে দেখিতে দেশের জিহ্বার টা ঝাল মশলা সহ হইতে পারে। তিনি বলিতেন যে, এসব ঋণ অনলা উহার লিভারের বস্তুত কিন্তু ঠিক তার বিপরীত। তবে তাঁহার মুখে ভাল লাগি বলিয়া তিনি ঝাল দিবার লেঃ কম করিতে পায়িতেন ।” (বিঃ ৫৬৬ পৃঃ)। { তাহার জীবনচরিতলেখকও এখানে কি বলিতেছেন, দেখুন ।] আর ঝাল খাইবার জন্য আগ্রহ কত, সুইজার- লাতে সায় দেয়ারে তিনি একদিন খুব ঝাল লঙ্কা দেখিতে পাইলেন। পাশ্চাত্ত্য দেশে গিয়া অবধি এলপ লঙ্কা দেখেন নাই। তাহাকে কতগুলি কঁচা লঙ্কা চিবাইতে দেখিয়া বিক্রেতা এবাৰু ইয়া রহিল, কিন্তু তিনি মহাপরিতৃপ্তির সহিত জিজ্ঞাসা করিলেন, 'তােখা এর চেয়ে ফল লঙ্কা আছে?’ (বিঃ)! ভগবান গীতায় বলিয়াছে, টুলবণাত্যুষ্ণুতীকক্ষবিদাহিনঃ সাহারা রাজসচেষ্টা দুঃখপােকাময় প্রদাঃ ১৭ : ৯ স্বামীজির একতি ইহা হইতেই ধরা পড়িতেছে—জোগুণ তাহাতে এবং ছিল—তাই "গায়ের জোরে কথা এত শুনিতে পাই। অভ্যাস সন্ন্যাসীর ধর্ম। কিন্তু সামান্য ঝাল’ ‘লঙ্কা খাইবার এফতিটা মন করিতে পারি না। মেয়ের হাত হইতে কে নিয়া ভাই খাবার গল্প শুনিয়া নাটককার গিরিশমােণ বলিয়াছিলেন- “তুই গাজাখাের, তাই নেশায় বোকে মেথরের কলকে টেনেছিলি?” (বিঃ ১৮৭ পৃঃ) স্বামীজি অবশ্য অন্য জবাব দিয়াছিলেন, কিন্তু আমার মনে হয় গিরিশ বাবুই ঠিক বলিয়াছিলেন। কেননা এভেনেও তিনি এক হিনী পালওয়ানের কাছে গিয়া তেই তোমায় চিমঠো দো” বলিয়া কনিকা এইডিতে টানিয়াছিলেন (বিঃ ৬২৫) চায়ের রুটি খাইবার, ওজুহাত দিয়াছিলেন সে সময়ে আমি ৰচরিকায় খৰ ইহাতে মাহিকতা অই দেখিতে পাই ছেন-তাই ইহার উল্লেখ কৰিছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ। * গ্যাসের নিয়মানুসরে অস্পির্শ করি না।' (কি ৩৪পৃঃ) কি চুরুট-তামাক সে সময় ছাড়িয়ন্থিলৈন কি? তাহাতে হত অগ্নিস্পর্শ হটতর জুনাগড়ে তাে তিনি অনাদি কাৰ্য্যে সুপটু ছিলেন—এ অতি উত্তম রাগাের প্রস্তুত করিতে পারিতেন।” (বিঃ ২৬৫ পৃঃ) এইরূপ তিনি মহীশূর বলিয়াছিলেন-“রাজ! আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আছি পরিব্রাজক অবস্তায় অর্ধশশ বা কোনও দ্রব্য সঞ্চয় করিব না তবে কি আমেরিকা ইত্যাদিতে যাওয়ার কালে পরিব্রাজক অবস্থাটা ঘুচিয়া গিয়াছিল? কেননা বাবার সময় তাহার নিকটে অর্থ কিঞ্চিৎ সঞ্চিত হইয়াছিল, সেটা পত্রাবলী হইতেই জানিতে পারা যায় (প্রথম ভাগ ২ নং পত্র দ্রষ্টব্য)। আমেরিকায় তো বক্তৃতা দিয় বহু অর্থ সঞ্চয় ক করিয়া বেলুড়মঠ নির্মাণে বিনিয়ােগ করিয়াছিলেন। (বিঃ ৮৬ পৃঃ)। বিলাসিতার ভাব তাহার জীবনে বহুশ দেখা গিয়াছে—অন্তত একজন সন্ন্যাসীর পক্ষে এরূপটা অবানীয়। যখন বুত হরিপ মিত্রের আবাসে (বেগাঁওয়ে গেলেন, সজীয় জিনিস মধ্যে একখানি মাত্র পুস্তক ছিল-সেখানি ফরাসী সঙ্গীতসীয়। ফরাসীদের সঙ্গীতে বৈরাগ্যের উদ্দীপক উপাদান আছে কিনা জানি না। নবেলের প্রেম কাহিনীতে যে লিক্ষণ রুচি ছিল তাহা তাহার কথা ইতেই জানিতে পারি-“তােমরা কি জানো যে আজকাল আমি উপায়ে প্রেমকাহিনী পৰ্মন্তু পড়তে পারি না ( বি ৬২৫) এই উকি রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠার সময়ে বােধ হয় :৩৪ সালে। তিনি রেলের তৃতীয় শ্রেণীর গাড়ীর কষ্টে অতিশয় অস্থির হইয়া, ইহার (মটুক নামক শিরে) নিকটে একখানি মধ্যম শ্রেণীর টিকিট প্রার্থনা • তিনি এই লেখকের নিকটে ফেঞ্চ নভেল পড়িবার আকাকা একান্ত করিয়াছিলেন। (আসামে বিবেকানন প্রবন্ধ ( দ্বিতীয় পন্ধিলে। অষ্টব্য। প্রথম জীবনের প্রায় শেষ ভাগ (১৩০৮ বৈশাখ।

৭ রা বিবেকানন এ। করায় উনি (টু) বলিয়াছিলেন, “কি রুতি বিলাস ঢুকেছে নাকি। (বিঃ ৭৮৫ পৃষ্ঠা)। “বিলাস’ আমেরিকায় নিতান্ত অর্থ তার সময়েও দেখা গিয়াছে—তথায় প্রথম শ্রেণীর গাড়ীতে প্রমণ করিতেন। আমেরিকায় নাকি কানাডা ব্যতীত আর কুপি ফায় ক্লাস ছাড়া গাড়ী নাই। এক পত্রে তিনি লিখিয়াছিলেন, সুতরাং আমাকে ফাক্লিাসে ভ্রমণ করিতে হইয়াছে ** আমি কিন্তু উহার পুলমান গাড়ীতে চড়িতে ভয় করি না। কারণ পত্রেই ছিল,-“এগাড়ীতে (ফাঃ”ক্লাস) বই তুমি যেন হটেলেই আছ, বােধ করিবে; কিন্তু বেজায় খরচ। (পত্রাবলী ১ম ভাগ ২০ পৃষ্ঠা।) প্রমণকালে রাজা রাজড়াদের অতিখি হইয়া “রাজকুমারদের সহিত অবােহ বা অন্য জড়ায় যােগ দিতেন। (বিঃ ২৭৪ পৃঃ)। ইউরােপ আমেরিকায় স্ত্রীলােক- দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবেই মেলামেশা করিয়াছেন-ফান্সে অভিনেত্রী ও গায়িকার সঙ্গে কেবল ঘনিষ্ঠ পরিচয় নহে-পয় গায়িকার সঙ্গে এক মণও করিয়াছেন। (বি ৯৯১ ও ৯৭৯ পৃষ্ঠা)। আমেরিকায় নাকি তাঁহাকে “সভ্যসমাজের কাতানুযায়ী কখনও কখনও নৃত্য করিতে হইয়াছিল; তিনি দেশের নাচের অনেক বােল শিখিয়াছিলেন।” (বিঃ ৭৭ পৃঃ ফুটনােট।) খ বিবেকানন্দ! তুমি না গিরিশ যােষকে বলিয়াছিলে কি কি লাগত না করা মহাকটিন, কথায় ও কানে একচুল এদিক ওদিক দুবার যাে নাই।” (বিঃ ১৮৭ পৃঃ) আয় তােমায় গুরু রামকৃষ্ণ পরমহংস তো ভূয়োহু লোকের সংলৰ সৰ্ব্বতােভাবে জাগ করিতে উপদেশ দিয়াছেন। পাশী লােকের চিত্রপট পৰ্য্য খিবে না। লাবিতেজি হইলেও নােকা মেয়েদের সঙ্গে আলাপ কৰিৰে না— মীলোক হইলেও যে আলাপ কল্পিবে না। এক কথামৃত ও গ-৯৯ পৃ• • আমেরিকায় বিবেকানসন্ধে একটা কুৎসিক অভিযােগ উঠিছিলনে, তৃতীয় পরিচ্ছে। ফলত বিবেকানন্দের সন্ন্যাসী একটা ৰাহ আবরণ মাত্র। সন্ন্যাসী মােক দুঃখে অবিচলিত—তিনিন্দায় নির্বিকার হইবেন। এদিকে ফকে হওয়াও অনুচিত। কাশ্মীরে ভ্রমণের সময় একজন তাহার ফট নষ্টি বা চাপল্য দেখিয়া আপত্তি করিলে তিনি উত্তর দিয়াছিলেন-“আমরা জোতির সন্তান, আনলের তনয় না কেন মুখ অন্ধকার করে খাবাে’ (বিঃ ৮৭০-৭১ পৃঃ) অর্থাৎ চাপলেই কেবল উজ্জলখ হয়। প্রশান্তচিত্ত ব্ৰহ্মানন্দ উপভােগকারী মহাত্মগণের বদনে যে নিখোজ চালি ফুটিয়া উঠে-তাহাই লােকের চিত্ত আকর্ষণ কৰি থাকে। ফষ্টি-নষ্টিতে চিবিক্ষেপই সূচিত হয়। এদিকে বাম বাবুব মৃত্যু সংবাদে যখন স্বামী বােদন করিতেছিলেন-তখন এক অলােক বলিয়াছিলেন—হ্মাপনি সন্নাসী হইয়া এত শােকাকুল কেন? সন্ন্যাসীর পক্ষে শােকপ্রকাশ অনুচিত। তখন এই তাকিচুড়ামণি বলিয়া উঠিলেন—বলেন কি, সন্ন্যাসী হইয়াছি বলি হৃদয়টা বির্জন দিব? প্রকৃত সন্ন্যাসীর হৃদয় সাধারণ লােকের হৃদয় অপেক্ষা বরং আরও অধিক কোমল হওয়া উচিত। •••••• যে সন্ন্যাসে হৃদয়কে পাষাণ ফর্তে উপদেশ দেয় আমি সে সন্ন্যাস গ্রহ্ন করি না। (বি ২৩-৪ পৃ) গ্রাহ’ যে ফরেন নাই-ইহাই ঠিক। এদিকে বেলুড়গঠ স্থাপিত হইলে "নৈষ্ঠিক হিগণের মধ্যে অনেকে মঠের আচাৰ্যবহারের এতি তীব্র কটাক্ষ করেন। চলতি “চলতি নৌকায় আয়ােজিগণ ভে তিনি কোনও গৃহস্থের এক পরিচারিকার সঙ্গে অসংযত আচরণ করেন (বিঃ ৫৬৯পৃঃ) কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা হইলেওনােকদের সঙ্গে মেলামেশা হইতেই এই অপৰা উদ্ভূত হইতে পারিয়াছিল। “ ৰা সাং বা ইষতি শহিমান নয়।” • না-ই বা করিবেন কেন? “মাঠ পাউরুটি প্রস্তুতের জন্য স্বামীজি বিবিধ প্রকারের গাষির লইয়া অনেক পরীক্ষা করিয়াছিলেন। কিন্তু পুনঃ রামক বিবেকান প্রসঙ্গ। 2 দেখিয়াই নানারূপ ঠাট্টা তামাসা করিতে *** কুষ্টিত হইত না। কিন্তু খালি বলিতেন- হস্তী চলে বাজারমে কুত্তা ফুফায়ে হারায়। সাধুনকো দুর্ভাব নেহি য নিলে সংসার ইত্যাদি । (বিঃ ১৬৮ পৃষ্ঠা) বেশ কথা। কিন্তু কাজে কি হইল? মঠে প্রতিমা আনিয়া যথাবিধি দুর্গোৎসব করা হইল-বেলুড়, বাণী, উত্তরপাড়ার পরিচিত, অপরিচিত ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণকেও নিমন্ত্রণ করা হইয়াছিল; •• তদবধি মঠের প্রতি তাদের পূর্ববিষে বিদূরিত হইয়া ধারণা জন্মে যে, মঠের সন্নাসীরা হিল সন্ন্যাসী (১৮৪১-১২ পূণী মন্ত্রের প্রচারক অবশেষে লােকদের নিকট মাখা মুয়ালেন। এখন এই আলােচনায় উপসংহার করিতে হইবে। যে জীবনচরিত- পানি প্রধান অবলন করিয়া বর্তমান প্রবন্ধ লিখিত হইয়াছে তাহাতে অত্যুক্তিবাদ বহু আছে—এবং জীবনচরিতে এরূপ থাকেই। তবে এ কলের অনেকগুলিই প্রতিমােগ্য; কিন্তু প্রবন্ধের অতি বিস্তৃতি ভয়ে কেবল একটিমাত্র নমুনা প) দেখাইয়াই =ান্ত হইব। স্বামীজি আলমােড়ায় হিন্দী ভাষায় একটা বক্তৃতা দেন; তদুপলক্ষে চরিতায় বলেন, “হিন্দী ভাষাও সুললিত বক্তৃতা-ানােপযােগ বলিয়া পূর্বে কারও ধারণা ছিল না। ইতাদি (বিঃ ৭৫ পৃষ্ঠা)। আর পুনঃ অকৃতকার্য হইলেও চেষ্টা ত্যাগ করেন নাই। (বিঃ ১০৫ পৃঃ) নামে মঠ, কিন্তু পাউরুটি' প্রভৃতি খায়া চাই । ও তিনি একদা সিষ্টায় নিবেদিতার বার এক ছিলিম তামাকু সাজাইয়া ছিলেন--কেন না কোনও কোনও লােকের ধারণা ছিল, তিনি নাকি বেতকাদিগের অতি ও স্থানে যারা তাহাদিগকে আপন শিষ্য করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। (বিঃ ১২৬ পৃঃ) দেখুন, সাখুন কো দুর্ভাব নেহি কত দূর !

শ্রয় পরিজে। কাহারও কথা আমি বলিতে পারিব না,কিন্তু ইহা নিশ্চিতভাবেই অবগত আছি যে, পরিক শ্রীকৃষ্ণ প্রায় বলী হইয়াও হিন্দী ভাষায় অত্যুৎকৃষ্ট বক্তৃতা করিতে পারিতেন এবং সম আৰ্যাবর্তে তাহার ঐ ভাষায় উদ্দীপনাময়ী বক্ততা রা সনাতন ধর্মের বুদ্ধি সাধন করিয়া গিয়াছেন । বিবেকানন্দ শক্তিমান পুরুষ ছিলেন, সন্দেহ নাই-এবং তাহার যাগিতাও অসাধারণ ছিল। বুদ্ধি অতি তীক্ষ্ণ এবং তর্কশক্তি খুব প্রখর ছিল। ইংরাজীতে তাহার অসামান্য দখল ছিল,-সংস্কৃতেও তিনি শিক্ষিত ছিলেন। নানা বিষয়েই তিনি লব্ধপ্রতি ছিলেন-বিশেষত ইউরােপীয় ও ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রে তাহার অধিকার ছিল। ব্যক্ত কালাপানি পার হইয়া তাহার পূর্বে ইউরােপে ও আমেরিকায় অতি কম গয়াছেন। অতএব ঐ সকল দেশে তাহার নাম যশঃ হওয়া প্রত্যাশিত বিষয়ই ছিল। তিনিও হাৰ কৰ্ম্মক্ষেত্র ঐ সকল দেশে সীমাবদ্ধ রাখিলে, আমার বােধ হয়, জগতের সমধিক উপকারই হইত । কিন্তু ভারতবর্ষ ইউরােপ বা আমেরিকা নহে যে, এখানে তিনি যাচ্ছি, ভাবে ধম্ম প্রচার করিবেন-আর লােকে তাহা নূতন একটা কিছু বলিয়া গ্ৰহণ কৰিবে। এদেশে ‘বেদারের বাণী অনেক নানাভাবে ক্ষত হইয়াছে। এখানে তিনি যাহা প্রচার করিবার জন্মত অধিকারী ছিলেন এবং জোগুণাধিক্য যাতে দরকার-তাহা ছিল ‘রাজনীতি’; এবং তিনি স্বয়ং হাই বলুন না কেন তাহার দ্বারা পাকে প্রকারে ‘রাজনীতি’ ভাবই প্রচারিত হইয়াছে। প্রবন্ধে যাহা প্রদর্শিত হইয়াছে, তাহ ৱাই ৰােৰা যাইবে তিনি দেশে তি) ধপ্রচারকের ভূমিকা গ্রহণের অধিকারী ছিলেন। * কাপুরুষতৃ কি রাজনৈতিক বাদরামির সঙ্গে আমার কোন সম্বন্ধ নাই। আমি রাজনীতি মােটেই বিশ্বাস করি না।” ইত্যাদি (শিষ্যদের নিকট লিখিত পত্র)—বিঃ ৫২৫ পু।

E রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। তবে আমাদের দুর্ভাগ্যবশত স্কুল কলেজের ছেলেরা কোনও রূপ ধর্মবিষয়ক শিক্ষা পায় না-তাই ধম্মের নামে যাহাই খুব চোটপাটের সহিত শুনে না পড়ে, তাহাই অবিচারিতভাবে গ্রহণ করে—বিশেষত ইউরােপ আমেরিকা দিগ্বিজয় করিয়া দু'একজন সাহেব বিবি শিল্প করিয়া বিবেকানন্দ তাহাদের তরুণ হৃদয়ে তৎপ্রতি একটা প্রশংসায়াগের ছাপ মারতে রুকার্য। হইয়াছেন। অপচ কণবয়স্কদের ভাব প্রবল চিত্তে বিচারমত স্বল্প থাকায় তাহার সমগ্র লেখা ও বক্তৃতায় যে পরস্পর বিরোধী নানা বিষয় আছে, তা উহারা ধরিতে পারে না—শিক্ষার অভাবে শাস্ত্রের প্রকৃত মৰ্ম্ম অবগত না থাকায় তাহার উক্তির আশা- শ্ৰীয়তাও বুঝিতে পারে না। এই নিমিত্তে বিবেকানন্দভক্ত অনেক বালক এবং বালকোপৰ যুবক ও প্রৌঢ় দেখা যায়। আন্দোলনের সময়েও এইরূপই ঘটিয়াছিল। সেই শ্রোতঃ যেমন ফিরিয়াছে, আশা করি ভগববিদ্যায় এই বিবেকানন্দী মােহও ক্রমশ কাটিয়া যাইবে। এই আশয়েই বর্তমান প্রবন্ধ প্রকাশে অধ্যবসায়ী হইয়াছি। বিবেকানন্দ আমাদের পূর্বপুরুষদিগকে বহুল গালি দিয়াছেন- আমরা যদি আবেগবশতঃ তাঁহার উদ্দেশে কিঞ্চিৎ কটু বলিয়া থাকি, আশা করি তাহা ক্ষমার যােগ্য হইবে।

MĀJU. HOW RAL PUBLIC T LIBRARY ৪std.103. প্রথমপরিশিষ্ট। ক। “রামকৃষ্ণ পরমহংস ও পণ্ডিত যুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি”— প্রবন্ধের প্রতিবাদের উত্তর। বিগত ১৩২৭ সালের পৌষ-মাঘ যুগ্মসংখ্যক “সাহিত্য পত্রে * রামকৃষ্ণ পরমহংস ও পণ্ডিত যুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি-শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত করিয়াছিলাম। তাহাড়ে রামকৃষ্ণদেব সম্বন্ধে পূজ্যপাদ তর্কচূড়ামণি মহােদয়ের একখানি চিঠি প্রকাশিত হইয়াছিল- তন্মধ্যে রামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক অবস্থা কতদুর কি ছিল, এই বিষয়ে চূড়ামণি মহাশয় কতকগুলি কথা বলিয়াছিলেন। রামকৃষ্ণদেবের অনেক ভক্ত ঐ সব কথার প্রতিবাদ করিয়াছেন। কেহ মৌখিক আলাপে, কেহ চিঠি দিয়া এবং পরে (ধনাৰে এবং বে-নামেও) প্রবন্ধ লিখিয়া কী মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছেন। যদিও ইহাদেয় উক্তির অধিকাংশই গালাগালি ও বাজে কথায় পরিপূর্ণ, তথাপি রে সকল যুক্তি কথাতে কিঞ্চিৎ যুক্তির আভাস আছে—বিশেষতঃ রাঁচির বুক বসন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের প্রবন্ধে (সাহিত্য আষাঢ় ১৩২) যে সকল শাস্ত্রীয় কার অবতারণা রহিয়াছে, সেইগুলির প্রতি আমি বুক কচুড়ামণি মহাশয়ের সৃষ্টি আৰু করি। এপিচ, চূড়ামণি মহাশয়ের শিষ্য ৮ ভূধর চট্টোপাধ্যায়-সম্পাদিত “বেদব্যাসে পরমহংস রামকৃষ্ণদের সম্বন্ধে যে সকল প্রবন্ধ প্রকাশিত হইয়াছিল- * ইহাই এই গুহর বগম পরিচ্ছেদ"।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। সেগুলি পশ্চাৎ সংগ্রহ করিয়া • পাঠ করাতে দেখিলাম, তন্মধ্যে উল্লেখিত কতকগুলি কথা চুড়ামণ মহাশয়ের পত্রে প্রকাশিত অভিমতের বিরুদ্ধে প্রযুক্ত হইতে পারে। আমি ঐ সকল কথার প্রতিও তার মনােযােগ আকর্ষণ করি, কেননা তথ্য প্রকাশই আমার অভিপ্রায়। উত্তরে চূড়ামণি মহাশয়ের নিকট হইতে যে চিঠিখানি পাইয়াছি, তাহার অবিকল প্রতিলিপি প্রকাশ করিলাম। সদাশিব শমণ। পরম সেম্পদ! আপনার ৩০শে তাবণের খানা যথা সময়ে আসিয়াছিল, কিন্তু তখন আমার দৌহিত্রটা টাইফয়েড় জ্বরে পীড়িত থাকায় অত্যন্ত বিব্রত ছিলাম, আর সে একটু সুস্থ হইলে নিজেও অসুস্থ হইয়াছিলাম। এজন্য আপনার পত্রখানির উত্তর দিতে অসমর্থ ছিলাম। সম্প্রতি কৃপায় সে সব ঝঞটু সারিয়াছে, তাই অন্ত উত্তর দিতেছি। লোকের তিরস্কার ও পুরস্কারের কথা আর কি লিখিব। সে বাহার যেমন ইচ্ছা হয় করুক, তাহা তাহার মুখ আর হৃদয়েই থাকিবে, তারা আমার বা আপনার কোন ক্ষতিবৃদ্ধি নাই। মহাত্মা রামকৃষ্ণ বিষয়ে আমার যেরূপ ধারণা, তাহাই ৰিদিত করিয়াছি। হায় অহিমার লাষৰ করিবার মানসে কিছুই লিখি নাই; সুতরাং আমার ধারণার মূলে কোন অংশে এ গাকিলেও আমি পাপী নহি। v ভূধর চট্টোপাধ্যায় আমার দ্বীকিত শিষ্য, ছাত্র নহে। ভূধর আমার বা অন্য কোন অধ্যাপকের নিকট কোন না থন করি ছিলেন না। যথাসম্ভব অনুদাদি পাঠেই সাধারণ ভাবে ভূধরের विगन शिन। ছিল। অতএব নিশিখি, লৰিকৰি ভূরে ৪৪ পূর্ব প্রবন্ধে (অর্থাৎ এই গ্রন্থের প্রথম পরিচ্ছেদে আমি যে এগুলির উরে করিয়াছিলাম—তাহা প্রায় ৩৫ বৎসর পূর্বে বেদব্যাস পাঠের স্মৃতি মাত্র ।

এবষ, পরিশিষ্ট-ক। বিদিত ছিল না। যেটুকু বিদিত ছিল, তদনুসারেও রামকৃষ্ণ নির্বিক সমাধির উপদেশ পাইয়াছিলেন এবং দিবসয়ে তাহাতে কৃতকাৰ্য হইয়াছিলেন, এক লিখিত হয় নাই। রামকৃষ্ণের প্রথম অবস্থায় ভূরের শৈশবকাল ছিল। সুতরাং সে স্বয়ং তাঁহার সে অবস্থায় কিছু দেখে নাই। তাহার নিজের মুখেও সে একথা শুনে নাই। সােকের মুখেই শুনিয়া লিখিয়াছে। সাধারণ লােকেরা কতজনেই কত কিছু কথা বলে, সে সকল কথার যথেষ্ট মূল্য দিলে সত্যের দিকে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব, তবে তিনি তােতপুরীর নিকট দীক্ষিত বা শিক্ষিত হইয়াছিলেন, এ কথাটা মিথ্যার গর্কে নিশ্চিত করা সঙ্গত। তদানীন্তন অনেক লােকেই একথা বিদিত ছিলেন। তাঁহাকে তান্ত্রিক ভাবের সন্ন্যাস দেওয়াও সত্য হওয়ারই সম্ভব, এবং সেইই তিনি ভগবান্ শঙ্করাচার্যের মতে অবধূত সন্ন্যাসী বলিয়া গণ্য হইতে পারেন। তাঁহার চিতারােহণাদি অনুষ্ঠান এবং আমার পূৰ্ব্বলিখিত তাহার অন্যায় আচরণ সেই বিষয়েরই প্রমাণ করে। তদনুসারে তাহার গিরি, পুরী, ভারতী প্রভৃতি উপাধি হইতে পারে অথবা হইয়াইছিল। পরমহংস সেরূপ কোন উপাধি নহে, উহা সর্বত্যাগী শেষাগীয় সংজ্ঞ। রামকৃষ্ণের সেরূপ কোন লক্ষণ দৃষ্ট হয় নাই, কাজেই তাহাকে পরমহংস বলা ঠিক নহে। তবে দশজনে যখন পরমহংস বলে, আমিও তাহার অনুকরণে পরমহংস বলিতাম, কিন্তু হৃদয়ে তাহাকে পরমহংস বলিয়া বিশ্বাস করিতাম না। অবধূত আর পরমহংস কথার অর্থ শাস্ত্রানুসারে প্রায় এক হইলেও ভগবান শঙ্করাচাৰ্য্য গিরি, পুরী, ভারতী আর বন, পর্বত, গল্প, এই ছয়দলের তান্ত্রিক সন্ন্যাসিগণের অবধূত সংজ্ঞার ব্যবসা করিয়াছেন। রামকৃষ্ণ তান্ত্রিক সন্ন্যাসী পুরীর শিল্প, সুতরাং তিনি শঙ্করাচার্যের মতে অবধূত, ইহা আমি পূর্বে লিখিয়াছিলাম । কিন্তু অবধূত গীতার প্রকৃত অবধূত নহেন। তৎকালের বেদব্যাস পত্র বা ;

রামকৃষ্ণ বিবেকানন প্রসঙ্গ। “সাধুদর্শন আমার নিকট নাই বা পাইবার উপায় নাই । সুতরাং গা আমার দেখা অসম্ভব। রামকৃষ্ণের ভক্তিগদগদ অপূৰ্ব্বভাব দেখিয়া আমি আনন্দিত হইতাম, ইহা এখনও বলিতেছি এবং উহা যে অসাধারণ, তাহাও সত্য, কিন্তু তাই বলিয়া তাহার নির্বিকল্পসমাধি হইত, ইহা আমি কখনও বলি নাই, ইহা নিশ্চয়। *বেদব্যাসে আমার যে সকল কথা প্রকাশিত হইত, তাহাই আমি দেখিতাম। ভূধর বা অন্যের লেখা দেখি নাই বা অনুসন্ধান করি নাই। আমি বেদব্যাসের সম্পাদক ছিলাম না। শাস্ত্রাধ্যয়ন ব্যতীত কেবল গুরুর নিকট দুই চাৰিটী কথা শুনিয়া অধ্যাত্মবিদ্যা ব্রহ্মবিদ্যা লাভ হইয়া দুই তিন দিনের মধ্যে নির্বিকল্প সমাধির দ্বারা যদি ব্রহ্ম প্রাপ্তি হইত, অথবা জ্ঞান হইতে পৃথগৃভূত ভক্তিনামক কোন কিছুর দ্বারা ব্ৰহ্মপ্রাপ্তি হইত, তাহা হইলে অধ্যাত্মতত্ত্ব ব্ৰহ্মত্ব বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ প্রণয়ন করা নিরর্থক বা উন্মত্তের অনুষ্ঠান মধ্যে বিসৰ্জন করিতে হয়। আর উপনিষদ্ অধ্যয়ন এবং মননশাস্ত্র শিক্ষার পর যােগশাস্ত্রে অভিজ্ঞ হইয়া যে গুরুর নিকট যােগ শিক্ষা করার উপদেশ শাস্ত্রের অসংখ্য স্থানে দৃষ্ট হয়, তাহাও প্রলাপ মধ্যেই পরিগণিত হয়। দ্বিতীয় ভাগবতােক ভক্তিও কেবল সদ্ধিই কারণ এবং সত্নশুদ্ধি অদ্বৈত ব্ৰহ্মজ্ঞানের কারণ এবং ব্রহ্মজ্ঞানই প্রক মুক্তির কারণ, ইহা ভাগবতেই (২য় প্রথম স্কঃ) লিখিত আছে। এজন্য ভাগবতও অধ্যাত্মবিদ্যা ব্রহ্মবিদ্যার কথায় পরিপূর্ণ, সুতরাং ভাগবতের মতেও জ্ঞান ত্যাগ করিয়া কেবল ভক্তি জীবকে কৃতার্থ করিতে পারেন । অনধীতশাস্ত্র কোন লােক বে অবৈতজ্ঞান লাভ করিয়া কতা হইয়াছেন, এপর্যন্ত তাহার দৃষ্টান্তও নাই। সমাধিক্ষেত্রে প্রবেশ করা * বেদব্যাস ৩য় বর্ষ ১ম অধ্যায় সম্পাদকীয় প্রবন্ধে ( ২য় পৃষ্ঠায় } * ভূখর চট্টোপাধ্যও এইরূপ কথাই বলিয়াছিলেন।

প্রথম পরিশিষ্ট। ৮ AAN মাত্রেই যে অধ্যাত্মরাজের অসংখ্য পদার্থ আসিয়া উপস্থিত হয়, শাস্ত্রা- ধায়নের দ্বারা তাদের পরিচয় না থাকিলে, সে কোটি ধৰিবে, কোটি না ধরিবে, যে ঈশ্বরতত্বের দিকে গেল, কি অন্য তত্বের দিকে সরিয়া পড়িল, এবং তখন তাহার কিরূপ অবস্থা হইতেছে, উহা কোন লক্ষণের অন্তর্গত, কিংবা উহা সত্য বা এমন, ইহা কি প্রকারে বুঝিবে? তবে যদি গুরু তৎসমস্তই শিষ্যকে মুখে মুখে বুঝাইয়া দিতে পারেন, তবে সাধক যথানিয়মে উঠিতে পারে, ইহা সত্য; কিন্তু সেরূপ শিক্ষাতত অধ্যয়নের নামান্তর। তাহা ২১ বৎসরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া অসম্ভব, আর নিয়ক্ষর লােকের অত কথা মনে রাখাও সম্ভবপর নহে; কাজেই শাস্ত্র অধ্যয়ন আবশ্যক। আপনি বোধ হয় শুনিছেন যে, আজকাল এ গুরুর অভাব নাই, যিনি ৫, টী টাকা দক্ষিণ পাইলেই অর্থদণ্ডের মধ্যে জ্বর উৰ্দ্ধভাগে অঙ্গুষ্ঠপরিমিত ব্ৰহ্ম দর্শন করাইয়া থাকেন, সেইরূপ ব্ৰহ্মদর্শনে কোনরূপ অধ্যয়নেরই প্রয়ােজন নাই। উহা অন্ধগণেরই ব্ৰহ্ম এবং তাহাদেরই সন্তোষাবহ। ঐ শ্রেণীর গু এবং ঐ শ্রেণীর শিষ্যগণই শাস্ত্রাধ্যয়ন বা জ্ঞানের অত্যন্ত বিরােধী এবং তাহারাহ আত্মসম্মান বা আত্মতুষ্টি ৰক্ষার জন্য শাস্ত্রীয় অধ্যাত্মবিদ্যা বা বশ্ববিদ্যাদির অকিঞ্চিৎকর সাগ্র সর্ব সমক্ষে প্রচার করিয়া থাকে। যাহারা শাস্ত্রজ্ঞ, তাহারাই বুঝিতে পারেন যে, রীতিমত শাস্ত্রাধ্যয়ন ব্যতীত জীবের ব্রহ্মরাজ্যে ৰা অধ্যাখরাজ্যে আরােহণ করা গগনকুসুমের া অসম্ভবপর। আমি একথা কখনও ভাবি নাই যে, যথারীতি মােগানুষ্ঠানাদি না করিয়া বিবেকবৈরাগ্যাদিশূন্য লােকের কেবল অধ্যাত্মশাস্ত্র অধ্যয়ন কৰিলেই কৃতার্থতা হয়; কিন্তু শুদৃষ্ট থাকিলে শা:৪াধ্যয়নের দ্বারা নির্বিকল্প বা নির্বীজসমাধি হইয়া কাৰ্থ। ' : পকে, 'মজের পক্ষে তাহা অসম্ভবপর, ইহাই আমাৰ অতি প্রায়।

