Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Nil Sobujer Praner Dolay

Chakraborty,abanimohan · 2009/11/29

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়।
শ্রীঅবনীমােহন চক্রবর্তী।
উপেন্দ্রমােহন চক্রবর্তী
কুমিল্লা, ত্রিপুরা।
দশ মানা।

২৫নং রায়বাগান স্ট্রীটস্থ ইকনমিক প্রেস হইতে শ্ৰীমনােহর সরকার কর্তৃক মুদ্রিত।

পাঁচু, আকাশ-ঢাকা বিশাল উৎসব প্রাঙ্গণের অফুরন্ত আন- খেলার সহজ ছন্দে গাঁথা তাের-ই প্রাণের মতাে নধর ভরপুর যে প্রাণ লক্ষ ভঙ্গিমায় লীলায়িত হয়ে উঠেছে তা তাের খেলার মাঝে এনে তাের-ই সাথী করে রাখলুম।

No text on this page.

নিবেন।
ভারতবষ, নারায়ণ, মানসী, প্রতিভা, প্রাচী এবং মানসী
ও মর্মবাণী প্রভৃতি মাসিকে এই কবিতাগুচ্ছের কয়েকটা
পূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল, অবশিষ্ট কবিতাগুলাে নূতন।
বিচ্ছিন্ন অবয়বগুলােকে গেঁথে অখণ্ড স্বরূপে সাজিয়ে তুলেছি
এ কাব্যে।
১লা ভাদ্র, ১৩৩৪ সন,
ঈশ্বর-পাঠশালা, কুমিল্লা।

No text on this page.

ভূমিকা। সহকৰ্মী সহধর্মী ও সহমর্শী হিসাবে পুস্তকখানির একটা “পরিচয়িকা () লিখিবার জন্য অনুরুদ্ধ হইয়াছি। কবিতাগুলি পড়িতে পড়িতে মনে হইল যেন একখানি উপলকরময় মুক্ত পল্লীপ্রান্তরের উপর দিয়া নিৰ্ম্মল বায়ু সেবন করিতে করিতে চলিয়াছি—যে প্রান্তরখানি তাহার অন্তরের গভীর ও নিবিড় প্রাণরসে সতেজ পাতাম নবদূর্বাদলে ভরিয়া আছে—মাঝে মাঝে গতৃণের ফুল ফুটিয়া মৌমাছিকে আমন্ত্রণ করিতেছে। প্রকৃতির নবনব লীলা বৈচিত্র্যে কোন নবীন কবির হৃদয়কে এমন অবাধ উল্লাসে আত্মহারা হইতে দেখি নাই। পুষ্পময়ী প্রকৃতির পানশালায় মদিরা পানে কবির যে উন্মাদনা, তাহা সর্বত্রই কোথাও সুলগ্ন কোথাও বা অসংলগ্ন ভাবে,-অভিব্যক্ত হইয়াছে—তাহাতে অবশ্য কিছু কিছু অসংযম আছে। সীধুবিলাসী নবীন কুতূহলী মাত্রেরই প্রথম প্রথম সে দশা ঘটে। সংযমের মুশৃঙ্খলা লাভ করিলে ভবিষ্যতে এই প্রাণশক্তি ও উন্মাদনা যে একদিন কলাশিল্পের ক্ষেত্রে জয়শ্রী লাভ করিবে-words-worth ও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব যে কবির চিত্তে ব্যর্থ হইবে না—তাহার পূর্বসূচনা এ কাব্যখানিতে যথেষ্টই আছে। ইতি বরিশা হাইস্কুল, ঐকালিদাস রায় ২৪ পরগণা

No text on this page.

সূচী। পৃষ্ঠা r ••• ৩০ ... | ০ ০ ০ ••• ••• ০ ১০। ••• বিষয় প্রকৃতির কোলে ধরার বাঁধন পথের তৃ আমার ধরা উৎসব আনন্দমেলা আনন্দের শিশু প্রাণের উৎস ছােট্ট পাখীটি ফুল-ফোটা প্রকৃতির ডাক ক্যাপার আহ্বান বাঁধনহারা সহজের পথে হাসিয়ে নে ... ••• ০০ ০ ••• ••• ০ ০ ০ ••• ••• ১ ••• ১৯ ••• • ••• ২১ ••• ২২. ০ ০ ০ যনের ক্ষ্যাপা প্রাণের ফাঁস ••• ২৪ ০ ০ ••• ••• ••• বিষয় পৃষ্ঠা ••• ফাগুনে ... ৫০ ••• ••• ••• ০ ০ ০ ৩৪ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ••• ••• ••• ৪০ মধুমাস ফুল-ফাগুনে দোল মউল-ডালে ঘুমের রাণী প্রকৃতির থােকা ভূণের মায়া কাব্য-রাণী খুকীর বাঁধা ঘরখানি প্রেমের সৃষ্টি স্বরূপ-হারা জীবনবেদ জ্ঞানের গর্ব প্রকৃতির গঠন বিশ্ব-স্বর্গ গাঙের কূলে মহতের আকিঞ্চন, ৪১ ০ ০ ০ ४२ ০ ০ ৪৩ * * * ওg ০ ০ ০ ৪৫ ০ ০ ০ ••• ৪৭ ••• ••• ৪৯ ••• •••

চারদিকেতে কোন্ যাদু যে জাল বুনে মাের চোখে,
একটী পাতা উঠতে দুলে বিশ্ব নামে বুকে।
ধরার সনে আমার যে যােগ—চিরদিনের যােগ,
মধুর হয়ে উঠছে গাে তা’র গভীর উপভােগ।

No text on this page.

