Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Mane Mane Ed.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
মানে মানে।
[ সামাজিক প্রহ।
বিজয়, অর্ঘ্য, ব্ৰহ্মবিদ্যা, প্রজাপতি, ব্রাহ্মণ-সমাজ, সুহৃৎ,
নাট্য মন্দির, বসুধা, মালঞ্চ, বীরভূমি, শিশু, অবসর,
মর্মবাণী, হিতবাদী, শ্রীরামপুর প্রভৃতি
বহু মাসিক ও সাপ্তাহিক পত্রের লেক
শ্ৰীমৃণালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রণীত।
“মিনার্ভা” ( মনােমােহন) থিয়েটারে অভিনীত।
প্রথম অভিনয় রজনী
শনিবার, ১১ই ভাদ্র, ১৩২২ সাল।
প্রথম সংস্করণ।
Printed and Published by Purna Chandra Kundoo,
At the Ramkrishna Printing Works,
347-1 Upper Chitpur Road
Calcutta:
মূল্য চারি আনা মাত্র।
নাট্রোল্লিখিত ভুমিকালিপি
পাত্র
০ ০
যদুনাথ
রঘুনাথ
দুকড়ি
ভট্টাচার্য্য
জগন্নাথ
গােলক
দুলাল
হরিশ
মধু
জনৈক ধনাঢ্য ব্যক্তি।
ঐ কনিষ্ঠ ভ্রাতা।
ঐ প্রতিবেশী।
ঐ পুরােহিত।
ঐ প্রতিবেশী যুবক।
রঘুনাথের বন্ধুগণ।
চাটুয্যে, মূখুয্যে প্রভৃতি।
পাত্রী।
বিজলী
বিধুমুখী
আনন্দময়ী
রঘুনাথের স্ত্রী।
দুড়ীর স্ত্রী।
ভট্টাচার্যের কন্যা।
নাপিত বৌ, রঙ্গিনীগণ প্রভৃতি।
৮ ০
উ= সর্গ।
স্বর্গীয় পিতৃদেবের অভিন্নহৃদয় বন্ধু
আমার পরম শ্রদ্ধাস্পদ
যুক্ত বাবু হরিদাস দত্ত মহাশয়ের
করকমলে
মদীয় নাট্য-জীবনের প্রথম রচনা-
এই অকিঞ্চিৎকর প্রহসনখানি
সমৰ্পণ করিয়া কৃতার্থ হইলাম।
••• প্রথম অভিনয় রজনীর অভিনেতা ও অভিনেত্রীগণের পরিচয়। যদুনাথ শ্ৰীযুত সুরেন্দ্রনাথ ঘােষ ( দানিবাবু) রঘুনাথ অহীন্দ্রনাথ দে দুড়ী হীরালাল চট্টোপাধ্যায় ভট্টাচার্য নরেন্দ্রনাথ সিংহ জগন্নাথ সত্যেন্দ্রনাথ দে মুখার্জী উপেন্দ্রনাথ বসাক চ্যাটার্জী জীতেন্দ্রনাথ দে গােলােক নিৰ্ম্মলচন্দ্র গাঙ্গুলী দুলাল হরিদাস দত্ত মধু ননীলাল বন্দ্যোপাধ্যায় হরিশ সুটবেহারী মিত্র বিজলী শ্ৰীমতী শশীমুখী দাসী বিধুমুখী ••• মতী প্রকাশমণি দাসী আনন্দময়ী বিনোদিনী দাসী নাপিত বৌ ••• ফিরোজাবালা দাসী [ নেনী ] . * * st • • ০ ০ কৃতজ্ঞতা স্বীকার । আমার এই প্রহসন মিনার্ভার” ( বৰ্তমান “মনােমােহন” ) নাট্য-পীঠে প্রবর্তন নিবন্ধন, আমি উক্ত রঙ্গালয়ের সত্ত্বাধিকারী শ্ৰীযুক্ত বাবু মনােমােহন পাণ্ডে ও অধ্যক্ষ-অভিনেতা শ্ৰীযুক্ত বাবু সুরেন্দ্রনাথ ঘােষ মহাশয়ের নিকট বিশেষ কৃতজ্ঞ।—আর যে সকল অভিনেতা ও অভিনেত্রী এই প্রহসনে ভূমিকালিপি গ্রহণ করিয়া সবিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করিয়াছেন, তাঁহাদের নিকটও আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিতেছি। দক্ষিণেশ্বর মৃণালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮ই ভাদ্র, ১৩২২ সাল
মানে মাসে।
প্রস্তাবনা।
৫০
৩০
রঙ্গিণীগণ।
(গীত )
ভুল করে কেউ গােল করােনা এইটী চাই।
ভােল ফেরানাে পুরাণাে সব নূতন কথা কিছুই নাই।
উঠতে বতে চলতে ফিরতে, নিত্যি দিনে রেতে
ঘটছে কত—তারি কিছু আছে লেখা এতে,
মানে মানে দেখে সুখে, ফিরবে সবে হাসি মুখে
এর বেশী আর নাইক আশী
( যেন ) একটু হাসি দেখতে পাই।
--
প্রথম দৃশ্য পথ
( ভট্টাচাৰ্য্য ও দুকড়ির প্রবেশ)
দুক—ভচায্যি মশাই! প্রণাম হই।
ভট্টা।--উচ্ছন্ন যাও-উচ্ছন্ন যাও।
দুক। প্রণাম হই ভট্টচায্যি মশাই।
ভট্টা।—সর্বনাশ হবে-নিপাত যাবে।
দুক।ব্যাপার কি ঠাকুর মশাই ? প্রণাম হই।
ভট্টা-কল্যাণ হােক্-কল্যাণ থােক। ব্যাটা—আমার সর্বনাশের
চেষ্টা—ভিটেয় ঘুঘু চরবে না !
