Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Chittaspandan
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
চিত্তস্পন্দন
কলিকাতা
সন ১৩১১ সাল।
কলিকাতা,
১১৫নং আমহাঃ ঐট একমি প্রিন্টিং এবং প্রসেস কার্যালয়ে
শ্রীনারায়ণচন্দ্র ঘােষ দ্বারা মুদ্রিত।
৯নং কেণ্ডেরভাইন লেন হইতে শ্রীলালবেহারী
রায় চৌধুরী,
কর্তৃক প্রকাশিত।
নয়নে তপন; তব • মনে
সুধাকর,
প্রতি লােমকূপে প্রভু বিশ্ব চরাচর,
নেত্র-উন্মীলনে দিবা, মুদিলে রজনী,
বুদ্ধে বৃহস্পতি, তব বাক্যে বীণাপাণি
সকল(ই) তােমার গুরাে ! কি আছে আমার ?
হৃদি যে পূজিতে চায় ---এ সাধ(ও) তােমার।
বিশাল গরবক্ষে তরঙ্গের মালা
তুলিয়া যেমন খেল’, এও সেই খেলা!
মােয় জামায় প্রভু একই পরাণ,
পূজার কারণ বুঝি ‘আমি’ ব্যবধান !
তুমি গাঁথিয়াছ আজ,
গাথিসছি আজ কবিতার হার,
দেখি কত সাজে নাথ !--পর একবার ।
No text on this page.
সূচীপত্র পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ৪ ৫ . . . + ০ ০ ১০ ••• ১৬ • ••• ১৮ ••• বিষয় উপহার শ্রীভগবান যাে মাং পশ্যতি সর্বত্র মামেবৈষ্যসি—জ্ঞানযােগ মামেবৈষ্যসি-ভক্তিযােগ পাদপদ্ম জীব ও জীবাত্মা••• জীবন-কাহিনী আত্ম-বিচার আমার ঈশ্বর গুন আরাধ্য দেবতা মা গায়ত্রী শরীরী বিশ্ব, চাদ গােলাপ ১নং গােলাপ ২নং ২০ ৩ ••• ৩১ . * . . ••• ০ ০ ০ ৫। ৩৭ ••• ৪০ ••• ৩ ৫০ D ••• ৪৫ e st ৫০০ ৪৬ গােলাপ ৩নং ৪৭ গােলাপ ৪নং গােলাপ ৫নং ৫ । ••• ৫১ • বিষয় পৃষ্ঠা একা ৫৩ ০ ০ t pr ••• ৫৪ প্রাণের সাধ সাধে কি ••• ৫৮ ৬১ ••• সােহাগের ফুল ••• , সুখ স্বপন ৬৪ । । । . • ... ৫ ০ ০ ০ ৬৭ ৬ ৫। ••• ৭০ জীবন জীবন-ঘটিকা নবীন তাপস রাণী কোথায় সে আজ? সেই তুমি কে তুমি আমার? কেহ কি আমার নাই ? তুমিই আমার • ? ৭২ ••• ৭৪ ••• ০ ০ ০ ৭ •• ৭৯ ৮১ ছেড়ে আছি কি নিয়া ভুলিব ? ৮৩ আশাই মধুর T! • ••• ৫ তােমায় আমায়... ৮৯ . ভুলে দেখা-দেখে ভুল। ভালবাসায় ভুল ••• ৯৩ ১৬ দৃঢ় পরিচয়ে ••• । • । • • • ১০১ অভিমান বনবাসে সীতা আমাশ্বমেধে স্বর্ণ-সীতা দর্শন । । । । ১০৩, পৃষ্ঠা ১০৮ | ০ ০ •• ••• ••• ১২৩ . . ১২৫ ht ১২৭ * * * + । . ১২৮ ••• বিষয় মন্দোদরীর বিলাপ সত্যবান মানব বিলাপ বিজয়া মাধবী সহকার প্রতি সিন্ধুর প্রতি নদী দর্শনে নীলধারায় মেঘ... লছমন্-ঝোলায় গঙ্গা গঙ্গার উক্তি কণ্টক-বৃক্ষে লতিকা বিবাহে বিলাপে ••• ১২৯ . . ১৩৪ ••• ০ ০ ০ ••• ••• ১৩৮ ১৩৯ ১৪২ ও c . . . চিত্তের প্রতি ••• ১৪৪ ১৪৬ বালাযােগী আশ্রম বসন্ত বিদায়ে w এr .
No text on this page.
স্পন্দন শ্রীভগবান। কি জানি কি হও তুমি পুরুষ কি নারী যখন যে ভাবে রাখ’ সে ভাব আচরি । যা করাও কিম্বা কর,সকলেতে চিত্ত হর, তুমি যে সৰ্বস্ব মম ইষ্ট প্রাণাধার, সৰ্ব্ব কৰ্ম্ম মধ্যে দেখি তব সুবিচার। (২) গুরু হয়ে শিষ্য সাজি’ আপনি আচরি, আদরে ধরাও ভাব শত যত্ন করি ; নিদ্রায় আচ্ছন্ন আমি! যত্নে সেবা কর তুমি, এ করুণা তব দেব ! শক্তি সঞ্চারণে, শিখাইছ সৰ্ব্ব কৰ্ম্ম ত্যজিব কেমনে। (৩), নিত্য কর্মে উদাসীন না হইব আর- সঙ্গত্যাগে প্রাণপণ হইবে আমার ; জনতা কি নিরজনে, কথা ক’ব তােমা সনে, একান্তে চরণসেবা প্রণব ভিতরে, ধ্যানে জপে সঙ্গত্যাগ, শিখাইলে মােরে।
চিত্তস্পন্দন ।
( 8 )
তােমার আশ্রয়ে আমি--কি ভয় আমার ?
সৰ্ব্ব কৰ্ম্ম ত্যাজি লই শরণ তােমার ;
চিত্ত যে লহরী তুলে, আমার কি এই বলে,
মিথ্যা চিত্ত, মিথ্যা রঙ্গ—এ ভাঙ্গার ভার
প্রভুর যখন, দাসী নিশ্চিন্ত এবার ।
(৫)
আমার রক্ষার ভার, সতত তােমার ;
আমি দাসী, আজ্ঞা তব আছি পালিখার।
করুক কল্পনা শত, চিত্ত মন অবিরত,
আমি দেখি মূলে গুরাে! সব একাকার,
চৈতন্য ও জড়ে তব পূর্ণ অধিকার।
(৬)
কোথা আমি ? কোথা মন বুদ্ধি অহঙ্কার ?
সাগর-লহরী সম এ খেলা তােমার;
তােমাতে কল্পনা জাত,তােমাতে মিলায় নাথ ।
গায়ত্রী সাবিত্রী তুমি, তুমি মূলাধার।
শ্বাস-রূপা ! কর তুমি সকলে বিহার।
(৭)
প্ৰণক মূরতি তব, মার কি সুন্দর!
ভাবময়ী তুমি সত্য, বাক্য অগােচর,
আমারে লইয়া কোলে, খেল কত বিন্দু স্থলে,
সকল ভুলিয়া দেখি বিস্মিত নয়নে
সর্ব দুঃখ শান্তি মম তােমার চরণে।
.
[ চিত্তস্পন্দন
(৮)
আমার “আমিই” তুমি, নিশ্চয় নিশ্চয়,
সৰ্ব্ব মহাবাক্য, দেব! এই কথা কয় ;
চিত্ত যে লহরী তুলে, পূৰ্ব্ব পূৰ্ব্ব কৰ্ম্মফলে,
তােমার প্রত্যর্থে দেহ রচনা এবার,
যা করাও-করি,কিন্তু সকলি তােমায়।
(৯)
তােমার মায়ায় থাকে আচ্ছন্ন যখন
জীব ভাব, কৰ্ম্মেবদ্ধ বিষয়ে মগন;
যাহা কিছু দুঃখ উঠে, তােমাতে সে দোষ রটে,
ক্ষম প্রভাে! দুরত্যয়া মায়াটি তােমার
সরাও ; পরাণভরি’ করি নমস্কার।
(১০)
প্রাণের বামনা এই, উপাস্যদেবতা।
দীনবন্ধো! দাসী তব চরণ আশ্রিতা।
আমি যে শরণাগতা, তুমি সৰ্ব্বভয়-ত্রাতা,
কি ভয় যাহার নিত্য এমন সহায় ?
নিশ্চিন্ত—নির্ভয়—আমি তােমার কৃপায় ।
চিত্তস্পন্দন ]
“যাে মাং পশ্যতি সর্বত্র
কোথা আছ দয়াময় ?
শুনি বেদে বলে
আছ সর্বস্থলে
সৰ্বসাক্ষী তুমি পূর্ণ বিশ্বময়।
শব্দ শুনি নিত্য
আছ তুমি সত্য
সৃজনে পালনে দেখি সর্বক্ষণে।
চারিদিকে হেরি
তব কারিকরি
নিত্য তুমি, শুধু অনুভব প্রাণে।
সগুণ নিন
কিম্বা শূন্য গুণ?
নিরাকার কিম্বা হইবে সাকার ?
রূপবান হওঁ
রূপাতীত নও
অথবা উভয় ?—ভাবি বারে বার।
কত করে গড়া
এ তব ধরা
আকাশের তলে কি সুন্দর মরি!
সকলে দেখাতে
আলাে লয়ে হাতে
দাড়ায়েছ অলি চন্দ্র সূৰ্যোপটি।
গড়ি’ ফুল রাশি
মিলায়েছ হাসি
ফুলবালা হাসে চেয়ে তোমা’ পানে।
সারা ধরাময়
ঢালে সুধা বুঝি, হাসি প্রাণে প্রাণে।
তাই ফুল চয়
[ চিম্পন্দন
সকলি তােমার
ওহে সাধার।
নিজ রূপ হেরি আপনি বিভাের।
দেখিয়া বিভূতি
মুগ্ধ হয় মতি
চিত্ত রূপে তুমি হও চিত্তচোর।
চিন্তস্পন্দন
.
“মামেবৈষ্যসি”-জ্ঞানযােগ।
(১)
প্রভাে হইল কেমন ?
শত চেষ্টা নাহি মানে,কোন্ স্রোতে তরী টানে।
দাড়ি মাঝি ফিরাইতে করে প্রাণপণ,
কেহ মরে, কেহ জীয়ে করে পলায়ন।
(২)
কেহ নাহিক এখন ।
তুমি আমি দুটী প্রাণী, কেন নাহি গেলে তুমি?
রাখিলে জীবন, নাথ ! দাসী পে’ত প্রাণ,
কেন প্রিয়! কোন্ কাজে সব অবসান?
(৩)
আর নহে দরশন
তীরে গিরি তরু শ্রেণী, শুধু শুনি শ্রোতধ্বনি
প্রচণ্ড আবৰ্ত্ত প্রভাে! কর দরশন,
তরী ধায় ঘুর্ণিমুখে, নহে নিবারণ!
(৪)
দেখ আবৰ্ত্ত ব্যাদান।
কি বেগে তরণী ছােটে,রবি ছােটে নভঃ ছােটে!
তলতলে হয় বুঝি বিশ্ব নিমগন !
দেহ হ'তে শির বুঝি হ্রয় বা পতন!
(৫)
রক্ষ রঙ্গ দয়াময়।
তােমার সম্মুখে রই,
ভয়েতে ব্যাকুল হই,
দাসী শিরে দেহ পদ—হুক জীবন ;
লয় দাসী পদরেণু-মহাে কি দর্শন।
.
( চিম্পাদন F (৬) প্রভাে! কি এ দরশন ? দূরে গিরিশৃঙ্গ’পরে, কোটী চন্দ্র সূৰ্য স্টুরে, জ্যোতিঃ অভ্যন্তরে মরি! ওরা কোজন- হরি হরি ! তুমি আমি এদেরি মতন ? (৭) দেখ প্রশান্ত ঈক্ষণ! কোথায় আবর্ভ গেল! কোথা ভয় লুকাইল! অর্ধনারীশ্বর দেখ খেলায় মগন! সংসা-স্বপন ভঙ্গে এই প্রহসন ? (৮) অহহ ! স্বপন সংসার। স্বপ্নে হয় স্বপ্নে লয়, স্বপ্নে মৃত্যু স্বপ্নে ভয়, স্বপ্নে কত বিভীষিকা, স্বপ্নে আস্ফালন, স্বপ্নে শুয়ে হাহা হুহু, গিরি আরােহণ ! (৯) একি অদ্ভুত স্বপ্নন! সংসার আবৰ্ত্ত তুলে, মােহ গর্তে দ্রুত ফেলে, জীবচয়, তৃণ-আঁটি যথা ঘূর্ণি জলে ; স্বপ্নে, দুঃখে হা হুতাশ-স্বপ্নে, সুখে গলে। () অহহ! কি দীর্ঘ স্বপন। দিন যায় রাত্রি যায়, ঋতু বর্ষ আসে যায়, ঘুরে ফিরে লক্ষ জন্মে একই স্বপন! • কটাক্ষে জাগাতে পারে। সে দৃষ্টি কৃপণ।
চিত্তস্পন্দন। . (১১) অহো এ খেলা তােমার কোটী প্রাণী সাথে শুয়ে,একই স্বপ্নে মহাভয়ে, ‘কত করে ছটফটি ডাকা-হাঁকা মনে, কাছে শু’য়ে স্বপ্নে ডাকা, কেহ নাহি শুনে। (১২) কেহ জাগ্রত সুজন- ঘুমন্তে বেহুস জনে, ‘জাগ। ধীর সম্বােধনে, অঙ্গুলি পরশে নব শক্তি সঞ্চারণ, জাগ্রত-কথায় ছােটে সংসার-স্বপন! (১৩) একি রহস্য তােমার ? একা খেলা নাহি হয়, একা বহু তাই হও, আপন কল্পিত সৃষ্টে আপন বিস্ময়। অন্য কেহ?”—“নহি নহি”—আমিই নিশ্চয়”। (১৪) একি আশ্চর্য কল্পনা! “আমিই নিশ্চয় তবু, আমাতেই জাত কভু, চতে চন্দ্রিকা, সূৰ্যে দীধিতি যেমন, আমাতে আমার মায়া সহজ তেমন। (১৫) একি বিচিত্র রচনা? মনে মনে সমুঝাই, কহনে না ভাষা পাই, যে দৈখায়, যা দেখায়, সব ছাই রাই, যা’ নাই তাহাই দেখি, যা আছে না পাই।
[ চিত্তস্পন্দন
(১৬)
অহহ! কি এ দরশন।
দেখে অর্ধনারীশ্বরে, ফিরে চাই চারি ধারে,
একে একে সব লয় ইহার ভিতর।
“তুমি” “আমি” এক দেহে অর্ধনারীশ্বর !!.
(১৭)
•একি অপূৰ্ব্ব মিলন!
যারে চাই পূজিবারে, সেও আসে পূজিবারে।
আপনি আপন পায় দিই পুস্পাঞ্জলী।
নিজ শিরে তুলে লই নিজ পদধুলি!
(১৮)
দেখি কতই সুন্দর!
“আমাকেই আমি দেখি, যত দেখি তত দেখি,
আপনি আপন রূপে গরবে দাঁড়াই।
নিজ অনুরাগে নিজে আপনি বিকাই।
(১৯)
অহহ! একি চমৎকার !
যা’দেখি সকলি আমি,তুমি “আমি,” আমি
“আমি”,
নমস্কারে ইচ্ছে চিত কারে নমি’ আর ?
আমি আছি-আমাকেই কোটী নমস্কার!
(২০)
প্রভাে! আর না আঁধার
মায়ায় মােহিত করে, আর না রাখিও মােরে,
পদ প্রান্তে রাখ’ প্রভু ! মিনতি আমার,
অবশে থাকিয়া পূজি’ চরণ তােমার,
রাখ’ মিনতি আমার।
চিত্তস্পলম ]
“মামেবৈষ্যসি”-ভক্তিযােগ।
(১)
যথায় রয়েছ প্রভু বল বারে বার
তবু যে যাইতে নারি কপাল আমার।
চিদাকাশে নিত্য রও, চিত্তাকাশে এ যাও,
চিত্তাকাশে স্থির হলে মহাকাশে পাই।
মহাকাশে পূজে নিত্য দিাকাশে যাই ।
(২)
ভিতরে বাহিরে তুমি সর্বত্র প্রকাশ,
তুমিই বলেছ প্রিয়! নাই অবিশ্বাস;
কোথায় ধরিব আমি, তাওত বলেছ স্বামি।
চিত্তে ধরি মহাকাশে করিব পূজা।
ভিতরে বাহিরে পূজি’,এই আকিঞ্চন।
(৩)
কিরূপে ধরিব চিতে ? চিত্ত যে চঞ্চল ;
ক্ষিপ্ত, মূঢ়, বিক্ষিপ্ত এ কিসে পাবে বল ?
কৃপাও করিছ কত, তবু চিত্ত নহে শান্ত,
এমাের করম প্রভু। কর্মে কর ক্ষয়।
ধনায় সিদ্ধি দিতে হও গাে উদয় ।
[ চিত্তস্পন্দন
(৪)
সৰ্ব্বদা চঞ্চল তবু তার অন্তরালে,
পাগল বিরমে যবে, দেখে সেই কালে,
প্রতিবিম্ব স্থির জলে,
নেচে উঠে কুতূহলে,
তখনি প্রক্ষিপ্ত চিত্ত হারায় তোমায়।
আৰু বিষাদে মগ্ন-সব ছেড়ে যায়।
(৫)
দিন যায়—আরও যায়, কি হবে আমার ?
সাধনা না হয় গুরাে ! কি খেলা তােমার।
আজ কেন কৃপা করে, আসিয়া হিয়ার’পরে,
অদরে কপােল ধরি’ করিলে চুম্বন ?
শিহরিনু’-প্রাণে শত আশা জাগরণ!
(৬)
আয় আশা, আয় আয় হৃদয়ে আমার,
তােরে ছেড়ে করিয়াছি বড় হাহাকার ;
“নিশ্চয় পাইব আমি”, “নিশ্চয় আসিবে তুমি,
তুমি মাের প্রাণাধার, তুমি প্রিয়তম।
বিশ্বাসে জেগেছে প্রাণ, জেগেছে কম।
(৭)
নিরজনে নিরজনে আগে আমি চাই,
নির্জনে সতত দেখি, অন্য ইচ্ছা নাই ;
বড়ই নির্জন হবে,
কোন প্রাণী নাহি রবে,
সেথা আঁখি ভরে শুধু দেখিবারে চাই।
দেখিয়া দেখিয়া পদে আপনি বিকাই ॥
চিত্তস্পন্দন।
(৮)
গুরু দিয়াছেন ক’য়ে কোথা নিরজন—
চিত্তাকাশে জ্যোতিঃঘেরা সুনীল আসন
প্রণব ভিতরে তার, করিছে জ্যোতিঃ উঘার,
প্রণব ভিতরে তুমি, তুমি প্রাণাধার !
এ নির্জনে দেখি,বাঞ্ছা সৰ্ব্বদা আমার
{
এই জীবনেই আমি পাইব তােমায়’,
‘এই করমেই দেখা তােমায় আমায়,
আশায় মাতিলে মন, সাধনে করে যতন,
অন্য অভিলাষ ছাড়ি’ এক আশা ধরে
মানসে মিটায় সাধ, অতি সমাদরে ।
(১০)
রিপুছয় শান্ত হয়, না ভজে বিষয়,
বধূ, বিনা অন্য দেখা, তােমার না সয় ;
ইন্দ্রিয় নিচয় ভয়ে,
চিত্তাকাশে শান্ত হয়ে
মনে মনে তব রূপ খুঁজিয়া বেড়ায়
আর কার (৩) সনে কথা কহিতে ডরায়।
(১১)
দিন যায় রাত্রি যায়, মা ছাড়ে অভ্যাস,
বিশ্বাসে করিয়া ভর করয়ে প্রয়াস।
কভু দেখি কাছে তুমি, কভু দূর দূরে ভ্ৰমি,
চিত্তাকাশে এস যাও হাসা’য়ে কাদা’য়ে ।
ণ চাও হেসে হেসে ভরা-চক্ষে চেয়ে।
1 চিতুম্পন্দন
(১২)
অহো ভাগ্য! এই প্রাণ তােমারি—তােমার,
এই লও প্রাণের ! করহ বিহার,
প্রাণের কাঙ্গাল তুমি ?
লও প্রাণ, বাঁচি আমি।
হরি হরি! প্রাণ মন করিয়া গ্রহণ
চিত্তাকাশে দাড়াইলে ভুবনমােহন!
১৩)
মরি মরি কি সুন্দর মােহন মূরতি!
কি স্নেহ ছড়ায় চক্ষু চাহি আমা’ প্রতি।
মানসে করেছি যাহা, সাক্ষাতে করিব তাহা,
মহাকাশে এই নাথ! আশ্রম তােমার!
এস এস, বঁধু এস, আলয়ে আমার ।
(১৪)
চিত্তাকাশে হৃদাসনে বসায়েছি আমি,
বস বঁধু সিংহাসনে, দেখি দেখি তুমি
কতই সুন্দর, নাথ !
মানসের কোটি সাধ,
একে একে মিটাইব, প্রত্যক্ষে তোমার।
দরিদ্রের মহানিধি তুমি যে আমার!
(১৫)
ব’স সখা। আহারের করি আয়ােজন,
সার্থক হইবে আজ আমার বন্ধন।
বড়ই পবিত্র তুমি,
যত্নে তুলে দিই আমি,
একে একে হেসে হেসে করহ আহার ।
অহ ভাগ্য! এত সুখ অদৃষ্টে আমার।
চিত্তস্পন্দন
-
(১৬)
কতদিন কাদিয়াছি করি’ আয়ােজন,
কল্পনার ভােগে তৃপ্তি পাইনি কখন ;
দুষি আজ নয়নেরে,,
কেন মন্দাকিনী ঝরে ?
আননে কাদায় কেন ইহারা এখন ?
“তােমার সেবায় বিঘ্ন !”—ভয় বাসে মন ।
(১৭)
এইত করিনু বঁধু শয্যা বিরচন,-
শয়ন করিলে তুমি কি শােভা এখন।
এ তাম্বুলে বিনােদন,
কর প্রিয় প্রাণধন।
প্রণমি’ চরণতলে বসিলাম আমি,
ধীরে ধীরে পদ সেবি—নিদ্রা যাও তুমি।
(১৮)
শয়ন ভােজন তব সখের কেবল--
ভক্তের নাহি ত প্রিয়! কিছুই বুম্বল ;
তুমি না পূরা’লে সাধ, ভক্ত কোথা যায় নাথ ?
তােমার করুণা মাত্র ভক্ত আকিঞ্চয়।
তুমি কৃপা কর, তাই সাধ পূর্ণ হয়।'
(১৯)
আমি গাই গুণ তব, করহ শ্রবণ
বড় ভালস,নয়, স্বগুণকীর্তন ?
হাসি হাসি হাত ধরি, আদর কর যে হরি,
আরত না দুরে থুবে, বল বঁধু বল ?
“স্বস্থানে যাইতে চাও, সঙ্গে লয়ে চল।
**
১৪
[চিস্পন্দন
(২)
মরি মরি কি সুন্দর চিদাকাশ ধাম ।
তুমি আমি এক হয়ে র’ব অবিরাম ;
তবু আমি, আমি রব,
চরণ হৃদয়েথুব,
যবে ইচ্ছা তুমি আমি শত খেলা করি।
চিত্তাকাশে মহাকাশে বিশ্বরূপ ধরি।
চি
পাদপদ্ম।
*
থাকিবেনা যদি তুমি, কে আসিতে বলে ?
ইহাতে পরাণ মম দ্বিগুণ যে জ্বলে!
