Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sri Gauranga-lilasar
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
শ্ৰীমত্যচরণ চন্দ্র কর্তৃক প্রণীত।
শ্ৰীতড়িং কান্তি বিশ্বাস দ্বারা পত্রিকা-প্রেলে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
১৯২০ নং বাগবাজার স্ট্রীট, কলিকাতা।
দুই আৰু
No text on this page.
উৎসর্গ-পত্র। যে মহাপুরুষের কৃপায় বিচিত্ৰতাপূর্ণ এই বিশাল জগৎ অব লোকন ও শিক্ষারূপ মহারত্ন লাভ করিয়াছি, যিনি সামান্য বাঙ্গালা ভাষা মাত্র অধ্যয়ন করিয়া বহু মহং কাৰ্য্য সম্পন্ন করিয়া গিয়াছেন, যিনি পরিবারস্থ ভৃত্যগণের পীড়া হইলে, তাহাদিগকে সরকারী- চিকিৎসালয়ে প্রেরণ করিবার উপদেশ সত্ত্বেও কদাচ তথায় প্রেরণ করিতেন না, অধিকন্তু স্বহস্তে তাহাদের শুশ্রুষা করিতেন, যিনি স্বর্গীয় মহাকবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের অতি বিশ্বস্ত কৰ্ম্মচারিরূপে আজীবন কালযাপন করিয়াছিলেন, যিনি উক্ত কবি বর অন্ধ হওয়ার পর হইতে অনুরােধ সত্ত্বেও আদৌ বেতন গ্রহণ করিয়া পূৰ্ববং তাহার সমুদয় কাৰ্যই করিতেন, যিনি স্বজাতির উন্নতির জন্য অভাবসত্ত্বেও বহু অর্থ ব্যয় করিতেন, যিনি ৬৭ বৎসর বয়সে সন ১৩১১ সাণের কার্ত্তিক কৃষ্ণা পঞ্চমীতে বেলা দুইটার সময় অৰ্জনীস্থ ভবনে মানবলীলা সম্বরণ করিয়াছেন, সেই, অতি- চরণ স্বর্গীয় পিতৃদেব ও হরিপ্রসাদ চন্দ্র মহাশয়ের উদ্দেশ্যে তাহার অধম সন্তানের এই প্রথম উদ্যমফল আন্তরিক ভক্তি সহকারে উৎসর্গ করা হইল।
No text on this page.
অবতরণিকা। বিহঙ্গবদনে সুমধুর ভগবন্নাম শ্রবণ প্রথা এদেশে অভিনব নহে । বিহঙ্গের বােধশক্তি থাকুক বা না থাকুক ভক্ত সে দিকে দৃকূপাত করেন না। তিনি বিহগমুখ-নিঃসারিত সেই নামরূপ অমৃতদ্রব পান করিয়া জীবন সফল জ্ঞান করেন। এই দীন লেখক ভগবং প্রেম বিষয়ে খেচর অপেক্ষাও অধম। তথাপি তাহার স্বল্প জীবন কালের মধ্যে তিনি যে সকল দেবভাষানভিজ্ঞ প্রেমিক-প্রেমিকার সাশ্রু ভক্তিগ্রন্থধ্যয়ন নিরীক্ষণ করিয়াছেন, সেই সকল মহাত্মার অনিন্দার্ণবে অভিনব তরঙ্গ উৎপাদন করিবার বলবতী বাসনা হওয়ায় শ্রীল ভক্তিবিনােদাখ্য মহাপ্রেমিক ও পূজ্য সতীর্থ বরের মূল গ্রন্থের অনুবাদাভাস রচনার এই উদ্যম এই দীনকে করিতে হইয়াছে। এতদ্বারা প্রক্ত ভাবুকবৃন্দের কিঞ্চিত্রও আনন্দ লাভ হইলে শ্রম স্বার্থক জ ন করিব। উক্ত সতীর্থ মহাশয় এই অনুবাদ প্রকাশ করিবার অনুমতি দিয়া এই দীনকে চির গৃহীত করিয়াছেন। এই পুস্তিকার আয়ের অর্ধাংশ এই দানের সুরাচাৰ্যকল্প গুরুদেব শ্রীল বিপিন বিহারি গােসামিপ্রভুপাদেয় শ্রীচরণ সেবায় ন্যস্ত হইল। ৮১নং ডায়মণ্ডহারবার রোভ, খিদিরপুর, শ্রীসত্যচরণ চন্দ্র বি এল, গৌরাঙ্গ ৪২৪, ৫ই ফাগুন। হাইকোর্টের উকিল।
No text on this page.
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার
বন্দেহহং শ্রীগুরােঃ শ্ৰীযুত পদকমলং শ্রীগুরু বৈষ্ণবাং6।
শ্রীরূপং সাগ্ৰজাতং সহগণরঘুনাথান্বিতং তং সজীব।
সাদ্বৈতং সাবধূতং পরিজনসহিতং কৃষ্ণচৈতন্যদেব।
শ্রীরাধাকৃষ্ণপাদান্ সহগণ ললিতা শ্রীবিশাখান্বিতাংশ।
বন্দে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যং কলিকল্মষনাশনং।
কারুণ্যপ্রভাবা যাধীরােহপি সুধীরে ভবে
গুরু গােবিন্দ ভক্ত করিয়া শুরণ।
তাহাদের পদে নমি করিয়া যতন।
মূক লভে বাচালতা, পঙ্গু লসে গিরি।
যার করুণায়, তঁারে প্রণিপাত করি।
শ্রী কৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ সহাদৈত।
চরণ বন্দনা করি হইয়া সংযত ।
শ্রীরূপ শ্রীসনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গােপাল ভটু দাস রনাথ।
ছয় গোস্বামীর পদ করিয়া স্মরণ।
শির লুটাইয়া নমি দিয়া তনু মন ॥
কোথা প্রভুগণ ! কুপাকণা মাগে দাস।
সবে মিলি পূর্ণ কর কাঙ্গালের আশ ।
জয় প্রভু রঘুবীরচন্দ্র জয় জয় ।
কুলদেব এ সময়ে হউন সদয় ।
২
গৌরাঙ্গ-লীলসার ।
চৈতন্যচরণ চিন্তি চি মিস ।
তার লীলা শুণ। কে চৌদ্দার।
রচিতে বাসনা ওল দেবভাষা হ'তে।
শক্তিদান কর সবে সেবকের চিতে।
কোথা গুরুদেব মম প্রশান্ত মূতি।
স্বশক্তি সঞ্চারি দেও রচনা-শকতি।
শ্রীগৌরাঙ্গলীলা পয়ােবং সুমধুর।
ভকতিবিনোদ দত্ত অতি সুচতুর ॥
গােপরূপে তাহা হতে হবি উপারিল।
স্মরণ মঙ্গল স্তোত্র তাহে উপজিল।
ঘৃত পরমায়ুকর প্রাচীন বচন।
বৈষ্ণবের আয়ুঃ এই স্তোত্র অধ্যয়ন।
ভক্তি বৃদ্ধি করি’ গৌরে মতি দৃঢ় করে।
সুরণ মঙ্গল হৈ যে জন না পড়ে।
ক্ষীণ মানবীয় লভি’ সংক্ষিপ্ত ভজন ।
অবশ্য কর্তব্য, জ্ঞাত নহে সেই জন।
সুরবাণী অনভিজ্ঞ গৌড়জন লাগি।
বঙ্গীয় ভাষায় রচি সৰ্ক পা মাগি।
ভাষান্তরে ভাবান্তর পছে হয় বলে ।
ছন্দ মিল হয় নাই কোন কোন স্থলে।
