Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Antaral
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
অন্তরাল শ্রীহৃষিকেশ বসু
প্রকাশক–শ্রীকাকাতুয়া বসু
জ্যোতিষ-গবেষণা ভবন,
১নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা
দাম এক টাকা
প্রিন্টার গােবর্ধন মণ্ডল
আলেজান্দ্রা প্রিন্টিং ওয়ার্কস
২, কলেজ ষ্ট্রীট, কলিকাতা
১৩১।
উৎসর্গ-পত্র
যে মধুমাসে ফুলকলির সাথে মানবচিত্তও জেগে ওঠে,
সেই মধুমাসের বসন্ত-উৎসবে,
পরিপূর্ণ-সৌন্দর্যের লীলাভূমি মানব-জীবনের পুষ্পেদ্যানে,
যে শাশ্বত-পুরুষ তাঁর বিলাসিনী প্রকৃতির সহিত মিলিত হন
যড়ৈশ্বর্যময় রাজবেশে,
এবং
যে বন্দিনী চিত্তবধু
এই সৌন্দর্য্যের সমারােহ হতে বঞ্চিত হয়ে,
নিতান্ত অন্তরালে বসে
মাত্র চাপাগাছের ফাক দিয়ে,
ক্ষণিকের জন্য,
এই উৎসবের আনন্দের সহিত
বিশ্বের কুটিলারাণীর বাহবাধা-
জীবিতেশ্বরকে,
রাজ-রাজেশ্বরকে
দেখে নিচ্ছেন,
সেই
অসূৰ্য্যম্পশ্যা অন্তরালবাসিনী আমার চিত্তবধূকে
আমার এই অন্তরাল’খানি
বহুমানে
নিবেদন কচ্ছি ।
No text on this page.
উপহার
No text on this page.
সুচীপত্র পৃষ্ঠা ১। অন্তরাল ১ ০ ০ ০ ২। স্বপ্ন-বাসবদত্তা ••• ••• ৩। মান ১৩ ১৮ ২০ ৪। ফিরে-পাওয়া, ৫। অচীপুরীর যাত্রা ৬। নেমেছে আষাঢ় ।। মুক্তি ৮। দারিদ্র্য ৩৩ ••• ০০০ ••• ৩৯ ৪২ ৫০ ০ ০ unt ১০। প্রার্থনা ১১। কাব্য-লক্ষ্মী ১২। শ্রীরাধা ০৩। ••• ০০০ ৩২ ১৩। সন্ধান ০ ০ ০ ১৪। সুন্দরের পূজা ৮ అని
No text on this page.
অন্তরাল
আজ মধু উৎসব,
প্রাণের মহােৎসব।
ঝুমুর ঝুমুর,
ঝুমুর ঝুমুর,
উঠছে কলরব,
প্রাণের রব।
রত্নপুরের মেয়ে,
আমি মেয়ে ।
প্রশান্ত ঐ সাগরতলে
ছিলাম মুক্তি চেয়ে,
রূপে ছেয়ে।
কেমন করে জানিনা গাে,
কেমন করে।
আলে রাজার অন্তঃপুরে
চুরি করে।
অন্তরাল
জেগে উঠে দেখি স্বপন,
নয়ন আমার কচ্ছে ভ্রমণ,
পরাণে মাের উঠছে তপন
তরুণ তন্দ্রা লাগি’,
অরুণ-বৈরাগী।
সখী মুখে শুনি রাজার কথা,
কান্তি তাহার শুভ্র অগ্রাজিতা,
নয়নে তার ফুলের ধনু আঁকা,
চাউনি বাঁকা বাঁকা ;
অধরখানি,
প্রাণ-নিছানী,
আরও,
মধুর চাকা।
হায়রে আমার,
পরাণখানি ফাকা,
কেবল ফাকা ।
চাপা ফুলের পরশ-রাঙা কপােল,
তাতে গােলাপ দিচ্ছে দোদুল দোল;
চন্দ্ৰলতায় বাহুযুগল ধবল,
পরাণে মাের উঠছে উতল্ রােল।
তাঁহার সনে মাের পরিণয় ;
নয়ক’ তাহা নয় আজি নয়।
ছিছি ;
প্রাণের মুলে উঠছে
মিছি মিছি।
অন্তরাল
এই প্রাসাদের ঐ যে মহারাণী,
কঠোর তাহার শাসনখানি মানি।
তবু আজি হব যে সন্ধানী।
কচ্ছে কাণাকাণি,
প্রাণ কচ্ছে কাণাকাণি ।
দোদুল দুল !
দোদুল দুল।
দোদুল দুল।
দোলন-চাঁপা ফুল!
ওরে,
দোলন-চাপা ফুল!
ওরে, আম্রশাখে বসি’ কে ঐ
কচ্ছে কুহু ধ্বনি,
কুহু ধ্বনি?
ওরে, ফুলের বনে কেরে আমার গুণী,
ফুল-করবীর সেতারখানি
বাজায় রে গুণগুণি,
গুণগুণি ?
ভােরা নাগর ।
ওগাে,
রসের সাগর।
আচ্ছা, ওরে, আচ্ছা,
বহুৎ আচ্ছা।
নিধু বনের বাচ্চা,
তুমি বাচ্চা !
অন্তরাল প্রজাপতি, প্রজাপতি। নিধুবনের আজ আরতি, তাই রে পাতি পাতি, চলেছিস, ঢালি’ তােদের রতি ; চলেছি, জালি তােদর প্রতি। ওরে, ধরি, ধরি, দখণে বায়! রাঙা পায়। তােমার ঐ পীতবাস, চূৰ্ণফুলের রাশ, পীতবাস ! নহে, দুয়ার আমার বন্ধ। অন্ধ নহে, নয়ন আমার অন্ধ! অতিথি। ওগাে, আজ, ভরাচঁাদের তিথি। দাঁড়াও ক্ষণিক, নেয় তারা নি মহৎ লীলার ছন্দ, নহে বন্ধ! দলে দলে যাচ্ছে কারা, আপন-হারা, ঐ বউরা ?
অন্তরাল
সুন্দরি লাে, সুন্দরি,
আজকে বুঝি নয়ক’ তােদের
মন্ ভারী।
ফুলঝুরি! রে, ফুলঝুরি !
সকল প্রাণের তিয়াসে নাই
হাত চুরি!
কোথায় সবে যাচ্ছ নেচে নেচে,
রূপ প্রসাধন আপন সাধে বেছে ?
কোথায় রে সে মেলা ?
প্রাণের খেলা ?
কাটুল যে মাের বেলা,
সকল বেলা।
ও কিসের জয়ধ্বনি?
ও কিসের রণি রণি ?
কিসের ঐ কলকোলাহল,
ও কিসের ধ্বনি?
ঐ চাপাগাছের ফাকে,
ঐ কি দেখা যায়, কাকে ?
ঐ কি রাজা ?
ঐ,
ঐ কি রাজা?
ঐ কি সকল বনকুসুমের গন্ধরাজের রাজা ?
ওকি, গােলাপরাজের রাজা?
ওকি, পারিজাতের রাজা ?
শুধু রাজা,
শুধু রাজা,
শুধু রাজা।
অন্তরাল
ও চাপা, তুই দেনা খুলে দ্বার,
তুই পরুনা ফুলের হার।
পরুনা রে তুই,
শুভ্ৰহাসি দোয়ােকা চম্পার।
তুই, দেনা খুলে দ্বার।
ঐ যে মহারাণী ?
ঐ বুঝি সাবধানী ?
ওরি তরে আমার বুঝি
সকল দুঃখগ্লানি।
হায়রে আমার,
হায়রে ভাগ্যখানি।
তুই কাণী,
তুই কাণী !
মহারাজের বাহুর তলে রহি’,
রাঙা তাহার চরণখানি বহি
অশােক বুকে দিচ্ছে রে ঘাত,
কচ্ছে চরণ-পাত!
হুররে!
হাছে অশােক, নাই কারাে শােক,
ছুটছে মলয় বাত,
দথুণে বাহ্!
মহারাজের ঐ যে প্রিয় রাণী,
বাহু-বাঁধা নিতান্ত সাবধানী,
বকুলমূলে দিচ্ছে রে কুলকুলি,
অন্তরাল
আজ হােলি, আজ হােলি,
ফুটছে বকুলকলি !
গাছের ডালে, তালে তালে,
ডাকছে রে বুশুলি,
বুলবুলি।
ঐ যে আঁধার এল,
আঁধার এল,
ঐ ত ওরা গেল,
ফিরে গেল।
হেথা আমি চাপাতলায়
সারারাতি থাকি,
মােহন মুত্তি হৃদয়-পটে
আঁকি বসি আঁকি !
স্বপ্ন-বাসবদত্তা
প্রিয়! ওগাে, প্রিয়া।
সােনার কাঠির পরশ লভি’ মঞ্জরিছে হিয়া
তােমার হিয়া।
ভােরের আলােক চুমল তােমার আঁখি,
লতার ছোঁয়ায় জাগল নবীন্ শাখী,
মায়ার হরিণ বক্ষে তােমার থাকি,
ডাল বারে বারে
“বউ কথা কও* “বউ কথা কও” লক্ষণীতির তারে
ডাল বারে বারে।
আকাশ-বেলায় গাইল আকাশপাখী,
নবীন ঊষায় দেহখানি তার ঢাকি,
মনের পাতায় মানসকুমার আঁকি,
অরূপ চিত্রখানি-
নিখিলবনে কবির কথা আপন মনে মানি’
অরূপ চিত্ৰখানি।
তমাল বীথির আলাের মায়ায় রাণি।
পরাণ আমার শুন্ল তােমার বাণী,
চখের ভাষায় ফুলের পরাগ আনি’
অর্ঘ্য দিল পায়-
ভুবনখানি তােমায় ভরি রসের গীতিকায়
অর্ঘ্য দিল পায় !
