Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Beena
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
বীণা।
শ্রীহরিদাস ঘােষ প্রণীত
হরসুন্দর যন্ত্র
৬৮ নং কলেজ স্ট্রীট, কলিকাতা
শ্রীকুঞ্জবিহারী দে দ্বারা মুদ্রিত।
মূল্য এক টাকা।
No text on this page.
উৎসর্গ পত্র।
মদাগ্ৰজ শ্ৰীযুক্ত অন্নদাপ্রসাদ ঘােষ ।
শ্রীচরণ কমলেষু।
দাদা!
আমাদের স্বর্গীয় পিতাঠাকুর, যিনি আমার বাল্যকালের
কবিতা পাঠ করিয়া কতই, আনন্দ প্রকাশ করিতেন, অনেক দিন
হইল মানবলীলা সম্বৰণ করিয়াছেন। এখন আর আমার কৱিতা-
গুলির আদর কে করিবে ? পাঠকের আদর অনাদর কবিতা-
•গুলির গুণাগুণের উপর নির্ভর করে। আপনি কখনই আমার
কবিতাগুলির অনাদর করিতে পারিবেন না; অতএব আপনার
শ্রীচরণে কবিতাগুলি সমৰ্পণ করিলাম। ইতি ১লা জানুয়ারী,
?
১৮৯৯ সাল।
হােসঙ্গাবাদ,
প্রণত
শ্রীহরিদাস ঘােষ।
মধ্যপ্রদেশ।
No text on this page.
বিজ্ঞাপন।
সংসারের সার দুইটা সামগ্রী, সৌন্দৰ্য্য ও সঙ্গীত, অথবা
এ দুইটাই এক। সৌন্দর্য্যেও সঙ্গীত (Harmony) আছে ;
সঙ্গীতে, সৌন্দৰ্য্য আছে, বলা বাহুল্য। কবিতা এক প্রকার
সঙ্গীত মাত্র। পুরাতন প্রকৃতি লইয়াই কবির নাড়া চাড়া।
সেই সূৰ্য্য, সেই চন্দ্র, সেই নক্ষত্রমণ্ডলী আকাশে, সেই জল,
সেই ফুল—অবনীতে, আর সেই মনুষ্যের মনােভাব। নুতন
সামগ্রী পাব কোথা ? আমি প্রচলিত ছন্দোবন্ধে বদ্ধ হইতে
সম্মত নহি। ভাষার পর ব্যাকরণের সৃষ্টি। কবিতার পর ছন্দের
সৃষ্টি। আমি বাল্যকাল হইতে কবিতা লিখিয়াছি। বাল্যকালের
গুটিকতক কবিতা মাত্র আছে। অবশিষ্ট কবিতাগুলি হারাইয়া
গিয়াছে।
যদি এই ক্ষুদ্র কবিতাগুলি পাঠ করিয়া, পাঠকের মনে
ক্ষণেকের তৱেও সন্তোষলাভ হয়, তাহা হইলেই আমার সকল
পরিশ্রম সফল জ্ঞান করিব। অথবা, কবিতা লিখিতে, কবির
পরিশ্রম হয় না, আনন্দই হয়। অতএব পাঠক পাঠিকারা সুখী
হইলে, আমার আনন্দ ও উৎসাহ বৰ্ধিত হইবে। ইতি
শ্রীহরিদাস ঘােষ।
No text on this page.
সূচী পত্র। Mo-- গীতিকবিতাসমূহ। বিষয়। পৃষ্ঠা। হাসি ৩০। ১ ভুলে যাও ••• ••• ••• ভুলাে না ••• চাদ ••• • প্রাণের পুতুল ••• ••• ৭ ভালবাসা . । ৮ . গান ( রামপ্রসাদী সুর) . . . ••• কন্যাসমর্পণ . . . ১০ ••• মাটা (ধূলা) . ফাদ ••• ••• ১৩ ••• ... গান ••• ( • ) বিষয়। পৃষ্ঠা বউ কথা কও ••• (১) বাঁশী ••• ••• ••• ১৭ (২) বাঁশী ••• ১৮ (৩) মুরলী ০৮ • ০ ০ (৪) বাঁশী ২০ ০ বংশীধ্বনি (কৃষ্ণবিরহ) ২১ ৫০০ রূপ ২২ ০ ০ ০ আঁখি * * ••• ২৪ পাপিয়া . ২৫ আকাশ কুসুম २१ t ভুল ২৯ , , , গর্দভ ••• ••• ৩০ গাভী ৩০ ৫০০ বিজয়াদশমী ০০ ০ (১) ফুল ৪ ০ ০ ০ ০ ••• ••• (২) ফুল নারদের দর্পচূর্ণ সুখের ভাবনা সব ভেবেছিনু স্বপনে ••• ৪৭ ... ৬ ১৭ ভালবাসা ৪ ০ ০ অবনীর তারা ••• ( 0 ) vvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvvv , , বিষয়। পৃষ্ঠা। ও .. ••• ••• রবি (ছড়া) ৬৩ ১০ ০ সাময়িক ঐতিহাসিক কবিতাসমূহ। নর্মদা নদী ৮ ৮৮ সূর্য গ্রহণ ৭১ গ্রীস ••• ••• ••• ৭৪ চীন ৭৮ স্পেন ••• ••• * * * ৮১ ••• ••• ৮৪ .. ••• দুর্ভিক্ষ ভূমিকম্প মহামারী পােকা কীট +++ ••• ৬ ৯১ ৯৬ ৯৯ ০ ০ ০ ••• ••• • ••• গ্লাড ষ্টোনের মৃত্যু বিষমার্কের মৃত্যু • • ••• ••• বাল্যকালের কবিতাসমূহ। সখ্যতা ও প্রণয় ১১১ সুখ ও দুঃখ | . . ১১৩ ••• হাস্য ও রােদন ••• • ( 1 ) বিষয়। পৃষ্ঠা। : ১২১ । স্বপ্ন ••• ••• ••• ১২৩ নিদ্রা ••• ••• ••• গুহক চণ্ডাল • ••• ••• ••• ভালবাসা ••• ••• ••• ১৩২ নারী ও পুরুষ ••• ••• ১৩৩ ০ ০ ০ ১৩৪ ••• নারী একটী (রহস্য) ০ ০ ০ ০ ০ ০ উকীলের ছড়া ১৩৬ ০ ০ ••• ••• ১৪২ সুরমার মৃত্যু একাকিনী পাগলিনী কাদে কে ? • • • ১৪৪ শিখনখ। শিখনখ ১৪৭ উপসংহার ০ ০ ০ ••• গীতি-কবিতাসমূহ
No text on this page.
বীণা।
হাসি।
এ কি চাদের কণা অধর কোণে
এ যে জুড়ায় আঁখি, ভুলায় মনে।
তাই বুঝি চাদ ক্ষয় পায় দিনে দিনে
পূর্ণিমাতে পূর্ণ পুনঃ হয় কেমনে ?
কোথা হতে আসে হাসি, থাকে কোন স্থানে ?
অন্তর আনন্দে ভাসে সুধা বরিষণে।
পাপী রবি না রহিত যদি রে গগনে,
শশী সদা সুধা রাশি বরষিত ভুবনে।
উপরে শােভিত শশী, হাসি, নারী বদনে
বহিত সুধার ধারা, মােহিত মানব মনে।
২
বীণা
ভুলে যাও।
(১)
ভুলে যাও, ভুলে যাও
কেন আর ফিরে চাও ?
ফুল, যে শুকায়ে যায়
ভ্রমর কি ফিরে চায় ?
না হেরে আকাশে, চাদে
চকোরের প্রাণ কাঁদে?
মেঘে, না দেখে গগনে
চাতক কি করে মনে ?
কর যাতে সুখ পাও
ভুলে যাও, ভুলে যাও
(২)
হারায়ে সন্তানে, মাতা
ভুলে কি যায় না ব্যথা ?
হারাইয়ে পতিধনে
ভুলে না রমণীগণে?
বীণা।
৩
।।।।।।।
। । । ।
হারাইয়ে প্রাণপ্রিয়ে
শত শত পতি জিয়ে।
কেন তবে কাদ আর ?
তাই বলি বাদ বার
ভুলে যাও, ভুলে যাও !
( ৩ )
ভুলে ছিল শাম
বৃন্দাবন-ধাম
গিয়েছিল ভুলে
গােপিনীর কুলে।
*
অত প্রেম ভুলে ছিল
হায়! কেমনে ভুলিল ?
ভুলে যাও, ভুলে যাও,
কেন মিছে দুখ পাও।
৪
বীণা।
ভুলাে না।
(১)
ওহে ভালবাসে যে
ভুলে কি কখন সে ?
দেখিবারে কমলিনী
রােজ উঠে দিনমণি।
দেখ দেখ সূর্যমুখী
কেমন ফিরায় আঁখি,
যে দিকেতে রবি যায়
ফিরে ফিরে আহা চায়,
আহা কিবা প্ৰাণ টানে
ফিরিতেছে রবি পানে
তবে ভুলাে না
(২)
চক্রবাক চক্রবাকী
ডাকিতেছে থাকি থাকি,
নিশিতে দেখিনি বলে
কইত যাইনি ভুলে ?
তবে ভুলাে না।
বীণা।
বনবাসে দিয়ে সীতে
রাম, পারেনি ভুলিতে,
প্রতিকৃতি করে ছিল
কই তারে না ভুলিল ;
তবে ভুলাে না
( ৪ )
দেখ দেখ ও পতঙ্গ
ঢেলে দিল আহা! আঙ্গ
করি কত রঙ্গ ভঙ্গ,
পুড়ে মরি হ’ল ছাই,
মনে আমি ভাবি তাই
ও কি মােলো না ?
তবে ভুলাে না
বীণা।
of ••• •••••
৫। । ।
চাদ।
কেন রে সুচারু চাদে,
দেখে মাের প্রাণ কাঁদে
আমি থাকি কত দূরে, সে থাকে আকাশে,
সে ত সবে ভালবাসে, সে ত সবে দেখে হাসে
সে কি জানে ভালবাসা, সকলে যে বাসে ?
চেয়ে চেয়ে হেসে হেসে, সে ত যায় দেশে দেশে
কে জানে সে কেন যায়, কেন ফের আসে ?
চাদ পানে চেয়ে রই,
মনে মনে কথা কই
হেসে চঁাদ কুটি কুটি, কেন এত হাসে ?
হাস চঁাদ তুমি হাস,
হাস হাস বার মাস,
বার মাস কিন্তু চঁাদ কভু কি প্রকাশে ?
ওই রাহু দিল দেখা, চাদ বুঝি গেল ঢাকা
হায়! হায় ! রাহু বুঝি চঁাদখানি গ্রাসে !
তাই আমি মনে করি, চাদের ও আছে অরি
কেবলি ত রাহু নয়, মেঘ আশে পাশে,
ও রে শশান্ রে চকোর, ভাবি কি চঁাদ তাের ?
তা হলে পেলি না সুধা কেন অনায়াসে ?
পাগল করেছে চঁাদে, চাদ চঁাদ প্রাণ কাঁদে
চঁদ চাই, নাহি পাই, তাই আঁখি ভাসে,
ওই চাদ চলে গেল,
যেন কিছু বলে গেল,
কথাগুলি গলে গেল মিশিয়া বাতাসে ।
বীণা
৭
প্রাণের পুতুল।
ও রে প্রাণের পুতুল, কেন না হইলি ফুল
বুকে করি রাখিতাম তুলে,
, না হৃদি শূন্য করে, তখনি যেতিস্ ঝরে
তবে আমি কি লিখেছি ভুলে !
মনে মাের হয় সাধ, কেন না হইলি চাদ
অনিমিষে দেখিতাম চেয়ে।
জুড়াত নয়ন মন, আহা! জুড়াত জীবন,
মনােমত, সেই চাদে পেয়ে !
অত দূরে দেখে তােরে, প্রাণ জুড়াত কি করে,
জড়ে দেখে কবে প্রাণ নরের জুড়ায় ?
কত সুখ, কত ব্যথা, কে শুনিত কার কথা
জড় মানুষের মিল হয়েছে কোথায় ?
বীণা।
ভালবাসা।
কত সুখ ভালবেসে, কেমনে জানিবে সে
প্রাণের সহিত ভাল, বাসেনি যে জন ?
কি জানিত কালিদাস, সে ছিল রিপুর দাস
কাব্যগুলি লিখেছিল মনের মতন।
নাটক পাঠক যত,
করুক সুখ্যাতি শত
বেশ্যাসক্ত পশু জানে ভালবাসা ধন ?
বাইরণ শেলি কবি, প্রায় দেখি যত সবি
পবিত্র' প্রণয় এরা জানেনি কখন।
বীণা।
গান ( রামপ্রসাদী সুর)।
ঘুরে ঘুরে সবে সারা
কেবল মলুম ঘুরে ঘুরে।
ঘােরে ধরা, ঘােরে তারা,
কেউ কাছে কেউ ঘােরে দূরে ;
ঘােরে ধরা যেন চাকী, ঘােরে তারা চিকিমিকি-
ঝিকিমিকি জোনাকী ঘােরে।
ঘােরে নর পশু পাখী, কিব। আর রৈল বাকি
বল দেখি রে সুধাই তােরে।
জন্মে’ তুমি নরকুলে,
অহঙ্কারে মর ফুলে
পােকায় বল ঘুরঘুরে,
জানিস্ নে তুই বােকা, নিজে তুই হােস্ পােকা
পােকায় পােকায় পৃথ্বী পূরে।
।
১০
বীণা
কন্যাসমর্পণ।
পরগৃহে হবে স্থিতি
'.
আদরের আদরিণী, মা ! আমার মৃণালিনি!
আজ তােরে তনয়ারে কারে দিব ভাবি,
তাের তত আব্দার, কে সহিবে বল্ আর
ত্যজি পিতা মাতা, মা গাে! আজ কোথা যাবি ?
সংসারের এই রীতি,
কিছুদিন পরে মা গাে ! সকলি ভুলিবি।
পয়-ঘর নিজ ঘর,
হবে কিছুদিন পর
আশীষি আমরা, সুখে রােস্ যেথা রবি।
, কেন মা গাে ! মিছে কঁদ, হয়ে নিষ্কলঙ্ক চাদ
পতি মনােম সতী রবে মৃণালিনি।
আয় মা গাে চিরতরে, সঁপি তােরে পর করে
সঁপেছি যেমন আমি তনয়া নলিনী।
বীণা
১১
মাটী ( ধূলা)।
হায়! হায়! সব মাটীর জিনিস।
তােরা মাটী দিয়ে মাটী কিনিস্ !
মাটীর ওড়ন, মাটীর পাড়ন, মাটীর কারখানা ;
মাটীর দেহ,
মাটীর গেহ
মাটী দিলি, মাটী নিলি, এ মাটীর ভেদ গেল না জানা
এ মাটীতে এত মায়া
মাটীর সুন্দর কায়া
মাটীর পশু পাখী মানুষের ছােট ছােট ছানা,
কেন ভাই মিছে ভুলে
যত দেখ সবি ধূলাে
মাটীর প্রেমে মাটী মগ্ন, শেষে মাটীর বিছানা।
যেথা যাই ধূলাে খালি
চোকে নাকে ঢেকে বালি
আমি মাটী, জানি সেটী, তাই মাটীর গুণ গানা,
আহা মাটীর পুতুলি
যত পার উড়াও ধূলি
আমি ভুলেও তােমায় ক’রবাে না মানা।
বীণা।
৫৫।।।।।।।
৭/১৮ । ।। ।। ।।।
।।।।।
৬।।।।
ভাল, ভাল, ধূলা খেলা
জীবনের সারাবেলা
ধূলাে খেলে, ধূলায় মিলে, ধূলায় ধূলধানা
হায় হায় ! এই সোণার অঙ্গ
নিয়ে কত করি রঙ্গ
ধূলাে কঁদে, ধূলাে হাসে, শেষে ধূলাে বইত না।
এ ধূলাের কত গুণ
বলে আমি হলুম খুন
ওরে ! দুনিয়াতে এসে শুধু ধূলাে উড়ানা,
ধূলাে আমি ভালবাসি
খাই ধূলাে রাশি রাশি
ধূলােয় ধূলােয় মেশামিশি, শেষে ধূলাে ঠিকানা
বীণা।
ফাদ
কেন চাদ
পাত ফাঁদ
ধরিবারে আমাকে ?
সবি ফাকি
জানি না কি
মন দিব কাহাকে ?
ভালবাসা
কি তামাস।
ভাব তুমি মনে ?
আমি কবি
বুঝি সবি
ঠকাবে, হে কেমনে ?
প্রাণ দিব
প্রাণ নিব
হবে কি হে জনমে ?
প্রাণ নিবে
নাহি দিবে
মরিব হে মরমে।
১৪
বীণা।
১। ১৯৭১।
প্রাণ দিব
ত, মরিব
প্রাণ দিবে, মরিবে,
থাকে সাধ,
পাত ফাদ,
ম’রে কি হে করিবে ?
বীণা।
গান।
হায় রে হায় !
সে কি জানে ভালবাসা
মিটে যার প্রেম পিপাসা
তার কাছে প্রেম দুদিনের তামাসা,
আমি ভালবাসি যারে
সে যদি বাসে আমারে
মিটে কি পিপাসা, পূরে কি প্রেমিক আশা ?
ভালবাসা পাবে যত
পিপাসা বাড়িবে তত
নৈলে প্রাণ কণ্ঠাগত, সে প্রেম যে প্রাণনাশা
কেনা বেচা নেইকো এতে
দানে প্রতিদান পেতে
এ পিপাসা দিনে রেতে, হরি প্রেমিকের ভাষা।
বীণা
“বউ কথা কও
এই কবিতাটী বরেটাঘাটী, জিলা বেতুল, মধ্য প্রদেশে লিখিত।
“বউ কথা কও” পাখি ! তুই ডাকিস্ রে কারে
এ বিজন বিপিন মাঝারে ?
নাহি নর নাহি নারী, গিরিশ্রেণী চাবি ধারি
কেন পাখি ! ডাকি ডাকি হলি তুই সারা রে !
আহা ! বুলি কিবা মধু,
নাহি হেথা নরবধূ
শুনি সুললিত গান, মুগ্ধ হবে যারা রে
ডাকিস্ কি নিজ বধূ !
ডেকে মলি শুধু শুধু
কথা ত কয় না বধূ, করে আছে মান
• বধূ ত কয় না কথা,
তাই প্রাণে এত ব্যথা
কেমনে নীরব বধু, শুনি এই গান !
বধূ আদরের ধন,
জানে যত যুবজন
কেমনে জানিলি তুই বনের বিহঙ্গরে ।
তুমিত রসিক রাজ,
ভাঙ্গিছ বধূর লাজ
কার কাছে শিখেছিস্ তুই এত রঙ্গ রে।
বীণা।
এ/
।।।।
। ।
fra।।।।।।।
বিজয়াদশমী।
আহা কিবা হিন্দুদের সুখের সুরীতি
প্রণতি গুরুর পদে ভক্তিপূর্ণ প্রীতি।
সমসম্পৰ্কীয় সবে করে কোলাকুলি,
বিবাদ কলহ আজ গেছে সবে ভুলি।
সকলে মিষ্টান্ন খায়, হয়ে হমতি
মিষ্টমুখ, মিষ্টমন, পবিত্র পদ্ধতি।
বালক বালিকা যুবা যায় ঘরে ঘরে
গুরুজন পদে ভূমিষ্ঠ প্রণাম করে।
নব্য সম্প্রদায় যত সাহেবের দল,
এক একতা কোরে কঁাদেন কেবল।
কিসে যে একতা হয়, নাহিক সে জ্ঞান,
গুরুপদে প্রণমিতে, ভাবে অপমান !
প্রণমিলে গুরুপদে, পাবে আশীৰ্বাদ,
মুছিবে মনের মলা, ঘুচিবে বিবাদ।
কোলাকুলি করে সবে হবে ভাই ভাই,
বিজয়ারে ভুলনা রে, বলি আমি তাই।
দেশের উন্নতি চাও, ছেড়ে দাও দ্বেষ,
নম্রতাভূষণ পর, দেখাবে হে বেশ।
সমবয়স্কের সনে, কোলাকুলি কর
আচরণে হয় জেনাে আপন পর।
.
৩৪
বীণা
বিপরীত বুদ্ধি, করিছ আপনে পর
পরকে আপন কর, যদি বুদ্ধি ধর।
মাটীর গঠিত দেহ মাটী হ’তে হবে,
ভূমিষ্ঠ প্রণামে বল কিবা ক্ষতি হবে ?
এস ভাই হাসিমুখে, হিন্দু ভ্রাতাগণ,
বিজয়ার দিন, দ্বেষ হিংসা কর বিসর্জন।
মিটাও মনের মলা, মিটাও বিবাদ,
কোলাকুলি করি, পূরাও মনের সাধ।
বীণা।
ফুল
ভালবাসি ফুল
ভুবনে অতুল,
মনের মতন
এমন রতন
আছে কি আর ?
সাদা রাঙা কালাে
ফুলে করে আলাে
ফুলের বাগান
স্বরগ সমান,
আমরি বাহার।
মধু খেয়ে মাতি
ভ্রমরের পঁতি
উড়ে উড়ে বসে
কত ফুল খসে,
মনের দুখে!
ঘােট ঘােট পাখী
মধু চাখি চাখি
এ ফুল ও ফুল
বীণা।
•••••••••••••••
করে চুলবুল,
মনের সুখে।
কোন পাখী গায়,
পবনে নাচায়,
আনন্দেতে গলি
ফুল পড়ে ঢলি
কি শােভা তায়!
ফুল, হাসি হাসি
সুখ সরে ভাসি, .
মুখ খানি তুলি
নাচে দুলি দুলি,
আড়ে আড়ে চায় !
ভ্রমর বঁধু
লুটিবে মধু
বুঝিয়ে মরমে
কুসুম সরমে
“না, না” মাথা নাড়ে।
অমর না মানে
ধায় ফুল পানে,
রসিক চতুর
আনন্দ প্রচুর
মধু খেতে ছাড়ে।
বীণা।
৩৭
প্রজাপতি কুল
হইয়ে ব্যাকুল
ফিরে ফুল ফুল
যেন বা বাতুল,
চঞ্চল চিত।
ফুল ফুটে চায়
সেই ফুলে ধায়
পড়ে ফুল-গায়
উঠিয়ে পালায়,
ভয়ে যেন ভীত।
শুন ওহে ফুল
ভালবাসা ভুল”
এই কথা বলি
যায় উড়ি চলি,
নিমেষ বসিয়া।
ফুল, হাসি হাসি
বলে “ভালবাসি,
বাস না তােরা
পতঙ্গ ভােমরা
নিঠুর রসিয়া।”
“সবে ভালবাসি
সততই হাসি,
বীণা
ভালবেসে মরি
শুকাইয়ে ঝরি ;
বিধি কি নিদয় ।
কিছুই চাই না
‘কিছুই পাই না,
বিতরি সুবাস
বিতরি সুহাস
;
সবি প্রাণে সয় !
রবি পে পি
বাতাসেতে কাপি
মােরা মহাপাপী
দুখে দিন যাপি,
তবু সদা হাসি।
কঁদি না কখন,
হাসিতে জীবন
ধরি অল্পক্ষণ
তখনি মরণ !
তবু ভালবাসি।
বীণা।
২ ফুল।
কেন নারীগণ
স্বর্ণ আভরণ
পরে অকারণ
পরে না ফুল!
করে ফুল বালা
গরে ফুলমালা,
ফুল চন্দ্রহার
আমরি বাহার
কুসুম-দুল !
কেমনে বিবরি
রমণী কবরী
ফুলের মালায়
কিবা শােভা পায়
জানে সুরসিক।
রুচি অলঙ্কারে
মত্ত অহঙ্কারে ;
কই নারী নরে
ফুলেরে আদরে
প্রাণের অধিক ?
৪০
বীণা।
সােণা রূপা পরে
ভার ব’য়ে মরে,
যত অলঙ্কার
ছি ছি সব ছার!
ফুলের কাছে।
সবে ফুলে তুষ্ট
হিন্দু মসী খ্রীষ্ট
বৃদ্ধ বাল নব্য
সুসভ্য অসভ্য,
যত জাতি আছে।
মরণের পরে
ফুল থরে থরে,
ইসা মসী ধরে
কবর উপরে,
ফুলে মৃতে সেবে!
দেবের পূজনে
কুসুম-চন্দনে,
দেয় হিন্দুগণ
নয় অকারণ,
তুষিতে দেবে !
