Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Shanti

Thakur,khitindranath · 2009/12/4

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Y
. :
1

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

উৎসৎ।
হিতৈষণাগাৰী-২
শান্তি।
আদিব্রাহ্মসমাজের এবং তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার
সম্পাদক
শ্ৰীযুক্ত ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নি,ি বি-এ কর্তৃক বিচিত।
সৰস্বত্ব রক্ষিত)
tv • বা মা।

৫৫ পায় চিংপুর রােড, গাব্রিাহ্মসমাজ যালয়ে
রণগােপাল চক্রবন্ধী যারা মুদ্রিত
২০ কলিগকে ১৯৮৭ সতে ১৮৪ শকে
১৩৩০ সালে ১৪ ব্রাহ্ম সলতে নারাশি
ভাস্করে আশ্বিন মাসে চতুর্থ দিবসে
শুক্রবারে শুক্লপক্ষে শুভ
আমন-খাদশী তিথিত্ত্বে
প্রকাশিত
হইল।

পূজ্যপাদ অগ্রজ জিতেন্দ্রনাথ ঠাকুরের
পুণ্যস্মৃতিতে উৎসর্গীকৃত
হইল।

No text on this page.

ভূমিকা।
দেশে বিদেশে • সংসারের দুঃখশোকে
কণ্টকের আঘাতে অস্তল যখন ক্ষতবিক্ষত
হইবার উপক্রম হইত, অশান্তি যখন মনপ্রাণ
অধিকার করিয়া বসিবার উপক্ৰম কৰিত,
তখন এই সকল কবিতা লিখিয়া প্রাণে শান্তি
লাভ করিয়াছি। তাই ইহার নাম
দিয়াছি। এই কারণে, বৱা বাহুল্য, এই
সকল কবিতার অধিকাংশ প্রাণের আরামস্থল
ভগবানের উদ্দেশ্যেই লিখিত। সংসারের
কঠিন আঘাতে আমার মত যাহাদের বুক
ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, তাহাদের কেহ যদি এই
গ্রন্থের কোন কবিতায় এতটুকু শান্তি পান,
তাহা হইলেই আমার এই গ্রন্থ প্রকাশ সার্থক
হইবে।
এ বি, বারাণসী ঘােষের ।
সেকেও লেন ষােড়াসাঁকো
কলিকাতা।
১৩৩০, ৪ঠা আখিন ;
১৯২৩, ২১ সেপ্টেম্বর
শুক্রবার।
এক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর

No text on this page.

সূচীপত্র।
বিষয়।
•
•
আখ্যাপত্র
প্রকাশতিথি
উৎসর্গপত্র
ভূমিকা
সূচীপত্র
কৰিষ্ঠসূচী।
পুর,
১। নলে সঙ্গে জাগাে নি
২। নূতন (নূরজগতলে গেছে আজ। ৩
৩। প্রশ্ন কবি ও গল্প)
। তব
নাশের গভীর হতে)
৫।
পহেচী পালন): ১৯

पषमलि
২৩
বিষয়
পৃষ্ঠা।
৭। চতুর্বর্গ (হে ভগবান জয়ৰৰ তৰ
উইক ধ্বনিয়া)
৮। নীরব রাতে (তােমার ভাতি নীরব
রাতে )
১৭
৯। তাঁর বাণী (নীরব সন্ধ্যায় শােন।
১। জাগাে ( আজি নিরমল প্রভাত
তপনে।
১১। দয়া (তােমা হারাইয়া.)
১২। আনন্দ-রহহ (সহজ কথাটা বটে) ২৮
১৩। সফলতা (সুদী–সুদীর্ঘপথ)” ২৯
১৪। গােপনপূজা (পরাণ আমার চাহে
গাে তােমায়)
১৫। জাগ মানলে (পরাণ জাগরে
জাগ আনলে
১। ভজ ওর (
ভওয়ার কই ওকার) ৩৬
১৭। শােন'প্রাণনাথ-শোন তুমি)

৪ বিষয় প্রথম পংক্তি, ১৮। মন যাওরে অন্তঃপুরে (শান্ত সন্ধ্যা এল) ১৯। সাগর চেয়ে ( ভবের নায়ে আমি) :.৪৩ ২০। লহ-লহ ( লহ লহ কোলে তুলে) ২১। বিদায় (হে সংসার তােমার কাছে) ৫০ ২২। কোলে ডাকো (মা বলে আর তােমা ভাবনাকো)৫২ ২৩। চরণ পরশ (হে প্রভু প্রাণে চরণ- পরশ দাও); ২৪। দুঃখী (তােমার লাগি আছি জাগিয়া) ৫৫ ২৫। কর্ণধার ( সংসারের তুফান দেখে ৫৬ ২৬। মনহরা (বীণা বাজাইয়া ) ২৭। আকুলতা (পরাণ ছুটে তােমার পানে। ২৮। স্বর্ণযুগ (সে দিন আবার—আবার সেলিন)

এখন প
২৯। (ৰী তৰু অনি মাের পরশ
চ)
। মীন (কেন গো বিক্ত কর) ৬৫
৩। জয় দেবদেব (শ শিব শঙ্কটজারী) ৭১
৩০. তিৰে গান (কি যে গান শুনিলাম) ৭৩
৩০। ছেড়ে না (বিপনশন ময়ম-বেন) ৭৫
৩৫। ঝড় (রজধানী কলকাতা হতে) ৭৭
৩৫। বাধন ( ফিনিশি পথ চাহি} ৮০
। জাগরণগীত শত যুগ পরে মধ্য
পথে ,
। ব্ৰজা বাতাসের কে
স্বাক আয় রে)
৩৮। অনাবৃষ্টিতে জল ম-ল প্রভু
ফটি হে)
৯
৩১। বৰ বিৰি বলিধারা বর৯০
৪। ছেড়ে না ছেড়ে আমায়

প্রথম পংক্তি
১৫
বিষয়
৪১। নাম ভুলে মা আমায় ব্রহ্মনাম
ওজলে পা ও
৪২। আমার দেশ (আমায় পেয়ে
আমারদেশ)
৪৩। নব বয়ষী(সঘন বরবে জন)
৪৪। মরণবঁধু (বাঁচিৰে কি সখি)
৪৫। আত্মহারা (
সরকলরব গিয়াছে
থামিয়া।
৪৬ অত্যাচারী কে আছ পাষণ্ড কোথা) ১১
৪৭। পথহারা (সন্ধ্যা হয়ে মা এল যে হায়) ১০৪
৪৮। শিবিরে (শিবির পড়েছে শত)
৪৯। সনদে (মাের প্রাণমন ভরি’) ১১
৫। জালিয়ানালা ( জালিয়ানালা !
জালিয়ানালা) ১১১
৫। ক মুন (৬াহারে আজিকে
ডাক মন)
১১

পৃষ্ঠা।
সংখ্যা বিষয় .প্রথম পংক্তি,
৫২। ঋণ ঋণজালে মা ডুবে আছি) ১১৫
৫৩। সন্ধ্যায় সাগরের পরপারে ) ১১৬
৪। এ.হে (সুন্দর নব বসন্ততে) ১১৯
৫৫। ঋষি নরােত্তম (ঋষি নরােত্তম আজি) ১২১
৫৬। প্রণাম (পিতা তুমি জ্ঞানদাতা হে) :১২৫
হিতৈষণা গ্রন্থাবলী

rete
EL.
Allee

No text on this page.

শান্তি।
১। নববর্ষে।
মিথ রামকেলী-তাল দাদুরা।
জাগাে সবে জাগগা আজি পুণ্য দিনে
পূজা দেবে চল নমি’ তঁারে।
পুষ্প দোটে পাখী জাগে-
ছুটে চলি সবার আগে-
পূজা দেবে চল নমি রে ।

সুমঙ্গল শঙ্খ বাজে,
দিকে দিকে ঘণ্টা বাজে
যেথা যে বা, সৰে চলি’
গরি জয়ধ্বনি করি
পূজা দেবে চল নমি রে।
বাজাইয়া গগন-খালে
উঠছে ভানু তালে তালে
মন আর যে বইতে নারে
ঘরের কোণের আঁধারে।
t
এমন মধুর সকাবেলা
কোয়াে নাকো বৃথা খেলা ;
গীতে গন্ধে সভার মাঝে
প্রাণের দেবতা দেখৰে কানে
পূজা দেবে চল নমি তারে।

২। মূতন।
নূতন জগত খুলে গেছে আজ
আমার চোখের আগে ;
অৰুণ শালােক প্রভাত-পুলকে
আমার পরাণ দাগে ।
মাতাল এতে থাকা বাতাস
পরাণ মাতাল করে,
দিশাহীন প্রাণে সীমাহীন দেশে
বহিছে পরাণ ভরে ৪. "

নূতন আকাশে নূতন-বাতালে
আমিও বেড়াই ছুটে
যত কিছু বাধা, যত কিছু আঁধা
সকলি গিয়েছে টুটে।
নূতন গাছর নূতন শাখায়
নুতন ফুলের বাসে
গায় শত পাখী হর্ষে মাখামাখি
শত তান শত ভাষে।
নুতনের তত্ত্ব, আনন্দের তা
কে তুমি জানতে চাও ?
এস তবে পাশে যৌবনের আশে
বারেক পঁড়িয়ে যাও।

নূতন দেখিবে হেথায় আপন ব্যথা মরে আছে নিরানন্দ ; আনন্দের মন্ত্রে যৌবনের কেন্দ্রে ভেসে গেছে যত দ্বন্দ্ব। বৃদ্ধ, নারী, নব বুব- দুর্বল সবল কে দুঃখ দৈন্য ভেঙ্গে চুরে, আনন্দে হৃদয় পুরে, গাও সবে পৃথ্বী জুড়ে আকাশ-ফাটানাে সুরে জয় সত্য, সনাতন চর নবীনের জয় ; জয় আনন্দ অক্ষয়- চির সুন্দরের জয়। "

মিখ আৰলো--তার কান্না।
রক্ত রবি উল গগন হয়ে
বাহির হয়ে এবার কাজের কােতে ৪
ঘুমের ঘােয় সব ভেঙ্গে দিয়ে
গরি পুণ্য নামটা নিয়ে
বাহির হওরে এবার কাজের লােতে।
ভরা আশা যত কিছু
আঁরি পারে নিবেদির
একমনে তার চরণ ধরে
ভক্তিজলে ধৌত হিরে-
বাহির হওয়ে এবার কাজের লােতে।

গাছে গাছে পাবত
গীছ শত উঠছে গেরে;
তাদের গানে পুষ্প শত
গাছে গাছে ফুটছে হেরে।
এমন বিমল সকালবেলা
কাটাল্পে না অবহেলে;
ফুলের পাখীর আনন্দেতে
আপন প্রাণে মিশাইয়ে-
বাহির হয়ে এবার কাজের স্রোতে

তৰ নাম।.
ক
প্রাণের গভীর হতে
উঠিতেছে গান ;-
দিবানিশি শুনি তাহে
বাজে তব নাম ।
সবল ঝঙ্কার তাম
অনাহত ধ্বনি।
গগন ভরিয়াহে
উঠে প্রতিধ্বনি +
মাে ছাড়া কারাে নামে
পারব না কভু
হৃদয়ের পূজা দিতে
এ জীবনে প্রভু।

ৰ নাম- আমায় প্রাণের কথা তুমি জান একা, মরমে কেমন সj : চাহি তব দেখার যে গাৰ উঠিছে প্রাণে- তা-ও দেছ তুমি। তাই দিয়ে পূজি’ তােমা- তব পদে নমি । বুঝেছি জেনেছি পিতা। সঙ্গীত আমার পশেছে শ্রবণে তব আনল পার ।

নবীনেরে ভালবাসা
শুধুই মুখের কথা-
তােমা পরে নাহি যদি
মরমের রহে ব্যথা।
আমি যে গাহিছি আজ
নব অধিকার লয়ে
তুমি প্রাণে আছ বলে
মুৰ্ত্ত ইতিহাস হয়ে ।
মানবসমাজ যাহা
শত যুগে রচিয়াছে
কল্য-তারি গাথা
তক প্রাণে গাঁথা আছে।

পুরাতন- হে পুরাতন! সে গান পার না ধরিতে প্রাণে ;- ফুটিয়া বাহির হয় পূরবী-বিষাদ তানে। তারি মাঝে যােগ আমি দেখি নবীনের সনে। বিভাস ভৈরবী শত নব তান জাগে মনে। জাগাইতে চাহি তাই প্রতি নরনারী-প্রাণে প্রাচীন-নবীন-যােগে আনন্দের নব গানে।

। ভিক্ষা।
গান্ধারী তোড়ী--তাল তেতালা।
তব পদে লভি চিতে
উঠে মুঞ্জরিয়া
গীতি শত নব রাগে।
তব হাসি ফুটুক
করিয়া মম
মম-বনে সুরভিত--
তব পদে এই ভিক্ষা জাগে ।

হে ভগবান জয়রব তব উক্ত বলি। নিদ্রায় ফাতর হয়ে জীবজন্তু যত সবে, তােমারি আশীষণ নামিয়া শিশির সম দেয় নূতন জীবন- নব শক্তি সীবন। জয়ধ্বনি হেক আকাশ ভরিয়া মরণের পরপারে কৰ্ম্মশেষে যবে উঠিব জাগিয়া, তখন তােমারি আলো বিশুত্র সুন্দর ভালাে হৃদয় যেন ভরিয়া লমগিতে আরে দেয় হেসে হেসে।

। তােমারে নিকটে যদি নাহি পাই প্রভু। তােমারি মহিমা যদি নাহি গাই ক- ধিক সে জীবনে-মাের সে জীবন মরণ-সমান! চাহি না স্বরগে—মাের সে স্বগ নরক-সমান ! বর্ণ অর্থ কাম মােক্ষ যত কিছু আমার নয়নে সকলি সমান-- t সম্মুখে বিরাজে বিরাট অশান ! যেথায় রহিবে তুমি, সেথা মাের স্বর্গ তােমারে পাইলে মাের সিদ্ধ চতুর্বর্গ ।

৮। নীরব রাতে।
হোগ করা-তলি তেওর।
তোমার ভাতি
নীরব স্নাতে
বিছানাে আছে
গগন-মাকে ।
মেঘে ভেসে
চলিছে হের্সে
কে জানে কোন্
অজানা দেশে
জোছনা খেলে
মেঘের কোলে
দেখিয়া, গানে
জাগিছে প্রাণে।

কাটাব আমি
সারাটী যামি
উরথ মুখে
পরম সুখে ;
ধরণী ছেড়ে
বেড়াব খেলে
মেঘের সনে
পাগল মনে।
ফুলের পুটে
সুবাস লুটে
হরষে টুটে
বাতাস ছুটে।