অন্তরাল প্রেমের আলােয় পূর্ণ তােমার হৃদয়, মিলন-ছোঁয়ায় রক্ত কুসুমনিলয়, পরাণ-তিয়াস ডুকরে কেঁদে কয়, তবু-নাহি পাই- মনের পাখায় হৃদয়তীরে নিত্য আমি ধাই, তবু-নাহি পাই। যায়রে ভেসে কলসখানি জলস্রোতে, মনের গাঙে বান ডেকেছে সন্ধ্যারাতে, অলকদাম দুলিয়ে দিয়ে গন্ধবাতে সন্ধ্যা নেমে আসে সকল বনবীথির মুখে কাজলখানি হাসে সন্ধ্যা নেমে আসে। সন্ধ্যা নেমে আসে সই, সন্ধ্যা নেমে আসে, মনােপথে নিত্যগুনি শিখানি ভাসে, ঘরের কথা সেই তরাসে কভু নাহি আসে, বিজন ভরা পথে-- সকল ভুবন বিদায় সে নেয় যেন কাহার সাথে বিজন ভরা পথে! দুলি মােরা ঝরাফুলের সেই দোলাতে, গেয়ে গান নিজন ভূমির একতারাতে, উড়িয়ে দিয়ে ফুলের রেণু খুনে বাতে, ঝুলন মহােৎসবে তােমার আমার পাশে লাে সই, কেহ নাহি রবে ঝুলন মহােৎসবে। এ সে ভুবন যেথায় তুমিআমি রব, রাণী তুমি, তােমার খেলার রাজা হব,
অন্তরাল
গানের কথা সুর মিলিয়ে গেয়ে যাব
তােমার কানে কানে
সপ্ত সাগর ঢেউ খেলিয়ে দুলবে প্রাণে প্রাণে
তােমার কানে কানে।
মুখর ভুবন নয়ত মোদের তরে,
উচ্চ আশা হুঙ্কারিয়া বহ্নিসম ঝরে,
পুড়িয়ে দে যায় মনের গােলাপ ওরে,
মিথ্যে ফুলেল বা
চললো মােরা যাই পেরিয়ে মিথ্যে ভুবন খান
মিথ্যে ফুলেল বান্।
এই ভুবনের দেনা পাওনায় রাণি-
তােমার হাতে বাজে লাে, বলয়শিঞ্জিনী,
ঘােটা দিয়ে থাকে প্রাণ—জানি জানি,
হায়,-অবগুণ্ঠনবতি
পথের মাঝে কেঁদে মরে পরাণ আমার সতি,
হায়,অবগুণ্ঠনবতি।
দশরথের মত মাের জনক কোথা ?
কই মন্থরা? রাজা হবার সে বারতা ?
বলনা গাে, কেকয়ীরাণী বরের কথা,
লগ্ন যে যায় চলি’
পিতা আমার মরুক কেঁদে, “কেমনে তারে বলি?
লগ্ন যে যায় চলি।
খুলে ফেল সব আভরণ ওগাে সীতা,
বুকে ধরি লহ তােমার প্রেমের গীতা,
অন্তরাল বাকল-বসন পরি’ চল পতিব্রতা, আজ্ঞা বনবাস- কুসুমবনে ব্যথার গীতি উঠছে বারমাস আজ্ঞা বনবাস। থাকবাে মােরা বনে বনে পাতার ঘরে, কতই না ফল পাবাে সেথা থরে থরে, অশােক বকুল মঞ্জরিত ফুলহারে সাজিয়ে দেবে তােমা গিরিনদীর সােনার তীরে খেলবে ওগাে মা, সাজিয়ে দেবে তােমা। । । মৃগশিশু চাহনিচোর আস্বে ধীরে, তালে তালে নাচবে শিখী পেখম ধরে, বেণুর বনে বাজবে বাঁশি ঝুরে ঝুরে, তােমার হাতের তালে-- পােসরে খেলবে রে প্রাণ, মরালিকার দলে তােমার হাতের তালে। আমার সনে খেলতে খেলা অভিমানে, হারিয়ে যদি যাও তুমি ঐ ফুল্লবনে, অশ্রু আমার ঝরবে অতি সঙ্গোপনে, তােমার আঁচল লাগি’- মানস সরের হংসগীতি তখন লব মাগি তােমার আঁচল লাগি। ফুলেরবনে ফুলশয়নে ফুল্লপ্রাণে, ফুলকবিতার ছন্দখানি গাব গানে,
অন্তরাল
ফুলের সুরে রাঙিয়ে তুলি ঐ বিমানে,
ধব মােরা পাড়ি
ফুলের ভেলায় ফুলসাগরে ধরা দিব ডারি
ধব মােরা পাড়ি।
প্রিয়া, ওগাে প্রিয়া ।
সােনার কাঠির পরশ লভি মজৱিছে হিয়া
তােমার হিয়া ।।
यांन
ময়ুরপিচ্ছশিখাটি বাঁকায়ে
বসেছে ধীরে,
দিনী রাতির নিতি প্রহরে
হরষ-তীরে।
দখিণা পবনে সােনালীগগনে
উঠেছে তারা,
কাননে কাননে অশােক বকুল
পাগল-পার!
ঝুমুর ঝুমুর নুপুর বাজিছে
গগন-তলে,
পিয়া পিয়া পিয়া গাহিছে পাপিয়া
অমিয়া বােলে!
ভরিয়া গাগরী দখিণাসুরছি
এনেছে বালা,
সঁঝের প্রহরে ডাহুক কহিল,
এসেছে কালা।
সাজ সাজ রব পড়িল গােকুলে
নাহিক ক্ষণ,
যতেক যুবতী সাজিল সাধিয়া
আপন মন।
অন্তরাল
ফুলের গােপিনী করে কোলাকুলি
দুজন মিলে,
প্রেমিক নাগর হাসে চাহি’ চাহি
কৌতুহলে।
যত কহে কথা রসের বারতা
ফুলের কানে,
ফিরে ফিরে চায় পথের মাঝারে
কাহার টানে।
কি যেন কি ভাবি’ লইল তুলিয়া
মােহন বাঁশি,
বাজাল’ বসিয়া প্রবাহে প্রবাহে
অমিয়-রাশি।
*সবে আছ মাের, একজন শুধু
নাহিক’ হেথা,
তাই গুমরিছে হৃদয়ে হৃদয়ে
কেবলি ব্যথা।
সঁঝের সায়রে এসেছি বসিয়া
বীথিকা-দ্বারে,
কেবল আমার পরাণ ভরিয়া
রেখেছি তারে।”
চাদেরে পাঠাল দূতী সাজাইয়া
প্রেয়সী ঘরে,
আসিল ফিরিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া-
“নাহি সে ওরে।
১৪
অন্তরাল
ছুটিল তড়িৎ মেঘবুক ছাড়ি,
“যাইব আমি,
আসিল ফিরিয়া, মরেছে সেজন,
নাহি ত স্বামি।”
পাঠাল তটিনী কলকলগীতি,
মুখরা বলে,
সেও ফিরি’ এল, উজান বহিল,
*কে তারে ছলে।
ফুলগরবিনী ধাইল দখিনা
মলয় গানে,
সে আসি কহিল, “বাজে নাক ব্যথা
তাহার প্রাণে।
যত ছিল সখী নৃত্য-কুশলী
রঙ্গধামে,
সকলে ধাইল, সকলে ফিরিল
নিভৃত যামে।
এমনি করিয়া মান করে আমি
বসে আছি,
এমনি নিতুই দেউলে আমার
নিয়ত সাজি'।
এমনি শতেক গােপিনী আসিছে, .
কহিছে কথা,
এমনি সকলে ফিরিয়া ফিরিয়া
পেতেছে ব্যথা।
অন্তরাল
এমনি নিভৃতে মাধবীতলায়
বাজিছে বাঁশি,
রাধা রাধা বলে পুলকগাঙে
ভাসিছে শশী।
ফেলেছি মুছিয়া হিয়াখানিভরা
ফুলের বায়,
ফেলেছি মুছিয়া কস্তুরী চুয়া
আলতা পায়।
মুছেচি কাজর, আঁখির গােচর
কঁচলি খানি,
নীলের উড়নী ফেলেছি সে দূরে
ত্যজিব জানি,
--
দূর করে দিছি নীল শাড়ী মোর
পরাণসাথে,
কত নব জনা নব সখীসমা
ধরেছি মাথে।
এরা সবে মিলি দিয়াছে যে মান
আপন করি,
তাই বেঁচে আছে আছে দিন গনি
হৃদয় ভরি।
যাও তুমি শ্যাম বাজাও বাঁশরী
বদন ভরি,
মাধবীতলায় সখী সংসদে
বাজাও হরি।
অন্তরাল
আমি আছি আর আছে মাের মান
রাজার ঘরে,
করি নমস্কার, যাও আজি ঘরে,
দেখি পরে।
মনের কথাটি কেহ ত’ জানে না,
আমি জানি ;
তােমার বিহনে নিখিল ভুবন
আঁধার মানি।
তব প্রেম লাগি হয়েছি আজিকে
যােগিনী-পারা;
তােমার বিরহে'নীল নভতলে
মানের তারা।
হােক যত মান যত মহীয়ান
যতেক হিম,
তোমারে হেরিলে বাজিবে না প্রাণে
শতেক বীণ?
