Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Pattramala
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
পত্রমালা
: স্বামী সারদানন্দের পত্রসমূহের সঙ্কলন)
উদ্বোধন কাৰ্যালয়
বাগবাজার, কলিকাতা
সৰ্বস্বত্ব সংরক্ষিত ]
মূল্য ৬০ আনা
প্রকাশক- স্বামী আত্মবােধান ১নং মুখার্জি লেন, বাগবাজার, কলিকা। এই পুস্তকের সমগ্ৰ আয় জয়রামবাটী মাতৃমন্দিরে “সারদানন্দ-স্মৃতি-গৃহ নির্মাণ কার্যে ব্যয়িত হইবে। প্রিন্টার জিতেন্দ্রনাথ দে ঐকৃষ্ণ প্রিন্টিং ওয়ার্ক ২৫, আপার চিৎপুর রােড, কলিকাতা
No text on this page.
motste Sad?
উৎসর্গ
সহায়সম্বলহীন দীন অকিঞ্চন
গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজা করে আকিঞ্চন।
জ্ঞানভক্তি-মধুগন্ধে ধরায় অতুল
তব পত্র-পুষ্পরাজি সাধকানুকূল,
যতনে চয়ন করি’ ভরি’ নিজ ডালা
প্রীতি-সূত্রে মহারাজ, গাঁথিয়াছি মালা ;
পূরাও বাসনা দেব! করিয়া গ্রহণ,
নিৰ্ম্মাল্য লভিয়া হােক কৃতার্থ ভুবন।
No text on this page.
সঙ্কলয়িতার নিবেদন স্বার্থপর সংসারের ভােগলােলুপ মত্ততা ও ব্যস্ততার মধ্যে এমন দুইএকটি জীবন কদাচিৎ দেখিতে পাওয়া যায়, যাহাদের প্রায় সকল কাৰ্য্যই পরার্থে অথবা শ্রীভগবানের প্রীত্যর্থে অনুষ্ঠিত বলিয়া প্রতীত হইয়া থাকে। যুগাবতার ভগবান্ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অন্যতম অন্তরঙ্গ লীলাসহচর শ্রীমৎ স্বামী সারদানন্দের মধ্যে ঐরূপ মহত্ত্ব ও নিঃস্বার্থ ব্যক্তিত্বের আভাস পাইয়া আমরা কিছুদিন পূর্বে তাহার জীবনের ঘটনাবলীর সংগ্রহ ও আলােচনায় সমুৎসুক হইয়াছিলাম। ঐ কাৰ্যে হস্তক্ষেপ করতে যাইয়া তল্লিখিত অনেকগুলি পত্র হস্তগত হয়, এবং ইহাদের মধ্যে শক্তিপূর্ণ লােককল্যাণকর বহু উপাদান সঞ্চিত রহিয়াছে দেখিতে পাইয়া পত্রগুলি সৰ্বসাধারণে প্রকাশ করিবার ইচ্ছা বলবতী হইয়া উঠে। এইরূপে ‘পত্রমালা’র সঙ্কলন- কাৰ্য্য আরব্ধ হইয়াছিল। শ্রীরামকৃষ্ণসজ্যের অন্যতম গঠয়িতা ও পরিচালক, এবং শ্রীরামকৃষ্ণমিশনের আজীবন সম্পাদক, রহিতাবসর স্বামী সারদানন্দের পত্রগুলির মধ্যে নিরর্থক বাগাড়ম্বর একেবারেই দৃষ্ট হইবে না। প্রশ্নোত্তর-দান কালে শেষ জীবনে আমরা
( ৬ )
তাহাকে যেরূপ দেখিয়াছি, ঐ প্রার অযথা বাকাপ্রয়ােগ
সম্পূর্ণরূপে তাহার স্বভাব ও রুচি-বিরুদ্ধ ছিল। জিজ্ঞাসু
ব্যক্তির সন্দেহভঞ্জন ও কল্যাণকামনা, এবং একান্ত সহানু-
ভূতি হইতে প্রত্যেকটি কথা নিঃসৃত হইত । পত্রগুলির
মধ্যেও ঐভাবের ব্যতিক্রম দৃষ্ট হইবে না।
পত্রমালার প্রায় সকল পত্ৰই জিজ্ঞাসু শিষ্য অথবা
তৎস্থানীয় ব্যক্তিদিগকে লেখা। সাধনপথের বিবিধ
সন্দেহের নিরসন করিয়া--- প্রবর্তককে আশু লক্ষ্যে উপস্থিত
হইবার প্রেরণা ও উৎসাহ দান করিয়া—বাধাবিঘ্নে মুহমান
নিরাশ প্রাণে আশীর্বাদ ও অভয়দানাদি দ্বারা আশা ও
শুক্তির সঞ্চার করিয়া তাহাদিগকে যথার্থভাবে পরিচালিত
করিবার জন্য ঐ সকল পত্র লিখিত হইয়াছিল ; এবং
সেইজন্য কৰ্ম্ম, উপাসনা বা তদুভয় অবলম্বনে ধৰ্ম্মপথে
প্রবর্তিত ব্যক্তিমাত্ৰই ইহাদের মধ্যে অনেক নূতন আলােক
দেখিতে পাইয়া উপকৃত হইবেন, সন্দেহ নাই। তাঁহাদের
সুবিধার জন্য পত্রমালাকে আমরা ‘কৰ্ম্ম’ ‘কৰ্ম্ম ও উপাসনা
‘উপাসনা’ এবং ‘বিবিধ’-এই চারিটি স্তবকে ভাগ করিয়াছি।
ইহজীবনে সাধনার অবসানে সাধক সত্যস্বরূপ শ্রীভগবানের
অন্ততঃ আংশিক উপলব্ধি করিয়াও কৃতার্থ হইয়া থাকেন।
ঐরূপে কৃতার্থ, অনেকগুলি পরিণত জীবনের দেহত্যাগাদির
কথা চতুর্থ স্তবকের পত্রগুলিতে রহিয়াছে।
;
( ৭ )
পত্ৰমধ্যে সহজেই মানুষের আত্মপ্রকাশ হইয়া পড়ে
বলিয়া অনেক পাঠক হয়ত পত্রমালার মধ্যে স্বামী
সারদানন্দের ভিতরের মানুষটির অনুসন্ধান করিতে পারেন।
কিন্তু, সৰ্ব্বভূতে শ্রীভগবানের প্রকাশ উপলব্ধি করিয়া
অপূৰ্ব্ব প্রেমে তাঁহাদের সেবায় তিলেতিলে আত্মদানে
অগ্রসর, অভিমানগন্ধমাত্ৰশূন্য ঘঁহার জীবনে আত্মপ্রতিষ্ঠা
বা আত্মপ্রকাশের বিন্দুমাত্র ভাবও কেহ কখনও দেখে
নাই ;--অথচ, সেইজন্যই ঘঁহার মধ্য দিয়া ভগবানের
গুরুশক্তি করুণায় অবতীর্ণ হইয়া বহুলােকের কল্যাণসাধন
করিয়াছিল, সেই লােকোত্তর মহাপুরুষ স্বামী সারদানন্দের
কোমলকঠোর চরিত্রের সমগ্র পরিচয় মাত্র একশ্রেণীর
লােককে লিখিত পত্রমালার মুষ্টিমেয় পত্রে পাইবার আশা
করা যায় না। তবে তঁাহার প্রেমপূর্ণ কোমল ব্যক্তিত্বের
সহিত পাঠক চতুর্থ স্তবকের পত্রগুলিতে আংশিকভাবে
পরিচিত হইবেন বলিয়া মনে হয়।
ভবিষ্যতে তল্লিখিত আরও অনেক নূতন পত্ৰ একত্র
গ্রথিত করিয়া সহৃদয় পাঠকের সম্মুখে উপস্থিত হইবার
চ্ছা রহিল। অলমিতি।
No text on this page.
প্রথম কৰ্ম্ম
No text on this page.
পত্রমালা
কৰ্ম্ম
(১)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
৭ই চৈত্র, ১৩২৮
শ্ৰীমান্ ন–
তােমার ৬ই চৈত্রের পত্ৰ পাইলাম।—আশ্রম স্থাপনের
চেষ্টায় বহুবি আসিতেছে দেখিতেছি।••••••
যদি কাজই করিতে চাও তাহা হইলে ভগবানের উপর
নির্ভর করিয়া নিজের পায়ে দাড়াও। কোন মানুষের মুখ
চাহিয়া থাকিও না,-আমারও না। কেহ তােমাকে
সাহায্য না করিলেও তুমি একলা ঐ কাজ করিয়া দেহপাত
পত্রমালা করিবে এইরূপ তেজ, সাহস ও ভগবানে নির্ভর লইয়া যদি কাজ করিতে পার ত কর। নতুবা ঐ কার্য্যে অগ্রসর হইও না। য——যাইল না, অমনি মাথা খারাপ হইল, ল—যাহা করিয়া দিবেন বলিতেছেন তাহা যদি না পারেন, অমনি মন খারাপ হইয়া হাত পা বন্ধ হইল— এরূপ হইলে কি কাজ করা যায়? অধিক আর কি লিখিব। আমার আশীৰ্বাদ ও ভালবাসা জানিবে। ইতি শুভানুধ্যায়ী- শ্ৰসারদানন্দ (২) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণং শ্রীরামকৃষ্ণ অদ্বৈতাশ্রম লাক্সা, কাশীধাম ২৯১২১ শ্রীমান ম- তােমার ২১১ তারিখের পত্র যথাকালে পাইয়াছি। গত ২০১ তারিখে আমরা শ্রীমহারাজের সহিত কাশীতে আসিয়াছি। এখানে কিঞ্চিদধিক এক মাস থাকা হইবে শ্রীমহারাজ ও আমরা ভাল আছি।'••Non-co-operation ( অসহযােগ) হাঙ্গামা যতদিন না বন্ধ হয় ততদিন
কৰ্ম্ম
Students' Home ( ছাত্রাবাসের ) ছাত্রদের বাড়ীতে
পড়ানই ভাল। আমাদের ছাত্ররা যাহাতে কিছু লেখা-
পড়া ও কোনরূপ কাজ শিখিয়া নিজের পায়ে দাড়াইতে
পারে এই পর্যন্ত লক্ষ্য রাখাই আমাদের কর্তব্য। উহা
বাড়ীতে পড়াইয়াও হইতে পারে।
আমাদের আশীৰ্বাদ তুমি জানিবে ও সকলকে
জানাইবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(৩)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
১৩৪২১
কল্যাণবরেষু
তােমার ৮৪ তারিখের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম।
আশ্রম self-supporting (নিজের ব্যয়াদি বহনে সক্ষম )
হইয়াছে জানিয়া আনন্দিত হইলাম। শ্রীশ্রীঠাকুর তােমাকে
যন্ত্রস্বরূপ করিয়া উহা করিয়া লইলেন, ইহাও বিশেষ
আনন্দের কথা। তঁাহার শ্রীচরণে তােমার অচলা ভক্তি-
লাভ হউক।•••••
৫
পক্রমালা
আমার শরীর সম্প্রতি মন্দ নহে। আমার ভালবাসা
ও আশীৰ্বাদ জানিবে ও আশ্রমের সকলকে জানাইবে।
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(৪)
কলিকাতা
১৪ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৭
শ্ৰীমান্ প্র—
তােমার ১২ই সেপ্টেম্বর তারিখের পত্র এইমাত্র
পাইলাম। বাবুরাম মহারাজ এখন এইখানেই আছেন,
ভাল আছেন। তাঁহার আশীৰ্বাদ জানিবে। আমার
ভালবাসা ও আশীৰ্বাদ জানিবে ।
গ্রামে দলাদলির কথা যাহা লিখিয়াছ তৎসম্বন্ধে
মীমাংসা হইলে জানাইবে। তােমাদিগের প্রায়শ্চিত্ত সম্বন্ধে
আমার মতামত নিম্নে দিতেছি :-১ম-প্রায়শ্চিত্ত যাহাতে
করিতে হয় তাহার চেষ্টা করিবে। বুঝাইবে, তােমরা
যাহা করিয়াছ তাহা দয়ার কাৰ্য মাত্র ; সমাজের সহিত
কোন সম্বন্ধ নাই। ঐরূপ দয়ার কাৰ্য্য সমাজ না করিতে
দিলে সমাজের সমূহ ক্ষতি।
৬
कम्य
২য়—ঐরূপ বুঝাইলেও যদি সমাজ না বুঝে এবং যদি
দেখ যে যৎসামান্য প্রায়শ্চিত্ত (যাহাতে খুব অল্প টাকা
ব্যয় হয়) করিলে দলাদলি মিটিয়া যায়, তাহা হইলে
প্রায়শ্চিত্ত করাই ভাল। তবে প্রায়শ্চিত্ত-ব্যবস্থা স্বীকার
করিয়া লইবার পূর্বে সমাজের সকলকে নির্ভয়ে বলিবে,
“আপনাদের ব্যবস্থা আমরা স্বীকার করিয়া লইতেছি,
কিন্তু ঐরূপ অসহায় বিপন্ন ব্যক্তিদিগকে সাহায্য করিবার
অবসর ভবিষ্যতে যখনই পুনরায় উপস্থিত হইবে, তখনই
আমরা ঐরূপ সেবা-কাৰ্য্য আবার করিব ;
; আবার
প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইলেও করিব; কারণ, দয়ামায়া
ভুলিয়া মানবের পশু হওয়া ত আর উচিত নয়।”
স্মৃতিতে ঐরূপ কাৰ্য্য প্রায়শ্চিত্তাহ বলিয়া কখনও
নির্দেশ করিবে না। স্বার্থের জন্য মানুষ যে সব কুকাৰ্য
করে, স্মৃতি তাহাদিগের জন্য দণ্ড নির্দিষ্ট করিয়াছেন।
নিঃস্বার্থ কাজ কখনও কুকাৰ্য বলিয়া গণ্য হইতে পারে না।
অতএব নিঃস্বার্থ কাজ স্মৃতিবিধানের বাহিরে। তােমাদের
কোন ভয় নাই ; ঠাকুর কোন না কোন প্রকারে তােমাদের
সমাজের এইরূপ অন্যায় অত্যাচার হইতে রক্ষা করিবেন।
শুভানুধ্যায়ী-
সারদানন্দ
৭
পত্রমালা
(৫)
কলিকাতা
১৯শে সেপ্টেম্বর, '১৭
শ্ৰীমান্ প্র
তােমার ১৭৯১৭ তারিখের পত্র পাইয়া সুখী
হইলাম।
সভায় সাঁওতাল সৎকারের কথা আপনা হইতে
তুলিবার প্রয়ােজন নাই। সৎকাৰ্য্য আপনি আপনাকে
প্রচার করে ; উহা দেখিলেই লােকের সন্দেহ দূর হয়।
অতএব কাজ করিয়া যাও, বেশী কথাবার্তার প্রয়ােজন নাই।
আপনা হইতে ঐ কথা তুলিলে নিজের দম্ভ প্রকাশ
পাইবে। দাম্ভিকতার সহিত কোন কাৰ্য্য করিলে সে কাৰ্য
অসৎ হইয়া যায়।
বাবুরাম মহারাজের এবং তৎসহ আমার ভালবাসা ও
আশীৰ্বাদ জানিবে। আজকাল অধিকাংশ পত্র অন্যের
দ্বারা লিখাইতেছি।
অত্র কুশল ! মধ্যেমধ্যে কুশল
লিখিও। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
৮
কৰ্ম্ম (৬) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণং কলিকাতা ১৫ই অক্টোবর, ১৯২১ --- শ্ৰীমন্ প্ৰ- তােমার ২৬৬ তারিখের পত্র পাইলাম।-বাবুরা আধ কাঠা জমী জুলুম করিয়া লইয়াছেন জানিলাম। উহার জন্য বিবাদ করিবার প্রয়ােজন নাই। তবে আমাদিগের শ্রীশ্রীঠাকুরের কাজে যতটুকু ত্রুটি হইয়াছে তাহার জন্য তাহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া যত শীঘ্র সম্ভব উহা সারিয়া লওয়াই এখন কৰ্তব্য—আর্থাৎ Pillar (থাম) কয়টি যত শীঘ্র হয় গাঁথাইয়া লও।আমি এত দূরে রহিয়াছি, তাহার উপর পাড়াগাঁয়ের জমীদার বাবুদের কুটিলতা ও এই সকল কাৰ্য্য (জমী-ক্রয়াদি) বুঝিও কম। অতএব তােমরা যেমন পরামর্শ দিবে সেইরূপ কাৰ্য্যই করিব। তােমরা শ্রীশ্রীঠাকুর ও মাতাঠাকুরাণীর আশ্রিত, আমাদের আপন লােক, তােমরা যাহা করা ভাল বলিবে, তাহা ভিন্ন অন্য কি করিব। ৯
পত্রমালা
কে—প্রমুখ আশ্রমের
আশীৰ্বাদ জানিবে এবং
সকলকে জানাইবে।...ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
৭|১০|২২
পরম কল্যাণীয় শ্ৰীমান্ প্র—
তােমার ১৫ই আশ্বিনের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম।
তুমি আমার আশীৰ্বাদ ও ভালবাসা জানিবে এবং সকলকে
জানাইবে।
তুমি হােমিওপ্যাথি শিখিবার চেষ্টা করিতেছ লিখিয়াছ
-সে ত উত্তম। আমার এ বিষয়ে বিশেষ সম্মতি আছে
জানিবে। ইহাতে অনেক কাজও হইবে—ম্যালেরিয়ার
সময় সাধারণের খুব উপকারে আসিবে। তুমি খুব উৎসাহ
সহকারে অবসর মত ইহাতে লাগিয়া যাইতে পার।
শ্ৰীমান্ রা—তােমার ঔষধ পুস্তকাদি ক্রয় করিতেছে।
এখানে সব ভাল। আশা করি তুমি ও তােমার
কর্ম
বাড়ীর সকলে কুশলে আছে। তােমার মেয়েটী ভালই
আছে বােধ হয়। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(৮)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২৫শে কার্তিক, ১৩২২
শ্ৰীমান্ ক—
তােমার ১৭ই কার্তিকের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম।
দুর্ভিক্ষপীড়িত ব্যক্তি অনেকে যদি তােমাদের আশ্রমে
সাহায্যার্থী হইয়া আসে তাহা হইলে যে সকল গ্রাম হইতে
তাহারা আসিতেছে সেই সকল গ্রামের অবস্থা লােক
পাঠাইয়া পরিদর্শন করাইয়া অভাবগ্রস্তের (অর্থাৎ যাহাদের
একবেলা খাইবারও সংস্থান নাই) সংখ্যা নিরূপণ করিয়া
তাহাদিগকে নিয়মিতভাবে চাউল দান করিয়া সাহায্য
করিতে হইবে। আশ্রমে লােকাভাব বলিয়া যদি তােমরা
ঐ কাৰ্য্য না করিতে পার তাহা হইলে জানাইবে, বন্দোবস্ত
করিবার চেষ্টা করিব। যদি ঐরূপে কাৰ্য্য করিবার সময়
১১
পত্রমালা
এখনও উপস্থিত হয় নাই বুঝ, তাহা হইলে কিছুদিন পরে
অবস্থা বুঝিয়া সংবাদ দিবে।
শ্ৰীশ্ৰীমা তােমাকে সন্ন্যাস দিয়াছেন জানিয়া সুখী
হইলাম। ইতি পূৰ্বেই ত সন্ন্যাসীর ন্যায় জীবন কাটাইতে-
ছিলে, এখন, চিরকালের মত ঐরূপ করিবার ব্রত ধারণ
করিয়া ভালই হইল।••••••কৰ্ম্মে ডুবাইয়া রাখিয়াছেন
বলিয়া দুঃখিত হইও না। কৰ্ম্মের ন্যায় চিত্ত শুদ্ধ করিবার
দ্বিতীয় বস্তু আর নাই সেজন্য ভাবিবে, শ্রীশ্রীঠাকুর
আমার মঙ্গলের জন্য এখন এইরূপ অবস্থায় রাখিয়াছেন,
পরে যেমন রাখেন তেমনি থাকিব, তাহার ইচ্ছাই পূর্ণ
হউক। তাহার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরের নামই সন্ন্যাস । আমার
আশীৰ্বাদ জানিবে এবং আশ্রমস্থ সকলকে জানাইবে। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰসারদানন্দ
(৯)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
৯ই ফাল্গুন, ১৩২২
শ্ৰীমান্ ক—
তােমার ওই তারিখের পত্র যথাকালে পাইয়া সুখী
হইয়াছি। আমার আশীৰ্বাদ জানিবে এবং আশ্রমস্থ
কৰ্ম্ম
।
সকলকে জানাইবে। এখানে সকলে ভাল আছে।
আশ্রম মিশনের অঙ্গীভূত হইবার পরে যদি তােমরা সকলে
অবসর লও তাহা হইলে আম চলিবে কিরূপে? যে
গাছটি তােমরা স্বহস্তে রােপণ করিয়াছ তাহা তােমাদিগকেই
বাড়াইয়া তুলিতে হইবে—নতুবা, উহা কখনই বাঁচিবে
তবে মধধ্যমধ্যে কিছুকালের জন্য তােমরা অবসর
লইতে পারিবে। শ্রীশ্রীঠাকুরের কাৰ্য্য প্রাণপণে করিয়া
যাও, তিনিই সকল বিষয় দেখিবেন ও তােমাদিগকে রক্ষা
করিবেন। কোন চিন্তা নাই।
শ্ৰীযুত ব্ৰহ্মানন্দ স্বামিজী এখনও ঢাকা হইতে ফিরেন
নাই। শীঘ্রই ফিরিবেন। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১০)
উদ্বোধন আফিস
১৯শে সেপ্টেম্বর ১৭
শ্ৰীমান্ ক—
তােমার ১৭৯ তারিখের পত্র পাইলাম। কাহারও
সহিত মতের মিল না হইলে সৎকাৰ্য্য ছাড়িয়া দেওয়া
পক্রমালা
যুক্তিযুক্ত নহে। মঠের সভাসমিতিতেও অনেক সময়ে
আমরা একমত হই না, কিন্তু যেদিকে অধিক লােক
মত দেন সে পক্ষের মতেই সকল কাৰ্য্য হইয়া থাকে।
পাঁচজনে মিলিয়ামিশিয়া কাজ করিবার ইহাই ধারা। যে
বিষয়ে তােমাদের ভিতর মতভেদ হয়, তাহা আমাকে
লিখিলে আমি প্রতিবিধান করিতে পারি।
তােমার নামে যে জমী আছে তাহা অপরের নামে
লেখাপড়া করিয়া দিবার প্রয়ােজন নাই। তাহা বিক্রয়
করা আবশ্যক হইলে আমাকে জানাইয়া ব্যবস্থা করিবে।
বিষয় সংক্রান্ত কোন বিষয়ে নিজ পূর্ব-নাম ও পিতার
নাম আমরাও কখনও কখনও লিখিয়া থাকি ; তাহাতে
মনে অশান্তি হইবার কোন কারণ নাই। অনেক স্থলে
আবার নিজ সন্ন্যাসের নাম এবং গুরুর নাম দিয়াও কাৰ্য্য
নিৰ্বাহ হয়। শেষােক্ত প্রকার যেখানে চলে না, সেখানেই
পূর্ব নাম বলিতে হয়। তাহাতে মন সঙ্কুচিত কেন হইবে ?
স্বার্থের জন্য কোন কাৰ্য করিলে মন সঙ্কুচিত হইতে পারে,
তােমার ত উহাতে কোন স্বার্থ নাই।...আশীৰ্বাদ জানিবে ।
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
১৪
কৰ্ম্ম
(১১)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২৫{{১৮
শ্ৰীমান্
তােমার ১৪৫ তারিখের পত্রের উত্তর দিতে অসুস্থতা-
বশতঃ দেরী হইল। তােমার শরীর অপটু হইয়াছে, সেজন্য
মনও বিশেষ চঞ্চল ও অশান্ত হইয়াছে। অতএব আশ্রম
হইতে কয়েক মাস দূরে থাকা মন্দ নহে। রাতােমাকে
শ্ৰীশ্ৰীমার ইচ্ছা জানাইয়াছে। ভিক্ষা করিয়া নানা স্থানে
বেড়াইলে শরীর অধিকতর খারাপ হইবে বলিয়া শ্ৰীশ্রীমা
তােমাকে—তেই থাকিতে বলিয়াছেন। আমার মতে
তাহাই ভাল।
তুমি লিখিয়াছ, কোথায় কাৰ্য, কোথায় লভ্যাংশ
তাহা ঠিক। কিন্তু ঐ কাল্পনিক কাৰ্য্য ও লভ্যাংশ লইয়া
তােমাদের বিবাদের ত অন্ত নাই। কাৰ্য্য ও লভ্যাংশটা
দাড় করাইয়া বিবাদ করিলে তাহার প্রতিবিধান সহজ
হইত। যাহা হউক, তােমার শরীরটা একটু ভাল হইলে
পরে সকল দিক স্থিরভাবে চিন্তা করিয়া যাহা কর্তব্য
নিশ্চয় করা যাইবে ।
পত্রমালা
গ—অদ্য প্রাতে শ্রীহট্টে গিয়াছে। শ্ৰীশ্ৰীমার শরীর
এখনও দুর্বল এবং পুনরায় জ্বর হইবার সম্ভাবনা এখনও
দূর হয় নাই। কবিরাজী চিকিৎসা চলিতেছে। আমার
কয়েকদিন জ্বর হইয়াছিল—এখন ভাল। আশীৰ্বাদ
জানিবে। ইতি--
শুশ্ৰীসারদানন্দ
(১২)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
কলিকাতা
১২৫২৫
পরম কল্যানীয় ক—
তােমার ২০শে বৈশাখের পত্র সহ তৃতীয় বার্ষিক
উৎসবের আয়ব্যয়ের হিসাব পাইলাম। ৭৫ টাকা
অতিরিক্ত ব্যয় হইয়াছে জানিলাম। এ বৎসর আমি উহা
পাঠাইয়া দিব। কিন্তু পর বৎসর হইতে তােমাদিগকে
নিজের পায়ে দাড়াইতে হইবে। অর্থাৎ, উৎসবের
জন্য যেরূপ আয় হইয়া থাকে, তাহার আন্দাজ এই
তিন বৎসর একটা পাইয়াছ—সেই আয়ের ভিতরে
উৎসবের খরচাদি তােমাদিগকে চালাইতে
যদি কিছু অতিরিক্ত ব্যয় হয় তাহা হইলে সে দেনা
হইবে।
কৰ্ম্ম
তােমাদিগকেই কোনওরূপে সংগ্রহ করিয়া পরিশােধ
করিতে হইবে। কারণ, আমি কতদিন জীবিত
থাকিব তাহা কে বলিতে পারে এবং এখন হইতে
যদি তােমরা নিজের পায়ে দাড়াইতে না চেষ্টা কর,
তাহা হইলে ভবিষ্যতে আপনাদিগকে নিতান্ত নিরাশ্রয়
মনে করিবে।...
