Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sri Sri Govindachhanchuramoni Ed.1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রী শ্রী
গােবিন্দাচ্চচুড়ামণিঃ
(পানুবাদঃ)
--
।
শ্রীধামনবদ্বীপনিবাসিনা ঐশ্রীরাধাগােবিন্দপদারবিন্দাভিলাষিণা
শ্রীভুবনেশ্বর-সাধুনা
সঙ্কলিতঃ প্রকাশিতশ্চ
.
No text on this page.
শ্রী শ্রী
গােবিন্দাচঁনচূড়ামণিঃ
ধমনবদ্বীপনিবাসিনা শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দপদারবিন্দাভিলাষিণা
শ্রীভুবনেশ্বর-সাধুনা
সঙ্কলিতঃ প্রকাশিতশ্চ
প্রকাশক শ্রীভুবনেশ্বর সাধু ঐশ্রীগােবিন্দ মনির, ধাম নববীপ। প্রথম সংকরণ=১৩৪। মূত্রাক- কানাই লাল দাস, বঙ্গরত্ন মেসিন প্রেস, কৃষ্ণনগর, নদী ।
. নিবেদন
আমি বহুদিন যাবৎ শ্ৰীশ্ৰীগােবিন্দা*চুড়ামণিঃ নামক
একখানি গ্রন্থ প্রণয়নের ইচ্ছা হৃদয়ে পােষণ করিয়া
আসিতেছি এবং উক্ত গ্রন্থখানি যাহাতে প্রণালী-শুদ্ধ ও
শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাস ও শ্রীশ্রীগগাস্বামী-চরণের মতানুযায়ী
হয় ইহাই আমার একান্ত ইচ্ছা, কিন্তু আমি মুখ ও
ভক্তিহীন ও ভজনহীন; অতএব এপ্রকার অভিলাষ পূর্ণ
হওয়া আমার মত হতভাগ্যের পক্ষে অসম্ভব মনে করিয়া
নিরস্ত ছিলাম।
মুকং করােতি বাচালং পঙ্গুং লক্ষ্ময়তে গিরিং।
যৎকৃপাতমহং বন্দে পরমানন্দ মাধবং ॥”
যাহার কৃপা হইলে বােবও বাচাল হইতে পারে এবং
পঙ্গুও গিরিলঙ্নে সমর্থ হয় সেই গােবিন্দের কৃপায়
উক্ত শ্ৰীশ্ৰীগােবিন্দাৰ্চ্চনচূড়ামণিঃ নামক শ্রীগ্রন্থখানি
সমাপ্ত হইলেন। এক্ষণে মহানুভব শ্রীলসাধুভক্তবৃন্দ
ও মহান্ত বৈষ্ণবগণের চরণে আমার সানুনয় নিবেদন এই
যে, সাধুগণের স্বভাব—তাহারা কুলার মত দোষাংশ ত্যাগ
করিয়া গুণ মাত্র গ্রহণ করিয়া থাকেন, সুতরাং উক্ত গ্রন্থে
[ ৩ ] আমার ক্ৰটী মার্জনা করিয়া গুণ গ্রহণ করিয়া কিঞ্চিত্র আনন্দ অনুভব করিলে, আমি কৃতার্থ হইব। শ্রীশ্রীহরি- ভক্তিবিলাস ও পূজ্যপাদ শ্রীলশ্রীরূপ গােস্বামী, শ্ৰীল- শ্রীসনাতন গােস্বামী, শ্ৰীশ্রীজীব গােস্বামী ও শ্রীলশ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী পাদগণের শ্রীগ্রন্থ হইতে ও শ্রীব্রহ্ম- সংহিতা ও নারদপঞ্চরাত্র নামক গ্রন্থ দৃষ্টে এই, সানুবাদ শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চচুড়ামণিঃ লিখিত হইল। এই শ্রীগ্রন্থের কোনও স্থানই শাস্ত্র ছাড়া লেখা হয় নাই। উক্ত ঐশ্রীগােবিন্দাৰ্চ্চনচুড়ামণিঃ গ্ৰন্থখানি শ্ৰীশ্রীরাধা- গােবিন্দের শ্রীচরণকমলে অর্পণ করিলাম ইতি- বৈষ্ণবদাসানুদাস ঐশ্রীগােবিন্দ মন্দির শ্রীধাম নবদ্বীপ, ১০ই মাঘ, চৈতন্যাব্দ ৪৪৮। স ভুবনেশ্বল্প সাধু।
সূচীপত্র পৃষ্ঠা ? ৬ ৫ ৭ অরুণােদয়কৃত্যম বৈষ্ণবাচমন শ্রীগুরুস্মরণ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভুস্মরণ ঐনিত্যানন্দপ্রভােঃ স্মরণ অদ্বৈতভােঃ প্রণামঃ ৭ ৮ ১০ ১০ ১১ অথ প্রাতঃকৃত্য প্রাতধ্যানম্ শ্ৰীকৃষ্ণপ্রণামঃ স্মরণমন্ত্রঃ শ্রীশ্রীরাধাপ্রণামঃ বিজ্ঞাপন স্নানবিধিঃ তিলকধারণকৰ্তব্যতা তিলকধারণ নিয়ম * * * * * ১২ ১৪ ১৫ ১৯ २० t te। পৃষ্ঠা ২০ ২১ ২৩ ২৪ ২৫ ২৫ ২৬ ২৮ ২৯ তিলকরচনা অঙ্গুলিনির্ণয় তিলকধারণবিধিঃ তান্ত্রিকসন্ধ্যাবিধিঃ তর্পণবিধিঃ জপসমর্পণবিধিঃ ভগবৎপ্রবােধনবিধিঃ আজ্ঞাপ্রার্থনা-মন্ত্র শ্রীকৃষ্ণস্তোত্রং শ্রীরাধিকাস্তোত্রং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যস্তোত্রং দীপ নীরাজন প্রণালী প্রাণায়াম বিধি জপাঙ্গুলি নির্ণয় বিধি জপষজ্ঞ করিবার প্রণালী অষ্টাঙ্গ প্রণাম বিধি মহামন্ত্রকীৰ্ত্তনপ্রমাণং প্রদক্ষিণ মাহাত্ম্য তুলসী আহরণ মন্ত্র ৩৪ ৪. ৪১ অথ পূৰ্ব্বাদুকৃত্যম ৪৩ { • ? পৃষ্ঠা ৪৩ ৪৩ ৪৪ ৪৪ ৪৪ ৪৫ ৪৫ ৪৫ ৪৬ পূজাপ্রকরণ সামান্যার্ঘ্য ঘণ্টাস্থাপন আসনপূজা পাত্ৰাসনস্থাপনং মঙ্গলশাস্তিঃ দ্বারদেবতাপূজা বিনিবারণং গুৰ্বাদিতি দশদিকবন্ধন ভূতশুদ্ধিঃ শ্রীশ্রীগুরুপূজাবিধিঃ ঐশ্রীগুরুধ্যানং আজাপ্রার্থনা শ্ৰীশ্ৰীমন্মহাপ্রভুপূজা নবদ্বীপধ্যানং শ্ৰীমন্মহাপ্রভুর ধ্যান শখস্থাপনং পূজা : ৪৬ ৪৬ ৪৮ ৫৪ ৫৪ ৫৭ . } [ ৩ ] পৃষ্ঠা ৬২ ७२ এনিত্যানন্দপ্রভােধান শ্ৰীঅদ্বৈত প্রভুর ধ্যান ঐশ্রীবাস পণ্ডিতের ধ্যান গদাধর পণ্ডিতের ধ্যান অথ ধূপদান অথ দীপদান নৈবেদ্যার্পণ শ্রীমহাপ্রভুস্তোত্রং ঐনিত্যানন্দস্তোত্রং অদ্বৈতস্তোত্রং মন্মহাপ্রভুর প্রণাম ৬৪ ৬৭ ৬৭ ৭০ ৭০ ৭০ অথ শ্রীগােবিন্দপূজা প্যাদিম্মরণং অন্যাসঃ কন্যাসঃ মন্ত্রান্ত অক্ষরন্যাসঃ ঋদি-স্যাসঃ দক্ষিরময় অন্যাসঃ করাম # # ০ ০ : : : : ৭১ ৭২ १२ [ • ; পৃষ্ঠা १२ ৭৩ ৭৫ ৭৯ ৮৬ ৮৭ ৮৯ দশাক্ষরমন্ত্রস্ত অক্ষরন্যাসঃ মুদ্ৰাপ্রদর্শন শ্রীনন্দনন্দনধ্যানবিধিঃ যােগপীঠ শ্রীকৃষ্ণস্য ধ্যানং মানস পূজা প্রার্থনা অথ পীঠপূজা আসনাপণং অথ স্বাগতম্ অথ পাদ্যাৰ্পণম অথ অৰ্যাৰ্পণং আচমনীয়াৰ্পণং মধুপকাপণং পুনরাচমনীয়াৰ্পণং পাদুকার্পণং স্নানং বস্ত্রাপণং উত্তরীয়ার্পণং আভরণার্পণং ৯০ ৯১ porno no no a ৯২ ৯২ ৯২ ৩ ৯৪ ৯৪ [ ৩ ] পৃষ্ঠা গন্ধঃ ৯৬ ৯৭ ১০১ ১০১ ১০২ ১০২ পুষ্পং তুলস্যর্পণং অঙ্গপূজা উপাঙ্গপূজা প্রথমাবরণ-পূজা (শ্রীরাধিকার পূজা) অথ ঋষাদিন্যাসঃ করন্যাসঃ অঙ্গ্যাসঃ শ্রীরাধিকাধ্যান শ্ৰীমতী রাধিকার পূজা দ্বিতীয়াবরণং তৃতীয়াবরণং চতুর্থাবরণং পঞ্চমাবরণং যষ্ঠাবরণং সপ্তমাবরণং অথ শ্রীকৃষ্ণনামিষ্টক পূজা ধুপাৰ্পণং ১০৯ ১০৯ ১১১ ১১১ ১১১ ১১১ llevo छ। দীপার্পণং ১১৩ অথ নৈবেদ্যং ১১৪ ১১৬ ১১৭ ১১৯ ১২০ ১২১ ১৩৭ ১৩৮ অথ জলগণ্ডুষাৰ্পণং পানীয় জল দান প্রকার শ্রীরাধিকাদি ভােজনং অথ আরত্রিকং শ্রীকৃষ্ণস্তোত্রং শ্রীরাধাষ্টক অথ অপরাধক্ষমাপণ শ্রীরাধিকাপ্রণাম শ্রীরাধিকাস্তব শ্ৰীশ্ৰীযুগােলকিশােরস্তোত্রং শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের শরণাগতি প্রণামঃ নিৰ্মাল্যগ্রহণ অথ তুলসীবনপূজা অথ স্বাৰ্পণবিধিঃ অথ মধ্যাহ্নকৃত্য ১৩৯ ১৪০ ১৪১ ১৪২ ১৪৩ ১৪৩ ১৪৬ ১৪৭ অপরাঃকৃত্যম
[ ৪
tad
১৫০
১৫১
পৃষ্ঠা
অথ সায়াহ্নকৃত্য
রাত্ৰিকৃত্য
শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দয়ােঃ পূর্ণকৈশােরস্য প্রমাণং ১৫৩
অথ তুলসীমালাধারণবিধিঃ
মালাধারণনিত্য
১৫৭
অথ নামাপরাধঃ
জপার্থে নামমালা গ্রহণমন্ত্র
স্থাপনমন্ত্র
১৬২
অথ মুদ্ৰাপ্রকরণ
১৬৩
রে গােবিন্দো জয়তি ঐশ্রীগােবিন্দাচুড় শ্রীকৃষ্ণচৈতনশৱণম্ । বন্দে গুরূনীশভক্তানীশমীশাবতারকা তৎপ্রকাশাংশ্চ তচ্ছক্তীঃ কৃষ্ণচৈতন্যসংজ্ঞকম্ ॥১॥ চৈঃ চঃ আদি লীলা ১ম পরিচ্ছেদ। বঙ্গাৰ্থমন্ত্রদাতা ও শিক্ষাগুরুগণকে,শ্রীবাস প্রভৃতি ঈশ্বরের ভক্তবর্গকে, শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যনামা ঈশ্বরকে, শ্ৰীঅদ্বৈতাচাৰ্য্য প্রভৃতি তাঁহার অবতারগণকে, শ্রীনিত্যানন্দ প্রভৃতি তাহার প্রকাশ ও শ্রীগদাধর পণ্ডিত প্রভৃতি তাহার শক্তিবর্গকে আমি বন্দনা করি ॥১৷৷ - 1 } শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চচুড়ামণি। বন্দেহহং শ্রীগুরাঃ শ্ৰীযুতপদকমলং শ্রীগুরূত্ বৈষ্ণবাংশু, রূপং সাগ্ৰজাতং সহগণরঘুনাথান্বিতং তং সজীবং। সাদ্বৈতং সাবধূতং পরিজনসহিতং কৃষ্ণচৈতন্যদেবং, রাধাকৃষ্ণপাদান্ সহগণললিতাশ্রীবিশাখান্বিতাংশ্চ ॥২॥ চৈতন্যচরিতামৃত অন্ত লীলা ২য় পরিচ্ছেদ। দীব্যদ্বন্দারণ্যকল্পদ্রুমাধঃ মদ্রাগারসিংহাসনস্থো। ঐশ্রীরাধাশ্রীলগােগাবিন্দদেবো প্রোলিভিঃ সেব্যমানো স্মরামি ॥৩॥ চৈঃ চঃ আদি লীলা ১ম পরিচ্ছেদ। বঙ্গাৰ্থ-সমষ্টিগুরুর পদকমলকে, শ্রবণগুরু, দীক্ষাগুরু ও ভজনশিক্ষাগুরুকে, সনাতন, রঘুনাথদাস ও জীবের সহিত বিদ্যমান শ্রীরূপকে, অদ্বৈত আচাৰ্য, নিত্যানন্দ ও পরিজনের সহিত বিদ্যমান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবকে এবং মঞ্জরীগণে পরিবৃতা ললিতা ও বিশাখার সহিত বিদ্যমান শ্রীরাধাকৃষ্ণপাদকে আমি বন্দনা করি ॥২৷৷ বৃন্দাবনস্থ কল্পবৃক্ষের মুলে রত্নময় মন্দির মধ্যস্থ সিংহাসনে উপবিষ্ট এবং পরম প্রেষ্ঠ সখীগণ কর্তৃক সেব্য- মান শ্ৰীমতী রাধিকা ও শ্রীগােবিন্দদেবকে স্মরণ করি ॥ r অরুণােদয়কৃত্যম সাধক ব্রাহ্মমুহূর্তে জাগরিত হইয়া কৃষ্ণ কৃষ্ণ ইত্যাদি নাম উচ্চারণ করিবেন পরে মহামন্ত্র নাম লইবেন। যথা— “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।” পরে শ্রীগুরুদেবকে প্রণাম করিবেন। যথা- অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ ॥৪॥ তৎপর - “সমুদ্রমেখলে দেবি পৰ্বতস্তনমণ্ডলে। বিষ্ণুপত্নি নমস্তুভ্যং পাদস্পর্শং ক্ষমম্ব মে” ॥৫৷৷ বলিয়া হাত জোড়পূৰ্ব্বক “প্রিয়দভায়ৈ ভুবে নমঃ” এই মন্ত্রে বঙ্গাৰ্থ—অজ্ঞান অন্ধকারে অন্ধজনের চক্ষু যিনি জ্ঞানরূপ শলাকা দ্বারা ফুটাইয়াছেন সেই গুরুদেবকে আমি প্রণাম করিতেছি ॥৪৷৷ হে বিষ্ণুপত্নি পৃথিবি ! সমুদ্র তােমার মেখলা ও পৰ্ব্বত তােমার স্তনমণ্ডল ; তুমি আমার পাদস্পর্শ ক্ষমা কর ॥৫||
০
শ্রীশ্রীগোবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
প্রণাম করিয়া শয্যাত্যাগ করিবে। পরে গৃহের বাহিরে
যথাসম্ভব দূরে মলমূত্রাদি পরিত্যাগ করিয়া যথাবিধি
এক লিঙ্গে গুদে তিস্রো দশ বামকরে নৃপ।
হস্তদ্বয়েচ সপ্তান্যা মৃদঃ শৌচোপপাদিকা ॥৬
মৃত্তিকাদ্বারা হাত পা ধৌত করিয়া শুদ্ধজলে মুখ
প্রক্ষালনপূর্বক দন্তকাষ্ঠের দ্বারা
“আয়ুৰ্বলং যশােবéঃ প্রজাপশুবসূনি চ।
ব্ৰহ্মপ্রজ্ঞাঞ্চ মেধাঞ্চ ত্বং নাে ধেহি বনস্পতে” ॥৭
এই মন্ত্রে দন্তকাষ্ঠ অভিমন্ত্রিত করিয়া দন্তধাবন করিবে
পরে দ্বাদশ গণ্ডুষ জল দ্বারা মুখ প্রক্ষালন করিবে। তারপর
বস্ত্র পরিত্যাগপূৰ্ব্বক অন্য বস্ত্র পরিধান করিয়া কম্বলাদি-
নির্মিত আসনে পূর্ব অথবা উত্তর মুখে উপবেশন করতঃ
আচমন করিবে ।
বঙ্গাৰ্থ-হে রাজন! যে ব্যক্তি শুদ্ধি কামনা করিবেন তিনি
শোচ সাধন মৃত্তিকা দ্বারা একটী আমলকী ফল পরিমাণ
মৃত্তিকা প্রত্যেকবার লইয়া লিঙ্গে একবার গুহে তিনবার
বাম হস্তে দশবার উভয় হস্তে সাতবার এবং উভয় পদে
তিনবার মৃত্তিকা লেপন করিবেন ॥৬||
হে বনস্পতে।
তুমি আমাদিগকে আয়ু, বল, যশঃ,
তেজ, সন্ততি, পশু, ধন, বেদবিষয়ক জ্ঞান, মতি ও স্মৃতি
প্রদান কর॥৭॥
শ্ৰীশ্ৰগগাবিন্দানচূড়ামণিঃ। অথ বৈষ্ণবাচমন ত্রিপাণে কেশবং নারায়ণং মাধবমপ্যথ। প্রক্ষালনে দ্বয়ােঙ পণ্যো গােবিন্দং বিষ্ণুমপভো। মধুসূদনমেকঞ্চ মার্জনেহং ত্রিবিক্রমং। উম্মার্জনেহপ্যধরয়ােৰামনশ্রীধরাবুভো । প্রক্ষালপুনঃ পণ্যো হৃষীকেশঞ্চ পিদয়াের। পদ্মনাভং প্রেক্ষণেতু মূদ্ধে। দামােদরং ততঃ। বাসুদেবং মুখে সংকর্ষণং প্রদ্যুম্নমিত্যুভে। নাসয়ােনেত্রযুগলেহনিরুদ্ধং পুরুষােত্তমং। বঙ্গাৰ্থ—গােকর্ণাকৃতি দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠযুলে একটী মাষ- কলায় ডুবিতে পারে এই পরিমাণ জল লইয়া “কেশবায় নমঃ, নারায়ণায় নমঃ, মাধবায় নমঃ” এই তিন মন্ত্রে তিনবার পান করিয়া “গােবিন্দায় নমঃ” এই মন্ত্রে দক্ষিণ হস্ত ও “বিষ্ণুবে নমঃ” এই মন্ত্রে বাম হস্ত ধুইয়া ফেলিবে। “মধু- সূদনায় নমঃ” মন্ত্রে উপরের ওষ্ঠ “ত্রিবিক্রমায় নমঃ” মন্ত্রে অধর দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠমূল দ্বারা মাৰ্জন করিবে। “বামনায় নমঃ” মন্ত্রে উত্তরােষ্ঠ “শ্রীধরায় নমঃমন্ত্রে অধরােষ্ঠ অঙ্গুষ্ঠমূল দ্বারা উন্মাৰ্জ্জন করিবে। “হৃষীকেশায় নমঃ” মন্ত্রে হস্তদ্বয় প্রক্ষালন করিবে ; “পদ্মনাভায় নমঃ মন্ত্রে পাদদ্বয় ধৌত করিবে, অর্থাৎ পাদদ্বয়ে জলের ছিটা দিবে ; “দামােদরায় নমঃ” মন্ত্রে মস্তকে জল সেচন করিবে ঐগােবিন্দাচচচুড়ামণিঃ। অধোজং নৃসিংহঞ্চ কর্ণয়াের্নাভিতােহচ্যুতং । জনার্দনঞ্চ হৃদয়ে উপেন্দ্ৰং মস্তকে ততঃ । দক্ষিণে তু হরিং বাহে বামে কৃষ্ণং যথাবিধি। নমােহন্তঞ্চ চতুর্থন্তমাচামেৎ ক্ৰমতাে জপ অশক্তঃ কেবলং দক্ষং স্পৃশেৎ কর্ণং তথাচ বাক্। কুব্বীতালভনং বাপি দক্ষিণশ্রবণস্য বৈ ॥৮॥ (হরিভক্তি ৩য় বিলাস) “বাসুদেবায় নমঃ” মন্ত্রে মুখ স্পর্শ করিবে, “সঙ্কষণায় নমঃ” “প্রদ্যুম্বায় নমঃ” মন্ত্রে যথাক্রমে দক্ষিণ ও বাম নাসাপুট, অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা স্পর্শ করিবে। “অনিরুদ্ধায় নমঃ মন্ত্রে দক্ষিণ নেত্র এবং পুরুষােত্তমায় নমঃ” মন্ত্রে বাম নেত্র অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা পুনঃ পুনঃ স্পর্শ করিবে। “অচ্যুতায় নমঃ” মন্ত্রে নাভি অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকা দ্বারা স্পর্শ করিবে। “জনার্দনায় নমঃ” মন্ত্রে হৃদয় স্পর্শ, উপেন্দ্রায় নমঃ” মন্ত্রে সমস্ত অঙ্গলি দ্বারা মস্তক স্পর্শ করিবে। “হরয়ে নমঃ মন্ত্রে দক্ষিণ বাহু এবং “কৃষ্ণায় নমঃ” মন্ত্রে বাম বাহু সৰ্বাঙ্গুলির অগ্রভাগ দ্বারা স্পর্শ করিবে। এই বিষয় প্রমাণও রহিয়াছে যে অশক্ত হইলে কেবল দক্ষিণ কর্ণ স্পর্শ করিবে || গােবিন্দাচনচূড়ামণিঃ। শ্রীগুরুস্মরণ কৃপামরান্বিতপাদপঙ্কজং, শ্বেতাম্বরং গৌররুচিং সনাতন। গন্ধাত্যমালাভরণং গুণালয়ং স্মরামি সদ্ভক্তিময়ং গুরুং হরিং ৯ এইরূপে শ্রীগুরু স্মরণ করিয়া “অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য” ইত্যাদি পূর্বোক্ত মন্ত্রে প্রণাম করিয়া শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মরণ করিবে। কৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভােঃ স্মরণং অহং কনককেতকীকুসুমগৌর। দুষ্টঃ ক্ষিতৌ ন দোষলবদর্শিতা বিবিধদোষপূর্ণেহপিতে । ত্বং ভজে শচীসুত ময়ি প্রভাে কুরু মুকুন্দ মন্দে কৃপাং ১০ ন বঙ্গাৰ্থ-শ্রীগুরু স্মরণ করিবে। স্মরণ যথা—যাহার চরণ- কমল কৃপারূপ মধুযুক্ত, যাহার পরিধানে শ্বেতবসন, যাঁহার অঙ্গকান্তি গৌরবর্ণ যাহার গন্ধযুক্ত মালা আভরণ, যিনি গুণের:বসতিস্থল, যিনি সদ্ভক্তিময় সেই:সনাতন শ্রীগুরু রূপ হরিকে আমি স্মরণ করিতেছি ॥৯৷৷ শ্রী কৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মরণ। স্মরণ যথা- হে স্বর্ণকেতকীকুসুমের মত গৌরবরণধারী শচীনন্দন গৌরহরি । হে মুকুন্দ ! হে দীনজনে স্নেহযুক্ত প্রভু আমার, জগতের মধ্যে আমি দুষ্ট ও নানাদোষ-পরিপূর্ণ কিন্তু তুমি আমার একবিন্দুও দোষ দেখিলে না। তাই ভাল করিয়া বুঝিয়া ৮ শ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ । এইরূপে শ্ৰীমন্মহাপ্রভুর স্মরণ করিয়া প্রণাম করিবে। প্রণাম মন্ত্র যথা- যস্বৈ পদিম্বুজভক্তিভ্যঃ প্রেমাভিধানঃ পরমঃ পুমর্থ। তস্মৈ জগন্মঙ্গলমঙ্গলায় চৈতন্যচন্দ্রায় নমাে নমস্তে ॥১১৷ অনন্তর শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে প্রণাম করিবে। প্রণাম মন্ত্র যথা- শ্রীশ্রীনিত্যানন্দপ্রভােঃ স্মরণং ঔদার্য্যেন সুকামধেনুদিবিষদৃক্ষেন্দুচিন্তামণি- বৃন্দং ব্রহ্মসুখঞ্চ সুন্দরতয়া কন্দর্পবৃন্দং প্রভুং। বাৎসল্যেন সুমাতৃধেনুনিচয়ং বিম্পৰ্দ্ধিনং নন্দিনং। নিত্যানন্দমহং নমামি সততং প্রেমাক্কিসংবর্ধিনম্ ॥১২। আমি তােমাকেই ভক্তি করিতেছি, তুমি এই মন্দ জনে করুণা কর ॥১০। বঙ্গার্থ—যাহার চরণকমলে একান্ত শরণাগত হইলে পরম পুরুষার্থ প্রেমভক্তি লাভ করা যায়, সেই বিশ্বমঙ্গলবিধায়ক মঙ্গলময়মূৰ্ত্তি শ্রীচৈতন্যদেবের চরণে প্রণাম করিতেছি ॥১১৷৷ শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর স্মরণ যথা—যিনি ঔদাৰ্য্য- গুণের দ্বারা সুন্দর কামধেনু কল্পবৃক্ষ চিন্তামণি ব্ৰহ্মসুখকেও পরাজিত করেন, সৌন্দর্য্যের দ্বারা কন্দর্পকে, বাৎসল্যের দ্বারা মাতাসকল ও ধেনুসকলকে স্পর্ধা করেন, যিনি নিরন্তর আনন্দময়, যিনি কৃপা করিয়া প্রেমসিন্ধুকে সতত বাড়াইয়া শ্রীশ্রীগােবিন্দাচচনচূড়ামণি। এই মন্ত্রে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর স্মরণ ও প্রণাম করিবে। তদনন্তর শ্ৰীমদদ্বৈতভােঃ প্রণামঃ অদ্বৈতচরণারবিন্দ-জ্ঞান-ধ্যান-ভাং। সদাদ্বৈতপাদপদ্মরেণুরাশিধারণং। দেহি ভক্তিং জগন্নাথ রক্ষ মামভাজনং। সীতানাথাদ্বৈত-চরণারবিন্দ-ভাবনং ১৩ এই প্রকারে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর প্রণাম করার পর শ্রী অদ্বৈত চিন্তা করিয়া প্রণামপূৰ্ব্বক “শ্রীবাসাদি গৌরভক্ত- চরণেভ্যো নমঃ” বলিয়া ভক্তিপূৰ্ব্বক শ্রীবাসাদি ভক্তবৃন্দকে প্রণাম করিবে। তদনন্তর শ্রীকৃষ্ণের প্রাতধ্যান করিবে। অরুণােদয়কৃত্যং সমাপ্তং । থাকেন সেই পরম করুণ শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে আমি প্রণাম করিতেছি ॥১২৷৷ বঙ্গাৰ্থ—শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর প্রণাম যথা—আমি মদ্বৈতের চরণারবিন্দ জ্ঞান ধ্যান ও ভাবনা করি। সদা তাঁহার পাদ- পদ্মের রেণু রাশি আমার মস্তকে ধারণ করি। হে জগতের নাথ অদ্বৈত ! হে সীতানাথ ! তােমার চরণারবিন্দ নির- স্তর চিন্তা করিতেছি। তুমি এই অযােগ্য পাত্র আমাকে ভক্তি দান করিয়া রক্ষা কর ।
অথ প্রাতঃকৃত্য
1
প্রাতধ্যানং যথা-
শ্রীগৌতমীয় তন্ত্রে
আরাধনবিধিং বক্ষ্যে প্রাতঃকালে বিশেষতঃ।
বরং বৃন্দাবনং ধ্যায়েৎ পুণ্যবৃক্ষাদিসেবিতং ।
পুন্নাগৈর্নাগবৃক্ষশ্চ পনসৈশ্চৈব কাঞ্চনৈঃ
বকুলৈশ্চৈব বিশ্চৈ বন্যঃ কুরবকৈরপি
সৰ্বত্ত্ব কুসুমমাপেতৈঃ পুষ্পবনতশাখিভিঃ ।
তন্মধ্যে পুলিনং ধ্যায়েহুপুস্পকচম্পকং।
ধূপদীপৈর্বিতানেন পুষ্পমালাবিভূষিতং।
মুক্তাদামপতাকাভির্বন্যপুষ্পেরলঙ্কতং।
বঙ্গার্থ গৌতমীয় তন্ত্রে বিশেষ করিয়া প্রাতঃকালের
আরাধনাবিধি বর্ণন করিব। প্রথমতঃ পুন্নাগ, নাগ, পনস, কাঞ্চন,
বকুল, বি, বন্যকুরবক এবং সকল ঋতুর কুসুমসম্পন্ন ও
পুষ্পবনত শাখাবিশিষ্ট পুণ্য বৃক্ষসমূহে পরিবৃত উৎকৃষ্ট
বৃন্দাবনকে ধ্যান করিবে। তাহার মধ্যে বহু চম্পক পুষ্প,
ধূপ, দীপ, শয্যা তথা পুষ্পমালাবিভূষিত ও মুক্তাদাম
গোবিন্দাচ্চনচূড়ামণিঃ।
তন্মধ্যে কল্পবৃক্ষ ছায়ায়াং পঙ্কজাসনে।
সুস্থিতং বেণুগীতাঢ্যং সৰ্বাভরণভূষিতং ।
বনমালপিরিবৃতং গােপীকাশতবেষ্টিত
শরণ্যং সর্বলােকানাং গােপীনাং প্রাণবল্লভং ॥১৪৷
এইরূপ ধ্যান করিয়া শ্রীকৃষ্ণের প্রণাম করিবে।
শ্রীকৃষ্ণপ্রণামঃ যথা—
নমো ব্ৰহ্মণ্যদেবায় গোব্ৰাহ্মণহিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ ॥১৫||
তদনন্তর শ্রীকৃষ্ণের স্মরণ মন্ত্র পাঠ করিবে।
পতাকাদি বন্যপুষ্পে অলঙ্কত পুলিন ধ্যান করিবেন। তাহার
মধ্যে কল্পবৃক্ষের ছায়ায় কমলাসনে সুন্দররূপে অবস্থিত,
বেণুগীতসম্পন্ন, সৰ্বাভরণভূষিত, বনমালা-পরিবৃত, শত
শত গােপী কা-বেষ্টিত সকল লােকের আশ্রয় এবং গােপী-
দিগের প্রাণিবল্লভ অর্থাৎ শ্রীরাধিকাকে
অর্থাৎ শ্রীরাধিকাকে বামে লইয়া
অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণকে ধ্যান করিবেন ॥১৪৷৷
বার্থ-যিনি ব্রাহ্মণকে মৰ্যাদা দান করেন, গাে সকলের
ও ব্রাহ্মণ সকলের যিনি হিতকারী, যিনি নিখিল জগতেরও
কল্যাণ বিধান করেন, সেই অনন্ত কোটী ব্ৰহ্মাণ্ডপতি লীলা-
পুরুষােম শ্রীকৃষ্ণের চরণে আমি পুনঃ পুনঃ প্রণাম
করিতেছি ॥১৫৷৷
}
১২ শ্রীশ্রীগোবিন্দাচুড়ামণিঃ। স্মরণমন্ত্রঃ জয়তি জননীবাসস দেবকীজন্মবাদো যদুবরপরিষৎ স্বৈর্দোভিরত্যন্নধৰ্ম্মং। স্থিরচরবৃজিনঘ্নঃ সুস্মিতশ্রীমুখেন ব্ৰজপুরবনিতানাং বৰ্দ্ধয় কামদেবং ॥ স্মৃতে সকলকল্যাণভাজনং যত্র জায়তে। পুরুষং তমজং নিত্যং ব্ৰজামি শরণং হরিং। বিদগ্ধগোপালবিলাসিনীনাং সম্ভোগচিহ্নাঙ্কিতসৰ্বগাত্রং। পবিত্ৰমান্নায় গিরামগম্যং ব্ৰহ্ম প্রপথে নবনীতচেরিং । বঙ্গাৰ্থ—নিখিল জীবসমূহের যিনি বাসস্থান, যিনি এক প্রকাশে দেবকীনন্দন অন্য প্রকাশে যশােদানন্দন-রূপে আবিভূত হন তথাপি সাধারণজনের নিকট যিনি দেবকীনন্দন- রূপে পরিচিত, যিনি ব্রজবাসী ও যাদবগণের সমাজরূপ নিজ বাহু-সকলের দ্বারা জগতের অধৰ্ম্মরাশিকে বিদূরিত করেন, যিনি স্থাবর জঙ্গমের সর্ববিধ দুঃখকে নাশ করেন, যিনি সুন্দর হাসিমাখা নিজ মুখ-মাধুৰ্য্য দ্বারা ব্রজগােপীকার ও দ্বারকার মহিষীবর্গের হৃদয়স্থ প্রেমকে নিরন্তর বর্ধন করিতে- ছেন সেই শ্রীকৃষ্ণের জয়, হউক। যাহার স্মরণ করিলে জীব সৰ্ববিধ কল্যাণের পাত্র হয়, সেই জন্মরহিত নিত্যস্বরূপ শ্রীহরির চরণে আমি শরণাগত হইতেছি। প্রেমরসে গােবিশার্জনচূড়ামণিঃ উগায়তীনামরবিন্দলােচনং ব্রজাঙ্গনানাং দিবমস্পৃশদ্ধনিঃ। দশ্চ নিৰ্ম্মন্থনশব্দমিশ্রিত নিরস্যতে যেন দিশামমঙ্গলং ॥১৬৷৷ তদনন্তর শ্রীরাধিকাকে প্রণাম করিবে। শ্রীরাধাপ্রণাম তপ্তকাঞ্চনগৌরাঙ্গীং রাধাং বৃন্দাবনেশ্বর ও বৃষভানুসুতাং দেবীং তাং নমামি হরিপ্রিয়াং ॥১৭ এই মন্ত্রে শ্রীমতী রাধিকাকে প্রণাম করিয়া শ্রীহরিকে যুক্তহস্তে ভক্তিপূৰ্ব্বক বিজ্ঞাপন করিবে। তেছি । রসিকা ব্রজগােপীগণের সম্ভোগ চিহ্নদ্বারা যাঁহার সর্বাঙ্গ সুশােভিত, যিনি নিত্য পবিত্র, যিনি বেদবাক্য সকলের অগম্য সেই ননীচোরা কৃষ্ণাঙ্কিত ব্রহ্মের চরণে শরণ লই- ব্রজগােপীকা-সকল উচ্চৈঃস্বরে কমলনয়ন শ্রীকৃষ্ণের লীলা, রূপ, গুণ পান করিতেছেন তাহার সহিত দধিমন্থনের শব্দ মিশিয়া সেই ধ্বনি আকাশকে স্পর্শ করি- তেছে এবং সেই মঙ্গলময় ধ্বনির দ্বারা দশদিকের অমঙ্গল- রাশি বিদূরিত হইতেছে ॥১৬|| বঙ্গাৰ্থ—গলিত স্বর্ণের মত যাহার শ্রীঅঙ্গ গৌরবর্ণ, যিনি বৃন্দাবনের অধীশ্বরী দেবী সেই বৃষভানুনন্দিনী হরিপ্রিয়া রাধিকাকে আমি প্রণাম করিতেছি ॥১৭।
গােবিন্দার্চনচুড়ামণিঃ।
অথ বিজ্ঞাপনং
ত্রৈলোক্যচৈতন্যময়াধিদেব শ্রীনাথ বিষ্ণো ভবদায়ৈব।
প্রাতঃ সমুখায় তব প্রিয়ার্থং সংসারযাত্ৰামনুবর্তিষ্যে ॥১৮৷
এই প্রকার বিজ্ঞাপনান্তে শ্ৰীললিতাদি সখীগণকে চিন্তা
করিবে ও প্রণাম করিবে যথা
তারুণ্যকল্পলতকে ললিতে নমস্তে।
রাধাসমানগুণচাতুরিকে বিশাখে ।
ত্বাং নোমি চম্পকলহেচ্যুতচিত্তচোরে।
বন্দে বিচিত্ৰচরিতে সখীচিত্রলেখে ।
বঙ্গার্থ —হে ত্রিভুবন চৈতন্যময়, হে আদিদেব, হে লক্ষীনাথ,
হে বিষ্ণু! আমি আপনার আজ্ঞাতেই প্রাতঃকালে উঠিয়া
আপনার সুখের জন্য সংসারযাত্রা বিধান করিব ॥১৮||
হে ললিতে! তুমি শ্রীকৃষ্ণরূপ কল্পবৃক্ষকে আশ্রয়
করিয়া নবীনা কল্পলতার ন্যায় শোভা পাইতেছ তােমাকে
নমস্কার, হে বিশাখে । তুমি গুণ ও চাতুরিতে শ্ৰীমতী
রাধার সমান হইতেছ তােমাকে নমস্কার, হে চম্পকলতে !
তুমি শ্রীকৃষ্ণের চিত্ত চুরি করিয়াছ তােমাকে নমস্কার, হে
চিত্ৰলেখে ! তুমি শ্রীকৃষ্ণের সখী, তােমার চরিত্র অতিশয়
বিচিত্র তােমাকে নমস্কার, হে রঙ্গদেবী ! তােমার প্রেমরূপ
ঐ গােবিন্দচনচূড়ামণিঃ।
শ্রীরঙ্গদেবি দয়িতপ্রণয়াঙ্গরঙ্গে।
তুভ্যং নমস্তু সুখলাসরাৎ সুদেবি।
বিদ্যাবিনােদসদনেহপি চ তুঙ্গবিদ্যে ।
পূর্ণেন্দুখস্তুনখরে সুসখীলেখে ॥১৯৷৷
তারপর অনঙ্গমঞ্জরী এবং মধুমতীমঞ্জরী প্রভৃতি সমস্ত
মঞ্জরীগণকে স্মরণ করিয়া প্রণাম করিবে তারপর স্নান
করিবে।
স্নানবিধি
অবিরাম কৃষ্ণনাম করিতে করিতে ধৌত শুদ্ধ বস্তু
পরিধান করিয়া গঙ্গাদি তীর্থে অথবা পুষ্করিণী কিম্বা
কূপােথিত জল সমীপে গমনপূৰ্ব্বক তীর্থকে প্রণাম করিবে।
চন্দন তােমার প্রিয় শ্রীকৃষ্ণের শ্ৰীঅঙ্গে সৰ্ব্বদা লাগিয়া
আছে তােমাকে নমস্কার, হে সুদেবি ! তুমি শ্রীকৃষ্ণ
সরােবরে হংসীর ন্যায় সর্বদা সুখে ক্রীড়া করিতেছ
তােমাকে নমস্কার, হে তুঙ্গবিদ্যে ! যে শ্রীকৃষ্ণ সর্বদা
পরমা বিদ্যার সহিত ক্রীড়া করিতেছেন তঁহার গৃহে তুমি
শ্রেষ্ঠ বিদ্যা-স্বরূপিনী তােমাকে নমস্কার, হে ইন্দুলেখে !
তােমার প্রতি নখর পরিপূর্ণ চন্দ্রের গৰ্বকেও খৰ্ব্ব করিতেছে
তুমি শ্রীকৃষ্ণের অতি প্রিয় সখী তােমাকে নমস্কার !!
