Birchandra State Central Library, Tripura
Kabita-kusumanjalih Vol. 1 Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
“কবিতা-কুসুমাঞ্জলি প্রথম খণ্ড প্রকাশের হেতুবর্ণনা যথা— আমি একজন ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র প্রবীণ চিকিৎসক, প্রায় সপ্ততি (৭০) বর্ষবয়ঃ প্রাপ্তি হইয়াছি। বাল্যাবস্থা হইতে শ্রীধাম নবদ্বীপ, মুর্শিদাবাদ, রাণাঘাট ইত্যাদি বহুদেশে পাঠ্যাবস্থায় গমন করিয়া স্বযত্নে ও অসীম কষ্টে বহুতৰ শাস্ত্র, বিশেষতঃ আৰ্বেদ শাস্ত্র পাঠ সহ ভূবি প্রমাণ আশু ফল-প্রদায়ক তীব্রমুষ্টিযােগদি শিক্ষা এবং লিপিবদ্ধ পূৰ্ব্বক সংগ্রহ ও প্রয়ােগে ও প্রত্যক্ষ ফল দশন করিয়াছিলাম। পবিশেষে (শিক্ষান্তে ) কলিকাতা মধ্যে চিকিৎসা কাৰ্য্যার্থে সমাগত হইয়াও অত্র প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ কবিবাজ এবং ডাক্তাব মহােদয় গণের অনুগামী হইয়া চিকিৎসা সম্বন্ধীয় গুহ্য ও প্রকাশক ও সহ বহুবিধ আশ্চর্য্য ঔষধ শিক্ষা করিয়াছি এবং চিকিৎসা কাৰ্য্যোপলক্ষে নানাস্থানে। জেলায় জোয় ) গমন কবিয়া অসংখ্য দুরারােগ্য ও সুখসাধ্য বােগের চিকিৎসা : ২* তৎ তৎ স্থানীয় কবিরাজ, ডাক্তাব, হকিম, গুণিন (বােজা , গাছ ।, tি ইত্যাদি চিকিৎসক মহােদয়গণের সহিত মিলিত হইয়া ও ভূরি *** কট" লেগের চিকিৎসা কর জন্য প্রত্যক্ষ ফলপ্রদ নানা প্রকার তী: মুষ্টিমেগ শিক্ষ। পৰীক্ষাপূৰ্ব্বক লিপিবদ্ধ করিয়াছিলাম ; জীবনান্তে সেই ৫ বা কষ্টল মস্টিয়ােগর সকল বিলুপ্ত হইবার আশঙ্কায় “বিবিধ-তীব্রমুষ্টি” নামবঙ্গ প্রথম ‘ণ্ডি হইতে পঞ্চম খণ্ড পুস্তকে অকপট চিত্তে প্রাঞ্জল বঙ্গভাষায় সাধাবণেব শিক্ষার্থে ইতঃপূৰ্বে মুদ্রিত (ছাবা) কবিয়া প্রকাশে অসংখ্য প্রশংসা পত্রে দীর্ঘজীবী হইবার বিপুল আশীৰ্বাদ লাভ কবিয়া অদ্যপি শত্রুদমন পুৰ্ব্বক সানন্দে জীবিত আছি ; এজন্য সাহসী হইতেছি যে, বাল্যকালাবধি শিক্ষার্থীরূপে যথাতথা পরিভ্রম এবং ক্ষুদ্র ও মহতী সভামধ্যে গমনাগমন হেতুক, পণ্ডিতগণের প্রমুখাৎ শিক্ষালব্ধ সভারম্য, উপদেশ সূচক, * * প্রস্তাবােত্তর-দায়ক, সারগর্ত, পৌরাণিক, বিবিধ শাস্ত্রোক্ত সভা মুগ্ধকর সংস্কৃত শ্লোক যাহা শিক্ষা সহ সংগ্রহ করিয়াছি, জীবনান্তে তাহাও বিলুপ্ত হইবার আশ স্কায় সেই অমূল্য উপাদেয় শ্লোকরত্ন যাহা যাহা সংগ্রহ আছে, তাহার কিয়দংশ এই “কবিতা-কুসুমাঞ্জলি” নামক প্ৰথমখণ্ডে মূল সংস্কৃত শ্লোক, ঋজু সংস্কৃত ভাষায় অন্বয় (ব্যাখ্যা) এবং প্রাঞ্জল (খুব সরল) বঙ্গানুবাদে অলঙ্কৃত করিয়া সাধারণের শিক্ষার্থে ও জ্ঞানার্থে প্রকাশ করিলাম—এক্ষণে ইহা সভ্য সমাজে পাঠে সুখকর হইলে শ্রম ও শ্লোক সংগ্ৰহকাৰ্য্য সফল বােধ করিব। এই কবিতা-কুসুমাঞ্জলি গ্রন্থখানি মহানগৰী কলিকাতা রাজধানীর মধ্যগত বাগবাজাব নিবাসী মহামহােপাধ্যায় পণ্ডিত-চূড়ামণি এবং বৈয়াকরণিক প্রধান পরম পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত ভুবনেশ্বর বিদ্যালঙ্কার ভট্টাচাৰ্য মহােদয় কর্তৃক সংশােধিত হইয়াছে--এজন্য নিত্ৰম ( নিভুল ) হইবার সম্ভব; কিন্তু কি জানি, “মুনীনাঞ্চ মতিভ্রমঃ” ইত্যাদি বচনানুসারে যদ্যপি কোন স্থানে সুধী পাঠকের সুবিচারে ভ্রম সপ্রমাণ হয়, তাহা হইলে অনুকম্পা পূর্বক আমাকে পত্ৰদ্বারা জানাইলে বিশেষ বাধিত হইব এবং সংশােধন করিব। আবাসস্থান বিনয়। গ, বিদ্যারত্নাপাধিক ঐকানি দেশৰ্মণে- কলিকাতা শ্যামবাজার- দেবনারায়ণ দাসের লেন ১০নং ভবন বদন গেৎ।
সূচীপত্র। শ্লোক-সংখ্যা শ্লোকের প্রথমাংশ পত্রাঙ্ক। ০ ০ ০ . . ২ ০ ০ ০ • ৭ ॥ * * ৩ ৪ ০ ০ ০ ১ • ০ ০ ০ ১১ ০ ০ ০ ৪০০ গঙ্গাযমুনয়াের্মধ্যে। আশাং দা নদদ্যাৎ যাে, •• যাে যত্র সততং যাতি, চিতি চিতি-কাঞ্চ, পীতঃ ক্রোধেন তাতশ্চরণ তলহতােবল্লভভা যেন রােষাৎ, বিভজ্য মেরুন যদর্থিসাৎকৃতাে কাষ্ঠমধ্যে যথাবহ্নি, মন্থিত্ব চতুরে বেদান বযদশা-পুরাণানি, বিপদ-ঘন-ধ্বন্ত সহস্র ভাবঃ , বিপত্ৰং সমাদ্রায়, সৌজন্যং বনবাসতঃ সুবিদিতং বুদ্ধিঃ সুবর্ণনত জীর্ণমন্নং প্রশংসীয়াৎ যান্তি বিত্তং স নরঃ কুলীন পয়ঃপিনং ভুজঙ্গানাং নিরক্ষরা বীক্ষ্য ধনাদিনাথা পাণৌ গৃহীতাপি পুরস্কৃতাপি বিদ্যা বিবাদায় ধনং মদায় ন হিচ্ছায়াদানৈঃ পথিকজন-সন্তাপহরণং••• ১১ *, ১৪ , ১৪ ০ ০ ০ ১৮ ০ ০ ০ ১৮ ০ ০ ০ २२ ( 19 ) শ্লোক-সংখ্যা শ্লোকের প্রথমাংশ পত্রাঙ্ক। ৮ । - ৩১ ৩২ ৩৪ * * * ২৮ ০ ০ ০ ৩৭ ৩০ আলস্যং স্থিরতা মুপৈতি অণ্ডকোষাৎ বিনিঃসাৰ্য্য ইয়ং সন্ধ্যাদুরাদাগতত হন্ত! মলয়াদিদানীং কিম্বা স্বয়ম্ভঃ শিব-শক্তি-বিষ্ণু ভাগ্যং ফলতি সর্বত্র মাতা নিতি নাভিনন্দতি পিতা ভ্রাতাচ ন সম্ভাষতে কুদেশ মাসাদ্য কুতাের্থ সঞ্চয়ঃ গুণী গুণং বেত্তি ন বেত্তিনিগুণঃ অহহ ! মহত্বং মহতামপূৰ্ব্বং মানিনাে বহুমান্তানাং গুণায়ন্তে দোষাঃ সুজন-বদনে দুর্জন-মুখে গৃহাতি সাধু ন পর দোষান্ নীচো জনােঙণশতৈরপি সেব্যমানাে শকো বারমিতুং-জলেন হুতভুক ছত্রেণ বর্ষাতপো . নমে যঃ শূদ্র-সংস্পৃষ্টং স্ত্রীধু নৰ্ম্ম-বিবাহে অগ্নিদো গরদশ্চৈব আততায়িন মায়ান্তং হন্যাদেবাবিচারয়ন ••• বিপদি ধৈৰ্য মথভদয়ে ক্ষমা দরিদ্রা ভর কৌন্তেয় অরাপুচিতং কাৰ্যং সৰ্বস্য হি পরীক্ষন্তে স্বভাববা যাদৃশাে যস্য ৪ ০ ৪১ ০ ০ ••• 82 ৩৪ ৪৩ ৪৪ ৪৬ ৩৮ ৪৭ . ৪৮ ৪০ ৪৯ ৪১ ০ ০ ০ 82 ••• ৫১ ( • ' ) শ্লোক-সংখ্যা পত্রাঙ্ক। ৪৩ ৪৪ ৪৫ ০ ০ । • • ৫৪ ৪৬ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৪৭ ৪৮ ৫৭ ৪৯ ৫১ అని ৭ ৭২ শ্লোকের প্রথমাংশ প্রাণা যত্মনােহভীষ্টা শুধ-মাসং স্বিয়ােবৃদ্ধা সদ্যো-মাংসং নবান্নঞ্চ আয়ুর্বিত্তং গৃহচ্ছিদ্রং নিষিদ্ধ মপ্যাচরণীয় মাপদি • মৃত্যুঃ শরীর-গােপ্তারং হত্বা নৃপং ভুজগ-দষ্টপতিং বিলােক্য নিত্যং ছেদ্যুণানাং ক্ষিতি-নখলিখনং পিদয়ােরন্স কুজং বিক্রীতায়াশ্চ কায়া তারাদেবী মীনরূপা বেদাক্ষরাণি সন্ত্যজ্য প্রত্ৰষ্টদ্যুতিতারকা ফুটতটী••• প্রাচীভবেৰ্মিলা আরক্ত-সন্ধ্যং রজনী-বিরামং সন্ধ্যাতপারুণিত পশ্চিমদিগ, বিভাগে উষা করােতি কল্যাণং ন বিশ্বসেদবিশ্বস্তে উত্তরে নােত্তরং কুৰ্য্যাৎ সত্যং ক্ৰয়াৎ প্রিয়ম্বয়াৎ যদি স্যাৎ বিপুলাপ্ৰীতিঃ ত্রেতা-দ্বাপরয়াের সন্ধ্যে তম্মিন্ প্রতিভয়ে কালে বিশ্বামিত্রোহথ ভগবান স দদর্শ ঋ-মাংস ৫৪ । • r ০ ০ ০ ৫৭ ••• ৭৭ ৫৮ ৭৭ ••• ৭৮ ০ ০ ০ * ৬ ৭৯ ৬১ ••• ৭১ ৬২। ৮০ ০ ০ ৬৪ ••• ৮১ t। ৩ ।
শ্লোক-সংখ্যা শ্লোকের প্রথমাংশ পত্রাঞ্চ। . ০ ০ ০ २ ৮২ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৬৯ ৮৪ ০ ০ ০ । ৭০ ৮৫ ৭১ ৪ . . * * * ৭২ ০ ০ ০ ৮৫ ৭৪ ০ ০ ০ • ০ ০ ৮৭ ৭৭ ••• ০ ০ ০ ••• ৮৮ ৭৮ স চিন্তয়ামাস তদা বিশ্বামিত্ৰস্তু মাতঙ্গং যথাযথৈব জীবেদ্ধি ত্বয়া ময়া চ কুন্তাচ ••• নাহঙ্কারাৎ পৰােরিপু ••• অতিদর্পে হতালঙ্কা উৎসবে ব্যসনেচৈব কে খলু নয়ন-বিহীনা ? বদ বদ বধীরতমাঃ কে ? কস্মৈ কমলা স্পৃহতি বিনা ধনেন সংসারাে পিতরে ধন-লুব্ধৌচ অসাধু যদি হন্তা স্যাৎ মাতা যদি বিষং দদ্যাৎ রবো বর্জং চতুঃপঞ্চ রবৌ রসান্ধী সিতগৌ হয়ান্ধী যস্মিন্ দেশে যদা কালে অব্যাপারেষু ব্যাপার বরং রামশরঃ সহো শাস্ত্রং সুচিন্তিতমপি পরিচিন্তনীয়ং। নৃত্যন্তি ভােজনে বিপ্রাঃ শনৈঃ পন্থাঃ শনৈঃ কস্থা ন দাতুং নােপসংম্ভোক্ত জায়মানাে হরে ভাৰ্যাং দর্শনাৎ হরতে চিত্ত • • ৮৯ •• ০০০ . ৮০ ••• ০ ০ ০ ৯২ ৮১ ৮২ ০ ০ ০ • ০ ১৪ ৮৪ ৮৫ ? ? ••• ৮৭ ••• ৯৭ ০৫ * * * ••• ৯৮ ৮৯ ৮০ ৯০ ৫০ ( ॥/০ ) শ্লোক-সংখ্যা শ্লোকের প্রথমাংশ পত্রাঙ্ক। ০ ১ ২ ১২ ০ ০ ০ ১০১ . . . ••• ১০২ ৯৪ অধ্যাপকে নটে ধূর্তে আত্মানং পরিবঞ্চ যাচক-কুলং কুৱঁন্তি যে সঞ্চয়ং বাত-পিত্ত-কফেভানাং যে তে স্মরন্তি যদুনন্দন! নামভি স্তে আদ্যন্ত-মধ্যরহিতং সংশা সরলা শুভা সুনয়না••• সঙ্গে সদা রঙ্গিণী কালে বারি-ধরাণাং ১০৪ ০ ০ ০ ০ ০ ০ . ০ ০ ০ ০ ৯৭ ১৮ • ! ক্ষমা দয়া দমাে দানং । . . ১০৭ ১০৭ + ০ ০ ••• ১১০ ০ ০ ০ ১০৩ . . . ১১২ ১০৪ ১১৩ ৫। • জন্মনা জায়তে শূদ্রঃ উত্থায় হৃদি লীয়ন্তে যস্যাপরাধঃ খলু তস্য দণ্ড ... তােজ্যং ভােজনশক্তিশ্চ লাক্তা এব দ্বিজাঃ সর্বে বিষংগােষ্ঠী দরিদ্র কৰ্ম্মাণ্যত্র প্রধানানি দুর্গস্ত্রিকূটঃ পরিখা সমুদ্রো বরং পণ্ডিতঃ শত্রণা ধেনুর্বংস-প্রযুক্তা বৃষগজ-তুরগা দক্ষিণাবত্মবহ্নি, নাকালে মিয়তে কশ্চিৎ, স্থানে সিংহসমা রণে মৃগসমা দেশান্তরে জম্ব কাঃ অসারে খলু, সংসারে ১১৫ ০ ০ ০ ১০৭ . . ১০৮ ৪ ০ ১১৭ এ এ . ১১৩ + ০ ০ ১২০ ( 19 ) শ্লোক-সংখ্যা শ্লোকের প্রথমাংশ । পত্রাঙ্ক। ১১২ ১২২ ১১৪ ১১৫ ১১৭ ••• ১২৭ ১১৮ ১২৮ ১২৯ ১২০ ০ ০ ০ ১২২ ১৩১ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ কুগ্রাম বাসঃ কুলহীন সেবা শরদ রৌদ্রং ন গৃীয়াৎ বিত্তার্থং নাতি-চেষ্টেত যেন শুক্লীকৃত হংসী ক্ষুদ্ৰশত্রু ভবে বস্তু নিরপেক্ষো ন কর্তব্যো সূচাগ্ৰেণ সুতীনে জানামি ধৰ্ম্মং ন চ মে প্রবৃত্তিঃ প্রতিপৎ পাঠশীলানাং সুখান্তে দুৰ্বলা গাভী শূদ্রানে তু ভুক্তেন নমস্যামাে দেবান্ ননু হত বিধেস্তেহপি বশগাঃ সমাশ্লিষ্যত্যুনৈপিশিত- ••• পিণ্ডং স্তনধিয়া ইন্দ্রস্যাগুচি-শূকরস্যচ সুখে... দুঃখে চ নাস্ত্যন্তরং কন্যা বরয়তে রূপং অশীতা স্তরবাে মাঘে বিদ্বানেবােপদেষ্টবব্যা উপর্যপরি বুদ্ধীনাং ত্রিভিবর্ষৈন্ত্ৰিভিমাসৈ: অজা যুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে লব্ধবিদ্যো গুরুং দ্বেষ্টি আতুরস্ত পিতা বৈদ্যো | ০ ০ ১৩২ ১২৪ ১৩৪ ১২৫ • ৩ ••• ১৩৭ ১২৭ * ৩ । ১৮ ১২৮ ১৩৯ ১২৯ • ১৪ ০ ৫ ১৪১ ১৩১ ১৪২ ১৩২ ১৪৩ ১৩৩ • ১৪৪ “বিবিধ-তীব্র-মুষ্টিযােগ” মূল্য ৩০ টাকা। দ্বিতীয় সংস্করণের বিবরণ যথা- ইহা উৎকৃষ্ট ও উপাদেয় গ্রন্থ, জনসমাজে অতি বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ, সাধারণের জ্ঞাতব্য, এবং সঞ্চয় করিয়া গৃহে রাখিবার উপযুক্ত রত্ন বিশেষ ; ইহার অসংখ্য প্রশংসাপত্র নানাস্থান হইতে পূৰ্বে আসিয়া গৃহপূর্ণ-প্রায় হইয়াছে ; তত্রাপি অধুনা কলিকাতা শিবাদহের জজ এবং মুনসেফ কোর্টের সুসভ্য, শান্ত, প্রশংসা-ভাজন, কাৰ্যদক্ষ সদ্বংশ-জাত বি এ, বি এল, উকিল শ্ৰীযুক্ত বাবু পঞ্চানন ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় উক্ত পুস্তক পাঠ করিয়া প্রীতিলাভ-পূৰ্ব্বক ডাক যােগে কি লিখিয়া পাঠা- ইয়াছেন; সেই পত্রখানি সাধারণের পাঠার্থে নিয়ে মুদ্রিত করিলাম—যথা— শ্রীশ্রীদুর্গা শরণং ৪৯ নং তালপুকুর পােড়-বেলেঘাটা। পূজ্যপাদ শ্ৰীযুক্ত দ্বারকা নাথ বিদ্যারত্ন মহাশয় সমীপেষু শ্রদ্ধেয় বিদ্যারত্ন মহাশয়! আপনার প্রণীত “বিবিধ-তীব্র-মুষ্টিযােগ” গ্রন্থখানি আদ্যন্ত পাঠ করিয়া পরম প্রীতিলাভ করিলাম। আপনার গ্রন্থের নির্দেশ মত কয়েকটী মুষ্টিযােগ রােগ বিশেষে প্রয়ােগ করিয়া আশাতীত ফললাভ করিয়াছি ; ইহা অপেক্ষা পুস্তকের উপযােগিতার প্রশংসা আর কি হইতে পারে ? সেকালের প্রবীণ গৃহিণীগণের জ্ঞান ভাণ্ডারে সঞ্চিত রত্নরাজি ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রোক্ত ভেষজ সমূহের একমাত্র সমাবেশ, কেবল আপনার গ্রন্থেই রহিয়াছে দেখিলাম ; বঙ্গভাষায় এইরূপ হিত- কর গ্রন্থ পড়িয়াছি :লিয়া স্মরণ হয় না। আপনার প্রগাঢ় গবেষণা ও সযত্ন সংগ্রহের ফলস্বরূপ এই গ্রন্থ খানি পাঠক সমাজে আদর লাভ করিবেই—ইহা আমার বিশ্বাস, আপনার পুস্তক খানি গৃহপঞ্জিকার ন্যায় প্রত্যেক গৃহস্থের ঘরে রাখা উচিত। ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৩২১। গুণমুগ্ধ—শ্রীপঞ্চানন ভট্টাচার্য। উকিল শিবাদহ ছােট আদালত।
( ৮০ ) নবসংগৃহীত প্রত্যক্ষ ফলপ্রদ-তীব্র-মুষ্টিযােগ কয়েকটা প্রকাশের বিবরণ—যথা—— চিকিৎসা কাৰ্যোপলক্ষে দেশ ও বিদেশ নানাস্থানে পরিভ্রমণ-পূৰ্ব্বক বহু সংখ্যক ডাক্তার কবিরাজ সহ মিলিত হইয়া বহুবিধ উৎকট রােগের চিকিৎসা- লব্ধ ও শিক্ষিত তীব্র মুষ্টিযােগ সমূহ ইতঃপূৰ্বে মুদ্রিত করিয়া সাধারণের শিক্ষার্থ “বিবিধ-তীব্র-মুষ্টিযােগ” গ্রন্থ নামে প্রকাশ করার পর হইতে আবার যে কয়েকটা আশুফল দায়ক মুষ্টিযােগ নূতন শিক্ষা ও সংগ্রহ করিয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছে ; জীবনান্তে বিলুপ্ত হইবার আশঙ্কায় সেই কয়েকটা মুষ্টিযােগ সৰ্বসাধারণের শিক্ষার্থ নিম্নে প্রকাশ করিতেছি ; এক্ষণে ইহা সকলে শিক্ষা ও ব্যবহার করিলে আশা করি, বিশেষ উপকৃত হইবেন। কম্পন-নিবৃত্তির উপায় । ১। সহজ অবস্থায় বা পীড়িতাবস্থায় হস্তপদাদির কম্পনবােগ উপস্থিত হইলে গরম জলের স্বেদ বা ফোমেন্টে-সন করিতে করিতে ক্রমে ক্রমে কম্পন নিবৃত্তি হইয়া রােগী সুস্থ হইবে। ২। মেথিলেটেড স্পিরিট মালিশ ও তৎসহ নিধুম বহ্নির স্বেদ বা তাপ দিতে দিতে তৎক্ষণাৎ কম্পন নিবৃত্তি হয়। ১ এক বােতল মেথিলেড স্পিরিট।• আনা হইতে • আনা মূল্যে যথা তথায় বিক্রয় হয়, জ্ঞানার্থ লিখিলাম। অতি সহজে দাস্ত পরিষ্কারের উপায়—যথা- ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে শ্রীশ্রী ঈশ্বরী মনসাদেবীর পূজা বা ভােগাৰ্থে যে কচুগাছ কাটিয়া খােসা উন্মােচন পূৰ্ব্বক ঘণ্ট প্রস্তুত হয় ; সেই কচুগাছের ঘন্ট নারিকেল কুরা ও চিনি যােগে উত্তম মশলা দ্বারা পাক হইলে সুখাদ্য হয় এবং এই কচুর ঘণ্ট কিঞ্চিৎ অধিক মাত্রায় ভােজন করিলে পবিত্র ভাবে কোষ্ঠশুদ্ধি ( বাহে) হয় এবং মনুষ্যকে স্বচ্ছন্দে রাখে, নিত্য খাইলেও উত্তম দাস্ত হইতে থাকে। পালংশাকের ঐরূপে ঘণ্ট করিয়া ভােজন করিলেও কোষ্ঠ পবিত্র (বাহে) হইয়া থাকে। ২। অম্লদোষে মুষ্টিযােগ। অম্নদোষ থাকিলে বা হইলে আমলা ১ তােলা, বহেড়া ১ তােলা, হবিতকী ১ তােলা এই ৩ তিন প্রকার দ্রব্য একত্র করিয়া ৪০ তােলাজলে কাচ বা প্রস্তর আধারে ভিজাইয়া ৬। ৭ ঘন্টা পরে ঐ জল ছাকিয়া পান করিলে অম্নদোষ সহ দুর্জয় অস্ত্র ও ডিসপেপসিয়া ইত্যাদি জঠর বােগ মাত্র আনােগ্য হইয়া থাকে। জঠর রােগাক্রান্ত ব্যক্তি ইহা নিয়ত পান করিলে জঠর বােগ আরােগ্য হইয়া সুস্থ থাকেন। ইহাকেই ত্রি-ফলার জল কহে। পিপীলিকা তাড়ন-যথা- যে যে স্থানে পিপীলিকার দৌরাত্ম্য হইবে, সেই সেই স্থানে ফি-নাইন ছড়াইয়া রাখিলে, তথা হইতে পিপীলিকাগণ প্রস্থান করে ; যে হেতু পিপীলিকাগণ ফিনা ইনের ঘ্রাণ সহ করিতে পারে না। দীর্ঘকাল এই গন্ধ ভােগ করিলে মরিয়া যায় । ইন্দ্রলুপ্ত কীট-রােগের অর্থাৎ টাক পােকা রােগের ঔষধ। মস্তকে কেশমূল ভক্ষণকারী কীট উৎপন্ন হইলে মস্তকে সুড়সুড়, যাতনা রােগী অস্থির হইয়া মস্তক চুম্বাইতে চাইতে কাতর হয় এবং ক্রমে কীট সক কেশমূল ভক্ষণ করিলে চল উঠিয়া মস্তকের মধ্যে টাক (কেশ শূন্য ) হইয়া ফাঁব ( পv• ) হইলে মনুষ্য-মাত্র কদাকার হয় ; রােগী পুরুষ হইলে তাহাকে কেহ কন্যা সম্পাদন করিতে চাহেন না, স্ত্রী হইলে স্বামীর মনঃকষ্ট এবং দেখিতে কুৎসিত হয়, বালিকা হইলে বহুকষ্টে বর যােজনা করিতে হয় ; অতএব তাহার ঔষধ বর্ণনা করিতেছি, যথা- ১। তেলাকুচা লতা গাছের পাতার রস ২ তােলা,খাটা সর্ষপ-তৈল ২ তােলা, কপূর ১০ রতি একত্র মর্দন ও সূৰ্য্যপক হইলে চল কাটিয়া মস্তকোপরি ইহা নিত্য মর্দন করিতে করিতে ক্রমে কীট মরিয়া কেশােৰ্গম হইতে থাকে। ২। তুতেকে গজ পুটে অর্থাৎ উভয় খুরির মধ্যগত করিয়া সেই খুরিদ্বয়কে কাদা ও বস্ত্র ফালি দ্বারা আবদ্ধ-পূৰ্ব্বক রৌদ্রে দিবে, পরে কাদা শুষ্ক হইলে ঘুটী য়ার পােরে পােড়াইয়া তুতেকে ভস্ম প্রস্তুত করিবে। এই ছাই ১ তােলা, নারিকেল তৈল ১০ দশ তােলাতে যােগ করিয়া কিঞ্চিৎ অগ্নিপক করিয়া শিশি মধ্যে স্থাপন ও নিত্য মস্তকে মর্দন করিতে করিতে কেশকীট মরিয়া পুনৰ্ব্বার কেশ বহির্গত হইতে থাকে। ৩। কেশরাজ ( কেঁশুত্বে) নামক ছােট গাছ যথাতথা দেখিতে পাওয়া যায়, তাহার রস মস্তকে মালিশ করিতে করিতে ক্ৰমে কেশকীট ধ্বংস হইয়া কেশােদ- গম হইতে থাকে, এবং টাক দোষ নিবৃত্তি হয়। টাকে অর্কক্ষীর । দ দুরারােগ্য টাক পােকা হইলে লবণ সহ আকন্দ এটা মস্তকের টাক স্থানে যে দিন দিবেন, সেই দিনেই চুলকনা, সুড়সুড় করা ইত্যাদি যাতনা হইতে অব্যাহতি পাইবেন। এইরূপে ৪। ৫ দিন প্রদত্ত হইলেই ইন্দ্রলুপ্ত কীট মরিয়া যায়, সঙ্গে সঙ্গে যাতনা নিবারণ হইয়া কেশােম হইতে থাকে। প্রিয়! পাঠক! “শুক্লা পোঁদে আর আটা” এক প্রাচীন বাক্য জনশ্রুতি আছে বলিয়া ক্ষত হইবার ভয়ে ভীত হইয়া আমি স্বয়ং আমার নিজের মস্তকে আকন্দ আটা লাগাইতে সাহসী হই নাই ; একদিন ঐ পােকার কামড়ে অস্থির হইয়া মস্তকে ক্ষত হয় হবে-বলিয়া পরিশেষে না হয় অশ্বত্থামা হইব—এই ভাবিয়া যে দিন লবণ সহ আৰু আটা মস্তকে দিলাম, সেই দিনেই যাতনা নিবারণ হইল এবং ক্ৰমে টাক দোষ নিবৃত্তি হওয়ায় সুখী হইলাম, এই জন্য ইহা সাধারণকে জানাইতে সাহসী হইয়াছি। অম্ল, অনুশূল ও ডিসপেপসিয়া নিবারণের সদুপায় ;—যথা— নিশাকালে শয়ন সময়ে পরিপক অর্থাৎ বড় বড় জাঙ্গী হরিতকী ৫। ৬ টী চর্বণ করিয়া জলপান পূর্বক শয়ন করিলে প্রাতে পবিত্র ভাবে দুর্গন্ধময় মল-নির্গত হইয়া দেহ পবিত্র হয় ; তৎপরে শুদ্ধাচারে আবার ৫ কি ৬ টী ঐ হরিতকী চৰ্বণ-পূৰ্ব্বক জলপান করিলে বৈকালে সন্ধ্যা মধ্যে আবার একবার সুচারুরূপে দাস্ত হইয়া কোষ্ঠ পবিত্র হয়। এইরূপে হরিতকী প্রয়ােগ করিলে শূল, অম্লশূল, অজীর্ণ, ডিসপেপিয়া এবং অন্যান্য জঠর রােগ মাত্র আরােগ্য হইয়া রােগী সুস্থ হয়, এবং ক্ৰমে ক্ষুধাবৃদ্ধি সহ রােগী তােক্তা ও বলবান্ হইয়া থাকে। যিনি স্থবিরত্ব লাভ প্রযুক্ত চৰ্ব্বণে অশ্য হইয়াছেন, তাহাকে জলসহ হরিতকী শীলায় পেষণ করিয়া কর্দমবৎ হইলে সমভাবে কাশীর চিনি অর্থাৎ পবিত্র চিনি মিশ্রিত করিয়া কাচ বা প্রস্তরের আধারে স্থাপন পূর্বক নিত্য প্রাতে এবং রাত্রিতে শয়নকালে ২ ভােলা পরিমাণে দুইবারে নিত্য ৪ তােলা সেবন করিলে বা করাইলে তিনিও ঐ ঐ রােগ হইতে আরােগ্য-ফল প্রাপ্তি হইবেন সন্দেহ নাই। “দৃষ্টফল মিদং ।” এই রােগে জলে সুপক বার্লি (যবের পালাে ), দুগ্ধ-পক বার্লি, নেয়াপাতি ডাব, মুড়ি, খৈ, সদ্যোজাত কেবল মাংসের বা চুণমাছের কোল সহ অতি সুপ দাউদ খানি চাউলের অন্ন, মাণকচ, কাচ-কলা সহ গ্যাদালপাতার ঝােল সুপথ্য ঝালবাটনা, লঙ্কা, গুড়, শশা, পিয়ারা, পরমান্ন, পিষ্টক, ভাজী, দাল, শাক, আহারান্তে দিবা নিদা, স্ত্রী-সহবাস, শ্রম, চিন্তা ইত্যাদি অতি কুপথ্য।
( ১ ) • অভুক্তস্য দিবা নিদ্রা, পাষাণমপি জীৰ্যতি । অত্যাথো যথা-অনাহারে দিবানিদ্রা অজীর্ণ রােগীর পক্ষে অতি হিতকর ও সুখকর। হরিতকীং ভক্ষ রাজন, মাতেব হিতকারিণী। কদাচিৎ কুপ্যতে মাতা, নােদরস্থ। হরিতকী। ফলকথা—রাজাকে সম্বােধন পূৰ্ব্বক বলিতেছেন--মহারাজ! গৰ্ভধারিণী মাতাও সন্তানের প্রতি সময়ে সময়ে কুপিতা হন; কিন্তু উদরস্থ হরিতকী কদাপি রুষ্ট হইবে ; অতএব হরিতকী মাতা-সদৃশী হিত-কারিণী । পুস্তক বিজ্ঞাপন। চিকিৎসার তৃতীয়-সংস্করণ। এই গ্রন্থ পাঠ করিলে সকলেই সুবিজ্ঞ ডাক্তার কবিরাজের ন্যায় রােগ নিরূপণ করিয়া মহান ডাক্তার সদৃশ চিকিৎসা কাৰ্য্য করিতে বিশেষ পারদর্শী হইবেন ; যে হেতু ইহাতে এক একটী রােগের লক্ষণ নিরূপণ করিয়া তৎপরে উপদ্রব বর্ণনা সহ তৎক্ষণাৎ তাহা-নিবৰ্ত্তক হিতকর তীব্রমুষ্টি-যােগদি ও মহৌষধ বিধানে এবং পথ্যাপথ্য বর্ণনায় এই চিকিৎসারত্ন গ্রন্থের কলেববকে বিশেষ রূপে অলঙ্কত করায় উজ্জ্বল ও দেদীপ্য হইয়াছে; অধিকন্তু ইহার মধ্যে কলিকাতা মহানগরীর মধ্যে এবং জগতে বিখ্যাত (প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ।পেটেন্ট মহৌষধ সকল শিক্ষাপ্রণালী সন্নিবেশিত হওয়ায় জন সমাজে অধিকতর সমাদৃত ও পূজ্য হইয়াছে, এবং এই গ্রন্থের সাহায্যে পেটেন্ট ঔষধ সকল শিক্ষা পূৰ্ব্বক প্রস্তুত করিয়া স্থানে স্থানে (জেলায় জেলা) ওষধ ব্যবসা করিতেছে-এজন্য নানাস্থান হইতে এই পুস্ত- কের প্রশংসাপত্র আসিয়া গৃহ পূর্ণ প্রায় হইয়াছে। মূল্য ২৫০ টাকা, মাশুল। আনা ১০ নং দেব-নারায়ণ-দাসের প্রবীণ চিকিৎসক লেন, শ্যামবাজার, শ্রীদ্বারকানাথ বিদ্যারত্ন। কলিকাতা।
( ১/৬ ) জ্যোতিষ-সাগর” মহাগ্রন্থ- ইহা পাঠে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই অতি সহজে জ্যোতিষশাস্ত্রের ফললাভ সহ শিক্ষা করিতে পারিবেন। গুরুর উপদেশ ব্যতিরেকে সকলেই সহজে বুঝিতে পারেন, এরূপভাবে প্রাঞ্জল বঙ্গভাষায়, জ্যোতিষ সম্বন্ধীয় কুটিল ও সরল বিষয় সকলের বিশেষ মর্মার্থ ইহাতে প্রকাশ করা হইয়াছে। সরলভাবে ও কুটিলতাশূন্য এমন জ্যোতিষগ্রন্থ জগতে দ্বিতীয় (আর একখানি ) নাই। অনেক জ্যোতিষপুস্তক বিদ্যমান আছে সত্য, কিন্তু কুটিলতাপূর্ণ। ইহাতে কপটতার পরিচয় কিছুমাত্র নাই। জ্যোতিষ এমন কুটিল যে-পিতা পুত্রকে শিক্ষা দেন না, পুত্রও অন্যস্থানে সুশিক্ষা লাভ করিলে পিতাকে জানিতে দেন না—এমনস্থলে বিবেচনা করিলাম যে, “জীবনান্ত (মৃত্যু) হইলেই দুঃসাধ্য কষ্টলব্ধ সঞ্চিত বিদ্যা-সকল বিলুপ্ত হইবার আশঙ্কায় সাধারণের শিক্ষার্থে অকপট-চিত্তে সরল বঙ্গানুবাদ সহ সাধারণের শিক্ষয়িতব্য জ্যোতিষ মূলগ্রন্থ মুদ্রিত করিয়াছি। এই মহাগ্রন্থ অতি পবিত্র গ্লানি- শুন্য ও নিভুল ; ইহা পাঠে কোষ্ঠী ( ঠিকুজী) প্রস্তুত করিতে, শুভাশুভ নির্ণয় করণে এবং প্রশ্নগণনায় বিশেষ পারদর্শী হইবেন; ইহাতে অনুমাত্র সংশয় করিবেন না। মূল্য ১০ টাকা ; মাশুল। আনা। ; প্রাপ্তিস্থান প্রণেতা প্রবীণ চিকিৎসক ও জ্যোতিষী শ্রীদ্বারকানাথ বিদ্যারত্ন-সমীপে। শ্যামবাজার কলিকাতা ১নং দেবনারায়ণ দাসের লেন, । --- শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচন্দ্রায় নমঃ। বিবিধ-তীব্র-মুষ্টিযােগ-দ্বিতীয় সংস্করণ। চিকিৎসাকাৰ্যোপলক্ষে নানাস্থানে (জেলায় জেলায়) পরিভ্রমণ করিয়া নানা- বিধ উৎকট রােগের চিকিৎসায় ব্রতী হইয়া তৎ তৎ দেশীয় বহুবিধ ডাক্তার, ( ১ ) কবিরাজ, হকিম, আবধৌতিক, তান্ত্রিক, গুণিন (রােজা) সহ মিলিত হইয়া অসংখ্য দুরাবােগ্য রোগের চিকিৎসা করায় যে সকল আশু ফলদায়ক হিতকর “তীত্র-মুষ্টিযােগদি” শিক্ষা ও সংহ করিয়াছি ; জীবনান্তে সেই সকল উপাদেয় ও হিতকর মুষ্টিযােগদি বিলুপ্ত হবার আশঙ্কায় সর্বসাধারণের শিক্ষার্থে এই মহা- গ্রন্থে সরল হৃদয়ে অকপট চিত্তে প্রাঞ্জল বঙ্গভাষায় মুদ্রিত করিয়া “বিবিধ তীব্র মুষ্টিযােগ” নামক গ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছি। মূল্য ৩০ টাকা, মাশুলাদি। আনা। কবিতাকুসুমাঞ্জলি, চিকিৎসারত্ন, জ্যোতিষ-সাগর ও বিবিধতীব্র-মুষ্টিযােগ এই ৪ চারিখানি পুস্তকেব-- প্রাপ্তিস্থান—যথা- -- ১। প্রকাশক শ্রীদ্বারকানাথ বিদ্যারত্নের বাটী ১০ নং দেবনারায়ণ দাসের লেন, শ্যামবাজার, কলিকাতা। ২। শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায় সমীপে প্রাপ্তব্য। ২১ নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা। ৩। মনােমমাহন লাইব্রেরির অধ্যক্ষ সমীপে প্রাপ্তব্য। ২০৩। ২ নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা। কতিপয় বীৰ্যশালি-মহৌষধের পরিচয় যথা— তস্মদ্দেশে বিশেষতঃ মহানগরী কলিকাতা মধ্যে বহুবিধ ঔষধ ব্যবসায়ী, ঔষধালয়ে এবং চিকিৎসক মহােদয়গণের চিকিৎসাগারে ধনােপাৰ্জন লালসায় প্রকৃত ও কৃত্রিম ঔষধ সাগর প্রস্তুত পূৰ্ব্বক ক্যাটলগে ( ঔষধ তালিকা পুস্তকে ) এবং সংবাদ পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে লিখিত মিথ্যা প্রলােভন বাক্যে সাধারণের মনােরঞ্জন পূৰ্ব্বক বহু লােকের নিকট হইতে জগতের ধন হরণ করিতেছেন, তাহাতে প্রতারিত ব্যক্তিগণের প্রমুখে তক্ষেপ উক্তিতে স্বর্ণ ও লন্নায় মা-দুঃখিত হইয়া যথা শাস্ত্রানুসারে কতিপয় মহৌষধ প্রস্তুত পূৰ্ব্বক জনসমাজের উপকা পার্থে এবং বিক্ৰয়াৰ্থে বিনীত ভাবে প্রকাশ পূৰ্ব্বক জানাইতেছি যে, অলালয়ে প্রতারিত হই- ( ১০০ ) •• বার কোন আশঙ্কা না কবিয়া অকাতরে পূর্ণ উৎসাহের সহিত গ্রহণ করিয়া যে যে ঔষধে, যে যে রূপ ফল প্রাপ্তির সম্ভব লিখিত হইল ; সেই সমস্ত হিতজনক ফল সকলেই প্রাপ্ত হইবেন; ইহাতে কেহ সন্দেহ করিবেন না। তবে আমার লিখিত নিয়মানুসারে থাকিয়া সুপথ্য করিতে হইবে; অতএব নিমাখিত শুভফল প্রাপ্তি সম্বন্ধে কেহ অণুমাত্র সংশয় করিবেন না। যে হেতু আমি পাতুরে কয়লার জালে কিম্বা নিমকাষ্ঠের জ্বালের স্থানে, তেঁতুল বা অন্য কাষ্ঠের জালে, চিকিৎসকের নিজের কর্তব্য-কৰ্ম্ম স্থানে উড়ে চাকর, ও বেহারা দ্বারা প্রস্তুত করান হয় নাই। তৈলাদি পাকেব হপ্তাদিও ফুকা দেওয়া কসাই গোয়ালার নিকট হইতেও গ্রহণ করি নাই, দ্রব্যাদিও যথা রীত্যনুসারে আয়ােজন করিয়া ঔষধ ও তৈলাদি প্রস্তুত কাৰ্য্য স্বয়ং বিশেষ শ্রমের সহিত ও তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করিয়াছি –এজন্য প্রতিজ্ঞা পূৰ্ব্বক বলিতেছি যে, প্রতি ঔষধের নিম্নে লিখিত ফললাভ কেননা সকলেই প্রাপ্তি হইবেন? সম্পূর্ণ আশা কবি যে, লিখিত ফল লালে কেহ-ই বঞ্চিত হইবেন না। প্রাপ্তিস্থান-- । কলিকাতা শ্যামবাজার দেব-নারায়ণ নিবেদক প্রবীণ-চিকিৎসক-- দাসের লেন ১০নং নিজ নিকেতন। শ্রীদ্বারকানাথ বিদ্যারত্ন। অম্লারিষ্ট মহৌষধ প্রকাশের কারণ বর্ণনা যথা- সৰ্ব্ব প্রথমেই ক্ষুদ্র বিজ্ঞাপনে নিবেদন—এই যে, পূৰ্ব্বে সকলেই গণ্য যুত, দধি, দুগ্ধ ও গৃহ-জাত উপাদেয় ঘােল ইত্যাদি গব্য রস দ্বারা ভােজন ক্রিয়া সম্পাদনানন্তর দীর্ঘজীবী, বলিষ্ঠ ও নীরুগ্ন থাকিয়া পরমসুথে বহুকাল জীবিত থাকিতেন; অধুনা নানা কারণে গব্য রসের অত্যন্তাভাব ঘটিয়াছে, সেই হিতকর গব্য রসের পরিবর্তে এক্ষণে ৪। ৫ খানি ঘুটিয়া দ্বারা পাথুরে কয়লার উনুটী মাত্র কোন গতিকে ধরান হয়, গাে জাতির অভাব বশতঃ ঘৃতাদি প্রায় উৎপন্ন হয় না । সুতরাং ঘৃত-ব্যবসায়িগণ বহুবিধ দূষ্য দ্রব্যাদিতে কৃত্রিম হ্রত ( • ) প্রস্তুত করিতেছেন, সেই ঘৃতে পকদ্রব্যাদি ভােজনে অয় (ডিসপেপ্সিয়া ), অম্ল- শূল, অম্লপিত্ত, অজীর্ণ ইত্যাদি রােগে জীর্ণ হইয়া সকলে অল্পায়ুতেই দেহত্যাগ করিতেছেন; ইহা দেখিয়া “অন্নাবিষ্ট” নামে এই মহৌষধ আবিষ্কার পূর্বক শত শত স্থানে পরীক্ষান্তে সাধারণের ব্যবহার ও ক্রয়,জন্য সর্বদা প্রস্তুত রাখিয়াছি বড় ১ বােতল ২৪ বার সেবনের মােগ্য এইপরিমিত মহৌষধের মূল্য ১০ টাকা। পথ্যাপথ্য ও সেবনের ব্যবস্থা ঔযধাদিসহ প্রদান হয়। ইহাকেই আবার চুর্ণ ভাবে, অম্লচুর্ণ নামে প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি, এই উভয় প্রকার ঔষধেই দুরারােগ্য অম্ল ( ডিপেন্সিয়া) ইত্যাদি ২। ৪ দিনেই আয়ােগ্য হইয়া রােগী সৰ্বভুক হইতে পারিবেন। পূৰ্বোক্ত ঐ অম্লারিষ্ট আর অম্নচূর্ণ-নামে- এই ঔষধ দ্বয়ে ২। ৪ দিন সেবনেই অম্লশূল, অন্ন, অম্নোদ্গার, উদরস্ফীততা, অম-বমন, বমননাদবেগ, অম্ল সম্বন্ধীয় দুর্গন্ধ বিশিষ্ট তরল ভেদ, অজীর্ণ দোষ, অগ্নিমান্দ্য, পেট ফাপা, চোয়া ঢেকুর, ও বুক জ্বালা ইত্যাদি দুশ্চিহ্ন—অত্যল্প সময়ের মধ্যেই ( ২। ৪ দিনেই) আরােগ্য হইয়া থাকে, তৎপরে নিত্য সহজে দাস্ত পরিষ্কার হইয়া রােগীর অত্যন্ত অগ্নি বৃদ্ধি ও দিন দিন ভােজনে বলবান হইয়া ক্রমে দুর্জয় অন্ন, অম্লশূল, ডিপেপ্সিয়া ইত্যাদি রােগ হইতে আবােগ্য হয়েন। ডাকযােগে পাঠানার জন্য অম্লচূর্ণই সুবিধা জনক ; মাশুলাদি ॥ আনা। ৫ যােগেন্দ্র রস ঔষধের বিবরণ। আয়ুৰ্বেদ-মধ্যে বায়ুােগাধিকারে যােগেন্দ্র-রস”নামে অতি সুপ্রসিদ্ধ (বিখ্যাত) মহৌষধ আছে, ইহা প্রায় সকলেই অবগত; কিন্তু তাহা প্রস্তুত করিতে হইলে ব্যয় ও বহু কষ্ট সাধ্য এবং মহামূল্য ও দুষ্প্রাপ্য বিশুদ্ধ রসসিন্দুর, স্বর্ণ ভস্ম, সহস্র পুট পাকজাত কান্তি লৌহ ও অভ্র ভস্ম, মুক্তা ও বঙ্গ ভস্মেরও প্রয়ােজন হইয়া থাকে; এ জন্য সাধারণ গৃহস্থে যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিকিৎসক মহােদয়গণ সচরাচর প্রস্তুত করিতে পারেন না, যদি বা কোন গতিকে অর্থ যােজনা হয়, তাহা হইলেও ঐ ঐ দ্রব্যাদি অপ্রাপ্তি জন্য কেহই প্রস্তুত করিতে পারেন না, সেই হেতুক কৃত্রিম যােগেন্দ্ররস কেহ, কেহ প্ৰস্তুত করিয়া চিকিৎসামাত্র চালাইয়া প্রশংসা প্রাপ্তি হয়েন না, কেবল অপযশের ভাগী হইয়া থাকেন—ইত্যাদি অভাব মােচনার্থে উক্ত “যােগেন্দ্ৰৱস” নামক প্রসিদ্ধ মহৌষধ সৰ্বসাধারণের মঙ্গল জন্য বিশুদ্ধ ভাবে প্রস্তুত করিয়া সযত্নে রাখিয়াছি; যখন যাঁহার আবশ্যক হইবে, তখন তিনি পত্র লিখিলেই প্রাপ্ত হইবেন। প্রতি সপ্তাহের মূল্য ২ টাকা, মাশুলাদি • আনা। অগ্রে মাশুল খরচা না পাঠাইলে কোন ঔষধ পাঠান হয় না। যােগেন্দ্র-রস সেবনের ফলশ্রুতি। ইহা যথা নিয়মে সেবন করিলে বাতপিত্তজনিত রােগমাত্র, বিংশতি প্রকার প্রমেহ, বহুমূত্র, মূত্রাঘাত, অপপ্যার, উন্মাদ, মুচ্ছ, মস্তিষ্ক বিকৃতি ও মাথা রগম ( পাগল হওয়া বা লােগ । যক্ষ্মা, পক্ষাঘাত, অম্লপিত্ত ইত্যাদি বহু বহু কঠিন রােগের মহৌষধ জানিবেন। বাধকারিষ্ট ঔষধ বিষয় যথা— স্ত্রীগণের যৌবনাবস্থায় অনেকের বাধক পীড়া উপস্থিত হয়, ইহা জন্মাইলে প্রতিমাসে রজস্বলা হইবার ৩। ৪ দিন তলপেটে বেদনা আরম্ভ হইয়া ক্রমে কন্- কনানি, ধড় ফড়ানি বহুবিধ যাতনায় কাতবা ও মৃতবৎ হইয়া ২। ৪ দিন ধরাধামে পতিতা হইয়া থাকেন। রজঃস্রাব হইলেই ক্রমে ক্রমে বেদনার শান্তি হইতে থাকে। তৎপরে সেই স্ত্রীলােক-টী পুনর্জীবন লাভ হইল-এই জ্ঞানে আবার সংসারাশ্রমের কাৰ্যে মনােনিবেশ করিলেন, মাসান্ত-সময়ে আবার ঐ প্রকার যাতনায় কাতরা হইতে হয়। এই বাধক পীড়াক্রান্তু স্ত্রীগণের প্রায় সন্তান- সন্ততি জন্মায় না। এই বাধক পীড়ার বিশেষ শান্তিকারক নবাবিষ্কৃত এই “বাধকারিষ্ট” জানিবেন এবং ইহা দ্বারা শ্বেতপ্রদর ও রক্তপ্রদর মাত্র আরােগ্য হয়। এবং ইহাতে স্ত্রীগণ হৃষ্ট, পূষ্ট ও বলিষ্ঠ হইলে সন্তানােৎপাদিকা শক্তি জন্মাইয়া থাকে।
( ১০০ ) সৰ্বসাধারণের গ্রহণ জন্য সতত প্রস্তুত করিয়া থাকি, ইহা মাসদ্বয় সেবন করিলে বাধক ও প্রদর মাত্র আরােগ্য হইয়া দেহ সুস্থ হইয়া থাকে। এক মাসের সেবন যােগ্য বাধকরিষ্টের মূল্য ৪০ টাকা, মাশুলাদি। আনা। । ক্ষীর-পল্প টীর (ক্ষুধাবতীর ) বিষয় যথা— ইহা অতিশয় আগ্নেয়, পাচক, কণ্ঠায় কণ্ঠায় ভােজন করিয়া ৮।১০ রতি পরি- মাণে মুখে ফেলিয়া চৰ্বণ পূৰ্ব্বক বাসিজল দ্বারা গলাধঃকরণ করিলে খুব অল্প সময় মধ্যেই পরিপাকান্তে পুনৰ্বার ক্ষুধার উদ্রেক হইয়া থাকে ; এজন্য সাধারণের ব্যবহার্য, এবং ইহা বিলক্ষণ মূত্রকারক বলিয়া শােথ (ফুল) রােগীর পক্ষে অতি হিতকর, ডিপেপ্সিয়া ও অম্লনাশক, উদরাময় ও আমাশয় রােগেও ব্যবহাৰ্য। মাত্র ৮ হইতে ১২ রতি আন্দাজ লইয়া মুখে ফেলিয়া চৰ্বণ পূৰ্ব্বক জলদ্বারা সেবন হয়। মূল্য ২ দুই তােলা ১ এক টাকা। মাশুলাদি • আনা। বৃহগুভূচী তৈলের বিষয় ইহা নিমকাষ্ঠের জালে, নিমগাছের গুলঞ্চের কাথে ও পবিত্র (খাটী ) গব্য- দুগ্ধে পাক এবং যথাযোগ্য দ্রব্যাদি আহরণ পূৰ্ব্বক স্বয়ং প্রস্তুত করিয়া সাধারণের হিতার্থে রাখিয়াছি। ২৫ টাকা পাকাসের হিসাবে পাইতে পারিবেন। ইহার উপকারিতার পরিচয় যথা--পিত্তজন্য বা বাতপিত্ত জন্য মুখের বিস্বাদ, ও মুখে পচা দুর্গন্ধ, দেহে সন্তাপ, হস্তপদ ও চক্ষুলন, নিদ্রার অভাব, বাহে অপরিষ্কার, মেহ বা বায়রােগ উপস্থিত হইলে এই তৈল সর্বাঙ্গে বিশেষতঃ উদরে, হৃৎপিণ্ডে ও মস্তকে বিলক্ষণ মর্দন করাইলে অল্পকাল মধ্যেই ঐ সকল রােগ নিবৃত্তি হয় ; কিছু দীর্ঘ সময় ব্যবহার করিলে দেহ সুস্থ হইয়া থাকে। সৰ্ব্বশরীর স্নিগ্ধ (বরফবৎ ঠাণ্ডা) করিয়া দেয় এবং ইহাদ্বারা মস্তিষ্ক সুস্থির ও ধীশক্তি সম্পন্ন হয়। বাতরক্ত, রক্তপিত্ত, হনুস্তম্ভ, ( বাক্যের জড়ত), কামনা, পাতা, গাত্র • ( ১০০ ) ক, (চুকণা), বলি-পলিত । বার্ধক্য চিহ্ন প্রকাশ) ইত্যাদি রােগে বিশেষ হিতকর ৫ বিন্দু পরিমাণে কিঞ্চিৎ জল সংযােগে পান ও.গাত্রে মর্দন, এবং নস্যগ্রহণ এই ত্রি-বিধরূপে ব্যবহার করিবার ব্যবস্থা হইয়াছে। ঐ সকল রােগে ও অবস্থায় ইহা সুব্যবহারে উপরি-লিখিত উপকার প্রকাশ না হইলে মূল্য প্রত্যর্পণ করিতে ( ফেরত দিতে ) কৃতসঙ্কল্প হইলাম । গুড় চ্যাদি-লৌহের বিবরণ ইহা মধুদ্বারা মর্দিত হইলে ধনে ও পলতা ভিজনার জল বা কাথ যােগে সেবন করিতে হয়। বাতরক্ত রােগে (গাত্রে কদাকার চিহ্নপ্রকাশে), বিশেষতঃ হস্ত পদাদির প্রদাহ ( জ্বালা) রােগে অতিশয় হিতকর ও আশু ফলপ্রদ। মূল্য ৭ বটা টাকা। মাশুলাদি। আনা। মাশুল অগ্রে পাঠাইলে প্রেরিতব্য। ৭। মেহ বা প্রমেহ ও শুক্রতারল্যরােগে বিশুদ্ধ বঙ্গাস্টক। * মেহ, পুরাণ মেহ কি প্রমেহ, শুক্রতারল্য ও বহুমূত্র ইত্যাদি ধাতু ঘটিত রােগ উপস্থিত হইলে বিশুদ্ধ ধাতু ঘটিত বিশুদ্ধ বঙ্গাষ্টক-মহৌষধ জানিবেন। ইহা ব্যবহারে অল্প সময় মধ্যেই বিংশতি প্ৰকাৰ মেহ, শুক্র-তাবল্য দোষ নিবারণ হইয়া বহুমূত্র রোেগ পর্যন্ত আরােগ্য হইয়া থাকে এবং তৎসহ শুক্র-কাঠিন্য হইয়া, নীরুগ্ন সন্তানোৎপাদিকা শক্তি উৎপাদন হয়। ইহাতে অণুমাত্র সংশয় করিবেন না। সপ্তাহের মূল্য ২ টাকা, মাশুলাদি। আনা, মাশুল খরচ অগ্রে না পাঠাইলে কোন ঔষধ পাঠান যায় না। ব্যবস্থাপত্র ঔষধসহ পাঠান হয়।
) পবিত্র মেহানল রস। প্রতি সপ্তাহ মূল্য ১ টাকা, মাশুল খরচ। আনা, মাশুল খরচ অর্থে পাঠান হইলে প্রেরণ হয়। ইহা অল্প মূল্যের ঔষধ সত্য; কিন্তু সিংহ তুল্য প্রতাপান্বিত। সর্বপ্রকার মেহ ও বহুমুত্রে ব্যবহার্য্য। ইহাতে নিশ্চয় আরােগ্য জনক ফললাভ হইবে; কিন্তু কিঞ্চিৎ দীর্ঘ সময় ব্যবহার করিতে হয়, এইমাত্র প্রভেদ জানিবেন। মহাদশমূল তৈল । ইহা শীয়ােরােগ নাশক, শ্লেষ্ম বা উৰ্দশ্লেষ্ম দ্বারা মস্তকে ক-কট, দপ দপ যাতনা উপস্থিত হইলে ভীষণ সর্দি ও কাস হইলে মস্তক ভার থাকিয়া ঘুরিয়া পড়িলে ইহার নস্য গ্রহণ, বক্ষঃস্থলে মস্তকে মর্দন করিলে ৫} ৬ দিন মধ্যেই শিয়ােরােগ মাত্র আরােগ্য হইয়া থাকে। গাত্র বেদনা স্থলেও ইহা বিশেষ উপ- কারী। ফলকথা শিয়ােররাগের মহৌষধ ২৫ সের হিসাবে বিক্রয় হয়। শৃঙ্গারাভ্র, ইহাকাসের মহৌষধ নূতন বা পুরাণ কাস উপস্থিত হইয়া বক্ষঃস্থল ভার ও বেদনাযুক্ত হইলে, ঘন ঘন কাস হইয়া যাতনা দায়ক হইলে, এমনকি কাসের জন্য নিদ্রা না হইয়া সাদা- সাদা ও পীতবর্ণ শ্লেষ্ম উঠা বা রক্তসহ শ্লেষ্ম উঠা লেগে হিতকর ও ব্যবহার্য প্রাতে ও বৈকালে নিত্য নিত্য দুই বটী ব্যবহার করিলে দুর্জয় কাস রােগ আরােগ্য হইয়া সুস্বরবা হয়। ইহা কাস, শ্বাস, শােথ, মেহ, যক্ষ্মা, মেদ, বমন, শূলা, অম্লপিত্ত, গুল্ম পাও, রক্তপিত্ত ইত্যাদি রােগের শান্তি কারক হইয়া কামােৰ্দীপক হয়। সহজ অবস্থায় সেবন করিলে বীৰ্য্য বৃদ্ধি কারক হইয়া থাকে। এজন্য শৃঙ্গার পটু হয়। মূল্য ১৪ বটী ৩ টাকা মধুসহ মৰ্দিত হইলে ঈষদুষ্ণ আদা ও পানের রস যােগে সেব্য।
