Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kabita-shatak

Dutta,ramkanai · 2009/11/4

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কবিতা-শতক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-~
-উপাসনা সমাঙ্গের
সেক্রেটারী
শ্রীরামকানাই দত্ত প্রণীত
*
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-হিতৈষিণী-যন্ত্রে,
শ্ৰসাধুচরণ চন্দ কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
১৩১১ বাং ৫ই ভাদ্র।

No text on this page.

• rt । • • এ ৫ ৫ ॥ * * * २१ ১২ সূচী পত্র। বিষয় পত্রাঙ্ক। বিষয় পাঞ্জ। অঞ্জলি ১ কৰ্ম্ম ও ধৰ্ম্ম •• অনুকরণ অনুতাপ কিবা হবে কাল অমুতে মধুর ৮৪ কেনরে নিদ্রায় অমৃতে গরল ৮৫ খৃষ্ট আঁধারে ভারত গ্রীক আবেগ জাপান আরােগ্য ৮৮ জাপান যুবক। আর্য ৭৮ জাপান মহিলা আশালতা • জাপান জননী আধ্যাত্মিক রাজ্য জাপান সম্রাট জাপান জনক ইন্দ্রিয় দমন জাপানের জাতীয় উৎসব উপাসনা अननौबत ঋষিবাক্য জর্মাণ এইত শ্মশানে করিব গমন ১০০ জন্মস্থান গীত একে তিন তিনে এক... ৫৪ তবে কেন মায়া কর কি ? তােষামোদ কিছুনা দুর্যোধন দু’দিকে আগুন কোরিয়া পন্য সেই জন • • • চার তরে ধৰ্ম্ম র্য ৫৮ নারী চবির কল্পনা ৬৪ নিবেদন •• E ২১ ১ কি হলো ?... ১৮ ৮০ র ২ ৪ । L || ৬৭ ১০ ২। ) :: ৫ । ৩ રે છે ? ৮৮ ০ ০ ০ • • E পাপও শোচ ৮৭।ভিক্ষু পুর্ব ও পশ্চিম , ৫৪ মানব প্রকৃতি পুরুষ মহা প্রতিজ্ঞা পরমাত্মা। তিনি ১০১ মরিয়াছি বহুদিন পারিনা মার্কিণ পূর্ণ মানব মহাবানী পরম মঙ্গল প্রেমানন্দ রাজা প্রীতি উপহার ••• রবেকত বেদনা বিলাপ রুশের রোদন বিবেক শাস্ত্র বাগ্মী শ্রী রামমােহন বর্ণ স্বামী শৈশবের খেলা সন্তান বুদ্ধ ••• বঙ্গ জননী ••• সমাজ ১৬ বৌদ্ধ বিদ্বেষী স্বদেশ হিতৈষী সুখ বড় লােক ৭৮ বিপদ স্বাবলম্বন সিরাজ বুদ্ধ বচন বিচিত্র তা ১০৩ সা স্বর্গ ভজন গীতি সভ্যতা ভারতের এই পরিণাম ৪ সংসার রূপের হাট ভু হলে অধম বাঙ্গালী জাতি ৪৬ সেবক সেনার প্রতি... ভারত সঙ্গীত ৪১' | সেই ভক্ত প্রধান ... ৯৯ ••• ২৪ . . . ৩২ ৩৮ বিষয় ও মঙ্গ। ১১৫ | স্মৃতি ৩৯ • • • ৬৪ ৪৩ ৮৬

।
কবিতা-শতক।
অঞ্জলি
(মাতৃ-পদে }
মাগো! পদধূলি করিয়া গ্রহণ,
পূজিতে বামনা যুগল চরণ।
পবিত্র অমল, চরণ কমল,
দেও মা— করিব অঞ্জলি অর্পণ
তুমি মা সাক্ষাৎ ধরিত্রী জননী,
দয়াদ্র-হৃদয়া দেবী পরাত্মনী,
তুমি জয়া শিবা দুঃখাপহারিনী,
আরাধ্যা পাবনী দেও মা চরণ।

কবিতা-শতক।
তুমি ধৃতি ক্ষমা, স্বাহা স্বদা জয়া,
শান্তি পোষ্টী গৌরী বরদা বিজয়,
উন্নতি সৌভাগ্য বৰ্দ্ধিত আমার,
তোমারি স্নেহেতে দেও মা চরণ।
কলাপাতেলিখি আদর্শ অক্ষর,
দিয়েছিলে শিক্ষা, তুমি মা সুন্দর,
শিখায়ে ছিলে মামুখে মুখে তুমি,
কবিত। লহর করিয়া যতন।
“কবিতা শতক তাহারি মা ফুল,
রাখিব চরণে বামনা প্রবল,
কর মা কর মা চরণেতে স্থান,
কহিছে তােমার আঁকুটে সন্তান (১)
বেদনা।
শিখি নাই মরিতে, ধরিতে প্রহরণ।
কেমনে মরিব, নাশিব বেদনা হায় !
বৃথা গর্ব, বৃথা অভিমান, বৃথা ধরি,
মানব শরীর,- মানবের নাম ছিল
নাকি যারা, অতিমুর্ষ, অসভ্য বর্বর ;

কবিতা-শতক
তারাও স্বাধীন, তারাও প্রধান। লজ্জা
রাখিব কোথায় ?
গৌরব অহর্নিশি--
দিতেছে যাতনা, দংশিছে মশক সম
তিতিক্ষা সতত। অনুতাপানলে দগ্ধ
মুৰ্ম্ম স্থল। নাই শক্তি সাহস উদ্যম ।
করে অশ্রু শত ধারে। করিলে শ্রবণ
বৃক্ষপত্র আলোড়ন, চমকিয়া উঠে,
প্রাণ। যাবেন। যাতনা থাকিতে চৈতন্য
দেহে। কঁাদিতে শিখেছি, মরিব কাদিয়া। (২)
বিলাপ
অশাছিল শিক্ষিত ভারত বাসী, হলে
উন্নত প্রধান, লভিবে পূর্ব গৌরব।
অসম্ভব অগৌরব হইবে বিনাশ।
কিন্তু কাৰ্য কালে দেখা সকলে মিলি
-কিরূপে গবর হয় উন্নত শিখর,
কিরূপে অঙ্গার হয় হীরক উজ্জ্বল,
কিরূপে অধম হয় পদার্থ উত্তম,
-

কবিতা-শতক।
৫
কিসে হয় নীচাশয় সদাশয় জন,
কিসে হয় অমানুষ মানুষ সন্তান।
কিসে করে সিংহের শাবক শৃগালের
পূজা। পারিনা এদৃশ্য হেরিতে আঁখিতে
আর। করিছে মাতৃরক্ত পান, হানিয়ে ভীম
কুঠার, জননী বক্ষে। আহাকি দুর্গতি।
নিদারুণ পরিতাপ, দৃশ্য ভয়ানক। (৩)
ভারতের এই পরিণাম ?
অনন্ত ঐশ্বর্যশালী উন্নত ভারত
হয়েছে এখন দীন, পর্থের ভিকারী,
ক্ষমতা কাঙ্গাল। দীনতার গন্ধে
ভরা সৰ্ব্ব অঙ্গ, ধৰ্ম্মেও কাঙ্গাল হায়!
হয়েছে অধম অতি ; বিলুপ্ত প্রতিভা।
নাই উচ্চ ভাব, উচ্চ আকাঙ্ক্ষা হৃদরে
-কে বলি অনন্ত, অভাবের অট্ট হাস
প্রকাশ সতত; বাহু বল, ধন বল,
নিমগ্ন গভীর জলধি গম্বরে ; কিব।
খেলিবেক প্রতিযােগী খেলা ছিল আশা

কবিতা-শতক।
ধৰ্ম্মেতে হবে উন্নত। তাতেও আঘাত
-পরবল বৈরী পরধৰ্ম্ম ভয়াবহ’,
উন্মার্গগামী বালক, উচ্ছল যুবা,
বৃদ্ধ ক্লিষ্ট, ভারতের এই পরিণাম ? (৪)
তধারে ভারত।
চৌদিকে জ্যোতির রেখা-- ভারত আঁধারে
--প্রদীপ্ত দীপ শিখার নিম্ন দেশ গম।
ইংলও, ইটালি, ফ্রান্স, জৰ্ম্মাণ, মার্কিণ,
জাপান উজ্জ্বল অই আলোক মণ্ডিত সদা।
বাণিজ্য শিল্পের কৌশল প্রতিভা, বিদ্যা,
জ্ঞান মধ্যাহ্ন মার্তণ্ড, বিতরে কিরণ
ভারত ব্যতীত। দিবালােকে দিব্য শোভা
নেহারি নয়নে বিহরে আনন্দে কত।
চক্ষুষ্মান ভীমবপূ ভারত এখন
হইয়াছে অন্ধ, দেখেন কিছুই চক্ষে ।
তথাপি আকাঙ্ক্ষা মনে করিবে গ্রহণ •
ঋষিদের ঋদ্ধিপদ। দেখিবে আবার
চক্ষে, হবে পুন চক্ষুষ্মন মন্ত্র বলে !
ভ্রম, ভ্ৰম, মহাভ্ৰম, আঁধারের খেলা। (৫)

কবিতা-শতক।
সভ্যতা।
সভ্যতা! বেড়েছে বহু সম্বদ্ধি তােমার।
ক্ষান্ত দাও এবে, দেখাইবে কত আর,
জীব হত্যা, নর হত্যা রণ কয়ণ
স্পৃহা। মানব মর্দন কল, সম্মোহন
শস্ত্র, শেমিজ, মেক্সিম, কামান ভীষণ,
শোণিত তর্পণ, ভাতৃ ব্যাপাদন ক্রিয়া।
উচ্চ তুমি, বিশ্বব্যাপী গৌরব তােমার।
ব্যবহারে কিন্তু নীচতার পরিচয়
দিতেছে প্রচুর, শ্রমজীবীদের অন্ন
করিতে হরণ, করিয়াছ তুমি চারু
তড়িতের তার, সুন্দর দ্বিচক্র যান,
বাষ্পীয় শকট আর যন্ত্র যুক্ত তরি,
বিলাসী প্রধান তুমি তােমারি রচনা
দুগ্ধফেননিভ শয্যা প্রমােদ উদ্যান। (৬)
=
যুদ্ধ।
বিশ্বময় হাহাকার তােমারি প্রসাদে,
তােমারি ভীম কবলে লক্ষ লক্ষ দেহ

কবিতা-শতক। হতেছে বিগত প্রাণ ; সভ্যতা উন্নতি তােমারি চরণ সেবা করিছে সতত। পপিতে সোদর তুমি, ধরি প্রহরণ কর ভীম আস্ফালন। শিল্পের চাতুরী বলের পরীক্ষা- বিদ্যা জ্ঞানের গৌরব-- তােমারি পূজার ফুল- অপূর্ব কুসুম! শিক্ষিত উন্নত নর পুঙ্গব সকল -তব ধ্যান পরায়ণ- যশস্বী জগতে। অকৃপা 'মার, 'অতি অযশ আকর, করে দীনতার বৃদ্ধি মানবে বর্বর। হলে তব অন্তর্ধান থাকিব আরামে, ঈদিবনা ভ্রাতৃ শোকে, হলেও বর্ব। (৭) জাপান। সমৃদিত পৃথিবীর নব বিভাকর- পূরব আকাশে। নিরখি জ্যোতি উজ্জ্বল, মুদিল আঁখি ভল্লুক, গণিল প্রমাদ। স্তম্ভিত শক্তি সমস্ত, বিস্মিত ভুবন বাসী বীর পুত্র যত। ইয়ালু নাশান

be
কবিতা-শতক।
ওয়ফাং কাউর ক্ষেত্রে পড়িল প্রথমে
প্রখর প্রতিভা অপূর্ব, অতি অপূৰ্ব্ব
হয়না তুলনা। মানিল বিস্ময়, পূর্ব
ইতি কথা যত। নাছিল আনন্দে শ্যাম,
নাচিল ইংলণ্ড, নাচিল ভারত বাসী,
নাচিল মার্কিণ ছুটিল প্রীতি প্রবাহ
মিশি প্রশান্ত সাগর জলে। জলে স্থলে
সম প্রভা,
অদ্ভুত
উদ্যম পরাক্রম
-আবিষ্কার কীর্তি- ধন্য, ধরে জাপান। (৮)
সন্তান।
কুলদীপ পুত্র, মানস সরস জাত
প্রফুল্ল কমল সম। বুক ভরা আশা
লইয়া জনক- করে সন্তান পালন,
শুমার্জিত অর্থ কৰি অকাতরে ব্যয়।
নাহি চাহে প্রতিদান কি উপকার ?
চাহে মাত্র ভক্তি অনুরাগ- বিপরীত
হলে তার, নাহি থাকে দুঃখের অবধি।

কবি-শতক।
৯
ভাগা তীন পিতা-গণে পরমাদ, ভাসে
শ্রণি নীরে, ভাবি সন্তানের পরিণাম।
হইলে শান্তু সন্তান, থাকিল সতত
আপ্যয়ন অনুরক্ত, ধৰ্ম্ম কর্মে ব্রী--
কায়মনােবাক্যে পিতা করে আশীর্বাদ
হউক সুশ সম্মান।
বুঝে নাকি ইহা
যে প্রাণ প্রতিম পত্র- সেই সন্তান। (৯)
সমাজ।
চামাজ তােমার হস্তে ন্যস্ত, কোটি কোটি
মানবের (কাটি কোটি প্রাণ ; সুখ দুঃশ
ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম, ভাল মন্দ, মরণ বাচন।
শিক্ষাদান ছলে তুমি কর সংহরণ
স্বাস্থ্য, অায়ু ধৰ্ম্ম বল। আন মহার্ঘত।
বাণিজ্যের ব্যপদেশে, সাভায়ে ধৰ্ম্ম বংশ।
বিলাসিতা কর বৃদ্ধি করি সত্যতার ?
ভান। অনটন বিতরণ কর তুমি
অইনিশি। মদ বিক্রেতার শিরে দাও
হীরক মুকুট, হইয়া মদিরশক্ত।

১০
কবিতা-শতক।
আসিয়াছে দেশে মহা দরিদ্রতা, তব
ব্যবহারে, অন্ন।ভাবে জীর্ণ শতশত
নারীনর, চিতাভস্মে আবৃত সমস্ত
দেশ । মরি কি বিচিত্র চিত্র সমাজের! (১)
মানব।
সৃষ্টির প্রধান তুমি হে মানব! হবে
শান্ত সমাচিত পবিত্ৰ নিৰ্ম্মল তুমি ।
পাইয়া ক্ষমতা হস্তু-- কেন কর আহা
মন্দ ব্যবহার। সবেন। ধৰ্ম্মের গায়।
স্বার্থ পর তুমি অতি, হরিয়া অন্যের
গ্রাস, তৃপ্ত হও তুমি ; সত্যের গৌরব
নাহিক তোমার কাছে, চুরিতে চতুর
তুমি, নিবারিতে ত্বি। জঠরের জ্বালা
কর কত প্রাণী অধ। ইতর প্রাণীর
প্রতি নাকি মমতা তব, স্বেচ্ছাচারী
মহাক্রর ধর্মদ্রোহি, নিদয় তুমি।
অe্যাচরে তব হয়েছে মশান সম
পৃথিবীর পূত ভূমি। নিশ্চয়, নিশ্চয়
তুমি বিকট বদন করল কিঙ্কর। (১১)

কবিতা-শতক।
জাপান যুবক।
মরিতে শিখেছি আমি- করিব শোণিত
দান, স্বদেশ সম্মান রক্ষণে। করিব
স্বজাতির হিত, রাখিব মরিয়া কীৰ্ত্তি ;
দলিব সহস্র শত্রু অবলী ক্রমে।
এক ধানে, এক মনে, করিব অর্চনা
জননী জন্ম ভূমির ; করিব উজ্জ্বল
দিবনা আসিতে দেশে পরকীয়
বাণিজ্য সম্ভার।
অনুরাগে অনিশি-
গাব বীরদর্পে, বীর গাথা। দেশ বৈরি
মম ঐরি করিব সহত জ্ঞান; ধরি
ভীম অসি বেড়াইব নির্ভয় অন্তরে।
পলাইবে মৃত্যু ভয়েতে আমার। বীর
দেশে, বীর মাতৃ গর্তে জনম আমার।
দেখাইব সিংহ সম ভীম পরাক্রম । (১২)
জাপান মহিল।।
কিসে আমি নূন ? কিবা বাড়া উপাদান
পুরুষ শরীরে। একি আত্মা, একি প্রাণ,

কবিতা-শতক।
একি রক্ত মাংস অস্থি উভয়ের অঙ্গে ;
তবে কেন স্বাধীনতা করিব সংহার।
লভিব, লভিব, যত্নে বিদ্যা, ধৰ্ম্ম জ্ঞান
করিব অর্থ অর্জন দেশের কল্যাণ।
শিখাব সতত সন্তান সকলে আমি-
বীর ধৰ্ম্ম বীর গাথা, হই হইব
বীর প্রগণিী ; সাজিয়া রণের সাজ
সাব রণাঙ্গনে ; খেলার বীরত্ব খেলা।
প্রতি পুরুষ এক, হইবে যখন,
মানিবে বিস্ময় বিশ্ব নিশ্চয় তখন,
বিধাতার সৃষ্টি, বিধাতার নীলা, মিলি
প্রকৃতি পুরুষ, করিব বিশ্বের কাজ। (১৩)
জাপান
জননী।
উঠ ! নিদ্রিত সন্তান! কর শক্তি সেবা
লক্ষ্মী, বাণী, হবে বশ; শিখরে যতনে
কাৰ্য্যকরী বিদ্যা, বিজ্ঞান জ্ঞান কৌশল।
আসিলে সম্মুখে শত্ৰু কঁদিবে নতুবা ।
বেড়াও' আতপ তাপে, হউক শরীর

কবিতা-শতক।
ভিজরে বৃষ্টি বাদলে, হবেনা
ব্যম পীড়া, সহ কর ক্ষুধা, তৃষ্ণা, চাও
যদি হইতে স্বাধীন, উন্নত প্রধান।
শক্তির সেবাতে হবে বিধ্বস্ত নিপাত,
অমিত বিক্ৰম বৈরি, পালাবে পশ্চাতে
হটে, সিংহের সংগ্রামে মৃগ শিশু যথা ।
মাথিয়া সমুদ্র বারি- দেশ দেশান্তরে
যাওরে ছুটিয়া। আন দেশে বিদেশের
অর্থ ; বাণিজ্যে উন্নতি হউক প্রমাণ। (১৪)
জাপান সম্রাট।
যাও যাও বীরগণ! রাখিতে সম্মান
করিতে
মুথ উজ্জ্বল, সদর্পে সগর্ধে
কররে শত্ৰু সংহার, স্তম্ভিত হউক
বিশ্ব, নিরখি সাহস কৌশল বিক্রম।
জলে স্থলে সমভাবে দেখাও বীরত্ব,
করােনা কাকেও ভয়, মৃত্যু রােগ গ্রস্থ
সবে। মরিবে, মারিবে, সম্মুখ সমরে
শত্রু শত শত ; হবে অনন্ত কল্যাণ।