শ্রীগােবিন্দাচচনচূড়ামণিঃ। প্রণামমন্ত্রঃ সাগরননির্ঘোষ দণ্ডহস্তান্তরন্তিক জগৎশ্রেষ্ঠ জগন্মদ্দি নমামি ত্বাং সুরেশ্বর ॥২॥ তদনন্তর আচমন ও প্রাণায়াম-পূৰ্ব্বক শ্রীকৃষ্ণের চরণাম্বুজধ্যান ও তাহার নাম কীর্তন করতঃ করিয়া পবিত্র জলে নিমগ্ন হইবে । তীর্থ স্নানার্থে আজ্ঞা প্রার্থনা। দেব দেব জগন্নাথ শঙ্খচক্রগদাধর। দেহি বিষ্ণো মমানুজ্ঞাং তব তীর্থং নিষেবণে । পাপােহহং পাপকৰ্ম্মাহং পাপাত্মা পাপসম্ভবঃ। ত্রাহি মাং পুণ্ডরীকাক্ষ সৰ্ব্বপাপহরাে হরিঃ ॥২১৷ বঙ্গাৰ্থ-হে সাগরধ্বনিতুল্য ভীষণ শব্দশালি ! হে দণ্ডহস্ত । হে অসুরন্তিক ! হে জগৎসৃষ্টিকারি! হে জগৎবিনাশ- কারিন্ ! হে দেবেশ্বর ! তােমাকে নমস্কার করি ॥২০৷৷ হে সব্বদেবারাধ্য দেব । হে জগন্নাথ। হে শঙ্খ- চক্রগদাধর বিষ্ণু ! তােমার তীর্থ সেবায় তুমি আমাকে আজ্ঞা দিও। আমি নিজে পাপস্বরূপ এবং পাপ কৰ্ম্মই আমি নিরন্তর করিতেছি, পাপেতেই আমার মন ও পাপ হইতেই আমার উৎপত্তি। তুমি সব্বপাপহরণ কর বলিয়াই তুমি র, সেইজন্য প্রার্থনা করি তুমি কমল-নয়ন হরি তুমি আমাকে উদ্ধার কর ॥২১৷ ১৭ শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চনচূড়ামণিঃ। অতঃপর নিম্নলিখিত মন্ত্র পাঠ করিতে করিতে তীরের পবিত্র মৃত্তিকা লইয়া সমস্ত গায়ে মাখিবে । মৃত্তিকাগ্রহণমন্ত্রঃ অশ্বক্রান্তে রথান্তে বিষ্ণুক্রান্তে বসুন্ধয়ে। মৃত্তিকে হর মে পাপং যম্ময়া দুষ্কৃতং কৃতং । উদ্ধতাসি বরাহেণ কৃষ্ণেণ শতবাহুনা। নমস্তে সৰ্ব্বভক্তানাং প্রভবারিণি সুৱতে। আরুহ মম গাত্রাণি সৰ্ব্বং পাপং প্রমােচয় ॥২২॥ পরে নাভি-পরিমিত জলে নামিয়া প্রবাহ অভিমুখে এবং প্রবাহশূন্য জলে সূৰ্য্যাভিমুখে পঁড়াইয়া মূলমন্ত্রের প্রাণায়াম- পূৰ্ব্বক শ্ৰীকৃষ্ণচরণ চিন্তা ও নাম করিতে করিতে স্নান করিবেন। বার্থ-হে মৃত্তিকে! তুমি অশ্ব, রথ ও বিষ্ণু কর্তৃক আক্রান্ত হইয়াছ, অতএব হে বন্ধরে ! আমি যাহা পাপ কর্ম করিয়াছি, তুমি সেই পাপ হরণ কর। তােমার ব্রত বড় সুন্দর তুমি কৃপা করিয়া আমার অঙ্গোপরি উঠিয়া আমার সর্বপাপ মােচন কর। তােমাকে শতবাহু বহরূপী কৃষ্ণ উদ্ধার করিয়াছিলেন, তুমি সকল ভক্তের পুনর্জন্ম নিবারণ কর ॥২২ ১৮ গােবিন্দাৰ্জনচূড়ামণিঃ। স্নানমন্ত্রঃ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গােদাবরি সরস্বতি । নৰ্ম্মদে সিন্ধো কাবেরি জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু ॥২৩৷ এই মন্ত্রে স্নানীয় জলে তীর্থ কল্পনার পর “অমুকে মাসি অমুকে পক্ষে অমুকতীর্থে শ্রীকৃষ্ণপ্রীতয়ে স্নানমহং কুৰ্বে”। এইপ্রকার সঙ্কল্প করিয়া-কেশবায় নমঃ। নারায়ণায় নমঃ। শ্ৰীমাধবায় নমঃ। শ্রীগােবিন্দায় নমঃ। বিষ্ণবে নমঃ । শ্রীমধুসূদনায় নমঃ। ত্রিবিক্রমায় নমঃ। বামনায় নমঃ। শ্ৰীধরায় নমঃ। হৃষীকেশায় নমঃ। পদ্মনাভায় নমঃ। শ্রীদামােদরায় নমঃ। এই দ্বাদশ নাম উচ্চারণ করিতে করিতে দ্বাদশবার ডুব দিবে। পরে তীরে উঠিয়া পবিত্র শুষ্ক বস্ত্র পরিধান করিয়া গৃহে আগমনপূর্বক আসনে উপ- বেশন করতঃ তিলক রচনা করিবে। প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ তীর্থে আবাহন করিতে নাই (শ্রীনারদপঞ্চরাত্রে নিষেধ আছে) গঙ্গাদি প্রসিদ্ধ তীর্থ ব্যতীত অন্যত্র পূর্বোক্ত বিধানে আবাহন করিবে। সমর্থ ও সুস্থ ব্যক্তির জন্য এই স্নানবিধি লিখিত হইল, অসমর্থ পক্ষে নিম্নোক্ত সপ্তবিধ স্নানের যে কোনটী স্নান করিলে দেবকার্য্যে অধিকার জন্মিয়া থাকে। বঙ্গাৰ্থ -হে গঙ্গে! হে যমুনে ! হে গােদাবরি ! হে সরস্বতি। হে নৰ্ম্মদে! হে সিন্ধু! হে কাবেরি ! তােমরা সকলে এই জলে সমিহিত হও ২৩
গগাবিন্দার্চনচুড়ামণিঃ।
১৯
১। মন্ত্রমান—“শষ আপাে” ইত্যাদি মন্ত্রে ব্রাহ্মণের
এবং “নম নারায়ণায়” মন্ত্রে স্ত্রী ও শুদ্রের স্নানকে মন্ত্রন
বলে।
২। মৃদলিম্ভ—গায়ে মৃত্তিকালেপনকে মৃদালম্ভ স্নান বলে।
৩। অগ্নেয়—সমস্ত গায়ে ভস্ম লেপন করিলে আগ্নেয়
স্নান করা হয়।
৪। অনিল—গোক্ষুরােদ্ধত ধূলিদ্বারা স্নানকে অনিল স্নান
বলে।
৫। বরুণ-নদী কিম্বা কূপতড়াগাদি হইতে সংগৃহীত
জলে স্নান।
৬। দিব্য-রৌদ্রবিদ্যমানে বৃষ্টির বিন্দু স্পর্শ।
৭। মানস—মানসিক শ্রীবিষ্ণু স্মরণ দ্বারা স্নান।
তিলকধারণ কর্তব্যতা
তিলকধারণের কর্তব্য বিষয়ে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেওয়া
যাইতেছে।
উদ্ধপুণ্ডে ৰ্বিহীনস্তু কিঞ্চিৎ কৰ্ম্ম করােতি যঃ।
ইষ্টাপূর্তাদিকং সৰ্ব্বং নিস্ফলং স্যান্ন সংশয়ঃ ॥২৪৷
পদ্মপুরাণ উত্তর খণ্ড।
তিলকধারণ কৰ্তব্যতা
বঙ্গাৰ্থ—উৰ্দ্ধপুণ্ড অর্থাৎ তিলক ধারণ না করিয়া ইষ্টপূর্তাদি
যে কোন কৰ্ম্ম নিঃসন্দিগ্ধরূপে নিস্ফল হয় ॥২৪৷ পদ্মপুরাণ
উত্তরখণ্ড
ঐশ্ৰগাবিনাচিনচুড়ামনি। তিলকধারণ নিয়ম যথা- তিৰ্য্যপুং ন কুব্বীত সংপ্রাপ্ত মরণেহপি চ। নৈমাম চ ক্ৰয়াৎ পুমান্নারায়ণাদৃত। নাসাদিকেশপৰ্য্যন্তমূৰ্দ্ধপুণ্ডং সুশােভনং। মধ্যে ছিদ্রসমাযুক্তং তদ্বিদ্যাদ্ধরিমন্দিরং। বামপার্শ্বে স্থিতাে ব্রহ্মা দক্ষিণে তু সদাশিবঃ। মধ্যে বিষ্ণুং বিজানীয়াৎ তন্মধ্যং ন লেপয়েৎ ॥২৫ স্কন্দপুরাণ। তিলকরচনা অঙ্গুলি নির্ণয় অনামিকা কামদোক্তা মধ্যমায়ুস্করী ভবেৎ অঙ্গুষ্ঠঃ পুষ্টিদঃ প্রােক্তস্তর্জনী মােসাধনী ॥২৬৷৷ বঙ্গাৰ্থ—মৃত্যুকালেও মানব বতিলক ধারণ এবং ভগবৎ নাম ভিন্ন অন্য নাম গ্রহণ করিবে না। নাসা হইতে কেশ পৰ্য্যন্ত বিস্তৃত মনােহর মধ্যে ছিদ্রযুক্ত তিলকই হরি-মন্দির। তিল- বামে ব্ৰহ্মা, দক্ষিণে সদাশিব ও মধ্যে বিষ্ণু অবস্থান করেন সুতরাং মধ্যভাগ লেপন করিবে না ॥২৫৷৷ कन्न পুরাণ। অনামিকা দ্বারা তিলক বাঞ্ছিত ফল প্রদান করে, মধ্যমা পরমায়ু বৃদ্ধি করে, অঙ্গুষ্ঠ পুষ্টি সাধন করে এবং তজ্জনী দ্বারা তিলক রচনা করিলে মুক্তিফল প্রাপ্ত হয় ॥২৬৷
২
প্রঐগােবিন্দাঠিনচুড়ামণিঃ ।
তিলকধারণ-বিধিঃ
সাধক নির্জনে কম্বলাদি আসনে উপবেশন করিয়া
পূর্বোক্ত বিধানে আচমনান্তে ললাটাদিক্রমে দ্বাদশ অঙ্গে
তিলক ধারণ করিবে যথা-
ললাটে কেশবং ধ্যায়েন্নারায়ণমথােদরে।
বক্ষঃস্থলে মাধবস্তু গােবিন্দং কণ্ঠকূপকে।
বিষ্ণুঞ্চ দক্ষিণে কুক্ষৌ বাহে চ মধুসূদনঃ।
ত্রিবিক্রমং কন্দরেতু বামনং বামপাশ্বকে।
শ্রীধরং বামবাহৌতু হৃষীকেশন্তু করে।
পৃষ্ঠেতু পদ্মনাভঞ্চ কট্যাং দামােদরং সেং।
তৎপ্রক্ষালনতােয়ন্ত বাসুদেবেতি মূৰ্ধণি ॥২৭৷
পদ্মপুরাণ উত্তরখণ্ড ।
বঙ্গাৰ্থ—ললাটে কেশবকে ধ্যান করিবে, নারায়ণকে উদরে,
বক্ষঃস্থলে মাধবকে, কুণ্ঠকূপে গােবিন্দকে, দক্ষিণ কুক্ষিতে
বিষ্ণুকে, দক্ষিণ বাহুতে মধুসূদনকে, দক্ষিণ করে ত্রিবি-
ক্রমকে, বাম পার্শ্বে বামনকে, বাম বাহুতে শ্রীধরকে, বাম
করে হৃষীকেশকে, পৃষ্ঠে পদ্মনাভকে, এবং কটীতে
দামােদরকে ন্যাস করিবে। তিলকের প্রক্ষালন উভয় হস্তের
জল “বাসুদেবায় নমঃ” বলিয়া মস্তকে লেপন করিবে ॥২৭||
পদ্মপুরাণ উত্তরখণ্ড।
ঐ গােবিন্দার্চ চুড়ামণিঃ।
দ্বাদশ নামের দ্বাদশ স্থানে ধ্যান করিয়া তিলক
ধারণান্তর দ্বাদশ নামের ন্যাস করিবে অর্থাৎ হস্তের অঙ্গুলি
দ্বারা স্পর্শ করিবে। ন্যাস যথা, ললাটে–শ্রীকেশবায় নমঃ।
উদরে—শ্ৰীনারায়ণায় নমঃ। বক্ষঃস্থলে-শ্ৰীমাধবায় নমঃ।
কণ্ঠস্থলে--শ্রীগােবিন্দায় নমঃ। দক্ষিণ পার্শ্বে--শ্রীবিষ্ণবে নমঃ।
দক্ষিণ বাহুতে-শ্রীমধুসূদনায় নমঃ। দক্ষিণ স্কন্ধে--শ্ৰত্ৰিবি-
ক্রমায় নমঃ। বাম পার্শ্বেশ্রীবামনায় নমঃ। বাম বাহুতে
শ্রীধরায় নমঃ। বাম স্কন্ধে—হৃষীকেশায় নমঃ। পৃষ্ঠে
পদ্মনাভায় নমঃ। কটীতে-শ্রীদামােদরায় নমঃ।
নিম্নলিখিত তিলকগুলি নিস্ফল যথা-
বর্তুলং তির্যগচ্ছিদ্রং হ্রস্বং দীর্ঘতরং তনু।
বক্রং বিরূপং বর্ধাগ্রং ভিন্নমূলং পদচ্যুতং ।
অশুভ্রং রূক্ষমাসক্তং তথা লাঙ্গুলিকম্পিতং।
বিদগ্ধমপসব্যঞ্চ পুণ্ড মাহুরর্থকং ॥২৮৷
পদ্মপুরাণ উত্তরখণ্ড।
বঙ্গাৰ্থ—বর্তুলাকার, তির্যক্ (ব), ছিদ্রশূন্য, খর্ব, অত্যন্ত
দীর্ঘ, কৃশ, ব, বিরূপ, অগ্রভাগ সংলগ্ন, মূলভাগ বিচ্ছিন্ন
অর্থাৎ নিম্নভাগ পৃথক স্থানভ্রষ্ট, মলিন, রূক্ষ, পরস্পর
সংলগ্ন, অপিচ অঙ্গুলি ভিন্ন অন্য দ্রব্য দ্বারা রচিত তিলককে
বিফল বলিয়াছেন। ২৮ পদ্মপুরাণ উত্তরখণ্ড।
গোবিন্দার্চনচুড়ামণি।
গােপী চন্দনের দ্বারা তিলক রচনার মাহাত্ম্য
যাে ধারয়েৎ কৃষ্ণপুরীসমুদ্ভবাং।
সদা পবিত্ৰাং কলিকিন্বিষাপহাং।
নিত্যং ললাটে হরিমন্ত্রসংযুক্তাং।
যমং ন পশ্যেৎ যদি পাপসংবৃতঃ ॥ ২৯ (গরুড় পুরাণ)
তুলসীমূল-মৃত্তিকা দ্বারা তিলক রচনার মাহাত্ম্য।
তুলসী মৃত্তিকাপুণ্ডং ললাটে যস্য দৃশ্যতে।
দেহং ন স্পৃশতি পাপং ক্রিয়মান নারদ ॥৩০।
নারদসংবাদে।
তান্ত্রিক সন্ধ্যা-বিধি
তিলক ধারণের পর পুনরায় পূর্বোক্ত বিধানে আচমন
করিয়া “আত্মতত্ত্বায় নমঃ” মন্ত্রে পাত্রস্থ জল নিজ মস্তকে
সেচন করিয়া আত্মশুদ্ধি করিবে। পরে অস্ত্রায় ফ”
বঙ্গার্থ—যিনি কলিপাপনাশিনী সৰ্ব্বদা পবিত্রস্বরূপা হরিমন্ত্র
সংযুতা দ্বারকা মৃত্তিকা ললাটে ধারণ করেন, তিনি যদি
পাপে পরিবেষ্টিতও হয়েন তথাপি যমকে অবলােকন করি-
বেন না ॥২৯
হে নারদ! যাহার ললাটে তুলসী মৃত্তিকার তিলক
দৃষ্ট হয়, তিনি পাপ করিলেও সে পাপ তাঁহার দেহে প্রবেশ
করিতে পারে না ৩৫.
1
२४ শ্রীগােবিন্দাচচনচূড়ামণিঃ। মন্ত্রে শিখা বন্ধন করিবে। অতঃপর “গঙ্গে চ যমুনে চৈব” ইত্যাদি মন্ত্রে অঙ্কুশমুদ্রাদ্বারা পঞ্চপাত্র বা অন্য পাত্র জল আলােড়ন চিন্তা করিয়া জল শুদ্ধি করিবে। পরে জলে নিজ মন্ত্ৰাধিষ্ঠাত্ দেবতাকে পূজা করিয়া তাহার আবরণ প্রভৃতিকে যথাবিধি তৰ্পণ করিবে। (হরিভক্তি ৩য় বিলাস) তর্পণ-বিধি। গ- কৃষ্ণচরণ ধ্যান করিয়া মূলমন্ত্র উচ্চারণ পূৰ্ব্বক শ্রীকৃষ্ণ তপয়ামি নমঃ” মন্ত্রে তিন অঞ্জলি জলদ্বারা তিনবার তর্পণ করিবে। পরে শ্রীকৃষ্ণের আবরণ দেবতা শ্রীরাধাকে এক এক অঞ্জলি জল দ্বারা তৰ্পণ করিবে। যথা,—“শ্রীরাধিকাং তপয়ামি” “শ্রীললিতাদি-সখীস্তৰ্পয়ামি” : “শ্রীদামাদি-গােপা- লাংস্তপয়ামি” “শ্রীনন্দাদি-ব্রজবাসিগণাংস্তৰ্পয়ামি” স্তৰ্পয়ামি” “বৎসাংস্তৰ্পয়ামি” “বৃষরণ্য-মৃগাদীংস্তৰ্পয়ামি” “ব্রহ্মাদি-দেবাংশুৰ্পয়ামি,” ‘নারদাদি-ঋষীংস্তৰ্পয়ামি” “নারদং তৰ্পয়ামি” “পৰ্বতং তৰ্পয়ামি” “জিষ্ণুং তৰ্পয়ামি” “নিশঠং তপয়ামি” “উদ্ধবং তৰ্পয়ামি” “দারুকং তৰ্পয়ামি” “বিশ্বকসেনং তর্পয়ামি” “শৈলেয়ং তপয়ামি”। পরে সূৰ্য্যমণ্ডল মধ্যবর্তী ধ্যানােদ্দিষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ উদ্দেশে কাম গায়ত্রী যথা,-“ক্লাভকামদেবায় বিদ্যুহে পুষ্পবা ধীমহি তম্নোহনঙ্গ প্রচোদয়াৎ” মন্ত্রে একবার জপ করিয়া ইমং শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ মন্ত্রে অৰ্য্য প্রদান করিবে।
গগাবিন্দাচূড়ামণিঃ।
অনন্তর সূৰ্য্যমণ্ডলে শ্রীকৃষ্ণকে ধ্যান করিয়া দশবার
কামগায়ত্রী জপ করিবে পরে “ক্ষম”এই মন্ত্র বলিয়া পাত্র
হইতে এক অঞ্জলি জল লইয়া নিম্ন মন্ত্রে জপ সমর্পণ
করিবে ।
জপসমর্পণ-বিধি
গুহাতিগুচ্ছ গােপ্তা ত্বং গৃহাণাস্ম কৃতং জপং।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেব ত্বৎপ্ৰসাদারিস্থিতে ॥৩১৷
পরে “ইদমৰ্ঘং শ্রীসূৰ্য্যায় নমঃ” মন্ত্রে সূৰ্য্যার্ঘ্য প্রদান
করিয়া পূর্বোক্ত প্রণাম মন্ত্রে ভক্তিপূৰ্ব্বক শ্রীকৃষ্ণ চরণে
প্রণাম করিবে। মন প্রাণ শ্রীকৃষ্ণ চরণে অৰ্পণ করিয়া
শ্রীকৃষ্ণ সুখের ভাবনা করাই প্রকৃত ভজন, অন্য বাসনায়
শ্ৰীকৃষ্ণভজন হয় না; বাসনারই ভজন হয়।
ভগবৎপ্রবােধন-বিধিঃ
থিমতঃ শ্রীগুরুদেব চরণে প্রণাম করিবে যথা,-
নমস্তে গুরুরূপায় সর্বসিদ্ধিপ্রদায়িনে।
সৰ্বমঙ্গলরূপায় সৰ্বানন্দবিধায়িনে ॥৩২।
॥
বঙ্গাৰ্থ—হে দেব তুমি গুহ পরমরহস্যের রক্ষক, আমাদের
কৃত জপ গ্রহণ কর, তােমাতে স্থিত হইলেও তােমার প্রসাদে
সিদ্ধি হয় নতুবা নহে ॥ ৩১
হে প্রভু তুমি সব্ব সিদ্ধিদাতা, সর্বমঙ্গলরূপী, সকল
ঐশ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
পরে গুরুচরণে শ্রীভগবৎ সেবার আজ্ঞা প্রার্থনা মন্ত্রী
যুক্তহস্তে পাঠ করিবে।
আজ্ঞা প্রার্থনা মন্ত্র।
শ্রীগুরাে পরমানন্দ প্রেমানন্দ ফলপ্রদ।
ব্ৰজানন্দ প্রদানন্দ সেবায়াং মাং নিয়ােজয় ॥৩৩
এইরূপে আজ্ঞা প্রার্থনা করিয়া আজ্ঞা প্রাপ্তি (স্বয়ং
উপস্থিত থাকিলে সাক্ষাৎ আজ্ঞা গ্রহণপূৰ্ব্বক) চিন্তাপূর্বক
ঘণ্টা বাজাইতে বাজাইতে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করিয়া মন্ত্র
পাঠপূর্বক শ্রীমূর্তিকে জাগাইবে।
প্রবােধন মন্ত্র ।
সােহসাবদভ্রকরুণে। ভগবান্ বিবৃদ্ধ
প্রেমস্মিতেন নয়নাম্বুরুহং বিজম্ভ।
উত্থায় বিশ্ববিজয়ায় চ নাে বিষাদং
মাধ্বা গিরাপনয়তৎ পুরুষপুরাণঃ |
প্রকার আনন্দবিধানকারী, সেই ঐগুরুরূপী তােমাকে আমি
প্রণাম করিতেছি। ৩২।
বার্থ-হে প্রেমানন্দ, ফলপ্রদ, পরমানন্দস্বরূপ শ্রীগুরুদেব
তুমি আমার ব্রজের আনন্দপ্রদ শ্রীকৃষ্ণের আনন্দময়ী সেবায়
নিয়ােজিত কর। ৩৩।
সেই পুরাতন পুরুষ ভগবান, নিরতিশয় দয়ালু, তিনি
তাঁহার বিশ্ববিখ্যাত প্রসিদ্ধ প্রেম-হাস্যের দ্বারা আপনার
শ্রীগােবিন্দাজ্জনচুড়ামণি। ২৭ দেব প্রপার্তির প্রসাদং কুরু কেশব অবলােকনদানেন ভূয়াে মাং পারােচ্যুতেতি ॥৩৪। এই মন্ত্র পাঠ করিয়া ঘণ্টা বাদন করিতে করিতে মন্দিরে প্রবেশ করিয়া উত্তিষ্ঠোষ্ঠি গােবিন্দ ত্যজ নিদ্রাং জগৎপতে। ত্বয়ি সুপ্তে জগন্নাথে জগৎ সুপ্তং ভবেদিদং । উখিতে চেষ্টতে সৰ্বমুভিষ্ঠোতিষ্ঠ মাধবঃ ॥৩৫|| এই মন্ত্রে শ্রীকৃষ্ণ, তদীয় প্রেয়সী শ্রীরাধিকাকে ও ললিতাদি সখীগণকে উত্থাপন করিবে এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু ও তদীয় ভক্তগণকে নিদ্রা হইতে উত্থাপন করিবে। নয়ন কমল বিকশিত করিয়া এই বিশ্বের উদ্ভব এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ বিস্তার নিমিত্ত গাত্রোত্থান করিয়া আমার দুঃখ বিদূরিত করুন। হে দেব ! হে প্ৰপন্নজন-ভয়ভঞ্জন। হে কেশব ! আমার প্রতি অনুগ্রহ বিস্তার করুন। হে অচ্যুত ! পুনরায় অবলোকন দান করিয়া আমাকে পবিত্রিত করুন ॥৩৪৷৷ বার্থ-হে গােবিন্দ উথান করুন, উথান করুন। হে জগৎ- পতে! আপনি জগতের নথি ! আপনি নিদ্রিত থাকিলে এই জগৎ নিদ্রিত থাকিবে এবং আপনি উথিত হইলে সমস্ত চেষ্টাম্বিত হইবে। হে মাধব ! উথিত হউন, উখিত হউন ॥৩৫৷৷ ২৮ ঐশ্রীগােবিন্দাচনচূড়ামণিঃ। উক্ত বিধান এক মন্দিরে শ্রীমহাপ্রভু ও শ্রীরাধাকৃষ্ণ থাকেন তবে করিবে, অন্যথায় মানসিক উত্থাপন করিবে। পরে মূর্তিসকলের তুলসী ভিন্ন অপর নির্মাল্য অপসারণ করিবে। তারপর সুবাসিত জল লইয়া মূল মন্ত্র উচ্চারণ- পূৰ্ব্বক “ইদং মুখপ্রক্ষালনীয়জলং শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া প্রদান করিবে। এই প্রকারে শ্রীরাধা, ললিতাদি, শ্ৰীমন্মহা- প্রভু প্রভৃতি সকলের নিমিত্ত মন্ত্র উচ্চারণ পূৰ্ব্বক মুখ- প্রক্ষালন জল দিবে । পরে দন্তকাষ্ঠ লইয়া মূলমন্ত্রসহ “ইদং দন্তকাষ্ঠং শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” মন্ত্রে শ্রীকৃষ্ণকে এবং এই- রূপ শ্রীরাধা প্রভৃতিকে দন্তকাষ্ঠ মন্ত্র উচ্চারণ পূৰ্ব্বক অর্পণ করিয়া (জিভূছােলা লইয়া) মূলমন্ত্রসহ “ইয়ং জিহ্বা-শােধনী শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া অৰ্পণপূৰ্ব্বক শ্রীরাধা প্রভৃতিকেও অৰ্পণ করিবে। পরে আবার মুখ ধােয়াইবার জল পূৰ্ব্ববৎ মন্ত্রোচ্চারণপূৰ্ব্বক অর্পণ করিয়া সূক্ষ বস্ত্র লইয়া মুলমন্ত্রসহ “ইদং মুখমার্জনীয়বস্ত্রং শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া মুখ মাৰ্জ্জুন- পূৰ্ব্বক শ্রীরাধিকাদি সকলের মুখ মার্জন করাইবে। এই প্রকারে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভু ও তদীয় ভক্তবৃন্দকেও করিবে। পরে স্তোত্র পাঠ করিবে। অথ শ্রীকৃষ্ণস্তোত্রং নবজলধরবর্ণং চম্পকোট্টাসিকর্ণং । বিকশিতনলিনস্যং বিক্ষুরমহাস্যং ২৯ গােবিন্দার্সনচুড়ামণিঃ। কনকরুচিদ্কুলং চারুবহাচূড়ং। কমপি নিখিলসারং নোমি গােপীকুমারং। বহপীড়াভিরামং মৃগমদতিলকং কুণ্ডলাক্রান্তগণ্ডং। কঞ্জাখ্যং কমুকণ্ঠং স্মিতভগমুখং স্বাধরে ন্যস্তবেণুং। শ্যামং শান্তং ত্রিভঙ্গং রবিকরবসনং ভূষিতং বৈজয়ন্ত্যা। বন্দে বৃন্দাবনস্থং যুবতীশতবৃতং ব্ৰহ্ম গােপালবেশং ॥৩৬৷৷ শ্রীরাধিকা স্তোত্র। রাধাদামােদর-প্ৰেষ্ঠা রাধিকা বার্ষনবী। সমস্তবল্লবীবৃন্দধৰ্ম্মিলোংস-মল্লিকা। বঙ্গাৰ্থ—যাহার অঙ্গের বরণী নবজলধরের মত, যাহার কর্ণ- যুগল চম্পকপুষ্পদ্বারা সুশােভিত, বিকসিতকমলের মত যাহার বদন এবং যে বদনে সুন্দর মন্দ মন্দ হাস্য বিরাজিত, যাহার স্বর্ণবর্ণ বস্ত্র, সুন্দর ময়ূরপুচ্ছ দ্বারা যাহার চূড়াটী রচিত, নিখিল তত্ত্বের সার সেই গােপীনন্দন শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম করিতেছি। ময়ুরপুচ্ছের চূড়, কস্তুরীর তিলক, উভয় কর্ণের সুন্দর কুণ্ডল দ্বারা দুই গণ্ড সুশােভিতরূপে আক্রান্ত, কমলনয়ন, শঙ্খের ন্যায় ত্রিরেখাসমন্বিত কণ্ঠ, মধুময় হাসিতে শ্ৰীবদন সুশােভিত, অধরে বেণু, বৈজয়ন্তী মালা দ্বারা ভূষিত, শ্যামল, শান্ত, ত্রিভঙ্গ, পীতাম্বর, শত শত ব্ৰজযুবতী পরিবৃত বৃন্দাবনবিহারী ব্ৰহ্মগােপাল শ্রীকৃষ্ণকে বন্দনা করি ॥৩৬৷ ৩ গােবিন্দার্চনচুড়ামণি। কৃষ্ণপ্রিয়াবলিমুখ্যা গন্ধৰ্বা ললিত সখী। বিশাখাসখ্যসুখিনী হরিহৃঙ্গমঞ্জরী। ইমাং বৃন্দাবনেশ্বৰ্যা দশ নাম মনোরমাং। আনন্দচন্দ্রিকা নাম যে রহস্যাং স্তুতিং পঠেৎ । সংক্লেশরহিতাে ভূত্বা ভূরি সৌভাগ্যভূষিতঃ। ত্বরিতং করুণাপাত্ৰং রাধামাধবয়ােৰ্ভবেৎ ॥৩৭৷ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যস্তোত্র উজ্জ্বলবরণগৌরবরদেহং বিলসতি নিরবধি ভাববিদেহং । ত্রিভুবনপাবন কৃপয়ালেশং ত্বং প্রণমামি চ শ্রীশচীতনয়ং। চ বঙ্গাৰ্থ-রাধা-দামােদর-প্ৰেষ্ঠা রাধিকা, বর্ষভানবী, সমস্ত গােপীকাগণের শিরােভূষণ স্বরূপা, কৃষ্ণপ্রিয়াগণ মধ্যে সৰ্বশ্রেষ্ঠা, গন্ধৰ্ব্বা, ললিতা সখী বিশাখা সখ্যসুখিনী, হরির হৃদয় ভ্রমরের মঞ্জরী স্বরূপা, বৃন্দাবনেশ্বরী শ্রীরাধার এই মধুর দশটী নামযুক্ত আনন্দচন্দ্রিকা নামে রহস্য স্তুতি যিনি পাঠ করেন তিনি দুঃখরহিত ও প্রচুর সৌভাগ্যযুক্ত হইয়া শীঘ্র শ্রীরাধামাধবের কৃপাপাত্র হন ॥৩৭৷৷ উজ্জ্বল গৌরবর্ণ দেহধারী, নিরন্তর ভাবােন্মত্ত- রূপে বিলাসবা, যাহার করুণালেশ সম্পর্কেও ত্রিভুবন উদ্ধার হয় সেই শ্ৰীশচীমাতার স্নেহপুত্তলি শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরকে প্রণাম করি। যিনি আন্তরিক ভাবের বিকারে গদ্গদ, f
এগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
গদ্গদ-অন্তর-ভাববিকারং দুৰ্জ্জনতজ্জন-নাদ-বিশালং।
ভবভয়ভঞ্জনকারণকরুণং ত্বং প্রণমামি চ
শ্ৰীশচীতনয়ং ||৩৮||
এইরূপ স্তব পাঠ করিয়া মঙ্গল আরত্রিক করিবে।
নিম্নলিখিত শ্রীগােবিন্দের ধূপ, দীপ ও নৈবেদ্য দান প্রভৃতি
শ্রীকৃষ্ণমহাপ্রভু, শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীঅদ্বৈতপ্রভু ও তদীয়
ভক্তবৃন্দেরও এইরূপ মঙ্গল আরতি জানিবে । সর্বত্র
“শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” স্থলে “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবে-
দয়ামি নমঃ” বলিবে, এইপ্রকার অন্যান্য প্রভুদেরও জানিবে ।
প্রথমে “সুপ্রেক্ষিতমস্তু” মন্ত্রে ধূপাধারে জলের ছিটা
দিয়া “ধূপায় নমঃ” এই মন্ত্রে ঐ ধূপে পুনরায় জলের ছিটা
দিয়া অর্চন করতঃ
বনস্পা
আম্রেয়ঃ সৰ্ব্বভূতানাং ধূপপাহয়ং প্রতিগৃহতাং ॥৩৯*
এই মন্ত্র পাঠ করিয়া মূলমন্ত্র উচ্চারণ পূৰ্ব্বক “এষ ধূপঃ
শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে ধূপাধারী ভূমি হইতে
যাহার বিলাস কৃষ্ণনাম দুষ্কর দুৰ্জ্জন ব্যক্তির তজ্জন স্বরূপ,
যিনি সংসার ভয় ভঞ্জনকারী ও অতিশয় দয়ালু সেই শ্ৰীশচী-
নন্দনকে আমি প্রণাম করিতেছি ॥৩৮
#৩৯ শ্লোকের ব্যাখ্যা শ্রীকৃষ্ণ পূজায় দ্রষ্টব্য।
৩২ শ্রীগােবিন্দাৰ্চনচূড়ামণি। শ্ৰীমুর্তির নাভিদেশ পর্যন্ত উত্তোলন পূর্বক শ্রীকৃষ্ণ ধূপ- নির্গত সুগন্ধ গ্রহণ করিতেছেন এইরূপ মানসিক চিন্তা করিয়া শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে কিছুক্ষণ ধারণ পূৰ্ব্বক নামাইয়া রাখিবে। পরে কপূর উক্তরূপ নিবেদনপূৰ্ব্বক আরত্রিক করিবে । তারপর ঘৃতনির্মিত একাধিক অথচ অসমসংখ্যক ৩ অথবা ৫, ৭, ৯ প্রভৃতি বর্তিকা দ্বারা মঙ্গল নীরাজন করিবে । দীপ নীরাজন প্রণালী। স্বর্ণাদি নির্মিত ধাতুপাত্রে কপুর অথবা স্বনাম বর্তিকা প্রজ্জ্বলিত করিয়া অঙ্গুষ্ঠ তর্জনী সংযােগে দুই হাত চিৎ করিয়া দক্ষিণাবর্ত ক্রমে তিনবার ঘুরাইয়া মূলমন্ত্রসহ ধেনু মুদ্রা দেখাইয়া “দীপেভ্যো নমঃ” এই মন্ত্রে পূর্বোক্ত পকারে দীপন করিয়া শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন করিবে। , মনন্তর, ওঁ সুপ্রকাশ মহাদাপঃ সব্বতাস্তামরাহঃ সবাহাভ্যন্তর-জ্যোতির্দীপপাহয়ং প্রতিগৃহং ৪০$ এই মাত্র পাঠ করিবে। পরে ঐ দীপাধার দক্ষিণ হস্তে লইয়া বাম হস্তে ঘণ্টা বাজাইতে বাজাইতে দীপাধারী ঘুরাইবে। ঘুরাইবার সংখ্যা যথা, শ্লোকের ব্যাখ্যা শ্রীকৃষ্ণ পূজায় দ্রষ্টব্য
গােবিন্দাচ্চনচূড়ামণিঃ।
আদৌ চতুষ্পদতলে চ বিষ্ণো।
দ্বো নাভিদেশে মুখমণ্ডলৈকং।
সৰ্ব্বেষু চাঙ্গেপি সপ্তবারান্।
আরত্রিকং ভক্তজনস্তু কুৰ্যাং ॥৪১৷৷
পরে সজল শঙ্খ শ্ৰীমূর্তির মুখমণ্ডলে তিনবার ঘুরাইয়া
নীরাজন করিবে। পরে পবিত্র বস্ত্র দ্বারা আরত্রিক করিয়া
মূলমন্ত্রসহ “শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া তিনবার পুস্পাঞ্জলি
প্রদান ও সৰ্বশেষে চামর ব্যজন করিবে ।
আরত্রিক আরম্ভ করিবার পূর্বে মূলমন্ত্রসহ “শ্রীকৃষ্ণায়
নমঃ” মন্ত্রে তিনবার পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করিবে। আরত্রিক
কালে মহাবাদ্য, জয়ধ্বনি, মহাপ্রভুর বা রাধাগােবিন্দের
মঙ্গল আরত্রিক গীতি করতাল বাদ্য সহকারে গান করিতে
হইবে। মঙ্গল আরত্রিক অন্তে নৈবেদ্য প্রদান করিবে।
প্রথমতঃ “সােপকরণ-নৈবেদ্যায় নমঃ”এই মন্ত্রে নৈবেদ্যে
জলের ছিটা দিয়া নৈবেদ্যের অর্চনা করিয়া মূলমন্ত্র উচ্চারণ
পূৰ্ব্বক “ইদং সােপকরণ-নৈবেদ্যং শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া
বঙ্গার্থ -প্রথমে শ্রীমূৰ্ত্তির চরণ লক্ষ্য করিয়া চারিবার, নাভি-
প্রদেশে দুইবার, শ্ৰীবদনমণ্ডলে একবার, সৰ্বাঙ্গ লক্ষ্য করিয়া
সাতবার ঘুরাইবে। পরে শ্রীকৃষ্ণপ্রসাদী ধূপ, দীপ
গরুড় ও ভক্তবৃন্দের
প্রীতির নিমিত্ত দ্বারাভিমুখে একবার ঘুরাইবে ॥৪১৷৷
গােবিন্দাচ্চচূড়ামণিঃ। নিবেদনান্তে যবনিকার অন্তরালে আসিয়া ভােজন চিন্তা সহ মূলমন্ত্র জপ করিয়া কিয়ৎক্ষণ পরে আচমনীয় জল ও তাম্বুল প্রদান করিবে। শ্রীকৃষ্ণপ্রসাদীনৈবেদ্যং “শ্রীরাধি- কাদিজদেবীভ্যো নমঃ” ; অনন্তর প্রাণায়াম করিয়া মূল- মন্ত্র জপ করিবে। জাপান্তেও পুনঃ প্রাণায়াম করিতে হইবে। অথ প্রাণায়াম বিধি। দক্ষিণ হস্তের অনামিকা ও কনিষ্ঠা দ্বারা বামনাসা টিপিয়া দক্ষিণ নাসিকা দ্বারা ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ত্যাগ করিতে করিতে দুইবার মূলমন্ত্র জপ করাকে রেচক বলে। পরে দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দক্ষিণ নাসিকা টিপিয়া বাম নাসাদ্বারা চারিবার মূলমন্ত্র সহ নিঃশ্বাস গ্রহণ করাকে পূরক বলে। পরে অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দক্ষিণ নাসা ও অনামিকা কনিষ্ঠা দ্বারা বামনাসা টিপিয়া ছয়বার মূলমন্ত্র জপ করাকে কুম্ভক প্রাণায়ামের অপর বিধি। পূৰ্ব্ব প্রকারে বাম নাসা বন্ধপূৰ্ব্বক যােলবার কামবীজ (কী) জপ করিয়া রেচক করিবে। পরে দক্ষিণ নাসা বন্ধ করিয়া বত্রিশবার জপে পূরক। পরে চৌষটিবার জপ করিয়া কুম্ভক করিবে। এইপ্রকার রেচক, পূরক, কুম্ভক করিবে ।
গােবিন্দাচনচুক্তামণিঃ।
জপাঙ্গুল নির্ণয় বিধি ।
জপ করিতে হইলে অঙ্গুলী ব্যবহারের প্রণালী
যথা -
অরভ্যানামিক মধ্যাং প্রদক্ষিণমনুক্ৰমাৎ।
তর্জনীমূলপৰ্যন্তং ক্রমাদ্দশসু পৰ্ব্বসু।
অঙ্গুলানবিযুঞ্জীত কিঞ্চিৎ সঙ্কোচয়েলং।
অঙ্গুলীনাং বিয়ােগে তু ছিদ্রে সুবতে জপঃ ॥৪২।
এই প্রকারে জপ করিবে, কিন্তু জপকালে মধ্যমার
অপর দুই পদ্ম পরিত্যাগ করিবে।
যথা, পৰ্ব্বদ্বয়ং মধ্যমায়া জপকালে বিবৰ্জ্জয়েৎ।
এবং মেরুং বিজানীয় হ্মণা দূষিতং স্বয়ং ॥৪৩
বঙ্গার্থ—দক্ষিণ হস্তের অনামিকার মধ্যপর্ব আরম্ভ করিয়া
দক্ষিণাবর্তক্রমে তজ্জনার মূলপৰ্ব পৰ্যন্ত দশ পর্বে জপ
করিবে। হস্ততল কিঞ্চিৎ সঙ্কোচপূৰ্ব্বক অবিচ্ছিন্ন অঙ্গুলী
পৰ্ব্বে জপ বিহিত। অঙ্গুলী সকল পৃথক পৃথক থাকিলে
ছিদ্র পথে জপের ফল পড়িয়া যায় ॥৪২
জপকালে মধ্যমার মধ্যমপৰ্ব্ব ও মূলপর্ব পরিত্যাগ
করিবে। এই প্রকারের মধ্যমার ঐ দুই পৰ্ব্বকে মেরু
জানিতে হইবে। ব্রহ্মা স্বয়ং তাহাকে দূষিত করিয়াছেন ॥৪৩৷৷
