Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Satya-brata
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
সত্যব্রত
শ্রীদেবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঙ্কলিত
ভােলানাথ লাইব্রেরী
কেয়ার অফ ইষ্টান ল-হাউস
১৫নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা
১লা বৈশাখ, ১৩৩২
মূল্য ৭ বার আনা
প্রকাশক Jঅনাখনাথ দে ভােলানাথ লাইব্রেরী প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব কেয়ার অফ, ইষ্টার্ন-ল-হাউস সংরক্ষিত। ১৫নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা প্রথিতযশা শ্ৰীযুক্ত হেমেনুকুমার রায় প্রণীত মেল কপটতা, শঠতা ও মুর্তি, অমানুষিক পৈশাচিক চিত্র, হত- ভাগ্য জীবনের শেষ অভিযানভাগ্য বিপর্যয়, মণীর কমনীয়তা, রমণীর ইভায় পরিবর্তন, ঈষার দানবী মূর্তি অতৃপ্ত বাসনার কুটিল কটাক্ষ, সুশিক্ষিত একনিষ্ঠ মহমব উজ্জ্বল চিত্র। যদি হতভাগ্য জালনের সুখ দুঃখ বিমিশ্রিত, করুণ কাহিনী পড়িতে চাহেন, তবে হেমেন্দ্র বাবুর বেনোজল কিনিতে ভূলবেন না। শিক্ষিত সমাজের চমকপ্রদ ভাব হিন্দু ও ব্রাহ্মসমাজের কীত্তিকাপ প্রাঞ্জল ভয় পারস্ফুট। ইত: একখানি বৈচিত্র্যময় গার্হস্থ্য উপন্যাস। সর্বত্র পাবে, মুল্য দুই টাকা মাত্র। মফঃস্বলের সৰ্ব্বত্র এজেন্ট আবশ্যক-সত্বর নিয়মাবলীর জন্য প্রকাশকের নিকট আবেদন করুন। প্রকাশক-ভোনাথ লাইব্রেরী স্টোর অফ, ইষ্টান-ল-কাউস ১৫ « কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা। কান্তিক প্রেস ২২, সুকিয়া ষ্ট্রীট, কলিকাতা ; ঐকমলাকান্ত দালাল কর্তৃক মুদ্রিত।
যিনি আমাদের বংশের গৃহ দেবতা,
যিনি আমাদের সুখ দুঃখের নিয়ন্তা,
যিনি সকল মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা,
যিনি আমার খুল্ল-পিতামহ মহাত্মা বঙ্কিমচন্দ্রের
বন্দেমাতরম মন্ত্র-দাতা
সেই অপার করুণাময় মূর্তিমান বিগ্রহ
শ্ৰীশ্ৰবিজয় রাধাবল্লভ জিউর
শ্রীপাদপদ্মে
আমার এই ‘সত্য-ব্রত?
উৎসর্গ করিয়া কৃতার্থ হইলাম।
সেবক
কাটাল পাড়া,
নৈহাটী
২৪পরগণা
১লা বৈশাখ, ১৩৩২।
শ্রীসুদেবচন্দ্র দেবশৰ্ম্মণ (চট্টোপাধ্যায়)
একটী কথা
;
আমার এই ‘সত্যব্রতের কোন ভুমিকা বা পূর্বাভাষের
প্রয়ােজন দেখি নাই। আমি ব্রাহ্মণ সন্তান; নিষ্ঠাবান
ব্রাহ্মণ পরিবারে আনার জন্ম। বাঙ্গলার সাহিত্য সম্রাট, ‘বন্দে
মাতরম' মন্ত্রের প্রচারক স্বর্গীয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়
আমার খুল্লপিতামহ পুরুষানুক্রমে আমরা শাস্ত্রের অনুশাসন
পালন করিয়া, আমাদের গৃহদেবতা শ্ৰীশ্ৰীবিজয় রাধাবল্লভ
জিউর সেবা করিয়া আসিতেছি। তাহারই প্রেরণায় আমার
অযােগ্যতার কথা বিস্মৃত হইয়া, আমি এই সত্যনারায়ণের ব্রত
কথা লিপিবদ্ধ করিয়াছি এবং আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মত
বিবৃত করিয়াছি। এক্ষণে, এই পুস্তকখানি পাঠ করিয়া কেহ
যদি সত্যনারায়ণের মহিমায় আকৃষ্ট হন, তাহা হইলেই আমার
বাসনা পূর্ণ হইবে।
কাটালপাড়া, নৈহাটী
২৪ পরগণা।
১লা বৈশাখ, ১৩৩২
শ্রীদেবচন্দ্র দেবশর্মণ (চট্টোপাধ্যায়)
iur
ঙিল্পর
+৮৮ ০। ৫। । ।
Artist
pace
Apr
প
সূচীপত্র। ০৮০ উপচার বিশেষ উপচার দিবার বিধি উপচার দান কাৰ্য ০০ ০ অর্ঘ্যদান অঙ্গুলি নির্ণয় অতিরিক্ত অঙ্কুশ মুদ্রা অন্যাস বিধি কন্যাস বিধি ১৭ ২০ *•• করন্যাস ০৫ ৩২ কুৰ্ম্ম মুদ্রা অঙ্গস অর্ঘ্যমন্ত্র অচ্ছিদ্রাবধারণ গ ••• ০৮০ গুরু প্রণাম গ্যাদির অর্চনা গণেশের ধ্যান গনেশের পূজা গনেশের প্রার্থনা ০৫০ ২২ ৫ আচমন বিধি আবাহন বিধি ২২ ১ ২৪ গনেশের প্রণাম ০ ২৪ আচমন আসনশুদ্ধিব আদিতাদি নবগ্রহের পূজা ১৮ আবাহনী মূদ্রা ৩৩ ৫ আরতী ৩৮ rts ঘটস্থাপন সামবেদী ঘটস্থাপন ঋগ্বেদী ঘটস্থাপন যজুৰ্বেদী ঘট বিধি ঘণ্টাশুদ্ধি ৬ ০০৮ উপবেশন বিধি উচ্চারণ বিধি প্রাণায়াম ০৪ 0 ১৯ ২১ পঞ্চদেবতার পূজা পীঠাৰ্চনা পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্র দ দিক নির্ণয় দিক কথন দীপ দিবার বিধি দিগ বন্ধন দুর্গার ধ্যান দুর্গার পূজা দুর্গার পুস্পাঞ্জলি দুর্গার প্রণাম দক্ষিণা ২৯ ব ২৯ ৩ ৫০ ৩০ ১০ ধ ০ ০ ধূপ দিবার বিধি ধেনু মুদ্র। বিশেষ বিধি বিল্বপত্র বিধি বিষ্ণুস্মরণ বিশেষ অৰ্যদান বৈষ্ণব আচমন বিষ্ণুর ধ্যান বিষ্ণুর পূ বিষ্ণুর প্রার্থনা বিষ্ণুর প্রণাম বিশেষ অর্ঘস্থাপন বৈগুন্য সমাধান ১৭ ২৬ •• ১১ ••• নৈবেদ্য বিধি নারাচ মুদ্রা নৈবেদ্য দান ••• ৫০০ নমস্কার rn * * প পুষ্প পুষ্প দিবার বিধি "জার দ্রব্য পালন বিধি ভূতপসারণ ভূতশুদ্ধি t pc ৮ ০ ০ ০ ১১ ১২ মােকাম বিধি ১২ ১৮ পুষ্প শুদ্ধি মংস্য মুদ্রা • • র ১৪ রামেশ্বরী কথা সঙ্কল্প সুক্ত (সামবেদী সঙ্কল্প সুক্ত যজুৰ্বেদী) সঙ্কল্প সুক্ত (ঋগ্বেদী) ৭১ ••• ১৪ শ সাধারণ 'আচমন ২৮ সামান্য অর্ঘ্য ? ২৪ শিবের ধান শিবের পূজা শিবের প্রণাম শান্তি (সামবেদী) শান্তি (যজুৰ্বেদী) শান্তি সাধারণ পক্ষে ২৪ ২৮ সূৰ্য্য ধান ৭৮। সূৰ্য্য পূজা ৭০ সূৰ্য্য প্রণাম | সন্নিধাপণী মুদ্রা সমুপকরণ সংবোধিনী ৭০ US ০৩। সঙ্কল্প বিধি ২ ০ ০ ০ ১১ সত্যনারায়ণের ধ্যান ••• সত্যনারায়ণ চনা ০ + সিণী (পাকা) লিণী (কাচ) স্বাস্তবচন সাধ্যমন্ত্র ১৩ সত্যনারায়ণের কথা ৪২ স্কন্দ পুরাণােক্ত রেবাখণ্ডের মূল কথা ১৪ ১৭
সত্যব্রত
শ্ৰী শ্ৰসত্যনারায়ণ পূজা-পদ্ধতি।
- বিশেষ দ্রষ্টব্য
পুষ্প। শ্বেত পুষ্প প্রশস্ত।
আবাহন। নারায়ণ শিলােপরি পূজায় আবাহনাদি নাই,
ঘটে আছে।
দিকনির্ণয়। রাত্রিকালে দেবপূজা উত্তর মুথে করিতে হয়।
উপবেশন। ডান পায়ের উপর বাম পা রাখিয়া দেব কার্যে
বসিতে হয়।
অথবা যে কোন প্রকার সুখাসনে বসিয়া দেবকাৰ্য্য
করিতে পারা যায়।
আচমন। আচমনের কালে হাঁটুর বাহিরে হাত রাখা বিধেয়
নহে। গঙুষ কালে শব্দ করিবে না।
আচমন বিধি। কনিষ্ঠা ও অঙ্গুষ্ঠ বাহিরে রাখিয়া অন্য তিনটী
আঙ্গুল একত্র করিয়া সম্মুখদিকে বাঁকাইয়া ধরিবে, এবং করতলের
মধ্যস্থলে একটি মাষকলাই ডুবিতে পারে এইরূপ পরিমিত জল লইয়া
তিনবার আচমন-মন্ত্র বলিয়া পান করিবে।
সত্যব্রত অর্ঘ্যদান। অর্ঘ্যদানে সামবেদীরা ইদমkং” বলিবেন। ঋগ্বেদী ও যজুর্বেদীরা “এষােহর্ঘঃ” বলিবেন। উচ্চারণ বিধি। “হ” লুপ্ত অকারের চিহ্ন। ইহার উচ্চারণ নাই। যথা = “জলেহস্মিন” = “জলেস্মিন্ ।” ৬ চন্দ্রবিন্দু অমুম্বারের রূপান্তর যথা ওঁ = ওং। যজুৰ্বেদীয় মন্ত্রের শ, ষ, স ও হ কারের পূর্ববর্ণ গুরুরূপে উচ্চারিত হয়, যথা—“বরেণ্যং” “বরেণ্যং”। . ঋ যুক্তাক্ষর নহে, ব্যঞ্জনবর্ণের সহিত স্বরবর্ণের যুক্ত হইলে যুক্তাক্ষর হয় না, যথা—“প্রজাপতি ঋষিঃ” - “প্রজাপতিরিষিঃ।” মন্ত্রপাঠ কালে হ্রস্ব দীর্ঘ অনুস্বর ও বিসর্গের যথাযথ উচ্চারণ করিবে। শব্দের অর্থই প্রধান-লিঙ্গ ও বচনের অর্থ প্রধান নহে। অঙ্গুলি নির্ণয়। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ হইতে “অঙ্গুষ্ঠ, তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা ও কনিষ্ঠা।” দিক কথন। পূৰ্বদিকে দাড়াইলে, সম্মুখপূৰ্ব”,পশ্চাৎ“পশ্চিম”, ডানদিক “দক্ষিণ” ও বামদিক “উত্তর। উত্তর-পূর্ব কোণ “ঈশান, পূৰ্ব্ব-দক্ষিণ কোণ ‘অগ্নি,” দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ “নৈঋত, পশ্চিম-উত্তর কোণ “বায়ু”। পূৰ্ব্ব ও ঈশান কোণের মধ্যে “উর্দ্ধ”, পশ্চিম ও নৈঋত কোণের মধ্যে “অধঃ।” সঙ্কল্প বিধি। কুণ, হরীতকী, ত্রিপত্র ও তুলসী (সুপারি ব্যবহার নিষিদ্ধ )। (ক) সত্যনারায়ণ ব্ৰত সঙ্কল্পে চান্দ্রমাসােখে কৰ্তব্য যথা- বৈশাখে মাসি অমুক পক্ষে অমুকতিথৌ ইত্যাদি। (খ) নারায়ণ শিলা না পাইলে ঘটস্থাপন করিয়া পূজা করিবে।
ঘটস্থাপনের বিধি। [ সামবেদীয় মন্ত্র ] মৃত্তিকার উপর পঞ্চশস্য ছড়াইয়া ঘট বসাইবে, ঘটের গায়ে দধি মাখান চাউল দিবে, ঘটের গলায় লাল সূতা জড়াইয়া দিবে, ঘট জলপূর্ণ করিয়া পঞ্চপল্লব দিবে। পঞ্চপল্লব (আম্র, অশ্বথ, বট, পাকুড় ও যজ্ঞডুমুরের শাখা) পঞ্চপল্লব অভাবে কেবল আম্র-পল্লব দিবে। এক শরা চাউল (আতপ) হরীতকী ও পান দিবে, হরীতকী অভাবে সুপারী দিতে পারা যায়। ঘটের মুখে স-শীষ একটা ডাব দিবে, অভাবে রম্ভা দেওয়া চলে। শীষ ও ফলের গায়ে সিন্দুর মাখাইবে। ঘটের গায়ে সিন্দুর দিয়া মূর্তি আঁকিবে, ডাবের উপর একখানি বস্তু বা গামছা দিয়া আচ্ছাদন করিবে। ফুলের মালা দিবে। (ভূমি) অর্থাৎ মৃত্তিকা ধরিয়া বলিবে- ওঁ মহী ত্ৰীনামবস্তু দুক্ষং মিত্রস্যাৰ্যমনঃ। দুধর্ষং বরুণ। ভাবার্থভূমি ধরিয়া বলিবে—“হে ভূমি, মিত্ৰ অৰ্যমা ও বরুণ এই তিন দেবতা প্রকাশ্যভাবে, অবাধরূপে তােমায় রক্ষা করুন।” (ধা) অর্থাৎ ধান লইয়া বলিবে ওঁ ধানাবন্তং করণি মকূপবন্তমুকথিনং ইন্দ্র প্রাতজুষ নঃ। ভাবার্থ - ধান লইয়া বলিবে—“সকালের ভৃষ্ট যব যুক্ত, দধির সহিত ছাতু (স) সংযুক্ত পিষ্টযুক্ত, স্ততিযুক্ত সােমযাগ, হে ইন্দ্র তুমি উপভােগ কর।” (ঘট) ঘট দুই হাতে ধরিয়া বলিবে-
সত্যব্রত,
৪
ওঁ আবিশন কলসং সুতাে, বিশ্ব অর্ষভি শ্রিয়ঃ । ইন্দু-
রিন্দ্রায় ধীয়তে।
ভাবার্থ-ঘট ধরিয়া বলিবে—“দীপ্তিযুক্ত ও মন্ত্রপূত সুধা কলসের
মধ্যে প্রবেশ করিয়া সৰ্ব্ব সম্পত্তি ইন্দ্রকে দিবার জন্য স্থাপিত হইয়াছে।”
(জল) জল স্পর্শ করিয়া বলিবে—
ওঁ আ নাে মিত্রাবরুণা, ঘৃতৈব্যুতিমুক্ষতং। মা রজাংসি
সুক্র।
ভাবার্থ-জল ছুইয়া বলিবে—“হে মিত্র ও বরুণ, শুদ্ধ জল সেচনে
এই সমস্ত যজ্ঞস্থল তােমর সিক্ত কর, এবং মধু দিয়া সমস্ত লােককে
সিক্ত কর।”
( পল বপল্লব ধরিয়া বলিবে-
ওঁ অয়মূৰ্জাবতাে বৃক্ষ, উজ্জাব ফলিনী ভব। পর্ণং বনস্পতে
নুত্ত্বা মুত্ত্বা সূয়তাং রয়িঃ ।
ভাবার্থ-পল্লব ধরিয়া বলিবে—“হে পল্লব ! ডুমুরবৃক্ষের ন্যায় বহু
তেজসম্পন্ন ও ফলশালিনী হও। হে বনস্পতে। আপনার পত্র
আন্দোলনে ধন প্রদান কর।”
( ফল ) ফল ধরিয়া বলিবে—
ওঁ ইন্দ্রং নরাে নেমধিত হবন্তে, যৎ পাৰ্য্যা যুজতে
ধিয়স্তাঃ। শূরােন্ত শাসকান, আ গােমতি ব্ৰজে ভজা
ভাবার্থ-“যখন যুদ্ধে জয়লাভের জন্য তত্তৎ কর্ম সকল অনুষ্ঠিত হয়,
তখন মানুষেরা যে ইন্দ্রকে যুদ্ধে আহ্বান করে, সেই বিক্রমশালী ও
মনুষ্যগণের সংবিভাগকর্তা ইন্দ্র তুমি বলকামী হইয়া গােষ্ঠে আমাদিগকে
লইয়া যাও।”
(পুষ্প) পুষ্প ধরিয়া বলিবে-
ওঁ শ্ৰীরসি, ময়ি রম।
ভাবার্থ—“হে পুষ্প ! তুমি শােভা, তুমি সৰ্ব্বদা আমার দেহেতে
বিহার কর।”
( সিন্দুর) সিন্দুর লইয়া
ও সিন্ধোরুচ্ছাসে পতয়মুক্ষণং। হিরণ্যপবাঃ পশু-
মঙ্গ, গৃষ্মতে।
( স্থিরীকরণ)
ওঁ ত্বাবতঃ পূরুবসে। বয়মি প্রণেতঃ। স্মসি স্থাতরীণাং ।
পরে কৃতাঞ্জলি লইয়া-
ওঁ সতীর্থোত্তৰং বারি, সর্বদেব সমন্বিতং।
ইমং ঘটং সমারুহ তিদেবগণৈঃ সহ।
ক
ঘটস্থাপনের বিধি।
[ ঋগ্বেদি মন্ত্র ]
( ভুমি) অর্থাৎ মৃত্তিকা ধরিয়া বলিবে-
ও উব্বী সদ্মনী বৃহতী ঋতেন, হুবে দেবানা-মবঙ্গ জনিত্রী।
দখাতে যে অমৃতং সুপ্রতীকে, বা ক্ষত পৃথিবী নে অভৃৎ !
(ধান্ত) ধান লইয়া বলিবে-
থানাব করমিকূপবন্ত মূকথিনং।
প্রাতর্জষ নঃ।
সত্য-ব্রহ, ৬ ( ঘট) ঘট চুইয়া বলিবে— ও এতানি ভদ্রা কলশ ক্রিয়াম, কুরুশ্রবণ দদতে মঘানি। দান ইদ বাে মঘবানঃ সে অস্তয়ঞ্চ সােয়ম হৃদি যং বিভৰ্ম্মি। (জল) জল ছুইয়া বলিবে- ও বরুণস্তোত্তম্ভনমসি, বরুণ স্কন্তর্জনী স্থঃ। বরুণ ঋতসদনমসি। বরুণস্য ঋতসদন-মা সীদ। (ফল) ফল ধরিয়া বলিবে— ও যা ফলানীয়া অফলাং অপুষ্প যশ্চ পুষ্পিণীঃ । বৃহস্পতি প্রসূতা-স্যা নো মৃঞ্চং হসঃ ॥ ( স্থিরী করণ ) ও স্থিরোভব বীড়ঙ্গ আশুভব ৰাজ্যৰ্ব্ব। পৃথুৰ্ভব সুষদ- মগ্নেঃ পুরীষবাহনঃ । ঘটস্থাপন বিধি। [ যজুৰ্বেদীয় মন্ত্র ] (ভূমি) অর্থাৎ মৃত্তিকা ধরিয়া বলিবে- ওঁ ভূরসি ভূমিরদিতিরসি, বিশ্বাধরা বিশ্বস্ত ভুবন ধাত্রী। পৃথিবীং যচ্ছ পৃথিবীং দৃগুংহ পৃথিবীং মা হিগুংসী। (ধান্য) ধান্য লইয়া বলিবে ও খামসি, বিনুহি দেবা, ধিমুখি যজ্ঞং। ধিনুহি যজ্ঞ পতিং ধিমুহি মাং যজ্ঞন্যং। ( ঘট) ঘট চুইয়া বলিবে- ওঁ আ জি কলসং মহা বা বিশবিঃ। পুনরূজ্জা - ।
সত্যব্রত - নিবৰ্ত্ত, সা নঃ “সহস্রং ধুক্ষেরুধারা পয়স্বতী, পুনৰ্মা- বিশতাহির। (জল) জল ছুইয়া বলিবে- ওঁ বরুণস্তােত্তম্ভনমসি। বরুণ স্কন্তর্জনী স্থঃ। বরুণ ঋতসসি। বরুণস্য ঋত-সদনমসি। বরুণস্য ঋতুসদন-মা সীদ। (পল্লব) পল্পব ধরিয়া বলিবে- ও ধন্বনা গা ধন্বনাজিং জয়েম, ধম্বনা তীব্ৰাঃ সমদো জয়েম। ধনুঃ শত্রোপকামিং কৃণােতি, ধন্বনা সর্বাঃ প্রদিশা জয়েম। ( ফুল) ফল ধরিয়া বলিবে- ওঁ যাঃ ফলিণী অফলা অপুষ্প যান্ট পুষ্পিণীঃ। বৃহস্পতি প্রসূতা স্ত। নাে মুঞ্চন্ত, গুংহসঃ । ( স্থিরীকরণ) ও স্থিরে ভব বীড়ঙ্গ আশুৰ্ভব বাজ্যৰ্ব। পৃথুৰ্ভব সুষদ- মগ্নেঃ পুরীষ বাহন। (সিন্দুর) সিন্দুর লইয়া বলিবে- ওঁ সিন্ধোরিব ধ্বনে শূঘনাসো, বাতপ্রমিয়ঃ পতয়ন্তি ষঃ। ঘৃতস্য ধারা অরুষাে ন বাজী, কাষ্ঠা ভিন্ন ৰ্মিভি পিম্ব পার্শ্বে, মানঃ । (পুষ্প) পুষ্প ধরিয়া বলিবে— ওঁ শ্রী তে লক্ষ্মীশ্চ পত্নারহােরাত্রে নক্ষত্রাণি রুপমশি- নৌব্যাত্তং। ইষ্ণয়িষাণামুগ্ম ইষাণ, সৰ্বলােকম্ম ইষাণ।
সত্য-ব্রত ১ পরে কৃতাঞ্জলি হইয়া বলিবে- ওঁ সৰ্বতীর্থোৎবং বারি সর্বদেব-সমন্বিতং। ইমং ঘটং সামারুহ তিষ্ঠদেবগণৈঃ সহ। উপচার। তিন প্রকার সাধারণতঃ ব্যবহার হয়। (ক) পঞ্চোপচার-(১) গন্ধ। (২) পুষ্প। (৩) ধূপ। (৪) দীপ। (৫) নৈবেদ্য । (খ) দশােপচার—(১) পাছা। (২) অর্ঘ্য। (৩) আচমনীয়। (৪) মধুপর্ক বা স্নানীয় জল। (৫) গন্ধ। (৬) পুষ্প। (৭) ধূপ। (৮) দীপ। (১) নৈবেদ্য । (১০) বন্দনা। (গ) ষােড়শােপচার-১) আসন। (রজতাসনাদি)। (২) স্বাগত। ( কৃতাঞ্জলি হইয়া-“অমুকদেবতে স্বাগতং তে” এই বাক্য)। (৩) পাদ্য। (জল)। (৪) অর্ঘ্য ( দূৰ্ব্বা, আতপ-ততুল, গন্ধ, পুষ্প, জল)। (৫) আচমনীয় (জল)। (৬) মধুপর্ক (দধি, মধু, ঘৃত, চিনি অভাবে ইক্ষু গুড় ও জল-কাংস্যপাত্রস্থ )। (৭) আচমনীয়। (৮) স্নানীয় জল। (৯) বস্ত্র ( ভিজা বস্ত্র নিষিদ্ধ )। (১০) আভরণ (রজত- ভরণাদি)। (১১) গন্ধ। (১২) পুষ্প। (১৩) ধূপ। (১৪) দীপ। (১৫) নৈবেদ্য । (১৬) বন্দনা। বিশেষ। স্নান, বস্ত্র ও নৈবেদ্যের পর আচমনীয় দিবে। উপচার দিবার বিধি। পূজা স্থানে আছে। পুষ্প ও বিল্বপত্র দিবার বিশেষ বিধি।-তুলসী চিৎভাবে ও বিষপত্র উপুড় করিয়া দিবে। পুষ্প যেভারে গাছে ফুটিয়া থাকে, সেইভাবে প্রদান করিবে। বাসি ফুলে পূজা হয় না—কিন্তু পদ্ম, বকপুষ্প, বিল্বপত্র, তুলসীপত্র ও দুর্বা বাসি হইলেও চলে।
সত্য-ব্রত অতিরিক্ত। (ক) পূজা করিতে করিতে হাঁচিলে, থুথু ফেলিলে, নিদ্রাভিভূত হইলে, তসির বস্ত্র ছুইলে, ঢেকুর তুলিলে, নাভির নিম্ন অঙ্গ ছুইলে, চোখের জল পড়িলে পুনর্বার আচমন না করিয়া দক্ষিণ কর্ণ ছুইয়া বিষ্ণু স্মরণ করিবে। কারণ ব্রাহ্মণের ধৰ্ম্ম কর্মে প্রবৃত্ত ব্যক্তির দক্ষিণ কর্ণে প্রভাসাদি তীর্থ ও গঙ্গা প্রভৃতি তীর্থ সকল বাস করেন। “প্রভাসাদীনি তীর্থানি গঙ্গাদ্যাঃ সরিতস্তথা। বিপ্র দক্ষিণে কর্ণে বসন্তি মনুরব্রবীৎ।” (খ) স্ত্রী ও শূদ্ৰ “স্বাহা বষটের” স্থানে নমঃ বলিবে। ধূপ ও দীপ দিবার বিধি। মধ্যমা ও অনামিকার মধ্যে রাখিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা জ্বালাইবে, তাহার পর নিভাইয়া ধূপের ধোয়া দিবে। দীপের শিখা নিভাইতে হইবে না। উৎসর্গের পর বামদিকে রাখিবে। ০
সত্যব্রত।
পূজা খণ্ড
প্রথম ভাগ।
আচমন।
ওঁ বিষ্ণুঃ ও, ওঁ বিষ্ণু, ও, ওঁ বিষ্ণুঃ ওঁ, ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ
পরমং পদং সদাপশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব চক্ষুরাততম্।
বিষ্ণুস্মরণ
ও সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভ। নারায়ণং
নমস্কৃত্য, সৰ্ব্বকৰ্মাণ করিয়েৎ। ওঁ বিষ্ণুঃ ওঁ বিষ্ণুঃ, ওঁ বিষ্ণু
শঙ্খ-চক্রবরং দেবং দ্বিভুজং পীত-বাসসং। প্রারম্ভে কৰ্ম্মণাং
বিপ্র পুণ্ডরীকং স্মরেদ্ধরিং।
ভাবার্থ-“যিনি সমুদয়ের মঙ্গলজনক পদার্থের শুভকর, অভীষ্টলাভের
উপাস্য, অভীষ্ট দাতা, মঙ্গলময় তাহাকে প্রণাম করিয়া সমুদয় কৰ্ম্ম
করিবে।”
সকল কর্মের আগে, ব্রাহ্মণাদি সকল ব্যক্তি শঙ্খ-চক্ৰধারী,
দ্বিভুজ, পীতাম্বর ধারী, বিশ্বব্যপী, সমস্ত পাপহারী পুণ্ডরীকাক্ষকে
স্মরণ করিবে।
অপবিত্রঃ পবিত্রো বা অবস্থায় গতহপি বা যঃ স্মরেৎ
পুণ্ডরীকাক্ষং সহাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।
১১ সত্যব্রত ভাবার্থ-শরীর ও মন, এই দুইটার মধ্যে একটিতে অশুচি (অপবিত্র ) ও অপরটীতে (শুচি) পবিত্র হইয়া কিম্বা দুই অশুচি ( অপবিত্র ) অবস্থায় যে পুণ্ডরীকাক্ষকে স্মরণ করে, সে শরীর ও মনে বাহ্ন ও আভ্যন্তরের সঙ্গে শুদ্ধ (পবিত্র ) হইয়া থাকে। মধযাে মাধকে বাচি, মাধবব মাধব হৃদি স্মরন্তি সাধবঃ সর্বে সর্বকাৰ্য্যেসু মাধবঃ। ওঁ নমঃ শ্ৰীমাধবায় নমঃ ভাবার্থ-সাধক ব্যক্তিদিগের কথায় মাধব, বক্ষে মাধব, এমনি সমস্ত কাৰ্যেই সাধুরা মাধব নাম স্মরণ করিয়া থাকেন। পূজার আবশ্যকীয় দ্রব্যাদি শ্বেতপুষ্প অধিক পরিমাণে, জবা, রক্তকরবী, দূর্বা, কুশ, বিল্বপত্র তুলসীপত্র, আতপ তণ্ডুল ও হরীতকী ও ফুলের মালা ও ছড়া অভাবে ১ ছড়া। নৈবেদ্য-পঞ্চদেবতার পাঁচখানি। নারায়ণের জলপানি একখানি, সত্যনারায়ণের মূল নৈবেদ্য /১• অথবা পাঁচ ছটাক চিনি অভাবে আতপ তণ্ডুল ও উপকরণাদি, অর্থাৎ ফলমূল। সিরণী (পাকা)-ইক্ষু অথবা খাড় গুড় বা দেশী চিনি ১/৩ পাঁচ পােয়, গােধূমচুৰ্ণ /১০ পাচপােয়, দুগ্ধ (জল মিশ্রিত নহে) /১০ পাঁচ পােয়। রম্ভা একুশটী কাঠালি অসমর্থ হইলে পাচটি করিয়া দিবে। সঙ্গতিপন্নেরা দুগ্ধের বদলে ক্ষীর, বাদাম, পেস্তা, নারিকেলকোরা ইত্যাদি দিতে পারেন।