( ১/০ ) চন্দ্রামৃতা বটী। ইহা রক্ত সহ কাস উঠায়ােগে বিশেষ হিতকর, নিদানােক্ত পঞ্চবিধ কাস রােগে ব্যবহার করিবার যােগ্য প্রধান ঔষধ বলিয়া বিখ্যাত। সর্বপ্রকার কাস রােগে, জ্বরসহ কাসে, বাতশ্লেষ্মোদ্ভব, পিত্তশ্লেষ্মেদ্ভব, বায়ু- দোষােম্ভব, অন্যান্য নানা দোষােদ্ভব কাসমাত্র রােগে, বিশেষতঃ রক্তসহ কাস ও শ্লেষ্মা উঠারােগে অতীব সুস্থতা ও আবােগ্য দায়ক। ইহা সেবন করিলে তৃষ্ণা, দাহ, ভ্রম ইত্যাদি নষ্ট হইয়া বল ও বর্ণ বৃদ্ধির সহিত জঠরাগ্নির উদ্দীপন হইতে থাকে। ইহা সর্বপ্রকার জ্বরের, বিশেষতঃ পুরাণ একদিন অন্তর বা দুইদিন অন্তর জ্বর, একদোষােদ্ভব জ্বর, দ্বন্দ্বজ জ্বর, চিরকাল সমুদ্ভব-জর, ত্রি-দোষ-জনিত-জ্বর ইত্যাদি সকলপ্রকার জ্বরের বিশেষতঃ কাসভুক্ত জ্বরের অমােঘ মহৌষধ বলিয়া বিখ্যাত। ইহাতে সংশয় মাত্র নাই। ৭ বটী ২১, টাকা, মাশুল। আনা। মহাশঙ্খ-দ্রাবক। ইহা প্লীহা, যকৃৎ, গুল্ম, পাত, অগ্রকড়া, ন্যাবা ও পাণ্ডু রােগের সর্বপ্রধান ঔষধ। জ্বর নাই কিন্তু প্লীহা যকৃৎরােগে উদরপূর্ণ হইয়াছে—এমনস্থলে ইহা অপেক্ষা জগতে দ্বিতীয় ঔষধ নাই। মূল্য ১ ঔন্স শিশি ১২০ টাকা। ঔষধসহ সেবন ব্যবস্থাপত্র প্রদান হয়। অম্লশূলান্তক রস। ইহা খাইতে মােহনভােগের ন্যায় সুখকর, সুস্বাদু, কৃষ্ণবর্ণ, কর্দমাকার ; কিন্তু গুণ অসীম ত্যথা—প্রাতে ১ তােলা, সায়াহে ১ তােলা নিত্য সেবন করিলে দুর্জয় অম্নদোষ, অম্লশূল ( ডিসপেপসিয়া) উদরস্ফীততা, অজীর্ণ, অশ্লবমন, চোয়া { ১90 ) ঢেকুর, বুকজ্বালা, বমনােদবেগ, অম্ল সম্বন্ধীয় দুর্গন্ধ বিশিষ্ট তরলভভদ, অগ্নিমান্দ্য ইত্যাদি রােগ ৪। ৫ দিন মধ্যে আরােগ্য হইয়া জঠরাগ্নির উদ্দীপনে ক্ৰমে ভােক্তা ও বলবান হইয়া থাকে। সহজ অবস্থায় সেবনে প্রত্যহ উত্তম দাস্ত পরিষ্কার হইয়া নীরুগ্ন ও বলবান হয়। মূল্য ৪০ তােলা একটাকা, মাশুল। আনা। অম্লহুতাশন। ইহা কৃষ্ণবর্ণ গুড়া ( পাউডার) খাইতে মন্দ নয়, • আনা মাত্রায় প্রাতে ও সায়াহে দুই বেলায় ২ বার মুখে ফেলিয়া বাসিজল দ্বারা নিত্য গলাধঃকরণ করিলে দুর্জয় অম্ল বারণ হইয়া পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি করিতে থাকে। মুল্য ৫ তােল ১০ টাকা। মাশুল।• আনা। মেহারিষ্ট । ইহা বিংশতি প্রকার মেহে বা প্রমেহে অথবা শুক্রতারল্য দোষে এবং ধ্বজ- ভঙ্গে প্রযুজ্য। দুই এক সপ্তাহ মধ্যেই ঐ সমস্ত রােগের বিশেষ শান্তি হইয়া থাকে। মূল্য ১ ঔন্স ১০ টাকা, মাশুল। আনা; কিন্তু শুক্রতারল্য দোষে ২ মাস কাল সেবন আবশ্যক। সেবন ব্যবস্থা ঔষধ সহ দাতব্য। মেহশর্করা। এই মেহ শর্করা নিত্য প্রতে। আনা, সায়াহ্।ে আনা, মুখে ফেলিয়া জল দ্বারা কিছুদিন সেবন করিলে সর্বপ্রকার মেহ ও প্রমেহ আরােগ্য হইয়া রােগী দিন দিন সুস্থ হইতে থাকে। মূল্য ২ তােলা। আনা, মাশুল। আনা। ভারত টনিক। ইহা ক্ষেত্র পপ্লটী (ক্ষেত পাবড়া), নিমগুলঞ্চ, চিরেতা, নাটার ডগা ইত্যাদি সিদ্ধকরা কাথ বিশেষ। ইহা দ্বারা নবজর, পুরাণজর, প্লীহাজর, যকৃৎ সংযুক্ত ( ১/০ ) জ্বর, পাণ্ডজ্বর, কামজ্বব (দ্যাব), কুইনাইনের জ্বর, একদিন বা দুইদিন অন্তর জ্বর, বিষমজ্বর, দ্বি-কালীন ও ত্রিকালীন বিষমজর ইতাদি সর্বপ্রকার জ্বরের শান্তি- কাবুক মহৌষধ। এই মহৌষধ ২। ৪ বার উদরস্থ হইলে নানাবর্ণের দূষিত মল নির্গত হইয়া ২। ৩ দিনের মধ্যেই জ্বর আরাম হইয়া প্লীহা, যকৃৎ, অগ্ৰমাংস, পাত ও কড়া প্রভৃতি জঠর রােগ-মাত্র দিন দিন সঙ্কোচ বা আরােগ্য হয়। বােতল ১০ টাকা, ছােট বােতল ৬০ আনা, মাশুল পৃথক। বাতারিষ্ট ইহা বাতবেদনাস্থলে কিছুদিন মালিস করিয়া নিধূমবহ্নির স্বেদপ্রদান করিলে নিশ্চয় বেদনা মাত্র ও বাতবেদনা আরাম হইয়া কাৰ্য্যক্ষম হইবে। যদি হস্ত- পদাদির কামড়ানি উপস্থিত হয়, তাহা হইলে সেই হস্তপদাদিতে ইহা মালিস বা মর্দন করিয়া বহ্নির স্বেদ প্রদান করিলে তৎক্ষণাৎ তাহা আরােগ্য হইয়া থাকে। অগ্নিদগ্ধজন্য জ্বালা যন্ত্রণাস্থলে ইহা মালিস করিলে তৎক্ষণাৎ জ্বালা যন্ত্রণা নিবারণ হয়। বড় ১ বোতল ১০ টাকা, ছোট বােতল • আনা, মাশুল পৃথক। প্রস্রাবারিষ্ট। ইহা বহুমূত্র রােগীর পক্ষে অতীব হিতকর, ৫ বিন্দু মাত্রায় ২ আধছটাক জল সহ সেবন করিতে হয়। এই প্রকার দিনে ২ বার, সন্ধ্যার পর একবার সেবন করিলে প্রস্রাব দোষ সারিয়া ক্রমে রােগী সুস্থ হইতে থাকেন। সুপথ্যে থাকা বৈধ। মূল্য ১ ঔন্স শিশি ১ টাকা, মাশুল। আনা। মেহ-পিচকারি-ব্যবস্থা . মেহ বা প্রমেহ কিম্বা বহুমূত্র রােগ উপস্থিত হইলে এবং স্ত্রীগণের দুরারােগ্য প্রদর রােগ, উপস্থিত হইলে এই “মেহ-পিচকারি” নামক মহৌষধের পিচকারি sho ) সপ্তাহে ২।১ দিন ব্যবহার করিলে নীরুগ্ন হইয়া থাকিবেন। ইগতে সন্দেহ মাত্র নাই। ২৪ বার পিচকারির যােগ্য ঔষধ ১ শিশি ১০ টাকা পিচকারি ১টী।আনা, মাশুল ॥ আনা। বিশুদ্ধ-অশােকঘৃত। ইহা সুবিখ্যাত প্রামাণিক মহৌষধ। স্ত্রীগণের শ্বেত বা রক্ত প্রদর রােগ হইলে ব্যবহার্য। স্ত্রীলােকের শােণিতস্রাব বা পূস্রাব রােগে ইহাই সৰ্বজন- বিদিত ও বিখ্যাত মহৌষধ ঔষধ। মূল্য ২৫ সের হিসাবে বিক্রয় হয়। মাশুল রেজেষ্টারি খরচ পৃথক। * লালচূর্ণ ( লাল )। ইহা দেখিতে সুন্দর ও লালবর্ণ, খাইতেও সুস্বাদু, বলকর, পুষ্টিকর, কিছুদিন সেবন করিতে করিতে মেহদোষ নিবারণ হইয়া বিক্রম সহ বলবীৰ্য্যশালী এবং রূপবান্ হয়। রােগান্তে দুর্বল থাকিলে বিশেষ উপকারক ও কামােদ্দীপক-মূল্য ১ ভরি ২২ টাকা, মাশুল ও প্যাকিং খরচা আনা। ব্যবস্থা পত্র দাতব্য। বৃহচ্ছাগলাদ্য ঘৃত। ইহা সৰ্ব্ব বাতঘ্ন, পুষ্টিকর, অপম্মার রােগ, উন্মাদ, পক্ষাঘাত, আখান, হস্তকম্প, শিরঃকম্প, জিহ্বস্তম্ভ (জড়) ভ্ৰম, ক্ষীণেন্দ্রিয়, নষ্টশুক্র ও শুক্র- নিঃসরণ ইত্যাদি বহুবিধ বায়ুরােগে ব্যবহার্য্য। কিছুদিন সেবন করিলে বলবিক্রম- শালী ও রূপবান হয়। তৎসহ কামােন্দীপন হইয়া থাকে। মূল্য ৫ তােলা ২০ টাকা।
( ১৬০ ) ধাতু-ভস্মের বিষয়। অত্রালয়ে সহস্র পুট পাকজাত লৌহভস্ম, অভস্ম পাওয়া যায়। ইহা দুষ্প্রাপ্য ও দুঃসাধ্য বলিয়া সাধারণের মঙ্গলকামনায় বিক্রয়ার্থ প্রস্তুত আছে, ইহা না হইলে ধাতু ঘটিত উত্তম উত্তম মহৌষধ কিছুতেই হইতে পারে না। বিশুদ্ধ বঙ্গ, মুক্তাভস্ম, রৌপ্যভস্ম সতত প্রস্তুত আছে। আবশ্যক মতে লিখিলে সকলে প্রাপ্ত হইবেন। ইচ্ছাভেদী রস। ইহা ক্ষুদ্রকায় মুগকলাই মত বটিকা। সভ্য জোলাপ, নিশাযােগে শয়নকালে ১বটী মুখে ফেলিয়া জলপান করিলে পরদিন প্রাতে বিনাকষ্টে একবার মাত্র পরি- স্কার দান্ত হইয়া থাকে। কোষ্ঠাশিত বায়ুবােগ থাকিলে ২। ৩ বটী সেবনে দাস্ত পরিষ্কার-রূপ ফল প্রকাশ হয়। বৃহৎ সােমরাজী তৈলের বিষয়। ইহা মর্দনে অষ্টাদশ বিধ কুষ্ঠ রােগ আরােগ্য হইয়া রােগী সুস্থ ও সুন্দর হইতে এবং ইহা দ্বারা দক্র, ছুলি, গাত্রক, ক্রিমি, গাত্র-বৈবর্ণ, ইত্যাদি স্থলে মর্দন করিলে বিশীর্ণ-চৰ্ম্ম-মাংসাদি দৃঢ় হইয়া আরােগ্য হয়। পাণ্ডুয়ােগে ব্যবহৃত হইলেও রােগী সুস্থ হইয়া থাকে ; ২৫ টাকা সের হিসাবে প্রাপ্তব্য। বিশুদ্ধ মকরধ্বজের বিষয়। ; ইহা সর্বরােগের সকল অবস্থাতেই ব্যবহার্য ; যেহেতু ইহার বিশেষ গুণ আছে যে, দেহসঞ্চালক বায়ু , পিত্ত ও কফের সমকারক অর্থাৎ বাত-পিত্ত ও কফের হ্রাস ও বৃদ্ধি থাকিলে সমতা করিয়া দেয়, অবস্থাভেদে কেবল অনুপান পরিবর্তন ( ১৬০ ) করিতে হয়। ঔষধ প্রেরণ সময়ে অবস্থা বুঝিয়া কি কি অনুপানে সেবন হইবে তাহা লিখিতে বাধ্য রহিলাম। সপ্তাহের সেবনাহঁ ১২ টাকা, মাশুল। আনা। পবিত্র রসসিন্দুর। পবিত্র রসসিন্দুর দ্বারা মকরধ্বজের ন্যায় ফললাভ হইয়া থাকে। প্রকৃত রস- সিন্দুর যাহা, তাহা মকরধ্বজের মতন ফলদায়ক। ভরি প্রতি ২২ টাকা মূল্য। জাঙ্গি-হরিতকীর মােরব্বা। ইহা খাইতে খুব মুখরােচক, একটী খাইলে আবার একটী খাইবার জন্য প্রাণ ব্যাকুল হয়। ইহা পঞ্চ লবণে পরিপক, সেই জন্য সেবনে অসীম ফললাভ হইয়া থাকে অর্থাৎ দুর্জয় অম্ল, (ডিপেন্সিয়া ), পেট ফাঁপা, অস্লোগার, অগ্নি- মান্দ্য, অরুচি, উদরাময়, অর্থাৎ আমাশয়, রক্ত আমাশয়, গ্রহণী, সঞ্চিতা গ্রহণী ইত্যাদি জঠর রােগমাত্র দিন দিন আরােগ্য হইতে থাকে, পরে রােগী ভােক্তা ও বলবান্ হয় ; ২০ তােলা ১২ টাকা মূল্যে বিক্রয় হয় ; মাশুলাদি ॥০ আনা। যমানী আচার। একা যমানী শতমন্ন-পাচিকা” অস্যার্থে যথা—একটী বােয়ানে শত অন্নপরি- পাক করিবার শক্তি রাখে—এই যােয়ান চুর্ণ, পঞ্চলবণ, গোড়ালেবুর রসে এই আচার প্রস্তুত। ইহা খাইতেও অতি সুস্বাদু, পূর্বোক্ত হরিতকী মােরব্বার মতন গুণ ও ডিসপেন্সিয়া ইত্যাদি রােগ নাশক জানিবেন। উদরাময়ের সুন্দর ঔষধ ও বিলক্ষণ পাচক। মূল্য /১ সের ৪১ টাকা।
( ১৮০ ) গ্রহণী গজেন্দ্র বিশেষ। মূল্য ১৪ বটী ১ টাকা মাশুলাদি। আনা, গ্ৰহণী ও দুর্জয় গ্ৰহণী রােগে ক্লান্ত ( কাতর কিম্বা বিপন্ন ) হইলে ইহা ব্যবহার্য। ইহা যে গ্ৰহণী রােগের মহৌষধ তাহা বলা বাহুল্য ; এক বটী সেবনেই তৎক্ষণাৎ ফল প্রত্যক্ষ হইবে; ফলকথা ইহা দ্বারা সপ্তাহ মধ্যে রােগী আরাম হইয়া থাকে। অত্র বিষয়ে সংশয় মাত্র নাই। ঔষধসহ সেবনবিধি-ও পথ্যাপথ্য জানাইব। ; অক্ষয়-দন্ত-মঞ্জন। ইহা দন্তমূল দৃঢ়কারক, নিত্য ইহা দ্বারা দন্তমার্জন ও দন্তমূলে সংলগ্ন হইলে দন্তহীন হইবার সম্ভব থাকিবে না; যেহেতু ইহা দ্বারা দন্তমূল হইতে প্রতিদিন দূষিত শ্লেষ্ম-নির্গত হইয়া দন্তমূল দৃঢ় হইতে থাকে। যদি কোন লােকের দন্তমূল গাগলা স্ফীত হইয়া কন্-কনানি ও শূলানি ইত্যাদির অসহ্য যাতনায় কাতর ও অস্থির হয়, তাহা হইলে এই অক্ষয় দন্তমঞ্জন যাতনা স্থানে দিবামাত্র বহুশ্লেষ্মা ( লালা) ক্ষরণ হইয়া রােগী সুস্থ হইবে। তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। ইহা ব্যবহৃত হইলে মুখমণ্ডল সতত সদ্গন্ধময় হয়, অথচ দন্তমূলে বা দন্তে কোন কাল দাগ ইত্যাদি দুশ্চিহ্ন হইবে না। মূল্য ২ তােলা ॥ আনা ; মাশুলাদি।। বিশ্বাঞ্জন ও ভীমসেনীয় কপূর। চক্ষুঃ হইতে জলাব, চক্ষুতে শােথ (ফুলা ), পিচুটী, শ্লেষ্ম দ্বারা চক্ষু যােড়া লাগিয়া যাওয়া, চক্ষুতে ঝঙ্গা ইত্যাদি রােগ উপস্থিত হইলে,বিশ্বাঞ্জন ও ভীম- সেনীয় কপূর ৫।৭ দিন প্রদত্ত হইলে নিরাপদে নিশ্চয় আবােগ্য হইয়া যায়। বিশ্বাঞ্জন অর্ধ ২ তােলা ২ টাকা। মাশুলাদি। আনা। উপরি উক্ত ঔষধ ও পুস্তকাদি পাঠানার মাশুল অগ্রে পাঠাইলে প্রেরিতব্য।
( ২ ) আয়ুর্বেদীয় গাঢ় সালসা । ইহা সৰ্ব্ব প্রকার বাতবেদনার, পারা ও গৰ্ম্মিরােগ জন্য গাত্রে কদাকার চিহ্ প্রকাশ রােগের একমাত্র এই “গাঢ় সালসা” মহৌষধ জানিবেন। খাইলে রূপবান্ ও বলবান এবং নীরুগ্ন হইয়া থাকেন, ইহা ২। ১ মাস সেবন করিতে পারিলে কামােন্দীপন হইয়া পুনৰ্ব্বার স্ত্রীসম্ভোগে বিশেষ পটু হইতে পারেন। মূল্য ১০ তােলা ২০ টাকা, মাশুল। আনা। ১০ নং দেবনারায়ণ দাসের লেন, শ্যামবাজার কলিকাতা। নিবেদক প্রবীণ চিকিৎসক শ্রীদ্বারকানাথ বিদ্যারত্ন। কৃতজ্ঞতা-স্বীকার । কলিকাতা উল্টাডাঙ্গা মেনরােড নিবাসী কল্যানীয় শ্রীমানী-কুলতিলক গুণ- গ্রাহী শ্ৰীযুক্ত বাবু চারুচন্দ্র শ্রীমানী মহাশয় এবং কলিকাতা শ্যামবাজার নিকাশী পাড়া নিবাসী দয়ালু সওদাগর কল্যানীয় শ্রীমান বাবু নগেন্দ্র নাথ ঘােষ মহােদয় —এই উভয়ে বিশেষ সাহায্য দান না করিলে এই বর্ষে মৎসংগ্রহীত “কবিতা কুসুমাঞ্জলি” গ্রন্থ মুদ্রিত ও প্রকাশ করিতে পারিতাম না। লােক বিপন্ন হইয়া উক্ত মহােদয় দ্বয়কে জানাইলে যথাসাধ্য উপকার ও সাহায্যদানে বিপদ হইতে উদ্ধারের চেষ্টা করিয়া থাকেন—ইহাই উহাদের স্ব-ধৰ্ম্ম জানিয়াছি। উহারা দীর্ঘ- জীবী হইবার প্রার্থনায় ব্রতী হইলাম। আশীৰ্বাদক শ্রীদ্বারকানাথ বিদ্যারত্ন।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি (সভা মুগ্ধকারক শ্লোক পুস্পাঞ্জলি।) প্রথম খণ্ড। মহামায়াবী এক রাক্ষস নিত্য নরমাংস ভােজন লালসায় তরণী প্রস্তুত পূৰ্ব্বক গঙ্গা ও যমুনায় মিলিত বিস্তীর্ণ নদীর পারাপারার্থ নাবিক হইয়া সতত প্রস্তুত থাকিতেন। পারার্থি গণ সমাগত হইলে নৌকায় আরােহণ করাইয়া নৌচলন দুস্তর গঙ্গাযমুনার মধ্যভাগে নৌকা উপস্থিত হইলে তখন মায়াবী মনুষ্য- রূপিরাক্ষস আরােহিকে প্রশ্ন * করিতেন যে গঙ্গাযমুনয়াের্মধ্যে, নৌকাং বহুপথানিহ। বহ বিপ্রং প্রভক্ষামি, কঃ পাপিষ্ঠো মমাধিকঃ ॥ ১। অশ্যাম্বয়ােযথা—হে মানব! ইহ গঙ্গাযমুনয়াের্মধ্যে বহুপথা নৌকাং বই তরণীচলনং কুন্ সন্, বিপ্রং ব্রাহ্মণং প্রভামি ভােজনং করােমি ; অতএব মমাধিকঃ পাপিষ্ঠঃ কঃ কথ্যতাম্ ? “অনুষ্টুপছন্দঃ”। ব্যাকরণং যথা—অস্মিন্ ইতি বাক্যে ইহ। গঙ্গাযমুনয়ােরিতি যদি বলেন, রাক্ষস প্রশ্ন করিতেন কেন? একবারেই ঘাড় ভাঙ্গিয়া ভক্ষণ করিলেই পারিতেন; কিন্তু তদুত্তরে বলা হইতেছে যে—পুরাকালে ধর্মপ্রভাব-হেতুক রাক্ষসগণেও নিরপরাধীর জীবনদণ্ডে কুণ্ঠিত হইতেন। সেই জন্য প্রশ্নে পরাভূত এবং তজ্জন্য অপরাধী সাব্যস্ত করিয়া তৎকালে নিজের বিকটমুৰ্ত্তিধারণপুৰ্ব্বক আরােহীর জীবনদণ্ড করণানন্তর মাংস লােজনে প্রীত হইতেন।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। গঙ্গা চ যমুনা চ তে গঙ্গাযমুনে তয়ােঃ। বহন্নিতি বহধাততঃ শতৃ- প্রত্যয়ে বহৎ, ততঃ সৌকৃতে বহ। প্রভক্ষামীতি প্ৰপূৰ্বকভক্ষ- ধাততঃ ক্যা মিপ্রত্যয়ে কৃতে প্রভক্ষামি ইত্যত্র আত্বাৎ পরস্মৈ- পদ। পাপিষ্ঠ ইত্যত্র পাপশব্দাৎ “গুণাদবেষ্ঠেয়সূ” ইত্যনেন ই- প্রত্যয়ে কৃতে পাপিষ্ঠঃ । বঙ্গভাষা যথা-নরমাংস-লােলুপ-মায়াবি-রাক্ষস সম্বােধন-পূৰ্ব্বক আরােহীকে প্রশ্ন ( জিজ্ঞাসা করিতেছেন যে— হে নরপুঙ্গব ! এই দুস্তর গঙ্গাযমুনার পারােপলক্ষে নৌকাযােগে আরােহীকে মধ্যভাগে আনিয়া আমি নিত্য নর ও ব্রাহ্মণ ভক্ষণ করিয়া থাকি, আম হইতে এই জগৎ সংসারে অধিক পাপিষ্ঠ অন্য কেহ আছে কি ? “এইরূপ ভয়ঙ্কর পাপী হইতে আর কেহ অধিক পাপী আছে বলিয়া কেহ সপ্রমাণ করিতে না পারিলেই, তখন ঐ মায়াবি-নাবিক রাক্ষস আরােহীর ঘাড় ভাঙ্গিয়া ভক্ষণ করেন।” এইরূপে বহুদিন বহুলােকের প্রাণসংহার করার পর, একদা অগস্ত্য মুনি, পারার্থ তথায় উপস্থিত হইলে ঐ পূর্বোক্ত প্রকারে জিজ্ঞাসিত হইয়া কহিতেছেন রে! নাবিক। তাং- আশাং দত্ত্বা ন দদ্যা যাে, দাতারং প্রতিষিধ্যতি । স্বয়ং দত্ত্বা হরেস্তু, স পাপিষ্ঠস্ততােহধিকঃ ॥ ২॥ অস্যাম্বয়াে যথা--যােনর অশাং দত্ত্বা ন দদ্যাৎ অর্থাৎ আশ্বা- সিতং কৃত্বা পশ্চাৎ প্রতারিতবানস্তি ; স এব ততােধিকঃ পাপিষ্ঠঃ। দাতারং দানকৰ্ত্তারং প্রতিষিধ্যতি যঃ, স এব অর্থাৎ দানবিষয়ে প্রতি- যেকোহপি ততােহধিকঃ পাপিষ্ঠ। এবং যাে নরঃ স্বয়ং দা পশ্চাৎ তদ্ধনং হরে হৃতবান্, সােহপি ততােহধিকঃ পাপিষ্ঠশ্চ ইত্যাদি শাস্ত্রাৎ এতেভ্যা লঘুপাপী তুম। “অনুষ্টুপছনঃ”। অষ্য বঙ্গভাষা যথা—যে ব্যক্তি আশ্বাসিত করিয়া পশ্চাৎ বঞ্চনা করেন, সেই কবিতাকুসুমাঞ্জলি। ব্যক্তি, আর যে ব্যক্তি দাতার প্রতিষেধক অর্থাৎ নিবারক হইতেছেন, তিনি এবং যিনি স্বয়ং দান করিয়া পশ্চাৎ সেই ধন হরণ করেন, তিনি এই ব্যক্তিত্রয় ততাে- হধিক পাপিষ্ঠ বলিয়া বিখ্যাত জানিবে ইত্যাদি শাস্ত্ৰহেতুক আপনি এই সকল পাপী হইতে লঘুপাপী হইতেছেন। নিয়ত কোন স্থানে গমনাগমন বা ভােজন করা যুক্তি- বিরুদ্ধ, তৎপ্রতি পৌরাণিক বচন প্রমাণ যথা- যাে যত্ৰ সততং যাতি, ভুক্তে চাপি নিরন্তরম্। স তত্র লঘুতাং যাতি, যদি শক্রসমাে ভবেৎ। ৩। অস্তান্বয়ে যথা –যে! নরাে যত্রস্থলে সততং নিরন্তরং যাতি গচ্ছতি এবং ভুক্তে চ ভােজনং কুরুতে চ; স এব যদি শক্রসম ইন্দ্র- সদৃশঃ স্যাৎ, তথাপি তত্রস্থলে লঘুতাং হীনতাং যাতি প্রাপ্লে- তীত্যর্থ। “অনুষ্টুপছন্দঃ”। ব্যাকরণং যথা—যাতীতি যাগতো, যাধাতুঃ তস্মাৎ ক্যান্তিপি কৃতে যাতি ক্রিয়াপদং নিষ্পন্ন। ভুক্তে ইতি ভুজধাতেঃ ক্যা স্তে-প্রত্যয়ে কৃতে ভুক্তে ক্রিয়াপদং নিষ্পন্ন। শক্রেণ সমঃ শক্রসমঃ ইন্দ্রসদৃশঃ। যদি কোন ব্যক্তি বিনাকারণে নিরন্তর এক স্থানে গমনাগমন করেন, কিম্বা ভােজনাদি করেন, তাহা হইলে তিনি ইন্দ্রসদৃশ মহান্ পুরুষ হইলেও হীনতাকে প্রাপ্তি হয়েন। অতএব সুহৃগণ ! নিয়ােজনে কুত্রাপি গমনাগমন বা ভােজন করিয়া হীন হইবেন না, ইহাই মর্মার্থ স্থির জানিবেন। নিজালয়ে কাৰ্য্য না থাকিলে ধৰ্ম্ম-চর্চা বা ধৰ্ম্মপুস্তক পাঠে কালাতিপাত করা ধীমানের বৈধ।
৪ কবিতাকুসুমাঞ্জলি। ব্রাহ্মণ কুমার চিকিৎসক হইলে, বৈষ্ঠ বা মূঢ়গণে যে অলীক বচনদ্বারা ব্রাহ্মণ চিকিৎসক মহােদয়কে ঘৃণা নিন্দ। করেন, সেই বচন নিম্নে প্রদর্শিত হইল ; যথা- চিতিঞ্চ চিতিকাঞ্চ ঘূপং চাণ্ডালমেব চ। ব্রাহ্মণং ভিষজং দৃষ্টা সচেলাে জলমাবিশেৎ।৪। অস্যাম্বয়াে যথা—চিতিং চিতাস্থানং, চিতিকাষ্ঠং প্রেতভূমি-সম্বন্ধীয়- কাষ্ঠং, ঘূপং যজ্ঞস্থলে পশুবন্ধনযােগ্যস্তম্ভবিশেষং, চাণ্ডালঞ্চ চণ্ডালজাতিঞ্চ এবং ব্রাহ্মণং ভিষজং ব্রাহ্মণচিকিৎসকমেব দৃষ্ট। দর্শন মাত্রং সচেলঃ সবস্ত্রঃ বস্ত্রেণ সহ জলং আবিশেৎ অর্থাৎ তৎক্ষণাৎ স্নানং কৃত্বা পবিত্রো ভবেৎ। “অনুষ্টুপছন্দঃ”। ব্যাকরণং যথা—সচেল ইতি চেলেন সহ সচেল ইত্যত্র সহ- শব্দস্থানে সাদেশঃ। আবিশেদিতি আঙ, পূর্বকবিশধাততঃ পরে খ্যা যাৎ-প্রত্যয়ে কৃতে আবিশেৎ ক্রিয়াপদং নিষ্পন্নম। অন্যানি সুগমানি। চেলং বাসঃ ইত্যর্থ। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—চিতা, চিতাকা, বধাপগু-বন্ধনকাষ্ঠ, চণ্ডালজাতি, ব্রাহ্মণ চিকিৎসক এই পঞ্চবিধ মধ্যে এক এক প্রকার দৃষ্টি করিলেই বস্ত্রাদি সহ তৎক্ষণাৎ স্নান করিয়া পবিত্র হইবে। বৈদ্যকুলােদ্ভূত চিকিৎসক বা অপর মূখ গণ, ব্রাহ্মণ চিকিৎসক পাইলে “চিতিঞ্চ চিতিকাষ্ঠঞ্চেতি” উক্তবচনাদিদ্বারা ব্রাহ্মণ চিকিৎসক মহাশয়কে অতিশয় অপ্রতিভ করিয়া লজ্জা ও তিরস্কারে অতি দুঃখিত করণানন্তর স্পর্ধা প্রকাশ করিয়া থাকেন, এবং বলেন যে, ব্রাহ্মণ চিকিৎসক হইলে পতিত হয়েন, তাহাদের মুখদর্শন করিতে নাই, দৈবাৎ মুখদর্শন হইলে তৎক্ষণাৎ সবস্ত্র স্নাত হইয়া পবিত্র হইতে হয় ।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। ইত্যাদি বচনদ্বারা তিরস্কার ও লজ্জা প্রদান করা, নিতান্ত প্রম, সম্পূর্ণ মুখ তা ও অসভ্যতা প্রকাশমাত্র ; যেহেতু ঐ বচনটী আয়ুৰ্বেদীয় প্রাচীন কোন গ্রন্থে, পুরাণে, স্মৃতি শাস্ত্রে বা বেদে নাই, এই বচনটা স্বার্থপর কোন নব্য বৈদ্য কর্তৃক রচিত, ইহাই স্থিরসিদ্ধান্ত জানিবেন। আয়ুৰ্বেদ যে বেদান্তৰ্গত, তাহাতে আপত্তি বা সন্দেহ কেহই করিবেন না, এক্ষণে বক্তব্য এই যে, বেদপাঠে ব্রাহ্মণের সম্পূর্ণ অধিকারসত্ত্বে, কি নিমিত্ত আয়ুৰ্বেদ পাঠ করিবেন না ? আয়ুৰ্ব্বেদপাঠী ব্রাহ্মণ হইলেই চিকিৎসা বিষয়ে বিশারদ, তাহাতে সন্দেহ কি? পরমদয়ালু-ব্রাহ্মণকুলে জন্ম লইয়া লােকের জীবন রক্ষার্থে কেনই-বা চিকিৎসা করিবেন না? ব্রাহ্মণ যে পরম দয়ালু এবং প্রধান দাতা তাহার উদাহরণ দধিচি মুনি ও কশ্যপঋষি ইত্যাদি শত শত প্রমাণ রহিয়াছে। দধিচি-মুনি জগন্মলের হিতার্থে নিজের দেহ দান বা ত্যাগ করিয়া কীৰ্ত্তি বক্ষা করিয়াছেন। কশ্যপ ও বিশ্বামিত্র ইত্যাদি সম্যক্ রাজ্য, দানে লাভ করিয়া অকাতরে ক্ষত্রগণকে প্রদানপূর্বক দাতৃত্বের পরাকাষ্ঠত্ব প্রকাশ করিয়া- ছেন। এমন দয়াবান্ ব্রাহ্মণ চিকিৎসক হইয়া বিপন্ন ও পীড়িত লােকের জীবন- রক্ষার্থে বা দানার্থে কেনই বা চিকিৎসা করিবেন না ? নিষেধের কারণভাব ; তবে অর্থগ্রহণ করিলে দোষাশিত হইতে হইবে, ইহা শাস্ত্র ও বিচার সঙ্গত সত্য ; কিন্তু পুটপাক বিষম জরান্তকলৌহ, সােমনাথরস ও বসন্তকুমাকর ইত্যাদি বহুমূল্যের ঔষধাদি প্রস্তুত জন্য ধনাদি গ্রহণ করিলেও কোন হানি বা ক্ষতি হইতে পারে না; ভিক্ষুক ও তাপস ব্রাহ্মণকুমার চিকিৎসক হইয়া চিকিৎসাকাৰ্য্যই করিবেন, ঔষধার্থে বিপুল অর্থের সাহায্য কিরূপে করিতে পারেন ? ঔষধ ব্যাের্থ ধনাদি গ্রহণ যুক্তি ও বিচার সঙ্গত হইতেছে। রহস্য বিষয় এই “চরকগ্রন্থ চরমুনি প্ৰণীত, সুশ্রুতগ্ৰন্থ সুশ্রুত মুনি প্রণীত” এইরূপে আয়ুৰ্বেদীয় বহুল প্রধান প্রধান গ্রন্থ ব্রাহ্মণ কর্তৃক প্রণয়ন বা সংগ্রহ হইয়াছে। সভ্যগণ বিচার করিয়া দেখুন, যে-ব্রাহ্মণগণ আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থ প্রস্তুত করিয়া দিবেন, কিন্তু সেই গ্রন্থ পাঠ বা গ্রন্থােল্লিখিত চিকিৎসাদি কোন কাৰ্য করিতে পারিবেন না, এই মন্ত্রণায় কপট বৈদ্যগণ ঐ “চিতি ইত্যাদি কাল্পনিক
৬
কবিতাকুসুমাঞ্জলি।
?
বচনাদি প্রস্তুত করিয়া ব্রাহ্মণজাতিকে চিকিৎসাদি কাৰ্য্য হইতে বিদূরীকৃত করেন,
ইহা রহস্যের বিষয় নয় কি
অপরন্তু—ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এই চতুর্বর্ণ আদিমজাতি, ইহার মধ্যে
বৈদ্যজাতির উল্লেখ কোন গ্রন্থে করেন নাই, যদি বৈদ্যজাতিকে বৈশ্য বলিয়া
উল্লেখ করা যায়, তাহাও ভ্রম; যেহেতু বৈজাতি পণ্যজীবী অর্থাৎ বণিকপদ
বাচ্যে গণ্য, ফলকথা এই চতুর্বর্ণাতিরিক্ত বৈদ্যজাতি হইতেছেন; সুতরাং শঙ্কর-
জাতির মধ্যে বৈদ্যজাতি পরিগণিত হইবেন না কেন ?
এক্ষণে প্রশ্ন এই যে—শঙ্করবৈদ্যজাতি উৎপন্ন হইবার পূর্বে কোন্ জাতিতে
চিকিৎসাকাৰ্য্য করিতেন? তৎকালে আয়ুৰ্বেদবিৎ ব্রাহ্মণগণেই চিকিৎসা
করিতেন কি না? তবে কেন ধৃষ্টতাপূৰ্ব্বক নানাবিধ গঠিত বচনাদি দ্বারা ব্রাহ্মণ
চিকিৎসককে ঘৃণা করেন ? তাহা সম্পূর্ণ ভ্রম ও অন্যায় বলিয়া ক্ষুদ্ৰবুদ্ধিদ্বারা
স্থির হইল।
ভৃগুপদচিহ্রধারী অতএব ব্রাহ্মণমৰ্য্যাদক এবং জগৎপালক ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
ব্রাহ্মণের দারিদ্র্য দুঃখে দুঃখিত হইয়া বৈকুণ্ঠধামে একদা শ্ৰীশ্ৰী ঈশ্বরী কমলা
সমীপে প্রশ্ন করিতেছেন যে, দেবি! কমলে! আমার পরম ভক্ত, উপাসক ও
তাপস ব্রাহ্মণগণের প্রতি আপনার দয়ার উদ্রেক হয় না কেন ? ইহারা অতি
নিঃস্ব, সেই হেতুক সর্বদা ভিক্ষায় জীবিকা নির্বাহ ও বহু দুঃখে কালাতিপাত
করেন , অতএব ব্রাহ্মণ প্রতি আপনি করুণা প্রকাশ করিয়া প্রীতি দান করুন ?
তৎপ্রশ্নে দেবী কহিতেছেন, “নাথ ! শায়তাং” অর্থাৎ হে ভগবন্ দয়া করিয়া
শ্রবণ করুন।
ব্রাহ্মণ লক্ষ্মীছাড়া হইবার কারণ ও প্রমাণ যথা-
পীতঃ ক্রোধেন তাঁতশ্চরণতল হতে বল্লভো যেন রােষা,
দাবাল্যবন্ধুবগৈর্নিজমুখবিবরে ধাৰ্যতে বৈরিণী মে।
মগেহং ছেদয়ন্তঃ প্রতিদিবসমূমাকান্ত-পূজানিমিত্তং,
তস্মাৎ খিন্না সদাহং দ্বিজকুলভবনং নাথ! নিত্যং ত্যজামি ॥৫॥
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। ৭ অশ্যাম্বয়াে যথা-হে নাথ ! হে দেব ! যস্মাৎ পুরাকালে তাতে মমপি ক্ষীরােদসমুদ্রঃ ক্রোধেন কোপযুক্তেন অগস্ত্যেন পীতঃ অর্থাৎ উদরসাৎকৃতঃ। তথা ব্রাহ্মণকুলােবেন ভৃগুণা রােষাৎ কোপা বল্লভং মম নাথং চরণতলহতঃ পদেন প্রহৃতঃ। আবাল্যাৎ বাল্য- কালাবধিং অধিকৃত্য বন্ধুবর্গৈঃ সুহৃগণৈঃ সহ ব্রাহ্মণগণেন মে মম বৈরিণী সপত্নী সরস্বতী দেবী স্বাধর-বিবরে স্বীয়মুখকুহরে ধাৰ্যতে উপাস্যতে। ব্রাহ্মণকুমারাঃ সর্বে প্রতিদিনং নিত্যং উমাকান্তপূজা- নিমিত্তং মহাদেবার্ডনার্থং মগেহং মদ্ভবনং অর্থাৎ পদ্মপুষ্পলয়ং ছেদয়ঃ ছেদনং কুন্তশ্চ সন্তি। তস্মাৎ সদা সর্ববস্মিন্ কালে খিন্নাহং দুঃখি- তাহং, এবং দুঃখেন দ্বিজকুলভবনং ব্রাহ্মণভবনং নিত্যং সততং ত্যজামি অর্থাৎ হে নাথ ! ইচ্ছয়া ব্রাহ্মণনিকেতনং ন গচ্ছামীতি শেষঃ। “গ্ধরাছন্দঃ”। ব্যাকরণং যথা-পীত ইতি পা-পানে; পা-ধাততঃ পরে কর্মণি বাচ্যে অতীতে চ ক্ত-প্রত্যয়ে কৃতে পীতঃ। ক্রোধেনেতি ত্রুধযৌ কোপে, ক্রুধ, ধাততঃ পরে পচাদিত্বাৎ করি অন্ প্রত্যয়ে কৃতে ক্রোধঃ তেন। চরণতলহত ইতি চরণতলেন পদতলেন হতঃ ইত্যত্র তৃতীয়াতৎপুরুষসমাসঃ। রােষাদিতি কৃষধাততঃ পরে অলিকৃতে রােষ তস্মাৎ। আবাল্যাফিতি আবালশব্দাৎ ফ্য প্রত্যয়েকৃতে আবাল্যং, তস্মাৎ। বন্ধুনাং বর্গঃ বন্ধুবর্গঃ ইত্যত্র ষষ্ঠীতৎপুরুষ-সমাসঃ। স্তৃতীয় সর্থে। স্বাধা-বিবরে স্বস্য অধরঃ স্বাধর, তস্য বিবরে স্বীয়মুখকুহরে। মে মম, বৈরং বিদ্যতে অস্যাঃ ইতি বাক্যে অস্ত্যর্থে ণিপ্রত্যয়ে বৈরিণী পরমশত্রুরূপা। ধাৰ্যতে ইতি ধৃঞ চ ধৃত্যাং ধৃ ধাততঃ পরে ৗেকৃতে ধারিধাতুনিষ্পন্ন। তস্মাৎ কৰ্ম্মণিবাচ্যে আত্মনে পদং, তস্মাৎ ক্যাস্তে-প্রত্যয়ে ধাৰ্যতে ইতি ক্রিয়াপদং ;
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। । নিষ্পন্ন। মম গেহং মগেহং ইত্যত্র ষষ্ঠী তৎপুরুষঃ। ছিদিঞধৌ ছেদে, তস্মাৎ স্বার্থে ঞেীকৃতে ছেদিধাতুনিষ্পন্নঃ। ততঃ শতৃকণা- নন্তরং জসি কৃতে সতি চ্ছেদয়ন্তো ব্রাহ্মণাঃ। খিঙধ্যে দৈন্যকে ইত্যৎ ক্ত-প্রত্যয়ে স্ত্রীলিঙ্গে আপ্ প্রত্যয়ে সতি খিন্না। ত্যজ ত্যাগে ক্যা মিপ প্রত্যয়ে ত্যজামি। অন্যানি পদানি সুগমানি। অস্য বঙ্গভাষা যথা—ভগবান্ বিষ্ণু ব্রাহ্মণগণকে লক্ষ্মীত্যাগী (লক্ষ্মীছাড়া) দেখিয়া দুঃখিত হৃদয়ে কমলা সমীপে প্রশ্ন করণানন্তর— তদুত্তরে লক্ষ্মী বলিতেছেন, হে কমলাপতে! পূর্বে ব্রাহ্মণকর্তৃক অর্থাৎ অগস্ত্যমুনি কর্তৃক আমার জন্মদাতা পিতৃদেব সমুদ্র পীত হইয়া শুষ্ক ও মরুভূমিবৎ হইয়াছিলেন, তজ্জন্য আমি ব্রাহ্মণকুলে সানুকুলা হইব কেন ? হে নাথ ! আপনি, আমার প্রাণবল্লভ হইয়া ক্রোধান্ধ ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ মহাত্মা ভৃগুকর্তৃক চরণতলহতপ্রযুক্ত দুঃখিত না হইবার কারণ কিছু আছে কি ? সে জন্যও সতত ব্রাহ্মণকুলে প্রতিকুলা হইতেছি। হে বল্লভ! বন্ধুবর্গের সহিত ব্রাহ্মণগণ আজীবন অর্থাৎ জন্ম হইতে মৃত্যুকালপৰ্যন্ত আমার পরম শত্রু সপত্নী সরস্বতীদেবীর উপাসনায় সতত রত থাকাজন্য আমার মর্মবেদনা হয় না কি ? সে কারণেও ব্রাহ্মণ কুলত্যাগিনী হইয়াছি। হে প্রাণকান্ত! ব্রাহ্মণগণ, শিবাৰ্চনাকরণােপলক্ষে মদীয়বাসস্থান পদ্ম-কানন সমূহ ছেদনে সুপণ্ডিত অর্থাৎ পদ্মবনভঙ্গেদক্ষ, বাসস্থান উচ্ছেদকারীর প্রতি কে কোথায় সুপ্রসন্ন থাকেন ? এ দুঃখেও ব্রাহ্মণালয়ে বাস করিতে ইচ্ছা করি না।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। টেড়িকাটা-ধনাঢ্যগণের উপাসনাসূত্রে রূপ-বর্ণনাচ্ছলে টেড়ির দুই ভাগস্থিত কেশসমূহকেই প্রধান অপযশােন্বয়কে গুণে পরিণত করিয়া কীৰ্ত্তন করিবার শ্লোক- ক অর্থাৎ-মহারাজ নলের টেড়িবর্ণনার শ্লোক নৈষধে- বিভজ্য মেরু ন যদর্থিসাৎকৃততা, ন সিন্ধুরুৎসর্গ-জলব্যয়ৈ মরু। অমানি তৎ তেন নিজাযােযুগং, দ্বি-ফালবদ্ধাশ্চকুরাঃ শিরঃ-স্থিত। ৬। অশ্যাম্বয়াে যথা—যৎ যস্মাৎ তেন নলেন মেরুঃ সুমেরুঃ অর্থাৎ সুমেরুপবতান্তৰ্গত-সুবর্ণরত্নাদিস্থিতস্থানং বিভজ্য ভগ্নং কৃত্বা ন অর্থিসাৎকৃতঃ ন যাচকসাৎকৃতঃ এবং উৎসর্গজল-ব্যয়েরুৎসর্গজলদানেন সিন্ধুঃ সাগরাে ন মরু অর্থাৎ ন মরুভূমিঃ কৃতা, তং তস্মাৎ ইতি নিজাযশোযুগং ইথং নিজস্তাপযশোদ্বয়ং শিরঃস্থিতং মস্তোপরিস্থিতং কৃত্বা, দ্বিফালবদ্ধাঃ সীতয়া দ্বিধাকৃশ্চিকুরা অমানি মতেস্ম । ব্যাকরণং যথা—বিভজ্যেতি বি-পূর্ববাৎ ভজধাতাে পরে জ্বাচস্থানে যপি কৃতে বিভজ্যেতি ভজঞে ভাগসেবয়াের। অর্থিসাৎ কৃত ইতি, অর্থৎকঞ যাচনে, তস্মাৎ ণিপ্রত্যয়ে কৃতে অর্থ, তস্মাৎ অধীনার্থে চসাৎ প্রত্যয়ে কৃতে অর্থিসাৎপদং নিষ্পন্নং, ততঃ কৃধাতাের প্রত্যয়ে কৃতে অর্থিসাৎকৃত মানীতি মন্তে ঙ চ মানে, তস্মাৎ কৰ্ম্মণিবাচ্যে অতীতে তনিকৃতে অমানি ক্রিয়াপদং নিষ্পন্ন। অন্যৎ সুগম। “বংশস্থবিলং ছন্দঃ”। অন্য বঙ্গভাষা যথা—স-সাগর-পৃথ্বীপতি মহারাজ নল, সুমেরুপৰ্বতান্তর্গত ধনস্থান ভগ্ন করিয়া যাচকগণের হস্তগত করিয়া দিতে পারেন নাই, আর ২ কবিতাকুসুমাঞ্জলি উৎসর্গ জলদানদ্বারা সাগরকে মরুভূমি করিতে পারেন নাই, এই দ্বিবিধ অপযশঃ স্বীকার করিয়া মন্তকোপরি শােভমান সীতা দ্বারা দ্বিধাকৃত কেশরূপে ধারণ করিয়াছেন। পাপ এবং অপযশঃ কীৰ্ত্তন করিতে হইলে কবিগণ কৃষ্ণবর্ণ বস্তুসহ তুলনা ও বর্ণনা করেন। সেই জন্য মহারাজ নলের ঘাের কৃষ্ণবর্ণ ও সীতাদ্বারা দুই অংশে বিভক্ত কেশকলাপকে ঐ দুই প্রকার অপযশঃ বলিয়া মস্তকোপরি ধারণ করিয়া- ছেন। “যে বস্তু নয়, বিশেষণাদি দ্বারা তাহা সেই বস্তু প্রমাণ করিলে রূপক কহে।” এই নিয়মাধীনে সীতাদ্বারা দ্বিধাকৃত কৃষ্ণবর্ণ কেশ-কলাপ অপযশঃ বলিয়া কীৰ্তিত হইল। কোন ধনাঢ্য লােকে টেড়ী কাটিলে তাহার প্রধান প্রধান অপযশকে টেড়ীর দুই অংশস্থ কেশকলাপ বলিয়া বর্ণনা করিতে পারেন। কতিপয় মূঢ়লােকে চক্ষুরিন্দ্রিয়দ্বারা প্রতিশরীরে দেবদেবী প্রত্যক্ষভাবে 'দৃষ্টিগােচর না হওয়া প্রযুক্ত দেবদেবী স্বীকার করিতে চাহেন না, তাঁহাদের হৃদ বােধার্থ “জ্ঞানসঙ্কলিনী তন্ত্রে ধৃতবচন প্রদর্শিতং।” যথা— কাষ্ঠমধ্যে যথ বহ্নিঃ, পুষ্পে গন্ধঃ পয়ােহমৃতম্। দেহমধ্যে তথা দেবঃ, পুণ্যপাপ-বিবর্জিতঃ ॥৭॥ অন্যান্বয়ে। যথা—কাষ্ঠমধ্যে দারুমধ্যে যথা যপেণ বহ্নিগিরস্তি, পুষ্পে গন্ধ, পয়সি দুগ্ধে অমৃতং অসাধারণ-সুস্বাদবিশিষ্টবস্তু বিদ্যতে, তপেণ দেহমধ্যে শরীরাভ্যন্তরে দেবাে দেবী চ অর্থাৎ শরীরনিষ্ঠ- দেবতা স্থিতা; কিন্তু স দেবঃ পুণ্যপাপ-বিজিত অর্থাৎ শরীর- নিষ্ঠদেবতা শরীরিকৃতকৰ্ম্মফলত্যাগী ভবতি। “অনুষ্টুপছন্দঃ”। ইহ জগতি য য বস্তু বিদ্যতে, তেষাং মধ্যে প্রত্যেকবস্তুনিষ্ঠক- বোেহস্তি দেবী চ বিদ্যতে।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি অস্ট বঙ্গভাষা যথা-কাষ্ঠ মধ্যে বছি, পুষ্পে গন্ধ, দুগ্ধে মধুরাদবিশিষ্ট বস্তু বিশেষ, ইহারা যেরূপে সৰ্ব্বদা বাস করেন, কিন্তু দৃষ্টিগােচর হয় না, সেইরূপ সকল প্রাণীতে এবং সকল জড় পদার্থে এক একটী দেব ও দেবী প্রচ্ছন্নভাবে বাস করেন, কিন্তু তাহারা শরীরিকৃত কম্মফল জন্য পাপপুণ্য-বিবর্জিত হইয়া থাকেন। পণ্ডিতগণের সহিত যােগিগণের প্রভেদ বর্ণনা হইতেছে। মন্থিত্বা চতুরে বেদান, সৰ্ব্বশাস্ত্রাণি চৈব হি । সারস্তু যােগিনা পীতঃ, তক্রং পিবন্তি পণ্ডিতাঃ ॥৮॥ আনসঙ্কলিনীতন্ত্রে ধৃতবচনমিতি। “অনুষ্ট,পছন্দঃ”। অস্যাম্বয়াে যথা--চতুরে বেদান্ চতুর্বিবধা বেদান্ সর্বশাস্ত্রাণি চ সম্যক ধর্মশাস্ত্রাণি চ মন্থিত্ব আলােডঃ সারঃ সারাংশে। যােগিনা তত্ত্বজ্ঞানিনা পীতঃ পানং কৃতং। পণ্ডিতাঃ সর্বে তক্রং পিবন্তি অর্থাৎ অসারবস্তুপানং কুন্তীত্যর্থঃ ; কেবলং আড়ম্বরং কৃত্বা বৃথা বিচারং কুন্তীত্যৰ্থঃ পণ্ডিত ইতি শেষ। ব্যাকরণাদিকং সুগমং। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—শাম, যজুঃ, অথৰ্ব্ব ও ঋক এই চারি প্রকার বেদ আর অন্যান্য শাস্ত্রসমূহ আলােচনা করিয়া তত্ত্বজ্ঞানি-গণ সারাংশ অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞান মাত্র গ্রহণ করিয়া অসারাংশ বর্জন করিয়া থাকেন; কিন্তু পণ্ডিতগণ ঐ চতুর্বেদ ও অন্যান্য শাস্ত্র সকল সমালােচন করিয়া তক্র (ঘােল) অর্থাৎ অসারাংশ লইয়া তর্ক ও বিতর্কে বৃথা কালক্ষেপণ করেন। তথাচ জ্ঞানসঙ্কলিনীতন্ত্রে—“অনুষ্টুপছন্দঃ”। বেদশাস্ত্রপুরাণানি, সামান্য-গণিকা ইব। যা পুনঃ শাম্ভবী বিদ্যা, গুপ্তাকুলবধূরিব। ৯। অস্যাম্বয়াে যথা-বেদ শাস্ত্ৰ-পুরাণানি সম্যশাস্ত্রাণি সামান্য- ;
১২ কবিতাকুসুমাঞ্জলি। গণিকা ইব অর্থাৎ সাধারণকুলটা ইব। পুনঃ কিন্তু যা শান্তৰীবিদ্যা তন্ত্রবিদ্যা বিদ্যতে, সাপি কুলবধূরিব গুপ্তা প্রচ্ছন্ন ভবতি। ব্যাকরণাদিকং সুগমং। অস্য বঙ্গভাষা যথা-বেদ, ধৰ্ম্মশাস্ত্র ও পুরাণাদি শাস্ত্র সামান্য বেশ্যা তুল্য অর্থাৎ বেশ্যা সমীপে যেমন সাধারণেই গমনাগমন করিয়া সুখসম্ভোগ করেন’ সেইরূপ বেদশাস্ত্র পুরাণাদি পাঠে ইতরভদ্র সাধারণেই মুক্তিজনক জ্ঞানলাভ করিতে পারেন। কিন্তু তন্ত্রোক্ত শাম্ভবীবিদ্যা অর্থাৎ তন্ত্রোক্ত সিদ্ধ হইবার বিদ্যা কুলবধুর ন্যায় প্রচ্ছন্নভাবে তন্ত্রে অবস্থিতি করেন। সাধক হইয়া সদ্গুরু লাভ করিতে পারিলে সিদ্ধপুরুষ পৰ্যন্তও হইতে পারেন। জ্ঞানশঙ্কলিনীতন্ত্রোক্ত এই বচনত্রয় সারগর্ভ বলিয়া উদ্ধত ও ব্যাখাত হইল। ব্রাহ্মণ পদরেণু গ্রহণ মন্ত্র এবং সেই পদরেণু সম্বন্ধীয় গুণবর্ণনা। বিপঘন-ধ্বান্ত-সহস্র-ভানবঃ, সমীহিতার্থার্পণ-কামধেনবঃ। অপার সংসার সমুদ্র-সেতবঃ, পুনন্তু মাং ব্রাহ্মণ-পাদ-রেণবঃ ॥ ১০। অশ্যাম্বয়াে যথা--বিপদ ঘনধ্বস্ত-সহস্রভাবঃ বিপদরূপ-নিবিড়া- ন্ধকারে সহস্র-সূৰ্য্যস্বরূপা,সমীহিতার্থার্পণ-কামধেনবঃ সমীহিতার্থার্পণে বাতিবস্তুপ্রদানে, কামধেনবঃ কামধেনুস্বরূপা, অপার-সংসার সমুদ্র- সেতবঃ অপারে সংসাররূপসমুদ্রে সেতবঃ পারাপার-যােগ্যাল-বাল- স্বরূপা,এবষ্কৃত ব্রাহ্মণপদ-রেণঃ ব্রাহ্মণচরণধূলয়ঃ“কৃপয়া”“পাপিনং” মাং পুনস্তু পবিত্রং কুন্তু ইত্যম্বয়ঃ শেষ। “বংশস্থলিং ছন্দঃ”।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। । ভক্তিপূর্বকং—বিপনেতি মন্ত্রং পঠিত্বা ব্রাহ্মণচরণধূলিধারণে বাঞ্ছিত-ফললাভঃ সঙ্গতঃ, কিন্তু ভক্তি বিনা ন সঙ্গতঃ। ব্যাকরণং যথা-ঘনঞ্চতৎ ধ্বান্তঞ্চেতি ঘনধান্তং গাঢ়ান্ধকার ইত্যর্থ। বিপচ্চাসৌ ঘনধ্বান্তঞ্চেতি বিপঘনধ্বান্তং বিপরূপ-গাঢ়ান্ধকার, তস্মিন্ সহস্রভাবঃ সহস্র-সংখ্যক-সূৰ্য্যস্বরূপা ইত্যর্থ। সহস্রাণি চ যে ভানবশ্চেতি বাক্যে সহস্রভানব ইতি শেষঃ। সমীহিতামিতি ঈঙ চেষ্টে, সংপূর্ববকাৎ তস্মাৎ অতীতে প্রত্যয়ে সতি সমীহিত, সমীহিতশ্চাসৌ অর্থশ্চেতি সমীহিতার্থঃ তস্য অর্পণে দানে কামধেনবঃ। বাঞ্ছিত-পদার্থ-প্রদায়িন্যে। গাভীবিশেষা ইতি । অপার-সংসার-সমুদ্র- সেতব ইতি সংসারশ্চাসৌ সমুদ্ৰশ্চেতি ব্যাসবাক্যে সংসার-সমুদ্রঃ ; তততা নাস্তি পায়রা যস্য স এব অপার, অপারশ্চাসে সংসারসমুদ্র- শ্চেতি অপার-সংসারসমুদ্রঃ, তৎ সেতবঃ অর্থাৎ পারযােগ্যসেতু স্বরূপাঃ পদিয়াে রেণবঃ পাদরেণবঃ ব্রাহ্মণস্য পাদরেণবঃ ব্রাহ্মণপদ- রেণবঃ অর্থাৎ ব্রাহ্মণচরণধূলয়ঃ ইতি শেষঃ। পুনন্তু ইতি, পূঞগি- শশাধে, তস্মাৎ গ্যা অন্তু-প্রত্যয়ে কৃতে পুন ক্রিয়াপদং নিষ্পন্ন মিতি। পরিত্রাণং কুন্তু ইতি কথয়িত্বা ব্ৰহ্মণপদধূলি-গ্রহণং কৰ্তব্য- মিতি শেষঃ। অস্ত বঙ্গভাষা যথাবিপদ-স্বরূপ নিবিড়ান্ধকারে সহস্র ভাস্কর-সদৃশ, চেষ্টিত অর্থাৎ অন্বেষিত বস্তু প্ৰদানার্থে কামধেনু সমান, অপার-সংসার-সাগর-পারার্থে সেতু- তুল্য, এবম্ভত ব্রাহ্মণপাদরেণু! আমাকে পূত (পবিত্র) করুন, “এই বলিয়া ব্রাহ্মণ পদরেণু গ্রহণ করিতে হয়।” ব্রাহ্মণভক্তের ইহা নিতান্ত জ্ঞাতব্য।
১৪ কবিতাকুসুমাঞ্জলি। যাত্রা বিষয়ে জ্ঞাতব্য। পঞ্জিকানুসারে শুভ দিন প্রাপ্তি হইলে, বা না হইলে, যে কোন সময়ে যাত্রা হইবে , নিম্নলিখিত তন্ত্রোক্ত বচনানুসারে যাত্রা করিলে অবশ্য সুফল হইবে, যেহেতু বচনানুসারে ক্রিয়াপূর্বক যাত্রা করিলে পাৰ্বতী সহ শঙ্কর যাত্রাকারীর অনুগামী হইয়া অভীষ্ট ফলদান করিয়া থাকেন। তন্ত্রোকবচনং যথা- বিল্বপত্রং সমাঘ্রায়, পথি গচ্ছন্তি যে নরাঃ। তেষাং সহায়ো ভগবান, পার্বত্যা সহ শঙ্করঃ। ১১। অশ্যাম্বয়াে যথা—“যাত্রাসময়ে” যে নরা যে মানবাঃ, বিল্বপত্র শ্রীফলপত্রং সমাঘ্রায় ঘ্রাণং গৃহীত্বা পথি অধুনি গচ্ছন্তি যান্তি। তেষাং নৱাণাং পার্বত্যা সহ ভগবান্ শঙ্করঃ সহায়য় “ভূত্বাভীষ্টফলদাতা ভবতি” ইতি তন্ত্রোক্তবিধানা স্থানান্তর-গমনকালে ভগৰত্যা সহ মহেশং মঙ্গলময়ং শিবং ভক্তিপূর্বকং বিচিন্ত্য বিল্বপত্রঘ্রাণং নীহ্বাচ যাত্রাবিধেয়া, ইতি ব্যবস্থা। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—দেশান্তরে যাত্রাকালে যে ব্যক্তি ভক্তিপূৰ্ব্বক শিবদুর্গা নাম জপ ও কীৰ্ত্তন করিয়া বিপত্রের ঘ্রাণ লইতে লইতে যাত্রা করিবেন, পার্বতী সহ মঙ্গলময় শিব সেই যাত্রাকারীর পশ্চাদগামী হইয়া শুভফলদাতা হয়েন। “তন্ত্রোক্ত এই বিধানে যাত্রা করিলে কদাপি বিফল মনােরথ হইবেন না।” পিতৃ আজ্ঞা-পালনকারী, রাজ্যচ্যুত রাম, তদনুগামিনী সীতা এবং প্রাণাধিক ভ্রাতা লক্ষ্মণ সহ বনগামী হইলে সহধৰ্ম্মিণী সীতা দুরাত্মা রাবণ কর্তৃক হৃতা হইলে তদুপলক্ষে রক্ষঃকুলধ্বংসাৰ্থ রাবণাদি সহ শ্রীরামচন্দ্রের বহুবিধ মহা- সমর হইয়াছিল , তন্মধ্যে ইন্দ্রজিত বধান্তে রাম সহ রাবণের যে মহাসমর হয় সেই মহাসমর-কালে রাবণের প্রিয়পুত্রহস্তা লক্ষ্মণকে অমােঘ, শক্তিশেলা দ্বারা কবিতাকুসুমাঞ্জলি। মহাবীর রাবণ ধরাশায়ী করিয়াছিলেন পশ্চাৎ অত্যল্প সময়েই রাম কর্তৃক রাবণ পরাস্ত ও নিরাকৃত হইলেন। তদনন্তর ধুদ্ধক্লান্ত, ধনুর্ধারী মহাবীর রাম,ধরাশায়ী মৃতবৎ ভ্রাতা লক্ষ্মণকে ক্রোড়ে ধারণ এবং মুখচুম্বন-পূৰ্ব্বক সুমধুর প্রিয়বাক্যে বারম্বার সম্ভাষণ করিতে লাগিলেন , কিন্তু তাহাতে কোন উত্তর না পাইয়া আত্মগ্লানি সহ রাম বিলাপ করিতেছেন। তদ যথা- সৌজন্যং বনবাসতঃ সুবিদিতং বুদ্ধিঃ সুবর্ণনতঃ, গাম্ভীৰ্যং জনকাত্মজাবিরহিতং শৌৰ্য্যং বধাৎ বালিনঃ । জীবাম্যেব চ কেবলং ত্বিদমহো! তে লক্ষণস্নেহত, রুষ্টং হি ন ভাষসে বিধিরহাে জানামি বামােহভবৎ ॥১২। “ইতি শক্তিশেলকালে রামেণণাক্তং উনবিংশত্যক্ষরাবৃত্তি- মধ্যে শার্দ লবিক্ৰীড়িতচ্ছন্দ। অস্যাম্বয়াে যথা—অহহ! খেদে রামেণোক্তং ইদং কিং !!! হে লক্ষণ ! কেবলং তে তব স্নেহতঃ প্রেমবশতঃ জীবাম্যেব জীবিতােহস্মি। “অদ্য ত্বং রুষ্টঃ, হি যস্মাৎ ন ভাষসে? তস্মাৎ অহহ! দুঃখেণােক্তং বিধিঃ সৃষ্টিকর্তা বামে বিমুখােহভবৎ, ইত্যহং জানামীতি শেষ। “তি শেষােক্তচরণদ্বয়স্যাম্বয়শেষঃ”। “ততে রামেণাত্মগ্লানিরুক্তা চ”। সৌজন্যং সুজনতা বনবাসতঃ রাজ্যত্যাগ-পূৰ্বক-রনগুমনা সুবিদিত বিখ্যাতং, এতেন কাপুরুষস্ত পরিচয় বিদিত; সুবর্ণনতঃ, সুবর্ণ- বর্ণেরঞ্জিত-মায়ামৃগানুগমনাৎ বুদ্ধিঃ সুবিদিতা, মম বুদ্ধিবিহ জগতি সুবিদিতা এতেন মম বুদ্ধিনাস্তীতি পরিচীয়তে। গাম্ভীৰ্যং মম গভীরতা জনকাত্মজাবিরহিতং সীতাবিয়ােগেন সুবিদিতং, এতেন মম ২ v কবিতাকুসুমাঞ্জলি। ধীরতা নাস্তীতি পরিচীয়তে। বালিনাে বৎ “গুপ্তভাবেন” বালিবধা শৌৰ্য্যং বীরত্বং সুবিদিতং বিখ্যাতং অতএব মম জীবনং ধিক্। ব্যাকরণং যথা—সৌজন্যমিতি সুজন ভাব ইতি বাক্যে ভাবার্থে প্রত্যয়ে সৌজন্যমিতি। বনে বাসঃ বনবাসঃ, তস্মাৎ ইতি বাক্যে সিস্থানে তসিকৃতে বনবাসতঃ বনগমনাদিত্যৰ্থঃ। সু-পূর্বাৎ বিদল জ্ঞানে, তস্মাৎ প্রত্যয়ে সুবিদিতং বিখ্যাতং। বুধ্যৌ বেদনে, তস্মাৎ ভাববাচ্যে ক্তিপ্রত্যয়ে বুদ্ধিজ্ঞানং। সুবর্ণস্য স্বর্ণস্য এনাে হরিণঃ, সুবর্ণনঃ তস্মাৎ ইতি বাক্যে সিস্থানে তসিকৃতে সুবর্ণৈনতঃ সুবৰ্ণবৎ রঞ্জিতমায়ামৃগানুগমনাদিত্যর্থ। গম্ভীরস্য ভাব ইতি বাক্যে গম্ভীরশব্দাৎ ভাবার্থে প্রত্যয়ে গাম্ভীৰ্যং গভীরতেতি শেষ । আত্মনাে জায়তে যা ইতি বাক্যে জনীম্যঙ নৌ, তস্মাৎ করি ড- প্রত্যয়ঃ স্যাৎ, ততঃ স্ত্রীলিঙ্গে অপ্রত্যয়ে সতি আত্মজা কন্তেতি খ্যাত। জনক আত্মজা ইতি বাক্যে জনকাত্মজা জনক-রাজদুহিতা ইতি যাবৎ। শূরস্ত ভাব ইতি বাক্যে শূরশব্দাৎ ভাবে - প্রত্যয়ে শৌৰ্যং বীরত্বং। বধাৎ অবৈধহননাৎ, বালো বিদ্যতে অস্য ইতি বাক্যে অস্ত্যর্থে ইপ্রত্যয়ে বালী বিখ্যাত-বানরাধিপতি, তস্যেতি বাক্যে বালিনঃ। জীবামীতি জীবধাততঃ পরে ক্যা মিপ্রত্যয়ে জীবমি। কেবলং অন্যেষাং ব্যবচ্ছেদকং, তু ইত্যবয়ং, ইদমিতি ক্লীবলিঙ্গে ইদশব্দাৎ প্রথমৈকবচনং। অহহ ইতি আশ্চৰ্য্য-সূচকাব্যয়ং। তে ইতি যুগ্ম-শব্দস্য ষষ্ঠ্যেকবচনং। লক্ষণ ইতি সম্বােধনং। স্নেহত ইতি স্নেহ-শব্দাৎ ঙসিস্থানে তস্কৃতে স্নেহতঃ ইতি সিদ্ধং। রুষ রােষে, তস্মাৎ করি প্রত্যয়ে কষ্ট ইতি নিষ্পন্নং। যুগ্মশস্য প্রথমৈকবচনে ত্বমিতি জ্ঞেয়ং। হি ইত্যবয়ং। নঞ ইতি নিষেধবাচী অব্যয়ং। ভাষসে ইতি ভাষঙ ভাবে, কবিতাকুসুমাঞ্জলি। ১৭ তস্মাৎ ক্যাঃ সেপ্রত্যয়ে ভাষসে ক্রিয়া নিষ্পন্ন। বিজ্ঞেয়। জানামীতি জ্ঞাগ বােধনে, তস্মাৎ ক্যা মিপ প্রত্যয়ে কৃতে জানামি ক্রিয়ানিষ্পন্ন। বিধিব্রহ্মা ইতি প্ৰথমৈক-বচনং। অভবদিতি ভূ-ধাততঃ ঘ্যা দিপ,- বিভক্তো সত্যাং অভবৎ ক্রিয়া সিদ্ধা। অন্য বঙ্গভাষা যথা—যুদ্ধাবসানে মহাবীর ধনুর্ধারী রাম রাবণশক্তিশেলে নিপতিত লক্ষ্মণকে প্রিয়-সম্ভাষণ বাক্যে বারম্বার আহ্বান করিতে লাগিলেন, তাহাতে কোন উত্তর না পাইয়া বিলাপ পূৰ্ব্বক রাম বলিতেছেন যে-ভ্রাতর্লক্ষ্মণ । তুমিও রুষ্ট হইয়া কথা বলিতেছ না কেন ? ইহা দ্বারা বুঝিলাম আমা প্রতি বিধি বাম হইয়াছেন , দেখ ভাই ! তােমার স্নেহ বশতঃই এত দিন জীবিত ছিলাম, এক্ষণে মম জীবনে ধিক্ ; যেহেতু আমাতে কোন গুণ ও বীরত্ব না থাকায় ক্রমে তােমরা সকলেই আমাকে ঘৃণাপূৰ্ব্বক ত্যাগ করিতেছ? কেনই বা ত্যাগ করিবে না? যেহেতু স্ত্রীবাক্যে যখন বনবাসী হইয়াছি, তখন আমি বীরত্ব বিহীন, সুবর্ণ বর্ণে রঞ্জিত মায়ামৃগের অনুগামী হইয়া সীতা হারাইয়াছি, ইহাতে বুদ্ধিবিহীন জানিয়াছ, সীতাবিরহে অধৈৰ্য্য হইয়া লতা-গুল্মবৃক্ষাদিকেও সীতার পরিচয় বারম্বার জিজ্ঞাসা করায়, আমাকে অস্থির (চঞ্চল) বলিয়াও জানি- মাছ ; প্রচ্ছন্নভাবে থাকিয়া নিরপরাধী বনপশু বানর বালীকে বিনাশ করার জন্য বীরত্বের পরিচয় কত দূব, তাহাও জানিয়াছ, অতএব আমাকে সৰ্ব্বগুণবর্জিত বলিয়া কি ত্যাগ করিলে ? ? প্রশংসীয়ান্যেতনি। নিন্মােক্ত কয়েক বিষয়কে প্রশংসা করিতে হয়। জীর্ণমন্নং প্রশংসীয়াৎ ভাৰ্যাঞ্চ গতযৌবনাই । রণাৎ প্রত্যাগতং শূরং শস্যঞ্চ গৃহমাগতং । ১৩। অশ্যাম্বয়ে। যথা-যঃ স্যদিতি চ পদদ্বয়ং অধ্যাহাৰ্যং, যে জন জীর্ণ জঠরাগিনা পরিপাচিতং অং ভক্ষ্যদ্রব্যং ইয়াৎ প্রাপ্তয়াৎ, সঃ