১৪
কবিতা-শতক।
সমর শয্যায় করিলে শয়ন, সুখ
লাভ স্বর্গ বাস হবে ধ্রুব পরকালে,
জুয়েতে আনন্দ শান্তি ত্রিদিব আসন
ইহ লোকে লভে অরিন্দম বীর যত।
ধর অসি, পর অঙ্গে অক্ষয় কবজ,
ধাও দ্রুতপদে, করি হুঙ্কার গর্জন। (১৫)
জাপান জনক।
একি শুনিলাম হায়! হলােনা কেনরে
মৃত্যু শুনিবার আগে ? মরিলনা কেন
পুত্র সম্মুখ সমরে। আহত হইয়া
আসিল গৃহেতে ফিরি ; কেমনে দেখি
যুপতার ? দুঃখ, দুঃখ, ভস্নানক দুঃখ।
মন্দ ভাগ্য আমি অতি মৰ্ম্মাহত আজি,
হইল অক্ষম পুত্র চির দিন তরে।
সাধিতে দেশের হিত স্বজন কুশল
সম্রাটের শুভ, পারিবেনা আর। দুঃখ
রাখিব কোথায় ? কহিব কাহাকে আমি ?
অষশ হইল বড়। পড়িল অশনি

কবিতা-শতক।
শিরে।
বীর জাতি ঘােরা, করি অবহেলে
বীর.কৰ্ম্ম সম্পাদন ; কেনরে ভাবনা;
নিবনা এ পুত্র ঘরে-- করিব অর্জন ॥( ১৬)
জাপানের জাতীয় উৎসব।
ছিল একদিন-- লক্ষভেদ ধনুর্ভঙ্গ
পণ, বায়ব্য আগ্নেয় অস্ত্রের গৌরব,
প্রহেলিকাসম- শুনি উপকথা কর্ণে,
না হয় প্রত্যয়-- আঁখিতে দেখিনি বলি।
অসভ্য জাপান খেলিয়া বীরত্ব খেল।
হইল স্বাধীন হইল প্রধান।
তাহাদের কীর্তি--- প্রশান্ত সাগর বক্ষে
জাতীয় উৎসব খেলা বীরত্ব বাহার!
শেমিজ গ্যানের গুডুম, গুড়ুম, ধ্বনি।
গােলন্দাজের গােলা বৃষ্টি, অশ্ব সাদীর
ভীম আস্ফালন। রণ বাদ্য ভয়ঙ্কর,
প্রকম্পিত জল স্থল- ভূকম্পনে যেন।
সংত্রাসিত রুষরাজ, করিল মস্তক
আতঙ্কে অস্থির সেনানী. সকল। (১৭)
হেট।

'১৬
কবিতা-শতক।
স্বদেশ হিতৈষী।
যত শােভা পায় মণি রমণীর গলে,
যত শােভা পায় ধনী পারিষদ দলে ।
যত শােভা পায় শশী গগন মণ্ডলে,
যত শোভা পায় অসি বীর করতলে ৷
যত শোভা পায় ভৃঙ্গ অমল কমলে,
স্বত শােভা পায় শৃঙ্গ গিরিময় স্থলে ।
যত শোভা পায় হরি শ্বাপদের দলে,
যত শােভা পায় তরী সাগরের জলে ।
যত শােভা পায় সতী মহিলা মহলে,
যত শােভা পায় যতি নিবিড় জঙ্গলে।
যত শােভা পায় হীরা কিরীট কুণ্ডলে,
যত শোভা পায় বীর। মানব মঙ্গলে।
তাহার অধিক শোভা ধরে ধরাতলে,
স্বদেশ হিতৈষী জন আপনার বলে ৷ (১৮ )
বিবেক।
বড়ই দুর্মুখ তুই দুরন্ত বিবেক,
পারিনা বুঝাতে তোরে, নাহি তাের জ্ঞান।

কবিতা-শতক।
১৭
দিবা নিশি তাের লাগি ক্ষতি হয় মাের।
কত সুখ পাই আমি, অসত্য আচরি,
কত সুখ পাই আমি, প্রতি হিংসা করি,
কত সুখ পাই আমি, করি ধূপণ,
কত সুখ পাই আমি, করিয়া বঞ্চনা,
পারিনা পারিনা হায়, তাের লাগি আমি।
ইয়াছি তাের লাগি পথের ভিকারী,
ভূইয়াছি তোর লাগি বিজন বিহারী,
হইয়াছি তাের লাগি বিপদে পতা,
'শুনিনা শুনণে- আহা মধুর ভাষণ।
কি বলিলে । ভ্রান্ত বুদ্ধি বিলাসী মানব।
বিবেক ৰিভুর বাণী করোনা বর্জন। ( ১৯}
মরিয়াছি বহুদিন।
৫
মরিয়াছি বহুদিন। দেহেতে থাকিতে
প্রাণ, হইত কি সহ- তিরষ্কার গালি
নিদারুণ অপমান, হতে। কি বিনষ্ট
গুরু বীৰ্বাণ আমার ? উন্নত মস্তক
হইয়াছে অবনত, কৃষকের অন্নে,
হতেছে আমার, ক্ষুধা তৃষ্ণা নিবারণ ।

১৮
কবি-শতক।
যােগাছে অপরে বস্ত্র, নাহিক লজ্জার
লেশ, নিলজ অধম আমি, দগ্ধ হৃদি
ত্রিপে সতত, রুগ্ন দেহ, ভগ্ন প্রাণ,
নাহিক আনন্দ চিত্তে, খেলি অহনিশি
নিরানন্দ খেলা, আসেনা হাসি বদনে ;
চিতানল সম জ্বলে অনুদহি সদা।
কি আর মরিব আমি গত বহু দিন
হইয়াছে মৃত্যু- এখন সুধু সৎকার। (২০)
কি
হলাে ?
কি হলাে কে করে প্রধান কায়!
উহু উহু উহু বিষম দহনে,
দহিল ছিল দহিল কায়,
চিনে চিনে চিনে জীবনে
কেনরে আজিকে কিসের কারণে,
কঁদিয়ে কাদিয়ে উঠিছে প্রাণ।
কেই বা কি হেতু মানস কাননে,
কিসের অনল করিল দান।
করে একিরে হঠাৎ কেনরে,
উথলি নয়ন বারিধি বারি।

কবিতা-শতক।
দেহের দুকুল ভাষায়ে লিরে,
কি হলাে কিছুই বুঝিতে নারি।
অহো প্রেম পোড়া ধন ধান্য ভরা,
মন প্রাণ হরা এধরাতল।
কেন যেন জ্ঞান হইতেছে জরা,
কোন কারণ বলরে বল।
আগেতে প্রভাতে ঝোপের ভিতর,
রঞ্জিয়া রক্তিম রঙ্গেতে রবি।
হাসিয়ে নিয়ে তিমির নিকর,
দেখাত সুন্দর সুরম ছবি।
বিকাল বেলায় বারিধি বেলায়,
বেড়াতে ঘেমে কল্পনার পনে।
জুড়াইত কায়,
কতই প্রমােণ পশিত মনে ।
মৃদুল সমীরে
শীর নিধি কিবা খেলিত লহরী,
কল কল স্বরে করিত গান।
ভাষাতেম দেহ তাহার উপরি,
ডুবিয়ে যেতেম ধরিয়ে তান।
আবার যেতেম অচল চূড়া,
আকাশ সরসী হিমানী ময়।

কবিতা-শতক।
মুগ্ধ হত মন স্বভাব শােভায়,
বলিতাম মুখে জয় ব্রহ্ম জয় ।
যেতেম গিরির গভীর গহ্বরে,
যেখানে বিহরে বিষম সাপ।
হেরি অহিবরে ছুটাছুটি করে,
পালাতে বলি বাপরে বাপ ।
সেখান হইতে দৌড়িয়ে আবার,
চলিয়ে যেতেম যমের বাড়ী।
দক্ষিণ দুয়ার ঘাের অন্ধকার,
পাপীর পিঠেতে পিটিছে বাড়ি।
বম দূতগণ ভুতের মতন,
বিকট আকার বিকট চোক।
পাপীদের ধরি করিছে ক্ষেপণ,
জ্বলন্ত অনলে কতই নােক।
অদূরে নরক কুণ্ডের ভিতর,
কিলি বিলি কেঁচো করিছে সব।
ডুবিছে উঠিছে পাপিষ্ঠ নিকর,
ব্রাহি ত্রাহি ত্রাহি করিছে রব।
যেতেম আবার নন্দন কাননে,
যেখানে বিহরে অমর বধু।

কবিতা-শতক।
লাইয়ে পৌলমী সহস্র গােচনে,
পান করে সদা প্রণয় মধু।
পারিজাত ফুল তুলিতেম কত,
কত গণিতাম তাহার হার।
ফেলিহেম কত ছিড়েতম কত,
বহিয়ে শিরেতে প্রমদ ভার ।
আজিকে কেনরে কিসের কারণে,
সেসব ভ্রমণে বাসনা নাই।
দহিত দহিলা বিকট দহনে,
উহু উহু মরি কোথায় যাই।
কিসের অনল হইয়া প্রবল,
হৃদয় কানন করিছে ছার।
হায় হায়, হায় কি হল কি হল,
বচিনে চিনে চিনে আর। (২১
কর কি ?
কর কি ধরায় পাতিয়ে আসন,
খেলাও কি খেলা সুখে সর্বক্ষণ,
দেখ কি ভাবিয়া শেষের যেদিন,
কত ভয়ঙ্কর অসুখ অপার।

२२
কবিতা-শতক।
নিয়ে দারামুত প্রিয় পরিবার,
অবিরত কর আমার আমার,
ভ্রমেও ভাবনা অন্তিমের কথা,
কর কি বসিয়া মনরে অামার।
যাইবে যখন চলিয়া যৌবন,
হবে কষ্টকর জীবন ধারণ,
দেখি কি ভাবিয়া হবে কিবা গতি,
সেই দুরদিনে বিনা হাহাকার।
মহাভ্রান্ত মন, ভ্ৰম পরমাদে,
রয়েছ ডুবিয়া অনন্ত বিষাদে,
নয়ন মেলিয়া দেখ একবার,
কর কি বসিয়া মনরে আমার।
নাহি হিতাহিত ভাল মন্দ জ্ঞান,
‘পরমার্থ বোধ কৃতি সন্ধান,
ভুলেছ সকলি কোহকে মায়ার,
আছে অভিমান পূর্ণ অহস্কার।
আশার ছলনে মায়ার বন্ধনে,
ডুবে আছ ভব- বারিধি জীবনে,
নাহি পরকালে, ভয় কি প্রত্যয়,
কর কি বসিয়া মনরে আমার ॥ (২২)

কবিতা-শতক।
২৩
কিছুনা
কি করি? কিছুনা, দেখনা ভাবিয়া,
সকলি আঁধার কি কাজ কহিয়া,
বলে পশু, পক্ষী, তরু, লতা, বন,
কিছুনা কিছুনা আমিত্ব আমার।
দেহ, আত্মা মন কিছু আমি নই,
চক্ষু, কর্ণ, ত্ব, আমি কিসে কই,
আমি কিছু নই সকলি বিকার,
কিছুনা কিছুনা আমিত্ব আমার।
সুখের সংসার প্রিয় পরিজন,
প্রতি ভালবাসা মিষ্ট আলাপন,
যাবেনা কিছুই সঙ্গেতে আমার,
কিছুনা কিছুনা আমি কি আমার ।
পন জন গর্ব গৌরব সম্মান,
যশ কীত্তি লাভ জাতি কুল মান,
কিছুই ধরায় নহে আমার,
কিছুনা কিছুনা আমি কি আমার ।
ইচ্ছাময় যিনি ইচ্ছাতে তঁাহার,
চলি বলি ঘুৱি মেদিনী মাঝার,

२8
কবিতা-শতক।
করণ কারণ তিনি মূলাধার,
কিছুনা কিছুনা আমিত্ব আমার।
আমি করি কার্য্য কুস্তিত্ব আমার,
বৃথা অভিমান, বৃথা অহঙ্কার,
মােহিনী মায়ার লীলা চমংকার,
কিছুনা কিছুনা আমি কি আমার ॥* (২৩)
সুখ।
সুখ! তব নিবাস কোথায় ?
যথা নিঝরিণী, শােক দুঃখ নিশি,
শ্যামল শিখরী পদ ধৌত করি পায়
বাস তুমি কি তথায় ?
২। . যথা প্রকৃতি দেবী র’ন।
গাঁথিয়ে ফুলের মালা, সাজায়ে ফুলের ডালা,
আনন্দে বন্ধেন বিশ্বনাথের চরণ,
তথায় কি তােমার ভবন ?
* আমার অঙ্গুরিয়কে “কর কি” লিখা ছিল। বন্ধু ভগবানচন্দ্র
সেন উকীল তঁাহার অঙ্গুরীতে “কিছুনা” লিখিয়া উত্তর দেন।
তদুপলক্ষে এ করিতা দুটী রচিত। বন্ধু আজ পরলােকে।

কবিতা-শতক।
গিরি শৃঙ্গ পৰ্বত গুহায়--
তাপলা জিন বনে, এক ধ্যানে এক মনে,
যােগির মগ্ন যথাযোগ সাধনায়।
নিস কি তােমার তথায় ?
সথা দুঃখী কৃষকের চিত,
কার করে দেই জল,
অভিবারে শ্রমকল,
দিসা শেষে পরিসরে দেখে রিমিত
তথায় কি তুমি বিরাজিত ?
৫। দয়াশীল ধৰ্ম্মশীল জন,
দেখিয়া দুঃখীর দুঃখ, ভুলিয়া নিজের মুখ,
প্রাণপণে পর দুঃখ করে বিমােচন
পায় কি তোমার সদন ?
ঐ যে ক্ষুদ্র নগণ্য, জাপান,
শিরে স্বাধীনতা ধন, যতনে করি রক্ষণ,
ক্রমেতে উন্নতি পপে করিছে গমন
তথায় কি তোমার ভসন ?
সিয়ার নৰ অভুদয়ে
যথ। রণবঙ্গে মাতি, গরবে ফুলায়ে ছাতি,
বিখ্যাত ফ্রান্সকে দাপে কাপায় নির্ভয়ে।
তথায় কি থাক স্থির হয় ?

কবিতা-শতক।
F
কিংবা যথ। কুষিয় কুমার ।
লইয়ে কসাক দলে, লমি শত্রু পদ দলে,
লভিতে বাসনা করে পৃথী অধিকার
কথায় কি তােমার আগার ?
যথা বৃটনিয়া আবাস,
স্বাধীন প্রকৃতি জনে, রত শাস্ত্র আলাপমে,
বানিজ্যে শিল্পেতে করে কৌশল প্রকাশ,
তথায় কি তোমার আবাস ?
১০। এভারতে কোথ। তুমি আছ ?
নাহি তুমি ধনী গেছে, নাহি তুমি দীন দেহে,
নাহি তুমি মধ্যবিত্তে কোথ। কিয়াছ ?
কেন নিদয় হইয়াছ
১১। গৃহশ্রমে তোমারে না পাই ?
হা অন্ন ! হা অর্থ ! করি, কাটি দিবা বিভাবরী,
কলঙ্ক কালিমা মুখ বিমর্ষ সবাই
কলহেতে মত্ত ভাই ভাই।
১২। তব দেখা পাব নাকি আর ?
তােমারে পাবার তরে, হৃদয় ক্রন্দন করে,
দেখ দেখ দেখ দুখ দেখ একবার।
আকাক্ষা সড় অমর।
(২৪)
?

কবিতা-শতক।
২৭
কোরিয়া।
পীতসমুদ্রের পীতপূহ জল ধৌত,
কোরিয়া হবে কাহার ? মাঞ্চুরিয়া সহ
গলগলি করি নিয়ে আর্থার বন্দর।
রুষাঙ্কে পীতাতঙ্ক ভীম বিধর্ষণ
লাগিল সহসা, মর্কট ভল্লুকে যথা ।
কৌতুকে দেখিছে রঙ্গ, সমরের খেলা,
বুদ্ধের ধর্মবিন্দু, কিনশান্তারের
উষ্ণপ্রসন, শীত সমিরের গিরি-
গহ্বর। অতু অদ্ভুত প্রস্তর চারু,
অনশ্বর অটৰী, ভাষমান পাষাণ,
প্রস্রবণ দম্পতি, অদ্ভুত সৃষ্টি, শোভা--
অচল অটল তুমি, নীরশে সমস্ত
করিতেছ সহঁ ; বাঙ্গালি কবির মন।
বলনা কোরিয়া তুমি, হইসে কাহার? (২৫}
আবেগ।
আতপ তাপিত মরু মাঝারে বসিয়া,
গায় আফ্রিক নন্দন স্বদেশ গৌরব ।

কবি-শতক।
গায় সুপাকণ্ঠে আজন্ম আঁধারে থাকি
গেরু বাগিগণ, আপন দেশের গীত
গানন্দে মাতিয়া, নাচিয়া নাচিয়া অই
দেশের সােহাগে গলি- নীর নিধি বক্ষে
বমি দ্বীপ বার্সীগণ গায় অনুরাগে,
“আমার জনম ভূমি ভুবনে অতু।”
পাগল হইয়া, নাচিয়া নাচিয়া, গাও
ভারতের কবি; নাহি থা’ক কণ্ঠে সুর
করে বীণা সুশােভনা, ভালেতে মজিয়া
গাওরে তথাপি শুধু মুখে পরি তান
আমার জনম ভূমি ভূবনে অতুল।
ঢালিছে সতত প্রণে আনন্দ আমার । (২৬ )
মার্কিণ।
সুদুর সাগর বক্ষে কোথায় মার্কিণ
তারাও উঠিল জাগি— সুপ্তোতি সিংহ
সম! দেখাতে জগতে কৃতিত্ব কৌশল,
করিতে জগতে স্বর্গের সৌভাগ্য ভােগ ।
ধনেতে মার্কিণ কত উন্নত প্রধান ?
বলেহে মার্কিণ কত উন্নত প্রধান ?

