Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sitar Swayanbar
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
তুলসী রামায়ণে
সীতার স্বয়ংবর
(মূল ও পদ্যানুবাদ)
রামনাম-কল্পতরু কলিযুগ-কল্যাণ-নিবাস।
স্মরিয়া যা ভাগ্যগুণে তুঙ্গী সে-শ্রীতুলসীদাস।
শ্রীপান্নালাল দে
প্রকাশক
গােপীবল্লভ গাঙ্গুলী
৬৯এ, মনসাতল।
খিদিরপুর ।
শ্রীরাম-ভকতিরূপী গঙ্গায বাইয়া।
কবিতা-সরযু শােভে সুন্দর মিলিয়া।
সীতা-স্বয়ংবর-কথা অতি মনােহর ।
তাহ। এই সরিতের সৌন্দর্য সুন্দর ।
২১নং সার্কলার গার্ডন রিচ রােড
খিদিরপুর, কলিকাতা
খিদিবপুর প্রেস’ হইতে অসুবালক চন্দ্র দে
দ্বারা মুহিত।
ম্য আট আনা মাত্র
পাছার্ঘ্য
‘সী-তারাম' নাম যার—মন্ত্রদাতা ঋষি,
তাপস,—হে চিত্ত-তমহারী বরণীয়,
রামায়ণ-প্রিয়-গীতাগত অহর্নিশি,
ম-ম গুরুদেব!
নমঃ চিরস্মরণীয়।
হে ‘বেদান্তরত্ন’ প্রভু, হে বৈষ্ণবরাজ !
তুলসীর তুলসীপত্রে তব অর্ঘ্য আজ।
গ্রন্থকারের অন্যান্য পুস্তক
সিংহগড় (ঐতিহাসিক উপন্যাস)
s
১০
পঞ্চতিক্ত ( প্রবন্ধাবলী)
t
মা হওয়ার আগে ও পরে ( মাতৃত্ব বিষয়ক )
(২য় সংস্করণ)
গীতার ভাষ্যত্রয় ( যন্ত্রস্থ )
অগ্ৰলেখ “মঙ্গল করণি কলিমল হরণি তুলসী-কথা বঘুনাথকী” প্রায় ৩৬০ বৎসর পূর্বে শ্রীরামজানকীর পরমভক্ত গোস্বামীপ্রবর তুলসীদাসজী যে রামায়ণ রচনা করিয়া গিয়াছেন তাহা আজ ভারতবর্ষের যতলােক পাঠ ও শ্রবণ করে তত আর অন্য কোনও গ্রন্থ নহে; এমন কি গীতাও নহে—কারণ গীতা পড়ে ও শুনে শিক্ষিতে, কিন্তু তুলসী রামায়ণ পড়ে অশিক্ষিতে-ও এবং শুনে সৰ্বসাধারণে ও সমগ্র দেশে-কোনও একটি মাত্র প্রদেশে নহে। তুলসী রামায়ণ ছােট বড় কত আকার ও প্রকারের যে ছাপা হইয়াছে তাহার ইয়ত্তা নাই-আর চারি টাকা দামের একখানি পুস্তকের ৭টি সংস্করণ হইয়া গিয়াছে ও প্রায় লক্ষাধিক পুস্তক বিক্রয় হইয়া গিয়াছে। কমদামী পুস্তক ছাপা হয় অসংখ্য। গ্রন্থখানি নিজের অতুল গুণেই এই অসাধারণ প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে, অধিকন্তু দেবনাগরী অক্ষরে লিখিত বলিয়া ইহার সার্বজনীনত্ব লাভের সুবিধা হইয়াছে—যে সুবিধা প্রায় সাড়ে চারশত বৎসর পূর্বে লিখিত কৃত্তিবাসী রামায়ণ পায় নাই-পাইলে কি হইত বলা যায় না। অধুনা হিন্দী রাষ্ট্রভাষার আসন দাবী করায় ও কতকটা দখল করায় উক্ত ভাষাব সহিত তুলসী রামায়ণেরও গৌরব ও চাহিদা বাড়িয়া গিয়াছে। বঙ্গভাষাভাষীগণ এই জনপ্রিয় গ্রন্থ পাঠে ও ইহার রসাস্বাদনে বঞ্চিত থাকা উচিত নহে। তাহাদের সাহচর্য্যের জন্যই তুলসী রামায়ণের শ্রেষ্ঠাংশের—“সীতার স্বয়ংবর”এর প্রকৃত ভাষানুগ কবিতানুবাদ করা হইয়াছে। উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইলেই লেখক ধন্য হইবে-ও এই কাৰ্য্যে অগ্রসর হইতে উৎসাহিত হইবে। খিদিরপুর কলিকাতা, ১লা আষাঢ়, ১৩৪৩ শ্রীপান্নালাল দে সূচীপত্র জনকপুর যাত্রা ৮০০ ০ ০ ০ ৮ ০ ৭ জনৰুপুর দর্শন শুভদৃষ্টি সীতার বরপ্রাপ্তি + ০ ৪০০ ০ ০ २१ ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রত্যাবর্তন যজ্ঞস্থলে রামসীতা D ০ ০ • ৪• সীতার স্বয়ংবর ০ ০ ০ ০ ০০ অযযাধ্যায় নিমন্ত্রণ ৫৮ . বরযাত্রা ••• . . . শুভবিবাহ ••• বরবিদায় ১৮ অযযাধ্যায় আগমন ••• ১৮ সীতাৱকংবর জনকপুর যাত্রা रिन्नौ চলে রাম লছিমন মুনি সঙ্গ।। চলে রাম লক্ষ্মণ সঙ্গেতে মুনি। গয়ে জহ জগপাবনি গঙ্গা ৷ যান যথা বিশ্বপাবনী সুরধুনী। গাধিসূৰু সৰ কথা শুনাঙ্গ। বিশ্বামিত্র সব কথা কহি শুনাইল। জেহি প্রকার সুরসরি মহি অঙ্গ। যেমনে সুরেশ্বরী মহীতে আইল । তৰ প্ৰভূ রিযিন সমেত নায়ে। তবে প্রভু ঋষিগণ সঙ্গে করে স্নান । বিবিধ দান মহিদেবন পায়ে । ব্রাহ্মণের পাইলেন নানাবিধ দান ॥ হরষি চলে মুনি-বৃন্দ-সহায়।। হরষি চলেন মুনিবৃন্দ সহিত। বেগি বিদেহ নগর নিয়রায়া । বিদেহ নগর-প্রান্তে দ্রুত উপনীত। পুররম্যতা রাম জৰ দেখী। পুরােশোেভ রাম যবে করে নিরীক্ষণ। হরষে অনুজ সমেত বিশেখী ॥ বিশেষ হর্ষিত হন সমেত লক্ষ্মণ । বাপী কূপ সরিত সর নানা। দীদি, কূপ, সরােবর সরিত নিচয়। সলিল সুধাসম মণিসােপানা। সলিল অমৃতসম পৈঠা মণিময় । গুঞ্জত মঞ্জু মত্ত রস ভৃঙ্গা। গুঞ্জরে সুমধুর রসমত্ত সৃঙ্গ। কূজত কল ৰহুবরণ বিহঙ্গা ॥ কল কূজন করে বিচিত্র বিহঙ্গ। বরণ বরণ বিকশে জলজাল। বিবিধ বরণযুত কমল বিশে। ত্রিবিধ সমীর সদা সুখদাতা। স্নিগ্ধ-মৃদু-মধু বায়ু সদা চিত্ত রসে। সুমনৰাটিকা ৰাগ ৰন, ফুলবাটী বন উপবন, বিপুল ৰিহঙ্গনিবাস। বহুল বিহঙ্গ-নিবাস । ফুলত ফলত সুপল্লবিত, ফুল ফলযুত পল্লবিত, সােহত পুর চন্দ্র পাশ। শােভিছে নগর চারিপাশ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাদল ৰনৈ ন বরণত নগরনিকা জই। জাই মন তহঁ লুভাঈ । চাৰু ৰজার বিচিত্র অবারী । মণিময় ৰিধি জনু স্বর সর্বারী। নগর নিকেতন বর্ণন না যায় । চিত্ত যথায় যায় প্রলুব্ধ তথায়। চারু হট্ট মণিময় বিচিত্র দালান। যেন বিধি নিজকরে করিল নির্মাণ। ধনিক ৰণিক ৰর ধনদ সমানা। ৰৈঠে সকল বস্তুলে নানা। চৌহট সুন্দর গলী সুহাঈ। সন্তত রহহি সুগন্ধ সি চাই । ধনিক বণিকবর কুবের সমান। বসেছে সকলে বস্তু লইয়া নানান্ । চৌপথ সুন্দর আর গলি সুশােভিত। সততই রহে যাহা সুগন্ধি-সিঞ্চিত। মঙ্গলময় মন্দির সৰ কেরে । চিত্রিত জনু রতিনাথ চিতেরে । পুর নর নারী সুভগ শুচি সন্তা। ধরমশীল জ্ঞানী গুণবন্ত। সুমঙ্গলময় সেথা সবার ভবন। চিত্রিত যেন সব চিত্ৰিল মদন । পুর নরনারী সুশ্রী, শুচি, শান্তিযুত। ধৰ্ম্মশীল, জ্ঞানী সবে আর গুণবন্ত। অতি অনুপ জই জনকনিবা। বিথকহি বিবুধ বিলােকি বিলা। হােত চকিত চিত কোট বিলােক সকল ভুবন শােভা জনু রােকী । অতি অনুপম যথা জনক-নিবাস । দেবতা বিস্মিত তার বিলােকি বিলাস। চিত্ত চমকিত হয় দুর্গ নিরখি । সকল ভুবন শােভ যেন আছে রুখি ! ধবলধাম মণি পুরট পট সুঘটিত নানা ভতি । সিয়নিবাস সুন্দর সদন শােভা কিমি কহি জাতি। শ্বেতসৌধে মণি স্বর্ণপট, বিবিধ রচিত শােভনীয় । সীতা-বাস সুন্দর সদন, শশাভা যার অনির্বচনীয়।
জনকপুর যাত্রা হিন্দী বাঙ্গলা সুভগ দ্বার সৰ কুলিশ কপাটা । ভূপ ভীর নট মাগধ ভাটা । নী বিশাল বাজি-গজ-শালা। হয়-গজ রথ সংকুল সব কালা। সুন্দর দ্বার সব কুলিশ কপাট। ভূপতি সমীপে নট, মগধের ভাট। রচিত বিশাল অশ্ব আর হস্তীশাল। অশ্ব, হস্তী, রথসঙ্কুল সব কাল। শূর সচিব সেনপ বহুতেরে। নৃপগৃহসরিস সদন সব কেরে । পুর ৰাহির সর সরিত সমীপ। উতরে জহঁ তই বিপুল মহীপা। বহুল অমাত্য আর সেনাপতি শূর । নৃপগৃহসদৃশ সকলেরি পুর । পুরের বাহিরে সর সরিৎ সমীপ। সমাগত যথা তথা বিপুল মহীপ। দেখি অনূপ এক আঁবরাষ্ট্র সৰ সুবাস সৰ ভতি সুহাঙ্গ। কৌশিক কহেউ মাের মন মানা। ইহা রহিয় রঘুবীর সুজানা। ভলেহি নাথ কহি কৃপানিকেতা। উতরে তহঁ মুনিবৃন্দ সমেতা। বিশ্বামিত্র মহামুনি আয়ে । সমাচার মিথিলাপতি পায়ে । দেখি অনুপম এক আম্রকানন। শােভিত চৌদিক সব বিশ্রাম-সদন। কৌশিক কহেন মাের হয় অভিপ্রায়। হে সুবিজ্ঞ রঘুবীর! রহিব হেথায় । ভালই হে নাথ, কহি কৃপা-নিকেতন। উতরিল সেই স্থানে সহ মুনিগণ। বিশ্বামিত্র মহামুনি কৈল আগমন। সমাচার পাইলেন মিথিলা-রাজন। সঙ্গ সচিব শুচি ভূরিভট ভূস্বরবর গুরু জ্ঞাতি। চলে মিলন মুনিনায়কহি, মুদিত রাউ এহি ভাতি। সঙ্গে শুচি মন্ত্রী যােদ্ধবৃন্দ, সুব্রাহ্মণ শুরু জ্ঞাতিগণ । মুনিবর মিলনে চলিল, এইরূপে প্রফুল্ল রাজন ।
৪ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাদলা কীন্হ প্রণামু ধরণি ধরি মাথা। দীন্হ অশীশ মুদিত মুনিনাথ। বিপ্রবৃন্দ সৰ সাদর বন্দে। জানি ভাগ্য ৰ৬ রাউ অনন্দে। করেন প্রণাম শির করিয়া ভূমিষ্ঠ । আশিস দানিল আনন্দিত মুনিশ্রেষ্ঠ । ব্রাহ্মণগণে সবে সমাদরে বলে । বড়ভাগ্য জানি রাজা ভাসেন আনন্দে। কুশল প্রশ্ন কহি ৰাহি ৰারা । বিশ্বামিত্র নৃপহি বৈঠার তেহি অবসর আয়ে দোউ ভাই। গয়ে রহে দেখন ফুলবাঈ। জিজ্ঞাসে কুশল প্রশ্ন দোহে বারম্বার। বসাইল নৃপতিরে গাধীর কুমার । সেই অবসরে আসে ভাই দুইজনে। গমন করিয়াছিল উদ্যান দর্শনে । শ্যাম গৌর মৃত্ব বয়স কিশাের । লোচন সুখদ বিশ্ব চিতচোৱা । উঠে সকল জৰ রঘুপতি আয়ে। বিশ্বামিত্র নিকট বৈঠায়ে । শ্যামল গৌরাঙ্গ মৃদু বয়সে কিশাের । লােচনের সুখদাতা বিশ্ব-চিত-চোর । উঠয়ে সকলে যবে রঘুপতি আসে। বিশ্বামিত্র বসালেন আপনার পাশে। ভয়ে সৰ সুখী দেখি দোউ ভ্রাতা। বারি বিলােচন পুলকিত গাতা। মূরতি মধুর মনোেহর দেখী। ভয়উ বিদেহ বিদেহ বিশেখী। হয় সবে আনন্দিত দুই ভায়ে দেখি । অশ্রু ভরে আঁখি, গাত্র উঠয়ে পুলকি। দেখি মনােহর সেই মধুর মুরতি। বিদেহ সে দেহজ্ঞানহারা হন অতি। প্রেমমগন মন জানি নৃপ, করি বিবেক ধরি ধীর বােলেউ মুনিপদ নাই শির, গদ্গদ গিরা গভীর। প্রেমমগ্ন মন জানি নৃপ, বিবেচনা করি হয়ে ধীর। কহে মুনিপদে শির নমি গদ্গদ কণ্ঠে গম্ভীর ।
জনকপুর যাত্রা হিন্দী বাঙ্গলা কহহু নাথ সুন্দর দোউ বালক। মূনিকুলতিলক কি নৃপকুলপালক। ব্ৰহ্ম জো নিগম নেতি কহি গাবা। উভয় বেশ ধরি কী যােই আবা। কহ নাথ সুন্দর এ দুটী বালক। মুনিকুলবর কি নৃপকুল-পালক ? ব্ৰহ্ম যারে নেতি’ কহি গাহে বেদগণ। এ উভ বেশেতে কিগাে তারি আগমন ? সহজ বিরাগরূপ মন মােরা। থাকত হােত জিমি চন্দচকোরা। তা তে প্রভু পূছউ সদিভাউ। কহহু নাথ জনি করহু দুরাউ। রূপ দেখি সহজ বিরাগী মন মাের । স্থির হয় যথা চন্দ্র নেহারি চকোর । তাই প্রভু সদ্ভাবে করি জিজ্ঞাসন । কহ নাথ যেন নাহি করিহ গােপন। ইনহি বিলােত অতি অনুরাগা। বরবস ব্ৰহ্মমুখহি মন ত্যাগ। কহ মুনি বিহঁসি কহেহু নৃপ নীক। বচন তুম্হার ন হােয় অলীকা । এ দোহে নিরখি হয় অতি অনুরাগ। বাধ্য হয়ে চিত্ত করে ব্রহ্মসুখ ত্যাগ । কহে মুনি হাসি, নৃপ কহিলে হে ঠিক। তােমার বচন কভু না হয় অলীক। য়ে প্রিয় সৰহি জ লগি প্রাণী। মন মুসকাহি রাম শুনি বাণী । রঘুকুলমণি দশরথকে জায়ে । মমহিত লাগি নরেশ পঠায়ে । ইনি প্রিয় সবাকার যেথা যত প্রাণী। মনে মনে হাসে রাম শুনি সেই বাণী। রঘুকুলমণি দশরথের নন্দন। মম হিত লাগি নৃপ করেন প্রেরণ। রামু লষণ দেউ ৰন্ধুবর, রূপ শীল বলধাম । মখ রাখেউ সৰ সাখি জগ, জিতি অসুর সংগ্রাম। শীরাম লক্ষ্মণ দুই ভ্রাতৃবর, রূপ, শাল, শকতির ধাম । রক্ষেন যজ্ঞ সাক্ষী সংসার, জয় করি রাক্ষস-সংগ্রাম ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাদলা মুনি তব চরণ দেখি কহ রাউ । কহি ন সকউ নিজ পুণ্য প্রভাউ । সুন্দর শ্যাম গৌর দোউ ভ্রাতা। রাজা কহে মুনি তব দেখিয়া চরণ। কহিতে না পারি পুণ্য-প্রভাব আপন । সুন্দর শ্যাম আর গৌর দু ভ্রাতা। স্বয়ং আনন্দেরে আনন্দদাতা ॥ অনিন্দহূকে আনন্দদাতা ॥ ইহাদের পরস্পরে প্রীতি পবিত্র । কহ নাহি যায় মনােভাব বিচিত্র । শুন নাথ, কহিলেন প্রফুল্ল বিদেহ। ব্ৰহ্মজীব সম উতে স্বাভাবিক স্নেহ। ইহ কৈ প্রীতি পরস্পর পাবনি। কহি ন জায় মনভাব সুহানি। শুনহু নাথ কহ মুদিত বিদেই । ব্রহ্মজীব ই সহজ সনে ! পুনি পুনি প্রভুহি চিতয় নরনাই। পুলক গীত উর অধিক উছাহ। মুনিহি প্রশংসি নাই পদ শাষা। চলেউ লিবায় নগর অবনীশা | পুনঃ পুনঃ প্রভু রামে হেরয়ে ভূপতি। পুলকিত গাত্র, মনে উৎসাহ অতি । মুনিরে প্রশংসি পদে নত করি শির লয়ে যান নরপতি মধ্যে নগরীর। সুন্দর সদন সুখদ সৰ কালা। তই বাস লে দীন্হ ভুআল! | করি পূজা সব বিধি সেবকাই । গয়উ রাউ গৃহ ৰিদা করা । সুন্দর সদন সুখপ্রদ সৰ্বকাল। তথা লয়ে বাসস্থান দিলেন ভূপাল। সৰ্ববিধ করিলেন পূজন সেবন। গৃহে চলিলেন করি বিদায় গ্রহণ। বিষয় সঙ্গ রঘুবংশমণি, করি ভোজন বিশ্রাম । বৈঠে প্রভু ভ্রাতা সহিত, দিবস রহা ভরি যাম। ঋষি সঙ্গে রঘুবংশমণি, সমাপিয়া ভােজন বিশ্রাম। বৈঠে প্রভু ভ্রাতা লয়ে সাথে, দিবা যবে রহে এক যাম ।
জনকপুর দর্শন হিন্দী বালা লক্ষ্মণের হৃদয়েতে বিশেষ লালসা। জনকপুরটী গিয়া দেখি ফিরে আসা। প্রভু-ভয় আর মুনিকেও সঙ্কোচিয়া । প্রকাশ না করি রহে মনেতে হাসিয়া। লষণহৃদয় লালসা বিশেখী। জায় জনকপুর আইয় দেখী । প্রভুভয় বহুরি মুনিহি সকুচাৰ্হী। প্রগট ন কহহি মনহি মুসকাহী। রাম অনুজ মনকী গতি জানী। ভগতসলতা হিয়া হুলসানী । পরমবিনীত সকুচ মুসকাঈ। ৰােলে গুরু অনুশাসন পাই । ভ্রাতৃমনােভাব রাম হয়েন বিদিত। উথলি উঠয় ভক্তবৎসল চিত। পরম বিনীত ভাবে সঙ্কোচে হাসিয়া। বলিলেন গুরু অনুশাসন পাইয়া। নাথ লষণ পুর দেখন চহহঁ।। প্রভুসকোচ ডর প্রগট ন কহই । জো রাউর অনুশাসন পাউ। নগর দেখায় তুরত লে আউ। হে নাথ দেখিতে পুর লক্ষ্মণের আশ। প্রভুর সঙ্কোচে ভয়ে না করে প্রকাশ। যদি আমি আপনার অনুমতি পাই। নগর দেখায়ে আনি ত্বরিত ফিরাই। শুনি মুনীশ কহ বচন সপ্রীতি কস ন রাম রাখহু অস নীতি। ধরমসেতু পালক তুম্হ তাতা। প্রেমবিবশ সেবক সুখদাতা। শুনিয়া মুনীশ কহে বচন সপ্রীতি। কেননা রাখিবে রম এইরূপে নীতি। তুমি তাত! ধরমের মর্যাদাপালক। সেবকের প্রেমে বশ আনন্দদায়ক। গিয়া দেখি আইস নগর, সুখনিধান দুই ভাই। জাই দেখি আবহু নগর, সুখনিধান দোউ ভাই। করহু সুফল সৰকে নয়ন, সুন্দর বদন দিখাই। কর ধন্য সবার নয়ন সুন্দর আনন দেখায়ি ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা মুনিপদ কমল বন্দি দোউ ভ্রাতা। চলে লোেক লােচন সুখদাতা । ৰালকবৃন্দ দেখি অতি শােভা। লগে সঙ্গ লােচন মন লােভ। মুনি-পদ-কমল বন্দি দুই ভ্রাতা। চলিলেন লােক-লােচন সুখদাতা ॥ বালকবৃন্দ শােভা দেখি অতিশয় । লােচন ও মনােলােভ। দোহা সঙ্গ লয়। পীতবসন পরিকর কটি ভাথা। চারু চাপ শর সােহত হাথা । তনু অনুহরত সুচন্দন খাের। শ্যামল গৌর মনােহর জোরী । পীতবাস পরিকর তুণীর কোমরে । সুন্দর ধনুর্বাণ শােভিতেছে করে । সুচন্দন শােভা পায় তনু অনুসার। শ্যামল গৌর সেই সুশ্রী দোহাকার ॥ কেহরিকন্ধর বাহু বিশালা। উর অতি রুচির নাগ মণিমালা। সুভগ শ্রবণ সরসীরুহ লােচন। কেশরী-সদৃশ স্কন্ধ বাহু সুবিশাল। বক্ষে অতি সুন্দর গজমুক্তামাল। শােভন শ্রবণ আর কমললােচন। বদন শশাঙ্ক সম ত্রিতাপ মােচন। বদন ময়ঙ্ক তাপ ত্রয় নােচন। কানহি কনকফুল ছবি দেহী। চিতবত চিতহি চোরি জনু লেহী চিতবনি চারু ভ্রুকুটি বর বাকী । তিলক রেখ শােভা জনু চাকী। কর্ণেতে কনকফুল বিতরে মাধুরী। দেখামাত্র চিত্ত যেন করি লবে চুরি । বঙ্কিম ভঙ্গি তাহে চারু নিরীক্ষণ। তিলক রেখার শােভা আস্বাদে যেমন ॥ রুচির চৌতনী সুভগ শির, মেচক কুঞ্চিত কেশ। নখ শিখ সুন্দর বন্ধু দোউ, শােভ সকন্তু সুদেশ ॥ চারু টোপী রম্য শিঝােপরি, কুঞ্চিত সুকৃষ্ণ কুন্তল। সৰ্বাঙ্গ সুন্দর দুটী ভাই সকল শোভার সুস্থল।
জনকপুর দর্শন ৯ হিন্দী দেখন নগর ভূপত আয়ে। সমাচার পুরবাসিন্হ পায়ে । ধায়ে ধাম কাম সৰ ত্যাগী । মনহু রঙ্ক নিধি লুটন লাগী । নগর দেখিতে আসে রাজার কুমার। পুরবাসিবৃন্দ পায় এই সমাচার ভবন করম সব পরিহরি ছুটে। দরিদ্র যেমতি রত্ন নিতে ধায় লুটে। । নিরখি সহজ সুন্দর দোউ ভাঙ্গ। হােহি সুখী লােচন ফল পাই। যুবতী ভবন ঝরােখহি লাগী । নিরখহি রামরূপ অনুরাগী । স্বভাবতঃ সুন্দর ভাই দেহে দেখি । সবে সুখী স্বার্থক সবাকার আঁখি। যুবতীরা ভবনের ঝরােখাতে রহি। নিরখিছে রামরূপ অনুরাগী হয়ি। কহহি পরম্পর বচন সপ্রীতি। সখি ইন্হ কোটি কাম ছবি জিতি। সুর নর অসুর নাগ মনি মাহী। শােভ অস কহু সুনিয়ত নাহী । পরস্পর কহে সবে সপ্রীতি বচন। সখি এরা কোটি কাম জিনিয়া শােভন। সুর নর অসুর নাগ কিবা মুনি। শােভ হেন কাহারত কভু নাহি শুনি। বিষ্ণু চারি ভুজ বিধি মুখ চারী। বিকটবেখ মুখপঞ্চ পুরারী। অপর দেব অসকো জগমাহী। যহ ছবি সখি পটতরিয় জাহী। বিষ্ণুর চারি ভুজ ব্ৰহ্ম। মুখ চারি। শিবের পঞ্চমুখ বিকটবেশধারী। সখি অন্য দেব কেবা আছে এ মহীতে। তার সনে এ ছবির তুলনা তুলিতে। বয়কিশাের সুখমাসদন, মগৌর সুখধাম। অঙ্গ অঙ্গ পর বারিয়হি, কোটি কোটি শতকাম। শােভাস্থল বয়সে কিশাের, শ্যাম গৌরাঙ্গ সুখধাম। প্রতি অঙ্গে শশাভা ধরিয়াছে যেন কোটি কোটি শত কাম।
সীতার স্বয়ংবর न्मिी কহহু সখি অস কো তনুধারী। জো ন মােহ অস রূপ নিহারী। কোউ সপ্ৰেম ৰােলী মৃদুৰাণী । জো মৈ শুনা সাে শুনহ সয়ানী । কহ সখি! কেবা হেন আছে তনুধারী। যে নাহি মােহিত হয় এরূপ নেহারি? কেহবা প্রেমের ভরে বলে মৃদুবাণী। আমি যা শুনেছি তাহা শুন লােসেয়ানি! এ দোউ নৃপ দশরথ কে ঢােটা। বালমরালহকে কল জোটা। মুনি কৌশিক মখকে রখবারে। জিহ বণঅজয় নিশাচর মারে। এই দুটী দশরথ রাজার ছাওয়াল। যেন মনােহর জোড়া বাল মরাল। কৌশিক মুনির যজ্ঞ রক্ষা করিবারে। অজেয় রাক্ষসে যারা রণেতে সংহারে। শ্যামগাত কল কঞ্জবিলােচন। জো মারীচ সুভুজ মদ মােচন। কৌশল্যাত সাে সুখখানী। নাম রাম ধনুশায়ক পাণি। সুন্দর শ্যামল তনু কমল নয়ন। মারীচ সুবাহু দর্প করেছে হরণ । কৌশল্যার সুত উনি সুখের আকর। শ্রীরাম উহার নাম করে ধনুশর। গৌর কিশাের বেশ বর কাছে। কুর শরচাপ রামকে পাছে । চারুবেশধারী গােরা কিশাের যেকাছে। করে লয়ে ধনুর্বাণ ফিরে রাম-পাছে। লক্ষ্মণ নাম ধরে রামানুজ ভ্রাতা। শুন সখি ! সুমিত্রা হন তাঁর মাতা। লছমন নাম রাম লঘু ভ্রাতা। শুধু সখি তা সুমিত্রা মাতা ॥ বিপ্ৰকাজ করি বন্ধু দোউ, মগ মুনিবন্ধু উধারি । আয়ে দেখন চাপমখ, শুনি হরষী সৰু নারী। বিপ্রকাৰ্য্য সাধি ভাই সোহে, পথে মুনিবধুরে উদ্ধারি। হেরিবারে আসে যজ্ঞধনু, শুনি হরষিতা সব নারী।
জনকপুর দর্শন ১১ হিন্দী বাদশা দেখি রাম ছবি সখী এক কহই। জোগু জানকিহি য বর অহঈ । জো সখি ইনহি দেখ নরনাহ্। পণ পরিহরি হঠি করই বিবাহু। দেখি রামরূপ কহে সখী একজন। জানকীর যােগ্য বর হন এই জন ৷ যদ্যপি ইহারে সখি দেখিত রাজন। বিয়ে দিত জিদ করি পরিহরি পণ || কোউ কহ ইন্হৈ ভূপতি পহিচানে। মুনিসমেত সাদর সম্মানে। সখি পরন্তু পণ রাউ ন তজক্ট। বিধিবশ হঠি অৰিৰেকহি ভজ । কেহ কহে ইহাদের নরপতি জানে। মুনিসহ সমাদরে দোহারে সম্মানে। কিন্তু সখি রাজা নাহি ত্যজিবেন পণ। বিধিবশে করিবেন অজ্ঞানে ভজন || কোউ কহ জো ভল অহই বিধাতা । সৰকহঁ সুনিয় উচিত ফলদাতা ॥ তৌ জানকিহি মিলিহি বর এহ্। নাহিন আলি ইহা সন্দেহ্। কেহ কহে যদি মঙ্গলময় ধা। শুনি সকলের যথাযােগ্য ফলদাতা ॥ তবেত জানকী মিলিবেক বর এহ। নাহিক অয়ি সখি ! ইহাতে সন্দেহ। জো বিধিবশ অস ৰনই সযােগ্ । তৌ কৃতকৃত্য হােয়ি সব লােগ্ ॥ সখি হমরে আরতি অতি তাতে। কহুক এ আবহি এহি নাতে । যদি বিধিবশে হেন হয় সম্মিলন। তাহা হলে কৃতকৃত্য হবে সৰ্বজন। সখি মাের আগ্রহ অতি এ কারণ। তাহলে করিবে ইনি কভু আগমন। নাহিত হম কহঁ শুনহু সখি, ইহ কর দরশন দূরি। মুহ সংঘট তব হােই জৰ, পুণ্য পুরাকৃত ভূরি। হলে মােদের শুন সখি, দর্শন ইহার দুর্লভ। পূর্বজন্মে থাকিলে সুকৃতি তবেই এ হইবে সম্ভব ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী ৰােলী অপর কহেহু সখি নীকা। এহি বিবাহ অতিহিত সবহী কা। কোউ কহ শঙ্করচাপ কঠোর এ শ্যামল মৃদুগাত কিপােরা। কহিল অপরে সখি! কহিলে সুন্দর। এ বিবাহ সকলেরই অতি হিতকর । কেহ কহে শঙ্করের ধনুক কঠোর। এ শ্যামল কোমলাঙ্গ বয়সে কিশাের। সৰ অসমঞ্জস অহই সয়ানী। সবি সামঞ্জস্যহীন, অয়িলো সেয়ানি! য়হ শুনি অপর কহই মৃদুবাণী । ইহা শুনি অন্যজনে কহে মৃদুবাণী। সখি ইহকহঁ কোউ কেউ অস কহহী। সখি! কেহ কেহ কহে ইহাকে এমতি। বড় প্রভাব দেখত লঘু অহহী। দেখিতে হলেও লঘু বড়ই শকতি । পরশি জাসু পদপঙ্কজ ধূরী। তরী অহল্যা কৃত অঘ ভুরী। সাে কি রহৈ বিনু শিবধনু তােরে। য়হ প্রতীতি পরিহরিয় ন ভােরে । পরশিয়া পদপঙ্কজ ধূলি যাঁর। অহল্যা হইল কৃত পাপরাশি পার ।। সে কি রবে শিবধনু না করি ভঞ্জন। এ প্রতীতি ভ্রমেও না ত্যজিও কখন। জেহি বিরঞ্চি রচি সীয় সারী। তেহি শ্যামল বর রচেউ বিচারী। তাসু বচন শুনি সৰ হরষাণী । ঐসেই হােউ কহহি মৃদুবাণী । যে বিধাতা রচি সীতা করেছে পালন বিচারি শ্যামল বর রচিল সে জন। সবে হরষিত শুনি তাহার বচন। মৃদুভাষে কহে, আহা হউক এমন। হিয় হরষহি বরষহি সুমন, সুমুখি সুলােচনি বৃন্দ। জাহি জহ জহঁ ৰন্ধু দোউ, তই তহঁ পরমানুল । চিত্ত হরষে পুষ্প বরষে, সুমুখী সুলােচনা বৃন্দ। যথা যথা যায় ভ্রাতৃদ্বয়, তথা হয় পরমানন্দ ।