ইংরাজের খানা
দেখ ফুল নানা,
বীণা।
৪১
T
কিবা শােভা ধরে
ফুল নাচঘরে
কি কব আর !
ফুল রাশি রাশি
ছড়াইছে হাসি,
কুসুমের খেলা
কুসুমের মেলা
কতই বাহার !
বিবাহের পরে
বাঙ্গালীর ঘরে,
ফুলশয্যা রাতি
ফুল ভাঁতি ভাতি
ফুলের তামাসা !
কুসুমের খেল
আতর ফুলেল,
সুখের সৌরভ।
তাহার গৌরব
বুঝে কি চাষা?
আহা মরে যাই
ফুলের লড়াই
কি সুখের কেলি
ধন্য রে ইতালি, সুখের দেশ।
৪২
বীণা।
আগুণে লড়াই
হয়েছে বালাই
নর বধে নর
নিদয় পামর,
অসভ্যের শেষ!
মনে হয় সাধ
কুসুম-বিবাদ
দেখিতে ইতালি (১)
চলে যাই কালি
তেয়াগি ভারত ।
যাই বা জাপানে
মল্লিকা (২) যেখানে
তিন শত জাতি
কমনীয় কঁতি।
পূরে মনােরথ ।
কুসুমের বাণ
করিয়ে সন্ধান
হারাইল প্রাণ
ভস্মীভূত কাম,
শিবের সঁপে !
(>) Battle of flowers in Italy.
(২) চন্দ্রমল্লিকা প্রায় তিন শত প্রকার।
বীণা।
••••
***
।।।।।।।
* *
••••••••••••••••••
কুসুম কেমন
বুঝে সে কখন ?
ফণী-আভরণ
হয় যেই জন ?
ভয়ে প্রাণ কাঁপে।
আমরি কি ভুল
তুরার ফুল
ভাল যার লাগে
পরে গাে সােহাগে,
ছি ছি অরসিক।
কুসুম অমিয়
তাহার অপ্রিয়
বিষভরা গলা
সাপ নিয়ে খেলা,
তারে দিই ধিক্।
তারে ফুলবাণ
বিষের সমান,
বিষ তার মধু
সে সাপের বঁধু,
সাপ আভরণ !
বিবাহ-বাসরে
যদি ফুলশরে
৪৪।
বীণা
কবি যায় মরে
সুখেরি মরণ !
পরম মধুর
কানাই চতুর
খেলে ফুলদোল
রাধা শােভে কোল,
ফুলে ফুল মেশে।
নীলপদ্ম পেয়ে
রাবণে ত্যজিয়ে,
রামে কৃপা করি
রাখিলে শঙ্করী,
মজালে মহেশে!
মালীর সমান
নাহি ভাগ্যবান,
ফুলসহ বাস
করে বার মাস,
সে ত স্বর্গধাম !
মােদের জীবন
হায় ! অকারণ,
নীরস ব্যবসা
খালি উঠা বসা,
নাহিক বিরাম!
বীণা।
৪৫
. *
।
চোকে ধূলাে বালি
হাতে মুখে কালি,
মরি, লিখে বােকে
বড় বলে লােকে,
সকলি ভ্রম
মালী তােলে ফুল
কামিনী বকুল,
ফুলের বাগান
তার বাসস্থান,
সুখেরি শ্রম !
আয় কে আসিবি
সুখেতে ভাসিবি
আনন্দে মরিবি
গলায় প’রবি
কুসুম-মালা।
কুসুমের রাশি
কুসুমের হাসি
কুসুমের গন্ধ
দেখে, শুকে অন্ধ,
জুড়াবি জালা :
শােক দুখ ভুলি
আয় ফুল তুলি
৪৬
বীণা।
প্রজাপতি, অলি
আর বুলবুলি
উড়িয়ে যায় !
জুড়াই নয়ন
জুড়াই জীবন ;
স্বরগ সমান
ফুলের বাগান
দেবি আয়।
বীণা।
৪৭
নারদের দর্পচুর্ণ।
বীণা করে করি
গায় হরি হরি
আমরি আমরি
চলেছে নারদ, মােহি ত্রিভুবন,
চলিল আকাশে
প্রেমনীরে ভাসে
মনের উল্লাসে
উথলিত হৃদে, ভক্তি-প্রস্রবণ।
ভাবে মনে ঋষি
আমি দিবানিশি
যাই দিশি দিশি
হরিগুণ গেয়ে জুড়াই জীবন,
ফিরি ত্রিভুবন
আমার মতন
ভক্ত কোন্ জন
নাহিক কোথায়, না হবে কখন।
মনে ভাবি তাই
কৈলাসেতে যাই
মহেশে সুধাই
দেখি কি বলেন আজ উমাপতি,
৪
বীণা।
তখনি ত্বরিত
হয় উপনীত,
যথা শিব স্থিত,
নারদ মহেশে করিল প্রণতি।
“এস ঋষিবর
বহু দিন পর
চাও কিছু বর
অথবা তােমার কিসের অভাব” ?
বলে ঋষি ভেবে
জিজ্ঞাসি এ দেবে
মিথ্যা নাহি কবে
মহাদেব সদা সরল স্বভাব।
হরিগুণ গাই
ব্রহ্মাণ্ডে মাতাই
সুধাই গাে তাই
আমা সম হরিভক্ত কেহ আছে ?
“বলিলে আমায়
ক্ষতি নাই তায়
হবে বড় দায়
বিষ্ণুচক্রী, যেও না তাহার কাছে।
মিছে মনে ব্যথা
শুন মাের কথা
বীণা।
১৭
,
১বশী।
ওই বাজিল বাঁশরী, বলে “কিশােরী কিশােরী”,
চল সখি চল, দেখি গিয়ে বংশীধারী।
সখি ! বাঁশরী কি সুখী, শ্যাম সনে মুখখামুখী
শ্যাম মুখামৃত পায়, আমরি ! মরি!
আমরা অবলা বালা,
কালা কালা জপমালা
সে কালা বাঁশীতে রত, ভুলে ব্রজনারী রে
চাদমুখ-চুমাে পেলে,
স্বরগ স্বহস্তে মেলে।
স্বরগ নিবাসী বাঁশী, সেই দুখে মরি রে !
আমরা গােপিনীকুল,
সকলি ক'রেছি ভুল
বংশ-বংশে নাহি জন্মে, নরকুলে নারী রে,
অধর অমিয়া পিয়ে,
শীতল হইত হিয়ে,
বংশী হ’ল প্রেম অংশী, আহা বলিহারি রে !
সুধাই রে বংশী তােরে, কি কঠোর ব্রত করে
এসেছিস্ কৃষ্ণ করে, শুনি বল্ বল্ রে,
মােরা কৃষ্ণব্রতে ব্ৰতী, পাই না কৃষ্ণের প্রীতি
সে কালা করিলি বশ, কালা বড় খল রে !
এ দুখ কি প্রাণে ধরে, তােরে কালা করে করে
পায়ে ঠেলে দেয় ফেলে, গােপিনীর কুলে রে ;
কৃষ্ণ ধ্যান, কৃষ্ণ জ্ঞান, কৃষ্ণ মন, কৃষ্ণ প্রাণ
সে কৃষ্ণ ভাবে না কভু, আমাদের ভুলে রে।
২
১৮
বীণা।
২ বাঁশী।
দেখ সখি ! চেয়ে দেখ, আকাশে স্তম্ভিত মেঘ
বাঁশপানে রেখে কাণে, গাভীগণে চরে না,
শাখীপরে পাখীগণ, গান শুনে এক মন
কোকিল ভুলেছে কুহু, আর গান করে না।
শ্যামলী ধবলী গাই, দেখ, যেন বেঁচে নাই
নিস্পন্দ নিস্তব্ধ জীব, মুখে শব্দ সরে না,
দেখ যমুনার জল,
করে নাকো কল কল
উজান বহিয়ে যায়, সুখ হৃদে ধরে না।
যত সব কুলনারী, ধাইতেছে সারি সারি
পড়িছে ভূষণ খ’সে, উঠাইয়ে পরে না
সবে আলু থালু কেশ,
নাহিক লাজের লেশ
মজালে বাঁশরী দেশ, বাঁশী কেন মরে না ?
বীণা।
১৯
কেন বাজে মুরলী, ঐ রাধা রাধা বলি
সকলি যাই যে ভুলি, শুনি ঐ বাঁশরী ; .
দেয় অতি যাতনা, হ’রে লয় চেতনা,
শুনি বাঁশী, সুখ-দুখ সব যাই পাশরি।
পরাণ কেমন করে,
শুনি বাঁশরীর স্বরে
লাজ ভয় সব যায় ননদী কি শাশরী (১)
বুঝিতে পার না সই, পাগলিনী কি যে কই
তাই মাের কথা শুনি, তাই সখি হাসরি।
বাঁশী বাজে ওই শুন,
ওই বাজে পুনঃ পুনঃ
হারালেম বুঝি জ্ঞান, জীবনের আশরি,
ওই বাজে বাঁশরী ঐ রাধা রাধা করি
শুনি ওই বাঁশরী, মুগ্ধ হরিদাসরি !
০
(১) শাশুড়ী।
২০
বীণা।
৪ বশী।
বিজন বিপিনে বাঁশী বাজিল রে ওই,
শুনি বাঁশী আমাতে আর আমি কই ?
বাঁশীতে উদাসী মন, মিছে ঘরে রই,
কিছুই লাগে না ভাল, ওই বাঁশী বই।
পূর্বজন্ম কথা সব বাঁশীতে জাগায়,
পরাণে পশিয়া বাঁশী, কত কি যে গায় ।
কেন কেন কাদে প্রাণ শুনি বাঁশী রব,
থাকে না দেহেতে প্রাণ, হয় যেন শব।
বাঁশী শুনি হয় সাধ সন্ন্যাসিনী হই,
বিজন বিপিনে বাঁশী বাজিল রে ওই।
ছাড়ি গেহ, ছাড়ি দেহ, ছাড়ি এ সংসার
বাঁশীস্বরে মিশে আত্মা, আকাশে বিহার।
বাঁশীস্বর-পূর্ণ বন, পূর্ণব্রহ্মময়
প্রাণিপূর্ণ এ সংসার শূন্যজ্ঞান হয়।
।
বীণা।
।।।।।
।।।।।।।।।।।।।।।।
বংশীধ্বনি (কৃষ্ণ বিরহ)।
বাজ রে বাঁশরি ! বলি, “রাধা, রাধা, রাধা রে”!
পাই দেখিতে পথ, এই ঘাের আঁধারে।
আঁখি মুদি, দেখি রাই, আঁখি খুলি, কাছে নাই
যেতে পথে, পদে পদে, পাই আমি বাধা রে
বা রে বাঁশরি ! বলি, রাধা, রাধা, রাধা রে ;
ডাক্ বাঁশি! তােরে শুনে, যদি তার পড়ে মনে
বা রে বাঁশরি বলি, রাধা, রাধা, রাধা রে !
শক্তি বিনা দুরবল,
বল্ বঁাশি ! ব বল
বাজু রে বাঁশরি বলি, রাধা, রাধা, রাধা রে !
আমারে কি আছে মনে ? ফিরিব রে বনে বনে,
ওরে বাঁশি ! তুই মাের রাধা মন্ত্রে সাধা রে !
বাজু রে বাঁশরি বলি, রাধা, রাধা, রাধা রে !
তাের রাধা রব শুনি,
মােহিত হয় রে মুনি
পশু পক্ষী দেব নরে, সবে লাগে ধাঁধা রে !
বাজ রে বাঁশরি বলি, রাধা, রাধা, রাধা রে !
আয় রাধা, রাধা আয়,
বঁশরী “কিশােরী” গায়
কই এল, কই এল, মিছে হ’ল কাদা রে ।
বা রে বাশরি! বলি, রাধা, রাধা, রাধা রে !
৫
'।
২২
বীণা।
রূপ।
।
রূপ কি রঙেতে রয়,
গঠনে কি রূপ হয়
কারে রূপ বল যদি নাহিক নিশ্চয়,
পেরুতে সুরূপ যেবা পারসে সে নয়।
ছােট ঘােট দুই পা,
চীন দেশে চাহে যা
অন্য দেশে গণ্য করে নিতান্ত কুৎসিত,
এ দেশের কাল কেশ, বিলাতে লাগে না বেশ,
কালকেশে কত শােভা বুঝে কি বিলাত ?
বিবিদের নীল চোক,
ঘৃণা করে হিন্দু লােক
বিলাতি কবিরা করে কতই সুখ্যাতি।
বৰ্ম্মাদেশে যত খর্ব, করে তারা কত গর্ব
দেশে দেশে ভিন্নরূপ, যত দেখ জাতি।
চীনে চেপ্টা নাক যার, তার কতই বাহার
“তিল ফুল সম নাসা,” কালিদাস কয়,
যত বিলাতি অবলা,
ভালবাসে লম্বা গলা,
লম্বাগলা গৃহিণীকে দেখে লাগে ভয় !
গােল মুখ কেউ চায়, লম্বা মুখ কারে ভায়
এ বড় বিষম দায়, নাই রূপের ঠিকানা ;
অথচ রূপের তরে,
পাগল সকল নরে।
রূপের স্বরূপ কিন্তু নাহি যায় জানা।
বীণা।
২৩
••••••
* * * *
কে হে তুমি রূপবান্ !
দেখি রূপের প্রমাণ
যাও দেখি অন্য দেশে, রূপ যাবে চলে,
রূপবান্ বলি তবে,
রূপবান্ তবে বলি, সর্ব দেশে বলে।
কে গাে তুমি রূপবতী, চলেছ মন্থর গতি
বঙ্গদেশে অঙ্গভঙ্গী, যাও দেখি চীন,
ছি ছি কুরূপা, কুরূপা,
বেলিবে যতেক যুবা,
তােমার এ রূপগ হয়ে যাবে ক্ষীণ !
সদা আমি ভাবি তাই, রূপের ঠিকানা নাই
তবে কেন মানুষেতে রূপ রূপ করে ?
তবে কেন নরনারী, রূপ নিয়ে করে জারি
তবে কেন লালায়িত সবে রূপ তরে।
শুন এ কবির কথা,
ছেড়ে দাও রূপকথা •
রূপকথা,
আপন আপন রূপে, রহ সবে সুখী,
চলনা সুন্দরী সবে
ভুলনা এ উপদেশ যত চাদমুখি !
কাপায়ে ধরণী তবে,
২৪
বীণা।
।।।।।।।।।।।
। ।।।।
আঁখি।
অয়ি আঁখি রে !
কভু শান্ত সরােবর,
কভু খরতর শর
মধুমাখা কভু যেন পিরীতির পাখী রে !
কভু করে ঢল ঢল,
কভু তারা সমুজ্জ্বল।
কভু বা ভ্রমর যেন, কভু মধুমাখি রে !
রক্তজবা কভু রাগে,
কভু ভরা অনুরাগে
নানারূপ ধর ভাই বহুরূপী ভাখি রে !
তুমি সাগর সমান,
বিষামৃত পায় স্থান
আশুতোেষ খেলে বিষ, তবু এত বাকি রে !
কভু বারি বিসর্জন,
ঝলসে বিজলি যেন, কভু থাকি থাকি রে
তুমি হৃদয়ের দ্বার,
উদঘাটিত অনিবার
ভাল মন্দ মনােভাব, মনােভব-সাখী (১) রে!
কবির সমস্যা ভারি, একই স্থানে অগ্নি বারি
মেঘের তুলনা তাই, তােমাতেই দেখি রে !
জড় কিম্বা জীব হও, বাক্য বিনা কথা কও
তাই ভাবি কোন্ নামে তােমাধনে ডাকি রে !
কভু মেঘের গর্জন
(১) সাক্ষী।
বীণা।
২৫
পাপিয়া।
( মধ্যপ্রদেশে সুখতাওয়া নদীতীরে ১৮৯৬ )
০
!
কেন রে পাপিয়া পাপী “পিয়া পিয়া” বলে রে !
শুনিলে সে রব সখি ! হিয়া মাের জ্বলে রে ।
পিয়া (১) নাই পাশে মাের, “পিয়া” বলে পাখী রে
এ পাপী পাখীর, সই! নাই বুঝি আঁখি রে !
“পিয়া পিয়া” বলে পাখী, কই পিয়া কই রে।
পিয়া পাশে হলে কি রে, এত দুখ সই রে !
পুনঃ পুনঃ ডাকে “পিয়া,” ওই সর্বনাশী রে।
শুনি “পিয়া পিয়া” বুলি, আঁখিনীরে ভাসি রে! '.
এ ঘাের বরষা নিশি, কোথা পিয়া পাই রে
কেন ডাকে “পিয়া” মিছে, পিয়া কাছে নাই রে।
খেদাও খেচরে সখি! করে উপহাস রে,
“পিয়া পিয়া” বলে ওর, হােক সর্বনাশ রে।
অথবা কি মাের দুখে দুখী ওই পাখী রে
পিয়া এনে দিতে চায়, “পিয়া পিয়া” ডাকি রে।
ও রে যা রে পাপিয়া যা, মাের পিয়া পাশ রে,
বিষম বিরহজালা, ক মাের নাশ রে।
(১) প্রিয়। পিয়া, হিন্দীতে ব্যবহৃত হয়।
২৬
বীণা।
•••••••••••••••
•••••••••••••••••••••••
দেখে যাও মাের দুখ, পিকে (১) গিয়ে বােললা রে
পাই নি পিয়ার পাঁতি (২) কত কাল হােললা রে।
দেখা যদি পাও তার, বােলাে পাখি ! বােলাে রে
দেখে পিয়ার মুখ, এ অবলা মােলাে রে।
পাখি ! যদি এনে দিতে পার মাের পিয়া রে,
চিরঋণী তাের'পায়ে, রব পাপিয়া রে।
(১) পি অর্থাৎ প্রিয়।
(২) পাতি পত্র।
বীণা।
২৭
আকাশ কুসুম।
আকাশ-কুসুম, কে বলে মিছে ?
আসুক দেখি সে, আমার কাছে।
শাদা শাদা ফুলে, আকাশ আলাে
ফোটে নিশিতে, থাকেনা সকাল।
নাহি ডাল পাতা, কেবলি ফুল,
কে জানে এদের, আছে কি মূল ?
উড়ু নাম ধরে, বাতাসে উড়ে না,
রবির কিরণে, দিনেতে পােড়ে না।
রােজ রেতে ফোটে, পড়ে না ঝরে
শুকো হাজা নেই, যায় না মরে ।
মৃদু মৃদু এরা বাতাসে দোলে
মিটি মিটি চায় আকাশ কোলে।
এ ফুলবাগানে, নাই কি মালী ?
তােলে না কি ফুল, ভরিয়ে ডালি ?
এ বাগানে কি, বেড়ায় না নারী ?
গাঁথে না মালা, বাঁধে না কবরী ?
তুলে না ফুল, বাঁধে না তােড়া?
এদের কোথা অন্ত, কোথা গােড়া?
বীণা
যখন ফুটে, আকাশে কুসুম
মানব আঁখিতে অমনি ঘুম।
বােজ রেতে ফোটে, দিনে কোথা যায়
এরাঙা ফুল, গগনের গায়।
দেখেছে কেউ, এ ফুলের গাছে ?
আকাশ কুসুম তবেত আছে।
বীণা।
।।।।।।।।।।।।।।।।।
।।।।।।। ।।।।
**/// // // // ১।
ভুল।
বেশ আছি, ভুলে গেছি, আহা মরি ভুল রে !
ভােলানাথ হই আমি নাহিক ত্রিশূল রে।
তাই বলি ভােলা ভাল,
• ভুলে রব চিরকাল
তাই বুঝি ভােলানাথে মহাদেব বলে রে।
ভুলে আছি আমি সব, সুখে আহা ভুলে রব
জ্বালায়েছি যত জ্বালা বিস্মৃতি অনলে রে !
কোথা সেই পূজ্য পিতা, কোথা সেই প্রিয় মিতা
ভুলে আছি আমি তােরে——হারী রে
কোথা ও রে প্রিয় সখা, কত কাল নাই দেখ।
ভুলে আছি, তাই ভাবি, ভুলিতে ত পারি রে।
কোথা সেই কমলিনী
ছিল নয়নের মণি,
হারায়েছি তারে আমি এ জনম মত রে।
যত দেখি সবি ছায়া,
কেন আর মহামায়া
কেন আর মনে রবে ? সবি স্বপ্নবৎ রে ।
মৃণালিনী সরােজিনী, কত দিন ত দেখি নি
তাদেরও ত আছি ভুলে, স্নেহ মায়া কই রে ।
ও গাে ভুলিতে ভুলিতে, আর জুলিতে জুলিতে
এই দেহ মাটী হবে, তাই ভুলে রই রে।
৩০
বীণা।
গর্দভ।
কবি কোলরিজ “গর্দভ" কবিতা লিখিয়া অত্যন্ত গালি খাইয়াছিলেন,
আমি কোলরিজ নই, যদি বঙ্গে কেউ “বাইরণ” থাকেন, আমাকে গালি
দিবেন না। আমাকে গালি দেন, ক্ষতি নাই, আমার “নিতান্ত নিরীহ
“গর্দভটীকে গালি দিবেন না।
স্বার্থপর নর শুধু নিজ সুখে রত রে !
খেটে খেটে প্রতিদিন,
দেহ আহা! হয় ক্ষীণ
নিতান্ত নিরীহ জীবে দুখ দেয় কত রে !
খেটে খেটে হাড় কালি,
তাতে আরাে দেয় গালি
মানুষের মায়া দয়া, হায় ! বুঝি নাই রে !
পিঠপরে দেয় ভার,
তাহার উপরে মার
অস্থি-চৰ্ম্মসার, আহা ! দেখে মরে যাই রে !
পায়না ত পূরা খেতে,
পথে ভার নিয়ে যেতে
যদি যায় পড়ে, পিঠে মারে কত লাঠি রে !
করে শ্রম পরতরে,
করি শ্রম অকাতরে,
যােগায় নরের খাদ্য কত পরিপাটী রে।
মত্ত সদা অহঙ্কারে, ভাবে এই ত্রিসংসারে,
জীব জন্তু তরু লতা সৃষ্ট তারি তরে রে !
দেখ এ কি অত্যাচার,
যেই করে উপকার
অকৃতজ্ঞ নর ছি ছি ! তারে ঘৃণা করে রে।
'
*
বীণা।
গাভী।
জগতের তুমি মাতা, জগতের ধাত্রী,
নরের যথার্থ তুমি, হও পূজাপাত্রী।
লােকে বলে কামধেনু ছিল পূর্বকালে,
ধেনুমাত্র কামধেনু, বুঝে না সকলে।
পর উপকারী জীব নাহি হেন আর
গাভীর যে কত গুণ নাহি সংখ্যা তার।
দুগ্ধপােষ্য শিশু সবে, গাভীগণে পালে
মানবের মাতা হয়ে কি দুখ কপালে!
সুমিষ্ট সুখাদ্য সব গাভীদুগ্ধে হয়,
মৎস্য মাংস যত কিছু এর কাছে নয়।
ক্ষীর সর ছানা আর মাখন নবনী,
গাভীগুণে সুখময় ! এ দুখ-অবনী।
গােময়ে অশেষ দোষ করে থাকে নাশ,
গােময়েতে লেপে ঘর, হিন্দু বার মাস।
শুকাইলে হয় ঘুটে, পচে হয় সার
কোন্ প্রাণী করে এত পর উপকার ?
আরবে উটের গুণ ভুবন বিদিত
গাভীর কাছেতে উট অবশ্য নিন্দিত।
কৃতজ্ঞতা মাত্র গুণ কুকুরেতে রয়।
দ্রুতগতি কার গুণ অশ্বে নিঃসংশয়।
৩২
বীণা।
WWWWWWWnWvwhatsav\\\/\/
একাধারে এত গুণ কোন জীবে নাই
গােচারণ কায তাই করেছে কানাই।
নরাধম পিশাচেরা গােমাংস আহারে
মাতৃহত্যা করে যেই কি কব তাহারে ?
