Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah

Shudrer Puja O Bedadhikar

Bhattacharya,digindranarayan · 2010/05/4

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শুল্পে পুঙ্গা ও বোপিকা
মুঢ় ম্লান মুফ মুখে দিতে হবে ভাষা ,
এই সব শ্রাগুক ভগ্নবুকে ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা”--
বীন্দ্রনাথ।
অধ্যাপক
বনমালী বেদান্ততীর্থ, এম-এ,
মহােদয় কর্তৃক ভূমিক। খিত।
*জাতিভেদ” “চতুৰ্বর্ণ বিভাগ”, “জলচল
ও স্পর্শদোষ-বিচার” প্রভৃতি প্রণেতা-
দিগিন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচাৰ্য বিদ্যাভূষণ
প্রণীত ও প্রকাশিত।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
(মুল্য ১, এক টাকা ।

No text on this page.

ভূমিকা এই গ্রন্থের ৪৮ পৃষ্ঠা হইতে আরম্ভ করিয়া শেষ পর্যন্ত হিন্দুর প্রকৃত ধৰ্ম্ম কি এবং তাহাতে শূদ্রের কতটা শাস্ত্র-সঙ্গত অধিকার আছে, তা প্রদর্শিত হইয়াছে। পাঠক এই অংশ প্রথমে পাঠ করিবেন। দেখিবেন, হিন্দুশাস্ত্রে অত্যুদার মতের অসদ্ভাব নাই। ইহাই প্রকৃত হিন্দুশাস্ত্র। ইহাকে অবলম্বন করিয়া, বহুতর অনুদার ব্যবহার ও পুরাকালােচিত ব্যবস্থা, হিন্দুর শাস্ত্র গ্রন্থে ঢুকিয়া গিয়াছে। এই সকল অংশ ধৰ্ম্ম প্রতিপাদক নহে, ইহারা ব্যবহার শাস্ত্র মাত্র। এই সকলে শূদ্রাদির বহুতর নিন্দা আছে। সাধারণ লোকে মনুসংহিতা, মহাভারত প্রভৃতি গ্রন্থের এই দুই অংশকে পৃথক্ করিতে না পাবিয়া মনে করেন যে, হিন্দু ধম্মই শূদ্রকে লগ্রাম পূজা এবং বেদপাঠে অধিকার দেন নাই । আজকাল বঙ্গদেশে যাহারা শুদ্র বলিয়া পরিচিত, তাহাদের অনেকেই, প্রকৃতপক্ষে, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য বর্ণের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তাহাদের দেব- পূজাদিতে অধিকার গোঁড়া হিন্দুদের ও অননুমোদিত হইবার কারণ নাই । নিম্ন শ্রেণীর লােকদিগকে বড় অর্থাৎ দ্বিজ করিতে হইলে উহাদেব জন্য সুশিক্ষার সুবন্দোবস্ত চাই। উহাদিগকে কেবল লেখাপড়া শিখাহলে অনৰ্থ ৰাড়িবে বই কমিবে না , উহারাও কেরানী হইয়া, অসংখই চিতে, রুগ্ন শরীরে, সমাজের বক্ষে নূতন ব্ৰণ রূপে বিরাজ করিবে। মনে রাখিতে হইবে যে, কি ভদ্র কি অভদ্র সকলেরই শারীরিক পরিশ্রম করিয়া জীবিকা অর্জন করা ভগবানের নিয়ম। জমীদার উকিল হাকিম ডাকার ব্যবসায়ী প্রভৃতি সমৃদ্ধগণের পুত্রদেরও রান্ধাবাড়, ঘরামির কাজ, চুতরের কা • মাটিকাটা, কাঠ-ফাড়া, কোদলান প্রভৃতি অভ্যাস করা উচিত। উহাতে শরীর ভাল থাকিবে, মন সতেজ হইলে। আকস্মিক বিপদে এই অভ্যাস পরম সুহৃদের কাজ করিবে। দেশে যে সকল সরকারি ও বেসরকারি পুরাতন বিদ্যালয় আছে, তাহাতে এইরুপ “গা খাটানর রীতি প্রবর্তন করা কষ্টসাধ্য কিন্তু অন্ত্যস্বর্ণদিগের জন্য দেশ-প্রেমিকেরা যে সকল নূতন বিদ্যালয় খুলিতেছেন, তাহাতে প্রথম হইতেই এই মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করা অসম্ভব নহে। বিশেষ ৩, ব্রাহ্মণাদি জাতীয় শিক্ষকগণ যদি প্রেমপূর্ণ হৃদয়ে, অন্ত্যজ বালকদিগের সঙ্গে সঙ্গে, হাতে কলমে, পরিশ্রমের কাজ করেন, তাহা হই8ে, ঐ সকল বালকে উৎসাহ দ্বিগুণ বাড়িয়া যাইবে এবং তাহাদের আত্মসম্মান উদ্বুদ্ধ হইবে। স্কুল গৃহের নির্মাণ ও সংস্কার ছাত্র শিক্ষকে একত্র হইয়া সম্পাদন করিবেন, একত্রে গােপালন করিবেন। স্কুণে মক্ক, ইতিহাস, ভূগােল, ও মহাপুরুষদিনের চরিত অধ্যাপিত হইবে । স্কুলে লাইব্রেরী, ম্যাপ, এটলাস, গােলক থাকিবে ; খন্তা, কুড়াল, কোদাল, দা, করাত, বাটুণ, হার থাকিবে । ছাত্র ও শিক্ষকদের কৃত কৃষি ও শিল্প ৪... ঐ লব্ধ অর্থে কুরে উন্নতি হইবে। এইরুপ শিক্ষার কনা। ও ২২:, অস্ত)জেরা ক্রমে দ্বিজ হইয়া বেদপাঠে যথার্থ অধিকারী হই. "...ব। তুবা সামাজিকেরা মুখে অধিকার দিলেও সে অধিকারের হে সদ্বার কবে না। যখন বৈদিক ভাষা + থ , তখন স্ত্রী শূদ্রে বেদ পড়িতে, এমন কি, মন্ত্রাদি রচিতেও পারিতেন (১০৯-১১১ পৃ)। বহু শতাব্দী পরে, ঐ বৈদিক ভাষা অচল হইয়া দাড়াইল । তখন ব্রাহ্মণেরা, বহুতর পরিশ্রম করিয়া, প্রাচীন বৈদিক ভাষা আয়ত্ত করিতেন। আর তখনই দয়ালু ঋষিগণ সাধারণ লােকের জন্য, লৌকিক সংস্কৃতে মহাভারত, রামায়ণ, স্মৃতি, পুরাণ রচনা করিলেন। এই সকল গ্রন্থে বেদের সার উপদেশ সকল নিবদ্ধ হইয়াছে। ইহা পড়িলে, বেদের সার কথা কিছুই অজানা থাকে না। এই যুগে স্ত্রী শুদ্রে বেদ পড়া ছাড়িয়া দিলেন। কিছুকাল পরে, সমাজের অনুদাৰ মূঢ়চিত্ত নেতারা বলিলেন, স্ত্রী শূদ্রের বেদ পড়িলে পাপ হইবে। এটা ধৰ্ম্মশাস্ত্র নহে। এটা ব্যবহার শাস্ত্র। পরে যখন লৌকিক সংস্কৃতও সাধারণের অবােধ্য হইল, যখন সাধারণ স্ত্রী শূদ্রের নিজেই পুরাণাদি পাঠ ছাড়িয়া দিলেন, তখন আবার কতকগুলি অবুঝ লােকে রব তুলিল, স্ত্রী শূদ্রে গীতা চণ্ডী প্রভৃতিও পড়িতে পারেন না। এটাও শাস্ত্র নহে। অবশ্য অনুষ্ঠুভ, ছন্দোবদ্ধ হইয়া এ সমস্ত অশাস্ত্রীয় কথা শাস্ত্র গ্রন্থে প্রবেশ লাভ করিয়াছে। কিন্তু সংস্কৃত বাক্য মাত্রই শাস্ত্র নহে। সকল দেশেই সাবমার্জড়, ক্লাস্ ( Submerged class } আছে এবং সব দেশের সাবমার্জড, ক্লাসই লেখা পড়ায় বঞ্চিত। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমে অন্যান্য দেশে তঁাহার। লেখাপড়া শিখিবার সুযােগ পাইয়াছেন। আর আমাদের মৃত প্রায় সমাজে, আমরা নিশ্চিন্ত হইয়া বসিয়া আছি। বর্তমান গ্রন্থ পড়িয়া হয়ত কাহারও কাহারও চৈত লাভ হইবে । . গৌহাটা কলেজ। ১ই আশ্বিন ১৩২২ বনমালী চক্রবর্তী।

প্রথম সংস্করণের নিবেদন। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটী লােকের প্রাণের ঐকান্তিক আণর্বাদ এবং মুষ্টিমেয় ব্যক্তির অভিসম্পাৎ লইয়া-শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার প্রকাশিত হইল। শতকরা ৯৭ জন লােককে স্ত্রী শূদ্র” বলিয়া কল্পিত নামে অভিহিত করত দেবালয়ের মন্দির ও বেদ নামক জ্ঞান ভাণ্ডার হইতে স্মরণাতীত কাল হইতে বঞ্চিত করিয়া আসা হইয়াছে এবং হই- তেছে। এই সকল ঘৃণিত,বৈষম্য ও ভেদ বুদ্ধির মুল অনুসন্ধান করিতে যাইয়া যাহা পাইয়াছি—তাহাই লইয়া বঙ্গদেশীয় ভ্রাতৃবৃন্দের দরদেশে উপস্থিত হইলাম। কোনরূপ নীচ স্বার্থ প্রণােদিত হইয়া এ কাৰ্যে ব্রতী হই নাই,-সমাজের সেবা ও কল্যাণ সাধনা করার উদ্দেশ্যেই ইহার প্রণয়ন ও প্রচার। কে কষ্ট হইবেন বা কে তুষ্ট হইবেন, ইহা ভাবিলে আর পুস্তক প্রকাশ করা চলেনা। দেশের হিত , সমাজের কল্যাণেদ্দেশ্যে কাজ করিতে চেষ্টা করা বা দেশের সেবা করা কাহারও একচেটিয়া কাৰ্য্য হইতে পারে না। আপামৰ সকবেই ইহাতে সমান অধিকার। এখানে উচ্চমীচ, ব্রাহ্মণ শূদ্র, পণ্ডিত মুখ, যাে'। অযােগ্য, সকলেরই অবারিত দ্বার। আমি ক্ষুদ্রশক্তি—নগণ্য হইলেও, মাতৃভূমির সন্তান ; কাষ্ঠ বিড়ালীর কাৰ্যে আমার নিশ্চিতই অধিকার আছে। সমাজের এই দুর্দিনে এই পুস্তক লিখিত বিষয় সম্বন্ধে সমাজেব মনস্বীবর্গ একটু ধীর ভাবে চিন্তা করিবেন, তার পর যাহা হয় কোটীকল্পকুম্ভিপাক বা গৌরবের ব্যবস্থা করিবেন। সে জন্য আমার অনুমাত্র ভয় বা দুঃখ নাই। জাতি ভেদের তীব্র কষাঘাতে দেশবাসীর সারা পাইয়াছি। তীব্রভাষা তীক্ষ্ণ ছুরিকা প্রয়োগ ভিন্ন সমাজের বহু শতাব্দী-সঞ্চিত ও সঞ্চারিত নালিঘার দোষ বিনষ্ট হইবার নহে। রােগ ক্ষণিক যন্ত্রণা ও বিষাদমাখা দুঃখ সন্তাপ সমলিন মুখের দিকে তাকাইয়া কোনও বিজ্ঞ সুহৃৎ ও চিকিৎ- সক নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না। অস্ত্র প্রয়ােগ ব্যতীত সমাজের ক্লে পুজ ফরক্ত মালিন্য দূৰ হইবার নহে। তাই ইহার ভাষাও মধুর করিতে পারি নাই। পাঠকগণ, উদ্যেশ্য উপলব্ধি করিয়া লেখককে তা মার্জনা করিবেন । যাহাদের লেখনী হইতে আমি এ পুস্তক প্রণয়নে সাহায্য লাভ করিয়াছি, তাঁহাদের প্রতি হৃদয়ের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করিতেছি। এই পুস্তক প্রচারে একটী ভাইএরও যদি শুদ্রেয় পূজা ও বোধিকার সন্ধে ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার দুর হয় এবং একটা ভগবৎসঙ্কানও যদি শাল গ্ৰামাদি শ্রীবিগ্রহ পূজার ও বৈদিক ক্রিয়াকর্মে সপ্রণব মন্ত্র উচ্চারণ করিতে সাহসী হন, শুনিতে পাই, তবেই আমার জাতীয়গণ প্রদত্ত কালাপাহাড় উপাধি, অর্থ ব্যয় ও পবিশ্রম সার্থক হইবে মনে করিব। প্রুফ, দেখার দোষে অনেক বর্ণাশুদ্ধি ব্যাকরণ দোষ ও ভ্ৰম প্রম ঘটিয়া গিয়াছে। সহৃদয় পাঠকগণ কৃপাপূর্বক সে দিকে দৃষ্টি না দিয়া বক্তব্য বিষয় সম্বন্ধে মনােযােগী হইবেন। পাঠকগণের মধ্যে যাহাদের এ পুস্তক ভাল লাগিবে, তাহারা কৃপা পূর্বক আপন আপন বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনগণের মধ্যে ইহার বহুল প্রচাবে মনােযােগী হইয়া লেখকের উদেহ সাধনে যত্নবান হইবেল এবং তাহাদিগকে নিজ নিজ অভিমত লিখিয়া লেখককে পরবর্তী পুস্তক গুলির প্রচারে উৎসাহিত ও বাধিত কৰিবেন। কিমপিকমিতি। পােঃ-সিরাজগঞ্জ গ্রাম-কাওয়াকোলা ঐশ্রীবংশীবদন কালার্টাদের শ্রীঅঙ্গন বৈশাখ-১৩২২ বিনয়াবনত- ঐদিগিন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য দ্বিতীয় সংস্করণের নিবেদন। ভগবানের কৃপায় পরিবর্ধিত আকারে ‘শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার প্রকাশিত হইল। তিন বৎসর হইল ১ম সংস্করণের সমুদয় পুস্তক নিঃশে- বিত হইয়া যাওয়া সত্বেও অর্থাভাবে ২য় সংস্করণ মুদ্রিত কক্সিতে পারি নাই। ২য় সংস্করণে পুস্তকের কলেবব পরিবর্ধিত করার জন্য মূল্যও দ্বিগুণ বর্ধিত করিতে বাধ্য হইলাম। ভরসা করি প্রথম সংস্করণের স্যায় দ্বিতীয় সংস্করণের পুস্তকও পাঠক বর্গের তৃপ্তি বিধানে সমর্থ হইবে। দিগের ভাল লাগিবে—তাহাদিগকে ইহার বহুল প্রচারে সহায়তা করিতে অনুরােধ করিয়া এ পুস্তকের মুদ্রণ বায়ও ঋণের টাকায় নির্বাহ ২য় সংস্করণের মুদ্রণেও অনেক ভুল ভ্রান্তি থাকিয়া গেল, পাঠকাণ সে দিকে লক্ষ না করিয়া মূল বক্তব্য বিষয়েব দিকে দৃষ্টি দিবেন—ইহাই অনুরােধ। স্থানাভাবে এবাবও প্রাণ ভরিয়া প্রাণের কথা বলিতে পারিলাম না; ভগবৎ পায় তৃতীয় সংস্কৰণ বুদ্রিত করিবার প্রয়ােজন হইলে ৰিস্কৃত ভাবে সমুদয় বলিবার ইচ্ছা বহিল। যে সমস্ত হিতৈষী বন্ধুবর্গের উৎসাহ, যত্ন, চেষ্টা ও সহায়তায় পুস্তক প্রকাশিত হইল তাহাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি । ঐদিগিন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য। সিরাজগ; শাবণ ১৩)।

শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার। অবতরণিকা। “শষ বিখে অমৃতস্য পুত্ৰা” হে শূদুরূপ মনঃ কল্পিত অখ্যায় অভিহিত অমৃ’র পুত্রগণ, স্বর্গচুত দেবনন্দনগণ, দিব্যামবাসী জ্যোতির তনয় , কন্যাগণ, তােমরা শ্রবণ কর, উঠ জাগ্রত হও। কুম্ভকর্ণের মত কতকাল আব তােমরা আপনার স্ব-স্বরূপ ভুলিয়া মােহ নিদ্রায়,-মুখ ও অনিতার ঘােৰ আলস্যে অচেতন খাবে ? একবার চক্ষু ইমীন কবিয়া দেখ, জগবে কি মহাপরির্তন, কি বিচিত্র জাগরণের সঞ্চার কইয়াছে। উনবিংশ শতাব্দী জগতৰ সমুদয় আলস্য, জড়তা, নৈরা, মোহ, অজ্ঞতা, কুসংস্কার, ক্লীবতা, বাপুৰুণতা, ভয়, ওব লইয়া অপহৃত হইয় ছে। অমানিশাব সুদীর্ঘ ৰজনীর অবসান ইযাছে। নবযুগে যু বার্তা লইয়া, নবীন প্রাণস্পন্দন ও হুয়া, নুন সঞ্জীবনী শক্তি লইয, শি শতাব্দীর কুপ্রভাত আগমন কবিয়াছে। ইহাকে সাদরে সদয় মনি ব বরণ করিয়া লও। জাগবণের নব-সূৰ্য্য বিগত শতাব্দীর তিমিববি" ভেদ পূৰ্ব্বক প্রকাশমান হইয়াছেন। তাহার স্বর্ণকবােল সমুদয় এত আলোকিত হইয়া উঠিয়াছে। ককণ্ঠ বিহঙ্গকুলের মঙ্গল মধুর কাকী ধ্বনিতে, গিরিনিন্দিনী স্রোতস্বিনী তটিনীর কুলু কুল নাদে মৃঃমামাকত হিল্লোলে, সমুদ্র কল্লোলেব-জাগবণের উচ্চ-কোলাহল সমুখিত হইয়াছে- কিন্তু তুমি শূদ্র কি এখনও তাবিজড়িত নেত্রে কালশথায় মোহ যু ঘােরে অচেতনই থাকিবে। প্রাজাতিক সঙ্গীত এখনও কি যেন অবতরণিকা শ্রবণ যুগলে পঁহুছিবে না? বিশ্বপিতা ভগবানের প্রেমের আহ্বান, অেহ- বিজড়িত “উঠ জাগ” ধ্বনি এখনও তােমার প্রতিমূলে প্রবেশ করিবে না ? উষার আলােক সারা বিশ্ব আলোকিত করিয়াছে, সরােবরে মুদ্রিত নলিনী চক্ষু মেলিয়াছে, অরণ্যে বিবিধ প্রকার মধুপুষ্প প্রস্ফুটিত হইয়াছে। সকলেই জাগ্রত হইয়াছে, উখিত হইয়াছে, আর তুমি ? তুমি শুধু সুষুপ্তির ক্রোড়ে এখনও অচেতন ! সকলেই জাগিয়াছে, সকলেই উখিত হইয়াছে, সকলেই আপন আপন সমাজের উন্নতি সাধনে প্রাণপণে প্রবৃত্ত হইযাছে। কিন্তু তােমার অশস্য জড়তা ৩া নি। এখনও ভাঙ্গিল না। তােমার উত্থানের সময় এখনও হইল না। অথবা তুমি কি ব্রাহ্মণাদি অভিজাতবর্গের স্বভাবসুলভ বৃথা আস্ফালনে, কুটী-সঞ্চালনে ভীত হইয়া পড়িয়াছ । ব্রাহ্মণগণের বিশ্বাসী অভিসম্পাতের ভয়ে, কলির দেবতার ক্রোধ ও বিরাগ উৎপাদনের ভযে, পরলােকে অনন্ত নরকের ভীতি বাকে, কিম্বা “আশ নাই” জাগিয়ও কোন ফললাভ করিতে পারিবে না” মনে করিয়া তুমি কি হতাশ প্রাণে নিমীলিত নয়নে আপনি আপনার মৃত্যুশয্যা রচনা করিয়া শুরা অছি? ঐ যে কায়স্থ উপৰীত ত্যাগ করিয়া প্রায়শ্চিত্ত পূর্বক ব্রাহ্মণ সমাজের শরণাপন্ন হইল, ঐ যে বারেন্দ্র সাহা বৈশ্য হইতে যাইযা ধনে প্রাণে বিনষ্ট হইল, সমস্ত জাতির সমক্ষে হাস্যম্পদ হইয়া পড়ি দেথিয়া তুমি কি শরীর ছাড়িয়া দিয়াছ ? আর কিছুতেই সামাজিক অ ক র ল'ভের আশা নাই, শব্দ পবিহারের সম্ভাবনা নাই, দ্বিধলাভের ভরসা নাই, মনে করিয়া সত্যই কি তুমি হাল ছাড়িয়া দিয়া ? ( সর্বশাধার হিন্দু সমাজের অজ্ঞাত, পরন্তু অবজাত মেরুদণ্ড শূদ্ৰজাতি, আমরা যে তােমার শক্তি সামর্থ্য বল বিক্রম তেজঃ বীৰ্য্য প্রভাব ধৈর্য্য লরূপেই বিদিত আছি। হে হিরণ্যগর্ভ বিরাট পুরুষ ! “তােমাব দ্রের পূজা ও বোধিকার যন্ত উঙ্গোলনে আকাশের গ্রহ নক্ষত্র কক্ষ পরিভ্রষ্ট, পদপৰিচালনে ভূ- কম্পন ও বাহু প্রসারণে ত্রিদিবা হাহাকার উপস্থিত হয়। আমরা জানি, তুমিই বেদান্তের ব্ৰহ্ম, সর্বশক্তিমান অখণ্ড অদ্বৈত পুরুষ মর্ত্যভূমে লীলাচ্ছলে জীবদেহ, মানবমুর্তি ধারণ করিয়া আসিয়াছ। কে বলে তােমরা শুদ্র, হীন নীচ অজ্ঞাত, কে বলে তােমরা অপবিত্র অস্পৃশ্য বেদ- বিদ্যা ব্রহ্মবিদ্যায় অধিকারী, কে বলে তােমরা ব্রাহ্মণ-সেবক, দাস, ঘৃণিত। ঐ যে আমার বেদান্ত বলিতেছেন—“তােমার মধ্যে সকল জ্ঞান সকল শক্তি, পূর্ণ পবিত্রতা পরিপূর্ণ ভাবে বিদ্যমান, তােমার মধ্যে সর্ববিধ আনন্দ সৰ্বব্যাপিত্ব শক্তি কল্পনাতীত ভাবে বর্তমান বহিয়াছে, তবে তুমি কেন বখা ভয়ে বিচলিত হও ? কস্তুরী-মৃগনাভির ন্যায় তুমি তােমার সৌরভ না জানিলেও আমরা তােমর সৌরভ, তােমার মূল্য বিলক্ষণই অবগত আছি। ভয় কি? তােমার যে জন্ম নাই, এরা নাই, ব্যাধি নাই, মৃত্যু নাই, তােমাকে যে তরবারি ছেদ করিতে পারে না,"আমি খ করিতে পারে না, বায়ু অঞ্চ করিতে পারে না, জল গলাইতে পারে না। তুমি যে অনাদি অনন্ত জন্ম কৰ্ম্ম রহিত অচল, অটল, অস্পর্শ, সর্বজ্ঞ ও সৰ্ব্ব শক্তিমান।* তুমি যে অমৃতের সন্তান, অমৃতের অধিকারী। উঠ জাগ, ক-প্রাঙ্গণে প্রকৃত মনুষ্যরূপে অবতীর্ণ হও। উঠ শুদ্র, একবার আত্মশক্তির বিকাশ ক, জীবাত্মান্ধ চৈতন্য সম্পাদন করিয়া ভীমৰলে সামাজিক দাসত্ব শৃঙ্খল ছিন্ন করিয়া ফেল। কেশরী সন্তান হইয়া মেষের ন্যায় অবস্থান করিতেছ কেন ? একটি গর্ভবতী সিংহী ছিল, একদা শিকার অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া সে দেখিতে পাই, একদল মেষ রহিয়াছে, সে তৎক্ষণাৎ সেই মেষদলের উপর ঝম্প দিয়া পড়িল, ঐ চেষ্টায় তাহাব দেহ ত্যাগ হইল ও একটা মাতৃহীন সিংহ শাক- অবতরণিকা জন্ম গ্রহণ করি। মেষদ ল ঐ সিহ শিশুর ক্ষণাবেক্ষণ ও লালন পালনের "ভাব ইল এবং মেষপ সহিত এক পরিবর্ধিত হই মেষগণের ন্যায় তৃণ গুল্ম লতা পাতা খাইয়া জীবন ধারণ করিতে ও মেষের ন্যায় চীংকাব করিতে লাগি। এইরূপে অনেকদিন অতিবাহিত হইবার র যদিও সে একটা রীতিমত সিংহ হইয়া দাড়াইল, তথাপি নিকে মেষ বসিয়া ভাবিতে লাগিল। কিছুদিন পর একদা আর একটি প্রকাণ্ড কার সিংহ শিকাব অন্বেষণে তথায় উপস্থিত হইয়া দেখিয়াই আশ্চর্য হই শ যে, ঐ মেষপালের মধ্যে একটা সিংহ মুক্তিযুছে এবং বিপদের সম্ভাবনা দেখিবা মাত্রই পলাইয়া যাইতেছে। সিংহটী উহার নিকটে যাইয়াও সে যে সিং, মেষ নহে, বুঝাইয়া দিবার চেষ্টা কবিল, কিন্তু যেই সে অগ্রসর ইতে লাগিল, অধান মেষদলের সঙ্গে সঙ্গে মেষ-সিংহ ও পালাইয়া গাইতে ছিল । সে দিন আর সে তাহাকে ধরিতে পারিল না, কিন্তু মেষ-সিংহটি কোথায় থাকে কি করে, স্নেহপরবশ হইয়া লক্ষ্য রাখিতে লাগিল। ঘটনা ক্রমে একদিন দেখি, সে এক জায়গায় শুইযা গুনাইতেছে। সিংহটা দেখিবামাত্র তাহার উপর সাফাইয়া পড়িল ও বলিল, তুমি মেষ নও-সিংহ। মেষ-সিংহটী চীৎকার করিয়া বলি, মামি মেষ, সিংহ নহি। সে কোন বিশ্বাস করে না যে সে সিং, বর সে মেষের ন্যায় চিৎকার করিতে লাগিল। সিংহ তাহাকে টানিয়া লইয়া একটা জলাশয়ের ধারে গমন করিয়া বলিল, এই ..খ তােমার প্রতিবিম্ব, এই দেখ আমার প্রতিবি”। তখন সে এই দুইটীর সহিত তুলনা করিয়া একবার নিজের ও এক বার সিংহের প্রতিবিম্বের দিকে চাহিয়া দেখিতে লাগিল এবং মুহুর্ত মধ্যে তাহার এই ধারণা লিল যে মামিলি। তখন সে সিংহগৰ্জন করিতে লাগিল; তাহার 'মেষৰৎ ভিতরে। শূদ্রর পূ ও বেদাধিকার fংকার কোথায় চলিয়া গেল। তাই বলিতেছিলাম, তােমরা বিশে নিজকে মেষ জালিয়া পড়িয়া আছি, নিজেকে বড় দুঝ মনে করিয়া কষ্ট পাইতেছ, কিন্তু তোমরা মেষ নহ-সিংহ স্বৰূপ-তোমরা, আত্মা শুদ্ধ স্বরূপ অনন্ত শক্তিধর ও পূর্ণ। জগতের মহাশক্তি (তামাদের হে ৰীর, কেন বােন কবি তছ? তুমি যেন মৃত্যুর অতীত, তােমাৰ দুঃখ কষ্ট কিছুই নাই। তুমি অনন্ত আকাশ স্বরূপ, শ্বেত কৃষ্ণ ধুসর পীও নীল লােহিত নানাৰৰ্ণের মেঘ উহার উপর আসিতেছেমুক্ত মা খেলা কবিয়া আবার কোথায় অন্তর্হিত হইতেছে, কিন্তু আল শ যে নীলণ, সেই নীলবর্ণ ই বুয়াছে । উহার আর পরিবর্তন না অ'তার কৃষ্ণমেঘ অপাৰত কৰু, জ্ঞানসূৰ্য্য আপনা আপনিই প্রশি হয় পাড়ব। তুমি (ষ জ্ঞানৰ্য, কে তােমক আবৃত করিয়া এ{খ ত সম? দিবাৰ আশা প্রকাশ কব, দুব্বলতা কুটিক। তিমিব মুংওঁ মধ্যে অদৃশ্য হয়া যাবে। নাগ্নি জ্বালাইয়া দাও, (স আগুনে ভীত, তা কাপুরুষতা ক্লীবতা মূর্খতা হীনতা প্রভৃতি পুডিয়া ছাই হইয়া যাও । অন্ধকার, অন্ধকার বলিয়া চীৎকার কবিনে অন্ধকার দূরীভূত হবে না । জ্ঞানের দীপ জ্বালাইয়া দাও, সহস্র বৎসরের অন্ধকার গৃহ মুহুর্ত মধ্যে আলােকিত হইয়া উঠিবে। ভাবিয়া দেখ, বিদ্যা ও গ্লানে বঞ্চিত হইয়াই তোমার এদশা ঘটিয়াছে এবং এজন্য তােমবাই দোষী। ব্রাহ্মণগণ ঐহিক যাবতীয় সুখে জলাঞ্জলি দিয়া অনবনজাত ফল পত্র ও কায় কোন মাত্র সম্বল করিয়া ব্রহ্মচারী বেশে ঋষির আশ্রমে বেদ পাঠাখ গমন করিলেন, আর তুমি, তুমি শূদ্র লাগল লইয়া ব্যবসা বাণিজ্য বন লইয়া মত্ত হইয়া পড়িলে। ব্যবসা বাণিজ্য কৃষিকলের সঙ্গে সঙ্গে যদি বেদ বেদান্ত দর্শন বিজ্ঞানের … কবিত, তবে কি তোমাদের এ পেশা সম্প অতরণিকা সন্তান এমন শবের মত পড়িয়া আছ। তােমরা জাগিয়া উঠিয়া এক ব্ৰহ্মজ্যোতি বিদীর্ণ কর, সে জ্যোতির গিঞ্জেজ্জ্বিল কিরণে শূদ্র ও পশুঞ্জের খনাকার শূন্যে বিধীন হইয়া যাউক। উঠ উঠ বিবেকানন্দের আশা সান, ঐ যে তিনি স্বর্গ-লাক হইতে তােমাদের শক্তি সামর্থ্যের কথা দৈববাণীরূপে বলিতেছেন--“' »ing u, Oh lions, and shake off tho dulusin tint viu ale sleep, you are souls iuqmurtal, spiritu freo, best and trwal, ye are not matter, 1e are not lodins, mattor in your servant, not you the yer vaut of attr” এ শুন স্বাকি চৈঃস্বর গণৰ বলিতেছে-“Heal yechillen of u morlull liye are the children if God, the sharı - ut immortal bliss, holy and furioet loin, ye are divili , tt tai l” * * -সমাজে স্বীয় বীৰ্য্য প্রকাশ কর। সাহসে নয় 'পূণ '। এ ? . * বড। দিয়া উঠ, সাহসই পুণ, ঢুকলতাই পাপ। সর্বদা ১ চা , উচ্চ স্বর্ণের বিকট মুখ ভঙ্গী গ্রাহ্যর মধ্যে মামও না। “য় ৪ ঐতেই দুঃখ, ভয় ‘ইতেই মৃত্যু, ভয় হইতেই সর্বপ্রকার অবনতি আসিয়া খা?। আত্ম স্বরূপ উপলব্ধি করিতে চেষ্টা ** সাদয় “য় আপনা আপনি পাইয়া যাইবে উৰিষদ অধ্যয়ুন কর ও স্বায এতৃণকে হার মৃতসঞ্জীবনী বাণী শ্ৰৰণ কৰা ও, শাস্ত্র অধসন কব, ব্রাহ্মণশর সাখর উপর নির্ভর করিয়া নিশ্চিন্ত হইওনা । উহারা চিরকাল তোমাদিগকে ‘ঞ্চিত কবিয়া আসিয়াছে, নিজের অমৃত খাইয়া তােমাদিগকে হলাহল পরিবেষণ করিয়াছে। উহাদের কথায় বিশ্বাস করিও না, উহাদের কথায় কথায় অনন্ত নরকের ভীতি-বাক্যে বিচলিত হইও না , শুপকে সৰুবিধ মন্মােচিত অধিকার হইতে বঞ্চিত রাখাই । দ্রের পূজা ও বেদাধিকার উহাদের উঙ্গে। তােমরা বিধান হও, নুি শাস্ত্র মন করিয়া উহা হইতে অমৃত উত্তোলন পুৰ্ব্বক স্বজাতীয় ভ্রাতৃগণের মধ্যে বিতরণ করিয়া শও। তহারা নব জীবন লাভ করিলে, নূতন আলোকে হৃদয়-অন্ধকার কিরি করিবে । ব্রাহ্মণগণের অধিকারী অনধিকারীর বিচারের ব্যাখ্যা শুনি ও না। ওঁৰ ৰবে দিগুমণ্ডল প্রতিধ্বনিত করিষা তেল । উহার পাঞ্চজন্য- বাদে শুদ্র বিদ্বেষী ব্রাহ্মণগণের হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া যাক। স্বজাতীয়গণ নব বলে বলবান্ হইয়া উঠুক। ভয়শূন্য হও, যিনি বাজাব রাজা মহারাজা, তুমি তাহার সন্তান। তুমি সেই চিৎসিন্ধু ভই বানের অস্বরূপ। শুধু তাহাই নহে, বেদান্তব অদ্বৈতাদ মতে তুমিই স্বয়ং ব্ৰহ্ম, আপনার স্বরুভুলিয়া নিজকে ন প ক্ষ দ্র মানুষ ভাবিতেছ, নিজকে অবম শূদ্র তাবিতেছ। যে কই তােমাদিগকে শূদ্র বলিয়া, অধম অস্পীয় বেদবিদ্যায় অনধিকাৰী বলিয়া বুকাইতে আসিকে, সয়তানের দূত সৃষি উহাদিগকে তাড়াইয়া দাও। যে শাস্ত্ৰ তােমাদিকে হীন শূদ বলে, এই দণ্ডে ঘৃণার সহিত কানাশা ভীর জলে নিক্ষেপ কর। সর্ব প্রকার মনঃকল্পিত বিধি ব্যবস্থার শৃঙ্খল ছিন্ন করিয়া, বক্ষ স্ফীত করিয়া সমাজেব সম্মুখে দণ্ডায়মান হও। তােমব। প্রত্যেকেই সাহসী হও, সাহসীর নিকট শাস্ত্র ও সমাজ উভয়েই অবনত। দুর্বলের পীড়নের জন্যই হিন্দু শাস্ত্র আজিও জীবিত আছে। সাবধান ! আর দুর্বলতাকে আশ্রয় কবিও না. আর কোনরূপ সামাজিক দাস -পসরা মাথায় বহন করিও না। কোন কিছুতেই আপনাদিগকে হীন দুল অধম মনে করিও না। নিজেদের উপর প্রবল বিশ্বাস রাখ। কোন কিছুতেই ভীত বিচলিত হইও না। ‘আমাদের বিদ্যা নাই, বুদ্ধি নাই, শক্তি নাই, সামর্থ্য নাই প্রভৃতি হীন বাক্য কখনও মুখে আনিও না। বেদে অধিকাৰ নাই, বেদান্তে অধিকার নাই, মণিকা ধর্মে অধিকার নাই, কর্মে অধিকার নাই, পূজায় অধিকার নাই, অর্চনায় অধিকার নাই, ধনে অধিকার নাই, বিত্তে অধিকার নাই, প্রভুত্বে অধিকার নাই, সম্মানে অধিকার নাই, ইদি নাই, নাই বাক্যে যে একেবারে কুকুর বিড়াল হইয়া দাঁড়াইয়াছ। আর নাই ভাব মনেও স্থান দিও না। তবে নাই কথা যদিও নিতান্তই না ছাড়িতে পার, তাহা হইলে উহার সােড় ফিরাইয়া বল আমাদের ভয় নাই, উর নাই, ভাই-এ ভাই-এ হিলা নাই,দ্বেষ নাই,ব্যাধি নাই, শােক নাই, জন্ম নাই, মৃত্যু নাই, আমাদের উচ্চ নাই, নীচ নাই, পাপ নাই, প্রলোভন নাই, আমরা আত্মা স্বরূপ, আমরা ব্রহ্মস্বরূপ* বল বীৰ্যবান-সচ্চিদানন্দেহহং শিববাহহং শিৰােহহং । ডর ? কার ডর, কাদের ডর, তােমরা যে সকলে ব্ৰহ্মময়ীর সন্তান, তােমরা সব অমৃতের অধিকারী। আপনাতে বিশ্বাসী হও, আত্মশক্তিতে উদ্বুদ্ধ হও। বিশ্বাসে সাগর শুকায়, মরুভূ গলায়, বিশ্বাসে পাহাড় টলে, শিলা ভাসে, বিশ্বাসে স্ফটিকস্তম্ভে নৃসিংহ আবির্ভূত হয়, বিশ্বসে অসাধ্য সাধিত হয়, বিশ্বাসে মানুষ দেবত হয়। এই বিশ্বাস হারাইয়াই তােমাদের এ দুর্গতি। সহস্রকোটী দেবতাকে বিশ্বাস কর, তােমার কিছুই হইৰে না, যদি তোমার উহার সঙ্গে আত্মবিশ্বাস না থাকে। মানুষ আত্মবিশ্বাসের বলেই সকলের বরণীয় হয়। বিশ্বাস কর, তোমাদেরই ধৰ্মৰলে জীর্ণ অবসন্ন হিন্দু সমাজ আবার জাগিবে, আবার উঠিবে। পশু বলে নহে, আধ্যাত্ম শক্তিতে-সতের মহিমায়। তােমরা প্রত্যেকে ঋষি হও, আবার পল্লীজনীয় শান্ত শীতল ক্রোড় হইতে, তটিনীতীর মুখরিজ করিয়া প্রাচীন নাম গান উথিত হউক, আবার ভারত-গগৰ বৈদিক ঘজী হােম ধূমে আচ্ছন্ন হইয়া উক। এ নব ধর্মের নবীন জ্যোত্মাি- লােকে ফেল ঝতে নহে জগতের পাপান্ধকার দূরীভূত পণ্ডল পুত্রের পুৰোধিকার দমিত এক পুণ্যপ্রভা আত্মমহিমায় সমুন্তাসিত হউক। উঠ জাগ নিদ্রিত বিরাট, মরণ-যাত্রী অবশিষ্ট হিন্দু সমাজ শেষ আশাটুকু লইয়া সতৃষ্ণ নয়নে তোমার দিকে তাকাইয়া আছে। আর ঘুমাইও না । তােমার উত্থানের উপর জগতের পুণ্য-প্রতিষ্ঠা নির্ভর করিতেছে। এই মহাকাৰ্য্য সাধনের জন্যই বুঝি ভগবান তােমাকে এত দিন জীবিত রাখিয়াছেন, উঠ, উঠ আর বিলম্ব করিও না। প্রায় ভগবদাদিষ্ট কাৰ্যে ৰতী হও। ঐ যে ভগবান স্নেহ-বিজড়িত অমিয়কণ্ঠে তােমাদিগকে আহ্বান করিতেছেন, ঐ যে পথ-পাশ্বে তােমার জন্য দাড়াইয়া আছেন। উঠ, জগতে সত্যযুণের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ঐ যে তিনি পুনঃ পুনঃ আদেশ করিতেছেন। তােমরাই পৃথিবীতে পুনবায় সত্যযুগ আনয়ন করিবে, মর্তে সাম্য প্রতি ভালবাসার মন্দাকিনীধারা প্রবাহিত করিবে । উঠ জাগ, মােহনিদ্রায় আচ্ছন্ন জীবাত্মার চৈতন্য সম্পাদন কব, আত্ম জাগরিত হইলে শক্তি আসিবে সামর্থ্য আসিবে, জ্ঞান আসিবে বিদ্যা আসিবে, মহিমা আসিবে তেজ আসিবে এবং এমন কি যাহা কিছু ভাল সকলই আসিবে । তোমাদের মধ্যে যে ঘাের আল জড়তা মােহ নৈরাশ্য আসিয়াছে, উহা দূর করিয়া দাও। প্রবল ইচ্ছা- শক্তি পরিচালনা ক্লারা নিদ্রিত ব্রহ্মশক্তি জাগবিত ইচ্ছা। শক্তির অসাধ্য জগতে কোন কাৰ্য্য নাই। এই ইচ্ছা শক্তির পরিচালনা দ্বারাই শাক্যসিংহ বুদ্ধ হইয়াছিলেন-নিমাই চৈতন্য হইয়াছিলেন, এই ইচ্ছা শক্তির বিকাশেই দাধর শ্রীরামকৃষ্ণ হইয়াছিলেন, নরেন্দ্র বিবেকানন্দ হইয়াছিলেন। এই ইচ্ছা শক্তির বলেই বৃটনজাতি আজ সাগৱা খমিত্রীর অধিপতি। নিদ্রিত কুলকুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগরিত কুর-আর্য নামের সার্থকতা সম্পাদন কর। জাধিরাও পরম অবতরণিকা মঙ্গলময়ের সন্তান বুইয়া জগজ্জননী গৰতীর তনয় হইয়া তোমরা কেমন করিয়া অধমের মত জীবনধাপন করিতেছ? বঙ্গের সমাজ-গগনের সামাজিক অত্যাচারের ঘনকৃষ্ণ মেঘরাশি অপসারিত হইয়া উন্নতির সুখদুৰ্য্য সমুদিত প্রায়। এ সময় আর কেহই অধমের মত পড়িয়া থাকিওনা। উঠ, ঐ যে ঐভৰান পুনঃ পুনঃ সুমধুর কণ্ঠে তােমাদিগকে ডাকিতেছেন। সমাজপতিগণের অত্যাচারের অবসান হইয়াছে। ব্রাহ্মণ মন্ত্রীর ক্রীড়নক পরূপ অত্যাচারী ক্ষত্রিয় রাজাব তােমরা হতভাগ্য প্রজা নহ। ব্রিটিস রাজত্বে অবশি বিদ্য, প্রবে সত্যের স্নিগ্ধাজ্জল জ্যোতিতে সামাজিক অত্যাচার প্রতি কান চন্দ্রের ন্যায় মন হইন্না িয়াছে। অব ভয় নাই--*জিহচ্ছে শরীর ভে” রূপ শূদ্র যো ন্যয় ও দল দ.গুর” অবসান হইয়াছে । জ্ঞ চক্র গাদ। পদ্ম-হস্ত শ্ৰভ, বানলে অ ও শিব ণের হস্ত হইতে ভাব একে বিমুক্ত করিয়াছেন। শূদ্ৰ নিগ্রহে তাহাদেব বাজত্ব রসাতলে গিযাছে। ঐদেখ অদূরেই সাফ•ে ব মণি মাণিক্য-খাত হীরক- মও স্বর্ণমন্দিব পবিষ্ট হইতেছে। নিদ্রার অবসাদ বিহাৰ পূব্বক মন্দির সাক্ষ্য করিয়া যা কর । সিদ্ধিলাভে বহুবি টিকে ও পণামে সত্যাদর্শে উপনীত হইবেই হইবে । যে কাৰ্যর বাজা যায়, যাহাদের পরিচালক স্বয়ং ভগবান, সত্যলাভই যাহাদের লক্ষ্য, তাহাদের কোন কালে ব্রাহ্মণাদি অভিজাতবর্গ, অত্যাচারী সমাজপতি ও বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হইয়া কিছুই করিতে পাবিবে না। ইহাই স্থির নিশ্চয শনিও। অষ্টাদশ পুরাণেষু ব্যাসস্ট বচনত্বয়ং পরােপকারঃ পুণ্যায় পাপায় পরপীড়ন । এই পরপীড়ন-শুদ্র পীড়নরূপ মহাপাপে হিন্দুরাজ্য ধ্বংসসাগরে বিলীন হইয়াছে। প্রচার অৰ্বিচার সমদর্শী বিধাতার রাজ্যে কত কাল চলিতে শুক্রের পূজা ও বোধিকার পারে ? পর্বজীবের যিনি গেহময় পিতা, সর্বজাতির যিনি করুণাময়ী জননী, সর্বজগতের যিনি প্রাণস্বরূপ, তাঁহার নিকট কি ব্রাহ্মণ শুদ্র উচ্চ নীচ ধনী দরিদ্র দ্বিজ চণ্ডাল ভেদ আছে ! বিশ্বপতির বাজে কোন প্রকার ভােল বুদ্ধি নাই।• ভেদ বুঞ্জি অজ্ঞান স্কুলদশীর নরক-হৃদয়ে। সেই প্রেমময় পরমপিতার রাজ্যে সকলেই সমান, সকলেই এক মানব পরিবার ভুক্ত। তিনি কাহাকেও ছােট, কাহাকেও বড়, কাহাকেও চণ্ডাল করিয়া সৃষ্টি করেন নাই। তিনি ধনবান্ ঐশ্বর্যশালীর একচন্দ্র, অার দীনহীন পদ- দলিত গরীবের জয় আর এক চন্দ্র প্রদান করেন নাই । ব্রাহ্মণেব ধন্য এক সূৰ্য্য, আর অপম চণ্ডাল, মুচি ম্যাথরের জন্য আর এক সূর্য্য প্রেরণ করেন নাই। এক অখণ্ড বিরাট নীল চাহপতলে এক বিৰাট মানব পরিবার। এখানে আৰ্য মেচ্ছ হিন্দু যবন ব্রাহ্মণ চাল উত্তম অবম নাই। তাহার পবিত্র বাজে কোন বৈষম্য, কোন ভেদবুদ্ধি নাই। মানুষ আপনাপন কাৰ্য দ্বারাই দ্বিজ চণ্ডাল ক্ষুদ্র মহৎ হইতেছে, আপনার কর্ম অনুসারেই মানুষ রাজা প্রজা ধনী দরিদ্র উত্তম অপম হইতেছে। সত্য- যুগেব সেই পুণ্য দিনে, সৃষ্টির আদিম অষয় জাতিভেদ ছিল না, * গুণ কৰ্ম্ম অনুসারে পরে জাতিভেদ হইয়াছে, মা শান্ত্রকার স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছেন- এক এব পুবা বেদ প্রণব সৰ্ব্বরাষ্ময়। দেব নারায়ণােনন্য একাগ্নিবণ এবচ। (শ্রীমদ্ভাগবত) • সৃষ্টির প্রখম সত্যযুগে একজাতি ছিল; পরে গুণকৰ্ম্মানুসারে চতুর্ণ বিভাগ হইয়াছে।

অবশিক।
পূর্বে এক ৰে, সৰ্ব্ব বাত্ময় এক প্রণব ওঁকার, এক নারায়ণ
দেবতা, এই অগ্নি ও এক মাত্র বর্ণ অর্থাৎ জাতি ছিল।
বলিতেছেনঃ-
ব্ৰহ্ম বা ইদমগ্রে আসীৎ একমেৰ, দেকং সৎ নব্যভবৎ তচ্ছে ছােৰূপ
সড় ক্ষয়ং।
অগ্রে এক মাত্র ব্রাহ্মণ জাতিই ছিল। ঐ জাতি একাকী বৃদ্ধি
প্রাপ্ত হইল না, সুতরাং সেই শ্রেষ্ঠ বর্ণ ব্রাহ্মণ ক্ষত্রকে সৃষ্টি করিলেন।”
পদ্মপুরাণ ও মহাভারত সমস্বরে বলিতেছেন -
ন বিশেষােহস্তি বর্ণানাং সর্বং ব্রহ্মমিদং জগৎ।
ব্ৰহ্মণা পূৰ্ব্বসৃষ্টং হি কৰ্ম্মভিবতং গম্ ।
পদ্মপুরাণ, স্বর্গ খণ্ড, ২৫ অধ্যায়, শান্তি পৰ্ব ১৮৮ অধ্যায়)
সংসারে স্বর্ণের ইতরবিশেষ নাই, সমস্ত জগতে এক ব্রাহ্মণ মাত্র ব্রহ্মা
কর্তৃক সৃষ্ট হইয়াছিলেন। পরে ক্রমে ক্রমে কাৰ্য্য দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন বর্ণে
পরিগণিত হইয়াছে।
স সৰ্জ ব্রাহ্মণানগ্রে সৃষ্ট্যাদোঁ চ চতুথঃ ।
সর্ববর্ণ পৃথক্ পশ্চাৎ তেষাং বংশে জজ্ঞিরে ॥৪৪
( উৎকল খণ্ড, ৩৮ অধ্যায়)
ব্ৰহ্মা, সৃষ্টির প্রারম্ভে অগ্রে ব্রাহ্মণগণকেই সৃজন করিয়া ছিলেন।
তৎপরে পৃথক পৃথক সমস্ত বর্ণ (ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্র। তাহাদিগেরই বংশে
উৎপন্ন হইয়াছে। সুতরাং
তথাৎ বর্ণাজৰ জ্ঞাতি বর্ণঃ সংস্কৃতে তস্য বিষয় এক।
এবং গাম যজুরেক মৃগো বিশ্চৈকো নিয়ে তেনু সৃষ্ট |
(মহাভারত, শান্তুিপ ৬৭ অধ্যায়, ৪৭ লোক।

শুয়ে পূজা ও বোধিকার যখন ক্ষত্রিয় প্রতি বর্ণ ব্রাহ্মণ হইতে প ইয়াছে ; তখন ঐ তিন বর্ণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র) ব্রাহ্মণের জ্ঞাতি স্বরূপ। তনির্ণয় করিতে ইলে ঋক্‌ যজু ও' সামবেদের প্রচার নিমিত্ত, প্রথমে ব্রাহ্মণেরই সৃষ্টি- হইয়াছে। এক বর্ণ মিদং পূর্বং বিশ্বমাসীৎ যুধিষ্ঠির। কৰ্ম্ম ক্রিয়া বিশেষেণ চতুৰণং প্রতিষ্ঠিত। হে যুধিষ্ঠির! পূর্বে এই বিশ্বে কোন বর্ণ বা জাতি ভেদ ছিল না সকলে এক জাতীয় ছিল। পরে কর্ম ও গুণের বিশেষত্ব নিবন্ধন একই মানব, ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়, বৈশ্য শূদ্র এই বর্ণ চতুষ্টয়ে বিভক্ত হয়েন। বায়ু পুরাণ বলিতেছে - বর্ণাশ্রম ব্যবস্থা ন তদাসন সঙ্করঃ। তুলারূপায়ুষঃ সৰ্বা অধমােত্তম বর্জিতাঃ তখন বর্ণ বা জাতি, আম ব্যবস্থা কি সঙ্কর বর্ষ ছিল না। সকলেরই রূপ ও আয়ু সমান ছিল। ঘােট, এ বড়, এ অধম ও উত্তম, এরূপ কোন ভেদাভেদ ছিল না। * ব্রাহ্মণগণের জ্ঞাতি স্বরূপ, সেই ক্ষত্রিয় ভারত সম্রাটগণের জ্ঞাতিস্বরূপ বৈশ্য শূদ্রকে ভাই বলিয়া স্বীকার করা বা বলা ত দুরের কথা, আজ তাহাদিগকে পঙক্তি নির্বাসিত করিয়া অতি দুরে তাড়াইয়া দেওয়া ইয়াছে। জ্ঞাতি ভাই আজ অচল অস্পৃশ্য অনাচরণীয়। ভ্রাতৃত্বের পবিত্র প্রেমবন্ধনতিত্বের দুক্ষে বন্ধন, ঘৃণায় বিদ্বেষে, অপমান লানা, নির্মমতায় নিষ্ঠুরতায় ছিন্ন বিছিন্ন হইয়া গিয়াছে। একই মাতৃ- অবরণিকা ভুমির প্রিয় সন্তানগণ; একই বিশ্বপিতা বিশ্বজননী জেহপালিত পুশ, একই ভারতীয় আর্য জাতির রক্ত মাংসে পরিবর্ধিত নয়ণ, আজ পর ভালবাসা বর্জিত, পরস্পর দূরে অবস্থিত। প্রেম ভালবাসা প্রতি প্রায় স্নেহ মমত। পরস্পরের হৃদয় হইতে উম্মুত হইযাছে। তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে- এক দেশ এক ভগবান। এক জাতি এক মন প্রাণ। আজ ভাই ভাইকে আলিঙ্গন করার পবিত্তে, আজ জ্যেষ্ঠ কনিষ্ঠকে ক্রোড়ে বাৰণ কৰিব পৰিবৰ্তে মিথ্যা জাত্যভিমানে অন্ধ হইয়া অভি জাত্যব্বে ক্ষীত হয় লাথি মারিয়া দূর দূর করিয়া তাড়াইয়া দিতেছ । “তুই নীচ আমি উচ্চ, তুই ক্ষুদ্র আমি মহৎ, তুই মূখ আমি পণ্ডিত, তুই অধম আ ম উত্তম, তুই চণ্ডাল আমি ব্রাহ্মণ, বলিয়া আজ ভাই ভাইএর রক্ত পান করিতেছ, ভাই এর বুকে ভাই লাথি মারিতেছ। জাতীয় প্রেম জাতীয় এক জাতীয় মিলন দেবতা আজ পদদলিত, বিতাড়িত। বিন্দুমাত্র সামাজিক অধিব বি, বিন্দুমাত্র ধর্মের অধিকাব আমি আমাৰ অনুন্নত ভাইকে দিতে প্রস্তুত নছি, কিন্তু ইংরেজ রাজের নিকট আমরা তাহাদের সম অধিকার লাভে দাবী করিয়া থাকি। তাহারা উন্মাদ বেধে, প্রলাপ বাক্য বলিয়া হাস্য করেন। যে নিজে অধিকার দিতে অনিচ্ছুক, অসম্মত এসে কিছুতেই অধিকার পাইবার যোগ্য নয়। অধিকার দিব না, অধিকার পাইৰ ? আমাদের গদি লজ্জার লেশমাত্র থাকিত, তবে আর আমরা ইংরাজের দ্বারে অধিকার লাভের জয় গমন করিয়া প্রহসনের অঙনয় করিতাম না। যাহারা আপনাদের স্বজাতীয় স্বধর্মাবলখী ভ্রাতৃগণকে জল, টুকু স্পর্শ করতে দিতে অসত, দেবালয়ের পবিত্র মন্দিরে যাহারা অপর ভাইকে প্রবেশ করিতে দিতে অনিচ্ছু, বেদনাময় এক থানা পুস্তক অবতরণিক। যে নিজে কার নামক একটা শব্দকে পৰ্য্য যাহার প্রাণ ধরিয়া অন্যকে পাঠ ও উচ্চারণ করিতে দিতে কুণ্ঠিত, তাহারাই আবার বড় গলায় উচ্চকণ্ঠে সভা সমিতি করিয়া রাজনৈতিক অধিকার লাভের জন্য দাবী করিয়া থাকেন ? তা ধিক, তাহাদের লজ্জাহীনতাকে, আকাঙ্ক্ষাকে, হা ধিক, তাহাদের চেষ্টাকে পণ্ডশ্রমকে। তাহাদের এ আকাঙ্ক্ষার উপর কি বিধাতার অক্ষ অভসম্পাত-অগ্নি বর্ষিত হয় না? যাহারা আপনার স্বদেশীয় জাতীয় ধর্মাবলী ভাইকে এমন করিয়া দাবাইয়া রাখিতে উৎসুক, তঁাহারা রাজ জাতির নিকট অকির লাভের কিছুতেই যােগ্য নহেন। * দ ওয়া পাওয়া” ইহাই হইতেছে জগতের নিয়ম। তুমি কিছুই দিবে না, কিন্তু অনক পাইবে, এরূপ অশ। কি নিতান্তই অশােভন নহে ? ক্ষুদার্ত তৃষ্ণার্ত অতিথিকে একবিন্দু জল দানে, একমুষ্টি অনুদানে, একটু অাশ্রয দানে কুষ্টিত, সে কি কখন আতিথ্য-সৎকার লাভ করিতে পারে ? না--তাহার সে আশা করা উচিত? আমি আমার কোনই কর্তব্য সম্পাদন করিব না, কিন্তু তুমি যে তােমার কর্তব্য সম্পাদন করিতেছ না, তাহা বড় গলায় উচ্চ কণ্ঠে ঘােষণা করিব ? কি রহস্য! কি প্রহেলিকা। জাতির যাহারা মেরুদণ্ড, সমাজে যাহারা শক্তি, এমন সব লক্ষ লক্ষ কোটি একটি অনুন্নত দেশবাসীকে-অরণ্য ভ্রাতৃবৃন্দকে শ্রমজীবি-নিম্নশ্রেণী বলিয়া অমর। জাতীয় যক্ষ হইতে বহুদূরে তাড়াইয়া দিয়াছি। 'ঘৃণায় দৃণায় তাহারা যে মানুষ, একথা প্রায় তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে। সামাজিক সৰ্ক- প্রকার উচ্চ অধিকার হইতে বঞ্চিত হইয়া তাহারা বুঝিয়াছে-জল তুলিবার ড-কাঠ কাটিবার জন্য, ভার বহন করিবার জন্য, আদেশ পালন করিবার জন্যই তাহাদের জন্ম। ব্রাহ্মণাদি উচ্ছ জাতিব সেবা কবাই তাদের একমাত্র জীবন-ব্রত।

শূদ্রের প্রতি ঘোর অবিচার। সংহিতাকার রূপী নিষ্ঠুর নিম্মমগণই শ্লোক রচনা দ্বারা এই বিশ্বাস তাহাদের হৃদয়ে বদ্ধমুল করিয়া দিয়াছে। ঐ শুনুন, মনু বলিতেছেন :- শূদ্ৰন্তু কায়েদ্দাস্যং ক্রীতমাতমেব বা। দাস্যায়ৈব হি সৃষ্টেীহস্তে ব্রাহ্মণ স্বয়ম্ভুবা || ৪১৩ ( অষ্টম অধ্যায় ; মনু সংহিতা।) “পরন্তু শূদ্র জতই হউক আর অক্রীতই হউক, শুদ্র দ্বারা তিন জি) দাস্যকৰ্ম্ম কবাইয়া লইবেন। যেহেতু বিধাতা দাস্য নির্বাহাৰ্থই ..কে সৃষ্ট করিয়াছেন।” ধম্ম শাস্ত্রের নামে—স্বয়ং ভগবান বিধাতা পুরুষেব নামে পৰ্যন্ত প্রবঞ্চনা অত্যাচার! নিজেরাত আইনে কানুনে রাজবিধানে শূদ্রের প্রতি অত্যাচার করিবেই, আবার তাহার উপর মঙ্গ- ময়ের বিধান বলিয়া প্রতারণা কারয়। অত্যাচার করা হইয়াছে। দাসের কাৰ্য্য করিবার জন্যই ভগবান শূদ্রকে সৃষ্টি করিয়াছেন! হায়! ঋষিবাণী, হায় ধৰ্ম্ম-শাস্তু ! মনে হয, ইউরােপ আমেরিকার দাসত্ব প্রথা অপেক্ষা ভারতের সভ্য যুগের শূদ্র দাসত্ব প্রথা কোন অংশে শ্রেষ্ঠ ছিলনা, বরং কোন কোন অংশে নিকৃষ্টই ছিল। ইউৰােপ ও আমেরিকাবাসিগণকে বিক্রেতা নিকট হইতে উপযুক্ত মূল্য দিয়া দাসগণকে ক্রয় করিতে হইত, কিন্তু এই দ্র দাসগণকে টাকা পয়সা দ্বারা ক্রয় করিতে হইত না। বলা হইত, ইহারা প্রকৃতি দাস। পরমা প্রকৃতি ভগবতীই দাস করা উহাদেব প্রকৃতিগত করিয়া দিয়াছেন। সংহিতার নামে বলা হইতেছে ন স্বামিনা নিষ্টোহপি শূদ্রো দাস্যাঘিমুচ্যতে। নিসর্গজং হিং তৎত কস্মাৎ তদপােহতি ॥ ৪১৪। ( মনু সংহিতা, ৮ম অধ্যাস}