সত্য-ব্রত সিরণী (কাঁচা)-বাতাস ১০ অভাবে।• ছটাক সন্দেশ বা মুণ্ডী ১০ অভাবে।• ছটাক। মােকাম বিধি। চৌকির উপর আলপনা দিয়া শুভ্র বস্ত্র পাতিবে। চারিকোণে মাটি দিয়া তিরকাটি পুতিয়া ৩ পাক বা ৭ পাক সুতা দিয়া ঘিরিবে, চৌকির উপর চারি কোণে ও মধ্যস্থলে, পাঁচটি পান, পাঁচটি সুপারি, পাঁচখানি বাতাস, পাঁচটি মুণ্ডী বা সন্দেশ, পাঁচটি কলা, (কেহ কেহ একটি দিয়া থাকে) একছড়া ফুলের মালা দিয়া মােকাম সাজাইতে হয়—পানের বোঁটাগুলি উপর দিকে থাকিবে, অর্থাৎ কোলের দিকে নয়। ঘট বিধি-পিতলের বা তামার ঘটই প্রশস্ত, ঘট জল পূর্ণ করিয়া ঘটের মুখে দুইটা পান, একটি রম্ভা দিয়া চৌকির সম্মুখে মাটীর উপর আলপনা দিয়া বসাইবে। ঘট মধ্যে একটী হরীতকী দিবে। পূজা শেষে—যাহার নামে সঙ্কল্প হইবে, তিনি মাথায় করিয়া চৌকির মধ্যস্থলে বসাইবেন। বিশেষ বিধি।-মধ্যের মােকাম যাহার নামে পূজা হইবে তাহার; অন্যগুলির মধ্যে যিনি পুজা করিবেন, তঁাহার একটি ও অন্য তিনটি তিনজন ব্রাহ্মণের। চৌকি রাত্রে তুলিতে নাই। পালন বিধি-যাহার নামে পূজা হইবে তাহাকে পূৰ্ব্বদিবস নিরামিষ খাইতে হয়, পর দিবস যে পর্যন্ত পুজা না হয় সেই পৰ্যন্ত উপবাস থাকিতে হয়। পূজার পর সিন্নি মুখে দিয়া অম্ন ও মাছ ব্যতীত সমস্ত খাইতে আছে। দোকানের লুচি বা পরােটা খাইতে নাই। আহারাদি করিয়া নারায়ণ পূজা করিতে নাই। যিনি পূজা করিবেন, তাহাকে ঐরূপ পূর্ব দিবসে নিরামিষ খাইতে হইবে।
সত্যব্রত পূজার দিবস তৈল মাখিতে বা খাইতে নাই। স্বস্তিবচন।—ওঁকৰ্তব্যেহস্মিন্ শ্রীসত্যনারায়ণ ব্ৰত কৰ্ম্মনি ও পূণ্যাহং ভবন্তো ব্রুবন্তু, ভাস্তো ব্রুবন্তু, ভবন্তো ব্রুবন্তু। (পুরােহিত বলিবেন ওঁ পুণ্যাহং ওঁ পুণ্যাহং, ওঁ পুণ্যাহং)। ও কর্তব্যেহস্মিন্ ওঁ শ্রীসত্যনারায়ণ ব্ৰত কৰ্ম্মনি ওঁ স্বস্তি ভবন্তো ব্রুবন্তু, ভবন্তো ব্রুবন্তু, ভবন্তো ব্রুবন্তু। (পুরােহিত বলিবেন ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি।) কৰ্তব্যোহস্মিন্ ওঁ শ্রীসত্যনারায়ণ ব্ৰত কৰ্ম্মনি ওঁ ঋদ্ধি ভবন্তো ব্রুবন্তু, ভবন্তো ব্রুবন্তু, ভবন্তো ব্রুবন্তু (পুরােহিত বলিবেন ওঁ ঋধ্যতাং ওঁ ঋধ্যতাং, ওঁ ঋধ্যতাং ) ভাবার্থ।—সত্যনারায়ণ ব্রতকার্যে আপনারা আমার শুভদিন বলুন। আমার এই সত্যনারায়ণ পূজার কাৰ্য্যে আপনার মঙ্গল বলুন। আমার সত্যনারায়ণ পূজা কাৰ্য্যে আপনারা অভূদয় বলুন। ও সােমং রাজানং বরুণমগ্নি মম্বার ভামহে, আদিত্যং বিষ্ণুং সূৰ্যং ব্ৰহ্মণঞ্চ বৃহস্পতিম্। ওঁ স্বস্তি ওঁ ওঁ স্বস্তি ও, ওঁ স্বস্তি ওঁ । ( আতপ চাউল ছড়াইয়া ঘণ্টা বাজাইবে) সাক্ষ্যমন্ত্র।-সূৰ্য্যঃ সােম যমঃ কালঃ সন্ধ্যে ভূতানুহঃক্ষপঃ পবনােদিম্পতির্ড মিরাকাশং খচরা মরাঃ ব্রাহ্ম্য শাসনমস্থায় কল্পধ্বমিহ সন্নিধিং। ভাবার্থ।-“রবি, শশী, যম, অখণ্ডকাল, প্রাতঃকাল, সায়ংকাল, ক্ষিতি, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ এই পঞ্চভূত, দি, রাত্রি-দিকপাল, সত-ব্রত বায়ু, ভূমি অখণ্ড অাকাশ, শূন্যে ভ্রমণকারী দেবতার, ব্রহ্মার আদেশ মত আমার এই পূজায় উপস্থিত হউন।” সঙ্কল্প।—দক্ষিণ জানু পাতিয়া, উত্তর মুখে বসিয়া বাম হস্তে কোশা ধরিয়া তার মধ্যে হরিতকী তুলসী পত্র ও ত্ৰিপত্ৰ দিয়া বলিবে । বিষ্ণু ওঁ তৎসৎ অদ্য অমুকে মাসি, অমুক পক্ষে, মুক তিথৌ,অমুকগােত্রঃ শ্রীঅমুক দেবশর্মা সর্বাপচ্ছান্তি সৌভাগ্য- বর্ধন মনােগতাভষ্ট সিদ্ধি পূৰ্ব্বক শ্রীসত্যদেবস্য প্রসাদ লাভার্থ স্কন্দ পুরাণীয় রেবাখণ্ডোক্ত শ্রীসত্যদেব পুজন কথা শ্রবণ রূপ ব্ৰতমহং করিয্যে।”(পরার্থে অমুক গােত্রঃ শ্ৰীঅমুক দেবশর্মা এইরূপ নিজ নাম আগে বলিয়া পরে অমুক গােস্য শ্ৰীঅমুক দেবশৰ্ম্ম। বলিবে, এবং (করিষ্যে) স্থলে “করিষ্যামি” বলিবে) তাহার পর কোশার জল ঈশান কোণে ফেলিয়া, কোশাটা উপুড় করিয়া দিবে, এবং তার উপর তণ্ডুল ছড়াইয়া ঘণ্টাধ্বনি করিতে করিতে নিম্নলিখিত স্ব স্ব বেদোক্ত সূক্ত পাঠ করিবে। সামবেদীয় সঙ্কল্প সূক্ত।-ওঁ দেবো বো বিনোদাঃ, পূর্ণ বিবষ্ট্যাসিচং উদ্বাসিঞ্চধ্বমুপ বা পৃণধ্ব মাদিদবো দেবওতে। ভাবার্থ।ধনদাতা অগ্নিদেব তােমাদের পূর্ণ আহুতি কামনা করেন। অতএব ঘহ দ্বারা পাত্র পূর্ণ করিয়া অগ্নিদেবকে প্রদান কর। তাহা হইলে অগ্নিদেব তোমাদিগকে অভিষ্ট প্রদান করিবেন। যজুৰ্বেদীয় সংকল্প সূক্ত।-ওঁ যজ্জাগ্ৰতো দূর মূদেতি দৈৰং, তদুসুপ্তস্য তথৈবৈতি। দূরঙ্গনং জ্যোতিষাং জ্যোতিরেকং তন্মে মনঃ শিব সঙ্কল্পমস্তু। (পরে কৃতাঞ্জলি হইয়া বলিবে)
সত্যব্রত
০
ও সঙ্কল্পিতেহস্মিন্ কৰ্ম্মানি সিদ্ধিরস্তু। (পুরােহিত) ওঁ অস্তু।
ওঁ অয়মারম্ভ শুভায় ভবতু (পুরােহিত বলিবেন) ওঁ ভবতু।
ভাবার্থ।—যাহা জাগরিত ব্যক্তির দূরে গমন করে। যাহা
নিদ্রিত ব্যক্তির সেইরূপই নিকটে আসে। যাহা আত্মায় অবস্থিত।
যাহা সর্বাপেক্ষা দূরগামী এবং চক্ষুরাদি ইন্দ্রিয়ের একমাত্র প্রবর্তক,
সেই আমার মন ধর্ম চিন্তা পরায়ণ হউক।
ঋগ্বেদীয় সঙ্কল্প সূক্ত।-ওঁ যা গুংগৃৰ্য্যাসিনীবালী যা রাকা
যা সরস্বতী, ইন্দ্রানী উতয়ে, বরুণানীং স্বস্তয়ে ।
ভাবার্থ।—কু ও সিনীবালী নামক অমাবস্যা ও পূর্ণিমার
অধিষ্ঠাত্রি দেবতা ও বাক্যের অধিষ্ঠাত্রি দেবী সরস্বতী ইহাদের
আবাহন করি। আমার রক্ষার জন্য ইন্দ্রপত্নীকে আবাহন করি এবং
আমার মঙ্গলের জন্য বরুণ পত্নীকে আবাহন করি।
সাধারণ আচমন ও বিশেষ অর্ঘ্যদান।—ভূমিতে, ত্রিকোণ
মণ্ডল করিয়া, অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর দ্বারা পুষ্প লইয়া বা ভণ্ডুল দ্বারা পূজা
করিবে।
ওঁ আধার শক্তয়ে নমঃ। ওঁ কূৰ্ম্মায় নমঃ। ওঁ পৃথিব্যৈ
ও অনন্তায় নমঃ। (জলে) ওঁ মং বহ্নি মওলায়
দশকলাত্মনে নমঃ। ওঁ অং সূৰ্য্য মওলায় দ্বাদশ কলাত্মনে
নমঃ। ওঁ উং সােম মণ্ডলায় যােড়শ কলাত্মনে নমঃ।
( বলিয়া জলে পূজা করিবে ও সূর্যকে অর্ঘ্য দিবে)।
বৈষ্ণব আচমন।-ওঁ কেশবায় নমঃ ওঁ, ও নারায়ণায় নমঃ
ওঁ, ও মাধবায় নমঃ ওঁ।
হস্ত প্রক্ষালন।—ওঁ গােবিন্দায় নমঃ ও। ওঁ বিষ্ণবে নমঃ ওঁ ।
নমঃ।
ওষ্ঠ মার্জন।—( অঙ্কুষ্ঠের মূল দিয়া) ওঁ মধুসুদনায় নমঃ ওঁ।
ওঁ ত্রিবিক্রমায় নমঃ ওঁ ।
মুখমার্জন। তর্জনী মধ্যমা ও অনামিকা দ্বারা) ওঁ বামনায়
নমঃ ও। ওঁ শ্ৰীধরায় নমঃ ওঁ।
হস্তদ্বয় প্রক্ষালন।-ওঁ হৃষীকেশায় নমঃ ওঁ।
পদে জল প্রেক্ষণ।—( দক্ষিণ হস্তে জল লইয়া বাম হস্তে, দক্ষিণ
হস্তে ও পদে ছিটাইবে )। ওঁ পদ্মনাভায় নমঃ ওঁ ।
মস্তকে প্রেক্ষণ।—( ঐরূপে ) ওঁ দামােদরায় নমঃ ওঁ।
মুখ স্পর্শ ।-( তর্জনী মধ্যমা ও অনামিকার দ্বারা )
ও সঙ্কর্ষনায় নমঃ ওঁ।
দক্ষিণ নাসা স্পর্শ।—( অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর অগ্রভাগ দ্বারা)
ওঁ বাসুদেবায় নমঃ ওঁ
বাম নাসা স্পর্শ । ঐ ভাবে ) ওঁ প্ৰমায় নমঃ ওঁ।
দক্ষিণনেত্র স্পর্শ — অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকার দ্বারা) ওঁ অনি-
রুদ্ধায় নমঃ ও।
বাম নেত্র স্পর্শ — ঐ ভাবে ) ওঁ পুরুষােমায় নমঃ ওঁ।
দক্ষিণ কর্ণ স্পর্শ।—(ঐ ভাবে) ও অধােক্ষজায় নমঃ ওঁ।
বাম কর্ণ স্পর্শ।—( ঐ ভাবে )ওঁ নৃসিংহায় নমঃ ওঁ।
নাভি স্পর্শ।— অঙ্গুষ্ঠ ও কনিষ্ঠার দ্বারা )
নমঃ ।
হৃদয় স্পর্শ।—( করতল দ্বারা) ওঁ জনার্দনায় নমঃ ওঁ ।
মস্তক স্পর্শ।—( সমস্ত অঙ্গুলী দ্বারা) ও উপেন্দ্রায় নমঃ ওঁ।
ওঁ অদ্যুতায়
i JE সত্যব্রত ০ * ১ - 2/ }/ দক্ষিণ বাহুর মূল স্পর্শ।—( সমস্ত অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা) ও রয়ে নঃ ওঁ । বাম বাহুর মূল স্পর্শ।—( ঐ ভাবে ) ওঁ বিষ্ণবে নমঃ ওঁ । সাপ্ত অর্ঘ্য-ভূমিতে ত্রিকোণ মণ্ডল করিয়া তাহার বাহিরে গোলাকার এবং তাহারও বাহিরে চতুষ্কোণ মণ্ডল আঁকিয়া তাহার উপর “ও আধার শক্তয়ে নমঃ।” বলিয়া গন্ধপুষ্প দিয়া “ফ” মন্ত্রে কোশা ধুইয়া মণ্ডলের উপর রাখিবে, এবং “নমঃ” বলিয়া জল পূর্ণ করিবে, এবং অগ্রভাগে অর্ঘ্য সাজাইয়া দিবে । জল শুদ্ধি।অঙ্কুশ মুদ্রার দ্বারা, নখ স্পর্শ না করিয়া জলেতে ত্রিকোণ মণ্ডল করিবে। দক্ষিণ হস্তের মধ্যমাঙ্গুলি সােজ। করিবে, তর্জনী, অঙ্গুলির মধ্য পৰ্ব্ব পৰ্যন্ত মধ্যমাতে মিলাইয়া তাহার অগ্র:কিঞ্চিত বক্র করিবে। মন্ত্র ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি। নৰ্ম্মদে সিন্ধু কাবেরি জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু। তাহার পর জলে গন্ধ পুষ্প তুলসী দিবে ও ধে মুদ্রা দেখাইবে। দক্ষিণ হস্তের তর্জনী ও অনামিকা বাম হস্তের মধ্যমা ও কনিষ্ঠাতে এবং দক্ষিণ হস্তের মধ্যমা ও কনিষ্ঠাতে বাম হস্তের তর্জনী অনামিকাতে মনে করি।
সত্য-ব্রত
5
w. • ৫*, ১৬,
নযws
তাহার পর “মৎস্য মুদ্রা” দ্বারা
তুল আচ্ছাদন করিয়া “ও” মন্তু
দশ বার জপ করিবে। এই জল
পূজার প্রব্যে ছিটাইয়া দিবে। দক্ষিণ
করে পৃষ্ঠদেশে বাম হরে হল
ঠিক সমভাবে সংলগ্ন করিয়া, উভয়
ইন্তের অদ্বয় নাড়িবে ।
আসন শুদ্ধি।শাসনের নীচে ত্রিকোণ
মণ্ডল আঁকিয়া হ্রীং তার শক্তয়ে কমলাসনায়
নমঃ। ( বলিয়া আসনে পুষ্প দিবে। আসন
বাম হস্তে ধরিয়া বলিবে।)
ওঁ আসন মন্ত্রস্ত মেরু পৃষ্ঠ খবিঃ সুভলং ছন্দঃ কৃৰ্ম্মো দেবতা
আসনোপবেশনে বিনিয়ােগ। ওঁ পৃথি ত্বয়া ধৃতা লােক দেশি-
ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা। তঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনং।
ভাবার্থ-হে পৃথি, (পৃথিবী) তুমি তােমার আকর্ষণী শক্তি
দ্বারা সমুদয় ভুবনকে ধারণ করিয়াছ, হে দেবি! বিষ্ণু যেমন অনন্ত
রূপে নিজের মাথায় তােমাকে ধারণ করিয়া আছেন, সেইরূপ সৰ্ব্ব
সময়ে আমায় ধারণ কর এবং আমার আসনকে পবিত্র ও পূত কর।
গুরু প্রণাম – বামে) ও গুরুভ্যো নমঃ, ও, ও পরম
গুরুভ্যো নমঃ ওঁ, ও পরাপর গুরুভ্যো নমঃ ওঁ, ওঁ পরমেষ্টি
গুরুভ্যো নমঃ ওঁ। (দক্ষিণ) ওঁ গং গণেশায় নমঃ ওঁ ।
(সম্মুখে) ও সত্য-নারায়ণায় নমঃ।
সত্যব্রত পুষ্প শুদ্ধি –ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে, সুপুষ্পে পুষ্প সম্ভবে। পুষ্প চয়াবিকীর্ণ চ ইং ফটু স্বাহা। ( একটী পুপ লইয়া “ঐং বং স্ত্রায় ফ” ( বলিয়া দুইবার ষণ পূর্বক বাম দিকে কি দিবে । ভূপসারণ।--দক্ষিণ স্তে কতকগুলি আতপ তণ্ডুল : নাচ মুদ্রা” দ্বারা নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিয়া ছড়াইযে। {৩৩ পৃষ্ঠায় দেখুন) দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলির ও তর্জনী একত্র করিবে, মধ্যমা অনামিক ও কনিষ্ট, করতলের উর্ধ রেখার সহিত বক্র করিয়া রাখিবে। ওঁ অপসপন্তু তে ভূত। যে ভূত! ভূবি সংস্থিতা। যে ভূত। বিঘ্নকর্তারস্তে নন্তু শিবাজ্ঞায়া। দিগবন্ধন।- তাহার পর তিনবার ভূমিতে পদাঘাত করিয়া মস্তকের উপর তিনবার “ফট” মন্ত্রে তালি দিবে। ভূত শুদ্ধি।-( দুইনাক টিপিয়া) ওঁ ভূত শৃঙ্গাটাচ্ছিরঃ সুষুম্নাপথেন জীবশিবং পরমশিবপদে যোজয়ামি স্বাহা। ওঁ যং লিঙ্গ শরীরং শােষয় শােষয় স্বাহা। ও রং সঙ্কোচ শরীরং দহ দহ স্বাহা। ওঁ পরমশিব সুষুম্না পথেনমূল-শৃঙ্গাট মুল্লগাের্লস জ্বল জ্বল জ্বল জ্বল সােহহং, হং সঃ স্বাহা। ঘণ্টাশুদ্ধি।—ওঁ জয়ধ্বনী মন্ত্র মাতঃ স্বাহা। (৩ বার জলের ছিটা দিবে, হাতে করিয়া নহে ত্ৰিপত্ৰ দ্বারা)। অথবা বিল্বপত্র। প্রাণায়াম।৪।১৬৮ দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দক্ষিণ নাক টিপিয়া বাম নাক দিয়া বায়ু আকর্ষণ করতঃ বাম হস্তে ৪ বার “ওঁ” জপ করিবে। তাহার পর অনামিকা ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলীর দ্বারা বাম না টিপিয়া শ্বাস রােধ করিয়া মােল বার “ওঁ” জপ করিবে। পরে ভান নাক সত্য-ব্রত দিয়া ধীরে ধীরে বায়ু ছাড়িতে ছাড়িতে ৮ বার “ও” জপ করিবে । এইরূপে দ্বিতীয় বারে অনামিকা ও কনিষ্ঠার দ্বারা বাম নাক টিপিয়? ডান নাক দিয়া বায়ু আকর্ষণ করিতে করিতে ৪ বার “ও” জপ করিবে। পরে অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা ডান নাক টিপি। নিশ্বাস বন্ধ করতঃ ১৬ বার “ও” জপ করিবে। পরে বাম নাক ছাড়িয়া ধীরে ধীরে নিশ্বাস ত্যাগ করিতে করিতে ৮ বার “ও” জপ কমিবে । তৃতীয় বারে দক্ষিণ অঙ্গুষ্ঠের দ্বারা ডান নাক টিপিয়া বাম নাক থিম বায়ু টানিতে টানিতে ৪ বার “ওঁ” জপ করিবে । তাহার পর অনামিকা ও কনিষ্টার দ্বারা বাম নাক টিপিয়া নিশ্বাস বন্ধ করিয়া ১৬ বা “ও” জপ করিবে। তারপর ডান নাক ছাড়িয়া দিয়া ৮ বার “ওঁ” জপ করিবে । করন্যাস —উভয় তর্জনী দ্বারা অঙ্গুষ্ঠ স্পর্শ করিয়া “সাং অঙ্গুষ্ঠভ্যাং নমঃ” বলিবে উভন্ন অঙ্গুষ্ঠের দ্বারা উভয় তর্জনী স্পর্শ করিয়া “সীং তর্জনীভ্যাং স্বাহা” বলিবে। উভয় অঙ্গুষ্ঠের দ্বারা মধ্যমা স্পর্শ করিয়া “সুং মধ্যমাভ্যাং বষট” বলিবে। উভয় অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা অনামিকা স্পর্শ করিয়া “সৈং অনামিকাভ্যাং হুং” বলিবে। উভয় অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা কনিষ্ঠা স্পর্শ করিয়া “সৌং কনিষ্ঠাভ্যাং বোষট” বলিবে। তাহার পর উভয় করের তল ও পৃষ্ঠ স্পর্শ করিয়া দক্ষিণ করতলে মধ্যমা ও তর্জনীর দ্বারা বা করতলে আঘাত করিয়া “সঃ অস্ত্রায় ফট।” বলিবে । অঙ্গন্যাস। তর্জনী মধ্যমা ও অনামিকার অগ্রভাগ দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিয়া) ও সাং হৃদয়ায় নমঃ ওঁ। (মামা ও তর্জনীর অগ্রভাগ দ্বারা মস্তক স্পর্শ করিয়া) ও সীং শিরসে স্বাহা।
২১
সত্য-ব্রত
( অঙ্গুষ্ঠের দ্বারা • শিখা স্পর্শ করিয়া) ওঁ সূং শিখায়ৈ বষট
( তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা ডান চক্ষু ও বাম চক্ষু স্পর্শ করিয়া)
ওঁ সৌং নেত্ৰাভ্যাং বোট (বলিবে)।
(দশ অঙ্গুলীর দ্বারা দুই বাহু জাপাইয়া ধরিয়া) ও সৈং কবচায়
তাহার পর উভয় করের তল ও পৃষ্ঠ স্পর্শ পূৰ্ব্বক দক্ষিণ করলে
মধ্যমা ও তর্জনী দ্বারা বাম করতলে আঘাত করিয়া) ওঁ অস্ত্রায় ফট
( বলিবে)।
গন্ধাদির অচ্চন!—ওঁ বং এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ
(তিনবার বলিয়া জলের ছিটা দিবে। ( বাম হাতের তলে দক্ষিণ হাত
রাখিয়া অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর দ্বারা) ওঁ এতে গন্ধ পুষ্পে ওঁ
এতেভ্যো গন্ধাদিতভ্যা
নমঃ। ওঁ এতে গন্ধ পুষ্পে ওঁ এতদধি-
পতয়ে দেবায় বিষ্ণবে নমঃ। এতৎ সম্প্ৰদানায় ও
সত্যনারায়ণায় নমঃ ওঁ
পঞ্চদেবতার পূজা।একটি পুষ্প, কুৰ্ম্ম মুদ্রার মধ্যে লইয়া
নিম্ন লিখিত মন্ত্রে ধ্যান করিবে।
;
গণেশ পূজা বাঁ হাতের বৃদ্ধ অঙ্গুলিতে ডান হাতের তর্জনী ও বাঁ হাতের তর্জনীতে ডান হাতের কনিষ্ঠা যােগ করিবে, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ উচু করিবে, এবং মধ্যমা ও অনামিকা বা হাতের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর ভিতর দিয়া বাঁকা করিয়া দিবে, এবং বাঁ হাতের মধ্যমাও অনামিকা এবং কনিষ্ঠা ডান হাতের উপরে অর্থাৎ কোলের দিকে বাকা করিয়া রাখিবে, এবং কুৰ্ম্ম পৃষ্ঠের অর্থাৎ কচ্ছপের ন্যায় ডান হাত করিবে। ধ্যান মন্ত্র -ওঁ খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বােদরং সুন্দরং প্রস্যন্দন্মদগন্ধ-লুব্ধ-মধুপ-ব্যালােল-গণ্ডস্থলং ( দস্তাঘাত বিদারিতারিরুধিরৈ, সিন্দুর পােভাকরং বন্দে শৈলসূতা সুতং গণপতিং, সিদ্ধিপ্রদং কামদং। ভাবার্থ-“যিনি বেঁটে ও মােটা, যার হাতির মুখের মত মুখ, যিনি সুন্দর ও লম্বােদর ( মস্ত ভূড়ী) ক্ষরিত মদের গন্ধে উন্মত্ত (পাগল) ভ্রমর সকল যাহার গণ্ডস্থলকে ব্যাকুল করিতেছে, যিনি দন্তের দ্বারা শত্ৰুদিগকে চিরিয়া, সেই রক্তে সিন্দুরের ন্যায় শােভ ধারণ করেন, সেই পাৰ্ব্বতী-পুত্র, সিদ্ধিদাতা, অভীষ্ঠপ্রদ গণপতিকে বন্দনা করি।” পূজা—( বঁ। হাতের তলায় ডান হাত রাখি কনিষ্ঠার অ চন্দন লইয়া, অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা বলিবে,ওঁ এষ গন্ধ ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ। (তাহার পর ঐরূপ বাঁ হাতের তলায় ডান হাত রাখিয়া অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা ধরিয়া) ঔএতৎ সচন্দন পুষ্পং ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ।
সত্য-ব্রত (ঐরূপ হাতের তলায় হাত রাখিয়া অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা লইয়া ) ওঁ এতৎ সচন্দন বিল্বপত্রং ও গং গণপতয়ে নমঃ। (মধ্যমা ও অনামিকার মধ্যে ধূপ রাখিয়া, অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা ধরিয়া জ্বালাইয়া নিভাইবে, এবং ধুম (ধোঁয়া) উৎসর্গ করিবে) এষ ধূপ ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ। ( আবার কেহ কেহ বলেন । এষ ধূপ শিখা ও গং গণপতয়ে নমঃ। ( তাহার পর দেবতার বাম দিকে আধারে রাখিবে। মৃত্তিকাতে রাখিতে নাই, ফল মূলের উপর রাখিবে ) (ধূপের ন্যায় দীপ ও জালাইয়া) এষ দীপ ও গং গণপতয়ে নমঃ। ( আবার কেহ কেহ বলেন) এষ দীপ শিখা ও গণপতয়ে নমঃ। উৎসর্গের পর দেবতার বাম দিকে ঐ রূপ ফল মূল বা আধারে রাখিবে। এতে গন্ধ পুষ্পে এতৎ সােপকরণ নৈবেদ্যং ও গং গণ- পতয়ে নমঃ। ( চাউল হইলে ডানদিকে রাখিবে। পক্ক অর্থাৎ ভাত হইলে বাম দিকে রাখিবে। ইহা ছাড়া সকল প্রকার নৈবেদ্য সম্মুখে ও রাখা যায়। তবে বিনা উপকরণে দিতে নাই; উপকরণ না পাইলে একটু গঙ্গাজল দিয়া বলিবে “সােপকরণ” ইদং পানাৰ্থ গঙ্গোদকং ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ (এই বলিয়া একটু জল দিবে) ইদং আচমনীয়ােদকং ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ। (একটু জল দিবে) এতৎ তাম্ব লং ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ। (পান থাকিলে পানে
সত্যব্রত
একটু জলের ছিটা দিবে, অভাবে এতৎ তাম্বুলার্থে গঙ্গোদকং ওঁ গং
গণপতয়ে নমঃ পুনরাচমনার্থ গঙ্গোদকং ওঁ গং গণপয়ে নমঃ
প্রার্থনা মন্ত্র--(হাত জোড় করিয়া বলিবে)
দেবেন্দ্র মোলি নন্দার মকরন্দ কণারুণাঃ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্ব চণস্বজরেণবঃ
বাঙ্গলা অর্থ—দেবতার অধিশ্বর, ইন্দ্রে : মাথার : ফু: ২
মধুকণায়, যাহা বক্তবর্ণ হইয়াছে, সেই গণেশের পাৰ-পদ্ম রেণু সকল
বিঘ্ন হরণ করুন।
প্রণাম মন্ত্র –ওঁ একদন্ত; হা কয়ং লম্বোদ রং গাও:ং।
বিঘ্ননাশ করং দেবং হেম্বং প্রণমাম্যহং ।
সূৰ্য পূজা -ধ্যান { পূৰ্ব্ব রূপ কুমুদ্রার মধ্যে ফু লই!)