গােগ্রাস নাহি দিয়ে হিন্দু নাহি খায়
মাতৃসম পূজাঁ গাভী হিন্দু হস্তে পায়।
থাকিত গাভীগণ, নাহি হ’ত কৃষি
বলদহন-শিব দেব মহাঋষি।
পশুর যতেক গুণ, দুর্লভ মানুষে
তাই হিন্দু ঘরে ঘরে গাভীগণে পুষে,
মাতৃবৎ সেবা তাই গাভী প্রতি করে
কৃতজ্ঞতা পরিচয়, দেখ হিন্দু ঘরে ।
বলুক অবুঝে এত হিন্দুকুসংস্কার,
হিন্দু জানে কৃতজ্ঞতা সর্বধর্ম সার।
ঝীণ।
ক’র না অন্যখা
বিষ্ণুরে সুধালে, হবে অপমান,
রাগে বুদ্ধিহীন
দেবর্ষি প্রবীণ
হাতে ল’য়ে বীণ,
শিবলােক ত্যজি তখনি প্রস্থান।
বীণে! হরি বল,
বল্ রে কেবল
চল আজ চল
হরিগুণ গান, পাব তার ফল,
এ কি মতিভ্রষ্ট
যিনি ঋষিশ্রেষ্ঠ
বৃথা এ কি কষ্ট
নিষ্কাম নারদ হয়েছে পাগল।
বসি সিংহাসনে
দেখি নারায়ণে
ভাবে ঋষি মনে
মহাদেব বাণী পাছে সত্য হয় ?
নেশাতে উন্মত্ত
বলিল কি সত্য ?
কি জানিবে তত্ত্ব ?
আমি ভক্তশ্রেষ্ঠ ইথে কি সংশয়।
৪
বীণা
“কিসের কারণ
মন উচাটন
বল বিবরণ
এস হে নারদ! ভাল ত সকল ?”
আজি কি বিপদ
হয়ে গদগদ
বলিল নারদ
হরিভক্ত আমি, সতত কুশল।
তবে ভগবান
স্মিতমুখে চান
“কেন অভিমান ?
আমা ভক্ত মুনি তুমি কি কেবল ?”
হরিভক্তি বিনে
আমি ত জানিনে
তাই এই দীনে
ভক্ত প্রতি প্রভু কেন কর ছল ?
হরি পুন কন
“বল হে কারণ
কেন আগমন ?
কেন হে নারদ! এতই চঞ্চল ?”
দিয়ে উত্তর
অতি স্বার্থপর
বীণা।
বলে ঋষিবর
দয়া করে অধীনেরে বল ভগবান,
করি হে বিনয়
বল দয়াময়
বিলম্ব না সয়
আমা চেয়ে ভক্ত আছে কোন স্থান ?
হরি কন্ হেসে
“যাও বঙ্গদেশে
দেখিবে বিশেষে
তােমা চেয়ে ভক্ত ভবানী চামার,
বলে বিষ্ণুর
“নহে বহু দূর
যাও শান্তিপুর
দেখিবে সে কত ভক্ত হে আমার।”
কঁপে থর থর
দিয়ে উত্তর
চলিল সত্বর
যেখানে চামার ব’সে কাটে চাম,
বসিয়ে সেখানে
চাম নিয়ে টানে
শুনে না সে কাণে
ভুলিয়ে না লয়, সে ত হরিনাম।
বীণা।
wWNxnh•••••••••••••••••••
••••••••••
এ কি সর্বনাশ!
এত উপহাস,
আমি হরিদাস,
অধীনের প্রতি হরির এ কায,
বিদ্যুতের প্রায়
উঠি ঋষি ধায়
সেইখানে যায়
যেই ধামে বিষ্ণু করেন বিরাজ।
“নারদ কেমন
ভক্ত সেই জন
দেখিলে, এখন
স্বচক্ষে দেখেছ, সে ভক্ত কেমন ?”
কি বলিব আর
দেখেছি চামার
করে অত্যাচার
নিরীহ পশুর জীবননাশন।
কেন হরি বল
ভক্ত প্রতি ছল
কর হে কেবল
কি কঠিন তুমি বুঝিতে না পারি,
ওহে হরি বিনে
আমি ত জানিনে
বীণা
তাই বুঝি দীনে
দেখি, দয়াময় ! ছলনা তােমারি।
“না করি বিক্রপ
কহি হে স্বরূপ
সে ত ভক্তিরূপ
বুঝিবে এবার, যাও পুনরায়,”
নিতান্ত বিরক্ত
রাগে চক্ষু রক্ত
ঋষি মহাভক্ত
পালিবারে আজ্ঞা চলিল তথায়।
সে ত কাটে চাম
কাটে আট যাম
কাটে অবিরাম
কাটে পশু, কাটে ঢাম দিন রাত,
সে ত পশুপ্রায়
রক্তমাখা গায়
রক্তহাতে খায়।
কভু একবার ধুইল না হাত।
এ যে পাপাশয়
ভুলে নাহি কয়
হরি দয়াময়
এ যে ঘাের পাপী, পাপ মূর্তিমান,
৫৪
বীণা।
।। ।। ।।।।।।।।।।।
r।
এ ত নয় মন্দ
হয়েছি কি অন্ধ ?
বিধির নির্বন্ধ
এ ত নর নয়, পাষণ্ড পাষাণ!
এরে জিজ্ঞাসিব
সংশয় নাশিব
আর না আসিব
ছেড়ে হরিনাম, ভাঙ্গিব এ বীণে,
কাটিস্ ত চাম
এই তাের কাম,
ভুলে হরিনাম
নিয়েছিস্ তুই, কভু কি জীবনে ?
বলিল চামার
“কি বলিব আর
কর অহঙ্কার
আমি ত চামার, ঘৃণা করে সবে,
তুমি ত অজ্ঞান
তা ত নাহি জান
কর অপমান
দিবানিশি নাম, কেন লও তবে ?
ওরে মহামুনি
বীণা তাের শুনি
বীণা।
Aftch • ••••
• • • ••
••••••AWAA
বলে পুনি পুনি
“হরি হরি,” ছি ছি মিছে লও নাম,
আমি জানি বেশ
জীবনের শেষ
ব’লে হৃষিকেশ
মুখে একবার, যাব স্বর্গধাম।
যা যা তুই দাড়ী
সবি বাড়া বাড়ী
চামারের বাড়ী
শুনেছ কখন, আসে কি সন্ন্যাসী ?”
নাহি মুখে কথা
মনে বড় ব্যথা
হেঁট করে মাথা
উঠিল নারদ, মুখে নাই হাসি।
ছি ছি অহঙ্কার
প্রতিফল তার
আমি কোন্ ছার
সামান্য চামার, দিল উপদেশ,
বিষ্ণুলােকে যায়
লােটাইয়া পায়
হরিগুণ গায়
পেলে দিব্যজ্ঞান, দূরে গেল ক্লেশ।
বীণা ।
সুখের ভাবনা সব ভেবেছিনু স্বপনে।
সুখের ভাবনা সব ভেবেছিনু স্বপনে
কত আশা উপজিত মনে মনে গােপনে।
একে একে আশা যত,
শুকাইল শত শত
ছিন্নভিন্ন মন এবে দুরাশা পবনে !
সুখের শৈশবকাল,
আহলাদে হৃদয় আলাে
আহা ! সকলি লাগিত ভাল, কেন কে জানে!
কত আশা মন মাঝে,
সকাল বিকাল সাঁঝে
খেলিত লহরী এই হৃদয়ের কোণে।
যৌবনে আশা তরঙ্গে,
খেলিত কতই রঙ্গে ।
যৌবনের আশাগুলি, নিয়ে গেছে যৌবনে
হায়! হায়! এ হৃদয়,
হইয়াছে মরুময়
বহিছে সিরক্কো, উহু! দহিতেছে জীবনে।
যীশা ।
ভালবাসা ।
আপনারে ভালবাস, শুন ওরে মন!
পরে ভালবেসে কেন হও জ্বালাতন।
বুঝিতে পার কি তুমি অপরের ভাষা?
পরে ভালবাসা, মন! কেবলি তামাসা ।
সম্বন্ধ সবারি সনে, সত্য তব আছে
এক জনে ভালবাসা তবে হয় মিছে।
আপন করিতে পার, সকল সংসার
ভালবাস সকলেরে, সেই বুদ্ধি সার ।
একে ভালবাসিবারে মন প্রাণ চায়,
ভালবাসা নিয়ে হ’ল এযে বড় দায়,
সকলে অপর, কিম্বা সব আপনার
কেমনে বলিব বল, কেহ নহে কার ?
“কারে বল হে আপন” যেই জিজ্ঞাসিল,
সকলি আপন সে ত ভুলে না ভাবিল।
মন চায় এক জনে ভালবাসিবারে
কোথা সে প্রাণের ধন ভালবাসি যারে ?
কাররা রূপে হই মুগ্ধ, কারাে মুগ্ধ গুণে
প্রাণের পুতুল কিন্তু মিলে না জীবনে।
৫৮
বীণা।
WWWWWWWWWW^^^••••• Wh
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
কেন ভালবাসিবারে পরাণ আকুল
ভালবাসা এ পিপাসা, যদি হয় ভুল।
কবিতাতে ভালবাসা, ভালবাসা নভেলে
ভালবাসা মিছে কথা, তবে কে বলে ?
ভালবাসা হয় কি হে দেহের মিলন
চুম্বনচর্চিত মুখ, নয়নে নয়ন ?
ভালবাসা হয় কি হে আত্মার মিলন
কে করেছে কোন্ কালে আত্মা নিরূপণ ?
এমন পাগল প্রাণী নাহি দেখি আর
লালায়িত তারি তরে, নাহি স্থির যার।
ভালবাসা ভালবাসা, লেখে কবিকুল,
ভালবাসা নিয়ে হায় ! ভুবন ব্যকুল।
ভালবাসা কারে বলে, কেহ নাহি ভাবে
এমন অবুঝ জীব আর কি হে পাবে ?
ভালবাসা নিয়ে দেখি বিষম বিবাদ
ভাল বাসিবারে তবে কেন এত সাধ ?
কারে বলে ভালবাসা তা ত নাহি জানি
অথচ বাসিতে ভাল, আকুল পরাণি।
কে বলে মানুষে জীব বড় বুদ্ধিমান
আমি জানি মানুষেরা নিতান্ত অজ্ঞান।
বীণা।
অবনীর তারা
তারকা-নিকরে ওই কি করে আকাশে ?
রােজ রেতে উঠি কেন মিঠি মিঠি হাসে ?
মিঠি মিঠি হাসে আর মিটি মিটি চায়
কে জানে কিসের তরে গগনের গায় ।
নিশি নিশি সেই হাসি, আর সেই ভাব
চাই দেখিতে আমি, দেখে কি লাভ?
দূর থেকে দেয় খালি আঁখির ইশারা
চেয়ে থাকে তারা যেন পাগলের পারা।
গগনে কেবল অগণ্য নয়ন হাসে,
জোনাকির জাল যেন ঝুলিছে আকাশে !
বিনা অঙ্গে দেখি খালি নয়নের রঙ্গ
দেবরাজ দেহ হবে, দেখিয়ে আতঙ্গ।
অবনীর তারা সদা দেখিবারে পাই
আকাশের তারা আমি দেখিতে না চাই
অবনীর তারা আহা ! ধরে কত গুণ
সে তারকা পানে চেয়ে কবি হয় খুন।
সুন্দরী ললাট তলে কিবা তারা জ্বলে,
সতত নবীন ভাব, কে জানে কি বলে
আকাশের তারা কই জানে না দিতে
শুধু হাসি পারে কি রে পরাণ বাঁধিতে ?
বীণা।
www
।।।।।।।।।।।
।।।।।
v•••••••
নরের পরাণ যবে শােকেতে আকুল,
গগনের তারা তবু হাসে কুলকুল।
প্রেমপূর্ণ কামিনীর দেখি আঁখি দুটী
মন প্রাণ সবি হায় ! লয় তারা লুটি।
গগনের প্রেমশূন্য তারা পানে চাই
খালি হাসি ! ও হাসির মুখে দিই ছাই
সুন্দরী নয়ন কভু করে ছল ছল
কভু হাসে, কভু কাঁদে, সতত চঞ্চল।
অনুরাগে কভু ভরা করে ঢল ঢল,
কভু বা কুটিল আঁখি, কভু বা সরল !
সে নয়ন তারা হেরি, জ্ঞানহারা হই
দিবানিশি তারি পানে, আহা ! চেয়ে রই ।
আকাশের তারাগুলা যদি নিবে যায়
তাতে কার ক্ষতি হবে ! বল না আমায় !
অবনীর তারা সব নিবে যদি যায়
মরিবে পুরুষ সব, কে বাঁচাবে, হায় !
আকাশের তারা কোণে দেখেছি কাজল,
কাল মেঘকণা, ছি ছি কেবলি ত জল।
নারী আঁখি কোণে কিবা কাজলের রেখা
মাতায় পুরুষপ্রাণ, যেই দেয় দেখা।
নারী আঁখিতারা হেরে কবি ত উন্মাদ,
হেরিতে গগনতারা হয় কি রে সাধ ?
বীণা।
৬১
।।।।।
৫।।।।। ।।।।।
জ্যোতির্বিদ্গণ যত নীরস পাষাণ
দেখুক গগনতারা, যত চায় প্রাণ।
আকাশের তারা গুণে হােতূ তারা কাণা,
নীরস নরেরে আমি নাহি করি মানা।
এই একগুণ, আকাশ অবনী তারা
এ দুয়েরি পানে চেয়ে হই দিশে হারা
নাবিকেরা হয় ওই সমুদ্রের পার
ধ্রুবতারা দিকে দৃষ্টি রাখি অনিবার।
সংসারসাগর পার হয় নরগণ
অবনীর তারা হেরি নারীর নয়ন।
গগনের তারাগণ দিনেতে লুকায়,
অবনীর তারাগুলি রেতে দিনে চায়।
গগনের তারা শুধু নিশিতে উদয়
অবনীর তারা হের সকল সময়।
চাই না গগনতারা, গগনের চাদে
অবনীর তারা তরে কবিপ্রাণ কঁদে ।
অবনীর ফুল ঝরে যায় কি আকাশে ?
হারায়ে সুবাস তাই, শুষ্ক হাসি হাসে।
নিগুণ গগনতারা নাহি গুণ গন্ধ
অবনীর তারা হেরে, হই আমি অন্ধ।
৬২
বীণা
রহস্য।
আর হেস না আর হেস না ঢের হােয়েছে
প্রাণ যায় যায়, একটু বাকি আর রয়েছে।
হাসি দেখে মরি আমি, প্রাণ ত উড়ে গিয়েছে
মন প্রাণ সবি মাের, হাসি কেড়ে নিয়েছে।
কোথা পেলে এই হাসি, কে এ হাসি দিয়েছে
এ হাসির গুণরাশি, কোন্ কবি গেয়েছে ?
বীণা।
।।
।।।।।
রবি। (ছড়া)
রা বড় ডঙ্কা ছেলে, সকা পিয়ার
দেখিনিকো দুনিয়াতে এমন ইয়ার।
ভালবাসা ছড়াছড়ি গড়াগড়ি যায়,
রবি নাকি বড় কবি, বেশ নাকি গায় ?
উকি ঝুকি মারে নাকি দেখে ঝােপে ঝাপে
“রবির” প্রতাপ দেখে হেমচন্দ্র” কঁপে !
মজালে রমণীকুল, ডােবালে যুবক,
রবির কবিতা পড়ে সকলেরি শক্।
রবির রহস্য পড়ে হাস্য পায় ভারি,
পাগল করেছে যত বঙ্গ নরনারী।
দেতে পাগল করে, এই আমি জানি
“রবির পাগল” এই প্রথমেতে শুনি।
চিরকাল বেঁচে থাক, তুমি রবি খুড়াে,
হাসিবে, হাসাবে সবে হ’ও না ক বুড়াে।
তােমার রঙ্গের গানে বঙ্গ গেছে ভেসে,
সেই ভয়ে বঙ্গছাড়া এসেছি বিদেশে।
এই খানে ইতি করি শিবরাতি আজ
গীতিকাব্যে র’বে নাম, তব রসরাজ।
No text on this page.
সাময়িক ঐতিহাসিক কবিতাসমূহ।
No text on this page.
বীণা।
৬৭
নর্মদা নদী।
অমরকণ্ঠেতে(১) উৎপত্তি তােমার নৰ্ম্মদে !
ভেদি পর্বত পাহাড়, প্রবেশ(২) সমুদ্রে
অমরকণ্ঠেতে জন্মি, যাও আরব সাগর,
স্বরগ তেয়াগি কেন বর্বরের ঘর ?
বিন্ধ্যাচল-পদতলে মৃদু মৃদু গতি
নর্মদা পুরাণে ব্যক্ত, তােমার মহতী।
ভেড়া ঘাটে ধূয়াধার,(৩) সৌন্দর্য্য আধার
ভুলিতে কি পারে কেই, দেখি একবার ?
উচ্চ হ’তে এসে নীচে, বারি হয় চূর,
শ্বেতস্বচ্ছ-ফেণরাশি প্রভূত প্রচুর।
হের শ্বেত মরমরের প্রাচীর দু’ধারি
পূর্ণিমাতে কিবা শােভা, যাই বলিহারি।
মধ্যে নীলনরমদা, যেন কাটা খাল,
এই স্থির-নীরনদী বর্ষাতে ভয়াল।
ওই শ্বেত মরমরে, হের হস্তীপদ
লােকে বলে গিয়াছিল চলে ঐরাবৎ।
৫
(১) অমরকন্টক, জিলা মাওলা মধ্যপ্রদেশ।
(২) ক্রিয়া, প্রবেশ কর।
(৩) জবলপুর হইতে ২ ক্রোশ দূরে Marble Rocks, সেইখানেই
ভেড়াঘাট ও জলপ্রপাত (জলপ্রপাতের নাম ধুয়াধার)।
বীণা।
favoo havAirwarvanananAMAWAA
স্বভাব খােদিত সর্প, পর্বত উপর
লােকে বলে শেষনাগ(১) করেছিল ঘর।
দেশ দেশান্তর হতে কত শত নর,
দেখিতে সে সব শােভা আসে নিরন্তর।
কিছু দূরে দেখা যায় মদন-মহল
. পাহাড় উপরে যেন দেবতার স্থল।
আরাে দূরে ওই দেখ চৌষট্টি যােগিনী,
প্রস্তর খােদিত মূর্তি, স্থপতির মণি !
যবনের অত্যাচারে, কাটা নাক কাণ,
জানি যবন-হৃদি’ কেমন পাষাণ!
প্রস্তরের মূর্তিপরে তরবারি ঘাত,
সেই পাপে রাজ্য গেল, গেল অধঃপাত।
সাধে কি গাে হিন্দু লােক দেয় দেবী নাম,
জন্মভূমি অমরকণ্ঠ, অমরধাম।
কঙ্কর শঙ্কর(২) সব, যে নদীরকূলে
প্রবাহিতা যেই নদী ওঙ্কারের (৩) মূলে ।
অদ্ভুত ক্ষমতা যাের দেখেছি প্রমাণ,
যার বারি অস্থি আদি করয়ে পাষাণ।
(১) বাকী।
(২) প্রসিদ্ধি আছে, নর্মদা নদীর তার প্রত্যেক কঙ্কর এক এক
মহাদেব।
(৩) ওঁ কারমান্ধাতা।
বীণা।
now
WWWr sawwNew
এ যদি না হয় দেবী, দেবী বল কারে ?
লক্ষ লক্ষ লােক পরিক্রম (১) করে যারে।
শত শত সন্ন্যাসীরা করে যার সেবা
সন্ধ্যাকালে শুন ধ্বনি ঘাটে ঘাটে “রেবা” (২)।
ভারত দুভাগ করে, ধাইছে এ নদী,
কে দেখিবি আয় তােরা ভাগ্যে থাকে যদি।
দেখিবি বৰ্ম্মান (৩) মেলা আর বান্দরবন (4)
শুনিবি অনেক কথা অতি পুরাতন।
মান্ধাতার কথা শুনেছিস্ বঙ্গদেশে
মান্ধাতার গড়, মান্ধাতা-মূরতি (৫) দেখ এসে।
কবির কল্পনা যেন রয়েছে প্রকাশ,
সাধ হয় এই স্থানে থাকি বার মাস।
নর্মদা কাবেরী (৬) ঘিরে চৌদিকে রেখেছে,
এমন সুন্দর স্থান, কে কোথা দেখেছে ?
পাহাড় উপরে দ্বীপ, শােয় অতুল,
পদতলে বারিরাশি করে কুল কুল।
(১) নর্মদা পরিক্রমে পুণ্য হয়।
(২) নর্মদার অপর একটী নাম “রেবা”।
. (৩) নরসিংহপুর জিলায়।
(৪) বান্দরবন এখন বান্দ্রাভান নামে খ্যাত, হােসঙ্গাবাদ জিলাতে।
(৫) ওঁকারমান্ধাতা মন্দিরে ওঙ্কায়েশ্বর শিব, তাহারই পার্শ্বে মান্ধাতামুর্তি।
(৬) বঙ্গদেশে সকলে যে নদীকে কাবেরী বলিয়া জানে, সে কাবেরী নয়।
৭%
বীণা ।
WWWAAAAAAAA
••••••••••••••
। 66 vs •
ওঙ্কার মন্দির, দ্বীপে হয় প্রতিষ্ঠিত
অতি পুরাতন পুরী হয় ত নিশ্চিত।
রাজ অট্টালিকা এক নিৰ্ম্মল ধবল,
এ পার হইতে দেখ, যেন সপ্ততল ;
স্তরে স্তরে স্তরের এমনি নির্মাণ,
এক তলা অট্টালিকা, সাত তলা ভাণ।
কিছু দূরে দেখ গিয়ে কেমন কানন
প্রস্তরের হস্তী অশ্ব, বিচিত্র গঠন।
সেখানে আছয়ে এক পাথর মুকুর,
তাতে যদি দেখ মুখ, আনন্দ প্রচুর।
পূর্বজন্মে পশু পক্ষী যেই প্রাণী ছিলে
দেখিৰে সে মুখ, এই মুকুরে দেখিলে।
তীর্থ স্থানে বানরের বড়ই প্রভুত্ব
নিঃসংশয় ডারুইন বলে ছিল সত্য।
নতুবা কি হিন্দু করে বাঁদরে আদর ?
নর বানরের ভেদ, অতি সূক্ষতর।
কত শত তীর্থ স্থান, এই নদী তীরে
বিন্ধ্যাচল তলে গতি, অতি ধীরে ধীরে।
বীণা।
৭১
সূৰ্য্য গ্রহণ।
২২শে জানুয়ারি, ১৮৯৮ শ্যাডােল Shadol.
অমাবস্যা দ্বিপ্রহরে, দশ মাঘ শনিচরে,
রবির হইবে আজি পূরণ গ্রহণ,
দেখ কত জ্যোতির্বিদ, মহা মহা সুপণ্ডিত
এসেছে ভারতে তাই করিতে দর্শন
ত্যজি সবে ইউরােপ, টেলেস্কোপ, স্পেক্টোস্কোপ
সঙ্গে ল’য়ে, স্থানে স্থানে আজি উপনীত,
বিজলিকিয়ার,
হেথা ক্রিষ্টি টরনার
এসেছে শাদলে (১) দেখ স্বদল সহিত।
আজিকার দ্বিপ্রহরে,
দেখাে সবে রবিকরে
রবিকরে শশীকরে, রবে না প্রভেদ,
ক্রমে হবে পূর্ণ গ্রাস,
দেখে সবে পাবে ত্রাস
চল যাই, না দেখিলে মনে রবে খেদ।
রিমারাজ্যে সহড়ােল, (২) লেগে গেছে মহাগােল
সকলের হাতে দেখ কাঁচ ধূয়ামাখা,
এসেছে রিমার রাজা, সাজা রে শহর সাজা,
এসেছে জ্যোতিষরাজ, যায় তাবু দেখা।
(১) গাড়ােল, (Shadol.)
(২) ভােল।
৭২ বীণা। ••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••honews সবে যন্ত্র করে ঠিক, সূৰ্য্যপানে রেখে দিক (১) ধূম্রকাচ চক্ষুপরে, চায় থাকি থাকি। ওই গেল বেজে বার, বিলম্ব নাহিক আর, লাগিবে গ্রহণ আর বেশী নাই বাকি। h আসিল প্রলয়, দেখিতে দেখিতে, এ কি আচম্বিতে, লাগিল গ্রহণ, দেখ রবি ক্ষয় পায়, গম্ভীর প্রকৃতি, রুদ্ধ বায়ুগতি, সশঙ্ক সকল জীব স্তব্ধ হয়ে চায়। হেন মনে ভয়, অথবা শমন বুঝি করে সব গ্রাস, , হাসে না বালক, হাসে না যুবক, পশু পক্ষী মানবের হৃদয়েতে ত্রাস। প্রখর সে ভানু, তেজশূন্য ত, হলু-কক্ষে ভানু বুঝি আবার লুকায় ; শশীপ্রায় রবি, কি সুন্দর ছবি সশঙ্কিত, কলঙ্কিত, কালিমাখা গায়। রবির কঁদনি, চাঁদের চাঁদনী দ্বিপ্রহর দিনে দেখি, এ কি চোকে ধাঁধা, (১. দিক্-দিশা, অভিমুখ (Direction) অথবা চক্ষু। দৃকের অপভাষা।
বীণা ।
shahoff * *
++++++++++++++++++++
কিছুকাল থাকি,
গেল রবি ঢাকি
ডুবিল দুনিয়া ওই, সব হ’ল আঁধা!