শূদ্রের প্রতি ভাের অবিচার
“শূদ্র স্বামী কর্তৃক বিমুক্ত হইলেও দাসত্ব হইতে বিমুক্ত হয় না। দাসত্ব
কম্ম তাহাব প্রকৃতিসিদ্ধ, অতএব কে তাহাকে উহা হইতে মুক্ত কবিতে
পারে ?
এক্ষণে কথা হইতেছে যে—দাস শূদ্রের দেহ মন প্রাণই যখন
ব্রাহ্মণাদির প্রতি দত্ত সম্পত্তি, তখন তাহার ধনাদির ত কথাই নাই।
মন্ন তাহাও বলিতেছেন—
বিশ্রং ব্রাহ্মণ শূদ্রা দ্রব্যোপাদান মাচাদৎ।
নকি তস্তাস্তি কিঞ্চিৎ স্বং ভর্তৃহাৰ্য্য ধনেহি সঃ || ৪১৭
( অষ্টম অধ্যায়, মনুসংহিতা।)
“ব্রাহ্মণ বিব্ধ চিত্তে দাস শূদ্রের ধন আত্মসাৎ কবিতে পাবে , যে হেতু
তাহাব নিজস্ব কিছুই নহে, উহার সমুদয় ধনই ভর্তুগাৰ্য।”
সর্বং বং ব্রাহ্মণ দেং যৎকিঞ্চিজ্জগতীত।
শ্রৈষ্ঠ্যেলাভিজনেনেদং সৰ্ব্বং বৈ ব্রাহ্মণােংহতি। ১০০
স্বমেব ব্রাহ্মণে ভুক্তে ৰন্তে স্বং দদাতি চ।
আনুশং স্যাদাহ্মণস্য ভূঞ্জতেহীতরে জনাঃ ১০১
( মনু সংহিতা ; প্রথম অধ্যায়।
ত্রৈলােক্যাৰ্বত্তী সমুদয় ধনই ব্রাহ্মণে নিজস্ব। সব্ব বর্ণের শ্রেষ্ঠ
এবং উৎকৃষ্ট স্থান-জাত বলিয়া ব্রাহ্মণই সমুদয় সম্পত্তি প্রতিগ্রহের যােগ
। ব্রাহ্মণ যাহা ভােজন করেন, যাহা পরিধান করেন, যাহা দান
করেন, তাহা পরকীয় হইলেও নিজস্ব , যে হেতু ব্রাহ্মণেরই অনুগ্রহ বলে
অপরাপর লোকে ভােজন পানাদি দ্বারা জীবিত রহিয়াছে।”
এই ত গেল শূদ্রদিগের আপনাদের ধনের উপর অধিকারের কথা।
এক্ষণে ধন উপার্জন ও সঞ্চয়ের অধিকারের কথা শ্রবণ করুন।
পাত্র

শূদ্রের পূজা বেদাধিকার
দশম অধ্যায়ে মনু বলিতেছেন।
শনােপি হি শূদ্রেন ন কাৰ্য্যোধন সঞ্চয়ঃ
শূদ্রোহি ধন মাসাদ্য ব্রাহ্মণনেব বাধতে ॥১২৯
“অর্থোপার্জনে সক্ষম হইলেও শূদ্রের তৎসঞ্চয়ার্থ যত্নবান হওয়া উচিৎ
নহে; কারণ শাস্ত্রজ্ঞানহীন শূদ্র ধনমদে মত্ত হইয়া ব্রাহ্মণের অবমাননা
করিতে পারে।”
বর্তমান কালের ন্যায় মনুর সময়ে যাহার। যে ব্যবসা ইচ্ছা, সে সেই
ব্যবসা করিতে পারিবে, এরূপ নিয়ম ছিল না। বৈশ্য শূদ্রকে তাহাদের
নিজ নিজ ব্যবসাই করিতে হইত। বৈদিক সময়ের অবস্থার সম্পূর্ণ
বিপরীত অবস্থা।
মনু বলিয়াছেন :-
বৈশশূদ্রৌ প্রযত্নেন স্বানি কম্পানি কায়েৎ।
তৌহিচুতৌ স্বকৰ্মত্য ক্ষোভয়েতামিদং জগৎ ||৪১৮
“রাজা যত্ন সহকারে বৈশ্য ও শূদ্রকে স্ব স্ব কার্ষে নিযুক্ত রাখিবেন,
যে হেতু ঐ উভয়ে এ স্ব চাৰ্য্যচ্যুত হইলে জগতে বিশৃঙ্খলা উপস্থিত
ষো লােভাদধমাে জাত্যা জীবেদ্যুৎ কৃষ্ট কৰ্মভিঃ।
তং রাজা নিনং কৃত্বা ক্ষিপ্রমে প্রবাসয়েৎ ॥৯৬
( দশম অধ্যায় ; মনুসংহিতা)
“যদি কোন অধম জাতীয় ব্যক্তি উৎকৃষ্ট জাতির বৃত্তি অবলম্বন পূর্বক
জীবিকা নির্বাহ করে, তাহার সর্বস্ব গ্রহণ পূর্বক শীঘ্র তাহাকে দেশ হইতে
‘নষ্কাশিত কবা রাজার কর্তব্য।

শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিচার। শূদ্রের প্রতি অত্যাচার করিতে দয়ালু ব্রাহ্মণগণ ও ন্যায়বান ক্ষত্রিয় রাজগণ বিন্দুমাত্রও কটা করেন নাই। নবম অধ্যায়ে মনু বলিতেছেন - ব্রাহ্মণা বাধন কামাদবরবর্ণজম্। হ্যাঙিত্রৈবধােপায়ৈরুদ্বেজ নকরৈপঃ ॥২৪৮ শূদ্ৰবৰ্ণ যদি কামতঃ ব্রাহ্মণকে শারীরিক বা আর্থিক পীড়া দেয়, তবে রাজা উদ্বেগর নাসিকা কর্ণচ্ছেদাদি বিবিধ বধােপায় দ্বারা তাহাকে বধ করিবে।” চোর অধিকাংশই শূদ্র ছিল-বৈশ্যের মধ্যে ও কচিং দৃষ্ট হইত। রাজন্য ক্ষত্রিয় বা ব্রাহ্মণের পক্ষে চুরি করার প্রয়ােজন মনুর সময়ে কিছুই ছিল । সেই সমুদয় বুভুক্ষিত দরিদ্র অজ্ঞান শূদ্রাদি অঙ্করাদির প্রতি মনু কি কঠোর বিধানই না করিয়া গিয়াছেন ! মনু বলিতেছেনঃ- যে তত্র নােপসপেঁয়ুমুল প্রণিহিতাশ্চ যে। তা সহ নৃপপা হন্তাৎ সমিত্র জ্ঞাতি বান্ধবান্ ॥২৬৯ (নবম অধ্যায় ; মনুসংহিতা } “চার প্রেরিত হইয়াও শঙ্কা বশতঃ যাহারা (যে সমস্ত চোর) আগমন করে, হঠাৎ রাজা স্বয়ং ঐ সকল ব্যক্তিকে স্ত্রীপুত্র জ্ঞাতি বান্ধবাবি সহিত বধ করিবেন।” একজন অপরাধীর জীবনের সঙ্গে সঙ্গে অন্য নিরপরাধিনী স্ত্রী-পুত্র জ্ঞাতি বান্ধবাদির জীবন নাশ করা যে কতদুর নৃশংসতার পরিচায়ক, তাহা বলিয়া শেষ করিবার নহে। পুনরায় পরের শ্লোকে বলিতেছেন :–ধাম্মিক রাজা” মাল না থাকায় চৌর নিশ্চয় না হইলে উহাকে বিনষ্ট করিবে না, . । শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার কিন্তু চৌরের উপকরণ ও হৃত দ্রব্য সমেত চৌর নিশ্চিত হইলে কিছুমাত্র বিচার না করিয়াই বধ করিবেন ২ি৭• শ্লোক।” শূদ্র বৈশ্য জাতীয় চোরদিগের দণ্ড সম্বন্ধে অন্য এক শাস্ত্রকার রুপা পূৰ্ব্বক বলিয়াছেন-“রাজা অপহৃত বস্তু চৌরের নিকট হইতে তৎদ্বামীকে দেওয়াইয়া শূলাবােহণাদি বিবিধ উপায়ে তাহার বন্ধ দণ্ড করিবেন।” বলা বাহুল্য, একরূপ দও ব্রাহ্মণাদি উচ্চ স্বর্ণের জন্য নহে। শাস্ত্রকার আপনার পক্ষে ডিগ্রি দিযা ভগবান বিষ্ণুর নামে দোহাই দিয়া বলিতেছেন :- ন শারীরে ব্রাহ্মণস্য দণ্ডঃ ॥২॥ পঞ্চম অধ্যায় বিষ্ণুসংহিতা। “রাহ্মণের শারীরিক দও নাই।* ব্রাহ্মণ শাস্ত্র-প্রণেতৃগণ আপনাদের নিজেদের ঘর সামলাইয়া বক্ষার ব্যবস্থা পূৰ্ব্ব হইতেই বিধিমতে বিষ্ণুসংহিতার নামে করিয়া রাখিয়া যদিচ্ছাক্রমে চাবুক চালাইতেছেন—শুনুন মনুর চাবুক : মনু বলিতেছেন :- এক জাতির্বিজাতীংস্তু বাচা দারুণ ক্ষিপ। জিয়াং প্রাপ্তচ্ছেদং জঘন্য প্রবােহি সঃ ॥২৭• নামজাতি গ্রহযােভি দ্রোহেণ কুৰ্বতঃ। নিক্ষেপ্যোইয়োময়ঃ শঙ্কুলাসে দশাঙ্গুল ॥২৭১ { অষ্টম অধ্যায় ; মনুসংহিতা) এক জাতি (অর্থাৎ শূদ্র সমষ্টিকে এক জাতি বলা হইয়াছে) শূদ্র যদি দ্বিজাতি (ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ) দিগের প্রতি কঠিন বাক্য প্রয়ােগ কৰে, তবে ঐ শুদ্র জিহবচ্ছেদ রূপ দণ্ড প্রাপ্ত হইবে। কারণ ইহার জন্ম জঘন্য স্থান হইতে হইয়াছে। জাতি তুলিয়া শুদ্র যদি দ্বিজাতির উপর দ্রর প্রতি কো অবিচার আক্রোশ করে, তবে একগাছা জ্বলন্ত দশাঙ্গুল লৌহময় শঙ্কু উহাৰ মুখে নিক্ষেপ করা কর্তব্য। *দ্র হইযা ব্রাহ্মণকে উপদেশ দান করা সম্বন্ধে বলিতেছেন - ধর্মোপদেশ দর্পেণ বিপ্রণাম কুৰ্ব্বত ৩াসেচয়েৎ তৈলং বক্তে শ্রোত্রে চ পার্থিবঃ || ২৭২ ( অষ্টম অধ্যায় , মনু সংহিতা) “দর্পিত ভাবে শ যদি ব্রাহ্মণকে ধম্মোপদেশ কবে, তবে বাজা উহা মুখে ও কর্ণে তপ্ততৈল নিক্ষেপ করাইবেন।” ম ইহাতেও সন্তুষ্ট নহেন, আবাব বলিতেছেন- যেন কেনচিদনে হিংস্যচ্চেচ্ছে মন্ত্যজঃ ফেবং তত্ত্বদেবাস্য তন্মনােরশাসনম ২ি৭৯ 1fণমুদ্যম দণ্ডং বা পাণিচ্ছেদন মহতি। দেন প্রহরণ কে।পাং পাদচ্ছেদনমহতি ||৮, হাসন মভি থে, ঝংকৃষ্টস্থাপকৃষ্টজঃ। ট্যাং কৃতঙ্কে। নিব্বাস্যঃ চিং বাস্যাৰকৰ্ত্ত7েং। ২৮১ অবষ্ঠিাবতো দর্পাদ্দালেষ্ঠেীচ্ছদনযেপঃ। 'অবমূত্ৰযতো মেঢ় মশদ্ধয়তো গুদম। ২৮২ কেশে গুতােহস্তেীচ্ছেদয়ে বিচারয়। দয়ােদ চিকাঞ্চ গ্রীবায়াং বৃষণেষু চ । ২৮৩ ‘‘অন্ত্যজ শূদ্র যে কোন অঙ্গেল দ্বারা শ্রেষ্ঠভাতিকে মাবিবে, রাজা তাহাব সেই অঙ্গ ছেদন করিয়া দিবেন —ইহা মন্তব অনুশাসন। শূদ্র দি শ্রেষ্ঠ জাতিকে মারিবার জন্য হস্ত বা দও তােলে, তবে রাজা তাহার সুচ্ছেদন কবিবেন ( অর্থাৎ যদি নাও মাবে, কিন্তু যদি মাবিব জন্য ২৪ • ১ * শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার হস্থ বা দণ্ড তােলে, তাহা হইলেই রাজা তাহার হস্তছেদন কবিয়া দিবেন । পদদ্বারা প্রভাব কবিলে পাদচ্ছেদ হইবে। শূদ্র যদি দর্পবশতঃ ব্রাহ্মণের সহিত একাসনে উপবেশন কবে, তবে রাজা উহার কটিদেশ লৌহময় তপ্ত শলাকার অঙ্কিত কবিয়া উহাকে দেশ হইতে নির্বাসিত করিবেন ; অs যেন না মরে, এইরূপে তাহাৰ পাছা কাটিয়া দিবেন । দর্প কবি , যদি ব্রাহ্মণব শীত্রে নিঈন নিক্ষেপ কবে, তাহা হইল রাজা তাহাব ওষ্ঠাদর ছেনি করিবেন শদ অহঙ্কাৰ পূৰক দি হস্তদ্বারা ব্রাহ্মণর কে ধাৰণ কৰে বা হিংসা জন্য তঁাহাব পাদন গ্রণ করে, তবে রাঙ্গা বিচার না কবি। উহাব হস্তদশ ছন কবিলেন।” অবাব ঐ শুনুন ৫ৗতমেব চাবুক- শূদ্র। দি অতীনভিসন্ধাবাভিহত্য চ বাগদওপারুদ্যাভ্যাম মাে»)। মেনোপহন্ত। স্ত্রস্থ,ভিমনে লিঙ্গোদ্ধা শহণ গোপ্তা চেপে বিক। হথাত বেদ মুপ তপুতুভ্যাংশােত্র প্রতিপূৰণ মুদাহৰণে জিস', (দো ধৰণে শীরভেদ আসন শয়ন-বাক্ পথিষু সম প্রেগদণ্ডঃ শতম্ • যদি কোন দ্বিজাতি (ব্রালণ ক্ষত্রিয় বৈশ)র প্রতি তিরস্কাবস্ক এক প্রযোগ করিয়া তাহাকে কঠোর ভাবে আঘাত কবে, তাহা হই ল যে অঙ্গের দ্বারা আঘাত করিবে, রাজা তার সেই অচ্ছেদ করি। শূদ্র যদি দ্বিজাতির ধন হবণ কবিয়া গােপন করে, তাহা হইলে তাহা জীবন অবধি দণ্ড হইতে পাবে। শূদ্র যদি বেদ শ্রবণ (কবাৰূপ মহাপাপ কাৰ্য) করে তাহা হইলে রাজা সীসা এবং জে গলাইয়া তাহার কণবন্ধে চাৰি। ইহ। বুজাইমা দিবেন। বেদমন্ত্র উচ্চারণ করিলে তাহার জিহ্বা ছেদন কবিবন এবং বেদমন্ত্র ধারণ করিলে, যে অঙ্গে ধারণ করিবে, সেই অঙ্গ ছেদ কবিবন। অসন শয়ন বাক্য এবং পথে যদি কোন দ্বিজাতি ?

প
শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিচার
সহিত সমান ব্যবহার করিতে ইচ্ছা করে, তাহা হইলে তাহার শতপণ দণ্ড
বিধান করিবে।”
কিন্তু ব্রাহ্মণ শূদ্রের উপর কোনরূপ
দুর্ব্যবহার করিলে একেবারে দণ্ডনীয় হইবে না।** চমৎকার ব্যবস্থা
এরূপ না হইলে কি ধৰ্ম্মশাস্ত্র হয় ? শূদ্রকে মানুষ বলিয়াই মনে করা হয়
নাই, উহাদিগকে সয়তানের বংশধর বলিয়া জ্ঞান করা হইয়াছে।
অপবাধ নিবাশয় হতভাগ্য শূদ্রদের জন্য। শূদ্রেরা নাম মাত্র অপরাধ
করিলেও সে অব্যাহতি পাইবে না, তাহা প্রদর্শিত হইল, এক্ষণে স্পর্শ
করিলে কি দণ্ড হয়, শ্রবণ করুন -
কামকাণো শৃশ্যবৈণিকং শবধ্য। ১০১
( পঞ্চম অধ্যায় ; বিষ্ণুসংহিত্য।)
‘অস্পৃশ্য জাতি জানতঃ ৰাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য এই তিন বর্ণকে স্পর্শ
করিলে বধ্য হইবে যাব ক্য বলেন ঃ-
চণ্ডালশোৰ্তমান স্মৃশ। ২৩৭ ইত্যাদি
শুধু কি চণ্ডালাদি অন্ত্যজ জাতিগণের স্পর্শে ই ব্রাহ্মণগণের ধৰ্ম্ম হানী ?
--তাহা নহে! উহাদের দর্শনেও অমঙ্গলের সম্ভাবনা।
কাত্যায়ন ঋষি বলিতেছেন :
( উনবিংশ খণ্ড)
;
প্রাতরুথায় যঃ পশ্যেৎ স কলেপযুজ্যতে ॥১• “যে ব্যক্তি প্রাতঃকালে
উঠিয়া
অন্ত্যজ
প্রভৃতিকে অবলোকন কবে,
সে কলিযুক্ত হয়।”
ইহা হইতেই বােধ হয়, আমাদের দেশে প্রাতঃকালে, যাত্রাকালে,
অনুবাদ-দ্বাদশ অধ্যায়

শূন্দ্রের পূজা ও বোধিকার কোনও মাঙ্গলিক কার্য্যে-না-সুন্দর তৈল-বিক্রেতা কলু প্রভৃতির মুখ দর্শন করা অত্যন্ত অমঙ্গলজনক বলিয়া মনে করিবার কুসংস্কার জন্মিয়া ২াকিবে। ক্রমে এই ভাব বদ্ধমূল হইয়া সমাজের অস্থিমজ্জায় প্রবেশ করিয়াছে ! শাস্ত্রের এই সমুদয় বচন হইতেই বােধ হয় মান্দ্রাজের পারিয়া মেঘ-বােম্বাইয়ের মহার জাতিব প্রতি অভিঞ্জাত বর্গের এতাদৃশ পৈশাচিক ব্যবহার ও ঘৃণার সঞ্চার হইয়াছে। এদেশেও নিষাদ, মেদ, চুধু, অন্ধ মদ, ক্ষ, উগ্র, পুরুশ, ধিন এবং বেন জাতির প্রতিও মনু ঐরূপ ব্যবস্থা কবিয়াছেন ! মনু পতিত চণ্ডাল মুখের সহিত এক ছায়াতে বসিতে পর্যন্ত নষেধ করিয়াছেন—আশঙ্কা পাছে ব্রাহ্মণের ব্রহ্ম তড়িৎ যদি উহাদেব স্পর্শে নষ্ট হইয়া যায়। তাই বলিতেছেন ন সংবসে পতিতৈন ৮ণ্ডালৈন পুকশৈঃ । ন মূগৈনাবলিপ্তেশ্চ না স্থৈানান্ত্যাবসায়িভিঃ । ৭৯ ( চতুর্থ অধ্যায়-মনু) “পতিত, চণ্ডাল, পুরুশ, মু, ধনাদিমদে গব্বিত ব্যক্তি রজকাদি নাচ জাতি এবং অন্ত্যাবসায়ী, ইহাদের সহিত কিয়ৎক্ষণের জন্যও এক ছায়াতে 'স করিবে না * দ্রকে বেদস্মৃতি ও পুরাণােক্ত ধম্ম হইতে বঞ্চিত করা হইয়াছে। ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় যিশয়ে বর্ণা দ্বিজাতয়ঃ । শ্রুতি স্মৃতি পুরাণােক্ত ধম্মযোগ্যাস্তুনেতরে। ৫ শূদ্রাবর্ণশ্চতুর্থেহপি বর্ণদ্ধিমতি। বেদমন্ত্রস্ব বাহ বষট্‌কারাদিভিৰ্বিনা। ৬ ( প্রথম অধ্যায়, ব্যাস সংহিতা)

শূদ্রর প্রতি ঘােৰ অাবায়
=
“ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য, এই তিন জাতি দ্বিজশব্দ প্রতিপাদ্য ; এই
তিন কর্ণই শ্রুতি স্মৃতি ও পুরাণােক্ত ধৰ্ম্মের অধিকারী, অপর জাতি
( শুদ্ৰাদি) অধিকারী নহে। শূদ্র চতুর্থবর্ণ, এইজন্য ধম্মেব অধিকারী,
কিন্তু বেদমন্ত্র, স্বাহা, অধা ও বষট্‌ কারাদি শব্দের উচ্চারণে অধিকারী
নহে।” শকে শন্ত্র শিক্ষা দেওয়া সম্বন্ধে ঋষি অত্রি বলতেছেন ?
অকুলীনে সদবৃত্তে জুড়ে শদ্রে শঠে দ্বিজে।
এতে বে ন দাতব্যমিদং শাস্ত্র দ্বিজোত্তমৈঃ । ৮
অত্রি সংহিতা।
দত্তেম ,-অসদ্বংশীয়, অসচ্চবিত্র, মূর্ণ, *দ, এবং খন স্বাব
জি, এই পঞ্চবিধ ব্যক্তিকে শাস্ত্রশিক্ষা দিবে না।”
শুধু কি বেদাদি শাস্ত্রশিক্ষা দানই নিষেধ ? (दस बदन तार
নাস। উশনঃ সংহিতায় উক্ত হইয়াছে :-
হ ত্যানাং সঙ্গতে গ্রামে বস্য চ সন্নিবে।
*ধ্যাযযা কষ্যমানে সমবাযে জনস্য চ।
“ গ্রামে অন্ত্যজ জাতি ( নাপিত, লেপ, কুকব, বণিক, স্যা,
বা, মলাকাব, চণ্ডাল, কৈবর্ত, পচ, ইহাদিগকে অন্ত্যজ বলিয়া
ব্য। সসংহিতায় ১১১১১২ লিখিত হইয়াছে) বাস করে, সেই গ্রামে
বহুলােক সমাগম স্থলে বেদ অধ্যয়ন নিষিদ্ধ।
শূদ্রকে কোনও প্ৰকাৰ উপদেশ, তাহা লৌকিকই হউক
"বম থিকই হউক, দেওয়া হইবে না। মঞ্চ চতুর্থ অধ্যায়ে বলিতেছেনঃ
ন শূদ্রায় মাতং দান্নোচ্ছিষ্টং ন হবিষ্কৃতম্ ।
ন চাষ্যোপদিশেদ্ধৰ্মং ন চাস্য ব্ৰতমাদিশেৎ। ৮০
৬wদকে লৌকিক বিষয়ে কোন উপদেশ দিবে না, অদাস শূদ্রকে

২৮ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার উচ্ছিষ্ট দিবে না, হশেষ দিবে না, কোন ধর্মোপদেশ প্রদান করিবে না, কি কোনরূপ ব্ৰত করিতে আদেশ দিবে না।” যদি দাও, তবে- যােহস্য ধৰ্ম্ম মাচষ্টে যশ্চৈবাদিশতিব্ৰতম্। সােহসংবৃতং নামতমঃ সহতেনৈব মজ্জতি || ৮১ “যে ব্রাহ্মণ ইহাদিগকে ধম্মোপদেশ প্রদান করেন, অথবা তানুষ্ঠানের আদেশ করেন, তিনি সেই শূদ্রের সহিত অসংবৃত নামক নবকে নিমগ্ন হন। শূদ্র দূরে থাকু, আজকাল কাল ভিল সাঁওতাল নাগা প্রভৃতি পার্বত্য জাতির নরনারীগণকে সম্মােপদেশ দান করিয়া তাহাদিগকে যথার্থ মানুষ করিবার জন্য কত কত মহাপ্রাণ ব্যক্তি যে জীবন উৎসর্গ করিয়াছেন—তাহার ইয়ত্তা নাই। আৰ্যসমাজেব পূহৃদয় মহাপ্রাণ প্রচারকগণ, খৃষ্টীয় ধর্মপ্রাণ নরনারীগণ, ব্রাহ্মসমাজের উদারহৃদষ প্রচারক ৭ দলে দলে পার্বত্য, অশিক্ষিত জাতিগণের হৃদয় মন্দিরে, অনুন্ন ৩ শ্রেণীর লোকদিগের মনােমন্দিরে ধর্মের বিমল জ্যোতিঃ ফুটাইয়া দিবার জন্য, এক কথায় তাহাদিগকে মানুষ করিবার জন্য সমুদায় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়া প্রাণপণে খাটিতেছেন, আর আমাদের ধর্মশাস্ত্রকার মনু—তাহাদিগকে উপদেশ দান করিতে নিষেধ করিয়া এবং নরকের ভয় দেখাইয়া ঋষিত্ব প্রকাশ করিতেছেন ! এই জন্যই না দেশের আজ এই দশা-সমাজের এই অবস্থা। শূদ্রগণের প্রতি ঋষি নামধেয় ব্রাহ্মণ সংহিতাকারগণের অপর ভালবাসা, অনন্ত স্নেহ প্রীতির এই ত সব জাজ্জ্বল্য প্রমাণ উদ্ধত হইল। এক্ষণে শূদ্রগণের জীন ব্রাহ্মণ-বিধিদাতৃগণের নিকট কিশ মুবান শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিভাব ছিল--তাহারই কিঞ্চিৎ পৰিচয় প্রদান কৰা যাউক। মঃ একাদশ অধ্যায়ে বলিতেছেন- মার্জার নকুলৌ হত্ব চাষং মণ্ড কমেবচ । স্বগােপােল কাকাংশ্চ শূদ্ৰহত্যাব্রতং চরেৎ ॥ ১৩২ “জ্ঞানতঃ বিড়াল, নকুল, চাষপক্ষী, ভেক, কুক্কব, গােধা, পেচক- ইহাদেব একটীকে হত্যা করিলে শূদ্র হত্যাব সমান প্রায়শ্চিত্ত কবিবে।” আরও বলিতেছেন :-- অস্থিমতান্তু সানাং সহস্রস্ত প্রমাণে। পূর্ণে ডানহনস্থান্তু শূদ্র হত্যাব্রতং চবেৎ। ১৪১ ( একাদশ অধ্যায়, মনুসংহিতা) “কৃকলাশ প্রভৃতি (কুলক ভট্টকৃত অর্থ) অস্থি বিশিষ্ট সহ প্রাণিবধে এবং অস্থিহীন এক শকট পৰিমিত মকুণ প্রভৃতি প্রাণিবধে শূদ্র হত্যার প্রায়শ্চিত্ত করিবে।” অত্রি ও তদীয় সংহিতায় মনুর কথাই প্রতিধ্বনি করিয়া হত্যার প্রায়শ্চিত্ত বিধান এইরূপে কবিতেছেন :- “শবভােষ্ট্ৰহয়াগান্ সিংহ শাদ্দল ও ভান হত্বা চ শূদ্ৰহত্যায় প্রায়শ্চিত্তং বিধীযতে । ১২২ ( অত্রি সংহিতা) “শরভ ( অষ্টচবণ মৃগ বিশেষ) উষ্ট্র, অশ্ব, হস্তী, সিংহ, ব্যা ব। * দত হত্যা করিলে শূদ্রবধ প্রায়শ্চিত্ত কবিবে।” চৌর শপাক চাণ্ডাল বিপ্রেণাপি হতা যদি । অহেরা ব্রোপবাসেন প্রাণায়ামেন এধ্যতি । ১৯ ( ৬ষ্ঠ অধ্যায় ; পাশর সংহিতা ) শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার “ব্রাহ্মণ কর্তৃক চোব, পাক বা চণ্ডাল বিনষ্ট হইলে সেই ব্রাহ্মণ এক দিবারাত্র উপবাস পূৰ্ব্বক প্রাণায়াম করিলে শুদ্ধিলাভ করিতে পারিবেন। ইহা দ্বারা স্পষ্টই-প্রমাণিত হইতেছে যে-শদ্রের জীবন ধন প্রাণ ব্রাহ্মণ সংহিতাকাবগণের নিকট কতদূর হেয়—তুচ্ছ সামান্য ও মূল্যহীন ছিল। ফলতঃ শূদ্রকে সর্বপ্রকার অধিকার হইতে বঞ্চিত করিতে সংহিতাদি যুগের ব্রাহ্মণগণ বিন্দুমাত্র চেষ্টার ত্রুটী করেন নাই। সর্বশেষে প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তম ধৰ্ম সাধন-দেবতা আরাধন-সম্বন্ধে শুদ্রদিগকে কিরূপ ব্যবস্থা প্রদান করিয়াছেন দেখা যাউক। শুদ্রণে ধৰ্মজীবন প্রসঙ্গে-অত্রি বলিতেছেনঃ- জপস্তপস্তীর্থ যাত্রা প্রব্রজ্যা মন্ত্র সাধনম। দেবতায়া ধনঞ্চৈব স্ত্রীশূদ্র পতানিষ । ১৩৫ { অত্রি সংহিতা) “জপ, তপস্যা, তীর্থযাত্রা, সন্ন্যাস, মন্ত্রসাধন, দেবতা আরাধন, এই ছয়টী কাৰ্য স্ত্রীশূদ্রের পাতিত্বজনক।” মানব জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা —সর্বশ্রেষ্ঠ লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভগবানকে লাভ করা। এবং উপরিলিখিত ছয়টা উপায় বা পথকে পূর্বাচাৰ্য্যগণ ভগবাভের পরমােপায় বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। ছয়টী কেন উহার যে কোন একটা উপায় অবলম্বনে ও সাধনায় মানুষ অনায়াসে ভীষণ সংসার-সমুদ্র উত্তীর্ণ হইতে পারে। একটা মাত্র আশ্রয় করিতে পারিলে মানুষ দুশ্চেদ্য মায়া পাশ হইতে পত্ৰিাণ পাইতে পারে—পরমবামে প্রেমময় মঙ্গলাস্পদ ভগবানের সান্নিধ। লাভ করিতে পারে। নিষ্ঠুর শাস্ত্রকাগণ, সংহিতাকাররূপী শূদ্রকল্পিত কোটি কোটি জীবাত্মাঘাতি ধর্মব্যাধগণ ব্রাহ্মণ শুদ্র প্রভৃতি কতকগুলি অনর্থক শব্দ সৃষ্টি করিয়া শাস্ত্রের নামে সংহিতার নামে ধৰ্ম্মেব নামে কোটি শূদ্রর প্রতি ঘাের অবিচার " কেটি নৰনারীকে তাহা হইতে এমনি করিয়া বঞ্চনা করিয়াছেন করিতেছেন। শত শত শতাব্দী ধরিয়া যুগের পর যুগ ধরিয়া কোটি কোটি মানব-সন্তানকে শুদ্ররূপ মনঃকল্পিত আখ্যায় অভিহিত করিয়া বেদ বেদান্ত বিদ্যা হইতে—ধর্ম ও জ্ঞান চর্চা হইতে-প্রণব ওঁকাব হইত জপ প সাধন ভজন-মন্ত্র সাধন দেবতা আবনা পূজা অর্চনা হইতে বঞ্চিত করা হইয়াছে ও হইতেছে। ইহারা অৰ্ম্মশাস্ত্রকার এ নহেন-ইহারা কোটি কোটি নবঘাতী ভারতের হিন্দুজাতিৰ সৰ্ব্বনা- সাধনকারী ধ্বংসকারী দানব। এই দ্ৰ কথিত নবনারায়ণ রূপী মানব জাতিব প্রতি দারুণ অবিচার ও অত্যাচারের পাপেই হিন্দবাজ্য ডুবি গিয়াছে। মানবপ্রেম হাব ‘পদতলে দলিত করিয়াছেন। “সৰু খস্বিদং ব্রহ্ম” প্রভৃতি বড় বড় বচন শুধু কেতাবেই নিবদ্ধ রহিয়াছে ব্যবহাবিক জীবনে ঐ বচনের স্বার্থকতা দৃষ্টিগােচর হয় নাই তেত্রিশ কোটি । দবতা ও ইহারাই সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং মুষ্টিমেন্স কয়েক জন ব্রাহ্মণকে বাদ দিয়া কোটি কোটি শূদ্ররূপ সয়তানেব সৃষ্টি ও উহারাই করিয়াছেন। অন্য ধর্মে একজন ভিন্ন ভগবানও নাই—শুদ্ররূপ হীন কল্পনাও নাই। আমাদেব ধৰ্ম্মে শাস্ত্রে যেমন লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি দেব দেবীর সৃষ্টি হইয়াছে—কোটি কোটি নারায়ণের কল্পনা হইয়াছে, ঠিক তদ্রুপ কোটি কোটি হীন শূদ্রও শাস্ত্রে স্থান প্রাপ্ত হইয়াছে। যাহাদে শাস্ত্রে তুলসীগাছ, বটগাছ, বেলগাছ, পাহাড় পর্বত নদী সাগর দেবতারূপে পূজিত হইয়াছেন, সেই শাস্ত্রেই কি না—মানুষের বুকের রক্ত পানির ব্যবস্থা করা হইয়াছে। কোটি কোটি কেকে শূদ্ৰ অন্ত্যজ হীন অস্পৃশ্য বলিয়া ঘৃণা অবজ্ঞা করার ব্যবস্থা রহিয়াছে। কি প্রহেলিকা! কিন্তু ইহাৰ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করিতে ভাষ্যকারের ৪ টাকাকারের অভাব নাই।

৩২ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার নীচ অধম অস্পৃশ্য ছোটলােক ইতরলােক প্রভৃতি রূপে বলিতে বলিতে কোটি কোটি লোকের মনুষ্যত্ব অপহরণ করা হইয়াছে। মানুষকে পশু অপেক্ষা হীন করা হইয়াছে। দেবমন্দির হইতে, মনােমন্দির হইতে দেবতা তাড়াইয়া দিয়া নিজেরা ব্রাহ্মণ রূপে গুরু পুরােহিত রূপে দেবতার পূজা সইতেছেন। দেববাদ উঠাইয়া দিয়া শুরুবাদ প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছে। ভগবৎপুজা বাদ দিলে মানুষের কি অবশিষ্ট থাকে ? মানুষে পশুতে যে পার্থক্যই লােপ হয়। গুরুবাদে, পুরােহিতবাদে, ব্রাহ্মণ-দেবতা-বাদে দেশ পরিপূর্ণ, সমাজ আচ্ছন্ন। হিন্দু সমাজে ভগবানের দাড়াইবার স্থান নাই। ব্রাহ্মণগণ নিজেরাই ভগবান সাজিয়া উহা অধিকার কবিয়া ইয়াছেন। সৰ্বত্ৰই এক কথা শূদ্রের গুরু ব্রাহ্মণ” “শূদ্রেব নাৰায়ণ ব্রাহ্মণ” “কলির দেবতা ব্রাহ্মণ। এই মিথ্যা প্রতারণা, এই অসত্য মতবাদে, এই পাপ ধারণা, এই মহা অপরাধে হিন্দু সমাজ ডুবিয়াছে, দিন দিন ডুবিতেছে। ভগবানের উপব ও প্রাধান্য বিস্তারে চেষ্টা চালাকী। প্রতারণা প্রবঞ্চনা কতদিন চলতে পারে? সেই সব পুঞ্জীভূত প্রতারণা প্রবঞ্চনার এখন প্রতিশােধের কাল উপস্থিত। বৈদেশিকের লাথি “ববন “মেচ্ছের লাথিতে সে মহাপাপের প্রায়শ্চিত্ত হইয়াছে ও হইতেছে। দর্পণে যেমন দেখাইয়াছ, তেমনি দেখিবে । চেঁচাইয়া ফল নাই, ব্রাহ্মণ মহা- সম্মিলনীতে সে পাপ ধৌত হইবে না। কি দারুণ অবিচার। দেবতা আন, ভগবং আরাধনা হইতে কোটি কোটা শূদ্র ভ্রাতৃগণকে ভগবতীর অশকলা-সম্ভতা সমুদয় মাতৃজাতিকে আইন করিয়া বঞ্চনা করা হয়"ছে। শুধু তাহাই নহে। শাস্ত্রকার শূদ্রগণকে জপ তপস্যা সহাস (দেবপূজা মন্ত্র সাধন-তীর্থ যাত্রা হইতে বঞ্চিত করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই-তাদিকে রীতি মত প্রাণদণ্ড দিবার ব্যবস্থা করিয়াছেন। মহর্ষি उन শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিচার অত্রি তদীয় সংহিতার উনবিংশ শ্লোকে শূদ্রের পক্ষে ঈশ্বরধনা জপ তপ প্রভৃতি গুরুতর অপরাধে নিম্ন লিখিত প্রাণ দণ্ডের ব্যবস্থা করিয়াছেন- ধ্যে রাজ্ঞ স বৈ শূদ্রে। জপ হােম পরশ্চ যঃ । ততে রাষ্ট্রস্য হন্তাসৌ যথা বহ্নেশ্চবৈ জল। ১৯ “জপ হােম প্রভৃতি দ্বিজোচিত কৰ্ম্মনিত শূদ্রকে রাজা বধ করিনে ; কারণ, জল ধারা যেমন অনকে বিনষ্ট অনকে বিনষ্ট কবে, সেইরূপ ঐ জপ হোন তৎপর শূদ্র সমস্ত রাজ্যকে বিনষ্ট করে । এইরূপ ধারণার বশবর্তী হইয়াই দয়ার সাগর দুৰ্ব্বাদলশ্যাম শ্রীরামচন্দ্র তেত- যুগে শূদ্র তপস্বী শম্বুকের নিষ্পাপ শাণিত খতে দিখণ্ডিত করিয়াছিলেন। এই স্থলে সেই শোচনীয মবিদাবক করুণ উপাখ্যান সংক্ষেপে বর্ণনা না কবিয়া থাকিতে পাবিলাম না। বাল্মীকি তপোবনে সীতা নির্বাসনের পর অসোধ্য নঃ ব্রী মহাশোকে আচ্ছন্ন। সাবী সতী জনক নন্দিনীব প্রিয় বিরহে দুদ শ্যাম রামচন্দ্রের লােচন এলে অবিবত ধারা বহিতেছে। মুখে:কেব–“ সীতা! হা সীতা! বামময়ী জীবন! হ জনকনন্দিনী! তুমি কেন হতভাগ্য রামের গলদেশে বরমাল অৰ্পণ করিয়াছিলে । লক্ষ্মণ ভরত শত্রু প্রমুখ সকলেই শোকে মুহ্যমান। কাহাব ও প্রাণে শান্তি নাই, এমন অবস্থায় একদিন একটী বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ দম্পতি একটী মৃত শিশুপুত্রকে (ক্রোড়ে লইয়া অযােধ্যায় শ্রীরামচন্দ্রের সমীপে আগমন পূৰ্ব্বক শিরে করাঘাত করিতে করিতে বলিলেন—“মহারাজ রামচন্দ্র ! রাজার পাপে রাজ্যে অকাল মৃত্যু রােগ শােক মহামারী অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টি দুর্ভিক্ষ ঘটিয়া থাকে। তােমার পাপেই আমার শিশুপুত্রের অকাল মরণ, শীঘ্র আমার বাছাকে বঁাচাইয়া দাও, নতুবা এখনি সূৰ্য্যবংশ সহিত অযোধ্যা নগর অভিশাতে ভস্মীভূত কবিব। সীতশােকে মুক্ত শূদ্রের পূল বেদাধিকার ৰামচন্দ্রেব বিপদের উপর আর এক দারুণ বিপদ উপিস্থত। তিনি গলল- কৃতবাসে সজল নেত্রে ব্রাহ্মণকে আশ্বস্ত করতঃ কুল গুরু বশিষ্ঠকে ইহাব তথ্য অনুসন্ধানে হনুবােধ কবিনে। বশিষ্ঠ ধ্যানস্থ হইয়া জানিতে পাবিনে, শম্বুক নামক একটী দ্র তপস্বী দণ্ডকারণ্যে দারুণ তপশ্চায় নিমগ্ন আছে । শূদ্রের পক্ষে তা ভগবং অবাধন ঈশ্বর উপাসনারূপ গুরুতব পাপেই রাজের অমঙ্গল, অকাল মৃত্যু দেখা দিয়াছে । অর্থাৎ শূদ্রের ছেলে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয বৈশ্য এই তিন জাতিব Fেলামী কবিবে, ইহাহ তাহার নির্দিষ্ট ক-শ্রেষ্ঠ ধৰ্ম্ম । ব্রাহ্মণাদি উচ্চ তিন জাতিব পদসেবাই তাহাব চরম উপাসন।। তাহা ত্যাগ কৰাি সেই দুষ্টবুদ্ধি শুদ্র কি না ভগবানের গােলামীতে আপনাক নিযুক্ত কবিগছে, ভগবানেব শ্রীপাদ পদ্ম সেবায় আরাধনায় নিমগ্ন হইয়াছে। সুতং আর কি বক্ষা আছে । শূদ্র হইয়া ব্রাহ্মণের পূজা পবিত্য। পূৰ্ব্বক যখন ভগবানের পূজাষ হবিব আরাধনায় নিযুক্ত হইয়াছে তখন ত এই গুরুতব পাপে বাজে। অকাল মৃত্যু উপস্থিত হইবেহ । সুত। বামচন্দ্র তুমি শীঘ্র দণ্ডকাবণে, নিজে গমন কবি। ঐ দুষ্ট শৃদে ব বিচ্ছেদ কবিয়া আইস।” দয়ার সাগর শ্ৰীৰামচন্দ্র তখন ব্রাহ্মণ বশিষ্ঠের অজ্ঞা শিবােধাৰ্য পূব্বক নিষ্কোষিত তরবাবি লই। শদ তপস্বীব প্রাণ দণ্ড কবিতে দণ্ডকারণ্য অভিমুখে যাত্ৰা করিলেন। বহুদিন পর্যটনের পর অবশেষে দণ্ডকারণ্যে উপনীত হইলেন। বহু অনুসন্ধানেব পৰ একদিন হঠাৎ দেখিন, তপঃপ্রভা-জনিত শৰীরের দিব্য কান্তিতে, ঔজ্জ্বল্যে বনভূমির চারিদিক আলােকিত ববির যােগাসনে পবম তপস্বী মহ। ত্মা শধুক উপবিষ্ট-এহ্মধ্যানে সমাসীন , বাহ্ জ্ঞান শূন্য ধ্যান-স্তিমিতন। অন্তর ব্রহ্মানন্দ প্রেমবৃত ধারা পান করিতেছেন, আর দুই চপ্ন হইতে অবিরল প্রেম'এ বার পতিত হইতেছে।

শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিচার তাহাব আরাধ্য ধন গােলকবিহারী হরি শ্রীরামচন্দ্র তখন সম্মুখীন হইয়া হে-বিজড়িত করুণ কণ্ঠে ডাকিলেন-“বংস ! নয়ন উন্মীলন কর এই যে আমি এসেছি-ভক্ত শর্ধক নযন উন্মীলন করিয়া সম্মুখে আপনার হৃদয়ের বনকে আবাধ নিধিকে দর্শন কবি। ভক্তবৎসল শ্ৰীৰামচন্দ্রের শ্রীপাদ মূলে ছিন্ন তরুর মত পড়িয়া গেল, আব নয়নজলে তাহার শ্রীপাদপদ্ম ধৌত করিয়া দিতে । (লি। বাকস্পন্দনের শক্তি নাই। অতঃপর এবাম পুনব্বার তেমনি করুণ সবে অমিষ বিজড়িত কণ্ঠে বলিলেন-- আমি আসিয়াছি বটে, কিন্তু তোমাৰ বড় দুৰৈ, তােমাৰ শিরচ্ছেদ করিতে আসিয়াছি।” তখন ভাবাবেগে আকুল শম্বুক ভক্তি গদগদ কণ্ঠে বলিয়া উঠিল—“প্রভু, আমাব যদি দুর্দৈব—দুর্ভাগ্য তবে সৌভাগ্য কার ? যে তােমাকে ভব-বিরিঞ্চি সুবোদি দেবতাগণ, কত বিষি মহর্ষি দেবর্ষি ব্রহ্মবি প্রভৃতি মুনিগণ যুগ যুগ। কোটা কল্লান্ত আরাধনা কবিয়া দর্শন করিতে পারেন না-অন্বেষণ কবিয়া বাহিৰ কবিতে পাবেন না—সেই তুমি জবাধন সুর মুনি-নব-বনিত দুব্বাদল শ্যাম পূর্ণব্রী নারায়ণ নিজে অবােধর স্বর্ণ সিংহাসন- রাজছত্র—মেঘস্পর্শী মম্মৰ প্রাসাদ পরিত° পূৰ্ব্বক আমাব অনুসন্ধানের জন্য, আমাকে দেখিবার জন্য কত জনপদ পদব্রজে ভ্রমণ কবিয়া দণ্ডকারণ্যে উপনীত হইয়াছ,প্রভু হইয়াছ,প্রভু ইহা অপেক্ষ। অধম শঙ্কুকের আব কি সৌভাগ্য হইতে পাবে। যাহা কখন হয় নাই, আমার ভাগ্যে তাহাই হইল—অসম্ভব সম্ভব হইল । তারপর-তারপৰ যাহা ঘটিল, তাহা লিখিবার নয়, বলিবাব নয় । তারপব দয়ার সাগব শ্রীরামচন্দ্রের নিষ্কোষিত শাণিত তরবারি পবম ভক্ত শধূকেব তপঃ প্রভাজনিত উষ্ণ রক্ত পান করিয়া ভারতে ব্রাহ্মণ অত্যাচাবেব পত্র কীতিধ্বজা উড্ডীন কবিল।

শূদ্রের পূল ও বেদাধিকার যে রামায়ণের অদিকাণ্ডে বৈশ্য ঔরসােৎপন্ন শূদ্ৰাগৰ্ভ জাত সিন্ধু মুনিকে (১) বধ করিয়া দশরথের ব্রহ্মহত্যার পাপ অর্জিত হইয়াছিল ; সেই রামায়ণেরই উত্তরকাণ্ডে শ্রীরামচন্দ্র শূদ্র-তপস্বীর শিরচ্ছেদ করিয়া অতুল কীত্তি, অসীম কর্তব্য, অপার পুণ্য সঞ্চয় করিলেন! কি প্রহেলিকা। এই ত গেল শূদ্র নামধেয় হতভাগ্য জীবগণের প্রতি তাদের ধম্ম- শস্ত্রকারগণের অপার ভালবাসার পরিচয়। তাব পর খুটিনাটি ধরিয়া (* কত দয়ার ব্যবস্থা করিয়াছেন, তাহার ইয়ত্ত্বা নাই। কোন স্থানে দ্রের ঘণিত ও নিন্দিত নাম রাখিবার কথা বলিয়াছেন। কোন স্থানে ধােপাকে একের বস্ত্রের সহিত অন্থেব বস্তু মিশাইতে নিষেধ করিয়া বিধি করিয়াছেন”। (২) মলতঃ ব্রাহ্মণ শূদ্রের পার্থক্যকে আকাশ পাতালের সহিত তুলনা কৰিলেও বােধ হয় অসঙ্গত হইবে না। বা হইতেছে, ব্রাহ্মণের যাহাতে পুণ্য, শূদ্রের তাহাতে পাপ। যথা- পঞ্চগব্যং পিবেচ্ছদ্রো ব্রাহ্মণস্তু সুরাং পিবেৎ। উভে৷ তৌ তুল্য দোষো চ বসতে নরকে চিরম ॥ ২৯৪ ( অতিসংহিতা) “পঞ্চগব্যপায়ী শূদ্র এবং সুপায়ী ব্রাহ্মণ উভয়েই তুল্য পাপী, এই দুই ব্যক্তি চিরদিন নরকে বাস কবে ” অর্থাৎ যে পঞ্চগব্য পান করিলে ব্রাহ্মণ গুরুতর পাপ হইতে নিষ্কৃতি পায় সেই পঞ্চগব্য পান করিলে শূদ্র বিকালের জন্য নরকে নিমগ্ন হয়। একনেব পাপ ক্ষয়, অপরের প ১) শূদ্রায়ামস্মি বৈনে শৃনুজানপদাধিপ। ২) মনু, অষ্টম অধ্যায়, ৩৯৬।

শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিচার। সঞ্চয়। এ সন্ধে অধিক টাকা টাপ্পনীর প্রয়ােজন নাই। শূদ্রের প্রতি অত্যাচারের পূর্ণ পরিচয় দিতে হইলে একখানা স্বতন্ত্র বৃহৎ পুস্তক লিখিবার প্রয়ােজন। ভবিষ্যতে সেরূপ পুস্তক লিখিবারও ইচ্ছা রহিল। মনু, যম প্রভৃতি সংহিতকারগণ শুধু শূদ্রগণের প্রতি এই সব গুরুতর দণ্ডেব ব্যবস্থা করিয়াই নিরস্ত হন নাই, শূদ্রযাজী ব্রাহ্মণের পৃষ্ঠে পৰ্য্যন্ত তীব ভাবে কশাঘাত করিয়াছেন—চাবুক মারিয়াছেন। তাহাদিগকে শু দ্রব কায় ঘৃণিত চিত্রে চিত্রিত করিয়াছেন। মনু একাদশ অধ্যায়ে ৬০ গােকে, আপস্তম্ব নবম অধ্যায়ে ২২ শ্লোকে, শূদ্রযাজী ব্রাহ্মণগণকে গােহত্যাকারী, চোর, স্বীহত্যাকারী, পরস্ত্রীগামীর তুল্য অপরাধী সাব্যস্ত করিয়া চালায় প্রায়শ্চিত্তের বিধি প্রদান করিয়াছেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এমনি হইয়া দাড়াইয়াছে যে, যদি কোন জাতি বা সম্প্রদায় ক্ষত্রিয় বা বৈশ্য হইতে উদ্যত হয়, তবে তাহাদের পুরােহিত ব্রাহ্মণই অগ্রে অগ্রে তাহার বিরােধী হইয়া দণ্ডায়মান হন। মনু যে শূদ্ৰষাজী ব্রাহ্মণগণের নাক কাণ মলিয়া ঠিক করিয়া দিয়াছেন, তবুও তাহাদের লজ্জা বা ঘৃণা বােধ নাই। মন্থর নামে তাহাদের জিহ্বায় জল আইসে! শুধু শূদ্রযাজক পুরােহিতকুলকেই নহে শূদ্র দীক্ষা-দাতা গুরুকুলকেও বিলক্ষণ তিরস্কার করিয়া দৈব ও পৈত্র কাৰ্যে নিমন্ত্রণের অযােগ্য বলিয়া বিধিদান করিয়াছেন। ফল কথা শূদ্র শয়তান- গণের ত কথাই নহে—তাহাদের সঙ্গে যারা কোন না কোন প্রকারে আদান প্রদান প্রীতি প্রণয় রাখিয়াছেন তাহাদের পৃষ্ঠদেশেও মনু প্রভৃতি সংহিতাকারগণ চাবুক মারিয়াছেন। বেদান্ত ভাষ্যকার পর্যন্ত দক “চলমান শ্মশান” এই সংজ্ঞা দান করিয়া শূদ্রবিদ্বেষের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করিয়াছেন। অর্থাৎ শ্মশান তুমি যেমত সাধারণতঃ অশুচিকর অস্পৃশ্য দ্রব পূজা ও বোধিকার ছাই ভস্মে পরিপূর্ণ অপদার্থ স্থান বলিয়া বিবেচিত, শূদ্রগণও ঠিক তদ্রুপ। তবে পার্থক্যের মধ্যে এই টুকু যে শ্মশানভূমি অচল আর এগুলি চলমান। ঘণর চরম বিশেষণ চলমান শমশান।” একদিকে শুদ্রগণকে যেমন ঘৃণিত ভাবে বিচিত্র কবা হইয়াছে, অপরদিকে ব্রাহ্মণগণকে ঠিক তদনুরূপ ভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হইয়াছে। নিম্নলিখিত শ্লোক সমুদয় গুণ ক মাহাত্ম্য চি-ইযা খাইয়া দাম্ভিকতার চরম পরিচয় প্রদান করিয়াছে। যথা:- অঃশীলােহপি দ্বিজঃ পূজো ন শূদ্রো বিজিতেন্দ্রিয়ঃ । ক পরিত্যজ্য দুষ্টাংগাং দুহেচ্ছীলবতীং খরীম্ ॥৩২ অষ্টম অধ্যায়-পরাশর সংহিতা। অ। ২ ‘দুঃশীল ( দুশ্চ বত্র ) হইলেও দ্বিজ পূজ্যই হইবে, আব শূদ্র **রূপ জিতেন্দ্রিয় হইলেও সে পূজনীয় হইবে না। কাবণ বা দেখি, * ষ্ট দুষিত শৰীর ভীকে পাবত্যাগ কবি সুশীলা গদ্দভী দোহনে প্ৰর হয় ?” এইরূপ শোক তুইতেই বোৰ হয় নিম্নলিখিত প্রবাদ বাক্য ৫ । ইয়া থাকিবে , ‘া ন কারী বামুন শূদ্রেব না।” * ণ গবে এই খানেই শেষ নয়, পবে আবও বা হইতেছে ক্রীড়ার্থ মসি। যমুঃ স ধৰ্ম্ম পৰম স্মৃতঃ ॥৩৩ ঐ ব্রাহ্মণণ ক্রীড়া বা খেচ্ছিলে কি পরিহাসচ্ছলে ও যদি কোন কথা হেন, তবে তাহাও পরম ধম্ম বলিয়া জানিবে ।” * ঠকাণ ! দেখিবেন, কিরূপভাবে প্রাচীন বৈদিক ধৰ্ম্ম-মহা সাম্যবাদ সাহিতিক যুগের যুগাচাৰ্য আতচুড়ামণিগণের পাল্লায় পড়ি কি পূতিগন্ধময় ন্যাক্কাজনক হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সংহিতাকাররূপী বাক্ষসগবে হিংসার কবলে পড়ুয়া ধৰ্ম্ম হজম হইয়া গিয়াছে,-বিনষ্ট ইয়াছে। শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিচার ধম্ম কি আর ভারতে আছে ? ধন্য নাই আছে উজান আবরণ থােসা ভূষি, বাহিরে চটক। বৈদিক ও বেদা ধৰ্ম্ম লােপ হইয়াছে। আছে স্মৃতির ধৰ্ম্ম। আবাব যোগ তপস্যা যাগ যজ্ঞে পূজার্চনায় নাই—আছে কেবল বান্নাঘবে ভাতেব হাড়িতে-শুদ্ধাশুদ্ধ স্পর্শাস্পর্শেব বিচাৰে—ছু মার্গে । কিন্তু হায় । এ ধৰ্ম্মও মনু প্রাণ ধরিয়া শূদ্ৰশয়তানদিগকে দিতে কুঙ্গিত, নাবাজ, অসম্মত। ব্রাহ্মণাদি উচ্চ তিন জাতিব সেবার জন্যই কথন মনুব নাল ঈশ্বর উদি’ক সৃষ্টি কবিয়াছেন, তখন বাণ সেই হাদেব কমাত্র । সম পৰম ধৰ্ম্ম বলিয়া নির্দেশ কবিয়াছেন। # যুব ধম্ম যে এরূপ হইতে পাব, তাহা জগত অবিদিত। ই ধৰ্মৰ নতন অনিব 61 এমন ধরে সংশন (*নি অবতাব, (কনি গুগচাৰ্য, কোন ধন্থ চাব পzিত নন। ইহা মহর্কি মনুর নবানি ও পটেন্ট বা ই শুনল ৯ব -২ কণ্ঠ দিয়েছেন- ক মুভযার্থং বা কি প্রনারাধযঃ। ৩ ব্রাণ * ব্দ । হস্য কৃত তা তা। ১২ বিপ্ৰদবৈ দ্রও নিশিং কৰ্ম্ম কীর্ত্যতে। -তে ৩৮ কু তে ভবতস্য নি। ১৩ ( ‘শম অব , ১া। অর্থাৎ “স্বর্গলাভা : স্বর্গ ০ নিজ জীবিকা এত:ৰ • আর্থ বাহ্মণ, দুর আবা! ম ণ সেবক”-এই • ৮ বা ২" এই শুদ্র কৃত' কাভ করি। প্রিসেবাই শূদ্রর সঙ্গে ষ্ট কৰ্য্য লিয়া • এতন্নি যে যাহা কি, কান, ":-- • ?? নিদ্ধ।” । हहिं हम শূদ্রর পূজা ও বদাধিকার মহাপ্রাণ মার্টিন লুথারের অভ্যুদয়ের পূর্বে যেমন খ্ৰীষ্টীয় ধৰ্ম্মাজকগণের গুরু নােমর পােপ খ্ৰীষ্টীয় নর নারীগণের নিকট হইতে প্রচুর পরিমাণ অর্থাদি গ্রহণ পূর্বক তাহাদের মৃত পিতামাতা আত্মীয় স্বজনগণের নিমিত্ত বর্গের চাবি খুলিয়া দিয়া তাহাদিগকে উদ্ধার করিয়া স্বর্গে পাঠাইতেন- ঠিক সেইরূপই, প্রতারণাময় ও প্রবঞ্চনাপূর্ণ বাক্যে ব্রাহ্মণ শাস্ত্র-প্রণেতৃগণ ঋষিগণের নামে সরলপ্রাণ শাস্ত্রজ্ঞানানভিজ্ঞ মুর্থ শূদ্রগণকে স্বর্গে পাঠাইবার প্রলােভন দেখাইয়াছেন। শাস্ত্রের নামে-ধর্মের নামে, দেবতার নামে, ঋষিগণের নামে, এমন কি স্বয়ং ভগবানের নামে নিজেরাই দেবতা ঋষি ভগবান সাজিয়া শুরুরূপে, দেবতারূপে সেবা পূজা ভােগ নৈবেদ্য অর্থ বিত্ত গ্রহণ করিবার শঠতাপূর্ণ বিধি দান করিয়া গিয়াছেন। ভগবদর্শন কি। ভগবানকে প্রদর্শন করান ত দূরের কথা, বিন্দুমাত্র ভগবত্তত্বের অনুসন্ধান না করিয়াও মানবের আরাধ্যতম ভগবানের একমাত্র প্রাপ্য পূজা অর্চন। সেবা আরাধনা কত নরাধম কুলগুরু গ্রহণ করিতেছে। মন্ত্রদাতা ব্রাক্ষণ- গুরুই যে ভগবান,—শিষের একমাত্র আরাধ্য ভব পারের কাণ্ডারী, তাহাই প্রমাণ ও প্রচার করিবার জন্য গুরুগীতায়ও কত শ্লোকে চেষ্টা করা হইয়াছে। সামান্য ২৪টা টাকার লােভে, বার্ষিকের প্রলোভনে কত নরাধম গুরু, নরােত্তম ভগবানের পূজা গ্রহণ করিয়া নরকের দ্বার পরিষ্কার করিতেছে। ক্ষুদ্র নগণ্য সৃষ্ট কীটও নাকি আবার স্রষ্টা হইতে পারে? মানুষও আবার ঈশ্বর হইতে পারে ? ক্ষুদ্র নগণ্য ধূলিকণা স্বরূপ—মানুষকীটও নাকি সেই দেবাদিদেব নিখিল বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের ঈশ্বর শ্রষ্ঠার পূজা গ্রহণে সাহস করিতে পারে ? হায় ব্রাহ্মণ ! তােমার কি না পতনই হইয়াছে ? তিন জাতিকে ছোট করিয়া একেবারে ধরাকে সরা জ্ঞান পূর্বক সেই পরম দেবতার আসন পৰ্যন্ত অধিকার করিবার শদুর প্রতি ঘাের অবিচার ৪১ ৫ ভাষ্ট করিতে যাইয়াই না তােমার আজ তােমার আজ এই পরিণাম—এই অধঃপতন ? হে বঙ্গের শূদ্রসংজ্ঞক আর্য সন্তানগণ! দিধামবাসী দেবননগণ । তােমাদের মন হইতে ঘৃণা লজ্জা অপমান লাঞ্ছনা কি একেবারে মুছিয়া গিয়াছে ? তােমাদের মনুষত্ব কি একেবারে বিলয়প্রাপ্ত হইয়াছে ? নতুবা কেমন করিয়া আজিও স্মৃতি সংহিতা মনু যাজ্ঞবল্ক্যর পা চাটিয়া পশুর মত কুকুরের মত পড়িয়া আছ ? ধিক্ তােমাদের বিদ্যা বুদ্ধি ধন ঐশ্বৰ্য্যকে,. ধিক্ তােমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও উপাধিকে, ধিক্ তােমাদের কাপুরুষােচিত আন্দোলন আলােচনাকে? তােমাদের মধ্যে কেহ কেহ ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য হইতে যাইতেছ, ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণের পা চাটিয়া, তৈল মাখাইয়া ঘুপদিয়া একখানা ব্যবস্থাপত্রের চোতা সংগ্রহ করিয়া কয়দিন হট্টগােল করিতেছ-এবং জন কয়েক টিকিধারী মুণ্ডমালার দাত খেচুনি দেখিয়াই ভয়ে ডর কাপিতে কঁপিতে প্রায়শ্চিত্ত করিয়া গোবরজল খাইয়া মাথা মুণ্ডন ও ঘােল ঢালিয়া আবার যে মুষিক, সেই মুষিকই সাজিতেছ । যদি সাহসেই না কুলায় ত অমন বড় হইবার সাধ কর কেন? অমন বড় হওয়ার সাধকে শতবার ধিক! যে শাস্ত্র যে ব্রাহ্মণ তােমাদিগকে কুকুর বিড়াল অপেক্ষাও হীন করিয়া, হেঃ অবজ্ঞাত অপদার্থ করিয়া রাখিয়াছে— সেই শাস্ত্রের সেই ব্রাহ্মণগণের নিকট আবার প্রতিকার প্রার্থনায় মন কর ? যে শাস্ত্র তােমাদিগকে শয়তান অপেক্ষাও ঘৃণিত চিত্তে চিত্রিত করিয়াছে-সেই শাস্ত্রের শ্লোক উদ্ধত করিয়া আবার গৌরবান্বিত হও। দেখিলে ত শাস্ত্রকাশণ শূদ্রগণকে কি বলিয়াছেন। তবুও মায়া, তবুও শাস্ত্রানুরাগ,-শাস্ত্রের শ্লোক উদ্ধারের চেষ্টা! হায়রে বিষ্ণুমায়া ! সেলে দাও শাস্ত্র ফাস্ক স্মৃতি সংহিত, ফেলে দাও বিধি নিষেধ ব্যবস্থা প্রায়শ্চিত্ত ।