যদি কোনদিন এস’ নারীবেশে,
আসিব আমি
তােমারে ধরিয়া হৃদয় জুড়াব,
জানিও স্বামি ।
৩
৩
ফিরে পাওয়া
আজকে আমি হারিয়ে গেছি সন্ধ্যাবেলায় এইখানে,
এঘর ওঘর খুজছি পাতি পাতি ;
দুপুর রােদে মাথার ধারে রাখমু তারে সাবধানে,
এনিধারা ঘুমিয়ে থাকি নিতি।
দেছি যারে ডাক দিয়ে কই অনুরােধের সুর তুলি,
বলতে পার, হারিয়ে গেছি কোথা?
আমার সেধন নয়নমণি সূর্যদেবের বুলবুলি,
ক্রৌঞ্চবধূর বুকভরা সে ব্যথা।
আমায় ছাড়া জানেনা সে আপন বলি’ এই ভবে,
আমার ব্যথার কাজল যে তার চখে ;
আমার বুকে জ্যোছনা বেয়ে চন্দ্রতারার বৈভবে
নাল আসি’ নিত্য-পাওয়ার সখে।
ওরে, জানি তােরা কেউ ?
অন্ধকারের অরুন্ধতী কোথায় গেছে নামি,
আমায় ফেলে, আমায় পিছু রেখে?
আল হেসে খােকা যে মোের বাজিয়ে তার ঝুনঝুনি,
কইল ডেকে, জানিনেত’ বাবা,
কনকচাপা দুলালী মাের কানের কাছে গুনগুনি
কইল সে যে, জান্ত কবে কেবা ?
১৮
অন্তরাল গৃহিণী তার ঘােটাখানি সীথির মুলে দেয় তুলি, আমার পানে সােহাগভরে চাহি, মুখের হাসি জাগিয়ে তুলি অধর ভরি’ নেয় ভুলি’, কইল বালা, আমার ঘরে নাহি। খেলনা দিয়ে থােকার হাতে জড়িয়ে তার বুকুখানি দেখনু সেথা চমক লাগে কিনা ? খুকীর বেণী দুলিয়ে দিতে, চাদের পিছু মেঘখানি, দেখুনু সেথা পরশ-রাঙা মীনা। নিশুত্ রাতে প্রিয়ার সাথে ঝুলন্-ঝােলা স্পর্শ-সুখ- মরণ-নদী মিলন দিয়া ঢাকি দেখনু সেথা সবার মাঝে আমার আমির জ্বলছে মুখ, মধুরতর বাঁশির স্বরে থাকি। অনি ওগাে, বুকের বীণা মিশ্রগীতির সুর ভরি’ উঠল গেয়ে বুকের কূলে কূলে, নূতন করে পেয়েছি তাই, হৃদয় ওঠে মর্মরি, উছ হাসি উঠছে ফুলে ফুলে। ওরে শুনি, শুনিস্ তােরা সবে- আমার সে ধন পেয়েছি রে অগাধ সাগরতলে— মুক্তা-দ্বীপে প্রদীপ যেথা জ্বলে !
অচী পুরীর যাত্রা
বঁধন, ওরে, বাঁধন।
পাষাণ-প্রাচীর-কারাগার এই,
ছায়ার অবতরণ।
কেবল, ছায়ার অবতরণ।
নাই গবাক্ষ,
নাইরে অক্ষ,
নাই আলো-মঞ্জীর,
নাহিক বাতাস,
কেবল হুতাশ,
নাই পথ মুক্তির।
হাসিছে ও
কে রে
অট্টহাসি ?
অবিশ্বাসী ?
কেরে তুই ?
ছায়া কি মায়া?
অথবা
আমার ভ্রম!
প্রতি শিরামাঝে নাচিছে আলিকে
প্রলয়-বিষাণ-ত্রুম।
অন্তরাল
হুঙ্কার! ঐ, হুঙ্কার।
প্রলয়ঙ্কার।
সংহার । ঐ, সংহার।
প্রলয়সংহার!
ঐ যে বাতাসে ঝিলিম ঝলিছে,
গুরু গুরু গুরু মেঘ গরজিছে,
শশা শাে শো সাগর হানিছে-
প্রলয়ভেরীর করতাল!
করতাল।
ঐ,
করতাল!
কপিছে হের, কাঁপিছে ভূধর
কঁপিছে।
ঐ,
কঁপিছে।
প্লাবন।
প্লাবন।
জল প্লাবন!
ঐ,
আসিছে!
ঐ,
আসিছে।
ভেঙেছে, ভেঙেছে দ্বার,
এসেছে
পূৰ্বাসার,
পূৰ্বাসার।
অন্তরাল দূরে দুরে- চমকি চমকি’ চমকি’ চমকি’ চমকি, পুলকি’ নাচিয়া যায়। নাচিয়া যায় । নাচিয়া যায়। ঐ- নীহারিকা ধূমকেতু ধূমকেতু, ধূমকেতু। হাঃ হাঃ সেতু ? ওরে, এ, সেতু! সাগর, সাগর, উছ সাগর। বন্ধন-হী পাগল, ওরে পাগল!
অন্তরাল
সবুজ রেখা
মায়ার রেখা!
উথলি উথলি উঠিছে
মায়ার মেঘ,
কৃষ্ণ মেঘ।
পাহাড় ?
পাহাড়!
ঘুরিয়া ঘুরিয়া শ্যামল চক্রে
উঠেছে দি-বাহার,
শ্যামল পাহাড়।
মহুয়ার ঐ গাছ দেখা যায়
কালো পাথরের ধারে,
সাল শিমুলে শিস দিয়ে ধায়
নীল পাখী যেন, ওরে।
স্বচ্ছ নিঝরিণী ।
ঝিণিকি, ঝিণিকি,
রিণিকি, রিণিকি,
ছুটেছে
গরবিনী,
মায়াবিনী ।
ঐ যে পুষ্প-বিতান!
ঐ যে আলাের গান!
পাতায় পাতায় লতায় লতায়
দুলছে সবুজ প্রাণ!
শ্যামল প্রাণ!
অন্তরাল মাধবীলতার বিতানে পুষ্প-বিতানে, ছিন্নপত্র-বিতানে পত্ৰ-বিতানে, রয়েছে জন্মভূমি! আমার শ্যামল জন্মভূমি। ঐ- উপল-পাথর-নীড়ে, মণিমাণিক্য ঘিরে, রয়েছে, আহা, রয়েছে সকল ঘিরে, আমার সূৰ্য্যচন্দ্র বাঃ বাঃ রে! ঐ কালাে পাথরের দেশে, যেথায় চলছে ঝর্ণা বেয়ে, ঐ নীল বনানীর শেষে আলােক ফেলছে কানন ছেয়ে,- সেথায়- ওগাে, সেথায়, বাজায় বাঁশি। ২৪ অন্তরাল কেরে ? আমার-- মােহনসুরের বাঁশি। আমার কালারাতের বাঁশি। আমার মদনমােহন বাঁশি। কেবল বাঁশি । আমি যাব, আমি যাব, ওরা ডাকছে মােরে। আমি যাব, আমি যাব, ওদের রাখব ধরে! ওদের মুখের বাঁশি টেনে, ওদের মুখের হাসি এনে, ওদের সাথে ঐ বিপিনে আমি- করব রংয়ের খেলা, কেবল খেলা। ওরে, দুর্দাম, ওরে, দুর্দাম। ওরে, দুর্দাম। ওরে, ওরে, দুর্দাম! অন্ধকারে কে ভেঙেছে বশি ? খেলার বাঁশি, খেলার বাঁশি। ওরে, কে ? কেরে ? আত্মারাম । 3 ২৫
নেমেছে আষাঢ়
ব্ৰজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
নয়নে লেগেছে পরিমল ।
ওরে, গগনে ছুটেছে কলকল !!
ফেলে দিয়ে আয় আপন গৃহের
ফেলে দিয়ে আয় সব কাজ,
আধেক্ পূজার পূজারী কঁহু,
বুকে বয়ে যাক্ সব বাজ!
আভীর-বালিকা দুধের গাগরী
ঢেলে দেবে দিক্ সলিল-উপরি,
তনুখানি তার নিঙারি’ নিঙারি’
পুলকে পুলকে ভেঙে যাক—
যাহা পড়ে আছে পড়ে থাক্ !
রন্ধনশালে যদি বরনারী
বাড়াইয়া থাকে তার হাত,
তার ভাঙাগানে করুকু সেজন
পরাণ ভরিয়া প্রণিপাত ।
ওরে, ব্ৰজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
পরাণ-সিন্ধু উতরােল
মনে আজি নাহি কোন গােল।
অন্তরাল
দিয়া থাকে যদি স্তনের বোঁটাটি
শিশুর অধরে করি’ পরিপাটি,
ফেলে দিক দূরে সব স্নেহকাঠি,
ছুটে ছুটে যাক্, এল সঁজ,
দূর করে দাও সব কাজ ।
যেথায় যে আছ, এস’ ছুটে এস’,
সাজ সাজ আর নাহি খন,
যমুনা-সিনান-সময় এসেছে,
ছেড়ে এস’ সবে গৃহকোণ।
নীল শাড়ী দিয়া ঢাক’ তনুলতা,
পায়ে পায়ে পর রঙীন্ আলতা,
চখে অঞ্জন, খঞ্জন যথা,
চরণে নূপুর-শিঞ্জন,
পরকীয়মনােরঞ্জন।
হাতের কাকণ রুণুঝুনু রবে
বাজে যেন সব আভরণ,
কাণের দোদুল দোলন-চাপায়
নাচে যেন হিয়া ঘনঘন্।
কটিবাসে কভু পরােনা নিচোল,
ও রাঙা চরণে প’রােনা কাজল,
অধরের রাগ পরাণ-উতল,-
ঘটে নাহি যেন পরমাদ,
মিটে যাবে তব সব সাধ!
