Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Shyama Sangeet Ed. 2nd

2010/01/13

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শ্ৰী শ্ৰীকালী।
শরণং।
সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচাৰ্য কৃর্ত
শ্যামা সঙ্গীত।
অধুনা
শ্রীল শ্রীযুক্ত বর্ধমানাদি মামীশ্বর চতুর্দশ ভূপতির,
আজ্ঞানুসারে ও ব্যয়দ্বারা
নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক
সংগৃহীত
এবং
শ্ৰীযুত বিপ্রদাস তৰ্কৰ গীশ ভট্টাচাৰ্য্য দ্বারা
সংশােধিত হইয়া
কলিকাতা
ভাস্কর যন্ত্রে মুদ্রাঙ্কিত হইল।
সন ১২৬৪। ইংরাজী ১৮৫৭ সাল
শকাব্দা ১৭৭৯।
২২ ভাদ্র।

প্রথম সংস্করণ
২২শে ভাদ্র, দন ১২৬৪ সাল।
ইংরাজী ১৮৫৭, শকাব্দ। ১৭৭৯।
দ্বিতীয় সংস্করণ
২২শে ভাদ্র, সন ১৩৩২ সাল।
ইংরাজী ১৯২৫, শকাব্দ ১৮৪৭।
PRINTED OY
GOSTO BEHARI DEY
AT THE ORIENTAL PRINTING WORKS.
1., BRINDABUN BYSACK STREET,
CALCUTTA

দ্বিতীয় সংস্করণের
ভূমিকা।
বর্ধমানাধিপতি মহারাজাধিরাজ স্বর্গীয় হিজ হাইনেস
মহতচন্দ, বাহাদুরের আদেশানুসারে শকাব্দ ১৭৭৯,
সন ১২৬৪ লালের ( ইং ১৮৫৭ ) ২২শে ভাদ্র তারিখে
এই পুস্তকের প্রথম সংস্করণ মুদ্রিত হয়। এ বিষয়ের
বিস্তৃত বিবরণ প্রথম সংস্করণের
ভূমিকায় লিখিত
হইয়াছে। প্রথম সংস্করণের পুস্তক নিঃশেষ হওয়ায়
এবং সাধারণে ইহার পুনর্মুদ্রণ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ
বর্ধমানাধিপতি মহারাজাধিরাজ বাহাদুর
শীল শ্রীযুক্ত বিজয় চন্দ, মহতব,
জি, সি, আই, ই;
কে, সি, এস, আই ; আই, ও, এ, মহােদয়ের
আদেশানুসারে ইহা পূর্বাকারেই পুনর্মুদ্রিত করা
হইল। ছাপার ভুল ব্যতীত অন্য কোনও কিছু
সংশােধন বা পরিবর্তন করা হইল না। ইতি
বর্ধমান রাজবাটী,
বর্ধমান।
শারদীয়ােৎসব ১৩৩২ সাল,
ইং ১৯২৫।
শ্রীসুরেন্দ্র কুমার বসু

No text on this page.

শ্রী শ্রীকাল?
শরণং।
অথ ভূমিকা।
প্রকাশ
সূৰ্য্য বংশাবতংস সুধীরবর কীৰ্ত্তিমান্ শ্ৰল-শ্ৰীমান
বর্ধমানাদি মহামহীশ্বর বাহাদুর একদা এতদ্দেশীয় সুবিখ্যাত
সাধকবর স্বর্গীয় কমলাকান্ত ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের সুশ্রাব্য
সুললিত অথচ ভক্তিরসাভিষিক্ত সুপ্রণালী রচিত্ত মহাবিদ্যা
প্রসাধনীয় কতিপয় সঙ্গীত শ্রবণ পুরঃসর প্রফুল্লিতান্তঃকরণে
স্বীয়াভিলাষ
করিলেন যে উক্ত মহাত্মার
কৃত প্রচলিত গীত
সমূহ একত্র সঙ্কলন পূর্বক
সাধারণের উপকার ও সন্তোষাৰ্থ মুদ্রাঙ্কিত করা কর্ত্তব্য।
অনন্তর বর্ধমানান্তঃপাতি কোটালহাটস্থিত উক্ত
ভট্টাচার্য্যের আবাস গৃহ হইতে সুজীর্ণ অতি মলিন বর্ণ গীত
পুস্তকদ্বয়, যাহা তিনি প্রথমাবস্থাবধি রচনা করিয়াছিলেন,
অনুসন্ধান পূর্বক তাহার ভ্রাতৃবধূর সমীপে তাহা প্ৰাপ্তা-
নন্তর শ্রীযুক্ত বিপ্রদাস তর্কবাগীশ ভট্টাচাৰ্য মহাশয় দ্বারা
সংশােধন করাইয়া শ্রীনবীন চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি
মুদ্রাঙ্কিত করণের অনুমতি করেন, তদনুসারতঃ গভীর
রত্নাকর গত বায়াসসাধ্য রত্ন সমুহ সংগ্রহের ন্যায় সেই

• প্রাচীন পুস্তক হইতে গীত সকল একত্র সঙ্কলন ও শ্রীল- শ্ৰীযুক্ত বর্ধমানাধিপতির নিয়ােজিত গায়কগণের দ্বারা রাগ রাগিণী তাল প্রভৃতি পরীক্ষা করিয়া মুদ্ৰাঙ্কিত করণে প্রবৃত্ত হইলাম, ইহাতে সঙ্গীত রসজ্ঞ ব্যক্তিব্যুহের আহলাদ ও উপকার দর্শিলে পরিশ্রমের সার্থকতা হইবেক। অনন্তর ঐ ভট্টাচার্যের রচিত সন ১২১৮ সালের লিখিত অন্য গ্রন্থদ্বয় পুনঃপ্রাপ্ত ও লোক প্রমুখ। প্রচলিত অনেক গীত অবগত হইয়া আহলাদ পূর্বক সংগ্রহ করা গেল, ঐ সকল গীতের মধ্যে কতকগুলিন গানের রাগ রাগিণী প্রভৃতি অপ্রকাশিত ছিল,এবিধায় যথাযােগ্য রাগাদি সংযোজিত হইল, এবং যে পুস্তক সন্দর্শন পূর্বক এই সংগীত গ্রন্থ সংগৃহীত হইতেছে তাহার জীর্ণতা জন্য অনেক শব্দের পরিবর্তন ও নিতান্ত দেশ্য ভাষার কতিপয় শব্দ রূপ- স্তরীকৃত হইল, কিন্তু তাহাতে রচকের প্রকৃত ভাবের বৈলক্ষণ্য হইবার সম্ভাবনাই নাই। ঐ প্রসিদ্ধ কবি কমলাকান্ত ভট্টাচাৰ্য পরমজাপক ছিলেন, তজ্জন্য তাহার নাম সর্বত্র বিখ্যাত হইয়াছে, বিশেষতঃ এতদ্দেশের বহুতর ব্যক্তিগণ তাহার কৃত গীত গান করিয়া থাকেন, কিন্তু সম্যকরূপে কেহ অবগত নহেন, হতরাং এই গীত পুস্তক দর্শন তাহাদের বিশেষ সন্তোষের কারণ হইবেক।

vo
অপর উল্লেখিত কমলাকান্ত ভট্টাচাৰ্য মহাশয় প্রথমতঃ
অম্বিকা কালনা হইতে সন ১২১৬ সালে বর্ধমান রাজধানীতে
সমাগমন পূর্বক বৈকুণ্ঠবাসি মহারাজাধিরাজ তেজশ্চন্দ্র
বাহাদুরের অপার করুণা প্রসাদাৎ রাজসভাপণ্ডিত হইয়া
সমাদৃত হয়েন, এবঞ্চ অধিরাজ বাহাদুর তার গুণের
বিশেষ পরিচয় পাইয়া প্রীতি প্রসন্নতায় কোটালহাটে এক
গৃহ নিৰ্মাণ করিয়া দেন, তদবধি ঐ মহাপুরুষের এস্থলে
স্থিরতররূপে বসতি হইল।
তৎপরে অধিরাজ প্রতাপচন্দ্র বাহাদুর, উক্ত কমলা-
কান্তের প্রতি প্রসন্ন হইয়া তাহার শ্যাম সাধনীয় চণ্ডীমণ্ডপ
নির্মাণ ও পূজার ব্যয় ও দিন নির্বাহ জন্য উপযুক্ত বৃত্তি
নিরূপণ করিয়া দিয়াছিলেন, তিনি উভয় রাজার অনুগ্রহে
উৎসাহান্বিত হইয়া শ্যামা সঙ্গীত রচনা ও পূজার বাহুল্য
করেন, শ্যামা পূজার রাত্রিতে তথায় এতদ্দেশীয় অনেক
মহাশয় ব্যক্তির সমাগম হইত। যেমন উভয় মহারাজ
তাঁহাকে গুরুর ন্যায় মান্য করিতেন, তদ্রুপ অন্যান্য
মহাত্মাগণও তাহার সিদ্ধ সাধনায় প্রীত হইয়া মহামান্য
সাধক জ্ঞান করিতেন।
অনন্তর বর্তমান বর্ধমানের শ্রীলশ্ৰীযুক্ত মহারাজাধি-
রাজ মহতাবচন্দ, বাহাদুর প্রাগুক্ত মহোদয় কমলাকান্ত
ভট্টাচার্যের কীৰ্ত্তি রক্ষার্থে শ্যামা পূজার বার্ষিক বৃত্তি ও

•
তাহার ভ্রাতৃবধূর গ্রাসাচ্ছাদনাৰ্থ বৃত্তি নিরূপণ করিয়া দিয়া-
ছেন, এবং ঐ মহাত্মার মহৎকীৰ্ত্তি ও যশঃ সর্বত্র সং-
ঘােষণাৱশ্যক বিধায় তাহার কৃত গীত সকল মুদ্রিত
করিলেন, ইহাতে বিচক্ষণ বিজ্ঞ মহাশয়েরা এই গ্রন্থের
প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে তাহার দৈবশক্তি ও ঈশ্বর ভক্তির
প্রকৃষ্ট পরিচয় প্রচুরতা প্রাপ্ত হইবেন।
পরগুণ কীর্তিকুশল অধীন ব্যক্তির গুণগ্রাম গৌরব
সর্বজনের সুগােচর করণার্থ অধিরাজ বাহাদুরের যে কি
পৰ্যন্ত উদ্যোগ ও অনুরাগ তাহা এতদ্বারাই অতি সহজে
সুবােধ সমুহের বােধগম্য হইবেক। অলমতি বিস্তরেণ।

লীইরি
শবশং।
সংগীত।
রাগিণী--পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(১) বামার বয়স নবীন। না জানি এমন মেয়ে
সমরে প্রবীণ। (স্থায়ী) আস্থাই।
সুচারু অঙ্গেরি শােভা কটিতট ক্ষীণ। সুরাসুরগণ
মাঝে বসন বিহীন। অন্তরা।
বুঝি এলাে দয়াময়ী হইয়ে কঠিন। চরণে ত্যজিব
তনু আজি শুভদিন। ২। তনু দিয়া তরে কত শত
ক্রিয়াহীন। কমলাকান্তের হরে মনের মলিন। ৩।
অভােগ।
রাগিণী-পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(২) শ্যামা আজু ধীর, কলেবরে নৃত্যয়ি মম হৃদয়ে
মা গাে, আস্থাই।

( ২ )
নূতন জলধর, রূপ মনােহর, দোলিত মন্দ সমীরে
‘গাে,। । অন্তরা।
বিগলিত 'কুন্তল, জ্বলে ভালে বিধু, ভূষণ নর কর
শির। ত্রিপুরারি তনু তরণি অবলম্বনে, সুধাময় সিন্ধু
গভীরে ‘গাে,। ২। অভােগ।
তরুণ বয়সি তরুণ শিব সঙ্গে, পুলকিত শ্যামা শরীর।
কমলাকান্ত মনােহর রূপ হেরি, বরিষয়ে আনন্দ নীর। ৩।
অভােগ।
রাগিণী-পরজ।
তাল- জলদ তেতালা।
(৩) কি আগে শ্যামা সুন্দরি মনাে মােহিলে।
অপরূপ দেখ ভূপ বামাকে সমরে। আস্থাই।
যােড়শী মনসি নিবসন্তে বামা, গুণময়ি গুণে
বান্ধিলে। ১।
অন্তরা।
কমলাকান্ত তিমির কুল আকুল, দিবা নিশি সম
করিলে। কিমপর সুরগণ, হরিলে হরের মন, চরণ
হৃদয়ে ধরিলে। ২। অভােগ।
রাগিণী-পরজ কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(৪) কাল রূপ হেরিয়া নয়ন জুড়ায় যে, আরে ও
নবীন জলদ।
আস্থাই।

( ৩ )
মরি মরি সুন্দরী, শ্ৰীবদন হেরি হেরি, তিমিরারি
তিমিরে মিশায় রে। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের অন্তরে ও রূপ জাগে জাগে, দিবানিশি
পাশরিলে পিশরা না যায় রে। ২। অন্তরা।
রাগিণী-পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(৫) ‘মা’ চরণারবিন্দে হরমােহিনী, রাখিও করুণ
গিরি তনয়ে। আস্থাই।
মায়াতে মােহিত আমি, পতিত পাবনি তুমি, হর তম
মম বিষয়ে। ১। অন্তরা।
সংসারার্ণব তারণ তরণি, চরণ চরম সময়ে। কাল
কলুষ কলি কিলিষ নাশিনি, করুণাঙ্কুরু ভয়ে। ২
অভােগ।
ত্রিভুবন জননী, জন্ম প্রতিপালিনী, সংহারিণী প্রলয়ে।
কমলাকান্ত কৃতান্ত বারিণী, নৃপ তেজশ্চন্দ্র সদয়ে। ৩
অভােগ।
রাগিণী-পরজ।
তাল -জলদ তেতালা।
(৬) মা আমারে তারিতে হবে, আমি অতি
হীন দুরাচার। না ভাবিয়া কারণ মজিলাম ভবে।
আস্থাই।

( ৪ )
পতিত দেখিয়া যদি, না তার ভব জলধি, পতিত পাবনী
নামে কলঙ্ক রবে। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, বিষয় না ত্যজ কেন, বৃথা জনম
মম ধিক মানবে। অন্তরা।
রাগিণী—পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(৭) দীনে তারিতে, দয়াময়ী নাম ধর, গাে ও
জননি। আস্থাই।
অতিশয় দুরাচার, অন্য গতি নাহি যার, তারে নিজ
গুণে করুণা বিতর। ১। অন্তরা।
চৈতন্যরূপিণী, চিদানন্দ স্বরূপিণী, ‘কালী’ জননি
কিঞ্চিত যদি নয়নে হের। ২।
কমলাকান্তের এই, নিবেদন কৃপাময়ি, হে মা অনুগত
তনয়ে সম্বর ‘গাে”। ৩। অভোগ।
রাগিণী—পরজ।
তাল-একতালা।
(৮) ইন্দীবর নিলি তুমু সজল
জলদ জিনি
কায়। নীলাম্বুজ নীল মরকত হিমকর দিনকর কিবা
হরজায়া। আহাই।
অঞ্জন দলিত স্থগিত জঘনা, যেন অপর কুসুম সম
তনুবতি মায়া।১। অন্তরা।

( ৫ )
কমলাকান্ত আশ মন মানসে, শীতল চরণ যুগ
ছায়া। ২। অন্তরা।
রাগিণী-পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(৯) কেহ কি আপনার আছে রে, শ্যামা ধন
মিলায়ে দেয় আমারে। তেজিয়া তনুর আশা, প্রাণ দিয়া
তুষিব তারে। আস্থাই।
আমি ত ইন্দ্রিয় বশে, ভুলে আছি মায়া পাশে,
এমন সুহৃদ কেবা, মনে দুঃখ কব কারে। ১।
অন্তরা।
মন রে ইন্দ্রিয় রাজ, এ নহে অন্যের কাজ, কমলা-
কান্তের ভার সাধিতে উচিত তােমারে। ২।
রাগিণী—পরজ কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(১০) কেন মন ভুলিল, শ্যামা রূপ হেরিয়ে,
আমিত কিছুই না জানি। আস্থাই।
ধন পরিজন, সুখ বাসনা যত, আমার ঘুচিল হেন
অনুমানি। ১। অন্তরা।
সহজে উলঙ্গ অঙ্গ, নাহি সম্বরে, বাম সজল জলদ
তনুখানি। না জানি কি তন্ত্র মন্ত্র গুণ জানে বাম, কি
গুণে স্ববশ করে প্রাণী। ২। অভােগ।

( ৬ ) যদি মন চিন্ত, চারু চরণাম্বুজ, সে ধন লইল শূল- পাণি কমলাকান্ত কিঞ্চিত মন আশা, কালী নামামৃত মধু রস বাণী। ৩। অভােগ। রাগিণী-পরজ। তাল-জলদ তেতালা। (১১) কত রঙ্গ জান, ‘গাে শ্যামা। সুমতি কুমতি গতি তুমি সে কারণ। আস্থাই। প্রকৃতি পুরুষাকারে, নিরঞ্জনী নিরধারে, যে রূপে যে জনা ভাবে, সে পাবে তেমন ‘গো। ১। কমলাকান্তের মনে, কে আছে তারিণী বিনে, যা কর আপনার গুণে, লইলাম স্মরণ। ২। অন্তরা। রাগিনী-পরজ। তাল-একতালা (১২) তনু তরি ভাসিল আমার, ভব সাগরে। আস্থাই। মনরে সুজন নেয়ে, সাবধানে যাও বেয়ে, দেখ যেন ডুবাইওনা পাথারে। ১। অন্তরা। দশেমি দাড়ী তায়, কুপথে তরণী বায়, যতনে দমনে রাখ সবারে। ২। অভােগ। কালী নামে ধর হাল, কুণ্ডলিনী কর পাল, বেয়ে দে ভাই সুধাময় সমীরে। ৩। অভােগ।

( ৭ )
কামাদি জগাতি ছয়, মহা মন্ত্রে কর জয়, পথে যেন
বিড়ম্বনা না করে। কমলাকান্তেরে লয়ে, কালী নামের
সারি গেয়ে, সুখে চল সদানন্দ নগরে। ৪।
অভােগ।
রাগিণী-খাম্বাজ বাহার।
তাল-জলদ তোলা।
(১৩) ওগো তারা সুন্দরি, তব যশ শুনি কত,
ভরসা আমার মনে, অশেষ পাতকী জুনে, তুমি ভার নিজ
গুণে। আস্থাই।
কদাচিত ভ্ৰম ভয়, যদি তব নাম লয়, তবে তার
কি করে শমনে। দূরে ত্যজি অঘ চয়, সদা নিত্যানন্দ
ময়, সেই জীব শিব সম, শ্রম বিনে। ১।
অন্তরা।
এ বড় বিষম কাল, প্রবল সে রিপু জাল, ইথে গতি
হইবে কেমনে। দেখি ভব বিড়ম্বন, কমলাকান্তের
মন, হৈয়া ভীত, অনুগত শ্রীচরণে। ২। অন্তরা।
রাগিণী-খাম্বাজ ।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৪) তুমি কার ঘরের মেয়ে ‘কালী গো আপ
নার রঙ্গ রসে মগনা আপনি। অস্থাই।

{
ফণী।
(৮)
কে জানে কেমন তব, রূপ নিরূপম, নিরখিয়ে না বুঝি
মা দিন কি যামিনী। ১।
অন্তরা।
দলিত অঞ্জন জিনি, চিকণ বরণ খানি, না পর অম্বর
হেমমণি। আলিয়ে চিকুর পাশ, সদাই শ্মশানে বাস,
তথাপি যে মন ভুলে কি লাগি না জানি। ২।
অভােগ।
পুরুষ রতন এক, চরণাভিরত দেখ, তার শিরে জটাজুট
তুমি কে তােমার ওকে, হেরি অসম্ভব লােকে,
হেন অনুমানি যে ত্রিদশ চূড়ামণি। ৩।
অভােগ।
অশরণ শরণ, জগত মনােরঞ্জন, অতি ধন চরণ দুখানি।
কমলাকান্ত অনন্ত না জানে গুণ, তব রূপে আলাে করে
গগন ধরণী। ৪। অভােগ।
রাগিণী-খাম্বাজ।
তাল—একতালা।
(১৫) তােমার গুণ তুমি জান, আর কে জানে,
‘গো। কিঞ্চিত জানে অনাদি, সদাশিব শরণ লইল
চরণে। আস্থাই।
বিধি চতুরানন, সহস্র বদন, হরি তব গুণ যশ কথনে।
তথাপি নখর সীমা মহিমা না পাইয়ে, দীন মুত কোন
গণনে। ১। অভােগ।

( 9 )
ত্বং বিষ্ণু মায়া বিশ্ব বন্ধন কারণ, বিষ্ণময়ী বিশ্ব
পালনে। কমলাকান্ত আরাধিত তব পদ, ভব জলনিধি
তরণে। ২। অভােগ।
রাগিণী-খাম্বাজ।
তাল-একতালা।
(১৬) উমে ত্রাণ দে মা শিবে, ত্রাণ দে। তৃষিত
চাতকী, যেমত নিরখি, নব ঘন তব চরণ ‘গাে”।
আস্থাই।
আমি দুরাচারী, শরণ তােমারি, নিস্তার এ ঘাের
ভবে। ১। অন্তরা।
তুমি জননি জনমহারিণী, সৃষ্টি স্থিতি সংহারিণী,
হে কঙ্কালে, শশধর ভালে, গিরিজা ভবানী ভবে।
জয়া প্রচণ্ডা, শমন দলনী, কমলাকান্ত কৃতান্ত ভয়ে।
ত্রাহি মহেশী, বিগলিত কেশী, তরি ভবাণী তবে।
২। অভােগ।
রাগিণী-খাম্বাজ।
তাল-কওয়ালীর ঠেকা।
(১৭) তুমি আর কেন কর বিষয় বাসনা ‘রে।
আস্থাই।
মিছে কাজে গেল দিন, দিনে দিনে তনু ক্ষীণ, দূর
কর মনের বাসনা ‘রে।১। অন্তরা।

( ১০ )
চারি পাশে মায়া জাল, কেশাগ্ৰ ধরিয়ে কাল, ইহা
তুমি জানিয়ে জান না। কমলাকান্তের কাছে, এখন
উপায় আছে, কালী ভাব পূরিবে কামনা ‘রে। অভােগ।
রাগিণী-সুরট মল্লার।
তালতিওট।
(১৮) সংসার জলনিধি অনিবার, তরণী' শ্যামা পদ
কর সার ‘রে মন’। আস্থাই।
দুরিত ভবার্ণব পারাবারে, শ্রীগুরুদেব কর্ণধার ‘রে’
অন্তরা।
ভুলেছ কি ভ্রান্তি বশে, দিন গেল মিছে আশে, ‘মন’
চিন্তিলে হিত আপনার। নিয়ত চঞ্চল তুমি, যন্ত্রণা
ভাজন আমি, অনুচিত তােমার বিচার। ২।
মনরে মিনতি রাখ, কালী কালী বলি ডাক, মন’
অনায়াসে হবে ভবে পারি। কমলাকান্তের ইহকালে
পরকালে, কালী বিনা গতি নাহি আর ‘রে।
অভােগ !
অভােগ।
রাগিণী-সুরট মল্লার।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৯) কেমনে তরিব বল, ও দুটি চরণ বিনে।
ভয়ে চিত কম্পিত বারে হের ত্রিনয়নে। আস্থাই।

।
( ১১ )
আমি অতি মুঢ়মতি, না জানি ভকতি স্তুতি, ভরসা
করেছি তব কৃপাময়ী নাম শুনে। ১। অন্তরা।
অপার বিষম ভবে, তােমা বিনে কে তারিবে, কমল
চকোর লােভে, শ্রীচরণ সুধাপানে। ২। অন্তরা।
রাগিণী—সুরট মল্লার।
তাল-তিওট
(২০) শ্যামা নামের মহিমা অপার, ‘কেনে মন’
মিছে ভ্রম বারেবার, ‘রে মন'। আস্থাই।
চঞ্চল রে মানসা মধু আশে, অভয় চরণ কর সার
‘রে।১। অন্তরা।
মনরে সুকৃতি বট, সদা শ্যামা নাম রট, ‘রে অনায়াসে
কমলাকান্তের মন, মিছা ফেরে ফের
কেন, কালী বিন৷ কে আছে তােমার ‘রে। ২। অভোগ।
রাগিণী-সুরট।
তাল-জলদ তোেল।
(২১) মন ভ্রম কেন মিছা, মায়াময় মধু আশে।
দেখনা করুণাময়ী সুধাংশু বরিযে। আস্থাই।
ত্যজিয়ে সঞ্চিত রত্ন, কঁচ উপার্জনে যত্ন, একি ভ্রান্তি
সুধা ভ্রম কালান্তক বিষে। অন্তরা।
অতুল চরণারবিন্দ,তাহে কত মকরন্দ,অন্ধ সম না দেখ
অলসে। তুমিত সুকৃতি বট, তবে কেন কৰ্ম্ম নট, কালী
রট কমলাকান্তের উদ্দেশে। ২। অভােগ।

( ১২ )
D
রাগিণী-মল্লার।
তাল-একতালা।
(২২) দেখনা সমর আলো করে কার কামিনী।
‘কেরে’ সজল জলদ জিনিয়ে কায় দশন মধ্যে দামিনী।
আস্থাই।
অলিয়ে চার চিকুর পশি, সুরাসুর মাঝে না করে
ত্রাস, অট্ট হাসে দানৰ নাশে, রণ প্রকাশে রঙ্গিণী। ১।
অন্তরা।
কিবা ‘শােভা করে শ্রমজ বিন্দু, ঘন তনু হেরি কুমুদ
বন্ধু, অমিয় সিন্ধু হেরিয়ে ইন্দু, মলিন এ কোন মােহিনী
। ২। আন্তরা।
এক অসম্ভব ভব পরাভব, পদতলে শব সদৃশ
নীরব, কমলাকান্ত কর অনুভব, কে বটে ও গজ
গামিনী। ৩। অভােগ।
রাগিণী--ঝিঝৌটী।
তাল-ধিমা তেতালা।
(২৩) ও নব রূপসী ঘনশ্যামা মরিরে সকল
গুণধামা, নয়ন ভুলেছে মন বেন্ধেছে বামা, কেরে।
আস্থাই।
কে বলে উহারে কাল, ত্রিভুবন করেছে আলো,
আমরি অকলঙ্ক যােড়শী ‘বামা’।১। অন্তরা।

( ১৩ )
ক্ষণে ক্ষণে অনুমানি, সুচঞ্চল সৌদামিনী, ক্ষণে নীল
কাদম্বিনী, মহেশ উরসি। কমলাকান্তের মন, নিমগন শ্যাম
রূপে, ভুবন মােহিনী মুক্তকেশী ‘বামা’। ২। অভােগ।
রাগিণী—ঝিঝােটী।
তাল-একতালা।
(২৪) শ্যামা আমার কাল কে বলে আরে মন কি
বল। ঘাের রূপে ঘাের তিমির নাশে, কাম রিপু অমনি
ভুলিল ‘রে। আস্থাই।
কালীরে অনন্ত রবি শশি তেজ, আরে কোটি ইন্দু
সমান শীতল । কমলাকান্ত ও রূপ হেরিয়ে নাহি দেখে
সম তুল ‘রে। অন্তরা।
রাগিণী-ঝিঝােটা।
তাল—একতালা।
(২৫) নয়ন কি দেখরে বাহিরে, তুমি আগে দেখ
আপনারে। এখনি জুড়াবে তনু রে প্রবিশ অন্তরে।
আস্থাই।
তড়িত জড়িত ঘন, বরিষে আনন্দ ধন, সতত যােড়শী
শশী অমিয় বিতরে। সে রসে বিরস কেন, কররে
আমারে। ১। অন্তরা।
রবি শশী এক ঠাই, দিবস রজনী নাই, বিনাশে নিবিড়

( ১৪ )
৩ম, নিবিড় তিমিরে। কমলাকান্তের আঁখি, এমন
দেখেছ কোথারে। ২। অভােগ।
রাগিণী-সিন্ধু।
তাল-চিমা তেতালা।
( ২৬) তারা মম মানস ভৃঙ্গ, ভ্ৰময়ে বিফলে।
কদাচ না রয় গাে মন চরণ কমলে। আস্থাই।
আমি কি করি বল, গুণে বান্ধিলে ‘হেমা গুণময়ি
সকল, কি ক্ষতি তােমার গো তারা তনয়ে হেরিলে। ২।
অন্তরা।
কমলাকান্ত সুতে অতি দুরিতে, “হে মা’ কুরু কৃপা
পতিতে, কেমনে তরিব ভবে, তুমি না তাৰিলে। ২।
অভােগ।
রাগিণী-পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৭) তারা বল কি হবে বিফলে দিন যায় ‘মা’।
আস্থাই।
মন যে চঞ্চল অতি নিষেধ না মানে, তবে আমি কি
করি উপায় ‘গো। ১। অন্তরা।
বিষয়ে আবৃত মন, ভ্ৰময়ে অকারণ, সদা সুত দারা
ধন, আরাধিতে চায়। কমলাকান্তের চিত, সদা উন্মত্ত,
শ্যামা মা যদি রাখ রাঙ্গা পায় ‘গাে। ২। অভােগ।