রামক বিয়ে
}
কি অধ্যায় প্রবেশ, কি শাস্ত্রীয় বি, ইহার কোন বিষয়েই
মি আমাকে, ঐ শ্রেণীর লােকের মধ্যে একা উচ্চলােক বলিয়া
এখনও মনে করি না। বাবাকে মেনে নিজের আতা এ
অলিই অনুভব করিতেছি। কিছুদিন পর্যন্ত শাস্ত্রায়ণ মধ্যে
বেশ নিয়ে করার নিমিত্ত নানাদিক পরিশ্রম করি
তেছি, একথা সত্য এবং যাহারা তা করেন নাই, তাহাদের তুলনায়
এলে আমি একটু অঞ। আর তাঁহার সেই অরণ্য হইতে দূরে
তি। এরূপ ধারণা যদি কিতা, আত্মশ্লাঘা বা অহঙ্কারের নামান্তর
বে নিশ্চয়ই আমি এ অন এয়াধী। কিন্তু না, এ ধারণাকে
অহা ৰূলে না। শাস্ত্রমতে ইহা কাপ আনমাত্র। যে পটি অয়ে
প্রতি পুশ জআই নিজকে কীত করিয়া তােলে, হাই অহঙ্কার বা
গয়ি অত। অতএব, আমি ২৫ বল অধ্যয়ন করিয়াছি,
আর কিছুই করেন নাই, ই তার বিদিত ছিল, এইরুপ
লা না মতে দাড়িকানিমূলক নহে। অধিক যায় কি লিখি। ইতি
শশধর ।
এই ৮ি পাইয়া তামণি হাশয়কে আমি দুটি
কথা জিজ্ঞাসা করা এশীয় মনে করিয়াছিলাম। বিশেষতঃ
পূগের এত সুতি শাকিনে গানে সাধক কাল আধ্যেই
অতীতে কুতর্থ হইতে পারেনবেন ফিরেভৃতি
হইয়াছিলেন। নাম পরলেও হয়তাে সেই কারণেই
সরের সাধনাই নির্বিকাগিৰিছিলেন; ইহাতে পিভি
aan और anान मान पाता
'চিলিতে গরি নাই * प्राचिन ( ) भागार
হইয়াহিত।

এ পরিণি-।
শিখিয়াছেন, বার্ধক্যের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অত এবং নীচতাদির
অনুভব করিতেছি; ইহা তাহার বিয়াতিশয় মনে করি,
পত্রখানি প্রকাশ করিবার সময়ে ঐ বাক্যটি ছাড়িয়া দিতে এখা
কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করিয়া লিখিতে হয় অনু আর্থনা করিয়াছিলাম।
এ সকলের উত্তরে চুড়ামণি মহাশয় আর একখানি চিঠি লিখিয়াছিলেন,
তাহাও এ প্রকাশ করা গেল।
সদাশিবঃ শরৎ
হরি ২াই
পরম নেহাশ!
আপনার পখানি যথাসময়ে পাইয়াছি। নানা ঝটিশ
এতদিন উত্তর দিতে পারি নাই। আপনি এই শরে যে সকল সিম
নিতে ইচ্ছা করিয়াছেন, সে বিষয়ে আমায় বাহা ৱিৰেচনা ও
জানাইতেছি।
অবধূত মারুফের নির্বিকামাখি হইত কি না, তার সমর্থন
ও সমর্থন এই উভয় পক্ষেরই প্রমাণ সুদৃঢ় নহে; তবে যতটা
দেখা গিয়াছে, তারা এই বিবেচনা হয়, তাহাই বলিয়াছি এক
এখনও হাই বলিতেছি। তবে যদি আমার বুঝিতে এ বইয়া থাকে
নার সত্য সভাই, জিনি নিশিৰি নিৰীয় সখি শান্তি
থাকেন, তবে তাই পরমানসের বিষয়। তিনি তা নামি
সুপুরুষইলে বার শক্তি ও বিকাশ ইতে
পৈত্রিক নিয় সম্পত্তির কোন নি হয় না, সুতরাং সে বিষয়ে
আর কি হওয়া যা, তার বাপের এ বার চেষ্টার কোন
কাম নাই আমার এ শােক হ ই স ও মেয়ে
তি, ই আমি শাক বিবি আছি। কিন্তু তাই বলিয়া নিয়ে
• শহর আয় এ চিঠি লিখান, তিনি বহু বর্ণাটি ইত্যাদি ।
পূই প্রকাশিত হইল,

রামক বিবেকানন্দ। জ্ঞানবিশ্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিকে প্রস্তুত নহি। . রামকৃষ্ণকে আমি কিরূপ জানিতাম, তাহার সহিত আমার কিরূপ কথাবার্তা হইত—ইহাই আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়। সুতরাং আমি যাহা জানিতাম, তাহা বলিয়াছি। ইহাতে বদি তাহার অনুগত লােকেরা ক্রুদ্ধ হইয়া ভৎসনা করেন, তবে করুন, আমি সেই ভয়ে সত্যের অপলাপ করিতে পারি না। এজন্য এবারও আমার বিশ্বাস অনুপ লেখাই লিখিতেছি। নিলিমাধিতে অধ্যাত্মতত্ব আর ব্রহ্মতত্ত্বের অভিজ্ঞতা বিশেষ এয়ােজন, কিন্তু এই উভয় বিষয়েরই কোন কথা তাহার নিকট নিতে পাই নাই। তাহার কথা বলিয়া যে সকল পুস্তক প্রকাশিত হইয়াছে, তাহাতেও উক্ত বিষয়ের কোন কথা নাই। দ্বিতীয় তিনি লেখা পড়া জানতেন না বলিয়া সে বিষয়ে উপনিষদাদি কোন গ্রন্থ তিনি পড়িতে পারেন নাই,, তবে যদি কাহারও উপদেশে ২১ দিনের মধ্যেই তিনি অধ্যাত্মবিদ্যা, ব্রহ্মবিদ্যা ও যােগানুশাসন আয়ত্ত করিয়া সমাধি অসংখ্য স্তর কাটাইয়া নির্বিকল্পসমাধিক্ষেত্রে আরােহণ করিয়াছিলেন, ইহা বলিয়া কে সন্তুষ্ট হন, তবে সে বিষয়ে আমি কি বলিব? তালিগকে কেবল এইমাত্র বলিতে পারি যে, ব্রহ্মবিদ্যালি ও সমাধিব্যাপারের অবস্থা ভাবিয়া দেখিতে, বােধ হয় তাহারা সুযােগ পান নাই, মেইজ ঐরপ. বলিতে সাহস করিতে পারেন। ঐ বহুদিন পর্যন্ত অনশন ভ্রজি করিয়া, বহুদিন পর্যন্ত আরাধনা রায় ভগবৎপাভাম হইয়া গিয়া- ছিলেন, তার মৃত্যুর পর তিনি দাবিশেষে, (বলোকে.গ করিয়াছিলেন, ইয়া জগতেই, লিখিত আছে। কিন্তু মুক্তি তুলনায় সে অর্গ নরবিশেষ। প্রলাও যাযজীয়ন আৱান রায় বিশেষেই। গমন করিয়াছিলেন, ইহাও লিখিত আছে। দুকদেবও জন্মাবধি, বহু বৎসর পর্যন্ত পিতার নিকট ব্ৰহ্মবিদ্যা শিক্ষা ও মােগাভাদি করিয়া , ম পরিশিষ্ট-ক। হিন, এবিষয় পাপিৰে লিখিত আছে। তাহাতে হয় বার বৈরাগ্য হইবার কথাও পাওয়া যায়; কিন্তু ব্ৰহ্মনিৰ্বাণ প্রাপ্তির কথা লিখিত নাই। অতএব পূর্বজন্মের শুভানুষ্ঠান থাকিলেও ২১ দিন মধ্যেই বিদ্যা, যােগবিদ্যা ও অধ্যায়বিয়া লাভ করিয়া মানুষ নির্বিকল্পসমাধি-ভূমিতে আরােহণ করিতে পারে, তাহার দৃষ্টান্ত ধ্রুব বা প্রহলাদ নহেন, শুকদেবও নহেন। ৪ প্রহলাদের যদি সমাধি হইয়া থাকে, তাহা ঈশবিষয়ক সম্প্রয়াত সমাধি, ইহাই ঘটনা মায়ায় প্রতিপন্ন হয়। যিনি নিৰ্বিক-সমাধিভূমিতে আরােহণ করিতে সমর্থ, তিনি বুখানের অবস্থায়ও শারীরিক ও মানসিক পড়ার হারা পরিবাধিত ন না এবং বাধাবােধ হইলেও তৎক্ষণাৎ সমাধিয় আশ্রয়ে পরিত্রাণ পাইতে পারে। রামকৃষ্ণ কিন্তু বহুদিন পর্যন্ত গলরােগের যন্ত্রণায় আর্তনাদ করিয়াছেন, ইহা দেখিয়াছি। অতএ, তাহার নির্বিকল্প- সমাধি হইত, ইহা আমি বলিতে পারি না। আমি যে ক্রমেই আমার অজ্ঞতা ও নীচতা অনুভব করিতেছি, ইহা লিখিয়াছি, তাই বিনয় বা ভদ্রতা প্রকাশের জন্য নহে। উহা আমার বিশ্বাসমতেই লিখিয়াছি। বিস্তা, মহাবিদ্যা জ্ঞান প্রভৃতি শব্দগুলি গরই নামান্তর। সত্য, অনও তারই নাম। সুতরাং বিদ্যা ৰা জন অলী ও নি। যে কোন দিক দিয়া যদি বিদ্যাদেবী অনুসরণ করা যায়, তাহা হইলে মানুষ প্রাণের ব্যাকুলতায় কিছুক্ষন পর্যন্ত যাইতে পারে, সে গর্বিতও ইতে পারে, কিন্তু তাহার পর, যখন আকুল সমু দেখিতে পায়, তখন সৰ গৰ্ব চূর্ণ বিচূর্ণ হইয়া নৈরাশ্য, আসিয়া পড়ে। তখন বিদেশীই যে অনন্ত বন্ধের কথায়, এই সিভাস্থ সণ হয়, সেই সময়ে নিয়ে অজ্ঞতা না বুঝিতে পারে এমন মানুষ বোধ হয় নাই; কিন্তু প্রাণের আকাকা নিক্তি বা না বলিয়া পারকুল হইলে তাহার দিকে অগ্রসর হইতে নিয়ে না- রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ইহা শানুষের খাবিক বিষয়। আমি এখন সেই আশা ভােগ করি তেছি। গন্মাতা মহাবিদ্যার অন্বেষণের জন্য এক এক দিক দিয়া কতকটা কতকটা অগ্রসর হইয়া যতদিন তাহার প্রকৃত সংবাদ কিছুই জানিতাম , ততদিন তাহার চরণসংম্পৃষ্ট এক একটু বায়ুমাত্র দূর হইতে স্পর্শ করিয়াই তাহাকে দেখিতে পাইলাম বলিয়া বৃথা আনন্দানুভব করিতাম। এখন কতপরিমাণে হিজিবিজি কাটা অজল ছাড়াইয়া একটু আলাে- কের ভাব পাইয়া বিদ্যমূর্তির অসীমতার একটু এভাস বুঝিতে পারিয়া, সেই মিথ্যা বল হইতে মুক্তি পাইয়াছি, আর নিজের অজ্ঞতা সম্যকরূপে বুঝিতে পারিতেছি এবং প্রাণের ব্যাকুলতা বশতঃ সেই অকুল সমুদ্র লক্ষ্য করিয়াই প্রাণের সর্বশক্তি সমৰ্পণ করিয়া আর একটু অগ্রসর হইবার চেষ্টা করিতেছি, কিন্তু বিদ্যামূর্তি কোনকাংশই পরিস্ফুট হয় না। সুতরাং আমি অজ্ঞ, ইহা সত্য। আমি নীচও বটে। যতদিন দৈহিক অবস্থার মধ্যে হাবুডুবু খাইতাম, ইহার বাহিরে নিজের জীবাত্মার মূর্তির প্রতি লক্ষ্য করিতে পারিতাম না, ততদিন আবিষয়ে নিদ্রিতৰৎ তমসাচ্ছন্ন ছিলাম। সুতরাং আমি ভাল কি মন্দ, সু কি অসু, কিছুই বুঝিতে পারি নাই। এখন বহুকষ্টে প্রাণপণ চেষ্টায় আষ বা কুটিকা অতিক্রম করিয়া অনেক সময় নিজের জীবমূর্তি দেখিতে পাই। দৈৰিক প্রবৃত্তি বা আরিফ প্রতি কি তাহার কি পরিচয় আছে, সুতরাং এখন দেখিতে পাই, আমায় নিয়ে শীশরীর অসং আনু বা অপৰিল প্রবৃত্তি ব্রণগুলি পচিয়া অতি দুর্গখিত ও অসহ যন্ত্রণা হইয়াছে। সুতরাং আমাকে আমি অতি নীচ ও অতি দুঃখী ব্যতীত কি খুবি ? সত্য কথাই আপনার নিকট লিখিছি। নিকট প্রার্থনা করুন কেন আমি এই জন্যেই এই ব্যাধিগুলির যন্ত্রণা হইতে মুক্তি পাইতে পারি। আমি লিখিতে ও পড়িতে পারি নাই বিদি দে। ?

প্রথম পরিশিষ্ট-ক। রায় লিখিত ও পড়িতে হয়। সুতরাং অধিক আর লিখিতে পারিনাম না। এখানে দৈহিক একরূপ কুশল। আপনার কুশলাদি শিখিয়া সন্তোষিবেন, ইতি। শুভাকালী ঐশশধৰ শৰ্মা । পূজ্যপাদ তর্কচূড়ামণি মহাশয়ের এই পত্রখানি পাঠ ৱিলে মুখ হইতে হয়। গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিকে যখন ডেলফির দৈববাণী জানি:শ্রেষ্ঠ বলিয়া নির্দেশ করিলেন, তখন তিনি বলিয়াছিলেন দেববাক্য অব্যর্থ, সন্দেহ নাই। তবে আমি একটা কথা নি যে মি কিছুই জানি না, অন্যেরা হয়তো ঐটা জানেন না। ইংলগের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক নিউটন মৃত্যুর প্রাক্কালে বলিয়াছিলেন “জ্ঞানসমুদ্রের বেলা ভূমিতে দু একটা উপলথও মাত্র সংগৃহীত করিতে পারিয়াছি-অসীম অনন্ত রত্নাকর পুরােভাগে বিকীর্ণ রহিয়াছে। শ্রুতি বলিয়াছেন- মামতং তত মতং তং য ন বেদ সঃ। অতি বিনতাং বিতৰিজানতাম্। -তাই বিগত অর্ধশতাব্দী যাবৎ যিনি শাস্ত্রচর্জা ও ধৰ্ম্মব্যাখ্যা করিতেছেন-যাহা সাধৰদীপ প্রভৃতি গ্রন্থ অনেকে সাধনের সহায় হইয়াছে, সেই ষড়দর্শনবেত্তা বিড়ামণি শাচায়ত বৰীয়াৰ রাহ্মণকীয় আধ্যাত্মিকী অবস্থা সরে যাহা বলিয়াছেন, তা এতই বিষয়-তাহাতেই উহার নিষ্কপট সত্যসতা প্রমাণিত হইতেছে-প্রতিপক্ষ কর্তৃক তদুপৰি কটুক্তি বৰণ ব্যর্থ হইতেছে। চুড়ামণি মহাশয়ের চাল সন্ধীয় কথায় অস্বীকার মিয়া বলিতে গিয়া বাৰু সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদায় লিখিয়াছেন, “তৰে অশ হয় ঐ প্রশ্ন ( চাপ আছে কি না।কণে অনিয়াছেন মাসে বিগণ ব্যতীত এমন ব্যক্তি এই আম ফলের যনেও বিত 1 মামঞ্চ বিবেকানন্দ এল। আছেন, এ সংবাদ শুনিয়া চুড়ামণি মহাশয় লজ্জিত হইবেন। সতো বাবু যদি যথার্থ সরল প্রকৃতির লোক হইতেন, তবে সেই জীবিত ব্যক্তিটির নাম ধাম প্রকাশপূর্বক সত্যানুসন্ধানের উপায় করিয়া দিতেন—তা না করিয়া কটুক্তি বর্ষণপূর্বক নিজেরই পরিচয় মাত্র প্রকাশ করিয়াছেন। মায়ের ছেলে রামকৃষ্ণ পরমহংস বালকের যায় সরল ছিলেন, সন্দেহ নাই; কিন্তু বে-আদব ছিলেন না ইহা নিশ্চয়ই। বিশেষতঃ যে বাড়ীতে তিনি চূড়ামণি মহাশয়ের সঙ্গে মাক্ষাৎ করিবার জন্য গিয়াছিলেন, সেই বাড়ীর বাসিন্দা ৮ ভূধর চট্টোপাধ্যায় ঐ দিনকার ঘটনা বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন, তাহা হইতে মুধীবর্গ বুঝিতে পারিবেন যে, কেবল যে ঐ প্রশ্ন হয় নাই, এমন নহে তাদৃশ প্রশ্নের কোনও অবকাশই ছিল না। বেদব্যাস ২য় খণ্ড (১২৯৪) ১০ সংখ্যা হইতে ৬ ভূধর বাবুর প্রবন্ধের ঐ রুশ উছুত করিয়া দিলাম- একদিবস আচাৰ্য্যদেব [ অর্থাৎ তর্কচূড়ামণি মহাশয় তাহার কলিকাতার বাসভবনে বহুতর ধর্মপিপাসু শ্রোতৃবর্গে পরিবেষ্টিত হইয়া নানাবিধ বিষয়ে আলোচনা করিতেছেন, এমন সময়ে কমাৎ পরমহংসদেব একজন শিল্পসং আসিয়া উপস্থিত হইলেন। আমরাও সেই সময় তথায় উপস্থিত ছিলাম। আচার্যদেব ইতিপূর্বে তাহাকে কখন দেখেন নাই, অন্য কোনও পরিচয় ছিল না। তিনি পরমহংসদেবকে দেখি মাত্র সসষ্ট্ৰমে গাত্রোখানপূর্বক তাহাকে সাদয়ে ভ্যর্থনা করিয়া উপবেশন করাইতে যাইবেন, শনি দেখেন, পরমহংসদেবে : চৈ+একেখয়ে পূর্ণ সমাধি। এই অবস্থায় তাঁহাকে দেখিয়া আচার্য : দেশের দুই চক্ষে অশ্রুধারা প্রবাহিত হইতে লাগিল। তিনি যেন ভক্তের ভয়ে বিভাের হইয়া আনিমেলোচনে সাহিত-১৩২৮। জ্যৈষ্ঠ wখ্যা ১১৬ পৃষ্ঠা। *5

প্রথম পরিশিষ্ট-ক'
পরমহংসের সেই সমাধিপরিমার্জিত প্রফুল্ল মুখকালে লক্ষ্য স্থির
রাখিয়া কি যেন ভাবিতে লাগিলেন। বহুক্ষ এ অবস্থায় অতীত হইল।
গৃহ নি, কারও বাঙনিষ্পত্তি করিবার মতা নাই। সবই
শান্তভাবে থাকিয়া জ্ঞানী ও ভক্তের অদ্ভুত মিলনের অভূতপূর্ব ভাব
দেখিয়া বা হইয়া রহিলেন। মে মহংসে য র বাহন
সঞ্চার হইতে লাগিল। তিনি খাকি থাকিয়া অই সালন করিতে
লাগিলেন এবং অটম্বরে বলিতে লাগিলেন, 'মা শশধরের সঙ্গে দেখা
কবিবার ও পাঠালি, পাঠাইয়ে আমায় এমন করে দিলে কেন মা।
আমি যে তাের ছেলের সঙ্গে কথা কহিতে পারিতেছি না। আমায়
ভাল করে দে মা : এইরূপ বলিতে বলিতে আরও এক বাহনে
সঞ্চার হইল তখন উহাকে সােধন করিয়া বলিতে লাগিলেন ভাই
শশধর! দেখ আজ মায়ের কাছে বসিয়া আছি এমন সময় মা আমায়
বলিলেন যে, হয়ে মঞ্চ আমার শশধরের ললে তুই একবার দেখা
বলিনি। সেও বে আমার প্রিয় ছেলে। আজ গুহার কাছে যা,
গিয়ে দেখা করে আর গে। মা বলেন, আর বাকিতে পারি না।
আমি চলে এলাম। কান দিন আসিব আসি। ফরিতেছিলাম,
আর তা হইয়া গেল ।" এইরুপ বলিতে বলিতে এবার সানি
ইয়া গেল--কিচুক্ষণ সমাধির অবস্থায় থাকি পুনরায় নি
সঞ্চার কইল। তৎপর দুইজনে নানা ভাৰ অতিত কি কথা হইল।
অবশেষে পরমহংসৱেৰ এনে ইয়া গান কফিতে করিতে আচার্য্য
মেষকে বোলিজন করিয়া ৱি আট ঘটিকার সময় গণির গমন
করিলেন, । বেদব্যাস ২ ভাগ, ১৪ ২৪৪ পু।
* ভূর চট্টোপাধ্যায় প্রণীত “
সর্শন” নামক পুস্ককেও এ সকল
কথাই অবিকল আছে,কেন না, “
মান” বেদব্যাস প্রকাশিত প্রবন্ধাবলীর
পূনমুণ মাত্র।

যমিক বিবেকানন এস। ১৯৯৩ সালে পরমহংসের তিরােভাব—এই প্রবন্ধটি তৎপরবর্তী বৎসরই লেখা ।• ভূখর বাবুর প্রবন্ধে পরমহংস দেব সম্বন্ধে ওসময়ে প্রচলিত অনেক গ্লানিকর কথার প্রতিবাদ আছে- প্রবন্ধের পরিশিষ্ট ভাগ-বেদব্যাস ২য় খণ্ড ১১ সংখ্যা ২৭৪ পৃষ্ঠাবধি দ্রষ্টব্য)। এ অবস্থায় ভূধর বাবুর ন্যায় রায় দেবের ভক্তের স্বচক্ষে দৃষ্ট ও কর্ণে কত ঘন্না ও কথায় অবিশ্বাস বিষয় কোন কারণ দেখা যায় । এখন দেখুন, যিনি জগন্মাত হইতে প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হইয়া চুড়ামণি মহাশয়কে দেখিতে আসিয়াছিলেন—তাহার পক্ষে তােমার পরাণ আছে কি? এর প্রশ্ন সম্ভাব্য কি না ? কেশব সেন বা ডাক্তার মহেতাল পূঃ পুনঃ তাহার নিকটে গিয়াছেন। পরে উহাদের মুখের উপর দু'একটা স্পষ্টকথা সরলভাবে বলা এক কথা,-আ-কানও দিন না আলাপ পরিচয় নাই—এরূপ দেশবিত পণ্ডিত ব্যক্তির বাড়ীতে গিয়া “চাপা আছে কি না প্রশ্ন করা অন্য কথা, ইহ অভদ্ৰত-পরষংসদে তাদৃশ অভদ্র ছিলেন না নিশ্চয়ই। তবে তিনি যে সব লােকের খপ্পরে পড়িয়াছিলেন, তাঁদের অসাধ্য কোনও কিছুই নাই। ইহারা কয়েক কারণেই চুড়ামণি মহাশয়ের প্রতি বিরাগ ভাব পােষণ কয়ে বলিয়া মনে হয়। (১) প্রখঃ তিনি ইহার ব্রাহ্মণ বিরােধী। (২) তিনি সনাতন বাম ধর্মের প্রচারক-ইহারা বলমের তেমন পলাতা নহেন। (৩) তিনি পতি’-ইহার। ও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কথামৃত” লীলা প্রসঙ্গ” প্রতি ইহাৰ পরে প্রকাশিত হইলে ভূখর বাবুর এ সকল কথার কোন উল্লেখ ৰা প্রতিবাদ এগুলিতে নাই। রাম হরে হায় সম্বন্ধে কোথায় কে কি লিখিল, এ সকলের অনুসন্ধান রাখিতে, ইহাও এশিত হইত। * বরং উল্লেখিত পৰমহংসদেবে বিবরণীতে উচুড়ামণি মহাশয়ের মবি ( যথা সমাধি ইত্যাদি) অনেক কথা যে আছে—এ পূর্বেই বা হইয়াছে।

এ পরিশিক। পাণ্ডিত্য-বিয়ােধীরে খায় বড় ধানেন না। (৩) তিনি থাখা বিচার, শৃশ্যায় বিচার ইত্যাদি সদাচারে পলাতী ও প্রচারক ইহারা হাঁড়ি, চুংমার্গ হতাদি বলিয়া এসকলের সন্ধে অষঙ্গার ভাব পােষণ করেন। অতএব চুড়ামণি মহাশয়কে বা করিবার এরূপ প্রয়াস আশ্চর্যের কথা কিছুই নহে।। আমাদের এই ধারণার সমর্থনাথ, এলে “লীশ্রীরামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ গ্রন্থে এই “চাপরাশ; সন্ধর ব্যাপার কি ভাবে বর্ণিত হইয়াছে, তাহা উদ্যত হইতেছে-“এবৎসর (১৮৮৫ খ) মুখের দিনে শ্রীযুত ঈশানের বাটীতে আগমন করিয়া ঠাকুরের ভাটপাড়ায় কতকগুলি ভট্টাচার্যের সহিত ধম্মবিষয়ক নানা কথাবার্তা হয়। পরে স্বামী বিবেকানন্দের মুখে পণ্ডিতজির অর্থাৎ চূড়ামণি মহাশয়ের কথা নিয়া এবং তাহার বাস অতি নিকটে জানিতে পারিয়া ঠাকুর শশধরকে ঐদিন দেখিতে গিয়াছিলেন। পতিতলির কলিকাতাগমন সংবাদ মীজি (অর্থাৎ বিবেকানন্দ) এ হতেই পানিতে পারিয়াছিলেন। কারণ যাদের মার নিমন্ত্রণে তিনি ধম্মৰতদানে লাল কয়েন, তাহাদের সহিত স্বামীর পুরু হইতেই আলাপ পরিচয় ছিল এবং ফলে হই তাহার বাসভবনে স্বামীজি গভাতও ছিল। আর পতিনি আধ্যাকি ব্যাখ্যা লি এ এমা। পূর্ণ বলিয়া থানা হওয়ায় তর্কযুক্তি যারা তাঁহাকে ঐ যিয় # এই দলে শাৰিবাসী সাচার বাণ ৰা মণভক্ত দুই একজন কে আছেন, একথা আমি বলিতেছি না—বশ্যই আহেন, কি দুঃখের বিষয় ইহাৱা এমনই “মােহগৰে নিপতিত হইয়া আছেন যে, এই সময়ের বাবা বর্ণাশ্রম বন্ধের কী অপকার হইতেছে, তলাইয়া দেখিতেছেন না। * রামকৃষ্ণকে (এবং তৎসম্প্রদায়স্থ ব্যক্তিগণকে) বাড়াইবার পর লােবদের খাটো করিবার প্রয়াস “মৃত” “লীলাপ্রসঙ্গ” প্রভৃতিতে শই পরিলক্ষিত হয়। # “কতলি” ভট্টাচাৰ্য!! .

১৪ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। বুঝাইয়া দিবার প্রয়াসেও স্বামীজির এ গমনাগমন এই সময়ে কিছু অধিক ইয়া উঠিয়াছিল। * স্বামী ব্রহ্মানন্দ বলেন এইরূপে স্বামীজি পতিতলি সম্বন্ধে অনেক কথা ক্লান্ত হইবা ঠাকুরকে উহা বলেন এবং অনুরােধ করিয়া তাহাকে পণ্ডিত দর্শনে লইয়া যান। পণ্ডিত শশধরকে দেখিতে যাইয়া ঠাকুর সেদিন পণ্ডিতজিকে নানা অমূল্য উপদেশ প্রদান করেন। শ্ৰীশ্রীজগদম্বার নিকট হইতে “চাপরাশ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হইয়া ধর্ম প্রচার করিতে যাইলে উহ. সম্পূর্ণ নিষ্কল হয় এবং কখন কখন প্রচারকের অভিমান অঝর কাড়াইয়া তুলিয়া তাহার সর্বনাশের পথ পরিষ্কার করিয়া দেয়, এ সকল কথা ঠাকুর পণ্ডিতজিকে এই প্রথম দর্শনকালেই বলিয়াছিলেন। এই সকল অলক শক্তিপূর্ণ মহাবাক্যের ফলেই পণ্ডিতজ কিছুকাল পরে প্রচারকার্য ছাড়িয়া কামাখ্যা পীঠে গমন করেন, ইহা আর বলিতে হইবে না। লীলাপ্রসঙ্গ গুরুভাব-উতরাষ্ট২২৩-৪ পৃষ্ঠা। লীলাপ্রসঙ্গকার কিরূপে অবগত হইলেন যে, পণ্ডিতজি বক্তৃতা ছাড়িয়া কামাখ্যায় তপস্যার্থ আগমন করিয়াছিলেনচুড়ামণি মহাশয় ধর্মবক্তৃতা প্রসঙ্গেই কামরূপেও আসেন এবং তা দর্শনাদি করি। বান। আমরা জানি, তিনি ১৮৮৮-৮৯ অঙ্গে হট ও কাছাড় অঞ্চলে বক্তৃতা করিয়াছেন। ফলত এ সকল লেখবে কত সত্য:এভাবে প্রচার করিয়াছিলেন, কে তাহার ইয়ত্তা কয়িৰে। প্রকৃত পক্ষে রামকৃষ্ণদেব পণ্ডিতের সন্মান যথেষ্ট করিতেন। চুড়ামণি মহাশয়কে অপ্রতিভ করিতে যাওয়া দুরে থাকুক, তিনি সর্বদাই তাহার সম্বন্ধে অত্যুচ্ছ ধারণা পােষণ করিতেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ এই লীলাপ্রসফ- কারের লেখাই উদ্ধত করিতেছি-“ঠাকু। ওগাে পণ্ডিত তােমায় দেখলুম।. [ অর্থাৎ সমাধি সহায়ে উচ্চ ভূমিতে উঠিয়া তােমার অন্তরে # এসব কথার মূলে সত্য যে কতদূর তাহা ভগবানই জানেন। পরন্তু ইহা বিবেকানন্দকেও বাড়াইবার প্রয়াস নয় কি?

প্রথম পরিশিষ্ট—ক।.. । - কিরূপ পুর্ব সংস্কার সকল আছে, তা দেখলাম-( প্রসঙ্গকায়ে- ফুটনােট। তুমি বেশ লােক। গিন্নী যেমন বেঁধেধেড়ে সকলকে খাইয়ে দাইরে, গামছা থানা কাধে ফেলে পুকুর ঘাটে গা ধুতে কাপড় কাচতে যায়, আর হেঁসেল ঘরে ফিরে না—তুমিও তেমনি সকলকে তাঁর কথা বদলে কোষে যে যাবে আর ফিরবে না ।” ঐ উত্তৱা ২৩৯ পৃঃ। ‘কথামৃত’কারও শিখিয়াছেন, যখন বলরাম বাবুর বাড়ী চূড়ামণি মহাশয় (প্রথম সাক্ষাৎকারের সপ্তাহ পরে) রামকৃষ্ণদেবকে দেখিতে যান, তখন তাহাকে—এঁরামকৃষ্ণ (সহাস্টে) বলিতেছেন--আমরা সকলে বাসর শয্যায় জেগে আছি—কখন বর আসবে। ( কথামৃত ৪র্থ ভাগ ১২৬ পৃঃ) আবার আছে- পণ্ডিত বিদায় লইলেন। ঠাকুর বললেন, একে গাড়ী আনিয়ে দাও। পণ্ডিত। আজ্ঞে না, আমরা অনি চলে যাব। রামকৃষ্ণ (সহাস্যে)। কি হয়-ব্ৰহ্মা রে না পার ধ্যানে ( কথামৃত ঐ ১৩০ পৃষ্ঠা)। প্রতিবাদী কেহ কেহ চুড়ামণি মহাশয়ের উপর একটা অভিযােগ এই বলিয়া করেন যে, এই দীর্ঘ ৩৪ বৎসর পরে, কেন তিনি চাপাশের কথার প্রতিবাদ করিতেছেন-খা ইতঃপূর্বে কেন প্রতিবাদ করেন নাই। এ বিষয়ে চূড়ামণি মহাশয়কে তদীয় বক্তব্য জানাইতে লিখি নাই—লেখা বাহুল্য মনে করিয়াছি। মদীয় পূর্ব প্রবন্ধের সূচনায়ই লেখা আছে যে, তিনি ( তিন বৎসর পূর্বে ) গৌহাটি আসিলে আমি তাহাকে পরমহংস দেশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ কৰিচাপৱাণ, সম্বন্ধেও তখনই কথা হয়, পরে আমিই নিৰ্বসহকারে চিঠি ি তাঁহার লিখিত মন্তব্য ( আমার পুত্রের উত্তরণে ) কানাইছিলাম। চুড়ামণি মহাশয়ের উপরে বহুবিধ অত্যাচারের বজাৰাত ৰহিয়া গিয়াছে। তিনি স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া কোনও কিছুর প্রতিবাদ করিয়াছেন বসিয়া - রামক বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। আমি অবগত নহি। এমন কি, আজ ২৩ বৎসর ইল ঢাকা হইতে প্রকাশিত প্রতিভা পত্রে • দুইবার শশধর ভড়ামণি” বলিয়া তাহার নাম উল্লেখিত হইয়াছিল-তিনি তাহাতেও হৃক্ষেপ করেন নাই। তাহার প্রথম পত্রের প্রতিবাদের উত্তরেও অতঃপর হইয়া (এস প্রকাশিত) পত্রগুলি লেখেন নাই—আমিই বারংবার চিঠি ও অগিদ দিয়া এগুলি লেথাইয়াছি। উপসংহারে সাহিত্য সম্পাদক মহাশয়ের কথার কিঞ্চিৎ উত্তর দিয়া বাকিতে পারিতেছি না। তিনি লিখিয়াছেন- সাহিত্য আষাঢ় ১৩২৮ বৈঠকী দ্রষ্টব্য) তর্কচূড়ামণি মহাশয় সুপণ্ডিত এবং সখ্যাত, পর তিনি গৃহী। তিনি গহনে দুর্গম বনে ঘুরিয়া কখনই সাধু সন্দৰ্শন কৰাির তেমন অবসর পান নাই” ইত্যাদি। চুড়ামণি মহাশয়ের সঙ্গে আমার আলাপ পরিচয় সেই গৌহাটীতে যখন তিনি শেষবার আইলেন, তখনই-এবং তাহও কয়েক মুহূর্তের মাত্র। তৎকালে আলাপ প্রসঙ্গে, ঐটু জেলায় জয়ন্তীয়া স্থিত বাম- মহাপীঠে গিয়া জনৈক সার সহিত তাহার যে সাক্ষাৎকার ঘটিয়াছিল, তাহ। তিনি আমাকে বলিয়াছিলেন। ঐস্থান তখন (১২৯৫ সালে। হলি ও পদাকান ছিল এবং তিনি ৰে নে তাদৃশ অনেক বড় নোকে পলি লাভ করিয়াছেন, এ কথাও বলিয়াছিলেন। ফলতঃ গৃহা হইলেও যাহায় তীর্থদেরী, তাদের সাধুদর্শনের সুবিধা বহুশাই এটয়া থাকে। এ সকল প্রতিবার উত্তছলে নামার নিজের বক্তব্য এবারে লিখিত হইয়াছে। (পৰম্ভ এব ব্য)। # ১৩২৬ সাল—৪৯ পূ ও ১•• পৃঃ । । এয়তী মহাপীঠ এবং উক্ত সাধু (বারী বাজ প্রসাস) সঙ্গে পৰে (ণ সমাজ ১৩২৮ পৌষ সংখ্যায়)একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হইয়াছে। তাহাতে যুচুড়ামণি মহাশয়ে লিখিত সাধু জন বিষয়ে এফনি চিঠিও প্রকাশিত হইয়াছে।