সাধু ভকতের ঠাঞি বিনীত প্রার্থনা
অপটু জনার গ্রন্থে অ!ছে দোষ নানা
কি গােরাণ গান যে-সে মতে হয়।
অমিত্ৰতা আদি দোষ তাতে গণ্য নয়।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার
এইরূপ' ভাবি সুধী এই অকৃতীরে
ক্ষমিবেন অধ্যয়ন করিয়া সাদরে।
এতাদৃশ ভরসায় দৃঢ় করি মন।
হ'লেও অসাধ্য করিলাম করা।
পতঙ্গ বিহঙ্গ বলি কভু গণ্য কয়।
কবিত্বে তদ্রুপ এই মন্দধী নিশ্চয়।
তথাপি মঙ্গল নাম লইবার তরে।
ফলাকাজা ত্যজি যত্ন দাস সত্য করে।
কথা প্রভু দয়াময় ওর দেব মম।
মজ্ঞ সেবকের এবে নাশ ঘোর তমঃ ।
জ্ঞানালোকে দীপ্ত কর হদয়ভাণ্ডার।
জিয়া সার্থক শব্দ করি ব্যবহার।
রূপ সনাতুন ভট্টযুগ জব দাস।
কৃপা করি’ কিরের রাও প্রয়াস।
সাক্ষা; দেবতা বন্দি জননী জনক :
শ্রীগৌরাঙ্গ লীলসার রচিছে সেবক
(১)
রাহু কবলিত শশধর জ্যোতির্ময়।
ফাগুনী পূর্ণিমাযােগে প্রদোষ সময়।
চৌদ্দ শত সাত শকে গেড়ে মায়াপুরে।
জনমেন যিনি শচী উদর-সাগরে ।
স্মরি সেই গৌর-বি মির তনধ।
চিশক্তি বিকাশিত তনু প্রেমময়।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলসার
।
( ২ )
আৰ্যবৰ্ত্ত-শির শোভা মুকুটের মত।
ভারত, ভিতরে গৌড় রাজ্য বিরাজিত।
হেন গৌড়বাসিজন করিয়া আদর।
মহাপ্রভু,গৌরহরি, মিশ বিশ্বশুর।
নিশে, নিমাই, দ্বিজ গৌরচন আর।
রাখিয়াছে নাম যার বিবিধ প্রকার ।
বিশ্বপ্রেমপরায়ণ সে কলিপবন ।
শ্রীগৌর-চরিত্র-সুধা পান কর মন ।
অশিদিতে প্ৰেমত নিজ সুখকরী।
শ্রীরাধার ভাবকান্তি অঙ্গীকার করি।
শৈশৰেতে মিশ্রাবাসে বাল্যখেলা লয়ে।
করিতেন প্রমোদিতা পল্লীনারীচয়ে।
অঙ্গনেতে ক্রীড়ারত যেই কনকাঙ্গ।
সেই গৌর-পদাজ বন্দ মনােভৃঙ্গ।
( ৪ )
গৃহাঙ্গনে উপগত কাল বিষধর।
সাকার অনন্তেরে যেই বিশ্বম্ভর।
করিয়া আসন, বসি’ তাহার উপরে।
পরিজন বাক্যে পুন ত্যজিলেন তারে।
অনন্তে অসীন সে গােরা-নারায়ণে।
প্রণিপাত করে দাস কায়বা মানে !
গৌরাগ-লীলাদার।
শৈশবে রোদন কালে শুনে হরিনাম।
হইতেন শান্ত যেই গোরা গুণধাম ,
মহিলাবৃন্দের যাছে হরিনাম গান।
অবলীলাক্রমে নিত্য হ'ত অনুষ্ঠান।
বর্ণিলেন যিনি প্রিয় জননী-চরণে।
সুবিমল জ্ঞানযােগ মৃত্তিকা-ভক্ষণে।
কলিকলুষারি সেই নাম গানায়।
বন্দি শ্রীগৌরাঙ্গশশী প্রেমসুধাময় ॥
পোগণ্ড প্রারম্ভে দ্বিজ গুছে হে গিয়া।
নানাবিধ চপলতা সদ। প্রকাশিয়া।
বিদ্যারম্ভে গঙ্গাস্নানে শিশুগণ সহ।
দ্বিজগাত্রে বারিক্ষেপ করি’ অহরহ।
করিতেন উদ্বেজিত যেই গৌরহরি।
চঞ্চল কৌতুক প্রিয় যে প্রভুরে স্মরি।
( ৭ )
ব তীর্থ ভ্রমি কোন দ্বিজ সমাগত।
* করি অন্ন, কৈলে দেবে নিবেদিত ।
দুইবার অন্ন তার করিয়া গ্রহণ।
শেষে তারে তত্ত্ব যিনি করেন জ্ঞাপন।
পরে, দুই চৌর যঁারে করিলে হরণ।
কাধে চড়ি’ বহু ছুগে করেন মোহন
খ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
শিষ্টের পালনে রত দুষ্টের দমন ।
শ্রীগৌরাঙ্গ-রাম বন্দী হয়ে এক মন ।
( ৮ )
শিবভক্ত ভিক্ষু পৃষ্ঠে করি’ আরােহণ।
রুদ্রগুণ-অনুবাদ করিয়া কীৰ্ত্তন।
মহানন্দভরে মত্ত হইলেন যিনি ।
প্রণমি সে ভক্ত ভক্ত-পদসরােজিনী।
( 9 )
লইয়া লক্ষ্মীর প্রেম-প্রদও সুধন্ন।
শুভরে ওঁরে যিনি করিলেন ধন্য।
পাঠশালা-প্রত্যাগত যেই প্রিয়ধন।
মসীচিহে তুযিতেন স্বজনের মন।
পরম রসিক সেই চিতচোরা গাের।
শুরি সদ। হয়ে তার গুণে আত্মহারা।
{ ১০ )
উচ্ছিষ্ট ভাণ্ডেতে বসি’ যেই চারুকায়।
অনুত্তম জ্ঞানযোগ অর্পিলেন মায় ।
পরতত্ত্ব অদ্বৈতবাদীর উপাসিত।
প্রণমি সে গৌরচন্দ্রে হয়ে অবহিত ।
( ১১ )
নিজ লােষ্ট্রে মাতৃদুঃখ করি’ বিলােকন।
যে শিশু করেন তঁারে তখনি অর্পণ।
বাংসল্য ভাবেতে শুভ্র নারিকেলদ্বয়।
নিন্য নমি মাতৃত সেই মহাশয়।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলসার।
প:
( ১২ ) •
অগ্রজ ত্যজিলে গৃহ সন্ন্যাসকারণ।
ব্যথিত জনকে শীঘ্র করেন তােষণ।
পিতৃ-পরলোকে যিনি নিদারুণ শােকে।
মধুর বচনে তুষিলেন জননীকে।
পরম সুখের খনি সেই মাতৃভক্ত।
গৌরে স্মরি হয়ে তার পদে অনুরক্ত।
(১৩)
গয়ামে দ্বিগণে হইয়া বেষ্টিত।
যেই গৌরহরি সর্ব সুর-সম্পূজিত ।
নিজ গুরু পুৰ্নীমুখে মন্ত্র দশাক্ষর।
লাভ করি’ আসি পুনঃ গৌড়ের ভিতর।
স্বমতি বিকৃতিস্ফুলে করেন প্রচার ।
jঢ় তত্ব সমুদায় অতি চমংকার ।
ভক্তরূপধারী সেই নবরসপর।
শ্রীগৌরাঙ্গচাদ চিন্তা করি নিরন্তর ।
( ১৪ )
পূত বিপ্র চরণ উদক করি’ পান।
হইলেন নিরাময় যেই ভক্তপ্রাণ।
বর্ণাশ্রমআচরণ-পালন-কারণ।
সেই প্রিয় মহাপ্রভু স্মরি অনুক্ষণ
(১৫)
বল্লভ আচাৰ্য কন্যা বিবাহ করিয়া ।
ই-যজ্ঞ তরে পূর্ব-অঞ্চলে যাইয়া ।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসর।
শাস্ত্রবৃত্তি যেই গৌর করেন অর্জন।
বিদ্যালাপে বহু ধন করিয়া যতন..