২ক্তাম্বুজাসনমশেষগুণৈকসিন্ধু
ভানুং সমস্তজগতামধিপং ভজামি ।
পদ্মদ্বয় ভয়বরান্ দধতং-করাজৈঃ
মাণিক্যমৌলিমরুণারুচিং ত্রিনেত্রং।
অর্থ :-“লাল পদ্ম যার আসন, যিনি সমস্ত সর্ববিধ গুণের আধার
যিনি সমস্ত জগতের অধিপতি, তাহাকে আমি ভজনা করি। যিনি
পদ্মের ন্যায় চারিহাতে অভয় বর ও দুই টী পদ্ম ধরিয়া আছেন, পদ্মরাগ
মণি যাহার মুকুটে রহিয়াছে, যার রক্তবর্ণ দেহ সেই সূৰ্য্যদেবকে আমি
আরাধনা করি।”
পূজা বাম হস্তের ভলে দক্ষিণ হস্ত রাখিয়া) (কনিষ্ঠা অঙ্গুলির
অগ্রভাগে চন্দন লইয়া অঙ্গুষ্ঠযােগে) এষঃ গন্ধ ওঁ হ্রীং হংসঃ
শ্ৰীসূৰ্য্যায় নমঃ।
e সত্যব্রত ( অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা ধরিয়া) এতৎ সচন্দন পুষ্পং ওঁ হ্রীং হংসঃ সূৰ্য্যায় নমঃ। ( মধ্যমা ও অনামিকার মধ্যে রাখিয়া অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা ধরিয়া জালাইবে এবং পরে নাইয়া ) এষ ধূপ ওঁ হ্রীং হংসঃ সূৰ্য্যায় নমঃ। ( বামদিকে পূর্ব কথিত মত রাখিবে ) (ধূপের ন্যায় দীপ ও জালাইয়া ) এষ দীপঃ ওঁ হ্রীং হংসঃ শ্ৰসূৰ্য্যায় নমঃ। { ডানদিকে গণেশ পূজার ন্যায় রাখিবে । এতে গন্ধ পুষ্পে এতৎ এতেভ্যঃ সােপকরণ নৈবেদ্যং ওঁ হ্রাং হংসঃ সূৰ্য্যায় নমঃ। ইদং পানার্থে গঙ্গোদকং ওঁ হ্রীং হংসঃ শ্ৰীসূৰ্য্যায় নমঃ। ইদং অ:চমনীয়ােদকং ওঁ হ্রীং হংসঃ শ্ৰীসূৰ্য্যায় নমঃ। এতৎ ভাম্বলং ওঁ হ্রীং হংসঃ সূৰ্য্যায় নমঃ। পুনরাচমনার্থে গঙ্গোদকং ওঁ হ্রীং হংসঃ সূৰ্য্যায় নমঃ। প্রণাম।—ওঁ জবাকুসুম সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিং। ধ্বস্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতােহস্মি দিবাকরং। অর্থ-জবা ফুলের ন্যায় যাহার বর্ণ, বশ্যপপুত্র মহাতেজশালী, অন্ধকার দরকারক, সমস্ত পাপ বিনাশনকারী সেই সূর্যকে আমি প্রণাম করি। বিষ্ণুপূজা-ধ্যান-( কূৰ্ম্মমুদ্রার মধ্যে পুষ্প লইয়া পূৰ্ববং)। ধ্যেয়ঃ সদা সবিতৃমণ্ডল-মধ্যবর্তী নারায়ণঃ সরসিজাসন- সন্নিবিষ্টঃ। কেয়ুরবান্ মকর-কুণ্ডলবান্ কিরীটিহারী, হিরন্ময়- বপুৰ্বতশঙ্খচক্র। অর্থ-পদ্ম ও গদাস্ত্র ধরিয়া সূৰ্য্য মণ্ডলের মধ্যে জ্যোতিঃরূপে যিনি রহিয়াছেন যাহার হস্তে বাজু, কর্ণে মকর চিহ্নিত কুণ্ডল, মাথায়
সত্য-ব্রহ,
এষ ধুপ
মুকুট, বক্ষে হার শােভা পাইতেছে, যাহার সুবর্ণের মত উজ্জ্বল মুর্তি, ও
শঙ্খ চক্রধারী তঁাহাকে আমি ভজনা করি।
পূজা( বাম হস্তের তলে দক্ষিণ হস্ত রাখিয়া কনিষ্ঠার অগ্রভাগে
চন্দন লইয়া অঙ্গুষ্ঠ সংযােগে)
এষ গন্ধ ওঁ শ্ৰ৷ বিষ্ণবে নমঃ।
( অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর দ্বারা ধরিয়া) এতৎ সচন্দন তুলসীপত্র ও
নমস্তে বহুরূপায় বিষ্ণবে পরমাত্মনে স্বাহা।
এতৎ সচন্দন পুষ্পং ওঁ শ্রী বিষ্ণবে নমঃ।
(ধূপ পূর্বের ন্যায় জ্বালাইয়া)
শ্রীবিষ্ণবে নমঃ
( দীপ ও পূৰ্ব্ববৎ) এষ দীপ ঐ বিষ্ণবে নমঃ।
( ডান দিকে রাখিবে)।
এতৎ সোপকরণামান্ন নৈবেদ্যং ওঁ শ্রীবিষ্ণবে নমঃ। ওঁ ইদং
পানাৰ্থ গঙ্গোদকং ঐবিষ্ণবে নমঃ। ইং আচমনীয়ােদকং
ওঁ শ্রীবিষ্ণবে নমঃ।
এতৎ তাম্বলং ওঁ শ্রী বিষ্ণবে নমঃ।
পুনরাচমনাথ গঙ্গোদকং শ্রীবিষ্ণবে নমঃ।
প্রার্থনা মন্ত্র -পাপপাহহং পাপ কৰ্ম্মাহং পাপাত্মা পাপ
সম্ভ। ত্রাহিমাং পুণ্ডরীকাক্ষং সর্বপাপ হােেহরি। নমঃ
কমল নেত্রায় হয়ে পরমাত্মনে। অশেষ ক্লেশ নাশায় লক্ষনী-
কান্ত নমােহস্তুতে।
অর্থ-“পূৰ্বে বহু পাপ করিয়াছি, আমি পাপে ভরা, এখনও পাপ
করিতেছি; পাপেই আমার সর্বদা মতি, পাপ করিবার জন্যই আমার
জন্ম, হে পুণ্ডরীকাক্ষ, আমায় সমস্ত পাপ হইতে রক্ষা কর। আমার
সৰ্ববিধ পাপ হরণ কর। পাপ হরণ কর বলিয়া তােমার নাম হরি।
২৭ 'সত্য-ব্রত হে অশেষ দুঃখ বিনাশন, কমল লােচন পরমাত্মা হরি তােমায় প্রণাম করি। হে লক্ষীর আরাধ্য দেবতা তােমায় প্রণাম করি।” করযােড়ে। হরে মুরারে মধুকৈটভারে গােপাল গােবিন্দ মুকুন্দ শৌরে। যজ্ঞেশ নারায়ণ কৃষ্ণবিষ্ণো নিরাশ্রয়ং মাং জগদীশ রক্ষ। অর্থ-“হরি মুরারি, মধুকৈটভ রিপু, হে গােপাল গােবিন্দ, হে মুকুন্দ, হে শৌরি, যজ্ঞেশ্বর, নারায়ণ, হে কৃষ্ণ, হে বিষ্ণু, হে জগদীশ্বর আমি নিরাশ্রয় আমায় রক্ষা কর।” প্রণাম মন্ত্র।-নমে ব্ৰহ্মণ্য দেবায় গো ব্রাহ্মণ হিতায় চ জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ। অর্থ—“যিনি বেদের অধিপতি, গাে ব্রাহ্মণদিগের ও জগতের হিতকারী, সেই গােবিন্দ শ্রীকৃষ্ণকে বার বার প্রণাম করি ” শিবপূজা-( কুৰ্ম্মমুদ্রার মধ্যে পুষ্প লইয়া ) ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজতগিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতংসং রত্নাকল্লো…লাঙ্গং পরশু মৃগবরাভীতি হস্তং প্রসন্নং । পদ্মাসীনং সমন্তাৎ স্তত-মমরগণৈব্যাঘ্ৰকৃত্তিং বসান । বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিল ভয়হরং পঞ্চবং ত্রিনেত্রং। অর্থ-“নিত্য মহেশকে এইরূপে ধ্যান করিবে—রজত গিরির মত যাহার বর্ণ, সুন্দর শশধর যাহার মাথার ভূষণ, রত্নময় সাজে যার দেহ উজ্জ্বল, যাহার বাম হস্তদ্বয়ে টাঙ্গি ও মৃগ মুদ্রা, দক্ষিণ হস্তদ্বয়ে বর ও ভয় উভয় মুদ্রা, যিনি পদ্মাসনে প্রসন্নমূর্তিতে উপবিষ্ট, যাহার চারিধারে দেবতারা স্তব করিতেছেন, যাহার ব্যাঘ্ৰ চৰ্ম পরিধান, যিনি জগতের
২৮
প্রথম জগতের কারণ ও সমস্ত ভয় বিনাশনকারী, যাহার পাচটা বদন
ও পনেরটী নয়ন। তাহাকে ভাবনা করিবে।
(তাহার পর বাম হস্তের তলে দক্ষিণ হস্ত রাখিয়া ও পুৰ্ববং পুজ।
করবে)।
পূজা :—এষ গন্ধ ও হোং নমঃ শিবায় নমঃ।
এতৎ সচন্দন, পুষ্পং-ও হোঃ নমঃ শিবায় ।
এতৎ সচন্দন বিল্বপত্ৰং-ও হেং নমঃ শিবায় নমঃ।
এস ধুপ—ওঁ কোং নমঃ শিবায় নমঃ।
এষ দীগঃ- ওঁ হৌং নমঃ শিবায় নমঃ।
এতৎ সােপকরণ নৈবেদ্যং- ওঁ হৌং নমঃ শিবায় নমঃ।
ইদং পানার্থে গঙ্গোদকং-ওঁ হৌঃ নমঃ শিবায় নমঃ।
ইদমাচমনীয়ং ---ও হোং নমঃ শিবায় নমঃ।
এতৎ তাম্বুলং—ওঁ হৌং নমঃ শিবায় নমঃ।
“পরে”—ও হেং নমঃ শিবায় নমঃ।
দশবার জপ করিয়া বলিবে।
ওঁ গুহাদিগুহগােপ্তা ত্বং গৃহাণাস্মৎ কৃতং জপং।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেব ত্বপ্রসাদান্মহেশ্বর।
( একটু জল শিবের দক্ষিণ হস্তের উদ্দেশ্যে দিবে। পরে অঙ্গুষ্ঠ ও
তর্জনীর দ্বারা গাল বাজাইয়া বম্ বম্” শব্দ করিবে)।
প্রণাম মন্ত্র।-নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়-হে-তবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতিঃ পরমেশ্বর।
ওঁ নমস্যে ত্বাং মহাদেব, লােকানাং গুরুমীশ্বয়ং।
পূং সামপূর্ণ-কামানাং কামপূরামরপিং।
সত্যব্রত অর্থ-হে শিব তােমায় নমস্কার, মঙ্গলকর, পরমেশ্বর তুমি শান্ত সত্ত্ব, রজঃ তমঃ, তােমাকে আমার আত্মা সমৰ্পণ করিতেছি তুমিই আমার একমাত্র গতি বা উপায় । হে দেবাদিদেব মহাদেব, তুমি সকলের গুরু ও ঈশ্বর, যাদের কামনা পূর্ণ হয় না তাহাদের কামনা পূরাইতে তুমিই একমাত্র কল্পতরু স্বরূপ ; তােমাকে আমি প্রণাম করি । দুর্গা পূজা-পূৰ্ব্ববৎ কুমুদ্রায় ফুল লইয়া) ধ্যান।—সিংহ স্কন্ধাধিসংরূঢ়া নানালঙ্কার ভূষিতা। দশভূজাং মহাদেবীং মহিষাসুরমর্দিণীং। নবযৌবন সম্পন্নং কুটী কুটিলাননা। উগ্রচণ্ডা প্রচণ্ড চ চণ্ডোগ্রা চণ্ড নায়িকা ঃ চণ্ড চণ্ডবতী চৈব চণ্ডরূপাতি চণ্ডিকা। আভিঃ শক্তিভিরষ্টাভিঃ সততং পরিবেষ্টিতাং। চিন্তয়েৎ সততং দেবীং ধৰ্ম্মকামার্থ মােক্ষদাং। অর্থ—“যিনি সিংহের স্কন্ধে চড়িয়া,নানা অলঙ্কারে সজ্জিতা,দশহস্তা মহতী দেবশক্তি সম্পনা মহিষাসুর নাশিনী। যিনি নবযৌবনী ভঙ্গী দ্বারা যাহার মুখমণ্ডল অতি ভয়ঙ্কর। উগ্রচণ্ডা, প্রচণ্ডা, চণ্ডাগ্রা, চণ্ডের নায়িকা, চণ্ডা, চণ্ডাবতী, চণ্ডরূপী ও অতি চণ্ডিকা এই আট শক্তি দ্বারা যিনি সর্বদা বেষ্টিত, ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম ও মােক্ষদায়িনী দেবীকে সর্বদা এই মতে ধ্যান করিবে।” (পূৰ্ব্ববৎ পূজা করিবে। পূজা-এষ গন্ধ ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ। এতৎ সচন্দন বিলপত্র ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ। এষ সচন্দন পুষ্পং ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ। এষ ধূপ ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ। এষ দীপ ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ।
সত্যব্রত
এতৎ সােপকরণ নৈবেদ্যং ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ।
পানাৰ্থ গঙ্গোদকং ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ' ইদমাচমনীয়ং ওঁ হ্রীং
দুর্গায়ৈ নমঃ। এতৎ ভালং ওঁ হ্রীং দুর্গায়ৈ নমঃ।
এষঃ সচন্দন পুষ্পাঞ্জলি।
ওঁ আয়ূর্দেহি যশােদেহি ভাগং ভগবতী দেহিমে।
পুত্রান দেহি, ধনং দেহি, সর্বান্ কামাংশ্চ দেহিমে।
দুর্গোত্তারিনি দুর্গে ত্বং সর্বাশুভ নিবারিণি।
ধৰ্মার্থ মােক্ষদে দেবি নিত্যং মে বরদাভব ।
কালি কালি মহাকালি, কালিকে পাপ হারিণি।
ধর্মকাম প্রদে দেবি নারায়ণি নমােস্তুতে
অর্থ-“আমায় আয়ু দাও, যশ দাও সৌভাগ্য দাও, পুত্র দাও, ধন
দাও,-হে ভগবতী আমায় সকল অভীষ্ট প্রদান কর। হে সৰ্ব্ব অমঙ্গল
নাশিনী, হে বিপদ উদ্ধারিণী, ধর্ম,' অর্থ, মােক্ষদায়িণী দুর্গে, দেবী
সর্বদা আমায় বর দাও। হে কালি, হে কালি, হে মহাকালি, হে
কালিকে, হে পাপ বিমােচনকারিণী হে ধৰ্ম্ম কাম প্রদায়িণী, হে দেবি,
হে নারায়ণি তােমায় প্রণাম করি।”
প্রণাম মন্ত্র-ওঁ সৰ্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোস্তুতে।
অর্থ-হে মঙ্গলময়ী,মঙ্গলকারিণি -সৰ্বকার্যে শুভাশুভ ফলদায়িণী,
হে শরণাগত বৎসলে, ত্রিনয়ণি, গৌর বর্ণা, হে বিষ্ণুশক্তি স্বরূপিণী
তােমায় প্রণাম করি।”
আদিত্যাদি নবগ্রহের পূজা-পূৰ্ব্ববৎ অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা ফুল
লইয়া), এতৎ সচন্দন পুষ্পং ওঁ আদিত্যাদি নবগ্রহেভ্যো নমঃ।
সত্য-ব্রত পরে এতৎ সচন্দন পুষ্পং ও ইন্দ্রাদিদশদিক পালেভ্যো নমঃ ওঁ এতৎ সচন্দন পুষ্পং ওঁ সৰ্বভ্যো দেবেভ্যো নমঃ। এতৎ সচন্দন পুষ্পং ওঁ সর্বাভ্যো দেবীভে নমঃ। ( প্রণবের দ্বারা প্রাণায়াম ও অন্যাস,কন্যাস করিয়া সত্যনারায়ণের ধ্যান করিবে । পূৰ্ব্ববৎ কূৰ্ম্মমুদ্রার মধ্যে শ্বেত পুষ্প লইয়া। সত্যনারায়ণের ধ্যান। ওঁ ধ্যায়েৎ সত্যং গুণাতীতং গুণত্রয় সমন্বিতং লােকনাথং ত্রিলােকেশং কৌস্তভাভরণং হরি। পীতাম্বর শুক্লবর্ণ, শ্রীবৎস পদ ভূষিত গােবিন্দং গােকুলানন্দং ব্ৰহ্মদ্যৈরভি পূজিত। নিজের হস্তস্থিত পুষ্প মস্তকে রাখিয়া মানস পূজা করিবে। বিশেষার্ঘ্য স্থাপন। বিশেষার্ঘ্য স্থাপন মন্ত্র।-বামে ত্রিকোণ মণ্ডল করিয়া তার উপর পানি শঙ্খ রাখিয়া, বিলােম মাতৃকা উচ্চারণ করিয়া জল দিবে। ক্ষং, লং, হং, সং, যং, শং, বং, লং, রং, যং, মং, ভং, বং, ফং, পং, নং, ধং, দং, থং, তং, পং, ঢং, ভং, ঠং, টং, ঞং, ঝং, জং, ছং, চং, ঙং, ঘং, গং, খং, কং, অঃ, অং, ঔং, ওং, ঐং, এং, ঃং, ৯ং, ঋ, ঋ, উং, উং, ঈ, ইং, আং, অং। মূল মন্ত্র তিনবার বলিয়া তিনবার জল দিবে। নমঃ বলিয়া শঙ্খের অগ্রভাগে অৰ্য সাজাইয়া দিবে। এবং সেই অর্ঘ্য মূল পূজায় তুলিয়া উৎসর্গ করিতে হইবে। মঃ দশকলাব্যাপ্ত বহ্নিমণ্ডলায় নমঃ বলিয়া (পানি শখের ত্রিপদিকায়) গন্ধ পুষ্প দিবে। আং দ্বাদশ-কলাব্যাপ্ত-সূৰ্য্যমগুলায় নমঃ (বলিয়া শখে গন্ধ,পুষ্প দিবে)। উং ষােড়াশ-কলাপ্ত-চন্দ্র সত্য-ব্রত মণ্ডলায় নমঃ (বলিয়া জলে গন্ধ পুষ্প দিবে ) তারপর ত্ৰিপত্ৰ দ্বারা পানি শঙ্খের জল স্পর্শ করিয়া ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গােদাবরী সরস্বতি। নৰ্ম্মদে সিন্ধু কাবেরি জলেহস্মিন সন্নিধিং কুরু (বলিবে) অঙ্গন্যাস। -তৰ্জী মধ্যমা ও অনামিকার দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিয়া সাং হৃদয়ায় নমঃ। মধ্যমা ও তর্জনীর দ্বারা মস্তক স্পর্শ করিয়া সিং শিরসে স্বাহা। অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা শিখা স্পর্শ করিয়া সুং শিখায়ৈ বষট। দুই হস্তের দশাঙ্গুলির দ্বারা দুই বাহু ধরিয়া সৈং কবচায় হুং। মধ্যমাও অনামিকার দ্বারা যথা পর পর দুইটী চক্ষু স্পর্শ করিয়া বলিবে সৌং নেত্রাভাং বৌষট। দক্ষিণ করতলের মধ্যমা ও তর্জনীর দ্বারা বাম করতলে আঘাত করিয়া বলিবে সঃ করতল পৃষ্ঠাভ্যাং ফট। কন্যাস।—(উভয় তর্জনীর দ্বারা অঙ্গুষ্ঠদ্বয় ধরিয়া বলিবে) ওঁ সাং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ। অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা উভয় তর্জনী ধরিয়া সীং তজ্জনভ্যাং স্বাহা। ( অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা মধ্যমাদ্বয় ধরিয়া) সুং মধ্যমাভ্যাং বৌষট।( অঙ্গুষ্ঠা দ্বারা অনামিকাদ্বয় ধরিয়া বলিবে) সৈং অনামিকাভ্যাং হুং। ( অঙ্গুষ্ঠু দ্বারা কনিষ্ঠায় ধরিয়া বলিবে। সৌং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট। উভয় করতল দ্বারা উভয় করতল স্পর্শ করিয়া দক্ষিণ হস্তের তর্জনী ও মধ্যম দ্বারা বাম কবুতলে আঘাত করিয়া বলিবে) সঃ অস্ত্রায় ফট। পীঠাৰ্চ্চনা। পূৰ্ব্ববৎ পুষ্প লইয়া ) বাম ‘হস্তের তলে দক্ষিণ হস্ত রাখিয়া এতে গন্ধ পুষ্পে ওঁ আধার শক্তয়ে নমঃ। এতে গন্ধ এতে গন্ধ পুষ্পে ওঁ কমঠায় নমঃ। এতে গন্ধ পুপে ওঁ জ্ঞানায় নমঃ। এতে গন্ধ পুষ্পে ওঁ কূৰ্মায় নমঃ। এতে গন্ধ পুষ্পে ওঁ ক্ষীর-সমুদ্রায় নমঃ। এতে গন্ধ পুষ্পে 4
সত্য-ব্রত
ও রত্নদ্বীপায় নমঃ। এতে গন্ধ পুষ্পে
ওঁ দেবতাভ্যো নমঃ। এতে গন্ধ পুষ্পে
ওঁ কল্পনায় নমঃ। এতে গন্ধ পুষ্পে
ওঁ মণি মণ্ডলীয় নমঃ।
(১৯ পৃষ্ঠায় ভূপসারণে নারাচ মুদ্রার ছবি বাদ
পড়ি যাওয়ায় এইখানে দেওয়া হইল, পূজাকালীন
দেখিয়া লইবেন।)
নারাচ মুদ্রা।
আবহন মন্ত্র।-আবাহনী মুদ্রার দ্বারা
(দুই হস্ত চিৎ করিয়া দুই অঙ্গুষ্ঠ শিরো-
ভাগে অনামিকার
মূল
পৰ্ব্বে মিলাইয়া)
“ওঁ শ্রীভগবৎ সত্যনারায়ণ দেব
ইহগচ্ছ ইহাগচ্ছ।”
আবাহন মুদ্রা।
সন্নিধাপনী মুদ্রার দ্বারা (দুই হস্ত একসঙ্গে
উপুড় করিয়া অঙ্গুষ্ঠদ্বয় উচু করিবে)।
“ইহ তিষ্ঠ ইহ তি”
নন্নিধাপণী মুদ্রা।
সত্য ব্রত,
তারপর সম্মুখী করণ মুদ্রার দ্বারা দুই
হাত মুঠা করিয়া একসঙ্গে চিত করিয়া
ধরিবে ।
“ইহ সন্নিধেহি।”
সম্মুখীকরণ মুদ্রা
তারপর সংবােধিনী মুদ্রার দ্বারা (দুই হাত
মুঠা করিয়া অঙ্গুষ্ঠদ্বয় তাহার মধ্যে প্রবেশ
করাইয়া দিবে।)
“ইহ সন্নিরুধ্যস্ব।”
সংবােধিনী মুদ্রা
তারপর স্থাপনা মুদ্রার দ্বারা (আবাহন মুদ্রাকে নীচু মুখে
ধরিলে স্থাপনীয় মুদ্রা হয়। (সেই মুদ্রা দেখাইয়া বলিবে)
অত্রাধিষ্ঠানং কুরু, মম পূজাং গৃহান, স্থাং স্থীং স্থিলােভব।
আগচ্ছ ভগবনদেব সৰ্ব্বকাম ফলপ্রদ। মৎ পূজন সুসিদ্ধার্থ
সন্নিধ্যমিহকল্পয়।
( শালগ্রাম শিলায় আবাহন নাই)।
অর্থ-“এই ঘটে অধিষ্ঠান করুন এবং আমার পূজা গ্রহণ করুন।
আপনি এখানে স্থির ভাবে অবস্থান করুন। হে দীপ্তিশালী ভগবান্ ।
O
সৰ্বাভীষ্ট প্রদানকারি আমার পূজা সুসিদ্ধির জন্য এখানে আগমন করুন।” পুনরায় ধ্যান করিয়া হস্তস্থিত পুষ্প দেবতার পাদপদ্মে প্রদান করিবে। পরে উপচার দান কাৰ্য্য করিবে। কুৰ্ম্ম-মুদ্রায় পুষ্প লইয়া – ধ্যান ও ধ্যায়েৎ সত্যং গুণাতীতং গুণত্রয় সমন্বিত লােকনাথং ত্রিলােকেশং কৌস্তভাভরণং হরি। পীতাম্বরং শুক্লবর্ণ,শ্রীবৎস পদ ভূষিতম। গােবিন্দ গােকুলানন্দং ব্ৰহ্মদৈরভি পূজিতম। কুৰ্ম্ম মুদ্রা। উপচার দানকাৰ্য প্রত্যেকটি আলাদা বামহাতে উপুড় ভাবে ধরিয়া) ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এতস্মৈ রজতাসনায়ৈ নমঃ। (বলিয়া তিনবার ফুল দিবে, ) তারপর—এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ এত- দধিপতয়ে দেবায় বিষ্ণবে নমঃ। এতৎ সম্প্রদায় ও সাং সত্যনারায়ণায় নমঃ। ( এইভাবে সমস্ত উপচার দ্রব্য অৰ্চনা করিয়া দান করিবে। পরে হাত জোড় করিয়া) ও সত্যনারায়ণ দেব স্বাগতং ও সুস্বাগত ( তারপর একটু জল) এতৎ পাদ্যং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। (পূৰ্ব স্থাপিত বিশেষার্ঘ্যের অর্থ লইয়া) ও ইদং অর্ঘ্য ও সাং শ্রীলভ্যনারায়ণায় নমঃ। (তারপর একটু জল দিবে ।
সত্য-ব্রত ইদং আচমনীয়ং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। এষ মধুপর্ক ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। ইদং আচমনীয়ং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। ইদং স্নানীয় গঙ্গোদকং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। ইদং পুনরাচমনীয়ং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। এতৎ বস্ত্রং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। এতৎ পাদ্যং ও শসত্যনারায়ণীয় নমঃ। এতৎ রজতাভরণং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। এষ গন্ধ ওঁ শ্ৰসত্যনারায়ণায় নমঃ। এতৎ সচন্দন পুষ্পং ও শ্রীসত্য- নারায়ণায় নমঃ। এতৎ সচন্দন তুলসী পত্রং ও শ্রীসত্য- নারায়ণায় নমঃ। অর্ঘ্য মন্ত্র।— ব্যক্তাব্যক্তস্বরূপায় হৃষীকেশপতয়ে নমঃ। ময়া নিবেদিতং ভক্ত্যা অর্ঘ্যমেতৎ প্রতিগৃহতাম। ভাবার্থব্যক্তাব্যক্ত স্বরূপ ইন্দ্রিয়ের পতি নারায়ণকে ভক্তি সহকারে অর্ঘ্য নিবেদন করিতেছি, তুমি আমার দত্ত অর্ঘ্য গ্রহণ কর। এষ ধূপং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। এষ দীপং ও সত্যনারায়ণায় নমঃ। এতৎ সােপকরণ আমান্ন নৈবেদ্যং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। বা ঘৃতপক্কং হবিষ্যান্ন পায়সং বা শর্কর নানাবিধঞ্চ নৈবেদ্যং বিফোমে প্রতিগৃহ্যতাম্। ইদং পানাথ গঙ্গোদকং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। আচমনার্থ গঙ্গোদকং ও সত্যনারায়ণায় নমঃ। এতৎ তাম্বুলং ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। ইদং পুনরাচমনার্থ গঙ্গোদকং ও শ্রীসৃত্যনারায়ণায় নমঃ।
সত্য-ব্রত
পুস্পাঞ্জলি।
যন্ময়া ভক্তিযােগেন পত্রং পুষ্পং ফং জল।
নিবেদিতঞ্চ নৈবেদ্যং তদগৃহানা কম্পয়া।
তদ্বীয়ং বস্তু গােবিন্দভ্যমেব সমর্পয়েৎ।
গৃহাণ সুমুখাে ভূত্ব প্রদীদ পুরুষােত্তম।
মন্ত্রহীনং ক্রিয়াহীনং ভক্তিহীনং জনার্দনং।
যৎ পূজিতং মহাদেব পরিপূর্ণং তদন্তুমে।
অমােঘং পুণ্ডরীকাক্ষং, নৃসিংহ দৈত্যসূদন।
হৃষীকেশং জগন্নাথং বাগীশং বরদায়কম্ ॥
সগুনঞ্চ গুণাতীতং গােবিন্দং জানকী বল্লভং হরি।
প্রণমামি সদাভক্তা নারায়ণ মতং পরম।
দুর্গমে বিষমে ঘোরে শত্ৰুণা পরিপীড়িতে।
নিস্তারয় সর্বেষু তথানিষ্ট ভয়েষু চ।
নামাণেতানি সংকীৰ্ত্ত ঈপ্সিতং ফলমায়াৎ।
সত্যনারায়ণং দেবং বন্দেহহং কামদং ফল।
লীলয়া বিততং বিশ্বং যেন তস্মৈ নমাে নমঃ।
পরে (ও শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ। মন্ত্র যথাশক্তি জপ করিবে।
( পরে) ও গুহ্যাতি গুগােপ্তাত্বং গৃহানাস্মৎ কৃতং জপং।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেব,'তৎপ্রসাদাৎ জনার্দন।
এই মন্ত্রে জপ সমাপন করিয়া প্রণাম করিবে।
প্রণাম মন্ত্র। নমো ব্ৰহ্মণ্য দেবায় গাে ব্রাহ্মণ হিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ।
সত্য-ব্রত
অর্থ—যিনি বেদের অধিপতি, গাে ব্রাহ্মণদিগের ও জগতের
হিতকারী, সেই গােবিন্দ কৃষ্ণকে বার বার প্রণাম করি ।
আরতি কোশার বাম দিকে ত্রিকোণ মণ্ডল করিয়া পঞ্চ
প্রদীপাদি ৰাখিয়া—ওঁ এতস্মৈ আরত্রিক দীপায় নমঃ। বলিয়া
তিনবার জলের ছিটা দিয়া মূল মন্ত্র ও সাং সত্যনারায়ণায় নমঃ
দশ বার জপ করিবে।
দক্ষিণ পা আসন প্রান্তে ও বাম পা ভূমিতে রাখিয়া চারবার চরণে,
দুইবার নাভিতে, তিনবার মুখে ও সাতবার সর্বাঙ্গে ঘুরাইয়া আরতি
করিবে। প্রথম দীপের দ্বারা। দ্বিতীয় শঙ্খস্থ জলের, তৃতীয় শুরু
বন্ত্রের দ্বারা আরতি করিবে।
6,
শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ ব্রত-মাহাত্ম।
দ্বিতীয় ভাগ।
সূচনা।—ওঁ নমঃ নারায়ণায় নমঃ।
ও নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরােত্তমং।
দেবীং সরস্বতীঞ্চৈব ততােজয়মুদীরয়েৎ।
অর্থ :-নারায়ণ, নরােত্তম নর, এবং দেবী সরস্বতীকে প্রণাম
করিয়া জয় উচ্চারণ করিবে।
“কর জোড়ে করি নতি বন্দি আগে গণপতি
বিঘ্ন নাশ শিবের নন্দন।
জবাপুষ্প জিনি ছবি
বন্দিবে দ্বিতীয়ে ববি
এক চক্র রথে আরােহন ৷
গরুড়েতে অধিষ্ঠান
তৃতীয়েতে নারায়ণ
শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী।
চতুর্থে বন্দিবে হর
ভস্ম ভূষা দিগম্বর
ভালে চন্দ্র শিরে সুরেশ্বরী।
পঞ্চমে পূজিবে মাতা মুক্তিদাতা গিরীসুতা
মহামায়া মহিষমর্দিনী।
স্কল লক্ষ্মী সরস্বতী
তার সঙ্গে গণপতি
দশভুজা কেশরীবাহিন
সত্য-ব্রত 30 পূজি সবে প্রেমানন্দে স্মরিয়া চরণ বৃন্দে ভাব মনে গােলক বিহারী। বন্দি যত দেব পদে ভাস সবে প্রেমনদে উচ্চৈঃস্বরে বল হরি হরি। যুগে যুগে অবতরি অবনীর ভার হরি মৎস্য কুৰ্ম্ম বরাহ বামনে। বলরাম, নরহরি, চরণ বন্দনা করি, জামদগ্নি ক্ষত্রিয় নিধনে । বন্দ দুৰ্বাদল শ্যাম, সীতার সহিত রাম, শিরে ছত্র ধরেন লক্ষ্মণ। যার কীর্তি সেতু বন্ধ বিনাশিতে দশস্কন্ধ বুদ্ধ কল্কি করিয়া বন্দন। ভজ কৃষ্ণ অবতার, পূর্ণ ব্ৰহ্ম পরাৎপর, বৃন্দাবন বিপিনবিহারী। যদুবংশ অবতংশ কংস দৈত্যে করিধ্বংস অংশরূপে এলে ধরাপরি । পূজ সত্যনারায়ণ দীন দুংখ বিমােন কলিকালে দয়া অবতার। যতেক পাতকিগণে, রক্ষিবারে নিজগুণে তব মায়া করিলে বিস্তার । নাহি যাগ যােগ তপ, ভূতশুদ্ধি ন্যাস জপ, নাহি পুরশ্চরণ বিধান। ভুবনে বিদিত যশ, কেবল ভক্তির বশ, ভকত-বৎসল ভগবান॥
৪১
সত্যব্রত
b
~
ত্যজি সে গােলক-ধাম,
সত্য-নারায়ণ নাম,
ধরিলা পাতকী তরাইতে।
দেখি দীন হীন জনে-
রাখ প্রভু ও চরণে
কেবা পারে মহিমা কহিতে ।
তুমি হরি দীনবন্ধু
কর পার ভবসিন্ধু
কর দেব দুঃখ বিমােচন।
স্মরণে তােমার নাম
লভে চতুঃবর্গ কাম
তুমি হও জীবের জীবন ।
তব পদে যার ভক্তি
সেইজন লভে মুক্তি
মুক্তি দাতা তুমি ভুমণ্ডলে।
সেবি চরণার বৃন্দ
গাঁথিনু এভাবে ছন্দ
গুণ কথা শুন কুতূহলে।
শুদ্ধ চিতে সর্বজনে
শুন আজি একমনে
সত্য পূজা হইল যেমতে।
তরিবারে পাপ ভার
সত্যদেব অবতার
হন হরি কলির আদিতে।
কথার
( প্রথম স্তবক )
পবিত্র ভারত ক্ষেত্রে নৈমিষ কাননে।
সৰ্ব্ব লােক হিতে রত যত মুনিগণে।
একত্র মিলিত হয়ে করেন ভাবনা।
শান্ত হবে কি উপায়ে কলির তাড়না।
হেন কালে ব্যাস শিষ্য সুত তপােধন।
শিষ্য সনে তথা আসি দেন দরশন।
শৌনকাদি ঋষি সবে, উঠিয়া সত্বরে।
বসালেন মৃত দেবে, পরম আদরে।
কুশল জিজ্ঞাসা করি, পাছ অর্ঘ্য দিয়ে।
বলেন শৌনক সুতে কৃতাঞ্জলি হয়ে
“কহ শুনি পুরানজ্ঞ কি উপায় বলে।
তরিবে মানবচয়, ঘাের কলিকালে ।
কলির প্রভাবে দেব, যত নরগণ।
বেদ বিদ্যা ছাড়ি সবে, পাপেতে মগন ।
অল্পায়াসে শক্তিহীন, অনুগত প্রাণ
কিরূপে করিবে নর ধৰ্ম্ম উপার্জন ?
সত্যব্রত
ইষ্ট বস্তু লাভ হেতু কি হবে উপায় ?
প্রকাশ করিয়া সব, বল মহাশয়
ভূত ভবিষ্যত তুমি, জান যােগবলে।
তােমা সম শাস্ত্র বেত্তা নাহি ভূমণ্ডলে।
শৌনকের শুনি বাণী ধন্যবাদ দিয়ে।
কহিতে লাগিল সুত আনন্দিত হয়ে।
“একদা নারদ ঋষি, ভ্রমি নানাদেশ।
উপনীত মর্ত্যলােকে হন অবশেষ।
সহচরগণ সহ পাপ মুর্তিমান।
দেখেন মানব গৃহে, করে অবস্থান।
শশাকের ভীষণ জালা, উঠিতে বসিতে।
উপভােগ করে সবে অবসন্ন চিতে।
মানবের দুঃখ দেখি হইয়া কাতর।
কেশবে জানাতে দুঃখ যান মুনিবর ।
দেখেন বৈকুণ্ঠ ধামে, অপূর্ব দর্শন।
শুক্লবর্ণ চতুভূজ দেব নারায়ণ ।
শঙ্খ চক্রধারী, বনমালা বিভূষিত।
বদনে মধুর হাসি, শ্রীবৎস লাঞ্ছিত ।
প্রেমে পুলকিত মুনি, হেরি মুরহর।
ভক্তি ভরে করে স্তব হয়ে যােড় কর।
“নমাে নমাে জনার্দন পুরুষ প্রধান।
মন বাক্যাতীত সৰ্ব্বভূতের নিদান ।
সত্যব্রত
৪৪
সকলের আদি ভূত, তুমি দয়াময়।
তােমার স্মরণে হরি ! ঘােচে ভবভয়।”
“স্তবে তুষ্ট মিষ্ট ভাষে কন শ্রীনিবাস।
কি হেতু আগত মুনে ! বৈকুণ্ঠ নিবাস ?
কিবা তব মন, আশা বল পুরাইব।
জ্ঞাতব্য যা কিছু থাকে, সব বুঝাইব।”
“শুনিয়া নারদ মুনি কহেন হরিরে।
মর্ত্য লােকে গিয়াছিনু ভ্ৰমিবার তরে।
দেখিনু তথায় প্রভু! যত নরগণ।
দগ্ধ সবে শােকানলে, পাপেতে মগন ।
শরীরে নাহিক বল, মানস চঞ্চল।
কেমনে পাইবে তারা নিদান সম্বল ?