( ১৫ )
রাগিণী-ঝিকােটি।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৮) তােমা বিনে কে আছে আমার, ‘গাে শ্যামা”।
মন দুঃখ কারে কব, কিসে প্রাণ জুড়াৰ ‘মা’। আস্থাই।
বিষয় প্রমোদে, ক্রিয়া অনুরােধে, উভয় সঙ্কট অতি
অন্তর।
প্রমত্ত অনিত্য কাযে, অলস চরণাম্বুজে কাম ক্রোধ
লােভ মােহে ভ্ৰমি অহঙ্কারে। রিপু পরিবারে, দুরিত
বিস্তারে, তেঁই মন হলাে দুরাচার। ২। অভােগ ।
কমলাকান্ত নিতান্ত ভরসা মনে, মা মােরে ভবার্ণবে
করিবে নিস্তার। অকরণ করণ শঙ্করী সব কারণ তেঁই
পদ করিয়াছি সার। ৩। অভোগ।
রাগিণী-ঝিঝেটি।
তাল-ধিমা তেতালা।
{ ২৯) মন প্রাণ ধন সরবস*।
পরমা পরম শিব মােহিনী। মম হৃদি সরােরুহে সতত
নিবস ‘মা’। আস্থাই।
সুধাময় শ্যামা তনু, অজ্ঞান তিমির ভানু, সে জন
কেমন যার হৃদয়ে প্রকাশ। ইন্দ্রাদি সম্পদ তঁারে অতি
উপহাস ‘গাে।১। অন্তরা।
সর্বস্ব

যােগেন্দ্র মুনীন্দ্র অজ, সেবি তব পদাম্বুজ, যার যে
বাঞ্ছিত লভে, মম অভিলাষ। কমলাকান্তেরে তার, তবে
জানি যশ ‘গাে। ২। অভােগ।
রাগিণী—জঙ্গল। ঝিঝেটি।
তাল--একতালা।
(৩০) নিশি জাগিয়ে পােহও জননীর গুণ গেয়ে।
কি সুখ চৈতন্য দেহে অচৈতন্য হৈয়ে ‘রে। আস্থাই।
নিদ্রায় কি আছে ফল, মহা নিদ্রা নিকট হৈল, ‘মন’
তখনি মনের সাধ, পুরাবে ঘুমায়ে ‘রে। ১। অন্তরা।
যদি না ঘুমালে নয়, যােগ নিদ্রা উচিত হয়, শ্যামা
রূপ সপনে দেখ, নয়ন মুদিয়ে। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের চিত, মিছা সুখে অনুগত, ‘মন’ সকল
সুখের সুধা নিধি গিরিরাজের মেয়ে ‘রে। ৩। অন্তর।
রাগিণী—ঝিঝেটি।
তাল--একতালা।
(৩১) এতদিনে জানিলাম দয়াময়ী কালী ‘গাে
কাতর দেখিয়ে দীনে দরশন দিলি ‘মা’। আস্থাই।
এই মনে ছিল ভয়, আমি অতি দুরাশয়, অধম তারণ
সশ জগতে রাখিলি ‘গাে’।১। অন্তরা।

( ১৭ )
কমলাকান্তের বাণী, হেন মনে অনুমানি, বুঝি শ্রীনাথের
কথা, সফল করিলি ‘মা'। ২। অন্তরা।
রাগিণী
-ঝিঝেটি।
তালধিমা তেতালা।
।
(৩২) শুনি সুমধুর নূপুর ধ্বনি, শ্রবণে ।
হৃদিপর নাচে ত্রিগুণ জননী। আস্থাই।
আসব আনন্দ ভরে, নিজ তনু না সম্বরে, বিহরে
শঙ্কর উরে, শঙ্কর মোহিনী। যেন সুধা সিন্ধু নীরে নীল
কমলিনী। ১।
অন্তরা।
গগন ত্যজয়ে বিধু, পিয়ে পদাম্বুজ মধু, শ্রীচরণ,
নখারুণে হৈয়া দশ খানি। কমলাকান্তের গতি জলদ
বরণী। ২। অন্তরা।
রাগিণী–কালেঙ্গড়া।
তাল-একতালা।
(৩৩) রঙ্গিণী রণ মাঝে, বিহরে ‘শ্যামা গাে।
আস্থাই।
রতন নূপুর, বাজে সুমধুর, হর হৃদি চরণ বিরাজে।১।
অন্তর।
সুধা, মধু, সদ্য বিশেষ অর্থাৎ তাড়ী
ও

{ ১৮ ) বাজী ধরি ধরি বয়ানেতে পূরে, গরাসে বারণ দারুণ সমরে। সঙ্গে সহচরী, নাচে দিগম্বরী, রণ জয়ী মাদল বাজে। ২। অভােগ। নব জলধর, বরণ সুন্দর, ধরণী চুম্বয়ে লম্বিত চিকুরে। কমলাকান্তের, মন মধুকর, মগন চরণ সরােজে। ৩। অভােগ। রাগিণী-কালেঙ্গড়া। তাল--ধিমা তেতালা। (৩৪) কেরে বামা’ হর হৃদি পরে নগন। আনন্দে নাচিছে কত বাজিছে বাজনা। অস্থাই ভুবন আলাে নীলচান্দে, মুক্ত কেশ নাহি বান্ধে, আপ- নার রঙ্গরসে আপনি মগনা। ১। অন্তরা। কে কোথা দেখেছ ভাই, নয় বশ এক ঠাই, চঞ্চল কি ধীর কিছু জানা গেল না। কালাে কি উজ্জ্বল তনু, শশী কি নিৰ্ম্মল ভানু, ওরূপ হেরিয়া দিব কিরূপে তুলনা। ২। অভোগ। বিধুমুখে মৃদু হাসে, সদাসুধানন্দে ভাষে, হেরিলে রহে যম যমু যাতনা। ওরূপ অন্তরে রাখি, হৃদয় মাঝারে দেখি, কমলাকান্তের এই মনের বাসনা। ৩। অভােগ।

( ১৯ )
রাগিণী-কালেঙ্গ।
তাল-জলদ তেতালা।
(৩৫) সদানন্দ ময়ী সুধানন্দে বিহরে ‘রে।
চিন্তামণি অন্তঃপুরে ভ্রান্তি দূর করে। আস্থাই।
মূলাধারে সহস্ৰারে, হৃদয় পঙ্কজ বরে, আরে ইচ্ছাময়ী
তিন ধামে তিন মূৰ্ত্তি ধরে ‘রে। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, তুমি তারে চিন্ত অনুক্ষণ ‘রে’
পঞ্চাশদ্বর্ণ সার হার করে পরে ‘রে। ২। অন্তরা।
রাগিণী–কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(৩৬) বঞ্চনাতে তাের ‘আমরি' বাজি হৈল তাের
‘রে মন'। কালী পদ সুধারসে না হলি চকোর। আস্থাই।
হইয়াছ দশের রাজা, দমনে না রাখ প্রজ, একি
অবিচার দেখি সাধুরে বান্ধে চোর। ১। অন্তরা।
কতবা বুঝব তােরে, আমার কেহ না করে, ভাবিয়ে
করেছি সার নামের উঙ্কা জোর। কমলাকান্তের মন,
তুমি, মিছা ফেরে ফের কেন, ঘরে থাক মারে ডাক মিনতি
রাখ মাের। ২। অভােগ।
রাগিণী--সিন্ধু।
তাল—ধিমা তেতালা।
(৩৭) “মা আমি গাে’ তােমারি অকৃতি তনয়,

( ২০ )
আমার গুণাগুণ সম্বর হর সুন্দরি। বঞ্চনা অধীন জনে
উচিত না হয় ‘মা’। আস্থাই।
মূঢ় জ্ঞানি অচেতন, আরাধিতে মম মন, ‘মা’ অভয়া
চরণে মন কদাচ না রয়।। অন্তরা।
কমলাকান্তের মনে, এই আশা নিশি দিনে, মা হয়ে
কি অকিঞ্চনে, না হবে সদয়। ২। অন্তরা।
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল--ধিমা তেতালা।
(৩৮) * শ্যামা রূপে নয়ন ভুলেছে। অতি অনু-
পম রূপ চিকণ কাল ‘তেই। অস্থাই।
তা নইলে ত্রিলোচন, পরম যতনে কেন, হৃদয় মাঝারে
রেখেছে।১। অন্তরা।
শশি ভ্রমে চকোরিণী, ঘন ভ্রমে চাতকিনী, নলিনী,
ভরমে ভ্ৰমরিণী, এসেছে। হারাইয়ে নিজ মণি, ব্যাকুল
হইয়ে ফণি, রূপ নিরখিয়ে রয়েছে। ২। অভােগ।
হেরিয়ে কুসুম ধনু, অভিমানে ত্যজি তনু, বিরহিণী
হৃদয়ে শরণ লয়েছে। ওরূপ আনন্দ নিধি, কমলাকান্তের
হৃদি, কমলে প্রকাশ করেছে। ৩। অভােগ।
* সদাশিবের নয়ন ভুলেছে। ইতি দ্বিপাঠ’

( ২১ )
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল-কওয়ালি ।
(৩৯) কালী জয় কালী জয় করালবদনা জয়,
হেই মন্ বদনে বলনা। আস্থাই।
আমি সদাই তােমার বশে, ভ্রমিতেছি মিছ৷ অশে,
একবার আমার মিনতি রাখনা ‘রে।১। অস্তরা।
দারা সুত ধন পেয়ে, মিছে উনমত্ত হয়ে, আপনি
আপনায় চেন না ‘রে। বিনি মাহিনার চাকর হয়ে,
ভূতের বােঝা মর বয়ে, এখন চেতন হলো না। ২।
তাভােগ।
সংসার পাপের শেষ, সুখের নাহিক লেশ, তুমি তা
জানিয়ে জান না।
কমলাকান্তের গতি, কঠিন হইল
অতি, কেন কর এত বঞ্চনা, ‘রে। ৩। অভােগ।
রাগিণী–কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(৪০) শিব হৃদে নাচিতে নাচিতে, চিকুর এলুলো
প্রেমাবেশে শ্যামা তনু অবশ হইল। আস্থাই।
‘কেরে’ অকলঙ্ক
বিধুমুখী, সুধাপানে অতি সুখী,
নিরখি জীবন জুড়ালো। আসৰ অলসে মায়ের * বসন
খসিল। ১। অন্তর।
(শ্যামার) ইতি দ্বিপাঠ।

সুধাময় সিন্ধু শিব উরে, অখণ্ড আনন্দ নীরে, সুখের
তরণি ভাসিল। হেরিয়ে নয়ন মন ভুলিয়ে রহিল। ২।
মান্তরা।
একি অপরূপ নিরুপমা, নিরঞ্জনী নিরাকারা, নিজ
গুণে প্রকাশ হলাে। কমলাকান্তের মনস্কামনা পূরিল। ৩।
অন্তরা।
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল-একতালা।
(৪১) অরে কিছু পথের সম্বল কর ভাই। ঐহি-
কের যত সুখ হলো হলাে নাই নাই। আস্থাই।
ক্রোশেক দুই ক্রোশ যেতে, গেঁঠে বেন্ধে লও খেতে,
এবড় দুর্গম পথে, পাথা কুড়লে পেতে নাই। ২। অন্তরা।
বাণিজ্য ব্যবসায় এস্যে, মূলে টানা টানি শেষে, এখন
উপায় বল কল্পতরুর মূলে যাই। কমলাকান্তের মন,
তথা আছে মহাধন, সকল আশায় দিয়ে ছাই, দৃঢ় করে
ধর তাই। ২। অন্তরা।
রাগিণী-ললিত যােগিয়া।
তাল-* গৎকরণ।
(৪২) করুণাময়ি কাতরে কিঞ্চিত কৃপালেশং
কুরু পরিহর মম, দুরিত অশেষং। আস্থাই।
গৎকরণ অর্থাৎ কাওয়ালীর ঠেক
।

( ২৩ )
অনুগত প্রণত জনং প্রতিপালয়, বারয় বিপদ
বিশেষং। ১। অন্তরা।
নাশয় মানস তিমির তমং শিবে’ বিলসয় হৃদয়
নিবাসং। কমলাকান্ত ভ্রান্তিচ
দূরয়, পূরয় মন অভি
লাষং। ২। অভােগ।
রাগিণী-ললিত যােগিয়া।
তাল-গকরণ।
(৪৩) শ্যামা যদি হের নয়নে একবার, ‘গাে’ ইথে
বল ক্ষতি কি তােমার। আস্থাই।
জননী হইয়ে, এত যন্ত্রণা দেখিয়ে, দয়া না করিলে
এ কোন বিচার। ২। অন্তরা।
আগম নিগমে শুনি, পতিত পাবনী তুমি, আমি যে
পতিত দুরাচার।
অধম তারণ যশ, যদি মনে অভিলাষ,
কমলাকান্তেরে কর পার, গো”। ২। অভােগ।
রাগিণী---ললিত যোগিয়া।
তাল--জলদ তেতালা।
(৪৪) শ্যামা মা নয়নে নিবস আমার গাে’ ।
লােকে জানে অঞ্জন রেখা নবঘন ওরূপ তােমার ‘গাে।
আস্থাই।
ত্যজ গো চঞ্চল বেশ, নিবস নয়ন দেশ, অচঞ্চল
হইয়ে একবার। কমলাকান্তের আশা পূরয় শঙ্করি,
তবে জানি মহিমা তােমার ‘গো। ১। অন্তরা।

( ২৪ )
রাগিণী -মুলতানী।
তাল-জলদ তেতালা।
(৪৫) কেহ না সস্তাষে দাসে, অকৃতি বলিয়ে
হাসে ‘মা’ এমন বন্ধন কেন কলি মায়াপাশে।
আস্থাই।
--
ধনলােভি পরিজন, সদালই গঞ্জন, তত্ত্ব চিন্তা
পরানন্দ, নাশে অনায়াসে। সতত কুজন সঙ্গ, মম
মতি হয় ভঙ্গ, কমলাকান্তের প্রাণী কাপে সদা এই
ত্রাসে।। অন্তরা।
রাগিণী -মুলতানী।
তাল--একতাল।
( ৪৬ ) আমার অসময় কে আছে করুণাময়ি
ওপদে বিপদ নাশে নিতান্ত ভরসা ওই। আস্থাই।
কখন কখন মনে করি ধন পরিজন, কোথা রব
কোথা রবে সে ভাব থাকয়ে কৈ। মজিয়ে বিষয় বিষে,
দিন গেল রিপু বশে, আপনারি ক্রিয়া দোষে, অশেষ
যন্ত্রণা সই। ১। অন্তরা।
সুকৃতি যে জন, সে সাধনে পাবে ঐচরণ, অকৃতি
অধম প্রতি কিগতি তারিণী বই। কমলাকান্তের আশ,
হৈতে চায় ‘মা’ তব দাস, কেন হবে মন বশ, আমি
যে তাদৃশ নই। ২। অভােগ।

( ২৫ )
রাগিণী-ললিত।
তালএকতালা।
(৪৭) এত চঞ্চল হইয়াছ তারা কি কারণে বল,
‘মা’। শ্মশানে মশানে ফের ‘মা’ সেখানে কি ফুল,
‘গাে”। আস্থাই।
তারা মাের নয়নের তারা, ক্ষণে ক্ষণে হই হারা,
ক্ষেপ মেয়ে হৃদয় মন্দিরে বসি খেল ‘গো।।
অন্তরা।
বুঝি কি কারণ বাস না সম্বর কেন, তােমার
তিলেক অবসর নাই “মা” বান্ধিতে কুন্তল ‘গাে। ২।
অন্তরা।
কমলাকান্তের এই, কথা রাখ কৃপাময়ী, তােমার
গুণে বান্ধা নিগুণ পালঙ্কে বসি দোল, ‘গো”। ৩।
অভোগ।
রাগিণী-ললিত।
তাল-একতাল।
( ৪৮ ) কেনরে আমার শ্যামা মায়ে বল কাল।
যদি কাল বটে, তবে কেন ভুবন করে আলো। আস্থাই।
‘মা মাের’ কখন শ্বেত কখন পীত কখন নীল লােহিত,
‘রে’ আমি জানিতে না পারি জননী কেমন ভাবিতে জনম
গেল।১। অন্তরা।

( ২৬ ) ‘ম মাের’ কখন প্রকৃতি, কখন পুরুষ কখন শূন্য মহাকাশ ‘রে আরে, কমলাকান্ত ওভাব ভাবিয়ে সহজে পাগল হলো। ২। অভোগ। রাগিণী-বেহাগ। তাল-জলদ তেতালা। (৪৯) আজু কেন লােল রসনা বিবসনা শবাস- নােপরে হর উরে কি কর জননি! গলিত অম্বর কেশ, ধরেছ মা কেমন বেশ, পদভরে কম্পিত ধরণী আস্থাই। নর কর শির হার, একি তব অলঙ্কার, কি কারণে না পর তাম্বর হেম মণি। ত্যজি মণি মন্দির, কেন মা শ্মশানে ফের, উন্মত্তা যেন পাগলিনী। ১। অন্তরা। ক্ষণে ক্ষণে হুহুঙ্কার, ধরাতে না সহে ভার, কম্পিত হয়েছে সহ করি কূৰ্ম্ম ফণি। কমলাকান্তের এই, নিবেদন ব্ৰহ্মময়ি, হর উরে ধীরে ধীরে নাচ গো জননী। ২। অভোগ। রাগিণী-বেহাগ। তাল-একতালা । (৫০) চরণ দুটি তাের, ‘গাে শ্যামা’ তারণ কারণ কলি ঘাের। দশ নখ চন্দ্র নিরখি পরম সুখী মানস নয়ন চকোর। আস্থাই।

( ২৭ )
অশরণ শরণ, ভকত মনােরঞ্জন, মদন দহন মন
চোর। কমলাকান্ত নিতান্ত তমস হৃদি কমল নিৰ্ম্মল কর
মাের ‘গাে’। ১। অন্তরা।
রাগিণী-বেহাগ।
তাল-জলদ তেতালা।
(৫১) কালি আজু নীলকুঞ্জ, তেজঃপুঞ্জ লতা
শােণিত নূতন মুঞ্জরী। কিঙ্কিণী কলরব, মধুকর গুঞ্জরে
কোকিল বচন সুমাধুরী। অস্থাই।
মুকুট শিখণ্ডী, শ্রবণ বিহঙ্গী, নাভি সরােজহি পুণ্ডরী।
লােচন খঞ্জন, শ্ৰবদন ভ্রমরী, পিয়ে মকরন্দ কাদম্বরী। ১।
অন্তরা।
চরণ তমাল ব্যাল দ্বয় নূপুর, শিব রজতাচল তদুপরি।
কমলাকান্ত দেখরে পরমাপ্ত ত শঙ্কর উরূপরে শঙ্করী। ২।
অভােগ।
রাগিণী-পুরবি।
তাল -একতালা।
(৫২) শঙ্কর উরে বিহরে শ্যামা রঙ্গিণী। সৌদামিনী
সহিত, সুধাংশু মিলিত, নীল কাদম্বিনী। আস্থাই।
বাঁধে চিকুর না পরে বাস, ও বিধু বদনে মধুর
হাস, চিন্তামণি নিলয়ে প্রকাশ, সশিব শিব নিতম্বিনী।১।
অন্তরা।

( ২৮ )
তারণ কারণ চরণ যন্ত, যে জন না জানে সে জন ভ্রান্ত,
ও নিতান্ত শান্ত করে কৃতান্ত কমলাকান্ত বন্দিনী। ২।
অন্তর।
রাগ-মালকোষ।
তাল-জলদ তেতালা।
( ৫৩ ) “আগে শ্যামা গাে’ আপনি হয়েছ দিগম্বরী
শ্যামা দিগম্বর হুবােপরে “মা”। আস্থাই।
এ কেমন পাগলির বেশ, আলায়ে পড়েছে কেশ,
কত নাচ লম্বিত চিকুরে ‘গাে’ ‘আগে। মা”।১। তারা।
বুঝিলাম ব্যবহার, যত দেখি পরিবার, উন্মত্ত হইয়ে,
নাচে বাস না সম্বরে। কমলেরে এই বিধি, নিকটে
রাখিবে তবে দিগম্বর কর মােরে ‘গগা। ২।
ঘদি,
অভােগ।
রাগিণী—-আড়ানা।
তাল-জলদ তেতালা।
( ৫৪ ) গিরিরাজ নন্দিনী, অসুর নাশিনী, অভয়
দায়িনী, সুর গণে। তিন লােক পালিনী, মহিষমর্দিনী,
পতিত তারিণী, ত্রিভুবনে। আস্থাই।
অতি গম্ভীর নাদ, বিবাদ সুররিপু, দৈত্য সুত, সব
রিপু সনে। সুরাসুর নগিনর, গণ চরণ সেবিত, সমর
রাঙ্গণী বিবসনে। ১। অন্তরা।

( ২৯ )
ত্রিগুণ ধারিণী, তুমি তারা ত্রিনয়নী, ব্রিজগত শুভে
শুভদায়িনী। প্রমথ সঙ্গ, বিরাজ ভবভয়, ঘাের তিমির
বিনাশিনী। ২।
অন্তরা।
কমলাকান্ত পতিতে নিতান্ত, শরণ দেহি শিবে, তব
শ্রীচরণে। শমন দুরন্ত, অতি বলবন্ত, মিনতি অনন্ত
হের, তারা ত্রিনয়নে । ৩। অভােগ।
রাগ-বসন্ত।
তাল-ধামার।
(৫৫) কালী কালী কালী তার বাণী, ‘আরে”
রটরে রসনা এ দিন যামিনী। আস্থাই।
ত্রিভুবন জননী, স্থিতি লয় কারিণী, নিগুণ সগুণ ব্রহ্ম
পদ দায়িনী। ১। অন্তরা।
ঘােড়শী ভুবনা, ভৈরবী ছিন্না, ধূমাবতী মাতঙ্গিনী। বগল।
কমলা, ইতি দশ বালা, দীন দাস কমলাকান্ত মােচনী। ২।
অভােগ।
রাগিণী-মুলতানী বাহার।
তাল-জলদ তেতালা।
(৫৬) শারদা বিরাজে শ্বেত সরােজে; দেখ রে
নয়ন’ কি আনন্দ করুণাময়ী ভুবন মাঝে। অস্থাই।
বীণা যন্ত্র তন্ত্র মঙ্গল ধ্বনি, মধুর মধুর গরজে। ১।
অন্তরা।

( ৩০ )
গায়তি হরি গুণা, নৃত্যতি প্রমগনা, মণিময় নূপুর
বাজে। কমলাকান্ত মগন মন ভ্রমরা শ্রীচরণ সরােজ
রজে। ২। অভােগ।
রাগ-বসন্ত।
তাল-ধামার।
(৫৭) ভৈরবী
ভৈরব ‘জয় কালী কালী বলি
নাচত সমর সুধীর। সমর তরঙ্গ বিরাজয়ি শঙ্করী, সুখদ
বসন্ত সমীর। আস্থাই।
যেই ব্ৰহ্ম তুমি পতি ব্রঙ্গ বন্ধুগণ দেয়ত শ্ৰী৷ অঙ্গে
আবীর। সেই তনু শামা রূপা যােগিনী সঙ্গে, খেলত
রঙ্গ রুধির। ১। অন্তরা।
বিপরীত রঙ্গে, শ্রম জল অঙ্গে, সুধাময় সিন্ধু
গভীর।
তরুণ বয়সি তরুণ শিব তরিপর পুলকিত
শ্যামা শরীর। ২। অন্তরা।
ক্ষিতি তল চুম্বিত কেশ দিগম্বরী ভুষণ নর কর
শির। কমলাকান্ত মনােহর রূপ হেরি, বরিষয়ে আনন্দ
নীর। ৩।
অভােগ।
রাগ-বাহার বসন্ত।
তাল-জলদ তেতালা।
(৫৮) দুটি চরণ সরােজ সরােজোপরে, আসব
আশয়ে কত, অলি গুঞ্জরে। আস্থাই।

( ৩১ )
একি অপরূপ প্রফুল্ল পঙ্কজোপরে, ওপদ নখর ছলে,
শশি বিহরে। ১।
অন্তরা।
কি শােভা যাবক * কি শীতল পাবক, কিবা
তরুণ অরুণ আসি উদয় করে। কমলাকান্ত অনুপ
রূপ ভুপ,
নিরখি পুলকে তনু, নয়ন ঝুরে । ২।
অভােগ।
রাগ-বসন্ত।
তাল---যত।
(৫৯) সুতন্ত্রী বীণা বাজয়ি রে, বিহরয়ি মনােহর
বেশে। সুখময় সবরাজে ত্রিভক্ত তরঙ্গিণী, নৃত্যয়ি তরুণ
বয়সে। আস্থাই।
বেণী শ্রেণী ভুজগাবলী নিন্দিত, লম্বিত উরুযুগ
অংশে। লােচন খঞ্জন অঞ্জনে রঞ্জিত, সিন্দুর তিমির
বিধ্বংসে। ১।
অন্তরা।
কমলাকান্ত দেখরে গগন বিধু, জলজ কমল বিনাশে।
একি পরমাদ্ভূত পদনখ চন্দ্রে, হৃদয় কমল পরকাশে। ২।
অভােগ।
* আলতা।

{ ৩২ }
রাগিণী-
খট।
তাল—একতালা।
(৬০) তারা চরণ কর সার, ‘রে মানসা। বিষয়
বিরলে ত্যজ কেন মজ মিছাভ্রমে। আস্থাই।
এসেছ অসার ভবে, কেন মর মিছা লােভে, ভেবে
দেখ তুমি কার, কে আছে তােমার। ১। অন্তরা।
এ ধন যৌবন পরিজন কি তাের সঙ্গে যাবে, এমন
রতন কায়া কোথা রব কোথা রবে। কমলাকান্তেরে যদি
এ সঙ্কটে নিস্তারিবে। এখন যতনে রাখ বচন আমার
‘রে।
অভােগ।
রাগিণী-খট।
তাল-জলদ তেতালা।
(৬১) যখন যেমন রূপে রাখিবে আমারে। সকলি
সফল যদি না ভুলি তােমারে। আস্থাই।
জনম করম দুখ সুখ করি মানি, জলদ বরণী যদি
নিরখি অন্তরে শ্যামা।। অন্তরা।
বিভূতি ভূষণ কি রতন মণি কাঞ্চন, তরুতলে
বাস কি, রাজ সিংহাসন ; কমলাকান্ত উভয় সম
সাধন, জননি নিস যদি হৃদয় মন্দিরে ‘গাে মা'। ২।
অন্তরা।

( ৩৩ )
রাগিণী--কালেঙ্গড়া।
তাল—কাওয়ালির ঠেকা।
(৬২) মানব দেহ পেয়েছিলাম ‘ভবে তােমার
এ তনু তােমারে পিলাম। যা কর জননি আমি অবসর
হৈলাম। আস্থাই।
অনিত্য সংসার সুখ, তাহে হৈলাম বৈমুখ, মান
অপমান দুখ, দূরে তেয়াগিলাম। ১। আন্তর।
কমলাকান্তের ভার, মা বিনে কে লবে আর, ভাবিয়ে
চরণাম্বুজে শরণ লইলাম। ২।
তাভােগ।
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল-টুঙ্গরি।
(৬৩) আদরিণী শ্যামা মাকে ; আদর করে হৃদে
রাখ। তুমি দেখ আমি দেখি, আর যেন ভাই কেউ
দেখে। আস্থাই।
কামাদিরে দিয়ে ফাঁকী, এসো তােমায় আমায় জুড়াই
অাখি, রসনারে সঙ্গে রাখি, সেও যেন মা বলে ডাকে। ১।
অন্তরা।
অজ্ঞান কুমন্ত্রী দেখ, ‘তারে’ নিকট হতে দিও নাক,
জ্ঞানের প্রহরী রাখ, খুব যেন সাবধানে থাকে।২। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, ভাই আমার এক নিবেদন, দরিদ্র
পাইলে ধন, সেও কি অন্যান্তরে রাখে। ৩। অন্তরা।

