Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Dhara
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
साहा
শ্রীদেবকুমার রায়চৌধুরী-প্রণীত।
১৩২২
প্রকাশক- অনাথবন্ধু সেন। “বিরাম, বরিশাল। মুল্য,, আট আনা প্রিন্টার-অবিনাশচন্দ্র মণ্ডল, সিদ্ধেশ্বর মেসিন প্রেস। ১সং, শিবনারায়ণ দাসের লেন, কলিকাতা।
উৎসর্গ
দেশ-মান্য,
ভক্তিভাজন
শ্ৰীযুক্ত অশ্বিনীকুমার দত্ত
মহাশয়ের করলৰােজ।
No text on this page.
ভূমিকা এই পুস্তকে মুদ্রিত কবিতাগুলির অধিকাংশই প্রবাসী, “ভারতবর্ষ,” “নব্যভারত,” “সাহিত্য, ভারতী,” “বিজয়া, “মানসী” প্রভৃতি বিবিধ মাসিক পত্রে গত পাঁচ-ছয় বৎসর ধরিয়া ক্রমশঃ প্রকাশিত হইতেছিল। কেবল উপেক্ষিত, “মাঙ্গলিক প্রভৃতি ক’একটি কবিতা আমার নিতান্তই অল্প বয়সের লেখা শুধু বাল্য-রচনার মায়া কাটাইতে না পারায়, নগণ্য হইলেও, সসঙ্কোচে সেগুলিকেও এগ্রন্থে স্থান দিলাম। সহৃদয় পাঠকগণ আমার দুর্বলতা মার্জনা করিবেন। এ কাব্যের কবিতাগুলির পৰ্য্যায়-বিন্যাস সম্পর্কে মদীয় পরম প্রীতিভাজন, কল্যাণীয় সুকবি শ্রীযুক্ত কালিদাস রায়ের নিকট হইতে আমি যথেষ্টই সাহায্য পাইয়াছি। তজ্জন্ত, প্রকাশ্যে তাহাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাইবার এই সুযােগ সাগ্রহে গ্ৰহণ করিলাম ; ইতি। দেবকুমার
No text on this page.
সুচী ••• ১। আবাহন (ক) ২। মালিক .. = ৪০ ৪। আঁধারে... অনাখা ৬। উপেক্ষিতা ৮ ১১ ••• ৪ ০ ০ ... २२ ০ ০ ৮ ০৮ ৪. ০ ০ ০ ০ ০ ৫ । * . ৫ . ৩ ৫০০ ০ ০ ০ ও ৫০ 3ং ৮। আখাস... ৯। শরৎ-প্রভাতে ১০। অন্ধ আবেগ ১১। প্রভাতে ১২। নিরুদ্দেশ ১৩। বর্ষা-নিশীথে ১৪। বর্ষণ-গান ১৫। বর্ষাভাস ১৬। অনুভূতি ১৭। আবাহন (খ) ১৮। সাঁঝের সুর ১৯। আমন্ত্রণ ২। দুপুরে ও নিীথে ২১। মন্দার ২২। প্রয়াণ ২৪। পরিত্রাণ ২৪। পূর্ণিমায় 3 * * । ০০০ ৪০ ০০০ •• ৪০০ te pp. ••• •• ••• ৬৪ ••• ••• ••• ৪০০ ৭১ ০ ০ ০ ••• st ৭৪ ২৫। গতি ২৬। মায়ার খেলা ২৭। প্রতীক্ষা••• ২৮। ব্যর্থ-আশা ২৯। সাধ ৩। মিনতি ৩১। প্রেমাচিত ৩২। অভিমান গবেষণ••• ৩৪। নববর্ষে... ৩৫। লীলা ৩৬। আগমনী (গান) রথযাত্রা ৩ আত্মবােধ ভ্রান্তি-বিনােদ ৪০ জ্ঞান ৭৮ ••• ••• ০ ০ ৮১ ••• ps h A. ০ ০ । ১২ ৪১ sor এ এ . ••• 8२ জোয়ার ৪৩। নাম ৪৪। হিমালয় ৪৫। অচলালয় ৪। ভােলা (গান) ৪৭। সার্থকতা ৪৮। মুখ ৪৯। নিরাশার আশা ০ ০ ০ • • • ১৮ ••• ১১১
না ।
আবাহন
উদ্ভাসি’ এ আঁধাররাশি,
বিমােহি’ মহী উদিলে আসি,
দিব্য সুখে সকল শোেক হরি’ মা ।
সুরভি, শ্বেত সমােজদলে
বিকাশি’ চারু চরণতলে
অতুল, একি শুভ্র, গুচি-গরিমা ।
ঝঙ্কারি ত্ৰিতন্ত্রী-তারে,
সিক্ত করি’ শান্তিধারে,
বিপুল প্রেমে পূরিতে যত অভাবে ;
ধরা।
শূন্য হ’ল পুণ্য-ভরা
হাসিল আজি এ মরু-ধরা,
মরিরে মাগাে, তােমারি মায়া-প্রভাবে।
বিভেদ-জ্ঞান যা ছিল কিছু
-আপন-পর, উচ্চ-নীচু
মৰ্ম্ম হ’তে সকলি নিলে মুছিয়ে ;
;
খণ্ড যাহা আছিল আগে,
আলােক লভি’ কি অনুরাগে
আজিকে গেল একের মাঝে ডুবিয়ে ।
আজি অবনী কুসমা ! .
শ্যামল শােভা হৃদয়মা
উচ্ছসিছে সমীর-মােহ-পরশে !
বিটপী 'পরে প্রসূনরাজি
গরবভরে রূপের সাজি
সাজায়ে দেছে বরণময় হরষে!
ধারা।
কুহরে পিক, গগন ভরে
সে গীতি চলে নৃত্য করে
নভসে লঘু ঘনের পাল উড়ায়ে,
কুড়ায়ে দ্রুত পত্ৰ-দলে,
মত্ত বায়ু বহিয়া চলে
জগতীতলে যতেক তাপ জুড়ায়ে।
আজি এ ধরা উঠেছে মেতে,
পদ্মাসন দিয়েছে পেতে,
বস’ মা সেহি হৃদয়াসনে আপনি ;
লহ এ পূজা-অর্ঘ্যভারে,
ভকতিপূত এ সাধনারে
সফল কর করুণাময়ী জননি।
৩
.
মাঙ্গলিক
যদিবা তুচ্ছ হই আমি অতি
জননি, তাহে নাহি কোন ক্ষতি,-
তুমি যদি শুধু মােরে লহ তুলি
পদমূল হতে; কখনাে বা ভুলি’
বারেকের তরে মম শির’পরে
রাখিয়া তমার কল্যাণ-করে,
মেহ-করুণার রাজীব নয়ন
মেলি’ মাের পানে, অভয় বচন
কহ দয়াময়ি!—তখনি পুলক
জাগিবে জীবনে। ভুলি’ দুখ-শােক
তখনি ব্যর্থজীবনে আমার
ক্ষীণ হৃদি-তারে শত ঝঙ্কার
উঠিবে।
ভারতি, সে শুভ-লগনে
হ’ব ত্রিতন্ত্রী তােমারি চরণে।
ভিক্ষা
কত দোষ করিয়াছি মাগাে, জ্ঞানে ও অজ্ঞানে
কত পাপ করিয়াছি মনে, কেহ নাহি জানে
তােমারে কভু না চাই! তবু, মাতৃস্তন্যপায়ী
শিশুরি মতন,
আমার সকলি মাগাে, করিয়া মার্জনা অনুক্ষণ
পিয়াইছ সুধাধারা! মা জননি, তােমা ছাড়া
আর কেবা আছে মাের, যাব কোন্ খানে?
দয়া করে কোলে কর অধম সন্তানে।
আমারে তােমারি বলে’ বুকে লও তুলি,
আমি যে তােমারি-অঙ্গে থাকুক না ধূলি।
তুমি মা আমারি! মাগো চরণ-রেণুরে
রেখাে পায়ে,–এই ভিক্ষা, ফেলিও না দূরে।
**
ধারা।
আঁধারে
( ১ }
সারাদিন গৃহকোণে মগ্ন হয়ে স্বার্থচিন্তামাঝে,
সংরত ছিলাম শুধু সংসারের শত মিথ্যাকাজে।
সন্ধ্যা যবে ঘনাইয়া এল ধীরে, চমকি’ তখন
সর্বচিন্তা পরিহরি’, কর্মক্লান্ত, অবসন্ন দেহে,
অন্ধকারে গৃহ-ছাদে একা আসি’ করিনু শয়ন।
তিমিরে আচ্ছন্ন চারিধার ।
উর্ধে দেখিলাম চেয়ে
অনন্ত অম্বর-পটে কি বিরাট প্রশান্ত মহিমা ;
সংখ্যাহীন তারারাজি দীপ্যমান্ একি দিব্য তেজে !
কি মহান্ এই দৃশ্য ! বিস্ময়ের নাহি আর সীমা।
এহি দীন স্বার্থলিপ্ত, ক্ষুদ্র, তুচ্ছ, মূঢ় হৃদয়ে যে
এল আজি অসীমের অনুপম অমৃত-সংবাদ !
শিহরিয়া উঠিলাম লতি’ এহি শুভ আশীৰ্বাদ।
;
বা।
( ২ )
এত লােক নিখিল-নিলয়ে ? এত দীর্ঘ জীবনের গতি ?
এ কি টানে, কা’র পানে ছুটাইছে অদৃষ্ট-নিয়তি
এ অখিল ব্রহ্মাণ্ডেরে? তবু কেন বৃথা অবিরাম
তুচ্ছ সুখ-লােভে সদা কাদে অন্ধ মানবের হিয়া ?
তবে কেন পরস্পরে করে সবে সতত সংগ্রাম
রুধির-রঞ্জিত করি’ ধরাতলে লক্ষ্য বিশ্বরিয়া ?
আছে যদি এ আশার-এ প্রেমের আরো পরিণতি,
কেন তবে এ জগতে এত দ্বন্দ্ব, এত হিংসা-দ্বেষ?
কেন মিথ্যা হাহাকার, কেন মিথ্যা হেন অধােগতি ?
দেহ আজি জ্যোতির্ময়, এ ভ্রান্তি-তিমির অপসারি’--
পুণ্যপূর্ণ হােক পৃথ্বী, নন্দিত হউক নর-নারী !
ধারা।
vvvvv
অনাথা
উহারে বারেক তাের কাছে নে রে ডাকি
ললাটে বুলা’য়ে কর দুটো কথা বল;
অবসন্ন দেহ মন, বড়ই একাকী,
দয়া করে মুছে দে না ও আঁখির জল।
ছল ছল, অসহায় ও নয়ন’পরে
ক্ষণেক চাহিয়া দেখ কত কাতরতা !
পাংশু ওষ্ঠপুট দু’টি কঁপে থরথরে,
শুধালেও সরে না যে আহা দুটো কথা !
বুকে ওর স্তন্যপায়ী শীর্ণ শিশুটিরে
বারেক তুলিয়া নে না নিজেদের বুকে ;
কিছুই চাহে না ও যে, শুধু ফিরে ফিরে
চাহিছে তােদের পানে মৌন শুষ্কমুখে।
‘আলুথালু রুক্ষ্ম কেশ জটা হয়ে আছে,
শতছিন্ন বস্ত্রখানি অঙ্গ নাহি ঢাকে,
দু’পা যেতে চাহে ফিরে, শঙ্কা-ভয়ে-পাছে
কেহ করে অপমান, কটু কহে তাকে।
(২)
কাল ঠিক এইখানে, ওই গৃহদ্বারে
বুঝি রে দুঃসহ দুখে, জঠর-আলায়
বারেক সে বলেছিল—আর পারি না রে
কে আছি গো, দয়া কর প্রাণ বুঝি যার?”
