Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Swarnolata Natok
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
স্বর্ণলতা নাটক।
শ্রীদেবেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক
প্রণীত
কলিকাতা
প্রাচীন ভারত যন্ত্রে মুদ্রিত।
সন ১২৮০ সাল।
মূল্য ১, এক টাকা মাত্র।
[ All rights reserved. ]
No text on this page.
নাট্যোল্লিখিত ব্যক্তিগণ পুরুষগণ। কৃপাসিন্ধু রায় হরবিলাস চট্টোপাধ্যায় তুলসীদাস চক্রবর্তী ভবতারণ ভট্টাচাৰ্য জ্ঞানেন্দ্রনাথ রায় হরিমােহন মুখোপাধ্যায় বিপিন বিহারী মুখোপাধ্যায় শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় চারুচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হলধর চট্টোপাধ্যায় জমীদার কৃপাসিন্ধুর ভগিনীপতি কৃপাসিন্ধুর ইয়ার হরিসভার অধ্যাপক কৃপাসিন্ধুর জ্ঞাতি ভ্রাতুস্পত জনৈক কুলীন ব্রাহ্মণ হরিমােহনের পুত্র বিপিনের মাতুল জনৈক বংশজ হরবিলাসের পুত্র অতুল ও ০ ০ ০ রাধিকা হলধরের ইয়ার দয় স্ত্রীগণ। 'ভগবতী স্বর্ণলতা মাধবীলতা বিন্দুবাসিনী কুমুদিনী : ০ ০ ০ হরিমােহন মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী হরিমােহন মুখােপাধ্যায়ের অবিবাহিতা কন্যা বিপিনের স্ত্রী প্রতিবাসিনী হলধরের স্ত্রী দাস দাসী পাহারাওয়ালা জমাদার ইত্যাদি।
No text on this page.
বিজ্ঞাপন।
স্বদেশানুরাগী মহােদয়গণ !
মনােনীত করিয়া পরিণয় করিবার প্রথা আমাদিগের দেশে
প্রচলিত না থাকায়, সমাজের যে কত অনিষ্ট হইতেছে তাহা
বোধ হয় প্রাজ্ঞ মাত্রেই বিশেষরূপে বিদিত আছেন। আমি
আপনাদিগের নিকট বিনীতভাবে এই বিষয়ে কিছু নিবেদন
করিব বলিয়াই, বহু আয়াস ও যত্নসহকারে “স্বর্ণলতা নাটক
প্রকটন করিয়াছি। বক্তব্য বিষয় ভাল রূপে প্রকাশ করিতে
বিশেষ চেষ্টা করিয়াছি, কিন্তু তাহাতে কতদূর পর্যন্ত কৃতকাৰ্য্য
হইয়াছি বলিতে পারিনা। নাটক লিখিয়া জন সমাজে প্রতিপন্ন
হইব, কিম্বা “স্বর্ণলতা”, নাটক শ্রেণীতে স্থান পাইবে, মাদৃশ
জনের এরূপ আশা দুরাশা মাত্র; রঙ্গভূমিতে অভিনীত হইলে
সাধারণের অন্তঃকরণে অনিষ্ট সমূহের ছায়া স্থিরভাবে পড়িবে
বলিয়াই আমার এ অনুষ্ঠান। পাঠক মহােদয়গণ! “স্বর্ণলতার”
প্রতি একবার কৃপাদৃষ্টি করিলেই জানিতে পারিবেন, যে যত্ন
অভাবে এ লতার কি ভয়ানক দুরবস্থা ঘটিয়াছে। উপসংহার
কালে বক্তব্য এই যে স্বদেশ-মঙ্গল-কৃষি-বিদ্যা-পারদর্শী পণ্ডিত
মহােদয়গণ যদ্যপি অগ্রে হতাশ না হইয়া এই লতার উন্নতির
বিষয়ে কিছু মনোেযােগ করেন, এবং তাহাতে যদি একটিও ফল
হয় তবে “স্বর্ণলতাতে” কখনই মাকাল ফল ফলিবে না। বিশেষ
যখন ভিন্নদেশীয় বৃক্ষ সকল বঙ্গদেশের উৰ্ব্বরা ভূমি পাইয়া
বিশেষ রূপে তেজস্কর হইতেছে, তখন আমাদের দেশীয়
লতাকে যত্ন করিলে যে কিছুই হইবে না, এরূপ কখনই
মনে হয় না।
সন ১২৮০ সাল
তারিখ ২৫শে চৈত্র।
শ্রীদেবেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সাং জয়নগর ।
No text on this page.
নাট্যোল্লিখিত ব্যক্তিগণ পুরুষগণ, * * * কৃপাসিন্ধু রায় হরবিলাস চট্টোপাধ্যায় তুলসীদাস চক্রবর্তী ভবতারণ ভট্টাচার্য্য জ্ঞানেন্দ্রনাথ রায় হরিমােহম মুখােপাধ্যায় বিপিন বিহারী মুখােপাধ্যায় শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় চারুচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হলধর চট্টোপাধ্যায় অতুল ও । রাধিকা জমীদার কৃপাসিন্ধুর ভগিনীপতি কৃপাসিন্ধুর ইয়ার হরিসভার অধ্যাপক কৃপাসিন্ধুর জ্ঞাতি ভ্রাতুস্পুত্র জনৈক কুলীন ব্রাহ্মণ হরিমােহনের পুত্র বিপিনের মাতুল জনৈক বংশজ হরবিলাসের পুত্র ••• হলধরের ইয়ার দয় স্ত্রীগণ। • • • ভগবতী স্বর্ণলতা মাধবীলতা বিন্দুবাসিনী কুমুদিনী হরিমােহন মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী হরিমােহন মুখােপাধ্যায়ের অবিবাহিতা কন্যা বিপিনের স্ত্রী প্রতিবাসিনী হলধরের স্ত্রী দাস দাসী পাহারাওয়ালা জমাদার ইত্যাদি।
No text on this page.
স্বর্ণলতা নাটক।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
শান্তিপুর।
হরিমোহন মুখোপাধ্যায়ের অন্তঃপুর, স্বর্ণ ও মাধবী
আসীনা।
মাধ। আচ্ছা ভাই ঠাকুরঝি ? বাগানের সব গাত দেখে এলে,
ওর মধ্যে কোন গাচট খুব সুন্দর বল দেখি?
স্বর্ণ। আমিত ভাই সব গাচ সুন্দর দেখলাম-এবারকার মালি টী
বেস। সব কেমন সুন্দর করে রেখেচে !
মাধ। সবগুলি সুন্দর বটে, কিন্তু ওর ভিতর একটা বড় সুন্দর গচ
আছে-বতে পাল্লে না—সেটি ভাই কিন্তু একটী লতা।
স্বর্ণ । (চিন্তা) কৈ, কি লতা, আমিত কিছু ঠিক কত্তে পাচ্ছি না!
মাধ। কেন ভাই! মাধবী লতার গাচটী সুন্দর নয় ? কত ফুল ফুটে
রয়েছে, আর তার গন্ধে কেমন চারি দিক আমােক করেছে ?
স্বর্ণ। (হাস্য) মাধবীলতা সুন্দর না হলে আর আমাদের বাড়ীতে
রয়েচে !
মাধ।
আমরি আমায় বলা হচ্ছে বুঝি ?
স্বর্ণ। না ভাই তােমায় বলব কেন ?—ও গাচটা কি না তুমি পুতে,
তায় আবার ফুল ফুটেছে-তাই তােমার ভাল লেগেছে। কিন্তু ভাই লতাটা
যদি গাচে তুলে দেওয়া থাকত, তাহলে সত্যি সত্যি খুব সুন্দর দেখাত
আচ্ছা ৰো! তুমি কেন ভাই ওর কাছে একটী গাচ পোত না?
২
স্বর্ণলতা নাটক।
মাধ। (সহাসা) ঠাকুরঝি মনের কথা বলেচি ভাই! অচ্ছ। লতার
কাছে যাতে একটী সহকার হয়, আমি এখন থেকে তার খুব চেষ্টা করবো,
তবে বলতে পারি না ভাই কি হয় ।
স্বর্ণ। কেন লতার কাচে কি সহকার নেই?
মাধ। থাকলে আর ভাই লতার এত দুর্গতি,—তাহলে এত দিনে
লায় কেমন শ্রীহতো, আমার বোধ হয় ফলও ধতে।
স্বর্ণ। (লজ্জাবনতমুখী)
মাধ। আর একটা মজা দেখিছিস্ ঠাকুরঝি ! লতাটী সহকারকেই
খুজছে—আর যাই সহকারকে না ধত্তে পাচ্ছে, অমনি হাত গুনি পড়ে
যাচ্ছে ; অহা দেখলে বড় দুঃখ হয়।
স্বর্ণ। তা ভাই ওটী লতার স্বধর্ম, যখন না আশ্রয় পায় তখন
পর্যন্ত হাত বাড়ায়, পরে আশ্রয় পেলেই অনি তাতে জড়িয়ে যায়।
মাধ। যাতে লতা সত্বর আশ্রয় পায় তা আমাদের করা খুব উচিত,
পরে বিধি লিপি।
স্বর্ণ । (সলাজে) তােমার ভাই কেবল ঐ কথা-- ঐ না কে এ দিকে
আচে, ও পাড়ার ঠাকুরণ দিদি বুঝি।
বিন্দুবাসিনীর প্রবেশ।
বিন্দু। স্বর্ণ তােমার মা কোথায় ? তােমরা দুজনে কি বলাবলি
কঙ্গো ?
স্বর্ণ। মা বুঝি ঘটে গেছেন, আসেন এই, ঠানদিদি বসুন না।
বিন্দু। (উপবেশন করিয়া) বৌ হাসচিস্ কেন ভাই? আমায় দেখে
হাচিস্ না কি ?
মাধ। আপনাকে দেখে হাবে', বলেন কি ? আমি হাসছিলাম, বলি
এরা স্বর্ণের বিয়ের কিছু মনােযােগ কচ্চেন না, কিন্তু স্বর্ণ
স্বর্ণ। তুমি ভাই বড় খারাপ, আমি কি তােমার গলাধরে কেঁদে ছিলুম,
অমন অন্যায় কথা বল কি করে ? ছি ভাই তোমাদের কাছে থাকতে নেই।
(প্রস্থান)
৩
ভগব।
স্বর্ণলতা নাটক।
মাধ। ঠান্দিদি ! আপনি এসেছেন, তা তালই হয়েছে, আপনি আজ
একবার মাকে স্বর্ণের বিয়ের কথা বলুন দেখি, যেমন হােক ডাগরী হয়েছে,
আয়ােকি আজও পর্যন্ত আইবুড়ো রাখা ভাল দ্যাখায় ?
বিন্দু। তা বটে, কিন্তু পােড়া কুলীনের মেয়ের ভাল বর ঢের চেষ্টা
না করলে পাওয়া যায় না; তা হরিমােহন কি আজও বর খুজঁচেন না ?
(ভগবতীকে আসিতে দেখিয়া) এই যে মুখুয্যেদের মেয়ে আছেন।
ভগবতীর প্রবেশ।
গাল দেও কেন বাছা, আমি মুখুয্যেদের মেয়ে হতে গেলুম
কেন? আমার কি বাপ নেই ?
বিন্দু। অমন কথা বল্তে আছে, বাপরে তােমার বাপের ভাবনা কি
বছা! সে যা হউক স্বর্ণের বিয়ের কি কচ্চো বল দেখি?
ভগব। চেষ্টা হচ্ছে কিন্তু কোথাও কিছু স্থির হয় নাই।
মাধ! আর কবে স্থির হবে মা? বাপ মা কাছে মেয়ে বড় হলেও
ছােট দেখায়।
ভগব। তা বটে বাছা, কিন্তু আমার স্বর্ণ এমন কি বড় হয়েছে, তবে
বিয়ের যােগ্য হয়েছে বটে । (হরিমােহনকে আসিতে দেখিয়া) বো মা !
তুমি ঘরের ভিতর যাও বাছা।
(মাধবীর প্রস্থান)
হরিমােহনের প্রবেশ।
হরি। আপনি কতক্ষণ এসেছেন, আন্নাকে যে অনেক দিন দেখি
নাই ।
বিন্দু। আর বাবা, তোমার খুড়োর যে সংসার হয়েছে, তাতে দুদণ্ড
পা মুড়ে বসবার যাে নেই। তা আজ একটু সাবকাশ পেয়েছি, তাই একবার
দেখতে এলুম।
ভগব। পিসী মা! তুমি একবার স্বর্ণের বিয়ের কথা বল দেখি, কি স্থির
করেছেন, শােনা যাক।
বিন্দু। হাগা হরিমােহন। তােমার মেয়ের বিবাহের কি কঙ্গো ?
৪ স্বর্ণলতা নাটক। হরি। ।। হরি। আজোত কিছু কত্তে পারিনি, আমাদের ঘর জুটে ওটা ভার। যদিও বা জোটে, তো সৰ্ব্বাঙ্গ সুন্দর হয় না, আমিও সেই জন্য, কোথাও ভরাভর দিই নাই। বিন্দু। মেয়েটা যেমন হােক কিছু ডাগর হয়েছে, আবৃত আইবুড়ো রাখা ভাল দেখায় না বাপু ? হরি। আমি এক রকম মনে করে রেখেচি, ও পাড়ার হল ধরটি আমার বেশ পছন্দ হয়। অবসতি গঙ্গানারায়ণ চাটুৰ্য্যের সন্তান তিন পুৰুষে, খুব বড় কুলীন, আর পাত্রটীও মন্দ নয়। তবে বেশ সঙ্গতিও আছে। বিন্দু। সে কি গাে ! এমন কথা মুখে এন না, ওর চেয়ে তােমার মেয়েকে কেন হাত পা বেধে জলে ফেলে দেও না! তার চারি পাঁচটা বিয়ে, আর সে পাত্র ভাল নয়। ভগব। অমন সঙ্গতির মুখে ছাই। ওর চেয়ে আমার স্বর্ণ পিতলের বাল। পরে সুখে থাকে সেও ভাল। কেন কেন কি হয়েছে ? সেতো খুব ভাল পাত্র, তােমর তবে জান না। বিন্দু। না বাপু তুমি ও ছেলের সঙ্গে বে দিও না, ভাল কুলীনের ছেলেকে মেয়ে দিলে তোমার মুখ উজ্জ্বল হবে। কিন্তু মেয়েটি যে ৪৷৫টা সতিনের হাতে পড়ে একেবারে পুড়ে মরবে, দুদিনের জন্য সুখী হবে না, মেয়ে মানুষের সতিনের চেয়ে আপদ আর কিছুই নাই, এই যে তারা ৪৫ চা সতিন একত্র হয়েছে, তাদেরত দিবে রাত্তির কেঁাদল গালাগালি ভিন্ন। অন্য কথাটি নাই। হরি। কূলীনের মেয়ের সতিন অঙ্গের আভরণ, তা বাছা সতিনের ভয় কল্লে কি হবে, তুমি ত জান বাছা আমার পিসীদের এক এক জনের ১০/১২টী সতিন ছিল। তা তারা কি চিরকাল দুঃখে কাটিয়ে গেছেন? বিন্দু। কিন্তু বাপু ওত ছেলে ভাল নয়, মদ খায়, খাবার বাচ বিচার নাই, তার কি জাত জন্ম আছে ? আবার কতক গুলা বিয়ে করেছে তা বাপু তাদের উপর যে রকম করে তা আর কি বলবো। একে তারা সতিনে সতিনে দিবে রাত্তির কাটা কাটি কচ্চে, তাতে আবার তারা স্বর্ণলতা নাটক। ; সােয়ামির হাতে হাড়ে নাড়ে জ্বালাতন হচ্ছে, আমি দেখিচি তাদের এক , দিনও চকের জল না পড়ে যায় না; তা বাপু তুমি অমন ছেলেকে এমন মেয়ে দিও না। (ভগবতীর প্রতি অপরিস্ফুট স্বরে) মা, সে ছোঁড়াটা আবার এমন খারাপ যে তার আবার এর উপর পেছনে বড় বাধা আছে। ভগব। পিসীমা ! আমার স্বর্ণের যে সতিন হবে আমি ঐ ভয় বড় করি, সতিনের জ্বালা বড় জ্বালা, ওর চেয়ে বরং আমার স্বর্ণ গরিবের ছেলের হাতে পড়ক সেও ভাল, তবু যেন সতিনের আর অমন ছেলের হাতে না পড়ে। জেনে শুনে, কোন প্রাণে, করাল কাল বনে, কিম্বা বিষ বৃক্ষ সনে, কন্যাকে মা ছাড়িব । মা হইয়া কোন্ প্রাণে বল এত সহিব । সতিনেতে, বিধি মতে, শ্রেষ্ঠ যারা দুঃখ দিতে, দিবানিশি খেতে শুতে, মন্দ কথা কহিবে। বল মাগো স্বর্ণ লতা কেমনে তা সহিবে । কি অসুখে, মহা দুখে, মন্দ শুনি প্রিয় মুখে, চিরকাল মন দুখে, স্বর্ণলতা হরিবে। কোন সুখে সুখী হয়ে পতি ঘর করিবে ? তাই বলি কি রূপেতে সেই বরে বারবে ? হরি। পাত্র যদি ভাল না পাওয়া যায়, তবে কাজেই ওখানে বিয়ে দিতে হবে, অমন কুলীনের ছেলে পাওয়া ভার, আর ঐ যে সব দোষ শুন- লাম, তা ও দোষ নেই এমন ছেলে কোথা পাবো,–না হয় আমার মেয়েকে শ্বশুর বাড়ী পাঠাব না, তাহলে ত আর সতিনের জ্বালাতন করতে পারবে না। বিন্দু। কথার পিটে কথা বলতে হয়, লােকে মেয়ের বিয়ে দেয় কি শশুর বাড়ী পাঠাবে না বলে ? আর যদি শ্বশুর বাড়ী না পাঠাইবে তবে বিয়ে না দিলেওত হয়। যাহােক আমাদের কথা শুচনা বাপু কিন্তু এর পর বেশ টের পাবে। হরি। কেন বাছা এইত আমার পিসীর চিরকাল বাপের বাড়ীতে স্বর্ণলতা নাটক। ভগব। কাটিয়ে গেছেন ; কুলীনের মেয়ের সতিন হবেনা, জামাই মেয়ে নিয়ে ঘর সংসার করবে, তাও কি কখন হয়? বড় কুলীন মাত্রেরই ৫/৬টা বিয়ে আছে। বিন্দু। বড় কুলীন না হয় উরির মধ্যে একটু ছােট কুলীনকে দিবে, তাহলেতো তােমার কন্যা দানের ফল হবে। মেয়ে যদি সুখে থাকে তাহলে না হয় একটু খাটো ঘর হলেই, তাতে এমন বিশেষ ক্ষতি কি? হরি। তাও কি হয় বাছা! কুলীনের ছেলে হয়ে কি করে ছােট ঘরে মেয়ে দিব ? তাহলে কি আর আমাকে কেউ কুলীন বলে মানবে ? তা তােমার কি ঐ পাত্ৰই স্থির হলো ? হরি। আর এক রকম হলো বৈকি, ওর চেয়ে ভাল ছেলে কোথা পাব ? চেষ্টার ত আর কসুর করা হয় নাই, আমার মেয়ের কপালে ঐ বরটী আছে, তা তুমি কি বাধা দিয়ে কিছু কতে পার। ভগব। তুমি বল কি ?—আমি বেঁচে থাকতে কখন অমন ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে দেবনা; তা এতে তুমি ভালই বল আর মন্দই বল। হরি। তােমাদের মনময় রাজ্য আর কি, যা বলবে তাই করতে হবেনা? ভগব। তুমি অমন কর যদি তবে আমি মেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ী যাব, আর ভাল ছেলে পেলেই তারে মেয়ে দেব, তােমার কুলে ছাই দেব তবে ছাড়বো, দুটো নয় দশটা নয় একটী মেয়ে, তাও যদি ভাল পাত্রে না দেবে তবে আর কি হবে। বিন্দু। ওমা মেয়ের দরদ মায় যেমন বােঝে তেমন কি বাপে বোঝে? বাপ ভাল কুলীন খোঁজে, আর তাতে যদি তার কিছু দোষ থাকে, তবু বাপ সেই ছেলেকে মেয়ে দেবার চেষ্টা করে, আর মেয়ে কিসে ভাল থাকবে, কিসে জামাই মেয়ে নিয়ে ঘর সংসার করবে, মায়ে তাই খোঁজে, তা মা তুমি কখন ও পাত্রে মত করােনা। ভগব। পিসী মা! তাকি তুমি আমায় বলে দেবে, উনি যদি ওখানে মেয়ে দেন, তাহলে কি আর আমি আগে কিছু টের পাবনা। হরি। টের পেয়ে কি কবে ? ভগব। টের পেলে হয় যা বলেছি তাই করবো, না হয় খুনােখুনি স্বর্ণলতা নাটক । ৯ অপর দিক হইতে দরোয়ানের প্রবেশ। দর। ওকে। হাস্ দেখাহায় মহারাজ; লেখেন ও আদমি একটে। জমাদার কো সাত্ আওতা হায় । হল। ব্যাটা নেমক হারাম, পাজি, তুই সব ব্যাটারে কাটলিনি কেন? তাে ব্যাটাকে কাটানেহি ক'হে ? অতু । আর কেন, ঢের হয়েছে; ব্যাটা ত আমাদের ভয়ে পায়ে গেছে, এখন পালাই চল, আর এখানে থাকা উচিত নয়, জমাদার আছে, শেষে এই অস্ত্র শস্ত্র সুদ্ধ গ্রেপ্তার হলে পরে মহা বিপদ হবে। হল। কি করবে ? আজ, এক দিক থেকে সব খুন কোরবো, আমাকে ধরূতে এলে না হয় শেষে আপনি খুন হব ; তবু ও ব্যাটাকে ত মাবো। রাধি। আরে তুমি যদি নিজেই মলে, তবে আর ওকে মেরে কি ফল হবে ? থাকগে—চল এখন বাড়ী যাই, কখন কি ওব্যাটারে একা পাব না? সেই সময় দেখা যাবে। হল। (ঈষৎ কোপে ) আরে না না তুমি বােঝাে না, তােমার যদি এত, ভয় হয়ে থাকে, তবে তুমিই নাহয় পালাও। অতু। আরে তাকি পারি হে ! বিশেষ এ সময় কি ফেলে পালান উচিত ? রাধি। (অতুলের প্রতি জনান্তিকে) ওহে আর কাজ নেই পালাই চল— ওর সঙ্গে থেকে কি সকলে মরবো ? অতু। (জনাস্তিকে) না হে না, সেটা ভাল দেখায় না। হল। কৈ ব্যাটারা এখনও এল না যে। রাধি। আরে তারা কি আর আমাদের কাছে ঘেতে পারে ? পালিয়ে বেচেছে—চল এখন ঘরে যাওয়া যাক, তার পর বােঝা যাবে ? হল। তা হবে না, ব্যাটারে আজ, কেটেই ফেলবো। (জমাদার পাহারাওয়ালা ও চাৰুকে আসিতে দেখিয়া) ঐ যে ব্যাটারা আসচে না ? মার ও ব্যাটাদের একেবারে খুন করে ফ্যা। (তলােয়ার ঘুরাইতে অ সর) স্বর্ণলতা নাটক। জমাদার পাহারাওয়ালা এবং চারুর প্রবেশ। জমা। (চার প্রতি) বাবু! আপনি এখন সরে দাড়ান, এরা সব মাতাল হয়েছে, কি জানি যদি এক কোপ বসিয়ে দ্যায়। (চাকর প্রস্থান) আরে পালালো যে ধর ধর ধর, (ধরিতে অগ্রসর) জমা। বাবু ক্ষান্ত হন, ভদ্র লােকের ছেলে হয়ে এমন চোয়াড়ে কাজ করবেন না। হল। চোপরাও ব্যাটা পাজি ! তােলােকইত যত অনিষ্টের মুল হায়। জমা। আচ্ছা বাবু আমাদের কথা শুনলেন না? (তলয়ার কাড়িয়া হন্ত ধারণ ও হলধর ব্যতীত সকলের পলায়ন ও অতুলের পতন) ধর ধর-ওরে পালাল রে (দুজন পাহরাওয়ালা ধরিতে গমন) বাধ, ও দুজনকে আস্থা করে বাঁধ (পাহারাওয়ালাকর্তৃক বন্ধন) তােমূলােক বাঁধতাহায় কাহে! হালােকত কুছ করা নেই। ও মা। আচ্ছা চলিয়ে সব থানামে চলিয়ে। (জমদার ও হলধরের প্রস্থান) ততু। পেয়াদা বাবা! তোমাকে কিছু খেতে দেতা হ্যায় বাবা, আমাকে ছেড়ে দে বাবা। পাহা। আরে চলবে চল, থানামে চল। অতু। দোহাই বাবা তাের পায়ে পড়ি বাবা, কিছু নিয়ে আমায় ছেড়ে দে বাবা (গুতা মারিতে মারিতে পাহারাওয়ালা অতুলকে লইয়া প্রস্থান) বিন্দু। ওমা কি আশ্চর্য গা ! এমন গোয়ার ত কখনই দেখি নাই। উঃ মাগাে তলােয়ার খানা ঘুরােনো দেখে এখনও আমার গা কাপছে। ও মিসেটারও ত বাপু সাহস কম নয়! অপকরে তলোয়ার খানা বলে! বিন্দু। ওরা যে মা উরির জন্যে রয়েছে, কোম্পানির মাইনে খাচ্ছে। ভগব। আহা! ছেলে দুটিকে বড় বেঁধেছে, কিন্তু দেখ মা! ওরা ত কিছু বলছে না ? বিন্দু। ওমা ওদের কি আর এখন জ্ঞান আছে? মদ খেয়ে একেবারে ভগব। .
স্বর্ণলতা নাটক
মাতাল হয়ে পড়েছে, দেখলে না বাঁধবার সময় কেমন কত্ত
লাগলাে !
ভগব। ও ছেলে দুটি কে গা পিশি মা!
বিন্দু। ওমা! ও কথা আর কেন বল? ঐ যে কাল ছেলেটি, যে তলাে-
যার ঘােরাচ্ছিল, ঐটার নাম হলধর, আর ঐ যে আর একটি ছেলে দেখলে,
ওটি হলধরের ইয়ার ; পােড়ার দশা অভাগগি আর কি, হরিমােহন আবার
ওকে মেয়ে দিতে চান!
ভগ। ও পােড়া কপাল ! আঁ উনিই হলধর! আহা বাছার রূপও
যেমন গুণও তেমনি, রূপেত লোহার কার্ত্তিক, আর গুণ তাে ছালায় ধরে না !
ওকেই মেয়ে দিতে হবে ? পােড়া কপাল আর কি! পছন্দ দেখলে মা!
আমায় হাড়ে নাড়ে জ্বালিয়ে খেলে, ঐ রকম একটা ধরে এনে আমার মাথাটি
খাবেন আর কি, ওর কুলীন হলেই হল, মেয়ের মুখের দিকে ত চান না !
-আচ্ছ, আমার বিপিন আজ ঘরে আসুক তারে সব বল চি।
বিন্দু। বেস বলেচো মা, দুই মায়ে পেয়ে একটা ভাল করে পরামর্শ
করে যা ভাল হয় তাই করো।
ভগব। হাগা পিশি মা! আর ঐ যে সবার আগে পালিয়ে গেল ও
ছেলেটি কে গা? আমার বোধ হচ্চে যেন ও ছেলেটিকে আমাদের
বাড়িতে কখন কখন দেখেচি ! আহা ! ওর উপরেই বুঝি এই অত্যাচারটা
বিন্দু। উটিকে জান না মা ! ওর যে দক্ষিণ পাড়ায় বাড়ী, ওর নাম
চারুচন্দ্র, আহা ওটি বড় ভাল ছেলে, ওর যে মা কত , তা আর কি
বলবে, তােমার বিপিন যে ওদের বাড়ীতে প্রায় যায়, তােমার বিপিনের
সঙ্গে যে ওর গসাগলি ভাব।
ভগব। আহা! দিব্যি ছেলেটি, দেখতে যেন কার্তিকের মত, অমন
জামাই কতে পারি তবেই ত সব সার্থক হয়।
বিন্দু। ওমা ওরা যে বংশজ, তা না হলে রূপে গুণে অমন ছেলে ও
আর চোকে ঠেকে না।
ভগব। তা চাকর উপর এত অত্যাচার কেন ?
!
১২
স্বর্ণলতা নাটক।
বিন্দু। তা কি করে বলবো মা, ওটি বড় ভাল ছেলে, ওত ওদের মত
অমন নষ্ট দুষ্ট নয়।
ভগব। বংশজ হলো ত বড় বােয়ে গেল, মেয়ে যদি সুখে থাকে
তা হলে বংশজে দিলুমই বা, তাতে আর এমন ক্ষতি কি?
বিন্দু। (ঈষৎ হাসিয়া) ও কথা কি বলতে আছে ? পাগলির মেয়ে !
বংশজে মেয়ে দিলে কি আর তোমাদের কুল থাকবে ?
ভগব। আহা মাগো ছেলেটি যদি কুলীন হতো তাহলে আমি
আজ ই ওকে মেয়ে দিতাম্।
বিন্দু। মা বেলা গেছে, আবার দেখিগে বাড়ীতে কি হলো না হলো।
ভগব। পিশি মা! তবে আবার কবে আসবে ?
বিন্দু। মা আমি কি তােদের অন্য ভাবি, সাবকাশ পেলেই আসবো।
তবে এখন আসিগে মা ।
(প্রস্থান)
ভগব। বামনের পছন্দ দেখেছ ?-দুরহােক ও কথা এখন থাক, যাই
এখন কাজে যাই।
(প্রস্থান)
প্রথম অঙ্ক।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
কৃপাসিন্ধুর বৈঠকখান
কৃপাসিন্ধুর প্রবেশ ।
কৃপা। (গবাক্ষের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া) ভট্টাচাৰ্য্য মশাই এই
দিকেই অচেন না? আঃ বিরক্ত করেছে বাপু, কেবল দেও দেও বৈ
আর কথাটি নেই, সে দিন তো বিলক্ষণ নিয়ে গেছেন, আবার আজ কি
ফন্ তোলেন দেখ !