কবিতা-শতক।
২
বিদাহে মার্কিণ কত উন্নত প্রধান ?
শিল্পেতে মার্কিণ কত উন্নত প্রধান ?
দেখরে বিশ্বের নচ্ছার অধম জাতি।
কত রবে অবলার ধরিয়া অপু !
তারাও মানস, তুমিও মানব, কেন
ছেন তার তম্য আকাশ পাতাল ভেদ ?
পারি কি বলিতে কেহ নিরপক্ষ ভাবে ? ( ২৭
জৰ্মাণ।
বােদ্যমে নবীন জৰ্ম্মাণ, করি য
Sণাক্য কণিকে বশ, মন্ত্র বলে যেন,
নিয়াছ শিখিয়া সুন্দর সংস্কৃত ভাষা,
লভিয়াছ দৈব শক্তি দেব পরাক্রম ;
বৈদিক বলেতে হইয়াছ বলশালী।
মহাকৰ্ম্ম বীর, কৰ্ম্ম ক্ষেত্রে কর্মীশ্রেয় ।
তোমারি নির্মাণ বিসমার্ক, যশ কীৰ্ত্তি--
ফ্রান্সের প্রাণ সমাধা, অন্তুর্জাতি বিধি,
বালিনের মহাসন্ধি কৌশল কৃতিত্ব।

কবিগ-শতক।
তােমারি রচনা অধুম অশব্দ শস্ত্র,
বিষম সমর জয়ী সুনিপুণ সেন,
তুমি ধনে জনে জ্ঞানে মানে সমুন্নত
বিশ্বে। গাইছে তােমার যশ সমতানে
সমস্ত শক্তি। তােমারই সন্তান আৰ্য। ( ২৮
গ্রীক।
-
তুমি আমার, আমি তােমার, ছিল কথা
এক দিন। দাস দাসী সহ করেছিলে
তুমি কন্যা রত্ন দান। তোমারি সন্তান
ছিল প্রহরী আমার, বিশ্বাসের পাত্র।
এখন তুমি কোথায়, আমি বা কোথায়,
দেখকি আঁখি দুটী মেলি ? তুমিও দূরে,
আমিও দূরে, হয়না দুজনে আলাপ।
কিসে রবে পরিচয়, পূর্বের সম্বন্ধ ?
রাজ দ্বারে শানে আর বিপদ সময়ে
যে করে সাহায্য, সেই বান্ধব। আমি
বিপন্ন এখন কি কর বন্ধুর কাজ ?
বন্ধুত্ব বন্ধন গিয়াছে ছিড়িয়া হায় ?

কবিতা-শতক।
“বুঝিলাম বুঝিলাম বুঝিলাম সার
সময়ে সকলি করে বন্ধু ব্যবহার
(২৯)
অনুকরণ।
হে অনুকরণ প্রিয়--অধম নিকৃষ্ট
জাতি, পারনা ভালটা করিতে গ্রহণ ?
নৈপুণ্য, কৌশল, শক্তি, কার্যকরী-বিদ্যা-
উদ্যম, সাহস, দেশ হিতৈষণা ব্রত।
আছে নাকি অপকৃষ্ট আপাত মধুর
ঘই সিগারেট, হেডকোট, অঙ্গরাগ,
বিলাসিতা, ব্রাণ্ডি ব্যবহার, অভিমান,
দপ, অযােগ্য আহার, অযােগ বিহার,
করেছ সুখে গ্রহণ, কোমল বালক
সম। হতেছে লাঞ্ছনা লাভ, মুহুর্মুহু
মুষ্টিযােগ ; খেয়েছ কাজ্জার মাখা, পর
পরিচর্যা পরায়ণ। শিখিয়াছ ভাল
পরের চরণ রেণু, লইতে মস্তকে;
করিতে দেশের নিরাপত্তি সর্বনাশ। (৩)

৩২
কবিতা-শতক।
স্বাবলম্বন।
শাপলম্বন সেবক যারা জানে তারা
কি সুখ স্বাবলম্বনে। নাই অধীনতা-
নাহি ভ্রুকুটি ভঙ্গিমা, তর্জন, গর্জন,
কটি মট দৃষ্টি। শান্তি সুখে কাটেকাল।
স্বাবলম্বনে আত্মার পাড়ে স্বাধীনতা
ছয় নিজের উন্নতি দেশের মঙ্গল,
বাণিজ্যের বৃদ্ধি, অর্থকরী বিদ্যালাভ ।
সে স্বাবলম্বন ব্রত, নাহিক ভারতে
হায়! হইয়াছে বৃত্তি ভোগী, অতি দীন ।
কিন্তু ব্যবহারধৰ্ম্মে পূর্ণ স্বাবলম্বী,
ভিন্ন রুচি, ভিন্ন ধর্ম, প্রমাণ তাহার ।
গ্রাসাচ্ছাদনে অক্ষম,
উঞ্চ বৃত্তি সার ;
শশী মুখে অহর্নিশি রাহুর সঞ্চার ।
শিক্ষিত যুবক! মেলিবে কি আঁখি দুটি ? (৩১)
বাগ্মী।
বর্ণমালা মুখস্থ পারগ বাগি! হয়েছে,
অসহ্য অত্যন্ত আন্দোলন তুৰ্য্য ধ্বনি।

.
কবিতা-শতক।
৩৩
শত সভাসমিতি-- প্রস্তাধ, সমর্থন,
হতেছে অতি উত্তম।
কেবলি প্রার্থনা,
করতালি বাক্যব্যয়, কার্যে শূন্য গর্ত ।
চাহি ভিক্ষা চাহি উচ্চ রাজ পদ, আত্ম
শাসনের অধিকার, গোচারণ মাঠ,
পিপাসায় স্নিগ্নবায়ি, বিচার সাশন
বিধি সংশােধন ; ভিক্ষুকের মনােরথ
হয় কি ভিক্ষায় পরিপূর্ণ কোন কালে।
প্রার্থনা কান্নায় নাহি হয় নিবারণ,
জঠরের জ্বালা,- বিনে তৃপ্তিকর অন্ন।
উচ্চ অভিলাস থাকিলে অন্তরে, কর
অনুষ্ঠান ব্রত ~ প্রতিযোগী কার্যশিক্ষা।
(৩২)
বর্ণস্বামী
বর্ণস্বামি ! পণ্ডিত তুমি-পাবৃদ্ধির
পরিচয় দিয়াছ বিস্তর। শিক্ষা, কল্প,
সাহিত্য, দর্শণ, বেদ, নিরুক্ত, জ্যোতিষ,
উপনিষদ, বিজ্ঞান, শিক্ষাতে ভক্ষণ
করিয়াছ তুমি ; উত্তর জীবীর জন্য

কবি-শতক।
রাখ নাই কিছু। একাধারে তুমি-শ্বেত
কৃষ্ণ দুটি মুর্তি। বদনে ধার্মিক তুমি,
অন্তরে পাষণ্ড। বলিহারি তব, ধন্য
গুণপণ- বিচিত্র উজ্জ্বল অতি । তুমি
পাতিতে পারগ, প্রক্ষিপ্ত ক্ষেপণ প্রিয়,
স্বরথ সাধনে বিশেষ পটু। অপটু
সুধু লজ্জা নিবারণে ; অযাজ্য যাজনে
আকাঙ্ক্ষা অনেক জাতি ভেদ কীৰ্ত্তি স্তম্ভ
তােমারি রচনা; তুমি ধন্য! তুমি ধন্য ! (৩৩)
কার তরে।
কার তরে খাটিলাম ; রক্ত করিলাম
জল।
না ভাবিয়ে, না বুঝিয়ে, সুধা জ্ঞানে
করিয়াছি হলাহল পান। ভাঙ্গিয়াছি
নিজ হাতে ছায়াময় তরু। নিবেগেছে
চির তরে শান্তিময় দীপ। ভেঙ্গেগেছে
শতভাগে সরল হৃদয় খানি। ভাই,
বন্ধু, আত্মপরিজন, সােনার সংসার,
হয়ে গেছে মাটি। অপার অগাধ সিন্ধু

কবিতা-শতক। সলিলের নীচে, আকাশে পাতালে পশিয়া নীরবে (না খেয়ে না শুয়ে আমি) খুজিলাম কত, মিটিলনা মনােরথ। সহিলাম শত্রু উপহাস, পদাঘাত শত। কোথা সাম্য, স্বাধীনতা মৈত্রি! দেখ, ভুবিলাম মজিলাম আমি—কারতরে ? (৩৪) সংসার রূপের হাট সংসার রূপের হাট ; আঁখি দুটা নিয়ে ঠেকেছি বিষম দায়। রূপের পুতুল কত, হেরিতেছি অহনিশি; মিটিলন। তবু সেরূপ লালসা, কি দোষ আঁখির, বঁধিতে পারিনা মন। ভালবাসে মত্ত মন, সুন্দর সুন্দর রূপ; পরিহরি চঞ্চলতা- কিবা যেন মধু আকর্ষণে। চিত্রের চম্পকে বসি ভমর যেমন- ফিরে আসে ক্ষুন্ন মনে, ফিরিবে কি হয় তেমতি আমার মন ? করিতে শক্তির পূজা -ক্তিতে বসিয়া সেই স্বস্তিক অংগনে ? দেখিতে চাহিলে সুখের সুন্দর মুখ, =

কবিতা-শতক।
কর অঞ্জলি অর্পণ- স্বাধীন প্রমত্ত
ভাবে, শক্তির চরণে ; ঘুচে যাবে জ্বালা। (৩৫)
বুদ্ধ।
তামসী নিশার গাঢ় অন্ধকারে যথা
সাধিতে জীবের হিত, স্থাপিতে অহিংসা,
পরম ধৰ্ম্ম, নাশিতে অধৰ্ম্ম আচার,
করে ছিলে ত্যাগ ( নিৰ্বাণ মুক্তির লাগি)
ঐশ্বর্য সাম্রাজ্য, প্রাণের দয়িতা, পুত্র,
পিতা, মাতা- মহাত্যাগী মহাযােগী তুমি।
পড়ি শঙ্কটে, ডাকি আমি, বিনয় নম্র
বচনে, এসো সিদ্ধার্থ! এসো আরবার,
হিংসার বিকট মুর্তি, বিহরে সতত
বিশ্বে, জীব সংহারের নাহিক বিরাম।
মানব মূমূর্ষ প্রায়, বাসনা বহিতে
পােড়িছে মরিছে নিত্য ; নাহি ধৰ্ম্ম জ্ঞান।
পরিহরি স্বর্গ রাজ্য, দাও এসে পুন,
স্বর্গের সান্তনা ; সমাধি শাস্তি নিৰ্ব্বাণ। (৩৬)

কবিতা-শতক।
করুণার খণি, আদর্শ হদয় তব,
করেছিল এক দিন জগতের হিত।
বিনাশিতে প্রতিহিংসা প্রতিশােধ লিপ্সা,
বিলাইতে ক্ষমা, মমতায় বীভুত
করিতে মানব, জীবন পুস্তকে তুমি
লিখিছিলে কত, পবিত্র স্বর্গের বাণী।
দেখ ক্ষমাবীর! বেড়েছে আবার বিশ্বে,
হিংসা, অত্যাচার, ক্রোধ, প্রতিশােধ লিপ্সা।
একে, অন্যে ছলেবলে করিছে সংহার।
তােমার শোণিত দেব। করেছিল নাকি
যে শুভ সাধন, ভুলেছে খৃষ্টান তাহা ;
আবার আসার হইয়াছে প্রয়ােজন।
তাইতাে করি প্রার্থনা, এসাে আরবার ;
হউক শান্তির রাজ্য, জগতে স্থাপন। (৩৭)
দুর্যোধন।
দুর্যোধন ! দুঃখে বড় ছিছে হৃদয়,
দিলে পঞ্চখানি গ্রাম-সন্ধিতে সম্মতি,

কবিতা-শতক। হতোনা হতোনা রণ,কুরুক্ষেত্র ভূমে মরিনা অষ্টাদশঅক্ষৌহিনী সেনা রথ, রথী, গজবাজী, গদাতিক সহ। হতোনা ভারত কাঙ্গাল, ক্ষমতা হীন। উরুতে বসায়ে যবে পদ বালায়, হরিতে তাহার বস্ত্র করেছিলে চেষ্টা খশায়ে মাথার বেণী, অভিমান ভরে। তখনি তব সংহার লিখেছিল বিধি প্রস্তর ফলকে। মরিলে মজালে দেশ- তুমি কুলাঙ্গার। দেশের পরম শত্রু। ত্রিশ কোটি কণ্ঠ দিতেছে তােমাকে ধিক, কাদিয়া বিষাদে কত মৰ্ম্ম বেদনায়। (৩৮) সিরাজ। বঙ্গাধিরাজ সিরাজ! তুমি পরলােকে। পুত আত্মতব, দেখিতেছে আমাদের অবিমৃষ্যকারীতার, অতি মন্দ ফল। ইতিহাসে নাহি লিখা, কোন নৃপতির এহেন লাঞ্ছনা । অহহ কিবা পরিতাপ। পূর্ব মূহুর্তে তুমি, ছিলে বঙ্গাধিপতি,

কবিতা-শতক।
পর মূহুর্তেই হলে, শত খণ্ডে দ্বিধা,
সুতীক্ষ্ণ খড়গ আখাতে। এবে হইতেছে
তার উপযুক্ত প্রায়শ্চিত্ত ; নাহি জানি
কবে হবে অবসান অভিশাপ ভােগ।
ছাড়ায়ে গিয়াছে সীমা, এখন কেবল
জ্বালা-বিভীষিকা, মৃত্যু ভয়, অৰ্তনাদ
অহনিশি অশ্রুপাত, হইয়াছে সার।
নবাব! কি কব দুঃখ, আমরা পাষণ্ড। (৩৯)
স্মৃতি।
করিল করিল স্মৃতি। সময়ের স্রোত
তােমার সৌষ্টব নষ্ট ; পাশ্চাত্য পণ্ডিত
হানিছে শ্ৰীঅঙ্গে তব তীক্ষ্ণতর বাণ।
হইবেনা তন্ত্র মন্ত্রে এ শত্ৰু সংহার।
চাহি অঙ্গরাগ, অটুট অস্ত্র ধারণ,
যজ্ঞের প্রসাদ কি। হোমের আমারে
হবেনা এ শবশ। দ্বৈরথ সমরে
করিতে হইবে জয়-(মানিবে বশ্যতা)।

৪০
কবিতা-শতক।
হইয়াছে জীর্ণ, পুর্বতন কলেবর,
নাহলে বাজীকরণ—পুনৰ্ব্বার বল,
সার। হইবে বিলুপ্ত গৌরব নাম।
হও সংস্কৃত, আপন শক্তিতে আবার ;
সময়ােপযােগী সজ্জা করি পরিধান।
দেখুক জগত, এখনাে আছে জীবন। (৪০ )
জন্মস্থান গীত।
আনন্দ আকর, সুখ বৃদ্ধিকর,
জন্মস্থান মম, প্রাণ প্রসাদন।
বৃদ্ধি বিরাজিত, ঋদ্ধি সমন্বিত,
জন্মস্থান মম, প্রাণ প্রসাদন।
বালক বােধন, বৃদ্ধ বিনােদন,
যুবজন মন, দীপন মােন,
সকল রঞ্জন, বিকল গঞ্জন,
জন্মস্থান মম, প্রাণ প্রসাদন।
প্রবাল পলল, মলয় শীতল,
সুজল সুফল, পূর্ণ পরিমল,
নন্দন নিন্দিত, সুন্দর শোভিত,
জন্মস্থান মম, প্রাণ প্রসাদন।

কবিতা-শতক।
পলস প্রসূন পাদপ রঞ্জিত,
ললিত লতিকা প্রতান ভুষিত,
অখণ্ড খণ্ডিত, মাধুরী মণ্ডিত,
জন্মস্থান মম, প্রাণ প্রসাদন।
হাসন ভাষণ পালন পােষণ,
অশন বসন দান পরায়ণ
মানস মোহন, রস নিকেতন,
জন্মস্থান মন প্রাণ প্রসাদন।
খাম শস্য ক্ষেত্র নেত্র সুশোভন,
উত্তম ঔষধি গিরি, নদী, বন,
চির খ ধাম, স্বর্গ ভূগি নাম,
জন্ম ভূমি মম, প্রাণ প্রসাদন। (১)
ভারত সঙ্গীত
দেব গিয়ী বিভাস-একতালা ।
তারই সন্তান, ইও এক প্রাণ,
গাও গাও গও ভারতের গান।
ারত বরষ, আনন্দ হরষ,
সাদরে সতত, করিতেছে দান।

৪২
কবিতা-শতক
ভারতের মাটি করে বিতরণ,
শস্ত রত্ন সহ রজত কাঞ্চন,
তোমারি হইয়া, ভালটী ভাসিয়া,
উরের জ্বালা, করে নিবারণ।
খােল খোল খোল হৃদয়ের দ্বার,
শয্যাটি ছাড়িয়া উঠ একবার,
দেখুক জগং এখনো ভারত
নহে নিদ্রাগত, আছে সে জীবন।
করিয়া উখান কর এই পণ,
করিবে দেশের হিত আমরণ
পরের বন, পরের ভূষণ,
করিবেনা কেহ, অঙ্গেতে ধারণ।
মাতৃ পদ তলে মস্তক রাশিয়া,
হও দলবদ্ধ সকলে মিলিয়া
করিতে উন্নত, কৃষকে সতত,
কৃষক দেশের দেহ প্রাণ মন।
বাক্য বিন্ন্যাসেত বাড়িবেনা বল,
শিক্ষ। দীক্ষা সব হইবে নিস্ফল,
অনুষ্ঠান ব্রত, না হলে নিয়ত,
হবেনা হলেন, উন্নতি কখন।

কবি-শতক।
৪৩"
প্রিয়তম বন্ধু কৃষক সবার
যােগায় বসন যোগায় আহার,
কৃতজ্ঞ হৃদয়ে, কৃষক নিয়ে,
ভ্রমেও কর কি, প্রিয় সম্বোধন।
কৃষকের যত হবে অমঙ্গল,
যাইবে তোমরা তত রসাতল,
কাটিয়ে কাল, ধর দেশি হাল,
থাকিলে দেশের হিতে আকিঞ্চম।
স্বর্গ হতে শ্রেষ্ঠ প্রিয় জন্মস্থান
গাইলেও মুখে লক্ষ লক্ষ গান,
না হলে বিস্তার, শিল্পের প্রচার,
কৃষীর উন্নতি, নিশ্চয় পতন।
থাকে যদি প্রাণ, মঙ্গলের আশা,
জনম ভূমির, লও ভাল বাসা,
হও ভাগ্যবান, ভারত সন্তান
জীর ধন, করিয়া গ্রহণ। (৪২)
সেবক সেনার প্রতি।
বাজিল বাজিল সিঙ্গা ঢাক ঢোল,
সেবকের দল, হও অগ্রগর,