ফুরাতে সে করুণ ক্ষীণ আর্তধ্বনি,
কে যেন ভিতর হতে উঠিল গর্জিয়া—
“দূর দূ হতভাগী” ! নীরবে অমনি
পলায়ে আসিতে দীনা পড়িল মুক্রিয়া।
তখন মার্তণ্ডপে মুহমান মহী,
প্রাণহীন নগরীর পাষাণ পঞ্জর,
পিপাসায় শুষ্কতালু, ওঠে রহি’ রহি’
শুধু এক বায়সের ভগ্ন কণ্ঠস্বর
যাতনায় যেন সবি’ পড়েছে এলায়ে,
গগনে তখন শুধু অলিছে তপন,
হেনকালে নিরাশার নিদারুণ ঘা’
জননী আমার ওই বিলুপ্তচেতন !
!
ধারা।
(৩)
সেই দ্বিপ্রহর হতে এতক্ষণ ধরে’
অমনি সে পথপাশে আছিল পড়িয়া
এই শুধু লভি’ জ্ঞান, শঙ্কিত-অন্তরে
শিশুটিরে
বুকে চাপি কাঁদে গুমরিয়া ।
কেহ তা’রে না জিগায় একটি কথা,
ক্ষণেক সে মুখপানে কেহ নাহি দেখে ।
ওরে তােরা এগিয়ে যা’, একটু মমতা
দেখা, দেখা দয়া করে ক্ষণতরে একে!
একমুঠো অন্ন ওর মুখে তুলে ধ—
এ ধরা হবে রে ধন্য সে পুণ্য-প্রভাবে ;
মুছিয়ে দে আঁখি-ধারা, মর্ত্য-চরাচর
নিমেষে সে শুভস্পর্শে স্বর্গ হয়ে যাবে ।
ধারা।
‘উপেক্ষিতা *
ভাই-বােনে খেলা করে ছােট শিশু দু’টি।
পাঠশালে পড়ে ভাই, আজি তার ছুটি ;
তাই, সে তাহার ছােট ভগিনীর সনে
খেলিছে পুতুল-খেলা হরষিত মনে।
ছেলেটি বছর দশ, মেয়েটি তাহার
ছােট সখী ও ভগিনী; এত অত্যাচার
বালকের, আর কেহ এখন নীরবে
নাহি সহে। তাই, থােকা তুচ্ছ করি’ সবে
আর যত সঙ্গীদের, অবকাশকালে
খেলিত বােনেরি সনে।
আজো এ সকালে,
এই স্বচ্ছ শরতের নির্মল প্রভাতে
খেলিছে পুতুল লয়ে ভগিনীরি সাথে ।
ভগিনী তাহার ছােট এক বছরের,
বিমাতার কন্যা শিশু ; কিন্তু সংসারের
* লেখকের পঞ্চাশ বর্ষে রচিত।
ধান।
ত
ঘৃণিত বিদ্বেষ-বিষ তখনাে বালকে
বিন্দু জীর্ণ করে নাই। তাই, তার চোকে
আজো তার একমাত্র মেহের সঙ্গিনী
এই ক্ষুদ্র বালিকাটি। করে নিশিদিনি
অবকাশ লভিলেই তার সঙ্গে খেলা।
তেমনি এ নিষ্কলঙ্ক প্রভাতের বেলা
খেলা করিতেছে আজি দু’টি ভাই-বােনে,
পুতুলের বিয়ে নিয়ে বিব্রত দু’জনে।
ভগিনীটি তার
যােগ্য জুড়ি,সবে আট হইয়াছে পার।
ছেলেটি বছর নয়,
পুতুলের বিয়ে দিতে মেতেছে দোহায়।
বালকের পুত্র বর, ছেড়া ন্যাড়ায়
—যতদূর পারে-তা’রে তাই এত করে’
সাজাইছে সষতনে এতক্ষণ ধরে।
মেয়েটিও নেটিরে ছিন্ন রেশমের
টুকরাটি পরাইয়া, ঠিক বিবাহের
.
-
যােগ্যরূপে বিভূষিছে পুঁতির মালায় ;
ওদিকে রশুনচৌকী নিজেই বাজায়
পু পু করি নিজ মুখে। “বিবাহ এখনি
দিতে হবে-দাবী করে বসিল যেমনি
বরকর্তা সে বালক, অমনি সে নারী
আপত্তি জানাল ; বলে—“তা’ কি করে পারি ?- ।
আগে ভাই, সাজ হােক। বালক সে কথা
শুনিয়াই গেল চটি, সহসা অযথা
কক্ষকেশী ভগিনীর
চুল
টানি’ কহে
“কি বলিলি ?” ভাব এই-যেন নাহি সহে
তাের এই স্পৰ্দাবাণী ; জাননা কি মােরে ?
আমি বরকর্তা, আর আমার ভিতরে
আছে পুরুষের বল।
বালিকা তখন
মধুরবচনে কহে-“তা বলে’ অমন
রাগ কর কেন দাদা? তােমারে বরের
চতুর্দোলা ঠিক কর! আমার ক’নের
১৩
ততক্ষণে সজ্জা শেষ হবে।” শুনি বাণী
তখনি বালক তা’র ছােট মুখখানি
নিজের মুখের পানে তুলে ধরে বলে-
“ব্যথা তাে লাগেনি বিভা” ? কতক্ষণ চলে
-
বােনের উপরে আর এ হেন বিরাগ ?
শৈশবে সরলমনে নাহি পড়ে দাগ।
।
অকারণ হাসি তাহে, অকারণ দুখ,
শিশুর শােভাই এই সরলতাটুক।
বিভা সে বােনের নাম। বিভা হাসি’ মরে
দাদার উপরে কভু কেহ রাগ করে !
কি সুন্দর দৃশ্য মরি।
পুনঃ, অতঃপর
উভয়ের সন্ধি-অন্তে, বিবাহের বর
কল্পনা বিমানে চড়ি’—চতুর্দোলা-যানে
চলিল সদলবলে বধূ-গৃহ পানে,
বরকত্তা মুখস্ফুর্ত নানা বান্তসহ
১৪
ধারা।
নাচিতে নাচিতে, অতি প্রচণ্ড দুঃসই,
প্রমত্ত আগ্রহভরে ঘুরিয়া ঘুরিয়া ।
যথাকালে শুভলগ্নে হয়ে গেল বিয়া ।
বিবাহ সম্পন্ন হলে বরযাত্রীদল
করিল আহার সুখে চতুৰ্ব্বর্গ ফল--
একটি নিম্বের বীচি, দুটি ছােট কুল,
দুইটি দাড়িম্বদানা ! এতেক অতুল
আহারের আয়ােজন কে বল কোথায়
দেখিয়াছে বিবাহেতে ? বল, কোথা পায়
অনেকে এমন খাদ্য পরম, প্রচুর ?
আহারান্তে, মুখ দেখি’ নুতন বধুর
বরযাত্রী যে যাহার গৃহে গেল চলে
তখন ভগিনী ধীরে জিজ্ঞাসে—সকলে
বউ দেখে কি বলিল দাদা ?* পুনঃ ভ্রাতা
জলিয়া উঠিয়া বলে—“আমি তাের মাথা ।
*
আমি ‘দাদা’ বুঝি এবে? আমি যে এখনি
বরকর্তা, আর তুই কনের জননী।”
সে কথা শুনিয়া, জিরা করিয়া দংশন,
মকৃত ক্রটি তা’র করি’ সংশােধন,
ক্ষমার্থর মত বিভা বলিল ভ্রাতারে
“ভুলে গেছি। ও বেহাই, ক্ষম গাে আমারে,
বল না-কি বলে’ গেল বরযাত্রী যত ?
বউটি হয়েছে তাে সবারি মনােমত?
পেট ভরে’ সবে খুব পেয়েছে তত খেতে?
বল না গাে !” কহে ভ্রাতা---“হাঁ, এ বিবাহেতে
হয়েছে সবাই সুখী ; তবে, সবে কহে
কি তা জান ? বলে সবে, বউ হব নহে
সুন্দরী তেমন। তবে কহে তাও-এই
সাজাতে তােমার মত বিশ্বে কেউ নেই।
সত্যই সাজামেছিলে বউটরে ভালাে ।
বউটিও খুবি লক্ষ্মী ; তবে যা সে কালাে।
W তা’ সে তুমি কি করিবে”? এই বলে ধীরে ঘাড় নাড়ি চেয়ে দেখে ছােট বােনটিরে। বিভা হাসি’ গর্বভরে বলে মৃদু-“তবে এ বিবাহে খুসি তবে বরযাত্রী সবে।” ক্রমে কথা বেড়ে ওঠে। কথায় কথায় “মেয়ে হওয়া মজা কহে বেহাই মশায় ; কারণ, মেয়ে তাে শুধু গৃহে বসে থাকে, পাঠশালে যেতে কেহ বকেনাক অকে। ঘরে বসে করে খেলা আপনার মনে, করে না তাড়না তাহে কভু গুরুজনে। মেয়েদের কত মজা! পােড়-ছাই এই- পুরুষ হওয়ার চেয়ে জালা আর নেই শুনিয়া এ কথা, বিভা ভাতৃমুখে চাহি রহিল অনেকক্ষণ-মুখে বাক্য নাহি চাহিয়া রহিল শুধু নীরব বিস্ময়ে, ভাবিতেছে মনে যেন—দাদা একি কয়? } (২) •
==
দাদা তার কত জ্ঞানী, পাঠশালে পড়ে,
সে দাদার এই কথা-মেয়ে হলে পরে
সুখী হ’ত দাদা মাের।
যেন ক্ষুদ্র নারী
এই কথা ভাবি’, ধীরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি,
অপূৰ্ব্ব মহিমাভরে, গম্ভীর:বদনে
কহিতে লাগিল মৃদু যেন অন্যমনে-
“মেয়ে হওয়া ভালো দাদা ? দেখাে, মেয়ে হওয়া
বড় কষ্ট ! একবেলা শুধু তার খাওয়া।
সবে করে “দূর দূর” ! কেহ তা’রে যেন
দেখিতে পারে না। দেখােতা না হলে কেন
মাছ খেতে চাহিতে, মা কহিলেন মােরে-
“ও তাের যে খেতে নেই! হা অভাগী, তােরে
কেমনে বুঝাই, তুই কত দুঃখী!” বলে
মা মাের উঠিল কাদি; তাহারে সকলে
১৮
কাদিতে করিল মানা। বলে ওর লাগি
কেন মিছে কাঁদ তুমি? ও যে গাে অভাগী ।
জন্মেছিল শুধু দুঃখু দিতে। ধীরে মাই
কহিল তখন-তাের মাছ খেতে নাই,
তুই যে বিধবা, ওরে তুই যে রে মেয়ে।
বলিতে এসব কথা আঁখি দুটি ছেয়ে
বিভার আসিল জল, নীরবিল বালা !
বলিল আবার—“দাদা, মেয়ে হওয়া আলা !
তুমি মেয়ে হােয়ােনা ক! কিন্তু, দাদা, কবে
কি করেছি আমি ভাই, যার তরে সবে
এত কষ্ট দেয় মােরে ? দু’বার তো খায়
আরাে সব কত মেয়ে ? তাহাঁরা তত গায়ে
কত অলঙ্কার পরে, আমাকে কেবল
পরিতে দেয় না কেহ বলেও সকল
তাের মত মেয়ের কি পরা কভু সাজে?
তুই যে বিধবা? কোথা ঈশ্বর কে আছে,
রি কাছে,কহে সবে করিতে প্রার্থনা,
যেন তিনি পরজন্মে আমাকে গহনা
পরান সবার মত। আমি দাদা, কবে
এমন কি করিয়াছি, যার তরে সবে
এত দুঃখু দেয় মােরে? আরাে ছােট মেয়ে
কত আছে,তাদের ও দুটি হাত ছেয়ে
কত না গহনা দেখ! আর আমি ভাই,
কি করেছি? যার তরে মাের কিছু নাই ?
সবাই আমাকে কেন ভালবাসেনা ক ?