( ৩৪ )
রাগিণী-খাম্বাজ।
তাল-একতালা।
(৬৪) তারিণী আমার কেমন, কে জানে তারে,
যেমন তারা তেমনি ভাল। দুটি অভয় চরণ, ভাব ওরে
মন, অনুমানে তার কি কাৰ্য, বল। আস্থাই।
প্রকৃতি পুরুষ অথবা শূন্য, সেই সে সকলি সকলে
ভিন্ন, ধন্য ধন্য কে জানে অন্য, ভব যারে ভেবে পাগল
হলাে। ১। অন্তরা।
নীল পীত শ্বেত লােহিত বর্ণ, কি রূপ কি গুণ কে
জানে মৰ্ম্ম, ‘সে’ সহজে প্রবীণা, অতি সুনবীনা, স্বভাব
নিল কথার কাল। ২। অন্তরা।
যে রূপে যে জন, করয়ে ভাবনা, সেই রূপে তার
পূরয়ে কামনা, দ্বৈত ভাব ত্যজ, নিত্যানন্দে মজ, অনিত্য
ভাবনায় কি আর ফল। ৩। অন্তরা।
কমলাকান্ত কি ভাবনা আর, পেয়েছ যে ধন হেলে
হবে পার, ওপদে বঞ্চিত যে জনা তার, একূল ওকূল
দুকূল গেল। ৪। অন্তরা।
রাগিণী—অহং মুলতানী।
তাল-কাওয়ালী।
{ ৬৫ } করুণাময়ি দীন অকিঞ্চনে; বারেক হের মা।
সদা মগনা সুধানন্দে কালী তনয় ত্রাসিত ভব বন্ধনে। আস্থাই।

( ৩৫ )
আমি যে শুনেছি তুমি পতিত পাবনী মা দয়াময়
দীন তারণে। কমলাকান্ত ক্রিয়া হীন পতিতে, ত্রাহি কৃপা
অবলম্বনে। ১। অন্তরা।
রাগিণী—অহং খাম্বাজ।
তাল-কাওয়ালির ঠেকা।
(৬৬) অভয়ে দেহি শরণং করুণাময়ি’ কাতরে,
অনুগত জন প্রতি পালিনী, গাে”। আস্থাই।
ত্রাসিত মম তনু বিষয় নিবন্ধে,
নিবন্ধে, ত্রাহি ত্রিতাপ
বিনাশিনি ? ‘গো”।১। অন্তরা।
ত্রিভুবন সৃজন পালন লয় কারিণী, শ্রুতি স্মৃতি গতি
দায়িনী, গো মা। কমলাকান্ত প্রমােদ প্রদায়িনী, চন্দ্র
চূড় হৃদি চারিণী গাে’। ২। অভােগ।
রাগিনী-অহং মুলতানী।
তাল-একতাল
(৬৭) কালীর ইচ্ছা যেমন, ‘রে মন’ বৃথা কর
বাসনা। মন তুমি কি করিবে, কোথা কি পাবে, কালী
না পূরালে কামনা। আস্থাই।
জন্মান্তর ক্রিয়া অনুচর, জীবের যে কিছু যন্ত্রণা ! তুমি
এই কর মন, ভাব চরণ, মহতের এই মন্ত্রণা।১৷ অন্তরা।
‘তুমি যে ভেবেছ দেহ অভিমান, এ সকলি তারি বঞ্চনা।
সেই সে কী ধাত্রী হত্তী,আর যত সে বিড়ম্বনা।২। অন্তরা।

( ৩১ )
ভৰানী,
কমলাকান্ত মান অপমান, দূরে ত্যজ গুরুগঞ্জনা।
‘তুমি’ ভাব ভাব ভব গৃহিণী
রবে ভবের
ভাবনা। ৩। অন্তর।
রাগিণী—সিন্ধু কাফি।
তাল-একতালা।
(৬৮) ভ্ৰময়ে মন ‘তারা তােমারি বশে। এই
দেহ যন্ত্র তুমি যন্ত্রী, তব গুণে বাধা গুণময়ী, ‘হেমা আমি
দোষী হই কি দোষে। আস্থাই।
দুর্গম নহে অতি সুখশ্রয় দুর্গানাম, তাহে কেন তনু
অলসে, ‘মা’। দুষ্ক্রয় বিষয় কঠিন, কমলাকান্তের মূঢ়
মানসা, সদা লােভী সেই বিষে। ১।
অন্তরা।
রাগিণী—সিন্ধু কাফি।
তাল-ধিমা তেতালা।
(৬৯) ‘তারা বল কি অপরাধে, অঘ অনুরােধে,
বঞ্চনা করিলে আমায়। আস্থাই।
এ ছার মানব জাতি, সতত চঞ্চল মতি, তায় ক্রোধ
কেমনে জুড়ায়। ১। অন্তরা।
শ্রুতি স্মৃতি পরিহরি, যা মানস তাই করি, ভরসা
দিয়াছি তব দায়। কমলাকান্তের আর, কে আছে
ভুবন মাঝে, ‘মা’ এত সুপেছি
সুপেছি রাঙ্গাপায়। ২।
অভােগ।

{ ৩৭ )
রাগিণী --হােসেনী টোড়ী।
তাল--একতালা।
(৭০) শ্যামা বিনা অর জুড়াইব কিসে, ‘মনরে’
তাপিত প্রাণ। কলুষ, ভুজঙ্গে, গ্রাসিত অঙ্গ, জারিল
দারুণ বিষে, ‘রে। অস্থাই।
বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত পদ, নিবসন রে ওমন, পাইয়াছ
শ্ৰীনাথ আদেশে। তবে কেন মন, ত্যজ এমন ধন,
কেবল কপট অলসে। ১। অন্তরা।
কখন কি হয়, এ তনু আপনার নয়, প্রলয় আঁখির
নিমিযে। কমলাকান্তের, বুঝিলাম এত দিনে, ঘুচিল
মনের দিশে। ২। অভােগ।
রাগিণী—পরজ।
তাল—একতলা।
(৭১) বাম কে রে দেখনা চাহিয়ে, সমরে শঙ্করে।
পরে। প্রকৃতি অসিতাঙ্গ ধারিণী, সমরে বিহরে। আস্থাই।
অশ্রুতি পথ গত তরঙ্গ, অসি শির ধৃত বাম অঙ্গ,
প্রমথ সঙ্গ বামা উলঙ্গ, অভয় সঞ্চরে। ১। অন্তরা।
অনন্দে অনাদি হৃদয় নিয়ে বিবস্ত্র, কালী কেন
সমর ঘােরে, অমর শরণাগত নখরে। ২। অন্তরা।
( ঘ )

( ৩৮ )
দিগ দিগন্তে সম কৃতান্ত, হেরি বামা শ্যামা রূপ
নিতান্ত, হেরি বয়ান মুদি নয়ন, নিরখি অন্তরে।
কমলাকান্ত আশ্রিত চরণারবিন্দ হেরি কৃতার্থ, রণ
অসাৰ্থ কর অনর্থ চরণে শরণ লহরে। ৩। অভােগ।
রাগিণী -সিন্ধু।
তাল-ধিমা তেতালা।
(৭২) শঙ্করী শিবে শ্যামে ভীমে উমে ভবানি।
বরদে শারদে আশুতোষ হর রাণী। আস্থাই।
দুঃখ হর ভয় হর, রিপুহর স্মরহর, মনােমােহিনী;
চরাচর নাগ নর শূর প্রতিপালিনী, ‘ভবে
‘ভবে অম্বিকে’
অনুগত সুত বিহিত কারিণী। ১। অন্তরা।
মৃত্যুঞ্জয় হৃদয় চারিণী, শরণাগত কলুষ নাশিনী,
কমলাকান্ত হৃদি বিহারিণী। ২। অভােগ।
রাগিণী -সিন্ধু কাফি।
তাল--একতালা।
(৭৩) মনের বাসনা কত দূর, কে জানে। মন
পেয়েছে মনের মত অভয় চরণ হেরিয়ে ‘গাে। আস্থাই।
ঐহিকের যত সুখ তৃণ করি মনে।১। অন্তরা।
ব্ৰতাদি নিয়ম যত,
তাহে নহে অনুগত, কদাচ না
হলাে রত তীর্থ গমনে। কমলাকান্তের মন, এত
উনমত্ত কেন, চরণকমল মধুপানে। ২। অন্তরা।

( ৩৯ )
।
ক্ষীণ।
রাগিণী-লম ঝি ঝেটি।
তাল-একতালা।
(৭৪) দীন গাে জননি! অতি দীন, “ওম” আমি
অতি ভজন বিহীন। আস্থাই।
অসিত সময় শশী,
শশী, দিনে দিনে যাদৃশী, তাদৃশী
হতেছি মলিন। ১। অন্তরা।
পুরাকৃত ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম ফল ভাজন, ক্ষণে ক্ষণে পরমায়ু
কমলাকান্ত ভরসা
ভরসা ভব মােচনী, ‘মা’ নাম
শুনে হয়েছি অধীন। ২। অন্তরা।
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(৭৫) কালী বলে ডাক, রে মন আর ভার তােমায়
দিব না।
তুমি এই কর মন কথা রাখ ঘরের
বাহির হইও নাকো। অস্থাই।
ঘরে আছে ছ জন কুজন, তার সঙ্গী হৈও না ‘মন’ কেবল
রসনা রঙ্গিয়া বটে যত্নে ৩ায় স্ববশে রাখ।১। অন্তরা।
ভবের যাতনা যত, তনু আছে তার অনুগত, দুঃখ
জানে এ দেহ জানে, তুমি তো আনন্দে থাক। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের হৃদি,
হৃদি, কমলে অমূল্য নিধি; আমি
আপন বলি তােমায় দিলাম, জ্ঞান চক্ষু খুলে দেখ।
৩। অন্তরা।

( ৪০ )
রাগিণী—কানেড়া বাগেশ্রী।
তাল—একতালা।
(৭৬) দয়াময়ী করুণাময়ী দীনে তার, ‘গে।
কালি’
।। এতনু জীর্ণতরী স্ববশ নয়, ভব তরঙ্গ
অনিবার, ‘গো। অস্থাই।
সাজেছি পাপের ভরা, গমনে হৈয়াছে ত্বরা, বিদিত
চরণে যত, বাণিজ্য আমার।
বাণিজ্য আমার। কমলাকান্তের গতি ঐ তারা
নাম, ভরসা ভবার্ণবে ভব কর্ণধার, গাে। ১। অন্তরা।
রাগিণী—মূলতানী।
তাল-জুলদ ভোেল।
(৭৭) মা তব চরণাম্বুজে হেরিয়ে জীবন আছে।
নতুবা যাতনা যত, ইপে কি মানৰ বঁাচে। আস্থাই।
জ্ঞাতি বন্ধু পরিজন, বিরত থাকিতে প্রাণ, অকৃতি
বলিয়ে তারা, করতালি দিয়া নাড়ে। ১। অস্তরা।
কমলাকান্তের আর, কে আছে ভুবন মাঝে, অাপনার
বলিয়ে অনি, যাব, ‘গেমা কারকছে। ২। অন্তরা।
রাগিণী- কাফি।
ভাল—ধিমা ভোলা।
(৭৮) মােরে বঞ্চনা কেন কর তারিণী, ‘গো মা।
তমসি ভবার্ণব তারণ তরণি, সুমতি
কুমতি গতি
দায়িনী। আস্থাই।

( ৪১ ) ধর্মাধর্ম হিতাহিত জ্ঞান নাহি মম, মিছা কাযে গেল দিন কমলাকান্ত নিতান্ত শরণাগত, বারেক হের, আশুতােষ গেহিনী। ১। অন্তরা। যামিনী। হয়েছ রাগিণী-কাফি। তাল –ধিমা তেতালা। (৭৯) শিখেছ যতনে যত চাতুরী ‘মন। আপনি, রিপু আপনার। আস্থাই। ধরেছ ভকত বেশ, না দেখি ভকতি লেশ, কদাচ কপট রীত, গেলনা তােমার। ১। অন্তরা। মন দুরাচার, তুমি হলে কর্ণধার, ডুবাইতে তরণি আমার। কমলাকান্তের প্রতি, কঠিন হয়েছ অতি, না মজিলে সুধাময়, চরণে শ্যামার, ‘রে। ২। অভােগ। রাগিণী-* জঙ্গল। তাল-একতালা। (৮০) সদানন্দ ময়ি কালি, মহাকালের মন- মােহিনী, ‘গো মা। তুমি আপন সুখে আপনি নাচ, আপনি দেও মা করতালি। আস্থাই। আদিভূতা সনাতনী, শূন্য রূপা শশি ভালী। যখন ব্রহ্মাণ্ড না ছিল ‘হে মা’ মুণ্ডমালা কোথায় পেলি। ১। অন্তরা। * রামপ্রসাদীয় সুর।

( ৪২ )
সবে মাত্র তুমি যন্ত্ৰী, যন্ত্র আমরা তন্ত্রে চলি।
তুমি যেমন রাখ তেমনি থাকি, যেমন বলাও তেমনি
বলি। ২। অন্তরা।
অশান্ত কমলাকান্ত, দিয়ে বলে গালাগালি। এবার
সর্বনাশী, ধরে অসি, ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম দুটই খেলি। ৩। অরা।
রাগিণী
জঙ্গলা।
তাল-একতালা।
(৮১) আর কিছু নাই শ্যামা তােমার, কেবল দুটি
চরণ রাঙ্গা। শুনি’ তাও নিয়াছেন ত্রিপুরারি, অতেব
হৈলাম সাহস ভাঙ্গা। আস্থাই।
জ্ঞাতি বন্ধু সুত দারা, সুখের সময় সবাই তারা, }
‘কিন্তু বিপদ কালে কেউ কোথা নাই, ঘর বাড়ী
ওড় গায়ের ডাঙ্গা। ১। অন্তরা।
নিজগুণে যদি রাখ, করুণা নয়নে দেখ, নইলে
জপ করি যে তােমায় পাওয়া, সে সব কথা ভূতের
সাঙ্গা। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের কথা,মারে বলি মনের ব্যথা, আমার জপের
মালা ঝুলি কঁাথা, জপের ঘরে রইল টাঙ্গা। ৩। অরন্তা।
}
* রামপ্রসাদীয় সুর।
$ সম্পত্তির ভাগী তারা। ইতি দ্বিপাঠ

{ ৪৩ )
রাগিণী—জঙ্গলা।
তাল-একতালা।
(৮২) তােমার গলে জবা ফুলের মালা, কে দিয়াছে
তােমার গলে। যত সমর পথে, নেচে যেতে, রয়ে রয়ে
রয়ে দোলে ৷ আস্থাই।
রণ তরঙ্গ প্রমথ সঙ্গ, চিকুর আলায়ে উলঙ্গ, কি
কারণে লাজ ভঙ্গ, শিব তব পদতলে। ১। তান্তরা।
অভয় বর সব্য হস্ত, বাম করে শিরসি অস্ত্র, দেখে
সুরগণ হয়ে ব্যস্ত, রক্ষ বক্ষ রক্ষ বলে। ২। অন্তরা।
মুকুট গগনে ঘাের বরণ, খল খল হাসি তিমির হরণ,
কমলাকান্ত সতত মগন, শঢরণ কমলে। ৩। অন্তরা।
2
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(৮৩) তেঁই শ্যামা রূপ ভালবাসি, ‘কালি জগম
মােহিনী এলােকেশী। তােমায় সবাই বলে কাল কালী
আমি দেখি অকলঙ্ক শশী। আস্থাই।
বিষম বিষয়ানলে ‘মা’ দহে তনু দিবানিশি। যখন
শ্যামার রূপ অন্তরে জাগে, আনন্দ সাগরে ভাসি।।
অন্তরা।

( ৪৪ )
মনের তিমির খণ্ড খণ্ড করে মায়ের করের অসি।
মায়ের দিন শশি, মধুর হাসি, সুধা রে রাশি রাশি। ২।
অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, নহে অন্য অভিলাষী, ‘আমার’
শ্যামা মায়ের যুগল পদে, গয়া গঙ্গা বারাণসী। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-বেহাগ।
তাল জলদ তোলা।
(৮৪) কালি তুমি কামরূপা, কেমনে রহে ধ্যান।
আমি কোন কীট মানুষ, মানসে কত জ্ঞান। আস্থাই।
বেদশাস্ত্র পুরাণাদি, কি করিছে সাংখ্য বাদী, যার
ব্ৰহ্মা বিষ্ণু শিবের অসাধ্য অনুমান। ১। অন্তরা।
‘যদি নির্বাণ উত্তম বটে, তবে’ অণিমাদি কি সে খাটে,
‘ইথে’ বিদ্যা কি অবিদ্যা বটে, কে জানে সন্ধান। কমলা-
কান্তের চিত্ত, অনুভবে এক সত্য, যার’ যে শ্ৰনাথ দত্ত,
সে তত্ত্ব প্রধান ‘মা’। ২। অভােগ।
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(৮৫) ‘মন’ চল শ্যামা মার নিকটে ? মা মাের
অগতির গতি বটে। যার যে বাসনা, মনেরি কামনা,
সেখানে সকলি ঘটে। আস্থাই।

( ৪৫ )
অল্প পুণ্যভরা, সাজিয়ে পশরা, এনেছে। ভবের হাটে।
যা কর উপায়, পাঁচে মেলি খায়, কলঙ্ক তােমারি রটে। ১।
অন্তরা।
কার রাজ্য লয়ে, আনন্দিত হয়ে, রাজত্ব কররে পাটে।
আছে এক জনা, লইতে খাজানা, জমি যে বিকাৰে লাটে।
২। অন্তরা।
কমলাকান্ত কি ভাবনা ভাব, দাড়ায়ে নদীর তটে।
‘দেখ’ দুকূল পাথার, না জান সাঁতার, তরণী নাই যে
ঘাটে। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-জঙ্গল খাম্বাজ।
তাল-কুরী।
(৮৬: আচার বিচার নিত্য নয়। সে সাধকের
দাঢ্যভাব, সে সত্যময়। আস্থাই।
‘দেখ’ এক বস্তু নানামত, ‘সে’ পঞ্চতত্বে অনুগত,
যাহাতে উপজে পুনঃ, তাহাতেই প্রলয়। ১ অন্তরা।
ধ্যান স্থির যে জনার, সেই ব্যক্তি সদাচার, ‘সে’ ব্রহ্ম
রূপ ভাবিয়ে, আনে ব্ৰহ্মময়। কমলাকান্তের চিত, হটেতে
তরণী পাত,নানা দেশ ভ্রমণ,কেবল দুঃখ চয়। ২। তভােগ।
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(৮৭) যন্ত্রণা কত সব, আর গো বল মােরে, ‘মা’

( ৪৬ )
ভবে প্রজ্জ্বলিত, পতঙ্গের মত, বারে বারে পড়ি, বিষয়
ঘােরে। আস্থাই।
গমনাগমন করি অকারণ, অভয় চরণ না ভাবি কখন
অমৃত ত্যজিয়ে, গরল ভুঞ্জিয়ে, মৃত প্রায় ভাসি ভবের
নীরে।১। তান্তর।
মহামায়া যুক্ত মানব দেহ, মৃত কায়া হেরি করয়ে
স্নেহ, অসার আপনি না ভাষয়ে প্রাণী, বিপদে ভাবনা
করে অন্তরে। ২। তারা।
নিতম্ভ 'পতিত কমলাকান্ত, নিবেদন করে চরণে
পান্ত, ‘অমার’ মন অশান্ত বিষয় ভ্রান্ত, ছেরি কৃতান্ত
ভয় না করে। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(৮৮) তােনার ভাল চিন্তা সদা ; করি গাে তােমার
নিকটে।
দুখে যা সুখে যা জেনেছি, যে আছে লিখন
ললাটে। অস্থা।
বারে বাবে ভ্রমণ করি মা, আমার এই কৰ্ম্ম বটে।
লিস্তু দীন দেখে যদি দয়াকর তবে, দীন দয়াময়ী নামটি
টে। ১। অন্তরা।
আমার বাপের শীল হৈলে মা, তোমার বাপের নিন্দ।
ছোটে। তােমার বাপের স্বভাব হৈলে, উভয় কুলে
প্রম:দ ঘটে। ২। অন্তরা।

( ৪৭ )
মন তুরঙ্গ
কমলাকান্ত হাটের হেটো, হট সইছে বেড়াই হাটে।
‘তুমি যদি করিবে না পার তবে কেন, নৌকাখানি লইয়ে
ঘাটে। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-ভাঙ্গল।
তাল-একতালা।
(৮৬) তুমি মিছে ভ্রমণ করে নারে
পথে চল। তুমি সুকৃতি সুমন্ত্রী বট, কুমন্ত্রণায় কেন
ভােল। আস্থাই।
তুমি যে শুনেছ ভাই, ভােগ মােক্ষ এক ঠাই, যার গাছ
হলাে না ফল পাবে কি, সে সব আশা শিকায় তােল। ১।
অন্তরা।
দেখিয়ে না দেখ দিটে, বিপক্ষ চড়েছে পীঠে, তােমার
রথী সে সারথি হারা, কি সঙ্কট ঘটাবে বল। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, ‘তুমি পরের বশে মর কেন,
‘কালী’ নাম ব্ৰহ্ম তীক্ষঅস্ত্রে, মূখের ৪ লাগাম কেটে
ফেল। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল—একতালা।
(৯০) জানি গো দারুণ শমনে, যাব না। মা তার
ভবনে। তারে দিয়াছ বিষয় পেয়েছে এখন, তােমার
দোহাই মানে না মানে। আস্থাই।
# মায়ার। ইতি দিপাঠ।

( ৪৮ )
‘হে মা আমি জানি নিজ কৰ্ম্মাকৰ্ম্ম, বিশেষে কৰ্ম্ম
ফল সে জানে। তােমার যা হয় উচিত, কর মা বিহিত,
আপন সম্মুখে আপন গুণে। ১। অন্তরা।
লঘু দোযে করে অধিক দণ্ড, অন্যথা কে করে তিন
ভুবনে। সে তােমার বল পেয়েছে এখন, দীনের কথা
শুনিবে কেনে। ২। অন্তরা।
হজুরে বিচার হলে একবার, নাহি মানি তার পদাতি
গণে। যেন’ কমলাকান্ত বলে কৃতান্ত, স্বপনে কখন না
করে মনে। ৩। তারা।
রাগিণী - জঙ্গল।
তাল-একতালা ।
(৯১) মন ভ্রমে ভুলেছ কেনে, তুমি নানা শাস্ত্র
আলাপনে। শ্ৰনাথ দত্ত প্রধান তত্ত্ব, দাঢ্য কর সেই
চরণে। আস্থাই।
যখন যারে ব্রহ্ম বল, সেই ব্ৰহ্ম সেই পুরাণে। তােমার
দ্বৈত ভাবে দিবস গেল, চিদানন্দ রয় কেমনে। ১।
অন্তর।
তন্ন তন্ন করি মলে, কি পেলে ছয় দরশনে। তুমি
বিদ্যা অবিস্তারে জান, মহাবিদ্যা আরাধনে। ২। অন্তরা।
কমলাকান্ত কালীর তত্ত্ব, অনুমানে কেবা জানে।
যার আদি অন্ত মধ্য নাই, সে নানা মূর্তি নানা স্থানে। ১।
অন্তরা।

( ৪৯ )
রাগিণী--নটুবেলাওল।
তাল-ধিমা তেতালা।
(৯২) অামার ‘মন’ ভুলনা, মন ভুলনা লােকেরি
কথায়। অরে অনিত্য সংসার নিত্য ভাব শ্যামা মায়।
আস্থাই।
কে বলে মা নিদ্রা গেছে, নিদ্রার কি নিদ্রা আছে,
যে নিজে অচৈতন্য, অচৈতন্য ভাবে তঁায়। ১। অন্তরা।
যুগাচারি যে জন হয়, তার কাছে কি কলির ভয়, সত্য
আদি চারি যুগ বান্ধা রাঙ্গা পায়। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, ত্যজ অন্য আলাপন, ‘তুমি
আপন সুখে আপনি মজ, কারে কে সুধায়। ৩। অন্তরা।
রাগিণী--টোড়ী।
তাল-কাওয়ালা।
(৯৩) তবে কেন হইল মানব দেহ। গুরু চরণে
মতি হইল না। যে কারণে এই তনু ধন্য, কেন সে পথে
আমার মন গেল না। অস্থাই।
আমার ধন আমার পরিজন আমার সুত দারা,
এই কোরে হৈলাম পথ হারা, সারাৎ সারা পরাৎপর।
তারা, নাম লইলে না। কমলাকান্ত হৈলে নিতান্ত
( ৬ )

( ৫০)
উনমত, কুপথ ভ্রমণে ক্ষমা দিলেন, সুপথ মনেরে
শিখাইলে না।১। অন্তরা।
রাগিণী-আলেয়া।
তাল-কাওয়ালি-তাল ফেরত।
(৯৪) শঙ্কর মনােমােহিনী তারা ত্রাণ কারিণী
ত্রিভুবন অঘ বিদারিণী, ভব জননী। ভবানী ভয়ঙ্করী
ভীমে বাণী ভয় হরিণী তারিণী। আস্থাই।
* অপর্ণা অপরাজিতা, অন্নদা অম্বিকা সীতা, অসিত
অভয়া নিত্যানন্দ দায়িনী।
* বৃন্দাবন রস রসিক
বিলাসিনী, ব্যাস ভাষ খলু রাস প্রকাশিনী, কমলাকান্ত
হৃদি কমলে তিমির হর বরজ রমণী। ১। অন্তরা।
রাগিণী—ভেটিয়ারি।
তাল-ইঙ্গরি।
(৯৫) কেমন বেশ ধরেছ, জননি’ হর উনােপরে
উলঙ্গ মােহিনী “মা'। আসব আনন্দ দে মগনা হয়েছ,
‘গাে মা। আস্থাই।
চামরী গঞ্জিত কেশ, আলুয়ে দিয়েছ। নব জলধর
কায়, রুধিরে ঢেকেছ। ১। অন্তরা।
* বিষয় ভ্রমণে।
* ইতি দ্বিপাঠ।
জলদ তেতালা।
কওয়ালি।

( ৫১ )
আপনার রঙ্গ রসে, আপনি মজেছ। নৱকর শিরো
হার, ভূষণ করেছ। ২। অন্তরা।
ভূত প্রেত দানা সেনা সঙ্গেতে লয়েছ। কমলাকান্তেরে
কেন, পাসরে রয়েছ, ‘গো মা। ৩। অন্তরা।
রাগিণী--জঙ্গলা।
তাল-একতালা।
(৯৬) পরের কথায় আর কি ভুলি।
কত ভ্রমিয়া
দেশ, পেয়েছি শেষ, যা কর দক্ষিণা কালী। আস্থাই।
যত ইতি নাম, আদি শিব রাম, সকলের কর্তা
মুণ্ডমালী। মায়ের চরণ কমল, অতি নিরমল, মন
গিয়ে তায় হওনা অলি।১। অন্তরা।
কালী নাম সুধাপান কর রে মন, নাচ গাও দিয়া
কর তালী। নীল শশধর করেছে আলো মহানিশি প্রায়
হয়েছে কলি। ২। অন্তর।
তাজিয়ে বসন, বিভূতি ভূষণ, মাথায় লও কালী
নামের তালি। কমল বলে দেখ, দেখি মন, কত সুখে
সুখী হলি। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-মুলতানী।
তাল--তিওট।
(৯৭) কি হৈল মোর অন্তরে কাল কামিনী।
* রামপ্রসাদীয় সুর।

আমারে বুঝাও
( ৫২ )
ওরে মন, তুমিও
যে ভুলেছ হেরিয়ে
ভামিনী। আস্থাই।
না ভাবিতে আপনি ভাবিত কর, হৃদি মাঝে নিবস
দিবস যামিনী।১। অন্তরা।
ঐ মেয়ে শম্ভু সাধন করে, অথ শম্ভু হৃদে পদ ধরে,
ভ্রময়ে উলঙ্গ গলিত চিকুরে, তথাপি ত্রিভুবন মন:
প্রমােহিনী। ২। অন্তরা।
ঐ মেয়ে ভুবন পালন করে, অথ প্রলয়ে পঞ্চম হরে,
কমলাকান্ত মানস বিহরে, কুলপথ ধ্যান মানস মণি। ৩।
অন্তরা।
রাগিণী--মুলতানী।
তাল--জলদ তেতালা।
(৯৮) ভবে কত না দিয়াছি ভার আসিয়া এবার।
এখন কামনা দুটি চরণ তােমার। অস্থাই।
আসি আশা হলো আশা, আশায় আশ নৈরাশা,
আমার আসার আশা, আশা মাত্র সার। ১। অন্তরা।
বেদাগমে অসম্মত, কুকর্ম করেছি কত, অপরাধ
শত শত, ক্ষম মা আমার। কমলাকান্তের এই, নিবেদন
ব্ৰহ্মময়ী, এই বার করুণা করি, ভবে কর পার।
অভোগ।১।
বামা।