তথা
কবিতাকুসুমাঞ্জলি।
প্রশংসী স্যাৎ। তথা গতযৌবনাং বৃদ্ধাং ভাৰ্যাং ইয়াৎ স প্রশংসী
স্যাৎ ইতি পূর্বেণাম্বয়ঃ। তথা যাে রণাৎ যুদ্ধাৎ প্রত্যাগতং বিপক্ষ
বিজিত্য প্রতিনিবৃত্তং শূরং যােদ্ধারং ইয়াৎ স প্রশংসী স্যাৎ।
যাে গৃহং নিজভবনমাগতং প্রাপ্তং শস্যং ধান্যাকিং ইয়াৎ প্রাপুয়াৎ
স প্রশংসী স্যাদিতি পূৰ্ব্ববৎ পূর্বেণাম্বয়ঃ।
ব্যাকরণং যথা-জীর্ণমিতি জ্বধাতাের প্রত্যয়ে রূপং, প্রশংসীতি
প্রশংসা অস্যাস্তীতি অস্ত্যর্থে ইনপ্রত্যয়ে প্রথমৈকবচনে নিষ্পন্ন।
ভাৰ্য্যামিতি ভূ-ধাতােঃ কৰ্ম্মণি ক্যপি স্ত্রিয়ামাপ্রত্যয়ে চ সিদ্ধং গত
যৌবনামিতি গতং যৌবনং যস্যাঃ তামিতি বহুব্রীহিঃ।
সুগমানি ।
বঙ্গভাষা যথা—যে সকল ভােজ ভােজন করিয়া বিনা কষ্টে পরিপাক করিতে
পারা যায়, তাহা প্রশংসনীয় ; যাহা ভােজন করিয়া পীড়ামূলক হয়, তাহা গ্লানি-
কর। যৌবনগতা ভাৰ্য্যা প্রশংসনীয়া, যৌবনাবস্থান্বিত কদাপি প্রশংসার যােগ্য
হইতে পারে না। রণজয়ী প্রত্যাগত যােদ্ধা বীর প্রশংসা পাত্র, গৃহস্থিত বীর
অর্থাৎ যে বীর কদাপি যুদ্ধে গমন করেন নাই, সেই বীর যােদ্ধা হইলেও কদাপি
প্রশংসনীয় হইতে পারে না। গৃহাগত শস্য প্রশংসনীয়, প্রান্তরস্থ শস্যের কদাপি
প্রশংসা হইতে পারে না; এই ইহার তাৎপৰ্য্য।
অন্যানি
ধনেন সর্বজ্ঞঃ।
ধন থাকিলে সকল বিষয় আয়ত্ত হয়।
যখাস্তি বিত্তং স নরঃ কুলীন,
স এব বক্তা স চ দর্শনীয়ঃ ।
স পণ্ডিতঃ স শ্রুতবান্ গুণজ্ঞঃ,
সৰ্বে গুণাঃ কাঞ্চনমাশ্রয়ন্তি। ১৪।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। অস্যাম্বয়াে যথা-যস্য নরস্য বিত্তং ধনমন্তি বৰ্ত্ততে স নরাে মনুষঃ কুলীনঃ সৎকুলসম্ভব ভবতি। স এব ধনবানে বক্তা বাগ্মী ভবতি । স চ নর দর্শনীয় রমণীয়ে ভবতি। স নরঃ শ্ৰতৰা বেদজ্ঞঃ বা শাস্ত্রজ্ঞঃ গুণজ্ঞশ্চ লােকানাং গুণবিচ্চ ভবতি। অতঃ সর্বে গুণাঃ কৌলিন্যাদয়ঃ কাঞ্চনং অর্থাৎ স্বর্ণাদি-ধনং আশ্রয়ন্তি ভজন্তে। ব্যাকরণং যথা-বিত্তমিতি বিধাততঃ ক্ত প্রত্যয়ে নিষ্পম্নং। বক্তেতি বধাততঃ ক্ত-প্রত্যয়ে নিষ্পন্নং। দর্শনীয় ইতি দৃধাততাঃ অনীয় প্রত্যয়ে সিদ্ধঃ। বানিতি শ্রুতং বেদাদিশাস্ত্রং অস্যাস্তীতি অস্ত্যর্থে বতু-প্রত্যয়ে সিদ্ধং, গুণজ্ঞ ইতি গুণং জানাতীতি গুণশব্দোপ- পদাৎ জ্ঞাধাতােঃ ডপ্রত্যয়ে সিদ্ধঃ । অন্যৎ সুগমম্। অষ্য বঙ্গভাষা যথা—ধনীর পুত্র হইয়া নিস্কুল হইলেও প্রধান কুলীন, ধনী হইয়া কর্কশভাষী হইলেও সুবক্তা, ধনী বা ধনাঢ্য-পুত্র হইয়া যদি অতি কুৎসিতও হয়, তথাপি তাহাকে লােকে সুশ্ৰী বলিয়া বৰ্ণন করেন। ধনী বা ধনাঢ্যের পুত্র হইয়া যদি মহান্ মূখ হয়, তাহা হইলেও তাহাকে লােকে পণ্ডিত, বেদজ্ঞ ও গুণজ্ঞ বলিয়া ব্যখ্যা করেন ; অতএব ধন থাকিলেই দুষ্প্রাপ্য বস্তুও সুখসাধ্য হয়। এই ইহার মর্মার্থ । পয়ঃপানং ভুজঙ্গানাং কেবলং বিষবর্ধনং। উপদেশশা হি মূখাণাং প্রকোপায় ন শান্তয়ে। ১৫। অস্যাম্বয়াে যথা—ভুজঙ্গানাং সর্পাণাং পয়ঃপানং দুগ্ধপানং কেবলং একমাত্রং বিষবর্ধনং গরবৃদ্ধিকরং ভবতীতি শেষঃ, হি তথাহি মুখানাং মূঢ়ানাং শাস্ত্রজ্ঞান-বিরহিতানাং উপদেশঃ উপদেশবাক্যং প্রকোপায় প্রকৃষ্টরূপেণ ক্রোধবৃদ্ধিকারণং ভবতীতিশেষঃ, ন তু শান্তয়ে শান্ত্যৎ- পত্তিকারণং ন ভবতীতি শেষ ।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। ব্যাকরণং যথা-পয়সঃ পানং ষষ্ঠীতৎপুরুষঃ, ভুজঙ্গানাং কৃদ্যোগে কৰ্ত্তরি ষষ্ঠ্যা বহুবচনং। বিষবর্ধনং বিষস্য বর্ধন ষষ্ঠীতৎপুরুষঃ । প্রকোপায়, শান্তয়ে ইত্যনয়াের পদয়ােঃ তাদর্ঘ্যে চতুর্থ্যেকবচন অন্যৎ সুগমং। অস্য বঙ্গভাষা যথা-কালকূটধারী ভুজঙ্গবৰ্গকে দুগ্ধপান করাইলে কেব বিষােৎপন্ন হইয়া থাকে। সেই প্রকার মূখগণকে উপদেশ প্রদান করিলে কোপের হেতু হইয়া ভীষণ অনিষ্টজনক ব্যাপার উৎপন্ন করে। নিরক্ষরা বীক্ষ্য ধনাদিনাথ, বিদ্যা ন হেয়া খলু পণ্ডিতানাং। আবদ্ধমুক্তাং গণিকাং বিলােক, কুলস্ত্রিয়ঃ কিং কুলটা ভবন্তি । ১৬। “ইত্যুপজাতিচ্ছন্দঃ।” অস্যাম্বয়ে। যথা—নিরক্ষরা বর্ণজ্ঞান-রহিতা মূঢ়ানিতি যাবৎ, ধনাদিনাথান্ বিশােন্ বিপুলৈশ্বৰ্য্যশালিননা বীক্ষ্য নিরীক্ষা পণ্ডিতানাং বিদুষাং বিদ্য। শাস্ত্রজ্ঞানং ন হেয়া, খলু নিশ্চিতং বিদ্যা প্রতি অনাদাে ন কৰ্ত্তব্য এব ; তথাহি-কুলস্ত্রিয়ঃ সৎকুল-কামিন্যঃ গণিকাং আবদ্ধমুক্তাং অবগুণ্ঠন-রহিতাং বিলােক্য দৃষ্ট। কুলটা গণিকা ভবন্তি কিং নৈবেত্যর্থ। ব্যাকরণং যথা—নি ন সন্তি অক্ষরাণি যেষাং তান বহুব্রীহিঃ, ধনং আদি যেষাং তানি ধনাদীনি বহুব্রীহি, তেষাং নাথাঃ তান্ ষষ্ঠীতৎ পুরুষঃ। পণ্ডিতানামিতি পণ্ডা সদসদ্বিবেচিকা বুদ্ধিঃ সংজাতা অস্য ইতি বাক্যে সংজাতার্থে ইত-প্রত্যয়ে কৃতে কৃদযােগে ষষ্ঠ্যা বহুবচনে কবিতাকুসুমাঞ্জলি। রূপং, আবদ্ধমুক্তামিতি আবদ্ধং কেশকলাপাচ্ছাদনং মুক্তং উমােচিতং যস্যা স্তামিতি বহুব্রীহি সমাসঃ। অপরং সুবোধ। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—মূখগণকে ধনাঢ্য দেখিয়া পণ্ডিতগণ কদাপি বিদ্যাকে হেয়জ্ঞান করেন না; সেই মত বেশ্যাগণকে অবগুণ্ঠন রহিতা দেখিয়া কুলস্ত্রী সকল অবগুণ্ঠনরহিতা হইবেন কি ? পাণৌ গৃহীতাপি পুরস্কৃতাপি, স্নেহেন শশ্বৎ পরিবর্ধিতাপি। পরস্য ভােগায় ভবত্যবশ্যম, বৃদ্ধস্য ভাৰ্য্যা করদীপিকেব। ১৭। “ইতীন্দ্ৰবাচ্ছন্দঃ।” অস্যাম্বয়ে যথা—বৃদ্ধস্য পরিণত বয়স্কস্য জনস্য তরুণীভাৰ্য্যা নবীনা পত্নী করদীপিকা ইব অর্থাৎ হস্তস্থিত প্রদীপ ইব পাণৌ হস্তে গৃহীতপি পরিণীতাপি কৃতবিবাহ সতী সুরক্ষিতাপি, দীপপক্ষে ধৃতাপি তথা পুরস্কৃপি সম্মানিতাপি, দীপপক্ষে তত্র অগ্ৰতঃ স্থিতাপি তথা মেহেন আদনাতিশয়েন, দীপপক্ষে তৈলাদিনা শশ্বৎ পুনঃ পুনঃ পরিবর্ধিতাপি বৃদ্ধিং প্রাপিপি অবশংনিশ্চিতম পরস্য অন্তস্য ভােগায় উপভােগায় ভবতি। যথা অন্যন্য জনস্য হস্তস্থিত। দীপিকা অগ্রত স্থিতাপি তৈলাদিনা পুনঃ পুনর্বৰ্ধিতাপি তদগ্রগামিনাং জনানামেব মার্গ প্রকাশ- কারিণী ভবতি ; ন তু যস্য করগতা তস্য, তথা বৃদ্ধস্য বনিতা তেন সম্মানিত আদরেণ পুনঃ পুনৰবৰ্ধিতাপি বৃদ্ধং পতিং প্রতাৰ্য্য অপরস্য সুখমুৎপাদয়তীত্যর্থ। ব্যাকরণং , যথা—গােয়েত্যত্র তাদর্থে চতুর্থী। ;
কবিতাকুসুমাঞ্জলি। দীপিকা করস্থিতা দীপিকা করদীপিকা মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাসঃ। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—বৃদ্ধগণের তরুণী ভাৰ্য্যা, করস্থিত দীপিকা সদৃশ অর্থাৎ হস্তস্থিত প্রদীপ-ধারী সদৃশ হইতেছেন ; যেহেতু প্রজ্জ্বলিত-দীপ-ধারণকর্তা দীপা- লোক দ্বারা সাধারণকে মার্গ প্রদর্শন করাইয়া সুখে সর্গে লইয়া যান, কিন্তু স্বয়ং দীপধাতা কিছুই দৃষ্টিগােচর করিতে পারেন নাই, কেবল পরের পথ প্রদর্শক হইয়া থাকেন ; সেই মত বৃদ্ধগণের তরুণী ভাৰ্যাও পরের সুখদায়িনী হইয়া যৌবন অতিবাহিত করিয়া থাকেন। যদি বৃদ্ধ-পতি যুবতী-রমণীর হাতে ধরিয়া সম্মুখে রক্ষা করেন এবং সতত মেহে প্রতিপালন করেন, তাহা হইলেও পরের উপভােগের নিমিত্ত হইয়া থাকেন। ফলকথা অতি প্রবীণাবস্থায় কেহ বিবাহ করিবেন না, শেষাবস্থায় বিবাহ করিলে পত্নীটী প্রায় পরের ভােগার্থেই হইয়া থাকে। থল-সাপাের্ভেদঃ। কপট ও সাধুগণের প্রভেদ। বিদ্যাবিবাদায় ধনং মাদায়, শক্তিঃ পরেষাং পরিপীড়নায়। খলস্য সাধধাৰ্বিপরীতমেতৎ, জ্ঞানায় দানায় তথাহবনায় । ১৮ অস্যাম্বয়াে যথা—খলস্য দুষ্টজনস্য বিদ্যা শাস্ত্রজ্ঞানং বিবাদায় বিরােধ মাত্ৰস্য নিমিত্তং, তথা ধনং বিত্তং মদায় মত্ততায়ৈ, তথা তস্য শক্তি সামর্থং' পরেষাং অন্যেষাং পরিপীড়নায় দুঃখদান মাত্রস্য নিমিত্তং। সাবধাঃ সজ্জনস্য এতদ্বিপরীতম্ তথাহি সাধুপক্ষে বিদ্যা জ্ঞানায় সদসদ্বিবেকস্য কারণং, তথা ধনং দানায় দানমাত্রস্য নিমিত্তং । তথা শক্তিঃ অবনায় অন্বেষাং পরিরক্ষণায় ভবতীতি শেষ।
কবিতাকুসুমাঞ্জলি
ব্যাকরণং যথা-বিবাদায়েত্যাদৌ সর্বত্র তাদর্থে চতুর্থ অধ্যানি
সুগমানি।
অন্য বঙ্গভাষা যথা—কপটগণ বিদ্বান্ হইলে বিবাদে দৃঢ়-নিপুণ হয়েন, খলগণ
ধনাঢ্য হইলে গর্বিত হইয়া লােকের সর্বনাশ করেন ; কপটগণ শক্তিসম্পন্ন হইলে
পরপীড়ক হইয়া থাকেন।
সাধুগণ ইহার সম্যক্ বিপরীত অর্থাৎ সাধুর বিদ্যা হইলে জ্ঞানবান্ হইয়া
থাকেন; সাধুগণ ধনাঢ্য হইলে দাতা হইয়া নিঃস্ব ও ক্ষুধার্তগণকে রক্ষা করেন,
সাধুগণের শক্তি হইলে সাধারণহীনগণকে রক্ষা করেন।
থল আর সাধুর এই তারতম্য জানিবেন।
দাতুঃ প্রতিষেধক।
দাতার প্রতিষেধক।
ন হি ছায়াদানৈঃ পথিক-জন-সন্তাপহরণং,
ফলৈবা পুর্বৈা ন সুর-মনুজ-প্রীণন-বিধিঃ।
তবাস্তাং মন্দার-দ্রুমসহজমপ্যেতদুচিং,
বৃতীভূতাে রক্ষস্থপর মপরেষাং ফলমপি। ১৯
“ইতি শিখরিণীচ্ছন্দঃ।”
অস্যাম্বয়াে যথা-হে! মন্দারম! মন্দারনামক-বৃক্ষ! ত্বয়া
ছায়াদানৈ রনাতপস্থানাৰ্পণৈঃ হি নিশ্চিতং পথিকজন-সন্তাপ-হরণং
পথিক-নানাং সূৰ্যাতপনিবারণং ন স্যাৎ তথা তব ফলৈঃ পুস্পৈর্ধা
কুসুমৈৰা সুর-মমুজ-প্রীণন-বিধিঃ দেব-মানব-সন্তোষবিধানং নস্যাৎ।
অতঃ সহজমপি, প্রাকৃতমপি এতদুচিতং আস্তাম তিতু। অপর
২৪ কবিতাকুসুমাঞ্জলি। অন্যৎ কিল্বিত্যর্থ ত্বং বৃতীভূতঃ সন্ আবরক-রূপেণাত্মানং স্থাপয় অপরেষাং অন্যেয়াং বৃক্ষাণাং ফলমপি প্রসবমপি রক্ষসি প্রতিপালয়সি কণ্টকাকীর্ণত্বাৎ তববরণং ভিত্ত্বা অপর-বৃক্ষফলমপি লােকো গ্রহীতু ন শক্লোতীত্যর্থ। ব্যাকরণং যথা—ছায়াদানৈরিতি ছায়ায়াঃ দনানি ছায়াদানানি ষষ্ঠীতৎপুরুষ সমাসঃ। তৈঃ করণে তৃতীয়া। সুর-মনুজ-প্রীণন-বিধিঃ সুরাশ্চ মনুজাশ্চ সুরমমুজাঃ দ্বন্দ্বসমাসঃ অর্চিতত্বাদল্পস্বরত্বাচ্চ সুর- শব্দস্য পূর্বনিপাতঃ তেষাং প্রীণনং ষষ্ঠীতৎপুরুষঃ, স এব বিধিঃ কর্মধারয়সমাসঃ। বৃতীভূতঃ অবৃতিৰ্বতির্ভূতঃ বৃতীভূতঃ বৃতিশব্দাচ্ছি প্রত্যয়ে কৃতে দীর্ঘত্বং। অপরং সুবােধ। অশ্য বঙ্গভাষা—হে মন্দার-নাম-ধেয়-বৃক্ষবিশেষ ! তােমার স্নিগ্ধচ্ছায়া দ্বারা পথিক জনসন্তাপ হরণ হয় না, এবং তােনার ফল বা পুষ্প দ্বারাতেও দেব ও মনুষ্যগণের কস্মিন্ কালেও প্রীতি হয় না, সহজ-লব্ধ এই ফল সর্বজনবিদিত রহিয়াছে। অধিকন্তু অপরবৃক্ষের ফল ভােজনের প্রতিবন্ধক স্বরূপ (বেড়া ) হওয়া উচিত হয় না। ফল কথা তােমার নিজের ফল বা পুষ্প কাহাকেও সম্ভোগ করিতে দাও না ; অন্যের ফলভােগ আশা করিলে তাহাতে বঞ্চিত করা ধৰ্ম্ম বা যুক্তিসঙ্গত হয় কি ? দাতা দান করিতে প্রস্তুত আছেন, কিন্তু চাটুকর প্রতিবন্ধক হইয়া, দান বা সাহায্য- কারীকে সাহায্য বা দান করিতে দেয় না, সেই স্থানে এই শ্লোক বক্তব্য জানিবেন। ১। চাটুকর শব্দে খােসমুদে মম-সাহেব নামক জন্তু বিশেষ। ২। মন্দারম শব্দে কণ্টকাকীর্ণ পালিত মাদার গাছ জানিবেন কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। লক্ষমীমতো জনস্য দোষােহপি সদগুণে ভবতি। শ্ৰীশালী মনুষ্যের দোষ থাকিলেও সদ্গুণে পরিণত হইয়া থাকে। তৎপ্রমাণং যথা- আলস্যং স্থিরতামুপৈতি ভজতে চাঞ্চল্য মুদ্যােগিতা, মূকত্বং মৃদুভাষিতাং বিতনুতে বাচালতা বক্তৃতাং। কাৰ্যাকাৰ্য-বিচারযােগ-বিরহাে গচ্ছত্যুদারীকৃতং, মাত লক্ষি ! তবৈব দৃষ্টিবশতাে দোষা হি বৈ সদ্গুণাঃ ॥২০। অস্যাম্বয়াে যথা—হে মাত লক্ষি ! তবৈব দৃষ্টিবশতঃ কেবলং তব দর্শনাদেব (লােকানাঃ) আলস্যং অলসতা স্থিরতাং, কার্যে স্থৈর্যং উপৈতি প্রাপ্নোতি (তথা ) চাঞ্চল্যং চঞ্চলতা উদ্যােগিতাং উদ্যোগশালিত্বং ভজতে প্রাপ্নোতি (তথা) মূকত্বং নির্বাক্ত্বং মৃদুভাষিতাং মৃদুকথনশীলতাং বিতনুতে বিস্তারয়তি (তথা ) বাচালতা বহুভাষিতা বক্তৃতাং বাগ্মিত্বং বিতনুতে ইতি পূর্বেণাম্বয়ঃ (তথা) কাৰ্যাহকাৰ্য্য বিচার-যােগবিরহঃ কাৰ্য্যাইকাৰ্য-বিবেক-যােগশূন্যতা উদা- রীকৃতং ঔদার্য-কারণং গচ্ছতি ভজতে (অতো লােকানাং } দোষাঃ সর্বেব সবদোষ-কারণানি চ সদ্গুণাঃ এবং উত্তম-গুণকারণানি চ ভবন্তি ॥২০ ব্যাকরণং যথা—-আলস্যমিতি অলস-শব্দাৎ ভাবেহভিধেয়ে ফ্য প্রত্যয়ঃ, ততঃ প্রথমায়া একবচনে সিদ্ধং। স্থিরতামিতি স্থাধাতাে কিরচি, প্রত্যয়ে কৃতে স্থির ইতি সিদ্ধং ; তস্মাৎ ভাবে ত-প্রত্যয়ে স্থিরতা, ততঃ কৰ্ম্মণি দ্বিতীয়ায় একবচনে নিষ্পন্নং। চাঞ্চল্যং চঞ্চলশব্দাৎ ্য প্রত্যয়ে কৃতে প্রথমিক বচনে রূপং। মৃদুভাষিতাং মৃদুভাষিতুং শীলমস্যেতি বাক্যে মৃদূপ-পদা ভাষ-ধাততঃ গিপ্রত্যয়ে ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। কৃতে মৃদুভাষীতি সিদ্ধং, ততাে মৃদুভাষিনাে ভাব ইতি বাক্যে ভাবে- ভিধেয়ে ত-প্রত্যয়ে কৃতে কর্মণি দ্বিতীয়ৈক-বচনং। উদ্যোগিতামিতি উদ্যােগোস্যাস্তীতি বাক্যে উদ্যােগশব্দাদিনিপ্রত্যয়ে উদ্যােগিন ইতি স্থিতে পুনস্তস্য ভাব ইতি বাক্যে ত-প্রত্যয়ে সতি স্ত্রিয়াং অ- প্রত্যয়ে সতি কৰ্ম্মণি দ্বিতীয়ৈক-বচনে রূপং। কাৰ্যকাৰ্য্য-বিবেক- যোগবিরহঃন কাৰ্যং অকাৰ্যং, কাৰ্যঞ্চ অকাৰ্যঞ্চ কাৰ্যাকাৰ্য্যে দ্বন্দ্ব- সমাসঃ তয়ােবিবেকঃ ষষ্ঠী-তৎপুরুষঃ, তস্য যােগঃ, তস্য বিরহঃ ষষ্ঠী- তৎপুরুষ সমাস। উদারীকৃতমিতি অনুদারং উদারং কৃতং উদারী- কৃতং উদারশব্দাৎ দ্বি-প্রত্যয়ে-সিদ্ধং। অভূত-তাবে দ্বি-প্রত্যয়ে কৃতে উদারী, ততঃ কৃতাের্ভাবে ক্ত প্রত্যয়ে কৃতে সিদ্ধং উদারীকৃতমিতি। দৃষ্টিবশতঃ দৃষ্টেশঃ দৃষ্টিশঃ ষষ্ঠীতৎপুরুষঃ, তস্মাৎ পঞ্চমী স্থানে ত প্রত্যয়ে সিদ্ধং। অন্য সবং সুগম। ২০। অন্য বঙ্গভাষা-কমলাদেবীর অনুগৃহীত মনুষ্যগণের দোষসমূহ গুণ বলিয়া লােকে কীৰ্ত্তন করেন, উদাহরণ যথা-ধনাঢ্যলােকের অলসতা থাকিলে তাহাকে স্থিরতা বলিয়া লােকে বর্ণনা করেন। ধনী হইয়া চঞ্চল হইলে কৰ্ম্মে উদ্যােগিতা বলিয়া প্রকাশ করেন। ধনাঢ্য লােক বিদ্যা বুদ্ধি বিহীন হইয়া বাক্য প্রয়ােগে অপটু জন্য মূক (বাে-বা) হইয়া থাকিলে লােকে মৃদুভাষী বলিয়া পরিচিত করেন। ধনী লােকের বাচালতা দোষ থাকিলে বক্তা বলিয়া পরিচিত হয়েন। ধনাঢ্য-গণ সদস-বিচারে অপটু হইলে লােকে উদার প্রকৃতি বলিয়া প্রশংসা করেন। অতএব মাতঃ কমলে আপনার কৃপাদৃষ্টি-ই সদ্গুণের আকরস্থল। ২০।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
२१
নীচকুলােদ্ভব উপকৃত হইলে উপকার মনে রাখে না।
উদাহরণ যথা-
অণ্ডকোষাৎ বিনিঃসাৰ্য্য,
যুকান্ খাদতি যঃ পশু।
তন্তু সহায়ং কুব্বীত,
সীতােদ্ধরণ-তৎপরঃ ॥২১।“অনুষ্ঠুছন্দঃ”।
অন্বয়ঃ--হে প্রভাে! সীতোরণ-তৎপরং জানক্য। উদ্ধরণে
অপহরকাৎ আনয়নে কৃতসঙ্কল্পং, যঃ পশুবানরঃ অণ্ডকোষাৎ
যুকান্ বিনিঃসাৰ্য্য বহিস্কৃত্য খাদতি ভক্ষয়তি তং সহায়ং কুব্বীত
বিদধীত। ২১।
ব্যাকরণ—অণ্ডকোষৎ অণ্ড এব কোষঃ কর্মধারয়-সমাসঃ,
তস্মাৎ অপাদানে পঞ্চমী। বিনিঃসাৰ্য ইতি বি-নিরপূর্বকাৎ সৃ-ধাতাে
ঞি-প্রত্যয়ে সতি যপি চ কৃতে সিদ্ধং। সীতােদ্ধরণ-তৎপর ইতি
তদেব পরং প্রধানং যস্য স তৎপরঃ, সীতায়া উদ্ধরণম্ ষষ্ঠীতৎপুরুষঃ
সমাসঃ তস্মিন্ তৎপরঃ সপ্তমীতৎপুরুষ সমাসঃ। অন্যৎসুবােধ।২১
অস্য বঙ্গভাষা-সীতাহারা রাম বনে বনে পর্যটন করিতে করিতে সুগ্রীব সহ
মিতালী হইয়া ছিল, সুগ্রীবের নিকট বাণী কর্তৃক বিড়ম্বনাদি দুঃখ কাহিনী শুত
হইয়া অগ্নিসাক্ষী করিয়া প্রতিজ্ঞা পূৰ্ব্বক রাম কহিলেন, মিত্র ! আমি আপনার
পরম শত্রু মহাবীর বালি বধ করিয়া আপনাকে রাজ্যদানে কৃতসংকল্প হইলাম
এবং তৎকালে সুগ্রীব বানর-ও অগ্নিসাক্ষী করিয়া প্রতিজ্ঞা করিলেন—মিত্র রাম !
আমি রাজ্যে অভিষিক্ত হইয়া ই সীতা অন্বেষণ করতঃ উদ্ধার করিয়া দিব ;
উভয়েই প্রতিজ্ঞা পাশে আবদ্ধ হইলেন।
প্রথমেই রামচন্দ্র নিরপরাধী দুজেয় বালি-বিনাশ করিয়া সুগ্রীবকে রাজ।
করিয়া ছিলেন, তৎপরে সীতান্বেষণ বিষয়ে সুগ্রীব কহিলেন; উপস্থিত সময়ে
!
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ; বর্ষা বলবতী ; অতএব বর্ষাবসানে শরদাগমে-ই সীতান্বেষণে ভূরি ভূরি দূত প্রেরণ করিব -এই যুক্তি স্থির করিয়া বনচারী রাম বনে রহিলেন, এবং সুগ্রীবকে কিষ্কিন্ধ্যা নগরী গমন করিতে অনুমতি করিলেন; তথাস্তু বলিয়া সুগ্রীব স্বরাজ্যে গমন পূৰ্ব্বক রাজ্যসুখে ও তারা সম্ভোগে উন্মত্ত হইয়া কিষ্কিন্ধ্যা নগরে পরম সুখে বাস করিতে লাগিলেন। বর্ষান্তে শরদানেও কামাসক্ত এবং মধুপানে উন্মত্ত সুগ্রীবের সীতাম্বেষণ বিষয় স্মৃতিপথে পতিত হইল না।- তৎপরে রামচন্দ্র যথা- কালে নিত্ৰ সুগ্রীবের কোন বার্ত! অপ্রাপ্তি জন্য লক্ষ্মণকে কিষ্কিন্ধ্যায় গমনানুমতি করিলে,--লক্ষ্মণ বানর-রাজধানী কিষ্কিন্ধ্যা নগরীতে গমন করিয়া রাজভবনের সিংহদ্বারে বনচারী লক্ষ্মণ উপস্থিত হইয়া কোন দৌবারিক দ্বারা বানর-রাজ- সুগ্রীবের নিকট সংবাদ করিলেন যে, রাজা মহাশয়কে বলুন, “দ্বারদেশের বহির্ভাগে রামানুজ লহ্মণ উপস্থিত হইয়া দণ্ডায়মান রহিয়াছেন ;- এই কথা শুনিয়া মধুপানাসক্ত সুগ্রীব কহিলেন, কে লক্ষ্মণ ? কোথা হইতে আসিয়াছে ? রাম-ই বা কে ? প্রত্যাগত দূত আসিয়া লক্ষ্মণকে সেইরূপ কথা কহিলে, তৎকালে ভীষণভাবে রুষ্ট হইয়া লক্ষ্মণ কহিলেন যে, “বালি হন্তা রাম, তাহার অনুজ লক্ষণ দেও- ধারণ পূর্বক দ্বারে দণ্ডায়মান আছেন, তৎসহ সাক্ষাৎ করিবেন কি ?-না,- সমনভবন-বাসি নার্গীসহ সাক্ষাৎ করিবেন ?” ইত্যাদি বাক্য দূত মুখে শ্রবণ করিয়া তৎক্ষণাৎ ভীত ও তটস্থ হইয়া সস্ত্রীক সুগীব দ্বাবোপস্থিত বনচারী লক্ষণের পদানত হইলেন এবং কহিলেন—ই ব্যাবসান হইয়াছে সত্য, আর দশাহ কাল অপেক্ষা করুন, তৎপরেই সীতান্বেষণে দশদিকেই দূত প্রেরণ করিব ইত্যাদি সম্ভাষণে ও বহুবিধ স্তুতিবাক্যে লক্ষণকে সন্তুষ্ট করিয়া বিদায় করিলেন। প্রত্যাগত লক্ষ্মণ রামসমীপে উপস্থিত হইয়া বলিতেছেন—যথা— হে সীতােদ্ধরণ তৎপর প্রভু রামচন্দ্র ! যে পশু অণ্ডকোষ হইতে শূরু ( উকুন । বাছিয়া খায়, এমন নীচাশয় বানর-জন্তু অবলম্বনে সীতা উদ্ধারণ বিষয়ে যত্নবান হওয়া উচিত হয় নাই—ইত্যাদিরূপে লক্ষ্মণ কর্তৃক রাম তিরস্কৃত হইয়াছিলেন। অতএব নীচের উপকার করিলে তাহাদের মনে থাকে না, এই ইহার তাৎপৰ্য।১১ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ২৯. রূপকাদি রসে যথা- অপ্রকৃতকে প্রকৃতভাবে বর্ণনা করার নাম রূপক কহে। এখানে মলয় বযুকে নায়ক, চুত-লতিকাকে নায়িকা করিয়া কবি, বর্ণনা করিতেছেন-- ইহা সভামধ্যে রসিকতাপূর্ণ আদিরস বর্ণনার শ্লোক যথা— ইয়ং সন্ধ্যা দূরাদাগতে হন্ত মলয়াদিদানীং, ত্বগেহে যদি বদসি নেষ্যামি রজনিং। সমীরণেনৈবংপ্ৰােক্তা নব নব চূত-লতিকা, ধুনানা মুৰ্ধানং নহি নহি নহীত্যেবং কুরুতে। ২২। অম্বয়ঃ-ইয়ং সন্ধ্যা রজনীমুখং সমায়াতা ইতি শেষঃ, অতাে হে চুতলতিকে! দূর দূরদেশান্মলয়াৎ মলয়নামধেয়পর্বতাদিদানী- মাগতােহহং, যদি বদসি কথযুসি, তদা ত্বগেহে তবালয়ে রজনিং রাত্রিং নেষ্যামি অতিবায়িষ্যামি, সমীরণেন বায়ুনা অনেন প্রকারেণ এবং প্ৰােক্তা অভিহিতা নব নব চূত-লতিকা নবীন চুতলতা মূৰ্ধানং মস্তকং ধুনানা কম্পমান সতী নহি নহি নহি ন স্থাতুং শক্লোসি ; ন স্থাতুং শকোসীতি এবং প্রকারং কুরুতে বিদধাতি ইত্যৰ্থঃ । ২২। ব্যাকরণং-মলয়াদিতি অপাদানে পঞ্চম্যৈকবচনে সিদ্ধং। ইদানীমিতি ইদম শব্দদদানীম্ প্রত্যয়ে নিপাত। ত্বদেহে ষষ্ঠীত পুরুষঃ, তবগেহং ত্বদেগহং তস্মিন্ অধিকরণে সপ্তম্যৈকবচনে সিদ্ধং। প্ৰােক্তা ইতি প্ৰ-পূৰ্বকাচ-ধাতোঃ কৰ্ম্মণি ক্ত-প্রত্যয়ে প্রিয় মাতৃ- প্রত্যয়ে চ সিদ্ধং। নব নব ইতি অতিশয়ে দ্বিরুক্তি, চুতস্য লতিকা ইতি ষষ্ঠীতৎপুরুষঃ, নব-নব। চাসৌ চুতলতিকাচেতি কর্মধারয়ঃ-সমাস। ধুনান। ইতি ধূঞধাতোঃ ঞানুবন্ধত্বাৎ শানপ্রত্যয়ে সাধু, নহি নহি নহীতি বীয়াং দ্বিরুক্তি; অন্যৎ সুবােধ। ২২।
কবিত-কুসুমাঞ্জলি। বঙ্গভাষা যথা --নায়করূপী মলয়বায়ু, বসন্ত প্রারম্ভে একদা সন্ধ্যা সময়ে নবচুত লতিকারূপিণী-নায়িকা-সমীপে অর্থাৎ নবপ্রস্ফুটিত আম্রমুকুল-সন্নিধানে ধীরে ধীরে গমন করিয়া মৃদুভাবে সবিনয়ে খেদ পূৰ্ব্বক বলিতেছেন, প্রিয়ে চূত-লতিকে বহু- দূরহমলয় গিরি হইতে আগমন করিতে করিতে আপনার আলয় সন্নিধানেই সন্ধ্যা উপস্থিত ; অতএব অন্যত্র যাইতে অশক্ত, হে নবীনে আপনার গৃহে বাস করিতে যদি অনুমতি করেন, তাহা হইলে অদ্যকার রজনি আপনার গৃহে বাস করতঃ বিশ্রাম করি ;-নায়ক-মলয়-বায়ু—এই প্রস্তাব করিলে,-নায়িকা-চুত লতিকা ধীরে ধীরে বারম্বার মস্তক সঞ্চালন করিতে করিতে অর্থাৎ মৃদু বায়ু দ্বারা কম্পিত মস্তকে বলিতেছেন, তাহা হবে না—হবে না-হবে না; যেহেতু আমি একাকিনী নবীনা:স্ত্রী বাস করিতেছি, এ বিধায়ে পরপুরুষ গৃহে কিরূপে রক্ষা করিব ? ॥২২। জীবঃ স্বকৰ্ম্মফলভােগী জীবমাত্রই নিজ কৰ্ম্মফল জন্য সুখ ও দুঃখ ভােগ করেন, উদাহরণং যথা- কিংবা স্বয়ম্ভুঃ শিব-শক্তি-বিষ্ণু, কপাল-দুঃখং ন করােতি দূরং। অতঃপররা জীবঃ স্বকৰ্ম্ম-ভােগী, কপালং কপালং কপালমূলং। ২৩। অন্বয়ঃস্বয়ম্ভুব্রহ্মা কিংবা শিব-শক্তি-বিষ্ণুঃ শিবে! হরঃ, শক্তি প্রকৃতিঃ, বিষ্ণুনারায়ণঃ, কপালদুঃখং ললাটস্থিতং ক্লেশং দূরং ন কররাতি নিবারয়িং ন শক্লোতি; অতঃ এতস্মাৎ ললাটস্থিত-দুঃখাৎ পরাে জীবঃ প্রাণী স্বকৰ্ম্ম ভোগী নিজকৰ্ম্ম জনিত ফলভোগবান্ ভবতি ইতি শেষ।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
৩১
অতঃ কপালং ললাটং-কপালং ললাটং-কপাল-মূলং-কপালস্থিত
সুখ দুঃখস্য চ কারণ। ২৩।
ব্যাকরণ—স্বয়ম্ভুরিতি স্বয়ং ভবতীতি স্বয়শব্দোপপদাৎ ভূ-
ধাততঃকিপি সিং। শিব-শক্তি-বিষ্ণুরিতি শিবশ্চ শক্তিশ্চ শিব-শক্তী
দ্বন্দ্ব-সমাসঃ, তাভ্যাং সহিতে বিষ্ণু, শিব-শক্তি-বিষ্ণুঃ মধ্যপদলােপী
কৰ্ম্মধারয় সমাস। কপালদুঃখং কপালস্য দুঃখং ষষ্ঠীতৎপুরুষ
সমাসঃ। স্ব-কৰ্ম্মভােগী স্বস্ত কৰ্ম্ম স্বকৰ্ম্ম ষষ্ঠী-তৎপুরুষঃ, তস্যভােগী
ৎ পুরুষঃ। কপালস্য মূলং ষষ্ঠী-তৎপুরুষঃ। ২৩।
অস্ত বঙ্গভাষা——যথা—জীবমাত্র নিজ নিজ কৰ্ম্মফলে সুখ ও দুঃখ ভােগ
করিতে থাকেন ; ব্রহ্মা, শিব, শক্তি ও বিষ্ণু-ইহাদের মধ্যে কেহ-ই কৰ্ম্ম ফল
খণ্ডন করিয়া সুখ ও দুঃখ দান করিতে পারেন না; সুখ ও দুঃখ ভােগের প্রতি
কপাল (অদৃষ্ট-ই) মূল কারণ জানিবেন ;—এই ইহার তাৎপৰ্য্য।
পরের সুখ দেখিয়া হিংসা করা ও কষ্ট দেখিয়া আনন্দ করা ধীমানের উচিত
হয় না। ২৩।
ভাগ্যং সর্বত্র প্রধান।
ভাগ্যই সকল স্থানে প্রবল।
ভাগ্যং ফলতি সৰ্বত্ৰ,
ন বিদ্যা নচ পৌরুষং ।
সমুদ্রমন্থনে লেভে,
হরিলক্ষীং হয়রা বিষং । ২৪। “অনুষ্টুপ-ছন্দঃ ॥
অন্বয়ঃ—সর্বত্র সর্বস্মিন্ স্থানে, ভাগ্যং ভাগধেয়ং নিয়তিরিতি
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। যাবৎ, ফলতি ফলদায়কং ভবতি, বিদ্যা শাস্ত্রাদি জ্ঞানং ন ফলতি, পৌরুষং পুরুষকার ন ফলতি ইতি শেষ, সমুদ্রমন্থনে দুগ্ধোদধি- বিলােড়নে সতি হরি লক্ষীং লভে প্রাপ, হরঃ শিবঃ বিষং কালকূটং লেভে ইতি পূর্বেণাম্বয়ঃ ॥ ২৪। ব্যাকরণং—ভাগ্যমিতি ভাগশব্দাৎ স্বার্থে ফ্য প্রত্যয়ে প্রথমিক বচনে চ সিদ্ধং, সমুদ্র মন্থনং ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসঃ ভাবে সপ্তমী। অষ্যৎ সুগমম্।। ২৪। অস্য বঙ্গভাষা যথা-ভাগ্য সকল স্থানেই প্রধান, ভাগ্যবল যােগ থাকিলে বিদ্যা বা পুরুষের কৃতিত্ব আবশ্যক হয় না।---উদাহরণ যথা—সমুদ্রমন্থনকালে বৈকুণ্ঠবাসী ভগবান বিষ্ণুর ভাগ্যে কমলা (লক্ষ্মী} লাভ হইল, ভাং-ধূস্তুর-প্রিয় জঙ্গলবাসী ও শ্মশানবাসী হর সম্বন্ধে হলাহল (বিষ) লাভ হইয়াছিল। অদৃষ্ট বিচারে দেবদেবীগণের যখন কাৰ্য্য ও লাভালাভ হয়, তখন মনুষ্য সম্বন্ধে কেন না, ভাগ্য বুঝিয়া লাভালাভ ইত্যাদি কাৰ্য্য হইবে ?। ২৪ | “অর্থেন সৰ্বে বশাঃ” অর্থশূন্য ব্যক্তির সকলেই অবাধ্য। উদাহরণং যথা- মাতা নিন্দতি নাভি-নতি পিতা ভ্রাতা ন সম্ভাষতে, ভৃত্যঃ কুপতি নানুগচ্ছতি সুতঃ কান্তাচ নালিঙ্গতে। অর্থ-প্রার্থন-শঙ্কয়া ন কুরুতেইপ্যালাপমাত্রং সুহৃৎ, তস্মাদর্থমুনাজ্জিতং করু সখে ! হর্থেন সৰ্বে বশাঃ ॥২৫। ইতি শাৰ্দল-বিক্রীড়িত-ছন্দ। অন্যান্বয়ে। যথা—মাতা জননী নিতি-বৃথা তিরস্কয়ােতি দরিদ্র মিতি শেষঃ, পিতা জনকঃ নাভিনন্দতি—নাদ্রিয়তে, ভ্রাতা সহােদরঃ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি ন সম্ভাষতে নীলপতি, ভূতো দাসঃ কুপতি প্রভুং দরিদ্র বিলােক্য ক্রোধং কুরুতে, সুতনয়ঃ নানুগচ্ছতি গচ্ছততা দরিদ্রস্য পিতুঃ পশ্চাৎ নযাতি, কান্ত। পত্নী চ নালিঙ্গতে সাদরং নাশ্লিষতি, সুহৃৎ মিত্রং অর্থপ্রার্থন শঙ্কয়া ধনযাচন-ভয়েন আলাপমাত্রং সম্ভাষণমপি ন কুরুতে ন বিদধাতি--হে সখে! হে ৰন্ধো! তস্মাৎ কারণ অর্থং ধনং উপার্জিতং সঞ্চিতং কুরু। বিধেহি হি যতঃ অর্থেন ধনেন সর্বেব সকল লােকাঃ বশঃ বশীভূতাঃ ভবন্তীতি শেষঃ ॥ ২৫। ব্যাকরণং-অভিনন্দতীতি অভিপূর্বাৎ নদ-ধাতে ক্যাস্তি প্রত্যয়ে নিষ্পন্নং। অর্থপ্রার্থন-শঙ্কয়া অর্থস্য প্রার্থনং অর্থ-প্রার্থনং ষষ্ঠী-তৎপুরুষঃ, তস্মাৎ শঙ্কা (ভয়ং) ইত্যত্র পঞ্চমী-তৎপুব ষঃ। সুহৃ- দিতি সুশােভনং হৃদয়ং যিেত বাক্যে নিপাতঃ। বশ ইতি ব- ধাতোঃ করি অ-প্রত্যয়ে গমায়া বহুবচনে রূপং ; অন্যানি সুগমানি। ২৫। অস্য বঙ্গভাষা—অর্থশূন্য পুরুষ হইলে মাতাও ঘৃণা করেন, অর্থাৎ কথায় কথায় তিরস্কার করিয়া থাকেন, পিতা অর্থশূন্য পুত্রকে দৃষ্টি করিয়া আনন্দ প্রকাশ করেন না, ভ্রাতৃগণ অনুপযুক্ত অর্থশূন্য ভ্রাতাকে সম্ভাষণ করেন না, দাস-দাসীগণ রিক্ত হস্ত প্রভুকে ভয় ও মান্য করে না, কোন কার্য্যের আদেশ করিলে কাৰ্য্য না করিয়া বরং ক্রোধ প্রকাশ করিয়া থাকে, পুত্র ও ধনশূন্য পিতার অবাধ্য হইয়া কাৰ্যকরেন, কান্তা প্রিয়তমা পত্নী ধনবিহীন স্বামীকে আলিঙ্গন করেন না, অর্থশূন্য পুরুষকে ধন-যা। ভয়ে আত্মীয়গণ অলিপি মাত্রও করেন না; অতএব সুন্ধৰ্গণ কেহ রিক্তহস্তে সংসারে বাস করিবেন না। “এই ইহার তাৎপর্য্য জানিবেন।” ২৫ : কবিতা কুসুমাঞ্জলি। ; চতুর্বিধং কুৎসিত-ফলং। কুদেশ, মাসাদ্য কুততা হৰ্থ-সঞ্চয়, কুশিষ্য মধ্যাপয়তঃ কুততা যশঃ। কু-পুত্র মুৎপাদ্য কুততা জলাঞ্জলিঃ, কু-গেহেনীং প্রাপ্য কুতঃ সুখং গৃহে ॥ ২৬। অন্যান্বয়ে। যথা—কুদেশং কুৎসিত-স্থানং অসিদ্য প্রাপ্য অধ্য ইত্যর্থঃকুতঃ কস্মাৎ কারণা অর্থসঞ্চয়ঃ ধনাগমঃ স্যাদিতি শেষ, নৈবেত্যর্থঃ ; কুশিং কুৎসিতচ্ছত্রং অধ্যাপয়তঃ পাঠয়তঃ অধ্যাপক খেতি-শেষঃ, কুততা যশঃ কীৰ্ত্তি ভবতীতি শেষঃ, নৈব কু-পুত্রং কুৎসিত কৰ্ম্মকারিণং তনয়ং উৎপাদ্য জনয়িত্ব কুততা জলাঞ্জলিঃ নিপাঞ্জলিঃ তর্পণমিতি যাবৎ নৈব। কু-গেমিং কুৎসিত-কৰ্ম্ম-কারিণীং পত্নীং প্রাপ্য লব্ধ। কুতঃ সুখং আনন্দো ৩৭ ৩ৗতি শেষঃ ন স্যাদিত্যৰ্থঃ ॥২৬৷৷ ব্যাকরণং-যথা-কুদেশং কুৎসিতে দেশঃ কুদেশঃ নিত্য-সমাসঃ, তং কৰ্ম্মণি দ্বিতায়ৈকবচনং, অর্থসঞ্চয় ইতি অর্থানাং সঞ্চয়ঃ ষষ্ঠী তৎপুরুষঃ, কুশিং কু-পুত্রং কু-গেহিনীং এতেঘপি পূর্ববন্নিত্য- সমাসঃ জলাঞ্জলিরিতি জানাং অঞ্জলিঃ ষষ্ঠী-তৎপুরুষঃ । সুবোধ। ২৬। অশ্য বঙ্গভাষা-কুৎসিত স্থানে বাস করিলে ধনাগমেব সম্ভব থাকে না, অসদ- বংশজাত ছাত্রকে পাঠ কবাইলে যশঃ কীর্তনের কোন সম্ভব নাই, কুৎসিত দিনে স্ত্রীসহবাসে কুপুত্রোৎপান কবিলে জলাঞ্জলি প্রত্যাশা থাকে ন', দুষ্টা এবং মুখরা ভাৰ্য্য' গৃহাগ হইলে সংসাবে সুখের কোন আশা-ই থাকে না। “এই চতুৰ্বিধ সংসাব-সুখনাশক, ইহাই জ্ঞাতব্য"। ২৬ ॥ অন্য কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। সারগ্রাহী সারংশগ্রহণ করিতে পারেন; কিন্তু অন্যে পারে না। গুণী গুণ বেত্তি ন বেক্তি নির্গুণঃ, বলী বলং বেত্তি ন বেক্তি দুর্বল। পিকো হি বাসন্ত-গুণং ন বায়সঃ, করী চ সিংহস্য বলং ন মূষিকঃ ॥ ২৭। অন্যান্বয়ে যথা-গুণী গুণবান পুরুষঃ গুণং বেত্তি অপরস্য গুণিননা গুণগৌরবং জানাতি, নিগুণঃ গুণহীনে জনঃ ন বেত্তি অপরস্য গুণ- গৌরবং ন জানাতীত্যর্থ। বলী বলবান পুরুষঃ বলং অপরস্য সামর্থং বেত্তি, দুর্বলে বলহীনে জনঃ ন বেত্তি অপরস্য সামর্থ্য নাবগচ্ছতীত্যর্থ, হি যস্মাৎ পি কোকিলঃ বাসন্ত-গুণং বসন্তস্য ঋতোণং বেত্তি ন বায়সঃ, কাকঃ তং ন বেত্তি, তথা করীচ সিংহস্য মৃগেন্দ্রস্য বলং সামর্থং বেত্তি, মূযিক আখুঃ ইন্দুর ইত্যর্থঃ ন বেত্তি অর্থাৎ সিংহস্য বলং নাবগচ্ছতীর্থঃ । ব্যাকরণং-নির্ণঃ ইতি নি নাস্তি গুণে যস্য স নিগুণঃ বহুব্রীহি সমাসঃ, দুর্বল ইতি দু মন্দং বলং যস্য স দুর্বলঃ বহুব্রীহি সমাসঃ। বাসন্ত গুণমিতি বসন্তস্য অয়ং বাসন্তঃ বসন্ত শব্দাৎ প্রত্যয়, বাসন্তশ্চাসৌ গুণশ্চেতি কর্মধারয়ঃ তং। করীতি করে। হস্য অস্তীতি কর-শাদস্ত্যর্থে ইন্ প্রত্যয়ে করীতি রূপং; অন্যৎ-সুগম। অস্য . বঙ্গভাষা—যথা—সারগ্রাহী ব্যক্তি সারাংশ গ্রহণ করিতে পারেন, উদাহরণ যথা—গুণবান্ ব্যক্তি অন্যের গুণ গ্রহণ করিতে পারেন, নিগুণ ব্যক্তি অন্য লােকের গুণ অনুধাবন করিতে পারেন না। ত্যথা–করী (হস্তী) সিংহের বল ও পরাক্রমের পরিচয় দিতে সমর্থ, কিন্তু মুষিক কদাপি সিংহের বিক্রম প্রকাশ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। করিতে পাবে না, এব কোকিল বাসন্তগুণ ও বসন্ত কালের সুখানুভব করিতে পাবেন; কিন্তু বায়স (কাক) পারে না, তদ্রুপ সকল স্থানেই জানিবেন। ২৭। মহতের মহত্ত্ব অপূৰ্ব্ব, স্বয়ং বিপদগ্রস্ত হইলেও অন্যকে উদ্ধার করিতে সতত প্রস্তুত থাকেন ; উদাহরণ যথা--মহানগরী রাজধানী কলিকাতার মধ্যগত ঠন্ঠনীয়া মেছুয়া বাজার ধ্রুট ৭ নম্বব ভবন নিবাসী ধাম্মিক প্রবর ইউনিষ্ঠাচারী কর্ণ সদৃশ দাতা স্বর্গীয় ঈশান চন্দ্র মুখােপাধ্যায় মহােদয় নিত্য দান ও পরােপকার শত শত না কবিয়। দিন যাপন করিতেন না , ইহাই তাহাব প্রবল ধৰ্ম্ম । ২৭। কোন সমযে উক্ত মহাশয় দান-ক্রিয়া দ্বাৰা মহান্ ঋণী, তজ্জন্য বিপন্ন ছিলেন, ‘এমন সময়ে কোন ভদ্রলােক দেন ডিক্রী দায়ে বসৎ বাটী নিামে বিক্রয় হইবে, এই কথা বলি। ক্রন্দন কবিতে লাগিলেন ; অতএব আপনি বক্ষা করুন ইত্যাদি বচনে ও করুণ স্বরে কহিন,” এই কথা শ্ৰত মাত্র উক্ত ঈশান বাবু আবও বিপন্ন হইলাম-এই বলিয়া গাত্রোন পূর্বক ঐ লােকসহ স্থানে স্থানে, পল্লিতে পল্লিতে, ভ্রমণ করিয়া মহাজন স্থিব করিয়া হাওলােটেও নিজ বসৎ বাটী আবদ্ধ রাখি ঐ বিপন্ন ব্যক্তিকে ঋণ হইতে উদ্ধার কবিয়া নিজেব মহত্ত্ব রক্ষা করিয়া, ছেন; ইহা আমবা অনেকেই অবগত আছি। ইহা আমার পক্ষে লােক মুখে শােনা কথা নয়, তথায় সতত উপস্থিত থাকিতাম, সেইজন্য বিশেষ অবগত আছি। ২৭। এই সদ্ব্যবহার স্বর্গীয়, তৎপ্রমাণং য— অহহ মহত্ত্বং মহতামপূৰ্ব্বং, বিপত্তি-কালে চ পরােপকারঃ। যথাস্যমধ্যে পতিতােহপি রাহো, কলচিয়ঃ পুণ্যচয়ং দদাতি ॥ ২৮ ইতি স্মৃতিশাস্ত্রোক্ত বচন এবং জ্যোতিষি শকশক্তি প্রকাশিকায়াঞ্চ। • অস্যস্বযে। যথা অহো মত আহে। মং মং পূবং, যতযোং কবিতা-কুসুমাঞ্জলি ৩৭ •• বিপত্তি-কালেচ পরােপকারঃ করণীয়ঃ তৎ প্রমাণং যথা-কলায়- শ্চন্দ্ৰঃ রাহােৱস্য-মধ্যে মুখমধ্যে পতিতােহপি রাণাং সম্বন্ধে পুণ্যচয়ং বিপুল-পুণ্যং দদাতি। অহে। ইতি শোকসন্তপ্ত-ব্যক্তে করুণােক্তিঃ, মহত্ত্বমিতি মহতো ভাব ইতি বাক্যে মহচ্ছাৎ “তে ভাবে ইতি সূত্রেণ-”ত্ব প্রত্যয়ে কৃতে মহত্ত্বং মহস্নিষ্ঠ-ধৰ্ম্মঃ। অপূর্ব- মিতি নাস্তি পূর্বস্মিন্ যৎ ইতি বহুব্রীতো অপূর্বং ; অপরং সুগমং। ইহার তাৎপর্য এই যে, মহবংশ- সম্ভই-বংশধর বিপদগ্রস্ত হইয়াও পরের উপকার করিয়া থাকেন। ২৮। উদাহরণ যথা—কশ্যপ-সন্তান-চন্দ্রদেব গ্রহণ সময়ে অর্থাৎ বাহুর ভীষণ কবলে পতিত হইয়াও ভূস্থ জনসাধারণকে পাপ হইতে উদ্ধার করতঃ বিপুল-পুণ্য-দান করেন অর্থাৎ গ্রহণ-সময়ে স্নান, দান ও পুরশ্চরণাদি করিলে অসীম পুণ্য লাভ হয়। ২৮। এই উদাহরণ দ্বারা গ্রন্থকারের উক্তি এই যে, হে ভ্রাতৃগণ ! নিজে বিপন্ন থাকিলেও অন্যের মঙ্গল চেষ্টায় থাকিবেন ; ইহাই সদ্ব্যবহার এবং পুণ্যজনক। ২৮ | মানী এবং মৰ্যাদাশালী না হইলে মাদকের মর্যাদা রক্ষা করিতে জানেন না। তৎপ্রমাণং যথা- মানিনাে বহুমান্যানাং, মানং জানন্তি নেতরে। শম্ভর্বিভৰ্ত্তি চার্ধেন্দুং, তমেবাত্তি বিধুদঃ। ২৯ । ( পূর্ণমন্তি বিধুদঃ ইতি পাঠান্তরং।)