(নেপথ্যে) কৈ বাবুরা কোথায় ? আজকে কাকেও যে দেখতে পাচিনে ?
কৃপা। আসতে অজ্ঞা হোক—এই ঘরে আসুন মশাই
স্বর্ণলতা নাটক। ভবতারণের প্রবেশ ও উপবেশন। ভবতা। শারীরিক ভাল আছেন ত ? কৃপা। আজ্ঞে হাঁ, আপনার আশীৰ্ব্বাদে এক রকম আছি—কি মনে করে এসেছেন ? ভবতা। হরিসভার দিন নিকট বলে আপনাকে একবার সংবাদ দিতে এসেছি, আপনারা বিষয় লােক, মনে আছে কি না, সমস্তই ত চাই। কৃপা। (স্বগত) যা ভেবেছি তাই, ভালা হরি সভা কি আমার এক- লার ? (প্রকাশে) তা কেউ কি কিছু দেয় নাই? সকলের কাছে এক একবার যাওয়া হয়েছিল ? ভবতা। গিয়াছিলাম বটে, কিন্তু আর কে কি দেবে ? আপনারইত সমস্ত খরচ পত্র, সকলে স্বাক্ষর করেন, দেবও বলেন, কিন্তু উপুড় হস্তত কাহারো হয় না; আপনার ব্যয়ে ও মনোেযােগেই সভাটি আজো জীবিত। আছে, তা না হলে এত দিনে শেষ হয়ে যেতো। তুলসীর প্রবেশ। তুল। ভটচায্যি মশাই যে এত সকাল সকাল এসেছেন ? বিশেষ প্রয়োজন আছে না কি? ভবতা। আছে- তুল। কি মনে করে এসেছেন? ভবতা। হরিসভার দিন নিকট হয়েছে, তাই একবার বাবুকে সংবাদ দিতে এসেছি। তুল। (কৃপাসিন্ধুর প্রতি হস্ত টিপিয়া) হরি সভায় এবার আমাদের বিষয়টা একটু মনে করবেন, গতবারে কিছু টানাটানি হয়ে ছিল। কৃপা। অনেকে জুটলে কাজে কাজেই কিছু অনাটন হয়; তা না হয় এবার কিছু বাড়িয়ে দেওয়া যাবে। আর শুনেছেন মশাই! ছোঁড়ার। ত বড় বাড়া বাড়ি করেছে। ভবত। কারাহে ? কি করেছে ? তুল। (স্বগত) আহা ন্যাকা দেখেচ, উনি যেন কিছুই শুনেননি (প্রকাশ্যে) আপনাদের পাড়াতে হচ্ছে, আর আপনি কিছু জানেন না ? তুল।
১৪
স্বর্ণলতা নাটক।
কি আশ্চর্য! চাৰুদের বাড়ীতে যে আজ কান্ বড় ধুম পড়েছে, ঐ যে কি
বলে-লাইবেরি—না কি হয়েছে,—অনেকে আসে, খুব গট উঠে।
ওদের কথা বলছো ! ওতত আমি বিলক্ষণ জানি, আমি ওদের
কাও কারখানা দেখে একেবারে জ্ঞান শূন্য হয়েছি।
কৃপা। ওদের সে বালীকবিদ্যালয়টা আছে না উঠে গেছে ?
ভবতা। নেডী স্কুলের কথা বলছেন। আজো আছে বৈ কি; মেয়েদের
কাপেট, বােনান হয়, অন্য কত রকম্ শিল্প কর্ম শেখান হয়, দেখছেন
কি? সব গেল।
কালে কালে গেল সব বল কি রহিল।
পূৰ্ব্ব মত, কাৰ্য্য যত, বিলুপ্ত হইল।
দেশী চাল পায় চাপি কুৎসিত আচার।
নব্য দলে, অবহেলে, করে বার বার ।
ধর্ম ভীত, রজ যত, যদি না থাকিত।
নব্য দলে, এত কালে, একত্র করিত।
কৃপা। চাদের বাড়ীতে না জানে যায় ।
তুল। হ্যা জান বটে—কিন্তু সকল সময় না; কখন কখন গিয়ে থাকেন।
ভব। না—মেসেন না—তবে কি না মোর চাইতে বড়, এই খরচ
পত্ৰত তারই—তুমি বল্লে কি না বড় একটা মেসে না, তুমিত ভারি জান,
আমাদের পাড়াতে হচ্চে আমি ওদের সব পর রাখি।
কৃপা। ও ছোঁড়াটার উপর আমার অনেক ভরসা ছিল, মনে করে
ছিলাম ও দেশের একটা বড় লােক হবে; সে যাহাহউক তা জানে
ওদের সঙ্গে পালেত খারাপ হয়ে যাবে।
তবতা। সেত পড়েই রয়েছে মশাই! শাস্ত্রেতে বলেছে-
“অসতী সঙ্গ দোষেণ, সতীনাঞ্চ মতি ভ্রম
উত্তমৈঃ সহসজেন নীচো যাত্যুত্তমাং গতিং”
যদি বল কোথায় দেখেছ-“তৃণাণি খলু-
ধাৰ্য্যন্তে গ্রথিতৈঃ কুসুমৈঃ সহ”। তা মশাই!
শাস্ত্র কি মিথ্যা হবে।
স্বর্ণলতা নাটক। কৃপা। আপনি ওদের কি খপর রাখেন বলুন দেখি ? তুল। (স্বগত) ভাল বটে, কোথায় এলেম দু দণ্ড আমোদ কতে, তা নাহয়ে এব্যাটা শেকুল পাল জুঠে আর ছাড়তে চায় না—উঠলে বাঁচি। ( প্রকাশে) ও আর কি শুনবেন, ও অনেক কথা, এখন বেলা হয়েছে। • ওদের ঐ যে দাতব্য চিকিৎসালয় হয়েছে, ঐগীই বড় খারাপ, এক ঔষধের বাক্স সঙ্গে করে সর্বত্রই বেড়াচ্ছে, তা হাড়ি, শুড়ি কিছুইত মানে না। তুল। মশাই! হাড়ি শুড়ি তো অনেক ভাল, সেদিন একটা মােছল- মানের ওলাউঠা হয়েছিল, তা বিপনে ছোঁড়াটা সমস্ত রাত্রি জেগে তাদের বিছানায় বসে ওষুধ খাইয়েছে;-আবার সকাল বেলা কাপড় ছাড়া নেই -কিছু নেই—সেই কাপড়ে খাওয়া দাওয়া হলো ! আমি একেবারে দেখে। অবাক!! ত। ওরা তো কিছুই মানে না; নাস্তিকের শেষ, আর মশাই ওষুধ ত ভারি, কেবল জল, হদ্দ দুফোটা কি এক ফোটা ওষুধ, জল খাইয়ে খাইয়ে কেবল সমিপাত বাড়ায় বৈত নয়। কৃপা। তা ওরা অমন করে বেড়ায় কেন ? তুল। আর মশাই পয়সা না জুঠলেই ঐ রকম করে, একি আর আপনার রাজ ভাণ্ডার যে কিছুরই অভাব নাই। যখন যা দরকার হচ্ছে, অমনি বাক্সবন্দি হয়ে আছে। কৃপা। ওদের দলের প্রধান ত চাৰু ? ভব। সেইত যত নষ্টের গোড়া, কিছু মানে না, নাস্তিকের শেষ ! আবার কিসে দেশের ভাল হবে, তিনি তাই নিয়েই গেলেন। যা কিছু করেন, বলেন আমি দেশের মঙ্গলের জন্য কফি। মঙ্গলের চেষ্টাত তারি! কেবল কিসে বিধবার বিয়ে হবে, কিসে নেডি স্কুল চলবে এই সব চেষ্টা। আর পাড়ার এমন হত- ভাগ। ছেলেও দেখিনে, তারা আবার চার দেখাদেখি সন্ধ্যা অহিক পর্যন্ত সব ছেড়েদেছে । = তুল। হ স্বর্ণলতা নাটক। ৩) ভব। আমি দেখিচি চাৰু যত দিকে যত পয়সা ব্যয় করে তার মধ্যে ও যে গুটিকতক ছেলের স্কুলের মাইনে দেয়, সেইটিই সৎব্যয়। তুল। (স্বগত বিরক্ত হইয়া) আজ আমার আর কিছু হলােনা দেখচি, একেত ব্যাটা হাত মুটো কোরে থাকে, তাতে আবার অন্য কথা পাড়চে। ভব। বাবু ওদের একটু শাসন করে দিতে হবে, আপনি মনে করলে অকাতরে পারেন। তুল। বিবেচনা করে দেখলে, আমার মতে হলধর ওদের চেয়ে অনেক ভাল । কৃপা। ভাল ছাই - তবে কিনা এ পিট, আর ও পিট, পাপি কেউ কম নয়। ভব। ভব। মশাই যা বল্চেন তা সত্য বটে, কিন্তু মদ্য পান, হােটেলে যাওয়া আজ কাল, এক রকম চলন হােয়ে পড়েছে। আর মশাই হলধরকে অমন কথা বল্লে ওদের শাসন কত্তে পাবেন না। তুল। ও বয়সের স্বধর্ম, একটু বড় হােলে ওসব কিছু থাকবেনা। আমরা অমন বয়েসে ওর চেয়ে কত তাবড় ২ কাজ করেছি, তা বলে এখনও কি আমারা খারাপ হয়ে রয়েছি ? মহাশয় ! ওদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত আছে; কিন্তু চাৰু ও বিপি- নেয় পাপের প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা কেউ দিতে পারবেনা; বলেন কি মশাই! লােকের জাত নে টানা টানি !! (স্বগত) তুমি ব্যবস্থা না দিলে ভারি ক্ষতি, তারা যদি ভাল করে একদিন লুচি দেয় তাহলে আমি অনায়াসে ব্যবস্থা দিতে পারি (প্রকাশে) সেযাহক মশাই! ওদের জব্দ করবার কি কবুলেন ! কৃপা। আমি ওদের বিশেষ জব্দ করে দেব ; আমি থাকতে ওর। যা মনে করবে তা কখনই কত্তে পাবে না। ভবতা। মশাই এক কৰ্ম্ম কৰুন, ওদের হুকো, নাপিত বন্ধ করুন, আর জ্ঞানেন্দ্রকে, আমাদের হরিসভার দল ভুক্ত করে নিন। তুল। অজ্ঞা হা, তাহলেই মধু শুয়ে আসবে । কৃপা। (ভবতারণের প্রতি) মহাশয় ! তাই ভাল, আগে ওদের হু কো,
স্বর্ণলতা নাটক।
১৭
নাপিত বন্দ করি, তাতে যদি মদ ব্যবহার সব ত্যাগ করে ভালই, নচেৎ
একঘরে করবো; তাহলে আর জব্দ হবেনা ?
তুল। (স্বগত) আ : ভটচায্যি ব্যাটা উঠে না যে, আর বসে কি কর
বাপু, সবত হলো এখন ঘরে যাও না। (প্রকাশে) মশাই! অনেক বেলা
হয়েছে।
তবতা। তবে এখন আমি আসিগে, হরি সভার আর দিন নেই, মনে
থাকে যেন। (প্রস্থান)
তুল। ব্যাটা গেল, আঃ বাঁচলাম, ত্যাক্ত করেছিল মশাই, ব্যাটা যেন
ছনে জোঁক, ছাড়তে চায়না।
কৃপা। আর একটা মজা দেখেছ, কেবল দেও বই এর অার কথাটী
নেই; এই হরি সভার দিন কাছে এসেছে বলে এক বার মাথায় হাত
বুলােতে এসেছিলেন। রূপোকে ডাক না বাবা!
ও রূপচঁদ!—রূপচাদ ! বাবা একবার আয় না।
বিনে কেলে সােনা, আর সহেনা, হাই উঠিতেছে মুখে।
তুরিত আনন্দ, বিনে হয়ে অন্ধ, বল থাকি কোন সুখে ?
এদের বিহনে, জিয়স্ত মরণে, ছিলাম অনেকক্ষণ।
আর তো পারি না, অসহ্য যন্ত্রণা, সহিব কতক্ষণ?
অনাথের বন্ধু, তুমি কৃপাসিন্ধু, তাই বলে হেতা আসি।
করিয়ে সম্মান, রাখিয়াছ মান, অতিশয় ভাল বাসি ।
(দূরে হরবিলাসকে আসিতে দেখিয়) এই যে ইয়ার চুড়ামণি আসছেন।
হরবিলাসের প্রবেশ।
হর। (তুলসীর প্রতি) কি বাবা! মনে করেছিলে আমি টের পাব না.!
জেলে যত দূর যানা কেন, হাড়ি পেছন পেছন আসেই আসে।
তুল। তাই ত বড় গভীর ভাব যে? (কৃপাসিন্ধুর প্রতি) আর কেন
দোকানের ঝাপ খােল না। তুমি একবার রূপােকে ডাক, সেই তােপের
আগে তামাক খেয়ে পাড়ি দিচি, তার পর এতক্ষণত এক রকম নিলের
উপবাস গেল।
স্বর্ণলতা নাটক।
উপবাসে, মহাক্লেশে, দিন করি গত।
কোন্ দুখে, মহা সুখে, হইব বিরত
দীন বন্ধু, কৃপাসিন্ধু, থাকিতে প্রধান ?
দুঃখ হর, সুখী কর, গাঁজা করি দান ॥
কৃপা। (স্বগত) ব্যাটারা ভারি গোলযােগ কল্লে দেচি, দুব্যাটা
এসে জুটেছে, বোধ হয় আট আনার গাঁজার কমে হবে না; (প্রকাশে
রূপােকে আহ্বান) ওরে ও রূপো ! ও ও রূপচাঁদ! একবার এদিকে
সায়রে।
(নেপথ্যে) আজ্ঞা যাই, আর পারিনে বাপু, খাটতে হাটতে গেলেন,
এই যে আরম্ভ হলাে, আর একটা না বাজলে ছুটি হবার যাে নেই।
যা বল আর যা কও, এমন তামাক কোথাও খেতে পাওনা
বাবা !
তুল। কাজেই তােমরা দুজন ইয়ার এস, তাতে কি আর বাবু ভাল
ৰৈ মন্দ মাল রাখতে পারেন ?
হয়। (স্বগত) ব্যাটার আকেল দেখেচ? “তোমরা দুজন ইয়ার
এস,” উনি যে যজ্ঞের বিড়াল, তার বেলা কিছু নয়! আগে তামাক খাই,
তার পর এর বােঝা পড়া ! (প্রকাশে কৃপাসিন্ধুর প্রতি) জমি একলা
আসি মহাশয় ?
কা। তুলসি ! হরবিলাসকে এ কথাটি বলা তােমার নিতান্ত অন্যায়
হয়েছে ; ওতে আর আমাতে কি কিছু ভিন্ন আছে ?
তুল। চাটুৰ্যে মশাই ! আপনি আমার উপর চটবেন না
হর। হ্যা বাবা ! এখন পথে এস।
গাজার সরজম লইয়া রূপৰ্চাদের প্রবেশ।
রূপ।
আজ্ঞে এই নিন মশাই !
তুল। নেবে। কিরে ব্যাটা! একবার ভাল করে খাবিরা মিকচার
তোয়ের কর দেখি ; তুই ব্যাটা এত কেলে চাকর, আজো আড় ডার ঘাত
বুঝতে পাক্লিনে।
স্বর্ণলতা নাটক।
১৯
(সূরের সহিত )",
নন্দি চ্যালা, পেয়ে ভোলা, মজা কোরে ছিল।
(ওসে) গাঁজা মলে, অবহেলে, স্বর্গে চলে গেল।
সবে সেবা, কর বাবা, যদি স্বর্গে যাবে।
(রূপে) গাঁজা মলে, অগ্নি তুলে দেও সবে খাবে ।
হয়। (তুলসীর প্রতি হাত নাড়িয়া) হাহা বেস, বেস, বেস হয়েছে
বাবা ! (স্বগত) মন! আর কেন উড়ু উড়ু কর, এই ত সব যোগাড়
হয়েছে, এখন ত বাবা মহাদেবকে উৎসর্গ কল্লেই প্রসাদ পাবে।
কৃপা। সে কিহে হর ! তােমার যে আজ কেমন কেমন দেছি ।
তেমন বােল একটীও শুন্তে পাক্ষিনে যে ? তােমার কি হয়েছে? তুমি
আমার অভডীর রাজহংস, তােমার কি চুপ করে থাকা ভাল দেখায় ?
তুল। সুধু রাজহংস হলেই হয় না, জলে দুধে বেছে খেতে পাল্পে
হয়। তা ওরে ছাড়িয়ে আমায় কেন রাজ হংস কর না? আমি কি কিছু
বুলি বল্তে পারবো না ?
হয়। না ছাড়লে তাের হবে কেন! তুই যে প্যাচ। আচিস, সেই
পাচা থাক্।
(কৃপাৰ প্ৰতি ) রাজহংসের আগে মুখ খুলে দাও যে
বেল শুবে, হাঁদের মুখ বন্ধ ! বল কি ?
জেনে শুনে, কি কারণে, হলেহে এমন ?
হংস মুখে, বন্ধ রেখে, চলে কি কখন ?
খাদ্য পেলে, কুতুহলে, ডাকিবারে পারি।
তা না হলে, কার বলে, করি বল জারি ?
রূপাের গাঁজা দান ও প্রস্থান।
কৃপা। (ধূমপান করিয়া) খাও বাবা ! তলিটা আমায় দিও।
(সকলের ধূমপান)
তুল। গাজা খেলেম, আমার প্রাণটা জুড়ালো, কিন্তু বাবা ! হাড়ি যে
সিকেয় ঝুলচে, তার কি বল ?
কৃপা। (স্বগত) এত ভাবি আদায়-বেয়ারিং পোষ্টে গাঁজা খাবেন
স্বর্ণলতা নাটক।
আবার তার উপর বাজার খরচ দাও! (প্রকাশে) কেন মেয়ে বেচনা,
তাহলে অনেক সচ্ছল হবে।
তুল। মশাই ! কি আমায় শিখিয়ে দেবেন ? আমি তার চেষ্টায়
আচি ; তা দর না হলে কেমন করে কি করি।
হর। তুমি বাপু! লােক বড় ভাল নও, মেয়ে বাবার সময় তােমার
জ্ঞান থাকে না, সে বারে ত আড়াইশ টাকার লােভে একটা ঘাটের মড়ার
মত পাত্রকে মেয়ে বেচলে, আবার পাত্র কালো বলে কত গোলোযােগ
করে শেকালে আর ৫০ টাকা বেশী নিয়ে ছেড়ে দিলে, এতে তােমার খুব
অপযশ হয়েছে।
কৃপা। ঠিক বলেছ, ঐ জন্যেই খদ্দের এসে জোটে না, ওর বড় কামড়,
বেশী টাকা নাহলে মেয়ে বেচা হয় না।
তুল। ( হরবিলাসের প্রতি) তুমি আমাকে অমন করে নিন্দা করােনা,
তুমি জান, আপনার লোকের মুখ থেকে অমন কথা বেৰুলে আমার মেয়ে
বেচা ভার হবে।
হর। পরাপর কথা বলবে, তাতে যদি কার নিন্দা করা হয় তা কি
করবো।
তুল। আমি মেয়ে রােগা, বরকে বেচিচি, বেশ করিচি, আমিত আর
তোমার মেয়ে বেচতে যাইনি।
হর। কি আমার মেয়ে বিক্রি ? যত বড় মুখ তত বড় কথা, পাত্রের
অভাবে আমাদের বংশে অনেক বয়েসে কত মেয়ের বিয়ে হয়েছে ; আমরা
কি পেটেল ? (তুলসিকে ধাক্কা মারিয়া প্রস্থান)
তুল। দেখলেন মশাই ! আক্কেল দেখলেন, আমাকে সচ্ছন্দে ধাক্কা
মেরে পয়সার জোর জানিয়ে গেল। তা এর বিচার আপনি করেন,
নচেৎ ভগবান আছেন।
কৃপা। তাকি করবো বাপু?
তুল। তবে আপনার হতে কিছু
অাপনার হতে কিছু হবেনা ? আচ্ছ। তবে আমি
অাসি।
(প্রস্থান)
স্বর্ণলতা নাটক ।
কৃপা। কাণ্ড টা পাকা পাকী হলাে দেখুঁচি, হরবিলাস ভারি গোয়ার,
একেবারে এত অন্যায় !
( প্রস্থান)
ইভি প্রথমাঙ্ক।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
চারুচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাটী, চারুচন্দ্র আসীন।
চাক। (স্বগত) হলধর কি ভয়ানক অত্যাচারী হয়েছে ! এত এক
রকম স্বেচ্ছাচার বলতে হবে ? ওঃ স্ত্রীলোকটীর বিপদের কথা মনে হলে
এখনও আমার শরীর রােমাঞ্চিত হয় ! এক জনের হাত থেকে মুক্ত হতে
গিয়ে, অপর বদমায়েদের হাতে পড়া ! কি ভয়ানক ব্যাপার!! আমরা
যে মিলটনে পড়েছিলাম
-" when tho hospitable door
Exposed a matron to avoid worso rape”
ত। এ ঘটনাটী ঠিক তাই। ব্যাটাদের কি “ভয়ানক বাসনা !! আহা!
স্ত্রীলােকটার আর্তনাদ এখনও আমার মনে জাগরূক রয়েছে। তঁাহার
ব্যাকুলতার কথা মনে পড়লে এখনও আমার মন দ্বিগুণ ব্যাকুল হয় !!
ভাগ্যে সেদিন জমাদার তখন রোদে বেরিয়ে ছিল, আর ব্যাটার। মাতাল
হয়েছিল, তাই অনেক যত্নে সে দিন তার সতীত্ব রক্ষা করা গেছে।
আহা ! বোধ করি আমরা আর কিছু বিলম্বে গেলে স্ত্রীলােকটী আত্মহত্যা
করিত। ওঃ তাহলে কি ভয়ানক হতো !!
(নেপথ্যে) আজ চাকর সঙ্গে একটু মজা কত্তে হবে ; কি বল ?
চাক। কে অাসছে বুঝি ! (দ্বারের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া জ্ঞানেন্দ্রকে
ও বিপিনকে আসিতে দেখিয়া) Welcome brothers ! welcome friends ?
জ্ঞানেন্দ্র ও বিপিনের প্রবেশ।
fafara l Well seignior Charoo ! how now?
A
স্বর্ণলতা নাটক। উভয়ের উপবেশন। তােমাকে এত চিন্তিত দেখচি কেন ? কি চিন্তা হচ্চে? “ Meditation may think down hours to moments" জ্ঞানেন্দ্র। ভাবনার বস্তুর অভাব কি ? The world is wide enough for meditation, Charoo is still a bachelor and “as merry and mellow an old bachelor as ever followed a hound." চাৰু। আমিত আজও old bachelor হই নাই। আর আমিত অন্য কিছুই ভাবি নাই, সেদিনকার সেই অত্যাচারের বিষয় মনে মনে আন্দো- লন কচ্ছিলাম। জ্ঞান। তুমি বুঝি সেদিন স্ত্রীলােকটীকে হলধরের হাত থেকে রক্ষা করে অমনি থানায় ওদের অত্যাচারের বিষয় জানাতে গেলে ? চাক। না ভাই! আমি সে রাত্রিতে আদপেই পুলিশে খবর করি নাই। মনে করিলাম তাহলে স্ত্রীলোকটাকে অনেক কষ্টে পড়তে হবে, এখান ওখান কত্তে হবে, বিশেষ এটী বড় লজার বিষয়। আর সেই স্ত্রীলোকটীও অস্বীকৃত হলেন। বিপিন। তিনি কি বল্লেন ? চাক। তিনি কাদতে কাদতে বল্লেন, “ বাবা তুমিই আমাকে রক্ষা করিলে, সেই আমার অনেক হয়েছে, ওদের সাজা জগদীশ্বর দিবেন, আমি মােকদ্দমা করিতে চাহিনা।” জ্ঞান। ও কি ভয়ানক ব্যাপার ! আচ্ছা ভাই তবে সে দিন ওয়া সব মাতাল হয়ে এক এক তলয়ার হাতে করে মহা খেপে বেরিয়ে ছিল কেন ? চাৰু। কি আশ্চর্য! তােমরা কি কিছুই শুন নাই। আমি কিনা সেই স্ত্রীলােকটীকে ওদের হাত থেকে মুক্ত করে ছিলাম, তাই ওরা সব রেগে আমাকে ক টতে বেরিয়েছিল। বিপিন। বল কি হে! ব্যাটারা একেবারে দিক বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে তােমায় কাটতে এলো ! তার পর কি হলাে ? চাক। আমি খবর পেয়েই অমনি পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ঘটনাটি স্বর্ণলতা নাটক। ব্রিফ করে বলে একজন জমাদার আর জনকতক পাহারাওয়াল। সঙ্গে করে আনিলাম। জ্ঞান। তার পর, তার পর ? চাক। তার পর আমাকে দেতে পেয়ে ব্যাটারা মহাগঞ্জে এল, আমি ভাব গতিক মন্দ দেখে একটু সরে দাঁড়ালাম, জমাদার আর পহারোয়ালার। ঘেরাও করে অনেক কৌশলে সবব্যাটাদের গ্রেপ্তার কল্লেক, হাতে হাত- কড়ী দিয়া পুলিশে নিয়ে গেল, তার পরে বড় সরেস ডিপােজিসান দেচে। বিপিন। কি রকম ডিপােজিসান দেচে? ডিপােজিসান নিলে কে ? চাক। ডিপােজিসান পুলিষ ইনস্পেক্টর নিলেন, ওরা সকলে বলেচে, “আমরা ফিজিকেল এক্সারসাইজ করবাে বলে ফদা জায়গায় তলয়ার চালনা কত্তে গিয়েছিলাম, চাৰুবাবুর সঙ্গে আমাদের কোন বিবাদ নেই, আর আমরা ক্ষামক। তাকে কাটতে গেছেলুম এটী কতদূর সত্য হতে পারে বিবেচনা করুন।” জ্ঞান। ওঃ কি বদমায়েস ! দেখেছ কেমন কে সাজাচ্চে !! বিপি। আহা! সদ্বংশজাত ভদ্র লোকের ছেলে একেবারে কেমন খারাপ হয়ে গেছে । জ্ঞান.। ভাই। আমি ওর আদ্যন্ত সমস্তই জানি, প্রথমে যখন একক্লাশে পড়তাম, তখন ওর সঙ্গে আমার বিশেষ সদ্ভাব ছিল, তথন ও বেশ পড়া শুনা কত্তো, ক্লাশের একজন গুড বয় ছিল, তার পর বিবাহ হতে আরম্ভ হলো, একটার পর আর একটা ক্রমে ক্রমে ৩৪টী বিবাহ হলো, আর সেখান থেকেই খারাপ হতে লাগলো । বিপি। তা হবেই ত, একে অল্প বয়স, তায় ৩৪ টী বিয়ে হলো, এতে কি আর ছেলে গুড়, থাকে ! সেখান থেকে আর হলধরের পড়িবার মন নেই, ক্রমে বেস্ট থেকে লাষ্ট হলো, হলো, ক্রমে স্কুল ক্রমে স্কুল কামাই কত্তে লাগলো, ইয়ারের দলে মিলে, মদ খেতে শিকলে, বেশ্যাসক্ত হলো, তার পর বর্তমান অব স্থাত সকলই জান। চাৰু। দেখ ভাই! ধরতে গেলে, কৌলীন্য প্রথাই এই সকল অনিস্টে। জ্ঞান।
২৪ স্বর্ণলতা নাটক। মূল। বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ আমাদের দেশে প্রচলিত থাকায় কতশত সন্ত্রান্ত ধনী লােকেরা একবারে নষ্ট হয়েছে ! আহা আমাদের দেশে এই কু প্রথারাশি কি চিরকাল বদ্ধমূল থাকিবে ? ইহাদিগকে কি অবিনশ্বর করিয়া আমাদিগের পূৰ্বপুৰুষেরা স্থাপন করেছিলেন ? জ্ঞান। বাল্যবিবাহ বহুবিবাহ যে অতিশয় দূষণীয় তাহার আর সন্দেহ কি ? কিন্তু বিবেচনা করিলে আমাদের দেশের বিবাহ প্রথাই অতি- শয় দূষণীয়। লোকে সচ্ছন্দে অজ্ঞাত চরিত্র কুলীন পাত্রকে কন্যা দান করে আপনাকে চরিতার্থ জ্ঞান কচ্চে, যাহারা চিরকালের জন্য পবিত্র প্রণয় পাশে বদ্ধ থাকিবেক, তাদের পরস্পর মনােনীত করা দূরে থাক, বিবাহের পূৰ্ব্বে পরস্পরের প্রায় দেখা হয় না। মনােনীত করে বিবাহ না করায় বঙ্গসমাজকে কলহ মেঘে নিয়ত আবৃত করে রেখেছে। কলহ শূন্য বঙ্গপরিবার প্রায় লক্ষিত হয় না। বঙ্গশিশুরা ভূমিষ্ঠ হইয়া অবধি প্রায়ই প্রত্যহ কলহ শুনিতে পায়, এই কারণেই বোধহয় বঙ্গ সমাজে একতা নাই। একতা বিরহে যে কত অনিষ্ট ঘটিতেছে তাহা বােধ হয় প্রাজ্ঞ মাত্রেই বিদিতআছেন। এমন কি একটা বিরহে আমরা চিরকাল দাস্য বৃত্তি করিতেছি .। বিপিন। অার দেখ পিতা মাতা আপন সন্তানের দ্বাদশ বৎসর বয়ঃক্রম অতীত হইতে না দিযাই অমনি তাহার বিবাহের নিমিত্ত অতিশয় ব্যাকুলিত হইয়া নিজে পাত্রী স্থির করিলেন। যেন পুত্রবধূর মুখাবলােকনে সমস্ত সন্তাপ একে বারেই দুরীভুত হইবেক। অাপন ভাবী স্ত্রী মনােনীত করা দ্বাদশ বর্ষীয় বালকের পক্ষে যে কতদূর দুরূহ ব্যাপার তাহা বলা যায় না। উপযুক্ত বয়সেও যদ্যপি কে হ স্বয়ং পত্নী মনােনীত করিবার সংঙ্কল্প করেন, কিন্তু লোকাচার বিৰুদ্ধ চুদ্ধ কাৰ্য্য সম্পাদনে তাহাকে নিশ্চয়ই যৎপরােনাস্তি ভীত হইতে হইবেক। লােকাচার বিদ্বেষী হইয়া যদ্যপি কেহ পাত্রি মনােনীত করিতে জান এবং পাত্রি মনােনীত নাহয়, তথাপি পিতা মত। অগ্রে সেই পাত্রি স্থির করিয়াছেন বলিয়া তাহার তৎসম্বন্ধ বিরূদ্ধে বা নিস্পত্তি করা দুরে থাকুক, সম্পূর্ণ অনিচ্ছা থাকিলে ও, পিতা মাতার সম্মান রক্ষাৰ্থ ইচ্ছা পূৰ্ব্বক সেই কন্যার পানি গ্রহণ করিতে হয়।
স্বর্ণলতা নাটক। ২৫ এবম্বিধ বিবাহে যে অনিবার কলহ প্রসব করিবে তাহার আর সন্দেহ কি t পরে বর কন্যা বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে হয়ত বর, কন্যাকে চিরকালের নিমিত্ত শােকার্ণবে ভাসাইলেন, নচেৎ কন্যা অনীতি বস্তুতে স্পৃহা সহকারে দেখিতে লাগিলেন, ওঃ কি ভয়ানক ব্যাপার! চাৰু। নিরপেক্ষ হইয়া বিবেচনা করিতে গেলে, বঙ্গদেশ প্রচলিত বিবাহ প্রথাই রঙ্গ সমাজের অবনতির মূল কারণ। বাল্যবিবাহ ও বহু- বিবাহ ভুরি ভুরি ৰীৰ্য্যহীন সন্তান প্রসব করিতেছে। মনােনীত করিয়া বিবাহ না করায় অনেকে পবিত্র প্রণয় সুখে একেবারে জলাঞ্জলি দিয়া- ছেন। হায়! এসমস্ত কুপ্রথা রাশি বন্ধু সমাজকে যে অকাল মৃত্যু ও অনৈক্যতা মেঘে নিরবচ্ছিন্ন আবৃত করিতেছে, তাহা কি আমাদের দেশ- বাসী ধনী ও কৃতবিদ্য জনগণের মনে স্থান পাইতেছেনা ? আর এতাদৃশ অনিষ্টোৎপাদক দেশাচারের প্রতি যদি দৃষ্টি না পড়ে, তবে তাহাদিগের এবং বিদ্যার গৌরব কোথায় ? বিপিন। বল্লাল সেন এই কৌলীন্য প্রথা সংস্থাপন করিয়া গিয়াছেন বলেই কি আমরা সেই মহৎ অনিষ্টোৎপাদক কুপ্রথা সকল অদ্যাপি প্রতি- পালন করিব ? কি ভয়ানক ভ্রম! আহা! এই ভ্রম অন্ধকারেই বন্ধুভুমিকে শ্মশান ভূমি করিয়া তুলিয়াছে। জ্ঞান। বহুবিবাহ এবং বাল্যবিবাহ হইতে আমাদিগের তত অনিষ্ট হয়না, কারণ ওগুলি প্রায় কুলীনদিগের মধ্যেই প্রচলিত আছে, এবং সমাজের মধ্যে কুলীনদিগেরও সংখ্যা অতি অল্প। কিন্তু মনােনীত করিয়া বিবাহ না করায় আমাদিগের সমাজের উচ্ছেদ করিতেছে। হায় কি ভ্রম! চাৰু। স্থানে স্থানে জাতীয় মেলা হইতেছে, জাতীয় সমাজ উন্নতি করিবার নিমিত্ত কত কি হইতেছে, কিন্তু জাতীয় অবনতির এই প্রধান কারণটা কি আজুও কাহারও মনে স্থান পায় নাই ? এটা নিশ্চয়ই সমাজ উন্নতির প্রধান কণ্টক, এ কণ্টক বৃক্ষ বঙ্গ সমাজের সকল স্থানেই অতিশয় বৃদ্ধি পাইয়াছে! কিন্তু ইহাদিগের উচ্ছেদের উপায় কিছুই হইতেছেনা। একি সামান্য দুঃখের বিষয় !