গােবিন্দাচচুড়ামণি। জপষজ্ঞ করিবার প্রণালী তিন প্রকার যথা— ত্রিবিধাে জপযজ্ঞঃ স্যাৎ তথ্যভেদামিবােধত। বাচিকশ্চ উপাংশুশ্চ মানসশ্চ ত্রিধা মতঃ । ত্রয়ানাং জপযজ্ঞানাং শ্রেয়া স্যাদুত্তরােত্তরঃ। যদুচ্চনীচস্বরিতৈঃ স্পষ্টশব্দবদক্ষরৈঃ | মন্ত্রমুচ্চারয়েদ্ব্যক্তং জপযজ্ঞঃ স বাচিকঃ । শনৈরুচ্চারয়েন্মন্ত্রমীষদোষ্ঠে প্ৰচালয়েৎ। কিঞ্চিচ্ছব্দং স্বয়ং বিদ্যানুপাংশু স জপঃ স্মৃতঃ। ধিয়া সদশ্ৰেণ্যা বর্ণাদ্বর্ণং পদাৎ পদং । শব্দার্থচিন্তনাভ্যাসঃ স উক্ত মানসে জপঃ ॥৪৪৷ বঙ্গার্থ-জপষজ্ঞ তিন প্রকার হয়, তাহার ভেদ সকল শ্রবণ কর যথা, বাচিক, উপাংশু, মনিস এই ত্রিবিধ। এই তিন প্রকার জপযজ্ঞের মধ্যে উত্তরোত্তর শ্রেষ্ঠ। উচ্চনীচ- স্বরিত অর্থাৎ উদাত্ত, অনুদাত্ত ও স্বরিত সংজ্ঞক স্বরে স্পষ্ট শব্দবিশিষ্ট অক্ষর দ্বারা যে মন্ত্র স্পষ্ট করিয়া উচ্চারণ করা হয় সেই জপযজ্ঞের নাম বাচিক। ধীরে ধীরে মন্ত্র উচ্চা- রণ করিবে, ওষ্ঠদ্বয় ঈষৎ চালিত করিবে। তাহাতে কিঞ্চি- ন্মাত্র শব্দ স্বয়ং শুনিতে পাওয়া যায় তাহার নাম উপাংশু জপ । যে অক্ষর শ্রেণীর বর্ণ হইতে বর্ণ ও পদ হইতে পদের যে অর্থ বুদ্ধির দ্বারা চিন্তন অর্থাৎ অনুসন্ধান, তাহার গােবিন্দাচুড়ামণি। ৩, জপের পূর্বে ও জপান্তে প্রাণায়াম করিতে হয়। জপে অসমর্থ হইলে ১০৮ বার, সক্ষম হইলে ১০০৮ বার জপ করিয়া জপ সমর্পণ করিবে। জপ সমর্পণের সময় দক্ষিণ হস্তের এক অঞ্জলি জল লইয়া “শ্রীকৃষ্ণের হস্তে জগওষ অৰ্পণ করিতেছি” এইরূপ চিন্তা করিয়া “গুহাতিগুহ গােপ্তা ত্বং” ইত্যাদি পূর্বোক্ত মন্ত্র পাঠ করিবে। এইপ্রকার নিবিষ্টমনে অর্থাৎ মন প্রাণ শ্রীগােবিন্দ- চরণে সমর্পণপূৰ্ব্বক শ্রীকৃষ্ণ-সুখের জন্য নিঃস্বার্থভাবে জপ পরে (৪৮ বার, ২৪ বার, ১২ বার, ৬ বার ) যথাশক্তি অষ্টাঙ্গপ্রণাম করিবে। ভােজন এবং শয়নকালে প্রণাম করিতে নাই। অষ্টাঙ্গ প্রণাম বিধি। দোর্ভাং প্যাঞ্চজানুভ্যামুরসা শিরসা দৃশা। মনসা বচসা চেতি প্রণামােহস্টাঙ্গ ঈরিতঃ ॥ করিবে। যে অভ্যাস অর্থাৎ পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি, তাহাকে মানস জপ বলে ॥৪৪|| পূৰ্ব পূৰ্ব্ব জপের কালে মন্ত্ৰাৰ্থ চিন্তা অথবা তাহার রূপ লীলা চিন্তা করতঃ জপ করিবে। বঙ্গাৰ্থ-বাহুদ্বয়, পদদ্বয়, জানুদ্বয়, বক্ষঃস্থল, মস্তক, দৃষ্টি, মন ও বাক্য এই অষ্ট অবয়ব দ্বারা প্রণামকে অষ্টাঙ্গ শব্দে ঐশ্রীগোবিন্দাচচচুড়ামণিঃ । জামুভ্যাঞ্চৈব বাছভ্যাং শিৱস ৰচসা ধিয়া। পঞ্চঙ্গিক প্রণামঃ স্যাৎ পূজা প্রাৰিমাৰিতি ॥৪৫। প্রণামকালে গরুকে দক্ষিণে রাখিবে যখা--- গরুড়ং দক্ষিণে কৃত্বা কুৰ্যাতৎপৃষ্ঠত বুধঃ । অঞ্চ প্রণামংস্ত্রী শক্তশ্চেদধিকাধিকান্ ॥৪৬ নিরূপিত হইয়াছে। তাৎপৰ্য উভয় বাহুর দ্বারা ভগ- বানের চরণ ধারণপূর্বক মস্তক অবনত করিয়া প্রণাম, চক্ষুর ঈষৎ নিমীলন দৃষ্টিগত প্রণাম, বাহুদ্বারা প্রভুর চরণ ধারণপূৰ্ব্বক অবনত মস্তকে প্রণত হইয়া রহিয়াছি, এই প্রকার ব্যানই মানসিক প্রণাম। হে ভগবান! আপনি প্রসন্ন হউন ইত্যাদি বাক্যে তিই বাক্যগত প্রণাম। দুই জানু, দুই বাহু, মস্তক, বাক্য, বুদ্ধি, এই পাঁচ অবয়ব দ্বারা প্রণমিকে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম বলিয়া কথিত হয় ॥৪৫৷৷ এই পঞ্চাঙ্গ ও অষ্টাঙ্গ প্রণামই পূজাকালে প্রশস্ত। } বঙ্গাৰ্থপণ্ডিতব্যক্তি প্রণামকালে ভগবানের সম্মুখস্থ গরুড়কে দক্ষিণ দিকে রাখিয়া তাহার পৃষ্ঠে অর্থাৎ বামভাগে প্রণাম করিবে, প্রভুর অতি নিকটে প্রণাম নিষিদ্ধ। প্রণাম তিন- বার অবশ্যই করিতে হইবে কিন্তু সমর্থের পক্ষে অধিক সংখ্যকই কর্তব্য ॥৪৬ ৭
গােবিন্দাচচচুড়ামণিঃ।
অতঃপর সুর, তাল, লয়-যােগে পরমভক্তিসহ শ্ৰীশ্রীহরি-
নাম মহামন্ত্র উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন করিতে করিতে চারিবাৰ
শ্ৰীমন্দির প্রদক্ষিণ করিবে। অথবা অন্যান্য মহাজনের
পদাবলী কীর্তন করিতে করিতে প্রদক্ষিণ করিবে।
মহামন্ত্রসংকীর্তনপ্রমাণং যথা—
হরিনাম-মহামর্নৈশ্যেৎ পিপং পিশাচকং।
হরেরগ্রেস্বনৈরুচ্চৈনৃত্যং তামকৃরঃ ৪
পুনতি ভুবনং বিপ্রগঙ্গাদি সলিলং যথা।
হরে প্রদক্ষিণং কুৰ্ব্ব চ্চৈস্তমকৃষরঃ
করতালদিসন্ধানং ৰং ৰুলশতিং ॥৪৭০
পদ্মপুরাণ ২৪শ অধ্যায়।
শ্রীহরিমন্দির চারিবার প্রদক্ষিণ করিবার বিধি নারসিংহে
দেখা যায় যথা-
ৰঙ্গার্থ-যে কোন ব্যক্তি হরির সম্মুখে মহামন্ত্র হরিনাম
নৃত্যাদি পূৰ্বৰ উচ্চৈঃস্বৰে সংকীর্তন করে তাহার পাপরূপ
পিশাচ বিৰশি প্রাপ্ত হয়। গঙ্গাদি পবিত্র নদীর জল যেমন
জগতকে পবিত্র করে, সেইরূপ কলাধি দিয়া সুমধুর
কঠে সেই বােড় নামায়ক মহামন্ত্র উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন
করিতে করিতে শ্রীহরিকে প্রদক্ষিণ করিলে জগৎ পবিত্র
হয় ৪৭
৪০
গােৰিলাচনচূড়ামণিঃ।
একাং চ্যাং রবো সপ্ত তিস্রো দন্থাদ্বিয়কে।
চত কেশৰে দন্থাৎ শিবের্কপ্রদক্ষিণাং ॥৪৮৷৷
(হরিভক্তিবিলাস ৮ম বিঃ)
প্রদক্ষিণ মাহাত্ম্য
প্রদক্ষিণেন চৈকেন দেবদেবস্য মন্দিরে।
কৃতেন যং ফলং নৃণাং তহ্ণুস্ব নৃপাত্মজ ।
পৃথীপ্রদক্ষিণফলং যৎ প্রাপ্য হরিং ব্ৰজেৎ।
এবং কৃত্বা তু কৃষ্ণ যঃ কুৰ্যাদ্বিপ্রদক্ষিণং ।
সপ্তদ্বীপবর্তীং পুণ্যং লভতে তু পদে পদে।
পঠাম সহস্ৰন্ত নামান্যেবাখ কেবলং ॥৪৯|
(নৃসিংহপুরণ )
বঙ্গাৰ্থ—চণ্ডাকে একবার, সূৰ্য্যকে সাতবার, গণেশকে তিনবার,
বিষ্ণুকে চারিবার ও শিবকে অর্ধবার প্রদক্ষিণ করিবে ৪৮||
হে রাজপুত্র ! মানবগণ দেবশ্রেষ্ঠ ভগবানের মন্দির
একবার মাত্র প্রদক্ষিণ করিলে যে ফল প্রাপ্ত হন তাহা
শ্রবণ করুন। পৃথিবী প্রদক্ষিণ করিলে যে ফল হয়,
তাহারা সেই ফল লাভ করেন এবং হরিকে প্রাপ্ত হন।
যিনি এই প্রকার কৃষ্ণকে দুইবার প্রদক্ষিণ করেন এবং
সহস্র নাম পাঠ অথবা ভগবানের নাম কীৰ্ত্তন করেন, তিনি
সপ্তদ্বীপবর্তী পৃথিবী প্রদক্ষিণ অথবা দানের ফল পদে পদে
প্রাপ্ত হইয়া থাকেন ॥৪৯৷৷
৪১
গােবিন্দার্সনচূড়ামণি।
বিষ্ণুস্মৃতে
একহস্তপ্রণামশ্চ একাচৈব প্রদক্ষিণা।
অকালে দর্শনং বিষ্ণোন্তি পুণ্যং পুরাকৃতং ॥৫০।
অতঃপর দ্বাদশী ভিন্ন সমস্ত তিথিতে তুলসী পত্র আহরণ
করিবে।
তুলসী আহরণ মন্ত্র
তুলস্যমৃতনামাসি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়া ।
কেশবার্থে চিনােমি ত্বাং বরদা ভব শােভনে ।
হৃদঙ্গসম্ভবৈঃ পত্রৈঃ পূজয়ামি যথা হরিং।
তথা কুরু পবিত্ৰাপি কলেমিলবিনাশিনি ॥
বঙ্গাৰ্থ—বিষ্ণুস্মৃতিতে,—এক হস্তে প্রণাম করিলে ও একবার
মাত্র প্রদক্ষিণ, এবং অকালে অর্থাৎ ভােজন শয়নাদি সময়ে
বিষ্ণুকে দর্শন করিলে পূৰ্ব্বজন্মের সঞ্চিত পুণ্য বিনষ্ট
হয় ॥৫০৷
* পূর্বোক্ত শ্রীনৃসিংহপুরাণোক্ত শ্ৰীমন্দির প্রদক্ষিণ মাহাত্ম্য
পাঠ করিলে বুঝা যায় যে একবার অথবা দুইবারও
শ্ৰীমন্দির প্রদক্ষিণ করিতে পারা যায়, কিন্তু শ্রীহরিভক্তি-
বিলাস-ধৃত ঐবিষ্ণুস্মৃতির প্রমাণের সহিত একবাক্য করিয়া
বুঝিতে হইবে যে পূর্বোক্ত শ্রীনৃসিংহপুরাণােক্ত বচনটী
অবৈষ্ণব ; বৈষ্ণবগণ ৪ বার শ্রীমন্দির প্রদক্ষিণ করিবে,
একবার বা দুইবার প্রদক্ষিণ করিলে অপরাধী হইবেন।
১২
ঐশ্রীগােবিন্দাচচচুড়ামণিঃ।
মােক্ষৈকহেতাে ধরণীপ্রশস্তে,
বিষ্ণোঃ সমস্ত গুরােঃ প্রিয়েতি।
আরাধনার্থং বরমঞ্জরীকং।
লুনামি পত্ৰং তুলসি ক্ষমস্ব ॥৫১
এই স্তোত্র পাঠ করিয়া শাখা ভগ্ন না হয় এইপ্রকার
যত্নে উভয় হস্তে এক একটী করিয়া পত্র অথবা সমঞ্জরী
কোমল পত্ৰযুগ্ম তুলসী তুলিবে।
ইতি প্রাতঃকৃত্যং সমাপ্তং।
বঙ্গাৰ্থ-হে শােভনে ! হে তুলসি ! অমৃত হইতে তােমার
জন্ম এবং সকল সময়েই কেশবের প্রিয়া, কেশবের পূজার
নিমিত্ত আমি তােমাকে চয়ন করিতেছি, তুমি বরপ্রদা হও।
হে পবিত্ৰাঙ্গি। হে কলিপাপবিনাশিনি! তােমার
অঙ্গসঙুত পত্ৰদ্বারা আমি যেরূপে হরির পূজা করিতে পারি,
তুমি সেইরূপ কর। হে তুলসি ! তুমি মোক্ষের একমাত্র
কারণ, পৃথিবীতে তােমার তুল্য শ্রেষ্ঠ নাই, তুমি সৰ্বগুরু
ভগবান বিষ্ণুর প্রিয়া। অতএব তাহার আরাধনার নিমিত্ত
আমি তােমার শ্রেষ্ঠ মঞ্জরী ও পত্র ছেদন করিতেছি, তুমি
ক্ষমা কয় ॥৫১
অথ পুৰ্বাহুকালকৃত্যম সূর্যোদয় হইতে ১০ দণ্ড অর্থাৎ ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পূজার মুখ্যকাল তদ্ভিন্ন কাল গেণিকাল। অথ পুজাপ্রকরণ “সামান্যার্ঘ্য নিজের বামগ্রভাগে ভুমিতে চন্দন দ্বারা একটী ত্রিকোণ-মণ্ডল দক্ষিণহস্তের মধ্যমার দ্বারা অঙ্কিত করিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা “আধারশক্তয়ে নমঃ, অনন্তায় নমঃ, কুৰ্ম্মায় নমঃ” বলিয়া কোণত্রয়ে পূজা করিয়া মধ্য- ত্রিকোণ-মণ্ডল। স্থলে “পৃথিব্যৈ নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে। পরে “ফ” বলিয়া অৰ্ঘপাত্র প্রক্ষালন করিয়া মণ্ডলের উপর বসাইয়া “নমঃ” মন্ত্রে জলপূর্ণ করিবে। পরে অঙ্কুশ-মুদ্রা দ্বারা সূৰ্যমণ্ডল হইতে “গঙ্গে চ যমুনে চৈব গােদাবরি সরস্বতি। নৰ্ম্মদে সিন্ধো কাবেরি জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু” মন্ত্রে তীর্থ আবাহন করিবে। মূলমন্ত্রে জলে
গোবিন্দানিচুড়ামণি।
জলােপরি
পান্তে ঐ জলের ছিটা নিজ শরীর ও
পূজার সম্ভারে দিবে।
ঘন্টাস্থাপনং
কামবীজ (ক্ল) উচ্চারণসহ পাত্রের উপর ঘণ্টা রাখিয়া
“এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ জয়ধ্বনি মন্ত্রমাতঃ স্বাহা” মন্ত্রে গন্ধপুষ্প
দ্বারা ঘণ্টা পূজা করিয়া বাজাইবে।
আসনপূজা
“এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্তয়ে কমলাসনায় নমঃ” বলিয়া
গন্ধপুষ্প দ্বারা আসন পূজা করিয়া বামহস্তে আসন ধরিয়া
“আসনমন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠঋষিঃ সূতলং ছন্দঃ কুৰ্ম্মো দেবতা
আসনােপবেশনে বিনিয়োেগঃ” বলিয়া যুক্তহস্তে “পৃখিত্বয়া
ধৃতা লোকা,দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা, স্বঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং
পবিত্রমাসনং কুরু” এই মন্ত্রে আসন শুদ্ধি চিন্তা করিবে।
পরে পূজার্থ আনীত পুষ্পগুলি হস্তে ধরিয়া “ওঁ পুষ্পেপুষ্পে
মহাপুষ্পে'সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে। পুষ্পচয়বকর্ণে চ জুং ফট
স্বাহা” মন্ত্রে পুষ্প শশাধন করিবে। পরে “অস্ত্রীয় ফটু”
মন্ত্রে দুই হস্তে একটী পুষ্প মর্দন পূৰ্ব্বক কর-শােধন করিয়া
বাম দিকে ফেলিয়া দিবে।
5
পাত্ৰাসনস্থাপনং
নিজের অগ্রে বামভাগে আধারের সহিত শঙ্খ অর্ধ-পাত্র
৫ গােবিন্দাচচড়ামণি। পাদ্য-পাত্র ও আচমনীয় পাত্ত সকল স্থাপন করিবে। দক্ষিণভাগে ঘৃতপ্রদীপ, বামে তৈলপ্রদীপ, এইরূপ সকল পূজার উপকরণ নিজের দৃষ্টির গম্যস্থানে স্থাপন করিবে। হস্তপ্রক্ষালনের একটি বড় পাত্র নিজের দক্ষিণে পশ্চাদ্ভাগে রাখিবে, পরে নিন্মােক্ত মঙ্গলশান্তি করিবে। মঙ্গলশান্তিঃ ওঁ ভদ্রং কর্ণেভিঃ শৃণুয়াম দেবান, ভদ্রং পশ্যেমাক্ষিভির্যজত্রাঃ। স্থিরৈরঙ্গৈস্তুষ্টংসন্তভিৰ্বশেম দেবহিতং যদায়ুঃ। স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পুষাঃ বিশ্বদেবাঃ স্বস্তি নস্তাক্ষোহরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নো বৃহস্পতিদধাত্বিতি পঠন্ ওঁ শান্তিঃ শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্মরাধনেষু শান্তিৰ্ভবত্বিতি। দ্বারদেবতা-পজা গন্ধপুষ্প দ্বারা “এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীকৃষ্ণদ্বারদেবতাডভ্যা নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে । পরে “শ্রীকৃষ্ণদ্বারদেবতাঃ ক্ষমধ্বং” বলিয়া যুক্তহস্তে ক্ষমা প্রার্থনা করিবে। বিনিবারণং। “অপসপন্তু তে ভূতাঃ যে ভূতাঃ ভুবি সংস্থিতাঃ, যে ভূতাঃ বিঘ্নকর্তারন্তে নশ্যন্ত শিবাজ্ঞয়া” মন্ত্রে এবং “অস্ত্রায় ফ”মন্ত্র দ্বারা বাম পদের গােড়ালী দ্বারা মাটীতে তিনবার আঘাত করিয়া পৃথিবীর বিপ্ন নিবারণ করিয়া অন্তরীক্ষের বিঘ্ন অপ-
৪৬
গােবিন্দাচুড়ামণিঃ।
সারিত করিবে। মূলমন্ত্র পাঠ করিয়া অাকাশের দিকে
দিব্যদৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া স্বর্গের বিসকল দূর করিবে।
গুৰ্বাদিতি।
কৃতাঞ্জলিপৰ্ব্বক বামে“শ্রীগুরুভ্যো নমঃ” “পরমগুরুভত্যা
নমঃ” “পরাৎপরগুরুভ্যো নমঃ” “পরমেষ্টিগুরুভ্যো নমঃ
দক্ষিণে “গাং গণেশায় নমঃ” অগ্রে “দূর্গায়ৈ নমঃ” পৃষ্ঠভাগে
“ক্ষেত্রপালায় নমঃ” মধ্যে “শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া প্রণাম
করিবে।
দশদিক বন্ধন।
“অস্ত্রায় ফট” মন্ত্রে (উর্দ্ধে উর্ধে) তিনটী করতালি, দিয়া
দিগ্বন্ধন ও নিজের চতুর্দিকে অগ্নিময় প্রাচীর চিন্তা করিবে।
অথ ভূতশুদ্ধিঃ
জ? হামাদিকাঃ ক্রিয়াঃ।
ভষন্তি নিস্ফলাঃ সৰ্বা যথাবিধ্যপ্যনুষ্ঠিতাঃ ॥৫২।
হরিভক্তিবিলাস ৫ম বিঃ ।
করকচ্ছপিকা মুদ্রা রচনা করিয়া দীপ কলিকার ন্যায়
জীবাত্মাকে “সােহহং” মন্ত্রে হৃৎপদ্ম হইতে শিরঃস্থিত
বঙ্গাৰ্থ—জপাদি কৰ্ম্ম যথাবিধি অনুষ্ঠিত হইলেও ভূতশুদ্ধি
করিলে কর্তার সমস্ত কৰ্ম্মই নিস্ফল হয় ॥৫২।
#সােহহং মন্ত্ৰাৰ্থ = বিভু সচ্চিদানন্দ শ্রীভগবান্ অনু-
সচ্চিদানন্দ আমি তার দাস।
।
৪৭
প্রশ্নগােগাবিন্দাচর্চনচূড়ামণিঃ।
সহস্রদল-কমলের মধ্যবর্তী পরমাত্মার নিকট স্থাপন করিবে।
তারপর ভাবিবে আমি, পরমাত্মা ভগবানের নিত্য সেবক
শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত স্বরূপ। পরে দেখিতেছি, পঞ্চভূত যে ক্রমে
সৃষ্ট হইয়াছে তাহার বিপরীত ক্রমে তামসাহঙ্কারে বিলীন
হইল। ইন্দ্রিয়গণ ও বুদ্ধি রাজসাহঙ্কারে, মন ও দেবতাগণ
সাত্ত্বিকাহঙ্কারে, তিন অহঙ্কার মহত্তত্ত্বে ও মহত্তত্ত্ব প্রকৃতিতে
লীন হইল। পরে নাভিস্থিত “খং” বায়ু বীজ উচ্চারণ দ্বারা
দক্ষিণ কুক্ষিন্থ রূক্ষ কৃষ্ণবর্ণ পাপ-পুরুষ শুষ্ক হইল এবং
হৃদয়ােখিত “রং” বহ্নি বীজ উচ্চারণ দ্বারা পাপ-পুরুষ
ভস্মীভূত হইল।
পরে সহস্রদল-কমলাবস্থিত পূর্ণচন্দ্র-মণ্ডল হইতে “বং”
বীজ উচ্চারণ দ্বারা অক্ষরাকার সুধা বর্ষণ হইয়া ভস্মীভূত
দেহ ধৌত হইয়া গেল। অতঃপর নিজ মনে চিন্তা করিবে
যে আমার একটী দিব্য দেহ হইয়াছে। ঐ অভিনব দেহে
সূৰ্য্যমণ্ডল হইতে প্রাণ শক্তি দেবী ও ইন্দ্রিয়গণ প্রবেশ
করিল। পরমাত্মা ভগবানের নিকট হইতে শ্ৰীকৃষ্ণ সেবার
উপযুক্ত দেহ পাইয়া পুনঃ হৃদয়ে আসিয়া স্থিতি লাভ
করিলাম। অনন্তর পূর্বোক্ত বিধানে প্রাণায়াম করিবে।
শ্ৰীশ্রীগুরুপূজাবিধিঃ শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অথবা ঐশ্রীনন্দনন্দনের পূজার পূর্বে শ্রীশ্রীগুরু পূজা করিতে হয়, সুতরাং প্রথমে গুরু পূজা করিবে। প্রমাণ যথা- পূজয়িষ্যংস্ততঃ কৃষ্ণমাদৌ সন্নিহিতং গুরুং। প্রণম্য পূজয়দ্ভক্ত্যা দত্ত্বা কিঞ্চিদুপায়নং ॥ রিপাণি ন পশ্যে রাজানং ভিষজং গুরুং। নােপায়নকরঃ পুত্রং শিষ্যং ভৃত্যং নিরীক্ষয়েৎ ॥৫৩৷৷ শ্রীভগবদুতে। প্রথম গুরুং পূজ্য ততশ্চৈব মমা…নং। কুৰ্ব্ব সিদ্ধিমবাপ্নোতি হন্যথা নিস্ফলং ভবেৎ। বঙ্গাৰ্থ-অনন্তর শ্রীকৃষ্ণকে পূজা করিতে উপস্থিত হইয়া অগ্ৰে সমীপবন্তী শ্রীগুরুদেবকে কিঞ্চিৎ উপহার প্রদান পূৰ্ব্বক নমস্কার করিয়া ভক্তিসহকারে পূজা করিবে। রিক্ত- হস্তে রাজা,গুরু এবং চিকিৎসকের সহিত সাক্ষাৎ করিবে না, আর উপায়ন হন্তে লইয়া পুত্র, শিষ্য ও তৃত্যকে দেখিবে ৫৩
৪৯
ঐশ্রীগোবিন্দাচচনচূড়ামণিঃ।
গুরৌ সন্নিহিতে যস্তু পূজয়েদন্যমগ্রতঃ।
স দুর্গতিমবাপ্পেতি পজনং তস্য নিস্ফলং ॥৫৪৷৷
অগস্তসংহিতায়াং
অতঃ প্রাক্ গুরুমভ্যশ্চ কৃষ্ণভাবেন বুদ্ধিমান্ ॥৫৫||
হরিভক্তিবিলাসের পূর্বোক্ত শাস্ত্র-বচনানুসারে সর্বাগ্রে
শ্রীগুরু পূজা কর্তব্য। মন্ত্রদাতা শ্রীগুরুদেবের সাক্ষাৎ
পাওয়া গেলে অভিবন্দনান্তর পাদ্য, গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা
করিবে। শ্রীগুরুদেবের অনুপস্থিতিতে অথবা তিনি প্রকট
থাকিলে সাধক শুদ্ধ বস্ত্রোত্তরীয় ধারণ করিয়া শুদ্ধাসনে
উত্তর অথবা পূৰ্বাস্য হইয়া দ্বাদশ অঙ্গে তিলক ধারণ পূৰ্ব্বক
আচমন করতঃ শ্ৰীবৃন্দাবনের যোগপীঠের শ্রীগোবিন্দজীউর
বামভাগে শ্রীগুরুদেবকে ধ্যান করিবে।
ভগবানের বাক্য।
বঙ্গাৰ্থ—প্রথমে গুরুর পূজা করিলে সিদ্ধি প্রাপ্ত হয়, তাহা
করিলে পূজার ফল হয় না। গুরু নিকটে থাকিতে যিনি
অগ্রে অন্যের পূজা করেন, তিনি দুর্গতি প্রাপ্ত হয়েন এবং
তাহার পজা বিফল হয় ॥৫৪৷৷
অগস্তসংহিতায় ।
অতএব বুদ্ধিমান ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণবােধে সর্বাগ্রে গুরু
অৰ্চনা করিবে ॥৫৫||
শ্রীশ্রীগােবিন্দার্সনচুড়ামণিঃ ।
শ্রীশ্রীগুরুধ্যানং
ব্ৰহ্মরস্থিতে পদ্মে সহস্রদলশােভিতে।
শ্রীগুরুং পরমাত্মানং ব্যাখ্যামুদ্রালসংকরং।
দ্বিনেত্রং দ্বিভুজং পীতং ধ্যায়েদখিলসিদ্ধিদং ॥৫৩৷
হরিভক্তি ৩য় বিলাস।
(১৫নং শ্লোকের টীকায় দ্রষ্টব্য)
সদাচারপ্রাপ্তধ্যানং যথা-
শশাঙ্কযুতসঙ্কাশং বরাভয়লসৎকরং।
শুক্লাম্বরধরং দেবং শুক্লমাল্যানুলেপনং ।
শিষ্যানুগ্রহসন্ধানস্মিতনিত্যযুতাননং।
শ্রীকৃষ্ণপ্রেমসেবাদিদাতরং দীনপালকং।
সমস্তমঙ্গলাধারং সৰ্বানন্দময়ং বিভুং।
ধ্যায়েৎ শ্রীগুরুদেবং তং পরমানন্দমতে ॥৫৭
বঙ্গাৰ্থ-ব্রহ্মরন্ধ্রস্থানীয় সহস্রদলকমলে পরমাত্মা স্বরূপ,
ব্যাখ্যা-মুদ্রা-শােভিত-কর, পীতবর্ণ, দ্বিনেত্র, দ্বিভুজ অখিল
মন্ত্র সিদ্ধিদাতা শ্রীগুরুদেবকে ধ্যান করিবে ॥৫৬
যাহার অঙ্গ-শােভা কোটি চন্দ্রমার ন্যায়, আনন্দ
উজ্জ্বল শ্রীহস্ত বরাভয় ভঙ্গিমাময়, পরিধানে শুক্লাম্বর, শুভ্র
জ্যোতিঃ মাল্য ও অনুলেপনে শােভমান, শিষ্যের অনুগ্রহ
ভাবনাময় নিত্য স্মিতানন দীনজন-পালক, শ্রীকৃষ্ণপ্রেম
ঐ
আগে বিশামছুক্তামণি।
উভয় ধ্যানই যােগঠস্থ শ্রীকৃষ্ণের বামভাগস্থিত গুরু
লক্ষিত হইয়াছেন। ইহার যে কোনটী করতঃ মানসিক
পূজা করিয়া পীঠে পুষ্প প্রদানপূর্বক হাত জোড় করিয়া
“হে গুরাে মর্দীয়াং পূজাং গৃহাণ” বলিয়া আবাহন করতঃ
আবাহন মুদ্রা দেখাইয়া পাষ্ঠাদি দ্বারা পূজা করিবে।
পাদ্য-পাত্র পৃথক সংস্থাপন করিয়া “সুপ্রেক্ষিতমস্তু”
মন্ত্র উচ্চারণ করতঃ পাদ্য-পাত্রকে অর্ধ-জলের দ্বারা পজা
প্ৰােক্ষণ করিয়া “এতে গন্ধপুষ্পে পাদ্যায় নমঃ” বলিয়া
সচন্দন গন্ধপুষ্প দ্বারা পজা করিয়া “এতৎ পাদ্যং
শ্রীগুরবে নমঃ” বলিয়া শ্রীগুরুদেবকে পাদ্য প্রদান করিবে ।
তৎপরে ক্রমশঃ “ইদমং ঐ শ্রীগুরবে নমঃ” “ইদমাচমনীয়ং
ঐ শ্রীগুরবে নমঃ” “ইদং স্নানীয়জলং ঐ শ্রীগুরবে নমঃ
“এষ গন্ধ ঐশ্রীগুরবে নমঃ” “এতে গন্ধে পুষ্পে ঐ
ঐগুরবে নমঃ” এইরূপে প্রত্যেক উপচার অর্পণ করিবে।
অনন্তর বায়ুকোণ হইতে ঈশানকোণ পৰ্যন্ত দক্ষিণাবর্তক্রমে
“এতে গন্ধপুষ্পে” বলিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা “শ্রীগুরুভ্যা
নমঃ, পরমগুরুভ্যো নমঃ, পরাৎপরগুরুভ্যা নমঃ, পরমেষ্টি-
গুরুভ্যো নমঃ” বলিয়া পজা করিবে। পরে পাত্রে ধূপ
প্রজ্জ্বলিত করিয়া “সুপােক্ষিতমস্তু” বলিয়া জলের ছিটা দিবে।
{
সেবাদি দাতা, অনন্ত বিশ্বের মঙ্গলাধার, সৰ্বানন্দ-মূল স্বরূপ,
বিভু সেই শ্রীগুরুদেবকে আমি ধ্যান করি ॥৫৭
আগােবিন্দাচুড়ামণিঃ। পরে “এতে গন্ধপুষ্পে ধূপায় নমঃ” বলিয়া দ্বারা ধূপের অর্চনা করিয়া “এষ ধূপঃ ঐ শ্ৰীগুরবে নমঃ” বলিয়া শ্রীগুরুদেবকে প্রদান করিবে। এইপ্রকারে দীপ প্রজ্জ্বলিত করিয়া অভক্ষণ ও অর্চনা করিয়া “এষ দীপঃ ঐ শ্রীগুরবে নমঃ” বলিয়া প্রদান করিবে । অনন্তর ত্রিকোণ-মণ্ডলােপরি অর্থাৎ জল দ্বারা ত্রিকোণ লিখিয়া তদুপরি নৈবেদ্য-পাত্র স্থাপন করিয়া আসন প্রদান পৰ্ব্বক “সুপ্রেক্ষিতমস্তু” মন্ত্রে নৈবেদ্যের উপর জলের ছিটা দিয়া “এতে গন্ধপুষ্পে সোপকরণ-নৈবেদ্যায় নমঃ” বলিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা অর্চনা করিয়া তুলসীপত্ৰযুক্ত নৈবেদ্য উত্তান বামহস্ত দ্বারা স্পর্শ করতঃ দক্ষিণ হস্ত দ্বারা জলযুক্ত শঙ্খ গ্রহণ করিয়া “এতৎ তুলসীসহিতং সােপকরণ-নৈবেদ্যং ঐ শ্রীগুরবে নমঃ” বলিয়া জলের ছিটা দিয়া শ্রীগুরুদেবকে প্রদান করিবে। পরে ধেনুমুদ্রা ও মৎস্যমুদ্রা দেখাইয়া “ঐ শ্রীগুরবে নমঃ” এই মন্ত্র দশবার নৈবেদ্যের উপর জপ করিয়া “অমৃতোপস্তরণমসি স্বাহা” এই মন্ত্র পাঠ করিয়া গুরুদেবের দক্ষিণহস্তে জলগণ্ড ষ প্রদান করিবে। পরে “প্রাণায় স্বাহা” “অপানায় স্বাহা” “সমানায় স্বাহা” “উদানায় স্বাহা” “ব্যানায় স্বাহা” এইরূপ প্রাণাহুতি জল প্রদান পৰ্ব্বক প্রাণাদি মুদ্রা প্রদর্শন করিবে পরে পানাৰ্থ জল প্রদান করিয়া কিঞ্চিৎ কাল পরে
শ্রীশ্রীগােবিন্দার্চনচুড়ামণিঃ।
৫৬
ভোজন সমাপ্তি চিন্তা করিয়া “ইদমাচমনীয় ঐ শ্রীগুরবে
নমঃ” বলিয়া আচমনীয় প্রদান করিবে। “এতৎ তাম্বুলং
ঐ শ্রীগুরবে নমঃ” বলিয়া তাম্বুল প্রদানপূর্বক পুনরায়
আচমন করিবে; অতঃপর “অজ্ঞনতিমিরান্ধস্য” ইত্যাদি
মন্ত্রে প্রণাম করিবে। প্রণাম করিয়া আজ্ঞা প্রার্থনা
করিবে।
আজ্ঞাপ্রার্থন
শ্রীগুরাে ! পরমানন্দ! প্রেমানন্দ ফলপ্রদ।
ব্ৰজানন্দপ্রদানন্দ সেবায়াং মাং নিয়ােজয়।
ইতি শ্ৰীশ্রীগুরুপূজা সমাপ্তা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
শ্রীগুরুপূজায় নৈবেদ্য অর্পণ-বিধি দুই প্রকার যথা—
(১) হরিভক্তিবিলাসের মতে প্রথমে গুরুদেবকে
নৈবেদ্য অর্পণপূর্বক গুরুপূজা সমাপ্ত করিয়া শ্রীবিগ্রহপূজা
আরম্ভ করিবে।
(২) কোন কোন পদ্ধতিতে দেখা যায় শ্রীগুরুদেবকে
নৈবেদ্য অর্পণ বাকি রাখিয়া শ্রীবিগ্রহপূজার নৈবেদ্য অর্পণ
সমাপ্ত করিয়া, ঐ প্রসাদী নৈবেদ্য শ্রীগুরুদেবকে অর্পণ
করিবে।
এইরূপ স্থলে সাধক নিজ নিজ গুরুর উপদেশানুসারে
নৈবেদ্য অর্পণ করিবে।
শ্ৰীশ্ৰীমন্মহাপ্রভুপুজা
শ্রীশ্রীনবদ্বীপ-ধ্যানং
স্বধুন্যাশ্চারুতীরে স্ফুরিতমতিবৃহৎ-কূর্মপৃষ্ঠাভগাত্র
রম্যারামাবৃতং সম্মণিকনক-মহাসদ্মসঘৈঃ পরীতং ।
নিত্যং প্রত্যালয়ােদ্যৎ-প্রণয়ভরলসৎ-কৃষ্ণসংকীৰ্ত্তনাট্যং
শ্ৰীবৃন্দাটবভিন্নং ত্রিজগদনুপমং শ্রীনবদ্বীপমীড়ে ॥৫৮৷৷
তন্মধ্যে নবচূড়-রত্নকলসং বজ্রেরত্নান্তরা-
মুক্তাদাম-বিচিত্র-হেমপটলং যদ্ভাতি রত্নাচিতং ।
দেবদ্বার-সুদৃষ্ট-মৃষ্ট-মণিরু-শােভা-কবাটান্বিতং
সচ্চন্দ্রাতপ-পদ্মরাগ-বিধু-রত্নালম্বি যন্মন্দিরং ॥৫৯৷৷
বঙ্গাৰ্থ—মনােহর সুরধুনী তীরে অতি বৃহৎ কূৰ্ম্মপৃষ্ঠের ন্যায়
গাত্র রমণীয় উপবনবেষ্টিত, মণিময় স্বর্ণময় গৃহাদি দ্বারা
পরিশােভিত, প্রতিগৃহে অহরহঃ শ্রীকৃষ্ণপ্রেম-সংকীর্তন
হইতেছে। দৃশ ত্রিভুবন নিরুপম শ্ৰীবৃন্দাবনাভিন্ন
নবদ্বীপধামকে ভজনা করি ॥৫৮||
উক্ত নবদ্বীপ মধ্যে নবচুড়া ও রত্নময় কলস শশাভিত
যে সুন্দর রত্নময় মন্দির আছে, সেই মন্দির মধ্যে হীরক,
এইগােৰিাচনচূড়ামণিঃ। তন্মধ্যে মণি-চিত্র-হেমচিতে মন্ত্রাণ-যন্ত্রান্বিতে ষটুকোণান্তর-কর্ণিকার-শিখন-শ্রীকেশরৈঃ সন্নিভে। কূৰ্মাকার-মহিষ্ঠ-যােগমহসি শ্ৰীযােগপীঠেহমুজে আকাশাপ-চন্দ্ৰপত্ৰ-বিমুলে যদ্ভাতি সিংহাসনং ॥৬॥ সিংহাসনস্য মধ্যে গৌরকৃষ্ণং স্মরেত্ততঃ। দক্ষে নিত্যানন্দরামং প্রেমানন্দ-কলেবরং । বামে গদাধরং দেবমানন্দশক্তি-বিগ্রহং দেবস্যাগ্রে কর্ণিকায়ামদ্বৈতং বিশ্বপাবনং। তদ্দক্ষিণে ভক্তব্যং শ্রীবাসং ছত্রহস্তকং। চতুর্দিষ্ণু মহানন্দময়ং ভক্তগণং তথা ॥৬১। চন্দ্রকান্ত ও নানা রত্ন দ্বারা সুশােভিত এবং মুক্তার মালা ও বিচিত্র স্বর্ণময় গৃহােপকরণযুক্ত নয়নরঞ্জন সুমার্জিত দেৰম্বার ও মণিময় সুন্দর কবাটযুক্ত এবং অতি মনােহর চন্দ্রাতপমুক্ত ও স্থানে স্থানে পদ্মরাগমণি ও নানারত্নে খচিত মন্দির আছে ঐ মন্দিরকে আমি ভজনা করি ॥৫৯ বঙ্গাৰ্থতার মধ্যে মণিখচিত স্বর্ণের দ্বারা রচিত, মন্ত্রময় যন্ত্র- যুক্ত কমলাভ্যন্তরে মণিময় কেশরযুক্ত কর্ণিকারে কূৰ্মাকার শ্রেষ্ঠ' তেজপূর্ণ যােগপীঠে একটী সুন্দর সিংহাসন আছে ॥৬০ | সিংহাসনের মধ্যে গৌরাকৃতি শ্ৰীকৃষ্ণকে স্মরণ করিবে, তাঁহার দক্ষিণে প্রেমানন্দ-কলেবর নিত্যানন্দরামকে ও ৰাম আনন্দ শক্তি বিগ্রহ জগদাধরকে, অগ্রে কিপাবনা
এগােবিৰাৰ্চনচুড়ামণিঃ।
উক্ত যোগপীঠোপরি শ্ৰীশ্ৰীমন্মহাপ্রভুর ধ্যান করিবে।
মহাজনবিরচিতং ধ্যানং
প্রতপ্তকনকপ্ৰভং বিমলপূর্ণচন্দ্রাননং
গলগ্নয়নবারিভিঃ সপদিসিক্ত ভূমিতলং।
সগন্দগিরং মুদাসকলদেবচূড়ামণিং
শচীসূতামহং ভজে করুণাসাগরনাগরং ॥৬২।
কিঞ্চ
অমল-কমল-বং গৌরমম্ভোজনেত্রং
মধুর-মধুর-হাস্যং চারু-কন্দর্প-বেশং।
শ্ৰীঅদ্বৈত ভঁহার দক্ষিণে ছত্রহস্তে দণ্ডায়মান ভক্তশ্রেষ্ঠ
শ্রীবাস এবং চতুর্দিকে মহানন্দময় ভক্তগণকে চিন্তা
করিবে ॥৬১৪
বঙ্গাৰ্থ—যাহার শ্রীঅঙ্গের কান্তি গলিত স্বর্ণের ন্যায় প্রভাযুক্ত
এবং অকলঙ্ক পূর্ণচন্দ্র সদৃশ বদন এবং যাহার নয়নদ্বয় হইতে
অবিরত প্রেমধারা বিগলিত হইয়া নিরন্তর ভূমিতলকে সিক্ত
করিতেছে এবং যিনি প্রেমানন্দ সতত যােলনাম বত্রিশ
অক্ষর মহামন্ত্র শ্রীহরিনাম গদগদ কণ্ঠে উচ্চারণ করিতেছেন
এবং যিনি সকল দেবচূড়ামণি ও করুণার সাগর, রাধাভাবে
ভাবিত নাগররাজ সেই শ্ৰীশচীনন্দনকে আমি ভজনা
করি ॥৬২।
পূমের ন্যায় যাহার বদন অতি নিৰ্ম্মল এবং যাহার