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি অম্বয়াে যখা-মানিনে জন। বহুমাখানাং পরম-শ্রদ্ধাস্পদানং মানবেন্দ্রাণাং মানং মৰ্যাদাং জানন্তি; কিন্তু নেতরে অর্থাৎ ইতরে জনা অসম্-বংশ সস্তৃতা জনা ন জানীতি শেষঃ ॥২৯। উদাহরণং যথা—শমহাদেবােহৰ্দ্ধেন্দুং অর্ধচন্দ্রং প্রাপ্য শিরাে- ভূষণং কৃত্বা মস্তকে বিভৰ্ত্তি দধাতি, কিন্তু বিধুদো রাহুগ্রহস্তমেব চন্দ্রমের প্রাপ্য অত্তি গ্রসতি । ২৯। ব্যাকরণং যথা—মানিন ইতি মানং বিদ্যতে অস্তেতি বাক্যে অস্ত্যর্থে ইনি কৃতে মানী, তস্মাৎ প্রথমায়া বহু বচন-জসি কৃতে মানিন ইতি পদং সিদ্ধং। বহুমান্যানামিতি বহুনি মান্যানি যেষাং ইতি- ব্যাসবাক্যে বহুব্রীহি-সমাসে বহুমান্যাস্তেষাং। জানীতি জ্ঞাগ বােধনে ইতি জ্ঞা ধাতে বর্তমানে ক্যা বিভক্তেরন্তি প্রত্যয়ে কৃতে জানীতি সিদ্ধং। বিধুদঃ সৈংহিকেয়ঃ অর্থাৎ সিংহিকা-রাক্ষসী- পুত্রে। রাহুঃ, বিধুং চন্দ্রং তুদীতি বাক্যে বিধু-শব্দপূর্বক-তুদধাততঃ উত্তরে খ-প্রত্যয়ে কৃতে সতি বিধুন্তুদো রাহুঃ, অপরং সুগমং । ২৯। অস্য বঙ্গভাষা যথা—মানী ব্যক্তি হইলেই মানীর মানরক্ষা করিতে জানেন, তাহার প্রমাণ এই যে, দেবাদিদেব মহাদেব অর্ধেন্দু অর্থাৎ অর্ধচন্দ্র লাভ করিয়া শিরােভূষণ-যােগ্য জ্ঞানে মস্তকে ধারণ করিলেন; কিন্তু রাক্ষসী:সিংহিকা পুত্র রাহুগ্রহ সেই চন্দ্রকে প্রাপ্তি হইলেই গ্রাস করিয়া জগৎকে অন্ধকারে নিমগ্ন করেন। মহাদেব যেমন মহান্, তেমন মহৎ স্থানে চন্দ্রদেবকে ধারণ পূৰ্ব্বক রক্ষা করি- লেন, রাক্ষসী গৰ্ত্তজাত-পুত্র-রাহু সেই চন্দ্রকে পাইলেই উদরসাৎ করিয়া থাকেন। ইহার তাৎপর্য এই যে, মহতের নিকটে গমন করিলে মহাযত্নে ও মান্তে থাকা যায়, কিন্তু অসতের নিকট গমনে নষ্ট বা হতমানী হইতে হয়। ২৯।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি সদুসতেঃ প্রভেদ-প্রমাণং যথা- গুণয়ন্তে দোষাঃ সুজন-বদনে দুর্জনমুখে, গুণা দোষান্তে ন তদৃব্যভিচরতি কচিদিতি। যথা জীমুতােবয়ং লবণ-জলধেবারি মধুরং, ফণী পীত্ব। দুগ্ধং বমতি গরলং দুঃসহতরং । ৩০। অশ্যাম্বয়ে। যথা—সুজনবদনে দোষাঃ সর্বেষাং দোষাঃ গুণায়ন্তে গুণা ইব আচরন্তি, দুর্জন-মুখে গুণাঃ সর্বে দোষায়ন্তে দোষ। ইব আচরন্তি, কচিদিতি নিয়মমা ব্যভিচরতি কস্মিমেব সময়ে বিপরীত মেতৎ। উদাহরণং যথা—অয়ং জীমুতাে মেঘঘ লবণ-জলধে বারি পীত্ব। মধুরং জলং বমতি উদ্গীরতি, অস্য বিপরীতং যথা—ফণী ভুজঙ্গা দুগ্ধ পীত্ব দুঃসহতরং গরলং বিষং বমতি উদ্গীরতি গুণায়ন্তে ইত্যত্র গুণ ইব আচরন্তীতি বাক্যে “ঘান্ঙীতি” সূত্রেণ ঙ-প্রত্যয়ে সিদ্ধ স্যাৎ, অপরং সুগমং। ৩০। • অস্য বঙ্গভাষা যথা—সাধুগণ, লােকের দোষ পাইলেও গুণে পরিণত করিবার চেষ্টা করেন, ফলকথা দোষকেও কোনরূপ গুণ বলিয়া ব্যাখ্যা করিতে চেষ্টা করেন, দুর্জনগণ গুণকেও দোষ বলিয়া প্রমাণ করিতে চেষ্টা করে। উদাহরণ যথা—মেঘক্ষণ,-লবণ-সমুদ্রের লবণাক্ত-বারি-পান করিয়া মধুর বারি- বর্ষণে সৃষ্টি-রক্ষা করিয়া থাকেন; কিন্তু খলের নিকটে ইহার বিপরীত হইয়া থাকে, উদাহরণ যথা—ভুজঙ্গ-গণ দুগ্ধ পান করিয়া দুঃসহতর গরল বমন করতঃ ধরাধাম বিনষ্ট করিবার চেষ্টা করিয়া থাকেন। সজ্জন এবং দুর্জন এতদুভয়ের বিশেষ ভেদাভেদ আছে; ইহা বিবেচনা পূৰ্ব্বক সংসার যাত্রা নির্বাহ করিবার উপদেশ। এই ইহার তাৎপৰ্য । ৩০ ৪০ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। সদসততঃ কর্তব্যাকর্তব্য। সদসতের কর্তব্যাকৰ্তব্য যথা- গৃহ্নাতি সাধু ন পরস্য দোষা, দোষাবিতে গুণি-গুণান্ পরিহায় দোষা। বালঃ স্তনাৎ পিবতি দুগ্ধমক বিহায়, ত্যা পয়য় রুধির মেব ন কিং জলোকাঃ ॥ ৩১ ॥ অত্যান্বয়ে যথাসাধুঃ পরস্য দোষান্ ন গৃহ্নাতি, দোষান্বিতে। দোষাশিতে জনে গুণি-গুণী পরিহায় ত্যা দোষান্ গৃহাতি ॥৩১৷৷ উদাহরণং যথা—বালঃ শুনাৎ পয়ােধরাৎ অসৃক শােণিতং বিহায় ত্যা দুগ্ধং পিবতি; কিন্তু জলৌকা জলজন্তুবিশেষঃ জোঁক ইতি খ্যাতঃ, পয়াে দুগ্ধং ত্যা বজ্জয়িত্বা রুধির মেব ন পিবতি কিং? ৩১। গৃহ্নতীতি গ্রহঞগ গ্রহণে ইতি গ্রহ-ধাততঃ উত্তরে বর্তমানে ক্যা- স্তি। দোষান্বিত ইতি দোষেণ অম্বিতাে যুক্তঃ, গুণি-গুণ ইতি গুণিনাং গুণাঃ ইতি ব্যাস বাক্যে গুণি-গুণাঃ তান্ পরিহায়েতি পরিপূর্বক হক-ধাতোঃ উত্তরে ভূাচ কৃত্বা যপিকৃতে পরিহায় ইতি পদং সিদ্ধং। জলোকাঃ ইতি জলং ও কঃ স্থানং যস্য জন্তোঃ স জলৌকাঃ জলজন্তু-বিশেষঃ জেঁক ইতি খ্যাত। জলৌকস্ শব্দস্য প্ৰথমৈক বচনে জলোকাঃ ইতি শেষ। অপরং সুখসাধ্যং। ৩১। অস্য বঙ্গভাষা যথা—সৎপ্রকৃতিস্থ মানবেন্দ্র মহােদয়গণ অন্যের দোষ-বর্ণনা না করিয়া দোষ থাকিলেও সেই দোষকে গুণে পরিণত করিয়া ব্যাখ্যা করেন ; এই তাহাদের সরল প্রকৃতির পরিচয়। অসৎ-প্রকৃতিস্থ অর্থাৎ দোষান্বিত মনুষ্যগণ লােক-সমূহের গুণ সমূহকে আছর করিয়া অনুসন্ধান পুৰ্ব্বক দোষ গ্রহণ এবং বর্ণনা করিয়া থাকেন। ৩১।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ৪১ তাহার উদাহরণ এই যে- স্তন্যপায়ী শিশু পয়ােধরস্থ রুধির বর্জন করিয়া তত্রস্থ অমৃত-সদৃশ দুগ্ধ গ্রহণ করিয়া থাকে । কিন্তু তৎপরিবর্তে তংস্থলে জলৌকা-কে অর্থাৎ জেঁক স্তনপানে নিয়ােগ করিলে, পর্গো ধরস্থ অমৃত-সদৃশ গুণকর দুগ্ধ ত্যাগ করিয়া কেবল মাত্র শােণিত পান করিয়া থাকে, সেইরূপ সজ্জনের কর্তব্য গুণ গ্রহণ, অসতের কর্ত্তব্য দোষ গ্রহণ। এই ইহার তাৎপৰ্য । ৩১ ॥ অসদ্বংশজাত-মহ-বংশজাতয়ের্ভেদঃ । নীচকুলােৎপন্ন ও মহংশােৎপন্নের প্রভেদ যথা- নীচো জনাে গুণশতৈরপি সেব্যমাননা, হাস্যেন যদ্ বদতি তৎকলহৈ ন বাচ্যং। আক্রোশিতােহপি সুজনো মধুরং বিরোতি, নিপীড়িতে মধুর মুদিরতে যথেষ্ণুঃ ॥ ৩২ ॥ অশ্যাম্বয়ে। যথা—নীচে জনে দুষ্টুলােবা মানবে। গুণশতৈরপি শতসংখ্যক গুণেন সেব্যমানঃ সন্ পরিবেষ্টিতঃ সন, হাস্যেন উপহাস- চ্ছলেন কিম্বা হাস্য-বদনেন যদ বদতি, যদ্বাক্যং কথয়তি, তৎ সবিং অন্বেষাং সজ্জনানাং কলহৈ ন ব চ্যং বিরােধস্থলেহপি ন ব্যক্তব্যং। সুজনঃ সজ্জনঃ আক্রোশিতােহপি নীপীড়িতােহপি মধুরং বাচ্য যথাস্যাৎ তথা বিরোতি ধ্বনিং করােতি শব্দায়তে বা। ইক্ষু নিপীড়িতােহপি মধুরং রসং যথা উদিগরতে প্রযচ্ছতি তদ্বৎ। ব্যাকরণং যথা—সেব্যমান ইতি সেঙ সেবনে ইত্যম্মাৎকর্মণি বাচ্যে শান-প্রত্যয়ে কৃতে সেব্যমান পদং নিষ্পন্নং। আক্রোশিত ইতি ক্রুশজো রােদে হুতো অঙ-পূৰ্ব্বক ক্রুশ-ধাতােরুত্তরে কর্মণি ক্ত-প্রত্যয়ে সতি, নিষ্পন্নং। বিরোতীতি রুল বনৌ, বি-পূর্বাৎ ৪২ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি রু-ধাতােকত্তরে বর্তমানে ক্যা স্তিপি কৃতে বিরোতি ক্রিয়াপদং সিদ্ধং। উরিতে ইতি গৃশ নিগরণে ইতি উপূর্ববাৎ গু-ধাতো- রুত্তরে ক্যাস্তে-কৃতে সিদ্ধং ৩২। অন্য বঙ্গভাষা যথা-নীচকুলোদ্ভব ব্যক্তি শত শত গুণান্বিত হইলেও পরিহাস- চ্ছলে যদি কাহাকে কোন কথাদি বলেন, তাহা সজ্জনের কলহ-চ্ছলেও সেরূপ কটুক্তি হয় না। সুজন অর্থাৎ সার-গলােক শত্রুপক্ষ কর্তৃক নিপীড়িত হইলেও কদাপি তাহারা অন্যের অনিষ্ট সাধন করেন না। তাহার উদাহরণ এই যে ইক্ষু-দণ্ডকে নিপীড়ন করিলে যেমন মধুর রস ভিন্ন তিক্ত-রসান্বিত রস ত্যাগ করেন না, সেইরূপ সুজনকে পীড়ন করিলেও মধুর ভাবান্বিত ভাষা ও কাফ ভিন্ন কদাপি বিষময় বাক্য প্রয়ােগ বা কৰ্ম্ম করেন না ॥ ৩২ ॥ “মূর্খামিস্তারো নাস্তি” মূখ হইতে পরিত্রাণের উপায় নাই। তৎ প্রমাণং যথা- শকো বারয়িং জলেন হুতভুক্ ছত্রেণ বর্ষাতপৌ, নাগেন্দ্রো নিশিতাঙ্কুশেন স মদো দণ্ডন গো-গর্দভৌ ব্যাধি ভেষজ-সংগ্রহৈশ্চ বিবিধৈ মন্ত্ৰ-প্ৰয়ােগ বিষং, সৰ্বস্তোধস্তি শাস্ত্র-বিহিতং মুখস্য নাস্ত্যৌষধং। ৩৩। অন্যান্বয়ে। যথা-হুতভুক্ বহ্নির্জনে বায়িং নিবায়িতুং শক্যঃ ছত্রণ বর্ষাতপৌ বৃষ্টি-সূৰ্যকিরণৌ নিবারয়িং • শক্য। নাগেন্দ্রো গজ-কেশরী নিশিতাঙ্কুশেন শানিত-হস্তি-শাসন-দণ্ডেন বায়িতুং শকঃ। সমদো গর্বিতে গো-গর্দভৌ দণ্ডে দণ্ড- প্রহারেণ বারয়িং শক্যে সঙ্গতৌ। ব্যাধিঃ পীড়া ভেষজ সংগ্রহৈ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ৪৩ বহুবিধৌষধ-যোজনুয়া বারয়িং শকঃ। বিষং বিবিধৈ মন্ত্র-প্রয়োগৈ- নানাবিধ-মন্ত্র-করণকৈ-নিবায়িতুং শক্যং। ইহ জগতি সর্বস্ত সাহিত্যু শাস্ত্রবিহিতং শাস্ত্রোক্তং মহৌষধমস্তি বৰ্ততে ;. কিন্তু মুখস্য ঔষধং নাস্তি। পদসিদ্ধাদিকং সুগমং। ৩৩। অশ্য বঙ্গভাষা যথা -প্ৰজলিত হুতাশন নিবারণার্থে পরম পিতা পরমেশ্বর জলসৃষ্টি করিয়াছেন, বৃষ্টি ও প্রখর রৌদ্র নিবারণার্থে ছত্রাদি সৃষ্টি করিয়াছেন। দুর্দম্য গজেন্দ্র দমনার্থ শাণিত এবং তীক্ষ্ণ অঙ্কুশ (ডাঙ্গশ) নিৰ্মাণ করিয়াছেন। দুর্দম্য বৃষ ও গাে এবং গর্দভাদি সংদমন জন্য দণ্ডাদি ব্যবস্থা করিয়াছেন। উৎকট ব্যাধি নিবারণার্থে মহৌষধ ব্যবস্থা করিয়াছেন। প্রাণনাশক-বিষ দোষ নাশার্থ বিবিধ প্রকার সজীব-মন্ত্রাদি দেদীপ্যমান রহিয়াছে। সৰ্ব্ববিধ অশান্তি হইতে রক্ষা পাইবার শাস্ত্র বিহিত উপায় দৃষ্টিগোচর হয়; কিন্তু মূখ হইতে নিস্তার পাইবার কোন উপায় নাই; অতএব কেহ পুত্রকে মূখ করিবেন না। যেহেতু তাহা হইতে ভবিষ্যৎকালে অতি বিপদ আশঙ্কা। ৩৩। শূদ্র-প্রতিষ্ঠিত কোন বিগ্রহ এবং শিবলিঙ্গাদি ব্রাহ্মণের নমস্য বা প্রণম্য নহে। তৎ প্রমাণং যথা- --- নমে যঃ শূদ্র-সংস্পৃষ্টং, লিঙ্গং বা হরিমেব বা। স সৰ্ব্ব-যাতনা ভােগী, যাবদাহূত-সংপ্লবং ॥ ৩৪। ইতি আহিকতত্বে বৃহন্নারদীয়-ধৃতবচনং। ব্যাখ্যা যথা—শুদ্র-সংস্পৃষ্টং শূদ্রম্পর্শিতংলিঙ্গং বা অথবা হরিং বিষ্ণু ৪৪ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। মূৰ্ত্তাদিকং যো ব্রাহ্মণাে নচেৎ প্রণামং কুৰ্য্যাৎ। যাবৎ যৎকাল পৰ্যন্তং অতিসংপ্লবং মহা প্রলয়ং ন ভবতি, তাবৎ তৎকাল পর্যন্ত্যং ব্যাপ্য স ব্রাহ্মণঃ সব-যাতনা ভোগী সকল-প্রকাব-কষ্ট-ভােগী অশ্য বঙ্গভাষা যথা – যে ব্রাহ্মণ শূদ্রষ্ট কিম্বা দাপিত দেবদেবীকে প্রণাম করিবেন, তিনি নবগী হইযা প্রান্ত কাগৰ্যন্ত সকল প্রকাৰ যাতনা ভােগ করিবেন। যদি সেই দেবদেবীর মন্দিবে না বাণ শিলা কিম্বা কালী দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠিত বা উপস্থিত ? ”কন, ৩া হইলে সে সময়ে প্রণাম কবিলে কোন দোষ হবে না। শচনা। ইহা প্রাণ আছে। ৩৪ ? নিথ বাক্যাদিপ্রযোগ স্থান। স্ত্রীঃ নৰ্ম্ম-বিবাহে, বৃত্ত্যর্থে প্রাণশঙ্কটে। গাে-ব্রাহ্মণার্থে হিংসায়াং নামৃতং স্যাজ্জ্বগুষ্পিতং । ৩৫। এষ্ট স্থানেষু অনু ৩ মিথ্য। বাক্যং প্রযুজ্যং - ইতি এমদ্ভাগবতে অষ্টম স্কন্ধে বান চবিতে বনি প্রতি শু চাৰ্য্যস্য বচনং ॥ ৩৫। অধ্যাখযা যথা--প্রযুি স্ত্রী-সমীপেষু, স্মেয় কৌতুক-বিষয়েষু, বিবাহেষু উবা-কর্ম, বৃর্থে ভূ-সম্পত্তি-প্রভৃতি-জীবিকাবৃত্তি- রক্ষার্থে, প্রাণশঙ্কটে জীবন বিপন্ন, গো-হতার্থে ব্রাহ্মণস্য হিতার্থে চ অনৃতং মিথ্যবিচন; ন জুগুষ্পিতং ন নিন্দিত। পদসিদ্ধকাৰ্যং সুখ করং । ৩৫। অষ্য বঙ্গভাষা যথা—স্ত্রী-সমীপে, কৌতৃক সূলে, বিবাহ কৰ্ম্মতে, বৃত্তার্থে কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ৪৫ জীবনােপায় বৈভব রক্ষার্থে, সাধারণ হিংসা:স্থলে, প্রাণশঙ্কটকালে, গাে, ব্রাহ্মণের প্রাণরক্ষার্থে এই—অষ্টবিধ স্থানে মিথ্যা বাক্য প্রয়ােগে পুণ্য সঞ্চয় ভিন্ন পাপ জন্মাইবার কোন সম্ভব নাই। এই উপদেশ শ্রীমদ্ভাগবতে অষ্টম স্কন্ধে বামন চবিতে মহারাজবলিকে লক্ষ্য করিয়া শুক্রাচার্য্য উপদেশ প্রদান করিয়াছেন। ৩৫ || আততায়ি-কথনং। অগ্নিদো গরদশ্চৈব, শস্ত্রপাণি ধনাপহঃ। ক্ষেত্ৰ-দারাপহারীচ, বড়েতে আততায়িনঃ ॥ ৩৬। অস্যান্বয়ে। যথা –অগ্নিদো গৃহ-দগ্ধার্থে গৃহে অগ্নিদাতা, গরদশ্চৈব প্রাণনাশার্থে বিষদাতা, শস্ত্রপাণিঃ জীবন-বিনাশর্থে শস্ত্রধারী ধনাপহঃ ধনাপহারী, ক্ষেত্ৰ-দারাপহারীচ ক্ষেত্ৰঞ্চ দারাশ্চ তে ক্ষেত্ৰদারাঃ তান্ অপহরতি যঃ স অপহারী অপহৰ্ত্তা চ এতে ষট্ আততায়িনঃ প্রাণঘাতক-সদৃশাঃ ; অতএব আততায়িন মায়ন্তমপি মায়ন্তমপি বেদান্ত- পারগমপি জিঘাংসন্তং জিঘাংসীয়া ন তেন ব্রহ্ম-হা ভবেৎ। ৩৬। অন্যভাবার্থে। যথা- আয়ন্তং আগচ্ছন্ত, বেদান্ত-পারগমপি ব্ৰহ্ম তত্ত্ব-নিরুপণ-করকমপি জিঘাংসন্তং হস্তুনিচ্ছুক ব্রাহ্মণং জিঘাংসীয়াৎ হস্তুমিচ্ছে, তেন তৎকারণেন, ন ব্রহ্মা ভবেৎ ন ব্ৰহ্মহত্যাকারী ইতি জ্ঞাতব্যং ইত্যপি ভাগবতে স্মৃতো চ উক্তং ৩৬ ব্যুৎপত্তিৰ্যথা—অগ্নিং দদাতীতি বাক্যে অগ্নিশব্দ পূর্বাৎ দা-ধাতো- রুত্তরে কৰ্ত্তারি ড প্রত্যয়ে কৃতে অগ্নিদ ইতি সিং। গরং বিষং দদাতীতি বাক্যে গরশব্দ পূর্ববাৎ দা- ধাতােরুত্তরে ড-প্রত্যয়ে গরদঃ সিদ্ধ। শস্ত্রং খড়গাদিকং পণৌ হস্তে যস্য সশস্ত্রপাণিঃ। ধনাপহঃ ইতি ধনং ৪৬ কবিতা কুসুমাঞ্জলি। অপহস্তীতি বাক্যে ধনশব্দ-পূর্বাৎ অপশব্দ-পূৰ্বাচ হন-ধাতােরুত্তরে ভূ-প্রত্যয়ে সতি ধনাপহঃ সাধ্য। দার-শব্দে নিত্য পুংলিঙ্গ- বহুবচনান্তশ্চ, দারশব্দঃ পত্নী-বাচক আততায়িন ইতি আতত শব্দ পূর্বাৎ অয়ধাতারুত্তরে কৰ্ত্তরি ণি প্রত্যয়ে আততায়ীতি ততো- জসঃ। বেদান্ত-পরিগং ইতি বেদান্ত ব্ৰহ্ম-নিরুপণ-শাস্য পারং শেষ ভাগং গচ্ছতি বাক্যে বেদান্তশব্দ-পূৰ্বকাৎ পারশব্দ-পূর্বাচ্চ- গমধাতােরুত্তরে করি ড-প্রত্যয়ে বেদান্ত-পারগঃ সাধ্যঃ, ততো দ্বিতীয়ায়। একবচনং। জিঘাংসমিতি হলো গতো হিংসায়াং ইত্যস্মাৎ হমিচ্ছন্তং ইতি বাক্যে ইচ্ছার্থে সন্ প্রত্যয়ে জিঘাংস ধাতু নিষ্পন্নঃ, ততঃ শতৃ-প্রত্যয়ে সতি জিঘাংসৎ শব্দো নিস্পন্নঃ, ততে দ্বিতীয়ায়। অমি কৃতে জিঘাংসন্তং পদং সিদ্ধং। ব্ৰহ্ম হস্তীতি বাক্যে ব্রহ্মশব্দ পূর্বাৎ হনধাতারুত্তরে করি কিপি কৃতে সতি ব্ৰহ্মহ। পদে। নিষ্পন্ন। অস্য বঙ্গভাষা যথা—গৃহে অগ্নি-দাতা, জীবন-নাশার্থ বিষদাতা, প্রাণসংহারার্থ খঙ্গধারী, ধনাপহারী, ক্ষেত্রহারী, দারাপহারী এই ছয়জন যদি বেদ-পারগ অর্থাৎ বেদাধ্যায়ী সুব্রাহ্মণ হ, তাহা হইলেও বিনাশ যােগ্য পাত্র ; যেহেতু ইহারা আততায়ী হইয়াছেন। আততায়ী পবিত্র ব্রাহ্মণকে বিনাশ করিলেও ব্রহ্মহত্যা জন্য পাপ দশাইবে না—এতৎ সম্বন্ধে ধর্মশাস্ত্রে বহুল প্রমাণ আছে। তৎ প্রমাণং যথা- আততায়িন মায়ান্তং হন্যাদেবাবিচারয় ইত্যাদি তিথিতত্ত্বধৃতবচনং। ৩৭। অশ্যাম্বয়ে যথা—আয়ান্তং আগচ্ছন্তং আততায়িনং প্রাণহননাে- ছাতং জনং অবিচারয় সন্ কিমপি বিচারং ন কুন সন্ হন্যাদের অবিলম্বং যথা স্যাৎ তথা বিনাশং কুৰ্য্যাৎ ৩৭। =
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
৪৭
অস্য বঙ্গভাষা যথা—আততায়ীকে * অর্থাৎ প্রাণ-সংহারােত-ব্যক্তিকে
অবিলম্বে বিনাশ করা কর্তব্য ; ইহা ধৰ্ম্মশান্ত্রোক্ত উপদেশ ।
সজ্জন-নিরূপণ-লক্ষণং ।
।
মহজ্জনের লক্ষণ।
বিপদি ধৈৰ্য্যমথাভদয়ে ক্ষমা,
সদসি বাটুতা যুধি বিক্রমঃ।
যশসি চাভিরুচি বসনং তো,
প্রকৃতি-সিদ্ধ মিদং হি মহাত্মনাং॥ ৩৮।
অন্যান্বয়ে। যথা-বিপদি বিপৎকালে ধৈৰ্যং ধীর কর্তব্য,
অনন্তরং অভ্যুদয়ে উন্নত্যবস্থায় ক্ষমা মার্জনা কর্তব্য, সদসি
সভায়াং বাকপটুতা বিনয়সহ-বাক্যবিন্যাসঃ, যুধি সংগ্রামে বিক্রমঃ
পরাক্রমপ্রকাশঃ, যশসি প্রশংসায়াং অভিরুচিঃ ইচ্ছা, তো ব্যসনং
বেদাদি শাস্ত্রে আশক্তিঃ ; হি নিশ্চিতং ইদং সবং মহাত্মনাং প্রকৃতি
সিদ্ধং স্বভাবসিদ্ধং। পদসাধনং সুগমং। ৩৮।
অস্য বঙ্গভাষা যথা—বিপৎকালে ধৈৰ্য্য অবলম্বন, উন্নত্যবস্থায় ক্ষমা { মার্জনা )
সভায় সভ্যতারক্ষা পূৰ্ব্বক সাধুবাক্য প্রয়ােগ, যুদ্ধস্থানে বীরত্ব প্রকাশ, যুশােবিষয়ে
প্রবৃত্তি, বেদাদি শাস্ত্রে আশক্তি (ভূতিপ্রবৃত্তিঃ ) এই সকল মহজ্জনের স্বভাবসিদ্ধ
লক্ষণ জানিবেন । ৩৮ |
যাল গতো ইত্যস্মাৎ শত্ প্রত্যয়ে কৃতে আযাৎ শব্দে নিস্ততােদ্বিতীয়া
এক বচনান্তে সতি আয়ান্তং পদমিতি সিং।
৪৮ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ~ সম্প্রদান-পাত্র নির্ণয়ঃ। দানের পাত্ৰস্থিরীকরণ। দরিদ্রা ভর কৌন্তেয় ! মা প্রযজ্ঞেশ্বরে ধনং। ব্যাধিতদ্যৌষধং পথ্যং নীরুজস্য কিমৌষধৈঃ ॥ ৩৯। অম্বয়ে। যথা—হে কৌন্তেয় ! যুধিষ্ঠির! দরিদ্রা অনাথা ভর পোষয়, ঈশ্বরে ধনাঢ্য ধনং মা প্রযচ্ছ ন দেহি। যতাে ব্যাধিতস্য পীড়িতস্য জনস্য ঔষধং পথ্য হিতকরং। নীরুজস্য রােগহীনস্য ঔষধৈঃ কিং | ৩৯। বুৎপত্তিথা—কৌন্তেয় ইতি কুন্ত্যা অপত্যং পুমান্ ইতি বাক্যে কুন্তীশব্দাৎ অপত্যার্থে ফেয়-প্রত্যয়ে সতি কৌন্তেয়ঃ। তৎ সম্বাে- ধনে কৌন্তেয় ! ভূঞ ভরণে ইত্যস্মাৎ গ্যা হি-বিভক্তৌ ভরেতি ক্রিয়া- পদং নিস্পন্নং। নীরুজস্যেতি নির্নাস্তি রুজা যস্য ইতি বাক্যে বহুব্রীহো নীরুজ ততঃ ষষ্ঠ্যেক বচনং। প্রযচ্ছেতি প্রপূর্ববৎ দাঁধাততঃ পরে হি বিভক্তৌ কৃতায়াং সত্যাং যচ্ছাদেশে প্রযচ্ছ ইতি, মাশব্দে। নঞ- বাচী, মা মাস্ম অল ইতিয়ঃ শব্দাঃ নিষেধ-বাচকাঃ ৩৯। অস্য বঙ্গভাষা যথা—ধাৰ্ম্মিক প্রবর যুধিষ্ঠিরকে গুরুজন উপদেশ প্রদান করিতে- ছেন—হে কৌন্তেয় ! দীন (অতিদুঃখী ) গণকে দানাদি দ্বারা ভরণ ও পোষণ কর; যেহেতু অভাবশালী লােককে সাহায্য ও দান করিলে বিশেষ ফললাভ হয় । কিন্তু ধনাঢ্য ব্যক্তিকে দান করিলে ফল কি ? উদাহরণ যথা—ব্যাধিত ব্যক্তিকে ঔষধ দানেই পুং ও যশঃ কীৰ্ত্তন হইয়া থাকে । কিন্তু নির্ধাধি জনগণে ঔষধ-দানে ফল হইতে পারে কি ? তদ্রুপ জানিবে । ৩৯। । ! ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। 3 গৃহাগত-শরণাগতয়াে মৰ্যাদা। অভ্যাগত বা শরণাগতের মর্যাদা। অরাপুচিতং কাৰ্য্য, মাতিথ্যং গৃহমাগতে। ছেঃ পার্শগতাচ্ছায়াং, নােপসংহরতি দ্রুমঃ ॥ ৪০। ০০ অস্তান্বয়ে যথা—অরাপি শত্রাবপি গৃহমাগতে সতি আতিথ্যং অতিথিসৎকারং কাৰ্যং উচিতং কৰ্তব্যমিতি শেষঃ। উদাহরণং যথা- মাে বৃক্ষঃ পাৰ্শগতাৎ সমীপ-গতাৎ ছেঃ ছেদনকঃ ছায়াং স্নিগ্ধকর- প্রতিবিম্বং ন উপসংহতি প্রতিবিম্বৎ ন বঞ্চয়তীত্যর্থঃ। ৪০। পদসাধনং যথা—অরাবিতি অরিশব্দাৎ সপ্তম্যেক-বচনং। উচিত- মিতি উচধাটেরুত্তরে ক্ত প্রত্যয়ে উচিতং। অতিথয়ে কর্তব্য যৎ তৎ ইতিবাক্যে ফ্য প্রত্যয়ে আতিথ্যং, আগতে ইতি আঙ পূর্বাৎ গমধাতােরুত্তরে ক্ত-প্রত্যয়ে কৃতে আগত স্ততঃ সপ্তম্যেকবচনং। চ্ছেরিতি ঞধৌ ছিদির ছিদি ইত্যস্মাৎ করি তৃণি প্রত্যয়ে ছেত্তা ততঃ পঞ্চমেকবচনং উপসংহরতীতি হৃঞ হরণে ইতি উপপূর্বাৎ হৃধাতারুত্তরে ক্যাস্কিপি কৃতে সতি উপসংহরতীতি ক্রিয়াপদং নিষ্পন্নং ॥ ৪০# অন্য বঙ্গভাষা যথা—বৃক্ষছেদন কর্তা শস্ত্রধারী হইয়া অর্থাৎ কুঠার ধারণ পূর্বক বৃক্ষমূলে উপস্থিত হইয়া ছেদন কাৰ্য্য আরম্ভ করিলে ও তত্রাপি তাঁহাকে বৃক্ষগণ সরল হৃদয়ে অকাতরে শীতল ছায়া দান করিয়া সেই নিষ্ঠুর ছেন কর্তাকে ছায়াদানে স্নিগ্ধ করিতে থাকেন, এবং শাখাপল্লবাদি সঞ্চালন করিয়া মৃদু মৃদু শীতল-বায়ু দ্বারা প্রীতি দান করিতে যত্নবান হয়েন। তদ্রুপ শক্ত ব্যক্তি ৭ ৫০ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। গৃহাগত হইলে অতিথি সৎকারের ব্যবস্থা করিতে হয়। ইহাই সাধুগণের আচরণ জানিবেন।৪ | মর্মার্থ যথা—শ যদ্যপি গৃহে সমাগত হয়েন, তাহা হইলে তাহাকে অতিথি সৎকার করিতে হয়। যেহেতু গৃহাগত বা শবণাগত ব্যক্তির মর্যাদা অত্যধিক। পবিত্র-স্বভাবঃ প্রয়ােজনীয়। শুদ্ধস্বভাব আবশ্যক। সৰ্বস্য হি পরীক্ষন্তে, স্বভাবা নেতরে গুণাঃ। অতীত্য হি গুণান্ সৰ্বান, স্বভাবো মূর্ধিবৰ্ত্ততে। ৪১। “অনুষ্টুপ ছন্দঃ অন্যাম্বয়ে যথা—হি যস্মাৎ স্বভাবঃ সৰ্বান্ গুণান্ অতীত অতিক্রম্য মুর্ধি, মস্তকে বৰ্ত্ততে বিদ্যতে, তস্মাৎ সৰ্বস্য জনস্য স্বভাবা- শ্চরিত্রাণি, হি নিশ্চিতং পরীক্ষান্তে সর্বতােভাবেনৈব দৃশ্যন্তে জনৈরিতিশেষঃ। ইতরে গুণাঃ স্বভাবভিন্ন গুণা ন পরীক্ষন্তে। ব্যুৎপত্তিৰ্ষণা—পরিপূৰ্বাৎ ঈক্ষ দর্শনে, তস্মাৎ কর্মণি বাচ্যে ক্যা অন্তে বিভক্তৌ সত্যাং পরীক্ষন্তে ইতি সাধ্য। অতীত্য ইতি অতি পূর্ববাৎ ইনলৌ গতো ইত্যস্মাৎ তুছি স্থানে যপি কৃতে অতীত ইতি সিদ্ধং অপরপদ সাধনং সুখকর। ৪১। অস্য বঙ্গভাষা যথা—স্বভাব সকল গুণকে অতিক্রম করিয়া মস্তকোপরি সতত বাস কবে, সেই হেতুক সরল স্বভাব হওয়া সকলের আবশ্যক ; যে হেতুক সর্বপ্রথমেই সৰ্বসাধারণে সকলেব স্বভাবকেই অগ্রে লক্ষ্য করিয়া থাকেন। ৪১ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। দেহপরিবর্তনং বিনা স্বভাবব ন জহাতি। মৃত্যু না হইলে স্বভাবত্যাগ হয় না। স্বভাবাে যাদৃশশা যস্য, ন জহাতি কদাচন। অঙ্গারঃ শতধৌতেন, মলিনত্বং ন মুঞ্চতি। ৪২। “অনুষ্টুপ ছন্দঃ অন্যান্বয়ে যথা—অঙ্গারো দগ্ধকাষ্ঠং শতধৌতেন শতপ্রক্ষালনেন মলিনত্বং কৃষ্ণত্বং যথা ন মুঞ্চতি মা ত্যজতি; তথা যস্য জনস্ক যাদৃশঃ স্বভাবঃ কদাচন ন জহাতি ন ত্যজতীত্যৰ্থঃ ॥ ৪২। বুৎপত্তি যথা—স্বস্ত ভাবঃ স্বভাবঃ ইত্য। ষষ্ঠী তৎপুরুষঃ। য ইব দৃশ্যতে ইতিবাক্যে যশব্দপূর্বাৎ দৃশধাততারুত্তরে টকি প্রত্যয়ে কৃতে যাদৃশঃ পদসিদ্ধ। জহাতীতি ওহাকলি ত্যাগে ইত্যস্মাৎ বর্তমানে তিপি কৃতে জহাতি পদং সিদ্ধং। কস্মিন্ ইতি বাক্যে কদাচন পদং নিষ্পন্নং । শতধৌতেনেতি শতং ব্যাপ্য ধৌতঃ শতধৌতঃ তেন। মলিনস্য ভাবঃ ইতি বাক্যে প্রত্যয়ে সতি মলিনত্বং সিং। মুঞ্চতীতি মুছ-ধাতােরুত্তরে ক্যান্তিপি কৃতে মুঞ্চতীতি নিষ্পন্নং ৪২। অশ্য বঙ্গভাষা—অঙ্গারকে শত শত বার ধৌত করিলেও যেমন মলিনত্বকে ত্যাগ করিতে পারে না; সেই মত যাহার যে স্বভাব, সেই স্বভাবকে কদাপি ত্যাগ করিতে পারে না। স্বভাব পরিত্যাগ প্রয়ােজন হইলে দেহ পরিবর্তন আবশ্যক। নতুবা কিছুতেই ত্যাগ হইবে না। ৪২। {
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
সাধারণ-জীব সম্বন্ধে সাখােচরণ।
সাধারণ-জীবনে সাধুগণের ব্যবহার।
প্রাণ যথাত্মনােহভীষ্টা,
ভূতানামপি তে তথা।
আত্মোপম্যেন ভূতানাং,
দয়াং কুন্তি সাধবঃ ॥ ৪৩। “অনুষ্টুপ ছন্দঃ
অস্যাম্বয়াে যথা—আত্মনঃ প্রাণা যথাহভীষ্টা বাঞ্ছিতাঃ ভূতানামপি
সর্বেষাং ভূতানামপি তে প্রাণ তথা জ্ঞেয়াঃ। সাধবঃ সর্বে আত্মে-
পম্যেন আত্ম-তুলনয়। ভূতানাম্ জীবানাং দয়াং কৃপাং মমত্বং বা
কুন্তীত্যর্থঃ ॥ ৪৩।
ব্যাকরণং যথা—অভীষ্টা ইতি অভিপূর্ববাৎ ইমুশ বাঞ্জে
ইত্যস্মাৎ করি প্রত্যয়ে সতি অভীষ্টঃ ইতি পদং সিদ্ধং। ততঃ
প্রথমায়া বহুবচন-জসি কৃতে অভীষ্টাঃ। আত্মেব উপমা যস্য ইতি
বাক্যেনৈব বহুব্রীহর্থে ফ্যপ্রত্যয়ে অাত্মেপম্যঃ পদং সাধ্য।
ততস্তেন। অন্যানি পদানি সুখসাধানি। ৪৩।
অষ্য বঙ্গভাষা যথা - সাধুগণ নিণ সম্বন্ধে যেমন সুখ ও দুঃখ জ্ঞান করিয়া
থাকেন, সেই প্রকার সাধারণ জীবসম্বন্ধেও সুখ ও দুঃখ বিচার কবিয়া সকল
কাৰ্য্য করিয়া থাকেন। ইহা সাধুগণের মহত্ব জানিবেন। ৪৩।
.
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। সত্বরং পতনকারকাণি কারণানি। শীঘ্র পতন হইবার হেতুবর্ণনা। শুষ্ক মাংসং স্ক্রিয়ে বৃদ্ধা, বালাস্তরুণং দধি। প্রভাতে মৈথুনং নিদ্রা সদ্যঃ প্রাণ-হরাণি ষট। ৪৪। ইতি চাণক্যধৃত বচনং “অনুষ্ট ছন্দঃ”। অশ্যাম্বয়ে যথাশুষ্ক-মাংসং নীরস-মাংস-ভােজনং, বৃদ্ধা- বয়ােহধিকাস্ক্রিয়ঃ অর্থাৎ বয়ােহধিকা-স্ত্রীগমনং, বালার্কঃ শরৎকালীন প্রাতঃসূর্যকিরণ-সম্ভোগঃ, তরুণং দধি সদ্যোজাত-দধি-ভােজনং, প্রভাতে প্রভাত-সময়ে মৈথুনং শৃঙ্গারং নিদ্রাচ এতে ষট সদ্যঃ প্রাণ- হরাণি সদ্যঃ প্রাণনাশকানি; পদসাধ্যং সুগমং॥ ৪৪। অঙ্গ বঙ্গভাষা যথা—শুষ্ক-মাংস-ভােজনে, বয়ােহধিক-স্ত্রী গমনে শরৎকাল সম্বন্ধীয় । প্রাতঃকালীন সূর্যকিরণ সম্ভোগে, সদ্যোজাত-দধি-ভােজনে, প্রভাত-সময়ের শৃঙ্গারে এবং নিদ্ৰাসম্ভোগে পরমায়ু ক্ষয় হইয়া শীঘ্র মৃত্যুমুখে পতিত হয়। সাধারণের মঙ্গলার্থে উপদেশ দিলাম । ৪৪। ।
কবিতা-কুমাঞ্জলি। আয়ুষ্কর-কৰ্ম্মাণি ঘটু। দীর্ঘায়ু হইবার ষড়বিধ কাৰ্যাদি। সদ্যো মাংসং নবামঞ্চ, বালা স্ত্রী ক্ষীরভােজনং। ঘূতমুষ্ণোদকঞ্চৈব, সদ্যঃ প্রাণকরাণি ষট, ॥৪৫। ইতি চাণক্যধৃতবচনং। অনুষ্প ছন্দঃ। অম্বয়াে যথা-সদ্যো-মাংসং সাদ্যঃ-প্রস্তুতীকৃতং মংসং, নবান্নঞ্চ সদ্যোজাতামীষেষদুষ্ণান্ন-ভােজনং, বালাস্ত্রী নবীনাস্ত্রীসম্ভোগঃ, ক্ষীর- ভােজনং দুগ্ধং গাঢ়ং কৃত্বা ভোজনং, ঘৃতং সদ্যোজাত গব্যঘৃত- ভােজনং, উষ্ণোদকং নিত্যমীষদুষ্ণজলপানং, এতে ষট, সদ্যঃ প্রাণ করাণি আয়ুফরাণি৪৬ ॥ সমানেংহি ইতি বাক্যে সদ্যঃ। নবঞ্চ তৎ অন্নথেতি বাক্যে নবমং ক্ষীরস্য ভােজনং ইতি ষষ্ঠী-তৎপুরুষঃ ক্ষীরভােজনং ৪৬। অবঙ্গভাষা যথা—সদ্যপ্রস্তুতীকৃত মাংস ভােজন অর্থাৎ নিত্য মাংস প্রস্তুত পূৰ্ব্বক পাকান্তে বা অপকাবস্থায় ভােজন, ঈষদুষ্ণ অভােজন, নবীনা স্ত্রী সম্ভোগ, পরিপাকশক্ত্যনুসারে ক্ষীরবৎ ঘনদুগ্ধ পান, সদ্যোজাত গব্যঘৃত ভােজন আর নিত্য ঈষদুষ্ণ বারি পান—এই ষড়বিধ ক্রিয়া আয়ুষ্কর অর্থাৎ এই ষড়বিধ (ছয় প্রকার ) ক্রিয়া দ্বারা পরমায়ু বৃদ্ধি হইয়া দীর্ঘজীবী হইয়া থাকে। ৪৫।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। নব গােপ্যানি বতুতঃ। নিম্নলিখিত নববিধ গােপন করা বিধিবােধিত। আয়ুর্বিত্তং গৃহচ্ছিদ্রং, মন্ত্রমৈথুন-ভেষজং। অমানং তপো দানং, নব গােপ্যানি যতুতঃ। ৪৬। ইতি মনুসংহিতায়াং ধৃতবচনং। “অনুষ্ট প ছন্দঃ” অশ্যাম্বয়াে যথা—আয়ুঃ পরমায়ুঃ, বিত্তং ধনং, গৃহচ্ছিদ্রং নিজগৃহ- গ্লানি, মন্ত্র-মৈথন-ভেষজং মন্ত্ৰশ্চ মৈথুনঞ্চ ভেষজঞ্চ তেষাং সমহারঃ মন্ত্রমৈথন-ভেষজং সজীব-দৈবমন্ত্রং, মৈথুনং খ্রিয়া সহ আপ্যায়িত বচনাদিকং, ভেষজং বীৰ্যবৎ মহৌষধং, অপমানং হতমানবিষয়, তপস্তপস্যা, দানং পুণ্যার্থে প্রদানং, যত্নততা যত্ন-পূৰ্বকমেব এতনি নব গোপ্যানি গোপনীয়ানি। অস্যপদ-সাধন: কাৰ্যং সুখ-সাধ্য। ৪৬। অস্য বঙ্গভাষা যথা—পরমায়ুবিষয়, সঞ্চিত ধনের পরিচয়, নিজগৃহগত গ্লানি, বীৰ্যশালি-মন্ত্র, মৈথুন অর্থাৎ স্ত্রী সহ প্রেমালাপবাক্যাদি,বীর্য্যবৎ ঔষধ, নিজসম্বন্ধীয় অপমানাদি, নিজকৃত তপস্যা, এবং দান-এই নববিধ গােপন করিতে হয়। প্রকাশ করিলে বিশেষ অনষ্ট হইয়া থাকে এবং মূখত্বের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। ৪৬ | নিষিদ্ধ মপ্যাচরণীয়মাপদি। আপৎকালে নিষিদ্ধ কাৰ্য্যও কর্তব্য জ্ঞানে করিতে হয়। উদাহরণ যথা—দময়ন্তী স্বপ্নাবস্থায় নৈষধ রাজ-নলকে দর্শন পূর্বক বরমাল্য প্রদান করিয়াছিলেন, কিন্তু নিদ্রাভঙ্গান্তে আলােচনা দ্বারা অবগত হইলেন যে, মশ্বর সভায় নিষাধপতি মহারাজ নল আগমন অসম্ভব। যে হেতু ছয়মাস পথ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। দুরে প্রাণেশ্বর নল বাস করিতেছেন, এই অল্প সময় মধ্যে আগমন অসম্ভব হইতেছে ; আমি যখন স্বপ্নে তাহাকে পতিত্বে বরণ করিয়াছি, তখন তিনিই আমার পতি হইয়াছেন। তাঁহার অনাগমনে অন্যকে মাল্যদান করিলে সতীত্ব নষ্ট হইবে এই আশঙ্কায় জীবনত্যাগে উদ্যতা হইয়া আলীগণকে (সখীগণকে) বহ্নিকুণ্ড প্রস্তুত করিবার অনুমতি প্রদান করিলে আলীগণ সবিনয়ে বলিতেছেন যে, আমি রাজবালে! আত্মহত্যা শাস্ত্ৰবিগর্হিত কৰ্ম্ম হইতেছে ; অতএব ইহা কিরূপে আচরণীয় হইতে পারে? তখন আলীগণকে সম্বােধন পূৰ্ব্বক বলিতেছেন “নিষিদ্ধ মপ্যাচরণীয়মাপদীতি” । ৪৬ | নিষিদ্ধমপ্যাচরণীয়মাপদি, সতী ক্রিয়া নাবতি যত্ৰ সৰ্ব্বদা। ঘনমুনা রাজপথেহপি পিচ্ছিলে, কচি বুধৈরপ্যপথেন গম্যতে ॥ ৪৭। ইতি নৈষধে উক্তং। t অস্যাম্বয়াে যথা-যত্র বিষয়ে সদা সর্বস্মিন্ কালে সতী ক্রিয়া সৎ- ক্রিয়া নাতি ন রক্ষতি, তত্র স্থলে আপদি আপৎকালে নিষিধ্যংকাৰ্য্য মপি আচরণীয়ং করণীয়মিত্যর্থ। উদাহরণং যথা—ঘনাঘুনা রাজপথেহপি পিচ্ছিলে মেঘবারিণা রাজমার্গে অপি নিশ্চিতং পিচ্ছিলে সতি কচিৎ কস্মিয়েব সময়ে বুধৈরপি পণ্ডিতৈরপি অপথেন কুমার্গেণ গম্যতে তথেতি। পদসাধনাদিকং যথা—নিষিদ্ধমিতি নি-পূর্বাৎ সিধু গ্যাং ইতস্মাৎ ক্ত প্রত্যয়ে নিষিদ্ধং নিষ্পন্নং। অপি ইত্যব্যয়ং নিশ্চিত বাচকার্থে অত্র প্রয়ােগঃ। আচরণীয়মিতি আপূর্বাৎ চর গমনে ইত্যৎ কর্মণি অনীয়-প্রত্যয়ে সতি আচরণীয়মিতি। ভুকৃঞ করণে, ইত্যঃ “কুশশ্চ” ইঙ্গি সূত্ৰেণ ভাবে প্রত্যয়ে ক্রিয়া ।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। নিষ্পন্ন। অবতীতি অব রক্ষণে ইত্যস্মাৎ বর্তমানে ক্যাস্কিপিকৃতে অবতীতি নিষ্পন্নং। ঘনাথুনেতি ঘনানাং মেঘানাং অম্বু ঘনায়ু তেন। রাজ্ঞঃ পন্থাঃ রাজপথঃ তস্মিন্ ন পন্থাঃ অপথঃ তেন। গম্যতে ইতি গমধাতাে রুত্তরে কর্মণি ক্যাস্তে-কৃতে গমতে ইতি সাধ্যং। ৪৭। অবঙ্গভাষা যথা—মেঘবারি দ্বারা রাজপথ পিচ্ছিল হইলে কোন কোন সময়ে পণ্ডিতগণও তাহার পার্শ্ববর্তি কু-স্থান দিয়া অর্থাৎ সেই রাজপথের পার্শ্বস্থ অপবিত্র স্থান দিয়া ও গমন করিয়া থাকেন ; সেই মত--যে বিষয়ে জনগণ কোন ক্রমেই সৎপথাবলম্বী হইয়া ধর্মসঙ্গত অভীষ্ট সিদ্দিজনক কাৰ্য্য করিতে পারেন না, সেই বিষয়ে নিষিদ্ধ কৰ্ম্মও আচরণ করিবার ব্যবস্থা হইতে পারে। ৪৭। অৰ্ধাবগুষ্ঠিত-দুশ্চরিত্র-পত্নী-কৌতুক মৃত্যু-বসুন্ধরয়ােরপি কৌতুকঞ্চ দুশ্চরিত্রা স্ত্রী অর্ধাবগুণ্ঠিত হইয়া আনন্দ প্রকাশ করিতেছেন। তদ্বৎ শরীয়াভ্যন্তরস্থ মৃত্যু এবং বসুন্ধরা ও হর্ষ প্রকাশ করয়াি থাকেন। মৃত্যুঃ শরীরগােপ্তারং, স্বীকৰ্তারং বসুন্ধরা। দুশ্চরিত্রেব হসতি, মমেতি সুতবৎসলং ॥৪৮৷৷ “অনুষ্টুপছন্দ?” অস্তান্বয়ে যথা--দুশ্চরিত্রা ব্যভিচারিণী স্ত্রী সুবৎসলং পুত্র- প্রিয়ং স্বামিনং দৃষ্ট। অর্থাৎ পুত্রপ্রিয়ঃ স্বামী দেশান্তরাৎ সমাগত সন্ জারজং পুত্রং সাদরং ক্রোড়ে নীত্বা নয়তি অস্মিমেব সময়ে তস্য দুশ্চরিত্র। পত্নী অৰ্দ্ধাবগুণ্ঠিত। সতী দূরা তং সুত-বৎসলং স্বামিন দৃষ্টা কস্য জাতং পুত্রং কো নয়তীতি মনসি চিয়িত্ব যথা হসতি কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। তথা মৃত্যু শরীরাভ্যন্তরস্থ-মরণং শরীর-গােপ্তারং শরীর-রক্ষা-কৰ্ত্তারং জনং দৃষ্টা হসতীতি শেষঃ। তথৈব বসুন্ধরা পৃথ্বী স্বীকৰ্ত্তারং অস্বং স্বং কৰ্ত্তারং জনং দৃষ্টা হসতি হাসং করােতীত্যৰ্থঃ ॥ ৪৮। পদসাধনাদিকং যথা—শরীরগােপ্তারমিতি শরীরং গোপায়তি ইতি বাক্যে শরীর পূর্বাৎ গুপধাতােরুত্তরে করি তৃন্ প্রত্যয়ে সতি শরীরগােপ্তা ততো দ্বিতীয়ায়। অমি কৃতে শরীর-গােপ্তারং পদং সিদ্ধং। স্বীকারমিতি অং স্বং করােতি ইতি বাক্যে অভূত- তভাবে দ্বি-প্রত্যয়ে স্বীকৰ্তারমিতি সিদ্ধং। অপরং সুগমং ॥ ৪৮। - অস্তবঙ্গভাষা যথা—বহু দিনান্তে দূরদেশ হইতে গৃহ সমাগত স্বামী পুত্রবৎসল হইয়া অজ্ঞাত জারজপুত্রকে সাদরে ক্রোড়ে লইয়া “ওরে আমার বাপ ধনটা, ওরে আমার সােনার যাদু” ইত্যাদি বাক্য বলিতে বলিতে পুলকিত হইয়া জারজ পুত্রকে যখন নৃত্য করাইতেছেন, সেই সময়ে পা অন্ধাবগুণ্ঠিত হইয়া কিঞ্চিৎ দূর হইতে অবলােকন করিতে করিতে সহাস্য বদনে মনে করিতেছেন যে, “কাহার পুত্র কে নাচাইতেছে ইত্যাদি মনে ধারণ করিয়া যেরূপ হাসিতে থাকেন, সেইমত শরীরাভ্যন্তরস্থ মৃত্যু দেহ-বিন্যাস-কারীকে টেড়িকাটা ও আতর গােলাপ মর্দন কারীকে দৃষ্টি করিয়া হাসিতে থাকেন, দেহ বিন্যাসকারী তৎকালে অর্থাৎ টে-ড়ি কাটিবার সময়ে বা গোপে আতর দিবার সময়ে ভ্রমেও মনে করেন না যে, এই শরীরােৎপন্ন সহ মৃত্যুও সৃষ্টি হইয়া দেহাভ্যন্তরে জীববৎ সতত বাস করিতে ছন, সেই মৃত্যু উপযুক্ত সময়ে এই পঞ্চ ভৌতিক দেহের ঘাড় ভাঙ্গিয়া শমন ভবনে লইয়া যাইবেন, এবং যে মুখকে আতর গােলাপে সৌগন্ধময় করিতে- ছেন, অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়াকালে সেই সৌগন্ধময়-মুখমণ্ডলে অগ্ৰেই প্রিয় পুত্র প্রজ্বলিত হুতাশন দ্বারা টেড়িসহ সেই মুখমণ্ডল দীভূত করিবে-ইহা ভ্রমেও চিন্তা করেন না । ৪৮ ! তদ্রুপ বসুন্ধরা { পৃথ্বী । পরভূমি গ্রহণােদ্যত মানবকে দর্শন করিয়া পূৰ্ববং হাস্য করিতে করিতে মনে করেন যে, দৈতপতি বলি, শুম্ভ নিশুম্ভ ও রাবণ ' } কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ইত্যাদি কেহ-ই আমাকে অধিকার করিয়া রাখিতে পারেন নাই, এক্ষণে তুমি পিতৃব্যগণ ইত্যাদি জ্ঞাতিবর্গের অজ্ঞাতে কিঞ্চিৎ ভূমি অধিকার করিতেছ ; কিন্তু তোমাৰ পতনে যে আমি কাহার হইব ? তাহাৰ হব নাই। তবে কেন বৎস! পৰভূমি অধিকার করিবার চেষ্টা পাইতেছ ? আমাকে এ পর্যন্ত কেহই অধিকার করিতে পারেন নাই ইত্যাদি মনে করিয়া বসুন্ধরা ও হাস্য কবিতে থাকেন । ৪৮ সতীত্ব রক্ষার চেষ্টা এবং পরিণামে অদ্ভুত ফল। এই ভারত বঙ্গীয় কোন প্রদেশে পণ্ডিত প্রবর এবং কবি চুড়ামণি এক বাহ্মণ বর্ষাসময়ে অধ্যাপনানন্তর চম্পাঠীগৃহে বসিয়া বিশ্রাম করিতেছেন, এমন সময়ে অনতিদূরে রাজমার্গে তক্ৰ বিক্ৰয়িণী একটী গাে-গৃহিণী কক্ষে এবং মস্তকোপরি তক্ৰ কুম্ভধারিণী হইয়া গমন করিতে করিতে পিচ্ছিল-পন্থাম পদদ্বয় বিচলিত হইয়া ছিন্নমূল কদলীতরুর ন্যায় ভূতলে পতিত হইলে, তৎক্ষণাৎ তক্ৰ কুদয় 'গ্ন হইয়া তক্র: ঘােলসমূহ ) ভূতলে পতিত ও নষ্ট হইয়া গেল এবং সৰ্বাঙ্গ কর্দমাকীর্ণ হইল, বিশেষতঃ নিতম্ব, কর্দমময় ও আঘাত প্রাপ্ত হইয়াছিল, তজ্জন্ত বিলাপ না করিয়া সেই সময়ে ঐ তক্র-বিক্ৰয়িণী গােপগেহিনী চতুর্দিকে নিরীক্ষণ করিয়া কোন জন- প্রাণীকে দেখিতে না পাইয়া পতন জন্য দুঃসহ ভীষণ যাতনা সহ্ন করিযা ও হস্যপূর্ণ-প্রফুল্ল বদনে প্রস্থান করিতে লাগিল, বােল নষ্ট জন্য কিছুমাত্র বিপন্ন বা বিলাপ প্রকাশ করিলেন না; পণ্ডিত কবিবব ইত্যাদি বিষয় ঔষ্পাঠীর অভ্যন্তরস্থ ক্ষুদ্র বাতায়ন দ্বার দিয়া সম্যক দেখিয়াছিলেন এবং বিচার করিয়া জ্ঞান হইল যে, তক্র-বিক্রয়ণী ঘােলপূর্ণ কলস-দ্বয় ভগ্ন করিয়া দুঃখিত না হইয়া কৌতুকাবহ হইয়া হর্ষ-চিত্তে হাস্য করিতে করিতে ধাবিত হইল কারণ কি? এই তর্ক ও বিতর্ক করিয়া সিদ্ধান্তে স্থির হইল যে—ইহার মধ্যে বিশেষ কোন গুঢ় তাৎপৰ্য আছে-এই জ্ঞানে তাহা জানিবার নিমিত্ত কবিবর, প্রস্থিত গােপ গৃহিণীর পশ্চাৎ ধাবিত হইলেন, বহুদূরে গমনান্তে সাক্ষাৎ করিয়া বহু স্তুতি ও বিনয়ে কহিলেন সুন্দরি । তােমার পতন, কলস-ভগ্ন এবং বহুঘােল নষ্ট ইত্যাদি কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। জন্য কোন বিলাপ না করিয়া হাস্যপূর্ণ বদনে প্রস্থিত হইলেন, ইহা "আমি গুপ্ত- ভাবে সম্যক দেখিয়াছি; কিন্তু তাপূর্ণা হইবার হেতু কি ? ইহার গুপ্ত বিবরণ বলিয়া প্রীতি দান করিলে সুখী হইব, আমি ব্রাহ্মণ মৎসমীপে সত্য বলিবে ; নতুবা অভিশপ্ত ও নিলয়-গামিনী হইবে—ইত্যাদি প্রকারে পৃষ্টা গােপ-গৃহিণী বর্ণনা করিতে সম্মত না হওয়ায় বহুল উপাসনায় এবং কবিবরের বিশেষ স্তুতি, অনুনয়ে ও অনুবােধে বাধ্য হইয়া বলিতেছেন, যথা—“হত্বা নৃপনিত্যাদি” যথা- হত্বা নৃপং ভুজগ-দষ্ট-পতিং বিলােক্য, দেশান্তরে বিধিবশাদ গণিকাহস্মি জাতা। পুত্রং পতিং সমধিগম্য চিতাধিরূঢ়া, শােচামি গােপ-গৃহিণী কথমদ্যতক্রং ॥ ৪৯। অন্যান্বয়ে। যথা-অহং যা গােপ-গৃহিণী নৃপং হত্বা রাজানং বিনাশ নিজালয়ং গা ভুজগদষ্টপতিং বিলােক্য সর্পদষ্টস্বামিনং দৃষ্টা দেশান্তরে প্রস্থিতা সতী বিধিবশাৎ বিধি-বিড়ম্বনাৎ গণিকা বেশ্যা জাতা, অস্মি, ততঃ পুত্রং পতিং সমধিগম্য গর্ন্তজাতনিজপুত্রং উপ- পতিত্বেন প্রাপ্য, বিত্তবিমূঢ়া পাপনাশর্থিং চিয়াং অধিরূঢ় আসম ; ততাে গােপগৃহিণী সতী তক্রং বিক্ৰীণামি, অধুনা সা গােপগৃহিণী গােপপত্নহং অদ্য কথং কেন প্রকারেণ কিঞ্চিৎ তক্ৰাথং শােচামি শােকং করােমীতি’শেষঃ ৪৯। ব্যাকরণং যথা—হত্বেতি হলো বধে গতোঁচ ইত্যস্মাৎ ত্বা- প্রত্যয়ে হত্বাপদং সিদ্ধং, ভুজগদষ্টপতিমিতি ভুগেন ভুজঙ্গমেন দষ্টঃ স চাসৌ পতিশ্চেতি ভুজগ-দষ্টপতিঃ তং। বিলােক্যেতি বিপূৰ্বাৎ লােকৃঙ দর্শনে, তস্মাৎ জ্বাচ্-প্রত্যয়স্থানে যপি কৃতে বিলােক্য-পদং সিদ্ধং। দেশান্তরে ইতি অন্যোদেশ দেশান্তরং তস্মিন। অশ্মীতি কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অল-ভূবি তস্মাৎ ক্য। মিস্ প্রত্যয়ে কৃতে অস্মীতি সিদ্ধ। জাতেতি জনীম্য জনো ইত্যস্মাৎ ক্ত প্রত্যয়ে জাতেতি নিষ্পন্নং, ইতঃ স্ত্রীলিঙ্গে আপ্ প্রত্যয়ে জাত।পদং সিদ্ধং। সমাধগম্যতি সংপূর্বাৎ অধিপূর্বাচ্চ গমধাততারুত্তরে ক্ত স্থানে যপি কৃতে সমধিগম্য পদং সিদ্ধং। চিতায়াং অধিরূঢ়া চিতাধিরূঢ়। ইত্যত্র সপ্তমী-তৎপুরুষ! অধিরূঢ়তি অধিপূর্ববাৎ রুহধতােৰুত্তরে ক্ত-প্রত্যয স্ত্রীলিঙ্গে আপ্প্রত্যয়ে নিষ্পন্নং, জি রুহো জ্যাং ইতিগণপাঠঃ। শুচ শশাকে ইতস্মাৎ বর্তমানে ক্যা মিস্ প্রত্যয়ে শোচামীতি সিদ্ধং। কথমিতি কেন প্রকারেণ ইতি বলে কথমিতি সিদ্ধং। অস্মিন্নহীন ইতিবাক্যে অস্থেতি নিষ্পন্নং। অন্যৎ সুগমং! ৪৯ । অস্ত ভাবেন সহ বঙ্গভাষা-যথা--এই শােকের ভাবার্থ প্রকাশ করিতে হইলে কালাপাহাড়ের ইতিহাস কিঞ্চিৎ বৰ্ণনা করিতে হইবে, সুতরাং কালাপাহাড়ের বিবরণ সংক্ষেপে কিঞ্চিৎ বর্ণিত হইল যথা- কালাপাহাড় প্রথমে পবিত্র বাহ্মণ কুমার ইষ্ট নিষ্ঠাচারী তাপস ও অতি-সুশ্রী বলিয়া বিখ্যাত ছিলেন, কোন গতিকে তাকে, দিল্লীশ্বরের অবিবাহিতা যুবতী কন্যা, পরিদর্শন করিয়া তাহার রূপে মুগ্ধ হইলেন, এবং পিতা দিল্লীশ্নরকে কৌশলে জানাইলেন “ঐ পাত্র আমার বর না হইলে বিবাহ করিব না” ; সুতং দিল্লীশ্বর বাধ্য হইয়া উক্ত পবিত্র ব্রাহ্মণকে বহুচষ্টায় আনাই বিনয় বাক্যে কহিলেন, “আমার জামাতা হইতে হইবে; যেহেতু আমার কন্যা অপনাকে ভিন্ন অন্যকে বিবাহ করিবেন না,” ইহা তমাত্র চমকিত হইয়া কালাপাহাড় কহিলো -দেব! এখানে বিবাহ করিলে ধৰ্ম্মচ্যুত, জাতিচ্যুত, সমাজচ্যুত ও আচার ভ্রষ্ট হইব । অতএব আমি এ বিবাহ করিব না—ইত্যাদি বাক্যে বিবাহ প্রস্তাবে অস্বীকার হইলে দিল্লীশ্বর বলপূর্বক ধর্মচ্যুত করিয়া স্বীয় কন্যা সহ বিবাহ কাৰ্য্য সম্পন্ন করাইলেন এবং উক্ত জামাতাকে সেনাপতিত্বে বরণ করিলেন— উক্ত কালাপাহাড় স্বভাবতঃই বীর ছিলেন, সেনাপতিত্বে বৃতি হইয়া মহাবীর ৬২ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। বলিয়া বিখ্যাত হইলেন, পরে তিনি বহুল প্রভূত্ব এবং সেনাপতিত্ব লাভ করিয়া বিচার করিলেন যে, আমি একজন সদব্রাহ্মণ পুত্র, ইষ্ট-নিষ্ঠাবান্ পবিত্র ব্রাহ্মণ ছিলাম, আমাকেই যখন ধর্মচ্যুত হইতে হইয়াছে, তখন আৰ্য্যধৰ্ম্ম মিথ্যা এবং দেবদেবীও মিথ্যা –অতএব ইহা নষ্ট করাই যুক্তিযুক্ত; এই মন্ত্রণা স্থির করিয়া সসৈন্যে দিল্লী হইতে বহির্গত হইয়া ভারত-বর্ষীয় প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ দেব দেবীর মনােহর মূর্তি ও দেবগৃহ এবং মন্দিরাদি ভগ্ন করিয়া যাহাতে হিন্দু ধর্ম বিলুপ্ত হয়, তদ্বিষয়ে বহুল চেষ্টা পাইয়াছিলেন ইত্যাদি-ইত্যাদি হত্বা নৃপমিত্যাদি শ্লোকেও সেই প্রকার, যথা আমি গােপােপত্নী অর্থাৎ এই গােপগৃহিণী কোন প্রদেশে যুবতী এবং শ্রীমতী ও ব্রাহ্মণ পত্নী ছিলাম, সতী সাধ্বী পতিব্রতা ভাবে থাকিবার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবতী হইয়া কালাতিপাত করিতেছি- এমন সময়ে একদা তত্রস্থ যুবরাজের দৃষ্টিপথে পতিত হইলাম, তদবধি রাজকুমার মুগ্ধ হইয়া দূতি প্রয়ােগ ও দূতিদ্বারা অর্থপ্রয়ােগ ইত্যাদি বহু যত্নেও সম্ভোগ চেষ্টায় হতাশ হইলে একদিন বহুল দুষ্ট পারিস দ্বাৰা ঘাের তিমিরাচ্ছন্নমধ্য রজনীতে বলপূৰ্ব্বক চৌর্যবৃত্তি দ্বারা একটী নিজাধিকারস্থ উদ্যান ভূমির মধ্যগত প্রাসাদ পুরীর অভ্যন্তরে লইয়া বলাৎকার করিবার অভিপ্রায় ও চেষ্টা সময়ে হৃতা ও বিপন্ন হইয়া মনে মনে জানিলাম, আর সতীত্ব রক্ষার উপায় নাই, তখন সরল ভাবে কহিলাম--প্রিয় রাজ কুমার ! আমা সহ যদি প্রেমালাপ বাসনা করেন, তাহাতে আমিও সম্মত আছি; কিন্তু এক্ষণে আমি যখন সহজেই আপনা সহ আলিঙ্গন করিতে বাধ্য হইলাম, ৩থন উভয়ে মিলিয়া আমোদ প্রমোদ করিবার সুবনবস্ত না করিলে কিরূপে কৌতুকাবহ রতিক্রিয়া হইতে পারে ? এবধি বহুল স রস বাক্যে আশ্বাসিত হইয়া যুবরাজ কহিলেন—প্রিয়ম্বদে । এবিষয়ের সুব্যবস্থায় আমি নিতান্ত অনভিজ্ঞ ; অতএব আপনি কামযুদ্ধে রণ- পণ্ডিত হইতেছেন প্রিয়ে ! যাহা যাহা করিতে অনুমতি করিবেন, তব-প্রেম- কাজ্জী হইয়া তাহাই করিতে বাধ্য-এই রতিক্রিয়ায় কি কি করা উচিত, তাহা আদেশ করুন- তখন আমি কহিলাম নাথ ! আমি কুলবধু হইয়া অন্যান্য লােক বিদ্যমানে কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। আপনা সহ কিরূপে প্রেমালাপ করিতে পারি? এই উদ্যান ও পুরী হইতে সম্যক লােক অন্তর্হিত হইলে উভয়ের সুখকর প্রেমালাপ হইবে নাকি? তাহা শুনিয়া যুবরাজ কহিলেন –তথাস্তু (তাহাই হউক) এই বলিবা-মাত্র রাজাজ্ঞায় সম্যক লােক উদ্যান ও প্রাসাদপুরী হইতে নিঃসারিত হইল। সুন্দরী হরণের সুসজ্জীভূত বীরগণ সহ বীরােচিত পরিচ্ছদাদি ধারণে রাজ- কুমার দণ্ডায়মান ছিলেন—তদৃষ্টে আমি কহিলাম মহারাজ! এই কি আপ- নার কাম যুদ্ধের বেশ ? এই বাক্যে যুবরাজ লজ্জিত হইয়া গৃহের একদেশে ( কোণে ) তরবারি রক্ষা করিয়া রমণী সম্ভোগের পরিচ্ছদাদি পরিধান করিতেছেন, এমন সময়ে আমি হৃতা সাধ্বী যুবতী মহাসুযােগ বুঝিয়া ভীষণ-মূর্তি ধারণ করিয়া তীব্রবেগে তরবারির নিকটস্থ হইয়াই অসি নিষ্কোষিত পূৰ্ব্বক তড়িতের ন্যায় বেগে যুবরাজের মস্তকচ্ছেদন করণার উদ্যান-ভূমির প্রাচীরাদি উল্লঙ্ঘন পূৰ্ব্বক তটস্থ ভাবে গৃহে গমন করিয়া দৃষ্ট করিলাম ভুজগ-দষ্টপতি মহাযন্ত্রণা (ছটফট্ ও ভীষণ জ্বালা} ভােগ করিতেছেন। তদৃষ্টে আমি কহিলাম,-দেব ! একি অবস্থা ঘটিল? তখন ভুজঙ্গ-দষ্ট স্বামী কহিলেন—“তােমাকে হরণ করিয়া প্রস্থান করিলে, এই শিশু পুত্র ক্রোড়ে লইয়া নিকটস্থ বন জঙ্গলে অনুসন্ধান করিতে করিতে ভুজঙ্গ-দষ্ট হইয়াই তৎক্ষণাৎ শিশু সহ বহুকষ্টে ভবনে আসিয়াছি-ঐ তােমার শিশুপুত্র গ্রহণ কর-এক্ষণে বড়ই যাতনা আর সহ্য হয় না, প্রাণত্যাগ হইবে- এই বলিতে বলিতে বিষে আচ্ছন্ন স্বর ভঙ্গ ও কথা নাকি সুরে হইল এবং অজ্ঞান হইয়া প্রাণত্যাগ করিলেন, তদৃষ্টে আমি শেষ রজনি নিষ মৃত স্বামী ও শিশু পুত্রকে রক্ষ! করতঃ প্রস্থান করিলাম। আমি নৃপহন্ত্রী হইয়া প্রাণভয়ে দশ পনের দিনের পথ গমন করিয়া এক মহানগরী প্রাপ্ত হইলে, তত্রস্থ বারাঙ্গণ আমাকে সুন্দরী ও যুবতী দেখিয়া মহাযত্ন ও সেবাদি দ্বারা বশীভূতা করিলেন এবং ক্রমে ক্রমে বেশ্যা বৃত্তিতেও নিপুণা করিলেন- পরে আমি সেই ব্রাহ্মণ-রমণী হইয়া গায়িকা, নৃত্যকী ও অতি রসিকা পদবাচ্যে পরিগণিত হইয়া যথেষ্ট ধনােপাৰ্জনে শক্তিশালিনী হইলাম, এবং ধনাঢ্যা ও বিখ্যাত বেশ্যা হইয়া পরম সুখে কালাতিপাত করিতেছি-এমন সময়ে কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ) আমার গৃহে নবাগত এক সওদাগর কৌতুকাৰ্থ সমাগত হইয়া নৃত্যদর্শন ও সঙ্গীত শ্রবণ করিয়া পরিশেষে আমাকে সম্ভোগ করিলেন--তৎপরে অর্থাৎ গাঢ় প্রেম- লাপের পর ঐ নায়ককে জিজ্ঞাসা করিলাম, প্রাণেশ্বর ! আপনি কোন দেশের সওদাগর ? জীবন বৃত্তান্ত কেনন? জাতি-ই বা কি ? কোন প্রদেশে ও কোন গ্রামে বা নগরে বসতি ? পিতার ও পিতামহের নামই বা কি? শ্বশুরাশ্রম কোথায় ? নিজালয় হইতে তাহা কতদুর ? আমার স-পত্নী দিদি কাদৃশী সুন্দরী ? তিনি রসিকাই বা কেমন ? ইত্যাদি বিষয় জানিতে অতীব বাসনা হইয়াছে, যদি অধিনীর প্রেমালাপে বাধ্য হইয়া থাকেন, তাহা হইলে এ দাসীকে আত্মপরিচয় দানে চরিতার্থ করুন, তাহাতে কৃতকৃতার্থ হইব, সময়ে সময়ে পত্রাদি লিখিবার জন্য পত্র পৌছিবার স্থান ( ঠিকানা) নির্ণয় করিয়া দিয়া পরিতুষ্টা করুন। ইত্যাদি প্রশ্নে বাধ্য হইয়া নবাগত সওদাগর স্বরূপাখ্যান বলিতে প্রতিজ্ঞা পাশে বাধ্য হইয়া বলিতেছেন যথা—মধুর ভাষিণি ! প্রিয়ে ! আমি ব্রাহ্মণ কুমার, এই হতভাগ্যের নাম “বসন্ত প্রকাশ”, আমার জীবন বৃত্তান্ত ভীষণ এবং অদ্ভুত কাহিনী বলিতে লােমহর্ষণ হয়। তখন আমি ( গােপগেহিনী) কহিলাম, তাহা হইলে তাে আমার শ্রোতব্য ও জ্ঞাতব্য ; অতএব তাহা বলিতে ই হইবে, ইহা শুনিতে আনন্দ বােধ করি। তচ্ছ বণে ব্রাহ্মণ বণিক বলিতেছেন যথা—আমার মাতামহ ধনাঢ্য ; তৎকর্তৃক লালিত ও পালিত, তিনিই আমাকে বাণিজ্য কাৰ্য্য শিক্ষা দিয়াছেন, বিদ্যাভ্যাস করাইয়াছেন, এবং বিবাহ দিয়া অনেক ধনদৌলত প্রদান পূৰ্ব্বক সঙ্গে লইয়া নানানগরে ও নানা রাজ্যে সমুদ্র যান দ্বারা পরিভ্রমণ করাইয়া বাণিজ্য (ব্যবসা ) শিক্ষা দিয়া স্বর্গবাসী হওয়ায় এক্ষণে আমি একাকীই বাণিজ্য করি। তখন আমি ( গােপগেহেনী) কহিলাম, “নাতামহের নাম ও আবাস স্থান ? ইহা শ্রবণে যুবক কহিলেন—বঙ্গরাজ্যের মধ্যগত কাঞ্চন নগরাধিপতি “রাজা গােলকেন্দু” আমার মাতামহ ছিলেন। তখন আমি (গােপগেহিনী) বিস্ময়াপন্ন হইয়া কহিলাম --কৈ আপনার পিতা ও মাতার পরিচয় তাে কিছুই দিলেন না ?