প্রথমপবিশিষ্ট। খ। রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দ ৰিষাক প্রসঙ্গের প্রতিবাদের প্রত্যুত্তর। বাম পংংল ও মী বিবেকানন্দ সম্বন্ধে যে সন প্রব। প্রকাশ করিয়াছিলাম, সে গুলর প্রতিবাদ হয়ছে। পূজ্যপা ধুক্ত পণ্ডিত শশধর চুড়ায় মহাশয়েব লিখিত চিঠিতে রাম পরমহংসদেব সম্বন্ধে যে সব কথা ছিল, তৎপ্রতিবাদের উত্তর পূর্ব প্রবন্ধে দেওয়া হইয়াছে; ঐ প্রবন্ধে চুড়ামণি মহাশয়ের পক্ষ ইতে ৰা ৭ ব্য, তাই বলা হয়াছে। বর্তমান প্রবন্ধে পরমহংসদেব ও স্বামী 'বেক'ন সম্বন্ধ আমার কথার যে প্রতিবাদ হইয়াছে, তাহার কি উত্তর দিতে চেষ্টা করি। পূর্ব প্রণক্কেই বলিয়াছি, প্রতিবার অধিকাংশই গা•িপূর্ণ। কটু কথা কখনও 'মুক্তি’ বলিয়া গ্রাই হয় না। ইহাতে এহিযাদীই পরিচয় মাত্র পাওয়া যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এরূপ কটুক্তি অপ্রত্যাশিত নহে; ‘লঙ্কাপ্রিয় গামী বিবেকানন্দের উক্তিসমূহ ও খুব ঝাল’ হইত—উদীয় অনুণিণের ভাষায় সেটুকু থাকিবে অশ্য কি বিশেষ যেখানে ওক চলে না-এপিরে যুক্তি খণ্ডন করা যায় না—সেখানে ‘গালি’ ভিন্ন আয় উপায়ই বা কি ? পরন্তু রা চর ঐষুত বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায় মাশয় যথোচিত ভাবেই তাহার প্রতিবাদ লিখিয়াছেন। চুছামণি মহাশয়ের বিরুদ্ধে তিনি যাহা লিয়িাছেন—তদুত্তর চূড়ামণ মহাশয়ই দিয়াছেন-আলি এ বিষয়ে কিছু বলি না। আমার সদগ্ধ তিনি যেটুকু লিখিয়াছেন, তৎসম্বন্ধে আলোচনা করি। পরমং দে সরি এতে আমার # গালির আর একটা অবান্তর ফল আছে, মুক্তির উত্তরে যে স্কুলে টক্তিবর্ষণ হয় সেস্থলে “অপমানং পুরষ্ক,” সাধারণতঃ কেহ কোনও কিছু লিতে এসব হন না, অহৰ গালি নেকটা নিরাপজনক। ৭ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। A * * মধ্য পড়িয়া তিনি বলেন যে, “রামষ্ণ পরমহংস অবতার ছিলেন না, এটা আমি প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করিয়াছি। একটু অভিনিবেশ সহকারে পড়িয়া দেখিলে বোধ হয় তিনি এভাবে কথাটা বলতেন না। আমি আমার ধারণা মাত্র বলিয়াছি;-তাহাকে আমি অবতার মনে করি না, একথা জংগ্রই বলিয়াছি-এবং ভক্তেরা তাহাকে অবতার বলিয়া তাহার মাহাত্ম্য খর্ব করিয়াছেন, একথাও বলিয়াছি; আপচ এইরুপ অবত্তার বলতে কিরূপ ‘অনিষ্ট হইয়াছে; তৎসম্বন্ধেও সামান্য কিছু বলিয়াছি। ইহাতে তিনি অবতার নহেন-ইহা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা’ বুঝায় না; কেন না কোনও একটা বিষয় প্রতিপন্ন অর্থাৎ প্রমাণসিদ্ধ করিতে হইলে যুক্তি দিতে হয়। অবতারের পক্ষে বা বিপক্ষে মুক্তি দেওয়া একপ অসাধ্য। শাস্ত্র যাহাদিগকে অবতাৰুবলিয়াছেন— আমরা তাহাদিগকে অবতার মানিব-ইহাই একমাত্র প্রমাণ মনে করি। অবশ্য গীতাস-য যভূিতিষৎ সত্ত্বং এমদূৰ্জিমেব বা। উত্তদেবাবগচ্ছ ত্বং মম জোংশসম্ভব । অথবা পুরাণের অবতারা হসংখ্যেয়া প্রভৃতি শাস্তুবাক্যে অবতারের পথ উন্মুক্ত করিয়া দেওয়া হইয়াছে বটে; তথাপি স্পষ্টতঃ যে সকল নাম অবতারের তালিকাভুক্ত, তাহা ছাড়া অপর অবতার স্বীকার করা নিরাপদ নহে। একবার ‘অবতার খ্যাপিত্ত হইয়া পড়িলেই আর কোনও বালাই নাই; তিনি যদি লম্পট হন-নজির হয় শ্রীকৃষ্ণ বস্ত্রহরণ, রাসলীলা ইত্যাদি করিয়াছিলেন; তিনি যদি ঠ বঞ্চক হন, ভক্তের বলিবেন “মনদেৰ বলিকে ছলনা করিয়াছিলেন, ইত্যাদি। এ অবস্থায় যুক্তিতর্ক চলে কি? এমন যে শ্ৰীমন্মহাপ্রভু-তাহারও ‘অবতারত্ব এখনও সবাসিত নহে। অবতারের প্রয়ােজনই বা কি ? আমাদের * হরিসঙ্কীত্তনাদিতে—“গৌরচন্দ্রিকা এখন অপরিহার্য হইয়া পড়ি মাছে; কিন্তু যখন মনে কৰা যায় যে, তিনি এইরূপ কীর্তনের গুরু’ তখন v প্রখম পরিশিষ্ট-খ। A ৭ তো অনেক অবতারই আছেন-এ ছাড়া-সাধকানাঃ হিতাথায় ব্ৰহ্মণে। রূপকল্পনা’ বহুবিধই হয়াছে। রামকৃষ্ণকে যারা গুরুপ পাইয়া কন্যার্থ হইয়াছেন, তারা অবশ্যই তাহার পূজা করিতে পারেন। আমি লিখিয়াছিলাম, “রামকৃষ্ণের দেখাদেখি বঙ্গদেশময় বহু অবতাবের আবির্ভাব হইয়াছে-- এবং রামকৃষ্ণ এই সকল উট শ্রেণীব লােকেব পৰ্যায়ভুক্ত হইয়া পড়িয়াছেন।” ইহাতে চট্টোপাধ্যায় মহাশর বলিতেছেন, “বঙ্গদেশে অনক বহু অবতারের কথা আমরা তো শুনি নাই তিনি যদি না শু নয়া থাকেন, তবে বড়ই আশ্চর্যের বিষয় মনে কবি। ঐযুক্ত প্রমথ নাথ বসু-প্রণীত “স্বামী বিবেকানন” গ্রহ ৪র্থ খণ্ড ১২৪ পৃষ্ঠায় দেখিবেন, স্বামীজি বলিতেছেন, “এক ঢাকাতেই শুননু তিন চাবিটি অধতার বেরিয়েছেন। এ সম্বন্ধে স্বামী বিবেকানন্দ আবো যাহা বলিয়াছিলেন, (পুনরুক্তি হলেও) তাহা এলে উদ্ধত করা আবশ্যক মনে কবিলাম। (ঢাকার একজন বালক একটা ‘ফটো’ দেখাইয়া স্বামীজিকে বারংবার জিজ্ঞাসা করে—ইনি অবতার কিনা? তদুত্তরে) স্বামী বলেন “বাবা এখন থেকে একটু ভাল করে খেয়ে দেয়াে; তাহলে মাথাটা খুলবে। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে তােমার মাথার ঘিলু একে বাবে শুকিয়ে গেছে। আবাব দিলেন “গুরুকে শিষ্যেষ। অবতার হতে পারে বা যাচ্ছে ধারণা কর্তে পাবে। ঈদৃশ বন্দনা (যেমন কবির বাল্মীকির বন্দনা কবেন) সঙ্গই মনে কর। খাইতে পাবে। ঞ ফলতঃ আজকাল লোকে যেমন ডাক্তার কবিৰাজ না ডাকিনা স্বল্পমূলে, প্যাটেন্ট ঔষধ খাইয়া আবােগ্যলাভ করতে ঢা— এ সকল উFট অবতার- বাণীবাও যেনাস্থ পিতবাে যাতাঃ 0 ® পেন গ'ছন ন দিতে নেই শাস্ত্রসম্মত সাধন ভজনেব পথ ছাডিয। অনাযাসে ভ্যাধির প্রক।বার্থ ঈদৃশ সহজ মার্গ অবলম্বন করিয়া থাকে। তবে প্যাটেন্ট কলেন পাঝিতে ফলাফল স্পষ্ট দেখা যায়, এদের ফলাফল ব্রিপ্তেবই মাত্র বেদিহব্য।

মঞ্চ বিবেকানন্দ এল। কিন্তু তাই বলে দেশগুব্ধ লােক অবতার কে, এ কি রকম? ভগবানের খতার যখন তখন যেখানে সেখানে হয় না ,”) • (স্বামী বিবেকানন্দ–৪র্থ খণ্ড ১০২৪ পৃষ্ঠা) চট্টোপাধ্যায় মহাশয় এ সকল কথায় প্রতিও একটু প্রণিধান করিবেন কি? কেবল ঢাকায় কেন, পূর্ববঙ্গের আরাে দু এক জেলার ব, নিয়াতে এরপ উদ্ভট আবারের আর্তিাব হইয়াছে। ক খানি পুস্তকের নামও উল্লেখ করিয়া দিলাম, “ঠাকুব দয়ানন্দ- ৮ মহেন্দ্র নাথ দে এম, এ, বি, এস-সি প্রণীত। চট্টোপাধ্যায় মাশ যে তাহা সংগ্রহপূর্বক পাঠ করেন এবং এই ঠাকুরটির একটু সিকানও করেন। মি এক্ষেপ প্রকাশখি ই লিখিয়াছিলাম যে, রামকৃষ্ণপরমহংস এল টট অবতারের শ্রেণীভুক্ত হইয়া পড়িয়াছেন। পরমহংস দেবের প্রতি আমার যথেষ্ট ভক্তি শ্রদ্ধা আছে-একথা পূর্ব পূৰ্ব প্রবন্ধে প্রবন্ধেই বলিয়াছি; । কিন্তু এবার বলিয়া তাহাকে মানিতে পারিব না; বরং আবার সানাইয়া তাহার মাহাত্ম্য ও করা হইয়াছে—একথা ভুয়োভূয়ঃ বলিব। এবার প্রতিপাদনাৰ্থ “কথামৃত লীলা প্রসঙ্গ এভৃতিতে কত যে অত্যুক্তি ইত্যাদি রঙিয়াছে, তার ইয়ত্তা নাই । যারা রামকৃষ্ণ দেবকে আবার মনে করেন তাহাদেরও এসকল কথা একটু ভাবিয়া দেখা উচিত নয় কি? * কেবল যে এখন বলিতেছি তাহা নহে। ১৩১৯ সালের কার্তিকসংখ্যক “ব্রাহ্মণসমাজ” পত্রে “শবনাথ” শিয়ােনামে একটি গল্প প্রকাশিত করিয়া- ছিলাম—তাহাতে পরমহংসদেবের উল্লেখ সঙক্তিক করা হইয়াছে। [ তাহাতে চাপাশের কথাটাও আছে, কিন্তু চুড়ামণি মহাশয়ের সম্পর্কে নহে।] # ইতঃপূরে স্বামী বিবেৰান' প্রবন্ধে প্রসঙ্গতঃ রামকৃষ্ণদেব ঈশ্য অত্যুক্তিবাদিগণ কর্তৃক কিরূপ বিম্বিত হইয়াছেন, 'তাহার দু' একটা উদাহরুখ যেখাইয়াছি। অল; বাহনে।

প্রথম পরিশিষ্ট-খ। -বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিগণ এ সকল অতিরঞ্জন অায়াসেই বুঝিতে পারিবেন। অন্যান্য প্রতিবাদকারীদিগের কটুক্তিখি প্রবন্ধের উত্তরে আমার বক্তব্য বিশেষ নাই; তবে ইহাদের বিচারশক্তি ও তথ্যানুসন্ধিৎসা বৃত্তি সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ পরিচয় প্রদান করিতেছ। বাৰু সত্রে নাথ মজুমদার লিখিয়াছেন, (সাহিত্য, য়ৈষ্ঠ ১৩২৮-১৫৫ পৃঃ) পর খানি [ অর্থাৎ চুড়ামাণ, মহাশয়ের লিখিত পরমহংস দেৰ সৰী এখ পত্রের তারিখ দৃষ্টে বুঝা গেল, ইহা এই বৎসর পূর্বের লেখা। সত্যে বাবু ঐ পত্রখানির তারিখ দেখিয়াছেন ৭৯২৫-বিয়া- হেন ২৭শে পৌষ ১৩২৭; কিন্তু ঐ তারিখের পাশে একটি শ’ চিহ্ন দিয়া পাকায় লেখা ইয়াছে, অর্থাৎ ২৫ পৌষ ১৩২৪-পূর্বে সনের অঙ্ক লেখাটাই সনাতন রীতি”, ইত্যাদি | প্রথম পরিচ্ছেন এম] ফলতঃ প্রতিবাদী মহাশয়ের তলাইয়া দেখার, অ্যাসটা থাকিলে বয় ঘটিত না। এই দুই বৎসর পূর্বের লেখা’ বলিয়া তিনি কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন, তাহা তিনিই জানেন। বিগত (১৩২৮) শ্রাবণের সাহিত্যে মিথ্যা কি প্রতিবাদ প্রবন্ধে লিখিত হইয়াছে—“কিন্তু আমি জানি না দে আপনাকে আবার বলিয়া মনেই করিতেন না। কারণ তিনি বলিয়াছিলেন, গবানের কি cancer হয়?” কথাটা । পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয়ও নাকি এর কথাই পরমহংসদেবের নিকট হইতে শুনিয়াছিলেন। কিন্তু স্বামী বিবেকাশ এর ১ শত ১৪৯ পৃষ্ঠে আছে * “পরমহংস দেবের শেষ মুহুর্তে তিনি I অর্থাৎ বিবেকানন্দ। তাহার শয্যাপারে দান এই মনে মনে চিঞ্জা করিতেছেন, “আচ্ছা, উনি তত 'অনেক সনিকে গানে গতায় বলে পরিচয় দিয়েছেন। এখন এই ময়ন রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ বলতে পারেন, আমি ভগবান্ তষেই বিশ্বাস করি। কি আশ্চর্য সেই মুহূর্তে নিদারুণ রােগ যন্ত্রণার মধ্যে পরমহংসদেব তাহার দিকে মুখ ফিরাইয়া বলিলেন, “এখনও তাের জ্ঞান হােলাে না। সত্যি সত্যি বলছি, যে নাম যে কৃষ্ণ-সেই ইদানীং রামকৃষ্ণ-তবে তাের বেদান্তের দিক্‌ দিয়ে নয়। মে বিবেকানন্দ এল কথা (এতিদারিণীর • এতে • মতে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা প্রচার করিতে পারিয়াছেন, তাহার সম্বন্ধে কার ও উচ্চ রণা হইতে পারে কি? আমরা যদি পাকে প্রকারে প্রবঞ্চক ঠাওয়াইয়া থাকি, তবে কি আমাদের খুব গুরুতর অপরাধ হবে ? এইরুপ ব্যক্তির বাণী কি ‘বীরবাণী হইবার উপযুক্ত। ঈদৃশ লােকই কি ন্যারে বা ধর্মপ্রচায়ের অধিকারী ? এলে ইহাও মনে রাখিতে হইবে যে, কথামৃত”, জানা প্রসঙ্গ ইত্যাদিতেও রামকৃষ্ণ যে নিজকে আবার মনে করিতেন, এরূপ কথা পাওয়া যায়। তবে কি এ সকলের লেখকগণও ( এই প্রতিবাদ-লেখিকা মতেও) অসত্যের প্রচারক ? অপরের লেখাকে মিথ্যা অভিযোগ বলিয়া অভিহিত করিবার পূৰ্ব্বে রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ সম্বন্ধীয় তৎসম্প্রদায়ের লিখিত কাহিনী ভাল করিয়া পড়াটা কি উচিত ছিল না? ঐ এখন সেক্স পাখি” অপর একনের প্রতিবাদ প্রকাশিত ইয়াছে। ইনি উপসংহারে এই অধমকে উপলক্ষ করিয়া লিখিয়াছেন * হঠাৎ নাম করিতে হলে তা কি বাঘ যান দরকার, নচেৎ নাম ফাটিৰে না। পয়েই নিজের পিরচয় এ ভাবে লিখিয়াছেন, * কবিশেখর কবিরাজ আয়ুর্বেদ বিদ্যার সমিতি, ৯ ইনি নিজেকে ‘বেথুন কলেজের ছাত্রী, বলিয়া পরিচয় দিয়াছেন। দুঃখের বিষয় বন্ধের ভাষা ইত্যাদিতে প্রজননুলভ শালীনতার অথবা উচ্চ- শিক্ষাজনিত বিনয়ের কোনও লক্ষণ সৃষ্ট হয় নাই। [ব নামে লেখা হইতে পাৰে। * নাম ও ঠিকানা নানাকারণে এর প্রকাশ করা হইল না। স্ত্রী।

এখন পরিশিখ। ইহার উপর টাকা অনাবশ্যক। • ইহাতে যিশুখৃষ্টের বাণীই মনে - The moto thou seest in the eyes of others, but not the beam ic thina own." ইনি বলিয়াছেন “লেখক নিজেই স্বীকার করিয়াছেন, স্বামী বিবেকানন্দ জাতির ছিলেন। আমার লেখা যিনিই অভিনিবেশ সহকারে পড়িবেন, তিনিই বুঝিতে পারিবেন, যে বিবেকানন্দ জাতির ছিলেন একথা আমায় স্বীকার উক্তি নহে; একথা তাহার জীবন- চরিতে (স্বামী বিবেকানন্দ-৭৫• পৃষ্ঠায়) বর্ণিত তাহার নিজের উক্তি হইতে গৃহীত হইয়াছে। পরমংস বলিতেন, 'ও(বিবেকানন্দ) যখন জানতে পাবে ও কে, তখনই মেহত্যাগ করবে। অথচ স্বর ৫ বৎসর পূর্বেই দেখা যায় বিবেকানন্দ ভঁহার পুর্বজন্মের কথা, অর্থাৎ তিনি কে, ইহা জানিতেন-থচ তখনই দেহত্যাগ করেন নাই। দুই কথার অসঙ্গতি দেখানই আমার উদ্দেশ্য ছিল,এই স্পষ্ট কথাটাও প্রতিবাদলেখকের বোধগম্য হয় নাই। অন্য একজন প্রতিবাদকারী এই বলিয়া অভিযােগ করিয়াছেন যে, আমি স্বামী বিবেকানন্দ বিত থাকিতে কেন এ সকল কথা প্রকাশ করি নাই, আয় তাহার মৃত্যুর প্রায় কুড়ি বৎসর পরে কেন তাঁর কথা ও কাজের বিরুদ্ধে সমালােচনা করিতেছি। এই অভিযােগ অতি অকিঞ্চিৎকর ; তথাপি ইহার উত্তরে আমার বক্তব্য এই যে, গৌহাটিতে বিবেকানন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মাত্র বৎসরের পরেই তিনি পরলোক প্রাণ হন। অতএব ই ও আগ্রহ থাকিলেও তাহার জীবিত সময়ে তাহার সম্বন্ধে আলােচনা করিবার এই # পর পরিচয়ের ঘটা দেখিয়া মনে হয় কবিরাজ মহাশয় শিখ ইয়া vণ্ডায়মান-পশ্চাতে কোনও যায় অবস্থিত হইয়া কটুক্তি বা বই। করিতেছেন।

রামকৃষ্ণ বিৰোমল এল।
ছিল না। বিশেষত তার দুটি এভার সংক্ষিপ্ত রিপাের্ট
জিমেরিকার প্রথম এক দুইটি তা ছাড়া আমি তার বিশেষ
কোনও ছুি তখন পর্যন্তু পড়ি নাই—তার কোন জীবন চরিতও তখন
খে নাই। এই সে দিন মা তাহার পত্রাবলী (১ম খণ্ড) ভারতে
নিশ’ প্রভূতি দু' একখানি গ্রন্থ পাঠ করিয়াছি-এব যে জীবন
চন্তিতখানি হইতে আর প্রাণীর অধিকাংশ সরঞ্জাম সংগ্রহ
ঝিয়াছি, তাই বন্ধুখে অল্প কয়েক দিন পূর্বে মাত্র দু-
হইছে। তবে খনই সুবিধা পাইয়াছি, «িবেকানন সম্বন্ধে আমার
vণা স্পষ্টভাবেই বলিয়াছি; ১৩১৬ সালে ( স্বামীজিক মৃত্যুর মাত্র
৭ং পরে),খন ঐষুক প্রফুলচন্দ্র রায় দেয়ের “বাঙ্গালী মস্তিষ্কের
অপব্যহার শীর্ষক প্রবন্ধের প্রতিবাদ করি, তখনই রায় মাশয়
• উ বিবেকানন্দের কথার উত্তরে স্বামীজির সম্বন্ধে দু' একটি
শলিখিয়াছি। ঐ সকল কথা পড়িয়া ব্যক্তির নৈক
১৩২৩ সালে) আমার প্রতি বিরক্তি কাশপূর্বক চিঠি লিখা-
ছিলেন; তরে তাহার ষাের্থে গৌটিকে বিবেকানন্দে লতি
র বেশ কথা হয় এবং হার আদি শুনিয়া দামী
মহা ক্ষণ আগে সকল সংৰে খাই লিখা পাঠাইয়া-
হিষ - ইনুই গালে বিকন বন্ধ লিখিত হইয়াছে।
তব কুড়ি বছর পরে যে এই প্রথম এই বিবেকানন্দের বিরুতে
সমালােচনা করিল, ই ঠিক নহে। পায়, বিবেকানন্ম পলাে
“বৈজ্ঞানিক আজি নিয়াস (যৌন সনাতন.ম হইতে
এবি) ১৬ হইতে ২১ পৃঃ দ্রব্য।
ইজটি আমার একজন শিলং জিন। সেই
ন আরাে অনেকে মা, যেইতিমূলক লেখা প্রক্রিয়াছিলেন। কিন্তু
পর আর কে চলে নাই। নেই তে পাইনি।

এখন পরিশিষ্ট-খ। প্রাপ্ত হইয়াছেন বটে, কিন্তু কাঙি সতি—তাহাৰ কৰি, তীয় গ্রন্থাবলী, রামকৃষ্ণ মিশন ইত্যাদি এখনও দেদীপ্যমান রহিয়াছে। তাই বলিয়াছি, এরপ অভিযোগ কিঞ্চিং। এক্ষণে পৰমহংস রামকৃষ্ণ দেবের ও স্বামী বিবেকানন্দের সম্প্রদায় ভুক্ত যে সকল বিজ্ঞ বিশিষ্ট ব্যক্তি আছেন, তাদের সমীপে আমায় ফিনীত নিবেদন এই যে, রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ সম্পীয় যে সকল এতে তাদের উক্তি ও কার্যাবলী সাধারণ্যে প্রচারিত হইতেছে, গুলির ভিতরে পরস্পরবিরােধী বহু অসমঞ্জস কথা রহিয়াছে। দিঙ মাত্র প্রদর্শন করিলাম। এইপ আপাম থাকা সম্প্রদায়ের গৌরবজনক নহে। তাঁহারা ঠিক কি ছিলেন, এরপ অসঙ্গত উক্তি পাঠ করিয়া না যায় না। অপিচ অতিরঞ্জন দ্বারা এবং অপরকে ও রিয়া • উহাদিগকে বাড়াই ও একটা প্রয়াস দেখা যাইতেছে ইহা সর্বতােভাবে অশোভন। বিশেষতঃ সনাতন ধূৰ্ম্মের বিরােধী বা ঝিল প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীর হৃদয়ে আঘাত লাগিযেই এবং তা হইলে এ সকলের তীব্র প্রতিবাদও এই ইবে । আবার পরমহংস শেষে বা বিবেকানন্দের নি।তোদি । সবই যে একাণ, কবি # এই সম্বন্ধে পূর্বেই কতক বলিয়াছি-এ স্কুলে এতৎসমর্থক কিঞ্চিৎ উল্লেখ করিতে হইল। রামকৃষ্ণের গুরু পরমহংস তােতাপূরী এবং উত্তরাধি তৈষী ফ্রাণী কি ভাবে রামকৃষ্ণের উৎকর্য প্রদর্শনগুলে) বর্ণিত হইয়াছে, তাহা লীলাপ্রসঙ্গ” গুরুভাৰ পুৰ্বাৰ্থ অষ্টম অধ্যায়ে স্রষ্টব্য। + উদাহৰণ-যুক্ত এখয়ের বাটীতে খুব কীন হইয়াছে, অনেকেই তাতে নাচিয়াছেন'; ফাত্ত নাতে রামকৃষ্ণ সহাস্যে বলছেন 'হাজরা নেচেছি। নরেন্স (সকালে) একা, একটু একটু। প্রয়ামকৃষ্ণ গহন্যে। একটু একটু নরেন্দ্র (সহাতে) ভূড়ি আর একটি জিনিষ নেচেছিল। রামকৃষ্ণ (সহায় যে আপনি গোলোফোলাতে আপনি গেল সকলের হী।* কথা ছাগল ২ পন্সিলে। কীমের সময় * শিষ্যের কোন দিকে ছিল, দেখুনীলার কথা না-ই বলিনা। হ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। হইবে, এমনও নহে; বরং জুঙ্গিত বিষয়ের অনুল্লেখই বাঞ্ছনীয়, নচে লোকের অগ্রদ্ধা জমির কথা। আশা করি তারা এ সকল কথা ভাবিয়া দেখিবেন—এ এই অধম এ সকল অনেকটা ঘাটিয়া দেখাইছে বলিয়া যেন কষ্ট না । রামকৃষ্ণদেষকে আমি ল্যাবধি -কি চক্ষে দেখিয়া আসিতেছি—তাই তাহার সম্বন্ধে যথেষ্ট সাবধানতা সহকারে কথা বলিয়াছি; পর তাঁর প্রতি তেমন শ্রদ্ধা যাহার নাই, তাদৃশ সমালােচক এ কার্ষে। প্রবৃত্ত হইলে পরমাংস থেকেও বিড়ম্বিত হইতে হইবে। পরিশেষে এতদুপলক্ষে সাহিত্যের মাননীয় সম্পাদক মহাশয় যে সকল বৈঠকী আলােচনা করিয়াছেন তন্মধ্যে দু একটি কথার প্রতিবাদ না করিয়া এ প্রবন্ধের উপসংহার করিতে পারিতেছি না। তিনি আমাদের সনাৰ্ছ; কিন্তু “দোষা চা গুয়েনি”। তিনি অনুগ্রহপূর্বক মায় প্রবন্ধগুলি প্রকাশিত করিয়াছেন, তা আমি আধিত। কিন্তু . আমার বােধ হয় সম্পাদকীয় ভাবে তিনি এ সকল প্রবন্ধের আলােচনা করিলেই ভাল হইত । সে যাহা হউক, তিনি { সাহিত্য ১৩১৮ বৈশাখে ‘বৈঠকীতে আমার একাকীকে ‘সুললিত সন্দৰ্ভগুলি বলিয়া অভিনন্দিত করিয়াছিলেন—বং এগুলির উপলক্ষে তার উপর নােম ও অভিমান ঝটপূর্বক অনেকে যে চিঠি পত্র লিখিতেছিলেন, ও আনন্দ প্রকাশও করিয়াছিলেন। বলা আবশ্যক যে, সেই মাসেই কামী বিবেকানন্দ ও প্রবন্ধের প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হয় এবং তৎপূৰ্বেই প্রবন্ধের সমগ্র। তাঁহার গুগত হইয়াছিল। অপরাধ, তিনি পরমহংস রে শমলেই 'সফরে মনে মনে প্রিয় মনােভাব ক্ত করিয়া ফেলিতেন, ও ইতােমধ্যেই কিঞ্চিৎ প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে;' পণ্ডিত যুক্ত বিহুভি বিজ্ঞাণ লিখিত “সহজিয়া মত এক ব্রিাহ্মণ সমা , ভয় ১৩২৮ ব্য। * * প্রথম পরিচিত। ; “জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় সম্পাদকীয় সব কিছুই ছিল না, তবে এই সংখ্যায়ই প্রথম প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়—তাহাতে এ দীনের উপর নিছক গালি বর্ষণ হয়—সম্পাদক মহাশয় তাহা কথাযথ পত্রস্থ করিয়াছেন- তৰে আক্রোক্তিগুলি বাদ দিলেও প্রতিবাদ প্রবন্ধের হানি হইত না। তারপর আষাঢ় সংখ্যায় বৈঠকীতে লিখিলেন, “বিদ্যাবিনোদ মহাশয় তেমন নিৰ্ম্মৎস ভাবে লেখনী চালাইতে পারিতেছেন না- তাঁহার লেখায় একটু যেন জীবের বিষ কুটিয়া বারি হইতেছে। অথচ পূর্বেই বলিয়াছি, সাহিত্যে ক্ৰমশঃ প্রকাশিত হইলেও সমগ্র প্রবন্ধ সম্পাদক মহাশয়ের নিকট বৈশাখের ‘বৈঠকীতে প্রশংসাবাদের পূর্বেই পাঠান হইয়াছিল। সে যাহা হউক, এই আষাঢ়ী বৈঠীর তৈল নিক্ষেপেও প্রতিবাদের তরঙ্গ খামে নাই ; ‘বেঙ্গলী’ ও ‘সার্ভেন্ট পরে এখন অনেক প্রবখে সহ সম্পাদক মহাশয়কেও গালি দিয়া সাহিত্য রুটের ভয় প্রদর্শন করিয়াছিলেন। অতঃপর প্রাণের 'বৈঠকী’তে সম্পাদক মহাশয় হিন্দুসমাজ সম্বন্ধে বই খার অবতারণাপূর্বক যাহা বলিয়াছেন, অার সবটা সম্যক বুঝি পারিয়াছি একথা বলিতে পারি না; তবে বোধ হয় তাহার বক্তব্য মােটামুটি নিম্নোক্ত একাৰে ৰশিত ঋয়া যাইতে পারে । (১) বাঙ্গালী গুরুপুরােহিতের অভাবে দলে দলে গুরুপুরােহিতয়িষ্ট # প্রতিবাদী যে প্রবন্ধের সমালােচনায় এত কটুক্তি বৰণ করিয়াছিলেন, তাহাতে আমার নিজের কথা সামান্যই হিল,এবং তাহা পরমহংসদেবসীয় বলিয়া যখােচিত সংযতই ছিল। কিন্তু প্রতিবাদকারীর দৃষ্টি ছিল বােধ হয় বিবেকানন্দ- বিষয়ক পৰৰঞ্জী এবন্ধে যাহা কান-চৈত্র ও বৈশাখে প্রকাশিত হইয়াছিল। ইহাঙ্গেও প্রতিবাদী প্রকৃতির পরিচয় আরো একটু পাওয়া যাইতেছে। * এই ছয় প্রদর্শনের কিয়ৎকাল পরেই সাহিত্য পত্রখানি বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। ইহা বিবেকানন্দী দলের কাজ বলিয়াই একজন প্রতিবাদকারীর এ গসাজ '১৩৩ জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা হইতে অনুমিত হয়। মাল সঙ্গ হইলে, ইহাদের হিংসার এক্তি কত ৰেগৰতী ইহাই বুচিত হয়।