কঠিন আয়াসসাধ্য যােগাভ্যাসে মতি।
কখন নরের দেব হবে না শকতি ।
যদি থাকে হৃষীকেশ, সহজ উপায়।
যাহাতে মানবগণ নিরাপদ হয় ;
কৃপা করি কহ তাহা, কমল লােচন।
জীবের মঙ্গল হেতু ভুবন-মােহন ॥”
শুনিয়া নারদ বাক্য দেব চক্রধর।
সাধু বাদ দিয়া তারে করেন উত্তর।
“ত্রিদিব পৃথিবী মাঝে অমূল্য রতন।
আছে এক মহাব্রত, শুন তপােধন।
৪৫
সত্য-ব্রত
সত্যনারায়ণ ব্রত, নাম তার ঋষি।
অনুষ্ঠানে নর তায়, হয় স্বর্গবাসী।
মনােবাঞ্ছা পূর্ণ হয়, সে ব্ৰত করিলে।
ধন ধান্য বৃদ্ধি পায়, সদা অবহেলে ।
মনোেযােগ দিয়া শুন, ব্রত বিবরণ।
নিশা মুখে জগন্নাথে, করিবে অৰ্চন।
সুপাদ মিষ্টান্ন সহ, নিবেদিবে পরে।
রম্ভা, দুগ্ধ, আটা, গুড়, একত্রিত করে ।
অতঃপর মিলি সবে, যত বন্ধুগণ।
ভক্তি ভাবে করিবে, মাহাত্ম্য শ্রবণ ।
সত্য দেব পূজা ফলে, বাঞ্ছা সিদ্ধ হয়।
বিশেষতঃ কলি যুগে, নাহি অন্যোপায় ।
ব্রতের মাহাত্ম্য-কথা, শুন দিয়া মন।
“কাশীপুর গ্রামে এক, ছিল হে ব্রাহ্মণ ॥
ব্রাহ্মণ দরিদ্র অতি, পেটের জ্বালায়।
করিত বিষন্ন মনে, ভিক্ষা ব্যবসায়।
দৈব যােগে একদিন, ভিক্ষা না মিলিল।
ক্ষুধায় তৃষ্ণায় দ্বিজ, আকুল হইল ।
বৃক্ষতলে বসিলেন, বিরস বদনে।
কতক্ষণ কঁদিলেন, দুঃখ অভিমানে।
ব্রাহ্মণের দুঃখ দেখি, দেব নারায়ণ।
বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের রূপে, দেন দরশন।
মধুর বচনে হরি, কন দ্বিজবরে।
“কি হেতু আকুল বিপ্ন দেখিহে তােমারে?
কেন বা ভ্ৰমিছ মহী, সদা ক্ষুন্ন মনে?
বিবরিয়া মন দুঃখ কত মম স্থানে ?”
দ্বিজ বলে, “কি হইবে, কহিলে তােমায়?”
ব্রাহ্মণ বলেন “দ্বিজ হানি কিবা তায়?”
দ্বিজ বলেন “নিত্য ভিক্ষা মাগিয়া খাই।
আজি না পাইয়া ভিক্ষা, দুঃখ ভাবি তাই।
উপায় যদ্যপি থাকে, বল মহাশয়
কঠোর দারিদ্র্য দুঃখ, কিসে হয় লয়?”
“বৃদ্ধ বলে কর পূজা, আমার ব্রাহ্মণ।
দারিদ্র ঘুচিৰে তব, পাবে বহু ধন।”
“দ্বিজ বলে, নিত্য পূজি, শিলা নারায়ণ।
তাহা ভিন্ন না করিব অন্য আচরণ ॥”
ব্রাহ্মণ কহেন হাসি, শুন দ্বিজবর,
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, কালী, তারা জেনাে একেশ্বর।
পুরাণ, কোরাণ জানিও দুই এক হয়।
ত্রিভুবনে নাহি দুই, জানিবে নিশ্চয়।
বলিতে বলিতে কথা, অখিলের নাথ,
শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, হইল চারি হাত।
কিরীট মুকুট মাথে, শিখি-পুচ্ছ'চুড়ে।
মকরন্দ লােভে কত, মধুকর উড়ে।
33
সত্যব্রত
অলকা তিলকা ভালে, শােভে শশিকলা।
মকরকুণ্ডল কর্ণে, গলে বনমালা,
নিনি ইন্দীবর মরি, নয়ন জ্বধ;
কোটী চন্দ্র ছটা কিবা, নব ঘন তনু।
কল-ধৌত
মুকুতা,
খচিত মরকতে।
অঙ্গের ভূষণ শশা, করে নানা মতে।
মঞ্জির রঞ্জিত পদে কলরব করে।
নখর নিকর নিন্দা, করে হিম করে।
দ্বিজের ভাগ্যের কথা,না যায় কথন।
দেখি হেন অচেতনে, পড়িল তখন।
পদ রজঃ দিয়া দ্বিজে, করিয়া চেতন।
পূৰ্বরূপ পুনঃ হরি ধরিল তখন।
চেতন পাইয়া দ্বিজ, করিল ভজন।
গদ গদ ভাষে প্রেমে, করিছে স্তবন ।
“মৎস্যং কূৰ্ম্মং বরাহঞ্চ, বামনঞ্চ জনার্দন।
গােবিন্দং পুণ্ডরীকাক্ষং মাধবং সত্যনারায়ণং ।
পদ্মনাভং সহস্রাক্ষং, বনমালি হলায়ুধম।
গগাবর্দ্ধনং হৃষীকেশং বৈকুণ্ঠং পুরুষােত্তমম্।
বিশ্বরূপং, বাসুদেবং, রামং নারায়ণং হরিম।
দামােদরং শ্রীধরঞ্চ, বেদাঙ্গ, গরুড়ধ্বজ,
সত্য-ব্রত,
৪৮
কেশবং কমলাকান্তং কামেশং কৌস্তভ প্রিয়ম।
কৌমােদকীধরং কৃষ্ণং ত্বং হি কোরবান্তকম্।
চতুভুজং চিদানন্দং মল্ল চার মর্দনং।
চরাচর গতং দেবং ত্বং হি চক্ৰ-পানিনম।
গর্ভবাসে মহদ্দ খং, ত্রাহিমাং মধুসুদন।
তেন দেব প্রপন্নোহস্মি, ত্রানার্থ ত্বৎ পরায়ণ।
ন গতিবিদ্যতে নাথ, ত্বম্বেব শরণ মম।
পাপ-পঙ্কে, নিমগ্নাহস্মি, ত্রাহিমাং জনার্দন।
স্তব শেষে দ্বিজ, গল লগ্নী কৃতবাসে।
করযােড়ে কহে, অতি সকরুণ ভাষে ।
“বল দেব, বল প্রভু, পূজিব তােমায়,
কিরূপে পূজিব কহ, ধরি তব পায় ॥”
বলিলেন বুদ্ধ, শুন, শুন দ্বিজবর।
যেরূপে করিবে পূজা সভার ভিতর ।
গাে-ধূম চুর্ণাদি চাই, সওয়া সের পড়া।
সওয়া গণ্ডা গুবাক পান, রম্ভা সওয়া ছড়া।
সওয়া সের চিনি কিম্বা, খাড় গুড় দিবে।
ক্ষীর কিম্বা দুগ্ধ দিয়া ভক্তিতে পূজিবে।
এই সব সামগ্রী করি আয়ােজন।
চতুর্দিকে বসিবেক, যত ভক্তজন ।
3
সত্য-ব্রত
যতনে পূজিবে তথা, শাস্ত্র বিধিমতে
সত্যপীর বলি সবে হাত দিবে মাথে।
নারায়ণ বলিয়া প্রণিপাত করিবে;
পরে হয়ে ভক্তিযুত প্রসাদ লইবে ।
বিধিমতে ব্রাহ্মণেরে, দিয়া উপদেশ
তথা হইতে অন্তঃহিত, হন হৃষীকেশ।
অতঃপর মনে মনে করেন ব্রাহ্মণ।
কল্যই করিব পূজা সত্য-নারায়ণ
এতেক ভাবিয়া গৃহে, গেল দ্বিজবৰ।
নিদ্রা না হইল রাতে, চিন্তায় কাতর ।
প্রাতঃকালে, শয্যা হতে, করি গাত্রোখান।
সঙ্কল্প করিয়া ব্রতে, ভিক্ষা হেতু যান।
বহু অর্থ সেইদিন, ভিক্ষাতে মিলিল।
গৃহে আসি দ্বিজবর ব্রত আচরিল ।
নারায়ণ ব্রত ফলে, দীন বিবর।
নানা রত্নে ধনেশ্বর, হন অতঃপর ।
প্রতি মাসে পুজা করি সত্যনারায়ণ।
চরমে পরম পদ, পাইল ব্রাহ্মণ ।
ঘরে ঘরে নরে যদি, এই ব্রত করে।
হইবে সকলে সুখী, দুঃখ যাবে দূরে।
এত বৰ্বি নিরবিল শ্রীমধুসূদন।
করিল নারদ মুনি স্বস্থানে গমন।
৪
'সত-ৰত
ইতি স্কন্দ পুরাণােক্ত সত্যনারায়ণ বিপ্র সংবাদো 'নাম
প্রথম স্বর্গ সমাপ্তং ও তৎসৎ, ও তৎসৎ ও তৎসৎ ও। ও
যদক্ষরং পরিভ্রষ্ট মাত্রাহীনঞ্চ যদ্ভবেৎ পূর্ণং ভবতু তৎ সং
তৎ প্রাসাদাৎ জনার্দনং।
(দ্বিতীয় স্তবক)
শৌনক কহিল শুতে, জোড় করি কর।
কহ মুনি বিবরিয়া, কহ অতঃপর,
কি উপায়ে বিদ্ধ হতে ব্রতের প্রচার,
হইল ধরণী ধামে, কহ সবিস্তার?
এত শুনি সুত কন, শোনকে সম্ভাষি।
একদিন বিপ্রবর, বন্ধু সহ মিশি।
করেন অর্চনা অতি, পবিত্র অন্তরে।
সত্য-নারায়ণে নিজ, ভবন ভিতরে ॥
হেনকালে তথা এক কাষ্ঠ কেতু আসি।
ব্রাহ্মণ গােচরে যায় হইয়া পিপাসী ।
বিপ্র কৃত ব্ৰত হেরি, কাঠুরিয়া কয়।
কি ফল এ ব্ৰত কোরে, বল মহাশয় ?
।
বিপ্র কন ব্ৰত নাম, সত্য-নারায়ণ
ধন ধান্য বৃদ্ধি করে, শশাকাদি দমন ।
প্রসাদ পাইয়া প্ররে জলপান করি।
ফিরিলেক কাঠুরিয়া আপন নগরী ॥
মনে ভাবে কাষ্ঠ বেচি, যাহা কিছু পাব।
তাহাতে কিনিয়া দ্রব্য, ব্ৰত আচৰিব ।
এইরূপ চিন্তা করি, বাজারে যাইল।
সেইদিন কাষ্ঠ মূল্য দ্বিগুণ হইল।
কাষ্ঠ
মূল্যে
করি
তবে, ব্ৰত আয়ােজন।
নিমন্ত্রণ করি আনে বিপ্র বন্ধুগণ।
আনন্দেতে কাঠুরিয়া সত্যব্রত করি।
নানা সুখ ভুঞ্জি পরে গেল সত্যপুরী।
ইতি শ্ৰীস্কন্দ পুরাণে বিপ্র-কাষ্ঠ কেতু সংবাদে দ্বিতীয় স্বর্গং
সমাপ্তং । ও তৎসৎ ও, সৎ ও,ভৎসৎ ও যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং
মাত্রাহীনঞ্চ যদভবেৎ পূর্ণং ভবতু তৎ সর্বং তৎ প্রাসাদাৎ
জনার্দনং।
সত্য-নারায়ণ ব্রত, মাহাত্ম্য বিস্তর।
শুন আর এক ইতিহাস, কহি মুনিবর ।
(তৃতীয় স্তবক)
সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয়,
সকল প্রকৃতি প্রিয়,
ছিল রাজা উল্কামুখ নাম।
ধার্মিকের চুড়ামণি,
প্রতিদিন নৃপমণি,
ধন দানে তােষেন ব্রাহ্মণ
ভাৰ্য্যা তার মনােরমা,
সর্তী সুধাংশু বদনা,
স্মিত-মুখী হরিণ-নয়ণী।
সত্যব্রত ও মালতী মালা ভূষিতা, সুশীল সুগুণ যুতা, মৃগরাজ কটী হেমাঙ্গিণী । একদিন সিন্ধুতীরে, লয়ে নৃপ মহিষীরে, সত্য-নারায়ণ ব্রত করে। হেনকালে সেই স্থানে, সাধু এক হৃষ্ট মনে তরী লয়ে উত্তরিল তীরে। রাজ অনুষ্ঠান হেরে, সাধু কহে যুক্ত করে, কিবা ব্রত কর নরপতি। কি ফল এ ব্ৰত কোরে, প্রকাশ করিয়া মাের, বল প্রভু করি হে মিনতি। রাজা বলে সাধু শুন, আমি অতি অভাজন, পুত্রহীন বদ্ধ পিতৃ ঋণে। সুপুত্র পাবার আশে, জলাঞ্জলি দিয়া বাসে, পুজা করি সত্য-নারায়ণে। ইহা শুনি সদাগর কহিলেক অতঃপর পুত্রহীন আমিও নৃপতি। যদি মাের হয় সুত, করিব এ সুত ব্ৰত, আরাধিব যতনে শ্ৰপতি।” এরূপ মানস করি, বণিক লইয়া তরী, বাণিজ্য করিয়া দেশে গেল। যাইয়া পত্নীর পাশে, কহিল মধুর সুত প্রদ সত্যব্রত ফল ॥ যদি দয়া করি বিধি দেন মােরে পুত্র নিধি শুন প্রিয়ে মানস আমার। । ভাষে, M আনি দ্রব্য বিধিমত, সত্যনারায়ণ ব্রত, আচরি জেনাে মনে সার। সাধু জায়া লীলাবতী, ক্রমে হ’ল গর্ভবতী, শুভক্ষণে কন্যা প্রসবিল। রূপে যেন চন্দ্র কলা, সুরূপা বণিক বালা, মাতৃ ক্রোড়ে বাড়িতে লাগিল। কন্যা হেরি সাধু সুখে, কলাবতী” নাম রাখে, জাত কৰ্ম্ম করি সমাপন। লীলাবতী বলে কান্ত, কেন এবে হও ভ্রান্ত, পূজ দেব সত্যনারায়ণ। সাধু বলে ওন প্রিয়ে, ব্যস্ত এত কি লাগিয়ে, মনে আছে সকলি আমার। কন্যার বিবাহকালে, সমারােহে কুতুহলে, পালিব শতেক অঙ্গীকার। ক্রমে বণিক সুতা, যৌবনে হল শােভিভা, হেরি সাধু চিন্তায় কাতর। পাত্ৰ হেতু নানা স্থানে, মন্ত্রণা করিয়া অতঃপর ॥ নানা স্থানে দূতগণ, করি বহু অন্বেষণ, উপনীত কাঞ্চন নগর। Cথা হতে মনােমত পাত্র এক গুণ যুক্ত লয়ে আসে সাধুর গােছর হেরি জামাতা সুন্দর পুলকিত সদাগর, পুরােহিত বন্ধু সহ মিলে। পাঠাইল দূতগণে সত্যব্রত, ৫৪ ক সম্প্রদনি করে কন্যা, দেখ দৈব বিড়ম্বনা, পূৰ্ব অঙ্গীকার রহে ভুলে । সাধু কিছু দিন পরে, জামারে সাথে করে, গৃহ হতে হয়ে বহির্গত। উপার্জিতে ধন রত্ন, করিয়া বিশেষ যত্ন, সাথে নিলা লােক জন কত ॥ সাজাইয়া সপ্ত তরি, নানাবিধ দ্রব্যে ভরি, সাধু ধনের সুখে যায়। প্রিয় জামাতা সংহতি, চলে বাহি ভাগীরথী, কত নদ নদী সিন্ধু বায় । আসিয়া বন্দরে পরে, সাধু যায় ত্বরা করে, ভেটিবারে যথা নৃপমণি। ধন রত্ন ভেট দিয়া, জামারে সাথে নিয়া, মুখে তথা করে বেচা কিনি বড় হীরালাল চুণী, কত চন্দ্রকান্ত মণি, আর প্রবাল পরশ শিলা । রজত কাঞ্চন রাশ, চামর চন্দন বাস, শুভ্র শঙ্খ শুক্তি মুক্তামালা। এইরূপ লয়ে সুখে ভুলি যত আছে দুঃখে, ধনেশ্বর সাধু হৃষ্ট মনে। হেথা রাজার মন্দিরে, রাত্রে চোরে চুরি করে, সেই দ্রব্য দৈবে সাধূ কিনে। প্রাতে উঠি মহীপাল, কহে ডাকিয়া কোটাল, “আপন কুশল যদি চাও।
সত্যব্রত কাল রজনী সময়, মম দ্রব্য চোরে লয়, • সেই চোরে ধৰি আনি দাও।” শুনি রাজার আদেশে, সবে ফিরয়ে তল্লাসে, হেনকালে প্রভূ সত্যদেব। আসি ভিক্ষুকের ছলে, তবে কহেন কোটালে, সাধুরে ধরিলে পাবে সব। এই ব্যাটা হয় চোর, নহে কভু সদাগর, শুনিয়া কোটাল লম্ফে ধায়। রাজ কণ্ঠ হার ঝােলে, সাধু জামাতার গলে, কাছে আসি দেখিবারে পায় । লয়ে তরণীর দড়, করি তারে পিছ মােড়া, সুখে বান্ধে দুই সদাগরে। হেথা জিনিষ সহিতে, দুয়ে মারিতে মারিতে, আনে বেঁধে রাজার গােচরে + হেন কথা শুনি লােকে, ছুটে আসিয়া পলকে, বলে, মাররে চাবুক ছড়ি। নাহিক বিচার তার সবে করে, মার মার, তার হানিছে মাথায় বাড়ি। বান্ধি সবে দৃঢ় করে, সাধু সহ জামারে, দিল এনে নৃপের গােচর। • রাজা দুর্গ কারাগারে, বন্দি করিল দোহারে, সত্যাসত্য না করি বিচার। সদাগর রতু যত, নৃপ করি আত্মসাৎ, রাজ কোষ করিল পুরণ।
সত্যব্রত না শুনিল নৃপবর, নিবেদন সকাতর, করিল অশেষ নিৰ্যাতন। হেথা দেশে রজনীতে, মিলি যত তস্করেতে, প্রবেশিয়া সাধুর ভবন। ধন রত্ন অগনণ, চুরি করি হৃষ্ট মন নির্বিবাদে কৈল পলায়ন সাধু পত্নী “লীলাবতী” ক্ৰমে দুঃখ পায় সতী, শােকানলে সদা জর জ্বর। আধি ব্যাধি সমাযুতা, ক্ষুধা পিপাসা পীড়িত, অন্ন হেতু ফিরে ঘরে ঘর। একদা বণিক বালা, ক্ষুধায় হয়ে চঞ্চলা, বিপ্রালয়ে যায় সন্ধ্যাকালে। দেখে ব্রাহ্মণ মণ্ডলী, একত্রে সকলে মিলি, সত্যদেবে পূজে কুঁতুহলে। “কলাবতী” বসি তথা শুনিয়া ব্রতের কথা, বর মাগি প্রসাদ লইল। গৃহে এলে অতঃপর, মাতা করে তিরস্কার, রজনীতে কোথা ছিলে বল । কন্যা বলে বিগণ, পূজে সত্যনারায়ণ, তাই গিয়াছিনু দেখিবারে। শুনিয়া কন্যার কথা, মনে পড়ে পূর্বকথা, “লীলাবতী” সত্যব্রত করে ৷ শঙ্খ-চক্র-গদাধর, নীল কলেবর, পীত পট্টাম্বর ধারী। অঙ্গ চন চর্চিত, কুণ্ডল মণ্ডিত, কৌস্তভ, শশাভিত হরি।
৫৭ সতব্রত 'নমঃ বিশ্ব বিমােহ, মানস-মােহন, পাপ তাপ শােক হারী। জয়, ভক্ত জনাশ্রম, দীন দয়াময়, অন্তিম বান্ধব হরি । তুমি, নিত্য নিরঞ্জন, দুর্গতি ভঞ্জন, মঙ্গল কর মুরারি। নমঃ, দুর্জয় শাসন, দৈত্য নিসূদন, দৈত্য-গৰ্ব্ব-খ-কারী ॥ “ভক্তি ভাবে জগন্নাথে, স্তব করি হেন মতে কর জোড়ে হইয়া কাতর। নেত্রে বহে বারি ধারা, আপনা হইয়া হারা, সত্য দেবে স্মরে বারে বার। স্তব শেষে করি সুতি, ভূমিতে লুটিয়া সতি কহে ক্ষম অপরাধ তার। জামাত সহিত যেন, পতি করে আগমন, তুমি বিনা কে করে উদ্ধার ॥” হেন মতে লীলাবতী স্তব করে যথা খ্রীতি মনে স্মৃপ্তি দেব নারায়ণ। লীলাবতী স্তবে তুষ্ট “হৃষীকেশ” হয়ে হৃষ্ট, স্বপ্নে “চন্দ্রকেতু” ভূপে কন। শুন রাজা পৃথী স্বামী কলিযুগে পূজ্য আমি, নাম মম সত্যনারায়ণ । উঠি নৃপ ত্বরা করে, জামাতা সহ সাধুরে, সমাদরে করহে যােচন। ‘নতুবা তােমার বংশ, অচিরে হইবে ধ্বংস, হে রাজন মম কোপানলে। শুনি হেন স্বপ্নবানী, অমঙ্গল মনে মানি, প্রাতে নৃপ কহেন সকলে।
সত্যব্রত ৫৮ মন্ত্রী সনে করি যুক্তি, সদাণরে দিয়ে মুক্তি, কহে রাজা বিনয় বচনে দুর্দান্ত দৈবের পাকে পড়েছিলে এ বিপাকে নাহি ভয় যাও হে স্বস্থানে। অতঃপর যশােধন, দ্বিগুণিত দিয়া ধন মিষ্টভাষে, তােষে দোহাকারে। সদাগর আনন্দেতে চলিল জামাতা সাথে, কিছু ধন ব্রাহ্মণে বিতরে। নৌকাযােগে সদাগর, যাইতেছে নিজঘর, দেখি হরি পাতিলেন ছল। বৃদ্ধ দণ্ডী বেশ ধরে, জিজ্ঞাসেন সদাগরে, কি দ্ৰব্য নায়ে আছে বল । যদি দাও কিছু দ্রব্য, তার সনে আর ভক্ষ্য, যাই ফিরে তবে নিজ ঠাই। সতত কুশলে রবে, মহাসুখী ভবে হবে, আনন্দেতে থাক তুমি ভাই ॥ সদাগর শুনি বলে, তােমার কল্যাণ ফলে, কিবা মাের হবে বল ভাই। তা যদি হইত তবে, কৌপিন পরিয়া ভবে, ঘুরিতেছ, অঙ্গে তেল নাই । কড়ার ভিখারী তুমি, চিনিতে পেরেছি আমি, মিছামিছি কেন বক অত। নায়ে মাের আছে শুধু, লতা পাতা নানা বিধ, ধন রত্ন কোথা পাব অত।
তথাস্তু বলিয়া হরি হইলেন অগ্রচারী, পরে সাধু নৌকার ভিতর। নাহি দেখে ধন রত্ন, পত্র লতিকায় পূর্ণ, মাথা খুড়ি করে হাহাকার। হায় হায় ! কি করি, দেব মায়া না বুঝি, হরিরে তাড়া উপহাসে। কহে জামাতা শ্বশুরে, দেখ দণ্ডী যায় দূরে , চলহ সত্বর ওর পাশে । জামাতারে সঙ্গে লয়ে, যায় সাধু দ্রুত ধেয়ে, পদে ধরি কহিল হরিয়ে। “ক্ষম প্রভু! অপরাধ তুমি জগতের নাথ, পাপাত্মা না চিনিল তােমারে ॥ ব্রহ্মা ই মৃত্যুঞ্জয়, মােহিত তব মায়ায়, গুণাতীতগুণময় তুমি। জীবেরে পাল সংহার, জ্ঞানাতীত চক্রধর, তৰ তত্ত্ব কি জানিব আমি । শুনি দণ্ডী ক্রোধ ভরে, কন সাধু জামাতারে, “যাও উভে নায়ে গিয়া চড়। মিছা মিছি কেন সবে, কড়ার ভিখারী যবে মাের পায়ে কেন আসি পড় ।” কেঁদে কেটে ধরি পায়ে, ভক্তি ভরে কহে দুয়ে, “ক্ষম ক্ষম সত্যনারায়ণ। কুকর্ম করেছি দেব মানিয়া সিরণী তব, হায় দিই নাই এতদিন ।
সত্যব্রত,
অবােধ অজ্ঞান বলি, যেও মাক পায়ে ঠেলি,
তুমি প্রভূ! অগতির সার।”
এত বলি ভূমে পড়ি
স্তব করে কর জুড়ি,
দয়া কর, প্রভু! পরাৎপর ।
পীতাম্বরং পদ্মনাভং পদ্মাক্ষ পুরুষযাত্তমং।
পবিত্রং পরমানন্দং ত্বং হি পরমেশ্বর।
বামনং বিশ্বরূপঞ্চ, বাসুদেবঞ্চ বিহ্বলং।
বিশ্বেশ্বরং বিশ্ববাসং ত্বং হি রাধাবল্লভং।
ভূধরং ভুবনানন্দং, ভূতেশং ভুতনায়ক।
ভাবনৈকং ভুজঙ্গেশং ত্বং হি ভব নাশনম্
মুরারিং মাধবং মৎস্যং মুকুন্দং মুষ্টি-মদনং।
মুঞ্জকেশং মহাবাহুং ত্বং হি মধুসূদনং।
যােগীশ্বরং, যজ্ঞপতিং, যশােদানন্দ দায়কম।
যমুনা-জল-কল্লোলং তু হি যদু নায়কম।
রাঘবং রামচন্দ্রঞ্চ, বার-নারিং রমাপতি।
রাজীব লােচনং রামং ত্বংহি, রঘুনন্দন।
বলি বল হারী ব্ৰহ্ম বীজ রূপং সনাতন।
বলং বলীয়ান্ ভক্ত্যা ভজে ত্বং বলভদ্ররামং।
সাধুর মিনতি হেরি, ,
ফন দণ্ডীরূপী হরি,
মিথ্যাবাদী তুমি পাপে বৃত।
সত্যব্রত মন দিয়া ভক্তি ভাবে পূজ এবে সত্য দেবে 'দূর হয়ে যাবে বিপ্ন যত তবে সে নদী পুলিনে, পূজে সাধু নারায়ণে আয়ােজন করি সেইক্ষণ। পরে তরী আরােহিয়া দেখে সাধু নিরখিয়া পূৰ্বমত আছে যত ধন। সাধুর ঘরণী, এক যুগ পরে পূজে ভক্তি ভরে, সাধুর বনিতা ঘরে। সহিত নন্দিনী, সত্য দেবে পূজা করে । হেনকালে তথা মঙ্গল বারতা, দূত দিল ত্বরা করে। প্রসাদ বাটীতে শশানে আচম্বিতে, সদাগর এল ফিরে ॥ শুনিয়া ত্বরিতা ভুমিতে প্রসাদ ফেলি। আননিত চিতে মাতার সহিতে দ্রুত পদে গেল চলি | 'সত্যনারায়ণ হয়ে কোপমন চন্দ্রকেতু সদাগরে । তরণী সহিতে। লােকে হাহাকার করে । সাধুর দুহিত। ডুবান তটেতে
সত্য-ব্রত,
জামাতার শােকে,
শিলা হানি বুকে,
সাধু ঝাপ দিতে যায়।
সাধুর ঘরণী,
সহিত নন্দিনী,
ভূমে গড়াগড়ি যায় ।
তিন জনে মিলি,
করে গলাগলি,
কাদিছে গগন বিদারি।
সাধেতে বিষাদ
হল পরমাদ,
বাঁচাও দয়াল হরি।
কলাবতী উচ্চৈঃস্বরে,
ডাকে নাথে সকাতরে
কঁদে সতী সাধুর ঝিয়ারী।
মােরে বিড়ম্বিল বিধি, হারাইল প্রাণ নিধি,
অকারণে পাপ স্মাণ ধরি।
না জানি কি কৈ পাপ, কেবা দিল ব্ৰহ্মশাপ,
বিষাদ সাধিল কোন দেবে।
পতি ব্ৰতা বিনা পতি, অন্য নাহি তার গতি,
কিবা সুখে বেঁচে রব তবে।
আচম্বিতে বজ্রাঘাত
হারাই প্রাণ নাথ,
বিধবার জীবন বিফল।
কহে পিতা মাতা আগে; অভাগী বিদায় মাগে
কুণ্ডকাটি জালহ অনল
খা গেল প্রাণনাথ,
সেইখানে যাব সাথ,
কোন্ লাজে রহিব ভুবনে।
সত্যব্রত উঠে তবে সাধু সুতা, হতে যায় অনুমৃতা, হেনকালে দৈববাণী শুনে। এখন শুন মহাজন, তব কন্যা আচরণ, মাতৃ সহ পূজিয়া আমারে। প্রসাদ ফেলিয়া সেথা, আসে সে পাপে জামাতা, মগ্ন হ’ল তরী সহ নীরে। যদি পুনঃ গিয়া বাসে, প্রসাদ সেবিয়া আসে, সাধু তব কন্যা কলাবতী। ল’য়ে ধন রত্ন রাশি, তরণী উঠিবে ভাসি, দুহিতা পাইবে পুনঃ পতি। পতির জীবন চাও, প্রসাদ তুলিয়া খাও, দেখিবে আপন পতি নেয়ে।” শুনি হেন দৈববাণী, যা! ছুটে উন্মাদিণী, মাটি সহ খায় সে চাটিয়ে পুনঃ আসি দ্রুতগতি, তরণী উপরে পতি, দেখি সতী পুলকেতে ভাসে। বহুদিন পরে নাথে, দেখিয়া পিতার সাথে, ছুটে যায় পিতার সকাশে। হরষিতা সাধু সুতা, বলে গৃহে চল পিতা, বিলম্ব আর কি লাগিয়া কর । শুনি মহাজন তবে, পুনঃ পূজি সত্যদেবে, বন্ধুসহ গেল নিজ ঘর । পূর্ণিমা, সংক্রান্তি দিনে, পূজে সত্যনারায়ণে, প্রতিমাসে সেই সদাগর।