নীরব রাতে
তােমারে ঘঘরি”
তারকা সারি
দিতেছে বলি
চরণে ঢালি।

তার বাণী।
নীরব সন্ধ্যায় শােন
নামে তার বাণী।
অনুপম শান্তি দেয়
চিত্তমাঝে আনি’
সন্ধ্যার শিশির সম
ধীরে—অতিধীরে,
অনাহত বাণী তাঁর
সিক্ত করে শিরে ॥
প্রতিধ্বনি জাগেশােন
মধুর তাহার,
মহাশূন্য হতে ফিরি’
অন্তরে সবার ।

ৰাণ
আনন্দ-বেপথু উঠে
জগতের মাঝে ;
প্রাণের বাতাসে নব
হৃদিপদ্ম নাচে।
সঙ্গীতের সুরে
ভেসে আসে নি বাণী
হৃদয়ের পুরে।
প্রভাতে,গণ
তপনের সাথে
জ্যোতির্ময় রূপে অহা
**

আঃ ছাল যে ফাহা,
এক ঊয় যাণী
সী জেগে আছে।
হে দে! হে শিঙ্গ। রাখ
(
প্রেমের ঐ রাণী সদা
অগায়ে তােমায়।
দূর কয় সংসার
প্রণমি তােমারে মােয়া
মা করি।
২

৮। জাগে।
আজি নিরমল এতক্ততপনে
জাগো রোগে।
ছেড়েদির্মেচৈতন
দূর কল্পিঃখ দৈন্য,
তঁনি শুভ গাম লয়ে
বীরের হৃদয় লয়ে
১৩ভ কর্মে লাগে
জাগাে ওরে গাে ॥
মঙ্গার লাশীষ ঝরিৰে..
সুগন্ধ ফুলের পাগ বহিবে ;
খেকো মা থেঝেঙ্গা মিত্রা আর
ডুবি,আলস-কাপনে
ভুলি’ গরুতে কমে;

উঠে পড়- আগে চল- ভালমন্দ সবি সঁপি পদে তাঁর ; সকালের আগে চল চন ও চা। অতীতে করেছ জানি ওগগা জানি অনেক অমুল্য সময়ের ব্যর্থ ; পদে পদে ভুল করি’ ওগো মানি জগতে এনেছ অনেক অনর্থ; ভূলে যাও তাহা এখন অবধি কাজে নিমষ্টি লাগি প্রাণপণে জীবনে অর্থ কর ওগো কর, * * ধর ওগো ধর। জানে বড় ও ধর্মে বড় ফরমে ফুটায়ে তােল- প্রাণের আঁধা; নিরুদ্ধ দুয়ার আর কিছুক্ত : বা। কথা তেল ওগাে গেল।

জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালে, ফুটুক উজল আলাে। সােজা পথে চলে যাও- কাহারে কোনাে না ভয়- সম্মুখে রুমেছে জয়। * কে' আছে । পড়ি পাছে, তার দিকে চেয়ে নাকে- সম্মুখেতে দৃষ্টি রাখ। দত যদি চাও -ও।

গান্ধারী কাে-তাল তেতা;
তােমা হারাইয়া
প্রাণ গেছে শুকাইয়া-
গান যে মাহি উঠে জাগি।
নামে তব উঠুক বাজিয়া পুনঃ
সবীণ দিনরাতি-
প্রভু তব হে দয়া মাগি।
B

১২। আল-হে।
সহজ কথাটা বটে আনন্দে নাচিতে ;
সহজ কথাটা বটে হাসিতে খেলিতে ;-
সহজে যখন যায় সময় চলিয়া,
মনের মতন সব ঘটনা ঘটিয়া।
কঠিন কথা রে হায় আনন্দিত চিতে
নিয়মেতে ধরা দিয়ে কাজ করে যেতে
সকলি যখন যায় বিরুদ্ধে মামার,
দিনের আলােক গিয়ে জল গাে আঁধার।
.
আনন্দ মহাে রে ভাই-যাবে কেটে মন্দ ;
আঁধার কাটিবে-মনে রেখাে নাকো ।
উঠুক ঝটিকা মেঘ যত কালো ঘাের,
এভাতে মামিবে জেনাে আলােকের বাের।

১০। সফলতা।
সুদীর্ঘ-সুদীর্ঘপথ
এসেছি চলিয়া ;
জন্মিবার পূর্ব হতে
চলেছি জন্মিয়া-
ভারতের পুণ্যভূমে
জন্ম লৰ বলি,
প্রাণের আনন্দ-হাসি
বিতরিব বলি-
ধর্শের আলােক দীপ
শু-উচ্চে ধরিয়া,
অধর্মের অন্ধকার
সমূলে নাশিয়া
২৯

।। দাড়ায়ে ধর্মের পরে ত্রিশকোটী যবে ভারতসন্তান মিলে একপ্রাণে সবে করিবে আপন কাজ- দূর করি’ ভয়- সফল আমার আশ , তখনি হৃদয় নাচিবে আনন্দে নিত্য অন অক্ষয় ; দিনরাত গাব—জয়

কিবা ছেলে কিবা মেয়ে
জননীর জাতি-
জ্ঞানে ধৰ্ম্মে জেগে উঠি
আনন্দের ভাতি
জাগায়ে তুলিবে যবে
প্রতি গেহে গেছে,
সবল হইবে সবে
প্রাণে মনে দেহে-
হই সফলকাম
সেদিন; সেদিন
ভারত সন্তান সবে
রবে নাকো আর

দুৰ্বল নমিয়া মাথা লাজে দীনহীন- ক্রীতদাস যথা ভুলি নিজ অধিকার। ৩২

১৪। গোপন-পু।
ভীমপল-একতালা।
পৰণ আমার
চাহে গো তােমার
দেবতা প্রাণের হে!
আকুল বিরহে
হিয়া হৃদয়ে
ডাকি প্রিয়তম হে !
মাের আঁখিজলে
পাষাণ যে গলে
তুমি যে টল না হে!
ভিজাই কেমনে
তােমারি মরমে
জানি না জানি না হে।

নাহি যদি লবে
প্রাণে টানি’, তবে
তব পদতলে হে
পড়িয়া রহিব .
ভুলি’ দুখ সব
মুছি’ আঁখিজলে হে!
তােমারি মূরতি
হিয়ার পরতে-
পতে আঁকিব হে-
ভকতি-কুসুম
করিয়া চয়ন
গােপনে পূজিব হে ॥

১৫। জাগ আননে।
বেহাগ-তেতালা।
‘পরাণ জাগরে-জাগ আনন্দে।
শােন-তারাগণ গায় কত ছন্দে।
আঁখি খুলিয়া দেখ চেয়ে
কানন আজি পূর্ণ ফুলে, গন্ধে ॥

১৬। ভজ ওয়া
( ঠাকুর লােচন দাসের অনুকরণে
ভজ ওঙ্কার কহ ওকার
লহ ওঙ্কারের নাম রে।
যে জনা ওঙ্কার ভজ
সে-ই আমার প্রাণ রে।
(ওরে) যেথা আছ যে রে ভাই
কহি পায়ে তব ধরি রে
আপনে বিকিয়ে দাও তাই
ভক্ত নিরাকারে রে ।
অবাধ পরমানন্দ
নিত্যকাল পাও রে।
• অভিমানশূন্য হিয়ায়
(ও ভাই) ধাতে বেড়াওরে।

এসেছেন প্রাণারাম
পায়ে পড়ি যাও রে।
সােনার আসন ও ভাই
অশ্রুজলে ধুয়াও রে
বেড়াও ব্রক্ষ্মনাম দিয়ে
কলিজীবের দ্বারে দ্বারে
বেড়াও ব্ৰহ্ম নাম দিয়ে ৫
ওরে গেলরে দিন চলে গেল।
ভজরে তায়—ভজরে ভাই।
হেন ভগবানে যার
বুতি না জন্মিল রে
ঠাকুর ক্ষিতীন্দ্র বলে,
সে-ই দুখী এল আর গেল
মে সর্বপাপহরেভললে রে।

প্রাণনাথ শােন তুমি শােন মোর কথা- খেকো না থেকো না দূরে প্রাণে দিয়ে ব্যথা ভকতজনের অব দেখ বক্ষ চিরি’ তােমারি অঙ্কিত না- • তাই লয়ে ফিরি। জানি না তোমায় এত কেন বাসি ভাল- তুমিই আমার প্রশি- নবেমাল শে তুমি মম প্রাণবঁধু- সকলি আমার! তােমারে ছাড়িয়া যাব ॥ কোথা বল আর? তােমারে বাসিলে ভাল এত দুঃখ আছে- এ কথা বল নি কেন- কেবা যেত কাছে। তবুও কি জানি কেন তব নামে উঠে হৃদয়কমল মম হরষেতে ফুটে।

১৮। মন হাওরে অন্তঃপুরে।
ইমনপূরবী-তাল পারা।
শাক সন্ধ্যা এল আকাশ জুড়ে
মন যারে এবার অন্তঃপুরে।
প্রাণ ভরে গাে ডাক তারে
সেই অকূলের কূলে।
মন যাওরে এবার অপুর
প্রাণের কথা যত কিছু
বল তারে বল খুলে।
বেড়ামাে না হেথা, হােথ
মেরি' বৃথা ঘুরে।
মন মাওরে এবার অন্তঃপুরে।
**

মন যাওরে অঙ্গপুরে-
ভক্তিসিক্ত হয়ে তারি
দাঁড়াও চরণমূলে।
গন্ধে বর্ণে ফুটুক চিত্ত
প্রেমের হাওয়ায় দুলে।
মন যাওরে এবার অন্তঃপুরে
।
প্রিয়তম সখা তোমার
নাইকো জেনাে তিলেক দূরে।
দেখবে তিনি আছেন হৃদে-
অশ্রুজলে ধুলে।
মন যা ওরে এবার অন্তঃপুরে।
এমন মধুর সন্ধ্যাবেলা
প্রেমভক্তি নানা স্কুলে
চিত্তসাজি সাজাইয়া
দাও গো তারি পায়ে তুলে।

এক
ডাকবার মত তাক তারে
ব্যাকুল করুণ সুরে ;
দেখা দেবেন প্রাণের মাঝে
আপরেও ভুলে।
মন যারে এবার অন্তপুরের
২

১১। সাগর দেয়।
ভবের নয়মি
চলেছি তেলে
কোখা, কোন্ অকীম
**
দুখের মুখের দেউ,
হহরে আসি
দিতেছে প্রকলা
মাথার উপর দিয়ে
কবলে মন বায়
গাহিয়া আনল গীতি
ধরে ধরে বহে যায় ।

ঝড়ের বাতাস কভু
সহসা জাগিয়া উঠি
ছােট মাের তরী চাহে
করে দিতে কুটিকুটি।
হাল ধরে তুমি যবে-
ছােট হােক, তবু বড়।
ঢেউ কেটে চলে তাই
বজ মাথে কড় কড়।
,
গ্রহতারা খেলা দেখে
নীরব আনন্দে চেয়ে।
আমিও ভরি না করে
শুধু চলি গান গেয়ে।
৪ (

কে আছিস ডাল-পরে
আর তোরা চলে যায়।
মাতাল চেয়ের সুখ
কে বুঝিবি চলে আয়।
মাতাল না খেয়ে মদ
হতে যদি চাস তােরা,
মাতাল ঢেলের তবে
গানে গানে প্রাণ পােরা।
যুবক বালক নারী
কত কে যৌবন চাও ?
অসীমের প্রাণে সবে
আপনে চালিয়ে দাও।

যুবক হইয়া যাও
যৌবনের বল পাও।
নীচে যে অসীম সিন্ধু,
মাখা’পরি মহা ব্যোম ;
অসীম যে আশে-পাশে
কর সবে তারি স্তোম।
চোখের সম্মুখে যত
বাধা সব ভেঙ্গে যাক;
অসীম আনন্দ-দৃশ্য
খুলে যাক—খুলে যাক।

সাগর চেয়ে
আনন্দের উলুধ্বনি,
উঠুক গগন ভরি
তারি তালে নাচি শুধু
বলি হরি হরি হরি।

লই লই। রাগিণী হাম্বীর-ঝাপতাল। লহ লহ কোলে তুলে মাগাে জননি! মরব্যথা দূর করি দাও মাগো জননি আঁধার বনেতে খেলিতে খেলিতে লেগেছে শতেক কাটার আঘাতে; দরদরধারে ঝরিছে শােণিতে মুছাইয়া দাও—পারি না সহিতে- মাগাে জননি । অঙ্গে অঙ্গে বাজে ব্যথা- পারিনা কহিতে কথা ; বুকে তব থুয়ে মাথা প্রাণ জুড়াও-জুও- মাগো জননি।

হ নং-
নাহি জেনে আমি কত করি দোষ ;
আমি শিও অতি কোরাে নাকো রােষ;
তােমারি চরণে এসেছি পডিয়া
আর কভু দূরে যাব না চলিয়া
মাগাে জননি!

২১। বিদার।
হে সংসার! জোর করে
আজি এই বিদায়
নিতে আর পাৰি নাকে
ছোটখাটো হায় হায় !
অনন্তের সাগরপানে
ভাসায়ে দিয়েছি তরী।
সব দিয়েছি ছেড়ে ছুড়ে
হাল ধরেছেন হরি।
কাঁদছ সবাই কেন গাে
আকাশ জুড়িয় আজ
যেন কত পাপ করেছি-
কতই অন্যায় কাজ!

,
কেঁদে কেটে আর আমাকে
ডেকো না ডেকো না দিয়ে।
এতদিনে সব বুঝেছি
সবি ফাঁকি-সবি মিছে
তবু আমি যাবার আগে
দিচ্ছি সবে আলিয়ন
নিতে যদি হও গাে মা

২২। কোলে ডাকে।
,
রামপ্রসাদী সুর।
(ওমা ).মা বলে আর
তোমা ডাকব নাকো।
আমায় ভুলে সুখ যদি পাও
আমায় সদা ভুলেই থাকো।
অপরাধ যদি করেই থাকি,
ঘাট মেনেছি শতেক নাকি ?
তবু তােমার একি, ধারা-
আমায় সদা ভুলে থাকো?
t
আদর ভিক্ষা করতে নারি;
আমার ব্যথা (আমি) সইতে পারি
(তােনার) নতুন ধারায় আদর করা
তুমি আপন কাছেই রাখে।

শুনে যাও মা বেও না চলে ;
ছেলে অমন কতই বলে ?
অভিমান মা ছেড়ে দিমু
( এই ) বুকের পরে চরণ রাখে।
হৃদয়খানি জুড়িয়ে দিয়ে
বারেক তুমি কোলে কে।

শুনবী-আড়াঠেকা।
হে প্রভু প্রাণে চরণপরশ দাও--
কি আনন্দ চিতে' জাগে।
ভরি’ দেহ মন চরণপরশ দাও।
শােক স্নান অয়া করি’ দূর
হরষিত কয় মোর হিয়া।
হে প্রভু প্রাণে চরণপরশ দাও?