( ৫৩ )
রাগিণী-সিন্ধু কাফি।
তাল-ঢিমা তেতালা।
(৯৯) আপনারে আপনি দেখ, যেওনা মন কারু
ঘরে।
তুমি যা চাবে এই খানে পাবে, খােজ নিজ
অন্তঃপুরে। আস্থাই।
পরম ধন পরশ মণি, যে অসংখ্য ধন দিতে পারে।
এমন কত মণি পড়ে আছে, চিন্তামণির নাচদুয়ারে। ১।
অন্তরা।
তীর্থ গমন দুঃখ ভ্রমণ, ‘মন উচাটন হয়াে নারে।
তুমি আনন্দে ত্রিবেণীর ঘাটে* শীতল হওনা মূলধারে। ২।
কি দেখ কমলাকান্ত, মিছে বাজি এ সংসারে। ওরে
বাজি-করে চিলে না সে তোমার ঘটে বিরাজ করে। ৩।
অন্তরা।
রাগিণী-জঙ্গলা।
তাল-একতালা।
(১০০) যেমন কলি তেমনি উপায়, কালী নামের
জোর ডঙ্কা বাজেরে। তারা, নামের বলে যে জন
চলে, সে কারে করে শঙ্কা। অস্থাই।
* মানে ইতি দ্বিপাঠ।
* ঘরে দ্বিপাঠ ।
* ধরণ কীৰ্ত্তনাঙ্গের।

( ৫৪ ) উত্তম মধ্যম দীন, তুমি কারে না ভাবিও ভিন, তােরে লােকে যদি বলে হীন, ক দিন সে কলঙ্কা। ১। অন্তরা। ‘যে ধৰ্ম্মাধর্ম বেদে রটে, সে নাম শূন্য জনে বটে, কিন্তু কমলাকান্তের ঘটে, মিছা সে আতঙ্ক ‘রে। ২। অন্তরা। রাগিণী-মুলতানী। তাল-একতালা। (১০১) আরে ও শুন’ ভব ভাবিনী ভাবনা গেল দূর। তােমার’ অভয় চরণারবিন্দে ভরসা প্রচুর। আস্থাই। উঠে ছিল বিষয় তরু ‘মা’ ভাঙ্গিলে অঙ্কুর। এখন নিতান্ত ভরসা হলো চিন্তামণি পুর। ১। অন্তরা। কালী নামামৃত ফল ‘মা’ শীতল মধুর। আমায় কয়ে দিলে এ মন্ত্রণা মাতার ঠাকুর। কমলাকান্তের পাটা ‘মা’ দাখিল হজুর। দেখে ভয়ে পলাইল কৃতান্ত মজুর। ১। অভােগ। রাগিণী-জোয়ানপুরীয়া টোড়ী। তাল—আড় চৌতালা। (১০২) তুমি যে আমার, নয়নের নয়ন, মনেরি মন প্রাণেরি প্রাণ ‘শ্যামা। এ দেহের দেহী, জীবনের জীবন। আস্থাই। ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ পর ধাম প্রাপ্তি গতি, অগ-

( ৫৫ )
তির কারণেরি কারণ। কমলাকান্ত কাম্ভ কুলকান্ত প্রবল
কৃতান্তক ভব তারণ।১। অন্তরা।
রাগিণী-জঙ্গলা।
তাল-একতালা।
(১০৩) শ্যামা ভাল ভেবেছ মনে। যে’ ও পদে
আশ্রয় লয়, তারে বিষয় বিষে রাখবে কেনে। আস্থাই।
কিঞ্চিত করুণাময়ী, কালী যদি চাও নয়নে। তবে
নিরানন্দ দূরে যায় মা, সদানন্দ সুধাপানে। ১। অন্তরা।
বিষয় পথের পথি যারা, সে চবে কেন তাদের সনে।
‘সে একাকী বিরলে বসে হেঁসে হেসে চায় যাত্রিগণে। ২।
অন্তরা।
কমলাকান্তের এই, নিবেদন ‘মা’ চরণে। আমার
একুল গেল ওকুল রাখ, সকুল হও নাথের বচনে। ৩।
অন্তরা।
রাগিণী- জঙ্গল।
তাল—একতালা।
(১০৪) কালী সব ঘুচালি লেঠা। শ্ৰনাথের লিখন
আছে যেমন, রাখবি কি না রাখবি সেটা। আস্থাই।
তােমার যারে কৃপা হয় তার, সৃষ্টি ছাড়া রূপের ছঠা।
তার কটিতে কৌপীন যােড়ে না, গায়ে ছাই আর মাথায়
।

( ৫৬ )
শ্মশান পেলে সুখে ভাস, তুচ্চ বাস মণিকোঠা * ।
আপনি যেমন ঠাকুর তেমন, ঘুচল না তার সিদ্ধি-
ঘােটা। ২। অন্তরা।
দুঃখে রাখ সুখে রাখ, করবাে কি আর দিয়ে খোঁটা।
আমি দাগ দিয়ে পরেছি আর, পুছতে কি পারি সাধের
ফোটা। ৩। অন্তরা।
জগত যুড়ে নাম দিয়াছ, কমলাকান্ত কালীর বেটা।
এখন মায়ে পােয়ে কেমন ব্যাভার, ইহার মর্ম জানবে
কেটা। ৪। অন্তর।
রাগিণী-সিন্ধু।
তাল--ধিমা তেতালা।
(১০৫) মন ভেবেছ কপট ভক্তি করে শ্যাম
মায়ে পাবে। এ ছেলের হাতের লাড়, নয় যে ভােগ
দিয়ে কেড়ে খাবে। আস্থাই।
সাত গেঁয়ে আর মামদো বাজি, কেবা কারে ফাঁকি
দিবে।
‘সে’ কড়ার কড়া তস্য কড়া, আপনার গণ্ডা
বুঝে লবে। ১। অন্তরা।
আইন সূরত গঙ্গাজলী, করেছ সাবধান হবে। “তুমি
মষ্টে মস্টে * মুখ মুছে খাও, এ কথা কি জানতে হবে। ২।
অন্তরা।
* মণিময় অট্টালিকা।
মষ্টে অর্থাৎ লুকায়িত হইয়া

( ৫৭ )
কমলাকান্তের মন, এখন কি উপায় করিবে। কালী
নাম লও সত্বর হও, নামের গুণে ভরে যাবে। ৩।
রাগিণী-ঝিঝেটী।
তাল-জলদ তেতালা।
মন।
(১০৬) তুমি কি ভাবনা ভাব, ওরে আমার অবোধ
সময় পেয়েছ ভাল, সাধনারে শ্যামাধন। আস্থাই।
সৃজন পালন লয়, যে তিন হইতে হয়, তারা তাের
ভাবনা ভাবে বিধি হরি ত্রিলোচন। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, অনিত্য এই ত্রিভুবন, নিত্য কেবল
নিত্যানন্দ ময়ীর দুটি শ্রীচরণ। ২। অন্তরা।
রাগিণী-সিন্ধু।
তাল-ঢিমা তেতালা।
(১০৭) মন পবনের
নৌকা বটে, বেয়ে দে
শীদুর্গা বােলে। মহামন্ত্র যন্ত্র যার, সুবাতাসে বাদাম তুলে।
আস্থাই।
মহামন্ত্র কর হাল, কুণ্ডলিনী কর পাল, দুজন কুজন
আছে যারা, তাদের দেরে দাড়ে ফেলে। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের নেয়ে, নঙ্গর তােল দুর্গা কোয়ে, পড়িবি
তুফানে যখন, সারি গাবি সবাই মিলে। ২। অন্তরা।

( ৫৮ )
রাগিণী—সিন্ধু।
তাল-ঢিমা তেতালা।
(১০৮) শুকনা তরু মুঞ্জরনা ভয় লাগে মা ভাঙ্গে
পাছে। তরু’ পবন বলে সদাই দোলে, প্রাণ কাঁপে
মা থাকতে গাছে। আস্থাই।
বড় আশা ছিল মনে, ফল পাব মা এই তরুতে। তরু
মুঞ্জরেনা শুকায় শাখা,ছটা আগুণ বিগুণ আছে। ১।অন্তরা।
কমলাকান্তের কাছে, ইহার একটি উপায় আছে।
জন্মজরা মৃত্যুহর, তার নামে হেঁচলে বাঁচে। ২। অন্তর।
রাগিণী-* জঙ্গল।
ভাল-একতালা।
(১০৯) কেন আর অকারণ, কিসের চিন্তা কর
মন। তুমি সাধিলে সাধিতে পার, শিবের সাধের ধন।
অস্থাই।
এসো না বিরলে বসি, ভাবি শ্যামা মুক্তকেশী, তাের
গয়াগঙ্গা বারাণসী, মায়ের শ্রীচরণ। ১। অন্তরা।
ভাবিলে ভবানী ভবে, ভবের ভাবনা যাবে, তাের
পাপ পুণ্য কোথা রবে, শমনের দমন। ২। অন্তরা।
রামপ্রসাদীয় সুর

( ৫৯ )
কমলাকান্তের আশা, নাম ব্ৰহ্ম কৰ্ম্মনাশা, সেতে
কঠিন নয় কেবল মুখের ভাষা, সুসাধ্য সাধন। ৩।
অস্তরা।
রাগিণী-ইমন বেলাওল।
তাল—তিওট।
(১১০) ত্বাং প্রণমামি শিবে। করুণাময় গোকালি।
কিঞ্চিত কুরু করুণা অবলম্বনে দীনে ‘মা’। আস্থাই।
মা দেহি দেহি অখ মতি তব চরণারাধনে।১। অন্তরা।
কলুষান্বিত চেতেনিয়ত অতি চঞ্চল বঞ্চিত হিত
সাধনে। ওমা শ্রীনাথ দত্ত সুতত্ত্ব পথ হত বিষয়ালম্বনে
ওমা। অভােগ।১।
মায়াময় দেহ সতত অলসাম্বিত, দিন গত বৃথা ভ্রমণে।
কমলাকান্ত অশান্ত সায়, কৃপাবলােকনে। অভােগ। ২।
রাগিণী-পুরবি।
তাল-একতালা।
(১১১) মন গরিবের কি দোষ আছে। তায়ে
কেন নিন্দা কর মিছে। বাজি করের মেয়ে তারে, যেমন
নাচায় তেমনি নাচে। আস্থাই।
শুনেছ দীন দয়াময়ী, লােকে বলে বেদে আছে।

( ৬০ )
আপনাকে যে আপনি তােলে, পরের বেদন কি তার
কাছে। অন্তরা।১।
আপনি যেমন শঠের মেয়ে, তেমনি সঙ্গ ভাল
মিলেছে। ‘সে’ লেংটো থাকে ভস্ম মাখে, লােকে ভাল
বলে পাছে। অন্তরা। ২।
তবে যে কমলাকান্ত, ও চরণে প্রাণ সপেছে। তাতে
ভিন্ন নাহি অন্ত, নৈলে কেন সার করেছে। ৩। অন্তরা।
রাগিণী -বিভাষ।
তাল-একতালা।
(১১২) এছার দেহের কি ভরসা ভাই। “আরে মন
তােরে আমি সুধাই তাই। অস্থাই।
তুমি কি বুঝিতে পার, ‘দেহ’ কখন আছে কখন
নাই। অন্তরা। ১।
তােমায় আমায় ঐক্য হৈয়ে, রসনারে সঙ্গে লয়ে,
‘দেহ য দিন আছে ত দিন রােয়ে, সুখে শ্যামার গুণ
গাই। অন্তরা। ২।
ধৰ্ম্মাধর্ম দুটা পাখি, ‘তারা কেবল মাত্র আছে
সাক্ষী, ‘এসো কামাদিরে দিয়ে ফাকি, কল্পতরুর মূলে
যাই। অন্তরা। ৩।
কমলাকান্তের ভাষা,মন’পূর্ণ কর আমার আশা, এসো
বিশ্বময়ীর নাম লৈয়ে, বিশ্বনাথে বিষয় পাই। অন্তরা। ৪।

( ৬১ )
রাগিণী-ভৈরবী ।
তাল-একতালা।
(১১৩) শিব উরে বিহরে শ্যামা সমরে। মরি
বামকরে ধরে অসি বয়ে, বিগলিত চিকুরে ‘রে। আই।
নূতন জলধর রূপ ধরে, কত সুধাকরে উদয় করে, পদ
নখরে। কমলাকান্তের হৃদি কমল বরে, তিমির হরে।
অন্তরা।
রাগিণী-ভেটিয়ারি।
তাল-খেমটা।
(১১৪) নব সজলজলদ কায়। কাল রূপ হেরিলে
আঁখি জুড়ায়। আস্থাই।
কপালে সিন্দুর, কটিতে ঘুঙ্গুর, রতন নূপুর পায়। হাসি
হাসি কত দানব দলিছে, রুধির লেগেছে গায়। অন্তরা। ১
অতি সুশীতল, চরণ যুগল, প্রফুল্ল কমল প্রায়।
কমলাকান্তের, মন নিরন্তর, ভ্রমর হইতে চায়। অন্তরা।২ ।
। এই গীত ১২৩০ সালে রচিত
।
( চ )

( ৬২ )
রাগিণী—সুরট মল্লার।
তাল-একতালা।
(১১৫) সমরে বিহরে, ‘রে’ কার বাম রিপু নাশে
রে। বামা লক্ষ্য দিয়ে ‘দক্ষ কোরে’ খেপাপারা হাসে
‘রে। আস্থাই।
এলো থেলো চাচর চুল, তায় দিয়েছে জবাফুল,
নাশিছে দানব কুল, সুধায় দুকুল ভাসে রে। অন্তরা। ১।
সঙ্গে যত সহচরী, এলো থেলাে দিগম্বরী, কাটামুণ্ড
তুণ্ডে করি, বেড়ায় পাশে পাশে ‘রে'। অন্তরা। ২।
কমল কহে কাজল বরণ, অভয় পদে যে লয় শরণ,
কালী নামে কঁপে শমন, ত্রাসে না যায় পাশে ‘রে।
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(১১৬) ‘তারা’ মা যদি কেশ থােরে তােল। তবে
বাঁচি এ সঙ্কটে। আমার একুল ওকুল দুকুল পাথার,
মধ্যে সাঁতার বিষম হােলো। আস্থাই।
সঙ্গীগুলা হােলো ছাই, তাদের সঙ্গে ভেসে যাই,
ধরূতে গেলে আমায় ধরে ডােবে ডুবায় প্রাণটা গেল।
অন্তরা। ।
* রামপ্রসাদী সুর।

( ৬৩ )
করে ছিলাম যে ভরসা, না পূরিল সে সব আশা,
ভুলালে তখন ডুবলে এখন, আর কখন কি করূবে বল।
অন্তরা।২।
কমলাকান্তের ভার, মা বিনে কে লবে আর, ওমা”
চরণতরী শরণ দিয়ে, সঙ্গে লৈয়ে দেশে চল। ৩। অন্তরা।
রাগিণী—পর কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(১১৭) ওগাে নিদয়া তােরে, দয়াময়ী ললাকে কয়।
‘তারা জানেনা পাষাণের মেয়ে, হৃদয় পাষাণ ময়।
আস্থাই।
ও দুটি চরণ বিনে, অন্য কিছু যে না জানে, এত দুঃখ
তার প্রাণে, তােমার এ উচিত নয়। ১। অন্তরা।
তুমি আপনার সুখে সুখী, পরদুখে নও দুখী, তবে কি
কারণে ত্রিভুবনে, তব আশ্রয় লয়। কমলাকান্তের এই,
নিবেদন ব্ৰহ্মময়ী, তােরে কে সেবিত যদি, না থাকিত বম
ভয়। আতভাগ।
রাগিণী-বেহাগ।
তাল-একতালা।
(১১৮) কালি’ কত জাগিয়ে ঘুমাও, গাে’। আমি
কেমনে তােমায়ে’ জাগাইব। আস্থাই।

( ৬৪ }
তুমি সুমতি কুমতি, পুরুষ প্রকৃতি, তুমি শূন্য সঙ্গেতে
মিশাও। অন্যরা।১।
কারে রাখ তন্ত্র মন্ত্র আরাধনে, কারে ভ্রান্তি রূপেতে
মাও। ২। অন্তরা।
কারে দেহ যন্ত্র সাধন মন্ত্রণা, কারে যন্ত্রণা যােগাও।
কমলাকান্ত নিতান্ত অনুগতে,নাম রসে বিরমাও। আভােগ।
রাগিণী-বেহাগ।
তাল-একতালা।
(১১৯) ও নিস্তার কামিণি তারা গাে’। ত্রাহি
মাম্ ভবে ভয় হারিণী। আস্থাই।
ওমা পড়েছি পাথারে, না জানি সাঁতার, জননি’
দুকুল হয়েছি হারা, ‘গো। ওমা বাঁধি নিজ পাশে,
ভ্ৰমাইলে দাসে, মায়ের কি এমনি ধারা গো। ১। আভােগ।
এমা সুখের ভাজন, ধন পরিজন, ‘মা’ ঐহিক বান্ধব
যায় গো। ওমা কমলাকান্তের, যে দুখ অন্তর, মা
বিনে জানিবে কারা ‘গাে’। ২। আভােগ।
রাগিণী–কালেঙ্গড়া।
তাল-ঢিমা তেতালা।
(১২) ‘যার অন্তরে জাগিল ব্ৰহ্মময়ী, ‘তার’ বাহ
সাধন কিছুই নয়। অচিন্ত্য চিন্তিলে অন্য চিন্তা আর কি
মনে লয়। অস্থাই।

( ৬৫ )
‘যেন কুমারী কন্যারি খেলা, নানাভাবে নানা হয়।
‘তাদের স্বামির সঙ্গে মিলন হােলে, সে সব খেলা কোথা
রয়।১। অন্তরা।
কি দিয়ে পূজিবে তারে, সেই সব তত্ত্ব ময়।
‘দেখ’ নিগুণ কমলাকান্ত, তারেও করে গুণাশ্রয়।
২। অন্তরা।
রাগিণী-সুরট মল্লার।
তাল—একতালা।
(১২১) সুখের বাসনা করনা ক দিন। ত্যজি অন্য
ফল, কালী কালী বল, মানব জনম য দিন। আস্থাই।
পাবে ব্ৰহ্মপদ, অক্ষয় সম্পদ, স্মরণ করিবে এ দীন।
সৃষ্টি স্থিতি লয়, যা হইতে হয়, সে হবে তােমার অধীন।
১। অন্তরা।
যখন যেমন, বিধির লিখন, সেইরূপে যাবে সে দিন।
ভাবিলে বিষাদ, ঘটিবে প্রমাদ, কালী না বলিবে যে দিন।
২। অন্তরা।
কমলাকান্ত, হইয়া ভ্রান্ত, ভুলেছ ন মাস ন দিন বারে
বারে আসি, দুখ রাশি রাশি, যাতনা সবে কত দিন। ৩
অন্তরা।
*(কত না সবে ক দিন ইতি দ্বিপাঠ)

( ৬৬ )
রাগিণী—খট কালেঙ্গড়া।
তাল-পােস্তা।
(১২২) কেরে পাগলির বেশে, দিগবাসে, কার
রমণী । চিকুর আলুয়েছে
হইয়েছে বিবসনী ।
আস্থাই।
নর কর কোমরে, বামকরে অসিধরে, দশনে চমকিত
লােল রসনা বদনী। ১। অন্তরা।
ও বিধু বদনে হাসি, সুধা ক্ষরে রাশি রাশি, ঐ
বেশে নিস্তারিবে, কমলে গগা জননি। ২।
অন্তর।
রাগিণী-পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(১২৩) ‘মা’ তারা আমার কি, এত দিনে হৃদি
সরােজ প্রকাশিল। পতিত তনয়ে কি তাের মনে ছিল।
আস্থাই।
চরণাম্বুজ হৃদয় অম্বুজ মাঝে, নিরখি তিমিরচয়
দূরে গেল। ১। অন্তরা।
মণিময় মন্দির * মাঝে বিরাজে, শ্যামা নীলকান্ত
জিনি তনু নিরমল। কমলাকান্ত মনােহর রূপ হেরি,
মানব জনম কি সফল হােলো। ১। অভােগ।
( মঞ্জির দ্বিপাঠ )

( ৬৭ । রাগিণী-গারা ভৈরবী। তাল-ঢিমা তেতালা। (১২৪) ‘মা’ আর না সহে, ভব যাতনা। অকৃতি সন্তানে দেহি নিজ পদ ছায়া। আস্থাই। কি করিতে কিনা হয়, মন মাের বশ নয়, যা হইল সেই ভাল, বিষয় কামনা। অন্তরা ১। ওপদ আনন্দময়, যে জন শরণ লয়, ইহকালে পর- কালে, কিসের ভাবনা। কমলাকান্তের প্রতি, কেন মা বঞ্চনা অতি, না জানি জননীর মনে, কি আছে বাসনা। ১। অভােগ। রাগিণী—টোড়ী ভৈরবী । তাল-একতালা। (১২৫) এখন অার করাে না। তারা বঞ্চনা আমায়। নিকট হইল দেখ শমনেরি দায়। আস্থাই। যে করিলে সেই ভাল, সয়েছিলাম সয়েছিল, এখন ভাবিতে হৈলো, দীনের কি উপায়। ১। অন্তর। হৈলে শমন জয়, তাহাতে না করি ভয়, এই ভাবি নামের মহিমা পাছে যায়। অন্তরা। ২। কমলাকান্তের দুখ, হইলে হাসিবে মুখ, লােকে কবে শ্যামা সুখ, না দিলে ইহায়। ৩। অন্তরা।

( ৬৮ )
রাগিণী—ঝিঝোটী।
তাল-একতালা।
(১২৬) যতন কোরে ডাকি তােরে, আয় আয় মন
শুয়া পাখি। কালী পাদপদ্ম পিঞ্জরে পরমানন্দে থাক
দেখি। আস্থাই।
সদা শুন কুমন্ত্রণা নিত্য নূতন বিড়ম্বনা, মায়ের নাম
সুধায় ভাঙ্গ ক্ষুধা, কুসন্তানে দিয়ে ফাঁকী। ১। অন্তরা।
পাইয়া পরম ধাম, সুখে ডাক মায়ের নাম, এসাে
অনিত্য বাসনা ত্যজি, নিত্য সুখে হওনা সুখী। ২।
অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, ত্যজ অন্য আরাধন,
আরাধন, এসো
কালী নামে ডঙ্কা দিয়ে, শঙ্কা ত্যজে বসে থাকি।
৩। অন্তরা।
রাগিণী—যােগিয়া।
তাল-একতালা।
(১২৭) যদি পার যাবি মন ভর্ণবে, বেয়ে দে
তরণী। তাহে শ্ৰীনাথ কাণ্ডারি ‘রে মাস্তুল শ্রীভবানী।
আস্থাই।
দুর্গা বার কালী তিথি, ‘রে মন তাহে’ নক্ষত্র
তারিণী। আমার মন কর ‘রে’ শুভযােগ মাহেন্দ্র তখনি।
অন্তরা। ১।

( ৬৯ ) কুবাতাসে যদি ভাসে, তরি না চলে উজানে। তাহে বাদাম খাটায়ে দেরে, কুল কুণ্ডলিনী। ২। অন্তরা। কমলাকান্তের তরি, ‘রে মন’ তরিবে আপনি। ওরে ভয় কোরােনা ভরসা বান্ধো ব্ৰহ্ম সনাতনী। ৩। অন্তরা। রাগিণী-জঙ্গল। * তাল-একতালা। (১২৮) মন তুই কাঙ্গালি কিসে। কালী নামামৃত সুধা, পান কর মন ঘরে বােসে। আস্থাই। ভবার্ণবে মায়াতরী, কত ডুবছে উঠছে যাচ্ছে ভেসে। অরে আনন্দ মেতে রোয়ে, রঙ্গ দেখনা হেঁসে হেঁসে। ১। অন্তরা। অনিত্য ধন উপার্জনে, ভ্রমণ কর ‘রে দেশে দেশে। তাের করে যে অমূল্য নিধি, চিলি নারে সর্ব- নেশে। ২। অন্তরা। কমলাকান্তের মন, সুধাভ্রম হয়েছে বিষে। তুই অভয় চরণ, কর না স্মরণ, ঘর পাবি আর ঘুচবে দিশে। ৩। অন্তরা। T * (রামপ্রসাদী সুর)

( ৭০
রাগিণী-চেতা গৌরী।
তাল-জলদ তেতালা।
(১২৯) দুটি নয়ন ভুলেছে। ও নিবিড় ঘন রূপে।
আস্থাই।
যার যে মরম ব্যথা, সেই সে তা জানে গাে, না
বুঝিয়ে লােকে চরচে।.১। অন্তরা।
কুলশীল লাজ ভয়, কদাচ না মনে লয়, মান অপমানে,
তৃণাঞ্জলি দিয়েছে। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের চিত, সেই হােতে উন্মত, যে অবধি
কাল রূপ, অন্তরে লেগেছে। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-
-টোড়ী।
তাল-একতালা।
(১৩০) কর কাঞ্চি তােমার কটিতটে ‘গে শ্যামা,
একি অপরূপ, নয়নে হেরিলাম। আস্থাই।
কতকগুলা নরমুণ্ড পরেছ গাঁথিয়ে, ‘গাে শ্যামা
শবােপরে নাচ মা উলঙ্গী হইয়ে। খসিল অম্বর, বাস
সম্বর, কালী পাগলি হােলি বটে।১। অন্তরা।
চামর গঞ্জিয়ে, চাচর চিকুর ‘মা’ ধরণী লম্বিত ধূলায়
কমলাকান্তের, সভয় অন্তর, যাইতে জননী
নিকটে। ২। অন্তরা।
ধূসর।

( ৭ )
দিগম্বরী,
রাগিণী-যােগিয়া
তাল-ঢিমা তেতালা।
(১৩১) ভাল প্রেমে ভুলেছ হে ভােলা মহাদেবা।
আস্থাই।
পাইয়ে চরণ চিহ্ন, কদাচ না কর ভিন্ন, নিরখি নিরখি
কর সেবা।১। অন্তরা।
জিনি ঘন পরিবার, নিকর চিকুর ভার, আলুয়ে
পড়েছে অঙ্গে, অপৰূপ শােভ। যােড়শী
দিগম্বর ত্রিপুরারি, তােমার মহিমা জানে কেবা ।১।
অভােগ।
আনন্দে নাহিক ওর, মদনের মনোচোর, রমণী
অলসে বশ, রণরস লােভা।
রসনা রসিক মুখে,
রমণী রময়ে সুখে, কমলাকান্তের কমলেবা। ২।
আভােগ।
রাগিণী-যােগিয়া।
তাল-একতালা।
(১৩২) ‘তুমি’ ভুলনা বিষয় ভ্রমে, মনরে আমার।
শ্রীদুর্গা অমৃত বাণী, সদা কর সার। আস্থাই।
ধন জন গৃহ জায়া, এ সকল মিছা মায়া, ‘মন রে
ভেবে দেখ নিজ কায়া, নহে আপনার। ১। অন্তরা।
পেয়েছ পরম নিধি, এসাে না যতনে সাধি, মন রে
কমলাকান্তেরে যদি, করিবে নিস্তার। ২। অন্তরা।

( ৭২ )
রাগিণী--সিন্ধু।
তালপােস্তা।
( ১৩৩ ) রঙ্গে নাচে রণ মাঝে,
কার কামিনী
মুক্ত
কেশী। হৈয়ে দিগম্বরী ভয়ঙ্করী, করে ধরে তীক্ষ্ণ অসি।
আস্থাই।
‘কেরে’ তিমির বরণী বামা, হৈয়ে নবীন যােড়শী।
গলে দোলে মুণ্ডমালা, মুখে মৃদু মৃদু হাসি। ১।
অন্তরা।
বিনাশে দনুজ গণে, দেখে মনে ভয় বাসি। দেখ’
শৰ ছলে চরণ তলে, অশুতােষ পড়িল আসি। ২। অন্তরা।
‘কেরে ডাকিনী যােগিনী মায়ের সঙ্গে ফেরে অহ:
ঘন ঘন হুহুঙ্কারে, দিতির নন্দন নাশি। ৩।
অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, অন্য নহে অভিলাষী। আমার
কাল রূপ অন্তরে ভেবে, সদানন্দ সদা খুসী। ৪। অন্তরা।
রাগিণী-পরজ।
তাল-পঞ্চম সােয়ারি।
(১৩৪ ) আমার গাে’ (ওমা) গতি কি হবে,
তারা জানে ( মা জানে। আস্থাই।
তারা বিনে আর, ইহকালে পরকালে, আর যত
ভরসা মনে। ১। অন্তরা।
নিশি।

( ৭৩ )
আমিত নিপুণ অতি সাধনে, বিদিত জননীর দুটি
শ্রীচরণে। কত দিনে হবে ত্রাণ, কমলাকান্তের, এঘাের
ভব বন্ধনে। ১। আভোগ।
রাগিণী—জঙ্গলা।
তাল-একতালা।
(১৩৫ ) তেঁই বলি সাবধানে চল।
এ যে দখিনে
ভায়ার লাটরে বাবা। চলে সিকে কল জলুসি সেথা, না
চলে আড়কা রে বাবা। আস্থাই।
তুমি কর যার ভরসা, সেতো বড় কঠিন আশা, সেথা
ব্ৰহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর, যাঁর, মাথায় করে খাট যে বাবা। ১
অন্তরা।
সে যা বলে তাই হয়, সে কথা অন্যথা নয়, সেথা কেউ
শুনে না কারু কথা, কালা কালীর হাট রে বাবা। ১
অন্তরা।
কমলাকান্তের কাছে, ইহার একটি উপায় আছে,
কালী নাম লৈয়ে যে ধাম চলে, তার শমন ছাড়ে বাটরে
বাবা। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-পরজ কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৩৬) হায় গাে আমার কি হৈল, হৃদি সরােহ
দলে। কাল কামিনী মুকালো। আস্থাই।
( 5 )