জনকপুর দর্শন হিন্দী পুর পূরব দিশি গে দোউ ভাঙ্গ। জহঁ ধনু-মখ-হিত ভূমি ৰনাঈ। অতি বিস্তার চারু গচ ঢারী। বিমলবেদিকা রুচির সবারী । পুরের পূব দিকে দুই ভ্রাতা যান। যথা ধনুজ্ঞভূমি করেছে নির্মাণ। সুবিস্তৃত চারু ঢালু মেজেয় শশাভিত। নিরমল বেদিকা সুন্দর রচিত । চহু দিশি কঞ্চনমঞ্চ বিশালা। রচে জহ ৰৈঠহি মহিপালা। তেহি পাছে সমীপ চহু পাশা। অপর মঞ্চমণ্ডলী বিলাসা | চারিদিকে কাঞ্চনমঞ্চ বিশাল। রচে যথা বসিবেন যত মহীপাল ॥ তাহার পশ্চাতে নিকটেই চারিধারে। সুশােভিত মঞ্চ কত মণ্ডলাকারে ॥ কছুক উচ সব ভাঁতি সুহাঙ্গ। বৈঠহি নগর লােগ জহঁ জাঈ। তিনহ কে নিকট বিশাল সুহায়ে । ধৰলধাম হুবরণ ৰনায়ে । কিছু উচ্চ মনােহর তাহার চৌদিক । যেথা হবে উপবিষ্ট যত নাগরিক। তাহার নিকটে সুবিশাল সুশােভিত। ধবল মণ্ডপ বহুবিধ নিরমিত ৷ জহঁ বৈঠে দেখহি সব নারী। যথাযােগ নিজকুল অনুহারী । পুরবালক কহি কহি মৃদুবচনা । সাদর প্রভুহি দেখাবহি রচনা। যথায় বসিবে সব নারী দেখিবারে । যথাযােগ্য নিজ নিজ কুল অনুসারে। নগর বালক কহি মৃদুল বচন। সমাদরে সে প্রভুরে দেখায় রচন।। সব শিশু এহি মিশ প্রেমবশ, পরশি মনােহর গাত । তনু পুলকহি অতি হরষ হিয়, দেখি দেখি দোউ ভ্রাত । প্রেমবশ শিশুরা এ ছলে মনােহর গাত্র পরশিয়া। দুই ভায়ে হেরি বারংবার পুলকাঙ্গ হরষিত হিয়া।
১ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী শিশু সব রাম প্রেমবশ জানে। প্রীতিসমেত নিকেত বখানে। নিজ নিজ রুচি সব লেহি বােলাই সহিত সনেহ জাহি দোউ ভাঙ্গ। শিশুগণ রামেরে প্রেমবশ জানি। হর্ষে কহে তাহাদের ভবন বাখানি। নিজ নিজ রুচি মত ডেকে লয়ে যায়। স্নেহসহ দুই ভাই চলেন তথায় । রাম দেখাবহি অনুজহি রচনা। কহি মৃদু মধুর মনােহর বচন। লবনিমেষ মহঁ ভুবননিকায়া। রচই জাসু অনুশাসন মায়া । অনুজে দেখান রাম সে সব রচন। কহি মৃদু মনােহর মধুর বচন । নিমিষের মধ্যে এই বিশ্ব সমুদায় । রচনা করয়ে মায়া যাহার আজ্ঞায় ।। ভকত হেতু সােই দীনদয়ালা। চিতবত চকিত ধনুষ-মখশালা || কৌতুক দেখি চলে গুরুপাহী । জানি বিলম্ব ত্রাস মনমাহী। ভকতের হেতু সেই দীন দয়াল। চকিত হইয়া হেরে ধনুযজ্ঞশাল || কৌতুক দেখিয়া তবে যান গুরুপাশ। বিলম্ব হয়েছে জানি মনে করি ত্রাস। জাসু ত্রাস ডরক ডর হােঙ্গ। ভজনপ্রভাব দেখাবত সােঙ্গ । কহি বার্তৈ মৃদু মধুর সুহাই। কিয়ে বিদা বালক বরিআঙ্গ। যার ত্রাসে ভয়েরও হয় ভয়ােদয়। ভজনপ্রভাব শুধু সেই প্রদর্শয় ৷ কহি বাক্য মধুময় মৃদুল শােভন। করেন বিদায় বল করি বালগণ। সভয় সপ্রেম বিনীত অতি, সকুচ সহিত দাউ ভাই। গুরুপদপঙ্কজ নাই শির, বৈঠে আয় পাই। সভয়-প্রেম-বিনয়-অতি সঙ্কোচ সহিত দুই ভাই। গুরু পাদপদ্মে নমি শির উপবিষ্ট অনুমতি পাই।
জনকপুর দর্শন হিন্দী নিশিপ্রবেশ মুনি আয় দীন্হা। সৰহী সন্ধ্যাবন কীন্হা । কত কথা ইতিহাস পুরাণী। রুচির রজনী যুগম সিরানী। মুনিবর শয়ন কীন্হ তৰ জাই। লগে চরণ চাপন দোউ ভাঙ্গ জিন্হ কে চরণসরােহ লাগি । করত বিবিধ জপ যােগ বিরাগী । = নিশি সমাগমে মুনি দানিল আদেশ। সবে সন্ধ্যা বন্দনাদি করিলেন শেষ ।। ইতিহাস পুরাণের কহিলেন কথা। সুযামিনী দুই যাম হইল বিগতা। মুনিবর শয়ন করিল তবে যায়ি। চরণ চাপিতে লাগিলেন দুই ভাই । যাঁহাদের শ্রীচরণ সরােহ লাগি। করয়ে বিবিধ জপ যােগ বিরাগী । সেই দুই ভাই যেন প্রেমে-পরাজিত। গুরুচরণ কমল সেবিছেন প্রীত। বার বার মুনিবর দেন অনুমতি। শয়ন করেন গিয়া তবে রঘুপতি। তেই দোউ বন্ধু প্রেম জনু জীতে। গুরুপদ কমল পলােটত প্রীতে । বার বার মুনি আজ্ঞা দীন্হী। রঘুবর যাই শয়ন তব কীন্হী। চাপত চরণ লষণ উর লায়ে । সভয় সপ্রেম পরম সচুপায়ে । পুনি পুনি প্রভু কহ সােবহু তাতা পৌঢ়ে ধরি উর পদজলজাত। উঠে লষণ নিশি বিগত শুনি, অরুণ শিখা ধুনি কান। গুরুতেঁ পহিলেহি জগতপতি, জাগে রাম সুজান। লক্ষ্মণ চরণ চাপে আর বুকে লয়। পরম সঙ্গোপনে সপ্রেম সভয় । পুন পুন প্রভু কন শশাওরে লক্ষ্মণ। পাদপদ্ম ধরি হৃদে করিল শয়ন । নিশি গত কুকুটের ধ্বনি কর্ণে শুনি লক্ষ্মণ জাগে। উঠে জ্ঞানী রাম জগপতি গুরুদেব উঠিবার আগে।
শুভদৃষ্টি হিন্দী বাঙ্গলা শৌচাদি অন্তে স্নান করি সমাপন। নিত্য কৰ্ম্ম সারি করে মুনিরে বন্দন। সময় জানিয়া গুরু অনুমতি লয়ে। আনিতে কুসুম চলিলেন ভাই দেহে। সকল শৌচ করি জাই নহায়ে। নিত্য নিৰাহি মুনিহি শির নায়ে । সময় জানি গুরু আয় পাই। লেন প্রসূন চলে দোউ ভাঙ্গ। ভূপ বাগ বর দেখেউ জাঈ। জহঁ বসন্ত ঋতু রহি লুভাই। লাগে বিটপ মনােহর নানা। বরণ বরণ বর বেলিবিনা। যেয়ে দেখে ভূপতির রম্য উপবন। যথায় বসন্ত ঋতু রহে লুব্ধ মন ॥ মনােহর বিটপী রয়েছে নানান্। নানাবিধ বরণের লতিকা বিতান। নব পল্লব ফল সুমন সুহায়ে। নিজ সম্পতি সুরতরুহি জায়ে । চাতক কোকিল কীর চকোরা। কৃজত বিহগ নচত কল মােরা । নবীন পল্লব ফল ফুলেতে শশাভিত । নিজ ধনে করে কল্পতরুরে লজ্জিত। চাতক কোকিল আর শুক ও চবকার। সকল বিহঙ্গ গাহে, নাচে চারু মৌর। মধ্য বাগ সর সােহ সুহাবা। মণিলােপান বিচিত্র বনাবা । বিমলসলিল সরসিজ বহুরঙ্গা। জলখগ কুজত গুঞ্জত ভৃঙ্গা। মধ্য বাগে সরােবর সুন্দর শােভিত । মণিময় সােপান বিচিত্র রচিত । বিমল সলিলে সরসিজ বহুরঙ্গ। জলপক্ষী কুজিতেছে গুঞ্জিছে ভৃঙ্গ। বাগ তড়াগ নিরখি প্রভু হরষয়ে ভ্রাতার সহিত। পরম রম্য সেই উপবন, রাম চিত যে কর সুখিত। বাগু তড়াগু বিলােকি প্রভু, হরষে বন্ধু সমেত পরমরম্য আরাম যহ, জোরামহি সুখ দেত।
শুভদৃষ্টি ১৭ হিন্দী বাদল চহু দিশি চিতই পুছি মালীগণ। লগে লেন দল ফুল মুদিতমন। তেহি অবসর সীত তহঁ আই। গিরিজাপূজন জননী পঠাই। চৌদিক নিরখিয়ে পুছি মালীগণে। ফুলদল চয়নয়ে হরষিত মনে । সেই অবসরে সীতা আসে সেই স্থান। গিরিজা পূজন লাগি জননী পাঠান। । সঙ্গ সখী সব সুভগ সয়ানী। গাবহি গীত মনােহর বাণী। সরসমীপ গিরিজাগৃহ সােহা। বরনি ন জাই দেখি মন মােহা। সঙ্গেতে সখী সব সুভগ চতুর। গাহিতেছে সঙ্গীত বাণী সুমধুর । সরসমীপেতে গৌরী মন্দির শােভে। বর্ণন নাহি যায় দেখি মন লােভে । মজ্জন করি সর সখিন্হ সমেতা। গঈ মুদিতমন গৌরিনিকে। পূজা কি অধিক অনুরাগ। নিজ অনুরূপ সুভগ বর মাগা। মজ্জন করি সরে সখিগণ সনে। প্রফুল্ল মনে যা গৌরীনিকেতনে। পূজন করিল সমধিক অনুরাগে। আপনার অনুরূপ কান্ত বর মাগে। এক সখী সিয় সঙ্গ বিহারী। গঈ রহী দেখন ফুলবাঈ। তেই দোউ বন্ধু বিলােকে জাঈ। প্রেমবিবশ সীতা পহি আঙ্গ। এক সখী জানকীর সঙ্গ ছাড়ি যায়। গিয়াছিল দেখিবারে ফুল বাগিচায় । সেই দুই ভ্রাতারে বিলােকিয়া আসে। প্রেমবিবশ হয়ে ফিরে সীতাপাশে। তাসু দশা দেখী সখিনূহ, পুলক গাত জল নয়ন কহু কারণ নিজহরষ কর, পূছহি সব মৃদুবয়ন। তার দশা হেরি সখী সব পুলকাঙ্গে সজল নয়নে। ‘কহ নিজ হর্ষের কারণ পুছে সবে মৃদুল বচনে।
১৮ সীতার স্বয়ংবর विन्यौ বাঙ্গলা দেখন বাগ কুৱঁর দুই আয়ে। বয়সকিশাের সৰ ভাতি সুহায়ে । শ্যাম গৌর কিমি কহউ বখানী । গিরা অনয়ন নয়ন বিষ্ণু বাণী । ‘উদ্যান দেখিতে অসে যুগল কুমার। বয়সে কিশাের চারু সকল প্রকার । শ্যামল গৌরাঙ্গ দুটা কেমনে বাখানি। বাক্য যে নেত্রহীন - নেত্র বিনা বাণী। শুনি হরষী সব সখী সয়ানী । সিয়হিয় অতি উতকথা জানী। এক কহই নৃপসুত তেই আলী। শুনে যে মুনি সঙ্গ আয়ে কালী। শুনি হরষিয়া সব সখীরা সেয়ানী। সীতার হৃদয় অতি উৎসুক জানি। একে কহে, সখি! তারা রাজার নন্দন। শুনি মুনিসঙ্গে কাল কৈল আগমন। জিন্হ নিজ রূপ মােহিনী ডারী। কীহে স্ববশ নগর নর নারী। বরণত ছবি জহঁ তহঁ সৰ লােগ । অবশি দেখিয়হি দেখন জোগু। রূপের কুহক পাতি যাহারা আপন। করেছে স্ববশ পুর নরনারীগণ। যথা তথা সবে করে রূপের বর্ণন। অবশ্য দেখিতে হয় - যােগ্য দরশন। তাসু বচন অতি সিয়হি সুহানে। দরশ লাগি লােচন অকুলানে। চলী অগ্র করি প্রিয়দখি সােঙ্গ। প্রীতি পুরাতনি লখই ন কোঈ । সীতারে লাগিল ভাল তাহার বচন। দরশন লাগি হয় আকুল লােচন। হন আগুয়ান প্রিয় সখী অগ্রে ক'রে পুরাতন প্রেম কেহ লক্ষ্য নাহি করে। সুমিরি সীয় নারদবচন, উপজী প্রীতি পুনীত। চকিত বিলােকতি সকল দিশি, জনু শিশু মৃগী সভীত। নারদ-ইঙ্গিত স্মরে সীতা, উপজয়ে পবিত্র পীরিতি । চকিত নেহারে সর্বদিশি, যেন শিশুমৃগী সভীতি | শুভদৃষ্টি ১৯ হিন্দী কঙ্কন কিঙ্কিণ নুপুর ধ্বনি শুনি। কহত লষণ সন রামু হৃদয় গুনি। মানহু মদন দুন্দুভী দীন্হী। মনসা বিশ্ববিজয় কই কীন্হী। কঙ্কণ-কিঙ্কিণী শুনি নুপুর-নিৰুণ। অন্তরে চিন্তিয়া রাম লক্ষ্মণেরে কন। বুঝিবা মদন তার দুন্দুভি বাজায়। বিশ্ববিজয় করিবার অভিপ্রায়। অস কহি ফির চিতয়ে তেহি ওরা। সিয় মুখ শশী ভয়ে নয়ন চকোরা। ভয়ে বিলােচন চারু অচঞ্চল। মনহু সকুচি নিমি তজে দৃগঞ্চল । ইহা কহি চাহে রাম সেই দিকে ফিরি। সীতা-মুখ শশী হল—নয়ন চকোরী। সুচারু লােচন তার হল অচঞ্চল। সঙ্কোচে পলক যেন ছাড়ে নেত্রস্থল। দেখি সীয়শােভা সুখ পাবা। হৃদয় সরাহত বচন ন আবা। জনু বিরঞ্চি সব নিজ নিপুনাই। বিরচি বিশ্ব কহঁ প্ৰগটি দেখা হেরি জানুকীর শােভা হয় সুখােদয়। মনেতে প্রশংসে, বাক্য নাহি বাহিরয়। যেন বিধি সব নিজ নিপুণতারাশি। রচিয়া বিশ্বকে তাহা দেখান প্রকাশি। । সুন্দর কই সুন্দর করঈ। ছবিগৃহ দীপশিখা জনু বরই। সব উপমা কবি রহে জুঠারী। কেহি পটতরউ বিদেহকুমারী। সুন্দরতাকে সে যে সুন্দর করে। দীপশিখা জালে যেন চিত্রের ঘরে। উচ্ছিষ্ট করেছে কবি সকল উপমা। জনককুমারী আর কহি কার সমা? সিয়শােভা হিয় বরনি প্রভু, আপনি দশা বিচারি। বােলে শুচি মন অনুজ সন, বচন সময় অনুহারি । বর্ণি প্রভু সীতাশােভ মনে নিজ দশা করিয়া বিচার । বলে শুচি মনে অনুজেরে বচন সে কাল অনুসার।
২০ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা তাত জনকতনয়া য়হ সােঙ্গ। ধনুষজ্ঞ জেহি কারণ হােঙ্গ। পূজন গৌরী সখী লেই আঙ্গ করত প্রকাশ ফিরই ফুলবাঈ। হে প্রিয়! ইনিই সেই তনয়া রাজার । ধনুযজ্ঞ হইতেছে কারণে যাহার । সখিগণ লয়ে আসে পূজিবারে গৌরী। ভ্রমণ করিয়া ফিরে বাগিচা উজোরি । জাসু বিলােকি অলৌকিক শােভা। সহজ পুনীত মাের মন ক্ষোভ। সে সৰ কারণ জান বিধা। ফরকহি সুভগ অঙ্গ শুনু ভ্রাতা। অলৌকিকশােভারাশিবিলােকি যাঁহার স্বভাব-পবিত্র মন চঞ্চল আমার। এ সবের কারণ যা জানেন বিধাতা। দক্ষিণ অঙ্গ মাের নাচে শুন ভ্রাতা ॥ রঘুবংশিহ কর সহজ সুভাউ। মনু কুপন্থ পগ ধরে ন কাউ । মােহি অতিশয় প্রতীতি মন কেরী জেহি সপনেহু পরনারী নহেরী ॥ রঘুবংশীগণের এ সহজ প্রকৃতি। কাহারও মন কভু না ধরে কুপথি। অতীব প্রত্যয় মাের আপন মনেরে । স্বপনেও পরনারী সে নাহিক হেরে । জিহ কে লহহি ন রিপু রণ পীঠী। নহি লাৰহি পরতিয় মন ডীঠী ॥ মঙ্গন লহহি ন জিনুহ কৈ নাহি। তে নরবর থােরে জগ মাহী' । সংগ্রামে শত্রু যার পৃষ্ঠ নাহি পায় । মন যার পরস্ত্রীর পানে নাহি চায় । প্রার্থী বিমুখ নহে যে জনের কাছে। এহেন উত্তম নর বিশ্বে অল্প আছে। . করত ৰতকহী অনুজ সন, মন সিয়রূপ লুভান। মুখসােজ মকরন্দ ছবি, করই মধুপ'ইব পান। কথা কন অনুজের সনে সীতারূপে লুব্ধ রহে মন। সে মুখ রাজীব শােভ-মধু পান করে মধুপ যেমন ।
শুভদৃষ্টি ২১ হিন্দী বাঙ্গলা চিতৰতি চকিত চহু দিশি সীতা। কহঁ গয়ে নৃপকিশাের মন চিতা। জহঁ বিলােকি মৃগশাবক নয়নী। জনু তহঁ বরিষ কমল সিত শ্রেণী ॥ চকিত হইয়া সীতা চৌদিকে চায় । কোথা নৃপকিশোের সে মন যারে চায়। মৃগশিশুনয়নার যে দিকেই দৃষ্টি। সে দিকেই যেন শুভ্র কমলের বৃষ্টি। ল ওঠ তব সখিন লখায়ে। শ্যামল গৌর কিশাের সুহায়ে । দেখি রূপ লােচন ললচানে। হরষে জনু নিজ নিধি পহিচানে। লতার আড়ালে তবে সখিরা দেখায়। শ্যাম গৌর কিশোের কিবা শােভা পায়। নিরখিয়ে সেইরূপ আঁখি লালচিল। হরষিত-যেন নিজ নিধিটা চিনিল ৷ থকে নয়ন রঘুপতি ছবি দেখে। পলকহিহ্ পরিহরি নিমেখে । অধিক সনেহ দেহ ভই ভােরী। শরদশশিহি জনু চিতব চকোরী । রঘুপতি-রূপ হেরি নয়ন স্তম্ভিত। হয়ে গেল নির্নিমেষ পলক-বজ্জিত। প্রেমের আধিক্যে হয় আত্মবিস্মরণ। চকোরী শরতশশী হেরয়ে যেমন । লােচনমগ রামহি উর আনী। দীহে পলককপাট সয়ানী । জৰ সিয় সখিন্হ প্রেমবশ জানি। কহি ন সকহি কছু মন সকুচানী। লােচনের দ্বার দিয়া রামে হৃদে আনি পলক-কপাট রুদ্ধ করিল সেয়ানী । যবে সী প্রেমাধীনা জানে সখিগণ । কহিতে নারিল কিছু সঙ্কুচিত মন । লতাগৃহ হতে প্রকটিত লতাভৰন তেঁ প্ৰগট ভয়ে, তেহি অবসর দোউ ভাই। নিকসে জনু জুগ বিমলবিধু, জলদপটল ৰিলগাই। ভ্রাতা দোহে এই অবসরে। উদে যেন স্বচ্ছ যুগ বিধু জলদের জাল ভেদ করে ।
২২ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী শােভা সীৰ সুভগ দোউ বীরা। নীল পীত জলজাভ শরীর। মােরপঙ্খ শির সােহত নীকে। গুচ্ছ বিচ বিচ কুসুম কলীকে। শােভার পরিসীমা সুন্দর দুই বীর। নীল আর পীত কমলাভ শরীর । ময়ূরের পাখা দিয়া সুশােভিত শির। গুচ্ছ সাজে মাঝে মাঝে কুসুমকলির। ভাল তিলক শ্রমবিন্দু সুহায়ে। শ্রবণ শুভগ ভূষণ ছবি ছায়ে । বিকট ভ্রুকুটি কচ ঘূঘরবারে। নবসরােজ লােচন রতনারে । ললাটে তিলক শ্রমবিন্দু সুশােভিত । শ্রবণে ভূষণ রম্য কিবা শােভান্বিত । বঙ্কিম ভঙ্গি কুঞ্চিত কেশপাশে । লােচন সে নব পদ্ম সলিলে বিকাশে। চারু চিক নাসিকা কপােলা। হাসবিলাস লেত মনু মােলা || মুখছৰি কহি ন জাই মােহি পাহী জো বিলােকি ৰহু কাম লজাহী । চিবুক নাসিকা চারু কপােল শােভয়। হাস্য বিলাসে চিত্ত যেন কিনে লয় । মুখছবি সে আমার বর্ণন অতীত। বিলােকিয়া তাহা বহু অঙ্গ লজ্জিত। উর মণিমাল কমূকল গ্রীবা । কাম কলভকর ভুজৰলসীৰা । সুমনসমেত বামকর দোনা। সৰর কুৱঁর সখী সুঠি লােনা। বক্ষে মণিমালা কম্বুগ্রীবা মনােহর। করী-শিশুশুণ্ড সম বলী চারু কর । বামহস্তে পুষ্পপূর্ণ পত্র দ্রোণধর। শ্যামল কুমার সখি, বড়ই সুন্দর । কেহরি কটি পট পত ধর, সুখমা শীল নিধান। দেখি ভানুকুল ভূষণহি, ৰিসরা সখিনই অপান । সিংহ সম কটি, পীতবাস, সুষমাশীলতা-নিকেতন। হেরি সেই সূৰ্যকুলমণি সখিগণ অত্মবিস্মরণ।
শুভদৃষ্টি হিন্দী বাঙ্গলা ধরি ধীরজ এক সখী সয়ানী। সীতা সন ৰােলী গহি পাণি।। বহুরি গৌরীকর ধ্যান করে। ভূপকিশাের দেখি কিন লেহ। ধৈৰ্য্য ধরি সুচতুর এক সহচরী। কহে তবে জনক-নন্দিনী কর ধরি । পরে নয় ভবানীর করিও চিন্তন। কুমারে কেন না দেখি লওলাে এখন? সকুচি সীয় তব নয়ন উঘারে। সনমুখ দোউ রঘুসিংহ নিহারে। নখশিখ দেখি রাম কৈ শােভা । সুমিরি পিতাপণ মন অতি ক্ষোভ। সঙ্কোচে সীতা তবে আঁখি উন্মীলিল। রঘুবংশ-সিংহ দোহে সম্মুখে হেরিল। আপাদমস্তক রাম-শােভা নেহারিয়া। স্মরিয়া পিতার পণ অতি ক্ষুব্ধ হিয়া। পরবশ সখিনূহ লখী জব সীতা। ভঙ্গ গহরু সৰ কহহি সভীতা ॥ পূনি আউব এহি বিরিয়। কালী। অস কহি মন বিহঁসী এক আলী ॥ সখীরা হেরিল যবে পরবশ সীতা হইল বিলম্ব—সবে কহে উৎকণ্ঠিত। এমনি সময়ে পুন আসিব লােকালি। ইহা কহি মনে বড় হাসে এক আলী! গৃঢ় গিরা শুনি সিয় সকুচানী। ভয়েউ বিলম্ব মাতুভয় মানী। ধরি বড়ি ধীর রাম উর আনি। ফিরা আপন পণ পিতুবশ জানি। গুঢ়বাক্য শুনি সীতা হন সঙ্কুচিতা। বিলম্ব হয়েছে বলি মাতৃভয়ে ভীত। ধরি বড় ধৈৰ্য্য রামে হৃদিমাঝে আনি। ফিরে আপনারে পিতৃপণবশ জানি। দেখন মিস মৃগ বিগ তরু, ফিরই বহােরি বহােরি। নিরখি নিরখি রঘুবীরছবি, বাই প্রীতি ন থােরি । মৃগ পক্ষী তরু দেখা ছলে, ফিরে চাহে পুন পুনরায় । হেরি হেরি রঘুবীর-শােভা, সমধিক প্রেম বাড়ি যায় ।
২
সীতার স্বয়ংবর
হিন্দী
জানি কঠিন শিবচাপ বিরতি।
চলী রাখি উর শ্যামলমূরতি।
প্রভু জৰ জাত জানকী জানী।
সুখ সনেহ শােভা গুণ খানী ।
শিবধনু সুকঠিন জানি দুখী অতি ।
চলে রাখি হৃদয়েতে শ্যামল মূরতি ।
প্রভু যবে জানিলেন সীতা ফিরে ঘর।
সুখ, স্নেহ, শােভা আর গুণের আকর।
পরম প্রেমময় মৃদুমসি কীন্হী।
চারু চিত্ত ভীতি লিখি লীহী।
গঙ্গ ভবানীভবন হাের।
বন্দি চরণ ৰেলী করজোরী ।
পরম প্রেমময় মৃদুমসী দিয়া।
চারু চিত্তপটোপরি রাখিল আঁকিয়া।
পুনরায় গিয়া সীতা ভবানী-ভবন ।
করজোড়ি কহিলেন বন্দিয়া চরণ।
সীতার বরপ্রাপ্তি হিন্দি বাঙ্গলা জয় জয় জয় গিরিরাজকিশােরী জয় মহেশ মুখচন্দ চকোরী । জয় গজবদন ষড়াননমাতা। জগতজননী-দামিনী-তি-গাতা। জয় জয় জয় গিরিরাজকিশােরী। জয় মহেশ আননচন্দ্র চকোরী । জয় গজবদন ষড়ানন-জননী। জগতজননী দামিনী-দ্যুতি বরণী। নহি তব আদি মধ্য অবসানা। অমিতপ্রভাব বেদ নহি জানা। ভব ভব বিভব পরাভব কারিনী। বিশ্বৰিমােহনি স্বৰশ বিহারিনি। নাহিক তােমার আদি মধ্য অবসান। অমিত প্রভাব তব বেদেরও অজান। জগসৃষ্টি, স্থিতি আর প্রলয় কারিণী। বিশ্ব-বিমােহিনী নিজ বশে বিহারিণী। পতিদেবতা সুতীয় মহঁ মাতু প্রথম তব রেখ। মহিমা অমিত ন কহি সহি পতিব্রতা রামাকুল মাঝে তুমি গণ্যা সকলের আগে । মহামহিমা কহিতে নারে সহস্র বাদেবী আর শেষ নাগে। , সহস সারদা শেখ। সেবত তােহি সুলভ ফল চারী । বরদায়িনি ত্রিপুরারিপিয়ারী। দেবি পূজি পদকমল তুম্হারে। সুর নর মুনি সব হােহি সুখারে। সেবি তােমা সুখে লাভ হয় ফলচারি হে বরদায়িনি, ত্রিপুরারির পিয়ারী। অয়ি দেবি পূজি তব চরণ রাজীব। সুখী হয় সুর, নর, মুনি, সর্বজীব। মাের মনােরথ জানহু নীকে। ৰসৰ্ছ সদা উরপুর সৰহী কে। কীহেউ গট ন কারণ তেহী। অস কহি চরণ গহে ৰৈদেহী। তুমি জান প্রকৃত যা মাের মন আশ। সকলের হৃদিপুরে সদা তব বাস। প্রকাশনাহিক করি কারণেতে সেই হেন কহি শ্রীচরণ ধরেন বৈদেহী ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দি বাঙ্গলা বিনয় প্রেমেতে বশ হলেন অম্বিকা। হাসে মূর্তি, পড়ে খসে গলার মালিকা। সমাদরে সে প্রসাদ সীতা শিরে ধরে। কহিলেন কাত্যায়ণী হরিষ অন্তরে । বিনয় প্রেম ৰশ ভ ভবানী। খসী মাল মূরতি মুসুকানী। সাদর সিয় প্রসাদ শির ধরে। বােলী গৌরি হরষু উর ভরেউ । সুনু সিয় সত্য অসীস হমারী । পূর্বহি মনকামনা তুম্হারী । নারদচন সদা শুচি সাচা। সাের মিলিহি জাহি মন রাচা। শুনহ জানকী সত্য আশিস্ আমার । পূর্ণ হবে হৃদয়ের কামনা তােমার । নারদ বচন, সদা সুপবিত্র সত্য। সে বর মিলিবে তােমা যাহে গেছে চিত্ত। মন জাহিরচেউ মিলিহি সো ৰর পাবে তুমি অভিষ্পিত বর সহজ সুন্দর সাবরা। স্বভাব সুন্দর শ্যামল। করুণানিধান সুজান শীলসনেহ দয়াময়, জ্ঞানী, শীল রাম জানত রাবরে। তুব প্রেম জানয়ে সকল । এহি ভাতি গৌরি আসীস সুনি এবম্বিধ দুর্গাশি শুনি সিয়সহিত হিয় হরষিত অলী। সখীসহ সীতা হৃষ্ট হয়ে । তুলসী ভবানীহি পূজি পুনি পুনি গৌরী পুজি পুন পুন সুখে মুদিতমন মন্দির চলী। গৃহে যায়—তুলসীদাস কহে। জানি গৌরি অনুকুল সিম হিয় গৌরী অনুকুল জানি সীতা হরষ ন জাত কহি। হরষিতা বর্ণন অতীত। মঙ্কুল মঙ্গল-মূল অতীব মঙ্গল নিদর্শন 'বাম অঙ্গ ফরকন লগে। বাম অঙ্গ হইল স্পন্দিত।
ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রত্যাবর্তন হিন্দি হৃদয় সরাহত সীয় লােনাঙ্গ গুরুসমীপ গমনে দোউ ভাই। রাম কহ সব কৌশিক পাহী। সরল সুভাব ছুআ ছল নাহী । হৃদয়ে প্রশংসিয়া সীতা সুন্দর। গুরুর সমীপে তবে যান দুই ভ্রাতা। রাম কহিলেন সব কৌশিক সকাশে। সরল-স্বভাব, ছল নাহি তার পাশে। সুমন পাই মুনি পূজা কীন্হী। পুনি অসীস দুই ভাইহ দীন্হী। সুফল মনােরথ হােহি তুমহারে। রাম লষণ শুনি ভয়ে সুখারে। ফুল পেয়ে মুনি তবে করেন পূজন। পুন ভ্রাতৃদ্বয়ে কন আশি বচন। তােমাদের মনােবাঞ্ছা হউক পূরণ । রাম লক্ষ্মণ শুনি আনন্দিত মন। করি ভােজন মুনিবর বিজ্ঞানী। লগে কহন কছু কথা পুরাণী। বিগতদিবস গুরুআয় পাই। সন্ধ্যা করন চলে দোউ ভাঈ । সমাপি ভােজন মুনিবর জ্ঞানবান। লাগিল কহিতে সব কথন পুরাণ। দিবাগতে গুরু আজ্ঞা করিয়া গ্রহণ। সন্ধ্যা করিবারে চলে ভাই দুইজন। প্রাচীদিশি সসি উয়েউ সুহাবা। সিয় মুখ সরিস দেখি সুখ পাবা। বহুরি বিচার কীন্হ মন মাহী। সীয় বদন সম হিমকর নাহী। পূর্বদিকে সমুদিত শশী মনােহর। সীতা-মুখ সম দেখি হর্ষিত, অন্তর। পুনঃ পুনঃ বিচার করেন মনে মন। সুধাকর-সম নহে সীতার আনন। জনম সিন্ধু পুনি ৰন্ধু বিষ , , দিন মলিন, সকলন্ধু । সিয় মুখ সমতা পাব কিমি, চন্দ বাপুরে বন্ধু। জন্ম সিন্ধুমাঝে, বিষ ভ্রাতা, সকলঙ্ক, দিবসেতে ম্লান। গরীব সে বাছা উঁদ.কিসে, . হবে সীত-মুখের সমান!