মেখলা-শিকল কণ্ঠে পরােনা,
নিতমে পরােনা ফুলহার,
অন্তরাল
মৃণালে টেকনা ও রাঙা কপােল,
বক্ষে বসন চম্পার।
ওরে, ব্ৰজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
বলাকা উড়িছে থরেথর ;
বকুলে কোকিল করে কলরব,
কাননে জাগিছে মর্মর।
শুন্য গাগরী তুলি’ নাও কঁাখে,
পূজা ভরি’ দাও বনতরুশাখে,
বেতসীরে কহ, যেন কথা রাখে,
চুমু আঁকি’ মুখে কহ, ভাই।
ফিরে আসি’ কব, শুন রাই।
নাচুকু ময়ূরী পাখা দুটি মেলি,
সারিকারে কি কহ, প্রাণ।
যমুনার জলে আজিকে নিশীথে
ভাসায়ে আসিব সব মান।
আর নহে সই, চল এবে চল,
এনেছে দখিণা সেই পরিমল,
উঠে তটে তটে সেই কলকল,
বাজে বাজে
দুরে
নূপুরে লুটিছে হাসিরে।
বশি রে!
নীলনবঘনে কে এল কে এল,
পীতবাসে বসি ক্ষণিকা,
বলাকার শাক বাজিল বাজিল,
মেঘে মেঘে পদরণিকা।
২৮
অন্তরাল
যমুনার পথে ফুটেছে মুকুল,
ফুলে ফুলে ফেরে লােল অলিকুল,
গন্ধ ঢালিছে শিরীষ বকুল,
কে এল, কে এল বনমা,
বহুদিন পরে এল সৰু!
ঢাল ঢাল মেঘ অঝাের শ্রাবণ,
ভেসে ভেসে যা সববন,
গাঁথ মালা গাঁথ চমকে চমকে,
মেঘে মেঘে আজি হক রণ !
মনের তমালে লেগেছে পূবালী,
শিহরিছে তাল, সহকারগুলি,
ভাদর ভাতিছে, কঁপিছে চামেলী,
শিরামাঝে বহে রাঙা জল,
দূরে দূরে যায় মনতল।
ওরে, ব্রজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
নেমেছে ঘিরিয়া সববন,
মহাসন্ধ্যার যােগাসন।
আন্ আন্ সই, সহকার আন্,
বাঁশী বুঝি এলো এলাে রে,
স্তনদুটি ভরি’ আন্ জল আন্,
বান বুঝি দেখা দিল রে !
ওরে, ব্ৰজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
নয়নে লেগেছে পরিমল,
ওরে, গগনে ছুটেছে কলকল।
অন্তরাল
মুখখানি তুই দেখেছি ওরে,
দেখেছি সেযে রাঙা রে,
দেখেছি তারে মনের আরশে
যেথা নামে রবিধারা রে।
লহ লহ দেখি জীবনে এবার,
শুভ’খন নাহি আসে বার বার,
আপনারে তুই চিনেনে কঁাহার
ভাব-ভরা তুই ভাষা রে,
দেখেছি সেযে রাঙা রে।
তােল সই, তােল আঁচর ভরিয়া
তােল মনােবনে ফুলদল,
তােল গেহে গেহে গাহন করিয়া
তােল, যত যত পরিমল ।
ওরে, ব্ৰজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
নয়নে লেগেছে পরিমল ;
ওরে, গগনে ছুটেছে কলকল ।
ভেবেনে মনে ভেবেনে সখি,
কেমনে সপিবি মনপ্রাণ।
বুকে বুকূ রাখি’ অধরে অধর
কেমনে ঝুরিবে সব ভা।
কত কাল ধরে চলেছিস বেয়ে,
কত নদ-নদী জনপদ ছেয়ে,
মনের কান্না দিনে দিনে কয়ে,
দিশি দিশি গাহি তার গান,
ভেঙে যাবে আজ সব ভাণ।
অন্তরাল
চিরদিন তােরা চলেছিস নামি’
নীলিমা-গােমুখী-প্রবাহে,
ব’শেখী আকাশ তােরে ঠেলি দেয়,
হেথা নয় হেথা, সখা হে!
যার ঘরে যাও, সে দেয় ফিরায়ে,
অতিথির মান গিয়াছে হারায়ে,
অমানিশীথের কপােত নাচায়ে
গৃহ হতে বনে ধেয়ে যাও,
আরও দূর হতে দূরে যাও।
নাই ধারা ওরে, নাই ধারা আর,
নাই ধারা ভরা সাগরে,
পথ নাই হেথা, কুল নাই হেথা,
নাই বনরেখা দুয়ারে !
ফিরে চল্ তােরা, ফিরে চল সখি,
গতিগীতিকথা আছে আছে বাকী,
এখনাে তমালে গাহে কত পাখী,
ঝুলন্ আসিছে ধেয়ে চল্।
চল সবে তােরা গৃহে চল!
ওরে, প্রতীচীর রবি হেলিয়াছে আজি
হেলিয়াছে পূর্ব গগনে,
ব’শেখী বাতাস শিখিয়াছে আজি
মলয়ার গীতিহরণে।
অন্তরাল
শিখিয়াছে মরু ফোটাতে কুসুম,
পাহাড়ে জেগেছে রাঙা কুঙ্কুম,
নদীর ললাটে আঁকিয়াছে ‘চুম
নীল-বনরেখা-দুয়ারী,
এসেছে এসেছে পিয়ারী।
ওরে, ব্রজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
নয়নে লেগেছে পরিমল,
ওরে, গগনে ছুটেছে কলকল !
দোলপূর্ণিমা লেগেছে আজিকে,
লেগেছে শ্রীরাসলীলা,
দোলন-চাপায় দুলিয়া দুলিয়া
নিয়ে যা তােরা খেলা।
যেথায় যে আছ এস ছুটে এস,
সাজ সাজ আর নাহি খন,
যমুনা-সিনান-সময় এসেছে,
ছেড়ে এস’ সবে গৃহকোণ;
ওরে, ব্ৰজের দুয়ারে নেমেছে আষাঢ়,
নয়নে লেগেছে পরিমল,
গগনে ছুটেছে কলকল |
মুক্তি
আজিকে নিশীথে নির্জনে গৃহে
তােনারে কহিব কানে ;
যে গান আমার মৰ্ম্মের মাঝে
মূরছে খ’নে খ’নে।
কেহ হাসিবে, ঘৃণায় ফিরিবে,
কেহ বা পাড়িবে গালি,
কেহ বা কহিবে, সভ্য সমাজে
পরায়েছ’ মুখে কালী।
নূতন সাধনা, ধ্যানের আলােক
যদি বা পেয়েছি কভু,
হােক লাঞ্ছনা, হােক্ গঞ্জনা,
হারাতে পারিনা তবু।
তুমি মাের প্রিয়া হরিণ-নয়না,
মধুরিমা ঝরে গায়,
তােমার তনুর তণিমা বাহিয়া
মাের মন কারে চায় ?
নারী তুমি ধনি। অনন্ত-লাবণী,
যৌবনে আছ হারা,
নর আমি রাণি, পিপাসা-সাগর
করিছে পাগল-পারা।
অন্তরাল
দ্বারে দ্বারে যবে পড়েলে আগল,
নিশীথ বাজায় বাঁশি,
তােমার দেহের মিলন-দোলায়
নিতি আমি হেসে আসি।
কোথা থাকে তব বেণীর বাঁধন,
কোথা থাকে কটিবাস,
লাজখানি তব কোথা, সাবধানি,
নগ্ন কেন বা আশ ?
দুরু দুরু দুরু কাপে কেন হিয়া,
কেন ধরি’ রাখ বক্ষে ?
জড়ায়ে জড়ায়ে কেন বা আমারে
চুমু আঁকি দাও চক্ষে ?
অধরে অধর নয়নে নয়ন
বয়ানে বয়ান রাখি,
কেন বা আমারে নিগড়িত করি’
ধেয়ে যাও কোথা পাখী ?
দেহের মিলনে এমনি কাঙাল,
এমনি গাে ভিখারিণী,
এমনি নিবিড় বাহুর বাঁধনে
এমনি গাে সাবধানী।
মাের তনু যদি না হত তােমার,
হত তােমার রাণি,
এমনি করিয়া হৃদয়ে হৃদয়ে
হইত কি কানাকানি ?
ভাবিতে পারাে কি সে শুভ সময়ে
মম দেহ তব দেই,
অন্তরাল
- -
অমনি নিবিড় বাহুর বাঁধনে
শকতি দিত বা কেহ ?