এস না—সহিতে পারি; আসিয়া যেও না।
কেমন কঠিন প্রাণ ?—তােমার লাগে না।
পূর্ণভাবে আসিবে না—আসিও না আর ।
এই সাধ, সদা দেখি চরণ তােমার।
চরণ তোমার—তাই সর্বস্ব আমার।
দরিদ্রের মহানিধি প্রাণের আধার।
চরণ বড়ই ভাল কি বলি আমি।
চরণেই চিরশান্তি এই দিও তুমি।
চরণ-সরােজ দেখি অলক্তে রঞ্জিত।
সােনার নুপুর তায় মৃদুল শিঞ্জিত ।
নেচে নেচে এস কাছে ধরি শ্রীচরণ।
হিয়ায় থুইয়া সদা করি নিরীক্ষণ ।
ধীরে ধীরে যবে তুমি আসিছ হৃদয়ে।
প্রতি পদক্ষেপে পদ্মউঠিছে ফুটিয়ে ।
মধু গন্ধ লােভে অন্ধ কত ভৃঙ্গ তায়।
পাদপদ্মে হৃদি-পদ্মে গুঞ্জে গুঞ্জে,ধায়।
খাম-নীল সমােকহে শােনার ভ্রমরী।
সব ভুলে লাগি বহু দিবস শর্বরী।
আলােল কবরীভায় মুখশশী তায়।
কালমেঘ কোলে চঁাদ ভাসিয়া বেড়ায়।
তােমার মধুর রূপ কি বলিব আমি,
হিয়ায় থুইয়া পদ না দাড়ালে তুমি ?
শিবচক্ষে আঁখি থুয়ে সেই আঁখি নিয়ে
চাহিলে তােমার পানে কি আসে ভাসিয়ে!
কি বলিব কা’র পানে তুমি চেয়ে রও।
শুধু হাসি-ভরা মুখ কাহারে দেখাও।
অসি মুণ্ড বিভীষিকা বহিরাবরণ।
ভিতরে আনন্দময়ী সুধা বরিষণ।
সে সুধায় করি’ গান হইয়া শীতল।
পাদপদ্ম ধরি’ করি জনম সফল।
চিত্তালন।
জীব ও জীবাত্মা।
,
পরিচয় নাহি কেন দাও আপনার?
কে তুমি, নিবাস কোথা?
ভ্রম কেন যথা তথা ?
কারও মুরতী খানি প্রেমের আধার ?
অন্ত জরায়ুজ মাঝে
মধুর প্রতিম সাজে
অনন্ত ব্যাপিয়া তুমি আছ নিরন্তর।
তেজ উদ্ভিজ’পরে
নানারূপ আছ ধরে
কভু বা প্রকৃতি, কভু পুরুষ সুন্দর।
কভু দীন অতিশয়
কখন ঐশ্বৰ্য্যময়
কথন গম্ভীর, কভু হও বা চঞ্চল।
কভু সাজ’ মহাবীর
কভু হেরি অতি ধীর
কোমলে কঠিন, কভু কঠিনে কোমল।
কখন বিচারে ভরা
কভু বা পাগল-পারা
তোমার প্রকৃতি সনে কত খেলা কর ।
[চিৎপন্দন
?
হাসি-হাসি-মুখে চাও
ধরা ছোঁয়া নাহি দাও
কে তুমি আমার হও? কিবা নাম ধর?
হৃদয়-জলধি জলে,
স্ফট-কোকনদদলে
ক্ষণে স্থিতি, ক্ষণে লয়, চলাের্মি চঞ্চলে।
•কোথা নিত্য তব স্থিতি
বল প্রভু! এ মিনতি
কোথ। সে পরম পদ ? থিরে—কি চঞ্চলে?
আকাশ বিথার কিসে?
কেন বা বিজলী এসে ?
কি দেখায়, কিবা দেখে, কেন এ চপলা ?
আধারে আলােক মেখে
সুপ্ত আশা উঠে জেগে
কে খেলায়, কেন খেলে, কার বা এ খেলা ?
যে হও সে হও তুমি
আমার “আমিই তুমি
কত থিয়—কত শান্ত—তুমি থাক যথা ।
শুধই আনন্দময়
প্রাণ মন লীন হয়
কত কোটী চন্দ্র সূৰ্য্য নিত্য উঠে তথা ।
--
চিকন
জীবন কাহিনী।
খেলিয়াছি কত খেলা বালিকা সময়।
নাহি সুখ দুঃখ কোন, সকলেতে সমজ্ঞান,
যেদিকে তাকাই, সব ভালবাসা-ময়।
চারিদ্ধিকে কলবর, উষা আগমনে সব,
হাসিয়া প্রকৃতি সতী উঠিত যখনি।
কচি কচি ফুল গুলি, ঘুমধােরে 'ঢুলি’ ঢুলি’
টিপি টিপি হাসি হাসি ফুটিত মনি।
ছােট ছােট পাতে পাতে,শিশির পড়িত তাতে,
আদরে জননী যেন থােয়াইত মুখ।
আপন আঁচিল নিয়া, স্বপ্নেহে মুছায়ে দিয়া,
ছড়াইত বিশ্বমাতা, বিশ্বময় সুখ।
মা’র কোল হ'তে উঠি’ বাগানে যেতাম ছুটি
শাখি শিরে পাখী গুলি বসি’ সারি সারি।
একে একে ডেকে ডেকে, জাগাইত একে ওকে,,
ঝিঝিট খাম্বাজ স্বরে ললিত মাধুরী।
দু’হাত তুলিয়া ডাকি, আয় আয় আয় পাখী।
আমার খেলার জুটি করিব রে তােরে।
যতনে শিখাব বুলি,মুখে দিব ক্ষীর তুলি’,
রাখিব আমার সেই ছােট খেলা ঘরে।
সখী সনে কত খেলা, খেলেছি শৈশব বেলা
দিতাম পুতলী সাথে পুতুলের বিয়ে।
.
চিত্তম ।
বর ফ’ণে কুতুহলে, সাজাতাম নানা ফুলে,
উলটি’ পালটি’ কত দেখিতাম চেয়ে।
সাধের তনয়া যবে, শ্বশুর আলয়ে যাবে,
কাদিতাম মায়ে বিয়ে করি’ গলাগলি।
জনক জননী আসি, জিজ্ঞাসিত হাসি হাসি
“কেমনে মেয়ের বিয়ে লুকায়ে মা দিলি ?”
ঢাকিতাম মুখ খানি, মায়ের আচল টানি’,
জনক জননী কত করিত চুম্বন।
খেলার পুতল আমি, খেলিছেন বিশ্বস্বামী,
হায়রে, একথা মনে হয়নি তখন।
কখন বালিকা গড়ি', কভু বা যুবতী নারী,
কখন বা বৃদ্ধা জরা, শিরে শুভ্রকেশ;
কভু বা সাজা’য়ে রাণী, কভু করে ভিখারিণী,
কখন গৈরিক বাসে আবরিছ কায়।
নিতুই ত এই খেলা, খেলেছি শৈশব বেলা,
আজ দেখি সেই খেলা সারা বসুধায়।
কভু পতি পাশে সতী, হাসি হাসি’ সারা রাতি,
সােহগে পােহায় কত সাধের শর্বরী।
কখন সিন্দুর ভালে,ইন্দু আভা যেন জলে,
কখন বা শিরে হাত হাহাকার করি।
সাম্পত্য-প্রণয়-ফল, পুত্ররূপী শতদল,
ফটিলে, হৃদয়ে নিত্য আনন্দ অপার।
দ্বিতীয় শশাঙ্ক মত,মার বুকে খেলে কত,
এই দেখ—এই নাই—ৰ জন্ধকার।
[ চিম্পন্দন
*
কক
শ
কভু ধরা সুখময়, সুখের লহরী বয়,
কভু হের ঘােরতর শুধুই আধার!
মিথ্যা মায়া মোহ ধরি’, কেন বা হেথায় ঘুরি,
কেবা আমি? কারে বলি এই আপনার?
কেবা স্বামী কেবা পিতা? মিলন বিয়ােগ কোথা?
সকলইত সেই বিভু, তিনি ত সকলি।
হ্রাস বৃদ্ধি নাহি হয়, সমভাবে পূর্ণময়,
বৃথা কেন হাসি কঁদি সুখে দুঃখে ভুলি।
কা’র প্রতি ভালবাসা, কার প্রতি দ্বেষ হিংসা,
কারে বলি ঘাের শত্রু? কারে প্রিয়জন?
দেখিয়া না দেখ চিত, হায় রে শিখাব কত?
সেইত সকলে ভাসে প্রাণের রমণ।
আদি অন্ত নাহি পায়, তবু চিত্ত বেগে ধায়,
কে যেন অনন্ত টানে অধীর করায়।
তাই বুঝি সে আমার, সে বিনা নাহিক আর,
সেই খেলে কত ছলে লইয়া আমায়।
তার মায়া আবরণে, সুখ দুঃখ উঠে মনে,
অলীক মায়ার ক্রীড়া,ষা’নাই তা বলে।
আদর্শনে কাদি তাই, দেখা দিলে ভুলে যাই,
সত্য সনাতন তুমি পূর্ণ সৰ্ব্বস্থলে।
শতবার জন্মি মরি,না ডরাই তায় হরি,
জনমে মরণে কৃপা রেখ’ দয়াময়!
চাই স্বরগে ঠাই, ধৰ্ম্ম মােঙ্গে কাজ নাই,
তােমাতে আমাতে যেন মেশামিশি রয়।
২২
{ চিত্তন
আত্মবিচার
কি কাৰ্য্য সাধিতে আজ আসিয়াছি হেথা ?
ভুল! ভুল! সবই ভুল! আমি—“আমি
কোথাও
অনন্ত স্বরূপ ভুলে
ক্ষুদ্র দেহ “আমি' বলে
সাজিয়াছি পিতা মাতা পুত্র কন্যা স্বামী,
আমি, “আমি” নাহি জানি,তবু ভ্রমে সুমি।
হুজুরে হাজির মত
দাস দাসী সেবে কত
তুমি কেবা প্রভু সেজে করি’ছ তাড়ন?
কারে বল রােষে দ্বেষে করিয়া গর্জন?
মােহ ঘােরে অচেতন
হ'য়ে আছ সর্বক্ষণ
কাম' ক্রোধ লােভ মােহে ভাবি নিজ জন,
ভৃত্য সম কর সদা চরণ সেবন।
গেছে গেছে দিন কত
বৃথা কাজে অবিরত
হও এবে সাবধান বুঝে চল মন,
কিছু সকলি দেখ মিছ৷ এ স্বপন।
চিনে।
t
“দামি” “আমি” বলি যারে
সেবিয়াছ কত করে
ধরে ছিলে আশালতা সুখ শান্তি আশে-
সব মিথ্যা ছিন্ন ভিন্ন আজ কাল বশে।
যার তরে দেহ পাত
কয়েছিলে দিন রাত
পদানত দাসী প্রায় করেছ সেবন,
অপবিত্র দেহে দেছ প্রেম আলিঙ্গন।
সেই আজ গেছে কোথা
সেই আমি আছি হেথা
কেবা আমি, কেবা স্বামীকে পরিজন ?
হরি হরি ! সব ভুল-নিশার স্বপন।
ক্লান্ত জন পান্থশালে
এসে ব'সে কুতূহলে
কমে আসে কত শত নর নারীগণ,
শিষ্টাচারে মিষ্টালাপে করায় যাপন।
ওতরে পরিচয়
শক্র মিত্র কেহ নয়
কর্ম শেষ করি, করে যথেচ্ছাগমন ;-
তেমতি এ বিশ্বে জেন ক্ষণিক মিলন।
ছাড় ছাড়' ছাড়’ “আমি
একবার দেখ “তুমি”
আপনা আপনি সব হবে আকুঞ্চন;
“তুমি” “তুমি” “তুমি” বিনা নাহি অন্যজন।
२8
{ চিত্তস্পন্দন
;
রোগে শোকে কাদ যত
সুখে দুখে ভাস’ তত
প্রান্ত চিত নাহি বুঝ” “আমি” কেবা হয়,
হরি হরি! সব মিছা, কেহ কারও নয় !
“স্বামী” “স্বামী বল কার ?
তুমি কেনা হও তা’র ?
সামীত্বে পশুত্ব নাই—শুদ্ধ সত্ত্বময় !
জড় ও অস্থায়ী দেহ স্বামী-যােগ্য নয়।
সতী নারী হয় যেই
পাত ছাড়া কভু নেই ,
পতির লাহিক কতু জন্ম মৃত্যু ভয়-
সতী তেজে জ্যোতিৰ্ম্ময়—পতি মৃতুঞ্জয় !
বিধবা নাথ বালা
কভু কিগাে কুলবাল
নশ্বর জড়ের তরে কেন কাদ’ এত ?
দেখ স্বামী অবিনাশী--নিত্য—অবিকৃত।
জড় দেহে দেছ' প্রাণ
হও এবে সাবধান
দরিদ্র কোথায় বল মহারত্ন পাবে ?
কিবা তার আছে,দিয়া তােমায় তুষিবে ?
যে জন পশুত্ব করে
তবু “স্বামী” বল তারে ?
ধিক্ ধিক্ সতী বলে দাও পরিচয় !
সতী যে, তাহার স্বামী জিতেন্দ্রিয় হয়।
০
চিত্ত স্পন্দন
--
',
প্রেম-প্রেম, পবিত্রত
প্রেমে নাই মলিনতা
ধ্বংস করে রিপুচয় নিজ তেজ ঢালি',
হি যথা নিজ তেজে পােড়ায় সকলি ।
ইন্দ্রিয়ের কাৰ্য্য নাই
“আমি” “আমি” ভুলে যাই,
শুধু থাকে নিত্য শান্তি, পূর্ণ জোতির্ময়,
শুনিয়াছি অপরােক্ষ জ্ঞান, প্রেমময়।
নহে প্রেম বল যারে,
কেনা এই প্রেম করে ?
পশুত্ব প্রণয় যদি, এই মনে হয়-
দেখ এই প্রেমে মত্ত কে আজ নয়।
জলচ ফুলটির
মুখ জ্ঞানী নারীর
নত হয়ে সেবে সব ইন্দ্রিয়ের পা’য় ;
ধিকু শত ধিক্, তার সতী গরিমায় ।
দুই চারি পুথি পড়ে
জ্ঞানী ভাব আপনারে
মধু বঢ়নে তোম’, লােকের অন্তর
হলাহল নিজ হৃদে কিন্তু নিরন্তর।
অন্তরে লুকাতে পার,
নিজেকে লুকা’তে নার
বার কাছে চাপা দিতে করিছ প্রয়াস,
সেই সেই সেই তুমি, জানিও নিৰ্যাস।
[ চিত্তস্পন্দন
বৃথা করি প্রাণপণ •
লভিয়াছ বিদ্যাধন
পরকে বুঝাতে পার’ বলে ঘট মটু ;
নিজে শিক্ষা লভ’ আগে নিজের নিকট।
উচ্চ, মান যদি চাও
তৃণ সম নত হও
বহিতে চাপিতে কোথা ভরাশি পারে ?
আপনার তেজে সেই, দি আলো করে।
পতঙ্গম আসে ঝাঁকে
কেবা বল ডাকে তাকে ?
দীপ কি দিয়াছে কিছু নিজ পরিচয় ?
ফুটিলে কমল, ভূঙ্গে ডাকিতে কি হয় ?
যশ লাভে যদি মন
আগে ভ’ নিত্যাধন
বাঞ্ছা কল্পতরু সে যে, যা চাও তা পাবে ;
সে কান্তি অক্ষ ব-~-চিরদিন রবে ।
তবু কিন্তু যেতে হ’
নাম যশ প'ড়ে র'বে
তার লাগি কর কিছু গােপনে সঞ্চ,
আড়ম্বরে বল হবে কোন্ ফলােদয় ?
দেখ দেহে রোগ জয়
দুই দিন পরে এরা
পশিবে তােমার ওই সুন্দর শরীরে,
তুসি তবে কেম বল বাও এর .
চিত্তস্পন্দন -------- { *প্রেম প্রেম কর যারে সে প্রেম রাখিবে দূরে, রােগে শােকে জীর্ণ তনু শক্তিহীন হবে; বল বল কি করিলে, এসে এই ভবে ? সুখ যত দেখিলে ত ? . তবু কেন সুখে, মত্ত ? কামনার ক্ষয় বিনা সুখী নহে কেহ ; হতে চাও কাম-জয়ী ? কামনা ত্যাজহ। হ’তে চাও প্রেম দাস ? ছাড়’ তবে তুচ্ছ আশ- ছাড়’ ছাড়’ আগে ছাড়’ কামিনী কাঞ্চন ; নিত্য প্রেম চাও যদি, সর্ধে দাও মন। প্রেমময় সে আমার অনন্ত ভাণ্ডার তার হীনে কি করিতে পারে দারিদ্র্য ভঞ্জন ? হতে চাও মহাধনী ?-ভজ’ নিরঞ্জন। দিনে দিনে বল পাবে সব জ্বালা দূরে যাবে সেই এক বিশ্বমী সবার জীবন ; তারে ত্যজি’ নরে কেন কর আকিঞ্চন? হৃদি স্বামী যদি চাও কেঁদে তার কাছে যাও দাও প্রেম আলিঙ্গন, পূজ’ সে চরণ; সেই পতি, তা’রে কেন করনা বরণ ?
চিস্পন্দন
সেই পত্নী, সেই স্বামী,
সে ছাড়া নহ ত তুমি
সেই পিতা, সেই মাতা, সেই ভাই বােন,
সেই তুমি, সেই আমি, সেই এক জন।
সেই শত্রু, সেই মিত্র,
•সেই কন্যা, সেই পুত্র,
কা’রে পূজ’, কারে ত্যজ’, কেবা তব পর ?
জগত রমণ সে যে সবার ভিতর।
সর্বত্রই তার স্থান
হয়ে যাও সাবধান
সত্য বটে তার মায়া সৰ্ব্বত্র ব্যাপক,
কিন্তু পরিচ্ছিন্ন সদা তাহার নিকট।
মহাকাশে দেখ যুত
তারি খেলা শত শত
দুই চক্ষু সেথা নয়--অগণ্য নয়ন ।
তারে ফাঁকি দিতে চাও? একি অলক্ষণ।
ত্যাগী গৃহী যেই হও
গৃহে মহারণ্যে রও
অথবা পাতাল তলে থাক’ নিমগন,
সম ভাবে তার চক্ষু করিছে দর্শন।
ত্যজ’ বৃথা আস্ফালন
ধন যশ আকিঞ্চন
ভাবঘরে খাঁটি হও, পাবে সেই ধন,
ধীরে ধীরে নিজ পুরে কর অন্বেষণ।
চিপশন )
“এ জন্মে হবেনা কিছু”-
এ ভেবে হ'য়ােনা পিছু
হয় হক, নাহি ভয়, কিবা আসে যায়?
কর্মে অধিকার তব--কৰ্ম্মফলে নয়।
অনিত্য শরীর এই
এই আছে--এই নেই।
কৃমি কীট ছাই মাটী এর পরিণাম !
যতক্ষণ আছ, গাও মধু রাম নাম
দীনা হীনা নাহি জানি
মহাজন বাক্য শুনি
বা এল প্রাণের ভাষা করিনু জ্ঞাপন
অপরাধ ক্ষমা কর, শান্ত সুধী জন।
[ চিম্পন্দন
আমার ঈশ্বর।
(১)
এমন নির্জীব কিরে আমার ঈশ্বর?
এক হাতে সূৰ্য্য ধরি’ আর হাতে চন্দ্র করি
গতি দেন নিরন্তর যুগ যুগান্তর,
অনন্ত প্রতাপ তিনি, ব্ৰহ্মাণ্ড ভিতর।
(২):
হার অসীম শক্তি ভাব’ একবার
পদাঙ্গুলি স্পর্শে যার
• পায় তেজ পারাবার,
বহিছে, বহিবে, ধরি’ যুগ যুগান্তর,
বিরাট পুরুষ সেই, আমার ঈশ্বর!
( ৩ )
বারেক চাহিয়া দেখ উর্ধে একবার
ঐ যে পয়েঙ্গ ছােটে
ঐ যে নক্ষত্র ফোটে
সাগরে তরঙ্গ আর বুদবুদ যেমন,
আমার-তাহার অঙ্গে উহার তেমন।
( ৪)
ঐ যে বহিছে বায়ু তােমার জীবন,
বিশ্ব হ’তে বিশ্বান্তরে বাঁচে জীব যার তরে
বিহুর অনন্ত ঐ নিশ্বাস ক্ষেপণ,
প্রশ্বাসেতে সৃষ্টবিশ্ব দেহেতে মগন ।
চিম্পন্দন । ৫. ( ৫ ) যাঁর শ্বাসে জীয়ে জীব, প্রশ্বাসে প্রলয় কোটী চন্দ্র সূৰ্য্য তবে গতি ছাড়ি প্রবেশিবে যাঁহার বিপুল অঙ্গে—হইবে নিলয়, আমার ঈশ্বর তিনি, অন্য কেহ নয়। ( ৬ ) অন্তহীন শত বিশ্ব, কোটী সূৰ্য্য তারা, তাহাদের কাছে তব স্থান কোথা মনে ভাব আর ভাব’ তােমার ও গর্ব অহঙ্কার, রেণু সূক্ষ্ম তেজ বই পাওনি যাঁহার। = । কে বলে নির্জীব হায় আমার ঈশ্বর ? জড়ের কি উপাসনা • হয় কভু এ ভাবনা ? পরিপূর্ণ চিৎ সেই ঈশ্বর আমার, প্রাণ রূপে অণু রেণু মধ্যেতে বিহার। (৮) তুমি কি দেখিছ আজ শুধু জড়ময় ? এখন(ও) বহিছে শ্বাস তবু ক অবিশ্বাস কে আছে তােমার মাঝে দেখ একবার, হেরি’ সে নিৰ্ম্মল জ্যোতিঃ ঘুচিবে আঁধার। (৯) তুমি নাই—সেই আছে –পূর্ণ জ্ঞানময়, নাহি ক্ষয় কোন কালে পূর্ণ সে যে সৰ্ব্বস্থলে তরু লতা গিরি গুহা সাগর নিচয় আমার-তাহার অঙ্গে—তাতে কিছু নয় ; নির্জীব আমার প্রভু এমন কি হয় ?
{ নিস্পন্দন
শুন আরাধ্য দেবতা
• শুন আরাধ্য দেবতা ।
ত্যজি কুল ধৰ্ম্ম লাজ,
বিজনে এসেছি আজ,
শুনাইতে দুটো প্রভাে! সুখ দুখ কথা,
শুন আরাধ্য দেবতা !
আর না ডারিহ মােরে, কুহক পূরিত পুরে,
হাসিব কঁদিব নাথ ! একা বসি হেথা,
শুন আরধ্য দেবতা।
শুন বা না শুন তুমি, তোমারে সাজা’য়ে আমি,
একে একে নিবেদিব মরমের ব্যথা,
শুন আরাধ্য দেবতা।
থাক ব্যবধান শত, তবু জনমের মত,
স্থার জঙ্গম আদি নব পুষ্প লতা
শুন আরাধ্য দেবতং ।
থাক’ গােপনে গােপনে, আমি প্রকৃতির সনে
মিলাইয়া তােমা’• প্রভু কব দুঃখ-কথা
শুন আরাধ্য দেবতা!
কোথ! লুকাইবে আর, আমি জেনেছি এবার
এ হৃদয়ে আছ নাথ ! নিত্য তুমি গঁথা
শুন আরাধ্য দেবতা।
চিত্তস্পন্দন ]
যদিও গােপনে রও,
আমার প্রকাশ্য হও,
পার’ কি যাইতে প্রভু মােরে ত্যজি’ কোথা?
শুন আরাধ্য দেবতা!
কিছু না করিতে পারি, তােমারে একান্তে স্মরি’
ছাড়িব নশ্বর দেহ আমার বিধাতা,
শুন আরাধ্য দেবতা!
বিপিনে চলমা সাথে,
মধু পূর্ণিমা রাতে
হাসিবে যখন সুখে ফুল্ল ফুলে লতা,
শুন আরাধ্য দেবতা !
হাসিব হৃদয় ভরে,
সব জ্বালা যাবে সরে
ধীরে ধীরে মুছে যাবে এ দারূণ ব্যথা,
গুন আরাধ্য দেবতা !
দেখিয়ে দিনমণি, ব্লানমুখী কমলিনী
কঁদিবে নীরবে চাপি’ গােপনীয় ব্যথা,
শুন আরাধ্য দেবতা।
বড় সাধ মনে মনে,
কঁদিব তাহার সনে
ডাকিব তােমায় যবে,পাবে না। কিঁ, ব্যথা?