রামকৃষ্ণ বিবেকা প্রসঙ্গ। } মন সাজে দু আর কলি, শেরে খানও হইতে সি ই পূঞ্জ বাংলার ২৪ ফোট মােসলমান ও ৩ জন খৃষ্টান; (২) আগামী ৫০ বৎসবের মধ্যে বাঙ্গালায় হিন্দু ধর্মের করে এবং সমাজের কোনও চিহ্নই থাকিবে না; (৩) রামকৃষ্ণসম্প্রদায় এই ভাঙ্গনেব মু বলি বস্তা ফেলিয়ার চেষ্টায় আছেন; (৪) ইহাদের ফর্মের পরিমাপ ঘুননী গজে ইবে না; (৫) স্বামী বিবেকানন্দ নাকি বলিয়াছেন *চাই, লেদায়ের প্রচার চূরা ‘আমি’কে নাতি- বর্ণধৰ্ম্মনির্বিশেষে প্রকট করা। এ সকল দফাব বিস্তারিত আলোচনা এস্থল অসম্ভব। সপ এথম দফার উত্তবে এই বলা যায় যে, ৫ •• বৎসর পূর্বে প্রভু যে ব্যবস্থা করিয়া গিয়াছেন—তাতেই সাধাৰণ লােকনমঃ পশু-ধনুষ্ঠানের পথ পাইয়াছে—মােগলমান ইসার প্রয়ােজনীয়তা বীভূত হইয়া গিয়াছে। শতাধিক ব্যাপী প্রাণপণ চেষ্টায়ও খৃষ্টান পায়রা এদেশে কিছুই কবি পাৰিবলেন না-পাসিয়া গান সাওতাল ইত্যাদির মধ্যেই যা কিছু সামান্য প্রচার কবিতে ইহার সমখ ইয়াছেন। মােসলমানের সং} বৃদ্ধি প্রানতঃ বহুবিবাহ ও বিধা: বিষাতেই ফল-এরূপ ব; গাৰিদ্রা ও উজ্জনত চোদি অপরাধ উংপাদক জেলখানার দিকে শুকাইলেই ইহা এমাণিত হইবে। খৃষ্টান নুতন কল্পে বড় কে তেছে না। তিীয় দফার উত্তর ভবিষ্টা না হইলে কিনে দেওয়া যায়। তবে যে সনাতন সমান ও বিপ্লবের ফি দিয়া আমি আজও টিকিয়া রহিয়াছে এবং ভগবান এয়ং যার অষ্টা (চাতুৰ্বণ্যং ময়া কাষ্টম) এবং রক্ষক (ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভাষি ফুগে যুগে) বলিয়া অঙ্গীকার করিয়াছে সম্বন্ধে এপ বলা বিয়ে সম্পদ হাশয়ের পরে অতিশয় পায় ফাই ইয়ছে। ঈৎ পরিক সমানে কালৰে দুইযেই সেই এথ পরিশিষ্ট-খ। কাটা যাই অভূ হয়, জামী মারেই সেই চেষ্টা হওয়া উচিত এবং এই চেষ্টা খগাজ শে আস্থা শাস্ত্রবিশ্বাসী সদাচার ব্রাহ্মণাদি এরাই হওয়া, অবক। তৃতীয় দফার উত্ততে বক্তব্য যে, আজ পর্যন্ত রায় সম্প্রদায় হিসাধারণের মধ্যে বিশেষ কোনও প্রভাব বিস্তার করিতে পারেন নাই-অতএব এবং বালির বস্তার পরিচিহ্ন কোনও কিছু দেখা পাওয়া যাইতেছে না। চতুর্থ দফার উত্তরে আমার কিছুই বলার নাই-কেন না বিবেকানন্দের চেষ্টা যে রঘুন ব্যবস্থাশাসিত সমাজ বিধির প্রতিকূল, তা আমি জুয়েভূষঃ বলিয়াছি। বলা আবশ্যক নম্বন ঋষি-প্ৰণত শাস্ত্রেরই প্রচারক-বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের হরিভকি বিলাসেও খাদ্ধাদি অপূর্ব শাদির ব্যবস্থা করা হইয়াছে-ইতে সনাতন বিঃ রাখিবাই প্রয়াস আছে। মান সম্প্রদায়ের হরিভক্তি বিলাসকারের ব্যয় বিধানের অত্যনাভাৰ। অতৈ মহাপ্রভু পর পণ্ডিত ও অশেষ শাস্ত্রাভিজ্ঞ ছিলেন-তিনি শাস্ত্রানুমােদিত যা স্বয়ং শিক্ষাদান করিয়া গিয়াছেন—তাহার অনুসরণেই হরিতক্তিবিলা গলিত ইয়াছে; কারুফ শাই জানিতেন না—যদিও গুরুপদেশ ও সাধুসঙ্গে তার ওজন হইয়াছিল ; সুতরাং তার উপদিষ্ট কে ভক্তি বিকাশের য় গ্রন্থ রচনায় সমর্থ হন নাই। তাহার যে সকল উক্তি সােল কথায় আছে, তাহাই ‘ট্রেনে বুনে’ রামচন্দ্র দত্ত প্রভৃতি f• কিছু ধর্মোপদেশ প্রচার করিয়াছেন—কিন্তু তাতে শা বিচার নাই। রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দয়ানন্দ সরস্বত প্রভৃতি সংস্কারকগণও যথাসম্ভব শাস্ত্রের উপর ভিত্তিস্থাপনপূর্বক এতিপক্ষের সহিত বিচার করিয়া স্বীয় ম চালাবার চেষ্টা করিয়াছিলেন কলকায় তেনটা করেন নাই, করিবার শক্তি মর্থও ইহাদের নই। গরু। গন্ধে এই বলিৰ যে বেদারের চার’, যে দেখে • ফল যাহারা স্বী, সম্প্রদায়ের বগণের স্ত্রী চুক্তি বা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ গ্রসঙ্গ। Aw - vo w A করিবার অধিকার স্বামী বিবেকানন্দের ছিল, তথায় অর্থাৎ ভারতবর্ষের বাহিরে বরং কিছুটা ফল হইয়াছিল—এদেশে তাহার কাছ হইতে বেদান্তের বাগ কেহ শুনিবে না, শুনেও নাই। এ দেশের লােক তার অপেক্ষা অধিকতর (বেদান্তে) ব্যুৎপন্ন রামমােহন রায়ের কথাই শুনে নাই। এমন কি রামমােহনের অনুবর্তী ব্রাহ্মেরাই vedantism discarded’ করিয়া যাচ্ছিক পথ অবলম্বন করিয়াছিলেন। বিবেকানন্দ লাল হংসরামকে বলিয়াছিলেন, “আর শাস্ত্রের গোড়ামি অপেক্ষা মানুষের গোড়ামি (ব্যক্তিবিশেষকে অবতার বলিয়া তাঁর আশ্রয় লইলেই মুক্তি—এইরূপ প্রচার) জারা আরাে অদূতরূপে ও অতিশীঘ্র সম্প্রদায়ের বিস্তৃতি হয়, ইও আমার জানা আছে।” ইত্যাদি (ভারতে বিবেকানন্দ ৩৭ পৃষ্ঠা)। তিনি অবশেষে তাহাই করিয়া গিয়াছেন। রামকৃষ্ণের মূর্তি পূজার বিধানব্যবস্থা যে তিনিই প্রবর্তন করিয়া গিয়া- ছেন—তাহা ইতঃপূকেই বলিয়াছি।(তৃতীয় পরিচ্ছেদ দ্রষ্টব্য। এখন সম্পাদক মহাশয়ের নিকট নিবেদন এই যে, বিবেকানন্দ তো প্রায় কুড়ি বৎসর হইল চলিয়া গিয়াছেন—এবং রামকৃষ্ণ সম্প্রদায়ও আজ প্রায় পঁচিশ বৎসর যাব (মিশন প্রতিষ্ঠার কাল হইতে) কাজ করিতেছেন। কোথায় কোন পতিত জাতির উদ্ধার সাধন তাহারা করিয়াছেন এবং মােসলমান ও খৃষ্টান জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিরােধকল্পে তারা কিরূপ ব্যবস্থা করিয়াছেন, তাহা কি বিবৃত করিয়া দেখাইবেন ? হাসপাতালের সংখ্যা দু একটা বাড়াইয়াছেন, সন্দেহ নাই--এবং দুর্ভিক্ষাদিতে গিয়া সেবার ব্যবস্থা করেন, ইহাও প্রশংসার বিষয়। পরন্তু অচ্ছিদ্রভাবে প্রচার করিতে পারেন নাই, এমন কি উহাদের ‘চিত্রেও যে মধ্যে মধ্যে সঙ্গতির অভাব আছে, তাহাও লক্ষ্য করিতে পারেন নাই, তাহারা হরিভক্তি বিন্যাসের ন্যায় রঘুনন্দনের স্মৃতির অনুকল্প কিছু ছি কইতে পারিলেন, ইহা কিরূপে প্রত্যাশা কৰা আইতে পারে ?

প্রথম পরিশিষ্ট। = = এই যে বৈষ্ণব গােস্বামীরা অনাৰ্য জাতীয়দিগকে ধর্মে দীক্ষা দিয়া হির সংখ্যা বর্জিত করিয়া আসিয়াছেন—তাহারা সেহপ চেষ্টা করছেন কি? মনে রাখবেন যে, মিশনারগণ ঐ সকলেই দুর্ভিক্ষাদিতে সহায়তা করিয়া লােকদের খ্ৰীষ্টান বানাহয় খৃষ্টানের সংখ্যা বাড়াই- ছেন। তারপর একটা মোটা কথা এই যে, যদি বর্ণাশ্রম ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটাইয়া শাস্ত্রের মর্যাদা করাইয়া মােসলমান বা খৃষ্টান হওয়ার তরঙ্গ রােধ করিতেই হয়-তাহা কি আমাদের বানীয় ? বর্ণাশ্রমবিরোধী সম্প্রদায়ে এবং খৃষ্টামে বা মােসলমানে আমাদের নিকট পরমার্থতঃ পার্থক্য কি ? ফলতঃ ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করিয়া হিতসাধন কিরূপে সম্ভাবিত ? • তারপর সম্পাদক মহাশয় আমার প্রবন্ধাবলী সম্বন্ধে বলিয়াছেন, “কোনও ব্রা ও পণ্ডিত এ পক্ষে সমর্থন করিলেন না। তাহারা বৃথা, এ বিষয়ে যােগ দিতে কেন আসিবেন ? তাহারা তো (সম্পাদক মহা- শয়েরই ক্ষায়) দেখিতেছেন “কোন প্রতিবাদী আগাগােড়া সবটা পড়িয়া ঠিকমত উত্তর দিল না। তবে তাঁহারা কেন আসরে নামিবেন। পরন্তু এ দীন লেখককে দু'একজন ব্রাহ্মণ পণ্ডি চনিক এবং চিঠি এরা আশীৰ্বাদ করিয়াছেন, একথা সম্পাদক মহাশয়ের অগত্যর্থে নিদেন করিলাম। অধ্যাপক শ্রীযুক্ত ভবভূতি বিদ্যাভূষণ কর্তৃক লিখিত ব্রাহ্মণ সমাজের’ গত তা সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধটির প্রতি তাঁহার দৃষ্টি আকৃষ্ট করিতেছি। । একজন প্রসিদ্ধ ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত এই প্রবন্ধগুলি * হিন্দু সমাজ ভঙ্গের তরঙ্গ নােধিতে রামকৃষ্ণ সম্প্রদায় বালির বস্তা ফেলিতে কৃতকার্য হউন আর নাই হউন সম্পাদক মহাশয়ের ঐ সম্প্রদায় তথা বিবেকানন্দ সম্বন্ধে এরূপ লেখা বে প্রতিবাদের গলির তরঙ্গে বালির বস্তার কাজ করিয়াছিল, তাহাতে সন্দেহ নাই ; কেন না ঐ সংখ্যায় মদীয় “বিবেকানন্দ' প্রবন্ধের শেষাংশ প্রকাশিত হইলেও, অতঃপর আর কোনও প্রতিবাদ প্রকাশিত হয় নাই। * বিদ্যাভূষণ মহাশয় আমাৰুৰন্ধালীর কথা শুনিয়াছিলেন মাত্র, কিন্তু আম বিবেনি এল। পনি যা বলিয়াছেন, ৩ার সা# এস্থলে উল্লেখ করা ভণ্ড মনে করিতেছি :- মা তো এত কথা নিতামই না; তাই বিবেকানন্দ সােবাইতেও ছােগ ঝি? তবে একবার ঐ মােসাহ টিতে তা দিতে গিয়া অধিকার অনধিকার সম্বন্ধে কিছু বলাতে লক্ষ্য করিয়াছিলাম যেন উহাৰ কৰ্তৃপক্ষয়েরা আমার কথা সমর্থন করেন না; যেই হইতে আমি উক্ত সোসাইটির সম্পর্ক এক প্রকার ছাড়িয়া দিছি। এ ছাড়া ব্যঙ্গের জনৈক বিশিষ্ট সাহিত্যিক (মিনি ব্রাহ্মণ বটেন, কি খুব গোড়া ”ি ননে) লিখিয়াছেন ** যে দু আসিয়াছে, সে নবীন যুগ—পুবাতনের সহিত অনুবন্ধহীন অপূর্ব অভিনব যুগ। ইহার শিক্ষা দীক্ষা ধান ধারণা সমতই অভিনব ছবিয়য়ে উচ্ছল । তাহার অধােলার অধিকার কামনা এবং সেই কামনা পূর্ণ হইবার নহে বলিয়া দুঃখ প্রকাশ করা নিরর্থক। ••• জপি ব্রাহ্মণের পক্ষে দায়ঞ্জান হইয়া নেদং যদিমুপাতে বলা আকাশের পক্ষে অস্বাভাবিক নহে (সে কালেও সেপ উক্তির প্রয়ােন ছিল এ কালেও সে এখােন একেবারে উড়িয়া যায় নাই)। সেই বিলাতে আমি আপনার আলোচনা নিবিষ্টমনে পাঠ করিয়া থাকি গা তা পরিবর্তনের ইতিহাসের আভাস পাওয়া যায়। (পরে শেষার্ধ হইতে উত)। উপমহারে বক্তব্য যে দুর্ভাগকত গনতম বর্ণাশ্রম ধর্মের সমাজের পক্ষে দাঁড়াইয়া প্রতি পক্ষের আক্রমণ হইতে ইহাকে । করিবার লােক দিন দিনই বিল হইয়া পড়িতেছেন—য়ােগ্য হলেও এ সময় স্বীয় শক্তি ও সামর্থ্য অনুসারে পিতৃ পিতামহের ধগ্ন ও সমাজয় অনুকূলে, বিশেষ : বিপক্ষের প্রতিকুলে, চানি কথা না বলি খাসীন থাকা কাপুরুষতনে করি।ইহাতে যদি এহিয় টুক্তির আঘাত সহ কৰি হতাহান্তে প্রস্তুত আছি; কেবল বলি, ভাই, Strike but hea- গুন। তাহা তদীয় এ প্রকাশের পুষিয়ে ঋযোগ পাই। এক পূর্কে পাইলে তাহার হলে গণহইত। -

बिलोन्ननजिलि
ক। রামকৃষ্ণ পরমহংস ও তদীয় সম্প্রদায়।
গাহিত্য পরে নাম পরমহল এ খামী বিবেকান
সছে শীয় প্রবন্ধাবলী প্রকাশিত হইবার পরে ব্রাহ্মণ- পত্রের
সুযােগ্য সম্পাদক অধ্যাপক শ্ৰীযুত বিভূতি বিদ্যাভূষণ মহােদয় ঐ
বিনে ‘ব্রাহ্মসমাজে কিছু লিখিব গন্য আমন্ত্রণ করেন। বর্তমান
প্রবন্ধ তাহার সেই অনুরাে বশতঃ লিখিত হইল। বলা বাহুল্য যে
ইহা সাহিতে” প্রকাশিত প্রবন্ধাবলীর কেবল পুনরাবৃত্তি না পারলে
আজ নহে; ইহাকে এ গুলির পরিশিই বলি নে ৷
মাইতে পারে।
পূজ্যপাদ পতিত যুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি মহাশয়ের নাম
বাকৃষ্ণ পরমহংসেয় জীবনচৰিত, ‘কথামৃত, লীলাস প্রভৃতি সমস্ত
এহেই উলেখিত ইয়াছে। তিনি পরমহংসদেবের সঙ্গে অনেকবার
সাক্ষাৎকারপূর্বক আলাপ আলােচনা করিয়াছিলেন। চুড়ামণি মহাশয়
এফন দীৰ্মৰক্ত ও সাধনাসম্পন্ন ব্যক্তি; অথচ পরমহংসদেবের
এতি তাহার শলাগও যথেষ্ট ছিল-নচেৎ তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ
করিতেই তিনি যাইতেন কেন?
শাৱিত্য ৩২৭ সাল পৌষ-মা ও ফান-চৈত্র ১৩২৮ সাল বৈশাখ,
জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, বণ, পৌষ মা; এই সংখ্যাগুলি (গাৎ এই এতে প্রথম
বিতীয় ও তৃতীয় পবি এবং এখন পৰিশি) এক।
। ইহাতে পূর্ব প্রায় গুলি যে সকল খান গুন হইয়াছে
সে সব খা দিতে পাৱিলে ভাল হইত কি ইট এ (দ্বিতীয়
পরিশি ও গ। এই প্রবনেই এগিয়ে সমালােচনা হওয়াতে, ইহার
হােৰি লৰা-ফেনল তাইলেই বললে বােধগম্য
হইও না। কবি নীপ এই
গুদ মাল লিমন।

১১৪ নামক বিবেকানন্দ এল। পরমহংসদেবে প্রতি আমারও ছালাৰ এইতেই কি এজার ভাব রহিয়াছে; ব্রাহ্মণ ”ে ১৩১৯ ফাতিক সংখ্যায় প্রাণিত নিখিত পর না এৰৰ হতে হয় কিঞ্চিৎ প্রমাণ তারা বাইরে। চূড়ামণি হাশয় আজ চারি বৎসর হইল গৌহাটীতে আসিলে, তিনি পরমহংসদেবকে দেখিয়াছেন—তাহার নিকট হইতে পরমহংসের সন্ধে অনেক কথা নিতে পারি, এই মনে করিয়াই তদ্বিরে কয়েকটি অন্ন তাহায়ে জিজ্ঞাসা করি-তন্মধ্যে এটা এই ছিল যে পরমহংস জাহাকে চাপরাশ” আছে কি না, ইহা বিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন কি । চুড়ামণি মহাশয় চাপরাণের কথা একেবারেই অস্বীকার করেন। অথচ পরমহংসের জীবনচরিত লেখক রামচন্দ্র দত্ত, কথামৃতকার শ্রীম, এবং গলা লেখক স্বামী সারদানন্দ সকলেই ঐ ‘চাপরাশ’ সম্বন্ধীয় কথা হইয়াছিল, ঘষিয়াছেন। চুড়ামণি মহাশয়ের ঐ কথা সাহিত্য পত্রে (১৩২৭ পৌষ মাঘ সংখ্যায় প্রকাশিত হইলে তৎপ্রতিবাচ্ছলে Fন লিখিয়াছিলেন যে ‘চাপরাণে বা যিনি কর্ণে নিয়াছেন এপ কি এখনও থিত আসে। কিন্তু এভিকারীর এটা একটা বাঙ্গাকাজ, চেৎ এই কীটির নাম ধাম প্রকাশ করিয়া দিয়া খ্যালয়নের পথ প্রশস্ত করিয়া দিতেন -ৱাও দেখিতাম চূড়ামণি মহাশয়ের কথা বিখলনীয় কি উহাদেই কথা প্রত্যয়যােগ্য। এদিকে যেদিবসে সাকার সময়ে গরম কথা চুঙ্গামণি মহাশয়কে * বাম ও বলিয়াছেনপি মহাশযের নিকটে উলকি ইমাত্র রামকৃষ্ণৰে বলিয়াছিলেন “হ্যা গা তুমি যে ধর্ম প্রচার করিতেছ, তােমাৰ “পৱাশ আছে? বামচ ঞ্জ কালী ৪৮৪ পৃঃ দ্রব্য। ৫ এভিবাদীর উত্তরে “জি” ৯৪৮ সংখ্যায় প্রথম পরিশিষ্ট ক] এশ অব্য করা হইলেও পাখি ফিনি, আঁহার সাক্ষীর নাম ধাম প্রকাশ বরেন নাই।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট। নিয়াছিলেন বলিয়া রামচন দত্ত প্রভৃতি প্রকাশ করিয়াছেন, ঐ দিনার সাক্ষাৎকারের বিস্তৃত বিবরণ থয় চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বেদবস’ পত্রের ২য় খণ্ড (১২৯৪ ) ১ম সংখ্যায় খিনিৰ ইয়া- ছি—তাহাতে ‘চাপরাশের নামগন্ধও নাই, ঐ সাক্ষাৎকার ভূর বাবুর বাড়াতে হয়েছিল এবং তিন ঐ স্থানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। ঐ দিনকার বিবরণী লেখকদের মঞ্চে ভূখর বাবুই আদি এবং কৃত্রিম বলিয়া আমার বিশ্বাস। ফলত একজনের বাড়ী গিয় ( চূড়ামণি মহাশয় তখন ভূধর বাবুর বাড়ীতেই থাকিতেন) তাঁকে “চাপরাশ আছে কিনা মিস করাটা অবাঙ্গাবিক ও অতি অজ্ঞতা; পরমহংস তাদৃশ অভদ্র ছিলেন না। তবে দীর জীবনচরিতায় ও ‘কথামৃত ‘লীলাস প্রভৃতি চরিতৃগণের পসদেবকে ৰাভাইবার অন্য অঞ্চকে কত করাটা এই মুহন নহে-- তাহাদের অত্যন্ত কাৰ্য ৰলিয়াই বােধ হয়। বিজয়কৃষ্ণ গােস্বামীর একখানি জীবনচরিতে আছে—“... ... পমহংসদেবের জীবনী লেখকের মধ্যে কে কে তাহার সহিত গােলামী মহাশয়ে সাক্ষাৎ ও খবিয়ে কোন কথা লিপিবদ্ধ করিতে গিয়া সথা বল্পনা ও অশোভন উজির এ গান করিয়াছেন। এ প্রসঙ্গে গােৰামীৰভু পুরীধামে অবস্থানকালে একদিন বলিয়াছিলেন-আমার ও পরমহংসদেবের মধ্যে সময়ে সময়ে ধর্মতত্ত্ববিষয়ক যে সকল গঢ় কথােপকথন ইত, তাহার মধ্যে সাহ্মণের প্রবেশ করিবারই অধিকার ছিল না। তারা (জীবনীলেখকেয়া) তাহা 'কি প্রকারে বুঝিতে সক্ষম হইবেল ? [ 'গােস্বামী প্রমুখ । লীলাপ্রসঙ্গকার তো উদ্দাম কল্পনাবলে লিখিয়াছেন যে চুড়াগ # নাচাৰ্য্য প্রভুপাদ বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর সাধনা ও উপদেশ অমৃতলাল সেনগুপ্ত প্রণীত-হাঁয় সংস্করণ ২১৯ পৃষ্ঠা।

মা বিবেকানন্দ এল।
মহাশয় ঐ চাপরাশ’ সী ফখ শুনিকায় কিছুকাল পয়েই প্রচায়
কাব্য ছাড়ি কামাখ্যাঠে গিয়া পায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন {শলা
এসকৰ ইয়াং ২৪ পৃঃ প্ৰষ্টব্য। অথচ তামণি মহাশয়ের
খাবার খান, আমির নেন যে পরমহংসের সঙ্গে দেখা
কৰিবা, ৩৪ বৎসর পরে তিনি এই ও হাড় অঞ্চলে বক্ততা
মিয়া কামাল অশেও এচাণ গমন করেন এবং তৎ সময়েই
কালারে গিয়া ( শজনে চায়। তিনি জগন্মাতায়
দর্শন শন অর্জন করিয়াছিলেন। তার পরেও তিনি নানা স্থানে
এ গান করেননি ১২ টি দালায় (ঢাকাতে) তাহা
বঙ্গ একৰিছিলাম।
এ চুৰি কাণ হইতে পংসদেব বন্ধে আর যে সৰ
কালিতে পারিছিল, সংশে তাহারও আলোচনা করিতেছি।
(১) গরমে শায়া শ তিনি দেশের মধ্যে
দেখিতে পান নাই। এৰে তাহাৰুে অবধূত সংজন করা যাইতে
পারি। চুপি মহাশয়ের এই মত অপর এক অতি বড় পণ্ডি
সমর্থিত হইয়াছে। গত স্বত্ত ত পরশংসদেবের জীবন
েেেগ নিয়াম মহামহোপাধ্যায় জানা যায়
ফে পানেলে দেখিয়া সালীর লক্ষণ না পাইয়া লিগা
কৰিছিলেন, আপনি কি খায় না।
(২) পাহংসদেবের ব সায়ি ন ই তার সমাধি
নিয়মানুসারে কি না। ই গরে অবস্থা বিশের ফল।
পরমহংসেয় মস্তিষ্ণের গৰকা অায় এ লি। এতি অ্য
# বিঃ বিৰৱণ এই এম এ পাসছে ও এখৰ পৱিকি
(কায় পাস ও শকি মুক্ত সময় কচুড়ামণি শী) বইটিতে
দেবে।

विनि-1
ফোন নি। নেই সেই গান শৰণাদি কানে হার বাসায়
লেপ পাইত। গুৰস্থায় যে তিনি ঠাৎ দাড়াইয়া উঠিতেন সেই বিলে
ইহারই ফল; সমাধিতে একা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় না।
চূড়ামণি মহাশয়ের এই দামও হায় জীবন চরিতে কণিত
ঘটনা ৱি লখিত । যখন নানয়নে এর লি নাই সেই
সমেই (অর্থাৎ শ্যালে)"ঠাকুদেবতার প্রতি খায় কি কি
এবং যন্তে মৃত্তিকার ঠাকুর গড়িয়া পূজা করিতেন সময়ে সময়ে তিনি
তবে অচেতাইয়া পড়িতেন।” (নামচন্দ্র দত্ত ত জীবনচয়িত)।
(৩) পরমহংস দেবের দোকানের কিছু পূর্বে তিনি কিছু নাশিয়া
পড়িয়াছিলেন; চুড়ামণি মহাশ ই বুঝিতে পারি এফলি
তাকে এক পষ্টই বলিয়া ফেলিয়াছিলে--পরমহংসদেব তাহা
বীকার করিয়াছিলেন—এবং কুসংসর্গের আর্তে পড়িই যে তার
এরুপ অতির কারণ ঘটিয়াছে তাহাও অজীফার পূর্ব তিনি বলিয়া-
হিলেন, তিনি ঐ সংবর্গ ত্যাগের চেষ্টা করিলে উহা তাহাকে ছাড়ে
না। পরিশেষে বলিয়াছিলেন, এখন এ ফাটানো যায় কেন
উগা নাই। কাজেই এবার এই বই যাইৰে। ইয়ার কিছুদিন
পয়েই উহায় গললোগ পরে দেহাবসান হয়। কামিজের
কথায় পরিপাক কি কি নাচ জীবনচরিতে
তিন বার বার নিজের যে, তােমারে পার পাপকার
এরিয়া আমি ভোগ করিক্ষেছি।” (জীবনচয়িত তৃতীয়
সংবণ ১৫৪ পৃষ্ঠা)
ইলেকীতে কে নার্ভাস Nervous) বলে পরমহংস দেব তাহাই
ছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্তের সম্মুখে হার বাক্যতিই হইল না। লীলা-
ছে, যার কে সেন কোনও পানাহৰৰ উহায় শন
একাত নিহ, সং, গাই তিনি বারবার বা ৫৯
ৰা ৰিজে গিয়াছিল। বলা ভাৰ উত্তৰ্থ ২৪১ পা

* বিষোনল প্রসঙ্গ এই কুসংসর্গবশতঃ নামি পড়ার বিষয়ে আরও কিছু আলােচনা না মনে করিয়েছি। আপনাদেবকে তাহায় * অবতার মনে করে আমরা অৰ তৰা করি না। কি অার টন পায় না কেন—তিনি যে এক সাধুব্যক্তি ছিলেন বিষয়ে অবৈধ নাই। পূর্ব জন্মের অশে কৰিবশতঃ ল্যাবধি আর এতে টান শীভগবানের প্রতি পরিলতি হয়। তাই বয় ফেল হওয়াতে তিনি সহজেই ঐৰি গতিমুখ নিতে পারিছিলেন—ভক্তের হৃদয় কোমল না হইলে আমাকে গাখিনি কিরূপে সম্ভৰে? যাহা হউক, শ্রীশ্রীজগন্মাতার ন লাভের তিনি ব্যাকুলচিতে ‘গ’ ‘মা’ বলিয়া ডাকিয়াছিলেন- একের য ক নফারে ভগবানের তার এ কাকা ইয়াছিনতাই সদকা কন্মিছিলে, উ উ মুখ পাইছিলেন লালনের গাবিক পথ খয়ি লাকি, উন্নতির পথেই গিছিলেন। মনের গোড়ায় ৬ কে কােন শিল্প গলে পরিচয় নয়-কেশবৰুৱাই প্রকৃতপক্ষে তাঁহাকে পরিচিত করিয়াছিলেন। পর। আর তখন এই কুশল ও ইল। এখানে দু' অর্থে চলিৰ কে যেন খে না ৰুৰে। হয় ই নেকেই লব ও সরিঞ্জ এবং विपि टिनमा गित निकामीका नायबीटिक rette ইহার প্রায়শঃ সনাতন শাস্ত্রে মাতৃবি ছিলেন এবং কানে অপর কোনও খাটি সন্ন্যাসী গোষ হয় দেখেন নাই। তাই সংসদে অংশনে এবি রাই উহাকে আয় লা এ নিয়ে লাগলেন। আঁর বর্ণনা ছিল না নিয়েই হয় বিজেজু হৈ বাড়ীতে কে এ ফতি ইয়াহিয়ার নিট আপি৷ শিক্ষিত উপায

' দিতীয় পণিক।
ঘরের ছেলেরা সৰ গুৰস্তুতি ফয়িতে লাগিল-ইহুতে তিনি যে স
বিগড়িয়া খান নাই—ইহাই আশ্চর্যের বিষয়। আমরা চোখের
সামনে দেখতেছিয়া পদে পদার্থ, নে আনে, শি জীয়,
সমাজে শিয়ােণ এমন সব লােকও “তুমি ব্ৰহ্মা তুমি কিন্তু বাদীদের
ঋগয়ে পড়ি সুনাম হারাইয়া ফেলিয়াছেন। আমার পারু
করুণার পাজাহার এই সাংসারিক অজিত শ ফুভি,
ছেলেটির পা পিছলিয়াছিল কিন্তু তিনি তাঁহাকে ফোনে
দূষ্টত হইতে দেন নাই—তবে কিঞ্চিৎ আধ্যাত্মিক অবনতি ও লৈবি
পা জোগায়া পরিশে তাহা জোড়ে বুনন রিয়াছিলেন।
• এই ৫ ‘তি বা তার খ্যাপনার পরইংলদেরে
আধ্যাতিক এনতির কতকটা লক তাঁহার শেষ জীবনে—ৎসময়ে
খবর আমরা কত এভূতি হইতে পাই—দেখিতে পাওয়া যায়।
মহাত্মায় পােবামী মহাশয় ‘সাধুর সুক্ষণ কি? এ প্রশ্নের
উরে বলিয়াছিলেন।
“সাধু যিনি তিনি আশংসা করেন না, পরনিন করেন না,
আঘাত দিয়া কথা বলেন না, কাহাকেও নিজের মনে নিতে চেষ্টা করেন
না, কোনও একা বুকি দেন না, সাধুরা গঙ্গা ফখা কাকেও
• আইজ (sioniae)য়িয়া লােকে লঞ্চে কবি বা
(8um) এর এনিই করিহিলারাইল তদীয় হিরাে ওয়াশি
(Hero' worsbip) ace for face and yet alas, as I have
observed elaou børe, thene Lion banters were the 'rain
and death of Buro. ... He could pot get' bia
Lionism forgotten, bongatly u he was disposed to do
Richtor'sayı, in the island of Sumatra there
is a kind of "Ligbiohator', large firefion, which parameters

গান দিবো ।
বলেন , “ ও সদাচায় শয়ে সম্পূর্ণ মিল রাখিয়া কথা বলেন, এবং
তিনি প্রাণ গেলেও কায়ও নিকট কিছু যা করেন না। ধুম।
প্যথী ও জিতে িহইনে (জিয়কৃষ্ণ গােমী উপদেশ
মৃতলাল সেন ও প্রণী-৩ পৃষ্ঠা পয়ষস দেশের মধ্যে
এই গুলির কোনও কোনওটির ব্যত্যয় আমরা খাবিতে
দেখতে পাই। পরমহস হারাকে উপদেশ দিবা সময় এই
বলিয়াছেন দাে নিশা করে না-- তথাপি হাজরা বেচারা
নিনা তিনি ও গুগ শসেই পঞ্চমুখ ছিলেন। সয়ং খাতায়ও
দেন নাই—রার পয়েকে বলিয়াছিলেন হারা হাশয় কেন
ফ ফ ফ বকে টুপ না বলে কিছু হবে না।* থামৃত
বয়ং এক ব্যক্তি; আদি সমাজের আচার্য্য, মহেশচন্দ্র
গলে যায়, এমন কি রে শময়িক এন সদদার ছিলেন
তিনিও নিন্দার বিষয়ীভূত হইয়াছিলেন। (কথামৃত ৪র্থ ভাগ ২১• পু
২৩৯ ২৪• , খাজনে অষ্টব্য)। এ বয়ং আলীয়; শীলাপ্রসঙ্গে
॥ কী গুরু তোতাপুরী দোষোদঘাটনের কথাও আছে-
এবং যাকে যে খালা বলিয়া গালি দিয়াছিলেন—এটাও উল্লেখিত
ছে। গুরুতৰ পূৰ্বাৰ্থৰ অধ্যায় ২৬৯২ প অব) গুরুকে
पाला निवड फार जवाना का बिगडम
stick upon spite and illemine the ways with, at night
Great bonoar to the frohy! Batm"
একলিনেকটা কি পরমহংসদের বিয়ে প্রয়ােজ্য হয় না। নাসির
সঙ্গে মহংসদেবের প্রকৃতিগত সাও কিটা দেখায়।
* হায় ভ্যাসলি লিয় 'লা; পরমহংগেলকে ধ্যে মধ্য
বলিতেন, খনীয় ছেলে দেখে সুখৰ ছেৰে নে তুলি গাল। (গ
ভাগ )
e

ভিীর পরিণি।
লীলালয়ের শেখােথটুকু থাকিলে তিনি উহা (যদি সত্যই )
চাপিয়া ইডেন; গু তো কয়েনই নাই, বরং ইল টপ অঞ্চলের
বসিয়া গাধা ইয়াছে।
আঘাত রি কথা বলা শক্ত ও সারের সঙ্গে মিল না
আঁখির কথা বলার একটি উদাহরণ দিতেহি।
বাৰুতিতে সুবর্ণখণি। তার বাড়ীতে পরলে সরি।
নিয়িত হইয়া গিয়াছেন।
অহো ও প্রিয়নাথ-মুখুশ শায়কে ঠাকুর বলিতেছেন কি
গাে, তােমরা খেতে যাবে না। তাহার বিনীতভাবে বলিতেছেন
“আজ্ঞা, অদেয় । গরুফ (সহাতে। এরা সবই করেন
শুধু ঐটেতেই সঙ্কোচ। এক্ষনের পর স্তরের নাম হরি,
এই সব। এখন হরিনামতে করতে ৰে? কি হরে কৃষ্ণ বলায়
যাে নাই। তাই সে দে-
ফর ফয়ে ফ ফ ফয়ে ফয়ে।
কত আয় করা য় রাম ফর ফর
কয় নামিজে কাপা এন র্মোপদেষ্টা সাধুর মুখ হইতে
বাহির হইতে পারে, তাহা থাকবে না বুঝিবারই কথা।
তিনি ইতঃপর বলিতেছেন “ধয় তিতে ক্ষুণৰণি। তাই ৰাক্ষণ
ভক্তেরা কে কে প্রথম প্রথম হার বাড়াতে পার করিতে ইতস্তত
করতেন। কিছুদিন পরে যখন তাহা দেখিলে খয়ং ঠাকু
রাক ওখানে খল অখন তাঁহাদের চাক ভাজিল। (ফখাত
# পাঠকবর্গ নেবেন না যে এই মুখুল্যে ভ্রায় নিত্য প্রায়
ছিলেন। খাতের চাল ২৩৯ পৃষ্ঠাৰ ভাইটি বড় বেশ সরু, এক
বলা হইতেৰে ছোট ভাইকে কৃপণ অলিৰা এক নিক হইয়া
এইমাত্র। তাইলে এ সবই এনে এরূপ উকি কেন ?