দুক।হয়েছে কি ? এমন চটে হন্তদন্ত হয়ে যাচ্ছেন কোথায় ?
ভট্টা'—বংশে কলঙ্ক পড়বার যােগাড় হয়েছে আর কি হবে ? ব্যাটাকে
আজ পইতে ছিড়ে অভিশাপ দিয়ে তবে জলগ্রহণ করব।
দুক।-বংশে কলঙ্ক। আপনার বংশে! বলেন কি ?
ভট্টা—আরে এই যদুবাবুর ভাই রঘুনাথ ব্যাটা যেন একটা রাঘব
বোয়াল'। বড় ভাই যেমন ভদ্র অমায়িক-হাসি তামাসা,
নির্দোষ আমােদ আলাদ নিয়ে, দান ধ্যান করে নাম কিনছেন,
ছােট্টা তেমনি ঠিক তার উল্টো--অত্যন্তু ইতর। আমার বিধবা
মেয়ের উপর দৃষ্টি । এ্যা পাজী ব্যাটা, ঘােটলােক ব্যাটা, কাল
কিনা মাকে আমার চেঁচিয়ে ঠাট্টা করে এসেছে। বাছা আমার
কেঁদে ‘কুরুক্ষেত্তর’, বিষ খেয়ে মরতে চায়। আজই এর একটা
হেস্ত নেস্ত করব তবে ছাড়ান ছিড়েন।
[ ৩ ]
দুক।ওঃ বুঝেছি! তাই বুঝি রেগে যদুবাবুকে বলে দেবার জন্যে
ছুটেছেন ?
ভট্টা।—বলব না? একি কেউ রক্তমাংশের শরীরে বরদাস্ত করতে
পারে ?
দুক।ঠাণ্ডা হােন্। শুনুন বলি—যা মৎলব মনে মনে ঠাউরেছেন,
সেটী মতলব তাে নয়ই বরং একটী মস্ত ভুল। আজ কাল কি
আর সে কাল আছে ভচায্যি মশাই! এখন বামুন পইতে ছিড়ে
শাপ দেবে কি-বলে হয়ত বিশ্বাস করবেন না—কিন্তু সত্য বলছি
—আমার চোখের সামৃনে কোনও মহাশয় লােক এক বামুনকে
পইতে খুলতে তর সইলাে না, বেশ দু’ঘা যুৎ সই করে লাগিয়ে
দিলে দেখেছি। আপনি বড় বাবুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন,
তিনি হয় ত বাড়ী নেই, ছােট কৰ্ত্তা হয় ত ইয়ার বসি নিয়ে
হৈ হাই করছেন, আপনি হয়ত রাগের ঝেকে ছােট বাবুকে
কতকগুলাে যাচ্ছে তাই বলে ফেলবেন, আর শেষে হয় ত একটা
অঘটন ঘটে যাবে। আচ্ছা, একটা কথা জিজ্ঞাসা করি--
আমি হচ্ছি আমার যজমান, আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন ?
ভট্টা।-রামচন্দ্র! যজমান। আজকাল গুতােটা কি রকম জানত ?
ছেলে পিলে ভাই বন্ধু, আত্মীয় অন্তরঙ্গ কাউকেই বিশ্বাস নেই–
তার—যজমান! এমন টের যজমান আছেন যারা পুরােহিতকে
ভিটস্থ ঘুঘুস্থ না করে আরাম পান না।
দুক।—কি জানেন-একটা কথা আছে “তবু”। ঐ ‘তবু কথাটী বড়
উপাদেয়। বিশ্বাস করবার যে যো নেই তা ঠিক। কিন্তু তবুও
বিশ্বাস করতে হয়—নচেৎ সংসার চলা দুস্কর।
ভট্টা।—মেলা ফ্যাচ ফ্যাচ, করছ কেন বল দেখি দুকড়ি? শেষে
রাগের মাথায় দু’কথা বলে ফেলব-সেইটে কি খুব ভাল হবে ?