সত্যব্রত
৬৪
ঘুচিল সকল দুঃখ,
ভুঞ্জিয়া অতুল সুখ,
অন্তে গেল বৈকুণ্ঠ নগর
ইতি শ্ৰীস্কন্দ পুরাণে রেবাখন্তোক্ত শ্রীসত্যনারায়ণ কথায়
বপি সাধু মােক্ষৰনো নাম তৃতীয় অবকং সমাপ্তং–ওঁ তৎ
সৎ ও, ও তৎসৎ ও, ওঁ তৎসৎ ওঁ ওঁ যক্ষরং পরিভ্রষ্ট
মাত্রাহীনঞ্চ যদভবেৎ পুর্ণং ভবতু তৎ সৰ্ব্বং তৎ প্রাসাদাৎ
জনার্দনং।
( চতুর্থ স্তবক )
উগ্রশ্রবা বলে পুনঃ শুন ঋষিগণ।
বংশধ্বজ নামে এক ছিলেন রাজন ॥
অবহেলি সত্যদেব প্রসাদের প্রতি।
নান। কষ্ট পেয়েছিল, সেই নরপতি।
একদিন মৃগয়ায় গিয়া নরবর।
নানা জাতি মৃগ মারি শ্রমিতে কাতর ।
পরে এক বট বৃক্ষ করি দরশন।
তার তলে যান নৃপ, বিশ্রাম কারণ।
ভক্তিভাবে সবান্ধবে, যতেক গােপালে।
সত্যদেবে পূজে সেই বট বৃক্ষ তলে ।
প্রণাম না করে দেবে গর্বিত রাজন।
গােপদত্ত প্রসাদ না করিল গ্রহণ
সেই পাপে মহাদুঃখ পান নরবর ।
শতপুত্র হ’ল নষ্ট ধন বহুতর ।
সত-ব্রত
৭ত্যদেব ক্রোধে মম হয় সর্বনাশ।
মনে ভাবি যান রাজা গাে-পালক পাশ ॥
হয়ে ভক্তি শ্রদ্ধাবান মিলি গােপাসনে।
পূজিলেন ক্ষিতিপতি সত্যনারায়ণে ॥
ধন পুত্ৰান্বিত পুনঃ হয়ে নরপতি।
অন্তকালে সত্যপুরে করিলেন গতি।
ক্রমেতে প্রচার হল সবার আলম।
ভক্তি করি পূজিলে কামনা সিদ্ধ হয়।
গুণকথা শুনিবে হয়ে একমন।
বিমনা হইলে রুষ্ট সত্যনারায়ণ ।
যেবা করে দুলভ এ ব্ৰত আচরণ।
মুক্তিপ্রদ-সত্য-দেব মাহাত্ম শ্রবণ।
ধন ধান্য সূতান্বিত তার গৃহ হয়।
দরিদ্র লভয়ে বিত্ত, বন্দি মুক্তি পায়।
শঙ্কিত জনের মুনে শঙ্কা হয় দূর।
বাহ্নিত লভিয়া অস্তে যায় স্বর্গপুর ।
বিশেষতঃ কলিযুগে নাহি অন্যাপায়।
সত্যব্রত বিনা সবে জেন হে নিশ্চয় ॥
এ ব্রত মাহাত্ম যেবা পড়ে কিম্বা গুনে।
সর্বপাপ মুক্ত তার হয় সেইক্ষণে।
সত্যদেব ব্ৰত কথা সমাপ্ত হইল।
সবে মিলি ভক্তিভাবে হরি হরি বল ।
ইতি শ্ৰীস্কন্ধপুরাণান্তৰ্গত রেখণ্ডীয় সত্যনারায়ণ
কথায়াং বংশধ্বজোপাখ্যান বর্ণনং সমাপ্তং। ও তৎসৎ ওঁ।
সত্যত ও তৎসৎ ওঁ। তৎসৎ ওঁ। ওঁ ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যদুভবেৎ, পূর্ণং ভবতু তৎ সৰ্ব্বং তৎ প্রসাদাৎ জনার্ধনং। নৈবেদ্যং।—ওঁ সপাদং গােধুম চূর্ণং দুগ্ধ রম্ভাদি শর্কর সতৈকী কৃতং সৰ্ব্বং নৈবেদ্যং গৃহাং প্রভাে । জলের ছিটা দিবে—তাহার পর একটা তুলসী পত্ৰ অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর দ্বারা লইয়া—ওঁ এতৎ সপাদং গােধূমচূর্ণ দুগ্ধ রম্ভা শর্করাদি সহিত নৈবেদ্যং ওঁ নমঃ শ্রীসত্যনারায়ণায় নমঃ।) পরে মূলমন্ত্র—অর্থাৎ “সাং” বা “ওঁ” মন্ত্র দশবার জপ করিবে। (ওঁ অমৃতােপস্তরণ মসি স্বাহা) বলিয়া একটু জল ফেলিবে। তারপর প্রাণাহুতি মুদ্রা দ্বারা পঞ্চগ্রাস দেখাইবে। যথাঃ-তর্জনী, মধ্যমা ও অঙ্গুষ্ঠ একত্র করিয়া প্রাণ মুদ্রার দ্বারা বলিবে—(ওঁ প্ৰাণায় স্বাহা) মধ্যমা অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠ একত্রে করিয়া অপান মুদ্রা দ্বারা বলিবে (ওঁ অপানায় স্বাহা। তারপর অনামিকা, কনিষ্ঠা ও অঙ্গুষ্ঠ একত্রে করিয়া ব্যান মুদ্রা দ্বারা বলিবে (ওঁ সােমানায় ‘বাই।) তারপর তর্জনী ভিন্ন সমস্ত অঙ্গুলী একত্র করিয়া উদান মুদ্রা দ্বারা বলিবে (ও উদানায় স্বা) শেষে সমস্ত অঙ্গুলী একত্র করিয়া সমান মুদ্রা দ্বারা বলিবে (ওঁ ব্যানায় স্বাহা) তারপর একটু জল অমৃত- পিখান মসি স্বাহা বলিবে। তারপর (ইদং পানার্থে গঙ্গোদকং ও সত্যনারায়ণায় নমঃ।) বলিয়া একটু জল দিবে। ওঁ ইদং আচমনীয়ম্ ওঁ সত্যনারায়ণায় নমঃ। বলিয়া একটু জল দিবে ।
৩৭
সত্যব্রত
ওঁ ইদং তাম্বুলং ওঁ সত্যনারায়ণায় নমঃ। বলিয়া পানে জলের
ছিটা দিবে।
দক্ষিণ।।( যজমান) ওঁ এতস্মৈ কাঞ্চন মূল্যায় নমঃ।
বলিয়া একটু জল দিবে।
উপুড় হাতে ধরিয়া দক্ষিণ হাত কোশার জলে ত্রিপত্র সহ হরীতকী
ধরিয়া বলিবে।
ওঁ তৎসৎ ওঁ বিষ্ণুরো তৎসৎ অদ্য—অমুকে-মাসি অমুক
পক্ষে, অমুক তিথৌ শ্রীসত্যদেব প্রীতিকামনায় মৎ সঙ্কল্পিত
শ্রীসত্যনারায়ণ পূজন কর্মণি কৃতৈৎ পূজাদি কৰ্ম্মনঃ সাঙ্গদার্থ
দক্ষিণ। মিদং কাঞ্চন মূল্য: শ্রীবিষ্ণুদৈবতমহং—অমুক গােত্রায়
শ্রী অমুক দেশৰ্ম্মণে ব্রাহ্মণায় তুভ্যং সম্প্রদদে।
পুরােহিত গ্রহণ করিয়া “ওঁ স্বস্তি” বলিবেন।
নিজে পূজা করিলে ইহার আবশ্যক নাই।
ত্মচ্ছিদ্রাবধারণ—ওঁ কৃতৈৎ সত্যনারায়ণ পূজন কৰ্ম্মাচ্ছিদ্র
মস্তু।
পুরােহিত বলিবেন ওঁ অস্তু।
বৈগুণ্য সমাধান।—দক্ষিণ হস্তে জল ও ত্ৰিপত্র সহ হরিতক।
ধরিয়া (বিষ্ণবরা তৎসৎ ওঁ অদ্য অমুকে মাসি অমুক পক্ষে
অমুক
তিথে
অমুক দেবশর্মা কৃতেহস্মিন্ সত্যনারায়ণ পূজা
কৰ্ম্মনি যদ বৈশুণ্যং জাতং তদ্দোষ প্রশমনায় শ্রীবিষ্ণু স্মরণমহং
করিয্যে, ওঁ তদ্ বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব
চক্ষুরাততম্। ওঁ বিষ্ণঃ ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণুঃ ।
ও অজ্ঞানা
সতত
৬৮
যদি বা মােহাৎ প্রচ্যবেত ধ্বরেষু যৎ! স্মরণদেবতবিষ্ণোঃ
সম্পূর্ণ। স্যাদিতিশ্রুতিঃ । বলিয়া জল ফেলিবে।
তারপর হাত জোড় করিয়া। (ওঁ যদসঙ্গিং কৃতং কৰ্মং
জানতা বাপ্য জানতা। সাঙ্গং ভবতু তৎ সৰ্ব্ব হরেনামানু
কীৰ্ত্তনাৎ শ্রীহরি শ্রীহরি শ্রীহরি ( দশবার জপ করিবে।)
একটু জল লইয়া—ওঁ প্রীয়তাং পুণ্ডরীকাক্ষঃ সৰ্বষজ্ঞেশ্বরে-
হরিঃ। তস্মিন্ তুষ্টে জগষ্ট প্রণিতে প্রীণিতং জগৎ।
এতৎ কৰ্ম্মফলং ওঁ শ্ৰীষ্ণায় অর্পণ মস্তু) বলিয়া ভূমে জল
ফেলিবে।
নমস্কার-নমোহ্মণ্য দেবায় গাে ব্রাহ্মণ হিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গােবিন্দায় নারায়ণায় নমাে
নমঃ।
ক
বেদের অধিপতি গাে-ব্রাহ্মণদিগের ও জগতের
হিতকারী। সেই গােবিন্দ শ্রীকৃষ্ণকে বার বার প্রণাম করি।
শান্তি যজমান সবান্ধবে পূৰ্বমূখে বসিবে। পুরােহিত পশ্চিম
মুখে দাড়াইয়া আম্র পল্লব অথবা বিল্বপত্র ঘটের জলে ডুবাইয়া ছিটা
দিবেন ও নিম্নলিখিত মন্ত্র বলিবেন।
সুরমভিষিঞ্চ ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরঃ।
বাসুদেবে জগন্নাথস্তথা সঙ্কর্ষণঃ বিভুঃ ।
প্রদ্যুম্নস্টানিরুদ্ধশ্চ ভবন্তু বিজয়ায়তে।
ওঁ আখলােহগ্নিৰ্ভগবান্ যমে বৈ নৈঋতস্তথা।
সত্যব্রত
বরুণঃ পবনশ্চৈৎ ধনাধ্যক্ষস্তথা শিবঃ।
ব্ৰহ্মণা সহিতঃ শেষে দিপালাঃ পান্তুতে সদা।
ওঁ কীৰ্ত্তি লক্ষ্মীধৃতমেধা পুষ্টিঃ শ্রদ্ধা ক্ষমামতি।
বুদ্ধিলজ্জা বপুঃ কান্তিঃ শান্তিষ্টিচ্ছ মাতরঃ।
এতত্ত্বামভিষিঞ্চন্তু ধৰ্ম্ম পত্নঃ সুসংযুতাঃ ।
ওঁ আদিত্যশ্চন্দ্রমা ভৌমাে বুধ জীব সিতাজা।
গ্রামভিষিষ্ণন্তু রাহু কেতুশ্চ তাপিতাঃ।
ওঁ ঋষয়ে মুনয়াে গাবদা দেবমাতর এব চ।
দেব পত্মো ধরা নাগা দৈত্যাশ্চাঙ্গরসাং গণাঃ।
অস্ত্রাণি সর্ব শস্ত্রাণ রাজানো বাহনানি চ।
ঔষধানি চ রত্নানি কালস্যাবয়বাশ্চ যে।
সরিত সাগঃ শৈলা-স্তীৰ্থানি জলদা নদাঃ
দেব-দানব-গন্ধৰ্ব্বা যক্ষ-রাক্ষস-পন্নগাঃ
এতেত্বামভিষিঞ্চন্তু ধৰ্ম্মকামার্থ সিদ্ধয়ে ।
ওঁ কয়া নশ্চিত্ৰ ইত্যস্য ঋয়স্য বামদেব ঋষিগায়ত্রীছন্দ
ইন্দ্রো দেবতা শান্তি কর্মণি জপে বিনিয়োেগঃ।
ওঁ কয়ানশ্চিত্ৰ আ ভুবদূতী সদা বৃষঃ সখা। কয়া শচিয়া
বৃতা। ওঁ ক্যু। সতত্যা মদানাং মংহিষ্ঠো মৎস-দন্ধস। দৃঢ়
চিদারুজে বসু। ওঁ অভীষুনঃ সৰীনা-মবি জরিতৃণাং।
শতং ভবাস্তয়ে।
(ঋগ্বেদী ও যজুর্বেদী—“ভবাতিভিঃ” বলিবেন)
(নিম্ন লিখিত মন্ত্র তিনবার পড়িতে হয়)
সত্যব্রত ৭০ ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রে। বৃদ্ধবাঃ স্বস্তি ন পুষাবিশ্ববেদাঃ । স্বস্তি নস্তাক্ষ্যে অরিষ্টনেমিঃ, স্বস্তি নাে বৃহস্পতিদ ধাতু। ও স্বস্তি ও স্বস্তি ওঁ স্বত্বি। অর্থ—“সমস্ত লােক পূজনীয় ইন্দ্র আমাদের সর্ববিধ মঙ্গল করুন, অপ্রতিহতাস্ত্র গরুড় মঙ্গল করুন, বৃহস্পতি মঙ্গল করুন।” (খ) যজুৰ্বেদীরা বলিবেন- ও ছৌঃ শান্তি-রন্ত-বিক্ষগুং শান্তি, পৃথিবী শান্তিপঃ শান্তিরােষধয়ঃ শান্তিঃ। বনস্পয়ঃ শান্তি বিশ্বেদেবাঃ শান্তি ব্ৰহ্ম শান্তি, সৰ্বগুং শান্তিঃ শান্তিরে শান্তি, সামা শান্তিরোধ। অর্থ—“স্বর্গের শান্তি, অন্তরীক্ষের শান্তি, পৃথিবীর শান্তি, জলের শান্তি, ঔষধীর শান্তি, বনস্পতির শান্তি, বিশ্বদেবতাদের শান্তি, ব্রহ্মা ও সমুদয় চরাচর জগতের যে শান্তি আছে সেই শান্তি আমাদের উপর বর্ষিত হউক।” (গ) সাধারণের পক্ষে।—ওঁ সৰ্বরােগ শান্তিঃ। সৰ্বাপচ্ছা- স্তিঃ ওঁ যত এবাগতং পাপং তত্রৈব প্রতিগচ্ছতু। ওঁ আপদ শান্তিঃ ওঁ বিপদ, শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ। অর্থ-সমস্ত রােগের ও সৰ্ব আপদের শাস্তি হউক। পপি যেস্থান হইতে আসিয়াছে তথায় ফিরিয়া যাক।
রামেশ্বরী সত্যনারায়ণ কথা।
“সত্য সত্য সত্যপীর সর্ব সিদ্ধিদাতা।
বাঞ্ছা বড় বাড়িল বর্ণিত ব্রতকথা।
রসাল রসিকপ্রিয় বুমাই বিরাগে।
বৃন্দাবক বৃন্দরে বন্দনা করি আগে।
গুরুগণ গণেশে করিয়া প্রণিপাত।
বন্দ বিপ্র আর বিধি বিষ্ণু বিশ্বনাথ
ক্ষিতি লােটাইয়া বল গুরুর রমণী।
পরম সাদরে বন্দ জনক জননী।
শ্ৰীসাবিত্রী সিন্ধু পুত্ৰী সরস্বতী শিবা।
ত্ৰি সন্ধ্যা নক্ষত্র চন্দ্র সূৰ্য্য আদি দিব।
কামাখ্যারে করি নতি ধৰ্ম্মরাজ সুতা।
সসপ মনসা বন্দ মহেশ্বর সুতা।
অষ্ঠ নবগ্রহ দশদিক পাল।
প্রণমিব পঞ্চানন পরম দয়াল।
প্রণমিব পরাৎপর নদের নিমাই।
বীরভদ্র নিত্যানন্দ শ্রীরূপ গোঁসাই ।
অশ্নী কিরী বন্দ ডাকিনী যােগিণী।
ছয় রাগ ষড় ঋতু ছত্রিশ রাগিণী ।
৫৭২
সত-ব্রত
অতঃপর বন্দি রহিম রামরূপ।
ত্রিদশের নাথ বৰ ভূবনের ভূপ ।
কোরাণ কেতাব আর কালিমা সংহতি।
সুবিধা পীরের পায় প্রচুর প্রণতি।
অপর যতেক পীর বল যােড়করে।
ফণীন্দ্র নগেন্দ্র ইন্দ্ৰ কঁপে যার ভয়ে
পরে সত্যপীর বন্দি কহে দ্বিজ রাম।
সাকিম বরদাবাটী যদুপুর গ্রাম।
জয় জয় সত্যপীর,
সনাতন দস্তগীর,
দেব দেব জগতের নাথ।
কে জানে তােমার তত্ত্ব, তুমি রজ তুমি সত্ত্ব,
তােমার চরণে প্রণিপাত ।
সৰ্ব্বভূতে সৰ্বময়,
চারি চরাচরে কয়,
চন্দ্রচূড় চিন্তে চিন্তামণি।
পূৰ্বে হয়ে দশ মূর্তি,
করিলে আপন কীর্তি,
সত্যপীর হইলে ইদানী ।
ছয় দরশনে কয়,
ব্ৰহ্ম। বিষ্ণু দুই নয়,
অন্য অন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম।
কলিতে যবন দুষ্ট,
হিন্দুকে করিতে নষ্ট,
দেখিয়া রহিম হইল রাম ।
ব্রাহ্মণেরে করে ভেদ,
ঘূচালে মনের খেদ,,
রক্ষা কৈলা সৃষ্টি আপনার।
৭৩।
সত্যব্রত
একদেশে অল্পধনে,
যে তােমায় সিনি মানে
হাসিল করহ কাম তার।
দেরি দ্বিজের কাছে, পূৰ্ব্বকালে সত্য আছে,
ভক্তবাক্য পালিব আপনি।
নায়কেরে হয়ে তুষ্ট,
সিরিণীতে করহ দৃষ্ট,
শুনহ আপনি ব্ৰতবাণী ।
তােমার কীৰ্ত্তন যথা,
দুঃখের বিনাশ তথা,
গায় যে গাওয়ায় যেবা শুনে।
তুমি রক্ষা কর তারে,
মহামারে মহাঘােরে,
মহারণে বনে রিপু স্থানে।
দৃঢ়ভক্তি হৈল যায়,
পাতক না থাকে তায়,
মনােরথ সিদ্ধি হয় তাতে।
কহে দ্বিজ রামেশ্বর,
বুঝি কাৰ্য কর নর,
হরি বল পরের পিরীতে ।
শুন শুন সৰ্ব্বলােক করি একমন।
সত্যপীর স্মরিয়া সিণীতে দেহ মন ।
প্রবল প্রতাপ পীর পাপ তাপ হারী।
যেরূপে জাহির তাহা নিবেদন করি
দিল্লীর দক্ষিণ দেশ মথুরেশপুর।
তাহে এক বিপ্র ছিল বড়ই বিদুর ।
খাইতে না মিলে অন্ন চালে নাই খড়।
তেঁহাে প্রভূ পীরপুত্র তার পায়ে গড় ।
সত্যব্রত
৭৪
আপনি অত্যন্ত ভক্ত সতী সীমন্তিনী।
দামােদরে দৃঢ় ভক্তি দিবস রজনী।
লক্ষণ বঞ্চন কভু
ভিক্ষায় ভক্ষণ।
কৃষ্ণসখা সুদামার সকলি লক্ষণ।
আপনি রেবতী প্রিয় ততােধিক প্রিয়া।
আত্ম উপবাসী অল্প অন্যজনে দিয়া ।
জঠরের জলনে যখন প্রাণ যায় ।
তখন মগন মন গােবিন্দের পায় ।
কতদিনে কৃষ্ণে পাব ভাবে দিবা রাতি।
বান্ধিল প্রেমের পাশে অখিলের পতি।
তবে প্রভু দয়া কৈল ব্রাহ্মণের সঙ্গ।
কদাচিত ভজনে ভক্তির নাহি ভঙ্গ
নানারূপে বিড়ম্বিয়া হারিলেন হরি।
ভক্ত বটে কিরূপে ইহায়ে কৃপা করি।
ভিক্ষা ভঙ্গী ভক্তি বুঝি ভ্রমে সাথে সাথে ।
প্রভু হয়ে পশ্চাতে প্রত্যক্ষ হৈল পথে ॥
দাসে দুঃখি দেখে দামােদরে হৈলা দয়া ।
সৰ্ব্বদা সাক্ষাৎ হব দিব পদছায়া।
ফকির ফকিরে উর নবঘনশ্যাম।
হুকুম মাফিক হদ্দ বিরচিল রাম।
. দ্বিজবরে দিতে বর,
হরি হলেন সত্বর,
মাধব হইলেন পীর।
ফকিরের সাজে,
জগতে বিল্লাজে
অদ্ভুত কৃষ্ণের শরীর।
৭৫
যুবত্ব বয়স,
সুরেশ মহেশ
বিধুমুখে মধুর হাসি।
মস্তক উপর,
পাগ মনােহর,
নানাভরণ বিলাসী ॥
বড় বড় কৌড়ি
গ্রন্থিত গুধড়ি,
বাঘ ছাল থলি শাল দণ্ড।
প্রবল দাড়ি-চুল,
মুক্তা ঝলমল,
মালা মঞ্জিত চণ্ড |
ঘণ্টা রুণ রুণ
জিকির ঘন ঘন
ঝন ঝন ঝিঝির শব্দ।
বসি তরুতলে,
রামেশ্বর বলে,
ব্রাহ্মণ হইল স্তব্ধ ॥
কপটে করুণাময় দ্বিজে কন বাওয়া।
মুঞি ভুকা ফকির হােয় লাগে মেরা দেওয়া
তােঞি বাবা বাক্তার ধৰ্ম্ম দেখা তুঝে।
মেঞি ভুকা ফকির খেলাও কুচ মুঝে
তামাম দুনিয়া দেখি সবি ইমাম বুটা।
কিছু কহি খয়রাত না করে এক মুঠা ।
দ্বিজ কহে দেওয়ান ও কথা কহ কাকে।
মনস্তাপে মরিতে বসেছি ওই পাকে।
কলি হৈল প্রবল মজিল ধর্মপথ।
দেওয়ান বলেন বাছা কহি হকিমত ।
সত্যব্রত,
নিজ দুঃখ বলি দ্বিজ করেন রোদন।
নারিলাম খাওয়াইতে আমি অভাজন।
ধর মাের বসন ভােজন কর বেচে।
মৃত্যুকালে মাের ধর্ম মজাইবে মিছে।
বিশ্বনাথ বিশ্বময় বুঝিয়া কন বাছা।
দুনিয়ামে ঐসি আমি নাহি আর সাচ্চা।
ভাল বাবা কাহে তেরা মৃত্যু কাল কাহে।
রাদিন জেসে তেসে দুঃখ সুখ যাহে।
জানা গেয়া বাত বাবা জানা গেয়া বাত।
কাপড়াতে লেও ঝট্ আও মেরা সাত ।
তাহা সত্যপীর মেঞি তাহা সত্যপীর।
তেরা দুঃখ ধূর কর কহেন ফকির।
ঐসি কুছ হুমুর বাতলায়ে দেহ তােয়।
কিয়া পিছে সেতাব খায়ের খুব হােয়।
জেঙ্কো তেঞি যাে কহেগা সে হােগা সহি।
পীর বরাবর হােকে করকে এহি।
দ্বিজ বলে কহিলেন দেওয়ান মহাশয়।
যবনের কাৰ্য্য এ তাে ব্রাহ্মণের নয় ।
ইষ্ট ছাড়ি অনিষ্ট ভােজিব কেন অন্য ।
মজাইব পরকাল এই কাল জন্য।
দেওয়ান বলেন শুন জ্ঞানকি বাত।
রাম রহিম দোনাে নাম হো এক সাত।
এত শুনি মনে গণি বিস্ময় ব্রাহ্মণ।
আপাদ পর্যন্ত তার করে নিরীক্ষণ ।
৭৭
দেখিতে দেখিতে মূর্তি ধরেন অশেষ।
চক্ষুর নিমেষে মূর্তি ব্রাহ্মণের বেশ ।
নিদান বুঝিয়া হরি ভকত বংসল।
ধরণী লােটায়ে ধরে চরণ কমল।
পুলকে পূর্ণিত তনু সকরুণ কয়।
ছাড় মায়া কর দয়া দেহ পরিচয়।
হাসিতে হাসিতে হরি দ্বিজে কন তবে।
নিদানে আমায় তুমি পরিচয় লবে ।
বিধি মাের বড় ভাই মহেশ অনুজ।
শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী চতুভুজ।
কৃষ্ণকেলি মথনে কেশব মাের নাম।
মক্কায় রহিম আহিম আমি অযযাধ্যায় রাম ।
চরাচর চরাচর আমি যে যাবন্ত।
সুরপুরে ইন্দ্র আমি পাতালে অনন্ত।
ফকির হই আমি তােমার কারণ।
কলিতে সম্পত্তি বাছা সত্যনারায়ণ ।
এত শুনি কহে দ্বিজ শুনি বিপরীত।
পীরের সির্ণিতে কেন বিষ্ণুর পীরিত ।
যেই প্রভু পরমাত্মা সেই কেন পীর।
তুমি বা ফকির কেন ব্রাহ্মণ শরীর।
প্রভু কন ভাল জিজ্ঞাসিলে সাধু ধন্য।
সাধু সাধু করি কৃষ্ণ কহেন ব্ৰতজন্য
কলির মাহাত্ম সাধু শুন শুন বলি।
পরীক্ষিত পতনে প্রবল হৈল কলি ।
০
সত্যব্রত
ab
ন
এককালে তবে পরীক্ষিত নরনাথ।
মৃগয়াতে কলিক্রীড়া দেখিল সাক্ষাৎ |
সেইক্ষণে গােরূপ ধৰ্ম্ম কলি হৈল নর।
নির্ঘাত প্রহার করে গরুর উপর ।
তিন পা ভেঙ্গেছে গরুর এক পা উবু।
সেই পায়ে নির্ঘাত প্রহার করে তবু ।
খ ধরি কাটীতে চলিল মহাবল।
ব্যক্ত হয়ে কহে কলি হাসে খল খল।
শুনরে নির্বুদ্ধি আমি বধ্য নহি তাের ।
ইহাতে ঈশ্বর দত্ত অধিকার মাের ।
গরুনয় ধৰ্ম্ম এই কলিকাল আমি।
বধিব ইহার আমি কি করিবে তুমি।
রাজা বলে কি বল তােমার নাম কলি।
অল্পদিনে এখনি এতেক ঠাকুরালী ।
বাঞ্ছা ছিল ভাল হইল পাইলাম দেখা।
দুর্জন-দমন আমি সজ্জনের সখা।
লােকমুখে শুনেছি তােমার বিবরণ।
কলিব্যাধি প্রতি কৃষ্ণনাম রসায়ণ ।
সতত ভারত কথা সভায় আমার।
মাের অধিকারে কি ভােমার অধিকার ।
এত শুনি কহে কলি হেঁট করি মাথা।
কহ নৃপ আমার ভােগের স্থান কোথা।
বুঝিয়া ভূপতি চারি স্থান দিল তারে।
সুর। ও শৌণ্ডিক বনি স্বর্ণকারে।
৭৯
সত্যব্রত
ধৰ্ম্মেরে নিস্তার করি রাজা গেল ঘর।
সেই হৈতৈ ধৰ্ম্ম ছাড়া এই চারি নর।
এখন দমন দাতা পরীক্ষিত নাই।
ধৰ্মনাশে কলির বিস্তর হৈল ঠাই ।
সুজনে সর্বদা নিন্দা দুর্জনের যশ।
বাপ-মায় তুচ্ছজ্ঞান
বনিতার বশ।
পুত্র পিতা
বধূ মাতা বিনিময় নাম।
শাশুড়ী বধূতে দ্বন্দ্ব সতীনের ভান।
আর যত কব কত মুখে কথা নয়।
পড়েছ শুনেছ যত ব্রাহ্মণ তনয় ।
জীবের যন্ত্রণা যত অধৰ্ম্মের ফল ।
পৃথিবীতে অল্প শস্য মেঘে অল্প জল ।
প্রকারে পাপিষ্ঠ নরে করিতে উদ্ধার।
আইলাম এইহানে শুন সারােদ্ধার।
তুমি ভক্ত দৈবে মুক্ত অনুরক্ত মােরে।
মাের কথা শুন পরিত্রাণ কর নরে ।
আজি হতে আর ভিক্ষা না করিও তুমি।
হেন ধন ধনরত্ন দিয়া যাই চলে আমি।
প্রভু দিলা রত্ন দ্বিজ যত্ন করি লয়।
রামেশ্বর নতি করি করপুটে কয়।
কিবা দিয়া কার সিরুণী কার আবাহন।
কিবা সিদ্ধি কার সিরুণী মহিমা কেমন।
সবিশেষ উপদেশ বিশ্বনাথ বলে।
বান্ধিবে বিচিত্র বেদী মনােরম স্থলে।
৮০
সত্যব্রত,
বেদীতে পাতিবে পীঠ তাহে দিবে বাস।
তহে ছুরি কাটারি খঙ্গ চন্দ্রহাস।
তার চারি তরফে সুচারু চারি তীর।
তার মধ্যে হব আমি নাম সত্যপীর ।
সত্যদেব পূজা পূর্ণ আয়ােজন করে।
বিষ্ণু বিধি ধ্যান আদি জ্ঞান অনুসারে।
উত্তর মুখেতে বেষ্টিত বসিবে বন্ধুগণে।
সিণীর দ্রব্যাদি বলি শুন সাবধানে ।
গুড় দুগ্ধ আটা রম্ভা ফল পান গুয়া।
সম্ভব বিভব মত সব সওয়া পােয় ।
আবিভূত চতুষ্টয় করিয়া সংযােগ।
নমঃ সত্যপীর বলিয়া দিবে ভােগ ।
কাচার এই মত মতান্তর কহি পাকা।
আনা মাষা আদি করি কড়ি কিম্বা টাকা ।
সওয়া শত মুল্যা যদি মিষ্ট অন্ন হয়।
সমর্পিলে সত্যপীরে সর্বসিদ্ধি হয়।
যুগলে যে ইচ্ছা করে হয়ে একভাব।
সিদ্ধ একমাস মধ্যে মনােভিষ্ট লাভ ।
সঙ্কটে পড়িয়া যদি স্মরে সত্যপীর।
ত্রিভূবন নির্ভয় সে আমার শরীর।
ব্রতকথার মাহাত্ম শ্রবণে কথ্য নয়।
এতনি কহে দ্বিজ করিয়া বিনয় ।
ঘুচিল সংশয় গ্রন্থি সিরুণী দিব আমি।
• যদি হরি বট চতুভূজ হও তুমি।
৮১.'