৫৭ শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চচূড়ামণি। সুর-নর-মুনিবন্দ্যং কৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রং দলিত-নটন-শক্তিং তং ভজে প্রেমমূর্তিং [৬৩৷৷ উক্ত প্রকার ধ্যান করতঃ মানসােপচারে বহিঃপূজায় বর্ণিত পদ্যাদির দ্বারা মনে মনে পূজা করিবে; পরে বহিঃ পূজা করিবে। পরে পুস্পাঞ্জলিত্রয় “ঐষ পুস্পাঞ্জলিঃ (মূলমন্ত্র উচ্চারণ পূৰ্ব্বক) শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে প্রদান করিয়া স্বর্ণাদি আসন গ্রহণপূর্বক অভ্যুক্ষণ ও পূজা করিয়া “ইদমাসনং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া আসন অর্পণ করিবে। পরে”“শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ! সহ পরিবারেণ স্বাগতং করােসি” এই বাক্যে স্বাগত মুদ্ৰাসকল দেখাইয়া স্বাগত প্রশ্ন করিয়া শঙ্খ স্থাপন করিবে। শঙ্খস্থাপনং = নিজের বাম দিকে সম্মুখভাগে চন্দনাদি দ্বারা ত্রিকোণ- মণ্ডল লিখিয়া ঐ মণ্ডলে “অস্ত্রায় ফটু” উচ্চারণপূর্বক অধরে মধুর মধুর হাস্য লাগিয়া রহিয়াছে এবং যিনি বেশ- ভূষায় কন্দর্পের ন্যায় মনােহর এবং যাহার চরণদ্বয় দেব মানব ও মুনিগণ বন্দনা করিতেছেন এবং যাহার অদ্ভুত নৃত্যশক্তি সমুদয় নটগণের নৃত্যশক্তিকে পদদলিত করিতেছে সেই প্রেমময় মূৰ্ত্তি শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রকে আমি ভজনা করি ॥৬৩ শ্রীশ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ। জল দ্বারা ধৌত শঙ্খধারকে “ওঁ আধাৱশক্তয়ে নমঃ” মন্ত্র দ্বারা স্থাপন করিয়া তদুপরি “অস্ত্রায় ফটু মন্ত্র দ্বারা ধৌত শঙ্খকে স্থাপন করিবে। পরে শঙ্খে “হৃদয়ায় নমঃ” মন্ত্র দ্বারা গন্ধপুষ্প নিক্ষেপ করিবে। পরে “ক্ষং” হইতে “অং” পৰ্য্যন্ত বিলােম-মাতৃকা অর্থাৎ ক্রমান্বয়ে উক্ত অক্ষর সকল উচ্চারণ পূৰ্ব্বক “শিরসে স্বাহা” মন্ত্রে ঐ শঙ্খকে জল দ্বারা পর্ণ করিবে। পরে “মং বহ্নিমণ্ডলায় দশকলাত্মনে নমঃ” বলিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা শঙ্খধারে বহ্নিমণ্ডলের পূজা করিবে। পরে “অং অর্কমণ্ডলায় দ্বাদশ কলাত্মনে নমঃ' বলিয়া পূৰ্ব্ববৎ শঙ্খে অকর্মণ্ডলের পজা করিবে। পরে “উং সােম- মণ্ডলায় যােড়শকলাত্মনে নমঃ” বলিয়া পৰ্ব্ববৎ শঙ্খস্থ জলে সােমমণ্ডলের পজা করিবে। পরে “ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গগাদাবরি সরস্বতি, নৰ্ম্মদে সিন্ধো কাবেরি জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু” মন্ত্র সহকারে অঙ্কুশ মুদ্রা দ্বারা অকর্মণ্ডল হইতে শঙ্খ মধ্যে তীর্থ সকলকে আবাহন করিয়া “শ্রীগৌরাঙ্গ ইহাবহ” মন্ত্রে হৃৎপন্ন হইতে শ্রীগৌরাঙ্গকে আবাহন করিয়া “শিখায়ে বষট্” মন্ত্র দ্বারা গালিনী মুদ্রা প্রদর্শন করাইবে। পরে ‘নেত্ৰাভ্যাম্ বৌষ” মন্ত্র দ্বারা ঐ জল দর্শনপৰ্ব্বক “কবচায় হুং” মন্ত্র দ্বারা অবগুণ্ঠন করিবে। পরে ঐ জলে মূলমন্ত্রের পঞ্চাঙ্গ ন্যাস করিয়া পুনৰ্বার জলে গন্ধাদি প্রদান করিয়া ধেনুমুদ্রা দেখাইয়া কুé দ্বারা অর্থাৎ “হুং” বীজ দ্বারা ঐ ৫৯ গােবিন্দচনচুড়ামণিঃ। জল স্পর্শ করিয়া সপ্রণব এবং এই অমৃত বীজ দ্বাদশ জপ করিয়া “সােমমণ্ডলায় ষোড়শকলাত্মনে নমঃ” পুনর্বার গন্ধাদি প্রদান করিয়া জলকে চক্ৰমুদ্রা দ্বারা রক্ষণ ও মংস্য মুদ্রা দ্বারা আচ্ছাদন করিয়া শঙ্খ স্পর্শ করিয়া মূলমন্ত্র অষ্টবার জপ করিবে। পরিশেষে ঐ জল প্রােক্ষণি পাত্রে কিঞ্চিৎ প্রক্ষেপ করিয়া শেষ জল দ্বারা সমস্ত অর্চন দ্রব্য ও নিজের শরীরে মূলমন্ত্র দ্বারা তিনবার প্রােক্ষণ করিবে। অথ পূজা সৰ্ব্বত্র মন্ত্র স্মরণ সহকারে “এতৎ পাদ্যং শ্রীকৃষ্ণ- চৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া চরণ লক্ষ্য করিয়া পাদ্য অৰ্পণ করিবে। “ইদমর্ফং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি স্বাহা” বলিয়া মস্তকে অর্ঘ্য প্রদান করিবে । “ইদমাচমনীয়ং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি স্বাহা” বলিয়া দক্ষিণহস্তে আচমনীয় প্রদান করিবে। “এয মধুপর্কঃশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি স্বাহা” বলিয়া মধুপর্ক মুখে অৰ্পণ করিবে। “ইদং স্নানীয়জলং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ বলিয়া স্নানার্থে জল দিবে।
ঐশ্রীগােবিন্দামচুড়ামণি “ইদং পরিধেয়বসনং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ বলিয়া বস্ত্ৰ অৰ্পণ করিবে । “এতানি সুবর্ণময়াদ্যাভরণানি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবে- দয়ামি নমঃ” বলিয়া অভিরণ পরিধান করাইবে। “এষ গন্ধঃ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া শ্ৰীঅঙ্গে গন্ধ লেপন করিবে। সচন্দন পুষ্প লইয়া “এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া পুষ্প প্রদান করিবে। সচন্দন তুলসী লইয়া “ওঁ নমস্তে বহুরূপায় বিষ্ণবে পরমাত্মনে স্বাহা” “এতৎ সচন্দন-তুলসীপত্ৰং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া তুলসী অর্পণ করিবে। পরে অঙ্গ, উপাঙ্গ ও পার্ষদ প্রভৃতির পূজা করিবে। অঙ্গপূজা নিত্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈত, শ্রীগৌরাঙ্গের অঙ্গ। অত- এব অঙ্গপূজাস্থলে শ্রীনিত্যানন্দ ও শ্ৰীঅদ্বৈতের নিম্নলিখিত ধ্যান করিয়া গন্ধ ও পুষ্প দ্বারা পজা করিবে। নিত্যানন্দপ্রভোধানং শরচ্চন্দ্ৰভ্রান্তিং স্ফুরদমলকান্তিং গজগতিং হরিপ্ৰেমোন্মত্তং ধৃতপরমসত্ত্বং স্মিতমুখং। বঙ্গর্থি-যাহার কান্তি শরচ্চন্দ্রের ন্যায় অমল, আনন্দময় গতি মত্ত মাতঙ্গের ন্যায় মনােহর, বদনচন্দ্রমা ঈষৎ হাস্যে শ্ৰপ্ৰগােবিন্দার্সনচুড়ামণি। সদাঘূর্ণমেত্রং করকলিতবৈভ্রং কলিভিং ভজে নিত্যানন্দং ভজনতরুকন্দং নিরবধি ॥৬৪৷ এইরূপ ধ্যানান্তে শ্রীমহাপ্রভুর ন্যায় নিত্যানন্দপ্রভুর পূজা করিবে। “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” স্থলে (মন্ত্রসহ) “শ্রীনিত্যানন্দায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে পূজা করিবে । শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুর ধ্যান সদ্ভালিনিযেবিতাঙ্কিমলং কুন্দেশুক্লাম্বরং। শুদ্ধস্বর্ণরুচিং সুবাহুযুগলং স্মেরাননং সুন্দরং । শ্রীচৈতন্যদৃশং বরাভয়করং প্রেমাঙ্গভূষান্বিতং। অদ্বৈতং সততং স্মরমি পরমানকৈকন্দং প্রভুং ॥৬৫|| শােভমান, নয়ন হরিপ্রেমোন্মত্ততায় ঘূর্ণায়মান, শ্রীহস্তে মােহন বেত্র, সেই কলিমলনাশক পরমসত্ত্বস্বরূপ ভজন- তরুর মূলাশয় শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুকে নিরবধি ভজন করি ॥৬৪৷৷ বঙ্গাৰ্থ—যাহার চরণকমল মধুপানে সাধুভক্তগণ আনন্দিত, পরিধানে কুন্দকুম-বিনিন্দিত শুক্লাম্বর, প্রেমময় অঙ্গ নানাবিধ ভূষণে বিভূষিত, বর্ণ বিশুদ্ধ স্বর্ণের ন্যায় উজ্জ্বল, মনােহর বাহুযুগল পরম করুণাপ্রকাশক বরাভয়প্রদ, শ্রীচৈতন্য অনুভবানন্দে মধুস্মিতানন পরমানন্দকন্দ সেই শ্রীঅদ্বৈত প্রভুকে সতত স্মরণ করি ॥৬৫৷৷
৬
ঐশ্রীগােবিন্দাচনচুড়ামণি।
ধ্যানান্তে গন্ধপুষ্প দ্বারা পূর্বোক্তভাবে (মন্ত্রসহ)
“শ্রীঅদ্বৈতায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে।
পরে উপাঙ্গ শ্রীবাসাদি ভক্তবৃন্দের গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা
করিবে।
শ্রীশ্রীবাসপণ্ডিতের ধ্যান
শ্রীগৌরাঙ্গকৃপাপাত্ৰং পণ্ডিতাখ্যং সদা শুচিং,
শুক্লাম্বরধরং গৌরং গৌরভক্তি প্রদারকং।
শ্ৰীকীর্তনে সদোন্মত্তং ধ্যায়েৎ শ্রীবাসসভমং ॥৬৬৷৷
শ্ৰীশ্রীগদাধরপণ্ডিতধ্যান
কারুণ্যৈক-মরন্দ-পদ্মচরণং চৈতন্যচন্দ্রদ্যুতিং
তাম্বুলাপণভঙ্গিদক্ষিণকরং শ্বেতাম্বরং সদ্বরং ।
বঙ্গাৰ্থ—যিনি শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপাপাত্র ও সৰ্ব্বদা শুদ্ধচিত্ত
এবং যাহার পরিধানে শুক্লবর্ণ বস্ত্র শোভা পাইতেছে, যিনি
গৌরবর্ণ এবং সকলকে শ্রীগৌরভক্তি প্রদান করিতেছেন,
শ্ৰীকৰ্ত্তনে সর্বদা প্রেমােন্মত্ত হইয়া আছেন, সেই
উত্তম সাধু শ্রীবাস পণ্ডিতকে আমি ধ্যান করি ॥৬৬৷৷
যিনি করুণার সাগর যাহার চরণদ্বয় পদ্মসদৃশ সুন্দর,
শ্রীচৈতন্যচন্দ্রের ন্যায় ঘঁহার শ্রীঅঙ্গের কান্তি এবং যাহার
দক্ষিণকর শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবকে তাম্বুল প্রদান করিতেছে
এই প্রকার ভঙ্গি প্রকাশ করিতেছেন, যাহার পরিধানে সুন্দর
শ্ৰীশ্ৰগগাবিন্দাচ্চনচূড়ামণিঃ। প্রেমানন্দতনুং সুধাস্মিতমুখং শ্রীগৌরচন্দ্রেক্ষণং ধ্যায়েচ্ছীলগদাধরং দ্বিজবরং মাধুৰ্যভূযােজ্জ্বলং ॥৬৭|| এতে গন্ধপুষ্পে “গদাধরাদি শ্রীগৌর-পার্ষদেভ্যা নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে। পরে প্রভুর অস্ত্র পূজা করিবে “এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীভগবন্নামভ্যো নমঃ” বলিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করিবে। তারপর ধূপ দান করিবে। অথ ধূপদীন তৈজসাদি পাত্রে সুগন্ধি ধূপ প্রজ্জ্বলিত করিয়া মন্ত্র স্মরণ সহকারে “ইম, ধূপং শ্রীচৈতন্যনিত্যানন্দাদ্বৈতেভভ্যা নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া দান করিবে। অথ দীপদান তৈজসাদি পাত্রে ঘতনিৰ্মিত বৰ্ত্তিকা প্রজ্জ্বলিত করিয়া “ইমং দাপং মন্ত্রস্মরণসহকারে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যনিত্যানন্দা- দৈতেভ্যো নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া শ্রীবিগ্রহের চরণে ও শুভ্র বস্ত্র শােভিত আছে, যাহার শরীর প্রেমানন্দময়, যাহার হাস্যবদন হইতে সুধা ক্ষরিত হইতেছে, যিনি শ্রীগৌর- চন্দ্রকে সতৃষ্ণনয়নে নিরীক্ষণ করিতেছেন, যাহার মাধুৰ্য্য-ভাব- রূপ অলঙ্কারে সর্বাঙ্গ সমুজ্জ্বল হইয়া রহিয়াছে, সেই দিজ, শ্রেষ্ঠ শ্রীগদাধরকে ধ্যান করি ॥৬৭|| ৬৪ শ্রীগোবিন্দাৰ্চনচূড়ামণি। চারিবার, নাভিতে দুইবার, মুখে একবার এবং সৰ্বাঙ্গ লক্ষ্য করিয়া সাতবার দীপ ঘুরাইয়া “এতৎপ্রসাদীধূপদীপে শ্রীবাসাদিগৌরভক্তবৃন্দেভ্যো নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্র স্মরণ করিয়া তাঁহাদের উদ্দেশ্যে ঘুরাইয়া রাখিয়া দিবেন। পরে নৈবেদ্য অর্পণ করিবে। নৈবেদ্যার্পণ তিন প্রভুর জন্য পৃথক পৃথক তিনখানি নৈবেদ্য রচনা করিয়া, নৈবেদ্য ও পানীয় তিনটী জলপাত্রে তুলসী প্রদান পূৰ্বক্ষ “অস্ত্রায় ফট” মন্ত্রে অভ্যুক্ষণ করিয়া চক্র মুদ্রা ঘুরাইয়া রক্ষা করিবে। পরে যং বায়ুবীজ দশবার জপ করিয়া নৈবেদ্য দোষ-শুষ্ক ভাবনা করিবে। দক্ষিণ করতলে রং অগ্নিবীজ জপ করিয়া বাম করতলে দক্ষিণ করতলের পৃষ্ঠ সংযােগ করিয়া দেখাইয়া বাম করতলে ঠং অমৃতবীজ জপ পূৰ্ব্বক দক্ষিণ করতল বাম করের পৃষ্ঠে সংযোগ করিয়া প্রদর্শন করাইয়া নৈবেদ্য অমৃতসিক্ত ভাবনা করিবে। তাল- ত্রয়ে দিগ্বন্ধনপূৰ্ব্বক রক্ষা করিয়া কবচ মুদ্রা দ্বারা অবগুণ্ঠন করিবে। মূলমন্ত্রসহ জল প্ৰােক্ষণ করিয়া সুধাময় চিন্তা করিবে এবং আটবার মূলমন্ত্র জপ করিবে। ধেনু মুদ্রা দ্বারা নৈবেদ্যকে অমৃত মনে করিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা নৈবেদ্যকে পূজা করিয়া বামহস্ত দ্বারা প্রত্যেক পাত্র স্পর্শ করতঃ এই গােবিন্দচনচূড়ামণিঃ। দক্ষিণহস্তে গন্ধপুষ্পযুক্ত জল লইয়া “এতৎ সােপকরণ- নৈবেদ্যং (মন্ত্রস্মরণ-সহকারে) শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে জল ভূমিতে ফেলিবে। দ্বিতীয় নৈবেদ্য স্পর্শ করিয়া (মন্ত্র উচ্চারণপূৰ্ব্বক) “শ্রীনিত্যানন্দায় নিবেদয়ামি নমঃ” এইরূপ তৃতীয় নৈবেদ্য (মূলমন্ত্রসহ) “শ্রীঅদ্বৈতায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া গন্ধপুষ্পযুক্ত জল ভূমিতে ফেলিবে। পরে দুই হাতে নৈবেদ্য উঠাইয়া “নিবেদয়ামি ভবতে জুষাণেদং হবিহূরে” মন্ত্রে ভক্তিপূৰ্ব্বক তিন প্রভুকে অর্পণ করিয়া “অম্বপেস্তরণমসি স্বাহা” মন্ত্রে তিন প্রভুর দক্ষিণ- হস্তে জল দিবে। নিজ বামহস্তে গ্রাস-মুদ্রা দেখাইয়া “প্ৰাণায় স্বাহা, অপানায় স্বাহা, ব্যানায় স্বাহা, উদানায় স্বাহা, সমানায় স্বাহা” মন্ত্রে যথাক্রমে প্রাণাদি পঞ্চমুদ্রা দেখাইয়া মন্ত্র উচ্চারণপূর্বক পানীয় জল নিবেদন করিবে — “ইদং সুবাসিত-পানীয়ােদকং (মূলমন্ত্রসহ) শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবে- দয়ামি নমঃ”। এইরূপ শ্রীনিত্যানন্দায় নিবেদয়ামি নমঃ, শ্ৰীঅদ্বৈতায় নিবেদয়ামি নমঃ। পরে ঘণ্টা বাজাইয়া যবনিকার বাহিরে আসিবে, কিম্বা চক্ষু মুদ্রিত করিয়া ভােজন চিন্তা সহ ১০৮ বার মূলমন্ত্র জপান্তে “অমৃতাপিধানমসি স্বাহা” মন্ত্রে তিন প্রভুর হাতে জল দিয়া “ইদমাচমনীয়ং (মূলমন্ত্রসহ) শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি স্বাহা”, “শ্রীনিত্যা- নন্দায় নিবেদয়ামি স্বাহা”, “শ্রীঅদ্বৈতায় নিবেদয়ামি স্বাহা’
গােবিন্দাচুড়ামণি।
বলিয়া আচমন প্রদান করিয়া “এতৎ তাম্বুলং (মূলমন্ত্রসহ)
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নিবেদয়ামি নমঃ”, “শ্রীনিত্যানন্দায় নিবে-
দয়ামি নমঃ”, “শ্রীঅদ্বৈতায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া তাল
পরে “এতৎ “কৃষ্ণচৈতন্যপ্ৰসাদানৈবেদ্য
শ্রীবাসাদিভক্তবৃন্দেভ্যো নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া ভক্তবৃন্দকে
নিবেদন করিবে ও পরে “এতৎ শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যপ্রসাদীতাম্বুলং
করিবে। পরে স্তব পাঠপূর্বক
শ্রীমহাপ্রভুস্তোত্রং
মােহােম্মদরসেন গােপবনিতাসিক্তেন বৃন্দাবনং
যঃ পূৰ্ব্বং জগদেকমঙ্গলমলংচক্রে ঘনশ্যামল
সােহয়ং গৌরহরিঃ সমস্তজগতীং প্রেশ্ন সমুল্লাসয়ন,
কারুণ্যেকনিকেতনং বিজয়তে গৌরােহবনীমণ্ডলে।
বার্থ—যিনি পূর্বে মােহােম্মদরসে গােপবনিতাদিগকে
অভিষিক্ত করিয়া জগতের একমাত্র মঙ্গলস্বরূপ বৃন্দাবনকে
বিভূষিত করিয়াছিলেন, সেই শ্রীকৃষ্ণই গৌরহরি গৌরমণ্ডল
প্রেমরসে বিশ্ব উল্লাসিত, করিয়া সদা জয়যুক্ত হইতেছেন।
বিকশিত কদম্বকুসুমের ন্যায় পুলকপুঞ্জে অত্যুজ্জ্বল, মুক্তা-
মালার দায় অবিরাম ঝর ঝর অশ্রু শােভায় শোভমান
গােবিন্দাচচুড়ামণিঃ। কদম্বকুসুমেল্লিসৎ-পুলকপুঞ্জ-পুঞ্জোজ্বলং ঝলঝলদিতি স্থল নয়নবারিভিঃ নিঝরং বয়ং দমদমায়িতে হৃদি দরফুরম্মাধুরী মধুদ-মহানটং কিমপি ধাম বন্দামহে ॥৬৮। নিত্যানন্দস্তোত্রং মিহিরমণ্ডল, শ্রবণে কুণ্ডল, গগনমণ্ডলে দোলিতং কিরে নিরুপম মলতার দাম, অঙ্গে অনুপমশােভিতং। মধুর মধুমদে, মমধুকর, চারু চৌদিকে চুম্বিতং জয়তি জয় বজাহ্নবাপ্রিয় ! দেহি মে স্বপদান্তিকং ॥৬৯|| শ্ৰীঅদ্বৈত-স্তোত্রং মুহুর্মুহুঃ কৃষ্ণ কৃষ্ণ উচ্চৈঃস্বরে গায়তং । অহে নাথ জগত্ৰাতঃ মম দৃষ্টিগোচরং । মাধুৰ্য্য রসােন্মাদনায় নৃত্যশীল অনির্বচনীয় পরমাশ্রয়কে বন্দনা করি ॥৬৮| বঙ্গাৰ্থ—যাহার কর্ণের কুণ্ডল বিশাল গগনে নিৰ্ম্মল চঞ্চল চন্দ্র- বিম্বের ন্যায় শোভমান, শ্রীঅঙ্গে মালতী মালার শােভা অতুলনীয় মধুর মধু মত্ততায় মত্ত ভ্রমরকুল চারু চুম্বনে চতুর্দিকে আসক্ত সেই বস্তুজাহ্নবাপ্রিয় প্রভু সদা জয়যুক্ত হইতেছেন। হে প্রভু নিত্যানন্দ! তােমার চরণপয়ে স্থান দাও ৬৯ গােবিন্দাচ্চচুড়ামণিঃ। দ্বিভুজ করুণানাথ দীয়তাং সুদর্শনং সীতানাথাদ্বৈত-চরণারবিন্দভাবনং ! দীন-হীন-নিন্দকাদি-প্রেমভক্তি-প্রদায়কং সর্বদাতঃ সীতানাথ শান্তিপুর-নায়কং। রাগ-রঙ্গ-সঙ্গদোষ-কৰ্ম্মযোগ-মােক্ষণং সীতানাথাদ্বৈত-চরণারবিন্দ-ভাবনং ॥৭॥ শ্ৰীশ্ৰসাৰ্বভৌমভট্টাচাৰ্য-বিরচিতং স্তোত্রং বঙ্গার্থ—যে শ্রীঅদ্বৈত প্রভু বারংবার হে কৃষ্ণ! হে কৃষ্ণ! বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে গান করিতেছেন এবং হে জগৎত্রাণকারি হে নাথ ! আপনার দর্শন অতি মনােহর, আপনি দ্বিভুজ ও করুণাময়, আপনি আমার দৃষ্টিপথের গােচর হউন বলিয়া রোদন করিতেছেন সেই সীতানাথ অদ্বৈত-চরণারবিন্দ ভাবনা করি। সর্বদা কৃপা করিয়া শ্রীকৃষ্ণপ্রেমভক্তি দান করিতেছেন এবং যিনি শান্তিপুর-নায়ক ; ও বিষয়ানু- রাগ, কুসঙ্গ দোষ, এবং কর্মবন্ধন হইতে জীবগণকে মুক্তি- দান করিতেছেন সেই সীতানাথ অদ্বৈত প্রভুর শ্রীচরণারবিন্দ আমি ভাবনা করি ॥৭০ যিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যরূপে ভক্তরূপ, নিত্যানন্দরূপে ভক্তস্বরূপ, শ্ৰীঅদ্বৈতাচাৰ্য্যরূপে ভক্তাবতার, শ্রীবাসাদিরূপে শ্রীগােবিন্দাজ্জনচূড়ামণিঃ। শ্ৰীশ্ৰীমন্মহাপ্রভুর প্রণাম পঞ্চতত্ত্বাত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপস্বরূপকং ভক্তাবতারং ভক্তাখ্যং নমামি ভক্তশক্তিকং ॥৭॥ ইতি শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভুপূজা সমাপ্তা। সেই ভক্তসঙ্গক, এবং শ্রীগদাধরাদিরূপে ভক্তশক্তিক, কৃষ্ণকে প্রণাম করি ॥৭১৷ ইতি শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভুপূজা সমাপ্তা।
অথ শ্রীশ্রীগােবিন্দপূজা। সামান্যার্ঘ্য, ঘণ্টাস্থাপন, অসনপূজা, পাত্ৰাসন-স্থাপন, মঙ্গলশান্তি, দ্বারদেবতাপূজা, বিনিবারণ, গুৰ্বাদিতি, দশদিগবন্ধন, ভূতশুদ্ধি, শস্থস্থাপন, প্রাণায়াম, এই বারটি শ্রীগুরু পূজার পূর্বে সন্নিবেশিত হইয়াছে। তারপর নিম্নলিখিত ক্রিয়াগুলির অনুষ্ঠান করিতে হইবে যথা— অথ ঋষ্যাদি স্মরণং অষ্টাদশার মন্ত্র শ্রীনারদ ঋষি গায়ত্রী ছন্দঃ । সকললােক-মঙ্গলনন্দতনয়াে দেবতা ক্লা বাজং স্বাহা শক্তিঃ কৃষ্ণঃ প্রকৃতি-দুর্গাধিষ্ঠাতৃদেবতাহভিমতার্থে বিনিয়োেগঃ। অন্যাসঃ যথা ক্লা কৃষ্ণায় হৃদয়ায় নমঃ, গােবিন্দায় শিরসে স্বাহা, গােপীজনশিখায়ৈ বষট, বল্লভায় কবচায় হুং, স্বাহা করতল- পৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রীয় ফট। অথ করন্যাসঃ যথা ক্লী কৃষ্ণায় অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ, গােবিন্দায় তর্জনীভ্যাং স্বাহা, গােপীজনমধ্যমভ্যিাং বষটু, বল্লভায় অনামিকাভ্যাং ৭১ গেৰিানচুমষ্টি। হুং, সাহা কনিষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট। পরে সমস্ত অষ্টা দশার মন্ত্র পাঠ করিয়া মস্তক হইতে পাদদেশ পর্যন্ত দুই হস্ত দ্বারা তিনবার ব্যাপক ন্যাস করিবে। অর্থ মন্ত্রায় অক্ষরন্যাশ। মস্তকে “ক্লী নমঃ”। ললাটে “কৃং নমঃ”। জ্ব মধ্যে “ফাং নমঃ”। দক্ষিণ কর্ণে “অং নমঃ”। বাম কর্ণে “গাে নমঃ। দক্ষিণ নেত্রে “বিং নমঃ”। বাম নেত্রে “লাং নমঃ। দক্ষিণ নাসায় মুং নমঃ। বাম নাসায় গােং নমঃ”। মুখে “পং নমঃ। কণ্ঠে “জং নমঃ। হৃদয়ে নং নমঃ। নাভিতে ‘বং নমঃ”। দক্ষিণ কটিতে “লং নমঃ”। বাম কটিতে “ভাং নমঃ”। গুহে “য়ং নমঃ”। জানুৱয়ে “সাং নমঃ সাং নমঃ”। পদদ্বয়ে হাং নমঃ হাং নমঃ”। অথ ঋষ্যাদি-ন্যাসঃ মস্তকে অষ্টাদশাক্ষর-মন্ত্র “শ্রীনারদায় ঋষয়ে নমঃ মুখে গায়ত্ৰ ছন্দসে নমঃ হৃদয়ে “সকললােকমঙ্গল- @ময়তনয়ায় দেবতায়ৈ নমঃ” দক্ষিণস্তনে ক্লা বজায় নমঃ” বামশুনে “সাহায়ৈ শক্তয়ে নমঃ পুনঃ হৃদয়ে “কৃষ্ণায় প্রতয়ে নমঃ পুনঃ হৃদয়ে দুর্গায়ৈ অধিষ্ঠাতৃদেবতায়ৈ নমঃ” দশার মতে, মস্তুকে-দশাক্ষরমন্ত মুখে “ বিট } ૧૨ শ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ। ছন্দসে নমঃ” এই মাত্র বিশেষ। যাঁহারা দশারমন্ত্রে দীক্ষিত তাঁহারা নিম্নলিখিত অন্যাস, কন্যাস ও অক্ষর- স্যাস করিবেন। দশাক্ষরমন্ত্রস্য অন্যাসঃ “আচক্ৰায় স্বাহা” হৃদয়ায় নমঃ। ‘বিচক্ৰায় স্বাহা” শিরসে স্বাহা। “সুচক্ৰায় স্বাহা” শিখায়ৈ বষট্। “ত্রৈ- লােক্যরক্ষাচক্ৰায় স্বাহা” কবচায় হুং। “অসুরান্তকচক্রায় স্বাহা” করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফটু। দশাক্ষরমন্ত্রস্ত করন্যাসঃ “আচক্ৰায় স্বাহা” অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ। “বিচক্ৰায় স্বাহা” তর্জনীভ্যাং স্বাহা। “সুচক্ৰায় স্বাহা” মধ্যমাভ্যাং বষট ত্রৈলােক্যরক্ষাচক্ৰায় স্বাহা” অনামিকাভ্যাং হুং। “অসুরান্তকচক্ৰায় স্বাহা” কনিষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রীয় ফট। তারপর সমস্ত দশাক্ষরমন্ত্র পাঠ করিয়া পূর্বোক্তপ্রকারে ৩ বার ব্যাপক ন্যাস করিবে। দশারমন্ত্রের অক্ষরন্যাস বিধিবিশেষ গােং হৃদয়ায় নমঃ। পীং শিরসে নমঃ। জং শিখায়ৈ নমঃ। নং কবচায় নমঃ। বং অস্ত্রায় দশদিগভ্যো নমঃ। ব্লং দক্ষিণপাশ্বায় নমঃ।, ভাং বামপাশ্বায় নমঃ। য়ং কট্যৈ নমঃ। স্বাং পৃষ্ঠায় নমঃ। হাং মস্তকায় নমঃ। !
শ্রীশ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণি। মুদ্ৰাপ্রদর্শন পরে বেণু, বনমালা, ঐবৎস, কৌস্তুভ ও বিমুদ্রা প্রদর্শন করাইবে। ( উপরোক্ত মুদ্রাগুলি মুদ্রাকরণে দ্রষ্টব্য) শ্রীনন্দনন্দন-ধ্যানবিধিঃ। অথ প্রকটসৌরভােগলিত মাধ্বিকোৎফুল্লসৎ- প্রসূন-নবপল্লবপ্রকরনম্রশাখৈ মৈঃ। প্রফুল্লনবমঞ্জরীললিতবল্লরীবেষ্টিতৈঃ। স্মরেচ্ছিশিরিতং শিবং সিতমতিস্তু বৃন্দাবনং। বিকাশিসুমনােরসাস্বাদনমঞ্জুলৈঃ সঞ্চর- চ্ছিলিমুখখাগতৈৰ্ম্ম খরিতান্তরং ঝতৈঃ কপােতশুকশারিকা-পরভৃতাদিভিঃ পত্রিভি- ৰ্বিরাণিতমিতস্ততে ভুগশক্রনৃত্যাকুলং। ৫ 1 বঙ্গার্থ—ব্রজধাম কল্যাণদায়ক। তাহাতে বিবিধ তরু- সকল বিরাজিত অতএব এই পবিত্র স্থান অতীব সুশীতল। উক্ত বৃক্ষগণের শাখাগুলি উপযুক্ত সুগন্ধে পরিপূর্ণ এবং মধুস্রাবি আর বিকসিত উত্তম পুষ্পের ও নুতন পল্লব সমুহের ভারে নত হইয়া প্রস্ফুটিত নূতন মঞ্জরী দ্বারা শােভিত লতাগণ উহাদিগকে আবেষ্টন করিয়া রহিয়াছে। ভ্রমর- সমূহ প্ৰটিত কমের মধ পান করতঃ চতুর্দিকে ভ্রমণ ৭৪ গােবিন্দাচনকূড়ামণিঃ। কলিন্দদুহিতুশ্চলল্লহরিবিষাং বাহিভি- ৰ্বিনিড্রেসরসীরুহােদর-রজশ্চয়ােদ্ধ সরৈঃ। প্রদীপিতমনােভবব্রজবিলাসিনীবাসসাং। বিলােলনবিহারিভিঃ সততসেবিতং মারুতৈঃ প্রবালনবপল্লবং মরকতচ্ছদং বজমৌক্তিক- প্রকরকোরকং কমলরাগ-নানা-ফলং। স্থবিষ্ঠমখিলঞ্জুভিঃ সততসেবিতং কামদং। করিতেছে এবং রস আস্বাদন সময়ে মুখ হইতে উথিত ঝঙ্কারে বৃন্দাবন আমােদে পূর্ণ হইয়াছে, কপােত শুক শারিকা, কোকিলগণ সর্বদা ধ্বনি করিতেছে, চতুর্দিকে ময়ূরবৃন্দ নৃত্য করিতেছে। যমুনা নদীর তরঙ্গের জলবিন্দু প্রবহনশীল শীতল প্রস্ফুটিত পদ্মের রেণুদ্বারা ধূসরবর্ণ বিশিষ্ট ও উত্তেজিত কামাতুর গােপসুন্দরগণের বস্ত্র কম্পনকারী বায়ু, ধীরে ধীরে বৃন্দাবনে সর্বদা খেলা করিতেছে। উক্ত ব্রাধামে কল্পতরু চিন্তা করিবে। ঐ বৃক্ষের প্রবাল নূতন পল্লব। উহার পত্র, নীলকান্তমণি। হীরক মুক্তা- গুলি উহার কলিকা; পদ্মরাগমণি তাহার নানা প্রকার ফল। বৃক্ষ অতি স্কুল ও উন্নত। অভীষ্ট ফল প্রদান করিতে পারে। ষড় ঋতুর সকল সময়ে উহাকে সেবা করিতেছে অর্থাৎ সকল কালেই ষড় ঋতুর পুপ বিক পর পপির বক্তি নিরালসভাবে চূড়ামণিঃ তদন্তরপি কল্পকাঙ্ িপমুদঞ্চিতং চিন্তয়েৎ সুহেমশিখরাবলেরুদিত-ভানুরদ্ভাস্বরা মধধহস্য কনকস্থলীমমৃতশীকরাসারিণঃ । প্রদীপ্তমণিকুট্টিমাং কুসুমরেণুপুঞ্জোজ্বলং। স্মরেৎ পুনরতল্লিতে বিগতষটতরঙ্গাং বুধঃ ॥৭২৷৷ বৃন্দাবনে কল্পবৃক্ষের তলদেশে মনােহর সময় ভূমিতে চিত্র-বিচিত্র মণিদ্বারা নির্মিত, অদ্ভুত, অনির্বচনীয় এবং মন প্রাণকে আকর্ষণকারী চতুদ্বারযুক্ত মণিমণ্ডল চিন্তা করিবে, তাহার নিয়ে যােগপীঠের চিন্তা করিবে। যােগপীঠঃ যথা : তদ্ৰত্নকুটিম-নিবিষ্টমহিষ্ঠ-যােগ- পীঠেহষ্টপত্ৰমরুণং কমলং বিচিন্ত্য। রত্নময়ী ভূমি চিন্তা করিবে। . রত্নময় শৃঙ্গের শ্রেণীর নিকটে সূৰ্য্যদেব উদিত হইলে যেরূপ শােভা বিস্তীর্ণ হইয়া থাকে উক্ত ভূমির দীপ্তিও তদ্রুপ। সুবর্ণে নির্মিত ভূমিদেশ জ্বলিতেছে। পুষ্পগুলির রেণু পতিত হওয়াতে ভূমি উদ্ধ লিত দেখায়। সংসারের ছয় তরঙ্গ অর্থাৎ শােক, মােহ, জ্বরা, মৃত্যু, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, উক্ত স্থানে থাকিতে পারে না ॥৭২৭ বঙ্গাৰ্থ—উক্ত মণিমণ্ডপের মধ্যস্থিত রত্নময়কুটিমে একটা যোগাসনে রক্তবর্ণ একটী অষ্টদল কমল চিন্তা করিবে।
৬ এ গােবিন্দাচমচুড়ামণিঃ। উদ্যঘিরােচন-সরোচিরমুষমধ্যে সঞ্চিস্তয়েৎ সুখনিবিষ্টমথাে মুকুন্দং ॥৭৩৷৷ সুখে বাস যথা—সম্মােহনতন্ত্রে শিব বলিতেছেন, দুই হস্তে বেণু ধারণ করিয়া শ্রীমুখে যােজনা করতঃ সম্যক্- রূপে ত্রিভঙ্গ হইয়া শ্ৰীমতী রাধিকাকে বামে লইয়া স্থাবর জঙ্গম সকলের মন আকর্ষণ করতঃ মােহন বেণু বাজাই- তেছেন এইরূপে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণকে চিন্তা করিবে। যােগপীঠস্থ রক্তকমলের প্রধান অষ্টদলে শ্রীললিতাদি প্রধান অষ্ট সখীকে চিন্তা করিবে। প্রধানষ্টদলেষেবমষ্টো ললিতাদয়ঃ। রাধাকৃষ্ণসুখামােদা সেবােপায়নপাণয়ঃ । সবৃন্দাষত্নতােধ্যেয়ান্তাদৌ-ললিতােভরে। ঐশান্যেতু বিশাখৈন্দ্রে চিত্রেলেখিকাগেয়ে। যাম্যে চম্পকবল্লীচ নৈঋতে রঙ্গদেবীকা। পশ্চিমে তুঙ্গবিদ্যাথ সুদেবী বয়বে তথা ॥৭৪৷ প্রাতঃকালীন উদিত রবির ন্যায় প্রভাশালী উপবিষ্ট গ্রীকৃষ্ণকে তাহার মধ্যভাগে সুখে অবস্থিত আছেন ইহ ভাবনা করিবে ॥৭৩ বঙ্গাৰ্থ—যুগলকিশোর বিরাজিত পথের উত্তরদিক্স্থিত দলে ললিতা দেবীকে, ঈশানকোণস্থ দলে ঐবিশাখা দেবীকে, গােবিন্দ চুড়ামণিঃ । ব যােগপীঠস্থ প্রধান সখীগণের অনুগতা মঞ্জরীগণকে যােগপীঠ কমলের উপদলে চিন্তা করিবে । অথাষ্টেপদলেষেবমনঙ্গমঞ্জরীমুখাঃ। সথা যত্নতত ধ্যেয়াস্তস্রোত্তরদলদ্বয়ে। অনঙ্গমঞ্জরী, তস্যা বামে মধুমতী মতা পূৰ্বয়েবিমলা বামে শ্যামলা দক্ষিণে দ্বয়ে। পালিকামঙ্গল। বারুণয়াের্ধন্যাচ তারকা ॥৭৫|| উক্ত কমলের কেশরের পার্শ্বস্থ উপদলে প্রধানা মঞ্জরী- গণের অনুগতা, মঞ্জরীগণকে চিন্তা করিবে। পূৰ্বদিক্স্থিত দলে চিত্রাদেবীকে, অগ্নিকোণস্থ দলে ইন্দু- লেখা দেবীকে, দক্ষিণদিক্স্থিত দলে চম্পকলতা দেবীকে, নৈঋতকোণস্থ দলে রঙ্গদেবীকে, পশ্চিমদিক্স্থিত দলে তুঙ্গ- বিদ্যা দেবীকে, এবং বায়ুকোণদিকস্থিত দলে সুদেবীকে ধ্যান করিবে ॥৭৪৷৷ ( উক্ত সখীগণের বর্ণ, রূপ, বয়স, বস্ত্রাভরণাদি ও কুঞ্জ- সেবা শ্রীকৃষ্ণের প্রথমাবরণ পূজায় দ্রষ্টব্য) বঙ্গাৰ্থ—উক্ত কমলের উত্তরস্থ উপদলে অনঙ্গমঞ্জরী, ঈশান- কোণস্থ উপদলে মধুমতী, পূৰ্ব্বদিক্স্থিত উপদলে পালিকা- মঞ্জরী, নৈঋতকোণস্থ উপদলে মঙ্গলামঞ্জরী, পশ্চিমদিক্স্থিত উপদলে ধন্যামঞ্জরী এবং বায়ুকোণস্থ উপদলে তারকামঞ্জরীকে চিন্তা করিবে ॥৭৫
-
গােবিন্দালিচুতামণিঃ।
অকিঞ্জল্ফপার্শ্বস্থা সর্বদা সেবনােকা
প্রিয়নৰ্মসখীধ্যায়েৎ কৃষ্ণদক্ষিণতঃ ক্ৰমাৎ।
লবঙ্গমঞ্জরীং রূপমঞ্জরীং রসমঞ্জরীং
গুণরত্যুত্তরে নাম মঞ্জৰ্যে ভদ্রমঞ্জরীং
লীলামঞ্জরিকাঞ্চৈব বিলাসমঞ্জরীং তথা
কস্তুরীমঞ্জরীঞ্চান্যাং মঞ্জৰ্যো কেলিকুয়াের।
মদনাশােকমঞ্জৰ্যে মঞ্জুলালীং সুধামুখীং
পদ্মমঞ্জরিকামে যােড়শ প্রবরাম ॥৭৬||
বঙ্গাৰ্থ-শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের দক্ষিণ দিকের দল হইতে
মঞ্জরীগণকে ধ্যান করিবে। দক্ষিণস্থ দলে লবঙ্গমঞ্জরী ও
রূপমঞ্জরী, নৈঋতকোণস্থ দলে রসমঞ্জরী ও গুণমঞ্জরী
পশ্চিমদিক্স্থিত দলে রতিমঞ্জরী ও ভদ্রমঞ্জরী, বায়ুকোণস্থ দলে
লালামঞ্জরী ও বিলাসমঞ্জরী, উত্তরস্থ দলে কস্তুরীমঞ্জরী ও
কেলীমঞ্জরী, ঈশানকোণস্থ দলে কুমঞ্জরী ও মদনমঞ্জরী,
পূৰ্ব্বদলে অশোকমঞ্জরী ও মজুনালী মঞ্জরী এবং অগ্নিকোণ
দলে সুধামুখীমঞ্জরী ও পদ্মমঞ্জরীকে চিন্তা করিবে। ঐসকল
মঞ্জরীগণের অনুগত হইয়া নিজ নিজ গুরূপদেশানুসারে
প্রাপ্ত সিদ্ধদেহ অন্যাভিলাষ-শূন্য হইয়া শ্রীরাধামাধবের সুখের
জন্য মন প্রাণ অর্পণ করিয়া কায়মনােবাক্যে নিরন্তর সেবা
করিবে ॥৭৬৷৷
.