সীতার স্বয়ংবর বাদলা হিন্দি ঘটই ৰই ৰিহিনি দুখ দাঈ। গ্ৰসই রাহু নিজ সন্ধিহি পাই। কোক শােকপ্রদ পঙ্কজদ্রোহী। অৰগুণ বহুত চন্দ্রমা তােহী। কমে, বাড়ে, দুঃখ দেয় বিরহিনী জনে। গ্রাস করে রাহু যারে নিজ সন্ধিক্ষণে। চকোরের দুঃখদায়ী, শত্রু পঙ্কজের। হে চন্দ্রমা তােমাতেত অপগুণ ঢের ! বৈদেহী মুখ পটতর দীনহে। হােই দোষ ৰড় অনুচিত কীনহে। সিয় মুখছৰি বিধুব্যাজ ৰখানি। গুরু পহি চলে নিশা বড়ি জানী। বৈদেহীর মুখ সহ তুলি তুলনায়। বড় অনুচিত আর বড় দোষ তায়। সীতার মুখশ্রী, বিধু-নিন্দা বাখানি। গুরুপাশে চলে নিশা বেশী হল জানি। করি মুনি চরণসৰােজ প্রণাম। আয় পাই কীন্হী বিশ্রামা। বিগতনিশা রঘুনায়ক জাগে। বন্ধু বিলােকি কহন অস লাগে । করিয়া মুনির পদসরােজে প্রণাম। আদেশ লভিয়া। তবে করেন বিশ্রাম। বিগতরজনী রঘুনায়ক জাগিল। ভ্রাতারে হেরিয়া হেন কহিতে লাগিল। উয়েউ অরুণ অবলােকই তাতা। পঙ্কজ-কোক-লােক সুখদাতা। বােলে লষণ জোরি যুগ পাণী। প্রভু প্রভাব সুচক মৃদুবাণী। ‘উদিত অরুণ কিবা নেহার হে ভ্রাতা। পদ্ম চকোর আর লোক সুখদাতা ॥ বলেন লক্ষ্মণ যােড় করি দুই পাণি। প্রভু প্রভাব-সূচক সুমৃদুল বাণী । অরুণ উদয় সকুচে কুমুদ উডুগণ জ্যোতি মলীন। তিমি তুম্হার আগমন সুনি, ভয়ে নৃপতি বলহীন। ‘সুর্যোদয়ে সঙ্কোচে কুমুদ, তারাগণ জ্যোতি বিমলিন। তথা তব আগমন শুনি, নৃপগণ হন বলহীন।
ভ্রাতৃদয়ের প্রত্যাবর্তন হিন্দি নৃপ সৰ নখত করহি উজিয়ারী। টারি ন সকহি চাপতম ভারী। কমল কোক মধুকর খগ নানা। হরষে সকল নিশা অবসানা । নৃপসব তারা যথা পারে উজলিতে। ধনুরূপী ঘােরাধার নারে বিদূরিতে। কমল চকোর তৃঙ্গ আদি পক্ষিগণ। হয় সবে নিশা অন্তে হরষিত মন- ঐসেহি প্রভু সৰ ভগত তুমহারে। সেরূপ, হে প্রভু তব ভকত সকলে। হােইহহি টুটে ধনুষ সুখারে । আনন্দিত হবে এই ধনুর্ভঙ্গ হলে। উয়েউ ভানু ৰিনু শ্ৰম তমনাশা। ভানুর উদয়ে বিনাশ্রমে তমনাশে। রে নখত জগ তেজ প্রকাশ। দূরিত নক্ষত্র, বিশ্বে তেজের প্রকাশে । রৰি নিজ উদয় ৰাজ রঘুরায়া । প্রভু প্রতাপ সৰ নৃপন্হ দিখায়। তৰ ভুজৰল মহিমা উদঘাটী । প্রগটী ধনু বিঘটন পরিপাটী। রবি নিজ উদয়ের ছলে, রঘুরায় ! প্রভুর প্রতাপ সব নৃপেরে দেখায়। তােমার ও ভুজবল মহিমা উদঘাটি। প্রকাশ করিবে ধনুর্ভঙ্গ পরিপাটী। বন্ধুৰচন শুনি প্রভু মুসুকানে হােই শুচি সহজ পুনীত নহানে। নিতক্রিয়া করি গুরু পহি আয়ে। চরণসরােজ সুভগ শির নায়ে। ভ্রাতৃবাক্যে প্রভু করে মৃদু বিহসন। স্বাভাবিক শুদ্ধ--পুন স্নানে শুচি হন । নিত্যক্রিয়া করি আসি গুরুর গােচরে চরণ-সরােজে চারু শির নত করে ।
যজ্ঞস্থলে রামসীতা হিন্দি বাঙ্গলা সতানন্দ তৰ জনক বােলায়ে। হেনকালে সতানন্দে জনক ডাকিয়া। কৌশিক মুনি পহি তুরত পাঠায়ে। কৌশিক নিকটে দিল দ্রুত পাঠাইয়া। জনকৰিনয় তিহ আয় সুনাঈ। জনক-বিনয় তিনি আসিয়া শুনান। হরষে ৰােলি লিয়ে দোউ ভাঙ্গ। হর্ষে দুই ভায়ে তবে ডাকিয়া পাঠান। সতানন্দ পদ বন্দি প্রভু বসিলেন গুরুপাশে গিয়া । কহিলেন মুনি—“চল বৎস পাঠায়েছে জনক ডাকিয়া। সতানন্দপদ ৰন্দি প্রভু ৰৈঠে গুরু পহি জাই। চলহু তাত মুনি কহেউ তৰ পঠএউ জনক ৰােলাই। সীয়স্বয়ম্বর দেখিয় জাঈ ঈশ কাহিধে দেই ৰড়াঙ্গ। লষণ কহা যশভাজন সােঙ্গ। নাথ কৃপা তব জা পর হােঙ্গ। গমন করিয়া দেখ সীতা স্বয়ংবর। দেখা যাক কারে দেন মহত্ত্ব শঙ্কর। লক্ষ্মণ কহেন ‘সেই যশের ভাজন। হে নাথ, যাহার পরে করুণা আপন। হরষে মুনি সৰ শুনি ৰবৰাণী । দীনুহ অশীশ সহি সুখ মানী। পুনি মুনিবৃন্দ সমেত কৃপালা। দেখন চলে ধনুষমখশালা । হরষিত মুনি সব শুনি মধুবাণী । আশীৰ্বাদ দেন সবে মনে সুখ মানি। অতঃপর মুনিবৃন্দ সহিত কৃপাল। দেখিবারে যাইলেন ধনুযজ্ঞ শাল। বঙ্গভূমি আয়ে দোউ ভাঙ্গ। রঙ্গভূমে দুই ভাই উপস্থিত আসি। অসি সুধি সব পুরবাসিন্হ পাই। এই সমাচার পায় সব পুরবাসী। চলে সকল গৃহকাজ ৰিসারী। চলে সবে গৃহকাজ হয়ে বিস্মরণ। ৰাল যুবান জরঠ নর নাজী। বালক যুবক বৃদ্ধ নরনারীগণ ।
যজ্ঞস্থলে রামসীতা হিন্দি বাঙ্গলা দেখী জনক ভীর ভই ভারী। শুচি সেবক সব লিয়ে হঁকারী । তুরত সকল লােগহ পহি জাহু। আসন উচিত দেহু সৰ কাহু। জনক জনতা দেখি হয় অতিশয় । শুদ্ধ সৈবকবৃন্দে হাঁকি ডাকি কয় । ত্বরিত সকল লােক নিকটেতে যাও। যথাযােগ্য আসন সবাকারে দাও। কহি মৃদুবচন বিনীত তিহ বৈঠারে নরনারি । উত্তম মধ্যম নীচ লঘু নিজ নিজ থল অমুহারি । কহি মৃদু বিনীত বচন বসাইল তারা নরনারী। উত্তম, মধ্যম আর নীচ, লঘু নিজ নিজ স্থল অনুসারি। রাজকুর তেহি অবসর আয়ে। মনহু মনােহর তন ছায়ে । গুণসাগর নাগর রবীরা। সুন্দর শ্যামল গৌর শরীরা ॥ রাজার কুমার সেই অবসরে আসে। মনে হয় সুন্দর মূরতি প্রকাশে । গুণসিন্ধু সুনাগর আর বরবীর। সুন্দর সুশ্যামল গৌর শরীর। রাজসমাজ বিরাজত ৰূরে। উডুগণ মহঁ জনু জুগ বিধু পূরে। জিহ কৈ রহী ভাবনা জৈসী। প্রভূমূরতি তিন্হ দেখী তৈসী । রাজার সমাজে তারা বিরাজিত হয়। তারাগণ মাঝে যেন পূর্ণ বিধুদ্বয় । তাহাদের যে জনার ভাবনা যেমন । প্রভুর মুরতি সেই দেখয়ে তেমন। । দেখহি ভূপ মহা রণধীরা। মনহু বীররস ধরে শরীর। ডরে কুটিল নৃপ প্রভুহি নিহারী। মন ভয়ানক মূরতী ভারী। দেখে ভূপগণ মূৰ্তি মহা রণধীর। মনে হয় বীররস ধরেছে শরীর। ডরিছে কুটিল নৃপ প্রভুকে নেহারি । মনে হয় সে মুরতি ভয়ানক ভারী।
৩২ সীতার স্বয়ংবর হিন্দি বাঙ্গলা রহৈ অসুর ছল জো নৃপ ৰেখা। তিনূহ প্রভু প্রগট কালসম দেখা। পুরবাসিন্হ দেখে দোউ ভাই। নরভূষণ লােচন সুখ দাই। আছিল অসুর নৃপবেশ ধরি যারা। প্রভুরে সাক্ষাৎ কাল সম হেরে তারা। পুরবাসীগণ দেখে সেই দুটী ভাই। মানবভূষণ রূপ নেত্ৰসুখদায়ী। নারি ৰিলােকহি হরষি হিয়, নিজ নিজ রুচি অনুরূপ। জনু সােহত শৃঙ্গার ধরি মুরতি পরম অনূপ । নারীগণ হেরে হৃষ্ট হৃদে নিজ নিজ রুচি অনুরূপ। শৃঙ্গার শােভয়ে যেন ধরি তিটী পরম অনুপ। ৰিদুষণ প্রভু বিরাটময় দীশা। বহু মুখ কর পগ লােচন শীষা। জনজাতি অবলােকহি কৈসে। সজন সঙ্গে প্রিয় লাগহি জৈসে । জ্ঞানীগণ হেরে প্রভু বিরাট দিত্ময় । বহুমুখ কর পদ নেত্র শির রয় । জনকের জ্ঞাতিগণ হেরয়ে কেমন। স্বজনের সঙ্গ প্রিয় লাগয়ে যেমন ।। সহিত বিদেহ ৰিলােকহি রাণী। শিশুসম প্রীতি ন জাই বখানী । যােগিহ পরম তত্তময় ভাসা। সন্ত শুদ্ধ মন সহজ প্রকাশ। বিদেহ সহিত রাণী করে বিলােকন। নিজ শিশুসম, প্রীতি না যায় বর্ণন । যােগিচিত্তে পরতত্তময়ের আভাস। সাধু শুদ্ধমনে প্রভু সহজ প্রকাশ। হরিভগতন দেখে দোউ ভ্রাতা। ইষ্টদেৰ ইৰ সৰ সুখদাতা ॥ রামহি চিতৰ ভাৰ জেহি সীয়া । সােপনেহ মুখ নহি কথুনীয়া। হরিভক্তজন সবে দেখে দুই ভ্রাতা। ইষ্টদেব সম যেন সর্বসুখ দাতা। রামে যেই ভাবে সীতা করেন দর্শন। সেই প্রেম মুখ দিয়া না যায় কথন ।
যজ্ঞস্থলে রামসীতা হিন্দী উর অনুভবতি ন কহি সক সােউ। চিত্তে অনুভবে, নারে বরনিতে সেহ। কৰন প্রকার কহই কৰি কোড। কি প্রকারে কহিবেক তবে কবি কে? জেহি ৰিধি রহা জাহি জস ভাউ । যেই বিধ ভাব যার হৃদয়ে বিরাজে। তেহি তস দেখেউ কৌশলরাউ । সেই প্রকার দেখিল সে কৌশলরাজে৷৷ রাজত রাজসমাজ মই, কোশলরাজ-কিশাের। সুন্দর শ্যামল গৌরতনু, বিশ্ব-বিলােচন-চোর । বিরাজে রাজসমাজ-মাঝে, কোশলের রাজন্য কিশাের। সুন্দর শ্যামল গৌরতনু, বিশ্বজন বিলােচন চোর। সহজ মনােহর মূরতি দোউ । কোটি কাম উপমা লঘু সােউ । শরদ চন্দ নিন্দক মুখ নীকে। নীরজনয়ন ভাবতে জীকে। সহজ ও মনােহর দুইটী মুরতি। কোটি কাম উপমায় তবু লঘু অতি । শারদীয় চন্দ্র নিন্দি মুখ রমনীয়। কমল নয়ন দুটা পরাণের প্রিয় । চিতবনি চারু মার-মদ-হরণী । ভাবত হৃদয় জাত নহি বরণী। কলকপােল শ্রুতিকুণ্ডল লােলা। চিবুক অধর সুন্দর মৃদু বােলা। মদনের দর্পহারী চাহনি শােভন। অন্তর চিন্তা করে, না যায় বর্ণন। শ্রবণে কুণ্ডল শশাভে, রুচির কপােল। চিবুক অধর সুশ্রী, মধু মৃদুবােল ৷ কুমুদ-বন্ধু-কর নিন্দক হাসা । হাস্য সে যে কুমুদিনীসখা নিন্দাকর। কুটী বিকট মনােহর নাসা। কুটি বঙ্কিম কিবা নাসা মনােহর। ভাল বিশাল তিলক ঝলকাহী। বিশাল ললাট-মাঝে তিলক বিরাজে। কচ বিলােকি অলি অবলি লজাহী। কেশ নিরখিয়া অলিমণ্ডলী লাজে ।
৩৪ সীতার স্বয়ংবর বাঙ্গলা হিন্দী পীত চৌতনী শিরহ সুহাঈ। কুসুমকলি বিচ বিচ বনাঙ্গ রেখা রুচির কস্তু কলগ্রীব।। জনু ত্রিভুবনশােভ কী সীব।। পীত শিরােভূষা কিবা শিরােপরি সাজে। কুসুমকলিকা যার মাঝে মাঝে রাজে। মনােরম রেখা কল কস্তু গলদেশে। যেন ত্রিভুবনশােভা-সীমা নিরূদেশে । কুঞ্জরমণি কণ্ঠাকলিত, উরন্হ তুলসিকামাল। বৃষভকন্ধ কেহরিঠবনি, বলনিধি বাহু বিশাল ॥ গজমুক্তা-মাল কণ্ঠে শশাভে বক্ষদেশে তুলসীর মাল । বৃষস্কন্ধ, কেশরী-চলন, বলাধার বাহু সুবিশাল। কটি তূণীর পীত পট বাঁধে। কর শর ধনুষ ৰাম ৰর কঁাধে ॥ পীত যজ্ঞ উপবীত সােহায়ে । নখশিখ মঞ্জু মহা ছবি ছায়ে । কটিতে তূণীর, পীতবাস পরিহিত। বরবামস্কন্ধে ধনু, করে বাণ ধৃত । পীত যজ্ঞ-উপবীত অতি শােভা পায় । আপাদমস্তক মহা সৌন্দৰ্য্য ছায় । দেখি লােগ সৰ ভয়ে সুখারে। একটক লােচন টরত ন টারে ।। হরষে জন দেখি দোউ ভাই। মুনি-পদকমল গহে তৰ জাঈ। নিরখিয়া লােক সব হয় অতি সুখী। একদৃষ্টে চাহে, নারে ফিরাইতে আঁখি | হর্ষিত জনক হেরি ভাই দুইজন। মুনি-পাদপদ্মে গিয়া ধরেন তখন। করি বিনতী নিজকথা সুনাঈ। রঙ্গঅবনি সৰ মুনিহি দেখাঈ । জহঁ জহঁ জাহি কুরবর দোউ । তহঁ তহঁ চকিত চিতব সৰ কোড। করিয়া বিনতি নিজ কথা শুনাইল । রঙ্গভূমি সব মুনিবরে দেখাইল । যেখানেই যান সুকুমার দুইজন। সেখানেই সচকিত হেরে সর্বজন।
যজ্ঞস্থলে রামসীতা হিন্দী নিজ নিজ রুচি রামহি সব দেখা। কোউ ন জান কছু মরম বিশেখা। ভলি রচনা মুনি নৃপ সন কহেউ । রাজা মুদিত মহাসুখ লহেড বাঙ্গলা রামেরে নিরখে সবে নিজ রুচিমত বিশেষ মরম কেহ নহে অবগত। ‘সুন্দর রচনা মুনি নৃপতিৱে কয় । রাজা প্রমুদিত, মহাসুখ উপজয় । সব মঞ্চন্হ তেঁ মঞ্চ এক সুন্দর বিশদ বিশাল। মুনিসমেত দোউ বন্ধু তহঁ বৈঠারে মহিমাল। সৰ্ব্ব মঞ্চ হতে মঞ্চ এক মনােরম বিশদ বিশাল। মুনিসহ দুই ভায়ে তথা লইয়া বসায় মহীপাল। প্রভুহি দেখি সব নৃপ হিয় হারে। জনু রাকেশ উদয় ভয়ে তারে । অস প্রতীতি সব কে মন মাহী। রাম চাপ তােরব শক নাহী । প্রভুরে দেখিয়া সব নৃপ ঘূৰ্ত্তিহীন। পূর্ণচন্দ্র সমুদয়ে যথা তার দীন। এরূপ প্রতীতি সবাকার মনে হয়। রাম ধনু ভাঙ্গিবেন নাহিক সংশয়। বিনু ভঞ্জে ভবধনুষ বিশালা। মেলিহি সীয় রামউর মালা। অস বিচারি গবনহু ঘর ভাঙ্গ। জস প্রতাপ বল তেজ গবাঈ। বিনা ভঙ্গে শিবের সে ধনুক বিশাল। অর্পিবেন সীতা রাম-গলে বরমাল ॥ ইহা ভাবি ঘরে ভাই চলহে ফিরিয়া । যশ শৌৰ্য্য বল বীৰ্য সবি বিসজ্জিয়া । বিহঁসে অপর ভুপ সুনি বাণী । জে অবিবেক অন্ধ অভিমানী। তােরেই ধনুষ ব্যাহু অবগাহা। বিনু তােরে কো কুরি বিয়াহা। বিহসে অপর ভূপ শুনিয়া সে বাণী : যেই অবিবেকী আর অন্ধ অভিমানী । ধনুক ভাঙ্গিলে তবু বিবাহ সংশয়। বিনা ভঙ্গে কে কুমারী করে পরিণয় ?
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা এক বার কালহু কিন হােট সিয়হিত সমর জিতিব হম সােড় । যহ শুনি অপর ভূপ মুসুকানে। ধরমশীল হরিভগত সয়ানে। হউক না যম কেন, তবু একবার। সীতা-লাগি পরাজিব যে কোন প্রকার। ইহা শুনি অন্য ভূপ হাসয়ে ঈষৎ । ধৰ্ম্মশীল, সুচতুর, হরির ভকত । সীয় বিয়াহব রাম, গরবু দূরি করি নৃপহ কেরে জীতি কো সক সংগ্রাম দাসরথিকে রণবাঁকুরে । জানকীরে বিবাহিবে রাম, গৰ্বহীন করি নৃপগণে। জিনিবারে কে পারে সংগ্রাম দাশরথি দুৰ্বার রণে ॥ । বৃথা মরহু জনি গাল বজাঈ। মনমােদহি কি ভুখ বুতাঈ। সিখ হমার সুনি পরম পুনীতা। জগদম্বা জানহু জিয় সী । অনর্থক মরিও না বড়াই করিয়া । কল্পনার মােয়। ক্ষুধা দিবে কি দুরিয়া? অতি পূত শিক্ষা মাের শুনহ শ্রবণে । সীতা স্বয়ং জগদম্বা জ্ঞান কর মনে। জগতপিতা রঘুপতিহি বিচারী। ভরি লােচন ছবি লেহু নিহারী । সুন্দর সুখদ সকল গুণরাশী । এ দোউ বন্ধু শম্ভু-উরবাসী। জগৎপিতা রঘুপতি অন্তরে বিচারি লােচন ভরিয়া ছবি লও হে নেহারি । সুন্দর সুখদ আর সৰ্বগুণরাশি। এই দুই ভ্রাতা শম্ভ-অন্তরবাসী। । সুধাসমুদ্র সমীপ বিহাই। মৃগজল নিরখি মরহু কত ধাই। করই জাঈ জা কই জোই ভাৰা । হম তত আজু জনমফল পাবা । অমৃতের পারাবারে নিকটে বজ্জিয়া। মরীচিকা দেখি কেন মরহ ধাইয়া? কর গিয়া যার মনে আছে যেই ভাব। আমিত করি আজি জন্মফল লাভ।
যজ্ঞস্থলে রামসীতা হিন্দী অস কহি ভলে ভূপ অনুরাগে। রূপ অনূপ বিলােকন লাগে । দেখহি সুর নভ চড়ে বিমান। রহি সুমন করহি কল গান বাঙ্গলা হেন কহি সৎ নৃপগণ অনুরাগে। অনুপম রামরূপ দেখিবারে লাগে । সুরগণ দেখে নভে চড়িয়া বিমান। বরষয় পুষ্পরাশি করি কল গান । জানি সুঅবসর সীয় তব পঠঈ জনক বােলাই। চতুর সখী সুন্দর সকল সাদর চলী লেবাই। শুভযােগ জানিয়া জনক পাঠালেন সীতারে ডাকিয়া সুন্দরী চতুরা সখিগণ সমাদরে চলিল লইয়া। সিয়শােভা নহি জাই বখানী। জগদম্বিকা রূপ গুণ খানি। উপমা সকল মােহি লঘু লাগী প্রাকৃত নারী অঙ্গ অনুরাগী। সীতার সৌন্দৰ্য সে-যে না যায় বর্ণন। জগৎঅম্বিকা রূপগুণ-নিকেতন। উপমা যতেক মােরে লাগে লঘু বলি। প্রাকৃত নারীর অঙ্গে প্রযুজ্য সকলি। সীয় বরণি তেহি উপমা দেই। কুকবি কহাই অষস কো লেঙ্গ। জৌ পটতরিয় তীয় মহ সীয়া । জগ অস যুবতী কহ। কমনীয়া । সীতার বর্ণন করি সে উপমা দিয়া। কে লইবে অপযশ কুকবি বলিয়া ? যার সহ তুলনায় তুলিব সীতারে। সুন্দরী যুবতী হেন কোথা চরাচরে ? গিরা মুখর তনুঅরধ ভৰানী। মুখরা ত সরস্বতী, অর্ধাঙ্গী ভবানী। রতি অতি দুখিত অতনু পতি জানি। রতি অতি দুঃখী—অঙ্গহীন পতি জানি। বিষ বারুণী বন্ধুপ্রিয় জেহী। গরল মদিরা প্রিয় সহােদর যার। কহিয় রমাসম কিমি বৈদেহী। সেই লক্ষ্মীসহ কিসে তুলনা সীতার?
৩ সীতার বয়ংবর বাঙ্গলা হিন্দী জৌ ছবি সুধা পয়ােনিধি হােঙ্গ। পরম রূপ ময় কচ্ছপ সােজ। শােভা রজু মন্দ সিঙ্গারা। মথই পাণিপঙ্কজ নিজ মারূ। সৌন্দর্য্যের যদি হয় সুধা-পয়ােনিধি তাহে হয় লাবণ্যের কচ্ছপ যদি। শােভা রঞ্জু হয় আর মন্দর শৃঙ্গার মন্থেন যদি নিজ পদ্মহস্তে মার। এহি বিধি উপজই লচ্ছী জৰ সুন্দর সুখ মূল তদপি সকোচসমেত কবি কহহি সীয় সমতুল। এইরূপে উপজয় যদি লক্ষ্মী সুখ-সৌন্দর্যের মূল। তথাপি সঙ্কোচ সহ কবি কবে তারে সীতা সমতুল। চলী সঙ্গ লই সখী সয়ানী। গাতি গীত মনােহর বাণী। সােহ নবলতনু সুন্দর সারী। জগতজননী অতুলিত ছবি ভারী। চতুর। সখীরা তারে সঙ্গে ল’য়ে যায় মনােহর বাণীময় সঙ্গীত গায়। শােভিল তরুণ তনু সুন্দরীর সারি। জগতজননীছৰি অতুলিত ভারী। ভূষণ সকল সুদেশ সুহায়ে। অঙ্গ অঙ্গ রচি সখিন্হ বনায়ে। রঙ্গভূমি জব সিয় পণ্ড ধারী। দেখি রূপ মােহে নর-নারী । ভূষণ সকল বরঅঙ্গে শােভা পায় । প্রতি অঙ্গ পরে যাহা সখীরা সাজায় । রঙ্গভূমে যবে সীতা করে পদার্পণ । দেখি রূপ মুগ্ধ হয় নরনারীগণ। হরষি শুরন্হ দুন্দুভী বাঈ বরষি প্রসূন অপছরা গাঙ্গ। পাণি সরােজ সােহ জয়মালা । অবচট চিতয়ে সকল ভূলা । হরষিয়া সুরগণ দুন্দুভি বাজায়। বরষিয়া ফুলদল অপ্সরা গায় । করকমলেতে শােভা পায় জয়মাল। অতর্কিতে হেরে তিনি সকল ভূপাল।
যজ্ঞস্থলে রামসীতা হিন্দী বাঙ্গলা সীয় চকিত চিত রামহি চাহা। ভয়ে মােহবশ সব নরনাহ । মুনি সমীপ দেখে দোউ ভাই। লগে ললকি লােচন নিধি পাই। সীতা চমকিত চিতে রামপানে চায়। হয় মােহবশ সব নরপতি তায়। মুনির সমীপে নেহারিয়া দুই ভায়। নিধি পেয়ে আঁখি লালসিয়া স্থির তায়। গুরুজন লাজ সমাজ বড় দেখি সীয় সকুচানি। লাগি বিলােকন সখিনূহ তন রঘুবীরহি উর আনি। রামরূপ অরু সিয়ছবি দেখী। নরনারিন্হ পরিহরী নিমেখী। সোঁচহি সকল কহত সকুচাহী। বিধি সন বিনয় করহি মন মাহী বিপুল সমাজে গুরুজনে হেরি লাজে সীতা সঙ্কুচিয়া। সখিগণে করে বিলােকন রঘুবীরে অন্তরে আনিয়া। হেরি রামরূপ, সীতা সৌন্দৰ্য্য অশেষ। নরনারীগণ পরিহরিয়া নিমেষ। সবে চিন্তে মনে কিন্তু সঙ্কোচে কহিতে। বিধিরে বিনয়ে মনে লাগিল যাচিতে। । হরু বিধি বেগি জনকজড়তাঈ। মতি হমার অসি দেহি সুহাঙ্গ। বিনু বিচারি পণ ত্যজি নরনা। সীয় রাম কর করই বিয়াহু। হে বিধি! জনক মােহ দুরি ত্বরা অতি । আমাদেরি মত তারে দাও গাে সুমতি। বিনা বিচারেতে, পণ ত্যজি নরনাথ। সীতারে করুক বিবাহিত রামসাথ । জগ ভল কহিহি ভাব সব কাহ্ । হঠ কীহে অন্তহু উর দাহ। এহি লালসা মগন সব লােগ্ । বর সবরাে জানকী জোগ্ । জগৎ কহিবে ভাল—ইচ্ছা সবে করে। জি যদি ধরে, ফলে দহিবে অন্তরে। এই লালসায় মগ্ন রয় সর্বজন। শ্যামল বরটী জানকীর যােগ্য হন।
হরধনুভ হিন্দী তব বন্দীজন জনক বােলায়ে। বিরদাবলী কহত চলি আয়ে । কহ নৃপ জাই কহহু পণ মাের। চলে ভাট হিয় হরষ ন থােরা। তবে বন্দীজনগণে জনক ডাকান। আসে তারা করিতে করিতে যশােগান। কহে নৃপ ‘কহ গিয়া আমার সে পণ। চলে ভাট অন্তরেতে হর্ষ বিলক্ষণ । বােলে বন্দী বচনবর সুনহু সকল মহীপাল । প বিদেহ কর কহহি হম ভুজা উঠাই বিশাল || বলে বন্দীগণ সুবচন “শুনহে সকল মহীপাল। বিদেহ রাজের কহি পণ উঠাইয়া ভুজ সুবিশাল ॥ নৃপ ভুজ বলু বিধু শিবধনু রাহু। গরুঅ কঠোর বিদিত সব কাহ্। রাবন বান মহাভট ভারে । দেখি শাসন গৰহি সিধারে । রাহু শিবধ, বিধু-নৃপভুজবল । গুরুভার সুকঠোর বিদিত সকল । রাবণ ও বাণ সম মহা যােদ্ধগণ। দেখি শরাসন সবে ফিরিল ভবন। সােই পুরারি কোদও কঠোরা। রাজসমাজ আজু জেই তাের।। ত্রিভুবন জয় সমেত বৈদেহী। বিনহি বিচার বরই হঠী তেহী। পুরারির সেই সুকঠোর শরাসন। যে রাজসমাজে আজ করিবে ভঞ্জন । ত্রিভুবন জয় সহ বিদেহ কোরী। বরিবে নিশ্চয় তারে বিচার না করি । সুনি পণ সকল ভুপ অভিলাষে । ভট মানি অতিশয় মন মাযে । পরিকর বাঁধি উঠে অকুলাই। চলে ইষ্টদেহ শিরু নাই। শুনি পণ অভিলাষে সকল ভূপতি। বীৰ্য্যাভিমানীগণ উত্তেজিত অতি । আকুল হইয়া উঠে বাঁধি পরিকর ইষ্টদেবে নমি শির হয় অগ্রসর ।
হরধনুর্ভঙ্গ ৪১ হিন্দী তমকি তাকি তকি শিৰধনু ধরহী মদগৰ্বে দেখি শুনি শিবধ ধরে। উঠই ন কোটি ভাতি বল করহী উঠিল না বিবিধ উপায়ে বল করে। জিহ কে কছু বিচার মন মাহী যাহাদের মনে কিছু ছিল বিবেচন। চাপসমীপ মহীপ ন জাহী। ধনুপাশে নাহি যায় সে সব রাজন। তমকি ধরহি ধনু মূঢ় নৃপ উঠই ন চলহি লজাই। মনহু পাই ভট-বাহুবল অধিক অধিক গরুআই। গৰ্ব্বে ধরে ধনু মূঢ় নৃপ উঠিতে ফিরে লাজভর। বুঝি পেয়ে যােদ্ধ-বাহুবল ধনু আরাে হয় গুরুতর। ভূপ সহস দশ একহি বারা। লগে উঠাৰন টরই ন টার ॥ ডগই ন শম্বুশরাসন কৈসে। কামীবচন সতীমন জৈসে । ভূপতি সহস্র দশ মিলি একবারে। উঠাইতে গেল কিন্তু টলাইতে নারে। তেমতি অটল রহে শম্বুশরাসন। কামীর বচনে যথা সতীনারী-মন। সৰ নৃপ ভয়ে যােগ উপহাসী। জৈসে বিনু বিরাগ সন্যাসী। কীরতি বিজয় বীরত ভারী। চলে চাপকর সরবস হারি । উপহাস যােগ্য হয় নৃপেরা তেমতি। বৈরাগ্য-বিহীন হয় সন্ন্যাসী যেমতি । কীরতি বিজয় আর বীরপনা ভারী। চলি গেল ধনুপাশে সরবস্ব হারি । শ্রীহত ভয়ে হারি হিয় রাজা । শ্রীহত হইয়া ভূপ হারিয়া অন্তরে। বৈঠে নিজ নিজ জাই সমাজ। বসে গিয়া নিজ নিজ সমাজ ভিতরে । নৃপহ বিলােকি জনক অকুলানে। নৃপগণে হেরিয়া জনক আকুলিত। বােলে বচন কােষ জনু সানে । বলেন বচন সব রােষ-বিজড়িত ৪২ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা দ্বীপ দ্বীপ কে ভূপতি নানা। আয়ে সুনি হম জো পন ঠান। দেৰ দনুজ ধরি মনুজশরীর। । বিপুলবীর আয়ে রণধীরা । “দ্বীপ দ্বীপ হতে সব নরপতিগণ। সমাগত শুনি আমি করেছি যে পণ || দেবতা দনুজ ধরি মনুজ-শরীর। এসেছে বিপুল বীর সবে রণধীর । কুরি মনােহর বিজয় বড়ি কীরতি অতি কমনীয় । পানিহার বিরঞ্চি জনু রচেউ ন ধনুদমনীয়। রম্যা বালা, বিপুল বিজয় আর কীৰ্ত্তি অতি বিমােহন। লভিবারে ধনুভাঙ্গি কারে বুঝি ব্রহ্মা করেনি সৃজন । কহহু কাহি য়হ লাভ ন ভাৰা । কাহ্ ন শঙ্করচাপ চঢ়াৰা । রহউ চঢ়াউব তােরব ভাই। তিল ভরি ভূমি ন সকে চুড়াঈ । কহ কারে এই লাভ শ্রেয় না লাগিল। শিবের ধনুতে কেন জ্য। না আরােপিল ? থাক ভাই জ্যারােপন অথবা ভঞ্জন। তিলমাত্র ভূমি হ’তে নৈল উত্তোলন! অব জনি কোউ মাখই ভট মানী। কেহ যেন নাহি রহে বীরত্বাভিমানী। বীরবিহীন মহী মৈ জানি । বুঝিলাম বীরশূন্য হয়েছে মেদিনী। জহু আশ নিজ নিজ গৃহ জাহ্। তেয়াগিয়া আশা নিজ নিজ গৃহে যাহ। লিখা ন বিধি বৈদেহীবিবাহু । বিধাতা লিখেন নাই বৈদেহী-বিবাহ সুকৃত জাই জো পন পরিহরউ । সুকৃতি যাইবে কৈলে পণ পরিহার । কুরি কুআঁরি রহউ কা কর । কুমারী রহিবে কন্যা, কি করিব আর ? জেী জনতেউ বিনু ভট ভুই ভাই। যদি জানিতাম বীরশূন্য এ ভুবন। তৌ পণ করি হােতেউ ম সাঈ । না হতাম হাস্যাস্পদ করিয়া এ পণ।”
হরধনুর্ভঙ্গ হিন্দী বাঙ্গলা জনকবচন শুনি সব নরনারী । দেখি জানকিহি ভয়ে দুখারী । মাখে লষণ কুটিল ভই ভৌহৈ রদপুট ফরকত নয়ন রিসোহৈ জনক বচন শুনি নরনারীগণ। জানকীরে দেখি হয় দুঃখে নিমগন । কুটিল ভঙ্গি করে ক্রুধিয়া লক্ষ্মণ। ওষ্ঠপুট বিকম্পিত, কুপিত নয়ন | কহি ন সকত রঘুবীর ডর লগে বচন জনু বাণ। নাই রাম-পদকমল শির বােলে গিরা প্রমাণ। কহিবারে নারে রাম-ডরে বচন লাগিছে যেন বাণ। রাম-পাদপদ্মে নমি শির কহে বাক্য যেমতি প্রমাণ। রঘুবংশিহ মই জহঁ কোউ হােট। রঘুবংশীয় মাঝে যথা কেহ রহে। তেহি সমাজ অস কহই ন কোই। সে সমাজে এইরূপ কেহ নাহি কহে। কহী জনক জসি অনুচিত বানী। জনক যেরূপ কহে অনুচিত বাণী । বিদ্যমান রঘুকুলমণি জানি। বিদ্যমান রঘুকুলমণি হেথা জানি। সুনহু ভানুকুলপঙ্কজভান্। কহউ সুভাব ন কছু অভিমানু । জোঁ তুমহার অনুশাসন পাউ। কন্দুক ইৰ ব্ৰহ্মাণ্ড উঠাৰউ । সূৰ্য্যকুল-পদ্ম-রবি! কর অবধান। কহি স্বাভাবিক মাত্র—বিনা অভিমান। যদ্যপি আপনার অনুমতি পাই। কন্দুকসম এই ব্রহ্মাণ্ড উঠাই। কাচে ঘট জিমি ডারউ ফোরী । সকউ মেরু মূলক ইৰ তােরী। তব প্রতাপমহিমা ভগবানা। কা বাপুরে পিণাক পুরাণ । কাচের ঘটের মত ফেলিব চুরিয়া। পারি মেরু মূলাসম ফেলিতে ভাঙ্গিয়া । তব প্রতাপের মহিমায় ভগবান। কোথা লাগে তুচ্ছ এই পিণাক পুরাণ?