ধৰ্ম্মেৰমুরতিবর গৃহী সে গৌরাঙ্গ।
পদাজ রিতেছে মম মনোভৃঙ্গ।
(১৬)
সুজন তপনমিশ্রে পাঠাইয়া কাশী।
অাপনি শ্রীনবদ্বীপে পালটিয়া আসি ।
সকলি মােহের ফল কেবা কার জায়।
আদি প্রিয় তত্ত্ব-বাক্যে মায়ে প্রবােধিয়া
লক্ষ্মীর বিরহ-শােক-তপ্ত জননীরে।
সান্ত্বনা করেন যিনি বিবিধ প্রকারে।
বিরতি-সুখদ সেই শান্তমূৰ্ত্তি গৌরে।
শুরিতে স্মরিতে দীন ভাসে অনীরে।
( ১৭ )
মাতৃবাকে বিষ্ণুপ্রিয় করি’ পরিণয়।
পণ্ডিতমণ্ডল-মণি-যেই মহাশঃ ॥
সকল বিষয়ে পট, অধ্যাপক-সিংহ।
ভাগীরথী তীরে নিজ পরিকর সহ ।
দিগ্বিজয়ী দর্শকরী করিলেন দূর।
বন্দি সেই নবদ্বীপ-চন্দ্র সুমধুর
(১৮)
মৰ খণ্ড মাকে যত হয় পাবিং।
প্রতি স্মৃতি স্যায় অস্ত্র প্রাণে পণ্ডিত ।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাদার।
বিদ্যার প্রভাবে:যিনি জিনেন সবারে।
জ্ঞানের মূরতি গৌর, সদ। নলি তারে ।
( ১৯ )
অদ্বৈত প্রমুখ যত সুজন মহান্ ।
করি সদা ভক্তিচর্চা হরিগুণ-গান ।
লভিলেন কৃপকণা ঘঁহার অপার।
নিত্যানন্দ আবির্ভাবে ঈশভাব যার।
কাক্ষিণ্যমণ্ডিত সেই নয়ন-অরাম।
ছয়-বাহু শ্রী চৈতন্য চিন্তি অবিরাম।
( ২০ )
অহো!
যিনি কুৰ্ম্মরূপ করিয়া ধারণা।
সহসা মুরারি গুপ্তে করেন করুণ ।
ব্যাসার্জনা কালে মাতি’ বলদেব-ভাবে।
যাচিলেন-মধু, স্মরি সেই গৌরদেৰে ।
( ২১)
শ্রীঅদ্বৈত বিভু যারে সহ নিজগণ।
কৃষ্ণমন্ত্রে করিতেন প্রত্যহ অৰ্চ্চন ॥
শ্রীবাস-মন্দির-নিধি সজন-শরণ।
পূর্ণতত্ত্ব সে গৌরাঙ্গ স্মরি অনুক্ষণ
( ২২ )
যেই মহাপ্রভু নিজ গুণ প্রদর্শনে ।
বিশোধিয়া শ্ৰী বাসের পালিত যবনে ।
করিলেন তারে ভক্তিমান প্রেমম।
বিষয়ে আসক্তিহীন, স্যরি তারে নিত্য।
শ্রীগৌরাঙ্গ লীলাসার
র
(২৩)
অহে রামরূপধারী যেই গুণমণি।
হইলেন সুখী মুরারির স্তব শুনি’ ॥
মুকুলে কুসঙ্গ হতে করিলেন ত্রাণ।
স্মরি শুদ্ধ ভক্তিদাত। সেই মহাপ্রাণ ॥
( ২৪ )
শ্রীনিতাই হরিদাসে যেই ভগবান।
করিলেন অনুমতি দিতে কৃষ্ণনাম ?
সাধারণ প্রাণিচয়ে, ফিরি দেশে দেশে।
করুণার অবতার মরি সে পুরুষে।
৫)
(२८
অগ্রজের সহ যিনি গিয়া শান্তিপুরে।
ধৰ্ম্মধ্বজী সুরাপায়ী ভণ্ড সন্ন্যাসীরে
শিখালেন শুদ্ধ তত্ত্ব শ্রীললিতপুরে।
স্মরি শুদ্ধ ভক্তিনিধি শিবদ সে গৌরে ।
অদ্বৈতবাদিতা আর শঠতা আশ্রিত।
অদ্বৈতের পৃষ্ঠ করি’ সহ তাড়িত।
প্রেমে ভক্তি-পথগত করিলেন তারে।
যেই সুবিমল, স্মরি সেই মায়াহরে ।
(২৭)
শেখর-ভবনে করি’ শ্রীমুর্ত্তি ধারণ।
ভজুন-নিরত জনে দুগ্ধ অর্পণ
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাদার।
ভক্ত-বিজয়ের ত্রাণ দেখায়ে বিভূতি।
করিলেন যিনি স্মরি সেই সর্বশক্তি।
( ২৮ )
ক্ষণার অবসানে নিদা পরিহার।
মানান্তে ভােজন, পরে গোক্রমে বিহার।
গ্রামে গ্রামে বিচরণ, নাম-সংকীৰ্ত্তৰ।
যামিনীতে অল্প নিদ্রা যথারীতি ক্রম।
করিতেন যিনি ভক্ত সহ প্রতি যমে।
ভজন-সুখদ তারে স্মরি রাত্রি দিনে।
( ২৯ )
সহ শ্রীনিবাস আদি সংকীৰ্ত্তন-গণ।
জগৎ আনন্দ আদি পতিত ব্রাহ্মণ।
সবার হৃদুয় করিলেন প্রেমময়।
যেই গৌর, স্মরি সেই পররসাশ্রয়।
(৩০ )
স্তম্ভ স্বেদ পলকা আদি অষ্ট ভাব।
প্রকাশিয়া শিখাতেন প্রেমের স্বভাব।
করিতেন ভক্তি ব্যাখ্যা সজ্জন সভায়।
জমিতেন তাহাদের.দোষ করুণায়।
স্বজন-কলুষ-ক্ষান্তি-তনু সেই গৌরে।
মলীম রে মানস সতত সুররে :
(৩১)
সংকীৰ্ত্তন-রিপু চঁাদকাজিয়ে শােবিয়া
নবদ্বীপে যাবতীয় নগর ভমিয়া।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার ;
করিলেন বারম্বার »ীকৃষ্ণকীর্তন।
সহনৃত্যেল্লাস গীত কলুষ-নাশন।
নটন-বিবশ দীর্ঘবাহু গৌরহরি।
স্মররে পাষণ্ড মন ! ছাড়িয়া চাতুরি ।
( ৩২ )
শ্ৰীমুরারি গুপ্ত, গঙ্গাদাস, শ্রী শ্রীধর।
আদি যত ভক্ত, ব্রহ্মচারী শুক্লাম্বর ।
যাহার প্রণয়ে হইলেন প্রেমরত।
শ্রীল নারায়ণী যার উচ্ছিষ্টের ভক্ত।
পরম পুরুষ কমনীয়-পু ারে।
রে পামর মন! স্মর সদা সমাদরে।
(৩৩ )
শ্রীবাসের প্রণয়েতে হইয়া বিবশ।
তারই মৃত পুত্র মুখে শুভ তত্ত্ব-রস।
শুনালেন তারে, আহা! কি জানি কেমনে।
অর্পিলেন, শুভ মতি তার দাসগণে ॥
যে পরাত্মা কুহক-রহিত শ্রীগৌরাঙ্গ ।
জীব-নিস্তারক, রে বন্দ মনোভৃঙ্গ।
(৩৪)
সংকীৰ্ত্তনে গােপীভাবে হইয়া উদাস।
লভি বাদাসক্ত জড় ছাত্র পরিহাস ।
দণ্ড-হস্তে তাহাদের করিলে তাড়ন।
সে মূঢ়ো করে ঘরে বৈরি-আচরণ।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
১৩
সেই গৌর দিব্যসিংহ নাস্তিক-দমনে ।
ভক্তিভরে নিরন্তর স্মরি মনে মনে।
(৩৫)
তাদের দুরিত দূর করিবার তরে।
কেশব ভারতী ঠাঞি কাটোয়া নগরে।
লইলেন ন্যাসলিঙ্গ শুভ মাঘ মাসে।
পণ্ডিত ঋষভ যেই চতুর্বিংশ বর্ষে ॥
কেশহীন সেই দণ্ড হস্ত মায়াহর।
চৈতন্যচঁাদ চিন্তি চিত্তে নিরন্তর।
( ৩৬)
নিত্যানন্দ প্রণয়ের হয়ে বশগত।
করিলেন গৃহত্যাগ স্বজন সহিত।
নবদ্বীপ হ'তে যিনি ভ্রমিতে ভ্রমিতে।
যাইলেন পুণ্য শান্তিপুর নগরেতে।
বৃন্দাবন গমনেচ্ছুমাখা তনু যার।
স্থর মন। সেই রাধাকৃষ্ণ অবতার। .