৪৪
কবিতা-শতক।
।
ধর খরশণ, অনুরাগ বাণ,
জীবন সংগ্রাম-বড় ভয়ঙ্কর।
দেখ দেখ অই পরশ্রী কাতর,
হানিছে গোপনে সূচী মুখ শর,
কৰ্তব্য সাধনে, ধাও এক মনে,
হইবে তাহারা, অধীন কিস্কর।
দেখ দেখ অই ধনুক ধরিয়া,
নিন্দুকের দল আছে দাড়াইয়া,
নির্ভয় অন্তরে, তাহাদের পরে,
বেছে বেছে মার, তীক্ষ্ণ তীক্ষ্ণ শর।
দেখ দেখ অই বিপদ বিলাস,
অাছে দাড়াইয়া করিতে বিনাশ,
অসি নিস্কোষিয়া তাদেরে শাসিয়া,
কর কর কর, সাহসে নির্ভর।
দেখ দেখ অই আসিয়াছে রণে,
মাৎসর্য্য মহিষ অনিষ্ট সাধনে,
বিপুল বিক্রমে, কৌশল উদ্যমে,
তাহাকেও কর, বিপন্ন কাতর।
অই দেখ হিংসা কেশরী কুমার,
আছে দাড়াইয়া করিতে সংহার,

কবিতা-শতক।
৪ ৫
অনুরাগ ভরে, উঠ অসী করে,
দেখিবে কেশরী, নহে ভয়ঙ্কর।
( ৪৩ '
তােষামােদ ।
আহা মরিতাষামােদ। কিগুণ তােমার,
দিয়াছ উত্তম শিক্ষা, বঙ্গ পুলে তুমি।
থাকিলেও রক্ত মাংস বিপুল শরীরে,
হয়েছে তোমার দাস- নিরুদ্যম, ভীরু,
অতি লঘু। নাই উৰ্দ্ধ দৃষ্টি, উচ্চ ভাব।
ধনী কি নির্ধন, শিক্ষিত কি অশিক্ষিত,
সবাকার সমগতি কথার পণ্ডিত।
নাই কার্যের ক্ষমতা পূর্ণ পরাভূত
জীবন সংগ্রামে। চাটুকার বিবেষ্টিত ;
সম্মুখে অনল কুণ্ড- পশ্চাতে আঁধার।
কি আঁকিব চিত্র আর বল না বাঙ্গালি ।
ক্ষোভে দুঃখে বলি আজি বিধাতার কাছে
--হউক প্রলয়, করুক বিনষ্ট বন্ধ,
বঙ্গ বারিনিধি, হউক পুনঃ পতন। ( ৪৪

কবিতা-শতক।
বঙ্গ জননী
বঙ্গ জননীর, আঁখিভরা নীর পারিনা হেরিতে আর।
নাহিক মায়ের, বনেতে হাসি, আঁখিতে অশ্রু আমার ।
শিক্ষাতে সন্তান, হইবে উন্নত, ছিল আশা জননীর।
ভাগ্য দোষে হায়, হইল বিফল, ঘটিল দুঃখ গভীর।
জাগ জাগ জাগ, বাঙ্গালি বালক, কর মায়ের অর্চনা,
হইবে মঙ্গল, হাসিবে জননী, ঘুচিবে দুঃখ বেদনা।
হইবে আবার, ঘরে ঘরে ধ্বনি, বাণিজ্যে লক্ষীর বাস।
হইলে প্রফুল্ল, কৃষকের মুখ, আসিবে আবার হাস।
বুঝিযে বার, ঘৃণই কেবল, লাভ নৃপতি সেবায়।
বলিবে সকলে, ঘরে ঘরে পুনঃ, নাহিক লাভ ভিক্ষায়। (৪৫)
ভূতলে অধম বাঙ্গালী জাতি।
পারিনা পারিনা পারিনা যে আর
দেখিতে আঁখিতে পাপ ব্যভিচার,
হয়েছে অসহ, অত্যাচার জ্বালা
দেখরে দেখ অনন্ত মায়াতি।
ছাড়িছে বিষাদ নয়নের জল,
কুৎসার কাহিনী স্মরিয়া কেবল

কবি-শতক।
৪৭
সম স্বরে অই, বলিছে সকলে,
ভূতলে অধম বাঙ্গালি জাতি ।
হায় হায় হায় একি সৰ্ব্বশ
উঠিল উঠিল মাতৃ ভূমে বাস,
নাহিক আচার, নাহিক বিচার,
নিবিল নিবিল সােহাগ বাতি।
নূতন সভ্যতা করিয়া প্রবেশ,
মজাইল দেশ, ঘটাইল ক্লেশ,
অনুকার মদে, মাতিল সকল
ভূতলে অধম বাঙ্গালি জাতি।
পরিবর্তনের ধুয়াটি ধরিয়া,
আনন্দে বাঙ্গালি উঠিল নাচিয়া,
ধরিল কৌতুকে বাঙ্গালি যুবক,
বিলাস বালার মস্তকে ছাতি।
পরিচর্যা ব্রত গ্রহণ করিয়া,
কৰ্ত্তবাধিকার গিয়াছে ভুলিয়া,
মজিয়ে নিজেরা মাজাইল দেশ,
ভূতলে অধম বাঙ্গালি জাতি।
আগেও ছিল স্ত্রী শিক্ষা পদ্ধতি,
স্বামীতে জায়াতে মিশামিশি অতি,

৪৮
কবিতা-শতক।
ছিলনা ছিলনা মহলে মহলে,
বিষাদ খেদ এত দিবারাতি।
দুঃখের কাহিনী পারিনা কহিতে
মনেলয় ভঙ্গি মস্তক মুষ্টিতে
ঘটাল এদশা ধরে ধরে অই,
ভূতলে অধম বাঙ্গালি জাতি।
দেখনা দেখনা বাঙ্গালি সান
আত্মদ্রোহ ব্ৰত কর সমাধান,
বক্তৃতা বহিতে, জ্বালাইয়া দেশ,
পুড়িছ তুমারে মাছি নাতি।
চিত। ভস্মে পূর্ণ, হইলরে দেশ,
কথায় কি কব করিয়া বিশেষ,
আজ নয় কালি, মুখ হবে কালি
ভূতলে অধম বাঙ্গালি জাতি।
ভাতার সর্বস্ব করিয়া হরণ
ধন্য ধন্য তুমি, ধন্য মহাজন,
কুমী জীবীর আদর্শ উজ্বল,
কি অকির ছবি, কি দিব ভাতি।
ছাড়রে ছাড়রে বধুর অঞ্চল,
শিক্ষিত গতি বাঙ্গালি সকল,

কবিতা-শতক।
শুন কর্ণ পাতি-বলে বিশ্ব বাসী
ভূতলে অধম বাঙ্গালিগাতি।
(৪৬)
মহাবাণী।
একদা নিশিতে দেখিল শুভ স্বপন,
মােহ বিজড়িত প্রাণ, করিল শ্রবণ,
মহাবাণী এক বীণা বিনিন্দিত ধ্বনি।
-“জাগনা জাগনা ভারত ললনা, রবে
কত নিদ্রাবেশে আর, হইয়া শিক্ষিতা,
শিখাও সন্তানে, পাশ্চাত্য সভ্যতা জ্ঞান।
করনা গ্রহণ, দেশের মণ ব্রত,
হওনা দীক্ষিতা, কর্তব্যাধিকার মন্ত্র,
কেন দাসীপণা- কেন ভোগের ভামিনী ?
হও বীর মাতা, বীরের গেহিনী ধীরা,
না জাগিলে নারীকুল ভাঙ্গিবেনা নিদ্রা
কোন দিন, কোন কালে ভারত বাসীর।
ভাঙ্গিল ঘুমের ঘাের বিস্তৃতি আঁখি ;
দেখিল সমুখে এক দরিদ্র দম্পতি। (৪৭)

৫
কবিতা-শতক
শ্রীরামমােহন।
হিন্দুর নরক, যুবনের জাহান্নাম,
খৃষ্টানের হেল হইতেও ভয়ানক,
হয়েছিল অতি ভারতের পুণ্য ভূমি ।
দেখিয়া দেশের দশা, ধর্মের অবস্থা,
কেঁদেছিল তব প্রাণ, শ্রীরামমােহন।
দলিতে দুর্মতি দলে, ধরি ছিলে অসী—
বিপুল বিক্রমে বলবান বীর মম।
করিতে দেশের হিত, স্বজন মঙ্গল,
যাইয়া ইংলণ্ডে, ত্যজিলে মানব দেহ,
বৃষ্টলের ভীমকক্ষে। অলােকসামান্য
তরু হইল বিনাশ। কঁাদিল ভারত,
ইউরােপ, এমেরিকা, নিদারুণ শশাকে।
গিয়াছ রাখিয়া কীৰ্ত্তি, ধ্বনিছে সমাধি
তব, ময়নাই তুমি, রয়েছ জীবিত। (৪৮)
ইংলণ্ড।
লওহে লও ইংলণ্ড! লও উপহার।
ছিলাম তিমির গর্তে, বহুদিন হায় -
শ

কবিতা-শতক।
কাপ্ত প্রস্তর চাপা।
নাহি ছিল জ্ঞান।
করেছ সিংহ বিক্ৰমে তুমিই উদ্ধার।
দখিতে পেতেছি আলােক রেখা আঁখিতে।
নাই আর কারাবাস, অযথা পীড়ন,
অসম্ভব অত্যাচার, গিয়াছে বিপদ।
তুমি উদ্ধাৰক, আমি পতিত অধম,
তুমি শিক্ষাদাতা গুরু, আমি দীন শিষ্য,
তুমি প্রভু, অামি দাস, তুমি মহীপতি,
আমি ক্ষুদ্র প্রাজা, পারিনা ভুলিতে কৃপা।
তাইতো ইংলও বলি প্রণিপাত করি।
ও কৃতজ্ঞতা, রাজ ভক্তি উপহার। ( ৪ ১}
অতি পুণ্য
স।
ঐক্ষেত্র বৌদ্ধ বিহার
তীর্থ
ছিল শােভাময় মুক্তি— বুদ্ধ, ধৰ্ম্ম, সঘ।
মধ্যস্থলে ধৰ্ম্ম মূৰ্ত্তি- রমণী স্বরূপ,
দক্ষিণেতে বুদ্ধদেব, বাম পাশ্বে সঙ্ঘ।
স্বার্থান্ধ, চরিত্র হীন বৌদ্ধদ্রোহীগণ
করিয়া বিহার নষ্ট- ধৰ্ম্ম আচরি,

কবিতা-শতক। রেখেছে অকীৰ্ত্তি ; করি বুদ্ধে জগন্নাথ, ধর্মকে সুভদ্রা, সদ্যে বলরাম। কিন্তু আজিও দিতেছে সাক্ষ, জগন্নাথ বুদ্ধ অবতার লজ্জাকর পুরাতত্ত্ব কথা, স্বার্থপর ধর্মদ্রোহী কপটআচারি । যা হবার হইয়াছে, ছাড় কপটতা ; হও ধৰ্ম্ম পরায়ণ, সঙ্গ কর সদ্য সহ; ধৰ্ম্মের পতাকা হইবে উডডীন। । ধর্ম। '?r করেছ সহ অনেক; আজিও রয়েছে ধৰ্ম্ম ! অঙ্গেতে তােমার সে চিহ্ন বিস্তর করিয়াছ সহ, পঞ্চমকার সাধন ; করিয়াছ সহ্ন, নবির অসীধারণ ; করিয়াছ সহ, পােপের টিকেট দাম, করিয়াছ সহা, কিশােরী ভজন কাণ্ড : নরাস্থিতে আহা, খেলার পাশ। নির্মাণ ; করিয়াছ সহ, কর্তাভজা, সন্ন্যাসীর চক্রপেলা-পারিনা কহিতে অশ্লীলহ।। তোমার নিকট ধৰ্ম্ম মানিয়াছে হার-

কবিতা-শতক।
৫৩
বিশ্বের মানব। হয় নাই ধৈর্যচ্যুতি
তব ; রহিয়াছ স্থির। সাজিয়াছ কভূ
শুদ্ধ নিরমল ; কখন পিশাচ মুৰ্ত্তি ।
এৰে অকিঞ্চন, ধর শুভ সত্যবেশ। (৫১)
রাজা।
দরিদ্র প্রজার অর্থ গ্রহণ পারগ।
দণ্ডধারী বিচারক, তুমিই পালক।
প্রজার হিতার্থ করি রাজস্ব গ্রহণ,
কেন কর সর্বনাশ, অপব্যবহার
প্রমােদ উদ্যানে, ভােগ বিলাসেতে ব্যয় ?
প্রচণ্ড প্রতাপত ; হইলেও তুমি
পীড়নক অত্যাচারী-মুখ অর্বাচীন
তথাপি পূজা তুমি ধৰ্ম্ম অবতার।
প্রকট বিকট মুত্তি, রক্ত জবা আঁখি,
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ভয়ঙ্কর-অতি ভয়ঙ্কর।
গলেন গলেনা প্রজার কানে তব,
কঠিন পাষণ হিয়া। কর সংগ্রাহক,
প্রজার প্রহরী তুমি ; কেন এত গর্ব ?
আছে ধৰ্ম্ম পৃথিবীতে, রাখিও স্মরণ। (৫২)

কবিত-শতক
একেতিন তিনেক।
তিনে এক, একে তিন কথাটা হইলে
ঠিক। চীন, জাপান, শ্যাম হলেও তিন,
ভাবশ্য হইবে এক ; উড়াবে পতাকা,
দেখাবে যৌদ্ধের অহিংসা পরম ধৰ্ম্ম ।
চীনের কৌশল, শ্যামের সাহস বীৰ্য্য,
জাপানের বুদ্ধি, হইবে যখন এক,
বৌদ্ধ জগতের মধ্যাহ্ন মাৰ্ত্তণ্ড রশ্মি,
রবেন তখন ঢাকা ; হবে উদ্ভাসিত।
জাপান শ্রীবুদ্ধ, চীন ধৰ্ম্ম, শ্যাম সন্য ।
লভিবে একত্রে যবে পাশ্চাত্য সভ্যতা,
হবে উন্নত তখন, দিবে শিক্ষা গেই
অপূৰ্ব্ব অনাত্মধৰ্ম্ম, অমিত বিক্রমে।
দিবেন সলিল— উৎসাহ অগ্নি শিখায় ;
কবির কল্পনা—দিব্য আকাশ কুসুম । ( ৫৩ )
পূর্ব ও পশ্চিম।
উঠিয়া পূর্ব আকাশে বিভাবসু যথা,
করে পশ্চিমে প্রয়াণ ; তেমতি বিশ্বের

কবিতা-শতক। ৫৫ জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন, বিদ্যা ধর্ম যত, নবরাগে উজলিয়া পূরৰ প্ৰদেশ। গিয়াছে এখন পাঁচ প্রদেশে হায়। বিতরিছে প্রভা মধ্যাহ্ন ভাস্কর সম, পূৰ্ব্বদেশ নিদ্র। অঙ্কে ; যেন দিবা শেষে পেয়েছে শুভ যামিনী—দুখের শয়ন। গেল কত অমাবস্যা —কত পূর্ণমাসী, ভাগিনা নিদ্রালুমহানিদ্রা যেন। মহামোহ অন্ধকারে সমাবৃত পূৰ্ব্ব- -দেশ, ছাড়িছেন। মােহনিদ্রা—স্বপ্নাবেশে কহিছে আবার, কত কল্পনার কথা। হাসে আর কাদে কবি, দেখে ব্যবহার। (৫৪) নারী। তুমি নারী নানামূর্তি অনন্ত রূপিণি! কখন ভৈরবী তুমি, কভু বিনােদিনী। কখন অব তুমি, কখন প্রবল। কখন চঞ্চলা তুমি, কখন অচল।

কবিতা-শতক।
কখন সুরূপ তুমি, শান্তি প্ৰদায়িনী।
কখন বিরূপা তুমি, বিদ্যা বিমর্দিনী।
তুমি নারী মহামায়া, সােহাগশালিনী।
তুমি নারী শান্তিরূপা, ভয় বিনাশিনী,
তুমি নারী জগদ্ধাত্রী, সংসার ধারিণী।
তুমি নারী ভয়ঙ্করী, সংহারকারিণী।
তুমি নারী সিন্ধু সুতা, মাধব মোহিনী ।
তুমি নারী পৃথীকন্যা, জনম দুঃখিনী ।
তুমি নারী মমতাজ, স্বামী সােহাগিনী।
তুমি নারী জয়নব, বিশ্বাসঘাতিনী।
তোমা হতে কুরুক্ষেত্র, হয়েছে শ্মশান।
তোমা হতে কারথেজ ভয়ানক স্থান ।
তোমা হতে তুঙ্গিনী, পাইয়াছে ত্রাণ ।
তােমা হতে সূর্যবংশ, পেয়েছে কল্যাণ।
তােমা হতে ভীম সিংহ হয়েছে উদ্ধার।
তােমা হতে হইয়াছে সিরাজ সংহার ।
তাইতো তোমাকে নামী মিনতি আমার ।
করােনা করোনা দাস, করি নমস্কার । (৫)

কবিতা-শতক।
ভজন গীতি।
( ঝিঝিট-একতালা।)
তুমি সত্য, তুমি নিত্য, তুমি সর্ব-মূলাধার ।
তুমি স্থূল, তুমি সুক্ষ্ম ভজনাকরিতোমার।
তুমি পাণ সৰ্বসার, বীজ অচু্যত অক্ষর,
অধিকার অবিনাশ, ভজনাকরি তোমার ?
তুমিই জ্ঞান বিজ্ঞান, বিদ্যাবল কণীশ্বর,
চিত্র কার শিল্পীবর, ভজনাকরি তোমার।
তুমি ব্ৰহ্ম, তুমি জ্যোতি, পুরাতন পরাৎপর,
নিরঞ্জন নিরধার, ভজনা করি তােমার।
তুমি আনন্দ কর, প্রেমিক প্রিয় দর্শন,
প্রীতিকর প্রিয়, ভজমাকরি তোমার।
তুমি অরূপ অশব্দ, নিরাকার অবর্ণক,
ধ্যানগগ গুণাশ্রয়, ভজনাকরি তোমার ?
তুমি অমৃত ঈশ্বর, মৃত্যু ব্যাধি বিনাশক,
পাপ তাপ পশমন, ভজনা করি তোমার।
তুমি শান্তি শান্তিনাথ, চির শান্তি বিধায়ক,
পাপনাশকয়দেব, ভজনাকরি তোমার ।