এখানকার কুশল। আমার শরীর ভাল আছে।
টাকা-প্রাপ্তি সহ তােমাদের কুশল-সংবাদ দিয়া সুখী করিবে।
আমার আশীৰ্বাদ সকলে জানিবে। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৩)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২৬৬২৬
পরম কল্যাণীয় শ্রীমান্ ক—
তােমার ৭ই ও ৯ই আষাঢ়ের পত্রদ্বয় যথাকালে পাইয়া
উত্তর দিতেছি। গ্রামের বদমাইসদের অত্যাচারের কথা
२
পত্রমালা
;
লিখিয়াছ ; আমার মতে মােকদ্দমা করিয়া দুষ্টের দমন
করা কর্তব্য।তুমি মােকদ্দমা চালাইতে রাজী থাকিলেই
আমি খরচ কোনওরূপে এখান হইতে দিব।
উৎসবের অতিরিক্ত ব্যয় আমি যতদূর পারি দিব ।
তবে একেবারে না দিয়া ধীরেধীরে দিব, কারণ, হাতে
টাকা কম আছে। তুমি ন্যায়সঙ্গত খরচই আমার নিকটে
বরাবর চাহিয়া আসিয়াছ এবং এখনও চাহ, তাহা আমি
জানি; এবং তজ্জন্য তোমার উপর বিরক্তও কখনও হই
নাই। ওটা তােমার ভুল ধারণা। তবে বরাবর আমি
সমস্ত খরচ জোগাইয়া যাইতে পারিব, ইহা সম্ভবপর নহে।
তোমাকে শ্ৰীশ্ৰীমার উপর নির্ভর করিয়া নিজের পায়ে
দাড়াইয়া ওখানকার কাজ চালাইতে হইবে। সে কথা
পাছে ভুলিয়া যাও, এইজন্যই কখনওকখনও হয়ত কিছু
বলিয়াছি। আমার শরীর দিনদিন যেরূপ অপটু হইয়া
আসিতেছে তাহাতে কোনওরূপ দায়িত্বভার আমার রাখা
অসম্ভব হইয়া পড়িতেছে। এখন হইতে তােমাদের
নিজের পায়ে দাড়াও—ইহাই আমার বলিবার উদ্দেশ্য।
তবে যতদিন আমি আছি ততদিন সকল কথা আমাকে
জানাইও। যদি আমি ঐ সকল বিষয়ে কিছু সাহায্য
করিতে পারি,—উত্তম; না পারিলে ক্ষুন্ন হইও না।
১
কৰ্ম্ম
শ্ৰীশ্রীমার কৃপায় ও এতদিনের চেষ্টায়-কার্য্যের আর্থিক
উন্নতি এখন অনেকটা হইয়াছে। এখন তােমরা একটু
চেষ্টা করিলেই নিজের পায়ে দাঁড়াইতে পারিবে এবং
কাজটিও স্থায়ী হইবে।••••••
আমার শরীর এখন অনেকটা ভাল আছে। এখানেও
বৃষ্টি নাই, অত্যন্ত গরম। আমার আশীৰ্বাদ তুমি জানিবে
এবং ওখানকার সকলকে জানাইবে।
দুষ্টের দমন জন্য মােকদ্দমা করা যদি ভাল বুঝ, তাহা
হইলে পশ্চাৎপদ হইও না। তবে যদি বুঝ আপােষে
দণ্ডদ্বারা উহা ( অত্যাচার) নিবৃত্ত হইবে এবং আর কখনও
হইবে না, তাহা হইলে করিতে পার। ইতি-~-
শুভানুধ্যায়ী--
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৪)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২রা অগ্রহায়ণ, ১৩২৬
শ্ৰীমান্
তােমার ৩০শে কার্তিকের পত্র পাইলাম। তােমার
শরীর যখন এখন ভাল আছে এবং ম্যালেরিয়ার সময়
পত্রমালা
কাটিয়া আসিতেছে তখন তােমার কর্তব্য ক—মহারাজের
কথা শুনিয়া-মঠে থাকা। আমি তাহাকে লিখিয়া
দিতেছি যাহাতে তােমার শরীর ও স্বাস্থ্য বুঝিয়া কাৰ্য্যের
ভার দেন। তুমি ছেলে মানুষ, কাহারও অধীনে থাকিয়া
বাধ্য হইয়া না চলিলে ভবিষ্যতে তােমার মহা অপকার
হইবে। পরিশ্রম না করাইয়া তােমাকে বসাইয়া রাখিয়া
কোনস্থানে কেহ খাইতে দিবে না। যথেচ্ছাচারী হইয়া
কাহারও কখন মঙ্গল হয় না। অতএব কর কথা শুনিয়া
চল এবং পূর্বে যেমন ঠাকুরের কাজ, মঠের কাজ ইত্যাদি
করিয়া দিন কাটাইতে, সেইরূপ কর। তােমার মাতা বৃদ্ধা
হইয়াছেন, যতদূর সাধ্য উপাৰ্জন করিয়া তাঁহার সেবা
করায় তােমার পরম মঙ্গল হইবে। ঠাকুর স্বয়ং তাহার
মাতার কত সেবা করিয়াছিলেন তাহা শুনিয়াছ । অতএব
মন স্থির করিয়া আমি যেরূপ বলিতেছি ঐরূপ করিবে।
অবশ্য তােমার শরীর যদি খারাপ হয় তাহা হইলে কর
অনুমতি লইয়া আমাকে লিখিবে বা তাহার দ্বারা লিখাইবে
তাহা হইলে আমি বন্দোবস্ত করিয়া দিব। আশীৰ্বাদ
জানিবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
২০
का
(১৫)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ
শরণং
শশী নিকেতন, পুরী
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩২০
শ্ৰীযুক্ত
তােমার দুইখানি পত্ৰই যথাকালে পাইয়াছি। কিন্তু
আমি এখন বিদেশে, শরীর-মন নিতান্ত অবসন্ন হওয়ায়
কিছুদিন কাজকর্ম হইতে অবসর লইবার অভিপ্রায়ে।••••••
জমী-বিক্রয়াদি সম্বন্ধে যাহা পূৰ্বে পরামর্শ দিয়াছি
তাহাই এখনও দিতেছি। বিক্রয় করিয়া যে অর্থ হস্তগত
হইবে তৎসম্বন্ধেও ঐ পরামর্শ—দেশ, কাল, পাত্র বুঝিয়া
যাহাতে উহাতে অধিক লাভ হইয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের এবং
দরিদ্রাদি নারায়ণগণের সেবার প্রসার হয়, তাহাই করিবে।
তােমার ঐ পরামর্শ আমার নিকট হইতে গ্রহণ করিবার
বিশেষ প্রয়ােজন আছে। কারণ, ঐরূপ করিলে দশজনে
তােমার নিন্দা করিতে পারিবে না। ব্যবসায় করিয়া যদি
ক্ষতি হয় (ঠাকুর না করুন) তাহা হইলেও সহজে পারিবে
। কিন্তু ঐরূপ পরামর্শ গ্রহণ এবং উহার কাৰ্যতঃ
পত্রমালা
অনুষ্ঠান করিবার অগ্রে আমাদিগের নিজের অন্তরের ভিতর
বিশেষভাবে নিরীক্ষণ করিয়া দেখা উচিত, আমরা বাস্তবিক
স্বার্থশূন্য হইয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের কাজ করিতে অগ্রসর কি-না।
কারণ, ভিতরে স্বার্থ-দুষ্টতা থাকিলে আমাদিগের কৃত কর্মে
ঠাকুরের সেবা না হইয়া আপনার শরীর-মনের সেবা
অর্থাৎ আমি যাহাতে সুখস্বচ্ছন্দে থাকিতে পারি, এইরূপ
বন্দোবস্ত করাই হইবে। গৃহস্থের ত কথাই নাই, সাধু-
সন্ন্যাসীদের অনেকেও ঐ স্বার্থপরতার প্রেরণায় ঠাকুরের
সেবা করিতে অগ্রসর হইয়া নিজের সেবা করিয়া বসে।
সেইটি যাহাতে না হয় তজ্জন্য সর্বদা নিজ মনের প্রতি
চিন্তা, কাৰ্য্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখিবে।•••সাবধানে
নিজ অন্তর সর্বদা পরীক্ষা করিবে, অথচ ভিতরে স্বার্থপরতা
দেখিতে পাইলে লােকে যদি তােমায় সহস্র নিন্দাবাদ
করে তাহাতে অবিচল থাকিবে।......তােমাকে ঐ কথা
শুনাইবার উদ্দেশ্য যাহাতে তুমি নিজের অন্তর পরীক্ষা
করিয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতি বিশ্বাসের উপরেই দণ্ডায়মান
হইয়া থাক এবং তাহার উপর নির্ভর—একান্ত নির্ভর করিয়া
লােকনিন্দায় অবিচলিত থাক। শ্রীশ্রীঠাকুরের সেবা
এবং দরিদ্র ও রােগী নারায়ণদিগের সেবার জন্য সত্যই
যদি তােমার অন্তর আকৃষ্ট হইয়া থাকে, তাহা হইলে ঐ
২২
কৰ্ম্ম
সকল কথায় ভীত, চিন্তিত বা বিচলিত হইবার কোন কারণ
নাই। নির্ভয়ে কাজ করিয়া যাও, দেখিবে, হার কাজ
তিনিই উহাকে ও তােমাকে রক্ষা করিয়াছেন, করিতেছেন
ও ভবিষ্যতে সর্বদা করিবেন।
মিশনের সহিত একীভূত হইবার যদি ইতিমধ্যে সুবিধা
না হয় ত আমি ফিরিয়া ঐ বিষয়ে যতদূর পারি করিয়া
দিব। আমার ভালবাসা ও আশীৰ্বাদ তুমি ও সকলে
জানিবে। ইতি--
শুভাকাঙ্ক্ষী-~-
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৬)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
শশী নিকেতন, পুরী
১৭ই আষাঢ়, ১৩২০
শ্ৰীযুক্ত
তােমার ৮ই তারিখের পত্রখানি যথাকালে পাইয়া সুখী
হইয়াছি। আমাদিগের ভালবাসা ও আশীৰ্বাদ জানিবে
এবং আশ্রমস্থ সকলকে জানাইবে।
পত্রমালা
যােগীন্ মা প্রভৃতি যাহারা এখানে আছেন, সকলে
ভাল আছেন। আমার শরীরও মন্দ নাই। পায়ের
বাতটা এখানে আসিয়া অবধি পূর্বের ন্যায় আর
হয় নাই।
আমি পূর্ব পত্রে যাহা জানাইয়াছি তজ্জন্য দুঃখিত
হইও না। কারণ, দোষ সকল মানুষেরই আছে। তবে
কেহ উহা ছাড়িতে চেষ্টা করে এবং কেহ উহা ছাড়িবার
আবশ্যকতাই বােধ করে না। তােমরা যখন শ্রীশ্রীঠাকুরের
শ্রীচরণে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছ তখন উহা ছাড়িবার
আবশ্যকতা-বােধ এবং ইচ্ছা নিশ্চয়ই তােমাদের ভিতরে
আছে এবং তিনিও নিশ্চয় তােমাদিগকে উহা ত্যাগ করিতে
শক্তি প্রদান করিবেন। আমরাও তােমাদেরই ন্যায়
তাঁহাকে আশ্রয় করিয়া সর্বপ্রকার দোষ-পরিশূন্য হইবার
চেষ্টা করিতেছি, এই পর্যন্ত। আমাদের কি সাধ্য, যে,
কাহারও কিছু করিয়া দিব। তবে, তােমাদের ও সকলের
কল্যাণের জন্য শ্রীপ্রভুর নিকট সর্বান্তঃকরণে প্রার্থনা
পূৰ্ব্বেও করিয়াছি এবং এখন করিতেছি। ইতি—
কল্যাণাকাঙ্ক্ষী-
শ্ৰীসারদানন্দ
১৪
কৰ্ম্ম
(১৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২৬শে মাঘ, ১৩২০
শ্ৰীমান্-
আমাদিগের যখন কিছুই ছিল না তখন আমরা
বরানগর মঠ কি করিয়া চালাইতাম, তাহা তুমি জান
। কোন দিন চাল নাই, ভিক্ষা করিয়া খাইলাম—
এক সন্ধ্যা নুন-ভাত খাইয়া কতদিন গিয়াছে—কতদিন
নুনও জোটে নাই, তরকারির কথা দূরে থাক। ঐরূপ
দৃঢ় সঙ্কল্প থাকিলে এবং ঈশ্বরলাভ করাকেই জীবনের
একমাত্র উদ্দেশ্য বলিয়া বুঝিলে তবে ঐরূপ করিতে
পারিবে। নতুবা, এই দুই দিনের নশ্বর জীবনে ‘চোর’
বনাম লইয়া যাইতে হইবে—ঈশ্বরলাভ ও শান্তি পাওয়া
ত দূরের কথা। তােমাকে আমি বাস্তবিক স্নেহের চক্ষে
দেখি এবং তােমাতে বাস্তবিকই অনেক সগুণ আছে,
তজ্জন্যই তােমাকে এত কথা লিখিতেছি। বিষয়ের এমনি
মােহ যে, বুদ্ধিমান্ ব্যক্তিকেও মােহিত করিয়া ফেলে।
দেখিও, যেন তােমার ঐরূপ না হয়। তােমার ঐরূপ
পত্রমালা হইলে আমার মনে বিশেষ কষ্ট হইবে জানিবে। যদি বুঝ, বিষয় দিনদিন তােমায় জড়াইয়া ফেলিতেছে, তাহা হইলে আশ্রমের কাজ হইতে সরিয়া দাড়াও। যে কাৰ্য্য ঈশ্বর- লাভের পথ রুদ্ধ করে ও দিনদিন অশান্তি বৃদ্ধি করে তাহা অকাৰ্য। তাহাকে ছুড়িয়া ফেলিয়া দিবে। তুমি বুদ্ধিমা তােমাকে অধিক বলা নিষ্প্রয়ােজন।...আমি শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট প্রার্থনা করি, তুমি যেন আয়ের অধিক ব্যয় করিয়া, ঠাকুর-সেবার নিমিত্ত সম্পত্তি বিক্রয় করিয়া বামের ভাগী হও। অধিক আর কি লিখিব। আমার আশীর্বাদ জনিবে এবং আশ্রমের সকলকে জানাইবে। শ্ৰীশ্ৰীমাতাঠাকুরাণীর আশীৰ্বাদ জানিবে এবং সকলকে জানাইবে। সম্পত্তি- সকল যদি ঐরূপে বিক্রয় কর তাহা হইলে আশ্রমকে মিশনভুক্ত করিতে চাহ বৃথা। কারণ, মিশন উহার ভার লইয়া চালাইতে পারিবে না এবং তজ্জন্য ঐ ভার লইবে । ইতি- সতত কল্যণাকাঙ্ক্ষী- সারদানন্দ কৰ্ম্ম (১৮) শরণং কলিকাতা ১৫ই আশ্বিন, ১৩২৩ শ্ৰীমান্ তােমার ১১ই আশ্বিনের পত্র এবং দুর্ভিক্ষের সাপ্তাহিক ও মাসিক রিপোের্ট যথাকালে পাইয়াছি। তােমার প্রেরিত কাপড়গুলিও লােক-মারফত আসিয়া পৌছিয়াছে। কাপড়গুলি সুন্দর হইয়াছে। কিন্তু উহার সম্বন্ধে বক্তব্য ইহাই যে, তােমাদের পয়সার অভাব, তাহার উপর এতগুলি কাপড় উপহার পাঠান ভাল হয় নাই। ভবিষ্যতে আর ঐরূপ করিও না। বড়জোর এক জোড়া পাঠাইবে, শ্রীমহারাজ ও বাবুরাম মহারাজকে এক একখানা দিব। দুর্ভিক্ষের বক্রী চাউলাদি অভাবগ্রস্তদের বিতরণ করা ভাল হইয়াছে।•••••• যে কাজ ফদা হইয়াছে তাহা উঠাইয়া দেওয়া কোন- কালে আমার ভাল লাগে না। কিন্তু স্কুলে যদি ছাত্র না
পত্রমালা
জোটে এবং সেবাশ্রমে রােগীর অভাব হয়, তাহা হইলে সে
কাৰ্য রাখিবার আবশ্যকতা নাই—আমি ঐভাবে
তােমাদিগকে স্কুলের জায়গাটি ছাড়িয়া দিতে বলিয়াছিলাম।
যদি দেখ বিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি হইতেছে এবং
সেবাশ্রমে রােগী আসিয়া উপকৃত হইতেছে, তাহা হইলে
কাৰ্য্য বন্ধ করিবে কেন ? কখন কখন ইহা দেখিতে পাওয়া
যায়, যে কাজ কখন চলিবে না বলিয়া বুঝিতে পারি, সেই
কাজও মায়ায় পড়িয়া আমরা টানিয়া রাখিতে চাই।
ঐরূপস্থলে ঐ কাজ ছাড়িয়া দেওয়াই প্রকৃত বীরত্ব এবং
কর্তব্য। আমরা স্বাধীন, শ্রীভগবানের অংশ ও পুত্র,
আমরা কৰ্ম্মের বন্ধনে ঐরূপে পড়িতে যাইব কেন?
এইরূপ ভাব লইয়া সর্বদা কাৰ্য্য করিবে—সংসারী বদ্ধ
জীবের মত নহে। অতএব যতদিন বিদ্যালয় ও সেবাশ্রম
চলিতে পারিবে বলিয়া বুঝিবে, ততদিন উহাদের রাখিবার
চেষ্টা কর—উহাতে আমার অমত নাই।••••••
শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর আশীৰ্বাদ এবং তৎসহ আমাদিগের
শুভেচ্ছাদি তােমরা সকলে জানিবে।•••ইতি—
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
কৰ্ম্ম
(১৯)
কলিকাতা
৩০শে শ্রাবণ, ১৩২৫
শ্ৰীমান্
তােমার ২৫শে শ্রাবণের পত্ৰ পাইলাম। বাঙ্গালার
সকল স্থানেই বস্ত্র-সমস্যা কঠিন হইয়াছে। সংবাদপত্রে
আপিলাদি বাহির করিতে আরম্ভ করিয়াছি, কিন্তু এখনও
নূতন বা পুরাতন বস্ত্র কেহ পাঠায় নাই। আশা করিতেছি
কিছুদিন বাদে পাইব। যাহা হউক, তােমাদের বিতরণের
জন্য ১০ জোড়া নূতন কাপড় এখন পাঠাইতে পারি,
মজুত আছে। কিন্তু পাঠাই কিরূপে ইহাও স্বল্প সমস্যা
নহে।......
আবার ২৪শে শ্রাবণ তারিখে ব–লিখিয়াছে তাহার
শরীর মন খারাপ হইয়াছে, এবং তুমি তাহার উপর প্রসন্ন
নহ, এক প্রকার কঠোর উদাসীনতা অবলম্বন করিয়া
রহিয়াছ—সেজন্য কিছুকালের জন্য সে অন্যত্র থাকিতে
চাহে। তাহার ঐরূপ পত্রও বিষম ভাবনার কারণ
হইয়াছে। কারণ, সকলেই যদি—আশ্রম ত্যাগ করিয়া
অন্যত্র চলিয়া যায়, তাহা হইলে আশ্রমের গতি কি হইবে ?
যাহারা যাইতেছে তাহারা বহুদিন গত হইলেও আর
পত্রমালা
ফিরিতে চাহে না, ইহাও বিচিত্র। ইহাতে বােধ হয় আমরা
যে ভাবে আশ্রম চালাইতেছি তাহাতে নিশ্চিত কোন বিষম
দোষ প্রচ্ছন্ন রহিয়াছে, যাহা আমরা ধরিতে পারিতেছি না।
শ্ৰীস্বামিজী বলিতেন, যে ব্যক্তি আপনাকে সকলের দাস
বলিয়া যথার্থ ধারণা করিতে পারে, সেই কালে নেতা হইতে
পারে, অন্যে নহে। আশ্রমের উপর সকলের ‘আপনার
বুদ্ধি’ যদি না আনয়ন করাইতে পার, তাহা হইলে কেবল
মাত্র কঠোর নিয়ম করিয়া আশ্ৰম কখনও চালাইতে পারিবে
। ক্রোধ, বিরক্তি, কাহারও ত্রুটিতে অসহনীয়তা, মন-মুখ
এক রাখিতে না পারা, এবং সর্বোপরি, প্রেমের দ্বারা না
হইয়া কৌশলে সকলকে বশে রাখিবার চেষ্টা অতি সহজেই
আশ্রম-ভঙ্গের কারণ হইয়া দাঁড়ায়। আমাদের মধ্যে ঐ
সকল প্রবেশ করিতেছে কি-না, ইহাবিশেষ করিয়া অনুসন্ধান
করিবে। এখানে উপযুপরি নানা বিপৎপাতের উপরে
তােমাদের আশ্রমের সকলের ঐরূপ মনোমালিন্যের ভাব
দেখিয়া আমি বিষম চিন্তিত হইয়াছি। ব–র মনের ভাব
যদি পরিবর্তিত করিতে না পার, তাহা হইলে তাহাকে
এখানে কিছুদিনের জন্য আসিতে বলিবে।
অধিক আর কি লিখিব—সকলে শ্ৰীশ্ৰীমাতাঠাকুরাণীর
আশীৰ্বাদ এবং আমাদের ভালবাসা জানিবে। এখানকার
কৰ্ম্ম
কুশল, কেবল গােলাপ মার রক্ত আমাশয় হইয়াছে।
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
পুঃ—এখানে কাপড় বিক্রয় করিতে পাঠাইয়া তােমার
কোন অন্যায় হয় নাই। সকলেই আগ্রহ করিয়া উহা
কিনিয়া লইয়াছে। অনেকে জিজ্ঞাসা করিতেছে—আবার
কবে কাপড়-চাদর-গামছাদি আসিবে। অতএব ঐ সকল
যতবার ইচ্ছা পাঠাইতে পার, আমি বিক্রয় করিয়া দিতে
প্রস্তুত আছি। ইতি
শু-শ্রীসারদানন্দ
( ২০ )
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
শ্ৰীমান্
তােমার ৫ই ভাদ্রের পত্র ও ৭ই ভাদ্রের পােষ্ট কার্ড
যথাসময়ে পাইয়াছি।••••••
৩১
পত্রমালা
গােলাপ মাতা এ যাত্রা বাঁচিয়া গেলেন, বােধ হইতেছে।
আজ তিন দিন হইল ঘােল দিয়া অন্নপথ্য করিয়াছেন ও
ভাল আছেন। শ্রীশ্রীমা ও অন্য সকলে ভাল আছেন।
শ্রীশ্রীমার আশীৰ্বাদ তােমরা সকলে জানিবে।••••••
তুমি লিখিয়াছ, “এখান হইতে যাহারা যাইতেছেন
তাহাদের না ফিরিবার কারণ কেবল অর্থাভাব।” বােধ
হয় তােমার ঐ কথা সম্পূর্ণ ঠিক নহে। কারণ, অর্থাভাবের
জন্য আমরা অনেক সময়ে (বরাহনগর ও আলমবাজারে
মঠ থাকিবার কালে ) মঠ ছাড়িয়া চলিয়া গিয়াছি, কিন্তু
আর কখন মঠে ফিরিব না--এরূপ সঙ্কল্প কখনও কাহার
মনে আসে নাই। অর্থাভাবে বাধ্য হইয়া লােকে অন্যত্র
যাইতে পারে ইহা মানি, কিন্তু পরস্পরের মধ্যে ভালবাসার
বন্ধন শ্লথ না হইলে আর ফিরিব না একথা মনে উদয়
হইবে না। আবার, অতি কঠোর নিয়ম চালাইবার প্রস্তাবে
অনেকে ভয় পাইয়া পালাবার চেষ্টা করে। নিজের পেটের
ভাত জোগাড় করিতে অনেকে পশ্চাৎপদ হইবে না, কিন্তু
তাহার উপর, প্রত্যেককে নিজে রাঁধিয়া খাইতে হইবে,
এইরূপ প্রস্তাবে অনেকে ভয় পাইয়া থাকে। দেশ বা
সহর বাজার ঘুরিয়া আসিলে যে সকলেই বিগড়াইবে
একথাও ঠিক নহে। শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট একান্ত প্রার্থনা
কৰ্ম্ম
-তােমাদের ভিতর স্বার্থপরতা প্রবেশ করিয়া ভালবাসার
বন্ধন যেন ছিন্ন না করে। ইতি
শু-শ্রীসারদানন্দ
(২১)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
৮৪১৯
শ্ৰীমা-
তােমার ৪ঠা, ৫ই, ৬ই এপ্রিলের পত্রের উত্তর দিই নাই
বটে কিন্তু কাৰ্যে যাহা করা উচিত করা হইয়াছে।•••
আমি পূর্বেই লিখিয়াছি, জমীজারাৎ বিষয়-সম্পত্তি
সম্বন্ধে আমি বুঝি না, আমার পরামর্শ লওয়া বৃথা। তবে
বিষয়-সম্পত্তি সকলের এমন ভাবে বন্দোবস্ত করিবে যাহাতে
মঠ ও মিশনের সুবিধা হয়—যদি উহাতে উক্ত মঠের
সুবিধা না হয় তবে অন্ততঃ বেলুড় মঠের অর্থাৎ শ্রীমহারাজের
উপর কোনরূপ দায়িত্ব না আসে। কারণ, ঐরূপ হইলেই
আমার উপরে দোষ পড়িবে এবং তােমাদের সহিত বেলুড়
মঠের সম্বন্ধও ভবিষ্যতে থাকিবে না। আমি তােমাদের
যথার্থ মঙ্গলকামনা করিয়া আসিয়াছি এবং করিয়া থাকি
পত্রমালা
সেই জন্যই যাহাতে তােমাদের কোনরূপে আয় বৃদ্ধি হইয়া
অঋণী অবস্থায় থাকিয়া মােটা ভাত কাপড় পাইয়া
শ্রীশ্রীঠাকুরকে সর্বান্তঃকরণে ডাকিতে পার, তাহার চেষ্টা
করিয়া থাকি। কিন্তু দিনদিন তােমাদের পরস্পরের
ভিতর যেরূপ মনােমালিন্য আসিয়া উপস্থিত হইতেছে
দেখিতেছি তাহাতে আমার চেষ্টা বৃথা হইতেছে বলিয়া
আশঙ্কা উপস্থিত হইয়াছে। আমার বােধ হয়, স্বার্থ,
বিষয়-বাসনা, প্রভুত্বের ভাব, অহঙ্কার ইত্যাদি তােমাদের
ভিতর প্রবিষ্ট হইয়া তােমাদের একযােগে কাৰ্য্য করিবার
ক্ষমতা নষ্ট করিয়া দিতেছে এবং এখনও যেটুকু আছে
তাহাও ভবিষ্যতে নষ্ট করিয়া দিবে—যদি এখন হইতে
তােমরা—বিশেষতঃ তুমি সাবধান না হও। তােমাকে ঐ
কথা বিশেষ করিয়া বলিতেছি, কারণ, যে অধ্যক্ষ তাহার
ভিতরে ঐ সকল ভাব ঢুকিলেই কাৰ্য্য একেবারে পণ্ড হইবে
এবং বােধ হয় কিছু কিছু ঢুকিয়াছে, নতুবা ক—প্রভৃতির
সহিত তােমার এত মতের গরমিল হয় কেন, যাহাতে তাহারা
চিরকালের মত পলাইতে চাহেব—প্রভৃতি সরল-হৃদয়
বালকেরাই বা কেন মঠ ছাড়িতে চাহে ?—তে পাইখানা
নির্মাণ করা বিষয়েও তুমি ও ক—একযােগে কাজ করিয়া
উঠিতে পারিতেছ না বলিয়া আমার ধারণা হইয়াছে।
৩ঃ
কৰ্ম্ম
কারণ ক—লিখিয়াছে, এ বৎসর ইট পােড়ান বন্ধ থাকিবে
কি-না আদেশ করিবেন। এত আদেশ চাহিবার ঘটা
যেখানে, বুঝা যায়, সেখানে সে নিজে কোন দায়িত্ব
লইতেছে না এবং নিজ মনােভাবও সম্যক্ প্রকাশ
করিতেছে না। আশীৰ্বাদ করি ঠাকুর তােমাদিগকে ঐ
সকল ভাব হইতে রক্ষা করুন ও সরলতা দিন। ইতি
শুশ্ৰীসারদানন্দ
পুঃ-আর এক কথা-সকলের আত্মা চিরস্বাধীন
বলিয়া তাহার মনে সকল বিষয়ে সর্বদা স্বাধীনতালাভের
ইচ্ছার উদয় হয়। যথার্থ নেতা কখন তাহার ঐ স্বাধীনতা-
লাভের ইচ্ছায় বাধা দেন না। কেবল ঐ স্বাধীনতা লাভ
করিলে যাহাতে সে উহার সদ্ব্যবহার করিতে পারে তাহার
চেষ্টাই করিয়া থাকেন।
যে সকল সেবক তােমার নিকটে
মঠে আছেন, তাহাদিগকে ঐ ভাবে চালনা করিতে হইবে।
নতুবা তাহাদিগের মনে যদি এই ধারণা একবার দৃঢ় হইয়া
যায় যে, মঠে থাকিয়া তাহাদিগের স্বাধীনভাবে কোন কাৰ্য্য
করা অসম্ভব, তাহা হইলে তাহারা পলায়ন করিবার
চেষ্টাই করিবে। একমাত্র ভালবাসার বন্ধনেই তাহারা
মঠে রহিয়াছে এবং সকল কাৰ্য নিজের ইচ্ছাতেই করিতেছে,
কাহারও দ্বারা বাধ্য হইয়া নহে—এই ভাবটি যাহাতে
পত্রমালা
তাহাদের মনে থাকে তদ্বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখিবে।
—প্রভৃতির তুমি পূৰ্ব্বে শিক্ষক ছিলে বলিয়া এখনও
তাহাদিগকে সেই চক্ষে দেখিলে চলিবে না। তাহাদিগের
সহিত এখন ‘পুত্রে মিএবাচরেৎ। অলমিতি
শুশ্ৰীসারদানন্দ
(২২)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
১২ই এপ্রিল, ১৯১৯
শ্ৰীমান্
তোমার ১১৪ তারিখের পত্র পাইলাম।....... আমার
পত্রপাঠে ক্ষুব্ধ হইয়াছ। শুধু ক্ষুব্ধ হইয়া যেমন চলিতেছ
তেমন চলিলে হইবে না। আশ্রমের পুরাতন সেবকগণের
হৃদয়ের শ্রদ্ধা ও প্রীতি যাহাতে পূর্বের ন্যায় পুনরায়
আকর্ষণ করিয়া তাহাদিগকে মিলিত রাখিতে এবং একযােগে
কাজ করিতে পার সেইরূপভাবে চলিতে হইবে। কারণ,
আমি কি বুঝিতে পারি না যে, শুধু—প্রভৃতির কেন,
এর মন হইতেও যেন তুমি হটিয়া গিয়াছ এবং তাহারাও
মঠ হইতে পলাইতে চাহে। ইহার কারণ বাহিরে
কৰ্ম্ম
অনুসন্ধানই এ পর্যন্ত করিয়াছ, নিজের ভিতরে ততটা
নহে। এখন হইতে নিজ অন্তরে অনুসন্ধান করিলে
দেখিবে, তােমার ভালবাসার স্বল্পতা বা হৃদয়হীনতা এবং
ক্রোধ, অভিমানাদি হইতেই ঐরূপ হইয়াছে। অতএব
এখন হইতে সাবধান হও, নতুবা সমস্ত কাৰ্য পণ্ড হইবে।
স্বামিজী বলিতেন, “যে ব্যক্তি সকলের দাসভাবে আপনাকে
চালাইতে পারে সেই সকলের নেতা হইতে পারিবে।”
ঐ কথা সর্বদা স্মরণ করিও। ভাবিও না, আমি
বলিতেছি ক—প্রভৃতির কোন দোষ নাই, কেবল তােমারই
দোষ। তাহাদেরও অনেক দোষ আছে কিন্তু তুমি ঠিক
থাকিলে তাহারা শােধরাইবে এবং তােমাকে ছাড়িয়া
পলাইতে চাহিবে না।
—মঠের ছেলেরা তােমার কঠোরতায় ঐ স্থানের
কাৰ্য্য ছাড়িয়া পলাইতে চাহে, এ কথা বেলুড়মঠ ও মিশনের
কর্তৃপক্ষগণের কর্ণেও উঠিয়াছে। কয়েকদিন হইল মিশনের
গভর্ণিংবডি ও মঠের ট্রষ্টিগণের মিটিং হইয়াছিল। উহাতে
তােমাদের বর্তমান অভাবাদির কথা আমি জানাইয়াছিলাম,
এবং সাহায্য করিতে অনুরােধ করিয়াছিলাম। তাহাতে
••••••কেহ কেহ বলিয়াছিলেন.. ••••তথাকার ব্রহ্মচারী
প্রভৃতির ভাব দেখিয়া এখনও বুঝিতে পারি নাই, সে
০ ০ ০ ০
৩৭
পত্রমালা
শ্রীশ্রীঠাকুরের কাৰ্য অগ্রসর করিতেছে অথবা স্বার্থপর
হইয়া আপনার সুবিধাই করিয়া লইতেছে। ঐ কথা
শুনিয়া আমি মর্মাহত হইলেও তাহাদিগকে বুঝাইতে
চেষ্টা করিয়াছিলাম যে অভাব ও অনটনবশতঃই
সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া কঠোর ব্যবহার করে
স্বার্থপরতাবশতঃ নহে। আজ এই পর্যন্ত। আশীর্বাদ
জানিবে। ইতি
শুশ্ৰীসারদানন্দ
(২৩)
ঐশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২রা বৈশাখ, ১৩২৬
শ্ৰীমান্
তােমার ১৩ ও ১৪ তারিখের পত্র আজ একসঙ্গে
পাইলাম।
ভাল আছে। জানিয়া সুখী
হইলাম।•••••••••
তুমি এখন ঠিক বুঝিয়াছ, আমরা সকলেই নিমিত্তমাত্র।
আমি কর্তা এই ভাব থাকিলেই পদে পদে ধাক্কা খাইয়া
আমাদিগের সকলকে শিক্ষালাভ করিতে হয়।......ইতি
শুশ্ৰীসারদানন্দ
কৰ্ম্ম পু-ডাক্তারকে বলিবে, তাহার পত্র পাইয়াছি। আমার পায়ের বাত বাড়িয়া রহিয়াছে। (২৪) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণং •••• কলিকাতা ১৯শে এপ্রিল, ১৯১৯ শ্ৰীমান্ তােমার ১৮৪ তারিখের পত্র অদ্য পাইলাম তােমার প্রশ্নের উত্তর- (১) নিজের ইচ্ছামত কাৰ্য সকল সময়েই সহজে সম্পন্ন করা যায় না, কোন কোন সময়ে ঐরূপ করা যায়। উপরিতনের আদেশানুযায়ী কাৰ্য্য সম্বন্ধেও ঐরূপ নিয়ম জানিবে। অর্থাৎ ঐরূপ কাৰ্য কখন সহজে সম্পন্ন হয়, এবং কখন নানা বিপ্ন বাধা আসিয়া করিতে বিলম্ব হয়। উপরিতনের আদেশানুযায়ী কাৰ্য্য করিবার চেষ্টা করিবে, অথচ ঐ আদেশে যদি গল বা দোষ আছে বুঝা যায়, তাহা হইলে ঐ বিষয় উপরিতন ব্যক্তিকে বুঝাইবার চেষ্টাও করিবে। (২) কোন মেম্বর দ্বারা অন্যায় কাৰ্য্য ও লােকসান
পত্রমালা
হইলে, সাধারণ নিয়ম, তাহাকে ঐ বিষয় বলা কৰ্ত্তব্য।
কিন্তু বলিবার ধারা (প্রকার ) অনেক আছে। যেরূপে
বলিলে উক্ত মেম্বর উহা বুঝিয়া স্বয়ং সাবধান হইবে, সেই
ধারা অবলম্বন করিবার বিশেষ চেষ্টা করা কর্তব্য। বলিবার
দোষেই অনেক সময় লােকে কথা শুনে না।
যে মেম্বর নিজ মতানুযায়ী কাৰ্য্য করিতে বিশেষ সচেষ্ট
হয় ও দল বাঁধিয়া ঐরূপ করে, তাহার সম্বন্ধে কৰ্তব্যাকৰ্তব্য
তাহার পূর্ব কাৰ্য্য ও ব্যবহারাদি দেখিয়া বিবেচনা ও
নির্ধারণ করিতে হয়। পূৰ্ব্বে যে স্বার্থত্যাগী হইয়া
সাধারণের মঙ্গলের জন্য চেষ্টা করিয়াছে তাহাকে পরে
বিপরীত ভাবের কাৰ্য্য করিতে দেখিলে উহার কারণ,
জিজ্ঞাসা করিয়া হউক বা অপর কোন উপায়ে হউক,
নির্ধারণ করিয়া যাহা বলিবার ও করিবার স্থির করিতে
হইবে। যদি বিশেষ স্বার্থত্যাগ করিয়া ঐ মেম্বর সাধারণ
কার্যের প্রধান অঙ্গস্বরূপ হইয়া গিয়া পরে ঐরূপ আচরণ
করে, তাহা হইলে উপরিতনের কোন বিশেষ ত্রুটির জন্যই
ঐরূপ হওয়া অনেক সময়ে সম্ভবপর। মানুষ কাহারও
অধীনে কাৰ্য্য করিতে পারে, কিন্তু যন্ত্র হইতে পারে না।
সেজন্য নিয়মের অত্যধিক বাড়াবাড়ি বা কঠোরতা করিতে
শুদ্ধ তাহা নহে, ঐরূপ মেম্বরকে কখনকখন
নাই।
কৰ্ম্ম
নিজের ইচ্ছামত কাৰ্য্য করিবার স্বাধীনতা দিলে সুফল
ফলিয়া থাকে।
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(২৫)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ
শরণং
কলিকাতা
৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৯
শ্ৰীমান্
তােমার ৩০শে আগষ্ট ও ১লা সেপ্টেম্বরের পত্রদ্বয়
যথাকালে পাইয়াছি।.......