( ৩৭ )
শচীদেবী শান্তিপুরে হ'য়ে সমানীত।
তনয়ের ভাব দেখি’ হর্ষে বিষাদি।
ভিক্ষা দিয়া পুত্রস্নেহ পূরিত অন্তরে।
রাখিলেন কতদিন তথায় যাহারে।
জননী অাদেশে যিনি পুণ্য পুরীধামে।
করিলেন সুখে বাস অন্তিম জীবনে।
১
৪ গৌরাঙ্গ-লীলার।
ভ্রমণ-কুশল সেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ।
ন্যাসিরাজে স্মরি মন হও আজি ধন্য।
( ৩'y )
নিত্যানন্দ শ্রীজগদানন্দ দামােদর ।
দত্তজ মুকুন্দ লীলাগানেতে তৎপর ।
শ্রীগৌরাঙ্গ শ্ৰীচরণ সরােহ-লীন।
ভক্ত-ভৃঙ্গ এই সব পণ্ডিত প্রাচীন।
যার সহ করিলেন শ্রীক্ষেত্র গমন।
স্মরি তঁার পদমুজ ভুবন-পাবন ।
( ৩১ )
ত্যজি’ গঙ্গাকুলস্থিত জনপদ সবে।
ছাত্রভোগে দেখিলেন অদ্ভুলিঙ্গ শিবে ।
“রমণ বিপিনে গোপীনাথ ক্ষীরটোরে ।
অত্মরূপী শ্রীগোপাল কটক নগরে।
যেই ভক্তমূৰ্ত্তি গৌর স্বভজনপর।
তাপিত মানস ! তারে সদা ধ্যান কর
(৪০ )
শোবারণ্য একামকানন যার নাম।
তধায় ভুবনেশ্বরে করিয়া প্রণাম।
দণ্ড ত্যজি’ গেলে কপেতে খর নগরে।
নিতাই ভাঙ্গেন তাহা সেই অবসরে।
কপট মানব যেই ভক্তরূপ ধর।
সে গৌরাঙ্গগুণগাথা স্মররে অন্তর।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
( ৪১ )
দণ্ডভঙ্গে, তখনি সরােষ-ভাণ করি।
গেলেন নীলাদ্রি ভক্তবৃন্দ পরিহরি।
শ্রীমন্দিরে কৃষ্ণরূপ করি. নিরীক্ষণ ।
হইলেন মহাভাগবত সেইক্ষণ ।
দণ্ডহীন যেই গৌর কনক বরণ।
মুররে অবোধ মন ! তঁারে অনুক্ষণ।
( ৪২ )
মহাভাবাবেশ যাঁর হইলে প্রকাশ।
সেবিতেন সার্বভৌম করিয়া, প্রয়াস।
মায়াবাদ অদি তার অনৰ্থ বিপুল।
কৃপা করি’ যিনি করিলেন বিনিৰ্ম্মল ।
হলেন বৈষ্ণব তিনি যাঁর করুণায়।
বেদতত্ত্ব প্রচারক সুরি সে গােরায়।
(৪৩)
কিছুদিন করি’ বাস শ্রীপুরুষােত্তমে।
দাক্ষিণাত্য যাত্রা করি কুৰ্ম্মক্ষেত্র গ্রামে।
শ্ৰীল বসুদেবে কুষ্ঠআময়ে উদ্ধার।
করিলেন, যেই গৌরপ্ৰেম অবতার।
অর্পিলেন রামানন্দে গোদাবরী তীরে।
প্রেমসিন্ধু-সুধারাশি বিজয়নগরে।
সৰ্বজন সুখকর যেই গৌরহরি।
সেই মূর্তিমান তীর্থ নিশিদিন স্মরি।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
( 99 )
দেশে দেশে প্রেম দিয়া সজ্জন সমাজে।
চারি মাস রঙ্গক্ষেত্রে ভট্রপল্লী মাঝে ॥
বাস করি, তথাকার ভট্টাচাৰ্যগণে।
করিলেন কৃষ্ণভক্ত সদালাপ গুণে
শ্ৰীগােপাল-গ্রহবাসী যেই সুখনিধি।
সেই শ্রীগৌরাঙ্গ গুণ গাই নিরবধি।
( ৪৫ )
ভজন-বিহীন বৌদ্ধ জৈন সম্প্রদায়।
মায়াবাদ-হ্রদ-নিপতিত সমুদায় ।
শুদ্ধ ভক্তি প্রচারিয়া ভজন কুশল।
করিলেন স্বশক্তিতে যেই প্রেমাচল।
নানামত বাদীর পাবন সে চৈতন্য ।
চরণ চিন্তিয়া মন হও আজি ধন্য।
( ৪৬ )
বিমল আনন্দ কলি কলুষ নাশন।
দাক্ষিণাত্য বাসিবৃন্দে করি বিতরণ।
শ্রীব্রহ্ম সংহিতা কৃষ্ণকৰ্ণামৃত আর।
অনিলেন ভজনের গ্রন্থ সৰ্বসার।
আলালনাথের পথে নীল নােপরে ।
যাইলেন কৃষ্ণদাস সহ তার পরে।
ভক্তের পালক যেই সদানন্দ মতি।
সেই গােরা পদে মন! কররে প্রণতি।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
( s৭ )
শোধিত সুবর্ণ বর্ণ যেই গৌরহরি।
দ্বিজকাশী মিশ্রালয়ে অস্থিতি করি ।
শ্রী রূপ আদি যত নিজজন সহ।
বিলাতেন সর্বজীবে নাম অহরহ।
প্রফুল্ল-মুরতি সেই দয়াল গৌরাঙ্গ।
স্বগণ সহিত স্মর মম মনােভৃঙ্গ।
( ৪৮ )
নীলাচল-নাথ কৈলে রথে আরােহণ।
তদগ্রে করিয়া নৃত্য হরি সংকীৰ্ত্তন।
গজপতি আদি সব সেবক জনারে।
দ্রবীভূত করিলেন প্রেমানন্দ ভরে।
ভাবময়, আ আনন্দ-মুৰ্ত্তি যেই গােরা।
সুরি তারে নিরবধি হয়ে আত্মহারা ।
(৪৯)
উংকালের ভক্তব্দে রাখিয়া স্বদেশে।
যেই শচীসুত যাইলেন গৌড়দেশে ।
অশেষ গুণের নিধি ভুষন-পাবন।
শ্রীগৌরচরিত-সুধা পান কর মন।
( ৫০)
শ্রবাসে কুমারহটে দরশন করি।
কাঞ্চনপল্লীতে বাসুদেব-দত্তে হেরি।
রাঘব পণ্ডিতে দেখি’ পানিহাটী গ্রামে।
শান্তিপুরে যান যিনি, স্মরি সেই ধনে
গৌরাঙ্গ-লীলাসার।
( ৫১ )
নবদ্বীপ অন্তর্গত শ্রীবিদ্যানগরে ।
বিদ্যাবাচস্পতি গৃহে যান তার পরে ।
•তার পর কুলিয়ায় মাধব-ভবনে।
যান যিনি, ভজমন। সেই গৌর-ধনে ॥
( ৫২ )
কুলিয়ায় মহাপ্রভু করিলে গমন।
করি দৈষ্ট ভাব আর শুদ্ধ ভার্সন।
লভিলেন দেবানন্দ যাহার করুণ।
"রূপ ধন জন বিদ্যাকুলে যা মিলে না।
অমানী পণ্ডিত জন শুদ্ধ ভক্তিভাবে।
পান যারে, ভজ মন! সেই গৌরদেবে।