উড়িল গগনে,
পাখী, নীড়পানে
পশুপক্ষী কলরব, হ’ল সন্ধ্যাকাল,
যত গােরু গােঠে,
পারে না ফিরাতে, ডাকিয়ে রাখাল।
ঘরপানে ছােটে
দেখিতে দেখিতে,
এ কি আচম্বিতে
মূহুর্তে রজনী শেষ, প্রাতঃকাল হল,
এ কি অসম্ভব,
কুকুটের রব
নীড় ছাড়ি উড়ে যত খেচরের দল।
খরতর রবি,
প্রকাশিল ছবি',
ভেল্কী হ’ল শেষ, এ কি স্বভাবের খেলা,
স্বপনের প্রায়
দেখিনু আশ্চৰ্য্য এ কি দুপুরের বেলা।
জাগ্রত দশায়,
বীণা।
গ্রীস।
এই কি ইউরােপ যারে সভ্য বলে গণি
এই কি ইউনান, সেই সভ্যতার খনি ?
এই কি ইংরাজ, ভাল বাসে স্বাধীনতা ?
তা হলে গ্রীসের হ’ত এত কি দীনতা ?
এই কি রুসিয়া, হায় ! ইসায়ের আশা ?
বসিয়া রুসিয়া দেখে গ্রীসের তামাসা !
কোথা সেই বীর কবি বাইরণ আজ
নির্লজ্জ ইংরাজ এবে মনে নাহি লাজ ?
নাহি কি রে কৃতজ্ঞতা ইউরােপে আর ?
থাকে যদি খাে তবে আজি তরবার।
কোথা রে গিরিশ তাের আগের গরিমা ?
কোথা সে বীরত্ব যার নাহি ছিল সীমা ?
এই দেশে আছে কি রে আজও থার্মাপলী
এই দেশে জন্মে ছিল মহা মহা বলী ?
কোথা সেই বীরাঙ্গনা বীরের রমণী
পুত্রকে পাঠাত রণে বলি এই বাণী
বীণা।
। ।।।••A
“জয়ী হয়ে এস ঘরে দেখিব বদন
নতুবা দেখিব শব, ওরে বাছাধন!”
কোথা সেই স্পার্টানেরা মহাবীরগণ,
সম্মুখসংগ্রাম ছিল জীবনের পণ,
সেই ত গিরিশ আছে, সকলি ত সেই
গিরিশে মানুষ কিন্তু বেঁচে আর নেই।
ছি ছি ! আজ ইউরােপের এত অপমান
খৃষ্টজনে হারাইল, ধৃষ্ট মুসলমান।
কিসের কৈশর(১) তাের এত অভিমান
ভগিনী যে ভাগ্যহীনা, কাঁদে না রে প্রাণ?
কিরীটেতে দেখ রং, বড় বড় ভণ্ড
ইতালী অষ্ট্রিয়া রুষ, ফরাসি ইংলণ্ড।
পঞ্চ মহাবল মিশে করে কোলাহল,
সুলতান হামিদ হােথা হাসে খল খল ।
জারমানেরা জানােয়ার, নাহি দিই দোষ,
কি করে ইংরেজ রুষ হায় রে ! আফশােষ।
কবে হবে ক্রীট পরে গ্রীস অধিকার
পঞ্চভূত মিশে, মিছে বসিয়ে বেকার।
নির্বীজ গিরিশ আজ নির্জীব কাঁদিছে,
ইউরােপের কৃতজ্ঞতা, কথামাত্র, মিছে।
(১) জৰ্ম্মণির বাদসাহ ।
৭৬
বীণা।
কেমনে থাকিতে পারি, নাহি দিয়ে গালি,
বল্ রে সুসভ্য ফ্রান্স, বল্ রে ইতালি ?
বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞান তরে, কার কাছে ঋণী ?
মনে আছে কোন্ দেশ উরােপের মণি ?
তােমাদের মাতৃভাষা কার কাছে পেলে
অবজ্ঞা করিছ ছি ছি ! গ্রীসে অবহেলে ?
ভুলিছ কেমনে বল, প্লেতে সক্রেতিসে?
তােমাদের বিদ্যা বুদ্ধি হ’ল এত কিসে ?
গ্লাডষ্টোনে সমাদরে, যতেক ইংরাজ,
ডিমস্থিনিশে বুঝি ভুলে গেছে আজ।
মাতৃসমা মান্যা গ্রীসে ভুল না ভুল না
জ্ঞান রত্নে গিরিশের ছিল না তুলনা।
দীনা হীনা বৃদ্ধা মাতা ঘৃণাযােগ্যা নয়,
যবনের হস্তে মা কত কষ্ট সয় ।
তােদের গৌরব গ্রীসের সৌরভ এখনও ছুটিছে,
এ হেন রতনে আজ যবনে লুঠিছে।
হয়ে অগ্রসর সবে খেদাও তুরকে
গিরিশ-গৌরব কি রে বুঝিবে মূরখে ?
প্রকাশ প্রভূত বল, দোর্দণ্ড প্রতাপে,
কুস্তুনতুনিয়া যেন থর থর কাঁপে!
দুরবল গিরিশের রাখ রাখ মান
দেখুক সকলে খ্রীষ্টানেরা কত বলবান।
বীণা।
ক
সভ্যতা বিদ্যার আজি দেও পরিচয়
বলুক সকলে খ্রীষ্ট ইউরােপের জয়।
দুর্বল দলিতে, হায় ! সকলেই পারে
নির্জীবে জীবন দেয়, বলী বলি তারে।
৭
বীণা
চীন।
হায় রে চীন!
এখন প্রাচীন
ভারত সমান দশা তােমারাে কি হবে ?
হয়ে পরাধীন,
রবে চির দিন
পরের দাসত্ব বহিতে জীবন যাবে ।
নয়নেতে জল,
ববে অবিরল
কে মুছাবে বল, মনােদুখ মনে রবে,
সদা সশঙ্কিত,
সদা সঙ্কুচিত
জীবন যাতনা, হায়! কাঁদিবে নীরবে।
সামান্য জাপান,
করে অপমান
লইল ফৰ্মোজা আর মুদ্রা কত জোর
কে জানিত বল,
তুমি যে দুর্বল
জেনেছে সকল, বুঝেছে আপন জোর।
জর্মাণি সম্রাট,
লাগালে বিভ্রাট,
সদর্পে সগর্বে দেখ কেচু নিলে কেড়ে,
জেনাে ও রে চীন, হায় ! সেই দিন,
চিরকাল তব ভাগ্যলক্ষী গেল ছেড়ে।
তবে ত রুশিয়া,
রাগেতে রুষিয়া
জাপাযুদ্ধে আগে করেছিল উপকার,
বীণা। ৪৯ •••••• AWAA মিষ্ট কথা কয় ইতিহাসে কয়, লইল চাহিয়া, আসিল ধাইয়া আর্থর বন্দর করে নিল অধিকার। তখন ইংরাজ, সাধে নিজ কাজ হঙকঙের আশপাশ লইল চাহিয়া, পাও সবে শিক্ষা, বলী মাগে ভিক্ষা কেমনে বাঁচিবে চীন ভিক্ষা নাহি দিয়া ? জোরে ভিক্ষা লয়, নাহি দিলে ভিক্ষা, হায় ! হবে সর্বনাশ, ছি ছি! তাের কাজ, এই কি ইংরাজ এই কি তােমার কাজ, জার নিকোলাশ ? মিথ্যা কভু নয় ইংরাজের রাজ্যে সূর্য অস্ত নাহি যায়, ইউরােপ এসিয়া, তবে কেন পরধন নিতে মন চায় ? নাহিক অভাব, তবে কি স্বভাব ? অনুচিত কাজ করেছে জামণি যদি ও হে পরি, তাহারে নিবার ধর তরবার ধর দুজনে এখনি। ইংলণ্ড রুশিয়া ; পালাবে সিয়া, তােমরা মিলিলে, মিলিবে ফরাসী। অতি দীনহীনে, রাখ রাখ চীনে মহাবলী তিনে,বিক্ৰম প্রকাশি। বিস্তৃত রুশিয়া ,
বীণা।
•••••••••••
*********
দুজনে মিশিয়া
রুশিয়া সিয়া,
করে থাকে যদি এই অত্যাচার
নৃসিংহ-বিক্রম!
তাহারে আক্রম
পােতরণে তব সনে, সাধ্য আছে কার ?
দেহ খণ্ড খণ্ড,
চীন লণ্ড ভণ্ড
প্রাচীন হইলে বল কারাে নাহি রয়
উন্মত্ত যৌবন,
যে জন যখন
ধৰ্ম্ম উপদেশ সব লাগে বিষময় ।
বীণা।
৮১
স্পেন।
কোথায় সে দিন, হায়! কালের মহিমা
যবে তব বৈভবের নাহি ছিল সীমা ?
তিন শত বর্ষ পূর্বে, এই স্পেন দেশ
আক্ৰমিতে ইংলণ্ড, ধরে রণবেশ।
স্প্যানিশ আরমে, স্পেনের গৌরব
গিয়াছিল সমরে, কোথায় সে সব ।
প্রতিকূল প্রকৃতি, তখনি উঠায় ঝড়ে
ভেঙ্গে চুরে রণতরী, উত্তরেতে উড়ে।
বীরত্ব বিক্রম সত্য, আজো স্পেনে আছে,
তবে কেন পরাভূত আমেরিকা কাছে ?
নাহি সে বিপুল ধন, নাহিক উন্নতি,
এত দিনে স্পেন তাের, হ’ল অধােগতি।
গেল কুবা পাের্টোরিকো, যাবে কি লুজন ?
রণজয়ী শত্রু কভু, হয় কি সুজন ?
মেন নামে রণপােত উড়িল যে দিন
সেই দিন জানিলাম, স্পেন ভাগ্যহীন !
না.উড়িত রণপােত, না হ’ত এ রণ
সবি জেনাে, স্পেন ! এ যে বিধি বিড়ম্বন ।
বীণা।
।।।।।।।।।
শুনিয়ে বিদরে বুক, জেনেরল টোরল
স্বীকারিল অধীনতা, আঁখি ছল ছল।
বীর ব্লাঙ্কো সেনাপতি, সহ লক্ষ সেনা
বিনাযুদ্ধে পরাভব কভু মানিল না।
মানিলা (১) মানিলা হার, না দেখে উপায়
কি করিবে অনাহারে নৈলে প্রাণ যায়।
সারভেরা নাবিকের শিরােমণি হয়ে
স্যান্টিয়াগাে বন্দরেতে হায়! বদ্ধ রয়ে
শেষে কেন বাহিরিল, ল’য়ে রণতরী
কি দুর্দশা এ বয়সে আহা! মরি মরি।
স্পানিয়ার্ড কভু মরিতে করে না ভয়
আমেরিকাসমরেতে দিল পরিচয়।
রণজয়ে উনুমত্ত আমেরিকা আজ,
স্পেন আজ মৃতপ্রায় কি বিষম লাজ ।
মণিহারা ফণী স্পেন, বাঁচিবে ক’দিন ?
মহা অভিমানী, তায় হয়েছে প্রাচীন।
হারাইলা কুবাদ্বীপ, আণ্টিলিষ-মণি
বিনা মেঘে শিরে পাত হইল অশনি।
দুই শত বর্ষ হ'তে ছিল অধিকারী
কেন এ অন্যায় যুদ্ধ বুঝিতে না পারি।
(১) Manila ( কিউবা দ্বীপে )।
বীণা।
৩
।।।।।
৬ ।
রাজা প্রজা যুদ্ধ মাঝে আমেরিকা আসে
ঘাের কলি মানবের ন্যায়-জ্ঞান নাশে!
স্পেন দেশ হত যদি আজ বলবান
তা হ’ল কি অকারণে এত অপমান ?
ন্যায়যুদ্ধ নাই আর, জানিলাম সার
আমেরিকা করিলেক ঘাের অত্যাচার।
উবােপেতে আছে কত বড় বড় দেশ
অসহায় স্পেন, হায়! হ’ল বুঝি শেষ।
হতাশ হইল আজ, হায়! হিস্পানিয়া!
লাজে অভিমানে আহা! বিরিল হিয়া।
আমেরিকা সত্যপ্রিয় সকলে জানিত
ইংরাজ-জাতীয় জেনে সকলে মানিত।
রটিল কলঙ্ক ছি ছি ! ঘুচিল সুনাম
হতভাগ্য স্পেন হায় ! বিধি হ’ল বাম ।
হারিবে জানিয়ে তবু করিল এ রণ
দেখাতে বীরত্ব আর হিস্পানিয়া-পণ।
ইতিহাসে রবে নাম, গাবে কবি যশ
অসীম বীরত্ব তব, অসীম সাহস !
জেনাে স্পেন! এ সংসারে অস্থায়ী সকল
তাই ভেবে পার যদি, মুছ আঁখি জল।
৮ঃ
বীণা।
দুভিক্ষ।
(১৮৯৬-৯৭।)
ওই শুন ওই শুন শব্দ হাহাকার :
দাও অন্ন, দাও অন্ন, বলে বার বার !
পথে পথে কাঙ্গালীরা ঈদে অন্ন তরে
হাজার হাজার নর অন্ন বিনা মরে।
গলা গেছে ভেঙ্গে, কঁদিতে পারে না আর
দারুণ দুর্ভিক্ষ হায় ! দোষ দিব কার ?
গায়ে হাড় যায় গােণা, পারে না চলিতে
গলা গেছে ভেঙ্গে; আর পারে না বলিতে।
“এক কোয়া রােটী” বলে কাঁদিছে পশ্চিমে
তাদের দুখের আর নাহি দেখি সীমে।
হাত পা সরু সরু, পেট ফুলে ঢাক
দেশে দেশে শুন ওই দরিদ্রের ডাক।
ঘরের বাহির যারা কখনাে হয়নি
ক্ষুধার বিষম জ্বালা, জীবনে সয়নি,
মুষ্টিভিক্ষা তরে আজ ফিরে দ্বারে দ্বারে !
বিধাতার বিড়ম্বনা, দোষ দিব কারে ?
শুনি ওই আৰ্তনাদ, হৃদি ফেটে যায়
অনাহারে মরে সবে, কে দেখিবে কায়?
বীণা।
৮৫
।।।।।।।।।।।।।।
•• •••••••••••••••
দক্ষিণে মাদ্রাজ বম্বে, পূরবে বেহার
কোশলে কুশল নাই, খালি হাহাকার !
উত্তরপশ্চিম, পঞ্জাব, মধ্যদেশে,
লক্ষ লক্ষ মরিতেছে, ঘাের অন্নক্লেশে।
পাহাড়েতে গোঁড়, ভিল আর সাঁওতাল,
অনাহারে ম'রে আছে, যেন পঙ্গপাল।
ধন্য ম্যাগডােনেল, ধন্য রে ইংরাজ ।
প্রাণপণ করে দেখালে রাজার কাজ।
অনেক ইংরেজ করেছে শ্রম, পেয়েছে যশ,
সর্বশ্রেষ্ঠ তুমি, করিলে পশ্চিম বশ।
ভুলিবে কভু, ভারত তােমার গুণ
দুর্ভিক্ষসমরে যােদ্ধা, তুমি হে নিপুণ।
ইংরাজ রাজত্বে আছে বহুতর সুখ
বাড়ে দিনে দিনে দেখি, দরিদ্রতা দুখ ।
দরিদ্রতা মহাদোষ সর্বগুণ নাশে
সর্বসুখ পেয়ে প্রজা দুখনীরে ভাসে।
কর হে উপায়, যাতে এ দোষ না রয়
রাজ্য তবে হবে স্থায়ী, জেনাে হে নিশ্চয়।
প্রজা হলে সুখী, রাজ্য রবে হে অটল,
তাই বলি, দরিদ্রের মুছ আঁখিজল।
৮৬. বীণা। Aahati ।।।।। ভূমিকম্প। ১২ই জুন, ১৮৯৭, শনিবার। আসামের ভূমিকম্প বর্ণনার বিস্তৃত বিবরণ আসাম গেজেট হইতে লই- য়াছি। ১৮৯৭। ২১শে আগষ্ট তারিখের গেজেট দেখুন। ভূমিকম্পের বিষয়, গারােদের কুসংস্কার, ঐ গেজেট হইতেই উদ্ধত। নাচিছে কঙ্কাতা কালী, দিয়ে লজ্জা জলাঞ্জলি অঙ্গ বঙ্গ একাকার, হ’ল সর্বনাশ, ভীষণ কুটী উহু ! কাপে ধরা মূহুমূহু করালকালী বা বুঝি করে সব গ্রাস। ধেই ধেই নাচে কালী, দিয়ে দুষ্ট করতালি (**}} - ম’ল বুঝি শিবে (১) পড়ে পদতলে, চার মিনিটের নাচে, শিবে আছে কি না আছে কি কব অশিব বার্তা, নৃত্য বক্ষঃস্থলে ! দুম দুম্ পড়ে বাড়ী গড়াগড়ি যায় গাড়ী কঁপে কোর্ট (২) ফাটে কোর্ট, চৌরঙ্গী চমকে ! কোন বাড়ী ভাঙ্গা চূড়া, কোন বাড়ী হ’ল গুড়া দোতালা তেতালা ফাটে কঁপনি ধমকে ! কামাখ্যার কালী আজ, সেজেছে সমর সাজ নাহি দৈত্য দলিবার, কাহারে দলিতে ? দরিদ্রেরে দলিবারে, কালী আজ হুহুঙ্কারে কালিকার একিকার, (৩) দেখি ঘাের কলিতে। (১).-ক্ষেপ। (২) হাইকোর্ট। (৩) কার-কাৰ্য্য।
বীণা। ৮৭ uff v\/\/\/\/\\/\ vvvvvv v vụ ভীষণ ভৈরবী নাচে, কেউ বাঁচে কি না বাঁচে পাপ ভরা ধরা বুঝি, যায় রসাতল, গােলাঘাট জোড়হাটা, ফেটে আজ ফুটীফাটা শিলংপ্রাসাদ সব করে টলমল ! মূহুর্তেতে ধরাশায়ী, এই ছিল, এই নাই আজ ত আসামে দেখি বিষম বিপদ, একি রে কালীর রঙ্গ, ভবে,ভবানী ভ্রভঙ্গ স্মরিছে হিন্দুরা সেই কালিকার পদ। থর থর কাপে ধরা ধরা যেন আজ সরা কাঁপে ধরাধর আজ হইয়া অধীর, ধ ধক্ কাঁপে হিয়া, কাঁপে জন্তিয়া খসিয়া পড়িছে খসিয়া খেদে, ধসিয়া শরীর । কঁপে কামাখ্যা মন্দির থাকিতে না পারে স্থির, কোথা হতে এল পুনঃ এ কালাপাহাড়, ছিল মন্দির শিরষি এক সােণার কলসী ভাঙ্গিয়া পড়িল ভূমে, খাইয়া আছাড়। হায় ! কেমনে বিবরি, ভাঙ্গিল ভুবনেশ্বরী ভাঙ্গিল মন্দির কত, কোপে কালিকার, গারাে পাহাড়ের গারাে, নিস্তার নাহিক কারাে কত যে মরিল হায়! সংখ্যা নাহি তার। ময়ুরদ্বীপেতে স্থিত, উমানন্দা নামে খ্যাত ভাঙ্গিল মন্দির, গড়গণ্যের গৌরব বীণা। শিবসাগর সহরে, অশ্বাকলস্তা পড়ি, ওই যায় গড়াগড়ি ভূগৰ্ত্ত হইতে নির্গত ভীষণ রব! ত্রাসে সকলে শিহরে সকলি অশিব আজ, শিব শক্তিহীন, মহাকালী মহেশ্বরী মহাকাল মূর্তি ধরি বিনাশিবে বিশ্ব বুঝি, হায় রে দুর্দিন ! তেজপুর মণিপুর, ভেঙ্গে হ’ল চূর চূর লক্ষীপুর হ’তে আজ লক্ষমী গেল ছেড়ে, শ্রীহট্টের নাহি শ্ৰী, বিকৃত বিবর্ণ বিশ্রী জলে জলময়, নদ নদী গেছে বেড়ে। পূর্বে যেথা ছিল জল, আজ সেথা পাবে স্থল আসামে বিষম সব, আজ চেনা ভার ভূগৰ্ত্ত হইতে ছুটে, উঠিছে ফোয়ারা ফুটে দেখ ! স্বভাবের আজ বিষম বাহার। কোথা বারি, কোথা বালি, কোথা কাষ্ঠ, কোথা কালি, উঠিছে, ছুটিছে ভূকম্পের প্রস্রবণ ! ছিল যত জলাশয়, হইয়াছে বালুময় নাহি আর বারিলেশ, আশ্চর্য ঘটন। দেখ ব্ৰহ্মপুত্র নদ আনন্দেতে গদগদ গৌহাটীর কাছে আজ সপ্ত ফুট স্ফীত, সুর্মা, মনু, কুশিয়ারা বিশাল সমুদ্রপারা প্রকৃতির খেলা দেখে মানব বিস্মিত।
বীণা। b !!! । । । । । । + ৭।।।।। । A হিরাজান নদীনীর ছিল ছ’হাত গভীর ভূকম্পের পর, হ’ল মাত্র দুই হাত কোন নদী উনুমতি ত্যজিয়া পূর্বের গতি ছুটেছে পাগল প্রায়, একি রে উৎপাৎ! পথ ঘাট নাহি আর, রেল রােড চুরমার কোথা রেল নুয়ে গেছে, ছিড়ে গেছে তার, ভেঙ্গেছে নদীর পাড়, দেশঃহ’য়েছে উজাড় বর্ণিতে দেশের দশা, কবি মানে হার। বাড়ী হাজার হাজার, পড়ে আছে দুই ধার দানবদলিত দেশ, সব ভূমিসাৎ শত শত নর নারী, পড়ে আছে সারি সারি থেকে থেকে কাঁপিতেছে, ধরা দিন রাত ! গরু ঘােড়া উৰ্দ্ধমুখে, দৌড়িতেছে চারিদিকে, সবে যেন দিশেহারা, রক্ষা নাহি আর। হায়! হায়! অঙ্গ বঙ্গ হল ছারখার !! দেখি এই দুর্বিপাক গারাে হােয়েছে অবাক কাঠবিড়ালীর দোষ, মনে মনে ভাবে, তারা অসভ্য অজ্ঞান, তারা জানে না বিজ্ঞান বর্বর গারােরে সত্য, কে বুঝাতে যাবে ? জানে গাররা এই মনে, পৃথিবীর চারি কোণে চার রঞ্জু বাঁধা, এক রঞ্জু গেছে কেটে
৯০
বীণা
রক্ষাকর্তা অন্ধদৈত্য, সে বুঝি হয়েছে মৃত
তাই আজ ধরা পঁপে, আর যায় ফেটে !
মহারাণী ভিক্টোরিয়া করেছেন এই ক্রিয়া (১)
ভূকম্প হইলে শেষ, পাঠাবেন ঝড়,
গাররা চারিদিকে চায়, হইয়ে পাগল প্রায়
পলাইছে চারিদিকে, মনে মহা উর।
এ কি হােললা রে প্রলয় ভারতের হবে লয়
অঙ্গ বঙ্গে ভূমিকম্প, মহারাষ্ট্রে মহামারী
সােণার ভারতভূমি হবে বুঝি মরুভূমি
পাপভারে হায় ! অভাগা ভারত ভারি! .
বিজ্ঞানের অভিমানী,
যত সব ভূয়াে জ্ঞানী
করেছে নির্ণয়, ভূগর্তে, প্রস্তর-স্তর
বে’সে যায় ইঞ্চি কত,
কত শুনি মতামত
বৈজ্ঞানিক বিদ্বানেরা বকেন বিস্তর ।
আমি বলি তা ত নয়,
অনাহারে জর জর ভারত সন্তান,
দেখিয়ে সন্তান দুখ,
ফাটিছে মায়ের বুক
দুর্ভিক্ষ দারুণ দুঃখে মাতা কম্পমান !