তাই বলি—দাদা, তুমি এমনিই থাকো,
মেয়ে হওয়া ভালাে নয়।”
শুনিয়া এ বাণী,
বালক কাঁদিয়া উঠি’ বক্ষে নিল টানি’
তা’র ছােট বােনটিরে। দু'জনেই কাঁদে
এই দিব্য শরতের উল প্রভাতে।
অম্লান, প্রসন্ন, খাম, উন্মুক্ত আকাশ।
শুধু ওঠে এ সংসারে দু’টি দীর্ঘশ্বাস
এই ক্ষুদ্র গৃহ-প্রান্তে !
কাদে ভাই-বােন।
কে বুঝে বিধির ইচ্ছা,এ লীলা কেমন!
২
•
}
এই তাে জীবন ; আহা, এই তত পরম পরিণতি ?-
দু’দণ্ডের আলাে শুধু !ক্ষণপরে এজীবন-জ্যোতি
সহসা ডুবিয়া যায় ঘন অন্ধকরে। তারপর,
পঞ্চভূতে লীন হয় এই দৃপ্ত, দেহ বিনশ্বর।
তবে আর কেন মিছে,কেন এই ক্ষিপ্ত কোলাহল ?
কেন তবে এত হিংসা, এই দ্বেষ-দ্বন্দ্ব,-এ সকল
জীবনের অর্থ বিক্ষেপ? শুধু কেন সবে হায়,
আনন্দে সম্পূর্ণ রহি’, নিরন্তর নাহি হাসে, গায়,
আলবাসে পরস্পরে প্রাণ ভরি’ ? আত্মপর তুলি,
কেন নাহি মেহে প্রেমে করে নিত্য শুধু কোলাকুলি ?
অমৃত-পাথারে সদা কেন নাহি হিয়া মজি’রয় ?
কেন নাহি করে সবে মন-প্রাণ অনন্তে বিলয়
হের-বিশ্বে প্রাণেশের উচ্ছসিছে আকুল আহ্বান!
আপনা বিস্মরি’ তাহে ভেসে চল,কর যােগদান!
?
আশ্বাস
*
মৃত্যু! এরে ডরি মােয়রা? একি সত্য? নহে,তাহা নহে।
তাহলে কি তা’রি বক্ষে নিরুদ্বেগে সবে শুয়ে রহে ?
সে যে নিত্য আপনার সেই যে রে একান্ত আপন ;
মরণেরি বুকে মােরা ক্ষণস্থায়ী বুদ্বুদ মতন,--
এই আছি, এই নাই! যারে বড় ভাবি আপনার,
—সে যে বড় অসহায়,-মিশে যায় স্পন্দনে তাহার !
বহে’ যায় কৃষ্ণ সিন্ধু,-আঁধারের অনন্ত আধার
ফুটি উঠি’ ডুবে যাই। মহাকাল গর্জে অনিবার।
(২)
ওই দূরে দেখা যায়—সে অদম্য, উন্মাদ নৰ্ত্তন,
রুধিরের রক্ত বন্যা ‘টলমল করে আস্ফালন।
ভীম আৰ্তনাদ—যেন পিনাকের সম সুগম্ভীর,
রক্তিম জলদপুঞ্জ কুটি ও কিগাে ধূর্জটির ?
* বর্তমান প্রলয়ঙ্কর যুদ্ধ-উপলক্ষে
মহাকাল প্রলয়ের ধ্বংসরূপ আজি সমুদ্যত,
কোন্ মহালক্ষ্যে আজি চলে সৃষ্টি অদৃষ্ট, অজ্ঞাত,
—কিছুই না বুঝা যায়। শুধুই এ দিশাহারা মন
ভয়ার্ত, বিস্মিত, স্তব্ধ,-প্রতীক্ষিয়া আছে সেই ক্ষণ
যবে ভয়াবহ এহি ধ্বংসরূপে করি’ সংহরণ
প্রস, প্রশান্ত, সৌম্য শান্তি আসি’ ভরিবে
ভুবন
(৩)
কেন হেন হানাহানি ? দ্বেষাঘেষি কেন হেন হায় ?
কৃষ্ণ মেঘরাশিসম স্তরে স্তরে ও কি উড়ে যায়
সংখ্যাহীন প্রাণপুঞ্জ ব্যাপি স্বচ্ছ, নীল নভস্তল,
সিক্ত করি’ রক্তধারে এ ধরার শ্যামল অঞ্চল।
চারিধারে বার বার হাহাকার উঠিতেছে ভরি’
সর্বগ্রাসী এ কি নেশা, দুর্নিবার তৃষা
ভয়ঙ্করী?
কি যে চাহে, নাহি জানে; মানে শুধু মরণ-আহবান ?
লঘু করে গুরুভার এ ধরার তরী মজ্জমান।
২৪
কি যে লক্ষ্য, কি উদ্দেশ্য, সে ভাবনা ভাবিয়া কি ফল ?
ডাক শুনে’ এবে সবে আত্মহারা, অধীর, চঞ্চল,
ধেয়ে যায় বঙ্গভূমেধূমে ধূমে আচ্ছন্ন যেথায়
যে তমিস্র অন্তস্তলে কি যে আছে বুঝাও না যায়।
অন্ধকারে একাকারে কেহ কারে চিনিতেও নারে ;
নিবিড় রহস্য যেথা ঘিরি’ আছে চির-স্তব্ধতারে।
প্রমত্ত গর্জনে ক্ষুব্ধ শিহরিছে কাল-পারাবার,
বিম্বসম সেই বঙ্গে মিশে জীব নিত্য নির্বিচার।
এই যে বিপুল সিন্ধু উদ্বেলিত করিলে রাজন,
নিহিত রহস্য কিবা, কি উদ্দেশ্য আছে সংগােপন,
বুঝিবার শক্তি নাহি। একি ভীম উন্মাদ, উদ্দাম,
অনন্ত, অদম্য রঙ্গ! এ লীলার কোথা পরিণাম।
বিশ্বভূপ, রুদ্ররূপ কেন হেন বিকাশিলে হায়,
কোন্ পাপে পদ-দাপে আজি কাপে মৰ্ত্ত অসহায়।
তাণ্ডব নৰ্ত্তনে তব, ‘থর থরবিকম্পিত ক্ষিতি,
অতৃপ্ত তৃষায় তা’র ত্রাসভরে শুষ্ক-তালু নিতি।
শােণিতের স্রোতধারে সে তৃষার নাহি অবসান,
সযত্নে রচিত তব এ কুঞ্জ যে হইল শ্মশান!
(৪)
এত করে যার তরে আপনারে করিলে বিস্তার,
যার প্রতি অণুতলে সূৰ্ত্ত তব দীপ্তি মহিমার,
কত গৃহ-লােকালয়, কত হৰ্ম্ম, কত কীর্তিপণ,
কত গিরি, উপবন, নিঝরিণী-নদী অগণনা,
কত রূপে, কত ভাবে, কত শত সৌন্দর্যের মাঝে
যে আধারে চারিধারে হে সুন্দর, তব স্মৃতি রাজে,
সেই বড় আদরের মরতের একি দশা হেরি—
বক্ষোমাঝে থই থই’ নৃত্য করে বন্যা রুধিরেরি ।
হিংসা-দ্বেষ-দ্বন্দ্ব আসি’ ধ্বংসে সেই পার্থিব বিলাস,
মায়া-যবনিকা যত ছিন্ন হয়ে পড়ে চারিপাশ,
সঙ্কীর্ণ স্বার্থের সনে সুখে যারা বেঁধেছিল ঘর,
চেয়েছিল দলিবারে যারা এহি বিশ্বচরাচর,
কাঞ্চন-রজত-চক্রে চালাইয়া মাৎসৰ্য-শকট
ভেবেছিল যা’রা যাবে উল্লঘিয়া এ ভব-সঙ্কট,
আজি সেই ভ্রান্তজনে ভুলাইয়া সােনার স্বপনে,
স্বার্থ-সহচর এবে বক্ষবৃক্ত শােষে প্রতিক্ষণে।
দুর্নিবার হাহাকার ওঠে নিত্য আলােড়ি’ অম্বর,
সংক্ষুব্ধ শশাণিত-সিন্ধু শিহরিয়া বহে ভয়ঙ্কর।
হে সত্য-সুন্দর-শিব, হে অনাদি, সৃষ্টির কারণ,
হে চির-নির্ভর, প্রভু, হে বিধাতঃ, পতিতপাবন,
সর্বগ্রাসী স্বার্থ আসি’ সর্বনাশী দুরন্ত ক্ষুধায়
যবে তব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি-মমুজেরে গ্রাসিবারে চায়,
সত্য-প্রেম-পবিত্রতা, ভক্তি কিংবা বিশ্বাসে যখন
পার্থিব প্রতিষ্ঠা-মােহ ক্রমে ক্রমে করে আচ্ছাদন,
আত্মপর-ভেদ যবে জীবনের বেদ হয়ে ওঠে,
এ ভব-মন্দিরে যবে চিহ্ন তব নাহি রহে মােটে,
২৭
vw
প্রলােভন-প্রবঞ্চনা-মিথ্যাচার-বিদ্বেষ-হিংসায়
দুল্লভ জীবন যবে ভরে ওঠে কানায় কানায়,
তখন-তখন তুমি হে শঙ্কর, সংহারের রূপে
মরণের মাঝে ধীরে মঙ্গলে ফুটাও চুপে চুপে !
( ৬ )
৩০
মৃত্যু? সে তাে শেষ নহে! সে যে শুধু পট-বিক্ষেপণ,
মৃত্যু-পদক্ষেপে চলে নিত্য এহি অনন্ত জীবন
নিরবধি মহাকাল-ব্যবধানে হেন নিশিদিন
মরণ-স্পন্দনে বহে এ জীবন বিরাম-বিহীন।
ঝাঁকে ঝাঁকে, লাখে লাখে, এত হত্যা করি’ ভগ,
এ মােহান্ধ পাপী-জনে পুনর্জন্ম করিছ কি দান ?
দিয়া গেছ যে আশ্বাস—সদা ধৰ্ম্ম-সংস্থাপন তরে
হে দয়াল, তব দৃষ্টি চিরদিন বহে ধরা’পরে।
ইচ্ছাময়, বলে গেছ-পুনঃ তুমি দেখা দিবে আসি
যবে পাপে পূর্ণ পৃথী, স্বার্থপঙ্কে মগ্ন, অবিশ্বাসী।
২৮
খা।
৮
আসিল সে শুভক্ষণ যদি নাথ, তবে কেন আর
এ দারুণ তৃষা পূর্ণ করিলে না মৌন ভরসার ?
তােমারি আশ্বাসে ওগাে প্রিয়তম, প্রভু, প্রাণেশ্বর,
সান্ত্বনার মায়া-মমাহে বড় আশে বেঁধেছি অন্তর।
ধ্বংসের এ ভয়ঙ্কর পিণাকের শুনিয়া গর্জন,
সাগ্রহ কম্পিত-প্রাণে, কায়-মনে মেলেছি নয়ন।
এত যদি আয়ােজন, দিলে যদি এতই আভাস,
কেন তবে প্রেমময়, পূর্ণ নাহি করিছ আশ্বাস ?
সে আশ্বাস-আশে আজি নেত্রে মম বাষ্প ছেয়ে আসে,
বক্ষ মম ফুলে ফুলে দুলে দুলে ওঠে দীর্ঘশ্বাসে।
২৯
ধারা।
www
শরৎ-প্রভাতে।
;
( ১ )
প্রস্ফুট সােণার পদ্ম সম শরতের সুধাময়ী উষা
নীলাম্বর-সরােবরে, মরি, উঠিছে ফুটিয়া অকলুষা।
বিলাসিছে চারিধারে অভিরাম, দিব্য, শ্যাম শােভা ;
ঝলিছে প্রকৃতি-কণ্ঠে শিশির মালিকা মনােলােভা।
‘ঝি ঝি’, শ্রান্তিহরা বহে ধীর, সুগন্ধ সমীর
হরষের শিহরণে কি রােমাঞ্চ আজি প্রকৃতির।
দিকে দিকে উচ্ছসিছে পাপিয়ার উদাত্ত আহ্বান ;
তারি মাঝে ভেসে আসে জননীর আগমনী-তান!