শুন আরাধ্য দেবতা!
সত্য সত্য শাস্ত্রে কয়, নিষ্ঠুর ত তুমি নয়
জানিআমি তব প্রাণ কতই মমতা।
গুন আরাধ্য দেবতা!
পূৰ্ব্ব কৰ্ম্ম ক্ষয় তরে,
কাছে থাকি’ থাক দূরে
গর্ব কৰ্ম্মে হ’ মম পূর্ণ ব্যাকুলতা--
শুন আরাধ্য দেবতা!
[ চিম্পন্দন -~~ মা। কোথা গো জননি! তুমি নাহি এ সংসারে ? নাহি লয় মনে মাতঃ! এ কথা কথন ; বড় ব্যথা পাই মা গােস্মরিলে এ কথা; শূন্যে শূন্যে ঘােরে যেন অখিল ব্ৰহ্মাণ্ড। তরু লতা পশু পক্ষী ভূধর কানন জল স্থল রবি শশী সব তমােময়। চৈতন্য রূপিণী তুমি, অভাবে তােমার চেতন সম্ভব কোথা ? অসার ধরণী নিস্তেজ নিষ্প্রভ সম শকারেন! ভানু অন্তর্হিত হলে থাকে কি তাহার বিন্দুমাত্র রশ্মি মাতঃ ! মেদিনীর শিরে? তুমি নাই—আমি আছি, একথা কেমন ? সম্পূর্ণ অলীক যাহা কি করে প্রত্যয় করি গাে জননি! আজি? জ্যোতির্ময়ী তুমি, দেহের সম্বন্ধ কিগাে তােমায় আমায় ? কেমনে বলি বা মাগাে কেমনে বা ভুলি তুমি নাহি এ জগতে ? কি নিষ্ঠুর কথা! স্মরিলে শিহরি, প্রাণ কাঁপে থর থর; পরাণ- জুন মাগাে তােমার ‘মা’ নাম! রােগে শশাকে দুঃখে শান্তি, ভয়েতে নির্ভয় ! ‘মা’ ‘মা’ বলি কত বার ডাকিগাে জননি! 1;
চিত্তপন ]
.
সজল নয়নে তােরে ; তব স্নেহ জ্যোতি
অমনি পরাণে ভাসে। পার’ কি ভুলাতে
চির স্নেহময়ী তুমি, তােমার সন্তানে
মূর্তিময়ী দয়াবতী জননী আমার?
এই ত তােমার স্নেহ ভাসিছে চৌদিকে—
তেমনি শিয়রে বসি তেমনি মা স্নেহে
প্রচণ্ড নিদাঘ কালে সূক্ষ্ম রূপে আসি,
নেতের বসনে মাগাে কতই আদরে
মুখানি মুছায়ে, চাও সতৃষ্ণ নয়নে !
তেমনি আসিয়া ধীরে শারদী উষায়
জাগাও, চেতনময়ি! মৃদু পরশনে ;
তেমনি পাতিয়া অঙ্ক দোন্ধপূর্ণিমায়
প্রভাময়ি! প্রভারূপে বুকে টান’ তুমি।
সৰ্ব্ব দুঃখ শান্তি হয় মূহুর্তের তরে,
নিভে যায় ত্রিতাপের প্রখর উত্তাপ ।
শীতল অঙ্কেতে তাের দেখি সব ভুলি।
হাসি হাসি মুখ খানি জগতে অতুল ;
কোথাও নাহিক মা এ অকৃত্রিম স্নেই
আত্মবিসর্জন এত। প্রধান প্রকৃতি
জননী স্বরূপে সর্বজীর ঘরে ঘরে
নশ্বর সংসারে দেবী ! তুমিই প্রত্যক্ষ।
কে বলে মানুষী তােমা? দেহ আবরণে
শক্তিময়ি। নানা রূপে করিছ বর্ধিত
হৃদয় শােণিত দানে সন্তানে তােমার।
| চিস্পন্দন
.?
গায়ত্রী
{ ১)
প্রণব সম্প্রট করি, দাঁড়াও যখন
রূপের ছটায় ভাসে সকল ভুবন !
বৃক্ষ-পত্র অন্তরালে,
সুনীল মেঘের কোলে,
রশ্মি ছটা মাঝে যেন প্রভাত তপন !
শান্তে, বিশ্বরূপ মরি সুন্দর কেমন!
( ২ )
শান্তমূৰ্ত্তি দাড়াইয়া প্রণব ভিতরে
হাসি হাসি ভাস’, সে কি অন্তরে ?-
বাহিরে ?
প্রণব ছটায় হায়, কত রূপ উঘারয়,
জ্যোতির্ময় ভাল-তটে সুনীল অলকা।
নীল-নলিনাভ চক্ষে চেয়ে চেয়ে ডাকা।
( ৩ )
পাই পাই হারাইয়া যাও যবে তুমি,
নুটারে ব্যাকুল প্রাণে কত কাঁদি আমি?
এমনি করিয়া ডেকে, কেমনে কোথায় থেকে,
যেতে ব’ কাছে তব, পাই না সন্ধান ?
যাই যাই ফিরে আসিকেঁদে-র প্রাণ।
চৎ স্পন্দন ]
( ৪ )
কার্তিকে একাকী তারা শ্যাম-সন্ধ্যাকাশে
উজলি’ সবার কাছে সমদূরে ভাসে;
পুষ্করে সাবিত্রী-ঘাটে, কিম্বা নীলধারা তটে,
যথা যাই, তথা দেখি চিত্তাকাশে তুমি?
এত কাছে তবু কেন নাহি পাই আমি।
হে প্রণবময়ি! করি কোটী নমস্কার,
চতুর্দশ লােক দেখি শ্রীঅঙ্গে তােমার
অধেতে পাতাল বর্গ, উপুটে সপ্তসর্গ,
তদুপরি অর্ধমাত্রা বিন্দু তার কোলে।
মৌলে চন্দ্রদলে টিপ, তােমার কপালে ।
( ৬ )
নিশা হয়ে ধীরে ধীরে আঁধার মাখিয়ে,
লুকা’য়ে আপন জ্যোতিঃ,থাক’ দাড়াইয়ে
জাধার অঞ্চল তলে, সব ঢেকে কর কোলে,
তােমার পরশে দেখি ব্যাকুল হইয়া।
উর্ধে তারাচয় আছে আকাশ ছাইয়া।
(৭)
দিবা হয়ে দেখ চেয়ে তপন-নয়নে,
ত্রিসন্ধায় তিনমুর্তি আলােক ভবনে
কুমারী প্রভাতে খেলা, যুবতী মধ্যায় বেলা,
সায়াহে, বার্ধক্য, যেন সূৰ্য-বিহারিণী,
বেদময়ি। নিত্য বালা, নিত্য বৃদ্ধা তুমি।
[ চিত্তপন্দন
(৮)
তুমি যে উপাস্য ; তবে কেন দূরে থাকা।
অথবা নিকটে তুমি, তবু নাহি দেখা ?
বল কি করিবে তুমি? বল কি করিব আমি এ
কল্পনা-অজ্ঞান কবে কাটিবে আমার ?
কত দিনে র’ব নিত্য নিকটে তােমার ?
::
২)
চিস্পেন।
শরীরী বিশ্ব।
w
কি দেখালে বিটপী দেখাও আর বার।
নেত্র জলে ভাসে দেখ হৃদয় আমার।
জনম ভরিয়া দেখি, আছ দাড়াইয়া ।
সেই পত্ৰ, সেই শাখা, শূন্যে প্রসারিয়া।
কখন হিল্লোলে দোলে তােমার শরীর।
কখন চঞ্চল তুমি, কখন গম্ভীর।
মহান্ অনন্ত তলে পুত্র কন্যা লয়ে।
জলে ঝড়ে সমভাবে আছ দাঁড়াইয়ে।
নূতন সৌন্দৰ্য্য আজ পাইলে কোথায় ?
কেন কাদি, নাহি বুঝি দেখিয়া তােমায় ।
নিৰ্ব্বাতে গম্ভীর মুর্তি হেরিয়া তােমার।
অতি ধীরে হৃদি শান্ত হতেছে আমার।
কি জানি কাহারে যেন দেখিতেছ তুমি।
কি জানি কাহারে যেন দেখিতেছি আমি
এখনও নিরখি যেন স্নিগ্ধ ছায়াকার।
সমভাবে পড়িয়াছে অন্তরে দোহার।
মরি মরি একি তরু! চেতনাচেতন।
এক(ই) পশয়ে ভুক্ত আমরা দু’জন ।
বসিয়া নির্দিষ্ট স্থানে আমরা দুজনে।
সমান উদ্দেশ্যে ছুটি এই বিশ্ব সনে ।
[ চিত্তস্পন্দন
শাখা পল্লবাদি তরু! তােমার যেমন।
চন্দ্র, তারা, তুমি, আমি, বিশ্বের তেমন।
মরি মরি এ সম্বন্ধ তােমার আমার ।
আমি ব্যথা পেলে কঁাদে অন্তর তােমার ।
পৃথক করমে জীয়ে আমরা সকলে।
অগ্রসর হইতেছি বিশ্বে সুকৌশলে ।
চন্দ্র, সূৰ্য্য, পশু, পক্ষী, ভূধর, সাগর। ।
একের ব্যথার ব্যথী বিশ্বের অন্তর ।
এক অঙ্গে শাখা পুত্র আমরা সকলে
হায় তরু! কি অবিন্তা মানব মণ্ডলে।
এমন সখ্যতা তরু! তােমায় আমায়।
দেখ কত হিংসা দ্বেষ তবু রে ধরায়।
হায় তরু! মানব কি চিনে পরিবার।
কখন ঘুচিবে কি রে এই হাহাকার ?
বল তরু। কখন কি তােমার মতন
পুলকে মানব জাতি হবে নিমগন ?
ছিড়িলেও পত্র পুষ্প হিংসা না করিবে।
তাহার মঙ্গল হেতু বিভুরে ডাকিবে ?
বিটপী যা দেখায়েছ দেখাও আবার।
কারে করি দ্বেষ হিংসা সব ত আমার ।
কাদায়েছ অজি তরু! গলেছে পরাণি।
এত ভালবাস’ মােরে আমি নাহি জানি ।
অশ্রুজলে পূর্ণ আঁখি হ’তেছে আমার।
দেখিয়া হে তরুবর! মহত্ত্ব তােমার।
৪১
এমন মানব, ত! নাহি ধরাতলে।
ভিজে না অন্তর যার ভালবাসা-কালে।
আজি যা দেখি তরু! না দেখি এমন।
কাদিজা হে এত সুখ না জানি কখন।
তােমার নিকটে তরু। মাগি এই বর।
সুখে দুখে থাকে যেন অমনি অন্তর।
১২
[ চিম্পা
(১)
কোথা উঁদ কোথা তব সে তারার হায় ।
এদীর্ঘ আকাশ পথে যাও বা কোথায় ?
কোথা তারা? কেন এবে শীর্ণ কলেবর ?
কেন হইয়াছ আধা, কা’র উপেক্ষায় ?
(২)
কা’র উপেক্ষায় মুখে নাহি সেই হাসি
যে হাসিতে হাসাইতে আঁধার যামিনী
যে হাসিতে সব ভুলে ধায় চকোরিণী
ধরিতে তােমায় শশী, হয়ে পাগলিনী ?
(৩)
কেন গাও দুঃখ-গীতি? কি দুঃখ ভােমার ?
কেন চাও ডুবিবারে জলধির জলে ?
প্রাণভরা বিশশায়াসে কিসের সংশয় ?
ছি ছি ছি ঢেলনা চঁাদ সুধায় গরল!
(৪)
চিরদিন অরে ঘাের, কা’র আসে পাশে ?
কভু সে নিকটে থাকে,কভু যায় দূরে।
কভু পূর্ণ, কভু আধা, কভু শূন্য তুমি!
সদা নও দু’য়ে এক, তাই কি উদাসী?
চিম্পন্দন |
( ৫ )
চকোরিণী ভক্তিরাণী ভরা না দেখিলে
আসে না আদরে ধেয়ে-তাই কঁদ’ তুমি ?
ভরা কেন নাহি থাক’ দিবস রজনী ?
তবে পৃথিবীর ছায়া না আঁধারে তােমা।
সমুদ্র খনন করে দেবতা অসুরে,
এনেছে তােমায় শশী সবার গােচরে ;
যে দেখে দেখুক তা’য় কি ক্ষতি তােমার ?
তুমি যা’র তারি আছ’, সে আছে তােমার।
( ৭ )
যেওনা কোথাও, থাক’ হৃদয় মাঝারে।
অর্ধ-নারীশ্বর ভালে; তারা ত অমর,
মৃত্যুঞ্জয় শিব-রাণি একত্র মিলনে,
সদা পূর্ণ র’বে তুমি, কাছে রব আমি ।
==
{ চিত্তস্পন্দন
গোলাপ
• ' ০
(১নং) :
না বুঝে বেসেছি ভাল গােলাপ তােমায়।
মূলেই আমার ভুল তুমি যে স্বর্গের ফল !!
অমৃত স্বরূপ তুমি এ মরু ধরায়।
নশ্বর জড়ের সনে
হয় কি সাধন বিনে
দেবতার সম্মিলন, কথন হেথায় ?
অজ্ঞান অলপ মতি দেখিয়া পাইনু প্রীতি
তুলিয়া লইমু তােরে আদরে হিয়ায়।
বহিল তড়িৎচয় অমনি জীবন ময়
তখনি লুকায় ঘন চির অন্ধকার।
বাসনা উঠিল কত পূজিতে মনের মত
পূজার সামগ্রী দেখি, তুমিই আমার ।
পূজিতে শ্রীপদ চাই স্পর্শীতে না পারি হায়
অভিমানে কত কাঁদি স্মরিয়া তােমায়।
করুণ স্বভাব গুণে
স্বভাব আসি’ তুমি সঙ্গোপনে
আকুল পরাণ তােষ’ মেহ, মমতায়।
আবার সহস্র সাধে পাগল পুরাণ কাঁদে
নীরবে জুড়াতে চাই চরণ ছায়ায়।
আর ত জানি না আমি চিন্তার বিষয় তুমি,
কেমনে মিলিব নিত্য তােমায় আমায় ?
স্পিরুন ।
গোলাপ,
t
সবাই ঘুমা'লে,
(২নং)
বল ত গােলাপ,
তুমি এত ছোেট,
কি ভাব রজনী সনে ?
অতি নিরিবিলে,
চাহিয়া তােমার পানে,
যাঁদে কেন নিশি?
শিশিরের জল
তােমার পাতায় থাকে ?
সারা নিশি যেন
তােমার অঙ্কেতে
মাথা রেখে কেঁদে থাকে।
তুমি এত ছােট
তবু তােমা’ সনে
এত কথা কিসে হয় ?
আমি অভাগিনী
কোন্ দোষে দুষী,
সে আমার কেন নয়?'
‘আমার মতন
তুমিও সুন্দরী
এইত গরব তাের।
প্রাণে প্রাণে কথা
কইতে জান না
তাই এত জালা তাের”।
[ চিপন্দন
(৩নং)
কাহার কৃপায় তব এতই বিভব ?
হেথা কি তােমার বাস? নাহি হয় বিশােয়স,
মরুভূমে পঙ্কজের জন্ম অসম্ভব!
জিনিয়ছ সারাভুমি, স্বভাব সৌন্দর্য্যে তুষ্টি,
কে আর জানিবে হেথা তােমার আদর।
তােমার জলন্ত রূপে, পড়ে আছি কাম-কূপে,
সম্ভোগ করিতে চায় সংসার নশ্বর।
প্রেম, প্রীতি, ভালবাসা; হিয়ার তাবত আশা
গােলাপ! ফুটন্ত দেখিতােমাতে কাহায়।
সে কোন্ প্রেমিক কহ, যার প্রাণে এত স্নেহ
তােমার হাসিতে যার আনন্দ অপার ?
খুজিলামবিশ্ব কত, মিলে তােমার মত,
এমন আদরে-গড়া দেখিনি কোথাও,
দেখেছি নীরদগণে,
নবীন ভানুর সনে,
সােহাগে খেলিতে কত, নবীন উষায়।
দেখেছি সাগর নীরে, সুখে উছলিয়া পড়ে,
হাসিতে ক্ষতি কত তারকা উজল।
অনন্ত আদরে শশী, দেখিত আপনা বসি
আলােকিয়া গাঢ়তর নীল নভস্থল।
৪৭
চিত্তস্পন ]
====
.
পাষাণের বুকভরা,
দেখেছি সােহাগ ধারা,
দেখেছি প্রেমেতে কা’র কাদিত নিঝর।
দেখেছি জগতে কত, ভালবাসা প্রাণ মত,
দেখেছি পদ্মিনী প্রেমে পাগল ভ্রমর।
কিন্তু লাে গােলাপ ! শােন’,দেখিনি শুনিনি নে,
তােমার এ ভালবাসা অমৃত অক্ষয়।
শুধু কি কুসুম হাসি, 'আমি এত ভালবাসি?
জড়ত্ব হইলে শুধু স্পর্শ্বে কি হৃদয় ?
তবু ও কি দুঃখ মনে, কেন জল চক্ষু কোণে
তােমা সম ভাগ্যবতী কে আছে ধরায় ?
দেখ সে কেমন ক'রে, নিদ্রিত বদন পরে,
সহস্র সাধেতে সে যে তাের পানে চায়।
এত স্নেহে ফুলরাণি, কেন হও বিষাদিনী,
কেন বা শুধায় মুখ, কি দুঃখ হিয়ায় ?
গােলাপ আমারে কহ, • কেন'দা এলায় দেহ,
সাজে কি তােমায় রাণী মৃত্তিকা শয্যায় ?
তােমাতে লো ফুলবালা, তাহার পরাণ ঢালা,
একথা স্মরিলে আর থাকে কি বেদনা ?
কন্টক এই দেখে, ব্যথা বুঝি পাও বুকে,
একটা রক্ষার তরে—তাও কি জান না?
বড়ই কোমল তুমি, জান না এ মরভূমি
তুমি অমরের ধন,কে বােঝে এখানে ?
কঠিন না হলে পরে, শত খণ্ডে ছিন্ন করে,
তাই বুঝি বাজে এত সরল পরাণে ?
[ চিতুম্পন্দন
জানি আমি রাজরাণি, তুমি চির-সােহাগিনী
সে ত জানে,তবে কেন ভাবনা গোলাপ ?
অনন্ত নয়ন যার, গােপন কি থাকে তার ?
ছি ছি কি লজ্জার কথা তবুও সস্তাপ।
কেন এ রােদন বল, মুছে ফেল অশ্রুজল,
কাঁদিলে কাঁদিবে সে যে,কি দিবে উত্তর ?
হাস সখি! উষা সনে, আবার প্রফুল্লাননে,
হাসিবে, হাসিলে তুমি, সেও নিরন্তর।
স্পিন্দন
যLA
গােলাপ।
৪ নং
প্রভাতে অরুণ-করে,, নিহারের মালা পরে,
মুকুতা জড়া’য়ে যেন সোণায় লতায়।
ফটেছিলে ফারণ সে দিন উষায়।
বদনে নাহিক ধরে, হাসি উ ছুলিয়া পড়ে,
উন্মুক্ত কবরী ক্তি শিশিরের নীরে,
চুপি চুপি আসি' বায়ু স্পর্শী ধীরে ধীরে,
বিদায় চাহিল যবে, ছল ছল আঁখি তবে,
ঘেরিল চাদের যেন কাদম্বিনী এসে।
লুকা’ বিজলী হায়! ঘনঘটা পাশে।
ঝুর ঝুর ঝুর করে,
ছনি পড়িল ঝরে,
ধরা বুকে খসি পড়ে ভসুক। যেমন,
হায় রে বুরিল কত সুনীল নয়ন!
হাসির বিজলী তায়, লুকাইল নীলিমার,
সেই দিন হ'তে বুঝি হাস নাক আর,
অথবা কপট হেসে ভুলাও ১ংসার?
শুখা’য়ে গিয়াছে মুখ, তথাপি চাপিয়া বুক
কত যে অস্ফুট ভাব শুধকে লুকায়ে
এখন তেমনি আছ নীরবে দাঁড়ায়ে ।
{ স্পিন
গােলাপ।
৫নং
প্রখর ভানুর করে
এত দিন কা’র ভরে
রেখেছি,ে বল, প্রাণ কাহার আশায় ?
মরিলে, আসিয়া পুনঃ কেবা সে জীয়ায় ?
শতেক চুম্বন করে
কে আসি’ ফুটা’ল তোরে ?
গোপনে গােপনে রাখ, স্তবকে স্তবকে--
তাই কি সুন্দর তুমি, সকলের চখে ?
বাল বৃদ্ধ যুবা যায়
দেখিলে ফিরিয়া চায়
স্থির নাহি হয় আর কোথাও নয়ন ;
কার ভাবে সৰ্ব্ব চিত্ত কর আকর্ষণ ? *.
তােমারে দেখি’ গােলাপ
জুড়ায় হিয়ার তাপ
কণ্টকে চরণ ক্ষত তবু যাই ছুটে।
কি জানি কি নব বল, দেখে জেগে উঠে ।
চুপি চুপি কাছে বসি’
মনে হয় ল’য়ে আসি
**
চিলম)
.
বিরলে হৃদয়ে ধরি’ সদা দেখি তোমা'।
ভয় হয়—তুমি কার প্রাণ প্রিয়তমা!
দেখে তােরে সুখ পাই
তুলিতে নাহিক চাই
এমন কঠিন প্রাণ নহেক আমার।
থাক’ তুমি বুক জুড়ে সতত তাহার ।
শুধুই হেরিতে চাই
আর কোন স্বার্থ নাই
কচি ঠোটে মৃদু মৃদু অমিয়ার হাসি
দেখিলে, ভুলিয়া যাই, দগ্ধ আল-রাশি।
'প্রেম ভক্তি হীন প্রাণ
এ নহে তােমার স্থান
ব্যোমকেশে নাহি ফুটে ফল শতদল।
“সাহারায়” নাহি মিলে সুশীতল জল ।
শীলা শিল হৃদি’পরে
রােপিলে কি বীজ ধরে?
ফোটে কি গােলাপ কভু পাষাণ উপর ?
কি করিব, হৃদি মম নিটোল প্রস্তর
সতই জানি না আমি
কত সাধমে তুমি
সে জানে তােমায়, আর তুমি জান তারে,
যে বেঁধেছে প্রেমময়ি! চিরদিন তোরে ৷
*
d
[ চিত্ত
একা।
"
এত ভালবাস নাথ! তােমা ছাড়া আর
বহে না শান্তির শ্লোত, হৃদে অভাগার।
প্রভাতে মধুর রবে পিক পাপিয়ায়।
তােমার ও ভালবাসা চৌদিকে ছড়ায়।
লতায় পাতায় তব ভালবাসা আঁকা।
তবু তুমি দূরে দূরে—আমি থাকি একা
বসন্তে চন্দ্রমা হাসে মুখ-জোছনায়।
তারাগুলি চুপি চুপি তােমা' কথা কয়।
শুনি কথা তরুতলে বসি’ আমি একা,
শত জন্ম পরে সখে! হবে নাকি দেখা ?
চন্দন ।
প্রাণের সাধ।
আছ তুমি সত্য, নাথ ! আমি নাহি পাই,
বসিয়া হৃদয়-পদ্মে কতই সাজাই।
আসিবে বলিয়া তুমি, কত যত্নে গাঁথি আমি,
বিন্দু বিন্দু অশ্রুজলে মননাময় হার,
দিব বলে প্রাণময় চণে তােমার।
(২)
কি আছে দাসীর,নার্থ! যা নাই তােমার ?
আসিবে নিশ্চয় জানি—তুমি যে আমার!
আশায় জীবন রাখি, অভিমানে ঝরে আঁখি,
কভু বা বিরহে তব, শুখাইয়া যায়,
ভুলালে না ভুলে নাথ ! এত বড় দায়।
(৩)
কেন বা দেখালে তুমি রূপ নিরমল,
প্রণব-জড়িত মূৰ্ত্তি জ্যোতির কেবল ?