গ—লিখিয়াছে, তুমি নিয়ম করিয়াছ এখন হইতের
সেবকদের মঠে থাকিতে দেওয়া হইবে না এবং ঐজন্য
দুই তিনদিন মাত্র মঠে থাকিয়া
থাকিয়া তাহাকে নিজ
বাড়ীতে গিয়া থাকিতে হইবে।
এ আবার কি অদ্ভুত
নিয়ম হইল! নিয়ম কি যাহা তাহা করিলেই হইল।
ঐরূপ নিয়মের এবং ঐরূপ ভাবে বলিবার ফল ইহাই হইবে
যে গ-র ন্যায় বালকদিগের পর্যন্ত মনে হইবে তুমি
তাহাদিগকে কিছুমাত্র ভালবাস না। সুতরাং তােমার
৪১
পত্রমালা। উপর এবং মঠের উপর তাহাদিগের কিছুমাত্র টান থাকিবে । যদি বল, মঠের কিছুমাত্র আয় নাই, ক্রমাগত দেনা বাড়িতেছে, এমন অবস্থায় ঐরূপ অসুস্থ ও পীড়িত লােক- দিগকে রাখিয়া কেমন করিয়া খাওয়াই? উত্তরে বলিতে হয়, সেই কথাটা তাহাদিগকে খুলিয়া বলিলে তাহাদিগের মন অতটা খারাপ হয় না। তাহারা এতদিন আশ্রমের জন্য প্রাণপাত করিয়া খাটিয়া আসিল, যাহা বলিলে তাহা করিল, তাহার পর তাহাদের অসুস্থ অবস্থায় সহসা একদিন শুনিল--নিয়ম হইয়াছে তাহারা আর মঠে থাকিতে পাইবে , অথবা সমস্ত দিন মঠের জন্য খাটিবে এবং ভিক্ষা করিয়া আনিয়া স্বপাকে খাইবে। তুমি যদি নিয়ম-কৰ্ত্তা না হইয়া নিয়ম-পালয়িতা হইতে তাহা হইলে তােমার মনটা কেমন হইত তাহা ভাবিয়া দেখিও। হয়ত বলিবে, ঐরূপ নিয়ম করিবার তােমার গূঢ় অভিপ্রায় আছে যাহা আমরা বুঝিতে পারিতেছি না। উত্তম কথা, সেই অভিপ্রায়টা খুলিয়া লিখিও। যাহা হউক, এতকথা বলা কেবল তােমার ও আশ্রমের কল্যাণের জন্য। নতুবা গ-কে সংবাদ দিয়াছি সে এখানে চলিয়া আসিলে তাহার বন্দোবস্ত করিয়া দিব। এখন বসিয়া দেখি, ঐরূপ নিয়ম করিয়া আশ্রমের কতদূর উন্নতি হয়। আমি রাগ করিয়াছি এরূপ ভাবিও না। ৪২
কৰ্ম্ম
কেবল ভাবিতেছি, আমিই বুঝিতেছি না অথবা তােমার
বুদ্ধিবিপৰ্যয় হইয়াছে। যাহাই হউক ফলেই বুঝা যাইবে।
আশীৰ্বাদ জানিবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(২৬)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
১৮ই ফাল্গুন, ২৮
শ্ৰীমান্
তােমার পত্রগুলি যথাসময়ে পাইয়া সুখী হইয়াছি।
শ্রীস্বামিজীর জন্মােৎসবে এক সহস্র দরিদ্র-নারায়ণের সেবা
করিতে পারিয়াছ এবং স্থানীয় লােকের উৎসাহ-উদ্যমে উহা
সুসম্পন্ন হইয়াছে জানিয়া সুখী হইলাম। দেশের লােককে
কাৰ্য্যে লাগান আবশ্যক বৈকি। কিন্তু নিজ স্বার্থ ত্যাগ
করিয়া ঐ বিষয়ের যােগ্যতা যিনি লাভ করিয়াছেন তাহার
দ্বারাই উহা সম্ভবপর। ঐরূপ যােগ্যতা যে যতটুকু লাভ
করিয়াছে তাহার দ্বারা ততটুকু কাৰ্য্য হইবে। অতএব
শ্রীশ্রীঠাকুরের উপর নির্ভর স্থির রাখিয়া যাহা পার করিবে।
পত্রমালা
এ বিষয়ে আমি আর কি পরামর্শ দিব, বল। কাৰ্য্যে
লাগিয়া যাও, তিনিই পথ দেখাইবেন ।
আমার আশীর্বাদ ও ভালবাসা স্বয়ং জানিবে এবং
আশ্রমের সকলকে জানাইবে।
এখানকার কুশল।
কৃপায় তােমরাও কুশলে আছ, আশা করি। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
(২৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
১২৯২৪
কলাণবরেষু-
তােমার ১৯শে ভাদ্রের পত্র যথাকালে পাইয়াছি।...
ভক্তমণ্ডলী লইয়া সমিতি গঠন করিয়াছ—উত্তম কথা।
যতটুকু পারিবে সেবাব্রত ততটুকু করিবে বৈকি। কর্মের
কৌশল অথবা টাকা তুলিবার কৌশল ঐ সমিতির কাৰ্য্যের
জন্য জানিতে চাহিয়াছ। ঐ বিষয়ে কোনওরূপ অপূর্ব
কৌশল আমার জানা নাই। সুতরাং বলিব কিরূপে?
৪৪
কৰ্ম্ম
আমি যখন যে কোনও কাজে লাগিয়াছি তাহা মনেপ্রাণে
সম্পন্ন করিতে চেষ্টা করিয়াছি এবং অর্থের অভাব হইলে
লােককে সাদাসিধাভাবে বলিয়াছি—এই কাজের জন্য এই
অর্থের প্রয়ােজন, যদি কিছু দিতে পার ত দাও—এই
পৰ্যন্ত। তুমিও ঐরূপ করিয়া দেখিতে পার। তােমার
ভাগ্যে কি হইবে, জানি না।
তােমার কাৰ্য্যারম্ভের কাল উপস্থিত হইয়াছে লিখিয়াছ।
উহা সত্য হইতে পারে কিন্তু আমার যৌবন ও পূৰ্ব উদ্যম
তাই বলিয়া ফিরিবে না। যাহা হউক, যদি কখনও কোন
বিষয়ের পরামর্শের জন্য প্রয়ােজন হয়, জানাইও। যাহা
মনে আসে বলিব ••••
তােমার শরীর ভাল আছে জানিয়া সুখী হইলাম।
সকলে আমার আশীৰ্বাদ জানিবে। গােলাপ মা ইতিপূর্বে
বিশেষ পীড়িত হইয়াছিলেন, সম্প্রতি একটু ভাল আছেন।
আমার শরীর নানা ব্যাধির আলয় হইয়া পড়িলেও সম্প্রতি
একরূপ চলিয়া যাইতেছে। এখানকার অন্যান্য সকলের
কুশল। মধ্যেমধ্যে তােমাদের
কুশল-সংবাদ দিবে।
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
৪৫
পত্রমালা
(২৮)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১৯২৫
পরম কল্যাণীয় শ্রীমান্
১৯শে ভাদ্রের পত্র পাইলাম। পুরী হইতে ভুবনেশ্বরে
আসিয়া শরীর অনেকটা সারিয়া যায়। সেখানে ১৪ দিন
ছিলাম। এখানে আসিয়া শরীর ভালই আছে। তােমার
এবং আশ্রমের সকলের শারীরিক কুশল জানিয়া সুখী
হইলাম। আমার আশীৰ্বাদ জানিবে এবং সকলকে
জানাইবে।•••••
দুর্বলের উপর প্রবলের উৎপীড়ন শুধু পল্লীগ্রামে কেন,
ভারতের এবং সংসারের সর্বত্রই আছে। শ্ৰীশ্ৰীমা যাহাকে
ঐ অত্যাচার নিবারণের শক্তি দিবেন তাহার নিকটে
উপযুক্ত লােক এবং অর্থ কোথা হইতে আসিয়া পড়িবে
তাহা কেহই জানে না। তােমার দ্বারা ঐ কাৰ্যসাধন
যদি তাহার অভিপ্রেত হয় তাহা হইলে পূর্বোক্ত কথার
সত্যতা বেশ বুঝিতে পারিবে। অতএব আমাকে যেমন
৪৬
কৰ্ম্ম
শ্রীশ্রীমাকে প্ৰতীকারের জন্য জানাইতে বলিয়াছ, তােমরাও
তেমনি তাহাকে একমনে জানাও এবং প্রার্থনার উত্তর
পাইলে তদনুযায়ী কাৰ্য করিও।
তােমরা ঐ কথা—উপযুক্ত, শিক্ষিত ৪৫ জন লােক
ও প্রয়ােজনমত অর্থ মঠ দিতে পারিবে কিনা, তাহা আমি
জিজ্ঞাসা করিব এবং তুমিও মহাপুরুষ মহারাজকে পত্রের
দ্বারা জিজ্ঞাসা করিও। আমি তােমাকে ইতিপূর্বেই
জানাইয়াছি—আমি এখন কাৰ্য্য হইতে একপ্রকার অবসর
লইয়াই রহিয়াছি। আবার যদি কোনও দিন শ্রীশ্রীঠাকুরের
আদেশ কোনও কার্যের জন্য নিঃসন্দেহে পাই তাহা হইলে
আবার নবীন উৎসাহে লাগিব এবং তাহার নিকট হইতে
শক্তিসামর্থ্যও পাইব। যদি ঐরূপ না পাই তাহা হইলে
আমার দ্বারা এ জীবনে যাহা হইবার তাহা হইয়া গিয়াছে
জানিবে। অতএব আমাকে এখন ঐ সকল কথা জানান
বৃথা।......
এখানকার কুশল। মধ্যে মধ্যে তােমাদের কুশল দানে
সুখী করিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী---
শ্ৰীসারদানন্দ
৪৭
পত্রমালা
(২৯)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
শশী নিকেতন, পুরী
২০/২৫
কল্যাণবরেষু
তােমার ১২ই জুলাই এর পত্র পাইলাম। তুমি ইচ্ছা
করিলে এখনই শ্ৰীমান্ সর নিকট যাইতে পার।
ছুটির সময় আমার বিবেচনায় তােমর বেলুড়মঠে বা আমার
নিকটে আসিয়া থাকা ভাল, কারণ উহাতে শ্রীশ্রীঠাকুর
ও স্বামিজীর ভাব তােমার মনে দৃঢ় অঙ্কিত হইবে।
তাহাদের ভাব লইয়া কাৰ্য্য করিলে পরম মঙ্গল হইবে
এবং ঠিকঠিক নিষ্কাম হইয়া কাৰ্য্য করিতে পারিবে।
পরীক্ষার ফল বাহির হইলে আমাকে জানাইও। আমার
শরীর ভাল আছে। ইতি
-
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
৪৮
কৰ্ম্ম
(৩০)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
২৬৪২৬
কল্যাণবরেযু
তােমার ২৩শে তারিখের পত্র পাইলাম। Working
Committee (কার্যকরী সমিতি) যখন ওখানে তােমাকে
কৰ্ম্মী হিসাবে পাঠাইয়াছে, তখন মন স্থির করিয়া ওখানে
থাকাই ভাল। ওখানকার কাজকর্মাদি সব শিখিয়া
লইবে। প্রথম প্রথম সকল স্থানেই ঐরূপ অসুবিধা
ভােগ করিতে হয়। কিছুদিন থাকিলেই উহা চলিয়া
যায়। ওখানে থাকিলে আশা করি তােমার শরীর সারিয়া
যাইবে। শরীর ভাল থাকিলে মানসিক দুর্বলতা প্রভৃতি
দূর হইবে। দুদিন একস্থানে থাকিয়া অন্যত্র যাইবার জন্য
মনকে চঞ্চল করিলে কখনই শান্তি পাইবে না এবং চরিত্রও
গঠিত হইবে না। একস্থানে লাগিয়া পড়িয়া থাকিতে হয়
এবং শ্রীশ্রীঠাকুরের কাজ বলিয়া যেখানেই থাক না কেন,
তাহা আন্তরিকতার সহিত করিতে হয়।
৪৯
৪
পত্রমালা
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা জানিবে এবং আশ্রম
সকলকে জানাইবে। এখানকার কুশল। ইতি
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
( ৩১ )
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম্
কলিকাতা
১৫ই শ্রাবণ
কল্যাণবরেষু-
১৩ই শ্রাবণের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। আমার
আশীৰ্বাদ জানিবে। শ্ৰীমান্ রার অবস্থা খারাপ শুনিয়া
চিন্তিত রহিলাম। তাহাকে আমার আশীর্বাদ জানাইবে ।
শরীর খারাপ থাকিলেও তাহার মন যেন সর্বদা শ্রীশ্রীঠাকুরের
চিন্তায় শান্তি ও আনন্দে থাকে—ইহা প্রার্থনা করি ।
শ্রীশ্রীঠাকুরের পাদপদ্মে সমস্ত কর্মফল ত্যাগ করিয়া
তাঁহার প্রীতির জন্যই কাজ করিয়া যাইতেছি —ইহাই
কৰ্ম্মের কৌশল। ঐরূপ ভাব লইয়া কাজ করিয়া যাও,
তাহা হইলে যেখানে ত্রুটি হইবে তাহা আপনিই ধরিয়া
শােধরাইয়া লইতে পারিবে। ঐরূপ ভাবটি যাহাতে
কাজের ভিতরেও রাখিতে পার তাহার জন্য চেষ্টা করিবে
৫০
কৰ্ম্ম
এবং প্রত্যহ দেখিবে ঐভাব হইতে কতটা বিচ্যুত হইয়া
কাজ করিতেছ।
এ বিষয়ে অধিক লেখা বাহুল্য। যে
চেষ্টা করিবে সে আপনিই ধীরেধীরে বুঝিতে পারিবে।
আমার শরীর ভাল আছে। এখানকার কুশল।
আশ্রমের সকলকে আমার আশীর্বাদ জানাইও। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰসারদানন্দ
(৩২)
গ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
৯৭২৬
কল্যাণবরেষু
তােমার ওই তারিখের পত্র পাইলাম । অল্পবেতন
হইলেও তুমি যে ঐ চাকুরি গ্রহণ করিয়াছ তাহাতে আমি
আনন্দিত হইলাম। যে সামান্য হইলেও কোন সুবিধাই
ছাড়িয়া দেয় না, ভগবান্ তাহার প্রতি কৃপা করিয়া থাকেন
এবং বড় সুবিধা জুটাইয়া দেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট
প্রার্থনা করি তােমাকে তিনি ঐরূপ সুবিধা করিয়া দিন
এবং তােমাদের অসচ্ছল দুঃখদারিদ্র্যপূর্ণ সংসারে সকল
বিষয়ে শান্তি প্রদান করুন।
পত্রমালা
আমার আশীর্বাদ তােমরা সতত জানিবে। আমার
শরীর ভাল আছে। এখানকার কুশল। মধ্যেমধ্যে
তােমাদের কুশল-সংবাদ দানে সুখী করিও। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(৩৩)
শরণম
কলিকাতা
২৬|১০|২৬
পরম কল্যাণীয় অ—
তােমার প্রেরিত ৫ টাকা ও ৫ই কার্তিক তারিখের
পত্র পাইয়াছি। তুমি যে তােমার বৃদ্ধ পিতামাতার সেবার
জন্য যথাসাধ্য পরিশ্রম করিতেছ এবং পিতার ঋণ-মুক্তির
চেষ্টা করিতেছ, ইহাতে আমি তােমার উপর খুব খুসী আছি।
আশীৰ্বাদ করি যেন তুমি ঐ চিরস্থায়ী চাকুরিটি পাও এবং
এইরূপভাবে পিতামাতার দুঃখ দূর করিয়া সুসন্তান হও।
আমার শরীর ভাল আছে। আমার আশীর্বাদ ও
শুভেচ্ছা জানিবে এবং তােমার বাবা ও মাকে জানাইবে।
আমি ভাল আছি। এখানকার কুশল। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
দ্বিতীয় স্তবক কৰ্ম্ম ও উপাসনা
No text on this page.
কর্ম ও উপাসনা (১) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণম কলিকাতা ২৫২২৭ । পরমকল্যাণীয়া — তােমার পত্র পাইয়া সকল কথা জানিলাম। Class IXএ পড়িতেছ, উত্তম কথা—ভয় পাইও শ্রীশ্রীঠাকুরের কৃপায় সব ঠিক হইয়া যাইবে। করিলেই মাথা ঠিক রাখিতে পারিবে না এবং ভুলভ্রান্তি আসিয়া উপস্থিত হইবে। তুমি শ্রীশ্রীঠাকুর ও মার সন্তান, তাঁহাদের প্রীতির জন্য পড়াশুনা করিতেছ ; সুতরাং যাহাতে ভাল হয় তাহারা তাহা নিশ্চিত করিবেন। তাহাদের উপর নির্ভর করিয়া তুমি বেশ মন দিয়া পড়াশুনা করিয়া যাও। এখন বেশী ধ্যানজপ না করিতে পারিলেও ক্ষতি নাই-পরে উহা করিলেই হইবে। পড়াশুনা ত আর নিজের জন্য করিতেছ না, তাহাদের সন্তোষের জন্য- ;
পমালা
যাহাতে তাহাদের সেবা ভালরূপে করিতে পার এবং
তাঁহাদের ভাব ভালরূপে বুঝিতে পার এইজন্য করিতেছ—
ইহাই ভাবিবে। আমি সর্বান্তঃকরণে আশীৰ্বাদ করিতেছি,
তুমি পরীক্ষায় উত্তমরূপে কৃতকার্য হও।
তােমার বাবা, মা এবং ভাইবােনদের সকলকে
আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা দিও। আমি ভাল আছি।
এখানকার কুশল। তােমার সমাসীমা ও স্কুল-বাটীর অন্য
সকলে ভাল আছে। তাহার আশীৰ্বাদ ও ভালবাসা
জানিবে ।•••••
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(২)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
৪|১২৪
পরম কল্যাণীয়া মা ল—
তােমার পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। দিদির সঙ্গে
যখনই ঝগড়া করিবার ইচ্ছা হইবে তখনই শ্রীশ্রীঠাকুরকে
ও শ্ৰীশ্রীমাকে চিন্তা করিবে এবং মনেমনে মন্ত্র জপ করিবে,
তাহা হইলে আর ঝগড়া হইবে না। তােমার বাবার
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
কাছে রােজ একটুএকটু পড়িবে, তাহা হইলেই পড়াশুনা
বেশ ভাল হইবে। গােলাপ মা’র অসুখ থাকিলেও এখন
একটু ভাল আছেন। আমার শরীর একপ্রকার ভাল
আছে। আমার আশীৰ্বাদ সতত জানিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৩২৮
পরম কল্যাণীয়া শ্ৰীমতী স—-
তােমার পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। মীর সেজ
ভগ্নীর অসুস্থতায় এবং তাহার দেহত্যাগের পরে তােমরা যে
দেখাশুনা ও সাহায্য করিতে পারিয়াছ ও পারিতেছ, ইহা
আনন্দের কথা। ঐরূপে আপনাকে ভুলিয়া আমরা সকল
বিষয়ে অপরের দিকে যতই দেখিতে পারি ততই
কল্যাণকর। তােমরা যেন সকলপ্রকার রাগদ্বেষের উপর
উঠিয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের মূর্তি জ্ঞানে সকলের ঐরূপ সেবা
করিতে সমর্থ হও, প্রার্থনা করি।
পমালা
তােমার অভিপ্রায় মত শ্ৰীশ্ৰীমার জন্মােৎসবে তােমার
৪ টাকা দিব।••••••
এবার জন্মতিথি-পূজার দিন তােমরা শ্ৰীশ্ৰীমার ইচ্ছায়
আসিতে পারিবে না সত্য, কিন্তু তিনি কৃপা করিয়া ঐ
দিবসে তােমাদের ও আমাদের মনগুলিকে এমন একসুরে
বাঁধিয়া রাখিবেন যে শরীরগুলি দূরে থাকিলেও অন্তরে
একরূপ আনন্দের প্রবাহ বহিতে থাকিবে। সকলই
শ্ৰীশ্ৰীমার ইচ্ছায় হইতেছে জানিয়া কায়মনােবাক্যে তাহার
শরণাপন্ন হইয়া পড়িয়া থাকার অপেক্ষা শান্তি আর
কিছুতেই নাই জানিবে। ঠাকুরের নিকটে স্বামিজীকে
অনেকদিন এই গানটি গাহিতে শুনিয়াছি-
যখন যেরূপে মাগাে, রাখিবে আমারে,
সেই সে মঙ্গল-যদি না ভুলি তােমারে।
রজত-মণি-কাঞ্চন, বিভূতি ভূষণ,
তরুতলে বাস কিংবা রাজসিংহাসনােপরে ।
আজ প্রাতে তােমার চিঠি পাইয়াই যােগীন মা’কে
পড়িয়া শুনাইয়াছি। তাঁহার ও গােলাপ মা’র শরীর পূর্বের
মতই আছে—অর্থাৎ একটা-না-একটা অসুখ আছেই।
তবে কাজকর্ম করাও পূর্বের ন্যায় চলিয়াছে। তাহাদের
আশীৰ্বাদ জানিবে। আমার আশীৰ্বাদ জানিবে। গি—
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
আশীৰ্বাদ জানাইবে। আমার শরীর
আজকাল ভাল আছে। বড় মহারাজ এখনও আসেন
নাই।...ইতি—
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
পুঃ-রাজার ছেলে ২৪শে
২৪শে ডিসেম্বর কলিকাতায়
আসিবেন। ঐ দিন সহরে হরতাল করিবে। ঐ সব
লইয়া ধরপাকড়া নানা হাঙ্গাম নিত্য চলিয়াছে। ছেলেরা
ও মেয়েরা পৰ্য্যন্ত ঐ বিষয় আন্দোলন করিতেছে।
(৪)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
২১শে যে
কল্যাণবরেষু
তােমার ১৯শে মে তারিখের পত্র পাইয়াছি। সৰ্ব্বদাই
কোন-না-কোন সৎকাৰ্য্য বা সৎচিন্তায় ব্যাপৃত থাকিতে
চেষ্টা করিও। ধ্যানজপ ও স্মরণমনন যতক্ষণ ঠিকঠিক হয়
ততক্ষণ করিয়া, বাকী সময় সৎকাৰ্যসমূহে ‘শ্রীশ্রীঠাকুরের
কাৰ্য’-এই বােধে, নিযুক্ত থাকিও। তাহা
তাহা হইলে অসৎ
পত্রমালা
চিন্তা আসিবার অবসর পাইবে না। শ্রীশ্রীঠাকুর বলিতেন,
‘যত পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে, ততই পশ্চিম দিক্ দূরে
পড়ে থাকবে।
শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট প্রার্থনা করিতেছি, তাহার
শ্রীপাদপদ্মে তােমার শ্রদ্ধা ভক্তি হউক। ইচ্ছা হইলে
তােমার মাতাঠাকুরাণীর সহিত দেখা করিতে যাইতে পার।
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে এবং আশ্রমের
অন্যান্য সকলকে জানাইবে। আমার শরীর ভাল আছে ও
এখানকার সমস্ত কুশল। ইতি---
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(৫)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৩১১া২৪
কল্যাণবরেষু
তােমার ১২ই কার্তিকের পত্র পাইলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের
উপর এবং মন্ত্রের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখিয়া জপধ্যান করিয়া
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
যাইলে ক্রমে সকল বিষয় জানিতে পারিবে। কাৰ্য্যের
ভিতর দিয়া কি করিয়া তাহার উপরে সম্পূর্ণ নির্ভর করিয়া
থাকিবে, তাহা ভিতরে চেষ্টা থাকিলে কাজ করিতেকরিতে
আপনিই বুঝিতে পারিবে। ধ্যান করিবার কালে জ্যোতির্ময়
মূৰ্ত্তি চিন্তা করিতে যদি না পার, ছবিতে দৃষ্ট মূর্তি আসিয়া
পড়ে, তাহা হইলে ছবিতে দৃষ্ট মূর্তির মতই চিন্তা করিবে।
পদ্মের উপর উপবিষ্ট মূত্তি চিন্তা করিতে যাইলে যদি পদ্মের
চিন্তা চলিয়া যায়, কেবল মূর্তি থাকে, তাহা হইলে তাহাই
করিবে। উদ্দেশ্য মূর্তি দেখা—পদ্ম দেখা নহে। ঐ
সকলের চিন্তা কেবল মনকে সমাহিত করিবার সুবিধা
হইবে বলিয়াই করিতে হয়। অতএব যেরূপ ভাবিলে,
যাহা করিলে, মন তাহার দিকে যায়, তাহাই করিবে।
ইহাই সাধারণ নিয়ম। ঈশ্বরের বিষয়ে স্পষ্টজ্ঞান থাকিলে
ত সকলই হইল। ঐরূপ জ্ঞান লইয়া সাধনভজন
করিতে লাগিব, আর সাঁতার শিখিয়া জলে নামিব—এ
দুইই একই কথা।
আশীৰ্বাদ জানিবে। আমি ভাল আছি। ইতি---
শুভানুধ্যায়ী--
শ্ৰীসারদানন্দ
পত্রমালা
(৬)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ '
শরণম
অন্য
কলিকাতা
১৭৪২৫
কল্যাণবরেষু-
তােমার পত্র পাইলাম। এখানে আসিয়া আমার
শরীর মন্দ নাই। সপ্তাহের মধ্যে অর্ধেক সময় বেলুড়
মঠে ও অর্ধেক সময় বাগবাজারে কাটাইতেছি।
কোথায়ও যাওয়া এখনও স্থির হয় নাই।......আশ্রমস্থ
সকলকে আমার ভালবাসা এবং আশীৰ্বাদ দিও।
আমি ত তােমাকে পূর্বেই বলিয়াছি যে সেবাশ্রমের
কাজ আপনার নিজের কাজ ভাবিয়া করিবে ; তাহা হইলে
তােমার নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া অন্যান্য সেবকদিগের কাজে
তােমার সহায়তা করিতে আপনা হইতেই প্রবৃত্তি হইবে ।
অন্যান্য সেবকের নির্দিষ্ট কাজের কথা বলিতেছি না; সময়ে-
সময়ে তাহাদের উপর যে গুরুতর কাজের ভার পড়ে
তাহার কথাই বলিতেছি জানিবে ।
ব্ৰহ্ম ও ব্রহ্মশক্তি এক ও অভিন্ন, যেমন অগ্নি ও তাহার
দাহিকা শক্তি। শাস্ত্রে এই ব্ৰহ্মকে বিরাট পুরুষ ও তাঁহার
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
সহিত মিলিত শক্তিকে জগদম্বারূপে বর্ণনা করিয়াছে।
বেদোক্ত সন্ধ্যাদিতেও গায়ত্রীকে দেবীরূপে ধ্যান করিতে
বলা হইয়াছে। কারণ, এই বিরাট জগৎ ব্রহ্মের শক্তির
খেলাতেই সমুদ্ভূত। সেইজন্য গায়ত্রীর অধিষ্ঠাত্রী দেবতাকে
কোথাও বিরাট পুরুষ এবং কোথাও সেই বিরাট পুরুষের
শক্তি জগন্মাতা বলিয়া বর্ণনা আছে। সেইজন্য (পুরুষ ও
তাহার শক্তি এক বলিয়া) ঐরূপ উভয়বিধ কল্পনায়
Contradiction ( বিবােধ) হয় না।
আমার আশীৰ্বাদ জানিবে। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১৫|১১২৫
কল্যাণবরেষু-
২৮শে কার্তিকের পত্ৰ পাইলাম। আমার আশীর্বাদ
সতত জানিবে। আমার শরীর ভাল আছে।
ধ্যান করিতে বসিলে অনেক সময় কাজের কথা মনে
পর্ণমালা
আসে লিখিয়াছ ; সকলের মনের দশা ঐরূপ। কাজ
ছাড়িয়া বনে যাইলেও উহার হাত হইতে নিস্তার পাইবে
। তবে ঈশ্বর-কৃপায় ‘সংসার অনিত্য’ একথা মনে দৃঢ়
অঙ্কিত হইলে, এবং তিনি আমার একমাত্র গতি, এই
ভাবটি প্রাণে চাপিয়া বসিলে ধ্যানের সময় মনের ঐরূপ
চাঞ্চল্য অনেক কমিয়া যাইবে ; ঈশ্বরের প্রতি প্রবল
আকর্ষণ হওয়া এবং তাহাকে পাইলাম না বলিয়া সর্বদা
প্রাণে হাহাকার হওয়া, তঁাহার কৃপাসাপেক্ষ। ব্যাকুল
হইয়া তাহার নিকট ঐজন্য প্রার্থনা করিও। শরীর যতটা
নিদ্রা চায় ততটা না পাইলেই ধ্যানের সময় তন্দ্রা আসে।
অতএব যে সময়ে তার ভাব আসিবে না, সেই সময়ে
ধ্যানচিন্তা করাই ভাল। ভােরে উঠিয়া আশ্রমের কাজকর্ম
কতকটা সারিয়া লইবে, পরে ধ্যানচিন্তা করিবে। তাহ
হইলে বােধ হয় তার ভাব আসিবে না। বিশেষ অসুবিধা
হইলে উহা একবার করিয়া দেখিতে পার।
উভয় আশ্রমের সকলকে আমার আশীর্বাদ জানাইবে।
শীত পড়িতেছে, এখন একটু সাবধানে থাকিবে ; নতুবা
ঠাণ্ডা লাগিয়া পুনঃপুনঃ জ্বর হইতে পারে। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
৬৪
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
(৮)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
રાહક
কল্যাণবরেষু --
২২শে মে'র পত্র পাইলাম। আমার মতে তােমার
এখন ঐ স্থানেই যেরূপে কাজকৰ্ম্ম করিতেছ এবং ধ্যানজপ
করিতেছ সেইরূপে করাই ভাল। বিশেষতঃ গ্রীষ্মকাল
বিশেষভাবে সাধন করিবার অনুকূল নহে। শ্রীমান্
রাকে আমার আশীৰ্বাদ ও ভালবাসা জানাইবে। তুমি
আমার আশীৰ্বাদ জানিবে!......
তপস্যার স্থান তুমিই কাহারও নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া
স্থির করিবে। কারণ, আমরা বহু পূৰ্বে ঐ সকল স্থানে
গিয়াছি; এখন উহা কেমন আছে জানি না। আমাকে
ঐ সকল কথা জিজ্ঞাসা করা নিপ্রয়ােজন। তােমার প্রাণে
যদি তপস্যা করিবার সেরূপ ব্যাকুলতা আসে, তাহা হইলে
তুমি আপনিই ঐ কাৰ্যে প্রবৃত্ত হইবে। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
পত্রমালা
(৯)
ও
কলিকাতা
৪।১২।২৫
কল্যাণবরেষু-
১লা ডিসেম্বরের পত্ৰ পাইলাম।•••লেখাপড়া শেখাটা
সাধন-পথের অন্তরায় নহে। বিদ্যালাভে নানা বিষয়ের
জ্ঞান হয় এবং কার্যকরী শক্তি বৃদ্ধি পায়।
তবে ঐ শক্তি
লাভ করিবার পরে উহাকে যেমন ভাবে ব্যবহার করিবে
তেমন ফল পাইবে। যদি ভগবান-লাভের দিকে ব্যবহার
করিতে চাও ত সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ফল লাভ হইবে।......