অবুঝে অমন কয়
(১) ক্রিয়া-শপথ।
বীণা।
মহামারী।
হায় কি হ’ল কি হ’ল, এই ছিল এই ম’ল
দেখিতে দেখিতে মল নাহিক বেয়াজ, (১)
ইংরেজের বুদ্ধি বল,
সকলি হ’ল বিফল
মুক্তকণ্ঠে বলি তবু, ধন্য রে ইংরাজ!
অল্প জ্বরের প্রকাশ,
ফুলিল পেটের পাশ
সেই ফুলাে ক্রমে ক্রমে বগলে উঠিল,
নাকে চোকে রক্ত ঝরে,
রােগী ছট ফট করে
জীবনের আশা তার তখনি টুটিল।
পালা রে পালা রে সবে, এ রােগে কেহ না রবে
এ ত রােগ নয়, এ যে সাক্ষাৎ শমন,
ছাড়ে ঘর ছাড়ে বাড়ী যায় লােক গাড়ী গাড়ী
দাক্ষিণাত্যে দেখি নাই দুর্দশা এমন !
এ হয় বিষম ব্যাধি,
এর নাহিক ঔষধি
হঙকও হ'তে রােগ ভারতে আসিল,
দেখ, আসিয়া ভারতে,
সহস্র সহস্র নরে নিমেষে নাশিল ।
ও হে ইহারি কারণ ব্যাণ্ড আষ্টেরি মরণ
ইহারি কারণ তিলক জেলেতে যায়,
দুখ দেয় বিধিমতে
(১) বিলম্ব।
৯২, বীণা। । দেখ ইহারি কারণ, নাটুভায়ের শাসন ইহারি কারণ লােক কত দুখ পায় ! হ’ল কত অর্থ ব্যয়, রােগের না শেষ হয় হবে শুনি মহামারী সভা এইবার, বেল গ্রাম ধারবার ' চেনা নাহি যায় আর এ অসুর মহিশূরে করে মার মার । লাগা রে আগুন ঘরে, ঘর দ্বার কার তরে? পােড় বম্বে, পােড়া পুনা, পােড়া রে সেতারা সব হােক ছারখার ঘর বাড়ী কার আর ? পুনার পণ্ডিত হয়েছে পাগলপারা। মােটা শাের্গা মারহাট্টা যারে দেখে কর ঠাট্টা দেখিতে দেখিতে ওই পড়িল ভূতলে। হৃষ্টপুষ্ট বলবান, ঠিক ভীমের সমান দেখিতে দেখিতে ম'ল দেখ রে সকলে। সন্ধ্যাতে সহস্র হােলি, কেমন, করেছে আলাে দেখ গলি গলি, এ দিকে চিতার সার, চারিদিকে হাহাকার বিপদে উন্মত্ত যত মারহাট্টামণ্ডলী। কত হিন্দু মুসলমান, কত পারসী খ্রীষ্টান মরিতেছে প্রতিদিন না যায় গণন, বৃদ্ধ যুবা শিশু যত, মরিতেছে শত শত হায় হায় ! এ কি দেখি অকাল মরণ । স্থূপাকার বস্ত্ৰ জ্বলি,
বীণা।
.
। । ।
শুধুই মানুষ নয়,
মরিছে মূষিকচয়
কোন্ পাপে মুষিকেরা মরে সমুদয় ।
চূর্ণকাম ঘরে ঘরে,
আবর্জনা দূর করে
বাড়ী ছেড়ে মানুষের মাঠে বাস হয়।
কত লােক জলন্দরে,
মহামারী রােগে মরে
ক্রমে ক্রমে গেল রােগ হুসিয়ারপুরে,
শুনি শিখ মহাবলী,
মহামারী যায় চলি
যুঝিতে শিখের সনে, তাই অত দূরে।
রেলে ডাক্তার পাহাড়া নাড়ী টিপিছে তাহারা
রােগীরে না যেতে দেয় অন্য কোন স্থানে।
কর কতই উপায়
সবি বৃথাহ’ল হায় !
কিছুতেই মহামারী মানা নাহি মানে।
মহামারী করে যাত্রা, যাবে বলি কলিকাত
বাঙ্গালীরা জর জর ম্যালেরিয়া বিষে,
বিষে বিষ হবে ক্ষয়,
মহামারী পরাজয়,
সে দেশেতে মহামারী জয়ী হবে কিসে ?
তবে দাক্ষিণাত্যে বাস, করিবে কি বার মাস
গরমে নরম আরশীতে বড় বাড়,
ছেড়ে আর সব দেশ, ভাল লেগেছে বিশেষ
দাক্ষিণাত্য দেশ আর পশ্চিমপাহাড় (১)।
(১) পশ্চিম ঘাট।
৯৪
বীণা।
\/\/\\///w
বুঝি করিবারে রাজ, শীঘ্র যাইবে মাদ্রাজ
মাদ্রাজেতে তাই পড়ে গেছে হুলস্থূল,
বাঁধিতেছে কত চালা,
কার্বলিক জালা জালা
রােগের নির্ণয় নাই এ সকলি ভুল।
এরা রােগের কারণ, ছি ছি ! জানে না যখন
করে মিছে গােল “পরিষ্কার পরিষ্কার,”
বিসূচিকা কি বসন্ত, নাহি যার পায় অন্ত
“পরিষ্কার” মহামন্ত্র, মাত্র প্রতিকার।
শুনিলে সেই কথা, নিগারের (১) নাই মাথা
মাথা আছে মাত্র, ডাক্তার ডাক্তার,
মুখেতে বলন বটে, অনিশ্চিত বিদ্যা ঘটে
তবে কেন মনে মনে এত অহঙ্কার।
পরিষ্কার থাকা ভাল,
জানে হিন্দু চিরকাল
তাই তারা প্রতিদিন করে থাকে স্নান,
মিছে ক’র না অখ্যাতি
ভেব না ভারতবাসী, নিতান্ত অজ্ঞান।
তােমরা সুসভ্য সত্য, প্রজা পালিতেছ নিত্য
সমরে মরিতে তােমরা কর না ভয়,
হিন্দু আমরা অজ্ঞান, জেনাে চাই হে নির্বাণ
আমাদের ক্ষুদ্র প্রাণ মােহমায়াময় ।
পুরাতন সভ্যজাতি
(১) কাল মানুষের।
বীণা।
Wav৬।
আমাদের এত মায়া, পিতা মাতা পুত্র জায়া
ত্যজি, চাই না বাঁচিতে নিমেষের তরে,
মনে রেখাে হে ইংরাজ, স্থায়ী হাে তব রাজ
আত্মীয় ত্যজিতে এরা আগেতেই মরে।
ত্যজি আত্মীয় স্বজন,
সন্ন্যাসীরা যায় বন
ভারত-গৃহস্থ হয় আত্মীয়-জীবন,
রাজার মহৎ উদ্দেশ্য,
আমি বলিব অবশ্য
প্রজা বাঁচাইতে করিতেছ প্রাণপণ ।
বেষ্টিত আত্মীয় জনে,
ভাল, সে সুখ-মরণে
ত্যজি আত্মীয় স্বজন, জীবনে কি ফল ?
ভবে মরণ নিশ্চয়,
মরণে এত কি ভয় ?
পাওনি পরমজ্ঞান, বিজ্ঞান কেবল !
৯৬
বীণা।
পােকা, কীট।
মাইক্রোব, (১) ব্যাসিলস্ (২)
পেলে দেখি মহা যশ
পােকার প্রভুত্ব হােলাে দেখি ভারি,
লাউঠা ওলা দেবী
হ’ল এবে পােকাবীবী
জানে না বিজ্ঞানী বােকা, সংসার পােকারি ?
পােকা রক্তে পােকা মাসে
পােকাপূর্ণ ঐ আকাশে,
পােকা ছাড়া জীব নাই, নাহি কোন স্থান,
পােকাপূর্ণ এ শরীরে
আরাে পােকা চাই কি রে ? (৩)
রােগের নির্ণয় হ'ল বাসিলি-বিজ্ঞান।
পােড়েছ অনেক পুথি
বাকি আছে পােকাপ্যাথি
আলােপ্যাথি, হুমােপ্যাথি, আর প্যাথি যত
টেরাপ্যাথি, হাড়ভ্রাপ্যাথি
ভিবােপ্যাথি, শিবােপ্যাথি
কেহ নয় কাৰ্য্যকারী, পােকাপ্যাথি মত।
(১) Microbe. (২) Bacillus. (৩) পােকার টীকা imoculation.
বীণা।
news, satv ।
।।
সকল রােগের গােড়া
দেখি এক পােকা ছেড়া
ওলাউঠা রােগে দেখ, পােকা কাটে পেট,
ভােগগা ম্যালেরিয়া জ্বরে
পােকা প্রবেশে উদরে
মহামারী রােগে ডাক্তারের মাথা হেঁট।
কীটের কমিটি হবে
মহামারী নাহি রবে
এইবার দাও সবে মহামারী টীকে,
যত সব গােরু নিজে
টিকে দেয় গরু বীজে
মহামারী পােকাজ্ঞান, বিজ্ঞানেতে শিখে !
হবে দুর্দশা মশার
শুন ওহে বলি সার
মশামুখে ম্যালেরিয়া মানুষেতে পায়,
আমি কবি বিজ্ঞানিক
বলে দিই শুন ঠিক
মহামারী মহারােগে, নাহিক উপায়।
মাছ কেন যাবে বেঁচে
উড়ে উড়ে নেচে নেচে
খাদ্যে বসে, চক্ষে বসে, নানা রােগ আনে,
১৮
বীণা।
www
viswas writr /\/A/
।।। ।।।
মশাপাথি মক্ষীপাথি
আমি এর পক্ষপাতী
আমার এ দিব্যজ্ঞান, কি বলে বিজ্ঞানে ?
আমি করেছি নির্ণয়
আর নাহি কোন ভয়
ইঁদুরের লিম্ফে যাবে, রােগ মহামারী
দেখ হে ইদুর পুষে
কেন ইঁদুর মানুষে
এই রােগে ভােগে ? জেনাে এ বিদ্যা আমারি
করি এই আবিষ্কার
পাব আমি পুরস্কার
নমস্কার করি আমি, মহামারী পায়,
আমি পড়েছি কেতাব
আমি পাইব খেতাব
এ রােগের মহৌষধি মূষিকের গায়!
যাবে গণেশবাহন
যত মারহাট্টাগণ
ছাড়িবে গণেশ পূজা, হবে অপমান,
কীটের কমিটি কবে কি ?
আমি হব এক এম ডি,
তাতে কার ক্ষতি কি? কবির বাড়িবে মান।
?
?
বীণা।
গ্লাডষ্টো
ইংরাজের অগ্রগণ্য গ্লাস্টোন গত।
ধার্মিকপ্রবর, সদা পরহিতে রত।
দৃঢ় দেহ, দৃঢ় মন, হৃদয় উদার,
তেমন মানব কিরে জনমিবে আর ?
মহাজ্ঞানী সুপণ্ডিত সর্বগুণধার,
তাই আজি ইংলণ্ডে এত হাহাকার !
দুখিত ইতালী গ্রীস, দুখী রুসজার
শুনিয়ে এ শােকবার্তা, পাঠালেন তার।
ওই শুন শােকঘণ্টা সব গির্জাঘরে
বাজিছে গভীর স্বরে, শহরে শহরে।
প্রার্থনা করিছে যত পাদরীর দল,
মরিল কি মিশনরি ? আঁখি ছল ছল।
খ্রীষ্টধৰ্ম্মে মহাভক্ত ছিল গ্লাডস্টোন
তাই আজ পাদরিরা করিছে রােদন।
যাচিছে ঈশ্বর পদে তার মুক্তিদান,
জন্মেছে কি ইংলণ্ডে, হেন ভাগ্যবান্ ?
ধৰ্ম্মশাস্ত্রে সুপণ্ডিত, পাদরীর সম
ছিলেন গ্লাডস্টোন কিছুতেই কম।
বীণা।
*।। ।।।।
হইয়ে মহামন্ত্রী, হােতেন পাদরী
অবশ্য মিলিত তারে ক্যান্টরবেরী।
পেতেন পাদরী মাঝে সর্ব উচ্চাসন
তাই আজ পাদরিরা করিছে রােদন।
পার্লামেন্ট মহাসভা, দেখ বসিয়াছে
সৰ্বোজ্জ্বল তারা তার, আজি খসিয়াছে
কারাে মুখে নাহি কথা, সকলে বিষন্ন,
লিবারল ইনােনিষ্ট নহে আজ ভিন্ন।
নব্বই বৎসরে মরেছেন গ্লান্ড্রষ্টো,
তবে কেন ঘরে ঘরে এতই রােদন ?
ব’সেছেন যত লর্ড, উজ্জ্বলি আসন,
চেয়ে দেখ সবে আজ, বিষন্ন বদন।
এ দিকে কমনস যত মাথা হেঁট করে
চিত্রের পুতুল সব, আছে যেন মরে।
মরেছে নশ্বর এক মানব স্থবির
তবে কেন সকলের নেত্রে বহে নীর ?
অসামান্য নর ছিল, অমর সমান
তাই আজ সকলের কাদে এত প্রাণ।
বঙ্গবাসী আমি এক অতি ক্ষুদ্র নর,
নতুবা তাহার তরে, কেনবা কাতর ।
নির্বাক কমন্স সভা, পড়ে আলপিন্
শুনিতে সকলে পায়, সেই শব্দ ক্ষীণ।
বীণা।
•১১Aw
উঠিল বালফুর ওই সভার অধ্যক্ষ
সুবক্তা সুধীর সেই, রাজকার্যে দক্ষ।
বলিলেন ধীরে ধীরে “সভা কাৰ্য শেষ”
গ্লাডস্টোন গত! আজ কি কব বিশেষ”।
কৰ্ত্তব্য কমন সভা, কব আমি পরে,
আজ যত সভ্যগণ, যাও সবে ঘরে।
ধীরে ধীরে গেল ঢ’লে সভ্যগণ আজ
পিতৃহীন যেন আজ, সকল ইংরাজ।
দুদিন পরেতে পুনঃ সবে সভাসীন
হারকোট, হায় ! আজ অতি দীনহীন।
উঠিল বালঘুর তবে, দেখ সভাপতি ;
“নাহি আর গ্লাডস্টোন, পার্লামেন্ট জ্যোতিঃ ;
আমি কি বলিলতে পারি তাহার মহিমা
যাঁহার গুণের ভাই! নাহি ছিল সীমা।
সর্বশ্রেষ্ঠ ইংরেজ, হায় ! আর নাই
শেষকাৰ্য আমাদের এস করি ভাই।
ওয়েষ্ট মিনষ্টরে হবে, কর তাহার
লইব আমরা সবে, সে কাজের ভার।
দুদলে মিলিব এস সবে ভাই ভাই
প্রস্তরের মূর্তি তাঁর, সেখানেতে চাই।
পঞ্চাশ বৎসর যিনি এই সভাস্থলে
মন্ত্রমুগ্ধ রাখিতেন বক্তৃতার বলে,
•
১০২
বীণা।
।।।।।।
অসামান্য শক্তি আর অসীম প্রতিভা
তিনি বিনা অন্ধকার পার্লামেন্ট সভা”।
বালফুরের বাক্যে তবে সবে দিল সায়
উঠিল সভাতে মহাধ্বনি “হায়, হায়”।
ওদিকে লাটের সভা, বড় বড় লাট
খুলে গেছে সকলের হৃদয় কপাট।
গ্লাষ্টোনে কত গালি দিয়াছেন যিনি
উঠিলেন মহামন্ত্রী লাট শিরােমণি।
“কি বলিব সভ্যগণ ? গ্লাডস্টোন গত
ধৰ্ম্মপানে যাঁর দৃষ্টি, থাকিত নিয়ত।
যাঁর কাছে রাজনীতি, ছিল ধৰ্ম্মনীতি
এই তঁার চিরস্থায়ী রহিবে সুখ্যাতি
পার্লামেন্ট সভা তাই, তার কাছে ঋণী,
কি বলিব আর আমি, এই মাত্র জানি।”
মােটা মহামন্ত্রী তবে এই ব'লে বসে,
শােকাকুল রােজবেরী উঠিল সাহসে।
কাদিল, কাঁদালে সবে প্রকাশিয়া শােক
হেঁটমুখে ফেলে অশ্রু যত লর্ড লােক।
কেহ বলে ছলভরী (১) আখি ছল ছল
হয়েছিল, শুনি সেই বক্ততা সরল।
(১) সসবেরী (লর্ড)।
বীণা।
১০৩
M/
•• •••••••••••••••
।
প্রংশসিয়া গ্লাষ্টোনে শােকপূর্ণ স্বরে
শেষে বলিলেন বাণী সাহসের ভরে।
“গিয়াছেন গ্লাডষ্টোন, দৃষ্টান্তের স্থল
হ’ও না আকুল ওহে মহাসভ্যদল ।
ধ্রুবতারা হয়ে রবে, তাহার দৃষ্টান্ত,
এই ভেবে সভ্যগণ, কর মন শান্ত।
“গ্লাড়ষ্টোন-মাতৃভূমি ইংলণ্ড দেশ!
'ভবিষ্যতে জনমিবে তেমনি নরেশ।
ভুলিব না তারে কেহ, কে ভুলিতে পারে?
জীবিত তাহার নাম, রহিবে সংসারে।
এই বড় দুখ, হারায়ে দেবতা-পতি
বৃদ্ধ বয়সেতে আহা! হ’ল কি দুর্গতি
স্বামীস্বর শুনিবারে পাতিতেন কাণ
পতি বিনা পাগলিনী, আকুল পরাণ।
সন্তানে সান্ত্বনা দিতে পারে বিধবাকে ?
সভ্যগণ। একবার মনে কর াকে।”
বসিলেন রােজবেরী, সভা হ’ল ভঙ্গ
পার্লামেন্টে শেষ হ’ল গ্লাভস্টোন-প্রসঙ্গ।
হাবার্ডন সূৰ্য্য, হায় ! এবে অস্তগত !
ফুরাল জীবনলীলা, এ জনম মত।
নীরব সে কণ্ঠস্বর, মধুর গম্ভীর,
নিশ্চল সে বাহুবল, নিশ্চল শরীর।
১০৪
বীণা।
।। ।। ।। ।
অশীতি বরষে যিনি কাটিতেন ওক (১)
দেখিত দাঁড়ায়ে যাহা শত শত লােক।
ওকখণ্ড তুলে ল’য়ে করিত যতন,
ক্রয় করি নিত যাহা কত ধনীগণ।
রাখিবে স্মরণ চিহ্ন, মরণের পর
অসামান্য নর, নৈলে এত কি আদর ?
পার্লামেন্টরঙ্গস্থলে, নায়ক প্রধান
যে শুনেছে বীরবক্তা, বড় ভাগ্যবান।
রাজা নয়, লাট নয়, শুদ্ধ গ্লাভস্টোন,
তাঁর সম মহামান্য, ছিল কোন্ জন ?
মহামন্ত্রী হয়ে কত করেছেন লাট,
নিজে শুদ্ধ গ্লাডষ্টো, বুদ্ধিতে বিরাট।
হােমর পড়িতে আহা! ছিল বড় সাধ
হরষে হরিষে (১) করেছেন অনুবাদ।
রাজকার্য হতে তিনি পেলে অবকাশ,
জাতীয় ধরমে ছিল বিশেষ বিশ্বাস।
পড়িতেন বলার, আরাে কত বই
তেমন পাঠক আর পৃথিবীতে কই ?
(১) Oak,
(>) Horaa.
বীণা।
১০৫
havan•••
পুস্তকে পরম প্রীতি, জাজ্বল্য প্রমাণ
হাবার্ডন লাইবেরী, দেখ বিদ্যমান।
সেই খানে থাকিবেক প্রতিমূর্তি তাঁর
থাকিবে পুস্তক বটে, কে পড়িবে আর ?
পড়িবে পাড়ার লােক হাজার হাজার
পড়িবে না গ্লাডস্টোন, পড়িবে না আর ।
রবে পার্লামেন্ট সভা, রবে হাবার্ডন
আসিবে না ফিরে, হায়! আর গ্লাড ষ্টোন্
বীণা
৬ । । ।
বিষমার্কের মৃত্যু।
গেছে গ্লাড়ষ্টো, বিষমার্ক গেল চলে
মানুষ নাহিক আর ইউরােপমণ্ডলে।
মরাভিপ হােহেনলাে, আর ছলভরী,
এদের মানুষ মধ্যে গণনা না করি।
মহাতেজা মহাবুদ্ধি ছিল দুই জন,
জনমিবে জগতে কি আর গ্লাডষ্টোন্?
দৃঢ় দেহ, দৃঢ় মন, অসামান্য নর
দুই জন জগতেতে জন্মে অজাগর।
পুরাকালে জনমিত মহা ম্যাক্টোডােন, (১)
মানবমণ্ডলী মাঝে, যথা গ্লাডষ্টোন্।
“লহু লৌহ”(২) বিষমার্ক দিগগজ দানব
জন্মেছিল নরকুলে, হইয়ে মানব।
আঁধারি ইউরােপ আজ দুই সূর্য অস্ত
আর না উদিবে, শমন কবলগ্রস্ত !
বিখ্যাত জগতে, দুই বিসদৃশ নর
ধার্মিক ইংরাজ, আর জৰ্মাণ পামর।
(>) Mastodon.
(*) Blood and Iron.
বীণা।
১০৭
স্বদেশ হিতের তরে, ন্যায়াধ্যায় জ্ঞান,
নাহি ছিল বিষমার্কে, কুচক্রী প্রধান।
বিষমার্ক বিষভরা, কপটতা কূপ
বুষের (১) জীবনী পড়, জানিবে স্বরূপ
দেশের উন্নতি তরে ন্যায় বলিদান,
দিয়াছিল বিষমার্ক, পাষণ্ড পাষাণ
ফ্রান্সের পরম শত্রু, কারাে নহে মিত্র
ইতিহাসে এই এক জীবন বিচিত্র !
সমুচিত শাস্তি তার বৃদ্ধকালে পায়
বালক বাদশাহ হাতে হতমান হায়!
আষ্ট্রিয়াকে হারাইল, করি ঘাের রণ,
তাহারি সহিত সন্ধি শেষেতে মিলন।
বাঁধায়ে সংগ্রাম হারাইল নেপােলিয়ন
পারিসেতে জাৰ্ম্মণির সাম্রাজ্য স্থাপন।
ধন্য সুকৌশল আর ধন্য প্রাণপণ
স্বদেশ হিতের তরে সঙ্কল্প জীবন।
জম্মণির মণি তিনি উদ্দীপ্ত উজ্জ্বল
জীবনের যত আশা সকলি সফল।
জারমণি সাম্রাজ্য রবে যত দিন
এ নাম গৌরব কভু নাহি হবে ক্ষীণ।
(3) Busch's Life of Bismarck.
১০৬
বীণা।
বিমার্কের মৃত্যু।
গেছে গ্লাভূষ্টো, বিষমার্ক গেল চলে
মানুষ নাহিক আর ইউরােপমণ্ডলে।
মরাভিপ হােহেনলাে, আর ছলভরী,
এদের মানুষ মধ্যে গণনা না করি।
মহাতেজা মহাবুদ্ধি ছিল দুই জন,
জনমিবে জগতে কি আর গ্লাডস্টোন্ ?
দৃঢ় দেহ, দৃঢ় মন, অসামান্য নর
দুই জন জগতেতে জন্মে অজাগর।
পুরাকালে জনমিত মহা ম্যাষ্টোডােন, (১)
মানবমণ্ডলী মাঝে, যথা গ্লাড ষ্টোন্।
“লহু লৌহ”(২) বিষমার্ক দিগগজ দানব
জন্মেছিল নরকুলে, হইয়ে মানব।
আঁধারি ইউরােপ আজ দুই সূর্য অস্ত
আর না উদিবে, শমন কবলগ্রস্ত !
বিখ্যাত জগতে, দুই বিসদৃশ নর
ধার্মিক ইংরাজ, আর জৰ্মাণ পামর।
(>) Mastodon.
(2) Blood and Iron.
বীণা।
১০৭
!!!!!
।।।
স্বদেশ হিতের তরে, ন্যায়াধ্যায় জ্ঞান,
নাহি ছিল বিষমার্কে, কুচক্রী প্রধান।
বিষমার্ক বিষভরা, কপটতা কূপ
বুষের (১) জীবনী পড়, জানিবে স্বরূপ।
দেশের উন্নতি তরে ন্যায় বলিদান,
দিয়াছিল বিষমার্ক, পাষণ্ড পাষাণ
ফ্রান্সের পরম শত্রু, কারাে নহে মিত্র
ইতিহাসে এই এক জীবন বিচিত্র ।
সমুচিত শাস্তি তার বৃদ্ধকালে পায়
বালক বাদশাহ হাতে হতমান হায় !