কেন বা বাসিলে ভাল ? কেন বা শিখা’লে বল
তুমিই আমার প্রিয় আত্মার রমণ ?
শিখায়েছ তুমি যাহা, ভুলি কি কখন ?
০
[ চিন্তস্পন্দন
এক শ ।
( ৪ )
ই পক্ষ মাস বর্ষ কত আসে যায়,
আমি চাহি পথ পানে তােমার আশায়।
পাতাটা নড়িলে গাছে, আমি ভাবি ওই বাজে,
তােমার চরণে, প্রভু ! নূপুর চিক্কণ--
ভক্ত মাতােয়ারা যাহা করিলে শ্রবণ।
নিত্য আমি করি নাথ ! কত আয়ােজন
'তুমি ত আসিয়া কই কর না গ্রহণ ?.
মৃদুল মলয় স্পর্শে, শিহরিয়া উঠি কার্য
“আসিয়াছ তুমি” বলি’ নয়ন তাকায়--
আমার ব্যাকুল করে লুকাও কোথায়?
{৬ )
মহাকাশে বহুরূপে খেলা কর তুমি,
কত শত রূপ ধরে নিত্য এস, স্বামী!
অজ্ঞানে অাচ্ছন্ন হায়, চিনিতে না পারি তায়,
তুমি বড় দয়াময় দয়ার আধার,
এস প্রভু! প্রাণরূপে পরাণে আমার।
(৭) •
প্রাণের মূরতি আমি গড়েহি বিরলে,
অর্ধমাত্রা কোলেবিন্দু শশী সূৰ্য্য জ্বলে ;
চিদাকাশে নিত্য র’য়ে, মহাকাশ আছ ছুয়ে,
তবুত্ত তবুও তুমি হারাইয়া যাও,
কে সখে ! বারে বার প্রাণে ব্যথা দাও ?
,
ভিশন) (৮) কি হেতু বিলম্ব, নাথ ! আসিতে তােমার ? বল কি করিলে তুমি আসিবে আবার? বল প্রভু! একবার, আসিয়া যাবে না আর? আমি যে থাকিতে নারি ছাড়িয়া তােমায়- মেটে না প্রাণের সাধ সুধু কল্পনায় ! (৯) এখনও কি কৰ্ম্মক্ষয় হয়নি আমার ? বল দেব! কতদিনে করিবে উদ্ধার ? যা ভাল তা কর তুমি, শুধু এই চাই আমি, নমি যখন প্রভু! শ্রীপদে তােমার- শিরে দিও পদত্ন সৰ্ব্ব আমার! {১} তুমি স্বামী, আমি তব দাসী চিরকাল, তবু না সেবিষ্ণু পদ হায় রে কপাল ! তুমি গুরু শিষ্য আমি, তুমি নাথ ! জগত-স্বামী, নিকট সম্বন্ধ বড় তােমায় আমায়, রাখ, প্রভু! কাছে রাখ, ধরি দু’টি পায়। (১১) মনের মতন করি পাইনি কখন, এসে যাও তুমি,নাথ! বল কি কারণ? অনিমা লঘিমা আদি, অষ্টসিজি সর্বনিবি, সালােক্য,সামিপ্য,প্রভু! সারূপ্য তােমার, কিছুত চাহিনি নাথ !—বলেছি “আমার”।
I চিত্তস্পন্দন
(১২)
তুমি প্রাণনাথ মম এত ভাগ্য কার ?
আমি পদরেণু তব-কি নাই আমার ।
হাসি হাসি হাসি-মুখে, থাকনাথ চখে চখে,,
আর এক নিবেদন করি গাে চরণে-
অমৃতে ভরিও প্রাণ’ স্নেহ সম্বােধনে।
(১৩)
ডাকিও নামটি ধরে আদরে সৰ্ব্বদা;
সর্ব শাস্ত্রে তােমারি ত সেই এক কথা--
“যােগক্ষেম আদি ষত, যাহা চাও দিব তত,
তোমার কারণে আজ এ রূপ কামাল,
নহে সৰ্বকল্প আমি—নিত্য নিরাকার”।
(১৪)
কেন তুমি এত ভালবাস গাে আমায়?
আমি কি তােমার প্রভু যােগ্য রাঙ্গা পায় ?
অথবা স্বভাব গুণে,
দয়া কর দীন জনে,
দীনুকরি নাথ তুমি, হইও আমার
এ মাের প্রাণের সাধ, শুন প্রাণধার।
=
চিত্তস্পন্দন
সাধে কি
=
৫
সাধে কি গােলাপ তাের এত ভালবাসি?
সাধে কি ও রাঙ্গা পায়, পরাণ ছুটিয়া যায়,
সাধে কি তােমার ভাবে ঝুরি দিবানিশি ?
সাধে কি হৃদয় খানি, ও পদে দিয়াছি আমি?
সাধে কি হেরিতে চিত ইতি উতি ধায় ?
কি জানি কি ভাব মাখা, আধ আধঢাকা কথা
জীবন-তরঙ্গে মাের:নাচিয়া বেড়ায় ।
কি জানি ও কচি ফুলে,কি যেন সৌন্দর্য্য বুলে,
কি জানি কি হিজি বিজি আঁকা ও পাতায়
কি জানি কি ছাই রাই, বলিতেও ভাষা নাই,
পাতায় পাতায় তাের হেলে দুলে যায়।
কি জানি কি মধুময়,
পরাণ শীতল হয়,
কি জানি স্বর্গীয় সুধা ক্ষয়ে তােমা হতে।
শত সাধে দেখি তাের, তথাপি না আশা পুরে,
তাইত ছুটিয়া যাই তােমারে দেখিতে।
(২)
সাধে কি গােলাপ তােরে এত ভালবাসি?
সদা প্রাণে জাগে মাের তাের রূপ-রাশি।
[চিন্তস্পন্দন
ছিলরে হৃদয় মম অন্ধকারময়,
কি জানি কি ভাব দিয়া হইলে উদয়,
আসিয়া নাশিলে তুমি ঘাের তুমােরাশি।
সাধে কি গােলাপ তােরে এত ভালবাসি ?
যাই যাই ফিরে চাই যে দিকে লাে আমি,
সে দিকে নেহারি, ওলাে প্রস্ফুটিত তুমি।
তােমার সৌরভ আছে, তুমিত সুন্দর,
রূপগুণে তােষ সখি? সবার অন্তর।
দেখিতে তােমারে মন সদা অভিলাষী।
সাধে কি গােলাপ তােরে এত ভালবাসি ?
( 8 )
ছিল রে এ মরুময় হৃদ । আমার
ফুটিত ফুল কভু, শুধুই আঁধার !
হাসিত চাদ সখে! দোল পূর্ণিমায়,
না পড়িত ঢলি’ বায়ু কুসুমের গা’য়,
মরুময় প্রাণে বারি দিলা তুমি আসি।
সাধে কিগােলাপ ততরে এত ভালবাসি।
(৫)
ছিল রে অন্তর মম পূতিগন্ধময়,
স্বর্গীয় সৌরভে পূর্ণ করিল হৃদয়,
সরা’য়ে পাতার বেড়া হাসিয়া হাসিয়া,
ফুটালে ভাবের ফুল হৃদয় ভরিয়া,
মৃত সঞ্জিবনী একি অমিয়ার হাসি ।
সাধে কি গােলাপ তােরে এত ভালবাসি?
।
৪
চিপশন ]
(৬)
চাই না লাে বনই মল্লিকা মালতী,
চাই না লাে গন্ধরাজ কুসুম প্রভৃতি,
কি দিব তােমারে লি! কি আছে আমার ?
দিবার কিছুই নাই—যা আছে তােমার?
কোথা পাব প্রাণ-ভরা ভালবাসা রাশি?
তােরি আছে, তাই সখি! তােরে ভালবাসি।
(৭)
হ’ না হে বেলাফল সুন্দর সুঘ্রাণ,
ব’ না সে পারিজাত কুসুম প্রধান,
নয়ন ভরিয়া আছ সতত আমার,
কোথায় দাড়াবে তারা? স্থান নাহি আর।
মরি মরি কি বলিব কত রূপ-রাশি!
সাধে কি গােলাপ তােরে এত ভালবাসি ।
(৮)
কাটায় কাঁটায় তুমি ধর’ এত বী,
কণ্টক নহে ত তব, প্রেমের শিকল !
কি দিয়া বাসিব ভাল খুঁজিয়া না পাই,
যা’ দিব তােমারে, সেই তুমি যে লােতাই।
কে আঁকিল তােরে সখি! বিলেতে বসি।
সাধে কি গােলাপ কোরে এত ভালবাসি ?
{ চিস্পন্দন
সােহাগের ফুল।
(১)
কার ও হৃদয়-মাখা সােহাগের ফুল?
হলে মলয় আসি, লইয়া সৌরভ রাশি,
ছড়া’ত কি প্রাণে প্রাণে এ অসীম সুখ?
মরুভূমি এ প্রান্তরে, কে পাঠা’য়ে দিল তােরে,
হিংসুক খুলেরা আজ ছিড়িবে ও মূল।
সহিবে না কচি প্রাণ, হয়ে যাবে খান খান,
আয় রে আমার কাছে সােহাগের ফুল।
যক্ষ বক্ষ,রাসুরে,
গন্ধ কিন্নর নরে,
সবার নয়ন আড়ে লুকা’ব তােমায়।
রাখিব এমন ভাবে, কেহ না সন্ধান পাবে,
নেহারিব মিলাইয়া অাত্মায় আত্মায়।
উষার জলদ তলে,
তুমি আমি দুয়ে মিলে,
দেখিব জহুবী কেন করে কুল কুল।
চেয়ে চেয়ে কার পানে, নেচে ধায় ভরা প্রাণে,
কা’র পূজিবারে যায় ফুটাইয়া ফুল!
চিৎক্ষন 1
(৩)
পাতায় পাতায় ভিজে, ডালে ডালে নেচে নেচে,
খেলিবে দোয়েঙ্কা, টীয়া ব’সে বরষায়,
মুখানি ফুটাতে নারে, শত ধারা শিরে ধরে,
দেখিব নীরব চখে তােমায় আমায়।
থরে থরে একে একে, উজল জ্যোছমা মেখে,
ফুটিবে তারকাচয় হ'য়ে বিয়াকুল।
শরত চাদিমা মেঘে, মােরাও যাইব ঢেকে,
• আয় রে আমার কাছে সােহাগের ফুল।
(৪)
ভানুর কিরণ গায়, লাগিলে শুখা’য়ে যায়,
দিব না যাইতে তােরে আতপের বায় ;
ঝরিতে দিব না তােরে,
রাখিব অমর করে,
তুমি যে আমার সুখ সম্পত্তি ধরায়।
কা’র বা পরাণ এত,
কঠিন পৰ্বত মত,
কে চায় করিতে তােরে তিলার্ধ অন্তর?
হাসি দেখি’ চঁাদ-মুখে, কে না গ'লে বল সুখে।
তুমি যে সবার চখে স্বভাবে সুন্দর!
৫
।
৫
পূজার সামগ্রী তুমি, তাই তোরে চাই আমি,
নিত্য প্রয়ােজন মম ইষ্ট দেবতার,
বিয়ে চিকণ মালা, গলে দিলে সব জ্বালা,
জুড়ায়,-শীতল হয় হৃদয় আমার।
' টিপ
(৬)
তােমার মতন হব, কাছে কাছে সদ। রব,
নিরমল হতে বড় পরাণ ধ্যাকুল।
কিছু না চাহিব নামি, চখে চখে থাক তুমি,
আয় রে আমার কাছে সােহাগের ফুল।
চিম্পশন]
সুখ স্বপন
০
সে সুখ স্বপন আজি কেন রে মাজয় ?
মুখেতে আছিনু ভাের, কে ভাঙ্গা’লে ঘুম মোর ?
কে জালিল দীপ-শিখা মরম তলায় ?
খাম লতি কার ছায়, কত যে খেলেছি হায়,
শুনেছি ললিত গীতি গা’য় পাপিয়ায়।
ঝাপিয়া নীলা পাশে, সৌদামিনী যে’ত হেসে,
গম্ভীরে চঞ্চল করি’ চাল লুকায়।
অভিমানে ছল ছল,
নয়নেতে ভরা জল,
ঝর ঝর বারিধারা ফেলিত ধরায় ।
হুঙ্কারে গরজে ঘন,
দীর্ঘ শ্বাস পড়ে যেন,
গাম্ভীর্য লুকায়ে হায় ভূতলে লুটায়।
দেখেছি ভূধর শিরে, ময়ুর ময়ূরী ফিরে,
সােহাগে নাচিয়া দু’য়ে, পা’য় পা’য় যায়।
দেখেছি সাঁঝের বায়, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী ধায়,
নীরদে বেড়িয়া কত আমােদে খেলায়।
সরসীর আশে পাশে, দেখিয়াছি কত বেশে,
আপনি প্রকৃতি যেন হাসিয়া তাকায়।
অনন্ত অসীম জলে, আপনা মিশা’তে চলে,
ভাঙ্গিয়া আবাস নিজ ফিরে নাহি চায়।
চিত্তস্পন্দন
বাধা বিঘ্ন পদে দলি, কেমন যাইত চলি,
সাবাস নদীর প্রাণ সাবাসি তাহায় !
মৃদু মৃদু হেসে হেসে, শশী উঠে নীলাকাশে,
রূপের গৌরবে যেন গরবে দাঁড়ায়।
আছে ত সকলি সেই, তবু যেন কিছু নেই,
কেন এমরমে বাজে, শুধু হায় হায়!
। জীবন।
জীবন। জানি না কি রূপ তুমি,
ছাড়িবে আমায় ইহা কিন্তু জানি।
মিলিব কি পুনঃ আমরা দুজনে।
এ রহস্য ভেদ করিব কেমনে?
ছিনু এক ঠাই বহুদিন মােরা,
কভু সুখে, কভু দুখ-বর্ষা ভরা।
বড় বাজে যদি সখা প্রিয় হয়,
লইতে বিদায় হৃদি ছিন্ন হয়।
এক বিন্দু বারি—একটি নিশ্বাস
বিদারিয়া ব, ঢালে হতাশা।
যেও তৰে ধীরে জানানাে ইঙ্গিতে,
কবে যাবে যেন পাৰি হে জানিতে।
ব’ল না’ক কিন্তু হই বিদায়,
মিলিব আবার তােমায় আমায়।
এত কাল ধরে ত্বরিয়া হৃদয়,
তুমি আছ শুধু, আর কেহ নয়।
আসি বলে যেও, মনে যেন রয়,
জানি সখে! তুমি ভুলিবার নয়।
* (অনুবা)।
জীবন-ঘটিকা।
ক্ষণে ক্ষণে ঐ
জীবনের কাট।
যাইছে যাইছে সরি।
জীবনের হাের
শুনি বাজে ঐ
অবিরামে-ধরি ধরি ।
প্রহর বাজিয়া করিছে শিথিল
জীবন-ঘটিকা মাের।
‘টিক টিক করি অজপা ফুরায়
তবু ত ভাল না ঘাের।
এমনি অবােধ
জেনে শুনে তবু
কেমনে কাটাই কাল।
তার চিন্তা ছাড়ি’ কা’র চিন্তা করি
নাহি মানি কালাকাল।
--
স্পন।
নবীন তাপস
কে তুমি নবীন যােগী ?—হেথা কেন বাস ?
চম্পক বরণ হায়, বিভূতি ঢেকেচে তায়,
ত্যজিল কি পুনঃ সতী দেব কৃত্তিবাস ?
• কোথা গাে সে হাড়মাল,কেন ত্যজি’ বাঘছাল,
গৈরিক বসনে আজ ঢাকিয়াছ কায়?
পুনঃ কি হে যােগিবর! আরম্ভিলে ঘােরতর,
আবার মাতিলে, হ্য! মহা তপস্যায় ?
কোথা সে ধুতুরা মালা,কা’র ভাবে ভাের ভােলা,
সাধের ডম্বুরা ত্যজি’ কমণ্ডলু করে?
পাৰ্ব্বতী-বল্লভ আজ, একি হেরি নব সাজ ?
হৃদাম্বরে কি বিষাদ রাখিয়াছ ধরে?
ডিমি ডিমি ডিমি করি’, তুল’ তান ত্রিপুরারি,
ববব্যম্ ব্যম্ স্বরে বাজাও হে গাল।
আশুতােষ না ধর’, কেন নিরানন্দ, হর ?
কোথা সে তােমার আজি নন্দী দ্বারপাল ?
প্রতাপে ত্রিলােক ডরে, কটাক্ষে মদন পােড়,
সেবে ও কমলপদ কমলার পতি ;
চতুৰ্ম্মখে গুণ গায়, ইন্দ্র চন্দ্র ললাটে পায়,
দেবের ঈশ্বর তুমি, অগতির গতি।
[ চিৰস্পন্দন
...
মন্দার পর্বত চাপে, বাসুকি সভয়ে কাঁপে,
ব্ৰহ্মাণ্ড জলিয়া যায় হেরি’ সুরনাথ ;
দেবতা অসুর চয়,
জিষে জ্বর জ্বর হয়,
শরণ লইল পদে-তুমি ভােলানাথ !
নাহি মান অপমান,
সৰ্ব্বত্রই আত্মজ্ঞান,
হাসিয়’ অমৃতসম পিয়া হলাহল ;
দেবতার মহাভীতি, হরিলে পার্বতীপতি,
দ্বিগুণ উৎসাহে উঠে দেবাসুর দল।
অসীম দয়ায় তব,
অমর-দেবতা সব,
“নমঃ শিব”,বলি অগ্রে পূজিল অমর ; •
ভকতের চিহু তরে, তাই রাখশিরপরে
চন্দ্র-চূড়া বাধি’ বুঝি, শশাঙ্ক-সুন্দর?
সেই ত এ তুমি হও, কেন ছদ্মবেশে রও?
কোথা সে স্বরূপ তব, হিমাদ্রি-দুহিতা ?
অর্ধ-অঙ্গ-স্বরূপিনী, প্রাণরূপ আলাদিনী,
ভক্তি-রূপা সেই তব আদরে বনিতা।
সর্বসিদ্ধি আর বলে, তা'রে কেন দূরে ফেলে,
সাধনায় সিদ্ধি চাও, পণ্ডিত হইয়া ?
সর্ব শাস্ত্র পাতি পাতি, করিয়াও এইভ্রান্তি !
সেই শক্তিরূপে আছে ব্রহ্মাণ্ড ছাইয়া।
পিলল ।
রাণী।
তুমিই আমার রাণি সাধনার সার।
আজ কি বলিতে হবে, কার তরে বহে তবে,
নিম্বাস প্রশ্বাস, দেবি। হৃদয়ে আমার?
•কি ছলনা কর তুমি, বুঝিতে নারি আমি,
লয় ও বিক্ষেপ দিয়া দেখ বারে বার।
চিত্ত বিচলিত হয়, তাই উঠে এ সংশয়
তাই কি জিজ্ঞাস’ তুমি, আমি কি তােমার ?”
করি’ কত তন্ন তন্ন,
খুজিলাম সারা বর্ণ,
বর্ণময়ি! নাহি পাই উত্তর ইছায়।
কত দিশি কত নিশি, নীরবে একাকী বসি,
অরিয়াছি এই কথা, কোটি কোটি বার।
কি বলিব বারে বার, দেখিলে দেখিতে পায়,
আছে কি এমন স্থান, অগম্য তােমার?
“আমি ত তাের” রাণি ! কায়মনবাক্যে জানি,
যা থাকে থানা তৈর, কি ক্ষতি আমায়?
লয় ও বিক্ষেপ জয়, তােমার কটাকে হয়,
তােমায় বিশ্বাস যার, কিসের সংশয় ?
নিত্য নৈমিত্তিক ফর্ম, দান ধ্যান ধর্মাধর্ম,
প্রাণ প্রত্যাহার তুমি,তুমি প্রাণময়।
[ চিত্তস্পন্দন
সৌন্দর্য্যে সৌন্দৰ্যবতী, ভায় প্রখর দীপ্তি,
তুমিই চত্রের রশ্মি, উৰ্ব্বীর আধার।
চিত্ত মন বুদ্ধি প্রাণ,
তােমায় করেছি দান,
অথবা কি দিব আর ?—সকলি তােমার।
সৰ্বে সৰ্বময়ী তুমি, তােমারি এ ছায়া আমি,
কোথঃ আমি?—তুমি কর তােমাকে প্রকাশ।
যা’ দেখি তােমারি সব, বিচিত্র রচনা তব,
তুমিই আমার, রাণি ! গােলাপে মুস।
চিহস্পন্দন ] কোথায় সে আজ ? । যার লাগি আজ সন্ন্যাসিনী সাজ কোথায় সে আজ ?—আছে সে কেমনে ? আত্মসুখ যত জনমের মত একে একে সব সঁপেছি চরণে। কাননে পর্বতে ফিরি’ রবি তাতে বিহঙ্গম গানে কি যেন কি শুনি। মধুর হিল্লোলে প্রাণ আরও জ্বলে কোথা সে, আমার হৃদয়মণি ? নবীন পল্লব আনন্দেতে সব পড়ে ঢলি ঢলি’ সুচারু বেশে। অমনি কাহার শ্রীরূপ সাগর ধীরে ধীরে আসি হিয়ায় পশে কাদম্বিনী কোলে হেসে হেসে দোলে চঞ্চলা চপল, মরি কি শােভা! আমার অন্তর হইয়া বিভাের কি যে দেখে কা’র বিজরী আভা । প্রকৃতি সুন্দরি টুপ টুপ্ করি’ কেন বা ভাসিয়া নয়ন জলে- ফুল্ল ফুল কত গড়ি’ মনােমত গণি মালা কার পরায় গলে ? ৫ ৭২
[ চিত্তস্পন্দন
কুসুম পরশি
কোন্ সাধনায়
প্রকৃতি তাহায়
পাইয়াছ, বল, ধরি গাে চরণে।
দেশ দেশান্তরে
নগরে নগরে
কত নদ নদী ভূধর কাননে--
‘জি’ যথা তথা শুনি তারি কথা
সে যে আছে, শুধু বুঝি প্রাণে প্রাণে।
ধীরে ধীরে আসি
সেই কথা বায়ু কয় কাণে কাণে।
মত্ত মধুকর
গাহে পিকবর
লুকায়ে লুকা’য়ে পাতার আড়ে।
তুলি’ উর্মিমালা
কুলু কুলু করি’ ধরিতে তারে।
আমি কায়মনে বসি’ তােমা সনে
ধােয়া’ব ঐপদ নয়ন নীরে।
হ’ বাবাত
শত বজ্রাঘাত
নীরবে সহিব সকলি শিরে।
এ চির কল্পনা
আসন পাতিয়া করি বুকে ।
হলে চিত্তক্ষয়
যাবে সৰ্ব্ব ভয়
ভাসিব সমাধি, মিলনসুখে।
ছােটে জহুবালা
ব্ৰত উপাসনা
চিন্তুষ্পশন ]
সেই তুমি ।
কে তুমি, কি সেই হও?
যমুনার কোলে বসি’ সন্ধ্যাকানে
আলে মগন বুও ?
লয়ে কেশ রাশি
ছুয়ে মুখ শশী
পবন করিত খেলা।
কুন্দদন্ত দিয়ে
শতদলে বেড়ে
ভৃঙ্গ-পুঞ্জ ফেরে
পাতি সুখের মেলা।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা মেঘে বদনেন্দু টেকে
ঈযৎ প্রবাহ বয়।
অধর টিপিয়ে
হাসিতে বিজুরী রয় ।
নীল নভােময়
জ্বলে তারায় ।
ফেন-বিন্দু সিন্ধু’পরে।
ফুয়ল কুম্বনে
ফুট কুলে কুলে
থেলিতে কমল ধরে।
দীপমালা নিয়ে করতালি দিয়ে
আনন্দে ভাসায় দিতে।
ভাবে ভরা মন ঢলে পড়ে যেন
সােহাগে অথির হতে ।
[ চিত্তপশন- কেন কেন আর, নাই সে বাহার কি দুঃখে হৃদয় ভরা ? (দেখ) প্রকৃতির সনে কতই যতনে সােহাগে সেজেছে ধরা। হয়েছে মলিন প্রফুল আনন কি দাগ লেগেছে প্রাণে ? তুড়ি দিয়া হাতে শিখিনীর সাথে আর না খেলিছ কেন ? এই চরাচরে কার(ও) চিরতরে সমান নাহিক যায়। কালস্রোত জলে জীব বিন্দু চলে উঠিয়া মিলায় তায় ॥
শিন
কে তুমি আমার ?