স্বর্ণলতা নাটক। জ্ঞান। ভাই! এটা বলা তােমার তাদৃশ সঙ্গত হয় নাই; এক্ষণে নব্য সম্প্রদায়ী বঙ্গবাসী মাত্রেরই অন্তঃকরণে বঙ্গ কুপ্রথা রাশি শেলবৎ বিক হইতেছে। স্থানে স্থানে তল্পিবারিণী সভা সংস্থাপিত হইতেছে, এবং প্রায় সকলেই বিশেষ যত্নবান হইয়া যাহাতে কৃতকার্য হইতে পারেন, তাহার চেষ্টা করিতেছেন। চাৰু। সভায় উপস্থিত হইয়া কোন কুপ্রথার দোষ রাশি বক্তৃতাচ্ছলে প্রকাশ করিলেই যে তন্নিবারণের বিশেষ চেষ্টা করা হইল, তাহা কোন ক্রমেই বলা যাইতে পারে না। আমি দেখিয়াছি বক্ত তা করিবার সময়ে অনেকেই গলা কাপাইয়া একরকম বক্তৃতা করেন, কিন্তু কাৰ্য কালে অন্যরকম করিতে কিছুমাত্র সঙ্কুচিত হন না। জ্ঞান। এরূপ বক্তার সংখ্যা অতিশয় অপ। তবে কি জান, দেশাচার কুপ্রথা গুলিকে চিরকাল লালন পালন করিয়া এক্ষণে মায়াশূন্য হইয়া একেবারে ত্যাগ করিতে পারিতেছেনা। “বিষবৃক্ষোহপি সংবধ স্বয়ং হে, মসাম্প্রতম্।” বিপিন। সমাজ উন্নতি করিব বলিয়া আজ কান্ নব্য সম্প্রদায়ী বাবুরা বায়ুগ্রস্ত হয়েছেন; রীতিমত কার্যের দিকে অনেকের দৃষ্টি নাই, কেবল ইনি সভাপতি, উনি সম্পাদক, এই মাত্র। কত কি নিবারণী সভা হচ্ছে, কিন্তু ফল কৈ ? ভাই! সমাজের অবনতির কারণ বােধ হয় সকলেই বিশেষরূপে বুঝেছেন, কিন্তু অর সে বিষয়ে লেকচার দিলে কি হবে ? You know Ganen! we now only want a Moses to guide us through this wilderness of national difficulties, and to obey him without wishing to be a guide. চাৰু। This is a sage-like remark, একথা সকলেই মুক্ত কণ্ঠে স্বীকার করিবেন। কিন্তু ভাই ! বৃদ্ধ সম্প্রদায়ী লোকেরা যত দিন একুপ্রথা- মুযায়ী কাৰ্য্য সম্পন্ন করাকে গৌরবের কাৰ্য বলিয়া মনে করিবেন, তত দিন কৃতকার্য হওয়া অতিশয় সুকঠিন। আরও দেখ, আশানুরূপ ফল পাওয়া অতিশয় দুরূহ ব্যাপার, যত আশা করা যায়, তার মত কি ফললাভ হয় ? এই যে আমরা কত আশা করেছিলাম কিন্তু তার কি হল ?
স্বর্ণলতা নাটক।
বাসনার বীজ কত মানস উদ্যানে,
শ্রম করি রােপিলাম, সহিত যতনে,
সেচন করিনু কত আশা বারি বীজে,
ভাবিলাম ফল হলে লাগিবেক কাজে।
আশা বারি পেয়ে কেহ অঙ্কুরিত হলো।
কেহ বা হারায়ে যুক্ত অকালেতে মলো।
অবশিষ্ট পরে যবে ধরিলেক পাতা,
বাড়িতে লাগিল ক্রমে কৃষকের ছাতা।
পরে যবে পাইলাম উৎসাহ নিড় নি,
গাছ খুসে দিতে তবে গেলাম অমনি।
বাড়িতে লাগিল গাছ, কৃষক ভরসা,
ভাবিলাম তেজ হবে যাইলে বরষা।
সদানন্দ হয়ে বৃক্ষে হেরিতম দিনে,
যামিনী আইলে পরে ভাবিতমি মনে,
রাজার রাজস্ব দিব, মহাজনে দেনা,
ফল হলে দিব, আর না দিলে চলেন।
সে ফুলে বিফল হয় ! হেরি তার পরে,
কেটেছে গাছের গোড়া গেছে ফুল ঝরে।
দেশাচার বিভাবসু শুষি অাশা বারি,
বৃদ্ধের কুবুদ্ধি কীট হয়ে তার অরি
ছেদ করিয়াছে বৃন্তে কোৰক সময়ে।
বিভাবসু রোষে কেহ গিয়াছে শুকায়ে ।
অবশিষ্ট আছে কিছু গাছ রােগা মত,
ফলবান্ হইবেক নহে হবে হত।
জ্ঞান। যা তা সত্য বটে, কিন্তু বৃদ্ধ সম্প্রদায়ীরা যদি মনে করেন
তাহলে বাল্যবিবাহ বহুবিবাহ অনায়াসে তুলে দিতে পারেন। এবং
মনােনীত করিয়া বিবাহ করিবার প্রথাও প্রচলিত করিতে পারেন। কিন্তু
আশ্চর্যের বিষয় এই যে এরা এতে আদৌ হাত দিচ্ছেন না।
।
২৮ স্বর্ণলতা নাটক। বিপিন। আরও দেখ, এরূপ কল্পে তাদেরও ধর্মতঃ পাপী হইতে হয়না, অথচ সমাজকে পুনর্জীবিত করা হয়। জ্ঞান। তােমার ত আশাও কম্ নয় ? বৃদ্ধ দিগের দ্বারা সমাজের উন্নতি হবে কি আশ্চর্য! দেশাচারে যা নেই তাই তারা কবে! তবে নব্য সম্প্রদায়ীরা যদি মনে করেন তাহলে হতে পারে, নচেৎ কিছুই হবে না। আর নব্য সম্প্রদায়ীরা এরূপ কাৰ্য্য করিলে, বৃদ্ধেরাও শাস্ত্ৰ বিৰুদ্ধ হয়েছে বলে দূতে পাবে না। চাৰু। নব্য সম্প্রদায়ীদিগের কৃতকার্য হওয়াও সুকঠিন, কারণ তাহাদের লেকচারই আজ কাল্ একমাত্র ভরসা। লেচারে কেবল দোষ গুণ জানা যায়,তাভিন্ন আর কি হয় ? In my opinion, it is better to set example. You know, "Example is the most potent of instructors though it teaches without a tongue." বিপিন। তা সত্য বটে, কিন্তু লেকচারেও অনেক কাজ হয়, বারম্বার বলতে বলতে একবার কাযে দাঁড়াবে। চা। হাঁ ছাই হবে। যাদের হস্ত পদ সমস্তই রজ্জ, দ্বারা দৃঢ় রূপে বন্ধ, তাদের বারম্বার প্রহার কল্লেও কি তারা চতে পারে ? তাদের যে চলৎশক্তি থেকেও নাই? বিপিন। (স্বগত) মা আজ না আমাদের বাড়ীতে চাৰুকে ডেকে নিয়ে- যেতে বলেছিলেন ? আহা! যদি স্বর্ণকে চার সঙ্গে বিবাহ দিতে পারি, তবে স্বর্ণ নিশ্চয়ই সুখী হবে, দেখা যাক কত দূর কি হয়। (প্রকাশে) চাৰু? আজ তােমাকে একবার আমাদের বাটীতে যেতে হবে। চাৰু। তবে চল এখন যাই। ( সকলের প্রস্থান ) .
স্বর্ণলতা নাটক । ২৯ দ্বিতীয় অঙ্ক । দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। হরিমােহন মুখােপাধ্যায়ের অন্তঃপুরস্থ উদ্যান ও সরােবর। স্বর্ণলতা আসীনা। স্বর্ণ। আহা! একাধারে এত রূপ ও সণ কথনত দেখিনি ! চাৰু- চন্দ্রের রূপ রাশিত বাল্যকাল থেকে দেচি, কিন্তু কখন ত এরূপ কমনীয় বােধ হয়নি। এখনও যেন সেই মােহন মূর্তিটি আমার নয়ন প্রান্তেই রয়েছে! আহা! সেদিন কেমন সুন্দর প্রশ্ন গুলি জিজ্ঞাসা কল্লেন ! কেমন সুন্দর রূপেই বা প্রকৃত উত্তর গুলি বুঝিয়ে দিলেন ?—আমার এমন কপাল কি হবে? (দীর্ঘ নিশ্বাস, চারিদিক অবলােকন পূৰ্ব্বক) মন! তুমি থামলে কেন? এখানে আর কে আছে ? তােমার মনের কথা কেন আমায় বল না? (চিন্তা) দাদাত প্রকারান্তরে তােমায় অনেক আশ্বাস দিয়েচেন; তার আশ্বাস বাক্যে কি তােমার বিশ্বাস হচ্ছে না ?—না, কারণ পিতাই কন্যাদানের কর্তা। (চিন্তা) কিন্তু দাদার অসম্মতিতে কি হতে পারে? পারেনা। মন! এই বাত ঠিক্ বলেচ,তবে আশা ফলবতী হতে পারে? —কি বল ? (চিন্তা) আহা! চারুচন্দ্রই বটে! নইলে কি দর্শনমাত্রেই আমার চিত্ত কুমুদিনী বিকশিত হয় ! এ চন্ত্রেও কি তবে কলঙ্ক আছে ? আছে বৈ কি! মন! তুমি একেবারে সকল ভুলে গেলে ? যখন বালিকা বিদ্যালয়ে পড়তাম,তখন থেকেই আমার মন্টি অপহরণের চেষ্টায় ছিলেন, কিন্তু দেশাচার আমার মনের রক্ষক থাকায় কৃতকার্য হতে পারেনি। প্রাণনাথ ! (দীর্ঘনিশ্বাস) এই কি তােমার অবলার প্রতি দয়া? এই কি তােমার বিদ্যার ফল? তুমি অকাতরে অবলার যথাসর্বস্ব হরণ করিয়া বিস্মৃত আছ! কি আশ্চর্য! (ঈষৎ হাস্য করিয়া) আমি প্রাণকান্তকে ভাল চোর ধরেচি! আপনি যে দর্শন করিয়াই সৎপাত্র বধে তঁাকে মন প্রাণ সকলি দিয়াছি; এখন বৃথা দোষ দি কেন? কিন্তু প্রাণনাথের আমার একটু
স্বর্ণলতা নাটক।
ক
দোষ আছে; মন প্রাণের সঙ্গে যদি আমার চিন্তাটিকেও হরণ কত্তেন,তাহলে
অবলার যথার্থই উপকার করা হোত।কিন্তু তাও বলি, তস্কর গৃহস্থের
রত্ন গুলিই অপহরণ করে। (নেপথ্যে মলের শব্দ) ঐনা বৌ আচে, চিন্তা)
বৌকে বলব কি ?
মাধবীর প্রবেশ।
মাধ। কিলো ঠাকুরঝি ! এমন সময় ঘাটে বসে কি হচ্ছে ?
স্বর্ণ। (সলাজে) একটু ব্যাড়াতে ইচ্ছে হয়েছিল, তাই
মাধ। আর ভাই! ধরা পড়ে। তবে একা কেন ?—আমি সঙ্গে এলে
কি তোমার রাঙ্গা বরে ভাগ বসাতাম ?
স্বর্ণ। এখত দুজন হলাম।
মাধ। আমরি, বিয়ের কথাতেই এই—এখনও দুজন হবার অনেক
দেরি আছেলে !
বলে—“ফুটলে কলি, জুটবে অলি, কত সুখী হবিলো।
আগে থেকে, থেকে থেকে, কেন ভেবে মরিলো ?”
স্বর্ণ। নে ভাই তুই আর রঙ্গ করিসূনে, বলে, “কাকরবা সর্বনাশ
কাকরবা পোষ মাস”।
মাধ। তােরও পোষ মাস হয় এই, ঠাকুর বলেছেন, এই মাসেই তাের
হলধরের সঙ্গে বিয়ে দেবেন।
স্বর্ণ। বৌ! তুমিও আমার বিপক্ষ হলে ভাই! হা বিধাতঃ ! আমি
এ বালিকা বয়েসে এমন কি অপরাধ করেছি যে আমার কপালে এত
যন্ত্রণা! (চক্ষে হস্ত দিয়া রোদন)
মাধ। সে কি স্বর্ণ কাদিস কেন? কদিনে ভাই!
কেঁদনা কেদনা স্বর্ণ নয়নের তারা।
তােমার নয়নে বারি, নিরখিতে নাহি পারি,
দেখিলেই হই জ্ঞান হারা।
সদাই বিরলে কেন পাই দেখিবারে,
বিধুমুখে হাসি নাই, চিন্তিত দেখিতে পাই,
স্বর্ণলতা নাটক।
বিয়ের নামেতে আঁখি ঝরে।
গুপ্ত যথা পরকাছে রাখয়ে অপর,
মনে রাখি মনােভাব, এবে দেখি এ কি ভাব,
ভাব কিলাে অামারে অপর ?
স্বর্ণ। কি আর বলিব ভাই। বল কি শুনিবে
দুঃখের বারতা মম! জান নাকি কিছু
কেন কাঁদে পােড়াপ্রাণ ! প্রণয়ী যেমতি
যবে যতনের ধনে দেয় বিসর্জন
হতাশের বলে। হায় ! পাষাণে নির্মাণ
অভাগা বালায় বিধি করেছে নিশ্চয়
জানিলাম এবে। ভাই! নহিলে কেমনে
সহিছে সন্তাপ এত ? জনক জননী
সদা, দেখ সৰ্ব্ব স্থানে, অনুকূল থাকি,
মনােনীত বরে, কন্যারত্ন দান করি,
ভাবেন কি রূপে হবে কন্যার কল্যাণ,
মনের আনন্দে। কিন্তু ভাই! দেখি এবে
প্রতিকূল পিতা এই অভাগিনী পক্ষে।
বিষাদ-সাগরে স্বর্ণ, না জানে সাঁতার
হাবু ডুবু খেয়ে মরে বালিকা বয়েসে।
পেয়েছি অনেক ক্লেশ হতাশ তুফানে,
প্রথমে যখন বিধি, ভাগ্য দোষে হায় !
ঠেলিলেন পায় অতি নিরদয় রূপে।
দাড়ায়ে সাগর তটে আছে পরিজন,
৩২ স্বর্ণলতা নাটক। দাদা, মাতা, আর সবে, দেখিছে হতাশে, সজল নয়নে হায় ! না হয় সাহস, সাগর তরঙ্গে ডুবি তুলিতে আমায়। সাহসে করিয়া ভর, যৌবন সুলভ, কভু বা আসিছে দাদা; স্নেহ রসে গলি, ধরিয়া রাখিছে তায়, জনক অমনি। জননী আমার হায়! স্নেহে ভরা মন, ভাবিয়া আকুল এবে, কঁদিছেন কত অভাগী কন্যার তরে। কি আর, বলিব ? কেঁদনাক আর, ভাই ! করােনা ভাবনা, বিষাদ সাগর জল লাগিবেক গায়। মাধ। (স্বগত) এখনও কিছু স্পষ্ট বুজতে পাল্লাম না, দেখি কত, দূর অনুরাগ হয়েছে। (প্রকাশে) ঠাকুরঝি ! তুই যদি ভাই ভাল করে ঘটক বিদেয় করি, তাহলে আমি আপনি ঘটকালি করি, আর যাতে চাৰু চন্দ্রের সঙ্গে স্বর্ণ । হা বিধাতঃ! জনম দুঃখিনী হবার জন্যই কি আমার জন্ম হয়েছিল ! চারুচন্দ্র কি আমার ভাগ্যে নষ্টচন্দ্র হলেন। আমি তাকে প্রাণ- নাথ বসে কি কেবল কলঙ্কিনী হলেম! বৌ ! এই কি তােমার তামাসার সময় ! হা পােড়া কপাল! (চক্ষে অঞ্চল দিয়া রােদন।) মাধ। ছি ভাই! কাদতে আছে কি ? লোকে শুনলে যে নিন্দে কবে। কাদিনে ঠাকুরঝি ! স্বণ। বৌ! বিধাতা যখন আমায় চিরকাল কঁাদাতে উদ্যত হয়েছেন তখন আর-রোদন) মাধ। (স্বগত) অনেক হয়েছে, আর না, এখত সব জান্তে পেলাম, আহা ! অনুরাগ ভঙ্গের কি সামান্য মনোবেদনা ! (প্রকাশে) ভয় কি ঠাকু- রঝি! আমরা সকলে থাকতে আর সত্যি সত্যি তােমায় এত কষ্ট পেতে
স্বর্ণলতা নাটক।
হবে? আমি তােমায় তামাসা কচ্ছিলাম। তুমি কি শুননি? সে দিন তোমার
দাদা কত কষ্ট করে ঠাকুরের পর্যন্ত মত করেছেন, চাৰুচন্দ্রের সঙ্গে তােমার
বিয়ে দেবেন, ঠাকুর স্বীকার করেছেন। এমন কি, দেশের লোকেরা যদি
এতে গোল করে, তবে তােমাকে মামার বাড়ী নিয়ে গিয়েও এ কাজ শেষ
করা হবে।
স্বণ (স্বগত) আহা! আমি কি স্বপ্ন দেখুঁচি, না বােয়ের কাছে যথার্থই
শুচি ! (প্রকাশে) বো! তুমি কি আমায় প্রবোধ দিচ্চো, না সত্যি সত্যি
এ রকম কথা হয়েছে ?
মাধ। মাইরি ঠাকুরঝি ! তাের মাতা খাই—কিন্তু ভাই! ভাল করে
ঘটক বিদেয় কত্তে হবে, সুধু কুসুণ্ডিকের কাপড়ে হবে না।
স্বর্ণ। (সহাস্যে) তুই ভাই বড় মজার লােক, কঁাদাতেও পারিস্ হাসা-
তেও পারি।
মাধ। ঠাকুরঝি ! তাের মুখখানি এখন কি সুন্দর দেখাচ্ছে। যেন
রােদ আর বিষ্টি একেবারে দুই হচ্ছে।
স্বর্ণ। হঁা বৌ! দিন দেখান হয়েছে কি ?
মাধ। পরমেশ্বর দিন দিলে কি আর দিন দেখাতে বাকি থাকে ? সে
যাহােক্ ভাই ! তাের দাদাত চাৰু বাবুকে সেদিন আমাদের বাড়ীতে
এনে ছিলেন; তা, তােদের এর মধ্যেই এত হলাে ? দু এক দিনে এত
হয় না।
স্বর্ণ। শিশু কালে যদি স্বর্ণ কিছুতে জানিত
ভাল বাস দুর্গতি, কভু নাহি দিত
তবে অন্য জনে মন। সরলতা বশে,
বালিকা-কাল-সুলভ, চির পরবশে
অভাগিনী। বিদ্যালয়ে যবে, দিয়ে মন,
হরষে প্রফুল্ল হয়ে, করি অধ্যয়ন,
চারুচন্দ্র চারু করে হৃদয় গগণে
৫
স্বর্ণলতা নাটক।
উদিত তুষিতে মম কুমুদ নয়নে।
শশধর সুধা কভু কুমুদ কপালে ?
হয় মাত্র বিকশিত শশী করে ভালে ;
তেমতি আমার দশা। দয়ার সাগর
দাদা মম, যবে বিস্তারি আপন কর,
ধরিলেন দে, ভাই আপন ভবনে,
হইল হেরিতে ইচ্ছা সহস্র লােচনে।
সলাজে মুদিত পােড়া নয়ন আমার,
নারিল হেরিতে চারু সুধাকরে আর ।
নিকটে পাইয়ে যথা অস্তের সময়ে,
কুমুদী মুদিত, নাথে দেখি লাজ ভয়ে !
দাদার আশ্বাস বাক্যে বিশ্বাস করিয়ে
যতনে রেখেছি চঁাদে হৃদয়ে ধরিয়ে ;
মনে মনে মন প্রাণ করেছি অর্পণ,
নিতান্ত জেনেছি চারুচন্দ্র নিজ জন ;
পাই যদি প্রাণকান্তে রাখিব জীবন,
নতুবা বিদায় স্বর্ণ জন্মের মতন।
বলিতে এসব কথা নিজ পরিজনে
মনো ভঙ্গ হয় পাছে এই ভয় মনে।
মাধ। তবে চাৰুই অামাদের ঠাকুর জামাই ? (স্বর্ণের দাড়ি ধরিয়া)
বলে—“ঠাকুর জামাই, চাকরি কামাই, মাসে দুবার আসে।
না জানি সে ঠাকুরঝিকে কত ভাল বাসে।”
স্বর্ণ। (ঈষৎ হাস্য করিয়া) বৌ! এত রঙ্গও জানিস্ ভাই !