আষ্ট্রিয়াকে হারাইল, করি ঘাের রণ,
তাহারি সহিত সন্ধি শেষেতে মিলন।
বাঁধায়ে সংগ্রাম হারাইল নেপােলিয়ন
পারিসেতে জাৰ্ম্মণির সাম্রাজ্য স্থাপন।
ধন্য সুকৌশল আর ধন্য প্রাণপণ
স্বদেশ হিতের তরে সঙ্কল্প জীবন।
জম্মণির মণি তিনি উদ্দীপ্ত উজ্জ্বল
জীবনের যত আশা সকলি সফল।
জারমণি সাম্রাজ্য রবে যত দিন
এ নাম গৌরব কভু নাহি হবে ক্ষীণ।
() Bursch's Life of Bismarck.
১০৮
বীণা।
••• • • • • • •••••••••••••••••••••••••••••••••••••
।।।।।।।।।।।।।।।।।।
মৃতপ্রায় জারমণিরে সজীব করিয়া
চিরস্থায়ী তাঁর নাম ভুবন ভরিয়া।
দোষ গুণ দুই মিশে ইহার জীবন
গ্লাস্টোন সম নহে ন্যায় পরায়ণ।
দেশকাল শিক্ষাভেদে গুণাগুণ যত
ভাল মন্দ নিয়ে দেখি, নানা মতামত।
জম্মণিতে গ্লাভৃষ্টোন যদি জনমিত
কুর কপটী ঘাের হইত হইত।
ইংলণ্ডেতে বিষমার্ক জনম গ্রহণ
কে বলিবে হত না সে ন্যায় পরায়ণ ?
মণিধর ফণীসম ছিল সেই নর
বিষভরা দাত কিন্তু বুদ্ধিতে প্রখর।
জন্মভূমি স্বর্গ চেয়ে গৌরবের স্থান,
বিষমার্ক হৃদয়েতে ছিল দৃঢ় জ্ঞান।
স্বর্গধর্ম ত্যজিলেন জন্মভূমি তরে
কেমনে দূষিব সেই অসামান্য নরে ?
জ্বলন্ত তাহার নাম দিগন্ত ব্যাপিয়া
শুনি যাহা আজো ফ্রান্স উঠে গাে কঁপিয়া।
ত্যজিয়া কুতর্ক তাই মনে রেখাে সবে,
জাৰ্ম্মণিতে বিষমার্ক চিরজীবী রবে।
বাল্যকালের কবিতা-সমূহ।
No text on this page.
বীণা।
'১১১
সখ্যতা ও প্রণয়।
সখ্যতা সে সুখ, হায় ! সত্য বুঝি স্বপনে।
শেখাব পাখীরে ধ'রে, গাবে সুমধুর স্বরে
লিখিব গাছের গায়, ভ্রমি বনে বনে,
সখ্যতা সে সুখ ওরে সত্য বুঝি স্বপনে।
পাখী সব উড়ে যাবে, বনে বনে বসে গাবে
“সখ্যতা প্রণয় সুখ, হায় রে স্বপন” !
হবে রব দেশে দেশে, বলকে বলিবে হেসে
“সখ্যতা প্রণয় সুখ, হায় রে ! স্বপন”
হরবােলা দিব ছাড়ি, যাবে প্রিয়জন বাড়ী
কেবল বলিবে বােল সদা ঘন ঘন
“সখ্যতা প্রণয় সুখ হায় রে স্বপন” !
“এই বেলা সবে শেখ, দুখ নৈলে পাবে দেখাে
যতদিন এই দেহে রবে রে জীবন,
সখ্যতা প্রণয় সুখ হায় রে স্বপন !
বৃদ্ধা জ্ঞানী যত জন,
এ গান করে শ্রবণ
পূর্ব দুখ মনে করি ছাড়িবেন শ্বাস,
কে শেখাল এই গীত মানবে বলিতে হিত
প্রিয়জনে সত্য কথা করে না বিশ্বাস।
বীণা।
WWWWWএ
“বঙ্গবাসী কোন নরে,
পর উপকার তরে
মানবেরে করিবারে আগে সাবধান,
যেখানে সেখানে যাই কেবলি এ গান গাই,
আমারে দিয়াছে ছেড়ে গাইতে এ গান।”
পর্বত-গহ্বরে পশি, কাদিব নির্জনে বসি
সংসারের সুখে দুখে হ’য়ে জ্বালাতন,
সখ্যতা প্রণয় সুখ, হায় রে স্বপন।
নিশি শেষে নিরজনে, শিখাইব শিখীগণে
পর্বত উত্তর দিবে গম্ভীর গর্জনে
সখ্যতা প্রণয় সুখ সত্য বুঝি স্বপনে!
বীণা
সুখ ও দুঃখ।
.
সুখ সখে! বলে কায়
কোথা সুখ পাওয়া যায়
মিলে কি তা এ ধরায়
কেন তবে সবে চায় ?
কেন তবে ওই ধ্বনি শুনি চারিদিক ?
ঐশ্বর্য্যে কি সুখ আছে
প্রিয়তম মিত্র কাছে
তবে ধাও কার পিছে
কথা মাত্র যদি মিছে
আছে কিনা আছে যদি তারি নাহি ঠিক
আহারে বিহারে কিবা
সদা দাস দাসী সেবা
ভাৰ্য্যা সদা অনুগতা
সুখ কি বিরাজে তথা।
ধন মান পরিজনে সুখ কি রে হয় ?
১১৪
বীণা।
।।।।।।।
:
যথা মলয় পবন
বহে সদা ঘন ঘন
ফল ফুল মধুবন
অমৃতের নিকেতন
বল দেখি সেই কি হে সুখের আলয় ?
গুণ, গুণ, অলিকুল
ফুটিছে চন্দন ফুল
বিকসিত কমলিনী
মুদে দেখে যামিনী
সদা হাসে কুমুদিনী ভানুরে না করে ভয়
বকপংক্তি শ্বেত পক্ষ
যেন মেখলার মত
নীল মেঘে বিরাজিত
হইয়ে বড়ই প্রীত
স্থির ভাবে ঊর্দ্ধ নেত্রে মুগ্ধ হয়ে রয়।
গাছেতে ফ’লেছে সােণা
মুক্তা মণি ভার গােণা
রবি শশী সুশীতল
ইন্দ্রধনু অচঞ্চল,
স্বভাবের শােভা হেরি সকলে অবাক
কিবা শােভা আহা মরি
যত ময়ুর ময়ূরী
বীণা।
১১৫
নাচে ধরিয়ে পেৰ্ম,
মাঝে, বক বকম্
তালে তালে গায় যত পায়রার ঝাঁক
শাখী পরে শুক সারি
গাইতেছে সারি সারি,
এ দিকে চাতকদল
ডাকিছে “ফটীক (১) জল”
যত পাখী একত্রেতে সুমধুর গায়,
জগতের যত যন্ত্র
হয় যেন একতন্ত্র
বাজিছে মধুরস্বরে
তাহাতে অমৃত ঝরে
অমৃতের ধারা যেন বরষার প্রায়।
নাহি যথা হিংস্র পশু
সিংহশাব নরশিশু
একত্রেতে ক্রীড়া করে,
সকলি সুখেরতরে,
অকাতরে বিধি যেন করেছে সৃজন
উজলিয়ে রবিরাজ
করে সভাতে বিরাজ,
(১) ফটিক ইকার হইলেও এখানে ঈকারই ঠিক।
১১৬
বীণা।
এWWWas/
।।।।।
মহারাণী চন্দ্রমা
অন্য দিকেতে সরমা
হাসিছে, তুষিছে তােষামুদে তারাগণ।
একচোকো মিটমিটে
ছােট এক তারা উঠে
শােভে রাণীর মুকুটে,
কিবা ছবি ছায়াপথ ! সুনীল আকাশ,
আহা মরি কিবা শােভা
মানবের মনােলােভ
শরীরিণী প্রকৃতির হয়েছে প্রকাশ।
সেই কি সুখের ঠাই
দুখ কি রে সেথা নাই
জন্ম মৃত্যু শােক আদি
রহিল তথায় যদি
কেমনে বলিব সুখ, কখনই নয়,
যদি সুখমাত্র মনে
তবে, প্রকৃতি কেমনে
ধরিয়ে মধুর বেশ
নাশিবে নরের ক্লেশ
সংসারেতে সুখ কোথা, খালি দুখময়।
ভক্তি প্রতি স্নেহ মায়া
পিতা পুত্র মিত্র জায়া
। ••••••••••••www.
বীণা।
১১৭
twar,
সকলিত দেখি ছায়া
অল্পকাল স্থায়ী কায়া
মায়া মােহে কোথা সুখ, কে পেয়েছে হায় !
অর্থ অনর্থের মূল
কেবলিত হয় ধূল,
যা দেখ সকলি ভুল,
শােক দুখ সমাকুল
অসার সংসারে কেউ সুখ কি রে পায় ?
কোথা সুখ, কেবা জানে
সত্য সুখ আছে জ্ঞানে ?
কার কাছে শিখি বল
দেখি অজ্ঞান সকল
সুখ নাই, সুখ নাই হায় ! এ ধরায়
ওহে জানিছ নিশ্চয়
এত সুখধাম নয়
মরণে তবে কি ভয় ?
সবি ছায়াবাজিময়
পরে যদি সুখ থাকে, কি দুখ মরায় ?
কোথা তবে সুখ পাব ?
সুখ তরে কোথা যাব
এ ভুবনে সুখ নাই
তবে সুখ কোথা পাই
১১৮
বীণা।
। ।।। ।।
দুখেরি এ দেহ, কেন মায়া এত এতে।
দুখ জন্য জন্ম যদি
দুখ পাব নিরবধি
এ দেহে কি স্নেহ তবে
কি ফল ইহাতে হবে ?
হায়! পৃথিবীতে জন্ম যদি কষ্ট পেতে।
বীণা।
১১৯
হাস্য ও রােদন।
১
কে শেখালে মানবেরে হাস্য দেন ?
জননী জঠরে হায় !
বল বল কে শেখায়
কে শেখায় মানবেরে হাস্য লােদন ?
বল, শিশু জন্ম নিয়ে, কেন উঠে রে কাঁদিয়ে
সুখ দুখ নাহি জানে, কেন কাঁদে তবে?
আমি হেন অনুমানি,
দুখেরি জীবন জানি
স্বভাবে শিখায়ে দেয়, পরে যে কি হবে !
জেনে, দুখেরি জীবন
হায়! করয়ে নােদন
নৈলে কেন অকারণ, কঁদিবে সে বল ?
এ দুখ সংসারে শুধু ক্রন্দন সম্বল।
২
কে শেখালে মানবেরে হাস্য লােদন ?
ভূমিষ্ঠ বালক বল কাদে কি কারণ?
কেন এসেছি এখানে, চিনিনে কেহ না জানে
কি করিতে আসা, ত্যজি সে সুখের গেহ
তাই করয়ে রােদন,
বলে সদা ঘন ঘন
দুখেরি জীবন হায়! দুখেরি এ দেহ।
t
১২০
বীণা।
আছে কি এমন কেহ,
ধরিয়ে মানব দেহ
হাসেনি কাঁদেনি যেই, কেমনে সম্ভবে ?
হাসি কান্নারি সংসার,
জীবনে কি আছে আর ?
তাই বলি হাস কাঁদ যত পার সবে।
হাসি কান্না এই দুটী
মানব জীবনে জুটি
সুখ দুখ মনােভাব, করয়ে প্রকাশ
হাসি কান্না দুটী ভাই এক আছে, এক নাই
আলােক আঁধার সম, সঙ্গে বারমাস।
সুখ দুখ নিয়ে খেলা,
জীবনের সারা বেলা
হাসিতে কাঁদিতে এই জনম গ্রহণ,
জীবনের সহচর
এই দুই সহােদর
এ দুয়ের জ্যেষ্ঠ হয়, নিশ্চয় দেন।
ভিন্নভাব দুই জন,
একত্রেতে সদা রন
কিন্তু অপরূপ, পরস্পরে দেখা নাই
বেশী জ্যেষ্ঠের প্রভাব,
বৈরীভাব দুই জনে সহােদর ভাই।
কনিষ্ঠ মধুরভাব
বীণা। ১২১ মা। আমরি মধুর নাম “মা” আ মরি রে, মধুমাখা মধুময়, অমৃত নিঃসৃত হয় সাধ হয় দিবা নিশি “মা মা” করি রে। এই নামে একাক্ষরে, সত্যই অমৃত ঝরে প্রথমে সন্তান যবে ডাকে মা, মা বােলে, কি ভাব মায়ের মনে, বুঝে কি পুরুষগণে? মমতায় মার মন যায় যেন গলে। বলুক যুবকজন, তার প্রেয়সী মতন মেন মধুর নাম শুনে না সে কাণে প্রেমেতে পাগল নর, পিতা মাতা ভাবে পর প্রেমেতে বধির অন্ধ, সত্য নাহি মানে। আহা এ মধুর নাম, ছিল কি স্বরগধাম এ নর-নরকে ছি ছি ! কেন এসেছে ? কত যে পামর নর, মাকে ভাবে ঠিক পর কুপুতের দোষে মার হৃদি ভেসেছে। ধন্য রে বালক তােরে, প্রথমে কেমন করে মধুমাখা মা, মা মুখে তাের আসে রে? দশমাস দীর্ঘ দুখ থাকে না দেখিয়ে মুখ মায়ের জীবনজ্বালা, “মা মা” নাশে রে।
১২২
বীণা।
hts,
যার মাতা বৰ্ত্তমান,
ওরে তাহার সমান
ভাগ্যবান্ কোথা, তার দুখ কি আবার?
আছ যেবা পিতৃহীন, কেঁদো না ভাবিয়ে দীন
মা আছে যদি রে বেঁচে, দুখ কি তোমার ?
ওরে এখনাে তােমাম,
কাঁদিবার অধিকার
কখনই নাই, ছুটে যাও মার কাছে
ভুলিবে যতেক জ্বালা,
জীবনের ঝালাপালা
মার চেয়ে আপনার, আর কি রে আছে ?
মাতৃহীন যেই জন,
এ পৃথিবী তার বন
কে করিবে মায়া, আহা ! বল মাতৃহীনে
সন্তান, সংসারসার,
তুলনা নাহিক তার
সন্তানে শুধিতে কভু পারে মাতৃঋণে?
“মা” কথা যাহাতে নাই,
সে ভাষাই হয় ছাই
“মা” কথা বলেনি যেই, সে মানুষি নয়,
ধরায় সাক্ষাৎ দেবী,
সেই মার পদসেবি
সার্থক জীবন আর স্বর্গসুখােদয়।
বীণা।
১২৩
স্বপ্ন।
স্বপনেতে সুখী যদি
জাগরণে কি প্রয়ােজন
প্রিয় সমাগম, আহা! স্বপনে যদি রে হয়
সত্য ত সকলি মিছে,
মিছে কে বলে স্বপন ?
আমি বলি স্বপ্ন সত্য, নাহিক সংশয় !
যেমন রবির পানে,
চাহিলে নয়ন হানে
সংসারে সত্যের পানে চেয়ে হবে অন্ধ
উঠিলে আকাশে চাঁদা, চোখে নাহি লাগে ধাঁধা
মিথ্যালােক (১) লাগে ভাল, বিধির নির্বন্ধ !
জেগে দেখি মৃত যারা
স্বপনে সজীব তারা
আমরি ! ও নিদ্রে ! এ কি কুহক তােমার
সংসার স্বপন সম,
স্বপন কি মনােরম
সত্য মিথ্যা বুঝা ভার, সবি একাকার !
কত ক্রোশ দূরে সখা
স্বপনে আমার দেখা
কত কথা, কত হাসি, কতই উল্লাস
মধুর মিত্ৰতা ভাব করি রে প্রকাশ।
(১) মিথ্যা আলােক।
২৪ বীণা। ।। । । । । । । । বিদেশে বসতি করে, কত কাল নাহি ঘরে স্বপনেতে সতী স্বামীসনে কথা কয়, কি কাজ জাগিয়ে তার, স্বপনেতে সুখ যার জাগিলে জানিবে ধরা খালি দুখময়। যার পতি নাহি দেশে স্বপনেতে আহা ! এসে হাসি হাসি করে কত প্রিয় আলাপন, কত হাস্য পরিহাস, কত আনন্দ প্রকাশ সুধাই রে তাই, মিছে কে বলে স্বপন ? “কোথা ছিলে এত দিন, বল হায় রে ! কঠিন অভাগিনী ব’লে আজ পড়েছে কি মনে ? জানি এ প্রাণ ধরে, • আছি হে কেমন করে তােমারে হে নাথ ! বল জানাব কেমনে? একাকিনী ঘরে বসি কেঁদেছি হে দিবানিশি বল কি হে ভেবেছিলে তুমি এক বার ?” কি বলিব প্রিয়ে বল, কেঁদেছি হে অবিরল তােমার ওমুখ ভেবে বহি দেহভার। যদি ওহে প্রাণে মরি, তােমা প্রিয়ে পরিহরি কভু আর যাব না বিদেশে যাব না যাব না পুন, প্রতিজ্ঞা করি হে শুন আহা যেমনি বলিল হেসে। অমনি নিদ্রা ভঙ্গ হ’ল স্বপ্ন-স্বামী পলাইল কোথা গেলে ও হে নাথ ! ব’লে চক্ষে জল,
বীণা।
৫। AM
বিদরিল হায়! বুক
দ্বিগুণ বাড়িল দুখ,
একাকিনী বিরহিণী কাঁদিয়া ব্যাকুল।
এ হেন স্বপনে সুখ,
কে চায় দেখিতে মুখ
আলােকে আঁধার ওই প্রখর রবির ?
সত্য চেয়ে মিথ্যা ভাল,
জাগরণে যে জঞ্জাল
স্বপ্নসখা সুখকর জানিলাম স্থির।
--
১২৬
বীণা।
নিদ্রা।
চিন্তাবিষে জর জর,
হয় যে অভাগা নর
তার কাছে আছে বটে নিদ্রার আদর,
শােকাকুল যার মন
জানে মাত্র সেই জন
হায় রে ! মলিন মুখ সদাই কাতর।
জীবন যাতনা যার,
বৃথা বহে দেহ ভার
এ সংসার মরুভূমে করে হায় হায়,
নিশিতে নির্জনে বসি বক্ষঃ যার যায় ভাসি
সেই জানে কত সুখ পেলে হে তােমায়।
জ্বালাতন যার মন
কর নিদ্রে! অচেতন
শােক দুখ একেবারে ভুলাইয়ে দাও,
যেন শিশু মার কোলে, তােমারে পাইলে ভুলে
অট্টালিকা ত্যজি ফকির কুটীরে যাও।
তুমি জীবের আরাধ্য কিন্তু আছে কার সাধ্য
লভিতে তােমায়, চিন্তা যার সহচরী,
পরিশ্রমে ক্লান্ত যারা, তােমারিত প্রিয় তারা
মজুরে তােমার মায়া, ধনী পরিহরি।
বীণা। ১২৭ WWWv\/\/\/\••••••••••• । সংসারের এই গতি, তারে দুখ দাও অতি নিতান্ত কাতর হয়ে যে তােমার ডাকে, বােগ শােক দুখ আদি, সকলের প্রতিবাদী, ভুলেও কখন দেখা দাও না তাহাকে । রােগী শয্যাতে লােটায়, ও! নিষ্ঠুরে ত্যজি তায় ধিক্ তােরে যা কি না চাষাব চালায়, যদি বা বারেক যাও, তারে কতই জ্বালাও ভয়ঙ্কর কুপন দেখাও তাহায়। কে বুঝিবে তব মৰ্ম্ম, ত্যজিয়ে সুরম্য হৰ্ম্ম স্বচ্ছ-সবােবর, সুন্দর উদ্যান ছাড়ি, এত প্রিয় পর্ণশালা, চাষা ভূষা জেলে মালা সন্ধ্যাকালে উপনীত, তাহাদের বাড়ী। সকলের কাছে জারি, আছে বটে তােমারি বিদ্যার্থী বালক কিন্তু চায় না তােমায়, জানে না তােমার গুণ, তাড়ায় পুনঃ পুনঃ, পার না ত কই বশ করিতে তাহায় ! নিশি নক্ষত্ৰমণ্ডিত, জ্যোতির্বিদ সুপণ্ডিত করয়ে গণনা, দ্যাখে নিশি হ’ল ভাের, করে রাত্রি জাগরণ, তব সনে করে রণ এদের উপরে খাটে না তােমার জোর। পেয়ে জ্ঞান-সুখাস্বাদ, অন্য সুখে নাহি সাধ এরা ছাড়া আর সবে তব পূজা করে।
১২৮
বীণা।
।।।।।।।।।।
!!
দেখেছে, জেনেছে সেই
মধ্যরাত্রে উঠে যেই,
তােমার প্রভাবে, ধরণী কি রূপ ধরে।
কবিগণ তব গুণ,
বর্ণিয়াছে পুনঃ পুনঃ
চিরনিদ্রা অংশভূতা তুমি দেবী হও,
আমারে নাহিক ভুলে, রােগ দুঃখ শােকাকুল
করজোড়ে করি স্তব, এই পূজা লও।
বীণা।
১
গুহক চণ্ডাল।
এত দিনে মিতে
পেয়ে বুঝি সীতে
ভুলেছে আমায়, ভাবে গুহ মনে,
আঁখি ছল ছল,
সঙ্গে দলবল
আকুল গুহক ফিরে বনে বনে।
শ্যামল বরণ,
আসে কোন্ জন
দূর থেকে গুহ অনিমিষে চায়,
দূরে গেল দুখ,
দেখে রাম মুখ
দূর থেকে ডাকে “আয় রামা আয়”।
“রামা মিতে ফিরে এলি, এত দিন কোথা ছিলি
ভাল আছি রামা মিতে আগে শুনি বল
রামা মিতে এলি ফিরে, গুহ বলে মনে কি রে
পড়েনি রে এত দিন, ঘরে যাই চল!
খাসা খাসা কত ফল,
ওই আছে ঠাণ্ডা জল
পথে ত হয় নি কষ্ট সত্যি করে বল ?
আগে ওই সব খাবি তার পরে ঘরে যাবি”
বলিল চণ্ডালরাজ নাহি ছিদ্র ছল।
১৩০ বীণা। WWant v\\/\/\/\/\AWN//WWWar"। গুহকের শুনি ভাষা, কোথাকার এটা চাষা বলিল লক্ষণ, এ কি অসভ্য গোঁয়ার বলিলেন রঘুরায়, কথাতে কি আসে যায় আন্তরিক প্রেম দেখ, দেখ ব্যবহার !! গুহ আনন্দে পাগল, হাতে ল’য়ে ফুল ফল রামের সুমুখে রেখে বলে “মিতে খা” মুগ্ধ হয়ে ভকতিতে, রাম বলে “দে না মিতে” “মুখে তুলে দে না” বলে মুখ করে হা। বাহ্যজ্ঞান শূন্য হয়ে, কদলীর খােসা লয়ে রামের বদনে তুলে দেয় একে একে ফেলে দেয় যত শাঁস, লক্ষণের মহা হাস প্রেমে মুগ্ধ রাম, খােসা খান মহাসুখে ! সরল চণ্ডালরাজ নাহি কপটতা-লাজ “কেন হাসে নখা ছোঁড়া বল্ দেখি মিতে” আমার ও ছােট ভাই, ওর কোন বুদ্ধি নাই ক্ষতি নাই, দেও মিতে বালকে হাসিতে। সুসভ্য সমাজে বাস, সরলতা করে নাশ ত্যজিয়ে সভ্যতা আমি চলে যাই বন, কেবল কপট জ্বর, সরলতা অতি দূর সরলতা শূন্য কবি হয় কি কখন ? সরল চণ্ডাল ভাল, কপটী ব্রাহ্মণ কাল কোথা সেই সরলতা, কোথায় সে দিন,
বীণা।
১৩১
1. । ।
। ।
সভ্যতার হাওয়া লেগে, সরলতা গেছে ভেগে
কপটতা-কুআশায় (১) ভারত মলিন।
চাহিয়া লক্ষণ পানে,
সংশয় গুহক প্রাণে
খােসা খেতে দিই রামে হইল চৈতন্য
মিত্রতার পরিচয়,
আর কি তেমন হয়
ধন্য রে গুহক, ধন্য সে মিত্রতা ধন্য ।
“ছি ছি সখে! কি করিলে, যত তুমি দিতেছিলে
খেতে ছিলাম অমৃতের সমতুল,
আহা মরি ! চমৎকার, হবে কি রে হবে আর ?