কে তুমি আমার ?
কে তুমি পাগল কর ক্ষণে দেখা দিয়া?
কেন বা কঁাদা’য়ে যাও আপনি কাঁদিয়া ?
.
'
নির্জীব চেতন কর,
চেতনের শক্তি হর,
অসীম জলধি জলে তােমার প্রকাশ।
দেখা দিয়া তােল' কেন এতেক উচ্ছাস ?
আঁধারে বিজলী বেশে,
আসিয়া লুকাও হেসে,
আমি দেখি কি-যেন-কি উন্মালিনী-পারা।
যেখানে নয়ন পড়ে, তব রূপে ভরা।
1.
যামিনী আগত দেখি,
দলে দলে ধায় পাখী,
হাম্বা রবে ছােটে ধেনু হয়ে আত্মহারা।
যেন বা ব্যাকুল প্রায় কারে থোজে তারা।
আকাশেতে মেঘ ভাসে,
ধারেতে ধরা গ্রাসে,
যে যা’র আবাসে ছোটে হয়ে দিশেহারা।
চেয়ে চেয়ে মুখপানে ঝরে অশ্রুধা।
[ চিত্ত
তাই কি মলয় রূপে,
মৃদু মৃদু পদক্ষেপে,
আসিয়া হৃদয়ে ধ’, অজ্ঞাতে আমার ?
জুড়ায় সকল আলা পরশে তােমার!
সে দৃষ্টি খ্যাকুল ভরা,
যেন বলে নেতারা
“যেওনা’ক আর, তুমি বড় মনোময়
সাগরে তরঙ্গ, প্রভু! তুলিয়া কি হয়?
চিত্তশন ]
কেহ কি আমার নাই ?
কাদিব কি চির দিন পড়িয়া সংসার মাঝে ?
কেহ কি আমার নাই, ‘আহা’ বলে আসে কাছে?
অথবা সকলি আছে—আমার করম ফলে
ভেসে যায় দপ্ত-হৃদি তিতিয়া এ অশ্রুজলে।
কেহ কি আমার নাই ভাবি যবে আমি ধসি’,
কে-যেন-কে প্রাণে প্রাণে ধীরে ধীরে বলে আসি
“আমি যে তােমার আছি—বল তবে কিবা নাই ?
তুমি যে স্বরূপ মম, কেন ভােল’ একই ?
যা আছে সকলি মম, তুমি কেন ভাব’ কার ?
আমি যে তােমার, আমি কত ক'ব বার বার।
তােমারি ত সব আজি রবি শশী তারচয়,
দিবা রাত্র পক্ষ মাস ঋতু বর্ষ সমুদয়,
কেহ কি তােমার নাই’ একথা কি কভু হয় ?
আমি যে তােমায় আছি,-দেখ না সংসারময়?”
শিক্ষন
তুমিই আমার।
মরতে স্বরগ পুরি
তুমি যা’র সহচরী
কি অভাব প্রাণরম! তুমি যা’র—তা’র?
তুচ্ছ তা’র কহিনুর হিরকের হার।
কি ছার স্বরগ ভােগ চাহি না অমর লােক
চাহি না বৈকুণ্ঠ, দেবি! সৰ্বমুখধান,
শান্তিময়ি! তাের পা’য় আমার আরাম।
কৈলাশে গিরিজা সনে দিগম্বর অর্ধাসনে
ভাবে ভাের ত্রিনয়ন টুলু ঢুলু করে,
জুট পটে স্রোতস্বিনী বহে খর তরে।
কপালে অনল জ্বলে অস্থিমাল দোলে গলে
ভৱহৃদি-বিহারিণী ভবেশের কোলে,
শত কোকনদ মরি ফুটে পদতলে!
ফুল কুন্তল রাশি পড়িয়াছে পদে আসি
সাধ বুঝি, চর করিতে চুম্বন,
বুকে থুয়ে শান্ত শম্ভু যে রাঙ্গা চরণ ?
বৈকুণ্ঠের রত্নাসন না চায় হেরিতে মন
বামে লক্ষী মূর্তিমতী নীরদবরণে!
বেঁধেছে বিদ্যুৎ লতা যেন আলিঙ্গনে।
চিত্তস্পন।
-
-
স্বর্গের নদন বনে
যথা শচী ইন্দ্রাসনে
পারিজাত ফল-সাজে সাজায় সখারে,
পিকবর কুহুরব করে চারি ধারে।
বেহাগে ধরিয়া তান
অলিকুল করে গান
সৌরভ ছড়ায় কত গােলাপ মালতী,
চামর চুলায় যা’রে নিজে মরুৎপতি!
তােমারি এ রূপ সখি ! কিন্তু না জুড়ায় আঁখি
যে রূপ ধরিয়া আজ দেছ পরিচয়,
সে মূরতি বিনা আন, না চায় হৃদয়!
কোটি শশী অভ্যন্তরে
সুন্দর কমল’পরে
পুরুষ প্রকৃতি, মরি অর্ধনারীশ্বর।
দ্বিদলে বসা’য়ে দেখি, সাধ নিরন্তর।
দুই সখি দুই ধারে চামর ব্যজন করে
মধ্যে যায় ধীরে ধীরে শান্তরূপ ধনি
ঘুম ঘােরে অচৈতন্য চৈতন্য-রূপিনী ।
দুন্দুভির মৃদুস্বরে খোল আঁখি সহস্রারে
চাহ গাে নয়ন মেলি শিব-শক্তিরূপ ।
পূজি ও চরণযুগ দিয়া রাঙ্গা জবা।
১৮
চিকন
ছেড়ে আছি।
(১)
ছেড়ে আছি ?-না না, এযে আমারই ভুল।
সে কি গাে ছাড়িতে পারে, সে যে প্রাণ
দেছে মােরে,
আমি জড়, সে চৈতন্য, কেন ভুলি মূল ?
শােক মােহ কেন মােরে করে বিয়াকুল?
(২)
যা আছে সকলি তার—আমি কিছুনই,
আমি ত ছিলাম ছাই, সঞ্জিবনী মন্ত্র পাই,
ভস্মের পুতলী আমি, জীয়ন্ত হয়েছি-
ছিছি ছি তবুও বলি, রে ভূলে আছি ।
(৩)
সে আমার আত্মা, আমি দেহ মন প্রাণ,
এই ত রয়েছ তুমি, এই ত রয়েছি আমি,
তুমি মন প্রাণাধিক! নয়নাভিরাম,
কিছুরি বিরাম নাই, ‘
পাওয়া’ কার নাম?
( 8 )
দেখিয়া না মিটে আশা কখন তােমায়।
আকাশে চন্দ্রমা হাসে, কভু যায় কভু আসে,
(তুমি) আসিলে সকলি হাসে, যাইলে আঁধার--
বল ত বল ত কেন, সৰ্বস্ব আমার ?
বে।
চিত্তন ]
(৫)
কে আমি তােমার প্রিয় ! কে তুমি আমার ।
হাসি কান্না অবিরাম, এর কি গো পাওয়া' নাম?
যদি যাই দেহ ছাড়ি', বলত এক্ষণে
তােমারি রহিব আমি কোন নিদর্শনে ?
(৬)
বড়ই মধুর তুমি, ছাড়িতে না চাই।
শত বার যাই আসি, তা'তেও না দুঃখ বাসি,
যেখানে সেখানে থাকি, সঙ্গে থেকো তুমি,
কিছু আর নাহি সাধ, তােম রব আমি।
জ্যোতিঃহীন চন্দ্র কোথা সুনীল গগণে?
জ্যোতিঃ চন্দ্র এক হয়, কিছু মাত্র ভেদ নয়,
ছাড়াছাড়ি নাই, নিত্য দু’য়ের মিলন ;
শূন্য কিম্বা পূর্ণ দেখি—ভ্রমের কারণ!
(৮)
অজর অমর তুমি, নিত্য নিরাময়!
নিকটে নিকটে ফের’, কত না আদর কর,
অসাধ্য সাধন তব মূৰ্ত্তি আনয়ন,
সব ছাড়ি লইলাম চরণে শরণ।
{ চিস্পন্দন
কি নিয়া ভুলিব ?
কি নিয়া ভুলিব প্রভু! কি আছে ধরায় ?
সসাগরা পৃথীবি মাঝে কে আর আমার আছে ?
কে তােষে দগধ-হৃদি প্রীতি মমতায় ?
কুসঙ্গীর কদালাপে, যখন পরাণ কাঁপে,
শাস্ত্র মুখে দাও প্রভু! কতই না বল।
কে আর তেমন করে, স্নেহে বায়ুরূপবরে,
মুছায় এ অভাগার তপ্ত অশ্রুজল ?
ববাঝে না প্রাণের ব্যথা, সবে কয় সুখ কথা,
বারেক হেরে না হয় অভাগার মুখ!
কারও সুখ নাহি প্রাণে, শুধু কপটতা জানে,
কিছু নাই, তবু কয় ‘বুক-ভরা সুখ!
যে দিকে ফিরাই আঁখি,
হাহাকারে পূর্ণ, প্রভু! সারা বসুন্ধরা !
“ত্রিতাপের জানা যায়, শুনিয়া শরণ পায়,
লয়েছে অভাগ; (তাই) সুখে প্রাণ ভরা ।
শক্তিময়! পূর্ণ তুমি, জীব ভাবে দীন আমি,
অনাথ বল্লভ তুমি তাইতে প্রত্যয়।
নাহি জানি স্মৃতি ধৰ্ম্ম, বেদান্তের গূঢ় মৰ্ম্ম,
নাহি কোন কালে মাের সাথে পরিচয়।
শুধু ধূধুময় দেখি,
.
---
চিত্তস্পন্দন )
ইহা যদি হয় ভুল,
সরলে বিশ্বাস মাখা, হৃদয় পড়েছে ঢাকা,
তুমিই আমার, আমি তােমার তােমার।
কেন তুমি কাট মূল,
• থানা অনন্ত কাল ভুল অভাগার।
অনশনে দিবানিশি, পৰ্বত কন্দরে বসি,
ঢালুন সাধকবৃন্দ ভক্তি-উপহার।
যা কিছু দিয়াছ তুমি, সকলি দিয়াছি আমি,
তােমায় অদেয়, নাথ! কি আছে আমার?
তুমি ত সকল ঠাই, গুপ্ত তব কিছু নাই,
সত্য মিথ্যা তুমি জান, আমার ঈশ্বর।
বিচান্নি কোটি বার, দেখিয়াছি সারাৎসার!
স্থূল সূক্ষ্ম যাহা কিছু তােমারি ভিতর।
| চিন্তুস্পন্দন আশাই মধুর। বহিল মধুরে শারদ সরসী ফটিক সলিলে ফুটিল কমল কলি। মৃদুল অনিল উড়ায়ে আনিল অলি। হংংসী সনে বেড়িয়া পত্মিনী ভাসিল নীলাম্বু গা’য়। সুনীল আকাশে ঘেরিয়া চন্দ্রমা সূক্ষ্ম মেঘ যেন ধায়। আসিল বসন্ত ফুল্ল বামাকুল কোকিল কুহরে কুউ। মাঠে চরে গাভী নহে ত অসুখী কেউ। ফুলে ফুলে চুমি সব সনে দেয় দেখা যা’র পানে চাই সব নাচে,গায় আমি রে কেন বা একা ? • শিশিরপীড়নে দেখাত কল্পনা বসন্ত বড়ই ভাল । জুড়ায় মন আকিঞ্চন ন মিটিল । গােঠে ছুটে ধেনু সরস বসন্ত সম্মুখে নিরখি ৮
চিত্তস্পন্দন ।
তুমি কে বিধুর
লােচনে ভরিছ লাের।
মিটিবে আশা
হও রাজরাণী
ভাঙ্গিবে ঘুম ঘাের ।
কি চাও, বাসনা ? দেখাও কঙ্গনে।
কালিন্দীর কাল বারি।
সে কানাদিনী হৃদি বিপ্লবিনী
জাগাও হৃদয়’পরি।
সেই সে সোপানে
লি’ কামলে
শুনি কুলু কুলু ধ্বনি।
কচি কচি ঢেউ ঢলা ঢলি করি
ভঙ্গিছে হুনি শুনি
ঐ কুলু রব
শুনিতে গুলিতে
শুধু কুলু দে জাগে।
তার আবেশে খে বা যিনি
r
ডুবেছে বালন। সবে।
দেখিতে দেখিতে নাহি কুলু বৰ
শ্রবণে আর না শুনি।
সম্মুখে প্রকৃতি নয়নে, না দেখি
কোথা আছি, নাহি জানি।
খামিল ইন্দ্রিয় না চলে শােণিত
নাহি বহে যেন শ্বাস।
ময়ও ছাড়িয়া কোথায় বা ভ্ৰমি
কানা বা কর ? ?
1. চিস্পন্দন ডাকিল পাপিয়া তমালের ডালে ঘুম ঘােরে ভুলি পাখী। রােমাঞ্চ শরীরে আত্মা পরশিছে অতি ধীয়ে, পাছে জাগি । অাসিছে চেতনা ছাড়ি শান্তি গেহ ধয় গম পানে চায়। সর্ব শ-গ্রাসী লয়ে তারা শশী নিশি যেন পড়ে গা’য়। ভাঙ্গিল সুষুপ্তি জাগে অনুভূতি আ মরি মরি কি শােভা। যাতে রাখি আঁখি নারি ফিরাইতে বিধৌত নূফন প্রভা। দিবস ধরিয়া ধরিত্রী আকিয়া এই পেয়ে অবসর। ক্ষান্ত চিত্রকর বিশ্ব-আঁকা তুলি এখনও অতি’পর। ভনন্ত আকাশে দাড়ামে অনন্ত কর-ধৃত সে তুলিকা। দেছেন ঝাড়িয়া কত শােভা যে তারকা। মরি মরি মরি ওহে চিত্রকর ! বাখানি হে গুণপনা । যে জন চতুর নিজ প্রতি কাজে প্রকাশে হে সে আপনা । ০ ৮ ৭
চিত্তস্পন্দন ।
---- অঞ্জন । -
সে যমুনা তীরে
.
সেই কুলু কুলু
উঠিঃ শিহরি
ভাঙ্গিল কল্পনা
হৃদয় আঁধার হল।
ফিরিয়া চাহি আর না দেখিনু
সে শােভা কোথায় গেল ।
এই ত আসিনু
সেই ত সােপান’পর।
সেই ত আকাশ
কোথা সেই চিত্রকর ।
ধরা কি দেবে না ? ওহে ধরাপতি
মিটিবে না কি আকিঞ্চন ?
কল্পনায় দেখে
জুড়ায় হিয়া
দেবে না ফি দরশন ?
বুঝেছি চতুর!
চাতুরী তােমার
নিত্য তুমি নব রবে,
রহস্য ভেদিলে
খুঁজিবে না কেহ তবে।
রাখ’ রাখ’ নাথ। শত-পু মেঘে
আবরি’ আপন জ্ঞানে।
খুজুফ মানব হউক উন্নত
চিত্তবৃত্তি আবর্তনে ।
নূতন রবেনা
চিত্তস্পন্দন
তােমায় আমায়
সেই একদিন তােমায় আমায়।
দেখিনু প্রকৃতি সজীব মূরতি
গােদাবরী তটে বসি দু’জনায়।
কোটি নিশানাথ জাবীর সাথ
অনন্ত উদ্যমে চলেছে কোথায়!
পদ সঞ্চালনে কে যেন গােপনে
ফুল্প ফল আগে বিছাইয়া যায় ।
ধিকি ধিকি জ্বলে বিটপীর কোলে
জোনাকীয়পাতি যেন বা তাহায়
আলি’ কোটি বাতি করিছে আরতি-
উদগ্রীব হয়ে তাই কি তাকায় ?
স্পন্দহীন কায়ে, সতত দাঁড়ায়ে,
দেখে বুঝি গিরি গম্ভীর হইয়া
বরে অজষ্মরে তাই নেত্র নীরে
ভেসে যায় হৃদি পাষাণ গলিয়া।
কুসুমে মলম
ধীরি ধরি বয়
স্নেহে চুমি যেন অলকা দোলায়।
গাম্ভীৰ্য ভাঙ্গিয়া থামিয়া থামিয়া
ঘুম ঘােরে পাখী ডাকে বা কাহায় ?
চিত্তস্পন্দন । নিশ্চিন্ত নির্ভয়ে নিশির হৃধে মাথা রেখে উষা ঘুমাইয়া ছিল। দেখে নিশি তারে আপন পাশয়ে নিশির শিশিরে শােচন ভরিল। মধুরিম স্বরে প্রণয়ী পিয়ারে যাপিয়া যামিনী রাতি অবদানে। আনন্দ-স্কুরিত আধ-প্রস্ফটিভ নয়নপঙ্কজ সতৃষ্ণ নয়নে। উন্মুক্ত কবরী পরশি শিহরি শত সাধে চুমে স্বর্গীয় আবেশে। আচ্ছন্ন রূপসী জাগি’ সারা নিশি ডাকিলে যেমন চয়কিয়া বসে। ধীরি ধীরি কয় বিহগ নিয়ে “উঠ, উঠ রাণী! ঘুমাওনা আর। টগর মল্লিকা যুই সেফালিক গােলাপ চম্পক লইয়া নিহায়- পদ প্ৰক্ষালিতে চায় চাঝিভিতে শত সাধ-ভরা পরাণে, তোমায়। সঙ্কেত,শ্রবণে পুরব গগণে মৃদু হাসি উষা উঠিয়া দাঁড়ায়। পড়েছে ছড়া’য়ে নীলাম্বর গায়ে মুক্ত কেশচয় রবিকর তুলি। উজল সিন্দুর ঊষা ভালে, “হ(ও) চিরায়ুষ্মতী, বলি'। ঢালিল মধুর [ চিত্তস্পন্দন নিতি শত মুখে তােমায় আমায় দিন জোছনায় প্রকৃতির সনে ঘুরিয়া ঘুরিয়া। কভু নদীকুলে কভু বৃক্ষমূলে কভু বা আঁধারে আলােক মাখিয়া । বশী মনােহরা মুরজ মন্দিরা জিনি কোটি বীন্ কোকিল পাপিয়া। নব ভানু করে দেহখানি ভরে লুকায়ে গাহিত পল্লবে থাকিয়া। খেলিতাম সখে? প্রকৃভিন্ন সনে জগত সংসার। ভ্রমে কি কখন হইত শরণ সৰ্ব্ব-থময় ভূমি অবােধ্যার ? চঞ্চল গমনে বিহঙ্গম গণে গােধূলি পরশে এখনও ধায়। কেঁদে কেঁদে নেত্র যেন জবা-পত্র ব্যথা বুকে রবি কা’র পানে চায় ? শ্যামা সারিকার কোথা সে ঝঙ্কার উৎসাহ বিহীন স্রোতস্বিনী বুক ? কমলে ভ্রমর কেন বা নীরৰ আজি শিলীমুখ ? নয়া হেমন্ত শরত বসন্ত কতই আওল, পূরব মতন। চির প্রভা যার বিরহে কাহার পড়েছে বলে কালি। এখন ? মূল উপর চিত্তস্পন্দন চিন্তার তুফান জ্বালাময় প্রাণ তবু যেন সখে! প্রতাপে কাহার- সেই দিবাকর তার শশধর কাঁদে, গাঁথি ফুল-শিশিরের হার। কেন হা হুতাশ দীরঘ নিশ্বাস কোন্ দুঃখে দহে বারিধি অন্তর ? ঝরি অবিরল তপ্ত অশ্রুজল লবণাক্ত হায় দীর্ঘ কলেবর । কেন নাহি আর সে সুখ সীতার ? নিরস নিরস পরাণে লাগে। রক্ষ-কারাগার ভীম অন্ধকার এরাও কঠিন অভাগীর ভাগে। অথবা এখন আমারি মতন প্রকৃতি সুন্দরী উন্মাদিনী বেশে। রাক্ষস শাসনে কম্পিত পরাণে চাপি’ নেত্র জল অমনিই হাসে। ভয়ে কাঁপে প্রাণ কর পরিত্রাণ একি বিভীষিকা করাও দর্শন! ত্রিসংসার মাঝে কে বা হেন আছে তুমি বিনা আর জানকী জীবন? পঞ্চবটী বনে আমরা দুজনে ছিলাম যেমন হইব তেমন। আসিবে না আর সে দিন সীতার যদি তুমি বল ত্যজিবে জীবন। - ৪ -
( চিম্পন্দন
ভুলে দেখা—দেখে ভুলা।
বসিয়া তটিনী কুলে হিয়ার কপাট খুলে
দেখিয়াছ একে একে সব ত আমার।
আমিও তােমার সনে ইচ্ছা, ইচ্ছা প্রাণে প্রাণে
অকপটে মিশায়েছি—হয়েছি তােমার।
তবুও তবুও কেন
আমি ‘আমি’ হয় হেন ?
সকলি ত তুমি, তবু খুজি চারিধার ?
তােমায় ভুলিয়া আমি কি যেন ভ্রমেতে ভ্ৰমি
আঁধার আঁধার পথে আসি শতবার।
প্রতি পদক্ষেপে হায়!
বুক যেন ভেঙ্গে যায়
তথাপি নিবৃত্তি নাই, প্রবৃত্তি প্রবল।
অপার করুণা তব কেমনে কেমনে ক'ব
কি সুন্দর দেখি তব বিভূতি সকল !
বারে বারে কত ছলে ব্যাকুল অন্তর হলে
জানাও তােমারই আমি, ‘হয়ােনা কাতর
অমনি চমকি চাই দেখি তুমি সারা ঠাই
অনন্ত অনন্ত রূপে নয়ন উপর
তাই সাধ প্রাণে প্রাণে বসিয়া নির্জন স্থানে
দেখিব তােমায়—তুমি বড়ই সুন্দর!
কি সাধে পরাণ ভরা কেন এ পাগল পারা ?
কুসুম কোমল প্রাণ, কি ঘ্রাণে বিভাের।
॥
চিত্তস্পন্দন ।
কেমন পরাণ তার
সঁয়না বায়ুর ভার
সাধ, দেখি কে রয়েছে তাহার ভিতর।
নির্জীবে চেতন কর
চেতনের শক্তির
( একাকী তােমার এত রূপ রূপান্তর !
সৰ্ব্বত্রই তুমি ভাস’ লুকায়ে লুকায়ে হাস’
দেখে দেখে উঠে নিত্য নুতন উচ্ছাস।
নীথর সাগর জল
ভাল কি লাগে না বল ?
তাই কি তরঙ্গ রূপে পড়িছে নিশ্বাস ?
কত না তারকাস্ফরে হাস’ সবে নীলাম্বরে
আঁধার আঁধার ধরা করিয়া উজল
তােমার বিশাল বুকে কি যেন লুকান থাকে
ছায়ার মতন দেখি, সারা ভূমণ্ডল।
ইঙ্গিতে দেখাও তুমি একমাত্র আছি আমি
পরিপূর্ণ সৰ্ব্বকালে—অচ্ছেদ্য, অব্যয়।
হের এ তারকা রাশি আমার মায়ার হাসি
স্বরূপের রূপরাশি কভু নহে ক্ষয়।
মম রূপ বিশ্বরূপ আর কা’র আছে রূপ।
সারা বিশ্বে শুধু আমি, আমিই কেবল।
সৰ্বরূপে, রূপ দিয়া অছি আমি দাঁড়াইয়া
আমি নাই কিছু নাই—শূন্য জল স্থল !