মাধ। আচ্ছা ভাই ঠাকুরঝি ! তুমিত চাৰু চন্দ্রের জন্য এত ব্যাকুল
স্বর্ণলতা নাটক। হয়েচ, কিন্তু তিনি তোমাকে ভালবাসেন কি না তা তুমি কি করে জানলে? স্বর্ণ। (অঞ্চল হইতে এক খণ্ড কাগজ দিয়া) এই দেখ। মাধ। এ পত্ৰ কে লিখেচে ? একি চাৰুবাবুর হাতের লেখা ? ওমা ! ভেতর ভেতর তােদের এত হয়ে গেছে! অবাক্ !! বলে,-“ডুবে ডুবে জল খেলে শিবের বাপেও টের পায় না।” স্বর্ণ। পত্র খানি পড় না, তাহলে সব জান্তে পারবে এখন। মাধ। কেন তুমিত পড়েচ, আবার পড়তে ইচ্ছা হচ্চে? ‘স্বর্ণ। তামৃতে কি কখন অৰুচি হয় ! মাধ। ওমা, বটে! তবে শুন (পত্রপাঠ) প্রিয়তমে ! আমাদিগের প্রণয়ের পূর্ব বৃত্তান্তটি একবার মনে করে দেখ,-সেই তুমি যেন অনুকূল হয়ে অধ্যয়নচ্ছলে আমার চিত্ত-ভ্রমরকে সুখী কত্তে বালিকা বিদ্যালয়ে আচ, আর সেই আমি তৃষিত নয়নে বালিকা কুসুম মালার মধ্যে, তােমার প্রস্ফুটিত মুখ কমল দেখে অপার আনন্দ অনুভব কচি; তাহলে বােধ হয় তৎকালীক সমস্ত ঘটনাই একেবারে মনে উদয় হবে। সেই সময় হইতেই আমাদিগের প্রণয় অঙ্ক রিত হয়, কিন্তু কুৎসিত কৌলীন্য কণ্টক অঙ্কুরটিকে তত বৃদ্ধি হতে দেয় নাই, সম- ভাবেই ছিল। এক্ষণে বিধাতা আমার প্রতি অনুকূল হয়েছেন; তােমার দাদা সেই শুষ্ক প্রণয়ঙ্কুরে আশাবারি প্রদান করত পরিবর্ধিত করে- চেন। এখন বােধ হচ্ছে চিরতনের ধনে বঞ্চিত হব না। তােমার পিতার এখনও কিছু অমত আছে, কিন্তু বােধ হয় কালসহকারে তিনিও সম্মত হবেন। আহা! পরিণয় সিংহাসনে কবে তোমাকে বসাব, এখন তাই ভেবেই আকুল হয়ে চি! তােমার অদর্শন চিন্তানল এক্ষণে আমার মনে প্রবলরূপে জ্বলে উঠেছে; কিন্তু কি করেই বা সে অনল রাশি নির্বাণ করি? পূর্বের মত এখন সর্বদা তােমাদের বাড়ীতে যেতে সজ্জিত হই। আহা! লজ্জাই সৰ্ব্বস্থানে প্রণয়ের বিশেষ প্রতিবন্ধক। পরীক্ষার দিন হইতে তােমাকে পত্র লিখিব মনে করি, কিন্তু অনেক বিবেচনা কবিয়া অগ্রসর হইতে পারি নাই, তজ্জন্য আমাকে ক্ষমা করিয়া আমার আনন্দ ;
৩৬ স্বর্ণলতা নাটক। । বর্জন করিবে। উপায়ন্তর অভাবে এক্ষণে লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছি; অতি সাবধানে পত্র গােপন রাখিবে। আমি কি লিখিলাম এক্ষণে সঙ্গত অসঙ্গত বিবেচনা করিবার ক্ষমতা নাই, যদ্যপি কোন অংশ অসঙ্গত বলিয়া বোধ হয় ক্ষমা করিবে। প্রিয়ে! আর অধিক কি লিখিব ? মন যে কত- দূর পর্যন্ত ব্যাকুল হয়েছে তাহা লেখনী দ্বারা প্রকাশ করা দূরে থাক, তােমার সাক্ষাতেও যে সম্পূর্ণ রূপে বলিতে পারিব এমন বােধ হয় না। তােমার অলৌকিক রূপ মাধুরী চক্ষু মুদ্রিত করিলেও সুন্দর রূপে দেখিতে পাইতেছি। এক্ষণে মন প্রাণ সমস্তই তােমার নিকট রাখিয়া নিশ্চিন্ত থাকিলাম ; আমার দেহই কেবল আমার কাছে থাকলাে। প্রণয়াকাঙ্ক্ষী। চারুচন্দ্র। এত বেস্ দেখলাম। ঠাকুরঝি ! তাের মনে এত ছিল ? তাের বিয়ের সময় কত আমােদ কবে। মনে ছিল, তা ভাই ! এর মধ্যে চুপি চুপি সব কাজ সেরেচ ? বিয়ের আর কি বাকি আছে ? কেবল একবার শাকে ফু আর উলু দিতে বাকি বৈত নয়। তা নাহয় এবার যেদিন আসিবেন সেই দিন সব করূবো। (হাস্য) স্বর্ণ। বো! তাের ভাই ! আজ কাল্ ছেলে হােতে চল্লো, তবু তোর রঙ্গ ভঙ্গ গুলি গেল না ? মাধ। আচ্ছা ভাই! চাৰুচ তাের দাদার বন্ধু, সে হিসেবে ত চাৰু তোর দাদা হয়। স্বর্ণ। দূর মড়া !–কিসে কি হয় তাও জান না ? মাধ। সে যাহােক তুমি এর কি উত্তর লিখেছ পড় দেখি শুনি। স্বর্ণ। (পূৰ্ববত অঞ্চল হইতে আর একথও কাগজ লইয়া) এই দেখ (প্রত্ৰদান) মাধ। ওমা! তুইত আজ কাল্ বেস্ লিখতে শিখিচি ভাই! (পত্রপাঠ। প্রাণকান্ত । আমি যে কিরূপ আছি তা আর আপনাকে কি জানাইব। আপনার স্বর্ণলতা নাটক। অদর্শনে আমি যে বেঁচে আছি সেকেবল বিড়ম্বনা মাত্র। সৰ্ব্বদাই নির্জন- স্থানে থাকিয়া আপনার সেইপাদপদ্ম ধ্যান করি, আর মধ্যে মধ্যে আপনার প্রেরিত পত্রগুলি পাঠকরি। সৰ্ব্বদাই ইচ্ছা হয় আপনার সহিত সাক্ষাৎ করি, কিন্তু আপনি এ দাসীর প্রতি আজ কাল নিতান্ত প্রতিকুল হইয়াছেন; একবারও আপনার সেই মােহন মূর্তির সন্দর্শন লাভ হয় না। নাথ! এ দাসী ও চরণে কোন অপরাধ করিলে কি ক্ষমার যােগ্য নহে ? আপনার আজ্ঞানুবর্তিনী হইয়া আমি আজও পর্যন্ত কাহাকেও কোন কথা বলি নাই। কিন্তু আমার মনে নানাবিধ আশঙ্কা উপস্থিত হইতেছে, বিশেষ যখন পিতার অমতের কথা মনে হয় তখন আর দেহে প্রাণ থাকেনা। আপনি অনুগ্রহ পূৰ্ব্বক একবার এদাসীকে দর্শন দিবেন, অনেক মনের কথা এখন মনে থাকিল, কারণ সেগুলি আমি এরূপ পত্রাকারে প্রকাশ করিতে সাহস করিনা। আপনি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছেন, পড়িয়া আমি কোন মতেই হাসি থামাইয়া রাখিতে পারিলাম না, এখনও আমার সে কথা মনে হলে হাস্যের তরঙ্গ উত্থিত হয়। নাথ ! আমি কি আপনাকে ক্ষমা করিবার উপযুক্ত পাত্রী ? আপনি কি কিছুতেই আমার নিকট দোষী হতে পারেন, ? তােমারি। স্বর্ণলতা। এওত শুনলাম বেস। স্বর্ণ। (লজ্জাবনতমুখী ) মাধ। (স্বগত) সে যাহােক, এখন কি উপায় করি, ঠাকুরত বড় ভালরকম মত দেননাই, তবে কিনা মা ও আর সকলের বিশেষ মত আছে। (প্রকাশে) তা যাই এখন ভাই! তাের আর ভাবনা কি ? তাের যে বিলে দুতী আছে, যেমন করে হােক কালাকে এনে দেবেই দেবে। প্রস্থান। স্বর্ণ। এইত সব প্রকাশ হয়ে পড়লো, মনে করে ছিলাম্ সব কত খুলে বলবোনা, তা কেমন ফুলে ফালে সৰ কতা গুলি বের করে নিয়ে গেল ! বৌ অমন কোরে ব্যাড়াক আর যা করুক, কিন্তু বুদ্ধি আছে।
স্বর্ণলতা নাটক। ! কিসে কি করে ফেলে। (চিন্তা) আজ আর বােধ করি পত্রের উত্তর এলােনা, প্রাণনাথ! কষ্ট দিবার নিমিত্তই কি আমাকে দর্শন দিয়াছিলেন ? রে নয়ন। তখন প্রাণকান্তে আশা পুরিয়া না দেখে এমন ব্যাকুল হচ্চো কেন ? নাথ ! এবার এলে তােমায় আর ছাড় বােনা। এ দাসী ও চরণ ভিন্ন আর কিছুই চাহেনা, ও চরণের নিমিত্ত আমি সমস্ত পরিত্যাগ করিয়া বন গামিনী হইতে পারি। এক্ষণে প্রাণকান্তের চরণ-তরি ভিন্ন এ বিপদ সাগর হইতে উদ্ধারের আশা করিনা। (নেপথ্যে) স্বর্ণ ! ওমা ঘরে এস, হিম পড় চে। স্বর্ণ। মা বুঝি ডাকচেন, তবে এখন বাড়ী যাই। ( প্রস্থান) ইতি দ্বিতীয়াঙ্ক। তৃতীয় অঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক। হরবিলাস চট্টোপাধ্যায়ের বাটা হরিসভা। কৃপাসিন্ধু হরবিলাস এবং তুলসীদাস আসীন। কৃপা। তোমায় কে বল্লে? হর। আমি কোন বিশ্বাসী লােকের মুখে শুনিচি। তুল। যথার্থ না জেনে কি কেউ কাৰু গ্লানি করে মশাই ? কৃপা। আমার কিছুতেই বিশ্বাস হয় না, হরিমােহন কুলীনের ছেলে, তার লেখা পড়া জ্ঞান আছে, সে কি তার ছেলের কথা শুনে এমন অন্যায় কাজ করবে ? তুল। তা বটেইত, তিনি আর ছেলে মানুষ নন। হর। তুই থাম ব্যাটা ছাতাধরা; আচ্ছা মশাই! আপনি কেন হরি- মােহমকে ডাকিয়ে জানুন না, আমি, সত্যি কি মিথ্যে বলছি। সে আপ-
স্বর্ণলতা নাটক।
৩৯
নার সুমুকে বলে যাক্, যে চেরো ছোড়া তাদের বাড়ীতে যায় না, আমি
তাহলে পাঁচ টাকা দণ্ড দেব, এর চাইতে আর কথা আছে মশাই ?
তুল। (জনান্তিকে) বেস্ত মশাই ? পাঁচ টাকাতে বেস পাঁচ দিন
মজা করা যাবে; টাকা কটা বেহাত করেন কেন? (প্রকাশে হরবিলাসের
প্রতি) বাবা ! দেখা যাবে যেন কথার বেঠিক হয় না; যে এক বাপের
ব্যাটা তার একই কথা।
হর। তুই থাম্ ব্যাটা; এ গঙ্গাজলে পেলি বটে ? এতাে আর টাকার
লােভে সাক্ষি দেওয়া নয় বাবা ?
কৃপা। এ ভাই! তােমার নিতান্ত অন্যায়, ওরা ভদ্র লোকের অনু-
রােধে কবে কি করেছিল, তুমি তাই ধরে বসে আছ। আচ্ছা হরিসভার
বেয়ারকে হরিমােহনকে ডেকে আনতে বলত; এখনি সব জানা
যাবে।
তুল। হ। মশাই বে কথা ।
বেয়ারা ! হরিমােহন মুখুয্যেকে ডেকে নিয়ত।
(নেপথ্যে) যাই।
কৃপা। আজ যে ভটচায্যি মশায়ের এখনও দেখা নেই ?
হর। তবে কোথায় বুবি ফলার আছে ? এইবারে আমাদের এক
ছিলিম হলে হয় না ? .
কৃপা। (তুলসীর প্রতি) ভাড়ারি বাবা ! লেগে যাও, আমাদের একবার
নেড়ে বাদ।
হর। তুলসী কি তোমার সব বিষয়ের ভাড়ারি ?
তুল। বাবা ! তাহলেত বেঁচে যাই, ওর যে রাজার ভাণ্ডার, তাতে
আমার মত হাজারটা সংসার প্রতিপালন হয়। (পুটুলি হতে গাঁজা
লইয়া হরবিলাসের প্রতি) দেখ দেখি বাবা ! কেমন মাল ! তবু বুটো ভেঙ্গে
গেচে !
হর। হরিসভার বেয়ারিং মাল বাবা! ভাল মন্দ বুঝি না, বঞ্চিত
হয়ে কিঞ্চিৎ পেলেই হলাে (সকলের ধূম পান)
কৃপা। এই মে ভটচায্যি মশাই আছেন—
৪০ স্বর্ণলতা নাটক। ভবতারণের প্রবেশ। ভব। কৈ গো! আজ যে কিছুই উজ্জ্বগ দেখচিনে! হর। হু মশাই! “যার বে তার মনে নেই, পাড়াপড়শীর ঘুম নেই”। অমন কল্লে কি কাজ হয় ! আনিত এই এলেন—একটু বেসুন না ! তুল। তুমিও যেমন মশাই! “কার শ্রাদ্ধ কেবা করে, খেলা কেটে বামন মরে”। তা আপনার কেবল খোলা কাটা সার বৈত নয় ! ভব। (স্বগত) তাবড় মিছে নয় ! আমার ভিক্ষের ঝুলির মুখ বন্দ হলে দেছি, এ সভা যে চিরকাল থাকবে তার আশা করা যায় না। (প্রকাশে কৃপাসিন্ধুর প্রতি) আপনাকে একটা কথা স্মরণ করে দি। কৃপা। আজ্ঞে করুন। ভব। (স্বগত) আজ আবার একি ভাব ! তােমাদের অপার মহিমা ! তুল। মশাই থামলেন কেন ? আমাদের সুমুকে বলবেন না? ভব। নাহে ! সে সকলের সুমুকে বলা যায়, বাবু! আজ না ছেড়া- দের শাসন করা হবে ? বড় বাড়াবাড়ি করেছে মশাই! দেখে শুনে কান্ত থাকা যায় না। কৃপা। হা, হা, বেস কথা মনে করে দিয়েছ, ওটা ভুণে গিয়াছিলাম, তা আচ্ছ। আজ তাদের ডাকা যাক্। ভব। (স্বগত) যে গাঁজার ধূম, এতে লোকে বাপের নাম ভুলে যায় তা এতো সামান্য একটা কথা বৈত নয় ! কৃপা। হর ! বেয়ারাকে ডেকে বল্ত, ছোঁড়াদের সব ডেকে আনে। হরিমােহনের প্রবেশ। হরি। আমায় কি বাবু ডেকে ছিলেন ? কৃপা। বােস, বলি এই, (স্বগত) আর একবার তামাক না খেলে জোর হচ্ছে না। (হাত টিপিয়া তুলসীকে ইঙ্গিত) হর। ব্যাই দাঁড়ায়ে রইলে যেহে! বােসনা। হরি । হা বসি, (উপবেশন) (হরিমােহন এবং ভবতারণ ব্যতিত সক- লের পাশের ঘরে প্রস্থান) ভব। স্বর্ণলতা নাটক। ৪১ ভব। বাবুরা বুঝি মফস্বল তদন্তে চললেন ! কি আশ্চর্য ! সভার সম- য়েতেও দুদণ্ড চুপ করে থাকতে পারেন না !! হরি। মশাই! সভার সময় আরও বাড়াবাড়ি ; আমি কি সাদ করে সভায় আসিনা, এতে। হরিসভা নয়, গাজার আকৃড়া,হরি সভার চাদা থেকে বাবুদের বেয়ারিং মজা করা হয় ; হরিও এদের ভুলে আছেন? ভাল মশাই! আপনি ওদের নিবারণ কত্তে পারেন না। এতে সভার বড় নিলে হচ্চে। বারণ কত্তে কি বাকি আছে বাপু !-আমি ঢের চেষ্টা করেছি। হরি। তা কি বলেন ? ভৰ। বলেন “যার জন্যে চুরি করি সেই বলে চোর, আমরা তােমায় প্রতিপালন করবার চেষ্টা কচ্চি, আর তুমি আমাদের পোঁদে কাটি দেও । অমন করতে। সভা তুলে দেব। হরি। (নেপথ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া) এই যে বাবুরা আসচেন ; এখন থামলেন যে ? বলুন না ? ভব। শুনলে কি আর রক্ষা আছে বাপু! আমার হয়েছে সাপের ছুটো ধরা, উগ রােবারও যো নেই, ফুরােবারও যে নেই। কৃপাসিন্ধু, হরবিলাস, তুলসীর পুনঃপ্রবেশ ও উপবেশন। কৃপা। (হরিমােহনের প্রতি) বছিলাম কি, বলি তুমি তোমার ছেলের কথা শুনে এমন অন্যায় কার্যে প্রবৃত্ত হয়েছ কেন ? হরি। তা কি করি মশাই! সকলের কথা ফেলে ত আর কোন কাজ কতে পারি না? আমার সম্পূর্ণ ইচ্ছা, কিন্তু ব্রাহ্মণীর, বৌমার, তবে আমার বিপিনের সম্পূর্ণ অমত ; পরে ভাল মন্দ হলে আমাকে চিরকালের জন্য গঞ্জনার ভাগী হতে হবে । কৃপা। (জ্ঞানেন্দ্র, চারুচন্দ্র ও বিপিনকে আসিতে দেখিয়া স্বগত) এইযে বাঁদরগুলো আচে। হতভাগার বিরক্ত করেছে! আসুক আগে ; (হরি- মােহনের প্রতি) তুমি ও সব কুমল্লব ছেড়ে দেও, তুমি না কুলীনের ছেলে ? কোন মুখে বংশজের ঘরে মেয়ে দিতে চাচ্চো ?
! ৪২ স্বর্ণলতা নাটক। হর। ব্যাই! তাতে যে তােমার কুলের আঁটি বেরিয়ে পড়বে ! তুমি সেটা বুজচো না? জ্ঞানেন্দ্র বিপিনচন্দ্র, ও চারুচন্দ্রের প্রবেশ এবং উপবেশন। হরি। আমার বিপিন বলে কি, “যে আপনার কুলে কাজ নেই, সৎপাত্রে কন্যা দান কল্লে কন্যাও চিরকালের জন্যে সুখী হবে, আর আপনারও কন্যা দানের ফল হবে। তুল। সেরেচেরে বাবা! ছোড়ার হরিমােহনকেও খিস্টেন করে তুলেচে। বিপি। কেন মশাই ? আমি কি মন্দ বচি ? কৃপা। বাপু! কুললক্ষমী যখন যার ভাগ্যে প্রতিকূল হন তখন তার ঐ রকমই কুমাব হয়। তা তােমরা যা বচে। এসব তারি লীলা বৈত নয় ! হর। কুলীনের ছেলের যে কতখানি মান, তা তোর ছেলে মানুষ কেমন করে বুজবে? বাপু! এখন দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝতে পাচ্চ না, এর পরে বেস টের পাবে। জ্ঞান। হায়! হায় ! কি ভ্ৰম ! এই ভ্রমেই আমাদের সর্বনাশ হলো !! বিপি। (সরােধে) মশাই! কুললক্ষী সে কালে ছিল,এখন কুলাে ধুচুনি হয়ে পড়েছে। ভৰ। কি ও কর্তাদের সঙ্গে পরিহাস !—এই বুঝি তােমরা সত্য হয়েছ ? কৃপা। |হ বড় মুখ তত বড় কথা, পাজি ; নাস্তিক ব্যাটার। এখানে এলো তা একবার হরিকেও প্রণাম কল্লেন ! হর। এটা হরিসভা, এ আর শুড়ির দোকান নয় যে যা খুসি তাই বলবে; ওসব ইয়ারকি লাইবেরিতে করো, এখানে না। বিপি। শুড়ির দোকান নয়, তবে কি না হরিসভার দিন এখানে সের- টা গাজা পােড়ে ! !
হর। স্বর্ণলতা নাটক। কৃপা। কি ব্যাটা পাজি ! তুই আমাদের গেঁজে বলিস্? আমরা ত আর তাের বাবার পয়সায় গাঁজা খাইনা। বিপি। তাতেই এত গােল,—আচ্ছা, এবার থেকে আমরা হরি- সভার চাঁদা দেব, আপনার খুব মজা কবেন,-কিন্তু আমাদের কিছু ববেন না বলুন ? কথার ভাব শুনলেন মশাই! ৩বে যেন আমরা হরিসভার চাঁদা থেকেই গাজা কিনে খাই। হরি। ক্ষান্ত হন মশাই! ক্ষান্ত হন। ছেলে ছােকরার কথা শুনে আপ- নাদের এত রাগ করা উচিত নয়। ও বিপিন! থামরে বাবা থাম্। জ্ঞান। আচ্ছা মশাই! আপনারা আমাদের একটা কথা রাখুন । আমরা অবশ্যই আপনাদের আজ্ঞা প্রতিপালন করূবো। কৃপা। না আমরা আর তােমাদের কথা শুনবে না, তােমাদের বিস্তর প্রশ্রয় দিচি, এখন শাসন আবশ্যক। তুল। তাবৈকি মশাই! কুকুরকে নাই দিলে কঁদে উঠে বৈত নয়। হর। কি বাবা ! এখন বুঝি রক্ষার চেষ্টায় আছি, আজ বড় শক্ত লােকের হাতে পড়েছ। তুল। ওদের কি জান, বলে “যদি দ্যাখে অট। আঁটি কঁদিয়া ভিজায় মাটি” জ্ঞান। আচ্ছা মশাই! তবে একটী কাজ কৰুণ, ধৰ্ম্মতঃ ঠিক বিচার কৰুণ, আমরা দোষী হই দণ্ড নিতে প্রস্তুত আছি, আর যদি নির্দোষী হই, তাহলে আমাদের কথা শুনবেন বলুন? চাক। (জ্ঞানের গা টিপিয়া মৃদুস্বরে) তুমি পাগল হয়েছ নাকি হে ! গাজার আড়ায় ন্যায় বিচার ! বিপি। (মৃদু স্বরে) আহা! মজা দেখ না। কৃপা। আচ্ছা আমি তাতে প্রস্তুত আছি। হর। কিন্তু তােমাদের কথা শুনব কেন?—নির্দোষী হও তােমরা আছ। তুল। তােমরা বুঝি বুড়ো বাদরকে নাচ শিখাতে চাও—আমরা তোমাদের কথা শুনবোনা।
৪৪ স্বর্ণলতা নাটক। আহা অন্যায় কথা বলেন কেন ? জ্ঞান সকলের কাছে নেওয়া যায়। কৃপা। ওসব যাক্,-ওরা একে একে আমার সব কথার উত্তর দিক, তাহলেই বেস বোঝা যাবে। জ্ঞান। কি জিজ্ঞাসা করূবেন কৰুণ । কৃপা। তােমরা সকলে ঠিক বিচার কোরো বাপু। আচ্ছা চাৰু বাবু ! চাক। আস্তে কৰুণ। কৃপা। তুমি এক জন ছেলেমাষের কথা শুনে এক জন ভদ্র লােকের বাড়ীর ভিতর যাও কেন ? জ্ঞান। তাতে ক্ষতি কি হয়েছে মশাই ? তুল। যার ক্ষতি হয়েছে সেই জানে, তুমি তার জানবে কি ? বিপি। মশাই! আমি ছেলে মানুষ, সে হিসাবে চাৰুও ছেলে মানুষ তা ছেলেয় ছেলেয় কি করেছে তাতে বুড়াে মানুষের হাত দেওয়াত ভাল নয়। কৃপা। এক কর আর জবাব দেও কেন ? আচ্ছ। যাকে জিজ্ঞাসা করিচি সেই বলুক ভূল। হাঁ মশাই! তা নাহলে কি এজেহার খাঁটি হয় ? চাক। বালক কাল থেকে বরাবর বিপিন বাবুর সঙ্গে এক ক্লাশে পড়িচি, বিপিন বাবুর সঙ্গে আমার অত্যন্ত সদ্ভাব আছে, তাই আমি ওদের বাড়ীর ভিতর গিয়া থাকি। হর। আচ্ছা, বিপিন কিম্বা বিপিনের বাপ যখন বাড়ীতে না থাকেন তখন তুমি ওদের বাড়ীর ভিতর যাও কেন ? চা। ওরা যদি বাড়ীতে না থাকেন, তবে বিপিন বাবুর মাঠাকুৰুণ বাইরে থেকে আমায় ডেকে পাটান ; মা ছেলেকে ডাকলে কি ছেলে যায় না? তুল। বাবা! ঐ টুখানিত হচ্ছে ওর ভিতর মজা ! চাক। মজা কি মশাই! আমাদের ভাল কি মন্দ স্বভাব তা দেশের সকলেই জানেন, আমরা জঘন্য কাযে অতিশয় ঘৃণা করি।
স্বর্ণলতা নাটক। ৪৫ হর। তাত দেখতেই পা!ি আর বলতে হবে কেন ?—আমরাই যত জঘন্য কায করি কি না ? কৃপা। আচ্ছা বিপিন ? তুমি যে হাড়ি, শুড়ী, ডােম কিছুই মান না, সকলের বাড়ীতে গিয়ে তাদের বিছানায় বসে ওষুধ খাওয়াও, তার পরে কাপড় ছাড়া নেই কিছু নয়, সচ্চন্দে সেই কাপড়ে খাও,--এসব কি বানের ছেলের আচার ? জ্ঞান। নিজের পরিশ্রমে, নিজের ব্যয়ে, লােকের জীবন রক্ষা কল্লে ও আপনাদের কাছে দোষী হতে হবে ?—এতবড় আশ্চর্য কথা!! তুল। তাহলে আর সেবারে ওলউটোতে অত লােক মতো না। শেষের বেলা আমরাই হরি সঙ্কীৰ্ত্তন করে থামিয়ে ছিলাম,—ওঁর ক্ষমতা কি ? ভব। আপনারা এটাকে দোষ বলে নিতান্ত অন্যায় কচ্চেন, কে উকি কাকর পরমায়ু দিতে পারে ? কৃপ। (সরোষে) কি আমরা বিচার কত্তে বসে অন্যায় বল্চি ? আপনার মুখ দিয়ে এমন কথা বেল ? বিপি। আমার জবাব আমি দিচ্ছি, আপনারা ক্ষান্ত হউন। আমাদের দেশে একটীও সুচিকিৎসক নাই, গুটি কতক কোটাধারী যম আছেন, তারা কৌটা খুল্লেই ঔষধ সব ফোস ফোস্ কত্তে থাকে, এম্নি বিষের তেজ যে তারা ঔষধ খাওয়ালেই অমনি বিষ-বিকার হয়ে পড়ে! এমত স্থলে আমরা দাতব্য চিকিৎসা কচি তাতে আপনাদের ক্ষতি কি ? হর। কি বাবা! সুর ভুলে গেলে না কি ? একে আর বল কেন ? আমরা ত তোমাদের চিকিৎসা কত্তে বারণ কচ্ছিনে;-তবে কি না বামু- নের ছেলে হয়ে অনাচার কর কেন ? তুল। কষ্টেন, বুজলে না বাবা? এই ছত্রিশ জাত ছুয়ে কাপড় ছাড়না কেন ? বিপি। এই অপরাধ? না আর কিছু আছে ? খুঁজে খুঁজে বড় দোষ- টাই বার করেছেন! কৃপা। জ্ঞানেন্দ্র ! তুমি আমাদের বংশে এমন কুলাঙ্গার জন্মেছ ! !
৪৬ স্বর্ণলতা নাটক। 1) আমি কেবল তােমার জন্যে ওদের শাসন কতে পাচিনে, তানা হলে এত দিনে ওদের আস্থা শাসন কত্তম। তুল। ছি বাবু! তুমি রাজার ব্যাটা, তােমার ভাবনা কি? সন্দে হরিসভায় এস, দশ জনকে প্রতিপালনকর, তা না করে তুমি ওদের সঙ্গে বেড়াও কেন ?-ওদের হয়েছে উদের সঙ্গে হলাে বেরালের ডুব, তা হাে আর না হোক। চাৰু। (জ্ঞানেনের গা টিপিয়া মৃদু স্বরে) ওহে জ্ঞানেন! হরি সভার সভ্য হওনাহে ! হদ বেয়ারিং গাঁজা চলবে। (হাস্য) কৃপা। তুমি সেবারে আমাদের গ্লানি করে খবরের কাগজে ছাপালে কেন ? এই বুঝি তােমরা বুদ্ধিমান হয়েচ ? দেশের কুচ্ছ কি বার কত্তে আছে ? তুল। বাবু! আমরা সব টের পেয়েছি,তুমি মনে কল্লে নাম দিলাম না, এরা আমায় ধতে পারবে না, সত্যি সত্যি আমরা আর ঘাস খাই না! হর। হাঁ, ওরা বড় বুদ্ধিমান ! আর আমরা বােকা বাঙ্গাল, সবে এই দাড় ছেড়ে দিচি দেকতে পাচ্ছনা! উঃ কাগজ ওয়ালারা আমাদের গঙ্গাপার করে দিলে আর কি । তুল। না মশাই! আমার বোধ হয় ভুবনমােহিণীর সঙ্গে ওদের কোন নিকট সম্বন্ধ ছিল, তাই তার পক্ষ হয়ে ছাপিয়ে ছিলেন আর কি। হর। দুই ব্যাটা একে বারে উচ্ছম গিচি! ভুবন হলো বেনেদের বৌ, আর উনি হলেন ব্রাহ্মণের ছেলে, বেস নিকট সম্বন্ধটা! (হাস্য) তুল। আচ্ছা সে কথা এর পরে হবে। জ্ঞান। আপনারা নিন্দার কৰ্ম্ম কত্তে পাল্লেন, আর আমরা বল্লেম বলেই কি আমাদের যত দোষ ? তখনত অপযশের ভয় করেন নাই ? তুল। বাবা ! তোমরা নেহাত ছেলে মানুষ, সে রূপ দেখে কি আর কলঙ্কের ভয় হয় ? আর বিশেষ যখন নাচতে নালাম তখন আর ঘােষ্টায় দরকার কি ? জ্ঞান। আমি লিখেছিলাম এই ভেবে, যে এসব কথা প্রচার হলে, আপনারা কখন আর ওরূপ মকৰ্ম্ম কবেন না।
স্বর্ণলতা নাটক। ৪৭ কৃপা। উঃ ! মেজেষ্টর সায়েবের পুত্তর এলেন বুঝি আমাদের শাসন কতে !—তা পাল্লেনা কেন ? জ্ঞান। (অপরিস্কটম্বরে) যার দুকান নেই, তার আর কানকাট। যাবার আশঙ্কা হয় না। বিপি। মশাই! এই দোষ, না আর কিছু আছে ? হর। বাইরে তােমার ঘােড় বাধা রয়েছে নাকি? এত ব্যস্ত কেন ? কৃপা। তােমাকে লেডিইল, তবে লাইবেরি টাইবেরি সব তুলে দিতে হবে । জান। কেন মশাই! এতে আর আপনাদের লােকসান কি? আপনা- রাত একটী পয়সাও চাদা দেন না। কৃপা। মেয়ে মানূষে কি এর পরে চাকরি করে ঘরে টাকা আন্বে ? যে তাদের লেখা পড়ার অাবশ্যক। জ্ঞান। লেখা পড়া বুঝি কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য, আর কিছুরি জন্য নয় ? আর পুরণ জ্বরের ওষুধ হয়। ভব। লাইবেরিটে কি শুনেছেন মশাই! সেটি আমাদের পাড়ায় বলে আমি বে জানি। হর। কি রকম বলুন দেখি শুনি। ভব। শুড়ির দোকানের মত দিবে রাত্তির ঢালা হচ্ছে আর খাওয়া হচ্চে। মশাই ! অধিক বল বােকি, মাতালের দৌরাত্মে বাস করা ভার হয়েছে, আর পাকির হাড়ের জন্যে রাস্তা চার যো নেই। জ্ঞান। আপনি না হরিসভার অধ্যাপক। সচ্ছন্দে মিথ্যে কথাটা বল্লেন ! ভব। মিথ্যে বলবো কেন ? মশাই! আমি দিব্বি করে বলতে পারি ও ব্যাটারা সব মাতাল। হরি। আঃ রাম ! রাম ! রাম ! ভটচায্যি মশাই একটু কাস্ত হােন্ না। জ্ঞান। যেখানে অবিচার ও মিথ্যা কথা সেখানে ভদ্র লােকে থাকে না ;-আচ্ছা তােমরা আমাদের যা কত্তে পার করো; পরাপর কাজে আমি তুল। !
৪৮ স্বর্ণলতা নাটক। কাহাকেও ভয় করি না। এতে আর মগের মুল্লুক নয় ! যে যা মনে কর- বেন তাই করবেন ? (প্রস্থান) হর। দেখুন মশাই! তেজ দেলেন ! ভব। মশাই! ওসব পয়সার গরুমি বৈতনয় । কৃপা। ঐ ছোড়ার ভরসাতেত এরা এত দূর প্রশ্রয় পেয়েছে। তা ও জড় শুদ্ধ না টানলে হবে না, আজ থাক, তখন এর পরে বােঝা যাবে। হর। আচ্ছা হরি মােহনের বিষয়টা কেন চুকে যা না ? কৃপা। হরিমােহন! তুমি চাৰুর সঙ্গে কখন তােমার মেয়ে বিয়ে দিতে পাবেনা, তাহলে আমরা সকলে তােমাকে নিশ্চয় একঘেরে করবো। বিপি। আমরা একঘোরে হব কি দোষে ? আচ্ছা আপনারা একঘােরে করেন করবেন তবু আমরা চাৰুর সঙ্গে বে দেব। হর। এই কথাত ? আমাদের ক্ষমতা থাকে এর পরে তখন দেখবে। কৃপা। ছেলে মানুষের কথার উপর নির্ভর করা উচিত নয়। হরি- মােহন! তােমারও কি ঐ মত ? হরি। বাড়ী শুদ্ধ সকলের মত,—তাতে আবার চাৰু বাবু অতি উপ- যুক্ত পাদ্র- হর। (সরােষে) তবে ঐ উপযুক্ত পাত্রে মেয়ে দেও, তােমার এমন কি যে আমার ঘরে মেয়ে দেবে ? বিপি। আহা ! অমন ছেলে আবৃত দুটি মেলে না। তুল। তা বটেই, অমন কুলীনের ছেলে কোথা পাবে ? বিপি। (জনান্তিকে চারপ্রতি) চলহে চাৰু! এ ছোটলােক ব্যাটা- দের কাছে ভদ্রলােক বসে না, ব্যাটারা ভারি পাজি। চারু এবং বিপিনের প্রস্থান। মুখয্যে মশাই! আপনি মেয়েদের এবং ছেলেমাযের কথা শুনে এমন অন্যায় কায কত্তে বসেচেন ? আর বিশেষ দেশ শুদ্ধ সকল লোকের অমতে কি কোন কায কত্তে আছে ?