-[ ৪ ] দুক।-দেখুন যজমান পুত্রের তুল্য—অর্থাৎ ভট্টা।—পাষও—অকাল কুষ্মাণ্ড-( প্রস্থানোত ) দুক।—(স্বগতঃ ) তাই ত ঠাকুর টীকে ফেরাতেই হবে। আচ্ছা এক- বার শেষ চেষ্টা করেই দেখি। ( প্রকাশ্যে ) ভায্যি মশাই যাবেন না আর একটা কথা বলি শুনুন। তার পর আপনার যা ভাল বােধ হয় করবেন। ভট্টা।—( ফিরিয়া) কেন বাপু গােদের উপর বিস্ফোটক হচ্ছ ? দুক।-দেখুন দিদিমণির চরিত্র যে নিষ্কলঙ্ক ; তা আপনিও জানেন, আমিও জানি। যদুবাবু আপনার যজমান, তিনিও যে না জানেন তা নয়-কেমন এ কথা ঠিক কিনা ? ভট্টা।অবশ্য, অবশ্য। এ কথা আমি সহস্রবার স্বীকার করি। ম আমার সাক্ষাৎ দেবী—সেই মায়ের কিনা অপমান? একি আমি কখন সহ্য করতে পারি ? উঃ! আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। বাবা দুকড়ি, সেই মায়ের উপর কুদৃষ্টিতে দেখতে হতভাগার সাহস হ’ল ? পাজী ব্যাটা অন্ধ হয়ে গেল না। সেই মায়ের চোখে জল পড়ল--তবু এখনও বর্বরের সর্বনাশ হ’ল না ? ঘাের কলি। ঘোর কলি। দুক।কিন্তু সেই দেবীর কথা নিয়ে যখন আপনি যদুবাবুর কাছে এমন একটা অশ্রাব্য জঘন্য কথা উত্থাপন করবেন, অমনি হবে কি জানেন ? সেখানে আর যারা থাকবে, তারা পরস্পর মুখ চাওয়া চাওই করবে, আমার দিদিমণির নির্মল চরিত্রেও সন্দিগ্ধ হবে। যদি বুঝতুম যে তারা শুধু ছােট বাবুর দোষ দিয়েই ক্ষান্ত হবে, তাহলে আমার বলবার কোন কথাই ছিল না। কিন্তু ভট্টচাষ্যি মশাই—আমি ঠিক বলছি তারা দিদিমণিকেও লােকের কাছে নানাভাবে দুশ্চরিত্রারূপে দাড় করাবার জন্য ঢাক বাজাতে আরম্ভ '।
[ ৫ ]
করবে-বলবে—এক হাতে কি আর তালি বাজে ? একটা টি টি
পড়ে যাবে। তার ফল হবে এই মে এখন দিদিমণি আত্মঘাতিনী
হবেন বলেছেন-তখন আর বলবেন না—যা করবার তাই
করবেন।
ভট্টা।-( চিন্তা। ঠিক বলেছ, কথাটা শােনবার মত বটে। কিন্তু
বাবা, তাহলে কি উপায় করা যায় ?
দুক।-কেন ঠাকুর মশাই, সে কথাত আগেই আপনাকে বলেছি।
আপনার ছেসেই না হয় এখানে নেই—আমরা ত আছি। ভার
আমার উপর দিন। যা উপায় করতে হয় তা আমিই করব।
আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ী ফিরে যান। রঘুনাথের কত বড়
আস্পর্ধা হয়েছে দেখব।
ভট্টা।-(দুকড়ির হাত ধরিয়া) বাবা দুকড়ি। আমাদের জাত কুল
রক্ষা কর-এ বিপদ থেকে উদ্ধার কর। কি বংশের সন্তান
আমি জানত? ব্রিলােচন তর্ক বাচস্পতির পৌত্র, ভারতের লােক
যার নাম জান্ত, সেই রামময় তর্কবাগীশের পুত্র, আমিও একজন
নগণ্য তর্করত্ন, ছেলেটীও তর্কতীর্থ উপাধি পেয়েছে-এখনও
অধ্যয়ন করছে। পূৰ্ব্বকালে আমাদের টোলে পঞ্চাশ খানা পাতা
পড়ত, দীয়তাং ভুজ্যতাং হত, হায়! হায়। সেই ঘর যাতে
নষ্ট না হয়-যাতে সেই পণ্ডিত বংশের মানসংত্রম বজায় থাকে,
দোহাই বাপ আমার--তার উপায় কর।
হক।-কেন উতলা হচ্চেন ? আমি যখন ভার নিলুম, তখন ভাবনা
কিসের ? আমরা বেঁচে থাকতে কার সাধ্য যে আপনাকে
অপমান করে পার পায় !
ভট্টা।-আচ্ছা বাবা, তােমার জয় জয়কার হােক। তােমার
উপরেই ভার দিলুম। আমি ফিরে চললুম।
দুকড়ি ।চলুন আমিও আপনার সঙ্গে যাই। আমি যে রকমটী
শিখিয়ে দেব তা যদি করেন ত চিরদিনের মত রঘুনাথ জব্দ
হয়ে যাবে।
ভট্টা।–আচ্ছা বাবা তাই করব। ( ক্রন্দনস্বরে ) ওরে তােরাই
আমাদের মা বাপরে-তােরাই আমাদের মা বাপ। তােরা
ছাড়া আমাদের আর কে আছে বল ?
( উভয়ের প্রস্থান)
দ্বিতীয় দৃশ্য।
দুকড়ির বাটী ।
বিধুমুখী ও নাপিত বো।
বিধু।—বলি হাল নাপিত বো ! অমনি অমনি যে বড় চলে যাচ্ছিস?
কথাটা একেবারে ভুলে গেছিস বুঝি ?
-বো। কি কথা গা দিদি বাবু ?
বিধু।—বড় মানুষের বো—গরীবের কথা মনে থাকবে কেন বল ?
-বৌ।-না বাপু তুমি অত ঠাট্টা করনা। আমি তাহলে এখ খুনি
রাগ করে চলে যাব। আর একদিন এসে এই ঠাট্টার শােধ
তুলব। এমন নখ কেটে দেব যে সব নখে একটা করে ‘কুণী’
থাকবে-তখন মজাটা টের পাবে। বলনা দিদি বাবু-কি
ভুলে গেছি।
বিধু।“ওমা! বলিস কি ? তুই এমন ভুলে। সেদিন না আমাকে
[ ৭ ]
গান শোনাবি, নাচ দেখাবি বলেছিলি ? এরই মধ্যে সব ভুলে
গিয়েছিস ?