ভক্তের বচনে চতুভূত হৈল হরি।
শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম চতুভূজধারী।
মহাতেজোময় দেখি কাপে কলেবর।
আনন্দ সাগরে যেন ডুবে দ্বিজবর ।
পুলকে প্রেমের সিন্ধু উথলিয়া উঠে।
অবাক হইয়া দ্বিজ কহে করপুটে ।
কত কষ্টে কহে দ্বিজ চরণে দিও স্থান।
স্বীকার হইয়া হরি হৈল অন্তর্ধান ।
দ্বিজ কৈলা কৃষ্ণ কহি অনেক রােদন।
হইল আকাশবাণী যাও নিকেতন।
উদ্দেশে প্রণমি দ্বিজ চলে নিজ ধাম।
হুকুম মাফিক হদ্দ বিরচিল রাম।
তথা বিষ্ণু গেলা শিবশর্মার মন্দিরে।
ব্রাহ্মণীর বাপ হয়ে যােঝ লয়ে শিরে।
কন্যাভাবে কহেন কি কর বিষ্ণুপ্রিয়া ।
অভূক্ত জামাতা খরে পাক কর গিয়া ॥
হের ধর তােমার মায়ের আয়ােজন।
বস্ত্র অলঙ্কার পর আইস বাছাধন।
ভিক্ষুকে পড়িয়া দুঃখ পাইলা প্রচুর।
আমি কি করিব বাছ বিধাতা নিষ্ঠুর।
যে হইল দুঃখ সব গেল অতঃপর।
অদ্য লক্ষেশ্বরী হয়ে সুখে কর ঘর।
বাপ বৃদ্ধে’নত হয়ে করে প্রণিপাত।
সাবিত্রী সমান হও বলে জগন্নাথ ।
সঠত
নােদনমুখী হয়ে রামা দিল জল স্থল।
জিজ্ঞাসিল কই বাপা বাটীর কুশ
প্রভু কন সত্যপীর প্রসাদে আনন্দ।
লক্ষ্মী সরন্বতী ঘরে সকলি স্বচ্ছন্দ।
সত্যপীর নামে আছে দয়াল ঠাকুর।
তার সিরুণী দিলে সেই দুঃখ কৈলা দূর।
বাপে ঝিয়ে বিস্তর দিবস দেখে নাই।
লােকমুখে শুনি ভিক্ষা মাগেন জামাই।
অতএব দিতে আসিয়াছি কিছু ধন।
পথে জামাতার সঙ্গে হৈল দরশন।
শাকাদি পাকের দ্রব্য আনিয়াছি আমি।
বস্ত্ৰ আভরণ পরি রান্ধ গিয়া তুমি।
আমি দেখি জামাতা আইসে কতদূরে।
এত বলি গেল হরি বৈকুণ্ঠ নগরে।
সাদরুেতে কন্যা পরি বস্তু আতরুণ।
কুলুপ। দুরাই শখ শ্রীরাম লক্ষ্মণ ।
সাধু শুভক্ষণে,
কন্যার কারণে
সত্যপীরে সির্ণি মেনে।
চন্দ্ৰ কলা সুতা,
পাত্রে করি দাতা,
পীরে পাসরি বেণে।
দক্ষিণ সফরে
নৌকায় ঝাপারে,
জম্ম হিত গেল।
প্রভু সত্যপীর কলা নিধি ভূপে, ভেটি নানা রূপে, ‘বিকিকিনি আরভিন। চামর চন্দন, আদি নানান, বদলে রাজার সনে। তথা পায় ভূষা, ভূপে দিল বাসা, পীরের দুঃখ উঠে মনে। রােষে, নৃপতির, নানা ধন কৈল চুরি। রাজ ধন লয়ে, রজনী সময়ে পুরিল সাধুর তরী। হেথা লােকন, করে অন্বেষণ, এদিকে ওদিকে ফেরে। নামে চোরা মাল, দেখিয়া কোটাল, যুগল সাধুয়ে ধরে। রাজার আজা, ধরে দুজনাম, রাখিল মদনাগার। কহে রামেশ্বর, এ ভব সাগর, সত্যপীর কয় পার । . ঘরে ঝােরে রমণী বাহিরে কোরে ঝি। সাধ লইয়া না জানি বিদেশে হৈল কি। চত্রকলা বলে আমি মৰিব বিষ খেয়ে। অভাগিনী জীব আর কার মুখ চেয়ে
সত্যব্রত,
৪৪
অভাগিনী জীবন যৌবন হৈল কলি।
বিরহে বিদরে বুক রে শরজাল।
প্রত্যহ দুঃস্বপ্ন দেখি যত উঠে মনে।
চিরকাল দোহে যেন মজিল পাটনে।
মায়ে ঝিয়ে গলাগলি কানে উভরায়।
বিপ্র বাড়ী সৰ্বখড়ি গণাইবারে যায়।
সেই দ্বিজ পুত্র আট বৎসরের পরে।
বিদেশে বিদ্বান হয়ে আসিয়াছে ঘরে ॥
পুত্রের বিরহে সেই ব্রাহ্মণের মা।
পীরে সিৰ্ণি দিয়া পুত্র পেয়েছিল তথা ।
হেন কালে চন্দ্রকলা গেল সেইখানে।
ব্রতকথা শুনি সিৰ্ণি খায় সাবধানে ॥
ব্রাহ্মণের কাছে পুত্রের বিবরণ পেয়ে।
সেইখানে সিণি মানে শুদ্ধ চিত্ত হয়ে ।
কহে নাথ সহ তাত এনে দাও ঘরে।
সেইক্ষণে সিৰি আমি দিব সত্যপীরে।
ব্রাহ্মণীকে ইসাদ করিয়া গেল ঘরে।
সদয় হৈল পীর সাধুর উদ্ধারে।
অর্ধরাত্রে হয়ে
পীর প্রচণ্ড ফকির।
স্বপনে কহেন গিয়া কানে নৃপবর।
কাহারে কোটান গিরি মৎলব তেরা।
ছােড় সদা নন্দলাল সেবক হয় মেরা ।
নাহি চোর মারা রাখো কোন্ চাচা।
'ওলােকভি চোর হয়ে তােম লােকভি সাচ্চা
পতব্রত
তকীরখাতিয়া উনকে পীর এত্ত কিয়া।
ওনেহ্নিতেরা মা ও কাহেসে লিয়া।
বেহান ছেড়ান তুঝে নাহি বের বের।
মেরা বাত না রাখাে গনরেগা আখের।
এত বলি অমল দেখাইল শেষে।
ঝড় বৃষ্টি উল্কাপাত আগুন লাগি দেশে।
নিদ্রাগত
চুলে
ধরি বসাইল পীর।
স্বস্থানে প্রস্থান করে নৃপতি অস্থির।
প্রভাতে উঠিয়া সপাত্রে নরপতি।
ধরিয়া সাধুর পায় করে স্তুতি নতি ।
প্রভাত হইল নিশি,
মহারাজ শীঘ্র আসি,
খালাস করিয়া দুই জনে ।
কলানিধি মহারাজা,
যােড়া ঘােড়া বসন ভূষণে।
করিল সাধুর পূজা,
নায়ে চড়ি করে সাধু পীর জয় ধ্বনি।
গমনে পবন তুল্য ভাসায় তরণী ।
কুতূহলে জলে চলে পীর যার সখা।
এড়াইয়া নানা দেশ দেশে দিল দেখা
নায়ে ছিল বাদ্য ভাণ্ড তায়ে দিল কাঠি।
কামানে আগুন দিয়া কঁপাইল মাটী ।
সাধু আইসে স্বদেশেতে ঘােরে সব নারী।
সদানন্দ দ্রুত দূত পাঠাইল পূরী ।
শুভ সমাচারে সাধু দুতে দিল ঘােড়।
দুয়ারে দুন্দুভি ফুহােৎসবে মাতে পাড়া।
হেনকালে চন্দ্রকলা পরম সাদরে।
দ্রুত গিয়া সিণি দিয়া পূজা কৈল পীরে ॥
তরণী উখিতে হৈল তরণীর করা।
খেতে ছিল সিণি ফেলে হৈল অগুসারা।
পতি প্রতি সতী ধায় পিছে ধায় মা ।
মনের গরমে ভূমে নাহি পড়ে পা।
প্রসাদ ফেলেছে তাই পীরের হৈল কোপ।
দর্প চূর্ণ বালার হৈল অহঙ্কার লােপ।
সেইক্ষণে প্রতিফল দেখে গিয়া সতী।
বাপ বন্ধু ঘাটে কান্দে ডুবে মরে পতি।
হায় হায়! কি হৈল কি হৈল, লােকে বলে ?
মায়ে ঝিয়ে মুচ্ছিত পড়িল ‘ভূমিতলে।
মুখে জল দিয়া কেহ করায় চেতন।
কহে রামের কন্যা করহ লােদন ।
ধরিয়া মায়ের গলা,
কালে কয়া চকলা,
স্বামী শােকে হইয়া কাতর।
গ্লান হৈল মুখশশী, মনােরমা মুক্তকেশী,
সংবরিল অব্দের অম্বর।
হাহাকার ঘন ফুখে,
চাপড় নিয়ে বুকে,
কপাৰেছে ফল যাই।
.
ধৈরজ ধরিতে নারে,
কান্দি কহে উচ্চৈঃস্বরে,
কোথাকারে গেলে প্রাণনাথ।
হায় একি অকস্মাৎ, কোথা গেল প্রাণনাথ,
একবার দরশন দাও।
দেখিয়া তব মুখ,
বিদারিয়া যায় বুক,
অভাগীরে সঙ্গে করি লও।
দেশে আইলে কত দিনে, বড় সাধ ছিল মনে,
আঁখি ভরি দেখিব তােমারে।
তাহাতে দারুণ বিধি, হরিল প্রাণের নিধি,
বড় শেল রহিল অন্তরে
পতির মরণে যেন,
বুতির বিষাদে হেন
কান্দে কন্যা করিয়া বিলাপ।
মায়ের বিদরে বুক, বাপের ফাটিছে বুক,
সবে কান্দে করি মনস্তাপ।
অশ্রুমুখী কর যুক্তি, বিষম সঙ্কটে পড়ি,
ভাবে সাধু পীরের বচন।
করিল বিস্তর স্তুতি,
হইল অব্যাহতি,
মরিতে চলিল তিনজন।
ঝাঁপ দিতে যায় জলে,
পীর আসি হেনকালে,
বৃদ্ধ-বেশেতে তারে কয়।
বলি সাধু শুন যদি, তােমার দুহিতা পতি,
মরে নাই মাের মনে লয় ।
আমি হে দ্যোতিষী বড়, . গণে পড়ে কহিড়
এই কর্মে পাকাপাম গাড়ী।
সতত
* ৮৮
তােমার জামাতা বটে, ডুৰিয়াছে এই ঘাটে,
দেবদ্বারে বড় দেহি ডেড়ী
এই যে তােমার কন্যা, রূপে গুণে মহা ধন্য,
বয়ােধৰ্মে বুদ্ধি নহে ভাল।
পীরের প্রসাদ এঁটে,
ভূমে ফেলে এল ছুটে,
সেই অপরাধে এত হৈল ।
এতেক বলিল যদি, সত্যপীর হৈল বাদী,
শুনে সাধু কন্যা পানে চায়।
চন্দ্রকলা বলে বটে, বাপে ঝিয়ে কর পুটে,
কেঁদে পড়ে আহ্মণের পায় ।
বিপ্র বলে যাও যাও, সে সির্ণি তুলিয়া খাও
পাবে পতি না কাল সুন্দরী।
শুনি ধনি ধায় তথা, সির্ণি তুলে খায় হােথা,
ভেসে উঠে পতি সহ তরী।
দেখিয়া বিস্ময় লােক, ঘুচিল দারূণ শােক,
দেখে সাধু দ্বিজ নাহি কাছে।
বুঝিয়া মায়া সদানন্দ, ভাবে পীর পদ বৃন্দ,
আনন্দেতে সুখী হয়ে নাচে ।
মায় ঝিমে চন্দ্রকলা, ডিঙ্গা মঙ্গলিতে গেলা,
আগে পিছে শত সীমন্তিনী
আনন্দের নাহি ওর, শঙ্খ ঘণ্টা ঘন ঘাের,
লাইলি আর জয়ধ্বনি।
শওর জামাতা সঙ্গে,
ইষ্ট মিত্ব লয়ে সঙ্গে,
শুভক্ষণে প্রবেশিলা ঘর।
সত্য-ব্রত
বাণিজ্যের সজ্জা যত,
সাধুর ভাণ্ডারে দ্রুত,
বহ যত নায়ের নফর ॥
সাদরে সওয়া তঙ্কা দিয়ে, আপন বান্ধব লয়ে,
সিৰ্ণি দিল পীরের সদন।
পূৰ্ণ হৈল মনাের,
পীর প্রীতে সাধু সূত,
খয়রাত করিল নানা ধন।
সম ধনে নানা কানে, বাড়িলেক অল্পদিনে,
পরকালে জিনিলেক যম।
এই মত মহা সুখে, মহামাতে সদা থাকে,
অন্তে যায় স্বরগ ভবন।
এই কথা শ্রবণ কালে, অন্য কথা যেই বলে,
আর যেবা করে উপহাস।
লাঞ্ছিত সে সৰ্ব্ব ঠাই, তাহার নিষ্কৃতি নাই,
অকস্মাৎ হয় সর্বনাশ।
সিৰি দিয়া শুদ্ধ ভাবে,
পূজিলে বঞ্ছিত পাবে,
পুত্র দারা অশ্ব ঘােড়া দোলা।
কহে দ্বিজ রামেশ্বর,
শুদ্ধ ভাবে শুন নর,
সত্য প্রচুর অস্ত মঙ্গলা।
কহিতে প্রথম শুত্ব ফকির কায়া।
দ্বিতীয়ে দরিদ্র দ্বিজে দিল পদচ্ছায়া।
তৃতীয়ে ত্রিবিধ লােকে করিতে নিস্তার
চতুর্থে উৎকট কষ্ট সে কাঠুরিয়ার।
কন্যা জন্য মানিলেন পঞ্চে পরাৎপর।
সদানন্দ সাধুরে সঙ্কটে দিল। বর।
পাসরণে প্রতিফল বন্ধন বিশেষ।
যষ্ঠে তুষ্ট হয়ে কষ্ট দুর
কৈলা শেষ।
দ্বিতীয় পঁচালী
একদিন নারায়ণ যুধিষ্ঠির সাথে।
মহারঙ্গে বন্ধুসঙ্গে পূরা হস্তিনাতে ।
নানামতে কৌতুকেতে আছে গদাধর।
মনে পলাে কলি র’ল বলির নগর।
দ্বাপরের অন্তে তার রাজ্য প্রাপ্তি হবে।
ভাবি মনে নারায়ণ কহিছে পাণ্ডবে ।
চল ভূপ অপরূপ শুনিতে শুশ্রাব।
বলি পাশ ইতিহাস ধৰ্ম্মের প্রস্তাব।
রাজা বলে কুতুহলে চল দয়াময়।
তুমি যার বন্ধু তার কোন কৰ্ম্ম রয় ।
চলিলেন দুইজনে হয়ে পদ-গতি।
পদে পদে পাপ ছেদে পুণ্যা বসুমতী।
পুণ্য রায় পায় পায় অশ্বমেধ পাত।
মহীতলে কুতুহলে আজি সুপ্রভাত।
চলিলেন দুইজনে পরম সাল্লাদ।
দেখিছেন সেই স্থানে দুয়ের বিবাদ ।
এক চাষা অতি খাসা ক্ষেত্রে করে চাষ।
স্বর্ণ ভাণ্ড খণ্ড খণ্ড তাহাতে প্রকা।
।
পেয়ে ধন সেই জন ব্রাহ্মণকে কয়।
তব ভূমে মাের শ্রমে ধন লভ্য হয়।
লও ধন নিকেতন ঠাকুর গোঁসাই।
বিপ্র বলে মুখ মেলে আর ঠেকি নাই।
*পেয়েছিস তুই দিস্ মােরে কি কারণ।
আমি নিয়া হব ইহা পাপের ভাজন।”
চাষা বলে কোলে শুনেছি শ্রবণে।
ভূমি যার বিত্ত তার লিখেছে পুরাণে।
সীতা পেয়ে চাষা যেয়ে দিল জনকেতে।
প্রভু বুঝি মােরে আজি ঠেকালে পাপেতে।
শুনি কাণে দুইজনে চলিল ত্বরিতে।
দ্রুতগতি উপনীত বলির পুরীতে।
ধর্মে দেখি কহে ডাকি কলি অবতার।
মহারাজা মাের সাজা দেখ একবার।
বহুকাল বদহাল মাের নাম কলি।
বিনা দোষে বাঁধি পাশে রাখিয়াছে বলি
ধৰ্মত অদভুত এই ভিক্ষা চাই।
মাের প্রাণ দাও দান ধর্মের দোহাই।
রাজা শুনি কৈলা পুনঃ করিব মােচন।
অবহিত উপনীত বলি সন।
অন্নে অঙ্গে পুণ্যাপুণ্য হইবে মিলন।
বলি কাছে ভিক্ষা যাচে পাগুর নন্দন।
মহাশয় পুণ্যময় এত পুণ্য কর।
আমি চাই ভিক্ষা পাই কলি অবতার।
চক্রপাণি চক্র মানি আজ্ঞা দিল। বলি।
অনুচরে মুক্ত কর হয়ে কুতুহলি।
মুক্ত হয়ে কলি যেয়ে রাজা হলে স্থিত।
কম্পমান নিয়া প্রাণ দ্বাপর অতীত।
বলি সঙ্গে নানা রঙ্গে বিদায় হইলা।
তুষ্ট মনে দুইজনে গমন করিল।
সেই পথে সেই ক্ষেতে সেই চাষা সাথে।
সেই দ্বিজ নিরানন্দ বিপরীত তাতে ।
বিপ্র বলে কোন কালে হয়েছে এমন।
ক্ষেত মাের বিত্ত ভাের একথা কেমন।
ওরে বেটা চাষা ঠেটা ধন মাের রেখে দে।
চাষা বলে বাক্যচ্ছলে তুই রে বেটা কে।
বিচড়ামি করি তুমি ধন বুঝি পেলে।
ভাগ্য তাের হেথা মাের নাহি জ্যেষ্ঠ ছেলে ।
কলিরাজ নিজ সাজ ধরিয়া ত্বরায়।
উচ্চ বুক দীর্ঘ মুখ হাসি হাসি যায়।।
শিরে নারী করে ধরি জননীর কেশ।
মাতা প্রতি কটু কহে অশেষ বিশেষ।
ওলাে বুড়ী অটকুড়ী নাহি তাের যম।
কত আর সব ভার পাপিষ্টা অধম।
পক্ককেশী শ্বাসকাশী পেচক লােচনী।
দস্তহীন কুরূপিণী পাগিনী তাপিনী ।
নারী প্রতি ভক্তি অতি মিষ্ট কথা কয়।
। সাবধান ওলাে প্রাণ ব্যায়াে পাছে হয়।
-
দীর্ঘ কেশ কটিদেশ সিংহের আকার।
পদ্ম আখি, পদ্ম মুখী পদ্মিনী আমার ।
সচকিত বিপরীত দেখি যুধিষ্ঠির।
থর থর কলেবর হইলা অস্থির।
যুড়ি কর নৃপবর হরির সাক্ষাৎ।
জিজ্ঞাসিল একি লীলা কহ জগন্নাথ ।
হরি কয় মহাশয় জিজ্ঞাস কি রীত।
মহীপাল কলিকাল দ্বাপর অতীত।
শুন ভূপ অপরূপ যুগধৰ্ম্ম ফল।
অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি হইবে সকল ॥
রাজাসনে প্রজাগণে করিবে ছলন।
প্রাণিগণ অনুক্ষণ পরদারে মন।
নারী সবে কামী হবে পতি প্রতি দ্বেষ।
পর পতি প্রতি অতি সরস আবেশ।
ধনলােভে প্রাণী সবে মিথ্যা সাক্ষ্য দিবে।
ছলনায় সর্বদায় পাপ উপার্জিবে ।
ধৰ্ম্মাধর্ম মৰ্ম্মামৰ্ম্ম হইবে বিনাশ।
দিনে দিনে ক্ষণে ক্ষণে অধৰ্ম প্রকাশ ।
অসম্ভব শুনি সব হরির বদনে।
রাজা কয় দয়াময় কহত এক্ষণে ॥
এইমত হবে যত জীবের দুর্দশা।
বল শুনি চক্রপাণী কি হবে ভরসা।
হরি কহে ন যাহে জীবের নিস্তার ।
অসত্যতে সত্যমতে ভরিবে সংসার।
সতত
সত্য মূর্তি হয়ে কীৰ্ত্তি করিব অচল।
নাম বলে কুতুহলে তরিবে সক।
এতবলি বনমালী করিল গমন।
গঙ্গাতীরে তীরে ফেরে পতিত পাবন ।
দ্বিজ মূর্তি হয়ে কীৰ্ত্তি প্রকাশ কারণ।
মিছেন ভীরে যেন প্রভাতি তপন ।
সেই পথে প্রাণ দিতে এক দ্বিজ যান ।
গঙ্গারাম তার নাম দরিদ্র প্রধান।
বৃদ্ধ বিপ্র গতি ক্ষিপ্র যজ্ঞসূত্র গলে।
গঙ্গামাটী পরিপাটী দীর্ঘ ফোটা ভালে।
যষ্ঠি হীন হাত দাত বায়ুতে হেলায়।
ঘনশ্বাস ক্ষুদ্র কাস টালু মালু চায় ।
কহে গদার,
ওহে দ্বিজয়,
কোথা যাও মহাশম।
ক্ষীণ দেখি দেহ,
সঙ্গে নাহি কেহ
কর দীন ভয়।
বিপ্র বলে বাপু
মাের এই বপু
বাঘে সাপে নাহি খায়।
ঘাের অপবাদে
জিয়াছে বিধাতায়।
কি জিজ্ঞাস তুমি জন্য দুঃখী আমি,
ভাই বন্ধু নাহি একা।
কোন দৈববাদে
।
কাঙ্গালী দেখিয়া হাততালি দিয়া লােকে দেয় খেদাইয়া। ঘরে যদি যাই প্রিয় বাক্য নাই নারী ডাকে অভাগিয়া। ভাবিয়াছি মনে এ ছার জীবনে বাঁচিয়া কি ফল আর। পাপ বিনাশিনী তাপ বিমােচনী যদি মােরে করে পার। গুনি দুঃখ রাশি প্রভু কহে হাসি এ আর কতেক দায়। সতা-নারায়ণ করই পূজন দুঃখ না রহিবে তায়। ধন পুজ জন প্রবাল কাঞ্চন অনায়ালে দিতে পারি। দরিদ্রের ধন সত্য-নারায়ণ ভবার্ণবের কাণ্ডাৰী । বান্ধব সকলে অন্য পথে চলে মাের সঙ্গে হলে দেখা । আটা, রম্ভা, চয়, গুড় আদি চয় এ সব রচনা দিয়া। পােয় পারমিতে মণে বা সেরেতে সন্ধ্যাকালেতে পূজিয়া। পূরণােক্ত তুঙ্গে নারায়ণ মন্ত্রে বিষ্ণুকে করিবে দান।
সত্যব্রত পড়িয়া পাঁচালী দ্বিলে দিবে ডালি ভক্তিতে করিবে দান। গঙ্গারাম কয় ওহে মহাশয় তুমি কে বল তা শুনি। প্রভূ কহে আমি ত্রিভুবন স্বামী মােরে ভাবে সুর-মুনি তব ভাগ্য ফলে আসিয়াছি ছলে মহিমা করিতে দান। দ্বিজ তবে ভণে শুনেছি পুরাণে চতুভূজ ভগবান । সেইরূপ যদি ধর গুণনিধি তবে সে প্রত্যয় হয়। গােলক বিহারী হইলেন সে সময়। চারি কর মাঝে আভরণ সাজে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মে। বিনতা নন্দন পরে নারায়ণ শীতাম্বর কটিবন্ধে । কমলা ভারতী দুই পার্শ্বে স্থিতি শ্বেত রক্ত বর্ণ কায়। জলধােপরে স্থির ঘনতর চপলা যেন খেলায়। দেখি গঙ্গারাম করিছে প্রণাম প্রণতিতে স্তবস্তুতি। চতুভূজ ধারি সত্যব্রত শুভদৃষ্ট ফলে হৃদি পদ্ম-দলে সরস্বতী হৈল স্থিতি। তুমি হরিহর তুমি দিবাকর তুমি দিবস শর্বরী। তুমি পদ্ম যােনি তুমি সুরমণি তুমি বিনােদবিহারী । আগম পুরাণ নিগম বিধান তুমি দিক দশ ধারী। তুমি মহামেরু তুমি কল্পতরু তুমি সূক্ষ্ম মােস্পকারী। তুমি দাও মুক্তি তুমি সর্বশক্তি তুমি শঙ্করের গৌরি। কৃষ্ণ বলরাম তুমি সুরার সৌরি । শ্রীদাম সুদাম জঠর যাতন যমের তাড়ন তােমার নামেতে তরি। তুমি সুধাকর সর্বঘটে চর হর যােণ নাম ধারী। 'শমন আগার হীন জন প্রতি অখিলের পতি দয়া কৈলা যদি ভারি। নিজগুণে তার ভবে যেন নাহি ঘুরি।
কহে ভগবান অন্তকালে স্থান
দিয়া লইব উদ্ধারি।।
দিয়া বর দান
দেব দেব মুর-অরি।
হন অন্তর্ধান
ধনপতি সদাগরের উপাখ্যান
উপদেশ পেয়ে বিপ্র যাইয়া ভবনে।
পৃজিলেন দীননাথে অনেক যতনে।
হইল মহান মুখ হরির কারণ।
দাসদাসী হাতী ঘােড়া রত্ন-সিংহাসন।
যে নারী কহিত কটু উদর জালায়।
মিষ্ট কথা হাস্যমুখ সদাসর্বদায়।
নিত্য নিত্য করে পূজা বিবিধ বিধানে।
উপনীত এক কাঠুরিয়া সেইস্থানে।
কাষ্ঠ আঁটি রাধি মাটি করিয়া আসন।
শুনিছে মহিমাগুণ ভরিয়া শ্রবণ
মানস করিল মনে প্রসাদ খাইয়া।
পরদিন পূজিলেক গৃহেতে যাইয়া।
ভক্তিতে দিলেন শৌৰ্য্য বীৰ্য ভগবান।
নি ত্য সত্য সেবা করে বিহিত বিধান ॥
নদীতীরে পূজা করে সব কাঠুরিয়া।
উপনীত এক সাধু তরণী বাহিয়া।
কামাখ্যাতে ঘর ধনপতি নাম তার।
মহাচীনে গিয়াছিল কসিতে বিহার ।
সমারোেহ দেখি তটে উঠে সদাগর।
জিজ্ঞাসে পূজার কথা সবার গােচর।
কাঠুরিয়া বলে সত্যনারায়ণ হরি।
পূজিলে মানস সিদ্ধি পরলােক তরি।
সাধু বলে ভাত যদি মাের হয়।
লক্ষ তা দিয়া পূজা করিব নিশ্চয়।
এবমস্তু এবমস্তু বলে কাঠুরিয়া।
সাধু চলে নিজদেশে মান করিয়া ।
কতদিনে উত্তরিলা সাধু নিজাগার।
সে দিবসে ঋতু স্নান সাধুর জায়ার।
প্রকাশ কমলে বিন্দু হইল পতন।
মুদিল কমল দল গর্ভের লক্ষণ।
হইল পূর্ণিত দশ মাস অবসান।
প্রসবিল এক কন্যা রােহিনী সমান ।
দিনে দিনে বাড়ে কন্যা যেন শশিকলা।
শশিমুখী নাম রাখে দেখিয়া বিমলা।
দশম বৎসর হলো বয়স কন্যার ।
মিষ্ট কথা হাস্যমুখ সদা রস ভার।
দেবদত্ত কন্যা মত্ত কুর গামিনী।
অঙ্গ-আভা যেন শােভা স্থির সৌদামিনী।
সম্পূর্ণ ষােড়শী নেত্র যেন নীলােৎপল।
সুধাকর নিলি তার বদন মণ্ডল।
গলে দোলে সারি সারি মালা মুকুতার।
লােকে সষে অনুভাবে পদ্মিনী আকার
সত্যব্রত
কেহ বলে বুঝি ছলে উৰ্বশী আসিলা।
কিবা ফিরে জনকের জানকী জন্মিলা।
ছাড়ি পতি বুঝি রতি গতি পুনৰ্ব্বার।
রুক্মিণী দ্রৌপদী কিংবা মাদ্রীর আকার।
ধনপতি কন্যা দেখি সুখী সৰ্ব্বদায়।
সম্বন্ধ করিল স্থির ঘটক দ্বারায়।
মহারাষ্ট্রে ঘর বর হরিশ্চন্দ্র নাম।
রূপে গুণে কুলে শীলে অতি অনুপাম ।
হরিশ্চন্দ্র চন্দ্র সম বদন আকৃতি।
তার স্থানে কন্যাদান কৈল ধনপতি।
কতদিন সুখে আছে জামাতা লইয়া।
সত্য সেবা পাসরিল সুখেতে ভুলিয়া
হরির হইল ক্রোধ সাধুর চরিতে।
মনােগত কৈল সাধু বাণিজ্যে যাইতে।
জামাতা যাইবে সঙ্গে দিন স্থির হৈল।
ঊষাতে করিবে যাত্রা সকলে জানিল ।
পূৰ্বদিক রক্তবর্ণ দিক সুপ্রকাশ।
দিনমণি আগমনে নক্ষত্র বিনাশ।
বাসায় থাকিয়া পাখী ডাকিছে তৎকাল।
কোকিল করিছে কুহুরব সুরসাল।
ঊষা পেয়ে যাত্রা করে সাধু ধনপতি।
ইষ্টদেব স্মরিয়া নৌকায় কৈল গতি।
নারায়ণে পাসরিল সাধুর নন্দন।
কি ঘটে কপালে দেশ বিধির লিখন।
১০১
সত্যব্রত
ধনপতি যেয়ে উঠিল নায় ।
খুলিল বহর দক্ষিণ বায়।
সিংহলে যাইতে করিল মনে।
বাহিছে তরণী রজনী দিনে ।
কামাখ্যা হইতে ছাড়িল তরী
আশে পাশে রাখে কতেক গিরি।
ব্ৰহ্মপুত্ৰ-তীর্থরাজ গভীর।
সুঠাম সুগতি উজ্জ্বল নীর
যার দরশনে মুকতি পায়।
তার পরে তরী বাহিয়া যায় ।
যােগী গােফা রাখিয়া পাছে।
উপনীত করতােয়ার কাছে।
কর্ণধারে সাধু জিজ্ঞাসে কথা।
কদিনের পথ আসিয়াছ হেথা।
কর্ণধার কহে দিক্কর হতে।
এসেছি শতেক যােজন পথে।
পাচদিনে এমু বাদাম কলে।
বিশেষ তােমারি ভাগ্যের ফলে।
শুনি সদাগর হরিষ তায়।
যােড় ফেলি দিল কাণ্ডারী গায় ।
পরশুরামের বাড়ী দেখিয়া ।
খুলিল বহর হরিষ হৈয়া।
ব্ৰহ্ম পুত্র ছাড়ি লক্ষাতেপড়ি।
-আঁটিয়া বাধিল বাদাম দড়ি ।
সতত
১০২
মেঘনাদে ভিজা ধরিল বলে।
বদর বদর মেয়েরা বলে ।
কত নদ নদী নগর ছাড়ি।
দাড়ি মাঝি গণে গাইছে সারি ।
উতরিলা যেয়ে কপিলাশ্রমে।
উঠে সদাগর অতি সম্রমে।
গঙ্গা সাগরেতে করিয়া গান।
তথা হতে ত্বরা করে প্রস্থান।
সাধু কহে কর্ণধারেরে তবে।
নীলাচল যেতে কদিন লাগিবে ।
ঝর ঝর বারি আঁখিতে ঝরে।
পুনঃ পুনঃ সাধু জিজ্ঞাসা করে।
কর্ণধার বলে ধনেশ ধীর।
সমুদ্রের ঝড় উখার নীর।
সাগর সঙ্গম হইতে ছাড়ি।
মাসেকের পথ ঠাকুর বাড়ী ।
কেন বারি ঝরে কমল নেত্রে।
সাত দিনে নিব বিমা ক্ষেত্রে।
শুনি কহে সাধু গভীর রবে।
হেন শুভভাগ্য মাের কি হবে ।
তীর সম তরী বাদামে চলে।
নলের ঘােটক নিন্দিয়া ছলে।
নৌকাপরে স্নান নৌকাতে পাক ।
সরােবরে যেন হংসের ঝাক।
{
১০৩
সপ্তম দিবসইল পূর্ণিত।
কর্ণধার হৈল মনেতে ভীত।
দূরবীণ ধরি পশ্চিম দিকে।
এক আঁখি দিয়া দেখিতে লাগে ।
ধূ ধূ মণি কোটা দেখিয়া চোখে ।
কর্ণধার ত্বরা সাধুকে ডাকে ।
ওহে সদাগর দেখহ আসি।
নীলাচলােপরি গােলকবাসী।
কথােপকথনে মন উল্লাসে।
তরী লাগে যেয়ে দক্ষিণ পাশে ।
ধনপতি স্মরি জগতের নাথ।
উঠিলেন ধেয়ে জাম সাথ ।
দাড়ি মাৰি সঙ্গে এক হাজার।
দ্বিগুণ বন্ধু বান্ধব তাহার ।
সাধু সঙ্গে চলে সঙ্গীরা যত।
হরিশ্চন্দ্র স্বর্গ-গমন মত ।
আঠার নালাতে কৈলা পয়ান।
পাণ্ডা মিলে আসি সাধুর স্থান।
গলে দিব্য মাল্য তিলক নাকে।
করে বেত্রাঘাত প্রভুকে ডাকে।
বেত্রাঘাত করে সাধুর পরে।
ধনপতি-ভাগ্য প্রশংসা করে।
সহ সুবর্ণমুদ্রা আনিয়া,
আঠার নালার চৌদিকে দিয়া ।
সত্যব্রত ১০০ ৫ ৫ কিনি সাধুগণ, ধনপতি সুখী পথ গমনে। কবিবর সুখে সরস ভণে। চলে ধনপতি অতি দ্রুতগতি, জগন্নথ দরশনে। কুবের হােড়ানী, প্রথমেতে কিনি, পান করিছে যতনে। কতদূর হাঁটি, দেখে পরিপাটী, অন্নের হাট বাজার। করিছে ভোজন, ব্যঞ্জন কত প্রকার ॥ পিষ্টক পায়, আদি ছয় রস, করমা বাউ খিচুড়ী। কাঙ্গালী সকল, হয়ে কুতূহল, করিতেছে কাড়াকাড়ি । চণ্ডালে আনিয়া, আটিয়া কিনিয়া, দিতেছে ব্রাহ্মণ মুখে। পেয়ে বিগ, হরিষে মগন, খাইছেন মহাসুখে। কুকুর বদন, হইতে তখন, অন্ন যদি হয় পাত। তাহা খাইবার, কাক অবতার, দেবগণ সাথে সাথ। দেখি সদাগর, হরিষ অন্তর, বাজার কিনিয়া লয় ।
সত্যব্রত বিবিধ প্রকার, করিয়া ভাণ্ডার, অন্ন-কল্পতরু হয়। সিংহ দরজায়, যাইয়া ত্বরায়, অক্ষয় বট দেখিয়া। দীনবন্ধু প্রতি, করিলেক নতি, পুলকে পূৰ্ণিত হিয়া। গােলক বিহারী, সুভা কুমারী, বলরাম দৃষ্টি করি। সাধু কলেবর, সুখে গর গর, নয়নে বহিছে বারি। লক্ষ্মীর পুরীতে, যাইয়া ত্বরিতে, সকল দেখিয়া যায়। উদর ভরিয়া, ভােজন করিয়া, উঠিলেন যেয়ে নয় । নীলাচলােপর, দেখে যেই নর, দারু ব্রহ্ম অবতার। সেথায় গােলকে, জিনিয়া ৱিলােকে, কাটাইয়া ভবভার। দিতে নারে সীমা, স্মরিতে কলুষক্ষয়। সৰ্ব্ব তীর্থ আসি, হয় মেশামেশি, যেখানে প্রসঙ্গ হয় ॥ তথা হৈতে গতি, কৈলা ধনপতি, সেতুবন্ধে উপনীত। প্রভুর মহিমা, সত্যব্রত, রামেশ্বর নাম, অতি অনুপম, শিব লিঙ্গ বিরাজিত। কাণ্ডারী গােচর কইে সদাগর, শুন কর্ণধার ভাই। মনের উল্লাস, একরাত্রি বাস, করিব এ পুণ্য ঠাই। শুনেছি পুরাণে, সেতু বন্ধ স্থানে, যে করে নিশিতে বাস। শমন দমন, প্রস েভঞ্জন, জঠর যাতনা নাশ। সে নিশি বঞ্চি, শিবকে অর্ডিয়া, খুলিল সাধু বহর। বামে লঙ্কা রাখি, কর্ণধারে ডাকি, কহিতেছে সদাগর। সমুদ্রেতে নাও খরতর যাও, সাবধান লাগে শঙ্কা। সব নিরাকার, অপর পাথার, দরশন মাত্র লা॥ সেতু বন্ধ হৈতে, সিংহল যাইতে, চারি মাসে সবে যায়। হরির চক্রেতে, বায়ুর বেগেতে, চারি প্রহরে লাগায় । দেখিয়া নগর, অতিমনােহর, উঠিলেন ধনপতি।
। ১০৭ অশেষ বিশেষ এই কোন দেশ, জিজ্ঞাসে সবার প্রতি। বলিছে সকলে, আসিছু সিংহলে, কোথা যাবে মহাশয়। শুনি সদাগর, হরিষ অন্তর, নিতান্ত বিস্মিত হয় ॥ কর্ণধার ধীরে, কহে সদাগরে, কি শুভযাত্রার ফল। চারিমাস পথ, দিনেতে আগত, বাণিজ্যে হবে মঙ্গল ॥ মহা মুখে রঙ্গে, জামাতার সঙ্গে। বাসা করিলেন স্থিত। অট্টালিকা পর, বালাখানা ঘর, মনোহর বিরাজিত । সিংহল নগর, ধৰ্ম্মশীল সত্যবাদী। মহা মহীপাল, প্রতাপে বিশাল, নিষ্পাপ বিহীন ব্যাধি। রূপসী সুন্দরী, পদ্মিনী নাগরী, ঘরে ঘরে প্রকাশিত। প্রতিদিনে ক্ষয়, ছয় ঋতু বয়, বসন্ত সদা উদিত । কমলিনিগণ, কখন কখন, কটাক্ষ ভঙ্গিমা করে। বর্ণিতে দুস্কর, ৪ Sob ধনু ছাড়ি কাম, অমনি বিশ্রাম, রতিতে মন বিশ্বরে। হীরা মুক্তা চুনি, হেম নীল মণি, রাখিছে ধরি ভাণ্ডার। জীর ধনিয়াতে, সমযােগ্য তাতে, তুল্য ওজনে ব্যাপার। দেখি ধনপতি, হরষিত অতি, মনে তবে আশা করে। এবার আমার, সাধের ব্যাপার, দিয়াছেন ধনেশ্বর। কবিবর কয়, আশা অতিশয়, যথা তথা অমঙ্গল। স্বর্ণ মৃগ দেখি, আশায় জানকী, পেয়েছেন প্রতিফল। যে দিবস সাধু গেল সিংহলে রাজপুরী চুরি হইল বিরলে । রাণীর গলার মতির হার। চোরে বেচিবারে নিল রাজার । মনােহর হার সাধু জানিয়া। জামাতার গলে দিল কিনিয়া ।। সভাতে কোটালে আনিয়া ভূপে। তৰ্জন করিছে বিশেষ রূপে। হেনকালে হরি সর্বজ্ঞ বেশে। উপনীত হইল রাজার বাসে ! ৫.