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়।
প্রকৃতির কোলে।
বান্ ডেকেছে প্রাণ-দরিয়ায়
ঢেউ জেগেছে রঙ বেরঙে,
বাঁধন-হারা পাগল যে গাে
ক্ষ্যাপছে হিয়ায় হাজার ঢঙে।
চলছি ওগাে তা-ধি-ধিন্‌
উঠছি নেচে বিশ্ব ভরে,
লােফালুফি খেলছি খেলা
আপনা নিয়ে শূন্য পরে।
ঢং করে যাই ফুলের কাছে
গাল রাখি তার গালের’ পরি,
কোমল হাতে বুকটী ঢাকি,
নেয় বা পবন শূন্য করি।
কখন কুহু কণ্ঠে তুলে
দেই কোকিলে দেই গাে ফাঁকি,
চুমকুড়ি দেই বুলেরে
চারদিকে সে চায় চমকি।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রকৃতির কোনে
পলাশ-খােবায় মেখলা পরি
কৃষ্ণচূড়া মাথায় গুজি,
রঙন-রাঙ্গা লতার মালা
দোলাই গলে-ফাগুন সাজি।
নৃত্য-দোদুল বইতে সমীর
হঠাৎ তারে লইগাে টেনে,
বাহুর পাশে বুকের মাঝে
পাজর-ভরা আলিঙ্গনে।
জোছনা ধারায় পাখনা-পরা
পরাণ যে মাের চকোর-পাখী,
সব সােনা তার কুড়িয়ে এনে
বুকের নীড়ে জমিয়ে রাখি।
বেশ আছি গাে আপন-তালে
যেমন খুসী যখন মনে,
ধরার ধূলি উড়িয়ে পায়ে
চলছি ধেয়ে প্রাণের গানে।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রকৃতির কোলে
বিশ্বে বাঁধা দোনা চড়ে
এমনি সুখে দেই গাে দোলা,
চাই না ফিরে কিছুর পানে,
মনের ঢঙে ঝুলন বুলা।
নাতে আমায় বলছে কি গাে
থামতে আমায় বল্‌ছে কেন?
থামাই যদি হইবে রীতি
দোলনা কি আর বাঁধতে হেন ?
নাচবাে নাকো বছাে কি এ ?
গাইতে মােরে করছে মানা ?
খাটিয়ে কেন রাখলো তবে
চাদ তারকার দোয়াখানা ?
রূপ-গানেতে জন্ম প্রাণের
ধরার স্বরূপ নিংড়িয়ে যে,
নইলে কি আর এমন করে
থাকত বাহির আঁকড়িয়ে সে?
হাজার ধনে পূর্ণ যে ঘর
যুক্তিতে তাের ভাসিয়ে গেলাে,
নিত্য যাহা দৈন্য-ভরা
ঘর কিনা সে-ই সত্য হলাে।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রকৃতির কোলে
যেমন খুসী বকে-ই না কো
যতই কর রঙ্গ-হাসি
পার্বাে না ভাই পাবাে না তাে
প্রাণের গলায় টাতে ফাঁসী
তােমরা ভালাে না-ইবা বাসস
দুঃখ আমার নেই কিছু তায়,
ভালােবাসার নিঝর ঢেলে
সােনার ধরা আমায় যে চায়।
চাই না কারাে মুখের পানে
বাসবে কিনা বাসবে ভালাে,
নীল-সবুজের নিঙড়িয়ে বুক
সবখানি মাের অঙ্গে ঢালাে।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
ধরার বাধন
ধরার বাঁধন।
জনম জনম হেথায় যেন
আমার ছিল বাস,
এই আকাশে
এই বাতাসে
মিলিয়ে আছে আমার ইতিহাস।
এই ধূলােতেই রাশি রাশি
হাজার যুগের কান্না-হাসি-
আমার বুকের সকল রঙের গান,
এই ধরণী তাইতে বুঝি
আকুল করে প্রাণ।
চাদিকেতে হাজার আঁখি
আপন করে চায়,
কোল বাড়ায়ে হাজার বাহু
আমায় ডাকে আয়।
বিশ্বজোড়া জানিয়ে কি যে
মধুর পরিচয়,
বিলিয়ে দেয় গাে সবার মাঝে
আমায় জগৎময়।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
পথের তৃণ
পথের তৃণ।
ওই যে ছােট পথের তৃণ
ধূলায় পড়ে পায়ের নীচে,
ভাবিছ তারে বড়ই হীন
রইছে বলেই রইছে বেঁচে।
যতই তারে ভাবিছ খাটো,
অধম যতই লও গাে মানি’,
হােক সে ধরায় সবার ছোেটা
চিত্ত যে তার বিশ্বখানি।
ফুল
যে ফোটে ভােরের বনে,
নয়কো বনে,-তাহার বুকে ।
গানটী নাচে তারই প্রাণে
গাইতে পাখী মনের সুখে।
নিত্য ধরার রূপের গাঙে
যেই হাসি আর আনন্দ-গান,
সব হাসি-রূপ-গানের রঙে
রঙিন যে ওর সকল প্রাণ।
সমীর ভরা নাছনা তার
ভাসায় গাে যেই হর্ষ-সুখ,
ক্ষুদ্রের সেই আনন্দ-ভার
ধবে না তাে আমার বুক।

আমার ধরা
নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
আমার
ধরা।
আমার ধরায় নাই কি বল ?
গগন ভরা মধুর হাসি,
কানন ভরা নধর খুসী,
সাগর মাঝে কোলাকুলি,
শ্যামল মাঠে গলাগলি,
হর্ষে গানে গন্ধে মদির
মরম-তুল।
নীলাকাশের নিবিড় স্নেহে,
মুগ্ধ তটের বাহুর মােহে,
বুকে আমায় বাঁধতে দে রে
আমার সােনার জগতেরে,
স্বর্গ তােদের চাই না আমি
তিলে পল।
যে ঘুম ভরা পাখীর তানে,
লুকিয়ে যে ঘুম নদীর গানে,
যে ঘুম ফুলের হাসির তলে,
পাতার নাচে যে ঘুম গলে,
সে ঘুম এসে আমায় ভেঙ্গে
করুক জল।
৭