সে দেহের লাগি যতেক মিলন,
যতেক রসের ধারা,
ভাবিতে কি পারাে, ওগাে, সখি, ওগাে,
যে তুমি আত্মহারা।
তুমি এক, যথা আমিও একক,
নিশ্চিত এ ব্যবধান,
তােমায় আমায় এক হয়ে যাই,
নাই বাধা ওরে, প্রাণ।
আমিও পূর্ণ, তুমিও পূর্ণ,
পূর্ণ প্রাণের তিয়াস,
পূর্ণিমা তাই ভিন্ন দেহের,
পুরিল মনের আশ।
দেহ দিয়া দেহে মিলাইয়া যাই,
রহে না ত কিছু বাকী,
রহে না ত’ মাের দেহভাণ্ডারে
আপনার বলি রাখি।
এসােনা ফিরিয়া, এসােনা ফিরিয়া,
এখন আধেক্ বাকী,
দেহের গঙ্গা-যমুনা ঘুরিয়া
এসেছি প্রয়াগ রাখি।
কোথা বসি’ সখি! মিলে যাই মােরা,
মিলে যাই এক হয়ে,
কোথা সেই স্থান ? কই কই মােরে,
নিশি যায় মিছে বয়ে ।
অন্তরাল
নহে কি গাে, সে গাে, মানস-কমল,
চিত্ত-সরসী-জলে,
নহে সেথা সখি, পলে পলে আসি
ভ্রমর-বঁধুয়া দোলে?
মনে ওঠে পড়ে ভাঙে গড়ে গড়ে
পীরিতি-সাগর-ঢেউ,
নাহিক সেথায় বসিয়া হেরিবে
পৃথিবীতে আছে কেউ।
মন আসি মনে পড়িছে সেথায়,
যেন রে, গঙ্গাধারা,
আত্মা দুই জনা হয়ে আনা
আনন্দে হতেছে হারা।
সেথায় নহেক’ তুমি ওগাে, ধনি,
নহেক’ তােমার প্রিয়,
দুজনা মিলায়ে, দুজনা বিলায়ে
হয়ে আছি মােরা প্রেয়।
আকাশের পরে বিদ্যুতিকণা
যেমন হেরিছ তুমি,
সেই মত জেনো, এই গীতিকথা
বেদের জনমভূমি।
উপনিষদের ঋষি পেয়েছিল
আত্মার সন্ধান,
গহনে কাননে যুগ যুগ বসি
যােগাসনে পাতি কান।
কিবা কাজ বনে? কিবা জপে তপে?
কিবা যুগে যুগ ধরি?
৩
অন্তরাল
দেহের মিলনে পরপারে রাজে
মুক্তি, যুক্তি ডারি।
আমার সত্যের আদি অবতার
রাধিকা-প্রিয়তম,
শ্রীরাধাপেলবহিয়াপল্লবে
লিখেছিল, তারে নমঃ।
আসিলেন নামি স্বরগ হইতে,
জানিনা সে আছে কোথা ?
গােপিকারমণ সচূড়ামণি
কহিতে প্রেমের কথা।
ডাকিত সৈ বাঁশি যমুনায় আসি,
ওগাে, রাধা বিনােদিনি।
এস’ সখি, এস, এস গাে, রূপসি,
তব প্রেমে বাঁধা ধনি।
সেই বৃন্দাবনে বাঁশরীর অনে,
সেই সে কদমতলে,
সেই অভিসারে আপনারে হরি
রাধিকার করে তােলে।
সেই রাসলীলা, ঝুলন-ঝােলায়
সেই সে বঙ্কিম ঠাম,
বুকে বুক রাখি’, মুখে মুখ রাখি,
চুমে চুমি’ অবিরাম ;
সেই সে প্রিয়ার পদতলে পড়ি
আঁখির সলিলে ভাসি,
“ক্ষম মােরে রাধা, ক্ষন গাে, রূপসি,
জীবনের তুমি শশী।
৩৭
কত জলকেলি, কত সে বিহার,
কটিবাসচুরি কত,
কি কব তােমারে, হে মাের দয়িতা,
কত কথা শত শত।
পেয়েছিল রাধা কৃষ্ণ-পীরিতি,
পেয়েছিল রাধে কৃষ্ণ,
পেয়েছিল সেথা শতেক গােপিনী
সেই প্রেমমধু উষ্ণ।
তাতেও কৃষ্ণ হল না তৃপ্ত,
হ’ল না রাধিকা বালা,
শ্রীচৈতরূপে আসি’ গৌড়ধামে
গৌরাঙ হইল কালা।
দেহেরমিলন যাহা ছিল বাকী
বৃন্দাবনলীলামাঝে,
পূর্ণ করিয়া লইল তাহারে
কৃষ্ণ-রাধিকা-সাজে।
অন্তরে তার বিরাজে কৃষ্ণ,
বাহিরেতে রূপ রাখা,
পূর্ণিমা তাই কৃষ্ণলীলার
বৃন্দাবনে ছিল আধা ॥
৩৮
.
দারিদ্র্য
সৃষ্টির প্রথম মাটি আমারি এই শ্যামলিনী কায়া,
কোন্ ভুমা ব্যোম হতে পেয়েছে সে অরূপের ছায়া ?
কত রূপ, কত রস, কত গন্ধ, মলয়-পরশ,
সকল মিলিত গীতি সৃজিল এই পূর্ণিমা-হর
হরষ ।
এ তনুর মধ্যদেশে দেবদারুসারিবন দিয়া,
চলেছে অলকনন্দা হিমাচলপরশ লভিয়া।
সাহারার মরীচিকা দূর হতে দেখে শিহরিয়া-
সকল বনের ফুল, পুষ্পলাবী বালিকারে দিয়া
পাঠায়েছে কত অর্ঘ্য, চেতনার কত পরিণাম,
স্তরে স্তরে, স্তবকে স্তবকে, ছন্দহীন বিগতবিরাম।
শ্যামল নিকুঞ্জবন বানীরবেতসী করে আলা,
হিন্তালতমালতাল তারি সাথে করে কত খেলা।
তার প্রান্তে মেঘনীল শস্যক্ষেত্র, দিশাহারা সীমা,
পীনােন্নতপয়ােধর উর্বশীর নগ্ন-দেহবীণা,
সুরহীন পড়ে রহে, নৃত্যহীন যৌবন-হিন্দোল,
তন্ত্রীর কলঙ্ক ভরি’ থেমে গেছে ব্যথার কল্লোল।
এস এস হলধর! পতিত রয়েছে কত মাটি,
শাণিত হলের ঘাতে তারে তুমি কর পরিপাটি।
আগাছার শব দেহে তব কান্তি বিলাও মাটিরে,
তাহাতে ফলুক সােনা, বেঁধে ফেল’ বণিবধুরে
তােমার হলের গতি সাজাইয়া রবির কিরণে,
তপু তনু করি’ কাটি, অতনুর মিলন-বিপিনে,
অন্তরাল
পাঠাইয়া দাও তারে তলাতলমহাতলতলে-
সৃষ্টির প্রথম দোলা যাহা হতে এলাে মহাপলে।
নয়ন-ঈশানকোণে ওঠেনিকি বৈশাখী-আকাশ?
তােমার চাষের পর পড়িবেনা বরষার আশ ?
তােমার হলের টানে বেদনা হউক্ মঞ্জুরিত,
বেদনার উৎসমুখে শােণিত হউক্ সঞ্চারিত।
শােণিতে রাঙিয়া যাক চিত্তের সে গােধূলি-বিতান,
রাঙাজবা প্রকাশিয়া ভেঙে যাক্ নিখিল পরাণ।
নিম্নমুখী গতিবেগ, নিম্নমুখী সৃজনের ধারা,
নিম্নমুখী মহাকাল অন্ধ হয়ে কেন আত্মহারা ?
নিম্নমুখী রবিদ্যুতি, নিম্নমুখী দখিণালয়,
নিম্নমুখী সাগরের পূর্ণিমায় জলের নিলয়।
নিম্নমুখে ধেয়ে চল, নিম্ন হতে আরও নিম্নস্তরে,
যেথায় নিখিল গতি ঝুরিয়া পড়েছে একেবারে।
সেথায় চম্পকমুলে ঘনবনে, ঘননিশাকালে,
তুষারপ্রচ্ছন্নগুহা, তার মাঝে নিভৃত দেউলে,
একটি বিরাট নদী অমৃতের জেনেছে সন্ধান,
তারি মূলে তমালের স্নেহচ্ছায়ে রচিত বিতান।
সেথায় মিলন-গীতি বৃত্তাকারে উঠিছে কেবল,
আমার জনমখণ্ড বাল্মীকি সে লিখে অবিকল।
বাহিরের এই শান্ত, শরতের এই শ্যাম-লেখা,
বরষামুরজতালে বেজ যা গরবিণী কেকা।
নেচে যাক তরঙ্গিনী নৃত্যশীলা মালবিকাথায়,
চন্দনচর্চিতদেহ বহে যা দখিনা-মলয় ;
ইন্দ্রধনু, পুষ্পধনু, অরূপ রূপের আলিপনা,
বাহিরের এ জগতে বয়ে যাক্, কেবা করে মানা।
১০
অন্তরাল
তােমার বেদনা-মন্ত্র, হে দারিদ্র্য, হে পরম হােতা,
জায়াসম পুত্রসম ভৃত্যসম দিক নবীনতা।
বেদনা-অন-মধু তুমি যদি নাহি দিতে ঢালি,
অমৃতের পুত্র বলি কেমনে দিতাম করতালি ?
বেদনায় ওঠে গীতি, বেদনা আনন্দ-মহান,
বেদনার ক্ষুরধারে চেতনা মহামহীয়ান্।
হে কৃষক। হে কৃষ্ণ সখা, অমৃতের হে দধি-মন্থন।
হে দারিদ্র্য, কর্মীবীর, ছিড়ে ফেল ও অবগুণ্ঠন ।
বেদনার তীক্ষ্ণ ধারে চেতনা বহু উজান,
চেতনায় বিশ্ব-ধরা জ্ঞাতা জ্ঞেয় লভুক পরাণ ।
৪১
ভিক্ষা
বসন্তের ফান উৎসব
গুমরিছে!