২৪। দুঃখ।
শোড়ি সারং-তেতালা।
তােমার লাগি আছি জাগিয়া
দিবা নিশি
একা বসি
আকুল হিয়া।
যেও না ছেড়ে না
দুখী বলে মােরে ;
পূজিব সকল
হৃদয় দিয়া ॥

২৫। কর্ণধার। কুড়ানাে গানের অনুকরণে ) ভৈরবী--একতালা। সংসারের তুফান দেখে ভয় কোরাে না যাত্রীজনা। হােক না কেন জীর্ণতরী কর্ণধারের গুণ জান না। তাহারে বলে অরূপ কালাে ; তাহার এই কালো রূপ চিরকাল- বার লাগে নয়নে ভালো দেয় সে পেতে আসন সােনা। তাহার নাম কৃপার নাবিক সকল ঘাটে তাহার থানা। তিনি অপার নদী পার করে দেন। তাহার মত কেউ পারে না।

তিনি যে নাবিকের চুড়া;
তিনি তাই নায়ের বসেন চূড়া।
তাপিত আর তক্ত-চুড়া
হারে চেনে ঐ দুজনা।

মন।
পুৰীৰামায়।
বীণা বাজাইয়া
মন হরিলে হে।
মধুর-মধুর ধ্বনি
গগন ছাইল রে-
অনাহত তানে
প্রাণ ভরি
মন হরিলে হে।

। বেহাগতেতালা। পরাণ ছুটে তােমার পানে দিবস রজনী প্রিয়তম বোন তটিনী ধাম সিন্ধু পানে। প্রাণনাথ হে মােরে দেখা দাও- बाथिकान আকুল নয়ন।

২। স্বর্ণযুগ। সে দিন আবার--আবার সেদিন আসিবে—আবার আসিবে। আনে ধৰ্ম্মে কৰ্ম্মে মাথা উচু করে ভারতের বীর- আবার জাগিবে স্বাধীনতা সাম্য ভারতের প্রাণে আবার---আবার ফুটিয়া উঠিবে।

সৰলতা যাহা আছিল ভারতে কি সুন্দর সাহা। পুন দিবে দেখা। আপন গৌরবে দাঁড়াইব মােরা কে দিবে রে বাধা ধরি জলে। কোখা হিমাচল-কুমারিকা কোথা পরাণে পরাণে ভারত আবার মিলিবে। হিন্দু মুসলমান, কে রে খৃষ্টান সবাই সন্তান- একই যে মায়ে-বুঝিৰে।

এ মিলন ভাল জমাট বাঁধিৰে- কোন দেশ পার পারিবে না দাড়াতে কাছে; এগােবে এ দেশ বিদ্যুতের বেগে ধামে করমে- চিত্ত তাই নাচে রে—নাচে। e বিচ্ছেদের পর মিলিৰে ভায়েরা ; খুলে যাবে প্রাণ- প্রেমের রবে নাকো সীমা। হইবে দেবতা পরতে পরতে রবে নাকো ভৌশ জাগাবে আপন মহিমা। " . জাগিবে ভারতে নূতন মানুষ- নিজ বলে বলী নূতন পুরুষ, নূতন ভাবের নূতন মহিলা ভারতের যিনি চির ভগবান দেখাবেন তিনি নব নব লীলা। দেহে বজ্ৰ সন, প্রাণে ঢল ঢল, প্রবল সাহসে, চরিত্রে অটল, সুন বিনয়ে, আকারে সুন্দর, যুবক-যুবতী হাজার হাজার জাগিয়া উঠিয়ে রুমে সৰল। স্বর্ণযুগ লয়ে সোনার ভারত দেখিও আবার জাগিৰে। ভারতে সেদিন দেব-ঋষি, যত একপ্রাণে মিলে খেলিবে ।

২১। বীণা।
বাগে—আড়াঠেকা।
বীণা তব শুনি’ মাের পরাণ চাহে
যেতে ধেয়ে তব চরণে হে।
রাখে কেবা বাঁধি
মােরে আজি মধু
রাতে, কঠিন শতধনে হে।

কেন গাে বিরক্ত কর মানে বারবার। লিখিহে জীবনকথা বলিও না আর। কি হবে শুনিয়া বল নিজ গুণগান- নিজের চিত-হে হি সৎবাণ? কতকি উঠ যে প্রাণে পাপ-ভাব্যথা- খুলে কি বলিতে পারি

পারি, যদিৰ ৰূল
মা আমায়;
তবে গােঋজিব মােক
জব-লেখায়।
,
তাহা যদি নাহি পৰি
বড়াই কিসের করি,
এমন অবে-
প্রশংসাকাহিনী ছি
মিথ্যা কথারশি
জীবনকথা নামে
নিজেকে প্রশি?

জীবনকথা-
হায়রে নিজেৰে আজি
আজিও না জানি ;
তবুও জীবনকথা
লিখিবারে মানি।
ধিক ধিক মুখ ঢাকি
পিটাবাে না ঢাক;-
লিখেছি জীবনকথা-
• করিব না জাক।
ভাল কাজ করে যাব
একে দিব নাম
প্রতি ধূলিকণা-গায়ে-
পাশে পাব প্রাণ!

।
জীবনীর ওরে গরু
পিটাতে মা
হব নাকো আপনাকে
জানি ইহা সার;
হবে না ডাকিয়া কার,
লিখাতে বা আর
নিছক প্রশংসা নিজ
মিথ্যা ভারে-ভার
মিছা কেন ভাবি আমি
ধরাবাসী যত,
চিরকাল তরে রবে
.t. অনিবারে রত,

জীবনকথা
আমারি প্রশংসগাথা
অন্য সবে ছাড়ি’
মিথ্যা যত বাজে কথা
মিবে আঁকড়ি ?
সকলেরই কাজ আছে-
ছােট বড় কিবা
আপনার সীমা-মাঝে,
• ঘখা নিশা দিবা ;
সকলেই বড় জানি
নিজ নিজ ফাজে;
নাহি মানি ছােট কারে
এ ভবের মাঝে।

ধূলিও তাে কম নহে
হে আগন
নিজ অল ক্ষয়ে মূহ
ফলে সাগর।
থেয় দেয় সে দৃষ্টি-
পার দিতে তুমি?
তবুও সে সকলের
চমণেরে চুমি
রহিবার বষে ভাল,
ঘােমিকে চহৰু
আপন বিঙ্গগীক্তি
*
আনন্মতি
লিখিতে চাই না।

৩। জয় দেব।
খাম্বাজ-তেতাল।
শঙ্কর শিব সঙ্কটহারী
নিতার গুলো-
আকুল প্রাণে অমায়ি:
ভকতচিত-বিহারী!
দেখা দাও
জয় দেবদেব।
পিপাসিত-চিত-বারি।
বিলােকজগতধারি!
দীননাথ
দয়াসিন্ধু
শ্রয় দেবে!

ওহে সংসারফাণ্ডারী!
আশ্রিতভয়হারী।
ভবপারে
যাও লয়ে
জয় দেবকে।

কি যে গান !
বেহাগ-কাপড়
কি যে গান
নিলাম।
হিয়ার মাঝারে
আনন্দ-ঝকায়ে ।
নীরব নিশীথে
সব-অলখিতে
শিশিরীরে
আলিয়া ধীরে,
শােনাও গানে-
পাগল প্রাণে,
মােহিয়া লওহে
তবে পাৰে।

গ্রহের সাথে
জোছনা রাতে
বেড়ার ঘুরে
হৃদয় পূরে
বাতাসে খােল
প্রাপ্ত ভেল
অসীম নীল
আপর;
আনসাগরে
ডুবি’ চিরতরে
পূজিব গোপনে
তোমারি চরণে;
জীবন যৌবন--
সোনার বরণ
উঠিবে ফুটি:
মম-মাঝারে ।

৩৩। ছে েনা। আশাবরীখাঁপতাল। বিপদনাম মর দূলি প্রস্তু! বচি হে কেমনে ? প্রভু! তােমা ছাড়ি কে আছে আমারি ? কেহ নাই- কেহ নাই- যারে, বলিব আপনে। তােমারি চরণ লয়েছি শরণ;- জীবন-পরশে মরুক মরণে।

পাতি-
হৃদয়-আশনে
পেতেছি যতনে
ছেড়ে না--
ছেড়ে না
মােরে, বড় দুধীজনে
-

পাল তুলে
রাজধানী কলিকাতা হতে
নৌকা দি ছেড়ে
ত্রিবেণীতে লাগিবে যাইয়া ;
ঝড় উঠিল পশ্চিমে তেড়ে।
হে মাঝি। নােজর দাও ফেলে;-
দেখিছ না নৃত্য প্রণয়ের
করিতে করিতে আসিতেছে
ঘনঘাের সারি জলদের।
উড়ে যেতে হয়-যাব উড়ে
মেধসাথে, হয়ে একাকার
জীবনে মরণে খেলে যেথা-
খেলে যেথা আলোক আঁধার।

নির্জীব কিন্তু রুজিতে পড়ে।
পারি না কচুপ করে;
জীবনের সাথে খেলা করে
শতর ভালবাই মরে।
এই মত ঝড় জ্ঞালবাসি
সকলের প্রাণে পড়ো ;
সবল মানুষ কে বার,
তান সৰু হঞ্জে ঝর খাল;
e
দুর্বল যেথায় থাকে যে বা
ভয়ে যারা হয়ে যায়, সারা
চলে যাশী যা সরে;
ঠাই নাহি কারো হেথ, যারা

মরণ আসিতে-না-আসিতে মরণেরেকছে বর- দেখে নাকো ঝড়ের ভিতর খেলে এক মহান জীন। ৭

৩৫।
বরােখলা।
সুলতান--আড়াঠা।
দিবানিশি পথ চাহি
জাগি নাথ হে।
পদ মােরি
চিতে সদা ধরি’
প্রেমফুলে পূজিবর
মাগি নাথ হেঁ।
।
;

৬। সাগরণী। শত যুগ পরে মধ্য পথে ভারতের মহাপ্রাণ হতে মহাগান এক উঠেছে জাগিয়া ; প্রভাতের প্রথম আলােকে নিদ্রালস্য ভাঙ্গিয়া কুহকে জাগরণগীত উঠেছে বাজিয়া। জেগে ওঠ-ঘুমায়ে না আর; দীক্ষা লও আগুন খাবার মিলনের মহামন্ত্রে স্নান করি; মিলে-জুলে করে যাও কাজ- হার-জিতে হবেনাকে লাজ মহামন্ত্র এই প্রাণে লও ভরি।

পত্তি
জমীদারাঙ্গাকে -
বুঝি লয়ে, কার.কি ব্যথা,
প্রেমের বাঁধনে বাঁধছাে সায়।
শুনাে না জুনােনাৱাে কথা,
বাস্তুভিটাহীন যারা সদা-
প্রাণের বাঁধন চায়ে-টুটিবারে।
*
আর না--আর নাবহায়াে না
কুধিৱের স্লোজ আনি না
বিবাহ বিচ্ছেমতে অপ্রেম।
তাহে শুধু জানিও নিশ্চয়।
হবে না কাগ ঘর ৰেদেশ,

জাগরণী জমীদার প্রজা শুধু কেন? কতৰি লােক আছে জেনাে- সকলেরি প্রাশে দেখি জাগরণ এধারে ওধারে চারিধারে ক্ষেত্রমাঝে নদীর কিনারে ঢালা দেখি প্রাণ যুগের নূতন। কলকারখানা শত শত মজুর না জানি খাটে কত- দেখিতে পাও না তাহে কি গাে তুমি শ্রমজীবী সকলের মাঝে স্বরগের বাণী লয়ে আছে, মহাজাগরণ-মিলনের ভূমি? ', বি = = আমি তাহে পাই শুনিবারে-- ধ্বনি-পরে ধ্বনি আসিবারে- মহাজাগরণ মিলনের গীত ;- ছুতার কামার কিবা রাজ যেখানে যে করে যত কাজ- সকলেতে গাঁথা জাগরণ-হিত। দাড়ি যবে একমনে গেয়ে তালে-তালে তরী যায় বেয়ে, ঈড় ফেলে সৃবিশ্রাম ঝপাঝপ ; সবল পেশল মুটে যত একমনে ফেলে অবিরত ধন্যবস্তপরে-পরে ধপাধপ ; ।

জাগরণীত- তাদের সেই তালের মাঝে, তাদের সেই কর্মের মাঝে, জাগরণ-গীত শুনি বাজে সাদা। ঘুচে যায় সেই জাগরণে- মুছে যায় মহান মিলনে ছােটখাটো ভেদ-মনের পর। । গাওতবে গাও প্রাণ খুলে, তেভেদ ভেঙ্গে দিয়ে মুলে- আমার বুকের বুকচেরা ধন। অনন্ত জাগরণের গান- মিলনের-উন্নতির-গ্রাণ- গাও মন খুলে-পাও অনুন।

'লেরিয়া জমে রে ?
. ৩৭। ব্রহ্মসভার হাসপাতাল।
( কুড়ানাে গানের অনুকরণে।
ভৈরবী-একতালা।
তােরা আয় কে যাবি রে
ব্ৰহ্মসভার হাসপাতালে
কলকেতা হরে।
আর:কেন ভাই যাতনা পাই
কখন এমন ছিল না।
, দেখে জীবের যন্ত্রণা মে
কল্লেন এৰু সাতব্য ডাঙ্গারখানা
দীনহীনের তরে রে।
গাছগাছড়া মেরিধি ঃ
আরক সুত্রে বিষিকে
তারুকমখে
যােল নান রুত্রিশ অক্ষরে রে।

মক্ষমতার হসপাতা
রাজা খাতু পিলিজাজন;
এসিষ্টান্ট দেবে গুম বে;
নেটিক রাম আর কোৰঃ
১uর রে।
রাজ কারুর গা;
কত শত রােগীলি রে-
তারের বিষয় জুর কুড়ে খে
একটা সিকচারে।
* রাজা রামমােহন রায়
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
* রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।
3 ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেন।
এ আনন্দচন্দ্র বোস্তবাগীশ।

পথ্য বলে দিচ্ছেন বাকু
সাধুসঙ্গ দুয়া সাৰু বে;
ব্ৰহ্মনাম পাতি লেবু
কচি না হলেও অরুচি হয়ে রে।
গুরুজী আমার বলেন ভেবে
অক্ষয় এই ঔষধ খেলে রে
হয় যেত তাের কপট পিলে-
যেত একেবারে
ক

৩। অনাবৃতিতে।
সিতারখানি মল্লার তোলা।
জল দাও-ল প্রভুযাচি হে।
তব দয়া বিনা কেমনে ধাঁচি হে।
জগধ হইয়া যায়
মরহন হয়
কােন চরণে খার।
• প্রভু দয়াল-করুণা কর—অল্প দিয়ে
বাও হে সনেরে।