;
স্বর্ণলতা নাটক।
৪৯
তুল। বাবা! কুলীনের ছেলে বলে এত জায়গায় থেকে এত বিদেয়
পাও, তবু তুমি বল আমার কুলে কি হবে ?
কৃপা। (সরোষে) আরে না ওসব কথায় কার কাজ নেই; আমরা
বল্লাম, আমাদের কথা না রাখে তখন এর পরে দেখা যাবে।
হরি। আচ্ছা আপ্নারা যখন সকলেই অনুমতি কনে, তখন আ,
নাদের কথা অবহেলা করা আমার উচিত হয় না। তবে এখন আসিগে।
(প্রস্থান)
কপা। হর বাবু! চল হে আমরাও যাই, সন্ধ্যা হয়েছে ; আজ আর
সভার কাজ কিছুই হলাে না; আচেবরে তখন সব হবে।
ভব। বাবু! হলধরের জন্যে নাকি থানাওয়ালারা ২০০ টাকা নেচে ?
আহা ! অনেক গুলো টাকা অনর্থক ব্যয় হয়ে গেল।
তুল। চার উপরে হলধর বাবুর বড় রাগ।
আরে তার জ্বন্যেই ত থানাওয়ালার ছাড়লে না।
কৃপা। আমরা ওদের সব জব্দ করবো, ভায্যি মশাই! আপনি
এখানে বসে আমায় আশীৰ্বাদ কৰুণ আর দেখুন আমার ক্ষমতা আছে
কিনা।
ভুল। বলেন কি মশাই ! ন দেবা ন ধৰ্ম্মা অত টাকা গেল।
সব যে মিটে গেছে সেই ঢের, যে রকম কাণ্ড হয়েছিল, আমার
ত মনে খুব ভয় হয়ে ছিল।
তুল। ডটচায্যি মশাত খুব সাহস।
সন্ধ্যাত্মিক করিগে, হরিবোল ! হরিবোল।
( প্রস্থান)
কৃপা। (হাতটিপিয়া) আমাদের আর একটু হলে হয় না? সন্ধ্যার
সময়টা,আঃ সমস্ত দিন্টা বকাবকি করেই গেল।
তুল। বাবু! তৰে ঐ ঘরে চলুন।
( সকলের প্রস্থান)
হর।
স্বর্ণলতা নাটক । তৃতীয় অঙ্ক । দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। হরিমােহন মুখোপাধ্যায়ের বাটী, স্বর্ণের পড়িবার ঘর। স্বর্ণ আসীনা। স্বর্ণ। আজ আমার প্রাণ এত ব্যাকুল হচ্ছে কেন? বোধ হচ্চে যেন কেউ আমাকে বিপদ সাগরে ঠেলে ফেলে দিতে আসছে !—প্রাণনাথের অদর্শনই কি এ বিষাদের মূল ?—কেন তিনি মাঝে মাঝে এ দাসীকে দর্শন দিয়ে থাকেন। দীর্ঘ নিঃশ্বাস) হায়! অদৃষ্টে যে কি আছে তা বিধাতাই জানেন। কাল থেকে বােয়ের আবার কি হয়েছে কে জানে, আমাকে দেখলেই চুপ করে থাকে, ভাল মন্দ কিছুই বলেনা ; দাদার সঙ্গে কি ঝগড়া হয়েছে ? না-দাদাত আমার ঝগড়ার মানুষ নন, তবে বুঝি -আমার কথা নিয়ে কি হয়েছে ? আহা! দুটীতে কি সুন্দর মিল! (চিন্তা) আচ্ছা দাদা আজ প্রাণনাথকে নিমন্ত্রণ কল্লেন কেন ? এ কিসের জন্য ? এর কিছু কারণ আছেই আছে । সেদিনকার পত্রে প্রাণনাথকে এত যত্ন করে লিখলাম, তা তার না আস্থার কারণ কি ? এ দাসীকে কি ভুলে গেছেন ? যাহােক অবশ্যই কিছু হয়েছে । (নেপথ্যে) বিপিন বাবু! বিপিন ঘরে আছহে ? (নেপথ্যে) তিনি এলেন বলে, আপনি তৎক্ষণ বাড়ীর ভিতর আসুন। স্বর্ণ । (স্বগত) বুঝি আমার হৃদয় মন্দিরের দেবতা আসছেন। লজ্জা! তুমিত আজ তার সঙ্গে মনের সব কথা বলতে বারণ করূবে না? তার সঙ্গে আমার অনেক মনের কথা আছে। নয়ন! প্রাণনাথকে দেখৃতে এত লজ্জিত হও কেন?, আজ লজ্জাকে না ছাড়লে তোমায় ছাড়বাে না। -এই যে এদিকেই আছেন। চারুচন্দ্রের প্রবেশ। চাষ। (স্বগত) এই যে প্রিয়া আমার এখানেই বসে আছেন, আহা !
স্বর্ণলতা নাটক।
কি করে এ ভয়ানক মৰ্ম্মবিদাৰক সংবাদ দেব। (প্রকাশে) প্রিয়ে ! ভাল
আছ ত ?
স্বর্ণ। (লজ্জাবনতমুখী হইয়া স্বগত) লজ্জা ! আমি তােমাকে এত
কয়ে বল্লাম তবু তুমি আমার কথা রাখলেন ?
চাৰু। (স্বগত) তবে বুঝি সব সংবাদ পেয়েছে। (প্রকাশে) কেন
প্রিয়ে ! কথা কষ্ট না যে ? আমি কি তােমার নিকট কোন অপরাধ করেছি?
স্বণ। নাথ! আপনি সহস্র অপরাধ কল্লেও এদাসীর নিকট অপরাধী
নন।
চাৰু। আর কেন আমায় লজ্জা দেও? আমি সে দিনকার পত্রের
উত্তর দিই নাই বলে কি অভিমান হয়েছে ? (দীর্ঘ নিঃশ্বাস )
স্বর্ণ। নাথ ! আপনাকে আজ এত চিন্তিত দেখছি কেন ?
চাৰু। না না কৈ কৈ, চিন্তার কিছুই কারণ দেখিনা, তবে কি
জান—(সজল নয়নে মৌন)
স্বর্ণ। নাথ! আপনার বার ভাবেই আমি বেস জান্তে পেরেছি ।
বােধ হয় কোন অনিষ্ট ঘটেছে, আপনার সজল নয়ন আমাকে তার বিল
ক্ষণ পরিচয় দিচ্ছে। নাথ ! যখন আমি আপনার সুখের সুখী, দুঃখের দুঃখী
তখন আমায় বল্তে দোষ কি?
চাক। এখন জালাম বিধাতা আমার প্রতি নিতান্তই প্রতিকূল
হয়েছেন ; চির যতনের ধনে আমাকে বঞ্চিত কত্তে উদ্যত হয়েছেন।
আমি কিরূপে তােমায় সে নিষ্ঠুর সংবাদ দিব—আহা! সমস্ত আশাই
বিফল হলাে দেচি। পরিণয় আসনে আমি তােমায়—(সজল নয়নে মোন)
কেন নাথ! পিতার অমত ছিল, তা তিনি এখন সন্মত হয়ে-
ছেন,তবে আপনি বুঝি এ দাসীকে ওচরণে স্থান দিবেন না?—আমি
আপনার নিকট অপরাধী হলেও ক্ষমার পাত্রী।
চারু। কি আর বলিব প্রিয়ে। উপস্থিত দায়
বিপিন বিপিনে মম দিলেন বিদায়।
প্রণয় অঙ্কুর শুষ্ক মানস উদ্যানে,
স্বর্ণ।
স্বর্ণলত নাটক।
সকলিত জান প্রিয়ে ! আশা বারি দানে,
কেনবা সজীব হায় ! বিপিন করিল ?
কেনবা প্রবােধে চির হতাশ হরিল ?
অভিষেক কালে যথা রঘুকুলধন,
প্রণয় রাজত্ব কোথা বিষাদ কানন,
ঘটিল অভাগা ভাগ্যে। পিপাসী পথিক,
প্রান্তর মাঝারে যবে হেরি চারি দিক,
ধায় প্রাণ পণে, তার যথা বােধ হয়,
জীবের জীবন আর কুঞ্জ বন রয়,
দৌড়িয়া দৌড়িয়া শেষে জীবনের তরে,
কালের করাল করে সমর্পণ করে
প্রাণ; সেই দশা মম। করেছে মনন,
তব সনে পরিণয় হইতে কখন
দিবে না দেশের লােক, হরির সভায়
স্বীকৃত করেছে প্রিয়ে। তােমার পিতায়।
স্বর্ণ। রোেদন) আমার কপালে কি শেষে এই হলো! ত্রিভুবন অন্ধকার
ময় বােধ হচ্চে, নাথ ! এ দাসীর আর কেহই নাই (চার হস্ত ধরিয়া রােদন)
চাৰু। (নিজ যন্ত্রে স্বর্ণের মুখ মুছাইয়া)
সুহাসিনী আদরিণী কেঁদনা কেঁদনা,
বিফল রােদনে প্রিয়ে! কি ফল বলনা ?
নয়ন ভ্রমর মম বিষাদ সাগরে
আছে প্রিয়ে ! সুখী তব মুখ পদ্ম হেরে ।
রােদন করিয়ে কেন সন্তাপ বাড়াও ?
(উভয়ের নোদন
স্বর্ণলতা নাটক।
স্বণ। প্রাণনাথ! এখন উপায় কি ? হা বিধাত! আমাদের কপালে
এত দুঃখও লিখেছিলে ! (রােদন)
চারু। কি করি উপায় প্রিয়ে ! দেখি যে অপার,
ভাগ্য দোষে হায়! এবে সাগর মাঝারে,
নিপতিত দেশাচার প্রভঞ্জন বলে !
বলিব কি প্রিয়ে ! গলা ধরাধরি করে
ডুবিয়া মরিব উভে বিপদ সাগরে।
ভুঞ্জিব মর্তের সুখ, সুগভীর নাদে,
গাইব ঈশ্বর গুণ, বড় আশা মনে ;
সে সাধে বিষাদ হায় ! প্রতিকূল বিধি,
জানিলেন যবে, অভাগা চারুর মন
পাষাণে নির্মিত, এতে জন্মিবে না কিছু,
অশালতা উন্মলীত করিল অমনি;
সাগর মন্থনে যেন উঠিল গরল ।
শান্ত হও প্রিয়তমে! কেঁদনাকো আর
ঘটিল অভাগা ভাগ্যে যা ছিল হবার।
মন মন্দিরের দেবী পূজিব যতনে
সন্ন্যাসীর বেশে, নানা উপহারে,
ভূধর শিখরে যথা গঙ্গাধর দেব।
জীবন আহুতি দিব,—যাগপূর্ণ কালে,
অবশ্যই পরকালে প্রসন্ন হইয়ে
দর্শন দিবেন দেবী,-নহিল এ কালে।
পরিণয় তরি কিম্বা ভাসায়ে বিপিন
পারেন কাটতে যদি কৌশলের হালে
৫৪ স্বর্ণলতা নাটক। এবড় তুফানে, হায়! দুরাশা প্রভাবে, দেখি এবে সুসঙ্গত নিশার স্বপনে, তবেত হইতে পারে সবার উদ্ধার। স্বণ। ( চার হস্ত ধরিয়া) নাথ ! আমি আপনাকে কখনই ছাড়ব না না; তাহলে মণিহারা ফনি একদিনও বাঁচবে না; আপনিও আমার প্রতি প্রতিকুল হলেন ! রােদন) প্রাণনাথ ! আমায় পরিত্যাগ কল্লে আমি নিশ্চয়ই আপনার নাম করে আত্মহত্যা করবাে। চাৰু। (স্বর্ণের চক্ষু মুছাইয়া) প্রিয়ে শান্ত হও আর কেঁদনা, আমি তােমায় ফেলে কোথায় যাব? বিশেষ তুমিই আমার দুঃখের সমভাগী- আমারই বা আর কে আছে ? স্বণ। দাদা কি আপনাকে কোন কথাই বলেননি? তিনি এ মৰ্ম্ম- বিদারক সংবাদ জানেন ত ? চা। বিপিম ভাল রকম জানে; তাকে আর বৃথা কষ্ট দেওয়া উচিত হয় না। স্বর্ণ। আমি আজ বৌকে দিয়ে দাদাকে একটু বিশেষ কয়ে বলতে বলবাে। চাৰু। বিপিন কি নিশ্চিন্ত আছে ? তার যত্নের কিছুই ত্রুটি নাই। (নেপথ্যে) চাৰুকে তাদের বাড়ী পর্যন্ত খুজে এলাম, তা সে যে কোথায় গেছে কেউ বলতে পারে না, দেখি দেখি আমাদের বাড়ীতেই বা এসেছে। স্বর্ণ। প্রাণনাথ ! দাদা বুঝি আচেন (চার হত ধরিয়া) নাথ ! এ অভাগিনীকে পরিত্যাগ করবেন না, আমি এক্ষণে বাড়ীর ভিতর যাই, অধিক কি বল্ব আমার প্রাণ প্রাণনাথের কাছে রেখে, আমি শূন্য দেহে চলাম ; অভাগিনীকে মনে রাখবেন। চাক। তবে চল্লে ? আচ্ছা এস (সতৃষ্ণময়মে দৃষ্টিপাত, স্বর্ণের প্রস্থান) প্রিয় নয়ন পথের অতীত না হতেই আমার মন এত চঞ্চল হলো ! আমায় দশা যে কি হবে তা ভগবানই জানেন। আহা! এমন দুটি কি নিষ্ঠুর বিধাতা সত্য সত্যই আমার হস্ত থেকে কেড়ে নিলেন। হা প্রিয়ে। এই
স্বর্ণলতা নাটক।
কি তোমার সঙ্গে আমি শেষ দেখা কলাম! রোদন) আজ কি তোমার নিকট
জন্মের মত বিদায় হতে এসে ছিলাম! রােদন বিপিনকে আসিতে দেখিয়া)
এই যে প্রিয়সখ এ দিকেই আসছেন—ব্যস্ত হইয়া নশ্য গ্রহণ),
বিপিনের প্রবেশ ।
বিপি। তুমিত বড় মজার লােক হে? আমি তােমায় না খুজিছি এমন
স্থানই নাই! তােমার কি মাজে মাজে পাখা উঠে না কি
চাই।
কেন আমি অনেকক্ষণ এসেছি।
বিপি।
তবে এখন ঘরে যাও,-না একটু বসবে আমি খেয়ে
অাসবাে ?
চাৰু। বেস্! এত বড় মজার কথা; আমার আর খেয়ে দেয়ে কাজ
নেই ?
বিপি। কেন তুমি কি এখনও খাওনি ?—আমরা তাই তোমার মত
লােককে অতিথি সেবা করি না।
চা। বাঃ ! তুমি যে কাল অামায় নিমন্ত্রণ করে এলে। এখন চল।
বিপি। আমায় এত ঘােয়ালে কেন? আগে তার সাজা নেও।
চাৰু। পিট পেতে দেব ?
বিপি। তবে সত্যি সত্যি এখানে খাবে ?
চাৰু। তুমি এ রকমে কত গুলি খুন করে ?
বিপি। না হে এই সৰে আৰম্ভ, একটীও হয় নাই।
চাক। এ ব্যবসা মন্দ নয়, ভাগ্যে কিছু সঙ্গে করে আনিনি।
বিপি। চল, তবে, উঠ।
(প্রস্থান)
৫৬
স্বর্ণলতা নাটক।
তৃতীয় অঙ্ক।
f
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
হরিমােহন মুখােপাধ্যায়ের অন্তঃপুর, মাধবী
আসীনা।
মাধ। ঝি বুজি ঠাকুরকে ভাল করে বতে পায়েনি; তাহলে তার
অমত হবে কেন? আমি যদি ঠাকুরের সঙ্গে কতা কৈতাম, তাহলে আমি
সব কতাই ভেঙ্গে বলতাম; হায়! হায়! ঠাকুরঝির নেহাত পোড়া
কপাল ! আচ্ছা, মা কি ভাল করে জানতে পারেনি ? মাকে আমি আজ
সব কতা খুলে বলবো, মা একটু যত্ন কল্লেই চাকচন্দ্রের সঙ্গে স্বর্ণের বিয়ে
হতে পারে। আহা! তা হলে বড় ভাল হয় ; দেখাযাক কিসে কি হয়,
আমিত আজ সকলকে বলি, তার পর দেখি ওরা কি করেন। (ভগবতীকে
আসিতে দেখিয়া) ঐ যে মা এ দিকেই আছেন !
ভগবতীর প্রবেশ।
ভগব। বৌমা ! কাজে যাওগো ; এখানে একলা বসে কি ভাবছো ?
মাধ। না মা! এই যাই, মা ! আমি অনেক দিন থেকে মনে কফি
একটা কতা বলবাে, কিন্তু বল্তে ভরসা হচ্ছে না।
ভগব। আমায় বলতে ভয় কি মা!
মাধ। মা ! আমি ঠাকুরঝির মনের কতা সব টের পেয়েছি, সে দিন
সে আমাকে ঘাটে সব কতাই ভেঙ্গে বলেছে।
ভগব। আমায় আর বতে হবে না বৌমা। আমি সব টের পেয়েচি;
হলধরের সঙ্গে বিয়ে হবে বলে মা আমার ভেবে ভেবে আধখানি হয়েছে; তা
বাছা! আমিত কখনই অমন ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেব না।
মাধ। মা! আমার বোধ হয় চার প্রতি স্বর্ণের অনুরাগ জন্মেছে।
আর সেও তাই বলেছে, তা মা! চারুর সঙ্গেই কেন বিয়ে দেওনা? তানা-
হলে ঠাকুরঝির সনে বড় দুঃখ হবে। আহা ঠাকুরের ভাল রকম মত হুসে
৭
স্বর্ণলতা নাটক। বলে স্বর্ণ একেবারে হতাশ হয়ে পড়েছে; সে দিন আমায় কত যে বল্লে তা আর কি বল্বো। ভগব। তা হবেইত ! আহা মা! বাছার যেমনি রূপ তেমনি গুণ! অমন ছেলের প্রতি আর অনুরাগ হবে না ! আহা ! বাছার রং যেন দুদে আত্ তায় ফেটে পড়চে ; অমন সুন্দর চোক, অমন সুন্দর নাক, অমন সুন্দর মুখ, দেখে চক্ষু জুড়ায়। আহা! অমন মিষ্টি কথাত প্রায় শােনা যায় না। আমারত বরাবর ইচ্ছে যে চার সঙ্গে বিয়ে দি; তা মা আমার পােড়া কপালে অমন সুন্দর জামাই থাকূলেত হবে। তার সম্পূর্ণ অমত, সকলিত জান মা! তবু সে দিন বিপিন কত করে বল্লে তবে বামন একটু নরম হলেন, তানাহলে হলধরের সঙ্গেই বিয়ে দিতেন। (চিন্তা) মা! যে দিন বিপিন আমাকে বল্লে যে চার সঙ্গে স্বর্ণের বিয়ে দেব, সে দিন আমার মন যেন আহলাদে গলে পড়তে লাগলো। চারুচন্দ্রকে অনেক বার দেখিচি, আমাদের বাড়ীতে অনেকবার এসেছেন, কিন্তু দেখ ! সে দিন থেকে বাছার আমার যেন রূপ বাড়তে লাগলো, আমাদের বাড়ীতে এলেই আমার মনে যে কতদূর আহলাদ হতো তা আর কি বল্বাে। আহা! আমরাই মহাপাতকী! মা আমার এখনও ভাবছেন যে চার সঙ্গে তার বিয়ে হবে। আচ্ছা চার মতন কি একটিও কুলীনের ছেলে মিবে না? মাধ। তা আপনি কেন ঠাকুরকে বেস্ যত্ন করে বলুন না ? মা ! বলতে কি আর বাকি আছে। আগেত তার এক রকম মত করে ছিলাম; তা মা পোড়া দেশের লোকে তাই শুনে একে বারে গ্রাম মাথায় করে তুলেচে ! আবার বলে এক ঘোরে কবো, ধােপা নাপিত বন্ধ করূবো, তা কি করি মা ! কাযেই চুপ করে থাকতে ভগব। হয়। মাধ। মা ! তবে আমায় সব কথা খুলে বলতে হলো। এখন স্বয়ং কার্তিক এলেও ঠাকুরঝির মনে ধরবে না। তার একান্ত ইচ্ছে যে চার সঙ্গেই বিয়ে হয়। চার উপর তার এতদূর অনুরাগ হয়েছে যে এবিয়ে বন্দ হলে সে নিশ্চয় প্রাণত্যাগ কৰে। আমি এত করে বল্লেম,-তা মা এমন ! মাধ। স্বর্ণলতা নাটক। কঠিন পণও ত কোথায় দেখি নাই, কিছুই শুনলে না, বলে “অমন করত আমি খুনোখুনি হয়ে মরূবো।” ভগব। ওমা! এমন হয়েছে ! তা তুমি কেন বাছা আমায় এত দিন বলনি ? তাহলে যাহােক্ একটা উপায় কত্তেম। তবে মায়ের মনে কত কষ্ট হচ্চে। ধন্তে গেলে একষ্ট ত আমরাই সাদ করে দিচ্চি। মা আমার একটী বৈ মেয়ে নেই, আমি তার মনে প্রাণ থাকতে কষ্ট দিতে পারি ? আমার কুলে কায নাই, আমার ধনে কায নাই, আমার কিছুইতেই কায নাই, আমার বিপিন স্বর্ণ সুখে থাক্, তাহলেই আমি সুখী হব। মা ! এখন তােদের সুখেই আমার সুখ। মা আপনি আজ ঠাকুরকে সব কথা খুলে বলে এর একটা ওপায় করুন। ভগব। মা ! তােমায় আর বলতে হবেনা-আমি যাহােক আজ একটা করবেই এখন-(নেপথ্যে কাশী) ঐ বুঝি বাড়ীতে এলেন, যাই দেখি যদি কিছু বলে কয়ে কত্তে পারি। স্বগত) মা আমার বুদ্ধিমতী বিদ্যাবতী হয়ে কি সহসা আত্মহত্যা করূবেন ? এমন কিছুতেই বােধ হয় না, তা হলে ও হতে পারে; যাহােক আমাকে সব ভাল করে দেখতে হলো, (প্রকাশে) মা তুমি স্বর্ণকে ভাল করে বুজাও গে, ছি এমন কায কি কত্তে যাচে। (প্রস্থান) এখন ত সব বলা হোলো, কিন্তু মার কাছে যে রকম শুনলেম তাতে ত কিছুতেই আশা করা যায়না। এখন ঠাকুরঝির কপাল। তিনি একবার ঘরে এলে হয়, তাকেও সব বলতে হবে, কিন্তু আগে বলা হবে না, একটু মজা কত্তে হবে। ঐ যে তিনি এই দিকেই আসছেন। সাধ। বিপিনের প্রবেশ। মাধ। নমস্কার ঘটক মশাই! বাড়ীর সব মঙ্গল ত ? (হাস্য) বিপি। অাবার ঘটক হলো কে ! এ তাে ভারি মজা দেখুঁচি। মাধ। রাগ করেণ কেন ? কামিত আর সত্যি সত্যি ভাগ নেবনা, মশা- য়েরই থাকবে, কুশণ্ডিকের কাপড় ত হবেই, কোনে যে আর কিছু দিতে স্বর্ণলতা নাটক। চায়, তা নেবেন কি ? নেন্ত আমায় বল্বেন,-মশাই যা চাবেন তাই পাবেন। বিপি। আমরি রসিকতা করা হচ্ছেবুঝি ! ঘটকালি আবার নেবেকে ? আমার ভগিনির জন্য আমি ভাল বরের চেষ্টা কচ্চি, তার আবার ঘট কালি কি। মাধ। যদি ভাল বল্লে মন্দ হয়, তবে নাহয় বিয়ের দিনে তুমি ঘটকালি না নে, একটু চুন কালী মেখে বসে থেক। (হাস্য) বিপি। আমি মাখবো কেন ? বরতো আমাকে অনেক বার দেখেচে, তােমায় দেখেনি, তুমিবরঞ্চ একটু চুন কালী মেখে বাহার দিয়ে বসে থেকো, তাহলে তােমায় এজমে ও ভুলতে পারবে না। মাধ। (সহাস্যে) সে যাহােক বেস্ ব্যাবসা আরম্ভ করে; এবার আর আমাদের কষ্ট থাকবে না। বিপি। ও আবর কি কথা! কিছুই ত বুজতে পাল্লেম না । মাধ। বুজতে পাল্লেন, বলি এই বনের বর জোটান ব্যবসা! (হাস্য) বিপি! তাইত ; তবে নাকি তুমি তামাসা কত্তে যান না ? মাধ। আমি সত্যিই বলচি, তামাসা কবো কেন ? বিপি। বােনের বিয়ের জন্যে বর খুঁজলেই যদি তোমার মতে দোষ হয় তা হােলে ত তােমার দাদ। আগে দোষী হন ; তােমার জন্যে তিনি কত বর খুঁজেছিলেন, শেষকালে আমাকে জুটিয়ে দিয়েছেন। মাধ। সে যাহােক ওসৰ কথা এখন থাক। তুমি এমন অন্যায় কাষ কল্লে কেন; এ তে তােমায় সম্পূর্ণ দোষী হতে হবে । বিপি। কি করি বল, দেশের লক্ষীছাড়া ব্যাটারা যে এ বিয়েতে এত বাগড়া দেবে তা আমি স্বপ্নেও জানতাম না ; আমাকে সত্যি সত্যি ভারি বিপদে ফেলেছে; কি যে করবে। তার আর কিছুই ঠিক কত্তে পাচ্ছিনে। মাধ। আহা ! এবিয়ে না হলে ঠাকুরঝির বড় মনে দুঃখ হবে, এমন কি সে আমায় এত দুর বলেচে “যে এবিয়ে না হলে আত্মহত্যা করবাে।” আহা! সেদিন অনেক কেঁদেছে, এখন ও সে কান্নার কতা মনে হলে আমার চোকে জল আসে। নেপথ্যে)। ও বৌ মা! একবার এদিকে এগােগে। ;
৬০ স্বর্ণলতা নাটক। মাধ। মা বুঝি ডাকছেন, আমিএখন যাই—কিন্তু এইবারে ঘটকালি বােঝাযাবে-নমস্কার গগ ঘটক মহাশয়! এখন আসি। (প্রস্থান) বিপি। আহা ! মনের মত স্ত্রী হলেকি সুখ! গালদিলে তবু কেমন মিষ্টি বােধ হলো? তা যাহােক এখন কি করি ;-(চিন্তা) আর কিবা করবে, এবিপদ থেকে উদ্ধার কত্তে কেবল জগদীশ্বর পারেন, এখন তিমি যদি আমাদের প্রতি অনুকূল হন তবেই মঙ্গল, মচেৎ আর কোন উপায় দেখি না। ভৃত্যের প্রবেশ। ভৃত্য। বাবু! আপনার এক খানি পত্র আছে, এই নি। (পত্র দান) কে বিপি। (পত্র পাঠ) প্রিয় সখা ! তুমি আমাকে যেরূপ আয়ােজন করিতে বলিয়া গিয়া ছিলে তাহা সম- স্তই হইয়াছে, আমিও প্রস্তুত আছি, তুমি আমার নিকট কখন আসিবে, তাহার সংবাদ এই পত্রবাহকের নিকটে পাঠাইয়া বাধিত করিবে ইতি। অভিন্ন হৃদয়। শ্ৰচান্দ্র অক্টোপাধ্যায়। (ভৃত্যের প্রতি) তুমি এখন যাও আমি যাচ্ছি। (ভৃত্যের প্রস্থান) (স্বগত) তবে এখন এই করাযা, তা নাহলে আর কিছুই উপায় দেখি না—(চিন্তা) টাকা কিছু বেশী করে নিতে হবে (বাক্স খুলিয়া লােট লইয়া প্রকাশে) এখন জগদীশ্বর যা করেন। (প্রস্থান) ইতি তৃতীয়াঙ্ক।
স্বর্ণলতা নাটক। চতুথ অঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক। জ্ঞানচন্দ্রের পড়িবার ঘর, জ্ঞানচন্দ্র আসীন। জ্ঞান। আমি এত বারণ কল্লাম তবু বিপিন স্বর্ণকে নিয়ে পালালো ! চার দোষ কি? বিপিন দেচি নিতান্ত খেপেছে, এখন সে যে উপায় অবলম্বন করেছে, তাতেত কৃতকার্য হওয়া, বড় সহজ ব্যাপার নয়; আমা- দৈর দেশ কি এর মধ্যে তত সভ্য হয়ে উঠেছে। আজও লোকের মন ভ্রম- তিমিরে আচ্ছন্ন রয়েছে। এ প্রগাঢ় তিমির থাকতে কি উন্নতি সুৰ্য্যের উদয় হতে পারে ? এখন উটে দোযী না হতে হলে বাঁচি। আমার বোধ হচ্চে বুড়োরা তাকে অল্পে ছাড়বে না; বুড়োরা একেতো আমাদের উপর চটা, তাতে আবার একটু দোষ পেয়েছে এবার কি আর রক্ষা থাকবে, ব্যাটারা গ্রাম মাথায় করে তুলবে। আচ্ছা আমিত বিপিনকে বরাবর নিষেধ করেছি, তবু সে যে আমার কথা না শুনে একাৰ্য্যে প্রবৃত্ত হলো এইব। কারণ কি ? বোধ হয় বিপিন ভাল করে বুঝতে পারেনি। যাহােক স্বর্ণকে নিয়ে এরূপ পালনর চেয়ে এখান থেকে চেষ্টা কম্লে কি রকম হতাে বলা যায় না। কিন্তু তাও বলি, এখান থেকে কি কিছু উপায় হতাে? (চিন্তা) দেখা যা বুড়ো ব্যাটারা কি করে। হরবিলাসের প্রবেশ। হর। কি গো জ্ঞানেন বাবু! কি হচ্চে? সেসমম্বুমে উঠিয়া) আসুন, মশাই বসুন ; (উভয়ের উপবেশন) আমার কাছে কি কোন প্রয়োজন আছে ? হর। না এমন কিছু নয়, এই আপনার সঙ্গে একবার দেখা কত্তে এইচি,বাবু যে সে দিন আপনার জন্য অনেক ক্ষোভ কল্লেন। জ্ঞান। কৈ কৰ্ত্তার ক্ষোভ হতে পারে এমন কাত আমি কিছু করিনি!