না-বো।-এই কথা—এরই জন্যে এত গৌর চন্দ্রিমে।, তা বৌদি,
আজ বেলা গেছে, আর একদিন এসে শুনিয়ে যাব।
বিধু।আর একদিন বৈকি। নে, এইখানে চুবড়ী রাখ, একটা
গান গা, তবে ছুটী।
-বে।অনেক কাজ রয়েছে।
বিধু'—নে, বকিস নি, গা।
-বো।-না শুনে ছাড়বে না ?
বিধু।-না।
না-বৌ।
(গীত )
বাতে হবে না আর ভাল,
ওগাে খুব হয়েছে, ঢের হয়েছে।
কৈ মাছের বেহদ্দ ব’লে তাইতে পােড় প্রাণ রয়েছে।
( তােমার) উল্টো সােজা যায় না বােঝ,
( তুমি ) ছােবল দিয়ে সাজো রােজা,
(তুমি) ছল চাতুরীর শিরােমণি—
আমি বােকা বলেই সব স’য়েছে।
না-বো।—কেমন শুনলে তাে ? হাসছ যে ?
বিধু।-হাসির কথা বলি, হাসব না।
-বো।গান ত হ’ল, এখন মেঠাই দাও, মিষ্টি নিয়ে বাড়ী যাই।
বিধু। তুই পাজী, হতচ্ছাড়ী, পােড়ারমুখী। তাের আলতার রং
ফিঁকে, তাের আলতা পরানােয় কেউ ভােলে না। কেমন
মিষ্টি পেলিত ?
[ ৮ ]
না-বো।–এই বুঝি মিষ্টি।
বিধু।—তা বুঝি জানি না? আমাদের কর্তা বলেন যে পরনিন্দা
রসগােল্লার চেয়েও মিষ্টি। তা ভাই লক্ষ্মী দিদি আর একটী—
-বো।-দেখ দিদি বাবু—অমন করতে সোঁতমাসের খােরাক
যোগাতে হবে। পাঁচজনের বাড়ী কামাতে হবে জানত! দেরী
হলে লােকে রাগ করবে—বেলা প্রায় শেষ হয়ে এল।
তােমার পায়ে পড়ি বৌদি, আজকের মত যেতে দাও।
বিধূ' -তাের যে গলা, তােকে কি যেতে দিতে ইচ্ছে করে। এদের
যদি তেমন আয় থাকত, তাহলে তােকে, সোতমাস কি
বলছিস-সম্বচ্ছরের খোরাক দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা কাছে বসিয়ে
রেখে খালি তাের গান শুনতুম। তাের মিনসেকে বলতে পারিস
না—ক্ষুরের বদলে তার গলা দিয়ে বাবুদের কামাতে।
গলাখানিত নয়, যেন ক্ষুরখানি।
-বৌ।–না–তুমি ভারি দুষ্ট।
বিধু।—ভারি নয় একটু—তুই গা।
না-বে।
গীত।
মিসে আমার বেরল চোখে
ছিচ, কঁদুনে ছুচো মুখাে-
তবু আমি তারে ওগাে প্রাণের চেয়ে ভালবাসি।
জিলিপীর প্যাচের মত,
মনটা তার অবিরত,
তবু তার মুখের হাসি—দেখলে আমি সুখে ভাসি।
[ 1
কথায় দেয় স্বর্গে তুলে,
( ও তার ) কথা শুনে থাকি ভুলে,
সে যে আমার সর্বস্বধন আমি তার চরণের দাসী।
মাঝে মাঝে দেয় ঠ্যাঙ্গানি,
দেখায় কত চোখ রাঙ্গানি,
( যেই ) মিষ্টি কথায় তুষ্ট করে, অমনি আমি মুচকি হাসি।
বিধু।-(নাপিত বৌকে চুবড়ি দিয়া) শীগগির যা, শীগগির যা,
কৰ্ত্তা আসছেন।
-বৌ।—ওমা ! কি ঘেন্না!
[ প্রস্থান ]
(দুকড়ির প্রবেশ)
দুক।-বাহবা, বাহবা ! দিব্যি গলাখানি তৈরি করেছ ত? এবার
কোথাও বাগান টাগান হ'লে তােমাকেই মজরাে’ করতে
নিয়ে যাব। তােফ দু দশ টাকা উপরি রােজগার হবে।
বিধু।—কথার ছিরি দেখ। আমি বুঝি গাইছিলুম ? ভ্যালা মানুষ
যা হােক। হ্যা, তবে একটা দোষ করেছি বটে,-আমি নাপিত
বৌকে গাইতে বলেছি—সে গেয়েছে। তাইতে যদি দোষ হয়ে
থাকে—তবে এই গলায় কাপড়, এই জোড়হাত, আর এই “মশাই
ঘাটু হয়েছে, দয়া করে মাপ করুন।”
দুক।—কি আপদেই পড়েছি। বন্দুম এক শুনলে আর। বলি-
আমি ত বাহবা দিয়েছি-দোষ ক'রেছ বল্লুম কখন ?
বিধু।-বল্লে না ?
দুক।-বলেছি ?
[ ১ ]
বিধু।—বলনি ?