( ২ )
পরিপূর্ণ লাবণ্যের পুণ্য এহি স্বচ্ছ সরােবরে
স্নান করি’ আজি মাের এ অন্তরে আনন্দ না ধরে!
ওরে, তােরা থাম্ থাম্ ! একবার দে শুধু চাহি’-
দুলিছে কি সুধা-সিন্ধু! আনন্দের এ যে সীমা নাহি।
তােরা মােরে ছেড়ে দে রে ; আজি আমি করি শুধু পান
এই গতি, গন্ধ, হাসি-এ মাধুরী পূরিয়া পরাণ ।
ধরা
অন্ধ-আবেগ
গাইতে গিয়ে সুরটিরে যাই ভুলি’!
চিনতে লক্ষ্য নয়ন যখন খুলি,
চাদিকেতে আঁধার-করা ধূলি
লাগায় ধাঁধা, তাইতে মুদি আঁখি
( ২ )
ভাবনারে যাই ভুলে’ ভাবতে গেলে ;
চলতে গিয়ে দাঁড়াই চরণ ফেলে
ঘুমুতে চাই যখন, আঁখি মেলে
কেমন যেন অবাক হয়েই থাকি।
;
( ৩ )
সত্য বলে জড়িয়ে ধরি যারে,
স্বপ্নসম মিলায় আঁধিয়ারে।
মায়ার মােহে পথটি বারে বারে
এমনি করেই হারিয়ে ফেলি তাই
( ৪ )
কাঁদতে চাহি, কান্না নাহি আসে ।
বুকটা ভরা কেবল দীর্ঘশ্বাসে !
জীবন-পথে শুধুই আশে পাশে
সংখ্যাবিহীন বাধাই দেতে পাই
হায় রে, এমন আশ্না-ভােলা প্রাণে,
কোথায় যেতে যাব যে কোন্খানে,
কেমন করে কইব ? কেই বা জানে
কোথায় গেলে শান্ত হবে মন!
ভুলকে যতই রাখতে চাহি দূরে,
ততই যে তার মাঝেই মরি ঘুরে’ ;
ভ্রান্তি দ্বিধা-পূর্ণ মরমপুরে
শুনি তবু কিসের আবাহন ?
,
প্রভাতে #
আছড়ে পড়ে পাথার আমার
লুটায় কোলের কাছে,
হাতে-রচা ফেনার মালা
দুলিয়ে বুকের মাঝে।
হিরণ উষা কনক-ভূষা
ঢালছে জগৎ ব্যেপে ।
পাল ফুলিয়ে মনের তরী
ছুটল কোথায় কেঁপে ?
স্নিগ্ধ, মধুর বইছে বাতাস।
স্বচ্ছ গগনগায়ে
সকল ফেলে’ মন্ রে আমার
কোথায় ভেসে যায়।
# পাখার-প্রান্তে।
৩৩
(৩)
ধারা।
হৃদয় আমার উছলে ছােটে
অকূল নীলিমায়।
আপনা ভুলে’ আজ যেন সে
কোথায় যেতে চায় !
আজ এ সুখের পাইনে সীমা,
-আপনাহারা আমি।
অমল উষায় অসীম আশায়
পরাণ অকুলগামী।
৪
ধারা।
নিরুদ্দেশ।
(১)
প্রান্তর হতে একে একে গাভীগুলি
পৃষ্ঠে বুলায়ে পুচ্ছ, উড়ায়ে ধূলি,
মস্থর-পদে গােয়ালে আইয়া ফিরে,
লেহিছে আলসে কান্ত বৎসটিরে।
তপন তখন পশ্চিমে গেছে ডুবে।
পাণ্ডু-চন্দ্র ফুটিতে চাহিছে পূবে।
ভরিয়া গিয়াছে রঙ্গীণ রশ্মি লেগে
অস্বরতল উজল খণ্ডমেঘে।
=
সন্ধ্যা-আঁধারে কুহেলীর কালিমাখা
মন পবনে কঁপিছে পাদপ-শাখা
;
নিবিড় তিমির সাপটি বিরাটু ডানা
যেন বার বার আলােরে দিতেছে হানা।
বেদনা-বিবশ, স্তব্ধ, যৌন সাঁঝে
একা পড়ে আছি শূন্য কমাঝে।
বিহলকরা শান্তি ও অবসাদে
গুন্তিত হয়ে গুমরি’ এ হিয়া কঁদে।
মুক্ত করিয়া ধীরে বাতায়নখানি,
তাপিত এ ভাল থুইঃ তথায় আনি।
গগনে চাহিয়া দেখিনুবর্ণরাশি
আঁধার-দৈত্য ধীরে ধীরে ফেলে গ্রাসি’!
হেনকালে ওই-কেরে তুই ছােট পাখি,
ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে আস্ ডাকি’ ডাকি?
একা, একা,একা, এ ঘাের আঁধার ঠেলি
কোথা যাস্ ওরে ক্ষুদ্র পক্ষ মেলি ?
ওরে পাখি, ওরে অসহায় ছােট পাখি,
কুলায় যে তাের কোথায় জানি না কি?
এ ঘন তমেরে ওদুটি পক্ষ নিয়ে
আলােড়ি' এমন, কোথায় পড়িৰি গিয়ে!
ওরে, তুই আর এখন যাবিরে কোথা?
(মরি, ওই বুকে একি তাের আকুলতা!)
মুজ্জিত হয়ে মহাাস্তির ভরে
উলটি পড়িৰি যখন পাথার’পরে,
কে তােরে তথন বাঁচাবে বক্ষে তুলি?
--থাম থাম্ ! আহা যানি রে পথ ভুলি
(২)
-
ছুটে যায় তবু। কহিনু তাহারে হাঁকি’
কোথা যাবি আর অসীমের পােষ পাখী।
আঁধার মথিয়া কোথায় যাস্ রে চলি’?
থাম, থাম্ ; ওরে শােন্ দুটা কথা বলি।
৩
চলে গেল; মনি-মিলাল তিমিরতলে।
ধাই তাহার উদ্দেশে আঁখিজলে।
আঁধারে বারেক শুনিনু মাঠের পরে
দূরে—অতি দূরে ক্ষীণতর সেই স্বরে।
(৩)
আঁধারের ভাষা উঠিল তখনি ফুটে,
জলদষত্রে জলধি গজি উঠে
বুঝিলাম। হায়, এ জীবনে অসহায়
এমনি তাে ধীরে তিমিরে মিলায়ে যায় ।
বর্ষা-নিশীথে #
•
অম্বর আচ্ছন্ন করি’, ভীম-কৃষ্ণ নীরদ বিহরে
বিদ্যুৎ পিঙ্গল-দীপ্তি ক্ষণে ক্ষণে উঠে শিহরিয়া ;
প্রবল গর্জনে ক্ষুব্ধ, মুহুর্মুহু বজ্র কড়কড়ে,
তীব্রবেগে বৃষ্টিধারা ধরা-বক্ষে পড়িছে ঝরিয়া !
বহে মত্ত প্রভঞ্জন! হের—দৃপ্ত, উদ্দাম উচ্ছাসে,
রােষ-স্ফীত বক্ষে ঐ অনিধি উঠিছে আলি।
প্রচণ্ড তরঙ্গাঘাতে ধরিত্রীরে বিলিয়া ব্রাসে,
--এ আঁধারে বঙ্গোমাঝে সর্প-গতি অগ্নিশিখা আলি
‘খল খল অট্টহাস্য করি’ ওই পড়ে আছাড়িয়া
প্রলয়ের অগ্রদূতসম আজি আকুল আগ্রহে !
চরাচর থর-থৰু কঁপিতেছে ; মম নেত্ৰ দিয়া
মহান্ সম্ভভরে বিস্ময়ের বাবা বহে !
বিরাট আনলে, একা, হেরিতেছি স্পন্দিত-হৃদয়,
অসীমের ভয়ঙ্কর রঙ্গলীলা সারা বিশ্বময়
;
* পাবার-এন্তে।
৩৯
বর্ষ-গান
!
‘ঘন বরষা-নিবিড় বিজনে-
আজি তৃপ্ত হ’ল রে তপ্ত-মেদিনী
আকুল প্রণয়-প্লাবনে
চাহেবিগলিতপ্রেমে অন্তরে মম
অন্তরতম মিলনে।
শুধু ঝরিছে করুণা-ধারা রে!
হ’ল সজল, পাগল, উতলা সমীরে
চিত্ত চেতনাহারে।
অজানার টানে, তন্দ্রা-মগন,
বিরাট পাথারে ভেসে চলে মন!
করে’:পড়ে মেঘ আলয়ে আপন
—অসীম সিন্ধু-বুকে,
একি ধারা-রােমাঞ্চ সুখে।
ওরে, কিসের লাগিয়া চলেছি ভাসিয়া,
কে জানে লভিতে কি ধনে।
এই, চেয়ে-থাকা মাের জীবনে
আজি জুড়াইয়া যায় যতেক যাতনা
বরষা-নিবিড় বিজনে।
৪১
ধারা।
বর্ষাভাস *
( ১ )
আকাশখানি কপূছে যেন
আমল মেঘের কোলে।
নীচে বিশাল, সিন্ধু সুনীল
বহে যাচ্ছে চলে।
%
তীরের উপর উছলে ওঠে
দুগ্ধ-ফেনিল ঢেউ।
একা আমি দাড়িয়ে আছি ;
নাইরে কোথায় কেউ।
বিশ্ব-মধুর প্রভাত-রবি
মেঘের মাঝে থেকে
সােণার আলাে বৃষ্টি করে।
নয়ন মােহে দেখে!
# পাথারপ্রান্তে।
২
কাচের মত নিথর সিন্ধু
অসীম হতে এসে,
আছড়ে পড়ে আমার কাছে
আয় ভালবেসে।
ক্ষুদ্র আমি, তুচ্ছ আমি,
লয় গাে তবু মনে--
-
মহান্ যেন আসছে ধেয়ে
দিতে আলিঙ্গনে।
গগনভরা মেঘের কোলে
এই প্রভাতের বেলা
সােণার আলাে অঙ্গে মেখে
কেমনতর খেলা।
( ২ ভাতে গিয়ে এমনি হল- হৃদয় গেল ভরি, অঙ্গ আমার শিউরে ওঠে, নয়ন পড়ে ঝরি’! আমায় আমি হারিয়ে ফেলে, চমকে উঠে দেখি- এই যে আমি পিরে ছেড়ে বিশ্বভরা,একি! তক্ষনি সব থমকে গেল। গর্জে পাথার কেঁপে, নেমে এল প্রবল ধারা বিপুল গগন ছেপে’! ৪৪
ধারা।
অনুভূতি
তখন ঘিরি পূর্ণ চন্দ্রমাকে
নীল গগনে চকোর কেবল ডাকে।
স্বচ্ছ, সুনীল আকাশপানে চেয়ে
অশ্রু আমার ঝল নন বে’য়ে ।
••
আকার লভি’ ফুটল আমার ধ্যান
চরণে তা’র মুচ্ছিল সব আশা;
লুপ্ত হ’ল আজীবনের জ্ঞান,
নীরব হয়ে আসল আমার ভাষা
শান্ত আঁখি কি যে আবেশবশে
সুপ্ত হয়ে পড়ল তখন দু’ ;
এলিয়ে এল অঙ্গ তালসে ;
ধীরে কখন্ সকল গেলাম ভুলে।
৪৫
তলিয়ে আমি গেলাম স্বপন-পুরে।
কি এক প্রেমে ভাসল আমার প্রাণ,
জীবন যেন কি এক করুণ সুরে
মিলিয়ে গেল—যেমন বীণার তান।
গন্ধ যেমন বায়ুর শ্রোতে মিশে
বেড়ায় রসি’ ভূমার অসীম কোলে,
রূণা যেমন হারিয়ে সকল দিশে
পাথারমাঝে মিলায় কল-রােলে।
তেমনি আমি হয়ে আপন-হারা,
কি এক অসীম আনন্দেরি বুকে-
ঢেউ’এর তালে মত্ত পাগলপারা,
প্রেমের টানে ইনু মহা সুখে !