স্বর্ণলতা নাটক। ; তবে কি না হরিসভার দিন তার সঙ্গে উরির মধ্যে একটু রাগা রাগি হয়ে ছিল; তা মশাই মিথ্যে করে অন্যায় বল্লে কেনা রাগে ! হর। কর্তা বল্লেন আমি জ্ঞানেনের জন্যে কেবল ওদের শাসন কর্নে পাচ্ছিনে; তা না হলে, আমি ওদের আচ্ছ। শাসন কত্তেম। আর তুমি, নাকি তাকে কৰ্ত্তা বলে মন না ? জ্ঞান। সি কি মশাই! কৰ্ত্তার মতন কায কল্লে তঁাকে কর্তা বলে মান্বনা কেন? অবশ্যই মাবো;-দেখুন দেখি ! হরিসভার দিন ভট- চার্য্যি মশাই অত ভদ্র লোকের সম্মুখে সচ্ছন্দে আমাদের নামে মিথ্যা গ্লানি কল্লেন, আর কর্তা অনি তার কথায় বিশ্বাস কল্লেন !–আচ্ছা আমাকে বালককাল থেকে দেখচেন, কৈ কখন মদ খেতে কিম্বা মাতাল হতে দেখে- চেন ? এরূপ অন্যায় বলে কি করে সম্য করা যায়। না বাবু মিথ্যে বল্লে কি হবে, তােমাকে কখনই দেখিনি, —তবে বিপিন, চাৰু বোধ হয় উরই মধ্যে লুকিয়ে চুরিয়ে একটু আদটু খায়। তা না হলে আর সে দিন বিনে ছোঁড়াটা কৰ্ত্তাকে ঠাট্টা করে !! জ্ঞান। না মশাই! ইটি আপনাদের নিতান্ত ভ্ৰম, আমাদের মধ্যে কেউ মদ খায় না, তবু আপনারা সে দিন সকলেই আমাদের গাল দেছেন, তিরস্কার করেছেন; আমাদের ভাল কি মন্দ স্বভাব তা একবার মনে মনে ভেবে দেখবেন, তা হলেই বেস জানতে পাবেন। তা সে যাহোক, আমাদের সে দিন অন্যায় হয়ে ছিল স্বীকার করি। বাবু তোমাকে এক্টী কতা জিজ্ঞাসা করে কাটিয়ে চেন। জ্ঞান। কি কথা আজ্ঞে কৰুণ ! হর। তুমি বিপিন চাৰুকে ছেড়ে দিয়ে আমাদের সভার সভ্য হবে কি না ? দেখ জ্ঞানেন বাবু! কত্তাতে আর তোমাতে খুব নিকট সম্বন্ধ, তা তার সঙ্গে কি তােমার মনান্তর করা উচিত ? আর বিশেষ তুমি যখন নাবালক ছিলে তখন থেকে কতা কত যত্ন করে, কত কষ্ট করে তােমার বিষয় আশয় সব বজায় রেখেছেন, তােমাকে কত যত্ন করে লেখা পড়া শিখিয়েছেন, এখন তােমার কি বাপু তার অমতে কোন কাৰ্য্য করা উচিত? যিনি তােমার ভালর জন্যে এতটা কষ্ট স্বীকার কল্লেন, তার কথা না হর।
স্বর্ণলতা নাটক। তুমি কি শুনলে মনে কত দুঃখ হয় বল দেখি ? বিশেষতঃ যখন এক জনকে শাসন করবার দরকার হয়, তখন কি ঘরােয়া বিবাদ উচিত? আর তুমি যাদের জন্যে কত্তার সঙ্গে সে দিন এত কল্লে তাদের তো ভারি গােল। আর তাদের রক্ষা কত্তে পাবে ?--আমার মতে এবিবাদ ভঞ্জন করাই উচিত। জ্ঞান। কেন কেন কি হয়েছে মশাই ? হর। তুমি কি কিছুই শােন নি! এক থা যে দেশ ময় বেজে উটেছে, কাল রাত্রিতে যে হরি মােহন মুখােয্যের মেয়ে বেরিয়ে গেছে ! জ্ঞান। (স্বগত) যা ভেবিচি তাই, আমি ও ব্যাটাদের ধরণ বে জানি, দেখ দেখি, ব্যাটার একেবারে কেমন সৰ্ব্ব নেশে কথা তুলে দিয়েছে! এব্যাটারী না পারে এমন কৰ্ম্মই নাই !! হরি। মৌন সম্মতি লক্ষণ নাকি? তা হলেই ভাল হয়, দেশের দুট ধনী লােক যদি একত্র হয়, তাহলে কি অার কারো ভয় করি ? জ্ঞান। আপনাদের ভাবগতিক দেখে একেবারে হতবুদ্ধি হয়েচি, আপনারা সব কত্তে পারেন, আর বেশী কি বলবো! হর। (স্বগত) আর ও কথা বলা হবে না, তাহলে কিছুই কাজ হবেনা, আগে ছোঁড়াটাকে স্বীকার করাতে হবে। তার পর তখন বােবা যবে, এ ছোঁড়াটা ওদের দিকে থাকলে ওদের কিছুই কত্তে পাবোনা ! (প্রকাশে) তা সবত জেনেছ ? তবে আর আমাদের সঙ্গে কি তোমার বিবাদ করা ভাল হয় ! বিশেষ তুমি কত্তার মনের ভাব আজও ভাল করে বুজতে পারনি। তিনি তােমার উপর বড় খেপেছেন, তার কথা না শুনলে তোমার একটা ভারি অনিষ্ট হবার সম্ভাবনা। কেবল তােমাকে নাকি অনেক যত্নে মানুষ করেছেন, তাই বলে আজ ও কিছু করেননি। হাজার হােক যতনের জিনীসকে কি কেউ শীঘু, নষ্ট কত্তে, পারে ? তুমি ওদের ছেড়ে দিয়ে আমাদের হরিসভার সভ্য হলে আর কোন গােল থাকে না; এতেত আর তেমন দু হাজার পাঁচ হাজার খরচ নেই যে অত ভাচো—কিন্তু তাও বলি, এখন না মিল হলে এর পর সত্যি সত্যি তােমার দু হাজার পাঁচ হাজার লাগবে ।
৬৪ স্বর্ণলতা নাটক । জ্ঞান। কেন মশাই! কিসে লাগবে? আমি আর তঁার ধার করে খাইনি। হর। সে তখন জানতে পারবে, তা এখন বাবুকে গিয়ে কি বলবো? আমার কথার যাহােক একটা উত্তর দাও। জ্ঞান। (স্বগত) ব্যাটাদের নেহাত চটান হবে না; ওরা বড় সর্বনেশে, লোক। শেষকালে কিসে কি করে ফেলবে। (প্রকাশে) হরিসভায় যেতে আমার কিছুই আপত্য নাই, কিন্তু আমার গুটিকত কথা যদি শোনেন তা হলে আমি যেতে পারি । হর। তুমি আমাদের কথা শুনবে আর আমরা তােমার কথা শুন- বোনা ! তাও কি কখন হয় ! আচ্ছা কি বলবে বল । জ্ঞান। বিচার সঙ্গত সব কাজ করবেন বলুন? হর। অবশ্য, এ কথা আমি হাজার বার মানি। জ্ঞান। আর একটি অনুরােধ আছে মশাই! সেটি কিন্তু আপনারা না রক্ষে কল্পে আমার ভারি অপমান হবে। হর। আচ্ছ। কি নুরােধ বল। জ্ঞান। আমি শুনলাম আপনারা নাকি চাৰু বাৰু আর হরিমােহন বাবুর উপর ভারি রেগেচেন ? কিন্তু মশাই! সহস্র অপরাধী হলেও তাদের এবার ক্ষমা কত্তে হবে। দেখুন মশাই! আমি বরাবর ওদের পক্ষ, বিশেষ চাৰু বাবুর সঙ্গে এবং বিপিন বাবুর সঙ্গে আমার অত্যন্ত হৃদ্যতা আছে, তাতে ওদের প্রতি কিছু অত্যাচার হলে আমার অত্যন্ত অপযশ হবে। তা ওদের প্রতি কিছু অত্যাচার করবেন না বলুন? তা হলে আমার আর কিছু আপত্তি নেই। হর। আমি এ কথার জবাব দিতে পালাম না, কারণ চাৰু হরিমােহন মুখুয্যের মেয়ে বের করে নিয়ে গেছে, তাতে যে তাদের নিয়ে সকলে পূর্ব- কার মত থাকবে এত আমার বোধ হয় না। তবে তুমি বিশেষ যত্ন কচ্চো, আমি কৰ্ত্তাকে জিজ্ঞাসা করে যা হয় তােমায় বলব। জ্ঞান। মশাই! অমন অন্যায় কথা বলবেন না। আমি বিশেষ রূপে জানি বিপিন তার ভগিনীকে নিয়ে মামার বাড়ীতে গেছে। চাৰু বাৰু লেখাপড়া শিখেছেন, তিনি এমন জঘন্য পাপ কৰ্ম্ম করবেন কেন? মশাই স্বর্ণলতা নাটক। বিপিনবাবু সেদিন রাগ করে আপনাদের কিছু বলেছিলেন বলে তাদের এমন সর্বনাশ করা আপনাদের উচিত হয় না। এক জনের অনিষ্ট করা কঠিন নয় ; ভাল করাই হচ্চে শক্ত। হর। আমাদের কাছে কি কিছু ছাপা থাকে বাপু? আমরা সব জানি, আগে দুখানা পাল্কীতে চাৰু আর স্বর্ণ গেছে, তার পর এই ভােরের সময় আর এক খানাতে বিপিন গেছে। এখন কি আর ঢালে চলে ? জ্ঞান। মশাই! আমি সপথ করে বলতে পারি যে আপনারা যা ভেবে- ছেন তা নয়, কারণ বিপিন বাবুর ভগিনীটি বালিকা ; আমি সমস্তই জানি, আপনাদের অনুমান করা আর আমার যথার্থ জানা। হর। হঁ্যা বালিকা বৈকি ! ছেলে বেলায় বিয়ে দিলে এত দিনে দুই ছেলের মা হােত। (নেপথ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া) ওকে হরিমােহন মুখুয্যে না ?—এই যে এই দিকেই আচে। আহা! দেখ দেধি বামনের একেবারে কি সর্বনাশ করেছে ? হরিমােহনের প্রবেশ । জ্ঞান। (সসমে উঠিয়া) আসুন! মশাই বসুন (উভয়ের উপবেশন) হর। কি গো মুখুয্যে মশাই! কেমন কেমন্ শুনছি যে? একটা যে গুজব উঠেচে ? তখনিত আমরা বলেছিলুম, কিন্তু আপনি তাতে কান দিলেন না,-তার পর এখন ? হরি। তােমাদের মহিমাতেই ও গুজব উঠেছে। জ্ঞান। (হরবিলাসের প্রতি) আচ্ছা মশাই! আপনারা যে এমন নির্দো যীর সরল মনে সহসা ভয়ানক কষ্ট দিচ্ছেন, এতে কি আপনাদের মনে একটু দয়া হয় না?—আপনাদের যদি কেউ এমনি করে বলে ? তাহলে কি আপনারা বড় সন্তুষ্ট হন ? হরি। সেরূপ দয়া ওদের থাকলে আর আমার উপর এ সৰ্বনেশে কথা তুলেচেন ! চাটুয্যে মশাই! লােকে কুমারী পূজা করে, আর আপ- নাবা সচ্চন্দে কুমারীর প্রতি এই ভয়ানক অপবাদ তুলে দিলেন ! আচ্ছা আমি অাদের কাছে এমন কি অপরাধ করিচি যে আপনারা আমার সর্বনাশ কত্তে বসেছেন।
স্বর্ণলতা নাটক। বিধাতা যার প্রতি বাম হন, তার এইরূপ দশাই ঘটে। তুমি যদি আগে আমাদের কথা শুনতে, তাহলে আর তােমার এত দুর্গতি হবে কেন?-পূৰ্ব্ব জমে অনেক পাপ না থাকলে আর এমন ভয়ানক ঘটনা হয় । যাহউক বড় দুঃখের বিষয় ! জ্ঞানেন বাবু! তবে এখন আসিগে;. বৈকালে আসব এখন। (প্রস্থান।) জ্ঞান। (স্বগত) হা জগদীশ্বর ! এ নরপিশাচদের হাত থেকে আমা- দের কবে মুক্ত করবেন! এদের অত্যাচারে যে ধরণী টলমল কচ্চে। আহা! নির্দোষী ব্রাহ্মণকে দোষী বলে এরা কি ভয়ানক কার্য্যে প্রবৃত্ত হয়েছে !! হরি। দীর্ঘ নিশ্বাস) মধুসূদন ! মধুসুদন ! জ্ঞান। আপনি অত দুর্ভাবিত হবেন না। চিন্তা কি ? ও ব্যাটার। যা বল্বে লোকে তাই বিশ্বাস করবে ? আর আমাদের কথা কিছুই শুষে না ? হরি। জানেন! বাবা এর কোথায় আছে বল্তে পার ? এদের জন্য আমাদের বড় ভাবনা হচ্ছে। বিশেষ ব্রাহ্মণীত বাড়ী মাথায় করে তুলেছেন। জ্ঞান। (স্বগত) এখন কি করি, কি করেই বা মিথ্যা কথা বলি, আর সত্যকথা বল্লেত সব বিফল হবে, যাহােক বলা হবে না (প্রকাশে) মশাই! অত চিন্তিত হবেন না, বিপিনবাবুত আর নিতান্ত ছেলে মানুষ নন; তিনি স্বর্ণকে সঙ্গে করে নে গে অবশ্য ভাল স্থানেই আছেন। বিপিন বাবুর মামার বাড়ীতে কি লােক পাঠান হয়ে ছিল ? হরি। না এখনও পাঠান হয়নি, কোথায় গেছে স্থির হচ্ছে না বলেই পাঠাই নাই,—বিশেষ সে অনেক দূর বলে এখন সেখানে কেউ যেতে স্বীকার হচ্ছে না। জ্ঞান। আচ্ছা আমি একটা লোক করে সেখানে পাঠাচ্চি। আত আর বেলা নাই, কাল ভােরের সময় পাঠাব। হরি। বেঁচে থাক বাবা ! এখন তােমার কল্যানে আমার বিপিনের উদ্দেশ হলে বাচি; কিন্তু আমার বােধ হয় তার মামার বাড়ী যায়নি। জ্ঞান। আচ্ছা আমি তার বিশেষ অনুসন্ধান করো, বিপিন বাবু যদি মামার বাড়ীতে না গিয়ে থাকেন, তবে তার যেখানে যেখানে থাকা স্বর্ণলতা নাটক। ? সম্ভব আমি সেই সকল স্থানেই লোক পাঠাব, তা হলে কি আর সত্যি সত্যিই তাদের খুঁজে পাবে না? তারা কি আর দেশ ছেড়ে গেছেন ? হরি। বাবা! তুমিই আমার এক মাত্র ভরশা, আর অধিক কি বলবে ; আর একটা কথা আছে। জ্ঞান। আজ্ঞে কৰুণ ? হরি। আমাদের প্রতি অত্যাচার না হয় এর জন্যে তােমাকে একবার বাবুর কাছে যেতে বচি। আমার উপর সকলে খেপে রয়েছে, এখন আমি ওদের কাছে গেলে, ব্যাটারাত খহস্ত হয়ে আসবে, আর ঐ সব কথা বলে আমাকে কাঁদিয়ে ছেড়বে। জ্ঞান। মশাই আশীৰ্ব্বাদ কৰুণ ; আপনার কৃপায় আমি বেঁচে থাকতে ওরা তত অন্যায় কত্তে পারবেন না। তবে কি না কাজটা বড় বােকামি, হয়েছে। হরি। তা কি করবো বাবা ! আমিত আগে কিছুই জান্তে পারিনি, যখন রাত্রি প্রায় এগারটা তখন আমি শুনলাম, তার পর সমস্ত দিন তাদের অনুসন্ধান করিচি, কিন্তু কোথাও দেক্তে পেলুম না; তার পর এখানে এসেছি, এখনও আহারাদি কিছুই হয় নাই। ভান। সে কি মশই! আপনি আহারাদি ককন গে, আর একটা কাজ কবেন, বাড়ীর সকলকে অত চিন্তিত হতে নিষেধ করবেন। দেখুন আপনারা যদি অত চিন্তিত হন, আর লােকের কাছে বলেন যে বিপিন ও স্বর্ণ কোথায় গেচে খুঁজে পাচ্ছি না, তা হলে ওরা ভারি গােল কবে। যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, তবে বল্বেন, তার মামার বাড়ী গেচে। হরি। আচ্ছা বাবা! তুমি যা বলবে তাই করূবো। জ্ঞান। মশাই তবে বাড়ী যান,-ও একেবারে সন্ধ্যা হয়েছে, ভারি কষ্ট হচ্ছে দেখুঁচি। হরি। কিন্তু দেখ বাবা ! তাদের সন্ধান পেলেই আমাকে সংবাদ দিও। আমি এখন যাই-(প্রস্থান) জ্ঞান। আজ্ঞে তা আর বলতে হবে না।--(চিন্তা) এখন কি করি, ব্যাটারাত ভারি গােল করে বসেছে। যাহােক্ বিপিনকে এখানকার সমস্ত স্বর্ণলতা নাটক। সমাচার লিখে পাঠাই, তারপর তার যা ভাল বোধ হয় তাই কবে। আহা! আমার বারণ যদি শুনতে। তা হলে আর এতটা হতাে না। এখন একটা লােকের যোগাড় করিগে। (প্রস্থান) চতুর্থ অঙ্ক। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। কাশীপুর শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের অন্তঃপুর। স্বর্ণ আসীনা। স্বর্ণ। (সানন্দে) দুঃখের নিশি অতি সত্বর প্রভাত হবে বলে আমার মনে কত আনন্দ হচ্ছে। প্রথমে এ নিশিতে যেরূপ ভয়ানক কুয়াশা হয়েছিল, তাতে যে সত্ত্বর দিক্ নিৰ্ণয় হবে, এমন আশা করি নাই। কেবল চাৰুচন্দ্র দেখেই দিক্ নিৰ্ণয় করে এখন যথাস্থানে এসে পড়িচি, আর ভয় নাই। (চিন্তা) আহা! কাল আমার কি শুভ দিন, কাল আমার তপস্যার শেষ হবে ! যে দেবতাকে হৃদয় মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করে পর্যন্ত বরাবর উদ্দেশে পূজা কতাম, তিনি কাল প্রসন্ন হয়ে আমাকে অভিলষিত বর দিয়ে চরিতার্থ করবেন। (চিন্তা) কিন্তু এমন সুখের দিন কাছে এসেছে তবু আমার মনে অনেক দুঃখ হচ্ছে, এমন সুখের দিনে কেউ আমােদ কত্তে পেলে না, দীর্ঘ নিশ্বাস) আহা! মার মনে যে কত সাধ ছিল, তার কিছুই হলো না; এক কাজ করি না কেন ?-দাদাকে বলে মাকে আর বৌকে আনতে পাঠাই না কেন ? তা হলেত বেস হবে। কিন্তু তবু আমার সঙ্গিনী দের মনে দুঃখ থাকবে তা বলে আর কি কবো, সকল বিষয়ত আর সর্বাঙ্গ সুন্দর হয় না। উ: আজ সমস্ত দিন যাবে, সমস্ত রাত যাবে, কাল আবার সমস্ত দিন যাবে,তার পরে—এখনও অনেক দেরি আছে, স্বর্ণলতা নাটক। কিন্তু এরমধ্যেই আমার প্রাণ এত ব্যাকুল হয়েছে! বাড়ীতে কিছু বলে আসা হয় নাই বলে হয়ত মা কত ভাবছেন। (নেপথ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া) দাদা না এদিকে আসছেন। আর এখানে থাকা হবে না। দাদা আমাকে চিন্তা কত্তে বারণ করেছেন, আর আমায় এরূপ চিন্তিত দেখলে আমার উপর ভারি বিরক্ত হবেন। (প্রস্থান) বিপিনের প্রবেশ। । বিপি। এ পত্র যখনি অামার হাতে পড়েছে, আমি তখনি সব জানতে পেরেচি। উঃ! ব্যাটাদের কি ভয়ানক ৰাসনা ! ব্যাটারা সচ্ছদে আমাদের সর্বনাশ কত্তে বসেছে! বাবা নিতান্ত ভাল মানুষ তাই তিনি ও ব্যাটাদের ওরকম কথা শুনচেন আর ঝর ঝর করে কঁাচেন। (সরোষে) কি বলবো আমি এখানে রয়েচি,তা না হলে আমি এক্ এক্ লাতিতে সব ব্যাটার মুখ ভেঙ্গে দিতুম ; আমার সুকে এমন সৰ্বনেশে মর্মান্তিক কথা বতে কারাে সাহস হতো? হা জগদীশ্বর ! এ দুর্দান্ত পাষওদিগের হস্তে কেন আমাদের নিক্ষেপ কল্লেন ! আমরা আপনার চরণে এমন কি অপরাধ করিচি? গ্রামান্তরে এসেও দুষ্ট ব্যাটাদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছিনা। ওঃ সমস্ত কাৰ্যই বিফল হলো দেখচি। এখন কি করি, কোন উপায় ত দেখচিনে! (দীর্ঘ নিশ্বাস) মামাকে পত্রের মর্ম সব ভেঙ্গে বলিগে, দেখি তিনিই বা কি বলেন, এই যে মামা এ দিকে আচেন ;- আমি আর ও ভাবছিলাম, বলি মামা বুঝি কোন দিকে কি আয়ােজন কতে গেছেন। শ্যামাচরণের প্রবেশ। শুমা। সততা ঠিক হলো বাবাজী! এখন কেবল গােয়ালকে ফরমশ দিলেই হয়। আবার একটা কাপড়ের চেষ্টা কতে হবে, আমাদের আটু- ঢালার কাপােড়টা ছিড়ে গিয়ে বড় গােল হয়েছে। হ্যা বিপিন! শান্তিপুর থেকে নাকি লোক এসেছে? সেখানকার সব মল ত ? বিপিন। আজ্ঞে এই পত্র দেখুন। (পত্র প্রদান) স্বর্ণলতা নাটক। ৭ ০ শ্যমা। এ পত্রকে লিখেচে ? এত তােমার বাপের হাতের লেখা নয় ? -আচ্ছা বাবা তুমি পড় । বিপি। আরে, এ পত্রখানি আমার এক জন পরম আত্মীয় লিখে ছেন। শ্যামা। কি লিখিচেন পড় দেখি । বিপি। (পত্র পাঠ) সুহৃদবর ! তােমার ভগ্নীকে এবং চাৰুবাবুকে কাশীপুরে লইয়া যাইবার বিষয়ে আমি যাহা সন্দেহ করিয়াছিলাম তাহাই ঘটিয়াছে। দেশের পাপাচারী হতভাগারা তােমাদিগের নামে ভয়ানক কলঙ্কমূলক অপবাদ তুলিয়াছে। পাষণ্ড ব্যাটারা আমার সমক্ষে তোমাদিগের নামে যেরূপ কথা বলিয়াছে তাহা লেখনী দ্বারা লেখা দূরে থাকুক, মনে করিলেও পাপ হয় ; ব্যাটার। রাগন্ধ হইয়া তােমাদিগের নির্মল কুলে কালি দিতে উদ্যত হইয়াছে; এবং শান্তিপুরের আবাল বৃদ্ধের মুখে সেই ভয়ানক কথা শুনা যাইতেছে। তােমাদিগের অনুসন্ধান করিবার নিমিত্ত, তােমার পিতাঠাকুর গত কল্য আমার নিকট আসিয়াছিলেন। ব্যাটারা তাহাকেও মর্মান্তিক কষ্ট দিতে কিছু মাত্র সঙ্কুচিত হয় নাই। দুরাচারদিগের কথা শুনিয়া তাহার চক্ষের জল প্রবল বেগে প্রবাহিত হইতেছে। প্রায় চারিটার সময় আমার নিকট আসিয়াছিলেন, কিন্তু তখনও আহার করেন নাই। তােমাদের বাটীর সকলেই বিশেষ রূপে চিন্তিত আছেন, এবং তােমার মাতাঠাকুরাণীর আর্ত- নদে কেহই বাটীতে স্থির হইতে পারিতেছেন না। আমি সকলকেই অনেক প্রকার প্রবোধ দ্বার। আপাততঃ কথঞ্চিৎ শান্ত করিয়াছি। সকলেই এই পত্রের প্রত্যুত্তরের নিমিত্ত ব্যাকুল হইয়াছেন। দুরাচারেরা এরূপ অবস্থাতেও তােমাদিগকে সমাজ হইতে বহিষ্কত করিয়া একঘােরে করিবে বলিতেছে, এবং যত্ন ও আহলাদ সহকারে তাহার বিশেষ চেষ্টা করিতেছে। তােমার নিকট অগ্রে প্রতিজ্ঞা করিয়াছি বলিয়া কাজে কাজেই সে দিন তােমার পিতাঠাকুরের নিকট মিথ্যা কহিয়াছি।—বিশেষ তো কোথায় গিয়াছ তাহার প্রত্যুত্তর তোমার পিতা নাদিতে পারায়, ওদের মনে আরও সন্দেহ স্বর্ণলতা নাটক। ৭১ হইতেছে; এখান হইতে কাশীপুরে যাইবার সময়ে তােমার পিতাঠাকুরকে না বলিয়া যাওয়া আমার বিবেচনায় অতিশয় অন্যায় হইয়াছে। সে যাহা- হউক এক্ষণে তুমি কি উপায় স্থির কর আমাকে তাহার সংবাদ 'অগ্রে পাঠাইবে। শ্যামা। এখন কি স্থির কল্লে ? এখানে ত এক রকম সব আয়ােজন করা গেছে। বিপি। বিবাহ ত কাল হয়ে যাক্, তার পর যা হয় করা যাবে। শ্যামা। না বাপু! তাহলে বড় গােল হবে, ব্যাটারা যেরূপ ভয়ানক খেপেছে, তাতে যে কি কাণ্ড করে তুলবে তাতে বলা যায় না। আমি বলি পাত্র সুদ সেখানে যাই চল, তার পর তাদের পায় হাতে ধরে যে রকমে পারি, একটু খানি মন নরম করে কাৰ্য্য সমাধা করা যাবে কি বল ? বিপি। তাদের পায় হাতে কে ধরবে ? এমন দুরাচারদের কাছে কি : কখন নিচু হতে আছে মশাই? তাহলে ওরা এবার সুদ্ধ হাতে মাতা কাটবে। আর বিশেষ মশাই ওদের ধরণ জানে না তাই এরকম বলছেন, পায় হাতে ধল্লেওকি ওরা আমাদের কথা শুনবে ? শ্যাম।। সেকি! ভদ্রলােকে বিশেষ যত্নকল্লে শুনবে না ? তাও- কি কখন হতে পারে ? আচ্ছ। তারা না শোনে আমাদের মনে যা আছে তাই করূবো। তবে কিনা তাহলে কাকের দিনটে যায় ; তা নাহয় এর পরেই যে দিন ভাল পাবাে সেই দিনেই হবে। বিপি। (চিন্তা) মশাই বলছেন, কাযেই আপনার কথা ত আর অবহেলা করা যায় না, কিন্তু আমি এখান থেকে বচি, কৃতকার্য হওয়া এখন বড় কঠিন হবে। শ্যামা। না হয় কিছু খরচ করা যাবে, তাহলেওকি আর হবে না? বিপি। আচ্ছা আপনি অগ্রে জানুন গিয়ে ; যে রকমে পারেন তাদের মত কৰুনগে, আমি ভাল খবর পেলেই অম্নি এখন থেকে বেরবো; আর যদি কিছু না কতে পারেন, তাহলে পাত্র শুদ্ধ আর সব পরির শুদ্ধ এখানে চলে আসবেন। তার পর যাহয় করা যাবে।
৭২ স্বর্ণলতা নাটক। শ্যামা। বেস্ কথা বলেছ বাবা! আমিই যাব, দেখ দেখি তাদের মত কতে পারি কি না ? বিপি। সকল দিককার অবস্থাত বিশেষরূপে জ্ঞাত আছেন; যদি মত কতে পারেন তাহলে বড় ভালই হয়। শ্যামা। আচ্ছা বাবা! তুমি ততক্ষণ একটা কাজ কর দেখি, সেই পাত্রীকে আর স্বর্ণকে তােয়ের করে রাখগে, আমি পা কী আনলে যেন আর দেরি না হয় । আর দেখ তােমাকে পত্র লিখলেই তুমি অনি এখান থেকে বেরােবে পথে বিলম্ব করে না। তবে আমি এখন পালকীর চেষ্টা করিগে। ( প্রস্থান) বিপিন। (চিন্তা) আমি চাৰুকে এখন কেমন করে এ সংবাদ দিব ? কাল বিবাহ হবে বলে কত আমােদ হচ্চিল, এখন দে চিত আবার বৃথা কাল- ক্ষেপ কত্তে হলো। প্রিয়সখাকে আজ এসংবাদ দিলে তিনি কি মনে করবেন ? মামার কাছে পত্র খানা গােপন কল্লেই হতো; আমার কেমন দুৰ্বদ্ধি হলো, মামার পরামর্শ জানতে গেলাম। উনি ও সেকেলে লােক কিনা! এসব বিষয়ে কি ওদের সাহস হয়? (চিন্তা) কার সাধ্য এ বিবাহ রক্ষা করে। একঘােরে হই সেও ভাল, তবু চাৰুর সঙ্গে স্বর্ণের বিবাহ দিয়ে পবিত্র প্রণয়ের দৃষ্টান্ত স্থা করে রাখবো; আর যাতে এরূপ প্রথা অনুসারে লােকে আপনার কন্যা এবং ভগ্নীর বিবাহ দেয়,তারও বিশেষ চেষ্টা করবো; তথাপি ও কৃতকার্য হতে পারবােনা ? (ঝিকে আহ্বান) ওঝি ! ঝি! একবার এখানে এসত। (নেপথ্যে) যাই। ঝির প্রবেশ । আমায় ডাকছিলেন কেন? বিপি। তুমি স্বর্ণকে তােয়ের হয়ে থাকতে বল গে, তাকে আর খানিক বাদে শান্তিপুরে যেতে হবে। ঝি। ওমা সেকি গাে : কাল দিদিমণির বিয়েহবে, তা আজ আবার শান্তিপুরে কি কত্তে যাবে ? বিপি। আগে বাবার মত হয়নি বলে এখানে বিয়ে দিতে এনে ঝি।
স্বর্ণলত নাটক। १७ ঝি। উচিত ? ছিলাম, এখন তাদের সকলের মত হয়েছে, সেখানেই বিয়ে হবে, মামীদেরও কাল মামার সঙ্গে যেতে হবে। তা এখানে সব এত জিমীস পত্র কেনা হলো, তা এখানেই বরং শান্তিপুর থেকে কেন তাদের আনতে পাঠাওনা ? বিপি। ওরে নারে না--আমি তাের কাছে অত জমাখরচ দিতে পারি না, যা বল্লাম তাই বাড়ীর ভিতর বগে। ঝি। যাচ্ছি বাবু! (যাইতে যাইতে স্বগত) এখনকার বাবুদের একটা কত। জিজ্ঞাসা কল্লে অম্নি ফস্ করে রেগেওঠেন। (প্রস্থান) বিপি। (স্বগত) অচ্ছ। মামা যদি ওদের মত না কতে পারেন তাহলে কিহবে ? তাহলে কি চার ও সঙ্গে যাওয়া (চিন্তা) না, চাকর আর গিয়ে কাযনাই। খবর পেলে বরঞ্চ এর পর সকলে যাওয়া যাবে। এখন গেলে যদি এখন গেলে যদি অমত হয়, তাহলে কিন্তু চার অত্যন্ত মনদুঃখ হবে। যাহে একবার তার কাছে যাওয়া যাক। আর মাকেও একটু বিশেষ করে বলে দিতে হবে, যেন অমত হলেই অমনি সকলকে নিয়ে এখানে আসেন। (প্রস্থান) স্বর্ণের পুনঃ প্রবেশ। স্বর্ণ । মামার বাড়ী থেকে অনেক বার শান্তিপুরে গিচি, কিন্তু কখনত আমার মন এত খারাপ হয়নি, শান্তিপুরে যেতে কিছুতেই মম সচেনা কেন ? বােধহচ্চে যেন কাশীপুরে আর আসতে হবেনা। ভাগ্যে যে কি আছে তা বিধাতাই জানেন। অাচ্ছা সকলের যদি মত হয়ে থাকে তবে দাদা এখন বাড়ীতে যাবেন না কেন ? দাদা কি আমাকে ফাঁকি দিয়ে বাড়ীতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ? তা যদি হয় তাহলে আমি কখন বাড়ীতে যাবনা। (চিন্তা) কি আশ্চর্য ! আমার মনত বড় খারাপ হয়েছে—যে দাদা আমার নিমিত্ত এত কষ্ট স্বীকার করেছেন আমি তার প্রতি অবিশ্বাস ক!ি প্রাণনাথ যাবেন কি ?-কিভ্রম ! তিনি না গেলে, আর কাল বিয়ে হবে কি করে ? (হাস্য)
৭৪
স্বর্ণলতা নাটক।
(নেপথ্যে) ও স্বর্ণ ! স্বর্ণ কোথায় গেল গা ?