( ৭৪ )
যখন মুদিয়া ছিলাম, তখনি ছিল, চাহিতে চঞ্চলা
মেয়ে, পলকেতে মিশাইল। ১। অন্তরা।
আমরি কি সুন্দরী, অতুল পদ রাতুল,
আদ্য যামে
হংস যেমন অংশুতে উজ্জ্বল। কমলাকান্তের মন, মিছে
ভাব অকারণ, যদি পাবে শ্যামা ধন, নয়ন মুদে থাকা
ভাল।১। অভােগ।
রাগিণীভূপালি।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৩৭) অনুপমা রূপ অনুপ শ্যামা তনু, হেরি
হেরি নয়ন জুড়ায় ‘রে। আস্থাই।
সজল কাদম্বিনী জিনিয়ে কুন্তল, তার মাঝে কামিনী
সৌদামিনী খেলায়। ১। অন্তরে।
অঞ্জন অধর আতসে মুকুতা ফল, নীল লােহিত ভ্রমে,
অলিকুল ধায়। ক্ষণে ক্ষণে হাস্য কটাক্ষ কামিনী করে,
শিবের মন সহজে ভুলায় রে। ১। অভােগ।
মৃগাঙ্ক অরুণ চরণ নখ কিরণে, রক্তোৎপল জিনি
পদতল তায়। কমলাকান্ত অনন্ত না জানে গুণ শ্রীচরণ,
মানবে কি পায়। ২। অভােগ।
রাগিণী—ইমন।
তাল—কাওয়ালি ঠেকা ।
(১৩৮) কেন মিছে ভ্রমে ভুলে রৈলি মম ‘রে।
* (রাতুল ) রাঙ্গা।

( ৭৫ )
আপনার আপনার কর, কে তােমার
কে তােমার কার তুমি।
আস্থাই।
নলিনী দলগত নীর সম জীবন, না জানি কি হইবে
কখন। অন্তরা। ১।
সৃজন পালন লয়, সাধিলে সকলি হয়, সে ফল
ত্যজিয়ে কেন, বিফলে ভ্রমণ। পুরাকৃত পুণ্য, জন্য
ফল মানব, এ তনু মজালে অকারণ। ১। অভােগ।
যাহার লাগিয়ে কত, করেছ কঠিন ব্ৰত, পেয়ে সে
পরম নিধি, না কর যতন। কমলাকান্ত ভ্রান্তি বশ হইয়ে,
‘বুঝি হেলায় হারাবি শ্যামা ধন। ২। অভােগ।
রাগিণী—পূরবি।
তাল--একতালা।
(১৩৯) পাগলীর বেশে মােহিনী কে বিহরে ‘রে।
আস্থাই।
বিবসনা সমরে, নর কর কমরে, অসিবর বাম করে
ধরে ১। অন্তরা।
ডিমিকী ডিমিকী ডমরু বাজে, হর হৃদি পরে শ্যাম
বিরাজে, রণ সমাজে না করে লাজে, কুল রমণী বামা
কে এলােরে।
মৃদু মৃদু হাসে, চপলা প্রকাশে, কমলেরি আশ
পূরে। ১। অভােগ।

( ৭৬ )
রাগিণী—* গওরা।
তাল—তিওট।
(১৪) সুগম্ সাধন বলি তাের, ওরে আমার
মূঢ় মন সাধরে। যখন যাতে সুখে থাক মন, তাতেই
ভাব মারে। আস্থাই।
যদি না থাকিতে পার মন, চিন্তমণি পুরে। চরাচরে
শ্যামা মা মাের সকলে সঞ্চরে।১। অন্তরা।
স্থলেহনলে শূন্যে আছে মা মাের’ সলিলে সমীরে !
ব্ৰহ্মাণ্ড রূপিণী শ্যামা, মারে জান নারে। ২। অন্তরা।
ঘটে আছে পটে আছে ‘মা মাের’ সকল শরীরে।
কামিনীর কটাক্ষে আছে, তেঁই জগতে মন্ হরে।
৩। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, ভয় করেছ কারে। বিরিঞ্চি
বাঞ্ছিত নিধি ঘটেছে তােমারে। ৪। অন্তর।
রাগিণী জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(১৪১) এই কথা আমারে বল, তােমার কেবা মন্দ
কেবা ভাল। আস্থাই।
* অর্থাৎ পূরবি গৌরী মিশ্রিত।। চঞ্চল মন সাধরে।
ইতি দ্বিপাঠ। ! রামপ্রসাদী সুর)

( ৭৭ )
বিদ্যারূপে দিয়ে জ্ঞান,কারে কর পরিত্রাণ,কারে অবিদ্যা
আবৃত কোরে, মােহ গর্তে টেনে ফেল। ১। অন্তরা।
জীব মাত্র শিব বটে, একথা অনেকে রটে, যে সদানন্দ
তারে কেন, নিরানন্দ হােতে হৈল। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের কালী, মনের কথা মায়ে বলি, কারু
সুখে উপর সুখ, কারু দুঃখে কেন জনম গেল।
৩। অন্তরা।
রাগিণী-সােহিনী।
তাল-একতালা।
(১৪২) কেমন কোরে তবে তারা তুমি মাত্র
একা। আমার অনেক গুল বাদী গাে তার নাইকো
লেখা জোকা। আস্থাই।
ভেবেছ মাের ভক্তি বলে, লােয়ে যাবে বলে ছলে,
অভক্তের ভক্তি যেনাে পেত্নীর হাতের শাঁখা। ১।
অন্তরা।
নাম ব্ৰহ্ম বটে সার, সেওতাে আমার অতিভার, মনের
সঙ্গে রসনার, খাবার সময় দেখা। কমলাকান্তের
কালী, হৃদে বােস উপায় বলি, এ বিষয়ে উচিত হয় চৌকী
দিয়ে থাকা। ১। অভােগ।

( ৭৮ )
রাগিণী-জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(১৪৩) আমার মনে ইচ্ছা আছে। এবার কালী
বােলে বাহুতুলে যাব শ্যামা মায়ের কাছে। আস্থাই।
কালী নাম সারাৎসার, নিঃসরে বদনে যার, সে জন
ভক্ত জীবন মুক্ত, দোহাই দিয়ে শিব কয়েছে। ১। অন্তরা।
‘যার’ কালী নাম আসার, কালের ভয় কি আছে
তার, তুমি এই কোরাে সতর্কে থেকো, কাল বরণ ভােল
পাছে। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের কথা, ঘুচলাে আমার মনের ব্যথা, এবার
নাম জেনেছি,ধাম চিনেছি,পথ বড় সুগম হয়েছে। অন্তরা।
রাগিণী—মূলতানী।
তাল-তিওট।
(১৪৪) শিবে চাওগাে তারা তুমি, ওমা পাষাণের
মেয়ে এত সফল কর মা বারেক হেরিয়ে। আস্থাই।
ধরেছ বাপের রীতি, কঠিন হয়েছ অতি, তেঁই দয়া
উপজে, ‘গাে’ দীনের মুখ চেয়ে। ১। অন্তর।
যদি বা কুপুত্র হয়, মায়ের বৈ আর কারাে নয়,
কে কোথা তনয়ে ত্যজে, জননী হইয়ে। কমলাকান্তের
ভার, বল কে লইবে আর, কিঞ্চিত করুণা কর ‘মা’ কাতর
দেখিয়ে। ১। অভােগ।

( ৭৯ )
রাগিণী—যােগিয়া ।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৪৫) কালী নামের কত গুণ, রসনা কি জানে!
জানিলে মজিত কেন, ভ্রম রস পানে। আস্থাই।
আর দেখ ত্রিলােচন, সদানন্দ সনাতন, সদা সে
মগন শ্যামা, নাম গুণ গানে। ১। অন্তরা।
কালী নামামৃত সুধা, না রাখে বিষয় ক্ষুধা, নাশিয়ে
সকল বাধা, প্রলয় প্রধানে। ২। অস্তরা।
রসনার যেমন মত, মন তাহে অনুগত, অবােধে বুঝাব
কত, বুঝলে না মানে। কামাদি ছ জন অতি, অনুকূল
তারি প্রতি, কমলাকান্তের গতি, হইবে কেমনে। ৩।
অভােগ।
রাগ—ভৈরে।।
তাল-একতালা।
(১৪৬) জাননারে মন, পরম কারণ, কালী কেবল
মেয়ে নয়। মেঘের বরণ, করিয়ে ধারণ, কখন কখন
পুরুষ হয়। আস্থাই।
হােয়ে এলােকেশী, করে লােয়ে অসি, দনুজ তনয়ে
করে সভয়। ‘কভু
ব্ৰজপুরে আসি, বাজাইয়ে বাঁশী,
ব্রজাঙ্গনার মন হরিয়ে লয়। ১। অন্তরা।
ত্রিগুণ ধারণ, করিয়ে কখন, করয়ে সৃজন পালন

( ৮০ )
লয়। কভু আপনার মায়ায় আপনি বাঁধা, যতনে এভব
যাতনা সয়। ২। অন্তর।
যে রূপে যে জন, করয়ে ভাবনা, সেই রূপে তার,
মানস রয়। কমলাকান্তের হৃদি সরােবরে, কমল মাঝারে
করে উদয়। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-ললিত যােগিয়া।
ভাল-একতালা।
(১৪৭) সামান্য নহে মায়া তােমার পার হব কিসে।
আমি করি সুধাম, মিছা পরিশ্রম, বিষম বিষয় বিষে
‘গাে’। আস্থাই।
আগে যে ছিল না, সে শেষে রবে না ‘মা’ অসময়
কেহ কথাও কবে না, দুদিনের দেখা, তারে ভাবি সখা,
কেবল কৰ্ম্ম দোষে। ১। অন্তরা।
ঐহিকের সুখ দুখ কিছু নয়, আমি জানি গো জননি
জগ মিছাময়, কমলাকান্ত তথাপি ভ্রান্ত, কেবল তােমার
বশে। ২। অন্তরা।
রাগিণী—ইমন।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৪৮) ‘মা’ আমি কি করিলাম ‘ভবে আসিয়ে'।
সফল মানব দেহ, বিফলে খােয়ালাম। আস্থাই।
সবে মাত্র এই হােলো, মিছা কাযে দিন গেল, আপনি
পাইলাম দুখ, জননীরে দিলাম। ১। অন্তরা।

( ৮১ ) শ্রীনাথ নিকটে নিধি, যদি মিলাইল বিধি, পাইয়ে পরম ধন, হেলায় হারালাম। নামের মহিমা রেখাে, কমলাকান্তেরে দেখাে, অসময় নিকটে থেকো, এই নিবেদিলাম। ১। অভােগ। রাগিণী—পর কালেঙ্গড়। তাল-জলদ তেতালা। (১৪৯) নাচ গাে শ্যামা আমার অন্তরে। সদানন্দ- ময়ী নাচ চিদানন্দ উরে। আস্থাই। নাচগাে নাচগাে শ্যামা, নাচন দেখি, তােমার, দিগবাস অট্টহাস গলিত চিকুরে। ১। অন্তর। মণিময় মন্দির, সুরতরুমূলে, ওই ধাম আবৃত, সুধা সরােবরে। ২। অন্তরা। কমলাকান্তের এই, কামনা করুণাময়ী, এ তনু সফল কর মা, দুখ যাউক দূরে। ৩। অন্তরা। রাগিণী—জঙ্গল। তাল-একতালা। (১৫০) ‘মা’ কখন কি রঙ্গে থাক, শ্যামা সুধা তরঙ্গিণী। তােমার মায়া জাল ভাল করাল, কপাল মাল বিভূষণী । আস্থাই। কিভু লম্ফে ঝম্প কম্পে ধরা, অসিকরা করালিনী। ‘কভু অঙ্গ ভঙ্গি অপাঙ্গে অঙ্গ ভঙ্গ দেয় জননী। ১। অন্তরা।

( ৮২ )
অচিন্ত্য অব্যয় রূপা, গুণাতীত। নারায়ণী। ত্রিগুণ।
ত্রিপুরা তারা, ভয়ঙ্কর কাল কামিনী। ২। অন্তরা।
সাধকের বাঞ্ছাপূর্ণ, কর নানা রূপ ধারিণী। কভু
কমলের কমলে নাচ, পূর্ণব্রহ্ম সনাতনী। ৩। অন্তরা।
রাগিণী—সুরট মল্লার।
তাল-তিওট।
(১৫১) আলুয়ে পড়েছে বেণী, জিনি নব মেঘ
শ্রেণী। আর তাহে সুচঞ্চল, শ্যামা নীল সৌদামিনী।
আস্থাই।
“আরে হুহুঙ্কার গরজে, গভীর নিনাদিনী। হরিষে
বরিষে সুধা, সুধানন্দ তরঙ্গিণী। ১। অন্তরা।
‘আরে’ অতি নিৰ্ম্মল চরণ, প্রফুল্ল নীল নলিনী
নখর মুকুর কর, হিম কর কর জিনি। ২। অন্তরা।
‘আরে’ চরণারুণ কিরণে, আবৃত কত দিনমণি।
কমলাকান্তের হৃদি, কমল সুপ্রকাশিনী। ৩। অন্তরা।
রাগিণী—গারা ভৈরবী।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৫২) আমার আর কবে এমন দিন হবে গো
জননি। দুটি নয়নে হেরিব শ্রীচরণ দুখানি।
আস্থাই।
তব,

( ৮৩ )
যেরূপ অন্তরে দেখি, দেখিবারে চায় আঁখি, পূরাও
দেখি কামনা, করুণা তবে জানি। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের আশা, ধৰ্ম্মাধর্ম কৰ্ম্ম নাশা, তবে
শ্ৰনাথের ভাষা, ধন্য কোরে মানি। ২। অন্তরা।
রাগিণী—ঝিঝেটী।
তাল-একতালা।
(১৫৩) ভাল ভাব ভেবেছ ‘রে মন’ তাের ভাবের
বালাই যাই। তাের ভাবে ভব ভাবিনী ভবনে বােসে
পাই। আস্থাই।
ঐ ভাবে ভুলে থাক, ভাবান্তর হয়ােনাকো, ‘মন’
ভাবিলে রে ভবের ভাবনা কিছুই নাই। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, এত যদি তুমি জান, ‘রে তবে
কেন আমারে বঞ্চনা কর ভাই। ২। অন্তর।
রাগিণী-খাম্বাজ।
তাল-জলদ তেতালা।
( ১৫৪ ) আমার মনে কত হয়, মন যে স্ববশ
নয়।* কদাচ না রহে চিত চরণ সুধাময়। আস্থাই।
ঘটে না উপজে জ্ঞান, মিছা দেহ অভিমান, ‘তুমি’
কর কিনা কর ত্রাণ, শমনেরি ভয়।১। অন্তরা।
কমলাকান্তের ওই, ভাবনা গাে ব্ৰহ্মময়ী, পাছে তােমায়
ভুলে রই, চরম সময় গাে’। ২। অন্তরা।
* চরণ সুধাময়ে স্থিরতা না রয়। ইতি দ্বিপাঠ।

( ৮৪ )
রাগিণী—ঝিকৌটী খাম্বাজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৫৫) শ্যামা মায়ের ভব তরঙ্গ, কেমন কে
জানে। আমি উজান উঠবে মন্ করি কে পাছু পানে
টানে। আস্থাই।
কৌতুক দেখিব বলে, মা মােরে দিয়েছে ফেলে,
একবার ডুবি আর বার ভাসি, হাসি মনে মনে।১।
অন্তরা।
দূর নয় নিকটে তরি, অনায়াসে ধরতে পারি, এবড়
দায় ধরিবে কি তায়, মন নাহি মানে। ২। অস্তরা।
কমলাকান্তের মন, ইচ্ছা অতি অকারণ, তবে তরি
যদি তারা, তার নিজগুণে। ৩। অন্তরা।
রাগিণী—মূলতানী।
তাল-একতালা।
(১৫৬) তবে’ চঞ্চল হয়েছ আমার মন, কেন
অকারণ। কর পূর্ণ আশা দুঃখ নাশা, মায়ের দুটি
শ্ৰীচরণ। আস্থাই।
অপার সঙ্কটে, কত বার বার পড়েছ বটে, যখনন
বিপদ ঘটে, কালী করে নিবারণ।
কালী করে নিবারণ। কমলাকান্তের মন,
সদা থাক অচেতন, তুমি বিজ্ঞান বিহীন, তােমার বুদ্ধি অতি
সাধারণ।১। অভােগ।

( ৮৫ }
রাগিণী-যােগিয়া
তাল-~-একতালা।
(১৫৭) ওজননী গাে যেন ডুবায়ােনা সাধের তরি
মোর। বড় ভয় পেয়েছি, কাতর হয়েছি, শরণ লৈয়েছি
তাের। আস্থাই।
মন বায়ু না হয় সখা, গুণ টানে কৰ্ম্ম রেখা, দড়ি
ধরে অনঙ্গ তরঙ্গ অতি ঘাের। ১। অন্তরা।
ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম বােঝাই করি, যতনে সাজালাম তরি, বদলে
পাইব জ্ঞান, বাণিজ্য কঠোর। ২।
অন্তরা।
কমলাকান্তের আর, কে আছে মা আপনার, ‘মা’
তুমি হওগো কর্ণধার, কাট কৰ্ম্ম ডাের। ৩। অন্তরা।
রাগিণী—মূলতানী।
তাল—তিওট।
(১৫৮) জানি জানি গো জননি, যেমন পাষাণের
মেয়ে। আমার অন্তরে থাক ‘মা’ আমারে লুকায়ে ।
আস্থাই।
প্রকাশি আপন মায়া, সৃজিলে অনেক কায়া, বান্ধিলে
নিগুণ ছায়া, ত্রিগুণ দিয়ে। কার প্রতি সুমতি, কুমতি
হও মা কার প্রতি, আপনারো দোষ ঢাক, কারে দোষ
দিয়ে। ১। অভােগ।
(জ)

( ৮৬ ) 14 ‘মা’ না করি নির্বাণে আশ, না চাহি স্বর্গাদি বাস, নিরখি চরণ দুটি হৃদয়ে রাখিয়ে। কমলাকান্তের এই, নিবেদন ব্ৰহ্মময়ী, তাহে বিড়ম্বনা কর, ‘মা’ কি ভাব ভাবিয়ে। ২। অভােগ। রাগিণী:-গৌরী তাল-ধিমা তেতালা। (১৫৯ ) মা মােরে লােয়ে চল ভবনদী পার, গাে তারা। আমি অতি অকৃতি অধম দুরাচার। আস্থাই। সম্বল আছিল যার, অনায়াসে হৈলােপার, কিছু ধন্ নাহিক আমার, (যে নাবিকে দিব মা)। প্রদোষ সময়ে, ধরম তরি বায়, নেয়ে চেয়ে আছি চরণ তােমার (গগা তারিণী)। ১। অন্তর। অজ্ঞানে হয়েছি অন্ধ, পথে নানা প্রতিবন্ধ, ভবসিন্ধু অতি অনিবার, ( কিসে পার হবো মা)। কমলাকান্ত নিতান্ত ভরসা মনে, তারা মােরে করিবে নিস্তার। ২। অন্তরা। রাগিণী-ভৈরে।। তাল-একতালা। ( ১৬০ ) লয়েছি শরণ, অভয় চরণ, যা ইচ্ছা তাই কর মা এখন। ‘আগাে’ করুণাময়ি করুণা ধনে, কৃপ- ণত কর এ আর কেমন্। আস্থাই। অন্য দেবাশয়, পরকালে হয়, সুখ মােক্ষ শিবে

( ৮৭ )
স্বর্গাদি গমন। কিন্তু তব কৃপায়, ইহকালে পায়, ভােগ
মােক্ষ অার তাণিমাদি ধন। ১। অন্তরা।
জীব নহে জন্য, সদা সচৈতন্য, ধন্য অগ্রগণ্য, বেদে
নিরূপণ ‘কিন্তু তব মায়া পাশে, বিজ্ঞান বিলাসে,
মিছা ভ্রম আশে, ভুমি অকারণ। ২। অন্তরা।
ব্ৰহ্মাণ্ড কল্পনা, কালে বিবসনা, সচেতনে কর অতি
অচেতন। কিন্তু কমলাকান্ত, হইলে ভ্রান্ত, তব নামে
রবে অযশ কথন। ৩। অন্তরা।
রাগিণী—ঝিঝেটি।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৬১ ) তুমি কি ভাবনা ভাব, ওরে আমার মুঢ়
মন।
সময় পেয়েছ ভাল সাধনা সেই শ্যামা ধন।
আস্থাই।
সৃজন পালন লয়, সুকৃতি এই তিন জন। তার
তাের ভাবনা ভাবে, বিধি হরি ত্রিলােচন। ১। অন্তরা।
যারে ভাব আপনার, ভেবে দেখ কে তোমার, কেবল
সুখের ভাগী, জ্ঞাতি বন্ধু পরিজন। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের চিত, অনিত্য এই বিভুবন। নিত্য
সেই নিত্যানন্দময়ীর দুটি শ্রীচরণ। ১। অভােগ।
রাগিণী-ভেটিয়ার।
তাল—ঙ্গরি।
(১৬২) কালরূপে রণভূমি আলো করেছে, ‘মােহিনী

( ৮৮ )
কেরে'। সমরে রে কার বালা, নয়ন বিশাল, বদন
করালা, নরশির মালা পরেছে। অস্থাই।
শশবে ঘাের রবে, শিবা নাচিছে। তার মাঝে
মায়ে অট্ট, অট্ট হাসিছে। ১। অন্তরা।
শিব সম শব হৃদে, পদ থুয়েছে। নিকর চিকুর
জাল, আলুয়ে দিয়েছে। ২। অন্তরা।
কমলাকান্তের মন, মগন হয়েছে। অনিমিকে দুটি
আঁখি, ভুলিয়ে রেয়েছে। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-ভেটিয়ারি।
তাল-টুঙ্গরি।
(১৬৩) অগাে মা শ্যামা শিব মন্ মােহিনী।
একবার করুণা নয়নে চাও গো। হেহে শিবে’ পাষাণ
তনয়া, হইয়ে সদয়া, অভয়া অভয়ে বিলাও ‘গো।
আস্থাই।
শীতল চরণ পাইয়ে, ‘মা’ সুখী ত্রিপুরারি। যার
বরণ কালো, ভুবন আলো, রূপের বলিহারি গাে’।
১। অন্তরা।
কি কাজ ভ্রমণে করে, মা, গয়া গঙ্গা কাশী, যার
অন্তরে জাগিছে ব্ৰহ্মময়ী এলােকেশী। ২। অন্তরা।
কারে দিলে ইন্দ্রপদ, হেম হার মণি। কমলাকান্তের
রাঙ্গা চরণ দুখানি। ৩। অন্তরা।

( ১৯ )
রাগিণী—ঝিঝোটী।
তাল—ধিমা তেতালা।
(১৬৪ ) আসব অলসে দিগবাসে, নাচে কার মেয়ে।
এ নব বয়সে, কে সমরো বেশে, খল খল হাসে, ভাষে
মাভৈ মাভৈ রব। আস্থাই।
আবৃত কুন্তল জালে, নর কর শির মালে, কি কারণে
পদতলে শৰছলে সদাশিব। ১। অন্তরা।
* কিবা দলিতাঞ্জন, তনুরুচি নবঘন, বালারুণ জিনি,
ত্রিনয়নীর ত্রিনয়ন । কমলাকান্ত আরাধিত শ্ৰীচরণ,
কামিনী কেমন নৃপ কর দেখি অনুভব। ১। অভােগ।
রাগিণী -সিন্ধু।
তাল-পেস্থা ।
(১৬৫) মজিল আমার মন ভ্রমরা, কালী পদ নীল
কমলে। ‘যত বিষয় মধু তুচ্ছ হৈল, কামাদি কুসুম
সকলে। আস্থাই।
চরণ কাল ভ্রমর কাল, কাল কালােয় মিশে গেল,
‘দেখ’ সুখ দুঃখ সমান হােলো, আনন্দ সাগর উথলে। ১।
অন্তরা।
কমলাকান্তের মনে,
আশাপূর্ণ এত দিনে, দেখ
পঞ্চতত্ত্ব প্রধান মত্ত, রঙ্গ দেখে ভঙ্গ দিলে। ২। অন্তর।
* ( জিনি দলিত অঞ্জন) ইতি দ্বিপাঠঃ।

( ৯০ )
রাগিণী-বেহাগ।
তাল-জলদ ভোলা।
(১৬৬) মন্মথ মথনং ভূতেশং সদা, শশি শেখরং
ভজে। অস্থাই।
ত্রিগুণ।করং ত্রিলোচন সুন্দরং হরং, গঙ্গাধরং গুরুং
গিরিজা বরং ভজে।১। অন্তরা।
প্রমথাধিপং পরানন্দ প্রকাশকং। পরমার্থদং পরং
পরমেশ্বরং ভজে। কমলাকান্ত ত্রিতাপ বিনাশনং
বৃষভাসনং বিভুং শিব শঙ্করং ভজে। ১। অভােগ।
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল-একতালা।
(১৬৭ ) শ্যামা ধন কি সবাই পায়, অবােধ, মন
বুঝা একি দায়। শিবেরাে অসাধ্য সাধন, মন্ মজন।
রাঙ্গা পায়। অস্থাই।
ইন্দ্রাদি সম্পদ সুখ, তুচ্ছ হয় যে ভাবে তায়, সদানন্দ
সুখে ভাসে, শ্যামা যদি ফিরে চায়। ১। অন্তরা।
যােগেন্দ্র মুনীন্দ্র ইন্দ্র যে পদ না ধ্যানে পায়।
নিগুণ কমলাকান্ত তবু সে চরণ চায়। ২। অন্তরা।
রাগিণী-খাম্বাজ।
তাল-তালফেরতা।
(১৬৮) তারার বুঝি ইচ্ছ৷ নয়, মা তােমার বুঝি

( ৯১)
ইচ্ছা নয়, ‘গাে’। এ দিন্ ভবে মুক্ত হয়, নতুবা আমারে
কেন বিড়ম্বনা অতিশয়। আস্থাই। (জলদ তেতালা।)
দিয়েছ দুখ আর বার দিবে, সয়েছি মা আর বার সবে,
অকলঙ্ক তারা নামে, লেকে পাছে কিছু কয়। ১।
অন্তরা। ( একতালা )।
শরীর সাধ, মিছা যত হয় পুরাতন, আবার নূতন,
হােচ্ছে যাচ্ছে আবার আসছে, ভ্রান্তি মাত্র কিছুই নয়।
কমলাকান্তের ঠাই, আর কিছু কমন নাই, মুদলে আঁখি
যেন দেখি, কাল ররণ সুধাময়। ১। অভোগ। ( জলদ
তেতালা)।
রাগিণী-ঝিঝোটী।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৬৯) মনরে মরম দুখ, কয়ে শ্যামা মারে।
অঘট ঘটনা কেন, ঘটে বারে বারে। আস্থাই।
আমি ভাবি নিজ হিত, হয় কেন বিপরীত, পুরাকৃত
কৰ্ম্ম বুঝি, দূরে গেল নারে। ১। অন্তরা।
তুমিত সুকৃতি বট, কোন কাজে নহ খাট, সে কারণে
শ্রীচরণে, সপেছি তােমারে । কমলাকান্তের আর,
যাতায়াত কত বার, সাধিয়ে সুধায়ে সুখী, কর না
আমারে।। অভােগ।

রাগিণী-ভৈরে।।
তাল-কাওয়ালি ।
(১৭০) দুর্গে দুর্গতি নাশিনী গিরিজে অম্বে অম্বুজ
লােচনী। ভব জননী, ভব সাগর তরণি ভব রমণী ভয়
হারিণী। আস্থাই।
পরমে পরমেশানি, স্মরহর ঘরণী, উমে শিবানী।
ত্রিভুবন তারিণী, ত্রিপুর বিনাশিনী, মদন দহন মনে
মােহিনী। ১। অন্তরা।
বগলে বিমলে বালে, হিমকর ভালে, উমে করালে।
মণিপুর বিবর নিবাসিনী কমলে, কমলাকান্ত বিমােচনী। ২।
অন্তরা।
রাগিণী-সুরট মল্লার।
তাল-একতালা।
(১৭১} ‘আর কিছু নাই সংসারের মাঝে। কেবল
কালী সার ‘রে। আমার মন কালী ধন কালী প্রাণ
কালী আমার ‘রে। আস্থাই।
কেহ সংসারে এসেছে, বড় সুখে আছে, পেয়েছে রাজ্য
ভার। আমার’ দরিদ্রের ধন, দুখানি চরণ, হৃদয়ে পরেছি
হার ‘রে। ১। অন্তরা।
এ তনু বারণে, এ তিন ভুবনে, যাতনা নাহিক কার।
‘কিন্তু হেরিলে ও মুখ, দূরে যায় দুখ, এই গুণ শ্যামা মার
‘রে। ২। অন্তর।