পরাণের মাধবী-বিতান
ভাসিতেছে।
চিত্ত-তটেতটে,
যমুনার ঘাটে।
গাছে গাছে গুঞ্জরিছে পাখী
থাকি থাকি,
ফুলে ফুলে মুঞ্জরিছে আঁখি
আঁকি আঁকি!
ফুটিল অশােক,
সহ চিত্তলােক।
ফুটিল বকুল,
ভাঙিয়া মুকুল।
বঙ্গুল বানীতটে বাঁশি
রহি রহি',
8२
অন্তরাল
মঙুলপরাগচুর্ণরাশি
বহি বহি,
ছুটিল বাতাস।
পরিপূর্ণ আশ ।
ছন্দবন্ধ নুপুরশিঞ্জন
রুনু রুনু,
কামিনীর কঁাকনগুঞ্জন
ঝুনু ঝুনু
ভাঙিয়া পড়িল বনে,
অপূৰ্ব্ব সেক্ষণে!
গগাধুলির যবনিকা হতে
নামিল চঁাদিমা,
আবীরের ফাগ লয়ে হাতে
ফেনিল রাঙিমা !
পুষ্প-গৃহেগৃহে
ছুটিল যুবতী,
লতা-কুজেকুঞ্জে
বিলাইল রতি।
পাপিয়া গাহিল বনে,
আকুলপরাণে।
নিঝুম নিকুঞ্জ-থলী,
কুসুমের কলি
রহিল চাহিয়া।
অন্তরাল
দুই পাশে ফেলি ফুলদল
সী থির মতন,
রাশি রাশি বৃক্ষলতাজল
সী থির মতন,
আঁকিয়া বাঁকিয়া,
বাকিয়া আঁকিয়া,
চলিয়াছে পথ
সৌধ-পানে।
চন্দ্রকান্তমরকত-হীরা-
লাঞ্ছিত প্রাসাদ,
চন্দ্রচূড়-অট্টহাসি-ধারা-
নির্মিত প্রাসাদ।
অঞ্জনখঞ্জন শিলা
নয়নৰঞ্জন,
কজ্জলউজ্জল শিলা
নয়নরঞ্জন,
ডালিমলাঞ্ছন শিলা
নয়নরঞ্জন,
উত্তপ্তকাঞ্চন শিলা
নয়নরঞ্জন!
শ্বেত হাসি।
কাশরাশি।
দূরে গাহিছে কলতানে
সুন্দর বাউল,
৪৪
অন্তরাল
ধীরে আসিছে প্রাণে প্রাণে,
কাঁপিছে দেউল।
আসে গীতধ্বনি,
রণি রণি।
*প্রেমের নিরঝরণায়,
কুলু কুলু
কুলু কুলু।”
তৃষ্ণার্ত পথিক ওরে, আয়
কুলু কুলু
কুলু কুলু।
আসিছে সঙ্গীত
তরঙ্গে তরঙ্গে
সঞ্চিত এ গীত।
বাজায়ে নিশায় একতারা
বাউল পথিক,
ভুবনে ফিরাল রসধারা
অমৃতপ্রতীক।
ভিক্ষা চাহি,
নৈষ্ঠিক ব্রাহ্মণ।
ভিক্ষা চাহি
চৈতন্থ-রজন।
৫৫
অন্তরাল
বাম হাতে স্বর্ণময়ী থালী,
ডান্ হাতে সরি’ আঁচলী,
নামিয়া আসিল বিষ্ণুপ্রিয়া,
হরি প্রিয়া।
রক্তরাগবসনআভায়
যৌবন চঞ্চল,
রক্তরাগসন্ন্যাসনিষ্ঠায়
চঞ্চল অঞ্চল।
থর থর কঁপিতেছে বালা,
উল্লোলকল্লোল-আলা !
ভিক্ষা লভি’ চলিল সন্ন্যাসী,
ঢালি’ প্রীতি, প্রেম, রাশি রাশি।
ধরিল সঙ্গীত।
বাণী-অকথিত ।
ধ্বনি-মঞ্জুরিত !
কুহু-গুঞ্জরিত।
মূচ্ছনা-সঞ্চিত।
বসন্ত এসেছে যমুনায়।
ঝর ঝর
ঝর ঝর।
অন্তরাল
ঝুলনে ঝুলিছে শ্যামরায়।
ঝর ঝর
ঝর ঝর
ঝর ঝর।”
দূর হতে দূরে!
বন হতে বনে।
বনে!
দূর বনে।
প্রাণ-মনে।
বহিছে সঙ্গীত।
আসিতেছে তৃপ্তির ইঙ্গিত।
তখনও দাঁড়ায়ে বিষ্ণুপ্রিয়া,
সুস্ত ভিক্ষা-থালী,
রঙনে রাঙিছে রাধাহিয়া,
ব্যস্ত চন্দ্র-মালী।
চাঁদের আলােকছায়ে ছায়ে,
রাঙারঙে রাঙিছে সে গায়ে।
পরিপূর্ণ রক্তরাগ,
পরিপূর্ণ ফাগ,
বিষ্ণুপ্রিয়ায় নামিতেছে ধীরে,
ধীরে ধীরে ধীরে,
তরঙ্গের নীরে।
৪৭
অন্তরাল
তখনও মূচ্ছনা শােনা যায়
বুকের স্পন্দনে,
তখনও লহর বহি যায়
কানের গুঞ্জনে।
"
কানের গুঞ্জন তােলে
মরমে শিঞ্জন,
মরম-শিঞ্জনে ভাসে
চখের অঞ্জন।
ভাসে আঁখি-পাতে।
ভাসে মৃদু বাতে!
শ্রীরাধা আসিছে কুঞ্জদ্বারে !
রুমু রুমু
রুমু রুমু
রুমু রুমু!
বাজায় বাঁশরী কৃষ্ণ ঝুরে!
রুমু রুমু
রুমু রুমু
রুমু ৰুমু।”
মুৰ্জনার শেষ তান,
বিষ্ণুপ্রিয়া করিতেছে পান
“শ্রীকৃষ্ণ রাধারে ভিক্ষা করে।
ঝুমু ঝুমু
ঝুমু ঝুমু
ঝুম ঝুমু।
১৮
অন্তরাল
রাধিকা ঢালিছে প্রেম তারে
ঝুমু ঝুমু
ঝুমু ঝুমু।”
বাঁশির মঞ্জীর জীর্ণ,
জীর্ণ রে সঙ্গীত।
প্রেমের আবীর পূর্ণ,
পূর্ণ রে ইঙ্গিত।
বসন্তের বনয়ে
ছিন্ন রে বল্লরী।
শ্যামকান্তা বিষ্ণুপ্রিয়া
মুচ্ছিতা গুঞ্জরি’ |
৪১
প্রার্থনা
ওরে,
গােধুলি নেমেছে মাের আঙিনায়,
লেগেছে দখিণা হাওয়া,
চকোর জড়িছে পরাণ-আকাশে,
মেঘে মেঘে তরী-বাওয়া।
বিদেশী কে তুমি রাজপথ দিয়া,
কোটি চাদে রূপলহর ছানিয়া,
হাসিয়া হাসিয়া চাহিয়া চাহিয়া
চলিয়াছ হাঁকি’ হাঁকি,
“নখরঞ্জনী এনেছি তুলিকা,
পদতলে দিব আঁকি।
সখি,
রাজার কিশােরী, নবীনা ঘরণী,
মাধবী জেগেছে বুকে,
চুমুর আবেশে নয়ন ঢুলিছে,
পরাণ জেগেছে চখে!
সহকার-পাখী মঞ্জীর ভরি,
আনিয়াছে ফুল রক্ত-চামরী,
বকুল এনেছে মুকুলের ঝুরি
নব-জাগরণতীরে,
নবগঙ্গার লেগেছে বাতাস,
এসেছে চৈত্র ধীরে।
অন্তরাল
সখি, পাপিয়া গাহিছে ফুলকলিভাগে,
ভ্রমর ধরেছে বীণা,
গৃহ-কপােতিকা প্রাসাদ-শিখরে,
আজিত’ নহে সে দীনা।
ঘন-বন্ধুর-শ্যাম তৃণভূমি,
মৃগবালকের রাঙা ঠোঁট চুমি,
বনেরে জাগায়ে জাগিছে আপনি,
খেলিছে অরূপ খেলা,
আজি পিতামহ সেজেছে বালক,
শিশু মিলায়েছে মেলা।
--
সখি, মাের মনােবনে শ্যামল তমাল,
শ্যাম্লা-বীথিকা-ছায়া,
শ্যামরূপে সেথা গগন ছেয়েছে,
বাতাসে উঠেছে কায়া।
সেথা খামনে যত ধনগাছ,
শ্যামরঙে তারা বেঁচে আছে আজ,
শ্যামল তটিনী পরিয়াছে সাজ,
স্যাম-প্রেম-সমারােহে,
গহন কানন গিরিনদীজল
খাম ধরিয়াছে দেহে।
সখি, দাও দাও মাের নয়ন আঁকিয়া,
এনেছ কাজল-লতা ?