সত্য-ব্রত
শুভ্র মােঞ্জ' সূত্র গলেতে দোলে।
হর হর হর বদনে বলে।
শত সূৰ্য্য সম বিরাজে কায়।
জাহ্নবী মৃত্তিকা ভূষিত গায়।
দেখি মহারাজা করে প্রণাম।
জিজ্ঞাসে প্রভুর কোথায় ধাম।
হরি কহে ধাম হরির দ্বার।
যাইব সাগর সঙ্গম পার।
যােগ বলে আমি সকলি জানি।
চোর সাধূ সব দেখিলে চিনি।
রাজা বলে প্রভু কহিতে ডরি।
হার চোর মাের দেহত ধরি।
ভূমে খড়ি পাতি কহিছে হরি।
শুন চোর নাম, নৃপ কেশরী ।
নাম ধনপতি কামাখ্যাবাসী।
বাসা করিয়াছে নগরে আসি।
হরিশ্চন্দ্র নামে জামাতা তার।
তারা চুরি করি নিয়াছে হার ।
কোটাল ছুটিল নগর পাশে।
ধরে যেয়ে সাধুর নাম উদ্দেশে।
নাবিকে ফুকারে হরিষ পার।
চোর ধরা গেছে সহিতে হার।
রাজা বলে হার আন গােচরে।
চোর নিয়া রাখ মশান ঘরে।
সত্যব্রত
}
হরি নাম ভুলি হরির সঙ্গে
সাধু হইল বন্দি জামাতা সঙ্গে।
দেশে দূরদৃষ্ট সাধুর বাড়ী।
হৈল গৃহ দাহ অগ্নিতে পড়ি ।
মহা দুঃখ হইল সাধুর জায়ার।
দিনান্তে না ঘটে আহার তার।
বিরলে বসিয়া সাধুর রমণী।
শ্রবণে শুনিল হরির ধ্বনি।
স্মরণে পড়িল মানস কথা ।
দেব আরাধিয়া জন্মিল সূতা
মানস করিল দেবের ঠাই।
প্রভু আন দেশে সঙ্গে জামাই।
ভক্তি দেখিয়া দয়াল নাথ।
সিংহলে চলিল রাজসাক্ষাৎ।
স্বপনে বাজারে কহেন কাণে।
সাধু দুইজনে কেন মশানে।
কোথাকার জানি ব্রাহ্মণ দুষ্ট।
তার বাক্যে দাও এতেক কষ্ট ।
মহা জ্ঞানবান সেবক মাের।
হার কিনি হৈল এদেশে চোর।
শীঘ্র ছাড়ি দাও সিংহল নাথ।
নহে সবংশে হইবে নিপাত ।
প্রভাতে উঠিয়া সিংহল পতি।
কম্পিত স্বপন ভয়েতে অতি ।
১১১
সত্যব্রত
আপনি হই সাধু করি মােচন।
নৌকাপুরী দিল হীরা কাঞ্চন।
দেশে চলে সাধু হরিষ পার।
দিবা নিশি নাহি ভেদ তাহায়।
সত্যনারায়ণ করিয়া লীলা।
নদীতীরে দিব্য সন্ন্যাসী হৈল ।
গৈরিকের বস্ত্র কটিতে আঁটা।
প্রয়াগের ৰুলি কপালে কোটা।
শিরে জটাভার কুণ্ডল কাণে।
ঢুলু ঢুলু আঁখি বিজয়া পানে।
সাধুকে জিজ্ঞাসে মধুর স্বরে।
সদাগর যাবে কোন শহরে।
কিবা দ্রব্য তুমি ভরেছ নায় ।
সাধু শুনি কহে কুপিয়া তায়
মাটিতে পুরেছি তরণী আমি।
পুনঃ পুনঃ কেন জিজ্ঞাস তুমি ।
প্রভু কহে হাসি মাটির ভরা।
মাের বাক্য বলে হউক ত্বরা।
সাধু দেখি মাটী সকল নায় ।
কালি পড়ে যেয়ে সন্ন্যাসী পায় ।
স্তব স্তুতি করে অতি সরস।
ভগবান হৈলা স্তৰৰতে বশ।
হাসি কহে হরি সাধুর পাশে।
সত্য সেবা ভুলিয়াছ কি দোষে।।
সত্যব্রত,
দুহিতা কারণে মানস ছিল।
বিয়া দিলা পূজা কেন না হৈল ।
সিংহলেতে দুঃখ তঁাহার রােষে।
পূজা কর গিয়া আপন দেশে।
পুৰ্ব্ব মত ভরা হইবে নায়।
উঠে যেয়ে সাধু দেখিতে পায়
অন্তধন হৈল প্রভু তথায়।
ধনপতি হৈল ব্রাসিত তায়।
বান্ধ রাখে রত্ন সেবার কারণ।
নৌকায় উঠিয়া করেন গমন।
বহুকালে তরী লাগিল ঘাটে।
সাধুর পুরীতে সংবাদ রটে ।
সাধুসুতা সত্যসেবার পরে।
লইছে প্রসাদ খাইতে করে।
সংবাদ শুনিয়া আহলাদ ভরে।
ফেলিল প্রসাদ কতেক দূরে ॥
নারায়ণ হৈলা তাহে কুপিত।
ডুবিল জামাতা নৌকা সহিত।
সাধু মােহ হৈল দেখিয়া তায়।
পুরে অমঙ্গল শুনিতে পায় ।
সাধু নারী শুনে সুতার সাথ।
বিনা মেঘে হইল বজ্রাঘাত।
ক্রন্দনের রােল সাধুর দেশে।
বিবর ভনে মাচারি শেষে।
শুনিয়া দারুণ বাণী, সাধুতা বদনী পড়িল কান্দিয়া ধরাপর । কমল যুগল করে, হানিছে মস্তকোপরে, নয়নেতে ধারা খরতর। ওহে প্রভু প্রাণনাথ, বজ্রাঘাত অকস্মাৎ, নিজ নারী পায়েতে হানিলা। যাইতে প্রবাস পথে, কত বুঝাই তাতে, ঘাটে আসি সব বিস্মরিল। চিরকাল পরবাস, মনেতে করেছি আশ, দেখিব বদন শশধর। আশানদী হৈল দূর, যৌবনের গৰ্ব চুর, হেলাতে করিল। প্রাণেশ্বর। নারীর জীবন পতি, পতি রমণীর গতি, নারীর বসনভূষা পতি। কান্দিছে সাধুর বালা, ধরণী করিয়া আলা, মদন বিরহে যেন রতি। ক্ষণে পড়ে ধরাতলে, ঝাপ দিতে যায় জলে, ক্ষণে ক্ষণে বলিছে বদনে। কোথ। গেলে প্রাণেশ্বর, আসিয়া দেখহ ঘর, অবলার দুর্গতি নয়নে। ভাবিতে পরাণ ফাটে, বিনা মেঘে নৌকা হৈল তল। দৈখিয়া পারাবার, উপায় করিছে সার, বুঝি হরি করিয়াছে ছল । সমুদ্র তরিয়া ঘটে, সত্য-শ্ৰত- ওহে প্রভু গদাধর, বিবাহ অগ্নির শর, বিদিত তোমার কলেবর। ত্রেতাযুগে অবতার, নাশিতে ক্ষিতির ভার, জন্মেছিল অযােধ্যা নগর। পিতার আজ্ঞার ছলে, বনবাস কুতূহলে, জানকী লক্ষ্মণ সঙ্গে করি। উপজিল দুঃখজাল, পরিয়া গাছের ছাল, শিরে জটা হাতে ধনু ধরি। ছিল পঞ্চবটী বন, তথা হৈতে দশানন, সীতা হরি নিল লঙ্কাপুরী। বিরহে হইয়া ছিন্ন, বিবর্ণ হইল বর্ণ, ব্যাকুল হইলে বনে ঘুরি। পূর্ণব্রহ্ম অবতারী, সুগ্রীবেরে সখা করি, বালি বধ বিনা অপরাধে। সমুদ্র তোমার সৃষ্টি, পাষাণ করিয়া বৃষ্টি, অলঙ্ঘ্য বাধিলা শােকবাদে। অতি শােকে কোপরাশি, সবংশে রাবণে নাশি, সীতা সঙ্গে হইল দরশন। হরিষ হইয়া রঙ্গে, বানর ভল্লুক সনে, সুখে কৈল অযােধ্যা গমন। আমি বালা বল শূন্য, শরীরে নাহিক পুণ্য, পুণ্যহীনে দেবতা নির্দয় । অধম অজ্ঞান জানি, দয়া কর চক্রপাণি, তব নাম দীন দয়াময় ।
সত্যব্রত
লােচনে বহিছে ধারা, যেন মন্দাকিনী পারা,
নাৰায়ণ স্মরে বারে বার।
বিপত্তিতে অভিরাম,
শ্রীমধুসুদন নাম,
কবিবর করিছে পয়ার।
এরূপ ক্রন্দন কত করে সাধুবালা।
রাহুতে গ্রাসিছে যেন পূর্ণ শশিকলা।
নিতান্ত দুর্গতি দেখি সত্যনারায়ণ।
করিলা আকাশ বাণী শুনে সর্বজন ।
আহলাদে ত্যজিয়াছিলে প্রসাদ আমার।
ভক্তিভরে খাও যেয়ে দুঃখে হবে পার ।
আকাশ বাণীতে যেন পেয়ে হারাধন।
পরম ভক্তিতে খায় প্রসাদ তখন।
. উঠিল ভাসিয়া নৌকা হরিশ্চন্দ্র সনে।
জয় জয় শব্দ হয় সাধুর ভবনে ॥
ধনপতি জামাতাকে সহিত লইয়া।
পুরে প্রবেশিল সুখসাগরে ডুবিয়া।
ধনপতি মহাসুখী কৈলা ভগবান।
জন্মিলেক দুহিতার অপূর্ব সন্তান।
যুগে যুগে অবতার হৈয়া মনােহর।
এরূপ মহিমা প্রকাশিল গদাধর।
কলিতে জাগ্রত দেব সত্যনারায়ণ।
অপুত্রকে পুত্র দেন দরিদ্রকে ধন।
সত্যব্রত,
রােগ যুক্ত হয় মুক্ত সঙ্কটে নিস্তার
কারাগারে বন্দী পায় মানসে উদ্ধার।
বােবা জন কথা কয় মুখে বিদ্যা পান।
কিনা কারে দিতে পারে দেব ভগবান।
হরি বল হরি বল হরি বল ভাই।
নারায়ণ বিনা অন্তকালে কেহ নাই।
ভাই বন্ধু নারী আদি সকলি অসার।
ভবসিন্ধু তরিবারে তরী নাহি আর।
গেল দিন মিছা কাজে কবিবর কয়।
হরি হরি ধ্বনিতে যমের নাহি ভয়।
রামেশ্বরী ব্রতকথা সমাপ্ত।
স্কন্দপুরাণােক্ত মোখণ্ডের মূল সত্যনারায়ণ ব্রতকথা। এতেন ও নারায়ণং নমস্কৃত ত্য নরঞ্চৈব নরােত্তমং। দেবীং সরস্বতীঞ্চৈব ততত জয়মুদিরয়েৎ। ঋষয় উবাচ। তপসা বাপি প্রাপ্যতে বাঞ্ছিতং ফল। সৰ্বেষাং প্রষ্ট মিচ্ছামি কথয়স্ব মহামুনে। এক উবাচ। নারদেনৈবমুক্ত স ভগবান কমলাপতিঃ। সুরায়ে যথ। প্ৰাহুযুৎ শৃণুং সমাহিতা। একদা নারদো যােগী নানুগ্রহকাময়। পৰ্যটন্ বিবিধা লােকান্ মর্ত্যলােমুপাগতঃ ॥ তত্র দৃষ্টা জনাঃ সর্বে নানাদুঃখ- সমন্বিতাঃ। নানাযােনি-সমুৎপন্নাঃ ক্লিশন্তে পাপকৰ্ম্মভিঃ । কেনােপায়েন চৈতেষাং দুঃখনাশশা ভুবেদধ্রুবং। ইতি সঞ্চিত মনসা বিষ্ণুলােকং গতস্তদা. তত্র নারায়ণং শুক্লবর্ণং চতুভূজম্। শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম বনমালা-বিভূষিতম্। দেৰং সত্য-ব্রষ্ঠ, ১১৮ দৃষ্ট। তং দেবদেশেং বক্তং সমুপচক্রমে। নারদ উবাচ। ওঁ নমস্তে বাঙ্মােহতীতরূপায়ানন্তশক্তয়ে। আদিমধ্যান্তহীনায় নিগুণায় গুণাত্মনে। সৰ্ব্বেষামাদিভূতায় ভক্তানামাৰ্ত্তিনাশিনে। শ্ৰত্বা স্ত্রোত্রং ততো বিষ্ণুর্ণারদং প্রত্যভাষত। এভগবানুবাদ। কিমর্থমাগতোহসি ত্বং কিন্তে মনসি বৰ্ত্ততে। কথয় মহাভাগ তৎসং কথয়ামিতে। নারদ উবাচ। মর্ত্যলোকে জনাঃ সৰ্ব্ব নানাক্লেশসমন্বিত। নানাযোনিসমুৎপন্নঃ পচ্যন্তে পাপৰুৰ্ম্মভিঃ । তৎ সর্ববং শমরেশ্নাথ লঘুপায়েন তদ্বদ। শ্রোতুমিচ্ছামি তৎ সবং কৃপাস্তুি যদি তে ময়ি। শ্রীভগবানুবাচ। সাধু পৃষ্টং ত্বয় বৎস লোকানুগ্রহকামায়। যৎ কৃত্বা মুচাতে মােহাৎ তৎ শৃণুস বদামি তে । মস্তি মহাপুণ্যং স্বর্গে ভুবি সুদুলভম্। তব স্নেহান্ময়া বিপ্রাঃ প্রকাশ: ক্রিয়তেইধুনা ॥ সত্যনারায়ণশ্যৈত ব্ৰহং-সম্যগ বিধানতঃ। কৃত্বা সম্যক্ সুখং ভুক্ত। পরে মােঙ্গ- মবায়াৎ। তৎ ত্ব। ভগবাক্যং নারদঃ পুনঃব্রবীৎ। কিং ফলং কিং বিধানঞ্চ কৃতং ৰা কেন ব্রত। তৎ ং বিস্তর হি কদা কাৰ্যং ব্রতং হি ভৎ। শ্রীভগবানুবাচ। দুঃখশােকাদি শমনং ধনধান্যৰিবদ্ধ নম্। সৌভাগ্যসন্ততিকং সর্বত্র বিজয় প্রদ । যস্মিন্ কস্মিন্ দিনে মন্ত্যো ভক্তিশ্রদ্ধাসমন্বিতঃ। সত্যনারায়ণং দেবং যজেতুষ্টো নিশামুখে। বান্ধবৈষণৈশ্চৈব সহিতে ধৰ্ম্মতৎপরঃ। নৈবেদ্যং ভক্তিতে দঘাৎ সপাদং ভক্ষমুত্তমম্। রম্ভাফলং ঘৃতংক্ষীরং গােধুমস্য চ চুর্ণক। অভাবে শালিচুর্ণ বা শর্করা বা গুড়স্তথা। সপাদং সর্বভ্যানি একীকৃত।
সত্যব্রত নিবেদয়েৎ। বিপ্রায় দক্ষিণাং দদ্যাৎ কথাং শ্রু জনেঃ সহ। তত বন্ধুভিঃ সাদ্ধং বিপ্ৰেভ্যঃ প্রতিপাদয়। প্রসাদং ভক্ষয়ে- ভক্ত্যা নৃত্যগীতাদিকঞ্চরেৎ ॥ ততস্তত্বা গৃহং গচ্ছেৎ সত্যনারায়ণং র। এবং কৃতেমনুষ্যাণাং বাঞ্ছাসিদ্ধির্ভবে। বিশেষতঃ কলিযুগে নানন্যাপায়ােহস্তিভূতলে। কথামস্য প্রবক্ষ্যামি কৃতকৃত্যে ভবেজি। কশ্চিৎ কাশীপুর গ্রামে আসীদি প্রশ্ন নিধনঃ । ক্ষুতৃষ্ণাব্যাকুলাে ভুত্ব। সভয়ং ভ্রমতে মহীন। দুঃখিতং ব্রাহ্মণ দৃষ্ট। ভগবান্ ব্রাহ্মণপ্রিয়। বৃদ্ধব্রাহ্মণরূপেণ পপ্ৰচ্ছ দ্বিজমাদরাৎ। কিমর্থং ভ্রমসে ৰিপ্ৰ মহীং কৃৎস্নাং সুদুঃখিতঃ। তৎ সর্বং শ্রোতুমিচ্ছামি কথ্যতাং যদি রেচিতে। ব্রাহ্মণ উবাচ ােেহতিদরিদ্রোহং ভিক্ষার্থং ভ্রমণং মম। উপায়ং যদি জানাসি কৃপয় কথয় প্রভো বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ উবাচ। সত্যনারায়ণো বিষ্ণু বাঞ্ছিতার্থফলপ্রদ। তস্য ত্বং দ্বিজশাৰ্দল কুরু ব্ৰতমুত্তমম্। যৎকৃত্য সর্বদুঃখেভ্যো মুক্তো ভবতি মানৰঃ। বিখানঞ্চ ব্ৰতস্যাস্য বি প্রায়াভাষ্য যত্নতঃ । সত্যনারায়ণে। বৃদ্ধস্তত্রৈবান্তরীয়ত । তােহসৌ মনসা বিপশ্চিন্তয়ামাস ঈশ্বর। ব্ৰং নারায়ণে- নােক্তং ৰিদিত্বা মন্দিরং যযৌ। ততােহহং তৎ করিষ্যামি ব্রং মনসি চিন্তিত। ইতি নিশ্চিত্য বিপ্রোসৌ রাত্রে নিদ্রাং ন লব্ধবান। ভতঃ প্রাতঃ সমুথায় সত্যনারায়ণব্রতং । করিয্যেহহঞ্চ সঙ্কল্প ভিক্ষার্থমগমদ্বিজঃ। তস্মিবে দিনে বিপ্রঃ প্রচুরং এব্য প্রাপ্তবান্। তেনৈব বন্ধুভিঃ সাদ্ধং সত্যস্য ব্ৰতমাচরন্। সর্বদুঃখবিনিম্মুক্তঃ সর্বসম্পৎসমন্বিতঃ। বভূব সাজশ্রেষ্ঠে।
সত্যব্রত ১২০ তস্যাস্য প্রসাদতঃ। ততঃ প্রভৃতি কালঞ্চ মাসি মাসি ব্রং কৃত। শ্রীভগবানুবাচ । এবং নারায়ণদেতদূতং জ্ঞাত্বা দ্বিজোত্তম। সর্বপাপবিনিম্মুক্তো দুলভং মােক্ষপ্রাপ্তবান । ব্ৰতমে যদ বিপ্রঃ পৃথিৰাং সঞ্চরিষ্যতি । দৈব সর্ব দুঃখং হি মানবানাং বিনশ্যতি । সুত উবাচ। এবং নারায়গেননাক্ত নারদায় মহাত্মনে। ময়পি কথিতং বিপ্রাঃ কিমৎ কথয়ামি বঃ ৫ ঋষয় উচু। তস্মাদিদ ব্ৰতং কেন পৃথিব্যাং চরিতং মুনে। তৎ সর্বং শ্রোতুমিচ্ছাম শ্রদ্ধাস্মাকং প্রজায়তে। সূত উবাচ। শৃণু মুনয়ঃ সর্বে তা যেন কৃতং ভুবি। একদা স দ্বিজবরে। যথাবিভববিস্তরৈঃ। বন্ধুভিঃ স্বজনৈঃ সার্ফং ব্রতং কত্তাং সমুদ্যত। এতস্মিন্নন্তরে কালে কাষ্ঠকেতুঃ সমাগতঃ ॥ বহিঃ কাঞ্চ সংস্থাপ্য বিপ্রস্য মন্দিরং যযৌ। তৃষ্ণয়া পীড়িতে ভূত্বা বিপ্রং দৃষ্ট। তথাবিধং। প্রণিপত্য দ্বিজং প্রাহ কিমিদং ক্ৰিয়তে ত্বয়া। কৃতে কিং ফলমাপ্পেতি বিস্তরাদ বদ মে প্রভাে॥ বি উবাচ । সত্যনারায়ণস্যেদং ব্ৰত সৰ্ব্বেতিপ্রদ। দুঃখ দারিদ্রশমনং পুত্রপৌত্ৰবিবর্ধনম্ ॥ তস্য প্ৰসাদান্মে সং ধনধান্যাকিং মহৎ। ততস্তদ্ববচনং শ্রুত্বা কাহাতিহর্ষিতঃ। পপৌ জলং প্রসাদঞ্চ ভুক্ত। তন্নগরং যযৌ। সত্যনারায়ণং দেবং চিন্তয় স্থিরমানসঃ ॥ কাষ্ঠং বিক্রিয় নগরে প্রাপ্ল্যামি চাদ্য যদ্ধন। তেনৈর সত্য- দেবস্য করিয্যে ব্ৰতমুত্তমম্। ইতি সঞ্চিত মনসা কাষ্ঠং কৃত্বা তু মস্তকে। জগাম নগরং রম্যং ধনিং যন্ত্র সংস্থিতিঃ তদ্দিনে কাষ্ঠমূল্যঞ্চ দিগুণং প্রাপ্তবানসৌ। ততঃ প্রসন্নহৃদয়ঃ সুপক্কং ৯২১, সত্যব্রত কদলীফল। শর্করা বৃদুগ্ধঞ্চ গােধূমস্য চ চূর্ণকম্ ॥ প্রত্যেকন্তু • সপাদঞ্চ গৃহীত্বা স্বরঃ যযৌ। যযৌ। ততাে বন্ধু সমাহয় চকার বিধি ব্ৰতম্। তদূতস্য প্রসাদেন ধনপুত্ৰান্বিতেহভবৎ। ইহলােকে সুখং ভুক্ত। চান্তে সত্যপুরং যযৌ। পুনরন্যৎ প্রবক্ষ্যামি শৃণুধ্বং মুনিপুঙ্গবাঃ। সূত উবাচ। আসীদুল্কামুখখা নাম নৃপতি- বলিনাং বরঃ জিতেন্দ্রিয় সত্যবাদী যষো দেবালয় প্রতি দিনে দিনে ধনং দত্ত্বা দ্বিজং সন্তোষয়েৎ সুধীঃ। তস্য ভাৰ্য্যা প্রমুগ্ধা চ সরোজবদনা সতী। ভদ্রশীল৷ ব্ৰতং সত্যং সিন্ধুতীরেহকােম্মুনে। এতস্মিয়ে সময়ে সাধুৱেকঃ সমাগতঃ ॥ বাণিজ্যার্থং বহুবিধৈ- রত্নাদ্যৈ পরিপূরীতাম্। নাবং সংস্থাপ্য তত্তীরে জগাম তত্তটং প্রতি। দৃষ্ট। তত্র ব্ৰং সম্যক্ পচ্ছ বিনয়ান্বিত। সাধু উবাচ। কিমিদং ক্ৰিয়তে রাজন্ ভক্তিযুক্তেন চেতসা। প্রকাশ কুরু তৎ সর্বং শ্রোতুমিচ্ছামি সাম্প্ৰতম্ ॥ রাজোচ। পূজনং ক্ৰিয়তে সাধৌ বিষ্ণোঃতুলতেজসঃ। ব্ৰঞ্চ স্বজনৈঃ সার্কং পুত্ৰাদিপ্রাপ্তয়ে ময়া প্রত্যুবাচ তভো নত্বা রাজানং সাদরং বচঃ। সাঙ্গং কথয় মে রাজন্ তমেতৎ কােম্যহম্। মমাপি সন্ততিনাস্তি এতস্মবিতা প্ৰব। তো নিবৃত্য বাণিজ্যাৎ সানন্দং গৃহমাযে কিয়দ্দিনে তস্য ভাৰ্যাহভবগর্ভবতী সতী। গর্ভযুক্তানন্দচিত্তাহভবদ্ধৰ্ম্মপরায়ণা। পূর্ণে গর্ভে ততাে জাত বালিকাচাতিসুন্দরী। দিনে দিনে বর্ধমান শুক্লপক্ষে যথা শশী । ততাে বণিক সুতায়াশ্চ জাতকাদি সমপ্য চ। নান্না কলাবতী চেতি তন্নামকরণং কৃত ততে। লীলাবতী প্রাহ নতৰত ১২২ স্বামিনং মধুরং বচঃ। ন করােমি কিমর্থং বা পুরা যচ্চ প্রতিশ্রুত। সাধুরুবাচ। বিবাহ সময়েইপ্যস্যাঃ করিষ্যামি : ব্ৰতং প্রিয়ে। ইতি ভাৰ্যাং সমাস্যাস্য জগাম তত্তটং প্রতি। ততঃ কলাবতী কন্যা বর্ধিতা পিতৃবেশ্মনি। দৃষ্টা কন্যাং তত, সাধুনগরে বন্ধুভিঃ সহ। মন্ত্ৰয়িত্বা দ্রুত দূতং প্রেসােমাস ধৰ্ম্মবিৎ। বিবাহার্থঞ্চ কন্যায় বরং শ্রেষ্ঠ বিচারয়ন্ । তেনাজ্ঞপ্তস্ততঃ সােহসো কাঞ্চনং নগরং যযৌ। তম্মদেকং বণিকপুত্রং সমাদায়াগতো হি সঃ ॥ দৃষ্ট। তু সুন্দরং বালং বণিক- পুত্ৰং গুণান্বিতম। জ্ঞাতিভিক্ষুভিঃ সার্ফং পরিতুষ্টেন চেতসা। দত্তবান সাধুপুত্রায় কন্যাং বিধিবিধানতঃ। ততােহভাগ্যবশাত্তেন বিস্মৃতং ব্ৰতমুত্তমম্ ॥ বিবাহসময়েইপ্যাস্তেন কষ্টোহভবদ্বিভুঃ। ততঃ কালেন কিয়তা নিজধৰ্ম্মবিশ রদঃ ॥ বাণিজ্যার্থং ততঃ শীঘ্রং জামাত্রা সহিতে। বণিক। পুরীং নিৰ্মায় নগরে চন্দ্রকেতুপস্য চ | এতস্মিবে কালে তু সত্যনারায়ণঃ প্রভু। ভ্রষ্টপ্রতিজ্ঞ। মালােক্য পাপং তস্মৈ প্রদত্তবান্ । তদ্যারত্য কিয়ৎকালং দুঃখস্তেহত্ৰ ভবিষ্যতি। তস্মিন্নের দিনে রাজ্ঞাে ধনমাদায় তস্কর। তেনৈব বক্স নায়াতঃ পৃষ্ঠদেশং বিলােকয়। তৎ পশ্চাৎ ধাৰতত দূতান দৃষ্টা ভীতেন চেসা। তত্রৈব গতঃ শীঘ্রমলক্ষিত ভততা দূঃ সমায়াত ৰত্ৰান্তি সজ্জনে। বণিক। দৃষ্ট। ভূপ ধনং তত্র বদ্ধা দূত বণিকতো। হর্ষযুক্তা ধাবমান উচুপসমীপতঃ। তস্কয়ে দৌ সমানীতে বিলক্যাজ্ঞাপ প্রভো। তেনাপ্তৈ স্ততঃ শীঘ্রং দৃঢ়ং বদ্ধাতু ধনং সংস্থাপ্য
১২৩*
সত-ব্রত
তাবুভৌ। স্থাপিতে দ্বৈী মহাদুর্গে কারাগারে বিচারত। সূত
উবাচ। মায়য়া সত্যদৈবস্য ন তঞ্চ তয়ােবচঃ। ততস্তয়ােধনং
যচ্চ গৃহীতং চন্দ্রকেতুন। তচ্ছাপিচ্চ তয়াের্গেহে ভাৰ্য্যাপি
দুখিতাভবৎ। চৌরেপাপহৃতং সৰ্ব্বং গেহে যচ্চ স্থিত
ধন। আধিব্যাধিসমাযুক্তা ক্ষুৎপিপাসাপ্রপীড়িত।
চিন্তাপরা ভুত্ব ভ্রমতে চ গৃহে গৃহে। তত্র কলাবতী কন্যা
ভ্রমতে প্রতিবাসরম্ একদা সা তু ভবনাৎ ক্ষুধার্তা দ্বিজ
মন্দির।
। গত্বাপশ তং তত্র সত্যনারায়ণস্য চ উপবিষ্য
কথাং ত্বা বরং সম্প্ৰৰ্থ বাঞ্ছিতম্। প্রসাদ ভক্ষণং কৃত্বা যযে
রাত্রে গৃহং প্রতি। ততো লীলাবতী কন্যাং ভৎসমাস তং
ভূশ। পুত্রি রাত্রে স্থিতা কুত্র কিন্তে মনসি বৰ্ততে । দ্বিজালয়ে
ব্রতং মাতদৃষ্টং বাঞ্ছিতসিদ্ধিদ। তৎ ত্বা কল্পকাবাক্যং ব্রত
কং সমুদ্যতা। সসুতা সা বণি ভাৰ্যা সভ্যনারায়ণস্য চ।
ব্ৰতঞ্চক্রেচ বৈ সাধ্বী বন্ধুভিঃ স্বজনৈঃ সহ। ভর্তুজামাতরে
ক্ষিপ্ৰমাগচ্ছেতাং মমমম্ । ইতি দেৰং বরং যাচে সত্যদেবং
পুনঃ পুনঃ ॥ অপরাধস্তু ভৰ্ত্তমে জামাতুঃ ক্ষন্তুমহাস। ব্ৰতেন
তস্যাস্তুষ্টোইসৌ সত্যনারায়ণঃ ভুঃ ।
দশমাস স্বপ্নং হি
চন্দ্রকেতুং নৃপােত্তমম্ । বন্দিনী মেচি প্রাণিজ
নৃপসত্তম। দেয়ং ধনঞ্চ তৎসং বিধিনা দ্বিগুণী কৃতম্ ।
নাে চেৎ ত্বাং নাশয়িষ্যামি সাজ্যধনপুত্ৰক । এবমাভাষ্য
রাজানং ধ্যানগমোহভবৎ প্রভূঃ। তত: প্রভাতসময়ে রাজা চ
ঋজনৈঃ সহ। উপবি সভামধ্যে প্রাহ দূতজনং প্রতি : বন্ধেী
সত্যব্রত মহাজনো শীঘ্রং মােয়ং বণিকসুতো। ইতি রাজ্ঞো বা ত্বা মােচয়িত্বা মহাজনে। সমানীয় নৃপস্যাগ্রে প্রাচুশ্চ বিনয়ান্বিতা আনীতে জো বণিকপুত্ৰেী মুক্তো নিগড়বন্ধনাৎ। ততো মহাজনৌ নত্ব৷ চন্দ্রকেতুং নৃপপাত্তমম্। স্মৃত্ব চ পূৰ্ববৃত্তান্তং বিস্ময়ল- বিলো। রাজা বণিকসুতো বীক্ষ্য প্রােবাচ সাদরং বচঃ। দৈবাৎ প্রাপ্তং মহৎ কষ্টমিদানীং নাস্তি তদ্ভয়ং। ইদানিমেব মুক্তং ক্ষুরকর্মাদিকঞ্চর। ততে নৃপবরঃ শ্ৰীমান্ স্বর্ণরত্ন- বিভূষণৈঃ। অলঙ্কৃত্য বণিকূপুত্রোবচসা প্রীণয়শ। পুরা নীত মদ্রব্যং দ্বিগুণীকৃত্য দত্তবান্। প্রােবাচ তো ততো কাজ। গচ্ছ সাধাে নিজাশ্রম। রাজানং প্রণিপত্যাহ গন্তব্যং ত্বৎ প্রসাদতঃ। যাত্ৰাং কৃত্বা ততঃ ততঃ সাধুৰ্ম্মঙ্গলাচারপূর্বিকাম্। ব্রাহ্মণেভ্যো ধনং দা সহর্ষো নগরং যৌ। কিয়দ্র গতে সাধে সত্যনারায়ণং প্রভু। জিজ্ঞাসাং কৃতবান সাধে কিমস্তি তরণৌ তব। ততো মহাজনো মত্তো হেলয়া চ প্রহস্য,চ। কথং পৃচ্ছসি ভো দণ্ডি যুদ্ৰাং কিং লব্ধ মিচ্ছসি। লতাপত্রাদিকঞ্চৈব বৰ্ত্ততে তরণৌ মম নিষ্ঠুরঞ্চ বচঃ ত্বা সত্যং ভবতু তে বচঃ। এবমুক্ত। গতঃ শীঘ্রং দণ্ডীতস্য সমীপতঃ । কিয়রে তাে গত্বা স্থিত সিন্ধুসমীপতঃ । গতে দণ্ডিনী সাধুশ্চ কৃতনিত্যক্রিয়স্তদা । উথিতং তরণীং দৃষ্ট। বিস্ময়ং পরমং যষো। লতাপত্রাদিকং দৃষ্ট। মুচ্ছিতত হপতদ্ভুবি। লব্ধসংজ্ঞে বণিকপুত্ৰস্ততশ্চিন্তা- পরােহভবৎ। শ্বশুরং দুহিতুঃ কাস্তো বচনঞ্চেদমব্রবীৎ। জামাতােবচি। কিমর্থং কুরুতে শােকং শপাদেচ্চ দণ্ডিনঃ।