.
* *
জ্যো’শ্ন যেমন ভাসায় আকাশতলে
শান্ত, মধুর, মদির কিরণ-স্রোতে,
তেমনি আমি সুধার অতল জলে
গেলাম ভেসে’ অকূল পারাবারে!
( ২ )
তন্দ্রা যখন ভাঙ্গল ক্ষণেক পরে
চমকে উঠে চিনতে কিছুই নারি
বিশ্ব যেন নয় রে আমার তরে ;
এলাম যেন আপন আলয় ছাড়ি।
পৃথী যেন আমার তরে নহে,
আপন ও পর চিতে নারি আমি ;
আমার যেন এ সব নাহি সহে।
কোথায় থেকে এলাম যেন নামি।
3
অঙ্গ মম ছুঁয়েই, হ’ল মনে
এ এক যেন বিষম কারা-গেহ ;
আপন জনে চেয়ে-ক্ষণে ক্ষণে
হইল মনে, আমার নহে কেহ!
এ যেন এক নিঠুর পরবাস,
উদাস আমি পথিক গৃহহারা !
বক্ষ ভেদি উচ্ছসিল খাস,
নেত্রে মাের মানেই না যে ধারা।
আবাহন
}
(গান)
ওরে-
আজকে কেন মাতাল হয়ে
বইছে সমীরণ !
ওরে-
আজকে কেন পাখীর গানে
উদাস করে মন ।
আজকে কেন হরষভরে,
শিউরে উঠে’ গাছের’পরে,
অযুত প্রতি-কুসুম ফুটে
আকুল করে বন।
আহা আজকে একি ভুবনভরা
প্রীতির সম্মিলন।
ও তাই বইছে যে আজ বিভাের মুখে
মাতাল সমীরণ।
১৮
()
ধারা।
এই
শিশিরভেজা উজল মাঠে,
মন রে আমার মন,
ওরে-
--
লুটিয়ে পড়ে সকল এলা
ক না নিবারণ!
এমন দিনে, আপন ভুলে,
শুধুই সারা হৃদয় খুলে,
বুকের মাঝে বিশ্বেরে কম্
নিবিড় আলিঙ্গন।
ও তাের, আনন্দের এই বিরাট মেলায়
আজ যে নিমন্ত্রণ।
আহা, চল্ না খেয়ে বাঁধন ছিড়ে
মন রে আমার মন!
আল
আঁঝের সুর
আজকে আমার হৃদয় নাচে
গাছে গাছে।
আজকে যে ওই চাদের আলাে
নয়নেরে মাের সব ভুলাল !
ওগাে আমার সকল-ভালাে,
নীরব সাঁঝে
বাদল-ধােয়া ধরায় তৰ মােহন বিভার
সুরটি বাজে ।
আজকে সে সুর নৃতা করে
গাছের’পরে।
কল্লোলিয়ে বয় যে নদী,
চলার ঝোঁকে ক্ষিপ্রগতি ;-
সেও সে সুরে মত্তমতি,
আবেগভরে
ঝঙ্কারিয়া, ‘ঝিলিক’ মেরে’ অঙ্গে-মনে
সে গান করে!
দ্বারা।
আজকে সে সুর শিউরে নাচে
-ওই যে গাছে!
সুরের পাখী কুলায় হতে
সােণায় মােড়া এই জগতে
ভাসিয়ে দিয়ে সুধার স্রোতে
কুঞ্জমাঝে
কতই না ওই করুণ সুরে ওগাে মােহন,
তােমায় যাচে!
আমন্ত্রণ
মালােয় ভরা আকাশখানি,
ছাপিয়ে, শুধু সুধার বাণী
উছলে পড়ে সারাভুবন মাঝ ;
ছছলিয়ে ভাবের নদী
এমনি করেই বইছে যদি,
ওরে ও মন, আয় না ধেয়ে আজ।
আয়রে তবে দু’হাত তুলে,
সব চুকিয়ে, আপন ভুলে,
বাঁধন খুলে ঝাঁপ দিবি তত আয় ।
ঢেউগুলি ওই অমন করে
ডাকছে কারে পাগল ওরে,
উদাস স্বরে, অথির ইশারায় ?
কেমন করে আপন মনে
ঘুমিয়ে রবি ঘরের কোণে ?
এবণ ভরে শােনূরে, এখন শাে=
গগন ছেয়ে, ক্ষণে ক্ষণেই
কাহার লাগি এই বিজনেই
আসছে অধীর, আকুল আমন্ত্রণ।
s
দুপুরে ও নিশীথে
গগন থেকে থ-বিথরে
পদ্মদলের মতই ঝরে
হাসের শ্রেণী নদীর চরে
দ্বিপ্রহরে।
শুছি যে গান আকাশভরা
দিক্-হতে-দিক-উদাস-করা,
আতুর যেন কাঁদছে ধরা
আর্তস্বরে ;-
হাঁসের ডাকে ডাছি কাকে ?
ওরে, আমার পরাণটাকে
মানসহরণ ভুলিয়ে রাখে
এমনি করে।
ধরা তবু পাই না যে সেই
হৃদয়-চোরে
হিয়ার ডােরে !
ধারা।
আমি
আপনাহারা হয়েই আছি
তাহার তরে,
ধব তারে কখ, গাে সেই
আশার ভরে!
জোনালা ঝােপের ফাকে
তাই ভােলামন খুঁজছে সঁকে,
নিঝুম নিশায় ডাহুক-ডাকে
নয়ন ঝরে।
ধরা কখন পড়বে নিঠুর,
সেই বেদনায় হৃদয় বিধুর ;
মানতে না চায় বারণ কিছু,
গুরে মরে
মুহূর্মুহু আছাড় খেয়েই
এ পিঞ্জরে
আশার ভরে।
ধারা।
-
* . . . . . . . .
মন্দার
শুভ হাস্য-ভরা মুখ শিশুর মতন,
কিম্বা যেন জননীর মেহার্ভ চুম্বন,
দিব্য লাবণ্যের যেন নৈবেদ্য সুন্দর,
এ যেন গর্বের দৃপ্ত দর্প মনােহর,-
রে মন্দার,
বাসনার
এ বিলাস আজি তাের কেন?
।
কা’র তরে
কুঞ্জ পরে
প্রণয়ের পুণ্য স্মৃৰ্ত্তি হেন?
রক্তিম সুন্দর ওরে, নন্দনের আনন্দ-দুলাল,.
কা’র কর-স্পর্শে তুই হর্ষে হেন হলি লালে-লাল ?,
* ‘মাদার’ ফুলকে মন্দার নামে অভিহিত করা হইয়াছে।
ধারা।
প্রয়াণ
বন্ধ ছিলাম তটের পরে
নিঠুর, নিবিড় মায়ার পাশে,
হিংসা যেথায় রাঙিয়ে লােচন
সাপের মতন কেবল স্বাসে।
গণ্ডী-ঘেরা প্রাচীরগুলােয়
দর্পে হেথা কঁপিয়ে ফুলােয়,
পরাণ যেথায় আপনি কোয়,
স্বার্থ যেথায় সুখটি নাশে
বন্ধ ছিলাম সেই সে কারায়
কঠোর, নিবিড় মায়ার পাশে
;
হাঁফিয়ে উঠে, ক্ষ্যাপার মতন
ঘুচিয়ে দিয়ে অসার কাজে,
পালিয়ে এলাম বাঁধন কেটে
তাই এ বিরাট অতলমাঝে।
মাের পিপাসী যুগল আঁখি
সাধ্য কি আর সালে রাখি ?
শােভার যে আজ নাইরে বাকি
এই এ মধুর সােণার সাঁঝে ।
চল ভেসে আমার তরী
এই অসীমের অতল মাঝে।
এখন ভােলা মনটাকে ওই
বিছিয়ে দিছি নদীর জলে,
-যেথায় রবির হিরণ-কিরণ
ঝিকমিকিয়ে অমন এলে !
কোন্ সুদূরের কানন থেকে
আকুল কোকিল উঠল ডেকে,
সুধার রেখা দেয় যে একে
সে সুর এ মাের মরম-তলে ;
আজ অকূলে ধায় রে কোথায়
আকুল এ মন নদীর জলে।
ধারা।
পরিত্রাণ
সুপ্রসার নদ-বক্ষে তরণীর তরঙ্গ-বিক্ষেপে,
ছলছল, সমুজ্জ্বল, জলরাশি উঠে “কল’ হাসি,
পরিচিত সে কল্লোল পশিল শ্রবণে যবে আসি,
আনন্দ-আগ্রহ ভরে চেতনায় উঠিলাম কেঁপে।
এই যে জননী মাের নীলাম্বরে আঁখি দুটি তুলি,
নিবিড় কুন্তলরাশি হিরণ-কিরণে মুক্ত করি,
বিশ্রাম-আলসে আজি আছেন বসিয়া -আহা মরি,
কত মেহভরে!
মাগাে, মা আমার, কারা-দ্বার খুলি
অভাগা এসেছে তাের—শান্তি-সুধা করিবারে পান।
ওরা মােরে ধরে রাখে বন্ধ করি নিবন্ধু কারায়,
আসিতে দেয় না; তাই, আইলাম আজি মা পালা’য়ে
মা জননী, তাের কোলে আজি মাের হ’ল পরিত্রাণ!
শুধুই এখন ওই সােণাগালা স্নেহের প্রবাহে
ভেসে যাবে, দয়াময়ি, আর্ত হিয়া এই শুধু চাহে !
ধারা।
--- --- ---
পূর্ণিমায়
সুখ-সুপ্ত এ ধরায়
মৃদু-মন্দ, মধু বায়
আবেশ বহিয়া আনে ধীরে, অতি ধীরে।
বৈশাখী পূর্ণিমা নিশা,
পরিপূর্ণ দশ দিশা
কি আনন্দ, কি আনন্দ! সুগন্ধি সমীরে
দূর হ’তে আসে বহি’ ‘কুহু-ধ্বনি রহি রহি’;
* বিশ্ব কোথা ডুবে গেছে, নাহি যায় দেখা ;
জ্যোৎস্না-সাত বসুন্ধরা
নিবিড় স্তব্ধতাভরা,
-আর কোথা কিছু নাহি, শুধু আমি একা।
অনন্ত অম্বরপরে
ভাবসমীরণ ভরে,
অসীম অমৃত-সিন্ধু উল্লাসে মথিয়া,
অশ্রান্ত এ কুহু তান তার সনে এহি প্রাণ
—দুইটি প্রার্থনা সম চলিল ভাসিয়া !
Www
গতি
কেবল যে ওই নিরবধিই
আপন মনে বইছে নদী,
চায়না কিছুই-লাভ কি ক্ষতি
চলার তরে ;
চলার তরেই এড়িয়ে বাঁধন,
বহাই তাহার আকুল সাধন;
ঝাঁপ দিতে ধায় শুধুই আপন
পাথার 'পরে।
তেমনি ভুলে’ ধরম-সরম,
ছেদন করেই নিয়ম-করম,
বা জাগে-গোঁয়াই জনম
আবেশভরে ;
ধারা
মিলব কবে তাহার সনে
সেই বাসনাই জাগছে মনে ;
ভাসছি গাে তাই ক্ষণে ক্ষণেই
এমন করে
নয়ন-লােরে!