পাতায় পাতায় নেমেছে নয়ন,
দেখাে, দিয়ােনাক’ ব্যথা
অন্তরাল
বেদনা দিওনা, দিও নাক চাপ,
পুষ্প-পরাগে ঢেলােনাক’ তাপ,
কেবল সরস পরশের ছাপ
দিও দুছ দুই চ’খে,
নিখিল বিশ্ব খুলিয়াছে চোখ,
বাসনা জেগেছে বুকে।
সখি, নখরঞ্জনী আনিয়াছ কিগাে,
রাঙা রাঙা রূপলেখা ?
প্রথম-প্রণয়-শিহর জাগিছে,
কিছু হয় নাই শেখা।
আমার গগন-চরণ-চরণে,
লিখে দাও রাঙা মেঘ-আবরণে,
লিখে দাও সখি, ফুল বনেবনে
মেঘভরা তুলিকায়,
বনে বনে যাের চরণ পড়িছে,
রাঙা জবা মাের পায়।
সখি,
কাশ্মীর হতে এনেছ বসন,
আনিয়াছ নীল শাড়ী ?
পুলকিত-নীপ শ্যামধরা-দেহ
যৌবনে বাড়াবাড়ি।
ফুলেফলে তার নিচোল হাসিছে?
তার তীরভাগ দখিনা টানিছে ।
অন্তরাল
পীনপয়ােধর ভাসিছে ভাসিছে,
বরষা নেমেছে দেহে
আজি সন্ধ্যায় ডেকেছে দাদুরী,
কেকা নাচিতেছে গেহে।
সখি, অধর-পল্লবে রেখা টানি’ দাও,
তটিনী-মেখলাখানি,
শ্রীচরণে মাের কুহুকেকাতানে
নূপুর বাঁধ গাে, আনি।
সুৰ্য্যতারার রূপের শিখাটি,
মাের আভরণে পড়ে যেন লুটি,
ঘন মেঘ-বেণী করি’ পরিপাটি
বেঁধে দাও নয়া-হাদে,
আজিকে আমার ভি তীরে বসি’
চকা চকী বুঝি কঁাদে।
সখি, উষসী-কপােল কেমন নিটোল,
তাহে জ্যোতি-কুঙ্কুম,
দেহ সখি, দেহ, মিনতি আমার,
আঁখিতে দিওনা ঘুম।
রবির আলােক আরশী ধরিয়া,
বসন ভূষণ তুলিয়া তুলিয়া,
যেথা যেটি খাটে, সেথা সেটি দিয়া
দেখিব কেমন হল,
আমারে হেরিয়া হাসে যেন সে গাে,
এমনি সাজিয়ে তােল।
সত্তরাল
সখি, ইহুদী রমণী, কাশ্মীরী বালা,
মাধবী তলায় আসে,
দেখাে, সখি, দেখাে, কেহ নাহি পারে
দাঁড়াতে আমার পাশে।
কতদিন ধরি’ শিখিয়াছ কাজ?
এস, লহ মাের চুমুখানি আজ,
তুমি দিলে মাের অপরূপ সাজ,
আর কেবা দিত আজি,
আমার দেহের ফলের ফসলে
তুমি ভরিয়াছ সাজি।
সখি,
দেহের পরশ করিছ কামনা,
বাঁধনে বাঁধিবে মােরে ?
তনু পর তনু অতনু হইবে,
আজি গাঁথা ফুলডােরে।
কিবা নাম তব ? কোথায় বসতি ?
কেন ঠোটে ভরি’ উঠিয়াছে রতি,
দেহে দেহে তব রূপের আরতি,
কহ কেবা তুমি মেয়ে,
নিখিল বিশ্বে করেছ রূপসী
দেহের স্পর্শ চেয়ে।
সখি, ছিল নাক তব কোন নামরূপ,
ছিল না কোন কাজ ।
ঘরছাড়ি’ আমি যাই অভিসারে,
তুমিই দিয়াছ সাজ।
৫ঃ
অন্তরাল
.তােমার মিলনে আমি যাব বলে,
তুমি আসিয়াছ অতি অবহেলে,
আমারে লভিবে, তাই কুতুহলে
সাজাতে এসেছ আজি,
নিখিল বিশ্বের ধারায় ধারায়
রাধারে রেখেছ বাজি।
সখি, অঙ্গ-আভরণ যাহা ছিল বাকী,
যাহা বাকী রূপ-রেখা,
তব দেহ ছাড়ি মাের দেহে সে যে
আজিকে দিয়াছে দেখা।
-
৫৫
কাব্য-লক্ষ্মী
ওন হে, মরত-বাসি,
আজিকে যেগান গাহিব নিশীথে,
কাহারাে শ্রবণে পারেনি পশিতে,
শুনাে সেই গান পথে যেতে যেতে
গন্ধ-রাজের রাশি,
যমুনা-পুলিনে বাঁশি।
আকাশে সাগরে যেথা মেশামিশি,
রবির কিরণে যেথা ফোটে শণী,
যেথা গাহে নাচে সুরবালা আসি,
মৃদুল মধুর ছন্দে,
প্রাচীন প্রেমানন্দে।
মালতী চামেলী অশােক বকুল,
জাগায়ে তুলিছে জ্যোছনার কূল,
গিরিদরীবনে যার এলােচুল
লুটায়ে পড়েছে হাসি,
তারে আমি ভালবাসি।
সে মাের দয়িতা কুটীর-বাসিনী,
গাহে কত গান বসি একাকিনী,
কেহ শােনে নাই কভু তার বাণী,
যত হাে সন্ধানী,
পদ্মবনের রাণী ।
অন্তরাল
দেখিয়াছে তারে তড়িৎবালিকা,
শুনিয়াছে গান বন-জ্যোৎমিকা,
পবন ছড়ায়ে নবমল্লিকা
গাহিয়াছে বন্দনা,
এমনি বরাঙ্গনা।
মাঠের কৃষক আবা আবা রবে,
সােনালী ধানের নবীন আহবে,
ফেলি’ বােঝা ভূমে এইবারে সবে
নেহারিল হাতছানি,
কেবা সেই, নাহি জানি।
আঁধার যেদিন ঘনায়ে আসিল,
নিখিল ভুবন থমকি’ দাড়াল,
সেদিন চটুলা চমকি’ শুনিল
রুদ্র-কণ্ঠ-বাণী,
নিজন কুটীর রাণী।
“অমুখ তােমার আকাশভুবনে,
যত ফুল আছে গােলাপ-কাননে,
যত ফল আছে, ধরিও যতনে,
সকলে আপনা মানি,
শুনহ আমার বাণী।
পিছু যদি চাহ নিমেষের তরে,
কুমার কিশাের দেহ আপনারে,
পুরােভাগে ফেলি’ শচীর দুলালে,
সে তব দয়িত জানি,
মরণ তুহার মানি।
অন্তরাল
চিত্রের তুলি পড়ে গেল খুলি,
কক্ষমুকুরে সিদুরের ধূলি,
ঝরিল মালতী, কপিল গােধুলি,
অমনি আসিল সঁজ,
একি অভিশাপ আজ
দিনে দিন যায়, মাসে মাস যায়,
বরষে বরষে বরষ ফুরায়,
মধুঋতুমাসে মধুগীতিকায়
পিছে দিবস-রাতি,
এমনি কালের গতি।
আজিকে যে পাখী গাহিয়াছে গান,
কি তাহে লভিল যুবতী-পরাণ,
পূর্ণ চাদের আজি অভিযান,
কঁপিল দখিন্-আঁখি,
দিল নিশীথে চকী ।
আকাশে কেনরে মেঘের ছলনা,
চিত্র-চনা হ’লনা হলনা,
উত্তরী-বায়, একি গঞ্জনা,
আকাশ কে লবে লুটি,
কাল ব’শেখীর ছুটি।
সহসা নিভিল ঘরের আলােক,
কঁপিল আজিকে দ্যুলােক ভূলােক,
আজিকে আমার হল পরলােক,
যদি না বাঁচাবে কেই,
এমনি অসাড় দেহ।”
৫
অন্তরাল
কুটীরের পিছু একি আহ্বানী?
বুঝিবা কাহারে আঁধার রজনী,
ছুটিল ষােড়শী কেবা নাহি জানি’
বাতাসে দোলায়ে অলক,
দামিনী দিতেছে ঝলক।
কেবা তুমি আছ পড়িয়া ভূতলে ?