৫৮
কবিতা-শতক।
তুমি শিব শুভকর, মঙ্গল মঙ্গলালয়,
সুন্দর শাশ্বত দিব্য, ভজনা করি তােমার।
তুমি অদৈত ঈর, বিভু ত্রিভুবনাধিপ,
দ্বৈতাদ্বৈত স্বরূপক, ভজনা করি তােমার ।
তুমি শুদ্ধ পাপহীন, পূণ্যপ্রদ সুনির্মল
অপপ ব্ৰহ্ম নিষ্কল, ভজনা করি তােমার। (৫৬)
কার্য।
শরীর ধারণ, সংসার বন্ধন, মহালীলা পিতার ।
তাহাতে মগন, হয় যেই জন, সফল জীবন তার ।
জীবন মরণ, আদেশ পালন, বিশ্বের বিধান নীতি;
এসেছ আদেশে, যাইব আদেশে, আদেশে করি সংসার।
বিয়োগ মিলন, আমােদ বন্ধন, বিষয় ভােগ সম্মান ;
এদেশ গ্রহণ, আদেশ পালন, নাহি জানি সমাচার।
করাতেছে বলি, যাইতেছি করি, কুলুর বলদ প্রায় ;
পারিনা ছাড়তে পারিনা রেধিতে, নাই কর্তৃত্ব আমার।
প্রসাদ মন্দিরে, পরণ কুটার, তাহারি কার্য কৌশল ;
বিজন বিপিনে, ৩ টিনী পুতিনে, কার্যেরি খেলা অপার ।
যে কাৰ্য্য যখন, করি সম্পাদন, সকলি তঁাহার কাজ ;
আমিও তাহার, তিনিও শ্যামার, হইবে কার্য কাহার ।

কবিতা-শতক।
উঠিতে বসিতে, খাইতে শুইতে, করি তঁারি উপাসনা ;
ভােজন আহুতি, শয়ন প্রণতি, চিন্তা ধান পূজা তার।
বিটপী রসাল, সংসার বিশাল, অতিশয় মনের ;
অমৃতে মধুর, তাতে প্রচুর, কৰ্ম্ম ফল চমৎকার।
করিছে ভক্ষণ, সেফল লােভন, ভূবনবাসী সকলে ;
আঁধার আলােকে, সুরনরলােকে, করে ভােগ অনিবার।
হও নিরন্তর, কার্য্যেতে মগন, পাপিষ্ঠ প্রাণ আমার ;
সংসার যাহার, কাৰ্যও তাহার, করিলে তিনি উদ্ধার। (৫৭)
৬
প্রেমানন্দ।
১। সখা প্রাণেশ্বর, স্বর্গের ঈশ্বর,
প্রেমানন্দে তার, পূর্ণ চরাচর,
প্রাণের ভিতর, গেলে নিরন্তর,
প্রেমের তরঙ্গ, পেমের আসর।
২। প্রেমানন্দে তঁার-দেশ রত্নাকর,
ধরিয়া বিশাল ভীম কলেবর,
থাকিয়া থাকিয়া, উঠে উথলিয়া,
হেরিতে বিভুর বিভা চমৎকার।
প্রেমানন্দে র্তার দায় শ্রোতপতী,
দেখিতে সখার সুন্দর মুরতি,

কবিতা-শতক।
কলকল তানে, মত্ত তঁার গানে,
করিয়া তীরেতে সুষমা বিস্তার।
প্রেমানন্দে তঁার- দেখ বিভাকর,
দেখিতে বিভুর মূরতি সুন্দর,
ভাতিয়া ভুবন, ঢালিছে কিরণ,
বাসনা কেবল দর্শন ধাতার।
গেমানন্দে তঁার-দেখ শশধর,
নিশিথে জালিয়া অালোক সুন্দর,
খুজিছে উল্লাসে, সুনীল আকাশে,
প্রাণের দেবত করিয়া ভ্রমণ।
প্রেমানলে তার দেখনা অম্বরে,
নক্ষত্র তারকা আমােদে বিহরে,
হারি লাগিয়া, ছুটিয়া ছুটিয়া,
এদিগ গুগি করে অন্বেষণ।
প্রেমানন্দে তঁার-- পৰ্বত শিখর,
হয়েছে উন্নত ভেদিয়া অস্বর,
অভিলাষ মনে, বিভুর চরণে,
করিবে প্রণাম- দেখাবে হৃদয়।
প্রেমানন্দে তার বিটপী শােভন,
নানা ফুল ফল কয়ে বিতরণ,

কবি-শতক।
ধরি শােভাময়, চারু কিশলয়,
ঢালিছে মাধুরী সকল সময়।
প্রেমানন্দে র্তার-ব্ৰতী কেমন,
করিছে দেখনা পাপে বেষ্টন,
উঠিছে বাহিয়া, হাসিয়া হাসিয়া,
আকাক্ষা কামনা প্রিয় দরশন।
১৪। প্রেমানন্দে তঁার- বিহঙ্গমগণ,
গগনে গগনে করিছে ভ্রমণ,
আকাঙ্ক্ষা কেবল, ভকত বৎসল,
হেরিবে নয়নে জুড়াইবে মন।
প্রেমানন্দে র্তার- পশু পুত্রগণ,
বিহরে কাননে দেখ সৰ্ব্বক্ষণ,
প্রবল বাসনা, আশা উদ্দীপনা,
পাইবে দেণিতে প্রাণের ঈশ্বর।
প্রেমানলে তঁার মুনি ঋষি যতি,
দেখনা করিছে কাননে বাতি,
স্বর্গীয় উল্লাসে, অবিরত হাসে,
প্রভু দরশনে মত্ত অন্তর।
১৩। হেন প্রেমান ত্যজিয়া মানুষ,
রহিলে কোথায়, কি পেয়ে বৈভব,

কবি-শতক।
১.৪।
মেলিয়া নয়ন, কররে দর্শন,
সম্মুখে তােমার প্রাণের ঈশ্বর।
আনন্দ আনিতে ডাকিছে সবায়,
করুণা করিয়া সে বিভু কৃপায়,
উঠিয়া সত্বর, হও অগ্রসর,
লও লও লও প্রেমানলে বর।
পাইলে সে পর, ঘুচিবে আঁধার,
যাবে দুঃখ তাপ হৃদয় বিকার,
উঠিবে সত্বরে, হৃদয় অম্বরে,
এক যোগে তব, শশীদিবাকর।
প্রেমানন্দ রসে হইলে মগন,
পাবে পবিত্রতা দিব্য আঁখি মন,
পাইবে দেখিতে, মানব আঁপিতে,
পরম সুন্দর, প্রাণের ঈশ্বর।
১৭। ছাড়ি অহঙ্কার—অমিত্ব প্রভাব,
পাইলে সরল স্বর্গীয় স্বভাব,
পাইবে দেখিতেমানব আঁখিতে,
পরম সুন্দর, প্রাণের ঈশ্বর।
১৮. বিভু পরঙ্গ, করিয়া গ্রহণ,
সেবা সাধনার হইলেমগন,

কবিতা-শতক।
পাইবে দেখিতে, মানব আঁখিতে,
পরম সুন্দর প্রাণের ঈশ্বর।
(৫৮)
ঋষি বাক্য।
ব্ৰহ্ম মিষ্ট গৃহী হবে, নিত্য ব্রহ্ম পরায়ণ।
করিবে সমস্ত কৰ্ম্ম, সেই ব্রহ্মেতে অর্পণ |
জলাশয়, সেতু, পথ, পাদপ, বিশ্রামাগার।
যে করে প্রতিষ্ঠা নাকি লোকত্রয় জিত তার।
সত্যই ব্রত যাহার, দীনেহে দয়। অপার,
কাম ক্রোধ বশে যার লোকত্রয় জিত তার ।
পর নারী, পর দ্রস্যে, বিয়া নিস্পৃহ যার।
হিংসা দম্ভ হীন যেবা, লােকত্রয় জিত তার।
নাহিক রণেতে ভয়, কিম্বা পৃষ্ট ভঙ্গ যার,
ধৰ্ম্ম যুদ্ধে হত যে, লােকয় জিত তার।
অসন্ধি শ্রদ্ধাবান, যেই শান্ত শুদ্ধাচার।
ভকত বিশ্বাসী যেবা, শােকস্তু জিত তার ।
সমস্তে সমান দৃষ্টি, রাখি যে অনিবার।
করে সংসারের কর্ম, লোকত্রয় জিত তার।
অজয় অমর সম, কর বিদ্যার্থ অর্জন।
ভাবিও ধর্ম চিন্তনে, ধরেছে কেশে শমন। (৫৯)
==

কবিতা-শতক।
স্বর্গ।
কোথ। মন প্রীতিকর স্বর্গ ? নাহি যথা
জরা, মৃত্যু, পাপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, হিংসা, রাগ,
হিমানী, অসুখ- বিহরে যথায় শান্তি।
বিরাজিত চিরদিন আনন্দ কানন
যথা, শােভিত সুন্দর দীপ্তিময় স্থান।
বৃন্দাবক বৃন্দ করে, অন্বেষণ যার।
মন প্রীতিকর স্বর্গ, খুজিলাম উর্দ্ধে ;
খুজিলাম অধে ; মিলিলনা, কোথাও
সেই সুখময় ভূমিবলিল বিবেক
ডাকি; মূর্খ! বৃথার শ্রম, দেখ অই,
ঈদয় নভ মণ্ডলে-সেই সুখস্থান।
বিতরে সতত শাকি-চিদানন্দ সুখ,
কর যদি সাধু সঙ্গ, অবশ্য পাইবে
শান্তি, নিত্য মুখ, পৃথিবী আনন্দ ময়। (৬০)
করিব কম্পনা।
কখন হইবে বিশ্বের মানব-এক,
ধৰ্ম্ম পরায়ণ ? একজাতি, এক মধ্যে

কবিতা-শতক।
ভাই।
দীকিত। বলিবে, বিশ্বের মানব মুখে
পিতাদেৰ পরেশ্বর। সমস্ত মানব
পেতেছে পিতার করুণ। প্রসাদ
সকলেই সমভাবে অনল, অনিল,
আলােক, আঁধার, তৃপ্তি, নিদ্রা, অন্ন, জল।
স্মরণে মরণ জ্বালা-
হতেছে উদয়,
সে মানব, মানবের হন্তারক। নাই
এক বন্ধন; সেই স্বর্গের সম্বন্ধ ।
নিত্য দ্রোহপণা, হতেছে অতি সংগ্রাম।
তথাপি মানব কিন্তু বটে এক জাতি ;
ভ্রাতৃত্ব ব্যতীত কি করিব কল্পনা। (৬১)
মহা প্রতিজ্ঞ।
দেশখিতে পরহিতে দিব আমি প্রাণ।
করিব নরহত্যা, জীব কল্যাণ।
জীবে দয়া নামে রুচি হবে মম কত?
মিথ্যাকথা পরিত্যাগ করিব সতত
করিনা সুরাপান ভ্রমেও কখন।
চুরি ব্যভিচার বঙ্গে, করিব বর্জন:.

৬
কবিতা-শতক
দিব আমি ভালবাসা প্রতিবাসী জনে।
থাকিব সতত রত সত্যআলাপনে ॥
করিবনা পরনিন্দা আমি কদাচন।
প্রীতিতে করিব পূজা প্রভুর চরণ ?
হবনা হবনা আমি বিলাসের দাস।
করিব করিব আমি, কৰ্ম্মের প্রয়াস।
করিব আনন্দে নিত্য শীলতা রক্ষণ।
কৰিব ধর্ম প্রচার- যাবত জীবন। (৬২)
প্রীতি উপহার।
স্বর্গ উদ্যানের, পবিত্র কুসুম, করেছি আমি চয়ন।
অতি অনুরাগে, প্রীতি উপহার দিলাম কৰি যতন ।
করিলে গ্রহণ, হইব কৃতার্থ, আনন্দে হাসিবে প্রাণ।
আরাে হব সুখী, সুবােধ পাঠক, লইলে তাহার ঘ্রাণ।
করােনা গৌরব, পেয়ে রাজ্য ধন, হবে মৃত্যু এক দিন।
দেহ হতে প্রাণ, 'যাইবে খশিয়া, হইবে মাটিতে লীন।
হবে এক গতি, ভিক্ষুক রাজার, রবেশ। পার্থক্য হয়।
বিশ্বের মানব, ছাড় মায়া মােহ, মজরে প্রভু পূজায় ।
সমর প্রাঙ্গণে, দুর্বল ঘােটক, পারেনা করিতে কাজ।
না হলে সবল, শেষের সংগ্রামে পাইবে বড়ই লাজ।

কবিতা-শতক।
৬৭.
হয়না হয়না, পনীর বাসনা, বিনাশ বিশ্বে কখন।
তৃপ্ত হয় সাধু, আপনার খাদ্য, পরে করি অর্পণ ॥
মাণিলে শর্করা, নাহি হয় মিষ্ট- নিস্ব ফল কদাচন।
কদর্য। লোহাতে, না হয় নিৰ্ম্মিত, ভাল ভাল প্রহরণ।
তেমতি পারেন, সত্য ধৰ্ম্ম দান, করিতে বিষয়ী জন।
চাও যদি মােক, কর সাধু সঙ্গ পাবে ধর্ম নিত্য ধন ॥
দুঃখেতে পড়িলে, দিওনা দিওনা, কাকেও দুঃখ কথন।
সধার সহিত, করিলে সখ্যতা, হবে দুঃখ বিমােচন ॥
করােন করােনা, দুঃখীকে পীড়ন, চাহিলে দয়া ভ্ৰষ্টার।
দীনের সাহায্য, নিত্য ব্রত যার, স্বর্গের গৃহ তাহার।
হয় নাই সৃষ্টি, প্রজা সাধারণ, করিতে রাজার পুজা।
মহীপাল রাজা, প্রজার রক্ষক, নীতিবাক্য এই সােজা।
সর্বাত্মবশ, সুখের নিদান, পরবশ দুঃখ অহি।
হইবে বসুধা, আত্মীয় কুটুম্ব, হইলে উদার মতি ।
উপাস্য দেবতা, এক মাত্র পাতা- কর উপাসনা তার।
হইবে কৃতার্থ, ধরা ধন্ত সুধী, রবেনা দুঃখ তোমার । (৬৩)
ভিক্ষু।
শ্রীগুরু বুদ্ধের সংজ্ঞা, মস্তকে লইয়া,
করেছ ভিক্ষু লজঘন; অবলীলা ক্রমে

*
কবিতা-শতক।
গভীর সমুদ্র, উন্নত গিরী শিখর,
নদী, হ্রদ, কত, উড়াতে বৌদ্ধ পতাকা।
গিরিশ মিশর আদি কত জনপদ,
করিয়াছ জয়। নির্ভিক ভিক্ষু তােমরা,
হওনাই ভীত, শত্রু হস্তে দিতে প্রাণ।
কলম্বাসের অনেক পূর্বে তোমরাই,
করিয়াছ, এমেরিকা আবিষ্কার, যেয়ে
কামাখটকা পথে, মার্কিণ প্রদেশে ।
কত দ্বীপ দেশ পাইয়াছে ধৰ্ম্ম রত্ন,
বুদ্ধদত্ত মহাংন, তোমাদের হাতে।
রেখেছ অক্ষয় কীৰ্ত্তি ; পাও নাই তার,
প্রতিদান কিছু; ভারত কৃতঘ্ন অতি । (৬৪)
বৌদ্ধ বিদ্বেষী।
কি কব বৌদ্ধ বিদ্বেষি! অতি অকৃতজ্ঞ,
নিষ্ঠুর তােমরা; তােমরাই করিয়াছ,
বিখোজ্জল অকৃত্রিম বৌদ্ধধর্ম না।
করিয়াছ ভস্মীভূত বৌদ্ধ তীর্থ হায়,

কবিতা-শতক। নাই সে কপিলাবস্তু, তীর্থসারনাথ, গির্ণার, বৈশালী, কৌশিক্ষা বিহার শত । অকৃতজ্ঞ নরাধম তোমরা ভারত- বাসী। পেয়ে মহার, দিয়াছ ফেশিয়া দূরে, অবোধ মর্কট মত। সে প্রতিভা ; অবিদ্যা অন্তক সমাধি, ধ্যান, নির্বাণ, নাই ভারত বরষে। তথাপি হতেছে, আশা; ভারত বুদ্ধের প্রিয় জন্মস্থান, হবে পাপ ক্ষয়। গাবে পুনঃ উচ্চকণ্ঠে জয় জয় শাক্য সিংহ, বুদ্ধ অবতার । (৬৫) পরম মঙ্গল। পরম মঙ্গল সেই পরম মঙ্গল, অনুষ্ঠান ফল যার পরম মঙ্গল। কুসল পরিসজ্জন, জন সঙ্গ গ্রহণ, পুজনীয় জনে পূজা পরম মঙ্গল। প্রতিরূপ দেশে বাস, পূণ্য কর্মে অভিলস, সাধু কর্মে মতিগতি পরম মঙ্গল। ধর্ম শাস্ত্র নীতি শিক্ষা, সোজয় বিনয় দীক্ষা মিষ্ট বাক্য উদ্ভাষণ পরমমঙ্গল।

কবিতা-শতক।
পিতৃ মাতৃ আরাধনা, সন্তান পত্নী রক্ষণ।
নিরাকুল কৰ্ম্মেরতি পরম মঙ্গল।
দান ধৰ্ম্ম আচরণ, সজ্জন পােষ্য পালন,
: জ্ঞানী জনে সমাদর পরম মঙ্গল।
পাপ কার্যে অনাশক্তি, মদ্য সেবনে বিরক্তি,
ইষ্ট কাৰ্যে অপ্রমাদ পরম মঙ্গল।
ধার্মিক ধর্ম সম্মান,
শুরু প্রেমে নিষ্ঠাবান,
কৃতজ্ঞতা শুদ্ধাচার পরম মঙ্গল।
ধৃতি ক্ষান্তি সুবচল,
সাধু সজ্জন দর্শন,
স্বধর্মে অদ্বিধা ভক্তি পরম মঙ্গল।
ব্ৰহ্মচর্ঘ্য সত্যজ্ঞান, নির্বাণের অনুষ্ঠান,
তপস্যা ক্রিয়া সাধনা পরম মঙ্গল।
লােক ধৰ্ম্মেতে বিরতি, ঈশ্বরে নির্ভর অতি,
নিৰ্ম্মল তা স্থিরবুদ্ধি পরম মঙ্গল।
ভজ ভকত বৎস,
হইবে অতি কুশল,
পরম মঙ্গল সেই পরম মঙ্গল। (৬৬)
ধন্য সেই জন।
ধত সেই জন, (১)
ক্ষমাণীল যেই প্রেমিক সুজন।

কবিতা-শতক।
৭১
ক্ষমা ধৰ্ম ৰত, যে করে সতত,
পাইবে সেজন স্বর্গ সিংহাসন।
ধন্য সেই জন, (২)
যে জন ক্ষুধিত, তৃষিত ধরায়।
ধরম চিন্তায়, জীবন কাটায়,
ধর্ম আলাপন করে পিপাসায়।
ধন্য সেই জন, (৩)
দয়ালু যেজন অবনী মাঝারে ।
দীনজনে যার, দয়া অনিবার,
তার জন্য দূত দাড়া স্বর্গ দ্বারে ॥
ধন্য সেই জন, (৪)
শােকার্ত নিৰ্ম্মল অন্তর যাহার।
ঈশ্বর ভজন, ঈশ্বর দর্শন,
ঘটিবে ঘটিবে জীবনে তাহার ॥
ধন্য যেই জন, (৫)
প্রবল যাহার মিলন বাসনা।
প্রীতির বন্ধন, অপ্রতি দলন,
করে নাকি বিশ্বে যেজন কামনা।
ধন্য সেই জন, (৬)
পিতৃ, মাতৃ, ভক্ত বটে যেই জন।