ওরে ৪২ শূদ্রের পূজা ও বোধিকার শাস্ত্রের দোহাই দিয়া-বচনের শক্তিতে কে কবে বড় হইয়াছে? কোন্ জাতি কোন সমাজ কবে উন্নত হইয়াছে ? মনপ্রাণে আচার ব্যবহারে শুদ্রত্ব পরিহার কর। মুখে বড় বলিলেই বড় হওয়া যায় না। বড় হইতে অনেক তৈল মসলা লাগে। অনেক অর্থব্যয় শরীর ক্ষয় হৃদয়-শশাণিত দান স্বার্থত্যাগ ও আত্মত্যাগ দরকার। স্মৃতি সংহিতা গঙ্গার জলে ডুবাইয়া দাও। যে শাস্ত্র মানুষকে দেবতা করে না, হিংসাই যাহার মূল মন্ত্র, বিদ্বেষ যাব পত্রে পত্রে, ভেদ বুদ্ধি যার ছত্রে ছত্রে—তাহা কি আবার শাস্ত্র-ধৰ্ম্মবিধি ? শূদ্রকে বলা হইয়াছে, ব্রাহ্মণাদির দাস—সেবক -গােলাম। তােমরা কি ব্রাহ্মণাদি উচ্চ শ্রেণীর দাস বলিযা চিরকালই চারিযুগই পরিচয় দিতে ৗেবব বােধ করিবে? শ্রাদ্ধাদি কার্যে ভগবতীর অংশ কণা মাতৃদেবীকে কি চিরকালই দাসী বলিয়া মন্ত্র পড়িবে ? নবোধগণ ! মা যাদের দাসী, তাবা কি কখন বৈশ্য ক্ষত্রিয় বা বড় হইতে পাবে ? মাতৃদেবীকে (যে শাস্ত্ৰ দাসী, পিতৃদেবকে যে শাস্ত্ৰ দাস বণে- কেনে দাও সেই শাস্ত্র যমুনার জলে ! এইটুকু সাহস ও হৃদয় বল লইযা বৈশ ক্ষত্রিয় হইতে চাও? শূদত্ব যে হাড়ে হাড়ে রক্তে রক্তে প্রবেশ করিয়াছে । সাধনাব পবিত্র জলে। মনের ময়া, চিত্তেব কুসংস্কার, হৃদয়ের অবসাদ ধৌত করিয়া ফেল। সৎশাস্ত্রেব অনুবর্তী হও—বেদেব শরণ 'ও, বেদান্ত চর্চায় মনােযােগ দাও। স্মৃতি সংহিতার খােসা ভূসি ফেলিয়া দিয়া বেদের শিক্ষা গ্রহণ কৰ। অসাব স্মৃতি, ভুয়া সংহিতা ফেলিয়া দিয়া বেদেব ও উপনিষদের সার তত্ত্ব এবং বেদ বেদান্তনুমােদিত সার শাস্ত্র আশ্রয় কর। বেদবেদান্ত গীতা ভাগবতের সহিত বাহর ঐক্য আছে, সামঞ্জস্য সমতা আছে, তাহাও গ্রহণ কর। হউক না যদিও তাহা স্মৃতি সহিত পুরাণ তন্ত্র। বেদ-প্রামাণ্য শাস্ত্রই শাস্ত্র এবং বেদ অপ্রামাণ্য শাস্ত্রই শূদ্রের প্রতি যাের অবিচার অশা। শুধু হিন্দু শাস্ত্র কেন, বেদের সঙ্গে বাইবেল কোণ ধম্মপদ ত্রিপিটকের যে টুকু মিলে, তাহাও গ্রহণ কর। শুন তবে শূদ্র কথিত দেবাংশগণ ! আশায় বুক বাঁধিয়া বৈদিক ধর্ম শ্রবণে অবহিত হও। সংহিতাদি শান্তু তোমাদিগকে হীন নীচ অধম অস্পৃশ্য বলিলেও প্রকৃত পক্ষে তােমরা অধম অস্পৃশ্য হীন নীচ সহ। তােমরা জ্যোতির তনয়, ভগবানের সন্তান। জীব মাত্রেই তাহার সন্তান-অংশ। শুধু তুমি আমি ধনী দরিদ্র, পণ্ডি ৩ মুখ, উচ্চ নীচ, উত্তম অধম, ব্রাহ্মণ শূদ্র, দ্বিজ চণ্ডাল, আৰ্য ম্লেচ্ছ, হিন্দু যবন বলিয়া নহে—জীব মাত্রেই—এমন কি, পশু পক্ষী কীট পতঙ্গ পর্যন্ত সকলেই তাহার সন্তান—অংশ। অবিদ্যা যশে—-ভ্রান্তি শতঃ আমরা পরস্পর পরস্পরের প্রতি বৈরভাব, বিদ্রোহাচরণ করিতেছি, দুণ অবমাননা আপন পর শত্রু মিত্ৰ ৰােধ করিতেছি। এক স্নেহময় করুণাময় ভগবানই আমাদের স্রষ্টা জনক জননী পিতামাতা। শুধু ভারতবর্ষ বলিয়া নহে, শুধু হিন্দু বলিয়া নহে—পৃথিবীর সমুদয় নর নাবীই এক অচ্ছেদ্য প্রেমবন্ধনে ভাতৃভাবে পরম্পর অাবদ্ধ। যে গৃহে, যে পরিবাবে পুত্র কন্যাগণ, ভাই ভগিনীগণ পরস্পর ভালবাসায় প্রেম প্রণয়ে আবদ্ধ, সে গৃহ কেমন আনন্দময় ! সেই গৃহেই গৃহ দেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ সতত বিরাজ করেন। আর যে গৃহে পরস্পর ভালবাসা, প্রেম প্রণয় স্নেহ মমতার পরিবর্তে ঘৃণা বিদ্বেষ অভিমান গৰ্ব্ব বিরাজ করে, সে গৃহের গৃহস্বামী পিতা মাতা কত কষ্টই—কত মনােবেদনাই না পাইয়া থাকেন। এই বিরাট বিশ্বে আমরা সকলেই বিশ্বেশ্বর ভগবানের সন্তান, জননী ভগবতীর পুত্রকন্যা-এক মানব পরিবারভুক্ত। এখানে কি আমাদের ঘৃণা বিদ্বেষ প্রকাশ করা কখনও উচিত। যে পরিবারে ভাই ভগিনীগণের মধ্যে পরস্পর ৪৪ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার মধুমাখা স্নেহ ভালবাসা নাই, সে পরিবার যে শ্মশান তুল্য ভয়ঙ্কর স্থান! পিতা মাতার কত কষ্টের কারণ। ব্রাহ্মণ ! তুমি নীচ আভিজাত্য গর্বে স্ফীত হইয়া, অন্ধ হইয়া অন্য ভাইকে হাড়ি ঢােম চণ্ডাল বলিয়া, পারিষ মেঘ পঞ্চম বলিয়া কি দারুণ ঘৃণাই না করিতেছ? কিন্তু একবার তুমি বাহ্যদৃষ্টি বন্ধ করিয়া অন্তশ্চক্ষু দ্বারা তাহাদের প্রাণের মধ্যে প্রবেশ করিয়া দেখ দেখি—যাহাদিগকে তুমি ঘৃণা কর, তাহারা তােমাৰ কে ? তাহাদের সঙ্গে তােমার কি ঘনিষ্ট সম্বন্ধই না রহিয়াছে ? ইহারা যে সকলেই তোমার জগজ্জননী ভগবতীর স্নেহের সন্তান-দয়া হরির প্রিয়তম পুত্রকন্যা–তােমার বড় আপনাব—ভাই ভগিনী আত্মী। সুহৃৎ! এমন ভাই ভগিনীগণকে যাহারা বিন্দুমাত্র অবজ্ঞা কবে—তাহাব। পিতামাতার বক্ষে শেল বিদ্ধ করে। হে সন্তানের জনক জননীগণ । একবার ভাবিয়া দেখ, যদি কেহ তোমাদের পুত্রকন্যাগণকে অপমান ঘৃণা কি পদ দলন করে, প্রহার করে—আঘাত করে—তবে তােমাদের মনে কি ভাব হয় ? আর যিনি তােমাদিগের সন্তানদিগকে আদর ও স্নেহ করেন, তাদের প্রতিই বা কিরূপ ভাব জন্মে ? পুত্রকন্যদিগকে ভাল- বাসিলে পিতামাতার ভালবাসা পাওয়া যায় এবং পুত্র কন্যাদিগকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা করিলে পিতামাতার অসন্তোষ ও বিরাগভাজন হইতে হয় । ইহা বুঝিয়া চণ্ডাল পারিয়া কথিত তাহার দীন সন্তানগণের প্রতি, তােমার অভাজন অজ্ঞ অনুন্নত অবজ্ঞাত ভাই ভগিনীগণের প্রতি বিদ্বেষ ভাব পরিত্যাগ কর। ইহারা যে সকলেই তােমারই পরম পিতার দেহের সন্তান। ইহাদিগকে ভাল বাসিলে, আদর যত্ন ও সেবা করিলেই তিনি সন্তুষ্ট হইবেন-নতুবা তাহার বীনা সন্তানগণকে ঘৃণা করিয়া পদতলে দলিত করিয়া চাল কলার নৈবেদ্য লুচি পরমান্নের ভােগ দিযা নামাযণের ৪৫ শূদ্রের প্রতি ঘাের অবিচার প্রীতি উৎপাদন করিতে পারিবে না। (১) পুত্রের নিগ্রহে যে পিতারই নিগ্রহ করা হয়-পুত্রের দেহ যে পিতারই দেহ। পুত্রের নাম যে আত্মজ অঙ্গজ। আত্মাই যে পুত্র রূপে জন্মগ্রহণ কবি থাকেন। পুত্র ও পিতা কি আবার পৃথক-ভেদ ? যেই পুত্র সেই পিতা? মালদহের আবীজ যদি অন্য দেশে রোপণ করা যায় তবে সে বীজ হইতে আম্র- রক্ষই এবং অম্রই জন্মে-কাটাল কিপা জাম, আতা বা পেয়ারা জন্মে না। 3.ব হা, জল বাযু মাটীর গুণে, যত্নের গুণে আম ছােট বড় বা টক হইতে পারে, এইটুকু মাত্র পার্থক্য। যদি বাস্তবিক ভগবানই আমাদের স্রষ্টা জনক হন—পিতা হন, তবে আমরা কেহই হীন নই, মানুষ বা পশু নই, ব্রাহ্মণ বা শূদ্র নই, দ্বিজ বা চণ্ডাল নই। এ গুলিকে আমরাই পৃথক পৃথক ভাবে চিনিবার জন্য ঐরূপ সংজ্ঞা দিয়াছি বা নামকরণ কবিযাছি মাত্র। আর যদি ভগবান সৃষ্টি করিয়া গাধিরাজ নন্দন বিশ্বামিত্র মুনির ন্যায় আব কোন মুনি শূদ্রদের সৃষ্টি করিয়া থাকেন, তবে তা কোন কথাই নাই । বিশ্বামিত্র বা ততুণ্য কোন মুনি সৃষ্ট শূদ্র অপেক্ষ। ভগবানেব সৃষ্ট ব্রাহ্মণের নিশ্চয়ই গৌরব করিবার বা বড় বলিবার অধিকার আছে । হিন্দুসমাজ না ক্ষেপিলে ক্ষুদ্র নগণ্য সৃষ্ট পদার্থকে স্রষ্টা ভগবানে। আসন দিয়া আশু ধান্য সবরি কলার সমস্যা সমাধান করিতে চেষ্টা করত না। যাহা হউক, শ্রীভগবানই যে লীলাচ্ছলে জীব দেহ ধারণ করিয়া থাকেন, অদ্বৈতবাদী হিন্দুর পক্ষে ইহা অনুমান করা কঠিন কহে। শাস্ত্রকাব কি বলেন, এক্ষণে ক্রমে ক্রমে আমরা তাহাহ প্রদর্শন কবি। শাস্ত্রের দোহাই ভিন্ন তাহারা যখন কোন কথা (১) এক জগত। তাতো জগত। চ রাধিকা। (শ্রীনারদ পঞ্চরাত্র) “জগতের পিতা শ্রীকৃষ্ণ এবং মাতা রাধিকা।

০৬ শূদ্রেব পূজা ও বেদাধিকার কাণে তুলিতে চাহেন না, তখন শাস্ত্রেব কথাই বিশেষ করিয়া বলা যাই- তেছে। ভরসা কবি, বিজ্ঞ বীব দয়াসু পাঠক অৰিবত শাস্ত্রীয শ্লোক উদ্ধত করিয়া গ্রন্থ নীৰ কৰাৰ অপৰাবে লেখককে কৃপা পূর্বক মজ্জন' করিবেন। জীবরূপে ভগবান। জীব যে ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কিছুই নাই, অবিদ্যা ও মায়াম আচ্ছন্ন হইয়া যে মানুষদি নানাবিধ হতব যােনি প্রাপ্ত হন-ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য তাহাই বলিতেছেন— অন্ত্যপক্ষি স্থাবরাং মনাবাকাস কম্মজৈ। দোষৈঃ প্রয়াতি জীবােহয়ং ভব যোনি শতেষু চ ॥ ১৩১ ৩ অধ্যায় , যাজ্ঞ সংহিত। এই জীব বস্তুতঃ ঈশ্বর হইও অবিদ্যাশে মেহরােগাদি দ্বার অভিভূত হইয়া, মানসিক বাচিক এবং কায়িক কম্মজনিত দোষে চণ্ডালদি অন্ত্যযােনি প্যাদি যােনি এবং স্থাবর যােনি প্রাপ্ত হন, আর অন্যান্য শত শত জন্মে ও বহুবিধ ভয় পাইয়া থাকেন।” পূর্বোক্ত কথা আরও ভালরূপে বুঝাইবার জন্য তিনি পুনরায় বলিয়াছেন :- যদাহি ভবতে বর্ণৈঝর্ণয় ত্যাক্সন মুম্ । নানারূপানি কুৰ্ব্বাণস্তথাত্মা কদাস্তঃ ॥১৮২ ঐ “যেমন নট নানাপ্রকার রূপ করিবার জন্য নিজ শবীরকে শ্বেত কৃষ্ণাদি “নানা বর্ণে বিচিত্র করে, সেইরূপ আত্মা ( আত্মারূপী ভগবান) কম্মফঃ তােগার্থ নানাবিধ শরীর ধারণ করেন জীবরূপে ভগবান “সেই অনাদি পরমপুরুষই, শরীর ধারণ দ্বারা আদিমান ও কুজাদি বিকার সম্পন্ন হন। অনাদিদিমাংশ্চৈব স এব পরুষঃ পরঃ। লিঙ্গেন্দ্রিয় গ্রাহরূপঃ স বিকার উদাহৃতঃ ১৮৩ যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা শ্রীমদ্ভাগবতে নারদ যুধিষ্ঠিরকে বলিতেছেন :- “হে রাজন! মনুষ, পশু, পক্ষী, ঋষি ও দেবতারূপ শরীব সকল ভগবানই সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আপনি সেই সকল পুরে জীবরূপে শয়ন করেন, এই জন্য ইনি পুরুষ বলিয়া বিখ্যাত। এই সকল শরীরেই হরি তারতম্য ভাবে অবস্থিত। কিন্তু পুরুষ (জীব ) দেষিগণকে প্রতিমা, পূজিত হইয়াও ইষ্টফল দান করেন না।” (১) ভগবান স্বয়ং স্রষ্টা ও সৃজিত । শ্রীমদ্ভাগবতকার পুনরায বলিতে- ক্ষ ছন ঃ- “এই প্রভু ঈশ্বব অাত্মাই এই বিশ্বরূপে সৃষ্ট হন ৪ শ্ৰষ্টারূপে সৃষ্টি কবেন--পালিত হন ও পালন করেন—শীন হন ও লয় করেন।” (২) আৰ্য ম্লেচ্ছ ব্রাহ্মণ চণ্ডাল বলা ত দূরের কথা, ভগবান বলিতেছেন- ভূমণ্ডলের যত সৃষ্ট পদার্থ আছে, সকলই আমি। আমি ছাড়া আর কিছুই নাই। অন্য কোন কিছুর অস্তিত্ব নাই। সৰ্ব্বত্রই আমি। সধ্বং খদিং ব্ৰহ্ম”, “একমেব অদ্বিতীয়ং।” জলে আমি স্থলে আমি,-ঋণে আমি মর্ত্যে আমি, উর্দ্ধে আমি, অধধদেশে আমি, চলে আমি, সূর্যে (১) অনুবাদ-সপ্তম স্কন্ধ, চতুর্দশ অধ্যায় (২) উদ্ধবের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ, একাদশ স্কন্ধ ; ২৮ অধ্যায়।

৪৮ র শূদ্রের পূজা ও কেদাধিকার আমি, গ্রহে আমি, উপগ্রহে আমি, নক্ষত্রে আমি, উল্কায় আমি। আমি, আমি, আমি ভিন্ন আর কিছুই নাই। অনলে আমি, অনিলে আমি, মেঘে আমি, বিদ্যুতে আমি, আকাশে আমি, পাতালে আমি, গৃহে আমি কান্তারে আমি, বেশ্যালয়ে আমি, দেবালয়ে আমি, পর্ণকুটীরে আমি, অট্টালিকায় আমি। আমি নই কোথায় ? আমিই যে কোটি কোটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আচ্ছন্ন করিয়া আছি। ব্রাহ্মণে আমি, চণ্ডালে আমি, রাজায় আমি, ভিখারীতে আমি, আৰ্য্যে আমি, অনাৰ্যে আমি, মেচ্ছে আমি, মনে আমি, বিষ্ঠায় আমি, চন্দনে আমি, চোরে আমি, সাধুতে আমি । আমিই সব। তমে আমি, বস্ত্রে আমি, খাদ্যে আমি, অখাদ্যেও আমি, মানুষে আমি, পশুতে আশি, কীটে আমি ক্রিমিতে আমি, বক্ষে আমি লতিকায় আমি, ফুলে আমি হলে আমি। তথাপি হায় তুমি জান্তজীব, আমি আমি করিয়া চরিতে। তুমি আপনাকে ব্রাহ্মণ, পণ্ডিত, আৰ্য্য মনে করা অন্যকে আমাকে পদদলিত করিতেছ, অামারই মস্তকে ক্ষুদ্র জীব তুমি পা উঠাইয়া দিতেছ ! শূদ্ররূপী শিষ্যরূপী সেবকরূপী আমাকে পাদোদক খাওয়াইয়া স্বর্গে পাঠাইবার ব্যবস্থা করিতেছ!” অনেকে অদ্বৈতবাদ শুনিয়া হয় প্রম করিয়া বসেন নয় শিহরিয়া উঠেন। ব্রাহ্মণ মহাশয়গণ অদ্বৈত বাদটুকু একেবারে একচেটিয়া করিয়া লইয়া বলিতেছেন, 'আমরাই ভগবান নারায়ণ কলির দেবতা কল্কিঅবতার । গুরুদেব রূপে দাস শুদ্রকে দীক্ষা মন্ত্র দিয়া উদ্ধার করিতেই, ভয়ানক ভৰ- সমুদ্র পার করিতেই আমাদের মন্ত্রে আগমন ! আমাদের জন্মগ্রহণ নয় অবতীর্ণ হইবার ইহাই একমাত্র কারণ ! ব্রাহ্মণগণের দেখাদেখি বৈরাগী ও বাবাজি মহাশয়গণও একখানি ঠাকুরঘর তুলিয়া ২/৪টা ঠাকুর কিনিয়া বা কোন প্রকারে সংগ্রহ করিয়া দিব্য বকর্ণধার সাজিয়া লক্ষ জীবরূপে ভগবান লক্ষ লােককে দীক্ষা শিক্ষা দিয়া বৈষ্ণবীগণ সহ সুখে স্বচ্ছন্দে ভােগ লালসা চবিতাৰ্থ করিতেছে। ব্রাহ্মণগণের অদ্বৈতবাদ হইতেছে—নিজেদের বেলায় নিজেদের লইয়া-অন্যের বেলায় শুদ্রথের বেলায় নহে। শূদ্রদেব ত দূরের কথা, সহধর্মিণী ব্রাহ্মণীগণেব বেলায় পর্যন্ত নহে। কেননা, তাহাদিগকে পর্যন্ত ব্রাহ্মণগণ শুদ্রের মধ্যে গণ্য করিয়া রাখিয়াছেন। ব্রাহ্মণীগণেরও শূদ্রগণের ন্যায় ওঁঙ্কার উচ্চারণে, বেদমন্ত্র পাঠে, শালগ্ৰামাদি বিগ্রহ পূজায় অনধিকারিণী করা হইয়াছে। ব্রাহ্মণের হাতে যখন কামরূপী চাবুক ছিল, তখন তাহাবা যে শূদ্রদেব পিঠে নির্মম ভাবে মারিবেন, তাহাতে আব আশ্চৰ্য্য কি ? আর ব্রাহ্মণী- “ণেব সম্বন্ধে ? সেটা কিছু বিস্ময়কব হইলেও অস্বাভাবিক নহে—কারণ তাহারা অবলা নাবী জাতি, তা হোক না কেন মাতা ভগ্নী, স্ত্রী কা; পুরুষত নয় , নারীত বটে? ধিক ব্ৰহ্মণ তোমাদেব ! এইটুকু ক্ষুদ্র প্রাণ নীচ প্রবৃত্তি লইয়া আবাব আৰ্য্য হইতে প্রাধ ? প্রণামের দাবী, ভগবান হইব আকাঙ্ক্ষা ? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে পবে বলিতেছেন—যেমন সুবৰ্ণ সমুদয় সুবর্ণ নিম্মিত দ্রব্যেৰ পূৰ্ব্বেও ছিল পরেও থাকিবে ; তা সুন্দর রূপে গঠিত ও নানা নামে (বলয, অনন্ত, মাকড়ি, সিথি-হার,নথ ) ব্যবহৃত হইলে ও তৎস্বরূপে অবস্থিত থাকে; সেইরূপ আমিও এই বিশ্বের হেতুভূতপূর্বে ও পরে সমভাবে অবস্থিত। * যে কাৰ্য্য ও প্রকাশিত পদার্থ পূৰ্বে সৃষ্টির পূর্বে ) ছিল না, পরেও থাকিবে না, তাহা মধ্যেও নাই ;-কেবল নাম মাত্র। কারণ, যাহা যাহা দ্বারা জাত ও প্রকাশিত, তাহা তাহাই হইবে-আমার এই ধারণা। এই যে বিকার সমূহ, নাম রূপাত্মক জগৎ) ইহা পূর্বে ছিল না; ব্ৰহ্ম কর্তৃক রূজোগুণ দ্বারা ( ইচ্ছাশক্তি প্রভাবে ) ইহা সৃষ্ট ও প্রকাশিত হইয়াছে। ক্ষ s শুয়ে পূজা ও বোধিকার ব্ৰহ্ম স্বতঃসিদ্ধ এবং প্রকাশক; অতএব ব্ৰহ্মই ইন্দ্রিয় (চক্ষু কর্ণ নার্ষিক জিহ্বা এক এই পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং বাক্ পাণি পাদ পায়ু উপহু, এই পঞ্চ কৰ্ম্মেন্দ্রিয় মােট দশ ইন্দ্রিয় ১, তম্মত্রি ( রূপ রস গন্ধ শব্দ স্পর্শ ইহাৱা পঞ্চ তত্র ); মন ও পঞ্চভূত (ক্ষিতি, অপ, তেজ মরুৎ ব্যোম বা মাটি জল তেজ বায়ু অাকাশ) ইত্যাদি (১) নানারূপে প্রকাশ পাইয়া থাকেন।” সুতরাং দেখা যাইতেছে যে, সমুদয় জগৎ ভগবান কর্তৃক তদীয় অংশ ও অঙ্গ হইতেই সৃষ্ট জাত ও প্রকাশিত। তিনি সমুদয জীব-জগতের জন্মদাতা জনক পিতা। তিনি জগতের প্রতি জীব জন্তুর, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ধুলিকণার অন্তরে বাহিবে ও মধ্যে বিরাজমান আছেন। সুতরাং জগতের প্রত্যেক বস্তুর সঙ্গে প্রত্যেক বস্তুর যােগা সম্বন্ধ জ্ঞাতিত্ব ও আত্মীয়তা আছে। আমরা তাহা উপলব্ধি না করিতে পারিলেও আছে। এই বহুত্ব হইতে একত্ব জ্ঞান লাভই মুক্তি-নিৰ্বাণ। মহাকাশে ঘটাকাশ লয়, মহাসাগরে জল বিষের লয়। একহাকাশের মধ্যে যেমন বিভিন্ন ঘটাকাশ ঘটের বাহিরেও অাকাশ ভিতরেও আকাশ। ঘট ভাঙ্গিয়া দাও-ঘটাকাশ মহাকাশে ডুবিয়া লয় হইয়া যাইবে। একই আকাশ জিতবে ( ঘটে (১) অর্থাৎ চতুর্বিংশতি তত্বাত্মক যে এই দেহ; ইহা ভগবান হইতেই উদ্ভুত সৃষ্ট ও জাত। ব্ৰহ্ম নিগুণ নিরবয়ব ও উপাধি-বিহীন। কিন্তু সৃষ্টির জন্য তিনি সগুণ, সােপাধি ও অবয়ধারী। ব্রহ্ম রজঃগুণে সৃষ্টি সত্বগুণে পালন ও তমঃ গুণে সংহার কাৰ্য্য সম্পাদন করেন। দর্শন শাস্ত্র এতে এই ত্রিগুণ গুণ পদার্থ কিন্তু সাখাচার্যের মতে স ব ও তমােগুণ সূক্ষ্ম পদার্থ বা মহা অণু। এই তিন জাতীয় মহা অণুর নানাভাবে সংযােগ বিয়ােগ ক্রমবিকাশের নিয়মানুসারে মহত্ব (বুদ্ধি ), অহঙ্কার, স্ত্র তন্মাত্র, ইলিয়গণ ও পঞ্চ মহাভূতের সৃষ্টি হইযাছে।

জীবরূপে ভগবান ভিতরে ও বাহিরে। ঘটের মাটির আবরণই উহাকে মুহাকাশ হইতে পৃথক করিয়াছে—পৃথক ঘটাকাশ নাম দিয়াছে। আবরণ-আচ্ছাদন টুকু দিয়া দিলেই এক হইয়া যায়। বহু ঘটত্ব এক মহাকাশতে বহুত্ব এক মহান্ একত্বে, শান্ত মহা অনন্তে,খণ্ড মহা অখণ্ড, রূপ অরূপে মিলিয়া যায়। দ্বন্দ্ব শুধু বাহিরে ঘট কইয়া, আবরণ লইয়া-খােসা লইয়া। পাখী যেমন ঘটনাচক্রে মানুষের হাতে পড়িয়া কথন স্বর্ণ পিঞ্জরে কখন লৌহ- পিঞ্জরে কখন বা বাঁশ-কাষ্ঠ-নিৰ্ম্মিত বিভিন্ন আকৃতি ও অবয়ব বিশিষ্ট পিঞ্জরে আবদ্ধ হয় এবং সময়মত খাঁচা ভাঙ্গিয়া এক দৌড়ে দূর বৃক্ষস্থিত পিতা- মাতার নিকট আপনার বাসায় ছুটিয়া পলায় ;-জীব ভগবান সম্বন্ধে অনেকটা এইরূপ উপমা প্রয়ােগ করা যাইতে পারে। আত্মরূপী ভগবান- পাখী ভগদিচ্ছাশক্তি প্রভাবে মানুষ পশু পক্ষী ব্ৰাণ শূদ্র প্রভৃতি মনুষ্য কথিত কতকগুলি জীব দেহরূপ বিভিন্ন জাতীয় পিঞ্জরে বাসনা শৃঙ্খলে আবদ্ধ হইয়া থাকে এবং নিয়মিত আয়ুষ্কাল পূর্ণ হইলে আবার এক দৌড়ে আনন্দময় ল আবাসে ছুটিয়া গিয়া থাকে। ভিতরে সেই একই পাখী, তফাৎ কেবল বিভিন্ন আকৃতির খাঁচা লইয়া-পিঞ্জর লইয়া। খাচার, বরং সােণা লােহ বাঁশ কাঠের ভেদ আছে; কিন্তু বিভিন্ন জীব-দেহ সম্বন্ধে কোন ভেদ নাই। সমুদয় চৈতন্যশালী প্রাণীর দেহ কিন্তু এক উপাদানে-- ঐ ২৪শতি তত্ত্বে নির্মিত। উহাতে মনুষ্য পশু পক্ষী ব্রাহ্মণ চণ্ডালের কোন পার্থক্য নাই; আর ভিতরের সকলেরই সেই একই আত্মা ভগবদংশ। আত্মাতে লিঙ্গ বয়স জাতিভেদ নাই। ব্রাহ্মণ শূদ্রের একই উপাদান; একই জাতীয় পিঞ্জর। পিঞ্জরের তফাৎ মানুষে পতে- পক্ষীতে কীটেতে। আর একটি উদাহরণ দেওয়া যাউক। একজন লোক যেমন কোন অপরাধে অভিযুক্ত হইল। প্রথম তাহাকে থানায় প শুয়ে পূজা ও বেদাধিকার আবদ্ধ করিয়া রাখা হইল, পরে বিচার অনুযায়ী তাহার ক্রমে সব- ডিভিসনের জল-জেলায় কারাগার ও কলিকাতা আলিপুরের জেল হইয়া কিছুদিন তথায়, আবদ্ধ রাখিয়া ব্ৰহ্মদেশের পঞ্জাবের বা একেবারে আণ্ডা- মান দ্বীপের জেলে তাহাকে পাঠান হইল। সেখানে নিয়মিত ২ বৎসর অবস্থান করার পর সে মুক্ত হইয়া দেশে আপন বাটীতে পিতামাতার নিকট আসিয়া হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিল । জীবদেহ ও আত্মারূপী ভগবান সম্বন্ধে ইহা দ্বারা একটু বুঝিবার সুবিধা হইতেছে। ভগবানরূপী আত্মা যেন দণ্ডিত কয়েদী; থানা-সবডিভিসন, জেলা আলিপুর ও আণ্ডামানেব কারাগারগুলি যেন এক একটি জীব দেহ। কোটী মানুষ, কোনটা পশু, পক্ষী কোনটা কৃমি কীট, কোনটী স্ত্রী-পুরুষ বালক বালিকা উত্ত্যাদি জে বিভিন্ন বটে—উহাদের আকৃতিও বিভিন্ন বটে, কিন্তু ভিতরে সেই একই নােক একই কয়েদী। পরমহংস রামকৃষ্ণদেব আরও একটি সুন্দর উপমা দিয়াছেন। যেমন বালিস! লাল নীল সাদা কা ডােরা ডুরি খােতর জন্য বালিসেরও ঐ রূপ সাদা বালিস; কাল বালিস; লাল বালিস প্রভৃতি বিভিন্ন নামকরণ হইয়াছে মাত্র। নতুবা ভিতরে সকলেরই এক সাদা শিমুল তুলা। তফাৎ কেবল বিভিন্ন আকৃতি ও বিভিন্ন রংএর খােল লইয়া,। খােল ও এক সুতারই নির্মিত; তবে লাল নীল সবুজ রংএব রঞ্জিত হইয়া উহারও নাম পৃথক হইয়াছে। ভগবানও ঐরূপ—তিনি যেন ভিতরস্থ শিমূল তুলা আর বিভিন্ন জীব দেহ যেন বিভিন্ন আকৃতির বিভিন্ন •ং এর খােল। একটা খােম পুরাতন জীর্ণ হইয়া ফাসিয়া বা ছিড়িয়া গেলে বৃহস্থ মেন উহার তুলা লইয়া আর একটা খােলে ভরিয়া অন্য একটা বাসি তৈয়ার করে, সেইরূপ, আত্মারূপী ভগবানও এক জীর্ণ দেহ ত্যাগ পূর্বক আর এক নুতন দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়া অন্য একটি

জীবরূপে ভগবান
জীব নাম ধারণ করেন। পূর্ণ ভগবান যেন শিমুল গাছ—আর অংশরূপী
আত্মা যেন শিমুল তুলা। বলা বাহুল্য, এসব উপমা দ্বারা জীব ও ভগবান
সম্বন্ধে একটা মােটামুটি স্থূল ধারণা জন্মাইয়া দিবার চেষ্টা করা যাইতেছে
মাত্র। জীব যে ভগবানেরই অংশ এবং প্রত্যেক জীবের মধ্যে যে আত্মা
রূপী
ভগবানের অংশ বিরাজমান আছে, ইহাই বুঝাইবার জন্য আমার
এই চেষ্টা।
“ধৰ্ম্মেরও প্রথম ও প্রধান শিক্ষা এই যে, আত্মা এক এবং আমাদের
বকত্ব জ্ঞান ভ্রান্তিমূলক। সকল জীবাত্মাই এক পরমাত্মার অংশ এবং
সেই একেতেই চির প্রতিষ্ঠিত। আত্মা এক এবং পৃথক পৃথক জীবাত্মা
সকল সেই একই আত্মার অংশ বা অংশুমালা; সুতরাং তাহারা স
সাকল্যে এক। গীত ৰলিতেছেন :
যথা প্রকাশত্যেক কৃৎসং কেমিমরবি।
ক্ষেত্রং ক্ষেত্ৰী তথা কৃৎস্নং প্ৰকাশয়তি ভারত || ৩৪
(১৩শ অধ্যায়)
এক সূৰ্য প্রকাশয়ে সকল ভুবন।
ক্ষেত্রী ও সমস্ত ক্ষেত্র প্রকাশে তেমন।”
বেদান্ত বলিতেছেন :-
একো দেব সৰ্ব্বভূতেষু গূঢ়ঃ সর্বব্যাপী সৰ্ব্বভূতান্তরাত্মা।
কৰ্মাধ্যক্ষঃ সৰ্ব্বভূতাধিবাসঃ সাক্ষীচেতাঃ কে বলে নিশ্চ :
(শ্বেতাশ্ব ৬, ১১)
এক অদ্বিতীয় দেব বিশ্ব প্রাণ।
সৰ্ব্বভূতে গুঢ়রূপে বৰ্তমান ।

{৫৪ শূদ্রের পূজা ও বোধিকার সর্বব্যাপী তিনি আত্মা সবাকার। কর্মাধ্যক্ষ সৰ্ব্বভূতে স্থিতি তাঁর। সাক্ষী তিনি সকলের চেতন কারণ !, কেবল, নিগুণ তিনি জগত জীবন। “যেমতি মেঘের এক সুনির্মল বারি। ভিন্ন দেশে পড়ি হয় ভিন্ন রসধারা, তেমতি অদ্বৈত এক-ৰূপ নিৰ্ব্বিকার, হইয়াছে গুণ ভেদে ভিন্নরূপ ধারী। স্থূল ব্রহ্মাণ্ডের হেতু সূক্ষ্ম নিরাকার । সপ্তলােকায় একা তুমি নারায়ণ। ( ধৰ্ম্ম প্রচারক-শ্রাবণ, ১৩২) এক সূৰ্য্য স্বপ্ৰভায় ভাস্বর হইয়া জগতের প্রত্যেক স্থানে প্রত্যেক খণ্ড প্রতিভাসিত করিতেছেন। ভিন্ন ভিন্ন প্রাচীরবেষ্টিত সংস্র উদ্যান যেরূপ একই সূর্যের তাপ ও আলােক প্রাপ্ত হয় (ঐ তাপ ও আলােক একই সূর্যের অংশ ) সেইরূপ জড় প্রকৃতির প্রাচীরে পরিবেষ্টিত অর্থাৎ পাঞ্চভৌতিক দেহবদ্ধ জীবাত্মা সকল পরমাত্মারূপ একই সূৰ্য্যের অংশুমালা একই মহাপাবনের বিস্ফুলিঙ্গ সমুহ,, একই অদ্বয় আত্মার অংশ (কিন্তু) যতদিন না আমরা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র হই, ততদিন আমরা এই গুৰ্তত্ব সম্পূর্ণ উপলব্ধি করিতে পারিব না। আর একটা উপমা দেওয়া যাউক- ভগবান্ যেন এক বিস্তৃত অসীম জলাশয়, আর আত্মা যেন তমগ্নস্থ ভিন্ন ভিন্ন ঘটস্থ জল আর দেহ যেন ঐ জল মগ্ন ও জলপূর্ণ ঘট। জলাশয়ের জল ও ঘটস্থ জল একই কিন্তু ঘটে আৰণে উহা পৃথক বােধ হইতেছে।

। জীবরূপে ভগবান ঘট ভাঙ্গিয়া দাও, ঘট মধ্যস্থ জলাশয়ের জল জলাশয়ে মিশিয়া লয়-এক হইয়া যাইবে। একই আত্মা সর্বজীবে ও সৰ্ব্ব পদার্থে অনুত আছেন, তিনি সর্ব- ভূতান্তরাত্মা, সুতরাং সৰ্ব্বভূতই এই ভ্রাতৃত্ব সূত্রে আবদ্ধ।” বস্তুতঃ ভগবান কি মানুষের মধ্যে উচ্চ নীচ দেখিতে পারেন ? তাহার চক্ষে যে সবই সমান। তিনি যে সকলের অতবে বাহিরে সমান ভাবে অবস্থান কবিতেছেন। ঐ যে তিনি গীতায় বলিতেছেন - “অহমাত্মা গুড়াকেশ সৰ্ব্বভূতাশয় স্থিত। অহমাদি মধ্যঞ্চ ভূতানাম এব চ। ২০ (ভগবদগীতা, ১০ম অধ্যায় ;) “হে গুড়াকেশ! পবমাত্মা স্বরূপে আমি সকল প্রাণীর অন্তঃকরণে অবস্থিতি কবি। এবং আমিই সমস্ত ভূতের আদি মধ্য অন্ত অর্থাৎ সংহার কারণ। ফলতঃ ভূত সকলের সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়ের একমাত্র কারণই আমি ?" তৎপরে তিনি আপনাকে সূৰ্য্য চন্দ্র প গে অশ্ব পক্ষী সর্প প্রভৃতি সৰ্বময় বলিযা শেষে আবার ঘােষণা করিতেছেন :- যচ্চাপি সৰ্ব্বভূতানাং বীজং তদহৰ্জ্জুন। ন তদস্তি বিনা যৎ স্যান্মভূতং চরাচরং । “সর্বভূতে যাহা বীজের রূপ আমি সে অৰ্জ্জুন তাই চরাচর মাঝে আমারে ছাড়িয়া কভু কোথা কিছু নাই।

৫০ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার পুনঃ পুনঃ ভগবান এই তত্ত্ব ঘােষণা করিতেছেন- সমং সর্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠং পরমেশ্বর বিনষৎ বিনন্তং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি । “বিনাশী সকলি এই বিশ্ব চরাচরে। অবিনাশী তার মাঝে কেবল ঈশ্বর || তারে যেই হেরে সৰ্ব্বভূতের অন্তরে। তঁারি সেই দেখা, দেখা, শুন অতঃপর ।” সমং পশু হি সৰ্বত্ৰ সমবতিমীশ্বর। ন হিন্যাত্মনাত্মানং ততাে যাতি পরাং গতিং । “পরমেশ্বর সকল প্রাণীতে অবস্থিতি করিতেছেন, লােকে ইহা অবলােকন করিয়া আত্মার দ্বারা আর আত্মার (আত্মরূপী ভগবানের হিংসা করেন না এবং তজ্জন্য পরমান্নতি প্রাপ্ত হইয়া থাকেন।” ২৮ যদা ভূত পৃথগ, ভাবমেকত্বমনুপশ্যতি । তত এব চ বিস্তারং ব্ৰহ্ম সম্পদ্যতে তদা। ৩০ (গীতা, ১৩শ অঃ } “যখন পৃথক ভূত এক দৃষ্ট হয়। একেরই বিস্তার সব জানেন নিশ্চয়। তঁাহার দেখাই দেখা, সত্যজ্ঞান তার। ব্ৰহ্মপদ লাভ হয় তখন তাহার || গীতায় পুনরায় বলিতেছেন- বহিরন্তশ্চ ভূতানামাচরং চরমেচ। সূক্ষ্মদবিজ্ঞেয়ং দূরং চান্তিকেচৎ || ১৫ ১৩শ অধ্যায়।

জীবরূপে ভগবান “তিনি (ভগবান) চরাচর সর্বভূতের বহির্ভাগ ও অন্তরে স্থিতি করিতেছেন, আর সূক্ষ্মত্ব প্রযুক্ত তিনি বিজ্ঞেয় নহেন, তিনি অতি দুরবর্তী অথচ সন্নিকটে আছেন। হায়! আমরা সৰ্ব্বভূতে অবস্থিত শ্রীভগবানকে ম্লেচ্ছ শুদ্র চণ্ডাল পচ প্রভৃতি সংজ্ঞায় অভিহিত করিয়া দিন দিন কি সর্বনাশের পথেই না। চলিয়াছি ? আমাদের কি মােহ ভাঙ্গিবে না? পাছে তঁাহার লীলা- সহায়ক জীবকে লােকে ঘৃণা করে, এই কারণে তিনি পুনঃ পুনঃ বলিয়াছেন “আমিই জীব আমিই বিশ্ব, জীবেতে আর আমাতে কোন পার্থক্য নাই—আমি যে অনন্ত, আমিই যে এ বিশ্ব পরিপূর্ণ হইয়া বহিয়াছি—আমারই মধ্যে যে সকলে রহিয়াছে—সুতরাং বিশ্বকে বা জীবকে ভাল বাসিলে আমাকেই ভালবাসা হয় এবং জীবকে ঘৃণা করিলে আমাকেই ঘৃণা করা হয়। কিন্তু আমরা এই ভগবাক্য শুনিতে প্রস্তুত আছি কি ? আমরা ইহা বিশ্বাস করি কি ? এই বিশ্বাস উৎপাদনের নিমিত্তই ত তিনি অর্জুনকে উপ ক্ষ্য করিয়া আমাদিগকে এই সব কথা বলিয়াছেন। ফলতঃ সকলকেই যে সমান চক্ষে দর্শন করা উচিত—কাহাকেও ছোট কাহাকেও বড়, এরূপ বৈষম্য ভাব হৃদয়ে স্থান না দেওয়াই যে কর্তব্য এবং জগতের যাবতীয় মহাপুরুষ ও জ্ঞানিগণ যে সকলকেই সমান চক্ষে দেখিয়াছেন ও লেখিয়া থাকেন, এ সম্বন্ধে অধিক বলা নিতান্তই অনাবশ্যক বলিয়া মনে হয় । পণ্ডিত জ্ঞানী মহাজনগণ যে পথ অবলম্বন করিয়া ধরাধামে কীর্তি মন্দির স্থাপন করতঃ অন্তে অনন্তদেবের শ্রীপাদপদ্মে চিরশান্তি লাভ করিয়াছেন—আমাদেরও কি সেই পথ অবলম্বন করা ও তাহাদিগের পদাঙ্কনুসরণ করা কর্তব্য নহে? আমরা কি জ্ঞানিগণের সত্য শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার পথ পরিত্যাগ করিয়া অশাস্ত্রীয় ঘাের নরকের পর্থেযাইবার জন্য সকলে দলবদ্ধ হইব? মানুষকে ঘৃণা করিয়া—অপরকে আপনাপেক্ষা নীচ বলিয়া মনে করিয়া সর্বত্র ছােট বড়, এই ঘাের বৈষম্য অবলােকন করিয়া কোনও মানব সন্তান জগতের সম্মানাহ হইয়াছেন—বা পরম জ্ঞানী বলিয়া পৃথিবীর চক্ষে পরিচিত হইয়াছেন—এমন কথাত কেহ কখনও শ্রবণ করেন নাই বা কল্পনা করিতে পারেন না। আৰ্য্য শাস্ত্ৰেত জ্ঞানী ও পণ্ডিতের এইরূপ পরিচয় প্রদত্ত হইয়াছে। মাতৃবৎ পরদারেষু পরদ্রব্যে লােষ্ট্রবৎ। ‘আত্মবৎ সৰ্ব্বভূতেষু যঃ পশ্যতি সঃ পণ্ডিত যিনি সব্বভূতকে আপনার স্থায় দেখেন, শুধু দেশবাসী নহে যিনি পৃথিবীবাসী নরনারীকে আপনার প্রিয় মনে করিয়া সকলকে প্রীতির চক্ষে অবলােকন করেন-তিনিই প্রতি তিনিই জ্ঞানী। যিনি সৰ্ব্বভূতকে ঘৃণা করেন তিনি পণ্ডিত নহেন—তিনি মহামুখ মহা অজ্ঞান, তাহাকে নরক রাজ্যেব ভাগ্যহীন ক্ষমাহ প্ৰজা ব্যতীত আর কি বলিতে পারি । জ্ঞানীর লক্ষণ নির্দেশ করিতে যাইয়া ভগবান গীতায় বলিতেছেন -- “বিদ্যাবিনয় সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি শুনি চৈব শপাকে চ পণ্ডিতাঃ সম’ দর্শিন:* {১৮ গীতা, ৫ম অধ্যায়। “জ্ঞানী ও পণ্ডিতগণ, বিদ্যা ও বিনয় সম্পন্ন ব্রাহ্মণ, গে, হস্তী, কুকুর, চাল সকলকেই সমান চক্ষে দেখিয়া থাকেন, কাহাকেও ছোট বড় দেখেন বা কাহাকেও অবজ্ঞা ও ঘৃণা করেন না। এইরূপ কথা আশান্ত্রের পত্রে পত্রে ছত্রে ছত্রে বিদ্যমান। অধিক উদ্ধত করা নিষ্প্রয়ােজন বিশেষতঃ স্থানাভাব। ধর্মশাস্ত্রকারগণ শুধু জীবরূপে ভগবান উপদেশ দিয়াই ক্ষান্ত হয়েন নাই অপিচ স্পষ্টতঃ উচ্চকণ্ঠে বলিয়াছেন, সর্বভূতে আত্মজ্ঞান ও সমদৃষ্টি ব্যতীত পরিত্রাণের আর অল্প উপায় নাই। এ সম্বন্ধে বাঙ্গালীর প্রিয় মনুসংহিতার কথাও উদ্ধৃত করিয়া দেখান যাইতেছে। মহাভারতে এ বিষয়ে ভূরি ভূরি শ্লোক নিবদ্ধ আছে। বেদান্ত বা উপনিষদেও প্রমাণের অভাব নাই। তবু ও মনুর উক্তি যাহারা সবিশেষ বিশ্বাস করেন তাহাদের জন্য মনুসংহিতা উদ্ধত হইতেছে। যখন সৰ্ব্বশাস্ত্রকারগণই একযােণে সাম্যবাদ প্রচার করিয়াছেন তখন মনুও বাধ্য হইয়া বলিতেছেন- “সূক্ষ্মতাঞ্চাম্ববেক্ষেত যােগেন পরমাত্মনঃ। দেহেষু চ সমুৎপত্তি মুত্তমেম্বধমেষু চ ॥ ৬৫ দূষিতােহপি চরেদ্ধৰ্ম্মং যত্র তত্রাশ্রমে রতঃ। সমঃ সর্বেষু ভূতেষুন লিঙ্গং ধৰ্ম্ম কারণ। ৬৬ মনু, ষষ্ঠ অধ্যায় । “যােগের দ্বারা পরমাত্মার অন্তমিত্ব নিরবয়বত্বাদি সূক্ষ্ম রূপের উপলব্ধি করিবে এবং কি উত্তম কি অধম সৰ্ব্বদেহে যে তঁহার অধিষ্ঠান আছে, ইহা অনুচিন্তন করিবে। যে কোন আশ্রমের আমীই আশ্রম বিরুদ্ধ ধৰ্ম্মানুষ্ঠানে দূষিত হইলেও “সৰ্ব্বভূতে সমদর্শী হইয়া স্বধৰ্ম্মাচরণ করিবে।” সকলকে সমান চক্ষে দেখিলে শুধু মনুষ্যত্ব বা দেবত্ব লাভ হয় এমন নহে পরন্তু ইহার উপর ব্রহ্মত্ব লাভ পৰ্যন্ত নির্ভর করে। মধু বাশ অধ্যায়ে বলিতেছেন- ‘সয়ভূতেষু চানং সৰ্ব্বভূতানি চায়নি। স পােত্মাজী খাজা মধিগচ্ছতি ॥৯১ } শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার “আত্মজী সমুদয় ভূতে আত্মাকে (আত্মারূপী ব্ৰহ্মকে সমভাবে, দেখিয়া এবং আত্মাতে সৰ্ব্বভূতের অবস্থিতি জানিয়া ব্ৰহ্মত্ব লাভ করেন।” এই প্রকারে বেদান্তের সারভূত মহান সত্য সর্বজীবে ভাল বাসা জীবহ্মে অভেদ অনুভূতি সংক্ষেপঃ উল্লেখ করিয়া সর্বশেষে গ্রন্থের উপসংহারে চরম শ্লোকে প্রাণ খুলিয়া-হৃদয় ভরিয়া বলিতেছেন। সত্যের বিমল আভায় বৈষম্য বাদের ঘনীভুত তমসা বিলীন ও হৃদয় দ্বার উন্মােচিত হইয়া গিয়াছে—সরলতা মনঃমুখ হইতে ফুটিয়া বাহির হইতেছে। তিনি উপসংহারে বলিতেছেন- “এষ সৰ্বানি ভূতানি পঞ্চভিবাপ্য মূর্তিভিঃ। জন্মবৃদ্ধি ক্ষয়ৈনিত্যং সংসারয়তি চক্রবৎ ॥১২৪ এবং যঃ সৰ্ব্বভূতেষু পত্যাত্মানমাত্মনা। ন সর্বসমতা মেত্য ব্রহ্মাভ্যেতি পরং পদম্ ॥ ১২৫ দ্বাদশ অধ্যায়, মনুসংহিতা ; উপসংহার। “এই পরমাত্মারূপী ব্ৰহ্মই পৃথিবী জল তেজ বায়ু ও আকাশ এই পঞ্চমূর্তি দ্বারা সমুদয় প্রাণী ব্যাপিয়া বৃদ্ধি ও নাশদ্বার চক্রবৎ এই সংসার প্রবর্তিত করিতেছেন। এইরূপে যিনি আত্মদ্বারা সর্বভূতে আত্মদর্শন করেন, তিনি সর্ব সমতা প্রাপ্ত হইয়া পরম পদ ব্ৰহ্মলাভ করেন। এটা নিশ্চয় যে মানুষ সাধনার পথে যতই অগ্রসর হয়—যতই ভগবানকে আপনার বলিয়া বিশ্বাস জন্মিতে থাকে ততই সমুদয় বস্তুর ভিতর তাহাকে ও তার ভিতর সমুদয় বস্তু দেখিতে পায়। যখন মানুষ এই সাধনা ও প্রেমের আরও উচস্তরে উপনীত হয়, তখনই এই জগতের সকল পদার্থের মধ্যেযে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পার্থক্য আছে প্রেমিক সাধকের দৃষ্টিতে সে সব সম্পূর্ণরুপে চলিয়া যায়। মানুষকে আর মানুষ বলিয়া বােধ হয় না জীবপে ভগবান ভগবান বলিয়া বােধ হয়। এইরূপে প্রগাঢ় ভক্তির অবস্থায় সর্বভূতই - তাদের উপাস্য হইয়া পড়ে। হরিকে সর্বভূতে অবস্থিত জানিয়া প্রেমিকও জ্ঞানীখ্যক্তির সৰ্ব্বভূতের প্রতি অব্যভিচারিণী ভক্তিপ্রয়ােগ করা উচিৎ। ঐ শুনুন শাস্ত্রকার উচ্চকণ্ঠে এই কথা বলিতেছেন । এবং সর্বেষু ভূতেষু ভক্তিরব্যভিচারিণী । কর্তব্য পণ্ডিতৈজ্ঞা। সর্বভূত ময়ং হরিং। প্রহলাদ বাক্য। শ্রীমদ্ভাগবতেও লিখিত আছে - খং বায়ুমগিং সলিলং মহীংচ জ্যোতীংষি সত্বানি দিশা দ্রুমাদী। সরিৎ সমুদ্রাংশ্চ হরে শরীর যংকিঞ্চভূতং প্রণমেদনঃ | আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথিবী নক্ষত্রাদি ভূতগণ (প্রাণী সকল ) দিকসকল নদী সাগর যাহা কিছু দৃষ্টপদার্থ সমস্ত ভগবান হরির শরীর মনে করিয়া প্রণাম করিবে। শুধু প্রণাম নহে সৰ্ব্বভূতে সৰ্ব্ব পদার্থে বিশ্বনিয়ন্তা শ্রীভগবানের বিকাশ প্রত্যক্ষ ভাবে উপলব্ধি করিয়া নানা প্রকারে সম্বর্ধনা ও সকলের উদ্দেশ্যে বলি প্রদান করিতে বলিয়াছেন। * স্কুণাগাং বায়াং শ্রিয়ৈ । হিরণ্যকে ৈবনস্পতিত্য। ৯। ধম্মধৰ্ম্ময়ােদ্বারে মৃত্যবে চ ১০. উদধানে বরুণায়। ১১। বিষ্ণব ইলুখলে। ১২। মরুপ্ত ইতি দৃষদি!] ১২। উপরিশরণে বৈশ্রবণায় বাড়ে ভূতেভ্য। ১৪। ইন্দ্ৰায়ে পুরুষেভ্য ইতি পূৰ্বার্ধে। ১৫ ! যমায় যম পুরুষেভ্য ইতি দক্ষিণার্জে || ১৬ | বরুণায় বরুণ পুরুষ্যে ইতি পশ্চার্জে | ১৭| সময় সােমপুরুষেভ্য ইত্যুত্তরর্ধে ॥ ১৮। ব্ৰহ্মণে ৰহ্মপুরুষ্যে