৪৪ সীতার স্বয়ংবর বাঙ্গলা হিন্দী নাথ জানি অস আয়সু হােউ । কৌতুক করউ বিলােকিয় সৌউ কমলনাল জিমি চাপ চাউ। যােজন শত প্রমাণ লে হে নাথ অনুজ্ঞা দাও, জানিয়া এমন। কৌতুক করিব আমি, কর বিলােকন। মৃণালের সম চাপে গুণ চড়াইব। শতেক যােজনবিধি লইয়া ধাইব । তােরউ ছত্রক দণ্ড জিমি, তব প্রতাপ বল নাথ। জৌ ন করউ প্রভুপদ শপথ কর ন ধরঙ ধনু ভাথ । ভাঙ্গিব ছত্রক দণ্ড সম, তােমার প্রতাপ-বলে নাথ। নারিলে শপথ প্রভুপদে, দিব ধনুক তুণে হাত ৷ লষণ সকোপ বচন জব বােলে। ভগমগানি মহি দিগগজ ডােলে। সকল লােক সব ভূপ ডেরানে। সিয়হিয় হরষ জনক সকুচানে। সকোপ বচন যবে লক্ষ্মণ বলিল। ধরিত্রী কম্পিত হয়—দিগগজ দুলিল। সৰ্ব্বলােক ও সকল নৃপতি ডরিল । হরষিতা জানকী জনক সঙ্কুচিল । গুরু রঘুপতি সব মুনি মন মাহী। গুরু, রঘুপতি, সব মুনিরা অন্তরে। মুদিত ভয়ে পুনি পুনি পুলকাহী। প্রমুদিত—পুনঃ পুনঃ পুলক সঞ্চরে। সয়নহি রঘুপতি লষণ নিবারে। ইঙ্গিতে রঘুপতি লক্ষ্মণে নিবারে। প্রেমসমেত নিকট বৈঠারে । নিকটেতে বসাইল প্রেম সহকারে । বিশ্বামিত্র সময় শুভ জানি। বােলে অতি সনেহ ময় বাণী । উঠই রাম ভঞ্জহু ভবচাপা। মেটহু তাত জনক পরিপা বিশ্বামিত্র মুনি তবে শুভ কাল জানি। বলিলেন অতিশয় স্নেহময় বাণী । উঠহ হে রাম! ভঞ্জহ ভবচাপ। মিটাও হে বৎস জনকের পরিতাপ।
হরধনুর্ভঙ্গ ৪৫ হিন্দী বাঙ্গলা মুনি গুরুবচন চরণ শির নাবা। হরষু বিষাদু ন কছু উর আবা। ঠাঢ় ভয়ে উঠি সহজ সুভায়ে। ঠৰনি যুবা মৃগরাজ লজায়ে। শুনি গুরুবাক্য পদে শিরনত করে। হর্ষ বিষাদ কিছু না হয় অন্তরে । উঠি দাড়াইল তবে সহজ সুভাবে। যুবা মৃগরাজে লজ্জা দিয়া হাবভাবে । উদিত উদয় গিরি মঞ্চ পর রঘুবর বালপতঙ্গ। বিকসে সন্তসরােজ সব হরষে লােচনভৃঙ্গ । উদিত উদয়গিরি-মঞ্চে রঘুবর বাল দিবাকর। বিকশে সাধু-সমােজ সব হরষিত লােচন-ভ্রমর। নৃপন্হ কেরি আশা-নিশি নাসী। বচন নখত অবলী ন প্রকাশ । মানী মহিপকুমুদ সকুচানে। কপটী ভূপ উলুক লুকানে। নৃপতিগণের আশা-নিশি হ’ল নাশ। বাক্যরূপ তারাদল হয় অপ্রকাশ। মানী মহীপ-কুমুদ হ’ল সঙ্কুচিত । কপটী ভূপ-পেচক হয় লুক্কায়িত। ভয়ে বিশােক কোক মুনি দেব। বরষহি সুমন জনাবহি সেবা। গুরুপদ বন্দি সহিত অনুরাগা । রাম মুনিনূহ সন আয় মগা । শােকহীন কোক-রূপী মুনিদেবগণ। সেবা জানাইল করি পুষ্প বরিষণ। গুরুচরণ বন্দন করি অনুরাগে। রাম মুনিসমুহের অনুমতি মাগে। সহজহি চলে সকল জগস্বামী। মত্ত মঞ্জুর কুঞ্জর গামী ॥ চলত রাম সব পুরনরনারী। পুলক পুরী তন ভয়ে সুখারী । সহজে চলেন সর্ব জগতের স্বামী। প্রমত্ত মঞ্জু বরকুঞ্জর গামী। রামের গমনে পুরনরনারীচয়। পুলকে পূরিত তনু সুখান্বিত হয়।
৪৬ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা বন্দি পিতর সব সুকৃত সভারে। জৌ কছু পুণ্য প্রভাব হমারে । তৌ শিৰধনু মৃণাল কী নাঈ। তােরহি রামু গণেশ গােসাই। বন্দি পিতৃগণে, স্মরে সুকৃতি সকল। “যদি থাকে আমাদের কিছু পুণ্য ফল। তবে এই শিবধনু মৃণাল যেমতি। ভাঙ্গিবেন রামচন্দ্রপ্রভু গণপতি !” রামহি প্রেম সমেত লখি সখিনূহ সমীপ বােলাই। সীতামাতু সনেহবস বচন কহহি বিলখাই। রামে প্রেমভরে নিরখিয়া সখিগণে সমীপে আম্বানি। জানকী-জননী মেহবশে কহিলেন দুঃখপূর্ণ বাণী। সখি সব কৌতুক দেখনিহারে। জেউ কহাত হিতু হারে। কোউ ন বুঝাই কহই নৃপ পাহী। এ বালক অস হঠ ভল নাহী। “অয়ি সখি! সকলেই কৌতুক দেখ। যারা মাের হিতাকাঙ্ক্ষী দেয় পরিচয়। কেহ নাহি নৃপতিরে বুঝাইয়া কয়। বালক এ, হে জিদ করা ভাল নয়। রাবণ বাণ ছুআ নহি চাপা। হারে সকল ভূপ করি দাপা। সাে ধনু রাজ কুৱঁর কর দেহী। বালমরাল কি মন্দর লেহী ॥ রাবণ ও বাণ নাহি স্পর্শে শরাসন। দর্প করি হারি গেল যত ভূপগণ। সেই ধনু দেন রাজকুমারের করে ! তরুণ মরাল কিগাে মন্দর ধরে ? ভূপসয়ানপ সকল সিরানী। ভূপতির বুদ্ধিমত্তা শেষ হ’ল সব। সখি বিধিগতি কহি জাতিন জানী | সখি! বিধিগতি নাহি হয় অনুভব ৷” বােলী চতুর সখী মৃদু বাণী । বলিলা চতুরা এক সখী মৃদুবাণী । তেজবন্ত লঘু গণিয় ন রায় ॥ “তেজবন্তে লঘু বলি না গণিও রাণি ।
হরধনুর্ভঙ্গ ৪৭ হিন্দী কহঁ কুম্ভজ কহঁ সিন্ধু অপার । সােখেউ সুষস সকল সংসার রবিমণ্ডল দেখহ লঘু লাগা। উদয় তা ত্ৰিভুৰন তম ভাগা। কোথায় অগস্ত্য, কোথা সমুদ্র অপার। শুষিয়া সুযশে ভরে সকল সংসার। রবিমণ্ডল দেখ লঘু মনে হয়। উদয়ে তাহার বিশ্ব-তম দূর হয় মন্ত্র পরমলঘু জাসু বশ বিধি হরিহর সুর সর্ব । মহা মত্ত গজরাজক বস কর অঙ্কুশ খর্ব । মন্ত্র লঘু অতি, করে বশ সর্ব সুরে-বিধি হরিহরে। কোথা মহামত্ত গজরাজ ক্ষুদ্র অঙ্কুশেতে বশ করে। কাম কুসুমধনুশায়ক লীহে। সকল ভুৰন অপনে বস কীহে। দেবি তজিয় সংশয় অস জানী। ভঞ্জব ধনুষু রাম সুনু রানী। কাম ফুলধনুর্বান করিয়া গ্রহণ। সারা বিশ্ব বশীভূত করিল আপন । দেবি! ত্যজ সংশয় এইরূপ জানি। ধনু-ভঙ্গ করিবেন রাম, শুন রাণি ॥” সখীৰচন সুনি ভই পরতীতী। মিটা বিষাদ বঢ়ী অতিপ্রীতী। তব রামহি বিলােকি বৈদেহী। সভয় হৃদয় বিনৰতি জেহি তেহী। সখীর বচন শুনি হইল প্রতীতি। মিটিল বিষাদ, বাড়ে অতিশয় প্রীতি। তবে রামে বিলােকিয়া বিদেহ-কুমারী। সভয় হৃদয়ে করে বিনতি সবারি । মনহী মন মনাৰ অকুলানী। হােউ প্রসন্ন মহেশ ভৰানী। করহু সুফল আপন সেকাঈ । করি হিত হরহু চাপগৰুআঙ্গ। মনে মনে মানিলেন ব্যাকুল হইয়া । হওহে প্রসন্ন মহেশ্বর ভবপ্রিয়া । করহ সফল সব সেবা দোহাকার। করি হিত হরি লও চাপগুরুভার।
৪ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী গণনায়ক বরদায়ক দে। আজু লগে কীহেউ তৰ সেবা বার বার সুনি বিনতী মােরী। করহু চাপগুরু অতি থােরী। হে গণনায়ক দেব বর দানকারী। অদ্যাবধি আমি সেবা করেছি তােমারি। বার বার অনুনয় শুনিয়া আমার। অতি লঘু করি দাও চাপ-গুরুভার দেখি দেখি রঘুবীর তন সুর মানৰ ধরি ধীর। ভরে বিলােচন প্রেমজল পুলকালী শরীর। দেখি দেখি রঘুবীর-তনু দেবতা মানয় হয়ে ধীর প্রেমজলে লােচন ভরিল পুলকিত হইল শরীর। নীকে নিরখি নয়ন ভরি শােভা। ভালরূপে নিরখেন শােভ আঁখি ভরি। পিতুপনু সুমিরি বহুরি মন ছােভা। মনে বহু ক্ষোভ পুন পিতৃপণ স্মরি । অহহ তাত দারুণ হঠ ঠানী। হায়! তাত কৈল পণ নিদারুণ অতি। সমুঝত নহি কছু লাভু ন হানী। বুঝিয় না দেখি কিছু লাভ আর ক্ষতি। সচিৰ সভয় সিখ দেই ন কোই। বুধসমাজ বড় অনুচিত হােঙ্গ। কই ধনু কুলিশহু চাহি কঠোরা। কই শ্যামল মৃদুগাত কিশােরী। শিক্ষা নাহি দেয় সব সচিব সভয় । পণ্ডিত সমাজে বড় অনুচিত হয়। কোথা ধনু কুলিশ অপেক্ষা কঠোর কোথায় শ্যামল মৃদুগাত্র কিশাের ! বিধি কেহি ভতি ধরউ উর ধীর। হে বিধি কেমনে ধৈৰ্য্য ধরিব হিয়ায় । সিরিস সুমন কন বেধিয় হীরা ॥ সিরিস-কুসুম-কণা বিঁধে কি হীরায় ? সকল সভা কৈ মতি ভই ভােরী। সভাস্থ সকলেরই ভ্রষ্ট হল মতি। অব মােহি শম্ভু চাপ গতি তােরী। হরধনু এক্ষণে তুমি মাের গতি।
হরধনুর্ভঙ্গ ৪১ হিন্দী নিজ জড়তা লােগহ পর ডারী। নিজ ভার নিক্ষেপিয়া জনগণ প্রতি। হােহু হরুজ রঘুপতিহি নিহারী লঘু হও নিরীক্ষণ করি রঘুপতি। অতি পরিতাপ সীয়মন মাহী। অতি পরিতাপপূর্ণ হয় সীতা-চিত। লনিমেষ জুগসম চলি জাহী। নিমেষ মাত্ৰও যুগসম অনুমিত। প্রভুহি চিতই পুনি চিতই মহি রাজত লােচন লােল। খেলত মসিজু মীন জুগ জনু বিধুমণ্ডল ডােল। হেরি প্রভু, পুন হেরে মহী চঞ্চল নয়ন শােভা পায় । খেলে কাম-মীনযুগ যেন চন্দ্রমণ্ডল দোলায়। গিরাঅলিনি মুখপঙ্কজ রােকী প্রগট ন লাজনিশা অবলােকৗ । লােচনজলু রহ লােচনকোণা। জৈসে পরম কৃপণ কর সােণা । বাক্য-অলি বদন-পঙ্কজে রুদ্ধ রয়। লজ্জা-নিশা নিরখিয়া নাহি বাহিরয় নয়নের বারি রহে কোণে নয়নের । স্বর্ণ যথা রহে করে মহা কৃপণের ॥ সকুচী ব্যাকুলতা বড়ি জানী। ধরি ধীরজ প্রতীতি উর আনী। তন মন বচন মাের পনু সাচা। রঘুপতি-পদসরােজ চিতু রাচা। অতি ব্যাকুলতা বুঝি, সঙ্কুচিত হয়ে । ধৈর্য ধরিয়া আনে প্রতীতি হৃদয়ে। কায়মনােবাক্যে যদি সত্য মাের পণ। রঘুপতি চরণ-সরােজে রহে মন। ভগবান সকল উরবাসী। তবে ভগবান সর্ব হৃদয়নিবাসী। করিহহি মােহি রঘুবর কৈ দাসী। করিবেন-ই আমারে রঘুবর-দাসী। জেহি কে দেহি পর সত্য সনে। যাহার যাহার পরে প্রকৃত সনে। সাে তেহি মিলই ন কছু সন্দেহ। তার সনে মিলিবে সে নাহিক সন্দেহ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বালাে প্রভুতন চিতই প্রেমপণ ঠানা। প্রভু পানে চাহি সীতা করে প্রেমপণ । কৃপানিধান রাম সব জানা। কৃপার নিধান রাম সব জ্ঞাত হন। সিয়হি বিলােকি কেউ ধনু কৈসে। সীতারে বিলােকি ধনু হেরয়ে কেমনি চিতৰ গরুড় লঘু ব্যালহি জৈসে। হেরয়ে গরুড় ক্ষুদ্র সৰ্পেরে যেমনি । লষণ লখেউ রঘুবংশমণি তাকেউ হরকোদণ্ড। পুলকি গাত বলে বচন চরণ চাপি ব্ৰহ্ম । লক্ষ্মণ হেরি রঘুবংশমণি নিরখেন হরের কোদণ্ড। পুলকিত দেহে কহে বাণী চরণেতে চাপিয়া ব্ৰহ্মাণ্ড । দিশিকুঞ্জরহু কমঠ অহি কোলা। ধরহু ধরণি ধরি ধীর ন ভােলা। রাম চহহি শঙ্করধনু তাের।। হােহ সজগ সুনি আয় মােরা । “দিগগজ কুৰ্ম্ম নাগ বরাহ সকলে। ধর ধরা ধৈৰ্য্য ধরি যেন নাহি দোলে। শ্রীরাম ভাঙ্গিতে চান হরধনু খান। আমার আদেশ শুনি হও সাবধান। চাপসমীপ রাম জব আয়ে। নরনারিন্হ সুর সুকৃত মনায়ে । ধনুর সমীপে রাম যখন আসিল। নরনারীগণ দেবে সুকৃতি মানিল। সবকর সংশয় অরু অজ্ঞানু। মন্দমহীপন্হ কর অভিমানু। ভূপতি কেরি গরবগৰুআঙ্গ। সুর মুনিবরহকেরি কদরাঈ। সিয় কর সােচ জনকপছি। রাণিহ কর দারুণ দুখ পাৰা। সবাকার সদেহ আর অজ্ঞান। মন্দ মহীপতিদের যত অভিমান। গৰ্ব বড়াই যত পরশুরামের। কাতরতা চিত্তে মুরমুনিগণের। জানকীর শােক, জনকের পরিতাপ। যতেক রাণীর নিদারুণ দুঃখ দাব।
হরধনুর্ভঙ্গ হিন্দী বাঙ্গলা শম্ভুচাপ বড় বােহিত পাই হরধনুরূপ বড় জাহাজ পাইয়া। চড়ে জাই সব সঙ্গ বনাঙ্গ। সকলেতে একসঙ্গে চড়িল যাইয়া । রামবাহু বল সিন্ধু অপার । রাম-বাহুবল কিন্তু সমুদ্র অপার । চহত পার নহি কোউ কনহারা । পার হতে চায় নাহি কোন কর্ণধার ॥ রাম বিলােকে লােগ সব রাম বিলােকিল লােক সবে চিত্রলিখে সে দেখি। যেন তারা চিত্রেতে লিখিত। চিতঈ সীয় কৃপায়তন নেহারে সীতারে কৃপাধার জানী বিকল বিশেখী। বিশেষ বিকল জানি চিত। দেখী বিপুল বিকল বৈদেহী। নিরখিয়া বৈদেহীরে অতীব ব্যাকুল। নিমিষ বিহাত কলপসম তেহী। নিমেষ যাপন তার কল্পসমতুল। তৃষিত ৰারি বিনু জো তনু ত্যাগা। তৃষান্বিত বারি বিনা যেই তনুত্যাগে। মুয়ে করই কা সুধাতড়াগা। মরণান্তে করিবে কি সুধার তড়াগে ? কা বরষা জব কৃষি সুখানে। সময় চুকে পুনি কা পছিনে। অস জিয় জানি জানকী দেখী। প্রভু পুলকে লখি প্রতি বিশেখী। বর্ষায় কি কাজ যবে কৃষি শুষ্ক হয়। কাল গতে অনুতাপে কিবা ফলােদয় ? অন্তরে এরূপ ভাবি জানকীরে দেখে। বিশেষ পীরিতি দেখি পরভু পুলকে। গুরুহি প্রণাম মনহি মন কীন্হা। শ্রীগুরুরে মনে মনে প্রণাম করিয়া । অভিলাঘৰ উঠাই ধনু লীহা । অতি লঘুভাবে ধনু ল’ন উঠাইয়া। দমকেউ দামিনি জিমি জব লয়। যখন উঠান যেন দামিনী বিকাশে। পুনি নভ ধনু মণ্ডল সম ভয়। পুন ইন্দ্রধনুসম হইল আকাশে।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী লেত চঢ়াৰত খৈঞ্চত গাঢ়ে। কাহু ন লখা দেখ সব ঠাঢ়ে । তেহি ছন রাম মধ্য ধনু তােরা। ভরেউ ভুবন ধ্বনি ঘাের কঠোরা। ধনু নিল, গুণ দিল, দিল জোরে টান। কেহ না দেখিল-হেরে সবে দণ্ডমান। সেই ক্ষণে রাম মধ্য ধনুক ভাঙ্গিল । শবদে কঠোর ঘাের ভুবন ভরিল । ভরে ভুবন ঘাের কঠোর রব রবিবাজী তজি মার চলে। চিক্করহি দিগগজ ডােল মহি অহি কোল কুম কলমলে। ভরে বিশ্ব ঘাের তীব্র রবে সূৰ্য-অশ্ব মার্গ ত্যজি চলে। দোলে মহী-গরজে দিগগজ নাগ, কুৰ্ম্ম, বরাহ সকলে । সুর অসুর মুনি কর কানদীহে সকল বিকল বিচারহী। কোদণ্ড খণ্ডেউ রাম তুলসী জয়তি বচন উচারহী। সুরাসুর মুনিগণ সবে কর্ণে হস্তবিকল বিচারে। ধনুর্ভঙ্গ করিলেন রাম জয়ধ্বনি তুলসী উচ্চারে। শঙ্করচাপ জাহাজ সাগর রঘুবর বাহুবল বুড় সাে সকল সমাজ চড়ে জো প্রথমহি মােহবশ । শঙ্করের ধনুক জাহাজ সাগর রাঘব-বাছবল। পূর্বে যারা চড়ে মােহবশে মগ্ন হয় সেই সর্বদল। প্রভু দাউ চাপখণ্ড মহি ডারে। দেখি লােগ সব ভয়ে মুখারে। কৌশিকরূপ পয়ােনিধি পান। প্রেমবারি অৰগাহ সুহান। প্রভু ধনুখণ্ড দুটী করে ভূপাতিত। দেখিয়া সকল লােক হয় আনন্দিত। বিশ্বামিত্র যেন পয়ােনিধি সুপাবন। তার প্রেমবারি মুগভীর সুশােভন।
হরধনুর্ভঙ্গ হিন্দী রামরূপ রাকেশ নিহারী। বঢ়ত বীচি পুলকাৰলি ভারী। বাজে নভ গহগহে নিসানা। দেৰবধূ নাহি করি গান। রামরূপ পূর্ণচন্দ্র করি নিরীক্ষণ। পুলক-তরঙ্গমালা হইল বর্ধন। অন্তরীক্ষে দুন্দুভি বাজয়ে সঘন। গান করি নৃত্য করে দেববধুগণ। ব্ৰহ্মাদিক সুর সিদ্ধ মুনীশা। ব্রহ্মা আদি সুর আর সিদ্ধ মুনীশ। প্রভুহি প্রশংসহি দেহি অশীসা। প্রভুর প্রশংসা করি দানিল আশিস বরষহি সুমন রঙ্গ বহু মালা। বরষণ করে বহু রঙ্গ ফুলমাল। গাহি কিন্নর গীত রসালা । গাহিল কিন্নরগণ সঙ্গীত রসাল । রহী ভুবন ভরি জয় জয় বানী। ধনুষভধ্বনি জাত ন জানী। মুদিত কহহি জহঁ তহঁ নরনারী। ভঞ্জেউ রাম শম্ভধনু ভারী। ভুবন ভরিয়া রয় জয় জয় বাণী। শুনা নাহি যায় তাহে ধনুর্ভঙ্গধ্বনি। আনন্দিত কহে যথা তথা নরনারী। রামচন্দ্র ভাঙ্গিলেন হরধনু ভারী। বন্দী মাগধ সূতগণ বিরদ বদহি মতিধীর করহি নিছারি লােগ সব হয় গয় মণি ধন চীর । সুধীর মাগধ বন্দী সুত সবে মিলি করে যশােগান। সর্বলােক অশ্ব গজ আদি – ধনরত্ন বস্ত্র করে দান। ঝাঁঝি মৃদঙ্গ শঙ্খ সহনাঙ্গ। ভেরি ঢােল দুন্দুভী সুহাই। বাজহি বহু বাজনে সুহায়ে । জই তহঁ যুবতিনহ মঙ্গল গায়ে। ঝাঁঝর মৃদঙ্গ শঙ্খ সানাই নিকরে । ভেরী ঢােল দুন্দুভি কিবা শােভা ধরে! বাজিছে বাজনা বহু পরম সুন্দর। যথা তথা যুবতীরা গাহে শুভকর ।
সীতার স্বয়ংবর
হিন্দী
বাঙ্গলা
সখিনূহ সহিত হরষী সব রাণী।
সুখত ধানু পরা জনু পানী ।
জনক লহেউ সুখ শােচ বিহাঙ্গ।
পৈরত থকে থাহ জনু পাই ।
সখীসহ হরষিত হয় সব রাণী।
শুষ্কপ্রায় ধান্যে যেন পড়িয়াছে পানি।
জনক লভিল সুখ শােক দূরে যায়।
সাতারিয়া শ্রান্ত জন যথা থই পায় ।
শ্রীহত ভয়ে ভূপ ধনু টটে।
জৈসে দিবস দীপছবি ছুটে ৷৷
সীয় খহি বরনিয় কেহি ভাতি
জনু চাতকী পাই জলুস্বাতী।
রামহি লষনু বিলােকত কৈসে।
শশিহি চকোরকিশােরেকু জৈসে।
ধনুর্ভঙ্গে ভূপগণ হইল শ্রীহীন ।
দিবাগমে দীপশােভা যেমতি বিলীন।
সীতামুখ কি প্রকারে করিব বর্ণন।
স্বাতীজল পেয়ে হয় চাতকী যেমন।।
লক্ষ্মণ রামকে দেখে, ইহার উপমা।
কিশাের চকোর যথা নিরখে চন্দ্রমা।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা সতানন্দ তব আয় দীন্হা। সীতা গমন রাম পহি কীন্হা । সতান তবে করিলেন আজ দান। সীতাদেবী রামচন্দ্র নিকটেতে যান । সঙ্গ সখী সুন্দর চতুর গাহি মঙ্গলচার। গৰনি বালমরাল গতি সুখমা অঙ্গ অপার । সঙ্গে সখী সুন্দরী চতুরা গান করে মঙ্গল আচার। চলয়ে বাল-মরাল-গতি অঙ্গেতে সুষমা অপার । সখিন্হ মধ্য সিয় সােহতি কৈসী । ছবিগণ মধ্য মহাছবি জৈসী। করসরােজ জয়মাল সুহাঙ্গ। বিশ্ববিজয় শােভা জনু ছাঈ। সখিগণ মধ্যে সী শােভয়ে তেমন। বহুছবি মধ্যে মহাছবিটি যেমন। করকমলেতে জয়মাল্য শােভা পায়। বিশ্ববিজয় শােভা যেন তারে ছায়। তন সকোচ মন পরম উছাহু। গৃঢ়প্রেম লখি পরই ন কাহু। জাই সমীপ রামছবি দেখী। রহি জনু কুরি চিত্রঅরেখী। তনুতে সঙ্কোচ-মহা উৎসাহ চিতে। গৃঢ়প্রম কেহ নাহি পারে বিলােকিতে। সমীপে যাইয়া রাম-সৌন্দৰ্য নিরখি। কুমারী রহিল, যেন চিত্রে রাখে আঁকি। চতুরা সখী চতুর সখী লখি কহা বুঝাই। পহিরাহু জয়মাল সুহাই। সুনত জুগল কর মাল উঠাঈ। প্রেমবিবশ পহিরাই ন জাঈ। বিলােকি কহে বুঝাইয়া। ‘সুন্দর জয়মাল্য দাও পরাইয়া। শুনিয়া যুগল করে মাল্য উঠাইল। প্রেমেতে বিবশ হয়ে পরাতে নারিল ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বললা সােহত জনু যুগজলজ সনালা। শশিহি সভীত দেত জয়মালা। গাহি ছবি অবলােকি সহেলী। সিয় জয়মাল রামউর মেলী। কর দুটী যেন যুগ্ম কমল সনাল। সভয়ে কুমুদনাথে দেয় জয়মাল। সখীর হেরিয়া শােভা গাহিতে লাগিল সী জয়মাল্য যবে রামবক্ষে দিল । রঘুউর জয়মাল দেখি দেৰ বরষহি সুমন। সকুচে সকল ভুল জনু বিলােকি রবি কুমুদগণ রামবক্ষে জয়মাল্য দেখি বরষে কুসুম দেবগণে। সঙ্কুচিত নৃপগণ যথ কুমুদিনী রবি দরশনে পুর অঞ্চ ব্যোম বাজনে বাজে। খল ভয়ে মলিন সাধু সব রাজে। সুর কিন্নর নর নাগ মুনীশা। জয় জয় জয় কহি দেহি অশীস ॥ নগরে ও অম্বরে বাজনা বাজিল । মলিন হইল খল, সাধু হরষিল। সুর কিন্নর নর নাগ ও মুনীশ। জয় জয় কহি সবে দানিল আশিস নাহি গাহি বিবুধবধূটী। বার বার কুসুমালী ছুটী। জহঁ তহঁ বিপ্র বেদধুনি করহী। বন্দী বিরদাৰলী উচ্চারহী। নৃত্য করে গাহে গান দেববধুগণ। বারম্বার পুষ্পবলি করি বরিষণ। যাহা তাহা বেদধ্বনি করে বিপ্রগণ । বন্দীগণ কীর্তিগাথা করে উচ্চারণ ॥ মহি পাতাল নাক জ ব্যাপা। রাম বরী সিয় ভঞ্জেউ চাপা। করছি আরতী পুর নর নারী। দেহী নিছারি বিত্ত বিদায়ী। স্বর্গ মর্ত্য পাতালেতে সুযশ ব্যাপিল। ধনুর্ভঙ্গ করি রাম সীতা বিবাহিত। করিল আরতি পুর নরনারীগণ। কৈল দান-নিজ বিত্ত হয়ে বিস্মরণ
সীতার স্বয়ংবর
৫৭
হিন্দী
বাঙ্গলা
সােহতি সীয় রাম কৈ জোরী।
ছবি শৃঙ্গার মনহু এক ঠোরী।
সখী কহহী প্রভুপদ গহু সীতা।
করত ন চরণপরশ অতিভীতা ॥
সীতারাম দোহাকার যুগল শােভিল।
সৌন্দর্যের সনে যেন শৃঙ্গার মিলিল।
সখী কহে প্রভুপদ ধর অয়ি সীতা ।
পদ পরশিতে নারে হয়ে অতি ভী।
গৌতম তিয় গতি সুরতি করি
নহি পরশতি পগ পানি।
মন বিহঁসে রঘুবংশমণি
প্রতি অলৌকিক জানি।
অহল্যার অবস্থা স্মরিয়া
পদস্পর্শ নাহি করে পাণি।
মনে হাসে রঘুবংশমণি
পরিতি অলৌকিক জানি ।
অযযাধ্যায় নিমন্ত্রণ বাঙ্গলা হিন্দী সুখ বিদেহ কর বরণি ন জাঈ। জনমদরিদ্র মনহু নিধি পাই বিগতত্রাস ভই সীয় সুখারী। জনু বিধু উদয় চকোরকুমারী # জনকের যত সুখ বর্ণন না যায় । আজন্ম দরিদ্র যেন সম্পদ পায় ॥ বিগতত্রাস হয় সীতা সুখান্বিত। বিধুর উদয়ে যথা চকোর দুহিতা। জনক কীন্হ কৌশিকহি প্রণাম। জনক কৌশিকে কন করিয়া প্রণাম। প্রভুপ্রসাদ ধনু ভঞ্জেড রাম । প্রভুর প্রসাদে ধনু ভাঙ্গিলেক রাম । মােহি কৃতকৃত্য কীন্হ দুহু ভাই। মােরে কৃতকৃত্য করিলেন দুই ভাই। অব জো উচিত সে কহিয় গােসাঈ। এক্ষণে যা উচিত তা কহগগা গোঁসাই। কহ মুনি সুনু নরনাথ প্রবীণা। রহা বিবাহ চাপ আধীনা। টুটহী ধনু ভয়উ বিবাহ। সুর নর নাগ বিদিত সব কাহু। কহে মুনি শুন ওহে নৃপতি প্রবীণ । বিবাহ আছিল মাত্র ধনুর অধীন। ধনুর্ভঙ্গ মাত্রে হইয়াছে পরিণয়। সুর নর নাগ সবে বিদিত এ হয় । তদপি জাই তুম্হ করহু অব যথা বংশ ব্যবহার। বুঝি বিপ্র কুলবৃদ্ধ গুরু বেদবিদিত আচারু। তথাপি এক্ষণে গিয়া তুমি কর যথা কুল ব্যবহার। বুঝি বিপ্র কুলবৃদ্ধ গুরু যথা বেদবিহিত আচার। দূত অধপুর পঠৰহু জাঈ। আনহি নৃপ দশরথহি বোলাঈ। মুদিত রাউ কহি ভলেহি কৃপালা । পঠয়ে ববালি তেহি কালা || অযােধ্যাপুরীতে দূতে যাইয়া পাঠান। দশরথ নৃপতিরে করুন আহ্বান ৷৷ আনন্দিত রাজা কহে “ভালহে কৃপাল” ভাকিয়া দুতেরে পাঠাইল তৎকাল।