বরষায়।
সিতামখানি মল্লার তেতালা।
বিমূঝি-বারিধারা খরষে।
আজি ন উ পটিয়া অৰে।
কহিছে পুরুষ
আনন্দেগিহর ক্ষয়-
"এক ট ।
ময়ুর ভােমরা-মেঘদ
চানিলিজ
আজি ৰাখি পোৰ কোহে
গগন ধরজেহে-
শ্যামল পুলক দেহে-
প্রেমের মধুর পরশে। ৫
#

বলাকার সারি যায়
হেসে খলখল-থল ;
ঝিঝি শত গীত গায় ;
মমকে তেল।
কৃষাণ-বধূ আশীষ দেছে -শালি

৪৬। ছেড়ে না।
ভৈরবী-মধ্যমান।
ছেড়ে না আমায়
হে মাের ভয়
দেহ দেখা আমারে।
আছে আমার যাহা কিছু,
সকলি হে লও শুধু
পদে রাখ আমারে।

৪১। এনাম ভুলাে । (পুরাতন গানের অনুকরণে ) আমার ব্রহ্মনাম লওয়া হােল না । মুখে ব্ৰহ্ম বলি, অন্য মনে করি- প্রেমবারি চক্ষে ঝরে না । ভগবান বলে দুটী বাহু তুলে মনপ্রাণ কেন নাচে না। কবে প্রেমরসে বেড়াইব ভেসে তঁারি রূপে হয়ে মগনা। আমি মনে করি একলিপাশরি: স্নানযােগে আছে ধারণা। দশ ছয় মােল তারা বাদী হােল- ভুলাইতে করে ছলনা ।

শুনেছি পুরাণে সাধুগণ স্থানে ব্ৰহ্মনামের নই তুলনা । জীবের জন্মজন্মান্তরে সব পাপ হরে- ডাকার মত ডাকে যে জন ক্ষিতীলের মন না হােল.আপন- আরামের মানাপােনন না। ব্ৰহ্ম ইহকালে, ব্ৰহ্ম যাত্রাকালে ব্রহ্ম বলতে যেন ভুলাে না ।

আমার দেশ-ওরেগল্প a
ওরে আমার দেশ ?
কি মিষ্ট নাম-ওরে কি মি নাম
:ওয়েকিমিষ্টনাম।
নামটী নিলে থাকে না।
ওরে থাকেন দুঃখবেশ।
পশিলে কানে সুধায় এর প্রাণ
ওকে সুধায় করে প্রাণ ।
১৫

৩। না বরব।'
খাজ-ট্যুরি।
সঘন বয়ষে আজি ঘন।
পবন পূরব বহে।
শন শন স্বতন
দদুর ডাকিছে মকমকা।
মেঘের গরজ শুনি
তরাসে কাপে চিত;
পরাণ আকুলিত।
হয় যমুনারি!**
দামিনীর ভাতি
খেলে অন্ধ রাতি
কেমনে ঘুটপানে
যাই একা-একা ।

কাটিল মেঘ যত
রাখল শত
আনন্দ উছসিত
হয় যমুনাৰি।
দুখ রাখি’ দুরে
ঘাটে ঘাটে ফিরে
কত নর-নারী
বালক-বালিকা।
*

। মম।
(কীৰ্ত্তনী ঢপের )
চিবে কি সখি অহাজন, দুখী,
প্রেমকণা যদি নাহি তে।
মরম ফুটিয়া শত ধার দিয়া
শােণিতনিঝর শত ববে।
তাই যদি চাও খুলে বলি দাও--
বারেক কথাটী না কহিব।
আপন মরমে আপন কমে
মরণেরে বঁধুয়া বরিব।
বিনা তব প্রেমে গীত গেছে থেকে
পরাণে বহিছে মরু-বায়।
মরিব বলিয়া আছি অপেথিয়া
ধেয়ানে ধরিয়া তব পায় ।

নাহি ভাল বাসমাহি ছাল বেলে-
বারেক তাে যাও দেখা দিয়ে।
অৰিব গাে সুখে-বুবে নাহি দুখে-
. কালা সব ছাড়ি যাবে হিরে।
.

১৫। আত্মহারা।
সংসারের কলরব গিয়াছে নিন।
নীরব হয়েছে ধরা-সুষুপ্তি ছাইয়া
বারেক ঘুরিয়া এস অবসয় লয়ে।
হে মন! মুহুর্ত আর থেকোনা ঘুমায়ে ॥
আকাশের পরে আছে আকাশের, ভর।
চলে যাও সৰ ছড়ি—সবারি উপর ও
নিবিড় বহিছে সেথা অনিলের ধারা।
বচন ফিরিয়া আসে আপনাতে হয় ?
।
আনের গরমে রহে নাকো আম।
কীমা, ৰাধৰ নাহি-শােকদুঃখভার।
আপনারে খুলে গাও আনন্দের গান ।
আত্মহারা হও, লয়ে অসীমের প্রাণ।

৪। ত্যাচার।
কে আছ পাব কােথ
দুলে করিতে লন?
জেনে আমি আছি সেথা
মােরে কৱিতে দমন।
॥
অঞ্জ তব যত কিছু
দাগিবে বুকেতে আমার?
জাগাে তুমি ফিরে যাবে-
সংঘাত লাগিৰে তােমায়
আমার
আমার মানসপত্র
উঠিবে সৈন্য লক্ষ লক্ষ
অমর সাহসী পটু
সেনানী বীর যুদ্ধে
২

ইহুঙ্কারে ছুটে গিয়ে করিবে ছিল 'ৰ পক্ষ সবেগে ঘিরিবে তােশ- অধিৰে চিৰি তৰ বক্ষ বিশ্বামিত্র-বশিষ্ঠেয় ধর্মাধর্ম-সংগ্রামকথা শুনেছ নিশ্চয়তা সতবতার ঐ বধ । ০ আমার এ সত্য কথা দেখে নিও-কে না মিথ্যা অত্যাচার-যয়ে উঠে অত্যাচারী বধিতে কুতা।

অফান্ধী
এখনাে বলিছি-ছাড়
আঘাত দুর্বলের পরে।
পতন্ত্র ছেড়ে দাও
অনুষ্যত্ব বরণ করে।
উঠে পড়-খাড়া হও----
মিজ খুভ করে বলে
ভগবানে চিত্ত রেখে
অমঙ্গলে চরণেমলে

৫। পধহয়।
(রামপ্রসাদী সুর)
সন্ধ্যা হয়ে মা এল যে হায় !
ঘয়ের পথে হারিয়ে বসে
কোথা যাব ভেবে না পাই!(ধুঙ্গা)
সর্ব অঙ্গ ধূলােয় ভরা
কোলে নে মা শাস্তিহরা ;
কোথা গেলি আমায় ফেলি’-
দেখা দিতে বারেক মা আয়।
আঁধার ঘন নেমে আসে-
প্রাণ যে কাপে ভয়ে আসে।
মা মা বলে ডাকছি কত
সাড়া তবু দিতে কি নাই

এপহাতে আলাে -
আঁকাবাঁকা পথ কাটায় ঢাকা;
ঘরে ফিরে তাের কোলে উঠে
আঁখিজলে তােয় ভাসাতে চাই।

। শিবিরে।
শিবির পড়েছে শত সাদা সাদা সাদা
শ্যামল সুন্দর মাঠে আকাশের তলে
এসেছে ফিরিয় ঘরে বাজনার তালে।
আমারি সংগ্রামী বীর সেনাদলের
আমিও তাদের সাথে যাত্রা করেছি,
আদেশ আসিল যবে-দীঘীর্ঘ পথ
চরণ খসিয়া যায়-শান্ত ক্লান্ত কায়।
দিনের আলােক যবে নিভনিত-প্রায়
আদেশ আসিল তবে থামিবার তরে।
যেমন শুনিনু কানেকি বলিব আর
কত বন্ধু সাথী সবে থলিঝুলি আর,
পড়িল বন্দুক হয়ে ঘুমাইয়া পথে।

কতেক ৰা খাড়া করে তা ছােট ছোট ;
হার ব্যবস্থা করে উনান জ্বালায়ে।
শিবিরের চারি ধারে সীন কাধেতে
কতেক দাড়ায়ে স্তব্ধ শব্দগুপ্তি ধরে।
।
যারে তারে নাহি দেবে শিবিরে আসিতে,
শফগুপ্তি যতক্ষণ কহিতে না পারে।
নিরাপদ মানি সবে ঘুমায়ে পড়িল।
নিস্তব্ধ হইল সব-নাহি সাড়াশ।
অরুণ উদিত যবে-বালিয় উঠিল
শতেক কানাকাড়া';-উঠিয়া পড়িল
নববলে সৈন্য তাজা'; ঘুম গেছে’কেটে
রাত্রি প্রভাতে আবার যেতে হবে শুনি

বি
নূতন যুদ্ধের মাঝে। প্রহেলিকাসন,
শিবির যতেক ছিল, মুহুর্তের মাঝে,
কোথায় লুকাল তারা সেনাদলসং।
ধরণী বহিল পড়ে—উপরে আকাশ।
আমি শুধু পড়ে পড়ে ভাবিতেছি একা।
ছিন্ন-ভিন্ন-অস্থিচর্ম রাশি রাশি দেহ
যুদ্ধক্ষেত্র ছেয়ে আছে;পেতেছি এখনাে
বারুদের গন্ধ।-বীরবন্ধু সেনাদল
দেশের গৌরব তরে বলি দেছে প্রাণ।
হে ধরণী মাতঃ এই প্রাণ সপির
মুফল নাই কি কোন ? আছে সত্য জানি।
দিও না বিনষ্ট হতে কণাটা রক্তের
প্রবেশ করাও তাই আপনার প্রাণ।

নদ নদী বৃক্ষর ভিতর দিয়ে
তাহাদের মহাপ্রাণ উঠুক ফুটিয়া ;
বাষ্প হয়ে নিজ দেশে আসুক বহিয়া ।
স্বদেশের তৃণক্ষেত্র শতাব্দী ধরিয়া
সেই বাপে নবপ্রাণে উঠিবে বাঁচি ৪
সঞ্জীবিত করে দেবে সঞ্জীবন ময়ে
বীর সেনাদলেমরণ মনিবে তায় ।
ঋীবনে-মরণে দেখি মহ রােলাকুলি।
কোথা সৈন্যথামৃত্যুসবি গেছি ভুলি।
১০

ভৈরবী-হেতাল। যায় এমন ভরি পুজিব তােমাল- এস সঞ্জিত সুন্দর মনমন্দিরে হে! পুজি প্রেমফুলে হে-- লও তাহে তুলে পােৰু দুবালা ধাৰ সদানন্দ পিয়া মহিব ভাের প্রাণ মন ভরি পূজব তােমায়।

}
জালিয়ানা। জালিমানা।
কেন তব যুক্তকর ঊর্ধে আছ তুলি।
কেন জান বেলে ও রুক্ষ্ম কেমে
দাঁড়ায়ে রয়েছ কোণে দীর্ঘশ্বাস ফেলি।
জালিয়ানালা! জালিয়ানালা।
কেন ঝরে অশ্রু তব তপ্ত অগ্নিসম।
ভর দশ হিয়ে কিসেরি লাগিয়ে
বরিতেছ মরণেরে আজি প্রিয়তম
লিয়ানালা ! জালিয়ানালা
কিসের যাতনা ভেঙ্গে গেছে তব বুক।
অতীতের কোন্ শােকদুঃখগাথা
জনমের মত কাড়িয়া লয়েছে সুখ।
১৯১

জলিয়ানালা ! জালিয়ানা
বুঝেছি-বুঝেছি, কোন্ দুঃখ জাগে আজ
হাজার হাজার বুকচেরা ধন:
নিহত সম্মুখে হানিয়াছে বুকেৰাৰ ?
জালিয়ানালা! জালিয়ানালা।
মুছ অশ্রু ধারা—দিওনাকে অভিশাপ।
তাদের মরণে পড়ে গেছে সাড়া "
সারা দেশমাঝে জেগে প্রাণের !
জালিয়ানালা ! জালিয়ানালা !
করিও নির্ভর মহান দেবতাপকে :
অবিচার কােনাে হবে গাে নিশ্চয়।
লাগিবে এদেশ-জীবন অভিৰে অৰে।

। একন।
থারি।
তাঁহারে আজিম।
ভকষ্ঠ গতক
শত )
আফিতাহারি-দুখ হয়ে।
গরজি উঠিছে হিরে
অভয় তার বাণী
সকল নলিহানি
শাধ নাথ বলি”
শেকতাপ ভুলি
তার পদ ধরি
ও চিরতরে,

তি-
আনন্দ উছলিছে-
ধরিয়া কে রাখে
শােন গাে গােন গানে
ওই জয়ভেরী।
জম-রব করি
এসসা ছুটে চলি।
পাছে পড়ে নাহি
রও.পপরে।

(যামপ্রসাদী সুর)
ণজালে মা ডুবে আছি। (ধু)
}
ঋশের কথা ভেবে ভেবে
প্রাণের ভিতর উঠি কেঁপে ;-
তােরে ওমা মিনতি করি-
খুলে দে,মাের গলার কাছি।
অহঙ্কায়ের পেয়েছি ফল
এখন আমায় তুলে না ধর--
ঋণের রােঝা নামিয়ে দিয়ে
পায়ে ব্যখ মা ভিজে ধার্টি।
ভাড়ার তাের মা পােরা ধনে;
তবু কি মা করে মনে
হাতে গন্ধ করিস নিতি
নামার মত মেরে মাছি।

(গদ্য-পদ্য) সাগরের পরপারে দক্ষিণ-পশ্চিম ধারে ভানু গেল অস্তাচলে সুন্দর রঙ্গিন বেশে কে জানে কাহার দেশে অজানা অ-মধাৰ!.. মনে হয়, চলে যাই- সশরীরে উড়ে যাই নিস্তব্ধ মেলিয়া পাখা কাৰেও না দিয়ে দেখা ; নিজের আনন্দ নিজে ভােগৰৱিনলেতে।

তােমার বাতাস খেয়ে
যেও না যেও না তুমি !
বারেক দাঁড়াও হে।
প্রাণের স্পন্দন পেয়ে
তড়িত প্রকাশে ফুকে
হয়ে যাই মাতােয়া-
জোয়ার উথলে প্রাণে।
প্রতি গাছে প্রতি পাতা
তােমামি আাশতলে
তােমানি ঝলসা
গ্রীবাজে লে ফক;
সাগরে কেউ বন
জননী ধর-কোলে
আছাড়ি-পাহাড়ি পড়ে।
তােমাজিকি তা
হৃদয়ে জাগিয় উঠি
নির্বাক করে গাে মােরে।

কো-কোন-আদিকালে
তােমারি খসিয়া বিন্দু
আশ্চৰ্য জনম দিল
এ বিশ্বভুবনে সারা;
বত কিছু প্রাণ গান
আনন্দ দিতেছে আজ,
সকলি তো আসিয়াছে,
তােমারি সে বিন্দু হতে
নির্বাক হইমু আমি
নতশিরে সিন্ধুতীরে
নীরবে প্রণমি তােমা।
.
ভকতি-কুসুমগুলি
আদরেতে লই তুলি।

।ৈ এস হে।
তৈরী-একতালা।
সুন্দর নব বসন্তপ্রাতে..
তােমারি পরশ প্রাণ চাহে। (ধুয়া )
এস হে—এস হে!
এস হেএস হে!
মম-আসনে যতনে ৰদি’
প্রেমের বাঁধনে বেঁধে নাও হে।
চারি দিশি ভরি’ উঠেছে গান
বাহিরিতে চাহে আকুল প্রাণ,
গগন বিমল ত্বরিতে ভেদিয়া
রহিতে তব পদছায়ে-
এস হে—এস হে!