---তুচ্ছ বণে যুবক কহিতে লাগিলেন। ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। আমার মাতা শ্ৰীমতী তিলক মুঞ্জরী দেবী, মাতামহের এই এক কন্যামাত্র, তিনি আমায় সপ্তম বা অষ্টম মাস বয়ঃক্রমের সময়ে কৰ্তব্য কৰ্ম্মজ্ঞানে তত্রস্থ রাজকুমারকে স্ব-হস্তে হত্যা করণানন্তর সর্পদষ্ট স্বামীর মৃত্যু তৎক্ষণাৎ দেখিয়া প্রাণভয়ে অধৈৰ্য্য ও কাতরা হইয়া আনাকে গৃহাভ্যন্তরে রক্ষা করিয়া ফেলিয়া) দেশান্তরে প্রস্থান বা মহাপ্রস্থান করিয়াছেন, তদবধি মাতামহ দ্বারা পপাসিত, পালিত ও শিক্ষিত হইয়াছি” ইহাই জনশ্রুতি হইয়াছে। ইত্যাদি শ্রবণে অনি হতভম্ব ও অজ্ঞান হইয়া ধরাশায়িনী হইয়া যুবককে তৎক্ষণাৎ গমনের ব্যবস্থা ও উপার কলির বিদায় দিলাম এবং কহিলাম আপনি আ ন গৃহে আর কদাপি আগমন করিবেন না , তিনিও তথাস্তু বলিয়া দুঃখিত হৃদয়ে ও অমর্যাদা বােধে প্রস্থান করিলেন। তৎপৰে আমি (গােপগেহিনী) মনে করিলাম, পরম পিতা পরমেশ্বরের কৌশল কে বুঝিতে পারে ? আমি ছিলাম কি ? হোয়েছিই বা কি ? পরিশেষে নিজ- গ এজাত পুত্রগামিনী হইলাম !!! “হ!!! হতাম্মি” হে পরমেশ! কি করি- লেন ? ইহার পর আপ ই বা কি দুর্গতি কবেন। তাহাও তাে জানি না প্রভাে!- সকল অপরাধ নানা করুন -পুত্রগানিনা এ নারীর পায়ের উপাস কি নারায়ণ ! ইত্যাদি বিবেচনা করিয়া চতুষ্পঠীর ধর্মশাস্ত্রানুসারে তৈলবট প্রদান পূৰ্ব্বক তুষানলে দেহত্যাগের ব্যবস্থা পাইয়া নিজ বৈভব সকল বিক্রয় ও দান করিয়া নগদ মুদ্রা দ্বারা চাই, দাল, আটা, ময়দা, স্বত, চিনি, মধু ক্রয় করিয়া ভাণ্ডার বসাইয়া সওদাব্রত কাৰ্য্যে সম্যক বৈভব দান করি এবং ভাগিরথী তীরে ধূপ, ধূনা, গু গুলাদি দ্বারা সুগন্ধময় এবং গব্যঘৃতাক্ত নবজড়িত বিপুল চন্দন- কাষ্ঠাদি দিয়া অতি সুবৃহং চিতা প্রস্তুত কৰাইয়া নিজের শরীরকে ও ঘৃতাক্ত বস্ত্র জড়িত করাইয়া চিতাধিরূঢ় হইলাম চিতার নিয়ে বহ্নিসংযােগের অনুমতি করণানন্তর পুত্রমনজ পাপ ও অন্যান্য পাপক্ষয়কামিনী হইয়া দ্বিতলসম উpp চিতার উপরি উত্তান ভাবে শয়নে শ্রীভগবচ্চিন্তায় নিমগ্না ছিলাম ; তাহার কিয়ৎকাল পরেই চিতাকাষ্ঠ সকল অগ্নিময় হইল সেই ভীষণ অগ্নির তেজে ও উত্তাপে আমার সৰ্ব্বশরীর অর্ধদগ্ধ সময়ে অত্যুচ্চ চিত। ভগ্ন হইয়া ভাগিরথীর জলে পতিত ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। হওয়ায় আমিও চিত হইতে জলমগ্না হইলাম। তন্নিবন্ধন সর্বশরীর ফোকা ও ক্ষদিতে পরিপূর্ণ হইয়াছিল, তৎকালে আমাকে দেথিতেও কিম্ভুতকিমাকার এবং অলনে ও ভীষণ যাতনায় প্রাণ বহির্গত প্রায়, এমন সময়ে বিধি-বশাৎ বর্ষাগমে (মেঘাচ্ছন্ন হইয়া বৃষ্টি পতনে) চিতা নিৰ্বাপিত হইল ; সেই দুর্দিনে নগ্নাবস্থায় ভাগীরথীর জলমগ্নাবস্থায় অতিবাহিত হইল, পরদিনের দ্বিতীয় প্রহর পৰ্যন্ত দুঃসহ ক্ষুধায় কাতর জন্য দশদিক নিরীক্ষণ করিতেছি, ইত্যবসরে পরমেশ-প্রেরিত আনার নিজ বাটীর এবং অন্যান্য সম্রান্ত বংশে দুগ্ধ যোগান দিয়া শুন্যভার স্কন্ধে লইয়া এক গোপৱাজ সানন্দে গান করিতে করিতে অনতিদূরস্থ রাজমার্গাবলম্বনে নিজগৃহাভিমুখে প্রত্যাগমন করিতেছিল, সেই গােপেশ্বরকে মৃদুস্বরে এবং ক্রন্দন ধ্বনিতে বারম্বার আহ্বান করিতে করিতে তাহার শ্রুতি গােচর হইলে কৃপাবলােকনে আমাকে দৃষ্টি করিয়া সন্নিহিত হইলে মদীয় দুর্গতি দৃষ্টে এবং দুঃখকাহিনী শ্রুত হইয়া আগন্ত বিবরণ অবগতে আমার দুঃখে শােকার্ত হইয়া পড়িল, এবং তৎক্ষণাৎ কিঞ্চিৎ দুগ্ধ পান করাইলেন,আমিও সেই সময়ে গােপরাজের শরণাপন্ন হইলান, তিনিও মংপ্রতি করুণাময় হইয়া তাহার উত্তরীয় বসন ( লম্বা গামছা একখানি ) নিক্ষেপ পূৰ্ব্বক প্রদানে বিবস্ত্রা দোষ ও জলমগ্না হইতে উদ্ধার করত কহিলেন, “এসো ! এসাের আমানত ; আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া ক্ষতাদি হইতে উদ্ধারের চেষ্টা পাইব ইত্যাদি আশ্বাসিত বাক্যে আশ্বস্ত হইয়া সেই গোপরাজেব অনুগামিনী হইলাম, এবং ক্রমে ক্রমে ধীরে ধীরে ও অতিকষ্টে তাহার ভবনে উপস্থিত হইলে গাে-গৃহের (গােয়াল ঘরের) একপ্রান্তে থাকিবার স্থান লাভ করিলাম। তৎপরে গােপরাজ সযত্নে রাখিয়া নিমপাতাসহ গরম জলে ক্ষত ধেত করণান্তে শুঙ্গি-মৎস্য ( শিঙ্গি-মাচ) ভাজা তৈল, তেল পড়া, পােড়াত, পুরাণ নেপের তুলা, শিশির ইত্যাদি মহৌষধ * দিতে দিতে তাহার কৃপায় বহুদিনে আরাম হইয়া * পাঠক মহোদয়গণ। এই উপলক্ষে ক্ষত ও পােড়া ঘা আরামের মহতী চিকিৎসা অভস লিখিলাম, ইহা শিক্ষা ও স্মরণ রাখা আবশ্যক।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি পূৰ্ব্ববৎ রূপযৌবন লাবণ্যাদি সম্পূর্ণ না হউক, তথাপি কথঞ্চিৎ লাভ হইল এবং ক্রমে ক্রমে গাে:সেবা, গাভী দোহন ইত্যাদি কাৰ্য্য করিতে করিতে গােপরাজ সহ রসভাযায় আপ্যায়িত আরম্ভ হইল, ক্রমে তিনি আমার প্রেমে মুগ্ধ হইয়া আমাকে স্ত্রী হইতে অধিকতর ভালবাসায় মুগ্ধা করিলেন, এমন কি তাহার গৃহের সর্বময়ী কত্রী হইয়া যাহাতে যা ভাল হয়, তাহাই করি, দুগ্ধ হইতে ক্ষীর, শর, নবনী, ধৃত এবং ঘােল প্রস্তুত করিয়া বাজারে বাজারে ও পল্লির গৃহে গৃহে ভ্ৰমণ করিয়া নিত্য নিত্য ঘােল বিক্রয় করি, অদ্য দুর্দৈব বশতঃ মেঘ বারিবর্ষণ জন্য রাজপথ পিচ্ছিল প্রযুক্ত পঙ্কিল ও পিচ্ছিল পন্থাতে পদদ্বয় চঞ্চল ও অস্থায়ী হইয়া পতিত হইলাম ; কিন্তু নিতম্বে এবং সৰ্ব্ব শরীরে আঘাত প্রাপ্তিসহ ধরাশায়িনী হওয়ায় তকুম্ভদ্বয় ভগ্ন জন্য দুই কলস ঘােল নষ্ট— আমার পক্ষে বিলাপ যোগ্য কি ? এই মনে করিয়া হাস্য করত প্রস্থান করিতেছি এমন সময়ে আপনার মধুব সম্ভাষণে ও মধুরালাপে সন্তুষ্ট হইয়া হাস্থ্যের গঢ় বিবরণ নিশেষরূপে ব্রাহ্মণের অনুরােধে প্রকাশ করিলাম--এক্ষণে অনুমতি করুন গৃহে যাই, গৃহে উপস্থিত হইয়া গােপ রাজকে কটিতে তৈল মর্দন কৰিতে বলি- এই বলিয়! গােপগৃহিণী কবিবর ব্রাহ্মকে ভক্তি ও শ্রদ্ধাসহ প্রণিপাত পূৰ্ব্বক প্রস্থান করিল। তৎপরে কবিবর প্রত্যাগত হইয়া পরমপিতা পরমেশ্বরের অপূৰ্ব্ব কৌশল ও পূর্বজন্ম- র্জিত কৰ্ম্মফলের মহত্ত্ব সাধারণকে জানাইবার নিমিত্ত “হত্ব। নৃপমিত্যাদি” শ্লোক ব্ৰচনা করিয়াছেন। আমি ক্ষুদ্ৰপ্ৰাণী হইয়া কিঞ্চিৎ ভাব প্রকাশ করিলাম-- অধুনা সাধারণ ইহা পাঠ করিয়া নিজ বিদ্যা ও বুদ্ধির কৌশলে হ্রাস ও বৃদ্ধি করিতে পারেন। ইহাই শেযােক্তি। ৪৯ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। লক্ষীত্যাগ-লক্ষণানি। লক্ষ্মীছাড়ার চিহ্ন। নিত্যং ছেদ্যুণানাং ক্ষিতি-নখ-লিখনং পাদােেরল্পকূজং, দস্তানামল্পশৌচং বনমলিনতা রুক্ষতা মূর্ধজানাং । দ্বে সন্ধ্যে চাপনিদ্রা বিবসন-শয়নং গ্রাস-হাসাতিরেক, স্বাঙ্গে পীঠেচ বাদ্যং হরতি ধনপতে কেশবস্যাপি লক্ষনীং ॥ ৫০। ( সুগধরা - ছন্দঃ) অন্যান্বয়ে। যথা--নিত্যং প্রায়ঃ সততং তৃণানাং ছেদঃ, ক্ষিতিনখ- লিখনং ক্ষিতে পৃথিব্যাং নখেন লিখনং অঙ্ক, পাদমােশ্চরণয়ােরল্প- কূজং আল্লশব্দঃ, দস্তানাং দশননিং তাল্পং যথা স্যাৎ তথা শৌচং শুদ্ধিঃ মানমিতি বাবৎ অর্থাৎ দান্তে মলিনতা, বসন-মলিনত বসনে বস্ত্রে মলিনত্বং অর্থাৎ মলিন-বসন-পরিধানং, মূৰ্দ্ধজানাং কেশানাং রুক্ষমতা, দ্বে সন্ধ্যে সন্ধ্যাদ্বয়ােঃ অর্থাৎ প্রাতঃ সময়ে সায়াহ্নেচ চাপনিদ্রা প্রগাঢ় নিদ্রা, বিবসন-শয়নং উলঙ্গ ভাবেন শয়নং, গ্রাসহসয়ে। ভােজন-পিণ্ডস্থ হাস্যস্থচ অতিরিকঃ অতিরিক্ত ত্বং স্বাঙ্গে স্বস্ত অঙ্গে শরীরে পীঠে চ উপবেশন-সময়ে কাষ্ঠাসনে চ বাদ্যং এতৎ সর্বং হে ধনপতে! কেশবস্যাপি লক্ষীপতে হরেরপি লক্ষনীং কমলাং হরতি হরণং করােতি ॥৫০। ব্যাকরণাদিকং সুগমং। অশ্য বঙ্গভাষা যথা:- সতত তৃণছেদন, পৃথিবীতলে নখাদি দ্বারা অঙ্কপাতন, গমনাগমনকালে পায়ে অল্প অল শব্দ হওয়া, দন্তশ্রেণী অপরিষ্কার থাকা, মলিন বসন পরিধান, কেশ কলাপ রুক্ষ্ম, সন্ধ্যা এবং প্রাতে প্রগাঢ় নিদ্রা, উলঙ্গভাবে কবিতা-কুসুমাঞ্জলি শয়ন, ভােজনে এবং হাসচ্ছলে অতিরিক্ত হাসসহ মুখব্যাদন, স্বীয় অঙ্গে বা বক্ষঃস্থলে অথবা উপবেশন কালে কাষ্ঠ নির্মিত পীঠে বাদ্যকরণ ইত্যাদি চিহূসকল ভগবান কৃষ্ণচন্দ্রের থাকিলেও কমলাদেবী নাবাবণকে বজ্জন করিয়া প্রস্থান করেন ; অন্যে পরে কা কথা ? ৫০ বিক্রীত-কন্যা-গৰ্বজাতপুত্ৰশ্চাঙালো জায়তে । ব্রাহ্মণ জাতীয় বিক্রীত কন্যার গঠুজাত পুত্র চণ্ডাল পদে গণ্য।-- তৎপ্রমাণং যথা- বিক্রীতায়াশ্চ কন্যায়া যঃ পুত্রো জায়তে দ্বিজঃ । সতু চাণ্ডালে। বিজ্ঞেয়ঃ সৰ্ব্বধৰ্ম্মবহিস্কৃতঃ ॥ ৫১। “অনুষ্ট পছন্দঃ” যদি বিক্রীতাঃ ব্রাহ্মণ-কায়া গৱাৎ পুত্রঃ সংজাতঃ স্যা, তদা পশ্চাৎ সংস্কারেণাপি দ্বিজো নোচ্যতে; স হ চাণ্ডাল নাম্না খ্যাত এবং সর্বধৰ্ম্মবহিষ্কৃতঃ অর্থাৎ সর্বধর্ম বিবর্জিতঃ ॥ ৫১। ব্যাকরণাদিক সুগমং। অস্ত বঙ্গভাষা যথা বিক্রীত ব্রাহ্মণ-কন্যার গজাত পুত্রের বিধি পূৰ্ব্বক উপনয়নাদি সংস্কার হইলেও দ্বিজপদবাচ্যে গণ্য না হইয়া চণ্ডাল নামে অভিহিত হইবে। পণ দিয়া ব্রাহ্মণে বিবাহ করিলে কি পরিমাণে দুর্গতি ও দোষ, তাহা মহােদয়গণ বিচার করিলেই চরিতার্থ হইব। ৫১।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
দেব-দেবব্যারভেদে। যথা-
দশমহাবিদ্যা দশাবতাবাে ভবতি-তৎ প্রমাণং ব্রবীমি যথা—শ্ৰীতােড়লতন্ত্রে
পাৰ্বতী, শিব সংবাদে দশমােল্লাসস্য শেষভাগে কথিত মেতৎ।
অনুষ্ট ছন্দস শিব উবাচ।
তারাদেবী মীন-রূপা, বগলা কূৰ্ম্ম মূৰ্তিকা।
ধূমাবতী বরাহঃ স্যা,চ্ছিন্নমস্তা নৃসিংহিকা।
ভুবনেশ্বরী বামনঃ স্যাৎ, মাতঙ্গী রামমূৰ্ত্তিকা।
ত্রিপুরা যামদগ্ন্যঃ স্যাৎ, বলভদ্ৰস্তু ভৈরবী ।
মহালক্ষীৰ্ভবে বুদ্ধো, দুর্গা স্যাৎ কল্কিরূপিণী ।
স্বয়ং ভগবতী কালী, কৃষ্ণমূৰ্ত্তিঃ সমুদ্ভবা।
ইতি তে কথিতং দেবি !, অবতারং দশমেব হি।
এতাসাং পূজনাদ্দেবি, মহাদেব সমােভবেৎ।
আসাং ধ্যানাদিকং সৰ্বং, কথিতং মে পুরা তব ॥৫২।
এতেষামন্থয়াে যথা—১-তারাদেবী তারাখ্যামহাবিদ্যা মীনরূপ।
মীনাবতার-রূপা অর্থাৎ তারৈব মৎস্য-রূপেণাবতীণা। ২—তথ।
বগলা • বগলখ্যা মহাবিদ্যা কূৰ্ম্ম-মুৰ্ত্তিকা কচ্ছপ-রূপেণাবতীর্ণ।
৩—ধূমাবতী ধূমাবতীনাম্নী মহাবিদ্যা বরাহঃ স্যাৎ বরাতরূপেণা-
বতীর্ণা। ৪—ছিন্নমস্তা চিন্নমস্তাখ্যা মহাবিদ্যা নৃসিংহরূপেণাবতীণা।
৫-মাতঙ্গী মাতঙ্গীনাম্নী মহাবিদ্যা রামমূৰ্ত্তিক। রামরূপেণাবতীর্ণ।
৬—ত্রিপুরা ত্রিপুরাখ্যা মহাবিদ্যা যামদগ্ন্যঃ যাৎ, পরশুরাম-রূপেণা-
বতীর্ণ। ভবেৎ। ৭—ভৈরবী ভৈরবীনাম্নী মহাবিদ্যা বলভদ্রঃ স্যাৎ
বলরাম-রূপেণাবতীণা। ৮-মহালক্ষী ষােড়শী বুদ্ধঃ স্যাৎ বুদ্ধরূপে
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি । ! ণাবতীর্ণ। ৯ দুর্গ দুর্গাখ্যামহাবিদ্য। কল্কিরূপিণী কল্কিরূপেণাব- তীর্ণ। ১০-স্বয়ং ভগবতী কালী আদ্যাশক্তিঃ কৃষ্ণমূৰ্ত্তিঃসমুদ্ভবা কৃষ্ণরূপেণবতীর্ণা। হে দেবি ! ইতি দশমহাবিদ্যায় অবতারং দেব্য রূপান্তরং তে তুভ্যং কথিতং উক্তং ময়েতিশেষঃ। এতাসাং তারাদীনাং মহাবিদ্যানাং পূজনাৎ অর্চনাৎ মহাদেবসমাে ভবেৎ অর্চকে। মহাদেব-তুল্যে ভবেৎ আসাং মহাবিদ্যানাং ধ্যানাধিকং ধ্যানাদিমন্ত্ৰপৰ্য্যন্তং সর্ববং সমস্তং মে ময়া তব সমীপে কথিতং পূর্ব- মেবােক্তং * || ৫২। ব্যাকরণং-তে কথিতমিতি ক্রিয়া যােগে চতুর্থী। তব ইতি সম্বন্ধ বিবক্ষয়! ষষ্ঠী। মে ইতি করি তৃতীয়ৈকবচনে মে-আদেশ আর্ষঃ, অন্যৎ সুবােধ। ৫২ ১-তারাদেবী মহাবিদ্যা মীনরূপা অর্থাৎ মীনাবতার, ২--মহাবিদ্যা বালাদেবী কুৰ্ম্মমূৰ্তিকা অর্থাৎ কচ্ছপরূপে অবতীর্ণ,৩-ধূমাবতী মহাবিদ্যা বরাহ অবতার, ৪- ছিন্নমস্তা মহাদেবী নৃসিংহরূপে অবতীর্ণ, ৫--ভুবনেশ্বরী মহাদেবী বামনাবতার, ৬ মাতঙ্গী মহাবিদ্যা রামাবতার, ৭-- ত্রিপুরা মহাদেবী জামদগ্ন্য অর্থাৎ পশুরাম- রূপ অবতার, ৮-ভৈরবী মহাবিদ্যা বলভদ্র অর্থাৎ বলরামরূপ অবতার, ৯ -- মহা- লক্ষ্মী যােড়শী রূপিণী মহাবিদ্য। বুদ্ধাবতার, এবং ১০—দুর্গারূপিণী মহাবিদ্যা কন্ধী অবতার হইয়াছিলেন। উক্ত মধ্যে পূর্ণাকার্ণা স্বয়ং কৃষ্ণমূৰ্ত্তি হইয়াছেন ; তৎপরে মহাদেব বলিতেছেন--হে মহাভাগে ? দেবি ! তব সমীপে দশ মহাবিদ্যা দশাবতার * শ্ৰীমত্যাঃ কালিকায় তারাদি দুর্গাপ্যান্তোহংশাবতারঃ, শ্রীকৃষ্ণস্যাপি মীনাদি ককি পর্যাস্তোহংশাবতারঃ এতে চাংশকলা: প্ৰােক্তাঃ কৃষ্ণস্তুভগবান্ স্বয়মিতি বচনাৎ অতঃ কালিকায়স্তাবাদি-দুর্গাপৰ্যন্তোহংশাবতায়ে মীনাদি রূপেণাবতীণা, স্বয়ং পুর্ণা কালিকা তু পূর্ণকৃষ্ণরূপেণাবতীর্ণ জায়তে-- প্রকৃতঃ কালিকায়ঃ কৃষ্ণাবতারং বিনা তারাদি দুর্গাপৰ্যস্তো হংশাবতার দশবিধশক্তয়ঃ মীনাদি কৰূিপৰ্য্যন্ত দশাবতারা সংবন্তি।
৭২ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। হইয়াছেন, তদ্বিষয় বর্ণনা করিলাম—এই দশ মহাবিদ্যার অর্চনা করিলে মনুষ্যমাত্র মহাদেব সদৃশ যােগী হইয়া থাকেন। সেই দেবীগণের ধ্যানাদি মন্ত্ৰ পৰ্যন্ত পূর্বে সম্যক্ আপনার নিকটে বিশেষরূপে বলিয়াছি। এইরূপ তন্ত্রাদি প্রধানশাস্ত্রে যাহা উক্ত হইয়াছে, তাহাই বর্ণনা করিলাম। ফলকথা দেবদেবীর অভেদ ; কেবল-গোঁড়ামি দ্বারা কৃষ্ণকে শ্রেষ্ঠ করিয়া কালীকে অবজ্ঞা করিতেছেন, কেহবা কালীকে শ্রেষ্ঠ করিয়া কৃষ্ণকে অবজ্ঞা করিতেছেন। এইরূপ করিয়া জগতে বৃণিত ও নাকি হইবাব হেতু কি ? | ৫২। কুলধৰ্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া কেবল অবৈধ হরিনামে উন্মত্ত হইলে ভগবান রুষ্ট হইয়া থাকেন। তৎ প্রমাণং যথা-- বেদারাণি সন্ত্যজ্য, হরিরিতুচ্যতে যদি শিতেনৈব কুঠারেণ, নিত্তি মম মস্তকং। ব্রাহ্মণ ব্যতিরিক্তণং, জাতীনাং হীনচেতসাং, তেষামুদ্ধরণার্থায় মম নাম কলৌ স্মৃতং। ৫৩। ইতি ব্যাসসংহিতায়াং চতুৰ্বর্গচিন্তামণৌ চ। অশ্যাম্বয়াে যথা-বেদক্ষরাণি বেদোক্ত মন্ত্রাদীনি সর্বাণি সন্ত্যজ্য পরিত্যজ্য যদি হরিরিতি কেবল উচ্যতে কথ্যতে। তদা শিতেনৈব কুঠারেণ শাণিত পর শুনা মম মস্তকং ছিনত্তি ছেদনং করোতি ইত্যাদি প্রকারেণ শ্রীভগবানুবাচ ব্যাসসংহিতায়াং চতুর্বর্গ- চিন্তামণৌ চ উক্তং । ৫৩ | ব্যাকরণং যথা—ব্রাহ্মণ ব্যতিরিক্তানাং ব্রাহ্মণ ভিন্নানাং হীন- চেতসাং জাতীনাং ঘৃণিত নাং সম্বন্ধে কেবলং মম নাম কলৌ স্মৃতং ইত্যপি শ্রী ভগবানুবাচ উক্ত ব্যাস সংহিতায়াং চতুৰ্গ চিন্তামণে কবিতা-কুসুমাঞ্জলি অশ্য বঙ্গভাষা যথা—ব্যাস সংহি তা আর চতুৰ্বর্গ চিন্তামণি এই প্রসিদ্ধ গ্রন্থদ্বয়ে ভগবান্ স্বয়ং বলিয়াছেন যে-বেদোক্ত মন্ত্র ও নিত্য বৈধ-শিবপূজা ইত্যাদি বর্জন করিয়া কেবলমাত্র হরি হবি বলিযা দিন যাপন কৰিলে শাণিত কুঠা, আমার মস্তক ছেদন করা হয় ; তবে যাহাবা অপশীয় ও ঘৃণিত জাতি, তাহাদের পাপক্ষয়াৰ্থ ভক্তিপূৰ্ব্বক শ্রীভগবন্নাম স্মৰণবেই পাপধ্বংস হইয়া থাকে ; কিন্তু যাঁহাদের শিবপূজা ইত্যাদিতে অধিকাৰ আছি, তার যদি তপঃ ও শিব- পূজা ইত্যাদি অধিকাব ছাড়িয়া তিলক সেবাদি দ্বারা চিতে বাগ সাজিয়া শােভিত ও চিত্রিত ঝুলি লইয়া কেবল হরিনাম জপেন, তাহাতে তাহাদের নবকেৎপন্ন ভিন্ন স্বর্গলাভের কোন হেতু হয় না,-এই ইহাব তাৎপৰ্য। ৫৩ ঊষাযাত্রা বর্ণনা। প্ৰভ্ৰষ্ট-দ্যুতি-তারকা স্ফুটতটা প্রাচী ভবেনিৰ্মলা, কিঞ্চিদ্ৰক্তবিলােহিতাঙ্গ ধবলা দেবৈঃ সদা বাঞ্ছিতা। ন বারং ন তিথিং ন যােগ-করণং বস্ত্ৰঞ্চ নাপেক্ষতে, হিত্বা দোষসহস্র কণ্টক-দিনান্যূষা করােত্যুন্নতিং ॥৫৪। অস্বার্থে যথা—বক্ষ্যমাণ বিশেষণান্বিত। উষা দেবৈ দেব বগৈঃ সদা সর্বস্মিন্ কালে বাঞ্ছিতা প্রার্থিতা হত্যন্বয়ঃ। স উষা কিস্তৃতা “প্ৰভ্ৰষ্ট- দুহিতারকা প্রভ্রষ্টদ্যুতস্তারকা নক্ষত্রাণি যত্ৰ উষায়াং (নিশাবসানে) ইতি ব্যাসবাক্যে, প্ৰভ্ৰষ্ট-তিতারকা অর্থাৎ নক্ষত্র জ্যোতীরহিতা উষা ইতি • জ্ঞেয়া। পুনঃ কিম্ভু, “স্মৃঢ়তটী’ ক্ষুটা তটী যুত্র ঊষায়াং ইতি ব্যাসবাক্যে, ফুট-টী সপ্ৰকাশদি উষা ইত্যর্থঃ । “প্রাচীভবেন্নিয়লা” অর্থাৎ যত্র ঊযায়াং নিশাবসানে, প্রাচী পূর্বদিক নির্মল পরিষ্কতা ভবেৎ, সা উষা জ্ঞাতবা। ইতি শেষ। পুন:- ৭৪ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। কিন্তু কিঞ্চিদ্ৰক্ত-বিলােহিতাঙ্গ-ধবলা,” কিঞ্চিদ্রক্তেন ঈষদ্ৰক্ত-বর্ণ- তয়া বিলােহিতাঙ্গং রক্তবর্ণাঙ্গং ধবলঞ্চ শুভ্রঞ্চ যত্ৰ উয়াং নিশাবসানে ইতি ব্যাসবাক্যে, কিঞ্চিদ্ৰক্তবিলােহিতাঙ্গ-ধৰল। অর্থাৎ ঈষদ্রক্তেন সহ শুভ্রাঙ্গবিশিষ্ট। উষা দেবেঃ সদা বাঞ্ছিতা ॥ ৫৪। “ন বারং ন তিথিং ন যােগ-করণং বস্ত্রঞ্চ নাপেক্ষতে,” তস্যাং দেববাঞ্ছিতায়াং ঊষায়াং বারং উত্তমবারং ন অপেক্ষতে, তিথিং উত্তমং তিথিং ন অপেক্ষত, যোগং বিষ্ণুম্ভাদি-যােগং ন অপেক্ষত, করণং উত্তম-করণং ন অপেক্ষতে, বস্ত্ৰঞ্চ নাপেক্ষতে অর্থাৎ পূর্বোক্ত-বিশেষান্বিত-দেবপাঞ্ছিতায়াং উয়াং প্রাপ্তায়াং সত্যাং তৎক্ষণাৎ গচ্ছেৎ যাত্রাং কুৰ্যাদি ত্যর্থঃ ॥ ৫৪। “হিত্বাদোষসহস্র-কণ্টকদিনান্যষা করােতুন্নতিং,” সহস্রঞ্চ তৎ কণ্টকঞ্চেতি সহস্ৰকটকং, দোষরূপং সহস্ৰকণ্টক যত্র তানি দোস-সহস্র-কণ্টকানি তানি চ তানি দিনানি চেতি দোষ- সংস কণ্টক দিনানি; তানি ত্বিত্যক্ত।উষা উন্নতি করোতীত্যর্থ:৫৪ অস্থ বঙ্গভাষা---নিশাবসানে যখন নক্ষত্র সকল জ্যোতিবিহীন হইয়া মানব প্রাপ্তি হইয়াছেন, ফলতঃ যখন দিক সকল প্রকাশ পাইতেছে এবং যখন পূৰ্বদিক নিৰ্ম্মল হইয়া প্রভাতানুষ্ঠান হয় ; সেই সময়ের নাম, ঊষা, এরূপ উষা কালকে সম্ভোগঃর্থ দেবগণ সতত বাঞ্ছিত হইয়া থাকেন। ৫৪। এই উষাকালে ত্ৰা করিলে শুভ বার ও তিথি, অমৃত যােগ, সিদ্ধিযােগ বা উত্তম করণাদির প্রয়ােজন হয় না। এই প্রকার দেববাঞ্ছিত উষা কাল প্রাপ্ত হইলেই বস্ত্রাদি লইবাৰ জন্যও অপেক্ষা করবেন না; তৎক্ষণাৎ যাত্রা করিবেন। যে দিন এইরূপ উমাকালে যাত্রা করা হইবে, সেই দিন যদি সহস্ৰ দোষযুক্ত হয়, তত্রাপি ঊষার যাত্রা মঙ্গলদায়িনী হইবে, ইহাতে সংশয়মাত্র নাই। দিক ভিন্ন সকল দিকেই উষার যাত্রা মঙ্গময়ী হইয়া থাকে। ৫৪। ; পূর্ব কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ৭৫ ঊষায়া লক্ষণানন্তরং জ্যোতিস্তত্ত্ব। আরক্তসন্ধ্যং রজনীবিরাম, ‘ বদন্ত ষা-যােগমিহ প্রবীণঃ । আহুঃ প্রতুং সকলার্থসিদ্ধিং, সংলক্ষ্যতে হস্ততল-স্থিতেব । ৫৫। অস্যার্থে যথা—ইহ মাত্রা বিষয়ে প্রবীণঃ প্রাচীন পণ্ডিতাঃ সব্বে, “আরক্ত, সন্ধ্যং,” আরক্তা ঈষদ্ৰক্ত সন্ধ্যা দিবারজনী-মধ্যকালো যত্র ইতি ব্যাসবাক্যে অরক্তসন্ধ্যং ঈষদ্ৰক্ত-দিবাসজনী-মধ্যকালঃ ;“রজনী বিরাম”রভদ্যা বিরমেহবসানং যত্র ইতি ব্যাসবাক্যে রজনী-বিরামঃ তং ববসানং এবষ্কৃত, তং কাল উষাযােগং বদন্তীত্যৰ্থঃ। সকলন!ং সৰ্ব্বেষা? অর্থানাং অভিলসিত বস্তুনাং সিদ্ধির লাভং প্রযাতুং প্রাপ্ত অভিঃ কথয়ন্তি প্ৰবীণা ইতি পূৰ্বেণা সঃ হস্ততলে করতলে স্থিত সক কদায়িনী ইৰ উষা সংক্ষতে দৃশ্যতে জনৈরিতি শেষ । ৫। অষ্য মৰ্ম্মার্থে যথা--রজনীর অবসান সময়ে যখন ঈষৎ রক্তবণে শােতে হইয়া উষা (রজনী ও প্রাত দিবার মধ্য সময় ) উদ্ভাষিত হয় ;-সেই উষাকালকে প্রাচীনগণ যাত্রা বিষয়ে ভূরি প্রশংসাবাদ করিয়াছেন। এই উষাকালে যাত্রা করিলে সকলার্থ সিদ্ধি হইয়া থাকে , উষাযাত্ৰা কারী মানবের পক্ষে সকল কৰ্ম্ম-ই করতলস্থ প্রায় হয়। ঊষা সম্বন্ধে শেষ বক্তব্য এই যে, উষার যাত্রা সর্বোত্তমা ; ইহাতে সংশয় মাত্র নাই, কিন্তু তন্মধ্যে ববি রেব শেষ, সােমবারের পূৰ্ব্বকাল সম্বন্ধীয় ঊষা, আব বৃহস্পতিবারের শেষ শুক্রবারের পূৰ্ব্বকাল সম্বন্ধীয় উষা, এই দুই উষা সর্বোৎকৃষ্টা। ইহা ব্যবহারিক ব্যবস্থা ; এবং পরীক্ষাতেও সর্বোত্তম উষা বলিয়া জ্ঞান হইয়াছে। ৫৫।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। গােধূলিযাত্রা-বর্ণনা। সন্ধ্যাপারুণিত-পশ্চিমদি-বিভাগে, ব্যোম্নি স্ফুর-বিরল তারকসন্নিবেশে। রুদ্ধে গবাং খুরপুটোঙ্গলিতৈরজোভি- গোধূলিরেষ কথিতে ভৃগুজেন যােগঃ ॥ ৫৬। অস্বার্থে। যথা-যদ',-সন্ধ্যায়াং দিবা-রজনী মধ্যভাগে, আতপেন সূৰ্যকিরণেন অকণি ঃ পশ্চিমদিগ্বিভাগে। যত্র ইতি ব্যাসবাক্যে সন্ধ্যাপারুণিত-পশ্চিম-বিভাগঃ, তস্মিন ব্যোম্নি আকাশে, এবং স্ফুরন্ত্যো বিরলাশ্চ তারকা যত্র স সন্নিবেশে। যত্র ব্যোক্সি ; এবং তৎ তস্মিন্ শোষি ; এবং যদা,—গবাং খুরপুটেন খুরসমূহেন উদ্গলিত রজোভি ধূলি ভীরুদ্ধে আচ্ছাদিতে ব্যোম্নি সতি, স এষ কালঃ ভৃগু- জেন গোধূলিযোগঃ কথিতঃ ॥ ৫৬ । অন্য বঙ্গভাষা -সন্ধ্যা সময়ে ঈষৎ সূর্যকিরণে পশ্চিম-দিগবিভাগ অরুণ বর্ণ হইয়া আকাশ মণ্ডলকে যখন শশাভিত করিতেছে, এবং যে সময়ে ত্তিময়ী বিরল-তারক-শ্রেণা শূন্যমার্গে প্রকাশিত হয় ; আর যে সায়ংকালে প্রত্যাগত গাে-সমূহের খুর-বিগলিত ধূলি দ্বারা আকাশ-মার্গ আবৃত হইতেছে সেইরূপ সন্ধ্যাকালের নাম গুজ ইত্যাদি পণ্ডিতগণ শাস্ত্রে গো-পূণি বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। এই গাে-ধূলিতে যাণাদি শুভকাৰ্য্য করিলে মঙ্গলময় হয়, এই জন্য গাে-ধূলি লগ্নের ও উষা যাত্রার বিশেষ প্রশংসা হইয়াছে, গোধূলি ও ঊষাকালে যাত্ৰা করিলে সকল কম্ম সিদ্ধ হয়। ৫৬ । ; ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। দিগ্বিশেষে উষার ফলাফল। উষা করোতি কল্যাণং, যদি পূৰ্ব্বং ন গচ্ছতি ॥ ৫৭। অস্যার্থে যথা—উষা কল্যাণং করোতি, যদ্যপি পূর্বং পূর্বদেশ ন গচ্ছতীতি শেষঃ ॥ ৫৭। অন্য বঙ্গভাষা যথা–যাত্রা বিষযে উষাব যাত্রা অতি উত্তম, কিন্তু পূৰ্বদিক গমনে অশুভ হয; অতএব উষাকালে সকল দিকেই যাত্রা হইবে, কেবল পূর্ব- দিকে যাত্রা হইবে না। ৫৭। বিশ্বাসী পাত্র-নির্ণযঃ। ন বিশ্বসেদবিশ্বস্তে, বিশ্বস্তে নাতি বিশ্বসে। বিশ্বাসা-ভয়মুৎপন্নং, মূলাপি নিকৃন্ততি। ৫৮ ॥ ইতি চাণক্য-ধৃতবচনং। অশ্যাম্বযে। যথা—অবিশ্বস্তে অবিশ্বাসি-জনে ন বিশ্বসেৎ বিশ্বাস ন কুৰ্যাৎ ; বিশ্বস্তে জনে বিশ্বাসি-মানবেহপি ন অতি বিশ্বসেৎ অতি অতিশযং যথা স্যাৎ তথা ন বিশ্বাস অর্থাৎ অতি অতিশয়ং বিশ্বাস ন কুয্যাৎ ইন্বয়ঃ ; বিশ্বসাৎ প্রত্যয়াৎ ভয়ং আতঙ্কং উৎপন্নং সৎ সর্বাণি মূলানি বিশ্বাস কাবণানি নিকন্ততি নিত্তি ॥ ৫৮। ব্যাকরণং যথা--নিকৃতীতি কৃ তীশপ চ্ছেদে ইত্যস্য দীর্ঘ- কারামুবন্ধত্বৎ ক্ত-বত্বো স্ত-স্থানে নেম ভবতি ? শাদি; প-কারানুবন্ধত্বাৎ মুচাদিঃ । অস্মাৎ কৃৎপাতােৰুত্তবে ক্য। স্তিপিকৃতে নিকৃতীত্যৰ্থঃ ॥ ৫৮। অষ্য বঙ্গভাষা যথা –অবিশ্বাসি ব্যক্তিকে বিশ্বাস কবিবে না, বিশ্বাসি-ব্যক্তিকে ও ;
৭৮ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অতিবিশ্বাস করিবে না , যে হেতু এই উভয় প্রকার ব্যক্তিকে বিশ্বাস কৰিকোন গুপ্ত কথা বলিলে কি কোন গুপ্ত কাৰ্য্য কৰিলে উহা যদি প্রকাশ কবে, তাহা হইলে সর্বনাশ হইবে বলিয়া একটি আশঙ্কা উপস্থিত হইষা বিশ্বাসেব কাবণ সমূলে ছেদন কবিযা পাকে , অতএব মহোদযগণ। কেহ অবিশ্বাসী ও বিশ্বাসীকে গুপ্ত বিষয় বলিবেন না, উহাদেব নিকটে গুগু-বিষষ প্রকাশ কবিলে সতত বিপদ উপস্থিত হয়। ইহাই তাৎপৰ্য্য জানিবেন। ৫৮। প্রত্যুত্তৰ-প্রদানে নিবন্ত স্থানং। উত্তদানে নিবস্ত থাকি বাব স্থান নির্ণয। উত্তরে নােরং কুৰ্য্যাৎ, গুরুষু লঘুষু বহুযু। রাজ্ঞি ভর্তার চৌরেষু, তথা শত্রুজনেষু চ ॥ ৫৯। ইতি পঞ্চতন্ত্রধৃত বচনং। অশ্যাম্বযে। যথা—গুক গুৰুজন-সমীপেষু, লঘুষ নীচকুলােব- জন-সমীপেষু, বহুযু একমতাবলম্বি-জনগণ মীপেষু, রাজ্ঞি দণ্ডবিধান কর্তৃষ্ণু, ভরি প্রভু সমীপে, চৌবেযু তস্ক মীপেষু তথা শত্রুজনেষুচ বহুসংখ্যক-শত্ৰুগন-সমাপেযু-এষু সপ্তযু নেষু উত্তৰ-বিষয়ে উত্তৰং ন কুৰ্যাৎ ইতি ভাবঃ ॥ ৫৯। অশ্য বঙ্গভাষা যথা-~-গুৰুজন সই, অতি নীচ লাদ্ভব সহিত, এক-মতাবলম্বি- বহুসংখ্যক জনগণ সহিত তর্ক ও বিতক ( দানুবাদ ) কবিবে না বাজ- মন্দিবেবা প্রভু-সন্নিধানে অর্থাৎ পালক সমীপে, ৩ গণ সাক্ষাতে আব বহুসংখাক শত্রুগণ নিকটেও বাদানুবাদ (তর্ক ও বিতর্ক) ২ বে না। যদি করেন, তাহা হইলে অমৰ্য্যাদা প্রাপ্তি হইবার বিশেষ সম্ভব , এই জগু শকাবগণ নিষেধ করিয়াছেন ॥ ৫৯। এক কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। সাবাক-প্রয়ােগ-ব্যবস্থা। সত্যং ক্ৰয়াৎ প্রিয়ং ক্ৰয়াৎ, ন ক্ৰয়াৎ সত্যমপ্রিয়ং। প্রিয়ঞ্চ নামৃতং ক্ৰয়াৎ, ইতি বেদবিদাং মতং। ৬০ অশ্যাম্বয়াে যথা—সত্যং ক্ৰয়াৎ অর্থাৎ সর্বদা সত্যবাক্যং কথয়েৎ, প্রিয়ং ক্ৰয়াৎ অর্থাৎ সর্বেষাং প্রিয়ং বাক্য ক্রয় কথয়েৎ। ন ক্ৰয়াৎ সত্যমপ্রিযং অর্থাৎ অপ্ৰিয়ং বাক্যং যদি সত্যং স্যাৎ, তথাপি ন ক্ৰয়াৎ ন কথযেৎ। প্রিযঞ্চ নানৃতং জয়াৎ অর্থাৎ প্রিযং অনৃতং, মিথ্যা বচন কদাপি ন ক্ৰয়াৎ ন প্রযােজযেৎ, ইতি বেদবিদ বেদ-পণ্ডিহানাং মতং ব্যবস্থাং বিজানয়াৎ ইত্যম্বয়শেষঃ ইতি মনােরুক্তিঃ ॥ ৬০। অশ্য বঙ্গভাষা যথা -ৰ্ব্বদা সত্য বাক্য যােগ করিবে , এবং সকলকে প্রিয় বাক্য কহিয়া সন্তুষ্ট কৰিবে, অপ্রিয় সত্য কথা হইলে ও বলিবে না; প্রিয় কিন্তু মিথ্যা এমন বাক্য প্রযােগ কবিবেন না, হ* বেদজ্ঞ পণ্ডিতগণের ব্যবস্থা জানিবেন। অছিন্ন-প্রেমস্থলে অবৈধকায্যং যথা-- বিপুল গীতিস্থলে নিষেধক কায্য যথা- যদি স্যাৎ বিপুল প্রীতি, স্ত্রীণি তত্র ন করিয়েৎ। দূতমৰ্থ-প্রয়ােগশ্চ, পরােক্ষে দারদর্শন । ৬১। ইতি হিতােপদেশ ধৃত বচন। অশ্যাম্বয়ে। যথা- যদি বিপুলা প্রীতিঃ স্যাৎ অর্থাৎ যত্র স্থলে প্রগাঢ় প্রণয়ঃ স্যাৎ, তত্র স্থলে দূত প্রয়ােগ, অর্থ প্রয়োগঃ, পরোক্ষে অপ্রত্যক্ষে দারদর্শনঞ্চ স্ত্রীদর্শন অর্থাৎ বন্ধোঃ পত্না সহ কথােপ- কথনঞ্চ, এতনি ত্রাণি কাৰ্যাণি ন কাবয়েং ন কুৰ্যাদি ত্যন্বয়ঃ। ৬১ ।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—যদি কোন স্থানে বিপুল প্রণয় থাকে, তাহা হইলে সেই স্থলে কাৰ্য্য বশতঃ গমনাগমনের প্রয়ােজন হইলে ভৃত্যাদি প্রেরণ করিবে না, আত্মীয়স্থলে অর্থ প্রয়োগ করিবে না, অর্থাৎ অর্থের আদান ও প্রদানের কাৰ্য্য করিবে না, অসাক্ষাতে অর্থাৎ বন্ধুর অজ্ঞাতে তাঁহার স্ত্রী-সহ কথােপকথন করিবে না। প্রণয়স্থলে, এই তিনটী কাৰ্য্য বরিত নাই, যদি করেন, তাহা হইলে শীঘ্র প্রণয়ভঙ্গ হইয়া অতি বিচ্ছেদ সঘটিত হইয়া বিপরীত ফলােৎপন্ন হয়। ৬১। ভীষণ ক্ষুধায় প্রাণান্ত:সময়ে খাদ্যাখাদ্য বিচার না করিয়া যথা:তথা অখাদ্য প্রাপ্ত হইলেও ভােজন করিয়া প্রাণধারণ করিবে; যেহেতু প্রাণ থাকিলে ঐ সকল পাপ সমূহের প্রায়শ্চিত্ত করিয়া বিপুল পুণ্য সঞ্চয় হইবার আশা থাকিবে। তৎপ্রমাণাদি মহাভারতান্তর্গত শান্তিপর্বে ১৪১ অধ্যায়ের শ্লোকাদি যথা-- ত্রেতাদ্বাপরয়ােঃ সন্ধ্যে, তদা দৈব-বিধিমাৎ। অনাবৃষ্টিরভূৎ ঘােরা, লােকে দ্বাদশ-বার্ষিকী। ৬২। অন্যান্বয়ে। যথা—ত্রেতাদ্বাপরযুগয়েঃসন্ধিকালে দৈববলাৎ লােকে জগতি ঘোরা দ্বাদশ-বার্ষিকী অনাবৃষ্টিরভৃৎ। ৬২। অঙ্গ বঙ্গভাষা—ত্রেতা দ্বাপর যুগের সন্ধিকালে বিধিবশাৎ ঘােরা দ্বাদশবার্ষিকী অনাবৃষ্টি হইয়াছিল । ৬২। তস্মিন্ প্রতিভয়ে কালে, ক্ষতে ধৰ্ম্মে যুধিষ্ঠির। বভ্ৰমুঃ ক্ষুধিতা মর্ত্যাঃ, খাদমানাঃ পরস্পরং ॥ ৬৩। অশ্যাম্বয়য়া • যথা—হে যুধিষ্ঠির ! তস্মিন প্রতিভয়ে ( ভয়ঙ্কর সময়ে) কালে ধৰ্ম্মে ক্ষতে (নষ্টে) সতি ক্ষুধিত মৰ্তাঃ (মনুষ্যাঃ) পরস্পরং অন্যোন্য খাদমানঃ ভক্ষয়ন্তঃ প্রমুঃ ৬৩। অন্য বঙ্গভাষা যথা---মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে সম্বােধন পুৰ্ব্বক ভীষ্ম বলিতেছেন কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। যে—সেই ভয়ঙ্কর কালে মানবগণ পরস্পর পরস্পবের খাদক ইযা পবিভ্রমণ করিতেছিলেন + ৬৩। তদা-বিশ্বামিত্রে হিথ ভগবান্, মহষিরনিকেতনঃ । ক্ষুধাপারগতাে ধীমান, সমন্তাৎ পৰ্য্যধাবত। ৬৪ ॥ অশ্যাম্বয়ে। যথা—অথ মহষি ভগবান বিশ্বামিত্ৰোনিকেতনে গৃহ- হীনঃ সন্ ক্ষুধাপরিগতঃ ( ক্ষুধয়া কাতরঃ) সমন্তাৎ ( ইতস্ততঃ ) পৰ্য্যধাবত। ৬৪। অশ্য বঙ্গভাষা যথা - তদনৰ মর্ষি বিশ্বামিত্র অত্যন্ত ক্ষুধা হইয়াছিলেন, তজ্জন্য ব্যাকুল ও গৃহচ্যুত হইয়া ইতস্তত পৰিভ্ৰমণ করিতেছেন। ১৪। অস্মিন্নেব সমযে-- এমন সময়ে-- স দদর্শ শ-মাংস, কু-তন্ত্রীং বিতং মুনিঃ । চাঙালস্য গৃহে রাজ, সদ্যঃ শস্ত্রহস্য বৈ॥ ৬৫। অস্তন্বয় যথা—হে রাজ যুধিষ্ঠির! স বিশ্বামিত্রে। মুনিঃ চাণ্ডালস্য গৃহে সদ্যঃ শইতস্য শ্ব-মাংস ( কুকুর-মাংসস্য ) কু-তন্ত্রী ( রজ্জ্বং শিরাসমুহং বা ) বিতং প্রসারিতাং দদর্শ দৃষ্টান্ ॥ ৬৫। অন্য বঙ্গভাষা যথা—মহাৰাজ যুধিষ্ঠিকে সম্বােধন কবিয়া পিতামহ ভীষ্ম কহিতেছেন যে, তদনন্তর সেই বিশ্বামিত্র “চা গুলগৃহে সদ্য শস্ত্রহত-কুকুর-মাংসগত শিরা সকলকে রজু করণার্থে ( তাইৎ করণার্থে) সূক্ষ্মভাবে চিরিয়া শুষ্কাৰ্থে বিস্তৃত কবিয়া প্রাঙ্গণে প্রদান করিয়াছেন”—ইহা দৃষ্টি করিয়াছিলেন । ৬৫।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। তদন্তে--তাহার পরে- স চিন্তয়ামাস তদা, স্তেয়ং কাৰ্যমিতাে ময়া। ন'হীদানী মুপায়াে মে, বিদ্যতে প্রাণধারণে ॥ ৬৬। অশ্যাম্বয়ে। যথা—সঃ ( বিশ্বামিত্রঃ) তদা চিন্তয়ামাস, ইতঃ ( চণ্ডালগৃহৎ ) ময়া স্তেয়ং (চৌৰ্যং) কাৰ্যং কৰ্ত্তব্যং; নতুবা মে প্রাণধারণে ইদানীং উপায়ে। নবিদ্যতে ॥ ৬৬ অস্য বঙ্গভাষা—সেই সময়ে বিশ্বামিত্র চিন্তা করিতেছেন—এই চণ্ডাল গৃহ হইতে এই মাংস চুরি না করিলে প্রাণধারণের কোন উপায় নাই। ৬৬। ততো নিদ্রিতশ্চাণ্ডালােহপি জজাগার। তাহার পর নিদ্রিত চণ্ডালও জাগিয়াছিল। বিশ্বামিত্ৰস্তু মাতঙ্গ, মুবাচ পরিত্বয়। ক্ষুধিতােহহং গতপ্রাণাে, হরিষ্যামি শ্ব-জাঘনীং ॥ ৬৭। অস্যাম্বয়াে যথা-বিশ্বামিত্রো মাতঙ্গং ( মাতঙ্গনামানং চাণ্ডালং ) পরিসায়ন্ সান্ত্বনাং কুন্ স উবাচ—“অহং ক্ষুধিতে গতপ্রাণঃ সন্ শ্ব-জাঘনীং ( কুকুরস্য জঙ্ঘং) তব গৃহে হরিষ্যামি। ৬৭। অস্য বঙ্গভাষা-তদনন্তর বিশ্বামিত্র মাতঙ্গনামধেয় চাণ্ডালকে সান্ত্বনাপুৰ্ব্বক বলিতেছেন, যে—আমি অতি ক্ষুধিত, তজ্জন্য গত প্রাণ হইতেছি, এই জন্য জীবন রক্ষার্থে আপনার গৃহাগত হইয়া কুকুর জঙ্ঘা হরণ করিব ॥ ৬৭।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ততো বিশ্বামিত্রশ্চণ্ডালমুবাচ । তাহার পর বিশ্বামিত্র চণ্ডালকে বলিতেছেন। যথা যথৈব জীবেদ্ধি, তৎকৰ্তব্য মহেলয়া। জীবিতং মরণাচ্ছেয়াে, জীবন্ ধৰ্ম্ম মবাগুয়াৎ। ৬৮। অন্যাম্বয়াে যথা--যথা-যথা ( যেন যেন উপায়েন ) নরাে জীবেৎ তৎ সর্বং অবহেলয়া (হেলাং বজ্জয়িত্ব) কৰ্তব্যং। জীবিতং জীবন, ধারণং কুর্ব সন্ মরণ শ্রেয়ঃ উত্তমং। জীবন্ (জীবন-ধারণ) ধম্মং বহুপুণ্যং অবাপুয়াৎ ( লভে )। ৬৮। অস্য বঙ্গভাষা-বিশ্বামিত্র চণ্ডালকে বলিতেছেন-যে যে উপায়ে লোক জীবিত থাকিতে পারেন, সেই সেই কাৰ্য্য অবহেলায় কর্তব্য জ্ঞানে কবিতে পারেন । যেহেতু মরণাপেক্ষা জীবন ধারণ শ্রেয়স্কর, জীবিত থাকিলে বহুল ধৰ্ম্মেপার্জন হইবার সম্ভাবনা। ৬৮। তাৎপৰ্য্য যথা--ইত্যাদি বিচারমার্গে বিশ্বামিত্র মাতঙ্গ-ব্যাধকে পরাস্ত কম্বিয়া উক্ত চাণ্ডাল গৃহ হইতে কুকুর জঘ। ভােজন করিয়া জীবন-রক্ষা করিয়াছিলেন, অতএব ইত্যাদি উদাহরণ বিদ্যমান থাকা জন্য যথা তথায় খাদ্যাখাদ্য-বিচার-শূন্য হইয়া যে উপায়ে জীবন থাকিতে পারে, সেই সেই উপায়ালি অবলম্বন করিতে পারা যায় । ৬৮। অতি মহা হইলেও দশচক্ৰ উপস্থিত হইয়া তাহাকে ধ্বংস করিতে পারে, তাহার উদাহরণ যথা—অর্জুন হইতে কণবীর অতি প্রধান, ইহা সৰ্বদিসম্মত, কর্ণের বিনাশ না হইলেও কুরুক্ষেত্রে যুধিষ্ঠিরের জয় সম্ভব নাই ; সেইজন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনাদি ছয়জনকে মিলিত কপিয়া মহাবীর কর্ণকে নিপাত করিয়াছেন।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। তৎপ্রমাণং যথা—মহাভারতে- ত্বয়া ময় চ কুন্ত্যা চ, পৃথিব্যা বাসবে নচ। জামদগ্ন্যন রামেণ, ষড় ভিঃ কর্ণো নিপাতিতঃ ॥ ৬৯। ইতি শ্ৰীমহাভারতে ধৃতবচনং। কস্মিনের সময়ে বীরদর্পে দর্পিতাৰ্জ্জুনং প্রতি শ্রীকৃষ্ণেনােক্তমিদ। অম্বয়াে যথা—হে সখে ! অৰ্জুন! স্বয়। অর্জুনেন, ময়া কৃষ্ণেন, কুন্ত্যা চ কর্ণপ্রসূতি-কু্যা চ, পৃথিৰা ধরিল্যা চ, বাসবেন চ ইন্দ্রেণ চ, জামদয়েন রামেণ পরশুরামেণ—এভিঃ ষড়ভিঃ কর্ণো নিপাতিতঃ। একং ন শক্তঃ ইতি জানাহি। ৬৯ । অস্য বঙ্গভাষা যথাকুকক্ষেত্র-যুদ্ধাবসানে একদা মহাবীর অর্জুন, কর্ণকে স্বয়ং যুদ্ধে বিনাশ কবিযাছি বলিয়া শ্রীকৃষ্ণ সমীপে প্রকাশ করায়, স্যপূর্ণ বদনে ভগবান্ কৃষ্ণ বলিতেছেন যে, -“ষডভিঃ কর্ণো নিপাতিত:” আমরা ছয় জনে মিলিত হইয়া মহাবীব কর্ণকে বিনাশ করিযাছি, ইহাই সত্য; তুমি নামমাত্র যুদ্ধ করিয়াছ, আমি বিশ্বম্ভর মূর্তিতে আপনার কপিধ্বজ রথস্থ না থাকিলে কর্ণের বায়বীয় মহাস্ত্রে যুদ্ধস্থান হইতে উডীয়মান হইয়া কোথায় পতিত হইতে, তাহা নিরূপণ হয় না, কর্ণের মাতা কুন্তীদেবী “কর্ণ আপনাদের সর্বজ্যেষ্ঠ ভ্রাতা এই কথাটী যদি গােপন না কবিতেন, তাহা হইলে আপনি কি মহাবীর কর্ণকে বিনাশ করিতে সম্মত হইতেন ? মহাযুদ্ধকালে পৃথিবী যদি মহাবীব কর্ণের রথচক্র গ্রাস না কবিতেন, তাহা হইলে কি আপনি মহাবীব কর্ণকে সংহার করিতে সমর্থ হইতেন ? এই যুদ্ধের বহুকাল পূর্বে আপনার পিতা দেবরাজ ইন্দ্র ছদ্মবেশি-ব্রাহ্মণরূপে দাতাকর্ণ মহাবীরের আলয়ে অতিথি হইয়া আপনাকে বাচাইবার নিমিত্ত সূৰ্য- প্রদত্ত অভেদ্য কর্ণের ক বড় যদি ভিক্ষা কইয়া ভােজন না করিতেন, তাহা হইলে কি আপনি মহাবীর বর্ণকে নিপাত কবিতে পাবেন ? কর্ণেব শিক্ষাগুরু জামদগ্ন্য পরশুরাম মহাবীব কর্ণকে,-মহাসমরে মহা-সকল স্মরণ হইবে না—এই বলিয়া যদি অভিশাপ না দিতেন, তাহা হইলে আপনি কি, কর্ণকে জয় কবিতে পারেন ?