দুক।-যদি না বুঝে শুঝে চটেই যাও—তবে আর কি করব বল।
তবে ( সুরে) বেশ করেছি বলেছি।
বিধু।—দেখ, আমি মাথামূড় থুড়ব ব’ছি।
দুক।-দেখ, আমি ঠিক ঐ কথাটিই ভাবছিলুম। লক্ষ্মী টী আমার
খোড় একবার-এ অধম দাসানুদাসের ঐটী দেখবার বড়ই
অভিলাষ হয়েছে।
বিধু।-দেখ, আমি গালে মুখে চড়াব।
দুক।—আহা চড়াও. প্রেয়সী! তবু ও দুটী শুনাে গাল একট, ফুলে
উঠুক, চড়ের চোটে গালে একটু গােলাপী আভা ফুটুক।
(সুরে) আমি দেখে নয়ন সফল করি।
বিধু।-দেখ, আমি এখুনি বাপের বাড়ী চলে যাব বু’ছি। তখন
মজা টেরটী পাবে ।
দুক।—সেটী উভয়তঃই, বুঝলে প্রিয়তমে! আমি না হয় দিন দুই
হাত পুড়িয়ে ভাতে ভাত রেধে খাব, তােমাকেও কিন্তু দুদিন
বাদে এই চাদমুখের অদর্শনে বিরহ যাতনায়, গুড়, গুড়, ক'রে
ল্যাজ, গুটিয়ে এই হুজুরের কাছে হাজির হতে ই হবে। তা
মেঘ যখন উঠেছে, তখন হয়ে যাক্ এক পশলা। ঝিকে গাড়ী
ডাতে পাঠাবাে নাকি ?
বিধু।—গাড়ী কেন ? আমি হেঁটেই যাব।
দুক।-থুড়ী থুড়ী, তাইত যাবে ।
বিধু।—কেনই বা যাবনা ?
দুক।—আমিও তাই অনুমােদন করছি গাে।
বিধু।-আজ বাদে কাল বাগান বাড়ীতে গাইতে যাব—আর হেঁটে
বাপের বাড়ী যেতেই বুঝি যত দোষ ?
[ ১১ ]
'?
দুক।~দোষ নয়—তবে কি জানহেঁটে গেলে শ্রীচরণে ব্যথা
লাগবে—এই যা ভয়—তা এস তবে দুর্গা—দুর্গা।
বিধু !-ঐ ভাবনাতেই গেলে। পরের পায়ের ব্যথার ভাবনায়
নিজের মাথা ব্যথা পৰ্যন্ত তােমরা ভুলে যাও। যাই বল, আর যাই
কও, তােমাদের মত নামে পুরুষ কাজে মেয়েমানুষের অধমদের
চেয়ে আমরা ঢের ভাল।
দুক।—একথা বুঝলে প্রাণাধিকে!—আমি ছেড়ে আমার চোদ্দপুরুষ
স্বীকার করবে।
বিধু। ওঃ, আবার ঠাট্টা হচ্ছে। মেয়েমানুষকে অবলা বলে ব'লে
তাদের গায়ে জোর নেই মনে কর বুঝি ?
দুক। আমি! এই কথা মনে করব আমি! তুমি বল কি প্রেয়সী
স্বপ্নে ও না--স্বপ্নেও না। অন্যের যিনি যাই হােন—তুমি যে
আমার মােমের পুতুলটী কিম্বা অবলা নও, তা আমি—এই শােন
ན།-
গীত।
( আহা প্রিয়ে) কে বলে অবলা বালা তােমারে?
বচনে ক্ষুরের ধার, ওজনে হাতীর ভার,
ভােজনেতে নির্বিকার, খেতে পার আমারে।
তুলে পঁাচ সের মাছ কোট যবে বঁটীতে,
অথবা বসনখানি ক’সে এটে কটীতে,
প্রবেশ রন্ধনশালে, হাতা হাতে পান গালে,
সাজ দেখে ভাবি মনে কেহ নারে আঁটিতে ;
শুষ্ক নহে একবিন্দু, গহনার আশা সিন্ধু,
এবারে বায়না দেব দেখাে ডেকে কামা রে।
[ ১২ ]
জোরের প্রচুর সাক্ষী কর্ণ দুটী প্রায় ছিন্ন,
পৃষ্ঠে মম সুচিত্রিত তব সম্মার্জনী চিহ্ন,
রয়েছে সুন্দর আঁকা এড়াে সােজা অাঁকা বাঁকা
হাতের কি চেটো মরি যেন পােড়া ঝামা রে।
বসন বাসন রণে নিত্য মানে পরাজয়,
কথায় কথায় মােরে দিতে চাও যমালয়,
যাই বল করি তাই, কিছুতে না মন পাই,
কঁদুনীতে দুটী চোখে জাহ্নবী যমুনা বয় ;
যদিও বা ছুচো তুমি,
তব চামচিকে আমি
তবু কিনা বলহীনা মাের মনােরমা রে !
নেপথ্যে)—দুকড়ি দা বাড়ী আছ ?
দুক।-কে হে জগন্নাথ নাকি ?
( নেপথ্যে)।-হু-
দুক।-ভেতরে এস হে-
বিধু।-বঁচিলুম খানিকক্ষণ বক বক কর ।
দুক।—আচ্ছ। খানিকক্ষণের জন্য ঝগড়া মুলতুবী রইল। ঠাকুর
মশায়ের বিপদের কথা মনে আছে ত? একট, বাদে দুজনে
পরামর্শ করা যাবে। এখন ওঘরে যাও।
বিধু।—কেন রইলুমই বা—জগন্নাথ আছে—অপর লােক ত নয় !
দুক।—কি জান—এমন কথা হয়ত থাতে পারে, যা তুমি থাকলে
ও বলতেই পারবে না।
বিধু।—যে আজ্ঞে।
[ প্রস্থান ]
দুক।-কই হে জগন্নাথ ?
[ ১৩ ]
( নেপথ্যে)।এই যে যাই।
( জগন্নাথের প্রবেশ)
জগ—একলা যে, বউদি কোথা ?