বর্ণ। দাদা বুঝি ডাকচেন, এখন বােধ হয় যেতে হবে, তবে যাই।
প্রস্থান)
চতুথ অঙ্ক।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
হরিমােহন মুখােপাধ্যায়ের বাটী।
হরিমােহন এবং ভগবতীর প্রবেশ।
ভগব। তুমি যে সে দিন বল্লে আমার বিপিন আর স্বর্ণ আজকালের
মধ্যে আসবে, তা কৈ তারাত আজও এলােনা ?—আমাকে ভুলোবার জন্যে
কি তুমি অমন করে বলেছিলে ?
হরি। ব্রাহ্মণী! আমি কি তােমার কাছে নিছে বল্ চি? তাদের
খোজ, বার জন্যে এত জায়গায় লােক পাঠিয়েছি, তাকি সত্যি সত্যি কেউ
তাদের খুঁজে পাবে না।
আর আমায় গমন করে ফাঁকি দিতে হবে না। আহা! মা
আমার কোথায় আছেন, কত কষ্ট হচ্ছে। রােদন)
হরি। ব্রাহ্মণী চুপ কর, চুপ কর, কঁাদতে আছে কি ? কঁাদলে যে
সন্তানের অকল্যান হবে।
ও মা! তুমি এমন আবাগীর পেটে জন্মেছিলে, যে তােমাকে
আমার বলে এমন কেউ নেই। স্বর্ণ ! তােমার মনে কি এই ছিল মা।
(রােদন)
হরি। যখন আমি বচি, তখন তুমি আজকের দিনটা দেখ না কেন,
তারপর তােমাদের মনে যা আছে তাই করো।
ভগৰ। হায়! হায় ! বামনের ছেলে মেয়ে কোথায় গেছে, তবু যদি
ভগব ।
ভগব।
স্বর্ণলতা নাটক। ৭৫ এক দিনের তরে তাদের খুঁজতে গেলেন ! আর এমন ছেলেও দেখিনি, যেখানে যা, যেখানে থাকি, বাড়ীতে তার একটা খবর দিতে হয়। (রোদন) আহা! বাছাদের যে আমি খুঁজতে পেলুম না তাইতে আমার বড় দুঃখ হচ্চে। হরি। আঃ ! আমি কি খুনোখুনি হয়ে মরূবো না কি ? তােমাদের জ্বালায় আমাকে যে দেশান্তরি হতে হলে দেচি! উরি মেয়ে, উরি ছেলে, আর আমার যেন কেউ নয় ! আমি তাদের খ জচিনে! বারো ব্যাটাদের জন্যে বাড়ীর বাৱ হবার যাে নেই, আবার বাড়ীতে যদি তোম- রাও এমন করে জ্বালাতন করূবে তাহলে আর আমার প্রাণ বাঁচে না। বেগে একজন ঝির প্রবেশ। ঝি। মা ! দিদিঠাৰুণ আর বড় মামাবাবু এসেছেন। হরি। আঃ বাঁচলাম বাপু! আমি বছিলাম, বিশ্বাস হচ্ছিল না, এখন হলত ? ভগব। কৈ, কৈ, আমার স্বর্ণ কোতায়? মা আমার কোতয় ? ঝি। মা ! অত ব্যস্ত হয়াে না, আহা! দিদিঠাণ একে লজ্জায় বাড়ীর ভেতর আতে পাচ্ছে না, তাতে আবার তুমি অমন কল্লে আরো লজ্জা হবে। আমি সঙ্গে করে আনিগে। ভগব। ঝি ! তুই এ দুঃখের সময় যে সুখবর দিলি, তাতে তোকে যে কি দিয়ে অাশীৰ্ব্বাদ করূবে কিছুই খুঁজে পাচিনে! (ঝির প্রস্থান) হরি। এখন দেখ ব্যাটারা কি করে ;-দেখ ব্রাহ্মণী ! স্বর্ণ যেন এসব কথা কিছু না শুনে ;-এই যে মা আমার আচেন। স্বর্ণের এবং বির প্রবেশ। ভগব। এস মা এসো, (ক্রোড়ে লইয়া মুখচুম্বন) মা! এমনি করে কি আমায় ফেলে পালাতে হয়? মায়ের প্রাণ যে কতদূর চঞ্চল হয় তা বাছ। এরপর জাতে পারবে। রোদন)
স্বর্ণলতা নাটক।
!
হরি। মামার বাড়ী যাবার সময় বলে যেতে হয় মা ! দেখুদখি
তােদের জন্যে ব্রাহ্মণী কেঁদে কেঁদে সারা হয়েছে।
ঝি। হাগা দিদিঠাণ! দাদাবাবু এসেন নি ?
স্বর্ণ। দাদা মামার বাড়ীতে আছেন ।
হরি। বিপিন কবে আবে বলেচে ?
স্বর্ণ। আমি জানি না, বড় মামার সঙ্গে সব বলেচেন।
ভগব। ঝি! তুই একবার শ্যামাচরণকে বাড়ীর ভিতর ডেকে নেয়ায়না।
ঝি। তিনি যে এসেই অমনি ওপাড়ার রায়েদের বাড়ীতে গেছেন।
হরি। তবে বুঝি জ্ঞানেনের ওখানে গেচেন ? তিনি না এলে আর
কিছুই ভাল করে জানা যাচ্ছে না।
ঝি। (জনান্তিকে স্বর্ণের প্রতি) দিদিঠাণ! বর এসেছে?
স্বর্ণ। (লজ্জাবনতমুখী হইয়া স্বগত) তানাহলে কি আমি আসি !
ভগব। স্বর্ণ ? তােমার মামীর সব ভাল আছেন ত ? আহা ! নেক
দিন তাদের সঙ্গে দেখা হয়নি।
স্বর্ণ। তারা সকলে ভাল আছেন,—মেজমামী বাপের বাড়ী গেছেন।
মা! বড় মামীর কেমন সুন্দর একটা খােকা হয়েছে, আমায় দেখলে বড়
মামীর কোল থেকে অনি ঝাপিয়ে আস্ত ; বড় মামী হয়ত দাদার সঙ্গে
এখানে আসবেন ।
ভগব। স্বর্ণ ! নাইবে চল মা !! অনেক বেলা হয়েছে। নাইতে নাইতে
সেখানকার সব কথা শুনবাে এখন।
ঝি। মা ! তােমরা নেয়ে এসগে ততক্ষণ আমি রান্না বান্নার সব উজ্জ গ
করিগে;-আজ তিন চার দিনতো কত্তা বাবুর পেটে অন্ন যায়নি।
(প্রস্থান)
ভগব। আহা! রাত্তিরে পাল্কীতে ঘুম হয়নি বলে মার মুখ খানি
শুয়ে গেচে ! চল মা চল।
(স্বর্ণের হস্ত ধরিয়া প্রস্থান)
(নেপথ্যে শ্যামাচরণ) মুখুয্যেমশাই! একবার বাইরে আসুন, রায়
মশাই এসেছেন।
স্বর্ণলতা নাটক। ৭৭ হরি। তাঁদের বাড়ীর ভিতরে ডেকে আন, এখানে আর কেউ নেই। (নেপথ্যে) অাচ্ছা আমি তবে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি। হরি। যখন আমার বাড়ী পর্যন্ত এসেছেন, তখন মন্টা একটু নরম হয়েচেই হয়েছে। আর কোন গুণ থাক্ আর না থাক্ বিপদে পড়লে রায়- মশাই যেমন বুকদে এসে পড়েন, এমন আর কেউ করে না। বড় মানুষ মাত্রেরই একটা নয় একটা মহৎ গুণ থাকেই থাকে,—এই যে সকলে আস- চেন—(সসমে উঠিয়া) আস্ত আজ্ঞে হােক্। কৃপাসিন্ধু শ্যামাচরণ ও হরবিলাসের প্রবেশ এবং উপবেশন। হর। (স্বগত) এমন না কল্লে আজ কাল কোন ব্যাটাই জব্দ হয় না,দেখা যাবাবুকেত অনেক করে বলিচি, এখন কি হয়,বিয়েটা হলে কিন্তু বিল- ক্ষণ কিছু পাওয়া যায় (প্রকাশে) আপনার কন্যা না কি বাড়ীতে এসেছেন? হরি। হ্যা, এই যে শ্যামাচরণ ভায়া আজ তাকে কাশীপুর থেকে সঙ্গে করে এনেচেন। কৃপা। (স্বগত) হরিমােহন যেমন সেদিন আমাদের কথা শুনেনি আজ ওরে তেনি গােটাকতক্ কথা শুনিয়েদিই; কি বলবো শ্যামাচরণ 'এসেই গােল করেছে, তা না হলে আমি ওকে আচ্ছ। জব্দ করে ছেড়ে দিতাম। (প্রকাশে) দূষী মেয়েকে ঘরে জায়গা দিলে কি বলে ? হর। তাইত, উনি যা মনে করেন তাই করেন যে ! হরি। আপ্নারা রাগ করূবেন না, ঠিক বিচার করুন। আমার মেয়ে দূষী হলো কিসে ?—তার দাদার সঙ্গে মামার বাড়ীতে গিয়ে ছিলো বলে ? কি আশ্চর্য! আপনারা অমন কথা বলেন কি করে ? হর। হঁা দাদার সঙ্গে গিয়েছিলেন বৈকি ! এখন আর ঢালে চলেনা, চেরো যে আজও কাশীপুরে রয়েছে, তোমার বিপিন বাড়ীতে এলন। কেন ? সব খবর ত রাখ। হরি। আপনারা যদি এমন অবিচার করেন, তাহলে আর কারে কি বল্ববা ? • স্বর্ণলতা নাটক। ৭৮ বলুন। কৃপা। নাহে হর বাবু। এবিষয়ের মীমাংসা হবে না; চল আমরা বাড়ীতে যাই। (যাইতে অগ্রসর) শ্যাম। (করযােড়ে) সেকি মশাই! এতক্ষণ ধরে আপনাদের এত খােসামােদ কল্লাম, আর আপনারা একটা সামান্য কথায় রাগ করে সচ্ছন্দে উঠে চলেন ? কৃপা। কি করি বাপু! যার পাপ সে যদি না স্বীকার করে, তবে কি সে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয় ? তুমি যেমন খেপেছ, যারা কি হরিমােহনকে জানি না; আমাদের কথা যদি অাগে শুনতো তাহলে আজ তুমি এক দেশ থেকে আমাদের খোসামোদ কত্তে অাবে কেন ? ও আমাদেয় কথা শুন- বেনা,কেন বৃথা আর আমাদের কষ্ট দেও? শ্যামা। মশাই! আপনার ওঁর কথায় তত রাগ করবেন না। এখন সৎপরামর্শ কি তাই হরি। রায়মশাই! আনার পূৰ্ব্বপূৰুষেরা কত যত্ন করে আমাদের এখানে স্থাপিত করে গেছেন;—আজও তাদের ব্রহ্মত্বর ভােগ কচ্চি, অামরা আপনারি পরিবার, আমার ছেলের উপর রাগ করে কি আমার এই সর্বনাশ করা আপনার উচিত, আর নিতান্তই যদি পায় জায়গা না দেন তো বলুন, আমি না হয় সব বেচে কিনে অন্য গ্রামে যাই। (কৃপাসিন্ধুর হস্ত ধরিয়া) মশাই! আমার উপর রাগ করবেন না। শ্যামা। রায় মশাই! সশা মাত্তে, কামান পাবে না; আমরা অতি ক্ষুদ্র লোক, আমাদের শাসন কত্তে আপনার এত দূর করা উচিত হয় না ; মহাশয়ের কিঞ্চিৎ পূজা দিচ্চি। কৃপা। হ্যা—কিন্তু ব্যাপারটা কিছু শক্ত হয়ে উঠেছে,একথা যে শান্তিপুর ময় বেজে উঠেছে, এখনত তেমন কিছু উপায় দেখি না,আনাই যেন সকলকে বলে তােমাদের দলভুক্ত করে নিলাম। কিন্তু তার পর কি হবে ? হরি। আপনি অনুগ্রহ কল্লেই সব হবে ; শান্তিপুরের ভিতর আপনার কথা শুনবেনা এমন লোক তাে কৈ দেখতে পাচিনে। হর। রায়মশাই! অই যেন ওর সঙ্গে পূর্বের মত সকলই কল্লা, কিন্তু মেয়েটী বিয়ের কি করূবেন ?
হর। স্বর্ণলতা নাটক। ৭৯ কৃপা। সেইটার জন্যেই তো ভাবনা হচ্ছে। এ মেয়ে বিয়ে কত্তে কেউ স্বীকার হবে না, শ্যাম। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, তাতে তত ক্ষতি হবে না; আমরা চাৰুচন্দ্রের সঙ্গেই বিয়ে দেবো। কৃপা। তোমরা নেহাত খেপেছ, আজ জালাম যে তােমার তিন কড়ার ও বুদ্ধি নেই। যে সংশ্রবে থাকাতে তোমরা দূষী হচ্চো, আবার। সেই সংশ্রবেই যদি থাকবে, তাহলে আর তােমাদের দোষ যাবে কি করে ? তাতে তােমাদের কুলও থাকবে না, কিছুই নয়, আবার সেই একঘোরে হয়ে থাকতে হবে। দুই দেও আর পাঁচশই দেও, আমাকে দিলে—আমি হয় চাৰুর সঙ্গে বিয়ে দিতে বল্লেন, কিন্তু সকলে তা শুনবে কেন? ও নয় তােমরা একটী কায কর । শ্যাম।। কি কবে। মশাই বলুন? কৃপা। ও মেয়েটাকে তােমরা আমার ভাগ্নের সঙ্গে বিয়ে দেওগে; তাহলে আর কোন কথাই থাক্বে না। সে তোমাদের ঘরও বটে, আর আমার ভয়ে লােকে ও কিছু কত্তে পাবে না। তাতে যে মশই বাড়ী শুদ্ধ সকলের অমত, কি করে কি করি। কৃপা। তবে আর আমরা এতে কোন কত বন্তে চাই না; তােমরা যা জান তাই করগে ; অনেক ব্যালা হয়েছে এখন আমরা আসিগে। (উঠিতে উদ্যত) শ্যামা। না না মশাই। এর একটা সদুপায় না করে যেতে পাচ্ছেন । অর কি সদুপায় করবো ? আমরা বা বলবে তাতেত তােমা- দের মত হবে না ? শ্যামা। আমরা আপনাদের ২০০ টাকা দিচ্ছি, আপনারা একটু সু- গ্ৰহ কৰুণ, আমরা তাহলে চাৰুর সঙ্গে স্বর্ণের বিয়ে দিই; মশাই ! সকলের অমতে কোন কাজ কত্তে নেই। কৃপা। চলহে হর বাবু!-ব্যাটার বাড়ীতে ডেকে এনে তামাস জুড়ে হর।
স্বর্ণলতা নাটক
দেচে; আমরা কখন টাকা দেখিনি বটে? ভাল মাসের আর কাল নেই।
(উঠিয়া বেগে গমন)
হরি। (দৌড়িয়া কৃপাসিন্ধুর হস্ত ধরিয়া) মশাই! ক্ষমা কৰুণ ! আমরা
আর কখন এ কথা বলবাে না। আমাদের নষ্ট কল্লেই কি আপনার খুব .
গৌরব বাড়বে ?
শ্যামা। মশাই! বেলাটা অধিক হয়েছে, আমি আর খানিক পরে
আপনার ও খানে যাব ; এখন আপনার মান ভোজন কৰুণ গে।
হরি। আচ্ছা তাই ভাল। (হরবিলাস এবং কৃপাসিন্ধুর প্রস্থান)
শ্যামা। মুখুয্যেমশাই ! ব্যাটাদের কাণ্ড কারখানাত সব দেখলেন,
এখন কি করা যায় বলুন দেখি। ব্যাটার। বড় ভয়ানক কোট, ধরেচে !
হরি। বিপিন তােমাকে কি বলে দেছে ?
শ্যামা। বিপিন বলেচে, “আপনি যদি সকলের মত কত্তে পারেন
তবে আমাকে পত্র লিখবেন, আমি সবশুদ্ধ যাব”; আর যদি অমত
হয়, তাহলে আপনাদের সবশুদ্ধ কাশীপুরে নেযেতে বলেছে।
হরি। তবেইতাে, এখন কি করি? আমার বােধহয় এদের এরকম
রাগ বরাবর থাকবেনা।
শ্যামা। আপনি যা মনে কচেন তা নয়, রায়মশায়ের কথা না
শুনে অন্য রকম কল্লে ওদের আরও রাগ হবে ; আর তাহলে চিরকাল
একঘেরে হয়ে থাকতে হবে।
হরি। তবেকি ওদের কথায় মতদেব ? কিন্তু তাহলেওত ভারি
গোল।
শ্যামা। না গােল আর কি ! মেয়েদের মতামত শুনতেগেলে তো
কোন কাজই হয় না ; তবে কিনা বিপিনের অমত্, তা সেত আর
নিতান্ত অবুজনয়। মুখুয্যেমশাই! বিনা দোযে চিরকাল একঘরে হয়ে
থাকবার চেয়ে মরণ ভাল। আপনি যা বলছেন তার কি আমি
বুঝিনে? কিন্তু কি করি বলুন।
হরি। (চিন্তা) তবে বিপিনকে এখানে আনাও, হলধরের সঙ্গেই
বিয়ে হােক্।
স্বর্ণলতা নাটক। শ্যামা। না না না ! তাকে এখন খবর দেওয়া হবে না, তাহলে আর কি সে এ বিয়ে দিতে দেবে? বিয়ে হয়ে গেলে তারে খবর পাঠায়ে এখানে এনে বেস করে বুঝিয়ে শান্ত করা যাবে; হাজার হােক সে লেখা পড়া শিখেচে কি না। হরি। তবে এক কৰ্ম্ম কর, কাল বিয়ে হােয়ে যাক্, তানাহলে যদি সে এসে পড়ে তাহলে ভারি গোল হবে। শ্যাম। আচ্ছা তাই ভাল, কিন্তু আপনাকে একটী কায কত্তে হবে। বাড়ীর ভিতর আপ্নাকে মিছে কথা বলতে হবে, আপনি সকলকেই বস্- বেন কাল চাৰুচন্দ্রের সঙ্গে স্বর্ণের বিয়ে হবে। তা না হলে কিছুতেই কিছু কতে পারবে না; তারপর হয়ে গেলে সকলকে ভাল করে বােঝান যাবে; বােঝেন ভালই, আর যদি না বােঝেন তাহলেতো আর বিয়ে ফিরােতে পারবেন না ? হরি। আচ্ছা তাই না হয় ববব, কিন্তু ভাই আমারতাে কিছুতেই মন সঙ্গে না। শ্যামা। তানাহলে কি করুবেন ? এখনতাে আর উপায় নাই, আর আমরাওত সাধ করে দিচ্চিনে—বিপদে পড়িছি তা কি করি? বিপিন বড় বােকামি করেছে। তা সে যাহােক, গত বিষয় নিয়ে আর আন্দোলন কবার দরকার নেই, তবে এখন আমি একবার রায় মশাইকে খবর দিইগে। (প্রস্থান) হরি। দেল্লাম ধৰ্ম্ম একেবারে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন, আজকাল অধ- ৰ্ম্মেরই প্রতাপ বেশী। আজ জালাম যে আমাদের নিতান্ত পোড়া কপাল। (প্রস্থান) ইতি চতুর্থাঙ্ক। ১১ ৮২ স্বর্ণলতা নাটক। পঞ্চম অঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক। হরবিলাস চট্টোপাধ্যায়ের অন্তঃপুর। কুমুদিনী অসীম। কুমু। মেয়ে মানষের কুপতির মত বিড়ম্বনা আর কিছুই নাই। অা জ্বলে মলুম। পূৰ্ব্ব জন্মে কত পাপ করেছিলুম তাই এমন স্বোয়া- মীর হাতে পড়িচি যে একদিনের জন্যেও সুখী হলাম না। (চিন্তা) দূর হােগে ছাই, এখন আর মিছেমিছে ভেবে কি কবে, আমার কপালে যাছিল তাই ঘটেচে, আর সকলের মিছে দোষ দিই কেন ? বাবা যদি আগে জানতেন যে তার কুমেদ এত দুঃখ পাবে, তাহলে কি তিনি কখন এমন কায কত্তেন! (চিস্তা) নতুন বােয়েরই বা কি পােড়। কপাল ! আহা! মেয়ে তো নয় যেন লক্ষীঠাকৃণের ছবিখানি! কিন্তু এ বাড়ীতে এসে পৰ্যন্ত এত কঁাচে কেন ?—ঝি দুটি এত বুজুচ্চে, তবু এক দওের জন্যেও কান্না থামচে না। (চিন্তা) ইনি আগেত এমন ছিলেন না,—প্রায় ঘরে থাকতেন, তৰেলেখা পড়ার দিকেও মন ছিল, এখন একেবারে অমন হলেন কি করে ? অতলো সব্বনেশেই তার দফা খেয়েচে, একেবারে মদে রাঁড়ে চুচ্ছরে করে তুলেছে। ইরির মধ্যেই এক এক করেত দান সামগ্রী গুলো সব বেচে ফেলেন। (নেপথ্যে হলধর) ও দিনে! ও-ও দিনে! একবার দোরটা খােলতােবা! (গণ) “বিদ্যেলো তাের এনব যৌবন বৃথা যায় অকারণ ”—সুন্দর ব্যাটাকি তৈয়ের লােক, -আচ্ছা মজা করেচে বা ! -আম্। ব্যাটারা কোন কাজের নই কি দিমু! তাল দিচ্চো বা ! আচ্ছা বেস্ বে হাজার হক, চাকরটা কার ? কুমু। এই বুঝি অচেন,-দেখাষা ভাব গতিকটে কি, কোন দিকে যান। (অন্তরালে অবস্থিতি) !
স্বর্ণলতা নাটক।
৮৩
গাণ করিতে করিতে হলধরের প্রবেশ।
হল। দিমু। এদিকে আয়।
তমাক লইয়া দিনুর প্রবেশ।
হল। তুই ব্যাটা কেমন তাল দিতে পারিস, কৈ দেদিকি।
দিমু। বাবু ! রাত ঢের হয়েটে আপনি শুকো বাড়ীতে আছেন।
হল। বাড়ীতে আছেন তা কি হয়েছে ? আমিত আর মাতাল হইনি
যে তাঁকে দেখে ভয় কত্তে হবে—তুই তাল দে। (হলধরের গাণ ও
দিনের তাল দেওন)
নেপথ্যে) ও দিনে।
দিমু। বাবু! কৰ্ত্তা ডাচেন। আমি আসিগে। (হলধরের গাঁট হইতে
পতিত টাকা গােপনে লইয়া প্রস্থান)
হল। (কোমরে হস্ত দিয়া টাকা অন্বেষণ) আচ্ছা কুচপরয়া নেই।
(স্বর্ণের ঘরের দরজা ঠেলিতে ঠেলিতে) ওরে—ওরে, দরজা খোল,-কৈ
খুলিনে? শীঘ্র খােল, শীঘ্র খােল,দ্যাখ মার খেলে দেচি,-দরজা
খুবিত খােল, না হলে এক লাথিতে দোর ভেঙ্গে ফেল্বে; (দ্বারে পদা-
ঘাত) এখনও দোর খুল্লেনা দেখ !—তাের অদেষ্টে আজ ঢের আচে। কৈ
খুল্লিনে? আমি বাইরে চেঁচিয়ে মচ্চি, আর উনি ঘরের ভেতর মজা
কচ্চেন। তােমার কোন বাপের ঘরে শুয়ে আছ ? এ দিকে বাইরে যে
তােমার আর এক বাবা চেঁচিয়ে মচ্ছে, তা বুজি শুনতে পান? (সজোরে
দ্বারে পদাঘাত) আঃ শালারা এমন দরজাও করে ছিল, এত লাতি মাচ্চি
তবু ভাঙ্গে না! (স্বর্ণের দ্বার মােচন এবং প্রবেশ) আঁা কেও নতুন বৌ! আমি
মনে করে ছিলাম এটা বড় বােয়ের ঘর ;-আচ্ছা তা তােমারই বা বিবেচনা
কি ? এত ডাচি তবু খবর নেই !!
স্বর্ণ। (মোন)
হল। নবাবের বেটী বুঝি আর উঠতে পাল্লেন না; মুটে মজুর কে
ডাচে গ্রহই নাই।
স্বর্ণ। আপনি এমন অন্যায় গালাগালি দেন কি করে ?
!