৩
ধারা।
««
মায়ার খেলা
(১)
দয়াল, আমার স্তন ফসল-ক্ষেতে
তুমিই তাে এই বরুণ-আশীষ ঢালল।
আঁধার যবে মনের গৃহখানি
তুমিই তাে তায় অরুণ-প্রদীপ জ্বালে।
জীবন-জোড়া বিরাট স্বপনখানি
আড়ালসম দিচ্ছ কেবল টানি;
ধরাই যদি না দাও, হে সানী,
বুঝতে যে পাই সেই তত আমার ভালাে।
হােক্ না তিমির ; আকাশভরা তারায়
ছিদ্রপথেই দেখছি যে ওই আলাে।
(২)
খেতে দিয়ে, খাম্খেয়ালী পাগল,
আপন দানে আপনি লহ ছিনে।
বজ্ৰসাড়ায় ভয় দেখিয়ে, আবার
জো’হ্ম-নিশায় হৃদয়টি লও জিনে।
৪
ধারা
ফুলের হাসে, পাখীর মােহন গানে,
প্রভাত-বায়ে, নদীর তরল তানে,
সুখের প্লাবন জাগিয়ে সকল খানে,
মাতিয়ে ভােলাে ক্ষণেক হৃদয়হীনে।
কৰ্ম্ম-কশায় আঘাত করে নিঠুর,
তুমিই আবার কাঁদাও গাে সেই দীনে।
এমনি করেই সারা জনম সদাই
কছ তুমি রঙ্গ-রসের খেলা।
অভিমানের ধার ধারিনে, ঠাকুর,
সইনা যতই ছ-চাতুরীর হেলা,
যখন ডাক, কাছেই ঘেঁসে’ আসি ।
আঘাত কর, তাও সে ভালইবাসি ;
কঁদাও যদি, চক্ষে সলিলরাশি
বক্ষে তােমায় স্মরি সাজের বেলা।
এমনি করেই নয়টি রসের রূপে
মধুর মােদের চলছে মায়ার খেলা।
ধারা।
in
প্রতীক্ষা
উথলে ওঠে হৃদয় আমার,
সালে তা’রে রাখতে নারি
ভালবেসে,' উধাও হয়ে,
চায় সে যে’তে পিজরে ছাড়ি’
চাদিকেতে আভাস দেখি’
পােড়র চোখে সলিল ঝরে ;
শুধুই তারে পড়ছে মনে ;
প্রাণ যে আমার কেমন করে!
জোছনামাখা উজল রাতে,
শিউলি-ফোটা সােনার ভােরে
উকি মেরে যায় সে আমার
জীবন বৃথাই ব্যাকুল করে।
আকাশ-ঘেরা মেঘের বাহার,
=
স্নিগ্ধ-কোমল দিনের বেলা,
হিয়ায় হরণ ক’তে নিঠুর
আমায় নিয়ে করূছে খেলা।
পাথার মাঝে ঢেউএর ফাঁকে,
গগনভেদী গিরির কোলে,
বিশ্বভরা মােহনরূপে
নিতুই এ মাের নয়ন ভােলে !
এমনি করে, চেতন হরে’
কেবল মােরে কাঁদায় কেন ?
আপনা-হারা আকুল আমি,
কি কাজ যাপি জীবন হেন।
কোথায় গেলে, কেমন করে’
এ জাল মাের জুড়িয়ে যাবে,
ফুপিয়ে কেঁদে উঠছে হৃদয়,
কোথায় গেলে তাহায় পাবে।
থাকে থাকে আছড়ে পড়ে
খাঁচার ভিতর পরাণ মম !
আর বিরহ সইতে নারি
কোথায় তুমি হৃদয়-ম!
ব্যর্থ আশা
ভাল নাহি বেসেছিলে যদি তবে হায়,
কেন আশা দিয়েছিলে? হৃদয় আমার
বিকল করিয়া, আজি স্বপনের প্রায়
কোথায় মিলায়ে গেলে ! ব্যর্থ অশ্রুধার
ঝরিছে নয়নে মাের তােমারে স্মরিয়া
কোথা তুমি সখা মাের ? আজি শুধু এস,
এস শুধু এ নয়নপথে ;-চাহে হিয়া
বারেক হেরিতে শুধু! ভাল নাহি বেশসা,
ঘৃণা কোরাে, তুচ্ছ কোরাে, কোনাে পদাঘাত,
তাও সহি র’ব সুখে ; শুধু একবার
দেখা দাও—এই চাহি। এত অশ্রুপাত,
আকুল এ আৰ্ত্তি বঁধু,-এই হাহাকার,
এতই মিনতি,-এগাে, কিছুই কি এবে
স্পর্শে না অন্তর তব ? পারে না যে প্রাণ
৩৯
আর এত সহিবারে।
ওগাে, ভেবে ভেবে
কতদিনে এ জ্বালার হবে অবসান!
কতকাল হেন ভাবে ওগাে প্রিয়তম,
ব্যথাতুর বক্ষ চাপি’ যাপিৰ জনম !
বারেক যদি করুণা করেছিলে
দিও না, আর দিও না তৰে কঁাকি।
যে চোখে মম চাহিয়া হেসেছিলে,
সলিলে ভরি’ রেখােনা সেই আঁখি !
স্বপনে যদি ক্ষণেক বুকে নিলে,
প্রণয়ভরে চুমিলে যদি মুখ,
ওগাে ও বঁধু, আদর যদি দিলে,
হরিয়া তবে লয়াে না সেইটুক।
কুঞ্জে ফুলপুঞ্জে দিলে দেখা,
সাজায়ে তবে দাও সে আভরণে,
মনের মত ভূষিয়া মােরে একা,
গােপনে এসাে আমি-আহরণে।
অরুণে যদি আভাস প্রকাশিলে,
মাধুরী দিয়ে মােহিলে যদি ধরা,
প্রভাতী গাহি’ যদি বা কুহরিলে
এসসা গাে তবে সকল দুখ-হরা !
বরণ-হার বিরচি’ মনে মনে,
পরা’ব বলে বক্ষ চেপে’ কাদি;
কোরাে না হেল এ দীন আয়ােজনে,
যা আছে লহ চরণ ধরে সাধি
যা আছে, এযে সকলি তব দান
আপন দানে আপনি লহ বুঝি’!
সােহাগী বলে রাখাে এ অভিমান,
এসাে হে এসে বাসনা দিয়ে পূজি।
ওগাে ও প্রভু, প্রাণেশ, মন-চোর,
প্রেমের মান বাড়াতে শুধু এসাে !
ঘুচায়ে শােক-শঙ্কারাশি মাের,
বিভাের করি’ দাসীরে ভালবেসাে !
৭২
ধারা।
- - -
মিনতি
সংশয়-দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অমানিশা
আবরি’ যখন ফেলিবে গাে দশদিশা,
মিনতি—তখন হে মাের পরাণ-প্রিয়,
করুণা করিয়া পথটি কহিয়া দিও।
২
বেদনা যখন জাগিবে মরমতলে,
ভাসিব অধীর তপ্ত আঁখির জলে,
মিনতি--তখন হে মাের পরাণ-প্রিয়,
অভয় কহিয়া চরণে ডাকিয়া নিও।
অবশ হইয়ে আসিবে যখন দেহ,
আপন বলিয়া রহিবে না আর কেহ ;
মিনতি-তখন হে মাের পরাণ-প্রিয়,
বিরহের বাধা ধীরে ধীরে ঘুচাইও!
প্রেমার্জিত
কত ভাল বাসে, হায়
ক্ষণে ক্ষণে বােঝা যায় ;
পাষাণ গলিয়া অশ্রু ছুটে !
তাহারি আহ্বান শুনি’
রহি রহি’ দিন গুণি
জীবন-পল্লব পড়ে টুটে।
;
গগনগরিমা ধীরে
ডুবিছে অম্বর-নীরে ;
এন্ত পাখী কোথা ছুটে যায়।
শুভ্র দুটি পক্ষতলে
নীল-সিন্ধু মন্থি’ চলে
ডাক শুনি’ খুজিছে কুলায় ?
!',
৭৪
• মত
কত ভালবাসে, তাই
ভাবি মনে। সীমা নাই।
‘সীমা নাই’ মানি’ মরি লাজে ।
ব্যাপি এ বিপুল ধরা,
সকল-সুন্দর-করা
এ সােহাগ, আমারে কি সাজে ?
ফুল-পুঞ্জে ফুটি’ হাসে,
ভঙ্গ হয়ে গুঞ্জি আসে,
আশে পাশে গন্ধ হয়ে বহে।
করায়ে কিরণ-গান
তুলে ধরে মুখ-খান,
চাদ হয়ে শুধু চাহি’ রহে।
প্রভাতে শিশির-হারে
দুলাইয়া বারে বারে
ইন্দ্রধনু রচি’ তাহে, নাচে।
ধারা।
মেঘ-মন্দ্রে অভিমানী,
আবার বেদনাখানি
বিদ্যুতে চমকি’ মােরে যাচে!
ধারায় ধারায় নেমে
অশ্রু তাঁর মহাপ্রেমে
ধায় নদ-তরঙ্গিনী-ধারে।
বিরহ-প্লাবনে মােরে
এমনি আচ্ছন্ন করে
নিত্য তাই টানিছে পাথারে !
নাহি রাত্রি নাহি দিবা,
** বঁধুয়া আমারে কি-
অনিবার রহিয়াছে বিরে।
কভু মৃধা-সম্ভাষণ,
কভু পুণ্য পরশন,
আভাস-ইঙ্গিত ঘুরে ফিরে!
3 ওগাে প্রিয়, কিবা চাও ? পায়ে পড়ি টেনে নাও- লহ টানি’ বুকের মাঝারে! এত প্রেম-সমাদর সহে না, সহে না মাের ; কাপে হিয়া এ আগ্রহ-ভারে !
ম অভিমান সকল কাজে, সকল ভাবে, কেমন করে তােমায় পাবে পরাণ মম- তুমিই যদি এমন করে, ধরাই না দাও সকল হরে হৃদয়-রম? দিচ্ছ কতই নিত্য নব ; সে সব নিয়েই মুগ্ধ র’ব— এমন নহি। দিচ্ছ বলেই কচ্ছি দাবি, পাচ্ছি বলেই প্রেমিক ভাবি মর্মে দহি। দিনের পরে দিন চলে যায়, আর যে ঠাকুর, আশায় আশায় বাঁচিতে নারি। ৭৮
বাঁচাও যদি, দাও হে দেখা!
সইতে নারি-বড়ই একা
তােমায় ছাড়ি।
শুধুই দানের বাহার দেখে,
রইব ভুলে’ এ সব যে কে
দিচ্ছে মােরে,-
তেমন ভােলা নইগাে আমি।
থাকতে নারি দিবস-যামি’
নেশার-ঘােরে।
মায়ার মাঝে মজিয়ে রেখে
পালিয়ে যাবে কেবল ডেকে,
এ সব রীতি
বহুৎ হ’ল ; আজকে খেলায়
সাধ হয়েছে বন্ধু তােমায়
বারেক জিতি।
হার তাে আমার অনেক হ’ল ;
এখন হেরে মাতিয়ে তােল
‘দয়াল’নামে ;
দয়াল নাম কাপুক গগন,
সিন্ধু দুলুক, নাচুক পবন
বিশধামে!
অসীম টানে আকুল করে,
মাতিয়ে যদি না দাও মােরে
তবে প্রেমের ধার ধারিনে—
আজো যদি না লও ছিনে’
অভয় বুকে।
ত
অন্বেষণ
এহি, বিশ্বের মাঝে বিয়াকুল প্রাণ
নিয়ত কাহারে চাহে ?
কাহার লাগিয়া, মরে সে কাঁদিয়া
দারুণ মৰ্ম্ম-দাহে !
গাহে বিহঙ্গ অম্বর ছাপি’ ;
সারা হিয়া মাের তাহে উঠে কপি ।
সেই গানে হায়, মরি বেদনায়
গুমরি’ মরম-মাঝে!
মনে হয়—যেন কত কি যে মাের
সে সুরে লুকানাে আছে ।
যবে, কুঞ্জ-কাননে, তরু-শাখা’পরে,
অপরূপ গরিমায়
গােলাপের কলি পড়ে ঢলি ঢলি’
মন্দ-মধুর বারে,
৮১
(৬)
দ্বারা
সােহাগ-মুগ্ধ আগ্রহভরে
ছুটে যাই কাছে ; পরম আদরে
যেই তুলি তারে, মুঠির মাঝারে
অমনি পড়ে সে ঝরি’ ।
নিরাশা-দিগ্ধ পরাণ তখনি
ওঠে হাহাকার করি।
হেথা, যেখানে যা কিছু আছে অভিরাম,
তারেই এ প্রাণ চায় ;
যেন কি আভাসে, অধীর দুরাশে
-ওই ওই’ বলে ধায় !