( ৯৩ )
কমলাকান্ত, হইয়ে ভ্রান্ত, বেড়াইছে বারে বার।
“এবার অভয় চরণ, লয়েছে শরণ, অনায়াসে হবে পার
রাগিণী—টোড়ি ভৈরবী।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৭২) শিবসুন্দরী গাে মা, স্মৃতিং ন জানামি।
কর বা না কর পার, তবু তােমার আমি। আস্থাই।
তৃষ্ণা নিদ্রা ক্ষুধা মায়া, শক্তিরূপা শিবজায়, নিগুণ।
সগুণাত্মিকা সর্বস্ব রূপিণী। ১। অন্তরা।
হে কালি ত্বং শান্তি ভ্রান্তি ভয় হারিণী, হর বধূ হেরম্ব
জননী প্রণমামি। ২। অন্তরা।
সুরাসিন্ধু সরসিজে, সদানন্দ নিত্যং ভজে, পঞ্চা-
শন্মাতৃকা রূপা চন্দ্রাদ্ধ ধারিণী ‘মা’। কমলাকান্ত তব
মহিমা কি জানে, তােমাময় ব্রহ্মাণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড ময় গো
তুমি। ১। অভােগ।
রাগিণী-টোড়ী ভৈরবী।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৭৩) যদি তারিণী তারা ভজনবিহীনে। তুমি
তারিলে বল তরিব কেমনে ‘মা’ । আস্থাই ।
কুপুত্র অনেক হয়, কুমাত কখন নয়, বঞ্চনা উচিত
হয় কি, অধীন জনে ‘মা’। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের প্রতি, কিঞ্চিৎ হের না যদি, পতিত
পাবনী নাম, রাখিবে কি গুণে ‘গো। ২। অন্তরা।

( ৯৪ )
রাগিণী—ঝিঝেটী ।
তাল—জলদ তেতালা।
(১৭৪) চাহিলে না ওমা কেন, একবার সুনয়নে।
পতিত পাবনি নামে তার গাে ভজন হীনে। আস্থাই।
বঞ্চিত হয়েছি আমি ওপদ সাধনে। অকৃতি তনয়ে
হয় মা তারিতে আপন গুণে। ১। অন্তরা।
কত শত দুরাচার, অনায়াসে কোলে পার, এবারে
জানিব মােরে নিস্তার কেমনে। কমলাকান্তেরে যদি, ত্রাণ
কর ভবনদী, তবে তো জানি তারিণী তার গাে পতিত
জনে। ১। অভোগ ।
রাগিণী--জঙ্গল।
তাল-একতালা।
(১৭৫) আমার মন ভাব ভােলারে।
যা ইচ্ছা
কর দিতে পারে। আস্থাই।
ত্রিপুরারি দয়াময়, কখন ভুলিবার
কখন ভুলিবার নয়, ‘মন রে
পুরাকৃত পাপ যত, হর বিনে কে হরে। ১। অন্তরা।
শুন মন দুরাচার, শিব নাম
শিব নাম সারাৎসার, দেখ’
ব্ৰহ্মময়ী পরাৎপরা, জটারে। ভিতরে। ২। অন্তরা।
কমলাকান্ত বলে, পােছড়া কালীর পদতলে, মন রে
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় কৰ্ত্তী, ঘরণী যার ঘরে। ৩। অন্তরা।

( ৯৫ )
রাগিণী-পরজ বাহার।
তাল-পঞ্চম শােয়ারি।
(১৭৬) “তারা আমি কি করিব ‘গাে’ মন আমার
হােলো না বশ আশুতোষ প্রিয়ে। স্বভাব চঞ্চল যার
তারে তুষিব কি দিয়ে। আস্থাই।
এই ছিল আশ, মন বশ করি রূপ হেরি। চরণ
দুটি হৃদয়ে রাখিয়ে ‘গাে। কমলাকান্তের আশা, না
পূরিল জননী, জনম মাের, বৃথা গেল ‘গাে” বহিয়ে।
রাগিণী-সুরট মল্লার।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৭৭) ময়ী দীন হীন জনে ‘গে। কুরু কৃপা এই
বার। অস্থাই।
সুকৃতি অকৃতি সুত, মায়ের সমান প্রীত, না ত্যজিও
ভজন বিহীনে। ১। অন্তরা।
বিষয় বাসনা অতি, না জানি মা শ্রুতি স্মৃতি, মমগতি
হইবে কেমনে।
কমলাকান্তের মনে, বিতরি করুণা
ধনে, নিজগুণে যদি চাও নয়নে ‘গো। ১। অভোগ।
রাগিণী-যােগিয়া।
তাল-জলাদ তেতালা।
(১৭৮) তথা জননী তব তার নামে তরিব। যখন
যেমন রাখ, সেই মতে রহিব। আস্থাই।

( ৯৬ )
অঘট ঘটনা যদি ঘটেতো কি করিব, ‘মা’। পাপ
করি পুণ্য করি, ঐ নামে সম্বরিব। ১। অন্তরা।
কমলে বঞ্চনা কর, এই বারে তা বুঝিব। কেমনে
ত্যজিবে তুমি, আমি যে না ত্যজিব। ২। অন্তরা।
রাগিণী—টোড়ি ভৈরবী।
তাল-কওয়ালির ঠেকা।
(১৭৯) তার তবে তােমার ভরসা বল কে করে।
‘যদি আপনারি কৰ্ম্মফল ফলিবে আমারে। আস্থাই।
যেরূপে ভ্ৰমাও তুমি, সেইরূপে
সেইরূপে ভ্রমি আমি, মিছা
সুখ দুঃখভাগী করগো আমারে। ১। অস্তরা।
কমলাকান্তের এই, নিবেদন ব্ৰহ্মময়ী, শমন সঙ্কট
যদি না থাকিত নরে। ২। অন্তরা।
রাগিণী-ললিত যােগিয়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৮০) ভুলনা বিষয় ভ্রমে মন রে আমার। শ্রীদুর্গা
অমৃত বাণী সদা কর সার। আস্থাই।
ধন জন গৃহ জায়া, এ সকল মিছে মায়া, ভেবে
দেখ নিজ কায়া, নহে আপনার। ১। অন্তরা।
পেয়েছ পরম নিধি, এসাে না যতনে সাধি, কমলা-
কন্তরে যদি, করিবে নিস্তার। ২। অন্তরা।

( ৯৭ )
রাগিণী-টোড়া।
তাল-কাওয়ালি ।
{ ১৮১ ) জননী তারিণী ভব ঘােরে, আমি যে ভজন
বিধি না জানি। আস্থাই।
মহাপাপী দূরাচারী, আমি যদি ভবে তরি, তবে জানি
তার নাম তরণি। ১। অন্তরা।
দুরাশয় দেখে মােরে, কেহ
কেহ না নিস্তার করে,
শুনেছি পতিতে তারে ভারিণী। উপায় না দেখি
আর, দিয়েছি তােমারে ভার, যা কর ত্রিপুর হর
ঘরণী। ১। গভােগ।
অসার করিয়ে সার, ভ্রমে ভবে বারে বার, মিছে
কাজে গেল দিন যামিনী। কমলাকান্ত নিতান্ত শরণাগত,
বারে হের আশুতােষ রমণী। ২। অভােগ।
রাগিণী-ভৈরে।।
'তাল--একতালা।
(১৮২) কালী কেমন ধন খেপা মন চিনিতে না
পারিলি। কেবল খেয়ে শুয়ে খেয়ে খেপাটা কাল
কাটালি। অস্থাই।
বাণিজ্য বাসনা করি, ভবের হাটে এলি। কি হবে
ব্যাপার এবার বুঝি মূল হারিয়ে গেলি। ১। অন্তরা।
পুরাকৃত পুণ্যেরে মানব দেহ পেলি। যদৰ্থে গমন
ভবে এসে তার কি করিলি। ২। অন্তরা।
( ঝ )

( ৯৮ )
কমলাকান্তের মন, এমন কেন হলি। মন আপনি
কম্মে
‘আবার’ আমারে মজালি।
তারা।
রাগিণী—টোড়ি ।
তাল—চৌতাল ।
( ১৮৩) মা কেমন বেশ গো, আগে শ্যামাসুন্দরী
সুন্দর হৃদয় বিহারিণী। অস্থাই।
নগন। নিতম্ব দেশ, চরণারবিন্দ শেষ, এলো কেশ
ভালে নিশেশ, গিরিরাজ নন্দিনী। ১। অন্তরা।
ব্ৰহ্ম নিরূপণে নিরুপমা তব নাম ধাম, শম্ভু মূলাধার
মহিম না জানে। কমলাকান্তের প্রান্তে, ভ্ৰময়ে মন
শান্তয় শান্তয় রিপু ভয় বারিণী। ১। অভােগ।
রাগিণী-লুম ।
তাল-ছবকী।
(১৮৪) বামার বাম করে অসি। বামার অসি
তিমির বিনাশী। আস্থাই।
শ্ৰীবদন নিরমল, তাহে মৃদুহাসি। গগণে উদয় যেন,
যােলকলা শশী ১। অন্তরা।
বুঝিলাম অনুভবে হরের মহিষী। কমলাকান্তের মন
চরণাভিলাষী। ২। অন্তরা।

রাগিণী—গৌরী। তাল-জলদ তেতালা। (১৮৫) জলদ বরণী কেরে, ও বাম নয়ন ভুলায় রে। সদাশিব হৃদে চরণ দোলায় রে। আস্থাই। দিগম্বরী এলাে কেশ, তথাপি মোহিনী বেশ, নিরখিলে জীবন জুড়ায়। কমলাকান্তের চিত, কালরূপে অনুগত, পাশরিলে পশিরা না যায়, রে। অন্তরা। রাগিণী-মহলার। তাল-ঝাপতাল। (১৮৬) আমার মন রে। যতন করি রটরে শ্রীদুর্গানাম বদনে। আস্থাই। ত্যজরে অনিত্য কাম, ভজরে শ্রীদুর্গা নাম, চলরে আনন্দময় সদনে। ১। অন্তরা। একে সে কঠিন কাল, তাহে বাদী রিপুজাল, সদাচিত বিষয় আরাধনে। অনায়াসে রট মন, পাবে রে পরম ধন, কি কাজ কঠিন ব্ৰত সাধনে।১। অভােগ। দারা সুত আরাধনে, অতুল আনন্দ মনে, জাননা প্রবল রিপু শমনে। কমলাকান্তের মন, নিয়ত চঞ্চল কেন, তিলেক ন রহ রাঙ্গা চরণে। ২। গভােগ। রাগিণী-পুরবি। তাল-একতালা। (১৮৭) নারায়ণী সুমতি দেহিমে শিবে। আপ- ( ১০০ ) রাধ সম্বর, হর ঘরণী। ত্রিগুণ ধারিণী, শমন বারিণী, গণেশ জননী মহেশ রাণী। আস্থাই। উমে দিগম্বরি, শঙ্করি সুরেশ্বরি, ভৈরবি ভবানি বাণি।১। অন্তরা। ত্রিপুরে বরদায়িনী, দিতি সুত কুল নাশিনী, অভ- য়াসি বর নর কর শির হার ধারিণী। শঙ্কর মনােমমাহিনী, শ্যামে ভীমে শিবানি, কমলে বিমলে ত্রিনয়নী। ১। অভােগ। কালিকে কপালিকে, শুভদে গিরি বালিকে, শুভ- স্করি শিবে, শম্ভুনাথ সঙ্গিনী। কমলাকান্ত পতিতে, ত্রাহিদুর্গে ভবার্ণবে, পতিত তারিণী কলুষ হারিণি। ২। অভোগ। রাগিণী-সুরট মল্লার। তাল---জলদ তেতালা। ( ১৮৮ ) হে গিরি নন্দিনি ভবভয় ভঞ্জিনি, হর গৃহিণি শিবে পরমে পরমেশানি, স্মরহর মন মােহিনি। আস্থাই। জগত জননী, জগদানন্দ দায়িনী, সৃজন পালন লয় কারিণী, তারিণী, বিধিহর ধরণী, ধর বন্দিনী। ১। অন্তরা। ব্ৰহ্মাণ্ড রূপিণী ব্ৰহ্মময়ী সনাতনী, চরাচর নাগনর সুর প্রতিপালিনী। কমলাকান্ত কৃতান্ত নিবারিণী,

{ ১০১
ত্রিগুণ ধারিণি ত্রিপুরে পরমাত্মনি, কলিভৰ কলুষ নিচয়
খণ্ডিনি। ১। অভোগ।
রাগিণী-লুম খাম্বাজ।
তাল -- একতালা ।
( ১৮৯) দেখ, ত্রাণ কর মা এ সঙ্কটে পাষাণের
বেটি । ভেবে পেটে গুলা হোলো, প্রাণ শুখায়ে কুলের
আঁটি। অস্থাই।
আমি অতি অভাজন, না জানি ভজন সাধন, করি মা
এক নিবেদন, মরণ কালে হয় না যেন, যমের সঙ্গে লটো-
পাটি। ১। তান্তরা।
আমি তােমার ক্ষেপা পাগল, কোরে বেড়াই মিছে
গোল, না বল্লাম মুখে দুর্গ। বােল, কমলের ভরসা কেবল,
মায়ের রাঙ্গা চরণ দুটী। ২। অন্তরা।
রাগিণী---হামার।
নাল -জলদ তোলা।
• (১৯০) করুণাময় শ্যামা গো মা ময়ি দানে, ক্ষতি
কি হেরিলে, নয়ন কোণে। আস্থাই।
হে মা হেরিলে হইব গর, এ কোন তােমারে ভার,
মহিমা জানে জগগনে। তান্তর।
শঙ্কট বারিণি, তারয় তারিণি, দুর্গে দুর্জয় নিবন্ধনে।
হে মা বারে বারে যন্ত্রণা কমলাকান্তের, শ্যামা মা হ'য়ে
গো দেখ কেমনে। ১। গভােগ।

( ১০২
১০২ )
রাগিণী—-কানড়া।
তাল--কাওয়ালির ঠেকা।
(১৯১)
ভৈরবী ভব ভয় হৱা ভবদারা ভৈরবী
ভৈরব বরা। আস্থাই।
অমিতাঙ্গ ধর হে গিরি নন্দিনি, ত্রিগুণাধারা ত্রিতাপ
বিনাশিনী তারা, হে নারায়ণি অগাে শ্যামা, অসীম মহিমা
গুণ তারা।১। অন্তরা।
অসিমুণ্ড বরাভয় করা, অজরা অমরা সুরেশ্বরী ত্রিপুরা।
ভুবনকারা, ত্রিভুবন সার সারা, করুণাময়ি কুরুপা,
কমলাকান্তের হৃদি পরা। ১। অভােগ।
রাগিণী—সরপরদা।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৯২) কলুষ নিবারয় গো শ্যামা। ফিরে চাও
নয়ন কোণে ওগাে হর রামা। আস্থাই।
দীন হীন কাতরে কুরু কৃপা শঙ্করী, খলু ভবার্ণব তরি
তব নাম।১। অন্তরা।
হর বধূ হর, তামস কমলের, এই মানস পূরয়, মনােগত
অভিরাম। ২। অন্তরা।
রাগিণী-কেদারা।
তাল-জলদ তেতালা।
(১৯৩) কিঞ্চিৎ কৃপা অবলােকন কর কালী, কাল
ভয় হারিণী। আস্থাই।

( ১০৩ )
ত্বমসি গতিৰ্ম্মম ইহ সংসারে, সংসারার্ণব তারিণী
তারিণি। ১। অন্তরা।
কলিজ কল্মষহরা, ত্রিগুণ ধারিণী তারা, সৃজন পালন
লয় কারণ কারিণী। কমলাকান্ত হৃদয় তম নাশিনী,
সর্বদা সদানন্দ হৃদি চারিণী। ১। অভােগ।
রাগিণী-*জঙ্গল।
তাল-জলদ তেতালা।
{ ১৯৪ ) দীন হীন অতি কাতর নিরাশ্রয়, আশ্রয়
তব চরণাম্বুজ রজ। আস্থাই।
সংসার সৃজন লয় পালন কারিণী, এ চরণে আশ্রিত
যার হরিহর অজ। ১। অন্তরা।
মম তনু অনুগত কৃত শত দুষ্কৃত, সে ভয়ে সভয়
করে তপন তনুজ। কমলাকান্ত কাল ভয় দূরয়, পূরয়
নিজদাস আশ মনসিজ।১। অভােগ।
রাগিণী-মল্লার।
তাল—কাওয়ালির ঠেকা।
( ১৯৫ ) বারে বারে শ্যামা কত নাচ গো। বিবসনী
বাস না সম্বর, ওমা হর’পরে নগনা হইয়ে আছ গাে।
আস্থাই।
খরতর অসি বর বাম করে ধৃত, কুন্তল ভার কি
* নানারগ মিশ্রিত প্রাচীন সুর। প্রভাতি গীত।

।
( ১০৪ )
গিয়ে।
কারণ লম্বিত, পদভরে ধরাধর থর থর কম্পিত, অমরে
আনন্দ বর যাচ গো। ১। অন্তরা।
শুভ বর প্রার্থিত সুর নর মুনিগণে, দনুজ তনয়কুল
কম্পিত জীবনে, কমলাকান্ত নিবেদন শ্রীচরণে, কাতর
তনয়ে কালী ভুলেচ গাে। ২। অন্তরা।
রাগিণী—ঝিঝোটী।
তাল-একতালা।
( ১৯৬ ) তরণী মাঝি মেয়ে রে চল দেখে আসি
এ ভব তরঙ্গ দেখে কি কর বসিয়ে। অস্থাই।
দশ দশ মহাবিদ্যা রয়েছে ঘেরিয়ে। তার মাঝে
বােসে তামার শঙ্কর যোগিয়ে। ১। অন্তরা।
বাজিছে মৃদঙ্গ মাদল, তাতা পেয়ে থেয়ে। দেবরি
গায় কমল অতুল
ভাবিয়ে। ২। অন্তরা।
রাগিণী-সিন্ধু ভৈরবী।
তাল-~~
-জলদ তেতালা।
(১৯৭) বল আর কার তার নাম আছে গাে
জননি।
এমন নাম আর কার আছে গাে বিপদ
নাশিনি। অস্থাই।
আগমে শুনেছি নাম, পূরাও মনেরি কাম, পঞ্চমুখে
পঞ্চ নাম, জপেন শূলপাণি। ১। অন্তরা।
মূলাধারে সহস্রারে, কমল বিরাজ করে, কমলা
কান্ডেরি ঈদে, কমল বাসিনী। ২। অন্তরা।

{ ১০৫
রাগিণী-ভৈরে।।
তাল-কাওয়ালি ।
(১৯৮) ভৈরে। আইল মায়া পলাইল, ত্রিশূল।
উমরু হাতে। ঘাের দল পরদল, ভৈগেল সমফল,
মিলিব জননীর সাতে। আস্থাই।
ভৈরে। বালা, জগমন আলা, নর শির মাল সােহে।
শঙ্কট বঙ্কট বিকট কপট লট, পরশু দেখাইল মোহে। ১।
অন্তরা।
জটাজুট আর সিন্দুর ভালে, বম বম গাল বাজাইল
তার পিছে, অম্বা নাচে, কমল অমল পদ পাইল। ২।
অন্তরা।
রাগিণী-ভৈরে।।
তাল-একতালা।
(১৯৯) বার বার মন এবার, শমনে ভয় কি আর
রে। এক বার দিনে, যদি কর মনে, শ্যামা চরণ সার
রে। আস্থাই।
জনমে জনমে হইয়ে দৈন্য, গতায়াত কর চরণ
ভিন্ন, যে দেখ অন্য সকল শূন্য, কেবল অন্ধকার রে।
১। অন্তরা।
কিবা নীচ জাতি কি দ্বিজরাজ, প্রকাশে সকল হৃদয়
মাঝ, জ্ঞান নয়নে, দেখে যেই জনে, সে ধরে ভুবন ভার
রে। ২। অন্তরা।

( ১০৬ )
কমলাকান্ত করে নিবেদন, কালীর তনয়ে কি করে
শমন, ভুলনা রে মন অভয় চরণ, মিনতি রাখ আমার রে।
৩। অন্তরা।
রাগিণী--রামকেলি।
তাল--একতালা।
( ২০০ ) কালী কেনে করিলে এ কাল যন্ত্রণা ‘গাে’ ।
আশুতােয জায়া, হইয়ে নিদয়া, পরিহরি করুণ। অস্থাই।
প্রকৃতি পুরুষ তুমি গাে আদি, সগুণাগুণ তুমি অনাদি
তন্ত্র মন্ত্র ধ্যান যন্ত্র তােমারি মন্ত্রণা। অন্তরা।১।
বিষয় আশে মনসি ত্রাস, পরমালয় সুখ নিবাস,
দুখ বিনাশ সুখ প্রকাশ, পূরয় বাসনা। ২। অন্তরা।
কমলাকান্ত ওপদে নম্র, তব সাধন নাজানে মৰ্ম্ম,
ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম ঘটালে কৰ্ম্ম, একি প্রবঞ্চনা। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-খাম্বাজ।
তাল-একতালা।
(২০১) মা গুণময়ী গুণময়, করুণাময়ী করুণাময়,
দীন দয়াময়ী দীন দয়াময়। আস্থাই।
সদানন্দময়ী চিদানন্দময়, প্রেমময়ী প্রেমময়, জ্ঞানময়ী
জ্ঞানময়, কৃপাময়ী কৃপাময়। ১। অন্তরা।
ত্রিজগতময়ী ত্ৰিজগতময়, ত্রিভুবনাশ্রয়ী ত্রিভুবনাশ্রয়,
সুখময়া সুখময়, ভুবন বিজয়িনী, ভুবন বিজয়।

{ ১০৭ )
পরাব্ৰহ্মময়ী পরব্রহ্মময়, মনােময়ী মনােময়, কমলাকান্ত
কমল হৃদয়, প্রকাশয় কুরু জ্ঞানারুণোদয়। ১। অভােগ।
রাগিণী-সুরট।
তাল-জলদ তেতালা।
(২০২) করুণাময়ি কালি করুণা ধন কোথা থুলে।
দীন হীন দেখে দয়াময়ি দয়া পাশরিলে। আস্থাই।
পুরাণ সম্মত যত, কলিযুগ বর্ণন, যতনে করেছি আমি
সব প্রতি পালন। কলিজয়ী কালী নাম, চরণে পরম
ধাম, এ যদি প্রমাণ ভবে কেন কৃপা না করিলে। ১।
অন্তরা।
পেয়েছি পরম ভয়, হৈয়েছি মা নিরাশ্রয়, খেয়েছি
বিষয় মধু, রয়েছি মা ভ্রমে ভুলে। কমলাকান্তের গতি,
বুঝিলাম কঠিন অতি, পতিত পাবনী যদি পতিতে নিদয়
হলে। ২। অন্তরা।
রাগিণী—খট।
তাল-জলদ তেতালা।
(২০৩) কালী কালী রট কালী, কাল নিরারিণী।
কালী জানে গতি তাের, রে মানসা। আস্থাই।
কলি কলুষার্ণব তারণ তরণী। দীন জননী শরণাগত
পালিনী। ১। অন্তরা।
জন্ম মৃত্যু জরা ব্যাধি হরা, শিব করা, তারা ব্রহ্মময়ী,
পরা, পরমানন্দ দায়িনী। কমলাকান্ত মানস তম

( ১০৮ )
নাশিনী। ত্রাণ কারিণী জানি, ভব ভয় হারিণী। ১।
অভোগ।
রাগিণী-খট যােগিয়া।
তাল-জলদ তেতালা।
( ২০৪ ) আমার মন উচাটন কেন হয় মা, স্থিরত
রহে তব চরণে। মাতিল মাতঙ্গ সমগাে অঙ্কুশ
মানে। আস্থাই।
জনমে জনমে কত, করিয়ে কঠিন ব্রত, পেয়েছি
পরম পদ মা পরম যতনে। ১। অন্তরা।
পাইয়া অমূল্য নিধি, হেলায় হারালাম যদি, কি
কাজ ঐহিক সুখে মা ধিক্ এ জীবনে গাে। ২। অন্তর।।
না জানি সাধন বিধি, হৈয়েছি মা অপরাধী, সে কারণে
মম মন, চঞ্চল সঘনে। কাতর হৈয়েছি অতি, স্থির কর
মম মতি, কমলাকান্তের প্রতি, মা হের গাে নয়নে। ১।
অভােগ।
রাগিণী-বাহার।
তাল-কাওয়ালির ঠেকা।
(২০৫) মন রে শ্যামা চরণ কর সার আরে মন
দেখি ভাল রবিভুত কি করে। আস্থাই।
ধৰ্ম্মাধর্ম যদি, শ্রীচরণে সপিলাম, দেখি কিসে
পরাভব করে অামারে রে। ১। অন্তরা।

( ১০৯ )
রবি শশী অনল অচল অনিলে যদি, যােজয় দিবা
নিশি কাল গণনা কে করে। দণ্ড অখণ্ড সদৃশ পরমানন্দে
‘তাের অন্তরে আনন্দময়ী বিহরে। ১। অভােগ।
কমলাকান্ত অলস যদি সাধনে, অনায়াসে সারে কালী
নামব্রহ্ম রট রে। বীরমত্ত রঙ্গে সঙ্গে অণিমাদয়, তৃণ
গণি শমন সঙ্কট রে। ২। অভােগ।
রাগিণী—গৌরী।
তাল-জলদ তেতালা।
(২০৬) “ওরে মধুকর রে মজিলে কি রসে।
হেরিয়ে না হের মা মাের, সুধা বরিষে। আস্থাই।
ত্যজিয়ে পরম রস, হইয়ে ইন্দ্রিয় বশ, আপনার
অলসে। অচেতন মূঢ় সম, মিছা আশে সদা ভ্রম,
কমলে নিৰ্ম্মল প্রেম, রাখিবে কিসে। ১। অন্তরা।
রাগিণী-মুলতানী।
তাল-একতালা।
(২০৭) তারা অকিঞ্চনের ধন (তব চরণাম্বুজ)।
‘হে মা চেয়েছে যে জন, পেয়েছে ও ধন, আমি তা পাব
কেন। আস্থাই।
আমার বােলে আমি চাই, নইলে ভার দিতাম নাই।
পিতামহ ধন, ত্যজে কোন জন, পুরাণে একথা মান। ১।
অন্তরা।

( ; ১১• ) কমলেরে বারে বার, বঞ্চনা না সহে আর, এ বড় প্রমাদ, শিব সঙ্গে বাদ, সে ভয়ে কাপিছে প্রাণ। ২। অন্তরা। রাগিণী-বেহাগ । তাল-জলদ তেতালা। (২০৮) যােগী শঙ্কর আদি মহেশ। পুরুষ পুরুষ- প্রধান ত্রিলােকাবাস। আস্থাই। ত্রিপুর দহন ত্রিনয়ন ত্রিগুণেশ। ত্রৈলােক্য পাবন ত্রিকাল ত্রিপুরেশ। ১। অন্তরা। কমলাকান্ত ত্রিতাপ বিনাশ। দাতা দিগম্বর ভাে আশুতােষ। ২। অন্তরা। রাগিণী-খট। তাল-জলদ তেতালা। (২০৯) ও রমণী কাল এম রূপসী কেমনে। বিধি নিরমল নব নীরদ বরণে। আস্থাই। বাম অট্ট অট্ট হাসে, দশনে দামিনী খসে, সুধাক্ষরে বামার ও বিধুবদনে। ১। অন্তরা। সিন্দুর বর, দিনকর সম শােভা, অম্বুজ বদন মদন সনােলােভা। তপন দহন শশী, উদয় হয়েছে আসি, সত্ত্ব রজস্তম গুণ অরুণ নয়নে।১। অভােগ। নাভি সরােবর নীরজ বিহারে, ঈষদ বিকচকমল কুচভারে। গলিত কুন্তল জাল, গলে নর মুণ্ডমাল, শবশিশু শােভে মায়ের যুগল শ্রবণে। ২। অভােগ।