৮৪ স্বর্ণলতা নাটক। হল। হারামজাদি ! যত বড় মুখ ততবড় কথা! আমার সঙ্গে চোপা ! তুই জানিনা, তােকে কেউ বিয়ে করেনি বলে তোর বাপ আমার পায় ধয়ে নেগিল। ভাল মাষির কাল নেই বটে?-আমি ভাল মানষি করে বেরিয়ে যাওয়া মেয়ে বিয়ে করে তাের বাপের জাত রক্ষা করেচি, আর তুই আমার সঙ্গে চোপা করিস্ ?—পাজিবেটী, নচ্ছার বেটী, এখনই আমার বাড়ী থেকে দূরহ,—আমি তাের মুখ দর্শন কত্তে চাইনা,আমার প্রতি হতশ্ৰষ্কা!—আবার অভিমান হলো বুঝি ? কান্না হচ্চে ঐযে ! দেখ, আমি ৰাপের কুপুত্তর, অমন করে কাঁদবি যদি ত এখনি তার মত করবো। স্বর্ণ। মাগো ! শেষদশাতে আমার কপালে এই হলো ! (রােদন) হল। তবু, তবু, আমার কথা শুনলিনে? আজ এক ঘুসিতে তোকে যমের বাড়ী পাঠাব। (কেশকর্ষণপূর্বক প্রহার) বেগে কুমুদিনীর প্রবেশ। কুমু। হাঁ, হাঁ কিকর কিকর (হলধরের হস্ত ধরিয়া) ছি ওযে ছেলে মানুষ, ওরকি জ্ঞান আছে? ছেড়ে দেও ছেড়ে দেও । হল। কেশগুচ্ছ ছাড়িয়া) আরে না, আমি বেস জানি ওদের বংশটাই ভারি জ্যাটা, আমিত তখনি বলে ছিলাম অমন জ্যাটার বংশ বাড়ীতে এনােনা। স্বর্ণ। (চক্ষে অঞ্চল দিয়া বােদন) কুমু। দেখ দেখি, আহা! ছেলে মানুষ কত কঁচে! তােমার মনে কি একটু দয়া নেই? চল এখন ঘরে চল—আমারই সব দোষ হয়েছে। আমি মনে কল্লাম লাজ ফুলশয্যার রাত্তির, আমার আর যেগে বসে থাকা ভাল দেখায় না। হল। আচ্ছা আজ থাক, কাল আমি ওকে অাচ্ছা করে সায়েস্তা বাে। তার পর ফুলশয্যা কবাে; আজ রাত্তির অনেক হয়েছে, আজ আর না (হলধয় এবং কুমুদিনীর প্রস্থান) স্বর্ণ। গােদনান্তে) বিধাতা কি আভাগিনীকে চিরদুঃখিনী কবার জন্য সৃজন করেছেন ! বিনাকলঙ্কেও আমাকে কলঙ্কিনী হতে হলো! স্ত্রীলোকের D স্বর্ণলতা নাটক। ৮৫ সতীত্বই একমাত্র প্রধান রত্ন, দুরাচার গ্রামবাসীরা কিরূপে অনায়াসে বলেচে, আমি সে রত্নও জলাঞ্জলি দিচি। ওঃ আবার এরাও আমাকে কলঙ্কিনী বলে ঘৃণা করেন ! আমার জীবনে ধিক্ (রােদন) এ অপবাদ যেন ভীষনমূর্তী ধারণ করে আমাকে সহস্ৰমুখে গ্রাসকত্তে আছে। এরূপ কলঙ্কিনী হয়ে জীবন ধারনের ফল কি? (চিন্তা) আশা! তুমি আমাকে অবলা পেয়ে আর কত প্রতারনা কবে-পরজন্মে প্রাণকান্তকে পাব, সে কথা আর তুমি আমায় বলনা, আমি তােমায় ভালরূপে চিনেচি। বিধাতঃ! চক্ষের জলে হৃদয়াসন ধেত করাই কি আমার সার হলো! একদিনের জন্যেও প্রাণনাথকে বসাতে পাল্লেম না ! প্রণয়কুসুমহার প্রাণনাথের গলদেশে দিব বলিয়া আমার মনে বড় সাধছিল, হায় ! সে সাধেও এখন বিষাদ ঘটলো ! আহা ! আমি নিজে কষ্ট পাই, তাতে তত ক্ষতি নাই, কিন্তু আমার জন্যে প্রাণনাথের নির্মল মনে কত কষ্ট হচে--আঃ সে কথা মনেহলে আর একদণ্ডের জন্যেও প্রাণধারন কত্তে ইচ্ছা হয় না। (রোদন) প্রাণনাথ ! একবার এখানে এসে দেখ, তােমার প্রিয়ার কি ভয়ানক অবস্থা ঘটেছে ? আহা! ফুল- শয্যার দিনেই আমার শরশয্যা হলাে! মা! এ অভাগা কন্যাকে কেন গর্ভে ধারন করেছিলে ? আহা! আমার জন্যেই কেঁদে কেঁদে সারহলেন। মামা! আপনার চরণে আমি কি অপরাধ করেছি যে আপনি আমার সহিত প্রতারনা করে আমাকে চিরকালের জন্য দুঃখসাগরে নিমগ্ন কল্লেন ! আহা! শুভদৃষ্টির সময় কি ভায়ানক বিষদৃষ্টিই করেছি। আমাকে বালিকা পেয়ে পিতা পর্যন্তও আমার সহিত প্রতারণা কল্লেন !! দাদা যদি অগ্রে কিছু জান্তে পাতেন, তাহলে কি আমার এরূপ দুরাবস্থা ঘটতে! আমার কপাল যদি ভাল হতাে তাহলে দাদা সেদিন অবশ্যই বাড়ীতে আসতেন। হায় ! হায় ! আমাদের দেশের রমনীগণের কি ভায়ানক দুরাবস্থা, এ জগতে আমাদের আমার বলে এরূপ কেহই নাই। বিধাতা যে আমাদিগের প্রতি কেন এতপ্রতিকুল তার কিছুই কারণ বলা যায়না। (চিন্তা) এখন নিশ্চয় বুজলাম বিধি অভাগিণীর পক্ষে নিতান্তই প্রতিকূল হয়েছেন,—এজীবন আমার পক্ষে বিড়ম্বনা ; স্বর্ণলতা নাটক। মাত্র হয়েছে। আমাকে সত্য সত্যই পরম পবিত্র সতীত্ব রত্নে জলাঞ্জলি দিতে হবে । মনসাধে হৃদয়ধনে পতীত্বে বরণ করে পরপুরুষের মুখ দেখাই অনুচিত। আমি কিরূপে পরপুরুষকে আপনার বলে মনে করূবব; আমিত সকল রত্নেই বঞ্চিত হয়েছি, এখন কিকরে আবার পরম দুর্লভ , সতীত্বরত্নেও বঞ্চিত হব !-না-না না, আমি তা কখনই পারুয়ােনা। এক্ষণে মৃত্যুই আমার পক্ষে শ্রেয়। মৃত্যু! তুমিও কি আভাগিনীকে স্পর্শ কত্তে ঘৃণা কচ্চো ?-না-না- না, এখন তুমি তামাকে সহায়তা না কল্লে আর আমার উপায় নাই। ( চিন্তা) কিন্তু কিরূপেইবা তােমার নিকট যাই, বিবাহের পরথেকেই ঝি দুবেটী যেন আমাকে কয়েদির মত সৰ্ব্বদা চোকি দিচ্ছে ; তাদের হাত ছড়িয়েত কোন কৰ্ম্মই হবার যা নেই! তা নাহলে আমি কবে এ পাপ জীবনের শেষ কত্তাম ! ( চিন্তা) বিষ পানকরাই সফলকার অপেক্ষা সহজ উপায়। কিন্তু বিষ কোথায় পাব, আমায় কে এনেদেবে? বিধাতা অভাগিনীকে এরূপ হতভাগিনী করেছেন যে প্রাণত্যাগ করবে তাতেও আমার সহায়তা করে এমন কেহই নাই। (রােদন ) শুনিচি অফিনে আর তেলে একত্র কম্লে বিষ হয়। (চিতা) অফিনই বা কোথা পাব ? কিন্তু বাবাত আফিন খান। তবে তাহাই ভাল, সেই খানেই যাই ; মৃত্যুকালে তাদের পাদপদ্ম দর্শন কল্লেও আমার পরকালের কাজ হবে। ( চিন্তা) কিকরেই বা যাই, রজনী প্রায় দুই প্রহর হয়েছে। (আকাশের দিকে অবলােকন পূৰ্ব্বক) উঃ কি ভয়ানক অন্ধকার ! আপনার হাত আপনি দেখা যাচ্ছেন। কিন্তু এখানে থাকতেত আর সাহস হয়না, যেরূপ ভয়ানক রেগেছে, আবার যদি আসে, তাহলে নিশ্চয়ই আমাকে ভয়ানক কষ্ট দেৰে। ( যাইতে অগ্রসর ) ( চিন্ত।) এখন না হয় থাক্, ভােরের সময় যাব। কিন্তু এ রাত্রি- তেই বা থাকি কোথায় ? ঘরেগিয়ে শােব কি? তাই ভাল,আবার বদি আসে ? নাহয় মেরে ফেলবে, যে রকমেই হােক আমার মৃত্যুই নিশ্চয়। (প্রস্থান) স্বর্ণলতা নাটক। ৮৭ পঞ্চম অঙ্ক। গর্ভাঙ্ক। দ্বিতীয় চারুচন্দ্রের পড়িবার ঘর চারুচন্দ্র আসীন। চাৰু। “শূন্য মধুনা জীর্ণারণ্যং জগৎ, অসারসংসারঃকষ্ট প্রায়ং শরী- রমে অশরােহম্মি, কিং করােমি কাগতিঃ” প্রেমময়ি ! তুমি কিরূপে আমাকে এতাদৃশ ভীষণ অরণ্য মধ্যে নিক্ষেপ কল্লে ! জীবিতেশ্বরি। আমি এ মহারণ্য হইতে কি কখন সুলভ নির্গমন পথ পাব ? (রােদন) “0 god ! 0 god ! How weary stale flat and unprofitable Seem to ine all the uses of this world" (শয়ন ও দীর্ঘনিশ্বাস) ওঃ! “এত আশা ভালবাসা সকলিত ফুরাল’’– (মৌন)। প্রিয়ে ! তুমি নিতান্তই কঠিন হৃদয়, প্রেমবজ্রমুষ্টিতে এই যে আমি তােমার হস্ত ধরে ছিলাম, তুমি কিরূপে পলায়ন করিলে ! (চিন্তা) অথ বা আমি তােমাকে তার কিরূপে প্রিয় বলিতে পারি ? তুমি এক্ষণে অন্য পক্ষীকে হৃদয়—পিঞ্জরে আবদ্ধ করিয়া সুখে কালাতিপাত করিতেছ। প্রিয়তমে ! আমাকে অকূল সমুদ্রে ভাসাইবার জন্যই কি তুমি জন্মগ্রহণ #55 1561 ! But soft, she comes ! she is come ! thy hand, Love ! প্রাণেশ্বরি! আমাকে এতাদৃশ অবস্থাতে ফেলিয়া যাওয়া তােমার ভাল হয় নাই। ও কি ! আমার উপর বিরক্ত হলে ?আমার কিছুই দোষ নাই। ওকি কথা কওনা যে ?-তুমি কথা না কহিলে আমি কিরূপে প্রাণ ধারণ করিতে পারি ? “Life itself goes out at thy displeasure” ও কি যাও যে? কোথায় যাও?তবে আমাকে এরূপ দর্শন দিবার কারণ কি ? (বহু প্রসারণপূর্বক ধরিবার চেষ্টা) -"My wife ! My wife ! What wife ? --I have no wife O insuportable ! O heavy hour !!!
স্বর্ণলতা নাটক সত্য সত্যই আমাকে পরিত্যাগ কল্লে ? কি আশ্চর্য! আজ আমার কথাতে যে কর্ণপাতও কঙ্গোনা?-না-না-না যেওনা,আমার কথা শুনবে না ?-ওকি কঁাচ যে ? কিছু অনিষ্ট হয়েছে ? কি হয়েছে বলনা? আমি আর ও কান্নায় ভুলি না। “If that the earth could team with woman'stears Each drop she falls would prove a crocodile” আর আমার কাছে কেন? আমি ও কান্নায় ভুলি না-You are false to me-একি! আমি যে সত্য সত্যই ক্ষিপ্ত হইয়াছি! হা তাতঃ! হা মাতঃ ! তােমরা দুইটি মূল্যবান হীরক হারাইলে! যে হীরকের প্রভাবে তােমাদিগের গৃহ তিমিরাচ্ছন্ন থাকিলেও আলােকে পরীপূর্ণ হইত! আমিও অপহৃত হইয়াছি, জীবমালিকার প্রধান হীরক হারাইয়াছি। (চিন্তা) -“0 now, for ever Farewell the tranquil mind farewell content" তােমাদিগের প্রিয়দর্শন পাইবার আর আশা করিনা! (মৌন এবং সহাস্যে) প্রিয়ে ! তুমি আবার এত সত্বর প্রত্যাগমন কল্লে যে ?—তা ভালই হয়েচে-তােমার মুহূর্ত কালের অনাগমনকে আমার সহস্র শতাব্দীবৎ বােধ হচ্ছিল -সেকি! আবার যাওযে? নানা যেওনা যেওনা শুনলে —তবু পালাচ্চো-পালালে-পালালে ? অয়ি! মুগ্ধে ! আমি তােমাকে কখনই পালাইতে দিব না (হস্ত বিস্তারপূর্বক দ্বার-দেশে গমন এবং জ্ঞানেনকে ধরিয়া) এখন পালাও-কৈ পালালে না?কেমন পালাচ্চিলে যে? জ্ঞানেনের প্রবেশ। জ্ঞান। কৈ আমি কখন পালাচ্ছিলাম ভাই ?-আমিত, “এই মাত্র এলাম। চাৰু। এই এলে বটে কিন্তু আবার এই পালাচ্ছিলে (উচ্চ হাসা), জ্ঞান। ছেড়ে দেও ভাই! চাৰু বড়লেগেছে! অঃ গেলাম; গেলাম, (জানেনকে ছাড়িয়) আঁ আঁতুমি! হা প্রিয়ে চা সুদর্শনে (মূচ্ছা) স্বর্ণলতা নাটক। জ্ঞান। আঁ। একি হলো! চাৰু মূচ্ছিত হলো না কি ! ওঝি! ওঝি! ওরে শীঘ্র করে একটু জল নেয়ায়ত। (মুখের নিকট মুখ দিয়া) চাৰু! চাক! আর চাৰু! আহা! কি ভয়ানক পরিবর্তন ! দুদিন পূৰ্ব্বে চাৰুকে দেখে কে মনে করেছিল যে চার আজ এরূপ অবস্থা ঘটবে! আহা! আগ্নেয়গিরি •একেবারে প্রবল বেগে জ্বলে উঠেছে। এক্ষণে এ অগ্নিতে যে কতশত মনােহর বস্তু ভষ্মীভূত হবে তা কে বলতে পারে !! জল লইয়া বেগে চাকরাণীর প্রবেশ। চাক। এই নেও-ওমা একি হয়েছে! দাদাবাবু অমন করে পড়ে কেন ? (ব্যস্তসমস্ত হইয়া পাখার বাতাস করণ) জ্ঞান। (চাকর মুখে জল দিয়া) চাৰু! চাৰু! প্রিয়সখা!-সে কি! এখনও যে নিশ্বাস পড়চে না! চাৰু বাবু! চাৰু বাবু!—রােদন)। চাৰু। ওমা সেকি গাে ! দাদাবাবুর মুখ যে কেমন শাকৰর্ণ হয়ে গেল! ওমা একি হলো ! জ্ঞান। হায়! হায়! এ আবার কি সর্বনাশ! এখনও যে চেতনা হচেনা ! প্রিয় সখা ! আমাদের আর্তনাদে আজ তােমার এতদূর বধির হওয়া উচিত হয় না। “But ha ! life wanders up and down" (577 নয়নােন্মীলন) এখন শরীরটা কেমন হচ্ছে ভাই? (কষ্টে অশ্রু সম্বরণ) চাৰু। আঁা কেও জ্ঞানেম! তুমি কখন এলে ভাই ? তােমার চকে জঙ্গকেন ? কলে নাকি Fপন ভাই! তুমি যে কচ্ছিলে, দেখে শুনে আমাদের বুদ্ধি শুদ্ধি সবলোপ পেয়ে গিছলো, সে যাহােক এখন তো আর শরীরের ভিতর কিছু কচচ না: চাৰু। ' কেন ভাই! আমি কি কচ্ছিলাম। জ্ঞান। তুমি যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলে।—ঝি তুমি বাড়ীর ভিতর যাও; আর দেখ,কারে কিছু বলল না। (চাকরাণীর প্রস্থান) চাৰু। আমার কিছুই হয় নাই—এই যে আমি এখনও বেঁচে আছি। ১২ স্বর্ণলতা নাটক। দগ্ধ প্রাণ! তুমি কি আমার কঠিন দেহ থেকে নির্গমনের পথ পাচ্ছে না? জানেন! ভাই! তুমিও এসময়ে আমার প্রতিকূল হলে! আমি অজ্ঞান অবস্থায় ছিলাম, ভালই ছিলাম ; এই সন্তাপ ভােগের নিমিত্তই কি তুমি আমায় সচেতন কল্লে ? হায় রে কপাল! প্রিয়ে ! তুমি কি আমাকে বালুকাময় প্রান্তরে পিপাসিত পথিক পাইলে, যে বারম্বার মরীচিকার ন্যায় । প্রতারিত কচ্চো-রোদন) জান। "Heavens ! would one think 't were possible for love To make such a ravage in a noble sou!” ছি ভাই! কেঁদনা, চুপ কর,কেঁদে কি করূবে ভাই! সমস্তই জগদী- শ্বরের নির্বন্ধ। যে যার জন্যে জমেছে সে অবশ্যই তার হবে; কেঁদে কি তুমি বিয়ে ফিরেবে ? “ Senates have been bought for gold', Esteam and love are never to be sold" তুমিত আর অবুজ নও-সকলি জানত-ভেবে ভেবে কেবল আপনার শরীরটাই মাটি হবে বৈত নয়। এখন ভােল্বার চেষ্টা কর । চাৰু। ভাই! অন্তর হতে যে অন্তর হয় না; জ্ঞান। (স্বগত) " I see sir you are eaten up with passion” (প্রকাশে) ভাই! ভােলবার চেষ্টা কর, সংসারের এমন অপূৰ্ব্ব গতিনয়, তুমি অবশ্যই কৃতকার্য হবে। চাৰু। জ্ঞানেন! তুমি কি বচ ? আমি কি নিতান্ত অজ্ঞান, সে তুমি আমাকে বুঝাচ্চো ! নদী যদি এক দিকে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়, তাহলে কি সে স্রোত আর কোন উপায়ে ফিরান যায় ? জ্ঞান। তা সত্য বটে, কিন্তু ভাই! যদি সেদিকে চড়া পড়ে তাহলে অবশ্যই অশ্বদিকে যাবে। ঈশ্বরের নিয়ম কি কথন লঘন হবে ? চাক। দেখ ভাই! যখন সমস্ত জগৎ আমার শূন্যময় বােধ হচ্চে, আর যে দিকে দৃষ্টিপাত কচ্চি, সেই দিকেই বিষাদের দুরী জুরী কারণ দেখতে পাচ্ছি, তখন এ সংসার থেকে আমার বিদায় হওয়াই শ্রেয়। দেখ ভাই! অামার নিমিত্ত বিপিনের মনে কি ভয়ানক কষ্ট হচ্চে, প্রিয়- স্বর্ণলতা নাটক। সখা আমার সমাজে মুখ দেখাতে পাচ্ছে না, আহা! আমার জন্যে দেশ ছাড়া হয়ে কোথায় রয়েছে। আহা ! প্রিয়তমার মনে কত কষ্ট হচ্ছে, কন্টক বৃক্ষে জড়াইয়া কি বেঁচে আছে। রােদন) জ্ঞান। (আপনার ৰুমাল বিমা চার চক্ষু মুছাইয়া) তা কি করবে ভাই! সমস্তই অদৃষ্টাধীন। চা। (সক্রোধে) অমিত ভাই বিদায় হলাম, এখন একবার দেখি দুরাচার নরপিশাচ ব্যাটারা কিরূপে অামাদের নির্মল চরিত্রে এমন ভয়ানক দোষা- রােপ করে ?--আমি এ দুর্দান্ত দস্যু ব্যাটাদের উচিত দণ্ড বিধান করবো। জ্ঞান। অমন কাজ কি কত্তে আছে ?-তাহলে যে লােকে তােমাকে চিরকাল নিন্দা কবে,-তা নিন্দার ভাজন হওয়া কি উচিত ? চাৰু। ও: কি ভয়ানক ব্যাপার! জ্ঞানেন। আমার আশা ছেড়ে দেও ভাই!-আমার মন অত্যন্ত খারাপ হয়েছে, কিছুই ভাল লাগছে না, হা প্রিয়ে।How can I live without thee ? how forego thy sweet converse?” (রােদন) জ্ঞান। তুমি যে দেচি কিছুতেই প্রবোধ মাচ না ! ভাই! সেদিকে আদপে মন দিও না; যতই ভাববে ততই খারাপ হবে। চাৰু। জানেন তুমি আমাকে থামতে বচো—কিন্তু ঐ দেখ আমার প্রাণেশ্বরী ভুবন আলো করে আসছেন একবার রূপটি ভাল করে দেখ.. দেখি, and blame if you, can এসনা প্রিয়ে! জ্ঞানেন আমার পরম বন্ধু, ত। ওর সুমকে আমার কাছে আসতে লজ্জা কি ?-কার সাধ্য আমাদের পরিণয় বন্ধ করে? এমন ক্ষমতা কার হবে ?—এস প্রিয়ে ! তুমি এখানে এসওকি কথা শুন না যে? আমি চিরকাল তােমার কথা শুনিচি, আর তুমি আমার কথা শুনবে না ?-বড় লজ্জা কচ্চে?—আমি যখন বচি তখন আর লজ্জা কি ?-আঁ-আঁ, যাও যে ? এবার তুমি যতদূর যাবে, আমি ততদূর যাব, আমি তােমাকে ধরূবেই ধরূৰে। একটা ঘরে চাবি দিয়ে রাখব,-দেখি দেখি তুমি কেমন করে পালাও ? তবু শুনলে না ? পালালে-পালালে-আজ আমি তােমাকে ধরবো। বেগে প্রস্থান) স্বর্ণলতা নাটক। ! জান। হায়! হায়! কি সর্বনাশ! চাৰু যে একেবারে ক্ষিপ্ত হয়েছে। দেখি আবার এখন কোন দিকে গেল - (প্রস্থান) পঞ্চম অঙ্ক। তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। হরিমােহন মুখােপাধ্যায়ের অন্তঃপুর। স্বর্ণ আসীনা। স্বর্ণ। (সরোদনে) এই অভাগিনীর জন্যেই এমন সোনার সংসার ছারখার হয়ে যাচ্ছে; বাড়ী যেন যমপুরী বােধহচ্চে। আহা! আমার জন্যেই দাদা দেশত্যাগী হয়ে রয়েছেন! কাশীপুর থেকে তিনি যে কোথায় গেছেন তা কেউ বলতে পারেনা। দাদা তােমার দোষ কি ?—আমার কপালে যা ছিল তাই ঘটেছে। মা আমার কেঁদে কেঁদে মৃতপ্রায় হয়েছেন, বিশেষ গত রাত্রের ঘটনা শুনে তার শােকসাগর একেবারে উথলে উঠেছে। তার বাবার আশা আর বড় অধিক দিন করা যায়না। বাবা এই সকল দেখচেন আর দিবানিশি বসে ভাবছেন। (চিন্তা) মৃত্যু! আর কেন ? আমায় নেওনা, বিষপানত অনেকক্ষণ করিচি;-কৈ এখনত কিছুই হলো না! বিধাতঃ এইবারে আমি তােমায় ফাকি দিলাম, তুমি আর আমাকে কাঁদাতে পাবেনা, এইবারে নিশ্চয়ই আমার দুঃখের অবসান হবে। (চিতা) ওমা! মাথা কেমন করেযে ;-তবে বুজি আর অধিক বিলম্ব নাই, আহা! মরণটাও মনের মত হলোনা! (রােদন) মৃত্যুকালে কার সঙ্গে দেখা হলােনা ! দাদা! তােমার এত সাধের স্বর্ণের জীবন অস্তমিত হয়, একবার এসে দেখ, আহা! জন্মজন্মান্তরে যেন তােমার মত সহােদর পাই! চা- চন্দ্র! এ অভাগিনীর জীবন কুমুদিনী মুদিত হয়, এসময়ে জামায় একবার দেখাদেও। প্রাণনাথ! মরণকালে তােমার সঙ্গে দেখা হলোনা, এইটি মনে
স্বর্ণলতা নাটক।
মনে বড় দুঃখ রৈল !! ওমা! বুকফেটে যায়যে, আর যে বসতে পারি না।
(শয়ন) নয়ন মুদ্রিত করে একবার সেই মুখ কমল এ জন্মের মত দেখেনিই।
(নয়ন মুদ্রিত) আহা! কি দেখলাম ! শুষ্কপ্রায় কমলেও কেমন অপূৰ্ব্ব
শ্ৰীধারণ করেছে ! প্রাণনাথ ! তােমার বামপার্শ্বে অত অগ্নি জ্বচে কেন ?
ওকি দেশাচার কুপ্রথা অগ্নি ?—আমি নয়ন বারিতে ও অগ্নি নিৰ্বান
কবো, তাতেও যদি না হয় তবে জীবন আহুতি দিব, তাহলেও কি
নিৰ্বান হবে না? আহ! সব অন্ধকার ময় দেচি! যা-ই-ইমা !
একজন দাসী ও মাধবীর প্রবেশ।
মাধ। কিলাে ঠাকুর—ওমা ! একি ! ঠাকুরঝি অমন কচ্চে কেন!
—সেকি মুখদিয়ে গাজা উটচে যে!
স্বর্ণ । ( মৃদুস্বরে) বৌ-এসেচ ? আমি—জন্মের—মত—বিদায় হলাম।
আমাকে-মনে রেখ। অভাগিনীর—মাকে—যত্নকটে। দাদা-বাড়ীতে
এলে—তাকে বুঝিয়ে বলো,--যেন--আমার-জন্য-আর-দু:খ-না
করেন। ঝি! একবার-মাকে—ডানা-মরণ-সময়-আ-আমার-মা
মাথায়—পায়ের ধূলি—দিন। যা-ই-ইমা !
মাধ। (রোদন) ঠাকুরঝি ! তােরমনে কি এইছিল ? হায়! হায়!
কথায় যা বলেছিলে কাজেও তাই কল্লে ! ঝি! মাকে শীঘ্ৰকরে ডেকে
নেয়ায়।
(ঝির প্রস্থান)
স্বর্ণ। (অপরিস্ফুট স্বরে) মা—আ! মা-অ! য—য়া-ই-ও-ও
(মৃত্যু।)
মাধ। ওমা! একি সর্বনাশ হলাে ! আহা! আর বুঝি নেই! ওমা
স্বর্ণ আমাদের ছেড়ে চল্লো গো !! (নােদন)
বেগে একজন দাসী ও ভগবতীর প্রবেশ ।
ভগব। আঁ——কৈ—কৈ ? (স্বর্ণকে দেখিয়া) কি মা আমার
নেই। ও-ও (মূচ্ছ।)
৯৪ স্বর্ণলতা নাটক। মাধ। ওমা! এ আবার কি সর্বনাশ হলো ! ওঝি দেখ দেখ মা অমন করে পড়লেন কেন ? (রোদন) আহা! আম্রা একেবারে পথের কাঙ্গালিনী হলাম। মাও বুঝি আমাদের ছেড়ে চল্লেন !! দাসী । (ভগবতীর ( ভগবতীর মুখে জল দিয়া) মা! ও মা!রোদন ) যৌঠাণ! আর কি দেবে! মা কি আর আচে ! মা আমাদের ছেড়ে গেছেন। হায়! হায়! কি সর্বনাশ ! মাধ। ওমা! তুমি আমাদের কি দোষে পরিত্যাগ কল্লে ! -রোদন) আহা! এমন সময় তিনি বাড়ীতে নেই, মৃত্যুকালে মায়ের মুখে একটু জল দিতে পেলেন। আহা! এমন গুণের শাশুড়ী কি কারো হবে ! স্বর্ণ! তাের জন্যে একেবারে আমাদের যথা সৰ্বস্ব গেল! হায় ! হায় । বেগে হরিমহােনের প্রবেশ। হরি। কি হয়েছে? কি হয়েছে? ভয় নাই! ভয় নাই !-ওকি ব্রাহ্মণী অমন করে পড়ে কেন ?—স্বর্ণ-কোথায় ? দাসী। আর কি ববে। বাবা! দিদি-ঠাকুৰুণ তোমার মনে এইছিল । হায়! হায়! সকলি ফুরাল !! হরি। (রোদন করিতে করিতে স্বর্ণের বিছানার নিকট গমন পূৰ্ব্বক) আহাহা! এ সর্বনাশ কি করে হলো ? আমি তখনি বলেছিলাম—আমি একঘেরে হয়ে থাকি সেও ভাল—আহাহা! শ্যামাচরণের কথা শুনে অামার কেন এমন দুৰ্ম্মতি হলো ?–মা। আমাকে কি দোষে পরিত্যাগ কল্লে ? মা ! অামি অার কিনিয়ে এ পাপ সংসারে থাকবো। চলমা আমিও তোমার সঙ্গে যাই-এ পাপ জীবনে আর প্রয়োজন নাই। ব্রাক্ষ্মণী-তুমিই ধন্য, তুমি মায়ের সঙ্গে একত্রে অছি। এ বৃদ্ধ বয়সে আমায় ফেলে তুমি কি করেগেলে ? অাহাহা! এমন সৰ্ব্বনাশ কি কার কখন হয়েছে ? আহাহা ! আমি যদি বিপিনের কথা শুতাম, তাহলে কি আর আজ আমার এ সর্বনাশ হতো। (রোদন ) শ্যামাচরণের প্রবেশ। শ্যামা। কি সর্বনাশ ! হায়! হায় । একবারে সব ফুরাল! (নােদন)
স্বর্ণলতা নাটক।
হরি। ভাই! তােমার কথা শুনে আমার এ সর্বনাশ হলো ! হায় !
হায়! কেনবা তােমার কথা শুনেছিলাম ! আহাহা বিপিন আমার কোথায়
আছে! এই একটা বিয়েতেই এমন সােণার সংসার ছারখার হয়েগেল !
মা আমার কিছু অপরাধ গ্রহণ করেন, আমিই তােমাকে মেরেফেলেচি।
ব্রাহ্মণী আমাকে ক্ষমাকর--আমিও তোমাদের পশ্চাতে চলাম !
(বেগে প্রস্থান।)
শ্যামা। হায়! হায়! এ আবার কি সর্বনাশ ! বুড়ো ব্রাহ্মণ খেপলে।
নাকি? দেখিগে আবার কোথায় গেলেন।
(সকলের প্রস্থান)
যবনিকাপতন।
”
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.