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
উৎসব
উৎসব।
চলছে দিবা
আকাশ-ঢাকা বিরাট ঘরে
উৎসবেরই উৎস ঝরে।
হর্ষ-খেলার মাতামাতি
চলছে
রাতি।
আনন্দে চঁাদ প্রাণ উছলি’
চারদিকেতে পড়ছে গলি’ ।
ঢেউ-শিশুরা সাঁঝ-সকালে
নাছছে হাতের তালির তালে।
ছাপিয়ে আকুল পত্রগুলি
তরুর পুলক উঠছে দুলি।
শূন্যে উধাও বিহগ ছুটে,
হর্ষে গানে জগৎ লুটে।
হাজার প্রাণে দুকূল ছেপে
একটী নদী উঠছে কেঁপে ।
ওই যে ছােট ফুলটী দুলে
দিয়েছে পাখা সেও তত খুলে,
দিয়েছে সাড়া সবার সুরে,
লইছে লুটে বক্ষ পূরে।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
হায়রে শুধুই মানুষ মেতে
উঠলােনা এই উৎসবেতে।
এমন যে গাে আনন্দ-গান
এ কেমন গাে ছোঁয়নি পরাণ ।
স্বার্থ-ভােগের অট্টরােলে
উৎসবেরে ডুবায় তলে।
হিংসা-দ্বেষে সােনার ধরা
নরক করে গড়ছে ওরা।
পূর্ণ যদি এমনি বিষে,
মানুষ তবে শ্রেষ্ঠ কিসে?
‘বড়’র বিচার পরের হাতে
থাকলে মানুষ হাতে তাতে।
চিরদিনই মানব হেন
থাকবে কি গাে অন্ধ-হীন।
মালে মানুষ এ উৎসবে
কেমন ধরা হইত তবে।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
আনন্দমেলা
আনন্দ-মেলা।
রঙিন কালাে সুনীল সাজে
আকুল খেলায় মেঘ
আকাশ-ভরা ছােটে,
বিড়ােল দেহ পাগল-পারা
আবেগ-ভরা বুকে
এ-ওর গায়ে লেটে।
••
নিম্নে মাঠে হর্ষ-চপল
শস্য-শিশুর নাচ,
গলাগলির মেলা
ঠিক্‌রে হাসি হাততালিতে
নদীর কোলে নেচে
ঢেউরা করে খেলা
মাঝখানেতে ছড়িয়ে দিয়ে
ভঙ্গী-ভাঙ্গা পাখা
উধাও-ছুটা পাখী,
অসীম ভরে নাছনা-গানে
শূন্য প্রসারখানি
আনন্দে দেয় মাখি।
১০

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
আন-মেলা
এমনি নিতি আনন্দ-ঢেউ
হর্ষ-সুখের মেলা
বিশ্ব ভুবন জুড়ে,
চোখ তুলে যে যখন চাহে
অমনি পাখা মেলে
আনন্দে সে উড়ে।
১১

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
আনন্দের শিশু
আনন্দের শিশু।
নিতেছ অসীম ভরিয়া
বিশ্ব-মাধুরী হরিয়া
পাগল অনিল ওরে,
ছুটিয়া টুটিয়া পড়েছ লােটিয়া
নিবিড় বাহুর ডােরে,
পাগল অনিল ওরে ।
পাখীরা গাহে যা’ গগনে,
ফুলে যে সুরভি গােপনে,
সকলি নিতেছ হরি’,
করুণ করেছ বুকটী তােমার
গন্ধ ও গান ভরি,
সকলি নিতেছ হরি।
রঙিনে শ্যামলে কোমলে
বুলালে পরশ বুলালে
কি মধুর মাখামাখি,
ডুবি জোছনা-রূপের সাগরে
লাবণি লইছ মাখি’,
কি মধুর মাখামাখি।
W

নীলসবুজের প্রাণের দোলায় আনন্দের শিশু ভ্রমর-চকোর সহজে লুটিতে নিপুণ এত যে তেমন পারে নি তারা, যেমন লুটিয়া ভরেছ হৃদয় ওরে ও পাগল-পারা তেমন পারে নি তারা। সােহাগে বিভােল ঢলিয়া বাঁশরী সুরেতে গলিয়া খেলা শুধু আর খেলা, কেবলি বাঁধন কেবলি হরণ- মধুর-মিলন-মেলা ; খেলা শুধু আর খেলা। ১৩

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রাণের উৎস
প্রাণের উৎস।
অবয়বে-ই আছে মানুষ
নেই কো কিছু আর,
কুড়িয়ে শেষে পরাণ সে পায়
বিশ্ব থেকে তার।
ধতে পারে যেটু হিয়া
ঝরূছে বুকের’ পরি,
তাই দিয়ে সে অলক্ষিতে
উঠছে গড়ি গড়ি।
গলছে আলাের বুকের ঝােরা
সােনার ঝরণায়,
গড়িয়ে পড়ে সােহাগ-রসে
বাতাস বন-ছায়।
ছুঁড়ছে আবীর রঙিন সুরে
পাখীর ভরা বুক
জ্বাল্‌ছে হাসির মােতির বাতি
ফুলের রাজা মুখ।
রূপ-রস-গান-আলােয় মিলে
যে রং উঠে গড়ি
পূর্ণ সে হয় সে রং দেহে
যে লয় পূর্ণ করি।
১৪

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
ছােট পাখীটি
ছােট্ট পাখীটি
গাইছে নেচে বকুল-ঝােপে
কোমল তানে
ছােট্ট পাখীটি-
স্বপন-ছবিটি।
বকুল-বুকে মাতন ধরেছে,
ঝর ঝর ঝর কুসুম ঝরেছে।
কি উৎসব আজ পাখীর প্রাণে
নৃত্য-বিভল মত্ত গানে,
বিশ্ব ভুবন-বক্ষ-ভরা
তার সে নাচনটি,
ছােট্ট পাখীটি।
জগৎ-জোড়া কি সুর তুলেছে,
নৃত্যেতে তার নিখিল দুলেছে,
সকল ধরার বক্ষ থেকে
লইতে তারে হিয়ায় মেখে
বাহু আমার অসীম পানে
যায় যে গাে ছুটি
ছােট্ট পাখীটি।
২