আমার আশীর্বাদ জানিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(১০)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম্
কলিকাতা
২৬৪২৩
কল্যাণবরেষু-
৩রা বৈশাখের পত্র যথাকালে পাইয়াছি। শরীর
অসুস্থ থাকায় উত্তর দিতে পারি নাই। এখন ভাল আছি।
আমার আশীৰ্বাদ জানিবে।••••••
কর্ম ও উপাসনা
যেখানেই থাক অধ্যক্ষের আজ্ঞামত চলিও এবং নিজের
জপধ্যান নিত্য যথাসাধ্য করিও। আমাকে সকল বিষয়ে
জানাইয়া করিবার প্রয়ােজন নাই। নিজের সহজ বুদ্ধিতে
যেখানে থাকিলে, যাহা করিলে ভাল হয় বুঝিবে, তাহাই
করিও। ধর্ম সম্বন্ধে কোনও প্রশ্নাদি মনে উঠিলে আমাকে
জিজ্ঞাসা করিতে পার। অন্য সকল বিষয়ে নিজেই বিবেচনা
করিয়া নিজের পায়ে দঁাড়াইবার চেষ্টা করিবে। সকলকে
আমার আশীর্বাদ জানাইবে। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(১১)
শরণং
কলিকাতা
৩৪২৭
কল্যাণবরেষু
পূ5, ১লা এপ্রিলের পত্র পাইলাম। গুরুর ধ্যান
অধিকক্ষণ করিবার প্রয়ােজন নাই। গুরুকে স্মরণ এবং
প্রণাম করিয়া ইষ্টের ধ্যানেই অধিক সময় কাটাইও) মন্ত্র
জপ করিতেকরিতে ইষ্টের ধ্যান করিবে। কাজ করিলে
যখন মনে সংস্কার জোর করিতে পারে না, তখন যােল আনা
পত্রমালা
মন দিয়া কাজ করিবে। পূৰ্ব-সংস্কার জয়ের নিষ্কাম কর্মই
বিশেষ উপায়। শ্রীশ্রীঠাকুরের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখিয়া
চেষ্টা করিয়া যাও, তাহা হইলেই ক্রমশঃ পূৰ্ব্ব-সংস্কারকে
জয় করিতে পারিবে এবং মনে শান্তি পাইবে। দৃঢ়
বিশ্বাসই একমাত্র উপায়।
তুমি আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা জানিবে। এবং
রকে আশীৰ্বাদ জানাইবে। আমি ভাল আছি।
এখানকার কুশল। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১২)
রামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৪।২৭
কল্যাণবরেষু
তােমার ২৬শে এপ্রিল তারিখের পত্র পাইয়া সকল
কথা জানিলাম। খুব কাজ করে যাও এবং ভগবান্কে
কেঁদে কেঁদে ডাক। তাহার কৃপায় তােমার শরীর ও মন
শুদ্ধ ও পবিত্র হউক-আশীৰ্বাদ করি। এতটুকু সময়
যাহাতে কোনও বাজে চিন্তা না আসিতে পারে, তাহার জন্য
?
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
সর্বদা একটা না একটা কাজে লাগিয়া থাকিবে। কাজ
করাই তােমার পক্ষে ভাল। যদি উহাতে জপধ্যান কম
হয় তাহাতে ক্ষতি নাই। ঐশ্রীঠাকুরের আশ্রয়ে আসিয়াছ
এবং তাহার কাজ করিতেছ,মনে কুভাব কেন আসিবে?
জোর করিয়া ঐ সকলকে তাড়াইয়া দিবে।
স, অ—প্রভৃতি সকলকে আমার আশীর্বাদ ও
শুভেচ্ছা জানাইও। এখানকার কুশল। আমি ভাল
মনের গোল সব ঠিক হইয়া যাইবে—তুমি
ভাবিও না। ইতি ---
শুভানুধ্যায়ী
শীসারদানন্দ
(১৩)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
আছি।
২০শে মে
কল্যাণবরেষু
তােমার ১৭ই মে তারিখের পত্র পাইয়াছি। কর্তব্য
কৰ্ম্ম নিয়মিতরূপে করিয়া যতটুকু সময় পাও ততটুকুই
শ্রী শ্রীঠাকুরের স্মরণমননে নিয়ােজিত করিতে চেষ্টা করিও;
তাহা হইলেই হইবে। তােমার মন্ত্রটির অর্থ কি, তাহা
পত্রমালা
জানিলেও ক্ষতি নাই। শ্ৰীভগবান্ তােমার সকল
অপূর্ণতা দূর করিয়া শুদ্ধা ভক্তি দিন,—ইহাই ভাবার্থ।
তুমি আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে এবং
ওখানকার অন্যান্য সকলকে জানাইবে। আমার শরীর
ভাল আছে ও এখানকার সমস্ত কুশল। মহাপুরুষ
মহারাজ ভাল আছেন ও মঠের সমস্ত কুশল। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৪)
শ্রীশ্রীরামক
শরণঃ
কলিকাতা
২৬শে শ্রাবণ, ১৩২৩
শ্ৰীযুত
••••••তােমার নিজের সম্বন্ধে যাহা লিখিয়াছ তদ্বিষয়ে
শ্রীশ্রীঠাকুর বলিতেন, “শৌচাদি গমন করিয়া তাহা কি
কেহ মনে রাখে, উহা যখনকার তখন হইয়া গেলে ভুলিয়া
যাইয়া আপন কাৰ্য্যে (শ্রীভগবানের দিকে মন দিতে
হয়।” অতএব তাহার নাম লইয়া তাহার কাৰ্য্য করিতে
করিতে চলিয়া যাও, উহা আপনিই কমিয়া যাইবে ; কালে
থামিয়াও যাইবে। পূর্বে আমাদের কেমন নিয়ম ছিল
৭০
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
বল দেখি,—দিনক্ষণ দেখিয়া তবে কর্তারা বাটীর ভিতর
শয়নে যাইতেন। ঐরূপ করা যে খুব ভাল এবং সংযমের
সহায়ক তাহা বলিতে হইবে না। যতদিন না এককালে
বিতৃষ্ণা হয় ততদিন ঐরূপ করিতে পার।
শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর শরীর পূর্বাপেক্ষা অনেক ভাল।
রাধুর মধ্যে একদিন ব্যথা ধরিয়াছিল, এখন ভাল আছে।
অপর সকলেও ভাল আছে। শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর
আশীৰ্বাদ ও আমাদিগের শুভেচ্ছা সতত জানিবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী--
শ্রীসারদানন্দ
(১৫)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
।
শরণং
কলিকাতা
২৯১১১৮
মা-
তােমার ৫শে নভেম্বর তারিখের পত্র ও বস্ত্র বিতরণের
হিসাব যথাসময়ে পাইয়া সুখী হইয়াছি। শ্রীশ্রীমাতা-
ঠাকুরাণীর আশীৰ্বাদ তােমরা সকলে জানিবে।••••• তােমরা
সকলে আমার আশীর্বাদ জানিবে।••••••
৭১
পত্রমালা
তােমাদের মধ্যে অশান্তি ও বিবাদ ইত্যাদির কথা যাহা
লিখিয়াছ, তাহার মূল কারণ—কৰ্ম্মের অত্যন্ত প্রসার
হওয়ায় লােকের ধ্যান-ধারণা পূজাপাঠ ইত্যাদি উচ্চ চিন্তা
ও চর্চা করিবার অবসরের ক্রমশঃ বিশেষ অভাব হইয়া
দাড়াইতেছে। আত্মােন্নতি-সাধনের একটি পথ কৰ্ম্ম,
একথা নিশ্চয় ; কিন্তু কর্মদ্বারা চিত্তের যে বিক্ষেপ ও
চাঞ্চল্যউপস্থিত হয় তাহা নিবারণের একমাত্র উপায় ঈশ্বরের
বা উচ্চ বিষয়ের চিন্তা ও চর্চা। তােমরা সকলে শ্রীভগবানের
সাক্ষাৎকার লাভকে জীবনের উদ্দেশ্য করিয়া সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী
হইয়াছি, কিন্তু অত্যধিক কৰ্ম্মের প্রসারে এবং—আশ্রমের
ভার স্কন্ধে থাকায় ঐ কথা তােমাদিগকে অনেক সময়
বিস্মৃত হইয়া পড়িতে হয় এবং উহা হইতেই যত অশান্তির
উদয় হইয়া থাকে। বালক ব্রহ্মচারিগণ যাহাতে গীতা,
স্বামিজীর গ্রন্থাবলী প্রভৃতি ধর্মশাস্ত্রসকল সংস্কৃত ও
ইংরাজীতে পাঠ ও অর্থবােধ করিতে পারে, তাহার বন্দোবস্ত
ধীরেধীরে করা কর্তব্য। আশ্রমে কখনকখন, যথা
পৰ্বকালাদিতে অথবা পুণ্যমাসসমূহে, নিয়ম করিয়া কোন
শাস্ত্র পাঠ ও কীৰ্ত্তনাদি করা ভাল। উহাতে সাধারণ
লােকও যােগদান এবং শিক্ষালাভ করিতে পারে। ঐরূপে
কর্মের দিকটা কিছু কমাইয়া বৈরাগ্য ও ধর্মচর্চার দিকটা
২
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
একটু বাড়াইলে বিপদ ও অশান্তি অনেকটা আপনাপনি
কমিয়া যাইবে। যে সকল জমী লইয়া মামলামােকদ্দমা
বিবাদ করিতে হয় সেই সকল বিক্রয় করিয়া ফেলাই
উচিত—উহাতে আর কিছু না হয়, শান্তিতে থাকিতে
পারিবে। যতটা কৃষিকাৰ্য্য করিলে খাটিয়া মনের অশান্তি
হয় এবং সফল না হইলে বিশেষ লােকসানের দায়ী
হইতে না হয়, ততটা কৃষিকাৰ্য্যই করিবে, অধিক নহে।
তাঁতের কাৰ্যও ঐরূপ। শাকান্নভােজন করিয়া সন্তুষ্ট
থাকিয়া যত পার শ্রীভগবান্কে ডাক। এইরূপে চলিলে
বােধ হয়, এখন আবার মঠে শান্তি চিরস্থায়ী হইবে।
আশীৰ্বাদ জানিবে । ইতি--
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৬)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
১৭ই এপ্রিল, ১৯১৯
শ্রীমা
তােমার ১২৪ তারিখের পত্রে লিখিয়াছ, কও
বর সহিত তােমার সম্প্রতি একযােগে কাৰ্য করা অসম্ভব
৭৩
পত্রমালা
:
হইয়াছে। কেননা,
আমাদের কোন আদেশও তােমার
ভিতর দিয়া উপস্থিত হইলে তাহারা লয় না। তবে আর
ঐ সম্বন্ধে লিখিয়া কি করিব ? শ্রীশ্রীঠাকুরের উপর
তােমার ও আমার একান্ত নির্ভর করিয়া থাকা এবং তাহাকে
তোমাদের মন, যাহাতে সকলের মঙ্গল হয় সেইদিকে
ফিরাইয়া দিতে প্রার্থনা করিয়া নিরস্ত থাকাই ভাল।
আমার মনে হয়, তুমি যখন শ্রীশ্রীঠাকুরের কাৰ্য্য করিতে
নামিয়াছিলে তখন তােমার বিবাহ করাটা ভুল হইয়াছিল ;
আবার বিবাহই যদি করিলে তবে সন্ন্যাসী হওয়াটা আবার
ভুল হইল; আবার সন্ন্যাসীই যদি বা হইলে তাহা হইলে
তােমার মা ও স্ত্রীর, তুমি না দেখিলেও যাহাতে ভরণপােষণ
চলিয়া যায় এরূপ ভাবের কোন বন্দোবস্ত না করিয়া দিয়া
তঁাহাদিগকে নিজ তত্ত্বাবধানে রাখা ভুল হইয়াছে। সেই
ভুলের হস্ত হইতে পরিত্রাণ পাইবে বলিয়াই আমি
বলিয়াছিলাম,••••••যাহাতে তঁাহারা তােমাদের সাহায্য
ব্যতীত চলিতে পারেন, এইরূপ করিয়া দিতে। তােমার
মা ও তুমি তাহাতে পুনরায় ভুল করিয়া শ্ৰীশ্ৰীমার আদেশ
লইয়া অন্যরূপ করিতে চেষ্টা করিলে। এখন তােমার
মা যতদিন জীবিত আছেন ততদিন একরূপ চলবে,
তাহার পরে তােমাকে বিশেষ অশান্তি লােগ করিতে
৭৪
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
এবং লােকের অনর্থক নিন্দাও সহ্য করিতে হইবে। অতএব
সাধু, এখন হইতে সাবধান হও। এই সকল কথা
তােমার মা স্ত্রীলােক ( চিরকাল সংসার-বাসনা প্রবল),
বুঝিবেন না—তুমিও যদি এখন না বুঝ, তাহা হইলে
ভবিষ্যতে বুঝবে এবং কষ্ট পাইবে।
যদি বল, তাহা হইলে তােমার এখন কর্তব্য কি?
তাহাতে বলি—••••••পূজাপাঠ সাধনভজনের কাৰ্য্য ভিন্ন
অপর কাৰ্যসকল কম করিয়া যথাসাধ্য কর, বিশেষ সুযােগ
উপস্থিত না হইলে, নূতন কোন কাৰ্য্যের প্রতিষ্ঠা করিও
না
।''যাহার খাজনা বা ধান্য আদায় করা এক হাঙ্গামা
এবং যাহা নিজের তত্ত্বাবধানে রাখা অসম্ভব--সুবিধা
পাইলেই ঐরূপ জমজমা বিক্রয় করিয়া টাকা আমার
নিকটে পাঠাইয়া উহার সুদ হইতে আশ্রমের ব্যয় নির্বাহ
করিবার চেষ্টা কর। নিজেরা চাষ করিতে চেষ্টা করিও না।
আমার সামান্য বুদ্ধিতে ঐ উপায়গুলি অবলম্বন করাই
এখন যুক্তিযুক্ত মনে হইতেছে। অবশ্য ঐ সকল উপায়
অবলম্বন করিয়া চলা এখনই হইতে পারে না—-ঐ
সকলের প্রবর্তন করিতে সময় লাগবে। আমার ঐ
সকল কথা ভাবিয়া দেখিয়া তোমার কি মনে হয়, তাহা
সময়মত জানাই। আমি যােগদৃষ্টি-সহায়ে ঐ সকল কথা
পত্রমালা বলি নাই। নাই। তােমার তােমার সহিত পরামর্শে আশ্রমকার্যের পরিচালনার একটা সুপথ স্থির করিতে চাহিকারণ, যে ভাবে আশ্রমকাৰ্য্য এতদিন করা হইয়াছে তাহার পরিবর্তন অবশ্য কর্তব্য হইয়া উঠিয়াছে। ঐ বিষয়ের মিথ্যা আলােচনায় সময় নষ্ট না করিয়া, এখন হইতে আশ্রম- কাৰ্য যাহাতে স্থায়ী ও উত্তমরূপে চলিতে পারে, ভাবিয়া চিন্তিয়া তাহাই লিখিবে। ঐ কাৰ্য এখনকার অপেক্ষা উত্তমরূপে চালাইতে পারিলে সকলেই ঠাকুরের কৃপায় আবার ঘুরিয়া আসিবে। যদি না আসে, তাহা হইলেও ক্ষতি নাই ; বুঝিব, ঠাকুর তাহাদিগকে অন্য দিক দিয়া কল্যাণের পথে লইয়া যাইতেছেন। অধিক আর কি লিখিব, আমার আশীৰ্ব্বাদ জানিবে । শুভানুধ্যায়ী- শ্ৰীসারদানন্দ (১৭) এমীরামকৃষ্ণ শরণং কলিকাতা ৩১১২৪ কল্যাণবরেষু- তােমার পত্ৰ পাইলাম। পূজনীয় মহাপুরুষ এখনও ৭৬
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
বাঙ্গাললারে আছেন। তিনি ফিরিলে তােমার ব্রহ্মচর্য্য
লইবার ইচ্ছা তাহাকে জানাইব। ফলে যাহা হয় পরে
জানিতে পারিবে।
ব্রহ্মচর্য্য, সন্ন্যাস ইত্যাদি নানা প্রকার মতলব আঁটিতেছ,
কিন্তু ধৰ্ম্ম-জীবনের যাহা সার পদার্থ শ্রীভগবানকে প্রাণের
সহিত ভালবাসা, তাহার কতদূর কি করিতেছ? যাহাতে
তাহা লাভ করিতে পার তাহার জন্য চেষ্টা কর। তাহা
হইলে যাহাই কর না কেন, সকলই বৃথা। নাগ
মহাশয়ের ন্যায় গৃহী যে অনেক সন্ন্যাসী অপেক্ষা বড়, একথা
বলা বাহুল্য। আমার মতামত চাহিয়াছ, সেজন্য লিখি--
ব্রহ্মচর্য-ব্ৰত লও, তাহাতে আমার আপত্তি নাই; কিন্তু
ঐ ব্ৰত লইয়া কোনও মঠে অলস জীবন যাপন করা, যেমন
অনেকে করিয়া থাকে, তদ্বিষয়ে আমার কিছুমাত্র মত নাই
জানিও। আর সন্ন্যাস লওয়া—ওকথা এখন মনেই আনিও
। ২০ বৎসর বাদে সন্ন্যাসী হইবার ইচ্ছা হইলে আমাকে
অথবা মঠের অধ্যক্ষকে জানাইও।
আমার আশীর্বাদ সতত জানিও এবং তােমার
পিতামাতাকে জানাইও। এখানকার কুশল। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
;
পত্রমালা
(১৮)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
কলিকাতা
৪২৫
====
কল্যাণবরেষু-
তােমার ২রা মের পত্র পাইলাম। যৌবনের ধর্মই
ঐরূপ, বিশেষতঃ যদি উহার সহিত কুসঙ্গ জোটে। তাহা
হইলে সংযমের বাঁধ দেওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়।
কুঅভ্যাস একবার দৃঢ় হইলে অনেক কষ্টে ও অনেক বৎসরে
তবে উহাকে আয়ত্ত করিতে পারা যায়। অতএব এখন
হইতে সৎসঙ্গ, সৎচিন্তা এবং শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট কাতর
প্রার্থনা ও সগ্রন্থ পাঠ—এই সকল নিত্য অভ্যাস করা
আবশ্যক। এক বা দুই বৎসর কাল ঐভাবে প্রাণপণে
চেষ্টা করিলে উহার ফল বুঝিতে পারিবেই পারিবে।
যাহাদের উহাতেও হইবে না, তাহাদের বিবাহ করিয়া
সৎভাবে জীবনযাপন করাই কৰ্ত্তব্য। আশীৰ্বাদ জানিবে।
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
৭৮
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
(১৯)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ
শরণ
শশী নিকেতন, পুরী
২৫/৬২৫
কল্যাণবরেষু-
তােমার ২২শে জুনের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম।
শ্রীভগবাকে (শ্রীশ্রীঠাকুরকে ) নিত্য ডাকিলেই মন স্থির
থাকিবে। অতএব ঐ কাৰ্য্য করিতে কখনও ভুলিও না।
অবশ্য পরীক্ষার সময় পরীক্ষার সাফল্যের দিকে দৃষ্টি
যথাসম্ভব রাখিবে। আশীর্বাদ করি, পরীক্ষায় উত্তমরূপে
উত্তীর্ণ হও। পরীক্ষা শেষ হইয়া গেলে আমাকে পুনরায়
পত্র লিখিও। খুব সম্ভবতঃ আমি তখনও এখানে থাকিব।
কারণ, ইতিপূৰ্ব্বে প্রায় একমাস শরীর অসুস্থ ছিল, এখানে
আসিয়া অনেকটা সুস্থ বােধ করিতেছি। পরীক্ষা হইয়া
গেলে তােমার পত্ৰ পাইলে তখন যাহা করিতে হয় বলিয়া
দিব।
জনসেবা করিবে বলিয়া এখন হইতে ব্যস্ত হইও না।
শ্রীশ্রীঠাকুরের পাদপদ্মে যে যােল আনা মন অৰ্পণ করিতে
পারে তাহার দ্বারাই তিনি যথার্থ জনসেবা করাইয়া লন।
৭১
পত্রমালা নতুবা মতলব অটিয়া কেহ কখনও উহা ঠিকঠিক করিতে পারে না। অতএব তাহাকে যাহাতে সৰ্বস্ব দিতে পার তাহার দিকেই সর্বাগ্রে লক্ষ্য রাখ। আমার আশীর্বাদ সতত জানিবে । সম্পূর্ণরূপে শ্রীভগবানের হইয়া যাও ; নিজের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে তাঁহার পাদপদ্মে ফেলিয়া দাও। তাহাকে প্রত্যক্ষ দর্শন করাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য~~ ইহা ধারণা কর । নামযশ প্রতিষ্ঠাদির চাকচিক্যে তবেই আর কখনও মন বিচলিত হইবে না; কামকাঞ্চনের মােহে তবেই আর পড়িতে হইবে না। অধিক আর কি বলিব, সম্পূর্ণরূপে তঁাহার হইয়া যাও। ইতি~- শুভানুধ্যা-- শ্ৰীসারদানন্দ ( ২০ ) শরণং কলিকাতা ৫||২৬ কল্যাণবরেষু- তােমার ২১শে মের পত্র যথাকালে পাইয়াছিলাম। শরীর অসুস্থ থাকায় এবং অন্য নানা কারণে এতদিন উত্তর দিতে পারি নাই। এখন শরীর পূর্বাপেক্ষা ভাল। ঈশ্বর- কৰ্ম্ম ও উপাসনা কৃপায় তােমার শরীর এতদিন ভাল হইয়াছে আশা করি.•• আমার আশীৰ্বাদ সতত জানিবে এবং ওখানকার সকলকে জানাইবে তােমার প্রশ্নগুলির বিস্তারিত উত্তর সামান্য পত্রে দেওয়া অসম্ভব ; অতএব সংক্ষেপে দিতেছি। ১ম—শ্রীশ্রীঠাকুর যখন সকল প্রকার সাধন করিয়া- ছিলেন তখন হঠযােগেরও কিছু করিয়াছিলেন বলিয়া অনুমান করা যায়। পূজা করিবার কালে তাহার দাঁতের গােড়া দিয়া রক্ত পড়িবার কথা লীলাপ্রসঙ্গে যাহা আছে এবং তৎসম্বন্ধে একজন সাধু ঐ সময়ে যাহা বলিয়াছিলেন- ঐ ঘটনায় পূর্বোক্ত অনুমান দৃঢ় হয়। তবে তিনি নিজে আমাদের হঠযােগের অভ্যাসের কথা কখনও বলেন নাই। এমন কি, আমাদিগকে প্রাণায়াম করিতেও বিশেষভাবে কোন কথা শিক্ষা দেন নাই। তাহার হঠযােগ ছাড়িবার কথা সম্বন্ধেও বলা যাইতে পারে যে, যখন দেখিলেন ইহা দ্বারা ভগবান্ লাভ হয় না, কেবল শরীরটাই দৃঢ় হয় এবং শরীরের অভিমান বৃদ্ধি পায়, সেইজন্যই উহা ছাড়িয়া দিলেন। ২য়—স্বামিজীর মুখে শুনিয়াছি তিনি বাটীতে থাকিবার কালে কিছু কিছু প্রাণায়াম অভ্যাস করিয়াছিলেন। কিন্তু
পত্রমালা
বিশেষভাবে তিনি রাজযােগী ও ধ্যানসিদ্ধ ছিলেন। ধ্যান
করিতে বসিলে তখন হইতেই তাহার স্বতঃ বায়ু নিরুদ্ধ হইয়া
দেহবুদ্ধি আর থাকিত না। তিনি হঠযােগ যে বিশেষ
ভাবে অভ্যাস করেন নাই, ইহা জানি। এবং উপযুক্ত
গুরু না পাইলে প্রাণায়ামাদির বিশেষ অভ্যাসে অপকার
হইয়া থাকে, ইহা তিনি অনেক দেখিয়াছিলেন। সেইজন্য
জ্ঞানমিশ্র ভক্তির পথই অপরকে উপদেশ দিয়াছিলেন।
একটু আধটু নাড়ীশুদ্ধির অভ্যাস অর্থাৎ আস্তেআস্তে বায়ু-
পূরণ করিয়া, আস্তেআস্তে ছাড়িয়া দেওয়া—এইরূপ পাঁচ
সাত বার করা,-ধ্যানের পূর্বে তাহার শিষ্যদের অনেককে
করিতে বলিয়াছিলেন ; এবং রাজযোেগ-নামক ইংরাজী
পুস্তকে প্রাণায়াম সম্বন্ধে অনেক কথা বুঝাইয়া ও তাহার
উপকারিতা দেখাইয়া-পরে, উপযুক্ত গুরুর নিকটে ভিন্ন
উহা করিবে না বলিয়া নিষেধও করিয়া গিয়াছেন।
কথা, ঠাকুরের মতের সহিত তাহার এক মতই ছিল।
অর্থাৎ প্রাণায়ামাদির বিশেষ অভ্যাসে যখন ভগবান্কে
পাওয়া যায় না, তখন উহা করিবার আবশ্যকতা নাই।
জপ, ধ্যান, স্বাধ্যায়, সদসবিচার, এই সকলই বিশেষভাবে
প্রচার করিয়াছেন।
৩য়—জ্ঞান, কৰ্ম্ম, ভক্তি ও যােগ—স্বামিজী যাহা শিক্ষা
আসল
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
দিয়া গিয়াছেন, সেখানে যােগের অর্থ রাজযােগ, অর্থাৎ
ধ্যান-সমাধির জন্য চেষ্টা করা।
৪র্থ-কোনও ছাত্র যদি সামান্য প্রাণায়াম করে—যেমন
জপ করিতে বসিবার পূৰ্ব্বে এক আধটি প্রাণায়াম করে-
তাহা করিতে দিতে পার। উহাতে তাহার অপকার
হইবে না।
৫ম--রাজনীতি-চর্চা সম্বন্ধে মিশন ভাল-মন্দ কিছুই
বলিতে চাহে না। কারণ ঠাকুর কিছু করিতে ঐ সম্বন্ধে
আমাদিগকে কিছু বলিয়া যান নাই। এবং স্বামিজী
মিশনকে ঐ চেষ্টা হইতে দূরে থাকিতে বলিয়া গিয়াছেন।
সেই জন্যই এতকাল পর্যন্ত মিশন ধৰ্ম্ম এবং জনসেবা লইয়া
আছে।
৬ষ্ঠ—সব জিনিষই যখন পরিবর্তনশীল তখন ভারতের
এই পরাধীন অবস্থাও একদিন পরিবর্তিত হইয়া রাজনীতিক
স্বাধীনতা উপস্থিত হইবে। উহা কতদিনে হইবে তাহা
মিশন জানে না এবং জানিবার চেষ্টাও করে না। মিশনের
চেষ্টা সাধারণে যাহাতে ধৰ্ম্মবলে ও চরিত্রবলে বলীয়া
হইয়া যথার্থ মানুষ হইয়া উঠে। চরিত্রবান্, ধার্মিক এবং
সবল হইবার পরে সেই সকল মানুষ তাহাদের সমাজ ও
দেশের শাসনাদি কি ভাবে পরিচালিত করিবে, তাহা তাহারা
পত্রমালা
ঐ কালে বুঝিয়া লইবে। মিশনের উহা ভাবিবার প্রয়ােজন
নাই।
৭ম-ছাত্রজীবন হইতেই যাহাতে বালকবালিকারা
চরিত্রবান্ হইয়া উঠে এবং উচ্চ আদর্শে জীবন গঠিত করিতে
শিখে, এই উদ্দেশ্যেই মিশনের বিদ্যাপীঠাদি স্থাপন করা।
পরিশেষে বক্তব্য, তুমি নিজে যত সাধনভজনে অগ্রসর
ও চিন্তাশীল হইবে, ততই এই সকল প্রশ্নের স্বতঃ মীমাংসা
করিতে পারিবে। অতএব ঐ দিকে লক্ষ্য রাখিও। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(২১)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২০শে আশ্বিন
কল্যাণবরেষু-
তােমার সুদীর্ঘ পত্রসহ পাইলাম।••••••
পানী-ব্রাহ্মণদের বিষয় জানিলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের
কৃপায় সকলেই পাইতেছে, তাহারাই বা পাইবে না কেন?