যাহা হের মনােহর নেত্ৰ মন তৃপ্তি কর
ভুল না, এ মায়ালীলা, নশ্বর নশ্বর।
মায়াতীত নারায়ণ জ্ঞানী-গম্য সর্বক্ষণ
সূক্ষ্ম ভাবে, সন্নিকটে—স্তুলে, দূরান্তর।
৯৪
[ চিত্মস্পন্দন
---
বিষয় পঞ্চক ছাড় আমার ধারণা কর
অথবা যা কিছু দেখ আমাতে সুন্দর
ফুলে ফুলে ফুল-হাসি
নীল-নতে তারা শশী
উষার রূপের ছটা, সাগর, প্রস্তর।
যা কিছু তােমার আছে সকলি আমার কাছে।
কোথা তুমি ? কে তুমি? ছাড় দেখি স্কুল।
সাকারে যে নিরাকার ,
পূর্ণ পূর্ণ সৰ্ব্বাধার
ছায়ার মুরতি ছাড়’ খুঁজে দেখ মূল ॥”
হস্পন্দন
ভালবাসায় ভুল।
WWW
---
শূন্যে শূন্যে সম্ভাষণ শূন্যে শূন্যে আলিঙ্গন
কেন প্রভু ! দাসী কিসে অপরাধি পায় ?
শত গাঢ় আলিঙ্গনে। 'চিত্ত থির নাহি মানে
শূন্য পরশনে, সখে! বুক বাঁধা দায় !!
বালিকা কলিকা কালে পুতুলেরে সব বলে
স্বামী পেলে আপনিই মাটি ভুলে যায়।
ইন্দ্রিয়পাঞ্চল হয়ে ছুটেছে যে তােমায় লয়ে
শুধু ঘুম ঘাের দিয়া ফিরাবে তাহায় ?
এস, প্রিয় প্রাণ যায় অকথ্য এ যাতনায়
কেহ না প্রবােধ মানে সবাই অধির।
সবে অনুরাগী হলে কারে রাখিকা’রে ফেলে
বিশ্বরূপ তুচ্ছ, হেরে মানুষ শরীর।
কেন নাহি এস প্রভু? কিছুত চাহিনি কভু
দূরে থুয়ে কাজ নাই এই তপস্যায়।
কাছে থাক ধ্যানে ধরি’ ইহা গাে সহিতে পারি
দোষ দেখ, কাছে রেখে বলিও আমায়।
কাছে কাছে রব আমি ধরা নাহি দিও তুমি
যেমন বলিবে তুমি, হইব তেমন।
বলে আসি শতবার ‘ভুলিব না কভু আর,
জননীজঠরে পাই যাতনা যখন।
[ চিত্তস্পন্দন
'
শোণিত ও বিষ্ঠাধার ভীষণ নরক দ্বার
রােমে রােমে নাড়ীচয় করিছে ঘর্ষণ।
অঙ্গন সন্তোষ তরে জন্ম জন্ম, জন্মান্তরে
করেছি দুষ্কৰ্ম্ম কত নিত্য আহরণ।
পূর্বের দুস্কৃতি স্মরি কাতরে তােমায় স্মরি-
“মাতৃগর্ভ হতে মুক্ত কর নারায়ণ।
এবার হইলে মুক্ত ডাকিব তােমায় নিত্য
তােমারি সেবায় প্রভু র’ব নিমগন।”
পুনঃ পুনঃ বলি তাই
আসিলে ভুলিয়া যাই,
কি জানি কিসে বা হই আচ্ছন্ন এমন!
(যদি) তােমার নিকটে থাকি
নয়নে নয়ন রাখি
পারি প্রভু তাহা হ'লে অসাধ্য সাধন।
তোমার মধুর হাসি উগারে যে সুধারাশি
কি ভা’র সাধনা, যা’র আছে এ অমিয়া ?
শুধু ও মধুর হাসি
হৃদয়ে রহক পশি
শতেক শমন ভয়ে না ডরায় হিয়া ॥
তােমা বিশােয়স ষা’র মরণ না হবে তার
তার আর কোন কিছু কিবা প্রয়ােজন ?
সাধনা করিব বলে আসিয়াছি তােমা ফেলে
কাজ নাই দূরে দূরে সাধন ভজন ।
একবার কাছে এসে ডাক’, নাথ! হেসে হেসে
তুমিই আমার প্রিয়। সাধনার ফল।
সিদ্ধিফল হাতে পেয়ে কঁদি গো আপনা খেয়ে
অবলারু অপরাধ নাহি ধরাে ছল ।
চিত্তস্পন ।
৮
মৃত্যুভয় মৃত্যুভয়,
কা’র মৃত্যু-চিন্তা রয়
ওই হাসি অনুখন নয়নে যাহার ?
ভালবাসা হৃদে যা’র অনন্ত জীবন তার
সালােক্য সাযুজ্য আদি ওপদে আমার।
করিয়াছি কত দোষ ক্ষম সব আশুতোষ
কভু ত অবাধ্য নই—ঠেল না’ক পায়।
অবল। অলপ মতি যদিও চঞ্চল অতি
থির কর, প্রাণেশ্বর! মরি যাতনায় !
পদে মস্তক রাখি’
সব যেন ভুলে থাকি
বড়ই শীতল প্রভু চরণ ভােমার !
প্রাণের ঈখর তুমি বড় অবিশ্বাসী আমি
ক্ষন দাসী অপরাধ, খুলায়াে না আর।
[ চিত্তস্পন্দন
দৃঢ় পরিচয়ে
*
(তুমি) গােপতে গােপতে ফের সাথে সাথে
পেতে কেন রা সােহাগ কর ?
নিদাঘ অনলে
মুখানি ঘামিলে
কেন বায়ু তুলে ব্যজন কর ?
পারি বুঝিতে
কত উঠে চিতে
পাই দেথিতে কোথায় থাক।
বিহঙ্গম স্বরে
কতই কাতরে
কেন বা নিয়ত আমায় ডাক?
আমি বিনা আর নাই কি তােমার ?
তবে কেন তুমি আসিয়া যাও?
থাকিতেও ।
আসে পাশে ফের
জলভরা চ’খে কেন বা চাও?
বুঝিনু প্রমাণ
আছে ব্যবধান
তাইতে গােপনে এত বাস ভাল।
তুমি যার, তার কি দুঃখ আবার ?
এই ভেবে হৃদি করিব আলাে।
(যদি) প্রকাশ হইতে ভাব’ বাধা ইথে
গােপনে গােপনে থাক’ হে কাছে।
(আমি) স্মরিব যখন (তুমি) আসিবে তখন
( আমি) গোপনে বসাব হিয়ার মাঝে।
চিত্তস্পন্দন ]
বলি’ শতবার
“নমঃ প্রাণাধার”
গােপনে পড়িব আমি যবে পায়।
(তুমি) গােপনে হাসিবে আমাকে দেখাবে
তােমারি এরূপ রূপ সমুদায়।
অহং ব্যবধান করি (তুমি) আমি ছাড়াছাড়ি
জীবাত্মাও পরমাত্মা অভেদ নিশ্চয়।
গােপন নাহিক সত্য, স্বপ্রকাশ সে যে নিত্য
বিচারিয়া দেখ, যাবে এ বৃথা সংশয়।
----
[ চিত্তস্পন্দন
অভিমান।
muning
চিন্তানলে মন
{
(প্রভু) আর না সহিতে পারি।
জ্বলে অনুক্ষণ
দেখা দাও দুঃখহারি।
কর কৰ্ম্ম শেষ ওহে ঋষিকেশ।
শুনি যে দয়াল তুমি।
ও অবসর
হও অগ্রসর
বড়ই ব্যখি আমি।
সৰ্ব্ব অন্তর্যামী
সর্ব চিত্তগামি
অবিদিত কিবা আছে ?
জান ত সকলি
ওহে বনমালী
কি লুকা’ব তব কাছে ?
জেনে শুনে কেন তবু দুঃখ হান’?
একি হে চাতুরী হরি!
অবলা অজ্ঞান
বল বুদ্ধি হীন
ভাব যে বুঝিতে নারি।
যদি প্রেমবল
হইত প্রবল
কেন বা সাধিৰ এত?
আমি না ডাকিতে আপনি আসিতে
আপনি হইতে অত।
চিত্তস্পন্দন ]
সহিব এবার ডাকিব না আর
দাও আছে যত দুখ।
হােক ক্ষুদ্র হৃদি
তবু গুণনিধি।
দুখকে ভাবিব সুখ ।
সকল সহিব . কল্পনা ছাড়িব
একান্তে থাকিব গিয়া।
আমারে ডাকিব আমারে দেখিব
আমারে রহিব নিয়া।
তখন) এস যদি তুমি, চাহিব না আমি
আপনি কাঁদিয়া যাবে।
কেঁদে সুখ যত সুখে, নাহি তত
তখন বুঝিতে পাবে।
বলে উন্মাদিনী
শুন গুণমনি!
কাঁদালে কাঁদিবে তুমি।
হও সর্বাধার
কেমন না কাঁদ তুমি।
দেখিৰ এবার
চিত্তস্পন্দন
বনবাসে সীতা।
হায় সখি! কি বলিব, বলিবার নয়-
নিৰ্ম্মল সরষু জলে
প্রফুল্ল নলিনীদলে .
বায়ু স্পর্শে ভঙ্গি’ যেন দুই আনা হয়।
বেড়িয়া নলিনীগণে সুগায়ক ভৃঙ্গগণে
স্ততি পাঠে মানিনীর সােহাগ বাড়ায়।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা মেঘ পাশে সুকায়ে যামিনী হাসে
বিহগ আনন্দে ধায় আপন কুলায় ।
আঁখি জল অবিরত
নীরবে ফেলিয়া কত
মুছিয়া নয়ন, রবি প্রিয়া-মুখ চায়।
আরক্ত নয়ন হেরি সূৰ্য্যমুখী ধরি ধরি
শিহরি” অন্তরে যেন কত কি সুধায়।
হেরি’ সে মুখের ছবি
বদন ফিরাল রবি
না পারি দেখিতে যেন অমনি লুকায়।
বনস্পতি পাশে পাশে যেতে যেতে তবু আসে
যায় যায়, তবু হায়! চলে না চরণ।
একটি দুইটি করি’ ক্রমে ক্রমে সারি সারি
নীল নভে তারা ফুল ফ টিল তখন।
চিত্তস্পন ৫ অধরে টিপিয়া হাসি দাড়াল শশাঙ্ক আসি অটিয়া পরিল ধরা জ্যোছনা বসন। হলিত বদনে নাথ, ধরিয়া আমার হাত কহিল, “বল ত দেবি! কে বেশি সুন্দর ? হের হের নীলাকাশে সুনীল দুপর্ণে ভাসে তােমারই প্রতিবিম্ব, তাই শশধর। সৌন্দর্য্যে সুন্দর এত তাই দেখি অবিরত এ হাসি মাখিয়া শশী করে ঝলমল। কতদিন ভ্রমে পড়ে গিয়াছিনু ধরিবারে হায় প্রিয়ে ! ঋষ্যমুখে হইয়া বিকল।” কত মহদয়া তার কত বা বলিব আর। আমা হতে কোটীগুণে সে যে গাে কাতর রাখিয়াছে মােরে দূরে, এ কথা না মনে ধরে অথবা কঠিন আজি আপনা উপর ? হায় সখি! রাজ্য ছাড়ি’ যবে হই বনচারী মাঝে খু’য়ে আসে পাশে দুই মহাবীর- চাহি, মম মুখ পরে আঁখি ছল ছল করে বিজলী ঢাকিতে যেন জলদ অথির। কত ঋষি পূণ্যাশ্রম দেখাইত প্রভু মম নিত্য প্রাতঃস্নান হেতু গােদাবরী কুলে। ধীরে ধীরে বনপথে যেতাম প্রাণেশ সাথে কভু বসিতাম দেহে শিংশপার মূলে। খুলি মনিমুক্তা হার গড়ি ফুল অলঙ্কার সাজাইত প্রাণেশ্বর হাসিয়া হাসিয়া।
[ চিত্তস্পন্দন
আজি বা কেমনে বলি সে আমারে আছে ভুলি
হায় সখি! এ কথায় বিদায় হিয়া।
সতীর হৃদয় রাম
ধৰ্ম্ম অর্থ মােক্ষধাম
জানকী রামের প্রাণ, জানিও নিশ্চয়।
আত্মা ছাড়া শূন্য দেহ দেখেছ কি কভু কেহ ?
আত্মা রাম আত্মা সীতা নাহিক সংশয়।
----০
১০৪
চম্পন্দন ] রামাশ্বমেধে স্বর্ণ-সীতা দর্শন। এইকি আমর সেই কাঞ্চণ প্রতিমা ? এই সেই! রাম-হৃদি সিংহাসন যা’র! কি বিষাদ তার দেবি?-প্রাণেশ্বরী তুমি । লােক অপবাদ ভয়ে দিছি বিসর্জন তপােবন ছলা করি- নহে প্রতারণা। জানে না আমার সীতা, হৃদয় আমার ? তবে কেন-কেন তবে এ মরম ব্যথা? কেন প্রিয়ে! কেন আজ জড় প্রায় তুমি ? কাতর নয়নে কেন? মুখে কথা নাই ? ছিছি সুহাসিনি । ছাড়’ এই দীন ভাব রামরাণী তুমি! বারে বারে ব্যথা পাও- সত্য, দেবি! দুঃথ মাের ললাটের লেখা। সীতার দুঃখের তরে রামের জনম। স্মর দেবি! পূৰ্ব্ব কথা, সীতা-সম্মিয়ন চঞ্চলা চপলা মত অতৃপ্ত বাসনা ! প্রাণময়ি! কামের এ যজ্ঞ আয়ােজন সকলি তােমার তরে এস্বর্ণ-প্রতিমা উপলক্ষ মাত্র দেবি!—উদ্দেশ্য কেবল আমার জানকী পুজা-প্রকৃতি আমার। সরমা, সে নিশাচরী কি বুঝিবে দেবি। কেন মাের অবতার, কারে পূজি আমি। *
[ চিত্তস্পন্দন
কে আছে আমার, সখি ? তুমিই আমার
জীবনের সহচরী-জনমে মরণে।
রাম-বাক্য কতু মিথ্যা নহে, জান’ তুমি,
আত্মা রাম-সত্য প্রিয়ে। জীবের স্বরূপ ;
আর তুমি,রাম-আত্মা-রমণ-প্রতিমা।
প্রকৃতি পূজয়ে প্রিয়ে! পুরুষে যেমন,
পুরুষ তেমনি পূজে প্রকৃতি চরণ।
আমার হৃদয় তব বিহারের স্থান,
মনে ভাবি’ দেখ দেবি! সত্যযুগ লীলা-
শক্তি রূপে মম হৃদে নেচেছিলে যবে।
সীতার হৃদয় প্রিয়ে। শ্রীরাম যেমন
রামের হৃদয় সীতা, জানিও তেমন।
গম্ভীরে চঞ্চল মাখা এই সে তােমার
রামের জীবন ধন-সে রতন তুমি,
জলদে তড়িত, সতি! রাম হৃদে তুমি।
তুমি দেবি! আদ্যাশক্তি আমার আশ্রয়ে,
আমি প্রাণ পাই, প্রিয়ে। হৃদে থুয়ে তােরে।
ছি ছি দেখি! কথা কও পূর্বের মতন
ক্ষম মম অপরাধ—দোষী যদি আমি।
==
চিত্তস্পন্দন ]
মন্দোদরী বিলাপ।
(১)
এমতি সময়ে হায় সতিনী বেষ্ঠিত
আইলেন মন্দোদরী, মহারণস্থলে।
বাস, শৃগাল, গৃধ, ভৈরব, পিশাচ
ঘাের কলবর করে—ভীষণ শ্মশানে।
(২)
কবিরের স্রোতধারা বহে খরতর,
গলিত পঞ্জর কোথা কৃমি কীটময়,
কোথাও বা অস্থিপূর্ণ দানব কঙ্কাল,
কোথাও বা ভগ্নরথ, হত রথীবর।
(৩)
কোথাও বা ছিন্ন হন্ত, ছিন্ন শিরচয়,
হাসিছে দশন মেসি’ যেন খল খল,
কোথাও শৃগাল করে আকর্ষণ,
আনন্দে ধিরে স্নান করিছে গৃধিনী !
(৪)
চকিত নয়নে সতী কি যেন কি চায়,
দেখিল মৈনাক সম সমর-প্রাঙ্গনে
ভুবন-বিজয়ী বীর রাজা দশানন।
রুধির-কর্দমাক্লিষ্ট হায় হেম বপু !
[ চিত্তস্পন্দন
#v===
(৫)
মাথায় কিরীট-মণি ধূলায় ধূসর
রতন, কুণ্ডল, হার, স্বর্ণ আভরণ
মনােরম্য পট্টবস্ত্র। শােণিত সমুদ্রে
রক্তপদ্ম সম হায় ভাসিছে আনন।
(৬)
অচল ভূখর সম লঙ্কা-মুশােভিনী
পঁাড়াইয়া রণস্থলে নারীগণ মাঝে ;
শব্দ নাহি মুখে কোন, শুষ্ক নেত্রদ্বয়--
প্রলয় ঝটিকা অন্তে সাগর যেমতি।
(৭)
শুম্ভ ও নিশুম্ভ, বধি’ যেন শৈলবালা
আইলা সঙ্গিনী সহ হেরিতে শ্মশান।
কহিলা গম্ভীরস্বরে হয়ে মুক্ত কেশী
রাজ-রাজেশ্বরী বামা উন্মাদিনী সম --
( ৮ )
“এই কি সংসার হায়!* কঁপা'য়ে পৰ্বত,
ব্যোম-পথ বনস্পতি শিরায় শিরায়,
সুদূর সাগর তটে সেই আর্তস্বর
প্রতিধ্বনি হ’ল-“হায় এই কি সংসার?”
(৯)
নড়িল হৃদয় যেন মৃদুশ্বাস ভরে,
জাগাইতে পূৰ্ব্ব স্মৃতি বুঝি শবচয়
উদাস নয়নে হায় ! ক্ষণকাল তয়ে,
কি যেন দেখিল চাহি’ মলিন অধরে!
চিত্তস্পন্দন । (১০) তখনও শত সাধ!-হাসিল দানবী গভীর আঁধারে যথা বিজলী সুন্দরী ঈষৎ হাসিয়া, হেরি তমােময়ী ধরা, লুকায় বারিদ বুকে চারু মুখ ঢাকি। (১১) কতই অস্ফুট ভাব নিমিষের তরে, মানব হৃদয়ে ভাসে সে হাসি-ফুটায় । সুদীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ি’ পুনশ্চ সুন্দরী তেলি গভীর মৃদু মৰ্ম্মভেদি স্বরে (১২) “ত্রিভুবনেশ্বর পতি—তাহার মহিষী, অতুল সৌভাগ্যবর্তী, সৰ্ব্ব লােক’পরে, কে কোথা আমার মত ছিল তিন লােকে ? অথবা হবে কি আর ব’ হবার নয় ? (১৩) অনল, অনিল, কাল সৰ্ব্ব-নিয়ন্তক, নগেন্দ্র, উপেন্দ্র, চন্দ্র, নিজে পদ্মযােনি, ভীত যার নামে হায় বাসুকী সতত, পুরিয়া নিশ্বাস নিতে কঁাপিত অন্তরে। (১৪) ! কৰ্ব্ব রকুলেরমণি রাজা দশানন- নাহি আর এ সংসারে ? একথা অলীক প্রত্যয় হইবে কার, কে হেন উন্মাদ, রাবণের মৃত্যু-মৃত্যু চির দাস যার?
( চিন্তন
(১৫)
নাহি বুঝি, তুমি অহ! তাই কি নিয়ে?
আনন্দ উৎসবে মগ্ন চরাচর-বাণী ?
পূর্বের সন্মান হায়! কোথায় আমার ?
লঙ্কানাথ। এ আঘাত বাজে যেন বাজ ।
(১৬ )
যাঁহার প্রতাপে আমি জিলােক ঈশ্বরী,
থর থর কঁপে যাঁর কটাক্ষ ঈক্ষণে
যক্ষ,নাগ, সুরাসুর। সব দৈবাধীন।
বুঝিলাম চিরসুখ নাহিক হেথায় ?
{ ১৭}
শুখাইলে তরু, কোথা লতিকা দর?
কে না দলে পদে তারে ঘুমায় ধূসর ?
ক্ষীণ ক্ষীণতর অঙ্গ, মরম যন্ত্রণা
কত যে পণে তার, কে বােঝে তখন।
(১৮)
নারীর গৌর স্বামী--তাহার বিহনে
প্রকৃতি বিমুখ সদা তার সহবাসে !
রজনী-নয়নতারা চন্দ্র সুধাকর
সেও হয় দিনে দিনে ক্ষীণ, উষ্ণ শ্বাসে !
(১৯)
পশ্চিম গগণে যথা অস্তগত ভা,
নিরখি’ করলময়ী তামসী যামিনী
হীম-স্পর্শ্বে কাপে যথা ফুল কমলিনী
হেরি’ কাল ছবি হায় ভাঙ্গা মেখ পাশে ।
স্পন্দন ]
E-গ। '
ক. .
৫
( ২০ )
দাসীর হৃদয়-সূৰ্য্য তুমি যে আমার !
আঁধার সংসার হায় তােমার বিহনে ।
রাজেশ্বর তুমি যথা আমি রাজরাণী
নতুবা ঐশ্বর্য্যে মম শুধু হলাহল !
(২১)
চল প্রভু, ওই কাঁদে লােণর নগরী,
তােমার বিরহে হায় ! নাহিক সে জ্যোতি,
অতুল ঐশ্বৰ্য্য তব, হেম সিংহাসন,
বৈদুৰ্য রতন সম দ্যুতি মনােহব।
(২২)
বিশাল সাম্রাজ্য তব, সাজে কি রাজন
পৃথিবীর অধীশ্বর এ কাঙ্গাল বেশ ? .
অদ্বিতীয় বীর তুমি, হায় ! আজীবন
বীরেন্দ্র ভূষণে অঙ্গ করিলে সঙ্গিত।
(২৩)
কোথা লৌহবর্ম আজি? সুদৃঢ় কাৰ্ম্মক?
কোথায় সে শরাসন ? কোথা তূণীয়
এ্যম্বক সদৃশ বিশ্ব-বিনাশি ত্রিশূল ?
কোথা সে উঙ্গ অসি উদগারে অনল?
(২৪)
পরম চৈতন্যময় বৈদেহি-ঈশ্বর,
দুষ্টের দমন তরে যুগে যুগে তিনি,
মায়ায় মনুষ্যরূপ করেন ধারণ ;
নিযেধিনু তাই তােমা করিতে সমর
.
( চিগুম্পন্দন
*
(২৫)
তাই কি দাসীরপর করি’ অভিমান
ত্যজি আজ অলঙ্কার ভূতলে শয়ান?
বীরপত্নী আমি-কভু ডরি কি সমরে ?
উঠ প্রভু! সাজাইব বীরের মতন।
(২৬)
হে প্রাণনাথ! তব দাসী পদতলে,
কেন না সুধাও আর ? কিসে অপরাধী
গুণনিধি ? অভাগীর কে আছে সংসারে ?
তােমার মহিষী হয়ে দাড়াব কোথায় ?
(২৭)
জনমে মরণে মম তুমিই আশ্রয়
ভুলিলে কি সব অজি ? নতুবা কেমনে
এখন নীরবে তুমি ?-না দাও উত্তর?
অথবা এ সব মিথ্যা সংসাড়ম্বর ।
( ২৮ )
ছুটিছে আবৰ্ত্ত তুলি মােহের এ ক্রীড়া,
কভু আসে, কভু যায়, জলােশ্মির প্রায়।
বাসন-হিল্লোলে মাতি' জীব তৃণসম
পুনঃ পুনঃ গতাগতি করিছে-সংসারে।
(২৯)
ভুলিব বলিয়া যাই, কিন্তু কৰ্ম্ম-স্রোতে
আবার টানিয়া আনে। কামনা জড়িত,
পূৰ্ব্ব-সংস্কার। দূরন্ত কালের গতি
ফেরে,সদা চক্র সম! সুখের গরিম।
চিত্তস্পন্দন ।
'এ ছার জগতে কোথা? নতুবা কি আজ
আমার এমন দশা-বিধি-অগােচর ?