আজি ফুলে ফুলে দশদিন ফুটিয়া উঠিছে শেখ-হাসি- যতই দেখি তত ডুবি হে! এস হে—এস হে! মলয় মধুর বহিয় , প্রেমের কূজন গাহিয়া খান । পরাণ আকুলি-ব্যাকুলি উঠিয়া তােমারে আরাে আরাে চাই- এস হে-এর হে!

৫। ঋষি নােম।
ঋষি নরােত্তমখানি
উছে জাগি।
সেই কলা খাবে:
মেতেছি ঘেষিয়া ।
ন্যায়ের বিজয়গীত
পশে তাই কাণে।
বাধীনতা উন্মাদনী
বাজে তাই প্রাণে।
সবাই যে ডাকে সৰে
ভাই ভাই বলে।
শক্ৰত্ৰি উচ্চ-নীচ
ভেদ গেছে চলে।
। ।

শান্তি-
সরল প্রাণে ধরি
চলে সােজা পথে।
দেশের সুনাম রাখি
ধরে সতপথে।
দেশের বিভাগ আর
রেখাে না রেখাে না।
বিহার উড়িষ্যা বঙ্গ
পৃথক ভেবাে না।
মান্দ্রাজ বোম্বাই কোথা,
কোথা শিখভূমি!
কোথা গঙ্গা-উপকূলে
কাৰ্য্যাবর্তভূমি।

ঋষি নরোত্তম- কোথারোজপুতানা। : মধ্যদেশ কোথা! আপন্মর ভাই বলে জাগাে সবারে প্রাণে ; তবে না শুনিবে দেশে বিজয়-মঙ্গল বাজে? মন্ত্র কর দৃঢ় সখ্য মিলনেরে এক লক্ষ্য ;- তবে না যাইবে ঘুচে দুঃখদৈন্য-ব্যথা ? তখন আর এক ফুটিবে সবার মুখে আবালবৃদ্ধ সবার আনন্দ: খেলিবে বুকে।

খুলিবেন আর কভু।
আশীষ দেছেন শিরে
বিশ্বভুবনে প্রভু।
উঠিৰে জাগিয়া দেশে
নরনারী শত শত।
অক্ষত চরিত্রল
বিয়ে করা হত।
।
মায়ের সন্তান বীর
সাহসে অটল ধীর।
রূপে গুণে কি সুন্দর
নরোত্তম-বংশধর

প্রণাম।
ও পিতা তুমি জ্ঞানদাতা হে।
নমি তােমা।
ছেড়ােনাকো মােরে।
সমগ্র, দেব! হে পিতা।
দুরিত মাের করি’ দূর,
আশীষ তব বরিষ ।
নমি দেব শম্ভব শুভদাতা হে।
নমি দেব শঙ্কর শুভাকর হে।
নমি দেব শিব শিবতর তােমায় হে।

No text on this page.

গ্রন্থকারের হিতৈষণা গ্রন্থা।
১। জ্ঞান ও ধর্মের উন্নতি মহর্ষি দেবে
নাথ ঠাকুর কর্তৃক বিবৃত ও ঐক্ষিতীন্দ্র
নাথ ঠাকুর কর্তৃক লিখিত) ১৩০০ সাল।
২। শ্রীমদ্ভগবদগীতার অভিনব সংস্করণ ১৩০১
৩। অধ্যাত্মধৰ্ম্ম ও অজ্ঞেয়বাদ ১৩২ সাল।
৪। রাজা হরিশ্চন্দ্র (১ম সংস্করণ ৫০০) ১৩০৩
(২য় সংস্করণ ৫০) ১৩১৭ সাল।
। আৰ্য রমণীর শিক্ষা ও স্বাধীনতা ১৩০৭ সাল
৬। অভিব্যক্তিবাদ ১৩০৯ সাল।
৭। ব্রাহ্মধর্মের বিবৃতি ১৩১৬ সাল।
৮। আলাপ ১৩৭ সাল।
৯। আঁখিজল ১৩১৭ সাল।
১০। শ্রীভগবৎ কথা ১ম সংস্করণ ৫••) ১৩১৯
(২য় সংস্করণ ৫০০) ১৩২৫ সাল।
১১। ওঁ পিতানােহসি ১৩২১ সাল।
১২। প্রাণের কথা (১ম সংস্করণ ৫০ ০•১৩২২
(২য় সংস্করণ ৫০০ ) ১৩২৬ সাল।
১৩। আদি ব্রাহ্মসমাজের মণ্ডলী গঠনের
প্রস্তাবনা ( ডবল ক্রাউন ৮ পেজী ৪০ পৃঃ
মূল্য • আনা) ১৩২২ সাল।

১৪। বসেনা সংগঠনে দেশের উন্নতি ১০২৩ সাল ১৫। শিক্ষাসমতা ও কষিশিক্ষা ১৩২৩ সাল। ১৬। মা ১৩২৪ সাল। ১৭। মায়ে-পােয় ১৩২৫ সাল। ১৮। তােমরা আর আমরা ১৩২৬ সাল। ১৯। স্বস্তিকা ১৩২৬ সাল। * ২। জন্মণি বৰ্তমান রাষ্ট্রনীতির অভি- ব্যক্তি ডিমাই ১৬ পেজী ৬১ পৃঃ, মূল্য। আনা ১৩২৭ সাল। ২১। ওপারে ১৩২৮ সাল। ২২। আট ও সাহিত্য (রায় বাহাদুর দীন- নাথ সান্ন্যাল মহাশয়ের ভূমিকা সম্বলিত) রয়াল ১৬ পেজী ভাল বাধা ও ভাল কাগজ। ১৭/০+১৮৪ পৃঃ। মূল্য ১ এক টাকা ১৩২৯ সাল। চিহ্নিত গ্রন্থগুলি t৫নং আপার চিৎপুর রােড আদি ব্রাহ্মসমাজ কষ্যালয়ে এবং ক্লাস চট্টোপাধ্যায় এর সঙ্গেয় দােকানে পাওয়া যায়। অশিলি পা।

ঈশ্বর ও মানব
গ্রন্থকারের কয়েকটা গ্রন্থের
অভিমতসূচী।
পৃষ্ঠা।
* আলাপ
(৫), (৬),(১২)
(৩), (৫)
(২৮)
। ওপারে
(২২), (২৫), (২৬),(২)
* ওঁ পিতা নােহসি
(২), (৫), (৭)
জনির বর্তমান রাষ্ট্রনীতির অভিব্যক্তি (১৯), (২)
(২১)(২২)
* প্রাণের কথা
(৩), (৭) (১৩)
ব্রাহ্মধৰ্ম্মগ্রহণ
(২৮)
* ব্রাহ্মধর্মের বিবৃতি ' (৪), (৬),(১৩)
(১৪)
মাতৃপূজা
(১৫)
• মায়ে-পােরে
(৪),(৫), (৯)
• শিক্ষাসমস্যা ও কৃষিশিক্ষা (২),(৫), (৯)
শ্রীভগবৎকথা, (২),(৪), (৫), (৬), (৭), (১১)
(১৮), (১৯)
* রাজা হরিশ্চন্দ্র
* স্বস্তিকা
চিহিত গ্রন্থগুলি প্রাপ্য হইয়া গিয়াছে।

No text on this page.

যুক্ত ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটা
গ্রন্থ সম্বন্ধে অভিমত।
| গাপ্তিস্থল-মাদিত্ৰাহ্মসমাজ কাৰ্যালয় ৫৫ আপার চিৎপুর রােড
কলিকাতা এবং গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সনস্
২৩) কর্ণওয়ালিস &ট কলিকাতা ]
কিছু দিন হইল কলিকাতা হইতে যুক্ত ক্ষিতীন্দ্রনাথ
ঠায় বি-এ, তনিধি মহাশয় তাহার প্রণীত চারিখানি
পুস্তক সমালােচনার্থ আমাদিগকে পাঠাইয়া দিয়াছেন। আমা-
দের ক্ষুদ্রকায়-বস্তৃত সমালােচনার স্থান নাই, সুতরাং অতি
সংক্ষেপেই সমালােচনা করিতে হইল। ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মহাশয় বঙ্গদেশে বই প্রকারে পরিচিত। তিনি একাধারে
আর্শনিক, সাহিত্যিক, তত্ত্বজ্ঞানী এবং নিগুঢ় ভাবের একনিষ্ঠ
সাধক। আমরা নিম্নলিখিত পুস্তক চারিখানির ভিতরে
মানবজীবনের উদ্দেশ্য, বিকাশ এবং সফলতাকল্পে তাহার
চিশীলতা, ভূয়ােদর্শন, গভীর জ্ঞান, দার্শনিক জটিল তত্বের
সরল ব্যাখ্যানিপুণতা দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছি। অধিকন্তু তাঁহার
প্রাণের কথা” নামক পুস্তুকের ভিতরে ভগবানের সহিত
তাঁহার বিবিধ ভাবের যে মধুর সম্পর্কের পরিচয় পাইলাম, তাহা
অতীৰ মধুর। প্রেমময় তাহাকে দিনের দিন তাহার প্রেমে

সু-মাতােয়ার-পাগল করিয়া তুলুন ইহাই প্রার্থনা
}
১। শিক্ষা সমস্যা ও কৃষিশিক্ষ-১৫ পনটা
চিন্তা ও গবেষণাপূর্ণ আলােচনা ইহাতে সন্নিবদ্ধ করা
হইয়াছে। এই পুস্তকে ভারতের শিক্ষা কত প্রকারের ও
কি ভাবের হইলে জীবনের যথার্থ বিকাশ হয়, তাই
উল্লেখ করা হইয়াছে। কৃষিশিক্ষা যে এক সৰ্বশ্রেষ্ঠ
প্রয়ােজনীয় শিক্ষা—এই পুস্তক পড়িলে তাহার উপলব্ধি সহজ
হয়। এই পুস্তকখানি শিক্ষাবিভাগে শিক্ষার পন্থনির্দেশ
কাৰ্যে, পরিবারক্ষেত্রে পিতামাতার সন্তান-শিক্ষানুষ্ঠানে, স্কুলের
শিক্ষকের নিকট শিক্ষাদানব্যাপারে এক বিশেষ সহায়
হইবে।
২। ওঁ পিতা নােহলি তুমি আমাদের পিতা।
এই পুস্তকখানিতে সৃষ্টির ভিতরে অষ্টার জ্ঞানশক্তি, পিতৃত্ব,
পালনীশক্তি, প্রল শক্তি এবং মুম্বশক্তি যে নিহিত আছে,
তাই দর্শনের অতি সরল কথায় ১টি ভাবের ভিতর
দিয়া অতি সুন্দরভাবে গ্রন্থকার প্রকাশ করিয়াছিন। এই
পৃথক পাঠ করিলে জ্ঞান হয়, বিশ্বাস হয় এবং প্রকৃত
ধর্থতলাভের পন্থায় উপস্থিত হওয়া স্বাস্থ।
৩। ভগবৎকথা-গ্রন্থকার ছােট ছোট বালক
বিগকে পরিবারক্ষেত্রে অতি সরল কথায় ঈশ্বরের স্বরূপ

খনন্তং বন্ধ, আনন্দরূপমৃতং যদিতি, শাং শিবমলৈং- এই সাতটি পরুপ যে অতি সরল সুররূপে শিক্ষা দিয়াছে, তাহাই পুস্তকাকারে প্রকাশ করিয়াছেন। বালকদিগকে ধর্ম অথবা ঈশ্বরের স্বরূপ শিক্ষাদানকরে বঙ্গীয় সমাজে এমন উপা- দেয় গ্রন্থ আর নাই বললেই হয়। প্রত্যেক ধর্মপিপাসু পরিবারে এই গ্রন্থ ক্রয় কর কর্তব্য। ৪। প্রাণের কথা-ভগবানের সঙ্গে সাধক এ- কারের অপূর্ব প্রেমের পরিচয়-বিরহ, সংসার, ঈর্ষা, আত্ম-বিয়াগ, যােগ ও আকাশবাণী প্রভৃতি ১৫টি উচ্ছাসের ভিতর দিয়া প্রকাশিত হইয়াছে। পড়িতে পড়িতে পিপাসু পাঠকচিত্ত ঐ সকল উচ্ছসিত ভাবের সাধক হইতেই আকাঙ্ক। ব্রহ্মবাদী ছাত্র ও আশ্বিন ১৩২৩ সাল We have received, four books being reptints of some of the writings of Tattwanidhi Kshitindra Nath Tagore, a gentleman who is by no merits a stranger to students of religious and critical literature in Bengali. ANKHI-JAL-It is a collection of short poems which the writer had composed from time to time, Thesa poems are of great spiritual value.