৭২
কবিতা-শতক।
করি প্রাণপণ, মায়ের চরণ,
পিতার আদেশ যে করে পান ॥
ধন্য সেই জন, (৭)
নর হত্যাকারী নহে যেই জন।
অল্পের জীবন, নিজের মছন,
করে নাকি যে সত্ৰত দর্শন।
ধনুষ্ট সেই জন, (৮)
ব্যভিচারে লীন নহে যেই জন।
মায়ের মতন, যে করে ঈক্ষণ,
পরনারী বৃন্দ সদা সর্বক্ষণ ॥
ধন্ত সেই জন, (১)
না করে.যেজন,পরম্ব হরণ। .
নাহি ব্যবহার, পরদ্রব্য যার,
সেইত পবিত্র পুরুষ রতন।
ধহ সেই জন, (১০)
মিথ্যাবাদী নহে কদাচ খেজন।
ভুলেও কথন, অমৃত বচন,
নাহি করে যেবা মুখে উচ্চারণ।
ধ সেই জন, (১১)
শর্মের লাগিয়া জড়িত যেজন।

কবিতা-শতক।
৭৩
চলে রুচি মতে, সহ। ধৰ্ম্ম পথে,
লা গঞ্জনা নাকরে গ্রহণ।
ধন্য সেই জন, (১২)
ধরম চর্চাতে নিন্দিত যেঞ্জন ।
গাণ্ডি তিরষ্কার, না করি বিচার,
করে নাকি যেবা ধৰ্ম্ম আচরণ
ধন্য সেই জন, (১৩)
স্থির চিত্ত যেই ধয়ম চিন্তায়।
করে লাগণ, পরম যতা,
অনুরক্ত যেবা কভুর 'অামি ৪
ধন্য যেই জন, (১৪}
মজেছে ঈশ্বর প্রেমেতে যেজন ।
প্রেমময় নাম, জপে অবিরাম,
নাহি শুনে গালি নিন্দার বচন।
যন্ত সেই জন, (১৫)
নাকরে যেন ঈশ্বর সাক্ষাতে।
অন্য দেবতার, প্রভুত্ব স্বীকার,
মহি করে যে, পাকি ভজনাতে।
ধন্য সেই জন, (১৬).
প্রতিবাদীগনে পড়েনা যেন।

৭৪
কবিতা-শতক।
যেই সাধু মতি, সযতনে অতি,
ঘরে ঘরে করে প্রেম বিতরণ।
ধন্য সেই জন, (১৭)
প্রতিহিংসাকারী নহে যেই জন।
নয়নে নয়ন, দশনে দশন,
গ্রহণ বাসনা, যে করে বর্জন ।
ধন্য সেই জন, (১৮)
দক্ষিণ গণ্ডেতে আঘাত পাইয়া।
বাম গণ্ডে যার, পাইতে প্রহার,
অক্ষুন্ন হৃদয়ে দিতেছে পাতিয়া ।
ধন্য সেই জন, (১৯)
যেন বিবাদ বিনাশের তরে।
চাহিলে বসন, করে সমর্পণ,
মূল্যবান বস্তু, অঙ্গে আভরণ।
ধন্য সেই জন,(২০)
আক্রান্ত হইয়া অক্ষুব্দ যেজন।
অতি অত্যাচারী, আক্রমণকারী,
সঙ্গেতে লইয়া করে যে ভ্রমণ।
ধন্য সেই জন,.(২১)
পরম যতনে শিখেছে যেজন।

কবিতা-শতক।
৭৫
প্রেম সম্ভাষণ, প্রীতি আলিঙ্গন,
করিতে অরাতি সকলে অর্পণ।
ধন্য সেই জন, (২২)
শিখেছে যেজন ঈশ্বরে নির্ভর ।
মানস ভজন, আত্ম সমর্পণ,
করিয়াছে যেবা অভ্যাস সুন্দর।
ধন্ত সেই জন, (২৩)
করেনা যেজন দেখাইতে নরে,
ঈশ্ব র ভজনা, ঈশ্বর সাধনা;
প্রেরণার পূজা যাহার অন্তরে।
ধন্য সেই জন, (২৪)
যেজন জগতে নামের লাগিয়া।
নাহি করে দান, নহে গুণবান,
কাটে কাল যেবা গােপনে থাকি।
ধন্য সেই জন, (২৫)
তত্ত্বজ্ঞ প্রবীণ যাত্ম। যেজন ।
যাহার হৃদয়, শুদ্ধ নিরাময়,
সৰ্ব্বত্র যাহার নিবাস ভ সন ।
ধন্য সেই জন, (২৬)
ঈশ্বরের দয়া লভিয়া যেন।

',
কবি-শতক।
বিনিময়ে তার, ডাকে বারবার,
জয় জয় ব্ৰহ্ম পরম কারণ। . ৬৭ )
ইন্দ্রিয় দমন।
ইন্দ্রিয় সকল বড়ই প্রস,
করবে , করয়ে ।
নতুবা (তামার, সুখের সংসার,
হইলে হইবে, অসুখ ভান
সাক্য পাণি পাদ, উপস্থে তােমার,
রাণ রাগ বশে পায়ু অনির,
বিপরীতে তার, হইশেক সার,
জীবন মরণে অশ্রু বরিষণ।
গেলরে বিফলে মানস জীবন,
সময় খাকিতে করে দর্শন,
মন বুদ্ধি আর, চিত্ত অহঙ্কার,
রাখ বশীভূত হবেনা পতন।
বিভুর বিভুতি করিতে ঈক্ষণ,
করে নিৰােগ যুগল নয়ন,

কবিতা-শতক।
দেখিবে বিচিত্র স্বয়গের চিত্র,
হবে পুলকিত দেহ আত্মা মন।
শুনিতে সতত বিভুর বচন,
কররে নিযুক্ত তােমার শ্রবণ,
হয়ে যুক্ত পাণি, বিবেকের বার্তা,
কররে শ্রবণ ঘুচিবে বন্ধন।
সুগীয়
পুস্পের
লইতে আঘ্রাণ,
রাখরে নাসিকা, জুড়াইবে কাণ,
শ্বাস আকর্ষণ, প্রশ্বাস ক্ষেপণ,
যােগ প্রাণায়াম কররে গ্রহণ।
বিভুর ভালেতে হইয়া বিভোর,
রসনাতে গাও প্রণব মধু,
ওঙ্কার নিনাদ, বিভুর প্রসাদ,
খাইলে পালাবে দুরন্তু শমন।
প্রভু পরশনে রাখ যদি ত্বক,
মানব জীবন হইবে সার্থক,
শেষের সেদিন, বড়ই কঠিন,
রাখরে স্মরণ হইৰে মােচন ।
(৮)

R
৭৮
কবিতা-শতক।
.
বড় লোক ।
বড়লােক! কবির কণ্ঠের ক্ষীণন্সর,
পৌছিবে কি কর্ণে তব। দূর দেশে হৰ্ম্ম
তলে অহােরাত্র, অমাত্য বেষ্টিত তুমি।
বধির শ্রুতি যুগল, নাহিক অক্ষিতে
দৃষ্টি। আমােদে উন্নত্ত তুমি, চাটুকারে-
পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রকোষ্ট বিদুষক
মুখপাত্র।
নাহি প্রবেশের অধিকার
কৰ্তব্য কুশল স্বাধীন ব্যক্তির, দূরে
বা প্রতিপত্তি । তুমি অলনে আবদ্ধ
করভ কুমার সম। সম্মুখে তোমার
চাতুরালী করিছে চতুর, ঠকাতেছে
ঠগ। পারনা করিতে কিছু, কলঙ্কেতে
ব্যাপ্ত দেশ। কিগানে কবি ? তবু ধ্বনিল
-বড় শোক, বড় লােক কলঙ্কিত বহু। (৬৯)
আর্য
গাও গাও গাও আৰ্য গুণগান,
আৰ্যপ্রেমে আজি মাতাইয়া প্রাণ

কবি-শতক।
৭৯
আর্যের গৌরব, আয়ের বৈভব,
আজিও ভুবনে আছে বিদ্যমান।
আর্য ঋষিদের বিজ্ঞান দর্শন,
অমৃতের ধারা করিছে বর্ষণ,
কর যদি পান, হইবে কল্যাণ,
হবেনা হবেন। দুঃখে মিয়মান।
পরণ কুটীরে বসি ঋষিগণ,
গিয়াছে রাখিয়া যে মহা রতন,
করিলেও ব্যয়, হইবেনা ক্ষয়,
অক্ষয় সেধন অতি মূল্যবান।
কেবলে তোমরা দরিদ্র কাঙ্গাল,
গৃহেতে প্রচুর মাণিক্য প্রবাল,
নয়ন মেলিয়া, দেখনা চাহিয়া---
মহাধনে ধনী তােমরা প্রধান।
উঠেছে আকাশে উষার তপণ,
নিশার আঁধার নাহিক এখন,
উঠনা হাসিয়া শয়ন ত্যজিয়া
আৰ্যবৰ্ত্তবাসী আর্য্যের সন্তান।
করে আবার ওঙ্কার ঝঙ্কার,
হউক ধর্মের মহিমা প্রচার,

৮০
কবিতা-শতক।
দুর্বল শরীরে, হইবে অচিরে,
বলের সঞ্চার বহু পরিমাণ। (৭০)
দু’দিকে আগুন।
দু’দিকে আগুন, নেহারি নয়নে,
আতঙ্কে কাঁপিছে পরাণ আমার।
আগুনের শিখা, বাড়িয়া বাড়িয়া,
ছাইছে আকাশ হিছে সংসার।
সম্মুখে পশ্চাতে, আগুনের খেলা,
জনমে মরণে আগুনের তাপ।
তাতিয়া তাতিয়া, দেহটা আমার,
হিছে আগুনে পূর্ণ পরিতাপ।
জনমে আগুন, মরণে আগু,
থাকিব অাগুনে যাবৎ জীবন।
পােড়া মন মাের, নাহি বুঝে কথা,
তথাপি করিছে শান্তি অন্বেষণ ?
যাহার আগুনে জ্বলিয়া পুড়িয়া,
মরিছে বাচিছে ধরবাসী জন।
সে শান্তি-সিঞ্চন, না করিলে দয়া,
হবেন। নির্বাণ দু’দিক হন। (৭১)

বিপদ।
শাস্তিয় জগতে, কে দিল চলিয়া,
অশান্তি, অাপদ, বিপদে রাশি।
ঘুমন্ত পরাণে লাগিল আঘাত,
=াঙ্গি ল মধুর আমাদের হাসি ।
হিয়া র ভির বহিল প্রবল,
রস তরঙ্গ চিন্তার তুফান।
পিল হৃদয়, টুটিল সাহা,
বার বার বারি ছাড়িল নয়ন।
খতে দেখিতে পীড়া নিদারুণ,
*লি আসিয়া জড়ায়ে খাবার।
৬ীবন অশা, নিরাশ হইয়া,
নেহারি দিগন্ত আঁধার আঁধার
এখন অায় কাণে কাণে শার,
কহিল পিকে মধুর বচন।
বিপদের কথা, বিপদের নাম,
নেদু ণে কর দাশ।
মহ! ভয়ঙ্কর, বিগদ ভীষণ,
শাসনের দণ্ড ভাবিওনা মনে ;

৮২
কবিতা-শতক।
স্বর্গের সরণি কুশলের দ্বার,
বিপদ কেবল বিদিত ভুবনে।
বিপদে, বিপদ করিয়া স্মরণ,
আদরে ডাকিয়া কর আলিঙ্গন।
ঘুচিবে বিপদ, পাইবে
সানা,
উদিবে অচিরে সৌভাগ্য তপন। (৭২)
জননী-জঠর।
জননী-জঠর, কত ভয়ঙ্কর,
দেখ কি ভাবিয়া মনরে আমার ?
কতবা যাতনা, গর্ত্তকারাবাস,
জনম ধারণ, জীবন সঞ্চার ?
জঠর জ্বালায় জাণিয়া জলিয়া,
আসিলে ধরায় ফুটিল নয়ন।
কত বা কঁদিলে স্মরি দুঃখ কাপ,
জননীর কোলে করিয়া শম্বন
পুরীষ পূরিত জননী জঠরে,
সয়েছিলে কত, যাতনা অপার,

কবিতা-শতক।
থাকি দশ মাস দশ দিন হায়,
করেছিলে কত খেদে হাহাকার ?
মায়ের মােহন মায়াতে ভুলিয়া,
ছাড়িলে ক্রন, হাসিলে আবার।
গেল দুঃখ তাপ জঠর সান্তনা,
পুলকে পুরিল দুধু তােমার।
মধুরসে ভরা মায়ের অন্তর,
মধুরসে ভরা জননীর কােল ।
মধুরসে ভরা মায়ের শরীর,
মধুরসে ভরা জননীর কোল।
এ হেন মায়ের মধুমাখা অঙ্গে,
গৰ্ত্ত কারাবাস বড় ভয়ঙ্কর।
স্ময়ণে কঁপিছে হিয়া থরথরি,
অমৃতে গরল জননী জঠর ।
জানিনা কি মন, জননী জঠর,
বিধাতা রচিত বন্ধন জাল।
বেড়েছে বয়স, পেকে গেছে কেশ,
তবু কি হলোনা জ্ঞানের উদয়।
ভোগিতে নাহয় যাতে পুনর্বার,
গর্ত কারাগারে নিরুজন বাস ;

কবিতা-শতক।
সময় থাকিতে কর আয়োজন,
ছাড় ছাড় ছাড় মামা মােহ পাপ। (৭৩)
অমৃতে-মধুর।
অমৃতে মধুর নন্দন বন,
অমৃতে মধুর সরল মন।
অমৃতে মধুর ধরম গীতি,
অমৃতে মধুর বঁধুর প্রতি।
অনুতে মধুর সাধন যোগ,
অমৃতে মধুর ভক্তের ভােগ।
অমৃতে মধুর সাধক দল,
অমৃতে মধুর যোগীর বল।
অমুতে মধুর শান্তির ধারা,
অমৃষ্টে মধুর সেবক যারা।
অমৃতে মধুর ভক্তের দৈত,
অমৃতে মধুর শাস্তির গেই।
অমৃতে মধুর নীতির কথা,
অমৃতে মধুর প্রেমিক যথা।
অমৃতে মধুর স্বগ ধাম,
অমূতে মধুর ব্রহ্মের নাম। (৭৪)

কবি-শতক।
ba
অমৃত-গরল ।
অমৃতে গরল চাদের খোটা।
অমৃতে গরল মিলন মুটা।
অনুতে গরল শঠের বােল।
মৃত গরল সখার ভুল।
অমৃতে গরল কেকীর ধ্বনি।
অমৃতে গরল ঘরের শনি
মনুতে গরল. বিষম মিল।
মুতে গরল বঁধুর ঢিল।
অমৃতে গরল ভাদর কেী,
অমৃত গরল বান ঠেটি।
অমৃতে গরল সাধুর দুল,
অমৃতে গরল মানুষ থল।
অমৃতে গরল ছিদুর লােট,
অমৃতে গরল বুদ্ধির মােটা ।
অমৃতে গরল আবের পোকা,
অমৃতে গরল সন্তান থােকা। (৭৫

৮৬
কবিতা-শতক।
সেই
ভক্ত প্রধান
যাহার করুণ প্রাণ, সেই ভক্ত প্রধান,
নাহক যাহার দ্বেষ- সেই ভক্ত প্রধান।
নাহিমান অপমান, অতিশয় অভিমান,
আমিত্ব বর্জিত যেই, সেই ভক্ত প্রধান।
সুখে দুঃখে একজ্ঞান, সুশীল চরিত্রবান,
ভাশুভ ত্যাগী যেই, সেই ভক্ত প্রধান।
হর্ষ, ক্রোধ, ভয়মুক্ত, সাদা ধ্যানমুক্ত,
সমদশী বিশ্বে যেই, সেই ভক্ত প্রধান।
ত্যাগশীল বুদ্ধিমান, সংষতাত্মা গুণবান,
স্থিরচি যােগী যেই, সেই ভক্ত প্রধান।
নাই যার পরবাস, নিয়ত বদনে হাস,
নাহিক বাহার ঋণ, সেই ভক্ত প্রধান। (৭)
ধর্ম।
কর্ম ও
কৰ্ম্ম দারা কর্মলোক ফৰ্ম্ম কুটুম্ব বান্ধব,
ইহ পরলােক , সুখ দুঃখ দেয় সব।
কৰ্ম্ম পূজা উপাসনা, কৰ্মই পরমথ্যান,
কৰ্ম্মেতে উন্নতি সার, কর্মে মুক্ত বন্ধ প্রাণ

কবিতা-শতক।
ধৰ্ম্ম গুরু সত্যএক, ধৰ্ম্ম খলু পরগতি,
ধৰ্ম্ম আত্মা, ধৰ্ম্ম ক্রিয়া, ধৰ্ম্মতীর্থ পুণ্য অতি ।
নাহিক সংশয় কিছু, সৰ্ব্ব দেব ধৰ্ম্ম ধন,
সম্পদ বিপদ ধৰ্ম্ম- বুখ। অধৰ্ম্ম জীবন। {৭৭ )
পাপ ও শৌচ।
পাপ হতে জন্মে ল্যাধি- পাপেতে সাত জয়,
পাপেতে দীনতা বটে শোক দুঃখ ভয়ভরা,
দোষী অমঙ্গল, সৈরি, পাপাচরণ,
করেনা করেনা শান্ত, করিতে স্বর্গ দর্শন।
সত্য,
শৌচ,
মন :
শীচ শে; ইন্দ্রিয় সংযম,
সভৃতে দয়া শৌচ, সলিল শৌচ অধম ।
পবিত্র হইতে সাধ, থাকিলে মন তোমার,
হও শুদ্ধ শুচি তুমি, কর সাধুবাহার। (৭৮)
বিষয় ও মঙ্গল।
করে এক জন্ম মাত্র, পার্থিব বিষ হরণ,
জন্ম জন্মান্তর হয়ে বিষয় বিষ ভীষণ