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। একজন অতি শ্রেষ্ঠ হইয়া গর্ধিত হইলে তাহাকে দশচক্রে বা ষড়যন্ত্রে বিনাশ করিয়া থাকে, অতএব কেহ শ্রেষ্ঠ হইয়া গর্বিত হইবেন না, এই ইহার তাৎপৰ্য্য। ৬৯। “নাহংকারাৎ পরে রিপুঃ”। ৭০ । অশ্য বঙ্গভাষা যথা—অহংকার হইতে আর প্রবল রিপু নাই, এই কথা ভগবান্ স্বয়ং গীতায় বলিয়াছেন। ৭০। তিনি গর্বিত ব্যক্তিকে দেখিতে পারেন না, এইজন্য প্রিয় মহিষী সত্যভামা ও গরুড় ইত্যাদির দর্প স্বয়ং নষ্ট বা চূর্ণ করিয়া হতমানিনী ও হতমানী করিয়াছেন। এই জন্যই শাস্ত্রে বলেন- সৰ্বমত্যন্তগহিতং- অতি দর্পে হতা লঙ্কা, অতি মানে চ কৌরবাঃ। অতি দানে বলিবদ্ধঃ, সৰ্বমত্যন্তগহিতং ॥ ৭১। অস্য মৰ্ম্মার্থেন সহ বঙ্গভাষা যথা -- লঙ্কাধিপতি রাবণ অতি দর্পে দর্পিত হইয়া ছিলেন বলিয়া হত । বিনষ্ট হইয়াছেন, কুরু-কুলােদ্ভব-দুর্যোধন অত্যন্ত অভিমানী ছিলেন বলিয়া সগর্বে হত হইয়াছেন, মহারাজ বলি অতি দানশীল হইয়াছিলেন বলিয়া ভগবান স্বয়ং তঁহাকে বন্দী করিয়া রাখিয়াছেন; অতএব কেহই ইহলােকে অতিশয় কোন কাৰ্য্য করিবেন না, এই ইহার তাৎপৰ্য। ৭১। ; । সুহৃৎ বা বন্ধুনির্বাচন যথা—- উৎসবে ব্যসনে চৈব, দুর্ভিক্ষে শত্রুবিগ্রহে। রাজদ্বারে শ্মশানে চ, য স্তিষ্ঠতি স বান্ধবঃ ॥ ৭২। ইতি চাণক্যেন ধৃতবচনং। অন্যান্বয়ে। যথা—উৎসবে আনন্দ-বিষয়ে, ব্যসনে বিপৎ-সময়ে, দুর্ভিক্ষে অন্নাভাব-সময়ে, শবিগ্রহে শত্ৰুণা সহ যুদ্ধ-সময়ে, = কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। রাজদ্বারে রাজদ্বায়ােপস্থিতবিরােধে, শ্মশানে চ প্রেতভূমৌ চ এতে ষস্থানেষু যাে জন স্তিষ্ঠতি, স এব বান্ধবঃ আত্মীয় বা সুহৃ ভবতি।৭২। অন্য বঙ্গভাষা যথা—আনন্দ সময়ে, বিপৎকালে, অন্নাভাব সময়ে, শক্রসহ বিৰােধস্থলে, রাজদ্বনােপস্থিত-বিরােধ-সময়ে, শ্মশানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করণার্থে যাহারা সাহায্য করেন, তাঁহারাই যথার্থ বন্ধু, ইত্যাদি জানিয়া কাৰ্য্য করিবেন ৪৭২। প্রশ্নোত্তরং যথা- কে খলু নয়ন-বিহীনঃ ? ইতি প্রশ্নে— উত্তরং—পরলােকং যে ন পশ্যন্তি ॥৭৩। অশ্যাম্বয়ে। যথা—ইহ জগতি খলু নিশ্চিতং কে জনা নয়নবিহীনাঃ সন্তি অর্থাৎ কে জনা চক্ষু-হীনা ভবন্তি ? উত্তরং যথা—পরলােকং মর- শান্ত-সময়ং যে মুঢ়াঃন পশ্যন্তি, ত এব মূঢ়া মূখাশ্চক্ষুরহিতাঃ সন্তি ॥৭৩৷৷ অশ্য বঙ্গভাষা যথা—এই ধরাধামে অন্ধ কে? উত্তর—যিনি পরলােকের বিষয় চিন্তা করেন না, তিনিই, এই ভূ-মণ্ডলে অন্ধ হইতেছেন। ৭৩। অপরন্তু প্রশ্নে। যথা—বদ বদ বধীরতমাঃ কে ? উত্তরং যথা—হিতবাক্যং যে ন শৃবৃন্তি ॥ ৭৪। অশ্যাম্বয়য়। যথা—ইহ জগতি ধীরতমাঃ কে ? (কর্ণ-বিহীনাঃ কে জনাঃ ?) ইতি প্রশ্নে-উত্তরং—যথা—যে নয়া হিতবাক্যং উপদেশগর্ভ সূচক বাক্যং ন-শৃবৃন্তীত্যথঃ ॥ ৭৪। প্রশ্ন—এই জগন্মগুলে শ্রেষ্ঠ বধির (কালা) কে ? উত্তর হিতবাক্য যিনি শ্রবণ করেন না, তিনি-ই প্রধান বধির ( কালা) জানিবেন। ৭৪ | প্রশ্নে যথাকস্মৈ কমলা স্পৃহয়তি ? উত্তরং যথা—অতি বিরলস-চিত্তায় ॥ ৭৫। অন্বয় যথা—কস্মৈ মানবায় কমলা লক্ষীঃ স্পহয়তি ৰাতি ।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ইতি প্রশ্নে-উত্তরুং যথা-অতি-বিলস-চিন্তায় সরল-চিত্তায়-মান- বেন্দ্রায় কমলা স্পৃহয়তি বাঞ্ছতীত্যথঃ ॥ ৭৫। প্রম-কমলা (লক্ষ্মী) কাহাদের প্রতি সুপ্রসন্ন থাকেন? উত্তব-যাহাবা সরল-চিত্ত মানব, তাহাদের প্রতি মহালক্ষ্মী ( কমলা) সুপ্রসন্ন থাকেন। ৭৫। সংসারাশ্রমে ধন, শবীর ধাবণে নয়ন, জন্ম হইলে তত্ত্বজ্ঞান, প্রাণধাবণ করিতে হইলে ভগবৎ প্রেম, অত্যাবশ্যক বলিয়া তাহার প্রমাণাদি বর্ণিত হইতেছে-- প্রমাণং যথা— বিনা ধনেন সংসাররা, নয়নেন বিনা বপুঃ । ধিয়া বিনা বৃথা জন্ম, বিনা কৃষ্ণেন জীবনং ॥ ৭৬। অন্যান্বয়ে। যথা --ধনেন বিনা তথ-ব্যতিরেকেন, সংসারে গৃহামাে বৃথা, নয়নেন বিনা চক্ষুষ। ব্যতিরেকেন বপু শরীর বৃথা, ধিয়া বিনা তত্ত্বজ্ঞান-ব্যতিরেকেন বৃথা জন্ম উৎপত্তি, বিনা কৃষ্ণেন জীবনং অর্থাৎ ভগবৎ-প্রেম বিনা জীবনং প্রাণধারণং বৃথা। ৭৬। অষ্য বঙ্গভাষা যথা -ধন ব্যতিবেকে সংসাবাশ্রমে বাস কবা তিরস্কার বা লাঞ্ছনা বিশেষ, অন্ধ হইয়া জগতে জীবন ধাবণে বল যন্ত্রণা ভােগ হয় বলিয়া জীবন বৃথা, জ্ঞান ব্যতিৱেকে জন্ম নিল জানিৰে, শ্রীমদ্ভগবচিন্তা ও জ্ঞানলাভ হইলে প্রাধাবণ বিফল অর্থাৎ নিস্ফল হইয়া থাকে। ৭৮। বামাচারীব অত্যাচার। ধনলুব্ধ মাতা এবং পিতা ইহারা উভয়ে মিলিত হইয়া বামাচারী * রাজাকে বালক পুত্র বিক্রয় করিয়াছিলেন, বলিদানের পূর্বে সেই বালকের করুণােক্তি। কালীগঞ্জ হইয়। নরবলি প্রদানকারীকে বামাচারী বলে ।
১৮ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ; যথা-পিতরো ধনলুব্ধৗ চ, রাজা খড়গ-ধরস্তথা। দেবতা বলি মিচ্ছন্তি, কো মে ত্রাতা ভবিষ্যতি । ৭৭ ॥ ইতি পুরাণােক্ত শ্লোকঃ। অশ্যাম্বয়াে ব্যাকরণঞ্চ যথা—মাতা চ পিতা চ তো মাতা পিতরে ইতি বাক্যে একশেষ-সমাসে মাত শব্দস্য লােপে কৃতে পিতরে ইতি সিদ্ধং ; অন্যৎ সুগমং। পিতরে অর্থাৎ মাতাপিতরে এতে উভে ধনলুব্ধে ধনাকাঙিক্ষণৌ সন্তো বিক্রীতবন্তৌ ; তথা রাজা খড়গ-ধরঃ স্যাৎ, অর্থাৎ দেবী সমীপে নরবলি-প্ৰদানার্থং রাজা খড়গ- ধারী সন্ বিদ্যমাননা ভবতি। এতস্মিন্ সময়ে দেবতাং স্মরামি তার দেবতাঃ (কালী-দেবতাদয়ঃ ) বলি মিচ্ছন্তি অর্থাৎ বলিং গ্রহীতুং (দেব্যাদয়ঃ) লােল-সনা সত্যঃ দেদীপ্যমানঃ ভবন্তি ; অতএব অস্মিশ্নের সময়ে মে মম ত্রাতা ত্ৰাণকৰ্ত্ত। অর্থাৎ মম জীবনরক্ষা-কৰ্ত্তা কো। ভবিষ্যতি অর্থাৎ কোহপি নাস্ততি ভাবঃ ॥ ৭৭ অন্য বঙ্গভাষা যথা—অল্প দিন পূর্বে অর্থাৎ গৌরাঙ্গ-দেব জন্মিবার পূর্বে আনুমানিক ৪০০ শত ৩০ বর্ষ পূৰ্বে ( বামাচারিগণ চৌর্যবৃত্তি দ্বারা কিম্বা ধনব্যয়ে বালক ও মনুষ্যগণকে ক্রয় বা নানাবিধ প্রলােভনে নির্জন স্থানে বা অরণ্য মধ্যে লইয়া শ্রীশ্রী কালীমূর্তি স্থাপন পূর্বক পূজান্তে মহামান্না সমীপে সিদ্ধ পুরুষ হইবার মানসে উহাকে নরবলি প্রদান করিতেন। ৭৭। লেখকের উক্তি যথা-এক্ষণে আমার বয়ঃক্রম সপ্ততি (৭০) বর্ষ প্রায় হইয়াছে ; আমাদের পিতা ও মাতা প্রভৃতি বাল্যাবস্থায় ছেলেধরার ভয় দেখাইয়া কুত্রাপি যাইতে দিতেন না, এবং নজরে নজরে অর্থাৎ চক্ষুদৃষ্টির মধ্যে রক্ষা করিয়া প্রতিপালন করিতেন, এবং গ্রামবাসী সকলেই এইরূপে সন্তান-গণকে লালন ও পালন করিতেন। ক্রমে আমরা ব্যঃপ্রাপ্ত হইয়া জানিলাম যে, বামাচারি-গণ ভিক্ষা ও ব্যবসাচ্ছলে বালকহরণ জন্য গ্রামে গ্রামে বিচরণ করিতেন--এই ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ইতিহাস প্রবীণ নােক মাত্ৰ-ই অবগত আছেন, আধুনিক নব্যগণকে বামাচারীর বিষয় জানাইবার জন্য মুদ্রিত কবিলাম। ৭৭ । ইহাও শুনিয়াছি যে কোন কোন দীন দরিদ্র মনুষ্যগণ --ধনলালসায় আপন আপন বালক বিক্ৰষ ও কবিতেন, আর কেহ কেহ ধনী লােক টাকায় যক্ষ করিবার জন্য মনুষ্য ক্রয় কবি টাকার রক্ষক জন্য বিপুল ধন সহ (মােহব ও টাকা) ঐ ক্রীত বালক বা মনুষ্যকে অতি গভীৰ মৃত্তিকা মধ্যে বা নৃতন পুষ্করিণী খনন করিয়া তাহাতে পুতিয়া ফেলিতেন। ইহাকেই যক্ (যক্ষ) দেওয়া বলে ॥৭৭ সাধু ( সজ্জন নষ্ট কবিলে বক্ষাকত্তা কে-ই নাই। অসাধু যদি হন্তা স্যাৎ, সাধুঃ সাধুরিতিধ্বনিং। সাধুরেব যদা হন্যাৎ, কো মে ত্রাতা ভবিষ্যতি ॥ ৭৮। অশ্যাম্বাে যথা—অসাধুবসজ্জনঃ অর্থাৎ দঃ, তস্করঃ অধা- ম্মিকে বা যদি হন্তা হনন কৰ্ত্তা স্যা; তদ। সাধু সাধুরিতিধ্বনিং করোতি অর্থাৎ তস্মিন্নেব সময়ে বিপন্নে। জনঃ সাধু সাধুরিতি ধ্বনি করোতীতার্থঃ। সাধুরের সজ্জন এব যদা যস্মিয়ের সময়ে হত্যা হননং কুৰ্যাৎ, তদা তৎকালে কে। মে রাত। ভষ্যিতি অর্থাৎ মে মম ত্রাতা ত্ৰাণকৰ্ত্তা কে। জনে। ভবিষ্যতি ইত্যম্বয শেষঃ ॥ ৭৮। অন্য বঙ্গভাষা যথা—যে কালে দস্যগণ হনন করেন, তৎকালে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি, সাধুগণ রক্ষা করুন—সাধুগণ রক্ষা করুন - এই বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে বাদন করিতে থাকেন ; যে সময়ে সাধু লােক হন্তা হইয়া জীবন নষ্ট করেন, সেই সময়ে বিপন্ন ব্যক্তি কাহার স্মরণ লইবেন? অতএব সাধুব্যক্তিতে নষ্ট করিলে জগন্মগুলে এাণকৰ্ত্তা কেহই নাই। ৭৮।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। পিতা মাতা ও রাজা অত্যাচারী হইলে কাহারও নিকট কষ্ট জানাইবার সম্ভব নাই।তৎপ্রমাণং যথা- মাতা যদি বিষং দদ্যাৎ, পিত্রা বিক্ৰীয়তে সূতঃ অন্যায়ং কুরুতে রাজা, বদ কস্মৈ নিবেদনং ৭৯। ( ইতি পুরাণােক্ত-শ্লোকঃ) অশ্যাম্বয়ে। যথা-মাতা প্রসূতিঃ পুত্র প্রাণবিনাশার্থং যদি বিষং গরলং দন্থাৎ প্রযচ্ছেৎ, পিত্রা জনকেন যদি সুতঃ পুত্রে। বিক্ৰীয়তে বিক্রয়ঃ ক্রিয়তে, রাজা বিচারপতি যদি অন্যায়ং অবৈধং কুরুতে বদ কঞ্চয় কস্মৈ জনায নিবেদনং ক্লেশােপশম-প্রার্থনাং বিজ্ঞাপয়ামি ইতিশেষ ॥ ৭৯। অন্য বঙ্গভাষা যথা—মাতা বিষদায়িনী, পিতা পুত্রবিক্রয়কারী এবং রাজা অবৈধকারী হইলে কষ্টেব বিষয় কাহাকে বলিব ? অর্থাৎ ইহলােকে কষ্ট জানাইবার যােগ্য পাত্র আর কেহই নাই, এই ইহার তাৎপৰ্য্য। পরিশেষে পরমেশ-ই ত্রাণকর্তা। ৭৯। বারবেলা বর্জন করিয়া কাৰ্যাদি করিতে হয়। অতএব “বরিবেলা নিরূপণ কৰ্ত্তব্যং।” তস্মাদ জ্যোতিষশাস্ত্রো- স্কৃত বচনং যথা- রবো বজ্জং চতুঃ পঞ্চ, সােমেসপ্তদ্বয়ং তথা । কুজে ষষ্ঠ দ্বয়ঞ্চৈব, বুধে বাণ-তৃতীয়কং। গুরো সপ্তাষ্টকঞ্চৈব, ত্রি-চত্বারি চ ভার্গবে । শনাবাদ্যং তথাচাস্ত্যং ষষ্ঠঞ্চ পরিবজ্জয়েৎ ॥ ৮০। অশ্যাম্বয়াে যথা—বৌ রবিবারে দিবস চতুঃ পঞ্চ অর্থাৎ চতুর্থ ভাগঃ পঞ্চম-ভাগশ্চ ( তং কালং বারবেলাং জ্ঞাত্ব। ') সর্বকাৰ্য্যেষু বিব- কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। জ্জয়েৎ, অতএব তথা সােমে সােমবারে সপ্তদ্বয়ং তথা দিবস সপ্তমভাগং দ্বিতীয়-ভাগঞ্চ (হং কালং বারবেলাং জাহা) পৰিবৰ্জয়েৎ কুজে মঙ্গলবারে তথা ষষ্ঠদ্বয়ঞ্চৈব অর্থাৎ দিবসস্য ষষ্ঠভাগং দ্বিতীয়- ভাগঞ্চ (তং কালং বারবেলাং জ্ঞাত্ব) পরিবৰ্জয়েৎ। বুধে বুধ বাসরে তথা বাণতৃতীয়কং অর্থাৎ দিবসস্য পঞ্চম ভাগং তৃতীয়ভাগ ঞ্চৈব (বারবেলাং জ্ঞাত্ব) বিবর্জয়েৎ। গুবে বৃহস্পতি বাসরে সপ্তাষ্টকঞ্চৈব অর্থাৎ গুৰু বারস্য সপ্তম ভাগং অষ্টম ভাগঞ্চৈব ( বাবেলাং জ্ঞাত্বা) বর্জয়োৎ, ত্রি-চকারি চ ভাগবে অর্থাৎ ভাগবে শুক্র বাসরে দিবসস্য তৃতীয়ভাগং চতুর্থ ভাগঞ্চৈব (বারবেলা জ্ঞাত্ব) পরিবদ্ভয়েৎ তং কালং ত্যজেৎ। শনে শ'নবাসরে আদ্যং আদিভাগং অন্ত্যং অষ্টমভাগং তথা ষষ্ঠং ষষ্ঠ-গঞ্চৈব (তং কালং বারবেলাং জ্ঞাত্ব) বর্জয়েৎ ; বাববেলা বিচার বিষয় দিবস অস্ট ভাগং কৃত্বা একৈক ভাগং থায়াৎ ই হয়ঃ শেষ— ৮০ । অন্য বঙ্গভাষা যথা-দিবসের সময়কে অভাগে বিভাগ কবিয়। রবিবারের চতুর্থভাগ ও পঞ্চমভাগকে বারবেলা জানিয়া বর্জন পূৰ্ব্বক শুভকাৰ্য্য করিতে হয় , সােমবারের সপ্তম ও দ্বিতীয় ভাগকে বাবেল। জানিয়া শুভ কৰ্ম্ম করিতে হয়। মঙ্গলবারের যষ্ঠ ও দ্বিতীয় ভাগ সময়কে বারবেলা জানিয়া শুভকার্যে ত্যাগ করিতে হয়। বুধবার দিবসের পঞ্চম ও তৃতীয় ভাগ সময়কে বারবেলা জানিয়া সুকর্ম ত্যাগ করিতে হয়। বৃহস্পতি বাসরেব সপ্তম ও অষ্টম ভাগ সময়কে বারবেল জানিয়া সংকস্মে বর্জন অবশ্য বৈধ। শুক্রবারের তৃতীয় ও চতুর্থ ভাগ সময়কে বারবেল। জানিয়া সৎকার্যে বর্জনীয়। শনিবারের অন্য ভাগ, অন্ত্যভাগ আর যষ্ঠভাগকে বারবেলা জানিয়া বর্জন করা কর্তব্য a ৮০ | ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
শুভকৰ্ম্মমাত্রে বারবেলাবৎ নিত্যং কালরাত্রিরপি বর্জনীয়া।
শুভকাৰ্য্যে ও যাত্রাদি বিষয়ে কালবাত্রি বর্জন কবিলে শুভ ফল হইয়া থাকে।
কালরাত্রি নিশ্চয় কবিবার লক্ষণ যথা—
৪
৭
৪
রবো রসা। সিতগৌ হয়ান্ধী,
দ্বয় মহীজে বিধুজে শরাখো ।
২
৮
গুরো করাষ্টেী ভৃগুজে তৃতীয়ং,
শনৌ রসাত্যন্তমিতি ক্ষপায়াং ৮১।
“গুরৌ করাষ্টো হত্যত্র গুরো শরাষ্টেী ইতি কেচিদ
বদন্তি।”
ইত্যনেন কালরাত্রিবজনীয়া।
অত্যাশ্বযাে যথা—বৰে বৰিবাব-বাত্রে সান্ধী রাত্রেঃ ষষ্ঠ
শ্চতুর্থ ভাগশ্চৈব কালরাত্রি জ্ঞেয়া। সিতাগো সােমবার নিশায়।
হযাব্ধী অর্থাৎ নিশায়াঃ সপ্তমভাগশ্চতুর্থ-ভগশ্চৈব কালরাত্রি জ্ঞেয়
মহীজে মঙ্গলবার রাত্রে দ্বয়ং দ্বিতীয়ভাগঃ কালরাত্রিঃ স্যাৎ
বিধুজে বুধবার-রাত্রে পঞ্চমভাগঃ সপ্তমভাগশ্চৈব কালরাত্রি বিজ্ঞেয়া
গুরৌ বৃহস্পতিবাৰ-বা করাষ্টে। দ্বিতীয়ভাগঃ অষ্টমভাগশ্চৈ:
কালরাত্রি জ্ঞেয়া। ভূজে শুক্রব। সব-রাত্রে তৃতীয়ং তৃতীয়ভাগ
কালরাত্রি র্ভবতি। শনৌ শনিবারস্য রজনাং রসাদ্যন্ত অর্থাৎ ষষ্ঠ
ভাগঃ অদ্য ভাগঃ অন্তভাগশ্চ কালরাত্রিঃ স্যাৎ ॥ ৮১।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অঙ্গ বঙ্গভাষা যথা-প্রতিবেব বাত্রিকে আটভাগে বিভাগ করিয়া রবি বাবের ষষ্ঠভাগ আর চতুর্থ ভাগকে কালবাত্রি কহিযা থাকেন, সােমবাৰেৰ বাত্রিব সপ্তম ও চতুর্থভাগকে কালবাত্রি বলে, মঙ্গলবারের রাত্রিতে দ্বিতীয়ভাগকে কালবাত্রি কহে। বুধবাসবের বাত্ৰিৰ পঞ্চম ও সপ্তম ভাগকে বালবাত্রি বলিয়া শুভকাৰ্যে বর্জন করতে হয়। বৃহস্পতিবাবেব বাত্রি দ্বিতীয় ও অষ্টমভাগকে কালবাত্রি বলিয়া অভিহিত হইয়াছে। শুক্রবার বাত্রিব কৃতীসগকে কালরাত্রি বলিয়া বর্জনীয়। শনিবাব বাবি ষষ্ট লাশ, আ'ভাগ ও অন্ত্যভাগকে কালরাত্রি বলিয়া শাকাবগণ বক্ষন কবি শুভকার্যা কবিতে অনুমতি কবিছেন | ৮১। বাববেলা ও কালবাএি বর্জন পূৰ্ব্বক কাখ্যাদিতে প্রবৃত্ত হইলে কোন বিপদ আশঙ্কা থাকে না । ৮১। পূৰ্ব্বজন্মকৃত কম্মফলে যে সমযে যাহা হইবাব সম্ভব, তাহা অবশ্যম্ভাবি। তৎপ্রমাণং যথা -- যস্মিন্ দেশে যদা কালে, যদ্দণ্ডে যন্মুহুৰ্ত্তকে। লাভাে মৃত্যু জয়াে হানি, দেবৈরাপ ন বাধ্যতে ॥ ৮২। “ইতি পুবাণণাক্ত বচনং” অন্যান্বয়ে। যথা—যস্মিন্ দেশে যৎ প্রদেশে, যদাকালে যস্মিয়েব সময়ে যস্মিন দওে, যন্ম হুকে সৎসূক্ষম পবিমিতকালে লাভঃ প্রাপ্তি, মৃত্যুর্মরণং, জযে। বিজযঃ, হানিশ্চ ক্ষতিশ্চ দেবৈরপি সুরৈপিন বাধ্যতে ন প্রতিবন্ধকৈ ভূযতে ॥ ৮২ অস্য বঙ্গভাষা যথা—যেদেশে, যে সমযে, যে দও পৰিমিত কালে, যে মূহুর্তে অর্থাৎ যে সূক্ষ্মকাল হইতে সূক্ষ্ম কালেতে লাভ, মৃত্যু, জয় ও হানি—এই চতুবিধ শুভাশুভ কৰ্ম্ম হইব সম্ভব অর্থাৎ পূৰ্বজন্মার্জিত কৰ্ম্ম ফলে যে যে সময়ে যে যে কৰ্ম্ম হইবাব ব্যবস্থা হইয়াছে, তাহা সেই সেই সময়ে বা সেই সেই সূক্ষ্মকালে অবশ্য ঘটবে। তৎসম্পাদন পক্ষে দেবগণ বিবােধী হইলেও অবশ্যম্ভাবি জানিবেন ॥৮২।
৪ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। - নিয়ােজন-বিষয়কে সাধন-চেষ্টা করিলে হতরঃ হইয়া ধরাশায়ী হইতে হয়। তৎপ্রমাণং যথা- অব্যাপারে ব্যাপারং, যাে নরঃ কমিচ্ছতি। স নাে নিহতঃ শেতে, কিলােৎপাটীব বানরঃ ॥ ৮৩। ইতি হিতােপদেশে পুবালােক্ত শ্লোকঃ। অন্যান্বয়ে যথা—অব্যাপারে নিষ্প্রয়ােজন-বিষয়েষু, ব্যাপাবং কল্যকৰ্ম্মজ্ঞা যো নঃ কমিচ্ছতি। স নবাে নিহতঃ সন্ হত- প্রায়ঃ সন্ কিলােৎপাটী অর্গলােৎপাটী বানর ইব শেতে ভূমৌ স্বপিতি ইত্যর্থঃ ॥ ৮৩। অস্ত বঙ্গভাষা যথা – অগ্রে কিঞ্চিৎ উপন্যাস বক্তব্য—এক বানর ইতস্তত উদ্যান-ভূমি পৰ্যটন-পূৰ্ব্বক সুস্বাদু-ফলাদি-ভােজনে পরিতৃপ্ত থাকিয়া বৃক্ষশাখােপরি নিরাপদে বসিয়া সবায়ু সম্ভোগ কবিতে কবিতে অনতিদূবে শাখা-পল্লব-বহিত সুমহান বৃক্ষ (ত্যক্তা-চেবাই-উদ্দেশ্যে কবাতি স্থাপিত গুড়ি কাষ্ঠ) ২। ৪ টী বিদ্যমান রহিয়াছে, দেখিয়া উহাদের বৃত্তান্ত পবিজ্ঞাত হইবাব অভিপ্রায়ে ২। ৪ লক্ষ্যে “উ-আপ্” শব্দ প্রকাশের সহিত মহানন্দে একটী মহাবৃক্ষে আরােহণ-পূর্বক আত্ম হইতে অন্তে এবং অন্ত হইতে আছে মহাহর্ষে বারম্বার ভ্রমণ করিতে লাগিলেন ; এবং দেখিলেন একপ্রান্তে গমন কবিলে অপব প্রান্ত স্বর্গে বা উদ্ধে উঠে, ঐ বৃক্ষকে আলিঙ্গন-পূৰ্ব্বক বৃক্ষের চতৃপাশ্ব বাবস্থা ঘুরিয়া ঘুরিয়া দৃষ্টিগােচর হইল যে তন্মধ্যে ছিদ্র এবং আলােকশ্রেণী দৃষ্টিগােচর হইতেছে। সেই ছিদ্র-বহির্গত-আলেকশ্রেণী দর্শনে নির্বোধ বানব মুগ্ধ হইযা ( পেঁকি কলে উখিত ও শায়িত-কাষ্ঠে অর্থাৎ শাখা-পল্লব-শূন্য বৃক্ষে) অশ্বাবােহীর ন্যায় আরােহণ পূৰ্ব্বক ছিদ্রস্থিত অৰ্গলে দেখিয়া শাখাপল্লব জ্ঞানে মহাপুলকে হস্তদ্বয়ে ধৃত করিলেন এবং অশ্বারােহীর ন্যায় আবােহণ করায় ঐ সময়ে কোষদ্বয় উভয় পার্শ্বস্থ খণ্ডিত ত্যার মধ্যগত হইয়া রহিল, এই সময়ে বানববীর, করাতি কর্তৃক রােপিত অর্গলকে ব্যবস্থা চালনা করিতে কবিতে অর্গলােৎপাটন চেষ্টা ফলবতী হই মাত্র কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। উভয়-পাশ ত্যকার • দৃঢ়-চাপে বানর কোষদ্বয় চুর্ণ ও বিচুর্ণীত হইল, এবং তৎক্ষণাৎ বানররাজ বহুবিধ কাতরােক্তিতে ধরাশায়ী হইলেন অর্থাৎ প্রাণ পরিত্যাগ করিয়া ইহলােকে কীৰ্তিরক্ষা করিলেন। ৮৩। ফলকথা পাঠক! যে বিষয়ের আবশ্যক নাই, সেই বিষয় জন্ত যত্নবান হইলে এই কিলােৎপাটি বানর সদৃশ ফল প্রাপ্ত হইতে হয় অতএব নিষ্পমােজন বিষয়ে নিবৃত্ত হইবেন, এই ইহার তাৎপৰ্য। ৮৩। “অসহং জ্ঞাতি দুবাক্যং”। জ্ঞাতি-দুৰ্বাক্য অসহনীয়। তৎপ্রমাণং যথা- বরং রাম শরঃ সহো, বিভীষণবচো নহি। অসহং জ্ঞাতি-দুৰ্বাক্যং, মেঘান্তরিত রৌদ্রবৎ ॥ ৮৪ ইতি চাণক্যেণ ধৃতং পুরাণােক্ত বচনং। অশ্যাম্বয়ে। যথা-রক্ষেরাজ রাবণােক্তিৰ্যথা-রামশনাে বরং সহঃ রামশরাঘাতে। বরং শ্রেষ্ঠতরং যথা স্যাৎ তথা সহঃ সহনীয়; কিন্তু বিভীষণবচো নহি অর্থাৎ বিভীষণস্য দুৰ্বাক্য অসহনীয়ং। তৎ- জ্ঞাতি বাক্যং কিং মেঘান্তরিত বৌদ্রবৎ মেঘেণ অন্তরিতং উগ্র- প্রভাকরং রৌদ্রং যগী অসহ্যং, তদ্বৎ জ্ঞাতিদুৰ্বাক্যং অসহনীয় ৮৪। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—মহাবীর লঙ্কাধিপতি দশাননের উক্তি যথা—রামচন্দ্রের শরাঘাত বরং সহ করিতে সমর্থ ; কিন্তু পরম শত্রু জ্ঞাতি বিভীষণের দুর্বাক ও টিটকারী বাক্য সহ করিতে সমর্থ নহি। যে হেতুক তাহা মেঘান্তরিত অসহ রৌদ্র-সদৃশ ; অতএব রামের শরাঘাতে দেহত্যাগ করাই আমার পক্ষে বরং শ্রেয়ঙ্কর, তত্রাপি জ্ঞাতির কটুক্তি সই করিতে পারি না । ৮৪।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
সতত আশঙ্কাব বিষয় বর্ণনা যথা-
শাস্ত্রং সুচিন্তিতমপি প্রবিচিন্তনীয়ং,
স্বরাধিতে নরপতিঃ পরিশঙ্কণীয়ঃ ।
অঙ্কে স্থিতাপি রমণী পরিরক্ষণীয়া,
শাস্ত্রে নৃপেচ যুবতো চ বুতো বশত্বং ॥ ৮৫।
অন্যান্বযে। য-শাস্ত্র অধ্যযনাদি জন্য জ্ঞানাদিক সুচিন্তিত
মপি বিশেষরূপেন সমালোচিতমপি পবিচিন্তনীয়ং অর্থাৎ নিত্য
সমালোচং , স্বাবাধিতে। নবপতিঃ স্বেন অবধিতে নরপতিঃ
পৃজিতেহপি বাজা, পবিশঙ্কনাযঃ নিত্যং আশঙ্কঃ , অঙ্কে ক্রোড়ে
কামিনী যুবতী স্ত্রী স্থিতাপি সবক্ষি ৩াপি সততং পবিবক্ষণীয় দৃষ্টি-
গােচরে রক্ষণীয়া। শাস্ত্রে পঠিতবিদ্যাযাং, নৃপে বাজনি, যুবতে চ
নবীন। প্রিয়াঞ্চ বশিই কুততা বৰ্ত্ততে অর্থাৎ এতেষাং মধ্যে কুত্রাপি
বশিত্বং ন বহে ॥ ৮৫।
অস্য বঙ্গভাষা যথা—পঠিত বিদ্যায সুশিক্ষিত থাকিলেও নিত্য আলােচনা
কবিয়া পবিমাজিত কলিতে হয়, বাজ। পৃজিত ও বাধ্য থাকিলেও তাহাকে সত
ভৰ কৰি সকল কাৰ্য্য কবিতে হ্য, যুবতী রমণী নিজ ক্রোতে স্থাপিতা হইলেও
তাহাকে সতত আশঙ্কা কবিয়া বগা কবিতে হয় , ফল কথা পাঠক। শাস্ত্র
বাজা আৰ যুবতী বর্মণী শীভূত থাকিলেও সতত অ'শ কবা কৰ্ত্তব্য। ৮৫
যা হাতে যে সন্তুষ্ট হয়, তাহাব বিষয়
প্রমাণং যথা-
নৃত্যান্ত ভােজনে বিপ্রাঃ, ময়ূরা মেঘগর্জনে।
সাধবঃ পরসম্পংসু, খলাঃ পরবিপত্তি। ৮৬।
অত্যান্বয়ে। যথা-বি প্ৰা ব্ৰাহ্মণ ভোজনে সুখাদ্যাদি ভক্ষণে
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। নৃত্যন্তি হর্ষেণ নৰ্ত্তনং কুন্তি, মেঘগর্জনে নীরদ-গভীর- শশ্রণে ময়ুরাঃ শিখিনঃ সর্বে পুলকেন নৃত্যং কুন্তি ; সাধবঃ সর্বে সঞ্জনা পর-সম্পৎ অন্যেষাং আনন্দ-বন্ধনেষু হর্ষা ভবন্তি, খলাঃ কুর পরবিপত্তি অন্যেষাং বিপৎসু নৃত্যন্তি আনন্দেন নৃত্যং কুন্তি ইত্যম্বশেষঃ ॥ ৮৬। অস্য বঙ্গভাষা যথা-কলিযুগ জাত ব্রাহ্মণগণ উত্তম-ফলাহারের সুবন্দোবস্তের সুযােগ পাইলে অতীব আনন্দিত হয়েন, ময়ুরগণ মেঘদর্শন ও গর্জন-ধ্বনি শ্রবণ করিলে পুলকে নৃত্য করিতে থাকে। সাধুগণ পরের সুখ-দর্শনে আনন্দিত হয়েন, কপটগণ অন্যের মুখে অতিশয় কাতর হইয়া বিষাদিত থাকে। ৮৬। সকলেই চেষ্টা করিতে করিতে সকল কাৰ্যেই বিশেষ পারদর্শী হইতে পারেন। তদুদাহরণং যথা-- শনৈঃ পন্থাঃ শনৈঃ কন্থা, শনৈঃ পর্বতলঘনং। শনৈঃ কৰ্ম্ম চ ধৰ্মশ্চ, সর্বকাৰ্যং শনৈঃ শনৈঃ ৮৭। অস্তান্বয়ে। যথা—শনৈঃ পন্থ। ভবতি অর্থাৎ শনৈঃ ক্ৰমশে। লােক গমনাগমনেন পন্থাঃ অখ। ভবতি ; শনৈঃ কস্থা শনৈঃ ক্রমশঃ ছিন্নবসনেন নিশ্মি ও শীতবস্ত্রবিশেষাে (কঁাথা ইতি ভাষা) ভবতি ; শনৈঃ পর্বতল ঘনং ক্রমশঃ লঙঘন চেষ্টয়া পর্বতলজানমপি সম্ভবতি ; শনৈঃ ক্রমশঃ ক চ ধৰ্ম্মশ্চ ভবতি অর্থাৎ আল্লালে কাৰ্যং ধশ্চ ভবতি—এবারেণৈৰ সৰকাৰ্যং শনৈঃ শনৈর্ভবতি অর্থাৎ মশো ভবতি,ইত্যয়ঃ শেষ ॥৮৭ অশ্য বঙ্গভাষা-ভূমির উপরিভাগ দিয়া গমনাগমন করিতে করিতে জমে পন্থা অর্থাৎ রাস্তা বরিয়া পরিগণিত হয় ;-ছিঃ উপযুপরি রক্ষা করিয়া সুচ কবিতা কুসুমাঞ্জলি। ও কল দ্বাৰা গ্রথিত কবিতে কবিতে (শেলাই কবিতে,করিতে কিঞ্চিৎ স্কুল { মেটি।) হলেই কস্থা ইযা থাকে, লন চেষ্টা কবিতে কবিতে ক্ৰমে পৰ্বত লবনেও সমর্থ হযেন, সেইমত কম্ম শিক্ষা কধিতে কবিতে ক্ৰমে কম্মিষ্ঠ ইমেন , ধম্মা ভ্যাস (বােগাদি ) কবিতে কবিতে ক্রমশঃ ধৰ্ম্মিষ্ঠ বা ধাম্মিক হইয়া থাকে, এই প্ৰকাৰে সৰ ল কায্য শিক্ষা কবিতে কবিতে ক্রমে পারদর্শী হ, -এই ইহার তাৎপয্য। ৮৭। ক্লীব ব্যক্তিব স্ত্রীসম্ভোগ সদৃশ কৃপণ ব্যক্তিৰ ধন-সম্ভোগেব তুলনা। তদুদাহবণ-শ্লোকে। যথা- ন দাতুং নেপসংভােঙুং, শকোতি কৃপণে ধনং। কিন্তু স্মৃতি হস্তেন, দিব্যস্ত্ৰীমন্ যথা নিশি। ৮৮। অন্যান্বয়ে যথা—আন ক্লাবং যথা নিশি বাত্রে দিব্য-স্ত্রীং রূপ- যৌবনসম্পন্ন। ভাযাং হস্তেন স্মৃতি অর্থাৎ বাহুনা স্বপত্নীং স্পষ্ট। নিশ'-যাপনং কযেতীত্যর্থতদ্বৎ কৃপণে জনো ব্যয়- কুন্তিতো জানে। ধনং মুদ্রাদিকং ন দাম ন দানং কম এবং উপ- সম্ভো উপভোগ কর্তৃঞ্চ ন শাতি ন শক্তিমান ভবতি; কিন্তু পবন্তু স কুপণে। জনঃ শুদ্ধনং হস্তেন বাহন। স্মৃতি ধনে হস্ত-সংস্পৃষ্টে দিনযাপনং কবে শীত্যর্থ। তত্রাপি দাতুং সম্ভোজুং বা শরুেতা ৩থঃ ॥ ৮৮ { অস্য বঙ্গভাষা, যথা --ক্লীবব্যক্তি, দিব্যস্ত্রী অর্থাৎ রূপ যৌবন সম্পন্ন গুণবতী ভাৰ্য্যা প্রাপ্ত হলে অন্য কোন পুরুষকে দান করিতেকি উপসম্ভোগাৰ্থে ( দিবাব নিমিত্ত ) সমথ না হইয়া কেব। হস্ত দ্বারা স্পশ কবি। যেমন নিশযাপন করেন ; সেই প্রকার কৃপণ ব্যক্তিত্ব বিপুল ধন থাকিলে ও দান কষিতে ও সম্ভোগ করিতে সমর্থ হয়েন না ক্লীব ও কৃপণ এই উভয়ের স্পশ জন্য কেবল মনােকষ্ট মাত্র। i কবি-কুসুমাঞ্জলি। যুবতী স্ত্রী সম্ভোগে অপটু হইলে বিড়ম্বনা—সেইমত ধনসত্ত্বে দান কবিতে বা সম্ভোগে অপটু হইলেও বিড়ম্বনা,—ইহাতে সন্দেহ কি ? ৮৮। নাস্তি পুত্র-সমাে বিপুঃ । অন্য বঙ্গভাষা -ইহলােকে পুত্র সদৃশ ভীষণ শন’ • । তৎ প্রমাণং যথা- --- জায়মানাে হরে ভাৰ্যাং, বর্ধমানাে হরে ধনং। ম্রিয়মাণে হরেৎ প্রাণান্, নাস্থি পুত্র সমাে রিপু ॥ ৮৯। অশ্যাম্বযয যথ –জামানঃ পুন্ন অষ্ম জা ভূমিষ্ঠ সন ভাগ্য আনন্দদাযিনীং মনােমা, পত্নীং হবেৎ পয়' সহ বিচ্ছেদ” কুৰ্যাৎ, স পুত্রে। বর্ধমানঃ সন বয়ঃপ্রাপ্তঃ সন ধন হবেৎ বিষয় কায্যাকিং হৃত বান্। স পুত্রঃ মিযমাণঃ সন মন বদনেন গহগতঃ সন প্রাণ। হবেৎ গতজীবনং কুয্যাৎ ; অতএব নাস্থি পুত্রসমমা বিপুঃ অর্থাৎ ইহ জগতি পুলসদৃশে। বিপু নাস্থতি ভাৰ’ | ৮৯। অস্য বঙ্গভাষা যথা—এই জগন্মণ্ডলে গুলি সদশ পম শow 1 কে হই নাই; যেহেতু পুন্ন ভূমিষ্ঠ হই বানান সেবা শুশকাৰণ ৩ পবতমা ন্যাকে হণ কবেন অথাৎ সব্বাগ্রে পত্নীকে অবিব কনে (দশল ব বেন অর্থাৎ সন্তান (ফলিযা স্বামীব নিকট আসিতে চাহেন না, সন্ত'ন বযঃ পাপ্ত হইলে বনাদি সম্পত্তি গ্রহণ কবিয়া বঞ্চিত কবেন ; অর্থাৎ উপযুক্ত পুত্র হলে বৃদ্ধ পিকে অমিদাবি ইত্যাদি বিষয় কাৰ্য্য কবিতে দে না; কিন্তু সেই পুলু দুঃখিত পদয়ে গৃহগত ইলে জীবনান্ত প্রায় এবং মর্মাহত হইতে হয়, অতএব “নাস্থি পুল-সমমা {বপুঃ” অর্থাৎ পুত্র হইতে বিপু কে আছে ? # ৮৯।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। নারী প্রত্যক্ষ-রাক্ষসী- তৎপ্রমাণং যথা- দর্শনাৎ হরতে চিং, স্পর্শনাৎ হরতে বলং। সম্ভোগাৎ হরতে বীৰ্য্যং, নারী প্রত্যক্ষ-রাক্ষসী। ৯০। অস্যান্বয়ে। যাদর্শনাৎ যুবতা স্ত্রিয়ঃ সন্দর্শনেণৈব চিত্তং পুরুষস্য মনে হরতে মনােবিকারাে ভবতি, স্পর্শনাৎ স্ত্রী সংস্পর্শনেনৈব বলং পুরুষস্য তেজো হরতে হ্রাসাে ভবতি ; সন্তোগাও স্ত্রীসন্তোগাৎ অর্থাৎ স্ত্রী-গমনাৎ বীৰ্যং শরীরস্য সারাংশং হরতে ক্ষতি ; অতএব নারী প্রত্যক্ষং রাক্ষসী ভবতি অর্থাৎ নারী প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ রাক্ষসী ভবতি ॥ ৯০। অস্য বঙ্গভাষা-যুবতী নারী পুরুষ সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ-রাক্ষসী, যেহেতু ধুবতী স্ত্রী দশন মাত্র চিত্তচাঞ্চল্য দোষ উপস্থিত হইয়া থাকে ; যুবতী নারী সংস্পশন জন্য বে, পন হয়া বাছবীযেব হাস হয় , নারীসম্ভোগ হেতুক বীৰ্য্যক্ষরণ হইয়া পুরুষ মাত্র দুর্বল ও ক্ষীণ তনু হইতে হইতে অন্ধাযুঃ হইয়া ক্রমে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ইহা অপেক্ষা আর কি দুর্গতি হইবে ? ৰাক্ষসীব সহিত সকল কাৰ্য্যেরই সৌসাদৃশ্য আছে বলিয়া নারী প্রত্যক্ষবাক্ষসী হইতেছে। ৯০। পণ্ডিতাদি সমীপে শঠতা ও মিথ্যা পূর্ণ কৌশল করা হইতে পারে না। তপ্রমাণং যথা- অধ্যাপকে নটে ধূৰ্ত্তে, কৌটিল্যে বহুদর্শনে। এষু মায়া ন কৰ্তব্য, মায়া তৈরেব নির্মিত। ৯১। অত্যন্বয়ে। যথা--অধ্যাপকে পণ্ডিতসমীপে, নটে নর্তক সন্নিধানে, ধূৰ্ত্তে শঠসমীপে, কুটিলে কপট-গােচরে, বহুদর্শনে বদপি- কবিতা কুমাঞ্জলি। জনসমীপে, এযু জনেযু মায়া, মিথ্যা প্রবঞ্চনা বা ন কর্তব্য। ন কাৰ্যা, যৎ তৈয়েব মায়া ( মিথ্যা প্রবঞ্চনা নির্মিত সৃষ্টা॥ ৯১। অন্য বঙ্গভাষা যথা-পণ্ডিত মানবেন্দ্র সমীপে, নটবর সন্নিধানে শঠনিকটে, কুরসন্নিধানে, বহুর্শি-জনসমীপে, কদাপি মায়া ( মিথ্যা, প্রবঞ্চনা শঠত ) করিবে না; যেহেতু এই সকল মহাপুরুষ হইতেই মায়া-রূপিণী কন্যার উৎপত্তি হইয়া থাকে। ফলকথা পাঠক! ইহাদের নিকট মায়া প্রকাশ করিলেই মায়ারূপিণী কন্যাকে দর্শনমাত্র চিনিতে পারেন , অতএব ইহাদের সন্নিধানে কেহ কথন মায়া মিথ্যা ) ও শঠতা করিবেন না। ইহাঁদের নিকটে ধুয়ারি করিলেই প্রকাশ পাইবে এবং অপ্রতিভ হইতে হইবে ॥ ৯১। কৃপণ-দুর্গতি যথা— আত্মানং পরিবঞ্চ যাচক-কুলং কুন্তি যে সঞ্চয়ং, তেষাং পাপবতং তদেব হি ধনং ভােগায় মাজায়ং। নিত্যং সংচিনুতে মধুনি সরঘা দত্ত্বা নলং তম্মুখে, নীত্বা দেব-পিতৃ সদা সুকৃতিঃ সন্তোষয়স্তি ধ্রুবং ৯২। অত্যাশ্বয়ে। যথা—যে কৃপণ। আত্মানং স্বং যাচক-কুলঞ্চ ভিক্ষুক পরিবঞ্চ বঞ্চয়িত্ব। সঞ্চয়ং ধন-সংগ্ৰহ কুন্তি, তেষাং পাপৰং মহাপাপিনাং তদেব নং তদ্ধনং হি নিশ্চিত ভোগায় তােগা মা জায়তং ন জায়তে ; যথা—সর মধুমক্ষিকা নিত্যং প্রতিদিনং মধুনি পুষ্পরসা সংচিতে সঞ্চয় কুরুতে; কিন্তু পশ্চাৎ তন্মুখে তেষাং মধু মক্ষিকানাং মুখে বদনে অনলং বহ্নিং দা সুকৃতিঃ পুণ্যবন্ত সৰ্বে নীহা মধূনি নীত্ব অর্থাৎ মধুনি গৃহীত্ব। সদা সর্বস্মিন্ কালে দেবপিন দেবপিতৃ-লােকান্ ধ্রুবং সন্তোষয়ন্তি প্রণয়ন্তি দেবপূজা পিতৃশ্রাদ্ধাদিক সম্পাদয়ভীতি ভাবঃ ॥ ৯২ ;
। কবি-কুসুমাঞ্জলি। অন্য বঙ্গভাষা যথা—কৃপণ গুণ আয়াকে এবং যাচক সমূহকে বঞ্চনা পূর্বক ধন সঞ্চয় কবিলে পবিশেষে সেই মহাপাতকীব ধন উত্তরাধিকাবিগণ অপব্যয় কবিয়া থাকেন, কদাপি সৎকার্যে পরিণত হয় না। তইদাহরণ যথা--মধু মক্ষিকাগণ প্রতিদিন যথা তথা পরিমণ কবিষা আত্মাকে এবং যাচক-বর্গকে বঞ্চনা পূর্বক চক্ৰমধ্যে মধু সঞ্চ্য কবিয়া বাথে কিন্তু পরিশেষে মধু অনুসন্ধায়ি ব্যক্তিগণ অগ্নিযুক্ত মশাল । হস্তে গমন পূর্বক মধুমক্ষিকাগণের মুখে বহি প্ৰদানাব তাহাদেব দূবীভূত কবিয়া সঞ্চিত তন্মধুধন হণ পূর্বক হট্টে বিক্রমাদি কবলে পুণ্যবান লােক, সেই মধু ক্ৰম কবিয়া দৈব ও পিতৃকার্যে পেদান কবিযা তাদের প্রত্যুৎপত্তি অর্থাৎ তাঁহাদেব প্রীতি সম্পাদন কবেন ॥ ২॥ আ মুৰ্বেদ-শাস্ত্র মতে বা পিত্ত ও কফেব শান্থি জনক সঙ্গ উপাষ। যথা- বাতপিত্ত-কফেভানাং শরীর বনচারিণং । এক এব নিহন্তাশু, লবণাক-কেশরী । ৯৩। ইতি আয়ুৰ্বেদ-শাস্ত্রে ধৃত-বচনং। অস্যার্থে যথা-শ্চ পিঞ্চ কফশ্চতে-বাত-পিও-কফাঃ ত এব ইভা হস্তিন। শবীবমেব বনং শরীব-বনং তস্মিন্ চরন্তি যে ইভা হস্তিনঃ—তে শবাব-বনচাবিণঃ, তেষাং বাতপিত্ত-কফেভানাং অথাৎ শরীব-রূপশন চাবিং বায়ু-পিও-কফৰূপ-হস্তিনাং আশু শীঘং এক এব নিহন্তা একমাত্রহনন-কর্তা লবণাক-কেশী, লবণেন সহ আকঃ লবণাকঃ স এব কেশরী সিংহঃ লবণাক-কেশবী অর্থাৎ লবণেন সহ অর্দিক ৰূপ-কেশবী। কেশবীতি কেশবা বিদ্যন্তে অস্য ইতি বাক্যে ইনি কৃতে কেশবী অর্থাৎ সিংহ ইতিখ্যাতঃ ॥ ৯৩ । অষ্ণু বঙ্গভাষা -শবীবরূপ বন মধ্যে সহ বিচৰণ কবিতেছেন, বায়ু পিত্ত ও কৰিক্স-কুসুমাঞ্জলি। কফ স্বরূপ হস্তী সকল, তাদের একমাত্র হনন কর্তা (দমনকারী। লবণ-সংযুক্ত কিঞ্চিৎ আদ্রক চর্বণ পূৰ্ব্বক নিত্য সেবন----ইহাই বাথুপিত্ত ও কফের বিশেষ দমন কর্তা। • ইতি আয়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে উক্তি থাকা সাধারণেব মঙ্গলার্থে প্রকাশ কবিলাম ॥ ৯৩। ফল কথা—নিত্য লবণসহ কিঞ্চিৎ আ ক ( আদা) ভক্ষণ কৰিলে বায়ু পিত্ত ও কফেব শাস্তি হইয়া থাকে। অতএব নিত্য ব্যবহাৰ্য্য- পিঞ্জরাদ্ধ পক্ষিণেক্তি যঁপা। যে তে স্মরন্তি যদুনন্দন ! নামভি স্তে, মুক্তা ভবন্তি ভব-বন্ধনতঃ ঞতং মে। উক্তাধিকঞ্চ তব নাম ময়া স্মৃতঞ্চ, বন্ধঢ়ো ভবতি নাথ মমাহধমস্য ॥ ৯৪। অশ্যাম্বয়ে। যথ-হে যদুনন্দন। শ্রীকৃষ্ণ ! যে নরাঃ তে তব নামভিঃ স্মবন্তি স্মবণং কুন্তি, তে নবাঃ ভব বন্ধনতঃ সংসার- বন্ধনাৎ মুক্তা ভবন্তি পাব ত্রাণ। ভবন্তি ইতি মে ময়া শ্ৰতং, ময়া তং ইত্যত্র কবি বিবক্ষা ষষ্ঠী ; কিন্তু দেব। মৎপক্ষে বিপরীত মেতৎ যথা ময়া বনাম ভগবন্নাম উক্তাধিকঞ্চ অধিকন উঞ্চ স্মৃত ঞ্চাপি কৃত-স্মরণঞ্চ এতেন হে নাথ ! হে প্রভো মাধমস্য অধস্য মম মৎসম্বন্ধে বন্ধদৃঢ় ভবতি অর্থাৎ মম পক্ষে ক্রমেণ দৃঢ় বন্ধন ভবতি প্রস্থানৰয়াদিতিভাব-ইতি পিরাবদ্ধপক্ষিণোক্তং ॥৯৪} অস্য বঙ্গভাষা যথা—ভগবন্নামােচ্চাৰণে নিপুন পিঞ্জবাবদ্ধ পক্ষি দুঃখের সহিত বলিতেছেন ;-হে প্রভাে! যদুনন্দন! আপনার নাম যাহাবা উচ্চাবণ ও স্মরণ করেন, তাহারা ভববন্ধন হইতে মুক্তিলাভ পূৰ্ব্বক অবছেদাবছেদে নিত্য সুখ সম্ভোগ করেন -এইকথা বেদোক্ত বলয়া শ্রবণ কবিয়াছি , কিন্তু ন থ ! সেই ;
কবিতা কুসুমাঞ্জলি। সমস্ত আমার পক্ষে সম্যক বিপরীত হইতেছে। যেহেতু আপনার নাম যত উচ্চারণ ও স্মরণ করিতেছি-ততই গৃহস্বামী আমার প্রস্থানভয় প্রযুক্ত দিন দিন সঙ্গে দৃঢ়বন্ধন করিয়া আমাকে রক্ষা করিতেছেন।-হে প্রভাে আপনার পবিত্র নামােচ্চারণ ও অরণে সাধারণে ভববন্ধন হইতে মুক্ত হইতেছেন; কিন্তু হে নাখ! আমি আপনার সেই পবিত্র তারকব্রহ্ম নাম উচ্চারণ ও মরণ করিয়া কেন দিন দিন দৃঢ় বন্ধন প্রাপ্ত হইতেছি? ইতি মে খেদ ॥ ৯৪ ॥ ? -- দুঃস্থ হইয়াও ভগবচ্চিন্তা যথা- আদ্যন্ত-মধ্যরহিতং, দশাহীনং পুরাতনং। অদ্বিতীয়মহং বন্দে, মদবসদৃশং হরিং ৯৫। অন্যায়াে যথা-আন্তং চ অন্তশ্চ মধ্যঞ্চ তানি আগন্ত-মধ্যানি তৈ রহিতং পুরাতনং জীর্ণং অদ্বিতীয়ং দ্বিতীয়ং নাস্তি এবস্তৃতং মদ বসদৃশং মজ্জীণ-তুল্যং পুরাণং হরিং শ্রীকৃষ্ণং অহং বন্দে তজা- মীতি ইত্যঃ ৯৫। অন্য বঙ্গভাষা যথা—আদিভাগ মধ্যভাগ ও অভাগ-বহিত সুত্রাদি হীন-জীর্ণ অদ্বিতীয় আমার পুরাতন বস্তুতুল্য সনাতন ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণকে সতত ভজন করি।—অর্থাৎ দীনব্যক্তি দীনতাবশতত বস্ত্রাদিশূন্য হইয়াও উদরা চিন্তা না করিয়া'সনাতন হরিকে ভজনা করিতেছেন। ভক্তিশালী ভগবদ ভক্তজন বস্ত্রাহিত হইলেও ভগবচ্চিন্তায় বিরত হয়েন না -এই ইহার তাৎপৰ্য। ৯৫।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অন্ধ ভিক্ষুকের ষষ্টিহারা বা কামিনী হবার-দ্ব্যর্থশ্লোক যথা- সদ্বংশা সরল শুভা সু-নয়না সঙ্গে সদ। রঙ্গিনী, গৌরী স্পর্শসুখা করম্বুজগতা নিত্যং মনােহারিণী । সা কেনাপহৃতা তয়া বিরহিতাে গন্তুং ন শক্লোম্যহং, ভিক্ষো! কিং তব কামিনী? নহি নহি প্রাণাধিকা যষ্টিকা। ৯৬। অশ্যাম্বয়ে। যথা-সদ্বংশ সৎকুলোদ্ভবা, সবলা (সুখেন গমন-সম্পাদিক।) সৎ প্রকৃতিঃ (উত্তম বেণু-সঙ্কৃত) সুখেন গমন সম্পাদিকা, ঋজু বা, শুভা মঙ্গলদাযিনী ( সুন্দরী ), সুনয়না সুন্দর-নেত্রশালিনী, সঙ্গে সহ, সদা সর্বদা, বঙ্গিণী আনন্দ-দায়িনী, গৌরী গৌরবর্ণা, স্পর্শসুখ। স্পশেন সুখদায়িনী, কম্বুজগত। হস্ত-পদ্ম-মধ্যগতা, নিত্যং সততং মনােহারিণী মনস্তুষ্টিকারিণী এব স কেনপিহৃতা ? স কেন জনেন নীতা? “অহং ন জানে” তয়া বিরহিতঃ সন্ বজ্জিতঃ সন, অহম্ গম গমনাথং ন শক্লোমি ন সমর্থঃ ॥ ৯৬। হে ভিক্ষে । অহো ভিক্ষুক! তব কামিনী পত্নী হৃ তা কিং? নহি নহি প্রাণাধিকা অষ্টিকা মম, প্রাণসম। যষ্টিকা ইত্যুত্তরং। অস্য বঙ্গভাষা যথা--সংশােৎপন্ন, ঋজু বা সরলা, শুভদা, চারুনয়না, সৰ্ব্বদা সঙ্গে স্থায়িনী, মনােহরিণী, শুভ্রবর্ণা, সুখস্পশা, পদ্ম মধ্য গত অর্থাৎ হস্তস্থিতা, সতত মনােহাবিণী এবতা, সা প্রসিদ্ধ সঙ্গিনীকে অপহরণ করিয়াছ?-অহহ ভিক্ষুক ! তুমি তােমাব কামিনী হাবা হইয়াছ কি ? ইতি প্রশ্নে -না—প্রাণসমা যষ্টিহারা হইয়া গমনে অশক্য হইয়াছি । ৯৬।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ষড় ঋতু মধ্যে বর্ষা ও বসন্ত এই ঋতুদ্বয় অতি কামােদ্দীপক জন্য কোন কামিনী চঞ্চলা হইয়াছেন, তাহাকে অবলোকন করিয়া অন্য কোন কামিনীর প্রশ্ন যথা- কালে বারি-ধরাণাং অপতিতয়া নৈব শক্যতে হাতুং। উৎকণ্ঠিতাহসি তরলে !, নহি নহি সখি ! পিচ্ছিলঃ পন্থঃ ॥ ৯৭। অান্বয়ে। যথা—কালে বর্ষাকালে চঞ্চল-যুবতীং দৃস্ট। কাচিৎ সখী পৃচ্ছতি—হে সখি ! তরলে ! অপতিতয়া পতিবিরহেন (পতনা- ভাবেন ইত্যপিচার্থঃ), তুং বৰ্ত্তিতুং ন শক্যতে ন পাৰ্যতে, অতঃ উৎকণ্ঠিতাহসি কিং? তৎ-প্রশ্নোত্তরে–লজ্জাশীল। যুবতী ব্রবীতি--যথা—নহি নহি নাহং উৎকণ্ঠাহস্মি ; কিন্তু বারি-ধরাণাং কালে বর্ষাকালে পিচ্ছিল পন্থা, তস্মাৎ চঞ্চলা সতী ন স্থাতুং শরোম্যং ইতিভাবঃ + ৯৭। অস্য বঙ্গভাষা যথা-কামােদ্দীপক প্রাবৃঢ় কালে কোন যুবতীকে অধীরা দৃষ্টিগােচর কবিয়া অন্য কোন কামিনী বণিতেছেন যে,-তলে ভগিনি ! এত চঞ্চলা কেন ? পতিবিবহে কি ? তদুত্তবে চঞ্চলা কামিনী কহিতেছেন—যে, সখি। বৃষ্টিপতনে পিচ্ছিল পন্থঃ জন্যই চঞ্চলা হইয়া পতনপ্রায় হইতেছি , স্বামি বিধহে চঞ্চলা হইব কেন ? কিন্তু প্রকৃত পক্ষে পতিবিবহে ই চঞ্চলা হইয়া উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, বাক্য কৌশলে তাহা গােপন ক দিলেন । ৯৭ ॥