(8)
RAJA HARISH CHANDRA- the writer bas
given account of the great King as it may be
gleaned from the Vedas and the Puranas,
BIBRITI-is a collection of the sermons
preached or essays written by the author
concerning Brahmo religion,
ALAPA-is a reproduction of the papers
which were contributed by him to the
pages of the Bengali Magazines on literary,
philosophical, historical and didactic subjects.
The four books before us furnish indubitable
evidence of the anthor's cultured taste, literary
attainments, and religious earnestness and form
a valuable accession to the stock of Bengali
literature. - Indian Mirror 2, 9. 13.
SRI BHAGAVAT-KATHA.In this book,
which is one of the latest of the author's, are
put together skart discourses in which the idea
of the God-head is sought to be impressed on
the juvenile wind at the saçliest stage of its
development, The discourses are put in the

simplest style possible and in a manner well.
calculated to be effective, Indian Mirror 4.10.13.
শ্রীভগবৎ-কথা, শিক্ষাগমস্যা ও কৃষিশিক্ষা, ও পিত
CREA. "Er standing
7
কয়েকখানিই সুলিখিত এবং পড়িবার যোগ্য।
বহিঙলির গুণের জন্য শেষ পর্যন্ত পড়িতে হইয়াছে। এ
গেজেট ২৩শে ভাদ্র ১৩২৩।
We have much pleasure in acknowledging
receipt of the inader-noticed five books in Bengali
which erabody some of the writings and speeches
of Tattwa-nidhi Kshitiadra Nath Tagore B-A,,
a cultured member of the Jonasanka branch of
the Tagore family of Calcutta.
1. ANKHIJAŁ. This is a collection of
short poems, 36 in number, which the auther
composed from time to time. These tears®
are drops of spiritual pearls.
2. RAJA HARTS CHANDRA This is an
eminently readable monograph; based on Vedic
and Pauranik legends, concerning the great

King whose love of truth had cost him his
earthly all.
3. SRI BHAGAVAT KATHA, In this brochure
the author has addressed himself to the difficult
task of imparting an idea of God to such boys
and girls as have not reached their "teens".
The language of the book is admirably suited
to the comprehension of those to whom it
appeals.
4. ALAPA. In this volume bave been
Teproduced the contributions which the author
had made from time to time to the pages of
various magazines con literary, philosophical,
moral and religious subjects. The author has
done well in giving them a permanent form as
most of them are of more than passing
interest.
5. BRAHMA DHARMER BIBRITI, This volume
classifies and places together addresses delivered
and the papers written by the author, op various
occasions, on the basic principles of Brahma

: Dharma and the part that it has played, and is destined to play, in moulding the religious thoughts of the present-day world,, The five books before us represent a mine of substantial thought through which runs 4 deep vein of spiritual earnestness, Their coutents clearly reflect the many-sided activities of the house of which the author is so worthy a scion.-The Hindu Patriot-July 21, 1914, শ্রীভগবৎকথা, প্রাণের কথা, ও পিতা নোংসি— তিনখানি ধপুস্তিকা। ‘আগবৎ-কথা শিশুগণকে শয়তা সহজ ভাষায় বুঝা ইবার চেষ্টাল প্রাণের কথা লেখকের ভগবানের সহিত প্রাণের ব্যথাপকথন বিবৃত এবং 'ও পিতা নােহসি' গ্রহে জগতে অমঙ্গলের ভিতরও যে ঈশ্বয়ের মাল-তাবেয়-পিসের পরিচয় পাওয়া যায়, এই বিষয় পরিস্ফুট করিবার চেষ্টা করা হইয়াছে। গ্রন্থগুলি পড়িলে ইখয়ে কৃবিশ্বসী অধিক তঙ্কের লেখা বলিয়া বেশ বুঝা যায়, সুতরাং যে সকল স্থানে কেবল ভাৰপ্ৰস্ফুটনের চেষ্টা, সেই গুলি আমাদের বেশ ভাল লাগিয়াছে। কি গার্শনিকের চক্ষে দেখিলে অনেক হলে

(৮)
এহের বিচারপ্ৰণালী আমাদের সম্পূর্ণ সন্তোষজনক বােধ হয়
নাই। শিশুদের জন্য লিখিত বলিয়া এইরূপ—বলিলে
চলিবে না, কারণ গ্রন্থকারের অন্যরূপ দার্শনিক বিশ্বাস
থাকিলে তিনি সেইগুলিকেই সরলভাবে বুঝাইবার চেষ্টা
করিতে পারিতেন; কারণ, তাহার সেই বিষয়ে বিশেষ দক্ষতার
পরিচয় গ্রন্থমধ্যেই আহে। ঔষয় মঙ্গলময় এই বাক্যটীয়
কখনও মূল অর্থ, কখনও বা সূক্ষ্ম অর্থ ধরিয়া বিচার করিলে
গােল সহজে মেটে না। ভগবান
গবান বন্যা দিলেন—তাহাতে
অনেকের প্রাণ গেল, অনেকের ক্ষতি হইল, কিন্তু মাটীতে
পলি পড়িল, জগৎ ধনধান্যে পূর্ণ হইয়া গেল— যুক্তিতে
ভগবান্ মঙ্গলময় প্রমাণ হয় না। যারা ধনী, মুখে পছন্দ
বিলাসে যহিয়াছে, তাহারা এইরূপ বিয়া মঙ্গলবাদী হইতে
পারে, কিন্তু যাঁদের নিষ্পেষণে এই তথাকথিত মঙ্গল
সাধিত হয়, তাহাদের মঙ্গলময় দৃঢ় বিশ্বাসের নিশ্চিত ও সুদৃঢ়
যুক্তি কই?' আমরা বলি, ওদিক দিয়া গেলে কিছু বুঝান
যায় না। ঐ বিষয়ে মোৰ বা অহৈতবাদের যুক্তিগুলির
মত সমীচীন যুক্তি জগতে প্রচারিত হইয়াছে বলিয়া বােধ হয়
না। তাই বলি, এই গ্রন্থগুলিতে প্রদর্শিত যুক্তিগুলিতে
অক্ষি ঈশ্বরবিশ্বাসীর কিছু উপকার হইতে পারে, কিন্তু
ইতে নাস্তিককে আস্তিক করিবার মৃত যুক্তি নাই।
উমােখন ১৩২৩লো।

শিক্ষা-সমস্যা ও কৃষি-শিক্ষাগ্রহীৰেনাথ দত্ত
লিখিত ভূমিকাই।
এই কুঞ্জ প্রস্থে একার শিক্ষাপ্রণালী সময়ে অনেক
সমস্যার সংক্ষিপ্ত আলােচনা করিয়াছেন। তিনি শারীরিক,
মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়ে যাহাতে লমিগ্যের সহিত
উন্নতি হইতে পারে, এরূপ শিক্ষাপ্রণালীর পক্ষপাতী। এই
মূলতত্বের সহিত কাহারও মতভেদ হইতে পারে না। ইহা
কাৰ্যে পরিণত করিবার জন্য প্রথম অবস্থায় এক প্রধানত
কৃষিশিক্ষা ভারতের পক্ষে বিশেষ উপযােগী এই মত
প্রকাশ করিয়াছেন; এবং ব্রহ্মচর্যকে শিক্ষার মূল ভিত্তি
রূপে প্রতিষ্ঠিত করিতে উপদেশ দিয়াছেন। সঙ্গে সঙ্গে
বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষাপ্রণালীর অনেক ফুলও খো
ইয়াছেন। কিন্তু এই সম্বন্ধে বিশেষ চিন্তা করিতে গেলে
বােধ হয়, কতকগুলি আদর্শ শিক্ষক-গরি শিক্ষাবিষয়ক
প্রধান সমস্যা। উপযুক্ত কতকগুলি শিক্ষক গঠন করিতে
পারিলে তাহাদের আদর্শে ও তাৰখাশ পরিচালিত বিশেষ
বিশেষ বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ ছাত্রগণকে নায়াসে সব
প্রয়ােজনীয় বিষয়ে শিক্ষিত করিয়া তুলিতে পারেন। এ
কারের ন্যায় আমলও কিল্যালয়ে শিক্ষা প্রবর্তনের বিশেষ
পক্ষপাতী, তবে এই শিক্ষার প্রধান উপায় যা
সাপ ধার্ষিক শিক্ষকের জীবন-দৃষ্টান্ত ব্যায়াম-শ

শষে বহুব্য:এই যে, যে সকল কার্য আমাদের শারীরিক শ্রমসাধ্য অথচ প্রয়ােজনীয়, সেইগুলি কেবল দাসদাসীদের রায়া না করাইয়া বালকগণৰে সেইগুলি সম্ভবত করিতে উৎসাহিত করিলে অপরিচালনাও হইতে পারে, সঙ্গে সঙ্গে তাহার অল্পবয়স হইতেই আত্মনির্ভরশীল ও কষ্টসহিষ্ণু হইতে পারে। মােট কথা, ব্যর্থত্যাগ ও বিলাসিতা বিসর্জন, ইহাই সকল শিক্ষার ভিত্তি। প্রাচীনকালের ব্রহ্মচর্যশিক্ষার ইহাই মূলমন্ত্র ছিল। এখন ঐ মূলতত্ব বর্তমান দেশকালপালের সম্ভবমত উপযােগী করিয়া প্রবর্তিত করিবার চেষ্টা কৰিলে সুফল ফলিতে পারে বলিয়া বােধ হয়। যাহা হউক গ্রন্থ- খালিতে অনেক প্রয়ােজনীয় বিষয়ের অবতারণা করা হইয়াছে—বিষয়ে প্রকারের নিকট হইতে আরও বিস্তৃত আলােচনায় আশা করি। অন্যান্য সুধীগণও এ বিষয়ের আলােয় অগ্রসৰু হইলে দেশের কল্যাণ হয়। উয়ােখন-পৌষ ১৪২৩। (1) Sai BEAGOBAT KOTHA (ঃ) Raj4 HARISH CHANDRA," (3) "ALAP" and (4) BRAHMODHARMER BIBRITI" by Tattwanidhi kshitindra Nath Tagore. B-A, Babu kshitindra Nath Tagore is a Bengalee scholar. His writings oyidca a masterly command over the Bengalee

( 1 )
language, Hindu theology and the principles of
Brahmo religion,
SRI BHAGOVAT KOTHA-8 Written in
homely Bengalee. The style, method of treatinent
of the subject and the illustrations are quite
suitable for the young boys to understand the
omnipresence, omniscience and all-powerfulness
of God. The book is fit for study in the Primary
Schools as it is non-sectarian from beginning to
end,
RAJA HARISH CHANDRA--displays à
vast amount of the auther's knowledge and
research, in Hindu. Sastras. It is a critical
and historical account of Raja Harish Chandra,
a popular Pouranic character. He traces
the history of Raja Harish Chandra from the
Rig Veda period down to the Pouranio
period and points out the changes that the true
account of Raja Harish Chandra has undergone
at the hands of different writers in different,
periods,

(1) ALAP-It is a collection of essays written by the author since his younger days. They are written in polished Bengalee and treat various subjects, social, religious : and biographical, The life of Raja Rammohan Roy contains many useful informations, His discourse on Brahmo religion is very thoughtful and, though one may not see eye to eye with him on all points, it shows that he bas been taking a great interest in the propagation of theistic principles. But we must confess we do not see the utility of quoting the extract on "Devotion" from the Christian paper 'Ephiphany' at the end of the book. It contains under a lot of platitude much of the narrow and bigoted sophistry that characterises the handling of Hinda problems by the average missionary, and, as such, should not have found a place in a book like this, Barring this flaw, we think well as on the whole recommend that such books should be widely read by the (১৩) public and should find a place in all public libraries. "BRAHMO DHARMER BIBRITI' is an exposition of the inner principles of Brahmo religion. It contains a series of sermons addressed to the members of the Brahmo Samaj. Although dealing with the cult of a particular sect, the book may furnish food for serious reflection to deep thinkers and advanced students of theology. The author is well-versed in the Upanishads. These sermons embody the principles as laid down in the Vedas and Upanishads, Amrita Bazar Patrika 31. 7. 13. প্রাণের কথা—গ্রন্থকার সাহিত্যসংসারে সুপরিচিত। তিনি প্রাণের আবেগে এই পুস্তকখানি জনসমাজে প্রকাশ করিয়াছেন,-ভূমিকায় গ্রন্থকার প্রকৃত প্রাণের কথাই খুলিয়া বলিয়াছেন-“এই গ্রন্থ পড়ে কেহ যেন ভুল ধারণা মনে পুষে না রাখেন যে গ্রন্থকার ভগবানকে পেয়েছেন, জীবন্ধু, হয়েছেন। ঈশ্বর যাকে ইহা গ্রহণ করাবেন না, আমার কাছেও তঁাকে ইহা গ্রহণ করার প্রয়াের নাই। ভগবানের সহিত জীবের নিত্যলীলা বিশ্লেষণে প্রাণের ।

( ১৪) কথায় যে কৃতিত্ব দেখাইয়াছেন, তাহার তার প্রতিশী নাই। পুস্তকের ভাষা প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী; পর পুস্তকখানি একবার পাঠ করিলে মানায়ে ভগবৎপ্রীতি প্রেম ও ভক্তি ভাব জাগাইয়া তুলে। আমরা পুস্তকখানি পাঠ করিয়া বস্তুতই মুগ্ধ হইয়াছি। জন্মভূমি ১৩২২ সাল চৈত্র। “মা”-গ্রন্থ সম্বন্ধে সুপ্রসিদ্ধ কবি ও ঔপন্যাসিক যুক্ত সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন—তােমার প্রসাদী’ বইটা আমার এত ভাল লেগেছে বলতে পারি নে। এত সরল ও প্রাণস্পর্শী হয়েছে যে, অভিভূত হয়ে পড়তে হয়। সত্যি কৰিগুণাকর শ্রীযুক্ত আশুতােষ মুখােপাধ্যায় বি-এ মহাশয়, লিখিতেছেন—“আপনার প্রণীত “মা” গীতাবলীখানি পাই- লাম। তীরে ছবিখানি দেখিয়া এবং তদুদ্দেশ্যে যে গীতটী আছে পড়িয়া প্রাণ নিতান্ত আকুল হইয়া উঠিল, এমন কি চক্ষুর জল রাখিতে পারিলাম না। ছেলেটা কে তাহা বুঝি কাছি এবং উৎসর্গেও তাহা জানিতে পারিলাম। কয়েকটা গান কাল বাৱিতেই পড়িয়াছি। যত পড়ি তৃতই আনন্দিত হই। কি সুন্দর যুব ও উপদেশ।”, ইতি--১৫/১১/১৯ শ্রীভগবানকে মাতৃভাৰে দৰ্শন করিয়া রামপ্রসাদী সুরে ১টী ভক্তিপূর্ণ গীত। আমাদের ভাল লাগিয়াছে। নমুনাস্বরূপ তিনটা উদ্ধৃত করিতেছি-১) ভাত খেতে (১৫) জার পাবনা কি দুটো।” (২) “ফরে যাব কাজ যা দিয়েছিস আমায়। (৩) “মিলেছি মা তাের মধুর ডাকে। মাতৃপূজা—কয়েকটা স্থল উদ্ধৃত করিতেছিঃ- (১) যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমােনমঃ। যে দেবতা সৰ্ব্বভূতে মাতৃরূপে সংস্থিত আছেন সেই দেব- তাকে বারম্বার নমস্কার করি। (২) মা নামের ন্যায় মধুর নাম কোথায় পাওয়া যাইবে। (৩) বেদমন্ত্রে প্রতিধ্বনিত গায়ত্ৰীমন্ত্রপূত এই প্রশস্ত প্রাঙ্গণে আমরা প্রতিবৎসর সম্মিলিত হই। (৪) সন ইচ্ছা করিলেই মাতার নিকট সোজা চলিয়া যাইতে পারে—সােজা মায়ের জোড়ে ঝাপাইয়া পড়িতে পারে-মায়ের নিকটে সন্তানের যাইবার পথ অব্যাহতভাৰে উন্মুক্ত। এই অভিভাষণ আমাদের সুমিষ্ট লাগিবারই কথা। পূর্ণদশী ঋষিদিগের এবং অবতার পুরুষদিগের চরণয়েতে পবিত্র ভারতমধ্যস্থ-রামপ্রসাদের এবং পরমহংসদেবের এবং চৈতন্যের বাঙ্গালাদেশে ইহুদীয় সঙ্কীর্ণ গোঁড়ামী কখনই স্থায়ী হইতে পারে না। এডু, গেজেট, ২৪শে ফান ১৯২৪ সাল।