তােমার দ্বারা শ্ৰীশ্ৰীমা যদি কিছু কাৰ্য করাইয়া লন
৪
কর্ম ও উপাসনা তাহা ত তােমার পরম সৌভাগ্য। ঐ সকল কাৰ্য্য করিতে যাইয়া নিজের আমিত্ব যদি কিছু আসে তাহা হইলে তিনিই দুর করিয়া দিবেন। পূজা দুই প্রকারের আছে। প্রথম, বৈধী পূজা, যাহাতে মন্ত্রতন্ত্রাদি আবশ্যক ; দ্বিতীয়, ভাবের পূজা, ইহাতে মন্ত্র- তন্ত্রাদির কিছুমাত্র আবশ্যকতা নাই। একান্ত ভক্তির সহিত তাহাকে স্নান করাইতেছি, খাওয়াইতেছি ইত্যাদি চিন্তা করিলেই হইবে। তুমি সেইরূপ পূজা করিতেছ—উত্তম কথা।••••• তােমরা উভয়ে আমার আশীর্বাদ জানিবে। এখানকার কুশল। আমার শরীরও মন্দ যাইতেছে না। ইতি- শুভানুধ্যায়ী- শ্ৰসারদানন্দ (২২) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণং কলিকাতা ৩|১০|২৬ কল্যণবরেষু- তােমার ৮ই কার্তিকের পত্রে সমস্ত অবগত হইলাম।... শ্ৰীমা তােমাদের প্রত্যেককে যাহাযাহা বলিয়া পত্রমাল। গিয়াছেন এবং আশীর্বাদ করিয়াছেন তাহা অমােঘ এবং নিশ্চয়ই সফল হইবে। শারীরিক অসুস্থতা এবং সতত কৰ্ম্ম করার জন্য চিত্তের বিক্ষেপ মধ্যেমধ্যে তােমাদের চিত্তকে স্বল্পকালের জন্য ঢাকা দিয়া ঐরূপ অশান্তির ভাব-বিবেক- বৈরাগ্যহীনতা আনয়ন করিতে পারে, কিন্তু উহা কখনই স্থায়ী হইবে না। মধ্যেমধ্যে ওখানকার কৰ্ম্মের বন্দোবস্ত করিয়া দুই এক মাসের জন্য কাশী প্রভৃতি তীর্থে ভ্রমণ করিয়া জপধ্যানে কাটাইলে ঐ সকল ভাব শীঘ্রই কাটিয়া যাইবে। আমার বােধ হয় আগামী অক্ষয়তৃতীয়ার উৎসবের পর তুমি ঐরূপ করিলে বিশেষ ফল পাইবে।...... আমার শরীর ভাল আছে। এখানকার কুশল। তুমি আমার আশীৰ্বাদ জানিও এবং রা, মু—প্রভৃতি সকলকে জানাইও।..... ইতি-- শুভানুধ্যায়ী- শ্ৰীসারদানন্দ
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
(২৩)
শরণ
কাশীধাম
২৩২৫
কল্যাণবরেষু-
তােমার ১৮ই ফেব্রুয়ারী তারিখের বিস্তারিত পত্র
পাইলাম। শ্রী শ্রীঠাকুরকে প্রাণ ভরিয়া ডাকিও এবং আশ্রমের
কাৰ্য্য তাহারই কাৰ্য্য জানিয়া করিও, তাহা হইলেই
শান্তি পাইবে।...সকলকে আমার আশীর্বাদ জানাই।
জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ-এই তিন বিধাতার ইচ্ছায় হয়।
অতএব বিবাহ করা না করা সম্বন্ধে আমাদের মতামতে
কিছু আসিয়া যায় না। বিশেষতঃ তাহারা এখনও নিতান্ত
বালিকা ; বড় হইলে পর তাহাদের প্রাণে কি ইচ্ছা জাগিবে,
তাহ কে বলিতে পারে ? অতএব ভবিষ্যতের কথা না
ভাবিয়া বর্তমানে যাহাতে তাহারা শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতি
ভক্তিবিশ্বাসবতী হয়, এই আশীৰ্বাদ আমি করিতেছি।
আমার শরীর এখন ভাল আছে।
ফাল্গুন মাসটা
এখানে থাকিব, ইচ্ছা আছে। আমার আশীর্বাদ তুমি
জানিও। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
;
৭
পত্রমালা
(২৪)
শ্রীরামকৃষ্ণ
কলিকাতা
২৭।১১।২১
কল্যাণবরেষু
তােমার পত্র পাইলাম। কোষ্ঠীর ফলাফল সকল সময়
দেখিতে যাইলে মানুষ আত্মশক্তিতে বিশ্বাস হারাইয়া
দুৰ্বলচেতা হয়। কোষ্ঠীতে গ্রহনক্ষত্রের সংস্থান লইয়া
ফলাফল গণনা করা থাকে ; কিন্তু ঐরূপ সংস্থানের ফলে
কাহার আত্মশক্তি কতদূর প্রকাশমান হইবে, তাহা কেহই
বলিতে পারে না। সেজন্য পুরুষকারের দ্বারা কোষ্ঠী-
লিখিত ফলাফলের হ্রাসবৃদ্ধি হইয়া থাকে
স্বভাবতঃ চঞ্চল ও বহির্মুখ মনে একাগ্রতা আনিতে
হইলে অভ্যাস ও বৈরাগ্যের প্রয়ােজন। আমার বােধ হয়,
যেরূপে তােমাকে প্রত্যহ ঠাকুরকে ডাকিতে বলিয়াছিলাম,
তাহা তুমি নিয়মিতভাবে করিয়া উঠিতে পার নাই। নির্জনে
বসিয়া প্রাতে ও সন্ধ্যায় ভগবানের নাম করিও এবং
সংসারের সকল বিষয়ের অনিত্যতার কথা চিন্তা করিও।
তাহা হইলেই মন ক্রমশঃ একাগ্র হইবে। অবশ্য, পূর্ণ
কৰ্ম্ম ও উপাসনা
=
একাগ্রতা বহুবৎসর ঐরূপ অভ্যাস করিলে তবে
আসিবে।
আমার আশীর্বাদ জানিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
সারদানন্দ
( ২৫)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১১ই অগ্রহায়ণ
কল্যাণবরেষু
তােমার ২২শে নভেম্বর তারিখের পত্র যথাকালে
পাইয়াছি। পারিবারিক অভাব-অনটনের জন্য মন খারাপ
হইয়া যাইতেছে লিখিয়াছ; কিন্তু সংসারে থাকিতে গেলেই
ঐরূপ হইবেই। যতদিন শরীর আছে, ততদিন দুঃখকষ্ট
আছেই। সকল অবস্থাতেই তাঁহার পাদপদ্মে মন রাখিয়া
তাঁহার উপর নির্ভর করা ছাড়া গত্যন্তর নাই। সমস্ত বাধা-
বিপত্তির মধ্যে অবিচলিত থাকা—ইহাও এক প্রকার তােমার
সাধনা ও শিক্ষার জন্য বলিয়া জানিবে। শ্রী শ্রীঠাকুরের
উপর সব ভার ছাড়িয়া দাও, তাহা হইলে অশান্তির হাত
হইতে রক্ষা পাইবে।
;
পত্রমালা
পূজার ছুটির সময় আসিতে পার নাই বলিয়া দুঃখ
করিও না। তঁাহার ইচ্ছা হইলে ভবিষ্যতে সকল সুবিধা
হইয়া যাইবে। বড়দিনের বন্ধে এখানে থাকিব কি-না ঠিক
বলিতে পারি না; কারণ, আমাদের অনেক দিন হইতে
কাশী যাওয়ার কথা হইতেছে। কাশী যাওয়া হইলেও
সে সময় এখানে পুনরায় আসিবার সম্ভাবনা আছে ; কারণ,
৩০শে ডিসেম্বর শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর জন্মতিথি বলিয়া আসা
হইতে পারে।
আমার জন্মতিথি পৌষ শুক্লা ষষ্ঠী, সন বা তারিখ মনে
নাই। সন-তারিখের কি প্রয়ােজন। পঞ্জিকা দেখিলেই
ঐ দিন কি তারিখ তাহা জানিতে পারিবে।
তিনটি ছেলেকে পড়াইয়া নিজের পড়া করিতেছ
জানিলাম। আশীৰ্বাদ করি তুমি ভালরূপে বি-এ,
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হও। আমার শরীর বর্তমানে একরূপ
ভালই আছে। এখানকার অন্যান্য সকলের কুশল।
তুমি সতত আমার আশীৰ্বাদ জানিবে। ইতি:-
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
৯০
তীয় গুবক উপাসনা
No text on this page.
উপাসনা
(১)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
উদ্বোধন অফিস
১নং মুখার্জি লেন, বাগবাজার,
কলিকাতা
১০|২৫
শ্ৰীমান্ অ—
শ্রীশ্রীমহারাজজী ভুবনেশ্বর মঠেই আছেন। মধ্যে
তাঁহার কলিকাতায় আসিবার কথা হইয়াছিল বটে, কিন্তু
আসেন নাই। শীতের সময় ভুবনেশ্বরের জল-হাওয়া প্রায়ই
ভাল হয়। সে কারণ মনে হয়, আরও কিছুদিন সেখানেই
থাকিবেন। এ কারণ তুমি এবার পূজার বন্ধে কলিকাতায়
আসিলে তাহার সহিত সাক্ষাৎ হইবে না। মধ্যেমধ্যে
সংবাদ লইও, শ্রীশ্রীমহারাজজী যখন আসিবেন তখন না
হয় আসিবার চেষ্টা করিও।
কেবল সদ্গুরুর অপেক্ষায় বসিয়া না থাকিয়া যথাসাধ্য
ঈশ্বরচিন্তা, সাধুসঙ্গ ও সদ্গ্রন্থাদি-পাঠ করিবার চেষ্টা
পত্রমালা
করিও। জমী প্রস্তুত হইলে বীজ বপন করিলে সুফল
ফলে ; এবং ইহা একটি প্রকৃতির রহস্য যে জমী প্রস্তুত
হইলেই বীজ আপনি আসিয়া উপস্থিত হয়। অভাব বােধ
হইলেই তাহার পূরণ হয়। প্রকৃত অভাব বােধ হইলেই
বস্তুলাভের উপায় হয়—ইহা সাধু ও শাস্ত্রসঙ্গত সত্য এবং
ইহার যাথার্থ্য আমাদের নিজ জীবনে অল্পবিস্তর অনুভব
করিয়াছি।
সদ্গুরু অতীন্দ্রিয়শক্তিসম্পন্ন হন। তিনি শিষ্যের
সূক্ষ্ম শরীর দেখিয়া অতীত ও ভবিষ্য সংস্কার মত শিক্ষা
দিয়া থাকেন ; ইহাই ভূত-ভবিষ্যৎ দর্শনের অর্থ। গণনার
দ্বারা ভূত-ভবিষ্যৎ বলা বা জ্যোতিষ-সহায়ে ভূত-ভবিষ্যৎ
বলা অনেকক্ষেত্রে অভ্রান্ত হয় না।
সরল মনে তাহাকে ডাকিবার চেষ্টা করিলে তিনি সময়ে
সকল ব্যবস্থাই করিয়া দিবেন। আশীৰ্বাদ জানিও।
ইতি
;
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
৯৪
উপাসনা
(২)
কলিকাতা
৯|২১
শ্ৰীমান্ অ—
তােমার পত্রগুলি পাইয়াছি। তােমাকে এইমাত্র
বলিতে পারি শ্রীশ্রীঠাকুর জগতের গুরুরূপে আসিয়াছেন,
সুতরাং যে তাহাতে বিশ্বাস দৃঢ় রাখিয়া তাহার নাম জপ
করিবে তাহার ঐহিক পারত্রিক মঙ্গল নিশ্চয়—তাহার
উদ্ধারের কোন ভাবনা নাই। তাহার নামই মহামন্ত্র, উহা
নিত্য যত পার জপ করিবে।••••••অন্যরূপ দীক্ষা চাইতে
যদি তােমার ইচ্ছা হয় এবং আমার পূর্বোক্ত কথায় বিশ্বাস
রাখিতে না পার, তাহা হইলে আমাকে আর পত্র না লিখিয়া
শ্রীমহারাজকে (ভুবনেশ্বর, পুরী, শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ঠিকানায় )
পত্র লিখিও এবং তিনি যেমন বলেন করিও। ইতি-~-
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(৩)
শ্রীরামকৃষ্ণ
কলিকাতা
৩১শে শ্রাবণ, '৩০
কল্যাণবরেষু
তােমার ১২ই আগষ্ট তারিখের পত্রে তােমাদের
নিরাপদে পৌছান সংবাদ পাইয়া সুখী হইলাম। ঢাকায়
শরণং
পত্রমালা
থাকাকালে তােমাদের সকলেরই প্রায় কিছু অসুখ
করিয়াছিল জানিয়া দুঃখিত হইয়াছি। আশা করি
শ্রীশ্রীঠাকুরের কৃপায় এখন তােমরা সব সৰ্বাঙ্গীন কুশলে
আছ।
তােমাদের বাড়ীতে নিত্য ৮১০ জন ভক্ত সমবেত হইয়া
পাঠ, আলােচনা, ভজন ইত্যাদি করিয়া থাক জানিয়া সুখী
হইলাম। এ অতি উত্তম কাজ। ভক্ত-সঙ্গে শ্রীভগবানের
নামগুণানুকীৰ্ত্তন ভাবভক্তি বৃদ্ধির সহায়ক। অতএব
প্রতিকূল-মতাবলম্বী যে যাই বলুক তাহাতে কর্ণপাত
করিয়া ঐরূপ করিতে বিরত হইবে না। এইরূপ করিয়া
তােমাদের জীবনে উন্নতি হইতেছে দেখিলে, তাহারা আপ।
হইতেই উহার উপকারিতা বুঝিতে পারিবে। ঐ সকল
বিষয় লইয়া বৃথা কাহারও সহিত বাগবিতণ্ডা বা তর্ক করা
উচিত নহে। তাহাতে অনিষ্ট হয়।
তুমি আমার আশীৰ্বাদ জানিবে এবং শ্রীমতীকেও
জানাইবে। সমবেত ভক্তমণ্ডলীকেও আমার শুভেচ্ছাদি
জানাইবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
উপাসনা
(৪)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১১১২৫
=
কল্যাণবরেষু
২৮শে অক্টোবরের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। আমার
আশীৰ্বাদ সতত জানিবে। আমার শরীর ভাল আছে।
তােমার প্রশ্নগুলির উত্তর দিতেছি :-
১। যে সকল পুরুষ শ্রীভগবান্কে প্রত্যক্ষ করিয়া-
ছেন তাহাদের কথাই বেদ। তাঁহাদের নাম আপ্তপুরুষ এবং
বেদকে আপ্তবাক্য বলা হয়। তাঁহাদের কথার উপর বিশ্বাস
রাখিয়া ধৰ্ম্মানুষ্ঠান করিয়া যাইতে হয়। নতুবা বিষয়াসক্ত
আমাদিগের মলিন বুদ্ধির দ্বারা সকল কথা বুঝা ও তাহার
নির্দেশে ধৰ্ম্মানুষ্ঠান করায় কোন ফলই হয় না। অতএব
সকল কথা বুঝিবার চেষ্টা ছাড়িয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের কথায়
সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও নির্ভর করিয়া সাধন করিয়া যাও।
শ্রীশ্রীঠাকুর বলিতেন, ‘প্রারব্ধ’ও আছে এবং কৃপাও
আছে। কৃপা দ্বারা সামান্য ভােগ করিয়াই প্রারব্ধ
কাটিয়া যাইতে পারে।
৭
পদ্রমালা
২।•••••••••
৩। ধ্যেয়বস্তুতে মন একাগ্র করিতে যাইয়া যদি
তন্দ্রার মত আসে অথচ আনন্দ থাকে তাহা হইলে উহাকে
আলস্য বা জড়তা বলা যায় না। উহা খুব উচ্চ অবস্থা না
হইলেও ভাল, এবং নিত্য অভ্যাসে উহা দূর হইয়া যাইবে।
৪। জপ করিতেকরিতে মন স্থির
মন স্থির হইয়া ধ্যান
করিবার ইচ্ছা হইলে তাহাই করিবে। চঞ্চল মনকে
বশীভূত করিবার উপায়—বৈরাগ্য ও অভ্যাস, গীতায় এ
কথা আছে। উহা ভিন্ন অন্য উপায় নাই।
৫। প্রাণায়াম করিবার আবশ্যকতা নাই। অন্ততঃ
ঐশ্রীঠাকুর আমাদিগকে উহা করিতে বলেন নাই। ইষ্টের
প্রতি ভালবাসায় মন একাগ্র হইলে বায়ুনিরােধ আপনা
হইতেই হইবে।
এ সকল প্রশ্ন সমাধান করিবার তােমার আবশ্যকতা
কিছু নাই এবং আমারও সময় নাই। নিত্য জপধ্যান
করিয়া যাও ও কায়মনােবাক্যে পবিত্র থাক, তাহা হইলেই
বস্তুলাভ হইবে। বিশ্বাস, শ্রী শ্রীঠাকুরের বাক্যে দৃঢ় বিশ্বাস
—ইহাই আবশ্যক জানিবে।
নিজের পড়াশুনার দিকে একটু মন দিবে। উহাকেও
ধর্মের অঙ্গ বলিয়া জানিবে। কারণ অর্থকরী বিদ্যা
উপাসনা
শিখিয়া মােটা ভাতকাপড়ের সংস্থান না করিতে পারিলে
শ্রীভগবানের ধ্যানচিন্তা অসম্ভব হইবে।...ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শীসারদানন্দ
=
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২৫শে অগ্রহায়ণ
কল্যাণবরেষু
তােমার ২১শে অগ্রহায়ণের পত্র পাইলাম
দ্বাদশদল শ্বেতপদ্মে গুরুচিন্তা করিতে হয়। ঐ শ্বেতপদ্ম
সহস্রদল পঙ্কজের একপ্রকার অংশ বলিলেই হয়। সেই
জন্যই কোনকোন
কোনকোন ধ্যানে “সহস্রদলপঙ্কজে” ইত্যাদি
উপদেশ দিয়াছে। তুমি যেমন করিতেছ তেমনই করিয়া
যাইবে।
শ্ৰীশ্ৰীমার উৎসব আগামী ১৪ই পৌষ (৩০শে
ডিসেম্বর )। কাশী যাওয়া হইলে উহার পরেই হইবে।
আমার শরীর ভাল আছে। আমার আশীর্বাদ জানিবে ।
এখানকার সকলের কুশল। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
=
পত্রমালা
(৬)
[ পত্রে প্রশ্নোত্তর ]
সমাধি সম্বন্ধে অনেক বিষয় জানিতে ইচ্ছা
করে; এখানে সমাধিমা পুরুষের সন্ধান না পাওয়ায় সে
আশা পূর্ণ হয় না। সমাধি সম্বন্ধে আপনার যেরূপ
personal experience (ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে
ও শ্রীরামকৃষ্ণলীলাপ্রসঙ্গে বিস্তীর্ণ বর্ণনা আছে, তাহা
হইতে অধিক বিবরণ আর কোন পুস্তকে দেখিতে পাওয়া
যায় না। নিম্নলিখিত বিষয়গুলি জানিবার জন্য বিশেষ
উৎসুক হইয়াছি; আশা করি উপদেশদানে অজ্ঞান দূর
করিয়া দিবেন।
১। ঈশ্বরীয় মূর্তিসকল ধ্যানে দেখা যাইলে কোন্
স্থানে বা চক্ৰে কুণ্ডলিনী উঠিয়াছে বুঝিতে হইবে ?
উঃ-বােধ হয় অনাহত-চক্রে।
২। কুণ্ডলিনীর উত্থানকালে যােগীদিগেরই কি কেবল
চক্রস্থিত পদ্মসকল প্রস্ফুটিত হয়, ভক্তদিগের হয় না?
উঃ--ভক্তদিগেরও হয়।
৩। কুণ্ডলিনী কি সর্পাকারে জ্যোতীরূপে উত্থিত
হন ও একএক চক্রে উখিত হইলে সেই চক্রবণিত পদ্ম
প্রস্ফুটিত হয়?
১০০
উপাসনা
উঃ—হ, শাস্ত্রে এইরূপ লেখা আছে।
৪। সমাধি-অবস্থায় মানুষ কি বসিয়া থাকিতে পারে
,শুইয়া পড়ে ?
উঃ-দাড়াইয়া, বসিয়া, শুইয়া, সকল অবস্থায় সমাধি
হইতে পারে।
৫। শ্রীশ্রীঠাকুরের দর্শন কোন সময়ে পাওয়া যায় ?
উঃ—একান্ত ব্যাকুলতা,ভক্তি ওএকাগ্রতায় পাওয়া যায়।
৬। জপ ও ধ্যানের পর শরীর বড় অবসন্ন বােধ হয়
ও ঘুম পায়। সে সময় কি ঘুমান ভাল ? ঘুমাইলে chest
এর (বুকের) অনিষ্ট হয় বলিয়া বােধ হয়।
উঃ-ঐ সময় ঘুমাইলে chest এর হানি হয় কি-না
বলিতে পারি না। বােধ হয়, হয় না।
৭। রাজযােগে আছে প্রাণায়াম করিতেকরিতে
এক প্রকার কম্পন (vibrations ) উৎপন্ন হয়। धान
ও তৎসহ জপ করিতেকরিতেও আমার বােধ হয় ঐরূপ
কম্পন উৎপন্ন হয়।
উঃ—কাহারওকাহারও হয়।
৮। বেশী ধ্যানজপ করিতে গেলে অল্পঅল্প জ্বর
ইত্যাদি বিঘ্নসকল আসিয়া পড়ে কেন?
উঃ-প্রারব্ধ কৰ্ম্মই উহার কারণ বলিয়া বােধ হয়।
১০১
পত্রমালা
প্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
ভুবনেশ্বর মঠ
২৮/১২৪
কল্যাণবরেষু
তােমার পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। প্রশ্নসকলের
উত্তর প্রতি প্রশ্নের নীচে নিজহস্তে লিখিয়া দিয়াছি-
অবশ্য,
আমি যতদূর জানি।
জানি। আমার আশীর্বাদ তুমি সতত
জানিবে এবং উভয় আশ্রমের সকলকে জানাইবে।
শরীর অত্যন্ত খারাপ হইয়া গিয়াছে শুনিয়াছি।
আজকাল কেমন আছে জানাইও। এখানে আসিয়া আমার
ভাল থাকিতেছে না। বােধ হয় আরও
কিছুদিন থাকিলে ভাল হইবে। এখানকার অন্যান্য
সকলের কুশল। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
(৭)
[ পত্রে প্রশ্নোত্তর ]
১। মস্তিষ্ক-মধ্যগত ব্ৰহ্মরন্ধ্রস্থ অবকাশ বা আকাশে
অখণ্ডসচ্চিদানন্দস্বরূপ পরমাত্মার
শ্রীভগবানের
জ্ঞানম্বরূপে অবস্থান। তাঁহার প্রতি কুগুলিশক্তির বিশেষ
১০২
উপাসনা অনুরাগ, অথবা শ্রীভগবান্ ভঁহাকে নিরন্তর আকর্ষণ করিতেছেন।-লীলাপ্রসঙ্গ, পূৰ্বাৰ্দ্ধ ৬৮ পৃঃ। এই আকর্ষণ কিরূপে বুঝিতে বা অনুভব করিতে পারা যায় ? ২। ষট্চক্র, শিবসংহিতা এবং অপর যােগশাস্ত্রে প্রথমচক্রে (মূলাধার) পদ্মের ৪টি কণিকা নির্দিষ্ট আছে, এবং কুণ্ডলিনী মূলাধার-পদ্ম হইতে উত্থিত হন, বর্ণিত আছে। কিন্তু পূজনীয় স্বামিজীর রাজযােগে কুণ্ডলিনীর যে ছবি আছে তাহা দৃষ্টে বােধ হয় কুণ্ডলিনী স্বাধিষ্ঠান- পদ্ম (৬টি কর্ণিকাযুক্ত) হইতে উখিত হইতেছেন। এই বিভিন্নতার কারণ বুঝিতে পারিতেছি না। ৩। কুণ্ডলিনী আজ্ঞাচক্রে উঠিবার পূর্ব লক্ষণ কি ? অর্থাৎ উক্তস্থানে উঠিবার পূর্বে কিরূপ অনুভূতিসকল ৪। “মধ্যস্থলে মন উঠিলেই পরমাত্মার দর্শন হয় ও জীবের সমাধি হয়। তখন পরমাত্মার ও জীবাত্মার মধ্যে একটি স্বচ্ছ, পাতলা পদামাত্র আড়াল থাকে।” লীলাপ্রসঙ্গ, পূৰ্বাদ্ধ ৭০ পৃঃ। জীবাত্মার অবস্থান কোন স্থানে ? জীবাত্মাই ত পরমাত্মা। যখন কুণ্ডলিনী মস্তিষ্কে উপনীত হন তখন জীবাত্মাই ত পরমাত্মার স্বরূপ ধারণ করেন বা পরমাত্মারূপে প্রকাশ পান? আর জ্বমধ্যে মন
পত্রমালা
উঠিবার পূর্বে ৪র্থ ও ৫ম ভূমিচক্র হইতে যে সব দেবদেবীর
দর্শন হয় তাহাকে কি সমাধি বলে না?
যখন কুণ্ডলিনী প্রথম আজ্ঞাচক্রে উপস্থিত হন তখন
যে সমাধি হয় তাহা কতদিন পর্যন্ত থাকে এবং সে অবস্থায়
সমাধি ভাঙ্গান, এবং সমাধিস্থ লােককে কিছু খাওয়াইয়া
দিবার আবশ্যকতা হয় কি-না?
অন্তরাত্মার অর্থ কি, এবং কোন্ স্থানে অবস্থিত ?
৫। শ্রীশ্রীঠাকুর বলিতেন, “যার অত্যন্ত নেশা হয়েছে
তাকে চাল-ধােয়া জল খাওয়ালে দেখবে তার নেশা চলে
যাবে।” চাল-ধােয়া জল খাওয়ালে কি মদের নেশা চলে
যায়, বা অন্য কোন নেশা ? অথবা, ইহার অপর কোন
অর্থ আছে ?
৬। প্রায় ৭ বৎসর ধরিয়া ধ্যানকালে এবং স্বপ্নেও
কাক বা শকুনি উড়িতে প্রায় দেখিতে পাই। ইহার অর্থ কি ?
৭। যখন কুণ্ডলিনী প্রথম আজ্ঞাচক্রে উঠেন তখন
যে সমাধি হয়, তৎকালে সাধক কি বসিয়া থাকিতে
পারে না?
১। শ্রীভগবান্ কুণ্ডলিনী শক্তিকে কিরূপে আকর্ষণ
করেন এবং সেই শক্তি যেখান হইতে উঠিয়া মস্তকের যে
১০৪
উপাসনা
স্থানে পরমাত্মার সহিত মিলিত হয়-প্রভৃতি বিষয়, যাহার
সমাধি খুব স্বাভাবিক হইয়াছে কেবল তিনিই বুঝিতে
পারেন। যাহার কখনও সমাধি হয় নাই, তাহাকে
বলিয়া বুঝান সম্ভবপর নহে। কারণ উহা অনুভবের বিষয়,
বিচারের দ্বারা হৃদয়ঙ্গম হইবার নহে।
২। শিবসংহিতা প্রভৃতি পুস্তকে যাহা লিখিয়াছে,
অর্থাৎ কুণ্ডলিনী মূলাধার চতুর্দল পদ্ম হইতে উত্থিত হন,
—উহাই ঠিক। স্বামিজীর রাজযােগের ৬৬ পৃষ্ঠায় ঐ
কথাই লেখা আছে, “প্রাণায়ামের লক্ষ্য, মূলাধারে
কুণ্ডলাকারে অবস্থিত কুণ্ডলিনী শক্তির উদ্বোধন করা।”
ছবি আমেরিকাতে ভােলা হয় ; সেজন্য ঠিকঠিক আঁকা
ঐ দেশের artistদের (চিত্রকরদের) সম্ভবতঃ সম্ভব হয়
নাই।
•
৩। “মধ্যস্থিত আজ্ঞাচক্রে মন উঠিলে জীবের
সমাধি হয়।” (লীলাপ্রসঙ্গ, পূৰ্বাৰ্ধ ৭০ পৃঃ)। “মনে
হয় যেন তাতে মিশে গেছি, এক হয়ে গেছি; কিন্তু তখনও
এক হয় নি। এখান থেকে মন যদি নামে ত বড়জোর কণ্ঠ
বা হৃদয় পৰ্য্যন্ত নামে, তার নীচে আর নামতে পারে না।”
(লীলাপ্রসঙ্গ, ৭৩ পৃঃ)। তাঁকে নিয়ে রাতদিন থাকবার
ইচ্ছা হইতেই বুঝা যাইবে মন কোন্ অবস্থায় উঠিয়াছে।
পত্রমালা
৪। জীবাত্মার অবস্থান হৃদয়ে-অনাহতষ্মে ।
জীবাত্মা ও পরমাত্মায় প্রভেদ এই-যেমন ঠাকুর বলিতেন
-‘পাশবদ্ধ জীব আর পাশমুক্ত শিব। কঠোপনিষদেও
আছে, ‘আত্মেন্দ্ৰিয়মননযুক্তং ভোক্তেত্যাহুর্মনীষিণঃ।
পরমাত্মা যখন আমি ইন্দ্রিয় ও মন-বিশিষ্ট, এইরূপ অনুভব
করেন তখন তিনি জীবভাব প্রাপ্ত হন এবং সংসারের
সুখদুঃখ ভােগ করেন। উহা হইতে নির্লিপ্ত হইতে
পারিলেই পরমাত্মায়
অবস্থান বা
বা ‘তদাকারকারিত
অবস্থা হয়।
৪র্থ ও ৫ম ভূমিচক্র হইতে যেসব দেবদেবীর দর্শন হয়,
তাহাকেও সমাধি বলে। উহা ভাব-সমাধি বা সবিকল্প
সমাধি।
জীবের আজ্ঞাচক্রে কুণ্ডলিনী উঠিলে মন আর নামে
। একুশ দিন নিরন্তর সমাধিতে থাকিবার পর সহস্রারে
পরমাত্মার সঙ্গে একেবারে মেশামেশি হইয়া যায়। ঐ
অবস্থায় ঐরূপ সাধকের শরীর থাকা আবশ্যক হইলে
ভগবানের কৃপায় সব জুটিয়া যায় এবং কিছু খাওয়াইয়া
সমাধি ভাঙ্গাইবারও ব্যবস্থা হইয়া থাকে।
অন্তঃকরণবিশিষ্ট আত্মাই অন্তরাত্মা। উহার বা
অন্তঃকরণের অবস্থান ভ্রমধ্য হইতে নাভি পর্যন্ত। বুদ্ধির
১০৬
উপাসনা
অবস্থান মন্তকে, মনের কণ্ঠে, অহঙ্কারের হৃদয়ে, এবং চিত্তের
নাভিতে।
৫। সিদ্ধি ও গাঁজার নেশা চাল-ধােয়া জলে যায়।
মদের নেশাও সম্ভবতঃ যাইতে পারে।
৬। ধ্যানকালে ও স্বপ্নে সম্ভবতঃ শ্মশানের দর্শন হইয়া
থাকে। উহা মন্দ নয়, ভাল।
আজ্ঞাচক্রে উঠিয়া সাধকের যদি সমাধি হয়
তাহা হইলে কেহকেহ ঐ অবস্থায় বসিয়া থাকিতে
পারেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম্
কলিকা
২৪৭২৭
কল্যাণবরেষু
তােমার ১৯শে জুলাই তারিখের পত্র এবং তাহার
পূৰ্ব্বেকার পত্রখানি যথাসময়ে পাইয়াছিলাম। নানা
হাঙ্গামায় ব্যস্ত থাকায় উত্তর দিতে পারি নাই। সেজন্য
কিছু মনে করিও না।••••••আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা
তুমি সতত জানিবে এবং চ—প্রমুখ আশ্রমস্থ সকলকে
১০৭
পত্রমালা
জানাইবে।••••••আমার
শরীর
একপ্রকার
চলিয়া
এখানে বৃষ্টি গতকল্য হইতে আবার নামিয়াছে।
তােমার প্রশ্নসকলের উত্তর যথাসাধ্য দিলাম। আশা করি
উহা তােমার সন্দেহ সমাধান করিতে কথঞ্চিৎ সক্ষম
হইবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(৮)
শ্রীশ্রীরামফঃ
শরণং
কলিকাতা
২৫শে পৌষ, ১৩২৮
কল্যাণবরেষু
তােমার ২৯১২২১ তারিখের পত্র পাইয়া সুখী
হইলাম।......নাড়ীশুদ্ধি-অভ্যাসকালে শ্বাস ও প্রশ্বাসের
সংখ্যা একই থাকে, কমবেশী করিতে হয় না। যথা-
১৬বার জপসংখ্যা যদি বায়ুর পূর্বকের কাল হয়, ত ১৬ বার
জপেই উহার রেচক করিতে হইবে।•••••••••
আমার শরীর ভাল আছে। আশীর্বাদ জানিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
১০৮
উপাসনা
(৯)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
১০ই শ্রাবণ, ৩০
কল্যাণবরেষু
আশীৰ্বাদ জানিবে তােমার ৮ই আষাঢ়ের পত্রের
উত্তর-(১) যতবার জপধ্যান করিতে বসিবে—যথা,
প্রাতে, সন্ধ্যায় ইত্যাদি—ততবার দুইদুইটী প্রাণায়াম করা
সাধারণ বিধি। যথা—প্রাতে জপধ্যান করিতে বসিয়াই
একটি প্রাণায়াম করিবে এবং জপ করার শেষে আর একটি
প্রাণায়াম করিয়া জপ সমর্পণ করিবে (যেরূপ বলিয়া
দিয়াছি)। সন্ধ্যাকালেও ঐরূপে দুইটি করিবে। যাহাদের
৮-৩২-১৬ সংখ্যা রাখিতে বেশী হাঁপাইতে হয়, অথবা
কিছুদিন করার পর বুকে ব্যথা বােধ হয়, প্রথমাবস্থায়
তাহাদের ৪—১৬-৮ সংখ্যাই করা বিধি। পেট যখন
খালি থাকিবে অর্থাৎ আহার করিবার পূর্বে প্রাণায়াম
করিতে হয়। ভরাপেটে জপ করিতে পার, কিন্তু প্রাণায়াম
করিবেনা।
(২) আহার করার অন্ততঃ চারি ঘণ্টা পরে
প্রাণায়াম করিলে দোষ হইবে না। দিনেও রাত্রে প্রাণায়ামের
১০৯
পত্রমালা
ঐ নিয়ম পালন করিবে। প্রাণায়াম-কালে ভাবিবে মন্ত্রটি
বায়ুর সহিত মিলিয়া মূলাধার-চক্রে ( শিরদাড়ার নীচে)
কুণ্ডলিনীকে জাগাইয়া মস্তকস্থ জ্যোতির্ময় পরমাত্মার সহিত
মিলাইয়া দিতেছে। যেরূপ বলিয়া দিয়াছি সেইসেই
কাৰ্যগুলি ক্রমানুসারে প্রথমে করিয়া পরে প্রাণায়াম ও
জপ করিবে। ঐভাবে কিছুদিন করিলেই নিজে সমস্ত
অনুভব করিতে পারিবে।
(৩) জযুগলের উপরে অবস্থিত দ্বাদশদল শ্বেতবর্ণ
পদ্মে শ্রীগুরুর ধ্যান করিবে। সেই সময় গুরুর ধ্যান পাঠ
করিতে হয়।•••••••••যাহার নিকট দীক্ষা লওয়া
শ্রীভগবান্ ভঁহার ন্যায় জ্যোতির্ময় মূর্তি ধারণ করিয়া ঐ
দ্বাদশদল পদ্মে গুরুরূপে অবস্থান করেন। জপধ্যান, পূজাদি
করিতে বসিয়া প্রথমেই তাহার ধ্যান পাঠ করিয়া তাহাকে
চিন্তা করিতে, ও ‘অখণ্ডমণ্ডলাকারং ইত্যাদি বলিয়া প্রণাম
করিতে হয়। এবিষয়ে যেরূপ বলিয়া আসিয়াছি সেইগুলি
পরপর করিবে।•••••••••
(৪) সামনাসানি অর্থাৎ তুমি যদি পূৰ্বমুখে বসিয়া
থাক ত তাহারা (ইষ্ট বা গুরু পশ্চিম মুখে বসিয়া
আছেন, এইরূপ ভাবিতে হয়।•••••••••
(৫) সহস্রদল পদ্ম নানাবর্ণে রঞ্জিত ; একপ্রকার
১১০
উপাসনা
রং নহে।••••••••••• সকল পদ্মই মেরুদণ্ডের ভিতর আছে
জানিবে। সমস্ত সাধনাই যােগের ভিতর দিয়া। এবিষয়ে
পুস্তক দেখিয়া মনে সংশয় আনিও না। পরে কি
করিতে হয় নিজেই বুঝিতে পারিবে।
(৬)
(৭) মনেমনে জপ করাই শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ জিহ্বা, ঠোট
কিছুই না নাড়িয়া।
(৮) জপের সময় মূৰ্তিচিন্তা করিতেকরিতে জপ
করিবে।•••••••••••
আশীৰ্বাদ জানিবে । স্বকে বলিবে তাহার পত্রের
উত্তর সুবিধামত দিতেছি। তাহাকে আশীর্বাদ দিবে।
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
(১০)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
২১৫২৫
কল্যাণবরেষু
তােমার ১৬ই মের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। ।
স্বর্গাশ্রম তােমার ভাল লাগিয়াছে জানিয়া আনন্দিত
১১১
পত্রমালা হইলাম। সমস্ত মনপ্রাণ দিয়া সাধনভজনে লাগিয়া যাও। উহাতেই আমার আনন্দ। কিছুদিন কি ?—আজীবন লাগিয়া থাকিতে হয়। শ্রীশ্রীঠাকুরের পদে তােমাদের ভক্তি ও বিশ্বাস হউক-তজ্জন্য প্রার্থনা করি। জপধ্যান সম্বন্ধে যতটা সহ হয় সেইরূপ করিবে ; সাধ্যাতিরিক্ত কিছু করিও না। শরীর যাহাতে সুস্থ থাকে এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখিবে বৈকি। এত ঘণ্টা পাঠ ও এত ঘণ্টা জপ- ধ্যান করিতে হইবে এমন কোনও নিয়ম নাই। তবে ক্রমশঃ জপধ্যানের পরিমাণ বাড়াইতে চেষ্টা করিও। স্মরণ- মনন সর্বদা রাখিতে চেষ্টা করিবে। স্নান, আহার, বিশ্রাম ও exercise ( ব্যায়াম) আদি নিয়মিত করিবে বৈকি। মৌনী হইবার দরকার নাই। অপ্রয়ােজনীয় কথা না বলিলেই হইল। উদয়াস্ত পুরশ্চরণ বা তিথি-পুরশ্চরণাদি করিবার প্রয়ােজন নাই। তােমাকে যে নিত্যপুরশ্চরণের বিষয় বলিয়া দিয়াছি, সেইরূপই করিবে।•••••• সাধনভজনে প্রথমে ফল না পাইলে হতাশ হইও না। ধৈৰ্য্য ও অধ্যবসায় সহকারে অভ্যাস করিলে সময়ে ফল নিশ্চয়ই পাইবে। পরে আরও অগ্রসর হইলে অন্তর হইতেই সকল বিষয় বুঝিতে পারিবে। বিশেষ কি লিখিব। আমরা সকলে ভাল আছি। ১১২
উপাসনা
সতত আমার আশীর্বাদ জানিবে। বি-ও অন্য সকলকেও
জানাইবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১১)
শরণ
কলিকাতা
২৯৬২৬
পরমকল্যাণীয়াসু
তােমার পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। আমার শরীর
আজকাল অনেকটা ভাল আছে। আমার আশীৰ্বাদ সতত
জানিবে।
মনে নিরাশভাব আসিলে উহা এই কথা ভাবিয়া
তাড়াইয়া দিবে যে আমি তাঁহার দাসী, তঁাহার কন্যা,
তাহার অংশ আমার গুরু ও ইষ্ট সর্বদা আমার হাত
ধরিয়া রহিয়াছেন এবং যাহাতে আমার মঙ্গল হয় তাহা
করিতেছেন। ঐ কথা ভাবিয়া মনে জোর আনিবে এবং
যে মন্ত্র জপ করিতে বলিয়াছি তাহা যথাসাধ্য প্রত্যহ
শ্রী শ্রীঠাকুরকে ভাবিতেভাবিতে জপ করিবে। মন
১১৩
৮
পত্রমালা
শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে স্থির না হইলে ব্যাকুল হইয়া তাহার
নিকটে প্রার্থনা করিবে—“ঠাকুর, আমার মন স্থির করিয়া
দাও। জানিও, শ্রীশ্রীঠাকুর তােমার সকল কথা ও মনের
সকল
ভাব শুনিতেছেন ও জানিতে পারিতেছেন।
ব্যাকুল হইয়া তাহার নিকট যাহাই চাহিবে তাহাই
পাইবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১২)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১।১১।২৫
পরমকল্যাণীয়াসু
তােমার পত্র পাইলাম। আমার শরীর ভাল আছে ;
মধ্যেমধ্যে গঙ্গাস্নান করিতেছি এবং বেড়াইতেছি।..