( ১১১ )
নিন্দে।
চারু চরণ যুগ আভরণ বৃন্দে, নখর মুকুর কর হিমকর
কমলাকান্ত হেরি, রূপ অতি মধুরি, শরণ
লইল শ্যামার সুনিৰ্ম্মল চরণে। ৩। অভােগ।
রাগিণী-অহং খাম্বাজ।
তাল–ধিমা তেতালা।
(২১০) করুণাময়ি দীন অকিঞ্চনে ‘বারেক হের
মা”। আস্থাই।
তুমি তাে যশদা, মগনা সুধানন্দে কালী তনয় ত্রাসিত
এভব বন্ধনে।১। অন্তরা।
আমি যে শুনেছি তব, পতিত পাবনী নাম, দয়াময়ি
দীন তারণে। কমলাকান্ত ক্রিয়া হীন পতিতে, ত্রাহি
কৃপা অবলম্বনে ‘গে। ১। অভােগ।
রাগিণী-গুজ্জরি টোড়ী।
তাল-কাওয়ালির ঠেকা।
( ২১১) অভয়ে দেহি শরণং করুণাময়ি কাতরে,
অনুগত জন প্রতিপালিনি ‘গাে’ । আস্থাই।
ত্রাসিত মম তনু বিষয় নিবন্ধে, ত্রাহি ত্রিতাপ
বিনাশিনি গাে’।১। অন্তরা।
ত্রিভুবন সৃজন পালন লয় কারিণি, শ্রুতি স্মৃতি গতি
দায়িনি। কমলাকান্ত প্রমােদ প্রদায়িনি, চন্দ্রচূড় হৃদি
চারিণি ‘গো”।১। অভােগ।

( ১১২ )
রাগিণী-পরজ।
তাল-জলদ তেতালা।
(২১২) নীলকান্ত কান্ত কলেবর শ্যামা, কুরু তাণ্ডব
মম হৃদয়ে ‘গাে মা। আস্থাই।
সুর তরু মূল, রতন ময় ভবনে, পরমানন্দ নিলয়ে
গাে।১। অন্তর।
নব কুসুমালয়, কুঞ্জপ্ৰকাশয়, নাশয় তিমির চয়ে।
কমলাকান্ত সফল কুরু মানস, ত্রাণ কর এ ভব ভয়ে
‘গাে”।১। অভােগ।
রাগিণী-পরজ কালেঙ্গড়া।
তাল--জলদ তেতালা।
‘মা’।
( ২১৩) আনন্দময়ী তারা গাে সকরুণ নয়নে চাও
এতদহে বিষয়ানলে, তাপিত তনয়ে জুড়াও
‘গাে’ । আস্থাই।
ত্রিভুবন তারণ কারণ তারা নাম, নিজগুণে পতিতে
তরাও।১। অন্তর।
কমলাকান্তে ক্রিয়া বিহীনে আর, কেন মিছে ভ্রমণে
মাও। ২। অন্তরা।
রাগিণী—জঙ্গল। ঝিঝেটী।
তাল-জলদ তেতালা।
(২১৪) কাল স্বপনে শঙ্করী-মুখ হেরি কি আনন্দ

( ১১৩ )
আমার। “হিম গিরি হে’। জিনি অকলঙ্ক বিধু বদন
উমার। আস্থাই।
বসিয়ে আমার কোলে, দশনে চপলা খেলে, আধ
আধ মা বলে বচন সুধাধার। জাগিয়ে না হেরি তারে
প্রাণ রাখা ভার। “গিরিরাজ'। ১। অন্তরা।
ভিখারি সে শূলপাণি, তাৱে দিয়ে নন্দিনী, আর
না কখন মনে, কর একবার। কেমন কঠিন বল হৃদয়
তােমার। ২। অন্তর।
কমলাকান্তের বাণী, শুন হে শিখর মণি, বিলম্ব না
কর আর ‘হে’ গৌরী অনিবার।
দূরে যাবে সব দুখ,
মনেরি আন্ধার। ( গিরিরাজ )। ৩। অন্তরা।
রাগিণী-টোড়ী।
তাল-জলদ তেতলা।
(২১৫) যাও গিরি বরহে, আন যেয়ে নন্দিনী,
ভবনে আমার। অন্থাই।
গৌরী দিয়ে দিগম্বরে, কেমনে বােয়েছ ঘরে, কি
কঠিন হৃদয় তােমার ‘হে'। ১। অন্তরা।
জানত জামাতার রীত, সদাই পাগলের মত, পরিধান
বাঘম্বর শিরে জটাভার। আপনি শ্মশানে ফিরে, সঙ্গে
লােয়ে যায় তারে, কত আছে কপালে উমার। ১।
অভোগ।
শুনেছি নারদের ঠাই, গায় মাখে চিতা ছাই, ভূষণ
ভীষণ আর, গলে ফণিহার। একথা কহিব কায়, সুধা

( ১১৪ )
ত্যজি বিষ খায়, কহ দেখি এ.কোন বিচার।২।
অভােগ।
কমলাকান্তের বাণী, শুন শৈল শিরােমণি, শিবের
যেমন রীত,
বুঝিতে অপার। চরণে তুষিয়ে হর, যদি
আনিবারে পার, এনে উমা না পাঠাব আর। ৩। অভােগ।
রাগিণী—সুরট সিন্ধু।
তাল-ধিমা তেতালা।
{ ২১৬) ওহে গিরিরাজ’ গৌরী অভিমান করেছে।
মনােদুখ নারদে কত না কয়েছে। আস্থাই।
দেব দিগম্বরে, সেপিয়া আমারে, মা বুঝি নিতান্ত
পাসরেছে। ১। অন্তরা।
হরের বসন বাঘছাল, ভূষণ হাড়মাল, জটায় কাল
ফণী দুলিছে। শিবের সম্বল, ধুতুরারি ফল, কেবল
তােমারি মন্ ভুলেছে। ১। অভােগ।
‘একে’ সতিনের জ্বালা, না সহে অবলা, যাতনা প্রাণে
কত সয়েছে। তাহে সুরধুনী, স্বামিসােহাগিনী, সদা
শঙ্করের শিরে রয়েছে। ২। অভােগ।
কমলাকান্তের, নিবেদন ধর, এ কথা মাের মনে
লৈয়েছে। তুমি শিখর মণি, তােমার নন্দিনী, ভিখারীর
ভিখারিণী হয়েছে। ৩। অভােগ।

( ১১৫ )
রাগিণী-বেহাগ।
তাল—তিওট।
(২১৭) আমি কি হেরিলাম নিশি স্বপনে। গিরি-
রাজ’ অচেতনে কত না ঘুমাও হে। আস্থাই।
‘এই’ এখনি শিয়রে ছিল, গৌরী আমার কোখা গেল
‘হে’ আধ আধ মা বলিয়ে বিধু বদনে। ১। অন্তরা।
মনের তিমির নাশি, উদয় হইল আসি, বিতরে অমত
রাশি, সুললিত বচনে। অচেতনে পেয়ে নিধি, চেতনে
হারালাম্ ‘গিরি হে’ ধৈর্য না ধরে মম জীবনে। ১।
অভােগ।
আর শুন অসম্ভব, চারিদিকে শিবা রব, ‘হে তার
মাঝে আমার উমা একাকিনী শ্মশানে। বল কি করিব
আর, কে আনিবে সমাচার, ‘হে’ না জানি মাের গৌরী
আছে কেমনে। ২। অভােগ।
কমলাকান্তের বাণী, পুণ্যবতী গিরিরাণী, গাে’ যেরূপ
হেরিলে তুমি, অনায়াসে শয়নে। ও পদ পঙ্কজ লাগি,
শঙ্কর হয়েছে যােগী, গাে হর হৃদি মাঝে রাখে অতি
যতনে। ৩। অভােগ।
রাগিণী -কেদারা।
তাল-একতালা ।
(২১৮) “গিরি’ প্রাণ গৌরী আন আমায়। উমা বিধু
মুখ, না দেখি বারেক, এঘর লাগে আন্ধার। আস্থাই।

( ১১৬ )
আজি কালি করি দিবস যাবে, প্রাণের উমারে
আনিবে কবে, প্রতি দিন কি হে আমারে ভুলাবে, একি
তব অবিচার। ১। অন্তরা।
সােণার মৈনাক ডুবিল নীরে, সে শােকে 'রােয়েছি
পরাণে ধরে, ধিক্ হে আমারে ধিক্ হে তােমারে, জীবনে
কি সাধ আর। ২। অন্তরা।
কমলাকান্ত কহে নিতান্ত, কেননাকো রাণী হও গাে
শান্ত, কে পাইবে তােমার উমার অন্ত, তুমি কি ভাব
অসার। ৩। অন্তরা।
রাগিণী--বাগেশ্রী।
তাল-জলদ তেতালা।
(২১৯) বল আমি কি করিব, কামিনী করিল
নিদারুণ বিধি, পরবশ পরের অধিনী। আস্থাই।
আমার মন যাতনা কে জানিবে অনন্য, আপনার
মনটদুখ, আপনি সে জানি। ১। অন্তরা।
দিবানিশি বারে বার, কত না সাধিব আর, শুনিয়ে
শুনে না গিরি শিখর মণি। উমার লাগিয়ে আমার প্রাণ
যেমন করে, কারে কব কেবা আছে দুখের দুখিনী। ১।
অভোগ।
সুখে থাকু গিরিরাজ, তাহার নাহিক কাষ, আমিত
ত্যজিব লাজ, শুন সজনী। কমলাকান্তেরে লৈয়ে, বল
গাে কৈলাসে জেয়ে, আপনি আনিব আমি, আপন
নন্দিনী। ২। অভােগ।

( ১১৭ )
রাগিণী-ললিত।
তাল-জলদ তেতালা।
(২২) তারে কেমনে পাসরে রয়েছে। গাে
গিরিরাণি। সেতাে সামান্য মেয়ে নয় কনক প্রতিমা।
আস্থাই।
আমরা পরের নারী, ভারে না দেখিলে মরি, তুমি
তার জননী তায়, উদরে ধরেছে। ১। অন্তরা।
দেখেছি দিয়েছে যারে, জটিল দিগম্বরে, তার কি
ধন দেখিয়ে * ঘরে, মেয়ে সুপেছে। পাষাণ শিখর রাজ
তিলে না বাসয়ে লাজ, তুমি সেই পাষাণ দিয়ে, হিয়ে
বেঁধেছে। ১। অভােগ।
জনমে জনমে কত, করেছে কঠিন ব্রত, অনেক যতনে
গৌরী, ধন পেয়েচো। কমলাকান্তের বাণী, জাননা
শিখর রাণী, ত্রিলােক জননী তার জননী হয়েছে। ২
আভােগ।
রাগিণী-
তাল-জলদ তেতালা।
( ২২১) কবে যাবে বল গিরিরাজ গৌরীরে আনিতে।
ব্যাকুল হৈয়েছে প্রাণ, উমারে দেখিতে ‘হে’। আস্থাই।
গৌরী দিয়ে দিগম্বরে, আনন্দে রােয়েছে। ঘরে, কি
-ভৈরবী।
(হরে ইতি দ্বিপাঠঃ )

( ১১৮ )
আছে তব অন্তরে, না পারি বুঝিতে। কামিনী করিল
বিধি, তেঁই হে তােমারে সাধি, নারীর জনম কেবল,
যন্ত্রণা সহিতে।১। অভােগ।
সতিনী সরলা নহে, স্বামী সে শ্মশানে রহে, তুমি
হে পাষাণ তাহে, না কর মনেতে। কমলাকান্তের
বাণী, শুন হে শিখর মণি, কেমনে সহিবে এত,, মায়ের
প্রাণেতে। ২। অভােগ।
রাগিণী—* যােগিয়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(২২২) বারে বারে কহ রাণী, গৌরী আনিবারে।
জানত জামাতার রীত অশেষ প্রকারে। আস্থাই।
বরঞ্চ ত্যজিয়ে মণি, ক্ষণেক বাঁচিয়ে ফণী, ততােধিক
শূলপাণি, ভাবে উমা মারে। তিলে না দেখিলে মরে,
সদা রাখে হৃদি পরে, সে কেন পাঠাবে তঁারে সরল
অন্তরে।১। অভােগ।
রাখি অমরের মান, হরের গরল পান, দারুণ বিষের
জ্বালা, না সহে শরীরে। উমার অঙ্গের ছায়া, শীতল
শঙ্কর কায়, সে অবধি শিব জায়া, বিচ্ছেদ না করে। ২।
অভােগ।
অবলা অলপ মতি, না জান কার্যের গতি, যাব কিছু
না কহিব, দেব দিগম্বরে। কমলাকান্তেরে কহ,
* ( এই গীত পরজ কালেঙ্গা রাগিণীতে চলিত )

( ১১৯ )
তারে মাের সঙ্গে দেহ, ‘তা মা বটে মানায়ে যদি,
আনিবারে পারে। ৩। অতভাগ।
রাগিণী--বিভাস।
তালধিমা তেতালা।
(২২৩) গিরিরাজ গমন করিল হর পুরে । আস্থাই।
হরিষ বিষাদে, প্রমােদ প্রমাদে, ক্ষণে দ্রুত ক্ষণে
চলে ধীরে।১। অন্তরা।
মনে মনে অনুভব, হেরিব শঙ্কর শিব, আজি তনু
জুড়াইব, আনন্দে সমীরে। পুনরপি ভাবে গিরি, যদি
না আনিতে পারি, ঘরে আসি কি কব রাণীরে। ১।
অভোগ ।
দূরে থাকি শৈল রাজা, দেখি শ্রীমন্দির ধ্বজা, পুলকে
পূর্ণিত তনু, ভাসে প্রেমনীরে।
মনে মনে
শুধু দরশন নয়, উমারে আনিতে হবে, ঘরে। ২।
অভােগ।
প্রবেশে কৈলাস পুরী, না ভেটিয়ে ত্রিপুরারি, গমন
করিল গিরি, শয়ন মন্দিরে। হেরিয়ে তনয়া মুখ,
বাড়িল পরম সুখ, মনের তিমির গেল দূরে। ৩।
অভোগ।
জগত জননী তায়, প্রণাম করিতে চায়, নিষেধ
করয়ে গিরি, ধরি দুটি করে। কমলাকান্ত সেবিত তব
এই ভয়,

( ১২০ )
শ্রীচরণ ‘মা’ আমি কত পুণ্যে পেয়েছি তােমারে । ৪।
গতভাগ ।
রাগিণী-যােগিয়া ।
তাল-জলদ তেতালা।
( ২২৪) গঙ্গাধর ‘হে শিব শঙ্কর’ কর অনুমতি
হর, যাইতে জনক ভবনে। আস্থাই।
ক্ষণে ক্ষণে মম মন, হইতেছে উচ্চাটন, ধারাবহে
তিন নয়নে। ১। অন্তরা।
সুরাসুর নাগ নরে, আমারে স্মরণ করে, কত না
দেখেছি স্বপনে, যােগ নিদ্রা ঘােরে। বিশেষে জননী
আসি, আমার শিয়রে বসি, মা দুর্গা বলে ডাকে সঘনে।১।
অপে।
‘মায়ের’ ছল ছল দুটি আঁখি, আমারে কোলেতে
রাখি, কত না চুম্বয়ে বদনে। জাগিয়ে না দেখি মায়,
মনটদুঃখ কব কায়, বল প্রাণ ধরি কেমনে। ২।
অভােগ।
হউক নিশি অবসান, রাখ অবলার মান, নিবেদন
করি চরণে। কমলাকান্তেরে, দেহ নাথ অনুচর,
বােলে যাই আসিব ত্রিদিনে। ৩। অভােগ।
* (যদি অনুমতি কর। ইতি দিপাঠ )

( ১২১ )
রাগিণী-ললিত যােগিয়া।
তাল-তিওট।
(২২৫) ওহে হর গঙ্গাধর কর অঙ্গীকার, যাই
আমি জনক ভবনে। আস্থাই।
কি ভাবিছ মনে মনে, ক্ষিতি নখ লেখনে, হয় নয়
প্রকাশ বদনে। ১। অন্তরা।
জনক আমার গিরিবর, আমি উপনীত, আমারে
লইতে আর, তব দরশনে। অনেক দিবস পর, যাইৰ
জনক ঘর, জননীরে দেখিব নয়নে ॥১॥ অভােগ।
দিবানিশি অবিরত, কান্দিছে জননী কত, “হে”
তৃষিত চাতকীর মত, রাণী চেয়ে পথ পানে। না দেখে
মায়ের মুখ, কি কব মনের দুখ, না কহিলে যাইব
কেমনে। ২। অভােগ ।
মন আশ, না করহ উপহাস, বিদায়
করহ হর, সরল বচনে ‘হে। কমলাকান্তেরে দেহ
নাথ অনুচর, বল্যে যাই আসিব তিন দিনে “হে”।
৩ অভােগ।
রাগিণী--মালসী।
তাল—আড়া চৌতালা।
( ২২৬) “গিরিরাণী যন্ত্র সাধন মন্ত্র পড়ে নানা তন্ত্র
করিয়ে বিচার।
নাথ পূর

বলে, বিলম্ব
( ১২২ )
বলে আজ আজ আসিবে, আমার গৌরী গজানন,
কি শুভ দিন গাে আমার ॥ আস্থাই ।
কনক নির্মিত কুম্ভ দিছে তাহে কুসুম চন্দন সার
‘গাে রাণী’ । আমন্ত্রি সুরগুরু, পূজনে নব তরু, যেমন
আছে কুলাচার। ১। অন্তরা।
মৃদঙ্গ মােহিনী, দুন্দুভি দরপিণী, বাজিছে বিবিধ
প্রকার গাে গিরিপুরে। নগর রমণী,
নগর রমণী, উলু উলু ধ্বনি,
আনন্দে দিছে বারে বার। ২॥ অন্তরা।
বিজয়া হেন কালে, আসি রাণীরে বলে,
কেন কর আর ‘গাে গিরিরাণী। কমলাকান্তের, জননী
ঘরে এলো, প্রাণের গৌরী তােমার ॥৩॥ অন্তরা।
রাগিণী ছায়ানট।
তালতিওট।
(২২৭) ওগাে হিম শৈল মােহিনী ‘গাে রাণী শুন
মঙ্গল বচন, এলাে গিরি লয়ে প্রাণ উমারে। আস্থাই ।
কি কর কি কর রাণী, শুন গো জয় জয় ধ্বনি, আজি
কি আনন্দ গিরিপুরে ॥১॥ অন্তরা।
দেখে এলেম রাজপথে, তােমার তনয়া দাঁড়ায়ে
দেথে ‘গাে’ শ্রমবিন্দু শােভে মুখ বরে। বারেক সে
মুখ চেয়ে, অমনি আইলাম ধেয়ে, পুণ্যবতি লইতে
তােমারে ॥ ১। অভোগ ।
জয়া কি বলিলে আর বার বল, আমার গৌরী কি
ভবনে এলাে ‘গাে’ মরেছিলাম না দেখিয়ে তারে ।

( ১২০ ) কহিতে কহিতে রাণী, ধাইল যেন পাগলিনী, কেশ পাশ বাস না সম্বরে ‘গাে’ । ২। অভােগ দেখিয়ে সে চাদমুখ, ‘রাণী’ পাশরিলা সব দুঃখ ‘গাে’ কোলে নিল ধরে দুটি করে। কমলাকান্তের বাণী; বিলম্ব না কর রাণী, বরণ করিয়ে লহ ঘরে। ৩। অভােগ ॥ রাগিণী—পরজ কালেঙ্গড়া। তাল-কওয়ালির ঠেকা। ২২৮) এখনি আসিবে গো গিরিরাজ, আনন্দে অভয়া লয়ে। আজি জুড়াইব আঁখি, চল সখি দেখি গিয়ে। আস্থাই। মেনকা রাণীর দাসী, প্রতি ঘরে ঘরে আসি, মানের তিমির নাশি, মঙ্গল গিযেছে কয়ে। তােমরা যতক এয়ো, রাজার ভবনে যেয়ে, বরণ করিয়ে রাণী, লবে গাে আপনার মেয়ে। ১ অভােগ। নগর নিকটে শুনি, উঠিল মঙ্গল ধ্বনি, ধাইল যত রমণী, সবে উনমত্তা হৈয়ে। সম্মুখে শঙ্করী রথ, হেরিয়ে যুবতী যত, পাশরিল মনােদুখ, বিধুমুখ নির- খিয়ে। ২। অভােগ হেন কালে শৈল রাণী, এলো যেন পাগলিনী, মুখে নাহি সরে বাণী, রৈল ও চাদ মুখ চেয়ে। কমলা- কান্তের ভাষা, পূরিল মনের আশা, বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত নিধি, বিধি দিল মিলাইয়ে। ৩। অভােগ

( ১২৪ )
রাগিণী—সিন্ধোড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(২২৯) জয়’ জয় মঙ্গল বাজন, বাজে ঘনে ঘন,
আগগা রাণী, ঐ এলো গিরি, রাণী গাে’ গৌরীরে
লয়ে আস্থাই
কি কর শিখর রমণী গৃহ অন্তরে, ‘মা’ তনয়া দেখ
আসিয়ে॥১॥ অন্তরা
শুনিয়ে জয়ার বাণী, অমনি ধাইল
রাণী, পুলকে
পূর্ণিত হইয়ে। ক্ষণে অচেতনা, ক্ষণে স্থকিত নয়না,
‘রাণী’ ক্ষণে ডাকে উমা বলিয়ে। ১। অভােগ
বাহির প্রাঙ্গণে আসি, দুরে গেল দুঃখ রাশি উমা
শশী মুখ হেরিয়ে। ত্রিগুণ জননী, অনায়াসে গিরি
গেহিনী, কোলে নিল করে ধরিয়ে ॥ ২॥ অভােগ
সারি সারি নারী ধায়, সবে সুমঙ্গল গায়, কোলাহল
রব করিয়ে। কমলাকান্ত হেরিয়ে শ্রীমুখ মণ্ডল, নাচে
করতালি দিয়ে ॥ ৩॥ অভােগ।
রাগিণী--পরজ কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৩) এলো গিরি রাজরাণী, উমারে
লইয়ে
‘গাে’ কি কর কি কর গৃহে, দেখ না আসিয়ে, গাে’
৷ আস্থাই।
লদের কোলে করি, আগে আগে xায় গিরি,

( ১২৫ )
ষড়ানন অঙ্গুলি ধরিয়ে। তার পাছে উমা ধায়, তােমার
মুখ চেয়ে ‘গাে’ । ১। অভােগ।
সখীর বচন শুনি, ধায়
ধায় যেন চকোরিণী, শশিরে
ষােড়শী নিরখিয়ে। তেমতি ধাইল রাণী, উনমত্তা
হৈয়ে গাে’ ॥ ২॥ অভােগ।
আঙ্গিনার বাহিরে আসি, হেরি গৌরী মুখ শশি,
কোলে নিল বরণ করিয়ে পুলকে কমলাকান্ত, গিরি
পুরে’ আনন্দ দেখিয়ে ॥ ৩॥ অভােগ।
রাগিণী
তাল।
বিভাষ যযাগিয়া।
জলদ তেতালা।
( ২৩১ ) এলো গিরি নন্দিনী, লয়ে সুমঙ্গলধ্বনি,
ঐ শুন ওগাে রাণী ॥ আস্থাই।
চল বরণ বরিয়ে, উমা আনি যেয়ে, কি কর পাষাণ
রমণী গাে’ । ১। অন্তরা।
অমনি উঠিয়ে, পুলকিত হৈয়ে, ধাইল যেন পাগলিনী।
চলিতে চঞ্চল, খসিল কুন্তল, অঞ্চল লােটায়ে ধরণী । ১ ॥
অভােগ।
ঙ্গিনার বাহিরে, হেরিয়ে গৌরীরে, দ্রুত কোলে
নিল রাণী। অমিয় বরষি, উমামুখ শশী, চুম্বয়ে যেন
চকোরিণী। ২। অভােগ।
গৌরী কোলে করি, মেনকা সুন্দরী, ভবনে লইল
ভবানী। কমলান্তের, পুলকে অন্তর
হেরি, ও বিধু মুখ
খনি ॥ ৩॥ অভােগ ॥

( ১২৬ ) রাগিণী-সুরট। তাল-একতালা। ( ২৩২ ) আমার উমা এলাে বলে, রাণী এলে। কেশে যায়। যত নগর নাগরী, সারি সারি সারি, ‘দৌড়ি’ গোরা মুখ পানে চায় ॥ অস্থাই। কারু পূর্ণ কলসী কক্ষে, কারু শিশু বালক বক, কার আধ শিরসি বেণী, কার আধ অলকা শ্রেণা, বলে চল চুল চল, অচল তনয়া, হেরি ওমা দৌড়ে আয়। ১1. অন্তরা। আসি নগর প্রান্ত ভাগে, তনু পুলকিত অনুরাগে, কেহ চন্দ্রানন হেরি, দ্রুত চুষে অধর বারি, তখন, গৌরী কোলে করি, গিরিনারী, প্রেমানন্দে তনু ভেসে যায় ॥ ২॥ অন্তরা। কত যন্ত্র মধুর বাজে, সুর কিন্নরী গণ সাজে, কেহ নাচত কত রঙ্গে, গিরিপুর সহচরী সঙ্গে, আজু কম- লাকান্ত ‘গাে’ হেরি নিতান্ত, মগ্ন দুটি রাঙ্গা পায়। ৩। } অন্তরা |} রাগিণী-পরজ কালেঙ্গড়। তাল-ধিমা তেতালা। (২৩৩) গিরিরাণী এই নাও তােমার উমারে । ধর ধর হরের জীবন ধন ॥ আস্থাই ।

১২৭ )
কত না মিনতি করি, তুষিয়ে ত্রিশূল ধারী, প্রাণ
উমা আনিলাম্ নিজ পুরে । গিরিরাণী ॥১॥ অন্তরা।
দেখে মনে রেখ ভয়, সামান্য তনয়া নয়, ঘরে
সেবে বিধি বিষ্ণ হরে । ও রাঙ্গা চরণ দুটি, হৃদে রাখেন
টি, হিলার্ধ বিচ্ছেদ নাহি করে। ১ অভােগ ।
তোমরা উমার মায়া, নিগুণে সগুণ কায়া, ছায়া মা
জীব নাম ধরে।
ব্রহ্মা ও ভাণ্ডাদরী, কালী তারা নাম
বরি, কৃপা করি পভিতে উদ্ধারে ॥ ২॥ ভােগ।
অসংখ্য পেরি ফলে, কপট তনয়া ছলে, ব্ৰহ্মমরি
মা বলে তোমারে। মেনকাৱাণী । কমলাকান্তের বাণী
ধন্য ধন্য গিরিরাণী, তব পুণ্য কে কহিতে পারে । ৩।
অভোগ ।
রাগিণী-বিভাষ ।
তাল-জলদ একতালা।
( ২৩৪) অল্যে আমার প্রাণেরাে অধিক গাে, উমা,
মুখ হেরিয়ে নয়ন জুড়াল ‘গাে’ | আস্থাই।
তাজু মাের শুভ দিন, হেরি ও বিধু, বদন, ‘মা’ মনের
তিমির দূরে গেল ‘গাে’ | অন্তরা।
সবে কয় মা গিরিপুরে, হর কি মশানে ফিরে ‘মা’
শুনে বড় দুঃখ উপজিল ‘গো”। ভাল হহলাে এলে
তুমি, আর না পাঠাব
আমি, বুঝি বিধি প্রসন্ন হইল,
‘গো’ । ১। অভোগ ।

( ১২৮ )
আপনার অঞ্চলে রাণী,
অঞ্চলে রাণী, মুছায়ে চাদ মুখ খানি,
প্রাণ উমা কোলেতে লইল ‘গাে’। হেরিয়ে ও চাদ
মুখ, পাশরিল সব দুখ, ‘রাণী’ সুখের সাগর উথলিল
'গো ॥ ২॥ অভােগ।
চারিদিকে পুরনারী, মাঝে রাণী কোলে গৌরী,
বজায়া ভবনে লইল। কমলাকান্তের বাণী, উঠিল
মঙ্গল ধ্বনি, গিরিপুরে কি আনন্দ হােলল ‘গাে’ ॥ ৩ |
অভোগ ॥
রাগিণী—মালসী।
তাল-তিওট।
(২৩৫) এল্যে গৌরী ভবনে আমার। তুমি ভূলে
ছিলে, মা বল্যে বুঝি এত দিনে। চির দিনে। মায়ের
পরাণ, কান্দে রাত্রি দিন, শয়নে স্বপনে হেরি গো
ও মুখ তােমার, ॥১॥ অস্থাই।
কত কামনা করিয়ে কাননে, আমি রতন পেয়েছি
মৃতনে, সচন্দন ফুলে, নব বিন্দুদলে, পূজেছিলাম গঙ্গাধরে
‘গাে’ হৈয়ে নিরহার। ১। অন্তরা
গিরিপুর রমণী চারি পাশে, কত কহিছে হাস পরি-
সে। তরুমূলে ঘর, স্বামী দিগম্বর, তা নহিলে আর
কত দিন হইত তােমার ॥ ২॥ অন্তরা ॥
তুমি পুণ্যবতী গিরিরাণি, শুন কমলাকান্তের বাণী।
জগত জননী, তােমার নন্দিনী, বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত
গো চরণ যাহার ॥ ৩॥ অন্তরা।