ঝরিছে আষাঢ় মুষলে মুষলে,
ফুলমালা তবু দুলিতেছে গলে,
তােমারে হেরেছি স্বপনে,
আমার জীবনে মরণে।”
পথিকের শির তুলি’ নিল কোলে,
আইল ত্বরায় নিজ ঘরে চলে,
আলিল প্রদীপ, ধরিল সবলে,
বক্ষের মাঝে চাপি,
রজনী লইবে যাপি।
কহিল কিশাের আঁখি দুটি মেলি,
করবী যুথিকা হাসিল চামেলী,
দামিনী ছুটেছে মেঘনীড় ফেলি,
আজি অভিসাররাতি,
নিভিয়াছে সব বাতি।
*আমার নয়ন যাহা কিছু জানে,
সে বাণী আমার পরাণে পরাণে,
নিখিল বিশ্ব আমার চরণে
নিয়াছে শরণ মাগি,
সংসারতলে জাগি।
অন্তরাল
আমার বাহিরে কিছু আর নাই,
নাহি দিতে পার, আমি যাহা চাই,
আমারে ঘিরিয়া সতত নাচাই
মরতের অধিপতি,
আমা বিনা নাহি গতি।
একদিন আমি শুনিনু চকিতে,
উৎসবমাখা সােনালী নিশীথে,
রুদ্ধ-নগরী গৃহ-বলভীতে,
অজানা নুপুরধ্বনি,
জ্বলিয়া উঠিল মণি।
শুধামু সবারে, ওকে যায় ধেয়ে,
আমার নগরী-রাজপথ বেয়ে,
ললিতকণ্ঠে ছায়ানট গেয়ে
দেহত’ আমারে আনি,
জনে জনে আহ্বানি।
বলে সভাসদ, বলে পুরনারী,
কেবা সেই জন, কাহার নাগরী,
কমলিনী করে উঠে সে বিথারি’
রবির কিরণ চুমি,
জানে এক বনভূমি।
-
প্রাচীন প্রাচীনা কহে, শুনি নিতি,
সপ্ত সাগর পারে সে যুবতী,
পক্ষিরাজের পক্ষ-সাথি,
পাড়ি দিবে যেই জন,
তারে দিবে প্রাণ মন।
অন্তরাল
শুনিয়া কামিনী সতীশিরােমণি,
কহিলা তাহারে, ওগগা, গুণমণি,
আমারে পেয়েছ পেয়েছ গো, জানি,
আষাঢ়ী রাতের কোলে,
বাতাসের ঝুলদোলে।
বুকে বুক রাখি’ অধরে অধর,
নয়নে নয়ন, বরণীয় বর,
চুমিল তাহার গােলাপী অধর
নাহি কভু হার মানি’,
মিলনের কিবা ধ্বনি।
।
সহসা দেখিল শচীর দুলালে,
হাতে খরসান খঙ্গ ত্রিশূলে,
হুঙ্কারি’ বান পড়ে হৃদিতলে,
রক্তগঙ্গা বহি,
আকাশ ভূতল দহি।
কাদিল বনানী, দিল যামিনী,
দিল ধরার রণ-সুঙ্গিনী,
জ্বলিল আকাশ, ডুবিল ধরণী
প্রলয়-পয়ােধি-জলে,
কেহ নাই কোন কূলে।
শ্রীরা
}
দুলছে রে ঢেউ মােহন বাঁশির চৈত্র নাতির উতল হাওয়ায়,
মূচ্ছনা তার পাগল-পারা খুড়ছে মাথা, সে কারে চায়?
বৈশাখী বায় নিত্য উঠে, নিত্য পড়ে সৃষ্টি-শাখে,
ফুলের বনে চাঁদের গাঙে অহিয়ায় নদীর বাঁকে
উছলে পড়ে সে প্রবাহ দথুনে বায়ে শ্যামল বনে,
পরম প্রেমিক বক্ষ হ'তে উছলে পড়ে সাধকমনে।
পলে পলে হােরায় হােরায় দিনে রাতে অনন্ কালে,
আসছে যেমন, ফিরছে তেমন মহােল্লাসে কুতূহলে।
আছে বয়ে চন্দ্র রবি অযুত তারা গন্ধ-বায়ু,
ইন্দ্রধনু মােহন বেণু বৃক্ষ লতার পরমায়ু।
বইছে তাহা হিংস্র শ্বাপদ মৃগ-শিখী পাখির ছানা,
সৃষ্টিসাগর-মন্থনী নর, পারিজাতের নারী-জনা।
স্বপ্ন-হিয়া হিমনিকেতন বক্ষ হ'তে আসছে ধারা,
ফিরুতে ঘরে হচ্ছে সে জন বিশ্ব-বুকে রাধায় হারা।।
সন্ধান
আকাশ। ওরে, আকাশ।
শায় খায়।
বাতাস। ওরে, বাতাস।
আয় আয়।
কৈরে, রবির কর,
কৈরে, রত্নাকর।
কৈরে, আমার সে
মাটি।
ওরে, আয় ।
ওরে, আয়
ওরে, আয়!
ওরে,
আকাশ, পেয়েছিস কি তারে ?
বাতাস, পেয়েছিস কি তারে ?
ওরে, রবির কর,
রত্নাকর,
ও, বধুটি
মাটি,
পেয়েছি কি তারে,
ওরে, রে ?
বৃহৎ অট্টালিকা ?
যেন পিপীলিকা ?
অন্তরাল
তারপর ?
তারপর ?
কিছু না যায় দেখা ?
নাইক’ কিছু লেখা?
তারপর ?
তারপর ?
শুধু কাচের বাড়ী ?
জবার জুয়াচুরি ?
ডাকূলে বারে বারে,
তােমার ধ্বনি এল ফিরে ?
কাচের ঘরে দাড়িয়ে রে তুই
দেখুলি বুঝি তােরে
শুধু তােরে ?
বাতাস, খবর কি?
তুইও দিবি ফাকি ?
সে গেল তােরে ছুঁয়ে ?
গেল নুয়ে মুছে ?
নীরব কেন ?
কেন ?
ওরে, রবির কর,
তােমার কি খবর?
সেথায় আলাের ঘরে,
ডালি বারে বারে,
চরণ ছায়া দেখলি তাহার দ্বারে
অনেক খোঁজার পরে।
অন্তরাল
রত্নাকর ?
রত্নাকর ?
দেখলে তাহার পারিজাতের দ্বারে
মধুর উৎস ঝরে।
ওগাে, মাটি ?
ও, বধূটি ?
সেথায় পেলি গন্ধ,
তাতেই হলি অন্ধ,
নিঃস?
তােরা কবি কাজ?
হাঁ, তবেই হবে আজ।
আমায় ঘিরে নারে তােরা নাছ,
দেখবি তবে আজ,
সে পছে রাজার সাজ,
রাজার সাজ।
আকাশ। আকাশ!
বাতাস। বাতাস।
বাঃ বাঃ
বাঃ বাঃ
রবির কর।
রবির কর।
আচ্ছা, আচ্ছা
বহুৎ আচ্ছা।
অন্তরাল
রত্নাকর।
আয় ঘুরে!
আয় ঘুরে !
বধুটি, বধূটি,
ও বধুটি!
বারে বেটি, বারে বেটি,
বারে বেটি ।
তালে তালে।
দুলে দুলে।
পা ফেলে।
পা ফেলে!
হুরে! হুরূরে!
হুররে!
আমি চল নেচে!
আমি চলব নেচে !
শুধু নেচে।
শুধু নেচে।
শুধু নেচে!
শঙ্খ, আমার শখ,
আমার শখ।
চক্র, আমার চক্র,
আমার চক্র।
অন্তরাল
গদা; আমার গদা,
আমার গদা!
পদ্ম, আমার পক্ষ,
আমার পদ্ম।
আমার নাহিক ছত্মবেশ,
আমি হৃষীকেশ ।
আমি আকাশ!
আমি আকাশ!
আমি বাতাস!
আমি বাতাস।
আমি বাতাস।
রবির কর।
রবির কর !
রবির কর !
রত্নাকর।
রত্নাকর।
আমি মাটি।
আমি খাঁটি।
আমি খাটি
আমি খাঁটি।
আমার বুকে রে আনন্দ।
সেথায় গােপীর গন্ধ।
সে টানে বাহিরে,
আমি ফিরি ঘরে!
অন্তরাল
ঝরে, করে,
আনন্দ ঝরে!
ঐ
থরে, ধরে,
ঐ থরে থরে।
ঐ ঝরে ঝরে।
ঐ থরে থরে !
ঐ আনন্দ রে আনন্দ
আনন্দ ঝরে
হরে, হরে, হরে,
হরে, হরে, হরে,
হরে, হরে, হরে।
৩
সুন্দরের পূজা
ঝর্ র্ যু
ঝক ঝক ঝ।
ঝুপ ঝুপ ঝুপ
বুঝুপ ঝুপ ঝুপ।
সুল! বুল।
বুল! স্কুল।
পত্ পত্ পত।
পত্ পত্ পতু।
কুলু কুলু।
ঝুনু ঝুনু।
কুলু ঝুনু।
को
কৌ
কো!
নিজ !
বিজ মন
কৌ
কৌ
কৌ!
চিক হাসি!
তীখন্ শশী ।
অন্তরাল
রুমুঝুমু।
রুমু ঝুমু।
আলাের চু!
প্রণয়পুর।
জড়িমা সাগর জলে!
নীলিমা উঠেছে ফুলে!
স্বপ্ন নিছক স্বপ্ন !
স্বপ্ন মায়ার স্বপ্ন !
এই ফুলবেদীপরে,
এমনি চাদিনী-রাতে;
এই পারিজাতহারে,
এমনি কমল-পাতে;
এমনি বাঁশরী লয়ে,
অলিগুঞ্জনছায়ে,
এমনি কাকলি কয়ে,
কুহু-কুহরিত বায়ে;
আমার প্রিয়া!
স্বপন-প্রিয়া!
আমার রাণী।
রাজার রাণী
নাই,
ওরে,
নাই।
পাই,
কোথা,
পাই।
৭০
অন্তরাল প চুপ চুপ হুসিয়ার। হুসিয়ার। ঐ গােলাপ ! নাই প্রলাপ। ঐ বকুল। নয় আকুল। নাইরে, ওরে, নাই। তারে, কোথা পাইরে পাই? আছে। আছে! আছে। আছে ! न আছে চূর্ণ ফুলে। নিঝর-কুলে আছে চাদিনী রাতে! গােলাপ সাথে । দখনে বায়ে। কমল ছায়ে! সে আছে ওগাে, আছে বুকের মাঝে । বুকের মাঝে। পড়ছে ফুল। দুলছে দুল!
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.