বাের্ডিংবাটীর সকলে ভাল আছে। আশা করি রা—এখন
সুস্থ ও সবল হইয়াছে। তােমরা উভয়ে আমার আশীর্বাদ
সতত জানিবে ।
বিজাতীয় লােকের উচ্ছিষ্ট খাইলে মন বিক্ষিপ্ত হয়
বটে, তদ্ভিন্ন আরও অনেক কারণে হইয়া থাকে। তোমরা
১১৪
উপাসনা শ্ৰীশ্রীজগন্নাথদেবের আটকে প্রসাদ কয়েকদিন নিত্য খাইও, এবং ধ্যানচিন্তা করিতে বসিয়া প্রথমেই ভাবিও যে আমার ইষ্টই নিত্যশুদ্ধ, অখণ্ড সচ্চিদানন্দ-সাগরের ন্যায় সর্বত্র ব্যাপিয়া রহিয়াছেন এবং তাঁহার ভিতরেই আমি সর্বদা রহিয়াছি, আমার ভিতরে বাহিরে সর্বত্র তিনি। এই ভাবটি একমনে কিছুক্ষণ চিন্তা করিবার পরে, যেমন ধ্যান- জপ কর তেমনই করিও। তাহা হইলে মনের বিক্ষেপ কাটিয়া যাইবে এখানকার কুশল। মধ্যেমধ্যে তােমাদের কুশল- সংবাদ দিবে। শ্ৰীমান্ নকে আমার আশীর্বাদ দিবে। ইতি শুভানুধ্যায়ী- শ্ৰীসারদানন্দ (১৩) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণ কলিকাতা ৮৭।২৭ পরমকল্যাণীয়াসু তােমার ২০শে আষাঢ় তারিখের পত্র পাইয়াছি। আমরাও জানিতাম, শিমলা খুব ঠাণ্ডা দেশ। যাহা হউক ওখানে তােমার মাথা আশা করি কিছুদিন থাকিবার পর ১১৫
পত্রমালা
সুস্থ হইবে। কেমন থাক, মধ্যেমধ্যে জানাইয়া সুখী করিও।
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে। আশ্বিনমাসে
সুবিধা হইলে হরিদ্বার যাইতে পার।••••• আমার শরীর
ভাল আছে। মঠের ও এখানকার কুশল। শ্ৰীমতী রা—র
পত্র পাইলাম। কাশীর সংবাদ পূর্বের ন্যায় ভালই।
শুধু বীজটি চিন্তা করিয়া যদি আনন্দ পাও, ত তাহাই
করিও। নামের ধ্যান কিরূপে করিতে হয় জানিতে
চাহিয়াছ। নাম উচ্চারণ করিলে যে শব্দ হয় সেই শব্দে মন
একাগ্র করিতে চেষ্টা করিবে। উহাতেই মন স্থির ও শান্ত
হইয়া আসিবে। শাস্ত্রে বলে ‘নামই ব্ৰহ্ম। নাম করিতে
করিতেই আনন্দ আসিবে। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্রীসারদানন্দ
(১৪)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
২৯৩২৭
পরমকল্যাণীয়াসু
তােমার পত্র পাইয়াছি। শ্রীশ্রীঠাকুর যেমন রাখিবেন
সন্তুষ্টচিত্তে সেইরূপেই থাকিবে ; উতলা হইয়া কোনও ফল
নাই। তােমাকে পূৰ্ব্বেও লিখিয়াছি, শ্রীশ্রীঠাকুরের উপর
১১৬
উপাসনা
নির্ভর করিয়া, শান্ত হইয়া, ওখানেই থাক। আমার সহিত
সাক্ষাৎ শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছা হয় ত হইবে; সেজন্য দুঃখ
করিয়া কোনও লাভ নাই। ডাক্তারদের মত ছাড়া আমার
অন্য কোথাও যাওয়া হইতে পারে না। এই গরমে
কাশীতে যাইয়া উহা সহ্য করিতে পারিব না; সেজন্য
উহাতে তাহারা মত দিবেন না। গুরুর কাছে থাকিলেই
যে হার বেশী কৃপা পাওয়া যায় এরূপ মনে করিও না।
যেখানেই থাকুক, শ্রীশ্রীঠাকুরকে সরল আন্তরিকভাবে যেই
ডাকিবে সেই তাহার কৃপা উপলব্ধি করিবে।
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে এবং
গাে—কে ও ব–প্রভৃতি ওখানকার সকলকে জানাইবে।
আমার শরীর ভাল আছে। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৫)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৮|৭২৭
পরমকল্যাণীয়াসু—
•••তােমার ২০শে আষাঢ়ের পত্র পাইয়াছি। আমার
আশীৰ্বাদ জানিও। আমার শরীর ভাল আছে।
১১৭
পত্রমালা
এখানেও খুব গরম পড়িয়াছে, তবে মধ্যেমধ্যে বৃষ্টি
হইতেছে। গাে–র নিরাপদে পৌছানর পত্র পাইয়াছি।
তােমার স্বপ্নের কথা এবং যে বাটীতে বর্তমানে আছ
তাহার রান্নাঘরে অপরের অনাচারের কথা জানিলাম।
আমার বিবেচনায় তুমি যদি হিন্দুস্থানীদের মত রান্নার সময়
চুলীর চারিধারে চৌকা করিয়া লও এবং নিজে জল আনিয়া
উহার ভিতরে রান্নাদি কর এবং ঠাকুরকে ভােগ দাও, তাহা
হইলে অনাচার-দোষ হইবে না। তবে ঐ চৌকার ভিতরে
রান্না এবং ভােগ দেওয়ার সময় আর যেন কেহ না যায়
দেখিবে। বাড়ীখানি যখন অপর সকল বিষয়ে সুবিধা-
জনক, তখন উহা সহসা ছাড়িয়া অন্যত্র যাওয়া যুক্তিযুক্ত
নহে।
আশা করি তুমি শারীরিক ভাল আছ। ল—, মি—
প্রভৃতি সকলকে আমার আশীৰ্বাদ জানাইও। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰসারদানন্দ
১১
উপাসনা
(১৬)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
১৮৭২৭
পরমকল্যাণীয়াসু
তােমার পত্র পাইয়া সকল কথা জানিলাম।
শ্রীশ্রীঠাকুরের আশ্রয়ে যখন আসিয়াছ তখন তিনি নিশ্চিত
রক্ষা করিবেন। ধীরেধীরে সব ঠিক হইয়া যাইবে--
তুমি ভাবিও না মা। জপধ্যান যতটুকু পার করিয়া যাও,
ছাড়িয়া দিও না। অভ্যাস করিতেকরিতে ঠাকুরের নাম
করিতে ভাল লাগিবে এবং শান্তি ও আনন্দ পাইবে।
আশীৰ্বাদ করি, তাহার কৃপায় তােমার সকল অশান্তি দূর
হইয়া যাউক এবং তাঁহার পাদপদ্মে যথার্থ ভক্তি-বিশ্বাস
লাভ হউক।
আমার শরীর ভাল আছে। এখানকার কুশল।
আশা করি তােমার শরীর এখন সুস্থ হইয়াছে। ভবিষ্যতে
আবার দেখা হইবে; সেজন্য দুঃখিত হইও না।
সকল কথা শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে নিবেদন করিও; তিনি
অন্তর্যামী -ভক্তের ব্যাকুল প্রার্থনা তিনি অবশ্য শুনিবেন।
মনের
;
পত্রমালা
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা তুমি জানিবে ও বাটীর অন্য
সকলকে জানাইবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
৩১শে আষাঢ়
পরমকল্যাণীয়াসু
তােমার ৮ই জুলাই তারিখের পত্র পাইয়াছি।
শ্রীশ্রীমাকে এতদিন যে ভাবে ডাকিয়া আসিয়াছ সেই
ভাবেই ডাকিবে। এখন নূতন করিয়া ভাবিবার প্রয়ােজন
নাই। যাহাতে আনন্দ পাও সেইরূপ ভাবে মাকে ধ্যান
করিবে। সংস্কৃত মন্ত্রতন্ত্রের আওড়ান ছাড়া যে তাহাকে ডাকা
যায় না তাহা ভাবিও না। ভাবের পূজা করিবে। প্রিয়জন
বাড়ীতে আসিলে যেমন আমরা তাহাকে বসিতে আসন
দিয়া তাহার পা ধােয়াইয়া দেই, ফুলমালা পরাইয়া দেই,
এবং তাহার সন্তুষ্টির জন্য নাওয়াইয়া ও খাওয়াইয়া থাকি,
সেইরূপে ঠাকুরকে ও মাকে বসাইয়া খাওয়াইবে। প্রাণের
ভালবাসাই হইতেছে আসল কথা ; উহা হইলেই সব হইবে।
উপাসনা
যেমন
জপধ্যান শেষ হইলে, যাহাতে জ্ঞান হয়, যথার্থ কল্যাণ হয়,
ঠাকুর তাহাই করিয়া দিও'—এই ভাবে জপ সমর্পণ করিয়া
তাঁহার নিকটে প্রার্থনা করিবে। আত্মসমর্পণই শ্রেষ্ঠ পূজা।
ফুলচন্দন না পাইলেও ঠাকুর, তােমার চরণে আমার সব
বিকাইয়া দিলাম, এই ভাবটি স্থির হউক, ইহাই তুমি করিয়া
দিও’-ভাবিবে। তবে শাস্ত্রে বলে, গুরুর চিন্তা মস্তকে
শ্বেতপদ্মে এবং ইষ্টের চিন্তা হৃদয়ে রক্তপদ্মে করিতে হয়।
ঐরূপ করিয়া আনন্দ পাইবে কিনা জানি না।
ভাবে পূৰ্ব্বে করিয়াছ এবং আনন্দ পাইয়াছ তাহাই
করিবে।
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে এবং
তােমার স্বামীকে ও ছেলেমেয়েদের সকলকে জানাইবে।
আমি ভাল আছি। এখানকার কুশল। তুমি যে আনারস
পাঠাইয়াছিলে তাহা পাইয়াছিলাম। উহা আমি খাইয়াছি,
বেশ ভালই ছিল। শ্রীশ্রীঠাকুর তােমাদের সকলকে কুশলে
রাখুন—ইহাই প্রার্থনা করি।•••••
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
১২১
পত্রমালা
(১৮)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
২৩১১২৬
পরম কল্যাণীয়া মা বী-
তােমার পত্রে তােমার মার অসুখের কথা জানিয়া
চিন্তিত হইলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছায় তিনি শীঘ্র সুস্থ
হউন, ইহাই প্রার্থনা করি । তােমার বাবার শরীরও ভাল
নয়। তাঁহাদের যথাসাধ্য সেবা করিবে এবং শ্রীশ্রীঠাকুর ও
মাকে ব্যাকুল হইয়া ডাকিবে। শ্ৰীশ্ৰীমার দেখা পাওয়া
তঁাহার কৃপা ছাড়া হয় না; সুতরাং সরল মনে উঁহাকে
মনের সকল কথা জানাইবে। আশীর্বাদ করি তাহার
পাদপদ্মে তােমার শুদ্ধা ভক্তি হউক এবং তাহার দর্শন লাভ
করিয়া ধন্যা হও।
আমার শরীর একপ্রকার ভাল আছে। এখানকার
অন্য সকলের কুশল। তােমার মা, বাবা এবং ল-কে
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা জানাইও। মধ্যেমধ্যে
তােমাদের কুশল-সংবাদ পাইলে সুখী হইব। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
ক
১২২
উপাসনা (১৯) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ শরণং কলিকাতা ৪ঠা মাঘ, ১৩২৯ পরম কল্যাণীয়া মা স— তােমার ১লা মাঘের পত্র যথাকালে পাইয়া সুখী হইয়াছি। পায়ের বাতটা পায়ের বাতটা এখন প্রায় নাই ; একটুআধটু বেড়াইতেও পারিতেছি। কাল অপরাহ্নে গঙ্গার ধারে বেড়াইয়া আসিয়াছিলাম। যােগী মা’র শরীর সেইরূপই। কখন অর্শ, কখন অম্বল, কখন মাথাঘােরা,......কষ্ট পাইতেছেন। ভাবিয়াছি ১৫ই মাঘ তাহাকে কাশী লইয়া যাইব। এখন শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীমার যাহা ইচ্ছা। আমার মনে হয় তােমার শরীর এখনও সারে নাই। সেজন্য মনটাও দুর্বল হইয়া রহিয়াছে। তাহার উপর যােগী মা’র অসুখের জন্য ভাবনা প্রভৃতি উহাকে আরও দুৰ্বল করিয়া নানা কথা ভাবায়। যাহা হউক, জপধ্যান করিতে বসিয়া যদি পুনরায় ঐরূপ হয় তাহা হইলে সপ্তাহ- কাল ১০৮ বার মাত্র জপ ( নিয়মরক্ষার মত ) করিয়া বাকী
পত্রমালা
সময় ধর্মগ্রন্থ—যথা, গীতা, কথামৃত, স্তবমালা ইত্যাদি
পাঠ করিও। আমার বােধ হয় ২৩ দিন ঐরূপ করিলেই
আবার ধ্যানজপে মন বসিবে। ঐরূপ মনের চঞ্চল অবস্থা
সময়েসময়ে সকলেরই আসিয়া থাকে ; তজ্জন্য ভয় নাই।
কিছুদিন বাদেই আবার ঐ অবস্থা চলিয়া যাইবে ও পূর্বের
অপেক্ষা অনুরাগের সহিত জপধ্যান করিতে পারিবে।
শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্ৰীশ্ৰীমা যাহাদের কৃপা করিয়াছেন, তাহাদের
কোন ভাবনা নাই। তাহারা তাহাদের হাত সৰ্ব্বদা
ধরিয়া আছেন জানিবে।
গােলাপ মা’র পায়ে বাত বাড়িয়া আজ ৩ দিন শয্যাগত
আছেন। বাের্ডিং বাটীর সকলে ভাল। রু-কে তাহার
ভগ্নী টনকপুরে যাইবার জন্য টেলিগ্রাফ করায় তাহাকে
সহসা চলিয়া যাইতে হইয়াছে। তাহার ভগ্নী হরিদ্বারাদি
তীর্থ দেখিতে আসিয়াছে—রু-কে সঙ্গে রাখিলে ঐ বিষয়ে
সুবিধা হইবে ।.........
যােগী মা’র আশীৰ্বাদ জানিবে ও সকলকে জানাইবে।
সতত আমার আশীৰ্বাদ জানিবে এবং পত্রোত্তরে মনের
চঞ্চল ভাব চলিয়া গিয়াছে কি-না জানাইবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰসারদানন্দ
১২৪
উপাসনা (২০ ) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ শরণ কলিকাতা ৪২২৩ শ্ৰীমন্ শু তােমার পত্র পাইলাম। আমার আশীর্বাদ জানিবে। জপের সংখ্যা বামহস্তের অঙ্গুলীপৰ্বেই রাখিতে হয়। তােমার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর শ্রীশ্রীমার যথার্থ স্বরূপ দর্শন করিতে পারিলে তবেই জীব জ্ঞান, ভক্তি, মুক্তি লাভ করিয়া থাকে। তাঁহার সেই স্বরূপ তােমাদের এখনও দর্শন বা উপলব্ধি হয় নাই। কেবলমাত্র গুরুরূপেই তােমরা তাঁহাকে দেখিয়াছ। তিনি যাহা উপদেশ করিয়াছেন বা দীক্ষা দিয়াছেন তাহা অভ্যাস করিতেকরিতেই তাঁহার স্বরূপ জানিবে এবং সিদ্ধকাম হইবে । তােমার তৃতীয় কথার উত্তর,.••জয়রামবাটীতে মন্দির- প্রতিষ্ঠা হইবে, সেই সময় হইবে। ঐ সময় আমি তােমাদের ওখানে যাইব।••• তােমাদের মঠের বি-র পত্রে কে–র অসুস্থতার সংবাদ শুনিয়া চিন্তিত হইলাম। বি—কে বলিবে, তাহার পত্র
পত্রমালা
পাইয়া কে—কে আমি যাহা লিখিবার লিখিয়াছি। বিকে
আমার আশীর্বাদ দিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
(২১)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১৬১১২৬
পরম কল্যাণীয় শু
তােমার ২৪শে কার্তিকের পত্র পাইয়া সকল বিষয়
অবগত হইলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট প্রার্থনা করি,
তােমার শরীর পুনরায় সুস্থ ও সবল হউক, এবং তাহার
পাদপদ্মে শুদ্ধা ভক্তি লাভ হউক।
কবিরাজী চিকিৎসা হইতেছে-উত্তম কথা। নিয়মমত
ঔষধ সেবন করিও এবং সাবধানে থাকিও। আমার শরীর
ভাল আছে। এখানকার কুশল। মধ্যেমধ্যে তােমার
কুশল-সংবাদ দিয়া সুখী করিও। আশ্রমে তােমার থাকিবার
এবং পথ্যের বিশেষ বন্দোবস্ত হইয়াছে জানিলাম। যখন
যাহা দরকার হইবে, অ—অথবা স—কে জানাইও; আশা
করি, তাহারা সাধ্যমত উহার ব্যবস্থা করিয়া দিবে।
উপাসনা তােমার প্রশ্নের উত্তর :১......নাম যে ভাবে লইতে ভাল লাগে, সেই ভাবেই লইতে পার। ২। মালা বুকের নীচে রাখিয়া জপ করিতে পারিলেই ভাল হয়। কারণ, কেহকেহ বলেন, নাভির নীচে মাল নামাইবে না। তােমার যদি উহাতে অসুবিধা হয়, আঁচল বা একটা কিছু পাতিয়া উহা করিতে পার। শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম লওয়াই উদ্দেশ্য ; যাহাতে সুবিধা হয় তাহাই করিও। ৩। রাজযােগ দেখিয়া প্রাণায়াম করিবে না। ডাক্তার- বাবু যেরূপ করিতে বলেন, ঠিক সেইরূপ করিবে। তিনি বােধ হয় free air ( মুক্ত বায়ুতে) দুইএকটা নিশ্বাস লওয়া ও উহা কিছুক্ষণ রাখিয়া রাখিয়া আস্তেআস্তে ছাড়িয়া দেওয়া—এইরূপ করিতে বলিবেন। তাঁহার নিকটে উহা জিজ্ঞাসা করিবে এবং সেইমত করিবে। ইতি-- শুভানুধ্যায়ী শ্ৰীসারদানন্দ
পত্রমালা
(২২)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম্
শশী নিকেতন,পুরী
২৯২৫
কল্যাণবরেষু
তােমার ১০ই আষাঢ়ের পত্র যথাকালে পাইয়াছি।
কাশীধামে অবস্থানকালে যে পত্রদ্বয় দিয়াছিলে তাহার
উত্তরে কি লিখিব ভাবিয়া পাই নাই বলিয়াই উত্তর দিই
নাই। বিশেষতঃ কলিকাতায় আসিয়া মঠসংক্রান্ত বিষয়ে
অনেক কথা শিবানন্দ স্বামিজী-প্রমুখ অনেকের সহিত সভা
করিয়া স্থির করিতে হইয়াছিল, অন্যান্য অনেক কাজেরও
বন্দোবস্ত করিতে হইয়াছিল, এবং ঐ সকল করিবার পরেই
জ্বর হইয়া প্রায় এক পক্ষের উপর ভুগিতে হয় ; সেজন্য
সময়েরও অত্যন্ত অভাব হইয়াছিল। একটু সারিয়াই
এখানে চলিয়া আসিয়াছি এবং অনেকটা ভাল বােধ
করিতেছি। আমার আশীর্বাদ সতত জানিবে এবং উভয়
আশ্রমের সকলকে জানাইবে
তােমার শরীর ও মনের অবস্থা ভাল নয় জানিয়া দুঃখিত
হইলাম। বয়স হইলে সকলেরই শরীর ক্রমশঃ খারাপ
১২৮
উপাসনা হইতে থাকে এবং পূর্বের ন্যায় স্বাস্থ্যলাভ আশা করা যায় না। অতএব শরীরের দিকে, কাজ চলিয়া যায় এরূপমাত্র, দৃষ্টি রাখিয়া মনের শান্তি যাহাতে লাভ হয় তাহারই জন্য বিশেষ চেষ্টা করা কর্তব্য। মনের শান্তি শ্রীভগবানের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করিয়া ধ্যানভজনে অধিক সময় কাটাইলে তবেই লাভ হইতে পারে। অতএব ঠাকুর ও মাকে যত পার ডাকিয়া তাঁহাদের নিকট ব্যাকুল হইয়া প্রার্থনা কর। আমিও কাৰ্য্য হইতে একপ্রকার অবসর লইয়া ঐরূপ করিয়া দিন কাটাইতেছি। কারণ, শ্রীভগবানের দর্শন- লাভই মনুষ্যজীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।••• •••যাহা ভাঙ্গিয়াছে তাহা আর গড়িবার নহে এবং উহাদ্বারা তুমি তােমার নিজের অন্তর সুস্পষ্ট দেখিতে পাইবে বলিয়াই শ্রীশ্রীমা ঐরূপ করিয়াছেন। তবে একথা নিশ্চিত সত্য যে শ্রীশ্রীমা তােমাদিগকে কখনই ছাড়িবেন এবং যাহাতে তােমাদের অন্তিমে পরম মঙ্গল হয় তাহাই করিবেন। গীতার তৃতীয় অধ্যায় এবং অষ্টম অধ্যায় হইতে যে দুইটি শ্লোক উদ্ধৃত করিয়াছ, উহাদের পূর্বাপর সম্বন্ধ নাই। কারণ, তৃতীয় অধ্যায়ে এক কথা বলিতেছেন, এবং অষ্টম অধ্যায়ে অন্য কথা বলিতেছেন। তৃতীয় অধ্যায়ের ১৯ পত্রমালা শ্লোকের অর্থ—যে কৰ্ম্মযােগী সতত অসক্ত হইয়া কাৰ্য্য করিয়া জীবন কাটাইতে পারিবে সে অন্তে পরম অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ যে গতি তাহাই প্রাপ্ত হইবে। অর্থাৎ সৰ্ব্বভূতে শ্রীভগবাকে দর্শন ও শুদ্ধজ্ঞান লাভ করিয়া অন্তে ব্ৰহ্ম- স্বরূপে মিলিত হইবে। অষ্টম অধ্যায়ের ২০ শ্লোকে শ্রীভগবান্ বলিতেছেন—যে কৰ্ম্মযােগী ধূম ও ও রাত্রি, কৃষ্ণপক্ষ, দক্ষিণায়ন ইত্যাদি সময়ে শরীর তাগ করিবে সে চন্দ্রলােকে কিছুকাল বাসের পর সংসারে পুনরায় ফিরিয়া আসিবে। উহাতে বুঝা যাইতেছে, যে কৰ্ম্মযােগী সতত অসক্ত হইয়া কৰ্ম্ম করিতে পারে নাই, অথবা কৰ্ম্মযােগে সিদ্ধি লাভ করিতে পারে নাই, তাহারই ধূম ও রাত্রি ইত্যাদি সময়ে মৃত্যু হইবে এবং সংসারে পুনরাগমন হইবে। দেবযান অথবা পিতৃযান পথে গমন করিবার কর্তৃত্ব জীবের না থাকিলেও, সে আজীবন যে সকল কৰ্ম্ম করিয়াছে তাহা দ্বারা নিয়মিত হয়, এবং যে কৰ্ম্মযােগী কৰ্ম্মযােগে সিদ্ধিলাভ করিয়া শুদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী হইয়াছে সে ভগবৎকৃপায় জানিতে পারে দেহান্তে তাহার গতি কোন্ পথে হইবে। শুভানুধ্যায়ী শ্ৰীসারদানন্দ ১৩০
উপাসনা
কলিকাতায় ফিরিলে স্মরণ করাইয়া দিও, তােমাকে
একখানি ভাল গীতা পাঠাইয়া দিব। উহা আমাদেরই
জনৈক বন্ধু পদ্যানুবাদ সহ করিয়াছেন। উহাতে অনেক
বিষয় জানিতে পারিবে।
(২৩)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৩৫১০২৫
কল্যাণবরেষু
তােমার ২৩১০ তারিখের পত্র পাইয়া সুখী হইয়াছি।
মুক্তানন্দের শরীরত্যাগের কথা ইতিপূৰ্বেই জানিয়াছিলাম ।
শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীমার পাদপদ্মে স্থান পাইয়াছে ; সে
পরম শান্তিতে আছে। তােমরাও তাঁহাদের সন্তান, ভঁহাদের
কৃপায় তােমাদের জীবনােদ্দেশ্য নিশ্চিত সফল হইবে।
ধ্যানাদিকালে তুমি যে অবস্থা হয় বলিয়া লিখিয়াছ
তাহা খুবই ভাল। কুলকুণ্ডলিনী ঐরূপে জাগ্রত হয়, এবং
পূর্ণভাবে জাগ্রত হইলে সাধককে শুদ্ধজ্ঞান ও শুদ্ধা ভক্তির
অধিকারী করে। শ্রীভগবাকে পাইলাম না’ বলিয়া
ব্যাকুলতা হওয়া ত পরম মঙ্গলের কথা। আশীর্বাদ করি,
পত্রমালা
ঐরূপ ব্যাকুলতা তােমার খুব বৃদ্ধি হউক এবং অচিরে
শ্রীশ্রীঠাকুরের দর্শন লাভ কর।
আমার শরীর ভাল আছে। কাশী যাইবার স্থিরতা
ক—প্রভৃতি সকলকে আমার আশীৰ্বাদ জানাইবে।
নাই।
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(২৪)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১২১২৭
কল্যাণবরেষু
তােমার ২৮১২ তারিখের পত্রে কিষণপুর আশ্রমে
শ্ৰীশ্ৰীমার জন্মােৎসব সুসম্পন্ন হইয়াছে জানিয়া সুখী
হইলাম। তুমি আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত
জানিবে এবং শ্ৰমান্ নি, অ— প্রভৃতিকে জানাইবে।
শ্রীশ্রীঠাকুরকে যেমন ডাকিতেছ সেইরূপ ডাকিয়া যাও;
তাহার কৃপা হইলে সব হইবে। আমরা ত খুব আশীর্বাদ
করি, তােমাদের শুদ্ধা ভক্তি হউক। তাহার ভজনে যে
আনন্দ পাইতেছ এবং শরীর ও মন ভাল আছে, ইহা কি
১৩২
উপাসনা
কম সৌভাগ্যের কথা ! তাহার উপর নির্ভর করিয়া পড়িয়া
থাক; তিনি যাহা ভাল হয় করিবেন; সেজন্য তােমাকে
ভাবিতে হইবে না।
রাজপুরে যখন তােমার বেশ সুবিধা হইয়াছে তখন
ওখানেই কিছুদিন থাকিয়া দেখ। আমার শরীর ভাল
আছে। এখানকার কুশল। শ্ৰীমান্ কি—এখানেই আছে ;
কিছুদিন পরে তােমাকে সে পত্র দিবে। তােমার পূর্ব
পত্রগুলি সে পাইয়াছে। শ্রীমান্শ—কে আশীৰ্বাদ দিয়া
বলিও তাহার পত্র পাইয়া সুখী হইলাম। মধ্যেমধ্যে
তাহার কুশল-সংবাদ দিয়া যেন সে সুখী ও নিশ্চিন্ত
করে। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(২৫)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
২১/২২৬
কল্যাণবরেষু
তােমার ১৭ই তারিখের পত্র যথাসময়ে পাইয়াছি।
আমার শরীর ভাল আছে। আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা
পত্রমালা
।
সতত তুমি জানিবে এবং চ—প্রমুখ আশ্রমস্থ সকলকে
জানাইবে।
তােমার ও তাহার পত্রে ভগবানানন্দের সম্বন্ধে সকল
কথা জানিলাম । সে এখন কাশীতে থাকিয়া সাধনভজন
করিতে চায়—উত্তম কথা। চ—কে বলিয়া যাহাতে রাত্রে
অদ্বৈতাশ্রমে শুইতে পায় তাহার ব্যবস্থা করিয়া দিও।
ভিক্ষাদি ছত্রেই করিবে লিখিয়াছে ; ঐ বিষয়েও যাহাতে
সুবিধা হয় তাহার জন্য যথাসাধ্য সাহায্য করিও।
শ্রীশ্রীমায়ের ছবিটি তােমাদের পছন্দ হইয়াছে জানিয়া
সুখী হইলাম। শ্রীশ্রীমায়ের উৎসব আগতপ্রায়। তােমাদের
ওখানে আশা করি তুমি ও অন্য সকলে ভাল আছ ও
আছে। এখানকার ও মঠের কুশল। বেশী শীত পড়িতে
আরম্ভ হইয়াছে। মধ্যেমধ্যে কুশল-সংবাদ দিয়া সুখী
করিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(২৬ )
পরম কল্যাণীয় ভগবানানন্দ,
তােমার পত্র পাইয়াছি। কাশীতে থাকিয়া সাধনভজন
করিবে—উত্তম কথা। আশীর্বাদ করি, শ্রীভগবানের
১৩৪
উপাসনা
কৃপায় তােমার আত্মদর্শন হউক এবং শান্তিতে ও আনন্দে
থাক। অদ্বৈতাশ্রমে রাত্রিতে যাহাতে থাকিতে পাও
সেজন্য চ—কে বলিও , আশা করি তিনি এ বিষয়ে
ব্যবস্থা করিয়া দিবেন।
আমার শরীর ভাল আছে। মধ্যেমধ্যে তােমার
কুশল-সংবাদ দিয়া সুখী করিও। ইতি—
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
.