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। – বাহ্মণ-লক্ষণমাহ- একাদশীতত্বে পৈঠানসিধৃত-বচনং যথা-- ক্ষমা দয়া দমে দানং, ধৰ্মঃ সত্যং তং ঘৃণা। বিদ্যা বিজ্ঞান মাস্তিক্যং, এতদ ব্রাহ্মণ-লক্ষণং । ৯৮। ইত্য—দয়। ভূত-হিতৈষিজং, দমে। মনসো দমন, তং বেদার্থার বােধ, ঘৃণা নিন্দিতে অনিচ্ছা--ইতি স্মর্ত্যভট্টাচাষ্যেণ ব্যাখ্যাত। অস্যাম্বয়ে যথা—ক্ষমা সহিষ্ণুতা, দয়া ভূত হিতৈষিত্বং ককণা বা, দমাে মনসস দমনং, দানং পবোপারায় পুণ্যার্থ বা সদ্ব্যত্যাগঃ, ধৰ্ম্মঃ সদনুষ্ঠান পুণ্যং বা, সত্য প্রকৃতং যথার্থ বা, শতং বেদা- থাববোধ, ঘৃণা নিন্দিতে অনিচ্ছা, বিদ্যা জ্ঞানং অর্থাৎ সদস বিবে- চনা শক্তিঃ, বিজ্ঞান যােগবলেন দ্রব্য-সংযােগ-জ্ঞানং শিল্পকাৰ্য্য জ্ঞান ব, আস্তিক্যং ঈশ্বরস্য বিদ্যমানত। জ্ঞানং-এতৎ সর্ববং ব্রাহ্মণস্য লক্ষণং, এতদ্ভিন্ন ত্বং অব্রাহ্মণং ৯৮ । অপবন্তু ব্রাহ্মণকুমাবঃ সন্ পূর্বোক্ত লক্ষণালিতে। যঃ পুৰুষঃ, স এব ব্রাহ্মণঃ ইতি পয্যবসিতার্থঃ। ব্ৰহ্ম জানাতি যে ব্রাহ্মণ-কুমারঃ সোহপি ব্রাহ্মণঃ নহু ব্রাহ্মণ-কুল ভিন্নাপর-কুলােৎপন্নঃ ব্রহ্ম জ্ঞানী যদি স্যাৎ ; তদা স ন ব্রাহ্মণ ইতিবাক্য সত্যং ০৮। তদুদাহবণ’ যথা-নীচকুলোৎপন্নঃ সন্ ব্রহ্ম-জ্ঞঃ স্যাৎ ; স ব্রাহ্মণঃ কিং ? স্বর্ণপাত্রং স্বর্ণ; নতু লৌহং। লৌহস্য পত্রিং লোহং নতু স্বর্ণ অপবস্তু ব্রাহ্মণ-লক্ষণং যথা- জন্মনা জায়তে শূদ্রঃ, সংস্কারাদ দ্বিজ উচ্যতে। বেদাভ্যাসাৎ ভবে বিপ্রঃ, ব্ৰহ্মবিদ ব্রাহ্মণাে ভবেৎ ॥৯৯ ইতি বেদোক্ত-বচনা। অশ্যাম্বয়াে যথা-ব্রাহ্মণ-কুমারাে জন্মনা জন্মমাত্ৰেণ ব্রাহ্মণ- ১৫৮ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। কুলােৎপন্ন হয় শূদ্রে। জায়তে অর্থাৎ শূদ্রবৎ বেদপাঠানধিকারী জাযহে। পশ্চাৎ স কুমাবঃ সংস্কাবৎ উপন্যনাদি সংস্কারাৎ দ্বিজ উচ্যতে, দ্বিজ্জাতো দ্বিজ ইত্যর্থে ব্যুৎপন্নঃ কথ্যতে। সতু যোভ্যাস বেদাধ্যযনকবাৎ বিপ্রাে ভূ-দেবঃ পবিত্র-দ্বিজো বা ভবেৎ। ততঃ স ব্রাহ্মণ-কুমাবো যদি ব্ৰহ্ম-বি ভবেৎ অর্থাৎ ব্রহ্ম জানাতি, তদা স ব্রাহ্মণো ভবেৎ। ব্রহ্মবি ব্রাহ্মণাে ভবেদিতি যাথার্থং। ৯৯। কৃমি-ব্রাহ্ম্যগণ উক্তবচন অর্থাৎবং কবাতি যথা—জন্মনা- জায়তে শূদ্র, ব্রাহ্মণ-জাতীনাং কুমাব এবং অন্যষাং ব্রাহ্মণ-ভিন্নানাং জাতীনাং কুমাকোপি জন্মন। জন্মমাণেণ শূদ্রো জাযতে, পবিশেষে স কুমাবঃ যদি বহ্মজ্ঞান লভেত সোহপি ব্রাহ্মণ, এতেন চৰ্ম্মকাব- পুত্রোহপি আধুনিক ব্রাহ্ম্য সম্প্রদাযমতে স এব ব্রাহ্মণঃ —সা ব্যাখ্যা পণ্ডিতানা মতে হেয়। ॥ ৯৯। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—ক্ষমা { সষ্ণুিতা), দশা (বরুণ), মনােহসি বাধ্য কবণ, দান ইচ্ছাব্বক ত্যাগ, ধৰ্ম্ম, সত্যবাদি, বেদাদ্যব্যযন জন্য জ্ঞান, ঘৃণা, বিদ্যা অর্থাৎ জ্ঞান, বিজ্ঞান দ ব স গ গ গুণজ্ঞান, আস্তিক্য ঈশ্ন ও জ্ঞান এ একাদশ বিধ গুণ৭ ৩ বাহ্মণ কুমার হাল সদ ব্রাহ্মণ বলা যা। দ্ভিন্ন বাহ্মণ সব ল বে পণ্ডিত কেইব। শষ্টাচার, কেহ অবহ্মিণ-বণি গণ্য। বৈদিক শেণী ও শাহ্মণগণ প্রায় ফলাহাৰী এবং পূব্বা ব্রাহ্মণ লক্ষণ বজি ও এই ভাবেব অণিক দৃষ্টিগােচব হ্য। কদাপি কোন কোন স্থান গ্রাহ্মণ ক্ষণণিত বৈদিক শশী ব্রাহ্মণ দুই একটা পবিত্র দেখায়। আর ব্রাহ্মণ ভিন্ন শা'। “এহ্ম ভ নি{ি: ৭ শ ষ, স এব ব্রাহ্মণঃ” ইত্যাদি ব্যাখ্যানুসাবে যে পাপ ব হ্ম ভমানী হয়, ব হ্ম ভমানী হয়, তঁাবা নিতান্ত মূঢ় ও ধৃষ্ট। দুদাইবণ যথা—অগ্নিকূও সৌহণ্ডবে অগ্নিবং বায়' বিলক্ষণ দগ্ধ হইলে কবি-কুসুমাঞ্জলি। } হাতুডি দ্বারা বাবস্থা আঘাত কবিতে কবিতে ক্রমে ক্রমে রুক্ষ্মপত্রাকাব হইলে তাহাকে লৌহপত্র বলা হইবে, কি সুবর্ণ পত্র বলা হইবে ? লৌহ কখন সুবর্ণ হইতে পাবে না, সেইরূপ শকুমাব কখন বাহ্মণ হইতে পাবে না। তবে লৌতে যেমন বক্তি স২ (গে ও পীডনে সূক্ষ্ম ও শাণিত হইযা থাকে, শূদ্র ও বল পূৰ্ব্বক বেদাদি শাস্ত্র পাঠে ও সদ্ গুৰৰ উপাশ প্রাপ্ত বিচার- ক্ষম এবং পণ্ডিত হইতে পাবেন, কিন্তু বাহ্মণ হইবাব (ক'ন সানা নাই। ৯৯। দবিদ্রগণের মনোথ বাল ব্যৈ পাপ্ত কুলকামিনীগণেৰ কুচসদৃশ - যথা- উথায় হৃদিলীযন্তে, দরিদ্রাণাং মনােরথাঃ। বাল বৈধব্য-দানা, কুলস্ত্ৰীণা” কুচাবিব । ১০০। অত্যান্বযে। যথা—বালবৈধব্য দগ্ধানাং বালে বাব্যকালে বৈধবা বালবৈধব্যং তে বাল্য বৈধব্যেন দানা দগ্ধীভূতানাং কুলস্ত্রাণাং কুলবধূনাং কুচো স্তনদিব যথা হৃদি হৃদযে উপায় কুচযুগ্মং উৎপন্ন ভূধা তস্মিন্ হৃদি লীতে, তদৎ, দৰিদ্ৰাণ নীনানাং মনোবথাঃ মনােলিসাঃ হৃদযে উথায়, তস্মিন হৃদি লীয়ন্তে সয়ং প্রাপ্ত বন্তী !্যর্থঃ ইত্যন্বযশেষঃ। ১০০ । বাল-বৈধব্যামতি বালে ল্যাবস্থা যা বি-কিগতে। সসঃ স্বামী যস্য। ইতিবাক্যে স বিধব', ততঃ ভাবএ স্য ৫ * য ক , লাল- বৈধব্যং, হেন দগ্ধানাং বাল-বৈধব্য-দানাং ইতি সিদ্ধং । ১০০ অন্য বঙ্গভাষা যথা—দৰিদ্রণেব মনােবণ বালবৈধব্য প্রাপ্ত কুলকামিনী গণের কুসদৃশ , যে হেতুক বাল বৈধব্য পাপ্ত স্বগণেব কুচদ্বয়, হৃদয়ে উখি ৩ হ যা হৃদয়েই লীন হইয়া যায় , স্বামীর অভাবে কুচসন্থেগ পূর্বক পূত্রাদি উৎপন্ন হয় না, সেই মত ধনহীন ব্যক্তিব মনে কোন বাঞ্ছ? উপস্থিত হইলে ধনাভাব প্রযুক্ত কাৰ্যে পৰিণত হইতে পাবে না—এই ইহাৰ তাৎপৰ্য। ১০০ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। উচিত-ব্যক্তার-মুক্তিলাভ। মহারাজ বিক্রমাদিত্য নিজ রাজধানী উজ্জয়িনী নগরে লক্ষহিরা নাম্নী সুরসিক। শ্ৰীমতী বেশ্যা রক্ষা করিয়া প্রহরী দ্বারা বেশ্যাভবন রক্ষা করেন ; উক্ত মহা- রাজের নবরত্নে সভা ছিল, তন্মধ্যে প্রধান রত্ন কবি-কালিদাস নিজগুণে ও রসিকতার পরিচয়ে উক্ত সুরক্ষিতা লক্ষহিয়া নাম্নী রসিকা কামিনীর প্রণয়ােপপতি হইয়া ছিলেন, বহুদিন রসঙ্গে আমােদ প্রমােদে উভয়ে কালক্ষেপণের পর ইহা মহারাজের কর্ণগােচর হইল, তচ্ছ বণে উভয়কে যথাকালে ধারণ পূৰ্ব্বক বন্দী করিবার দৃঢ় অনুমতি প্রচার করিয়াছিলেন, তৎপরে প্রহরিগণ বহুচেষ্টায় উভয়কে ধৃত ও বন্দিভাবে বাজ সভায় আনয়ন করিলে মহারাজ প্রচণ্ড-রাগের বশবর্তী হইয়া উভয়ের মস্তক মুণ্ডন পূৰ্ব্বক দেশত্যাগী করিবাব আদেশ প্রচাব করিলেন, তথন উভয়ে বিনীত ভাবে সম্মানপুরঃসরে গল-লগ্নীকৃতবাসা হইয়া বলিতেছেন- যথা- ; মম যস্যাপরাধঃ খলু তস্য দণ্ডঃ, পরাশরাধ্যা মুনয়ো বদন্তি। কৃতাপরাধং মম নাভিনিং, শিরঃকথং মুণ্ডনমেতি রাজন্ ॥১০ ১ অন্যান্বয়ে যথা—যস্ত জনস্য অপরাধঃ স্যাৎ, তস্য খলু নিশ্চিত দণ্ডঃ পীড়নং সঙ্গতং ; নতু নিরপরাধিন ইতি পরাশরাদ্যা মুনয়ে। বদন্তি পরাশরভৃহয়ঃ পণ্ডিত-মুনয়ঃ সর্বে কথযন্তি। হে রাজন! নাভিনিম্নং কৃতাপরাধং অর্থাৎ মম নাভেনিম্নদেশঃ কৃতাপরাধঃ, শিরঃ কথং মুণ্ডনমেতি রাজন্ অর্থাৎ মস্তকং মুণ্ডনং কেশশূন্যত্বং ন এতি প্রাপ্লেতি কথং? ১১। অশ্য বঙ্গভাষা যথা—দণ্ডবিধান কারী মহাবাজ বিক্রমাদিত্যের পণ্ডিত বেষ্টিত সভামধ্যে লক্ষহিরা ও কালিদাস উভয়ে অবনত মস্তকে বিনীতভাবে বলিতেছেন --হে বাজন! যে অপরাধী হইবে, তাহার-ই পরাশরাদি মুনিগণ দণ্ডবিধান ব্যবস্থা করিয়াছেন; আপনার নিকটে আমাদের নাভির নিম্নপ্ৰদেশ (অপােদেশ) অপরাধী কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। বলিয়া স-প্রমাণ হইতেছে, তবে কেন ধর্মবিরুদ্ধ মতে মস্তক মুণ্ডনের অনুমতি প্ৰচাৰ করিতেছেন ? আমাদের অপােদেশ মুণ্ডন পূৰ্ব্বক দেশত্যাগের ব্যবস্থা করিলে সবিচার হয়—'অশান্ত্রিক দণ্ডবিধান কবিলে ভবিষ্যৎকালে বাজাকে নিব-গামী হইতে হইবে; অতএব মগবাজ! এই সভামধ্যে নব সুন্দব আনাইয়া আমাদের অধঃস্থান মূগুন কবিবার আদেশ-দানে ধৰ্ম্মবক্ষা করুন, ই-ই আমাদেব প্রার্থনা এই প্ৰকাব রসঙ্গ পূর্ণ উচিত উক্তিতে রাজা প্রসন্ন হইয়া উভয়কে মুক্তিদান করিলেন ।১০১। বহু-পা ফলের পরিচখ যথা - ভােজ্যং ভােজন-শক্তিশ্চ, রতিশক্তিরঃ স্ত্রিয়ঃ । বিভবে দান-শক্তিশ্চ, নাল্পস্য তপসঃ ফলং ॥ ১০২। অন্যাম্বয়ে। যথা-ভােজ্যং ভোজন-দ্রব্যং, ভেজন-শক্তিশ্চ আহারশক্তিশ্চ ফলতঃ ভেজনদ্রব্যে বিদ্যমানে সতি যদি ভােজনশক্তিঃ স্যাৎ; রতিশক্তী রমণশক্তিঃ, রাঃ শ্রেষ্ঠাঃ স্ত্রিয়ঃ পঃ ; ফলতঃ সুন্দরী যুবতি-স্ত্রী বিদ্যমানাসু যদি রমণশক্তি বিদ্যুতে ; বিভবঃ সম্পত্তি দানশক্তিশ্চ দান-প্রবৃত্তিশ্চ, ফলতঃ সম্পর্বে বিদ্যমানায় যদি দানশক্তিঃ স্যাৎ, এতানি সবণি অল্পস্য তপসঃ ফলং ন ভবতি অর্থাৎ বহুতপঃ-ফলং জ্ঞাতব্যং । ১০২। অস্য বঙ্গভাষা যথা -ভােজনদ্রব্য বিদ্যমানে যদি ভােজনশক্তি থাকে, বমণ- শক্তি বিদ্যমানে যদি শ্ৰীমতী যুবতী রমণী বিদ্যমান থাকে, বৈভব বিদ্যমানে যদি দানশক্তি থাকে, তাহা হইলে বহু তপস্যার ফল জানিবেন।১০২।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। আধুনিক গােম্বামি-ব্রাহ্মণ বর্ণনা। শাক্তা এব দ্বিজাঃ সর্বে, ন শৈবা ন চ বৈষ্ণবাঃ । যত উপিসতে দেবীং, গায়ত্ৰীং পরমাক্ষরীং। ১০৩। ইতি তন্মােক্ত প্রসিদ্ধ বচন। অশ্যাম্বয়ে। যথা--দ্বিজা ব্রাহ্মণাঃ সর্বেব শাক্তা এব শক্তেরুপা- সকা ভবও। ন চ শৈঃ শিবভক্তঃ, ন চ বৈষ্ণবাঃ নৈব বিষ্ণুভক্ত। ভবন্তীত্যর্থ। যতঃ সর্বেব ব্রাহ্মণাঃ পবমাক্ষরীং পরমারাধ্যাং গায়ত্ৰাং দেবীং উপিসতে উপাসনাং কুন্তীত্যৰ্থঃ, তস্মাৎ ব্রাহ্মণঃ সবে শক্ত। ভবন্তি ॥ ১০৩। যে হেতু অস্য বঙ্গভাষা যথা-ব্রাহ্মণ মা এ ই শক্তি অর্থাৎ শক্তিমন্ত্রে দীক্ষিত হইয়াছেন; অতএব ইহাদেব কদাপি বৈষ্ণব বা, শৈব হইবাব কোন উপায় নাই। উপনশনকালে সর্বাগ্রে সাবিত্রী (গাযগ্রী) মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়াছেন; সুতবা ব্রাহ্মণ মাত্রই শাক্ত অর্থাৎ দেবুপাসক, ইহাদের মধ্যে কেহ কেহ তিক সেবা ও ছাৰা ধাৰণে অঙ্গকে সুশােভিত কবি f>তে বাগ সাজিয়া ইন্সমি-গুলি (সিখা) না। চাড়া দিতে দিতে হবিনানেব ঝুলি হস্তে ধাবণ কাব্য হাড়ি শুডি চণ্ডাল ও গণিকা গৃহে অধিষ্ঠান হইয়া পবম বৈষ্ণবে কৃত্রিম কাৰ্য্য কবিয়া আধিপত্য প্রকাশ পূৰ্ব্বক বিপুল ধনাগম কবিয়া থাকেন। হহাবা শাক্ত হইয়া কিরূপে পরম বৈষ্ণব হইতে পাবেন ? । ১৩।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। সময়ভেদে ভােগ্যবস্তু ও অভােগ্য ও বিষ-সদৃশ হইয়া থাকে। যথা – বিষং গোষ্ঠী দরিদ্রস্য, বৃদ্ধস্য তরুণী বিষং। বিষং কু-শিক্ষিতা বিদ্যা, অজীর্ণে ভােজনং বিষং ১০ ৩৪। “ইতি গরুড় পুরাণ ধৃত বচন অন্যান্বয়ে যথা—দৰিদ্ৰস্য নির্ধস্য গােষ্ঠী বহুপরিবারঃ বিষ বিষ- সদৃশং স্যাৎ, বৃদ্ধস্য অতি-প্রীণ বিবস্য ৰা, তরুণী যুবতী স্যা বিষং বিষ-সদৃশী, কু-শিক্ষিতা বিদ্যা কুৎসিত শিক্ষালব্ধ বিদ্যা (তস্কব- বৃত্ত্যাদিঃ) যথাকালে বিষং বিষসদৃশামঙ্গলদায়ক। অজীর্ণে অজীর্ণ- বস্থায়াং ভোজনং বিষং বিষবৎ প্রাণ-রং -এ সবং অহিতকর মিতি সর্বজনবিদিতং । ১০৪। অস্থ বঙ্গভাষা যথা—নিধন ব্যক্তি এই পবি. স্থবিৰ বাক্তি যুবতী শৰ্য, কুৎসিত শিক্ষা-লব্ধ বিদ্যা, অজীণাবস্থায় ভােজন - এই সকল বিষ সদৃশ হইয়া বিপুল অহিতকর হইয়া থাকে। ১০৪ কৰ্ম্মফলং প্রধান। কৰ্ম্মফল প্রধান, তাহার উদাহৰণ যথা কৰ্ম্মান্যত্র প্রধাননি, সম্যগৃক্ষে শুভ গ্রহে। বশিষ্ঠ-দত্ত-লগ্নেহপি, জানকী দুঃখভাজনঃ ॥ ১০৫। ইতি গরুড়পুবাণ-ধৃত-বচন।" অন্যান্বয়ে। যথা—অত্র জগতি কম্মাণি কাৰ্যাণি অর্থাৎ কর্মজন্য ফলানি প্রধানানি শ্রেষ্ঠানি জ্ঞাতব্যানি, যতঃ সম্যক্ ঋক্ষে সকল ভনক্ষত্রে শুভ গ্রহে নব-গ্রহাদি-স্থিতে বশিষ্ঠ-দত্ত-লগ্নেপি জ্যোতিষ- শাস্ত্রজ্ঞ-বশিষ্ঠ-কর্তৃক প্রদত্ত লগ্নেহপি জানক্যাঃ রামচ বিবাহকাৰ্য্যং ১১৪ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ভূত; তদনন্তরে পি জানকী বামশ্চ দুঃখভাজনং দুঃসহ ক্লশ-জনকত্ব পা কপং স্যাৎ ; অতএব জানকী-বামহােঃ কৰ্ম্মফলজন্য দুঃখ- কাবণ হুং। এহেন কৰ্ম্মফলানীং প্রধান প্রীযতে ॥১০৫। অ বঙ্গ ভাষা সপ এই জগৎ সসাবে Tস্মফল ই প্রধান, জাবাব ই স্বীয় স্বীয কম্মল সত্য সুখ ও দু,খাগ করিয়া থাকেন , কিন্তু উৎকট দুখভােগ সমসে শিৰে । বাণ। * প ক বধ {% + করিতে ববিতে গবম পি পরমে- শবেল উ বি মর্গে পাও ও আবদার প্রকাশ কবেন , কিন্তু জলি ! তোমাদেব সুখ ও ঃখ দাও। নি, আপন আপন কৰ্ম্মফনে সুখ ও দুঃখ বটিয়া থাকে, ইহাহ স্থির নিবেন। ১০ ৫। তাহাব উদাহরণ এই যে, ব ম স্ব ঈশ্বব, জানকী ঈশ্বৰী স্বৰূপ। লক্ষ্মী ইষা ও পূবজন্মাজি ও কফ জা) মিণ কষ্ট ভোগ ববিয়াছেন। ১০৫। মহাৰাজ দশথের কুচাৰ্য ৰশিদেবজ্যোতিষশাস্ত্রে বিশারদ থাকিয়া গ্রহ ও নক্ষগণের শুভস্থানে পূর্ণদষ্টি দেখি} শুভশ্ন স্থিৰ ববিছিন; সেই শুভ- গ্নে বাম ও সা তার বিবাহ স্থিৰ কবিয়া দিলেন সত্য , কিন্তু বানচন্দ সাক্ষৎকাৰে পূর্ণবর্গ-iষণ মানবরূপে অবতাবই 1 ক- সীতা দেবীকে, কি প্রণালীতে বিবাহ করেন, সেই বিবাহ কে?কাদি দশন বাসাযজনকভবনে গ্রহণ, নক্ষএরশ্ন- এ দেবগণ গমন কৰি } * ক্ষেত্রে অর্থাৎ জনক প্রদত্ত শুভাসান এবং 4 3স্থানে বাস কবিত‘ছলেন, সেই বমণ্ডিত অপূধ্ব সভা মধ্যে বিব'হার্থী মি, স্বগণসই নখন প্ৰবশ কবেন, সেই সনৰে অপূৰ্বৰাম ৰূপ দশনার্গে, কে বা পূর্ণ গে৷ ন'নার্থ, বেই বা বব দশন[থে শশ ব্যস্তে স্বীয স্বীয় শুণসন হইতে গা এ খান কবি। * ও ধাবিত হছিলেন, কিঞ্চিৎ পবেই বাম স্বগণে সাস্থ হইযা বাসন উপবশন কলি, এখন স’ধাপ vs স্থান নষ্ট হইয়া বাম দর্শনে ও ৭। কবছিলেন সত। , কিন্তু বাম দশনান্তে স্বীয় স্বী স্থান অনুসন্ধান পূর্ব 'ন পাব। গহণাদি বিশৃঙ্খলাবস্থা (বাহুস্থানে কেতু, কেতু স্থানে শনি, বৃহস্পতি 'ন শু-5, ঐ স্থানে ববি ইত্যাদিরূপে ), সকলে উপবেশন করেন , তদস্থা খাম ও সীতাব উদ্বাহ-নবন্ধন বাম ও কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। সীতা দুঃসহ ক্লেশভাজন হইয়াছিনে, ই ক্ষ্মীনা বাষণ ও পূর্বকৃত কয় জন্য ফাভোগ জানিবেন। ও ভাগ্য বশ; বিবাহৰ পূব রই; ৪ জান। উষকেই বনচাণী ও বনবিণা ই৩ % । * * ন্ম ৩ কমলে কি মায়া ত্ম মাগণ পাঠে অবত হবেন। + b + [ ৭ গুণ বন্ধ, সীতাদেব সাক্ষাৎ লক্ষ্মী হইয়া কৰ্ম্মফলে ভাগ কৰিছেন, •বে কঃ গাইতে আমাদেব বিপ বৃথা হইয়া থাকে। ১০৫৫ ' “গৰব না কুক” • কবিও না, বিখ্যং প • আ০। দুর্গাস্ত্রকূট পরিখা সমুদো, রক্ষা’ সি সেবা পরমা চ বৃ%ি। শাস্ত্ৰঞ্চ নীত্যোশনসঃ সমগ্র, স রাবণ কালবশ বিনষ্টঃ ১ ০ ৩ “হ' ৩ গক পূবাণ দৃত বচন” অশ্যাম্বয়ে। যথা—সত্য বাবস্য দুর্গো দুর্গমপঃ স্থান এিকূটোহ. গমাপবিশেষঃ ( আত্মরক্ষা স্থান), পরিখ। দুঃ.বষ্টনং সমুদুঃ অর্থাৎ বাজধানী বেষ্টিত-সমুদ্রঃ (গড ইf৩ খ্যাতঃ ), রক্ষা” সি বা সা; সরে যােবা যুদ্ধকারিণঃ পৰম। বৃওি শ্রেষ্ঠ। বৃওিঃ অর্থাৎ বাবা জীবিকা নির্বাহঃ, উশনস শুত্র। (য্যস্য নত্যি। বসবেণ শাস্ত্র প্রজাশাসন-বিধাঞ্চ, সবার বক্ষসাধিপ ি ক লবণাৎ বিধে- নিয়মাৎ বিনষ্টঃ ২৩ হ্যর্থ: ; অ এ গবং মা ক', তঃ পশ্চাৎ পতনং বি, ১০ ৬ স্য বঙ্গ ভাস। যথা -মহাবাজ গাঙ্কাধিপতি বাৰণে বাধা ধা পাপের পাশ্বত্ৰমে দুর্গম ত্রিকূট পৰ্বত অপব পশ্চিম বাবে ৰণ মুল বিমান বছে , ফণকথা দুর্গমত্রিকূট পঝ ও লবণ সমুদ পরিবেষ্টন স্কাপ, বক্ষস, সুক সুরক্ষিত এবং নীতিশাস্ত্রজ্ঞ শুক্রাচার্য্যেৰ ৰীতি অনুসারে বাবণ প্রশাসন করিলেও কালক্রমে সেই বাবণ ও হত হইযাছিলেন । ০৬ | কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অতএব সাবধান। গৰ্ব্ব কবিবেন না; যে হেতুক-পবিশেষে সকলেব ই পতন বহিয়াছে। এই প্ৰকাৰ গৰুড় পুরাণে ব্যবস্থা। ১০ ৬। শত্রুর মধ্যে বব পণ্ডি ৩ শৰু উত্তম , কিন্তু মুখমৈত্রও কিছু নয়। পথমে গবন্থ -- একটী বাজা বৃহৎ বান-সহ সখভাব কবিযা শিক্ষা কৌশলে সেই বানরকে তবববি খদ্ধে সুশিক্ষিত কবেন, পৰে বাজা স্বীয় শন মন্দিবে নিশামােগে প্রবি কায্য ঐ বন-বীব ববকে নিয়োেগ কবি প্রতিনিশায় স্ত্রী পুৰুষে পৰমসুখে ও নিয়ে নিন যাই থাকেন। ১০৭ । তশােধ কোন পণ্ডি ৩ পপনি মহাপুৰুষ অভাবদোষে প্রপীডিত হইয়া তববৃত্তি দ্বারা শাস্ত্র অভাব পূৰণ কৰাই যুক্তিস্থিৰ কবিনে, এব বিপুল ধন প্রাপ্তি লাসাম বহুকষ্টে ও কৌশলে চেয্যবত্তি অভিপ্রাযে বাঙ্গাল শয়ন-মন্দিবে প্রবেশ কবি গুপ্তভাবে নিভৃত স্থানে দণ্ডায়মান আছেন এবং বাজগৃহ-দীপ- লােকে সুশােভিত, তদুপবি বানব বাব-কর্তৃক সুৰক্ষিত, “কিরূপে ধন হবণ কাৰ্য কবিব” এই চিন্তান নিমগ্ন ছিলেন, এমং সমষে বাজা নিদ্রিতাবস্থায হস্ত চালন দ্বাৰা মশাবি সঞ্চানন কুবায় উক্ত মশাবিব বল, আন্দোলিত হইযা ব ব ছায়া বাজাব বক্ষঃস্থ। পতিত হয়। সমে, ৩ববি ধাৰী ৰানব বীব বাজাব প্রাণ-হন্তা বক্ষঃ স্থিত কাল - সঙ্গ ছেদন মানসে শাণিত তরবাবি উত্তোলন কবে , তন্মুহুর্তে পণ্ডিত তসব পশ্চা: হইতে বানর ইস্ত ধৰিয়। বাপক তৰবি ধাবণ ও গ্রহণ কবি বানব-ববেব মস্তক ছে ন কবিলেন , তৎসবে শােণিত-মসি ও অঙ্গুলি দ্বারা গৃহভিত্তিতে “বৰ পণ্ডিতঃ শব্ধণামিতি” শােক লিখিযা প্রস্থান কবিয়া ছিলেন। A শ্লোকে। যথা- বরং পণ্ডিতঃ শত্রণাং, মূণে ন চ মিত্রতা। বানরেণ হতাে রাজা, বিপ্রচোরেণ রক্ষিতঃ ॥ ১০৭ । অস্তম্বিয়াে যথা—জগৎ সংসাবে শক্ৰশূন্যঃ শ্রেয়স্কর, যদ্যপি শত্রু কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ১১৭ স্যাৎ, তদ। শক্ৰণাং.মধ্যে পণ্ডিতঃ শত্রু বরং শ্রেষ্ঠ উত্তমো বা ; কিন্তু মূখে সহ মিত্রতা বন্ধুত্বং নচৈব হিতং । ১৭। উদাহৰণং যথা—বানরেণ মৃটেন কপিনা বাজা হতে বিনাশিতঃ অর্থাৎ হতপ্রাযঃ ; কিন্তু স রাজা বি প্রঢৌবেণ পণ্ডিত-তবেণ ব্রাহ্মণের রক্ষিতে জীবন প্রাপিতঃ ১০৭। অবশিষ্ট গল্প যথ। -৩ৎপবে বাঙ্গা নিদ্রাভঙ্গের পব *কসহ হত শানবদেহ দশন কবি হতভম্ব হন এব পণ্ডিত তবকে পূবস্কৃত বধিৰাৰ মানসে বিজ্ঞা- পন প্রচার কবিনে “" মহা না বানববীর হত কাব্য। আমার জীবন রক্ষা করিয়া ছেন, তিনি নিভা সবিশেণ বিবরণ প্রকাশ পৰ্ব্বক আমার নিকট উপস্থিত হইলে জীবন সহ জ্ঞান দাতা বয়, বিশেষ পুরস্ক ও ইবন।” এই জনশ্রুতি অনুসারে পণ্ডিত তব বসসীপে উপস্থিত হইযা সম্যক ঘটনা প্রথাযথ প্ৰচাৰ কৰিলে বিশেষরূপে পুবস্তু ৩ ও ধনাস্য হইযাছিলেন । ১০৭ পাঠকগণ । পণ্ডিত এবং মূখ এতদুভযেৰ সহিত বন্ধতা এব° শকতা থাকিলে, তাহাব ফণ এই শোকোক্ত ঘটনাব বিসর প্রায হইয়া থাকে, অর্থাৎ তঙ্কব রূপী পিণ্ডত মহােদ ধন লালসায বাজ-মন্দিরে প্রবেশ কৰিছিলেন, কিন্তু গৃহ স্বামী বজাৰ নিযােজি মি ৭ মুখ নব + ক বজাৰ প্রাণ হনন ব্যাপৰ দৃষ্টি কবি, ঐ পণ্ডিত শত্রু ধনাদি বণ কাত্যাব উপেক্ষ। পূৰক মহাজে। জীবন ৰক্ষা কৰি। বানরকে হত কবিডি”'ন, এই দষ্টা ত ম বন্ধু ৩াগ কবিয়া সদবংশজা ৩ ও ৩ সুইৎ অনুসন্ধান কবিনে সুখে কালযাপন হইবে। যাত্রাকালে দ্রষ্টব্য-দ্রব্যাণি যথা - বিদেশ গমনের যাত্রা সময়ে দশনীয় সামগ্রীব সংখ্য।। ধেনুবৎস-প্রযুক্ত বৃষ-গজ-তুরগা দক্ষিণাত্মবহ্নি, দিব্যস্ত্রী পূর্ণকুম্ভ দ্বিজনৃপ-গণিকাঃ পুষ্পমালা পতাকা।
১১৮ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি সদ্যে। মাংসং ঘৃতং বা দধি মধু রজতং কাঞ্চনং শুক্ল-ধান্যং, দৃষ্ট। স্পৃষ্টা পঠিত্ব। ফলমিহ লভতে মানবো গন্তুকামঃ ॥১০৮৷ “ইতি জ্যোতিস্তত্বে বিধি-এন্ডােক্তধূবচনং। অশ্যাম্বয়ে। যথা—সবৎস! ধেনুঃ ( বৎসং দুগ্ধং পায়য়তি গাভী), বৃষ-গজ-তুরগঃ অনড্রান হস্তী অশ্ব, দক্ষিণাত্মবহ্নিঃ প্রদক্ষিণ-ক্ৰমেণ যস্য বহেঃ শিখা দক্ষিণস্যাং দিশি গচ্ছতি, ত° বহ্নিং পশ্যন সন্ যাত্রাং কুৰ্যাৎ ইত্যর্থ। দিব্যস্ত্ৰী শ্ৰীমতী অঙ্গনা, পূর্ণকুম্ভঃ জলপূর্ণ কলস, দ্বিাজে। ব্রাহ্মণ, নৃপাে রাজা, গণিকা বেশ্যা, পুষ্পমালা, পতাকা বস্ত্রাদিভি র্নিম্মিতা ধ্বজাচ, সদ্যোমাসং, গব্যঘৃতং, দধি, মধু, রজত, কাঞ্চন, শুক্লধান্যঞ্চ—এতানি উনবিংশতি-দ্রব্যাণি যাত্রাকালে দৃষ্টা কিম্বা সৃষ্ট অথবা তেষাং নামানি পঠিত্বা গন্তুকামে মানবঃ যাত্রাভি- লাষী মনুষঃ ইহ জগতি ফলং যাত্রায় মঙ্গল-ফলং লভতে প্রাপ্নোতি। ফলত এবং যাতায়াং কৃ ইয়াং সত্যাং শুভফলং সম্ভবতীত্যৰ্থঃ ॥ ১০৮ | অস্য বঙ্গভাষা যথা—যাত্ৰাসময়ে সবৎসা গাভী (বৎসকে দুগ্ধপান করাইতেছেন, তদবস্থাপন্ন গাভী। ১, বৃষ ( মণ্ড) ২, হস্তী ৩, অশ্ব ৪, যে প্রজ্বলিত হুতাশনের শিখা দক্ষিণদিকে গমন করিতেছে, সেই বঃ ৫, সুক্ষণ। শ্ৰীমতী সধবা স্ত্রী ৬, জণপূর্ণ কুম্ভ ৭, ব্রাহ্মণ ৮, বান্দা ৯, বেশ্যা ১", পুষ্প ১১, ধ্বজ' ১২, সদ্যোজামাংস ১৩, ধৃত ১৪, দধি ১৫, মধু ১৬, রজত ১৭, স্বর্ণ ১৮, শুকধান্য ১৯, এই উনবিংশতি প্রকার দণ্য দশন পূরক কি ইহাদেব নাম শ্রবণ বা নাম পাঠ করিতে করিতে যাত্রা করিলে শুভ যাএা হইয়া মনস্কামনা সিদ্ধি হ্য। থাকে , যদি ঐ রূপের যাত্রা কালে কোন অঙ্গল জনক লক্ষণ দৃষ্টিগােচর বা কর্ণগোচর বা জ্ঞানগােচর না হয় ; তাহা হইলেই শুভযাত্রা হইবে, ইহাতে সংশয় মাত্র নাই। ১০৮ + = কবিতা-কুনুমাঞ্জলি। নিরূপিত সময় হইবামাত্র তৎক্ষণাং জীবাত্মা দেহত্যাগ করিবেন। উদাহরণ যথা-- নাকালে ম্রিযতে কশ্চিৎ, বৃদ্ধে। বর্ষ শতৈরপি। তৃণা এমপি সংস্পৃষ্টঃ, প্রাপ্তকালো ন জাবতি ॥ ১০৯। “হতি পৌৰাণিক শ্লোক।” অস্যাযযা যথা – বাশবৈপি শহবযেণ প্রবীণোৎপি তাকালে অবিহিত-সময়ে কশ্চিৎ জনে। নযিতে মৃতুং ন প্রাগ্নে ও তথঃ-- যদি প্রাপ্তকালঃ স্যাৎ, ৩দ। ম্রিযতে ; প্রাপ্তঃ কালাে যেন স প্রাপ্ত কালাে জনঃ তৃণাগ্রং তৃণাগ্রভাগ অগি নিশ্চিতং সম্পৃষ্ট, সন্ন জীবতি অর্থাৎ তৎক্ষণাৎ সিযতে ইত্যর্থ—যথা সূয্যবংশীয় অজ-বাজ- পত্নী পুষ্পমাল্য সংস্পর্শমাত্রং দেহত্যাগিনী ভূতা, তথা সৰ্ব্ব এব স্যাদিতি ॥১৯ অস্য বঙ্গভাষা যথা—কেহ কাহাকে ও মাবিতে পাবেন না ,-শতবর্ষবয়ঃপ্রাপ্ত হইলেও মৃত্যু হইবে না , কি ও নিরূপিত কাল উপস্থিত হইলে তৃণা স্পণ মাত্র বন থাকিবে না। যল কথা থাকা ল স ান্য ইতু ও জীবন যাইবে। উদাহবণ যথা--সূৰ্য্যশীষ বধূ অঞ্জলা জপ পুষ্পঘাতে দই ত্যাগ কৰিছিলেন, ফলকথা কাল প্রাপ্ত হইয়াছিন ' সহ, তিনি দ* ত্যাগ করিয়াছেন। পুষ্পঘাত কপি মচ্ছ। বা মহানিদুব কারণ হতে পাবে না। ১৭৯। . গণের বিশেষ-লক্ষণ- প্রবীণ মহাকবিণাক্ত-বচনং যথা- স্থানে সিংহসমাঃ রণে মৃগসমাঃ দেশান্তরে জম্বুকাঃ, আহারে ৰক-কাক-শূকর-সমাঃ ছাগােপমা মৈথুনে।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। • রূপে ভূতপিশাচ-কীশ-সদৃশাঃ কুরাঃ খলাঃ দুমু খা, •••••••••যদি মানবা হরিহরিঃ প্রেতাস্তদা কীদৃশঃ ॥১১০। অস্তাম্বয়ে। যথা—•••••••••জনা স্থানে স্বস্থানে জন্মভূমৌ বা, সিংহসমাঃ সিংহ-সদৃশ। ভবন্তি; বণে যুদ্ধে কিন্তু স্বদেশযুদ্ধে মৃগসম হরিণ-সদৃশ-তৎপর। ভবস্তি, দেশান্তরে স্বদেশ-ভিন্নস্থলে যুদ্ধে জম্বুকাঃ শৃগালাঃ সন্তি ; আহারে ভােজনে বক-কাক-শূকর-সমাঃ স্যু, বকশ্চ কাকশ্চ শূকর তে তৈঃ সমা স্তুল্যঃ সস্তি, মৈথুনে শৃঙ্গার-বিষয়ে ছাগসদৃশা ভবন্তি অর্থাৎ সম্বন্ধ-জাতিরহিতা সম্ভঃ শৃঙ্গারে উন্মাদা ভবন্তীত্যৰ্থঃ । রূপে দৃশ্যবিষয়ে ভূত-পিশাচ-কাশ-সদৃশ। ভূতশ্চ পিশাচশ্চ কাশশ্চ তে তৈঃ সদৃশ স্তুল্যাঃ সন্তি অর্থাৎ প্রেত-বানর সদৃশা সমঃ। বাঃ নৃশংসা, খলাঃ কপটাঃ এবং দুমূখাঃ কটুভাষিণঃ সন্তীত্যৰ্থঃ এবস্তৃতাঃ ••••••••• যদি মানবাঃ সন্তি, হরি- হরিরিতি হে ভগবন্! প্রেত। সুদাকীদৃশ ভবন্তীত্যৰ্থঃ ॥ ১১০ | পাঠক ! কোন মহাকবি-বিরচিত এই শ্লোকটা বিলুপ্ত হইবার আশঙ্কায় মুদ্রিত হইল। এতদ্ভিন্ন গ্রন্থকারের অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই। ডট্ ( স্থানে যে শব্দ যােজনা করিলে কবির ভাবার্থ প্রকাশ হয়, তাহাই লইয়া যােজনা ও ব্যাখ্যা করিবেন ॥১১০। । জগতের মধ্যে সারাংশ নির্ণয়। অসারে খলু সংসারে, সারমেত চতুষ্টয়ং। কাশ্যং বাসঃ সতাং সঙ্গে, গঙ্গাম্ভঃ শম্ভু-সেবনং ॥১১১ অশ্যাম্বয়াে যথা—খলু নিশ্চিত অসারে পদার্থ বিহীনে সংসারে জমতি সামেতৎ চতুষ্টয়ং অর্থাৎ কাশ্যাং বাসঃ কাশীধাম-বাসঃ, সতাং সাধুনাং সঙ্গঃ সাধুমিলনং, গঙ্গায়ঃ ভাগিরথী জলং, শম্ভু-সেবনং কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। মহাদেব-পূজনং-এচ্চতুষ্টয় সংসার মধ্যে সামাং, নান্যৎ। চতুষ্টয়মিতি চতুর বয়ৰং যস্য ইতি বাক্যে চতৃঃশব্দাৎ সংখ্যায় অবয়বে তঃ ইতিসূত্রণ-৩য় প্রত্যয়ে কৃত চতুষ্টযমিত পদং সিং!১১১ অন্য বঙ্গ ভান। {} - এ অ' জং সসার মধ্যে কে চব পদার্থ শত্র সাৰ গানৰ অ াগ সকলকে উপেক্ষায় জ্ঞান করবেন। (১ + চার্থ। চতুধি ক্রমে বনিত হইতেছে,-থা-বাণী ধাম বাস , সান # ২, গালে পান , এবং দেবাদিদেব মহাদেবগন -এই ওকে ইহাকে সব জানিবেন । ১১১ । অগ্নি ব্যতিরেকে দেহ দগ্ধীভূত হইবার সামগ্রী যথা- কু-গ্রাম বাসঃ কুলহীন সেবা, কু-ভােজনং ক্রোধমুখী চ ভাৰ্য্যা। মূখশ্চ পুত্রো বিধবা কন্যা, বিনাগ্নি- দন দহে গত্রিং ॥১১২ অন্যান্বয়ে যথা-~~-কু-গ্রাম-বাস: কুৎসিত-গ্রামে বাস , কুলহান- সেব কুলেন হীন কুলহানঃ ৩য সেবা সেবনং, কু-ভোজনং কুৎসিত দ্রব্য ভােজনং, ভয্য পত্নী ক্রে! সমু শী চ সতং পা রুস্টা, মূখশি পুত্র, বিধবা ফন--তে ষঢ় হ-সদৃশ ব্যথা; ; অতএব এতেষাং মধ্যে এক হ»ি যস্য গৃহে বিদ্যতে, তস্য গাত্র বহ্নি বিনা দহন ক্রিয়া সততং দগ্ধীভূতং স্যাৎ ১১২ । অস্য বঙ্গ ভা। যথা -কুংস ও পীত বা কুঁ মে বাস, মৰ্য্যাদা বিহীন নীচ- কুলােৎপন্নেব উপাসন', কুংসিত দণ্য ভােজন ভাগ্য সংক্রাধপূর্ণ। পাকা, মখ, পুত্র এবং বিধবা কন্ঠ• এই সংবিপ মধ্যে যদি এক প্রকার ভবনে উপস্থিত থাকে, তাহা হইলে গৃহস্বামী সব্বাই বহ্নি ব্যতিরেকে দগ্ধ হইতে থাকেন; কিন্তু যদি যাহাব সম্বন্ধে পূব্বো ক্ত ষড় বিধই বিদ্যমান থাকে, তাহা হইলে তিনিতো উন্মাদ প্রায় হইয়া থাকেন। পাঠক! এই কয়েকটী ভীষণ বলিয়া জানিবেন। ১১২ ১২২ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। বৌদ্র ও ছিমপভোগেব কাল এবং তৎসম্বন্ধীয় হিতাহিত বর্ণনা। শররৌদ্রং ন গৃহীয়াৎ, ন গৃহীয়াৎ শরদ্ধিমং। রাতপিত্তবিনাশায়, গৃহ্বীয়াৎ মার্গ-পৌষয়ঃ ॥১১৩ অন্যান্বয়ে। যথা-শর রৌদং শবৎকাল সম্বন্ধীয় সূৰ্যকিরণং ন গৃহীযাৎ ন সেবেত, শবদ্ধিমং শবকালীন-হিমঞ্চ ন গৃহীয়াৎ ন সেবেত; বাপিও-বিনাশায় বতশ্চ পিঞ্চ তে বাতপিত্তে তযাে- বিনাশায় মার্গপৌষয়ে অগ্রহাযণস্য পৌষস্য চ হিমং রৌদ্রঞ্চ গৃহীয়াৎ সেবে ॥১১ত৷ অস্ত কঙ্গ ভাসা যথা-শরৎকালেব ( ভাদ্র ও আশ্বিন মাসেব) বৌদ্র অতি পীড়ামুলক বলি কে সম্ভোগ কবিবেন না, এবং শবৎকালেব হিমও অতি অহিত- কব, সেই জন্য ইহা কেহ সম্ভোগ করেন্ না অর্থাৎ ইহা অবেব আকব বলিয়া প্রসিদ্ধ হইতেছে, আব অগ্রহণ ও পৌষ মাসের বৌদ্র এবহিম সকলে সম্ভোগ কবিতে পাবেন , কাবণ—ইহা তৎকালে বাবু ও পিত্ত নাশক হইয়া অতি সুখকব হইয়া থাকে। ১১৩ | ধনেব জন্য অতি চেষ্টা কবিবেন না। যথা- বিভ্রার্থং নাতিচেষ্টেত, সা হি ধাত্রৈব নির্মিতা। গর্ভাদুৎপতিতে জন্তৌ, মাতুঃ প্রস্রবতঃ স্তনে ॥১১৪৷ ইতি হিতােপদেশে ধৃতবচনং। অসাম্বয়াে যথা—হে জীব! বিত্তার্থ ধার্থং নাতি-চেষ্টেত, চেষ্টেত, কিন্তু ন ইতি টেষ্টে অর্থাৎ অতিযত্ন ন কুৰ্য্যাৎ, সা ধন- চেষ্টা পুরা পূর্বস্মিন্ কালে হি যস্মাৎ ধালৈ বিধাত্রা বিধিনা বা এব নিশ্চিং নির্মিত সৃষ্ট, তস্মাৎ নাতিচেষ্টেত। তস্য উদাহরণ যথা—জন্তৌ জীবে গৱাৎ জরায়ু-যন্ত্রাও উৎপতিতে উৎপয়ে সতি মাওঃ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ১২৩ স্তনের জন্য পঘােধরে প্রস্রব: স্বয়মেব ক্ষবিহবন্তী অর্থাৎ স্তনভ্যাং ভাবি সন্তানস্য পানাং দুগ্ধং নিসৃত ইত্যৰ্থঃ ॥১১৪ অস্য বঙ্গভাষা যথা—হে জীব। ধনের জন্য অশষ চেষ্টা করিবেন না । চেষ্টা করিবেন, কিন্তু অতিচেষ্টা করিবেন না। যেহেতু সৃষ্টিকর্তা জীব জন্মিবার পূর্বেই সেই জীবনােপাযেব ধন অর্থাৎ ভাবিঙ্গীবের জীবন বার্থ গুণ (পযােপরে দুগ্ধ ) সৃষ্টি করিয়াছেন, তাহাৰ উদাহৰণ সথা – জীব গান্ত হইতে উৎপন্ন হইবার পূৰ্বেই স্তনদ্বযে দুগ্ধ সপ্য হইযা সেই ৮ সুষ ই ক্ষবণ হইতে থাকে, তখন জীবিকা নির্বাহার্থে অতিচেষ্টা অর্থাৎ অকৰ্তব্য কৰ্ম্ম সাধনে জীবনােপাষ কৰিব আবশ্যক নাই ॥১১৪|| অদ্ভুতাখ্যান যথা- একটী সম্রাট যুদ্ধে পরাস্ত হইযা শৰুকতৃক বন্ধী হইবার আশঙ্কাস দশমাস গবুবতী বাজ্ঞ সহ মহাবণ্যাভিমূখে প্রস্থান কবিলেন। পাচ ছয় দিন পধ্বত, জঙ্গল ও নদ নদী পাবার দুঃসহ ক্লেশ দ্বারা বা প্রসব বেদনায় বাবা ইযা বলি লেন, “বাজন। প্রসব বেদনা জন্য গমনে অশ ক্যা হইয়াছি,” তখন বীৰবৰ বাজা কহিলেন “এক্ষণ বনবাসিনীব ন্যায আপনাকে ও সন্তান প্রসব করিতে হইবে, এই বলিযা বাজা তৎক্ষণাৎ তৰবাৰি দ্বাৰাছ পালা ও মাদি ছেন কবিয়া পর্ণকুটিৰ নিৰ্মাণ পূৰ্ব্বক পর্ণপণ্য প্রস্তুত করিয়া দিলেন, কমে বাজ্ঞী গ ৪- বেদনা অধৈয্য হইয়া উপাদান সদৃশ বৃক্ষ স্তম্ভ ধরিয়া প্রসব বেদনা অশ্য 'মসহ য'তনা সম্ভোগ করিতে করিতে সৰ্বাঙ্গ সুন্দর একটা নবকুমাৰ পসব কবিলেন, বাজা কাষ্ঠে কাষ্ঠে ঘর্ষণ কৰিা অগ্নৎপাদন পূব্বক বাৰ্জী সমীপে বদ্যিাপন কবিযা দিলেন এব ফল মূল ও মৃগযা ( শিকাবাদি ) এব অনুসন্ধান লব্ধ-দ্রব্যাদি দ্বাবা উভয়ে জীবিকা নির্বাহ কবিতে কবিতে দ্বাদশাহ অতীতন্তে রাজা কহিলেন -“প্রিয়ে। আব এখানে দীর্ঘকাল বাস কৰা হইবে না, শত্রুগণ সন্ধান করিতেছে, তাহারা আমাদের সন্ধান পাইলে সস্ত্রীক বন্ধী পুৰ্ব্বক পিঞ্জবাবদ্ধ কবিয়া উভয়কে বহু উৎকট যাতনা দিয়া পবিশেষে বিনষ্ট কবিবে; অতএব বাজি অধুনা এই পুবে মামায় মুগ্ধ থাকা হইবে না, পুত্ৰমায়া ত্যাগ করুন, করুণাময় ১২৪ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ঈশ্বর ইহার উপায় বিধান যাহা করিবেন, তাহাই হইবে--এই বলিয়া কাষ্ঠাদি দ্বারা উড়প (ভেলা) প্রস্তুত পূৰ্ব্বক তদুপরি পর্ণশয্যা ও আচ্ছাদন ব্যবস্থা করিয়া পুত্রকে পূর্ণভাবে স্তন্য (স্তনদুগ্ধ ) পান করাইয়া সেই উড়পের ( ভেলার) উপরিস্থ পর্ণ শয্যায় শয়ন করাইয়া শায়িত পুত্রের ললাটে ও বক্ষে নিম্নলিখিত “যেন শুক্লী- কৃতা হী, শুকাস্ট কবিতাঃ কৃতা। মশ্চিত্রিতা যে, সতে বৃত্তিং বিধাতি” -এই শ্লোকটী লিখিয়া তৰহ পাৰ্বতীয় ঝর্ণায় উদ্ভব স্রোতস্বতী নদীর জলের স্রোতে পুত্রসহ সেই উছুপ।ভেলা। ভাইয়া স্ত্রীপুরুষে অপতনের সহিত শােক প্রকাশ করিতে করিতে বক্ষে ও ললাটে করাঘাত করিয়া উদ্ধবাহু হইয়া বলিতে লাগিলেন---“হে সৰ্ব্বব্যাপি পরমপিতা পরমেশ ! আমাদের এই শিশুকে রক্ষা করিয়া মহিমা প্রকাশ করুন, হে সৰ্ব্বশক্তিমন্! ঈশ্বর ! আপনিই সকলের পরম- পিতা ; অতএব শিশুকে রক্ষা করুন ইত্যাদি বহু স্তুতি করিতে করিতে পুত্রসহ উড়প। ভেলা) চক্ষুর অগােচর হইলে রাজ্ঞী সহ রাজা প্রস্থান করিলেন । অনন্তর কিয় রে { যােজনান্তে) সেই নদীতে পুত্র কামী অপুত্রক মহাধনাঢ্য সওদাগর স্নান তর্পণাভিপ্রায়ে আসিয়া অবগাহন করিতেছেন, সেই সময়ে শিশু-সহিত উড়প!ভেলা) নদী মধ্যে ভাষিয়া যাইতেছিল, তদ দৃষ্টিমাত্র সহকাবি ভূতগণকে সওদাগর কহিলেন “ইদং কিং !!! ইদং কিং !!!” (এ কি !!! এ কি !!!) বলিতে বলিতে ধারণ ও আনয়নার্থে ভৃত্যগণকে অনুমতি প্রদান করিলেন, তুচ্ছ বণে ভৃত্যগণ সন্ত্রবণ দ্বারা তাহাই করিল, এবং আবরণ উন্মোচন পূৰ্ব্বক শ্ৰমান্ পুত্রদৃষ্টি করিয়া কহিলেন, “মহারাজ! বােধহয় অপােব এবং রাষ্ট্রীর তপেলব্ধ পুত্রধনকে স্বর্গ হইতে ঈশ্বর প্রেরণ কলিয়াছেন”; এই শ্রবণে কহিলেন, “রে ভৃত্য ! লয়ে এসাে, নয়ে এসাে, বারম্বার বলায় ভূতগণ লইয়া আসিল, পুত্রদর্শনে স্বর্গীয় পুত্র জ্ঞানে আদ্রবসনে ক্রোড়ে লইয়া মধ্যে মধ্যে মুখ-চুম্বন করিতে করিতে নিজ ভবনে গননান্তে রাজ্ঞীকে { স্ত্রীকে) আদান পূর্বক কহিলেন--“প্রিয়ে। আপনার এবং আমার প্রার্থিত পুত্র স্বর্গ হইতে অঙ্গ তিনি প্রেরণ করিয়াছেন , ধর ধর, তোমার পুত্র ধর” এমন সময়ে স্ত্রী পুরুষে দেখিলেন পুত্ৰেৰ ললাটে এবং বক্ষস্থলে কোন বৃক্ষের নির্যাস দ্বারা লিপি আছে যে---
কবিত'-কুসুমাঞ্জলি।
১২৫
যেন শুক্লীকৃত। হংসী শুকঞ্চি হবিতা তার।
ময়ূর চিত্রিতা যেন, স তে বৃত্তি বিধাস্ততি ॥১১৫।
“ইতি হিতোপদেশে ধৃত বচন।”
অস্তান্বয়ে। যথা—বে পুত্র। তাই ক?? অর্থাৎ ৫ হপি না- যেন
মহাত্মনা পবম পুরুষেণ হংসা শকব তাই সী প্রবণাবকি *
হবিতা কৃ তাশ্চ ভন্থি, যেন মাপুৰুষেণ ম া” শি', সব
চিান তা বিবিধবর্ণেন বঞ্চিত। বণি, স বম পুকঃ ৩ তব বৃকি
জীবনোপায় বিধস্মৃতি বিন | 1ণ্য তা ৩থ, ১৫।
অস্ত বঙ্গ [T থ। • *f Iাভ পূ৭ ব ল ধান ও ধ্ব। এr , - পুল।
আমি (ব ?