হেরিলে কাহারে মনের মতন,
বুকে তুলে লয় করিয়ে যতন ;
যত চেপে ধরে বুকের উপরে,
ততই আলিয়া মরে ;
ওগাে, এ তাে নয়,-এ তত নয়।” বলে
কাঁদে সে আৰ্ত্তরে।
৮২
s
.
শুধু, এমনি করিয়া ব্যর্থ আবেগে
ফিরি আমি দিবানিশা।
চলেছি কোথায়, কি যে চাহি হায়,
করিতে পারি না দিশা।
হে মাের তৃপ্তি, ওগাে অজানিত,
হে চিরন্তন, চির-বাঞ্ছিত,
আর কতদিন হেন উদাসীন,
ফিরিব পাগলপারা ?
ওগাে, দাও দরশন হে হৃদি-মণ,
মুছাও নয়ন-ধারা !
নববর্ষে
এসেছে মােহন বরষ নূতন! নব গৌরবে সাজি’,
মরি, চারিধারে একি এ অতুল বিকশিছে রূপরাজি।
অবনীর মাঝে, একি উৎসাহ রাজে!
মম্বরতলে তুলি’ হিল্লোল শুভ আগমনী বাজে।
কুঞ্জ-নিবাসে পাদপপুঞ্জে একি রােমাঞ্চ হেরি;
মুঞ্জরি’ আজি উঠেছে অতীত মুগ্ধ মেদিনী ঘেরি’!
আজি যা নূতন, এ যে পুরাতন ! হে চিরন্তন মম,
অনাদি কালের চক্রের মাঝে তুমি যে কেসম !
-
এ মহাবিশ্বে কালের চক্র ঘুরিতেছে দিনযামী,
তুমি তারি মাঝে মহান কেন্দ্র অন্তরতম স্বামি !
পুরাতনে আজি কোথা নিয়ে গেলে দূরে ;
আবার কখন্ কোন্ অপরূপে ফিরে সে আসিবে ঘুরে’!
নব-পুরাতনমন্থন ধন, তুমি অদৃশ্যে রহি,
কেন্দ্রের সম চক্রু-কুহকে মােহিয়া রেখেছ মহী
ওগাে নিষ্ঠুর, এমনি করে কি ধরাই দিবে না কভু ?
বড় আশে যে গাে সেজেছে প্রকৃতি তােমারে লভিতে প্রভু।
*
লীলা
মনটি আমার রাতের মত আঁধার।
সেই আঁধারে একটি গীতিই ওঠে ।
তপন আবার ল’য়ে প্রভাত আশার,
-কোমল-কম, কমলসম সােনার,
মানসরূপী তমসকোলেই ফোটে।
কতই যে ঢঙ,
প্রভাত যখন হয়,
সােনার আশার আলােকময়,
তখন এ মন কেমন করেই একে
অন্তবিহীন দেখে ;
কতই না রঙ,
কতই রকম সে যে,
বহুরূপী সেজে,
কাছে আসি’, পরশ দিয়ে কতই না ভাব ফুরে
সারাটি দিন জুড়ে,
হাসায় হাসে, কাঁদায় কাঁদে, বিরূপ হয়ে’ই সাথে ।
ওরে, এমনি ফাঁদে
নানান পাকে জড়িয়ে আমায় নানা ছলেই বাঁধে।
=
-
রি
.
তারপরে সেই সাঁঝে,-
সব কোলাহল যখন কেবল রঙীণ হয়েই রাজে,
নীরদরূপে রুধির-রাগে স্বপ্ন-সায়র সারে ভাগে
ভাবের রাশি যখন গগনমাঝে,
ব্যাকুল বেগে অসীম পানে ধায় গাে তারা অধীর টানে;
একতারাতে কি গান তখন বাজে?
সে গান শুনে ধরার বুকে যতেক বিরােধ যায়রে চুকে,
গুটিয়া আসে জালটি তখন ধীরে ;-
ঝাপিয়ে পড়ে সে গান শুনে ক্রমে কুহক-মন্ত্র গুণে
অনেক এসে একের তিমির-নীরে।
আঁধার এ মাের মনটি তখন লভে সাধের সাধ্য রতন ;
সে যে কেমন, কেমন করে বলি?
এমনি করে আপন ভুলে আনন্দেরি তুফান তুলে
আঁধার-পাখার মন্থি’ শুধুই চলি।
কোথায় যে যাই, পাই না দিশা! এমনি করেই দিবস নিশা
সুধার স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে বেড়ায়।
—অন্তবিহীন, শ্রান্তিহারা এ রঙ্গ তার কেমন ধারা ?-
ধ’রূতে গেলেই মুচকে হেসে’ পালায় !
৮৭
ধারা।
m
আগমনী ।
(গান)
এই,
তাই,
দুনিয়ার ‘একতারা’য় কেবল
তােমার আগমনীই বাজে।
উচ্ছসিয়া উঠছে হিয়া
সেই পুলকে সকাল সাঁজে।
ফিরাই আঁখি যে দিক পানে
চমকে উঠি আপন প্রাণে।
ধরাই দেওয়ার ভাণ করে নাথ,
পালিয়ে যে যাও মায়ার পাছে'।
দয়াল তুমি, এই ছলনা
একি প্রাণেশ, তােমায় সাজে ?
আর কত কাল এমন করে
লুকিয়ে রবে হৃদয় হরে ?
৮
ছুয়ে গেলে চলবে আজ
-মুৰ্ত্তি ধর মরম মাঝে।
দুনিয়ার ‘একতারায় ঠাকুর,
তােমার আগমনীই বাজে।
আহা,
৮৯
রথযাত্রা
মানবের মনােপুরী” মাঝারে মরি রে
একি দৃশ্য হেরিলাম! আজি অনীরে
গলিয়া পড়িছে মুগ্ধ নয়ন আমার।
অঙ্গ মাের শিহরিছে—এ কি চেতনার
অপূৰ্ব আলােক লভি’! আজি এহি প্রাণ
ক্ষণে ক্ষণে কি আনন্দে হয় কম্পমান,
কেমনে বুঝাব তাহা ? হেরিলাম আজ
মানবের মনােরাজ্যে, রাজ-অধিরাজ,
এ অখিল ব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র গতি,
জগতের নাথ যিনি, সৃষ্টির সারথি,
ধরা দিয়াছেন আসি’ ভকতের রথে
প্রেম-পাশে বদ্ধ হয়ে। এ বিশ্ব-জগতে
নিত্য সেহি দিব্য রথ নৃত্য করি’ চলে ;
চমকিছে সৌরলােক রি চক্রতলে ।
৯০
আত্মবোেধ
তােমারে পাই না বলে সদাই পাইতে চাই।
লভিলে তােমারে নাথ, বিশ্বে আর কিছু নাই।
তথন, এ জলে, স্থলে, আকাশে-শুধুই আমি
তােমারে আপনা মাঝে হেরি নিত্য দিনযামী।
ভ্রান্তিবিনােদ
পঙ্কেরে ছানিয়া তবে মেলে পদ্মফুলে
তেমনি সত্যেরে জন্ম সন্দেহে ও ভুলে
এ জীবনই শেষ নহে; এ যে শুধু খনি!
খুড়িলে অনেক মাটি, পরে পাৰে মণি!
;
সুখেরে খুজিয়া কভু লভি নাই মুখ,
আগিয়াছে ব্যথা লক্ষকরা।
প্রেমেরে বরিতে যবে পাতিলাম বুক,
পূর্ণানন্দে পরিপূর্ণ ধরা!
ধারা।
সুন্দর কহিতে তারে চোখে আসে জল ।
সে শুধু সুন্দর নহে, সে যে রে নির্মল।
তাহারে পড়িলে মনে,-এ আঁধার হিয়া
আনন্দ-উজ্জ্বল হয়ে ওঠে উদ্ভাসিয়া !
লভিলে তাহারে কাছে, বিশ্বের মাঝার
সবি হেরি বিমােহন, সবি আপনার।
সে যে হৃদয়ের ধন, মানসী সাধনা,
সে যে অসীমের রশ্মি, অনন্তের কণা
১
ধারা।
জোয়ার
অজানা আলয়ে পিক
চমকিয়া চারিদিক,
রহি’ রহি’ গাহে গান চিত-সম্মােহন
কোথা ফুটিয়াছে ফুল, তারি বাসে বিয়াকুল,
আসিছে বহিয়া স্নিগ্ধ, সুগন্ধি পবন !
স্নান করি’ চন্দ্র-করে,
মৃদু সমীরণভরে
সুখাবেশে শিহরিছে তরু-পরাজি।
উছলিছে অশ্রু-ধার,
পারি না রােধিতে আর
উথলিছে হিয়া মাের প্রেমানলে আজি!
এমন সুন্দর নিশা, জ্যোৎস্নাত দশদিশা,
মরি, মরি যেন—এক বিচিত্র অপর্ন'।
যে দিকে ফিরাই আঁখি, কেঁপে উঠি থাকি থাকি
কোন্ অতলের তলে হই নিমগন।
তাপ-দগ্ধ ধরণীরে
স্নিগ্ধ করি’ প্রেম-নীরে,
এল আজি চরাচরে আনন্দ-জোয়ার।
গেল—দূরে গেল ভাসি’ সকল মালিন্যরাশি
অন্নান লাবণ্যে পূর্ণ অখিল সংসার।
•
লললল
নাম
এই বিচিত্র বিশ্ব গাঁথা
নামের হারে !
তাই ত ভাবি—নইলে কে আর
চিত কারে!
আঁধার ছেয়ে মিলায় যখন
বিশ্ব-ছবি,
মলিন মহী করুণ শ্বাসে,
-কোথায় ‘রবি’!
•
রবিরে আর চিত কি তার
নামটি বিনে?
নামের রূপেই আপন-পরে
সবাই চিনে।
নামটি যখন শুনি তখন
পাই যে নিজে,
নামটি ছাড়া জাত কি কেউ
আপনি কি যে?
আপন-পরে অখিল ভরে
এম্নি ভাবে
সবাই যে রে বাভিতরে
পাবেই পাবে।
আজকে গাে তাই, কোথায় তুমি’
বলতে গিয়ে,
'তাই তাে তােমায় ডাকি—‘দয়াল
নামটি নিয়ে !
একটি সাধা তারেই তােমার
নামটি করে,
সব রাগিণী সেই সুরেতেই
ঝাঁপিয়ে মরে !
জীবন জুড়ে একটি সুরেই
বালে কেন ?
একটি শতি-সূতায় বিশ্ব
গাথুলে হেন?
(৭)
একটি তারেই কি গান যে গাই- পাই না দিশা; এমনি করেই গোঁয়াই জীবন দিবস-নিশা। স্বপ্নে হেরিনাই যে দেরী, একটি নামে আপনি এসে পূরাও হেসে মনস্কামে! নামের মাঝে মােহন সাজে বারেক এসে, নিজেই আবার লুকাও কেন মুছকে হেসে’? জীবন চলে নামের বলেই অতল-তলে, আনন্দের সে সিন্ধু-বুকেই রতন বলে!
ধারা।
:-
v
নামটি তুলি বুকে, ভরে
নয়নখানি,
দ্বন্দ্বরাশি লুটায় চরণ
শরণ মানি।
একটি সুরে নিখিল জুড়ে
ঝঙ্কারিয়া,
মিলাই আমি জীবন-স্বামি,
তােমায় নিয়া ।
তখন তুমি অঙ্গে আমার
পুলক হান’,
ওগাে মােহন, এতও রকম
রঙ্গ জান!
আধ’-আধ’ অফুট ভাষে
তখন খালি
নামটি তব স্মরি, আর যে
নয়ন ঢালি!
ఎని
নামের রূপে যখন ফোট
তখন, তখন
সে যে কেমন, কইতে নারি
হৃদয়-রমণ!