( ৫৩ )
বৃন্দাবন দর্শনের কপটতা করি।
গৌড়ে গিয়া জননীর শ্রীচরণ হেরি’
রূপ সনাতনে সাহ হােসেন বলে।
করি’ পরিত্রাণ পুনঃ গেলেন উংকলে।
স্বতন্ত্র পরাত্মা যেই শ্রীগৌরাঙ্গ-হরি।
ভকত তারিতে ফুল্লমতি, ঔারে স্মরি ।
( ৫৪ )
অগণিত নরসঙ্গ করি’ বিবর্জন।
একমাত্র বলভদ্রে করিয়া গ্রহণ ॥
পক্ষ ব্যাঘ্ৰ আদি তানহীন পশুগণে
ভক্তিরসে মত্ত করি’ বিজন কাননে।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
যাইলেন যিনি দৃঢ় চিত্তে বৃন্দাবনে।
পশুমতি-হারী সেই দেবে ভাবি মনে।
( ৫৫ )
বৃন্দাবনে শ্ৰযমুনা গিরি গোবর্ধন।
বৃষভানুপুর আদি করি’ দরশন।
বিবশ হইয়া ভাবে, পূর্ব ক্রীড়া স্মরি।
মূচ্ছ প্রাপ্ত হইলেন যেই গৌরহরি।
তথা হতে বলভদ্র সেই হেতু ঘরে।
করেন প্রেরণ সযতনে স্থানান্তরে।
ভকত জনার বশ দীনমূৰ্ত্তি তঁারে।
ধ্যানকর মন! ভবসিন্ধু তরিবারে।
( ৫৫৬ )
সৌভাগ্যের বশে কতিপয় ম্লেচ্ছজন।
উৎকৃষ্ট সে ভাবাবেশ করি’ নিরীক্ষণ
লভিলেন আঁর কৃপা সুমতির বলে।
হইলেন হরিভক্ত যার প্রতিফলে ।
জন্মপাপ-বিনাশন পুণ্যতনু তারে।
মুর মন । অনিত্য এ ভব পরিবারে।
( ৫ )
পূণ্যতীর্থ জাহুবী যমুনা সম্মিলনে।
শ্রীরূপেরে অর্পিলেন পরম যতনে।
পর-রস-ময়ী বিদ্যা-রত্ন মহাধন।
বল্লতে শ্রীকৃষ্ণপ্রেম ভকতি রতন
২০
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার ।
শাস্ত্র-মূৰ্ত্তি যেই গৌর রস গুরমণি।
মনােনেত্রে হেরি তার চরণ দুখানি ।
( ৫৮ )
কেবল অদ্বৈতবাদী প্রেম-বিরহিত।
কাশীর সন্ন্যাসীগণে করিয়া প্লাবিত।
করুণার বুশে হরি-প্রেম-সিন্ধু-নীরে।
সনাতনে বিষ্ণু-ভক্তি-স্মৃতি রচিবারে।
সাধুশক্তি অেিলন যেই গৌরহরি।
সাধকবৃন্দের সেই গুরুদেবে স্মরি।
তদন্তর শঙ্করের শিষ্যচয় মিলি।
গৌরাঙ্গ-প্রণতি-পরাম্মুখে ধিক্’ বলি'।
বহু নিন্দা করি’ শুষ্ক তদনরে ।
ন্যাসীশ সমাজে মহাপূজাকৈল খারে।
মুর সেই সন্ন্যাসী-অর্চিত চাদ-গােরা ।
স্বসুখ-মথনানন্দ মূৰ্ত্তি মনচোরা।
( ৬০ )
পুরীধামে পুনরায় করি’ আগমন।
কৃষ্ণ কথারসে করি’ ভক্ত বিনোদন।
সার্বভৌম, বাসুদেব, কয় রামানন্দ।
প্রমুখ সুজন যত হরিভক্তবৃন্দ।
সহসুখে প্রেমালাপে অনেক বৎসর।
করিলেন অতিপাত যে গৌরসুন্দর।
শ্রীহরি প্রসঙ্গরসময় সেই নিধি।
ত্রিতাপ তাপিত চিত্ত ! স্মর নিরবধি।
শ্রীগৌরঙ্গ-লীলসার ।
বিধি শিবনুত ঘঁার পঙ্কজ চরণ।
দেখিতে বর্ষান্তে অদ্বৈতাদি মহাজন ।
রথযাত্রা কালে আসিতেন গৌড় হতে।
লভি মহানন্দ, ফিরিতেন স্বদেশেতে।
গৌড়ীয়জনের নৃত্য সুহৃদ রতন।
যতীন্দ্র পুরুষ সেই স্মর পাপীমন ।
(৬২)
কামিনীর সম্ভাষণ আদি দোষ যত।
অগৃহী বৈষ্ণব যাতে হয় নিপতিত ৪
অ মত-বাদিচুয়ে রক্ষিতে তাকাতে।
বৰ্জিলেন হরিদাসে অতি ক্ষুদ্র পাপে।
সাধুমূৰ্ত্তি যেই গৌর হ'য়ে হরষিত।
বিমলচরিতারে সুরি অবিরত
দৈববশে লভি’ জন্ম অনুত্তম কুলে।
আচাৰ্য্য হইতে পারে তত্ত্বজ্ঞান বলে।
প্রদ্যুয়েরে এই তত্ত্ব করেন জ্ঞাপন।
অত্যন্ত করুণাবশে যেই গৌরন।
জড়তাবিহীন গুণমধুকর তঁারে।
সুন্নি সদা জড় মােহ বিনাশের তরে।
( ৬৪ )
ভজনে সন্তুষ্ট হয়ে বাংসল্যের বশে।
প্রবল করুণাবলে রঘুনাথ দাসে।
শ্রীগৌরাঙ্গ লীলসার ।
ভজনের তত্ত্বজ্ঞান শ্রীমুখে অর্পণ।
হরিদাসে সিন্ধুতীরে অন্তিমে স্থাপন ।
করিলেন সেবক-সুদ যেই গোরা।
স্মরি ঠারে হয়ে তার গুণে আত্মহারা ।
( ৬৫ )
কলি-পাপ-কূপ-গত গুরুনিন্দাকারী।
উপেক্ষিয়া অনুক্ষণ রামচন্দ্রপুরী।
যেই শচীসুত লৈ অমােষে স্বীকার ।
হরিজন কুপালেশ ছিল বলে ।
পাপাত্মার দণ্ডকারী ভকত পালন।
মম স্মৃতিপথে তিনি কর ন ভ্রমণ।
( ৬৬ )
ক রস প্রীড়িত প্রভু সনাতনে।
নীরােগ করেন যিনি কৃপা পরশনে ।
জগন্নাথ-রথচক্রে ত্যজিৰ জীবন ।
ইত্যাকার বুদ্ধি তার করিয়া শােধন।
অসীম-শকতি সেই নবদ্বীপেশ্বর।
ভবরোগ নাশহেতু রি নিরন্ত ॥
( ৬৭ )
‘পাপকর্মে যেই ধন হয় উপার্জন।
ধার্মিক সতত তাহা করিবে বর্জন ॥
ভবানন্দ আদি নিজ জনে এই জ্ঞান।
শিক্ষা দিয়া গােপীনাথে রাজদণ্ডে ত্রাণ।
*
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
করিলেন যেই ভদ্রমূৰ্ত্তি গৌরহরি।
স্বজন-কল্যাণকর তারে সদা শুরি।
(৬৮)
স্বদেশ হইতে সম্প্রতি বারবার ।
স্বভক্ত-রাধব দত্ত ভােজ্য উপহার ।
ভুঞ্জিতেন সমাদরে যেই পরপর।
মর মন। সেই-গৌরচন্দ্রে নিরন্তর ।
.