* মায়ে-পােয়ে-=এই গদ্যকাব্যে মাতৃহারা সন্তান কোন্ পথে চলিয়া পুনরায় মাকে পাইতে পারেন, তাহাই প্রদর্শিত হইয়াছে। ইহা মধুবী-পড়িতে আরম্ভ করিলে শেষ না করিয়া থাকা যায় না। অতি সরল ভাষায় ভক্তি এবং ভাবের সমাবেশে পূর্ণ—এখানি অতি উপাদেয় পুস্তক। আমরা পুস্তকখানিকে সকলকেই পাঠ করিতে অনুরােধ করিতে পারি। ছাপা ও কাগজ উৎকৃষ্ট, পকেট সাইজ। অহরহ সঙ্গে রাখিবার মত পুস্তকও বটে। কাজের লােক মে ১৯১৯ The booklet is composed of prose and poetical peices, containing the expressions of the son's heart laid bare belore the Great Mother, There is no artificiality in or about it, no sign of midnight labour. We commend it to thoughtful men and women as a thought-provoking and helping book, Hindu Patriot 14 June 1919, যার সঙ্গে কোন সম্পর্কই নাই, তার সঙ্গে যে কোন সম্পর্ক পাতানাে চলে। সাদার উপরে সব রঙই ফলানো যাইতে পারে। তাই সেই চিররহস্যময়ের সঙ্গে মানুষ শান্ত, দাস, সখ্য, বাৎসল্য, মধুর নানা সম্পর্ক স্থাপন উপনিষদ্ যাহাকে “মনী” “ভামনী” ও “সংসদবাম”

(১)
ফহিয়াছেন তাহার সঙ্গে হল যখন বেশি জমায়েৎ হইয়া উঠে
মানুষ তখনই তাহার সঙ্গে একটা সম্বন্ধ অনুভব করে। এই
অনুভূতিটাকে বেশি করিয়া উপলব্ধি করিবার জন্য তাহাকে
একটা সম্পর্কে পরিণত করে। শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত ক্ষিতীন্দ্রনাথ
ঠাকুর মহাশয় এই সম্বন্ধীকে মাতা-পুত্রের ভাবের মধ্য দিয়া
উপলব্ধি করিয়াছেন এবং তাহাই তাহার মায়ে-পােয়ে।”
লেখক ভূমিকায় লিখিয়াছেন—“মা লিখাইয়াছেন, আমি
লিখিয়াছি।” এইখানেই তো কবিত্বের চরম এবং সমা-
লােচনার শেষ। তাঁহার লেখনী সার্থক হউক।
ব্রাহ্মসমাজের ভিতর এমন কেহ থাকতে পারেন, যাহার
কাছে এই “মায়ে-পােয়” একট। সাকার উপাসনার চরম
অর্থাৎ প্রায় প্রতিমাপূজার কাছাকাছি বলিয়া মনে হইতে
পারে। এই প্রকার ব্যক্তির জন্য বলা যাইতে পারে যে
তিনি যেন এই পুস্তকখানির “সন্ধ্যায় পরিচ্ছেদী মনােযােগ
দিয়া পাঠ করেন। যেখানে লেখক কহিয়াছেন-“মায়ের
খোজে এসে যে এমন শোভা দেখতে পাব, তা কে জানতো?
এত শােভা তাে দেখছি, কিন্তু মায়ের অরূপ রূপের যে
শােভা দেখেছি তার কাছে এত শােভাও কিছুই নয়।” বৈদিক
ঋষিগণ প্রথমতঃ সুন্দর জগতের যাহা কিছু মনােরন দেখিতে
লাগিলেন, তাহাকেই ভাৱিতে আরম্ভ করিণেন “এই সেই ?”
দেখিতে দেখিতে অবশেষে উপলৰি কৰিলেন যে “নেন।
}

যদিদমুপাসতে” এই জগতের সৌন্দর্য দেখিয়া সেই চির- সুন্দরকে চিনিতে হইবে; এই জাগতিক ব্যক্তিগণের সহিত যত রকম সম্বন্ধ আছে, তাহার মধ্য দিয়াই বুঝিতে হইবে আনময়ের সঙ্গে আমাদের কি সম্বন্ধ। নতুবা সেই অচিন্তু অপার অগম্যকে কি করিয়া বুঝিবে ? এই “মায়ে-পােয়ে” ডাবের ধারার ভিতরে দেখিতে পাই আলাস্ট আছে, “অভিমান” আছে, “আত্মসমর্পণ” আছে। অবশেষে সকল “আনন্দে” পর্যবসিত। সাধকের জীবন কত বিচিত্র ভাবের মধ্য দিয়াই না অগ্রসর হয়। ভাষা তাহাকে আর কতটুকু প্রকাশ করিতে পারে ? যাহার জীবনে অরূপের রূপ-জ্যোতির সন্ধান মিলিল না- তার কিছু দেখাই হইল না। চিরসুন্দরকে দর্শকের আকাঙ্ক্ষা জাগাইয়া তুলিবে বলিয়াই জগৎ'সুন্দর। যে ইহাকেই চরম ভাবিল, সে বড়ই ঠকিল। যে বালক খেলনা পাইয়া তাহা তেই মজিল, তাহার আর মায়ের কোল পাওয়া হইল কৈ ? শুরপরম্পরাক্রমে উক্ত ভাবগুলিকে সরুল ভাষায় ফুটাইয়া তেলাই এই পুস্তিকার বিশেষত্ব। এই মৰ্ম্মোথিত ভাব গুলি যেন সঙ্গীতে কত, সাধার সাহচর্য্যে শুভোজ্জল, এবং অনুভূতির আবেগে কম্পিত-একখানি ক্ষুদ্র গদ্যকাব্য। হেমচন্দ্র মুখােপাধ্যায় কবিরত্ন। নবভারত,শর্তিক ও অগ্রহায়ণ ১৩২৭। স্বস্তিকা প্রকার সংস্কারের মুখের মধ্যে দোহাল্ডি *

;
পাইযার উপায়স্থরূপে কবিতাগুলি লিখিয়াছেন। সরল
ভাষায় আশ ও দৃঢ়নির্ভরের ভাব অনেক কবিতায় ব্যক্ত
হইয়াছে ; অপর হৃদয়েরও ইহা কিছু সােয়াস্তি দিবে।
তত্বকৌমুদী–১৬ই বৈশাখ, ১৮৪২ শক।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কবিতার সমষ্টি ; কিন্তু ক্ষুদ্র হইলে কি হয়,
ভাবে ও রসে অতুলন। ৮৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সব কবিতাই
ধর্মভাবমূলক। পড়িয়া সুখী হইলাম এবং ধর্মপ্রাণতার পরি-
চরে মুগ্ধ হইলাম। পঞ্চপুপের মধ্যে ভারত মাতা” কবিতাটি
নব্যভারতে প্রকাশিত হইয়াছিল। নব্যভারত -চৈত্র ১৩২৬।
জার্মনির বর্তমান রাষ্ট্রনীতির অভিব্যক্তি—এই ক্ষুদ্র
পুস্তিকায় ক্ষিতী বাবু জাৰ্ম্মণির উন্নতি প্রতিপত্তি ও
পতনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। মিঃ
গৃষ নামক পাশ্চাত্য দার্শনিক 'কন্টেমপােরারি রিভিউ” পত্রে
যে প্ৰষদ্ধ লিখিয়াছেন, ক্ষিতী বাবু তাহারই অনুবাৰ করিয়া
প্রকাশ করিয়াছেন। অনুবাৰ বেশ সুন্দর প্রাঙ্গণ ও হৃদয়-
গ্রাহী হইয়াছে। আমরা সকলকে এই পুস্তক পাঠ করিতে
অনুরােধ করি। হিতবাদী ১৩-জ্যৈষ্ঠ ১৩২৮ সাল।
এই পুস্তক পাঠ করিয়া অত্যন্ত শীত হইলাম, এবং অনেক
জিনিষ শিখিলাম। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়া হইতে আরম্ভ
কয়াি বর্তমান সময় পর্যন্ত ফর্মণীর মনীষিগণ তাহাদের দেশের
রাষ্ট্রনীতিকে কি ভাবে পরিবর্তিত করিয়াছিলেন, তাহা

এই পুস্তক পাঠে জানা যাইবে। রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যক্তির
কি রকম সম্বন্ধ হওয়া উচিত, এ বিষয়ে হচ্ছে, ক্যান্ট,
ফিকটে, হেগেল প্রভৃতি জগদ্বিখ্যাত পণ্ডিতগণের মত সংক্ষেপে
অথচ পরিষ্কারভাবে সন্নিবেশিত হইয়াছে। পরবর্তী পণ্ডিত
দিগের চিন্তায় ধারা বক্ৰগতি ধারণ করার ফলেই ইউরোপীয়
মহাসমরটা সম্ভব হইয়াছিল। এই পুস্তকখানি Gooch সাহেব
লিখিত ইংরাজী নিবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদক ভূমিকায়
লিখিয়াছেন;-“জণীর রাষ্ট্রনীতি সম্বন্ধে এরূপ একটী
সৰ্বাঙ্গসুন্দর প্রবন্ধ বাঙ্গালায় প্রকাশিত হয় নাই দেখিয়া
এবং প্রবন্ধটি অনুবাদ করিয়া প্রকাশ করিলে সমরপক্ষপাতী
লােকদিগের মতপরিবর্তন হইতে পারে ভাবিয়া আমি অতীব
যত্নসহকারে উহার অনুবাদ করিলাম। অনুবাদের ভাষা ও
ভঙ্গী সত্যসত্যই চমৎকার হইয়াছে। যাহারা নুতন স্বরাজ
গড়িবার জন্য মাথা ঘামাইতেছেন, তাহারাও এই পুস্তক পড়িয়া
নিশ্চয় উপকৃত হইবেন। সৎসঙ্গী-আষাঢ় ও শ্রবণ ১৩২৮।
আমাদের বাঙ্গালা ভাষায় রাজনীতিতত্ব নাই বললেই
চলে। সাহিত্যের দিক হইতে ইহার একটা বিশেষ অভাব
পরিলক্ষিত হয়। এই অভাব পূরণ শ্রদ্ধেয় ঠাকুর মহাশয়
কটেম্পরারী রিভিউ নামক পত্রিকা হইতে শ্রীমদ্ গুষের
লিখিত একটা সুচিন্তিত রাজনীতিক প্রবন্ধ বঙ্গভাষায় অনুবাদ
করিয়া পুলিকাকারে প্রকাশ করিয়াছেন। এই ক্ষুদ্র পুস্তিকা-

{ } নি রাজনীতিদর্শন বলিলেও চলে। ইহাতে ইউরােপের প্রধান প্রধান রাজনীতিকগণের রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের বিশদ ব্যাখ্যা ও বর্তমান ইউরোপীয় শাসননীতির উদ্ভব, ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের শাসনপদ্ধতির ফলাফল সুন্দরভাবে দেখান হইয়াছে। বাহার। বহু মতের ধারণায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন, তাঁহাদিগের পড়িবার অনেক বিষয় ইহাতে সন্নিবেশিত আছে। কায়স্থ-সমাজ-আষাঢ় ১৩২৮। সুবিখ্যাত লেখক শ্রীযুক্ত গৃষ ( Mr, Gooch) Conten porary Keview afaste Evolution of Germain statecraft” নামক একটি সুচিন্তিত প্রবন্ধ মহাসমরের সময় প্রকাশ করেন; এটি তাহার সুন্দর অনুবাদ। ইহাতে জৰ্ম্মণ রাষ্ট্রনীতির উৎপত্তি ও মহাসময়ের পূর্ব পৰ্য্যন্ত কি প্ৰণা- লীতে তার অভিব্যক্তি হইয়াছে তাহা সুন্দরভাবে প্রদর্শিত হইয়াছে। • প্রবন্ধটি অল্প কথায় বহু জ্ঞাতব্য তথ্যে পূর্ণ । অনুবাদকের ভাষার গুণে সুপাঠ্য। ক্যান্ট জোরের সহিত বলিয়াছেন;-“মানুষ সম্পূর্ণ মুক্ত হইলেই স্বাধীনতার উপযুক্ত হয়। আমাদিগের শক্তিসমূহ স্বাধীনভাবে ধীরতার সহিত ব্যবহারে আনিতে চাহিলে আমাদিগকে পৃঙ্খলমুক্ত হইতে হইবে। এ বিষয়ের প্রথম চেষ্টার ফল স্বভাবতঃই অসম্পূর্ণ হইবে কিন্তু অভিজ্ঞতায় আমরা ক্রমশঃ প্রকৃত পথ দেখিতে পাইব, কারণ ঈশ্বর মানবজাতিকে মুক্তিলাভের জন্যই সৃষ্ট ( ২২ ) করিয়াছেন।'—এ উক্তির ফলাফলবিচার ভারতে অবশ্যক হইয়াছে; বঙ্গীয় পাঠক-পাঠিকা শ্ৰীযুক্ত ঠাকুর মহাশয়ের পুস্তিকাখানি পাঠ করিলে চিন্তা করিবার মত অনেক তথ্যের সন্ধান পাইবেন। পরিচারিকা-আষাঢ় ১৩২৮। অনুবাদক ক্ষিতি বাৰু “নিবেদনে” লিখিতেছেন- *** ইহাতেই গ্রন্থের বিষয় প্রকটিত হইয়াছে এবং সেই সঙ্গে এদেশের অনেক পত্র-সম্পাদকদের অকারণ ভীরুতার পরিচয় ও প্রকটিত হইয়াছে। প্রেস আইনই প্রধানত অনেক সম্পা- নকের এইরূপ নৈতিক অধঃপতন ঘটাইয়াছে। এই উভয় বিষয় পাঠকগণকে দেখাইবার জন্যই ক্ষিতি বাবুর নিবেদন সমস্তটাই উদ্ধৃত করিলাম। যাহারা জৰ্ম্মণীর বর্তমান রাষ্ট্র নীতির অভিব্যক্তি বুঝিতে চাহেন তাহায় এই পুস্তক পাঠ বঙ্গবাসী। ওপারে—ভূতপূর্ব ডেপুটা ম্যাজিষ্ট্রেট সুলেখক শ্রীযুক্ত সুকুমার হালদার লিখিয়াছেন--“যে ছবি একেচো সেটা অতি চমৎকার হয়েছে। আমার তাে খুবই ভাল লেগেচে-বলতে পারি”। ভাষায় চারুত্বে ও প্রাঞ্জলতা, বর্ণনার নৈপুণ্যে ও সরলতায় এবং ভাবের গাম্ভীর্যে ও পবিত্রতায় গ্রন্থখানি উপাদেয় হইয়াছে। দেহবিমুক্ত জীবাত্মার সূক্ষ্মৰেহে চন্দ্রলােক,সূৰ্য্যলােক ও ব্রহ্ম- ( ২৩) লােক ভ্রমণ এবং ভ্রমণান্তে পুনরায় স্থূলদেহ গ্রহণ ইহাই গ্রন্থের বিবৃত বিষয়। বিষয় আধ্যাত্মিক হইলেও দেশভ্রমণকাহিনীর ন্যার গ্রন্থখানি আদ্যন্ত ঔপন্যাসিক বিচিত্রতায় পরিপূর্ণ। গ্রন্থনিবেদনে লেখক গ্রন্থের সত্য-মিথ্যার দায়ীত্ব যাত্রীর উপরেই অৰ্পণ করিয়াছেন। ভাষার দায়ীত্বও সম্পূর্ণ নিজে গ্রহণ করেন নাই। গ্রন্থের কতটা অংশ যাত্রীর অনুভূত এবং কতটা অংশ তাহার কল্পনাপ্রতে, অর্থাৎ পাঠক কতটা অংশ সত্য এবং কতটা অংশ কল্পনা বলিয়া গ্রহণ করিবেন,গ্রন্থকার তৃদ্বিষয়ে কিছুই নির্দেশ করেন নাই। ইহাতে গ্রন্থের সমস্ত অংশের সত্যতা সম্বন্ধে তিনি নিজেই যে সন্দিহান তার ইঙ্গিত পাওয়া যাইতেছে। তিনি লিখিয়াছেন, “পরলােকযাত্রীর উক্তির সহিত উপনিষদের উক্তির মিল আছে, আবার নাইওল একটি প্রধান অমিল দেখি এই যে, উপনিষদে আছে চন্দ্রলােকের পর ব্রহ্মলােক ; পরলােকযাত্রী বলেন সূর্যালােকের পর ব্রহ্মলােক।” কোন উপনিষদ হইতে লেখক এরূপ অমিল আবিষ্কার করিয়াছেন তাহা তিনিই বলিতে পারেন ; আমরা কিন্তু পরলােকযাত্রীর উক্তির সহিত উপনিষদের উত্তম মিল দেখিতে পাইলাম। অথৰ্ব্ববেদীয়া প্রশ্নোপনিষদের পঞ্চম প্রশ্নে শিবিগােত্রীয় সত্য- কাম পিপ্পলাদ-ঋষিকে জিজ্ঞাসা করিলেন যে মনুষগণের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যুকাল পর্যন্ত ওঁকার মাত্র ধ্যান করেন তবে এই কাৰ্য থাকা তিনি কোন্ পােক জয় করেন। পিঙ্গ ।