(২৭)
শরণ
কলিকাতা
৪৫২৭
কল্যাণবরেষু-
তােমার ২৪৪ তারিখের পত্র পাইয়াছি। তােমাদের
নির্বিঘ্নে কুম্ভমান হইয়াছে, এবং স্বর্গাশ্রমে গঙ্গার উপরে
পছন্দমত একটি কুটিয়া পাইয়াছ জানিলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের
ভজন করিয়া বেশ শান্তি ও আনন্দ লাভ কর, ইহাই
প্রার্থনা করি।
বড়ই দুঃখের বিষয়, এখানকার শ্রীশ্রীঠাকুরের পূজক
পত্রমালা
স্বামী তত্ত্বানন্দ (গােবিন্দ) গতকল্য বসন্তরােগে দেহরক্ষা
করিয়াছে। সকলই শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছা। এত
বয়সে চলিয়া গেল।
অন্যান্য সকলের একপ্রকার কুশল। আমি ভাল
আছি। আমার আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে এবং
শ—প্রভৃতি সকলকে জানাইবে।—চৈতন্যকে বলিও,
তাহার পত্র পাইয়াছি এবং তাহাকে আশীর্বাদ
জানাইতেছি। মঠে পূজনীয় মহাপুরুষ এবং অন্যান্য সকল
সাধুরা ভাল আছেন। শ্রীশ্রীঠাকুর তােমাদিগকে সুস্থ
রাখুন এবং পাদপদ্মে শুদ্ধা ভক্তি দিন—ইহাই প্রার্থনা
করি। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
সারদানন্দ
(২৮)
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
১৭ই জুন
কল্যাণবরেষু
তােমার ১৩ই জুন তারিখের পত্র পাইয়াছি। তুমি
নির্জনে থাকিয়া শ্রীভগবানের স্মরণমনন এবং শাস্ত্রাদি পাঠ
উপাসনা
করিতেছ জানিয়া আনন্দিত হইলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের
নিকট প্রার্থনা করিতেছি,—তাঁহার শ্রীপাদপদ্মে তােমার
শুদ্ধা ভক্তি হউক এবং তাহার স্মরণমনন ও ধ্যানে শান্তি ও
আনন্দের দিকে অগ্রসর হও।
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে, এবং
তােমার মা, খ—শ ও ওখানকার অন্যান্য সকলকে
জানাইবে। আমার শরীর ভাল আছে। মহাপুরুষ
মহারাজ ভাল আছেন। মঠের ও এখানকার সমস্ত কুশল।
এখানে সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ায় গরম অনেকটা কমিয়াছে।
আশা করি তােমরা সকলে ভাল আছ। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰসারদানন্দ
১৭
No text on this page.
=
চতুর্থ স্তবক
বিবিধ
No text on this page.
বিবিধ
(১)
ঐশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
২৫শে অগ্রহায়ণ
কল্যাণবরেষু
অনেক দিন হয় তােমার কোন খবর পাই না। আশা
করি ভাল আছ। আগামী ১৪ই পৌষ, ৩০শে ডিসেম্বর
ঐশ্রীমাতাঠাকুরাণীর জন্মতিথি, বােধ হয় জান। তুমি
ইহার মধ্যে এখানে আসিতে পারিবে কি? শ্ৰীশ্ৰীস্বামিজী
ও পূজনীয় মহারাজের মন্দির-প্রতিষ্ঠা-কার্যে তােমাকেই
পূজক হইতে হইবে। সে সময়ে তােমার আসা ত নিতান্ত
আবশ্যক। পূজনীয় শ্রীশ্রীস্বামিজীর জন্মতিথি আগামী
২৮শে জানুয়ারী, এবং শ্রীশ্রীমহারাজজীর জন্মতিথি তাহার
৯ দিন পরে—৭ই ফেব্রুয়ারী। পত্রোত্তরে তুমি কেমন
আছ এবং এদিকে কবে আসিতে পারিবে, জানাইয়া
সুখী করিও .........
১৪১
পত্রমালা
আমার শরীর বর্তমানে ভালই আছে। যােগী মা ও
গােলাপ মা একরূপ ভাল আছেন। তুমি সতত আমার,
যােগী মা ও গােলাপ মা’র আশীর্বাদ জানিবে। এখানকার
ও মঠের অন্যান্য সকলের কুশল। মহাপুরুষ মঠে ভাল
আছেন। হ—বাবুকে আমার আশীর্বাদ দিও। শ্ৰীশ্ৰীমার
জন্মতিথি-উৎসবের পরে যদি আমাদের কাশী যাওয়া
হয়—দেখি, শ্ৰীশ্ৰীমার কি ইচ্ছা। আশ্রমে যাইলে
সকলকে আমার আশীৰ্বাদ দিও। ইতি
শুভানুধ্যায়ী—
শ্রীসারদানন্দ
(২)
ঐশ্রীরামকৃষ্ণ ।
শরণ
কলিকাতা
২৯১২২৫
কল্যাণবরেষু
শ্ৰীমান্ রা-র পত্ৰমধ্যে তােমার ১০ই পৌষের পত্র
পাইয়া সুখী হইলাম। আমার আশীৰ্বাদ সতত জানিবে।
আমার শরীর ভাল আছে। এখানকার কুশল।
১৪২
বিবিধ
সুবিধামত এখানে আসিবে বৈকি। শ্ৰীমান্ অ—
কয়েক দিন হইল এখান হইতে গিয়াছে। তাহার নিকটে
অবশ্য শুনিয়াছিলে আমার শরীর ভাল আছে। শ্ৰীমান
—চৈতন্য ভাল আছে।•••আশ্রমের কার্যে নিযুক্ত আছে।
সকলকে আমার আশীর্বাদ জানাইবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(৩)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম্
কলিকাতা
২৮১২২৫
কল্যাণবরেষু
তােমার ১৩ই ডিসেম্বরের পত্র যথাকালে পাইয়াছি।
শ্ৰীমান্ অ—কিছুদিন পূর্বে এখানে আসিয়াছিল এবং
কয়েক দিন থাকিয়া গত পরশ্ব বা পূৰ্ব্বদিনে বাটী ফিরিয়াছে।
তােমার পিসীমার দেহত্যাগের কথা সে বলিয়াছিল। তিনি
পুণ্যলােকে গিয়াছেন, সন্দেহ নাই।
সন্ন্যাস লওয়া সম্বন্ধে তুমি যাহা স্থির করিয়াছ তাহাই
উত্তম। যতদিন পর্যন্ত আপনাকে উপযুক্ত মনে না করিবে
এবং অন্তরে প্রেরণা না পাইবে, ততদিন ব্রহ্মচারী থাকাই
১৪৩
পত্রমালা যে যাহাই ভাবুক ও বলুক না কেন, তুমি ব্রহ্মচর্য- দীক্ষাকে যাহা ভাবিয়াছ, সেইভাবেই চলিও। ব্রাহ্মণত্বের দীক্ষা লাভ করিয়াছ—প্রকৃত ব্রাহ্মণের গুণে ভূষিত হও। গুণগত ব্রাহ্মণত্ব সমাজ অবশ্য স্বীকার করে না, কিন্তু তােমরা ত সমাজের বাহিরে। সমাজে ব্রাহ্মণ বলিয়া পরিচয় দিবার প্রয়ােজন নাই। কিন্তু নিজের মনে জানিবে যে ব্রাহ্মণ-গুণসম্পন্ন হওয়াই এবং সর্বতােভাবে ব্রহ্মচর্য্য রক্ষা করাই তােমার জীবনের উদ্দেশ্য। পৈতা ছিড়িয়া গেলে তুমি নিজে শ্রীশ্রীঠাকুর ও পূজ্যপাদ স্বামিজীর নাম করিয়া গ্রন্থি দিয়া পৈতা পরিতে পার। একসময়ে অনেকগুলি ব্রাহ্মণেতর জাতির ছেলেকে পৈতা স্বয়ং দিয়াছিলেন। তাহাদের মধ্যে কেহকেহ আজীবন পৈতা পরিত—আমার জানা আছে। যেমন—আহিরীটোলা-নিবাসী পরলােকগত নিবারণ, যে জাতিতে সুবর্ণবণি ছিল। পূৰ্ব্বসংস্কার আমাদের মনে বিশেষ প্রভুত্ব করে। সেজন্য মঠে ঠাকুরঘরের পূজাদিতে ব্রাহ্মণবংশীয় ব্রহ্মচারীদের আদর আছে। কারণ, তাহারা একে ব্রাহ্মণবংশীয়, তাহার উপর প্রকৃত ব্রাহ্মণের গুণসম্পন্ন হইবার জন্য ব্রহ্মচর্য্য লইয়াছে।••••••••• পূজ্যপাদ স্বামিজী ১৪৪
বিবিধ
ব্রহ্মচর্য্যের সময়ে পৈতা লওয়াটা কিছুই নহে, এইরূপ
অনেক সাধু বলিলেও তােমার বিচলিত হইবার প্রয়ােজন
নাই। শ্রীশ্রীঠাকুর বলিতেন, “যেমন ভাব তেমনি লাভ।
অতএব তুমি যেরূপ ভাবিবে—আপনাকে ব্রাহ্মণ বলিয়া
ভাবিলে ব্রাহ্মণই হইবে।
শ্রীশ্রীঠাকুর ব্রাহ্মণের বর্ণের হাতে ভাতটামাত্র
সচরাচর খাইতেন না, কিন্তু কখনওকখনও ঐ নিয়মেরও
ব্যতিক্রম করিয়াছেন। যেমন—পূজ্যপাদ স্বামিজী রন্ধন
করিলেও সেই অন্ন খাইয়াছেন এবং সৰ্ব্বং ব্রহ্ম’-এই কথা
প্রত্যক্ষ করিয়া কাঙ্গালীদের উচ্ছিষ্ট খাইয়া পবিত্ৰজ্ঞানে
মস্তকে হস্তস্পর্শ করিয়াছেন।......
ভাব ও ভক্তি লইয়াই ঈশ্বরের মূর্তিসকলের পূজা।
যজ্ঞসূত্রবিহীন হইলেও কোনওকোনও মহাপুরুষকে আমি
গায়ত্রী জপ করিতে দেখিয়াছি। অতএব ঐরূপ করিলেও
দোষ নাই। তবে তুমি যখন পৈতা পাইয়াছ তখন উহা
রাখাই ভাল।
আমার আশীর্বাদ সতত জানিবে। শ্ৰীশ্ৰীমাতাঠাকুরাণী
যখন তােমাকে কৃপা করিয়াছেন তখন তােমার জীবন ধন্য
হইয়াছে, সর্বদা এই ধারণা রাখিবে; এবং তিনি যখন
আমাকে কৃপা করিয়াছেন তখন আমার সকলই হইয়া
১৪৫
পত্রমালা
গিয়াছে, কেবলমাত্র একটু জানা বাকী আছে—এইভাবে
সর্বদা উল্লসিত থাকিবে।
আমার শরীর ভাল আছে। এখানকার সকলের
গ-মহারাজকে আমার নমস্কার ও ভালবাসা
জানাইবে এবং আশ্রমস্থ সকলকে আশীর্বাদ দিবে। ইতি—
কুশল।
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(৪)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৮১২৫
কল্যাণবরেষু
বিজয়ার প্রণাম জানিলাম। আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা
জানিবে এবং তােমার মাতা, পিতা প্রভৃতি পরিবারস্থ
সকলকে জানাইবে। সংসারে দুঃখকষ্ট সকলেরই সহিতে হয়
কিন্তু উহা চিরস্থায়ী নহে। শ্রীশ্রীঠাকুরের উপর নির্ভর
করিয়া পড়িয়া থাক; তাহার কৃপায় দুঃখদুর্দিনের অবসান
হইয়া আবার সুখশান্তির উদয় হইবে। তাঁহার আশ্রয়
১৪৬
বিবিধ
যখন পাইয়াছ তখন কোন ভাবনা নাই। তিনি সকল
অবস্থায় রক্ষা করিবেন।
আমি ভাল আছি। এখানকার কুশল। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(৫)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৪২৭
কল্যাণবরেষু-
তােমার পত্র পাইয়া সকল কথা জানিলাম। হতাশ
হইও না—একদিনে কিছু হয় না ; ধৈৰ্য্য ধরিয়া পড়িয়া
থাকিতে হয়। আশীৰ্বাদ করি, তােমার ঐরূপ পড়িয়া
থাকিবার শক্তি আসুক এবং শরীর ও মন সুস্থ ও সবল
মনে সর্বদা জোর রাখিবে। সংসারে সকলেরই
ঐরূপ দুঃখকষ্ট ভােগ করিতে হয়। যে শ্রীশ্রীঠাকুরের
উপর নির্ভর করিয়া ঐসব সহ্য করিতে পারে সে নিশ্চিত
তঁাহার কৃপা উপলব্ধি করিতে পারিবে।
হউক।
১৪৭
পত্রমালা
তােমার মাকে আমার আশীৰ্বাদ দিও। আমার শরীর
ভাল আছে। এখানকার কুশল। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
সারদানন্দ
(৬)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৩১১২২৬
কল্যাণবরেষু-
তােমার বিস্তারিত পত্র পাইয়া সকল কথা জানিলাম।
শ্রীশ্রীঠাকুর ও মার কৃপায় ঋণদায় হইতে মুক্ত হও এবং
সংসার-প্রতিপালনের উপায় তাহারা করিয়া দিন, ইহাই
আমার আন্তরিক প্রার্থনা। শ্ৰীশ্ৰীমা যাহা বলিয়াছেন,
তাহা কখনই মিথ্যা হইবে না। তিনি তােমার পশ্চাতে
রহিয়াছেন, কোনও ভয় নাই। তােমার উদ্ধারের উপায়
তিনি নিশ্চিত করিবেন; তবে যে কয়দিন ভােগ আছে
তাহা সহিতেই হইবে।
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত তুমি জানিবে
এবং শ্রীমান্ প—প্রভৃতি বাড়ীর সকলকে জানাইবে।
১ar
বিবিধ
পর একটি কাজ হউক এবং তােমাকে সে সাহায্য করুক,
ইহাও তাহাদের নিকটে জানাইতেছি। আমার শরীর
একপ্রকার চলিয়া যাইতেছে। এখানকার অন্য সকলের
কুশল।
শ্ৰীশ্ৰীমার উৎসব সুসম্পন্ন হইয়াছে। তােমার প্রেরিত
\/• আনার ডাক-টিকিট পাইয়াছি এবং উহা দ্বারা মিষ্টি
কিনাইয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের ভােগে দিয়াছি। মধ্যেমধ্যে
কুশল-সংবাদ দিয়া সুখী করিও। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
(৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ
শরণং
কলিকাতা
৪|১২২১
কল্যাণবরেষু-
তােমার ২১২২১ তারিখের ও পূর্ব পত্র যথাকালে
পাইয়াছি। তােমার প্রশ্নসকলের উত্তর তােমার ভক্তিই
তােমাকে প্রদান করিবে। আমায় জানাইবার আবশ্যকতা
নাই। জিজ্ঞাসিত বিষয়সকল যে ভাবে ও যেমন ভাবে
১৪৯
পত্রমালা
করিলে তােমাদের মনের তৃপ্তি হয় সেইরূপ করিবে।
সাধারণভাবে আমি এই কথামাত্র বলিলাম।
শ্রীশ্রীমার জন্মতিথি আগামী ৬ই পৌষ । আমার
আশীৰ্বাদ জানিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
পুনঃ—এখানকার কুশল। শ্রীমহারাজ ৮/১০ দিনের
মধ্যেই বেলুড়ে আসিবেন। আমি বিশেষ ব্যস্ত আছি। সা—
(৮)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম্
কলিকাতা
২৪৩২৪
কল্যাণবরেষু
তােমার পত্রে ওখানে শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মােৎসব হইয়া
ছিল এবং স্থায়িভাবে সেবাসমিতি স্থাপিত হইয়াছে জানিয়া
আনন্দিত হইলাম। আসামীরা শ্রীশ্রীঠাকুর ও স্বামিজীর
ভাবে দিনদিন অনুপ্রাণিত হইতেছে জানিয়া অত্যন্ত প্রীতি
অনুভব করিলাম। এখানে শ্রীশ্রীঠাকুরের উৎসব সুসম্পন্ন
হইয়া গিয়াছে।
১৫০
বিবিধ
আমার শরীর ভাল আছে। যােগীন্ মা পূর্বের ন্যায়
ভাল না ; গােলাপ মা’র শরীরও ভাল যাইতেছে না।
তাহাদের ও আমার আশীৰ্বাদ সতত জানিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(৯)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণঃ
শরণম্
কলিকাতা
৫৭।২৪
পরমকল্যাণীয়াসু
তােমার ৮ই আষাঢ়ের পত্র পাইলাম। এখানে
পূজনীয়া যােগী মাতা শ্রীশ্রীঠাকুরের পাদপদ্ম লাভ করায়,
দেহান্তের পূর্বে তাহার সকল বিষয় সম্পন্ন করিবার ভার
আমার উপর দিয়া যাওয়ায় নানা কাজে ব্যস্ত থাকিতে
হইয়াছে। তােমার এবং তােমার স্বামীর শরীর ভাল নয়
জানিয়া দুঃখিত হইলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট প্রার্থনা
করি, তােমরা শীঘ্র আরােগ্য লাভ কর। তােমরা উভয়ে
আমার আশীৰ্বাদ জানিবে এবং তােমার ছেলেমেয়ে-
দিগকেও উহা দিবে।
পত্রমালা তুমি যে দুই বিষয়ের জন্য আমাকে লিখিয়াছ, তাহার কোনটিতেই আমার হাত নাই। আমি এখন সকল কাৰ্য্য হইতে অবসর লইয়াছি। নিবেদিতা স্কুল সম্বন্ধে কোন কথা জানিতে হইলে ব্রহ্মচারী গ—কে লিখিবে। বসুমতী ও আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকদিগের সহিত পরিচয় থাকিলেও কখনও তাহাদিগকে ঐরূপ বিষয়ের জন্য অনুরােধ করি নাই ; সুতরাং এখন কেমন করিয়া করিতে পারি। আশীৰ্বাদ করি, তােমার ও তােমার স্বামীর সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ হউক, এবং শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছায় যে বিষয়ের জন্য লিখিয়াছ সে বিষয়ে তােমরা সফলকাম হও। ইতি- শুভানুধ্যায়ী শ্ৰীসারদানন্দ (১০) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণং কলিকাতা ৫ই ফান, ১৩২৮ পরম কল্যাণীয়া শ্ৰীমতী স- তােমার•••••পত্র যথাসময়ে পাইয়া সুখী হইয়াছি। শ্রীশ্রীমার কৃপায় তুমি আনন্দে আছ এবং যাহাকে ১৫২ বিবিধ ধরিলে কেবল শান্তি পাওয়া যায়, তাহাকে ধরিতে পারিয়াছ, তােমার পত্রে ঐ কথা জানিয়া যােগী মা’র ও আমার প্রাণে যে কত আনন্দ হইয়াছে তাহা বলিবার নহে। যােগী মা বলিলেন, “আমার ইষ্টলাভ হইলেও এত আনন্দ হইত কি-না জানি না। একমনে একপ্রাণে মার সেবা করিয়াছিল বলিয়াই মার কৃপায় স-র এই অবস্থা হইয়াছে। আশীৰ্বাদ করি, মার পাদপদ্মে তাহার মন দিন- দিন ডুবিয়া যাউক।” আমিও যােগী মা’র সহিত তােমাকে ঐ আশীৰ্বাদ করি। পূজনীয় বড় মহারাজ তােমার ও প-র কথা মধ্যে- মধ্যে জিজ্ঞাসা করেন এবং তােমাদের আশীর্বাদ জানাইতে বলিয়াছেন। তাঁহার মধ্যে একটু সর্দি ও জ্বরভাব হইয়াছিল, এখন সারিয়াছেন। প্রায় একপক্ষকাল যােগী মা পেটের অসুখ, আমাশয়ে ভুগিয়া আজকাল অনেকটা ভাল আছেন। আমারও পায়ে বাত বাড়িয়া গত এক সপ্তাহ কষ্ট পাইয়াছিলাম। এখন ভাল আছি। গােলাপ মা পূর্বের মত আছেন। বলা বাহুল্য, অসুখের সময় যােগী মা’র তােমার কথা খুব মনে পড়িয়াছিল। সরস্বতীপূজার দিন গােলাপ মা ও যােগীন্ মা বাের্ডিং-বাটীতে গিয়াছিলেন।
পত্রমাল তােমার অম্বল বাড়িয়াছে জানিয়া পূৰ্বের ঔষধটি ডাক্তার দুর পরামর্শ অনুসারে অদ্য পাঠাইলাম। দুইবেলা খাইবার পরে এক চামচে জলের সহিত মিশাইয়া খাইবে। এখানকার অন্যান্যের কুশল। প—কে বলিবে তাহার পত্রের উত্তর শীঘ্র দিতেছি। তাহাকে, গি—কে ও স- প্রভৃতিকে আশীৰ্বাদ জানাইবে। ইতি-- শুভানুধ্যায়ী শ্ৰীসারদানন্দ (১১) জয়তি কলিকাতা ৯ই শ্রাবণ, ১৩২৯ পরম কল্যাণীয়া মা তােমার ৬ই তারিখের পত্র পাইয়া সুখী হইয়াছি। নানা অশান্তিতে আছ জানিলাম। শ্রীশ্রীঠাকুর ও মায়ের ইচ্ছা! শান্তি ও অশান্তি, দুই তাহাদের ইচ্ছায় জীবনে আসে আমাদের শিক্ষার জন্য—সকল অবস্থায় তাঁহাদের ধরিয়া আমাদিগকে অবিচলিত থাকিতে হইবে। আবার ১৫০ বিবিধ এক দিক দিয়া দেখিলে অশান্তিকেই ভাল মনে হয়-- কেন না, তখন ভগবাকে খুব ডাকিতে পারা যায়। পাণ্ডবমাতা কুন্তী বলিয়াছিলেন, ‘হে কৃষ্ণ, আমার সৰ্ব্বক্ষণ দুঃখ, বিপদ ও অশান্তিই যেন থাকে, কেন না, ঐরূপ অবস্থায় পড়িয়াই তােমাকে নিরন্তর স্মরণ হয় এবং সম্পদ কালে মানবের দুর্বল মন তোমায় ভুলিয়া যায় ? ঐরূপ দুর্বলতার জন্যই শ্রীরামপ্রসাদ জগদম্বার নিকটে অনুযােগ করিয়া বলিয়াছিলেন- আমি ঐ খেদে খেদ করি। তুমি মাতা থাকতে আমার জাগা ঘরে চুরী। যশ, অপযশ, সুরস, কুরস, সকল রস তােমারি। (ওমা) রসে থেকে রসভঙ্গ কেন কর রসেশ্বরী। কিছু দিলেনা, নিলে না, খেলে না, পেলে না সে দোষ কি আমারি। যদি দিতে, নিতে, খেতে, পেতে দিতাম, খাওয়াতাম তােমারি । ঠাকুর ঐ গানটি খুব গাইতেন। অশান্তির পালা আমাদের এখানেও মাঝেমাঝে বেশ চলিয়াছে। গত ৫ই শ্রাবণ, শুক্রবার অপরাই ৬টা ৪৫ মিনিটে হরি মহারাজ দেহরক্ষা করিয়াছেন। ঐকালে
পত্রমালা
সকলকে ডাকিয়া বলিয়াছিলেন—“ব্ৰহ্ম সত্য, জগৎ সত্য,
সত্যেই প্রাণ প্রতিষ্ঠিত, সত্যং জ্ঞানমনন্তং ব্ৰহ্ম আনন্দং যদ
বিভাতি—বাশ।” ঐ কথাগুলি বলিয়াই সমাধিস্থ
হইয়া পড়েন !