কে জানিত, কে ভাবিত হইবে এমন
বীরেন্দ্র জননী আমি-দানব-দুহিতা ?
(৩১)
ত্রিলােক-বিজয়ী হায়! দুর্দান্ত অসুর
আজ্ঞাধীন যাঁ’র সদা, সেই মন্দোদরী
সামান্য রমণী সম এ মহাশশ্মানে
জুড়া’তে তাপিত প্রাণ ক্ষণকাল তরে!
(৩২)
কেহ ত কহে না হায়! আর দুটো কথা ?
নিষ্ঠুর জগতে বুঝি নাহি স্নেহ দয়া ?
অথবা কে আছে আর ?—সব শবময়!
শব-কণ্ঠে ঘােরতর তীব্র আর্তস্বর মা
(৩৩)
পশিবে কাহার হায় ! শ্রবণ-বিবরে
জীব কেই ত নাই!স্বপ্ন আর্তস্বর
পাশ্ববৰ্তি কৰ্ণমূলে পশিবে কেমনে?
নিদ্রায় আচ্ছন্ন সে যে, কে জাগবে আর?
–
-
( চিত্তস্পন্দন
সত্যবান।
স্থির সৌদামিনী সম যাের অন্ধকারে
এখনও তেমনি বসি। কি যেন কুহকে
অছিন্ন করিল মােরে, কত যুগ পরে
পাইমু চেতন পুনঃ। অদ্ভুত
ঘটনা
কত যে দেখিনু সতি! জ্ঞানময়ী তুমি,
সত্য কি সে সব প্রিয়ে ? অথবা কোথায়
মরিয়া জীবন পায় ? কেমনে বা বলি
অলীক এ সব প্রিয়ে ? ধন্য তুমি ধন্য তব
সতীত্ব প্রতিভা ! সার্থক তােমার দেবি
ব্ৰত উপাসনা ! ধন্য অশ্বপতি পিতা,
মৎসেন প্রাণরমা-বধূরূপে গৃহে
যাঁর, পূৰ্ণানন্দময়ী। ধন্য আমি, যার
পাশে হেন সঞ্জিবনী সাবিত্রী আমার!
জানি না কি পুণ্যফলে পাইলাম তোরে।
কোথা মৃত্যু ?—মৃত্যুভয় থাকে কি কথন
হেন পতিব্রতা নারী সহায় যাহার ?
মৃত্যু নয়—সাধ্বি! তৰ মহিমা সকলি
দেখিনু প্রত্যক্ষ আজি ; কিন্তু মহামােহে
নিবারিতে নারি ; মােরে প্রবল প্রবাহে
কৰ্ম্মপাশে বাঁধে হায়! অচেতনবৎ
চিত্তস্পন্দন । স্বপন প্রক্রিয়া সম ; কাতর হইয়া কত যে ডাকি তােরে ; অশরীরি বাণি পশিল শ্রবণমূলে, এমনি সে স্বর দেয় মাখান যাহা কে পারে ভুলিতে ! “বল নাথ ! চিরদাসী চরণে তােমার, জন্ম মৃত্যু আবরণ মায়ার লীলায় মােহের সম্ভব কোথা অব্যয় আর ? বুঝি সঙ্কেত-কিন্তু পূর্বাপর যত জাগিল সংস্কার-রাশি-দেখিনু সভয়ে মহাপাশ হস্তে এক নীল জ্যোতির্ময় দাঁড়াল পুষ আসি’ শিয়রে আমার । নিবারিয়া ঘনঘটা বিবস্বান যথা স্বীয় তেজে আলােময় করেন ভুবন, নিবীড় অরণ্য রাজি গভীর আঁধারে কোটি ভানু-রশ্মি যেন হইল বিথার । তব অঙ্ক হ’তে সতি! লইয়া আমায় চলিলেন কোথা যেন, বিকল ইন্দ্রিয়, . নারিলাম বাধা দিতে,-অজানিত পথ- দেখিয়াছি বলি’ কভু হয় না। স্মরণ। ঝিল্লী-ঝঙ্কারিত বন—একাকিনী নারী- তাহে চতুর্দশী নিশি-নীরব অটবী- সিংহ, ব্যা, ব্যাল আদি করিযুথ-পতি হুঙ্কার করিছে দূরে—সভয়ে ব্রততী তরু দেহে চায় যেন মিলাতে শরীর! - -
[ চিত্তপলন
'
কাল-পাশে বদ্ধ জীব হায় রে তখন,
পশ্চাৎ ফিরিয়া চায়, কত আকিঞ্চন,
কত স্নেহ, ভালবাসা, নীরবে মিলায়
নিঃস্পন্দ নয়নে! জীব সদা অচেতন
মায়ার বন্ধনে । সামর্থ্য-বিহীন আজি,
কালের কবলে তেঁই, কাপুরুষ সম
নিজ মুক্তি হেতু সাধিলাম কত তারে
“দেহ অবসর, ক্ষণকাল তয়ে প্রভু
দেখি একবার—শুধাই একটি কথা---
এ দুর্গম স্থানে একাকিনী রাখি’ তারে
যাইব কেমনে? ছায়াসম নিত্য সে যে
সঙ্গিনী আমার। কি বলিবে, পুনঃ দেখা
হলে এর পর?”-কত যে কঁদি প্রিয়ে।
কিন্তু দেবি। কি আশ্চৰ্য্য চারু বিম্বার
হাস্যময়ী ! নাহি কোন আশঙ্কার লেশ!
ভাসিছে বদন-পদ্ম স্বর্গীয় প্রভায় ।
কি অদ্ভুত জ্যোতিঃ, দেখি নাই কভু,
সুন্দরি ! সাজিতে হেন মনােময় বেশে।
বড়ই নিশ্চিন্ত, চির আকাঙ্খর ধন
লভ্য যেন সুদুষ্কর তীব্র সাধনায়
সুদৃঢ় কল্পনা যেন সিদ্ধ এত কালে।
সতীত্ব কাহার নাম, দেখাতে ত্রিলােকে
কাৰ্য্যের গৌরব রাখি’ ক্ষণকাল তরে
জ্ঞানামৃতে মহাকালে তুষিলা মুরি!
.
১১৭
জিম্পরুন ।
কহিল তােমায় কত পুরুষ-প্রধান
বার বার মিষ্ট স্বরে--জনক যেমতি
ভুলায় তনয়া নিজ। কহিলা আবার
“পিতৃ শ্বকুল, উদ্ধারিলে নিজ গুণে,
অপূৰ্ব চরিত্র তব! মনােনীত বর
লহ সাধি! পুনৰ্বার কি চাই তােমার ?”
কহিলে সুন্দরি ! তুমি ঘুড়ি’ দুই কর,
“কি আর বলিব প্রভু অন্তর্যামী তুমি,
অবৈধব্য হক’ বলি’ দেব ঋষিগণ ,
নিত্য আশীর্বাদ পিতঃ! করিত আমায়।
তুমি ধৰ্ম্ম-একমাত্র আমার আশ্রয়,
যেতে বল, কোথা স্থান আছে চরাচরে ?
মৃত্যু-পাশে বদ্ধ স্বামী,আমি পতিব্রতা,
কেমনে বলিলে ? দেব ! অল তােমার
বাক্য, লঘিবে কেমনে ? সত্যবাদী-দাসী
ভাগ্যে দেখি বিপরীত।” হাসি’ দণ্ডপাণি
কহিলেন, সত্য বৎসে! যা বলিলে, কিন্তু
আয়ুঃক্ষয়ে সৰ্ব্ব জীবে অধিকার মম ;
বিধির এ বিধি দেবি! সদা রক্ষণীয়
উচিত নয় কি বৎসে,?—জিজ্ঞাসি তােমায়-
সতী তুমি কোন বিধি তব অগােচর ?
কিন্তু আজি বড় প্রীতি পাইনু জননি!
দেব, দ্বিজ, পতিভক্তি দেখিয়া তােমায়।
সমাহিত মনে নিত্য স্মরি’ ভগবান
। চিত্তস্পন্দন
তব ব্রত অনুষ্ঠান করিলে রমণী,
তােমা সম হবে সতী, মহা ভাগ্যবতী।
মুক্ত তুমি! তবু কেন হেন অভিলাষ
স্বামী সনে খেলিবার ? পুরুষ প্রকৃতি
অভিন্ন বুঝিনু দেবি –ধর লীলাময়ি!”
ইহা বলি পাশমুক্ত করিয়া আমায়
জ্যোতিঃ অভ্যন্তরে লীন হইলেন তিনি।
চিত্তন
মানব।
(১)
এই যে অনাকীর্ণ আকাশ মণ্ডল
এই' যে অনন্তাকীর্ণ বিটপী শ্যামল
এই যে ব্ৰহ্মাণ্ডবেষ্টি জলধির জল
ক্ষুদ্র কি অনন্ত মাঝে মানব(ই) কেবল ?
(২)
এমনই কি অনিপুণ সেই বিশ্বদেব ?
অসীমের বােধ হেতু সসীমে সৃজন?
অনন্তের মাঝে ভাসে সঙ্কীর্ণ মানব,.
খরতর স্রোতে পড়ি তৃণখণ্ড সম ?
(৩)
জীব আত্মা অতি ক্ষুদ্র, মনে নাহি ধরে ;
সন্দেহ-প্লাবিত হৃদি-তৃপ্ত নাহি হয়,
নির্জনে, সন্দেহ যুবা বিমােচন তরে
কবির বাঞ্ছিত স্থানে উপনীত হয়--
•
( ৪ ৫ ,
যতদূর চলে দৃষ্টি বিশাল প্রান্তর
মানবের তুচ্ছ-তবু অবস্থিতি করে,
একটি অশ্বথ শুধু দেখিছে প্রান্তরে
যােগী যথা, স্থির নেত্রে, হেরে আপনারে
*
[ চিত্তস্পন্দন
(৫)
জগৎ-প্রদীপ এবে হয় অস্তমিত
লুক্কায়িত স্থান হতে দেখিল আঁধার,
ধীরে ধীরে নিজ দেহ করিয়া বর্ধিত
আক্রমিল ধরা এবে, হইয়া সত্বর।
(৬)
আহলাকে কোটর ত্যজি’ পেচক ডাকিল,
ক্ষীণ-চক্ষু বিহঙ্গম উড়িল বিমানে,
সুদুরে শৃগালকুল একত্রে ঘােষিল
প্রথম প্রহর নিশা, গ্রামবাসী জনে।
(।)
ক্রমে ধীরে কোলহল হ’ল মন্দীভূত,
গভীর নিস্তব্ধে ধরা হয় নিমজ্জিত,
নিৰ্ব্বাকে দাঁড়ায়ে যুবা হইয়া স্তম্ভিত
না বুঝিল কেন তার চিত্ত প্রশমিত।
(৮ }
সংরুদ্ধ আবেগ, যুবা পাষাণ মূরতি,
নিশ্চল প্রকৃতি সনে নিস্তব্ধ প্রান্তরে
ধীরে আসি পরশিল সােহগে প্রকৃতি।
মিটিল সন্দেহ, যুবা হাসিল অন্তরে।
প্রকৃতি ফুটাল হৃদি--দেখিল যুবক,
দেখিল আছয়ে যেই হৃদয় ভরিয়া,
সেই আছে বিশ্বরূপে জগতে ছাইয়া ;
বাহিরে যা’ দেখা যায় ভিতরে সকল।
d
১২
পিতৃ-আত্মা পুত্ররূপে জনমে যেমন
সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টিরূপে হইল তেমন,
মূঢ়-বুদ্ধি, ভিন্ন দেখে—ভিন্ন, কিছু নয় ;
নাম রূপে, ভিন্ন—কিন্তু স্বরূপে, তা নয়
বিলাপ।
পলি হৃদয় লয়ে
কেমনে মিশিৰ হায় !
আকাশের সনে?
(ও ষে) শরতের স্বচ্ছমেঘ অস্তর বাহির শুদ্ধ
মালিন্য না জানে।
জটিল কুটিল হয়ে
কেমনে ধরিবে, হায় !
আকাশ চন্দ্রমা ?
(ও যে) সুর সােহগের ধন সরলতা সুধা মাখা
নাহিক কালিমা।
তােমার পাষাণ দেহ
কেমনে গলিয়া হায়!
হইবে সরসী?
(ও যে) তরল হৃদয়ে ধরে প্রভাত রঞ্জিত মেঘ
আর রবি শশী।
প্রেম-শূন্য ক্ষুদ্র প্রাণে কেমনে বুঝিবে হয় !
সাগর মহিমা।
(ও যে) বিশাল অনন্ত প্রেমে নিত্য নিরবধি ছােটে
ভুলিয়া আপনা।
দম্ভভরা হায় ! তুমি ফুটিবে কুসুম মত
অন্যের কারণে?
(ও যে) ভ্রমরের গুরু রবে সােহগে ফুটিয়া উঠে
সরল পরাণে।
কুৎসা-তৃপ্ত কর্ণ তাের কেমনে নিবে হায়!
পিক সপ্ত স্বর?
ও ষে) প্রকৃতি উল্লাসে শোনে আনন্দে বিভাের হয়ে |
তুষি ঋতুবর।
তােমার ও কটু আঁখি কেমনে দেখিবে হায় !
প্রভাত শিশির।
( যে) তরুণ অরুণ দেখে মেলিয়া সহ আঁখি
এতই মধুর।
উম্মত্ত বাসনা তৰ গাহিবে তাহার নাম
ডাকিবে তাহাকে
যদ্যপি আপন প্রাণ সে প্রাণে মিশাতে পার
পাইবে তাহাকে।
[ চিপ
------
বিজয়া।
বিজয়া দুয়া’য়ে গেল দেবগুরু বারে,
এভাতে বিদায় নিলে-নয়নের জলে
ভাসিল প্রকৃতি ঘন মেঘ বরিষণে।
শূন্য হিয়া ফিরে আসি দিয়া বিসর্জন
কুদ্ধ শােকভরে, জীবন শুখা’য়ে এল।
পাগলিনী মত চাহিনু তাহার পানে
পরাণে পরাণ চাপি; স্বপ্ন মনে
হয়
আবার আসিলে তুমি কি বুঝিব আমি
আপন ইচ্ছায় খেল সে খেলা তােমার ;
বলিবার কিছু নাই, আবার হৃদয় কাঁদে
তব আর্শনে। কত দিন, বর্ষ যাবে
আবার দেখিব কবে? কেমনে থাকিবে ?
কেমনে থাকিব আমি? কি হবে আমার?
অথবা যাইবে দিন যেমন যেতেছে।
একে একে থেকে থেকে ভাসিহে পরাণে
এ মহা পূজার স্মৃতি ; রবির বাসরে,
শুভ ষষ্ঠী যােগে দেখিনু তােমায় যবে
কত স্থির-কত ধীর-মুরতি তােমার ;
কত যে উঠিল প্রাণে কি হ'বে বলিয়া!
সপ্তমী অষ্টমী আর নবমীর নিশি
হ’র আত্মহারা কিছু নাহি জানি আমি।
৮
পিন ]
কি ঘােরে কি মত্ত হয়ে কি যে করি আমি-
সকলি মধুর লাগে, সকলি সুন্দর!
জগন্মাতঃ তুমি, তুমিই রক্ষিবে মােরে।
মা হইয়া আমি তব ক্রীড়ার পুতলী।
আজি আমি প্রাণ-শূন্য, নিতান্ত দূৰ্বল
তথাপি প্রতিজ্ঞা করি আদেশ পালনে,
কাটিব এ দীর্ঘকাল তােমা লক্ষ্য করি।
আজ হ’তে যেন, নূতন হইল জন্ম।
সর্বসঙ্গ ত্যজি’, তােমায় স্মরিয়া পুনঃ
করিব যেমন আজ—কর আশীর্বাদ।
[ চিত্তপণ
---------
মাধবী।
কত সুখে থাক তুমি দেখিতে এলেম আমি
সজনি। সত্যই তােরে বড় ভালবাসি,
কত ছলে ঘুরে ফিরে তাই হেথা আসি।'
হৃদয় দুয়ার খুলি
ফুটাইয়া ফুলগুলি
বিনা সূত্রে গাঁথি’ মালা সাজাও কাহায় ?
প্রাণভরে পুস্পাঞ্জলি ঢাল’ কার পায়?
এতটুকু হৃদি মাঝে এত খানি প্রেয় রাজে
বিশাল হৃদয়, জানি, প্রেমের আধার,
তােমারে দেখিয়া গেল সে ভ্রম আমার।
সৰ্বাঙ্গ ভরিয়া আজ পরিয়া কুসুম সাজ
দেখাইছ তরে বুঝি পাতিয়া হৃদয় ?
সুনীল মেঘের কোলে যেন তারা চা!
তােমারি ভূষণে সাজি’ ভুলে গেছে তৰু আজি
তুমিই তাহার আছ ভরিয়া সংসার,
যা দিয়ে করিবে পূজা, তাও যে তােমার !
তোমার মতন করে পারি যেন প্রাণ ভরে
সাজাইতে তারে, সখি! বড় মনে সাধ,
প্রণমি তােমারে, দেবি! কর আশীর্বাদ।
শিলন।
সহকার প্রতি।
একাকী দাঁড়ায়ে আজি কেন সহকার?
মলিন অঙ্গের বেশ যেন নাহি সুখ লেশ
•কি এত গভীর জ্বালা পরাণে তােমার ?
বসন্তের আগমনে
নব নব আভরণে,
কেমন সেজেছে দেখ সারাটি সংসার।
আনন্দ উচ্ছাস কত
হের উঠে শত শত
তটিনীর বুকে ওই,—এদিকে আবার
সুসৌগন্ধে উনমত হে আসে মধুব্রত
বিলম্বে করিল বুঝি মৃদু তিরস্কার।
নীল সরস্বতী জলে
রক্তিম অঙ্গ লি তুলে
নিষেধিল ওই ক্রোধে পদ্মিনী আবার।
ফুল সনে বায়ু মিশি কথা কয় দিবা নিশি
তারকা খচিত বাস পরি’ শশধর ।
উজলিয়া বসুন্ধরা ঢালিয়া সুধার ধারা
ওই দেখ হাসে শশী টিপিয়া অধর।
খােলা প্রাণে নিরন্তর, কুহরিছে পিকবর,
শুধু নিরানন্দ তুমি, এ হেন সময়ে।
শুন, তরু! সুধি তাই কেহ কি তােমার নাই।
কি চাই, কি নাই,তব, কি ব্যথা হয়ে ?
০২
[ চিগুম্পন
সিন্ধুর প্রতি।
।
(১)
সমদুঃখী বলে তুমি তাই হেথা থাকি আমি
হা হুতাশ দীর্ঘশ্বাসে এ হৃদয় ভরা,
তাই গাে ছুটিয়া আসি পাগলিনী পারা।
(২)
কত যে পরাণে উঠে
বলিতে না ভাষা ফুটে
অথবা বলিলে কার হইবে প্রত্যয় ?
কা’র বা এমন আছে বিশাল হৃদয় ?
(৩)
এ বুক শতধা হয়ে গেছে সিন্ধু দেখ চেয়ে
উন্মত্ত প্রলাপ হায়! কে শুনিবে আর
তুমি আছ—তােমাকেই বলি বার বার।
(৪)
ভুক্তভােগী হও তুমি কি আর জানাব আমি
গাহুক মধুর গীতি পিক পাপিয়ায়
আর না জুড়ায় প্রাণ স্নিগ্ধ জ্যোছনায়।
নবঘন দরশনে
নাচুক ময়ূরীগণে
হাসুক চৰমা আজি নীল নীলিমায়
এ পােড়া জীবনে শুধু জালা রাশি হয়।
(চতুস্পন ]
কুসুম কানন’পরে বেলা যুঁই থরে থরে
সুরভি সুঘ্রাণে ধরা হউক মগন
আমি থাকি দূরে–ছায়া, না লাগে যেমন।
(৭)
বসি’ তরু শাখা’পরে
ডাকুক কোকিল ধীরে
সাজুক প্রকৃতি সতী সুন্দর ভূষণে,
চিরদিন অশ্রুধারা ঝরিবে নয়নে।
(৮)
গােলাপে হাসি মুখ, হেরি পাইতাম সুখ
সে দিন গিয়াছে, সিন্ধু ! করমের দোষে,
তাই এ মগধ হৃদি আস ত না হাসে।
সংসার সুখেতে ভাের কি জ্বালা যে বুকে মোর
বােঝে না, দেখে না কেহ বারেক চাহিয়া !
তাই গাে তােমার তীরে আসি যে কাদিয়া।
(১)
প্রাণ-গলা দুই বিন্দু অশ্রুজল নাও সিন্ধু
আশীস আমারে কর তােমার মতন
পারি যেন বহিবারে দুঃখের জীবন!
(১১)
অমনি আছাড় খেয়ে পড়ি যেন লুটাইমে
তুমি ত দেখিবে সব, নিত্য পয়ােনিধি !
থাকুক এ দুঃখ মম জীবন অবধি। ।
[ চিম্পন্দন
(১২)
স্মরিলে এ সব কথা
ভুলে যাই মর্ম ব্যথা
তােমার অনন্ত বুকে বিন্দুমাত্র স্থান,
যদি দয়া করে দিয়া, কর পরিত্রাণ!
চিত্তলন ].
নদী দর্শনে।
।
সুদীর্ঘ সঙ্কীর্ণ কায়ে যেন ভুজঙ্গিনী
এই যে পড়িয়া তুমি অতি বিষাদিনী,
অতি মৃদু বহিতেছে নিশ্বাস পবন,
অতি ধীরে কঁপে বুক জানায় জীবন,
কুলু কুলু নাহি, নদি! হৃদয় উদাসী,
অগণ্য তারকা ঘেরা আকাশের শশী
ধরে না তােমার ওই সঙ্কীর্ণ সলিলে
বালু-পঞ্জর ক্রমেগ্রাসিতেছে জলে।
বুক-ভরা নাহি জল, এবে কাঙ্গালিনী
তরু নাহি দেখে মুখ তট-বিপ্লাবিনী,
শরতে ভাসে না জলে রাজহংসচর
চলে ঢলে খেলে নাক তরঙ্গ নিচয়,
তব তটে নাহি উঠে দেবের মন্দির,
শিবপদ প্রালিতে নারে তব নীর,
ভরা নাহি কেন তুমি, পূর্বের মতন ?
কেন বা তােমার, নদি! এ দশা এখন?
বল কোথা গেছে ফেলি স্বজন তােমার ?
তাই কি হয়েছ ক্ষীণ চিন্তায় তাহার?
এই দীন দশা, নদি! দেখিয়া তােমার
হৃদয় বিষাদে পূর্ণ হতেছে আমার।
!
( চিম্পল। তােরে দেখি ফাটে বুক, বহে অশ্রুধার, মনে পড়ে সেই কথা শত শত বার- সাগর সঙ্গম তরে আশার উল্লাসে কেমন ছুটিয়া যেতে মৃদু মৃদু হেসে ; বিশাল সাগর, নদি! পাতিয়া হৃদয় কেমন সােহগে তােরে বুকে তুলে লয়। অস্তিত্ব নাশিয়া নিজ, অনন্তের সনে মিশিতে পারিলে, সে ত এমনই টানে। বল, নদি ! কেন আজি এ দশা তােমার ? বল, নদি! কোথা গেল সে দিন আমার ? সে বলে রয়েছি ‘আমি’-আমিনাহি পাই জল-ভরা চ’থে কত খুঁজিয়া বেড়াই। তবুও রেখেছি প্রাণ, তার বাক্যে নদি আসিবে নিশ্চয়,সে যে বড় দয়ানিধি।
চিত্তস্পন্দন
===== = = = =
নীলধারায় মেঘ।
ঝাপিয়া নীরদ যেন নিম্নদিকে ধায়
উছলি’ তরঙ্গ ছছটে ধরিতে তাহায়,
মিশামিশি হতে আশ, নীলাকাশে জলাকাশ
সজল নয়নে যেন কত কি জানায়।
কভু অভিমানে কাদি’ ধরণী ভাসায়।
কভু বা বিজলী এসে, হাসায়, আপনি হেঁসে
ক্ষণিক পরশে তার আবার হিয়ায়
নূতন তরঙ্গ কত খেলিয়া বেড়ায় !