;
;
শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার
ইতিমধ্যে ১৯ | উর্দমাকাশায় ॥ ২০ | দিচরেলভ্যা ভূতেভ্য ইতি স্থগুিলে
২১ নরেত্য ইতি নম্। ২২।
গৃহধারক সকর্ণ স্তম্ভে হিরণ্যকশী বনস্পতিগণ ও ধর্মাধৰ্ম্মে, গৃহদ্বারে
মৃত্যুর, জলাধারে বরুণের, উলুখলে বিষ্ণুর, শিলাতে মরুদগণের, অট্টালিকার
উপয়ে রাজা বৈশ্রবণ এবং ভূগণের, অগ্নির পূর্বভাগে ইন্দ্র ও ই
পুরুষদিগের ; দক্ষিণ ভাগে যম ও যমপুরুষদিগের ; পশ্চিম ভাগে বরুণ
বরুণ পুরুষ দিগের, উত্তর ভাগে সােম ও সােম পুরুষ দিগের, মধ্যে ব্রহ্মা
ও ব্ৰহ্ম পুরুষদিগের,উর্ধে আকাশের, স্থণ্ডিলে দিবাচর ভূতগণের, রাত্রিকালে
রাত্রিচর ভূতগণের উদ্দেশ্যে বলি দিবে।
সাধক ও ভক্তি গদ গদ কণ্ঠে গাহিয়া থাকেন ।
জলে হরি স্থলে হরি চন্দ্রে হরি যে হরি।
অনল অনিলে হরি করিময় এই ভূমণ্ডল।
ভগবান তদীয় প্রিয়সখা উদ্ধবকে বলিতেছেন :
আদরঃ পরিচর্যায়ং সর্বাজৈরভি বন্দনং
মঙক্তপূজাত্যধিক সৰ্ব্বভূতেষু মন্মতিঃ ॥” শ্রীমদ্ভাগবত।
আমার পরিচৰ্য্যায় আদর, সমুদয় অঙ্গদ্বারা আমার অভিনন্দন আমার
ভক্তদিগের বিশেষ ভাবে পূজা ও সৰ্ব্বভূতে আমাকে উপলব্ধি করা
ভক্তিলাভের উপায়।”
ঐ শ্রীমদ্ভাগবতে দেখিতে পাই রাজর্ষি জনক কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হইয়া
পম ভাগবত ঋষভনন্দন হরি উত্তম ভক্তের এইরূপ লক্ষণ নির্দেশ
করিতেছেনঃ-
ন য⇒ পর ইতি বিভেদাআনিবা ভিদা
সর্বভূত সমঃ” শান্ত সবৈ ভাগবতােজমঃ একাদশ।
=

বীরূপে ভগবান
যাহার আগপর ভেদ নাই, ধনৈশ্বৰ্য্যে আমার এবং পরকীয় বলিয়া
ভেদ জ্ঞান নাই যিনি ইন্দ্রিয় ও মনঃ সংযত করিয়াছেন, তিনি উত্তম
সৰ্ব্বভূতেষু যঃ পশ্রেদ্ভগবদ্ভাবমাত্মনঃ ।
ভূতানি ভগবত্যান্যেষ ভাগবতেমঃ ।
একাদশঙ্কন্ধ।
“যিনি সর্বভূতে শ্রীভগবানের নিবতিশয় ঐশ্বৰ্য দেখিতে পান এবং
সমুদয় পদার্থ ভগবানে অধিষ্ঠিত দেখিতে পান তিনি উত্তম ভক্ত।
শারও বলিতেছেন :-
ন যম্ভ জন্ম কৰ্ম্মভ্যাং ন বর্ণাশ্রম জাতিভিঃ।
সজ্জতেহস্মিন্নহং ভাবে দেহে বৈ স হরেঃ প্রিয়াঃ ।
“জন্ম, কৰ্ম্ম, বর্ণ, আশ্রম এবং জাতি উপলক্ষ করিয়া যাহার দেহে
আত্মবুদ্ধি হয় না, তিনি হরির প্রিয় এবং উত্তম ভক্ত।”
তিনি আরও বলিতেছেনঃ-
মযি নিবদ্ধ হৃদয়াঃ সাধবঃ সমদর্শনা
বশে কুন্তি মাং ভক্ত্য সৎস্ত্রিয়ঃ সৎপতিং যথ। {{
শ্রীমদ্ভাগবত '
*যেমন সাধ্বী স্ত্রী সৎ পতীকে বশীভূত করেন; সেইরূপ “সমদর্শী
সাধুগণ আমাতে হৃদয় বাঁধিয়া আমাকে বশ করেন।
সাইনপেক্ষা মচ্চিত্তাঃ প্রণতাঃ সমদর্শনাঃ।
নির্মম নিরহংকার নিন্দা নিম্পরিগ্রহঃ ।
শ্রীমদ্ভাগবত।
।

৬৪
শূদ্রেব পূজা ও বোধিকার
“সাধুপুরুষগণ কিছুরই অপেক্ষা করেন না; তাঁহারা আমাগত
চিত্ত, প্রণত, “সমদর্শন, নির্মম, নিবহঙ্কাৰ, নি এবং নিম্পরিগ্রহ।
অম্বেষ্টা সৰ্ব্বভূতানাং মৈত্ৰ কৰুণ এব চ।
গীত।
“যিনি সৰ্ব্বভূতে দ্বেষশূন্য—যাহার কাহারও প্রতি কোনরূপ হিংসাব
ভাব নাই * *
**** এমন যে আমার ভক্ত তিনি আমার প্রিয়।
পিতা পুত্র ভ্রাতা ভগিনীতে স্বামী স্ত্রীতে যে সম্বন্ধ ও অনুবাগ যে
প্রীতি ও ভালবাসা ইহার কাবণ ও মূলও হইতেছে ব্রহ্মের একাত্ম ভাব।
ভগবানের অংশরূপী আত্মাব সম্বন্ধেই পরস্পরের প্রতি সন্ধ। নতুবা
ফোন সম্বন্ধ নাই। যেহেতু আত্মারূপী ভগবান পবিত্যক্ত মৃত দেহের প্রতি,
-মৃতন্ত্রী পুত্র স্বামীর প্রতি দেহ কোন প্রকার প্রীতি বা ভালবাসা প্রকাশ
করে না। উনিষদে যাজ্ঞবল্ক্য ও মৈত্রেয়ীকে এই কথাই বলিতেছেন বা
অবে পঃ কামায় পতিঃ প্রিয়াে ভবত্যাত্মন কামায় পতিঃ প্রিয়াে ভবতি ।
বৃহদাবশ্যক। ২মঃ। ৪ ব্রা।
“হে প্রিয়তমে, পকিব জন পতিকে কেহ ভাল বাসে না, পতিব
অনুবহু আত্মর জন্যই লােকে পতিকে ভালবাসে ।
ন বা অরে জায়ায়ৈ কামায় জায়া প্রিয়া ভৰত্যানন্তু কামায় জায়।
প্রিয়া ভবতি।
ঐ বৃহদারণ্যক। ২অঃ । ৪ ব্রা।
“হে প্রিয়তমে, পত্নীর জন্য পত্নীকে কেহ ভালবাসে না, কিন্তু পত্নী
অন্তরস্থ আত্মার জাই পত্নী প্রিয় হয়। এবং শুধু পত্নীপতি বলিয়া নহে,
শুধু মাতা পুত্র বলিয়া নহে, বিশ্বের সমুদয় বস্তুর সহিতই সমুদয়ের যােগ
আছে। কেননা বিশ্বাত্ম ভগবান সকলের মুল।

জীবরূপে ভগবান ৬৫ = ভঃ বান্ অার কি ভাবে জীবের সহিত আছেন ! যেমন- ধৃতাং পরং মগুমিবতি মুন্সং জ্ঞাত্বা শিব° সৰ্ব্বভূতেষুগটং বিশ্বত্যৈকং পরিবেষ্টিতার জ্ঞাত্বা দেবং মুচ্যতে সৰ্বপাশৈঃ । সেই বিজ্ঞান আনন্দময় ব্রহ্ম দুগ্ধ মধ্যে নবনীতের মত বা ননীতে ঘৃতের মত অতি সূক্ষ্মভাবে সকল জীবের অনুকরণের মধ্যে বিজি করিতেছেন। সমুদয় বিশ্ব ব্রহ্ম ও বিশ্বষ্মিা ভগবান দ্বারা সমাচ্ছন্ন জানিয়া মায়া পাশ ছিন্ন করিবে । স্কাপনিষৎ বলিতেছেন - জীবঃ শিবঃ শিলেঃ জীবঃ স জীবঃ কেবলঃ শিবঃ ভুষণ বদ্ধ। ব্রীহিঃ হাং তুষাভাবেন গুলঃ ॥ ৬ এ বদ্ধস্তথা জীবঃ পাশ মুক্তঃ সদাশিবঃ । পাশ বদ্ধস্তথা জীষঃ পাশ মুক্তঃ সদাশিব। ৭ দেহে দেবালয়ঃ প্ৰেক্তিঃ সজীব কেবলাঃ শিবঃ ত্যজেজ্ঞান নিৰ্মাল্যং সােহতাবেন পূজয়েৎ ॥ ১০ জীবই শিব এবং শিবই জীব। জীব যখন জীবভাব নিজ হইয়া কেবা স্ব স্বরূপে অবস্থান করেন তখনই তিনি শিব। যেমন তুষ বন্ধ অবস্থার নাম ব্রীহি বা ধন্য আ ব মুক্ত অবস্থার নাম তণ্ডুল বা চাল । বস্তু একই কেবল বদ্ধ মুক্ত অবস্থা ভেদে-আবৃত ও অবরণ হীন অবস্থা ভেদে ভিন্ন বােধ হয়—ভিন্ন নাম হয় । এইরূপ কৰ্ম্মবদ্ধ অবস্থার নাম ‘জীব এবং কৰ্ম্মনাশ ঘটিলে নাম হয় সদাশিব। অষ্টপাশি বদ্ধ শিবই জীব এবং পশিমুক্ত জীবই শিব। দেহই ।

শুক্রের পূজা ও বেদাধিকার
দেবালয়, এই দেবালয়ে জীবরূপ শিব সদা বিরাজমান, অজ্ঞান রূপ
নির্মাল্য পরিত্যাগ পূর্বক সােহহং ভাবে—আমিই সেই ব্ৰক্ষ এই ভাবে জীব
রূপ শিবের পূজা করা কর্তব্য।
শাস্ত্রকার আরও বলিয়াছেন।
প্রপূজ্য পুকধং দেহে দেহিনং চাংশরূপিন।
“ভগবানের অংশরূপী দেহী পরমাত্মাকে (জীবকে ) দেহে পূজা
করিবে।”
ফলতঃ দেহ যদি ব্ৰহ্মপুর হয়—দেবালয় হয়, দেহই যদি মন্দিব হয়
তবে ইহার অবমাননায় কি ইহার অধিশ্বমী ভগবানেরই অবমাননা কর।
হয় না ?
কিন্তু মহাত্মা সেন্ট পল ও বুলিয়াছেন -
"Know ye not that ye are the tomplo of God, and
that the Spirit of God dwelleth in you? If any man
defile the temple of God, him shall God destroy , for the
temple of God is holy, which temple ye are
অর্থাৎ তােমরা কি জাননা যে তােমরাই—তমাদেব দেহই
ভগবানেব মন্দির এবং সেই মন্দিবে তাহার অংশ-পরমাত্মা—চৈতন্য
শক্তি বাস কবেন। যদি কোন গর্বিত পাব সেই মন্দিরের অবমাননা
করে ভগবান্ তাহার’পাপ মস্তক চুর্ণীকৃত কবিবেন। কারণ ভগবানের
অধিবাস মন্দির অতিশয় পবিত্ৰএবং সে মন্দিয়ও আব কোথায় নহে,
তােমরাই-তােমাদের দেহই।
আমাদের জীব দেহপুরীর তিনিই পুরস্বামী। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে পুনঃ
পুনঃ বলিয়াছিলেন -

জীবরূপে ভগবান মমৈবাংশে জীব লােকে জীবভূতঃ সনাতনঃ গীতা ১৫ “জীবের যে জীয়া তাহা ভগবানেরই অংশ। পূৰ্ব্বেও উক্ত হইয়াছে। অহমাত্মা গুড়াকেশ ! সৰ্ব্বভূতাশয় স্থিত। ঐ ১০২০ হে অর্জুন! সকল ভূতের অন্তরস্থিত আত্মা আমিই।” ক্ষেত্রজ্ঞাপি মাংবিদ্ধি সৰ্ব্ব ক্ষেত্রে ভারত। ঐ ১৩২ “হে অর্জুন সকল ক্ষেত্রে আমাকেই ক্ষেত্রজ্ঞ বলিয়া জানিও।* ভক্তি শাবে আকর শ্রীমদ্ভাগবতেও উক্ত হইয়াছে - মনসৈনি ভূতানি প্রণমেদ বহু মান'। ঈশ্বয়াে জীব কলয়া প্রৰিষ্টো ভগবানিতি ॥৩২৯২৯ এই সকল ভুতকে (প্রাণীকে) বহু মান সহকারে মনের সহিত প্রণাম করিবে , ভগবান , ঈশ্বরই অংশৰ দ্বাৰা জীরূপে অবস্থিত রহিয়াছেন। ভগবানই যে, দেহে দেহীরূপে অবস্থিত, ইহা গীতার অন্যত্রও দেখিতে পাই- উপদ্রষ্টানুমতাচ ভর্তা ভােক্তা মহেশ্ববঃ । পরমাত্মতি চাপুজো দেহেহস্মিন্ পুরুষঃ পরঃ ॥১৩২২ “এই দেহ পরমপুরুষ পরমাত্মা মহেশ্বর বিরাজিত আছেন , তিনি সাক্ষী, অনুমতা, ভর্তা ও ভক্ত। ভীৰ ব্ৰহ্মাংশ। ব্ৰহ্ম যেন অগ্নি জীব বিস্ফুলিঙ্গ। বেদান্ত বলিতেছেন- যথা সুদীপ্তাৎ পাকাৎ বিস্ফুলিঙ্গাঃ সম্রশঃ প্রভবন্তে সরূপঃ তথাক্ষাৎ বিবিধাঃ সােম্য ভাবাঃ প্রজান্তে ভত্র চৈবাপি যন্তি। মুণ্ডক ২১১ শুদ্রের পূজা ও বৈদাধিকার যেমন সুদীপ্ত অগ্নি হইতে সহস্র সহস্র সমানরূপ বিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হয়, সেইরূপ অক্ষর পুরুষ (ভগবান) হইতেই বিবিধ জীব উৎপন্ন হয় এবং হাতেই বিলীন হয়। বৃহদারণ্যক উপনিষদ্ বলিতেছেন :- যথাগ্নেঃ ক্ষুদ্রা বিস্ফুলিঙ্গা বুচ্চিরন্ত্যেবমেশ্মদাত্মনঃ সর্বে প্রাণী সব্বে লােকাঃ সর্বে দেবাঃ সৰ্বানি ভূতানি ব্যুচ্চরন্তি।২।১২ “যেমন অগ্নি হইতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হয়, সেইরূপ সেই পরমাত্মা ভগবান হইতে সমস্ত প্রাণ, সমস্ত লোক, সমস্ত দেব, সমস্ত ভূত- প্রাণী—নির্গত হয়। শুধু যে ব্রহ্মের অংশই, অত্মারূপে, জীব-দেহ-পুরে বাস করিতেছেন এমন নহে—সেই ব্ৰহ্ম স্বয়ং ও অন্তর্যামী রূপে জীবের হৃদয়ে অবস্থান করিতেছেন। একথা গীতায় শ্রীকৃষ্ণ পুনঃ পুনঃ বলিয়াছেন : “হৃদি সৰ্বস্য বিষ্টিত।” গীত ১৩১৭ “সর্বস্ত চাহং হৃদি সন্নিবিষ্ট * ঐ ১৫১৫ ঈশ্বরঃ সৰ্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহৰ্জ্জুন তিষ্ঠতি। ঐ ১৮৬১ “ইনি সকলের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত ; সকলের হৃদয়ে সন্নিবিষ্ট ; ঈশ্বর সর্ব প্রাণীর হৃদয়ে বিরাজিত। ইত্যাদি। ঐশ্রীহরিভক্তিবিলাস বৈষ্ণবগণের স্মৃতি শাস্ত্র-কণ্ঠের হার। জীব ভগবানের অংশ শুনিয়া ত আমাদের দেশের বৈষ্ণবগণ চমকিয়া উঠেন। সেই শাস্ত্র বলিতেছেন- অহং ভগবােহংশােহঘি সদা দাসােহম্মি সবখা। তপাপেক্ষ কে। নিত্যমিতাত্মানং সমর্পয়েৎ। ;

জীবরূপে ভবান “আমি ভগবান শ্রীহরির অংশ এবং সর্বদা সৰ্ব্ব প্রকারে তার দাস, আমি নিয়ত তাহার কৃপা প্রার্থী ;-এইরূপে আত্ম সমর্পণ করিবে । এইত জীবের সহিত ভগবানের কি সম্বন্ধ নানা শাস্ত্র হইতে প্রদর্শিত হইল । পাঠকগণ দেখুন—ইহার মধ্যে ব্রাহ্মণ শূদেব কোন পার্থক্য আছে কিনা? ক্ষত্রিয় রাজগণ গায়ের জোরে আইন করিয়া শূদ্র বৈশ্য প্রজাগণকে শাসন করিয়াছেন। উহা কখন ধর্মবিধি বা শাস্ত্রবিধি হইতে পারে না। উহা প্ৰজা শাসনের রাজ আইন, ব্রাহ্মণ মন্ত্রিগণের মন্ত্রণা কুশল মস্তিষ্ক প্রসূত রাজবিধি, বাজোচিত অত্যাচাব মাত্র ! কিন্তু আমা- দের সমাজপতি ব্রাহ্মণ পণ্ডিত মহাশয়গণ উহাকেই ধর্মশাস্ত্র বলিয়া আঁকড়িয়া ধরিয়া সনাতন ধৰ্ম্মের জয় ঘােযণা করিতেছেন। প্রথমে যে অত্যাচার মূলক শ্লোক সকল উদ্ধত করিয়াছি—উহাই সেই রাজ আইন। নতুবা প্রাচীন যুগের আর্য ঋষিগণ যে ঐরূপ বিধি ধৰ্ম্ম বিধি বলিয়া প্রচার করিতেন তাহা কিছুতেই মনে করিতে পারি না। যাহারা পশু পক্ষী তরু গুল্ম জল স্থল অন্তরীক্ষ ভূল সূৰ্য্য চন্দ্র গ্রহ নক্ষত্র পাপী পুণ্যবান সৰ্বত্ৰ ব্ৰহ্মদর্শন করিতেন, যাহাদের অহিংসা দ্বেষবিরহিত বিশাল স্বর্গীয় প্রভাবে মার্জার মুষিক, অহি নকুল, মেষ শাৰ্দল, সিংহ মৃগ একত্র আহার বিহার পান ক্রীড়া সম্পাদন করিত, যাহারা নির্জনে গহনবনে কোটীকল্প আরাধনা করিয়া ব্ৰহ্মসত্যং জগন্মিথ্যা” “জীবঃ ব্ৰহ্মৈব না পরঃ এই মহান সত্য, জীব ব্ৰহ্ম ভিন্ন আর কিছুই নহে এই মহান তত্ব স্বর্গের মন্দাকিনী ধারার চায় সমগ্র জগতে ছড়াইয়া ও ভাসাইয়া দিয়াছিলেন, তাহারা যে তুমি শূদ্র আমি ব্রাহ্মণ, তুমি নীচ আমি উচ্চ, তুমি ক্ষুদ্র, আমি যয়ের শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার মহান, তুমি ম্লেচ্ছ আমি আৰ্য, এইরূপ হীন পূতিগন্ধময় স্বার্থপর ভাব হৃদয়ে স্থান দিনে বা পােষণ করিতেন, তাহা ত বিশ্বাস করিতে প্রবৃত্তি হয় না। শূদ্রকে অধিকার দানে বঞ্চিত করা ত দূরের কথা, যাঁহাৱা সমভাবে আৰ্য অনাৰ্য ব্রাহ্মণ চণ্ডালকে একসঙ্গে একতারে, বিশ্বের সমগ্র জনমণ্ডলীকে আশ্বস্থ করিয়া বলিয়াছিলেন-তােময় সকলেই অমৃতের পুত্র—অমৃতের অধিকারী, তখন তাহারা কখনও স্বার্থপর হীন হইতে পারেন না।

শূদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার। শূন্ত্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার আছে কি না, আমরা অতঃপর তাহাই আলােচনায় প্রবৃত্ত হইতেছি। মানব মাত্ৰেবই শালগ্রামশিলা পূজা কৰা একান্ত কর্তব্য বলিয়া শাস্ত্রকার উচ্চকণ্ঠে ঘােষণা করিয়াছেন। কেননা, ভক্ত হিন্দুর বিশ্বাস, শালগ্রামে শ্রীহরির নিত্য অধিষ্ঠান এবং শালগ্রাম পূজা শ্রীহবি নিত্য প্রীতিযুক্ত হইয়া থাকেন। তবে এই শালগ্রাম পূজায় শূদ্ৰনামধেয় কল্পিত লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি হিন্দু সন্তান কেন বঞ্চিত হইবে ? যাহা ধৰ্ম্ম, যাহাতে দেহ মন আত্মার উন্নতি ও উৰ্দ্ধগতি হয়, তাহাতে ব্রাহ্মণ শূদ্র সকলেরই সমান অধিকার। শুদ্ৰ-বিদ্বেষী ব্রাহ্মণগণ গায়ের জোৰে অধিকাৰ নাই” বলিলে এই বিংশ শতাব্দীতে এই স্কুল কলেজ জ্ঞান বিজ্ঞান ইতিহাস দর্শন আলােচনাৰ যুগে লােকে তাহা শুনিবে কেন,-মানিতে চাহিবে কেন ? ব্রাহ্মণ মন্ত্রীগণের ক্রীড়নক স্বরূপ শূদ্র প্রজাপীড়ক ক্ষত্রিয় রাজগণেব আমলেই ঐ সব “অধিকার অধিকারের ব্যাখ্যা শােভা পাইত। এখন উহা বলিতে গেলে বাতুল বলিবে মাত্র। পাঠকগণ । শ্ৰৰপ করুন,-ব্রাহ্মণ মহাশয়গণ শাস্ত্রের নামে কি জঘন্য কথা লিখিয়া রাখিয়া লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি হিন্দু সন্তানকে শালগ্রাম পূজা হইতে বঞ্চিত করিয়া, নিজে পূজা করত, দক্ষিণাদি গ্রহণের দিব্য সুযােগ বিস্তার করিয়া রাখিয়াছেন। ঐ শুনুন হাঙ্গেয় ফঁাকি দিবার শাস্ত্র বলিতেছেন, १२ শুদ্রের পূজা ও বেদাধিকার ব্রাহ্মণস্তৈব পূজোহহং শুচেরপ্যগুচেরপি। খ্রী-শূদ্র কর সংস্পর্শো বাদপি সুদুঃসহ। ভগবান বলিতেছেন- *শুচি বা অশুচি ব্রাহ্মণই আমাব পূজাব অধিকারী, স্ত্রী বা শূদ্রেব হয় স্পর্শ আমার পক্ষে ২ অপেক্ষাও অত্যন্ত দুঃখদায়ক।” অর্থাৎ মদ্যপায়ী গঞ্জিকাসেবী, ঝি-রূপিনী বেশ্যা রক্ষক মেটেন্সওয়ালাই হউক আর ৪৫ টাকা বেতন ভােগ বসু। পাঠকই হউক, তি'ই শালগ্রাম পূজাব অধিকারী। কেন না, তিনি ব্রাহ্মণ-পৈতধারী। অন্যত্র প্রণববাচ্চাবণাচ্চৈব শালগ্রাম শিলানা। ব্রাহ্মণী গমনাশ্চৈব শুদ্ৰশ্চণ্ডালমিয়া। প্রণব (ওঁ) উচ্চারণ, শালগ্রাম শিলাব পূজা এবং ব্রাহ্মণী গমন কবিলে শূদ্র চণ্ডালত্ব প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ মুখ গোয়াব-গোবিন্দ শূদ্রগণের পক্ষে ভগবানেব উপর বস্ত্র নিক্ষেপ করা আশ্চৰ্য্য নয় বুঝিয়াই পরবর্তী শ্লোকে চণ্ডালত্ব প্রাপ্তির প্রমােশন দিবাব ভয় দেখাইয়া |ণ কবিয়াছেন। দেশের ব্রহ্ম-ধ্যানমগ্ন তত্ত্ববিদ, সদ্গুণসম্পন্ন ব্রাহ্মণ ভগবানের বুকে লাথি মারিতে পারেন, সে দেশের তমঃগুণসম্পন্ন শুদ্রকে শুধু বজ্রাঘাতেয় ভয় দেখাইয়া নিশ্চিন্ত হইতে পারেন নাই, তাই দ্বিতীয় শ্লোকের অবতারণা কবিয়াছেন। এই অজ্ঞ দেশে শাস্ত্র বচন লক্ষ লক্ষ কোটী কোটী লোকে মনুষ্যত্ব ও তেজঃবীৰ্য্য অপহরণ করিয়া এ দেশকে ও হিন্দুসমাজকে ডুবাইয়া দিয়াছে। বহু অঞ্জ সরল শূদ্রের মুখে শুনিয়াছি-“ওঁঙ্কার উচ্চারণ করিলে বংশ থাকে না-পরকালে মহা রৌরব নরক হয়। এই সব প্রান্ত ধারণা জন্মাইয়া দেশের সর্বনাশ করা হইয়াছে।

শুদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার এক্ষণে প্রকৃত শাবে আলােচনা করা যাউক। “ভক্তমাল বলেন- শালগ্রাম পূজা বৈষ্ণবের আবশ্যক। স্ত্রী কিম্বা শূদ্র ইহা শাস্ত্র নিয়ামক। শাস্ত্রে বলেন- সন্ধাৰ্যা বৈষ্ণব্যৈাজ্জালগ্রামশিলাবৎ ॥ শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাস। বৈষ্ণবগণ প্রাণের ন্যায় যত্ন সহকাবে শা গ্রামশিলা ধারণ করিবেন। বৈষ্ণব কে ? বৈষ্ণব কেবল বাহ্মণই নহেন। বিষ্ণু মন্ত্রে দীক্ষিত ও বৈষ্ণবাচাব সম্পন্ন ব্যক্তি মাত্রই বৈষ্ণব এবং বৈষ্ণব মাত্রেরই শালগ্রাম- শিলা ধারণে অধিকার আছে। গৃহীত বিষ্ণুদীক্ষাকো বিষ্ণু পূজা পবে নবঃ। বৈষ্ণবােহভিহিতােহভিজ্ঞৈবি তােহম্মাদবৈষ্ণবঃ । শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাস। বিষ্ণুল্লোপসিক স এব বৈষ্ণব দ্বিজঃ। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ। মহাপ্রভু শ্ৰণৌবাঙ্গ দেব বলিয়াছেন- কৃষ্ণনাম নিরন্তব যার বদনে। সেই বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ, ভজ তাহব চরণে। শ্রীচৈতন্যচবিতামৃত-মধ্যলীলা। যাহার দর্শনে মুখে আইসে কৃষ্ণ নাম। অাবে জানি তুমি বৈষ্ণব প্রধান। চৈতন্যচরিতামৃত-মধ্যলীলা = শুদ্রের পূজা ও বেদাধিকার শাস্ত্র বলিতেছেন- ন শূদ্র। ভগবদ্ভজা স্কেন্তু ভাগবতা রাঃ। সৰ্ব্ব বর্ণেযু তে শুদ্ৰা যে ন ভক্তা জনার্দনে। বায়ু পুরাণ। শূদ্রই শূদ্র নহে, ব্রাহ্মণাদি য়ে জাতিই হউক, ভগবানে ভক্তি না থাকিলে, সেই অভক্ত জনই শূদ্র এবং ভক্তি থাকিলে শূদ্র.শূদ্র পদবাচ্য নহেন। শ্রীচৈতন্যমহা প্রভুও শ্রীমুখে বলিয়াছেন নীচ জাতি নহে কৃষ্ণ ভজনে অযােগ্য। সৎকুল বিপ্র নহে ভজনের যােগ্য । যেই ভজে, সেই বড়, অভক্ত হীন ছার। কৃষ্ণ ভজনে নাহি জাতি কুলাদি বিচার। দীনেবে অধিক দয়া করে ভগবান্। কুলীন পণ্ডিত ধনীব বড় অভিমান || শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত-অন্ত্যলীলা। অন্যত্রও বলিয়াছেন- ঈশ্বরের কৃপা জাতি কুলদি না মানে। ঐ অধ্যলীল। অতএব ভগবদ্ভক্ত সৰ্বজাতিই শালগ্রামশিলার অর্চনার অধিকারী। শূদ্রের বৃত্তি ও ধর্ম কর্ম সম্বন্ধেও উক্ত হইয়াছে- # অযাচক প্রদত। গাৎ কৃষিং বৃক্যর্থ মাচরেৎ। পুরাণঃ শমিত্যং শালগ্রামঞ্চ পূজয়েৎ ॥ বায়ু পুরাণ।

শুদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার
সূত্র যাচ, করিবেনা-দান করিবে, জীবন যাত্রা নির্বাহের জন্য
কৃষি কৰ্ম্ম করিবে এবং নিত্য পুরাণ শ্রবণ ও শালগ্রামশিলার পূজা
করিবে।
এ স্থলে শুদ্রের পক্ষে শালগ্রামশিলার পূজা করা একান্ত বিধি
হইতেছে।
শালগ্রামশিলা পূজাং বিন যােহশ্নাতিকিঞ্চন।
স চণ্ডালাদিবিষ্ঠায়ামাকাং জায়তে কৃমিঃ।
পদ্ম পুরাণ।
শালগ্রামশিলাব পূজা না করিয়া যে ব্যক্তি ভােজন করে, সে কল্পকাল
পৰ্যন্ত চণ্ডাল প্রভৃতির বিষ্ঠা কৃমি হইয়া বাস করে।
গৌরবাচাল শৃঙ্গাগ্রৈর্ভিদ্যতে তস্য বৈ তনু।
ন মতিজায়তে যস্য-শালগ্রামশিলানে।
স্কন্দ পুরাণ।
শালগ্রাম শিলা অর্চনায় যাহার মতি না হয়, পর্বত শৃঙ্গা দ্বারা
তাহার শরীর বিদ্ধ করে।
এবং ভগবান সর্বৈঃ শালগ্রাম শিলাত্মক।
দ্বিজৈঃ স্ত্রীভিশ্চ শূৰ্দৈশ্য পূজো ভগবতঃ পরৈঃ।
স্কপুরাণ।
গৃহীত-দীক্ষ ব্যক্তি শ্রীভগবানের পূজায় ইচ্ছুক হইলে, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়,
বৈশ্য এবং স্ত্রী শূদ্র সকলেই শালগ্রাম শিলারূপী ভগবানের পূজা
করিবেন।

শূদ্রের পূজা ও বোধিকার
?
-
ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বিশাং সচ্ছ দ্রাণা মথাপি বা।
শালগ্রামহধিকাােেহস্তি ন চালং কদাচন।
পুরাণ।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং সংশূদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার আছে-
অপরের নাই। তাত বটেই,সৎ না হইলে—সাধু না হইলে কে আর
পূজা অর্চনা করিবে ? তা কেবল শূদ্রের সম্বন্ধে কেন—সকলের সম্বন্ধেই।
অসং শূদ্রেও করে ন', অসং ব্রাহ্মণও কবে না। এই যে লক্ষ লক্ষ ব্রাহ্মণ
চাকরী করিতেছেন, দোকান হােটেল খুলিয়াছেন—পাচক বৃত্তি গ্রহণ
করিয়াছেন, ইহারা কি শা, গ্রাম পূজা করেন? সৎব্রাহ্মণ যে সেই করে।
সৎশূদ্র কি, না—ভগবদ্ভক্ত-ধাৰ্মিক সাধুশূদ্র। ভগৰক্ত ধার্মিক
না হইলে কেইবা পূজার্চনা কবে ?
শূদ্রা ভগবদ্ভক্তং নিষাদং পচং তথা ।
বীক্ষতে জাতি সামান্যাৎ সংষতি নরকং ধ্রুবং ||
ইতিহাস সমুচ্চয়।
শূদ্র, এমনকি, নিষাদ (ব্যাধ ) খপচ ( চণ্ডাল) ও ভগবদ্ভক্ত হইলে
তাহাদিগকে সাধু-সৎ বলিয়া বিবেচনা করিবে,-সামান্য জাতি বলিয়া
হেয়জ্ঞান করিলে নিশ্চয় নবকগামী হইতে হইবে।
শপচাকপি মহীপাল বিষ্ণোর্ভকো দ্বিজাধিকাঃ।
বিষ্ণুভক্তিপরায়ণ খপচও ( চণ্ডালও দ্বিজাধিক।
নারদীয়ে।
চালােহপি ভবেবি হরিভক্তিপরায়ণং ।
হরিভক্তি-বিহীনস্তু দ্বিজোহপি শপচাধমঃ ||

শুদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার হরিভক্তিপরায়ণ চণ্ডালও বিপ্রতুল্য; আর হরিভক্তি-বিহীন ব্রাহ্মণও চণ্ডীলের অধ। “মুচি হ'লেও হয় গুচি যদি কৃষ্ণ ভজে। শুচি হ'লেও হয় মুচি, যদি কৃষ্ণ ত্যজে ||” গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলিতেছেন :- অপিচেৎ সুদুরাচারে ভজতে মামনন্য ভা। সাধুৱেব সমন্তব্যঃ সমগব সিতে হি সঃ ৩০ ক্ষিপ্রং ভবতি ধাত্মা শশ্বচ্ছাতিং নিগচ্ছতি। হে অর্জুন! “আমাকে যে অনন্যচিতে ভক্তিপূৰ্ব্বক আরাধনা করে, সে অতিশয় দুরারি হইলেও তাহাকে সাধু বলিয়া জানিবে। দুরাচাঁর ব্যক্তিও আমাকে যদি ‘ভজনা ও ভক্তি করে, সেও শীঘ্ৰ ধৰ্ম্ম-পরায়ণ হইয়া শালািভ করে। স্কন্দ পুরাণ পুনরায় বলিতেছেন :- স্ত্রিয়াে বা যদি বা শূদ্রা ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়ায়। পূজয়িত্ব শিং লভন্তে শাশ্বতং পদং । স্ত্রী হউন, শূদ্র হউন বা ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়াদি যে বর্ণই হউন, শালগ্রাম শিলা পূজা করিলে শাশ্বত পদ লাভ করিবেন। সুতরাং ব্রাহ্মণাদির ন্যায় বিষ্ণুমন্ত্রে দীক্ষিত বিষ্ণুভক্তিপরায়ণ ব্যক্তিমাত্রেই, স্ত্রী শূদ্র সকলেই যে শালগ্রাম শিলা পূজায় অধিকারী, তাহা স্থিরীকৃত হইল। তবে এই যে শাস্ত্রের বিরোধ উপস্থিত হইল, এসম্বন্ধে বৈষ্ণবচূড়ামণি পণ্ডিতপ্রবর এল সনাতন গােস্বামী প্রমুখ মহােদয়গণ ঐশ্রীহরিভক্তিবিলাসের টাকায় যে ব্যবস্থা দান করিয়াছেন, তাহা এই- মহা পুরাণানাং ৰচনৈঃ সহ ব্ৰহ্মণবৈ পুজোহহমিতি বচন বিরােধান্মাৎসৰ্য্যপরৈঃ স্মার্তৈ কৈশ্চিৎ কল্পিতমিতি মন্তব্য। যদি চ

শূয়ে পূজা ও বেদাধিকার
যুক্তাসিং সলং শাহিঁ চ অবৈষ্ণবৈঃ “ত্রে স্বাশিভিশ্চ খ্রীতি স্তং পূজা
নকর্তা যথাবিধি গৃহীতবিষ্ণু দীক্ষাকৈ তৈ কর্তব্যেতি ব্যবস্থা
পনীং |
ভাবার্থ-কেবল ব্রাহ্মণের দ্বারাই আমি পূজিত, এই বচনের সহিত
মহাপুরাণের বচন গুলির সহিত সম্পূর্ণ বিবােধ হয়, কিন্তু মাৎসর্য্যপর কোন
ব্রাহ্মণ অৰ্ত কল্পিত মন্তব্যে উহা বলিয়া গিয়াছেন। ঐ যে ৰচন,
অবৈষ্ণবের জঙ্ক কথিত। গৃহীহ-বিষ্ণুদী ও বিষ্ণুভক্ত শুষ এবং স্ত্রীজাতি
শালগ্রামশিলা অর্চনে অধিকারী এবং পুজাকর তাহাদিগের কর্তব্য, ইহাই
ব্যবস্থা।
অতএব এ বচন সাম উপর ।
নিষেধ, যে হয়তত্র বৈষ্ণব ইর ||
কিংবা কেহ দম্ভক্ৰমে বচন পড়িল।
গােকামী আচার্য্য ইহা আশঙ্কা করিল |
স্ত্রীশূদ্র শালগ্রাম পূজা অধিকারী।
ইহাতেই এবচন কৃত্রিম বিচারি।
এ বচন যপি প্রামাণ্য হইত ।
অত্র শাস্ত্রমতে বিধি না থাকিত । বাঙ্গালা ভক্তমাল ।)
শূদ্রেব পূজাধিকার সম্বন্ধে ভক্তিশাস্ত্রের চরম খ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবত কি
বলেন, দেখা যাউক।
কৃষ্ণ উদ্ধবকে বলিতেছেন-“আমার উপাসনা সকলেব ধৰ্ম্ম ।”
(১) ভক্তচুড়ামণি প্রাদ ীনৃসিংহদেবের গুখে বলিতেছেন -
(১) অনুবাদ-১৮শ অধ্যায় একাদশ স্কন্ধ । গবত।

; সূত্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার আমি বিবেচনা করি, সংশে জন্ম, রূপ, তপস্যা, পাণ্ডিত্য, ইজিয়- নৈপুণ্য, তেজঃ প্রভাব, শারীরিক বল, পৌরুষ প্রজ্ঞা ও অষ্টাঙ্গ যােগ- এই সকল গুণও সেই পরম পুরুষের আরাধনে উপযােগী নহে। সেই ভগবান কেবল ভক্তিরাই গজেন্দ্রের প্রতি তুষ্ট হইয়াছিলেন। উক্ত দ্বাদশগুণভূষিত বিপ্রও যদি ভগবান পদ্মনাভের পাদপদ্ম পরায়ুথ হন, তবে-যে চণ্ডালের মনঃ, বাক্য, কর্ম, ধন এবং প্রাণ ভগবানেই অর্পিত, সে চণ্ডালকেও তাহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলিয়া মানি। কারণ ঐ চণ্ডাল কুল পাবন কবিতে পারেন; কিন্তু প্রভূত গৰ্ব্বশালী ঐ ব্রাহ্মণ পারেন না।” (২) উক্ত প্রহলাদই দৈত্যবালকগণকে বলিয়াছিলেন-“ভক্তি, সমস্ত লব্ধবস্তু সমৰ্পণ, সাধুভক্তবৃন্দের সংসর্গ, ঈশ্ববারাধনা, ভগবৎ কথায় শ্রদ্ধা, তদীয গুণ কীৰ্ত্তন, তাহার পাদপদ্ম ধ্যান, তাঁহার মূর্তি সকলের দর্শন পূনাদি দ্বারা কামাদি জয় করিয়া ঈশ্বরে ভক্তি করিবে অসুর মনুষ্য যক্ষ অথর গন্ধৰ্ব্ব যেই কেন হউক না, মুকুন্দ চরণ ভজনা * করিলে সকলেই আমার ন্যায় মঙ্গল লাভ করিতে পারে। হে অসুর তনয়গণ ! দ্বিজ, দেব, ঋষিত্ব, চরিত্র, বহুজ্ঞতা, দান, তপস্যা, যজ্ঞ শৌচ এবং ব্রত-মুকুন্দের প্রতি উৎপাদনে সমর্থ নহে; নির্মল ভৱািই ভগবান প্রীত হন। হে দৈত্যেয়গণ। যক্ষ, রাক্ষস, স্ত্রীশূদ্র, * নীচ জাতি এবপশু পক্ষী ইত্যাদি পাপী (কথিত) জীবও অচ্যুত সাযুজ্য পাইয়াছে।” (৩) দেবর্ষি নারদ্ধ যুধিষ্ঠিরকে বলিয়াছেন—“সত্য, দয়া, তপস্য, শৌচ ৯ অনুদ-নবম অধ্যায় : সপ্তমস্কন্ধ। ভাগবত। (৩) অনুবাদ-সপ্তম অধ্যায় ; সপ্তম। ভাগত ।

# শূদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার অজুকদাসী সম্প্রদায় প্রবর্তক এবং কীলের অন্যতম শিষ অগ্ৰদাস-ডােৰ তীয় হিন্দী ভক্তমাল-প্রণেতা নাজির গুরুদেব। কবীরের আবার শিষ্য পরম্পৰা ক্ৰমে কমাল, যমাল, বিমল, বুন্ধন ও দাদু; যষ্ঠ এই দাদু, জাদ পন্থী প্রবক। ইনি আহমেদাবাদের একজন ধুনুরি ছিলেন। তা ছাড়া আগরা জেলার অন্তর্গত হত্ৰাস নগরের তুলসীদাস নামক এক অন্ধ বণিক কুড়াপন্থী, এবং আগরা নগরের আর এক বণিক্যুইড় পন্থী সম্প্রদায় স্থাপন কবেন। পশ্চিমাঞ্চলের ভােম জাতীয় ব্যক্তিগণ রাজা হরিশ্চন্ত্রের নামে হরিশ্চন্দী ; : সঃ নামক এক মাংসবিক্রয়ী সপন্থী, দ্বিতীয় আলগির বাদশাহের সময়ে দিল্লী নগবে চরণ দাস নামে এক ধূসর জাতীয় বণিক চবণ দাসী সম্প্রদায় সংস্থাপন কৱেন। বাঙ্গালা দেশেও ঘোষপাড়া হইতে রামশরণ পাল-প্রমুখ কতিপয় ব্যক্তি কর্তাভজা, নদীয়া জেলার অন্তর্গত মেহেরপুর সন্নিকটস্থ মালো পাড়ার বলরাম হাড়ি বলবামী সম্প্রদায় প্রবর্তন করে। এইরূপে ভাবতবর্ষের হিন্দু সম্প্রদায় বহুভাগে বিভক্ত হইয়া পড়িয়াছে। ইহা কেহই ব্রাহ্মণ নহেন, অথচ লােকবঞ্জনে-ভক্তিতে ও অনীতায় ইহাদের অনেকে শ্রীচৈতন্য দেবের ন্যায় অবতার বলিয়া কথিত, প্রচারিত ও পূজিত হইয়াছেন ও হইতেছেন। ব্রাহ্মণগণের ধর্ম ও সমাজ বিষয়ে একচেটিয়া অধিকার দখল করার দরুণই ও আক্রোশেই এই সৰ সম্প্রদায়ের অভূত্থান হইয়াছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ ভক্ত রুইদাসের উপাখ্যান বর্ণিত হইতেছে। পশ্চিমােন্তর প্রদেশে জনৈক চামারের গৃহে রুইদাস জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল হইতেই, শিশু ভগবৎ প্রেমিক। বয়ঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বালক রুইদাসের ভগবদ্ভক্তি ক্রমশঃ পুষ্ট হইতে লাগিল। সাধু সজ্জনগণের সেবায় বাল্য কাল হইতেই তাহার অত্যন্ত অনুরাগ। সায় সেবার জন্য বাপ মার নিকট চাহিয়া না পাইলে তিনি নিজের ভাগ লইয়া শূদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার লুকদাসী সঙ্গীয় প্রবন্ধক এবং কীলের অন্যতর শিষ্য পালঙেৰ তীয় হিন্দী ও শাখা-প্রণেতা ৰাভলির গুরুদেব। কবলে জাখায় শিষ্য পরম্প ক্রমে কমাল, খাল, বিল, বুদ্ধন ও দাদু যষ্ঠ এই দা, জাদ পন্থী প্রবর্তক। ইনি আহমেদাবাদের একজন ধুনুরি ছিলেন। ও ছাড়া আগরা জেলায় অন্তর্গত হাসি নগরের তুলসীদাস নাম এক অন্ধ বণিক কুঞ্জগই, এবং আগয়া নগরের আয় এক ৰণি মুহড় পন্থী সম্প্রদায় স্থাপন করেন। পশ্চিমাঞ্চলের ভােগ জাতীয় ব্যক্তিগণ রাজা হরিশ্চন্দ্রের নামে হরিশ্চন্দী; : সয় নামক এক মাংসবিক্রয়ী সপহী, দ্বিতীয় আলমগির বাদশাহের সময়ে দিল্লী নগরে চরণ দাস নামে এক ধূসর জাতীয় বণিক বণ মাসী সম্প্রদায় সংস্থাপন করেন। ধান্ধালা দেশেও ঘােপাড়া হইতে রামশরণ পাল-প্রমুখ কতিপয় ব্যক্তি কর্তাভজা, নদীয়া জেলার অন্তর্গত মেহেরপুর সন্নিকটস্থ আলাে পড়ার খলম হাড়ি বলবামী সম্প্রদায় এবর্তন করে। এইকালে ভারতবর্ষেৰ হিন্দু সম্প্রদায় বহুভাগে বিভক্ত হয়। পড়িয়াছে। ইহা কেহই ব্রাহ্মণ নহেন, অখচ লােকরঞ্জনে-ভক্তিতে ও মনখাতায় ইহার অনেকে চৈতন্য দেবের ন্যায় অবতীর বলিয়া কথিত প্রচল্পিত ও পুজিত হইয়াছেন ও হইতেছেন। ব্রাহ্মণগণের কর্ম ও সমাজ বিষয়ে একচেটিয়া অধিকার দখল করার দরুপই ও আক্রোশেই এই সব সম্প্রদায়ের অভূখা হইয়াছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ ভক্ত রুইদাসের উপাখ্যান বর্ণিত হইতেছে। পশ্চিমােরর প্রদেশে জনৈক চামায়ে গৃহে রুইদাস জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল হইতে, শিশু গুগৰৎ প্রেমিক। বয়রি সঙ্গে সঙ্গে বাল ৭। সাধু সনগণের সেবায় বাল্য কাল হইতেই হয় অন্তু কাগ। শা নেবার জন্য খাপ খার নিকট চাবিয়া না পাইলে তিনি নিজের ভাগ লইয়া শুক্রের পূজা ও বেদাধিকার সাধুসেবা করিতেন। ইদাসের গৃহকাৰ্যে, সংসারে মন, নাই; পয় দিবাঝাত্র কেবল সাধু সজ্জনের সেবায় ও ভগবৎভজলে নিবিষ্ট মন দেখিয় পিতামাতা বিরক্ত হইয়া তাহাকে গৃহ হইতে বাহির করিয়া দিলেন । তাঁহারা তাহাদের প্রচুর ধনের এক কপর্দকও রুইদাসকে দিলেন না। রুইদাস সন্ত্ৰীক তাড়িত হইয়া সমধিক আয়োজনে ও নিবিষ্ট চিরে ভগবৎ- ভজনে মগ্ন হইলেন এবং অতি ক্ষুদ্র আকারে নিজ জাতীয় বৃক্তি দ্বারা জীবন যাত্রা নির্বাহ করিতে লাগিলেন। কিছুদিন পর একখানি সামান্য তৃনাচ্ছাদিত কুটার মনিবরূপে তৈয়ার কবিয়া তাহাতে ভগবং মুর্তি স্থাপন পূৰ্ব্বক নিজ মনােমত সেবায় নিরত হইলেন। ইষ্টদেবকে একমাত্র কুটিবে রক্ষা করিয়া আপনারা অনাচ্ছাদিত বহিঃপ্রাঙ্গণে বাসকরিতে লাগিলেন। রৌদ্র, বৃষ্টি, বর্ষা বাদল, শীত গ্রীষ্মের দিকে লক্ষ্য মাত্র নাই। দুঃখ দারিদ্র্য হাসি মুখে বরণ করিয়া প্রভুর পূজায় ও সেবায় দিন রজনী পরমাননে অতিবাহিত করিতে লাগিলেন। একজ। দ্রব্যের মহাতা হওয়াতে ভগবান তাহার ক্লেশ দর্শন করিয়া সাধু বৈষ্ণবের রূপ ধারণ পূৰ্ব্বক এক খণ্ড স্পর্শ মণি লইয়া তাহার গুণ ব্যাখ্যা ও পরীক্ষা করাইয়া তাঁহাকে দান করিলেন। রুইদাস তদ্বিষয়ে লেশমাত্র সমায় না করিয়া কহিলেন- পশি স্তু জ্ঞান করে পরশ-রতন। নিত্যানন্দে পূর্ণ যার সদানন্দ মন । বাঙ্গালা ভক্তমালা। অনন্তর ত্রয়ােদশ মাসান্তে ভগবান বিষ্ণু আপনার ভক্তের নিকট পুনরাগমন করিয়া দেখিলেন--কাহাকে স্পর্শমণি দেওয়া ব্যর্থ হইয়াছে। তথাপি ভক্তবৎসল ভগবান্ এ প্রকার স্থানে কতকগুলি স্বর্ণ মুদ্রা বিকীর্ণ করিয়া শূদ্রের শালগ্রাম পুজায় অধিকার রাখিলেন যে, তাহা অবশ্যই কোন না কোনরূপে রুইদাসের দৃষ্টিগোেয় হইবে। কিন্তু ভক্ত রুইদাস হাতে বড়ই ভীত, শঙ্কিত ও বিরক্ত হইয়া উঠিলেন। ইহা দেখিয়া ভগবান স্বপ্নে দর্শন দিয়া কহিলেন, “তুমি স্বীয় ইষ্টপূজায় ও সেবায় এই ধন ব্যয় কর”। রুইদাস ইষ্টদেব কর্তৃক এইরূপে অনুজ্ঞাত হইয়া এক মন্দির প্রস্তুত করাইয়া শালগ্রাম-শিলা স্থাপন পূর্বক অতিশয় সমারােহের সহিত তাহার সেবা পরিচর্যায় ও সাধু সজ্জনগণের সৎকারে প্রবৃত হইলেন। চৰ্ম্মকার রুইদাসের প্রতিপত্তি ও প্রতিষ্ঠা দিন দিন গ্রাম হইতে দুর গ্রামান্তর-নগর হইতে কানন, সমগ্র রাজ্যময় রাষ্ট্র হইয়া উঠিল। “মুচির ছেলে শালগ্রাম পূজা করে” “ধৰ্ম্ম রসাতলে গেল “ঘাের কলি উপস্থিত প্রভৃতি জনৰ ও কোলাহল তুলিয়া ব্রাহ্মণগণ ঘাের বিদ্রোহাচরণ করিতে লাগিলেন। ব্রাহ্মণগণের এই বিদ্রোহচরণের ফলে তাঁহার সুখ্যাতি ও নাম আরও বিস্তীর্ণ হইতে লাগিল। ভক্তগণ বলেন, -বিপক্ষের বিপক্ষতাচরণ ধার্মিকের পূঢ় গৌরব প্রকাশের প্রধান উপায়, এ নিমিত্ত ভগবান্ স্বয়ং ব্রাহ্মণদিগের অন্তঃকরণে বিদ্বেষ অনল প্রজ্বলিত করিয়া দিলেন। তাহারা তর্দেশীয় নরপতির নিকট এইরূপ অভিযােগ করিলেন—“মহারাজ । অপূজ্যা যত্ৰ পূজ্যন্তে পূজ্য পূজাব্যতিক্রম। তত্র ত্রীশি প্রবর্তন্তে দুর্ভিক্ষং মরণং ভয়ং। “যে স্থানে অপূজ্য ব্যক্তির পূজা ও পূজ্য ব্যক্তির পূজার ব্যতিক্রম ঘটে, সে স্থানে ভয়, মৃত্যু ও দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হয়। সম্প্রতি রাজধানীর একজন চামার লগ্রাম অর্চনা করিতেছে, তাহার প্রসাদ বিতরণ করিয়া নগর বিষময় করিতেছে; তাহাতে সমস্ত স্ত্রী পুরুষ জাতিভ্রষ্ট হইবার উপক্রম হইয়াছে, অতএব প্রজাগণের ধর্ম রক্ষণার্থ তাহাকে দেশান্তরিত করিয়া দিন। • ৮৪ শূদ্রের পূজা ও বোধিকার বাজ। রুইদাসকে আনিবার জন্য দূত প্রেরণ করিলেন এবং রুইদাসও সভায় আগমন করিলেন। ব্রাহ্মণমণ্ডলীও তথায় , একত্রিত হইলেন। ব্রাহ্মণগণ স্বজাতি-গৌরব উচ্চকণ্ঠে বর্ণনা করিতে লাগিলেন। রুইদাস বলিলেন-“জাতি লইয়া এত গণ্ডগােল কেন ? ভক্তিই ভগবানের প্রিয় ; জাতীয় গৌরবে ভগবৎ লাভ হয় না। ব্রাহ্মণগণ ক্রমে বাদ বিসম্বাদ বাড়াইতে লাগিলেন। পরিশেষে ইহাই সিদ্ধান্ত হইল যে সম্মুখস্থ দেব- মন্দিরের সিংহাসনে যে নারায়ণ মূর্তি রহিয়াছেন, তিনি প্রসন্নতা পূর্বক যাহার নিকটস্থ হইবেন, তিনিই ভগবনের প্রিয় ও শ্রেষ্ঠ। ভক্তিহীন গর্বিত ব্রাহ্মণগণ একে একে তিন প্রহর কাল পর্যন্ত বেদ উচ্চারণ ও মন্ত্র জপ করিলেন। কিন্তু ভগবানের পাষাণ মুক্তি পাষাণের ন্যায় অচল বহিল। রুইদাস নিজ পৰ্য্যায় কালে, সা লােচনে গদগদরে স্তুতিবাদ পূৰ্ব্বক যখন বলিতে লাগিলেন, “প্রভাে! জগতে পতিতপাবন নাম যদি প্রচার করিতে হয়, তবে এই দীন দুঃখী পতিত চামারেয় প্রতি দয়া প্রকাশ কর । আমার বিদ্যা নাই, জ্ঞান নাই, বেদ নাই, মন্ত্র নাই, জাতিকুল গৌরব কিছুই নাই, তুমি বই আর আমার কিছুই নাই। তুমি দীনবন্ধু পতিতপাবন, তাই আমার আশা ভরসা। তুমি নাকি অনাথের নাথ, তাই তােমাকে ডাকিতেছি, আমার প্রতি প্রসন্ন হও। ইহার সঙ্গে সঙ্গে রুইদাস দুই একটি পদও কীৰ্ত্তন করিলেন। অন্তরের দেবতা অন্তর্যামী ভক্তের ভক্তিপূর্ণ ডাকে স্থির থাকিতে পরিলেন না। অচল পাষাণ মূর্তি সচল হইল। মূর্তি বালচপল গতিতে রুইসের ক্রোড়ে আসিয়া উপনীত হইলেন। ক্রমে রাণী ও বিদেশীয় বহু রাজা মহারাজা কইসের উক্তি মন্ত্রে বিমােহিত হইয়া শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়াছিলেন।

শূদ্রের শালগ্রাম পূজায় অধিকার ভক্তিশাস্ত্রে এরূপ দৃষ্টাঙ্কের অসদ্ভাব নাই। যে রঘুনাথ দাস আপনাকে “অধম পামর মুঞি হীন জীবাধম” বলিয়া পরিচিত করিয়াছেন- প্রেমাবতার শ্রীগৌরাঙ্গ দেব তাহাকে উপদেশ দিয়া বলিতেছেন- *অমানী মানদ কৃষ্ণ নাম সদা লবে। ব্রজে রাধা কৃষ্ণ সেবা মানসে করিবে আর তুষ্ট ইঞা শিলা মালা রঘুনাথে দিল প্রভু কহে “এই শিলা কৃষ্ণের বিগ্রহ। ইহার সেবা কর তুমি করিয়া আগ্রহ। এক কুঁজ। জলে আর তুলসী মঞ্জরী। সাত্ত্বিক সেবা এই শুদ্ধভাবে করি | দুই দিকে দুই পত্ৰ মধ্যে কোমল মঞ্জরী। এই মত অষ্ট মঞ্জরী দিবে শ্রদ্ধা করি।” হন্তে শীলা দিয়া এই আজ্ঞা দিল। আনন্দে রঘুনাথ সেবা করিতে লাগিল। এই মত রঘুনাথ করেন পূজন। পুজা কালে দেখে শিলা ব্রজেন্দ্র নন্দন। জলে তুলসী সেবায় যত সুখােদয়। যােড়শােপচার পূজায় তত সুখ নয়। এই মত কত দিন করেন পূজন। * যষ্ঠ পরিচ্ছদ, অন্ত্যনীলা; শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত। --কন। • শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার মহা প্রভু শূদ্র (কথিত) রঘু নাথ দাসকে ব্রাহ্মণাদি তিন বর্ণের সেবা করিয়া স্বর্গে যাইবার ব্যবস্থা ও উপদেশ না দিয়া তাহাকে শাল গ্রাম শীল দান করিয়া উহাই পূজা ও অর্চনা করিতে উপদেশ দিলেন। “ধর্ম সংস্থাপনাথায় অবতীর্ণ গৌরাঙ্গ অবতার কি ইহা দ্বারা ধর্ম বিনষ্ট করিয়াছিলেন ? মহাপ্রভুর কি ইহা অব্যবস্থা হইয়াছিল ? তিনি কি শাস্ত্র জানিতেন না ? সুতরাং বলুন দেখি, আমরা মহাপ্রভুর আচরণ ও উপদেশই গ্রহণ করিব, না,-বর্তমান কালের পণ্ডিতগণের ব্যবস্থা অনুযায়ী ব্রাহ্মণাদি তিন বর্ণের পাদসেবা করিয়া জন্ম জীবন ধন্য করিব ?