গি—র বিপদের কথা জানিয়া দুঃখিত হইলাম।
শ্রীশ্রীমা তাহার মনে ধৈৰ্য্য ও বল দিন এবং তাহার কন্যার
যাহাতে মঙ্গল হয় তাহাই করুন।
ম—বাবুর স্ত্রী কেমন থাকেন, সংবাদ দিও। তিনি
নিরাময় হইয়া উঠুন, প্রার্থনা করি। অ—বাবুর স্ত্রীর
মহদুদার স্বভাবের ও বিপদে ধৈর্য্যের কথা জানিয়া বিশেষ
আনন্দ হইল। শ্ৰীশ্ৰীপ্রভুদেব ও মা তাহার মনে শান্তি
দিন ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল করুন।
গােলাপ মা ও যােগী মা সম্প্রতি ভাল আছেন।
তাহাদের আশীর্বাদ জানিবে। বােডিং-বাটীর সকলে ভাল
আছে।••••
তুমি আমার আশীৰ্বাদ সতত জানিবে এবং প—প্রমুখ
সকলকে জানাইবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
বিবিধ (১২) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণং শ্রীরামকৃষ্ণমঠ ভুবনেশ্বর ১৬ই অগ্রহায়ণ।৩১ পরম কল্যাণীয়া স- তােমার ১১ই অগ্রহায়ণের পত্র পাইয়া পরম আনন্দিত হইলাম। আশীৰ্ব্বাদ ত তােমাকে থলি ঝাড়িয়া করিয়াছি ও করিতেছি। শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্ৰীশ্ৰীমা যেন সর্বদা তােমার হাত ধরিয়া থাকেন এবং যাহা কিছু করিবার বলিবার করাইয়া বলাইয়া এই জীবনেই তােমাকে দর্শন ও শুদ্ধা ভক্তি দানে কৃতার্থ করেন । আমার পেটের অসুখ সারিয়া গিয়াছে। তিনটি এমিটি ইজেন লইয়াছি, আরও দুই একটি লইতে হইবে। শরীর কিন্তু দুর্বল হয় নাই। প্রত্যহ ২৩ মাইল করিয়া বেড়াইতেছি। আজ প্রাতে ভুবনেশ্বরের দর্শন ও পূজাদি করিয়া আসিয়াছি। এবার এখানে আসিয়া এই প্রথম দর্শন করিলাম। গত পরশু হইতে বৃষ্টি বাদলা কাটিয়া শীতের হাওয়া ১৫৭
পত্রমালা
পড়িয়াছে। এইবার এখানের স্বাস্থ্য ভাল হইবে বােধ
হইতেছে। এখানকার সকলে এখন ভাল আছে।
গােলাপ মা’র পুনরায় অসুখ করিয়াছিল ও শ্রীযুক্ত
শ্যামাদাস কবিরাজ মহাশয় ও তঁাহার পুত্র আসিয়াছিল,
দে-র পত্রে জানিলাম। কবিরাজী ঔষধে উপকার হইতেছে
কি-না জানাইও। গােলাপ মা’কে আমার নমস্কার দিও।
শ্রীশ্রীঠাকুর ও মা তাহাকে শীঘ্র নিরাময় করিয়া দিন, ইহাই
প্রার্থনা। যদি তাঁহার অসুখ বাড়ে ত লিখিও, আমি
ফিরিয়া যাইব।••••••
অধিক আর কি লিখিব, সকলকে আমার আশীর্বাদ
দিও এবং তুমি উহা সতত জানিও। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৩)
কলিকাতা
১০ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৩
শ্ৰীযুত কে
৮১০ দিনেরও অধিক হইল শ্রীশ্রীমার কোন সংবাদ
পাইয়া আমরা সকলে বিশেষ চিন্তিত আছি। তিনি
কেমন আছেন জানিয়া সত্বর সংবাদ লিখিয়া সুখী করিবে।
১৫৮
বিবিধ
প্রতি সপ্তাহে তাঁহার শারীরিক কুশল-সংবাদ পত্ৰদ্বারা
জানাইতে ভুলিও না। কারণ, বােধ হইতেছে রা— চলিয়া
আসায় লােকের অভাববশতঃ তাহার পত্র দিবার অসুবিধা
হইয়াছে। যাহা হউক, তিনি শারীরিক কুশলে থাকিলে
সপ্তাহেসপ্তাহে সংবাদ দিবে এবং শরীর পুনরায় অসুস্থ
হইলে তৎক্ষণাৎ জানাইবে ও প্রতিদিন বা একদিন অন্তর
একখানি করিয়া পত্র দিবে।
এখানকার কুশল। আশা করি, তােমরা সকলেও
ভাল আছ। আমাদিগের আশীৰ্বাদ জানিবে। ইতি—
শুভাকাঙ্ক্ষী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৪)
কলিকাতা
১৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৩
পরম কল্যাণীয় শ্ৰীযুত কে,
তােমার ২৮শে ও ২৯শে ভাদ্র তারিখের পত্রদ্বয়
পাইয়াছি। শ্ৰীশ্ৰীমার জ্বর পুনরায় হইয়াছিল জানিয়া
ভাবিত রহিলাম। কারণ, আবার না হয়। যাহা হউক,
তােমরা সকলে তাহার নিকটেই আছ এবং সর্বদা তত্ত্বাবধান
পত্রমালা
করিতেছ, ইহাতে অনেকটা নিশ্চিন্ত আছি। তজ্জন্য
তােমার তােমার পরিবারবর্গের এবং প্রভৃতি
শ্রীশ্রীঠাকুরের আশ্রিত ছেলেদের সর্বতােভাবে কল্যাণ
হউক, ইহাই ঠাকুরের শ্রীপাদপদ্মে সর্বান্তঃকরণে প্রার্থনা
করিতেছি। শ্ৰীশ্ৰীমার ও তঁাহার ভক্তদিগের সেবার জন্যই
শ্রীশ্রীঠাকুর তােমাদিগকে এই পথে আনিয়াছেন,...এ
কথা নিশ্চয়। অতএব তােমাদিগকে তিনি স্বয়ং সর্বদা
রক্ষা করিতেছেন ও করিবেন।
তােমার বারম্বার জ্বর ও অগ্নিমান্দ্যের কথা শুনিয়া
ভাবিত রহিলাম। শ্রীশ্রীঠাকুর তােমাকে শীঘ্র রােগমুক্ত
এবং দীর্ঘজীবী করিয়া নারায়ণজ্ঞানে জীবসেবায়
রত রাখুন।••••••••
শুভাকাঙ্ক্ষী--
শ্ৰীসারদানন্দ
(১৫)
কলিকাতা
২২শে পৌষ, ১৩২১
শ্ৰীযুত কে
তােমার ২১শে পৌষের পত্র সহ শ্রীশ্রীঠাকুরের বাটীর
নক্সা ও মাপ প্রভৃতি পাইয়া সুখী হইলাম। নাদি
করুন
বিবিধ
বেশ হইয়াছে। উহাতেই আমার পুস্তকের প্রয়ােজন সিদ্ধ
হইবে। তুমি উহা এত শীঘ্র পাঠাইতে পারিবে বলিয়া
আশা করি নাই। উহার জন্য শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকটে
প্রার্থনা করি তােমার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ হউক
শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর আশীর্বাদ জানিবে।
নাখানির সহিত পুস্তকে কামারপুকুর গ্রামের
একখানি মানচিত্র দিবার ইচ্ছা আছে। ঐরূপ
মানচিত্র কানুনগােদের নিকট থাকে। উহা জোগাড়ের চেষ্টায়
আছি। উহা কোথায় কিনিতে পাওয়া যায় যদি জানা
থাকে, তাহা হইলে লিখিবে । উহার মূল্য কত জানা
থাকিলে তাহাও লিখিবে। যদি উহা তােমার জানিত
কোন স্থানে বিক্রয় হয় তাহা হইলে উহা কিনিয়া
পাঠাইবে। আমি মূল্য তােমাকে পরে পাঠাইব।
তােমরা সকলে আমাদের ভালবাসা ও আশীর্বাদ
জানিবে। ইতি
-
শুভাকাঙ্ক্ষী
শ্ৰীসারদানন্দ
১১
পত্রমালা
(১৬)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
শশী নিকেতন, পুরী
৯ই ভাদ্র, ১৩২২
শ্ৰীযুত কে—
তােমার ৭ই ভাদ্রের পত্ৰ অদ্য পাইয়া সুখী হইয়াছি।
পরমারাধ্যা শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণী তােমাদিগের নিকটে
আসিয়াছেন জানিয়া বিশেষ আনন্দ হইল। তােমাদিগের
বিশেষ সৌভাগ্য। তাহাকে আমাদিগের অসংখ্য অসংখ্য
সাষ্টাঙ্গ প্রণাম নিবেদন করিবে।
এখান হইতে কলিকাতা ফিরিবার সময়ে আমাদিগের
মেদিনীপুর হইয়া যাইবার সুবিধা হইবে না। নতুবা
তােমাদিগের আশ্রম ও জয়রামবাটী প্রভৃতি স্থান নিশ্চয়
দর্শন করিতে যাইতাম। কামারপুকুর, জয়রামবাটী কি
সহজে ভাগ্যে দর্শন ঘটে ।
শ্রীশ্রীমার যখন তােমাদিগের উপর এত কৃপা তখন
কোন ভয় নাই! কালে ভক্তি, মুক্তি প্রভৃতি সকলই
করতলগত হইবে। তাহার উপর বিশ্বাস স্থির রাখিয়া
যথাসাধ্য তঁাহার সেবা ও তাহার আদেশ পালন করিয়া
চলিয়া যাও ; দেখিবে, কিছুরই অভাব থাকিবে না।
বিবিধ
আমার আশীৰ্বাদ জানিবে এবং তত্ৰত্য সকলকে
জানাইবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
সারদানন্দ
পু—অপর পত্রখানি ঐশ্রীমাকে দিবে। তিনি
কতদিন ওখানে থাকিবেন জানাইবে।
(১৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৮||১৭
শ্ৰীমান্ কে--
স্বামী সান্দ্রানন্দ ( দিবাকর) কাশী সেবাশ্রমে
মৃত্যুশয্যায় পতিত। তােমাদের আশ্রমে রাখিবার জন্য
তাহার একখানি ফটো (ছবি) লইতে বলিয়াছি—অবশ্য
মৃত্যুর পূর্বে।
শ্রীশ্রীঠাকুর কোন্ দিক্ দিয়া কাহার মঙ্গল করেন তাহা
বুঝা কঠিন। কারণ, তােমাদিগের সহিত বিবাদ না হইলে
দিবাকর তীব্র তপস্যাতে নিযুক্ত হইয়া নিজ জীবন ধন্য
করিতে বােধ হয় অগ্রসর হইত না। সে বাস্তবিক কঠোর
তপস্যাচরণ করিয়া যথার্থ সন্ন্যাসীর ভাবে জীবনের এই কয়
পক্রমালা
বৎসর যাপন করিয়াছে এবং উহার ফলেই তাহার শরীর
কঠিন অতিসারাদি রােগে অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছে। যদি
পত্র লিখ, তাহা হইলে শীঘ্র লিখিবে ।
আশীৰ্বাদ জানিবে
আশ্রমস্থ সকলকে
জানাইবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী
সারদানন্দ
(১৮)
হী মীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২২৪|১৯
শ্রীমান্ কে
তােমার ২১৪ তারিখের পত্রে ন্যাড়ার (১) শরীর
(১) শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর অন্যতম ভ্রাতুস্পুত্রী মাকুর
( মাখনবালা) ছেলে ন্যাড়া ডিপ থিরিয়া রােগে দেহত্যাগ করিলে
শ্ৰশ্ৰমা বলিয়াছিলেন, “হয়ত কোন ভক্ত এসে জন্মেছিল। শেষ
জন্ম হবে। নইলে তিন বছরের ছেলের অত বুদ্ধি, অমন করে
[ আমাকে ] পূজো করে গা ! লালনপালন করে আমার কষ্ট।”—
শ্রীশ্রীমায়ের কথা।
১৬৪
বিবিধ
ত্যাগের কথা জানিয়া মর্মাহত হইলাম। কি আর লিখিব
বল, কিছুই মনে আসিতেছে না। শ্ৰীশ্ৰীমার কৃপাপত্রী
পাইলাম। তাহাকে আমাদিগের
আমাদিগের সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।
তােমাদিগকে আশীর্বাদ। ইতি-
শু-শ্ৰীসারদানন্দ
পু—যাইবার কথা লিখিয়াছ—আজ কিছুই স্থির করিতে
পারিলাম না। শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছায়
ইতি- সা-
হয়ত হইবে
(১৯)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা।
২৩৪১৯
শ্ৰীমান্ কে—
তােমার :২৪ তারিখের পত্র পাইলাম। ন্যাড়ার
জন্য এখানে সকলেই কাতর। কা পর্যন্ত চক্ষের জল
ফেলিয়াছে। যােগী মা’কে যাইবার কথা জিজ্ঞাসায়
বলিলেন, “আমার বুক ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, এখন যাইতে
পারিব না। অতএব যাওয়া সম্বন্ধে এখন কিছু স্থির
করিতে পারি নাই, পরে কি হয় দেখা যাক্।
পত্রমালা
শ্ৰীশ্ৰীমা কিছু ধৈৰ্য্য ধরিয়াছেন জানিয়া আশ্বস্ত
হইলাম। তাঁহাকে আমাদিগের সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।
সা- কেমন থাকে লিখিও। গ— কিছু ভাল জানিয়া
সুখী হইলাম। তােমরা সকলে আমার আশীৰ্বাদ জানিবে ।
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
(২০ )
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
৩১শে শ্রাবণ, ১৩২৭
শ্ৰীমা কে
তােমার ১লা ও ১২ই আগষ্ট তারিখের পত্রদ্বয় পাইয়া
সুখী হইয়াছি। শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর শরীর রক্ষার পরে
প্রথম পত্র (স্বহস্তে লিখিত) বােধ হয় তােমাকেই
লিখিতেছি। চেষ্টা করিয়াও এতদিন মনকে ঐরূপ কাৰ্য্যে
নিযুক্ত করিতে পারি নাই। আমার আশীর্বাদ স্বয়ং
জানিবে এবং আশ্রমের সকলকে জানাইবে।••••••সম্প্রতি
এখানকার কুশল। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী—
সারদানন্দ
বিবিধ
(২১)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ,
কলিকাতা
১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৭
কল্যাণবরেষু-
তােমার ২৩১১ ও ১১২ তারিখের পত্রদ্বয় পাইলাম।
শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনকালে পরমভক্ত অধর সেন ঘােড়া
হইতে পড়িয়া মারা যায়। তাহার সম্বন্ধে ঠাকুর
বলিয়াছিলেন, ‘সহসা ইষ্টদর্শন হওয়ায় সামলাইতে না
পারিয়া পড়িয়া গিয়াছে। বর্তমান দুঃসংবাদে (১) ঐ কথা
স্মরণ করিলে কতকটা সানা পাওয়া যায়।••••••••
আশীৰ্বাদ জানিবে। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
(১) নিবেদিতা বালিকা-বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাত্রী ও
পরিচালিকা ব্রতধারিণী সুধীরার চলন্ত রেলগাড়ী হইতে সহসা
পড়িয়া যাইয়া অজ্ঞান হওয়া, এবং উহারই ফলস্বরূপ কাশীধানে
দেহরক্ষা করা সম্বন্ধে লিখিতেছেন।
১৬৭
পত্রমালা
(২২)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২৫শে আষাঢ়, ১৩২৮
শ্ৰীমান্ কে—
তােমার পত্র পাইয়াছি। “কুঁদের মুখে বাঁক থাকে
—চলিত কথায় বলে। যখন শ্রীভগবান্ রামকৃষ্ণ ও
শ্ৰীশ্ৰীমার হস্তে সর্বস্ব দিয়াছ তখন তাহারাই সকল বিষয়
ঠিক করিয়া লইয়া সৰ্বাঙ্গীণ মঙ্গল করিবেনই করিবেন।
অতএব মাভৈঃ। বিস্তারিত সময় মত লিখিব।
কাশীতে হরি-মহারাজের (স্বামী তুরীয়ানন্দ) বাড়াবাড়ি
অসুখ—শ্রীশ্রীঠাকুর তাহাকেও বা ডাকিয়া লয়েন। ঐরূপ
নানা বিষয়ে বিশেষ ব্যস্ত। আশীর্বাদ জানিবে। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী—
শ্ৰীসারদানন্দ
১৬৬
বিবিধ
(২৩)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণম
কলিকাতা
৬৮২১
যুত লা--
কল্যাণবরেষু
শ্ৰীশ্ৰীমার সম্বন্ধে তােমার লিখিত Mss. (পাণ্ডুলিপি)
পড়িয়া দেখিলাম। আমার মতে তুমি এবং আমরা
যাহাকে প্রাণের ভক্তিশ্রদ্ধা অর্পণ করিয়াও তৃপ্ত হই
, এই Mss. ছাপাইলে লােকের আঁহার সম্বন্ধে
বিপরীত ও অতি সামান্য বলিয়া ধারণা উপস্থিত হইবে।
তােমার লিখিবার শক্তি আছে, কিন্তু কোন বিষয় কিরূপে
লিখিলে লােকে ঠিকঠিক বুঝিতে পারিবে এবং কোন্
ঘটনা কতদূর প্রকাশ করা কর্তব্য, এইসকল বিষয় এখন
শিক্ষা করিতে হইবে। লেখনী অনেক স্থলে সংযত
রাখিতে হয়। ঐসকল বিষয় ক্রমশঃ শিখিতে পারিবে
এবং তখন তােমার লেখা চমৎকার হইবে। Irsonal
element (ব্যক্তিগত বিষয় ) ও ঘটনাগুলিও অনেক
স্থলে যেন অন্য ব্যক্তির সম্বন্ধে ঘটিয়াছিল, এইভাবে লেখা
পত্রমালা
উচিত।
ঐসকল বিষয় লিখিবার ও লেখার অভ্যাস
করিবার চেষ্টা কর—তাড়াতাড়ি এই পুস্তক ছাপাইতে যাইও
। আরও factsএর (ঘটনাসকলের ) জোগাড়
করিতে থাক। তুমি শ্ৰীশ্ৰীমার শিষ্য, আমাদেরই একজন
বলিয়া এতগুলি কথা বলিলাম। আশীর্বাদ জানিবে। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰীসারদানন্দ
( ২৪ )
শরণং
কলিকাতা
১৩২২
কল্যাণবরেষু
শ্রীমান্ সি, তােমার ২০১২ তারিখের পত্র পাইয়া
সুখী হইয়াছি। পূজ্যপাদ লাটু মহারাজের উপদেশসকলের
ভিতরে যেগুলি তুমি স্বকর্ণে শুনিয়াছ ও নিঃসন্দেহ মনে
আছে সেইগুলিমাত্র লিখিবে। ঐরূপ করিলে কাহারও
সাহায্যের প্রয়ােজন হইবে না। ভুলভ্রান্তি কেন হইবে ?
যাহা নিশ্চিত শুনিয়াছ তাহাতে ভুল হইবে কেন? তুমি
যাহা লিখিবে তাহার জন্য তুমিই দায়ী, অপরে হইতে
১৭০
বিবিধ
পারে না। অতএব সাবধানে লিখিবে। আমার নানা
কাজে ব্যস্ত থাকিয়া অপটু শরীরে তােমাকে সাহায্য করা
অসম্ভব জানিবে। বিশেষতঃ আবার অধিক দিন লাটু
মহারাজের নিকটে থাকিবার সুযোেগ আমার হয় নাই। বা--
এখানেই আছে, তাহাকে ভােমার অভিপ্রায় জানাই।
তুমি আমার আশীর্বাদ জানিবে এবং যাহারা তােমার
নিকটে আছে, তাহাদিগকে জানাইবে। এখানকার কুশল।
ইতি---
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
( ২৫ )
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
১৪৯২২
কল্যাণবরেষু
তােমার ৭৯ তারিখের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম ।
শ্ৰীশ্ৰীমার ইচ্ছায় তােমার বিপদ কাটিয়া যাউক, প্রার্থনা
করি। পত্রের উত্তর দিতে বিলম্ব হইল। কারণ, আজ
চারিদিন হইল এখানে বিশেষ দুর্ঘটনা হইয়াছে। আমাদিগের
।
১৭১
পত্রমালা
পরম অনুগত কাঞ্জিলাল-ডাক্তার হৃদ্রােগে সহসা দেহত্যাগ
করিয়াছে। শ্ৰীশ্ৰীমা তাহার ভালভাল ছেলেগুলিকে একে-
একে সরাইয়া লইতেছেন---তঁাহার যাহা ইচ্ছা।
ঠাকুর বলিতেন, ‘জন্ম মৃত্যু বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে’--
অতএব কি করিবে বল।......
আমার আশীর্বাদ জানিবে । ইতি--
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
( ২৬ )
রামবুধ
শরণং
কলিকাতা
৬১২৩
কল্যাণবরেষু---
তােমার ৯ই ও ১৭ই কার্তিকের পত্র দুইখানি
পাইয়াছি।••••••
গত ১৮ই কার্তিক, ইংরাজি ৪ঠা নভেম্বর, রবিবার, বেলা
১১টা ১০ মিনিটের সময় নলিনী (১) সজ্ঞানে গঙ্গালাভ
(১) শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর ভ্রাতুস্পুত্রী। ইনি স্বামিগৃহে বাস
করিয়া জীবনের অধিকাংশকাল পিসীমার সঙ্গেই কাটাইয়াছিলেন ।
১৭২
বিবিধ করিয়াছে।•••••নলিনীর ঐরূপে অপূৰ্ব্বভাবে দেহরক্ষা দেখিয়া সকলে ধন্যধন্য করিতেছে।...... অপর আর একটি গােপনীয় কথা তােমাকে জানান আবশ্যক ভাবিয়া লিখিতেছি। ত্যাগ ও সংযম ইত্যাদি সন্ন্যাসের অঙ্গ বহু যত্নে ও চেষ্টায় রক্ষিত হয়। পূৰ্বাশ্রমের বিবাহিত পত্নীর নিকটে থাকিলে মানুষের মনে কখনও- কখনও দুর্বলতা আসা সম্ভব। অতএব তুমি নিজের সম্বন্ধে খুব সতর্ক থাকিও, এবং সন্ন্যাস রক্ষা না করিতে পারিলে শ্রীশ্রীমার নামে নিন্দা হইবে-একথা সর্বদা মনে রাখিবে।••••• আমার আশীৰ্বাদ ও ভালবাসা সতত তুমি জানিবে ও আশ্রমের সকলকে জানাইবে। আমার শরীর একরূপ চলিয়া যাইতেছে। আশা করি তােমরা সকলে ভাল আছ। শুভানুধ্যায়- শ্ৰীসারদানন্দ
পত্রমালা
(২৭)
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণং
কলিকাতা
২রা পৌষ, ১৩৩০
শ্ৰীমান্ বি—
তােমার ২৯শে অগ্রহায়ণের পত্র পাইয়া সুখী হইলাম ।
শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মতিথি-পূজাপ্রণালীর ন্যায় শ্রীশ্রীমার
করিতে পার। উহাতে আপত্তি হইবার কোন কারণ নাই।
এখানে আমরা ষষ্ঠী ও মার্কণ্ডেয়-পূজা, শ্রীশ্রীঠাকুরের ও
শ্ৰীশ্ৰীমার ঘােড়শ উপচারে পূজা, এবং শ্ৰীশ্ৰীমার ইষ্ট
জগদ্ধাত্রীদেবীর পূজা করিয়া থাকি। ঐ সকল পূজাই
মধ্যাহ্নের ভিতর করিয়া লওয়া হয়। রাত্রে কোন পূজাই
করা হয় না। তােমরা ঐরূপ না করিলেও হানি নাই।
ভক্তির সহিত যে ভাবেই পূজা কর না কেন, তিনি প্রসন্না
হইয়া গ্রহণ করিবেন। অমন করুণাময়ী কি কোথায়
কেহ আর দেখিয়াছে !...
শ্ৰীশ্ৰীমার জয়রামবাটীর উৎসবের জন্য শ্ৰীযুত মহেন্দ্র
মাষ্টার মহাশয় ১০ টাকা আমার নিকটে পাঠাইয়াছিলেন।
উহা মণি-অর্ডার করিয়া পাঠাইয়াছি, পাইয়াছ বােধ হয়।
১৭3
বিবিধ কোয়ালপাড়া-মঠেও শ্ৰীশ্ৰীমার উৎসব যথাসাধ্য করিবার চেষ্টা করিও। ঐ উৎসব জন্য আমি অল্পস্বল্প (১০/১৫ টাকা) যাহা পারি পাঠাইব। আমার শরীর ভাল আছে। যােগীন মা, গােলাপ মা প্রমুখ এখানকার অন্য সকলেরও সম্প্রতি কুশল। তুমি আমার আশীর্বাদ সতত জানিবে । আশ্রমের সকলকে আশীৰ্বাদ দিবে। ইতি-- শুভানুধ্যায়ী সারদানন্দ ( ২৮ ) শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শরণং কলিকাতা ১৬ই কার্তিক, ১৩২৯ শ্ৰীমান্ ক— তােমার ৮১১১৩ কার্তিকের তিনখানি পত্র যথাকালে পাইয়াছি।••••• রাধুর (১) অবস্থার কথা জানিলাম। প্র-ডাক্তার- (১) শ্ৰীমতী রাধারাণী শ্ৰীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা অভয়ের কন্যা। মাতৃগর্ভে অবস্থানকালেই পিতৃবিয়ােগ হওয়ায় এবং ১৭৫
পত্রমালা
ও লিখিয়াছেন। তােমরা সকলে ওখানে থাকিতে পাগলী
নামীর খেয়ালের জন্য রাধুর দেহত্যাগ হইবে, ইহা বড়ই
দুঃখের ও লজ্জার কথা। শ্ৰীশ্ৰীমার কত আদরের রাধুর
ঐরূপ হইবে আর তােমরা বসিয়া দেখিবে, ইহা কখনই
হইবে না। পাগলীকে বাঁধিয়া ছদিয়া যেরূপে পার রাধুকে
বাঁচাইবার চেষ্টা করিও। শ্ৰীযুক্ত শবাবুকে ঐ বিষয় জানা-
ইয়া অনুরােধ করিও তিনি যেন একবার আসিয়া পাগলীকে
ভয় দেখাইয়া ধস্কাইয়া যান। কালী মামা প্রভৃতিকে
বলিলেও যদি কিছু ফল হয় বুঝ ত তাহাদের এ বিষয়ে
সাহায্য করিতে অনুরােধ করিও। আমার শরীর ভাল
থাকিলে আমি স্বয়ং যাইয়া ইহার প্রতীকারের চেষ্টা করি-
তাম। রাধু একটু সবল হইলেই তাহাকে কলিকাতায়
লইয়া আসিব। বী—ডাক্তারকে মাঝেমাবে আনাইয়া
দেখাইও। পথ্যাদি যাহা এখান হইতে পাঠাইবার
প্রয়ােজন, তাহা লিখিলেই পাঠাইব। দুধ, মাগুর বা সিঙ্গি
মাছের ঝােলের ব্যবস্থা নিশ্চয়ই করিয়াছ। দুধ কতটা
করিয়া রাধু খাইতে পারিতেছে ? অধিক খাইতে পারিলে
তাহারও বন্দোবস্ত করিও। রাধুর অবস্থা যে এতটা
?
পরে তাহার মাতা পাগলপ্রায় হওয়াতে ঐশ্ৰণাই তাহাকে মানুষ
করেন।
১৭৬
বিবিধ আশঙ্কাজনক হইয়া আসিতেছে তাহা আমি তােমার পত্র- সকল হইতে বুঝিতে পারি নাই। যাহা হউক, এখন যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া তাহাকে বাঁচাও এবং বল পাইলেই আমার নিকটে পাঠাও। আমার আশীৰ্বাদ সকলে জানিবে । পাগলীকে আমার নাম করিয়া খুব ধমকাইবে। ইতি --- শু-সারদানন্দ ( ২৯) শরম, কলিকাতা ৫ই মাধ কল্যাণবরেষু --- তােমার ২রা মাঘের পত্ৰ শ্ৰীশ্ৰীস্বামিজীর উৎসবের দিনে বৈকালে আসিয়া পৌঁছিলেও আমরা বেলুঙ-মঠে যাওয়ায় খােলা হয় নাই। অদ্য ৫ই মাঘ প্রাতে খুলিয়া শ্ৰীমান্ বিদ্যানন্দের দেহত্যাগের সংবাদে কতদূর মৃৰ্মাহত হইয়াছি তাহা বলিবার নয়। তাহার ন্যায় নির্ভীক প্রাণপাতকারী শ্ৰীশ্ৰীমার সেবক বিরল দেখিতে পাওয়া যায় । তাহার ১২ ১৭৭
পত্রমালা
অসুস্থতা যে এতদূর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছিল তাহা তােমাদের
পত্রে আমি বুঝিতে পারি নাই। আমি ভাবিয়াছিলাম,
বিশেষ অসুস্থ হইবার পূর্বেই তােমরা তাহাকে আমার
নিকটে চিকিৎসাৰ্থ পাঠাইবে। যাহা হউক, শ্ৰীশ্ৰীমার
অন্যরূপ ইচ্ছা তুমি আমি কি করিতে পারি ! শ্ৰীশ্ৰীমার
সেবক তাহার শ্রীচরণতলে চিরশান্তি লাভ করিল। আমরা
কেবল তাহার গুণগ্রামের কথা অশান্ত হৃদয়ে স্মরণ করিতে
রহিলাম । তােমার বাল্যবন্ধুর বিচ্ছেদে তােমার মাথার যে
ঠিক থাকিবে না তাহা বুঝিতে পারিতেছি। শ্ৰীশ্ৰীমার
দিকে চাহিয়া এবং তাহার ইচ্ছার উপর নির্ভর করিয়া
হৃদয়কে যথাসাধ্য শান্ত করিও।.........
আগামী কল্য (৬ই মাঘ) রাত্রের গাড়ীতে আমি
কাশী যাইতেছি। শ্রীশ্রীঠাকুরের উৎসবের পরে পুনরায়
কলিকাতায় ফিরিব।••••••তামার আশীর্বাদ তােমরা সকলে
জানিও। ইতি
শুভানুধ্যায়ী
শ্ৰসারদানন্দ
১৭৮
বিবিধ
( ৩০)
}
শ্রামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
কল্যাণবরেষু --
শ্ৰীমতী রাধারাণীর সম্বন্ধে যাহা কিছু লিখিয়াছ
জানিলাম। আমি স্থির করিয়াছি, যতদিন তাহার টাকা
আমার কাছে আছে ততদিন সে যাহা চাহিবে তাহাই
কেন না, সে যদি শীঘ্ৰ শ্ৰীশ্ৰীমার নিকটে চলিয়া
যায় তাহা হইলে টাকা দিই নাই বলিয়া আমার বিশেষ
আপশোষ থাকিবে। অতএব টাকা সে যাহা চায় দিতে
হইবে; কিন্তু যদি অনর্থক বেশী খরচ করে তাহা হইলে
বাহিক ধমকও দিতে হইবে; কারণ, তাহার মাথার ত ঠিক
দিব।
;
নাই।
শারদীয়া পূজ। ঘটেপটে করিবে জানিলাম। ১০
টাকা উহার জন্য পাঠাইয়াছিলাম। তােমার কার্যের বিবরণ
ও appeal ( সাধারণের কাছে আবেদন) যাহা পাঠাইয়াছ
তাহা অগ্রহায়ণ মাসের উদ্বোধনে ছাপা হইবে। কতকটা
আমারই দোষে কার্তিক মাসে যাইল না।
১৭৯
পত্রমালা
সুখী হইলাম।
তুমি সারিয়া উঠিতেছ জানিয়া
আশীৰ্বাদ জানিবে। ইতি-
শুভানুধ্যায়ী-
সারদানন্দ
( ৩১ )
শ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
১২/১২৭
•
কল্যাণবরেষু
তােমার ২৩শে পৌষের পত্র ও তাহার পূর্বপত্র যথা-
সময়ে পাইয়াছি। শ্ৰীশ্ৰীমার জন্মােৎসব সুসম্পন্ন হইয়াছে
জানিয়া সুখী হইলাম। আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা
তুমি সতত জানিবে এবং উভয় আশ্রমের সকলকে জানাইবে;
আমার শরীর একপ্রকার চলিয়া যাইতেছে।
বুদ্ধ হইয়াছি, সেজন্য সকল কাজকৰ্ম্ম হইতেই অবসর
লইতে হইয়াছে। তুমি শ্ৰীশ্ৰীমাকে যখন সব দিয়াছ তখন
যাহা ভাল হয় তাহার ব্যবস্থা তিনিই করিবেন। তাঁহার
উপর নির্ভর করিয়া তিনি যেমন করান তাহাই করিয়া যাও।
তােমার মনােবাঞ্ছা, এ জন্মে না হউক, পরজন্মে তিনি পূর্ণ
১৮০
বিবিধ
করিবেন। তাহার নিকট প্রার্থনা করি, তােমার মনবুদ্ধি
সব তাহার পাদপদ্মে অর্পিত হউক এবং মন শান্তিতে পূর্ণ
থাকুক। ইতি-
শ্ৰীসারদানন্দ
( ৩২)
শ্রীরামকৃষ্ণ
গণম
কলিকাতা
২৭শে জুন ২৭
কল্যাণবরেষু-
তােমার ২৩শে জুন তারিখের পত্র পাইয়াছি। আমি
সমস্তই শুনিয়াছি।..সকল বিষয় বুঝিয়া কাৰ্য্য করিও।...
কাহারও উপর রাগ করিও না। এ সমস্তই শিক্ষারূপে
শ্রীশ্রীঠাকুরের দেওয়া বলিয়া গ্রহণ করিও।
তুমি সতত আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা জানিবে এবং
তােমার মাকে জানাইবে।...সি--কে
জানাইবে।...সি--কে আমার নমস্কার
জানাইবে এবং রা, বাে—প্রভৃতিকে আমার আশীৰ্বাদ ও
ভালবাসা জানাইবে; আমার শরীর ভাল আছে। মহা-
পত্রমালা
পুরুষ মহারাজ ভাল আছেন। মঠের ও এখানকার সমস্ত
কুশল। ইতি--
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
( ৩৩ )
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
শরণ
কলিকাতা
৭২৭
কল্যাণবরেষু-
তােমার পত্র পাইয়া সুখী হইলাম ।
সুখী হইলাম। সকল সময়
অন্যের কথায় কাণ কেন দিবে ?...
আমার আশীৰ্বাদ ও শুভেচ্ছা সতত জানিবে এবং
তােমার মাকে জানাইবে। তাহাকে পরে পত্র লিখিতেছি
বলিবে।
বয়স হইয়াছে, সকল সময় নিজে পত্রাদি লিখার
সুবিধা হইয়া উঠে না।•••সাধ্যমত তাহার সেবা করিতেছ
জানিয়া আনন্দিত হইলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরের কৃপায় তাহার
শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ ও সবল হউক, ইহাই প্রার্থনা করি।
আমার শরীর ভাল আছে। এখানেও বর্ষা নামিয়াছে এবং
গরমের প্রকোপ অনেকটা কম। Sister (
Cristineকে
১৮২
বিবিধ
আমার নমস্কার জানাইবে এবং বাে—কে ও রা—কে ও
আশ্রমস্থ সকলকে আশীৰ্বাদ দিবে।
আমরা দুইটি দুঃসংবাদে বিশেষ মৰ্ম্মাহত হইয়াছি ও
সেজন্য এখন মন তত ভাল নাই। কোয়ালপাড়া-মঠের
স্বামী কেশবানন্দ গত ২রা জুলাই, এবং আমাদের পরম বন্ধু
শ্ৰীযুক্ত ক্ষীরােদপ্রসাদ বিদ্যাবিনােদ মহাশয় তাহার পরদিন
( ৩রা জুলাই) তাহার বাঁকুড়াস্থ বাড়াতে দেহরক্ষা
করিয়াছেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছাই সফল হউক। ইতি
শুভানুধ্যায়ী-
শ্ৰীসারদানন্দ
( 3 )
আরামঃ
শরণ
কলিকাতা
১০ই চৈত্র, ১৩৩৩
পরমকল্যাণীয়াসু
তােমার ২৮শে ফাল্গুনের পত্র আসিবার পূর্বে আমি
শ্রীশ্রীঠাকুরের তিথি-পূজা এবং উৎসবের জন্য বেলুড়-মঠে
১২১৩ দিন ছিলাম। তাহার পর কলিকাতায় ফিরিয়া
১৮৩
পত্রমাল। নানা কাজে এতদিন উত্তর দিতে পারি নাই-ভুলিয়া গিয়া- ছিলাম। আমার আশীৰ্বাদ তুমি সতত জানিও এবং বাটীর সকলকে জানাইও।...... শ্রীশ্রীঠাকুরের উৎসবে এবারে অন্যবারের অপেক্ষা অধিক লােক হইয়াছিল। প্রায় ২০২৫ হাজার লােক বসিয়া প্রসাদ পাইয়াছিল, এং হাতেহাতে কত লােককে যে প্রসাদ দেওয়া হইয়াছিল তাহা বলা যায় না। সকল বিষয়ের বেশ সুবন্দোবস্ত হইয়াছিল। আমার শরীর ভাল আছে। স্কুল-বাড়ীর ও এখানকার সকলের কুশল।•••মধ্যেমধ্যে তােমাদের কুশল- সংবাদ দিয়া সুখী করিবে। ইতি--- শুভানুধ্যায়ী সারদানন্দ ১৮৪
No text on this page.
No text on this page.