নিতি নিতি দেখাদেখি ।
তবু নহে কেহ সুখী
চোখে চোখে থাক, তবু দূর দূরান্তর।
কেন কাঁদে, কেন কঁাদ, বল’ নীলাম্বর ?
কে বুঝিবে ঐ খেলা? বলিবে,-জড়ের মেলা!
অদূরে হিমাদ্রি কেন স্থির ভাবে রয়?
সে কি এ প্রাণের কথা কয়েছে নিশ্চয়!
জড় দেহ দেখ যথা চেতন নাহিক তথা-
কেমনে জানিলে বল ? এ কোন্ বিচার?
জড় দেহ বিনা কোথঃ চৈতন্য বিহার ?
দেখ নব বস্তু পরে,
বনস্পতি থরে থরে
আপনি আপন ভাবে মুগধ কেমন!
তবু দেখ এই খেলা করিছে ঈক্ষণ।
চিত্তস্পন্দন
‘লছমন্-ঝােলায়’ গঙ্গা
একি মা! কোথায় যাও শৈলরাজ-বালা
ছুটা’য়ে হৃদয়ভাব তরঙ্গের মালা ?
ছুটিছ উন্মত্ত বৈশে বল গাে মা কা’র পাশে ?
সে কে মা তােমায় এত করিল অথির?
কা’র ভাবে কেঁদে কেঁদে হইয়াছ নীর?
কুলু কুলু কুলু স্বরে কি কথা বল মা তারে
নিবেদি চরণে মাগাে এন গিরি-সুতা--
কা’র সনে দিবানিশি কও এত কথা ?
কি লাগি’ বিভাের এত ছুটিছে অবিরত,
অনন্ত সােহগে কর পড়িছ ঢলিয়া ?
তবু ছােট একি মাগাে নাচিয়া নাচিয়া !
নাহি দৃষ্টি কোন খানে, চলিয়াছ কোন্ টানে ?
গাহিয়া কাহার গুণ ? সে তাের কে হয় ?
দ্রবময়ি! প্রাণরূপ তুমি ত নিশ্চয়।
নির্জনে গহন বনে কত কাল যোগ ধ্যানে,
আরাধিল তােরে, শিবে! রাজার নন্দন,
তপে তুষ্টা, বাঞ্ছা তা’র করিলে পুরণ ?
মহাপাপী ত্রাণ তরে আসিলে পৃথিবী’পরে,
স্পর্শ মাত্র কোটি কোটি পাপী মুক্তি পায়--
তুমি ভবে কেন মাগাে কর হায় হায় ?
চিত্তম ]
গঙ্গার উক্তি।
কি বুঝিবে তুমি এর, অববাধিনী বালা?
বিষাদ তরঙ্গ নয়—আনন্দের এ খেলা!
কেমনে বলি মা তােরে, কে গাে সে পাগল করে,
আপনি আপন মনে বলা বলি করি ;
কে যে সে আমার হয় বুঝিতে না পারি।
সে ভাবে হৃদয় ভরা,
হইয়াছি ত্রয়াে ধারা,
দিগন্ত ব্যাপিয়া শুনি সেই স্বর মাখা;
উছলি লহরি ছােটে নাহি পড়ে ঢাকা।
দিবানিশি অবিরাম, জপয়ি জপয়ি নাম,
কত যে পরাণে উঠে আনন্দ তুফান।
নিতুই নূতন, মাগো নাহি অবসান।
কত মা বলিব তােরে, ছি ছি মা সরম করে,
জনম আমার সেই শ্রীপদে, জননি!
সেই হেতু আমি আজি ত্রিলোেক-তারিণী !
কত ভাব রূপ ধরে আমায় পাগল করে,
কখন চরণে দিয়া রাঙ্গা জবা-চয়
নব-দূর্বাদল রূপে পদধূলি লয় ।
কখন চরণে পড়ে,
কতু বা জটায় ধ'রে
কখন বামায়ে রাখি হাসি’ হাসি’ চায়,
কৃপণের ধন সম সােয়াতি না পায়।
[ চিত্তস্পন্দন
সত্য সত্য নাহি আর, আমি বিনা কেই তার,
সকলি অদ্ভুত ভাে’র-সােহাগ, আদর !
সৰ্বলােক-খ্যাত মাগাে,ক্ষ্যাপা দিগম্বর।
কত আরাধনা করে,
আজি বহুদিন ধরে,
মম পিতা হিমালয়-এসেছিনু তাই,
অর্ধপথে স্মরি’ তারে, পুনঃ ফিরে যাই।
ক্ষণিকে কলপ সম,
দেখিলে হয় মম,
কি বলিব, কি শুনিবে, কেন বা এমন ?
নাহিক তুলনা আর দ্বিতীয় তেমন !
শ্মশান ও হাড়মলি,
ডমরু বাঘের ছাল,
পাগলের প্রিয়—তাই আমি ভালবাসি,
সস্নেহে মুছায়ে লইব ভস্মরাশি।
স্ফীত ও দুর্গন্ধময়
কত আসে শবচয়
বুকে ধরি’ সে সময়, কিন্তু কাদে প্রাণ,
স্ময়িয়া জীবের হায়! অহং অভিমান।
শিবত্বে শমন ভয়, নাহিক—হ’বার নয়,
মৃত্যুঞ্জয়ী নাথ মাের—অজর, অমর!
শান্তমূৰ্ত্তি আশুতােষ, তুষ্ট নিরন্তর।
যা’ বলিলে সত্য তুমি, জীবের জীবন আমি,
সকলে বলে মা মেরে শান্তিপ্রদায়িনী
আমার শান্তির স্থল—শ শূলপানি!
১৩৭
চিত্তস্পন্দন ]
-
কণ্টক-বৃক্ষে লতিকা।
.
(১)
নিদাঘ মধ্যহ্ন-কাল। সন্তপ্ত অন্তরে
মা পাইয়া গৃহে স্থান, আইনু নির্জনে,
বাহিরে দেখিনু বিশ্ব পােড়ে ভানু করে,
ভিতরে দহিছে হৃদি দুৰ্ব্বাক দহনে।
(২)
দেখিলাম তরু এক একাকী প্রান্তরে
রহিয়াছে দাঁড়াইয়া লতিকা বেষ্টিত,.
হৃদয় হইল দ্রব দেখিয়া তাহারে
অশ্রুজলে গণ্ড দু’টি হইল প্লাবিত।
(৩)
এ বৃক্ষে ফুটে না ফুল, কিন্তু তরু শিরে
ফুটেছে সহস্র পুষ্প, সােণার বরণ !
গায়েতে কণ্টক, তবু লতিকা তাহায়ে
আদরে জড়ায়ে আছে, করি আলিঙ্গন।
(3)
আর তুমি,দৃষ্টিহীন মানবী লতিকা!
ইচ্ছায় কেন বা কর সংসার শ্মশান ?
শুষ্ক তরু ভাবি’ কেন কাট’ তার মূল ?
মেহেতে জড়ায়ে দেখাে, ফুটিবে কুসুম !
[ চিহস্পন্দন
' বিবাহে।
www
ছিল যখন, সে ত ছিল ভাল
আছিনু আশায় হায়।
মনের মতন, ফুটিবে সে জন
সৌরভ ছুটিবে তা’য়।
বাল্মীকির সীতা, রঘু সুদক্ষিনা
শিখাবে ভকতি, প্রেম।
‘পতিকুলে ধ্রুব’, শিখিবে আপনি
পতি-প্ৰব্য হবে হেম ॥
আমার নয়ন, তিরপিত যাতে
সেও তার তৃপ্তি পাবে।
দু’টী দু’টা আঁখি, একটি আমিতে
একই রূপ নিরখিবে।
বন্ধুর প্রণয়, আত্মার মিলন,
এক হাতে দু’অঙ্গুলি।
হেথা) অমিলন লয়, হইবে মিশ্রণ
দু’য়ে এক হ’ব বলি।
দু’য়ে এক হয়ে, শিখিব যে প্রেম
সে প্রেম বিশাল হবে।
• ক্রমে পরিবার, স্বদেশ, স্বজাতি,
মানবে ব্যাপিয়া রবে।
শিক্ষন ] যা ছিল তখন, আছিল ত ভাল, বাঁচিয়া মরণ নয়। বন্ধু দারা মুত, সকলি ত আছে (তবু) সকলি অভাবময়। ছিল যখন, সে ত ছিল ভাল, তবু প্রেম হৃদে ছিল। চন্দ্র সূৰ্য্য তারা, গাহিত যে গান লাগি তুই ভাল। দরিদ্রের দুঃখ, রােগীর যাতনা, পরাণে লাগিত বড়। তাহাদের সনে, যেমন আমার সম্বন্ধ আছিল দৃঢ়। অজের রোদনে, অতির বিলাপে, বিদ্যাপতি, নিধু গানে। কাঁদিত পণ—“কাল্পনিক” বলি ভ্রম না হইত মনে। প্রতিবেশী শােকে, হয়ে আত্মহারা, করিয়াছি অঙ্গীকার- “আমি ঘুচাইব তােদর দাবি, কেন তবে ভাব’ আর ?” এ ভাঙ্গা বীণায় নড়ে না’ক তার উঠে না’ক আর গীতি। শিশুর মরণে, মাতার নােদনে, আমার নাহিক ক্ষতি। ১১
[ চিত্তস্পন্দন
'
নর নারী সব, যায় যা মরে,
ধরা হাে রসাতল।
ধর্ম যায় যাক্, জাতি ধ্বংস হোক
তাহাতে নহি বিকল।
ছিল যখন, সে ত ছিল ভাল
এখন জীবন গেল !
ছবি গেছে ছিড়ে, শূন্য ফেম খানি
রাখিয়াছি কেন বল?
কেন রাখিয়াছি, কে দিবে বলিয়া ?
যে দিয়াছে সেই জানে।
এমনি করিয়া, মরেছে যাহারা
তাহারা না বলে কেনে।
১৪১
চিম্পক্ষন
বিলাপে।
অনন্ত ব্ৰহ্মাণ্ড কোটি যাহা দিতে নারে
আধ ঈক্ষণতে প্রিয়। সে সুখ সঞ্চারে।
কি বলিব ? কি শুনিবে সে প্রিয় কেমন?
আমি রে পাষাণী, তাই যায় নি জীবন।
(২)
হায়! সখি কি বলিব ?—বলিবার নয়,
ক্ষণিক বিলম্ব তার প্রাণে নাহি সয়।
কুটীর বাহিরে যাব—বলিবে আমায়
এখনি আসিও প্রিয়’ বিলম্ব নাহয় !
কাতর হইয়া সে যে করিছে স্মরণ--
আমি বিনা তার জ্বালা নহে নিবারণ।
সরমে! ব্যাকুল প্রাণ হয়েছে আমার,
নিরবধি সব্য-আঁখি নাচে বার বার।
(6)
আমি ত জানি না মাের আছে কোন নিধি,
আমারে দেখয়ে নাথ সৌন্দৰ্য্য-জলধি।
বল, সখি ! কেন বল, পরাণ আমার
হয় এত বিয়াকুল ? কি দুঃখ তাহরি?
કેર
[ চিন্তুষ্পশন
(৫)
সে যেন কি ঘোর দুঃখে পড়িয়া, সজনি!
পুনঃ পুনঃ ডাকে মােরে দিবস রজনী।
কি করি, সরমে! তুমি বল না উপায়?
যেতে চাই, বাধা পাই—বুঝি প্রাণ যায় !
(৬)
কভু সে ভাবিছে আমি হয়ে পাগলিনী
এলােকেশে ঘাের বেশে বাধা নাহি মানি
শত চেড়ী পরাক্রম করিয়া হেলন
গিয়াছি দেখিতে তারে, সে আছে কেমন।
মােরে দেখে অভিমানে আঁখি ছল ছল,
কিছু না জানায় সই, কতই বিকল!
আমি গিয়া বসিলাম দাসী সে চরণে
কুদ্ধ-মন্দাকিনী ধারা ঝরিল নয়নে।
(৮)
চাহিয়া আমার পানে, আমার ঈশ্বর
বলিলেন, হে চপলে! কেন হতাদর ?
কত দুঃখ পাই, প্রিয়ে! জান ত সকলি ;
তােমার স্বরূপ ‘দুঃখ’ আমি যবে ভুলি।
১৪৩
চিত্তস্পন্দন ]
চিতের প্রতি
তুমি ত সকলি পার চিত্ত মনােরমে!
কত কাল নিদ্রা যাবে, পড়িয়া এ ভ্রমে ?
ত্যঙ্গ শয্যা সুকোমল
কিবা সুখ এতে বল ?
জাগ’ সখি! সুর দেখি স্বরূপ তােমার,
কেন এস কেন যাও এত বারে বার।
‘আমার’ ‘আমার কর
কে বা আত্ম কে ৰা পর ?
পঞ্চভূতময় দেহ, এ নয় তােমার,
রূপ রস আদি সধি বিষয় বিকার।
যত্নে অর্থ রাশীকৃত
কেন বা সঞ্চহ এত?,
জন্মাবার আগে যিনি অাহার যােগান
আজ তুমি “আমি” সেজে কর অভিমান !
অবিশ্বাস ফেল’ দূরে
ধর তারে দৃঢ় করে
অনন্ত ভাণ্ডার, সদা পরিপূর্ণ তার,
কখন কি শূন্য হয় ?—সে যে সৰ্বাধার !
উর্ধে, অধে, সৰ্বস্থানে
ঘরে, পথে, কিম্বা বনে
সতত তােমায় সে যে করিছে রক্ষণ,
মত্ত তুমি নিজ মদে, কর না দর্শন।
[ চিত্তন
নিত্য নব নব বেশে
এ
কত ছলে কাছে আসে
সরল পবিত্র সে যে বড় নিরমল।
সহে না বিষয়-আঁচ, তীব্র হলাহল।
প্রাণে প্রাণে মিশাইতে
ব্যাকুল সে চারিভিতে
কখনআদরে ডাকে, কভু মান ভরে
জ্যোতির্ময়ী-মুখ ঢাকে নীরদ অম্বরে।
সহে না পণে তার
তােমার দুঃখের ভার
সীমান্য ভালবাসা ঢালে অকাতরে ।
তুমি তারে নাহি চাও—সে চায় তােমারে।
রূপ যশ ধন আশা
নাহি তা’র এ পিপাশা
বিশ্ব প্রাণ, বিশ্বময় ঢালিতেই চায় ।
তুমি ঢেলে দেখ সখি! মিশিবে তাহায় ।
অদেয় তােমারে তার
বল কিবা আছে আর ?
সমগ্র পরাণ' দিয়া অনন্ত শরণ
লও তা’র পদে-সে রে তােমার জীবন!
তুমি ভুল’ সদা তারে
সে ভুলে না ক্ষণ তরে
চাহিলে তাহার পানে সর ভুল হয়,
সত্য সখি ! সে আমার বড় প্রেমময় !
১৪৫
বালাযােগীর আশ্রম
হৃষীকেশ দুরে ফেলি’ চলহ উত্তরে,
যথায় লক্ষ্মণ মূৰ্ত্তি মন্দাকিনী তটে।
সুনন পর্বতমালা ! সুন্দর জাহ্নবী।
পর্বতের কোলে কোলে গঙ্গার প্রবাহ!
হিমাদ্রি দেখিয়া হেথা মনে ভ্রম হয়,
যেন বা মেনকা রাণী উমার বিদায়ে
কাঁদিয়ে দাঁড়ায়ে আছে পশ্চাৎ ফিরিয়া ;
উমার গমন পথ না পারি দেখিতে
সীমন্তের দুই ধারে মুক্ত কেশপাশ
এলায়ে পড়েছে যেন পৰ্বত আকারে।
প্রভাতে তপন উঠে পৰ্বত পশ্চাতে,
সিন্দুরের টীপ মত মেনকার ভালে।
দূরে–গঙ্গা পার হেতু লছমন্ ঝোলা,
ঝুলিছে শৃঙ্খল-বাঁধা স্তম্ভশির হ’তে।
বােলা পারে গঙ্গাতটে আছে দাঁড়াইয়া
আপন ছায়ায় ঘেরা বটবৃক্ষরাজি।
দূরে দেখ চেয়ে ওই হিমগিরি শিরে
পবিত্র আশ্রম শােভে-বটতর মূলে ;
অহহ! কি সুন্দর তরু, পত্রে পত্রে আঁকা
শুরু
১৪৬
[ চিত্তস্পক্ষণ ; কোটি কোটি ইন্দ্রধনু, নানাবর্ণ-মাখা যথা কাচ খণ্ড দিয়া দেখিলে দেখায় সর্ববর্ণ-ভরা তরু চিত্রে আঁকা যেন। উর্ধে তরু-শিরদআছে আকাশ ছাইয়া কিছু নিয়ে, দৈখ চেয়ে ত্রিঝুরি নেমেছে, সহস্রার ছত্ৰতলে ত্রি-নাড়ীর মত মধ্যঝুরে স্কন্ধ মাঝে শােভিছে সুন্দর ঘেরিয়া এ বালাশ্রম—আলােক মন্দির। এই সেই পুণ্যাম সুন্দর মন্দির রজতের গিরি মত উদগারিছে আভা। মন্দির শিখর দেশে ধীর প্রসব • বহে ম রবে-হশির জটে যথা শির-সীমন্তিনী হেলে দুলে কথা কয় উন্মত্ত ভাষায়!-কিম্বা, যথা মৃদুরব শূন্যে ভেসে আসে, বারি বরিষণ কালে। মন্দিরের ভাল তটে কৌমুদীর মাঝে শােভে অর্ধমাত্রা কোলে দ্বীপক উজ্জ্বল। মহেশের মৌলে যথা চন্দ্রদল শােভে। ব্যাঘ্র ছালা চারিধারে আঁকা কটিতটে, মনে হয়, দিগম্বর দিয়াছে আশ্রয় মন্দির মুরতি ধরি’ বালক যােগীরে ! মন্দিরের দ্বার রুদ্ধ!—বালা যােগী এক। কা’র ধ্যানে নিমগনসেই যােগী জানে! নির্জন আশ্রম ভূমি! শান্ত দশদিক- । - ১৪।
চিত্তস্পন্দন ।
উর্ধে দুলে নীলাকাশ-নীচে হিমালয় ।
নীরব প্রকৃতি-প্রকৃতির নীরবতা
দূর হৃদয়ের তলে, শান্তি দেয় আনি।
অকস্মাৎ চারিধারে “ব্যোম্” শব্দ উঠে ।
কুলে কুলে গঙ্গা ডাকে করি প্রতিধ্বনি,
উপরে মন্দির ডাকে গাল বাদ্য করি।
চিত্র বটতরু যেন শির দোলাইয়া
সাদরে সম্ভাষে কারে। মন্দিরের দ্বারে
বৃদ্ধ এক দাড়াইয়া, ভস্ম অঙ্গে মাখা,
শিরে শােভে জটাভার, গলে অক্ষ দোলে।
কাতর ডাকিল বৃদ্ধ ‘গুরু দয়াময়!
খুলিল মন্দির-দ্বার আপনা আপনি।
ঝলসিল অন্তজ্যোতি বাহিরে আসিয়া
উল্কার প্রকাশ মত-স্নিগ্ধ জ্যোতিঃ মাখি
বৃদ্ধ শিষ প্রবেশিল মন্দির ভিতরে।
মধুর নিঃস্বনে—ধীরে-মুদিল মন্দির,
যথা মুদে কমলিনী চন্দ্রমা উদয়ে
সটপদ ধরিয়া হৃদে, অতি ধীরে ধীরে !
সুনীল আসনে বসি’, স্থির সুখাসনে
বালাযােগী--অঙ্গে মাখা কোটি-সূর্য-আভা!
চ-কোটি সুশীতল! কপালে চন্দ্রমা
অাখি-তারা স্থির-বাঁধা তৃতীয় নয়নে,
মৌলিবদ্ধ জটাতলে। এখানে ওখানে
মৌলিমুক্ত কেশগুচ্ছ এসেছে নামিয়া
ক
চত্তলন ] চন্দ্রাগ্নি-উজ্জ্বল নীল কুন্তল ছাড়িয়া, বিধুখণ্ড বিমণ্ডিত সুকোমল ভালে। ভ্রমর তারকা!—মধুপানে মত্ত হয়ে ডুবিয়াছে আঁখি-পদ্মে, উড়িতে না পারি’ ; চারু মুখে বিষ ওষ্ঠ-কহনে না যায় কি শােভে অলক্তরাগ তুষার কমলে! গলে শােভে মুক্তাহার, রুদ্রাক্ষে জড়িত ; কটিতটে ব্যাঘ্রছালা, অযত্নে বেষ্টিত ; মৃণাল সুভুজ আছে বিলাসে পড়িয়া উপরে বদ্ধাসনে-কুঙ্কুম রঞ্জিত , করালি সহ মিশিয়াছে পাদপদ্ম- চন্দ্রে চন্দ্রে ঝকমকি অপূৰ্ব্ব মাধুরী! সুন্দর এ বলাযােগী-কভু মনে হয় এ যেন গােপন মুর্তি—যেন ছদ্মবেশে ধ্যানে মগ্ন এ আশ্রমে গিরিরাজ-সুতা। বৃদ্ধ শিষ্য প্রণমিল মুবা গুরু পায় আর জিজ্ঞাসিল, “গুরাে ! যাবে কতদিন এ ভাবে অজ্ঞান মাঝে ? দাও জাগাইয়া, দেখুক নয়ন মাের«কেমনে আমার হিয়ার এ গুরু-মুৰ্ত্তি, জগতের গুরু, কেমনে এ ইষ্ট-মূৰ্ত্তি, বিশ্বরূপ ধরে ?” সংশয় না রয়-আর নয় বিপর্যয়, দাও মিটাইয়া প্রভাে!—দাও কৃপা করি ; দেখি আমি তৎ ত্বং অপূর্ব মিলন। ১৪
চিত্তস্পন্দন
ঘুমধােৱে যুবা-গুরু মেলিল নয়ন
মৌন ব্যাথা বৃদ্ধ-শিষ্য সংশয়ছেন।
সুন্দর দক্ষিণা মূর্তি! সুন্দর কেমন
শব্দব্রহ্মে বিজড়িত পরব্রহ্মযেন!
কভু অর্ধনারীশ্বর মঙ্গল মিলন ;
কোটি নাম—কোটী রূপচিত্ত বিনােদন
সকলি আমার গুরু মদনমােহন
নমি আমি, নমি গুরো! দক্ষিণা মূরতি,
মায়া না পরশে, নাথ! এই গাে মিনতি।
[ চিম্পন্দন,
বসন্ত বিদায়ে
০
বসন্ত আসিয়া গেল—এখনও আর
কেন রে বিহগ তুল’ ও মধু ঝঙ্কার?
ভাঙ্গি’ ঘাের নিস্তব্ধতা, কারে ডেকে কও কথা ?
সে বুঝি গিয়েছে চলে দূর দূরান্তর?
শুনিলে আসিবে ছুটি বুঝি তাের স্বর?
ডাক্ রে বিহগ ! তবে, কোথায় সে স্থির র'বে ?
ডাকিলে থাকিতে নারে—কেমন স্বভাব
যায় যায় ফিরে আসে, ধরে কত ভাব!
নিতুই বসন্ত পাখি, তা'র সনে মাখা মাখি
তাই বুঝি প্রিয় এত বসন্ত তােমার ?
কুহুরবে গুণ তার করিছ:প্রচার ?
শুন রে উত্তর ছলে, প্রতিধ্বনি ওই বলে
“আমি ত তােমাতে আছি, নতুবা, কি হয়
অবােধ বিহগ ! এত ফরমধুময় ?
যাহারে বলিছ “আমি,” সে “আমি” রে নুহ তুমি
তবুও বুঝিতে নার’ মায়ার বিকার ?
অথবা, তােমারি সব কুৰ্ম্মফেফার ?
কাহারে খুঁজিতে যাও? কে বা নেই—কারে চাও?
আসে না, যায় না, সে যে পরিপূর্ণ সদা !
ডাক’ বা না ডাক’—দেখাে হিয়ায় সন্ত্রা!
সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.