১২২ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এল। . এখানে বলা আবশ্যক যে রামচন্দ্র করুত পয়হংসদেবের জীবন চয়িতেছে এবং তাহা আমি পরমহংসদেব সম্বন্ধীয় ১ম প্রবন্ধে উদ্ধ,তও করিয়াছি-“তিনি তদনন্তর ভক্তদিগের সহিত এক হোন করি। অশেষ প্রীতিলাভ করিতেন; কিন্তু এরপ খুলে তিনি বানুরূপ ব্যবস্থা করিতে কহিতেন। ইহার সঙ্গে কথামৃতের উপরি উদ্ধৃতাংশের সঞ্চয় করিতে হইলে বলিতে হইবে যে অধমের বাড়ীতে ভোজন তাহার শেষ অবস্থায় ঘটনা-তখন সঙ্গদোষে তিনি সব-লােট হইয়া পড়িয়াছিলেন; কেননা তখন যাঁহারা তাহার সাঙ্গোপাঙ্গণে শুটিয়া- ছিলেন—তন্মধ্যে ব্রাহ্মসমাজের ফেরতও কেহ কেহ ছিলেন—তাহারা প্রায়শঃ শাস্ত্রাচারে পরাম্বুপ ছিলেন। সে যাহা হউক “প্রাদ সোচ্চ মৃত্যুনি ক্ষিধাংসতি—এই বাক্যের প্রতি ঔদশের ফল পরমহংস (পীড়ান্ত হইয়া) ভােগ করিয়া গিয়াছেন। অতপর স্বামীবিকানন্দের (এবং তদুপলকে পংস দেশের শিবাশাখার বিষয়ে আলােচনা করি। সর্বপ্রথমে রামচ দই বিস্তারিতভাবে পরমহংসের জীবনচরিত ও উপদেশাবলী প্রচার করেনজিও তৎপূর্কে অণর কেহ কেহ লামাক ভাবে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করিয়াছিলেন। রামচন্দ্র বাবুর লেখার মায়া পরমহংসের নামষশঃ খুবই বিস্তৃত হয়। তিনি বােধ হয় সর্বাদে পরমহংসকে অবতার বলিয়া খ্যাপিত করেন। ভাৱশৰ স্বামী বিবেকানন্দ যখন হঠাৎ চিকাগাের ধর্ম মহাসম্মিলন লঙাতে শক্ত কি কর্তিমান ইয়া পড়িলেন, তখন হইতেই তাছায় গুরু গম পাশে নাম # অবশ্য সন্ন্যাসীর পক্ষে জাতিবিচার না থাকিলেও, তাহারা যত্রতত্র ভােজন করিয়া আধ্যাত্মিক পাতিত্য হইবেন এটা সাচারানুমােদিত নহে। জন্মহাপ্রভু চৈতন্যদের ব্রাহ্মণ ভি কাহারও গাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া বােধ হয় না ।

বিপরিশিষ্ট-ক। ভারত—এমন কি পৃথিবীময় প্রচারিত হইয়াছে। তাহার প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশন ও পরমহংসের নাম জনসাধারণের মধ্যে খ্যাপিত হইছে। স্বামী বিবেকানন্দ একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি ছিলেন। চিকাগাে ধর্মমহাসভায় বক্তৃতা দিয়া কেবল যে নিজে যশস্বী হইয়াছিলেন এমন নহে—হিন্দুধর্মের একটা মােটামুটি ব্যাখ্যা বেশ কৃতিত্বসহকারেই তিনি ঐ সভায় সমবেত পৃথিবীর এসি ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে করিয়া ছিলেন- তজ্জন্য তিনি আমাদের ধন্যবাদের পাত্র তাতে সন্দেহ নাই। প ইংলও আমেরিকা প্রভৃতি স্থানের খৃষ্টান অধিবাসীদের নিকটে হিন্দু- ধর্মের মাহাত্ম কীর্তন ব্যাপারে তিনি স্বীয় বিদ্যাবুদ্ধি বক্তৃতা শক্তি প্রভৃতি এল, বিশিষ্ট অধিকারী হইলেও, এই দেশে সনাতন বর্ণা ধর্মাবলম্বিগণের নিকটে ধৰ্ম্মাখ্যায় তিনি সম্মত অধিকারী ছিলেন না, একথা নিতেই হইবে। ধর্মময় মহামের ‘মূলং ষ্ণো ব্লগ চ জায়গা অর্থাৎ স্বয়ং ভগবান, শুয়িসিত প যেল (এবং বোমূলক শাজাত) ও বেদজ্ঞ পাত্রখ্যাত ব্রাহ্মণ-এই তিনের উপরই সনাতনধর্মের ভিত্তি। গুগৰবো শস্যভানগশয় জাগাই আপনি আচরি ধর্ম” এগৎকে শিক্ষা দিবেন—এই মহি ম বলিয়াছেন— খ গং চরিং কি পৰিবাং সর্বশানা। আল ফলিয় এভাৰে ঈশ জাহ্মণ বিল হইয়া পড়িয়াছে লক্ষে নাই; তৰে বোৰ ৰ। উৰু কিয়ৎ শরিমাণে তাদৃশ সম্পন্ন ব্রাহ্মণ এখনও আল-এবং তারই সনাতন্ম প্রচারের অধিকারী। গায়ের জােরে ব্রাহ্মণের ব্যক্তিবিশেষ ক্যাশী উক্তি ও পােৰা নিয়া আক্তার এই বক্ত করিয়া বেড়া

০২
রামকৃষ্ণ বিযেন এস।
যাহ প্রচারিত হইয়া থাকেই হয়তাে আকাশকার ধর্থোপদেশ
বিহীন শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষিত ধৰ্ম্মাচারবিহীন ব্যকিগণের নিকট
উপাদেয় হইতে পারে এবং ভিন্ন ধর্মাবলী বিদেশী নােকে হেও
যে বিকাইতে পারে; কিন্তু এদেশের খাঁহারা লাগাচায়নি যথার্থ
তবজি কি, তাহাদের সিটে, উহ অকিং-এখন কি
আনিসূচক বলিয়াই ভীত হইবে।
বিবেকানন্দের বনচরিত হইতে আমরা জানিতে পারি যে
বাল্য তিনি হিল চিত আচারের পক্ষপাতী ছিলেন--তাহার পিতাও
নাকি আচার বিষয়ে বিচারশীল ছিলেন না। পঠন্দশাতেই বিবেকানন্দ
ৰাহ্মসমাজের সত্যশ্রেণীভুক্ত হইয়াছিলেন, কেশবচন্দ্র সেনের
কায় তা হইবেন এরপ আকাকাণ্ড পরিপােষণ করিতেন। পরমহলে-
দেখে শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেও আচারে ব্রাহ্ম-জাবের বিশেষ কোনও
ব্যত্যয় দেখা যায় নাই; এমন কি গান করিতে বলিলেও তিনি
এলশঃ বন্ধসঙ্গীতই ধৰিলে। যখন তিনি পরমহংসদেবের কাছে
Totato
করেন তখন পরমহংসের নাম: কোচ
প্রভূতির হার প্রচারিত হইয়াছিল। ভগবান মনু বলিয়াছেন—
এণাক্যকে বিষৎ বিল পরিহার করিবে। বিশেষ যিনি
সংসারত্যাগ সন্ন্যাসী তাহার ক্ষেতে এসব অতীৰ দেয়। তাই
পরমহংসেয় সে সময় আমি অবনতির সূত্রপাত ঘটে বিবেকানন্দ
এতির সমাগমে ঐ অনতির কণঃ বৃত্তি ঘটতে থাকে-লে কথা
পূর্বেই বলা হইয়াছে।
বিবেকানন কায়স্থ (অর্থাৎ সৎদ্র) হইলেও (ঞ্জিকায় বিন
হইয়াও) সন্ন্যাস গ্রহণ করিলেন। সমাজে অকাল ৫ সৰ 'ধুমাসী
( সন্নাসী সাহেবদেশ য় হয়ে আশ অনেকটা বিবেকানই
অটেন-অধিও র পূর্বে আমূল শলা কে নিলেন না এক
!

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-ক।
লা যায় না। সে যাহা হউক বিবেকানন্দ যেত ব্ৰাহ্মণ বিবেয়ী
ছিলেনশাগুলিও ব্রণ বলিয়াই তাহার নিকট হেলে
পরিগণিত হইত । • তাই তিনি শান্তের বিধিনিষেধের ধার ধারিতেন
; ধেৰ্ম্মে খাদ্যাখাদ্যের বিচার আছে, তাহার নাম ‘হাড়ি--
বাহাতে স্পষ্ট বিধান আছে, তাহার নাম মার্গ। ইংরেজী
শিক্ষাদীক্ষায় একেই লােক গান। পালনে পৱা, ইহার উপর
এ সকল সন্ন্যাসী-অৰত বিশেষের দোহাই দিয়া এরূপ
সব কথা বলিলে সহজেই লােকেয়-বিশেষতঃ নভি মুকদিগের
চিন্তা হইবার কথা। ফল গান গামরে এ ভাবেই
হুতর অনি ঘটিতেছে।
সে যাহা হউক বিবেকানন্দই কৃষ্ণ পরমহংসেয় সর্বশ্রেষ্ঠ
প্রচারক ছিলেন বটে, কিন্তু পরমহংসের উক্তিসমূহ হইতে আমরা
তাহার যাদৃশ উপদেশ লা করি, বিবেকানন্দ এবং তাহার দল।
অনেক ব্যাপারেই তুদন্যথা আচরণ ও প্রচার করিয়াছেন। দৃষ্টান্ত
বলে বিবেকানন্দের কীর্তি ‘রাম মিশন সম্বন্ধেই বলিতেছি।
শয়হংস মল্লিককে বলিয়াছিলেন "... ••• এটা যেন মনে থাকে
যে তােক মানৱয়ের উদ্দেশ্য ঈশ্বর পাত; হাসপাতাল ডিস্পেনসানি
• • ঈগরই বস্তু আর সব সত; তাকে লাভ হইলে
ৰা ৰে, চিনিই। কৰা না আর আক। বে কেন
কে ছেড়ে নানা কাৰ বাড়িয়ে মরি । ভকে হলে তার ইছায়
না পাতাল ডিস্পেন্সারি হইতে পারে।” ফাত্ব ১ কাপ
# বিবেকানন্দের অভিধানে ব্রাহ্মণের প্রতিশব্দ ছিল দুই পুৰুত; তিনি
মাত্ৰাজী শিষ্যের নিকট পত্রে লিখিয়াছেন দুই পুরুতগুলাের সমাজের প্রত্যেক
নাটি নিয়ে এ গায়ে পড়ে বিধান দেয় কি কাম কি? তাই
তে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। নালী গ ৪৯ পৃষ্ঠা।

১২ রামক বিকেনন্দ এল। ; ১২। পূ। পরন্তু বিবেকানন্দ মিলন গান ‘মিশন ( মিশন শব্দটাও লক্ষ্যের বিষয়, যাতে প্রধানতঃ “হাসপাতাল ডিস্পেন্সারির কাৰ্যাই হইতেছে। এই মিশন’ খ্রীষ্টানদের অনুকরণে অনেকটা মুক্তি ফৌজের ধবণে স্থাপিত-যদি বঙ্কিমবাবুর ‘আনন্দমঠের’ও যেন কিছু সাদৃশ্য দেখা যায়। উদ্দেশ্য খুবই মহৎ, সন্দেহ নাই। কিন্তু কাৰ্যত ইহার এরা সামাজিক অনিষ্ট এই ইতেছে যে, অপরিণতবয়স্ক বালকগণ মাতা পিতা ইত্যাদি পরিত্যাগ করিয়া সখীকে দুর্বল করিতেছে। ইংরেজী একটা কথা আছে-Oharity begins at home : আখে স্বগৃহের অতল দূর কর--তারপর পরােপকার করিও। পরন্তু আমি জানি, যে ছেলেটিকে বৃদ্ধ বয়সের অবলম্বন মনে করিয়া কষ্টে পিতা লেখাপড়। শিখাইতেছিলেন, যে বিবাহ করিয়া বংশধারা অবিচ্ছিন্ন রাখিবে ভাখিয়া পিতামাতা ভরসা করিতেছিলেন—সে রামকৃষ্ণ মিশনে যোগ দিয়া ঘরবাড়ী পরিত্যাগ করিয়া বা পিতামাতার হৃদয়ে দারুণ ব্যথা দিয়া গেল !! হারা পুরাণে কতবােধের উপাখ্যান পড়িয়াছেন- তাহারা অবশ্যই বুঝিয়াছেন যে যােণযাগ তপস্যাদি অপেক্ষাও মাতাপিতা প্রভৃতি গুরুজনের সেবা শুশ্রষা কারা আধ্যাত্মিক সাথিউন্নতি সাধিত হয়। গৃহ আপনার কর্তব্য করিয়া অই সাধ্যানুসারে পরের উপার—সকের হিতসাধন করিবেন; এবং আমাদের বন্ধন যে ভাবে করা হইয়াছে, তাতে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি তাই হইয়া থাকে। ছেলে মিল, কনক জননীর ন্যায় তিদের জননাশে হইল; লিঙ্গ মরিলে, পুজে ন্যায় জাতিদেরও শোচ দুই- দহন বনাদি করুন আর নাই করুন। জাতিগােষ্ঠয় কেহ গরিলে সকলে মিলিয়া বহন করিয়া শবদেহ শ্মশানে লইয়া দাহকরা হয়-শ্রাদ্ধে সকলে সহায়তা ৱিা কাৰ্য্য সম্পাদন করে। তখন নৈয়িক বিবাদ বিসংবাদ থাকিলেও ঐ সৰ ভুলিয়া একে অন্যের সাহায্যে স্বত হয়।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-ক। « এ কেৰল গহির মধ্যেই যে তাহা নয় ; ইতর ভদ্র নির্বিশেষে সকলের মধ্যেই আপৰিপদে পরস্পরের সহায়তা করা সমাজের লােকের একটা কর্তব্য মধ্যে পরিগণিত। তবে এখন ক্রমশঃ লোপ বশতঃ সমান পদ্ধতির ব্যত্যয় ঘটাতে কিঞ্চিৎ অন্যথাভাব দেখা যাইতেছে। তএব দেখা গেল, পরোপকার আমাদের সমাজের মজ্জাগত তাৰ- সে ভাব বর্ধিত করতে গেলে ধর্মভাব যাহাতে বাড়ে-শান্ত্র বিশ্বাস, পিত্রাদি গুৰুজনে ক্রি, সদাচার পরিপালন ইত্যাদি যাতে পূর্বের কায় হয়-তদখে যত্ন করাই ধৰ্ম্ম পরায়ণ সমাজহিতৈষী ব্যক্তি মায়েরহ কৰ্ত্ত। রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বারা তাহা হইতেছে কি ? বরং অনধিকাবে সন্ন্যাস গ্রহণ অথবা বিবাহ না করিয়া আশ্রমবিরােধী আচরণ ইত্যাদি দ্বারা সমাজের অনিষ্টই সাধিত হইতেছে। মিশনের যুকদলের অনেককেই চা চুরুট মৎস্য মাংস ইত্যাদি ব্রহ্মচর্যবিরুব্ধ জিনিসের উপভােগ করিতে দেখিয়া উহাদের জীবনের পরিণাম শুরু হইবে কিনা বিষয়ে সন্দেহ ঝে। দুর্ভিক্ষ জলপ্লাবন মহামারী ইত্যাদি বিশেষ বিশেষ সময়ে মিশনের দ্বারা উপকার যথেষ্ট হইয়াছে ; এসকল নৈমিত্তিক উপদ্রবের সময়ে হাতে আপামর সকলেই পরস্পর সহানুভূতি দেখাইয়া যথাসম্ভব সহায়তা করিতে প্রস্তুত হয় তজয় সমাজের লােকদিগকে প্রস্তুত করা উচিত। প্রয় একটা মিশন করিয়া তাহাতে যুবকৃদিগকে আপনাপন সমাজের ও পরিবারের জোড় হইতে আকর্ষণ করিয়া আনিতে হইবে ইহার কোন অর্থ নাই; এবার উত্তর বঙ্গে জলপ্লাবনে যেভাবে নােক-সাধারণ সহায়তা করিয়াছে—তাহাতেই বুঝা যাইতেছে যে একটা ‘মিশন’ এতদর্থে অনা” • সর্বসাধারণের বিশ্বাসভাজন একজন মাত্র মহাপ্রাণ ব্যক্তি- তিনি অখিনীকুমার দত্তই হউন বা ব্যর প্রফুল্লচন্দ্রই হউন-ঈশ * বরং রামকৃষ্ণমিশন এবার (১৩২১ সালে সুনামও রাখিতে পারে নাই। সম্পাদক “ইংলিশম্যান” পত্রিকায় যে পর.ছাপাইয়াছেন তাহাতে, অনেকেই মিশনের উপর বীতশ্রদ্ধ হইয়াছেন।

নামক বিবেকানন্দ এল।
বিপকাল বাড়াইলেই তাঁহার পার্থেসিয়া শত ব্যক্তি সাহায্যার্থ
সমান হইবে—জন্য কানে ব্যবহারবিন ইত্যাদি কোনও
প্রান নাই।
বহু বিবেকানন্দ প্রচারক অণে রাজনীতির প্রচার কার্যের
লবিক উপমুক্ত ছিলেন—সে দিকে কিছুটা কাজও তিনি করিয়াছেন বলা
যায়। তাহার এতে সাকিত অপেক্ষা রাজসিকতাই প্রবল
ল; ইহার প্রমাণ রূপ তদীয় জীবনচরিত, পত্রাবলী ও বক্তৃতা
ইতে অনেক কথা উদ্ধত করিয়া দেখান যাইতে পারে কিন্তু তাহা
ইলে প্রবন্ধ অতি বিস্তৃত হইয়া পড়ে। কৌতুহলী পাঠক “সাহিত্য
পতে তৎসম্বন্ধীয় বন্ধাবলী পড়িয়া দেখিতে পারেন।
আৰী বিবেকানন্দের পরে হাতের নাম ম পরমহংসের
মাহাত্মখাপনকারিগণের মধ্যে এশীয়, তন্মধ্যে শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত
গ্রন্থের লেখক নাস্থা : সর্বাদৌ উল্লেখ যােগ্য।
কামৃতকার মহাশয় শুনিয়াছি একজন উচ্চপদস্থ সুশিক্ষিত
ব্যক্তি। কিন্তু তিনি যে একজন চতুর চূড়ামণি তাহা এই কথাতে
এপতি হইতেই অষিত হইতেছে। তিনি ১৮৮১ কি ২
গুটালে রামকৃষ্ণ পরমহংসকে রেখে ও উখি তাহার সঙ্গে যখনই
এর হইতেন তখনই শাহ আহ দেখিয়ে নিতেন ৰােট করিয়া
রাখিলেন। তিনি এই কথা নি এই বলিয়াছেন। এখৰ হইতেই
নামক ৰে একজন তার বিশেষ তাহাও বুঝিয়াছিলেন এবং তাহার
কথাগুলিও যে অমৃতঃ লােকের প্রিয় ও তিন ইহা
* মাহি ১৩২৭ফান ছৈয় যুগসংখ্যা। ১৩২ বৈশাখ হয়ত
ৰখ্যা (এই গ্রন্থের চিতীয় ও তৃতীয় পরিচ্ছে}{ শাৰণ সংখ্যায়
এজিল আহ, তার উত্তর ঐ পাশেই (৩) খোৰ সংখ্যা (এই
ৰে এগৰ পৰিশি হয়।

দ্বিতীয় পরিশিক। দয়া করিয়াছিলেন—নতুৰা নােট করিকেই কেন? এলে লক্ষ্যের বিষয় এই যে, পরমহংসের জীবিতকালে যদিও অনেকে তাহার উক্তি ইত্যাদি প্রকাশ করিয়াছিলেন,-এই শ্রম-মহাশয় তার সঞ্চিত অমৃতং ধনের কাশিত রাখিয়াছিলেন। যদি তখন তিনি কথামৃত প্রকাশিত করিতে আর করিতেন-একদিনের ঘটনা পয়নি বা ছুিদিন পরে কোন পত্রিকায় মুক্তি করিতেন, তাহা হইলে অমৃত পিপানু আমরা অনেকে পরমহংসের সান্নিধ্যলাভে লােলুপ হইয়া দক্ষিণেশ্বর ইত্যাদিতে গমন করিতাম—ভক্তসংখ্যা অতিশয় বৃদ্ধি পাইত। এদিকে যারা কিঞ্চিৎ চক্ষুষ্মা-বিনা পরীক্ষায় কোনও কিছু গ্রহণ করিতে নারাজ, তারাও একটু নাড়াচাড়া করিয়া দেখিতেন কথাগুলিতে সত্য কি পরিমাণ আছে—যেমন এই লেখক পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি মহাশয়কে জিজ্ঞাসা করিয়া ‘চাপরাশ সীম কথার তথ্যনির্ণয় করিতে পারিয়াছে। একটি দৃষ্ট দিতেছি। রামকৃষ্ণ বলিয়াছেন- আর একদিন ৰৱাহনগরের খাটে দেখলাম জয় মুখুয্যে এপ করছে কিন্তু অন্যমনস্ক। তখন কাছে গিয়ে দুই চাপড় দিলাম। কথামৃত ২য় ভাগ ১ম খণ্ড ৩ পৃষ্ঠা)। এই কথা ১৮১৩ই অক্টোবর তারিখের। ইহার কিছুদিন পরেই যদি এটা প্রকাশিত হইত, অনুসন্ধিৎসু পাঠক ব্যাপারটা ঠিক কিনা জয় মুখখেকে জিজ্ঞাসা করিতেন। কেননা তখনও এ মুখুয্যে বিত ছিলেন। ইদানীং যে সকল ব্যক্তি ইচ্ছা পাঠ করেন এবং “জয় মুখুষ্যেকেও চিনিলে, তাহারা এটা অসম্ভব মনে করেন। আয় মুখুয্যে বরাহনগমের ঘাটেই ৰা কেন জপ করিতে বাইবেন? আর তাহাকে চাপড় মারিয়া কেই নে আস্ত শরীরে পার পাইতে পারিছে—এটা নিতাই সৰ বলি মনে হয়। এ তথ্যানুসন্ধার্থ জয়কৃষ্ণ মুখােপাধ্যায় মহােদয়ের পুত্র রাজা শ্রীযুক্ত ( ইদানীং স্বৰ্গত) প্যাৰীমােহন মুখোপাধ্যায়বাহাদুকে চিঠি লিখিয়াছিলাম।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। তার পর যাহা তিনি পরমহংসের মৃত্যুর পরে এশিত অক্সিতে- যেন তাহও তারিখওয়ারি ধারাবাহিকরলে করিতেছেন না। ভাগের (বাদশ খণ্ডে) ১৪ অব্দের কথা আছে-শাবার ২ ভাগে ( প্রথম খণ্ড) ১৮৮২ অব্দের কথা বর্ণিত হইয়াছে, এইরূপ। ইহাতে তিনি নিজের হাতে যথেষ্ট স্বাধীনতা রাখিয়াছেন, প্রয়োজন মতে নুতন নূতন কথাও আবির্ভূত হতে পারে-এইরূপই ধারণা জন্মে। অপিচ সৰ্বাদৌ যখন কথামৃত কোনও কোনও পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তখন গ্রন্থকার সাবধানতা অবলম্বন করিয়াছিলেন—রামকৃষ্ণকে অবতার- রূপে দেখাইবায় তেমন এয়াস করেন নাই। এমন কি গ্রন্থকার যখন প্রথম কথামৃত পুকাকারে ছাপাইলেন তখনও যথেষ্ট সাবধানই ছিলেন । প্রথম ভাগের ৪সংশে প্রকাশ কালে, প্রথম সংস্করণের ৩ বৎসর পরে (১৩১৪ অকে), ভূমিকায় সাহসপূৰ্ব্বক লিখিলেন—'ঠাকুর রামকৃষ্ণ মুখে বলিয়াছেন যে তাহাকে চিন্তা করিলেই হইবে, আর কিছু করিতে হইবে না। তিনি জগতের আদর্শ, তাঁহাকে চিন্তা করাই মুখসাধন। আর সাধন যদি দরকার হয়, তিনিই সমস্ত করাইয়া লইবেন। আবার ৪র্থ ভাগের প্রকাশ কালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) পূজা ও নিৰেন” শর্ষক ভূমিকায় লিখিয়াছেন-“ভক্তদের জন্য এবারে একটি বিশেষ শুভসংবাদ আছে। ঠাকু বলিতেছেন-মা। এখানে যারা আন্তরিক টানে আসবে তারা যেন সিদ্ধ হয়। [ ২২২ পৃষ্ঠা এই শুভ অঙ্গীকার বাণী ভক্তদের যেন হয় থাকে। উত্তরে তিনি লিখিয়াছেন—আমার রামকৃষ্ণ পরমহংসের সহিত আলাপ ছিল। তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তি বলিয়া বুঝিতে পারি নাই। তাহার সম্বন্ধে দক্ষিণেশ্বরে যে সকল কথা শুনিয়াছিলাম তাহাতে সঁহার উপর বিশেষ না হয় নাই। আমার পিতা সম্বন্ধে তিনি ৰা অপর কেহ কোনও কথা বলিলে তাহাতে আমি সুখী বা দুঃখিত হই না—তাহাকে সাক্ষাৎ ই- স্বরূপ দেখিতাম ।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-খ। এই বাণী ঘৰই গ্রন্থকার পরমহংসের জীবায় নিয়াছিলেন- তখন প্রকাশ করিলে এতদিনে অনেকেই যে সিদ্ধ হইয়া যাইত! সিদ্ধ হহবার এই সােজা উপায়টা এতদিনের পর গ্রন্থকার প্রচার করিলেন- ইহাই পরম আপের বিষয় !! কি জানি, কেহ এই কথামৃতে অবিশ্বাস করে, তাই এই ৪র্থ ভাগের ( ইহাই আপাতত শেষ ভাগ) তিীয় সংস্করণে (১৩২১ সালে), সপ্তদশ বর্ষ পূৰ্ব্বেকার ক্রমার আশীর্বাদ ছাপাইয়াছেন। মা লিখিয়া- ছেন “বাবাজীবন—তার নিকট যাহা শুনিয়াছিলে সেই কথাই সত্য। ইহাতে তােমার কোনও ভয় নাই। এক সময় তিনিই তােমার কাছে এ সব কথা রাখিয়াছিলেন; এক্ষণে আবশ্যক মত তিনি প্রকাশ করাইতেছেন। এ সকল কথা ব্যক্ত না করিলে লােকের চৈত হইবে নাই জানিবে। তােমার নিকট যে সমস্ত তাহার কথা আছে তাই। সবই সত্য। একদিন তােমার মুখে শুনিয়া আমার বােধ হইল তিনিই ঐ সমস্ত কথা বলিতেছেন। ২১শে আষাঢ় ১৩০৪। এতদিন পরে এই “সাক্ষাই উপস্থাপিত করিবার প্রয়ােজনেই বোধ হইতেছে, সন্দেহের বিশেষ কারণ থাকিতে পারে। কথামৃত আস্থা যারা পাঠ করিয়াছেন, তারা কিন্তু কদাপি ঐশ্রমকে (অর্থাৎ পরম হংসদেবের পত্নীকে) ঐ সকল কথার মধ্যে উপস্থিত দেখিয়াছেন কিনা সন্দেহ, অথচ তাহার কাছ হইতে সটি ফকেট গ্রহণ করা হইয়াছে !! পরন্তু পূর্বেই বলিয়াছি, কথামৃতের এই গুপ্তনামা লেখক একজন সুচতুর ব্যক্তি-থচ সুশিক্ষিত বটেন; তিনি গ্রন্থে পরমহংসে ভাষার যথাসম্ভব অনুকরণ করিয়া এবং কথােপকথন নাটকের নীতিতে সাজাইয়া বেশ স্বাভাবিকতাতাস প্রদর্শন করিয়াছেন—ইহাতে পাঠকের চিত আকৃষ্ট ও বিমুগ্ধ হয়—অমৃতে নৃতের হলাহল কিঞ্চিৎ মিশ্রিত আছে কিনা মোহবশতঃ তাহা বিচার করিয়া দেখিবার সামর্থ্যও লোপ পায়- লা বিনেল এ বিশেষতঃ অনভিজ্ঞ মুফ পাঠকের পক্ষে। গ্রন্থকার যতই দেখিতেছেন, তাহার কথামৃত লােকে বেশ আগ্রহ সহকারে ও অবিচার গ্রহণ করিতেছে-ততই সাহলও পাইতেছেন, ক্রমণ অবতারত্ব খ্যাপনের ত্রা বাড়াইতেছেন। কথামৃতকার তবুও অনেকটা অহিয়া সহিয়া এবং সাবধানতা অবলম্বন করিয়া কথা বলিয়াছেন; কিন্তু এরা শীলাপ্রসঙ্গ লেখক একেবারে ‘বেপরােয়া’যাহা খুপ লিখিয়া এই বাঙ্গাইয়াছেন—তথ্যানুসন্ধানের যায় যে বিশেষ ধারেন নাই, পণ্ডিত শশধর তর্কচূড়ামণি বিষয়ক পূর্বে উল্লেখিত কথা হইতেই তাহা প্রমাণ পাওয়া যায়। রামকৃষ্ণ দেবে অবতার ধ্যাপনই তাহার এর প্রতিপা বিষয় এবং তাহা করিতে গিয়া জুগুণিত বিষয়ের উল্লেখ করিতেও ছাড়েন নাই-বা রামকৃষ্ণ কর্তৃক ও নিন্দাবাদ। রামকৃষ্ণকে অৰতর বানাইতে হইবে—তাই দীক্ষাগুরু তােঅপুঙ্গী, উত্তর আধিকা ক্লাজণী-ইহাদিগকে পর্যন্ত খাটো করিতে হইবে—পণ্ডিত শশধর ইত্যাদি তো পরের কথা। বিবেকবুন্ধি, বিশিষ্ট ব্যক্তি যে এরূপ কথায় রামকৃষ্ণের উপরেও বিরক্ত হইতে পারেন বােধও এই ‘লীলাসকারের নাই। আমার তো বােধহয় এইরূপ লৈখা আর কামকৃষ্ণ পরমহংসের শোভাতি মলিন ইয়াছে- গোঁড়া যাই কেন মনে কামনা। ভারপর রামকৃষ্ণ-সম্প্রদায় এই তিনৰ অৰতারের প্রচারকল্পে কেবল যে পুৰু লিখিয়া কর ময়ািছেন—এমন নহে, নানারূপ উট ছবি ছাপাইয়াছেন; ফেরিওয়ালারতো অভাব নাই—নানা স্থানে ‘মিশন' বা সেবায় হিয়াছে, উহাদেয় এবান কাৰ্য্য ও সকল বিক্রয় । কথামৃত রচয়িতাৰ অামি গুগও আছে, যথা-মণি চুপ করিয়া ঢাবিতেছেন, ঠাকুর পূর্যোদয়ের পূর্ব আর চীনে গাছ এই সব কথা যা বল্লেন, এরই নাম কি অবস্থায় ? এই নাম কি নলীলা। ঠাকুর কি অৰতার?" ইত্যাদি।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট। করা। এ যাবৎ শ্রীকৃষ্ণ কি মহাদেব প্রভৃতির যেসব ছবি ডিজাইন করা হইয়াছে—তাহা তাদের লীলা বিশেষ অষলধনে-যেমন কাণীয়- যখন যা ম। এখন কি চৈসম্প্রদায়ও গৌরাঙ্গের জীবনের ঘটনাৰিশেষ অবলম্বনে ছবি প্রকাশ করিয়াছেন—যেমন নগর-সংকীর্তন, অথবা সার্বভৌম নিকটে বড় ভুমুক্তি প্রকাশ। পরন্তু এই রামকৃষ্ণ সম্প্রদায় সাতি অসতি সকলে,ধায় বড় ধারেন না-পরমহংসে কোনও জীবনচরিত বা শীলা’সঙ্গে যে বিষয়ে কোনও উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায় না—তাহা ছবিতে প্রকটিত করা হইয়াছে। তাদৃশ একটি ছবির বর্ণনা দিতেছি-ই স্থানে দেখিতে পাওয়া গিয়াছে। রামকৃষ্ণ থােগারাঢ় অবস্থায় বসিয়া আছেন, উপরে ওকারভেদ করিয়া হয়হৃদবিলাসিনী তামাতি বিরাজমানা; তাবটি অতি সুন্দর সন্দেহ নাই, কেননা ইহাই মায়ের ধ্যে-মূর্তি। কিন্তু তাহার দুই দিকে চারিটি মূর্তি আছে—এদিকে এ ও ভগবতী.(পার্বতীপ দিকে রাধিকা ও মহাদেব। কফের মহৎ এবং রাধার পক্ষি হত রামকৃষ্ণের একে সংস্থাপিত ; ভগবতী ও কৃষ্ণের পেছনে দাঁড়াইয়া গীয় হন্ত তার বাহুমূলে রাখিয়াছেন—এবং মহাদেব রায় পশ্চাদ্যাগে খাকিয়া তাঁহার [ নাৎ মাথায় বাহুমূল দুইটি আঁইয়া ধরিয়া এখন কথা এই যে যােগের অস্থায় গান চিরতি ইটে বলক্ষ্য হয়-তখন বর তাহার জানা বিত হইতেই পারে না-ফেনন, তাহা হইলে সাধক লক্ষ্য এই বিচি হইয়া প্রথমত আমি গৰতী'কে লমী ভাবিয়াছিলাম কিন্তু কোনও বন্ধু আমার এ ভাঙ্গিয়া নে। কেননা, তাহা হইলে নারায়ণ শী অপেক্ষা আকারে অনেক ছোট হইয়া পড়ে ( নামায়ণের মাখা ধীমূর্তির চিবুক স্পর্শ করিয়াছে)।