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
ফুল ফোটা
ফুল-ফোটা।
অচল হয়ে দাড়িয়ে আছে তরু,
ভাবছে তাহার নেইকো বুঝি প্রাণ,
বুকের মাঝে নেইকো কোনাে গান,
নীরস সে যে বড়,
চিত্ত-বিহীন জড়।
ওগাে
ভুল করােনা তারে,
বক্ষ তারা ভাঙ্গছে প্রাণের ভারে ;
সকল সুরে প্রাণ দিয়েছে যােগ,
সে-ও তাে সবি
করছে
উপভোেগ।
এই যে সমীর বাঁধছে এসে বুকে,
অঙ্গে লােটে জোছনা হাসি মুখে,
সব আলিঙ্গন স্পর্শ-হাসি
বক্ষ-ভরা রাশি রাশি
জমিয়ে হিয়ার কূলে
নধর তারি পুলক ব্যথা
মুক অচল ওই তরু
ফুটায় ফুলে ফুলে।
১৬

নীলসবুজের প্রাণের দোয়
প্রকৃতির ডাক
প্রকৃতির ডাক।
আগল ভাঙ্গিয়া পাগল চলেছে ছুটি,
বৃথাই তােমরা বাঁধিতে এসেছ জুটি।
সমীরণ তারে কত কহে কত ছাঁদে,
জড়িয়া বেড়িয়া কেবলি বুকেতে বাঁধে।
হাসির আদরে আলাে চেয়ে তার পানে,
পরাণ ছিড়িয়া কেবলি বাহিরে টানে।
মরিয়া হইয়া ছুটিয়াছে তাই আজ,
পারিবেনা কেউ রাখিতে মিছার মাঝ।
চারিদিকে যা’র পড়েছে ছুটীর সাড়া,
কে রাখিবে তায় বন্ধ করিয়া কারা ?
ক্ষ্যাপা সে যে আলাে-বাতাসের ধন ওরে,
কেমনে রাখিবি ঘরের বাঁধন-ডােরে ?
৭

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
ক্ষ্যাপার আহ্বান
ক্ষ্যাপার আহ্বান।
আয় ক্ষ্যাপা আয় খাপছাড়া
প্রাণ-রাঙ্গা,
বাঁধ-ভাঙ্গা,
আয় সঁচা আয় ভুল-ভরা।
চল্ ছুটে,
চল লুটে,
চল্ টুটে চল্ বাঁধ কারা।
লাফ তুলি
ক কেলি,
তােল নেচে তােল জামরা।
ঢাল হাসি,
ধ বাঁশী-
ভর গানে ভর সব ধরা।
পড় ঢলে
বান ঢেলে
দে ঢেলে দে প্রাণ-ধারা।
১৮

নীলসবুজের প্রাণের দোলায় বাঁধন-হারা বাঁধন-হারা। দখিণ হাওয়ার মতাে চলার বেগে আয় চলে আয় মাতন-ভরা, ওরে বাঁধন-হারা। বুলিয়ে দে তাের জীয়ন-কাঠি ফাগুন-গড়া। ফিনফিনিয়ে আগুন আজি সােণর রঙে সকল ধরায় আকাশ ভরা উঠুক ছেয়ে, ফুলের মেলায় গন্ধ-বিধুর হাজার কোকিল উচু গেয়ে। খেয়ালে তাের আয় খেয়ালী, আয়রে সহজ আয়রে ভােলা, আয়রে অমিল, প্রাণের পাখায় আয়রে দুরন্ত ; নাচনে তাের নাচুক মরা, তুড়ীর ঘায়ে উড়ুক জরা হিয়ায় হিয়ায় জ্বলুক ফাগুন- লাগুক বসন্ত।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
সহজের পথে
সহজের পথে।
সহজ পথে চলা-
সেথায়ই যে রে সত্য শ্রেয়
সুন্দরেরি মেলা।
{
দেয়না বলে যা তােরে কেউ,
আপনি বুকে তােলে রে ঢেউ,
সহজের সে লীলার মাঝে ভাসিয়ে দে ভেলা।
পরাণ যা’ চায় সেইতাে পরম,
সহজ ফেলে কোথায় ধরম ?
আপন যাহা আপনি আসে, করিসূনেরে হেলা।
পথকে ডেকে চলতে হবে
মিথ্যা এমন নেইকো ভবে,
পথের ডাকেই চলে যে তাের সত্য হবে চলা।
চল উড়ে চল্ পাখীর মত,
ছােটনা যেন নদীর স্রোত,
প্রাণের পথে পাগল হয়ে জমিয়ে তাে খেলা।
২০

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
হালিয়ে নে
হাসিয়ে
নে।
হাসিয়ে নে রে হাসিয়ে নে,
হাঃহাঃহাঃহাঃ হাসিয়ে নে,
দেখিসনি কি জগৎ জোড়া
ঝছে হাসির পাগলা-ঝােরা,-
দিয়েছে এ মুখ হাসির তরেই গড়িয়ে রে,
রাখিস্ কেন কান্না-বিষে জড়িয়ে রে।
হাসিয়ে নে রে হাসিয়ে নে,
ধাবিয়ে দে দুখ, দাবিয়ে দে।
হাছে কানন হাসছে তরু,
সলিলাকাশ হাস্ছে চারু,
নিনে জীবন ভুল করে তুই সরিয়ে রে,
হাসির মেলায় দে হাসি তাের ছড়িয়ে রে।
২১

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
মনের ক্ষ্যাপ
মনের ক্ষ্যাপা।
;
আজকে মনের কুঞ্জবনে
ফুল-ফোটা, তার সরুল কোণে,
কোন্ ক্ষ্যাপা গাে হেলায় ফেলায়
উঠলে মেতে ছেলেখেলায়
যােগ দিতে যায় ঢেউয়ের দোলে
নৃত্য-পাগল সাগর-কোলে।
পাপড়ি সাথে ভাব করে সে
থাতে যায় গাে পাপড়ি পাশে।
চাঁদ-তারকা দু’হাত ভরে
চায় সে ছিড়ে কণ্ঠে পরে।
আলােয় মেলে রঙিন পাখা
প্রজাপতির ছন্দমাখা।
ঝরা ফুলের শয্যা’পরে
পথের’পরে গড়িয়ে পড়ে।
পাখীর গানের ঝর্ণা-তলে
তাল-বেতালে নাচে ঢলে।
স্নান করে সে চঁাদ-জোছনায়
রঙিয়ে ওঠে সােনায় সােনায়।
২২