শ্রীগােবিন্দচনচুড়ামণিঃ।
এইরূপ সখীমঞ্জরী পরিবেষ্টিত কর্ণিকার মধ্যে শ্রীমতী
রাধাকে বামে লইয়া বিরাজিত ভগবান শ্রীনন্দনন্দনকে ধ্যান
করিবে।
শ্রীকৃষ্ণস্য ধ্যানং
সৎপুণ্ডরীকনয়নং মেঘাতং বিদ্যুদাম্বরং
দ্বিভুজং মৌনমুদ্রাঢ্যং বনমালিনমীশ্বরং।
গােপ-গােপ-গবাবীতং সুরমতলায়ং
দিব্যালঙ্করণােপেতং রক্তপঙ্কজমধ্যগং।
কালিন্দীজলকল্লোলসঙ্গিমারুসেবিতং
চিন্তয়ংশ্চেতি তং কৃষ্ণং মুক্তো ভবতি সংস্কৃতেঃ ॥৭৭৪
অথচ্চ
স্মরেন্দাবনে রম্যে মােহয়ন্তমনাবৃতং ।
গােবিন্দং পুণ্ডরীকাক্ষং গােপকন্যাঃ সহস্রশঃ ॥
বঙ্গাৰ্থ—প্রস্ফুটিত কমলতুল্য নয়ন, মেঘের ন্যায় কান্তিবিশিষ্ট,
বিদ্যুতের ন্যায় পীতবস্ত্র পরিধান, দ্বিভুজ, মৌনমুদ্রা-সমন্বিত,
বনমালী ঈশ্বর, গােপগােপী গাে-সমূহের দ্বারা পরিবেষ্টিত,
কল্পতরুর তলে উপবিষ্ট, দিব্যাভরণভূষিত, রক্তকমলের
মধ্যে অবস্থিত যমুনা সলিলের তরঙ্গ সম্পর্কিত পবন দ্বারা
সেকিত ঈদৃশ রূপবিঁশিষ্ট শ্রীকৃষ্ণকে চিন্তা করিলে সংসার
ত্তি গতি লাভ করিতে পারে এl:
৮ শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চনচূড়ামণিঃ । আত্মনো বদনাম্ভোজপ্রেরিতাফ্লিমধুব্রতাঃ। কামবাণেন বিবশাশ্চিরমাশ্লেষণােৎসুকাঃ । মুক্তাহারলসৎপীনােঙ্গস্তনভারাণতাঃ। শুধর্মিল্লবসনা মদস্খলিতভাষণাঃ। দন্তপর্ভূক্তিপ্রভােদ্ভাসিম্পন্দমানাধরাঞ্চিতাঃ । বিলােভয়ন্তীর্বিবিধৈর্বিভ্রমৈৰ্ভাবগভিতৈঃ ॥৭৮৷ অন্যচ্চ ফুল্লেন্দীবরকাস্তিমিন্দুবদনং বাবতংসপ্রিয়ং শ্রীবৎসঙ্কমুদারকৌস্তুভধরং পীতাম্বরং সুন্দরং। বঙ্গাৰ্থ-সহস্র সহস্র ব্রজবধূ কৃষ্ণ-বদনকমলে নিজ নিজ নয়ন ভ্রমর নিযুক্ত করিয়াছেন, কামবাণে বশীভূত হইয়া প্রগাঢ় আলিঙ্গনে উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, মুক্তাহারে বিভূষিত শােভ- মান উন্নত স্থূল কুচভারে নত হইয়াছেন, যাহাদিগের কেশ বন্ধন বিগলিত হইয়াছে, মত্ততা-প্রযুক্ত বাক্য স্খলিত, প্রফুল্পিত দন্তশ্রেণীযুক্ত অধরে শােভিত শৃঙ্গারাদি ভাবগর্ভ বিভ্রমদ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে প্রলুব্ধ করিতেছেন, রমণীয় বৃন্দাবনে গােপবধু বিমােহনকারী পদ্মলােচন শ্যামসুন্দরকে স্মরণ করিবে ॥৭৮ বিকসিত নীলকমলের ন্যায় যাঁহার অঙ্গকান্তি, চন্দ্র সদৃশ মনোহর মুখমণ্ডল, ময়ূরপুচ্ছ-ভূষণে প্রীত, ঐবৎসচিহ্নে ।
শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চচুড়ামণিঃ। গােপীনাং নয়নােৎপলচ্চিততনুং গাে-গােপসঙ্বৃতং গােবিন্দং কলবেণুবাদনপরং দিব্যাঙ্গভূষং ভজে ॥৭৯৷৷ অন্যচ্চ। বাপীড়াভিরামং মৃগমদতিলকং কুণ্ডলাক্ৰান্তগণ্ডং। কঞ্জাক্ষং কমুকণ্ঠং স্মিতসুভগমুখং স্বাধরে ন্যস্তবেণুং। শ্যামং শান্তং ত্রিভঙ্গং রবিকরবসনং ভূষিতং বৈজয়ন্ত্যা বন্দে বৃন্দাবনস্থং যুবতীশতবৃতং ব্রহ্মগােপালবেশং ॥৮০৷ এবং বিভূষিত, কৌস্তভরত্নধারী, পীত বসন পরিধান, মনােহর ব্রজাঙ্গনগণের নেত্ৰ-কমল দ্বারা সুপূজিত দেহ, গাে ও গােপসমূহ পরিবেষ্টিত, অব্যক্ত মধুর ধ্বনি-সমন্বিত বেণু বাদন-পরায়ণ দিব্যাঙ্গভূষাধারী শ্ৰীগােপীজনবল্লভ শ্রীগােবিন্দকে ভজনা করি ॥৭৯ বঙ্গাৰ্থময়ূরপুচ্ছের চূড়া, কস্তুরীর তিলক, উভয় কর্ণের সুন্দর কুণ্ডল দ্বারা দুই গণ্ড সুশােভিতরূপে আক্রান্ত, কমল- নয়ন, শঙ্খের ন্যায় ত্রিরেখা-সমন্বিত কণ্ঠ, মধুময় হাসিতে বদন সুশােভিত, অধরে বেণু, বৈজয়ন্তী মালা দ্বার ভূষিত, শ্যামল, শান্ত, ত্রিভঙ্গ, পীতাম্বর, শত শত ব্রজ যুবতী কর্তৃক বৃত, যিনি বৃন্দাবনস্থিত গোপালবেশী ব্রহ্ম সেই শ্রীকৃষ্ণকে আমি প্রণাম করি ॥৮॥ :
২ শ্রীগােবিন্দাচচুড়ামণিঃ। শ্রীশ্রীনন্দনন্দন সৰ্বাঙ্গবর্ণনধ্যানং সূত্রামরত্নদলিতাঞ্জনমেঘপুঞ্জং। প্রত্যগ্রনীলজলজন্মসমানভাসং। সুস্নিগ্ধনীলঘনকুঞ্চিতকেশজালং। রাজন্মনােশিতিকণ্ঠশিখচূড়ং ॥৮১ রােলম্বলিতরমপ্রসূনকল্পি- তােভংসমুৎকচ নবােৎপলকর্ণপূরং। লােলালকস্ফুরিতভালতলপ্রদীপ্ত। গােরােচনা-তিলকমুচ্চলচিল্লিমালং ॥৮২। অপূর্ণশারদগতাশশাঙ্কবিম্ব- কান্তাননং কমলপত্রবিশালনেত্রং। বঙ্গাৰ্থভঁহার কান্তি, নীলকান্ত মণি, মর্পিতাঞ্জন, মেৰপুঞ্জ এবং নূতন নীল-পদ্মের সদৃশ এবং তাহার কেশজাল সুচিক্কণ কৃষ্ণবর্ণ, ঘন ও আকুঞ্চিত তাঁহার চূড়ায় মনোেহর ময়ূরপুচ্ছ শােভা পাইতেছে ॥৮১৷ তিনি, ভ্রমরকুলসেবিত কল্পবৃক্ষ প্রসূন-বিরচিত- আভরণ ধারণ করিয়াছেন। বিকসিত নব উৎপল তাঁহার কর্ণভূষণ, আর, চঞ্চল-অলক দ্বারা সুশোভিত তদীয় ললাট- মগুলে গােয়ােচনা বিরচিত্ত তিলক দাপ্তি পাইতেছে। তাহার দুই জ্বলতা নৃত্য করিতেছে ॥৮২।
গোবিন্দাচুমি মিকরকুণ্ডলরশ্মিদীপ্তি। গণ্ডস্থলীমুকুরমুন্নতচারুনাসং॥৮৩৷ সিন্দুরসুন্দরতরারমিন্দুকুন্দ মন্দারমন্দহসিতন্নতিদীপিঙ্গং। বন্যপ্রবালকুসুমপ্রয়াবক্লিপ্ত গ্রৈবেয়কোলমনােহরকমুকণ্ঠং ৮৪ মভ্রমরজুবিলম্বমান- সন্তানক প্ৰসরদামপরিক্বতাংসং। হারাবলীভগনরাজিতপীবরোরো- ব্যোমলীললিতকেভিভানুমন্তং ॥৮৫ বার্থ—তাহার মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ কলঙ্কবিহীন, শারদীয় শশাঙ্কের সদৃশ মনোহর, লােচন যুগল পদ্মপত্রের ন্যায় বিশাল, দর্পণতুল্য অর্থাৎ (নিৰ্ম্মল) গণ্ডস্থল, মণি-বিরচিত মকর কুণ্ডল দ্বারা উদ্দীপিত, নাসিকা উন্নত ও মনােহর ॥৮৩ অধর দেখিতে সিন্দুর হইতেও অধিক সুন্দর। চন্দ্র, কুল-পুষ্প ও মন্দার প্রসূন সদৃশ শুভ্র, ঈষৎ হাস্যে সৰ্বাঙ্গ উজ্জ্বলীভূত। কণ্ঠ, নব পল্লব ও পুষ্প দ্বারা বিরাজিত কণ্ঠাভরণে দীপ্তিমান ॥৮৪৷৷ দুই স্কন্ধ চঞ্চল মত ভ্রমরনিকর বিরাজিত লম্বমান কল্পকুসুমের মালায় সুশোভিত, হারাবলীরূপ তারাগণের দ্বারা 1 গােবিন্দাচচুড়ামণিঃ। বৎসলক্ষণসুলক্ষিতমুন্নতাংস- মাজানুপীনপরিবৃত্তজাতবাহুং। অবন্ধুরােদরমুদরেগভীরনাভিং ভৃঙ্গাঙ্গনানিকরমঞ্জুলয়ােমরাজিং ॥৮৬ নানামণিপ্রঘটিতাঙ্গদকঙ্কণােৰ্ম্মি- গ্রৈবেয়সারসনপুরতুবন্ধং। দিব্যাঙ্গরাগপরিপিঞ্জরিতাঙ্গযষ্টি- মাপীতবস্ত্রপরিবৃতনিতম্ববিম্বং ॥৮৭৷ চারূরুজামনুবৃত্তমনােজষ্মং কান্তোন্নতপ্রপদনিন্দিতকূৰ্গকান্তিং শােভমান তদায় বক্ষোরূপ নভোমণ্ডলে মনোহর কৌস্তুভ রূপী সূৰ্য্য দীপ্তি পাইতেছে ॥৮৫ বঙ্গাৰ্থ—শ্রীবৎস চিহ্নদ্বারা তঁাহাকে সুন্দররূপে চিনিতে পারা যাইতেছে তাহার স্কন্ধ দেশ উন্নত, বাহু যুগল জানু পৰ্য্যন্ত লম্বিত, গােলাকার পুষ্ট এবং সুন্দর। উদর আনত, নাভি- স্থল প্রশস্ত ও গভীর, রোমাবলী দেখিতে ভ্রমরী শ্রেণীর সদৃশ সুন্দর ॥৮৬৷৷ অঙ্গদ, কঙ্কন, কবচ, রসনা, নূপুর এবং কটিবন্ধনের জন্য স্বর্ণরচিত ও বিবিধ মণিগণ দ্বারা নির্মিত ডাের, দেহ দিব্য অঙ্গরাগে বিবিধ বর্ণবিশিষ্ট নিতম্ব, অতি পীত বস্ত্রে বেষ্টিত ॥৮৭ ৮ গােবিন্দাচুঙ্গামণিঃ । মাণিক্যদর্পণলসন্নখজিরাজ দ্রত্নাঙ্গুলিচ্ছদনসুন্দরপাদপদ্মং ॥৮৮|| মৎস্যাঙ্কুশারদরকেতুববাজব- সংলক্ষিতারুণকরাচ্ছি তলাভিরামং লাবণ্যসারসমুদায়বিনিৰ্মিতাঙ্গ- সৌন্দৰ্যনিজ্জিতমনোভবদেহকান্তিং ॥৮৯৷ আস্যারবিন্দপরিপূরিতবেণুরন্ধ্র- লোলং-করাঙ্গুলিসমীরিতদিব্যরাগৈঃ । বঙ্গাৰ্থ-উরু এবং জানু মনােহর, জঘ সুন্দররূপে অনুবৃত, মনােহর উন্নত পাদা গ্রভাগ, কূৰ্ম্মের আকার অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। নখরাজি মাণিক্যনিৰ্মিত দর্পণ হইতে অধিকতর শােভাশালিনী, সেই নখরাজি দ্বারা শােভমান রত্নাঙ্গুলিস্বরূপ পত্ৰ-নিকরে তঁাহার পাদপদ্ম-যুগল দীপ্তি পাইতেছে ॥৮৮ নিরতিশয় অরুণবর্ণ করতলে ও চরণতলে মৎস্য, অঙ্কুশ, চক্র, শঙ্খ, ধ্বজ, যব, পদ্ম ও বর্জ্যের চিহ্ন থাকাতে তিনি দেখিতে অতি মনােহর হইয়াছেন তাহার দেহকান্তি, লাবণ্যের সারসর্বস্ব দ্বারা বিনিৰ্মিত অঙ্গসকলের সৌন্দৰ্য্য রা, মীনকেতনের অর্থাৎ কন্দর্পের দেহকান্তি জয় করি- য়াছে ॥৮৯৷৷ অনন্তর সুখের সাগরস্বরূপ সেই শ্রীকৃষ্ণ-মুখপদ্ম 1 T ঐশ্রীগােবিগামছুক্তামনি। শশ্ব বাকৃবিকৃষ্টসমস্ত জন্তু- সন্তানসন্ততিমনন্তসুখাম্বুরাশিং ॥৯০। শ্রীকৃষ্ণকে এইরূপে ধ্যান করিয়া মনের তৃপ্তি অনুসারে প্রার্থনা করতঃ সমস্ত মানসিক উপচার দ্বারা অর্চনা করিবে। বাহপূজার বস্তুসকল পৃথক পৃথক করিয়া বলিব, রুচি অনুসারে ঐ সকল দ্রব্য মানস পূজায় ও ব্যবহার করিতে হইবে। মানসপূজা-প্রার্থনা যথা— স্বাগং দেবদেবেশ সন্নিধৌ ভব কেশব । হাণ মানস পূজাং যথার্থপরিভাবিং ॥৯১৷ • দ্বারা পরিপূরিত বংশীর রসমূহে হস্তের অঙ্গুলিনিচয় চালন করিয়া যে দিব্য রাগসকল উদগীরণ করিয়াছেন, তার যাবতীয় জন্তুর সন্তানসন্ততি অর্থাৎ বংশাবলী দ্রবীভূত ও আকৃষ্ট হইয়াছে ; উদেভারে ভারাক্রান্ত গাভাসকল মন্দ মন্দ স্খলিত গমনে আসিয়া তাহাকে বেষ্টন করিতেছে ॥৯০ | ( উপরোক্ত ধ্যান লেখা হইয়াছে তাহার মধ্যে সাধকের যে ধ্যানেতে প্রীতি ও ভালবাসা হয় সেই ধ্যানেতে শ্রীনন্দ- নন্দনের ধ্যান করিবে। কারণ প্রীতি ব্যতিরেকে শ্রীকৃষ্ণের কৃপা লাভ হয় না। কেবল শ্রীকৃষ্ণ-সুখের জন্য বাসনাশূন্য মনে এইসকল ধ্যান করিবে ) বার্থ-হে দেব দেবেশ, তােমার সুন্দর আগমন, হে কেশব,
গােবিন্দাজ্জনচূড়ামণিঃ।
উক্তপ্রকারে মানসিক পূজা করণান্তর যুক্তহস্তে প্রার্থনা
করিবে “অনুজ্ঞাং দেহি ভগব বহির্যাগে মম প্রভো!”
এইরূপ বাহপূজার আজ্ঞা প্রার্থনা করিয়া, গুরুপূজার পূর্বে
সামান্যার্ঘ্যাদি হইতে দশদিগবন্ধন পৰ্য্যন্ত সেই সমস্ত জানিবে
অর্থাৎ পুনরায় পৃথকরূপে করিতে হইবে না। শ্ৰীশ্ৰীমন্মহা-
প্রভুর পূজায় লিখিত শঙ্খপ্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ এখানে করিবে
কিন্তু “গৌরাঙ্গ ইহাবহ, ইহাবহ” স্থলে “শ্রীকৃষ্ণ ইহাবহ,
ইহাবহ” বলিবে এইমাত্র বিশেষ। তদনন্তর পীঠপূজা
করিবে।
অথ পীঠপূজা
তাম্ৰাদি-নির্মিত আসনে চন্দনাদি দ্বারা প্রথমে কর্ণিকা,
যােড়শটী কেশর, এবং আটটা দল এই প্রকারে একটা
পদ্ম অঙ্কিত করিবে। তাহার বেষ্টন স্বরূপ পর পর
তিনটী বৃত্ত দিবে। এই বৃত্তের বাহিরে চারিদিকে চারিটী
দ্বারযুক্ত একটি মণ্ডল অঙ্কিত করিবে।
ঐ অঙ্কিত
পদ্মটীকে জল দ্বারা প্ৰােক্ষণ পূর্বক পীঠ পূজা করিবে।
পীঠমধ্যস্থ ভগবানের বামভাগে বায়ুকোণ পৰ্যন্ত, ঐগুরু-
বর্গ, গুরু পাদুকা ও মারদাদি সিদ্ধগণের নাম মন্ত্রসহ গন্ধ
তুমি নিকটবর্তী হও। থাের্থরূপে পরিভাবিতা মানসী পূজা
গ্রহণ কর ॥৯॥
ঐশ্রীগােবিন্দচনচূড়ামণিঃ। পুষ্প দ্বারা পূজা করিবে। সৰ্ব্বত্র “এতে গন্ধপুষ্পে” বলিবে। শ্রীগুরবে নমঃ, পরমগুরুভ্যা নমঃ, পরমেষ্টি- গুরুভ্যো নমঃ, পরাৎপরগুরুভ্যো নমঃ, শ্রীগুরুপাদুকাপভ্যা নমঃ, শ্রীনারদাদি সিদ্ধপুরুষেভ্যো নমঃ, অন্যেভভ্যা বৈষ্ণ- বেভ্যো নমঃ, বলিয়া প্রত্যেকবার পূজা করিবে। দক্ষিণে দুর্গায়ৈ নমঃ, গণেশায় নমঃ, সরস্বত্যৈ নমঃ বলিয়া পূজা করিবে। মধ্যে আধারশক্তয়ে নমঃ, প্রকৃত্যৈ নমঃ, কূৰ্ম্মায় নমঃ, অনন্তায় নমঃ, পৃথিব্যৈ নমঃ, ক্ষীরসমুদ্রায় নমঃ, শ্বেতদ্বীপায় নমঃ, রত্নমণ্ডলায় নমঃ, কল্পবৃক্ষায় নমঃ। পরে অগ্নিকোণে ধৰ্ম্মায় নমঃ, নৈখাতে জ্ঞানায় নমঃ, বায়ু- কোণে বৈরাগ্যায় নমঃ, ঈশানে ঐশ্বৰ্য্যায় নমঃ, পূৰ্বে অধৰ্ম্মায় নমঃ, দক্ষিণে অজ্ঞানায় নমঃ, পশ্চিমে অবৈরাগ্যায় নমঃ, উত্তরে অনৈশ্বৰ্য্যায় নমঃ। পুনঃ পীঠমধ্যে অগস্ত্যায়, পদ্মায়, অং অকর্মণ্ডলায়, উং সােমমণ্ডলায়, মং বহ্নিমণ্ডলায়, সং সত্ত্বায়, রং রজসে, তং তমসে, আং আত্মনে, অং অন্তরাত্মনে, পং পরমাত্মনে, হ্রীং জ্ঞানাত্মনে। প্রথমে এতে গন্ধপুষ্পে এবং শেষে নমঃ বলিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা প্রত্যেকের পূজা অতঃপর পূৰ্বাদি অষ্টদলে বিলায়ৈ, উৎ- কৰ্ষিণ্যৈ, জ্ঞানায়ৈ, ক্রিয়ায়ৈ, যোগায়ৈ, প্রথ্যৈ, সত্যায়ৈ, ঈশানায়ৈ। পূজার পর পীঠের উপর শ্রীমূর্তি স্থাপন করিয়া ইষ্টদেবতা চিন্তাপূর্বক মূলমন্ত্রে বারত্ৰয় অর্থাৎ তিনবার করিবে।
1 এগােবিলাচনচূড়ামণিঃ। পুস্পাঞ্জলি প্রদান করিবে। “এষ সচন্দনপুস্পাঞ্জলিঃ (মূল- মন্ত্রসহ) শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ”। আসনাপণং সুবাদি-নির্মিত আসনকে শঙ্খদি শুদ্ধ জলের দ্বারা “সুপােক্ষিতমস্তু” বলিয়া অভক্ষণ করতঃ গন্ধপুষ্প দ্বারা “এতে গন্ধপুষ্পে অমুক আসনায় নমঃ” মন্ত্রে পূজা করিয়া আসন স্পর্শ পূৰ্ব্বক অথবা পুস্পাঞ্জলি গ্রহণ করতঃ “সৰ্বান্তৰ্য্যামিনে দেব ! সর্ববীজময়ায় তে। আত্মস্থায় পরং শুদ্ধমাসনং কল্পয়াম্যহম্ ॥৯২৷ এই মন্ত্রে মূলমন্ত্রসহ “ইদম্ অসন শ্রীকৃষ্ণায় নিবে- দয়ামি নমঃ” বলিয়া আসন অর্পণ পূৰ্ব্বক “শ্রীকৃষ্ণ! ইদ আসনমত্ৰাস্ততাং সুখং” এই প্রার্থনা করিবে। পচারে “সুপ্রেক্ষিতমস্তু” বলিয়া শুদ্ধ জলের দ্বারা অত্যু- ক্ষণ ও গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করিয়া মূলমন্ত্রসহ অৰ্পণ করিতে হইবে। অথ স্বাগতম যস্য দর্শনমিচ্ছন্তি দেবাঃ সৰ্বার্থসিদ্ধয়ে। তস্য তে পরমেশান সুস্বাগতমিদং বপুঃ ॥৯৩৮ বঙ্গার্থ-হে দেব তুমি সকলের অন্তর্যামী, সৰ্ব্বকারণ- কারণ, নিজ স্বরূপে স্থিত তােমাকে আমি শ্রেষ্ঠ শুদ্ধ আসন কল্পনা করিতেছি ৯২ ৭
শ্রীশ্রীগোবিন্দাচনচূড়ামণি।
এই বাক্যটী পাঠ করিয়া (মূলমন্ত্রসহ) “শ্রীকৃষ্ণ সহ
পরিবারেন স্বাগতং করােমি” এই মন্ত্রে স্বাগত প্রশ্ন করিয়া
আবাহনাদি মুদ্রা প্রদর্শন পূর্বক “শ্রীকৃষ্ণ ! ইহাগচ্ছ
ইহাগচ্ছ, ইহ সম্যক তিষ্ঠ, তিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি, ইহ সন্নিধেহি”
ইত্যাদি প্রকারে আবাহন করিবে।
অথ পাদ্যাৰ্পণ
তাম্ৰাদি পাত্রে শ্যামাক দূৰ্বা, পদ্ম, বিষ্ণুক্রান্ত জল
অথবা শুদ্ধ জল দ্বারা পাদ্য রচনা করিয়া তাহাতে জলের
ছিটা দিয়া পূজা করিয়া প্রদান করিবে। পূজিত পাছ-পাত্র
গ্রহণ করিয়া
যক্তিলেশসম্পৰ্কাৎ পরমানন্দসংপ্লব।
তস্য তে চরণাজার পাদ্যং শুদ্ধায় কল্যতে ॥৯৪||
এই মন্ত্র পাঠ করিয়া (মূলনুচ্চাৰ্য) “এতং পাদ্যং
কৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া শ্রীচরণে পাদ্য অর্পণ
করিবে।
বার্থ-হে পরমেশ্বর ! দেবতাগণ সৰ্বার্থ সিদ্ধির নিমিত্ত, যে
তােমাকে দর্শন করিতে ইচ্ছা করেন, সেই তােমার এই
বপুটীর সুস্বাগত ॥৯৩৷৷
যে তােমার চরণে, ভক্তিলেশ সম্পর্কে পরমানন্দের
উদয় হয়, সেই তােমার শুদ্ধ চরণ-কমলে আমি পা
কল্পনা করিতেছি ॥৯৪৷
Y
গােবিন্দাচচনচূড়ামণি।
অৰ্যাৰ্পণ
তিল, সর্ষপ, গন্ধপুষ্প, দূর্বা, অক্ষত, যব ও কুশাগ্রযুক্ত
জল কিম্বা কেবল জল, শঙ্খে লইয়া
তাপত্ৰয়হরং দিব্যং পরমানন্দলক্ষণ।
তাপত্রয়বিমোক্ষায় তবার্ঘ্যং কল্পয়াম্যহং ॥৯৫
বলিয়া (মূলমুচ্চাৰ্য) “ইদ অর্ঘ্যং শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি
স্বাহা” মন্ত্রে মস্তকে অর্পণ করিবে ।
আচমনীয়াৰ্পণং
জাতি, লবঙ্গ ও কল্লোলযুক্ত জল অথবা কেবল জল
শখাদি পাত্রে লইয়া
দেবানামপি দেবায় দেবানাং দেবতাত্মনে।
অচামং কল্পয়ামীশ শুদ্ধানাং শুদ্ধিহেতবে ॥৯৬
বলিয়া (মূলমুচ্চাৰ্য) “ইদমাচমনীয়ং শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি
নমঃ” বলিয়া দক্ষিণ হস্তে জল দিবে।
বঙ্গাৰ্থত্ৰিতাপহারী পরমানন্দ-স্বরূপ আপনাকে ত্রিতা
হইতে মুক্তি পাইবার জন্য এই অর্ঘ্য সমর্পণ করিতেছি ॥৯৫৷
দেবতাদিগের দেবতা ও দেবগণের আত্মা এবং আত্মার
দেবতা আপনি হয়েন, অতএব আত্মশুদ্ধির নিমিত্ত আচমনীয়
প্রদান করিতেছি ॥৯৬৷
১৫
গোবিন্দালংকাহলি।
মধুপর্কার্পণম
দুগ্ধ, চিনি, ঘৃত, মধু, দধি, জল সহ অথবা শুধু জল
কাংস্যাদি পাত্রে গ্রহণ করিয়া
সৰ্ব্বকল্মষহীনায় পরিপূর্ণসুখাত্মনে।
মধুপর্কমিমং দেব! কল্পয়ামি প্রসীদ মে ॥৯৭৷
বলিয়া, (মূলমুচ্চাৰ্য) “ইমং মধুপর্কং কৃষ্ণায় নিবেদয়ামি
স্বাহা” বলিয়া শ্ৰীমুখে দিবে।
পুনরাচমনীয়াপণং
শুদ্ধ জল শঙ্খদি পাত্রে লইয়া
উচ্ছিষ্টোপ্যশুচিৰ্বাপি যস্য স্মরণমাত্ৰতঃ।
শুদ্ধিমাপ্নোতি তস্মৈ তে পুনরাচমনীয়কং ॥৯৮l
বলিয়া মূলমন্ত্রসহ “ইদং পুনরাচমনীয়ং শ্রীকৃষ্ণায়
নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া দিবে ।
পাদুকার্পণ
হাত জোড় করিয়া “ভগব মানভূমিমলঞ্জুরু” মন্ত্রে
বঙ্গাৰ্থ—সকল পাপ হইতে রহিত পরিপূর্ণ সুখাত্মা স্বরূপ
আপনাকে এই মধুপর্ক দিতেছি, হে দেব! আপনি ইহাতে
প্রসন্ন হউন ॥৯৭]
যাহার স্মরণ মাত্রে উচ্ছিষ্ট এবং অশুচি বস্তু শুদ্ধি
লাভ করে সেই দেবকে পুনরাচমনীয় দিতেছি ॥৯৮
গােবিন্দামামনি।
বিজ্ঞাপন করিয়া পীঠ হইতে উত্থিত শ্ৰীকৃষ্ণকে “পাদুকে
নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া সাক্ষাৎ রোপ্যাদি নিম্মিত পাদুকা-
দ্বয় অথবা চিন্তা দ্বারা অৰ্পণ করিবে।
আনং
সেব্য শ্ৰীমূর্তিকে তাম্ৰাদি পাত্রে বসাইয়া কপূর, পুষ্প
ও তুলস্যাদি বাসিত জল শঙ্খে লইয়া “জয়ধ্বনিমন্ত্রমাতঃ
স্বাহা” মন্ত্রে বাম হস্তে ঘণ্টা বাজাইতে বাজাইতে
পরমানন্দবােধাক্কিনিমগ্ননিজমূৰ্তয়ে
সাঙ্গোপাঙ্গ ইদং স্নানং কল্পয়াম্যহমীশতে ॥৯৯৷
বলিয়া (মূলমুচ্চাৰ্য) “শ্রীকৃষ্ণ ! স্নানীয়জলং তে নিবে-
দয়ামি স্বাহা” মন্ত্রে স্নান করাইবে।
বস্ত্রাপণং
স্নানের পর সূক্ষ্ম বস্ত্রখণ্ডের দ্বারা শ্ৰীঅঙ্গের জল
অপসরণ করিয়া আসনে স্থাপন করিবে। পরে পরিধেয়
অভক্ষণ ও পূজা করিয়া
মায়াচিত্রপটাচ্ছন্ননিগূঢ়ারুতেজসে।
নিরাবরণ বিজ্ঞায় বাসস্তে কল্পয়াম্যহং ॥১০০ |
বার্থপরমানন্দ ও জ্ঞান সিন্ধুতে যে নিজ তোমার মূর্তি
নিময়, হে ঈশ্বর ! আমি তােমার স্থানীয় কল্পনা করিতেছি,
তুমি অঙ্গ উপাঙ্গের সহিত গ্রহণ কর॥৯৯৷
যােগমায়ারূপ চিত্রপটেতে আপনি স্বকীয় গুঢ় তেজ
--
ঐশ্রীগােবিন্দাচূড়ামণিঃ।
বলিয়া (মূলমুচ্চাৰ্য) “ইদং পরিধেয়বসনং শ্রীকৃষ্ণায়
নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া দিবে
উত্তরীয়াপণং
উত্তরীয় বসন অভক্ষণ ও পূজান্তে
যমশ্ৰিত্য মহামায়া জগৎসম্মােহিনী সদা।
তস্মৈ তে পরমেশায় কল্পয়ারায়ং ॥১০১
(মূলমুচ্চাৰ্য) “ইদমুত্তরীয়বসনং কৃষ্ণায় নিবেদয়ামি
নমঃ” মন্ত্রে প্রদান করিবে।
আভরণার্পণং
রজত কিম্বা স্বর্ণাভরণ অভ্যুক্ষণ ও পূজান্তে, রজত
হইলে “রজতাভরণায় নমঃ”, স্বর্ণ হইলে “স্বর্ণাভরণায় নমঃ”
বলিয়া অভ্যুক্ষণ ও পূজা করিবে। তৎপর আভরণকে
রয়।
স্বভাবসুরঙ্গায় নানাশক্ত্যাশ্রয়ায় তে।
ভূষণানি বিচিত্রাণি কল্পয়াম্যমরাচ্চিতম্ ॥১০২৷
আচ্ছন্ন রাখিয়াছেন এবং নিরাবরণ বিষয়ে অভিজ্ঞ যে আপনি
সেই আপনার নিমিত্ত এই বাস করুনা করিতেছি ॥১০০ |
বঙ্গাৰ্থ—যাহাকে আশ্রয় করিয়া জগৎসম্মােহিনী মহামায়া
থাকেন সেই পরমেশ্বরের উত্তরীয় কল্পনা
করিতেছি ॥১০১
হে দেবগণাৰ্চিত ! স্বাভাবিক সুন্দরাঙ্গ ও নানাশক্তির
শ্রীগােবিন্দাচচুড়ামণিঃ।
বলিয়া “ইদ রজতাভরণং” অথবা স্বর্ণ হইলে “ইদং
স্বর্ণাভরণং ( মূলমুচ্চাৰ্য) কৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ
বলিয়া দিবে।
গন্ধঃ
চন্দন, অগুরু, কপূর প্রভৃতি গ্রহণ করিয়া
পরমানন্দসৌরভপরিপূর্ণদিগন্তরং।
গৃহাণ পরমং গন্ধং কৃপয়া পরমেশ্বর ॥১০৩৷৷
বলিয়া “ইম গন্ধং (মূলমুচ্চাৰ্য) শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি
নমঃ” বলিয়া অৰ্পণ করিবে।
পুষ্পং
সুগন্ধি পুষ্প গ্রহণ করিয়া
তুরীয়বনসম্ভুতং নানাগুণমনােহরং।
আনন্দসৌরভং পুষ্পং গৃহতামিদমুত্তমং ॥১০৪৷৷
বলিয়া “ইমানি সচন্দন-পুষ্পণি (মূলমুচ্চাৰ্য) শ্রীকৃষ্ণায়
নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে দিবে।
৩
।
সমাএয়, তােমাকে বিচিত্র ভূষণ সকল দিতেছি ॥১০২
বঙ্গাৰ্থ-হে পরমেশ্বর ! পরমানন্দ সৌরভে পরিপর্ণ এবং
দিগন্তরগামী এই উত্তম গন্ধ গ্রহণ করুন ॥১০
তুরীয় বন হইতে উৎপন্ন, নানা গুণে মনােহর এবং
আনন্দদায়ক সৌরভযুক্ত এই উত্তম পুষ্প আপনার গ্রাহ
৮
হউক ॥১০৪৷৷
।
T শ্রীগােবিন্দচনচূড়ামণিঃ তুলস্থপণ সুগন্ধি চন্দন মাখান বোঁটার সহিত তুলসী গ্রহণ করিয়া “ওঁ নমস্তে বহুরূপায় বিষ্ণবে পরমাত্মনে স্বাহা” বলিয়া “এতৎ সচন্দন-তুলসীপত্ৰং (মূলমুচ্চাৰ্য) শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” মন্ত্রে চিৎ করিয়া শ্রীচরণে অর্পণ করিবে। অঙ্গপূজা গন্ধ পুষ্প দ্বারা শ্ৰীমূর্তির অঙ্গে পূজা করিবে যথা,- হৃদয়ে—এতে গন্ধপুষ্পে ক্লীং কৃষ্ণায় হৃদয়ায় নমঃ”, মস্তকে—“এতে গন্ধপুষ্পে গােবিন্দায় শিরসে স্বাহা” শিখায়াং--“এতে গন্ধপুষ্পে গােপীজনশিখায়ৈ বষট”,কবচে “এতে গন্ধপুষ্পে বল্পভায় কবচায় হুং” সর্বাঙ্গে—“এতে গন্ধপুষ্পে স্বাহা অস্ত্রায় ফট”। তারপর উপাঙ্গ পজা করিবে। উপাঙ্গ পূজা এতে গন্ধপুষ্পে (মূলমুচ্চাৰ্য) মুখে—“বেণবে নমঃ এতে গন্ধপুষ্পে ( মূলমুচ্চাৰ্য) স্তকে—“মােহনচূড়ায়ৈ নমঃ”, এতে গন্ধপুষ্পে (মূলমুচ্চাৰ্য) কর্ণয়ােঃ–“মকর- কুণ্ডলাভ্যাং নমঃ”, এতে গন্ধপুষ্পে (মূলমুচ্চাৰ্য) বক্ষসি- “নমালায়ৈ নমঃ”, এতে গন্ধপুষ্পে (মূলমুচ্চাৰ্য) শ্রীভগ- বতেদক্ষিণঝনাের্জে —“গ্রীবৎসায় নমঃ”, এতে গন্ধ পুষ্পে (মুলমুচ্চাৰ্য) বামস্তনাের্ধে-“কৌস্তুভায় নমঃ”, এতে গ শিগগাবিন্দাচঁনচুড়ামণি। পুষ্পে (মূলমুচ্চাৰ্য) কট্যাম্—“পীতবস্ত্রায় নমঃ”, এবং “কিঙ্কিণ্যৈ নমঃ”, এতে গন্ধপুষ্পে (মূলমুচ্চাৰ্য) পাদদ্বয়াের “নূপুরাভ্যাং নমঃ” প্রভৃতি মন্ত্রে সেই সেই স্থানে পজ করিবে। একান্তিভিস্তু রাধাদ্যা যথা ধ্যানং প্রভােঃ প্রিয়াঃ। ( হরিভক্তি ৭ম বিলাস) অর্থাৎ ঐকান্তিক ভক্তগণ শ্রীরাধিকাদি প্রভুর প্রেয়সীবর্গকে পূজা করিবে । 5 অথ প্রথমাবরণ-পূজা। (অর্থাৎ শ্ৰীমতী রাধিকার পূজা) শ্ৰীমতী রাধিকার বীজমন্ত্র, গায়ত্রী প্রভৃতি শাস্ত্রে নাই এইরূপ অন্য সম্প্রদায় বলিয়া থাকেন, সেই হেতু শ্রীনারদ- পঞ্চরাত্রের নবম অধ্যায়ের শ্লোক ও মথুরা-মাহাত্ম্যের শ্ৰীমতীর গায়ত্রী, প্রমাণস্বরূপ উদ্ধ ত নিম্নলিখিত শ্লোক { দ্রষ্টব্য। ৭ তত্র প্রমাণং শ্রীনারদপঞ্চরাত্রে শ্রীনারদ উবাচ অধুনা শ্রোতুমিচ্ছামি রহস্যং পরমাদ্ভুতং যে যে মন্ত্রাশ্চ শ্ৰীমত্যা রাধিকায়াঃ সুগােপিতাঃ। তন্মে হি মহাদেব যদনুগৃহং ময়ি ॥১০৫৷ বঙ্গাৰ্থনারদ বলিলেন, অধুনা পরমাদ্ভুত রহস্য শুনিতে
শ্ৰীশ্ৰগগাবিন্দাচচুড়ামণিঃ।
শ্রীমহাদেব উবাচ
শৃণু নারদ বক্ষ্যামি পার্বত্যৈ যৎপ্রকাশিতং।
নৈব তত্ত্বাং প্রবক্ষ্যামি শৃণুষ গদতাে মম।
বহ্নিবীজং ক্রোশযুক্তং তথা বিন্দুবিভূষিতং।
এতদ্বীজং মুনিশ্রেষ্ঠ বীজং ত্রৈলােক্যপূজিতং ॥১০৬৷৷
একাক্ষরােহয়ং বিপ্ৰেন্দ্ৰ মনুঃ সৰ্বফলপ্রদঃ ।
পুরশ্চরণকৃন্মন্ত্রী জপেল্লক্ষদ্বয়ং সুধীঃ ।
অথাপ্যং মন্ত্ররাজন্তু শৃণু কল্পদ্রুমং মহৎ।
নিজবাজং ততাে মায়া কামবীজমতঃপরং ॥১০৭
ইচ্ছা করিতেছি, হে মহাদেব ! শ্ৰীমতী রাধিকার যে সকল
মন্ত্র সুগােপিত আছে আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়া তাহা
ব্যক্ত করুন ॥১০ ৫||
বঙ্গাৰ্থ—শ্রীমহাদেব কহিলেন, হে নারদ ! আমি যাহা
পার্বতীর নিকট প্রকাশ করিয়াছি, তাহা এ পর্যন্ত তােমার
নিকট প্রকাশ করি নাই ; এক্ষণে বলিতেছি, শ্রবণ কর।
বহ্নিবীজ অর্থাৎ র, তাহাতে ক্রোশ অর্থাং আকার যুক্ত
করিলে রা হইল, ইহাতে বিন্দু অর্থাৎ ং অনুস্বার সংযুক্ত
করিলে (রাঃ) এই একাক্ষর শ্রীরাধার বীজ আছে, হে
মুনিশ্রেষ্ঠ, তাহা ত্রৈলােক্যের পূজনীয় হয় ॥১০৬||
হে বিদ্রে! এই একাক্ষর মন্ত্রসকল ফলদায়ক
হওয়াতে, মন্ত্রজ্ঞ সুবুদ্ধি সাধক তাহা পুরশ্চরণকালে (রাঃ)
গােবিনদুমণি।
অথ মথুরামাহাত্মোক্তা গায়ত্রী যথা
রধায়ৈ বিস্মহে কৃষ্ণবল্লভায়ৈ ধীমহি তমাে রাধা
প্রচোদয়া।
রাধায়ৈ বহ্নিজায়ান্তো মন্ত্রোহয়ং কল্পপাদপ।
প্রাতঃকৃত্যাদিকং সৰ্ব্বং পূৰ্ববং পরিকল্পয়েৎ।
যাগস্থানং ততাে গত্বা স্থানাসনপরিগ্রহং ।
ভূতশুদ্ধাদিকং কৃত্বা প্রাণায়ামন্তু মূলতঃ ॥১০৮
ঋষিরস্য মহাদেবঃ গায়ত্রী ছন্দ এব চ।
দেবতা রাধিকা প্ৰােক্তা সৰ্ব্বশাস্ত্রে গােপিতা।
এবং ঋষ্যাদিকং কৃত্বা রাং বীজেনাঙ্গকল্পনা।
ততাে ধ্যায়েৎ পরাং দেবীং কাঞ্চনাভাং বরপ্রদাং ॥১০৯
একাক্ষর শ্রীরাধার বীজ দুই লক্ষ বার জপ করিবে। অনন্তর
মহৎ কল্পবৃক্ষ-স্বরূপ অপর মন্ত্র শ্রবণ কর, নিজ বীজ অর্থাৎ
(রাং ), মায়া অর্থাৎ (হ্রীং) এবং কামবাজ (ক্লীং) উচ্চারণ
করিয়া তাহার পর রাধায়ৈ স্বাহা উক্ত মন্ত্রকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও
কল্পবৃক্ষ-স্বরূপ জানিবে । অনন্তর পূর্ববৎ প্রাতঃকৃত্যাদি
কল্পনা করিয়া যাগস্থানে গমন এবং স্থান ও আসন পরিগ্রহ
এবং ভূতশুদ্ধি ও মূলমন্ত্রে প্রাণায়াম করিবেক ॥১০৭,১০৮
বঙ্গাৰ্থ—উহার ঋষি মহাদেব, ছন্দ গায়ত্রী এবং শ্ৰীমতী
রাধিকা দেবতা সৰ্ব্বশাস্ত্রে গােপনীয়ভাবে উক্ত হইয়াছেন।
গােবিন্দামচুড়ামণিঃ।
কিশােরীং কৃষ্ণসহিং নীলাম্বরধরাং শুভাং।
দক্ষিণে ধৃততালাং পাণো বামে সমুদগকং।
ধারয়ন্তীং স্বর্ণভূষাং সদা কৃষ্ণানুরাগিণীং।
কৃষ্ণস্য নয়নাসাং হারপুরভূষিতাং॥১১০।
এবং ধ্যাত্বা মানসৈন্তামুপচারৈঃ সমৰ্চ্চয়েৎ ।
তত ধ্যাত্বা পুনদেবীং সংস্থাপ্য স্বপুরস্থলে।
প্রাণপ্রতিষ্ঠামন্ত্রেণ প্রাণান্ প্রাণেষু যােজয়েং।
ততঃ পাছাাদিকং দা মূলমন্ত্রেণ মন্ত্রবিৎ ॥১১১৷৷
এইরূপে ঋষ্যাদি করিয়া রাং বাজে অঙ্গপূজার কল্পনা
করিবেক ; অনন্তর কাঞ্চনপ্রভা এবং বরপ্রদ। সেই দেবকে
ধ্যান করিবে ॥১০৯
বঙ্গাৰ্থ—তিনি কিশােরী, কৃষ্ণসহিতা, নীলাম্বরধরা এবং
শুভঙ্করী ও দক্ষিণ এবং বামহস্তে সমুদগক ও তাম্বুল ধারণ
করিতেছেন। স্বর্ণভূষধারিণী ও সদা-কৃষ্ণানুরাগিণী, কৃষ্ণের
মুখে আসক্ত-নয়না ও হার এবং নূপুরভূষিতা ॥১১০৷
এই প্রকার ধ্যান করিয়া মানসােপচারে তাহার
অর্চনা করিবেক, অনন্তর পুনৰ্ব্বার ধ্যানান্তে অাপন সম্মুখে
তাহাকে সংস্থাপন করিয়া, যথেক্তি মন্ত্রে প্রাণ প্রতিষ্ঠা
করা হইলে মন্ত্রজ্ঞসাধক মূলমন্ত্রে পাদ্যাদি দিয়া অর্চনা
করিবে ॥১১১
;
গােবিন্দানাগলি ১১ যথাবিধি ধূপদীপনৈবেদ্য পরিপূজয়েৎ। পুষ্পাঞ্জলিং পঞ্চধা চ দত্ত্বা মন্ত্রেণ বৈষ্ণব ৷ শুক্লপুস্পৈঃ সদা পূজা তুলসীপত্রসংযুতা। করবীরং তথা পদ্মং বকং কাঞ্চনমেব চ ॥১১২৷৷ অথ-ঋষাদিন্যাসঃ । শ্রীরাধিকামন্ত্রস্য মহাদেবঋষির্গায়ত্রীছন্দঃ। শ্রীরাধিকাদেবতা পুরুষার্থসিদ্ধার্থে বিনিয়োেগঃ । শিরসি মহাদেবঋষয়ে নমঃ। মুখে গায়ত্রীচ্ছন্দসে নমঃ । হৃদি শ্রীরাধিকায়ৈ দেবতায়ৈ নমঃ। সর্বাঙ্গে রাং বীজায় নমঃ। করন্যাসঃ । রাং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ, রাং তজ্জনভ্যাং স্বাহা, রূং মধ্যমাভ্যাং বষট, রৈং অনামিকাভ্যাং হুং, রোং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌটু, রঃ অস্ত্রায় ফট। বঙ্গাৰ্থ—পাঁচবার মন্ত্রসহকারে পুষ্পাঞ্জলি:দিয়া যথাবিধি ধূপ দীপ এবং নৈবেদ্য সহকারে পূজা করিয়া এই মন্ত্র পাঠ করিবে। পুষ্প মধ্যে শুক্ল পুষ্প তুলসীপত্রযুক্ত এবং করবীর, পদ্ম ও বক ও কাঞ্চন পুষ্প প্রশস্ত ॥১১২ ( উপরােক্ত ১০৫ নং শ্লোক হইতে ১১২ নং শ্লোক- গুলি প্রমাণ স্বরূপ উদ্ধত করা হইল; ইহা পূজা নহে বুঝিতে হইবে) -
গােবিন্দা টুপি।
অন্যাসঃ
রাং হৃদয়ায় নমঃ, রীং শিরসে স্বাহা, রূং শৈখায়ৈ
বষট, রৈং কবচায় হুং, রৌং নেত্ৰাভ্যাং বেষট,,