জগৎ-আনন্দ-দত্ত তৈল চন্দনাদি ।
না করিয়া অঙ্গীকার যিনি নিরবধি ॥
পালিতেন সন্ন্যাসীর পৰ্ম্ম অাচরণ।
সুর মন! সে গোরার রীণ চরণ।
( ৭ )
জগথ শ্ৰীমন্দিরে গড় সদনে।
প্রসিদ্ধ স্তম্ভের পাশে প্রেমে একমনে ।
স্থবিরা মহিলা এক করেন দর্শন।
বুরূপ, যার স্কন্ধে করি’ আরােহণ।
নিৰ্ম্মল-চরিত্র সেই সন্তুষ্ট দেয়।
শ্রীগৌরাঙ্গে সুর মন! যাবে ভবভয় ।
(৭১)
শ্রীপরমানন্দে গুরুভক্তি সুমধুর।
সেবারত গোবিন্দে করুণা প্রচুর।
প্রিয়বর শ্রী সরূপ পরমা পরিতি।
করিতেন যেই গৌরহরি মহামতি।
28
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
ভুরন-আনন্দ সেই শ্ৰীশচীনন্দন।
নিত্য মম স্মৃতি পথে করুন ভ্রমণ।
( ৭২ )
কৌপীন উপরে আহা! অতি সুশােভন।
অরুণ বরণবাস করি’ আচ্ছাদন।
চারু অঙ্গে কাঞ্চন-গিরির শোভা ধরি।
জপিতেন রাধাকৃষ্ণ দুনয়নে বারি।
যে মােহন গৌড়েশ্বর শচীর তনয় ।
নিত্য স্মৃতি মার্গে মম হউন উদয় ।
{ ৭৩
মগরের পথে পথে ভক্তগণ সহ ।
উচ্চস্বরে হরিনাম করি’ অহরহ।
মন্দ মন্দ নৃত্য করি’ আনন্দের ভরে।
বলি’ “বল হরি হরি নগরবাসীরে।
বিলাতেন প্রেম সেই শচীর বুমার।
সুতিপথ মম, পথ হউক হার ॥
৫
( ৭ )
বাবতী করুণার হয়ে বশীভূত।
শাস্ত্রের রহস্য পূর্ব-সুধী অবিদিত।
প্রেম-ফলাতি শ্ৰতি গঢ় তত্ত্বদশ।
সদয় হৃদয় যিনি করেন প্রকাশ।
অমানুষী বিদ্যাবলে, সে শচীদুলাল।
নিমার্ণে বিরনে মন চিরকাল ।
গৌরাঙ্গ-লীলসার।
( ৭৫ )
“এই বিশ্বে একমাত্র তত্ত্ব হরি;" বলি।
আমায় দিলেন শিক্ষা-“সর্বশক্তিশালী।
সেই হরি ; রসের সাগর রসময় ।
বিভিন্ন অংশক ওঁর পরাণী নিচয় ;
প্রতির পশমুক্ত জীব কতিপয় ;।
প্রকৃতিকবলগত অবশিষ্ট হয় :
চরাচর ভেদাভেদ প্রকাশ তদীয় ।
সাধন বিশুদ্ধভক্তি বদ্ধজীবশ্রেয়ঃ ।।
সাধ্যবস্তু ওঁর প্রীতি ;--বিশ্বপ্রেমে মজি'।
যেই গৌর তসিন্ধু, সদা তারে ভজি ।
( ৭৬ )
ব্রহ্মা আদি ভগবং প্রিয় অনুচর ।
মুখে শিখিলেন যত শিষ্ট ঋষিবর।
যেই বেদ, স্বতঃসিদ্ধ তাহাই প্রমাণ।
তাহার প্রমাণ কেহ করে না সন্ধান।
সেই বেদ প্রত্যক্ষাদি প্রমাণ সহিত।
করিতেছে প্রতিপন্ন লাগি’ জীবহিত।
চিন্তাতীত নববিধ প্রমের বিষয়। মা
প্রপেশিতে যাহে যুক্তি শক্তিহীন হয়।
(৭৭)
“প্রজাপতি, পঞ্চানন, সুরেশ বন্দিত।
তত্ত্ব এক হরি; উপনিষদ্ উদিত।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
ব্ৰহ্ম, অঙ্গকান্তি তঁার ; জগদনুগত।
বিশ্বপিতা পরমাত্মা, তারই অংশভূত ;
তিনি সেই রাধাকান্ত চিদুদয় ধন।
ভগবান কৃষ্ণ নব-নীরদ-বরণ।”
জয়!