অযােধ্যায় নিমন্ত্রণ श्मिी বাদলা বহুরি মহাজন সকল বােলায়ে। আই সবহি সাদর শিরু নায়ে । হাট বাট মন্দির সুরবাসা। নগর সারহু চারিহু পাশা। পুন মহাজন সবে ডাকিয়া পাঠায়। আসি সবে রহে শ্রদ্ধা-আনত মাথায়। “হাট বাট মন্দির আর দেবালয় । নগরের চারিপাশ কর শােভাময়।” রচে রুচির বর বনৰারে। মনহু মনােভৰ ফল সর্বারে। মঙ্গল কলস অনেক বনায়ে। ধ্বজপতাক পট চৰর সুহায়ে। রচি দিল মনােহর উত্তম তােরণ। যেন ফঁাদ সাজাইয়া রাখিল মদন । মঙ্গল কলস বহুসংখ্যক রচয়। ধ্বজা ও পতাকা পট চামর শােভয় । দীপ মনােহর মণিময় নানা । জাই ন বরণি বিচিত্র বিতানা । জেহি মণ্ডপ দুলহিনি বৈদেহী। সো বরণই অসি মতি কবি কেহী। মনােহর দীপ মণিজড়িত নানান। বর্ণন না যায় সব বিচিত্র বিতান . যে মণ্ডপে কন্যা নিজে বিদেহকুমারী। হেন কবি কে, বৰ্ণন করিবেক তারি ? দূলহ রামু রূপ গুণসাগর। যথা বর রাম রূপগুণের সাগর। সাে বিতান তিহু লােক উজাগর। সে বিতান তিন লােক সমুজ্জ্বলকর । জনকভবন কৈ শােভা জৈসী। জনকের ভবনের সুষমা যেমন। গৃহ গৃহ প্রতি পুর দেখিয় তৈসী । নগরের প্রতি গৃহ শােভয় তেমন | জেই তিরহুতি তেহি সময় নিহারী। বিহুত সে কালে যেই কৈল নিরীক্ষণ । তেহি লঘু লাগ ভুবন দশচারী। তাহারে লাগিল তুচ্ছ চৌদশ ভুবন. জো সম্পদা নীচগৃহ সােহা। যে সম্পদ নীচগৃহে আছিল শােভিত। সে বিলােকি সুরনায়ক মােহ। বিলােকি তা সুরনাথ হয়েন মােহিত।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বসই নগর জেহি লচ্ছি করি কপট নায়িবর বেষু। তেহি পুর কৈ শােভা কহত সকুচহি সারদ শেষ। যে নগরে লক্ষ্মী করে বাস ধরি বরনারী ছদ্মবেশ । সে পুরীর শােভা বরণিতে সঙ্কোচে সারদা নাগশেষ । পছচে দূত রামপুর পান। হরষে নগর বিলােকি সুৰাহন । ভূপদ্বার তিহ খবর জনাঈ। দশরথ নৃপ সুনি লিয়ে বােলা।। রামের পবিত্র পুরে দূত পঁহুছিল। সুশােভন সে নগর হেরি হরষিল । ভূপারে যাইয়া সে সংবাদ জানায়। দশরথ নৃপ শুনি তাহারে ডাকায়। করি প্রণাম তিন্হ পাতী দীনহী। মুদিত মহীপ আপু উঠি লীহী। বারি বিলােচনা বাঁচত পাতী। পুলক গাত আই ভরি ছাতী । প্রণাম করিয়া দূত পত্রিকাটী দিল। প্রসন্ন মহীপ নিজে উঠিয়া লইল ॥ লিপিপাঠে যায় নেত্র অশ্রুতে পূরিয়া । পুলকিত গাত্র, বক্ষ উঠিল ভরিয়া || রাম লষণ উর কর বর চীঠী। রহি গয়ে কহত ন খাটী মীঠী । পুনি ধরি ধীর পত্রিকা বাঁচী। হষী সভা বাত সুনি সঁচী । হৃদে রাম লক্ষ্মণ, শ্রেষ্ঠপত্র করে । স্তব্ধ র’ন-ভাল মন বচন না সরে। পুন ধৈৰ্য্য ধরি পত্র করেন পঠন। সত্য বার্তা শুনি হৃষ্ট সভাসদগণ । 1 খেলত রহে তহ সুধি পাই আয়ে ভরত সহিত হিত ভাঙ্গ পুছত অতিসনেহ সকুচাই। তাত কহঁ হেঁ পাতী আই। ক্রীড়ায় নিরত ছিল পাইয়া বারতা। ভরত শত্ৰু ভ্ৰাতাসহ আসে তথা ॥ সসম্ভ্রমে অতি প্রেম ভরে জিজ্ঞাসিল। ‘কহ তাত! কোথাহ’তে পত্রিকা আসিল অযােধ্যায় নিমন্ত্রণ হিন্দী বাদলা কুশল প্রাণপ্রিয় বন্ধু দোউ প্রাণপ্রিয় ভ্রাত দুইজন অহহি কহহু কেহি দেশ। কুশলেতে আছে কোন দেশ?” মুনি সনেহসানে বচন শুনি সেই সস্নেহ বচন বাচী বহুরি নরেশ। পুন পত্র পড়িল নরেশ। সুনি পাতী পুলকে দোউ ভ্রাতা। অধিক সনেহ সমাত ন গাতা ॥ প্রীতি পুনীত ভরত কৈ দেখী। সকল সভা সুখ লহেউ বিশেখী। শুনি পত্র পুলকিত হয় ভ্রাতৃদ্বয়। অত্যন্ত আনন্দ অঙ্গে নাহি সম্বরয়। ভরতের পূতপ্রীতি করি নিরীক্ষণ । বড় সুখী হন যত সভাসদগণ। তবে নরপতি তব নৃপ দূত নিকট বৈঠারে। মধুর মনােহর বচন উচারে। ভৈয়া কহহু কুশল দোউ বারে। তুম্হ নীকে নিজ নয়ন নিহারে । নিকটে বৈঠায়। কহিলেন সুমধুর সুন্দর ভাষায়। “কহ ভাই, বাছা দুটী আছেত কুশলে। নিজ চক্ষে দেখেছত থাকিতে মঙ্গলে? শ্যামল গৌর ধরে ধনুভাথা। বয় কিশাের কৌশিকমুনি সাথা । পহিচানহু তুম্হ কহহু সুভাউ । প্রেমবিবশ পুনি পুনি কহ রাউ | শ্যামল গৌরাঙ্গ দেহে ধরে ধনু তৃণী । বয়সে কিশাের সঙ্গে কৌশিক মুনি। চিনিয়াছ যদি তুমি কহত স্বভাব।” পুনঃ পুনঃ কহে রাজা গদগদ ভাব। জা দিন তেঁ মুনি গয়ে লেবাঈ। তব তেঁ আজু সঁচি মুধি পাই। কহহু বিদেহ কৰন বিধি জানে। সুনি প্রিয় বচন দূত মুসুকানে । “লয়ে গেছে যেই দিন হ’তে মুনিবর , সে হতে আজিকে পাই সঠিক খবর। কহহে জনকরাজ কেমনে চিনিল। শুনি প্রিয়বাণী দূত ঈষৎ হাসিল।
সীতার স্বয়ংবর বাঙ্গলা হিন্দী সুনহু মহীপতি মুকুটমণি তুম্হ সম ধন্য ন কোউ । রাম লষণ জিহ কে তনয় বিশ্ববিভূষণ দোউ “শুনহে মহীপ-মুকুটমণি তােমা সম ধন্য নহে কেহ। রাম লক্ষ্মণ সুত যার বিশ্ববিভূষণ দোহ। পূছন জোগ ন তনয় তুম্হারে। পুরুষসিংহ তিহু পুর উজিয়ারে। জিন কে যশ প্রতাপ কে আগে। শশি মলীন রবি শীতল লাগে। জিজ্ঞাসার যােগ্য নয় তােমার সন্তান। ত্রিলােক উজ্জ্বলকারী পুরুষ প্রধান। যাহাদের যশ আর প্রতাপের আগে। শশাঙ্ক মলিন-রবি সুশীতল লাগে । তিন্হ কহঁ কহিয় নাথ কিমি চীহে। জিজ্ঞাস তাদের, নাথ! চিনি কি করে দেখিয় রবি কি দীপ কর লীহে। দেখিতে কি হয় রবি দীপ ল’য়ে করে ? সীয়স্বয়ম্বর ভূপ অনেকা। সীতা স্বয়ংবরে ভূপ আইল অনেক। সিমিটে সুভট এক হেঁ একা। বড় যােদ্ধা সবে তারা এক হতে এক। শঙুশাসন কাহ ন টারা। হারে সকল বীর বরিয়ারা। তীনি লােক মহঁ জে ভট মানী। সব কৈ শকতি শম্ভুধনু গনী। কেহ না টলাতে পারে শম্ভু-শাসন। হেরে গেল যত সব মহাবীরগণ। ত্রিলােক-মাঝারে যত মানী যােদ্ধা ছিল সবাকার শক্তি হরধনু ভাজি দিল । সকই উঠাই সুরাসুর মেজ। সুরাসুর যারা মেরু উঠাইতে পারে । সােউ হিয় হারে গয়েউ করি ফের ॥ তাহারাও হেরে গিয়ে ফেরি দিয়ে ফেরে। জেই কৌতুক শিৰশৈল উঠাৰা । যে জন কৌতুকে শিব-শৈল উঠায়। সৌউ তেহি সভা পরাভ পাব। তাহারাও পরাভূত হৈল সে সভায়।
অযােধ্যায় নিমন্ত্রণ হিন্দী বাঙ্গলা তহা রাম রঘুবংশমণি তথা রাম রঘুবংশমণি, সুনিয় মহামহিপাল । শুন ওহে মহামহীপাল। ভঞ্জেড চাপ প্রয়াস বিনু ভাঙ্গে ধনু বিনা প্রয়াসেতে জিমি গজ পঙ্কজনাল। গজ যথা পঙ্কজ-মৃণাল। মুনি সরােষ ভৃগুনায়কু আয়ে । আসেন পরশুরাম শুনি রােষভরে। বহুত ভাতি তিন্হ আঁখি দেখায়ে। চ’খ রাঙ্গালেন তিনি বহুল প্রকারে। দেখি রামবলু নিজ ধনু দীন্হা। রামবল দেখি দিল নিজ শরাসন। করি বহু বিনয় গৰন বন কীন্হা। বিনয় করিয়া বহু যাইলেন বন। রাজন রাম অতুলল জৈসে। রাজন। শ্রীরাম মহা বলিষ্ঠ যেমন । তেজনিধান লষণু পুনি তৈসে । বিক্রম-নিধান পুন লক্ষ্মণ তেমন। কম্পহি ভুপ বিলােকত জা কে । কম্পে ভূপগণ যারে করি দরশন। জিমি গজ হরিকিশাের কে তাকে। সিংহশিশু হেরি গজ কম্পিত যেমন। 1 দেৰ দেখি তৰ বালক দোউ অব ন আঁখি তর অাৰত কোউ । দূত বচন রচনা প্রিয় লাগী । প্রেম প্রতাপ বীর রস পাগী । হে দেব। দেখিয়া তব বালক দুজন। আর নাহি নয়নেতে লাগে কোন জন। অতি প্রিয় লাগে কথা দূতের কথিত। প্রেম-পরতাপ-বীররসেতে মথিত। সভাসমেত রাউ অনুরাগে। দূতনহ দেন নিছারি লাগে {} কহি অনীতি তে মূদহি কানা। রমু বিচারি সবহি সুখ মানা || রাজা অনুরাগেসহ সভাসদগণ। দূতে দিতে সমুদ্যত উপঢৌকন “অনীতি” বলিয়া সেহ ঢাকিলেক কাণ। ধরম বিচারি সবে হন হন।
সীতার স্বয়ংবর
হিন্দী
তব উঠি ভূপ বশিষ্ঠ কই তবে ভূপ বশিষ্ঠ-সমীপে
দীহি পত্রিকা জাই। উঠি গিয়া পত্রখানি দিয়া।
কথা সুনাঈ গুরুহি সব
সব কথা শুনায় গুরুরে
সাদর দূত বােলাই। সমাদরে দুতেরে ডাকিয়া |
সুনি বােলে গুরু অতি সুখ পাই। শুনিয়া কহেন গুরু অতি সুখ পেয়ে।
পুণ্যপুরুষ কহঁ মহি সুখ ছাই । পুণ্যাত্মার লাগি পৃথ্বী সুখে থাকে ছেয়ে।
জিমি সরি সাগর মহঁ জাহী। যেই মত নদী সব মিলয়ে সাগরে।
যদ্যপি তাহি কামনা নাহী। যদিও তাহার লাগি কামনা না করে।
তিমি সুখ সম্পতি বিনহি বােলায়ে। তেমনি সম্পদ সুখ অযাচিত ভাবে ।
ধরমশীল পহি জাহি সুভায়ে। ধর্মশীল পাশে যায় স্বাভাবিকভাবে ।
তুম্হ গুরু বিপ্র ধেনু সুর সেবী। তুমি দেব গুরু আর গােব্ৰাহ্মণ-সেবী।
তসি পুনীত কৌশল্যা দেবী। তেমতি পবিত্র হন কৌশল্যা দেবী।
সুকৃতী তুম্হ সমান জগ মাহী। তােমাসম পুণ্যবান জগত-মাঝার।
ভয়েউ ন হৈ কোউ হােনউ নাহী। হয় নাই, কেহ নাই, হবে না আর।
তুম্হ তেঁ অধিক পুণ্য বড় কা কে। তােমাপেক্ষা বেশী পুণ্য আছয়ে কাহার
রাজন রাম সরিস সুত জা কে । হে রাজন! রাম হেন তনয় যাহার ।
।
বীর বিনীত ধরমব্রতধারী।
গুণসাগর বর বালক চারী ।
তুমহ কই সর্বকাল কল্যাণ।
সজহু বাত বজাই নিসান।
বীর ও বিনয়যুত, ধর্মব্রতধারী।
গুণের সাগর হয় পুত্রবর চারি।
তােমার কল্যাণ হবে সকল সময়ে।
সাজাও হে বরযাত্রী দুন্দুভি বাজায়ে ।
অযােধ্যায় নিমন্ত্রণ বালা হিন্দী চলহু বেগি মুনি গুরুবচন ভলেহি নাথ শিরু নাই ভূপতি গৰনে ভৰন তব দূত বা দেই। “চল ত্বরা গুরু আজ্ঞ শুনি “ভাল নাথ” নতশিরে বলি। দূতগণে দেয়ায়ে আবাস, ভূপতি ভবনে গেল চলি। রাজা সব রনিবাস বােলাই জনকপত্রিকা বাঁচি সুনাঈ । মুনি সন্দেশ সকল হরষানী । অপর কথা সব ভুপ বখানী। রাজা সব রাণীগণে করি আহ্বান। জনকের পত্রিকা পড়ায়ে শুনান। শুনিয়া বারতা সবে হরষিত হন। অপর সকল কথা নরপতি ক’ন। প্রেম প্রফুল্লিত রাজহি রাণী । মনহু শিখিনি সুনি বারিদবাণী। মুদিত অশীস দেহি গুরুনারী। অতি আনন্দ মগন মহতারী। প্রেমােৎফুল্লা হয়ে শােভে যত রাণীগণ। যেমতি ময়ুরী শুনি মেঘের গর্জন। আশীর্বাদ দিল। হৃষ্টা গুরুপত্নীগণ। মাতৃগণ হ’ন অতি আনন্দে মগন । লেহি পরসপর অতিপ্রিয় পাতী। হৃদয় লগাই জুড়াৰহি ছাতী। রাম লষণ কৈ কীরতি করণী। বাহি বার ভূপবর বরণী । অতিপ্রিয় লিপিখানি ল’য়ে পরস্পর। বক্ষঃস্থলে রক্ষা করি জুড়ায় অন্তর । রাম আর লক্ষ্মণের কীরতি করণ। বারম্বার ভূপবর করেন বর্ণন। মুনিপ্রসাদ কহি দ্বার সিধায়ে । রানিহ তব মহিদেৰ বােলায়ে । দিয়ে দান আনন্দ সমে। চলে বিপ্রবর আশিস দেতা। “মুনির প্রসাদ” কহি দ্বারদেশে যান রাণীরা করেন তবে ব্রাহ্মণে আহ্বান। আনন্দিত হয়ে সবে করিলেন দান। আশীর্বাদ দিতে দিতে বিপ্রবর যান।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী যাচক লিয়ে হুঁকারি দীহি নিছারি কোটি বিধি চিরজীবহু সুত চারি চক্রবর্তি দশরথ কে । ডাকাইয়া যাচকগণেরে দিলা দান কোটি বিধির। “চিরঞ্জীব হক চারি সুত দশরথ চক্রবর্তীর । ৫ কহত চলে পহিরে পট নানা। হরষি হনে গহগহে নিসানা। সমাচার সব লােগহ পায়ে। লাগে ঘর ঘর হােন বধায়ে । কহিতে কহিতে চলে পরি নানা বাসে অতি জোরে বাজাইয়া নাগারা উল্লাসে। সমাচার পায় তবে যত লােক সব। ঘরে ঘরে হইবারে লাগিল উৎসব। ভুবন চারি দশ ভয়উ উছাহু। জনক তা রঘুবীর বিবাহ। সুনি শুভকথা লােগ অনুরাগে। মগ গৃহ গলী সৰরন লাগে। চৌদশ ভুবন হয় উৎসবময়। রামচন্দ্র জানকীর হবে পরিণয় । শুনি শুভবার্তা সৰ্ব্বলােক অনুরাগে। পথবাট নিকেতন সাজাইতে লাগে । যদ্যপি অৰধ সদৈৰ সুহানি। রামপুরী মঙ্গলময় পানি। তদপি প্রীতি কৈ রীতি সুহাঈ। মঙ্গলচনা রচী বনাঙ্গ। যদিও অযােধ্যা সদা সুশােভিত রয়। রামপুরী সুপবিত্র মঙ্গলময়। তথাপি প্রীতির চারু রীতি অনুসার। মঙ্গল রচনা সব হইল তৈয়ার ।
{ বরযাত্রা হিন্দী বাদলা ভূপ ভরত পুনি লিয়ে বােলা ভরতে পুনশ্চ ভূপ আনি ডাকাইয়া। হয়' গয় স্যন্দন জহু জাঈ। কহে “অশ্ব রথ গজ সাজাও যাইয়া। চলহু বেগি রঘুবীর বরাতা। চলহ ত্বরায় বরযাত্রী শ্রীরামের। সুনত পুলক পূরে দোউ ভ্রাতা। শুনিয়া পুলকে অঙ্গ পূর্ণ দুভায়ের। ভরত সকল সাহনী বােলায়ে । ভরত তখন সব প্রধানে ডাকিয়া। আয়সু দীন্হ মুদিত উঠি ধায়ে । আজ্ঞা দিল—হর্ষে উঠি চলিল ধাইয়া। রচি রুচি জীন তুরগ তিন্হ সাজে। চারু জীন বাঁধি তারা তুরঙ্গ সাজায়। বরণ বরণ বরবাজি বিরাজে। বহু বরণের শ্রেষ্ঠ অশ্ব শশাভা পায়। কোটি কোটি ভার ল’য়ে চলয়ে কাহার। নানাবিধ বস্তু তাহা বর্ণে সাধ্য কার ? চলিতে লাগিল আর সেবক সকল। পরি নিজ নিজ সাজ, বাঁধি নিজ দল। কোটিহ কাৰরি চলে কহারা। বিবিধ বস্তু কো বরণই পারা। চলে সকল সেবক সমুদাঈ। নিজ নিজ সাজু সমাজু নাঈ । সব কে উর নির্ভর হরযু পূরীত পুলক শরীর। কবহি দেখিহৈঁ নয়ন ভরি রামু লষণু দোউ বীর। গরজহি গজ ঘণ্টা ধুনি ঘােরা। রথরৰ বাজি হিহিস চহু ওরা। নিদরি ঘনহি ঘুম্মরহি নিসানা। নিজ পরাই কছু সুনিয় ন কানা। হর্ষপূর্ণ সবার হৃদয় পুলকেতে পূরিত শরীর। আঁখি ভরি হেরিবে কখন শ্রীরাম লক্ষ্মণ দুই বীর। গরজয়ে গজ, ঘণ্টা ভীষণ ধ্বনিত। রথশব্দ, অশ্বষাে চৌদিক পূরিত। জলদ নিন্দিয়া ঘাের দুন্দুভি-গর্জনে। নিজ পর কারাে কথা না পশে শ্রবণে ।
সীতার বয়ংবর । হিন্দী বাঙ্গলা দোউ রথ রুচির ভুপ পহি আনে। ভূপ-পাশে আনে চারু রথ দুইখান। নহি সারদ পহি জাহি বখানে। সারদা যাহার নারে করিতে বাখান। রাজসমাজ এক রথ সাজা। রাজার সমাজ এক রথে বিরাজিত। দূর তেজপুঞ্জ অতি ভ্রাজা। অন্য রথ তেজঃপুঞ্জ অতি সুশশাভিত তেহি রথ রুচির বশিষ্ঠ কহঁ সেই চারু রথে বশিষ্ঠেরে হরষি চড়াই নরেন্ড। চড়াইল হরষে নরেশ। আপু চঢেউ স্যন্দন সুমিরি আপনিও চড়েন স্তনে হর গুরু গৌরি গণেশু। স্মরি হরগৌরী গণেশ। = সহিত বশিষ্ঠ সােহ নৃপ কৈসে। সুরগুরু সঙ্গ পুরন্দর জৈসে। করি কুলরীতি বেদবিধি রাউ। দেখি সবহি সব ভতি বনাউ । বশিষ্ঠ সহিত শােভে নরপতি তথা। সুরগুরু সঙ্গেতে পুরন্দর যথা। করি কুলরীতি রাজা বেদ-বিধি-যুত। দেখিয়া সকলি সর্ব প্রকারে প্রস্তুত। স্মরিয়া শ্রীরামে গুরু আদেশ পাইয়া। চলিলেন মহীপতি শঙ্খ বাজাইয়া। বরযাত্রী বিলােকিয়া হর্ষে দেবগণ। সুমঙ্গলদায়ী করে পুষ্প বরিষণ। সুমিরি রান গুরুআয় পাই। চলে মহীপতি শঙ্খ বজাই হরষে বিৰুধ বিলােক বরাতা। বরষহি সুমন সুমঙ্গলদাতা। ভউ কোলাহল হয় গয় গাজে। ব্যোম বরাত বানে বাজে। সুর নর নাগ সুমঙ্গল গাই। সরস রাগ ৰাহি সহনাই। কোলাহল হয় অশ্ব হস্তীর গর্জনে। বরযাত্রী বাদ্যধ্বনি উঠিল গগনে। দেবতা মনুষ্য নাগ মুমল গায়। সুরসাল রাগ কি সানায়ে বাজায়।
বরযাত্রা হিন্দী বনই ন বরনত বনী বরাতা। হােহি সগুণ সুন্দর শুভদাতা। চারা চাষু বাম দিশি লেই মনহু সকল মঙ্গল কহি দেই বাঙ্গলা বরযাত্রী সুগঠন না হয় বর্ণিত। মঙ্গলসূচক চাৰু চিহ্ন সমুদিত। নীলকণ্ঠ পক্ষীবর বাম দিকে চরে। যেন সৰ্ব্ব সুমঙ্গল পরকাশ করে। দাহিন কাগ সুখেত সুহাৰা। নকুলদরশ সব কাহ্ পাৰা। সানুকূল বহ ত্রিবিধ বয়ারী। সঘট সবাল আৰ বরনারী। দক্ষিণেতে কাক রহে সুন্দর সুখেতে। নকুলও সর্বজনে পাইল দেখিতে । অনুকূল বহি যায় ত্রিবিধ পবন। সঘট সপুত্র আসে বরনারীগণ। আৰত জানি ভানু-কুল-কেতু। সরিতহি জনক বঁধায়ে সেতু। ৰীচ বীচ বরবাস বনায়ে । সুর-পুর-সরিস সম্পদ। ছায়ে । আসিছেন জ্ঞাত হয়ে সূৰ্য্যকুলকেতু। জনক বাধান যত নদীপরে সেতু। মধ্যে মধ্যে বরাবাস দিলেন রচিয়া । সুরপুর সমকক্ষ সম্পদে ভরিয়া । অশন শয়ন বর বসন হায়ে । পাৰহি সব নিজ নিজ মন ভায়ে নিত নূতন সুখ লখি অনুকূলে। সকল বয়াতিহ মন্দির ভূলে। অশন শমন চারু, বসন শােভন। পায় সবে নিজ নিজ মনের মতন। নিত্য নব সুখ দেখি মনমত পায়। বরযাত্রী সৰে নিজ গৃহ ভুলে যায় । আৰত জানি বরাবর শুনি গহগহে নিসান। সজি গজ রথ পদচর শ্রেষ্ঠ বরযাত্রী আসে জানি শুনি ধ্বনি দুন্দুভি হইতে রথ পদাতিকে সাজি আগুয়ান অত্যধিতে। তুরগ লেন চলে অগৰান।
৭০ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা কনককলস ভরি কোপর থারা। ভাজন ললিত অনেক প্রকারা। ভরে সুধাসম সব পকৰানে। ভাতি ভতি নহি জাহি বখানে কনক-কলস ভরি আর থালা বাটী । আর নানা প্রকারের পাত্র পরিপাটী ॥ ভরিয়া পান্ন সব অমৃত সমান। বহু প্রকারের যার না হয় বাখান। ফল অনেক বরবস্তু সুহাই। হরষি ভেট হিত ভূপ ভূষণ বসন মহামণি নানা। খগ মৃগ হয় গয় বহু বিধি জানা। ভূপ পঠাঈ ॥ বহুবিধ ফল বরবস্তু মনােহর। হর্ষে ভেট লাগি পাঠালেন ভূপবর । ভূষণ বসন মহা মাণিক্য নানান। পশুপক্ষী হয়হস্তী বহুবিধ যান। মঙ্গল সগুণ সুগন্ধ সুহায়ে। বহুত ভাতি মহিপাল পঠায়ে ॥ দধি চিউরা উপহার অপারা। ভরি ভরি কাবরি চলে কহারা । সুমঙ্গল শুভচিহ্ন সুগন্ধ শােভন। বহুবিধ মহীপাল করেন প্রেরণ। দধি চিপিটক ও অপার উপহার। ভারে ভারে ভরি ভরি চলয়ে কাহার । প্রেমসমেত রায় সব লীহা। ভই বকসীস জাচকহি দীন্হা । করি পূজা মান্যতা বড়াই। জনৰাসে কহঁ চলে লেই। প্রেমভরে রাজা সব করিয়া গ্রহণ। প্রার্থীগণে পুরস্কার করে বিতরণ। পূজন, সম্মান আর প্রশংসা করিয়া । জনবাসে ভূপতিরে যাইল লইয়া। বসন বিচিত্র পাড়ে পরহী। দেখি ধন ধনমদ পরিহরহী। অতি সুন্দর দীহেউ জনসা। জহঁ সব কই সব ভাতি পাস। পদার্পণ লাগি পাতে বিচিত্র বসন । দেখি ধনগৰ্ব করে কুবের বর্জন। প্রদানিল জনবাস অতীব সুন্দর। যথা সকলের সর্ববিধ সুখকর।
বরযাত্রা ৭১ হিন্দী বাঙ্গলা পিতু আগমন সুনত দোউ ভাঙ্গ। পিতৃ আগমন শুনি ভাই দুইজন। হৃদয় ন অতি আনন্দ সমাঈ। অতি হর্ষ হৃদে নারে করিতে ধারণ। সকুচহ কহি ন সকল গুরু পাহী। সঙ্কোচে কহিতে নারে গুরুর গােচরে। পিতু দরশন লালচু মনু মাহী। কিন্তু পিতৃদরশন লালসা অন্তরে। বিশ্বামিত্র বিনয় বড়ি দেখী বিশ্বামিত্র নিরখিয়া অতীব বিনয় । উপজ। উর সন্তোষ বিশেখী। বিশেষ সন্তোষ তাঁর মনে উপজয়। হরষি বন্ধু দোউ হৃদয় লগায়ে। পুলক অঙ্গ অম্বক জল ছায়ে । চলে জহ দশরথ জনসে। মনহু সরােবর তকেউ পিয়াসে। হরষি ভ্রাতায় দেহে বক্ষেতে ধরে। পুলকিত অঙ্গ, নেত্ৰ দুটী জলে ভরে। চলিলেন দশরথ বিশ্রাম-বাসায়। পিপাসার্ত সরােবর পানে যথা চায় । ভূপ বিলােকে জবহি মুনি আৰত সুতহ সমেত। উঠেউ হরষি সুখসিন্ধু মহ চলে থাহ সী লেত ভূপ বিলােকেন যবে মুনি আসিছেন পুত্রের সহিতে। উঠি হর্ষে সুখ-সিন্ধু-মাঝে চলে যেন থই নিতে নিতে। মুনিহি দণ্ডৰত কীন্হা মহিশা। বার বার পদরজ ধরি শীষ। কৌশিক রাউ লিয়ে উর লাঙ্গ। কহি অসীস পুছী কুশলাই। মুনিবরে দণ্ডবৎ করে ভূপবর। বার বার পদরজ ধরি শিরােপর। কৌশিক রাজারে বক্ষে করিয়া ধারণ। আশিস দানিয়া পুছে কুশল-বচন ।
৭২ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী গুনি দণ্ডৰত করত দোউ ভাই দেখি নৃপতি উর সুখ ন সমাঈ। মুত হিয় লাই দুসহ দুখু মেটে। মৃত শরীর প্রাণ জনু ভেটে। পুন দণ্ডবৎ যবে ভাই দেহে করে। দেখি নৃপতির বুকে মুখ নাহি ধরে । পুত্রে বক্ষে লয়ে দুঃখ দুঃসহ মিটায় মৃত শরীরেতে পুন প্রাণ যেন পায়। পুনি বশিষ্ঠপদ শির তিনূহ নায়ে। প্রেমমুদিত মুনির উর লায়ে। বিপ্রবৃন্দ বন্দে দুই ভাই। মনভাৰতী অশীসৈ পাই। পুন তারা বশিষ্ঠের পদে নতি করে। প্রেমে মগ্ন মুনিবর হৃদয়েতে ধরে। ব্রাহ্মণগণেরে বলে ভাই দুইজন। আশীৰ্বাদ পাইলেন মনের মতন। ভরত সহানুজ কীন্হ প্রণাম। লিয়ে উঠাই লাই উর রামা || হরষে লষণ দেখি দোউ ভ্রাতা। মিলে প্রেমপরিপূরিত গাতা। ভরত অনুজসহ করিল প্রণাম। উঠায়ে লইয়া বক্ষে ধরিলেন রাম । নিরখিয়া দুইভায়ে হরষে লক্ষ্মণ। প্রেম পরিপূর্ণ গাত্রে করে আলিঙ্গন । পুরজন পরিজন জাতিজন যাচক মন্ত্রী শীত। মিলে যথাবিধি সবহি প্রভু পরমকৃপালু বিনীত। পুরজন জাতি-পরিজন যাচক সচিব আর মিত। যথাবিধি মিলে সবাসনে প্রভু অতি কৃপাল বিনীত। রামহি দেখি বরাত জুড়ানী। রামেরে দেখিয়া বরযাত্রীরা জুড়ায়। প্রতি কি রীতি ন জাতি বখানী । প্রীতির যা রীতি তাহা খান না যায়। নৃপসমীপ সােহহি মুত চারী। নৃপের সমীপে সুশশাভিত সুত চারি। জনু ধনধরমাদিক তনুরী। যেন ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক তনুধারী।
বরযাত্রা হিন্দী বাঙ্গলা সুতন্হ সমেত দশরথহি দেখী । মুদিত নগর নর নারি বিশেখী । সুমন বরষি সুর হনহি নিসান। নাকনটী নাহি করি গান । পুত্রগণসহ দশরথেরে নেহারি। অতীব প্রফুল্ল নগরের নরনারী ॥ পুষ্পবৃষ্টি করে দেবে দুন্দুভি বাজায়। অপ্সরারা নৃত্য করে আর গীত গায় । সতানন্দ অৰু বিপ্র সচিবগণ । সতানন্দ আর যত বিপ্র মন্ত্রীগণ। মাগধ সূত বিদুষ বন্দীজন। স্তুতিপাঠী, সূত, বিদূষক, বন্দীজন। সহিত বরাত রাউ সনমানা। বরযাত্রীসহ নৃপে করে অভ্যর্থনা। আয়সু মাগি ফিরে অগৰানা ।। আজ্ঞা পেয়ে ফিরে যায় অগ্রগামীজনা। প্রথম বরাত লগন তেঁ আঙ্গ। লগনের পূৰ্ব্বেতেই বরযাত্রী আসে। তা তে পুর প্রমােদ অধিকাঈ। সে কারণে পুর অতি আনন্দেতে ভাসে। ব্ৰহ্মানন্দ লােগ সব লহহী । ব্রহ্মানন্দ লাভ করে যেন সব লােক। বড়ই দিস নিশি বিধি সন কহহী। বিধাতারে কহে—দিন রাত বড় হােক। রামু সীয় শােভা অধি রামসীতা সুষমার সীমা, সুকৃত অৰধি দোউ রাজ। পুণ্য-সীমা রাজা দুইজন। জহঁ তহঁ পুরজন কহহি যথা তথা পুরবাসী কহে অষ মিলি নর নারি সমাজ । হেন মিলি নরনারীগণ। জনক সুকৃত মুরতি বৈদেহী। জনক-সুকৃতি লয় বৈদেহী মুরতি। দশরথকৃত রামু ধরি দেহী । দশরথ-পুণ্য ধরে রামের আকৃতি । ইন্হ সম কাহু ন শিৰ অৰরাধে। দোহা সম কেহ নাহি শিব আরাধিল। কাহু ন ইহ সমান ফল লাধে। কেহ না এদের সম ফলও লভিল।
৭৪ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা মঙ্গলমূল লগনদিনু আৰ।। হিমরিতু অগহন মাসু সুহাৰা। গ্রহ তিথি নখত জোগু বর বারূ লগন সােধি বিধি কীনহ বিচাৱা মঙ্গলজনক লগ্নদিন সমাগত। হেমন্তে অগ্রহায়ণ মাস সুশােভিত। শ্রেষ্ঠ গ্রহ তিথি যােগ নক্ষত্র ও বার লগ্ন অন্বেষণ বিধি করিল বিচার। । পঠই দীহি নারদ কর সােঙ্গ। গনী জনক কে গনকহ জোঈ । সুনী সকল লােগন য়হ বাতা। কহহি জোতিষী আহি বিধাতা। নারদের হস্তেতে প্রেরিলেন তাহা। জনকেরও গণকেরা গুণেছিল যাহা | শ্রবণ করিয়া সৰ্ব্বলােক এই কথা । কহে এই জ্যোতিষিও যেন গাে বিধাতা। ধেনু ধুলি বেলা বিমল সকল সুমঙ্গল মূল। বিপ্রহ কহেউ বিদেহ সন জানি সগুণ অনুকুল । গােধূলির সুবিমল বেলা সকল সুমঙ্গলমূল। বিপ্রগণ কহিল বিদেহে, জানি শুভচিহ্ন অনুকূল। উপরােহিতহি কহেউ নরনাহা। অব বিলম্ব কর কারণ কাহা। সতানন্দ তব সচিৰ বােলায়ে । মঙ্গল কলস সাজি সব ল্যায়ে । তবে পুরােহিতেরে কহেন রাজন। এখন বিলম্ব আর কিসের কারণ? সতানন্দ তবে মন্ত্রীগণেরে ডাকায়। মঙ্গল-কলস দ্রব্য সব লয়ে যায় । শঙ্খ নিসান পনৰ বহু বাজে। মঙ্গলকলস সগুণ সুভ সাজে। সুভগ সুআসিনি গাৰহি গীতা । করহি বেদধুনি বিপ্র পুনীতা। শঙ্খ নাগারা আর ঢোল বহু বাজে। মঙ্গল-কলস শুভ দ্রব্য চিহ্ন সাজে। সুন্দরী এয়াে সবে গাহিতেছে গান । করিছেন বেদধ্বনি বিপ্র পুণ্যবান।
বরযাত্রা
96
হিন্দী
বাঙ্গলা
লেন চলে সাদর এহি ভাতী।
গয়ে জহঁ জনম বরাতী ।
কোশলপতি কর দেখি সমাজু।
অতি লঘু লাগ তিন্হহি সুররাজু।
এইরূপে আনিবারে চলিল সাদরে
যায় যথা বরযাত্রী রহে বাস করে।