রঃ অস্ত্রায় ফটু।
শ্রীরাধিকাধ্যানং
ততাে ধ্যায়েৎ পরাং দেবং কাঞ্চনাভাং বরপ্রদাং।
কিশােরীং কৃষ্ণসহিতং নীলাম্বরধরাং শুভাং।
দক্ষিণে ধৃততা লাং পাণৌ বামে সমুদগকং।
ধারয়ন্তীং স্বর্ণভূষাং সদা কৃষ্ণানুরাগিণীং ।
কৃষ্ণস্য নয়নাসতাং হারনূপুরভূষিতাং॥১১৩
নারদপঞ্চরাত্র।
কিঞ্চ
সুচাননীলবসনাং দ্রুতহেমসমপ্রভাং।
পটাঞ্চলেনাবৃদ্ধ-সুস্মেরাননপঙ্কজাম্ ।
বঙ্গর্থিতৎপর শ্রীরাধিকার ধ্যান করিবে। শ্রীরাধিকা
শ্রেষ্ঠা দেবী, স্বর্ণাভাবিশিষ্ট বর প্রদ। কিশােরী শ্রীকৃষ্ণের
সহিত বিরাজমানা নীলাম্বরধারিণী শুভা, ইনি দক্ষিণ হস্তে
তাম্বল এবং বাম হস্তে মুগ অর্থাৎ কৌটা ধারণ করিয়া
আছেন। সর্বদা কৃষ্ণানুরাগিণী স্বর্ণাভরণ ধারণ করিয়া
আছেন। হার নূপুর প্রভৃতি অলঙ্কারে ভূষিতা, শ্রীকৃষ্ণ
মুখকমলে ইহার নয়ন আসক্ত ॥১১৩
শ্রীশ্রীগােবিন্দাচচূড়ামণি। কাস্তবক্তে ন্যস্তনেচকোরীং চঞ্চলেক্ষণাং। অঙ্গুষ্ঠত…নীভ্যাঞ্চ নিজপ্রিয়মুখাম্বুজে ॥১১৪৷৷ অপয়ন্তীং পূগফালিং পর্ণচূর্ণসমন্বিতং । মুক্তাহারােস্ফুরচ্চারুপীনােতপয়ােধরাং । ক্ষীণমধ্যাং পৃথুশ্রোণীং কিঙ্কিণীজালশােভিতাং। রত্নতাড়ঙ্ককেয়ূরমুদ্রাবলয়ধারিণীম্ ॥১১৫৷৷ রণৎকনকমঞ্জীররত্নপাদাঙ্গুরীয়কাং। লাবণ্যসারসৰ্বাঙ্গীং সৰ্বাবয়বসুন্দরীং। অন্যপ্রকার ধ্যান বঙ্গাৰ্থ—শ্রীরাধিকা সূক্ষম নীলবসনধারিণী, গলিত স্বর্ণবৎ প্রভাধারিণ, ইহার সুমধুর হাস্যুক্ত মুখকমলের অর্ধাংশ বসনের অঞ্চল দ্বারা আবৃত। ইনি নিজ কান্ত শ্রীকৃষ্ণের, মুখে নিজের নয়ন ন্যস্ত করিয়া রাখিয়াছেন। চকোরীর মত ইহার নয়ন চঞ্চল। ইনি অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী অঙ্গুলির দ্বারা কপূরাদিযুক্ত তাম্বুল লইয়া নিজ প্রিয় শ্রীকৃষ্ণের মুখ- কমলে অর্পণ করিতেছেন। মুক্তাহারের দ্বারা ইহার বৃহৎ উন্নত সুন্দর পয়ােধর শােভা পাইতেছে। দেবীর কটি ক্ষীণ, নিতম্ব বিপুল। কিঙ্কিণী-জালের দ্বারা ইনি সুশােভিতা। ইনি রত্ন নিৰ্মিত তাড়ঙ্ক কেয়ূর বলয়- ধারিণী ॥১১৪, ১১৫|| ১০৪ শ্রীগোবিন্দাজ্জনচূড়ামণিঃ। অনিন্দরসসন্মগ্নাং প্রসন্নাং নবযৌবনা। সুরেদ্দেবীং শ্রীরাধিকাং কৃষ্ণবামদেশস্থিতাং ১১৬৷৷ কিঞ্চ তপ্তস্বর্ণপ্রভাং রাধাং স্বর্ণালঙ্কারভূষিতাং। নীলবস্ত্রপরিধানাং ভজে বৃন্দাবনেশ্বরীঃ ॥১১৭৷৷ কিঞ্চ হেমাভাং দ্বিভুজাং বরাভয়করাং নীলাম্বরেণাবৃতাং । শ্যামক্রোড়বিলাসিনীং ভগবতীং সিন্দ রপুঞ্জোলাং । লােলাক্ষীং নবযৌবনাং স্মিতমুখীং বিম্বাধরাং রাধিকাং। নিত্যানন্দময়ীং বিলাসনিলয়াং দিব্যাঙ্গভূষাং ভজে ॥১১৮৷৷ বঙ্গা—ইহার চরণযুগল শােভাশালী, স্বর্ণ ৰূপুরের দ্বারা সুশােভিত রত্নের অঙ্গুরী দ্বারা ইহার চরণের অঙ্গুলি শােভিত। সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ লাবণ্যসার, ও ইনি সৰ্বাবয়ব-সুন্দরী । ইনি কৃষ্ণপ্রেমে নিমগ্না, প্রসন্ন। ইনি নবযৌবনধারিণী, শ্রীকৃষ্ণের বামদিকে অবস্থিত; শ্রীরাধিকা দেবীকে স্মরণ করি ॥১১৬|| তপ্ত স্বর্ণের প্রভাধারিণী, স্বর্ণালঙ্কারভূষিতা, নীলবস্ত্র- পরিধানা, বৃন্দাবনেশ্বরী শ্রীরাধাকে আমি ভজনা করি ॥১১৭ স্বর্ণকান্তি, দ্বিভুজা, বর ও অভয়দায়ী করমুক্তা, নীলাম্বর দ্বারা আবৃতা, শ্যামসুন্দরের ক্রোড় বিলাসিনী, সি র বিন্দু দ্বারা উজ্জ্বল, চঞ্চল-নয়না, নবযৌবনা, মধুরহাস্যমুখী,
ঐশ্রীগােবিন্দচনচূড়ামণিঃ।
শ্ৰীমতী রাধিকার পূজা
“হে শ্রীকৃষ্ণ ক্ষম” বলিয়া মূলমন্ত্রে “এতে পুষ্পে
শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া তিনবার পীঠে পুস্পাঞ্জলি দিয়া
আবরণ দেবতাকে পূজা করিবে। হে শ্রীকৃষ্ণ তােমার
আবরণ দেবতাদিগকে পূজা করি, এই প্রকারে শ্রীকৃষ্ণের
নিকট অনুজ্ঞা লইয়া শ্ৰীমতীর পূজা করিবে।
পূজা সম্বন্ধে দুইটী মন্ত্র আছে, একটী অষ্টাক্ষর মন্ত্র
“রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা”। অপর ষড়র মন্ত্র যথা
“রাং রাধায়ৈ নমঃ” উভয়ের মধ্যে সাধকের যাহা অভিরুচি
তাহা করিবে।
-
শ্ৰীমতী রাধিকার ষােড়শােপচার পূজা প্রণালী।
১। “ইদং রজতাসনং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” এই মন্ত্রে আসন দিবে।
২। “শ্রীভগবতি রাধিকে দেবি স্বাগতং সুস্বাগতং
( কৃতাঞ্জলিপুটে ইহা বলিবে)।
৩। “এতৎ পাদ্যং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া পাদ্য দিবে।
বিষফলের মত অধরবিশিষ্টা, নিত্যানন্দময়ী, কৃষ্ণবিলাসের
নিলয়-স্বরূপিণী, দিব্য অঙ্গভূষা-ধারিণী, ভগবতী শ্রীরাধিকাকে
ভজনা করি ॥১১||
T
গােবিলাচনচুড়ামণিঃ।
৪। “ইদমং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা, রাধায়ৈ
নমঃ” বলিয়া অর্ঘ্য দিবে।
৫। “ইদমাচমনীয়ং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া অচিমনীয় দিবে।
৬। “এষ মধুপর্কঃ রাং হ্রীং
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া মধুপর্ক দিবে।
৭। “ইদং পুনরাচমনীয়ং রং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া পুনরাচমনীয় দিবে।
৮। “ইদং স্নানীয়জলং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া স্নানীয় জল দিবে।
৯। “ইদং বস্ত্রং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া বস্ত্র দিবে।
১০। “ইদ আভরণ রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া আভরণ দিবে ।
১১। “এষ গন্ধঃ রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া গন্ধ দিবে।
১২। “ইদং পুষ্পং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
শ্রীরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া পুষ্প দিবে।
“এতৎ সচন্দন-তুলসীপত্ৰং রাং হ্রীং ক্লীং রাধায়ৈ স্বাহা,
ঐরাধায়ৈ নমঃ” বলিয়া তুলসী অর্পণ করিবে।
ঐগগাবিন্দাচনচুড়ামণি। এই প্রকার ঘােড়শােপচার পূজা করিয়া “হে শ্রীমতি রাধিকে, ক্ষমস্ব” বলিয়া ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া, “হে শ্ৰীললি- তাদি-সখ্যঃ মম পূজাং গৃহীত” বলিয়া আবাহন পূর্বক পাদ্যাদি দ্বারা পূজা করিবে। যথা “এতৎ পাদ্যং ললিতাদি- সখীগণেভ্যঃ নমঃ” বলিয়া পাদ্য প্রদান করিবে। এইরূপে গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করিয়া উত্তরাদি দলে প্রত্যেকের পূজা করিবে। উত্তরদলে—বিদ্যুদ্বর্ণ ললিতানন্দ কুঞ্জে ললিতা, রাধার কিয়- দ্দিনের জ্যেষ্ঠা সুতরাং অনুরাধা বলিয়া খ্যাতা, বামা ও প্রখরা নায়িকাগুণসম্পন্না, গােযােচনা- বর্ণা, ময়ূরপুচ্ছবর্ণ-বসনধারিণী, তাম্বুলসেবা এই- রূপ চিন্তা করিয়া “এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীললিতা- দেব্যৈ নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে। ঈশানদলে—মেঘবর্ণ বিশাখান কুঞ্জে বিশাখ, শ্রীরাধার সমবয়স্কা, বিদ্যুদ্বর্ণবিশিষ্টা, চিত্রাকাশবর্ণ-বসন, চন্দনসেবা, ললিতার আচার, ব্রত ও গুণ- সম্পন্ন এইরূপ ধ্যান করিয়া “এতে গন্ধপুষ্পে বিশাখাদেব্যৈ নমঃ” বলিয়া পজা করিবে। পূৰ্ব্বদলেপদ্মকিঞ্জল্ক চিত্রানদ কুঞ্জে চিত্রাদেবী, কাশ্মীর (অর্থাৎ কুঙ্কুমের ন্যায় ) বর্ণ অঙ্গ, কঁচবর্ণ বসন, মতীর ২৬ দিনের ছােট, সেবা বসন এইরূপ • গােবিশার্জনচুড়ামণিঃ। ধ্যান করিয়া এতে গন্ধপুষ্পে চিত্ৰাদেব্যৈ নমঃ বলিয়া পূজা করিবে। অগ্নিকোণদলে—শুভ্রবর্ণ ইন্দুরেখা-সুখপ্রদ কুঞ্জে ইন্দুরেখা দেবী, হরিতালবর্ণ অঙ্গ, দাড়িম্ব কুসুম বর্ণ বসন, নৃত্য সেবা, শ্ৰীমতীর ৩ দিনের ছােট, “এতে গন্ধপুষ্পেইন্দুরেখাদেব্যৈ নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে। দক্ষিণদলে—স্বর্ণবর্ণচম্পকলতানন্দ কুঞ্জে চম্পকলতা বিক- সিত চম্পককুসুম বর্ণ, চাষপচ্চিবর্ণ বসন, চামর সেবা, শ্ৰীমতীর ১ দিনের কনিষ্ঠা “এতে গন্ধ- পুষ্পে চম্পকলতায়ৈ নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে। নৈঋতদলে—শ্যামবর্ণ রঙ্গদেবী-সুখপ্রদ কুঞ্জে রঙ্গদেবী, পদ্ম- কেশর বর্ণ অঙ্গ, জবাকুসুমবৎ রক্তিম বসন, চম্পকলতাদেবীর ন্যায় গুণসম্পন্ন, শ্ৰীমতীর ৭ দিনের ছােট, অলক্তক সেবা এইরূপ চিন্ত করিয়া “এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীরঙ্গদেব্যৈ নমঃ বলিয়া পূজা করিবে। পশ্চিমদলে—অরুণবর্ণ তুঙ্গবিদ্যানন্দকুঞ্জে তুঙ্গবিদ্যা, কৰ্প চন্দন মিশ্রিত অঙ্গ-গন্ধ, কুসুমবর্ণ পিঙ্গলব বসন, বাদ্য সেবা, ঐমতীর ৫ দিনের বড়, “এতে
গােবিন্দচনচূড়ামণিঃ ।
১১
গন্ধপুষ্পে তুঙ্গবিদ্যাদেব্যৈ নমঃ” বলিয়া পূজা
করিবে
বায়ুকোণদলে—হরিদ্বর্ণ সুদেবী-সুখদকুঞ্জে সুদেবী, তুঙ্গবিদ্যার
যমজভগিনী, সুতরাং রূপ গুণ বয়স তুঙ্গবিদ্যারই
ন্যায়, মৃদুস্বভাব, জলসেবা অতএব দর্শকের ভ্রম
উৎপাদন সমর্যা, “এতে গন্ধপুষ্পে সুদেব্যৈ নমঃ
বলিয়া পূজা করিবে।
শ্ৰীবৃন্দাদেব্যৈ নমঃ পৌর্ণমাস্যৈ নমঃ শ্রীরূপাদি-মঞ্জরী-
গণেভ্যো নমঃ চতুর্দিষ্ণু হে শ্রীললিতাদি-সখ্যঃ ক্ষমধ্বং।
দ্বিতীয়াবরণং
“হে শ্রীদামাদি-গােপালাঃ মম পূজাং গৃহ্নীত” বলিয়া
যুক্তহস্তে আবাহন করতঃ “এতে গন্ধপুষ্পে শ্ৰদামাদি-
গােপালেভভ্যা নমঃ” বলিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করিয়া
যুক্তহস্তে “হে শ্রীদামাদি-গােপালাঃ ক্ষমধ্বং” বলিবে ।
তৃতীয়াবরণং
“হে নন্দাদি-ব্রজবাসিগণাঃ মম পূজাং গৃহীত” বাক্যে
আবাহনপূর্বক “এতে গন্ধপুষ্পে নন্দাদি-ব্ৰজবাসিগণেভ্যো
নমঃ” বলিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করতঃ শ্রীনন্দ—পাণ্ডুর
বর্ণ, সুন্দর মাল্যধারা, দিব্যগন্ধানুলেপিত শ্ৰীঅঙ্গ এইরূপ
চিন্তা করিয়া গন্ধপুষ্প দ্বারা সর্বত্র “শ্রীনন্দায় নমঃ” বলিয়া
ঐশ্রীগােবিন্দাচনচুড়ামণিঃ। পূজা করিবে। শ্ৰীষশােদাকে পরম সুন্দর হার, মণি কুণ্ডল, বিভূষিতাঙ্গী, আশীৰ্দাত্রী, পায়ুসপূর্ণ পাত্র হস্তে চিন্তাপূৰ্ব্বক “শ্রীযশােদায়ৈ নমঃ” মন্ত্রে পূজা করিয়া তাহার বামে শ্ৰীয়রাহিণীদেবীকে সুন্দর বসনধারিণী, হার মণি কুণ্ডল বিভূষিতঙ্গী, বরপ্রদাত্রী, পায়পাত্র-হস্তা চিন্তা করিয়া শ্রীরােহিণীদেব্যৈ নমঃ” বলিয়া পূজাপূৰ্ব্বক তাঁহার সম্মুখ- ভাগে শ্রীবলদেবকে শঙ্খ অথবা চন্দ্রের ন্যায় বর্ণ, মূষল এবং লাঙ্গলধারী, পরিধানে নীলবসন, বনমালা-সুশােভিত, দীর্ঘকেশ অথচ সুন্দর লাবণ্যপূর্ণ, চারুচুড়াধারী, কর্ণে রত্নকুণ্ডল, নানাবিধ মণিময় হরিশােভিত, হস্তে কেয়ূর ও বলয়, চরণে রত্নপুর এইরূপ চিন্তা করিয়া “শ্রীবলদেবায় নমঃ” বলিয়া পূজা করিবে। পরে ব্রজবাসী সকলকে শ্রীনন্দ মহারাজ সমবয়স্ক, বেণু, বীণা, যষ্টি, শঙ্খ ও শৃঙ্গ প্রভৃতি হস্ত— এইরূপ চিন্তাপূৰ্ব্বক “শ্রীগােপবৃন্দেভ্যো নমঃ” বলিয়া পূজা পৰ্ব্বক ব্রজবাসিনীগণকে যশােদা-সমবয়স্কা, সর্ববিধ উৎকৃষ্ট ভােজ্য দ্রব্য হস্তা চিন্তা করিয়া “এতে গন্ধপুষ্পে খােপীভ্যো নমঃ” বলিয়া পূজাপৰ্ব্বক যুক্তহস্তে “হে নন্দাদি-ব্রজবাসিনঃ ব্রজবাসিন্যশ্চ ক্ষমধ্বং” বলিবে। চতুর্থাবরণ “হে গােবৎসাঃ মম পূজাং গৃহীত” বাক্যে আবাহনান্তে গন্ধপুষ্প দ্বারা “গােভ্যো নমঃ, শ্রীবৎসেভ্যো নমঃ” বলিয়া }
ঐ গােবিন্দাচর্চনচূড়ামণিঃ।
পূজা করতঃ যুক্তহস্তে “হে গাে-গোবৎসাঃ ক্ষমধ্বং” বলিবে।
পঞ্চবরণং
“হে বৃষরণ্যমৃগাদয়ঃ মম পূজাং গৃহীত” বলিয়া আবা-
হন করতঃ গন্ধপুষ্প দ্বারা “বৃষেভ্যো নমঃ, অরণ্যমৃগেলভ্যা
নমঃ, পশুপক্ষ্যাদিভ্যো নমঃ” বলিয়া হাত জোড় পৰ্ব্বক
“হে বৃষরণ্যমৃগাদয়ঃ ক্ষমধ্বং” বলিবে ।
ষষ্ঠাবরণং
“হে ব্ৰহ্মাদি-লােকপালাঃ মম পজাং গৃহীত” বলিয়া
“এতৎ পাদ্যং শ্ৰীব্ৰহ্মাদি-লােকপালেভ্যো নমঃ” বলিয়া দিক্-
পালগণের পজা করিয়া “হে ব্ৰহ্মাদি-লােকপালাঃ ক্ষমধ্বং”
বলিবে।
সমাবরণ
“হে নারদাদি-ঋষিগণাঃ মম পূজাং গৃহ্নীত” বলিয়া
গন্ধপুষ্প দ্বারা পৃথক পৃথক্ পূজা করিবে। “নারদায় নমঃ,
বশিষ্ঠায় নমঃ, বিশ্বামিত্রায় নমঃ, ব্যাসায় নমঃ
যুক্তহস্তে “হে নারদাদি-ঋষিগণাঃ ক্ষমধ্বং” বলিবে।
অথ শ্রীকৃষ্ণনামিষ্টকপূজা
এষ গন্ধপুস্পাঞ্জলিঃ “শ্রীকৃষ্ণনামাষ্টকেভ্যো নমঃ”।
এষ গন্ধপুস্পাঞ্জলিঃ শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ। তথা শ্রীবাসুদেবায়
নমঃ। তথা নারায়ণায় নমঃ। তথা দেবকীনন্দনীয়
৫
শ্রীশ্রীগােবিন্দাৰ্চনচুড়ামণিঃ।
নমঃ। তথা শ্ৰীযদুশ্রেষ্ঠায় নমঃ। তথা শ্রীবাষ্ণেয়ায় নমঃ।
তথা শ্ৰীঅসুরান্তকভারহারিণে নমঃ। তথা শ্ৰীধৰ্ম্মসংস্থাপকায়
নমঃ। (হরিতক্তি ৭ম বিলাস ১২৯,১৩০ )
তদীয়ানাঞ্চ পূজন
এতে গন্ধপুষ্পে (সর্বত্র) শ্রীতুলসীদেব্যৈ নমঃ।
শ্ৰীমথুরামগুলায় নমঃ। শ্ৰীভাগবতায় নমঃ।
শ্ৰীভাগবতামৃতে—
প্রমাণ
অৰ্চ্চয়িত্ব তু গােবিন্দং তদীয়া…য়ন্তি যে।
ন তে বিষ্ণুপ্ৰসাদাঃ স্ত্য কেবলং দাম্ভিকা জনাঃ ।
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে—
তদীয় তুলসী বৈষ্ণব মথুরা ভাগবত।
এই চার সেবা হয় শ্রীকৃষ্ণের অভিমত।
“হে সগণ-শ্ৰীকৃষ্ণ, ক্ষম”।
ইতি সপ্তমাবরণং।
ধূপাৰ্পণং
তাহারে
করিয়া “অস্ত্রায় ফটু” বলিয়া অভক্ষণ করিয়া
“বনম্পতিরসােৎপনাে গন্ধাচ্যঃ সুমনােহরঃ।
আম্রেয়ঃ সৰ্ব্বদেবানাং ধূপপাহয়ং প্রতিগৃহতা” ॥১১৯
দার্থ—বনম্পতিরসােৎপন্ন ও দিব্য মনােহর গন্ধবিশিষ্ট
ঐশ্রীগােবিন্দাচর্চনচূড়ামণিঃ । বলিয়া (মূলমুচ্চাৰ্য) “এষ ধূপঃ শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া উৎসর্গ করতঃ “স্বাহা অস্ত্রায় ফটু” মন্ত্রে চন্দন কুসুম ও অক্ষত দ্বারা অচ্চিত ঘণ্টা বামহাতে বাজাইতে বাজাইতে শ্রীপ্রভুর নাভিদেশ পর্যন্ত পাত্ৰ উঠাইয়া ক্ষণেক রাখিয়া চিন্তা করিবে—শ্রীকৃষ্ণ এই ধূপের গন্ধ গ্রহণ করিতেছেন। অনন্তর “এষ প্রসাদধূপঃ শ্রীকৃষ্ণপরিবারেভ্যো নমঃ” এই মন্ত্র স্মরণ করিয়া শ্রীরাধিকা ও তাঁহার গণ গন্ধ গ্রহণ করিতেছেন চিন্তা করিয়া শ্ৰীমতীর নাভিদেশে ধরিয়া রাখিয়া কিঞ্চিৎকাল পরে রাখিয়া দিবে। পূৰ্বে এইরূপ না থাকিলেও সর্বত্র এইপ্রকার জানিবে। দীপাপণং কপূর ধৃত নির্মিত অথবা তৈল নির্মিত বর্তিকা তৈজ- সাদি পাত্রে প্রজ্জ্বলিত করিয়া “অস্ত্রায় ফট” মন্ত্রে অভ্যুক্ষণ করিয়া সুপ্রকাশাে মহাতেজাঃ সৰ্ব্বতস্তিমিরাপহঃ। সবাহাভ্যন্তর-জ্যোতিদীপপাহয়ং প্রতিগৃহ্যতাং ১২০ বলিয়া (মূলমুচ্চাৰ্য) “অয়ং দীপঃ শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ সর্বদেবতার আঘ্রাণযােগ্য এই ধূপ গ্রহণ করুন ॥১১৯৷৷ বার্থ-সকল তিমিরনাশক সুপ্রকাশ মহাদীপ বাহ ও অভ্য- স্তরে জ্যোতিবিশিষ্ট হইয়া আপনার গ্রাহ হউক ॥১২০
১১৪
ঐশ্রীগোবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
মন্ত্রে অর্পণ করিয়া পৃজিত ঘণ্টা বাম হস্তে বাদ্য করিতে
করিতে পাদপদ্ম হইতে নেত্ৰ পৰ্যন্ত দীপিত করিবে
ও পূৰ্ব্বলিখিত অনুসারে আরতি করিবে। অনন্তর “এম
প্রসাদীদীপঃ শ্রীকৃষ্ণ পরিবারেলভ্যা নমঃ” এই মন্ত্র স্মরণ
করিয়া শ্ৰীমতী রাধাদির আরত্রিক চিন্তা করিবে। সৰ্বত্ত
এইরূপ জানিবে ।
অথ নৈবেদ্যং
শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের ভােগ লাগাইবার পূর্বে এষ
গন্ধপুস্পাঞ্জলিঃ শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া পীঠে পুস্পাঞ্জলি দিয়!
“ইদমাসনং শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে উঁহাকে
বসিবার জন্য অসন প্রদান করিবে। “এতং পাং,
ইদমাচমনীয়ং, শ্ৰীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে শ্রীকৃষ্ণকে
অর্চনা করিয়া আসনের সম্মুখে ত্রিকোণ লিখিয়া তদুপরি
নৈবেদ্য-পাত্র স্থাপন করিবে।
অথ দানবিধিঃ
সংস্থাপিত নৈবেদ্য-পাত্রে তুলসাপত্র প্রদান করতঃ
অর্ঘ্য-পাত্রস্থ জল দ্বারা “অস্ত্রায় ফট” মন্ত্রে অভ্যুক্ষণ ও
“সুপ্রেক্ষিতমস্তু” বলিবে। চক্ৰমুদ্রা দ্বারা রক্ষা ও যং বীজ
জলের উপর দ্বাদশ বার জপ করিয়া ঐ জল দ্বারা প্রােক্ষণ
ও শােধন করতঃ রং এই বহ্নিবীজ ধ্যানপূর্বক • বামহস্তে
দক্ষিণ করতলের পৃষ্ঠদেশ সংযােজন করিয়া দেখাইবে।
ঐশ্রীগােবিন্দাচ্চচূড়ামণিঃ।
তদুথ বহ্নিদ্বারা নৈবেদ্যের শুষ্ক-দোষ দগ্ধ করিয়া ঠং এই
অমৃতবীজ বামহস্তে চিন্তা করতঃ বামহস্তের পৃষ্ঠদেশে
দক্ষিণ করতল রাখিয়া তদুঙ্খ অমৃত দ্বারা নৈবেদ্য অভিষেচন
করিয়া তালত্রয়ে দিগ্বন্ধন দ্বারা রক্ষা করতঃ কবচ মুদ্রা
দ্বারা অবগুণ্ঠন করিবে। তাহার উপর মূলমন্ত্র অষ্টবার
জপ করিয়া ধেনু মুদ্রা দ্বারা অমৃতীকরণ ও পর্ণ চিন্তা করতঃ
গন্ধপুষ্প দ্বারা নৈবেদ্য ও শ্রীকৃষ্ণকে পূজা করিয়া দান
করিবে।
(
অথ নৈবেদ্যদানপ্রকরণং
উত্তন বামহস্ত দ্বারা নৈবেদ্য-পাত্র স্পর্শ করিয়া দক্ষিণ
হস্তে গন্ধপুষ্প, জল, তুলসীপত্রসহ শঙ্খ গ্রহণ করিয়া
দেব দেব জগন্নাথ ভক্তানুগ্রহকারক।
নৈবেদ্যং কল্পয়াম্যত্র গৃহাণ কৃপয়া প্রভাে॥১২১৷৷
বলিয়া (মূলমুচ্চাৰ্য) “এতৎ সােপকরণ-নৈবেদ্যং
শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া অঙ্গুল্য গ্রদিকে শঙ্খমুখ
যোজনা করিয়া ভূমিতে জল ফেলিয়া বামহন্ত সরাইবে।
তারপর নৈবেদ্য-পাত্র মনে মনে উত্তোলন পূর্বক নিবে-
দয়ামি হরয়ে জুষ!নেদং হবিরে” মন্ত্র পাঠ করিবে।
বার্থ-হে দেবদেব! হে জগন্নাথ ! আপনি ভক্তের প্রতি
অনুগ্রহকারী। আমি নৈবেদ্য কল্পনা করিতেছি, হে প্রভাে,
কৃপা করিয়া গ্রহণ করুন ॥১২১৷
ঐশ্রীগােবিন্দাচনচূড়ামণি। অথ জলগণ্ড ষাপণং অমৃতােহপস্তরণমসি স্বাহা” মন্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের দক্ষিণহস্ত চিন্তা করিয়া এক গণ্ডুষ জল দিবে তদনন্তর প্রাণ মুদ্রা দেখাইয়া অর্থাৎ উত্তান বামহস্তের পঞ্চাঙ্গুলি বৃত্তাকারে উদ্ধভাবে (অর্থাৎ প্রস্ফুটিত পদ্ম সদৃশ ) রক্ষিত করিয়া প্রাণাদি পঞ্চমুদ্রা দেখাইবে যথা,- ১। কনিষ্ঠা ও অনামিকার অগ্রভাগ অঙ্গুষ্ঠের অগ্র- ভাগের সহিত সংযুক্ত করিয়া “প্রাণায় স্বাহা” ২। তর্জনী ও মধ্যমা একত্র অগ্রভাগ অঙ্গুষ্ঠের অগ্রভাগের সহিত সংযুক্ত করিয়া “অপানায় স্বাহা” ৩। মধ্যমা ও অনামিকার একত্র অগ্রভাগ অঙ্গুষ্ঠের অগ্রভাগের সহিত সংযুক্ত করিয়া “ব্যানায় স্বাহা” ৪। মধ্যমা, তর্জনী ও অনামিকার একত্র অগ্রভাগ অঙ্গুষ্ঠের অগ্রভাগের সহিত সংযুক্ত করিয়া “উদানায় স্বাহা” ৫। সমুদয় পঞ্চাঙ্গুলীর অগ্রভাগ একত্র সমাবেশ করিয়া “সমানায় স্বাহা” মন্ত্র উচ্চারণ করিবে। প্রাণাদি পঞ্চমুদ্রার প্রত্যেকটা মুদ্রা বৃত্তাকারে ঈষৎ ঘুরাইতে হইবে।
গগাবিন্দা-চুড়ামণিঃ । ১১ পানীয় জলদান প্রকার পানীয় জলে “অস্ত্রায় ফট” বলিয়া জলের ছিটা দিয়া সেই জলকে ধারণ করিয়া সমস্তদেবদেবেশ সৰ্ব্বতৃপ্তিকরং পরং । অখণ্ডনিসম্পূর্ণ গৃহাণ জলমুক্তমং ॥১২২। মূলমন্ত্রসহ “এতং পানীয়(জলং) বা (গঙ্গোদকং) শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে সুগন্ধি, শীতল ও স্বচ্ছ জল নিবেদন করিবে। পরে ঘণ্টাধ্বনি করিয়া অতিশয় ভক্তিসহকারে শ্রীকৃষ্ণ প্রীতিপূৰ্ব্বক ভেজন করিতেছেন এইরূপ চিন্তা করিবে। পরে যবনিকার দ্বারা আবরণ করিয়া বাহিরে আসিয়া নিম্নলিখিত মন্ত্র পাঠ করিবে। শালাভক্তং সুভক্তং শিশিরকরসিতং পায়সং পূপসূপং লেহং পেয়ং সুষ্যং সিতমতফলং ঘারিকাথং সুখাদ্যং আজং প্রাজ্যং সামিজং নয়নরুচিকরং বাজিকৈলামরিচ স্বার্দীয়ঃ শাকরার্জীপরিকরমমৃতাহারােষং জুষ ১২৩ বার্থ-হে সকল দেবদেবের ঈশ্বর ! হে অখণ্ড আনন্দ- পরিপূর্ণ প্রভাে ! এই সতৃপ্তিকর উত্তম জল গ্রহণ বার্থ-হে ভগবন্! শালীভক্ত শিশিরকণা সদৃশ ধবলবর্ণ উৎকৃষ্ট অন্ন, পায়স, পিষ্টক, সূপ (ডাউল), লেহ, চুষা, শুভ অমৃতবৎ ফল ঘারিকা (ঘীববেতি) ইত্যাদি উৎ
শ্রীগােবিন্দাচনচুড়ামণিঃ।
ন মন্ত্রং নাে তন্ত্রং ন চ বিহিতকৃত্যং ন ভজনং।
ন শৌচং নাচারং ন চ জপতপােহহং জড়মতিঃ ॥
প্রজানামি শ্রীনন্দজ যদুপহারং তব বিভাে
গৃহাণ শ্রীদামােদর মূরহর ত্বং স্বকৃপয়া।
মন্ত্রহীনং ক্রিয়াহীনং ভক্তিহীনং ব্রজেশ্বর ।
যদচ্চিতং জগন্নাথ পরিপূর্ণং তদস্তু মে॥১২৪৷৷
কিঞ্চিৎকাল বিলম্ব করিয়া যথাশক্তি ১০ ০৮ অশক্ত
পক্ষে ১০৮ বার জপ করতঃ ভােজন সমাপ্তি চিন্তাপূর্বক
যবনিকা উন্মােচন করিয়া “অমৃতােহপিধানমসি স্বাহা” মন্ত্রে
জলগণ্ড ষ প্রদান করতঃ (মূলমুচ্চাৰ্য) “ইদমাচমনীয়ং
খ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে আচমন প্রদান করিবে।
খাদ্য, ঘৃত, চক্ষুর তৃপ্তি প্রদ, ধৃত মরীচ এলাইচাদি দ্বারা
সংস্কৃত অতি সু-অস্বািদনীয় অত্যুত্তম বহু ঘৃত পান্ন ও
শাকাদি উন! -২
।। ৩ -'৭১
।
।।।''
জন্য সুখ অনুভব করুন ॥১২৩
বার্থ-হে নন্দনন্দন ! আমি জড়মতি, মন্ত্র, তন্ত্র, বিহিত
কৃত্য, ভজন, শৌচ, আচার, জপ, তপ কিছুই জানি না ;
হে বিভাে! হে দামোদর ! হে মুরারি ! তুমি আমার দত্ত
উপহার নিজ কৃপায় গ্রহণ কর। হে ব্রজেশ্বর ! হে জগন্নাথ!
মন্ত্রহীন ক্রিয়াহীন ভক্তিহীনভাবেও যাহা অচ্চিত হইল, তাহা
তােমার কৃপায় পরিপূর্ণ হউক ॥১২৪৷
*
১১৮ গােবিন্দার্চনচূড়ামণি। পরে দন্তশােধন-তৃণাদি দিয়া পুনরাচমন প্রদানপূর্বক মুখবাস তাম্বুলাদি (মূলমুচ্চাৰ্য) “এতত্তাম্বুলং শ্রীকৃষ্ণায় নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া দিবে। শ্রীরাধিকাদি-ভােজনং একৃষ্ণকে দিয়া এক নৈবেদ্য “এতৎ শ্রীকৃষ্ণপ্রসাদ- নৈবেদ্যং শ্রীরাধিকাদি-ব্ৰজদেবীগণেভ্যো নমঃ” মন্ত্রে নিবেদন করিয়া পরে “অমৃতােহপস্তরণমসি স্বাহা” বলিয়া জলগণ্ডুষ দিয়া পূর্বোক্ত বিধানে প্রাণাদি মুদ্রা দেখাইয়া প্রাণহুতি দিবে। সখীমঞ্জৰ্য্যাদির সহিত তাহার ভােজন চিন্তা করিবে। “এতৎ প্রসাদীপানীয়জলং শ্রীরাধিকাদিজদেবীগণেভ্যো নিবেদয়ামি নমঃ” মন্ত্রে নিবেদন করিবে। পরে “অমৃতাে- হপিধানমসি স্বাহা” মন্ত্রে জলগণ্ড প্রদানপূর্বক “ইদম্ আচমনীয়ং শ্রীরাধিকাদি-ব্ৰজদেবীগণেভ্যো নিবেদয়ামি নমঃ ও পরে দন্তশোেধনী-তৃণাদি দিয় পুনরায় আচমন দিয়ে ইদম্ পুনরাচমনীয়ং শ্রীরাধিকাদি-ব্ৰজদেবীগণেভ্যো নমঃ। পরে “এতৎ প্রসাদীতাম্বুলং শ্রীরাধিকাদি-ব্ৰজদেবীগণেভভ্যা নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া দিবে । পরে ভগবদ্বামে ঈশান- কোণে দ্বিতীয় নৈবেদ্য হইতে দুই ভাগে প্রসাদ রাখিয়া চরণামৃতের প্রক্ষেপ দিয়া একভাগ “ওঁ সৰ্ব্বদেবস্বরূপায় পরায় পরমেষ্ঠিনে। শ্রীকৃষ্ণসেবাযুক্তায় বিশ্বকসেনায় তে নমঃ । এতৎশ্রীকৃষ্ণপ্রসাদীনৈবেদ্যং শ্রীবিশ্বকসেনায় {
শ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
নমঃ”। পূৰ্ব্ববৎ জলগণ্ড যাদি তদুপরি অষ্টবার মূলমন্ত্র
জপ করিবে। সেই পাত্ৰস্থিত অপরভাগ শ্রীবৈষ্ণবদিগকে
দিবে ; যথা—“বলির্বিভীষণে ভীষ্মঃ কপিলাে নারদোহৰ্জ্জুনঃ।
প্রদশ্যাম্বরিযশ্চ বৰ্বায়ুসুতঃ শিবঃ। বিশ্বকসেনােদ্ধবা-
ক্রুরাঃ সনকাঘা শুকাদয়ঃ। শ্রীকৃষ্ণস্য প্রসাদোহয়ং সর্বে
গৃহ্নন্তু বৈষ্ণবাঃ। এতৎ শ্রীকৃষ্ণপ্রসাদনৈবেদ্যং সৰ্বেভ্যো
বৈষ্ণবেভ্যো নিবেদয়ামি নমঃ” বলিয়া দিবে। পূৰ্ব্ববৎ
জলগণ্ড
য, প্রসাদী পানীয় জল ও তাম্ব লাদি প্রদান করিবে
অথ অরিত্রিকং
দিবে।
প্রথমে ধূপ আরতি করিবে; যথা-“এতে গন্ধপুষ্পে
শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া তিনবার পুস্পাঞ্জলি গােবিন্দের চরণে
অনন্তর “সুপ্রেক্ষিতমস্তু” মন্ত্রে জলের ছিটা
ধূপধারে দিয়া “ধূপায় নমঃ” বলিয়া অর্চনা করিবে। “এষ
ধূপঃ সপরিবারায় শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” মন্ত্রে সমর্পণ করতঃ
শ্রীগােবিন্দের নাভি পর্যন্ত ধূপ-পাত্র কিঞ্চিৎকাল ধারণ
করিবে। পূৰ্ব্ববৎ কপূর, দীপ, নিবেদন করিয়া দীপমালা
প্রজ্জ্বলিত করিয়া আরতি করিবে। দীপাধারকে পূজা
করিয়া “এষ দীপঃ সপরিবারায় শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ” বলিয়া
আরতি করিবে এবং শঙ্খ তিনবার শ্রীবদনে ঘুরাইবে এবং
মার্জনীবস্ত্র ও চামর ব্যঞ্জনাদি পূর্ববৎ জানিবে ।
গােবিন্দাচর্চনচুড়ামণিঃ।
১২১
শ্রীকৃষ্ণস্তোত্রং,
আরিরাধয়িষুঃ কৃষ্ণং বাচং জিগদিশামি মাং।
তয়া ব্যাসসমাসিন্যা প্রীয়তাং মধুসূদনঃ ॥১২৫৷৷
মহাভারতম্।
অথ বৈদিকস্তোত্রং
ওঁ নমাে বিশ্বরূপায় বিশ্বস্থিত্যন্তহেতবে।
বিশ্বেশ্বরায় বিশ্বায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ ॥
নমাে বিজ্ঞানরূপায়, পরমানন্দরূপিণে।
কৃষ্ণায় গােপীনাথায়, গােবিন্দায় নমাে নমঃ ॥১২৬
নমঃ কমলনেত্রায় নমঃ কমলমালিনে।
নমঃ কমলনায় কমলাপতয়ে নমঃ ॥
বাপীড়াভিরামায় রামায়াকুণ্ঠমেধসে।
রমামানসহংসায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ ॥১২৭
বার্থ—মহাভারতে,—শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করিতে ইচ্ছা
করিয়া যে সকল বাক্য বলিতে অভিলাষ করিতেছি, সংক্ষিপ্ত
ও বিস্তৃত সেই সমুদায় বাক্য দ্বারা মধুসূদন প্রসন্ন হউন ১২৫
পূৰ্ব্বতাপনীয়শ্রুতিতে,-জগতের স্থিতি ও বিনাশের
কারণ, বিশ্বের ঈশ্বর ও বিশ্বরূপ গােবিন্দকে নমস্কার।
আন ও পরমানন্দ স্বরূপ গােপীনাথ গােবিন্দ কৃষ্ণকে
নমস্কার ॥১২