( ৭৮ )
“শক্তি আর শক্তিমান না হয় বিভিন্ন ।
হরি আর পরাশক্তি সতত অভিন্ন; ।
তথাপি বিকারহীন যেই ভগবান।
ত্রিপদিকাশক্তি চিদচিং জীব নাম ।
সকল বিষয়ে সদা করেন প্রেরণ।
আত্ম-তন্ত্র সেই পুরুষরতন ॥”
( ৭৯ )
আলাদিনী বৃওিবশে বিনোদনেরত।
আহলাদ ক রূপ কৃষ্ণ থাকেন সতত ; }
সম্বি-শক্তি-প্রকাশিত রহস্যের ভাবে।
রসিত সে জ্ঞানমূৰ্ত্তি থাকেন স্বভাবে ; ৷
সন্ধিনী শকতিজাত চিদাম সমুছে ।
সত্তার মূরতি মগ্ন রসালি প্রবাহে ;
এইরূপে সেই ব্ৰজরসের বিলাসী।
ব্রজমাঝে শোভাপান শক্তি পরকাশি।”
( ৮০ )
“হরি অগ্নিরাশি, জীব স্ফুলিঙ্গের ন্যও ।
কিরণের কণা জীব, হরি সূৰ্যপ্রায়।
;
;
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসর ।
শক্তি আর শক্তিমানে নাহিকোন ভেদ'।
এই ন্যায়ে জীবে দেবে নাহিক প্রভেজ।
তথাপি সমান নয় অংশাণুত তরে।
হরিই ঈশ্বর এই বিশ্বচরাচরে।
প্রকৃতির পতি তিনি মায়া তার দাসী।
মায়-বশ-যোগ্য জীব, মায়া সর্বনাশী।”
( ৮১ )
“স্বরূপ-গেয়ানহীন, আত্মসুখরত।
শ্রী কৃষ্ণবিমুখ দণ্ডযােগ্য জীব যত।
বন্ধ হয় শ্রীহরির মায়ার প্রভাবে।
সত্ত্ব আদি গুণ জালে আপন স্বভাবে।
স্কুল আর লিঙ্গ এই দুই অাচরণে।
অবিদ্যা, পাতক, পাপবীজ, ক্লেশ তিনে।
মহাকৰ্ম্মালানে বাধি বদ্ধজীবচয় ।
ভুঞ্জায় অনন্তকাল ত্রিদিবনিরয় ॥”
(৮২)
“ভ্রমিতে ভ্রমিতে জীব সুকৃতির বলে।
হরিভক্তি বিগলিত বৈষ্ণব দেখিলে।
সেই মত আচরিতে রুচি জুনমায় ।
কৃষ্ণানুশীলনে তার মায়া কেটে যায়।
‘আপন স্বরূপ চিং'-জ্ঞান মুক্ত হয়ে ।
সুনিৰ্ম্মল প্রেমভক্তি আস্বাদে অভয়ে।”
(৮৩)
“চিদচিং বিশ্ব,-হরিশক্তি পরিণাম ।।
অসত্য, অনিত্যবাদ বিবর্তন নাম ;
।
২৮
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
শ্রুতি-বিপরীত তাহা আর কলিমল ;
শ্রুতির সদও নিতত্ত্ব সুবিমল—
ব্রনের অভেদভেদ,এই চরাচর,।
পর ব্রহ্মে নিত্যপ্রেম যাহে স্থিরতর ।”
( ৮৪ )
“শ্রবণ, কীর্তন, স্মৃতি, চরণ-সেবন,।
পূজা, নতি, দাস্য, সখ্য, আত্মসমর্পণ,
শ্র জাবশে, এই নয় অঙ্গের সাধন।
কিম্বা ব্রজে সেবালােভে, করয়ে যে জন।
অবশ্য লভিবে সেই নিত্য নিরমল ।
কৃষ্ণপ্রেম ভক্তিরস মধুর উজ্জ্বল।”
(৮৫)
“স্বরূপেতে স্থিতিকালে হয় সুনি।
মধুর রসের ভাব জীবের উদয় ।
ক্রমে ‘ব্রজে রাধাকৃষ্ণ স্বজন কিঙ্কর'।
এই ভাব ধরি’ সদা হৃদয় ভিতর।
পরানন্দ শ্রীকৃষ্ণেতে প্রীতি উপজয়।
অতুল স পদ সুখ জগতেতে হয়।
বিলাসাধ্য তত্ত্বে লভি দাশু অধিকার।
ভাগ্যবান জীব অহােতরয়ে সংসার।”
( ৮৬ )
“কে প্রভু ? কে জীব ? জড়ময় বিশ্ব কেন ?
তিন অর্থ সম্বন্ধাভিধেয় প্রয়ােজন।
বিচারিয়া সুচতুর শাস্ত্র-বি নর।
হয় শীঘ্র শ্রীহরি ভজন-তৎপর।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
২৯
প্রেমের ফলপ্রদ সর্বধৰ্ম্ম ত্যজি'।
সপ্ন অপরাধ মুক্তি আশা পরিত্যজি'।
হরিদাস করে পান হরিজন সহ।
হরি নামানন্দবস সুখে অহরহ।”
(৮৭ )
এই তত্ত্ব দশমূল সেবিবে যে নর।
অবিদ্যা আময়ে ত্রাণ পাইবে সত্বর ।
হরিতে একান্ত ভাব ক্রমে পুষ্ট হবে।
সাধুসঙ্গ বলে মনে তুষ্টি উপজিবে।
(৮)
ভক্তবৃন্দে এইরূপ উপদেশ দিয়া।
নেত্ৰনীরে দুর্যোজ্জ্বল বপু, ভাসাইয়া।
অতুল ভুবন-বন্ধু যে আনন্দময়।
বঞ্চিতেন কাল, সেই শচীর তনয় ।
নিত্য মম স্মৃতিমর্গে করুন ভ্রমণ।
চিত্তের ত্ৰিতাপ রাশি করি’ নির্বাপণ
(৮৯)
তত্ত্বজ্ঞানী দয়াবান পাশ্চাত্য জাতির ।
দীনহীন অকপট উংকলবাসীর।
সৰ্ব্ব বর্ণাশ্রমভা গৌড়ীয়ের গতি।
যেই শীত তার চরণে প্রণতি।
( ৯০ )
স্বপতি-বিরহ আৰ্ত্ত অহে।! মিশ্রাবাসে।
দীর্ঘতর করপদ সন্ধিশ্লথ বশে।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাদার।
ব্যাল মানস, তনু বস্তুবালুণ্ঠিত।
গদ গদ ভর্ষিী সেই শচীর সুত।
নিত্য মম স্মৃতি নভে হউন উদয় ।
উজলি' তিমিরাত সেবক হয়।
( ১১ )
কি আশ্চর্য্য। বদ্বার উপল ভবন—
বহির্ভাগে অসি, করি’ প্রাচীর লঙ্গন ।
কলিঙ্গ ধেনুর গােঠে হলেন পতিত ।
হস্তপদ সঙ্কোচিয়া কচ্ছপের মত।
অমা ব শক্তি যার সে শচীনন্দন।
নিত্য. মম শূতিমগে করুন প্রমণ।
( ৯২ )
বিরহ-ব্যাকুল আছো! স্যরি' বৃন্দাবন i,
কাদি' রুধিরাক্ত হয়ে বিয়া অনিন ।
“বল বল বল কোথা কৃষ্ণকান্ত মম ?।
এইরূপে প্রলাপেন যেই নরােত্তম।
সেই শচীনুত-শী উঠি মনােরথে ।
উজলুন বিকাশ শোভি স্মৃতিপথে ।
পয়োধির প্রসারিত সৈকত পুলিনে।
চটক পতে, গােঠে গােবর্ধন ভমে।
স্বজন সহিত যিনি নিরীক্ষণ করে।
যাইলেন দ্রুতগতি সানন্দ অন্তরে।
সুতিনভে উদি’ সেই শ্রীগৌরাঙ্গ-রবি।
'অলে! মম চিত্ত!টবী ।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার
৩১
মানবের সুখকর অনুকম্পা বঁার ।
ভব-কপে রঘুনাথে করিল উদ্ধার।
শিলাসহ গুঞ্জা যিনি দিলেন তাহারে।
প্রণমি সে গৌরচন্দে সদা ভক্তি ভরে ।
( ৯৫ )
শুদ্ধ-ভক্তি-সিদ্ধান্ত-বিরুদ্ধ-ভাবচয়।
বিরসতা আদি রসাভাস যত হয়।।
আর বহিমুর্থ সঙ্গ কমি’ পরিহার ।
প্রফুল-মানস যেই গেরা সদাচার।
সুভক্ত গােষ্ঠীতে নিত্য পাইতেন শোভা
প্রণমি সে গােরা জগ-জন-মনোলোভা ॥
( 9 )