শূদ্রের বেদাধিকার। “নিষ্ঠাবান হিন্দুমাত্রেই স্বীকার কবেন যে, বেদ অপৌরুষের। কাম- ক্রোধাদি রিপুপরবশ, হিংসাদ্বেষাদি সংকীর্ণতা পরিপূর্ণ কোনও মানব বেদের প্রণেতা নহেন। যাহাব নিকট বর্ণের পার্থক্য নাই-- জাতির পার্থক্য নাই—যিনি হিংসা দ্বেষাদির অতীত-কোনওরূপ সঙ্কীর্ণতা সাহাকে স্পর্শ কবিতে পারে না, যিনি সকলেরই পিতা, ব্রাহ্মণ, শূদ্র, মুসলমান, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ সকলেই ২হাৰ সন্তান—সেই মঙ্গলময় পরমেশ্বরই সৃষ্টজীবের উপকারে নিমিত্ত--বেদ প্রেরণ করিয়াছেন। ইহা কেবল হিন্দুর জন্য প্রেরিত হয় নাই কেবল ব্রাহ্মণের জন্য প্রেরিত হয় নাই,-কেবল মুসলমানের জন্য প্রেরিত হয় নাই বা কেশ খীষ্টানের জন্যও প্রেরিত হয় নাই—এই সনাতন সত্যপূর্ণ বেদ সকলের জন্যই প্রেরিত হইয়াছে ; সকলেই এই জ্ঞান লাভে অধিকারী। তাই যজুর্বেদে ব্ৰহ্মা বলিয়াছেন, “আমি এই যে কল্যাণকর বাক্য কহিতেছি, তাহা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র, দাস দাসী এবং অতিশূদ্র চণ্ডল প্রভৃতিকেও উপদেশরূপে বেদ প্রদান করিবে” অর্থাৎ সকলেই জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সকলেই বেদ পাঠ করিয়া বেদের সব মৰ্ম্ম গ্রহণ করিবে। সত্য, জ্ঞান, ধর্ম বা ঈশ্বরের সম্বন্ধে অধিকার অনধিকার থাকিতে পারে না। কারণ, তাহাতে সকবে প্রয়ােজন--সকলেই হিত- সকলেরই প্রবৃত্তি দেখা যায়। যাহাতে সকলের হিত হয়, সকলেরই প্রয়ােজন সিদ্ধ হয়, তাহাতে সকলেরই অধিকার আছে ; তাহাতে পূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার অধিকার অনধিকার কল্পনার অবকাশ নাই। অধিকার-অনধিকার একমাত্র সামাজিক ব্যাপারেই প্রযােজ্য। আমাদের স্বার্থ আছে বলিয়াই অধিকার, অনধিকার বােধ হয়। আমার পরিধেয় বস্ত্রখানিতে আমার স্বার্থ আছে বলিয়াই আমার অধিকার ; অপরের অধিকারে আমার স্বার্থ- হানি হয় বলিয়াই অপরের তাহাতে অনধিকরি। কিন্তু জগতে এমন কে আছে, ঈশ্বরে যাহার স্বত্বাধিকার জন্মিয়াছে, জ্ঞানরূপ ব্রহ্মে যাহার অধিকার জম্মিছে যে, তাহার অনুমতি ব্যতীত অপর কেহ ঈশ্বরের নিকটে আসিতে পারিবে না, বা জ্ঞানচর্চা করিতে পারিবে না ? বেদ অধ্যয়ন জ্ঞানলাভের জন্য। জ্ঞানলাভে শূদ্রের অধিকার নাই কিম্বা শুদ্র জ্ঞানলাভ করুক—ইহা কি ভগবানের অভিপ্রেত নহে? যদি তাহাই হয়, তবে তিনি নিশ্চই শূদ্রকে জ্ঞানােপার্জনের শক্তি দিতেন না—তাহার মানসিক শক্তি এরূপভাবে গঠিত করিতেন, যাহাতে শূদ্র কোনমতে জ্ঞানােপাৰ্জন করিতে পারিত না। কিন্তু আমরা দেখিতে পাই, শূদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে ঋষিতুল্য জ্ঞানী লােক রহিয়াছেন—শূদ্রের প্রতিভার সমুজ্জ্বল আলােকে ভারত উজ্জ্বল হইতেছে। ইহাতে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, জ্ঞানােপার্জনের জন্য ভগবান্ সম্প্রদায় হিসাবে ব্রাহ্মণকে যতটুকু শক্তি দিয়াছেন, শূদ্রকেও ততটুকু শক্তি দিয়াছেন। জ্ঞানােপার্জনে ব্রাহ্মণের শায় শূদ্রেরও অধিকার আছে। ব্রাহ্মণ যেই মানুষ, শূদ্রও সেই মানুষ ; শূদ্রের দুটী চক্ষু আছে, ব্রাহ্মণেরও. দুটী চক্ষু আছে—তিনটী নাই। ব্রাহ্মণ মানুষের যে অধিকার আছে, শূদ্ৰমানুযেরও ঠিক সেইরূপ অধিকার আছে। নিত্য সত্যের চর্চায় সংকীর্ণ-সাম্প্রদায়িকতার কল্পনা করাও পাপ--সনাতন ধৰ্ম্মের বিরােধী”। (১) কিন্তু স্মৃতি সংহিতাদি শাস্ত্র যে এমন বেদকে (১) সমাজ-১ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা, ভাদ্র ১৩১৭।

; শূদ্রে বোধিকার পুদ্রের পাঠ ও আলােচনা হইতে বঞ্চিত ও অনধিকারী করা হইয়াছে, তাহা পূর্বেই উদ্ধত কৰিয়া দেখাইয়াছি। তৰে ভাঁহাদের মধ্যে কেহ কেহ নিতান্ত দয়া পরবশ হইয়া তাহাদিগকে পুরাণ ও ইতিহাস পাঠের অধিকার দান করিয়াছেন। শঙ্করাচাৰ্যও বেদান্ত সূত্রের ( ৩৮ সূত্রের ) ভাষ্যে ঐ কথাই বলিয়াছেন। তিনিও অদ্বৈতবাদী হইয়া. জীব ব্রহ্মের অভেঞ্চ প্রচারক হইয়াও শূদ্রকে বেদে বঞ্চিত করিবার সমর্থন করিয়াছেন। যথাঃ- বয়েচ্চতুরাে বর্ণানীতি চেতিহাস পুরাণাধি চাতুৰ্বণ্যাধিকার স্মরণাৎ। বেদ পূৰ্ব্বকন্তু নাস্ত্যধিকারঃ শূদ্রাণামিতি।” অর্থাৎ “স্মৃতি চতুৰ্বর্ণকেই পুরাণেতিহাসাদির অধ্যয়নে তুল্যাধিকার প্রদান করিয়াছেন; কিন্তু বেদে শূদ্রের অধিকার বিধান করেন নাই।” ফণতঃ ইতিহাস পুরাণই বা কি আর বেদ বেদান্তই বা কি ? মহাভারত এক মহা ইতিহাস এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতা’ সেই মহাভারতেরই অন্তর্গত। সুতরাং শূদ্রের গীতাধ্যয়নে অনধিকার নাই। এই গীতা কিন্তু আবার উপনিষৎ বা বেদান্ত সমূহের সার সংগ্রহ স্বরূপ। কঠোপনিষদ, শ্বেতাশ্বত- রােপনিষদ প্রভৃতি বিস্তর উপনিষদেব বিস্তর বচন প্রায় অবিকল পীতায় উত্ত। (১) এই ভগবদগীতাকে সর্বশেষ উপনিষদ বলিয়া ধরা যাইতে পারে। •* গীতার প্রতিশ্লোক কোন না কোন উপনিষদ হইতে সংগৃহীত যেন কতকগুলি পুষ্প লইয়া একটি তোড়া নির্মিত হইয়াছে।” (২) সমগ্র বেদান্ত গীতার মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হইয়াছে। তারপর এই গীতাকে বেদান্তের সার বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। (১) কঠোপনিষদ-দ্বিতীয়বল্পী ১৮শ শ্লোক ও গীতা দ্বিতীয় অধ্যায় ২শ শ্লোক (২) স্বামী বিবেকানন্দ প্ৰণত জ্ঞানযোগ, আত্মার মুক্ত স্বভাব।

শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকারও সর্বোপনিসদো গাবাে দোগ্ধা গােপাল নন্দন। পার্থোৎসঃ সুধীভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ। সমস্ত উপনিষদ-গাভী স্বরূপ, গোপননন শ্রীকৃষ্ণ ইহার দোহনকারী, বৎস স্বয়ং নরনারায়ণ অর্জুন, সুধীগণ ইহার লােক্তা--এবং গীতারূপ অমৃত ইহার দুগ্ধ স্বরূপ। গীতা যে সৰ্বশ্রুতি সার সংগ্রহ-তাহা সুধী ও পণ্ডিতগণ মাত্রই জ্ঞাত আছে। অথচ এই গীতা প্রতিদিন স্ত্রী শূদ্রাদির পাঠাগ অনুমােদিত ও ব্যবস্থিত রহিয়াছে! ফলে সাক্ষাৎ ঔপনিষদী শ্রুতি সমূহ সমন্বিত গীতা তবে কি প্রকারে বেদ অনধিকারী দ্রাদির অধীত হইতে পারে ? বেদান্ত সূত্রের ও ভাষ্যকারের মতে তাহা হইলে গীতা অধ্যয়ন ও গীতা পাঠ শূদ্রাদির পক্ষে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত; কিন্তু তাহা ত হইতেছে না। গীতার মধ্যস্থ বেদ বেদান্ত শূদ্রাদির স্বচ্ছন্দে আবৃত্তি করিতেছে, জিনিষ একই কেবল বেদ বেদান্ত না বলিয়া “পুরাণ-ইতিহাস” বলা হইতেছে মাত্র। কঠোপনিষদের নচিকেতা উপাখ্যান ও তাহার কতকগুলি শ্লোক অগ্নিপুরাণে উদ্ধত হইয়াছে ; আর সেই অগ্নিপুণ শূদ্রাদির অবাধিত পাঠ্য। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই মুল কঠোপনিষদ কিন্তু স্ত্রী শূন্দ্রের অধিকারতীত। আর শ্রীমদ্ভাগবৎ পুবাণ । শাস্ত্র প্রণেতা, বেদ বিভাগকর্তা বেদব্যাস বলিতেছেন—ভাগবত নিখিল বেদার্থের সার ভাগ স্বরূপ।” (১) “ব্যাসদেব, যাবতীয় পুরাণ ও ইতিহাসের সার সংগ্রহ পূর্বক নিখিল স্বয়ং (১) অনুবাদ—প্রথম, দ্বিতীয় অধ্যায়, শ্রীমদ্ভাগবত।

শূদ্রের বোধিকার * এই ভাণবত গ্রন্থ লােকের মঙ্গল সাধনের নিমিত্ত রচনা করেন।” (১) “ৰেদব্যাস সরস্বতী তটে বসিয়া মনে মনে বলিতে লাগিলেন, { মহাভারত রচনাস্থলে সমুদয় কেদার্থই কীৰ্ত্তন করিয়াছি। তাহা হইতে শ্রীজাতি এবং ক্ষুদ্র প্রভৃতি অপকৃষ্ট বর্ণ ও ধর্মাধর্ম জানিতে পারে।” (২) শুকদেব বলিতেছেন—“আমি যে পুবাণ বলিব তাহার নাম ভাগবত। উহা নিখিল বেদের তুল্য।” (৩) “নৈমিষারণ্যে বলদেবেব আগমনে শৌনকাদি ঋষিণণ সকলেই প্রণতি পুর্বক তাহার আর্চনা করিলেন-- কিন্তু মহর্ষি ব্যাসের শিষ্য রােমহর্ষণ উঠিয়া দাড়ালেন না। তিনি জাতি পূত (সারথী–সুত্রধর জাতীয়)। ভগবান্ বেদব্যাসে শিষ্য হইয়াও, অনেক ইতিহাস পুরাণ এবং সমুদয় বস্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়াও অবিনীত অপরাধে বলরাম দূতকে বধ কবিলেন। মুনিগণ হাহাকার রবে বলিয়া উঠিলেন-আমবা ইহাকে ব্ৰহ্ম আসন + + + দান করিয়াছি। আপনি না জানিয়া ব্ৰহ্মবধের ন্যায় ইহাকে সংহার কবিনে। • যদি আপনি স্বয়ংই এই ব্রহ্মহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করেন-তবেই লােক শিক্ষা পাইবে। বলদেব বলিলেন-‘বেদে এই উপদেশ আছে যে, আত্মা পুত্ররূপে উৎপন্ন হয়। অতএব ইহাৰ পুত্ৰ উগ্রশ্রবা আপনাদিগের (১) অনুবাদ—প্রথমস্কক্ষ, তৃতীয় অধ্যায় শ্রীমদ্ভাগবত। (২) চতুর্থ অধ্যায় দ্বিতীয়স্কন্ধ প্রথম অধ্যয়

হইল।
পূলের পূজা ও বোধিকার
বল হইবেন। আর আমার অজ্ঞানকৃত ব্ৰহ্মবধের প্রায়শ্চিতের জ
চিন্তা করুন।” (১)
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলিয়াছেন-“সংক্ষেপে ও বিস্তার পুৰ্ব্বক
দেবগণেরও দুর্গম এই ব্ৰহ্মবাদ সমগ্ররূপে তোমার নিকট বর্ণনা করিলাম।
তােমার এই যে সনাতন বেদেও গুপ্ত, পরম প্রশ্নের উত্তর
* ইহা শ্রদ্ধালু শূদ্রও স্ত্রীলোককেও অৰ্পণ করিবে। (২)
“দেবর্ষি নারদ সৰ্বপুৰুষাৰ্থ সাধন বদরূপ কল্প বৃক্ষের পরমানন্দ সম্পূর্ণ
এই ভাগবত ফল বৈকুণ্ঠধাম হইতে আনিয়া আমাকে প্রদান
করিয়াছিলেন। (৩)
নিম কল্পনাের্গলিতং ফলং,
শুকমুখাদমৃত দ্রব্য সংযুতম্।
পিবত ভাগবতং রসমালয়,
মুহয়ে রসিকা ভুবি ভাবুকাঃ ৩
প্রথম অধ্যায় ; প্রথম স্কন্ধ, ভাগবত।
হে রসজ্ঞ ভক্তগণ! শুক-মুখ-কমল-নিঃশ্রিত (শিঙ্কগণ পরম্পরায় )
পৃথিবীতে প্রচারিত ভক্তিরস সম্বলিত বেদরূপ কল্প বৃক্ষের পরমানন্দ-রস পূর্ণ
এই শ্রীমদ্ভাগবত ফল প্রলয়কাল পৰ্যন্ত বার বার পান কর (অর্থাৎ সাদরে
প্রবণ কর।
পত বলিতেছেন * এয়্যারুণি কশ্যপ, সাবণি, অকৃতব্রণ,
শিংশপায়ন এবং হাত-এই ছয়জন পৌরাণিক, ব্যাসের শিষ্য আমার
(১) অনুবাদ- ৭৮ অধ্যায় ; ঈশম, শ্রীমদ্ভাগবত।
(২)
দশমস্ক,
প্রথম অধয় ; প্রম,

সূত্রের বেদাধিকার
পিতা রােমহর্ষণের মুখ হইতে এক এক পুরাণ সংহিতা অধ্যয়ন
করিয়াছিলেন। আমি ইহাদিগের ছয়জনেরই শিষ্য। সুতরাং সমুদয়
পুবাণ সংহিতাই অধ্যয়ন করিয়াছি। 'কপ, সাবর্ণি, রামের শিষ্য অকৃত
ব্রণ এবং আমি,-আমরা ব্যাসের শিষ্যের নিকটে চারিমূল সহিত
( চারিবেদ সংহিতা) অধ্যয়ন করিয়াছি।” (১)
“শৌনক কহিলেন-হে সাধে সূত! * অপার সংসারে
ভ্রমণকারী যদিগের তুমি পথপ্রদর্শক।” (২)
বেদের সমতুল্য এতাদৃশ শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ—অবাধে শূদ্রাদির অধীত
বলিয়া ব্যবস্থা প্রদত্ত হইয়াছে। সুতরাং বেদ পাঠের আর বাকী কি
মহিল। বিশেষতঃ এই ভাগবতে অনেক ঔপনিষদী শ্রুতির শ্লোক উদ্ধৃত
হইয়াছে। বাহুল্যভয়ে তাহা উল্লিখিত হইল না। এখানেও ইহাকে
“নিখিল বেদকুল্য”-“বেদের সা” বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে।
প্রেমাবতার শ্রীমতৈ মহাপ্রভু এই শ্রীমদ্ভাগবত পুবাণ সম্বন্ধে
বলিয়াছেনঃ-
ব্ৰহ্মাকে ঈশ্বর চতুশ্লোকী যে কহিল ।
ব্ৰহ্মানবদে সেই উপদেশ কৈল ।
নারদ সেই অর্থ ব্যাসেরে কহিল।
শুনি বেদব্যাস মনে বিচার করিল।
এই অর্থ আমার সূত্রের ব্যাখ্যা রূপ।
ভাগবত করি সূত্রের ভাষা স্বরূপ।
(১) অনুবাদ-সপ্তম অধ্যায় ; দ্বাদশ, মদ্ভাগবত।
(২)
অষ্টম অধ্যায় ;

১৪
শুয়ে পূজা ও বেদাধিকার
চারি বেদ উপনিষদ্ স্বত কিছু হয়।
তার অর্থ লঞ ব্যাস কলি সঞ্চস্থ |
যেই সূত্রে যেই বিষয় চিন।
ভাগবতে সেই ঋক লোক নিবন্ধন ।
অতএব সূত্রের ভাষ্য ভাগবত।
ভাগৰত শ্লোক উপনিষদ কহে এক অর্থ।
মধ্যলীলা ; চৈরিতামৃত।
আর ইতিহাসরূপী মহাভারত কিরূপ শা, তাহাও উহার প্রণেতা
ব্যাসদেবের মুখ হইতেই শ্রবণ করুন। “পূর্বে দেবতারা একত্র সমবেত
হইয়া তুলাযন্ত্রের একদিকে চারিবেদ ও অন্য দিকে ভারত-সংহিতা রাখিলেন
কিন্তু পরিমাণ কালে ভারত-সংহিতা সরহ বেদচতুষ্টয় অপেক্ষা মহত্ব ও
ভারবত্ব গুণে অধিক হইল। তদবধি দেবঅরা ইহাকে মহাভারত বলিয়া
নির্দেশ করিলেন ” (১)
সুতরাং দেখা যাইতেছে, স্ত্রী শূদ্রাদি বেদ ও বেদান্ত নাজে শান্ত্র পাঠ
না করিলেও, রামায়ণ মহাভারত শ্রীমদ্ভাগবত অগ্নি পুরাণ ও অন্যান্য
পূরাণের নামে ঐ বদবেদান্তই পাঠ করিতেছেন। নাম পৃথকমাত্র
ৰস্তু একই। ৬৪ পয়সা-বাটা সিকিও আহা, একটা রৌপ্যমুদ্রা বা
টাকাও তাহাই। নাম বিভিন্ন, বস্তু বা আকৃতি বিভিন্ন হইলেও মূল্য
সমান। গরুকে গরুই, গো-ই বলি কি cow বলি, উহাতে গােত্ব নষ্ট
হয় না। নাম পৃথক হইলেও বস্তু একটাই। ঋষিগণ বেদের সার গীতা
(১) মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহেব অনুবাদিত মহাভারতে, আদিপর্ব,
১ম অধ্যায় অনুক্রমণিকাধ্যায়।

সূত্রের বেদাধিকার ভাগবত পাঠ খুদ্রের অধিকার দিয়াছেন, কিন্তু বেদের অধিকার দেন নাই, ইহাপেক্ষা অদ্ভুত বিধান আর কি হইতে পারে। প্রকৃত পক্ষে ইং সাধারণ জ্ঞান বিস্তারের প্রতিরােধী সামাজিক সঙ্কীর্ণতা ও একদেশ- শীতার কুফল মাত্র । কতকগুলি ঋষি নামধেয় ব্যক্তি জনসাধারণের মধ্যে এই বেদরূপ জ্ঞানভাণ্ডারের দ্বার উন্মুক্ত রাখিতে অনিচ্ছুক্ষ, অসম্মত ও বিরােধী হইয়া এইরূপ সঙ্কীর্ণ নীতির, বিদ্বেষ ভাবে পরিচয় দান করিয়া গিয়াছেন। অপর পক্ষে প্রকৃত ঋষিগণ সকলেই জ্ঞান বিস্তারের পক্ষপাতী ছিলেন। তাই শাস্ত্র দ্বিবিধ প্রকারের শ্লোক দ্বারা পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে। একদল ব্রাহ্মণ ব্যতীত ৰাহ্মণের জাতিকে জ্ঞানদানে পরায়ুখ ছিলেন, অন্য দল আচণ্ডালের ঘরে ঘরে জ্ঞানদানের পক্ষ পাতী ছিলেন। এই জন্য শাস্ত্রে পরস্পর বিপরীত দুই মতের শ্লোক দেখিতে পাওয়া যাইতেছে । নতুবা ব্রাহ্মণের সমগ্র জাতিকে জাতীয় ধৰ্ম্ম শাস্ত্রের পবিত্র শিক্ষায় দীক্ষণ চির বঞ্চিত রাখা কখন সর্বজীবে সমবুদ্ধি শুদ্ধ মুক্ত পবিত্ৰাত্মা ঋষিগণের অভিপ্রেত হইতে পারে না। ঋষিগণ কদাচ এই বিদ্বেষ, বিষকলুষিত স্বার্থপরতা মণ্ডিত জঘন্য মতের পরিপােষণ করিতেই পারেন না। তাহাদের নামে পম্নবর্তী সময়ের হীনবুদ্ধি মানুষ স্বীয় প্রতিকুলভ শ্লোক রচনা করিয়া শাস্ত্রকে জাতি বিদ্বেষ-কলুষ-ভাবাপন্ন করিয়া তুলিয়াছেন। বরং এই ভারতবর্ষে এমন এক সময় আসিয়াছিল, যখন বেদবেদাবিদ ক্ষত্রিয় রাজ- গণ ব্রাহ্মণ সন্তানকে বেদান্ত বিদ্যা হইতে বঞ্চিত করিয়াছিলেন। তৎকাকি অহঙ্কারী ব্রাহ্মণ-তনয়ও কৱফোড়ে ক্ষত্রিয়ের নিকট বেদবিদ্যা লাভার্থ গমন ইহার দৃষ্টান্ত আমরা ছান্দোগ্য উপনিষদ উক্ত খেত কেতু অরুথি এবং পাঞ্চাল রাজ প্রহণের আখ্যানে দেখিতে পাই। শ্বেত কেতুর পিতার প্রশ্নোত্তরে রাজা কহিয়াছিলেন—“কোন ব্রাহ্মণই ইহা পূদ্রের ৰোধিকার “যােদাখিল ধর্ম মূল বেদই অখিল ধৰ্ম্মের মূল। ধৰ্মার্থ বেদাধ্যয়ন। অতএব যে অন্তর্বাহে অশু চি ও অনাচারী হইয়া পাবতঃই ধৰ্ম্ম বিমুখ, বেদাধ্যয়নের তাহার প্রবৃত্তি কেন হইবে, সুতরাং সেই “ত্যক্ত-বেদ পুত্র ! সে আপন স্বভাব দোষে স্বেচ্ছায় স্বয়ং বেদাধিকার হারাইয়াছে, শাস্ত্রের প্রকৃত তাৎপৰ্য বিকৃত ভাবে বুঝিয়া টীকা ভাষ্যকারগণও সাধারণকে তদ্রুপ বুঝাইয়াছেন। সেই মূল, শাস্ত্র বােধের ভুলক্রমে সমাজে বদ্ধমূল হইয়া “আকৃতি প্রকৃতি গ্রাহা জাতি কৰ্ম্মানুসারিণী” এই বিস্পষ্ট শাস্ত্রীয় জাতিতত্ত্ব ক্রমে অস্পষ্টতা পাইয়া শুধু জন্মগত জাতিয়ত্বই সমাজে সুদৃঢ় সংবদ্ধ হইয়াছে। বর্তমানে উপযুক্ত অধিকারী শূদ্রেরও বেদাধ্যয়নে সামাজিক অনভিমত। ফলিতার্থে তাহারই তিক্ত বিষাক্ত ফক্স। আমরা যে দিবারাত্রি ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণ করিয়া উচ্চ চীৎকার করিতেছি, তাহার মূলে কি আছে, দেখা যাউক। বস্ত্রশুচি উপনিষদে ব্রাহ্মণত্ব বিষয়ে একটা আলােচনা দৃষ্ট হয়। যথা—জীব বা দেহী আত্মা ব্রাহ্মণ নহে, কারণ জীব বহুবিধ দেহ ধারণ করেন। দেহও ব্রাহ্মণ নহে, কারণ মানুষ মাত্রেরই দেহ সাধারণতঃ একপ্রকার এবং উহা জরা মৃত্যুর অধীন; অপিচ ব্রাহ্মণ শ্বেতবর্ণ, ক্ষত্রিয় বক্তবর্ণ, বৈশ্য পীতবর্ণ এবং শূদ্র কৃষ্ণবর্ণ এইরূপ শাস্ত্রে নির্দেশিত হইয়া থাকে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে উহা দৃষ্ট হয় না। জন্ম জাতিগত ভাবেও ব্রাহ্মণত্ব নিরূপিত হয় না; কারণ ঋষ্যশৃঙ্গ মৃগী-গর্ভজাত হইয়াও ব্রাহ্মণ, তদ্রুপ ব্যাস কৈবর্ত, কন্যার গর্ভসত, ৰশিষ্ট উর্বশীর অপত্য, তথাপি ব্রাহ্মণ। অপর কেবল বিদ্যা বা জ্ঞানের রাই ব্রাহ্মণত্ব হয় নাই, যেহেতু ক্ষত্রিয়গণ ও অপরাপর অনেক মনুষও বিশিষ্ট বিজ্ঞান এবং জ্ঞানী হইয়া থাকেন। কৰ্ম্মও ব্রাহ্মণরে হেতু নহে, শূদ্রেব বেদাবিকার সংবদায়নে অধিকার কি। ও বৈশ্য এবং ক্ষত্রিয় পৰ্যন্তও বেদবিদ্যায় অন'পকাবী হইয়া পড়িয়াছে। ৩। ' কি হয়। : কি হ! শূদ্রজার- পুত্র বদব্যাস এইলেন দেব ৬ি -কওঁ। - 7ং তাহাব প্রামাণিক নায়কত্বমতে শূদ্র পদাধিকার বঞ্চিত। সাহা হউক, সত্য যদাচ অভিভূত থাকিবাব নহে। সংস্কারা : ২’র এ ভৃতি। যতই চেষ্টা করুন, সত্যাধিকাবেব জয় অ 21হত, ৩২ ৬ ৭ই বিস্ব ও থ” ব্যধি প্রভৃতির বেলায় “পূর্বজন্মসিদ্ধ ব্রার ” ফর লুপ্ত হইবার নহে” অত)। ইহাই সমাধান। অবাজে। ক সি এরূপ বলি। ও হয় যে, যে শিখিয়াছে, সে শিখিয়াছে, তব স ত কি ? কিন্তু সাবধান। অব যেন কেউ না শিখে। ইহ + অপু ৩ ন েব যুক্তি! এবং সেই জগদ্বিখ্যাত শ বর্যোব প7ে; f+ । তি! পলে তা বাকি সমাজের উক্ত বিষয়িণী স + ৩। এ প্র { ল যে, শঙ্কার চাৰ্য্যকেও তংসমর্থনে বাধ্য কবিয়াছি।” “যে সমস্ত অতি বর্তমানে বেশ বিকবি 'তুত হইয়া আছে, তাহারা অনেকেই জাতিতেও বস্তুতঃ শূদ্র নহে, অচ ৩ারাও যেন শাস্ত্র কর্তৃকই বেদ-বারিত, এইরূপ সংস্কাবান্ধ হই । তদ্বিষয়ে নীৰব ও নিশ্চেষ্ট আছেন ! ফলে যাহারা বাস্তবিক শূদ্র-অভিধেয় জাতিতে উৎপন্ন, তাদেরও বেদাধিকার নিশ্চিত অবারিত ; স্মৃতি শাস্ত্রে যে শূদ্রের বেদাধিকার বাবিত কইয়াছে, বেদবিরােধিতায় তাহা অপ্রামা), ২২ ই শাস্ত্ৰসিদ্ধান্ত। অথবা অন্য ভাবেও ব্যাখ্যা করা যাইতে পাবে এবং তাহাই সমীচীন বােধ হয়, যথা--স্মৃতি শাস্ত্রে যে শূদ্রের বোধিকার নিষিদ্ধ হইয়াছে, জন্ম বা জাতিগত শূদ্রত্বকে লক্ষ্য করে না, পরন্তু গুণকৰ্ম্মগত শূদ্রত্বকেই লক্ষ্য করে। এইরূপ সিদ্ধান্তই সরল, অকষ্ট-কল্পিত, যুক্তিযুক্ত, ন্যায়-বিচাৰ-পান ও শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার কারণ প্রত্যেকেই কর্মের অধিকারী। ধর্ম বা পুণ্য দ্বারাও ব্রাহ্মণত্ব সিদ্ধ নহে, ধৰ্ম্ম বা পুণ্য কাৰ্য্য অপরেও করিয়া থাকেন ও করিতে পারেন। অতএব জগৎ-কারণ ব্ৰহ্মকে যিনি জানেন, তিনিই ব্রাহ্মণ। সংস্কারা টীকাভাষ্যকারগণের সমক্ষে বজ্ৰশুচি প্রকৃতই এক দুর্ভেদ্য সমস্য সংগাপন করিয়াছেন।” প্রাচীনকালে সত্যবাদিতা, তত্ত্বজ্ঞান, ব্ৰহ্ম-সাক্ষাৎকার ৩াভের উপরই ৰাহ্মণত্ব নির্ভর কবিত। এ সম্বন্ধে ছান্দোগ্য উপনিষদে একটি মনােরম উপাখ্যান আছে—নিম্নে তাহা লিপিবদ্ধ হইল। বহু গৃহের পরিচারিকা-দাসী জবালার পুত্র থেঃ বি সাথী ঋষিবালকগণকে মহৰি গৌতমের নিকট পাঠ অধ্যয়ন করিতে দেখিয়া তাহারও বিদ্যাশিক্ষার জন্য অত্যন্ত উৎকণ্ঠা হইল। মাকে আপনার বাসনা জানাইল-ম সম্মত হইলেন। পুত্র সঙ্গিগণের সহিত গৌতম- আশ্রমে উপনীত হইয়া আপনার অভিপ্রায় নিবেদন করিল। গৌতম বালকের বিদ্যাশিক্ষার প্রতি এইরূপ অনুরাগ দর্শনে পরম প্রীতিলাভ করিয়া তাহাকে তাহার পরিচয়, পিতৃনাম, বংশ ও গােত্রের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। বালক নিরুত্তর-একমাত্র মার নাম ভিন্ন আর কিছুই বলিতে পারিল না। তখন গৌতম তাহাকে মার নিকট হইতে পূর্বোক্ত প্রশ্ন- গুলির উত্তর শুনিয়া আসিতে আদেশ করিলেন। বিদ্যাশিক্ষা-সমুৎসুক শিশু পুত্র বাটা আসিয়া মাতাকে বলিল—“মা ! কোন্ বংশে, কোন কুলে আমার জন্ম ও আমি কোন্ গােত্রীয় ? আমার পিতা পিতামহেরই বা কি না, তুমি সত্বর বল, গুরুদেব আমাকে তাহাই শুনিয়া যাইতে আদেশ করিয়াছেন। প্রশ্ন শুনিয়া মাতৃদেবী মাথা হেট করিলেন—আর কোন উত্তর দিতে পারিলেন না। পবে পুনঃ পুনঃ জিজ্ঞাসিত হইয়া শূদ্রের বেদাধিকার অত্যন্ত সঙ্কোচের সহিত ধীরে ধীরে ভুগ্নকণ্ঠে কহিতে গিনে-বৎস! বলিব কি ? যৌবন কালে আমি বিভিন্ন লোকে দাসীবৃত্তি কমি। আমি যখন বহু মনের সেবা করিয়াছি—সেই সময় তুমি হইয়াছ-কাহার ঔরসে যে তােমার জন্ম, তাহা আমি জানি না। তােমার প্রকৃত জনক যে কে, তাহাও আমার বলিবার সাধ্য নাই। তােমার নাম সত্যকাম, আমার নাম জবাল।। তুমি আজ হইতে সত্যকাম জাবাল বলিয়া আত্ম পরিচয় দিও। তখন সৰলহৃদয় সত্যকাম গৌতমেব নিকট উপস্থিত হইয়া মাতার নিকট যাহা শুনিয়াছিল অবিকল তাহাই আবৃত্তি করিল। সত্যকামেব এবম্বিধ—সারল্যে ও সত্যনিষ্ঠায পরম জ্ঞাণী 5ে তম মহা সন্তুষ্ট হইয়া বলিয়া উঠিলেন- ত্বং হােবাচ নৈত দ ব্রাহ্মণে বিবক্ত মর্থতি। সমিধং সম াহ রােপা নেষ্যেন সত্যদল || ( ছান্দোগ্য উপনিষদ-৪র্থ-আঃ) অর্থাৎ-ব্রাহ্মণ ভিন্ন এমন করিয়া আর কেহ সত্যকথা বলিতে পারে না। তুমি সমিধ আহরণ কর, আমি তোমাকে উপনীত করিয়া আমাদের মধ্যেই গ্রহণ করিতেছি। সেই অবধি সত্যকাম ব্রাহ্মণ হইলেন। এবং শুধু ব্রাহ্মণ হওয়া নয়—পরে তিনি মহবি হইয়া বেদমন্ত্ৰ পৰ্য্যন্ত রচনা করিয়া পরবর্তী কালের ব্রাহ্মণ সন্তানগণের বেশিক্ষা দানে সহায়তা করিয়া গিয়াছেন। দাসীপুত্র অজ্ঞাতপিতা সত্যকাম কেবল সত্যনিষ্ঠার প্রভাবেই ব্রাহ্মণত্ব লাভ করিয়াছিলেন। এই আখ্যানে যদি কিছু প্রমাণিত হয়, তবে তাহা এই যে, পুরাকালে একমাত্র সত্যনিষ্ঠাই ব্রাহ্মণত্বের বিশিষ্ট লক্ষণ নির্দিষ্ট ছিল। পিতামাতা যে বর্ণেরই হউন, যিনি সত্যনিষ্ঠ, তিনিই শুদ্রের পূজা ও বেদাধিকার সত্য ব্রাহ্মণ বলিয়া সমাদৃত। তাই অজ্ঞাতপিতৃগােত্র সত্যকাম কেবল স্বীয় সত্যনিষ্ঠ। প্রভাবেই ব্রাহ্মণ পদে ও ব্রাহ্মণ সমাজে পরিগৃহীত হইল। বেদস্তি সূত্রের ৩৭ সূত্রে সূত্রকার বলিতেছেন যে, সত্যকাম শুদ্র নহে, ইহা বুঝিতে পারিয়াই গৌতম তাহাকে দীক্ষা দানে উদ্যত হইলেন। তিনি সত্যকামের সত্যপরায়ণতা দ্বারাই তাহা বুঝিতে পারিয়াছিলেন। যাহা হউক, সত্যপরায়ণতা দ্বারা যদি ব্রাহ্মণত্ব সূচিত হয়, তাহা হইলে উক্ত গুণ 'যে অবশ্য কেবল ব্রাহ্মণকথিত একচেটিয়া শ্রেণী বিশেষেই থাকিবে, এমন কোন কথা নহে। তব যদি বলা যায় যে, যে সত্য- পরায়ণ সেই ব্রাহ্মণ, তবে ত বর্ণভেদকে নিরাপদে বিদায় দেওয়া যাইতে পারে। বস্তুতঃ সত্যকাম জাবানের ঘটনায় ইহাই হইয়াছে। এই আখ্যানটীতে এমন কিছু প্রকাশ পায় না যে, সত্যকামের জনয়িতা ব্রাহ্মণ ছিলেন বা তৎপরবর্তী অপর বর্ণয়ের কোন বর্ণীয় ছিলেন, এমন কি, ইহার মাতৃণ পর্যন্ত ইহাতে কিছুমাত্র প্রকাশ পায় নাই। বরং ইহার মাতার বর্ণিত বিবরণে তাহাকে নীচ জাতি বলিয়াই অনুমান হইতে পারে। আচাৰ্য গৌতম বালকের সত্যনিষ্ঠ। দেখিয়াই “ব্ৰাহ্মণ ভিন্ন এরূপ সত্য কেহ বলিতে পারে না” এই সমাধানে তাহাকে শিষ করলেন। এস্থলে অনুসন্ধান দ্বারা সত্যকামের জন্মবৃত্তান্ত জানিয়া তাহার জাতি নির্ণয় হইল না ; পরন্তু তাহার আভ্যন্তরিক--চরিত্ৰগৌরবেই তাহার ব্রাহ্মণত্ব নির্ণীত বা স্বীকৃত হইল। যদি কতিপয় নির্দিষ্ট সদগুণই বেদাধিকারপ্রদ ব্রাহ্মণত্বের হেতুরূপে ধরা যায়, অথচ শূদ্রের বেদে অনধিকার নির্ণীত হয়—তবে নিশ্চয় এই বিধিবয়ের সামঞ্জস্য বা সদুপপত্তি রক্ষিত হইতে পারে না; কেন না, খুবংশীয় যে, সেও নির্দিষ্ট সৎগুণের অধিকারী হইতে পারে, ব্রাহ্মণত্ব ও ৰেদাধিকারত্ব অবশ্য তাহার পক্ষে অবারিত। বেদান্ত সূত্রের ৩৬ সূত্রের । শূদ্রের বেদাধিকার দ্ধিান্ত এই যে, যজ্ঞােপবীত প্রাপ্তির অভাব ও শূদ্রেব বেদাধিকার বাবণের আনুসঙ্গিক কারণ। উক্ত যজ্ঞােপবীত ত্ৰিদণ্ডীযুক্ত এবং বস্ত্র, সূত্র বা কুশ নিতি হওয়াই বিধি তাৎপর্য্যেব বিষয় মনু বনে। বাগ, দণ্ডোহথ মনােদণ্ডঃ কায়দণ্ডস্তথৈবচ। যশৈতে নিহিত বুদ্ধৌ ত্ৰিদণ্ডীতি স উচ্যতে । অর্থাৎ কায়মন ও বাক্য যাহাব শাসিত ও সংযত, তিনিই যথার্থ যজ্ঞে- পবীতধারী। যজ্ঞােপবীতেব স্থূল ত্রিদও এই সূক্ষ্ম ত্রিদণ্ডেব বাহ নিদর্শন মাত্র। খলিতার্থে ব্ৰাহ্মণৰ বা দাধিকার কোন স্কুল বাহ্য লক্ষণেৰ অধীন হইতে পাবে না। উহা ববং মনূক্ত সূক্ষ্ম য-সূত্রর অধীন বলা যাইতে পাবে। পুরাকালে স্কুল য”জ্ঞাপবীত ঐণ অনেক স্থলে ইচ্ছানুযায়ী ছিল মাত্র। পিতৃযজ্ঞ ও দেবযজ্ঞাদির অনুষ্ঠা•ে উহা সাময়িক ভাবে ব্যবহৃত হইত মাত্র। যাহাবা ইহা ধাবণ কবিতেন, তাও ঠিক সর্বদা সৰকাৰ্যেই ধারণ কবিতেন। যাহা হউক, এই যসূত্র কেবল একটা স্কুল বা চিহ্নমাত্র। বস্ত্রোপবীত ত অদ্যাপি ৩থাকথিত শূদ্র ১১ ণেও দেব তূিৰ্য্যে স্কন্ধয়ে লগ্নভাবে ব্যবহৃত ইয়া কে। বিৰাজ অশ্বপতি অনেক ভাল ব্রাহ্মণব আচাৰ্যত্ব কবিয়াছিন, বিন্তু তাহত শাহ সত্ৰাদিব অপক্ষা বাখেন নাই। ইতঃপূর্বে সে আখ্যান বিবৃত হইয়াছে।” ‘অতঃপব শূদ্রেব বেদাধ্যয়ন বিষয়িণী আলােচনার সারসংগ্রহ করা যাইতেছে। শূদ্র বেদাবিকাৰ বৰ্জিত, এ সিদ্ধান্ত স্বীকাৰ্য বা পৰিগ্রাহ নহে। বেদে এমন কোন ক্ষতি বা নিযেব বিবি নাই, যদ্বাবা শূদ্ৰজাতিৰ বেদাধিকার বারিত হয়। বরং কেদে তদ্বিপৰীত অর্থাৎ শূদ্রেব বেদাবিব বিষয়িনী ক্ষতিই দৃষ্ট হয়।” বেদ স্বয়ং উচ্চৈস্বৰে শেষণা ক'ছন, বেদ শূদ্রেব পূজা ও বেদাধিকার শুদ্র দাস দাসী সকলেরই সমান অধিকার আছে কিন্তু ব্রাহ্মণ মহাশয়- গণ গায়ের জোরে অধিকাৰ নাই বলিয়া চীৎকাব করিতেছেন। বে বলিতেছেন—অধিকার আছে—ব্রাহ্মণগণ বলিতেছেন, অধিকার নাই। অর্থাৎ যার বিন তার মনে নাই—পাড়া পড়শীর ঘুম নাই। বেদ ত আর দেশে নাই—যে তাহাবা পাঠ করিযা জানিতে পারিবেন—বেদ কি বলিয়াছেন। এমন কোন বামুণ পণ্ডিতের নাম শুনি নাই—যিনি চারিখানা বেদ পাঠ করিয়াছেন ত দূরের কথা-বেই দেখিয়াছেন। দেখিয়াই-পিতৃপুরুষপৰম্পৰা শুনিয়াই সিদ্ধান্ত করিয়া বসিয়াছেন, খুদ্রের বেদে অধিকার নাই। অর্থাৎ না দেখিয়াই—শুধু শুনিয়াই চবম সিদ্ধান্ত কবিয়াছেন। “কখনও তাবে চোখে দেখিনি—শুধু বাঁশী শুনেছি - মন প্রাণ দিয়ে ফেলেছি— গােচ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। শূদ্রের বেদে অধিকার নাই—এই কথা পরস্পর পরস্পরের মুখে শুনিয়াই সকলেৰ ধবণা বক্ষমূল হইয়া গিয়াছে। বস্তুতঃ উহাব মূলে কোন প্রকার সত্য নাই। “ঘােড়াব ডিম কথাটা যেমন সকলেই বলে-শশানে, কিন্তু উহার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। স্ত্রী শূদ্রেব বেদে অধিকার নাই—ইহাও তেমনি শােনাকথা মাত্র মূলে এ কথার কোন অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় না; বরং তৎবিপরীত কথাই শাস্ত্রব পত্রে পত্রে ছত্রে ছত্রে দেখিতে পাওয়া যাইতেছে। ঐ যে যজুর্বেদ মেঘমন্ত্রে গর্জন বিয়া সমভাবে আপামর-আচণ্ডাল সকলের জন্য বিদ্বেষ বৈষম্যের ঘনীভূত তমসা বিনষ্ট করিয়া বলিতেছেন- “যথেমাং যাচং কল্যাণী মাদানি জনেভা। ব্ৰহ্ম রাজধ্যাভ্যাং শূদ্রায় চাৰ্য্যায় চ প্রায় চারণায়। ৷ যজুঃ২৬২ শূদ্রের বেদাধিকার বোকা ভগবান স্বয়ং বেদে বলিতেছেন,-“আমি যেমন সমস্ত নুয়ের অন্য এই পরম কল্যাণকরী ঋগ্বেদাদি বেদবাণীর উপদেশ দিতেছি, তােমও সেইরূপ ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র দাস দাসী ও অত্যন্ত নীচ চণ্ডাল ব্যক্তিকেও ইহার উপদেশ দিবেঅর্থাৎ অধ্যয়ন অধ্যাপনাদি করাইবে।” পাঠকগণ ! এখন বলুন, আপনারা কাহার আদেশ পালন করিবেন। বেদের আদেশ পালন করিবেন, না ব্রাহ্মণগণের ব্যাখ্যা শুনিবেন? আরও আশ্চর্যের বিষয়,-স্ত্রী শূদ্রকে বেদে বঞ্চিত করা ত দুরের কথা, অনেক স্ত্রীলােক ও শূদ্রসন্তান বেদ প্রণয়ন পর্যন্ত করিয়াছেন। প্রথমে বিশ্ববারার কথা বলি। ইনি অত্রি মুনির গােত্রে জন্ম গ্রহণ করেন। ঋগ্বেদ সংহিতার পঞ্চম মণ্ডলের দ্বিতীয় অনুবাকের অষ্টাবিংশ সূক্ত ইহার রচিত। এই সূক্তে ছয়টী ঋক্ আছে-খগুলি এক একটী মাণিক; ভাষার মাধুৰ্য্যে ও ভাবসম্পদে অতুলনীয়।” ২য়ত :-“ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলের ১৫৩ সূক্তের পাঁচটী ঋক্ ই মাতৃগণ দ্বারা প্রণীত। ইন্দ্র ঋষির পিতা বহু বিবাহ করেন ; তাহার যে পত্নীগণ একত্রে মিলিয়া ঐ ঋগুলি রচনা করিয়াছিলেন—তঁাহারা ইমাতৃগণ নামে প্রসিদ্ধ।—ইহার কশ্যপ ঋষির ঔরসে এবং অদিতিদেবীর গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন। ৩য়তঃ—“অন্থণ ঋষির কন্যা বা ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলের ১২৫ সূক্তের আটটী মন্ত্র রচনা করেন—এই মন্ত্রগুলি দেবী নামে প্রচলিত। ৪র্থত-অপালাও বিশ্ববাবার স্যায় অত্রি বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। এই ব্ৰহ্মবাদিনী ঋগ্বেদের অষ্টম মণ্ডলের ৯১ সূক্তের আটটী ঋক রচনা করিয়াছেন।” মহঃ-“কশপপত্নী ইন্দ্রাদি আদিত্যগণের মাত। অদিতি দেব। ঋগ্বেদ সংহিতার চতুর্থ মণ্ডলের অষ্টাদশ সূক্তের পঞ্চম, ও সপ্তম ঋক্‌ খুজের পূজা ও বেদাধিকার প্রণয়ন করেন। ৬ষ্ঠ-ব্রহ্মবাদিনী যমী ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলের দশম লুক্তের প্রথম, তৃতীয়, ৫ম, সপ্তম ও একাদশ খগুলি এবং ১৫৫ সুক্তের পাঁচটা কা প্রণয়ন করেন। মতবিদর্ভ রাজার কন্যা লােপামুদ্রা অগস্ত্য মুনির পত্নী ছিলেন। ইনি ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১৯৭ সূক্তের প্রথম ও দ্বিতীয় ঋক সঙ্কলন করেন।” ৮মতঃ-“অত্রি ঋষিয় পুল চন্দ্র, তৎপুত্র বুধ,-বুধের পুত্র পুরুরবার পত্নী অপ্সরা কন্যা উর্বশী। ইনি ঋগ্বেদ সংহিতার দুশম মণ্ডলের ৯৫ সূক্তের সাতটী ঋক্ প্রণয়ন করেন। ৯মতঃ-“পরম পণ্ডিত মিত্রের কন্যা মৈত্রেয়ী ভারতবিখ্যাত বিদুষী ছিলেন—যাজ্ঞবল্ক্য ইহার স্বামী। বৃহদারণ্যক উপনিষদের অনেক পৃষ্ঠা ইহার জ্ঞান-জ্যোতিতে উজ্জ্বল হইয়া আছে। মিত্ররাজ প্রতিষ্ঠিত বেদবিদ্যালয়ের ইনি শিক্ষকতা পৰ্যন্ত কবিযাছেন।” ১০মত—বচরু, মুনির কন্যা গার্গী-ইনি রাজর্ষি জনকের সভায় পর্যন্ত মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্যর সহিত ব্ৰহ্মতত্ব সম্বন্ধে বিচার করিয়াছিলেন। ১১শতঃ-“লােমশা নাম্নী ব্ৰহ্মবাদিনী ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১২৬ জুক্ত প্রণয়ন করেন।* (ভারতীয় বিদুষী)। আর শূদ্রগণ কর্তৃক বেদ প্রণয়ন সম্বন্ধে’শ্রবণ করুন। ১। দাসী- পুত্ৰ কৰষ। ইনি ঋষিত্ব লাভ করিয়া ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলের ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ সূক্তের মন্ত্রগুলি রচনা করেন। ইহার পুত্র তুর পরীক্ষিত তনয় মহারাজ জন্মেজয়ের রাজ্যাভিষেক ক্রিয়া সম্পাদন করিয়াছেন। কৌষিকী ব্রাহ্মণে ইহার প্রসঙ্গে লিখিত আছে যে, একবার সরস্বতীতীরে যজ্ঞস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন, ঋষিগণ হাকে দাসীপুত্র বলিয়া অবজ্ঞা প্রকাশ পূর্বক বলেন- “দাস্তা বৈ ধ পুত্রোৎসি ন বয়ং ওয়া সহ ভক্ষয়িষ্যামঃ।” (কৌ যতকী ব্রাহ্মণ। ১১১) হইলেন। খুদ্রের বেদাধিকার অর্থাৎ-তুমি জাসী পুত্র, আমৱা তােমার সহিত ভােজন করি না। ঐতরেয় ব্রাহ্মণেও (২১৯) ইহার প্রসঙ্গ আছে। ২। কুক্ষীবানের বিষয় মহাভারতে, মৎস্য পুরাণে ও বায়ু পুরাণে লিখিত আছে,-কলিঙ্গ রাজ বলি সন্তান কামনায় তাঁহার রাজীকে দীর্ঘতমা মুনির সহিত সহবাস করিতে আদেশ করিয়াছিলেন। রাজ্ঞী স্বয়ং তাহা দ্বারা পাঁচ সন্তান উৎপাদন করাইয়া লন এবং পরে দাসী উশিজকে প্রেরণ করেন। মুনি উশিজের গর্ভে কুক্ষীবান ( ও চক্ষুঃ) নামে সন্তান উৎপন্ন করিলেন। কুক্ষীবান ( ও চক্ষু) কালে প্রসিদ্ধ ঋৰি ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১১৬ সুক্ত ।ইতে ১২১ সূক্ত পৰ্যন্ত তাহাদের রতি বলিয়া প্রসিদ্ধ। ৩। ছান্দোগ্য উপনিষদের চতুর্থ প্রপাঠকের অন্তর্গত জানশ্রুতি আখ্যায়িকায় লিখিত আছে;-রৈ ঋষি জানশ্রুতি (রাজা) কে শূদ্র জানিয়াও বারংবার তাহাকে শূদ্র শঘে সম্বােধন করিয়াও পশ্চাৎ বেদবাক্য দ্বারা সম্বৰ্গ বিদ্যা শিক্ষা দেন। ইহাদিগের এবং “সত্যকাম জাবাল, বিদুর, ধৰ্ম্মব্যাধ প্রভৃতির বেদাধিকারের অনুকূল দৃষ্টান্ত দ্বারা শূদ্রের বেদাধিকার সিদ্ধান্ত স্বীকৃত হইয়াছে। আর যখন সংস্কারান্ধতা ও স্বমত মতার পূর্ণ প্রভাব ভারত বক্ষে প্রবল ও প্রকট ছিল, সেই সময়েও ইতিহাস, পুবাণ, স্মৃতি,তন্ত্র প্রভৃতি শাস্ত্রাধ্যয়নে শূদ্রগণের অবারিত অধিকার ছিল। আর তত্তৎ শাস্ত্রগত অনেক আর তত্তৎ শাস্তুগত অনেক শ্রুতি বাক্য সুতরাং তাহার অবশ্য অব্যাহত ভাবে আবৃত্তি ও শিক্ষা করিতেন এবং এখনও করিয়া থাকেন। বিবাহ ও শ্রদ্ধাদি ক্রিয়ায় এবং অনেক প্রতাদি দেবকাৰ্য্যে ও বিবিধ মন্ত্রাদিতে শ্রুতি উচ্চারণে শূদ্রদের বাধা ছিল না এবং এখনও নাই ।

শুদের পু ও বেদাধিকার আর যদি শূদ শব্দে অনাৰ্য্য নাতি বুঝায়, তবে আর্য জাতির ব্ৰহ্মণাদি বর্ণ বয়ে বেদবারণ বিধি প্রযুক্ত হইতে পারে। যে হেতু ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্যাষ্টি পাঠে জানা যায় যে, আৰ্য জাতির সহিত অনাৰ্য্য জাতির বিবিধ ঘটনায় বহু সংমিশ্রণ ঘটিয়াছে। তার পর, যদি মানসিক ও শিক্ষাগত গুণাপকৰ্যই শূদ্ৰত্বেব হেতু হয়, তবে সেহেতু দ্বিজ ত্রিবর্ণেও অর্থাৎ সবর্ণেই বর্তিতে পারে। বর্তমান যে সমস্ত জাতি শূদ্র সংজ্ঞায় অভিহিত এবং অনধিকারী বলিয়া বিবেচিত, তাহাদের মধ্যে অনেকেই কি জাতিতত্ববিচারে, কি মানসিক সগুণাধিকারে, কি শিক্ষাসাধনায়, কি কৰ্ম্মমৰ্যাদায়, কোন বিষয়ে কোন অংশেই তাহারা শূদ্ৰ নহে, সুতবা প্রকৃত পক্ষে বেদবারণ বিধি তাহাদের প্রতি প্রযোজ্য হইতে পারে না “যাহারা শাস্ত্রীয় লক্ষণলত যথার্থ ব্রাহ্মণ, তাহারা জ্ঞানবিষ্কারের বিবােধী হইতে পারেন না, কারণ উহা অনুদারনীতি ও হীন বিদ্বেষ দূষিত স্বভাবের ফল। বেদবিদ্যা, ব্ৰহ্মবিদ্যা বা তত্ত্ব বিদ্যা ব্রাহ্মণের একচেটিয়া থাকা কদাচ বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণের বাঞ্ছনীয় হইতে পাবে না। সাধারণ্যে বেদ বিদ্যা বিস্তারিত হইলে তাঁহাদের প্রাধান্য কমিবে, এরূপ কল্পনা ও হীন আশঙ্ক। বিশুদ্ধ-হৃদয় ব্রাহ্মণের দৌর্বল্যের পরিচায়ক! যে ব্রাহ্মণেরা বেদবরণ বিধির পক্ষপাতী, তাহাদের হৃদয়-দৌর্বল্যই উক্ত পক্ষপাতের একমাত্র হেতুভূত। যাহাদিগকে তাহারা অনধিকারী বিবেচনা করেন, তাহারা যদি বেদাধ্যয়নে রত হন, তবে ব্রাহ্মণেরাও ববং তাহাদের সামাজিক শ্ৰেষ্ঠতা অক্ষুন্ন রাখতে অন্ততঃ প্রতিযােগিত ভাবেও বেদাধ্যয়নাদিতে অধিকতর প্রযত্নশীল হইলে, তাহাতেও সমাজের সুফল ফলিবে। এখন ব্রাহ্মণেরাই প্রায় বোলােচনার বহিভূর্ত হইয়া শূদ্রের বোধিকার পড়াতে আপনারাই যথার্থ শুদ্রত্ব প্রাপ্ত হইতেছেন; অতএব যদি বেদপাঠী শূদ্ৰাপেক্ষা আপনাদের বেদ জ্ঞান বর্ধিততর রাখিবার অনুরােধেও তাঁহার উপযুক্ত অধ্যবসায় সহকারে বেদ বিদ্যার সাধক হন, তাহাতে সমাজে অতি স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আসিয়া সমগ্র সমাজের সমুন্নয়নই বিধান করিবে, সন্দেহ নাই। তাহা হইলে ভরিতীয় প্রাচীন শাস্ত্র সাহিত্যাদির কৃত পুনরুদ্ধার হইয়া ভারতের লুপ্ত গৌরব পুনঃ প্রাদুর্ভূত হইতে পারে। তিনিই প্রকৃত ব্রাহ্মণ, যিনি তাহার পতিত ভ্রাতাকে হাত ধরিয়া উঠাইয়া লন; কিন্তু যিনি সেই পতিতের চির পতিতাবস্থারই প্রয়াসী, তিনি যে কিরূপ ব্রাহ্মণ তাহা সহজেই অনুমেয়। “অধুনা অম্মদ্দেশে শত শত শাস্ত্রগ্রন্থাদি বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে, ইহার কারণ আর কিছুই নহে। বহুদিন হইতে ঐ সমস্ত গ্রন্থাদির ব্যবসায় কেবল সঙ্কীর্ণ ব্যর্থনীতি ফলে কতিপয় নির্দিষ্ট পরিবার মধ্যে নিবদ্ধ থাকিয়া তৎ পরিবারের ধ্বংসের সহিতই ধ্বংস প্রাপ্ত হইয়া গিয়াছে। যদি ঐ সমস্ত গ্রন্থাদি সমাজ মধ্যে উদার ভাবে সাধারণ্যে ব্যবহৃত ও বিস্তারিত থাকিত, তবে অবশ্য শত বিপ্লবেও কোথাও না কোথাও অদ্যাপি তৎসমন্তের অস্তিত্ব অবিলুপ্ত রহিত। সংস্কার-অন্ধতা বা গোঁড়ামির হুজুকে দেশের মঙ্গল কিছুই হয় না—অধিকন্তু যাহারা সমাজে অজ্ঞান ও অধঃপতিত জাতি, উহা তাহাদের উন্নয়নে প্রবল প্রতিবন্ধক হইয়া থাকে। কি পরার্থপরতা, কি স্বার্থপরতা, কি শাস্ত্রীয় বিধান, অপক্ষপাত বিচার ও যুক্তি প্রমাণ এ সমস্তই সমাজের সর্বসাধারণের জ্ঞানোন্নতি উত্তরােত্তর বর্ধিত হই এই অভিমতি বা নীতির উপর নির্ভর করিতেছে ! পরার্থপরতার অব্যাঘাতেই যথার্থ স্বার্থপরতা সিদ্ধ হয়। মধুমাত্রেই জ্ঞানােঙ্গতি আবশ্যক, এই সাধারণ ও স্বাভাবিক নীতির উপরই সূত্রের বোধিকার শুয়ে পূজা ও বেদাধিকার “আর যদি শূদ্র শব্দে অনাৰ্য জাতি বুঝায় ভৰে আৰ্য জাতির ব্রাহ্মণাদি বর্ণ ত্ৰয়ে বেদবারণ বিধি প্রযুক্ত হইতে পারে। যেহেতু ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্যাষ্টি পাঠে জানা যায় যে, আৰ্য জাতির সহিত অনাৰ্য্য জাতির বিবিধ ঘটনায় বহু সংমিশ্রণ ঘটিয়াছে। তার পর, যদি মানসিক ও শিক্ষাগত গুণাপকষই শূদ্ৰত্বেব হেতু হয়, তবে সেহেতু দ্বিজ ত্রিবর্ণেও অর্থাৎ সবর্ণেই বর্তিতে পারে। বর্তমান যে সমস্ত জাতি শূদ্র সংজ্ঞায় অভিহিত এবং অনধিকাবী বলিয়া বিবেচিত, তাহাদের মধ্যে অনেকেই কি জাতিতত্ত্ববিচারে, কি মানসিক সগুণাধিকারে, কি শিক্ষাসাধনা, কি কৰ্ম্মমৰ্যাদায়, কোন বিষয়ে কোন অংশেই তাহারা শূদ্ৰ নহে, সুতবা প্রকৃত পক্ষে বেদবারণ বিধি তাহাদের প্রতি প্রযোজ্য হইতে পারেনা। “যাহারা শাস্ত্রীয় লক্ষণালঙ্কত যথার্থ ব্রাহ্মণ, তাহারা জ্ঞানবিস্তারের বিরােধী হইতে পারেন না, কারণ উহা অনুদারনীতি ও হীন বিদ্বেষ- ধুতি স্বভাবের ফল। বেদবিদ্যা, ব্রহ্মবিদ্যা বা তত্ব বিদ্যা ব্রাহ্মণের একচেটিয়া থাকা কদাচ বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণের বাঞ্চনীয় হইতে পারে না। সাধারণ্যে বেদ বিদ্যা বিস্তারিত হইলে তাহাদের প্রাধান্য কমিবে, এরূপ কল্পনা ও হীন আশঙ্কা বিশুদ্ধ-হৃদয় ব্রাহ্মণের দৌর্বল্যের পরিচায়ক। যে ব্রাহ্মণেরা বেদবারণ বিধির পক্ষপাতী, তাহাদের হৃদয়-দৌর্বল্যই উক্ত পক্ষপাতের একমাত্র হেতুভুত। যাহাদিগকে তাহারা অনধিকারী বিবেচনা করেন, তাহারা যদি বেদাধ্যয়নে রত হন, তবে ব্রাহ্মণেরাও বরং তাহাদের সামাজিক শ্ৰেষ্ঠতা অক্ষু রাখিতে অদ্ভুত প্রতিযােগিতা ভাবেও বেদাধ্যয়নাদিতে অধিকতর প্রত্নশীল হইলে, তাহাতেও সমাজের সুফল ফলিবে। এখন ব্রাহ্মণেরাই প্রায় বেদালােচনার বহির্ভূত হইয়া সূত্রের বোধিকার পড়াতে আপনারাই যথার্থ শুদ্রত্ব প্রাপ্ত হইতেছেন; অতএব যদি বদনাম [পেক্ষা আপনাদের বেদ জ্ঞান বর্ধিততর রাখিবার জন্ধুয়ােধেও হায় উপযুক্ত অধ্যবসায় সহকারে বেদ বিদ্যার সাধক হন, তাহাতে সমাজে অতি স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আসিয়া সমগ্র সমাজের সমুন্নয়নই বিধান করিবে, সন্দেহ নাই। তাহা হইলে ভাবতীয় প্রাচীন শাস্ত্র সাহিত্যাদির একৃত পুনরুদ্ধার হইয়া ভারতের সুপ্ত গৌরব পুনঃ প্রাদুভূত হইতে পারে। তিনিই প্রকৃত ব্রাহ্মণ, যিনি তাঁহার পতিত ভ্রাতাকে হাত ধরিয়া উঠাইয়া লন; কিন্তু যিনি সেই পতিতের চির পতিতাবস্থাই প্রয়াসী, তিনি যে কিরূপ ব্রাহ্মণ তাহা সহজেই অনুমেয়। “অধুনা অদ্দেশে শত শত শান্ধগ্রন্থাদি বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে, ইহার কারণ আর কিছুই নহে। বহুদিন হইতে ঐ সমস্ত গ্রন্থাদির ব্যবসায় কেবল সঙ্কীর্ণ স্বাৰ্থনীতি ফলে কতিপয় নির্দিষ্ট পরিবার মধ্যে নিবন্ধ থাকিয়া তৎ পরিবারের ধবংসের সহিতই ধ্বংস প্রাপ্ত হইয়া গিয়াছে। যদি ঐ সমস্ত গ্রন্থাদি সমাজ মধ্যে উদার ভাবে সাধারণ্যে ব্যবহৃত ও বিস্তারিত থাকিত, তবে অবশ্য শত বিপ্লবেও কোথাও না কোথাও অদ্যাপি তৎসমস্তের অস্তিত্ব অবিলুপ্ত রহিত। সংস্কার-অন্ধতা বা গোঁড়ামির হুজুকে দেশের মঙ্গল ও কিছুই হয় না—অধিকন্তু যাহারা সমাজে অজ্ঞান ও অধঃপতিত জাতি, উহা তাহাদের উন্নয়নে প্রবল প্রতিবন্ধক হইয়া থাকে। কি পরার্থপরতা, কি স্বার্থপরতা, কি শাৰীয় বিধান, অপক্ষপাত বিচার ও যুক্তি প্রমাণ এ সমস্তই সমাজের সর্বসাধারণের জ্ঞানেন্নতি উত্তরােত্তর বর্ষিত হইক এই অভিমতি বা নীতির উপর নির্ভর করিতেছে। পরার্থপরতার অব্যাঘাতেই যথার্থ স্বার্থপরতা সিদ্ধ হয়। মনুষত্রেই জানােলখি আবশ্যক, এই সাধারণ ও স্বাভাবিক নীতির উগই শুয়ে বোধিকার শূদ্রের পুজা ও বেদাধিকার স্থাপিত। বেদান্ত সুত্রের ২৫ সূত্রে “মনুষাধিকৎ* বাক্যে এই সিদ্ধান্তই সুচিত। কিন্তু তৎপরবর্তী সূত্র নিয়ে যে এই ‘মনু শব্দেৱ সঙ্কীর্ণার্থ ঘটাইয়া দ্বিজ ত্রিবর্ণের মধ্যেই যে উক্ত বেদাধিকার বন্ধ রাখার চেষ্টা হইয়াছে, তাহা কদাচ প্রশস্ত বা পরিগ্রাহ হইতে পারে না। (১) পাঠকগণ একটু স্থিরচিত্তে উপরের উদ্ধতাংশ পাঠ করিলে শূদ্রের বোধিকার সম্বন্ধে দৃঢ় বিশ্বাস হৃদয়ে অঙ্কিত হইয়া যাইবে এবং ইহার ছত্রে ছত্রে যুক্তির গভীরতা পরিদর্শন করিয়া মুগ্ধ হইয়া যাইবেন। শূদ্রকে বেদাধিকার হইতে বঞ্চিত করা যে একমাত্র বৈষম্য নীতি ও স্বার্থপরতারই বিষময় ফল, তাহাতে আর সন্দেহ নাই এবং এ আইন যে একমাত্র ব্রাহ্মণগণ দ্বারাই আবিষ্কৃত ও বিস্তৃত হইয়াছে, তৎবিষয়েও অন্য মত নাই। উপনিষদ-লেখক ক্ষত্রিয়গণ এ বিষয়ে সর্বদাই উদার নীতির পরিচয় দয়াছেন। ক্ষত্রিয়গণ যখনই ধর্ম উপদেশ দিতেন, উহারা জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই সমভাবে ধর্মের অধিকার দিয়াছেন। বেদান্তের সারভূত যে শ্রীমদ্ভাগবদগীতা, সেই গীতা মুক্তির রাস্তায় সকল নরনারী, সকল জাতি, সকল বর্ণের অধিকার দিয়াছেন। “এ ভারতভূমে সাধারণ মানবের আত্মস্ব বুদ্ধি কখনও উদ্দীপিত হইতে দেওয়া হয় নাই। প্রত্যক্ষ দেখিতেছি, যে জাতির মধ্যে জনসাধারণের ভিতর বিদ্যাবুদ্ধি যত পরিমাণে প্রচারিত, সে জাতি তত পৰিমাণে উন্নত। ভারতবর্ষের যে সর্বনাশ হইয়াছে, তাহার (১) হিন্দু পত্রিকা সম্পাদক লিখিত, বেদান্ত সূত্র ব্যাখ্যা শূদ্রের বেদাধিকার” ৯ম বর্ষ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৯!