ম |ং আনি (২ই নি । • ি সামশ ( সা । ”
শুভ্রবর্ণ কবি।frছন, যে পন পূব শ সব ।। দেনা । ক)
হৰি ৩ বৰ্ণ কৰিছেন, এ পম পুৰ • ? সব + ম + { বা বঞি •
কবি৮েন, সেই মহাগু কম তোমার ভাব না । ব ন ব 1 বন। 1.৫।
নচ দ্ভিব শকদমনােশা।
যথ—-পিদো * ধহ ব •°।
ক্ষু দশ বেদ বস্তু, বিমামৈব লভ্যতে।
তমাহ ও পবস্কায্যঃ, সদৃশস্তস্য সৈনিকঃ ॥১১৬
অস্যান্বযে। য—যঃ (স্বামী) ক্ষুদ্ৰশত্রু, (ক্ষু দ শ সত্যু সঃ) বেং,
বি কমাৎ পবাক্ৰমাৎ স শত্রু য দ স্বামিনা নৈব লভ্যতে, অর্থাৎ শাস
নার্থ, গ্রীতু ন শকতে হদ। তমহং ননার্থং তস্য সদৃশঃ(তৰুণাঃ)
সৈনিকো যোদ্ধা পুরস্কাষ্যঃ (অগ্রে কর্তব্যঃ) প্রেরণীযঃ ইতিযাবৎ ১১৬৷৷
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অষ্য বঙ্গভাষা—মহজ্জনের নীচ কুলােদ্ভব শত্ৰু উপস্থিত হইলে, তৎ সদৃশ নীচোৎপন্ন শাসনকর্তা নিযুক্ত করিয়া সেই শত্রুদমন কার্য সম্পন্ন করা ধীমানের বৈধ। গল্পে উদাহরণ যথা— পৰ্বতবাদী একটা মসিংহ, আবাসস্থানে আহারান্তে পরম সুখে শয়ন করিয়া নিদ্রা যাইতেন, তত্রস্থ মুষিকগণের পত্নীবর্গ গম্ভবতী হইলে মূসকগণ ভাবি সন্তান-বৰ্গকে গরমে রাখিবার জন্য যথাতথা পশম চেষ্টা করিয়া দুষ্প্রাপ্য পূর্বোক্ত নিদ্রিত মহাসিংহের কেশর কর্তন করিয়া তৎস্থলীয় গুহার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিবরে সঞ্চয় করিতে করিতে ক্রমে সিংহরাজ কেশর শূন্য হইলেন, তজ্জন্য ভ্রষ্ট হইয়া শিকার অনুসন্ধান জন্য বহির্গত হইলে অন্যান্য পশুগণ তাহাকে দেখিয়া ঘৃণা বােধ করিতে লাগিল। তন্নিবন্ধন পশুরাজ হতমানী ও দুখিত হইয়া কি উপায়ে মদীয় বাসস্থান গুহকে নিম্ষক করিয়া পুনৰ্ব্বার সুকেশরী হইতে পারি, তদবিষয় চিন্তা করিতে করিতে স্থির হইল যে, কপট নিদ্রায় শয়নে থাকিব, মুষক সমাগত হইয়া কেশর ও রােম কৰ্ত্তন আরম্ভ করিলেই তাহাদের ধারণ করিয়া ক্রমে ক্রমে মাবিয়া গুহকে নিম্ষক করিব, এই যুক্তি স্থির করিয়া তদ্রুপ করিতে আরম্ভ করিলেন সত্য, কিন্তু তাতে কৃতকার্য হইলেন না; যেহেতু সিংহ থাবা দিয়া মূষক ধরিলেও অঙ্গুলির ( নখের) বড় বড় ফাকদিয়া বহির্গত হইয়া প্রস্থান শিকার সূত্রে মুখে ধারণ করিলেও মূষকগণ দন্তের ফাঁক দিয়া পলায়ন করে—এই প্রকারে সিংহরাজ বিপন্ন হইয়া স্থির করিলেন যে, ক্ষুদ্ৰ শত্ৰু জন্মাইলে ক্ষুদ্রজাতি দ্বারা ধ্বংস করাই শ্রেয়স্কর - এই ভাবিয়া পশুরাজ মূসকহন্তা মার্ডার অনুসন্ধান করিয়া এক বনবিড়াল-শাবক আনয়ন পূৰ্ব্বক পােষণ করিয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাংসখণ্ড দ্বারা এবং নিজ ক্রোড়ে শয়ন করাইয়া পরিবর্ধিত করিতে লাগিলেন, পরে সেই বিড়াল শাবক ক্রমে ক্রমে হৃষ্ট, পুষ্ট, বলিষ্ঠ এবং বদ্ধিত হইয়া মূষক হননে বিশেষ পারদর্শী হইল, ক্রমশঃ নিত্য মুষক হনন দ্বারা সেই গুহাস্থান নিমুক করিল, এবং কিছুদিন পরে সেই সিংহ পুনৰ্ব্বার সুকেশরী ও সুশ্রী হইয়া ছিলেন , কিন্তু তাহার পােষিত মার্জার জন্য আব মাংসখণ্ড আনিতেন না, আহারের অভাব বশতঃ মার্জার কুমার ক্ষীণতনু ও অতি দুর্বল হইয়া পড়িলেন, সেই দুর করে, কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। বস্থাপন্ন মার্জারকে দেখিয়া অপরাপর পশু ও স্বজাতিগণ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল যে “হে মার্জার বর! আপনাব এরূপ দুর্গতি কেন?” তখন তিনি কহিলেন আমার প্রভু সিংহবাজকে নিমিত্ত শূন্য করাই—এই দুর্গতির কারণ হইয়াছে ॥১১৮ মূষক হনন জন্যই আমার প্রভু সিংহরাজ আমাকে সাদরে পােষণ ও প্রতি- পালন করিতেন, এক্ষণে তিনি নিমিত্ত শূন্য হইয়াছেন, আমার আদর ও পােষণ হইবে কেন? অতএব পাঠক! কেহ কথন প্রভুকে নিমিত্ত শূন্য করিও না। তৎপ্রমাণং যথা- হিতােপদেশে নিরপেক্ষো ন কৰ্তব্যো, ভৃতেঃ স্বামী কদাচন। নিরপেক্ষং প্রভুং কৃত্বা, ভৃত্যঃ স্যাৎ দধিকর্ণবৎ ॥১১৭ অশ্যাম্বয়ে যথা—ভৃত্যেঃ ( অনুচরৈঃ) স্বামী (প্রভু) নিরপেক্ষ ( নিষ্প্রয়ােজন ) ন কৰ্ত্তব্য ; প্রভুং নিরপেক্ষ (প্রয়ােজনশূন্য ) কৃত্বা ভৃত্য ( অনুচরঃ) দধিকর্ণবৎ স্যাৎ দধিকর্ণনামা কশ্চিৎ সিংহা- মুচরাে মার্জার-সদৃশে। বিতাড়িতে ভবেৎ। তস্মাৎ দধিকর্ণনামক উদাহরণং প্রদর্শয়েৎ ॥১১৭ বঙ্গানুবাদ যথা- ভৃত্য হইয়া কদাপি প্রভুকে প্রয়োজনশুন্য করিবেন না; যেহেতু কোন পর্বতস্থ মৃষকগণ সিংহরাজের কেশর কর্তন করিয়া নিষ্কেশরী করায় তিনি মূষক হননার্থ মাজার শাবক আনিয়া সাদরে পােষণ করিয়া দধিকর্ণ নাম রক্ষা করিয়া ছিলেন। সেই দধিকর্ণ নামা মার্জার নিমূর্ষক করিলে দধি কর্ণ মার্জারকে সিংহ বিতাড়িত করেন, সিংহসমীপে নিত্য মাংসখণ্ড ভােজন করিয়া হৃষ্টপুষ্ট বলিষ্ঠ ছিলেন; কিন্তু সিংহকর্তৃক বিতাড়িত হইয়া অনাহারে কঙ্কালাবশিষ্ট হইয়া “নিরপেক্ষো নকৰঃ” ইত্যাদি শ্লোক বলিয়াছিলেন ॥১১৭ ;
১২৮ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। মহােপদেশ। মহাৰাজ দুর্যোধন, ভীমসেন সহ গদাযুদ্ধ পরাস্ত ও ভগ্নো হইয়া যুদ্ধক্ষেত্রে নিপতি রহিয়াছেন, এমন সময়ে করুণাম ভগবান কৃষ্ণ দর্শন দানে মহাবাজ- হয্যেধনকে মুক্তি লবণাভিপ্রাযে দুই চাবিন অীযগণ সহ যথাৰ মহাৰাজ ধবাশার্য ছিণন, অনুসন্ধান ধ্বক তথাম উপস্থি• বা “মহজ। মগবাজ। ইত্যাদি সম্মান সূচক বাব সম্বে' ন পূর্বক বা..তছেন--মহারাজ! আমি আপনার নিকট কুট বৈবাহিক এ জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব মহারাজ যুধিষ্ঠির বক প্রেবি মধ্যস্থ হইযা যখন অনুবোৰ পূৱক কহিলাম যে, “পঞ্চ তাকে পাঁচখানি গ্রাম দিশা প্রীতি-সম্পাদন করুন, সেই কথা শ্রুত হইয়া আপনি বহিলেন- তদূ যথ সূচাগ্ৰেণ সূতানে, ভিদতে যা চ মেদিনী। তদৰ্দ্ধং নৈব দাস্যামি, বিনা যুদ্ধেন কেশব ! ১১৮ ইতি মহাভারতে ধৃতবচনং। অন্যান্বয়ে। যথা--হে দেশব । সূর্তনে অতিসূক্ষমণ সূচাগ্ৰেণ সূচাগ্রভাগেন যা মেদিনী পৃথ্বী ( কা) ভদ্যত ভেদঃ ত্রিয়তে, তদদ্ধ’ সম্মত্তিক।দ্ধং যুদ্ধেন বিনা যুদ্ধব্যতিরেকেণ-এব নিশ্চিত ন দ'স্যামি অর্থাৎ ও দাৎ ইত্যৰ্থঃ ॥১১৮। হে ব শব! যুদ্ধ বাতিবেকে অ এক্ষ সূচব অগ্রভাগে যে মৃত্তিকা ভেদ কবিযা ৬ •ন কৰা যায, ৩হাব অদেব ও দিব না, গঞ্চগ্রাম দেওযা দূরে থাকুক ই দি বাকে। পথি এই অবস্থা জান বন অর্থাৎ- অদ্য ৰাজ্যচ্যুত, সিহাসনা পষ্ট ও ভগ্নাক ইয! প্রেতভূমিতে পতন, মহাবাজ ! কেন আমাৰ সৎপখামশ শ্রবণকবেন নাই ? |১৮|| কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ১২৯ শ্রীকৃষ্ণং প্রতি দুৰ্য্যোধনােক্তিযথা তদুত্তৰে মহাৰাজ দুৰ্য্যোধন শ্রীকৃষ্ণ বলিতেছেন--যথা-জানামাতি-- জানামি ধম্মং ন চ মে প্রবৃত্তি, জানাম্যধৰ্ম্মং ন চ (মে নিবৃত্তিঃ । ত্বয়া হৃষিকেশ! হৃদি স্থিতেন, যথা নিযুক্তোহস্মি তথা করােমি ॥১২১। অ্যাম্বুযো যথ-হে ককণাময । কুফ। জানামি ধৰ্ম্ম অই ধৰ্ম্মং জানে , কিন্তু তস্মিন ধম্মে মে মম ন প্রবৃওি স্যাৎ। নাম- ধম্মংহে দয়াময় । অৰ্ম্ম মপি জানান অর্থাৎ অহং পাপজনক- কার্যমপি জানে; কিন্তু তস্মিন অধম্মে মে মম নিবৃত্তি নাস্তি, হে ভগব। হৃষিকেশ ! হৃদি হৃদয়ে স্থানে যা যথ। যদ্ধপেণ নিযুক্ত প্রযােগকৃতােহাস্ম, তথা কবোমি তদ্রুপ কহনস্মা ত্যন্বয় শেষ। ১২১। অন্য বঙ্গভাষা যথা – বই ন,-হে দৰিব ! বয়সি অ' ম অবগত থাকিয়া ও ত’ ৩ আ'৭ না ; } নাই। বিশেষকপে জানি ও ৩াগ’ ৩ আ ম • ি if' •"। সদয তানি যখন যে বিষয়ে নিও ছ , •• (a + ই = গ ক ছি , শ ৩ ( আপনি যখন যা ই ।ন, • পন তাহা ববি। (ব। আমা’ ৩ অ•াব বি চু মাত্র অধিকার নাই, ৮। চব গৎ সক ল ই অাপনার অধীন, তবে কেন এরূপ প্রশ্ন কবিযা অপভি কবি হন ৫১ . তৎপবে ভগবান কৃষ্ণ হরে ৭ উবে প্রীত ইসা পচিত্তে পা গুবাদি সহ প্রত্যাগত ও প পাণ্ডব শহণ স্থান হতে স্থানান্তবে প্রস্থান গমন) কবিলন অর্থাৎ বিষে বিষাদ না ঢংণে মহাজেব প্রাণ ত্যাগ হবে না, একাব ৩হ'ব উদযােগে গমন কবিনে ॥১২১ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। •• আৰ্য্যধৰ্ম্ম-সম্বন্ধীয় সংস্কৃত বিদ্যাশিক্ষার নিষেধক-দিন নির্ণয় যথা- প্রতিপৎ পাঠ শীলানাং, বিদৈব তনুতাং গতা। যথাযৌধিষ্ঠিরী সেনা, গাঙ্গেয়-শতাড়িতা ॥১২২। অন্যান্বয়ে যথা—যৌধিষ্ঠিরী যুধিষ্ঠির-সম্বন্ধিনী সেনা সৈন্যং গাঙ্গেয়-শতাড়ি গাঙ্গেয়-শরেণ ভীষ্মবাণাঘাতেন তাড়িত ক্ষীণা যথা ভবতি; তথা তপেণ প্রতিপৎপাঠশীলানাং প্রতিপদি তিথে ব্যাকরণ-দর্শনাদি-শাস্ত্র-পাঠ-কারিণং বিদ্যা জ্ঞানং এব নিশ্চিত। তনুতাং হীনতাং গত প্রাপ্তা ইত্যয়শেষঃ ; অতএব পাঠ বিষয়ে প্রতিপৎ তিথিরগ্রাহ॥১২২। অস্য বঙ্গভাষা যথা—মহারাজ যুধিষ্ঠিরেব সৈন্য সকল মহাযােদ্ধা ভীষ্মের বাণা- ঘাতে যেরূপ প্রপীড়িত হইয়া নিত্যক্ষয় প্রাপ্তি হইয়াছিল। সেই প্রকাব প্রতিপৎ তিথিতে ব্যাকরণ, ন্যায় ও বেদান্ত ইত্যাদি শাস্ত্র পাঠকবিগণের বিদ্যাও সেইরূপ দিন দিন ক্ষয় প্রাপ্তি হইয়া থাকে, ই শাস্ত্রোক্ত বিধান জানিবেন। এজন্য প্রতিপৎ তিথিতে সংস্কৃত শাস্ত্র চর্চা নিষেধ। অন্যান্ত বচন প্রমাণ জন্য অষ্টমী- তিথি আর চতুর্থী সপ্তমী ও এয়ােদশী তিথিবিশিষ্ট রজনীও সংস্কৃত পাঠে অগ্রাহ বলিয়া প্রচলিত আছে ॥১২২|| সুখ, দুঃখ, মান এবং বংশলােপের পূচি, যথা- সুখান্তে দুৰ্বল গাভী, দুঃখান্তে পুত্ৰপণ্ডিতঃ। মানান্তে মুখর। ভাৰ্যা, বংশাস্তে ব্রাহ্মণাে রিপুঃ ॥১২৩৷ ইতি পুরাণােক্ত শ্লোকঃ। অন্যাম্বয়ে যথা—সুশান্তে সুখাবশানে, দুর্বল। গাভী পূর্বাপর ভবনস্থা পয়স্বিনী গাভী দুর্ভাগ্যবশাৎ রুগ্না বা হীনবল। সতী দুগ্ধ- বিহীনা ভবতি। দুঃখান্তে পুত্ৰপণ্ডিতঃ ক্লেশাবানে পুত্রো বিদ্বান কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ভবতি। মানান্তে, গৌরবান্তে ভাযা পত্নী মুখর, প্ৰবলা ভবতি, বংশান্তে বংশস্য কুলস্য অন্তে শেষাবস্থায় ব্রাহ্মণে। রিপুঃ শত্রু- ভবতি ॥১৩ অস্ত বঙ্গভাষা - সুখ সন্থােগাদিৰ পৰিশেষ সময়ে নিজ ভবনস্থ পশস্বিনী গাণী কপিলা সদৃশী হইলেও দুগ্ধ বিহীন হইযা থাকেন, দুঃখের শেষ হলে পত্র দানী হয। মৰ্যাদাব হাস সমযে স্ত্রী প্রবলা এ মুখবা হই। নিত। অমৰ্য্যা পদান কবেন। বংশলােপের পর্বে ব্রাহ্মণসহ শত্রুতা উৎপাদনে বহ্মশপ্ত হইয়া সুজাতকের পবিশেষে বংশলােপ হইয়া থাকে ।১২৩৷৷ শৃদান্ন ভােঙ্গনে ব্রাহ্মণ দুগ যুণ। -তৎপ্রমাণ শূদ্রানে তু ভুনে, উদরস্থেন যে। মৃতঃ। স বৈ খরত্ব মুষ্টত্বং, শূদ্রত্বঞ্চাধি-গচ্ছতি ॥১২৪। ইতি শুদ্ধিতত্ত্বে ধৃত-বচনং। অস্তাম্বয়ে যথা—ভুক্তেন ভক্ষিতেন শূদানে শূদ্রমিকামেন উদবস্থেন যাে মৃতঃ অর্থাৎ শূদ্রম্নং উদরে কৃ ৰা যযা মৃতঃ যে ব্রাহ্মণে। মবণং প্রাপুয়াৎ, স ব্রাহ্মণাে বৈ নিশ্চির্ণ খবং বাসভ (গর্দভং) উর্দুত্বং নীচ-পশুবিশেষত্বং শূদ্রত্ব বা অধিগচ্ছতি প্রাপ্নোতীত্যর্থ। ॥১২৪। অশ্য বঙ্গভাষা -যে ব্রাহ্মণ শূদান্ন (শূদ্রস্বামিক-ভেজাদৃব্য ) উদবে কবিয়া মৃত হয়েন, তঁাহাকে গর্দভ কিম্বা উষ্ট্র অথবা শূদ্রঘােনিতে জন্ম গ্রহণ করিয়া গর্দভ উষ্ট্র অথবা শূদ্ররূপে পপিভােগ কবিতে হইবে , অতএব ব্রাহ্মণ হইয় শূদেব ভবনে ফলাহারাদি কবিবেন না, যদি অনুরোধে কুত্রাপি কাহাকেও শূদ্র ভবনে শৃদান্ন ভােজন করিতে হয়, তাহা হইলে এই শাস্ত্রোক্ত দণ্ড গ্রহণ করিতে অবশ্য হইবে; ইহার অন্যথা হইবে না ॥১২৪।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। অনুবাধে কি। বিপদে পতিত হই। যদিও শদভবনে শুদ্ৰান্ন-ভােজন কবেন, তাহা হই, ছন্দ বন্ধন কাৰ্য লাঞ্ছিত ও ণিত হইবাব কোন আবশ্যক নাই।১২৪ শান্থি শত এম্বব ভা শিাননাম। মহাব, শান্তিশতক গ্ৰ বচনাৰ দুগতি নাশার্থ নমস্য দেবার মধ্যে কে সঙ্গ বিমাণে নিস পূধ্ব প্রণামাদি দ্বারা মঙ্গলাচৰণ কৰিছেন সদা নমস্যামাে (দেবা ন হত বিধেস্তেহপি বশগা, বিধিবন্দ্য সােহপি প্রতিনিয়ত কষ্মেক ফলদঃ । ফুলং কাষত্ব কিমহমর গণৈঃ কিঞ্চ বিধিনা, নমস্তৎ কৰ্ম্মভ্যো বিধিরপি ন যেভ্যঃ প্রভবতি ॥১২৫ ইতি শান্তশতিক প্রথম শ্লোক। অধ্যানুযাে যথা-- ননু ভাে। দেবান দেববর্গান নমস্যামঃ নমঃ যতস্থে দেব। অপি নিশ্চিত বিধেশগ বশ বানাে ভবন্তি, এতস্মাৎ উপেক্ষনীযা , বিধিবন্দ্যঃ বিধিব্রহ্মা সৃষ্টি কর্তা বা নমস্যঃ সােহপি নস্যাৎ যতঃ স সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা প্রণযও কস্মৈক ফলদ, প্রতিনি- তঞ্চতৎ কৰ্ম্মচেতি বাক্যে প্রতিনিয়ত-বস্ম নিকৃত কৰ্ম্ম, তস্যৈক ফলদ ফুলং দদাতি ইতিবাক্যে কর্তাব ড প্র যে ফলদ ফলদাতা ভবতি, একশ্চাসো ফলদশ্চোত বাক্যে এক-ফলদঃ প্রধান-ফল- প্রযােজক, তস্মাৎ সােহপি ন নমস্যঃ ফলং বন্দ্য তদপিন নমস্যং, যতদপি কৰ্ম্মায়ত্ত্ব কৰ্ম্মাধীনং , অমরগণৈঃ কিং, বিধি- নাপি সৃষ্টিক, হপি কিং, অমবগণশ্চ ব্ৰহ্মাচ এতো নিন্দনীয়ো ; তৎ তস্মাৎ কৰ্ম্মভভ্যা নমঃ নমস্যামঃ, যস্মাৎ যেভ কৰ্ম্মভ্যঃ বিধিরপি ন প্রভবতি ॥১২৫। ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ব্যাকরণং যথা-নমস্যামঃ ইতি মমঃ কুৰ্ম্ম ইতিবাক্যে নমস্তপাে- ববিবঃ কাদিভ্যঃ ক্যঃ কৃতে ইতি সূৰণ নমঃশব্দাৎ ক্য-প্রত্যয়ে নমস্য-ধাতু নিষ্পন্নঃ, তস্মাৎ ক্যা মস-প্রত্যয়ে সতি নমস্যামঃ, হহি ক্রিয়াপদং নিস্পন্নং বয়মিতি শেষঃ , অষ্যৎ সুগমং ॥১২৫ অস্য বঙ্গভাষা যথা—শান্তিশতক গ্রন্থকর্তা মহাকবি শিলন, শাশি ৩ক গ্রন্থবচনাব প্রথমেই দুবদৃষ্ট না শার্থ মঙ্গলাচরণ কম্ম কর্তব্য বিধানে প্রথমে দেব- বর্গকে বিরবিনাশ অন্য নমস্কাৰ কবিতে প্রস্তুত হইযা বিচাৰমাগে স্থির হই যে, তঁাহাবা নমস্য হতে পাবেন না , যে হেতুক পববগ বিধিব (সৃষ্টিকর্তাব। বশবর্তী হইতেছেন, এই জন্য গম জিপে হতে পাবেন ? । ওঁ যখন সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মাব আদেশানুসাবেই কার্যকরী হইছেন, তান কি ৰূ মতঃ জনক ফলদাতা হইতে '' নি ? স্বাধীন না হলে বাঞ্জি ও ফল দি’ ৩ সমর্থ কি ? ॥১, ৫ এইজন বিধিদেই ( বহ্মাবই। বিনাশ ন ন ব - ৩৭ নমস্ত হইতে পাবে না, যেহেতুক তিনিও প্রতিনি। কত কস্য জন্য দাহতছেন , অতএব নমস্য হইতে পাবেন না অর্থাৎ ওব (" ন + ষ্ম ও বন, সেই স্মাণাধিক ফলদাতা হইতেছেন, নিজে কিছু •|• গ " | না থাকি. বিরূপ মগ্নব বিঘ্ননাশ কবিবেন ? এই হেতুক বশ ও • ই পাবেন না |১৫| এক্ষণে ৩বে ফলকে বি.। নাগ জ) ঈ' ববি • 'ও • fঙ্গ । নহে, বে ইক “ •° কম্ম { ' য ক ব ন , ছন, সেইকে ফলও নমস্য হতে পাবেন না ১২৫|| অতএব আমি সেই কম্মকেই ব্রহ্মজ্ঞানে বি এনাশাভিপ্রায়ে নমস্কার করিছি , যে হেতুক যে কৰ্ম্ম হইতে দেবশণ ও ব্রহ্মা পর্যন্ত কে; প ২ * এনে ; সেই হেতুক কৰ্ম্মকে ই বহ্মজ্ঞানে ননস্বাব কবি ছি৷২৫} ৩ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। যােনি ঘৃণিত পদার্থ হইয়াওজ্ঞানচক্ষুবিহীন মনুষ্যগণের পক্ষে মুগ্ধ কর হইতেছে, তাহার পরিচয় এবং অজ্ঞানীর লক্ষণাদি বর্ণণ। যথা- সমাশ্লিষ্যত্যুচ্চৈ-নপিশিত-পিণ্ডং স্তনধিয়া, মুখং লালাক্লিং পিবতি চশকং সাবমিব । অমেধ্যে ক্লেদাদ্রে পথিচ রমতে স্পর্শ রসিকো মহমােহান্ধানাং কিমপি রমনীয়ং ন ভবতি ॥১২৬ ইতি শান্তিশতক-গ্রন্মােক্ত শ্লোকঃ। অস্যায়ে যথা—মহমােহন্ধানাং জ্ঞানচক্ষুবিহীনানাং নরাণীং সম্বন্ধে ইহ জগতি কিমপিবস্তু রমণীয়ং ন ভবতি ? অপি তু সর্বমেব রমণীয়ং মনােহরং সম্ভবতি, যতঃ স্পর্শেন রসং প্রেমরসং বেত্তি যঃ, সঃ স্পর্শ-রসিকঃ পুরুষঃ, জ্ঞানচক্ষু বিহীন-মানব সন্ উচ্চৈঃ উচ্চবং ঘনপিশিত-পিণ্ডং কঠিন-মাংসপিণ্ডং স্তনধিয়। স্তনবৃন্ধ্যা অর্থাৎ স্তন- জ্ঞানেন সমাশ্লিষ্যতি আলিঙ্গতে; অত এব তস্য সম্বন্ধে কিমপি রমণীয়ং ন ভবতি ? অপিতু সর্বং কুৎসিতমপি রমণীয়ং ভবতি ? পুনঃ সাসবং অাসবেন মদ্যেন সহিতং চসকং পানপাত্রং মদ্যপায়ী যথা পিবতি অর্থাৎ সাদরেণ চুষতে চুম্বনং করােত, তদ্বৎ স পুৰুষঃ লালাকিং লালাদিভিঃ পিওশ্লেষ্ম-সম্বন্ধীয় দুর্গন্ধাদিভিশ্চ ক্লেদপূর্ণং মুসং বদনশ্য লালাদিক পিবতি অর্থাৎ মুখামৃত জ্ঞানেন মুখস্য ক্লেদ-পূৰ্ণ-লালাদিতরল-পদার্থ- পানং করোতীত্যর্থ। পুনঃ স স্পর্শ-রসিকঃ পুরুষ অমেধ্যে অপবিত্রে ক্লেদাদ্রে ব্লেদেন আন্দ্রে দুর্গন্ধময-তরল-পদার্থেন জলবৎ তরলপদার্থ- বিশিষ্টে পথি অধ্বনি যেনৌব। রমতে রমণং কাব্যেতীতি শেষ ॥১২৬৷৷ ব্যাকরণং যথা—সমাশ্লিষ্যতীতি শ্লিষ্যে ৯ ঋ আলিঙ্গনে ইতি সং পূর্বকাৎ আঙপূর্বকাচ্চ তস্মাৎ ক্যাস্তি প্রত্যয়ে সমাশ্লিষ্যতীতি কবিতা কুসুমাঞ্জলি। ; পদং সিদ্ধং। ঘনঞ্চতৎ পিশিঋেতিবাক্যে ঘনপিাশতং তস্য পিণ্ডং, স্তনধিয়া ইতি স্তনয়ে ধীঃ স্তনধী: তয়া ইতি বাক্যেন সুধিয়া ইতি পদ সিদ্ধং মহামমােহন্ধানামিতি মহান্তশ্চ যে, তে মােহন্ধাশ্চেতি বাক্যে মহামােহান্ধাঃ তেষাং মহামোহনামিতি সিদ্ধং ১২৬ অস্য বঙ্গভাষা যথা—জ্ঞানচক্ষুবিহীন মনুস্থ্য সম্বন্ধে সকল বস্তুই রমণীয় ; ঘৃণি ও ও অতিকুৎসিত হইলেও আনন্দদায়ক ; যেহেতুক সেই মূঢ়গণ, স্বীবক্ষঃস্থিত কুচ- দ্বয়কে স্তনবৃদ্ধিতে মদ্দন কবিয়া বহুল আনন্দ প্রকাশ করেন, কিন্তু প্রাণযু বহির্গত হইলে ঐ কুচদ্বয় পচিয়া কীটোৎপন্ন সহ দুর্গন্ধম হয়,--এরূপ ঘৃণিত বস্তু ও যখন অজ্ঞানীর পক্ষে সুখকর এবং আনন্দ জনক ইতেছে তখন কোন বস্তু নিৰ্ব্বোধের পক্ষে সুখকর ও আনন্দক নয় ? সকল বই তাহাদের পক্ষে অনিককব হইতে পারে। মদ্যপায়িগণ বহুদিবসন্তে আসব সংযুক্ত মদ্যপানপাত্র পাইলে যেমন সুখকর বােধে পান করিয়া থাকেন, সেইরূপ মূঢ় মানবগণ লালাদিপূর্ণ ও পিত্তশ্লেষ্ম সম্বন্ধীয় দুর্গন্ধময় প্রিয়মুখ চুম্বনে, চোষণে ও মূখামৃত পানে উন্মত্ত থাকিয়া আনা নুভব করেন ; বিজ্ঞপাঠক! এইস্থানে বিচাৰ কবিয়া দেখুন যে, যখন নিজে কাস থুথু ও গয়ের নিক্ষেপ করিয়া পুনৰ্ব্ব'ৰ মুখ ও জিহ্বা দ্বারা উত্তোলনে সকলেই অসমর্থ হইতেছেন, সেই পর-মুখস্থ কাস থু থু-ও পিত্তশ্লেষ্মৰ দুগন্ধম মুখ-চোষণে লালাদি ক্লেদকে মুখামৃত জ্ঞান, কথন-পূৰ্ব্বক পানে ও আস্বাদনে যাহারা মুগ্ধ হইয়া আনন্দ বন্ধনে প্রীতিলাভ করিতেছেন; সেই জ্ঞানচক্ষুবিমি নরেব সম্বন্ধে কোন্ ঘৃণিত বস্তু রমণীয় না হতে পারে? সকল বস্তুই তাহাদের বম- ণীয় নয় কি? সৰ্ব্বদা অপবিত্র, সতত ক্লেদপূর্ণ অর্থাৎ পূয়, শশাণিত ও শ্বেতবর্ণ ক্লেদাদি পূর্ণ যােনির দুর্গন্ধে ও সাণে মাতৃদুগ্ধ পর্যন্তও উদগীরণ কয়, সেই দুর্গন্ধ ময় যােনিতে যে মুগণ কৌতুহলা ক্রান্ত হইয়া রমণে মুগ্ধ থাকেন, তাহাদেব সম্বন্ধে কোন্ ঘৃণিত বস্তু মনােহর ও আনন্দদায়ক হইবে না? এ বিধায়ে সকল বই মুঢ়ের পক্ষে হর্ষ ও আনন্দ জনক নয় কি? [১২৬ } ১৩ কবিতা কুসুমাঞ্জলি। দেবরাজ ইন্দ্র এবং অশুচি শূকরের সৌসাদৃশ্য। যথা- ইন্দ্রস্যাশুচি শূকরস্য চ সুখে দুঃখে-চ নাভ্যন্তরং, স্বেচ্ছাকল্পনয়া তয়ােঃ খলু সুধা বিষ্ঠাচ কাম্যাশনং। রম্যাচাশুচি-শূকরী চ পরমপ্রেমাস্পদং মৃত্যুতঃ, সংত্রাসােহপি সমঃ স্বকৰ্ম্মমতিভি শ্চান্যান্যভাবঃ সমঃ ॥১২৭৫ ( ইতি শান্তিশতকস্য শ্লোকঃ ।) অস্যাম্বয়াে যথা--ইন্দ্রস্য দেববাজস্য, অশুচি-শূকরস্য চ সুখে সুখভোগে দুঃখে চ ক্লেশভাগে ঢ অন্তরং ভেদে। নাস্তি, উদাহরণ যথা—স্বেচ্ছা কল্পনয়া উভয়েবিচ্ছানুসাবেণ তােঃ ইন্দ্রাশুচিশূকরয়াের খলুনিশ্চিতং যথাস্যাৎ তথা সুধা অমৃতং বিষ্ঠা চ শকৃচ্চ কাম্যাশনং স্বেচ্ছানুসারেণ খাদ্যং ভবতি। তয়ােরিন্দ্র। শুচি-শূকরয়াের পরম- প্রেমাস্পদং রম্য। শচী শূকরীচ। মৃত্যুতঃ মরণভয়াৎ উভয়েঃ সংত্রা- সােহপি সমঃ তুল্যঃ, অন্যান্য ভাবােহপি সমঃ অপবাপরবিষয়ােহপি স্বকৰ্ম্ম-মতিভিঃ স্বীয়কৰ্ম্ম-ফলৈ-বুদ্ধিভিশ্চ ফলভোগ-বিষয়ে সদৃশঃ অর্থাৎ শূকবাে দেববাজেন সহ তুল্য ইত্যর্থঃ ॥১২৭ অন্য বঙ্গভাষা যথা--দেববাজ ইন্দ্র ও অশুচি শূকর-এতদুভয়ের সৌসাদৃশ্য দেথা যাইতেছে ; কোন বিষয়েব প্রভেদ নাই। উদাহৰণ সথা - দেবরাজ ইন্দ্র স্বেচ্ছাধীন অমৃত ভােজনে যেরূপ প্রতিলাভ কবেন, অশুচি শূকরবাজ স্বেচ্ছা পূধ্বক বিষ্ঠা ভোজনেও তদনুরূপ আনলাভ কবিয়া থাকেন , দৰবাজ ইন্দ্রকে ভােজনাৰ্থে বিষ্ঠা আর শূকব-কাজকে ভােজ নার্থে অমৃত প্রদও হইলে, উভয়ে পরস্পর কেহই সর্ণিত বলিয়া ভােজন করেন না, ববং উক্ত খাদ্যদ্বয়কে পরম্প অখাদ্য বােধ কবেন, পরস্পবের নিকট সুখকর ভােজ্য অমৃত ও বিষ্ঠা সপ্রমাণ হইল ; অমৃত ও বিষ্ট। এই উভয় দ্রব্যের তুল্যতা। রমণ বিষয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের পরম প্রেমাস্পদ রমা ইন্দ্রাণী, শূককবরের ;
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। { কবী হইতেছেন , ফুলকথা দেব'- শচী সন্তাণে (প শানন্দশ কবেন, শৃকব বাজ শূৰ ৰী সম্মেণও ঠিক (সইরূপ সুখী হইয়া থাকেন, শাণী ও শুকবী এ যেব সম্ব^{ দেব । শব । * ০ ০ পম ৫ { (দেব- বাজার সাথে শক ও শ71 ন ব •া', । ” । • * * ব বলে সম্ভোগ ব থাকব, বপবে অ আ ম ৭ ও বাববেন না। ম + ৩(য তফাৎ ? ৩নভ_{ এত ভাব {{}, {1; ম স । *লে । পতন অর্থাৎ বিবর্তন এব শূকৰ ৰ” : (দই : বিওন (মৃত্ব এ * উভযর মৃতুব ও ? } ৩ । ইন্দ্র এ মন শক এই উলমন গন ; ৩। থাবা প্রমাণ ১', ৩খন (ব? আপনা'ব ( শ ম ন + বিন না। ইশ ও “বৰব নক। বিখই ? তি', ম • এব “অন্যে পবে, এ ব থ।' অন্যত্র বোন ক' বা অ• { ই হ'ত পারে না। বিবাহগ ত্র কাবকি পানি 'হানি', যথা- কন্য। বরয়তে রূপং, মাত বিভং পিতা তং। বান্ধবঃ কুলমিচ্ছভি, মিষ্টান্ন মিতরে জনা ॥ ১২৬ ৩ মহাবীব্য কুম'। সব “ঞ্চম স গ মল্লিনাথেন ধ্বতং পাঁবাণিক-বচনং। অস্তান্বয়ে যথা—বন্যা ৰূপ বযতে, বিবাহস্থলে বন্যা (পাত্রী) ঈশ্ববসমীপে পা রূপং ববয৩ প্রার্থযাত, মাতা বি° ববযতে, কন্যায়। মাতা ঈশ্বব-সমীপে পা এ বিত্তং ধনং ( লঙ্কাবাদি ধনং) ববযতে প্রার্থযতি, পিতা কন্যাযঃ পিতা শ্রুত ঈশ্বস্য সমীপে পাত্রস্য বেদাধ্যযন-জন্য জ্ঞান ববয়তে প্রার্থযাত, বান্ধবী: কুল- মিচ্ছস্তি কন্যাপক্ষীয় বন্ধুবর্গাঃ পাত্রস্য কুং ইচ্ছন্তি বাঞ্জন্তি। ইতরে জনাঃ পূর্বোক্তভিন্ন। জনাঃ মিষ্টান্নং সুখাদ্য-ভােজনং ইচ্ছন্তীতিশেষ ।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
অশ্য বঙ্গভব। খগা-বিবাহক্ষেত্রে পাত্রী ভগবং সমীপে রূপবান্ পাত্র প্রার্থনা
কবেন, কন্যার নাত ঈশ্বৰ সপে ধনাঢ্য পাত্র ইচ্ছা করেন, কন্যাৰ পিতা ভগবৎ
সমীপে পাত্রের বেদাদি অধায়ন ও জ্ঞান থক। ইচ্ছা কবেন ; জ্ঞাতিবর্গ ও বন্ধু-
গণ উনুন রূপে শাহাব সহ বিঘ্ন & করিয়া থাকেন। ইহা বিবাহ:সভায় সময়
পাইলে বর্ণনা যে!স্য কে বা উপ : ১২০
জীব-সতের শতাবিত্যাগের সময় বর্ণনা যথা—
শীত। স্তরবে। মাঘে, ফাল্গুনে পশুপক্ষিণে।
চৈত্রে জলচরাঃ স,ে বৈশাখে নরো বা হনরঃ ॥১২৭।
অন্যান্বয়ে। যথা---মাঘ মাঘে মাসি তবকে বৃক্ষাঃ সর্বে অশীতাঃ
শীতবাজ ওঃ, ফানে পশুপক্ষিণৌ ফাল গুন-মাসি পশুশ্চ পক্ষীচ তো
পশুপক্ষিণে অশীতে শীতরহিতো, চৈত্রে মধুমাসে সবে জলচর।
অশীতঃ শীত রহিতা ভবশুি ; বৈশাখে বৈশাখ-মাসি নরে মনুষ্যঃ
অশীতঃ শীত-রতি, বা এবং অনরাে রাক্ষ সঃ শীতশ্চ ।
নর-শব্দো রাক্ষস-বাচক।
অষ্য বঙ্গভায়া -মাঘমাসে তরসক শতিরহিত হয়, কারন সে পশু
ও পক্ষিগণ শতবর্জত, চৈত্রে জলচর সকল তবিহীন, বৈশাখে মনুষ্যগণ
এবং ক্ষসগণ শীত বনি হইয়া থাকে। ১২৭।
মূখের প্রতি উপদেশ দানের ফল-বর্ণনা--
হিতােপদেশে ইহার উপন্যাস বর্ণিত আছে, তাহা না জানাইলে পাঠকগণের
গায়ে সুখকর হইবে না, এতে হিত বাধ্য হন। উপন্যাস যথা--
কোন পাপৰি বহুধ এক 'ও তখ: বানগণ পুরুষানুক্রম বাস
করেন, কালক্রমে ৭ দিক। এ পাম বুঃ তৎ ঐ পৰ্ব্ববাসি
চেীধাকে কতকাৰ কৰি 'চিল; কিন্তু ও পক্ষিকত, নডমধ্যে
।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। পরমসুখে বসবাস করিতে কবি, তৰঙ্গ নগণকে অমিত কম্পিত কলেবরে এক বৃনল ত সুখানুভব ৷ অব ১. ক র যাতায়াত করিতেছে—ইত্যাদি—বানর যতন কৃতি করি। ' , ২য় ওছে- “হে বানরগণ ! তোমাদের এই অসং কে দেপিণ। শব্দ'ও তি' -- আমাদের পক্ষিকুল হইত আপনারা মহাবীর এবং বুং হস্তপদ বিশিষ্ট এইতেছেন, তবে কেন নিৰ্ম্ম আকাশ থাকিলে, এইরুপ স ম :')} হাব স স্থান (গৃহ) নিৰ্মাণ করিয়া স্বচ্ছন্দে ও সুখে * ক ন ? আপনাদ ততে আণর। অতিতীন ও দুন; এপি নি। কাশ ও প ন “এই চর-দ্বাৰা তৃণ অধম কবি নী ও প্রস্থ বিছি---- এই মত গে নীড় মধ্যে কেমন সুপ বা কবিতg 'দখুন,- “বণ আপনা: এই পদ কালে মুখে বাস করতে পারিন ইবি দে*. ১.২ ** } * না কবিয়া বরং মনে মনে এই ধরনে; এবং নিল অকাশ ও যে সন্তাগ করিতে পাই, ই সবিপূর্ধ্ব পুলি; বই হইলে । পাবে নিশু অাকাশ হইলে রোদ সম্ভোগে দই উপ্ত : না? সব হইয়া যুক্ত করলেন যে, ক্ষ ৪-জীব প৭ি ই " সালে । সুখে থাকিয়া আমাদের সকলকে বিকৃত ও পবিয়াস কবিয়'ছে; এই হক তাহাদব এই পপত হইতে তিন কবি লে, -এ নকু : লেব করিলেন, তৎপরে সেই দিন ২৩ই নন। নক, পশিj মে • ! - ২ নির্যাতন অভপ্রামে গিণের নন নন : ৬,৬৭ • শাক- গণকে হত্য? কত , নিত্য সাস্} ছাপ প ৩' ও পক্ষিণ পরস্পরের নীড়ন, শাবক ও ডিম্ব ইত্যাদি অনুসা। প্র: ইয়া পণে তার প্রস্থান করিতে লাগিল এবং সেই সময়ে এল --- বিদ্বানেবােপদেস্টব্যো, নাহবিদ্বাস্তু কদাচন। বানরানুপদিশ্যথি, স্থান-ভ্রষ্টা যযুঃ খগাঃ ॥১২৮ ইতি হিতােপদেশে ধৃত-বচনং।
১৪০
কবিতা কুসুমাঞ্জলি।
অন্যান্বয়ে দথা--বিদ্বান পণ্ডিতঃ পুরুষ এব নিশিচতং উপদেষ্টব্যঃ
উপদে শযােগ্যপান, কিন্তু অবিদ্বান মূখজনা কদাচন ন উপদেষ্টব্যঃ
ইতি বম্প্রদাবেণৈব বানবাণ উপদিশ্য উপদেশং দত্ত্বা অগ অনন্তব
খগ। ত এস্থ পক্ষিণঃ সৰি স্থানভ্রষ্ট। সঃ যযু? পবহান্তবে গতবন্ত।
বঙ্গাবাদ।** * ন ব য দশ * পা, মুখ ণণ কদাপি উপদশ
য্যে এ rি ৩
ইদা • খ। - ( নব সা, দশ দান
জন্য 'আ দ ? বে *ৈ িব াণচু ৩ ২৩ ১২, { খ। বহ
মুখ ( ব উপদেশ দিযা বিপদ। অশ্বিন কবিনে না, এই বলিয়া পমি গণ
পর ৩াবে দু খি ও হৃদযেমন ববি। ২৮।
মুগ্ধ বাধ ব্যাকরণের টাকাবাব মহামতে। ধ্যাষ বাম তক বাণীশ, কাৰৰ প্ৰকবণের
“পি স ৷ নিব যা ' সব ক' (বাকি সাবী-বচন ‘খ ৩
উপযু পবি শব্দের (খাদে তীর বিবস উদাহ দেখাইছেন দ যথা-
উপর্যুপরি বৃদ্ধানাং ; চরন্তীশ্বব বুদ্ধযঃ ॥১২৯।
অস্যান্বয়ে যথা—উপবিবুদ্দীনাং শ্রেষ্ঠ বুদ্ধীনাং জননাং বুদ্ধেকপবি
উপবিভাগে ঈশ্বর বুদ্ধযঃ পরমেশ্ববশ্য বুদ্ধঃ চবাত্যৰ্থঃ অর্থাৎ
গচ্ছন্তীত, ১২৯।
অর বঙ্গশষ। যথা * ৩ | দ 1 মানববি মধু বোন বোন
মহাখা। বিঞ্চিৎ ধী শও। বিচসা প্রদান কৰি আ মাভিশন অহঙ্গার ) ধবা
ধামবে সব জ্ঞান ও মেব’ বানান অর্থাৎ আমিই বু* •ান ব ি অহাব
কবেন।
এ বি বও এই যে, ২ ও ৩ • {ন ত ই বীন হইবেন , বিস্ব
সব. 17 বুদ্ধি ৬ ৭ শ্বৰ ৰপি <vববি থক; অতএব পাত। “গৰ্ব্ব
মা কুৰু” গব্ব কবিও না।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ১৪১ পরমপিতা পরমেশ্বব সুখ ও দুঃখ ৭৩ নহেন, স্বীষ স্বীয় কম্মফল জন্য জীব সুখী এবং দুঃখভােগী হইয়া থাকেন; সংকৰ্ম্ম জন্য বিপুঃ সুখ সন্তো করিতেছেন- এমন সময়ে যদি সহসা উৎকট দুধম্ম করেন, তাহা হইলে পূ র জন্মকৃত সংক্ৰিয়া জন্য যে সুখলেগ হই ছিল, সে সক। সু ২াগ ও • •যুর গুকতা ও লঘুত বিচাৰে নিম্নলিখিত মনুসংহিতাৰ বচনে নিরূপিত সমষ মধ্যে বর্তমান জন্মের সেই উৎকট জ্জিব ভোগ কবি ব, দাংবণ :- ত্রিভিবর্ষৈ প্রিভিৰ্মাসৈ স্ত্রিভিঃ পক্ষৈ স্ত্রিভিদিনৈ?। অত্যুৎকটৈঃ কৰ্ম্মযােগৈ রিহৈব ফল মশ্ন তে॥ ১৩০। ইতি মনুসংহিতাযাং ধৃতবচনং ! অস্যান্বয়ে সথা--অত্যুৎকটৈ রহিবিগতিঃ কযােগৈঃ ক্রিয়া- যোগৈঃ ফলং ইহৈব, অস্মিশ্নের সময়ে ফল, উপস্থিত-জন্ম কত দুষ্কৰ্ম্ম জন্য ভোগ্য-ফলং অশ্নহে ভুভুক্তে , হৈব কি ? বিড়ি যৈঃ বষত্রয়পরিমিত-কালো, ত্রিভিৰ্মাসৈ” মাসণয়-পরি ৈসয়ৈঃ, ত্রিভিঃ পক্ষৈঃ পক্ষএয়-সময়ৈঃ (পঞ্চচাৰিশৎদিবস-কবণবৈ :) ত্রিভিদিনৈঃ দিন ত্রয়-কাল-করণকৈ উৎকট-কম-যোগ-জন্য ফলং অণুতে প্রাণোতীতার্থ। অষ্য বঙ্গ ভাষা যথা –অশিন উৎকট সি। কবিকে নিবর্ষ সময় মধ্যে, তিনমাস সময় মধ্যে, পক্ষএ সময় মধ্যে অথবা দিবস সময় মধ্যে ফলগে করিতে হইবে। অতি উৎকট দুৰ্ম্ম জন্য ফললােগ দিবসখ মধ্যেহ' হইয়া থাকে, তদপেক্ষা মুন দুষ্কৰ্ম্ম করিলে তিন পক্ষ (৪৫ দিন) সময় মধ্যেই ভৌগ প্রকাশ হয়। তদপেক্ষা অবিহিত কাৰ্য্য করিলে তাহাব ফ7 মাসত্রয় সময় মধ্যেই ভো কবিতে হইবে। তদপেক্ষা ও লঘু দুগ্ম কবিলে তজ্জন্য দুর্গতিরূপ-ফল তিনব- কাল মধ্যে ভােগ হইয়া থাকে।
১৪২ কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। মনুসংহিতা এবং উপবি-লিখিত যুক্ত্যনুসাবে সদসৎবিচার পূর্বক কাৰ্য্য করিলে চরিতার্থ হইব। ক্রিয়ায়াঃ প্ৰাগাড়ম্বরং মা করু। কোন কার্য কবিবাৰ পূৰ্বে আড়ম্বব দর্প ) কপিবেন না, তাহা হইলে ছাগবৎ ঘৃণিত হইবেন। তৎপ্রমাণ যথা- অজ। যুদ্ধে ঋষিশ্রাদ্ধে, প্রভাতে মেঘাড়ম্বরে। দম্পত্যোঃ কলহশ্চৈব, বম্বারম্ভে লঘুঃ ক্রিয়া। ১৩১। অস্যাম্বয়ে। যথা-অজাচ্ছাগ। যুদ্ধে সমরক্ষেত্রে বারম্ভে বহু যথা স্যাৎ তথা আড়ম্ববং (দর্পং) কৃত্বা সমবস্য যথাকালে লঘু ক্রিয়া অর্থাৎ ছাগগণে। যুদ্ধ-সময়ে বিপুলাড়ম্ববং কৃত্বা মস্তক শৃঙ্গাঘাত সময়ে নিঃশব্দেন শৃঙ্গে শৃঙ্গে সংলগ্নমাত্রং কুৎ, তথা ঋষিশ্রাদ্ধে তাপসব্রাহ্ম- ণানাং পিতৃশ্রাদ্ধে তিল-কুশপ-পুষ্পদীনাঞ্চ বহুলমাহৃত্য পিণ্ডদান কেবলং, পুবে।হিত ভোজন মাত্রঞ্চ কুকতে, অর্থাভাববশাৎ অন্যেষাং ভূরিভোজ নাদিকং ন কারয়ে; কিন্তু অপবজাতীনাং সম্বন্ধে ভূবিদান- ভোজনদেৰ্যবস্থা অগ্রে অগ্রহেণ সহ প্রদেয়া। প্রভাতে উষয়াং মেঘাড়ম্ববে মেঘানাং ভূরিগজ্জনে লঘুবৃষ্টিঃ পততি, তথা দম্পত্যেঃ স্ত্রীপুরুষখোঃ কলহেপি বিবোধোকপি দিবাভাগে যথা স্মাৎ তথা কিন্তু নিশায়াং স্বামি-শয্যায়। স কলহো ন নাস্তাতি ভাবঃ। এতেষাং অজমি-মেঘ দম্পতীনাং আড়ম্বর-মাত্ৰং স্যাৎ, নতু কার্যতস্তসিদ্ধ। অস্ত বঙ্গভাষা যথা--ছাগগণ যবে পাবম্ভে মহা.বম “কাশ সহ অগস্থ পদদ্বয় উর্ধে উত্তালন পূৰ্ব্বক ভাষণ শৃঙ্গাঘাতব আয়জন কবি অতি লঘু শৃঙ্গাঘাত কবিযা থাকে। সেই রূপ ঋষিগণ ( ব্ৰহ্মণগণ } পিতৃশান্ধাদিব মহাডম্বব দেখাইয়া অতি লঘু ভাবে ব্যয় করিয়া কেবল পিণ্ডদান মাত্র সমাধানন্তব পুবাে- হিতাদি দুই পাঁচ জনকে ভােজন কৰাইয়া থাকেন, ধনাভাক জন্য অতি লঘুক্রিয়া •• কবিতা-কুসুমাঞ্জলি। ১৪৩ হইয়া থাকে, সেইরূপ প্রভাতে মমেঘণজ্জনে অতি সামান্য বৃষ্টি পাতন হয়, দিবাভাগে দম্পতীকলহ (স্ত্রীপুরুষ বিবাধা মহান্ হইলে ও অলকা পবেই বা নিশা- কাশে প্রমালাপ সমযে সেই কলহ 'গুঞ্জন হই । , সক। বিষয অতি-আডম্বব কবি পরিশেষে অতি ঘু যিসম্পাদন কৰিলে ছাগবৎ তুচ্ছ ( বৃণি ৩) হইত, হয়, অতএব পাঠক। কোন কাৰ্যেৰ প্ৰ'বম্ভে অধিক দর্প ববিবেন না। এই ইহাৰ তাৎপৰ্য্য। কতিপয় কৃতঘ্ন ব্যক্তির পরিচয়। লব্ধবিদ্যো গুরুং দ্বেষ্টি, লব্ধভাব্যস্থ মাতরং। লব্ধ-জারা পতিং দ্বেষ্টি, লব্ধারােগ্য শ্চিকিৎসকং ॥১৩২। অস্তাম্বযে। যথা – লক্কা বিদ্যা যেন, স গুরুং অধ্যাপক দ্বেষ্টি বিদ্বেষং কৰােতি, লব্ধ। ভাস্য। যেন, স মতবং জননীং দেষ্টিগ- ধারিণী বিদ্বেষী ভবতি, লক্কো জাবে যয়া, সা ব্যভিচারিণী স্ত্রী পতিং স্বামিনং দ্বেষ্টি হতশ্রদ্ধাং কববাতি, লব্ধং আবােগ্যং যেন রােগিনা স বোগী চিকিৎসকং দ্বেষ্টি চিকিৎসকস্য বিদায় কালে ( পুরস্কার সমযে) কিঞ্চিৎ গ্লানিনা সহ পুবস্ববোতীত্যৰ্থঃ ॥ ১৩২ । অন্য বঙ্গভাষা -সদ বংশজাত ছাত্র বিদ্বান্ হইযা অধ্যাপক মহােদযেব গ্লানি কবেন, জারজ । বিজাতক ) সন্তান হইলে যবর্তী ভাৰ্য্যাব বশীভূত হইয়া প্রতিব (জননীব) গ্লানিকাবক হযেন, অসচ্চবিবা স্ত্রী মনের মত প্রাণকান্ত ( উপপতি) পাইলে পতিব বিদেষিণী ও দূরে থাকুক, পবিশেষে পতি গ্ৰী পৰ্যন্তও হইযা থাকেন। আবােগ্য- প্রাপ্ত বোগ, চিকিৎসকের পুৰস্কাৰ সমযে তৃপিগ্লানি পূৰ্ব্বক বিদায় কবিয়া থাকেন। ১৩২। সুধী পাঠক! আপনারা কেহ গুরুদ্বেষী, মাতৃভক্তি-বিহীন ও বােগ হইতে মুক্তিদাতাব অমৰ্যাদা কবিবেন না, ইহাই ব্যক্তব্য।
১৪৪
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি।
বচনাত্তরে আছে যে-
আতুরস্ত পিতা বৈদ্যো, রোগান্তে বৈদ্যঃ শ্যালকঃ ॥১৩৩
অন্যান্বয়ে যথা—আতুরস্য রােগিনঃ পিতা ক? বৈদ্য ইতি
প্রসিদ্ধ, রোগান্তে সুস্থাবস্থায়াং শ্যালকঃ কঃ-বৈদ্য ইতিখ্যাত।
অস্য বঙ্গভাষা যথা—পীড়িত ব্যক্তির পিতা কে? বৈদ্য -অর্থাৎ সভ্য মনুষ্যগণ
চিকিৎসক মহােদয়কে পিতৃবৎ জ্ঞানে মান্য এবং শ্রদ্ধাসহ ভক্তি করিয়া পিতা
(বাবা) বলিয়া থাকেন , কিন্তু সেই ব্যক্তিই আরােগ্য হইয়া বৈদ্যবিদায়
সময়ে পিতৃসদৃশ মান্যবর বৈদ্য-মহােদয়কে শ্যালক ইত্যাদি কটুক্তিপূর্ণ শ্লেষবাক্য
প্রয়ােগ করিয়া ধ্বণিত হয়েন ॥ ১৩৩ |
অতএব পাঠক! বৈদ্যকে (আবােগ্য দাতা চিকিৎসককে) চিরকাল মান্য
করিয়া যশ ও কীৰ্ত্তিলাভ করিবেন ; ইহাই গ্রন্থকারের বক্তব্য।
কবিতা-কুসুমাঞ্জলি
প্রথম খণ্ড সমাপ্ত।
পাঠক মহােদয়গণের এইরূপ গ্রন্থ পাঠের উৎসাহ-জনক-পত্রাদি
প্রাপ্ত হইলে, অপরপর আবশ্যকীয় শ্লোক সাগর মুদ্রিত করিয়া
দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করিবার বাসনা রহিল।
১০ নং দেব নারায়ণ দাসের লেন,
শ্যামবাজার, কলিকাতা।
নিবেদক
দ্বারকা নাথ বিদ্যারত্ন,
প্রৰীণ চিকিৎসক।
No text on this page.