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
মনের ক্ষ্যাপা
সমীর সাথে পড়ছে ঝরে
রূপের ধরা বক্ষে ধরে।
এমনি যে গাে আজ বসুধা
পাত্র ভরা সাধূলাে সুধা,
কণ্ঠে আকুল তৃষ্ণা লেগে
পাগল আমার উঠলাে জেগে।
বিশ্বেরে সে তৃষার সুখে
করুতে চায় পান এক চুমুকে
२७

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রাণের কঁাস
প্রাণের ফাস।
সাগর-বুকে
;
গােপন হয়ে সবার বুকে যেই কথাটি রয়
পরাণ চাহে ঝমলিয়ে উঠতে ভুবনময়
ঢেউয়ের মতাে বন্ধ-বাঁধন-হারা
পাখীর মতাে চায় মন পেতে আকাশ-মাঝে ছাড়া।
হাওয়ার মতাে ধরার মাঝে লুটতে চাহে প্রাণ
বক্ষে লয়ে ঝিঝিরানাে লক্ষ পাতার গান।
মনুষ্যত্বের মিথ্যা দোহাই আছে নেমে পথে,
সভ্যতা যে চলতে তা’রে দেয় না কোনাে মতে।
লােকাচারের মিথ্যা-মাঝে ছটফটে সে মরে,
বেদন ঢেকে কণ্ঠে যে গাে তবু সে ফাঁস পরে।
এমনি ভুলে খােসার মাঝে জীবন অবসান,
হায় রে মানুষ। মানুষ যে তাের আর পেলাে না স্থান
২৪

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
অর জয়
অশ্রুর জন্ম।
অজ্ঞাতে প্রাণ থাকতত ফুটে
অঝাের হাসি পড়তাে লুটে,
ফুটার সুখে ফুটতে শুধু,
কোষে কোষে জমতে মধু।
বুদ্ধি দিলাে যখন সাড়া
তুচ্ছ করে ফুলের ধারা,
পথ ভুলে নিজ-পথে হাঁটা
পায়ে পায়ে ফুটায় কাঁটা ;
নাম্লাে চোখে অশ্রু আসি,
নিলাে মুখে মধুর হাসি।
২৫

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
বসন্তে।
নামলাে ওগাে
নাম্লাে ধরায়
বসন্ত যে আজ,
ধরায় কোথা ?
রূপ মেলেছে
মাের প্রাণেরি মাঝ ।
প্রজাপতির
লক্ষ ডানা
দেখছে না মাের এই,
ঢেউ দিয়ে যে
চলছি উড়ে
আনন্দে ধেই ধেই।
টলটলে মাের
পাপড়ি তৈরি
নিঙড়ে সকল ফুল,
লাগতে বায়ুর
সােহাগ-ছোঁয়া
অমনি নাচন-দুল।
কোকিল-কুহু।
হাঃহাঃহাঃ-
তার কোথা সে সুর
২৬

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
বয়তে
মনের বাঁশী
বাজছে আমার
যেই সুরে ভরপূর ?
লাখ ভ্রমরের
তৃষ্ণা জ্বেলে
গড়লে কে মাের বুক।
আজকে ধরার
সব লুটে মৌ
ধরূছে না মাের সুখ।
সালাতে মাের
পারূবে কেরে
পাগল প্রাণের ভােড় ?
খেয়াল-খেলায়
ভরাট হিয়া
প্রেম-পুলকে ভাের।
বিশ্ব আমার
আমিই ধরার,
নাইকো বাধা নাই,
নিখিল ধরায়
আজকে পাতা
মাের সিংহাসন ভাই।
२१

নীলসবুজের প্রাণের দোলায় কানে ফাগুনে। এলাে প্রেম- রাজা, সাজা প্রাণ সা—জা। তরুটীরে নাড়াে, ঝুনাে পাতা ঝডাে। সবুজেরি আলাে, তারি মাঝে জ্বালাে। খােলাে মুখে হাসি, খােললা বুকে বাঁশী । মেলাে হেন আঁখি, বাঁধে রাঙ্গা রাখী। চলাে ছুঁয়ে ছুঁয়ে, নেচে নেচে নুয়ে। গানে গানে ছুটো, বুকে বুকে জু-টো। খেলাে আজি খেলা, আজি প্রেম- মেলা। ২৮

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
काशन
দশ দিশি ছি—টে,
প্রেম-মধু মিঠে।
পাতে কোল মাটি,
প্রাণে প্রেম বাটি।
এলাে প্রেম রাজা,
করাে মন তাজা।
২৯

নীলসবুজের প্রাণের দোলায় মধুমাস মধুমাস। মধুর হাঁড়ি আজকে যে গাে ভাঙ্গলাে মধুমাস, মধুর মহামহােৎসব আজ মধুর মহোল্লাস। আকাশ ভেঙ্গে ঝরছে মধু আলাের ঝরণায়, মলয় বহে মেদুর হয়ে মধুর মদিরায়। চলতে পথে চরণ-তলে তৃণের পরশন, জ্বালিয়ে দেয় গাে সকল রােমে মধুর শিহরণ। ঢেউয়ের দোলে সাগর-কোলে উথলে মধু আজ, মাতাল ধূলি মধুর হােলি খেলছে পথের মাঝ। ঢাছে মধু ফুলের হাসি, ঢালছে পাখীর গান, দোদুল পাতার পুলক-নাচে ছুটছে মধুর বান্। ফিরাই আঁখি যখন যেথা যেই দিকেতে চাই- ঝলকে ওঠে জলে-স্থলে কেবল মধু, ভাই। স্বরগ-ধরা মিলায়ে মধুর ঢেউ উঠেছে দেখ, দশদিকেতে আজকে মধুর বিরাট বিশাল এক। ডুব দিয়ে আজ মধুর মাঝে ডুবিয়ে দিয়ে প্রাণ, নিখিল অলির তৃষ্ণাতে তুই করে মধু পান।