মিত্রমুখ নিরখিয়ে বাহ্যদ্রব্যে ভুল !
ত
(১) কৃআশায়—কি কুয়াশায় অর্থাৎ কুজঝটিকায়।
বীণা।
ভালবাসা।
আমি যারে ভালবাসি, সে যদি রে বাসিত
সুখ-নীরে ধরা তবে, দিবানিশি ভাসিত।
যে সুখী হে যারে দেখে, সেত দেখা পায় না।
তারা দেখে আটপাের, যারা দেখা চায় না।
যে যারে হে বাসে ভাল, সেত তারে বাসে না,
যারে হেরে হরষিত, সেত কই আসে না।
যারে ভাব দিবানিশি, সে ভাবে না একবার,
সে ভাবে অপর, যারে ভাবি হে আমার
সে ভাবে অপর, যারে ভাব হে আপন,
সখ্যতা প্রণয়-সুখ, হায় রে স্বপন।
বীণা।
নারী ও পুরুষ।
যেমন সরসী জলে, •
শশী প্রতিবিম্ব ফলে
শশী গেলে অস্তাচলে, আর ছায়া রয় না,
নারীর তরল মনে,
হেরে যবে দুনয়নে
পতি প্রতিবিম্ব পড়ে, পতি গেলে দেশান্তরে
পতির মূরতি আর,
মনে রবে কি প্রকার
স্থির নহে কোন ছবি চঞ্চল নারী-অন্তরে,
চঞ্চল সরসী জল, সকলি চঞ্চল করে।
পাথর পুরুষ হৃদি খােদিত তাহাতে যদি
ভুলে কভু একবার কোন ছবি হয় রে,
পুরুষ কঠিন প্রাণ,
বলে যতেক অজ্ঞান,
সে ছবি জীবনে আর মুছিবার নয় রে !
১৩৪
বীণা।
নারী।
কোমলা কমলা ঘরে,
কিবা ঘর আলাে করে
যারা ভালবাসা তরে ধরেছে জীবন,
জীবনের সহচরী কি মাধুরী আহা মরি ।
মরুময় এ সংসার, হয় মধুবন।
প্রেমের প্রতিমা নারী, গুণ যার বলিহারী
এমন রমণী যেই নাহি ভালবাসে,
নিতান্ত নীরস প্রাণ,
নদীগর্তে সে পাষাণ
আপনার সুখ সেই আপনিই নাশে।
হাসিমাখা মুখখানি,
প্রেমের কাজল ওই আঁখিপ’রে পরেছে,
সন্তানে লইয়ে কোলে, কিবা মৃদু মৃদু দোলে
সাধে কি রে নারীতরে মহাদেব ম’রেছে ?
মধুমাখা মিষ্ট বাণী
বীণা
একটী। (রহস্য)
একটুছমাে
দেলাে-
(কেবল) একটা চুমাে চাই,
দিয়ে একটা চুমাে
যা লাে ঘুমাে
আর বেশী কায নাই।
একটী চোখে
নে লাে দেখে
(খালি) একটী ঢোকে চাও;
একটী কথা
খা লাে মাথা
(খালি) একটা কথা কও।
একটু হাসি
নয় ত বেশী
(শুধু) একটা হাসি হাস,
সেই কথাটী
খাও মাথাটী
বল “ভালবাস” !
বীণা
উকীলের ছড়া।
বেজেছে এগার আর সেজেছে সকলে,
উকীলের দল যত কাছারীতৈ চলে।
বুকেতে ঘড়ীর চেণ, সেজে সবে ঙ ;
মুখ থেকে ওড়ে ওই চুরােটের ধূয়া।
কাছারীতে কায বড় নাহিক বিশ্রাম,
গাড়ীতে বসিয়ে, তবু গায়ে ঝরে ঘাম।
আড়াই নজীর খুঁজে বড়ই বড়াই
জীবনের সার কায, আইন পড়াই।
আইনে অভিজ্ঞ যেই তার বুদ্ধি আছে,
আর সবে আহাম্মক উকীলের কাছে।
আইনের বিচি পেটে করে গজ গজ,
আরাে কিছু আছে পড়া, খবর কাগজ !
খবর কাগজ হাতে দুই গজ ঝুলে,
না পড়ে পণ্ডিত, শুধু যায় চক্ষু বুলে।
নাহিক সময়, তারের সংবাদ পড়ে
ঘরে গিয়ে বিলিয়ার্ড কিম্বা দাবা ব’ড়ে।
দুলিছে ঘড়ীর চেণ, ঝুলিতেছে চোগা,
কেউ দেখতে মােটা সােটা, কেউ দেখতে লােগা।
!
বীণা।
১৩৭
০
বিদ্যুতের প্রায় গাড়ী ছুটিতেছে ওই,
দুটী মণ বাবু নিজে, দুটী মণ বই।
হারায়েছে কারাে গরু, তুমি হও গরু,
পড়িছ কেতাব খুলে, উচু করে ভুরু।
এমন কিছুই নাই, আইনেতে নাই,
হও আছে, নাও আছে, খালি খোঁজা চাই।
কারাে গেছে মাথা ফেটে, দুই লাঠী খেয়ে,
তাের কেন মাথা ফাটে, ওরে অলপেয়ে ?
কারাে জমী কেউ নেয়, তাের বাপের কি ?
কেউ করেছে খুণ, কারাে কাকা কি কাকী।
কেউ করেছে চুরী, আর কেউ ক'রেছে জাল,
তাের মাথাতে বজ্রাঘাত, হায় রে কপাল !
উল্টে কাগজ, উল্টে মগজ, মরি খেটে খেটে,
উদোর বােঝা বুধাের ঘাড়ে, সত্যি কথা বটে !
চাদির চাক্তির লােভে তাে নেইকো ঘুম চোকে,
জীবনটা যে গেল ব’য়ে, ছাই ভস্ম বােকে !
নজীরেতে এত ভক্তি, কোথা লাগে বেদ,
পেলে নজীর খুজে মনে বড় খেদ !
মনের মত নজীর পেলে স্বর্গ পান হাতে,
ভেবে ভেবে হাড় কালি, ক্ষতি নাইকো তাতে।
প’ড়ে প'ড়ে চক্ষু দুটো দুহাত গ্যাছে বসে
চোকের মাথা খাবেন শিগগির আপনার দোষে।
বীণা।
কি বলেছে কোন গরু, কি বলেছে বীরু
কি লিখেছে হারাণ আর কি লিখেছে হীরু।
কি লিখেছে কোন্ জজ গােবরগণেশ,
মনু এবে হ’ল হনু, পুড়ে গেল দেশ !
উকীলের কাছে স্বর্গ ওই আদালৎ
ভুলেত ভাবে না, “নানা মুনীর নানা মত !”
জজেরা দেবতা নয়, মানুষ ত বটে
তেমনি বিচার যার যত বুদ্ধি ঘটে।
বাজে কথা ছেড়ে দিয়ে, কাজের কথা লেখ
আত্মীয়দের গালি দিতে ভাল করে শেখ।
চেয়ে দেখ যাচ্চে চলে উকীলের দল,
গাড়ী ভেঙ্গে নাহি যায়, অদৃষ্টের বল ?
এদিকে হাকিম চলে, চড়ে বুরুহাম,
আইনের গন্ধ গায়ে, আইনের ঘাম !
ভাবিছে উকীল কেউ দেবে চোকে ধূলাে,
ভাবিছে হাকিম কেউ, কাণে দেবে তুলল।
বহুরূপী যত সব কাছারী হাজির,
আমলা ফয়লা, পেশকার, নায়েব নাজির।
ইংরাজের রাজ্যে তােরা কে দেখিবি রং,
সাধ থাকে যা না দেখে, যাচ্চে কত সং !
রেতেতে দেখেছ নাচ সাহেবের বলে
দিনের নাচনী দেখ উকীলমহলে।
বীণা।
১৩১
।।।।
কেউ নাচে কেউ গায়, মুখে “অল, অল”
কেউ নাড়ে দুই হাত ঠিক যেন কল।
কেউ মারে মুষ্টি জোরে, কাষ্ঠের উপর
ককে মুখ রক্তবর্ণ, এল যেন জ্বর !
কেউ হাসে উচ্চ রবে, হাহা রব তুলে
হাসায় হাকিমে, ভৈবে, যাবে তারা ভুলে।
কেউ বা করুণ স্বরে করিছে রােদন,
জেলে গেছে বুঝি তার প্রাণের-রতন !
কেউ বলে “অ্যাণ্ড”মানে এখানে অথবা,
কোন উকীল বসে আছে, ঠিক যেন বােবা!
কেউ বা দাঁড়ায়ে ওই মাথা মুণ্ড ব’কে,
কেউ দেয় ‘গার্থে’ গালি, কেউ বা ‘পিককে’!
কেউ যায় আল্লাবাদে, কেউ বা মাদ্রাজে,
কেউ বা নির্লজ্জ অতি, মরে যায় লাজে ।
কেউ বা কেতাব খুলে, পড়ে ছত্র ছয়,
অধিক পড়িলে অর্থ হবে বিপর্যয় !
মক্কেলের নাম ছেড়ে, বলে “আমি আমি,”
ভুলেও ভাবে না সে যে “কামিনীর স্বামী।
ব’কে ব’কে শেষে দেয় মকদ্দমা জল
“জজ বেটা বড় গাধা” বলেন কেবল ।
মকদ্দমা হেরে কেউ রাগে গরগর
মক্কেলকে ডেকে বলে “আপিল ত ক”।
১৪০
বীণা।
rant // । । । ।
।।।।।।।
।।।।।
।।।।
“এ জজ জানে না কিছু, জানিস্ নিশ্চিত,
আপিল করিলে তাের, তখনিত জীত।”
উকীলে উকীলে যেই দুজনে সাক্ষাৎ
মকদ্দমার কথা খালি শােন দিনরাত।
নাকে চোকে কথা কয়, মুখে ফোটে খই
যখনি যাইবে, খােলা আইনের বই।
বসে বসে চেরে চুল, খোঁজে খালি ভুল,
পরছিদ্র খুজে মুদ্রা, পেটে ব্যথা শূল !
তিলকে করেত তাল, তালকে করে তিল,
যে না পারে এই কাজ, অকেজো উকীল ।
পচা কে, সাজায় বেশ, বলে খুব জোরে
হারবে হাকিমের মাথা যায় ঘুরে !
নিতান্ত যার শক্ত মাথা সেইত থাকে ঠিক
নইলে পরে জজের আর রয় না দিগ্বিদিক।
সময় বুঝে মুখে বলে “লর্ড, লর্ড, সার”
স্বকাৰ্য্য সাধিতে হেন কেবা আছে আর !
কেউ বা দাড়ায়, আহা! কিবা একে বেঁকে
কেউ বা কহিছে কথা কিবা আহা হেঁকে!
দুই চক্ষু হাকিমের মুখ পানে থাকে,
কখন না ফেরায় আঁখি, চশমা খানি নাকে।
হাকিমের মুখখানি কতই ভাল লাগে
হেরে গেলে মকদ্দমা, তাই এত রাগে !
!
০
বীণা।
১৪১
এ!
সেই চক্ষু রক্তবর্ণ, সাক্ষী পানে চায়
বুদ্ধি শুদ্ধি সাক্ষীদের ভয়ে উড়ে যায়।
সত্যসাক্ষী মিথ্যাবাদী উকীলেরা করে,
এমত ক্ষমতা বল, আর কেবা ধরে ?
হেসে কেঁদে, নেচে গেয়ে, মকদ্দমা জেতে
মক্কেলের কাছে সদা ডান হাত পেতে।
উকীলের কত গুণ, জানি আমি বেশ
কত আর লিখি বল, নাহি হয় শেষ।
এইখানে করি শেষ, উকীল মহাশয়,
সতত কামনা করি, হােক্ তব জয়!
১৪২
বীণা
সুরমার মৃত্যু।
কি শুনিনু হায় !
প্রাণ ফেটে যায়
হায় ! কি দুখ বিবরণ।
কোথা রে সুরমা
সুরমা সুরমা
হায় ! অকাল মরণ !
আধ আধ কিবা বাণী, কোন্ প্রাণে নাহি জানি
হরিলি রে সে বালায়, শমন নিদয় রে !
আহা সে অমিয় স্বরে, শােক দুখ দূর করে
অন্তরে তখনি হয় স্নেহের উদয় রে ।
আছে কি এমন কেহ
নাহি যার হয় স্নেহ
দ্রবীভূত সে যে করে পাষাণ হৃদয় রে,
আয় রে সুরমা আয় !
এ জীবনে আমি হায় !
পাব না দেখিতে আর, বিশ্বাস না হয় রে।
আয় রে সুরমা কোলে
এত ডাকি আমি উত্তর না দাও রে,
তাত আমি বেশ জানি
একান্ত না কথা কও, মুখ তুলে চাও রে,
দুখিনী মায়েরে ছেড়ে, কোথা তুমি যাও রে !
বাবু বলে
তুমি অভিমানী
বীণা।
১৪৩
অভিমান হলে পরে..
কাঁদিতে যে উচ্চৈস্বরে
নাহি দে ক্রন্দন, সব নিস্তব্ধ এখন,
গড়াগড়ি ভূমিপরে, দিতে তুমি রাগ ক'রে
• নিস্পন্দ এখন শুয়ে, কেন রে এমন !
রাগ করে বলিতে যে “আমি মরে যাই”
অভিমানে যা বলিতে করিলে কি তাই ?
বল কোন্ অভিমানে, ত্যজিলে রে তুমি প্রাণে
শােকাকুলা মায়ে, তাের, মায়া কি রে নাই ?
আজ ভুলে গেছ মায়, তুমি ভুলেছ আমায়
ভুলেছ পিতায় আর ভ্রাতা ভগ্নীগণে,
ভুলিব না আমি তােরে, নিদয় শমন, ও রে !
হরিলি রে সে বালায়, হায় কেমনে!
১৪৪
বীণা।
একাকিনী পাগলিনী কঁদে কে?
ওই ভেদিয়া গগন,
কার উঠিছে ক্রন্দন
অঙ্গার অন্তর, জ্বলি নিদারুণ শােকে,
বিদরিয়া দশদিশি,
রজনী তিমিরে মিশি
যায় না কি এই ধ্বনি ওই দেবলােকে ?
নাই কি দেবতা তবে,
অথবা পাষাণ হবে
পায় না শুনিতে বুঝি অত দূর থেকে ?
একাকিনী পাগলিনী কাঁদে কে ?
নাই কি সান্ত্বনা দিতে, কেহ এই পৃথিবীতে
হয় না কি কারাে দয়া এর দুখ দেখে ?
এ জগতে দুখের দুখী আমি কারে নাহি দেখি
এ জগতে দুখের দুখী আছে কে
একাকিনী পাগলিনী কাদে কে ?
on 反正
No text on this page.
বীণা। ১৪৭ শিখনখ। হিন্দী ভাষায় অনেক কবিরা “নখশিখ” অর্থাৎ সুন্দরীর নখ হইতে শীর্ষ অর্থাৎ মস্তক পর্যন্ত ( আপাদ মস্তক কবিতা লিখিয়াছেন। বঙ্গভাষায় এরূপ একখানি কবিতা নাই। আপাদমস্তক বর্ণন থাকিতে পারে, কিন্তু এরূপ একটী বিশেষ কবিতা নাই। সেই অভাব মােচনাৰ্থ ও বঙ্গীয় যুবকদের মনন- রঞ্জনার্থ আমি একটী “নখশিখ” অথবা “শিখনখ” কবিতা রচনা করিলাম। আশা করি, এ কবিতাগী রসিক বঙ্গীয় যুবকদিগের একটা আদরের সামগ্রী হইবে। বঙ্গবধূ বড় মধু সব লােকে বলে মধুতে মিশাব মধু, দেখিবে সকলে। বঙ্গভাখা মধুমাখা, সত্য যদি হয়, সুন্দরী বর্ণনে তবে হবে মম জয়। তুলিতে তুলনা তার, এ লেখনী হারে, কেমনে, সুন্দরি ! তবে ববি তােমারে ? সুন্দরী শরীর, সেই সুধার-আধারে পরুষ পুরুষ কি হে বরণিতে পারে ? ভালবাসা ভরা হৃদি, দেহ মধুময় কঠোর কবির কথা—তাই মনে ভয়। কি কুক্ষণে নাহি জানি, করেছি এ আশা সুন্দরীরে বরণিব, দেখত তামাসা !
১৪৮
বীণা।
২।
১৫।
।।
i
যদি আমি মানি হার, হাসিবে সুন্দরী
সেই হাসি হেরিবারে, কবি যায় মরি।
পুরুষের উপহাস, পারি সহিবারে
সুন্দরীর উপহাস, প্রাণে শেল মারে!
সবে জানে ব্রজ-ভাষা বড় সুমধুর,
কে না জানে, যে পড়েছে অন্ধ কবিসুর (১)।
হিন্দীতে বেঁধেছে কবি “নখশিখ” কত,
নখশিখ লিখিবারে, হয়েছি উদ্যত।
সুন্দরি ! কর গাে দয়া, আমি তব দাস
অবশ্য সফল হব, তুমি যদি হাস!
চিকণ চিকুর চারু, কিবা শােভে শিরে,
কালকেশে কত শােভা, আয় দেখিবি রে !
বিলাতি বিবির কেশ, তামার বরণ
শতেক সুখ্যাতি তার, নাহিক মরণ !
কমনীয় কঁকনিতে চিরে কাল চুলে,
রাশি রাশি কেশগুচ্ছ, উঠে কিবা ফুলে !
চমরী চামর কোথা এর কাছে লাগে,
তাই বুঝি চমীররা বঙ্গে নাহি থাকে !
সিংহের কেশর কোথা লাগে এর কাছে
তাই বুঝি সিংহ সব জঙ্গলেতে আছে।
(১) সুরদাস।
০
বীণা।
১৪৯
andw
ফুলে ফুলে কেশরাশি লহরী খেলায়
কবি মন নিমগন তারি মাঝে হায় !
বিনাইয়া বিনােদিনী বাঁধে যদি কেশ
মরিবে যুবক যত, স্মর রে মহেশ !
বেণী যেন ঠিক ফণী দোলে পৃষ্ঠপরে
দেখি দেখি যুগণ মরে কি না মরে !
মহেশের শিরে সাপ, সকলেই জানে,
সুন্দরীর শিরে সাপ, যুবা প্রাণ হানে !
অবনীর ফণী যদি দংশে কোন নরে,
মালবৈদ্য তার প্রাণ বাঁচাইতে পারে ।
রমণী-মাথার-ফণী দংশে দূরে থেকে
যুবকজীবন যায়, হাহাকার ডেকে।
তাই বুঝি বাঁধ বেণী বঙ্গের যুবতি !
ব’ধ না আপন পতি হও যদি সতী।
কেমনে বাঁচিবে পতি ফুণীর ‘ংশনে ?
অমৃত অধরে আছে ; নাই কি রে মনে ?
আছয়ে ত্রিবেণী দুই, শুনেছি শ্রবণে,
মহাপুণ্য স্নানে হয়, সে পবিত্র স্থানে।
রমণীরা ত্রিবেণীতে যবে স্নান করে,
ত্রিবেণীতে কত বেণী মিশে মন হরে !
কি কায ত্রিবেণী ? যারা শিরে বেণী ধরে
পুরুষ পাগল ওই এক বেণী তরে ।
;
১৫০
বীণা।
বিনাইয়া বিনােদিনী খোঁপা যদি বাঁধে
পুরুষের প্রাণ বাঁধে, কোন্ অপরাধে ?
কবরীর মাঝে মাঝে ফুল কেন গুজে ?
সে ফুলে পুরুষ বুঝি রমণীরে পূজে?
সৰ্বরীতে কবরীর দ্যাখে যুবা শােভা
কি আর মহীতে হেন আছে মনােলােভ ?
বিবরিতে সে শােভায়, কবি মানে হার
যে বুঝেছে সে মজেছে, মরি কি বাহার !
কাল চুলে শাদা ফুল শােভায় অতুল,
স্বর্ণফুল শিরােপরে, ছি, ছি, একি ভুল!
রৌপ্যফুল শিরােপরি বঙ্গনারী পরে,
দেখি সে সুন্দর শােভা যুবজন মরে !
কেন এ কুরুচি ? সাধ সাজিতে কুরূপা,
কাল চুলে সােণা শােভে ? পরা চাই রূপা।
যতই সুলভ সেই ততই অমূল,
সােণা চেয়ে রূপা সস্তা, সব চেয়ে ফুল।
জীবের জীবন ওই জল আর হাওয়া,
বিনামূল্যে এই দুই সদা যায় পাওয়া।
কবরীর মাঝে কেন কাটা বেঁধে নারী
পুরুষে করিতে অন্ধ, এহেন বিচারি।
কত ধাঁজে, কত ভাজে, খোঁপা বাঁধে নারী
খোঁপার মুরতি হেরে, মরেছে মুরারী।
বীণা।
১৫১
M।
কেউ যেন প্রজাপতি, কেউ লতা পাতা
খোঁপা বেঁধে চোপা ধরে, রাগে নাড়ে মাথা।
কেউ বা খোঁপায় ঢাকে মুকুতার জালে,
অকাল মরণ হায় ! যুবার কপালে!
জালেতে জড়িত, আর পালাবে কোথায়
ছট ফট করে যুবা, প্রাণ যায় যায় !
দেখ দেখি চেয়ে সােণার ও কাটা বটে
পুরুষের দেহে কঁাটা, বিষম শঙ্কটে ।
কবরীর পানে চেয়ে কবি হ'ল অন্ধ
কাটা ফুটে চক্ষু গেল, বিধির নির্বন্ধ !
তাই বলি যুবা চেও না কবরীপানে
চক্ষু যাবে, প্রাণ যাবে, কণ্টকের বাণে ।
কুণ্ডলিত ওই ফণী মণ্ডলিত করে
কাটাতে বিধেছে ধনী বধিতে নাগরে !
ছুও না ছুও না ওরে, দংশিবেক ফণী,
কামিনীর কপটতা, তাও কি বােঝ নি ?
বেণী বেঁধে, তারপরে বাঁধিয়াছে
ফুল
ফণীশিরে মণি ওই, ক’রনাকো ভুল।
ছুও না ছুও না ওহে দংশিবেক ফণী,
তখনি মরিবে, ও যে ফণীশিরে মণি।
রমণীরা সিতা কাটে সুন্দর কেমন
সুন্দর সিন্দুর বিন্দু , কিবা সুশােভন !
১৫২
বীণা।
f gaan ।।
• • • • • • •
৭. an ।
সি দেখে পড়ে মনে, ওই ছায়াপথ,
মুকুতার জাল শােভে, তারকার মত !
কারাে কারাে কোঁকড়া চুল সুন্দর কেমন
তাতে আর খোঁপা বাঁধা নাই প্রয়ােজন।
কেঁকড়া কোঁকড়া কেশ, আঁখি দুটী বাঁকা
কবি হ’ত চিত্রকর, তবে যেত আঁকা !
চারুচিত্র নাহি আঁকে, আঁকেত আঁখর
আঁখরে কি যায় আঁকা, ওরূপ সুন্দর ?
কালির আঁখরে কেবা পারে আঁকিবারে
মানিলাম হার আমি, বলি বারে বারে !
করিবে ত উপহাস, তবু ত হাসিবে
আমার মনের তমঃ তাইতে নাশিবে ।
সেই হাসি হৃদি ভরা, আবার লিখিব
এইবার পারি কি না দেখিব দেখিব !
সমতল সুললাট, তিববৎ দেশ
মানসসরসী নীচে, শােভায় অশেষ !
মানসরােবর এক, তিব্বতেতে আছে
মানস সরসী দুটী, ললাটের নীচে।
কোথা ব্ৰহ্মপুত্ৰনদ, কোথা হিমাচল,
হিমাচল আছে ঢাকা, উঠাও আঁচল ।
ব্ৰহ্মপুত্ৰনদ আমি দেখিতে না পাই,
সমােবরে হাবুডুবু কেবলি ত খাই।
বীণা।
সুন্দরী ললাটে বিধি সুখ লিখে নাই,
ললাট ত্যজিয়া আমি অন্য স্থানে যাই।
এইবার দেখিলাম ওই দুটী আঁখি রে
কবির সুখের আর রহিল কি বাকি রে!
আঁখি সরােবরে আমি হব নিমগন
ডুবিয়া মরিব, সেত সুখেরি মরণ !