কইতে বচন, হার মেনে যাই!
তখন তুমি
আদর কর কতই আমার
ললাট চুমি!
সেই সােহাগে সরম লাগে,
তাই তাে সে সব
কইতে নারি, আপন ভাবেই
রই যে নীরব !
সাধন-ভজন নাই গাে আমার
ভরসা কিছুই ;
কেবল নামের জালটি বুনি,
তাইতাে বিছুই!
জীবনমাঝে জনম লভি,
নামের জোরে
ধৰ তােমায় কুটীর-কোণায়
এমনি করে!
পালিয়ে র’বে সাধ্য কি আর
আমায় ফেলে?
এই যে তুমি ডাকটি দিতেই
শুনতে পেলে।
জীবনমাঝে নামের বলেই
জনম মেলে।
সেই কাছে মাের এলেই যখন,
ঐ নামেই এলে!
ধারা।
হিমালয়
কবে কোন্ অতীতের বিস্তৃত দিবসে
বিশ্ব-শিব শঙ্করের চরণ-পরশে,
তাণ্ডবের সে তন্ময় উন্মাদনৰ্ত্তনে,
একদিন আচম্বিতে, আনন্দ-কম্পনে,
উদ্দাম উল্লাসে, মাের মৌন মা-ধরণী
তরঙ্গিয়া মহােচ্ছাসে নাচিলা অমনি
সে অবধি হে হিমাদ্রি, আজো সেই কথা
প্রচারিছ; মুখে তব প্রগাঢ় স্তব্ধতা
ধ্বনিয়া উঠিছে নিত্য!
সে সঙ্গীত শুনি
বৈরাগী-সন্ন্যাসী কত, কত ধ্যানীমুনি
কৃতার্থ করিয়া নিল নশ্বর জীবন
সার্থক সাধনে !
ওগাে মৃতসঞ্জীবন,
হে অতুল আনন্দের প্রচণ্ড স্পন্দন,
ও সুধা-সঙ্গীতে হিয়া হ’ল নিমগন।
ধারা।
vত
অচলালয়
তােমায় নিয়ে বাঁধূব হে ঘর
এই বাসনা জাগল মনে
(ওগাে) আমার মাণিক, ভাব-সেঁচা-ধন,
গিরির বুকে—এই বিজনে।
যেথায় ধরা ধরতে গিয়ে
উথলে ওঠে উল্লসিয়ে
অন্তবিহীন হাত বাড়িয়ে
চায় গাে তােমায় পরাণপণে-
তােমায় নিয়ে বাঁধতে বাসা
জাগল আশা সেই বিজনে।
।
আকাশভরা যেথায় তােমার
মহিমার ওই দীপ্তি জলে,
পুলকভরা বিজয় গানে
যেথায় নিঝর উছলে চলে,
বালা।
পাখীর
মুখে
কচিৎ যেথায়
কায় বুকে বাজিয়ে দে’ যায় ;
হাল্কা হাওয়া নিঝুম নেশায়
কেবল দু’চার খবর বলে,
শূন্য যেথায় পূর্ণ হয়ে
স্বরূপ রূপেই মৰ্ম্মে ফলে !
আনন্দের এই বিরাট নিলয়
নীল নভসেই আঁকড়ে ধরে ;
মেঘের মােহন ওই মেখলা
মা-মেদিনী যেথায় পরে ;
কিরণ-বাসে জড়িয়ে দেহ
হাসে যেথায় মায়ার স্নেহ ;-
কদমতলায় বাঁধতে গেহ
সেই সে কোণে,-এ অন্তরে
সাধ জেগেছে আজ গাে আমার,
সান্তু করি অনন্তরে।
১০ঃ
৪
তৃণের যেমন কঠিন বাঁধন
এই এ মহান্ অচল সনে,
তেমনি তােমার চরণ-তলায়
বাঁধ আমাৰু কুটীর-কোণে।
মিটিয়ে নিয়ে দায়ের ভােগে,
চুকিয়ে দিয়ে মােহের রােগে,
মিলব আমি অচল যােগে
এমনি ভাবেই আপন মনে,
তৃণের যেমন অটুট বাঁধন
গগনভেদী ভূধরসনে।
ধারা।
ভােলা
(গান)
আমি
এই,
কিবা,
আমি বেড়াই নেশার ঘােরে !
যেই দিকে চাই, শুধুই সবাই
(আমায়) দেয় যে পাগল করে’!
কিরণ-ভেজা রঙীন রাতে,
কমল-ফোটা কোমল প্রাতে
ছদ্মবেশীর সাথে সাথে
বেড়াই ভুবন ভরে’!
খুজতে না চাই, বুঝতে যে পাই ।
(শুধু) রাতে নারি ধরে’!
আমি বেড়াই নেশার ঘরে।
ও সেই
আমি
ন
মাণিক,
ও তাই,
নি-সায়রের তলায় দেখি ;
আসল ছেড়ে ছুঁই না মেকি!
(ওরে মন, ও ভােলা মন !)
এমনি করেই বাইব তরী,
অবশ হয়ে ডুবে’ই মরি।
আমি,
যদি
ওগাে,
এখন,
সেই আশাতেই বাঁধন-দড়ি
কাটিয়ে এলাম সরে’!
কেবল মাতাই আকাশ-ধরায়
উধাও গলার জোরে!
আমি বেড়াই নেশার ঘােরে।
সার্থক
যে পবনে ফুটে আঁখি প্রসুনকলির
সেই বায়ুভরে পুনঃ পড়ে সে ঝরিয়া,
যেই রবিকরে হাসে প্রভাত-শিশির,
তাহে পুনঃ, ধীরে সে-ই যায় যে মিশিয়া !
তেমনি হে প্রিয়তম, তােমারি প্রভায়
বিকশিয়া উঠিয়াছি উজ্জল, নবীন
তােমারি প্রতির মাঝে,আজি এ জ্যোৎস্নায়
আনন্দ-বুদ্বুদ সম হইতে বিলীন।
৩
১০৮
. = =
पूर
নিমেষহারা নয়ন মেলে
ও রূপ করি পান।
দেহ আমার শিউরে ওঠে,
উথলে ওঠে প্রাণ।
আলিঙ্গনের তরে যখন
বক্ষে চেপে ধরি,
কি যে অসীম অতৃপ্তি এ
মৰ্ম্মে ওঠে ভরি’!
একি কুহক তােমার মাঝে ?-
যতই ভালবাসি,
গভীরতর অভাব তত
বিভাের করে আসি।
ওগাে আমার লােচন-আলল,
ওরে পরশমণি,
ওগাে আমার পাগল-করা,
সকল সুধা-খনি,
১০৯
ধারা।
M
তােমার মাঝে লুকিয়ে, তুমি
মােরে আকুল করি,
কোথায় থাক, পাইনে দিশে;
কেবল খুজে মরি।
বুক-জুড়ানাে মাণিক আমার,
কখন দিবে ধরা ?
সেই দুরাশে রইছি বেঁচে
ওগাে চেতন-হরা !
কতই কথা কই যে ; তবু,
অনেক থাকে বাকি
তাইতাে কথা বলতে গিয়ে
অবাক হয়ে থাকি।
ধারা।
M
নিরাশার আশা
;
যতই চাহি ভরি পূজার ডালি,
ততই আবার আয়ােজনের ঘটা
অর্ঘ্যরে যতই করি খালি,
কুঞ্জে আবার তেমনি রূপের ছটা !
যতই পুজি, সাধ মেটে না তবু;
যতই তুলি, ফুরায় না যে ফুল ;
পাই না বলেই আশ নেবে না কভু,
আশার আশেই হাসে কুসুমকুল !
;
পাই না বলেই সদা পরাণ সাধে ;
নাও না বলেই দেওয়ার স্পৃহা জাগে
দাও না ধরা; তাই, তাে হৃদয় কাঁদে,
-তবু আমার এও তাে ভালই লাগে ।
ধারা।
ধরাই যদি দাও গাে বারেক,
ফুলবাগানের ফোটাই যে সার হবে।
তার চেয়ে নাথ, এমনি ভাবেই থাক,
নিরাশ করে’ই আশায় জীয়িয়ে রাখ।
সম্পূর্ণ।
১১২
No text on this page.
No text on this page.
শ্ৰীযুক্ত দেবকুমার রায়চৌধুরী-প্রণীত
অন্যান্য পুস্তক
অতন
(মুল্য ॥০, আট আনা মাত্র।)
“অনেকদিন পরে প্রাণের কবিতা পাঠ করিয়া আমরা সত্য
সত্যই শান্তিলাভ করিলাম।”—বসুমতী।
“কবির মৌলিকতা মৃগনাভির মত সৌরভ-সম্পৎশালী-
প্রতিবাসী।
"A dawning genius"
.Amrita Bazar Patrika.
"Who is to be the poet of regenerated India ?
To the young poet whose verses we are reviewing
we can offer no nobler carreer or one more worthy
of the gifts of which there is so much evidence in
the book before us. The style of the author is
simple & sonorous & his thoughts pure &
elevating." -Bengelee,
"It will live ; for it is verily a thing of
beauty.'-Indian mirror.
“দেবকুমার দেবশিশু, কাব্য-রাজ্যের অনিন্দিত ক্ষুট কুসুম।
* * গ্রন্থকারের ভবিষ্যৎ বড় উজ্জ্বল।”-নব্যভারত।
দেবদূত
(মূল্য ৩, আট আনা মাত্র।)
“চমৎকার” দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
“এমন সৰ্বথা উৎকৃষ্ট পুস্তক বঙ্গভাষায় তা নিতান্তই বিরল।
যে কোন সাহিত্যের পক্ষে এ কাব্যখানি পরম সম্পৎরূপে গণ্য
হইবার যােগ্য।–বিজয়চন্দ্র মজুমদার।
It is indeed a wonderful production !
I consider it a glory & pride to our Bengalee
literature, । কবি বরদাচরণ মিত্র।
ব্যাধি ও প্রতিকার (গদ্য) ( মূল্য ॥৩, আট আনা মাত্র।) “ ॥ পাঠ করিয়া স্তম্ভিত হইয়াছি। আপনি কাছে থাকিলে আপনাকে বুকে লইয়া এ জীবনের এক অভূতপূৰ্ব পরিতৃপ্তি লাভ করিতাম। আপনি যথার্থই দেবকুমার। এমন দেবকুমার বঙ্গদেশে তত আর নাই, অন্য দেশে আছে কি না জানি না। নবীনচন্দ্র সেন। * গ্রন্থকার এই গ্রন্থে নিপুণভাবে ও সরল ভাষায় ভারত- বর্ষের বর্তমান অবস্থার বিচার করিয়া যে প্রাজ্ঞতা প্রকাশ করিয়াছেন তাহাতে দেশের প্রধানগণের নিকট হইতে তিনি সাধুবাদ লাভ করিয়াছেন ;-তাহার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করিয়া পাঠকগণকে এই গ্রন্থ পাঠ করিতে অনুরােধ করি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। “ব্যাধি ও প্রতিকার সম্বন্ধে যাহা বক্তব্য তাহা অবক্তব্য। কারণ সেটা একটা স্তবের মত শশানাবে। পরবর্তী যুগের তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ও লেখক, আমি অকুতােভয়ে এই ভবিষ্যদ্বাণী কলাম।”—দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
“ভাষা ও ভাব দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছি।”—অশ্বিনী কুমার দত্ত।
কাব্যরসের সহিত রাজনীতি-রসের একত্রাবস্থিতি
সামঞ্জস্যের সহিত ঘটিতে পারে আপনি তাহার একটি দৃষ্টান্ত
দেখাইলেন। **রামে সুন্দর ত্রিবেদী।
বাহুল্য অনাবশ্যক।
এই সব পুস্তক শ্রীযুক্ত গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সান্স,
(২১ নং কর্ণওয়ালি
স্ট্রীট, কলিকাতা) ও “ধারা” গ্রন্থের
প্রকাশকের নিকটে প্রাপ্তব্য।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.