শূদ্রের বেদাধিকার ১১১ মূল কারণ ঐটা, দেশীয় সমগ্র বিদ্যাবুদ্ধি এক মুষ্টিমেয় লােকের মধ্যে রাজ- শাসন ও দস্তবলে আবদ্ধ করা। যদি পুনরায় আমাদিগকে উঠিতে হয়, তাহা হইলে ঐ পথ ধরিয়া—অর্থাৎ সাধারণ জনগণের মধ্যে বিদ্যায় প্রচার করিয়া। শিক্ষাবলে আত্মপ্রত্যয়, আত্মপ্রত্যয়বলে- অন্তনিহিত ব্ৰহ্ম জাগিয়া উঠেন, আর আমাদের ক্রমেই তিনি সঙ্কুচিত হচ্ছেন। আমাদের নিম্ন শ্রেণীর জন্য কর্তব্য এই, কেবল তাহাদিগকে শিক্ষা দেওয়া। তাহাদিগকে শিক্ষা দেওয়া যে, এই সংসারে তােমরাও মানুষ, তােমরাও চেষ্টা করিলে আপনাদের সবরকম উন্নতি বিধান করিতে পার। এখন তারা এই ভাব হারাইয়া ফেলিয়াছে। পুরােহিতগণ তাহাদিগকে শত শত শতাব্দী ধরিয়া পদদলিত করিয়াছে, অবশেষে তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে যে, তাহারাও মানুষ। তাহাদিগকে ভাব দিতে হইবে। পৌরােহিত্যক, সামাজিক, অত্যাচার এক বিন্দুও যাহাতে না থাকে, তাহা করিতে ক্ষত্রিয়েরা মাংসই খাক আর নাই খা, তাই হিন্দু ধর্মের ভিতর যাহা কিছু মহৎ ও সুন্দর জিনিষ দেখতে পাচ্ছ, তার জন্মদাতা। উপনিষদ লিখেছিলেন কারা ? রাম কি ছিলেন ? কৃষ্ণ কি ছিলেন ? বুদ্ধ কি ছিলেন ? জৈনদের তীর্থঙ্করেরা কি ছিলেন ? যখনই ক্ষত্রিয়ের ধর্ম-উপদেশ দিয়েছেন, তাঁরা জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সব্বাইকে ধর্মের অধিকার দিয়েছেন,আর যখনি ৰাহ্মণেরা কিছু লিখেছেন, তাহা অপরকে সকল রকম অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন, এই ভাব তাদের দেখা যায়। আহাম্মক, গীতা আর ব্যাস পড়, অথবা আর কারু ঠেলে শুনে নাও। গীতায় মুক্তির রাস্তায় সকল নরনারী, সকল জাতি, সকল বর্ণের অধিকার দিয়েছেন, আর ব্যাস হইবে।

১১২ শুদ্রের পূজা ও বোধিকার গরীব শূদ্রদের বঞ্চিত করবার জন্য বেদের কপােল-কল্পিত অর্থ করছেন।” (১) * প্রথম, সমাজের স্বয়ম্ভাবী পরিবর্তন। ব্যক্তিগত স্বয়ম্ভাবী পরিবর্তনের ন্যায় সমাজশরীরের স্বয়ম্ভাবী পরিবর্তন সাময়িক অবস্থার অধীন। সুবিস্তৃত ভূখণ্ডব্যাপী এক প্রকার রাজপ্রবর্তিত নিয়ম বা আইনকানুন পূর্বতন কাল প্রচলিত রাজপ্রবর্তিত নিয়মের বশে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক নিয়মের পরিবর্তন করিয়া থাকে, ইহা অস্বীকার করিবার যাে নাই। কয়েকটা উদাহরণ দেখিলেই ইহা স্পষ্ট বুঝা যাইবে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনস্থ প্রজাবর্গের মধ্যে রাজনৈতিক অধিকার—সকলেরই পক্ষে একরূপ হওয়াতে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রের-ব্যবহার মার্গেসমতারূপ ফল যে অবশ্যম্ভাবী, তাহা আমাদের কাহারও অবিদিত নহে। পূর্বে আমাদের সমাজে ব্রাহ্মণ ও কায়স্থের মধ্যে একাসনে উপেবেশনালি নিষিদ্ধ ছিল, এক্ষণে এক গাড়ীতে (রেল বা ট্রাম) একই ক্লাশে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, ডােম চামার প্রভৃতি সকলেই উপবেশন করিতেছে। আভিজাত্যা- ভিমানী গুরুঠাকুরের পক্ষে এই প্রকার উপবেশন ক্লেশকর হইলেও তাঁহার সে অভিমানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্রদর্শন করিতে কেহই কুষ্ঠ বােধ করেন না। আমাদের ৰাহ্মণপ্রাধান্য পরিচালিত সমাজশরীরে এই পরিবর্তনটি বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানুসারে স্বয়ম্ভাবী পরিবর্তন ; সহস্র চেষ্টা কৰিলেও এই পরিবর্তনে বাধা দিতে পারেন, এরূপ ক্ষমতা শালী ব্যক্তি আমাদের সমাজে কেহই নাই। আমাদের সমাজে চিরপ্রচলিত নিয়ম ছিল যে, দ্বিজাতিগণই যে পাঠে অধিকারী। শূদ্রের বেদ পাঠ করা ত দুরের কথা, সে যদি বৈদিক (১) ধামী বিবেকানন্দ এণত পদাবলী ১ম ভাগ।

ৱে বোধিকা মন্ত্র ফর্শে শ্ৰবশ কতে, তাহা হইলে তাহার কণে অনিবর্ণ উত্তপ্ত তৈল চাশি তাহার ঐজিক আলা যন্ত্রণার নিবৃত্তি করিতে হইবে। বর্তমান সময়ে এই বিধি এলিতে পারে না এবং চলিতেছেও না; কাল আমরা স্বচক্ষেই দেখিতেছি। বঙ্গমাতার কৃতী সন্তান স্বর্গগত মেশচন্দ্র শূদ্র হইও বেদেৱ অনুবাদ করিয়াছেন। অনেক ব্রাহ্মণ সান সেই অনুবাদের সাহায্যে আংশিক ভাবেও ফেদার্থের উপলব্ধি করিয়া আত্মাকে তা বো করিয়া থাকেন। ব্যবসায়ের খাতিরে অসম্ভব গোঁড়ামীর পক্ষপাতী অশিক্ষিত সম্পাদিত দুই একখানা খবরের কাগজের পলিসি প্রণােদিত কটুক্তিরূপ কদুষ্ণ তৈবিন্দুপাত ব্যতিরেকে হিন্দু সমাজ সেই রমেশ চন্দ্রেয় দণ্ডের জন্য কটাহপুর্ণ তৈল উত্তপ্ত করিবার জন্য তখন ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছিল তাহার কোন প্রমাণ আমরা এখনও পাই নাই। প্রত্যুত সেরূপ কাৰ্যে অগ্রসর হইবার চিন্তা এখনও উন্মত্ত তিরেকে অ কাহারও পক্ষে সম্ভবপর নহে। দ্বিতীয় স্বয়ম্ভাবী পরিবর্জন—যথা এতদিন পর্যন্ত দুর্নীতিপরিচালিত ব্রাহ্মণ প্রাধান্যে ঋশে যে সকল জাতি সৌভাগ্য ও সম্পদের অধিকার হইয়াও দাসপে, অস্পৃশ্যরূপে ও অনাচরণীয় জল রূপে থাকতে বাধ্য হইছিল, ব্রাহ্মণ-প্রাধান্যের এই শোচনীয় অধঃপতনের দিনে সেই সকল হিন্দু সমাজের অধঃপতিত এবং নিপীড়িত জাতিগণের-সমাজের চখে উচ্চবর্ণের সহিত সমতালাভের সাগ্রহ অনুষ্ঠান, নমঃশূদ্রণপের অন্য অধ্যবসায, তালজীবিগণের নীতিপূর্ণ একতাৰন্ধন, কায়স্থগণের অর্থ ও মনস্বিত-পরিলিত সম্প্রদায় গঠন প্রভৃতি বৰ্ত্তমা সময়ােচিত কাৰ্যনি এই সামাজিক স্বয়ম্ভাবী পরিবর্তনের অনুপাতী। জাত্যভিমান ও অহমিকার স্বার্থ-প্রণােদিত স ষ্টো সত্ৰ কে হইতে উখিত হওয়া শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার এই-একদিন পর্যন্ত অন্যায় ভাবে নিপীড়িত জাতিকে আত্মোৎকর্ষ স্থাপনের নৈসর্গিক পথ হইতে কখনই বিমুখ করিতে পারিবে না, তােমরা তাহাদিগকে দল বাঁধিয়া উপনয়ন গ্রহণ করিতে বাধা দিতে পার বা নাই পার, তাতে তাদের কিছুই আসিয়া যাইবে না-তাের স্যায় জাত- নিদৃপ্ত উপবীতধারী হইতে ব্যবহার জগতে তাহারা যে কোন অংশে নূন নহে, তাহা তাহার নিঃসন্দিগ্ধ প্রমাণের সাহায্যে ব্যবস্থাপিত করিবেই করিবে। হাতে বাধা দিতে তুমি কে? তুমি তাহার সম্মুখে প্রলয়ঝটিকার মুখে ভূ, প্রতিপদের কোটালের মুখে জীর্ণ তর ছাড়া আর কি হইতে পার, বল দেখি।” (১) । সৃষ্টির প্রারম্ভে যদি পরমেশ্বর কৃপা করিয়া তাহার নিত্যজ্ঞানস্বরূপ বেলায় প্রকাশ না করিতেন, তবে আমরা কেহ কখনই কোন বিষয়শিক্ষা করিতে পারিতাম না। আমাদিগকে আদিতে কেহ শিক্ষা প্রদান না করিলে, আমরা কখনই কোন বিষয় শিক্ষা করিতে বা বুঝিতে পারি , এবং তজ্জন্যই পরম পিতা পরমেশ্বর, জীবের প্রতি দয়া প্রকাশ করিয়া, জীবকে সৰ্বপ্ৰশর শিক্ষা দিবার জন্য, সৃষ্টির প্রথমেই বেদরূপ সত্যশাস্ত্র প্রকাশ করিয়া থাকেন। ঈশ্বর দূরদর্শী এবং সূক্ষ্মদর্শী, তজ্জন্য তাহার নিয়ম ৰ আজ্ঞা একরস অর্থাৎ বারংবার পরিবর্তন করিতে হয় না। তাঁহার অনন্ত জ্ঞান মধ্যে, ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান প্রকাশিত রহিয়াছে, অতএব পরে কি এটিয়াছিল, তাহা তিনি সমস্ত অবগত আছেন। পরমেশ্বরের আজ্ঞা বা জৰ এক সময়, এক প্রকার মধ্যে উপযােগী ও অপর সময়, অন্য প্রকার মনুর কচি অনুসারে প্রকাশ করিতে হয় না। বেদশাস্ত্র বিকাল সত্য ; (১) মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ তর্কভূষণ লিখিত “সমাজ ও সংস্কার”-উদ্বোধনফান, ১০১৭।

শূদ্রে বোধিকার ইহা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র ও ক্ষতি পুদি অর্থাৎ জীবমাত্রেরই জন্ম, ঈশ্বর দয়াপুক প্রকাশ করিয়াছেন। যজুৰ্ব্বেদে ২৬ অঃ নিম্নলিখিত মটা পাওয়া যায় যথা :- যথে মাং বাচং কল্যাণীমাবদানি জনেভঃ ব্রহ্মরাজাতংশূদ্রায় চাৰ্যায় চ আয় চারণায়। যজুর্বেদ। অর্থাৎ পরশেখর বলিতেছেন, যে আমি সকল মনুষের জন্য এই কল্যাণীয় অর্থাৎ ঐহিক ও পায়ন্ত্রিক বিষয়ের সুখকর, যেরূপ চারি বেদের পৰিত্ৰ ৰাণী দ্বারা তােমাদিগকে উপদেশ করিতেছি, তদ্রুপ হে মনুষ্যগণ ! ভােমরাও মনুষ্য মাত্রকেই, এই বেদরূপ বাণীর উপদেশ করিষে। (কেহ কেহ মনে করিতে পারেন যে এই মন্ত্রে “জন” শব্দে দ্বিজ বুঝায়, কারণ কোন কোন স্মৃতিতে শূদ্রের বেদে অধিকার নাই এরূপ যেখ আছে ; ইহার মীমাংসা উক্ত মন্ত্রের শেষভাগেই দেখিতে পাওয়া যায়। যথা—এই কল্যাণ উপদেশ তােমরা ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়, অৰ্য অর্থাৎ বৈশ্য তথা শূদ্র, ভূত্য ও অরণায় অর্থাৎ অতি শুভ্রাদিকেও প্রদান করবে। এখন দেখা কর্তব্য, যে যখন বয়ং পরমেশ্বর বেদশাস্ত্রে জীবমাত্রকে সত্যজ্ঞানেব উপদেশ দিতে আজ্ঞা করিতেছেন, তখন যে দেশান্ত্র সকলের জন্যই প্রকাশিত হইয়াছে তাহাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। এইস্থলে কেহ কেহ এরূপ শঙ্কা করিতে পারেন, যে কোন কোন শাস্ত্রে “স্ত্রী শূদ্রোনাধীয়তামিতি শুতে এবং স্ত্রীশূদ্রাহীজ- বনং ব্রয়ী ন শ্রুতিগােচরাঃ” অর্থাৎ স্ত্রীলােক তথা শুভ্রাদি বেদ পড়িবে । বেদশাস্ত্রে এরূপ লেখা আছে, অতএব বেদশাস্ত্রে কিরূপে শূদ্রের অধিকার সম্ভব হয় ? এস্থলে আমার বক্তব্য এই, যে বাহুবিক উপরোক্ত বাক্যটা বা এই বাক্যের অনুযায়ী কোন মন্ত্র চারি বেদের মধ্যে স্থলে পাওয়া যায় না। উপরােক্ত ও অঙ্গাঙ্গ কল্পিত শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার বাক্যগুলি কেবল অজ্ঞ লোকদিগকে প্রতারণা করিবার জন্য আধুনিক স্বার্থ ও মিথ্যাচারী লােকেরা ব্যবহার করিয়া থাকেন। উপরােক্ত মিথ্যাচারী মহাশয়দিগের পুস্তক পাঠ করিয়া আধুনিক করিয়া আধুনিক অনেকেই, বাস্তবিকই বেদ, দ্বিজ ব্যতীত অপর কাহারও পড়িবার অধিকার নাই, এইরূপ সরল বিশ্বাস করিয়া থাকেন। যদি কেহ চারি বেদ মধ্যে এরূপ বাক্য বাহিব করিতে পারেন, ৩, তাহরি কথা গ্রাহ হইতে পারে, পরন্তু যে বস্তু যাহাতে নাই তাহা কেহই খাইতে পারে । উপরােক্ত যজুর্বেদেব মন্ত্রী আমি স্পষ্ট প্রমাণ করি।ছি যে বেদশাস্ত্রের মতেই বেদ সকলের জন্য প্রকাশিত কৰা হইয়াছে। বেদের প্রমাণের বিরুদ্ধে অসংখ্য শাস্ত্রীয় প্রমাণকে প্রমাণ িয়া গ্রহণ করা যাইতে পারে না, ইহা সৰ্ববাদী সম্মত প্রমাণ। এ বিষয় এই প্রবন্ধের শেষভাগে লিখিত আছে। বিশেষতঃ আমাদিগে শাস্ত্রে “নাস্তিকে। বেদ নিন্দক অর্থাৎ যিনি বেদকে অবমাননা করেন বা নিন্দা কবেন, তিনিই নাস্তিক সংজ্ঞা প্রাপ্ত হন, অর্থাৎ তাহাবেই নাস্তিক বলে, এরূপ লেখা আছে। সামবেদীয় ছান্দে শোপনিষদে লিখি ও আছে, যে হাত্মা জাবা অজ্ঞাতকুল হইযাও বেদাদি পাঠ করিয়া ঋত্বি দ ৫ ৬ ৭ বিয়া ছিলেন। মহাভাৰত গ্রন্থে চণ্ডালকুলোদ্ভব মাতঙ্গ ধস মহান্ বেদজ্ঞ হইয়াছিলেন, এরূপ দেখিতে পাওয়া যায় । ঋগ্বেদীয় শত’থ ব্রাহ্মণ গ্রন্থে গার্গী ঋষিকাকে সেদোপদেশ দেওয়া হইয়াছিল, তাহার বিশেষ প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে, ঋগ্বেদে লিখিত আছে যে অপালা ও লোপামুদ্রা নামক বদমন্ত্রের প্রকাশক ছিলেন। অধিক কি লিখিব " কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন খান যাহা জন্মবিষয় সকলেই অবগত আছেন, উক্ত মহাত্মা যে কেবল * জাতো শসস্তু কৈবর্ত্যাঃ শশী কস্তু বখর।

শূদ্রের বেদাধিকার, মহর্যি হইয়াছিলেন এরূপ নহে, সাক্ষাৎ বেদশাস্ত্রকে বাস অর্থাৎ বেদশাস্ত্রের জ্ঞানকাণ্ডস্বরূপ বেদান্ত দর্শনশাস্ত্র প্রণয়ন করিয়া বেদের প্রকৃতাৰ্থ ব্যাস অর্থাৎ বিস্তার করিয়া, এবং যিনি নিজে বেদশাস্ত্রকে পাঠ করিয়া তাহার সারমর্ম অবগত হইয়া জগৎবিখ্যাত বেদব্যাস উপাধি প্রাপ্ত হইয়াছেন। উপরােক্ত প্রকার উদাহরণ ও প্রমাণ আমাদিগের ধর্মশাস্ত্রে ভূরি ভূরি পাওয়া যায়, কিন্তু প্রসঙ্গ বাড়িয়া যাইবে এই আশঙ্কায় নিবৃত্ত হইলাম। ফলক থা এই, উপরােক্ত প্রমাণ দ্বারা ইহা সিদ্ধ হইল যে দ্বিজ ব্যতীত অন্য বর্ণে, এবং স্ত্রীলােকেও বেদাধ্যয়ন করিয়াছিলেন ও তন্মধ্যে কেহ কেহ এমন কি মহান্ ঋষিপদকেও লাভ করিয়াছিলেন। বেদাদি-সত্যশাস্ত্রের উপদেশ সকলকেই দেওয়া যায় এ বিষয়ে বেদাতিতিক্ত শাস্ত্রেও অনেক প্রমাণ আছে, উদাহরণ স্বরূপ একটা উল্লেখ কবিতেছি যা— “ব্রাহ্মে মন্ত্রে মহেশানি বিচারে নাস্তি কুচিৎ।” স্বীয় মন্ত্র বহবােন্যেপি বিপ্রত্ব প্রাপ্তয়েপূৰ্ব্বমদিজা। এবং গণিকা গর্ভ স্যুতে। বশিষ্ঠ মহামুনিঃ তপসা ব্রাহ্মণো জাত সংস্কার শুত্র কারণম্ | মহাভারত। অর্থাৎ ব্যাস কৈবর্ত জাত ও পবাশর ঋষি চাণ্ডাদোৎভব হইলেও অন্যান্য নীচ কুলােদ্ভব লােকে যেরূপ নিজ সুকৃতি বশতঃ বিপ্রত্ব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, তােপ তিনিও প্রাপ্ত হন। এইরূপে গণিকাগৰ্ভসস্তৃত বশিষ্ঠ ঋষি তপস্যা বলে বেদাদি সত্যশাস্ত্র পাঠ করিয়া বিপ্রত্ব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। মৎপ্রণীত স্ত্রীশূদ্ৰাদির বেদপাঠনামক পুস্তকে এ বিষয় অনেক প্রমাণ আছে।

শূদ্ধের পূৱা ও বোধিকার গুরুস্কাৎ শিয়েভ্যোবিচারয়।” “পিপি দীক্ষয়েৎ পুত্র শ্রাতা ভ্রাতুন পতি খ্রিয়ম্।” “মাতুলল ভাগিনেয়াংশ নগ্ধ মাতামহোঁপি চ অর্থাৎ হে মাহেশ্বরী! ব্ৰহ্মমন্ত্র প্রদানে বিচার নাই। কোন বিচার করিয়া গুরু আপনার মন্ত্র শিষ্যকে দিবেন। পিতা পুত্রকে, জ্যেষ্ঠ ভ্রাত কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে, পতি স্ত্রীকে, মাতুল ভাগিনেয়কে ও মাতামহ দৌহিত্রকে দীক্ষা দান করিবেন। পরমেশ্বর সত্য-জ্ঞান-রূপ, বেদশাস্ত্রে কথন পরস্পর বিরােধী বাক্য বা উপদেশ প্রাপ্ত হওয়া যায় না। যদি চ বেদ ভিন্ন অন্যান্য ধর্মশাস্ত্রে, পরস্পর বিরােধী বাক্য পাওয়া যায় সত্য বটে, কিন্তু বেদ ঈশ্বর বাক্য, এজন্য ইহাতে কখনই পরস্পর বিরােধী বাক্য থাকিতে পারে না। বেই মানবজাতির যথার্থ ধর্মশাস্ত্র ; অতএব যাহা কিছু বেদ, বা বেদানুকূল তাহাই গ্রহণীয়, এবং যাহা কিছু বেদপ্রতিকুল, তাহাই অসত্য ও অগ্রাহ। অর্থাৎ বেদ শব্দে, বেদের জ্ঞান, তথা বেদের শব্দকে বুঝায়, কারণ সৃষ্টির প্রথমে বেদের শব্দ হইতে সমস্ত ভাৰা গঠিত হইয়াছে, অতএব বেদের জ্ঞান, শক ও ছন্দাদি সমস্তই বেদ। বেদ ঈশ্বরের নিত্যজ্ঞান, অতএব ইহা নিত্য দ্বিতীয়ত কেশাস্ত্র যে নিত্য ও সত্য, তাহা জাৰ্যশাস্ত্রকার মাত্রেই স্বীকার করিয়া থাকেন। মহামুনি পাণিনি ও পতঞ্জলি ঋষির মত এইরূপ, যে শব্দমাত্রই নিত্য, কারণ শব্দে ষত অক্ষয়াদি অবয়ব আছে, তা সময়ই কুটস্থ, অর্থাৎ না রহিত ও তাহার কদা অভাব হয় না। কর্ণদ্বারা যাহা কিছু শ্ৰৰণ করা যায়, বুদ্ধি দ্বারা যাহা কিছু জ্ঞাত হওয়া যায়, বাক্যের দ্বারা যাহা প্রকাশিত হয় ও যাহা আকাশ মধ্যে থাকে, তাহাকেই শব্দ বলা যায়। যে সমস্ত শব্দের আদি কারণ, অতৰ বেদ নিত্য। যদি কেহ কাপ শঙ্কা করেন, যে শব্দ উচ্চারিত হইবার পশ্চাতে নষ্ট হইয়া যায়, ও উচ্চারণ শূদ্রেব বেদাধিকার করিবার পূর্বেও শুনা যায় না, অতএব যেরূপ উচ্চারণক্রিয়া অনিত্য তপ শব্দও অমিত ; ইহার উত্তর এই, যে শব্দ আকাশের ন্যায় সর্বত্র একরুসে পরিপূর্ণ, পরন্তু যে সময় শব্দ উচ্চাবিত না হয়, তখন শব্দ প্রসিদ্ধ হয় না, পুনরায় যখন প্রাণ ও বাণীর ক্রিয়া দ্বারা উচ্চারিত হয়, তখনই শব্দ প্রসি হইয়া থাকে, অতএব বাণীর ক্রিয়া ও উৎপত্তির নাশ হয়, বাস্তবিক শব্দ নাশ হয় না, অতএব শব্দ নিত্য। জৈমিনি মুনি তাহার পুৰ্ব্বমীমাংসা গ্রন্থে বলিয়াছেন ‘নিত্যন্তু স্যাদ্দর্শন পার্থাৎ। পূৰ্বমী অ১ পা ১ সূ১৮ অর্থাৎ শব্দের বাবাই শব্দের অনিত্যতা শঙ্কা নিবারিত হইয়া থাকে। শব্দ নিত্য ও নাশ মুহিত, কারণ উচ্চাবণ ক্রিয়া দ্বারা যে শব্দ শ্রবণ কৰা যায়, তাহা উক্ত শব্দেৰ অৰ্থ জ্ঞাত হইবার জন্যই ব্যবহৃত হয়। শক অনিত্য হইলে, শব্দের অর্থ জ্ঞান প্রীতি হইতে পূর্বমীমাংসা গ্রন্থ লিখিত আছে- কতিপ্রাবলাধিকৰণ-* বিরােধেত্বনপেক্ষ্যংস্যাৎ, অসতিহনুমান পূৰ্ব্ব ম অ ১ পদ ৩ সু ৩। ইহার তাৎপর্য এই যে বদ বা শ্রুতপ্রমাণ সর্বোপরি প্রধান , যখন কতি ও স্মৃতিব কোন বিষয় অনৈক্য হয় তখন স্মৃতি অনপেক্ষ অর্থাৎ অর্থাৎ, এবং যদি শ্রুতির সহিত স্মৃতি বিরােধ না ঘটে তবে সেই ক্ষতির অনুমান করা (পমাণ রূপে গ্ৰহণ কৰা) কর্তব্য। আমাদিগের জানা উচিত, যে আমরা নিজ নিজ কৰ্ম্মফল জন্য কষ্ট পাইয়া থাকি , বিশেষতঃ ঈশ্বরের ন্যায়ানুসারে আমরা যে কষ্ট প্রাপ্ত হই তাহাও, আমাদিগের হিতার্থে ঘটিক্সা থাকে, কারণ কষ্টভোগ দ্বারা আশা দিণে পাপশান্তি হয়। পাপ ভোগ ভিন্ন, অন্য কোন উপায়ে নষ্ট হয় ‘অথ এবং পুশ্চ ঈশ্বর শূদ্রের পূজা ও বোধিকার না। ঈশ্বব পরম দয়ালু, আমবা যাহাতে সুখী হই, পরমাত্মা সদা ৩াই ইচ্ছা করেন, এজন্য তিনি কখনই আমাদিগকে সামান্ত অপরাধ জন্য, অনন্ত নবক রূপকষ্ট ভোগ করাইবেন না। আরও দেখ, কারণের অনুরূপই কাষ ঘটিয়া থাকে, এজন্য স্বল্পগুণযুক্ত জীবের স্মফল, কখন অনন্তযুক্ত কইতে পারে না। মনুষদিগের ধম্মাধিকরণেও, প্রথম অপবাধে প্রায়ই অত্যন্ত অধিক বা শেষ গুরুদণ্ড দেওয়া যায় না, তখন পরম কারুণিক পরমাত্মা যে এরূপ অন্যায় বিচাৰ করিবেন তাহা কখনই সম্ভব হইতে পারে না। অতএব যে সকল ধৰ্ম্ম শাস্ত্রে এরূপ ন্যায়বিহীন কঠোর আজ্ঞা লিখিত আছ, তাহা কখনই ঈশ্বব প্রত্যাদেশ হইতে পারে না। প্রত্যদেশ লােক মাত্রেই জন্য পরমেশ্বৰ কৃপা কবিয়া প্রকাশ ব িযাছেন। ঈশ্ব অৰ্যামী, ঈশ্বরের নিকট যাইতে হইলে কাহাবও সুপারিস লইয়া যাইবার আবশ্যক নাই , অতএব যে ধর্মশাস্ত্রে সুপারিসের আবশ্যক, তাহা কখনই পরমাত্মার আজ্ঞা বা তাহার নিত্য জ্ঞান হইতে পারে না। ৯। ঈশ্বর প্রত্যাদেশ মনুষ্যমাত্রেরই কল্যাণ জন্য হওয়া উচিত, এবং ইহা ত সকলেরই অধিকার থাকিবে , অর্থাৎ ঈশ্বব প্রত্যাদেশ কোন বিশেষ মনােনীত জাতি, বা বিশেষ বর্ণ জন্য হইতে পারে না। ইহাতে পক্ষপাত থাকতে পারে না। সম্প্রতি বেদশা যে অন্যান্য সমস্ত ধাপে। প্রধান, তাহাই শাস্ত্রীয় প্রমাণ দ্বারা সিদ্ধ কবিতেছি যথা- “শ্রুতি স্মৃতি পুরাণানাম্ বি হবাে যত্র দৃশ্যতে। তত্র শ্রোতং প্রমাণস্তু তয়ােেৈধ স্মৃতিরা। বাস সংহিতা অধ্যায় শ্লোক । অর্থাৎ যে স্থানে শ্রুতি অর্থাৎ বেদ, স্মৃতি ও পুরাণের বিরােধ দৃষ্ট হয়,

•
শূদ্রেব বেদাধিকাৰ
তথায় বেদ কথিত বিধিই সর্বাপেক্ষ। বলা ও প্রামাণিক; এবং যেস্থলে
তির সহিত পুরাণের অনৈক্য হয়, তথায় স্মৃতি বাক্যই গ্রহণীয়।
উপরােক্ত ব্যাস সংহিতাব ৫াক দ্বারা বেদ যে সর্বশাস্ত্রোপরি গ্রহণীয়
তাহা প্রমাণিত হইল।
মহাভারতের অনুশাসন পর্বে নিম্নলিখিত শ্লোকটা আছে যথা-
*ং জিজ্ঞাসমানানাং প্রমাণঃ পরমং শ্রুতিঃ ।
দ্বিতীয়ং ধর্মশাস্ত্ৰন্তু তৃতীযং লােকসংগ্রহঃ ||
মহাভারত।
অর্থাৎ যাহাবা ধৰ্ম্ম জানিতে ইচ্ছা কবেন, তাহাদিগের পক্ষে বেদই
সর্বপ্রধান প্রমাণ, ধৰ্মশা দ্বিতীয় প্রমাণ ও দেশাচার ও লােকাচাৰ
তৃতীয় প্রমাণ। এস্থলে বেদ যে ধর্মশাস্ত্র ও দেশাচার আদি হইতে প্রবল
ও প্রমাণীয়, তাহা সিদ্ধ হইল।
পুনশ্চ মনুসংহিতাতে লিখিত আছে যে-
“সৰ্বত্ত্ব সমবেক্ষ্যেদ নিখিলং জ্ঞান চক্ষুষ।
শ্রুতি প্রামাণ্যতে বিদ্বান স্বধৰ্ম্মে নিবিশেতবৈ ||
বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ ।
এতচতুৰ্বিধং প্ৰাহুঃ সাক্ষাদ্ধৰ্ম্মস্য লক্ষণম্ |”
“অর্থ কামোনাং ধম্মজ্ঞানং বিধীয়তে।
ধম্মং জিজ্ঞাসমানানাং প্রমাণং পরমং শ্রুতিঃ ।
ম অধ্যায় ২, শ্লোক ৮,১২ ও ১৩।
অর্থাৎ সংসাবে যত প্রকাব শাস্ত্র আছে, বিদ্বানগণ জ্ঞান চক্ষু দ্বারা
তাহা বিশেষ বিচার করিয়া, বেদ প্রমাণক ধৰ্ম্মকে, একমাত্র অবন
কবণের উপযুক্ত বেধে, স্বধর্মে নিবিষ্ট হইয়া থাকেন। বেদ, স্মৃতি, সদাচার
---

১২২ শূরে পূজা ও বোধিকার অর্থাৎ সাধুদিগের আচার, অথব-সদা প্রাচীন কাল হইতে যে যে উত্তম আচার চলিয়া আসিতেছে, তাহা এবং আত্মপ্রসাদ অর্থাৎ যাহা অল্প ইহা উত্তম কৰ্ম্ম এরূপ বলিয়া দেন সেই কাৰ্যটা, এই উপরােক্ত চারি। ধৰ্ম্মের লক্ষণ বলিয়া আৰ্য ঋষিরা নির্দেশ করিয়াছেন। হইতে অর্থ এবং কামনায় আসক্তি শূন্য না হইলে, কাচ ধৰ্ম্ম সঞ্চয় করিয়ে সমর্থ হন না, এবং ধর্ম জিজ্ঞাসুর পক্ষে বেদশাত্ৰই সৰ্ব্বপ্রধান উপার ও প্রমাণ। উপরােক্ত মনুসংহিতার শ্লোক দ্বারা বেদ যে সর্বোপরি প্রমাণী, গ্রন্থ তাহা দর্শিত হইল, এখন বেদ-বিক্ষ গ্রন্থ যে অগ্রাহ্ন ও অসত্য তাহাই বলিতেছি যথা- “পিতৃদেব মনুষ্যনীং বেদশ্চক্ষু সনাম। অশ্যপ্রমেয় যেদশাস্ত্রমিতি স্থিতিঃ ॥ যা বেদবাহাঃ স্বতয়াে যা কা কুদৃষ্টয়ঃ । সর্বাস্তা নিলাঃ খেত্যতমাোিহিতা স্মৃতাঃ । উৎপন্তেচ্যন্তে চ যাতােহানি কানিচিৎ। তান্তৰ্বকালিকতয়। নিলান্ত নৃতানি ।” মনু অধ্যায় ১২ শ্লোক ৯৪, ৯৫ ও ৯৬। অর্থাৎ বেদােন্ত্রই পিতৃ, দেব ও মনুষ্যের সনাতন চক্ষুরূপ। ইং অপৌরুষেয় ও অপ্রমেয়, ইহা স্থির মীমাংসা। যে সমস্ত ধর্মশাস্ত্র বেঞ্চ বহিভূত, এবং যে সকল শাস্ত্র কুদৃষ্টি প্রেরিত, পরকাল সম্বন্ধে সেই সময় শান্ত্রকে নিষ্ফল বলিয়া জ্ঞান করা কর্তব্য, কারণ সেই সমস্ত শাস্ত্রগুলি তমগুণ কল্পিত, অতএব যথার্থ হইতে পারে না। যে সকল শাস্ত্র বেদমূলক নহে, পরক্ত মনুষ্ণ কল্পিত, তাহা উৎপন্ন হইতেছে ও বিনষ্ট হইতেছে আধুনিকতা হেতু তাহাদিগকে নিস্ফল ও মিথ্যা বলিয়া জানা উচিত।

শূদ্রের বেদাধিকার যখন দেখিতেছি যে বেদশাই ধর্মের একমাত্র আকর স্বরূপ, তখন যে সকল লােকের বেদে অধিকার নাই, তাহার বাস্তৰি ধৰ্ম্মে অধিকার খাকিত না, অতএব তাহারা “ধৰ্ম্মেণ হীনাঃ পশুভিঃ সমানা হইৰে সন্দেহ নাই। সমানা কেন, পশু অপেক্ষা অধমও হইয়া থাকে। অতএব ধৰ্ম্মের অধিকার যখন মনুষমাত্রেরই আছে, তখন বেদশায়ের পঠন পাঠনের ও তদনুযায়ী কাৰ্য কবিবার অধিকার যে অনুষমাত্রেই আছে তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই। পূৰ্বে বলিয়াছি যে আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক তাপত্রয় হইতে ত্রাণ পাইয়া পরমপদ লাভ করাই, জীবের বিশেষতঃ মনুষের এক মাত্র পরম পুরুষার্থ বা প্রয়ােজন। এক্ষণে দেখিতেছি যে বেদোক্ত রীত্যনুসারে কাৰ্য্য করিলেই জীব পরীমুক্তি প্রাপ্ত হন, অন্য কোন উপায়ে পাইতে পারেন না, তজ্জন্য মনুষ্যমাত্রেরই বেজানুকূল কনুষ্ঠানে সর্বদা সুত থাকা কর্তব্য। ভগবান মনু বলেন “বেদোহখিলে ধমূলং” অর্থাৎ বেদই একমাত্র সনাতন ধর্মের মূল। এখন বেদ যে সমস্ত বিদ্যাকে প্রকাশ করিয়াছে, ও বেদে যে সমস্ত বিদ্যার বীজ নিহিত আছে, তাহাই শাস্ত্রীয় প্রমাণ দ্বারা সিদ্ধ করিতেছে, যথা *চাতুৰ্বণ্যং এয়ােলােকাত্বাশ্চাশমাঃ পৃথক। ভূতং ভৰম্ভবিষ্যঞ্চ সর্বং বেদাৎ প্রসিধ্যতি | শব্দ স্পর্ণশ্চ রূপঞ্চ রসে গন্ধ পঞ্চম। বেদাবেদ প্রদান্তে প্রতি গুণকত ! বিভৰ্ত্তি সৰ্ব্বভূতানি বেদশাস্ত্রং সনাতন। তাদেতৎপর মতে স্বজ্জতের সখিন । মনু অধ্যায় ১২ ঃ ৯৭, ১৮, ১৯।

১২৪ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার অর্থাৎ ক্ষত্রিয়াদি চারি জাতি, স্বর্ণাদি লােকত্রয়, ব্রহ্মচর্যাদি আশ্রম চতুষ্টয়, তথা ভূত, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান ইহা সমস্তই বেদ হইতে প্রসিদ্ধ হইয়াছে ; শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধ এই সমুদায়ই বেদ প্রসূত। গুণ কৰ্ম্মানুসারে বেদই সকলের প্রসূতি। সনাতন বেদশাস্ত্র সকল ভূতকে ধারণ করিয়া আছেন। জ্ঞানীলােকেরা বেদকে মনুষের পুরুষার্থ সাধনের পরম উপায় বলিয়া স্বীকার করেন। ইত্যাদি। “বেদমেধাভ্যসেন্নিত্যং যথাকল মততিঃ। তস্যাঃ পরং ধৰ্ম্মমূপধম্মোহন্য উচ্যতে। বেদাভ্যাসেন সততং শৌচেন তপসৈব চ । আদ্রোহেণ ৮ ভূতানাং জাতিস্মরতি পোৰ্ব্বকীম্। বেদোদিতং স্বকং কৰ্ম্ম নিতং কুর্যাদতন্দ্রিত। তদ্ধি কুৰ্ব্ব যথাশক্তি প্রাগ্নেতি পরমাংগতিম্। মনু অধ্যায় ৪ শ্লোক ১৪৭, ১৪,১৪৯। অর্থাৎ অবসর পাইলেই অলিস্য রহিত হইয়া বেদশাস্ত্র মনোনিবেশ পুর্বক অধ্যয়ন বা অভ্যাস করিবে, কাৰণ বেদাধ্যয়ন ও বেদের যথার্থ অর্থ বিচার করিয়া কাৰ্য করাই মানবের শ্রেষ্ঠ ধূৰ্ম্ম ; অপর যাহা কিছু তাহাকে উপধৰ্ম্ম বলা যায়। সতত বেদাত, স, বাহাভ্যন্তর শৌচ, তপস্যা এবং সর্বজীবে মৈত্রীভাব, এই সমস্ত কৰ্ম্মানুষ্ঠান করিলে মনুষ্যগণ ভাতিস্মর হন, অর্থাৎ পূৰ্ব্ব পূর্ব জন্মের জ্ঞান লাভ করিয়া, সংসার বন্ধন ছিন্ন করিয়া, ব্রহ্মানন্দ উপভােগ করেন। যাবজ্জীবন নিরলস হইয়া স্ব স্ব আশ্রম বিহিত বেদোক্ত ও স্মার্ট সমুদায় কর্তব্য সম্পাদন করিবে। যথাশক্তি এই সমুদায় কর্তব্যের অনুষ্ঠান করিলেই, মনুষ্যগণ পরমগতি লাভ করিয়া থাকেন।

শূদ্রের বোধিকার বাপ্পার্থ তত্বজ্ঞো ঘর তত্রশ্রমে বস । ইহৈব লোকে তিষ্ঠ স ব্ৰহ্মভূপ্ন কল্পতে । মনু অধ্যায় ১২ শ্লোক ১০২। বেদশাস্ত্ৰাৰ্থ তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তি যে বোন আশ্রমে বাস করুন না কেন, তিনি ইহলোকে থাকিয়াই ব্ৰহ্মত্ব লাভ করিয়া থাকেন। এখন বেদকে অগ্রাহ্ন কৰিলে মনুষকে নাস্তিক হইতে হয় তাহারই শাস্ত্রীয় প্রমাণ দিতেছি যা- “যােহবমতে তে মূলে হেতু শাশ্বাশযাদ দ্বিজঃ। স সাব্বিহিষ্কাৰ্যা নাস্তি ৭দিকঃ।* ১ম অধ্যায় ২ শ্লোক ১১। যিনি বেদ এবং বেদানুকূল অপ্তপুষ কত শাস্ত্রে অবমাননা করেন সেই বেদনিন্দক নাস্তিককে সাধুগণের নিকট হইতে বঞ্চিত কৰা উচিত। অতএব মানবমাত্রেরই কর্তব্য যে সকলেই যেন বেদোক্ত আজ্ঞা প্রতিপালন কবিয়া মানবজীবনের সার্থকতা সম্পাদন করেন। * আমাদিগের দেশের সাধারণ কেব বিশ্বাস যে স্ত্রীলােক ও শূদাদির বেদাদি শাস্ত্র পঠন পাঠনের অধিকার নাই, এমন কি প্রণব বা বেদমন্ত্রদি শূদ্রের সম্মুখে উচ্চারণ করা কর্তব্য নহে; এবং যে স্থানে প্রণব বা বেদ। মন্ত্রাদি উচ্চারিত হয়, তথা হইতে শূদ্রেব প্রস্থান করা বা কর্ণে অঙ্গুলি প্রবেশ করাইয়া কর্ণদ্বার রুদ্ধ কৰা উচিত; যদি দৈবাৎ কোন শূদ্র হঠাৎ বেদ শ্রবণ করে, তবে সীসক গলাইয়া তাহার কর্ণদ্বার রুদ্ধ করা কর্তব্য। যদি ইচ্ছা পূব্বক দেবশাস্ত্র, উচ্চারণ কবে, তবে তাহার জিহ্বা ছেদন ও হৃদয় বিদীর্ণ করা কর্তব্য, ও এরূপ কৰ্ম্ম শাস্ত্রানুমােদি ইত্যাদি, নছেৎ যুক্ত শঙ্করনাথ শণ্ডিত প্রণীত—বেদ নিত্য ও অপৌরুষেয়।

খুজে পূজা বোধিকার মহাপাতকগ্রস্ত হইতে হয়। এ কথা সম্পূর্ণ অসত্য। কোন কোন নবীন গ্রন্থে “শ্রীশুদ্বিজবং ব্রয়ী ন শ্রুতিগােচয়া” অর্থাৎ স্ত্রীলোক ক্ষুদ্র ও জি বন্ধুগণ বেদাদি শ্রবণ করিবার উপযুক্ত নহেন ইদি প্রমাণ লিখিত আছে। এখন বক্তব্য এই যে যদি কেহ চাৰি বেদ বা ব্রাহ্মণগ্রন্থ মধ্যে উক্ত রূপ মর্শের মন্ত্র বাহির করিতে পারেন, তবে তাহার কথা গ্রাহ হইতে পারে। পরন্তু চারি বেদ বা ব্রাহ্মণগ্রন্থ মধ্যে, কোন স্থানেই এরূপ মৰ্ম্মের মন্ত্র নাই, বরং ইহা বিপরীত অর্থের মন্ত্র ভূরি ভূরি দেখিতে পাওয়া যায়। পুনশ্চ বেদাদি শাস্ত্র দ্বিজ ব্যতীত অপর পঠন ও পাঠনের অধিকার আছে, এক্ষণে তাহাই বেদ ও অপরাপর শাস্ত্রের প্রমাণ দ্বারা সিদ্ধ করি- তেছি। পূর্বেই বলিয়াছি যে চারি বেদ ব্রাহ্মণগ্রন্থ বা উপনিষদের কোন স্কুলেই শূদ্রাদির বেদ পাঠ নিষেধ করিয়াছে এরূপ মন্ত্র দেখিতে পাওয়া যায় না। এক্ষণে যদি বেদের সংহিতা ভাগ হইতে শূদ্ৰাদিকে বেদাদি শাস্ত্র পাঠের অধিকার সম্বন্ধে কোন মন্ত্র দেখাইতে পারা খায়, তাহা হইলে বেদশাস্ত্র যে সকল বর্ণের জন্যই প্রকাশিত করা হইয়াছে অদ্বিষয়ে আর সন্দেহ থাকিতে পারে না। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে লিখিত আছে যথা- ব্ৰহ্ম বৈদ্যোমানাং জিৎ ক্ষং পঞ্চদশােবিশঃ সপ্তদশ শূদ্রো বর্ণ একবিংশঃ। ৪ ঐতরেয় পং ৮ অ• ১ অর্থাৎ অগ্নিষ্টোম প্রকরণে ঐতরেয় ব্রাহ্মণে লিখিত আছে যে ব্রাহ্মণ নয়টা অখ্রিষ্টেমি করিবে, ক্ষত্রিয় ১৫টা বৈশ্য ১৭টী ও শুদ্র ২১টি করিবে। ইহা দ্বারা পষ্টই সিদ্ধ হইছে, যে শূদ্রের যখন যজ্ঞাদি সম্পাদনে অধিকার আছে, তখন তাহার বেদশাস্ত্র উচ্চারণেরও তৎসঙ্গে অধিকার আছে তাহাতে সন্দেহ নাই; কারণ যজ্ঞ কালে বেদ মন্ত্র পাঠ করিয়া হুতি দিতে হয়। পুন শূদ্রে বোধিকার বৈদিক কোষরূপ নিরুগ্রন্থে পূর্বষ্টক অধ্যায় ৩ খ• ২ স্থানে লিখিত আছে যে কোন শব্দের অর্থ বেদম, অতএব শূন্ত্রের বেদ মন্ত্র উচ্চারণে অধিকার সিদ্ধ হইল। পুনশ্চ ছান্দোগগ্যাপনিষদের পা পা ৪ খ ২এ রোশূদ্র ইত্যাদি ৰচন দ্বারা জানশ্রুতি নামক শূদ্রকে মহর্ষি নায়িক বিদ্যাভ্যাস করাইয়াছিলেন, পুনশ্চ ঐ ছাদ্যোগগ্যাপনিষদের প্র• ৪ খ. ৫ স্থানে অজ্ঞাতকুল জাল নামক বালককে গৌতম ঋষি উপনয়ন সংস্কার করাইয়া বেদাদি বিদ্যা পাঠ করাইয়াছিলেন। তৎপরে ঋগ্বেদের মণ্ডল ১০ অবাক্ সূক্ত ৩০ হইতে ৩৪ পর্যন্ত চারি সূক্তের ঋষি কষ এনুষ ছিলেন, এরূপ লেখা আছে। এই কবষএষ শূদ্ৰজাতি ছিলেন, যাহার প্রমাণ ঐতরেয় ব্রাহ্মণের পঞ্জিকা ২ অ• ৩ স্থানে লিখিত আছে। কৌশীতকীয় ব্রাহ্মণের ১২-৩এ লিখিত আছে যে পূব্বোক্ত সুক্তের কবষএলুষ ঋষি বেদ আচারক ছিলেন। উপরােক্ত প্রমাণ দ্বারা স্পষ্টই সিদ্ধ হইতেছে, যে শূদ্রের বেদ মন্ত্র উচ্চারণ ও শ্রবণের সম্পূর্ণ অধিকার ছিল। কতকগুলি নবীন ধশাস্ত্রে এরূপ লেখা আছে যে শুদ্র যদি বেদ মন্ত্র শ্রবণ করে, তবে তপ্ত সীসক গলাইয়া তাহার কর্ণদ্বার রুদ্ধ করিবে, যদি সে ইচ্ছাপূব্বক বেদ মন্ত্র উচ্চারণ করে, তবে তাহার জিহবাছেদন ও তাহার হৃদয় বিদীর্ণ করিয়া দিবে ইত্যাদি। পুনশ্চ বেদ শাস্ত্রে স্বয়ং ভগবান উপদেশ দিয়াছেন সত্যমহং গভীর কাব্যেন সত্যাতেনালি জাবেদা, ন মে দাসাে ন মেৰ্যো মহিলা ব্ৰতং মীমায় যদহং ধরিয়ে। ৩ অথবা ৫ অ২। ব ১১ অর্থাৎ পরমেশ্বর বলিতেছেন হে মনুষ। আমি সত্য স্বরূপ মহগম্ভীর এবং নিত্য বৈবিদ্যাকে প্রকট করিয়াছি এজন্য আমাকে জাবেদ বলিরা জানিৰে । আমি কোন দাস অর্থাৎ শূদ্র বা অনাৰ্য বা আৰ্য্যের শূন্দ্রের পূজা ও বেদাধিকার পক্ষপাত করি না, পরন্তু যেজন আমার কথিত ন্যায়াচরণ স্বরূপ সত্য ব্ৰতাজ্ঞা পালন করিবে আমি তাহাকেই উদ্ধার করিব। এখন আপনারা গম্ভীর ভাবে বিচার করিয়া দেখুন, যে যখন অরং পরমেশ্বর বেদ বচন দাবা প্রতিপাদন করিতেছেন, যে দ্বিজ ও শূদ্রাদি বিষয় আমি পক্ষপাত কবি না, যে কেহ ৰেদানুকূল ন্যায়াচরণ রূপ মাৰে বিচরণ করিবে, তাহাকেই তিনি উদ্ধার করিবেন, তখন যে উপরােক্ত শ্লোকগুলি প্রক্ষিপ্ত, তদ্বিষয়ে আব সন্দেহ নাই। বিশেষতঃ বেদের বিরুদ্ধে অসংখ্য শাস্ত্রীয় প্রমাণ গ্ৰাহ হইতে পাবে না, এজন্য যদি ঐরূপ শ্লোক ভগন মনুর নিজেরও কথিত হইত, তথাপি বেদ বিরুদ্ধ বলিয়া উহা কখনই প্রমাণ বা গ্রহণ করা যাইতে পারে না। পবন্তু ঐ গুলি বাকি মনুব বথিত নহে, ঐ গুলি প্রক্ষিপ্ত শ্লোক সন্দেহ নাই। শাস্ত্র যে সকল অধিকার আছে, ও যে কেহ শ্রদ্ধাপূর্বক যজ্ঞাদি বৈদিক কষ্ঠ'ন করিবে, সেই তাহার ফল প্রাপ্ত হইবে, ইহাতে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় শ্যৈ বা শূদ্রাদির ভেদ নাই, ইহা প্রতিপাদার্থ জৈমিনী ঋৰি বাছ । ফল র্থাৎ কম্মণঃ শাস্ত্রং সাধিকাৰং স্যাৎ। ৪ পূমী অ৩ ৬ পা ১ অৰ্থাৎ যিস্থাধ্যয়ন ও যজ্ঞাদি কৰ্ম্ম মনুষ্য মাত্রই ফল প্রদান করে, এজন্য বিদ্যাভ্যাস ও বৈদিক কৰ্ম্মানুষ্ঠানে মনুষ মাত্রেই অধিকার আছে। পুনশ্চ সকল প্রকার শুভকাৰ্য্য যে মানব মাত্রেই সম্পাদন করা কর্তব্য, তাহাই জৈমিনী ঋৰি আদেশ করিতেছেন যথা। কৰ্ত্ত বা ক্ষতি সংযােগদ্বিাধঃ কানে গমতে। পূমী অ ৬ প ১ শূদ্রের বোধিকার অর্থাৎ বেদাধ্যয়ন ও যদি কৰ্ম্ম করিতে যিনি সমর্থ হইবেন, অয় শ্রুতি গংযােগে উক্ত কৰ্ম্ম করিবার সব অধিকার আছে। উপরোক্ত জৈমিনী বচন যারা স্পষ্টই সিদ্ধ হইতেছে, যে শ্রৌত যজ্ঞ, অর্থাৎ বেজোক যজ্ঞ, আহাতে বেদমন্ত্র উচ্চারণ করিতে হয়, এরূপ যজ্ঞ শুদ্রের সম্প অধিকার আছে। পুনশ শতপথ ব্রাহ্মণে লিখিত আছে- এহতি ব্রাহ্মণত্যাগহাত্ৰবেতি বৈশ্য চ রাজন্য বন্ধোশ্চাখবেতি শূদ্র। • কা ১ এ ১০১ ব্রা ৩ ৪ ক ১৯ ইর তাৎপর্য এই যে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্ৰ চাৰি বৰ্ণই, কেম পাঠায়া মূজ্ঞের হবিকে শুদ্ধ করিবে। অপিস্ত সূত্রেও এইরূপ লেখ। আছে। হবিষ কৃদেহীতি ব্রাহ্মণ হবিষ্কদাগহীতি রাজস্য বিষ, কণা দ্রবেতি বৈশস্য হবি, কাধাবেতি ক্ষুদ্র প্রথম বার সর্বেষা আপশু শ্ৰেী সূ প্র ১কং ১৯ ইহার তাৎপৰ্য্য এই যে যজ্ঞ কবিবাব সময়, পূর্বোক্ত পৃথক পৃথক দ্বা, ৰাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রাদি হবিঃ শুদ্ধ করিবে; অথবা গ্রখ। মন্ত্র পাঠ করিয়াই, চারি বর্ণের সকলেই হবিকে শুদ্ধ করিবে। धन पर সূত্রে দ্বারা ক্ষুদ্র যে বেদ মন্ত্র পাঠ করিতে পারে তাহা সিদ্ধ হইল। সম্প্রতি শূদ্রজাজিদ্বিগের মধ্যে নাপিত অর্থাৎ নরসুন্দর ও অভি নিষাদ পৰ্যৰ বেদ মন্ত্র উচ্চারণ করিতে পারে, তাহাই শ্ৰোত ব্য। প্রমাণ দিতেছি।