কোশলের ভূপতির দেখিয়া সমাজ।
তাহাদের অতি লঘু লাগে সুররাজ ।
ভয়উ সমউ অব ধারিয় পাউ।
সহ সুনি পরা নিসানহি ঘাউ ।
গুরুহি পূছি করি কুলবিধি রাজা
চলে সঙ্গ মুনি সাধু সমাজ।।
‘সময় হইল এবে কর পদার্পণ।
ইহা শুনি আরম্ভিল নাগারা বাদন।।
গুরুরে জিজ্ঞাসি রাজা করি কুলাচার।
চলে মুনি আর সাধু সঙ্গে সবাকার।
শুভবিবাহ হিন্দী বাঙ্গলা এহি ভাতি জানি বরাত আৰত বাজনে বহু বাজহী। রানী সুআসিনি বােলি পরিছন হেতু মঙ্গল সাজহী' । এইরূপে বরযাত্রী আসে জানি বহু বাজনা বাজায়। ডাকি রাণী বরণের লাগি এয়ােগণে, আরতি সাজায় । বহুবিধ আরতি সাজায়ে মাঙ্গলিক গুছায়ে সকল। সজি আরতী অনেক বিধি মঙ্গল সকল সারি। চলী মুদিত পরিছন করন গজগামিনী বরনারী || চলে সুখে বরণ করিতে গজচালে বরনারী-দল । জো সুখ ভা সিয় মাতু মন দেখি রাম বর বেষ। সাে ন সকহি কহি কলপ শত সীতা-মাতা মনে যেই সুখ বরবেশে দেখিয়া রামেরে সহ সারদা শেষনাগ শতকল্পে কহিতে না পারে । সহস সারদা শেষ নয়নের নীর রােধি মঙ্গল জানিয়া। বরণ করয়ে রাণী—আনন্দিত হিয়া। বেদের বিহিত আর কৌলিক আচার করিলেন ভালরূপে সব ব্যবহার। নয়ন নীর হঠি মঙ্গল জানী। পরিছন করহি মুদিত মন রানী। বেদবিহিত অরু কুল আচারূ । কীন্হ ভলী বিধি সব ব্যবহার। পঞ্চ শবদ ধুনি মঙ্গল গান। পট পাড়ে পরহি বিধি নানা । করি আরতী অরঘ তিনহ দীনহা। রাম গন মণ্ডপ তব কীন্হা। পঞ্চবাদ্যধ্বনি হয় সুমঙ্গল গান। পদক্ষেপ লাগি বস্ত্র পাতিল নানা। আরতি করিয়া তার অর্ঘ। করে দান । শ্রীরামচন্দ্র তবে মণ্ডপেতে যান।
শুভবিবাহ ৭৭ হিন্দী দশরথ সহিত সমাজ বিরাজে । বিভৰ বিলােকি লােকপতি লাজে । সময় সময় সুর বরষহি ফুল। ভাতি পঢ়হি মহিসুর অনুকূল। দশরথ সসমাজ সু-বিরাজমান। বিভব বিলােকি লােকপতি লজ্জা পান। সময়ে সময়ে সুর বরষয়ে ফুল। ব্রাহ্মণেরা করে শান্তিপাঠ অনুকূল নভ অরু নগর কোলাহল হােঙ্গ। আপন পর কছু সুনই ন কোর্স। এহি বিধি রাম মণ্ডপহি আয়ে । অরঘু দেই আসন বৈঠায়ে । নগরে ও গগণেতে কোলাহল হয়। পর বা আপন কিছু কেহ না শুনয় । এই রূপে শ্রীরাম মণ্ডপে আইল। অর্ঘ্য দিয়া তারে আসনেতে বসাইল। বৈঠারি আসন আরতী করি নিরখি বরু সুখ পাবহী । মণি বসন ভূষণ ভূরি রহি নারি মঙ্গল গাৰহী। বসায়ে আসনে আরতিয়া নিরখিয়া বরে সুখ পায়। বহু বস্ত্র মণি অলঙ্কারে সাজি নারী শুভ গীত গায়। ব্ৰহ্মাদি সরবর বিপ্ৰবেষ বনাঈ কৌতুক দেখহী । অৰলােকি রঘুকুলকমলরবিছবি . সুফল জীবন লেখহী ॥ ব্রহ্মা ইন্দ্র আদি বিপ্রবেশে করয়ে কৌতুক দরশন। দেখি রঘুকুল-পদ্ম-ছবি মানে সবে সফল জীবন । নাপিত বাউরি ভাট নট নাউ বারী ভাট নট রামনিছাবরি পাই। মুদিত অসীসহি নাই শির হরমু ন হৃদয় সমাই । রাম-বরণের বস্তু পায়। হৃষ্ট নতশিরে আশিসয় হর্ষ নাহি ধরয়ে হিয়ায় ।
৭৮ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা মিলে জনকু দসরঞ্চ অতি প্রীতী। করি বৈদিক লৌকিক সব রীতী। মিলত মহা দোউ রাজ বিরাজে। উপমা খােজি খােজি কবি লাজে । জনক ও দশরথ মিলে অতি প্রীতি। বৈদিক ও লৌকিক করি সব রীতি। মিলিত মহান দুই রাজা সুশােভিত। উপমা খুজিয়া খুজি কবি বিলজ্জিত। লহী ন কত হারি হিয় মানী। ইহ সম এই উপমা উর আনী । সামধ দেখি দেব অনুরাগে। সুমন বরষি জসু গাৰন লাগে । কোথাও না পেয়ে অবশেষে হার মানে। এর-সম-এর, এ উপমা মনে আনে। বৈবাহিকদ্বয়ে দেখি দেবতা হরষি। যশােগান করে সবে কুসুম বরষি। জগু বিরঞ্চি উপজাৰা জব তেঁ । দেখে সুনে ব্যাহ বহু তব তেঁ। সকল ভতি সম সাজ সমাজ, । সম সমধী দেখে হম আজ, ॥ যদবধি প্রজাপতি সৃজিলা জগতে। বিবাহ দেখি ও শুনি সেইকাল হতে। সকল প্রকারে সম, সাজ ও সমাজ। সম বৈবাহিক মাের দেখিলাম আজ ॥ ' দেবগির সুনি সুন্দর সঁচী। সুন্দর ও সত্য দৈববচন শুনিয়া। প্রতি অলৌকিক দুহু দিশি মাৰ্চী। অলৌকিক প্রীতি যায় দুদিক ছাইয়া । দেত পাৰড়ে অরঘু সুহায়ে। দিয়া পাদপট আর অর্ঘ্য সুন্দর । সাদর জনকু মণ্ডপহি ল্যায়ে। জনক মণ্ডপে ল’য়ে চলেন সাদর ॥ মণ্ডপ বিলােকি বিচিত্ররচনা রুচিরতা মুনিমন হরে। নিজ পানি জনক সুজান সবকই আনি সিংহাসন ধরে। মণ্ডপের বিচিত্র রচনা হেরি শােভা মুনিমন হরে। সুবিজ্ঞ জনক সব লাগি সিংহাসন আনে নিজ করে।
শুভবিবাহ বাঙ্গলা হিন্দী কুল ইষ্ট সরিস বশিষ্ঠ পূজে বিনয় করি আশিষ লহী। কৌসিকহি পূজত পরমপ্রীতি কি রীতি তৌ ন পরই কহী। কুল-ইষ্ট-সম বশিষ্ঠেরে পূজি লন আশিস বিনয়ে। কৌশিকেরে পূজে মহাপ্রীতি রীতি নাহি যায় প্রকাশয়ে ॥ বামদেৰ আদিক রিষয় পূজে মুদিত মহীশ। দিয়ে দিব্য আসন সবহি সব সন লহী অশীস ॥ বামদেব আদি ঋষিগণে হৃষ্টমনে পূজেন মহীশ। দিয়া দিব্য আসন সবারে সৰ্ব্ব ঠাই লয়েন আশিস। বহুরি কীন্হ কোসলপতি পূজা। কোশলপতির পূজা করে বহুভাবে। জানি ঈসসম ভাৰ ন দূজা। ঈশসম জানি, মনে নাহি দ্বিধা ভাবে। কীনহি জোরি কর বিনয় বড়াঈ। করঘােড় করি করে প্রশংসা বিনয় । কহি নিজ ভাগ্য বিভৰ বহুতাঈ। নিজ ভাগ্য বিভবের কহে অভ্যুদয় । পূজে ভূপতি সকল বরাতী । সমধীসম সাদর সব ভাতী । আসন উচিত দিয়ে সব কাহু। কহউ কহা মুখ এক উছাহু। বরযাত্রীগণে রাজা সম্বৰ্ধনা করে। বৈবাহিক সম সর্ব প্রকারে সাদরে । সবারে দিলেন তিনি যথাযােগ্যাসন। সে উৎসাহ এক মুখে না হয় বর্ণন | সকল বরাত জনক সনমানী। দান মান বিনতী বর বাণী । বিধি হরিহর দিশিপতি দিনরাউ। জে জানিহি রঘুবীর প্রভাউ । বরযাত্রী সৰ্বে করে জনক সম্মান। সবিনয়ে শ্রেষ্ঠবাক্যে দিয়া দান মান। ব্ৰহ্মা বিষ্ণু শিব দিকপাল ও তপন । রাঘব-প্রতাপ যারা অবগত র’ন।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা কপট বিপ্র বর বেষু বনায়ে । কৌতুক দেখহি অতি সচুপায়ে । পূজে জনক দেৰসম জানে। দিয়ে সুআসন বিনু পহিচানে। কপট বিপ্রের বেশ করিয়া ধারণ। অতি সংগােপনে করে কৌতুক দর্শন। জনক করেন পূজা দেবসম জ্ঞানে। বিনা পরিচয়ে সবে সু-আসন দানে । পহিচান কো কেহি জান সবহি অপান সুধি ভােরী ভঙ্গ। আনন্দক বিললাকি দুলহ উভয় দিশি আনন্দমঈ। চিনিবে জানিবে কেবা কারে সবে আত্মবিস্মৃত হয় । আনন্দের কন্দ বরে হেরি দুই দিক আনন্দময় । সুর লখে রাম সুজান পূজে মানসিক আসন দয়ে। অৰিলােকি সীল সুভাউ প্রভু কো বিবুধমন প্রমুদিত ভয়ে। বিজ্ঞ শ্রীরাম হেরে সুরে পূজে দিয়া মানস-আসন। প্রভুর স্বভাব শীল হেরি প্রমুদিত মন দেবগণ। রামচন্দ্র মুখচন্দ্র ছবি লােচন চারুচকোর রামচন্দ্র-মুখচন্দ্র শােভা দেব-আঁখি সুন্দর চকোর । করে পান সাদরে সকলে প্রেমানন্দে অতীব বিভাের ॥ করত পান সাদর সকল প্রেম প্রমােদ ন থাের সমউ বিলােকি বসিষ্ট বােলায়ে । সাদর সতান সুনি আয়ে । ৰেগি কুঅঁরি অব আনহু জাঙ্গ চলে মুদিত মুনি আয় পাই। বশিষ্ঠ সময় জানি করেন আহ্বান। সমাদরে সতানন্দে—শুনি তিনি যান। আনহ কুমারী এবে সত্বর যাইয়া । চলে আনন্দিত, আজ্ঞা মুনির পাইয়া। । ৩ শুভবিবাহ হিন্দী বাঙ্গলা রানী সুনি উপরােহিতবানী। প্রমুদিত সখিনূহ সমেত সয়ানী। বিপ্রবধূ কুলবৃদ্ধ বােলাই করি কুলরীতি সুমঙ্গল গাঙ্গ। শ্রবণ করিয়া রাণী পুরােহিত-কথা। সমেত সখীর দল হন প্রমুদিতা। বিপত্নী কুলবৃদ্ধাগণে ডাকাইয়া। করে কুলাচার শুভ সঙ্গীত গাহিয়া নারিবেষ জে সুরবরবামা । সকল সুভায় সুন্দরী শ্যামা । তিহি দেখি সুখ পাৰহি নারী। বিনু পহিচানি প্রাণ তেঁ প্যারী । দেব-জায়াগণ যারা ছিল নারীবেশা। সুশীলা সুন্দরী সবে যুবতী-বয়স। তাঁহাদের দেখি সুখ পায় যত নারী। বিনা পরিচয়ে করে প্রাণ হ'তে প্যারী। বার বার সনমানহি রাণী । উমা রমা সারদ সম জানী। সিয় সারি সমাজ বনাঙ্গ মুদিত মণ্ডপহি চলী লেই। বারম্বার রাণী সবে করয়ে সম্মান। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী-সম করি জ্ঞান। সীতারে সজ্জিত করি সকলে মিলিয়া। ফুল্লচিতে মণ্ডপেতে চলিল লইয়া । চলি ল্যাই সীতহি সখী সাদর সজি সুমঙ্গল ভামিনী। নৰসপ্ত সাজে সুন্দরী সব মত্ত কুঞ্জর গামিনী। সাদরে সীতারে লয়ে চলে শুভ সাজে সখী ও স্ত্রীগণে। যােড়শ শৃঙ্গারে সুত্র সবে মত্ত মাতঙ্গিনীর গমনে। কলগান সুনি মুনি ধ্যান ত্যাগহি কলগানে ধ্যানভঙ্গ মুনি কাম কোকিল লাজহী। অনঙ্গ কোকিল রহে লাজে। মঞ্জীর নুপুর কলিত কঙ্কন মঞ্জীর ও নূপুর কঙ্কন তালগতি বর বাজহী। সুন্দর তালে তালে বাদে।
সীতার স্বয়ংবর झिन्नी বাঙ্গলা সােহতি বনিতাবৃন্দ মহঁ শােভা পায় নারিবৃন্দ মাঝে সহজ সুহানি সীয় । স্বাভাবিক শােভাময়ী সীতা ছবি ললনাগণ মধ্য জনু স্ত্রীগণ আলেখ্য মাঝে যেন সুখমাতিয় কমনীয়। মূর্তিমতী শােভা—শ্রীমণ্ডিত। সিয় সুন্দরতা বরশি ন জাঈ। লঘুমতি বহুত মনােহরঙ্গ। আৰত দীখি বরাতিহ সীতা। রূপরাশি সব ভাতি পুনীতা ॥ সীতা-সুন্দরতা—তাহা বর্ণন না যায় । অল্পমতি আমি—অতি সৌন্দৰ্য তায় । বরযাত্রী আসে দেখি জনক-দুহিতা । রূপরাশি—আর সর্ব প্রকার পবিতা । সবহি মনহি মন কিয়ে প্রণাম। দেখি রাম ভয়ে পূরণকামা । হরষে দশরথ সুতনুহ সমেতা। কহি ন জাই উর আনন্দ জেতা। সকলেই মনে মনে করিল প্রণাম। দেখি রাম হইলেন পূর্ণ মনস্কাম। হৃষ্ট দশরথ সুতগণের সহিত। বাক্যাতীত মনে যত আনন্দ উদিত। সুর প্রণামু করি বরিষহি ফুলা। মুনি অসীস ধুনি মঙ্গল মূলা ৷ গান নিসান কোলাহলু ভারী। প্রেম প্রমােদ মগন নরনারী । সুরগণ প্রণমিয়া বরষয়ে ফুল। মুনি করে আশীৰ্বাদ-মঙ্গল-মূল। সঙ্গীত ও নাগারার কোলাহল ভারী। প্রেম ও আনন্দে মগ্ন যত নরনারী। যুহি বিধি সীয় মণ্ডপহি আঙ্গ প্রমুদিত শান্তি পঢ়হি মুনিরাঈ। তেহি অৰসর করি বিধি ব্যবহারূ দুহু কুলগুরু সব কীন্হ অচার । এরূপে আইল সীতা মণ্ডপ-ভিতর। শান্তিপাঠ করে আনন্দিত মুনীশ্বর । সেই অবসরে করি বিধি ব্যবহার । দুই কুলগুরু করে সব কুলাচার।
শুভবিবাহ হিন্দী বাঙ্গলা আচার করি গুরু গৌরী গণপতি আচারিগণেশ গৌরী গুরু মুদিত বিপ্র পূজাৰহী। পূজিলেন হৃষ্ট বিপ্রগণ । দেবতা প্রত্যক্ষ পূজা লয় দেহি অশীস অতি সুখ পাৰহী। আশীষয় অতি সুখী মন । সুর প্রগটি পূজা লেহি মধুপর্ক মঙ্গলদ্রব্য মধুপর্ক মঙ্গল সামগ্রী জো জহি সময় মুনি মন মহঁ চহহি। যাহা যবে মুনি মনে চাহে। ভরে কনককোপর কলস ভরি স্বর্ণ কলস কটোরী সো তব লিয়ে পরিচারক রহহি। তাহা তবে লয়ে দাস রহে। কুলরীতি প্রীতিসমেত রবি কহি দেত সবু সাদর কিয়ে। এহি ভতি দেৰ পুজাই সীতহি সুভগ সিংহাসন দিয়াে॥ কুলরীতি প্রীতিসহ রবি কহে—সবে সাদরে করিল। পূজি দেবে এভাবে, সীতারে সুন্দর সিংহাসন দিল। সিয় রাম অৰলােকনি পরসপর প্রেম কাহু ন লখি পরই। মন বুদ্ধি বর বাণী অগােচর প্রগট কৰি কৈসে করই । সীতারাম দৃষ্টি পরস্পর প্রেম কারাে লক্ষ্য নাহি হয়। মন বুদ্ধি বাক্য-অগােচর কি প্রকারে কবি প্রকাশয় ? হােম সময় তনু ধরি অনলু অতি সুখ আহুতি লেহি । বিপ্রবেশ ধরি বেদ সব কহি বিবাহবিধি দেহি। হােমকালে অগ্নি তনু ধরি লইলেন আহুতি সপ্রীতি। বিপ্রবেশ ধরি বেদ সব কহি দেন বিবাহের রীতি।
৮৪ সীতার স্বয়ংবর বাদলা হিন্দী জনক পাট মহিষী জগ জানী। সীয়মাতু কিমি জাই বখানী। সুযশ সুকৃত সুখ সুন্দরতা। সব সমেটি বিধি রচী বনাঙ্গ। জগতবিদিত জনকের পাটরাণী । সীতা-মা কি প্রকারে তাহারে বাখানি সুযশ সুকৃতি সুখ আর সুন্দরতা। সকল একত্র করি রচিলেন ধাতা । সমউ জানি মুনিবরহ বােলাই। সুনত আসিনি সাদর ল্যাঙ্গ। জনক বাম দিশি সােহ সুনয়না। হিমগিরি সঙ্গ বনী জনু ময়না। সময় জানিয়া তরে মুনিরা ডাকিল। শুনি এয়ােগণ তারে সাদরে আনিল । শােভিলেন সুনয়না জনকের বামে। হিমগিরি সঙ্গে যেন মেনকা সুঠামে। কনককলস মণিকোপর রূরে। শুচি সুগন্ধ মঙ্গল জল পূরে। নিজ কর মুদিত রায় অরু রাণী। ধরে রাম কে আগে আনী। কনক কলস চারু মণির কটোরি। পূত সুগন্ধিত আর শুভ বারি ভরি । নিজ করে আনন্দিত রাজা আর রাণী। ধরিলেন শ্রীরামের অগ্রেতে আনি। পঢ়হি বেদ মুনি মঙ্গল বাণী। গগন সুমন ঝরি অবসর জানী । বর বিলােকি দম্পতি অনুরাগে। পায় পুনীত পােরন লাগে। পড়িলেন মুনি বেদ-মঙ্গল-বাণী। গগণে কুসুম ঝরে অবসর জানি। বরেরে হেরিয়া জায়াপতি অনুরাগে। পবিত্র চরণ দুটী প্রক্ষালিতে লাগে । লাগে পােরন পায়পঙ্কজ প্রেম তনু পুলকালী। 'নভ নগর গান নিসান জয় ধুনি উমগি জনু চছ দিশিলী। চরণপঙ্কজ প্রখালিতে প্রেমভরে অঙ্গ বিগলে। নগরে অম্বরে গীতি-ভেরী জয়ধ্বনি চৌদিকে উছলে ।
শুভবিবাহ হিন্দী বাদলা জে পদসরােজ মনােজঅরি- উর-সর সদৈা বিরাজহী। জে সুকৃত সুমিরত বিমলতা মন সকল কলিমল ভাজহী। যে পদ-সমােজ মনােজারি- উর-সরে সদা বিরাজিত। পূত যাহা স্মরি শুদ্ধ চিত কলিগ্লানি হয় বিদূরিত। { জে পরশি মুনিবনিতা লহী যে পদ পরশি মুনি-জায়া গতি রহী জো পাতকমঈ। পাপী তবু লভিল উদ্ধার। মকরন্দ জিহ কো শ্যুশির যার পুষ্পরেণু শঙ্কুশিরে, শুচিতা-অৰধি সুর বরন । বর্ণে দেব-সীমা শুচিতার। করি মধুপ মুনি মন যােগিজন জে সেই অভিমত গতি লহহি। তে পদ পখারত ভাগ্যভাজন জনক জয় জয় সব কহহি ॥ মুনি যােগী চিত্তে ভঙ্গ করি সেবি যাহা ইষ্টগতি লয়। সে পদ ক্ষালন-ভাগ্যশালী জনকের কহে সবে জয়। বর কুঁঅরি করতল জোরি জুড়ি বর-কন্যা-কর-করে শাখােচ্চার দোউ কুলগুরু করহি। শঙ্খধ্বনি কুলগুরুর। ভয়ে পাণিগহন বিলােকি বিধি পরিণয় হয় দেখি-বিধি সুর মনুজ মুনি আনন্দ ভরহি। সুর নর মুনি হয়। মুখমূল দুলহ দেখি দম্পতি পুলক তনু হুলসেউ হিয়ে। করি লােক-বেদ-বিধান কন্যাদান নৃপভূষণ কিয়াে । মুখমূল বর দেখি দোহে পুলকাঙ্গ উল্লাস অন্তরে। করি লােক আর বেদবিধি নৃপবর কাদান করে।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী । হিমস্ত জিমি গিরিজা মহেশহি হরিহি শ্ৰী সাগর দঙ্গ। তিমি জনক রামহি সিয় সমরপী বিশ্ব কল করতি নঈ। হিমালয় দিল উম হরে সিন্ধু দিল লক্ষ্মী বিষ্ণু-করে। জনক সঁপিয়া সীতা রামে বিশ্বে চারু নব কীৰ্ত্তি করে। i কৌ করহি বিনয় বিদেহ কিয়াে কেমনে বিনয় করে, কৈল বিদেহ মূরতি সারী। শ্যামমূৰ্ত্তি বি-দেহ বিদেহে ? করি হােম বিধিৰত হােম করি যথাবিধি হয় গাঁঠি জোরী হােন লাগী ভারী । গাঁটছড়া সাতপাক দিয়ে । জয়ধুনি বন্দী বেদ ধুনি বন্দী-জয়ারাব, বেদধ্বনি, মঙ্গলগান নিসান। নাগারার বাদ্য, শুভগীতি । সুনি হরষহি বরষহি শুনি বর্ষে বিজ্ঞদেবগণ বিবুধ সুর-তরু-সুমন সুজান। কল্পতরু-পুষ্প-হর্ষে অতি ॥ কুৱঁরু কুঅঁরি কল ভারি দেহী। নয়নভু সব সাদর লেহী। জাই ন বরণি মনােহর জোরী। কছু কহউ সস থােরী। কুমার কুমারী দেয় পাক মনােহর। নয়ন সার্থক সবে করয়ে সাদর । সুন্দর যুগলশােভা বর্ণন না যায়। যে কিছু উপমা কহ লঘু হয় তায় । জো উপমা রাম সীয় সুন্দর প্রতিছাহী । জগমগাতি মণি খম্ভহ মাহী। মনহু মদন রতি ধরি বহু রূপা। . দেখত রামবিবাহ অনুপা। • রামসীতা-প্রতিবিম্ব অতীব সুন্দর। ঝগমগ করে মণিস্তম্ভের ভিতর। যেন সে মদন রতি ধরি বহুরূপ। নিরীক্ষণ করে রামবিবাহ অনুপ ।
শুভবিবাহ হিন্দী বাঙ্গলা = দরশলালসা সকুচ ন থােরী। প্রগটত দূরত বহােরি বহােরী । ভয়ে মগন সব দেখনিহারে । জনসমান অপান বিসারে। দর্শন-লালসা যত লজ্জা সে প্রকার। প্রকট ও অপ্রকট তাই বারম্বার। মােহিত হইল সব দর্শকগণ । জনক-সমান করে আত্মবিস্মরণ। । প্রমুদিত মুনিহ ভারী ফেরী নেগসহিত সব রীতি নিবেরী । রামু সীয়শির সিন্দুর দেহী। শােভ কহি ন জাত বিধি কেহী ॥ প্রদক্ষিণ করে আনন্দিত মুনিগণ। সােপচার সৰ্বরীতি করে সম্পূরণ ॥ রাম সীতা-শিরে করে সিন্দুর প্রদান। ব্ৰহ্মাণ্ড নারে শােভা করিতে ব্যাখ্যান অরুণপরাগ জলজু ভরি নীকে। শশিহি ভূষ অহি লােভ অমী কে । বহুরি বশিষ্ঠ দীহি অনুশাসন। বর দুলহিনি বৈঠে এক আসন। লােহিত পরাগ পদ্মে করিয়া পূণিত। সুধালােভে করে অহি শশীরে ভূষিত । তবে পুন বশিষ্ঠের আদেশ প্রদানে। বরকন্যা বৈষয়ে একই আসনে। বৈঠে বরাসন রাম জানকী মুদিত মন দশরথ ভয়ে। তনু পুলক পুনিপুনি দেখি অপনে মুক্ত-সুর-তরু-ফল নয়ে । বরাসনে বসে রামসীতা দশরথ আনন্দবিহ্বল পুলকাঙ্গ দেখি দেখি নিজ পুণ্য-কল্পতরু-নব ফল। ভরি ভুবন রহা উছাহু রামবিহু ভাসবহী কহা। কেহি ভাতি বরনি সিরাত উচ্ছ্বাসে ভুবন ভরে সবে “রামের বিবাহ হল” কয়। কিরূপে বরণি করে শেষ এক জিহ্বা কথা শুভময় ? *। রসনা এক য়হ মঙ্গল মহা ।
সীতার স্বয়ংবর বাদলা হিন্দী তব জনক পাই বশিষ্ট আয় ব্যাসাজু সারিকৈ। মাগুবী শ্রুতিকীর্তি উর্মিলা কুরি লই কারিকৈ। জনক বশিষ্ঠ-আজ্ঞা পেয়ে বিবাহের করি আয়ােজন। শ্রুতকীৰ্ত্তি উৰ্মিলা মাগুবী কন্যায়ে ডাকাইয়া লন । কুশকেতু কন্যা প্রথম জো গুণ শীল সুখ শােভ মঈ। সব রীতি প্রতি সমেত করি সাে ব্যাহিনৃপ ভরতহি দঈ । কুশকেতু-প্রথমা-কুমারী গুণ-শীল-সুখ-শােভান্বিতা। সৰ্ব্ব রীতি প্রীতি সহ নৃপ করেন ভরতে বিবাহিতা। জানকী লঘু ভগিনী সকল সুন্দরি শিরােমণি জানি কৈ সাে তনয়া দীন্হী ব্যাহি লষনহি সকল বিধি সনমানি কৈ। জানকী-কনিষ্ঠা-ভগ্নী জানি সকল সুন্দরী শিরােমণি। সে কন্যারে দিলেন লক্ষ্মণে করি সর্ব বিধি ও সম্মানি। জেহি নাম শ্রুতিকীরতি সুলচনি সুমুখি সব গুণআগরী। সােদই রিপুসূদনহি ভূপতি রূপ শীল উজাগরী। শ্রুতকীর্তি নামী সুলােচনী সুমুখী সকল গুণবতী। সেই রূপ-শীলােজ্জ্বলারে শত্রুয়ে দিলেন ভূপতি। অনুরূপ বর দুলহিনি পরসপর লখি সকুচি হিয় হরষহী। সব মুদিত সুন্দরতা সরাহহি সুমন সুরগণ প্রষহী। মােগ্য বর কন্যা পরস্পরে হেরি হিয়া সঙ্কোচে হরষে। সবে হৃষ্ট প্রশংসে সুষমা সুরগণ কুসুম বরষে ।
শুভবিবাহ হিন্দী বাঙ্গলা সুন্দরী সুন্দর বরহ সহ সব এক মণ্ডপ রাজহী। জনু জীবউর চারিউ অবস্থা বিভূন সহিত বিরাজহী। সুন্দরীরা-সুশ্রী বরগণ সহ এক মণ্ডপেতে রাজে। যেন জীবহৃদে চারি দশা স্বামীগণ সহিত বিরাজে। মুদিত অবধপতি সকলস্তুত বধূহ সমেত নিহারি । জনু পায়ে মহিপাল মণি ক্রিয়মূহ সহিত ফল চারি। ফুল্ল অযােধ্যেশ সৰ্বতে বধূগণ সহিত নেহারি । যেন পায় মহীপালমণি, ক্রিয়ার সহিত ফল চারি। জসি রঘুবীর ব্যাহবিধি বরনী। সকল কুৱঁর ব্যাহে তেহি করনী। কহি ন জাই কছু দাইজ ভুরী। রহা কনকমণি মণ্ডপ পূরী। রাম বিবাহের হয় যেরূপ বর্ণন। সব কুমারের বিয়ে হইল তেমন। কহ নাহি যায় যত যৌতুকের ভূরি। কনকমণিতে গেল মণ্ডপ পূরি। কম্বল বসন বিচিত্র পটোরে। ভাতি ভতি বহুমােল ন থােরে গজ রথ তুরগ দাস অরু দাসী। ধেনু অলঙ্কত কামদুহাসী। বিচিত্র কম্বল আদি রেশমী বসন। বহুবিধ বহুমূল্য না যায় গণন। দাস দাসী রথ গজ তুরঙ্গ নিচয়। ধেনু যথা কামধেনু অলঙ্কারময় । বস্তু অনেক করিয় কিমি লেখা। অনেক সামগ্রী তার কে করে গণন। কহি ন জাই জানহি জিনহ দেখা। বৰ্ণন অতীত জানে দেখেছে যে জন। লােকপাল অবলােকি:সিহানে। দেখি সব লােকপাল হয় চমৎকৃত। লীহ অবধপতি সৰ সুখ মানে। লয়েন অযােধ্যাপতি হয়ে ফুল্লচিত।
সীতার:বয়ংবর বালা দীন্হ জাচকহি জো জেহি ভাবা। যাচকেরে দেন যার যাহা লাগে মনে উবরা সাে জনবাসহি আবা। উত্ত যা রহে আসে আবাসভবনে। তব কর জোরি জনকু মৃদুবাণী । তবে কর যুড়িয়া জনক মৃদুবাণী। বােলে সব বরাত সমানী । কহিলেন বরযাত্রী সকলে সম্মানি। বরষাত্রে সসম্মান করে সনমানী সকল বরাত আদর দান বিনয় বড়াই কৈ। প্রমুদিত মহা মুনিবৃন্দ বলে পূজি প্রেম লড়াই কৈ। শ্রদ্ধা দান প্রশংসা বিনয় । মহাননে বনে মুনিগণ করে পূজা হয়ে প্রেমময় || শিরনাই দেব মনাই সব সন কহত করসম্পট কিয়ে। সুর সাধু চাহত ভাবসিন্ধু কি তােষ জলঅঞ্জলি দিয়ে। নতশিরে দেবতা মানায়ে কহে সবে জোড়পাণি হয়ে। “ভাবগ্রাহী দেব সাধুগণ সিন্ধু তুষ্ট জলাঞ্জলি নিয়ে । করজোরি জনক বহােরি বন্ধুসমেত কোসরায় সে। বোলে মনােহর বয়ন সানি সনেহশীল সুভায় সে। করজোড়ি পুনশ্চ জনক ভ্রাতৃসহ কোল-রাজনে। কহেন অভাব-স্নেহশীল বিমিশ্রিত মনােভ বচনে ॥ সনবন্ধ রাজন রানে হম বড়ে অর সব বিধি ভয়ে। যুহ রাজ সাজ সমেত সেবক জানিৰী বিহু গায়ে। তৰ সনে সম্বন্ধে রাজন বড় হনু সর্ববিধিমত। এই রাজপাট সহ জেনাে দাস ৰলি বিনামূলে ক্রীত।