দুক।আর ভায়া ! সে দুঃখের কথা আর কমােনা। তিনি আজ
সকালে আমার সঙ্গে ঝগড়া করে ঝিকে নিয়ে বাপের বাড়ী
চম্পট দিয়েছেন।
জগ।—সত্যি নাকি।
দুক।। হে, আমি কি মিছে কথা কয়বার লােক ? বিয়ে করার
মজাত টের পেলে না-দেখেই শেখ। আর খুড়ো আমার
তােমায় বিক্রী করবার যে দর হেঁকে বসে আছেন, তাতে যে
তােমার বিয়ে হবে তাও ত বােধ হয় না। বাবার হাতে পায়ে
ধরে কঁাদাকাটা করতে পার না ? সমাজ যে যায় যায়।
তােমরা উপযুক্ত ছেলে-তােমরা যদি একটু বুঝিয়ে সুজিয়ে না
বল তাহলে যে আর উপায় নেই। তা এখন হঠাৎ কি মনে
করে এসেছ বল ?
অগ।সে বড় বিপদের কথা দাদা। আমায় ত বাড়ী ছেড়ে পালাতে
হয় দেখছি।
দুক।কেন হে ?
জগ—আর কেন! তুমিত বাবাকে সুবিধে দরে বাড়ীখানা কিনিয়ে
দিলে—কিন্তু দাদা, আমার ও বাড়ীতে বাস কোন মতেই
পােষাবে না।
দুক।—কি রকম ?
জগ।—আর কিরকম! ভয়ে দাদা ভয়ে।
দুক।সে কি হে? বাড়ীতে ভূত টত আছে নাকি?
জগ-বাড়ীতে ভূত নেই কিন্তু দাদা বাড়ীর সামনে পেত্নী আছে।
[ ১৪ ]
দুক।-বুল কি হে ? চোখে দেখেছ না কাণে শুনে আঁৎকে উঠেছ ?
ব্যাপারখানা কি ভেঙ্গে বল।
জগ।রঘুবাবুর স্ত্রী আমায় টেকৃতে দিলে না।
দুক।-বটে—ভারি মজাত ! তারপর—তারপর—কেউ এখানে
নেই, ভাল করে চেঁচিয়ে বল না।
জগ—ছাদে ওঠবার যাে নেই, বারাণ্ডায় বেরােবার যাে নেই,
জানালা খােলদার যো নেই—যেন আমাকে পেঙ্গীতে পেয়েছে।
থালি এক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে। আমার
ওপর তার শুভদৃষ্টিই বল আর কুভদৃষ্টিই বল—যা হােক একটা
হয়েইছে।
দুক।-বরাত দাদা বরাত। বাবার জ্বালায় ত আর বিয়ে হবে না-
এখন স্বয়ম্বর হও। এমন সােণার চাদের মত ছেলে, আকাশ
থেকে যদি একখানা চাদ হাতেই এসে পড়ে, তা লুফেই নাও না।
আর উপরােন্ত কোন না দু একশাে ভরি সােণা,—বি, এ পাশ করে
বিয়েতে এর বেশীই বা কি রােজগার করবে বল ? বাবা টেকে
আছেন, ছ হাজার না হয় পাঁচ হাজারেই রফা হাে- তা সে
একরকম পুষিয়ে যাবে। পড়াশােনা বন্ধ করে, খাসা মনের
আল্লদে থাকবে। আর এই দেখনা পড়ে পড়ে চোখের মাথা
এমৃনি খেয়েছ যে চশমা না হলে একদণ্ড চলে না। এর পর
হয়ত বাপ মাকে চিনতেই পাবে না—কাজ কি হঙ্গামে এ
দাও ছেড়ােনা।
জগ-তামাসা নয় দাদা! যা হয় একটা উপায় কর। না হলে কি
শেষে চাবুক খেয়ে প্রাণ খােয়াব ?
দুক।—নাও কথা—তােমার দোষ কি যে তুমি চাবুক খেতে যাবে।
তুমি অন্য কিছুও ত খেতে পার।
[ ১৫ ]
জগ।-তুমি বুঝছনা দাদা। চাবুক আমাকে খেতেই হবে। ব্যাপার
একটু ও সুবিধের নয় ।
দুক।তাই ত তাহলে ভাবতে হল।
জ গা-ভাব দাদা।
দুক।—কতদিন থেকে এ কাণ্ডটা ঘটছে ?
জগ—এই দু তিন দিন কি চার পাঁচ দিনও হতে পারে।
দুক।-হু'-আচ্ছা, আমি যা বলব তাই শুনবে ?
জগ।খুব খুব-আলবৎ শুনব।
দুক।—আজ থেকে ছাদে ওঠা বা বারান্দায় বেরােনাে, বা জানলার
কাছে যাওয়া একদম বন্দ করে দাও। দিনের বেলা দু'একদিন
বাড়ী থেকে না বেরােলে চলেনা কি ?