কবিতা-শতক।
“নাই বিদ্যা সম চক্ষু, নাই জ্ঞান সম সা,
নাই রাগ সম দুঃখ, ত্যাগ সম সুজল। (৭৯)
শাস্ত্র
অনন্তু শাস্ত্র, অনেক জ্ঞাতব্য বিষয়।
বহুবিধ বিঘু তাহে, অত্যল্প সময় ॥
উপাসনা কর তার, যিনি সৰু মার।
নীর ফেলি ক্ষীর খায়, হন যেকার। (৮• }
আরোগ্য।
দেখন বাঙ্গালি। পরিহরি পরিচ্ছদ,
পাণ্ডিত্যের অভিমান ; কঙ্কালাবশিষ্ট,
অঙ্গে, কি আছে পদার্থ-আর্তনাদ ছাড়া।
করে স্বাস্থ্য শান্তিভোগ— বনে পশু পক্ষী,
থাকিয়া নিয়মে । গৃহে নাই ঠয়া,
তবু চাই, তোমাদের চিকিৎসার অর্থ ।
আনােগ্য সুখের মূল পড়িয়াছ মিখা;
কর নাই উপভােগ ; দেখ নাই মূর্তি।

কবিতা-শতক।
আছে দেখ, চক্ষু যার- আরোগ্যের দ্বারে,
দাড়া, বরুণ, বিদুৎ, পাবক, পবন ।
সােরিয়া শূন্য মর্ত্য; বিরে অনিন্দ,
স্থির লক্ষ, ঊর্ধ দৃষ্টি, জাতীয়তা ।
থাকি যা নিয়মে দেখ, সেই মুর্তি ঘরে । (৮১)
পারি না।
গরিলা ভাঙ্গিতে আমি, বামনার ঘর।
পাবনা শক্তিতে আমি, কুসঙ্গ সাগর
পারিনা করিতে আমি, সংশয় ছেদন।
পারিনা ছিড়িতে আমি, মায়ার বন্ধন।
পারিনা ধুইতে আমি, কলুষ কর্দম।
পারিনা ধরিতে অগি, সাধনা উত্তম।
পারিনা মজিতে অামি, (সক সেবায়।
পারিনা বসিতে আমি, অৰ্জা অর্চনায়।
পারিনা সপিতে আমি. দেশের মঙ্গল।
পারিনা রক্ষিত আমি, স্বজন কুশল
পারিনা সইতে আমি, সরে আশ্রয় ।
পারিনা তন্ধিতে মামি, লোক লজ্জা ভয়।

৯
কবিতা-শতক।
পারিনা লড়িতে আমি, রিপুর সহিত।
পারিনা গাইতে আমি, ধরম সঙ্গীত ।
পারিনা ছাড়িতে আমি, পারিনা পারিনা।
কখন মানুষ হব, জানিনা জানিনা। (৮২)
তবে কেন মায়া ?
ছাড়িতে হইবে, সুখের সংসার,
পুল, বন্ধু, দারাবে কেন মায়া ?
যাইসে চলিয়া বিষয় বাসনা,
ভোগ অভিলাস-বে কেন মায়া ?
সমিসে আসিয়। শমন সি ওকে,
বলিবে স'রোষে উঠতে উঠরে,
রসেনা রবেনা আকাঙ্ক্ষা কামনা,
যাইবে জীবন-তবে কেন মায়া ?
এসেছ একাকী যাইতে একাকী,
দেখিৰে দেখিবে সমুদয় ফাকি,
স্বরগ দোয়ার হবেনা তোমার,
.
মায়ার মায়াতে-ভব কেন মায়া।

কবিতা-তক।
১১
-
দেখন। দেখনা মেলিয়া নয়ন,
খসিবে খসিবে মায়ার বন্ধন,
মাটির শরীর মাটিতে মিশিবে,
রবেনা কিছুই তবে কেন মায়া? (৮৩)
উপাসনা।
পরকালে স্বর্গস, ঈশ্বর দর্শন,
চির শান্তি আশে, কর যদি উপাসনা;
ছাড় হে সন্ন্যাসী তবে, স্বার্থপরধ্যান;
ছাড় হে বৈষ্ণব তবে, বৈরাগ্য গ্রহণ;
ছাড় হে তান্ত্রিক তবে, বলিব ব্যবস্থা;
উদ্দেশ্য সবার এক, গতি এক স্থানে।
খৃষ্টান, মুণলমান, বৌদ্ধের সহিত ,
কর এক উপাসনা
স্বাধীন মত্ত ভাবে-বিশ্ব দেবে ঐতি
গার প্রিয় কাৰ্য তার। হও অগ্রসর;
কর প্রাণান্ত প্রতিঘুচাও কলঙ্ক।
মানব, মানবে, ধৰ্ম্মযুদ্ধ গুরুতর।
কি ভয় কাহাকে ; ঘটাও বিপ্লব। মৃত্যু।
ভিন্ন, কিফল হইবে অগ্রসরে আর ? (৮৪)

কবিতা-শতক।. কীর্তি। জীবন যৌবন যাইসে চলি --- রসে রবেন, কাহারো কথায়। মাটির মানুষ, মাটিতে মিশিবে, মরিবে কাদিবে, করি হায় হায় । শনি ত্যজিয়া, লে আত্মবান, হইবে হইবে, কীরি স্থাপন। গাইবে পাইবে- হাতে হাতে ফল- নির্বাণ মুকতি, আনম কানন । পার্থিব যশোর, তইলে পাগল, হইলে হইবে, জস পতন। লতিতে অক্ষয়, কাৰ্ত্তি স্বৰ্গণ, উন্মত্ত মানব, ইওরে মগন । (৮৫) কিবা হবে কাল। বলনা বলন', কিবা হবে কাল ? আঁধারে হবে কি জালে ? আঁধায়ের গণি, এভাঙ্গা হৃদয়, ওকি বাসিসে ভালো?

কবিতা-শতক।
হাতে পায়ে ধরি, সানারে প্রাণ -
কি হবে আমার কাল ?
কাদিয়াছি ঢের,
পারিনা যে আর,
নিকট দাড়িয়ে কাল।
আজ আছি আমি, কাল যাব কোথ!,
পর কি বণিতে কেহ ?
মজ মাতৃ বক্ষ, স্কানন্দেতে হাসি,
কাল কি থাকবে দেই ?
উমার অলােক,
রবির কিরণ,
যাদের জোছনা হাসি।
ভালবাসা দিয়ে,
ভালবাসা নিয়ে,
টালে আজ সুখরাশি।
কাল কি হবে ? পারবে কি কেহ,
.. বলিতে আমার হয়ে ?
না না, পারিবে না, তাই কাদি আমি,
বসিয়ে দগ্ধ হৃদয়ে।
( ৮০ )
কেনরে নিদ্রায়।
কেনরে নিদ্রায় ? জাগিয়ে আবার,
গাও একতানে, মনরে আমার ।

১৪.
কবিতা-শতক।
?
গাও উচ্চস্বরে, মায়ে ভুষন,
গাওরে অখিল ব্ৰহ্মাণ্ড ঈশ্বরে।
গাও রবি, শশী; নক্ষত্র মণ্ডল,
গাও গিরিনদী গও সিন্ধু জল,
গাও তরুরাজি, বন উপবন,
গাও সবে মিলে, আজি সমস্বরে ।
গাওরে জলদ, নভবাসী সবে,
গাও বজ্র আঙ্গি, সুগভীর রবে,
অনল, অনিল, গাওরে সকল,
ভুবন বান্ধবে, কৃতজ্ঞ অরে।
গগনে উঠিয়া বিহঙ্গম গ্রাম,
গাওরে ব্রহ্মের, মধুমাখা নাম,
কুসুম কুটাল, গাও অবিরাম,
চিদঘন সেই, ব্ৰহ্মপরাৎপরে।
ওরে মূঢ় মন ! কিকর বসিয়া,
জীবন প্রবাহ যেতেছে চলিয়া,
সাধিতে থকা হ'ও অগ্রসর,
ডাকনারে আঁরে, সি যুক্ত করে। (৮৭)

কবি-শতক।
৯৫
আশালতা।
আশালতা মোর, মনবৃক্ষ পরে,
নাচিয়া নাচিয়া হাসিয়া উঠে ।
হৃদয় কাননে, অশালতিকার,
নুতন নৃতন কুসুম ফুটে ।
কত মধুকর, আশে পাশে তার,
খেলায় কৌতুকে মধুর আশে।
নিরাশার জ্বালা, উঠেনা অন্তরে,
ভুলে যায় দুঃখ, সুখ উচ্ছাসে ।
অাশাকে লইয়া- কল্পনা কাননে,
কতনা আমােদে, করি ভ্রমণ।
তথাণি মিটেনা, অনন্ত পিপাসা,
আশার খেলা, এমনি মােহন।
সাজাইয়া ডালা, প্রমােদ উদ্যানে,
সারানিশিদিন, রয়েছি বসি।
একি হলো হায়, গেল যে সকলি,
শুকায়ে শুকায়ে, পড়িল খসি।
গগনেতে বসি. এই না চঁাদিমা,
ঢালিত বুজত, সুধার ধারা।

কবিতা-শতক'।
মহমা আসিয়া, গরাসিল রাহু,
দুই ল হইল, আঁধার কারা।
এই না তটিনী, সাগর উদ্দেশে,
তীরবেগে যেন, চলিছে ছুট।
দেখনা দেখনা, গিরীর গুহায়,
পড়ি পড়িল, সহসা লুটে।
আশালতা মোর, তেমন করিয়া,
উঠিয়া উঠিয়া, আসার পড়ে।
সুখের স্বপন, যায়ষে ভাঙ্গিয়া,
ভাসিয়া বেড়াই, শোক সাগরে ।
এই ছিল হৃদি, সুখের স্বপনে,
আমােদ উল্লাসে, কতই তোর।
বিষাদের ছায়া, কেনরে আসি,
ভাঙ্গিল সহস, স্বপন মোর । (৮৮)
রবেকত ?
বে কত চিন্তারত, মন তুমি অবিরত।
বয় কম বাড়ে যত, আয়ুগত হয় তত ॥
হস্তুত হের যত, প্রিয় বস্তু নানামত,
আছ তুমি অবগত হবে সব দৃর গত ।

কবিতা-শতক।
ง
হবে প্রাণ ওষ্ঠাগত, হবে শক্তি অপহত,
দেখিবেনা চক্ষে পথ, নাহি রবে অভিমত।
হও ঈশ্বরে প্রণত, সঙ্গত কর সতত,
হইবে চিত্ত সংযত, দেখিবে ধর্গের পথ।
বলিছে ভকত যত, থাকিলে ধ্যানেতে রত,
চলে যাবে ক্রমাগত, হৰে পুৰ্ণ মনােরখ।
ভূতে ভূত পরিণত, হতেছে প্রতিনিয়ত,
কর পূজা পার ষত, হবে স্বর্গ এ জগত (৮৯)
প্রতি পুরুষ।
কিব চমৎকার, নীল্য বিখতার।
নাজানি তাহার, কিরূপ আকার,
প্রকৃতি পুরুষ কি করি বিচার ।
তত্ত্ব জ্ঞান রবি হইলে উদয়,
হেরিবে নয়নে বিশ্ব ব্রহ্মময়,
জানিবে বিধান, প্রমাণ সন্ধান,
প্রকৃতি পুরুষ বিভুতি হয়।
প্রকৃতি পুরুষ এক দেহ প্রাণ,
পুর্ণ বিধাতার পূর্ণত্ব বিধান,

'১৮
কবিতা-শতক।
দেখকি সুন্দর, অই নারী নর,
করিছে কেমন, পূর্ণত্ব প্রচার।
না থাকিলে সঙ্গে মায়াময়ী শক্তি,
করিত কি কেহ শিবে পূজা ভক্তি,
মদন মথন, ত্রিপুর দাহন,
হতাে কি কখন-সুষম বিস্তার।
থাকিলে সঙ্গে জনকনন্দিী,
থাকিত কমলা স্কাতে বন্ধিণী,
করিত কি রম, ভীষণ সংগ্রাম,
সমুদ্র বন্ধন, রাবণ সংহার।
থাকিলে সঙ্গে, ব্রজেশ্বরী রাই,
থাকিত অপূর্ণ গােকূলে কানাই,
কেবা কুঞ্জে কুঞ্জে, দিত পুঞ্জে পুঞ্জে,
টালিয়া মাধুরী আমােদ আসার ।
প্রকৃতি পুরুষ না হইলে মিলন,
হয়না মােহিত বিশ্বে কারু মন,
তাইতো ঈশ্বর, সেজেছে সুন্দর,
প্রকৃতি পুরুষ নহে তুলনার। (৯• }

কবিতা-শতক।
শৈশবেরখেলা।
শৈশবের খেলা, মরি কি মোহন,
বিশ্ব বিধাতার অপূর্ব সৃজন,
সাধুরী মাখিয়া, শৈশবে গঠিয়া,
দিয়েছে পাঠায়ে বিধাতা যেমন ।
নাহিক শৈশষে-ইন্দ্রিয় বিকার,
রিপুর পাড়, গর্ব অহঙ্কার,
গালভরা হাসি, ভাষে দিবানিপি-~-
নিত্যমুখে কয়ে, জীবন যাপন।
তাহিক শৈশবে-~বিষধ বাসনা,
অনন্তু পিপাসা, অনন্তু কামনা,
কঞ্জিয়া নির্ভর, মায়ের উপর,
ক্ষুধা, তৃষ্ণা যত কয়ে নিবারণ।
মাহিক শৈশযে-~~ শেষের ভাবনা,
মানবের ভর, অন্তিম যাতনা,
হাসি কান্না যত, আছে অবিরত,
নকে জ্ঞাপন ভোক্তন পল।
শিশুর সুন্দর সয়ল আচার,
হাসার মানবে মজার সংসার,

কবিতা-শতক।
তেমনি সরল, দয় কমল,
পাব কি আবার বিশ্বেতে কখন। (১১)
এইত শ্মশানে করিব গমন।
এইত শ্মশানে, করিব গমন।
হইবে যখন, এ দেহ পতন,
এইত শ্মশানে কবি শয়ন ।
এইত শ্মশানে,- জনক আমার,
প্রাণের প্রতিমা, কুমারী, কুমার,
পিতৃব্য সােদর, আত্মীয় নিকর,
বান্ধব সফল ক'রেছে শয়ন।
এইত শ্মশানে শতসিদ্ধার,
গৌরাঙ্গ, নানক, গৌতম, শঙ্কর,
মহম্মদ, যিশু, ছাদি, ধ্রুবশিশু,
শ্রীরাম মােহন ক'রেছে শয়ন ।
এইত শ্মশানে কবি কালিদাস,
বাল্মীকি, মিল্টন, নিউটন, ব্যাস,
প্রসাদ হােমর, ভারত, ঈশ্বর,
শ্রীমধুসূদন, করেছে শয়ন।

কবি-শতক ।
১০১
এইত শ্মশানে—শত শত ধীর,
কর্ণ দুর্যোধন পার্থ যুধিষ্ঠির,
সাহা সেকেন্দর, ফের আক্র,
বলী বোনাপার্ট করেছে শয়ন।
এইত শ্মশানে—ইবে আমার,
একদিন হায়, শয্যা চমৎকার,
চিন্তা কেন আর, শ্মশান শয্যার,
থাকিতে সময় কর আয়ােজন । (৯২)
পরমাত্মা তিনি।
ধোয় বটে যিনি,
পরমাত্মা তিনি,
তাহারি সমস্ত দান।
তাহারি সৃজন;
আনন্দ কানন,
তঁারি হাতে পরিত্রাণ ।
করি এক জ্ঞান, কর যদি ধ্যান,
প্রেমমৃত রস পান।
তবে পাৰে দান, আরোগ্য কন্যা,
সুন্দর সুন্দর স্থান।
রবেন। যাতনা,
মনের বেদনা,
ঘুচিবে সমস্ত ভ্রম।

১০২ কবিতা-শতক। গাইবে নাচিয়া, হাসিয়া হাসিয়া, শান্তি শান্তি হরি ওম্ । (৯৩) রুশের রোদন। গেল মেকার, সখারফ শয্যাগ, হইল কেলার হত। হতেছে অজস্র হার, মাঞ্চভুমে। কণির ফণাতে উঠি নাচিল মণ্ডুক। হইল শৃগালীকান্ত মৃগেলের মৃত্যুন!থ! অশনি পড়িল শিরে ; ভাজিল সহসা মম, সমুন্নত সম্মান সৌধ শিখর । কিমতে দেখা মূখ! তাহে নিহিলিষ্ট জ্বালা, মনেলয়- কেটি ফেলিগ্রীব-অথবা সবাই বক্ষে স্বহস্তে সঙ্গীন। কি, ভরসা, রবে মম- মুক্‌ডেন, লেয়ং, আর্থার; কুরুপ্যাটকিল, নর বানর হস্তে হয়েছিল ধ্বংস, রক্ষপতি যখ—তেমতি হলােকি হন্তারক হায়, নগণ্য জাল মার্ক্সার? (৯৪) শেল ?