মা বিয়েফান"গ্রসঙ্গ। পড়েন। রামকৃষ্ণ অৱই " ওঁর | ই কি শক্তিৰীৰ ভেদী স্বীয় ইষ্ট শ্যামামূর্তিতে থানবন্ধচিত্ত ছিলেন। তখন কৃষ্ণ শ্রীরাধাকে অবশ্যই চিন্তা করেন নাইতাহার তবে নাজাৰে সিয়। অহা মাথায় হাত দিয়া কি খান ভাইতে চেষ্টা করিয়াছিলেন ? বিতীয়তঃ, সাফের মন্তকোপরি তত শিবশক্তি রহিয়াছেনই—তাহারা আবার তথনই আসি রাধা ও কৃষ্ণের পেছনে দাঙ্গাইলেন কিপে ? তৃতীয়তঃ আমাদের সেবায় বিশেষতঃ ভগবতী) সতীত্বের আদর্শ ভাবেই বর্ণিলীলাচ্ছলেও অপর পুরুষ-দেবতার অপর পুরুষ দেবতার গাত্র সংস্পর্শে কপি আসেন না-এই চিজে রাধা ও ভগবীর এইরূপ বিড়ম্বনা প্রকৃত হিন্দুর নিকটে বড়ই আপত্তিজনক। অথচ এই ছবি বেশ বিকাইতেছে। এই চিত্রটির নায়করণ হইয়াছে-পিজিলা; তাহা হইলে পরমহংসকে সহজ অবস্থায় চিত্রিত করিয়া তাহার চতুর্দিকে শাক বৈষ্ণব প্রভৃতিয় উপায় সমস্ত দেবদেবীকে—এমন কি গ্রীষ্ট ও মহদকে পৰ্য্যদাসশান কাইলেই বরং শােভন হইত। ৬. এ তো করি ছবি; বিবেকানন্দের জীবনচয়িতে আছে, আবাল্য তাহার কপালে একটা কাটার দাগ ছি-গােহাটিতে তাহার মৃত্যুর বছর খানিক আগে যখন তাহাকে দেখিয়াছিলাম-ঐ মাগটিও লক্ষ্য করিয়াছিলাম। কিন্তু বিবেকানন্দের কোনও ছবিতে এই দাগটা দেখা যায় না। এই খামার বিয় হইতেই এবারের বেশ পরিচয় পা খায়। "? ইহাকে বিশেষ পরিচয় ঋহিত্যঙ্গনে দীর বাণী প্রকাশিত হইবার সময়েও পাওয়া গিয়াছে। উক্ত প্রবন্ধগুলিতে নিজের বাবা সাৰখানে বলিয়াতি কই এই হরিনাটি বিলাতী ঢংএর ; সাহেবী সমাজে পমন্ত্রীকে গল- দাবা কাটালাকি শিষ্টাচার মত।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-ক। পরমহংসদেবের তথা স্বামী বিবেকানন্দের জীবনচরিত এভূতি ঐ সম্প্রদায়ের লিখিত ও প্রচারিত গ্রন্থ হইতে লিৰিশেৰে নির্দেশ ক্রমে প্রমাণিত করিয়াছি। ইহাদের পক্ষ হইতে যে সব প্রতিবাদ হইয়াছিল —তাহাতে চুক্তিতর্কের ভাগ অতি কমই ছি-ছিল অভূতপরিমাণে বিজ্ঞাপ ব্য ও গালাগালি । সাহিত্যপত্রে এষাৰলী একাশিত হওয়াতে, ঐ পত্র ‘বয়কট করার চেষ্টাও হইয়াছিল। সাহিত্যের সম্পাদক মাশও, আলােচনা ও বিচারের উদ্দেশ্যে আমার এৰাণী ছাপাইয়াছিলেন । পরন্তু তিনি হতাশ হইয়া বলিয়াছেন, 'প্রতিবাদের ভঙ্গী দেখিয়া, গালাগালির বহর বুঝিয়া, সাহিত্যকে বয়কট করিবার আলােড়ন শুনিয়া বুঝিলাম, তাহা হইবার নহে। অশেষ পরিশ্রমকাত এই সংগ্রহ থাকুক সাহিত্যের পৃষ্ঠায় সঞ্চিত। যদি আবার জীবন হয়-আবার মানুষ দেখা দেয়, তখন প্রকৃত উত্তর পাইব।” ইত্যাদি (সাহি শ্রাবণ ১৩২৮-৩১৮ পৃষ্ঠা) ফাখা এই সম্প্রদায়ে এত জানী শাস্ত্রাভিজ্ঞ লােকের খুবই অভাব, অথচ গোঁড়ামি যথেষ্ট আছে। এদিকে নামে জ্ঞানী হইলেও চালচরিত্রে আহারাদিতে বিলাসী; চষেও চা চুরুট চলে; এইরূপ আদর্শে এদেশের তপিপাসু তােক কখনও আকৃষ্ট হইবে না। বিলাতে বা আমেরিকায় গিয়া হি ধৰ্ম্মের দু'একটা খানিক কথা • নাই৷ দুচারজন সাহেব বিবি টেবিলে ভোর লােকের # আমেরিকায় বহুবর্ষ বেদাত (?) প্রচার করিয়া প্রত্যাবৃত্ত কোনও “জানলকে জনৈক ৰোৰিং, পণ্ডিত জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন “আপনি বেদাক্তের কোন্ কোন্ এন্থ পাঠ করিয়াছেন এবং উপদেশই বা কি কে?” তদুত্তরে ঐ ব্যক্তি বলিয়াছিলেন—“এই মূলার প্রভৃদ্ধির আবাদ দু’একখানি বই পড়িয়াছি—আর ঠাকু (অর্থাৎ আমকৃষ্ণ) যাহা বলিয়া গিয়াছেন তাই যে ভাই বো । মা ভাই প্রচার করি ।” ইহার উপর চাকা অনাবশ্যক।

রামক কিবোন প্রন
নিকট বাহবা পাওয়া যায় সন্দেহ নাপায় প্রকৃত সাহিতৈষী
কখনও ইয়াতে ভুলিবেন না।
এই নে পরমহদেবের খ থামী
বিবেকানন্দ কিংবা সায়ের দােষোদঘাটন কৃরিবার জয়
এপ এক প্রকার করিতে ব্যবসায়ী হই নাই—পরন্তু এই সম্প্রদায়ের
তারা আমাদের নাতন ধর্মের বিরুদ্ধ প্রচারিত হইতেছে,
তাই সমাজের অনগণের সাগানত বিধানাথ এই প্রয়াস। কলিঃ
প্রাবল্যশ আরো দুই চারিটি সম্প্রদায় এই বঙ্গীয় সমানে
দেখা দিল। ওৰে এই ৰামকৃষ্ণ-সম্প্রদায়ের ন্যায় গুলি এখনও তেমন
বিয়াত করিতে পারে নাই। আশাকরি এই এ পাঠ করিয়া
সয়াল হিতৈষিগণ এসৱ অভিনব সম্প্রদায় কি জাৰে কতদুর অনিষ্টান
কজিতেছে তা সম অৰধারণপুক, সাবধান হইবেন এবং
যথাসম্ভব এই লিঙ্ক এর নে মা বিৰত থাকিলে।
শষে রণকেশবিধান করুন এ
দৰে
আমাগিকে সমর্থ দান করুন।
দ্বিতীয় পবিশিষ্ট।
খ। রামকৃষ্ণ পরমহংসও তদীয় সম্প্রদায়”
১০৯. এন্ধের প্রতিবাদের সমালােচনা।
( পন্থি যুক্ত কালীকির কাৰ্যৰায়ণ-ন্যায়তীর্থ)
পাকা পন্ডিত পৰিবিননা শিখি
পরমহংস ও কী সম্প্রদায় একটি একা এশিত হয়। যুক্ত
ভাগৰ টায় রেল ॥ ইঙ্গিমা করিয়া
c বিপত্তি অব।

পিরিশ-থ।
বিগত লৈ সংখার ব্রাহ্মসমাজে এক এক প্রকাশিত করিয়াছেন।
ইহা পাঠ করিয়া দুঃখিত হইলাম। তিনিই শিখিছেন যে রামকৃষ্ণ
সম্প্রদায়ের আচরণে সদাচার ও বর্ণাশ্রম ধর্মে কিছু কিছু দাত
পড়িতেছে, ঋবে তিনি কিছু কিছু বলিয়াছেন—আমরা ভাই মনে
করি না। এফাং শক্ত (ব্রাহ্ম বা খ্ৰীষ্টিয়া) মং ল কি
হিন্দুসমাজের গণ্ডীর ভিতর থাকিয়া হাঁড়ি টুর্ণ বলিয়া খাখা
শৃশ্যায় বিচার না করা, অনধিকারীর ৰচৰ্য্য সােল এ
করা, আচার ধর্মের বিরুদ্ধে বলি দেওরা, সর্বোপরি প্রাথমিক
এবং পতিত ও পাণ্ডিত্যে অশ্ৰদ্ধার তাৰ পােৰ কয় ইতাদি এ
রামকৃ সম্প্রদায় কাৰ্যৰমীদের স্থায় সরে যেত শনিষ্ট
করিতেছে। এতদিন এই সম্প্রদায় বিষয়ে সাধারণ ব্রাহ্মণপসিমা
অনভিজ্ঞ ছিলেন, স্বামী বিবেকানন্দের তাজিয়া ঋকথা
লীলাপ্রসঙ্গাদির ব্রাহ্মণপণ্ডিতগণ বড় একটা খোজ খবর রাখিছেন
বলিয়া যােব হয় না, নচেৎ এতদিন পতি হাত
ধর্মপরায়ণ আচারনিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাই সম্প্রদায়ের বিষয়ে কাল ভাল
থাকিতেন না। বিদ্যাবিনােদ দাশ, ঐ সম্প্রদায়ের পুকান্দি পায়
করি নাতন সমাজের পর হইতে যেরূপ তাহারে সাহিত্য
পরে বাবণী এণ করিয়াছিলেন এস এ পত্রিকায় একাশিত
এনে প্রতিবাদকারী:উ রেপ অকাট্যভাৰে দিয়াছিলেন,
তাহলেই আদিত হইয়া বােধ 'আসমাল পত্রের সম্পাদক
অধ্যায় বিভূতিবিদ্যাভূষণ এএ, শাশয় সমাজের
* দৃষ্টান্ত রূপ বলি পাৰি যে পূজ্যপাদ, পণ্ডিত যুক্ত শর
তচূড়ামণি মহাশয়কে উপলক্ষ্য করিয়া যে “চাপাশে” কথা এতদিন
চলিয়াছিল, তিনি অহাৰাখিতেন না। গত ৩ হইল তাহা
নিকট এক টপিত হইলে পর তিনি ইহার প্রতিবাদ কৰিছে।

১৩ বাশ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। এ একটি প্রবন্ধ লিখিত অমুখে করিয়াছিলেন। এবং তৎফলেই এই পত্রে গান পাংশও তদীর নায়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। ইহাতে প্রতিবাদী গৰত ভট্টাচার্য। হাশর সমাজ পত্রের এতি মকব একটা.ফতি ছাড়েন নাই। আমার বিশ্বাস স্বর্ণাশ্রম বি এই সম্প্রদায়ের লয়ে তথ্য প্রকাশ করিয়া বিনােদমহাশয় এব্রাহ্মসমাজের তথ। পাতন ধর্মবিশ্বাশী সদাচার পায় হিন্দু মাত্রেরই কাছে ভাল হইছেন। বরং আমরা অনুরােধ করিতেছি, বিৰিনাের মার তীরবন্ধাবলী পুস্তকাকারে প্রকাশ করিয়া হাতে এই লঙ্কায় প্রকৃত তথ্য সমাজে প্রচারিত হয় তদ্বিষয়ে মনোেগ হউন। রামকৃষ্ণ সদা লা সনাতন ও সমানের উপর আঘাত পড়িতেছে-গৰত নয় ইহা স্বীকার করিতেছেন-তথাপি এতদিন কৈ এবিষয়ে তিনি কােনও বাঙ, নিষ্পত্তি কোথাও করিয়াছেন বলিয়া হে . আমরা অবগত নহি। তিনি বিবিনােদ, মহাশয়কে যে ভাবে শিখিতে উপদেশ দিন, তিনি সে ভাবেও তো এ লিখিয়া মষ-বিষেষ্ণা ৱিত নিৰ মতের সহিত শায়ের এক- যাত লাখন িপারিতেন— করিয়াছেন কি? আশা করি এখন হইতে বিকেএক ঐ সম্প্রদায়ের মুখপত্র ঈবোধন এজি পত্তি হয় বিধায় এষ বেল গা দেখিতে ৫. তিনি একে কনে জানি না মিশনের চেলা নই। এ বার যা একেবারে শিবলি , তিনি মিশনের চেলা না হইলেও তা এদের বলে বোবা যায় যে তিনি বলিষধ বিকােষী দলের বা পড়িয়াছেন। কমিশনের চেলা নৰেন কি স্বাক দেবে এ বর্ষা -

দ্বিতীয় পশিষ্ট।
।
শ্রাহ্মণ বেশি হায় কিন্তু সেরূপ নহেন, তিনি একটু
এ পড়িয়াছেন। মিশনের চেলার মধ্যেও এমন ই একজন এখনও
আছেন যারা বর্ণাশ্রম ধর্মে অনুরক্ত, ভাগ মহাশয় শেপ ফেলা
হইলেও গুলি ছিল, কিন্তু তিনি সেরূপও নহেন। তাঁহার প্রবন্ধ পড়িয়া
বােধ হইতেছে যেন তিনি শিখণ্ডী ভাবে সমুখে দাঁড়াইয়াছেন-পশ্চাতে
কোনও বর্ণাশ্রমধর্ম-বিরােধী ধনঞ্জয় স্থিত হইয়া বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের
প্রতি বাক্যবাণ বর্ষণ করিতেছেন।
তাই বর্ণাশ্রম বিরােধী যাহারা এবং বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের
প্রতিবাদ করিয়াছেন তাহাদের কতকগুলি গণ, আমরা ভাগবত
হাশরের এবন্ধেও দেখিতেছি; ক্রমশঃ তাহা বলিতেছি-
(১) যারা প্রকৃত নহে তাহা বলা। যথা, “তার (পরমহংসের )
কাছে তর্কচূড়ামণি মহাশয়ই ছুটিয়া গিয়াছিলেন কিন্তু পরমহংসদেব
তার কাছে কোন দিন যান নাই।” এ কথা এত নহে। বিদ্যাবিনােদ
মহাশয়ের যে বন্ধের তিনি প্রতিবাদ করিয়াছেন, তাহাতেই আছে
একজনের বাড়ী গিয়া (তর্কচূড়ামণি মাশয় তখন ভূখর বাবুর
বাড়ীতেই ছিলেন। তাকে চাপয়াল আছে কি না জিজ্ঞাসা করা
অস্বাভাবিক ও অতি সততা। পাল তাদৃশ ভদ্র ছিলেন না।
ইত্যাদি (তির' পরিশিষ্ট ‘ক’ অব্য)। “সাহি) যে বন্ধ
ািবিনোদ অস্থায় কতৃক এখন লিখিত হইয়াছিল, তাহাতে
যুক্ত তর্কচূড়ামনি মায়ের একখানি প এশিত হইয়া
ছিল; “ঐ পরে তিনি স্পষ্ট বলিয়াছেন ৰে পাকিসই তাহার
নিকটে প্রথম আসিয়াছিলেল—পয়ে তিনি গিয়াছিলেন। এরূপমধ্যে
মধ্যে পরমহংসও তাহার নিকটে আসিতেন, তিনিও পয়হংসের নিকট
সy।
# এই গ্রহের প্রথম পরিচ্ছেদ ব্য।

রাম বিবেকানন্দ এস। (২) দোষ ঢাকিয়ার অন্য ধা। দেওয়া। যখন ব্রাহ্মণ ভিন্ন অবর্ণের বাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণ করিতেন না বলিয়া বিদ্য- বিনােদ মহাশয় বলিয়াছেন সেটি তাহায় শীলা আলাদা না করিবারই ফল, আৰু কইলে বিতে তাহার ভূরি প্রমাণ দেখান ৰাইৰে। বিদ্যাবিনাে মহাশ সাবধানে বলিয়াছেন, “চৈতদেব ব্রাহ্মণ ভিন্ন কাহারও বাঙ্গীতে জিকা গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া বােধ হয় না।” ইহার উত্তরে ভাগবত মহাশয় শীয় প্রতিবাদ সমর্থনার্থ দু একটা দৃষ্টান্ত দিয়া দেখাইলেই শোভন হইত। তাহা তিনি করেন নাই ভবিষ্যতের জন্য মূলতােৰি ৰাখিয়াছেন। শিশিয় যােব প্রভৃতির আধুনিক গ্রন্থে তো চৈতৰু ঈপুরীকে র বলা হইয়াছে-তাদৃশ কোনও এই মহাপ্রভুও আকাশের বর্ণের বাড়ীতে শিক্ষা গ্রহণ করিয়াছে বলিয়া বর্ণনা কিতে পারে, আর্ম কি? কি তাহারও নির্দেশ করা উচিত ছিল। এইপ চাপঝাশের কথাও বর্ণে নিয়াছে রূপ তােক নও আছে বলিয়া এক প্রতিবাদী খুব জােরে বলিয়াছিলেন-তারপর এখন তো রান করলেও সাড়া পাওয়া যাইতেছে না! (৩) তা বিদ্যাবিনােদ মহাশয় সর্বদাই পরমহংসে প্রতি যথােচিত এখন করি। নাসিতেনেহার রাতে একাধিকবার একথা স্পষ্ট হিয়াছে। তথাপি উহার উপর বিকােষের এগিগে চালান হইয়াছে; বিবিনােদ মশা তা এখানে # ভাগবত মহান প্রকারে চাপশের কথা তুলিয়াছেন কি তুমি যে যাই করিতেছ, পয়ণ আছে। এরূপ জিজ্ঞাসা, এ কথা “তার কাছ থেকে শক্তি না পেলে কিছুই হয় না” এরূপ বলা, কি সমান কথা? প্রকৃতপক্ষে ৰে সৰ কৰা হইয়াছিল তাহা দূর চট্টোপাধ্যায় প্রণীত সাধু ন” এতে অথবা সম্পাদিত “দেখ্যাস পরে আছে। বিবিনােদ মহাশয় বিখি (এম পৰিশিক)ৰয়েও এসৰ কৰিাধিত আলােচিত হইয়াছে।

দ্বিতীয় পগিশি। ১৮ উপসংহারে দোষোদঘাটন” জারির জন্য যে প্রবন্ধ লেখেন নাই, তাই শ বলিয়াছেন,-বগার্মের বিকাৰ এচালিত হইতেছে দেখিয়া সাধারণকে সাবান করিবার জন্য প্রবন্ধ লিখিয়াছেন, একা লাখেও-চালাকি করিয়া কোন কারণ না শাইনা তাহার থা উড়াইয়া দিয়া, প্রবন্ধের ভিন্ন ভিন্ন অংশ হইতে সার (?)ংকলন পূর্বক, গংপূজ্য ব্যক্তিকে সুবােট’ ‘আয়ুবিকার গ্রস্ত পাচা। “পথষ্ট অধঃপতিত’ ইত্যাদি ভাষায় অভিহিত কvিানে এরূপ অভিযােগ তাহার উপর আনিয়াছেন।' এক ‘সবলাে ভিন্ন আর সব বিশেষণ তো বিদ্যাবিনোদ মহাশয়ের প্রবন্ধে খুজিয়া আমরা পাইলাম না। বিদ্যাবিনােদ মহাশয় নার্ভাস (nervous ) বলিয়াছেন- ইহায় জমা হইয়াছে, বিকারগ্রস্ত। বিদ্যাবিনােদ মহাশয় কি সুন্দরভাবে পরমহংসের কথা লিখিয়াছেন-“শ্রীজগদান অপার করুণার পাৰ তাহার এই সাংসায়িক অভিজ্ঞতা সরলপ্রকৃতির ছেলেটির পা পিছলিছিল কিন্তু তিনি তাহাকে একেবারে ভূলুষ্ঠিত হইতে দেন নাই- তবেকিঞ্চিৎ আধ্যাত্মিক অবনতি ও দৈহিক শ ভোগাইয়া পরিশেষে তাঁহার জোড়ে নদান করিয়া ছিলেন। (খিতীয় পরিশি কাব্য।) বলি, ইহাতে খিম ব’ প্রকাশিত হয় কি পাপাচারী পঞ্চ অধঃপতিত ইত্যাদি বিশেষণ এপ লেখা হইতে আহণ করা যায় কি? ফলকথা, একাগ চালাফি না করিলে তো বিষয়টা ঘােরালো করা যায় না-পরমহংসের প্রতি কট ক্তি করা হইয়াছে এল ন যেখাইলে ঙ্গে বিদ্যাবিনোদ অহাশয়ের প্রতি শালি বর্ষণের সুবিধা হয় না। (0) কোন কিছু অনুসন্ধান করিয়া দেখার জন্য। হার ; অশয় কে ফ ফড় করে বকেই কখা পরমহংস ৰাি- বিদ্যাবিনােদ মহাশয় নার্ভাসমাত্র বলিয়াছেন; ব্রীজ প্রচারক শিবনাথ লাক্স তদীয় “লাক্স-চুরিতে শইই “পড়” বলিয়াছেন।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এস। ছিলেন,জাগৰত ॥হাশয় লিখিয়াছেন। কি বিজাবিনােদ হাশয়েম প্রবন্ধে, আছে—ইহা এ কথামৃকার লিয়াছিলেন। উত্তরপাড়ার প্রসিদ্ধ “জয়কৃষ্ণ মুখােপাধ্যায়কে জয়চন্দ্র মুখােপাধ্যায় লিখিয়া সাটিফিকেট দিয়াছেন শাস্তৱসাম্পগ সাত্বিক ব্রাহ্ম ইত্যাদি। নানা- কারণে এ বিষয়ের আলােচনা বাড়াইতে চাইনা—কিন্তু ভাগবত মহাশয় জয় মুখােপাধায় (তথা -তীয় পুত্র প্যারীমােহন মুখোপাধ্যায়) সন্ধে যে কিছুই জানেন না, বা আনিবার চেষ্টাও কয়েন নাই—ইহাই প্রতীত হইতেছে । (৫) বুঝিবার অক্ষমতা। বিদ্যাবিনোদ মহাশয় বলিয়াছিলেন ‘সন্নাসীর পক্ষে জাতিবিচার না থাকিলে তাহারা যত্রতত্র ভােজন করিয়া প্রাধান্ত্রিক পাতিতগ্রস্ত যে, এটাও সদাচায় অনুমােদিত নহে ভগবত মহাশয় প্রশ্ন করিহন-সন্ন্যাসীর পক্ষে জাতিবিচার নাই, একথা লিলেন, আবার যত ভােজন করিলে পতিত জন্মে ইহাও বলিলেন, ইহার সামঞ্জয় কি? এতে পাতিত্যের পূর্বে ধ্যাত্মিক কথাটি ছাড়িয়া দিয়াই গোল বাধাইয়াছেন। সামাজিক ‘পালিত ন্যাশীর নাই-কেন তাঁহারা গৃহ-সমাজের আহিরে। কিন্তু হার গুদ্ধে ঘদ্ধি” এই বাক্যের বিষয়ীভূত শসীও বটে; তাই নিজের আধ্যাত্মিক উন্নতা বজায় রাখিবার জন্য সন্ন্যাসীও যত্র উত্ৰ ৰা তা খুন না, তবে নব্য সম্প্রদায়ের আনন্দ বা কথা বাত, ইহারা প্রকৃতই ‘পতিত'। (৫) শারে দুইটা বেশ চাল একটমকি, শায়ে আবেশ। বিবকে ভগবাকেও লতি জছে, গত মঞ্চের বিবেকানদের আচরণে ও ক্ষয় নাথাকিৰে কেন? এই ভাবের বশৰহইয়া:ভাগৰত মহাৰ, কতগুলি শাকের উজার করিয়াছেন। দৃষ্টাতেও তিনি শামিমাং পুষ্পিতা খাবিপতিঃ খাদি দ্বিতীয় পৱিশিষ্ট ভগবা, ডত করিয়াছেন। সেদিন নৈহাটি-মাছিতাসম্মিলনে পূজাপান পণ্ডিত প্রবর শ্রীযুক্ত পঞ্চানন উর্বর সংশয় শশাঙ্ক:সভাপতি রূপে যে অভিভাষণ পাঠ ফখয়াছিলেন * তাহা মিম পুষ্পিতা ৰাম ইত্যাদি যাকে কি সুর যৌক্তিকতা কােন করিয়াছেন- ভাগবতমহাশয় ভাদেখিয়াছেন কি? সে যাই হউ শায়ে নানা স্থলে আপাত বিরোধ সূচক কথা দৃষ্ট হয়, অতএব রাষষ শুৎসম্প্রদায়ের কথায় ও কাজে অসামঞ্জস্ট থাকবে, ইহা কি বুক্তি? শারেও তে আপাত বিরুদ্ধ কথার সামঞ্জয় বিধান হইয়া থাকে—ইহাদের ই একটা পরস্পর বিরু কথার বা আচরণের সামঞ্জস্থ ভাগবত মহাশ দেখাইলেন কোথায় ? সেটা দেখাইয়া পরে শাস্ত্রের নজর আনা উচিত ছিল। (১) রামকৃষ্ণাদি সন্ধে অত্যুক্তিবাদ। ভাগবত মহাশয় প্রবন্ধের প্রারম্ভে বলিয়াছেন যে “রামকৃষ্ণকে একজন অবতার বলিয়া সকলে স্বীকার না করিলেও তিনি যে একজন সিক্ত মহাপুরুষ এসখন্ধে বােধ হয় কাহারও মতবৈধ নাই।” আমরা তাে অবতার দূরে থাকুক রামকৃষ্ণ যে একজন ‘সিদ্ধ মহাপুরুষ ছিলেন ইহাও সমাক ধাঁকার করিতে পারিনা।বােধ হয় মতবৈধ নাই” একথা তাহার অত্যুক্তি। পূজ্যপাদ শ্রীযুক্ত শশধয় তর্কচূড়ামণি, রাহা প্যারীমােহন, প্রভৃতি (বিদ্যাবিনোদ মহাশয়ের কথা নাই বলিলাম) অনেকেই তাে তাহাকে তাদৃশ মনে করেন নাবিবেকবান পাদশী কেহই ঐরূপ মনে করিবেন না। স্বাধীন কুশলাঃ সিদ্ধিম-এটা সৰু কথা। যে ব্যক্তি পীড়ায় ভুগিয় যন্ত্রণায় আনা করিয়া, ভার প্রভৃতির তথা শিদির দীর্ঘকাল চিকিৎসা সেবা "শুক্রবার অধীন হইয়া অবশেষে, মৃত্যুমুখে পতিত হইলেন—তাহাকে সিমহাপুরুষ বলা ঐ সম্প্রদায়ের গোড়াদের পক্ষে সম্ভব, কিন্তু শিকি যাদের কাছে তারা একথা বলিবেন না-তা বলা গে নিশাই হল