( ২৫.) । জি-খুশি তদুত্তরে বলেন যে ওঁকার মন্ত্রের একটি মাত্র ‘এ’কার) ধ্যান করিলে অল্প জ্ঞানের দ্বারা পৃথিবীতে, মাত্রা (’ ‘উ’) ধ্যান করিলে মনােলােকে (অন্তরীক্ষে), এবং ত্রিমাত্রা (অ’, ‘উ’, ‘ম’), ধ্যান করিলে তেজোময় সূর্যালােকে গমন করা যায়। প্রথমতঃ ও মন্থসকল সাধককে মনুষ্যলােকে উপুনীত করে। দ্বিতীয়তঃ অন্তরীক্ষে যত্ন কর্তৃক সাধক সােমলােকে, উন্নীত হন, এবং তৃতীয়তঃ সূৰ্য- লােকে পাপ হইতে নিৰ্ম্মক্ত হইয়া, সমমন্ত্ৰসমূহ কর্তৃক সাধক ব্রহ্মলােকে উন্নীত হন। ইহা হইতে বুঝা যাইতেছে যে, ওঁকার মন্ত্র সাধনে যে সাধক যত অগ্রসর হইবেন তিনি ততই ব্রহ্ম লেখকের নিকটবর্তী হইবেন। অতএব স্পষ্টই দেখা যাইতেছে যে জমোতির মধ্যে সূর্যালােকের অব্যবহিত পরেই ব্ৰহ্ম- * পরলােকের বিবরণ পরলােকষাত্রীর অনুভূতই হউক অথবা উপনিষদের কয়েকটী সত্য অবলম্বনে কল্পিত রূপই হউক, অথবা এতদুভয়ের অংশের সমষ্টিই হউক, যাত্রী পরলোক হইতে যে আনন্দের সংবাদ আনিয়াছেন, এবং নিরভিমান ও নিরহঙ্কার হইয়া পরােপকার ব্রত আচরণ করিলেই ব্ৰহ্মলোকপ্রাপ্তির যােগ্য হইয়া এই আনন্দ উপ- শ্লোগ করা যাইবে, এই যে আশার বাণী শুনাইয়াছেন,তাহাতে তয়ে অবসন্ন হৃদয় আশার সঞ্চারে অবশ্যই উৎফুল হইবে। পরলােকে আস্থাবান পাঠকগণ দর্শন ও উপনিষদের অস্ত্র- ( ২৫) শুবিষয়ক যুক্তি ও তর্কের কূটজালে জড়িত হইয়া হাবুডুবু খাইয়াও যে এই গ্রন্থে পরলােকের একখানা অনিন্দ্যসুন্দর চিত্রের রসাস্বাদন করিতে পারিবেন তাহাতেই এই গ্রন্থ তাহা- দের নিকট সমধিক আদৃত হইবে সন্দেহ নাই। ইহাই এই গ্রন্থের বিশেষত্ব। গ্রন্থে অন্ততঃ যাত্রীর নাম ও পরিচয়ের উল্লেখ থাকিলে গ্রন্থের মৰ্যাদা বর্ধিত হইত ইহাই আমাদের বিশ্বস। প্রতি-বৈশাখ ও আষাঢ় ১৩২৯ We have read with not a little interest an anonymous brochure in Bengali named 0- PARE, ("On the other side") printed at the Adi Brahmo Samaj Press, It is written in an attractive style and professes to be a description of the other world given by one who left the earth and returned to it after a sojourn in that world, The description is throughout fanciful and allegorical, but the allegory is not explained, except incidentally here and there, in the language of spiritual experience, which would have made it more instructive than it is otherwise likely to be. The author sometimes quote: passages from the Upanishads, btt does no

।
follow the Upanishadie description of the way
50.and the contents of Brahmaloka, though he
speaks oft and of other LOKAS. He might
have consulted with proſit the beautiful and
edifying passage on the subject in the first
chapter of the KAUSHITAKI UPANISHAD,
The Indjan Messenger -lä January 1922
...লেখকের নাম উল্লেখ নাই। ইহা একখানি আধ্যাত্মিক
তবিষয়ক গ্রন্থ। গ্রন্থকার ভূমিকায় লিখিয়াছেন :-
“কোন সুদুর পল্লীগ্রামে এক ব্যক্তির সহিত আমার
সাক্ষাৎ হয়। তিনি “পরলােকগাত্রী” বলিয়া নিজের পরিচয়
দেন। কিছু ঘনিষ্ঠতা হইবার পর তিনি আমার নিকট
তাহার “পরলােকাত্রার কথা বর্ণনা করিতে লাগিলেন। কি
প্রকারে তিনি অর্থ-মজ্ঞান অবস্থায় নিজের শরীরকে ইহলােকে
ফেলিয়া রাখিয়া লােকলােকান্তরে ঘুরিয়া আসিয়াছিলেন,
আগাগোড়া সমস্তই বর্ণনা করিলেন। আমি মন্ত্রমুগ্ধ হইয়া
শুনিতে লাগিলাম। তিনি চলিয়া গেলে আমি সদা-সদ্য
সেই বর্ণনাগুলি যথাসম্ভব উহারই ভাষায় লিখিয়া ফেলিলাম।
গ্রন্থের সঙ্গমিথ্যা যা কিছু তাহা তাহারই।” ওপারের
যাত্রী তাহার পরলােককাহিনীতে জটীল দার্শনিক তত্ত্বগুলিকে
যেরূপ সরল সহজভাবে বর্ণনা করিয়াছেন, তাহা পাঠ

ফনিলে চমৎকৃত হইতে হয়। উপনিষদের সহিত গ্রন্থেল্লিখিত অনেক কথারই মিল আছে। তবে একটা প্রধান অমিল এই যে, উপনিষদে চলােকের পর ব্রহ্মােক অবস্থিত বলিয়া লিখিত আছে; কিন্তু ওপারের যাত্রী বলেন, সূর্যালােকের পর ব্রহ্মােক। তারপর বৈজ্ঞানিকদের যুক্তি লইয়া সত্যনির্ধারণ করিতে গেলে চন্দ্রলােককে জীবনিবাসের অযোগ্য বলিয়া স্বীকার করিতে হয়। কিন্তু পরলােকযাত্রী চন্দ্রলােককে জীবনিবাস বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। তবে সুপ্রসিদ্ধ ফরাসী জ্যোতিবেত্তা ফুামারি মঙ্গলগ্রহ অপেক্ষা চন্দ্রলােককেই জীবের বাসস্থানের পক্ষে অধিকতর সম্ভবপর বলিয়া অনুমান করিয়াছেন। সেই হিসাবে পরলােকযাত্রীর কথাগুলি বৈজ্ঞানিকের কষ্টিপাথরেও টিকবে বলিয়া আমাদের মনে করা অসমীচীন নহে। এই গ্রন্থখানির ভাষা ও লিপিকৌশল এমনই চিত্তাকর্ষক যে, একবার পড়িতে আরম্ভ করিলে শেষ না করিয়া উঠা যায় না। আমরা জন- সাধারণকে পুস্তকখানি একবার পাঠ করিতে অনুরােধ করি । আলােচ্য পুস্তকখানি আধ্যাত্মিক পুস্তকের মধ্যে গণ্য। লেখক তার ভূমিকায় লিখছেন, কোন “সুদূর পল্লীগ্রামে এক বাক্তির সহিত সাক্ষাৎ হয়, তিনি “পরলােকযাত্রী” বলে নিজের পরিচয় দেন। কিছু ঘনিষ্টতা হবার পত্ন তিনি আর নিকট তাঁর পরলােকযাত্রার কথা বর্ণন করতে লাগলেন।

ইনি কি প্রকার অন্ধ-অজ্ঞান অবস্থায় নিজের শরীরকে
হলােক ফেলে রেখে লােকার হতে ঘুরে এসেছিলেন,
মন্তই বৰ্ণন কপ্লেন।” গ্রন্থের বর্ণনা সুন্দরভাষা বেশ
ড়তে আরম্ভ করে ছাড়া যায় না। “ওপারে পড়লে সত্য
1 কল্পনার কপা নিয়ে বিশেষ কিছু আসে যায় না--কিন্তু
নে বেশ একটা সংসারবৈরাগ্য ও আধ্যাত্মিক ভাব একে
দিতে পারে। ওপারে” পড়ে তৃপ্তি লাভ কর্তে পারা যায়।
কাজের লােক, সেপ্টেম্বর ১৯২২।
ঈশ্বর ও মানব; ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ ;-প্রভৃতি আদি-
ব্রাহ্মসমাজের নিবতিতম বঙ্গোৎসব উপলক্ষে শ্ৰীযুক্ত ক্ষিতীন্দ্র
নাথ ঠাকুর বি-এ, তত্বনিধি কর্তৃক বিবৃত সন্দর্ভ আমরা
পুস্তিকাকারে প্রাপ্ত হইয়া'ও তাহা পাঠ করিয়া বিশেষভাবে
উপকৃত হইয়াছি। শ্ৰীযুক্ত ঠাকুর " মহাশয় কেবল বিদ্বান ও
শাস্ত্রীয় তত্ত্বের নিধি নহেন, তিনি একজন ভক্ত। ভক্তের উক্তি
সমালোচ্য নহে, তাহা হৃদয়ঙ্গম করিবার। তক্ত নিজেও
ভগবানের উক্তি নানা ভাবে উপলব্ধি করিয়াছেন এবং তাহার
অনুভূতি ভ্রাতৃগণকে শুনাইষার জন্য আনন্দে আত্মহারা হইয়া
আহ্বান করিয়া বলিতেছেন, “কান পাতিয় শােন বিশ্বপতি
পরম পিতার সাদর আহ্বান, ভুলিয়া যাও দুঃখ শশাকের ব্যথা,
ভুলিয়া যাও বিপদ আপদের কথা, উৎসবের আনন্দধারায়
আমাদের সকল ব্যথা সকল যন্ত্রণা ধৌত করিবার জন্য গুগবান

পয়ং উপস্থিত। ভগবানের সঙ্গে মানুষের ধনিষ্টতম যােগ।
যে অপরাজিত পরমপুরুষের শক্তিবলে আমাদের আত্মা
ত্রিভুবনবিজয়ের শক্তি ধারণ করে তিনিই আহ্বান করিয়া
বলিতেছেন জ্ঞানে বড় হও, ধৰ্ম্মে বড় হও, কৰ্ম্ম বড় হও”।
আপনাকে পরীক্ষা কর। আপনাকে পরীক্ষা করিয়া
দেখিতে হইবে ধৰ্ম সাধনের জন্য, পরমাত্মার সহিত আ খার
যোগ সাধনের উদ্দেশ্যে স্বীকার করিতে হইবে তাহার প্রভাব।
ভক্তের সহিত কণ্ঠ মিলাইয়া গাইতে হইবে-
সবার মাঝারে তােমারে স্বীকার করিব হে।
সবার মাঝায়ে তােমারে হৃদয়ে বরি হে।
ঠাকুরের পৌরােহিত্য সার্থক হােক। তাহার প্রার্থনা স্পর্শ
করুক হৃদয়ে হৃদয়ে। পরিচারিকা-বৈশাখ ১৩৩০।

-

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shanti

Author
Thakur,khitindranath
Title
Shanti
File name
Shanti
Text
OCR done
Published
2009/12/4
Publisher
Ranagopal Chakraborty,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
182
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Thakur,Khitindranath
DLI number
513256
Barcode
4990010020252.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
dQ1YimrjFV0
Download PDF

Shanti