শুভবিবাহ বাদলা হিন্দী এ দারিকা পরিচারিকা করি পালবী করুণামই। অপরাধু ছমিৰৰ বােলি পঠয়ে বহুত হোঁ টীঠ্যো দই। দাসী বলি এই কাগণে পালিবেন করুণা করিয়া । ডাকিয়া আনার অপরাধ অতিশয় ধৃষ্টতা—মিয়া। পুনি ভানু কুল ভূষণ সকল সনমান নিধি সমধী কিয়ে। কহি জাত নহি বিনতী পরসপর প্রেম পরিপূরণ হিয়ে। পুন ভাকুল-ভূষা করে বৈবাহিকে মান বহু রীতে। অনির্বচনীয় যে বিনয় করে দোহে প্রেমপূর্ণ চিতে। বৃন্দারকাগণ সুমন বরষহি রাউ জনসহি চলে। দুলুভী জয়ধুনি বদধুনি নভ নগর কৌতুহল ভলে। দেবগণ বরষে মুন রাজা যান আবাসের স্থলে। ভেরী জয়ারাব বেদধ্বনি পুরাকাশ পূরে কুতূহলে। তব সখী মঙ্গল গান করত মুনীসআয় পাই কৈ। ইলহ দুলহিনিহি সহিত সুন্দরি চলী কোহর ল্যাই কৈ। তবে সখী শুভ গীত গেয়ে মুনিবর আদেশ পাইয়া। বরকতাগণসহ রামা কৌতুক-গৃহেতে চলে নিয়া। পুনি পুনি রামহি চিত সিয় সকুচতি মন সকুচৈ ন। হরত মনােহর মীন ছবি প্রেম পিয়াসে নৈন । পুনঃ পুনঃ রামে হেরি সীতা সঙ্কুচিতা নিজেমন নয়। মনােহর মীনশােভা জিনে প্রেম-পিপাসিত আঁখিয় সীতার স্বয়ংবর হিন্দী শ্যাম শরীর সুভায় সুহান। শােভা কোটি মনােজ লজান । জাকজুত পদকমল সুহায়ে । মুনি মন মধুপ রহত জিহ ছায়ে শ্যামল শরীর কিবা স্বভাব সুন্দর। শােভা যার কোটি মনসিজ-লজ্জাকর । চরণকমল শােভে অলক্তকযুত। মুনি-মন-মধুকর যাহাতে নিযুত । পীত পুনীত মনােহর খােত হরত বাল রবি দামিন জোতী। কল কিঙ্কিনি কটিসূত্র মনােহর। বাহু বিশাল বিভূষণ সুন্দর। পীতবর্ণ সুপবিত্র মনােহর ধুতি। হার মানে বালরবি সৌদামিনী-দ্যুতি। কলকিঙ্কিণির কটিসূত্র মনােহর। বাহু সুবিশাল যাহে ভূষণ সুন্দর । পীত জনেউ মহাছবি দেই। করমুদ্রিক চোরি চিত লেঙ্গ। সােহত ব্যাহসাজ সব সাজে। উর রাজে | পীত যজ্ঞ-উপবীতে মহাশশাভা হয়। কর-অঙ্গুরীয় চিত চুরি করে লয় । শশাভিত আছিল সব বিবাহের সাজে। আয়ত উরস্ তাহে আভরণ রাজে । উর আয়ত ভূষণ পিয়র উপরনা কাখা সােত । পীতবর্ণ উত্তরীয় শােভে কক্ষস্থল। দুহু আচারহি লগে মণি মােত। মণি-মুক্তাযুক্ত যার উভয় অঞ্চল নয়ন কমল কল কুণ্ডল কানা। নয়ন-কমল-কর্ণে সুচারু কুণ্ডল। বদনু সকল সৌন্দৰ্য্য নিধানা বদন সে সমুদয় সৌন্দর্যের স্থল। সুন্দর ভূকুটি মনােহর নাসা। ভালতিলকু রুচির নিবাস। সােহত মৌর মনােহর সাথে । মঙ্গলময় মুকুতামণি গাথে | সুন্দর ভ্রুকুটি কিবা নাসিকা শােভন। ললাটে তিলক সুষমার নিকেতন। শিবরাদেশে মনােহর মউড় শশাভিত। সুমঙ্গলময় মণি মুক্তায় গ্রথিত।
শুভবিবাহ হিন্দী বাদলা গাথে মহামণি মৌর মহামণি খচিত মউড় মঙুল অঙ্গ সব চিতচিরহী। মঞ্জু অঙ্গ সব চিত্ত হরে। পুরনারী সুরসুন্দরী বরহি পুর আর সুর সুন্দরীরা বিলােকি সব তৃণ তােরহী। বরে হেরি ‘তৃণ-ছিন্ন করে। মণি বসন ভুষণ বারি দিয়া মণি বস্ত্র ভূষা ডালি আরতি করহি মঙ্গল গাহী। বণিয়া শুভগীতি গায়। সুর সুমন বরিষহি সূত মাগধ দেবগণ বরষে সুমন বন্দি সুস সুনাবহী। সুত বন্দী সুষশ শুনায়। কোহবরহি আনে কুৱঁর কুঅঁরি বরকন্যা আনে নৃত্যশালে সুআসিনিন্হ সুখ পাই কৈ। এয়ােগণ আনন্দ পাইয়া। অতি প্রতি লৌকিক রীতি অতি প্রেমে করে লােকাচার লাগী করন মঙ্গল গাই কৈ। সুমঙ্গল সঙ্গীত গাহিয়া । লহকৌরি গৌরি শিখাৰ রামহি ‘দধি-চিনি-গ্রাস’ গৌরি রামে সীয় সন সারদ কহহি। শিখান, সীতায় বাণী কয়। রনিবাস হাস বিলাস রস বশ হাস্য-লীলা-রসে অন্তঃপর জনম কো ফল সব লহহি। মগ্ন, সবে জন্ম-ফল পায় । নিজ পাণি মণি মহঁ দেখি নিজ-পাণি-মণি-মাঝে হেরি প্রতিমূরতি স্বরূপ নিধান কী প্রতিরূপ রূপ-নিধানের। চালতি ন ভুজবল্পী বিলােকনি ভূজবল্লী না চালে জানকী বিরহ-ভয়-বশ জানকী। হইবে বিরহ দর্শনের । +, অমঙ্গল দূর করার বিশ্বসে * শ্রী আচার সীতার বয়ংবর বাদলা হিন্দী কৌতুক বিনােদ প্রমােহ প্রেম ন জাই কহি জানহি অলী। বর কুঅঁরি সুন্দর সকল সখী লিবাই জনবালহি চলী ॥ কৌতুক বিনােদ প্রেমামােদ অনির্বাচ—জানে সধিদলে। মনােহর বরকন্যা লয়ে সখিগণ জনবাসে চলে। তেহি সময় সুনিয় অশীষ জই তহঁ নগর নভ আনন্দ মহা। চির জিয়ই জোরী চারু চারিই মুদিতমন সহী কহা। সে সময় শুনিয়া আশি হৃষ্ট পুরাকাশ সব ঠাই। “দীর্ঘজীবী চারু চারিজোড় হক”-হর্ষে কহিল সবাই। যােগন্দ্র সিদ্ধ মুনীশ দেব যােগী মুনীশ সিদ্ধ দেব বিলােকি প্রভু দুন্দুভী হনী। রামে হেরি দুন্দুভি বাজায়। চলে হরষি বরষি প্রসুন চলে হর্ষি কুসুম বরষি নিজ নিজ লােক জয় জয় জয় ভনী। ‘জয়’ গাহি নিজ লােকে যায় । সহিত বখুটিহ কুৱঁর সব তব আয়ে পিছু পাশ। শােভা মঙ্গল মােদ ভরি উমগেট জয় জনবাস। বধুসহ কুমার সকলে আসে তবে পিতৃদেব পাশ। মঙ্গলেতে শােমােদে ভরি উচ্ছলিয়া উঠে জনবাস । পুনি জেনার ভষ্ট বহু জাতি। পঠয়ে জনক বােলাই বরাতী। পরত পাৰড়ে বসন অনুপা। সুতনুহ সমেত গৰন কিয় ভূ + পুনরায় ভােজ হয় বিবিধ বিধান। বরযাত্রীগণে করে জনক আধান । পাতি দিল পদতলে বসন অনুপ। পুত্রগণ সঙ্গে ল’রে যাইলেন ভূপ।
শুভবিবাহ ১৫ হিন্দী সমাদরে সকলের চরণ ধােরায়। যাহার যেমন যােগ্য আসনে বৈঠায়। সাদর সব কে পায় পারে। যথাযােগ পীড়ন বৈঠারে । যােয়ে জনক অধপতিচরণা । শীল সনেহ যাই নহি বরণ। অযােধ্যেশ-পদ করে জনক ক্ষালন। শীলতা যতন তার না হয় বর্ণন৷ বহুরি রাম পদ পঙ্কজ ধােয়ে। জে হর হৃদয়কমল মহঁ গােয়ে। তীনিউ ভাই রামসম জানি। থােয়ে চরণ জনক নিজ পাণি। পরে রাম-পাদপদ্ম করে এফালন। হর-হৃদিপদ্ম-শাঝে যা রহে গােপন। তিন ভ্রাতাকেই রামসম করি জ্ঞান। জনক আপন করে চরণ ধােয়ান। আসন উচিত সবহি নৃপ দীহে। বােলি সূপকারী সৰ লীনহে। সাদর লগে পরন পনৰারে। কণককীল মণিপান সারে। উচিত আসন নৃপ সকলে দানিয়া। সূপকারগণ সবে লয়েন ডাকিয়া । সযতনে পাতা সৰ লাগিল পড়িতে। স্বর্ণখিল মণিপত্র লাগিল শােভিতে। সূপােদন সুরভী সরপি সুন্দর স্বাদু পুনীত। হন মহঁ সৰ কে পরুসি গে চতুর আর বিনীত। অন্ন ও ব্যঞ্জন গব্যঘৃত সুন্দর ও মুম্বাই পবিত। ক্ষণমাত্রে পরিবেষে সবে সূপকার চতুর বিনীত। পঞ্চকলি করি জেন লাগে। পঞ্চগ্রাস করি তবে ভলিবারে লাগে । গারি গান শুনি অতি অনুরাগে। গালির সঙ্গীত শুনি-অতি অনুরাগে। ভাতি অনেক পরে পকৰানে। পান্ন পড়িল সব প্রকারে নানান। সুধাসরিস নহি জাহি বখানে। অমৃতের সম, তার কে করে খান।
সীতার বয়ংবর বাদলা পরসন লগে আর অজানা। বিঞ্জন বিবিধ নাম কো জানা। চারি ভাতি ভােজন বিধি গা এক এক বিধি বরশি ন জাই। পারস করয়ে সব বিজ্ঞ সূপকার। বিবিধ ব্যঞ্জন নাম কেবা জানে তার । ভােজনের বিধি হয় চারিটী প্রকার । একটী বিধিও অনির্বচনীয় তার। হরস রুচির বিঞ্জন বহু জাতী। এক এক রস অগণিত ভাতি। জেৰত দেহি মধুর ধুনি গারী। লেই লেই নাম পুরুষ অ নারী। ছস-ব্যঞ্জন চারু বহুল প্রকার। এক এক রসেরই অগণিত যার। ভােজনিয়াদের দেয় গালি মধুম্বরে। স্বামী আর স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে । । সময় সুহানি গারি বিরাজ ‘সত রাউ সুনি সহিত সমাজা। এহি ৰিধি সহী ভােজ কীন্হা। আদরসহিত আচমনু দীনহা। সময়ের উপযােগ ব্যঙ্গ-গীতি হয়। পরিষদ সহ রাজা শুনিয়া হায়। এইরূপে সর্বজনে করিলে ভােজন। আদর সহিত করাইল আচমন । দেই পান পূজে জনক দশরথ সহিত সমাজ জনৰাসে গৰনে মুদিত , সকলু ভূপ শিরতাজ পান দিয়া পূজিল জনক দশরথে সহ পরিজন জনবাসে যায় ফুল্লমনে সৰ্ব্ব-ভূপ-শির-বিভূষণ। ৮। নিত নূতন মঙ্গল পুর মাহী। পুরে নিত্য নব মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান । নিমিষসরিস দিন আমিনি জাহী ॥ দিন রাত্রি কাটে যেন নিমেষ সমান। বড়ে ভাের ভূপতিমণি জাগে। অতীব প্রত্যুষে ভূপশিরােমণি জাগে। জাচক গুনগণ গাৰু লাগে । যাচকেরা গুণগান গাহিবারে লাগে ।
শুভবিবাহ
शिन्नौ
বাদলা
দেখি কুর্তার বর বধূহ সমেতা। দেখিয়া কুমারগণে সহ বধুগণ।
কিমি কহি জাত মােদ মন জেতা। যে আনন্দ মনে, করি কেমনে বর্ণন?
প্রাতক্রিয়া করি গে গুরু পাহী। প্রাতকৃত্য সমাপিয়া যান গুরুপাশ।
মহাপ্রমােণ প্ৰেমু মনু মাহী। অন্তরেতে প্রেম আর অতীব উল্লাস।
করি প্রণামু পূজা কর জোরী।
বােলে গিরা অমিয় জনু বােরী।
তুমহরী কৃপা সুনহ মুনিরাজা।
ভয়ঙ আজ মৈ পূরণকাজা।
করিয়া প্রণাম পূজা জোড় করি পাণি।
বলিবারে লাগিলেন সুধাময় বাণী।
তব অনুকম্পায় শুন মুনিরাজ।
পরিপূর্ণ হ’ল আজ মাের সর্বকাজ।
বরবিদায় হিন্দী বাঙ্গলা জনকের স্নেহ শীল সৎকর্ম বিভূতি। প্রশংসা করেন সর্ব প্রকারে নৃপতি। বিদায় প্রত্যহ উঠি অযােধ্যেশ মাগে। রাখেন জনক তারে ধরি অনুরাগে। জনক সনেহ শীলু করতুতী। নৃপু সব ভাতি সরাহ বিভূতি। দিন উঠি বিদা অধপতি মাগা। রাখহি জনক সহিত অনুরাগ দিন নূতন আদরু অধিকারী। দিনপ্রতি সহস ভাতি পহুনাঈ। নিত নৰ নগর আনন্দ উছাহু। দশরথ গৰন সুহাই ন কাহু। নিত্যই অধিকতর আদর নবীন । সহস্র প্রকার আতিথেয় প্রতিদিন। আনন্দ উৎসব নব নিত্যই নগরে। দশরথ-যাত্ৰা ভাল নাহি লাগে কারে। বহুত দিস বীতে এহি ভাতী। জনু সনেহরজু বঁধে বরাতী । কৌশিক সতানন্দ তব জাঈ। কহা বিদেহ নৃপহি সমুঝাই। বহুদিন গত হয় এমনি প্রকারে। যেন বরযাত্রে বাঁধি রাখে মেহতােরে ॥ বিশ্বামিত্র সতানন্দ যাইয়া তখন। নরপতি বিদেহেরে বুঝাইয়া কন। অব দশরথ ক আয় দেহু। এক্ষণে দশরথে দাও অনুমতি। যদ্যপি ছাড়ি ন সকহু সনে । যদিও ছাড়িতে নার মেহ তার প্রতি। ভলেহি নাথ কহি সচিৰ বােলায়ে। উত্তম হে নাথ’ কহি ডাকেন মন্ত্রীরে। কহি জয় জীব শীষ তিনূহ নায়ে । ‘জয় জীব’ কহি সেহ রহে নত শিরে। অৰধনাথ চাহত চলন ভীতর করই জনাউ। ভয়ে প্রেমবশে সচিৰ শুনি বি সভাসদ রাউ। অযােধ্যেশ চলে যেতে চান অন্তঃপুরে করহ জ্ঞাপন। শুনি:প্রেমবশ হ’লমন্ত্রী বিপ্ন সভাসদ রাজগণ ।
বরবিদায় হিন্দী বাঙ্গলা পুরবাসী সুনি চলিহি বরাতা। পূছত বিকল পরসপর বাতা। সত্য গৰনু সুনি সব বিলখানে। মনহু সাঝ সরসিজ সকুচানে। পুরবাসী শুনি যাবে বরযাত্রী দল। পরস্পর পুছে বার্তা হইয়া বিকল । সত্যই যাইবে শুনি সকলে দুঃখিত। যেমতি সন্ধ্যায় হয় পদ্ম সঙ্কুচিত । দাইজ অমিত ন সকিয় কহি অনিৰ্বাচ্য অমিত যৌতুক দীন্হ বিদেহ বহােরি । বিদেহ দানিল পুনৰ্ব্বার। জো অৰলােকত লােকপতি যাহা অবলােকি লােকপতি লােক সম্পদা থােরি । ভাবে অল্প বিত্ত আপনার। সব সমাজু এহি ভাতি বনাঙ্গ। সকল সমাজ এইরূপে সাজাইয়া । জনক অধপুর দীন্হ পঠাঈ। জনক অযােধ্যাপুরে দিল পাঠাইয়া । চলিহি বরাত মুনত সব রাণী। চলি যাবে বরযাত্ৰ শুনি সব রাণী। বিকল মীনগণ জনু লঘু পাণী। যেমতি বিকল মৎস মাঝে অল্প পানি। পুনি পুনি সীয় গােদ করি লেহী। পুনঃ পুনঃ ক্রোড়দেশে লইয়া সীতারে। দেই অশীস শিখাৰন দেহী । আশীৰ্বাদ প্ৰদানিয়া শিক্ষা দেন তারে। হােয়হু সম্ভত পিয়হি পিয়ারী । নিরবধি হয়ে থাক প্রেয়সী প্রিয়ের। চির অহিৰাত অশীস হমারী ॥ চির ভাগ্যবতী হও 'আশিস্ মােদের ॥ সামু সসুর গুরু সেৰা কর। পতিরুখ লখি আয় অনুসরহ্। অতি সনেহ বশ সখী সয়ানী। নারিধরমু সিখৰহি মৃদুবাণী । শ্বশুর শাশুড়ী গুরু করিবে সেবন । পতি-মন বুঝি আজ্ঞা করিবে পালন। অতি মেহবশে যত সখীর সেয়ানী : নারীধৰ্ম্ম শিক্ষা দেয় কহি মৃদুবাণী।
সীর বয়ংবর হিন্দী সাদর সকল কুরি সমুঝাই। রানিহ বার বার উর লাই। বহুরি বহুরি ভেটহি মহতারী। কহহি বিরঞ্চি রচী কত নারী। তেহি অৰসর ভাইহ সহিত গ্রাম ভাকুলকেতু। চলে জনমন্দির মুদিত বিদা করান হেতু। কুমারীগণেরে সবে বুঝয়ে আদরে। রাণীগণ বার বার বক্ষেতে ধরে। পুনঃ পুনঃ দরশন করেন জননী। কহেন বিধাতা কেন গড়েন রমণী। সেইকালে ভ্রাতৃগণ-সহ রামচন্দ্র ভানুকুলকেতু। মুখে যান জনকভবনে বিদায়ের অনুমতি হেতু। রূপসিন্ধু ভ্রাতৃগণে হেরি অন্তঃপুর হয় উল্লসিত। বরণ করয়ে ডালি লয়ে শদেৰী পুলকিত চিত। রূপসিন্ধু সব বন্ধু লখি হরষি উঠে রনি। কহি নিহারি আরতী মহামুদিত মন সানু। দেখি রামছবি অতি অনুরাগী। প্রেমবিবশ পুনি পুনি পদ লাগী । মহীন লাজ প্রতি উর ছাই। সহজ সনেহু বরণি কিমি জাই। ভাইহ সহিত উবটি অনুহৰায়ে। দুরস অশন অতিহেতু জেৰায়ে । বােলে রামু মুসৰসর জানী শীল সনেহ সকুচমবাণী। রামের মুরতি দেখি অতি অনুরাগে। প্রেমমগ্ন পুনঃ পুনঃ প্রণমিতে লাগে। লজ্জা নাহি রয়, প্রতি অন্তর ছায়। কেমনে সহজ মেহ বরণন যায় ? করাইয়া ভ্রাতৃসহ অভ্যঙ্গ স্নান। ঘরস ভােজন অতি যতনে খাওয়ান। বলেন শ্রীরাম শুভ অবসর জানি। সঙ্কোচ শীল আর মেহময় বাণী ।
বরবিদায় হিন্দী রাউ অৰধপুৰ চহত সিধায়ে। বিদা হােন হম ইহঁ পায়ে। মাতু মুদিত মন আয় দেহু। বালক জানি করব নিত নেহু। বাদলা নৃপতি অযােধ্যাপুরী যাইবারে চান। মােদের বিদায় নিতে হেথায় পাঠান। হে মাত! প্রসন্নমনে অনুমতি দেহ। বালক জানিয়া নিত্য করিবেক মেহ। সুনত ৰচন বিলখেউ রনি। শুনি বাণী ক্ষুব্ধ হন অন্তঃপুরবাসী। বােলি ন সহি প্রেমবশ সাহ। প্রেমাঞ্জু শশা নারে বলিতে প্রকাশি। হৃদয় লগাই কুঅঁরি সব লীহী। কুমারীগণেরে সবে বক্ষে ধরি লয়। পতিহ সৌপি বিনতী অতি কীন্হী। পতিগণে সঁপি করে অতীব বিনয়। করি বিনয় সিয় রামহি সমরপী জোরি কর পুনি পুনি কহই। বলি জাউ তাত সুজান তুম কহ বিদিত গতি সব কী অহই। রামে সঁপি সীতা সবিনয় করযােড়ি কহে বার বার। বলি যাই—বিজ্ঞ তাত তুমি অবগত গতি সৰাকার। পরিবার পুরজন মােহি রাজহি প্রাণপ্রিয় সিয় জানিবী। তুলসী সুশীল সনেহ লখি নিজ কিঙ্করী করি মানবী। আমি, রাজা, গৃহী পুজন সবা-প্রাণপ্রিয় সীতা জেনাে। তুলসী কহে-মেহ শীল দেখি আপন কিরী বলি মেনন। তুম পরিপূরণ কাম জান শিরােমণি ভাৰ প্রিয় জন গুণ গাহক রাম তুমি রাম পরিপূর্ণ কাম জ্ঞানী শিরােমণি ভাৰপ্রিয় জন-গুণ করহ গ্রহণ দোষ দলি’-করুণার গৃহ।
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা অস কহি রহী চরণ গহি রাণী। প্রেমপঙ্ক জনু গিরা সমানী। সুনি সনেহসানী বরবাণ । বহু বিধি রাম সামু সনমানী । ইহা কহি চরণ ধরিয়া রহে রাণী। প্রেমপঙ্কে নিমজ্জিত যেন তাঁর বাণী । উত্তম ভাষণ শুনি স্নেহেতে মাখান। শশারে করেন রাম বহুল সম্মান। রাম বিদা মগা কর জোরী। কীন্হ প্রণাম বহােরি বহােরী। পাই অশীস বহুরি সিরু নাঈ। ভাইহ সহিত চলে রঘুরাঈ। বিদায় মাগেন রাম করি যােড়হাত। বারম্বার চরণেতে করি প্রণিপাত । আশীৰ্বাদ লভি পুন নত করি মাথ। ভ্রাতৃগণ সহিত চলেন রঘুনাথ। মঞ্জু মধুর মূরতি উর আনী। ভই সনেহ শিথিল সব রাণী । পুনি ধীরজু ধরি কুরি হাঁকারী। বার বার ভেটহি মহতারী। সুন্দর মধুর মূৰ্ত্তি হৃদয়েতে আনি। হইলেন মেহেতে শিথিল সব রাণী। ধৈর্য ধরিয়া পুন ডাকি কন্যাগণ। বারম্বার মাতৃদেবী করেন দর্শন। পন্থ চাহি ফির মিলহি বেহােরী। বিদায় দানিয়া পুন মিলেন আসিয়া। বঢ়ী পরসপর প্রীতি ন থােৰী । পরস্পর প্রতি আরো যাইল বাড়িয়া। পূনি পূনি মিলতি সখিনূহ বিলগাঈ। সখিগণে সরাইয়া মিলে বার বার। বাল বচ্ছ জিমি ধেনু লৰাঈ । ধেনু যথা ল’য়ে গেলে নব বৎসে তার। প্রেমবিবশ নরনারি সব প্রেমবশ নরনারীগণ সখিনূহ সহিত রনি। সখিগণ সহ অন্তঃপুর। মানহু কীন্হ বিদেহপুর করে যেন বিদেহের পুরে, করুণা বিরহ নিৰা । করুণা ও বিরহের পুর ।
বরবিদায় ১০৩ বাঙ্গলা হিন্দী শুক সারিকা জানকী জ্যায়ে। কনকপিঞ্জরহি রাখি পঢ়ায়ে । ব্যাকুল কহহি ক বৈদেহী। সুনি ধীরজু পরিহরই ন কেহী। শুক সারি যাহাদের জানকী পালিল। কনক পিঞ্জরে রাখি যত্নে পড়াইল । ব্যাকুল অন্তরে কহে ‘বৈদেহী কোথায়? তাহা শুনি কেবা নাহি ধৈর্য হারায় ? ভয়ে বিকল খগ মৃগ এহি ভাতী । এইরূপে পশুপাখী হইল বিকল। মনুজদশা কৈসে কহি জাতী। মানুষের দশা কহি কি প্রকারে বল ? বন্ধুসমেত জনকু তব আয়ে । ভ্রাতার সহিত আসে জনক তখন। প্রেম উমগি লােচন জল ছায়ে । উথলিয়া প্রেম-অশ্রু ভরিল লােচন। সীয় বিলােকি ধীর ভাগী । রহে কহাৰত পরমবিরাগী । লীহি রায় উর লাই জানকী। মিটী মহামরজাদ জ্ঞান কী সীতারে হেরিয়া ধৈৰ্য্য হয় পলায়িত। পরম বিরাগী বলি আছিলেন খ্যাত। ভূপতি সীতারে লয়ে বক্ষেতে ধরিল। জ্ঞানের মর্যাদা মহা নিঃশেষ হইল । সমুঝাৰত সব সচিৰ সয়ানে। কীন্হ বিচারু অনসর জানে। বারহি বার সুতা উর লাঙ্গ। সজি সুন্দর পালকী ম গাঙ্গ। সুবিজ্ঞ সচিব সব যবে বুঝাইল। অবসর নহে বলি বিচার করিল। বার বার বক্ষলগ্ন করি তনয়ায়। সাজাইয়া সুন্দর পালকি আনায়। প্রেমবিবশ পরিসবু জানি সুলগন নরেশ কুরি চঢ়াই পালকিন্হ সুমিরে সিদ্ধ গণেশ প্রেমবশ পরিবার সবে, সুলগন জানিয়া নরেশ। কুমারীরে চড়ায়ে পাল্কীতে স্মরিলেন সিদ্ধ গণেশ ।
সীতার বয়ংবর হিন্দী বহু বিধি ভূপ তা সমুঝাই। বহুবিধ তনয়ারে বুঝান ভূপতি নারিধরম কুলরীতি শিখাই। শিখালেন নারীধৰ্ম্ম আর কুলরীতি। দাসী দাস দিয়ে বহুতেরে। বহুতর দাসদাসী দিলেন রাজন। সুচি সেৰক জে প্রিয় সিয় কেরে। শুদ্ধ সেবক যারা সীতা প্রিয় জন । সীয় চলত ব্যাকুল পুরবাসী। হােহি সগুণ তত মঙ্গলরাশী । ভূসুর সচিৰ সমেত সমাজা। সঙ্গ চলে পইচাৰন রাজা। সীতার গমনে পুরবাসীরা ব্যাকুল। সুলক্ষণ হয় সব মঙ্গলমূল। ব্রাহ্মণ সচিব সহ সভাসদগণ। -হুছাতে সঙ্গেতে চলেন রাজন। সময় বিলােকি বাজনে বাজে। রথ গজ বাজি ৰাতিহ সাজে। দশরথ বিপ্র বােলি সব লীহে। কান মান পরিপূরণ কীহে। সময় হইল দেখি বাজনা বাজায়। বরযাত্রী রথ গজ তুরঙ্গ সাজায়। দশরথ বিপ্রগণে করিয়া আহ্বান। পরিতুষ্ট করিলেন দিয়া দান মান। চরণ সমােজ ধুরি ধরি শীষ। মুদিত মহীপতি পাই অশীসা। সুমিরি গজানন কীন্হ পয়ানা। মণমূল সগুন ভয়ে নানা | চরণ-সরােজ-রেণু মাথায় ধরিয়া। আনন্দিত মহীপতি আশিস পাইয়া। অরি গজাননে তবে করেন প্রমাণ। মঙ্গলজনক চিহ্ন হইল নানান । সুর প্রসূন বরষহি হরষি করহি অপহর গান। চলে অধপতি অধপুর মুদিত বজাই নিন। হর্ষে মুর কুসুম বরষে অপ্সরাগণ গান করে অযােখ্যার পতি অযােখ্যায় চলে মুখে চেরীৰান্ত করে।
বরবিদায় হিন্দী বাসনা নৃপ করি বিনয় মহাজন ফেরে। সাদর সকল মগনে টেরে ॥ ভূষণ বসন বাজি গজ দীহে। প্রেম পােষি ঠাঢ়ে সব কীহে। নৃপতি বিনয় করে—ফিরে মহাজন। সাদরে যাচকগণে করি সম্ভাষণ। ভূষণ বসন বাজী গজ সবে দিল । প্রেমেতে সন্তুষ্ট করি সবে থামাইল । বার বার বিরদাৰলি ভাখী। ফিরে সকল রামহি উর রাখী। বহুরি হুরি কোশলপতি কহহী। জনকু প্রেমবশ ফিরন ন চহহী। বার বার গুণাবলি করিয়া কীৰ্ত্তন। ফিরে সবে রামে হৃদে করিয়া ধারণ । বারম্বার কহিলেন কোশলাধিপতি। প্রেমবশ জনকের ফিরিতে না মতি । পুনি কহ ভূপতি বচন সুহায়ে। ফিরিয় মহীপ দুরি বড়ি আছে। রাউ বহােরি উতরি ভয়ে ঠাঢ়ে । প্রেমপ্রবাহ বিলােচন বাঢ়ে । পুন কহে নরপতি বচন মধুর । ফিরহ মহীপ, আসিয়াছ বহু দূর। অবতীর্ণ হয়ে রাজা রহে দাড়াইয়া। প্রেমের প্রবাহ নেত্রে যাইল বাড়িয়া। তব বিদেহ বােলে কর জোরী। বচন সনেহসুধা জনু বােরী । করউ কৰন বিধি বিনয় বনা। মহারাজ মােহি দীহি বড়াই। করঘােড় করি কহে বিদেহ তখন। যেন মেহ-অমৃতে নিষিক্ত বচন। “কোন প্রকারেতে করি বিনয় রচিয়া? মহারাজ আমারে ত দিল বাড়াইয়া।” কোশলপতি সমধী সজন সনমানে সব ভাতি। মিলনি পরসপর বিনয় অতি প্রীতি ন হৃদয় সমাতি । কোশলেশ সাধু বৈবাহিকে সম্মান করেন সর্ববিশি। পরস্পর মিলনে বিনয় অতি প্রীতি নাহি ধরে হৃদি।
১০৬ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা মুনি মণ্ডলিহি জনক শিরু নাৰা। আশিরবাদ সবহি সন পাৰ।। সাদর পুনি ভেটে জামাতা। রূপ শীল গুণ নিধি সব ভ্রাতা। জোরি পঙ্করুহ পাণি সুহায়ে। বােলে বচন প্রেম জম জায়ে। রাম করউ কেহি ভাতি প্রশংসা। মুনি মহেশ মন মানস হংসা।। জনক মুনিমণ্ডলে করি নমস্কার । আশীৰ্বাদ পাইলেন নিকটে সবার। সাদরে মিলেন পুন সহিত জামাতা। রূপ শীল আর গুণ-নিধি সব ভ্রাতা || জোড় করি পঙ্কজ পাণি সুশােভন। বলিলেন যেন প্রেমজাত সুবচন । “হে রাম, প্রশংসা তব করি কি প্রকারে । হংস তুমি মুনি-হর-মন-মান-সরে।” মিলে লষণ সুনি বরবচন প্রেম জনু পােষে। শুনি সেই বরবাণী যেন প্রেমপুষ্ট। পূরনকা রামু পরিতােষে । পূর্ণকাম রামচন্দ্ৰ হ’ন পরিতুষ্ট। করি বর বিনয় শ্বশুর সনমানে। অতীব বিনয় করি শ্বশুরে সম্মানে। পিতু কৌশিক বশিষ্ঠ সম জ্ঞানে। পিতা বিশ্বামিত্র বশিষ্টের সম জ্ঞানে৷ বিনতী বহুরি ভরত সন কীন্হী। ভরতের প্রতি পুন শিষ্টাচার করে । মিলি সপ্ৰেম পুনি আশিষ দীন্হী। আবার আশিস্ দেন মিলি প্রেমভরে। রিপুসুদনহি লক্ষণ শত্রু সনে মিলি দীহি অশীস মহীশ। আশীৰ্বাদ দেন মহীপতি ভয়ে পরসপর প্রেমবশ পরস্পর প্রেমবশ হয়ে ফিরি ফিরি নাৰহি শীশ। ফিরিয়া ফিরিয়া করে নতি। বার বার করি বিনয় বড়াই। বার বার করি তবে প্রশংসা বিনতি রঘুপতি চলে সঙ্গ সব ভাই ভ্রাতৃগণ সঙ্গে চলিলেন রঘুপতি। জনক গহে কৌশিকপদ জাঈ। জনক ধরেন গিয়। কৌশিক চরণ। চরণরেণু শির নয়হি লাঈ ॥ পদরেণু শিরে নেত্রে করেন গ্রহণ।
বরবিদায় ১০৭ হিন্দী বাদলা সুনু মুনীশর দরশন তােরে। শুন ওহে মুনীশ্বর তব দরশনে। অগম ন কছু প্রতীতি মন মােরে । অলভ্য না কিছু মাের বিশ্বাস মনে। জো সুখ সুযশ লােকপতি চহহী। যেই সুখ যে সুযশ চাহে লােকপতি। করত মনােরথ সকুচত অহহী। করিবারে মনােরথ সঙ্কুচিত মতি। সাে সুখ সুযশ সুলভ মােহি স্বামী। সে সুখ সুষশ সুখে লভ্য মােরে, স্বামী। সব সিধি তৰ দরশন অনুগামী। সব সিদ্ধি তব দরশন অনুগামী। কীন্হ বিনয় পুনি পুনি শিরু নাই। করেন বিনয় পুনঃ পুনঃ নত শিরে । ফিরে মহীশ আশিষ পাঙ্গ আশীৰ্বাদ পেয়ে তবে মহীশ্বর ফিরে ॥ চলী বরাত নিসান বজাঈ। দুন্দুভি বাজায়ে চলে বরযাত্রীগণ । মুদিত ছােট বড় সব সমুদাঈ । হরষিত চিত্ত ছােট বড় সৰ্বজন। রামহি নিরখি গ্রাম নর নারী। রামেরে নিরখি গ্রাম্য নরনারীগণ । পাই নয়নফল হােহি সুখারী। নয়ন সার্থক করে হয় প্রতিমন। || বীচ বীচ বর বাস করি মগলােগহ সুখ দেত। অৰধ সমীপ পুনীত দিন পহুচী আই জনে। মধ্যে মধ্যে বরবাস করি পথে লােকগণে সুখ দিয়া। অযােধ্যা-সমীপে পুণ্য দিনে পঁহুছিল জনতা আসিয়া। হনে নিসান পনৰ বর বাজে। ভেরি শঙ্খ ধুনি হয় গয় গাজে। ঝঝি ভেরি ডিণ্ডিমী সুহাই। সরসরাগ বাজহি সহনাঈ। নাগারা ভণ্ডমে আর বডঙ্কা বাজে। ভেরি শঙ্খধ্বনি হয়, গর্জে অশ্ব গজে। আঁঝ তুরি ডুগডুগী কিবা শােভাদায়ী। সুমধুর রাগিনীতে বাজিল সানাই।