জগ।-কেন চলবে না।
দুক।-বাবা, যে চেহারা। আমি পুরুষ মানুষ, আমারই চেয়ে থাকতে
ইচ্ছে হচ্ছে। দোষ যা ঐ খাঁদা নাকের। তা বিয়ে হলে ও
দোষও থাকবে না—টানের চোটে সিধে হয়ে যাবে। তবে এখন
যাও। কাল সকালে যা যা করতে হবে সব বলে দিয়ে আসব।
জগ।-আচ্ছা, তবে চলুম।
[ প্রস্থান ]
দুক।—যা আজ দেখছি আমার পােয়। বারাে ! সকালে পড়েছে
বারাে, এখন পড়ল পােয়া ! বিধুমুখী এদিকে এস।
( বিধুমুখীর প্রবেশ)
দুক।-শুছ—এবার ছুটিটা কাটবে মন্দ নয়! (সুরে) তুম তা না
না না দেরেনা দেরেন।
বিধু। আর তানানা করতে হবে না। কথাবার্তা শুনে আমার
পেটের ভেতর হাত পা সেঁধিয়ে যাচ্ছে। কি ঘেন্নার কথা।
দুক। চুপ কর চুপ, কর। রাে কাছে যেন কিছু বলে ফেললা না,
(
[ ১৬ ]
তাহলে কোন কাজ করতে পারবো না। এত কষ্ট করে এত
মাথা ঘামিয়ে খা মৎসব ভজছি, তা হাওয়ায় রাখা কৰ্পরের মত
ফুস্ মন্তরে উপে যাবে। এখন যে রকম গতিক-~তাতে তােমাকেও
আমার সঙ্গে দস্তুর মত খাটতে হবে।
বিধু। কপালখানা ! আমি মেয়েমানুষ গেরস্ত ঘরের বৌ, আমি এ
কেলেঙ্কারীর কি করব।
দুক।—আরে সত্যি সত্যি তােমাকে কি আর থিয়েটারে সাজতে
ব’ছি না সত্যিই মজরে করবার জন্য বাগানে নিয়ে যাচ্ছি।
তােমাকে দিয়ে যতটুকু কাজ বাগাবার তা বাগিয়ে নেব। তবে
আমাদের কিছু টাকা খরচ হবে। তা হােক—কাজটা নেহাৎ
অসৎ নয়। কিছু টাকা খরচ করেও যদি এর একটা কিনারা
করতে পারি ত মনে খুব আনন্দ পাব। ব্যাপারটা এখনও
শােধরাবার ভেতর আছে। এই সময় মানে মানে মান বাঁচাতেই
হবে।
বিধু। তা বেশ, পার ত ভালই হয়।
দুক।—সত্যি ব’ছি বিধুমুখী—আজ আমার ভারি স্ফুৰ্ত্তি হয়েছে।
মস্ত একটা মজা এসে আমার মগজের ভেতর দড়ী ছেড়া গরুর
মত হুটপাট হুটপাট করছে। এখন কিছু খেতে দেবে চল।
পেটের ভেতরটা ঠাণ্ডা না হলে—গরুটাকে থামাতে পারছি না।
বিধু। তা দিচ্ছি—তুমি কিন্তু আজ রাত্রেই গাড়ী করে ভট্টচায্যি মশা-
ইকে আর আনন্দময়ীকে এখানে নিয়ে এস।
দুক।—আরে সে কথা কি ভুলে গেছি। এখন চল।
বিধু।এস।
দুক। আর দেখ, ঐ নাপিত বৌকেও বােধ হয় দরকার হবে।
বিধু। দরকার হয়ত পাবে—সেজন্য হুজুরকে ভাবতে হবে না।
[ ১৭ ]
দুক।-যে আজ্ঞে ।
বিধু।—যেমন নিকামায়ে দঙ্গী—কাজটাও ঠিক তেমনি জুটেছে।
( উভয়ের প্রস্থান)
তৃতীয় দৃশ্য।
.
*।
.
যদুবাবুর বৈঠকখানার সম্মুখ ।
দুবাবু পায়চারী করিতেছেন এবং
চাটুষ্যে ও মুখুয্যে সঙ্গে সঙ্গে ঘুরিতেছেন।
যদু।—মধুপুর থেকে এসে অবধি আমার শরীরটা বদলেছে বলেছে
মনে হচ্ছে।
চাঁটু।-হেঁ হেঁ বড়বাবু মঙ্গলবারের বারবেলা-বতে নেই কিন্তু,
গিয়েছিলেন যা—শত্তরের মুখে ছাই দিয়ে এসেছেন ঠিক তার
ডবলটী হ'য়ে। বিশ্বাস না হয় বরং কাল সকালে দাড়ী পাল্লায়
একবার ওজন হয়ে দেখুন।
যদু।—ঐটী চাটুয্যে খােসামুদে কথা। ডবল নয়—তবে হা-কিছু
মােটা হয়েছি বলে মনে হচ্ছে।
চাটু।—( সপ্রতিভভাবে ) সত্যি সত্যি কি আর ডবল হয়েছেন,
, তিনদিন মধুপুর জেড়িয়ে কেউ ডবল হতে পারে ? সত্যি কথা
তে গেলে একটু যৎসামান্য মােটা হয়েছেন। আপনি যখন
বল্লেন তঞ্চন ও স্পষ্ট বলাই ভাল, আমার কাছে বড় বায়ু ঢাক ঢাক
গুড় গুড় নেই; বিশেষ আপনার কাছে মিছে কথা বলতে কেমন
যেন সমিহ বােধ হয়।
[ ১৮ ]
f
যদু।-হাজার হােক্ স্থান মাহাত্ম্য যাবে কোথায় ? তাহলে গায়ে
একটু মাংস লেগেছে ?
মুখু। আজ্ঞে তা আবার লাগেনি! আমি স্বচক্ষে দেখছি—আপনার
পায়ে প্রায় আড়াই সের পাঁচ পাে মাংস গজিয়েছে।
যদু। (স্তস্ততভাবে ) পায়ে আড়াই সের মাংস !