খুদ্রের পু ও বদাধিকার গেলি গৃপুৱে লিখিত আছে, আচান্তাকায় গোঁরিতি নাপিত শ্ৰীক্ৰয়া। মুগা বরুণ লাশীৎ। ১৯ গেভি - ৪ ক ১০ টী তমেষ নাপিতং মুঞ্চ গামিতি মন্ত্র জয়াৎ। অর্থাৎ পূর্বে মন্ত্র নাপিতকে শ্রবণ করাইবে ইহার দ্বারা নাপিতের যোধিকাৰ সিদ্ধ হইল। পুনশ্চ অপশুৰ শ্ৰেীত সূত্রে লিখিত আছে- তথৈবা নিষাদস্থপতিবাজয়েৎ ॥ ১২ আগ শ্ৰেী প্ৰ ৯ কং ১৪ অর্থাৎ পূর্বোক্ত যজ্ঞে যাহা প্রতিপাদন করা হইল, তাহা সমস্ত নিষাদ তারা সম্পন্ন করাইবে, অর্থাৎ ইহার পূর্বের মন্ত্রে, অনুবাক সহিত সমগ্র গায়ত্রী মন্ত্র যে অতি শুত্র নিষাদ পৰ্যন্তেরও অধিকার আছে তাহা সিদ্ধ হইল। পুনশ্চ মহাভারতেও লিখিত আছে, যে চারি বর্ণকেই বেদোপদেশ করা কর্তব্য যথা- “শ্রাবয়েচ্চতুরো বর্ণান্ কৃত্বাব্রাহ্মণে মগ্ৰতঃ। বেদাধ্যয়নং হীদং ভচ কার্যং মহৎ মৃতম। মহা-শাপ অ ৩২৮ অর্থাৎ বেদব্যাস জৈমিনীকে উপদেশ দিতেছেন, যে তুমি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চারিবর্ণকে ক্রমশঃ বেদের উপদেশ করিবে, কারণ বেদাধ্যয়ন করা মধুয়ের মুখ্য কৰ্ম্ম ও উদ্দেশ্য। এই শ্লোকের কেহ কেহ এরূপ অর্থ করেন, যে ব্রাহ্মণকে সম্মুখে রাখিয়া চাৱিবৰ্ণকে বেদো- পদেশ করিবে, অর্থাৎ ব্রাহ্মণকে উপদেশ করিবে ও অপর বর্ণে তাহা নিৰে ; এরূপ অর্থ যদিচ যথার্থ নহে, পরন্তু ইহাতেও সিদ্ধ হইতেছে, যে শূদ্রদগকে বেদ মন্ত্র শুনান কব, ও যদি শূদ্র বেদময় হঠাৎ শ্রবণ ১৬, মুদ্রের বোধিকার করে, তবে তপ্ত সীসক তাহার কর্ণে প্রবিষ্ট করা কর্তব্য ন, “বর শুত্রকেও বেদেপদেশক কর্তব্য ও শাস্ত্রানুমােদিত, ইহা মহাভারত দ্বারা প্রমাণিত হইল। পুনশ্চ চত্বরে বর্ণা যজ্ঞমিং বহুন্তি। মহাভারত অর্থাৎ জ্ঞান যজ্ঞ * যাহা সকল যজ্ঞাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ তাহাতেও চাৰিবর্ণকে মহাভারতে অধিকার দেওয়া হইয়াছে। তৎপরে কেহ কেহ এরূপ শঙ্কা করেন, যে শূদ্ৰৰ বেদাধিকার থাকিতে পারে না, কারণ তাহাদের ব্রহ্মচর্য ও উপনন সংস্কারের অধিকার নাই; বিশেষত বিজদিগের সন্তানের উপনয়ন সংস্কার হইলেই, তাহারা বেদারম্ভ ও ব্রহ্ম- চৰ্য ব্ৰতাবলম্বন করিয়া, ব্রহ্মচারী হইয়া থাকেন। ইহার উত্তর শুক্রনীতি গ্রন্থে লিখিত আছে। বিদ্যার্থং ব্রহ্মচারী স্যাৎ সর্বেষাং পালনে গৃহী। অর্থাৎ সকল মজুষেরই অর্থাৎ চারিবর্ণেরই বিদ্যাভ্যাস করিবার জন্য ব্রহ্মচারী হওয়া কর্তব্য। এবং সকল প্রকার আশ্রমীর প্রতিপালনার্থে লােকের যথা সময় গৃহস্থাশ্রম অবলম্বন করা উচিত। তৎপরে যেদের পাঙ্কর গৃহসূত্রে লেখা আছে শূদ্রাণামদুষ্টকমণমুপনয়। অর্থাৎ যে শূদ্র দুষ্টকম্মত নহে, তাহার উপনয়ন সংস্কার করা কর্তব্য, অর্থাৎ দুষ্টকৰ্ম্মযুক্ত শূদ্রেরই উপনয়ন সংস্কার নিষেধ জানিবে। * শ্রেয়া দ্রব্য ময়াদ্যজ্ঞাজ,জ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ । সর্বকৰ্ম্মখিলং পার্থ জানে পরিসমাপাতে। গী অ ৪ শ্লে। ৩৩ । আপস্তম্ব সূত্রে প্র ১ প১ ৫ম সূত্রে দুষ্টকৰ্ম্মযুক্ত ব্রাহ্মণের পর্যন্ত উলঙ্কন নিষেধ কোখা জছে।

শূন্ত্রের পুল ও বেদাধিকার আক্তব্য ঋষি বলেন- শূদ্রাণাং ৰহ্মচৰ্যমুনিভিঃ কৈশ্চিদিতে । এই বচন দ্বারা শুদ্রের ব্ৰহ্মচৰ্যব্রতাধিকার সিক্ত হয়। পুনশ্চ খুদ্রা বাসনেয়িন” এবং “শূদ্রোবা চল্পিত ব্ৰত ইত্যাদি বশিষ্ঠ ও গৌতমের প্রমাণ স্পষ্ট বুঝা যায়, যে শূন্ত্রের ব্ৰহ্মচ বেদাধিকার গ্রাহমােদিত। আমরা এবিষয়ে আরও অনেক প্রমাণ দিতে পারি, পরন্তু উপরােক্ত প্রমাণগুলি দ্বারা স্পষ্টই প্রতীয়মান হইতেছে যে শূদ্রের বোধিকার, বেদ ও বেদান্তকুল শাস্ত্রের অনুমােদিত তাহাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। মন্ত্রের ঋষি, শূদ্রোকুলোদ্ভব কষ এনুষ ছিলেন, তাহা বর্ণনা করিয়াছি। ইহা ছাড়া আর অনেক এ বিষয়ের প্রমাণ আছে, পরন্তু পুস্তক অনর্থক বাড়িয়া যাইবার ভয়ে নিরস্ত হইলাম। ফল কথা উপরােক্ত বিষয় বিচার করিলেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, বেদ শারে শ্রী শূদ্রাদির কেবল যে পঠন পাঠনাধিকার আছে তাহা নহে, পরন্তু, উপরােক্ত ও অন্যান্য স্ত্রী শূদ্রাদি ঋষিগণ, বেদমন্ত্রের তত্বজ্ঞ প্রচারক ও উপদেশক পর্যন্ত ছিলেন। ইহাপেক্ষা অধিক আর কি বেদাধিকারের প্রমাণ হইতে পারে ? এজ বুঝা উচিত, যে ব্ৰহ্মবিদ্যা ও বেদাদি সত্য শা, সকলের জন্যই ঈশ্বর প্রদান করিয়াছেন। যে কেহ চেষ্টা করিবেন, তিনিই অধিকারী হইতে সমর্থ হইবেন, ইহাতে জাতি বর্ণ আদিৰ কোন বিধি নিষেধ নাই। একজন সাধু বলিয়াছিলেন-জাতি পাতি নহি পু কোই, লো হরিকে ভজে সােই হরিকে হােই। অর্থাৎ পরমেশ্বরের ভজনা সম্বন্ধে জাতি পাঁতি নাই,ৰে কেহ একান্ত মনে তাহাকে বৈদিক রীতানুসারে উপাসনা ও ভজনা করিবে, ঈশ্বর তাহাকেই গয়া বঘি থাকেন।

পুত্রের বেদাধিকার আমি যজুর্বেদের ২৬ অধ্যায়ের দ্বিতীয় মন্ত্রের বচন দ্বারা ও অথর্ব বেদ ও ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থের প্রমাণ দ্বারা শুদ্র ও অতিশুভ্রাদিরও সে বেদপাঠে অধিকার আছে তাহা সিদ্ধ করিয়াছি। যুক্তি মতেও, বেদে যে সকলের অধিকার আছে, তাহাও বুদ্ধিমান মাত্রেই বুঝিতে পারেন। যখন কে সদুপদেশে পরিপূর্ণ, তখন যে শূদ্র, সদুপদেশ পাইবার জন্য সেই বেদ হইতে ৰক্ষিত হইবে, ইহা কখনই হইতে পারে না। এইরূপ সিদ্ধান্ত কেবল বাংপর মনুষ্যদিগের জন্যই প্রকাশিত হয়। দেখ স্বার্থের বশীভূত হইয়া পতিত অন্য ব্রাহ্মণগণ ‘পতিতােহপি দ্বিজঃ শ্রেষ্ঠো ন চ শূদ্রো জিতেন্দ্রিয়।” ইত্যাদি বেদবিরুদ্ধ বাক্য লিখিতেও কুণ্ঠিত হন নাই। পুরাকালে শূদ্রে যে বেদ পাঠ কল্পিত, তাহার প্রমাণ কম ঋষি। ইনি শূদ্রকুলােদ্ভব হইয়াও বেদাদি পাঠ করিয়া ব্রাহ্মণত্ব পৰ্যন্ত কাভ করিঃ ছিলেন। চালকুলােদ্ভব মাতঙ্গ ঋষি মহা বেদজ্ঞ ও চারি বর্ণের পুজলীয় হইয়াছিলেন। নারদ ঋষি দাসীগর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়া, মহা বেদজ্ঞ হইয়া ছিলেন। ছান্দোগ্যপনিষদে লিখিত আছে যে জাবাল ঋষি অজ্ঞাতকুলশীল হইয়াও মহা বেদজ্ঞ ও ব্রহ্মর্ষি হইয়াছিলেন। এরূপ প্রমাণ আমাদিগের শাস্ত্রে ভূরি ভূরি পাওয়া যায়। যাহা হউক উপরােক্ত প্রমাণগুলি দ্বারা বেশ বুঝা যাইতেছে, যে বেদাদি, যে কেহ পড়িতে ইচ্ছা করে, সেই তাহার অধিকারী, তাহাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। এই দেশাস্ত্র মনুষ মাত্রেই জয় পরমের প্রকাশ করিয়াছেন, কোন বিশেষ জাতি বা বর্ণের জন্ম প্রকাশ করেন নাই। বলিতে কি বেদ শাস্ত্রের পঠন পাঠন ও দনুযায়ী আচরণ না করাই, আমাদিগের দেশের বর্তমান অধােগতির একমাত্র কারণ। যত দিন আমরা বেদের আজ্ঞানুযায়ী কর্ম করিতাম, তত দিন ১৩ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার এদেশে ধন, খাদ্য, যশ, ধর্ম ও সৌভাগ্য বিরাজমান ছিল। সে সময় আৰ্যেরা ইহকালে ধর্মযুক্ত পুরুষকার বলে, সুখ সম্পত্তি লাভ করিয়া, দেহান্তে নিঃশ্রেয়সরূপ সিদ্ধি প্রাপ্ত হইতে সমর্থ ছিলেন। বেদাজ্ঞা পালন ভিন্ন মুক্তির আর উপায়ান্তর নাই। সে সময় এদেশে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি উভয়েই মুক্তির অধিকারী ছিলেন। বেদ পাঠে অধিকার । কোন কোন সামাজিক হিশাস্ত্রে লিখিত আছে যে, বেদ পাঠ ওঁকার মন্ত্র বা ব্ৰহ্মগায়ত্রী জপ ও স্বাহা বলিয়া অগ্নিতে আহুতি দিবার অধিকার শূদ্র ওঁ স্ত্রীলােকদিগের নাই। কিন্তু তােমরা গম্ভীর ও শান্তচিত্তে আপনাপন মান অপমান, জয় পরাজয়, সামাজিক মিথ্যা স্বার্থ পরিত্যাগ করিয়া বিচার পূর্বক এ বিষয়ের সারভাব গ্রহণ কর যাহাতে সর্ব অমঙ্গল দূর হইয়া জগতের মঙ্গল হইবে । যাহার ঘরে অন্ধকার আছে, তাহারই অগ্নির প্রয়ােজন; যাহার অন্ধকার নাই তাহার অগ্নির, প্রয়ােজন নাই। সেইরূপ যে ব্যক্তি অজ্ঞান, তাহারই জ্ঞানরূপ আলােকের, প্রয়ােজন। বেদশাস্ত্র পাঠ, গায়ত্রী বা ওঁকার মন্ত্র জপ ও অগ্নিতে আহুতি দিবার যে বিধি আছে তাহা অজ্ঞান অবস্থাপন্ন ব্যক্তিদিগের জন্য, যাহাতে তাহারা অজ্ঞান হইতে মুক্ত হইয়া জ্ঞানমুক্তিস্বরূপ পরমানন্দে আনন্দরূপ থাকিতে পারে, ইহাই অভিপ্রায়। যুক্ত শঙ্করনাথ পণ্ডিত প্রণীত স্ত্রী-শাদির বেদ পাঠ শূদ্রের বেদাধিকার জ্ঞানবান ব্যক্তির জন্য বেদ পাঠ, ব্ৰহ্মগায়ত্রী বা উকার মন্ত্র জপ করিবার প্রায়াজন নাই। কেবল শাস্ত্র পাঠ করিলেই যে প্রকৃত জ্ঞান হয় তা নহে। অজ্ঞান অবস্থাপন্ন শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিরাই না বুঝিয়া বলিয়া থাকেন যে, শূদ্র ও স্ত্রীলােকের ওঁকার ও ব্রহ্মগায়ত্রী জপে ও শাহ বলিয়া অগ্নিতে আহুতি দিবার অধিকার নাই। বেদপাঠ করা জ্ঞান বিস্তারের জন্য। জ্ঞান বিস্তার অজ্ঞান লয় করিবার জন্য অতএব বেদপাঠ অজ্ঞান ব্যক্তির জন্য। শূদ্র অর্থে অজ্ঞান। অতএব বেদপাঠ শুয়ে । জ্ঞান শিক্ষা জ্ঞানীর জন্য নিষ্প্রয়ােজন। ব্রাহ্মণ অর্থে জ্ঞানী অতএব ব্রাহ্মণের জন্য জ্ঞানশিক্ষা অর্থাৎ বেদপাঠ নিষ্প্রয়ােজন। যদি শা অনুসারে বিচার করিয়া দেখ তাহা হইলে জানিযে যে স্ত্রী ও শুদ্রদিগের সকল বিষয়ে অধিকার আছে। যেহেতু শূদ্র অজ্ঞান অবস্থাপন্নকে বলে ও ৰাহ্মণ জ্ঞান অবস্থাপন্নকে বলে। শাস্ত্রে ব্রাহ্মণ কাহাকে বলে ? কে ব্রাহ্মণঃ-ব্রহ্মবিৎ স এব ব্রাহ্মণঃ অর্থাৎ যে ব্যক্তি ব্ৰহ্মকে জগৎময় আ পরমাত্মার স্বরূপ বলিয়া জানেন তিনিই ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ ও ব্রহ্ম একই অবস্থার নাম। “ব্রহ্মবিদ ব্ৰহ্মৈব ভবতি” অর্থাৎ যিনি ব্রহ্মকে জানেন তিনিই ব্রহ্ম। অতএব বিচার করিয়া দেখ বন্ধ প্রাপ্তি অর্থাৎ ব্রহ্মকে জানিবার জন্যই বেদপাঠ ও ব্রহ্মগায়ত্ৰী ৰা ঔকার মন্ত্র জপ করিবার প্রয়ােজন নতুবা অন্য কোনও প্রয়ােজন নাই। যিনি ব্ৰহ্মকে জানেন তিনি অজ্ঞান তাহতেই শূদ্র সংজ্ঞা হয়। তাঁহারই জ্ঞানমুক্তি অর্থাৎ ব্ৰহ্মপ্রাপ্তির জন্য বেদপাঠ ব্ৰহ্মগায়ত্রী ওঁকার মন্ত্র জপ ও অগ্নিতে আহুতি দিবার প্রয়ােজন। এবং তিনিই ইহার অধিকারী। ইহাও সকলের বুঝিয়া দেখা উচিত যে, শূদ্র ও স্ত্রী কাহাকে বলে। যদি স্থূল শরীরকে শূদ্র বা স্ত্রী বল তাহা হইলে সকলের স্থূক্ষ শরীর শূদ্র ও স্ত্রী হইবে, পূৰে পূজা ও বোধিকার পি আত্মাকে শূদ্র বা স্ত্রী বল তাহা হইলে সকলের ইন্দ্রিয় ও আয়া জ ও স্ত্রী। যতদূর পৰ্যন্ত জীবের বোধবােধ বা মনের গতি আছে এবং কাহার দ্বারা বােধাবােধ হইতেছে শাস্ত্রে তাহাকে প্রকৃতি, শক্তি, শিল বল। যে ভাবে বােধবােধ ও মনের গতি নাই অর্থাৎ যাহা প্রকৃতি এবং শক্তির অতীত তাহাকে শাস্ত্রে চৈতন্য বা পুরুষ বলে। অতএব শক্তিবিহীন পুরুষ অনধিকারী, কেননা অক্ষম এবং চেতন স্ত্রী অধিকারিণী, কেননা ক্ষম। স্বরূপ কিছুই পক্ষে স্ত্রী ও পুরুষ কারণ পরব্রহ্মই, কারণ পরব্রহ্ম হইতে পৃথক নহে। অতএব মনুষ্ট মাত্রেরই জ্ঞান, মুক্তি অর্থাৎ ব্রহ্মপদ এপ্তির জন্য উল্লিখিত কৰ্ম্ম করিবার অধিকার ও বিধি আছে; তাহাতে কোন সান্দহ নাই। ইহাও শাস্ত্রে লিখা আছে যে, জন্মনা জায়তে শূদ্রঃ সংস্কারাৎ দ্বিজ উচ্যতে বেদাভ্যাসাৎ ভবেছিপ্ৰাে ব্ৰহ্ম জানাহি ব্রাহ্মণ । ইহার অর্থ এই যে, যখন জীব মাতা পিতার জোৰীৰ্য্য হইতে উৎপন্ন হয় তখন সেই জীবকে শূদ্র বলা হয়, আর যখন সেই শূদ্র জীবের পরমেশ্বর সম্বন্ধয় সৎ সংস্কার হয়, তখন সেই জীবকে দ্বিজ বলা হয়। নিজ অর্থে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় বৈশ্য। এবং যখন সেই জীব বেদপাঠ করিয়া ইন্দ্রিয়কে পরিশুদ্ধ করে ও পরমাত্মতে নিষ্ঠাবান হয়, তখন তাহার নাম বিপ্র হয়। বি অর্থাৎ যাহার তেজ, বল, জ্ঞান ও শক্তি আছে। এবং যখন সেই জয় ব্রহ্মকে জানেন অর্থাৎ তিনি জীবাত্মা পরমাত্মাব সহিত এক ও অভিন্ন হয়ে সেই অবস্থাতে তাঁহাকে ব্রাহ্মণ বলা হয়। আরও লিখা আছে - শূদ্রো ব্রাহ্মণতামেতি ব্রাহ্মণশ্চেতি শূদ্ৰতাং। ক্ষৰিয়াঃ জাতমে বস্তু বিদ্যাৎ বৈশ্যাথৈবচ। ইহার তাৎপৰ্য এই যে শূদ্র, বৈশ্য ও ক্ষত্রিয় যে কেহ শ্রেষ্ঠ কাৰ্য শূদ্রের বোধিকার করিবে, সেই ব্রাহ্মণ হইবে; এক ব্রাহ্মণ কুলে জন্মগ্রহণ করিয়া যদি নিকট কাৰ্য করে তাহা হইলে সেই ব্যক্তি শূঞ হইবে। ক্রমাগবতেও লিখিত আছে যথা :- বিচ্ছি ষড়গুণযুতার বিন্দভ পাদাখিল বিমুখাৎ খপচে বরিং। ময়ে তদর্পিতমনােবচনে হিতার্থং প্রাণং পুনাতি সকুলং অতু দুরিমানঃ | ইহার তাৎপৰ্য এই যে, যি যে ব্রাহ্মণ তিনি যদি জ্ঞান, সত্য, দম, শাজ্ঞান, অমাৎসৰ্য, লজ্জা, ক্ষমা, ক্রোধ, যজ্ঞ দান, ধৈৰ্য, শম নার গুণ সম্পন্ন হইয়াও বিষ্ণুভগানে অর্থাৎ পুর্ণপরব্রহ্ম জ্যোতিস্বরূপ আত্মা শুরুতে নিষ্ঠাভক্তি যুক্ত না হন, তাহা হইলে তিনি চণ্ডাল হইতে অধম। পৃথিবীও তাহার ভার সহ করতে অক্ষম। এবং যিনি চল হইয়াও আপনার তনু, মন, ও ধন ইত্যাদি বিষ্ণু ভগবানে অর্থাৎ পূর্ণপরব্রহ্ম জ্যোতিরূপ গুরু আত্মতে প্রেম ভক্তি সহকারে অর্পণ করেন সেই ব্যক্তিই যথার্থ ব্রাহ্মণ ও তিনিই শ্রেষ্ট এবং তিনিই সকল বিষয়ের অধিকারী। তিনি আপনাকে ও নিজ কুলকে পবিত্র করিয়া জগতের কাল করেন। পৃথিবীও তাহার গুণ প্রসন্ন হইয়া তাহাকে বহন করিতে আনন্দ পান । যজুর্বেদে লিখা আছে- যথেমাং বাচং কল্যাণ মাবদানি জনেভ্য । ব্ৰহ্মরাঙ্কন্যাভ্যাং শূদ্রায়চাৰ্য্যায় চম্বয়ায়চারণা। অধ্যায় ২৬২ ইহার ভাৰাৰ্থ এই যে, আমি অর্থাৎ ব্ৰহ্ম এই যে কল্যাণকর বাক্য শূন্দ্রের পূজা ও বেদাধিকার কহিতেছি ইহা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র অাত্মীয় অনাত্মীয় প্রভৃতি সকলে গ্রহণ করিবে, অর্থাৎ সকলেই বেদ পাঠে বেদের সার ভাবকে গ্রহণ করিয়া শ্রেষ্ঠ কাৰ্য করিবে। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এবং শূদ্র হইতেও অতি শুদ্রচণ্ডাল প্রভৃতি-স্ত্রী ও পুরুষ সকলেই বেদ শাস্ত্রাদি পাঠের দ্বারা তাহার সার ভাবার্থ গ্রহণ করিয়া ব্যবহারিক ও পারমার্থিক উভয় বিষয়ে শ্রেষ্ঠ কাব্য করিবে, ইহাতে কোন বাধা নাই। এবং ওঁকার মন্ত্র জপ ও ব্রহ্মগায়ত্রী অর্থাৎ পূর্ণপব্ৰহ্ম জ্যোতিস্বরূপ আত্মাগুরুকে উপাসনা করিবে। তাহাকে জানিবার জন্য যে জ্ঞান উপার্জন করা তাহাকেই বেদ পাঠ বলে অর্থাৎ জ্ঞানের নামই বেদ। যে শাস্ত্রে সত্য বাক্য আছে, যিনি সত্য বলে। তাহাকেই বেদ জানিবে। সেই এক অদ্বিতীয় জ্ঞান তােমাদের ভিতরে বাহিরে ওঁকার প্ৰণৰ ব্ৰহ্ম জোতিস্বরূপ চন্দ্রমা সূৰ্যনারায়ণ পরিপূর্ণরূপে বিরাজমান আছেন। এইরূপ সকল বিষয়ে বুঝিয়া লইবে। দ্বিতীয় কে সত্য নাই, হইবে না, হইবার সম্ভাবনা ও নাই। ইহা খুব সত্য সত্য জানিবে।

ওঁ শান্তি। পরমার্থে অধিকারী অনধিকারী। পারমার্থিক বিষয়ে কাহারও অধিকার, কাহারও অনধিকার কল্পিত হওয়ায় নানা অমল উৎপন্ন হইয়াছে। এক এক নামে পরমাত্মাকে ডাকিতেছেন, কেহ অপর নামে ; কেহ এক প্রকার রূপ কল্পনা করিতেছেন, কেহ অপর প্রকার। যিনি যে নাম-রূপ অবলম্বন করিষা উপাসনা করেন তিনি অন্য নামৰূপ নির্দেশকের সহিত একমত হইতে পারিতেছেন না। উভয়েই বিবাদ অশান্তিতে কালাতিপাত করিতেছেন। যাঁহার যে ক্রিয়াতে সংস্কার পড়িতেছে তিনি সেই ক্রিয়াতে যাহাদের অধিকার কল্পিত হয় নাই তাহাদিগকে নাস্তিক, পাষণ্ড, অধাৰ্মিক প্রভৃতি বোধ করিতেছেন। ফলে পরস্পর দ্বেষ হিংসা বশতঃ সকলেই ইষ্টভ্রষ্ট ও পরস্পর শত্রু হইয়া নানা দুঃখ ভােগ করিতেছেন। ইহার মূল কারণ অধিকারী অনধিকারী কল্পনা। কিন্তু সকলেরই সৎপথে অর্থাৎ পরমার্থ প্রাপ্তির পথে অধিকার আছে এবং সৎপথ এক ভিন্ন বহু নহে। কারণ এক সত্য হইতেই স্ত্রী-পুরুষ জীবসমূহের উৎপত্তি। এরূপ ধারণ করিলে বা সৎপথে চলিলে সকলেই সুখ শান্তিতে জীবনযাত্রা নির্বাহ করিতে পারিবেন। অতএব বিচার করিয়া দেখুন যে, পারমার্থিক বিষয়ে অধিকার অনধিকার ব্যর্থ ও পক্ষপাতপরায়ণ মনুষের কল্পিত, কি পরমেশ্বর নির্দিষ্ট? পরমেশ্বর যে জীবকে যে অধিকার দিয়াছেন তাহার কোন : মতে কেহ অনুধা করিতে পারে না। যেমন জলজন্তুর জলে বাস করিবার ১৪ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার অধিকার ও খেচর জীবের আকাশে বিচরণ করিবার অধিকার। সহস্র চেষ্টা করিলেও খেচর জীব জলচর হইবে না। এইরূপ বিচারপূর্বক সকল বিষয়ে ঈশ্বর অধিকার বুঝিবে। পরমেশ্বর যাহাকে যে বিষয়ে অনধিকারী করিয়াছেন তাহার সে বিয়ের কোন প্রয়োজন থাকে না। যেমন খেচর জীবের জলে বাস করা অনধিকারও বটে এবং নিষ্প্রয়োজনও বটে । এবং সে অনধিকার বশতঃ উহার কোন হানি লাভ নাই। ঈশ্বরনির্দিষ্ট অধিকার সম্বন্ধে মনুষের বিধি নিষেধের স্থল নাই। বিধি দিলেও অনধিকার অধিকার হইবে না, মিষেধ করিলেও অধিকার অনধিকার হইবে না। ঈশ্বরনির্দিষ্ট অগ্নির যে প্রকাশগুণ, মনুষের বিধি নিষেধের দ্বারা তাহার কোন ব্যতিক্রম ঘটিবে না। এইরূপ সৰ্বত্ৰ বুঝিবে । কিন্তু ধৰ্ম্ম বা ঈশ্বর সম্বন্ধে অধিকার অনধিকার থাকিতে পারে না। কেননা তাহাতে সকলেরই প্রয়ােজন। ইহাকে ত্যাগ করিলে কাহারও হিত হয় না। এ নিমিত্ত তাহার সম্বন্ধে সকলেরই অধিকার আছে। আর একটি কথা স্থিরভাবে বুঝিবে। তােমাদের মনুষ্য ব্যবহারে অধিকার অনধিকার কিসে ঘটে তােমাদের স্বার্থ আছে বলিয়াই অধিকার ও অনধিকার বােধ হয়। তুমি মনে কর যে, এই ক্ষেত্র বা বাগান তোমার নিজের, পরমাত্মার বা অপর কাহ'বও নহে। ইহার ফল ভাণ করিতে তােমারই অধিকার, অপরের নাই। কিন্তু এই জগতের মধ্যে কে এমন গাছে যে তাহার ঈশ্বরে স্বত্বাধিকার জন্মিতে পারে ? তাহাকে কি কেহ ঠিকা বন্দোবস্ত করিয়া লইয়াছে যে তাহার বিনা অনুমতিতে অপর কেহ ইয়ের নিকট আসিতে পারিবে না? এইরূপ ব্যবশতঃ তােমরা যে ক্ষেত্র বা বাগান আপনার বলিয়া ?

ক্সের বেদাধিকার জান, তাহাতেই জল ৰাওকিন্তু ঈশ্বরে আত্ম-পর ভেদ নাই। তিনি যখন জল বর্ষণ করেন তখন সৰ্ব্ব স্থানেই করেন। সেইরুপ সমদৃষ্টি সম্পন্ন জ্ঞানবান ব্যক্তি যাহাতে সকলেরই পরমানন্দ প্রাপ্তি হয়। সেই উদ্দেশ্যে পুরুষ মাষ্য মাত্রকেই আপনার বা পরমাত্মার স্বরূপ জানিয়া নিঃস্বার্থভাবে সৎপথে লইতে যত্ন করেন, কাহাকেও সৎ হইতে বিমুখ করেন না। তিনি জানেন যে, যে বা ধর্ম ওঁকার মন্ত্র অর্থাৎ পুর্ণ পরব্রহ্ম জ্যোতিরূপ পরমাত্মা সকলেরই সমান। তিনি সকলেরই আত্মা ও প্রিয়, তাহাতে কাহারও অধিকার নাই। ঈশ্বর বা জ্ঞানবান ব্যক্তি সর্ব সাধারণের হিতের জন্য শাস্ত্র রচনা করেন ও সদুপদেশ দেন, বিশেষ কাহারও জন্য নহে। যে শাস্ত্রে বা উপদেশে ইহার বিপরীত লক্ষণ দেখিবে তাহার কৰ্ত্তা ঈশ্বর বা সমদশী জ্ঞানী নহেন স্বার্থপর মনুষ্য হইতে তাহার উৎপত্তি। ইহা ধ্রুব সত্য। ভাবিয়া দেখ এক মাতাপিতার দশ পুত্রকন্যার মধ্যে সকলেই যপি শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্বক মাতাপিতার আজ্ঞা পালন করে বা তাহাদিগকে মাতা পিতা বলিয়া ডাকে, তাহাতে মাতাপিতা প্রসন্ন হইয়া পুত্র কন্যার মঙ্গল সাধন করেন, না, অসন্তুষ্ট হইয়া তাহাদিগকে দণ্ড দেন? জ্ঞানবান পুত্র কন্যা ইহা দেখিয়া অধিকতর আনন্দিত হন যে, “আমরা সকল ভাই গুণী মিলিয়া শ্রদ্ধা ভক্তিপূর্বক আপন মাতা পিতার আজ্ঞা প্রতিপালন ও নাম উচ্চারণ করিতেছি।” কেবল কুপাত্র পুত্র কন্যাই নিজেও এরূপ করে না এবং অপরকেও করিতে নিষেধ করে। পুত্র কন্যারূণী তােমরা জগতের শ্রী পুরুষ। ববদমাতা কার অর্থাৎ সাকার, নিরাকার পর জ্যোতিৰূপ ফিক পুরুষ মা লুনাক্ষণ মাতাপি। এই টি পুরুষ ওঁকার হইতে সমস্ত জগতের স্ত্রী-পুরুষের স্কুল কারীর গঠ শূন্দ্রের পূজা ও বেদাধিকার হইয়া ওঁকার রূপই বহিয়াছেন এবং অন্তে ইহাতেই লীন হইয়া পুনরায় প্রকাশ পাইতেছে। এইরূপ স্বতঃপ্রকাশ প্রবাহ অনাদিকাল চলিয়া আসিতেছে। তােমা জগদ্বাসী শ্রী পুরুষ সকলে শ্রদ্ধা ও ভক্তি পূর্বক জগতের মাতাপিতা জ্যোতিস্বরূপ বিরাট পুরুষের আজ্ঞা পালন করিবে এবং ও সৎগুরু এই মন্ত্র যে তাহার নাম তাহা সর্বদা অধিকাৰী অনধি- কারী বিষয়ে দ্বিধাশূন্য হইয়া ভক্তি প্রতি পূর্বক প্রাণ বায়ুর সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ মনে মনে জপিবে। তিনি মঙ্গলময়, সর্ব বিষয়ে মঙ্গল করিবেন। রামচন্দ্রের শূদ্র তপস্বী বধ রামচন্দ্র বা ঈশ্বর শূদ্র তপস্বীকে হত্যা করিয়া মনুষকে অকাল মৃত্যু হইতে রক্ষা করেন। ইহার যথার্থ ভাব না বুঝিয়া অজ্ঞনা লােকে স্বার্থবশতঃ সত্য হইতে ভ্রষ্ট হইয়া নানা কষ্টভােগ করিতেছে। এস্থলে মনুষ্য মাত্রেরই বিচার পূর্বক বুঝা উচিত যে, এক পক্ষে হিন্দু আৰ্য্যগণ রামচকে পূর্ণপরব্রহ্ম বলিয়া মান্য করেন ও অপর পক্ষে তাঁহারাই বলেন যে রামচন্দ্র শুদ্ৰজ্ঞানে তপস্বীকে বধ কবিলেন ; তাহাতে দেশে অকাল- মৃত্যু বন্ধ হইল। আরও বলেন যে, তিনি সেতুবন্ধ রামেশ্বরে শিবলিঙ্গ স্থাপন, সীতা দেবীর জন্য ক্রন্দন ও শ্রাদ্ধাদি কাৰ্য করিয়াছিলেন। এস্থলে বিচার পূর্বক দেখা উচিত যে, যিনি পূর্ণসরব্রহ্ম শুদ্ৰ সংজ্ঞা কি ঘঁহার অন্তর্গত নহে। এক পূর্ণ বা সত্য ব্যতীত দ্বিতীয় সত্য ক্ষুদ্র তাঁহার অন্তর্গত বা বহির্ভূত কোথা হইতে আসিল? এ জ্ঞান রামচন্দ্রে ন খুদ্রে বোধিকার কি ছিল না, যে আমারই কল্পিত নাম শিব অথবা স্ত্রী পুরুষ জীব সমূহেরই নাৰ শিবলিঙ্গ? কারণ লিঙ্গ, সূক্ষ্ম লিঙ্গ, স্কুললিঙ্গ, স্ত্রী, পুরুষ জীবসমূহ চরাচরকে লইয়া অনাদি পূর্ণলিঙ্গ যাহার উদ্দেশ্যে সৰ্বায় ক্ষিতিয়ে যদি পঠিত হয় তাহাকে কি তিনি চিনিতেন না যে সেতুবন্ধ রমেশ্বরে অষ্ট ধাতুতে নিৰ্মাণ করিয়া শিবলিঙ্গ পূজা করিবেন ? সতী যে সীতা সাবিত্রী জগজ্জননী সৃষ্টি পালন সংহারকারিণী পরব্রহ্মের স্বরূপ পক্ষের শক্তি, অন্তরে বাহিরে সর্বত্র পূর্ণরূপে বিরাজমতী, এ জ্ঞান কি তাঁহার ছিল না ? তিনি কি জানিতেন না যে, শক্তি ছাড়া পরব্রহ্ম নাই ও পরব্রহ্ম ছাড়া শক্তি নাই। পরব্রহ্মই শক্তি ও শক্তিই পরব্রহ্ম, যাহার চরাচর কোন স্থানে ছেদ নাই। তাহার অতিরিক্ত দ্বিতীয় সত্য নাই যে একটা রামচন্দ্র সত্য, দ্বিতীয় ব্ৰহ্ম সত্য, তৃতীয় সত্য তাহার শক্তি সতী সীতা সত্য ও চতুর্থ রাবণ ও সীতা হরণ সত্য ও শূদ্র সত্য হইবেন। বিষয়ে রামচন্দ্রের কি জ্ঞান ছিল না যে, ত্রিনি সীতার জন্য কঁদিয়া ছিলেন ? সত্যের জন্য সত্য কঁাদিয়াছিলেন, না, মিথ্যার জন্ধ মিথ্যা কাদিয়াছিলেন ? তিনি যদি সত্য পরব্রহ্ম হন তাহা হইলে এই সকল কাৰ্যগুলি অজ্ঞান স্বার্থপর লােকের কল্পিত রচনা জানিবে ! রামচন্দ্র কখনও এরূপ অজ্ঞানের কাৰ্য করেন নাই, করিবেন না--ইহা অসম্ভব। ইহা সমদর্শী জ্ঞানবান ব্যক্তির কাৰ্য্য নহে। যদি তিনি এরূপ কাৰ্য্য করিয়া থাকেন তবে ইহা নিশ্চিত যে তিনি অবতার, পূর্ণপরব্রহ্ম, সমদর্শী বা জ্ঞানী ছিলেন ১। তিনি মূখ জীবসংজ্ঞক হইয়া মুখের ন্যায় কাৰ্য্য করিয়াছিলেন। পরব্রহ্মের উৎপন্ন সামান্য মনুষ্য সমদর্শী জ্ঞানী এইরূপ কাৰ্য্য কখনও করিবেন না ও এসমস্ত কথায় বিশ্বাস পর্যন্ত করিবেন না। কেননা তিনি জানেন যে, সমস্তই আপন আত্মা পরমাত্মার স্বরূপ।

৪৪ পূজের পা ও বেদাধিকার তিনি এয়ং পরব্রহ্ম হইয়া কি প্রকারে এইরূপ অজ্ঞানের # করিবেন? সমদশী জ্ঞানী যদি জী বধ কারন অহা হইলে জীসমূহকে এভাবে বধ করিবেন ও যদি বক্ষা করেন তাহা হইলে সমভাবে অপু আগ পরমাত্মার স্বরূপ জানিয়া রক্ষা করিবেন। তিনি জানানেদেখিলে যেরূপ কোটা কোল পিপীলিকাকে বধ কহিলে পাপ পুণ্য হয় না হয় না সেই ব্রাহ্মণ সন্ন্যাসী গুরুর গুক কোটী কোটী বধ কৰিলেও হয় বা হ কেননা জীর সমূহ চেতন, অ৷ি পরমাত্মার স্বরূপ। বামচন্দ্রের বিষয় কোন অজ্ঞানান্ধ ব্যক্তি নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য উপরােক্ত ভাবে লিখিয়াছেন। অভিপ্রায় এই যে, লােকে জানিৰে । যখন অত বড় অবতার হইয়া তপন্থী শুদ্রকে বধ কবিবেন তখন আমরা শূদ্রের প্রতি সেইপ ব্যবহার করিব। আধুনিক কোন শূদ্র যদি সৎধৰ্ম্মে নিষ্ঠাবান হইয়া শ্রেষ্ঠ কাৰ্য করেন তাহা হইলে জ্ঞানলাভে মুক্ত রূপ হইয়া স্বাধীন হইবেন। তখুন কান চক্ষে দেখিবেন যে, আমরা শূদ্র নহি, আমরা পরব্রহ্ম হইতে হইয়াছি পবব্রহ্মেরই স্বরুপ, শুদ্ৰাদি নাম কল্পনা মাত্র। স্ত্রী পুরুষ মনুষ্য মধ্যে যিনি সমদশী জ্ঞানী তিনিই ব্রাহ্মণ, আৰ্য শ্রেষ্ঠ, পবিত্র ও যে স্ত্রীপুরুষ সত্য হইতে বিমুখ সেই পয়নিক, প্রপক্ষী, অজ্ঞানাফস্থাপন্ন শুদ্র, অন্য জানিবে । এইরূপ বুঝিয়া আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে ভাব গ্রহণ কর। সমী রামচন্দ্র পূর্ণব্রহ্ম জ্ঞান অহংকার প্রপঞ্চ স্বার্থপরতা পরনিন্দা অজ্ঞান শূদ্রসজ্ঞৰু তপস্বীকে বধ করিষা জীব ব্রহ্মের ভেদরূপ মৃত্যু হইতে জীবনে জন করেন বা করিয়াছিলেন। বহু অন হ্রাহ্মণে, এবং তাঁহাদেরই শিক্ষায় শিক্ষিত শূদ্র ভ্রাতাগণের পরমহং শিৰনাৱা শী এলগায় নিত্য জিয়া।

কে গায়ত্রীর অধিকারী। ধারণ-পূদ্রের গায়ত্রী উচ্চাঙ্গণে ও জপে অধিকার নাই। আমরা ইহা যুক্তি যুক্ত মনে করি না। আমি বলি, তােমর প্রাণ ভরিয়া বল ওঁ ভূর্ভুবঃ তৎসবিতুর্বরেণ্যম্ভর্গোদেবস্য ধীমী ধিয়োয়ােনঃ প্রচোদয়াৎ। গায়ত্রীর অধিকারী ? পঞ্চ-ভাবকেলিত করিয়া দেবত্বে উপনীত হওয়া যখন গায় উদ্দেশ্য, নীচপ্রবৃত্তিকে দমন করিয়া যখন কর্তব্যবােধকে উজ্জ্বল করা হয় কাৰ্য্য, তমঃ ও রজোগুণকে খর্ব করিয়া সত্বভাবের প্রাধান্য সংস্থাপন করা যখন গায়ত্রীর লক্ষ্য, তখন কে যে ইহার উপযুক্ত অধিকারী, তাহা বি করা অধিক দুরূহ নয়। আর্য-শিশু, পবিত্ৰচেতা ধীশক্তিপ্রভ আচার্যের পৰিত্ৰ সংস্পর্শে জ্ঞানােগমের প্রারম্ভেই গায়ত্রীর উপকারিতার উপর করিতে পারিত সত্য, কিন্তু এখন আর সে কাল নাই, সে আচাৰ্য নাই সেরূপ নিক্ষঙ্ক আৰ্যশিশুও নাই। সামাৱিক, রাজনৈতিক, বৈষয়িক নানা বিবিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে অৰ্য্যহৃদয়ও এখন অনেক পরিমাণে সুভাষ চ্যুত হইয়াছে। এই স্বভাব-চ্যুতিবশতঃ গায়ত্রী-দীক্ষা এখন অপেক্ষাকৃত কঠিন ব্যাপার হইয়াছে। বৈদিকযুগের সহিত বৰ্তমানযুগের তুলনাই হয় না। তখনকার লােক যােগী, এখনকার লােক ভোগী। তখনকার প্রায় আত্মজ্ঞানী, এখনকার ব্রাহ্মণ আত্মাভিমানী। তখনকার ক্ষত্রিয় স্বদেশ রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করিতেন, এখনকার ক্ষত্রিয় স্বদেশ বা খাশে লােকের মঙ্গলের বিষয় বিস্মৃত হইয়া ষড়রিপুর পরিপোষণের জন্য অম্লানবদনে আৰ্য জীবন উৎসর্গ করিতেছেন। তখনকার বৈশ্য দেশের ঐ সৌন্দর্যে উন্নতিকল্পে-বাণিজ্য ব্যবসায় ও কৃষিকার্যে প্রবৃত্ত হইতেন, এখন বৈশ্য দেশের সর্বনাশ করিয়া আপনার ভোগবিলাস চরিতার্থ করিবার খুজে পায় ও বোধিকার এ সততই উন্মুখ। এখনকার আৰ্যকুলের ভাৰ দেখি বােধ কয়, যেন মুক্তিবায়িনী গায়ত্রীর আর তাহার অধিকারী নন। যে ধীশক্তিকে উল করিবার জন্য গায়ত্রীর প্রয়ােজন, সেই ‘ধীশক্তিটুকু সামাজিক, রাজনৈতিক, ও বৈষয়িক বিপ্লবের মধ্যে যেন আৰ্যহৃদয় হইতে চিরকালের জন্য বিদায়গ্রহণ করিয়াছে। সামাজিক শ ৯ লটক, চ সময় খাতিরেই হউক, সাংসারিক সুখসচ্ছলতা অহত থাকিবে এই প্রত্যাশায়ই হউক-অধিকাংশ লোক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে অন্যূন দুই চারি মিনিট গায়ত্রী উচ্চারণ করিয়া থাকেন সত্য, কিন্তু তাহাতে তাহাদের বুদ্ধির শুদ্ধি হওয়া দুরে থাকুক, বুদ্ধির উপর কপটতা ও আভিমানরূপ আর একখানি অশুদ্ধির আবরণ পড়িতে দেখা যায়। ভােগাসক্ত কপটা- চারী, যেমন মনের মধ্যে ভােলালসা চরিতার্থ করিয়া দিনান্তে একবার পতিতপাবন ভগবানকে স্বরণ করিয়া যাবতীয় পাপ হইতে মুক্ত হইতে চায় ; শতপাপে অপরাধী ব্যক্তি যেমন সমশুদিবানিশি পাপাচরণ করে ও প্রাতঃকালে গঙ্গাখান করতঃ পুর্বদিনের সঞ্চিত পাপ হইতে মুক্ত ইবার চেষ্টা করিয়া থাকে, বর্তমানযুগের গায়ত্রী পাঠকেরা সেইরূপ দোযে খালাস হইবার জন্য এক এক বার গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চাৰণ করিয়া থাকে। সত্য কথা বলিতে গেলে গায়ত্রী পাঠকের স্কন্ধে সকল দোষ চাপাইলে চলিবে না। তাহারা অবশ্য বলিতে পারেন, যে, বৈদিক যুগের এত তঁাহারা ত আর গায়ত্ৰীমন্ত্রে দীক্ষিত হন নাই, যে, গায়ত্রীর প্রকৃত তাৎপৰ্য্য গ্রহণপূৰ্ব্বক গায়ত্রীব প্রদর্শিত নিয়মাবলীর অধীন হইতে পারি- নেন। এখন বিষয় সমস্যা। এই দোষটি কাহার ঘাড়ে চাপান যায় ? অনেক ভাবিয়া চিলিয়া যদি কাহাকেও দোষী সাব্যস্ত করিয়া তাহার স্কন্ধে দোষটি চাপাইবার চেষ্টা করা যায়, তাহা হইলেও নিস্কৃতি নাই; কারণ ;

} কে গায়ত্রীর অধিকারী? সকলেই গড়ি’ দিবার অধিকার আছে। সুতরাং এ অবস্থায় দেবীর অনুসন্ধানে সময় নষ্ট না করিয়া দোষ নিরীকরণের চেষ্টা করাই আবক বােধ হইতেছে। আৰ্য হৃদয়ে যাহাতে আবার ধীশক্তি পুনর্জীবিত হয়, তাহার জন্য সাধ্যমত উপায় অবলখন করিতে হইতেছে। যে সত্যাশােক পরিচালিত হইয়া পূজাপা মহর্ষিগণ যুদয় ভূমণ্ডলের শিক্ষাগুরুপদবাচ্য ইয়া, সেই সত্যালােক অন্বেষণার্থ প্রাণপণে চেষ্টা করিতে হইতেছে। যে কর্তব্যবােধের বশবর্তী হইয়া তাহারা অমর হইয়াও মর্ত্যলোকের মঙ্গলের অন্য দিবানিশি খাটিয়াছেন, সেই বাবােধের অনুষী হইয়া এখন সত্যপ্রিয় ব্যক্তিমাত্ৰকেই আৰ্যজাতির পুনরূদ্দীপনের জন্য বদ্ধ পরিকর হইবার প্রয়ােজন হইতেছ। বৃদ্ধ, যুব, বালক সকলকেই বৈদিক যুগ এয়ণ করিয়া-বৈদিক ঋষির নাম লইয়া কয় সত্যের জয় বলিয়া ভারতে পুনরায় বেদাধ্যয়ন ও বেদাধ্যাপনের পুনঃপ্রবর্তন করিতে হইতেছে। বেদ- শিক্ষা-প্রভাবে আৰ্য হৃদয় সংস্কৃত হইলে, বেদের সত্যালােক, বহুকালপাে- ষিত ভােগেচ্ছা, স্বার্থপরতা ও অজ্ঞানতা আৰ্যের অন্তর হইতে বিদূরিত করিলে ক্রমে আবার আৰ্য হৃদয় গায়ত্রী-দীক্ষা গ্রহণে অধিকারী হইবে। নিরাশ না হইয়া যথাসাধ্য চেষ্টা করিলে, নিশ্চয়ই উপস্থিত-দুর্দশা হইতে মুক্ত হইতে পারিব, এই আশা করিয়া সকলে সমবেত চেষ্টা করা উচিত। চেষ্টার অসাধ্য কিছুই নাই। এক একটু করিয়া আমাদের ত্যাগ স্বীকার করিতে হইবে। এক একটু করিয়া অহঙ্কার ও অভিমান ছাড়িতে হইবে। এক এক একটু করিয়া ভারতের গৌরব--সমুদায় ভূমণ্ডলের ও সভ্যজগতের ভক্তিভাজন আর্যাবর্তের মহর্ষিগণের সত্যানুরাগ ও বিশ্বপ্রেম হৃদয়ঙ্গম করিতে হইবে। বেদ কুসংস্কারের পরম শত্রু, অজ্ঞানতা, সত্যতা ইহার নিকট তিষ্ঠিতে পারে না! সমুদয় দর্শনশাস্ত্র, স্মৃতি, পুরাণ প্রভূতি ১৪ শূদ্রের পূজা ও বোধিকার যাবতীয় আৰ্যশাস্ত্র বেদের আলােকেই আলােকিত ; সুতরাং বেদের অনুমােদিত অর্থেই আর আর আশাস্ত্রের পবিত্রতা ও উপকারিতা। আধুনিক যাবতীয় উপধৰ্ম্ম ও কুসংস্কারপূর্ণ নীতি ও ধর্মমতের সহিত সনাতন কোন সম্বন্ধ নাই। আমাদের মধ্যে কোন কোন সম্প্রদায় যে বেদের নামে ভীত হন তাহার কারণ এই যে তাহারা জানেন বেদের জ্বলন্ত সত্য ও প্রকৃত জ্ঞানতত্ত্ব প্রচারিত হইলে, তাহাদের স্বার্থের ও মান সঞ্জমের বিশেষ হানি হইবার সম্ভাবনা এবং অজ্ঞান কুসংস্কারাপ লােক তাহাদের সৃষ্ট নানা বিভীষিকার হস্ত হইতে মুক্ত হইলে ভবিষ্যতে অর্থাগমের অসুবিধা। ঋষিবংশীয় হইয়াও যদি স্বার্থের জয় তাহাদের ঈদৃশ জঘন্য কাৰ্য্যে মতি হয়, তবে তাহাদিগের প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরােধ, যেন তাহারা একবার ভারতের বর্তমান দুরবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করেন ও প্রাচীন ভারতের সহিত তুলনা করেন। তাহাদের হৃদয়ে যদি কণামাত্র দয়া মায়া থাকে, তবে তাহা নিশ্চয়ই অনুতপ্তচিতে আপনাদের স্বার্থে জলাঞ্জলি দিয়া যেদের সত্যপ্রচারে সহায়তা করিধেন। বেদপাঠ না করিলে আৰ্যভাব লাভ হয় না, সুতরাং সত্যের প্রকৃত আদর করিতে সক্ষমতা জন্মে না। অজ্ঞান লােক, বেদে অগ্নি ও ইন্দ্র পূজা বই আয় কিছু খুঁজিয়া পান না। ইহার ছত্রে ছত্রে যে গভীর ভৌতিক, জৈবিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সত্য নিহিত আছে, সে সকল হৃদয়ঙ্গম করিবার জন্য প্রত্যেক আৰ্যসন্তানকে হিন্দুসন্তানকে ভারতে পুরাতন যুগকে পুনরানয়ন ও পুনরুত্থান জন্য চেষ্টা করিতে হইবে; এরূপ করিলে আশা করা যায়, ভারতে আবার পূর্ব গৌরব ফিরিয়া আসিবে এবং ভারত-মাতার মুখােজ্জল হইবে। অতত্রব উষ্ঠিত জাগ্রত প্রাপ্যৰৱাৰিােধ। এখযিকুমার ঘােষ, শাস্ত্রী। তপােবন, মাঘ, ১৩২১।

কে গায়ত্রীর অধিকারী ? *** পরমার্থ সাধনের পক্ষে বেদাধ্যয়নের নিষেধ কাহারও প্রতি নাই। যদ্যপি স্ত্রী শূদ্র দ্বিজ বন্ধুনাং ত্রয়ী ন ক্ষতি গােচরা” এই শাস্ত্র আছে, কিন্তু তাহার তাৎপর্য তুমি যাহা শুনিয়াছ তাহা নয়। ঐ বচনের অভিপ্রায় এই স্পষ্ট জানা যায়, যে স্ত্রী, শুভ্রাদি, কেবল বেদার্থ হৃদয়ঙ্গম করণে অশক্ত প্রযুক্ত বেদপাঠে অনধিকারী হইয়াছে, ইহা ভিন্ন স্বভাব সিন্ধ কোন দোষ তাহার কারণ নহে। অম্মদ বিবেচনায় ঐ নিষেধ ভকর বােধ হয়, কেননা শাস্ত্রে যাহার ব্যুৎপত্তি নাই, সে ব্যক্তি বেদাধ্যয়ন করিলে তাদৃশ অনিষ্ট ঘটিবার সম্ভাবনা, যাদৃশ কোন মুঢ়জনে চিকিংস কাভিমানী হইয়া স্বল্প রােগে বিষ প্রয়ােগ করিলে হয় । এ বিষয়ে একটি উদাহরণ প্রদর্শন করাইলেই যথেষ্ট হইতে ‘ারে। বেই বলিয়া দেন আত্মৈব দেবতাঃ সৰ্বা” অর্থাৎ আত্মাই সৰ্ব্ব দেবতা, আত্মাতিরিক্ত দেবতা নাই। শাস্ত্রানভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ঐ ক্ষতি শ্রবণ করিলে তাহার তাৎপৰ্য গ্রহণ অক্ষমতা হেতু বেণ রাজার ন্যায় স্বদেহকেই পূজ্য জ্ঞান করা ব্যতীত আর কিছু সম্ভব হইতে পারে না। ভারতবর্ষে সভ্যতা- সম্ভে মনুষের গুণ ভেদে তাহাদিগের বৃত্তি নিরূপণ করিবার প্রয়োজন হইয়া, সেই সেই বৃত্তি অনুযায়ী শ্রেণীর উৎপত্তি হইয়াছিল। তদনুসারে তমােণ প্রধান অর্থাৎ মূঢ়জন শুদ্ৰজাতি বদ্ধ হইয়া, অপর তিন বর্ণের দাস্যোপঞ্জীবি প্রাপ্ত হওন পূৰ্ব্বক সেই কৰ্ম্মই নিৰ্বাহ করিত, এবং স্ত্রীলােকদিগের মধ্যে কঠিন বিদ্যাভাসের প্রথা কখনই নাই, অপিচ বেদপাঠ ও তপস্যাদি যে ব্রাহ্মণ ধৰ্ম্ম তদকরণে বর্জিত যে ব্রাহ্মণ সন্তান তিনিও বোর্থ বুঝিতে অক্ষম, সুতরাং ঐ বিবিধ ব্যক্তির প্রতি বেদাধ্যয়ন ও বেদ শ্রবণ নিষিদ্ধ যে হইয়াছে, তাহা উচিত কাৰ্য্য বটে, কিন্তু ইহা অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে যে যদি কোন স্ত্রী বা শূদ্র স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠতা এবং শুক্রের পূজা ও বোধিকার সাধারণ বিদ্যা উপার্জন দ্বারা বিজগণের তুল্য বােদাৰ্থ হয়ঞ্জনে সক্ষম হয়, তবে তাহায় সম্বন্ধে ঐ নিষেধ বলন নহে, ইহার ভূরি ভূরি প্রমাণ বেদ পুরাণে আছে। বিহুৰ শুদ্র এবং গাগী ও দেবদুতি খ্রীলােক হইয়াও ঋষিদিগের নিকটে ব্ৰহ্মজ্ঞান প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, দেবর্ষি নারদ মানব দেহে দাসীপুত্ৰ থাকিয়া ঋষি চতুষ্টয়ের সেবা করিয়া তাঁহাদিগের নিকট ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, এমত ভাগবতের প্রথম স্কন্ধে ব্যাস নার সংবাদে লিখিত আছে। আমি বােধ করি যে এতৎকথনের প্রয়ােজন যে শ্রুতি পাঠ ব্যতীত ব্রাহ্ম জ্ঞানােপদেশ সম্ভবে না, তথাপি ভবিষ্যোর পুরাণের চতুর্থ অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ যে উক্তি করিয়াছেন তনুল্লেখ করিতেছি যথা “বেদাধ্যয়নেই সংসার নিবৃত্তি হইয়া থাকে। (১) কিন্তু আমার কথার তাৎপৰ্য এমত নহে যে কোন শত্ৰ ধীয় উপ- জীবিকার নিমিত্ত বেদাধ্যয়ন করিতে পারেন, কেননা তাহাতে ব্রাহ্মণের জীবিকা হরণ করা হয়। শান্তার্থ প্রচার, যজ্ঞাদি সম্পাদন এবং উপাসনাদির উপদেশ করিবার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিসমূহের নিতান্ত প্রয়ােজন এবং তাহাদিগের সাংসারিক ব্যয়ােপযােগী অর্থেরও আবশ্যক। খৃষ্টধর্মাবলী দেশে রাজব্যবস্থা ক্রমে প্রতি ব্যক্তিকে । স্ব উপার্জনের দশমাংশ ধর্মোপদেশকবর্গের বেজনার্থ প্রদান করিতে হয়, জম্মদাদির মধ্যে প কোন ব্যবস্থাই নাই, তৎপরিবর্তে এই বিধান হইয়াছে যে একবর্ণে অন্যের বৃত্তিতে হস্তক্ষেপ না করে (২) ও ব্রাহ্মণ সত্বে যজ্ঞের হোত্রাদি কর্মে অন্যবর্ণের অধিকারাভাব এবং যজ্ঞের যে দ্রব্যসামগ্রী এবং দক্ষিণ তাহা ঐ হােদির প্রাপ্য, অতএব যে স্থানে এই বিধির উল্লম্বনে ধৰ্ম্ম লােপেয় ১) সার্থ পূর্ণচন্দ্র (২) ভগবদগীত তমঃ ৩৫ শ্লোক কে গায়ত্রীর অধিকারী। বিন সৃষ্ট হয়, সে স্কুলে তাহাতে প্রত্যব্যয় না হওয়ায় বিষয় কি? রাং বিৰ্থে শূদ্ৰাধি বেদোচ্চারণের অধিকারী স্বীকার করিতে আমরা বেদাতের সর্বং খন্বিদং ব্রহ্ম জীব শিব অভেদ ভুলিয়া গিয়া আমি গইয়া মারামারি-হিংসাহিংসি করিতেছি। এ বড় ও ছােট, আমি হ্মণসে চণ্ডাল, আমি উচ্চ তুই নীচ, আমি শ্রেষ্ঠ তুই নিকৃষ্ট, আমি পবিত্র তুই অপবিত্র, আমি মানুষ সে পশু ইত্যাকার ভ্ৰাত উক্তি করিতেছি। প্রকৃত কে যে আমি ভুলিয়া গিয়াছি। আমি কে? এই সম্বন্ধে মহাপ্রাজ্ঞ শঙ্করাচাৰ্য যাহা বলিয়াছেন, নিয়ে তাহারই সারাংশ সঙ্কলন করা ষােড়শ বর্ষ বয়ঃক্রম কালেই শঙ্করাচাৰ্য্য একজন ধীশক্তিসম্পন্ন পণ্ডিত হইয়া উঠিয়াছিলেন। পণ্ডিতমণ্ডলী তাহাকে যখন যে প্রশ্ন করিতেন, তিনি দ্বি ভাবে তাহার উত্তর দিতেন। একদিন একজন পণ্ডিত তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন,-মহাত্মন, আপনি কে, তাহা কি স্থির করিয়া- তদুত্তরে তিনি কহিলেন, ‘দ নিত্যোপলব্ধিস্বরূপে মহাত্মা। পণ্ডিতবর পুনরায় বলিলেন, সে কি রূপ ? শঙ্করাচাৰ্য কহিলেন, যেমন বহু সংখ্যক সরব স্থিত ভূলে সূর্যের প্রতিবিম্ব পড়িয়া বহু সংখ্যক সূৰ্য্য পরিদৃশ্যমান হন, আমিও সেই রূপ ঈশ্ববাত্মার একটি প্রতিবিম্ব মাত্র। যেমন কুম্ভকারেরা মৃত্তিকার সব প্রস্তুত করিয়া থাকে, স্বভাব আমার এই শরীব ও সেইরূপ পঞ্চভূতে নিৰ্মাণ করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর আত্মারূপে এই দেহের মধ্যে বিরাজমান রহিয়াছেন। যেমন জল পরিপূরিত সয়া গুলি একটি যষ্টি দ্বারা ভগ্ন করিয়া ফেলিলে, আর সূর্যের প্রতিবিৰ দৃষ্টি * লােকনাথ বসু প্রণীত ১২৬৩ সালে মুদ্রিত হিন্দুধর্ম মর্ম । ।