শ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ। কংসবংশবিনাশায় কেশিচামূরতিনে। বৃষভধ্বজবদ্যায় পার্থসারথয়ে নমঃ। বেণুবাদনশীলায় গােপালায়হিমদ্দিনে। কালিন্দীকুললােলায় লােলকুণ্ডলবৰ্গবে ॥১২৮৷ বল্লবীনয়নাম্ভোজমালিনে নৃত্যশালিনে। নমঃ প্ৰণতপালায় শ্রীকৃষ্ণায় নমাে নমঃ। নমঃ পাপপ্রণাশায় গােবর্দ্ধনধরায় চ। পূতনাজাবিন্তায় তৃণাবর্তা হারিণে ॥১২৯৷ নিষ্কলায় বিমােহায় শুদ্ধায়শুদ্ধিবৈরিণে। অদ্বিতীয়ায় মহতে শ্রীকৃষ্ণায় নমো নমঃ ॥ ॥ বার্থ-পদ্মনেত্র, পদ্মমালা, পদ্মনাভ পদ্মপতিকে নমস্কার । বাঁহার মস্তক ময়ূরপুচ্ছ শােভমান, অকুণ্ঠবুদ্ধিসম্পন্ন, লক্ষীর মানস-সরােবরের হংস স্বরূপ সেই গােবিন্দকে নমস্কার ॥১২৭ কংসবংশধ্বংসকারী কেশী ও চারঘাতী, মহাদেবের বন্দনীয় এবং অর্জুনের সারথিকে নমস্কার। বেণুবাদন- তৎপর, গােরক্ষক, কালীয়মর্দন, কালিন্দীকূলে অবস্থিত, চঞ্চল কুণ্ডল দ্বারা শােভাম্বিত, গােপীদিগের নয়ন-কমলের মালাধারী, নৃত্যশালী এবং প্রণত ব্যক্তিদিগের প্রতিপালক কৃষ্ণকে নমস্কার। পাতকপ্রণাশী, গােবর্ধনধারী, পূতন ও তৃণাবর্তের প্রাণ-বিনাশককে নমস্কার ॥১২৮১২৯৪ - গােবিন্দাচমচুড়ামণি প্রসাদ পরমানন্দ প্রর্দীদ পরমেশ্বর। আধিব্যাধিভুজঙ্গেন দষ্টং মামুদ্ধর প্রভাে॥১৩০৷ শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীকান্ত গােপীজনমনােহর। সংসারসাগরে মগ্নং মামুদ্ধর উগগুরাে । কেশব ক্লেশহরণ নারায়ণ জনার্দন। গোবিন্দ পরমানন্দ মাং সমুন্ধর মাধব ॥১৩১৷৷ অথচ্চ চিন্তামণিপ্রকরসদ্মসুকল্পবৃক্ষ- লক্ষাবৃত্যে সুরভীরতিপালয়ন্তং । । বঙ্গাৰ্থ—পরিপূর্ণ, মােহবজ্জিত, শুদ্ধ, পরমপান, অদ্বিতীয় এবং পজনীয় শ্রীকৃষ্ণকে নমস্কার । হে পরমানন্দ-স্বরূপ পরমেশ্বর ! আপনি প্রসন্ন হউন, হে প্রভাে! মনঃপীড়া ও ব্যাধিরূপ ভুজঙ্গ আমাকে দংশন করিয়াছে ; আপনি তাহা হইতে আমাকে উদ্ধার করুন ॥১৩০। হে রুক্মিণীকান্ত । হে গােপীজনমনোহারিন্ । জগদ্গুরাে ! হে কৃষ্ণ! আমি সংসারসাগরে মগ্ন হইয়াছি, আমাকে উদ্ধার করুন। হে কেশব ! হে ক্লেশনাশন। হে নারায়ণ ! হে জনার্দন! হে গােবিন্দ ! হে পরমানন্দ। হে মাধব ! আমাকে উদ্ধার করুন ॥১৩১৷ ব্ৰহ্মসংহিতা, চিন্তামণি-নির্মিত গৃহসমুহে বেষ্টিত হে গােবিমানচুড়ামণিঃ। লক্ষীসহশতসন্ত্রমসেব্যমানং গগাবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৩২৷ = বেণুং কণন্তমরবিন্দদলীয়তাক্ষং বাবতংসমসিতাম্বুজসুন্দরাঙ্গং। কন্দর্পকোটীকমনীয়বিশেষশােভং গগাবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৩৩ আলােলচন্দ্রকলসদ্বনমাল্যবংশী- রাঙ্গদং প্রণয়কেলিকলাবিলাসং। শ্যামং ত্রিভঙ্গললিতং নিয়মপ্রকাশং গগাবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ।১৩৪৷ লক্ষ লক্ষ শােভন কল্পবৃক্ষে আবৃত এমন অসামান্য পীঠস্থলে যিনি সুরভি অর্থাৎ কামধেনুকে পালন করিতেছেন, শত সহস্র 'লক্ষী অর্থাৎ গােপসুন্দরীগণ যাহার সেবা-কাৰ্য্যে তৎপর রহিয়াছেন, সেই আদিপুরুষ গােবিন্দকে আমি ভজনা করি ॥১৩২। বঙ্গাৰ্থ—যিনি বেণু বাদ্য করিতেছেন, যাহার লােচনদ্বয় পদ্ম- পলাশের ন্যায় বিস্তৃত, যাহার মস্তকে ময়ূরপুচ্ছের চূড়া শেভিমান, অঙ্গ নীলােৎপল সদৃশ মনােহর এবং কোটী কোটী কন্দর্প অপেক্ষাও ঘহার কমনীয় ও কিশাের বেশ, সেই আদিপুরুষ গােবিন্দকে ভজনা করি ॥১৩ গােবিন্দাচচুড়ামণি। অঙ্গানি যস্য সকলেন্দ্রিয়বৃতিমন্তি পশ্যন্তি পান্তি কলয়ন্তি চিরং জগন্তি। আনন্দচিন্ময়সজ্জলবিগ্রহস্য গগাবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৩৫। অদ্বৈতমচ্যুতমনাদিমনন্তরূপ- মাদ্যং পুরাণপুরুষং নবযৌবনঞ্চ। বেদেষু দুর্লভমদুর্লভমাত্মভক্তে গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৩৬৷৷ বঙ্গাৰ্থ—যাহার মস্তক চূড়ায় ময়ূরপুচ্ছ আন্দোলিত হইতেছে, যাহার গলদেশে বনমালা, হস্তে বংশী ও রত্নের অঙ্গদ সকল শােভা পাইতেছে, তথা যিনি প্রণয়পূর্বক কেলিকল অর্থাৎ পরিহাসাদিতে বিলাসান্বিত এবং বিনি শ্যামসুন্দর, মনােহর ত্রিভঙ্গ, ও নিত্য প্রকাশ, সেই আদিপুরুষ গগাবিন্দকে ভজনা করি ॥:৩৪৷৷ যাহার বিগ্রহ আনন্দ-স্বরূপ, চিন্ময়, এবং উজ্জ্বল, সুতরাং যাহার প্রত্যেক অঙ্গই নিখিল ইন্দ্রিয়ের বৃতিযুক্ত হইয়া, চিরকালের জন্য জগৎকে দর্শন, পালন ও পর্যবেক্ষণ করেন সেই আদিপুরুষ গােবিন্দকে আমি ভজনা করি ॥১৩৫৷৷ যিনি অদ্বৈত, অচ্যুত, অনাদি, অনন্তরূপ, আদ্য পুরাণ-
ঐগােবিন্দলছুড়ামণিঃ।
পন্থাস্তু কোটীশতবৎসরসংপ্রগয্যো-
বায়ােরথাপি মনসাে মুনিপুঙ্গনাং।
সােহপ্যস্তি যৎ প্রপদসাম্যবিচিন্ত্যতত্ত্বে
গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৩৭৷
একোহপ্যসৌ রচয়িতুং জগদণ্ডকোটিং
যচ্ছরিস্তি জগদণ্ডচয়া যদন্তঃ।
অান্তরস্থ পরমাণুচয়াম্ভরং
গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৩৮
পুরুষ, নবযৌবনান্বিত এবং যিনি বেদ সমুদায়ে দুর্লভ,
কিন্তু আত্মভক্তিতে সুলভ, সেই আদিপুরুষ গােবিন্দকে
আমি ভজনা করি ॥১৩৬৷৷
বঙ্গাৰ্যসকল হইতে বায়ু অতি দ্রুতগানা, তদপেক্ষা মন
তীব্রগামী, কিন্তু প্রধান প্রধান মুনিগণের মনও কোটী শত
বৎসরে যাহার চরণারবিন্দের অগ্রবর্ত্ত স্থানে গমন করিতে
পারে না, কারণ ভগবং চরণারবিন্দের তত্ত্ব অতীব অচিন্ত্য,
সেই আদিপুরুষ গােবিন্দকে আমি ভজনা করি ॥১৩৭৷
যিনি এক, কিন্তু কোটী ব্ৰহ্মাণ্ড রচনা করিতে যাহার
শক্তি আছে, যাহার অন্তরে নিখিল ব্ৰহ্মাণ্ড অবস্থিতি
করিতেছে এবং তিনি এই ব্রহ্মাণ্ডচয়ের বহির্ভাগে পরমাণু
সমূহের দূরে অবস্থিত, সেই আদিপুরুষ গােবিন্দকে আমি
ভজনা করি।১৩৮
১২।
শ্রীগােবিন্দাৰ্চনচুড়ামণিঃ।
ষদ্ভাবভাবিতধিয়াে মনুজান্তথৈব
সংপ্রাপ্য রূপমহিমাসনমানভূষা।
সূৰ্যৈমেব নিগমপ্রথিতৈঃ স্তবন্তি
গগাবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৩৯৷৷
আনন্দচিন্ময়রসপ্রতিভাবিতাভি-
স্তাভির্য এব নিজরূপতয়া কলাভিঃ।
গােলােক এব নিবসত্যখিলাত্মভূতত
গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৪০
প্রেমাঞ্জনচ্ছুরিতভক্তিবিলােচনেন
সন্তঃ সদৈব হৃদয়ে বিলােকয়ন্তি।
বঙ্গাৰ্থ—যাহার ভাবে মনুষ্যদিগের বুদ্ধি বশীকৃত হইয়াছে, সেই
মমুজগণ যাহার রূপ, মহিমা, আসন ও ভূষণ প্রাপ্ত হইয়া
বেদপ্রণীত সূক্তসমূহ দ্বারা যাহাকে স্তব করিয়া থাকেন সেই
আদিপুরুষ গােবিন্দকে আমি ভজনা করি ॥১৩৯৷
যাহার প্রেয়সীবর্গ আনন্দ-চিন্ময়-রসে অর্ঘ্য প্রেমে
প্রতিভাবিত ও নিজ স্বরূপের তুল্য এবং কলারূপে বিখ্যাত
সেই আত্মরূপিণী প্রেয়সীবর্গের সহিত আত্মভূত ভগবান
কেবলমাত্র নিত্য ধাম গােলােকেই বাস করিয়া থাকেন সেই
আদিপুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি ॥১৪০।
ভুক্তিরূপি লােচনযুগলকে প্রেমরূপ অল্পনার রঞ্জিত
১২৮
গােবিন্দার্সনচুড়ামণিঃ।
যং শ্যামসুন্দরমচিন্ত্যগুণস্বরূপং
গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥১৪১
-ব্ৰহ্মসংহিতা।
অন্য
ধ্যেয়ং সদা পরিভবল্পমভীষ্টদোহং
তীর্থম্পদং শিববিরিঞ্চিতং শরণ্যং।
ভৃত্যাৰ্ত্তিহং প্ৰণতপাল ভবান্ধিপােতং
বন্দে মহাপুরুষ তে চরণারবিন্দং ॥১৪২।
ত্যক্তাসুদুস্ত্যজরেপিতরাজ্যলক্ষী,
ধর্মিষ্ঠমাৰ্যবচসা যদােদরণ্যং।
করিয়া সাধুগণ নিয়ত-কালের জন্য হৃদয় মধ্যে অচিন্ত্য
গুণ ও স্বরূপবিশিষ্ট শ্যামসুন্দরকে দর্শন করিয়া থাকেন
সেই আদিপুরুষ গােবিন্দকে আমি ভজনা করি ॥১৪১
বার্থ-হে প্ৰণতপালক! হে মহাপুরুষ ! আপনার যে
চরণারবিন্দ সদা ধ্যানযােগ্য, ইন্দ্রিয় ও কুটুদিজনিত
পরাভব-নিবারক, মনােরথপূরক, গঙ্গা প্রভৃতি তীর্থের
আশ্রয়, শিব ও ব্রহ্মার স্তুত, আশ্রয়যােগ্য, ভক্তজনের
দুঃখনাশক এবং সংসার সাগরের পার-কারক, আপনার
সেই চরণারবিন্দ বন্দনা করি ১৪২।
হে ধর্মিষ্ঠমহাপুরুষ। অন্যের পক্ষে ত্যাগ করা দুষ্কর
ঐশ্রীগােবিন্দাচর্চনচূড়ামণিঃ । মায়ামৃগং দয়িতয়েল্পিতমন্বধাবৎ বন্দে মহাপুরুষ তে চরণারবিন্দং ॥১৪৩৷ পৌরাণিকস্তোত্রং। কল্পদ্রুমাধাে মণিমন্দিরান্ত:- শ্ৰীযােগপীঠালুরুহায়া স্বং। উপাসয়ংস্তন্ত্রবিদে!হপি মন্ত্র গোবিন্দদেবঃ শরণং মমাস্তু ॥১৪৪৷৷ মহাভিষেকক্ষণ-সৰ্ববাসােহ- লঙ্কত্যনঙ্গীকরণােচ্ছলন্ত্যা। সৰ্বাঙ্গ-ভাসকুলয়ংক্ট্রিলােকাং গগাবিন্দদেবঃ শরণং মমাস্তু ॥১৪৫৷ ক এবং দেবগণেরও বাঞ্ছিত রাজলক্ষমা পরিত্যাগ করিয়া, আপনি পিতৃবাক্যে অরণ্যে গমন করিয়াছিলেন এবং নিজ প্রিয়া সাতার সন্তোষার্থে মায়ামৃগের অভিমুখে ধাবমান হইয়াছিলেন অতএব আপনার চরণারবিন্দ বন্দনা করি ॥১৪৩ পৌরাণিক স্তোত্র। বঙ্গাৰ্থ-কল্পবৃক্ষের অধােভাগে অবস্থিত মণিময় মন্দির মধ্যে ষে শ্ৰীযােগপীঠ আছে ঐ যােগপীঠে যে পদ্ম বিরাজিত রহিয়াছে ঐ পদের উপর অবস্থিত গােবিন্দদেব মন্ত্রবিদ সকলকে যিনি মন্ত্রদ্বারা উপাসনা করাইতেছেন, সেই গগাবিন্দ আমার শরণ হউন ॥১৪৪||
গগাবিন্দাচচূড়ামণিঃ।
ঐশ্রীরাধাষ্টক
রাধিকা শরদ-ই-নিন্দি মুখ-মণ্ডলী
কুন্তলে বিচিত্ৰবেণী চম্পক পুষ্প শােভনী।
নীলপট্ট অঙ্গে শােভে তাহে আধ উণী
বন্দিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানুনন্দিনী ॥১৪৬
তরুণ অরুণ জিনি সিন্দুরের মণ্ডলী
যৈছে অলি মত্ত ভরে মলয়জ-গন্ধিনী।
বঙ্গাৰ্থ—মহাভিষেকোৎসবে নিজ শ্ৰীঅঙ্গশােভাদ্বারা আদ্র
সর্ববস্ত্রকে সুশােভিত করিয়া যিনি সৰ্বাঙ্গ তেজ দ্বারা
সর্বচিত্তাকর্ষকরূপে ত্রিভুবনকে আকুল করিতেছেন সেই
শ্রীগােবিন্দদেব আমার শরণ হউন ॥১৪৫।
শ্রীরাধাষ্টক
রাধিকার মুখমণ্ডল, শরৎ কালের পূর্ণচন্দ্রকেও পরা-
জিত করে। সুকুঞ্চিত কেশপাশের দ্বারা বিচিত্র বেণী
রচিত, তাহে চম্পক পুষ্প সুশােভিত শ্ৰীঅঙ্গে নীলবর্ণের
প বসন শােভা করিতেছে, তার উপর আধউরুণী থাকায়
আরও সুন্দর দেখা যাইতেছে, আমি এবস্তৃতা বৃষভানু-
রাজনন্দিনী প্রীমতী রাধিকার পাদপদু বন্দনা করি ॥১৪৬
ধকার কপালের সিন্দুরের বিন্দু : নবােদিত
সূৰ্য্যকে পরাজিত করিতেছে, সেই সিন্দুরের বিন্দুকে ঘেরিয়া
বি ভুরুর ভঙ্গিম, কোটী কোটী কাম গঞ্জিনী বন্দিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানুনন্দিনী ॥১৪৭ খঞ্জন-গঞ্জন দিঠি বঙ্কিম-সুচাহনী অঞ্জন-রঞ্জিত তাহে কামশর-সন্ধিনী। তিল পুষ্প জিনি নাসা বেসর সুদোলনী বন্দিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানুনন্দিনী ॥১৪৮|| পৰু বিফল জিনি অধর-সুরঙ্গিনী দশন দাড়ি-বীজ জিনি অতি শােভনী। চন্দনের মণ্ডল, তাহার বাহিরে বিন্দু বিন্দু কস্তুরীর মণ্ডল শশাভা পাইতেছে, যেন মলয়জ চন্দনের গন্ধে মত্ত হইয়া পাঁতি পাঁতি ভ্রমর বসিয়াছে। জ্বর ভঙ্গিমা কোটী কোটা কামকে গঞ্জনা করিতেছে, আমি শ্ৰীবৃষভানুরাজনন্দিনী শ্রীরাধিকার শ্রীপাদপদ্ম বন্দনা করি ॥১৪৭৷৷ বঙ্গর্থি—শ্রীরাধিকার নয়নমুগল খঞ্জন পাখীকেও গঞ্জনা করি- তেছে সেই নয়নযুগল কজ্জ্বল-রঞ্জিত তাতে ঈষৎ বঙ্কিম চাহনি যেন কন্দর্প-শরের সন্ধান করিতেছেন, নাসা তিল- ফুলকে পরাজিত করিতেছে, তাতে বেসর সুন্দর দুলিতেছে, আমি সেই বৃষভানুরাজনন্দিনী শ্রীরাধিকার পাদপদ্ম বন্দনা করি ॥১৪৮|| রাধার অধর পাকা বিশ্বফলকে (তেলাকুচা) পরা- ১৩২ শ্রীগােবিন্দার্চনচুড়ামণি। বসন্ত কোকিল জিনি সুমধুর বােলনী বন্দিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানুনন্দিনী ॥১৪৯৷ কনক মুকুর জিনি গণ্ডযুগ-শােভনা রতনমঞ্জির পায়ে বরাজ-দোলনী। কেশর মুকুতাহার উপর ঝােলনী বন্দিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানুনন্দিনী ॥১৫০। কনক কলস জিনি কুচযুগ-শােভনী করিবর-কর জিনি বাহুযুগ-দোলনী। সুললিত অঙ্গুলিতে মুদ্রিকার সজনী বদিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানু-নন্দিনা ॥১৫১৷ জিত করিতেছে, দন্তপংক্তি দাড়িম্ব বীজসকলকেও জিনিয়া অতি শোভাযুক্ত, খাঁহার সুমধুর কথা বসন্তের কোকিলকেও পরাজিত করে, আমি সেই বৃষভানুরাজনন্দিনী শ্রীরাধিকার পাদপদ্ম বন্দনা করি। ১৪৯ বঙ্গাৰ্থযাহার গণ্ডযুগল স্বর্ণদর্পণকে পরাজিত করিতেছে, চরণের রতন-নূপুর ও বাঁকমল চঞ্চল হইয়া শােভা পাইতেছে, এবং কেশর অর্থাৎ বেণী ও মুকুতার হার যাহার বক্ষঃস্থলে ঝুলিতেছে, আমি সেই বৃষভানুরাজনন্দিনী শ্রীরাধিকার পাদ- পদ্ম বন্দনা করি ॥১৫|| রাধার স্তনযুগলের শোভা স্বর্ণনির্মিত কলসকেও ১৩৩ গােবিন্দা*চুড়ামণিঃ। গজ-অরি জিনি মাজা গুরুয়া নিতম্বিনী তা’পর শােভিত ভাল কনকের কিঙ্কিণী কনক উলট রম্ভা জানুযুগ-শােভনী বন্দিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানুনন্দিনী ॥১৫২ হংসরাজ-গতি যিনি সুমন্থর-চলনী রাতুল চরণে বাজে কনয়া সুপঞ্জিনী। যুগল চরণে শশাভে যাবক সুরঞ্জনা বন্দিয়ে শ্রীপাদপদ্ম বৃষভানুনন্দিনী ॥১৫৩৷৷ পরাজিত করিতেছে, হস্তীর শুণ্ডকে পরাজিত করিয়া যাহার বাহুযুগলের সুন্দর দোলনী, যাহার সুন্দর অঙ্গুলীসকলে অঙ্গুরী (অর্থাৎ আংটী) সকল শোভা পাইতেছে, আমি সেই বৃষভানুরাজনন্দিনী শ্রীরাধিকার পাদপদ্ম বন্দনা - করি ॥১৫১৷৷ বঙ্গার্থ——যাহার ক্ষীণ মাজাখানি সিংহের মাজাকেও পরাজিত করিতেছে, যাহার বিপুল নিতম্বের উপর সােনার কিঙ্কিণী ভাল শোভা পাইতেছে, যাহার জানুযুগল উলট স্বর্ণরম্ভার (কলাগাছ) মত শােভা পাইতেছে, আমি সেই বৃষভানুরাজ- নন্দিনী শ্রীরাধিকার পাদপদু বন্দনা করি ॥১৫২৷৷ যাহার সুমধুর মন্দ মন্দ গতি হংসরাজের গতিকেও পরাজিত করে ও ঘঁহার সুন্দর রাঙ্গা চরণে সোনার সুপঞ্জিনী
গােবিন্দামামপি।
অথ প্রার্থনা
মন্ত্রহীনং ক্রিয়াহীনং ভক্তিহীনং জনার্দন।
যৎপূজিতং ময়া দেব পরিপূর্ণং তদস্তু মে ॥১৫৪৷৷
কিঞ্চ
যদ্দং ভক্তিমাত্রেণ পত্ৰং পুষ্পং ফলং জলং
আবেদিতং নিবেদ্যন্তু তদৃগৃহাণানুকম্পয়া ॥১৫৫৷
কিঞ্চ
অজ্ঞানাদথবা জ্ঞানদিশুভং যময়া কৃতং
ক্ষমহসি তৎসৰ্ব্বং দাস্থেনৈব গৃহাণ মাং ১৫৬৷৷
(অর্থাৎ পায়মোড়) মধুর মধুর বাজিতেছে, ঘঁহার যুগল চরণ
অলক্তক-রঞ্জিত (অর্থাৎ অতি-মাখান) আমি সেই বৃষভানু-
রাজনন্দিনী রাধিকার পাদপদ্ম বন্দনা করি ॥১৫৩।
বঙ্গার্থ-হে দেব ! হে জনার্দন ! মন্ত্রহীন, ক্রিয়াহীন ও
ভক্তিহীন হইয়া আমি যে পূজা করিয়াছি তৎসমুদায় পরিপূর্ণ
হউক ॥১৫৪৷৷
আরও, ভক্তিসহকারে যে সমুদায় পত্র, পুষ্প, ফল
ও জল প্রদত্ত হইয়াছে, নিবেদিত সেই সকল বস্তু আপনি
অনুগ্ৰহ করিয়া গ্রহণ করুন ॥১৫৫।
আরও, অজ্ঞানবশতই হউক আর জ্ঞানবশতই হউক
আমি যে যে অশুভ কৰ্ম্ম করিয়াছি তৎসমুদায় আপনি ক্ষমা
করুন এবং আমাকে দাসভাবে গ্রহণ করুন ॥১৫৬৷৷
গােবিন্দচনচূড়ামণিঃ ।
স্থিতিঃ সেবা গতির্যাত্রা স্মৃতিশ্চিন্তা স্তুতিঃ
ভূয়াৎ সর্বাত্মনা বিষ্ণো মদীয়ং ত্বয়ি চেষ্টিতং ১৫৭
শ্রীবিষ্ণুপুরাণে,
নাথ যােনিসহস্রে যে যে ব্ৰজাম্যহং।
তেষু তেতাভক্তিরচ্যুতাস্তু সদা ত্বয়ি ॥১৫৮
যা প্রীতিরবিবেকানাং বিষয়েধনপায়িনী
মনুস্মরতঃ সা মে হৃদয়ান্নাপসপ ॥১৫৯৷৷
বিধিহীনং মন্ত্রহীনং যৎকিঞ্চিদুপপাদিতং
ক্রিয়ামন্ত্রবিহীন তৎসং ক্ষমহসি ॥১৬০।
বঙ্গাৰ্ধ—হে বিষ্ণো ! স্থিতি, সেবা, গতি, যাত্রা, স্মৃতি, চিন্তা,
স্তব ও বাক্য প্রভৃতি আমার সমুদায় চেষ্টা যেন আপনার
উদ্দেশ্যেই সম্পন্ন হয় ॥১৫৭||
“বিষ্ণুপুরাণে”, হে নাথ ! হে অচ্যুত ! আমি
যােনিসহস্রের মধ্যে যে যে স্থানে জন্মগ্রহণ করিব, সেই
সেই জন্মে যেন আপনাতে আমার অচলা ভক্তি থাকে।১৫৮
যে প্রকার বিষয়াসক্ত ব্যক্তিদিগের প্রতি কেবল
বিষয়েই সম্বন্ধ থাকে সেই প্রকার আপনাকে স্মরণ করিয়া
আমার অন্তঃকরণে যে প্রীতির উদয় হইল ইহা যেন মদীয়
চিত্ত হইতে কখনও অপগত না হয় ॥১৫৯৷৷
܀܀܀܀
শ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
পাণ্ডবগীতায়া,
কাটে পক্ষি মৃগেষ সরীসৃপেযু ।
রক্ষঃপিশাচমনুজেপি যত্র তত্র ॥১৬১৷
জাতস্য মে ভবতু কেশব তে প্রসাদাৎ
ত্বয্যেব ভক্তিরতুলাহব্যভিচারিণী চ ॥১৬২।
পাদ্মে—
যুবতীনাং যথা ঘূনি নূনাঞ্চ যুবতে যথা
মননাভিরমতে তদ্বন্মনাে মে রমতাং ত্বয়ি ॥১৬৩
বঙ্গাৰ্থ—বিধিহীন ও মন্ত্রহীন অথবা ক্রিয়ামন্ত্রবিহীন যে কোন
কাৰ্য্য সম্পাদিত হইয়াছে সে সমুদায় আপনি ক্ষমা করিতে
যােগ্য হউন ॥১৬০৷৷
পাণ্ডবগীতায়, হে কেশব! কীট, পক্ষী, মৃগ,
সরীসৃপ, রাক্ষস, পিশাচ এবং মনুষ্য এই সকলের মধ্যে
আমি যে কোন জন্ম গ্রহণ করি না কেন আপনার অনুগ্রহে
সেই জন্মেই যেন আপনার প্রতি আমার দৃঢ় অবিচলা ভক্তি
থাকে ॥১৬১,১৬২৷৷
পদ্মপুরাণে, যেরূপ যুবতীর যুবাতে এবং যুবার
যুবতীতে পরম্পর মন অভিরমিত হয়, সেইরূপ যেন আমার
মন আপনাতে গিয়া একান্ত আসক্ত থাকে ॥১৬||
শ্রীশ্রীগােবিন্দাচচনচূড়ামণি। অথ অপরাধক্ষমার্পণ অপরাধসহস্রাণি ক্রিয়ন্তেংহনিশং ময়া দাসােহহমিতি মাং মত্বা ক্ষমস্ব মধুসূদন ॥১৬৪৷ কিঞ্চ প্রতিজ্ঞা তব গােবিন্দ ন মে ভক্তঃ প্রণতি ইতি সংঘৃত্য সংঘৃত্য প্রাণান্ সংধারয়াম্যহং ১৬৫ কিঞ্চ কদাহং যমুনাতীরে নামানি তব কীৰ্ত্তয়। উদ্বাপপুণ্ডরীকাক্ষ রচয়িষ্যামি তাণ্ডবং ॥১৬৬৷৷ অপরাধ-ক্ষমাপ্রার্থনা বঙ্গাৰ্থ- “হে মধুসূদন! আমি দিবারাত্রির মধ্যে যে সহস্র সহস্র অপরাধ করিতেছি তৎসমুদায় আমাকে দাস বিবেচনা করিয়া ক্ষমা করুন ॥১৬৪৷৷ আরও হে গােবিন্দ ! আমার ভক্ত কখনও বিনষ্ট হয় না, এই আপনার প্রতিজ্ঞা আছে ; আমি ইহা স্মরণ করিয়া প্রাণ ধারণ করিতেছি ॥১৬৫। আরও হে পুণ্ডরীকাক্ষ! কবে আমি যমুনাতীরে তােমার নাম গান কীৰ্ত্তন করিতে করিতে অশ্রুপূর্ণলােচনে নৃত্য করি ॥৯৬৬ ঐশ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ। শ্রীরাধিকা-প্রণামঃ নবীনাং হেমগৌরাঙ্গীং প্রবরেন্দীবরাম্বরাং । বৃষভানুমুতাং বন্দে কৃষ্ণকান্তাশিয়ােমণিং ॥১৬৭৷৷ নবীনাং হেমগৌরাঙ্গীং পূৰ্ণানন্দবতীং সতীং বৃষভানুসুতাং দেবীং বন্দে রাধাং জগৎপ্রসূং ॥১৬৮ রাং রাসেশ্বরীং রম্যাং গােবিন্দমােহিনীং পরাং। বৃষভানুসুতাং দেবীং নমামি শ্রীহরিপ্রিয়াং ॥১৬৯ মহাভাবম্বরূপা ত্বং কৃষ্ণপ্রিয়া বরীয়সী। প্রেমভক্তিপ্রদে দেবি ! রাধিকে! তাং নমাম্যহং ॥১৭০। বার্থ-আমি নবীনা স্বর্ণের মত গৌরাঙ্গী, শ্রেষ্ঠ নীল কমল- বর্ণের বসনধারিণী কৃষ্ণকান্তার শিরােমণি বৃষভানন্দিনী রাধিকাকে প্রণাম করি ॥১৬৭৷ আরও নবীনা, হেমগৌরাঙ্গী, পূৰ্ণানন্দবর্তী, সতী, জগৎপ্রসবকারিণী, বৃষভানুনন্দিনী শ্রীরাধাকে প্রণাম করি ॥১৬৮|| আরও, রাসেশ্বরী, রম্য, শ্রেষ্ঠা, গােবিন্দমােহিনী, হরিপ্রিয় বৃষভানুনন্দিনী শ্রীরাধিকাদেবীকে আমি প্রণাম }} করি ॥১৬৯৷৷ আরও, হে রাধিকে ! হে কৃষ্ণপ্রিয়শিয়ােমণি ! হে প্রেমভক্তিপ্রদে! হে দেবি! তুমি মহাভাব-স্বরূপা
ঐগগাবিন্দা চুচামণি
রাসােৎসব-বিলাসিনি। নমস্তে পরমেশ্বরি।
কৃষ্ণপ্রাণাধিকে রাধে পরমানন্দ-বিগ্রহে ॥১৭১
শ্রীরাধিকা-স্তব।
রাধে ! বৃন্দাবনাধীশে ! করুণামৃতবাহিনি !
কৃপয়া নিজপাদাব্ধে দাস্যং মহং প্রদীয়তাং ১৭২।
কদাগানকলামৃত্যং শিক্ষয়িষসি রাধিকে।
যেন তুষ্টোরিস্তে মাং কিঙ্করীমিতিমন্মহে ॥১৭৩৷৷
তবৈবাস্মি তবৈবাস্মি ন জীবামি ত্বয়া বিনা।
ইতি বিজ্ঞায় দেবি ত্বং নয়মাং চরণান্তিকে ॥১৭৪৷
তােমাকে প্রণাম করিতেছি॥১৭০৷৷
অরিও, হে কৃষ্ণ প্রাণাধিকে ! পরমানন্দ-বিগ্রহে।
রাসোৎসববিলাসিনি পরমেশ্বরি রাধে! আমি তােমায়
প্রণাম করিতেছি ॥১৭১৷৷
শ্রীরাধিকা স্তব
বার্থ-হে বৃন্দাবনেশ্বরি রাধে! হে করুণামৃতের নদি !
তুমি কৃপা করিয়া তােমার নিজ চরণকমলে দাস্ত আমাকে
প্রদান কর ॥১৭২৷৷
আরও, হে রাধিকে ! তুমি কবে আমাকে গান,
কলাবিদ্যা ও নৃত্য শিক্ষা দিবে, যাহাতে হরি তুষ্ট হইয়া
আমাকে কিঙ্করী বলিয়া মনে করিবেন ॥১৭৩
}
১৪৬
গােবিাচনচুড়ামণিঃ
শ্ৰীশ্ৰীযুগলকিশােরস্তোত্র
কনক-মুকুট-চুড়ো পুষ্পিতােণ্ডুষিতাঙ্গো
সকল-বন-নিবিষ্টেী সুন্দরানন্দপুঞ্জে।
চরণ-কমল-দিব্যৌ দেবদেবাদি-সেব্যে
ভজ ভজ মনন রে রাধিকা-কৃষ্ণচন্দ্রৌ॥১৭৫)
অতি-সুবলিত-গাত্রো গন্ধমাল্যৈবিরাজে
কতি কতি রমণীনাং সেব্যমানৌ সুবেশে।
মুনি-সুর-গণ-ভাব্যৌ বেদশাস্ত্রাদি-বিজ্ঞে
ভজ ভজ মননা রে রাধিকা-কৃষ্ণচন্দ্রে ॥১৭৬||
বঙ্গা—হে দেবি রাধিকে, আমি তােমারই, আমি তােমারই,
তােমাকে বিনা বাঁচিতেছি না এই জানিয়া তুমি আমাকে
তােমার চরণের নিকটে টানিয়া লও ॥১৭৪৷
কনক রচিত মুকুটধারী, পুষ্প ও অলঙ্কারে ভূষিত
অঙ্গ, সকল বনে নিবিষ্ট, সুন্দর ও আনন্দপুঞ্জ, চরণ কমলে
অতি দিব্য, দেবদেবাদির সেব্য, শ্রীরাধাকৃষ্ণকে, রে মন!
ভজ ভজ ॥১৭৫||
অতি সুবলিত গাত্রযুক্ত, গন্ধমাল্যে বিরাজিত, কত
কত রমণীগণ কর্তৃক নিত্য সেব্য, দেবদেবের আরাধ্য,
মুনি দেবতাগণ কর্তৃত চিন্তনীয়, বেদশাস্ত্রাদিবিজ্ঞ, শ্রীরাধিকা-
কৃষ্ণচন্দ্রকে, রে মন ভজ ভজ ॥১৭৬৷৷
t ঐশ্রীগােবিন্দাচচুড়ামণি। অতি-সুমধুর-মূৰ্তে দুষ্ট-দর্প-প্রশান্তে সুরবর-বরদৌ দৌ সৰ্বসিদ্ধি-প্রদানে অতিরসবশ-ময়ে গীতবাদ্য-বিতানো ভজ ভজতু মননা রে রাধিকা-কৃষ্ণচন্দ্রো ॥১৭৭৷ আগম-নিগম-সারে সৃষ্টি-সংহার-কারে বয়সি নবকিশােরে নিত্যবৃন্দাবনস্থো। শমনভয়-বিনাশৌ পাপিনস্তারয়ন্তেী ভজ ভজতু মনাে রে রাধিকা-কৃষ্ণচন্দ্রো ॥১৭৮৷৷ শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের শরণাগতি তবাস্মি রাধিকানাথ! কৰ্ম্মণ। মনসা গিরা। কৃষ্ণকান্তে ! তবৈবামি যুবামেব গতিৰ্ম্মম। বঙ্গাৰ্থ—অতি সুমধুর মূর্তিধারী, দুষ্টের দর্পবিনাশী, শ্রেষ্ঠ দেবতাগণের ও বরদাতা, সর্বসিদ্ধিপ্ৰদাতা, অতিশয়রূপে রসে নিমগ্ন, গীতবাদ্য বিস্তারকারা, শ্রীরাধিকা ও কৃষ্ণচন্দ্রকে, রে মন! ভ ঐ ভ॥১৭৭|| তন্ত্র ও বেদের সার, সৃষ্টি সংহারকারী, বয়সে নব- কিশাের, নিত্য বৃন্দাবনস্থিত, শমন ভয় বিনাশী, পাপী সকলকে উদ্ধারকারী, শ্রীরাধিকা ও কৃষ্ণচন্দ্রকে, রে মন ! ভজ ভজ ১৭৮|| হে রাধিকানাথ ! আমি কৰ্ম্ম, মন, ও বাক্যের দ্বারা গােবিন্দানামণি। শরণং বাং প্রপােেহস্মি করুণানিকরকরো। প্রসাদং কুরুতং দাস্যং ময়ি দুষ্টেহপরাধিনি । যােহহং মমাস্তি যৎকিঞ্চিৎ ইহলােকে পরত্র চ। তৎসৰ্ব্বং ভবতাের চরণেষু ময়াপিতং ॥১৭৯৷ প্রণাম দুই বাহুদ্বারা মানসিকে দুই চরণ ধারণপূৰ্ব্বক অবনত মস্তকে এই বলিয়া প্রণাম করিবে ; “হে নাথ ! আমার আর অন্য কোন বাসনা বা প্রার্থনা নাই কেবল মাত্র তুমি যেন সুখে থাক” এই বলিয়া অশক্ত পক্ষে ৬বার, শক্ত পক্ষে ১২বার, ২৪বার, ৪৮বার দণ্ডবৎ প্রণাম করিবেন। ইহাকে নিষ্কাম প্রণাম বলে। “হে ঈশ! মৃত্যুরূপ আক্র- মণ সমুদ্র হইতে আমি ভাত ও শরণাগত অথবা আমি তােমার । হে কৃষ্ণকান্তারাধিকে, আমি তােমার। তােমরা দুইজনেই আমার গতি। হে করুণার আকর রাধাকৃষ্ণ! তােমাদের দুইজনার চরণে আমি শরণাগত হইলাম, তোমরা কৃপা করিয়া, দুষ্ট ও অপরাধী আমাকে তােমাদের চরণ সেবার অধিকার দান কর। আমার ইহলােক ও পরলােকে অহমিকা, ও মমতা যা কিছু আছে, তাহা সব তােমাদের দুইজনার চরণে আমি অন্য অর্পণ করিলাম ॥১৭৯৷৷ গোবিন্দাচ্চচূড়ামণিঃ। অপরাধী আমাকে রক্ষা করুন” এইরূপ মানসিক চিন্তা দ্বারা যে প্রণাম তাহাকে সকাম প্রণাম বলে। নিৰ্মাল্যগ্রহণ পরমদয়ালুনা ভগবতা দত্তং ইতি মনসা বিচিন্ত্য ভগবন্নির্মাল্য-চন্দন-পুষ্প-তুলসীপত্রাদিকং মহাপ্রসাদ ইতি মত্যা শিরসি ধারয়েৎ ॥১৮|| অথ তুলসীবনপূজা তুলসবনে গমন করিয়া তমূলে ( মূলমুচ্চাৰ্য) শ্রীকৃষ্ণায় নমঃ মন্ত্রে গন্ধপুষ্প দিবে। সদাচার মতে— “গােবিন্দবল্লভাং দেবীং ভক্তচৈতন্যকারিণীং স্নাপয়ামি জগদ্ধাত্রীং বিষ্ণুভক্তিপ্রদায়িণীং” ॥১৮১৷৷ মন্ত্রে তুলসীকে স্নান করাইয়া পদ্ধতি মতে অর্ঘ্যদান ও পূজা ও প্রণাম করিবে। অথ অর্ঘ্যদানিং শিয়ঃ শ্রিয়ে শিয়াবাসে নিত্যশ্রীধরসৎকৃতে। ভক্ত্যা দত্তং ময়া দেবি! গৃহাণার্ঘ্যং নমােহস্তুতে ॥১৮২৷ বঙ্গাৰ্থ—দয়ালু ভগবান নিজে দান করিয়াছেন মনে করিয়া ভগবৎ-প্রসাদী নিৰ্ম্মাল্য চন্দন তুলসী প্রভৃতি মহাপ্রসাদ- জ্ঞানে উহা মস্তকে ধারণ করিবেন ॥১৮০ যিনি শ্রীগােবিন্দের অতিশয় প্রিয়া এবং ভক্তগণকে
৯৪৪
ঐশ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
“শ্রীতুলসীদেব্যৈ নমঃ” মন্ত্রে অর্ঘ্য দিবে ।
নির্মিতা ত্বং পুরা দেবৈচ্ছিতা ত্বং সুরাসুরৈঃ ।
তুলসি ! হর মে পাপং পূজাং গৃহ্ন নমােহস্তুতে ১৮৩
“এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীতুলসীদেব্যৈ নমঃ” মন্ত্রে পূজা
করিবে।
স্তুতি
মহাপ্রসাদ জননী সৰ্বসৌভাগ্যবৰ্ধিনী।
আধিব্যাধিহরী নিত্যং তুলসী ত্বং নমােহস্তুতে ॥১৮৪৷
চৈতন্য প্রদান করিয়া থাকেন যিনি জগন্মাতা ও বিষ্ণুভক্তি-
প্রদায়িণী সেই তুলসী দেবীকে আমি স্নান করাইতেছি ॥১৮১
বঙ্গার্থ —হে দেবি ! আপনি শ্রীলক্ষ্যার আশ্রয় ও বাসস্থান,
ধর অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ অপনাকে সর্বদাই সমাদর করেন,
আমি ভক্তিভাবে অর্ঘ্য প্রদান করিলাম, আপনি গ্রহণ করুন,
আপনাকে নমস্কার ॥১৮২
হে দেবি ! আপনাকে পূৰ্ব্বকালে দেবগণ নির্মাণ
করিয়াছিলেন । দেব দানবগণ আপনাকে পূজা করেন।
হে তুলসি ! আমার পাপ হরণ করুন, আমার পূজা গ্রহণ
করুন, আপনাকে নমস্কার ॥১৮৩
হে তুলসি ! আপনি ভগবৎ-অনুগ্রহ জন্মাইতে
পারেন, আপনি নিত্য সমস্ত সৌভাগ্য বর্ধন করিতে পারেন,
১৪৫
শ্রীশ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণি।
তুলসীপ্রণামঃ
যা দৃষ্টা নিখিলাঘসঙ্শমনী পৃষ্টা বপুঃপাবনী
বােগানামভিবন্দিতা নিরসনী সিক্তান্তকাসিনী।
প্রত্যসত্তিবিধায়িনী ভগবতঃ কৃষ্ণস্য সংরাপিতা
তস্তা তক্ষরণে বিমুক্তিফলদা তস্যৈ তুলস্যৈ নমঃ ॥১৮৫৷
তদনন্তর শ্রীকৃষ্ণ নাম করিতে করিতে ৪ বার শ্রীমন্দির
পরিক্রমা করিবে পরে ৪ বার শ্রীতুলসী ও পরিক্রমা করিয়া
অর্ঘ্যপাত্রস্থিত এক চুলুকোদক মাত্র জল, দক্ষিণ হস্তে
গ্রহণ করিয়া শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণপদ্মের নিকটে রাখিয়া এই
প্রার্থনা করিবে।
পদত্রয়ক্রমা ক্ৰান্ত ত্রৈলােক্যেশ্বর কেশব ।
ত্বংপ্ৰসাদাদিদং তােয়ং পাছং তেহস্তু জনার্দন ॥১৮৬৷
এই মন্ত্রে কৰ্মাৰ্পণ করিয়া আত্ম সমর্পণ করিবে ।
আপনাকে নমস্কার ॥১৮৪৷৷
যাহাকে দর্শন করিলেই সমস্ত পাতক নষ্ট হয়, জল
দ্বারা অভিষেচন করিলে যম-ভয় নিবারণ হয়। যাহাকে
আরােপণ করিলে ভগবানের সন্নিধি লাভ হয়, শ্রীভগবানের
শ্রীচরণে সমর্পণ করিলে বিশিষ্ট মুক্তি অর্থাৎ প্রোভক্তি
লাভ করা যায় সেই তুলসীকে নমস্কার করি ॥১৮৫৷৷
হে ত্রিবিক্রম, হে ত্রৈলোক্যাধিপতে, হে কেশব, হে
জনার্দন! এই জল আপনার চরণােদক হউক ॥১৮৬৷
শ্রীগােবিন্দার্সনচুড়ামণিঃ ।
অথ স্বাৰ্পণবিধিঃ
অহং ভগবতােহংশােহস্মি সদা দাসােহস্মি সৰ্ব্বধা।
তৎকৃপাপেক্ষকো নিত্যমিত্যাত্মানং সমর্পয়েৎ ॥১৮৭
তদনন্তর শ্রীনাম কীর্তন নিম্নলিখিত প্রকারে কিঞ্চিৎ
কাল করিবে।
জয় জয় নিত্যানন্দাদ্বৈত গৌরাঙ্গ
নিতাই গৌরাঙ্গ নিতাই গৌরাঙ্গ।
গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।
কৃপা করি দেহ গৌর চরণারবিন্দ ।
জয় জয় রাধে কৃষ্ণ গােবিন্দ।
রাধে গােবিন্দ রাধে গােবিন্দ ।
শ্যামসুন্দর মদনমোহন বৃন্দাবনচন্দ্র।
রাধারমণ রাসবিহারি শ্রীগােকুলানন্দ।
ললিতাদি সখী আদি যত সখীবৃন্দ।
পৌর্ণমাসী কুন্দলতা জয় অভারীবৃন্দ।
শ্রীরূপ মঞ্জুরী আদি মঞ্জরী অনঙ্গ।
কৃপা করি দেহ যুগল চরণারবিন্দ।
আমি ভগবানের অংশ সর্বদা প্রভুর দাস, সর্বদাই
তাহার অনুগ্ৰহাকাঙ্ক্ষী এইভাবে আত্মসমর্পণ করিবে ১৮৭
ইতি গােবিন্দপূজা সমাপ্তা।
t
অথ মধ্যাহ্নকৃত
মধ্যাহ্নে শ্রীশ্রীমন্মহাপ্রভুর পূজায় বর্ণিত যােগপীঠের
পার্শ্বে নানাবিধ পুষ্পে সুশশাভিত ও পুষ্পস্তরণযুক্ত তিনখানি
অতি মনােহর স্বর্ণ-পালঙ্ক চিন্তা করিয়া ঐ তিনখানি পালঙ্কে
শ্ৰীশ্ৰীমন্মহাপ্রভু, নিত্যানন্দপ্রভু ও শ্ৰীঅদ্বৈতপ্রভুকে
শয়ন দিলাম চিন্তা করিবে এবং তদীয় ভক্তবৃন্দকেও ঐ
প্রকারে চিন্তা করিবে।
তদনন্তর শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দজাউকে ভোজনানন্তর প্রতি-
পূৰ্ব্বক শয্যায় মধ্যাহ্নে শয়ন করাইবে।
শয়নপ্রণালী যথা-
হরিভক্তিবিলাস ও শ্রীগােবিন্দলীলামৃত গ্রন্থদৃষ্টে
লেখা হইল । মনােজ্ঞ প্রশস্ত পুলিনে ছায়াবী কমলাসনে
বিচিত্র চন্দ্রাতপে বিভূষিত সুবর্ণমণ্ডপ, মালাদি রচনায়
মনােহর, মণি ও কুসুম ভূষিত, মধ্যে মধ্যে অনেক সুবর্ণ রত্ন
দ্বারা খচিত, সিংহাসনে, মুক্তা দ্বারা নির্মিত ও মালায় ভূষিত
ও উপবিষ্ট শ্ৰীকৃষ্ণ হাস্য করিতে করিতে লজ্জিতা
শ্রীরাধিকাকে যত্নপুৰ্ব্বক আকর্ষণ করিয়া আপনার মুখ হইতে
চৰ্বিত-তাম্বুল তাহার মুখপদ্মে প্রদান করতঃ আনন্দিত
ঐশ্রীগােৰিলাচনামণি।
হইয়া নিজ পার্শ্বে শয়ন করাইলেন। শ্রীরূপ প্রভৃতি মুখ্য
মুখ্য সখীগণ চামর-ব্যঞ্জনাদি দ্বারা সেবা করিতে থাকিলে
তাঁহারা দুইজনে সেই মন্দিরে ক্ষণকাল নিদ্রা-সুখ লাভ
করিলেন।
তদনন্তর সাধক শ্রীচরণামৃত শ্ৰীবৈষ্ণবগণকে দিয়া পরে
নিজে গ্রহণ করিবে। যথা-
অকালমৃত্যুহরণং সৰ্বব্যাধিবিনাশনং।
বিষ্ণোঃ পাদোদকং পীত্বা শিরসা ধারয়াম্যহং ॥১৮৮||
পরে সাধক শ্রীগােবিন্দের আরাধনা ও শয়নাদি লীলা
চিন্তা করিতে করিতে প্রসাদ গ্রহণ করিবে।
প্রসাদগ্রহণপ্রণালী যথা-
শ্ৰীশ্ৰীমহাপ্রসাদ দর্শনপূর্বক ভক্তিসহকারে প্রথমেই