আৰু বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ।
শুনিয়াছি পরবহন নিজেও বলিতেন, অবতারের কি
কালাম হ গা
তারপর বলা হইয়াছে মামলায় যে প্রসার লাভ করিয়াছে
শত শত মহামহােপাধ্যায়ের চীৎকারেও তাহার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হইবে
না, কেবল চীকার করিয়াই গলাগলিৰে শত শত দুরে থাকুক
একজন “মহামহােপনের” লেখার চোটেইতো দেখিতেছি সম্প্রদায়
বিক্ষুব্ধ। যদি মাত্র ক্ষতি না হয় তবে “সাহিত” পজে পেছনে
এই সম্প্রদায় লাগিছিল কেন এবং এই জাগৰ মহাশয়ও প্রাঙ্গণসমা’
পত্রের বিভীষিকা জন্মইতে এইয়াছেন কেন? মলি “
বিমাত্র
ক্ষতি না হয়, তবে এই প্রতিবাদ করণার্থে অধ্যাবসায়ই বা কেন?
বৃথা চীৎকার করিয়া গলাভাঙ্গা দুরে থাকুক, এই মহামহােপাধ্যায়ের লেখা
পড়িয়া অনেকেই চোখ জুটিতেছে-এই সম্প্রদায়ও যে তারা না বুঝিয়াছে
এমনও মনে হয় না। সে যাহা হউক, ভাগবত মহাশয় মনে রাখিবেন
সত্যের এর চিল-শত মিথ্যা একদিকে আর একটি সত্য একদিকে,
সত্যের জয় হইলেই। বিদ্যাবিনোদ মহাশয় সেই সত্যপক্ষ আশ্রয় করিয়া
অত্যুক্তি, আমারােক্তি মিথ্যা ইত্যাদি নির্ভীক ভাবে দেখাইয়াছেন।
এক্তিবাণী পৰু যে সব লেখা ছাপাইয়াছেন সেগুলি প্রায়ই অসায়
বলিয়া অতীত হয়েছে-এতিবাদ ৷ তাহার নিজেরই অনি
কলিতেছেন—আমরা ইহাই দেখিতেছি, এবং “সত্যমে অতি নাত
ইহাই বুঝিতেছি।
(৮) পূর্বাপর । রামকৃষ্ণ ভাষায় কৰুে গালা’
লিনে, তখন তিনি গদার জোড়ে সয়লশি। আর যখন
# এ লে ইহা বলা আৰখক যে আমরা বামকৃষ্ণ পরমহংসকে
একজন আৰু পুৰ মং মার্ক ব্যক্তি বলিয়া করি। 'বড়ি' রিয়া
বরং তাহার প্রতি অনেকের জন্য এ সব গোড়াই আনিয়াছেন।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-খ। ১৯ হয় ? পণ্ডিতৰয় যুক্ত শখ তর্কচূড়ামণি বিনীত ভাবে বলিলেন “আপনাকে পূর্বে যেরূপ দেখিয়াছিলাম এখন যেন একটু নামিয়া গিয়াছেন বোধ হইতেছে”-তখন রামকৃষ্ণ নিজের অবনতি ভাৰ স্বীকার করিলেন, এটা সরলা হইল না; এটার বেলায় ভাগবত মাশয় বলিতেছেন তর্কচূড়ামণি মহাশয় যদি তাহাকে ঐরূপ বুঝিয়া ঐরূপই বলিয়া থাকেন তাহা হইলে তাহার পক্ষে ঐরুপ উত্তরই মুসঙ্গত কিনা তাহা বিজ্ঞ পাঠক মহাশয়গণ বিচার করুন। ঐরূপ উত্তর—যাহ, তা হা কায়স্থ পত্রিকার একজন লেখক খুলিয়া বলিয়াছেন। বলিয়াছন। তিনি তর্কচূড়ামণি মহাশয়ের কথাগুলি সমস্ত উৰুত করিয়া পরিশেষে বলিয়াছেন- ধীমান পাঠক, পণ্ডিতজীর এই চিত্র হইতেই কি পরমহংসদেবের নিয়াবতরণ লক্ষ্য জ্ঞানাভিমানী প্রেমভক্তিহীন বিষয়মােহিত মানৰকে ইহা কি ছলনা নয় ?” (কায়-পত্রিকা ফান ১৩২৯, ৪৭৯ পৃষ্ঠা)। জিজ্ঞাসা করি সরল শিশু’ কি ‘ছলনা জানে ? আমরা মনে করি পরমহংস সৱলই ছিলেন—প্রকৃতই জগদম্বাকে মাতৃভাবে সাধন করিয়া তিনি নিজকে শিভাবেই গঠন করিতে সতত প্রয়াস করিয়াছিলেন--তাই আমরা বিশ্বাস করি তিনি যুক্ত তর্কচূড়ামনি মহাশয়ের নিকটে সরলভাবেই নিজের ঈষদবনত অবস্থা বীকার করিয়াছিলেন। নচেৎ যিনি গুরুকে খালা বলিয়া শাসাইতে পারিয়াছিলেন—তিনি চুড়ামণি মহাশয়কেও ভাদুশ গালাগালি দিয়া গড়াইয়া দিতে পারিতেন। (১) পতি ও পাণ্ডিত্যের প্রতি অবহেলা। ভাগবত মহাশয় শেষ পারদর্শী চূড়ামণি মহাশয়কেও পরমহংসের পরীক্ষকরূপে স্বীকার করিতে প্রস্তুত নহেন। সকলেই জানেন যে পরীক্ষা পর্যন্ত করিবার বিধি শুয়ে আছে, সেটা দীক্ষা গ্রহণেচ্ছু শিষ্যই করিবে। এই পরীক্ষা ব্যাপারের প্রকৃত কর্তা শাস্ত্রশাস্বাদিষ্ট লক্ষণ দেখিয়াই বিচার রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রস। - - করিতে হয়। রামকৃষ্ণ কি তাহারও অতীত? শাস্ত্রে অপ্রবিষ্ট কয়েন গিয়া পরীক্ষা করিয়া রাফ যে “অবতার” তাহা নির্দেশ করিয়া ফেলি লেন—সে বিষয়ে ভাগবত মহাশয় নীৰ। আর তাহারই মতে ‘বহুশাস্ত্র- দশী পরমপণ্ডিত এবং একজন সাধক তর্কচূড়ামণি মহাশয়-যিনি এক্কা- সহকারেই পরমহংসের নিকট যাইতেন—তিনি পরীক্ষা করিয়া কিছু বলিবার অনুপযুক! কলির লক্ষণে আছে “কুলবধু কুলটাকর্তৃক তিরস্কৃত হইবে”-তাই আমাদের মনে হয়। শত শত মহামহােপাধ্যায়কে” চীৎকায় কইয়াও তিনি বেশ পতিমৰ্যাদা প্রদর্শন করিয়াছেন। (১০) নিজের দোষটি না দেখা, কিন্তু অপরের দোষ দর্শন। ভাগবত মহাশয় রামকৃষ্ণের পক্ষে বলিবার সময় তাে বলিলেন “দোষা বাচা গুরােপি ইত্যাদি। পর বিদ্যাবিনোদ মহাশয়ের বেলায় তো খুব কৰি ফুলাইয়া বলিতে পারিলেন । হতোইপষতে খােতি তাদপি যঃ স পাপ। বেশ কথা। কিন্তু তিনিতে নিজেই বিদ্যাবিনােদ মহাশয় সম্বন্ধে বলিয়াছেন যে উনি একজন শিক্ষাপরিতিরুচিব্যক্তিতে স্বাক্ষণ” “ধৰ্ম্মনি সাচার পরায়ণ ব্রাহ্ম ধরে এপট বান্ধব (?) আবার মহামহােপাধ্যায় পতি ইত্যাদি। এইরূপ ব্যক্তিকে কিসে তিনি প্রকারান্তরে মহতের প্রতি অপভাষী পাপ” বলিয়া খ্যাপিত করিলেন? ঐ উপহার অংশটা বাদ দিলে তো তাহার বক্তব্যের কোন হানি হইত না। (১১) অসম্বভাবণ। তিনি বলেন, রামকৃষ্ণ সদায়ে গলদ আছে--কেননা সকল সম্প্রদায়েরই তাহা আছে। কথা! দোষ আছে—ীকার করিবে—কি কেহ সেই জোৰ ঘাটিয়া দেখাইতে গেলে তার উপায় বিয়েদের অভিযোগ আনিবে কেন? অপর সম্প্রদায় (যথা মহাপজুর ধর্মাবলম্বী বৈষ্ণবের দল) মধ্যে যদি দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-খ। গলদ থাকে এবং তাতে সমাজের যদি অনিষ্ট হয়, তাহা সমাজ হিতৈষী ঘাটিয়া দেখাইতে বাধ্য-বিশেষত এই সম্প্রদায় যদি নিতান্ত অর্বাচীন হয়। রামকৃষ্ণের রােগ সম্বন্ধে বলেন-কলিকালে কঠোর সাধনা যাহারা করিয়াছেন তাহাদের অনেকেই নােগাক্রান্ত হইয়াছেন--- দেবাদিদেব শঙ্কর। দেবাদিদেব কি কলিকালে” কঠোর সাধনা করিয়াছিলেন ? এবং রােগের যন্ত্রণার চীৎকার করিয়া কি তিনি অবশেষে মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিলেন ? কলিকালে ত্ৰৈলিঙ্গস্বামী, বামাক্ষেপা, ভাস্কৰানন্দ, রামদাস কাঠিয়া বাখা প্রভৃতি কত শত সাধক মহাপুরুষ সাধনা করিয়া সিদ্ধ হইয়া গিয়াছেন; তাহাদের মধ্য হইতে একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া উচিত ছিল। যদি কোনও সাধক কঠিন পীড়াগ্রস্ত হইয়া থাকেন, বুঝিতে হইবে তাহার মধ্যে একটা গলদ ছিল। তার পর রামকৃষ্ণের পীড়া কি *সাধনার কঠোরতার ফল ? তাহা হইলে ইয়া তাহার জীবনের প্রথমাবস্থায়ই দেখা দিত। পরিশেষে যখন তিনি (ভক্তদের চক) সিদ্ধ মহাপুরুষ হইয়াছিলেন এবং (কত ভক্তের নিকটে ) অবতাররূপে প্রতীত হইয়াছিলেন, তখন সাধনার কোনও কঠোরতা তত তাহাতে দেখা যায় নাই তখন এই পীড় হল কেন? তাই, সঙ্গদোষে আচার হওয়াতেই ইহা ঘটিছিল, একথা ভিন্ন আর কি বলা যায়। ভাগবত মহাশয় বলেন, পরমহংস রসদদার মল্লিকের "নাকটেপা-অপরলতার কথা বলিয়া কোন দোষ করেন নাই; কেননা তাহা হইলে জ্যোতিঃশাস্ত্রের বক্তৃগণ অধিকাংশই ইরূপ নিন্দুক পৰ্যায়ভুক্ত হবেন। “জ্যোতিঃশাস্ত্রের বক্তগণ কি অপরের নিকটে কাহারও কুলক্ষণ বর্ণনা করিয়া উহাকে সাধারণ্যে হেয় প্রতিপন্ন করেন । শম্ভজিক যদি রামকৃষ্ণের নিকটে নিজের লক্ষণাদি জানিতে খাইতেন এবং রামকৃষ্ণ যদি মল্লিকের মুখের উপর তাঁহার তাহায় টেপানাকে t রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এল। দোৰ বৰ্ণনা করিতেন, তবেই তিনি দ্যোতিশাস্ত্রের অগণ সহিত ভুলিত হইতে পারিতেন। হলেন। এখন শিখণ্ডীভূত ভাগবত মহাশয়কে আমরা কতকগুলি কথা বলিতে চাই। (১) নানাবিধ দর্শনের বিভিন্নমতে যে ক্ষতি ব্যাখ্যা ভেদ আছে তাহা কল্পিত নহে, অধিকারী ভেদে বিজ্ঞানাকব শ্রুতি বিভিন্নরূপে প্রতিভাত হইয়া থাকেন, ইহাই ব্যাখ্যা ভেদের মূল—দল বান্ধিবীর জন্য কল্পনা নহে; বিবেকানন্দের ব্যাখ্যাকে সেইরূপ অর্থভেদে ব্যবহার করার উপদেশ দানশ্রুতির অবমাননা করা এবং বাহ প্রতিষ্ঠার কেতুমাত্র । ব্রাহ্মণের লেখাতে এমন ভাব প্রকাশ একান্ত অনুচিত। (২) রামকৃষ্ণ পরমহংস দ্বারা যে সমাজের কতক উপকার হইয়া- ফিল, ইহকি পণ্ডিতবর শণপয় তর্কচূড়ামণি কি বিদ্যাবিনোেদ মহাশয়কেহই অস্বীকার করেন নাই। বরং ঐ উপায়ের কথা চূড়ামণি হয় তাহার চিঠিতে বিদ্যাবিনােদ মহাশয় তার একে যথেষ্ট বলিয়াছেন। কিন্তু আমাদের অদৃষ্ট দেবে কতকগুলি লােক আসিয়া তাহার সঙ্গে খুটিয়া সব মাটী করিয়াছে। তিনিও কষ্ট পাইয়া গেলেন, আমরাও ইহাদের প্রতি সম্প্রদায়ের প্রাদুর্ভাব দেখিয়া সমাজের কল্যাণ বিষয়ে আতঙ্কিত হইতেছি। বশিষ্ঠধেনু বিশ্বামিত্র সৈন্য কতৃক আক্রান্ত হইলে ঐ ধের পদেশ হইতে ৰবন লেনার আবির্ভাব হয়; ঐ সেনা বিশ্বমিরের সৈকল পরাজিত করিয়া ধেনু রাবিন করে। পর ধেনু কর্তৃক সৃষ্ট যবন যশ যারাই খেনুকুলের ঘােরর অনিষ্টধন হইয়াছে। পরমহংসার টুেকু উপকার ইয়াছিল, তৎসম্প্রদায়ের বায়া তলো অধিক গনি ঘটিতেছে। (৩) পরমহংসদে ‘ল হউক, ইহাই করিতেন না। তিনি নাকি বলিতেন দো দুই জল বা ইত্যাদি। ভাল দ্বিতীয় পরিশিষ্ট। । ডিস্পেন্সায়ী হাপলেরও তিনি পক্ষপাতী ছিলেন না। এখন তাহারই নামে দল বা সম্প্রদায় ( মিশন, স ইত্যাদি) হইতেছে এবং উহার। ডিপেনসারি, হাসপাতাল ইত্যাদিই করিতেছে। তবে এপটা করার জন্য রামই মূলত দায়ী; শেষাবস্থায় তিনি ভরত যেমন হরিণ শিশুর মােতে পড়িয়াছিলেন-কতকগুলি লােকের মায়াজালে জড়িত হইয়া গিয়াছিলেন। ফলে কি হইল তাহা এই প্রবন্ধে বলা পুনরুক্তি মাত্র। (৪) পরমহংসক (বা বিবেকানন্দকে। সমগ্র দেশের লােক জগরেণ্যই মনে করুক বা নাই করুক, তাতে আমরা ভুলিব না শারে ও সদাচারের দিক দিয়া তাহাদের চাল-চরিত্র দেখিয়া তারপর তাহাদের সম্বন্ধে ধারণা গঠন করিব। রামমোহন রায় এবং কেশব চন্দ্র সেন তাহারাও সমগ্র দেশের লােকের নিকট ঐরূপ বরেণ্য ছিলেন-তাই বলিয়া তাহাদের কাষ। এরা যদি সমাজের অনিষ্ট হইয়া থাকে-তজ্জন্ত সমাজহিতৈষীর নিকট তাহা শত্রুরূপেই বিবেচিত হইবেন। ব্যক্তিবিশেষ অপেক্ষা সময় বড়—ত্যজেদেকং কুলস্যাথে; অতএব সর্বাগ্রেই সমাজ, ধর্ম, স্বদেশ ইত্যাদি দেখিতে হইবে—তারপর ব্যক্তিবিশেষকে বিচার করিতে হইবে। সমাজসমষ্টিৰ হিতাহিত কাহার যারা কিপ হইয়াছে, তাহাই মাপকাঠি করিব। এই হিতাহিত বোধ কয়জনের আছে। বিশেষ আজকাল শাস্ত্রবিাসী লোক বড়ই বিরল, আবার জ্ঞানসম্পন্ন লোক মুষ্টিমেয় বলিলেই হয়। শাস্ত্রানুশাসিত সমাজের প্রকৃতপক্ষে কি হিত কি অহিত শাত্মবিশ্বাসী ও শাস্ত্রজ্ঞান সম্পন্ন কিই বলিতে পারেন। ঈশ ব্যক্তিগণের নিকট রামকৃষ্ণ বা স্বীয় সম্প্রদায় কিরূপ সমাদৃত, তাহাই দেখিতে হইবে । শাস্ত্রে বিশ্বাসী ও জ্ঞানজ্জিত শত পুত্তলিকা সদৃশ জনতার প্রশংসাবাদে বিশেষ কিছু আসে যায় না-কোনও স্থায়ী ফল হয় না। তবে আজকাল এইরূপ গনতা সাহায্যেই অনেকে বেশপ-করিয়া লইতেছে। দশ নত।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। হাতে রাখিবার জন্য ইহাৱা তদনুকূল মত প্রচার করিতেছে। যথেচ্ছ আর বিহার কয়-সদাচার বা শাস্ত্র কিছুই নহে, এসব ব্রাহ্মণের কারসাজি-কিন্তু “ঠাকুর” যাহা বলিয়াছেন তাহাই বেদ, তাহাই বেদান্ত। ঠাকুর বলিয়াছেন আমাকে চিন্তা করলেই সব আপনা আপনি হইয়া যাইবে; সাধন ভজনের কোন দরকার নাই ; ইত্যাকার বিবিধ উপদেশ প্রচার হইতেছে। রামকৃষ্ণসম্প্রদায় এখন এইরূপ অবস্থায় দাঁড়াইয়াছে। (৩) গন্ধতৈল, প্যাটেন্ট ঔষধ ইত্যাদি যেরূপ বিজ্ঞাপনের জোরে খুব চলে—এই সম্প্রদায়ও সেইরূপ নানাভাবে বিজ্ঞাপনজারী করিয়া প্রসারলাভ করিয়াছে; মিশন, সেবাশ্রম ইত্যাদি ঐসকল বিজ্ঞাপনের এজেন্সী স্বরুপ। ছবি ছাপাইয়া পুস্তিকা প্রকাশ করিয়া তাে যথাসাধ্য প্রচার হইতেছে, এছাড়া মিল’ হইতে স্কুবে ছেলেদের খাতায় পর্যন্ত মাফের নামের ছাপ পড়িয়াছে। তাহাতে কয় দিন বেশ চলিবে, তৎপরে ক্রমশঃ পার কমিয়া আনিবে। লোকে এসব চতুরতা বুঝিতে আরম্ভ করিয়াছে। এই সম্প্রদায়ের দেখাদেখি আরাে ‘অবতারদের সম্প্রদায়ও দেখা দিতেছে, সেগুলিও এইরুপই। (৩) রামকৃষ্ণের শিক্ষা ছিল ‘াধন ভজন কর’ ‘মাকে ডাক ইত্যাদি; আর তৎসম্প্রদায় এখন সমাজবিরুদ্ধ আচরণ শিপাইতেছে। নীতিবিঙ্গ কথাও প্রচারিতই, যেন বিবেকানন্দ বলিতেন “না হয় একটা বড়লের চুরি ডাকাতি কর-বুদ্ধি খুলুক” । সংসায়ানভি ভাষণচি দূষকগণ অনেকে এসব উদ্ভট উপদেশও সাগ্রহে শিখিয়া সমাজে অশান্তি আনয়ন করিতেছে; নিজেরাও শােচনীয় পরিণাম প্রাপ্ত হইতেছে। ভাগবত মহাশয় একজন ব্রাহ্মণ সন্তান । আশা করি তিনি এসৰ বুঝিয়া দেখিযেন-শিখাইয়া চৈ প্রকটন না করিয়া, ধর্ম মপি চাবো ন বিকশিত্ব মwি এই গক্ষ দৃঢ় বিশ্বাস ব্যাপন করিয়া যাহা নির্ভীক ভাবে সমাজ সেব্যর্থ চেষ্টা প্রয়ােগ করিতেছেন, তাহাদের অনুকরণে সমাজ ও ধর্ম রক্ষার্থে স্বীয় কর্মকানুষ্ঠানে অপরায়ণ হইবেন।

# বিভীন্ন পরিশিষ্ট গ। “রামকৃষ্ণ পরমহংস ও তদীয় সম্প্রদায় প্রবন্ধের পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবাদের প্রস্তুত। (শ্রীযুক্ত প্রায় নারায়ণ চৌধুরী) [ সম্পাদকীয় মন্তব্য-১৮৪৪ শাকের মাঘলখ্যক প্ৰাহ্মণ- সমাজ পত্রিকায় মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনােদ লিখিত রামকৃষ্ণ পরমহংস ও তদীয় সম্প্রদায় এক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। (দ্বিতীয় পরিশিষ্ট ক দ্রষ্টব্য) কেহ ইহার প্রতিবাদ বাপ কিছু লিখিলে, তাহার উচিত যে সর্বাদে “ৰাহ্মণ পত্রিকায় তাহা প্রেরণ করেন। কিন্তু শ্ৰীযুক্ত চন্দ্র বর্মা এই হয়না। । নৈক কায়স্থ (?) তাহা করেন নাই-ইনি ভ্রাম ও পদ্মনাথ এই শিরোনামে একটি এবং বিথিয়। বিদ্যাবিনোেদ মহাশয় লিখিত উপরি উক্ত প্রবন্ধের এক প্রতিবাদ কয় পত্রিকায় প্রকাশ করিয়াছেন। ইহাতে বিদ্যাবিনোদ মহাশয়ের উপর অরা প্রদনি ইত্যাদি আছেই-এছাড়া, তিনি কাগ বিষে এলোকিত হইয়াই তদীয় এই লিখিয়াছে, একথাও লেখা হইয়াছে। কখই পত্রিকায় লিখিত প্রবন্ধে বিদ্যাবিনােদ গায়ের উপরে সাধারণ ভাবে কায়স্থ বিষে অষণা আরােপিত হইয়াছে—ইহাতে ক্ষুব্ধ হয় ঐ পত্রিকায় প্রকাশ কৰিষায় নিমিত্ত কামৰূপ কায়স্থ সমাজের অগ্রণী স্বরূপ যুক্ত এস # প্রতিবাদ “ৰাহ্মণসাজে পাঠাইলে যে উহা প্রকাশিত হইত তাহার প্রমাণ গত জ্যৈষ্ঠসংখ্যক পত্রিকাতেই আছে- তাহাতে যুক্ত ভাগৰত ভট্টাচার্য লিখিত প্রতিবাদ (তেমন সারাঙ না হইলে অতি হইয়াছে।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। নারায়ণ চৌধুরী মহাশয় একটি প্রবন্ধ প্রেরণ করেন—এই প্রবন্ধটির তিনি নাম দিয়াছিলেন—“প্রতিবাদের প্রত্যুত্তর।*.প্রথমতঃ তিনি প্রবন্ধে বীর নাম স্বাক্ষর না করিয়া “জনৈক কামরুপ বাসী কায়” এইরূপ পরিচয় না দিয়া কায়স্থ পত্রিকার সম্পাদক মহাশয়ের নিকটে প্রবন্ধ পাঠান। কিন্তু সম্পাদক নিকটে লিখিত পত্রে নিজের নাম ও ঠিকানা লিখিয়া দেন। সম্পাদক মগশয় উক্ত প্রবন্ধটি ফেরত দিয়া লিখেন যে নাম না দিলে প্রবন্ধ প্রকাশ করা হইবে না (অথচ যে প্রবন্ধের ইহা উত্তর সেই প্রবন্ধে প্রকৃত নাম নাই-একটা ছদ্ম নাম আছে)। তারপর এযুক্ত প্রসন্ন নারায়ণ চৌধুরী মহাশয় স্বীয় নাম স্বাক্ষর করিয়া পুনরায় ইহা প্রেরণ করেন। ইতােমধ্যে প্রসন্ন নারায়ণ বাবুর বিশেষ পরিচিত বলীয় কায়স্থ সমাজের শিরােমণি স্বরূপ প্রাচ্যবিদ্যা- মহাণব মুক্ত রায় সাহেব নগেন্দ্র নাথ বসু মহাশয় এই প্রবন্ধের কথা শুনিয়া এবং ই ফেরত গিয়াছে নিয়া এরূপ মত প্রকাশ করেন যে, ইহা তাহার নিকট প্রেরিত হইলে তিনি ইহার প্রকাশার্থ অনুরােধ করিবেন। তদনুসারে দ্বিতীয়বারের ঐ নাম স্বাক্ষরযুক্ত প্রবন্ধ শ্ৰীযুক্ত লগে বাবুর নিকটই প্রেরিত হয়। সম্প্রতি নগেন্দ্র বাৰু জানাইয়া দিয়া- ছে, “প্রতিবাদ প্রবন্ধটি (অর্থাৎ প্রায় নারায়ণ বাবুর প্রবন্ধ) আমার অনুরােধে পত্রিকা পরিচালনাগিতিতে দেওয়া হয়, কিন্তু নানাকারণে এটি পত্রিকায় বাহির হইবে না এফায়ণ ফেরত পাঠাইতেহি। • এ : যুক্ত নগেন্দ্র বাবু জানাইয়াছেন যে “বিদ্যাবিনোেদ মহাশয় সম্বন্ধে যেরূপ উক্তি পত্রিকাসশাদ ৰা পত্রিকা, পরিচালনসমিতির প্রজাতসারে পত্রিকায় বাহির হইয়াছে তা সমিতি দুঃখপ্রকাশ করিয়াছেন।” পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ বিশেষে যে উক্তি করা হইল, তাহা পত্রিকাসম্পাদকের অজ্ঞাত- সাকে কিরূপে হইল, আয় বুঝিলাম না। অপিচ, প্রবন্ধটি ফেরত পাঠান হইয়াছে এরূপ লেখা সত্বেও কি উহা পাওয়া যায় নাই। ভাগ্যবশতঃ ঐ প্রবন্ধের একটা নকল হিল, তাই ইহা প্রকাশিত হইতে পাবিল।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-৪। সম্প্রতি শ্ৰীযুক্তপ্রসন্ন নারায়ণ চৌধুরী মহাশয়ের প্রবন্ধ ‘ব্রাহ্মসমাজ পত্রিকায় প্রকাশার্থ আমাদের নিকট আসিয়াছে। সাধারণতঃ খ লেখকের বই এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু বর্তমান প্রবন্ধটির সঙ্গে ব্রাহ্মণ-সমাজ পত্রিকার যথেষ্ট সম্বন্ধ রহিয়াছে। ইহা প্ৰাহ্মণ- সমাজে প্রকাশিত প্রবন্ধ-বিশেবের প্রতিবাদের উত্তর—এবং ইহা প্রকাশ না করিয়া কায়স্থ পত্রিকার সম্পাদক তথা পরিচালন সমিতি ব্রাহ্মণ সমাজের প্রবন্ধ লেখক বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের উপর যে অবিচার করিয়া- ছেন, আমরা ইহা প্রকাশ না করিলে সেই বিচারের আশভাজন হইব বলিয়াই মনে করি। তাই ইহা পৰিকা করা হইল। কায়সমাপত্রে প্রকাশিত প্রবন্ধ (অর্থাৎ বর্তমান প্রবন্ধটি যার উত্তর। এই সঙ্গে পুনর্মুদ্রিত করা অনাবশ্যক মনে করিলাম, কেননা উত্তরের মধ্যেই ঐ প্রবন্ধের কথাগুলি প্রায়শঃ উদ্ধত করা হইয়াছে। তথাপি যাহারা প্রবন্ধ পাঠ করিতে চান তাহারা ফায় পত্রিকা একবিংশ বর্ষ ১১শ সংখ্যা.(ফান ১৩২৯) দেখিতে পারেন। বিগত (১৩২৯ সালের) মাঘমাদের ব্রাহ্মসমাজ” পত্রে মহামহাে পাধ্যায় পণ্ডিত শ্রীযুক্ত পদ্মনাথ বিদ্যাবিনােদ মহাশয় রামকৃষ্ণ পরমহলে ও তদীয় সম্প্রদায় সম্বন্ধে একটা প্রবন্ধ লিখিয়াছিলেন; ফান মাসের “কায় পত্রিকায় এক চদ বা মহাশ ঐ প্রবন্ধের প্রতিবাদ করিয়াছেন। • বর্তমান প্রবন্ধ বামহাশয়ের প্রতিবাদের প্রত্যুত্তর। কেবল প্ৰাহ্মণ-কার প্রকার নহে সাহিত্য পরে প্রকাশিত বিগবিনােথ মাশয়ের লিখিত পরমহংস রাখষ্ণদেব ও শামী বিবেকা # প্রবন্ধ যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় প্রতিবাদও সেই পত্রিকায়ই প্রেরিত হওয়া উচিত ছিল; বৰ্মমহাশয় কিন্তু তাহা করেন নাই বুঝিতে পারিলাম না।

বাম বিবেকানন্দ এল। মসকীয় মন্তু এযমে খবর আমি রাখি; বিদ্যাবিনােদ মহাশয় বাবার বলিয়াছেন তিনি পরমংসদেবের প্রতি শ্রদ্ধা ; এবং তাহার লয়ে যথেষ্ট সাবধানতা সহকারেই তিনি আলােচনা করিয়াছেন। মী বিবেকানন্দ সম্বন্ধীয় প্রথম প্রবন্ধ (আসামে বিবেকানন্দ) গাহিতে পাঠাইবার পূর্বে তিনি ভূতপূর্ব সম্পাদক সুরেশচন্দ্র সমাজপতি মহাশয়কে স্পষ্টই জানাইয়াছিলেন তিনি স্বামীজির ভক্ত নহেন, তথাপি সমাজপতি মহাশয় প্রবন্ধ পাঠাইতে তাঁহাকে অনুরােধ করিয়া লিখিয়া- ছিলেন জামি বিবেকানন্দের পরম ভক্ত বটে, কিন্তু আর কাহারও ভক্ত হইবায় অধিকার নাই, তাহা মনে করি না। ইহাও যােণ করি বিবেকানন্দেরই শিক্ষা। এই গ্রন্থে তিতীয় পরিচ্ছেদ-ফুটনােট দেখুন)। তথাপি স্বামী বিবেকানন্দ যে একজন অতি বড়লােক তাহ এবং স্বামীজির পাবলীর কথাও আমরা তদীয় প্রবন্ধাবলীতে দেখিতেছি। সুতৰ নেহৎ মাহতভাবে এবং বিশেতাব প্রণােদিত হইয়াই যে বিদ্যাবিনে মহাশয় লেখনী ধারণ করিয়াছিলেন একথা কিরণে বলা যায়? পরমহংসদেষের সম্বন্ধে তিনি কুত্রাপি কোনও তাৰ ৰাও করেন নাই। তবে তুমীয় তল্য নির্ণয়া পতি শ্ৰীযুক্ত খয় তর্কচূড়ামনি মায়ের চিঠি পত্রাদি প্রকাশ করিয়াছেন- বরং চূড়ামণি মহাশয়ের সঙ্গে বিতর্কও ফলিয়াছেন (প্রথম পরিশিক দেখুন)। তারপর খামী বিবেকানন্দ সম্বন্ধে অবশ্যই মধ্যে মধ্যে ছেলে বিয়ে, উপসংহারে তিনিই বলিয়াছেন ৰিবোন আমাদের পূর্বপুরুষলিগকে বহু গালি দিছেন- ফজি আবেগবশতঃ তাহার উদ্দেশে কি িকটু বলিয়া কি, করি তাহা মার যা হইৰে।” (তৃতীয় প্রবন্ধ-শেষ ভাগ) @ আসামে বিবেকানন্দ এবং জামী বিবেকাশ এবং এই গ্রন্থের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিচ্ছেদ) দেখুন।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট। শ্রীযুক্ত চন্দ্রদত্ত বা মহাশয় ব্যাপারটা বেশ দােকালাে করিবার নিখিই বােধ হয় বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের উপর কাবি যে জিৰাগ করিয়াছেন। এই অন্যায় অভিযােগই প্রধানতঃ এই নীন কাকে বর্তমান এক প্রকাশ করিতে প্রণোদিত করিয়াছে। স্বামী রিকান এক তিনি কায়স্থের উপনয়ন সংস্কারে, ক্ষয়িত্ব খ্যাপনে, অথবা লাল গ্রহণ অধিকার নাই, একথা বলাতেই যদি কায়স্থ জাতির উপর তাহায় বিদ্বেষ সূচিত হইয়া থাকে তবে এই অধমকেও অতি বিদ্বেষে অভিযুক্ত করিতে পারেন। আমাদের এই অঞ্চলে অতঃ, সদাচার কায়স্থ কেহ বেদবিহিত উপনয়ন সংস্কার গ্রহণপূর্বক ক্ষত্রিয় সাজেন নাই। তানিয়া আকৰ্য্য বােধ করিয়াছি যে যাহারা খাদ্যখাদ্য শৃশ্যাম্পৃশ্য বিচার করেন না, সমাজে একাকারের পক্ষপাতী, আচার অনুষ্ঠানে পরান্মুখ, ৰাহ্মণের প্রতি বিরাগবান বঙ্গদেশের এইরূপ ফায়ও নাকি পৈতা নিয়া ক্ষয়িত্বের বড়াই করিয়া থাকেন। বৈদ্যের উপর টেক্কা মারিবার জন্যই বােধহয় এই আন্দোলনের সৃষ্টি। অশৌচকালের সংক্ষেপ ভির ইহা দ্বারা কোনও লাভ • হইয়াছে কিনা নিনা। কায়তের জাতির নিকট এই নিমিতে কালের সম্মান অণুমাত্রও বাড়িয়াছে বলিয়াও তাে বােধ হয় না। এই অঞ্চলের কোচ কলিলগণও এভাবে উপলক্ষন সংস্কার গ্রহণ করিতেছে—কি উহামে সামাৱিক সম্মান পূর্ববৎই হিয়াছে। সে যাহা হউক বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের যে কাস্থ বিহে কিছুমাত্রও নাই, কয়েকটি উদাহরণ দ্বারা তাহাই সমর্থন করিতেছি- # ইহাও কি লাভ? বরং আমি মনে করি অনেককাল বা হই সাত্ত্বিক (নিরামিষ) আহার ব্যবস্থা কল্যাণ জনক, অথচ আমাদের ক্য তান্ত্রিক স্যাদির নিষেধও নাই। বলা আবশ্যক যে কামরূপের কাষগণ তাঁহাদের কায়ছ সূচক (মালাকারে। পূৰ ধাৰণ' করেন কিন্তু ক্ষয়িক ১২ গিন অশৌচ কয়েন না, ৩ দিনই মানে।

রামকৃষ্ণ বিৰেনন্দ প্রসঙ্গ। (১) ক্ষত্রিয়ােচিত উপবীত গ্রহণকারী কায়স্থল এখান শ্ৰীযুক্ত নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয় একাধিকবার গৌহাটিতে আসিয়া বিদ্যাবিনোদ মহাশয় কর্তৃক অভাথিত হইয়া গিয়াছেন। তাহার সম্মানার্থ সভা, বঙ্গীয় ও আসামীয় কায়স্থ-সমাজ কর্তৃক ভােজের ব্যবস্থা ইত্যাদি তিনিই করাইয়াছিলেন । (২) বিদ্যাবিনোদ মহাশয়,লিখিত বৈজ্ঞানিকের প্রান্তিনিবাস পুস্তকের ভূমিকায়, ব্রাহ্মণ যুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি ভূদেব মুখােপাধ্যায় প্রভৃতির সঙ্গে কায়স্থ চন্দ্রনাথ বস্তু ও অক্ষয়চন্দ্র সরকার মহাশয়দের নাম সমাজের কল্যাশসাধক মহাগণের তালিকায় সাদরে উল্লেখ করা হইয়াছে। (৩) কায়স্থাবর শঙ্করদেব নামক থৈ পুস্তকখানি বঙ্গীয় কায়- সভা কর্তৃক প্রকাশিত হইয়া বিক্রীত হইতেছে উহার সিক্সাপিকা বিদ্যাবিনােদ মহাশূয় কর্তৃক লিখিত এবং পুস্তক প্রকাশে তাহার কতটুকু থে যত্নচেষ্টা ছিল তাই ঐ বিজ্ঞপিকা পাঠেই প্রতীত হইবে। - (a) অত্ৰত্য কায়স্থপ্রধান অনেকেই, যথা-রাজা প্রযুক্ত প্রভাতচন্দ্র বড়ুয়া-দুর, রায় সাহেব ঐক্ত রজনীকান্ত চৌধুরী প্রভৃতি বিদ্যা- বিনােদ মহাশয়ের সুত্ব, এবং পরিচিত কায়মাত্রেই তাহাকে শ্রদ্ধা করিয়া থাকেন। ফলত ফোন, অতি বিদ্বেষ নিয়া--য়ে তিনি ঐ সকল প্রবন্ধ লিখিয়াছে, তাহা নহে; তিনি কি জঙ্ক এ ব্যাপারে অপরিকয় ইয়াছিলেন, তাহা “সাহিত্যে প্রকাশিত প্রবন্ধ বিশেষের উপসংহারেই বলিয়াছেন-দুর্ভাগ্যবশতঃ সনাতন বর্ণাশ্রমধর্থের ও সমাজের পক্ষে দাড়াইয়া প্রতিবাদের আক্রমণ হইতে ইহাকে রক্ষা করিবার লোক বিন দিনই বিরল হইয়া পড়িতেছেন—এয়ােগ্য হইতেও এসময় স্বীয় শক্তি ও সামর্থ্য অনুসারে পিতৃপিতামহের ধর্ম ও সমাজের অনুকূলে বিশেষত s দ্বিতীয় পমিলিগ। ১৪ বিপাক প্রতিকূলে- দু'চার কথা না বলিয়া উদাসীন থাকা কাপুরুষতা মনে করি। ইহাতে যদি প্রতিপক্ষের কটুক্তির আঘাত সহ করিতে হয়, করিতে প্রস্তুত আছি; কেবল বলিব ভাই strike but hear, মধ্যে কিছু গুন। ' ( প্রথম পরিশিষ্ট থ—শেষাংশ দেখুন) য়ং রামকৃষ্ণদেবও বলিয়াছেন অন্যায় অসত। দেখলে চুপ করিয়া থাকতে নাই।” কথামৃত তৃতীয় ভাগ ১৩ পৃষ্ঠা) তাই কেবল এহ সকল প্রবন্ধ নহে-পরন্তু যুক্ত চল বর্মা মহাশয়ের অবগতির জন্য লিখিতে হইল, যে বিদ্যাবিনোদ মহাশয় প্রায় বৎসর পূর্বে স্যার পি, সি, রায় মহাশয়ের বাঙ্গালী মস্তিষ্কের অপব্যবহার প্রবন্ধেরও প্রতিবাদ করিয়াছিলেন । তৎপূর্বে গেট সাহেবকৃত “আগাম ইতিহাসেরও তীব্র সমালােচনা করিয়া সমাজ ও ধর্মের বিরুদ্ধ কথার প্রতিবাদ করিয়াছিলেন। ইহাতে জাতি বিচার করেন নাই-ব্রাহ্মণ রামমােহন রায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, সুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর vাজেন্দ্র লাল রায়—ইহাদেরও শাস্ত্র সমাজ প্রতি সম্বন্ধীয় প্রতিকুল মতের জাতি প্রদর্শন করিয়াছেন; স্যার আশুতােষ মুখােপাধ্যায় মহাশয়ের বিবাহসংস্কারের প্রতিবাদ কক্লিয়াছেন এবং তার সম্বন্ধে চাটু ও অত্যুক্তি রাদের প্রতি তিনি যে সাহসের সহিত করিয়াছেন, হেমন বােধ হয় আর কেহ করেন নাই। আশা করি ইহাতেই চন্দ্র বা মহাশয়ের প্রান্তিনিরাস হইবে। কায়স্থ-বিদ্বেষ বশতঃ বিদ্যাবিনােদ মহাশয় স্বামী বিবেকানন্দের বিরুদ্ধে লেখনী ধারণ করিয়াছেন, ইয়া যদি একটা যুক্তি হয় তবে চলুদ বাবুর প্রতিপক্ষও বলিয়েন, পাতি প্রেৰ প্রণােদিত হইয়াই চৰাগত কৰ্মা মহাশয় কেৰল ৰে কায়স্থ সন্ন্যাসী বিবেকানন্দের গলদ দেখেন নাই এমন নহে, তাঁহাকে বাড়াইবার অঙ্ক নিম্নেরূপ অতিশয়ােক্তি । তণীয়, প্রবন্ধে স্থান ব্রাহ্মো রাজা রামমােহনের সাজ এবং নব বিধানী কেবচন্দ্র . রামকৃষ্ণ বিবেকানন প্রস। পাইয়াছে-“বর্তমান জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যিখনৰ শ্ৰীমৎ স্বামী বিবেকানন্দ ; সি (?) শিরােমণি বিবেকানন্দের মেধমত্র বাণী জগৎ আলােড়িত করিয়াছে ; চকুমান চাহিয়া দেখ মহাত্মা গান্ধীর প্রতি। চাহিয়া দেখ স্বামী শ্ৰদ্ধানন্দ হি ধৰ্ম্মের বিজয় বৈজয়ী কি ভাবে উড়াইতেছেন।” “সমবেত ভাবে নাম দিয়া বা নাম না দিয়া যেখানেই সেবাকাৰ্য্য আরম্ভ হউক সেই খানেই বিগ্রেমিক, ভারত প্রেমিক, বাঙ্গালীকুল শিরােমণি বিবেকানন্দের ঐকর চিহ্ন বর্তমান। অথচ এ সকল উক্তিতে প্রমাণ প্রয়ােগের কোন বালাই নাই! পরমহংস অব ব্রাহ্মণ ছিলেন ; তবে তাঁহাকে অবতার সাজাইবারও এরপ মতলব হইতে পারে যে তাহার মুখ দিয়া স্বামী বিবেকানন্দের প্রশংসাবাদ (যথা, ও যদি অখাদ্য খায় তবে দোষ হইবে না ইত্যাদি প্রচার ) করা হইয়াছে। নচেৎ অনাচারী স্বামীজির প্রতি হিন্দুসাধারণের অশ্রদ্ধা নিতে পারি । স্বামী বিবেকানন্দ কায়স্থ খাতির-সমগ্র বাঙ্গালী জাতির গৌরবের জিনিস, সন্দেহ নাই। কিন্তু তাহার চিঠি পত্র বড়তাদিতে সনাতন বর্ণাশ্রম ধর্মের উপর বিষয় আঘাত পড়িয়াছে, ইহাতেও সংশয় নাই। তিনি খাদ্যখাদ্য বিচার করিতেন না। বর্তমান হিন্দুধকে বলিতেন “হাঁড়িধর্ম”; স্পশ্যাম্প বিচারকে বলিতেন সেন মহাশয়ের সম্বন্ধেও এইরূপ অত্যুক্তি করিয়া থাকেন। সম্প্রদায়ের গোড়ারা প্রবকদের সম্বন্ধে প্রায়শঃ এতাদৃশ অন্ধভক্তি প্রকটিত করিয়াই থাকেন। * চন্দ্রদত্ত বাবু লিখিয়াছেন, বিদ্যাবিনােদ মহাশয় জ্ঞাতিকল” “তি বিদ্বেষ” দ্বারা প্রণোদিত হইয়া “মহাপুরুষ নিন্দায়” প্রবর্তিত হইয়াছেন। তিনি ব্রাহ্মণ-কায়স্থ বিবেকানন্দ, জাহার “জ্ঞাতি” হইলেন কিরূপে? চক্রদত্ত বায়ু বিদ্যাবিনােদ মহাশয়কে অগ্নিহোেস্ত্রী বলিয়াছেন—এই উট সুবাদটা তিনি কোথায় পাইলেন ফলতঃ নূতন ৭ দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-গ। ' “ছুৎমার্গ; ব্রাহ্মণদিগকেশাস্ত্রকার দিগকেবলিতেন “দুষ্টপুরুত। এ সকল হলাহল স্বামীজির সম্প্রদায় লােকেরা পুস্তকাদিতে সমাজমধ্যে প্রচার করিতেছন-সৰ্ম্মে অনভিজ্ঞ সরল প্রকৃতির নবাৰুৰক অনেকে এ সব অবিচারিভাবে গ্রহণ করিয়া তদনুসারে সদাচায় বিদ্বেষী ও ব্রাহ্মণদ্বেষী হহয়া উঠিয়াছে। জনসেবার ব্যপদেশে অনেক অনেক যুবক পিতামাতার সেবা পরিত্যাগ করিয়া মঠে বা আশ্রমে যােগ দিতেছে, ইহাতেও সমাজের নানাদিক দিয়া রুতি দেখা যাইতেছে। তারপর স্বামীজির অনুকরণে আজকাল অনেক অমুকানন্দ তমুকানন্দ দেখা দিতেছেন, তাহারে ত্যাগের মধ্যে এক বিবাহ না করাটাই দেখিতে পাই-সেটা করিলে নানা ঝাটেও যে পড়িতে হয়। কিন্তু তাহাদের খাওয়া দাওয়া চলা বসা পোষাক পত্র (একটা গেরুয়ার আবরণ ছাড়া) বিলাসিতারই পরিচায়ক ; ইহাতে সন্ন্যাসের আদর্শ খৰৰ ইয়াছে। এই সকল কারণে বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের প্রবন্ধাত্রীর সহিত আমাদের ঐকমত্য থ্যাপন করিতেছি এবং আশা করি যে এগুলি দ্বারা সমাজের অনেকের চোখ ফুটিবে—এই সম্প্রদায়ের প্রকৃত তথ্য জানিয়া অনেকেই সাবধান হইবেন। আমরা জানি, এই সকল প্রবন্ধের নয় তিনি অনেক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ও ধর্মবিশ্বাসী বিষয়ী ব্যক্তিগণ হইতে ধন্যথা পাইয়াছেন-এমন কি এসকল প্রবন্ধ পুস্তকাকারে ছাপাইবার জন্যও অনুরােধ আসিতেছে। ইতােমধ্যে বাদী বিবেকানন্দ সম্বন্ধীয় প্রবন্ধাবলী # একটি অভিনব সম্প্রদায়ের সম্বন্ধে প্রকৃত তথ্যোদযটন করিতে হইলেই ঐ সম্প্রদায় প্রবর্তকগণের ব্যক্তিগত কথা-হাদের কাৰ্য্য বাক্য ইত্যাদি-আলােচনার বিষয় হইয়াপড়া অবশ্যম্ভাবী। ইহাতে যদি গাদ প্রকটিত হইয়া পড়ে সে জন্য আলােক দায়ী নহেন-তবে তিনি সর্বদাই প্রমাণ প্রয়ােগ দ্বারা স্বীয় মন্তব্য সমর্থন করিবেন। বিস্তাবিনােদ মহাশয় সে বিষয়ে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করিয়াছেন।