নবুজের প্রাণের দোলায়
ফুল-ফাগুনে
ফুল-ফাগুনে ফুলে ফুলে সাজুলাে ধরণী,
ফুলের রাজা আসলে বেয়ে ফুলের তরণী।
ফুলের নিশাস গায় লাগে গাে, ফুল-ভরা হাওয়া,
প্রাণ কেড়ে নেয় যেই দিকে চাই ফুলেরি চাওয়া।
ফুল ফুটারই গান গাহে আজ কোকিল পুলকে,
ফুল-ফুটারই গান গগনে আলাের ঝলকে।
আজকে কেবল ফুল-ফুটারে ফুলের ফাগুনে,
ধরিয়ে নে তাের মনের বন এই ফুলের আগুনে।
সকল রােমে জ্বালিয়ে দেরে ফুলের দেয়ালি,
ফুলের নেশায় বিভাের হয়ে ফুলের খেয়ালি।
সকল ফুলে একটী হয়ে ফুরে ধরাতে,
ফুলের রঙে ফুলের ঢঙে ফুলের ধারাতে।

দোল
নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
দোল।
দোল এলাে রে বিশ্বভরা দোল,
আয় তােরা কে দুলবি দোদুল-দোল।
বাঁধলাে রে দোল দক্ষিণা মলয়,
মাতন-ভরা সবুজ কিশলয় ;
দোল জমালাে-সবার সেরা দোল,
বন-বাগানে কোমল ফুলের কোল।
তরুণ পাতার চি-আড়ালে পিক,
ছুটায় রঙের পিচকিরি সব দিক।
গন্ধে হােরির পিচকিরি দেয় ফুল,
মনের বসন হয় রঙে তুল তুল।
জারুল মউল চলতে মাথার পর,
মুঠায় মুঠায় ফাগ ছুড়ে ঝঝর।
আবীর মুঠে গুল হাসে ঝলমল,
রঙ-ঝারি কে ভাঙ্গলাে পলাশ-তল।
ভাঙ্গলাে ঝারি সিমুল পথের মাঝ,
হােলির রঙে রঙিণ মাটি আজ।
আয় ছুটে আয়, আজ ঘরে কে রয়,
দোল লেগেছে দেখরে জগৎময় ;
খােলরে হিয়ার পিচকিরিটী খােল,
বিশ্ব সাথে খেল্ হােরি খেল দোল।
৩২

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
মউল ডালে
মউল-ডালে।
ফুল-ভরা ওই মউল-ডালে
দুলিয়ে চরণ বােস যেয়ে,
ঝরিয়ে দিয়ে ঝর্ণা সুরের
বাঁশীর গানে ওঠ, গেয়ে।
কবে সে গান এমনি আকুল,
মরুতে চাবে তাের বুকে ফুল
গন্ধে এসে বুকের ব্যথা
ললাটবে রে তাের বুক ছেয়ে।
মলয় শেষে মিলন-ডােরে
ফুলের সাথে বাঁধূবে তােরে,
রসের নেশা করবে
বিড়ােল
দুলবে নয়ন ঘুম পেয়ে।

নীকাবুয়ে প্রাণের দোলায়
ঘুমের
রাণী
কোন্ সে ঘুমের রাণী,
ও তুই কোন্ সে ঘুমের রাণী
ছড়িয়ে দেছ বিশ্ব ভরা ঘুমের আঁচলখানি।
ওগাে ঝরে যে ঘুম ঝরে
ক্ষণ
চাইতে আঁখি পরে,
গন্ধে গানে ঝছে কাণে ঘুম-পাড়ানাে বাণী।
কোন্ সে ঘুমের রাণী,
ও তুই কোন্ সে ঘুমের রাণী ;
ফুলের কানায় ঘুম ঝরায়ে বিছাও আঁচলখানি।
হাতের মৃদুল ছোঁয়া
আজি বুলায় দখিন হাওয়া,
বিশ্বধরার বুক সেঁচে মাের নামালে ঘুম আনি।
৩৪

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রকৃতির খােকা
প্রকৃতির খােকা।
আজকে আমি প্রকৃতি তাের হলেম থােকা,
তােল মা কোলে আঁচল পেতে আদরমাখা।
নীল-সবুজের কোল ভরা তাের উঠব মাতি',
দিকবিদিকে ছুটব হয়ে হাওয়ার সাথী।
ঢেউয়ের সনে তাথৈ নেচে আসব ছুটে,
ঝাঁপ দিয়ে মা ও তাের বুকে পড়ব লুটে।
কখন তােরে পাগল করে পালিয়ে যাব,
কাজল মেঘের আড়াল থেকে হেসেই চা’ব।
জমিয়ে দিনে তােমার সাথে এমনি খেলা,
ফিরব যখন ধূলােয় মাখা সাঁঝের বেলা,
আনন্দ এই—তুই যে তখন লইবি চুমে,
তাের কোলেরই স্নেহের মাঝে পড়ব ঘুমে।
করুণ চোখে রইবি চেয়ে মুখের পানে,
রাবি ঘেরে আঁচল মেলি গন্ধে গানে।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
ভূণের মাষ্ট
তৃণের মায়া।
বিমুক্ত হৃদয়ে মূর্ত
আনন্দের মত
ধান্ত-শিশু যত
অসীমের কোল-ঢালা
সারা মাঠ ছেপে
ওঠে কেঁপে কেঁপে।
সমীরের উৎসাহেতে
করি গলাগলি
প্রাণে পড়ে ঢলি।
জড়াইয়া অঙ্গে অঙ্গে
মােরে লয় টানি’
ছােট্ট করি’ আনি।
ঘেরি মােরে সবুজের
লীলা ওঠে ফুলি’
সবুজের হােলি।
৩৬