অযযাধ্যায় আগমন হিন্দী বাঙ্গলা পুজন আৰত অকনি বরাতা। মুদিত সকল পুলকাৰলি গাত। নিজ নিজ সুন্দর সদন সারে। হাট বাট চৌহট আর পুররে । বরযাত্রী আসিতেছে শুনি পুরজন। পুলকিত গাত্র সবে প্রমুদিত মন। সাজাইল নিজ নিজ সুন্দর আগার । হাট বাট চৌপথ আর পুরদ্বার। গলী সকল অরগজা সি চাই। জহঁ তহঁ চৌকে চারু পুরাই । বনা বজাৰু ন জাই বখানা। তােরণ কেতু পতাক বিতানা। গলি সমূহেতে করে সুগন্ধি সিঞ্চন। যথা তথা আঁকি রাখে চারু আলিম্পন। রচিল বাজার যার না হয় বাখান। দিয়া ধ্বজা পতাকা ও তােরণ বিতান । সফল পূগফল কদলি রসাল। রােপে বকুল কদম্ব তমালা । লগে সুভগ তরু পরশত ধরণী। মণিময় আলবাল কলকরণী। ফলযুক্ত সুপারী ও কদলী রসাল। রােপিল বকুল আর কদম তমাল। ভূমি স্পর্শমাত্র লাগে সুন্দর কায় । মণিময় আলবাল কারুকার্য তায়। বিবিধ ভাতি মঙ্গলকলস গৃহ গৃহ রচে সারি। সুর ব্ৰহ্মাদি সিহাহি সব রঘুবর পুরী নিহারি। নানাবিধ মঙ্গলকলস গৃহে গৃহে সজ্জিত রাখিয়া । মুর, ব্রহ্মা সবে প্রশংসয় রঘুবর পুরী নেহারিয়া । =৬০ ভূপভন তেহি অৰসর সােহা। রচনা দেখি মদন মন মােহা । মঙ্গল সগুন মনােহর। রিধি সিধি সুখ সম্পদা সুহাই। রাজবাটী সেই কালে এমনি শশাভিত রচনা দেখিয়া কাম-মানস মােহিত । মঙ্গল শকুন শােভে অতি মনােহর। ঋদ্ধি সিদ্ধি সুখযুক্ত সম্পদ সুন্দর।
অযােধ্যায় আগমন বাঙ্গলা হিন্দী জনু উছাহ সব সহজ সুহায়ে। তনু ধরি ধরি দশরথগৃহ আয়ে। দেখন হেতু রামবৈদেহী। কহহু লালসা হেই ন কেহী। উৎসাহ সকল যেন স্বভাব-সুন্দর। দেহ ধরি ধরি আসে দশরথ-ঘর। দরশন করিবারে শ্রীরাম জানকী। লালসা না হইবেক কার কহ দেখি ? জুথ জুথ মিলি চলী সুআসিনি। দলে দলে মিলি চলে সৌভাগ্যবতী। নিজ ছবি নিদরহি মদনবিলাসিনি। নিজ শােভা নিলে হেরি মদনের রতি সকল সুমঙ্গল সজে আরতী । সকলেতে সুমঙ্গল সাজায় আরতি। গাহি জৰু বহুৰেশ ভারতী। গাহিতেছে যেন বহুবেশে সরস্বতী ॥ ভুপতিভৰন কোলাহলু হােঙ্গ। জাই ন বরণি সমউ সুখু সােক্ট । কৌশল্যাদি রামমহতারী । প্রেমবিবশ তমুদশা বিসারী। ভূপতির ভবনেতে কোলাহল হয়। বর্ণন না যায় যেই সুখ সে সময় । কৌশল্যা প্রভৃতি রাম-মাতৃদেবীগণ। প্রেমবশ-দেহজ্ঞান হন বিস্মরণ। দিয়ে দান বিপ্রনহ বিপুল বিপ্রগণে দেয় বহুদান পূজি গণেশ পুরারি । পূজি গণপতি ত্রিপুরারি প্রমুদিত পরমদরিদ্র প্রমুদিত পরম দরিদ্র জনু পাই পারথ চারি । যেন পেয়ে পদাথ চারি । মােদ প্রমােদ বিশ সব মাতা। বিবশ প্রেমােল্লাসে সব মাতৃগণ। চলহি ন চরণ শিথিল ভয়ে গাত। | শিথিল হইল গাত্র চলে না চরণ। রামদরশ হিত অতি অনুরাগী। রামদরশন হেতু অতি অনুরাগে। পরিছন সাজু সজন সব লাগী । বরণের সাজসজ্জা করিবারে লাগে ।
১১০ সীতার বয়ংবর হিন্দী বাঙ্গলা বিবিধ বিধান বাজনে বাজে। মঙ্গল মুদিত সুমিত্রা সাজে । হরদ দূৰ দধি পল্লব ফুল।। পান পূগফল মঙ্গলমূল । নানাবিধ বিধানেতে বাজনা বাজিল । প্রফুল্লা সুমিত্রা মাঙ্গলিক সাজাইল । হরিদ্রা দুৰ্ব্বা দধি পল্লব ও ফুল । পান ও সুপারি ফল মঙ্গলের মূল । অচ্ছত অঙ্কুর নােচন লাজা । মঞ্জুল মঞ্জরি তুলসি বিরাজ ॥ ছুহে পূরটঘট সহজ সুহায়ে। মদন সকুন জনু নীড় বনায়ে । তণ্ডুল অঙ্কুর আর গােযােচনা লাজ। তুলসী মঞ্জরী চারু করয়ে বিরাজ। সহজ স্বর্ণঘট রঙ্গি সুশােভিল। মদন সঙ্কোচে যেন নীড় নিরমিল ॥ সগুন সুগন্ধ ন জাই বখানী। মঙ্গল সকল সজহি সব রাণী । রচী আরতী বহুত বিধান। মুদিত করহি কল মঙ্গল গানা। শকুন সুগন্ধি সব কেমনে বাখানি। সাজাইছে মঙ্গল সামগ্রী সব রাণী । আরতি রচনা করি বহুল বিধান। প্রমুদিত করে কল মঙ্গল গান। কনকথার ভরি মঙ্গলহি কমল করন লিয়ে মাত। চলী মুদিত পরিছন করন পুলকপল্লৰিত গাত। মাঙ্গলিকে স্বর্ণথাল ভরি কমল করেতে ল’য়ে মাতা বরিবারে চলে হৃষ্টচিতা পুলকেতে পল্লবিতা গাতা। ধূপধুম নভ, মেচক ভয়উ । ধূপধূমে কৃষ্ণবর্ণ গগন হইল। সাৰন ঘনঘমণ্ড জনু ছয়উ। শ্রাবণের ঘনঘটা যেন আচ্ছাদিল। সুর তরু সুমন মাল সুর বরষহি। সুরতরু-পুষ্পমাল্য বর্ষে সুগণ। সনহু বলাক অৰলি মনু করহি। বলাকা যেমতি-করে চিত্ত আকর্ষণ অযযাধ্যায় আগমন ১১১ হিন্দী মঞ্জুল মণিময় বন্দনৰারে । সুন্দর তােরণ কিবা মণি বিমণ্ডিত। মনহু পাক রিপু চাপ সারে। মনে হয় যেন ইন্দ্রধনু সুশশাভিত । প্রগটহি দুরহি অটন পর ভামিনি। ছাদপরে দৃশ্যাদৃশ্য হইছে ভামিনী। চারু চপল জনু দমকহি দামিনি। সুচারু চঞ্চল যথা ঝলকে দামিনী । দুন্দুভিধুনি ঘনগরজনি ঘাের।। জাচক চাতক দাদুর মােরা । সুর সুগন্ধ সুচি বরষহি বারী। সুখী সকল শশি পুর নর নারী। দুন্দুভির ধ্বনি যেন ঘন ঘাের-স্বন। চাতক ময়ুর ভেক যাচনকগণ । অমর সুগন্ধ শুচি বষয়ে বারি। সুখী সৰ শস্যরূপী পুরনরনারী। সময় জানি গুরু আয় দীন্হা। পুর প্রবেশ রঘুকুলমণি কীন্হা । সুমিরি শম্ভ গিরিজা গণরাজা। মুদিত পহীপতি সহিত সমাজা । সময় জানিয়া গুরু দিলেন আদেশ। রঘুকুলমণি করে পুরীতে প্রবেশ । স্মরণ করিয়া শিবদুর্গা গণপতি। সমাজ সহিত প্রমুদিত মহীপতি। হােহি সগুন বরষহি সুমন সুর দুন্দুভী বজাই। বিবুধবধু নাহি মুদিত মঞ্জুল মঙ্গল গাই। শুভ চিহ্ন হয়, বর্ষে ফুল সুরগণ দুন্দুভি বাজায়ে । দেববধু নাচে ফুল্লমনে মধুর মঙ্গল গীত গেয়ে। মাগধ সূত বন্দি নট নাগর। গাৰহি যস তিছ লােক উজাগর। জয়ধুনি বিমল বেদ বর বাণী। দশ দিসি সুনিয় সুমঙ্গল সানী। রসিক মাধব সূত বন্দী নটগণ । গাহে যশ যাহে উজলিত ত্রিভুবন। জয়ধ্বনি নিরমল বেদ বাণীচয়। দশদিকে শুনা যায় সুমঙ্গলময়।
সীতার স্বয়ংবর शिन्नी বাদলা বিপুল বাজনে বাজন লাগে। নভ র নগর লােগ অনুরাগে। বনে বরাতী বরনি ন জাহী। মহামুদিত মন সুখ ন সমাহী। বিপুল বাজনা সব বাজিবারে লাগে। নভে সুর, পুরে নর মগ্ন অনুরাগে। বরযাত্রী-ঠাটবাট বর্ণন অতীত। মুখ নাহি ধরে মনে মহা প্রমােদিত। পুরবাসিন্হ তব রাউ জোহারে। দেখত রামহি ভয়ে সুখারে । করহি নিছারি মণিগণ চীর। বারি বিলােচন পুলক শরীরা। রাজারে প্রণমে তৰে পুরবাসীগণ। রামেরে দেখিয়া হয় সুখান্বিত মন। করে সবে নিবেদন বহু মণি চীর । বাপাকুল হয় নেত্ৰ পুলক-শরীর । আরতি করহি মুদিত পুরনারী। হহি নিরখি কুৱঁর বরচারি। শিবিকা সুভগ উহার উঘারী। দেখি দুলহিনিহ হােহি মুখারী। আরতি করয়ে প্রমুদিত পুরনারী। হরষিত নিরখিয়া সুকুমার চারি। মনােরম শিবিকার খুলি আবরণ। দেখি কন্যাগণে হয় সুখান্বিত মন। এইরূপে সবে সুখ দিয়া বরযাত্রী আসে রাজদ্বারে। এহি বিধি সহী দেত সুখ আয়ে রাজদুয়ার মুদিত মাতু পরিছন করহি বধূহ সমেত কুমার ফুল্লা মাগ করেন বরণ বধূসহ সকল কুমারে। করহি আরতী বাহি বারা। প্রেম প্রমােদ কহই কো পারা। ভূষণ মণি পট নানা জাতী । কহি নিহারি অগণিত ভর্তী। আরতি করেন মাতৃদেবী বার বার। প্রেম ও আনন্দ সেই কহিতে অপার নানা জাতি বস্ত্র মণি আর অলঙ্কার। করিলেন উৎসর্গ—অসংখ্য প্রকার।
অযােধ্যায় আগমন বাঙ্গলা হিন্দী বধূহ সমেত দেখি সুতচারী। পরমানন্দ মগন মহতারী । পুনি পুনি সীয় রাম ছবি দেখী মুদিত সুফল জগ জীবন লেখী বধূগণসহ হেরি সুত চতুষ্টয় । পরম আনন্দমগ্ন মাতৃ সমুদয় । পুনঃ পুনঃ সীতারাম-শােভা নিরখিয়া আনন্দিত, বিশ্বে জন্ম সফল মানিয়া । সখী সীয়মুখ পুনি পুনি চাহী। গান করহি নিজ সুকৃত সরাহী। বরষহি সুমন ছনহি ছন দে। নাহি গাহি লাৰহি সে। সখিগণ সীতামুখ পুনঃ পুনঃ চাহে। নিজ নিজ সুকৃতির গুণ বর্ণি গাহে। বরষে কুসুম ক্ষণে ক্ষণে দেবগণ। নৃত্য করি গীত গাহি করয়ে সেবন। দেখি মনােহর চারিউ জোরী। সারদ উপমা সকল ঢঢেরী । দেত ন বনহি নিপট একটক রহী রূপঅনুরাগী । দেখি মনােহর সেই চারিটী যুগল। বাণী অন্বেষণ করে উপমা সকল। দিতে নাহি পারে অতিশয় লঘু লাগে। একদৃষ্টে চাহি রহে রূপ অনুরাগে। লঘু লাগী । নিগমনীতি কুলরীতি করি অরঘ পাৰড়ে দেত। বধূহ সহিত সুত পরিছি সব চলী লেৰাই নিকেত। বেদনীতি কুলরীতি করি পদতলে বস্তু অর্ঘ দিয়া। বধূসহ সুতগণে বরি নিকেতনে চলেন লইয়া ॥ চারি সিংহাসন সহজ সুহায়ে। জনু মনােজ নিজ হাথ বনায়ে । তিহ পর কুরি কুৱঁর বৈঠারে। সাদর পায় পুনীত পরে । সিংহাসন চতুষ্টয় সহজ সুন্দর। মদন নিৰ্মিল যেন করি নিজ কর। তদুপরি বসাইয়া বরকন্যাগণ। সাদরে প্রক্ষালি দেয় পবিত্র চরণ ॥
সীতার স্বয়ংবর হিন্দী ধূপ দীপ নৈবিদ্য বেদবিধি। পূজে বরদুলহিনি মঙ্গলনিধি। বারহি বার আরতি করহী। ব্যজন চারু চামর শির ঢরহী । ধূপ দীপ নৈবেদ্য দিয়া বেদবিধি। পূজে বরকন্যাগণে মঙ্গলনিধি ॥ বারে বারে সবাকারে আরতি করিল । ব্যজন চামর চারু শিরে ঢুলাইল। বস্তু অনেক নিছারি হােহী। ভরী প্রমােদ মাতু সব সােহী। পাৰা পরমতত্ত্ব জনু জোগী । অমৃত লহেউ জনু সন্তত রােগী। বস্তু বহু পরিমাণ উৎসর্গিত হয় । আনন্দ পূরিত সব জননী শােভয়। প্রাপ্ত পরম তত্ত্ব হয় যেন যােগী। অমৃত করয়ে লাভ যেন চির রােগী। স্পর্শমণি পায় যেন জন্মদুঃখী জন। জনমরঙ্কু জং পারস পাৰা। অন্ধহি লােচনলাভু সুহাৰা । মুকবদন জস সারদ ছাই। মান সমর শুর জয় পাই অন্ধ যেন করে লাভ সুন্দর লােচন। মূক-মুখে বসিলেন যেন সরস্বতী। যােদ্ধ যুদ্ধে জয়লাভ করিল যেমতি। এহি সুখ তেঁ শত কোটী গুণ পাৰহি মাতু অনন্দু। ভাইহ সহিত বিআহি ঘর আয়ে রঘুকুল চন্দু। ইহাপেক্ষা শতকোটি গুণ মাতৃগণ লভিল আনন্দ। ভ্রাতৃসহ বিবাহিয়া ঘরে আসিলেন রঘুকুলচন্দ । লােকরীতি জননী করহি বরদুলহিনি সকুচাহি। মােদ বিনােদ বিলােকি বড় রামু মনহি মুসুকাহি। লােকাচার করেন জননী সঙ্কুচিত বরকন্যাগণে। হেরি অতি আমােদ বিনােদ রামচন্দ্র হাসে মনে মনে।
অযোধ্যায় আগমন বাঙ্গলা হিন্দী দেব পিতর পূজে বিধি নীকি। পূজী সকল বাসনা জী কী সবহি বন্দি মাগহি বরদান। ভাইহ সহিত রাম কল্যান। ভালরূপে পূজা করে দেব পিতৃগণে। পূজেন বাসনা মত, যত ছিল মনে। সবারে বন্দনা করি যাচে বরদান। ভাতৃগণসহ যাহে রামের কল্যাণ। অন্তরহিত সুর আশিষ দেহী । মুদিত মাতু অঞ্চল ভরি লেহী। ভূপতি বােলি বরাতি লীহে। যান বসন মণি ভূষণ দীনহে। অন্তহীন আশীৰ্বাদ দেন সুরদল। হৃষ্টা মাতা ল’ন সব ভরিয়া অঞ্চল। ভূপ বরযাত্রীগণে করেন আহ্বান। বসন ভূষণ মণি যান করে দান। আয় পাই রাখি উর রামহি। আদেশ পাইয়া-রামে রাখিয়া অন্তরে। মুদিত গয়ে সব নিজ নিজ ধামহি। প্রসন্ন হইয়া সবে যায় নিজ ঘরে। পুর নর নারি সকল পহিরায়ে । পুরনারীনরে রাজা পরান বসন। ঘর ঘর বাজন, লগে বধায়ে । ঘরে ঘরে বেজে উঠে উৎসব-বাজন। যাচক জন জাহি জোই জোঈ। প্রমুদিত রাউ দেহী সােই সােঙ্গ। সেৰক সকল বজনিয়া নানা। পুরাণ কিয়ে দান সনমানা। যাচকজনের। আমি যেই যাহা চায় । সুপ্রসন্ন নরপতি তাহা দেন তায় । সেবক সকলে আর বানিয়াগণে। পূর্ণকাম করিলেন দানে ও সম্মানে। দেহি অশীস জোহারি সব গাহি গুণ গণ গাথ। তব গুরু ভূমর সহিত গৃহ গৰু কীন্হ নরনাথ। আশিসিয়া প্রণাম করিয়া করে সবে গুণগাথা গান। তবে গুরু ব্রাহ্মণ সহিত নরনাথ নিজ গৃহে যান।
১১৬ সীতার স্বয়ংবর বাঙ্গলা । হিন্দী জো বশিষ্ট অনুশাসন দীন্হ। লােক বেদ বিধি সাদর কীন্হা । ভূসুর ভীর দেখি সব রাণী। সাদর উঠা ভাগ্য বড় জানি। বশিষ্ট যেমন তারে অনুমতি করে। লােক বেদ বিধিমত করেন সাদরে। ব্রাহ্মণ-জনতা নিরখিয়া সব রাণী । সমাদরে উঠিলেন বড় ভাগ্য জানি। পায় পখারি সকল অন্হৰায়ে। পদ প্ৰক্ষালিয়া সবে করাইল স্নান পূজি ভলী বিধি ভূপ জেৰায়ে। ভালরূপে পূজি ভূপ ভােজন করান। আদর দান প্রেম পরিপােষে। সমাদর দান আর প্রেমে পরিপােষে। দেত অশীস চলে মন তােষে। আশীৰ্বাদ দিয়া সবে চলিল সন্তোষে। বহু বিধি কীন্হ গাধিত পূজা। বহুবিধ গাধিতে করিল পূজন। নাথ মােহি সম ধন্য ন দূজা । কহি “নাথ! মোসম না ধন্য অন্য জন। কীহি প্রশংসা ভূপতি ভূরী। করিলেন অতিশয় প্রশংসা রাজন। রাণিহ সহিত লীনহী পগধুরী। রাণীগণ সহযােগে পদধূলি ল’ন। ভীতর ভৰন দীন্হ বর। দানিলেন শ্রেষ্ঠবাস অন্দর ভবনে। মনু যােগৰত রহ নৃপনিবা। মন যােগাইতে রহে নৃপরাণীগণে। পূজে গুরুপদ কমল বহােরী। পুনঃ পুনঃ গুরুপদকমল পূজয়। কৗহ বিনয় উর প্রীতি ন থােরী। করিল বিনয়—চিত্তে প্রতি অতিশয় । বধূহ সমেত কুমার সব বধূসহ কুমার সকলে রাণিহ সহিত মহীশ। রাণীগণ সহ মহীশ্বর। পুনি পুনি বন্দত গুরুচরণ পুনঃ পুনঃ বন্দে গুরুপদ দেত অশীস মুনিশ। দিলেন আশিস মুনিবর।
অযােধ্যায় আগমন ১১৭ হিন্দী বাঙ্গলা সব বিধি সবহি সমদি নরনাহু। সৰ্ববিধি সৰ্বকাৰ্য্য নৃপ সমাপিয়া। রহা হৃদয় ভরি পূরি উছাহু পূর্ণ উৎসাহে রহে হৃদয় ভরিয়া। জহঁ রনিৰাঁস তহ পণ্ড ধারে। অন্তঃপুর মাঝে তবে করি পদার্পণ। সহিত বধূটিহ কুৱঁর নিহারে। কুমারগণেরে হেরে সহ বধুগণ ॥ লিয়ে গােদ করি মােদসমেতা। কো কহি সকই ভয়উ সুখ জেতা। বধূ সপ্ৰেম গােদ বৈঠারি। বার বার হিয় হরষি দুলারি। কোলে করি লইলেন হর্ষ সহকারে। যত সুখ হয় তাহা কে কহিতে পারে ? বধূগণে স্নেহভরে ধরি ক্রোড়পর। বার বার হৃষ্টমনে করেন আদর। দেখি সমাজু মুদিত রণি। সব কে উর আনন্দ কিয়াে ৰা। কহেউ ভূপ জিমি ভয়উ বিবাহু। সুনি সুনি হরষ হােই সব কাহু। সমাজ দেখিয়া রাণীগণের উল্লাস। আনন্দ সবার হৃদে করে যেন বাস। যেরূপ বিবাহ হ’ল ভূপ তাহা কয়। শুনিয়া শুনিয়া হর্য সবাকার হয়। জনকরাজগুণ শীল বড়াই। প্রতি রীতি সম্পদা সুহাই। বহুবিধি ভূপ ভাট জিমি বরণী। রাণী সব প্রমুদিত সুনি করণী। জনক রাজার গুণ মহত্ত্ব চরিত । সুন্দর সম্পদ তার আর প্রীতি রীত। বহুবিধ বর্ণিলেন ভূপ টসম। রাণী সব হৃষ্টা শুনি তার কার্যক্রম। সুতন্হ সমেত নহাই নৃপ বােলি ৰিপ্ত গুরু জ্ঞাতি ভােজন কীন্হ অনেক বিধি ঘরী পঞ্চ গই রাতি। পুত্রগণসহ স্নায়ি নৃপ ডাকি ল’য়ে বিপ্র গুরু জ্ঞাতি। বহুবিধ ভােজন করিতে পঞ্চ ঘটী কেটে যায় রাতি।
সীতার স্বয়ংবর বাঙ্গলা মঙ্গলগান করহি বর ভামিনি। ভই সুখমূল মনােহর যামিনী। আঁচই পান সব কাহ্ পায়ে । শ্ৰগ সুগন্ধ ভূষিত ছবি ছায়ে । মঙ্গল সঙ্গীত গায় উত্তমা ভামিনী। সুখমূল হয় সেই সুন্দরী যামিনী । আচমন করি পান সকলে পাইল। ভুষিত সুগন্ধি মাল্যে কান্তি সুশােভিল। নৃপ সব ভতি সবহি সনমানী। কহি মৃদুবচন বােলাই রাণী ॥ বধু লরিকিনী পরঘর আঈ । রাখে নয়ন পলক কী নাই। নৃপ সৰ্ববিধ সম্মানি সৰ্ব্বজনে। রাণীগণে ডাকি কন মৃদুল বচনে। ঘােট ঘােট বউগুলি এল পর ঘরে। পলক নয়নে যথা—রেখাে যত্ন করে। লরিক শ্রমিত উনীদবশ শয়ন করাৰহু জাই। অস কহি গে বিশ্রামগৃহ রামচরণ চিতু লাই। বৎসগণ শ্রান্ত নিদ্রাবশ শয়ন করাও লয়ে গিয়ে। ইহা কহি যান শয্যাগৃহে রামের চরণ চিতে নিয়ে। . সেজ রুচির রচি রাম উঠায়ে সুন্দর শয্যা রচি রামেরে উঠায় । প্রেমসমেত পলঙ্গ পৌঢ়ায়ে ॥ প্রেম সহকারে রে পালঙ্কে শােয়ায়। আজ্ঞা পুনি পুনি ভাইহ দীন্হী। পুনঃ পুনঃ ভ্রাতৃগণে অনুমতি দিল। নিজ নিজ সেজ শয়ন তিনহ কীন্হী। নিজ নিজ শয্যায় তাঁহারা শুইল। রাম প্ৰতােৰী মাতু সব কহি বিনীত বর বয়ন। সুমিরি সন্তু গুরু বিপ্র পদ কিয়ে নী’দবশ গয়ন। মাতৃগণে পরিতষি রাম কহি নম্র সুন্দর বচন। শিব গুরু বিপদ অরি নিদ্রাশ করেন নন।
অযােধ্যায় আগমন হিন্দী নীদ বদন সােহ মুঠি লােনা। মনহু সাঁঝ সরসীহ সােনা। ঘর ঘর করহি জাগরণ নারী। দেহি পরসপর মঙ্গল গারী । নিদ্রায় বদন সেই সুন্দর শােভিত। মনে হয় যেন সন্ধ্যা-কমল মুদ্রিত। ঘরে ঘরে নারীগণ করে জাগরণ। পরস্পর শুভগালি করে বরিষণ। পুরী বিরাজতি রাজতি রজনী। পুরী সুশশাভিত তাহে রজনী শােভন। রাণী কহহি বিলােকহু সজনী । রাণী কহে“হে সজনি। কর বিলােকন।” সুন্দরি বধূহ সা লেই সােঈ । সুশ্রী বধূগণে লয়ে শ্বশু নিদ্রা যায়। ফনিকহ জনু শির মণি উর গােঙ্গ। ফণী যেন শিরােমণি বক্ষেতে লুকায়। প্রাত পুনীতকাল প্রভু জাগে। অরুণচূড় বর বােলন লাগে । বন্দি মাগধহ গুণগণ গায়ে। পুরজন দ্বার জোহারন আয়ে । পুণ্যময় সুপ্রভাত কালে প্রভু জাগে। সুন্দর কুকুট রব করিবারে লাগে। বন্দী মাগধেরা গুণ লাগিল গাহিতে । পুরজন দ্বারদেশে আসে প্রণমিতে। বনি বিপ্র সুর গুরু পিতু মাতা। পাই অশীস মুদিত সব ভ্রাতা। জননিন্হ সাদর বদন নিহারে। ভূপতিসঙ্গ দ্বার পণ্ড ধারে । বন্দিয়া ব্রাহ্মণ সুর গুরু পিতামাতা। আশিস পাইয়া প্রমুদিত সব ভ্রাতা। জননীরা সমাদরে বদন নেহারে। নরপতিসনে দ্বারদেশে আগুসারে। কীন্হ শৌচ সব সহজ শুচি সরিত পুনীত নহাই। প্রাতক্রিয়া করি তাত পহি আয়ে চারিই ভাই। স্বভাবতঃ শুচি সবে, শৌচে পবিত্র সরিতে করি স্নান। প্রাতক্রিয়া করি তাত-পাশে ভ্রাতৃচতুষ্টয় তবে যান ।
১২০ সীতার স্বয়ংবর বাঙ্গলা হিন্দী ভূপ বিলােকি লিয়ে উর লাই। বৈঠে হরষি রজায় পাই। দেখি রাম সব সভা জুড়ানী। লােচন লাভ অবধি অনুমানী। ভূপ বিলােকিয়া করে বক্ষেতে ধারণ । হর্ষে বসে রাজাদেশ পাইয়া তখন। দেখি রামচন্দ্রে সব সভাস্থ জুড়ান। নেত্ৰ-লাভ-সীম এই–করি অনুমান। পুনি বশিষ্ঠ মুনি কৌশিক আয়ে। সুভগ আসনহি মুনি বৈঠায়ে । সুতন্হ সমেত পূজি পদ লাগে । নিরখি রাম দোউ গুরু অনুরাগে। বশিষ্ঠ কৌশিক পুন করে আগমন। মুনিদ্বয়ে বসালেন দিয়া সু-আসন। পুত্রগণসহ পূজি পদে নতি করে। হেরে রামে গুরুদ্বয় অনুরাগ ভরে। কহহি বশিষ্ঠ ধরম ইতিহাস। সুনহি মহীপ সহিত রনিসা ॥ মুনিমন অগম গাধি সুত করণী। মুদিত বশিষ্ঠ বিপুলবিধি বরণী । কহেন বশিষ্ঠ ধৰ্ম্মেতিহাস কথন। শ্রবণ করেন রাজা সহ রাণীগণ । বিশ্বামিত্র-কৰ্ম্ম যত মুনি মনাতীত। কহেন বিপুলবিধি বশিষ্ঠ হর্ষিত | বােলে বামদে সব সঁচী। বামদেব বলিলেন “সকলি প্ৰকৃত। কীতি কলিত লােক তিহু মাচী ॥ কীতি ত্ৰিলােক জুড়ি রয়েছে বিদিত।” সুনি আনন্দ ভয়উ সব কাহু। শ্রবণ করিয়া হর্ষ হয় সকলের। রাম লষণ উর অধিক উছাহ্। অধিক উচ্ছাস হৃদে রাম লক্ষণের। মঙ্গল মােদ উছাহ নিত জাহি দিসএহি ভাতি। উমগী অৰধ অনন্দ ভরি অধিক অধিক অধিকাতি ॥ মঙ্গল আমােদ উৎসাহে নিত্য দিন এইভাবে যায়। হর্ষে ভরি অযােধ্যা উথলে অধিক অধিক অতিশয় ।
অযযাধ্যায় আগমন ১২১ হিন্দী বাঙ্গলা সুদিন সােধি কলকঙ্কন ছােরে। সুদিন দেখিয়া খােলে চারু কর-সূত। মঙ্গল মােদ বিনোদ ন থােরে । আমােদ প্রমােদ শুভ হইল প্রভূত । নিত নৰ সুখ সুর দেখি সিহাহী। নিত্য নব সুখ দেখি সুর মুগ্ধ হয়। অৰধ জনম যাচহি বিধি পাহী । অযযাধ্যায় জন্ম বিধি-নিকটে যায়। বিশ্বামিত্র চলন নিত চহহী। বিশ্বামিত্র চাহে নিত্য চলিয়া যাইতে। রাম সনেহ বিনয় বশ রহহী। রহেন রামের প্রেম বিনয় বশেতে। দিন দিন সয়গুণ ভূপতিভউ । দিন দিন শতগুণ ভূপের ভকতি। দেখি সরাহ মহামুনি রাউ। দেখিয়া প্রশংসা করে মহামুনিপতি। মাগত বিদা রাউ অনুরাগে। সুতহ সমেত ঠাঢ় ভয়ে আগে নাথ সকল সম্পদ। তুম্হারী। মৈ সেক সমেত সুত নারী। মাগিতে বিদায় তবে রাজা অনুরাগে। সমেত তনয়গণ সঁাড়াইল আগে । কহে “নাথ! এ সকল সম্পদ তােমারি, আমিত সেবক তব, সহ সুত নারী ॥” রামরূপ ভূপতিভগতি ব্যাহ উছাহ আনন্দ জাত সরাহত মহি মন মুদিত গাধি কুল চন্দ। রামরূপ, ভক্তি ভূপতির, বিবাহের উৎসাহ আনন্দ। প্রশংসিয়া মনে মনে যান আনন্দিত গাধিকুলচন্দ। আয়ে ব্যাহি রাম ঘর জব তেঁ। বসে আনন্দ অৰধ সব তব তে । প্রভু বিবাহ জস উভউ উছাহু। সকহি ন বরণি গিরা অহিনাহ্। যদবধি বিহা করি আসে রাম ঘরে। তদবধি অযযাধ্যায় সুখ বাস করে। প্রভুর বিবাহে হয় যেরূপ উৎসাহ। বাণী শেষনাগে নারে বর্ণিবারে কেহ।
১২২ সীতার স্বয়ংবর হিন্দী { বাঙ্গলা কৰি কুল জীবন পাৰন জানী। রাম সীর যশ মঙ্গলখানী। তেহি তেঁ মৈ কছু কহা বখানী। করণ পুনীত হেতু নিজ বাণী । কবিকুল-জীবন পাবনকারী জানি, রামসীতা-যশকথা—মঙ্গলের খনি। সে কারণে কহি আমি কিঞ্চিত বাখানি পবিত্র করণ হেতু আপনার বাণী । নিজ গিরা পানি করণ কারণ নিজবাণী পবিত্র করিতে রামষশ তুলসী কহৌ। রামযশ তুলসীদাস কয় রঘুবীর চরিত অপার রঘুবীর-চরিত অপার বারিধি পার কৰি কৌনে লহাে। সিন্ধুপার কবি কেবা হয় উপবীত ব্যাহ উছাহ উপবীত বিবাহ-উৎসব- মঙ্গল সুনি জে সাদর গাৰহী। মঙ্গল যে ওনে, যত্নে গায় বৈদেহি রাম প্রসাদ বৈদেহী ও রামের প্রসাদে তেঁ জন সর্বদা সুখ পাৰহী। সে জন সর্বদা সুখ পায় সিয় রঘুবীর বিবাহ জে সীতারাম বিবাহ যাহারা সপ্রেম গাৰহি নহি। প্রেমে গাহে কবরে শ্রবণ তিন কহঁ সদা উছাহ তাহাদের সদাই উৎসব মঙ্গলায়তন রামজস। রামশ মঙ্গলায়তন ইতি শ্ৰীমদ্ৰামচরিতমানসে সকলকলিকলুষবিধ্বংসনে বিমল সন্তোষ সম্পাদনাে নাম প্রথম সােপান সমাপ্ত • শুভং ভবতু
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.