মানসসরস কিম্বা হয় সীতাকুণ্ড
কভু বারিভরা, কভু অশনি প্রচণ্ড !
সরােবর নয় এত, হবে বা সমুদ্র
ওই উঠে হলাহল, নাহি হেথা রুদ্র !
ওই উঠে সুধারাশি, কোপা দেবগণ,
চরিতার্থ হ’ল হেরে নরের নয়ন।
উথলিয়া পড়ে বারি, বয় বুঝি নদী,
আদি অন্ত নাহি পাই, খুজি নিরবধি !
চমকে কভু বা আলাে বিদ্যুতের প্রায়
যুবক মরিবে জ্বলে কে বাঁচাবে হায় !
দেব দেব মহাদেব হিমাচলে থাকে,
দেখি যদি দয়া করে যুবা প্রাণ রাখে।
সুন্দরী ত হিমাচল রেখেছে ঢাকিয়া
মিছে তবে মহাদেবে কি হবে ডাকিয়া ?
সুন্দরী ধ’রেছে বুঝি তাই রতি বেশ
মদনে বাঁচায়ে তাই ঢেকেছে মহেশ !
১৫৪
বীণা।
৫
উঠে ছিল সুধা, কে মথিল এ সাগরে ?
অধরে ধরিল সুধা কতই আদরে ।
অক্ষয় ভাণ্ডার এত তাই ভরা সুধা।
যত কর পান আরাে তত বাড়ে ক্ষুধা।
কে বলে খাইলে সুধা, ক্ষুধা নাহি রয় ?
সুধা খেলে ক্ষুধা বাড়ে কলিতে নিশ্চয়।
তবু ত আঁখির সুধা হয় নাই শেষ
সাগরের সব বিষ খাই নি মহেশ।
আঁখিতে অধরে যােগ অবশ্যই আছে
হাসিলে অধর, তাই আঁখি দুটী নাচে !
অথবা গগন-তারা পড়েছে খসিয়া
সুন্দরী ললাট-নীচে, রয়েছে বসিয়া।
তাই বুঝি মাঝে মাঝে তারা পড়ে খসে
হাল্কা লােকে উল্কা বলে মুখতার দোষে !
সুন্দরীর জকুটীকে দেখে লাগে ভয়,
সুন্দরী বর্ণনে ভুল হয়েছে নিশ্চয়।
কুটীর ভয়ে আমি ছেড়েছিনু ভুরু
ভাবিলে সে রঙ্গ, মাের হিয়া দুরু দুরু।
কেউ বলে কামধনু ওই ভুরু যুগ্ম,
যত দেখ কবিগণ, সকলেই অজ্ঞ।
উপরে তিববৎ আর নীচে হিমাচল
তার মাঝে দেখ ওই দুধারি জঙ্গল !
বীণা।
কেমনে ভুলিব আমি ওই দুটী তাঁখিরে
হৃদয়েতে আছে আঁকা, জ্বলে থাকি থাকি রে।
নিদ্রিতা সুন্দরী পানে দেখেছে যে যুবা
সেই জানে নয়নের মুদিলে কি শােভা!
নয়নের পাতাগুলি কেমন কোমল
আমরি মসৃণ কিবা যেন মখমল !
পাতার ভিতর লাল যেন রক্তজবা
পূজিতে পার্বতীপদ ধরিয়াছে শােভা।
আঁখির ভিতরে কেন ভ্রমর বসিয়া ?
নয়ন-কমল সাধে বলে কি রসিয়া ?
সুন্দরী নয়ন পানে চাহিতে ডরাই
কি জানি কি অকারণে পরাণ হারাই।
বিজুলির আভা বুঝি দগ্ধ করে হিয়া
কোন্ বাণে প্রাণ হানে দেখ না চাহিয়া ?
সুন্দরীর পানে চাও, তাতে ক্ষতি নাই
কামিনী-কটাক্ষে কিন্তু পুড়ে হবে ছাই।
চেও না সুন্দরি ! তুমি অভাগার পানে
সামান্য নরেরে কেন মার মৃত্যু-বাণে ?
আমি ত রাবণ নই, না হই রাক্ষস
ভীরু অতি কাপুরুষ, নাহিক সাহস !
ব্যঙ্গ কবি আঁকি ছবি তােমারি ত দাস
আর কিছু নাহি চাই, চাঁদমুখে হাস!
M
বীণা।
কেবলি জাগিছে মনে ওই দুটী আঁখিরে
মিটিল না মনসাধ, আর কিবা বাকি রে !
নাহি দেখি কোন কবি এই অবনীতে,
আঁখির তুলনা কেহ পারিয়াছে দিতে?
ভাল করে আঁখি বুঝি কেউ দ্যাখে নাই
আঁখি পানে চেয়ে অন্ধ, হবে বুঝি তাই।
বিদ্যুতের আঁচে অন্ধ হইতেই পারে
এই ত সম্ভব, তবে দোষ দিই কারে ?
আঁখি দেখি আমি অন্ধ, হায় কি হইল?
“নখশিখ” লেখা তবে এখানে রহিল ।
সুন্দরীর দোষে তবে আমি হই অন্ধ
সুন্দরী দূষিবে মােরে, বিধির নির্বিন্ধ !
আঁখির বর্ণনা আমি করিয়াছি কত
একটীও নাহি হ’লহায় ! মনােমত !
অক্ষিশাস্ত্র শুনিয়াছি পড়ে থাকে লােকে
জাজ্জ্বল্যজীবিত আঁখি দেখে নাই চোকে!
মাথা চিরে মরা চোক, দেখে থাকে কঁচে
কামিনীর আঁখি দেখে কেউ কি রে বাঁচে?
অথবা পুরুষ-চক্ষু করেছে পরীক্ষা
দেখিত রমণী আঁখি, হ’ত পূর্ণ শিক্ষা !
আঁখি ছেড়ে যাব আমি, আঁখি ছাড়ে কই ?
আঁখি-সরােবরে আমি সদা ডুবে রই।
বীণা।
১৫৭
২১।
অথবা পুড়িয়া মরি, আঁখির আগুনে
ভস্ম হই, বেঁচে রই, না জানি কি গুণে?
আঁখিতে কজ্জ্বল রেখা কেন পরে নারী ?
পুরুষের হৃদিভস্ম, এ হেন বিচারি।
জ্বল জ্বল ঢল ঢল আঁখি কিবা বলে রে
“জ্বল জ্বল যত যুবাপুরুষ সকলে রে” !
চল চল চঞ্চল চোকে কিবা কয় রে ?
সে কথা বুঝিতে পারে, কারাে সাধ্য নয় রে !
ছল ছল জল জল কেন বারি বয় রে ?
ছলনা ছলনা শুধু আর কিছু নয় রে।
পল পল পড়ে পাতা, তাতে কিবা ফল রে ?
“ভালবাসা কি তামাসা” বলে ত কেবল রে !
ভাসা ভাসা কিবা ভাষা ওই আঁখি ভাষে রে ?
মাঝে মাঝে কেন আঁখি মিঠি মিঠি হাসে রে ?
হেসে হেসে যবে আঁখি কারাে পানে চায় রে,
সর্বস্ব তাহার যায়, হয় বড় দায় রে।
হেসে হেসে কেন ওই আঁখি দুটা নাচে রে ?
সর্বস্ব হারায়ে হরি ওই হাসি যাচে রে !
ওই হাসি হেরে হরি হইল ভিখারী
পাগল করিল তারে হেসে ব্রজনারী।
সাধে কিগাে কানু খেত ননী ভিক্ষা করি
সাধে কি রে অন্নপূর্ণা হন্ মহেশ্বরী ?
১৫৮
বীণা।
ওই আঁখি দেখি শিব হইল পাগল
ও আঁখি দেখিলে হয় ভিক্ষাই সম্বল।
ওরে আঁখি তােরে আমি দেখিব না আর
সর্বস্ব হারায়ে মিছে বহি দেহ ভার।
কেমন দেখাত নারী, না রহিত নাসা ?
ব্যাকরণ শূন্য যেন সংস্কৃত ভাষা
মুখের পরম শােভা, গন্ধের আঘ্রাণ
সুগন্ধ সামগ্রী যত, নাসাতে প্রমাণ।
সুমুখীর সুমুখেতে নাকেতে নলক
এই ত রে স্বর্গধাম, নরের গােলক।
কে বলে উহারে মুক্তা ? পুরুষের মুক্তি
মানুষ হােয়েছি মিছে, না হইয়ে শুক্তি!
মৃদু মৃদু আহা! কিবা নােলকটী দোলে
ভাসিয়ে পরম সুখে হরষ-হিল্লোলে !
চুমে চুমে চাঁদমুখ চমক বেড়েছে
কত রসিকের মন নােলক কেড়েছে !
পুলকে পূরিত অঙ্গ, মােলক নিরখি,
হের হে নলকরঙ্গ থাকে যদি আঁখি !
নাসিকার কি বাহার, রসিকেই জানে
সাধ হয় কবি দোলে নােলকের স্থানে।
নােলকে আলােকি মুখ, হারায় দ্যুলােক
চেও না মােলক পানে ঝলসিবে চোক।
বীণা।
সর্পের সদৃশ জিহ্বা আনন ভিতর
সুধামাখা বটে সদা, নয় সুধাকর।
সুখ দুখ মানবের জীবনের খেলা
অপরূপ নারী রূপ সুধাবিষে মেলা।
সুধা বিযে দুয়ে মিশে নারীর জিহ্বায়
সুধা বিষ অহনীশ নয়নেতে হায় !
অমর করিতে পারে, পারে বধিবারে
শক্তিরূপা তাই বলি, সুন্দর সবারে।
ছােট ছােট দাতগুলি কি শ্বেত আভা
হাসে নারী খসে ফুল, কিবা মনােলােভা।
হাসিলে দাঁতগুলি দেখা নাহি যায়,
রসিক তাহারে বলি সুন্দরী হাসায়।
সুধামাখা ওষ্ঠাধরে কবি বেশ জানে
সাধ হয় সদা রয় কৰি সেই স্থানে।
সুধার আধার ওই অবলা অধর
সেই সুধাপানে নর হয়ত অমর।
অমর হইয়া যুবা পরে (কন মরে ?
সুধার অধিক বিষে যায় তনু জ’রে ।
নীলকণ্ঠ খেয়ে বিষ, কেমনে বাঁচিল ?
পার্বতী অধর সুধা সেই কণ্ঠে ছিল।
শিবের সুখ্যাতি কিসে বাঁচাইল শক্তি
শক্তিরূপা সুন্দরীরে কর সবে ভক্তি!
বীণা।
।।।।।
{
অধর ত্যজিয়া কবি চলিতে না চায়
সুন্দরী বৰ্ণন তবে, হ’ল দেখি দায় !
অধরে মিশিয়া রব, মনে বড় সাধ
সুন্দরী বদন ত্যজি, গণি পরমাদ !
কে চায় ত্যজিতে, ওই সুধার ভাণ্ডার।
শিখনখ লেখা তবে, হ’ল দেখি ভার।
সুন্দরী বদন ত্যজি, যেতে নাহি পারি ;
অমরত্ব এইখানে, বাকিত অসারি ।
সুন্দরীর মুখ ত্যজি পাব অতি দুখ,
কবিতা লিখিয়া মাের হবে কিবা সুখ?
ক্ষমা কর বামাগণ, ক্ষম যুবজন
রমণীর মুখ ছেড়ে যাব না কখন।
কবিশ্রেষ্ঠ কালিদাস হারাইল প্রাণ,
বীণাপাণি মুখখানি প্রথমে বাখান।
না বুঝিয়া বীণাপাণি, কোপে দেন শাপ,
বেশ্যাহস্তে প্রাণ নষ্ট, অহাে পরিতাপ।
মরিয়ে ত আছি আমি, হেরিয়ে নয়ন
আর কি মরিতে বাকি ? জীবনে মরণ !
মরার উপরে যদি কর খড়গাঘাত,
সুখের মরণ ! সেত সুন্দরীর হাত।
সুন্দরী করিলে দয়া, হইব অমর,
সুন্দরীর হাতে মরি, মাগি এই বর !
বীণা।
WW
।।।।।
।।। । । ।
পদ্মপর্ণ দুই কর্ণ কিবা দুই পাশে
বদনকমল কিবা মাঝেতে বিকাশে।
কপােলের পানে চেয়ে কবি ত আকুল,
• যশ মান সবি গেল, যায় বুঝি কুল।
নর-চকোর ওই চাদপানে চায়,
চাঁদ কি ভুলিয়া কভু চকোরে সুধায় ?
গালি দিয়ে রাগে তাই বলে ওরে গাল,
কাকের যেমন দুখ দেখি পাকা তাল।
কামিনী কপােল উষ্ণ, শীতল ত নয়,
চ্যাপ্টা চাকা চঁাদ সনে তুলনা কি হয় ?
সুন্দরীবদনে দে কি আছে সমতা ?
সুন্দরী বদন বর্ণি নাহিক ক্ষমতা।
কমল ত ভাসে জলে, কিছুই বলে না
এ বদনে কত ভাব, কতই ছলনা ।
সুন্দরী বদন হয় স্থলপদ্ম সম
কভু শ্বেত, কভু রক্ত, কিবা মনােরম ।
স্বাভাবিক শ্বেতবর্ণ যুবা মন হরে,
চুম্বিলে চমক বাড়ে, রক্তবর্ণ ধরে
দুই দিকে ভুরু আর মাঝে কাল টীপ,
দুই দিকে জ্বলে দুই স্ফটিক প্রদীপ।
চিবুকেতে কর দিয়ে, আদর নারীরে
সুন্দরী যে কত সুখী, বলিতে কি পারি রে ।
।
১১
১২
বীণা।
৮।
চিবুক উপরে নারী কেন তিল পরে ?
সােহাগের কত সাধ, ভুলাতে নাগরে !
সুন্দরীর সুবদন, পুরুষের স্বর্গ
দেখে দুখ হয় দূর, চুম্বে চতুৰ্বর্গ!
প্রেমের প্রতিমা তুমি রমণী রতন
আমি কি করিতে পারি, ও মুখ বর্ণন।
চিরজীবী হবে কবি, হও গাে প্রসন্ন
হাসি মুখখানি দেখে, যাই স্থানে অন্য ।
কি বাহার তারাহার, গলে মতিমালা,
তার মাঝে চারুচিক পরে বঙ্গবালা !
চাদের নীচেতে বুঝি তারকার সারি
কি দিব তুলনা তব, ওলাে বঙ্গনারি !
ঘুরে ঘুরে মুখপানে ভ্রমিছে ভ্রমর
সুধাপান করিবারে হেরিছে অধর।
চক্ চক্ ঝক ঝক চারিদিকে জ্বলে
পুরুষপতঙ্গ বুঝি অঙ্গ দেয় ঢেলে।
সাধে কি পতঙ্গ পুড়ে আগুণেতে মরে,
ভালবাসা কি তামাসা ? মূখে মনে করে।
সত্য যেই ভালবাসে, সেই যায় পুড়ে
প্রেমমুগ্ধ হয়ে দগ্ধ ছাই হয়ে উড়ে !
কামিনীর বক্ষ করি লক্ষ্য এইবার,
পাগল হইল কবি বাঁচিবে কি আর?
বীণা।
। •
raa
দুই গিরি বক্ষোপরি, ভাবে কবি মনে,
সুন্দরী শরীরে গিরি উঠিল কেমনে ?
ধরাধর বুকে ধরে শুধু এই ধরা
ধরাধর হাতে দিয়ে নাহি যায় ধরা।
রমণীত ধরে বটে সন্তান উদরে
রমণী ধরণী নাম কেন নাহি ধরে ?
ধরাধর হৃদে ধরে, ধন্য রে শকতি !
কে বলে অবলা, এত সাক্ষাৎ শকতি !
এই স্তনে হয় সব সন্তান পালন
বুঝিতে পারি না কিসে লাজের কারণ?
পবিত্র কবির চিত্ত বুঝিতে না পারে
কাপুরুষ কুপুরুষ লজ্জা বলে কারে ?
কেমনে বলিব আমি এরে হিমাচল
হাত দিলে যায় জ্বলে, যুবক বিকল ।
অধিক শীতল দ্রব্যে জ্বলে যায় অঙ্গ
তবেত যথার্থ ইহা কাঞ্চনের সৃঙ্গ।
কাঞ্চনের সৃঙ্গ আর ঐ ধবলগিরি,
গায়ে থাকে বল, তবে উঠ ধরি ধরি ।
মৰ্ম্মর নিম্মিত নয়, অথচ মসৃণ •
সুকোমল মখমল, পয়ােধর পীন!
১৬৪
বীণা।
© ।।
। । । । ।
।।
।
মসীরা বলে গাে এ যে মসজীদ গম্বুজ
কোন কোন কবি বলে এ দুটী অম্বুজ।
হিন্দীকবি কেউ বলে কনক কটোরী
তা হলে কি দেখিতাম ! এত যেত চুরী! •
কেউ বা দাড়িম্ব আর কেউ বলে বেল
কেউ বলে দুটী গেঁদ কর নিয়ে খেল।
দাড়িম্ব হইবে যদি, তবেত বেদানা
দানা-কই দেখি নাই, কিম্বা আমি কাণা !
বিফল এই দুটী হইলেও পারে
কামিনীর গায়ে কাঁটা উঠে বারে বারে ।
স্থলপদ্ম এই দুটী মুখপদ্ম নীচে
মৃণাল ঐ মেরুদণ্ড আছে নারী পিছে।
মাটীর এ দেহ মাঝে স্থলপদ্ম ফুটে
হায়! হায়! পুরুষের মন প্রাণ লুটে !
কেউ বলে দুটী শম্ভু, ছি! ছি! তা কি হয় ?
মহাদেব মহেশ্বর, দুই কভু নয় !
কেউ বলে দুটী পাখী ওরা চক চকী
মিছে সব কবিগণ করে বকাবকি !
চকা চকী হত যদি, যেত এরা উড়ে
থাকিত না চিরদিন, বুক খানি জুড়ে।
“নানা মুনি নানা মত” সকলেই জানে
যত কবি তত ভাব, উঠে কবি প্রাণে।
বীণা।
১৬৫
। ।
।
*******
।
!
ভাবেতে বিভাের আমি ভেবে নাহি পাই,
আমি বলি এ কুচের তুলনা ত নাই।
সত্য কথা বলিলাম, ভাল নাহি লাগে ।
এই স্থান ছাড়ি তবে, চলে যাও আগে!
কুচের উপরে যদি শােভে মতিমালা
কুচগলে দুয়ে মিলে করে দেহ আলা।
গলে চিক চিক্ চিক, মতি ঝ ঝ
উপরেতে আঁখি দুটী করে ঢল ঢল। •
কুচোপরি মুক্তামালা গঙ্গা হিমালয়,
পৃষ্ঠোপরি দোলে বেণী যমুনার প্রায়।
গঙ্গা যমুনায় মিল এখানে ত নাই !
এ দেহে প্রয়াগ কোথা খুজিয়ে না পাই।
এই বার চেয়ে দেখ বাহু দুখানি।
কেন পরে বাজু বালা আজু না জানি।
হেরি করে, মন করে, প্রাণ দিই কর
সঁপি প্রাণ তব করে, ধর বালা ধর !
সাধে কি পুরুষ ওই হাতনাড়া সয় !
হেরি হয় অনুরাগ, রাগ কি হে হয় ?
হাতের তুলনা দিতে, কোথা আমি যাই,
গােঠে গােঠে মাঠে মাঠে ফিরেছে কানাই।
নারীর হাতের ননী খেত কানু চেয়ে
হাতে হাতে দিত ননী গােপিনীর মেয়ে।
বীণা।
।
***
কানুকে লম্পট বলে, কপট অজ্ঞান,
প্রেম অবতার ছিল বৃন্দাবন কান।
হাসাত গােপিনী সেই, ভাসাত হরষে
পবিত্র প্রেমের আহা! পবিত্র পরশে !
হেরিত সুন্দরী-হাসি, সুন্দরীর রূপ
সদানন্দ ছিল কৃষ্ণ প্রেমের স্বরূপ !
ফণীর দংশনে কবি হয়ে জর জর
প্রবেশে প্রথমে ওই আঁখি সরােবর।
আঁখি-সরােবরে ডুবে, শীতে দেহ কম্প,
পর্বত উপরে পড়ে দিয়ে এক লক্ষ।
অধর অমৃত পানে হইল সবল,
নতুবা সে দিকে লক্ষ কেমনে হে বল ?
উৰ্দ্ধ হতে দেখে নিয়ে নাভিসরােবর
চঞ্চল কবির চিত, নয় স্থিরতর !
এই সরােবরে কবি দিবে বুঝি ঝাঁপ
পর্বত হইতে লক্ষ, প্রাণভয়ে কঁপ !
ডুবিল গভীর জলে, উঠিবে কি আর ?
এ রূপ-সাগরে পারে কে দিতে সাঁতার ?
কভু পুড়ে মরে, আর কভু ডুবে যায়
নিঠুর সুন্দরি ! কিগাে বাঁচাবি না তায়?
ম’রেছে কি বেঁচে আছে সুন্দরীই জানে
জীত থাকা চেয়ে, মরা ভাল প্রাণে।
বীণা।
১৬৭
০১।
ওদিকে পৃষ্ঠের শােভা দৃষ্টি করি দূরে
পলাইয়া গেল কূৰ্ম্ম নম্মদার নীরে !
এই বারে বরণিব নিতম্ব দুখানি,
কি করে তুলনা দিব কিছুই না জানি।
পামর পুরুষ পারে বর্ণিতে কোমর
হরিণীর প্রায় ক্ষীণ মুষ্টির ভিতর।
কোমরের চন্দ্রহার, আর গলে চি
দেখি আর না রহিল, কারাে দিগ্বিদিক।
চৈতন্য হারায়ে কবি চারি দিকে চায়,
জঙ্ঘাপরি তবে তার আঁখি দুটা ধায় !
সরস কদলীদণ্ড, নাহি কিন্তু পাতা
কি দিয়ে গড়িলি তারে, কেমনে বিধাতা ?
কদলীর ফল ওই দেখি কলা দশ
অঙ্গুলী দিয়াছে নাম নিপট নীরস ।
অঙ্গুলীর কোণে দেখ সুন্দর নখর
বরণিতে যার শােভা, না দেখি শাঁখর।
অলক্তক-আলােকিত পদ্মিনার পদ
গুঞ্জরিছে কত অলি আহা! গদ গদ।
নখরে নক্ষত্র আলাে ছুটিতেছে ওই
রমণীর রূপ হেরে কবি আর কই ?
হের হের হে মূরতি কিবা মনােহর
কে আঁকিবে এ আলেখ্য ? কোথা চিত্রকর ।
১৬
বীণা।
৬। । । ।
শিখনখ লিখিলাম কবিতা রসাল
ভরসা কবির, ভাবুকে লাগিবে ভাল।
কামিনীর করে করি কবিতা উৎসর্গ,
সুন্দরী বাসিলে ভাল, হাতে পাব স্বর্গ
সম্পূর্ণ
উপসংহার উপসংহারে এই মাত্র বক্তব্য যে, যিনি যে ভাষায় কবিতা লিখুন না কেন, তাহাকে দেশীয় ধৰ্ম্মসংক্রান্ত বিষয় অবশ্যই লিখিতে হইবে। বিশেষতঃ হিন্দুদের ধর্মছাড়া কোন বিষয় নাই। হিন্দুদের আহার, বিহার, শয়ন, জন্ম মৃত্যু সকলি ধৰ্ম্মসংশ্লিষ্ট। অতএব হিন্দুকবিকে ধর্মসংক্রান্ত বিষয় লিখিতেই হইবে। যে কবি স্বদেশীয় ধর্মসংক্রান্ত বিষয়, তাহার কবিতা হইতে দূর করিয়া দিবেন, তিনি প্রকৃত কবি পদবীর উপযুক্ত নহেন। দেশীয় ধৰ্ম্মে, জাতীয় ধৰ্ম্মে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস না থাকিলেও, প্রকৃত কবিকে সে বিষয়ে কবিতা লিখিতে হইবে। হিন্দুকবির, কৃষ্ণ ও রাম, শিব ও কালীকে তাঁহার কবিতা হইতে তাড়াইয়া দিলে চলিবে না। ধর্মহীন কবিতা স্বদেশীয় লােকের, কাহারও হৃদয়- গ্রাহী হয় না। ইতি ৫ই ফেব্রুয়ারী, ১৮৯৯। শ্রীহরিদাস ঘােষ উকীল । হােসঙ্গাবাদ-মধ্যপ্রদেশ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.