নমস্কার করিয়া, কামগায়ত্রী দ্বারা অভিমন্ত্রিত করিবে ।
তৎপর মূলমন্ত্র সাতবার জপ করিয়া নিম্নলিখিত শ্লোক পাঠ
করিয়া মহাপ্রসাদ পাইবেন।
যস্যোচ্ছিষ্টং হি বাঞ্ছন্তি ব্ৰহ্মাদ্যা ঋষয়ােহমলাঃ।
সিদ্ধান্যাশ্চ হরেস্তস্য বয়মুচ্ছিষ্টভােজিনঃ ॥১৮৯
বার্থ-আমি অকালমৃত্যুনাশক, সমস্ত পীড়া বিনাশক
বিষ্ণুর চরণামৃত পান করিয়া মস্তকে ধারণ করিতেছি ॥১৮৮||
যাহার ভুক্তাবশিষ্ট ব্ৰহ্মাদি নিৰ্ম্মল মুনিগণ, সিদ্ধগণ
বাঞ্ছা করেন, অমিরা সেই ভগবানের উচ্ছিষ্টভাের্জী ॥১৮৯
গােবিন্দামচুড়ামণিঃ ।
কিঞ্চ
যস্য নান্না বিনশ্যন্তি মহাপাতকরাশয়ঃ ।
তস্য শ্রীকৃষ্ণদেবস্য বয়মুচ্ছিষ্টভােজনঃ ।
উচ্ছিষ্টভেজিনস্তস্য বয়মদ্ভূতকর্মণঃ
যাে বাল্যলীলয়া তাংস্তান্ পূতনাদীনপাতয়ৎ ॥১৯০ |
একাদশস্কন্ধে-
ত্বয়েপভুক্তগন্ধবাসােলঙ্কারচচ্চিতাঃ।
উচ্ছিষ্টভােজিনাে দাসাস্তব মায়াং জয়েমহি ॥১৯১।
উপরোক্ত শ্লোকগুলির অর্থ চিন্তা করিতে করিতে
শ্রীমহাপ্রসাদ পাইবে।
বঙ্গার্থ—যাহার নামে মহাপাপরাশি বিনষ্ট হয়। আমরা সেই
কৃষ্ণের উচ্ছিষ্টভোজী। আমরা, অদ্ভুতকৰ্মা সেই ভগবানের
উচ্ছিষ্টভােঙ্গী। যিনি, বাল্যলীলাচ্ছলে সেই সেই
পূতনাদিকে নিপাত করিয়াছিলেন ॥১৯০ |
একাদশস্কন্ধে,-আমরা তােমার দাস, তােমার প্রসাদী
মাল্য, চন্দন, বস্ত্র, অলঙ্কারাদি দ্বারা বিভূষিত হইয়া তােমার
উচ্ছিষ্ট ভক্ষণপূর্বক তােমার মায়া জয় করিব ॥১৯১
অপরাহকৃত্যম শ্রীসীমৰ্য্যাদি সহ ঐশ্রীরাধাগােবিন্দকে ঘণ্টাধ্বনি সহ স্তব পাঠ করিতে করিতে উত্থাপনপূর্বক মুখ প্রক্ষালন করাইয়া শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দকে ধূপ আরত্রিক করিয়া ফল, মূল, সর, লছুক প্রভৃতি শীতলী ভােগ দিবে। অনন্তর ঐ প্রসাদী দ্রব্যাদি সখীমঞ্জৰ্যাদিকেও নিবেদন করিবে। তিন প্রভু ও তদীয় ভক্তবৃন্দেও এইপ্রকার জানিবে । তবে পদ্ধতির পোৰ্বপৰ্যানুসারে সর্বত্র বিবেচনা করিয়া লইবে। সায়াহ্নকৃত্যম শ্ৰীমন্দিরে দাপাদি প্রজ্জ্বলিত করিয়া নাম সংকীৰ্ত্তনাদি করতঃ মহানারাজন অর্থাৎ ধূপ আরত্রিক, কপূর আরত্রিক, বিষমবর্তিকা দীপ নারাজন করিবে। আরত্রিক-কালে মহাপ্রভু, শ্রীরাধা, শ্রীগােবিন্দর্জাউ, তুলসীদেবীর আরত্রিক সংকীৰ্ত্তন ও মহাবা, শঙ্খ, ঘণ্টা, কঁসির প্রভৃতি বাদ্য বাজাইবে। পরে শ্রীজয়দেব-কৃত দশাবতারাদি কীৰ্ত্তন করিবে। এখানে নীরজন নিয়মাবলী অরুণোদয়কাল- কৃত্যানুসারে জানিবে ।
রাত্ৰিকৃত্য শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দদেবের বেশভূষণাদি পরিবর্তন করিয়া [চি, দুগ্ধ, অন্ন, ব্যঞ্জনাদি, সন্দেশ প্রভৃতি ভােগ দিয়া পূর তাম্বল প্রদানপূর্বক শয়ন চিন্তা করিয়া শয়ন চরাইবে। শয়নপ্রণালী যথা যাহার চতুদ্ধারই উন্মুক্ত ও যমুনার বায়ুতে শীতল, কাটী-সূর্যের কিরণের ন্যায় উজ্জ্বল রত্নসমূহের কিরণ- মালায় যাহা পরম উজ্জ্বল, কামকেলির যাহা নিলয়, অগুরু ধূপের সৌরভ যাহাতে বিদ্যমান, যাহাতে রত্নপৰ্যঙ্ক অবস্থিত, যাহা হংসতুলিকায় পরিব্যাপ্ত, যে শষ্যার উপরিভাগ সূক্ষ বসনে ও বৃন্তরহিত ( বোটাছড়ান) সুগন্ধি পুষ্পে আচ্ছাদিত এবং বিবিধ প্রকার উপাধানে (বালিশে ) পরিব্যাপ্ত, সেই শয্যার উপরিভাগে শ্রীকৃষ্ণ কান্তার সহিত শয়ন করিলেন। এই শয়ন প্রণালী যাহা দেওয়া হইয়াছে যােগপীঠেই জানিবে। এই তিন প্রভুর শয়নও শ্রীনব- দ্বীপ যােগপীঠেই জানিতে হইবে। তখন পৰ্যঙ্কের পার্শ্বস্থিত দুইখানি ক্ষুদ্র খট্টায় ললিতা ও বিশাখা মুখে উপবিষ্ট হইয়া নিজেশ্বর শ্রীরাধাকৃষ্ণকে তাল সেবা করাইতে লাগিলেন এবং তাঁহারাও দুইজনে এবং শ্ৰীশ্ৰীগগাবিন্দাচচনচূড়ামণিঃ। উভয়ের চর্বিত তাম্বল উভয়ের মুখে দিয়া দুইজনে আস্বাদন করিতে লাগিলেন। এই কালে শ্রীরূপমঞ্জরী ও রতিমঞ্জরী শ্রীরাধাকৃষ্ণের পাদ-সম্বাহন অন্যান্য ধন্যতম সখীগণ চামর-ব্যজন করিতে লাগিলেন। এইরূপে সখী- গণ ক্ষণকাল শ্রীরাধাকৃষ্ণের পরিচৰ্যপূৰ্ব্বক বিলাস মন্দির হইতে বহির্গত হইয়া স্বীয় স্বীয় কল্পবৃক্ষলতাকুঞ্জে গিয়া শয়ন করিলেন। তৎপরে শ্রীরূপমঞ্জরী প্রভৃতি সেবা- পরায়ণা সখীগণ সেই লীলামন্দিরের বহির্ভাগস্থ কুট্টিমে অর্থাৎ বেদিকার উপর সুখে শয়ন করিলেন অনন্তর সাধক রাত্রিকালে অধরামৃত ভেজিনানন্তর প্রাতঃকৃত্য, পূৰ্বাত্মকৃত্য, মধ্যাহ্নকৃত্য, অপরাহ্রকৃত্য, সায়াহ্নকৃত্য, প্রদোষকৃত্য, মধ্যরাত্ৰিকৃত্য ও নিশান্তকৃত্য ভজন সমগ্র চিন্তা করিতে করিতে জলদ্বারা শৌচবিধান- পূৰ্ব্বক অর্থাৎ দুই পা প্রক্ষালন ও দুইবার আচমন করিয়া জগৎপতি, ব্ৰজপতি, শ্রীবল্লবীবল্লভ, যিনি শ্রীরাধিকার অধরামৃতময় বাক্য পান করিতেছেন তাঁহাকে স্মরণ করিতে করিতে বসনদ্বারা দুইপদ মাৰ্জন করতঃ তৎক্ষণাৎ শয্যায় উপবেশন করিয়া শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের চরণে মন প্রাণ সমর্পণপূৰ্ব্বক মানসিকের দ্বারা শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের চরণে মস্তক রাখিয়া এইরূপ চিন্তা করিয়া শয়ন করিবে।
শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দয়াের
পূর্ণকৈশাের প্রমাণম,
যথা শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধে
বয়ঃ কৌমারপোগণ্ডং কৈশােরমিতি তত্রিধা ।
কৌমারং পঞ্চমান্তং পোগণ্ডং দশমাবধি ।
আষােড়শাচ্চ কৈশোেরং যৌবনং স্যাভতঃপরং।
আদ্যং মধ্যং তথা শেষং কৈশােরং ত্রিন্ধিং ভবেৎ ॥১৯২৷
তত্ৰাদ্যং কৈশােরং
বর্ণস্যোজ্জ্বলতা কাপি নেত্রান্তে চারুণচ্ছবিঃ ।
রােমাবলিপ্রকটতা কৈশােরে প্রথমে সতি ॥১৯৩৷৷
বঙ্গাৰ্থ-বয়স তিনপ্রকার কৌমার, পোগণ্ড ও কৈশোের ।
পাঁচ বৎসর পর্যন্ত বয়সের নাম কৌমার, দশ বৎসর
পৰ্যন্ত পোগণ্ড, পঞ্চদশ বৎসর পর্যন্ত কৈশাের, তৎপরে
যােড়শ বৎসর হইতে যৌবন।
কৈশাের তিনপ্রকার,
আদি, মধ্য ও শেষ ৷১৯২৷৷
তন্মধ্যে আদিকৈশাের যথা
প্রথম কৈশােরে, বর্ণের অনির্বচনীয় উজ্জ্বলতা,
নেত্রান্তে অরুণবর্ণ কান্তি ও লােমাবলীর প্রকাশ ॥১৯৩৷৷
শ্ৰীশ্ৰীগােবিন্দাচর্চনচূড়ামণিঃ।
অথ মধ্যং
উরুদ্বয়স্ক বাদ্যেশ্চ কাপি শ্রীরুরসস্তথা।
মূৰ্তেম ধুরিমাঘঞ্চ কৈশােরে সতি মধ্যমে ॥১৯৪৷
অথ শেষকৈশােরং
পূৰ্ব্বতােহপ্যধিকোৎকর্ষং:বাঢ়মঙ্গানি বিভ্রতি।
ত্রিবলিব্যক্তিরিত্যাং কৈশােরে চরমে সতি ॥১৯৫৷
মতী রাধার পূর্ণ কৈশাের বয়স নির্ণয় যথা,
শ্রীরাধাকৃষ্ণগণেদ্দেশদীপিকায়াং
আপঞ্চদশবর্ষঞ্চবয়ঃ কৈশােরকোজ্জ্বলং ॥১৯৬৷৷
অথ মধ্যকৈশোর
বঙ্গার্থ—মধ্যকৈশােরে উরুদ্বয়, বাহুদ্বয় ও বক্ষঃস্থলের কোন
অনির্বচনীয় শােভা, তথা মূর্তির মধুরিমাদি প্রকাশ পাইয়া
থাকে ॥১৯৪৷৷
অথ শেষকৈলাের
চরম কৈশোর প্রবৃত্ত হইলে অঙ্গসকল পূৰ্ব্বাপেক্ষ।
অতিশয় উৎকর্ষ ধারণ করে এবং তাহাতে স্পষ্টরূপে ত্রিবলি
রেখা প্রকাশ পায় ॥১৯৫||
শ্রীরাধার বয়স পূর্ণপঞ্চদশবর্ষ, সুতরাং উজ্জ্বল
কৈশােরভাবে বিরাজিত ॥১৯৬৷৷
অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের বয়স পূর্ণ ১৫ বৎসর, শ্রীকৃষ্ণের
জন্মাষ্টমী হইতে ভাদ্র শুক্লাষ্টমীতে শ্ৰীমতীর জন্ম, সুতরাং
ক্লী কৃষ্ণায়
ঐশ্ৰগগাবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
শ্ৰীশ্রীগােবিন্দের পূর্ণ কৈশাের উপাসনার মন্ত্ররাজ
অষ্টাদশার মন্ত্র যথা—( শ্রীহরিভক্তিবিলাসে)
হৃদয়ায় নমঃ।
গােবিন্দায় শিরসে স্বাহা।২
গােপীজন শিখায়ৈ বষটু।৩
বল্লভায়
কবচায় হুং।৪
স্বাহা করতলপৃষ্ঠাভ্যামস্ত্রায় ফট্।৫
এই স্থলে, হৃদয়ায় নমঃ, শিরসে স্বাহা, শিখায়ৈ বষটু,
কবচায় হুং, করতলপৃষ্ঠাভ্যামস্ত্রায় ফটু, এই কথাগুলি
বাদ দিলে যাহা অবশিষ্ট থাকিবে তাহাই মন্ত্ররাজ
অষ্টাদশাক্ষর মন্ত্র বুঝিতে হইবে। উক্ত চিহ্নিত স্থানের
ভিতরে, মন্ত্ররাজ অষ্টাদশাক্ষর মন্ত্র রহিল, বুঝিয়া
লইবে।
অপিচ ।
পূর্বোক্ত মন্ত্ররাজ অষ্টাদশার মন্ত্র
হইতে কৃষ্ণায়, গােবিন্দায়, এই দুইটি পদ মাত্র বাদ দিলে
দশার মন্ত্র হইবে। বীজসহ গ
হইলেও এইস্থলে বীজ অক্ষর মধ্যে শাস্ত্রে গণনা করেন
নাই। এই দশাক্ষর মন্ত্রও শ্রীশ্রীগােবিন্দের পূর্ণকিশোের
রূপের উপাসনার মন্ত্র জানিবে ।
কৃষ্ণ অপেক্ষা শ্ৰীমতী ১৫ দিনের ছােট অতএব
শ্ৰীমতীর বয়স ১৪ বৎসর ১১ মাস ১৫ দিন।
শ্ৰশ্ৰগগাবিন্দার্চনচুড়ামণি। উক্ত অষ্টাদশার মন্ত্র ও দশার মন্ত্র মানবের দীক্ষা মন্ত্র, কিন্তু কেহ কেহ, “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম হরে হরে ” এই ১৬ নাম ৩২ অক্ষরাত্মক মহামন্ত্র দীক্ষার মন্ত্র বলিয়া থাকেন। কিন্তু উক্ত ১৬ নাম ৩২ অক্ষরাত্মক মহামন্ত্র কোনও শাস্ত্রে বা কোনও দীক্ষা পদ্ধতিতে দীক্ষা মন্ত্র মধ্যে ধরেন নাই এবং এপ্রকার সদাচারও দেখা যায় না। তবে দীক্ষা মন্ত্র দিবার পূর্বে শিষ্যের কর্ণ ও চিত্ত শােধন করিবার জন্য উক্ত ১৬ নাম ৩২ অক্ষরাত্মক মহামন্ত্র দিয়া পরে অষ্টাদশার বা দশার মন্ত্র দিয়া থাকেন। এই জন্যই কেহ কেহ উক্ত ১৬ নাম ৩২ অক্ষরাত্মক মহা- মন্ত্রকে দাক্ষার মন্ত্র বলিয়া থাকেন। কিন্তু উক্ত ১৬ নাম ৩২ অক্ষর দীক্ষার মন্ত্র নহে। উক্ত ১৬ নাম ৩২ অক্ষ- রাত্মক মহামন্ত্র জপ ও কীৰ্ত্তন উভয়ই করা যায়, তবে জপ অপেক্ষা উচ্চ সংকনের মহিমা অধিক। এ বিষয়ে শাস্ত্রে ভূরি ভূরি প্রমাণ আছে। কলিযুগ পাবনাবতার শ্ৰীমন্মহাপ্রভু উক্ত ১৬ নাম ৩২ অক্ষর জপ ও উচ্চ সংকীৰ্ত্তন করিয়া মানবগণকে তাহাই করিতে উপদেশ দিয়াছেন এবং ঐশ্রীগৌরভক্ত শ্রীহরিদাস ঠাকুরও জপ ও উচ্চ সংকীৰ্ত্তন করিয়াছেন। সুতরাং যাহা উচ্চ সংকীৰ্ত্তন করা যায় তাহা দীক্ষা মন্ত্র কিরূপে হইতে পারে ।
অথ তুলসীমালাধারণবিধিঃ
সন্নিবেদ্যৈব হরয়ে তুলসীকাষ্ঠসম্ভবাং।
মালাং পশ্চাৎ স্বয়ং ধভে স বৈ ভাগবতােত্তমঃ ॥১৯৭||
হরয়ে নায়েদ যস্তু তুলসীকাষ্ঠসম্ভবা।
মালাং ধতে স্বয়ং মূঢ়ঃ স যাতি নরকং ধ্রুবং ॥১৯৮||
তুলসী-কণ্ঠমালা ও নামমালা সংস্কার ও
শ্রীকৃষ্ণে অর্পণ প্রণালী।
ক্ষলিতং পঞ্চগবেন মূলমন্ত্রেণ মন্ত্রিতাং।
গায়ত্র্য। চাষ্টকৃত্বে বৈ মন্ত্রিত ধূপয়েচ্চতাং।
বিধিবং পরয়া ভক্ত্যা সদ্যোজাতেন পূজয়েৎ ॥১৯৯৷
বঙ্গর্থি—মালাধারণ-বিধি স্কন্দপুরাণে বলা হইয়াছে, যে ব্যক্তি
তুলসীকাষ্ঠনির্মিতমালা শ্রীহরিকে অর্পণ করিয়া পশ্চাৎ স্বয়ং
ধারণ করেন তিনি ভগবং ভক্তের মধ্যে প্রধান।
যে ব্যক্তি
তুলসীকাষ্ঠনির্মিত মালা শ্রীহরিকে অর্পণ না করিয়া স্বয়ং
ধারণ করে নিশ্চয়ই সে নরকে প্রস্থান করে। সুতরাং
কৃষ্ণে অৰ্পণ করিয়া পশ্চাৎ স্বয়ং ধারণ করিবে
সীকাষ্ঠমালা প্রস্তুত করিয়া পঞ্চগব্য দ্বারা স্নান
করাইয়া তাহার উপর মূলমন্ত্র জপ করিবে । পরে গায়ত্রী
মন্ত্র অর্থাৎ (ক্লী কামদেবায় বিদ্মহে পুষ্পবাণায় ধীমহি
তমােহনঙ্গঃ প্রচোদয়াৎ ) এই মন্ত্র ৮ বার জপ করিবে।
শ্রীশ্রীগােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
এই স্থানে বিশেষ এই যে, নামজপমালা পূর্বোক্ত
প্রকারে পঞ্চগব্যের দ্বারা স্নান ও মন্ত্র জপাদি করিয়া পূজা-
পূৰ্ব্বক শ্রীগােবিন্দ-চরণে অৰ্পণ করিলেই জপমালা সংস্কার
করা হইল।
তুলসীমালাধারণ-মন্ত্রঃ
তুলসীকাষ্ঠস্যুতে মালে কৃষ্ণজনপ্রিয়ে।
বিভৰ্ম্মি স্বামহং কণ্ঠে কুরু মাং কৃষ্ণবল্লভং ।
যথা ত্বং বল্লভ। বিফোর্নিত্যং বিষ্ণুজনপ্রিয়।
তথা মাং কুরু দেবেশি নিত্যং বিষ্ণুজনপ্রিয়ং।
অনন্তর ধূপ ধূম স্পর্শ করাইয়া “তুলসীকাষ্ঠোবায়ে
মালিকায়ৈ নমঃ” মন্ত্রে পূজা করিয়া শ্রীকৃষ্ণগলে অর্পণ
করতঃ নিজে ধারণ করিবে । এই বিধি কণ্ঠমালা এবং
হরিনাম মহামন্ত্র জপমালা সম্বন্ধে জানিবে ॥১৯৯|
বঙ্গাৰ্থ—তুমি তুলসীকাষ্ঠ দ্বারা প্রস্তুত হইয়াছ ; কৃষ্ণভক্তের
প্রতি উৎপাদন কর। আমি তোমাকে ধারণ করিতেছি।
আমাকে শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিভাজন কর । যেমন তুমি কৃষ্ণের
প্রিয়া এবং কৃষ্ণভক্তগণ তােমাকে ভালবাসিয়া থাকেন,
সেইরূপ আমাকে কৃষ্ণভক্তের প্রীতিভাজন কর। মালা এই
দুইটী অক্ষরের অর্থ ;-আমাকে, লা শব্দের অর্থ দান,
সুতরাং হে হরিপ্রিয়ে আমাকে শ্রীকৃষ্ণভক্তজনের নিকট
গােবিন্দার্চনচূড়ামণিঃ।
দানে লা-ধাতুরুদ্দিষ্ট লাসি মাং হরিবল্লভে
ভক্তেভ্যশ্চ সমস্তেভ্যস্তেন মালা নিগসে ।
এবং সংপ্ৰাৰ্থ বিধিবং মালাং কৃষ্ণগলেহর্পিতাং
ধারয়েদ্বৈষ্ণবাে যাে বৈ স গচ্ছেদ্বৈষ্ণবং পদং ॥২০০
মালাধারণনিত্যতা
ন জহাৎ তুলসীমালাং ধাত্রীমালং বিশেষতঃ ।
মহাপাতকসংহত্ৰীং ধৰ্ম্মকামার্থদায়িনীং ॥২০১৷
তুমি দান করিলে সেইজন্য তােমাকে মালা বলিয়া কীর্তন
করে। এইরূপ প্রার্থনা করিয়া মালা ধারণ করিবে ॥২০০৷৷
বঙ্গাৰ্থ – মহাপাতকনাশিনী তুলসীমালা কদাচ পরিত্যাগ করি-
বেন না, কিন্তু যাঁহারা ধৰ্ম্ম, অর্থ ও কাম এই ত্রিবর্গের ফল
কামনা করিবেন তাঁহারা অমলকী ফলের মালা ধারণ
করিবেন, ত্যাগ করিবেন না ॥২০১৷৷
অথ নামাপরাধঃ
হরিনাম মহামন্ত্র উপাসনা সম্বন্ধে নিম্নলিখিত দশটী
অপরাধ যাহাতে না করিয়া উপাসনা করা যায় তদ্বিষয়ে যত্ন
করিবে। যদি প্রমাদবশতঃ নামাপরাধ হয় তবে নামজপ
কীৰ্ত্তনের দ্বারা অপরাধ ভঞ্জন হয়।
সতাং নিন্দা নাম্নঃ পরমপরাধং বিতনুতে।
যতঃ খ্যাতিং তং কথমু সহতে তদ্বিগরিহাং।
শিবস্য শ্রীবিষ্ণো ব ইহ গুণনামাদিসকলং
পিয়া ভিন্নং পশ্যেৎ স খলু হরিনামাহিতকরঃ ॥২০২৷
গুরােরবজ্ঞা শ্রুতিশাস্ত্রনিন্দনং
তথার্থবাদো হরিনামি কল্পনং।
নাম্নে বলা যস্য হি পাপবুদ্ধি
ন বিদ্যতে তস্য যমৈহি শুদ্ধিঃ ॥২০৩৷৷
বঙ্গাৰ্থ –(১) সাধুদিগের নিন্দা করিলে নামের নিকট গুরুতর
অপরাধ হয়। কারণ সাধুগণ কর্তৃক প্রকটিত নাম, সাধু-
নিন্দা কেন সহ করিবে ? (২) ইহলােকে যে ব্যক্তি শিব
ও বিষ্ণুর নাম গুণাদি অন্তঃকরণে ভিন্নভাবে প্রদর্শন করে,
সে নিশ্চয়ই হরিনামের নিকট অপরাধী হয়।
যে ব্যক্তি
(৩) গুরুকে অবজ্ঞা করে, (৪) বেদাদি ধৰ্মশাস্ত্রের নিন্দা
করে, (৫) হরিনামের অর্থবাদ কল্পনা করে অর্থাৎ এইরূপ
ঐশ্রীগােবিন্দাচ্চনচূড়ামণিঃ। ধৰ্ম্মব্রতত্যাগহুতাদি সৰ্ব্ব- শুভক্ৰিয়াসাম্যমপিপ্রমাদ। অশ্রদ্দধানে বিমুখেহপ্যশৃন্বতি যশ্চেপদেশঃ শিবনামাপরাধঃ ॥২০৪৷ তেহপি নামমাহাত্ম্যে যঃ প্রীতিরহিতাে নরঃ। অহং মমাদি পরমমা নামি সােহপ্যপরাধকৃৎ। জাতে নামাপরাধেহপি প্রমাদেন কথঞ্চন। সদা সংকীৰ্ত্তয়ন্নাম তদেক শরণো ভবেৎ ॥২০৫৷ মনে করে যে হরিনামের মাহাত্ম্য বর্ণন সমস্তই কেবল স্তুতি- বাদ মাত্র, কিম্বা নামের মাহাত্ম্য সূচক অর্থ পরিত্যাগ করিয়া অন্যরূপ বৃথা অর্থ কল্পনা করে, (৬) নাম-বলে পাপে প্রবৃত্ত হয় অর্থাৎ হরি যখন সৰ্বপাপ ধ্বংস করে, তখন নাম গ্রহণ করিলেই পাপ বিনষ্ট হইবে এইরূপ জ্ঞানে পাপা- চরণে প্রবৃত্ত হয় অথবা আমি এত হরিনাম করিতেছি, পাপে আর আমায় কি করিবে এইরূপ জ্ঞানে পাপাচরণ করিতে থাকে সে চিরকাল যম যাতনা ভােগ করিলেও তাহার শুদ্ধি হয় না। (৭) ধৰ্ম্ম, ব্ৰত, দান ও যজ্ঞাদি শুভ কৰ্ম্মসমূহকে নামের সহিত সমান জ্ঞান করিলে অপরাধ হয়। (৮) শ্ৰদ্ধাবিহীন জনে শ্রবণবিমুখ জনে উপদেশ করিলে অপরাধ হয়। (৯) যে ব্যক্তি নাম মাহাত্ম্য শ্রবণ করিয়াও শ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শন করে না, এবং (১০) যে ব্যক্তি
এগোবিন্দাচ্চচূড়ামণিঃ।
অপার্থে শ্রীনামমালাগ্রহণমন্ত্রঃ
অবিং কুরু মালে ত্বং হরিনাম জপেষু চ।
শ্রীরাধাকৃষ্ণয়ােদাস্যং দেহি মালে তু প্রার্থয়ে।
নাম চিন্তামণিরূপং নামৈব পরমা গতিঃ ।
নামঃ পরতরং নাস্তি তস্মন্ নাম উপাস্মহে ॥২০৬৷৷
জপান্তে শ্রীনামমালাস্থাপনমন্ত্রঃ
ত্বং মালে সর্বদেবানাং সর্বসিদ্ধিপ্রদা মতা।
তেন সত্যেন মে সিদ্ধিং দেহি মাতনমােহস্তু তে॥২০৭
আমি আমার, এই জ্ঞানে বিষয় ভােগাদিতে তৎপর হইয়া
থাকে, তাহারাও নামের নিকট অপরাধী। কোন প্রকার
প্রমাদবশতঃ নামাপরাধ ঘটিলে সর্বদা নাম সংকীর্তন করতঃ
একমাত্র নামেরই শরণাপন্ন হইবে ॥২২,৩,৪,৫৷
বঙ্গাৰ্থ-হে মালে! শ্রীহরিনাম জপকালে বিসকল দূর
করুন; হে মালে! আমি প্রার্থনা করিতেছি যে, আমাকে
রাধাকৃষ্ণের দাস্যােগ প্রদান করুন। নামই চিন্তামণি-
স্বরূপ, নামই জীবগণের পরমাগতি, নাম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
আর কিছু নাই, সেই হেতু আমি নামের উপাসনা করি-
তেছি ॥২০৬
হে মালে! তুমি দেবগণে সর্বসিদ্ধি প্রদান করি-
তেছ, তুমি সত্যস্বরূপিণী, অতএব হে মাতঃ, তুমি আমাকে
সিন্ধি প্রদান কর ২০৭ (এই বলিয়া মালা রাখিয়া দিবে
অথ মুদ্ৰাপ্রকরণ
শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাসের ৬ষ্ঠ বিলাস-ধৃত ১৭ হইতে ১৯
পর্যন্ত শ্লোকের বঙ্গানুবাদ হইতে উদ্ধত করিয়া নিম্নে
মুদ্রাকরণ লেখা হইল। গ্রন্থ বাহুল্য ভয়ে মূল শ্লোক
লেখা হইল না ।
শ্রীকৃষ্ণ পূজান্তে মন্ত্রী ব্যক্তি সর্বাগ্রে নিম্নস্থ অষ্টমুদ্রা
প্রদর্শন করিবে।
যথা, আবাহনী ১, স্থাপনী ২, সন্নিধাপনী ৩, সমিনােধনী
৪, সকলীকরণী ৫, অবগুণ্ঠনী ৬, অমৃতীকরণী ৭, পরমী-
করণী ৮। তৎপর শঙ্খদি মুদ্রা দর্শন করিবে।
যথা; শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, মূষল, শাঙ্গ, খড়, পাশ,
অঙ্কুশ, গরুড়, শ্রীবৎস, কৌস্তুভ, বেণু, অভয়, বর, বনমালা,
বিফল। এই সপ্তদশ মুদ্রা পুনরায় প্রদর্শন করিবে।
উক্ত মুদ্ৰাসকল দেখাইবার সময় দুই হস্ত চন্দন লিপ্ত
করিয়া প্রয়োেগ করিবে। অন্যথা করিলে সিদ্ধি ও ফল
লাভ হয় না।
অথ মুদ্রামাহাত্ম্যম্ (অগস্ত্যসংহিতায়া)
অগস্ত্যসংহিতা গ্রন্থে মুদ্রামাহাত্ম বর্ণিত আছে, যে-
হে দ্বিজেন্দ্র, যে ব্যক্তি এই সপ্তদশ মুদ্রা দ্বারা সর্বদা
আমার অর্চনা করে সে দেবরাজকেও মােহিত ও বিচলিত
করিতে পারে এবং অভীষ্ট ফল লাভ করে। ক্রমদীপিকা
১৬৪ শ্ৰীশ্ৰগােবিন্দাচ্চচূড়ামণিঃ। গ্রন্থে বিমুদ্ৰা লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছেন। জ্ঞান বা অজ্ঞান- বশতঃই হউক মন, বাক্য এবং দেহ দ্বারা মনুষ্য যে পাপ অৰ্জ্জন করিয়া থাকে, এই মুদ্রাগুলি অবগত হইতে পারিলে সমস্ত পাতক হইতে মুক্তি লাভ করে এবং সমস্ত লােক তাহার বশীভূত হয়। যথা তন্ত্রে, ঃ আবাহনী :—উভয় অঞ্জলি বদ্ধ করিয়া দুই বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দুই অনামিকার মূলপার্শ্বে সংলগ্ন করিলেই আবাহনী মুদ্রা হইল।১৷ সংস্থাপনী পুনরায় ঐ মুদ্রাকে অধােমুখ করিলেই সংস্থাপনী মুদ্রা হইল ॥২॥ সন্নিধাপনী -দুই হস্ত মুষ্টিবদ্ধ করিয়া পরস্পর সংযোগ করতঃ বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ উদ্ধীকৃত করিলেই সন্নিধাপনী মুদ্রা হইল তা সংরোধনী —ঐ মুদ্রাতেই অঙ্গুষ্ঠ মুষ্টির মধ্যে প্রবেশ করাইলে সংরােধনী মুদ্রা হইবে ॥৪॥ সকলীকরণী দেবের শরীরে ষড়ঙ্গ ন্যাস করিবে। তাহাকেই সকলীকরণী মুদ্রা বলে ॥৫॥ অবগুণ্ঠনী বামহস্ত মুষ্টিবদ্ধ করতঃ তজ্জনী বিস্তৃত ও অধােমুখভাবে রাখিলেই অবগুণ্ঠন মুদ্রা বলে। এই মুদ্রা মূর্তির চতুর্দিকে ঘুরাইতে হইবে ॥৬॥ ধেনু -কনিষ্ঠা ও অনামিকা এবং তর্জনী এবং গােবিন্দাচর্চনচূড়ামণিঃ। মধ্যমা এই চারিটী অঙ্গুলী পরস্পর সম্মুখীনভাবে রাখিলেই ধেনুমুদ্রা হইবে। এই মুদ্রা দ্বারা অমৃতীকরণ করিতে হয়। মহা :—দুই অঙ্গুষ্ঠ পরম্পর গ্রথিত ও অপরাপর অঙ্গুলি বিস্তারিত করিলেই মহা মুদ্রা হইবে। এতদ্বারা পরমীকরণ করিতে হয় ॥৮॥ শঙ্খ —দক্ষিণ হস্তের মুষ্টির দ্বারা বাম হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ধারণ করিয়া মুষ্টি চিৎ করিয়া দক্ষিণ হস্ত বিস্তার করিবে । তাহার পর বামহস্তের অন্যান্য অঙ্গুলি পরস্পর সম্মিলিত করিয়া দক্ষিণ অঙ্গুষ্ঠের অগ্রভাগ যােজনা করিলেই শঙ্খ মুদ্রা হইল। এই মুদ্রা বিষ্ণুসম্পর্কীয় কাৰ্যে প্ৰয়ােগ করিবে ॥৯৷৷ চক্ৰ —উভয় হস্ত সম্মুখীন করিয়া সকল অঙ্গুলি পরস্পর গ্রথিত করিয়া করতল মধ্যে দুই অঙ্গুষ্ঠকে মিলিত এইরূপে দুই অঙ্গুষ্ঠ ভয় অথচ প্রসারণ করিয়া কনিষ্ঠ অঙ্গুলিকে স্পর্শ করিলেই চক্র মুদ্রা হইল ॥১০। গদ। প্রথমে দুইহস্ত পরস্পর সম্মুখীন করিয়া সমস্ত অঙ্গুলি গ্ৰন্থন করিয়া দুই মধ্যমা অঙ্গুলিকে মিলিত করিয়া বিস্তার করিলেই গদা মুদ্রা হইল ॥১১৷৷ পদ্ম ঃ—দুই হস্ত পরস্পর অভিমুখীন করিয়া অঙ্গুলি- গুলিকে নত ও গ্রথিত করিয়া করতল মধ্যে দুই অঙ্গুলিকে মিলিত করিলে উক্ত মুদ্রা হইল।১২৷৷ শ্ৰীশ্ৰগগাবিন্দার্চনচূড়ামণি মুষল বাম মুষ্টির একভাগে দক্ষিণ মুষ্টি যােজনা করিলেই উক্ত মুদ্রা হইবে ॥১৩৷ শাঙ্গ-বামহস্তের তর্জনীর অগ্রভাগ মধ্যমার প্রান্ত- ভাগে যোজনা করিয়া তৎপর বাম হস্ত ও দক্ষিণ হস্ত বিস্তার পূৰ্ব্বক দক্ষিণ স্কন্ধে রাখিয়া বাণের ন্যায় ও তজ্জনী চালনা করিলেই উক্ত মুদ্রা হইবে ॥১৪৷৷ খড়া দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা এই হস্তের কনিষ্ঠা ও অনামিকা চাপিয়া তজ্জনী ও মধ্যমা এই অঙ্গুলিদ্বয় বিস্তার করিলেই খড়গমুদ্রা হইবে ॥১৫। পাশ মুষ্টিকৃত দক্ষিণ হস্তের তর্জনীর সহিত উভয় অঙ্গুষ্ঠের অগ্রভাগ যুক্ত করিয়া মুষ্টিকৃত বামহস্তের তজ্জনী দ্বারা ঐ তজ্জনী যুক্ত করিলেই পাশমুদ্রা হইবে ॥১৬৷৷ অঙ্কুশ-দক্ষিণ করের মধ্যমাঙ্গুলি সােজাভাবে বিস্তার করিয়া তর্জনীর মধ্যপৰ্বের সহিত যুক্ত করিয়া কিঞ্চিৎ বক্র করিলেই অঙ্কুশ মুদ্রা হইবে ॥১৭ গরুড় ঃ—উভয় হস্ত পরস্পর পৃষ্ঠদেশে যােজনা, তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠ পরস্পর বন্ধন করিয়া মধ্যমা ও অনামিকা, অঙ্গুলি চতুষ্টয়কে পক্ষবৎ চালনা করিলেই গরুড় মুদ্রা হইবে ১৮ শ্রীবৎস উভয় হস্ত পরস্পর সংযুক্ত করিয়া মধ্যমা অনামিকাকে অঙ্গুষ্ঠদ্বার বন্ধন করতঃ দুই কনিষ্ঠ ১৬৭ শ্রীগােবিন্দাচনচূড়ামণি। অঙ্গুলির মূল স্পর্শ করিলেই শ্রীবৎস মুদ্রা হইবে ॥১৯৷৷ কৌস্তুভ দক্ষিণ হস্তের কনিষ্ঠাঙ্গুলি দক্ষিণ অনামিকা অঙ্গুলির পৃষ্ঠদেশে সংলগ্ন করিয়া দক্ষিণ তর্জনী ও বাম কনিষ্ঠাদ্বারা বমি হস্তের অনামিকা বন্ধন করতঃ দক্ষিণ অঙ্গুষ্ঠ মূলদেশে সংলগ্ন করিবে, তৎপর বাম হস্তের অঙ্গুষ্ঠের সহিত মধ্যমা মিলিত করিয়া প্রসারিত করিবে। তাহার পর বাম হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী মধ্যমা দক্ষিণ হস্তের মধ্যমা উক্ত অঙ্গুলির অগ্রভাগে যুক্ত করিলেই কৌস্তুভ মুদ্রা হইবে ॥২॥ বেণু বাম হস্তের অঙ্গুষ্ঠ, ওষ্ঠে সংলগ্ন করিয়া উভয় হস্তের কনিষ্ঠাকে দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠে বন্ধন করিবে। তৎপর দক্ষিণ হস্তের কনিষ্ঠা বিস্তার করিয়া দুই করের তনী মধ্যমা ও অনামিকা ঈষং বক্র করিয়া চালিত করিলেই বেণু মুদ্রা হইবে ॥২১৷ অভয় বাম কর উর্দ্ধে উঠাইলেই অভয় মুদ্রা হইবে ॥২২৷ বর ও দক্ষিণ কর বিস্তার করিয়া জানুর উপরিভাগে রাখিলেই বর মুদ্রা হইবে ॥২৩ বনমালা :—দুই হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও তজ্জনীদ্বারা মুক্তির কণ্ঠ হইতে চরণ পৰ্যন্ত মালাবৎ স্পর্শ করিলেই বনমাল মূত্রা হয় ॥২৪৷
শ্রীগােবিন্দার্চনচুড়ামণিঃ।
বি :- প্রথমে বামকরের অঙ্গুষ্ঠ উর্দ্ধে উত্তোলন করিয়া
অঙ্গুষ্ঠদ্বারা বন্ধন করতঃ তাহার অগ্রদেশে অবশিষ্ট অঙ্গুলি
সংযুক্ত করিবে তাহার পর বাম করের অবশিষ্ট অঙ্গুলি-
দ্বারা দৃঢ়রূপে বন্ধন করিয়া কামবীজ (ক্লা) উচ্চারণ
পূৰ্ব্বক হৃদয়ে সংস্থাপন করিলেই বিশ্ব মুদ্রা হইবে ॥২৫৷
গালিনী :—দুই হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও কনিষ্ঠ অঙ্গুলি পরস্পর
মিলিত ও তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা পরস্পর মিলিত
এবং অল্প আকুঞ্চিত করিয়া পরস্পরের অগ্রভাগ একত্রিত
করিবে অর্থাৎ আদৌ বাম হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও কনিষ্ঠ অঙ্গুলি
পরস্পর মিলিত করিবে । তৎপর ঐ উভয় অঙ্গুলির
মধ্যভাগে দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দিবে এবং তাহার সহিত
ঐ হস্তের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি যুক্ত করিবে। এইরূপ করিয়া
অবশিষ্ট অঙ্গুলিগুলি অল্প বক্র করিয়া পরস্পর মিলিত
এবং দুই হস্তের অঙ্গুলির অগ্রভাগযুক্ত করিয়া শঙ্খের
উপরে ঐ মুদ্রা চালন করিবে। এইরূপ করিলেই
গালিনী মুদ্রা হয় ॥২৬
সমাপ্তশ্চায়ং শ্রীশ্রীগােবিন্দাচঁনচূড়ামণিঃ।
R
শাধনা
শ্রীশ্রীগােবিন্দ কৃপাপূৰ্ব্বক আমাকে নিমিত্ত মাত্র
করিয়া শ্ৰীশ্ৰীগােবিন্দাচ্চচূড়ামণিঃ নামক গ্রন্থখানি
প্রকাশ করিলেন। এই গ্রন্থে শ্ৰীশ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভু,
শ্ৰীশ্ৰীনিত্যানন্দপ্রভু এবং শ্রীশ্রীঅদ্বৈতপ্রভু ও তদীয়
ভক্তবৃন্দের আরাধনা এবং শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের, তদীয়
সখী, সখীবৃন্দেরও আরাধনা এবং তদীয় আবরণ পূজা
সন্নিবেশিত আছেন। অতএব এই শ্ৰীগ্রন্থখানি সামান্য
পুস্তক মাত্র জ্ঞান না করিয়া উক্ত গ্রন্থখানিতে সাক্ষাৎ
ভগবদ্বুদ্ধি করিয়া মহা আদরের সহিত আপন আপন
ইষ্টদেবের পূজার আসনে রাখিবেন। যেখানে সেখানে
অনাদরে রাখিলে অপরাধী হইতে হইবে।
উক্ত গ্রন্থানুসারে শ্ৰীশ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভু,
নিত্যানন্দপ্রভু, শ্ৰশ্ৰীঅদ্বৈতপ্রভু ও তদীয় ভক্তবৃন্দের
এবং শ্রীশ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের ও তদীয় সখীসখাগণের
চরণে নিঃস্বার্থভাবে শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের সুখে সুখী হইয়া
মন, প্রাণ, বুদ্ধি ও দেহ সমর্পণ করিয়া একান্ত
মনে আরাধনা করিতে পারিলে অচিরকাল মধ্যেই
[ ২ ]
ঐশ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দের মহা কৃপার পাত্র হইবেন, ইহাতে
কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। ইহাই আমার বিশ্বাস
ভক্তগণের চরণে আমার করজোড়ে প্রার্থনা এই যে,
উক্ত শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চচূড়ামণিঃ অর্থলাভের জন্য প্রকাশ
করা হয় নাই। যিনি ভজনের জন্য চাহিবেন এবং
পূর্বোক্ত প্রকারে মহাযত্নের সহিত পূজার আসনে
ধবেন তাহাকে এই গ্রন্থ দেওয়া হই
এই গ্রন্থখানি মুদ্রিত করিবার ব্যয় শ্রীশ্রীগােবিন্দের
তহবিল হইতে করা হইয়াছে, অতএব গ্রন্থের মালিক
গােবিন্দজিউ জানিবেন।
ভুবনমোহনশ্রীশ্ৰীশ্রীগােবিন্দদাসানুদাস
ভুব
নেশ্বর।
অভিমত আমি আপনার সঙ্কলিত শ্রীশ্রীগােবিন্দাচ্চনচূড়ামণিঃ নামক গ্রন্থখানি মনোযােগের সহিত আদ্যোপান্ত বিশেষ ভাবে পাঠ করিয়া সাতিশয় আনন্দ লাভ করিলাম। ইতিপূর্বে যে সকল শ্ৰীশ্ৰীগােবিন্দের পূজা পদ্ধতি প্রকাশিত হইয়াছেন তাহার মধ্যে এই গ্রন্থখানি প্রণালী- সিদ্ধ, শাস্ত্রসঙ্গত, সৰ্বাবয়বসম্পন্ন ও সৰ্বাঙ্গসুন্দর হইয়া প্রকট হইয়াছেন। আমি আশা করি, এই গ্রন্থ- খাতুন বৈষ্ণব জগতের বিশেষ উপকারে আসিবেন এবং উক্ত শ্ৰীগ্রন্থখানি মহানুভব বৈষ্ণবগণের আনন্দদায়ক হইয়া ঘরে ঘরে বিরাজমান থাকিবেন। ইতি. ১, রাজেন্দ্র নাথ গােস্বামী স্মৃতিভাগবতরত্ন। সাং নবদ্বীপ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.