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
ভূণের মায়
সীমাহীন মৌন-মাঝ
কি আনন্দ-মায়া
ভাঙ্গে মাের কায়া।
হিল্লোলিয়া দিকে দিকে
সত্ত্বা মাের জাগে
স্তব্ধ আঁখি-আগে।
দেহ-প্রাণ-মাঠ গলে
গেছে এক হয়ে
সারা বিশ্বে বয়ে।
৩৭

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
কাবরণ
কাব্য-রাণী।
টন্ টন্ টন্ দীঘির জল
ঢেউয়ে কাপে কমল-দল
হাঁস ফিরে তার আড়ে,
চপল অলির পায়ের রেণু
সাদা পাখায় ঝরে।
তুই যে গাে সেই কমল-বনের রাণী,
হীরার বৈঠায় ভাসিয়ে চলিস্
সােণার তরীখানি।
বৈঠা এনে দেসতুই আমার করে,
ভুলে যাই গাে বাইতে আমি
পড়ছে বৈঠা ঝরে।
.

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
কাব্যরাণ
ঢল ঢল ঢল লতার দুল
তুলতুলে তায় রঙিন ফুল,
টুকটুকে তায় টুনি
ঝরাফুলের ঝর্ণা-তলে
উঠেছে রণরণি।
বুলিয়ে পাখা গন্ধ-বিধুর বায়ে
বাঁশীর ব্যথায় উড়িস গেয়ে
তারই ছায়ে ছায়ে ।
বাঁশী এনে দে তুই আমার করে,
ভুলে যাই গাে গাইতে আমি
পড়ছে বাঁশী ঝরে।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
খুকীর বাঁধা ঘরখানি
খুকীর বাঁধা ঘরখানি
খুকি,
তাের খেলায় বাঁধা ঘরখানি যে
আমায় রাখে ঢাকি।
আপন মনে যতন করে
গেছি কখন ঘরটী গড়ে,
মনটী রেখে গেছি ওরে
ঘরের বুকে
আঁকি।
ঝিলমিলে তাের মনটী ঘরে
ফুটায় গােলাপ থরে থরে,
নতুন পাতা নাচন ধরে,
কোকিল ওঠে ডাকি।
ছােট্ট সে তাের ঘরটী ঘেরে
চিত্ত আমার বেড়ায় যেরে,
ঘরের সাথে পেয়ে তােরে
পরাণ জুড়ে রাখি।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রেমের কা
প্রেমের সৃষ্টি
ছি! ছি! ছি! করিস্ কি।
দেখিসনি কি দেখিনি ?
আলাে-হাওয়া আলিঙ্গনে
জড়িয়ে আছে তাের অঙ্গণে,
তারায় ফুলে হাসাহাসি
কতই ভালােবাসাবাসি,
প্রাণে প্রাণে মাখামাখি,
হিয়ায় হিয়ায় বাঁধা রাখী
এ হেন জগৎ আঁকা,
এ হেন সোনায় মাখা।
আহা-হা! করিস কি।
ঢালিস কালি ছি! ছি! ছি!
ধরাতে চলিস ফিরি
বিরূপ করি তারি ছিরি,
করিস্ প্রাণ হানাহানি,
স্বার্থ লয়ে টানাটানি,
শােণিতে রঙা তােরা
বিধির এ প্রেমের ধরা।
প্রেমেতেই জনম ধরি
কি সাজে উঠলি গড়ি।
১১

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
স্বরূপ-হারা।
বর্ণে গানে গন্ধে গড়ি
উঠছে যে ঢেউ
দশ দিকে আজ বিশ্বভরে,
আহা-হা। উঠলি না তাে
তার টানে কেউ
পাগল হয়ে মানুষ ওরে।
ঢেউর সে রঙেই গড়লাে তাের
রূপ দিলাে তায়,
সংসেজে তুই ঢালি তারে,
আপন-মাঝে রইলি না তাই
শাস্তি তোর হায়,
মিল না যে মিল না রে।
R

নীলসবুকের প্রাণের দোলায়
জীবন-বেদ।
চারদিকের এই গন্ধ-গানের মাঝে
সহজ মধুর নামছে যা তাের প্রাণে,
আলােয় তারই চলিস্ রে সব কাজে
পথ-ভােলা তুই বিশ্বের মাঝখানে।
নিত্য বচন যেমন ধারা চলে,
জীবন কোথা ? মৃত্যু কেবল তায় ;
জীবন সেথা মরণ-সাগর-জলে
হাবুডুবু খাচ্ছে শুধুই হায় !
৪৩

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
জ্ঞানের গন্ধ
জ্ঞানের গর্ব।
নিজে পূর্ণ হয়েছ কি
দিবে যে গাে পরে ?
অপূর্ণতা লয়ে বাধা
দিতে যাও নরে?
পূর্ণতার-ই মাঝ থেকে
দাও নিতে বুকে
কুড়াইয়া যাহা পায়
আপনার সুখে।
আপনার জীবনের
ক্ষুদ্র বেড়াখানি
বড়রে করিতে খাটো
এনােনাকো জ্ঞানী।
নিজ জ্ঞানে নিজে ভাের
থাক তা-ই ভালাে,
কে জানে গাে তার ঘায়
নিভে কোন্ আলাে।
৪৪

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রকৃতির গঠন।
শরৎ যদি রইতাে থেমে,
বসন্ত না আস্ততা নেমে,
ফিঙ্গে নাহি নাচতাে গাছের ডালে,
পাগল হাওয়া বুকের’পরে
যদি-ই নাকো পড়তাে ঝরে
কোমল পরশ বুলিয়ে কোনাে কালে
পাতার নাচে শ্যামল ছিরি
প্রাণ যদি না থাকতাে ঘিরি,
আলােক নাহি পাত্ততা সােনার কোল,
গন্ধে রঙে পাপড়ি খুলি
ফুলের প্রাণ না উঠতাে দুলি,
বিহঙ্গ না তুলতাে মধুর বােল,
রসের ভারে ভাবের বানে
প্রাণের তরে প্রাণের টানে
ভাঙ্গতে কি আর এমনি করে বুক?
পশুর সেরা পশুর মত
উঠতে গড়ে মানুষ যত
রক্ত-মাখা থাকতাে তাদের মুখ।
৪৫