( ১২৯ )
রাগিণী-খট যােগিয়া।
তাল--জলদ তােলা।
(২৩৬ ) শরত কমল মুখে, আধ অধি বাণী।
“মায়ের। অস্থাই।
মায়ের কোলেতে বসি, শ্রীমুখে ঈষদ হসি ভবের
ভবন সুখ ভনয়ে ভবানী। ১॥ অন্তরা।
কে বলে দরিদ্র হর, রতনে রচিত ঘর, ‘মা’ জিনি
কত সুধাকর, শত দিন মণি। বিবাহ অবধি তার কে
দেখেছ অন্ধকার, কে জানে কখন দিব কখন রজনী।
১ ॥ তাভোগ ।
শুনেছ সতিনের ভয়, সে সকল কিছু নয়, ‘মা’
তােমার অধিক ভাল বাসে সুরধুনী। মেরে শির হৃদে
রাখে, জটাতে লুকায়ে দেখে, কার কে এমন আছে
সুখের সতিনী ॥ ২॥ অভােগ
কমলাকান্তের বাণী, শুন গিরিরাজ রাণী, কৈলাস
ভূধর ধরাধর চুড়ামণি। তা যদি দেখিতে পাও, ফিরে
না আসিতে চাও, ভুলে থাক ভব গৃহে, ভূধর রমণি
। ৩। অভােগ।
রাগিণী—সিন্ধু মূলতান।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৩৭) শুনেছি মা মহিমা তােমার, ওগো প্রাণ
গৌরী’ তুমি ত্রিভুবন জননী ॥ আস্থাই।

( ১৩০ )
মাের মনে ভ্রান্তি, অভয়া নিজ নন্দিনী ‘মা’ কি
জানি কুল কামিনী ॥১॥ অন্তরা
পৃথিব্যাদি পঞ্চতত্ব, তুমি তমমা রজঃ সত্ব, মাগাে
তুমি গুণময়ি গুণ রূপিণী। নিগুণ নিরূপ নিরঞ্জন বিভু
তারে ‘মা’ তব গুণে সগুণ গণি ॥১॥ অভােগ।
অবিদ্যা অপরা পরা, বিদ্যা তুমি পরাৎপরা, মা
গো তুমি বিশ্বময়ী বিশ্ব কারিণী। যে জন যে রূপে
ভজে, হে মা তার হৃদয়াম্বুজে, সেই রূপে গতি দায়িনী।
২॥ অভােগ।
অসংখ্য তপের ফলে, তােমা ধন পেয়েছি কোলে,
‘মা গো তুমি দয়াময়ী দুঃখ হরিণী। কমলাকান্তের,
“গতি হে মা তব নাম, ভব জল নিধি তরণী। ৩। অভােগ।
রাগিণী-খট যোগিয়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৩৮) রাণী বলে জঠিল শঙ্কর, কেমন আছে গো
হর, চন্দ্র শেখর শূলপাণি ‘গাে’ ॥ আস্থাই
যে অবধি নয়নে, হেরিলাম ত্রিলােচনে, আমি তােমার
অধিক তারে জানি ‘গাে॥১॥ অন্তরা
তার’ পরিধান বাঘছাল, আভরণ হাড়মাল, মুকুট
ভূষণ শিশু ফণি। জিনি রজতাচল, অতিশয় নিৰ্ম্মল,
ভস্ম ভূষিত তনুখানি ॥১॥ অভােগ।

( ১৩১ ) আমার শপথ তােরে, স্বরূপে কহ না মােরে, প্রবল সতিনী সুরধুনী। স্বামির সােহাগে ভাষে, সে তােরে কেমন বাসে, তাই ভাবি দিবস রজনী,, ‘গাে’ ॥২॥ অভােগ। কমলাকান্তের বাণী, শুন ওগাে গিরিরাণী, আশু- তােষ দেব চুড়ামণি। জানে আপনার পর, যে তাসে তাহারি ঘর, সুখে আছে তােমার নন্দিনী গাে | ৩ ॥ অভােগ। রাগিণী-বেহাগ। তাল-জলদ তেতালা। ( ২৩৯) আজু মন্দিরে ওমা শঙ্করী শঙ্কর পেয়ে। পূজয়ে ভক্ত বৃন্দ জবা সুচন্দন দিয়ে। আস্থাই আনন্দিত নর নারী সবে পুলকিত হিয়ে। মগন ভকত গণ, সদা ডাকে মা বলিয়ে ॥১॥ অন্তরা সূরাসূর নাগ নর, নাচে উল্লাসিত হৈয়ে। দিব। নিশি নাহি জ্ঞান, তব মুখ তব মুখ নিরখিয়ে। মহাপাপী দূরাচারী, নিস্তারিল নাম লয়ে। পতিত কমলাকান্ত রহিল শ্রীচরণ চেয়ে। ১। অভােগ রাগিণী—পরজ কালেঙ্গড়া। তাল-জলদ তেতালা। ( ২৪০ ) অরে নবমী নিশি, না হৈওরে অবসান শুনেছি দারুণ তুমি, না রাখ সতের মান। আস্থাই।

( ১৩২ )
দান।
খলের প্রধান যত, কে আছে তােমার মত, আপনি
হইয়ে হত, বধরে পরের প্রাণ॥১॥ অন্তরা
প্রফুল্ল কুমুদ বরে, সচন্দন লয়ে করে, কৃতাঞ্জলি
হৈয়ে তােমার, চরণে করিব
মােরে হৈয়ে
শুভোদয়, নাশ দিনমণি ভয়, যেন না সহিতে হয়,
‘রে’ শিবের বচন বাণ॥১॥ অভােগ
হেরিয়ে তনয়া মুখ, পাশরিলাম সব দুঃখ, আজি
সে কেমন সুখ, ইতেছে স্বপন জ্ঞান। কমলাকান্তের
বাণী, শুন ওগাে গিরিরাণী, লুকায়ে রাখনা মারে, হৃদি
মাঝে দিয়ে স্থান ॥ ২॥ অভােগ ।
রাগিণী-খট ।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৪১) কি হলাে নবমী নিশি, হৈলাে অবসান,
‘গাে”। বিপাল ডমরু, ঘন ঘন বাজে, শুনি ধ্বনি বিদরে
প্রাণ গো’ ॥ আস্থাই
কি কহিব মনােদুঃখ, গৌরী পানে চেয়ে দেখ..
‘মায়ের মলিন হয়েছে অতি, ও বিধু বয়ান। ১॥ অন্তর।
ভিখারী ত্রিশূলধারা, যা চাহে তা দিতে পারি,
বরঞ্চ জীবন চাহে, তাহা করি দান । কে জানে কে-
মন মত, না শুনে গো হিতাহিত, ‘আমি’ ভাবিয়ে ভবের
রীত, হয়েছি পাষাণ ‘গো। ১। অভােগ।

( ১৩৩ )
যামিনী।
পরাণ থাকিতে কায়, গৌরী কি পাঠান যায়, মিছে
আকিঞ্চন কেন, করে ত্রিলােচন। কমলাকান্তেরে লৈয়ে,
কহ হরে বুঝাইয়ে, ‘হর’ আপনি রাখিলে রহে, আপনার
মন ‘গো’ ২॥ অভােগ।
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৪২) ওগো উমা আজু কি কারণে পােহাল
এত অনুচিত কেন গো করে শূলপাণি।
আস্থাই।
আমি উমার লাগিয়ে, অনেক কেলেশ পেয়ে, এত
সফল করি মানি। হেরিয়ে ও চাদ মুখ, পাশরিলাম সব
দুঃখ, আজু কেন কান্দিছে পরাণি। ১। অভোগ ।
আমি তােমারে পাইয়ে, সকল দুঃখ বিস্মরিয়ে, নাহি
জানি দিবস রজনী। আজু বিধি বিড়ম্বিল, মনের আশা
না পূরিল, এখন আমি কি করি না জানি ॥ ২॥ অভােগ।
সতত আমার মনে, তম সম তােম বিনে, জল বিনে
যেন চাতকিনী। অতি নিদারুণ হর, পাগল সে দিগম্বর,
কেনে দিলাম তাহারে নন্দিনী। ৩। অভােগ।
আমার মনের আগুন, দ্বিগুণ উথলে কেন, ‘মা’
বুঝি গিরি পাঠাবে এখনি। কমলাকান্তের, নিষেধ না
মানে প্রাণ, না ছাড়িব চরণ দুখানি ॥ ৪। অভােগ।
ঠ

( ১৩৪ )
রাগিণী—জঙ্গল। ঝিঝেটী।
তাল—ঙ্গরি।
(২৪৩) জয়া বল গাে পাঠান হবে না, হর মায়ের
বেদন কেমন জানে না। আস্থাই।
‘তুমি যত বল আর, করি অঙ্গীকার, ওকথা আমারে
বােললা না । ১অন্তরা।
‘ওগো হৃদয় মাঝারে রাখিব বাছারে, প্রহরী
এদুটি নয়ন। যদি গিরিবর আসি কিছু কয়, ‘জয়া’ তখনি
ত্যজিব জীবন। সবে মাত্র ধন, গৌরী মাের প্রাণ,
তিন দিন যদি রয়না। তবে কি সুখ আমার, এ ছার
ভবনে, এ দুঃখে প্রাণ আমার রবে না ॥১॥ অভোগ ॥
যাতনা কেমন, না জানে কখন, বিশেষে রাজার
কুমারী। আর কত দুঃখ পাবে সেখানে, জয় হর যে
জনম ভিখারি। ‘ওগো’ শ্মশানে মনে, লৈয়ে যায়
এ ধনে, আপনার গুণ কিছু জানে না। আবার
কোন লাজে হর, এসেছেন লইতে, জানে না যে বিদায়
দেবে না ॥ ২॥ অভােগ ।
‘তখন জয়া কহে বাণী, শুন শৈল রাণী, উপদেশ
কহি তােমারে। কত বিরিঞ্চি
‘কত বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত ঐ পদ, তুমি
তনয়া ভেবেছ যাহারে। কমলাকান্তের, নিবেদন ধর,
শিব বিনা শিবে পাবে না। যদি জামাতা শঙ্করে,

( ১৩৫ )
পার রাখিবারে, তবে তােমার গৌরী যাবে না । ৩।
অতভাগ।
রাগিণী পরজ কালেঙ্গড়া।
তাল-ধিমা তেতালা।
(২৪৪) আমার গৌরীরে লয়ে যায়, হর আসিয়ে।
কি কর হে গিরিবর, রঙ্গ দেখ বসিয়ে। আস্থাই।
বিনয় বচনে কত, বুঝাইলাম নানামত, শুনিয়ে না
শুনে কেন, ঢোল্যে পড়ে হাসিয়ে॥১॥ অন্তরা।
একি অসম্ভব তার, আভরণ ফণিহার, পরিধান
বাঘছাল ক্ষণে পড়ে খসিয়ে। আমি হে রাজার নারী,
ইহা কি সহিতে পারি, সােণার পুতলি দিলে পাথারে
ভাসায়ে ॥১॥ অতােগ।
শুনি গিরিবর কয়, জামাতা সামান্য নয়, অণিমাদি
আছে যার, চরণে নােটায়ে। কমলাকান্তের বাণী,
কি ভাব শিখর রাণী, পরম আনন্দে গাে তনয়া, দেহ
পাঠায়ে ॥ ২॥ অভােগ।
রাগিণী—মুলতানী।
তাল-লদ তেতালা।
(২৪) বিজয়া। ফিরে চাও গাে উমা, তােমার
বিধুমুখ হেরি। অভাগিনী মায়েরে বধিয়ে কোথা যাও
‘গাে’ ॥ আস্থাই।

( ১৩৬ )
রতন ভবন মাের, আজি হৈলো অন্ধকার, ইথে কি
রহিবে দেহে, এ ছার জীবন। এইখানে দাড়াও উমা
বারেক দাড়াও ‘মা’। তাপের তাপিত তনু ক্ষণেক
জুড়াও ‘গে। অভােগ।
দুইটী নয়ন মাের, রইল চেয়ে পথ পানে। বােলে
যাও আসিবে আর কতদিনে এ ভবনে। কমলাকান্তের
এই বাসনা পূরাও। বিধুমুখে মা বলিয়ে মায়েরে বুঝাও
‘গাে’ ॥ ২॥ অভােগ।
( ইতি শ্যাম বিষয়ক গীত সমাপ্ত।)

( ১৩৭ ) রাগিণীমুলতানী। তাল-একতালা। (২৪৬) আমার গৌর নাচে রে যাচে হরি নাম সংকীৰ্ত্তন রস প্রকাশে। হরি হরি বলি, দেয় করতালী, কলি কলুষ নাশে। আস্থাই। তড়িত পুঞ্জ জড়িত কায়, শরত ইন্দু বদন তায়, একি আনন্দ ভকত বৃন্দ, মগন প্রেম পাশে। ১। অন্তরা। ক্ষণে অচেতন অবশ অঙ্গ, ক্ষণে পুলকিত ভকত সঙ্গ, রাধা পুনরাধ্য ভাব প্রসঙ্গ, প্রকট সুখ বিলাসে। নব কি নব করে করঙ্গ, দণ্ডপাণি একি তরঙ্গ, কমলাকান্ত হেরি অনন্ত, মিনতি ভকত আশে ॥১॥ অভােগ। } রাগিণী-দেশ মল্লার। আল-জলদ তেতালা। (২৪৭) জয় জয় মাধব মুকুন্দ মুরারি। আস্থাই। জয় বৃন্দাবনচন্দ্র জয় নন্দ সূত, জয় বৃকভানু কুমারী ॥১॥ অন্তরা। পীতাম্বর ধর, বনােমলা ধর, বাধাধর বনােয়ারি ব্রজ বণিতা সুখ, দায়ক নায়ক, জয় পীতম জয় প্যারী॥১॥ অভােগ। জয় গােবিন্দ গোপাল, জনার্দন জয় গােবন

মম হৃদি
( ১৩৮ )
ধারী। কমলাকান্ত অন্তসূখ দায়ক, মােহন রাসবেরি ।
২। অভােগ।
রাগিণী।-পরজ।
তাল।—ধিমা তেতালা।
(২৪৮ ) হে শ্যাম পরম পুরুষ গুণ ধাম।
সরােজ নিবাস বঁধু, পূরয় মনােঅভিরাম। আস্থাই।
গুণাকর গুণনিধি, সগুণ অগুণ বিধি, অতি অনুপম
তুয়া নাম। কমলাকান্ত জীবন ধন প্রাণ, তব গুণে
রত বসূ যাম। ১। অন্তর।
রাগিণী।-কালেঙ্গড়া।
তাল।-একতালা।
( ২৪৯) পীরিতি না জানে কাল, গো সজনি।
আস্থাই।
অকারণে ধন প্রাণে মজিল অবল। রতন বলিয়া
গলে পরিলাম কলঙ্কের মালা ॥১॥ অন্তরা।
অমৃত রূপিল সখী, উপজে বিষের শাখী, কি জানে
কুলের বালা। কমলাকান্তের রীত, আগেনা বুঝিয়ে,
ঘটিল বিষয় জ্বালা ॥১॥ অভােগ।
রাগিণী।—ইমন ।
ভাল।-জলদ তেতালা।
(২৫• )
সে নিদারুণ কালা, কেমনে জানিব আমি
কুলের অবলা ॥ আস্থাই।

( ১৩৯ ) আগে যদি জানিতাম, তবে কেন মজিতাম, প্রেম নয় হয় কেবল পরাণের জ্বালা ॥১॥ অন্তরা। যখন পীরিতি করলে, আনি চাঁদ হাতে দিলে, ভুল- ইলে মধুর বচনে কুল বালা । কমলাকান্তের বাণী, শুন ওগো সজনি, শেষে ঘটাইলে মােরে, কলঙ্কের ডালা। ১। অভােগ । রাগিণী।-পরজ কালেঙ্গড়া। তাল।-কাওয়ালির ঠেকা । (২৫১) এখনি আসিবে বন্ধু প্রাণ সজনি। তােমার অনুগত আমি ভাল জানি। আস্থাই। এসো এসো বেশ, বানায়ে দিব মনের মত, আজু সে রসিক বর, সঙ্গে বঞ্চিবে রজনী। ১ ॥ অন্তরা। পর পর কাজর রেখা দুটি নয়নে, ধর ধর অধর কমলাকান্ত মিনতি রাখ সুন্দরি। যেমন সূন্দর শ্যাম, সখি সাজগাে তেমনি ॥১॥ অভােগ। রাগিণী।-সরপরদা। তাল।-জলদ তেতালা। ( ২৫২ ) ও শ্যাম বন্ধু তােমায় না দেখিলে ঝরে দুটি আঁখি। দেখিলে নয়ন জুড়ায় । আস্থাই । জানি কি মন্ত্র দিয়ে বান্ধিলে প্রিয়ে, ও বিধু ৰদন খানি স্বপনে নিরখি॥১॥ অন্তরা। ঘরে গুরুজনার ভয়, কত ছলে কত কয়, শুনিয়ে সূরঙ্গ রঙ্গিণী ।

( ১৪০ )
শুনি, হে মরমে মরে থাকি। তথাপি তােমার তরে,
পরাণ যেমন করে, সুধাইও কমলাকান্তরে রাখি সাথি।
১। অভােগ ॥
রাগিণী।-সরপরদা।
তাল।-জলদ তেতালা।
( ২৫৩) শ্যাম কেন জানে না সখিরে, পীরিতি
করিয়া তারে যতনে রাখিতে। অস্থাই
বঁধু আপনি মজিল, আমারে মজাইল, তার কলঙ্ক
করিল, নিলাজ বাঁশিতে, ‘সই’॥১॥ অন্তরা।
আমি যে সরল নারী, এত কি বুঝিতে পারি, দেখিয়ে
ভুলিলাম্ তারি, মজিলাম পীরিতে। কমলাকান্তের বাণী,
শুন প্রাণ সজনি, এখন কি করিল নারী, নারিলাম
চিনিতে ॥১॥ অতভাগ।
রাগিণী।-পরজ।
তাল।--জলদ তেতালা।
(২৫৪) কিক্ষণে শ্যাম চঁাদের রূপ নয়নে লাগিল।
তিলে না হেরিতে রূপ, অন্তরে আসি পশিল । আস্থাই।
হেরিতে না পেলাম রূপ, তিলেক দাঁড়াইয়ে। অবলার
মনেরাে দুঃখ, চির দিন মনে রহিল। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের বাণী, শুন গাে প্রাণ সজনি, সখি
অকলঙ্ককুলে, বুঝি কলঙ্ক ঘটিল। ২॥ অন্তরা ॥

( ১৪১ )
রাগিণী—লুম ঝিঝেটী।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৫৫) এত দিনে তােমারে জানিলাম। জানিলাম
যেমন আমার, সুহৃদ্ তুমি ওহে শ্যাম। আস্থাই।
সুখের কারণ, জীবন যৌবন, ভাল জনরে সুপি-
লাম। ১ ॥ অন্তরা।
তুমি কর নাথ, মধুকর ব্রত, আগে যদি জানিতাম।
তবে কেন ভুলে, কালী দিতাম কুলে, মিছা কলঙ্ক
ডুবিলাম ॥১॥ অভােগ।
ভুলে ছিলাম ভ্রমে, যত সুখ প্রেমে, এখন আমি
বুঝিলাম। কমলাকান্তের, অন্তর বাহির, ভাবিয়ে কালী
হইলাম ॥ ২॥ অভােগ।
রাগিণী-ইমন।
-তাল-জলদ তোেল।
( ২৫৬) সেই রূপে সদা মন ধায়। আমি কি হেরি-
লাম যমুনা বিপিনে। মধুর মুরলি যে বিধু বদনে। আস্থাই।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম, রূপ নিরুপম, কেন হেরিলাম, আমি
কি করিলাম। বঙ্কিম চাহনি চঞ্চল নয়নে। ১। অন্তরা।
কমলাকান্তের বাণী, শুন ওগাে সজনি, আমি ভুলিলাম
সকলি সুপিলাম। মজিলাম মজিলাম, নব ঘন বরণে।
২। অন্তরা ॥

( ১৪২ )
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল--একতালা।
(২৫৭) ওহে বঁধু তােমার কি দোষ, তুমি কি
করিবে পর বশ। তােমারে পূরাতে হয় অনেকেরি আশ ।
আস্থাই।
পুরুষ সুজন বট, কোন গুণে নহ খাট, না বুঝে অবােধ
লােকে, করে অপযশ।১॥ অন্তরা।
কমলাকান্তের বাণী, শুন হে শ্যাম গুণমণি, মনের
ভরমে কভু, মম গৃহে এসাে। ২। অন্তরা।
রাগিণী-কালেংড়া।
তাল—ধিমা তোেল।
(২৫৮) কেন বা পীরিতি করিলাম, কপটেরি সনে।
বুঝে আপনার দোষে কলঙ্কে ডুবিলাম। আস্থাই।
অমৃত বলিয়ে সখি গরল ভক্ষিলাম। দিবানিশি অবিরত
জ্বলিতে লাগিলাম। ১ । অন্তরা।
কমলাকান্তের কথা আগে না বুঝিলাম।
করিব বশ, আপনা খােয়ালাম ॥ ২॥ অন্তরা।
রাগিণী-ভৈরবী।
তাল-জলদ তেতালা।
( ২৫৯) রতন বলিয়ে সখি যতন করিলাম তারে।
কে জানে পাষাণ হবে, দিন দুই তিন পরে। আস্থাই।
পরে কি
১

w
১৪৩ )
শিশির শীতল অতি শরীরের তাপ হরে। নলিনী কি
জানে শেষে, সমুলে বিনাশ করে। ১। অন্তরা।
রাগিণী—পরজ কালেংড়া।
তাল- -ধিমা তেতালা।
( ২৬০ ) সাধ করে পীরিতি করিতে, ‘যদি মিলন হয়
সুজন সহিতে ‘সই’ । আস্থাই।
আমার যেমন মন, সে যদি হয় এমন, কি আর অধিক
সুখ, এ সুখ হইতে। ১॥ অন্তরা।
কি ক্ষণে হেরিলাম রূপ, সুধাময় রসকূপ, সেই হৈতে
প্রাণ কান্দে, তাহারে দেখিতে ॥ ২॥ অন্তরা।
কমলাকান্তেরে যদি, আনিয়া মিলায় বিধি, সে রূপ
লাবণ্য নিধি, হৃদয়ে রাখিতে ॥ ৩॥ অন্তরা।
রাগিণী--বাহার।
তাল--কাওয়ালীর ঠেকা।
(২৬১) বন্ধু তুমি কয়েছিলে কালি এই কথা।
প্রিয়সি তােমার বই, আর কার নই, তবে এত রজনী
বঞ্চিলে বল কোথা ॥ আস্থাই।
সাধিতে আপনার ফল কত না চাতুরী বল, বুঝিলাম
তোমার যেমন সুজনতা। ১। অন্তরা।
আপনি করিয়ে প্রেম রাখিতে রসরাজ। কেবল
কলঙ্ক ডালা, মাের মাথে সাজাইলা, এই করিলে প্রাণ,
খেয়ে মােয় মাথা। ২। অন্তরা।

( ১৪৪ )
কমলাকান্তের বাণী, শুন হে লম্পট রাজ। অবলা
কুলের বালা, অধিক প্রেমের জ্বালা, অতি অনুচিত তব,
সরলে শঠতা ॥ ৩॥ অন্তরা।
রাগিণী-বেহাগ।
তাল-জলদ তেতালা।
( ২৬২) তােমারে আপনার কোরে ভাবে যেই জন।
প্রাণ রে তুমি তারে কেন কর এত বিড়ম্বন। আস্থাই।
এ কেমন প্রেম উভয় মন সম নয়। কেহ সুখভাগী
কেহ দুঃখের কারণ ॥ ১। অন্তরা।
যতনে রতন তরু করিলে সৃজন।
ফল ফুল কালে
তারে না কর সেচন। মুকুলে আকুল অতি সংশয় জীবন।
তুমি তার হিত আর করিবে কখন ॥১॥ অভােগ।
রাগিণী-সরপরদা।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৬৩) ইহারি কারণে সুপিলাম যৌবন জীবন
প্রাণ। পুরুষ রতন তুমি, রসিক সুজন। আস্থাই।
কঠিন হৃদয় যার, সদাই চাতুরী তার, চিরদিন নাহি
রয়, কুজনে মিলন। রসিকের এই গুণ, নবরস প্রতিদিন,
কখন না হইবে, প্রেম পূরাতন।১ ॥ অন্তর ।

( ১৪৫ )
রাগিণী-ললিত।
তাল-জলদ তেতালা।
(২৬৪) কি লাগিয়ে প্রাণ প্রিয়ে মানিনী হয়েছ।
ও বিধু বদনি কেন, মুখ মলিন করেছ। আস্থাই।
চাতক ত্যজিয়ে ঘন, করে সর আরাধন, চকোর
নিকর শশি ত্যাগী কি দেখেছ। অলি কুমুদিনী বশ,
কোথারে শুনেছ ॥১॥ অন্তরা।
রাগিণী-আলেয়া।
তাল-কওয়ালির ঠেকা।
( ২৬৫) এখন কি করিবে অলিরাজ, হৃদয়ে বেঁন্ধেছে
কমলিনী। প্রতি দিন এই নিশি, মােরে দেখে হাসে
শশী, তুমি থাক লৈয়ে কুমুদিনী ॥ আস্থাই।
দিন অবসান কালে, আসিয়ে মিলিয়ে ছিলে,
জাননা হইবে নিশি মুদিত নলিনী। পেয়েছি আপ,
নার বশ, আজ পূরাইব আশ, না ছাড়িব ওহে বঁধু,
থাকিতে যামিনী ॥১॥ অভােগ।
রাগিণী—পরজ কালেঙ্গড়া।
তাল - জলদ তোেল।
(২৬৬) বদন সরােজ কি শশী, প্রিয়সি তােমার
হে। নয়ন চকোর ভ্রমর উভয়ের মিলন ॥ আস্থাই।
কজ্জল জল, কি ব্যোম সম কুন্তল, মধু কি সুধা
মিলিত বচন। ১॥ অন্তরা।

( ১৪৬ )
চন্দন বিন্দু ইন্দ সম নিলে, সিন্দবাে তিমির বিনা-
শন। কমলাকান্ত ওরূপ নিরখিয়ে, বুঝিতে না পারে
কি রজনী দিন। ১ ॥ অভােগ ।
রাগিণী-কালেঙ্গড়া।
তাল-জলদ তেতালা।
( ২৬৭) পীরিতি রতন, কহ সখি কেমনে রাখিব
আমার যেমন মন, সে নহে তেমন। আস্থাই।
মনে মনে সাধ, ছিল মাের সরল অন্তর যার, তারি
সনে করিব মিলন। ‘আরে প্রাণ সখি'। কে জানে
শঠেরি সঙ্গে দহিবে জীবন ॥১॥ অন্তরা।
মান অপমান, না ভাবিয়ে তাহার অধিনী হৈয়ে,
তারি সুখে দুঃখ নিবারণ । কমলাকান্তেরে কৈয়ে
এই নিবেদন ॥১॥ অন্তরা।
রাগিণী-বেহাগড়া।
তাল-ছবকী।
( ২৬৮) শ্যাম’ না জানি কেন বঁধু দগধে আমায়।
আস্থাই।
পেয়ে সে কেমন রস, যদি শ্যাম পরবশ, তবে কেন
আমারে জাগায়। ১। অন্তরা।
ভ্রমর নিকুঞ্জবনে, মজিল আসব পানে, মাতিল মদন
মধুবায়। প্রেমদায়ী সুখ নিশি, বিষ বরিষয়ে শশী,
এখন আমি কি করি উপায় ॥১॥ অভোগ।

( ১০৭ )
কমলাকান্তের বাণী, শুন ওগো সজনী, হৃদয়ে হৃদাত্ম
শ্যাম রায়। জানি নিতান্ত সদয় হয়েছে কোন জনে,
মােরে বধি কাহারে জুড়ায় ॥ ২॥ অভোগ।
রাগিণী-খাম্বাজ বাহার।
তাল-কাওয়ালির ঠেকা।
(২৬৯) কার সঙ্গে রজনী জাগিয়ে অঙ্গ তোমার
হৃদি নখ ছিন্ন ভিন্ন তনু অতি, হেরি মনভ্রান্তি আমার ।
আস্থাই।
কার নয়নের অঞ্জন বয়ানে পরেছ হে, রসিকের এই
ব্যবহার । পীতাম্বর পরিহরি, পর পরিধেয় পরি, বাসনা
পূরাইলে কার ॥১॥ অন্তরা।
তােমার ললাটে যাবক, পাবক
পাবক নিন্দিত খণ্ডিত
গজমতি হার। কমলাকান্ত এসেছ নিশি বঞ্চিয়ে,
নিজ গুণ করিয়ে প্রচার ॥ ২॥ অন্তরা।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shyama Sangeet Ed. 2nd

Author
Not Available
Title
Shyama Sangeet Ed. 2nd
File name
Shyama Sangeet Ed. 2nd
Text
OCR done
Citation
1925
Published
2010/01/13
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
164
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Shyama Sangeet
DLI number
511454
Barcode
4990010018599.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
cmVHUA3CwsB
Download PDF

Shyama Sangeet Ed. 2nd