১২৫ . সত-ব্রত শকতে তেন সংহিক হত্তং ন সংশয়ঃ । ততস্তচ্ছুরণং যামে বাঞ্ছিতার্থে ভবিষ্যতি। জামাতুশ্চ বচঃ ত্বা তৎসকশং গতস্তদা। দৃষ্টা চ দণ্ডিনং ভক্ত্যা না প্রােচ সত্বর। ক্ষম Fাপরাধং মে যদুক্তং তব সন্নিধৌ। ময়া দুরাত্মন দেব মুখােন তব মায়য়া। যদুক্তং তদ্বচো নাথ দুষ্টং মাং মসি। যত পাকৃতাঃ সর্বে ক্ষমাসারা হি সাধব। পুনঃ পুনস্তত না রুরোদ শােকবিহবল। তমুবাচ ততত দণ্ডী বিপন্তং বিলােক্য চ। মা রােদীঃ শৃণু মে বাক্যং মম পূজাপরাঙ্খঃ ॥ মামবজ্ঞায় দুৰ্ব্ব, বুদ্ধে লব্ধং দুঃখং মুহুর্মুহুঃ। অচ্ছ জা ভগাক্যং স্তুতিং কৰ্ত্তাং সমূদ্যতঃ। সাধুরুবাচ। তন্ময়মমাহিতাঃ সর্বে ব্রহ্মান্থাস্ত্রিদিবোকস ন জানন্তি গুণং রূপং বাশ্চৰ্য্যমিদং প্রভাে॥ মুঢ়োইহং ত্বং কথং জানে মােহিতস্তব মায়য়া। প্রসীদ পূজয়িষ্যামি যথাবিভব বিস্তরৈঃ পুত্ৰং বিত্তঞ্চ মচ্চিত্তঃ পাহি মাং শরণাগতং। ত্ব। ভক্তিযুতং বাক্যং পরিষ্টো জনার্দন। বরঞ্চ বাঞ্ছিতং দত্ব। তত্রৈবান্তরধীয়ত। তােেহসৌ নাবমারুন্য দৃষ্ট। রত্নাদিপূরিতা। কৃপয়া সত্যদেবস্য যৎ ফলং বাঞ্ছিতং মম। ইত্যুক্ত। স্বজনৈং সাদ্ধ পূজাং কৃত্বা যথাবিধি। হর্ষেণ মহতা সাধুঃ প্রয়াণঞ্চাকররাদ্বিজঃ নবং সংযােজ্য বেগেন স্বদেশমগমত্তদা । ততাে জামাতরং প্রাহ পশ্য বৎস পুরীংমম। দূতঞ্চ প্রেষয়ামাস নিজবিত্তস্য রক্ষক। ততােহসৌ নগরং গত্বা সাধুর্ভাৰ্যাং রিলােক্য চ। উবাচ বাঞ্ছিত বাক্যং না বদ্ধাঞ্জলিস্তদা । নিকটে নগরসৈব জামাত্রা সত-ব্রত সহিতে বণিক আগতে বন্ধুবগৈশ্চ ধর্বৈবহুবিধৈস্তথা। শ্রুত্ব। দূতমুখাৎ বাক্যং মহাযুত সতী। সত্যপূজাং ততঃ কৃত্বা প্রােবাচ অসুজাং প্রতি। ব্ৰজামি শীঘ্রমাগচ্ছ সাধুসন্দর্শনায় চ। ইতি মাতৃবচঃ শ্রুত্ব ব্ৰতং কৃত্ব। সমাপ্য চ। প্রসাদং সংপরিত্যক্ত গত সা চ পতিং প্রতি। তেন রুষ্টং সত্যদেবে ভারং তরণীং তথা সংহৃত্য চ ধনৈঃ সার্ফং জলে তস্মিন্ সমৰ্পয়ৎ। কলাবতী কামালােক্য বণিজং পতিং । শােকেন মহা তত্র রুদন্তী চাপতবি। দৃষ্ট। তথাবিধাং কন্যাং ন দৃষ্ট। তু পতিং তরীম্। ভীতেন মহতা সাধুঃ কিমাশ্চর্ণমিদং মহৎ। বিচন্ত্য- মানান্তে সৰ্বে বভুবুস্তরিবাহক। ততেলীলাবতী সাধ্বী দৃষ্ট। ত বিহবলা সতী। বিললাপাতিদুঃখেন ভর্তারঞ্চেদমব্রবীৎ। ইদানীং নৌকয়ো সাৰ্দ্ধদৃশ্যোহভুদলক্ষিতং। ন জানে কেন দৈবেন হেলয়া বাপহারিতং । সত্যদেবস্য মাহাত্মং কিং জ্ঞাত নহি শক্যতে। ইব্যুক্তা বিললপথ তত্ৰস্থা স্বজনৈঃ সহ ততো লীলাবতী কন্যাং ক্রোড়ে কৃত্বা রুরোদ চ। ততঃ কলাবতী কন্যা নষ্টে স্বামিনি দুঃখিত। গৃহিত্বা পাদুকাং তস্য অনুগন্তু মনে কন্যায়শ্চিরিতং দৃষ্টা সভাৰ্য্যঃ সুজনে বণিক। অতি শশাকেন সন্তপ্তশ্চিন্তয়ামাস ধৰ্ম্মবিৎ। হৃতে! হি সত্যদেবেন জামাতা সতমায়য়া। সত্যপূজাং করিষ্যামি তথা বিভববিস্তরৈঃ। ইতি সৰ্বান্ সমায় কথিতঞ্চ মনােথর। নত্ব। চ দগুবস্তুমৌ সত্যদেবং পুনঃপুনঃ। ততস্তৃষ্টঃ সত্যদেবো গগনাঘণিজ্ঞং প্রতি জগদি বচনাঞ্চেদং নৈবেদ্যমবমন্য চ। আগত। স্বামিনং দ্রষ্ট দুধে।
১২৭, সত্যব্রত ততণ্ডা মতোইদৃশ্যোহভবৎ প্রভু। গৃহংগাপ্রসাদঞ্চ ভুত্তা চায়াতু • স পুনঃ। লব্ধ সুখা সাধাে ভবিষ্যতি ন সংশয়ঃ । প্রাণদং বাক্যং শুত্ব গগনমগুলাৎ। ক্ষিপ্রং তদা গৃহং গত্বা প্রসাদং প্রতিভুজ চ॥ অপশুৎ পুনরাগত্য পতিং নাবং জনৈঃ সহ। ততে কলাবতী তুষ্টা জগাদ পিতরং প্রতি। এহি তাত গৃহং যাহি বিলম্বং কুরুষে কথং। তৎ শ্রুত্বা ককাবাক্যং সম্ভষ্টোভূণিক সুতঃ। পূজনং সত্যদেবস্য কৃত্বা বিধিবিধানতঃ। ধনৈবন্ধুগণৈঃ সার্কং জগাম নিজমন্দির। পৌর্ণমাস্যাঞ্চ সংক্রান্ত্যাং পূজাং কৃত্বা যথাবিধিঃ। ইহলােকে সুখী ভূত্বা চান্তে সত্যপুরং যযৌ। ইতি শ্ৰীস্কন্দপুরাণে রেখণ্ডে ঐসত্যনারায়ণকথায়াং বণিক সাধু মোক্ষবর্ণনােনাম তৃতীয়ােহধ্যায়ঃ। সুত উবাচ। অথ চান্যৎ প্রবক্ষ্যামি শৃণুধ্বং মুনিসত্তম। আশীৰংশধ্বজো রাজা প্রজাপিলন'তৎপরঃ। প্রসাদং সত্য- দেবস্য তক্ত। দুঃখমবাপ সঃ। একদা এ বনং গত্বা হত্বা চ বিবিধান মৃগা। অগত্য বটমূলে চ দৃষ্ট। সত্যস্য পূজনম্ । গােপাঃ কুন্তি সন্তুষ্ট। ভক্তিযুক্তাঃ সবান্ধবাঃ। রাজা দৃষ্ট। তু দর্পেণ নাগতাে ন ননাম । ততো গোপগণাং সৰ্বে প্রসাদ নৃপসন্নিধৌ। সংস্থাপ্য পুনরাগত্য ভুক্তাঃ সর্বে যথেল্পিতম্। ততঃ প্রসাদং সংত্যজ্য রাজা দুঃখমৰাপ সঃ তস্য পুত্রশতং নং ধনধান্যদিকঞ্চ যৎ। 'সত্যদেবেন সৎ সবং নাশিতং মম নিশ্চিত। অতস্তৰৈ গচ্ছামি যত্র দেবস্য পূজনম্ ॥ মনসেতি বিনিশ্চিত্য যযে গােপালসন্নিধি! অতেহসৌ সত্যদেস্য পূজাং
সত্যব্রত
১২৮
*
গােপগণৈঃ সহ। ভক্তি শ্রদ্ধান্বিত ভূতৃ চকার বিধিবপঃ।
সত্যদেবপ্রসাদেন ধনপুত্রান্বিতােহভবৎ। ইহলােকে সুখী ভুত্ব
চান্তে বিষ্ণুপুরং যযৌ। য ইদং কুরুতে সত্যব্রতং পরমদুর্লভ।
শৃণােতি চ কথাং পুণ্যাং ভক্তিমুক্তিফলপ্রদায়ক। ধনধান্যাকিং
তস্য ভবেৎ সত্য প্ৰসাদতঃ ॥ দরিদ্ৰো লভতে বিত্তং বন্ধো মুচ্যেত
বন্ধনাৎ। ভীতে ভয়াৎ প্রমুচ্যেত সত্যমেতন্ন সংশয়ঃ । ঈপিতঞ্চ
ফলং মুক্তা চান্তেসত্যপুরং ব্ৰজেং। ইতি বঃ কথিতং বিপ্রাঃ
সত্যনারায়ণব্ৰতম্। যৎ কৃত্বা সৰ্ব্বদুঃখেভভ্যা মুক্তো ভবতি
মানবঃ। বিশেষতঃ কলিযুগে সত্যপূজাকথাফলম। সত্যনারায়ণ
কেচিৎ সত্যদেবং তথাপরে। নানারূপধরে ভূত্ব সৰ্বেষামতি
প্রদ। ভবিষ্যতি কলৌ সত্যব্রতরূপী সনাতনঃ
পঠতে নিত্যং শৃণােতি মুনিসত্তমাঃ তস্য নশ্যন্তি পাপানি সত্যদেব
প্রসাদতঃ।
ইতি শ্ৰস্কন্দপুরাণে রেখণ্ডে সত্যনারায়ণ ব্রতকথা সমাপ্ত।
ওঁ তৎসৎ ও তৎসৎ ওঁ তৎসৎ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং
মাত্রাহীনঞ্চ ষদভবেৎ পূর্ণং ভবতু তৎসং তৎ প্রাসাদাৎ
জনার্দন।
যঃ ইদং
ক্রটী।
৬৫ পৃষ্ঠার প্রথম লাইনের ণত্যদেবের স্থলে সত্যদেব হবে।
চোদ্দ লাইনের সােমানায় স্থলে সােনায় হবে।
শ্ৰদ্ধাস্পদ যমুন-সম্পাদক সাহিত্যিক শ্ৰীযুক্ত মণীন্দ্রনাথ পাল বি-এ প্রণীত বঙ্গের অত্যুজ্জ্বল রত্ন -ন” এ বন্ধন অটুট অজেয়। এ বন্ধনে ঈর্ষা, দ্বেষ, লােভ, মােহ নাই, আছে কি জানেন ? কেবল অবিরল--- অপৰ্যাপ্ত অবিশ্রান্ত প্রাণ ভরা, সৰ্বসস্তাপ-হার। স্বর্গীয় প্রেম! কি মধুর!! •আহা ! कि সুন্দর প্রেমের স্নিগ্ধতা, প্রেমের গভীরতা, প্রেমের মাধুর্যে ভূলোক দ্যুলােক আজ চির উদ্ভাসিত। এ শুভ-বন্ধনে, আলা নাই, বিরহ নাই, অশান্তি নাই, আছে কেবল প্রাণে প্রাণে এক ব য়, আছে কেবল দুয়ে মিশে এক হওয়া ; আর আছে কি জানেন ? এই মর জগতের আপ্ৰেমৰু ভণ্ড অবিশ্বাসীর দণ্ড। শম্পটের ভ্রমণ অনুতাপ-দয় বিদারক অঙ্গ। সতী সাধ্বীর শুভ-বন্ধন ছেদনচ্ছায়, শিক্ষিত, উচ্চকুলোদ্ভব ধনী সন্তানের ভণ দুর্দশা শােচনীয় পরাম। নারীর উদারতা—নারীর দয়া-নারার ত্যাগ—জলষ্ট অক্ষরে দেখিতে পাইবেন। ফণীবাবুর লেখনী প্রসুত শুভ-বন্ধন”নারী আদর্শে, নারীর গরিমায় একখানি অত্যুজ্জ্বল রভু কি না, তাহা সৰ্বসাধারণকে পরীক্ষার জন্য অনুরােধ করি। উপহারের শিক্ষাপ্রদ শ্রেষ্ঠ পুস্তক-বিবাহে নববধুর কমল করে দিবার যােগ্য- জ্যৈষ্ঠে প্রকাশিত হইবে। মুন্স্য রাজ সংস্করণ ১ এক টাকা মাত্র। কলিকাতার বুকষ্টলে ও প্রধান প্রধান পুস্তকালয় ও বীণাপাণি বুকসােসাইটিতে ২০ ৯নং কর্ণওয়ালিশ ফ্রাটে পাইবেন। প্রকাশক-ভােলানাথ লাইব্রেরী কেয়ার অফ ইষ্টান-ল-হাউস ১৫ নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা।
শ্ৰীযুক্ত ফণীন্দ্রনাথ পাল বি, এ, প্রণীত তন্দ্রার বিপদ যদি বাঙ্গালীর অভূত বীরত্ব সাধনার দিব্যজ্যোতিঃ দৌর্বল্যের মােহন্ধকার দেখিতে চাহেন, তবে বিপদে দেখুন, কেমন করিয়া এক বাঙ্গালী তাগণ দুর্দান্ত ভীষণ প্রবল দস্যুদলের বিপক্ষে দাবমান হইয়া, অমানুষিক বীরত্ব গৌরবে প্রখর প্রতিভাবলে, শক্তিবৃন্দকে পদদলিত করিল, মহিমান্বিতা নারীর উপস্থিত বুদ্ধি চাতুৰ্য, অদ্ভূক্ত কৌশল, চন্দ্রার শােচণীয় পরিণ, জলন্ত অক্ষরে দৃশ্যের পর দৃশ্যে বায়োস্কোপের মত জীবন্ত হইয়া নয়ন পথে প্রকটিত হইবে। রাজ সংস্করণ, মূল্যy০ ৬ানা মাত্র। প্রত্যেক পুস্তকালয়ে পাইবেন। মণি-ল” পাপপুণ্যের জলন্ত দৃষ্টান্ত, হিন্দু ও ব্রাহ্মসমাজের স্বরূপ চিত্র, পাপ ও পূণ্যের প্রতিদ্বন্দিতায় পুণ্যের জয় জয়কার। অন্তঃসার শূন্য পৈশাচিক সমাজের তাণ্ডব নৃত্য-সঙ্কীর্ণতা স্বার্থপরতার ঘৃণিত কুটী, বিশ্ববিজয়িণীর প্রেমের উজ্জ্বল চিত্র, এরূপ অভিনব, নব ধরণের সচিত্র উপন্যাস, অতীব বিচিত্র। বর্ণনা কৌশলে, কুটিল কুচক্রীর জটিলতপূর্ণ বিকশিত, স্বর্গের সুষমায় পরিপূরিত, একনিষ্ঠতা কর্তব্যতার মধুরোজ্জ্বল চিত্র যদি না দেখিয়া থাকেন তবে সত্বর একখণ্ড সংগ্রহ করুন, সচিত্র মূল্য দেড় টাকা মাত্র। প্রকাশক- ভােলানাথ লাইব্রেরী, কেয়ার অফ, ইষ্টান-হাউস, ১৫নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা। মফঃস্বলে এজেন্ট আবশ্যক।
শুভ্র করােজ্জলে চরচর উদ্ভাসিত মুখরিত-পুলকিত অপার্থিব বিশ্বে-চিরভাস্যময়ী জ্যোতির্ময়ী মহা মহিমাময়ী- লাজ নমিতা-এরমণীকে? নয়ন হইতে যাহার প্রেম, প্রতি করুণা ও সুধার উৎস ছুটিয়াছে সে রমণী কে ? সাহিত্যিক অগ্রণী মানসী-সম্পাদক শ্ৰীযুক্ত প্রভাতচন্দ্র মুখােপাধ্যায় বার এট-ল’র লেখনী প্রসূত সজীব মূৰ্ততে, স্বরূপ আকাণে রমণীর চোখে চােখে বিশ্বে-আজ সঞ্জীবতা ফুইয়া তুলিয়াছে। স্থির অটল প্রতি এক লহমায় অতল গর্ভে লীন। উচ্চাভিমানীর চিত্তকে জয়, অথেনিক-নাস্তিক হৃদয়ে-প্রেম বীজবপন-পরিণাম সাধিয়া- যম সর্বস্ব দান। এমন সুন্দর শা চোখে চোখে মধুর কটাক্ষ দেখেছেন কি ? সাহারা মরুভূমে-শুস্ক নীরস-অসীম অনন্ত ধু ধু বক্ষে রমণীর লক্ষন ভর। শাস্তধীর সরল চাহনিতে কিপে মরুভূমে স্বচ্ছ সলিলধারা প্রবাহিত হইল, তাহ লেখনীতে এমন নিপুণভাবে প্রস্ফুটিত এই প্রথম—“চোখে চোখে দেখা, মনে প্রাণে অকি।”~~এ সত্য প্রবাদ, অলপ্ত অক্ষরে বর্ণে বর্ণে সততা প্রভাত বাবু অতি সুন্দর রূপে ফুরাইয়াছেন এ দেখার শেষ নাই-তন্ময় হইয়া অপলক দৃষ্টে জীবন চাহিঙ্গা থাকিলেও তৃপ্তি নাই, অক্ষার শেষ নাই। অনন্ত কাল ধরিয়া চোখে চোখের আকর্ষণে তন্ময় হইয়া আমরণ উপাসনা করিয়া জীবন ধন্য করিতে পারিলেই সুখ, সুখ হইলেই অমরত্ব লাভ। প্রভাত বাবুর স্ফুটনোন্মুখ প্রতিভায়র চোখে চোখে শিক্ষাপ্রদ মনম উপন্যাস। উপহারের শ্রেষ্ঠ ইহা পড়িবার শুনিবার ও শিখিবার। মূল্য মাত্র ১ টাকা প্রত্যেক বুকলে ও প্রধান প্রধান পুস্তকের দোকানে পাইবেন। মফঃস্বলের এজেন্ট হইবার জন্য সত্বর আবেদন করুন। প্রকাশক-ভােলানাথ লাইব্রেরী-কেয়ার অফ ইন-হাউস, ১৫নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা।
প্রতিথযশা
শ্ৰীযুক্ত ফণীন্দ্রনাথ পাল, বি-এ প্রণীত
বীরত্ব-রঞ্জিত গৌরবময় অপূর্ব কাহিনী
চকচিক্র
চক্রীর চক্র অদ্ভুত রহস্যজাল সমাচ্ছন্ন ভীষণ কাহিনী সখের
গােয়েন্দা মিষ্টার ব্যাটরে বিষ প্রতিযােগিতা, ছদ্মবেশী
ডি-গুইরীনর প্রবল প্রতাপ, সঙ্কল্পে অটল-অচল, সাফল্যে
আনন্দ বিহ্বল-বিফলে-ভীষণ আক্রোশ ।
চক্রীর চ—একখানি প্রতিহিংসার জলন্ত-মূর্তি।
চক্রীর চক্রে একাধারে, ভৌতিক, অলৌকিক ও বৈজ্ঞানিক
ঘটনার সমাচ্ছন্ন।
পড়িতে পড়িতে শিহরিয়া উঠিবেন। ছদ্মবেশী-বালিকার ভীষণ
দুর্দশা পাদরীর লাঞ্ছনা ইহাতে প্রেম, কৰ্ম্ম শিক্ষা ও কর্ম জীবনের
সমুজ্জল ছবি। মূল্য দশ আনা প্রধান প্রধান পুস্তকালয়ে পাইবেন।
।
এমন সজীব গার্হস্থ্য উপন্যাস পড়িয়াছেন কি কলির
জলন্ত দৃষ্টান্ত প্রতি বর্ণে বর্ণে প্রতি ছত্রে ছত্রে অসম্ভবকে
সম্ভব করিয়াছে।
মাতৃ বসল, অনুগত পুত্রের ভীষণ
মর্মান্তিক মৰ্ম্মবেদনা, কোমলা বালিকার সত্যবদ্ধ নারী চরিত্রের
এরূপ বিকাশ এই প্রথম।
ফণীন্দ্রবাবু সত্যই নবজগতে একটা নূতনত্ব সৃষ্টি
করিয়াছেন। প্রত্যেক গৃহীর নিকট “নারী” যে সমাদৃত হইবে,
সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। মূল্য এক টাকা মাত্র।
প্রত্যেক বুকষ্টলে ও প্রধান প্রধান পুকালয়ে পাইবেন
মফঃস্বলে সর্বত্র এজেন্ট আবশ্যক
প্রকাশক-ভােলানাথ লাইব্রেরী
কেয়ার অফ ইষ্টাম-ল-হাউস, ১৫নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা।
LEAR
}}}}}}}}}
বিশ্বাসে মিলয়ে বস্তু, তর্কে বহুদূর।
অবিশ্বাসী নাস্তিকের দল তফাৎ যাউন।
ও মরজগতে—স্থায়ী কি ?
ব
বসুন্ধরার ক্রোড়ে বসিয়া যখনি আমরা পরিচয় দিই আমরা হিন্দু,
আমাদের ধর্ম ভুলােক-লােক-বাঞ্ছিত সনাতন হিন্দুধৰ্ম্ম ;-তখনি
সারাদেহ মন কেমন এক স্বর্গীয় সৌরভে পরিপুর্ণ হইয়া উঠে।
কিন্তু এমন হিন্দুধর্মের মৰ্ম্মে আঘাত দিয়া-কেবল মুখে হিন্দু হিন্দু
বলিয়া ফকী দিলে চলিবে না। ধৰ্ম্ম-প্রাণ। শুদ্ধাস্তচারিণী, কুমারী,
সধবা, পুত্রবতী মা জননীদের, এক কথায় সীতা, সাবিত্রী, বেহুলা
প্রভৃতির আদর্শে গঠিত করিয়া কায়মনে হিন্দুত্ব বজায় রাখিবার
উপকরণ আমাদিগকে সংগ্রহ করিতে হইবে।
সে উপকরণ কি ?
সে উপকরণ-ধৰ্ম্মে অবিচলিত বিশ্বাস রাখিয়া, ধর্মগ্রন্থাদি অধ্যয়ন,
সৰ্ব্বদা ধৰ্ম্মপথান্বেষণ। অার সেই সঙ্গে--
আমাদের আশৈশবের সাধনা, কামনা, বাসনার অমূল্যধন
“ব্ৰত-দর্পণ” একখানি সংগ্রহ করিয়া রাখিতে সর্ব সাধারণকে
বিশেষ অনুরোধ করি।
সাহিত্য-স'বঙ্কিমচন্দ্রের ভ্রাতুষ্পেত্রি
পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত সুদেবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
–বিরচিত
মত্তে বসিয়া পাপী-তাপীর স্বর্গলােক দর্শনের সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দূরবীক্ষণ
ভ-দর্পন
শুভ বৈশাখে প্রকাশিত হইবে।
• কাচ মূল্য এমন কাঞ্চন লাভের ইচ্ছা থাকিলে, প্রায় শতাধিক
চিত্রে পুষ্ট, এই ব্রত-দর্পণ সত্বর সংগ্রহ করিবার ব্যবস্থা করুন।
টিডিজিটাল
আজ সপ্ততাল ভেদ করিয়া অচিন্ত্যণীয়—অভাবণীয়—চির ঈপ্সিতে-শুভ আবির্ভাব। সে কি! জানেন ? নিত্য-ব্রত আসুন, দলে দলে ছুটিয়া আসুন, এ অপূর্ব সুযােগ হারাইবেন ; সত্বর সংগ্রহ করুণ, নতুবা হতাশ হইতে হইবে। সাহিত্য-সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের ভ্রাতুষ্পেত্রি ব্ৰত-দর্পণ -সত্যব্রত—শিবব্রত- প্রণো- পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত সুদেবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সঙ্কলি ও নিত্য-ব্রত ইহাতে নাই কি ? ইহাতে মনুষ্য জীবন গঠন, হিন্দুর হিন্দুত্ত, আহার বিহার শয়ন, ইত্যাদি যাবতীয় করণীয় বিষয় বিষদভাবে মূল ও সরল বঙ্গানুবাদ সহ বর্ণিত। বৈশাখের শেষেই প্রকাশিত হইবে। যদি অজ্ঞান তিমির ঘাের নাশ করিতে চান, তবে-- শুচিশুদ্ধ পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত সুদেবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বচিত দিব্যজ্ঞানের বিমল জ্যোৎস্নাময় নিত্য-বত সত্বর সংগ্রহ করুণ। সংসারীর একমাত্র শান্তিধারা ও মুক্তিলাভের শ্রেষ্ট পন্থা। গ্রন্থের তুলনার মুল্য কিছুই নয় কেবলমাত্র, ৫০০০ পাঁচ হাজার খণ্ড হিন্দুসন্তানের মঙ্গলের জন্য ৭০ বার আনায় বিতরিত হইবে প্রকাশক ভােলানাথ লাইব্রেরী, কেয়ার অফ, ইষ্টান-ল-হাউস। ১৫নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা।
এমনতর উপন্যাস -এমনতর বাক্য বিন্যাস এমনতর প্রাণ মাতান লিপি চাতুৰ্য্য সচরাচর দেখি নাই- সেটা কিসে আছে জানেন? সেটা উপন্যাসিক শ্ৰীযুক্ত ফণীন্দ্রনাথ পাল বি, এ, মহাশয়ের পুণ তুলিকা প্রসূত ‘সুকুমা ধ্য লেখনি ধন্য কল্পনা——ধন্য আদর্শ- পাতায় পাতায় মত্ততা, ছত্রে ছত্রে মর্মস্পর্শ কৰ্তব্যতা কোন এক অজানা ভাবের কল্পনারজো-অজ্ঞাতে লইয়া যায়- এমন জীবন্ত উপন্যাস সকলের গৃহে একখণ্ড না থাকিলে সে গৃহের শােভা হইবেন। ইহার ঘাত প্রতিঘাতে, চরিত্রের—নিৰ্ম্মল রশ্মি রেখায় উদ্ভাসিত হয়া মানব হৃদয়ে এক নূতনত্ব আনিয়া দিবে। প্রকাশক ভােলানাথ লাইব্রেরী-কেয়ার অফ্ ইষ্টান-ল-হাউস, ১৫নং, কলেজ স্কোয়ার কলিকাতা। --- মূল্য এক টাকা প্রাপ্তিস্থান প্রধান বা পুস্তকালয়ে ও বুক স্টলে। ৰ্ব্বত্র এজেন্ট আবশ্যক সত্বর আবেদন করুন। .
ভূতপূৰ্ব বসুমতী-সম্পাদক
শ্ৰীযুক্ত গােষ্ঠবিহারীদে
প্রণীত
মেঘনাব সর্দা
[ দ্বিতীয় সংস্করণ ]
ইহা একখানি বৈচিত্র্যময় উপন্যাস
ইহাতে কুটিল কুচক্রীর কুচক্র আছে, জটিল প্রশ্নের মীমাংসা
আছে, স্বামী-স্ত্রীর প্রাণের কথা আছে, হিন্দু ও মুসলমানের
ভ্ৰাতৃভাবের পূর্ণ বিকাশ আছে, আর আছে, পাপ পুণ্যের
ফলাফল, স্বর্গের সুষমা, নরকের বীভৎস চিত্র। ফল কথায়
যদি চুরির উপর চুরি, খুনের উপর খুন, ডাকাতির উপর
ডাকাতি স্বচক্ষে দেখিতে ইচ্ছা করেন, তাহা হইলে
মেঘনাথ-সর্দার পাঠ করুণ ২৬০ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ। সিল্কে
বাঁধাই, মূল্য এক টাকা।
প্রকাশক-ভােলানাথ লাইব্রেরী
কেয়ার অফ, ইষ্টান’--হাউস
১৫নং কলেজ স্কোয়া, ও কি।।
ফঃস্বলে সত্ৰ এজেন্ট আবশ্যক।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.