বহিরঙ্গ জনে বিতরিয়া বিষ্ণুনাম ।
লভিলেন যিনি কলি সাধন সুনাম।
প্রেমরস অন্তরঙ্গে করেন অর্পণ।
ভক্তিভরে নমি সেই গােরা প্রাণধন।
( ** )
শ্রী কৃষ্ণচৈতন্য নামাতি যত দাস।
করিয়া তাদের নাম অপরাধ নাশ।
ভাগ্যবান জনে যিনি পরাভক্তি দান ।
করিলেন, নমি সদা সেই মহাপ্রাণ।
( ৯৮ )
নীলাময় বরব। যে শচীতনয়।
তুচfংশ বৰ্য হে করিয়া আশ্রয় ।
শ্রীগৌরা দলীলসার
যাপিলেন সমকল সন্ন্যস আশ্রমে।
সে জগ-গুরু-পদ বন্দি সদা মনে ।
(৯৯ )
দরিদ্র বসন আর ধন বিতরণে।
ক্ষুধা দুর অতিথিরে অন্নাদি অর্পণে ॥
বিদ্যার্থীরে বিদ্যাদানে আনন্দ অপার ॥
লভিলেন যিনি স্তরে স্মরি অনিবার।
( ১০০ )
প্রথম সন্ন্যাসে যিনি তীর্থযাত্রাছলে।
যাপিলেন অর্ধযুগ ভকতি বিস্তারে ।
শেষ অষ্টাদশ বর্ষ পুরীবাস করি।
মায়াশ্রিত প্রকট-চরিত তঁারে স্মরি ॥
(১০১)
হা। কি কষ্ট সমুদায় ভুবনবাসীর।
গোপীনাথ গৃহাঙ্গনে গৌরাঙ্গ-সুধীর।
সংকীর্তনে মুগ্ধ করি” ভকত-নন।
সন্ধ্যাকালে করিলেন আত্ম-সংগােপন
হ! কি কষ্ট বিশেষতঃ কত জনার।
অপ্রাকৃত লীলা তার স্মরি অনিবার।
(১০২ )
এই গৌরগাথা যেই ভক্ত উচ্চৈঃস্বরে।
তত করিবে গান গলিত অন্তরে ॥
বিশেষতঃ গৌরতীর্থে, তারে পাের প্রাণ।
যুগল ভজনে প্রেম করিবেন দান।
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলসার।
( ১০৩ )
চারশত ছয় গৌর অব্দে কার্তিকেতে ।
এভক্তিবিনোদ লীলা গায় গােমেতে ।
(১০৪)
ধর প্রেম মধুরতা আস্বাদের তরে।
নন্দনন্দন গৌড়বিহার স্বীকারে’
সেই বৃষভানু-সুতা-পল্লব-চরণে।
বিচিত্র এ লীলামৃত অর্পি এক মনে।
শিক্ষাষ্টক।
(১)
মুল।
চেতোদণমা র্জনং ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপণ ।
শ্রেয়ঃ কৈরবচন্দ্রিক।বিতরণং বিদ্যাবজীবন।
অন দাম্বুধিব নং প্রতিপাদং পূর্ণামৃতাস্বাদন।
সৰ্ব্বা মুস্বপনং পরং বিজয়তে শ্ৰীকৃষ্ণসংস্কীৰ্ত্তনম্ ।
মনেময় মুকুরের মালিন্য মার্জন।
ভয়ঙ্কর ভববহ্নি নির্বাণ কারণ।
শ্ৰেয়োমুদের ফুল্লচন্দ্রিকা কিরণ।
বিদ্যাধু সুজনের জীবনতোষণ।
আনন্দ অম্বুধি নিত্য করে বিবদ্ধিত।
প্রতিপদে পুর্ণ সুধা হয়, আস্বাদিত।
সংসার জনিত দোষ করিয়া ক্ষন।
* আ ত্মা প্রেমরসে করে নিমগন
৩
শ্রীগৌরাঙ্গ লীলাসার।
এই সপ্তগুণ সং চিদানন্দময়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রসু জয়! জয় ! জয় !
( ২ )
মূল।
নামকারি বহুধা নিজ সৰ্বশক্তি।
শুভ্রাপিত নিয়মিত রণে ন কলিঃ।
এভাশী তবকৃপা ভগবন্মমাপি।
দুর্দৈবমীদৃশমিহজানিনানুরাগঃ ।
বিবিধ প্রকার করিয়াছ নিজ নাম ।
তাতে সর্বশক্তি তুমি করেছ প্রদান।
স্মরণের তরে কাল নাই নিয়মিত।
তোমার এরূপ কৃপা ওহে প্রাণনাথ ।
আমার দুবৈ কিন্তু এমনই হইল।
এহেন সহজ নামে রতি না জন্মিল।
( ৩ )
মূল।
তৃণাদপি সুনীচেন তােেরপি সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মনদেন কীৰ্ত্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।
তৃণ হ'তে আপনাকে অধম মানিবে।
তরু হতে অতিশয় সহিষ্ণু হইবে ।
অভিমানশুন্য আর মানদ হইলে ।
নামকীর্তনের যােগ্য হইবে সকলে ।
( ৪ )
মূল।
ন ধনং ন জনং ন সুন্দরী
কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে ।
শ্রীগৌsঙ্গ-লালসার। মম জমনি জমনীশ্বরে ভবদ্ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি ॥ ” নাহি চাই ধন জন, কবিতায় নাই মন, ওহে জগদীশ দয়াময় । জনমে জনমে মম, তব পদে অনুপম, অহৈতুকী ভক্তি যেন রয়। মূল। অয়ি নন্দনুজ কিঙ্করং পতিতং মাং বিষমে ভবধে। কৃপয়া তব পদপঙ্কজ- স্থিতধূলিসদৃশং, বিচিন্তয় । ওহে নন্দত । ভব-অম্বুধি পতিত । কিঙ্করের প্রতি কৃপা করিয়া বিহিত। | ও পদ-পঙ্কজ-স্থিত-ধূলি-কণা সম। ভাব মে'রে ওহে নাথ ! এই ভিক্ষ। মম। মূল। নয়নং গলদধ রায়। বানং গদ্গদরুদ্ধয়া গিরা। পুলকৈ নিচিতং বপুঃ কদা। তব নাম গ্রহণে ভবিষ্যতি । তােমার পবিত্র নাম করিতে গ্রহণ। অশ্রুবারিসিক্ত কবে হইবে নয়ন | স্বরভেদ, করােধ কবে মাের হবে। পলকেতে কণ্টকিত তনু হ’ব কবে ?
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার।
(৭)
মূল।
যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষ প্রার্ষায়িত।
শূন্যায়িতং জগৎসৰ্ব্বং গোবিন্দ-বিরহেণ মে।
গোবিন্দ বিরহে মাের, কি কব কি দুঃখ রে,
ভূমণ্ডল শুন্য প্রায় হেরি।
নিমেষে যুগের প্রায়,
নেত্ৰজলে ভেসে যায়,
যেন বহে বরষার বারি।
( ৮ )
মূল।
আশ্লিষ্য বা পাদরতাং পিনুধুমা
মদনমহতং করে তু বা।
যথাতথা বা বিদধাতু লম্পট
মপ্রাণনাথস্তু স এব ন পর।
ও পদে পতিত দাসে করুন সুখিত।
অথবা চরণে পিষ্ট করুন সেবকে।
কিম্বা অদর্শনবাণে মরম-পীড়িত।
যাহা ইচ্ছা হয় তঁার করুন অামকে।
তথাপি আমার প্রাণনাথ সে লট।
আর কেহ নয়—বলি হ'য়ে অকপট
শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলাসার গৌড়ীয় ভাষায়।
চতুঃশত দ্বাবিংশাব্দে পাবন মাশয়।
করিল রচনা অকথন সত্যাস।
ভক্তবৃন্দ কর র দুস্কৃত বিনাশ ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.