কবিতা-শতক।
অনুতাপ।
অনুতাপ ? অনুতাপ ? নড় অনুতাপ ?
পারিনা পারিনা তমি সহিতে দাহন।
দেবতা গড়াতে আমি গ'ড়েছি পিচাশ।
মানুষ গড়াতে আমি গড়েছি বানর।
প্রাসাদ গড়া 'আমি গড়েছি উনান।
কোকিল গড়াতে আমি গ'ড়েছি পেঁচক।
উদ্যান গড়াতে অামি গড়েছি অরণ্য।
ত্রিদিব গড়াতে আমি গড়েছি রোরব
অমৃত তুলিতে অামি তুলেছি গরল।
হীরক তুলিতে আমি তুলেছি অঙ্গার।
কৰ্ম্মের ভূলেতে আমি ল’ছেছি বন্ধন।
ধৰ্ম্মের ভূলেতে আমি হ'গেছি পতন।
যেখানে লড়াই আমি সেখানেই জানা।
যাবেনা যন্ত্রনা হায়, না হলে মরণ। (৯৫)
বিচিত্রতা।
কয়ে দেখরে মাশক্ত অন্তর,
বিচিত্রময় বিশ্ব চরাচর।

১০৪
কবিতা-শতক
অনন্ত কৌশল, অনন্ত মঙ্গল,
দেখিছে নাচিছে আনন্দ অশুরু।
বিচিত্র রচনা বিচিত্র দর্শন,
বিচিত্র ভুবন বিচিত্র গগন,
কুসুমের মাঝে, কুসুমের খেলা,
মুখপদ্মে অই, আঁখি ইন্দীবন্ত।
নীচের অন্তরে মহতের সীমা,
দীনের হৃদয়ে ধনীর গরিমা,
অনিত্যর মাঝে নিত্যের বিকাশ,
মৃত্যুর মাঝারে, অমৃত সুন্দর।
ক্রন্দনের মাঝে, 'সির সঞ্চার,
নীরবে নিস্তব্ধ ছাড়িছে হুঙ্কার,
দেয় স্থির আঁখি, বিশ্বের সংবাদ,
অন্ধকারে শােভে, জ্যোতি মনোহর।
আনিছে বিপদ, আনন্দের হাসি,
দিতেছে চৈত, জড় ভালবাসি,
সৃজনের মাঝে, রাজিছে সংহার,
উত্তাপ শীতল, বন্ধু পরস্পর।
সুক্ষ্মোর ভিতরে খেলিছে বিরাট,
কদৰ্য্য মাঝারে, সৌকর্যের হাট,

কবি-শতক
অনলের মাঝে, সলিলের সৃষ্টি,
বিদ্যুতের খেলা, জলে নিরন্তর।
(৯৬)
বুদ্ধ-বচন।
অারোগ্য গরম লাভ, সন্তোষ পরম পন
বিশ্বাস পরম বন্ধু, নিৰ্ব্বাণ শাস্তি ভবন।
রাগ সম অগ্নি নাই, হিংসা সম পপি নাই
দে সম দুঃখ নাই, শান্তি সম প না ।
কি পরম সুখ, আছে নাকি জ্ঞাত যিনি,
নাই তার হিসা বাপি-শাখি পায় না। তিনি । ৩
সতত পাপ বর্জন, নিত। কুশল অর্জন,
সমাক চিত্ত শোধন, এ ধৰ্ম্ম অনুশাসন।
করলে প্রতিপালন, ইবে দুঃখ দমন,
আসিবে না আসিবে না, মন্মথ মত্ত বারণ । (৪)
জন্ম জন্মান্তরে পথে, পাইনি ফিরে সন্ধান,
কোথ। সে গোপন আছে, যার এ গৃহ নির্মাণ।
পুনঃ পুনঃ দুঃখ পেয়ে, পেয়েছি দেখ। এ বার,
দিবনা রচিতে গৃহ, গৃহ কারক আবার,
ভেঙ্গেছি সমস্ত গুন্ত, গৃহ ভিত্তি সমুদয়,
গিয়েছে বদ্ধ সংস্কার, বামনা করছি ।

১০ ৬
কবিতা-শতক।
অনিজের রাত্রি দীর্ঘ, শ্রান্তের দীর্ঘ ধোজন,
পাষণ্ড অজ্ঞর দীর্ঘ, দুর্লভ নর জীবন,
নিজকে যে জানে অজ্ঞ, সেই জ্ঞানী প্রধান,
অান্ত অজ্ঞান যেই, অভিমানী যে বিদ্বান। (৬)
ভ্রমণ পথের সঙ্গী, প্রবীণ কিবা সমান,
না পেলে একাকী যাবে, লবেনা কভু অজ্ঞান,
যে কর্মের ফল নাকি, অস্তিমৈতে অনুতাপ,
করনা কদাচ তাছা, সেই প্রকৃত পাপ। (৭)
শ্রয় আর প্রয় পেয়ে মানবে লইয়া
বুদ্ধিমান চিনে বিচার করিয়া ।
করিলে শ্রেয়গ্রহণ, হয় স্বর্গবাস ,
করিলে প্রেয় বরণ, ঘটে সর্বনাশ। (১৭)
বিজ্ঞজ্ঞান হৃদয়।
সিজান ঈদ,
ফুল প্রভাময়,
সুরঞ্জিত চিত্র চারু দরশন।
প্রকৃতির কৃমি,
সুশােভন অতি,
বিজ্ঞানের শিল্প। নয়ন রঞ্জন ।
কালক প্রণীণ,
জ্ঞানী অর্বাচীন,
হেবিয়ে নয়নে সজ্জিত সুন্দর।

কবিতা-শতক। ১০ ৭ বিজ্ঞানের বিভা, উজ্জল প্রতিভা, থায় দ্রুত পদে প্রফুল্ল অন্তর। বিষয় বাসনা, প্রণয় কামনা, নাহিচায় কেহ, বিজ্ঞানে মাহিয়া। এ মহী মণ্ডলে, এ হেন কৌশলে, নাহি পারে কেহ, ইতে ডাকিয়া। নানা প্রলোভন, মানবে যেমন, আশার আশায় নিয়ত ঘুরায়। অথবা স্কুল, করিয়া অাক্, •ায়াসে যথা ভরে নাচায় । বিজ্ঞান সূদয়, নিত্য (শভাময়, মধুর মধুর মধুরী অপার । চালাকার মন, করে অকর্মণ, অলক্ষিতে যেন কি কর বাহার। দেখাতে সকলে, অপূর্ব কৌশলে, প্রকুতি শুরী বলেছ মাজিয়া। নগর গবে, পাহাড়ে সাগরে, অতুল শােভায় ভুবন ভরিয়া অণু পরমাণু, পতঙ্গ কীটাণু, চশ, সূৰ্য্য আদি গ্রহ তারাগণ ।

কবিতা-শতক। E দ্রুত ইরম্মদ, ধাতু অষ্টাপদ, তরুলতাবন, অপূর্ব দর্শন। ভূচর খেচর মানুষ বানর, পশু পক্ষী আদি প্রাণী বহুতর। আনন্দে মাহিয়া, নাচি নাচিয়া, বিজ্ঞান হৃদয়ে পেলে নিরন্তর। প্রস্ফুটিত ফুলে, কিংবা তরু মূলে, ফলের সহিত সকলে মিলিয়া। পল্ল কু'টল, অতি নিরমল, সুরে সুরে 'আহা রয়েছে সাজিয়া। এ নহে কল্পনা, প্রকৃত ঘটনা, নয়ন ভরিয়া, সদা দেখাযায়। তীর্থ পর্যটনে, ব্ৰত পরায়ণে. মিলেনা এ শান্তি, কদাচ ধরায়। জ্ঞানের তৃষ্ণায়, সকলেই খায়, জীবিত যতেক মানব এ ভবে। নাহি অভাব বিষয় প্রভাব, বিজ্ঞানে মাতিয়া খায় উচ্চরবে । পুলকিত মনে, গাঢ় যতনে, প্রকৃতি মপনে পাইছে সবাই।

কবিতা-শতক। করে দরশন, শকতি যেমন, প্রকৃতি হৃদয় মনোহর ঠাই । জ্যোতিষ গণিত, বিদ্যার সহিত, বসিয়া বিরলে বিজ্ঞান হৃদয়ে। খুঁজিয়া খুজিয়া, নয়ন ভরিয়া, দেখে সমৃদয় উৎসাহ উদয়ে ৫ আশ্চর্য্য গঠন, দরশন, অণুবীক্ষণাদি কারু চমৎকার। জৰ্মাণ, সিধা, তল্লাস করিয়া, তন নূতন করে আবিষ্কার ॥ শির বিমণ্ডিত, ভারত পণ্ডিত, ঘরেতে বসিয়া করে হাহাকার। ঠিকুজী গণিয়া, কর ঘুরাইয়া, ব্যস্ত নিরন্তর আর্ঘ্যের কুমার। বিজ্ঞান হৃদয়ে, গুণী জ্ঞানী চয়ে, কত মতে করে কত আবিষ্কার। জ্ঞানের প্রভাবে, স্বভাবে স্বভাবে? চারু চমৎকার হেরে অনিবার। কেহরা সাগরে, কেহবা পাহাড়ে, কাননে বিপিনে কেহ হদে পাশে।

কবিতা-শতক।
উড়ি বায়ুভরে,
উঠিয়া উপরে,
গ্রহপথ কেহ খ জিছে আকাশে।
ভূধর কন্দর,
অবনী জঠর,
অতল জলধি অক্ষ্য গগন ।
তারায় তারায়,
আলোক রেখা,
আর কত কিছু নাহি নিরূপণ ।
অনল তুফানে,
• বাষ্পীয় বিমানে,
দিবাকর দীপ্তি তেজ বিকীরণ ।
চাদের ভিতর
পাহাড় গম্বর,
ধ্রুস সিঙ্গা আদি ধুমকেতুগণ ।
খবি ভূগু যোগ,
করে একযােগ,
চড়িয়া সুন্দর বিজ্ঞানের রথে ।
বিদুষ নিক,
করিছে প্রমর,
প্রকৃতির কৃতি ঘাটে মাঠে পথে ।
কি কব কাহাকে,
বিধির বিপাকে,
আজিও ভারত খেলিছে পুতুল।
মেশিয়ে নয়ন,
বিজ্ঞানের বিভা কেনন অতুল! (১৮)
করে না দর্শন,

কবি-শতক
আধ্যাত্মিক রাজ্য।
এক দা নিশিথে, ভাবিতে ভাবিতে,
মুন কন্টক, হই উদয়,
ভাবিধ চিন্তিয়া, চিন্তাকে ইয়া,
করিম মুখে বাহিরে গমন।
কটকী তরুর তলাতে খাইয়া,
বসিলাম সুখে আসন পাইয়া,
জমি ক্সত্ম জ্ঞান, অমৃত সমান,
অারম্বিল ক প মজাইয়া মন।
আধ্যাত্মিক রাজ মানস মোহন,
পরম পবিত্র পূণ্যের দিন,
সে রাজ্যেতে রাজা, আত্ম। মহারাজ,
বিরাজে সতত হিরণ্য আসনে।
অখণ্ড অনন্তু প্রতাপ তাহার,
অপূৰ্ব শাসন নাহি ব্যভিচার,
শঠতা চাতুরী কুটিলতা কাল,
প্রমাদ গণিয়া রত পলায়নে।
আপনি সম্রাট করেন বিচার,
নাহি পক্ষপাত নাহি অবিচার,

কবিতা-শতক।
ভার তী-জীবিকা-জীবের আদর,
নাহিক তথায় মরি কি সুন্দর।
আধ্যাত্মিক রাজ্যে জীব যুবরাজ,
পবৃত্তির সঙ্গে করিছে বিরাজ,
বিশ্বাসী বিবেক বৃদ্ধ মন্ত্রীবর,
সম্রাটের ভক্ত প্রিয় অনুচর।
আদেশ প্রকাশ কাৰ্যটা তাহার,
করিছে সতত না করি বিচার,
করেন করেনা বিবেক কখন,
অসত্য প্রকাশ সত্যের গোপন ।
মন সম্পাদক করে সম্পাদন,
শক্তির সহিত কইয়া মিলন,
কাৰ্য্য সমুদয়, নাহিক বিরাম ;
কৰ্তব্য কুশল মন বিচক্ষণ ।
স্থায় বিবেচনা করে দরশন,
হতেছে কোথার কি কাৰ্য। কেমন,
একাগ্রতা তার সঙ্গে সঙ্গে থাকি
করে সমুদয় কাৰ্য অনুষ্ঠান।
সেনাপতি ধৈর্য্য বিক্রমে গভীর,
বিদ্রোহ বিবাদে হয়না অস্থিয়,

কবি-শতক।
নাহি ভয় ক্লেশ, নাহি পরিতাপ,
ভ্রমেও করেমা কুদণ্ড সন্ধান।
শম দম দক্ষ প্রহরী যুগল,
দিতেছে সতত পাহাড় কেবল,
নষ্ঠারতি প্রেম, শান্তির সহিত,
গাইছে সঙ্গীত লতি মােহন।
নাহিক তথায় রোগ, তাপ, ভয়,
পরাভূত কাল-কিঙ্কর-নিচয়,
মা, উদ্দীপনা, উৎসাহ, সাহস,
বাৎসল্য, মমতা, করে বিচরণ।
তণায় অানন্দ, অনন্ত, বিজ্ঞান,
মধুর অমৃত, শান্ত-শুদ্ধ-প্রাণ,
বিশ্বাস, বৈরাগ্য বিনয়, চৈতন্য,
বিহরে সন্তোষ, যেন চিচর।
তথায় সরল, মুক্তি, চিন্তা, আশা,
'ভক্তি, বিদ্যা, শান্তি, প্রতি, ভালবাসা,
একাগ্রতা সতী, ইচ্ছা বুদ্ধিমতী,
প্রতির সহিত খেলে নিরন্তর।

১১৪
কবিতা-শতক।
পার্থিব জগতে পার্থিব ব্যাপার,
হাতে হাতে নাকি হয় যে প্রকার,
সেরূপ সে রাজ্যে প্রবৃত্তি সকল,
কর্ম সমুদয়, করে সম্পাদন।
কাম, ক্রোধ, লােভ, মদ, মৎসতা,
মােহ আদি ছয় রিপুর দীনতা,
সতত সে রাজ্যে, নহেত কল্পনা,
দেখনা সুজন মেলিয়া নয়ন।
সেই অপূর্ব রাজ্য শােভাকর,
পারেনা দেখিতে চঞ্চল অন্তর,
নারদ শঙ্কর, শাক্য সনাতন,
দেখিত সে রাজ্য, মুদিয়া নন।
আমরা তাদের দীন বংশধর,
বেড়াতেছি ঘুরি, বিশ্বচরাচর,
কিমতে দেখিব, আধ্যাত্মিক রাজ্য,
চঞ্চল বিক্ষিপ্ত সদা প্রাণ মন।
চিন্তা সহচরী কহিল তখন,
চল যাই গেহে, হৃদয় রতন,

কবিতা-শতক।
দেবি উভয়ে, হৃদয়ে হৃদয়ে,
অপাত্মিক রাজ্য শোভার সদন।
আত্ম জ্ঞান তায়, দিল আসি সায়,
চলিলাম তিনে গেহে পুনরায়,
তখনি তখনি, হল মহাবাণী,
দেখিবে সে রাজ্য হলে মহাজন ।
হইল শিরেতে যেন বজ্রাঘাত,
মস্তকেতে দিয়া দুইখানি হাত,
বসিলাম পুনঃ সেইত আসনে,
আসিল সহসা দুঃখের ক্রন্দন ।
আসিয়া সান্ত্বনা খনি তখন,
কহিল কৌতুকে প্রবােপ বচন,
কররে কররে সাহসে নির্ভর,
হবে একদিন, সে রাজ্য দর্শন। (৯১)
-

১১৬
কবিতা-শতক।
পুর্ণ মানব।
পূর্ণ মানবের, চিত্র চমৎকার ,
দেখরে দেখরে, নয়ন আমার ।
অখণ্ড খণ্ডিত, পরম পণ্ডিত,
পূর্ণ মানবের, পূর্ণ ব্যবহার।
পূর্ণ প্রেমানন্দে হারাইয়ে জ্ঞান,
পূর্ণ পরমেশে সদা করে ধ্যান,
প্রাণের ভিতর, দেখিয়া ঈশ্বর,
হাসে নাচে কত, মায়ে সংসার
অক্সতে, ঈশ্বরে, করিয়াছে এক,
জাগিয়াছে তার বিশ্বাস বিবেক,
নাহিক তাহার আত্ম পর আর,
সকলি সুহৃদ প্রীতির আধার।
করেছে সেজন, বিভুর চরণে,
আত্মসমর্পণ, পুলকিত মনে,

কবিতা-শতক।
নাই অহঙ্কার, জাতির বিচার,
ব্ৰহ্মতত্ব করে, পুলকে প্রচার।
হয়েছে সতর্ক সাবধান অতি,
দিয়াছে প্রেমিক, প্রিয় কার্যে মতি,
বস্তুর উপরে, প্রশান্ত অন্তরে,
কৰিছে নিশ্মাণ, গৃহু আপনার।
অপূর্ণ মানব, সে গৃহে বসি,
লভিছে পূর্ণত্ব, হাসিয়া নাচিয়া,
কার উপাসনা, ব্যাকুল প্রার্থনা,
লভিছে নির্বাণ, যারাম অপার ।
সাক্যে সাযোজ্য, সামীপে তাহার,
নাহি অভিরুচি আশার সঞ্চার,
পেয়েছে নির্বাণ, দুঃখ হীন প্রাণ,
স্বর্গীয় শান্তির সুধার আমার ।
একদিন যথা মহষি গৌতম,
পেয়েছিল শান্তি নির্বাণ উত্তম,
চাও যদি প্রাণ, সে মহা নির্বাণ,
করে সাধনা, হবে ভবপার,

'১১৮
কবি-শতক।
বলেছিল যথা যীশু একদিন,
পিতা, পুত্র, এক, ভক্ত নহে দীন,
অঙ্গ আভরণ, কর সর্বক্ষণ,
ক্ষমা, প্রেম দয়া, পাবে উপকার,
বলেছিল যথা চৈতন্য নানক,
দুইয়ে পাগল, ভক্ত প্রচারক,
রুচি হক নামে, যাবে স্বর্গধামে,
জীবে কর দয়া, খােলা স্বর্গ দ্বার,
এ হেন পূর্ণত্ব,লভিতে কখন,
পারবে কি মম, মায়া মুগ্ধ মন,
সাহস করিয়া, দেখনা উঠিয়া,
যাইতে চাহিলে ভবসিন্ধু পর।
তােমাতে ব্রহ্মেতে সমৃদ্ধ মধুর,
অপূর্ণ থাকিয়া, রাখিওনা দূর,
লও পূর্ণ জ্ঞান, হও পূর্ণ প্রাণ,
কর পূর্ণ ধ্যান, পাইবে নিস্তার ।
পূর্ণ ঈশ্বরের দেখ পূর্ণ খেলা,
পূর্ণ ভাবে তঁার, হয়ে পূর্ণ চেলা,

কবিতা-শতক।
অপূর্ণতা যত, কর পূর্ণ হত,
গাও পূর্ণ ভাবে, প্রণব ওঙ্কার।
আনিবে পূর্ণত্ব, প্রণর ওঙ্কার,
বুবেনা রবেনা, ভাবনা তােমার,
একত্ব লভিয়া, যাইবে মিশিয়া,
নাহি রবে ধ্বনি আমার আমার। (০)
নিবেদন।
নিবেদন, নিত্যধন, দরশন দাও হে।
নাহি জ্ঞান, চাহি ত্রাণ, ভক্ত প্রাণ চাও হে।
কর ভূত, অভিভূত, তুমিপূত স্বামী হে।
চাহিনাশ, অবিনাশ. ভাবী-আশ আমি হে।
বলবন, ক্রিমন, বর্তমান কাল হে।
দেহ প্রাণ, হিতজ্ঞান, অনুষ্ঠান ভাল হে ॥
কাৰ্যকাল, অজঞ্জাল, কালকাল অতি হে।
চিদঘন, প্রাণমন, আকিঞ্চন গতি হে

কবিতা-শতক।
করি নাশ, অষ্টপাশ, চির দাস কর হে।
অবিশ্রান্ত, বিয়ােগান্ত, দীনকান্ত হর হে।
বিঘ্নহর, বিশ্বেশ্বর, চিত্তচর ধন হে।
দেখ নত, ভূমিগত, অনুগত জন হে।
প্রণিপাত, কৃপা নাথ, দৃষ্টিপাত, চাই হে।
আমি অতি, মূঢ় মতি, নিষ্ঠারতি নাই হে। (১০১)
-

No text on this page.

No text on this page.

Kabita-shatak

Author
Dutta,ramkanai
Title
Kabita-shatak
File name
Kabita-shatak
Text
OCR done
Citation
1904
Published
2009/11/4
Publisher
Sadhucharan Chanda
Language
Sanskrit
Pages
129
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Dutta,Ramkanai
DLI number
512765
Barcode
4990010019808.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
c9LPCvtRokU
Download PDF

Kabita-shatak