নামক বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। { হিন্দী ভাষায় (জনৈক হিন্দুস্থানী লেখক ফতৃক) অনুবাদিত হইয়া প্রসিদ্ধ হিন্দীমাসিক মর্যাদা” নামক পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছে। অতএব দত্ত বাবু বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের প্রতি যেরূপ তাচ্ছিলাের ভাব দেখাইয়াছেন, তাহা সমীচীন নহে। এবং উহাকে “পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করা আবশ্যক এই উপদেশ প্রদান করাটা নিতাই কর। শুনিয়াছি পুরাণে নাকি আছে-কলিতে চোর সাধুকে র্জন সজ্জনকে, বৈরিণী পতিব্রতাকে শাসাইবে; তাই এরূপ উপদেশ সম্ভাবিত হইল • !! বিছাৰিনােদ মহাশয়কে তত উপদেশ দেওয়া হইল; কিন্তু চক্রদত্ত বাবু জানেন কি, নূতন সম্প্রদায় বাহার প্রবর্তনকয়েন তাহাদের সম্বন্ধে ৮ বিদ্যাসাগর মহাশয় কি একটা গল্প করিতেন ? গল্পটা সংক্ষেপে এই। নবধর্ম প্রবর্তক মৃত্যুর পরে যমপুরী গেলে ধৰ্ম্মরা তাহাকে বিচার সভায় দয়ন, একিতে আদেশ করলেন। তারপর ঐ সম্প্রদায়ের কেহ যালয়ে আসিলে প্রশ্ন হইল আমি তােমাকে যাদের ঘরে জন্ম দিয়াছিলাম তুমি তাদের কুলক্রমাগত সাধনপথ পরিত্যাগ করিয়া নূতন গলে কেন গিয়াছিলে ? ঐ ব্যক্তি সেই স্থলে দণ্ডায়মান নবধর্মগুরুকে দেখাইয়া উত্তর করিল “হুকু উহার উপদেশে আমি ঐরুপ করিয়া ছিলাম। তখন কুইলকে লাগাও • বে—তবে অর্ধাংশ (২৫ ঘ) এবৰ্ত্তকের প্রাপা।”, অব এটা গল্প মাত্র ; তবে ইহার ভিতর যে নীতি কাছে আশা করি বা মহাশয় একটু চিন্তা করিয়া • বিৰিনােদ মহাশয়ের প্রতি যে এই উপদেশ দেওয়া হইয়াছে, তাহার অন্যতম কারণ এই যে তিনি বিবেকানন্দ সােসাইটির অধিবেশন বিশেষে দীয় বন্ধু জনৈক ব্রাহ্মণ পণ্ডিতকে সভাপতিত্ব করিতে নিষেধ করিয়াছিলেন । বিবেকানন্দ তাে ৰাহ্মণ বিদ্বেষী ছিলেন, তবে সভাপতিত্বের নিমিত্তে ৰাগ পণ্ডিতকে ধরা হয় কেন ? নিষেধ না করাটা বাহার পক্ষে বান্ধববাচিত কাৰ্য্য হইত না।

১ দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-গ। দেখিবেন। বিদ্যাবিনােদ মহাশয় তাে পিতৃপিতামহের পথেই যথাশক্তি চলিতেছেন-সুতরাং তাহাকে উপদেশ দিবার অ তেমন ব্যর্থ না হইলেও ক্ষতি হইবে না। নিতান্ত অবান্তর ভাবে চক্রদত্ত বাবু পূজ্যপাদ পণ্ডিত শ্রীযুক্ত শশধর তর্কচূড়ামণি মহাশয়কে তদীয় প্রবন্ধে আকর্ষণ করিয়া আনিয়াছেন। তর্ক- চূড়ামণি মহাশয় একখানি চিঠিতে লিখিয়াছেন, পরমহংসদেব শেষাবস্থায় কিছু নামিয়া পড়িয়াছিলেন। ঐ চিঠি যে কেবল ‘পাখি’ পলে ছাপা হইয়াছিল, এমন নহে, ইহা ১৩২৭ সালের সাহিত্যপত্রের পৌষ-মাঘ যুগ্ম সংখ্যায় প্রকাশিত হইয়াছিল। (এই পুস্তকের প্রথম পরিচ্ছেদ দেখুন।) পরমহংসদেব বয়ই নাকি তর্কচূড়ামণি মহাশয়কে একথা বলিয়াছিলেন। এই চিঠির অংশ বিশেষ উদ্ধত করিয়া চক্রদত্ত বাবু জিজ্ঞাসা করিতেছেন বীমা পাঠক পণ্ডিতজীর এই চিত্র হইতে পর হংসদেবের নিন্মাবতরণ লক্ষ্য হয় ? নাভিমানী প্রেমভক্তিহীন বিষয় মোহিত মানবকে ইহা কি ছলনা নয়? অবশ্য এই অধম নিজকে ধীমান মনে করে না; তথাপি চুড়ামণি মহাশয়ের বর্ণনায় আগুন মনোযোগ সহকারে পড়িয়া তাে বুঝা যায় ইহাতে ছলনার নামগন্ধও নাই—বেশ সরলভাবেই পরমহংসদেব চুড়ামণি মহাশয়কে অন্তরঙ্গ বন্ধুর স্যায় ভাবিয়া সমীপে নিজের আধ্যাত্মিক, অবতরণের পর দীকার করিয়াছেন। পরমহংসদেব তো বালকের ন্যায় সম্বল ছিলেন-তিনি কাহাকেও কস্মিনকালে ছলনা করিয়াছেন বলিয়া জানা যায় নাই। তিনি তো তাহার পীড়ায় সম্বন্ধে বলিতে তাষের কি ক্যান্সার হয় গা ? 'থচ গোড়া ভক্তেরা বলিতেন-“তিনি ডাক্তারের অভিমান বড়াইবার জন্য পড়া করিয়া বৃসিয়া আছেন। প্রকৃত সয়ল ভাবকে এরূপ জটিল করা কি উচিত? সে যাহা হক লিনার কোনও কারণ এস্থলে দেখা যায় না। চুড়ামণি মহাশয় অতি বিনীত ভাবে কখাটি উপস্থাপিত রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। । করিয়াছিলেন—তাহার লিসায় কোনও দাম্ভিকতা প্রকাশ পায় নাই। চন্দ্রদত্ত বাবুই তাে বলিতেছেন চূড়ামণি মহাশয় “পরমহংসদেবের ঐচরণয় নিজ বক্ষস্থলে ধারণ করিয়াছিলেন। এই কি প্রেম- ভক্তিহীনের লক্ষণ? তিনি কদাপি পরমহংসদেবের নিকটে “জ্ঞান- ভিমান” ও দেখান নাই ; চন্দ্রদত্ত বাবুই তাে বলিয়াছেন, চুড়ামণি মহাশয় পরমহংসদেবের আলাপ শুনিয়া বলিয়াছিলেন “যাহা কিছু শুনিতেছি ইহা বেদবাক্য তুল্য—এমন কথা এ জীবনে শুনি নাই। এরূপ উক্তি কি “নাভিমান দ্যোতক? পরমহংসদেব চূড়ামণি অহাশয়কে বিষয় মােহিত ৰলিয়াও মনে করিতেন না, কেননা পরমহংসদেব চূড়ামণি মহাশয়ের মধ্যে জ্ঞানের চিহ্ন দেখিতেন (কথামৃত ৪র্থ ভাগ ১৯৯পৃঃ দেখুন)—জ্ঞানী কখনও বিমােহিত হইতেই পারেন না। অতএব ছলনার কারণ গুলির কোনটি টিকিতেছে না। বিশেষতঃ পরমহংসদে চুড়ামণি মহাশয়কে বড়ই আপনার মনে করিতেন। কথামৃত (তৃতীয়ভাগ ৯৭ পৃঃ) আছে, তিনি চূড়ামণি অজয়কে বলিতেছেন আবার আসবেন। গাঁজাখাের গাজাখােরকে দেখলে আহলাদ করে-গৰু আপনার এনকে দেখলে গা চাটে ইত্যাদি। এ অবস্থায় ছলনায় ভাসিতে পারে কি ? চলন্ত বাবু লিলা করিতেছেন “ইনি কি সেই পণ্ডিত শশধর যিনি বাগবাল বন্ধু বলরামের গলিরে একদিন শ্রীশ্রীঠাকুরে অমৃতময় উপদেশ কথা শুনিতে নিতে ‘ বিল হইয়া বলিয়াছিলেন # চুড়ামণি মহাশয় পরমহংসদেবের চর বলে ধাৰণ কৰিছিলেন, ইছা এবং এই উক্তি ( এমন কথা ॥ জীবনে মুনি নাই) অগালিয়া বােধ হয় না; এ বিষয়ে পাং আগেঠন কৰা ৰাইজে। তবে চুড়ামণি গহশ ৰৈ কখতেও আছে (৪র্থ ভাগ ১১৯ বিতায় পরিশিষ্ট-গ। যাহা কিছু শুনতেছি, ইহা বেবাক্য তুল্য। এমন কথা এজীবনে শুনি নাই ? ইনি কি সেই পoি শশধর যিনি এই সাধি পরমহংসদেবের চরণ নি বলে যায়। ফরিঙ্গাছিলেন। ইহার পর প্রমাণ বলতেছেন “এই পৃষ্ণ অষ্টা ও শ্রোতা এখনও বর্তমান।” তাহার জিজ্ঞা—তিনি চুভাষ মহাশয়ের কাছে পৌছা- ইয়াছেন কিনা জানি না—এবং তিনিই বা কি উত্তর লিখে, নিতে পারি না। তবে এ ব্যায়ামের মন্দিরে যায় বাহা ঘটিছিল তা আর এক প্রত্যক্ষ “ষ্টা ও শ্রোতা” (লেই জিনই নােট করিয়া রাখিয়া পুকমধ্যে নিব করিয়াছেন। কথামৃত ৪ ভাগ গণশ খতে ঐদিনের ঘটনা লিখিত হিয়াছে—তাহাতে ঐপ কথায় নামগন্ধও নাই। * অন্য কোনও আলেও এপ কথায় কথামৃতে) আছে ববি বােধয় না। কি ঠাৎ এই জ্ঞাসাটা কেন করা হইল তাহার কারণ ভাল বােঝা গেল না। চুড়ামণি মহাশয় তো পরমহংসদেবের প্রতি একাই ছিলেন। তবে অত্যুক্তিৰ ৰা গড়াইয়া পড়া না নিলে বা না দেখিলে কি চলন্ত বাবু আশ মিটেনা। স্বামী বিবেকানন্দ সম্বন্ধীয় (পূর্বে উল্লিখিত) অত্যুক্তি গুলি সন্ধে কিং আলােচনা কৰা আৰক মনে কৰিছে। চলন্ত বাবুর লেখায় এপ এতি হয় যে খাবা গামী যা আলী এন যাহা করিতেছেন অহা স্বামী বিবেকানন্দের শেষ লয় । # চাপ সীর কথা ( অর্থাৎ পরমহংসদেব চুড়ামণি মহাশয়কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন নি যে ধর্ম প্রচার ক, চাপৰাশ আছে?) প্রমাণিত করিবার উমেয়ে কোনও ব্যক্তি ইনৃশ সার কথা বলিয়াছিলেন- যখন সাক্ষীৰ পৰিচয় চাওয়া হইল তখন তিনি নীৰৰ নহিলেন। (এখ পৰিলিক দেখুন।)

রাম বিবেকানন্দ এল। গালোড়নের ফুল। কিন্তু মহাত্মার অথবা শ্ৰদ্ধানন্দের সাধন জীবনের ফে মীরি মেখমণ মায়া কি ভাবে আলােড়িত হইয়াছিল তা আমরা অবগত নবিং চলুদ বাবু বলেন নাই। তবে মহাত্মা ৫ ত্যাগের পরাকাষ্ঠা দেখাইতেছেন, তিনি যে সব নীতির প্রচার করিতেছেন, বাশীজি বা তৎসায় তাহা করিয়াছেন কি? মহাত্মা উপদেশাবলীর এক আধটা বিবেকানন্দের বাণীর সদৃশ হইতে পারে, তেমন সায় চুড়ামণি মহাশয়ের উপদেশাবলির সঙ্গেও মহাআর কথা- গুলির গাছের অধিকতরই আছে। মহাত্মা কোনও আনন্দ লাজিয়া গেরুয়া পয়েন নাই—অথচ আহারে পােষাকে, চলায় ফিরায় সংযম সাধনা, স্বামীজির বা তমুক্ত আম গণের সহিত তাহার কত প্রভেদ। তারপর স্বামী শ্ৰদ্ধানন্দ যে ভাবে শুড়ি চালাইতেছেন- স্বামী বিবেকানন্দ বা তৎসম্প্রদায় সেরূপ কি করিয়াছেন ? দুই এক জন বিলাতী বা কাকিনী লাহেব মেমকে গেরুয়া পিন্ধাইয়াছেন বটে— কিন্তু স্বামীজির বহুপূর্বে খিয়সফি দলে ঢুকিয়া অনেক সাহেব মেম হিন্দু বৌদ্ধ ইত্যাদি সংজ্ঞাভাজন হইয়াছেন; এমন কি মুক্তি ফৌজের দলেও গৈনি এবং চিনা গ্রহণ পর্যন্ত হইয়াছে শুনিয়াছি। বিবেকা- নদের সম্প্রদায় এদেশের কয়ন মােসলমানকে হিন্দু করিয়াছেন। এমনকি,কৈব গোস্বামীরা কত পার্বত্য জাতিকে হিন্দু বানাইছেন- সে দিকেও তো এই সম্প্রয় কিছু করিয়াছেন বলিয়া অবগত নহি। তারপর সমবেত ভাবে নাম দিয়া বা নাম না দিয়া যেখানেই সেবাকা আর হউক, সেখানেই বিবেকানন্দের কচিহ্ন বর্তমান’-ইহার অর্থ কি এই নয় যে স্বামী কর্তৃক রামকৃষ্ণ মিশন সংস্থাপনের পূর্বে এদেশে কুপি সাবেত ভাবে কোনও দোষ ছিল না। যাদের # মহাত্মার “ অত বর্জন ও স্বামীজির ‘দুৎমার্গ পৰিহাৰ ঠিক একার্থ বাচক কিনা বিষয়েও সন্দেহ আছে। = দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-গ। কাছ হইতে মিশন শব্দটি ধার করা—আমি এলে তাদের (অর্থাৎ গৱা মিশনারীগণের) কথা বলিব না—তাহারা দুভিক্ষাদিতে ও পীড়ার সময়ে এদেশীয় নর নারীর সেবা কয়াি ওপদেশে খষ্টান করিতে চেষ্টা করিতেন। ব্রাহ্মণের কথাও বলি না—তাহারাও ধীষ্টিয়ানদের অনুকরণে ‘মিশন’ (স্বামীজির বহু পূর্বেই) করিয়াছেন। আমি আমাদের সমাজের কথাই বলি। হিন্দুদের সমার বনি যেরূপ হাতে পরস্পর সহায়তার ভাব ফুটিয়া উঠে-জ্ঞাতি মরিলে সকলে মিলিয়া বহন হন করে, অশৌচ মানে–শারে সকলে সাহাব্য করিয়া ব্যাপার নির্বাহ করে। বষ্টিভাবে দরিদ্র সেবার জন্য মুষ্টিতিক্ষা, একাদিতে কাঙ্গালী ভােব ইত্যাদিতে রহিয়াছেই। সমষ্টিৰেও গ্রাম দেশে যুবকদের এক-একটা দল থাকে ৩-উহারা বিপদ আপদে লােয়ে সাহায্য করে-ডাকাত পড়িলে বা আগুন লাগিলে উহারাই অগ্রসর হয়-আবার উতারাই বার-ইয়ারি পূজা করে, বয়য়াত্ৰীয় দল পুষ্ট করে। ইদানীং স্কুল ডিস্পেনসারীর জন্য সামাজিক ক্রিয়াকলাপের সময়ে দাও আর পাশ্চাত্য অনুকরণেও শোভাবাজার বেনাভোটে সােসাইটি প্রভৃতি দু’ একটা অনুষ্ঠান । স্বামী বিবেকানন্দের পূর্বেও হইয়াছিল বলিয়া আমার ধারণা। কংগ্রেসে ভলান্টিয়ারের দল গঠিত হইত=এবং আমার বােধ হয় ১৮৯১ সালে যে অর্থোদয়যােগ হয় তাহাতে কলিকাতায় তাদৃশ ভলান্টিয়ারদল গঠিত হইয়া সমাজ সেবায়ও নিযুক্ত হইয়াছিল। অতএব রামকৃষ্ণ মিশন খৃষ্টান ও ব্রাহ্মদের অনুকরণে গঠিত হইলেও হিন্দুসমাজের পক্ষে একেবারে আজিৰ জিনিস নহে। সন্ন্যাসীয় দল তত চিরকালই পরার্থপরায়ণ—এমনকি বিশে ডাকাতের # পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী কৃত যুগান্তর” উপন্যাসে বঙ্গদেশের একটি পাড়াগাঁয়ের চিত্র আছে—তাহাতে 'ইসের দল' নামক এক যুবকসঙ্গের বর্ণনা আছে। কল্পিত হইলেও বান্ধবের উপর ইহার ভিত্তি বলিয়াই মনে হয়। । সেদিন সংবাদ পত্রে কলিকাতা অনাথ আশ্রমের ৩১ শ বাৰক অধিবেশনের বিবরণ পড়া গেল। তাহা হইলে, ১৯২ অকে—বিবেকানন্দে আত্মপ্রকাশের পূর্বে ইহা সংস্থাপিত হইয়াছে। উঠায়।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ। - না আ Aw, r = = দলও নাকি দরিতে যে করি, যদিও ধনীর ঘড় ভাসিত। স্বামীজির প্রতি মঠ • সেবাসমতি প্রভৃতিতে (খ্রীষ্টানদের ন্যায় ) নিজেদের সম্প্রদায় প্রচাৱাৰ্থ পুথি ছবি ইত্যাদির বিক্রয়, স্বামীজিদের কে আসিলে অভিনন্দনাথ সভা করা, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের স্মৃতিসভা করা, রামকৃষ্ণের পূজার্থ মন্দির কয়া ইত্যাদির প্রচেষ্টা দেখা যায়- হাতে জনসেবা নিখিল ভাবে হইতেছে বলা যায় না। রামকৃষ্ণ মিশন এর উপকার জবাই হয়—কোন্ মিশন রাই না কিছুটা না হয়। তবে এখন দেখিতে পাই, যে নবযুবকগণ পিতামাতার সেবা ছাড়িয়া মিশনে যোগ দিতেছে ও উপার্জনকল গৃহস্থ না ইয়া ভিক্ষুকের দল বাড়াইতেছে, আর (বঙ্গদেশের আখড়ার মােহান্ত বাবাদের ন্যায়) আমীজি’রও সেই ভিক্ষুকের দলের অর্জনের ( ভিক্ষা এ ছবি ও সমাজৰিতাপৰু পুদি ফেরি করিয়া যাহা = তাহার মা কে বড় লোক মাফিক চলাফেরা করিতেছেন, তখন মনে হয়—এই ব্যবসা চলিতেছে মন্দ নয়। নচেৎ কোথায় কবে দুর্ভিক্ষ বন না মহামারী ইতোৱজন্য এইরূপ করিয়া দল বাঁধিয়া রাখার গয়েশ্বনই বা কি ছিল? চত্ৰ আৰু ইহাও লিখিয়াছেন, বিদ্যাবিনোদ যাশয়ের জন্মকে একটি সেবাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হইয়া তাহার দ্বারা পরি- চশত হইলে, দেখিয়া তিনি সুখী হইবেন। তাহার উপদেশ অবশ্যই মূলা। তবে যতটা নিতে পারিয়াছি বিদ্যাবিনােদ মহাশয়ের গ্রামের সামাজিক অবস্থা এখনও এমন পরস্পর সহানুভূতিশূন্য হয় নাই যে, 'সেবায় একটা করা নিতান্তই অবক। বর এরপ ‘সেরা যে গানে কিছু হইবে, সেখানে তােক ক্রমশঃ পরার্থপরতা ভুলিয়া যাইবে। বিলাতের লােক মেখন ভিক্ষুকে ভি না দিয়া ‘পর হাল’ দেখাইয়া দেখানো হয় তো লােকে আয় বা প্রতিবেশীকে লেপ সেবাশ্রম # বমি বায়ুর আন ম পড়িলে, নানা বিষয়ে আধুনিক এই মঠের সা। মনে হইবে; অঝিম বাৰু ও নাকি বাস্তবের উপরেই কানার ভিত্তি স্থাপন করিয়াছিলে। * ইহারা অনেকেই সচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত যুবক; বিবাহ রিয় সমাজে থাকিলে সহস্থের সংখ্যা বাড়িত, ইহাতে ক্রমশ গণভূত হিন্দু সমাজের ও লাভ ইত।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট-গ। দেখাইয়া দিবে। চন্দ্রদত্ত বাবু বলিয়াছেন-“নদীয়ার প্রেমবার একবার ছেড়া পুথির উপর ঘা দিয়াছিলেন। তাহাতে আঘবন চণ্ডাল উন্নত হইয়াছে। এই “ছেড়া পুর্থ” অর্থ অবশ্যই শাস্ত্র গ্রন্থ—এবং এইরূপ উক্তি বামীজির সাধু অনুকরণ সন্দেহ নাই-সাধে কি পণ্ডিত বিদ্যাবিনােদ মহাশয় বিবেকানন্দের প্রতি বিরাগন ? প্রীমন্মহাপ্রভু শাস্ত্রের উপর আঘাত দেওয়া দুরে থাকুক তিনি স্বয়ং অগাধ শাত্মবেত্তা ছিলেন ; তাহার শিক্ষানুসারে রূপসনাতন প্রভূ ৩•গােম্বামিগণ বহু সংস্কৃত গ্রন্থ লিথিয়। শাস্বার্থ বিচার করিয়া গিয়াছেন। এমনকি চৈতন্যচরিতামৃত প্রভূ ও বাঙ্গালা গ্রন্থেও পদে পদে শাস্ত্রে বচন উদ্ধারপূৰ্ব্বক ও বিচার আছে। বর্তমানে যাহারা বৈষ্ণব সমাজের অগ্রণী সেইসব প্রভুপাদগণও এক একজন প্রভুত শাস্বজ্ঞান সম্পন্ন। ইদানীং গণমেন্টের সংস্কৃত পরীক্ষায় বৈষ্ণবৰ্শনশাস্ত্রেরও মর্যাদা লাভ হয়াছে। ফলতঃ যাহারা এযুগেও ওম্মসংস্কারক বলিয়া প্রখ্যাত (যেমন রাজা রামমোহন রায়, স্বামী দয়ানন্দ প্রাঃ) তাহারাও শাস্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করিয়াছেন-শাকে ভিত্তি করিয়া নূতন ব্যাখ্যা দিয়াছেন। তবে কেশব চন্দ্র সেন (যিনি সংস্কৃত শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন না। হতেই শামৰ্যাদার লােপ হইয়াছে-ফলও তেমনি হইয়াছে-ব্রাহ্মসমাজ কিছুদিন বেশ লম কাল হইয়াছিল—এখন নিষ্প ত প্রায়। আমাজ ব্রাহ্মসমাজেরই মেয়র ছিলেন—তিনি ঐ ধারাই ধারমাছিলেন। ভূত দেখিয়া যদি ভবিষ্যৎ বিচার করিতে হয়, তবে পরিণাম কি হইবে তদীয় সম্প্রদায় বুঝা উন। ও ইতােমধ্যেই পতেছি অনাথ আতুরদের আত্মীয় স্বজন কেহ কেহ নাকি উহাদিগকে রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে পৌছাইয়া দিতেছে। ঐ সকল নিরুপায় ব্যক্তিকে জীবনের এই চমকাতে আজ পােধিত সংস্কার (অগ্রহ স্পশ্যাম্প বিচার) সেবাশ্রমে গিয়া পরিত্যাগ করিতে হইতেছে। * পরমহংসদেব সংস্কৃতজ্ঞ ছিলেন না তিনি গুরুমুখ ও সাধুসঙ্গে শাম শিক্ষা করিয়াছিলেন, তঁাহার একটা সম্প্রদায়” হউক' এমনটা যেন তাহার অভিপ্রত ছিল না-প্রকৃত পক্ষে ইহা স্বামী বিবেকানন্দেই প্রবর্তিত। তথাপি পরমহংসদেব এ (এবং অবজার) বলিয়া-ইহা হায় বায়’ রূপেই প্রায় কথিত হইয়া থাকে।

MOTYLU LIBANAT
খ গ ‘ফ আষা বই তনয়াছি ও শুনিতেছি;
( দিন ভিড়। ভিয়ে না । কথা যিনি বলিবেন, তার
* * পূর্বে বুভিমান ব্যক্তি দেখিকেন তার মিত্র ও
কলি কৰাৰ এই নি। এই এই সম্প্রদায় প্রবর্তক
গীজির কাৰে। ও কখা, অনুষ্ঠানে ও উপদেশে সামঞ্জ কতদুর তাহা
পলার বি-বিদ্যাবিনােদ যায় তাহা করিযাছেন—এই
লে মিশায়ে রিয়াছেন। যদি গলদ থাকে তাহা খাটিতে
বেদ- প্রদায় ব্যাক্তিগণের উচিত সব যথাসম্ভব দূর করা,
সমালােচককে গালি শত্ৰ দিয়া কোনও লাভ নাই। “চালাকি আর
ফেনও অং কার্য না’-প্রেম, সত্যানুরাগ ও মহাকাব্যের
সহায়তায় কাল কার্য সম্পন্ন হয় এই উপদেশ দেওয়া ৰা খ্যাপন
করা খুবই লজ-কি কাজের বেলায় কি দেখিতে পাই দেখি
আগাগােড়া চালাকি (বথা চূড়ামৰি মতার নিকটে পয়ংসদেবো
নিয়োজোয়ােকি ছলনা খাত্ৰ এপ); দেখিপ্রেমের
পরিবর্তে গণি, দেন বিচাৰিনাে মহাশয়ের উপর বৰিত ইয়াছে);
সে লাগেৰু পরিবর্তে অত্যুক্তিবাদ ও অপ্রমাণিত কথা (যথা
জিৰ বিৰোনি-এবং চামণি মহাশয় কতৃক পরমংসদেশের
চরণ বলে খায়ণ ত্যাদি); এবং দেখি প্রাণীৰে পৰিৰ্কে
গনি ও আদ্রতা। যেমন প্রতিবাদ প্রবন্ধের ‘টোন ও বিদ্যাবিনােল
হয় নি তুঙ্গার )
উবারে মর্মা মাশয়ের এই দীনের ফিশীত নিলেন এই
সে হয় এ যে চায় এবং লেজারে উনো ,
শোয় তিনি সুশি; ভাষাকে সরল, শফিক
এই ঐ এ লেখকো তো কে ছিলি গল করুন।
ps, 1902.

হিতবাক বলেন আলােচনা চতুষ্টয় শ্ৰীযুক্ত পক্ষন ভট্টাচাৰ্য্য বিদ্যাবিনােক এম, এ মহােষ প্রণীত। এই গ্রন্থখানি .. কাশ্মীমের ব্রাহ্মণ সভা হইতে প্রকাশিত সমাহিত গ্রন্থমালার প্রমে পুকু। আলোচনাচতুষ্টয়ে ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের লিখিত চাৰি প্রবন্ধ গৃহীত হইয়াছে। প্রথম প্রবন্ধে কবি রবীনাথের রবীন্দ্রনাথের “চোখের বা ও “ঘরে বাইরে”, দ্বিতীয় প্রবন্ধে প্রসিদ্ধ নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের 'গীহ। তৃতীয় প্রবন্ধে শিবনাথ শাস্ত্রীর“আত্মচরিত” ও চতুর্থ প্রবন্ধে যােগীন্দ্রনাথ বু” পূখীরাজ : শিবাজী" গ্রন্থের স্থানবিশেষের আলােচনা করা হইয়াছে। প্রবন্ধ চাৰিটা সমালােচনা হইলেও ইহাতে হিন্দু সমাজের ও এই সমাজে চিপ্রচলিত আর্য সভ্যতার মর্ম কথা ব্যক্ত করা হইয়াছে। . আমরা হিল মাকেই বিশেষতঃ ইংৰাজীশিক্ষিত কলেজের ছাত্র সম্প্রদায়কে এই আলােচনা চতুষ্টয় পাঠ করিতে অনুরােধ করি। কালভাবে হিন্দু সমাজ-লে যে বিষ সঞ্চারিত হইয়া সমাজদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পঙ্গু করিবার চেষ্টা করিতেছে, এই পুস্তকে অভি চিকিৎসকের ব্যয় ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় তাহা সুস্পষ্টপ প্রদর্শন করিয়া তাহার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়াছে, ভট্টাচাৰ্য মহাশয় স্পষ্টবাদী তেজৰীব্ৰাহ্মণ । ' ত্রিনিনিজে নৈত্নিক হিন্দু হিন্দুসমাজের উন্নতির জন্য তিনি যেরুপ ভাঁয়ে চেষ্টা করিতেছেন, তাই প্রকৃষ্ট “উন্নতির চেয়া1.সেই চেষ্ট্র এই পুস্তকে পূর্ণভাবে আত্মপ্রকাশ করিয়াছে এই পু কের বহুল প্রচারে দেশের ও সমাজের উন্নতিইবে ইহাইকাদের দৃঢ় বিশ্বাস নায়ক বলেন—মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত পদ্মনাথ ভট্টাচার্য, মহাশয়ে আলােচনা চটয়ামৰু পুৰু আমরা পড়িয়া দেখিলাম। আলােচনা ভাল হইয়াছে আছে। বীন্দ্রনাথের চোখের মলি’ ‘য়রে বইয়ে এবং দ্বিজেন্দ্রলাতেই আলোচনা গ্রন্থকার যেরূপ নির্ভীকভ করিয়াছেন, তাহাতে হসৎ সাহিকে প্রশংসা না করিয়া থাকা যায় না। ইহাদের দোষ বা ত্রুটিকে দোষ-ত্রুটি লাদেশে অনেকেই নাই। এরূপ ক্ষেত্নে পণ্ডিত মহাশয় সত্য কথা খল অনেকে জুনি-চক্ষু রে খুলিয়া দিবার চেষ্টা ৰুৱয়াছেন তাহা অস্বীকার কৰিয় নাই। এই বেনার আত্মচরিত পুস্তকের যে আর না হইয়াছে তাহাও পাণ্ডিত্য ওস্পাদিতার পরিচায়ক। পুস্তকখান্তির নগুণ এই যে, ভিৰি হিজাদর্শকে সমুখ রাখিয়া তাঁহার বক্তব্য পরি; করিয়াছেন। আশাকরি,' হিমা হার গ্রন্থের আদিৰ কৰিবৈ!.

No text on this page.

No text on this page.

Ramkrishna Vivekananda Prashanga

Author
Bhattacharya, Padmanath
Title
Ramkrishna Vivekananda Prashanga
File name
Ramkrishna Vivekananda Prashanga
Text
OCR done
Citation
1924
Published
2010/04/1
Publisher
Kashidham Bramhan Sabha,varanasi
Language
Sanskrit
Pages
178
Library
Majhu Public Library, Howrah
Classification
Modern Spiritual Movements
Keywords
Hinduism
DLI number
511312
Barcode
4990010018472.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
b2oZ1fqgDmu
Download PDF

Ramkrishna Vivekananda Prashanga