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
প্রকৃতির গঠন
হায় তাদেরি বুকের’পরে
নিত্য যে রস এমনি ঝরে
থাকতে তবু চায় না যে তার কণা,
চারদিকেতে ছড়িয়ে সুধা
রাখলাে তারে এই বসুধা,
ফোঁসিয়ে তবু উঠছে বিষের ফণা
৪৬

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
বিশ্ব-স্বর্গ।
এ কেমন গাে! সােনার হেন
জগৎখান
পায়ের কাছে 'হেলায় ফেলে
খুজিস্ আন্!
আর কোথা কি কমল-বনে
বেড়ায় হাঁস,
মিলিয়ে থাকে মলয়-মাঝে
জুইয়ের বাস ?
শ্যামল ঘাসে মুক্তা-সম
শিশির-জল,
কানন-ভরা হাসির হােরি-
ফুলের দল ?
মাণিক-জ্বালা-জোনাক-সাজা
লতার ঝাড়,
হিজল-ফুলে শয়ন-পাতা
জলের ধার ?
ভােরের বেলা কনক-ঢালা
তরুর শির
দিনের শেষে আবীর-রাঙ্গা
অকূল
তীর ?
৪৭
৪

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
বিশ্ব-স্বর্গ
পুলক-বসে পরাণ-গল
দেয় মুখ,
মৃদুল দুলে উথলে উঠা
নদীর বুক ?
ঝাল-ঝুলা-পাতার ফাঁকে
পাখীর গান
ফুলের কানে গুনগুনিয়ে
অলির তান?
আকাশ-কোণে সােনার উকি
মেঘের মাঝ,
তরুণ পাতায় তরুর চারু
রঙিন সাজ ?
আলােক-ছায়ায় ঢেউ-খেলানে
বীথির তল?
যেথায় এ আবার কোথা
রগ বল ?
৪

Iীলসবুজের প্রাণের দোলায়
গাঙের কূলে
গাঙের কূলে
ধূলিখেলার দিনগুলাে মাের
ঢেউয়ে ঢেউয়ে গাে
আসছে ভেসে মনে,
ছছলিয়ে ঢেউ-শিশুদের সনে।
আমার বিজম শূন্য হিয়ার পাতে
সুদূর কথা লিখিয়ে লহর হাতে
কাব্য কেমন রচে,
চিত্ত হেন মুক্ত আকাশ-তলে
বাধা-বিহীন উঠতে ফুলে ফুলে
হর্ষ-সুখের নাচে।
সেই তাে আঁখি সেইতাে করতালি
সেই তাে হাসি তেমনি হৃদয় ঢালি,
সেই তাে মায়াছলে
লােটিয়ে পড়া পুলিন-বুকে যেয়ে,
আছে মনে--আনন্দেতে ধেয়ে
ঝাপিয়ে পড়া কোলে।
৪১

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
গাঙের কুলে
স্বপন-দেশের সােনার পাখী সম
পাখায় ভরা স্বপন ছিল মম,
স্বপ্ন সকল কাজে,
স-লেশ নাইকো কাজে মােটে
অর্থ-বিহীন চলতাে
বিচিত্রতার মাঝে।
হিয়া ছুটে
হোঁচট-খাওয়া প্রজাপতির পাছে,
জোনাক-ধরা ঝােপের কাছে কাছে,
চঁাদামামায় ডাকা,
নিঠুর যবে দিতনা আর ধরা,
ঠোট ফুলিয়ে ব্যথার নয়ন-করা,
ধূলায় তনু মাখা।

নীলসবুজের প্রাণের দোলায়
গাঙের কূলে
চপল পায়ে উড়িয়ে পথে ধূলি
গলাগলি প্রাণের কথা তুলি’,
সাথীর সাথে চলা ;
নৃত্য-বিভােল মুগ্ধ পাতার ছায়ে
ঝরাফুলের আশিস মাথে লয়ে
দোলনা মাঝে দোলা।
ধূলিখেলার দিনগুলো মাের
ঢেউয়ে ঢেউয়ে গাে,
আছে ভেসে মনে
ছলছলিয়ে ঢেউ-শিশুদের সনে

লসবুজের প্রাণের দোলায় মহতের আকিন মহতের আকিঞ্চন। যুগ যুগ ধরি ভক্ত মগ্ন তপস্যায়, একদিন ভগবান কন- “মুগ্ধ তব ধ্যানে আমি, আসিয়াছি তাই, লহ বর যাহা আকিঞ্চন।” উত্তরিলা ধীরে ভক্ত ভক্তি-রুদ্ধ স্বরে, “দিতে আর রাখিয়াছ কি ? চাহিতে দিলে সব হে করুণাময়, চাহিবার এই শুধু বাকী নহে তাহা ধনৈশ্বৰ্য্য মাণিক-রতন, নহে স্বর্গ কিংবা যশােমান ; নিখিল পাপের বােঝা দিয়ে মাের শিরে, জগতেরে কর মুক্তি দান।” ভগবান কনমুগ্ধ করুণা-বিড়ােল “দিতে যাহা এসেছিনু তােরে, লক্ষগুণে আজি তুই একি মায়া ছলি শূন্য করে নিয়ে গেলি ওরে । ৫২

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Nil Sobujer Praner Dolay

Author
Chakraborty,abanimohan
Title
Nil Sobujer Praner Dolay
File name
Nil Sobujer Praner Dolay
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2009/11/29
Publisher
Upendramohan Chakraborty,tripura
Language
Sanskrit
Pages
72
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Chakraborty,Abanimohan
DLI number
512995
Barcode
4990010020015.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
cfr4PumDnLR
Download PDF

Nil Sobujer Praner Dolay