শুদ্রের পূজা ও বেদাধিকা গােচর হয় না, এবং সরাবের উপর যে আঘাত পড়ে, তাহা সুৰ্য্যকে স্পর্শ: করিতে পারে না, সেইরূপ এই নশ্বর শরীর যখন বিনষ্ট হয়, তদভ্যন্তরস্থ চৈতাংশও ঈশ্বরে লয় হইয়া যায়। মনুষ্যশরীর ধ্বংস দ্বারা আত্মার কিছুমাত্র ক্ষতি বৃদ্ধি হয় না, তিনি যেরূপ সেইরূপেই থাকেন। অবিনশ্বর আত্মাই বা কে? এরূপ প্রশ্ন হইতে পারে। সন্ধে ভগবদগীতায় লিখিত আছে, শরীর অপেক্ষা ইন্দ্রিয়গণ শেষ্ঠ, ইন্দ্রিয়গণ অপেক্ষা মন শ্রেষ্ঠ ; মন অপেক্ষা সংশয় বুদ্ধি শ্রেষ্ঠ ; সেই বুদ্ধি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠকেই আত্মা বলা যায়। সেই আত্মা সামান্য অগােচর, অথচ সৰ্বত্ৰ সঞ্চারিত হইতেছে, অথচ আমরা চক্ষে দেখিতে পাই না, কেবল ত্বক দ্বারা অনুভব করিতে পারি, সেইরূপ আত্মার অস্তিত্ব কেবল তত্ত্বদলী মহাত্মা লােকেরা মনে ধাৰণা করিতে পারেন; এতদ্ভিন্ন আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণের আর উপায়ান্তর নাই। যদি কোন তার্কিক লােক বলেন যে, আমি আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করিব ; তাহা হইলে, প্রমাণ প্রয়োগ দর্শাইয়া তাহাকে বুঝাইয়া দেওয়া সহজ নহে। আত্মার অস্তিত্ব যিনি স্বয়ং না বুঝেন, তাঁহার সে বিষয় প্রতীতি কান কাহারও সাধ্যায়ত্ত নহে। ঈশ্বর জ্ঞান ও আত্মতত্ত্ব উভয়ই সহজে কাহারও বােধগম্য হয় না। ঈশ্বর কৃপা ব্যতিরেকে ঈশ্বর জ্ঞান কোন কালে কাহার হইয়াছে? তর্ক আর ঈশ্বর তত্ত্ব নির্ণয় কখনই হইতে পারে না। বিশ্বাস ব্যতিরেকে সেই বিশ্বপতিকে প্রাপ্ত হইবার আর উপায়ান্তর নাই। এই জগতের সৃষ্টি কৌশল আলোচনা করিয়া যাহার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে, এই বিচিত্র ৰহ্মাণ্ডের অবশ্য একজন সৃষ্টি কৰ্ত্তা আছেন—তিনি অনাদি, সর্বব্যাপী, ভূল রহিত, পবিত্র ও চৈতন্য স্বরূপ, এবং তিনিই আত্মারূপে প্রত্যেক কে গায়ত্রীর অধিকারী? জীবের মধ্যে অবস্থান করিতেছেন, তিনিই ঈশ্বরকে প্রশ্ন দেখিতে গাইবে, এবং তাহা হইলেই তাহার আপনা আপনি আত্মজ্ঞান হইবে। তখন তিনি জ্ঞান চক্ষে দেখিতে পাইবেন যে, এই সংসারের স্থাবর আজম এভূতি সমস্ত বস্তুই সেই পরমাত্মায় অংশ মাত্র। আমরা নিরন্তর মায়া নােহে বিমােহিত হইয়া নানা রূপ কল্পনা করিতেছি, নানা পথের পথিক হইতেছি; যে সকল বস্তু আমার নহে, সেই সকল বস্তুই আমার আমার করিয়া ব্যতিব্যস্ত হইতেছি; কিন্তু আত্মার আমি, ও আত্মা আমার, ইহা ভিন্ম আমি কাহারও নহি, এবং আমার ও কেহ নহে। জগৎ আখময়, মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মিলে, মন নিৰ্ম্মল হয়, এবং কিছুই অপবিত্র বলিয়া বােধ হয় না। আত্মপর বিবেচনাই মনােমালিন্যের ও শান্তি ভঙ্গের একটা প্রধান কারণ। যাঁহাদিগের সত্বগুণ প্রবল, তাহারা সেই শ্রেষ্ঠ গুণের প্রভাবে ইহ সংসারের কাহাকেও পর দেখেন আপন সন্তানের প্রতি যে রূপ স্নেহ করেন, একটি নিকৃষ্ট প্রাণীকে শৰ্শ করিলে, পুরাণাদি শাস্ত্রের মতে পাপ স্পর্শ হয়, তাহাকেও সেই রূপ লেহে লালন পালন করিয়া থাকেন। এতৎ সম্বন্ধে মহাত্মা শঙ্করাচাৰ্য একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত দর্শাইয়াছিলেন। এক দিন তিনি ভ্রমণ করিতে করিতে দেখিলেন, একটি কুকুর কর্দমে পড়িয়া রহিয়াছে, কর্দম হইতে আন্মােদ্ধার করিবার, যৎপরােনান্তি চেষ্টা পাইতেছে , কিন্তু কোন মতে কৃতকাৰ্য্য হইতে পাবিতেছে না। তদৃষ্টে দয়াদ্র চিত্ত শঙ্করাচাৰ্য সেই কর্দম পুরিত দুর্গন্ধময় স্থানে গিয়া কুকুরটিকে ক্রোড়ে লইয়া শুষ্ক ভূমিতে আনয়ন করিলেন, এবং তথা হইতে স্কন্ধে তুলিয়া একটি জলাশয়ে লইয়া গিয়া তাহার গাল ধৌত করিতে আরম্ভ করিলেন। সেই জলাশয়ে এক জন প্রাচীন ব্রাহ্মণ স্নান করিতেছিলেন, তিনি ব্রাহ্মণতনয়কে এরূপ ১ পুজাের পূজা ও বেদাধিকার নিকৃষ্ট পশুর সেবা কৱিতে দেখিয়া ভৎসনা করিয়া বলিলেন, ওহে অবােধ ব্রাহ্মণ ! তুমি কি করিতেছ? যে কুকুর স্পর্শ করিলে ব্রাহ্মণের শর অপবিত্র হয়, তুমি সেই কুকুরের গাজের কম ধৌত কৰ্বিতেছ? তোমায় পাপের ইয়া নাই। তৎশ্রবণে শঙ্করাচাৰ্য্য করিয়া বলিলেন, আত্মজ্ঞানপন্থি বিচরিতাং কে বিধি কে নিষেধ। শঙ্করাচারে এই অর্থপূরিত বাক্যটি শ্রবণ করিয়া বৃ ব্রাহ্মণ মনে মনে বিবেচনা করিলেন, এই ব্রাহ্মণ ত সামান্য ব্যক্তি নহে; এই সামান্ত একটি কথা প্রকৃত তত্ত্বজ্ঞানের সারাংশ সঙ্কলন করিল। ব্রাহ্মণ নীর হইতে তীর উঠিয়া শঙ্করাচার্যের নিকট উপস্থিত হইলে, এবং বলিলেন, ব্রাহ্মণ তুমি কে, আমাকে পরিচয় দাও। শঙ্করাচাৰ্য কহিলেন, আমি কুকুরের আয় ঈশ্বরের একটি সৃষ্ট পদার্থ। আমি কুকুর স্পর্শ করিয়াছি বলিয়া আপনি পূর্বে যে ভৎসনা করিলেন, সেটি নিতান্ত অমূলক। এক্ষণে বিবেচনা করিয়া দেখুন, যাহার আত্মজ্ঞান জন্মিয়াছে, যে তত্ব পথের পথিক হইয়াছে তাহার পক্ষে কিছুরই বিধিও নাই, কিছুরই নিষেধও নাই। শাস্ত্রকারের যে সকল বিধি লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন, তৎসমুদয়ই অজ্ঞানের পক্ষে জ্ঞানীর পক্ষে কোন কথাই লিপিবদ্ধ হয় নাই। হে ব্রাহ্মণ, আমাদিগের এই শরীর ভূত সমষ্টির দ্বারা সৃষ্ট, ইহা আপনি অবশ্য শীকার করিয়া থাকেন, এবং যত্র জীব তত্র শিব* বােধ হয় এ মহাবাক্যেরও অবমাননা করেন না; তবে কুকুর স্পর্শে ব্রাহ্মণের শরীর অপবিত্র হইবে কেন, আপনাকে এই কথাটি ভাল করিয়া বুঝাইয়া দিতে হইবে। বৃদ্ধ ব্রা বলিলেন, তুমি কি বলিতেছ, পড়িয়া শুনিয়া কি তােমার এই জ্ঞান জন্মিয়াছে ? ব্রাহ্মণ শরীরে ও ঘৃণিত পশু কুকুরে কি প্রভেদ, তা কি আবার বুঝাইয়া দিতে হইবে ? শঙ্করাচাৰ্য কহিলেন, মহাশয়, পড়িমা কে গায়ত্রীর অধিকারী। নিয়া ষহ দূর জ্ঞান সঞ্চয় করিয়াছি, তাহাতে কুকুরের সহিত আমার কি প্রভেদ এরূপ কথা কিছুই লিথিত নাই; তবে তত্ত্বজ্ঞানীদিগের খুখে শুনিয়াছি যে, “যন্ত্র জীব তত্র শিবরূপেণ নাৰায়ণঃ* এ কথা যদি সত্য হয়, তাহা হইলে, আমিও নারায়ণ, আপনিও নারায়ণ, এবং এই কুকুও নারায়ণ। মহাশয়, বিবেচনা করিয়া দেখুন, এই কুকুর কমে পড়িয়া প্রায় গতানু হইয়াছিল, বহু যত্নে আমি ইহার প্রাণ রক্ষা করিযাছি, এই কাষের কারা পুণ্য না হইয়া কুকুর স্পর্শজনিত আমাকে পাপের ভাগ হইতে হইবে ? ব্রাহ্মণ কহিলেন, নিকৃষ্ট প্রার্থীর প্রাণ রক্ষা করাতে ধর্ম আছে, এ কথা আমি অবশ্য স্বীকার করি ; তাহা বলিয়া কি কুকুরকে অস্পৃশ্য পশু বলিয়া স্বীকার করিব না ? কুকুরের সেঝ শুশ্রুষা করা ব্রাহ্মণের ধর্ম নহে, ব্রাহ্মণের পক্ষে যে সকল নিয়ম আছে, তৎ সমুদয় অগ্রে প্রতিপালন করিতে হইবে। নিকৃষ্ট জাতিই কুকুরের সেবা করিবে, ব্রাহ্মণের পবিত্র হস্ত দেৰসেবার জন্য নির্মিত হইয়াছে। অত- এব হে বিপ্র তনয়, তুমি কুকুরের প্রাণ রক্ষা করিয়া যে পুণ্য সঞ্চয় করি- মাছ, কুকুর স্পর্শজনিত পাপ তাহা অপেক্ষাও অধিক বলিয়া জানিবে । অতএব ঐ ঘৃণিত পশুকে পরিত্যাগ করিয়া সত্বরে গা গান করিয়া আইল, ও ঐবিষ্ণু স্মরণ কর ; নচেৎ সন্ধ্যা বানাতে তােমার কোন অধিকার থাকিবে না, তােমার এক্ষণে চণ্ডালত্ব প্রাপ্তি হইয়াছে। শঙ্করাচার্য বলিলেন, এৰু কুকুর স্পর্শেই আমার ব্রাহ্মণত্ব একেবারে নষ্ট হইয়াছে, শাস্ত্রানুসারে আমি চণ্ডাল হইয়াছি? এক্ষণে সুরধুনী সলিলে এই পাপ দেহ ধৌত করিলে, পুনরায় ব্রাহ্মণত্ব প্রাপ্ত হইব? সুরধুনীয় পবিত্র সলিল যখন চলকে ব্রাহ্মণ করিতে পারেন, তখন অন্য আমি শতাধিক চল সমভিব্যাহারে গান করিতে যাই, এবং জামায় '১৬ শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার সহিত তাহাদিগকে ব্রাহ্মণ করিয়া আনিব। আনে যাইবার সময় এই কুকুরকেও সমভিব্যাহারে লইয়া যাইব, গঙ্গাজলে ধৌত করিলে ইহারও কুরত্ব থাকিবে না। শঙ্করাচার্যের কথা শুনিয়া বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের কিঞ্চিৎ ক্রোধের সঞ্চার হইল। তিনি উন্নত স্বরে বলিলেন, রে অবােধ বালক ! তুই আমার সহিত কি সাহসে তর্ক করিতেছিস? তুই কি জানি না যে, জন্মজনিত দোষ কি গঙ্গা জলে ধৌত হইতে পারে ? শঙ্করাচাৰ্য হাস্য করিয়া করিয়া কহিলেন, তবে জন্মজনিত উৎকৃষ্টতাও কুকুর স্পর্শে নষ্ট হইতে পারে না। আমি যখন ব্ৰহ্মকুলে জন্মগ্রহণ করিয়াছি, তখন কুকুর স্পর্শে সে ব্রাহ্মণদের হানি হইবে কেন ? অনুমানে বােধ হইতেছে, আপনি এক জন পৌরাণিক। পৌরাণিকদিগের অসংলগ্ন কথাতেই আপনার দৃঢ় বিশ্বাস হইয়াছে। ভাল, বিবেচনা করিয়া দেখুন দেখি, যদি জন্ম- জনিত দোষ কিছুতেই ক্ষয় না হয়, তাহা হইলে, অষ্টাদশ পুরাণ কর্তা বেদব্যাস ধীবর কন্যার গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়া কি প্রকারে ব্রাহ্মণ হই- লেন? মহাত্মা বিদুর শূদ্রাণীর গর্ভে জন্ম গ্রহণ করিয়া ব্ৰহ্মৰীৰ্য্যে সমুদ্ভুত হইয়াও কি জন্য মাতৃজনিত দোষে ‘দূষিত হইয়া রহিনে ? ব্রাক্ষণ কহিলেন, বেদব্যাস সাক্ষাৎ নারায়ণ, তিনি বোর্থ প্রচার করিবার জন্যই অবনীতে আবির্ভূত হইয়াছিলেন ; তাহার জন্ম বিষয় লইয়া তর্ক করিমে, আমরা পাপ পঙ্কে নিপতিত হই। তুমি নিতান্ত বালক, শাস্ত্রের ভাবার্থ কিছুই বুঝ না; এই জন্য অনর্থক তর্ক করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছ। বিবে- চনা করিয়া দেখ, কৃষ্ণ ক্ষত্ৰকুলে জন্ম গ্রহণ করিয়া কি জন্য ব্রাহ্মণের নমস্ত হইয়াছিলেন ? স্বয়ং নারায়ণ সংসায়ের উপকার সাধন জন্য যে ভাবে জন্ম গ্রহণ করুন না কেন, সে সকল বিষয় ইয়া তর্ক করার কে গায়ত্রীর অধিকারী ? কিছুমাত্র প্রয়ােজন নাই। তিনি যে স্বয়ং ঈশ্বয়, তাহার কাৰ্য্যই তাঁহার সাক্ষ্য দিতেছে। বেদব্যাস যে সামান্য মনুষ্য নহেন, অষ্টাদশ পূর্বশই তাহাব দৃষ্টান্ত স্থল। শঙ্কবাচাৰ্য কহিলেন, আপনার প্রশ্নের উত্তর দিবাৰ পূৰ্বে আমি একটি প্রশ্ন করিতেছি। ভাল, আপনি বলুন দেখি, এই কুকুরের এমন নীচ জন্ম কেন হইল ? ব্রাহ্মণ সদর্পে বলিলেন, পূর্ব জন্মে কঠোর পাপ করিয়াছিল, তাহাতেই এই জন্মে কুকুর যােনিতে জন্ম গ্রহণ করিয়াছে, এবং লােকের দ্বারে দ্বারে উচ্ছিষ্ট ভােজন করিয়া বেড়াইতেছে। তুমি পুর্ব জন্মে অধিক পুণ্য কবিয়াছিলে, সেই পুণ্যেই উৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণ দেহ প্রাপ্ত হইয়াছ। শঙ্করাচাৰ্য বলিলেন, মহাশয়, কি পাপে কুকুর জন্ম হয় ? তদুত্তরে ব্রাহ্মণ বলিলেন, যাহারা দেবদ্রব্য অপহরণ কৰিয়া খায়, ব্রাহ্মণের অগ্রে ভােজন করে, তাহারাই কুকুর হইয়া জন্ম গ্রহণ করিয়া থাকে। শঙ্করাচার্য বলিলেন, উত্তম কথা, কিন্তু আদিতে কি উৎকৃষ্ট ব্রাহ্মণ ব্যতিরেকে অন্য কোন নিকৃষ্ট প্রাণীর সৃষ্টি করেন নাই ? যদি তাহা করিয়া থাকেন, শাস্ত্রে ইহার প্রমাণ প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহা হইলে, পিপ ব্যতিরেকে কি জন্য কুকুরের সৃষ্টি হইল ? বিষ্ঠাভােগী কীটা- কীটেরও আদি কাল পর্যন্ত শাস্ত্রে বর্ণনা আছে। পিপ ব্যতিরেকে এই সকল নিকৃষ্ট প্রাণীব উৎপত্তি হওয়া কি আপনার অসম্ভব বলিয়া বােধ হয় না ? ব্রাহ্মণ বলিলেন, আদিতে সকল প্রাণীই পবিত্র ছিল, কেবল কালের প্রভাবে প্রাণীপুঞ্জের পুণ্য ধ্বংস হইষ্যা পাপের বৃদ্ধি হইতেছে। শঙ্করাচাৰ্য্য বলিলেন, আপনার কথা ভাবার্থ বুঝিতে পারিতেছি না, আপনি বিস্তারে বুঝাইয়া দিন মহাশয়, পুনর্বার বলিতেছি, ঈশ্বর আত্মময় ও সৰ্ব্ব ভূতের আশ্রয় স্থল। এই পরিদৃশ্যমান খুষের ই ও বেদাধিকার গৎ উহা হইতেই উৎপন্ন, এবং তাহাতেই নিবৃত্তি হইয়া পরিশেৰে শঙ্করাচাৰ্য ৰাহ্মণকে বলিলেন, হে ৰাহ্মণ, আত্মদর্শী লােকেরাই একেবারে ভয় হইয়া থাকেন। তাঁহাদিগের রাজ ভয় নাই, * ভয় নাই, জাতি ভয় নাই। অন্য কি কথা, তদশী লােকেরা পরিতেও ভয় করেন না; কেবল সেই সচ্চিদানন্দ ৰহ্মে আত্ম সমর্পণ করিয়া মনের আনন্দে কাল হরণ করেন। যাহারা এই সংসারকে ব্রহ্মময় দেখেন, তারা এই কুকুরকে কি বলিয়া অপবিত্র জ্ঞান করিবেন? যাহার মন পৰি, সে এই সংসারে নানা অপবিত্র বস্তু দর্শন করে। যাহার শন নিৰ্ম্মল হইয়াছে তিনি জগতের কোন বস্তুই অপবিত্র জ্ঞান করেন না। মহাশয়, আপনার বয়স অধিক হইয়াছে, মৃত্যুর অধিক কাল বিল নাই, এক্ষণেও আপনার তত্ত্ব জ্ঞানের উদয় হয় নাই। আপনি কি জানেন না যে, মহাপ্রলয় কালে এই সমস্ত জগৎ ঈশ্বরে লয় হইবে ? সে সময় কি তিনি অপবিত্র বস্তুগুলি আপনাতে লয় হইতে দিবেন না ? বাছিয়া অন্যত্র নিক্ষেপ করিবেন ? মহাশয়, যত দিন আপনার অহং তত্ব না উদয় হইতেছে; ততদিন আপনি তত্বশী লোকের কাৰ্য্য দেখিয়া বিরক্ত হইবেন, ইহা বিচিত্র নহে।** ভক্ত ভেদ ৰতি ভেদ পঞ্চপরকার। শান্ত রতি দাস্য রতি সখ্য রতি আর । বাৎসল্য রতি মধুর লতি পঞ্চ বিভেদ। রতি তাে কৃষ্ণ ভক্তি রস পঞ্চভেদ । * বিজ্ঞান শাস্তিকুম-আত্মতত্ব।

কে গাত্রীর অধিকারী। শান্ত দাগ সখ্য বাৎসল্য মধুর রুস নাম। . ষ্ণ ভক্তি স মধ্যে এ পর্গ প্রধান। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত-মধ্যলীলা, ১৯পঃ নামপি সিদ্ধানাং নারায়ণ পরায়ণ। সুদু প্রশান্তায়া কোটিপি মহামুনে ॥ শ্রীমদ্ভাগবতঃ ; ৬ষ্ঠ রুদ্ধ ; ১৪শ অধ্যায়। মাজ পরীক্ষিত বলিতেছেন-হে মহামুনে! যাহারা মুক্ত হইয়া সিদ্ধিলাভ করিয়াছেন, তাদৃশ কোটি ব্যক্তির মধ্যে হরিভক্তিপরায়ণ প্রশান্ত চেতা মনুষ্য অতীব দুলভ।” ; শান্ত ভক্ত নব সােগেন্দ্র, সনকাদি আর। (১) দাস্ত ভক্ত সর্বত্র সেবক অপার। (২) (১) “নব যােগে অর্থাৎ কবি, হবি, অকারী, প্রবুদ্ধ, পিপ্পলায়ন, আবিহাত, দুড়ি, চমস ও করভাজন, এই ৯ জন ঋষি। ইহারা ক্ষত্রিয় ভরত নৃপতির সহােদর ভ্রাতা এবং ক্ষত্রিয় রাজা ঋষভের তনয়। ইহারা অখিল বসুন্ধরা পৰ্যটন ও ঈশ্বরাধনায় জীবন অতিবাহিত করিয়াছিলেন । সনকাদি অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার সমান পুত্র সনক, সনাতন, সনন্দ, সনৎ- কুমার ইহারা ব্রাহ্মণ—ঋষি। (২) (ক) ব্ৰহ্মার মানস পুত্র দেবর্ষি নারদ,-যিনি তৎপূর্ব জন্মে কতিপয় বেদাধ্যায়ী ব্ৰহ্মণের এক দাসীর গর্ভে জন্ম গ্রহণ করিয়াছিলেন। এবং হরি আরাধনার ফলে দেহত্যাগ পূর্বক পরবর্তী জন্মে ঋষি হইয়া- ছিলেন।

কে গায়ত্রীর অধিকারী? সাধন ভক্তি হৈতে হয় রতির উদয়। অতি গাঢ় হৈলে তারে প্রেম নাম কয় । সখ্য ভক্ত শ্রীদামাদি পুরে ভীমার্জুন। (৩) বাৎসল্য ভক্ত মাতা পিতা গুরুজন। (৪) (খ) দৈত্য হিরণ্যকশিপুর পুত্র ভক্ত প্রহ্লাদ, (গ) ক্ষত্রিয় রাজা উতাৰ পাদ রাজার পুত্র ধ্রুব, (ঘ) বৃষ্ণিবংশীয় ক্ষত্রিয় শল্কপুৰ মহাত্মা অশ্রু (ঙ) কপিপতি হনুমান, (চ) দৈত্য রাজ বলি, (ছ) মহারাজ পরীকি (জ) ম্লেচ্ছমণী শুকীর গর্ভজাত শুকদেব গােস্বামী (ঝ) শূদ্ৰার্তা শূদ্রবিদুর () ব্রাহ্মণ বিভীষণ (ট) মহাবাজ অম্বরীষ, (ঠ) বাল্মীকি মুনি (যিনি পুর্বে রত্নাকর নামে দস্যু ছিলেন। (ড) পৃথুৰাজা, (চ) মিলে রাণা কুম্ভসিংহের রাজ্ঞী মীরাবাই ; (৭) জোলার পুত্র কবির; (ত) কৃষকে সন্তান তুকারাম, (থ) ডোমাতীয় হিন্দী ভক্তমাল গ্রন্থপ্রণেতা নাভালি, (দ) কুম্ভকার জাতীয় ভক্ত কেবল কুবা; (ধ) কসাই জাতীয় ভক্ত স (ন) চর্মকার জাতীয় ভক্ত রবিদাস ; প্রভৃতি প্রভৃতি। (৩) বৈশ্য গােপ-ণােয় জাতীয় ক্রীদাম, সুদাম, দাম, বসু, সুবল, মহাবল, সুবাহু, প্রভৃতি এবং ব্রাহ্মণ জাতীয় লােক কৃষ্ণ, মধুমদি; ক্ষত্রিয় যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুনাদি পঞ্চ পাণ্ডব, ক্ষত্রিয় জাতীয় পরম ভক্ত ত্রেতা যুগের চণ্ডাল জাতীয় মিত্র গুহক, সুদাম বিপ্র, কপি জাতীয় সুগ্রীব প্রভৃতি। উবাহ কষ্ণো ভগবান শ্রীদামানং পরাজিত। ১৪ দ্বাদশ ফদ্ধ ১৮, ভাগবত। - উ, কে গায়ত্রীর অধিকারী। সাধন ভক্তি হৈতে হয় বতির উদয়। রতি গাঢ় হৈলে তারে প্রেম নাম কয় । সখ্য ভক্ত শ্ৰদামাদি পুরে ভীমার্জুন। (৩) বাৎসল্য ভক্ত মাতা পিতা গুরুজন। (৪) (খ) দৈত্য হিরণ্যকশিপুর পুল ভক্ত প্রহলাদ, (গ) ক্ষত্রিয় রাজা উত্তান- পাদ রাজার পুত্র ধ্রুব, (ঘ) বৃফিংশীয় ক্ষয় শকল্ক-পুত্ৰ মহাত্মা অজু (ঙ) কপিপতি হনুমান, (চ) দৈত্য রাজ বলি, (ছ) মহারাজ পরীক্ষিত (জ) ম্লেচ্ছরমণী শুকীর গর্ভজাত শুকদেব গােস্বামী (ঝ) শূদ্রা-ভাত শূদ্রবিদুর (ঞ) ব্রাহ্মণ বিভীষণ (ট) মহাস” অম্বরীষ, (ঠ) বাল্মীকি यूनि ( যিনি পূর্বে রত্নাকর নামে দস্যু ছিলেন। (ড) পৃথুজা, (ট) মিবারের রাণা কুম্ভসিংহের রাজ্ঞী মীরাবাই ; (ণ) জোলার পুত্র কবির; (ভ) কৃষকের সন্তান তুকারাম, (থ) ডোমাতীয় হিন্দী ভক্তমাল গ্রন্থপ্রণেতা নাভালি, (দ) কুম্ভকার জাতীয় ভক্ত কেবল কুবা; (ধ) কসাই জাতীয় ভক্ত সজ (ন) চৰ্ম্মকার জাতীয় ভক্ত রবিদাস ; প্রভৃতি প্রভৃতি। (৩) বৈশ্য গোপ -শায় জাতীয় শ্রীদাম, সুদাম, দাম, বসুদাম, সুবল, মহাবল, সুবাহু, প্রভৃতি এবং ব্রাহ্মণ জাতীয় লােক কৃষ্ণ, মধুমাদন; ক্ষত্রিয় যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন দি পঞ্চ পাণ্ডব, ক্ষত্রিয় জাতীয় পরম ভক্ত উদ্ধ, ত্রেত। সুগের চণ্ডাল জাতীয় মিত্র গুহক, সুদাম বিপ্র, কপি জাতীয় সুগ্রীব প্রভৃতি। উবাহ কৃষ্ণো ভগবান শ্রীদামানং পরাজিত। ১৪ দ্বাদশ ক ১৮অ, ভাগবত।

সূত্রের পূজা ও বেদাধিকার
মধুর রস ভক্ত মুখ্য ব্ৰজে গোপীগণ। (৫)
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঐঢ়ায় পরাস্ত হইয়া দামকে পৃষ্ঠে বহন করিয়া-
দিলেন ।
ঋন্ধে চড়ে স্কন্ধে চড়ায় করে ক্রীড়া রণ।
কৃষ্ণ সেবে কৃষ্ণে করায় আপন সেবন । চৈঃ চরিতামৃত-মধালীলা
(৪) ক্ষত্রিয় জাতীয় দশরথ কৌশল্যা, বসুদেব দেবকী প্রভৃতি, ব্যাধ
রণী শবরী (ইনি শ্রীরামচন্দ্রকে নিজ হস্তে কুল খাওয়াইয়াছেন।
বিদুর পত্নী প্রভৃতি।
তঃ সাত্মজসব্যক্তং মৰ্ত্তলিঙ্গ মধােক্ষজং।
গােপি কোলুখলে দাম। বন্ধ প্রাকৃতং যথা ১২
দশমস্কন্ধ ; নবম অধ্যায় ; ভাগবত।
যশােদা নরদেহ ধারী ইন্দ্রিয়াতীত ভগবান্‌কে আত্মজ জ্ঞানে প্রাকৃত
শিশুর ন্যায় রজ্জ, দ্বারা উদূখলে বন্ধন করিলেন।
মমতাধিক্যে তারণ ভংসন ব্যবহার।
আপনাকে পালক জ্ঞান কৃষ্ণে পাশ্য জ্ঞান।
চারি রসে গুণে বাৎসল্য অমৃত সমান।
সে অমৃতানন্দে ভক্ত সহ ডুবেন আপনে।
চৈঃ চরি: মধ্যলীলা
৫ মধুর রস ভক্ত মুখ্য ব্রজ গােপীগণ।
মহিষীগণ, লক্ষ্মীগণ, অসংখ্য ণন ।
•
মধুর রসে কৃষ্ণ নিষ্ঠা সেবা অতিশয়।
সখ্যে অসঙ্কোচ, লালন মমতাধিক হয়।

শূদ্রের পূজা ও বোধিকার পুরা মহর্ষয়ঃ সৰ্ব্বে দণ্ডকারণ্য সিনঃ। দৃষ্টা রামং হরিং তত্র ভােক্তং ঐচ্ছন সুবগ্রহ। তে সৰ্বে স্ত্রীত্বমপন্নঃ সমুতাশ্চ গােকুলে। হরিং অপ্রাপ্য কামেন তমুক্তা ভবার্ণবাৎ ॥ অর্থাৎ “পুবাকালে দণ্ডকারণ্যবাসী ঋসি সকল সুন্দর বপু হরি রামচন্দ্রকে অবলোকন করিয়া উপভােগ করিতে ইচ্ছুক হইলেন, তাহারা শ্রী হইয়া গােকুলে জন্ম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং কামের দ্বারা হারকে প্রাপ্ত হইয়া ভবান হইতে মুক্ত হইয়াছিন । আর শ্রীনল, যােদা ! তাহারা পূৰ্ব্বভন্ম দ্রোণ ও ধরাদেবী নামে অভিহিত হইযা গন্ধমাদন পতে সহস্র বৎসর কঠোর ভাবে নবায়ণের আরাধনা করেন এবং এরই মত স্বরূপ গােলকবিহারী হরি দ্বিভুজ মুরলীধারী শ্ৰীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে প্রাপ্ত হন। আর ক্ষত্রিয় বসুদেব দেবকী! ইহারা ইহার স্বয়ম্ভুব মন্বন্তরে যথাক্রমে সুতপা নামক প্রজাপতি ও পৃমি হিলেন-তারপর প্রজা সৃষ্টির মানসে ইন্দ্রিয় সংযম পূর্ধ্বক দেবপরিমাণ দ্বাদশ সহস্র বৎসর কঠোর তপস্যা করার ফলে পৃখি পুত্র নামে ভগবান্ হব তাহাদের সন্তান রূপে জন্মিয়াছিলেন। দ্বিতীয় জন্মে তাহারা কশ্যপ নামে মুনি ও অদিতি নামে ঋষি-পত্নীরূপে জল গ্রহণ করিয়া নারায়ণকে বামন রূপ লাভ করেন। তাঁহারাই যথা ক্রমে ক্ষত্রিয় দশরথ রাজা এবং কৌশল্যারূপে শ্রীরামচন্দ্রের জনক জননী হন এবং পরের শেষে হারাই আবার ক্ষত্রিয় বংশে বন্ধুদের দেবকী রূপে জন্ম গ্রহণ করিয়া মহা বিষ্ণু অংশ সস্তৃত ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে লাভ করেন। এতাবত আমরা দেখিতে পাইলাম, ব্রাহ্মণ ও ঋষি কপই বহু সাধনার পরবর্তী যুগে কে গায়ত্রীর অধিকারী ? পর ক্ষত্রিয় দশরথ ও ক্ষত্রিয় বসুদেব হইলেন। পাপের আধিক্য অথবা পুণ্যের অল্পতায় ক্ষত্রিয় হইবেন না, বহু তপস্যার ফলেই ক্ষত্রিয় হইলেন। ন যশােদার গােপবালাগণ ও ব্রজগােপিনীণ সম্বন্ধে ঐ একই কথা। ইহারা সকলেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তরঙ্গ সঙ্গী পার্ষদ—কেহই পাপী নহেন বা ব্রাহ্মণগণ অপেক্ষা অল্প পুণ্যবান নহেন। ব্রাহ্মণগণের আরাধ্য প্রভু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ইহাদের পুত্র সখ বল্লভ প্রাণনাথ। সুতরাং আমরা কিছুতেই মনে করিতে পারিনা ব্রাহ্মণণ অপেক্ষা অনেক অল্প পুণ্যের ফলে হীন জাতীয় বৈশ্য গোয়ালার ঘরে ইহারা জন্ম গ্রহণ করিয়াছেন। বরং ব্রাহ্মণগণ যে ভগবানের কোটি কোটি জন্ম আরাধনা ও ভূরি ভূরি ৰাগ যজ্ঞ সম্পাদন করিয়া দর্শন লাভ করিতে পারেন নাই, ইহারা ভক্তি ও প্রেম বলে সেই ভগবানকে পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা সম্ভোগ করিয়াছেন-দর্শন স্পর্শন ও শাসন পর্যন্ত করিয়াছেন । ঋষিগণ ও দেববালাগণ আরাধনা করিয়া বিস্তর সাধ্য সাধনা করিয়া স্বেচ্ছায় বৈশ্য গােপকুলের কুঙ্গনা হইয়াছিলেন। পাপের ফলে ব্রাহ্মণ Degradation নয়, অশেষ তপস্যা ও পুণ্যের ফলেই বৈশ্য কুলে Promo tion, সুতরাং ব্রাহ্মণ অপেক্ষা হীন ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্র কুলে জন্মগ্রহণ করাটা হীন ত্বসূচক, ইহা প্রতিপন্ন হয় না। পাদটীক। ( ফুটনােটের। উদ্ধত শান্ত দাস্য সখ্য বাৎসল্য ভক্তগণ সম্বন্ধেও ঐ একই কথা। ২৪ জন ব্যতীত উহাদের সকলের জন্মই ব্রাহ্মণকণিত হীনকুলে। পূর্বে দেখাইয়াছি--কৰ্ম্মবন্ধনই যত অনর্থের মূল। এই বন্ধন-শুভাশুভ কৰ্ম্ম ক্ষয় না হইলে আত্মজ্ঞান লাভ হয় না এবং আত্মজ্ঞান লাভের উপরই মুক্তি লাভ নির্ভর করে। এইরূপ কোট মুক্ত জীবের মধ্যে একজন মাত্র ভক্তিলাভ করিয়া ভক্তগণ মধ্যে পরিগণিত সূত্রের পূজা ও বোধিকার হন। সুতরাং পাঠকগণ দেখিবেন-পূর্বোকৃত ভক্তগণের নীচ কূলে অগ্রহণ পাপের ফলস্বরূপ নয়, বরং অশেষ পুণ্যের পরিচায়ক। ৰাখ কুলে জন্মগ্রহণ করিয়া ভগবান নারায়ণের বুকে লাথি মারিয়া ভূলুণি হওয়া, ডােমকুলের নাভাজি হওয়া, ঘন কুলের হরিদাস হওয়া,-শূদ্রকুলের বির হওয়া, কপি কুলের হনুমান হওয়া, চাল কুলে গুহক কওয়া কি গােয়া কুলের শ্রীদাম হওয়া কি অধিক শ্লাঘ্য অধিক বাঞ্ছনীয়—প্রার্থনীয় নয়। আমাদের ত তাহাই প্রার্থনীয় বলিয়া মনে হয়। বহু বহু অন্যের পুণ্য ও সাধনার বলে ইহারা ভগবৎ দর্শন লাভ করিয়াছিলেন। পাপের ফল যদি সূত্র জন্ম হয়, তবে সেই পাপের ফলে ভগবৎ ভক্তি ও ভগবৎ দর্শন লাত হইতে পারে কিরূপে? বরং ভগবানের ঐ পঞ্চবিধ ভক্ত (শান্ত গাছ সখ্য বাৎসল্য মধুর ভাবের উপাসক) গণের মধ্যে ঘৃণা, লজ্জা, ভয়, মান, জুগুপ্সা, কুল, শীল, ও জাতি এই জীবনের বন্ধন এরূপ ভগবৎ ভক্তি ও মােক্ষ বারের অর্গল স্বরূপ অষ্ট পাশ বহু গর্বিত ব্রাহ্মণগণ সংখ্যায় অল্পই ছিলেন। চাৰিযুগের মধ্যে খুঁজিয়া তাহাদের নাম বাহির করিতে পার যায় না। যাহা আছে তাহাও ভক্তির নিস্তর শান্তভাবের ভক্তগণে সংখ্যার মধ্যে। পরবতী জমােত ৪ চারিভাবের ভক্তের মধ্যে তাঁহাদে নাম নাই বলিলেই চলে। এইত “গুদ্রের পূজার ও বেদে অধিকার আছে কিনা, তৎসম্বন্ধে স-উদাহরণ শাৰীয় প্ৰমাণ প্রগণিত হইল। এক্ষণে হে বয়ে ভাগ পদানত কুসংস্কার ও হিন্দুয়ানীর বেড়াজালে আবদ্ধ শূদ্ৰ কথিত ভগৎ সানগণ-অমৃতের পুত্রগণ, দিব্যধামবাসী জ্যোতি কিরণকণাগ। তােমাদের জন্য সমাজের দারুণ নিপীড়ন শ্লেষ বিজ্ঞাপ নিল টিটায় হাসিমুখে স করিয়া শাস্ত্ৰ সি মন্থন পূর্বক এই অমৃত উদ্যোলন করিয়াছি কে গায়ত্রীর অধিকারী। তোমরা ইহা সাদরে গ্রহণ কর—পান কর। ব্রাহ্মণ পণ্ডিত মহাশয়গণের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করিয়া কে কবে বড় হইয়াছেন, কোন সমাজ কৰে উন্নত হইয়াছে—ভারতবর্ষের ও বঙ্গদেশের কোন কল্যাণ সাধিত হইয়াছে। লােকে এক্ষণে জাহাজে করিয়া ক্ষেত্র,চট্টগ্রাম, ব্ৰহ্মদেশ,মাদ্রাজ, বােম্বাই, সিংহল এবং চীন, জাপান, আমেরিকা, ইউরােপ যাইতেছেন, সে বিষয়ে হাৱা ব্যবস্থা দিয়াছিলেন কি ? লােকে এক্ষণে নানা জাতি (ব্রাহ্মণ, বৈষ্ণু, কায়স্থ, কামার, ঢুলি, মালি, বেহারা, বাগদি, হাঁড়ি, মুচি) একত্র এই বিলরে একত্র পাঠ করিতেছে-বিদ্যজ্ঞান অর্জন করিতেছে সংসারে একত্র হইয়া ব্যবসা বাণিজ্য করিতেছে—অনেক স্থানে-হােটেলে রেলে ষ্টিমারে মিঠাই দোকানে একত্র পান ভােজন আহারাদি করিতেছে -সে বিষয়ে তাহারা ব্যবস্থা দিয়াছিলেন কি ? লােকে এক্ষণে বহু বিবাহ গােরীদানের ফল স্বরূপ বাল্য বিবাহ ত্যাগ করিতেছে পুত্রগণের আয় কন্যাগণকে প্রকাশ্য বিদ্যালয়ে শিক্ষা দিতেছে, বাল্য বিধবাদিগের বিবাহ দিতেছে, সে বিষয়ে তাহারা ব্যবস্থা দিয়াছিলেন কি ? লােকে এক্ষণে নানা জাতি একত্র হইয়া কংগ্রেস কনফারেন্স করিয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন করিতেছেন, বিলাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেলিগেট বা প্রতিনিধি পাঠাইছেন-নগরে নগরে অনাথাশ্রম সেবাশ্রম বিধবাশ্রম স্থাপন করিতেছেন—গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয়স্থাপন করিতেছে, সে বিষয়ে তাহার ব্যবস্থা দিয়াছিলেন কি ? লােকে এক্ষণে সমগ্র জগৎ পরিক্রম করিয়া—বিজ্ঞান বহুদর্শিতা লাভ করিতেছে, বিভিন্ন দেশ হইতে তৎ দেশের জ্ঞান আহরণ পূৰ্ব্বক মাতৃভূমিকে সম্পশালিনী কৰিতেছে, সে বিষয়ে তাহায় কবস্থা দিয়াছিলেন কি ? বৈষ্ণ-কথিত স্বর্গীয় মহাত্মা শবচন্দ্র সেনকে ইউরোপ আমেরিকা ও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ধর্ম শূন্ত্রের পূজা ও বেদাধিকার প্রচার করিতে, বৈদ্যজাতীয় মহাত্মা শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন সেনকে পরিব্রাজক বেশে নগরে নগরে ধর্ম প্রচার করিতে কি তাহারা ব্যবস্থা দিয়াছিলেন। ইউল্লাপ আমেরিকা মুগ্ধকারী নবভাবতের যুগাচাৰ্য স্বামী বিবেকানন্দকে কি ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণ ব্যবস্থা দিয়া চিকাগাের ধৰ্ম্ম মহাসমিতিতে হিন্দুধর্ম -বৈদিক—বেদান্ত ধর্ম ঘােষণা ও প্রচাব করিতে প্রেরণ করিয়াছিলেন । ভগিনী নিবেদিতা ক্রিশ্চিয়ানা, জায়। মাতা, বীর মাতা সেভিয়ার দম্পতি, ব্রহ্মচারী গুরুদাস-গুডউইন--আলেকজেণ্ডার-প্রমুখ পাশ্চাত্য দেশীয় নরনারীকে বেদান্ত ধম্মে দীক্ষিত করিতে কি কোন ব্যবস্থাদাত পণ্ডিত মহাশয় ব্যবস্থা দান কবিয়াছিলেন ? লেপ্টন্যান্ট সুরেশ বিশ্বাস ভূপর্যটক চন্দ্রশেখব সেন—যামিনী মােহন ঘােষ প্রভৃতিকে বিশ্ব পৰ্যটনে কি পণ্ডিতগণ পাতি লিখিয়া দিয়াছিলেন ? রামায়ণ মহাভারতের ইংরাজী অনুবাদে ও বেদ অনুবাদে স্বর্ণীয় মহাত্মা বমেশচন্দ্র দত্ত কোন বাক্যচূড়ামণির ব্যবস্থা পাইয়াছিলেন ? সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, লালমােহন ঘােষ, মনােমােহন ঘােষ, বিহারীলাল গুপ্ত, কৃষ্ণগােবিন্দ গুপ্ত প্রমুখ মনীবর্গ কি ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের ব্যবস্থার জোবে এত বড় হইয়াছেন ? অাচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়–আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু,ব্রজেন্দ্র শীল ভাব মহেন্দ্রলাল সরকার, প্রধান বিচারপতি চন্দ্ৰমাধব ঘােষ, সারদা মিত্র, লালমোহন সাহা কি ব্রাহ্মণের ব্যবস্থা পত্রের সহায়তায় এত বন্ধু হইয়াছেন ? ক্ষত্রিয় বাজে ব্ৰাহ্মণ মন্ত্রীগণের আমলে পড়িলে ইহাদের কি ব্যবস্থা হইত ? ক্ষুদ্র শম্বুকের মত মহারাজা শ্রীরামচন্দ্রের হস্তে ইহাদের শিরচ্ছেদ হইত না কি ? অথবা ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্যের দাসত্ব বা গােল ত্যাগ করার অপরাধে এই সব শুত্র-কথিত মহাত্মাগণকে ভারত-গৌৱৰ রত্নগুলিকে দেশ হইতে নিৰ্বাসন করিয়া দেওয়া হইত না কি? এক কে গায়ত্রীর অধিকারী ? প্রস, কেশবচন্দ্র, রমেশ দত্ত ও স্বামী বিবেকানন্দের জিহ্বা সর্বাগ্রে তী ধার ছুরিকা দ্বারা কাটিয়া ফেলা হইত! মহামহােপাধ্যায় সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ কি ব্রাহ্মণের ব্যবস্থায় সংস্কৃত কলেজের প্রিন্সিপাল হইয়াছেন। ব্রাহ্মণগণের সে প্রতিবাদের কথা দেশবাসী কখন ভুলিবে কি? ব্রাহ্মণ ও তাঁদের লিখিত শাস্ত্র কথিত ম্লেচ্ছ ইংরাজ রাজের অধীনে জয়িতি অধ্যা , ওকালতি মােকাৰী কেরাণগিরি ডাক্তারী ইঞ্জিনিয়ারীং কন্টাক্টারী কর্ম কোন স্মৃতির কোন পংক্তিতে লেখা আছে ? তথাপি সহস্র সহস্র লােক ঐ ব্যবসা করিতেছেন ? তাহারা এ বিষয়ে বাক্যরত্নর তর্কসিদ্ধান্তের ব্যবস্থা পাইয়াছিলেন কি ? পাঠকগণ স্মরণ রাখিবেন,-কোন কালে কোন জাতি বা সমাজ পণ্ডিতের ব্যবস্থাপত্রের জোরে উঠতে পারে নাই-পাবিবেও না। ব্যবস্থাপত্র লাভের আশা ও মায়া পরিত্যাগ কর। আপন আপন গ্রামকে সমাজকে তুলিবার জন্য সকলে অগ্রসর হও। দেবালয় হইতে পুরােহিতকুলকে পেন্সন দিয়া নিজের পূজা অর্চনায় ব্রতী হও। ভােজনে পানে, শয়নে গমনে, উপার্জনে ব্যয়ে, বিবাহে, পুত্রোৎপাদনে কৈ কেহ ও প্রতিনিধিশ্বরূপ পুরােহিতকে ডাক না,-তবে পূজা অর্চনা উপাসনা ভজনায় বেলায় প্রতিনিধি পুরােহিতকে ডাকিবে কেন ? অন্য কেহ আহার করিলে তােমাৰ পেট ভরে কি? তা যদি না ভরে—তবে অন্য কেহ পূজা কৰিলে তােমার পূজা সিদ্ধ হইবে কেন ? এস, ভয় কি? আর জিহবচ্ছেদ, তপ্তকটাহে নিক্ষেপের ভয় নাই। প্রাণ খুলিয়া ওকার রবে দিঙমণ্ডল মুখরিত করিয়া তােল, শিশুগণের কোমল কী হইতে প্রাতঃসন্ধ্যয় সামবেদের মধুর সঙ্গীত উদগীত হউক। নিজে পুপ চন্দন তুলশী ধু ধুপ ধূন সজ্জিত করিয়া প্রাণের হরির পূজায় ব্রতী হও। নিজ হস্তে শ্রীবিগ্রহকে স্নান করাও-নানাৰিখ ।

শূদ্রের পূজা ও বেদাধিকার কুসুম-ভূষণে সজ্জিত করাও-পূজা কর, অর্চনা কর, ভোগ দাও, শয়ন দাও, পঞ্চপ্রদীপে আরতি কর। তাহার কাছে জাতি বিজাতি-ব্রাহ্মণ শূদ্র নাই। তিনি সকলেরই স্রষ্টা পিতা। ভক্তি পূৰ্ব্বক-মন্ত্র তন্ত্রের ধার না ধারিয়া আপনার মাতৃভাষায়-প্রাণের ভাষায় তাহার নিকট প্রার্থনা জানাও,তোমার ভক্তির নৈবেদ্য শ্রদ্ধা-এত্ত ভােগ { ভােজ সামগ্রী। তিনি বিপুল আনন্দে গ্রহণ করিবেন। তিনি কি ভক্ত পুত্র প্রদত্ত উপহার গ্রহণে অসম্মত হইতে পারেন ? তিনি যে ভক্তবৎসল। তিনি যে দৈত্যপুত্র প্রহলাদের বিষ মিশ্রিত অন্ন, গুহক চণ্ডারে সাদরে- পহার, ব্যাধ কন্যা সবরীর ফল, ভক্ত শূদ্র বিদ্যুরের ভক্তির অনুমুচি রুইদাসের প্রদত্ত ভােগ, কসাই সাব নৈবেদ্য সাদবে গ্রহণ করিয়াছেন। তবে তুমি কেন ভীত হইবে । কে কবে নিজে না ভজিয়-পরকে দিয়া পুরােহিত দ্বারা ভজনা করিয়া পূজিয়া ভগবানকে লাভ করিয়াছে। শত শত শতাব্দীর ভ্রান্তি হৃদয় হইতে দূর করিয়া দাও। ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের ব্যবস্থার আশায় বসিয়া থাকিলে-হরিৎবর্ণ বস্তা লাভ হইবে মাত্র—অথবা মৃগ শিশুর মত মরীচিকা আশায় প্রাণ হারাইবে। কোন ফল পাইবে না। অধিকার ভিক্ষায় মেলে না—অর্জন করিতে হয়। আর তোমাদেরও,- গললগ্নীকৃতবাসে করযােড়ে বলি হে কৰি সমাজপতি ব্রাহ্মণগণ! অধিকার সাও-অধিকার দাও। অধিকার না দিয়া কিছুতেই উপায় নাই। শত করা ৯৭ জনকে বেদে বঞ্চিত করিতে যাইয়া তােমরাই বঞ্চিত হইয়াছ, তােমাদের মধ্যে কয়জন বেদ পড়িয়াছে ? বেদ পড়া ত দূরের কথা, বেদ দেখিয়াছ কি? টোলে বেদ ২১ খানা আছে কি ? কাৰ ইও, আর আর প্রবল বজায় তৃতুল্য হইয়া বাধা দিতে অগ্রসর হইও না। প্রহসনের অভিনয় করিয়া আর দিন দিন হাস্যাস্প হইও না, ভয় নাই,-বে শুদ্রেব পূজা ও বেদাধিকার পূজার অধিকার পাইলে শুদ্রগণ • বিদ্রোহী হইয়া তোমাদেব পৈতা বা শ্রদ্ধেব বিবাট গীতা কাড়িয়া লইবে না। মুখের দ্বারাই অধিক ভয়- বিদ্বান বাবা সমাজের ভয়ের কারণ ঘটে না, ববং মঙ্গল হয় । শূদ্রগণকে ধর্মের অধিকার দিলে,বে ব অধিকার দিলে ধম্ম আর ও প্রােজ্জ্বল হইয়া উঠিবে—নাদের প্রাতাহারা অধিক শ্রদ্ধাবান্ হইবে , কবিও না, তােমাদের ব্যবস্থার অপেক্ষায় তাহারা বসিয়া আছে । তােমাদের ব্যবস্থা লইয়া বা অনুমতি পাইয়া জীবেন্দ্র দত্ত বেদান্তরত্ন এবং বারুই জাতীয় যদুনাথ মজুমদার বেদান্তবাচস্পতি হন নাই। নিজের ক্ষমতায় আত্মশক্তিতে ইয়াছেন। হে ব্রাহ্মণ। আপনার ব্রাহ্মণ্য তেজ প্রকাশ কব, ভূমণ্ডবে সকলের মস্তক অ্যাপনা হইতেই নত হইয়া তােমাৰ চবণতলে লুণ্ঠিত হইয়া পড়িবে! উহা কি—ভক্তি শ্রদ্ধা কি আবাব সভাসমিতি কবিয়া ব্রাহ্মণ মহাসম্মিলনী করিয়া উচ্চ চীৎকার, বক্তৃতা প্রদান ও বেলুউসন করিয়া পাওয়া যায় ? সে আশা ত্যাগ প্রকৃত ব্রাহ্মণ হওয়া দুরের কথা, প্রকৃত মানুষ হও, দেখিবে, তােমাদের চরণতলে কোটি কোটি শূদ্র আপনা আপনি আসিয়া মিলিত হইয়াছে। রামকৃষ্ণ, ত্রৈলঙ্গ, ভাস্করানন্দ, বিজয়কৃষ্ণ, সবস্বতী দয়ানন্দ, লােকনাথ, জগদ্বন্ধু হইতে চেষ্টা কব, প্রণাম ভক্তিব পুষ্পাঞ্জলি আপনা আপনি আসিয়া পড়িবে। সভা করিয়া কাগজে লিখিয়া ভক্তি পাওয়া যায় না। অন্যকে ঘৃণা অবজ্ঞা করিয়া শূদ্রগণকে সর্ব প্রকার ধর্মের অধিকার ও সামাজিক উচ্চ অধিকার হইতে বঞ্চিত করিয়া, ভক্তিমার্গ, ক্লানমার্গ, যােগমার্গ পরিত্যাগ পূর্বক একমাত্র দু'আ অবলম্বন করিয়া কখনও তােমরা বাঁচিয়া থাকিতে পারিবে না খসিয়াছে-কায়স্থও খসিবার পথে, নমঃশূদ্র যায় যায়, রাজবংশীয়ও ঐ ১২ শুদের পূজা ওবোধিকার কথা। অনায়েশীয় শতকরা ৫৮ জন পূর্বেই খসিয়া গিয়াছে। আর কাহাদের লইয়া স্মৃতি-সংহিতার বিধান চালাইবে। ব্রাহ্মণ বং হিনুজাতি দিন দিন বংস হইতে চলিয়াছে। আর ঘৃণা বিদ্বেষের কথা,আর পরিত্যাগ পরিবর্জনে প্রাণেথও আনিও না। পার যদি যােগ দাও-বিয়ােগ দিয়া নৈহীন হইও না। তােম পায়ে পড়ি ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ হও, আচাল আপামবে সশসৃষ্টি হও, বিদ্বেষ, হিংসা স্বার্থ বিসর্জন দাও। সৰ্ব্বভূতে ব্ৰহ্মদৃষ্টিই ব্রাহ্মণের প্রকৃত লক্ষণ। পৈতার বল বড় বল নহে,—যােগল, পােবল, মনোবল, ব্ৰহ্মবলে বলীয়ান হও। ভ্রাতৃত্বেব পবিত্র মন্দাকিনী জলে সকল মালি ধুইয়া ফেল। বাহু পাশে আচণ্ডালকে টানিয়া ও শিক্ষা দীক্ষায় তাহাদিগকে মানুষ কর-আধ করিয়া লও। আর্যধৰ্ম্মেৰ আৰ্য জাতির বৈজয় পতাকা আবার ভাবত-গনে পংপং ববে উড্ডীন হউক- ভারতে অজ্ঞান অন্ধকার দূরীভূত হউক। 3 to - মুদ্রাক-প্রহেনাখ সমতী ৰ ২৬১ বেণেটোল লেন, না

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shudrer Puja O Bedadhikar

Author
Bhattacharya,digindranarayan
Title
Shudrer Puja O Bedadhikar
File name
Shudrer Puja O Bedadhikar
Text
OCR done
Citation
1915
Published
2010/05/4
Publisher
Digindranarayan Bhattyacharya ,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
185
Library
Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Classification
Hinduism
Keywords
Veda
DLI number
515200
Barcode
4990010016831.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
bWuBvxnlmK3
Download PDF

Shudrer Puja O Bedadhikar