চাটু।—মাংস! (স্বগতঃ) এইবার মুখুয্যে জাতি কলে পড়েছে।
মুখ।- -(স্বগতঃ) কি বলতে কি বলে ফেললুম রে বাবাকছু পাবার
প্রত্যাশায় এত মেহনৎ করলুম, এখন সব দুঃখ যে হরিপালে যায় !
যদু। অ-তুমি বল কিহে ? কৈ কোন্ পায়ে ?
চাটু।কোন্ পায়ে ? (নিরীক্ষণ)
যদু।—পায়ে আড়াই সের মাংস! তা হলে গােদ হয়েছে বল ?
চাটু।--আজ্ঞে, তা আর বলতে- ওর ওপর আর পােয় পাঁচেক
গজালেই বাস--একেবারে গলগণ্ড ।
মুখু -(মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে) আজ্ঞে আঁ তাতা—তা-
হা-ভুভু-ভুল করে ফেলেছি বড়বাবু। এই দেখুন বড়বাবু
কান্ মাছ। ফট করে একটা বোস কথা বলে ফেলেছি। গায়ে
বলতে তাড়াতাড়িতে এই পােড়ার মুখ দিয়ে পায়ে বেরিয়ে
পড়েছে।
য ।।-তাই বল।
মুখু।-(স্বগতঃ) মানে মানে কথাটা খুব পালটে নিয়েছি বাবা।
}
যদু। তােমরা এমন অবােল তাবােল বকে—যে শুনে লোকের
আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হয়ে যায়। ( চাটুয্যে ও মুখুযাের লজ্জিত
ভাব প্রকাশ ) যা এখন চাটুয্যের ছেলের অন্নপ্রাশন’ করে বল ?
চাটু।-আজ্ঞে ঐ কথাটাই বলব বব মনে করছিলুম, এমন সময়
আপনি মনের কথা টেনে-
[ ১৯ ]
k
(দুকড়ির প্রবেশ )
দুকড়ি। প্রণাম করণ )
যদু।-আরে কেও বােজা যে! এস এস প্রতজয়স্তু।
চাটু ও মুখু।—প্রাতজয়স্তু।
যদু।—অনেকদিন তােমায় দেখিনি ভায়। তােমার গান না শুনে
প্রাণটা কেমন কঁাকা ফাকা বােধ হচ্ছিল।
চাটু।—(জনান্তিকে। মুখুয্যে। বরাতটা বােঝ। যদিও বা কথাটা
• পাড়লুম কিন্তু শেষ হতে না হতেই উপগ্রহ জুটে গেল।
পাঁচ, ব্যাটা রবাহুতের জন্যে আমাদের দিন চলা দায় হয়ে
দাড়াল।
মুখু !- জনান্তিকে) তাইত, ভাবছি হে।
দুকড়ি।-এখন কেমন আছেন বলুন?
যদু। ভাল নয় ভায়া। ঝ। করে মধুপুরটা ঘুরে এলুম—তাইতে
. শরীরটা যেন আরও ঝান খেয়ে গেছে। পাঁচরকম ব্যায়ামেই
আমাকে সালে। এখন তােমাদের পাঁচজনকে রেখে যেতে
পারলেই বাঁচি।
দুক।—কি বলেন ।
যদু।—আর কি বলেন ! ছত্রিশথানা ব্যায়াম নিয়ে যেন ব্যতিব্যস্ত
হয়ে পড়েছি আর কি সেদিন আছে ভায়া ? তখন তখন পাথর
পাথরই হজম, লােহার কড়াই—তাই কড়মড় করে চিবিয়েছি,
দুশাে ডন কসেছি, তিন শশা বৈঠক করেছি ; একাদিক্রমে
আধঘণ্টা যুগুর ভেজেছি ; আধমুনে ডম্বল জোড়াটা এই এমনি
করে তুলে এই এমনি করে—
(জম্বল ভাজা দেখাইবার জন্য মুষ্টিবদ্ধ করিয়া যেমন হাত ছড়াইলেন
অমনি দুইদিকে চাটুয্যে ও মুখুয্যের নাকে দুইটি ঘুসী পড়িল।)
.
'
[ ২ ] চাটু ও মুখ।-ওরে বাপরে বাপরে গেছি গেছি (নাকে হাত দিয়া উপবেশন)। যদু।—তাইত হে—আহা-হা অসাবধানে দুজনের নাকে লেগে গিয়েছে। বেশী লাগেনি ত ? উভয়ে।আজ্ঞে না তেঁমন লাগেনি। উ হু হু যদু।—হাঁহে দুকড়ি, তােমাদের পাড়ায় নাকি ভারি চোরের উপদ্রব হয়েছে ? দুক।বড় মনে করে দিয়েছেন বড় বাবু! আমাদের পাড়ায় নয়—এই এদের পাড়ায়। আবার সময় চাটুয্যে মশায়ের কি মুখুষ্যে মশায়ের বাড়ী ঠিক্ স্মরণ হচ্ছে না—কিন্তু চুরী যে হয়েছে তা নিশ্চিত। কেন না মহা হৈ চৈ পড়ে গেছে। রাস্তায় লােকে লােকারণ্য- চাটু।—বল কি হে দুকড়ি—আমার বাড়ী নাকি ? মুখু।“হঁাহে দুকড়ি বাবু—আমার বাড়ী নাকি ? দুক।আর কথা কইবেন না, শীগগির বাড়ী গিয়ে তদ্বির করুন। চাটু।-এ চোর! ওরে ব্যাটা-বড় বাবু চললুম,ব্যাটাকে দেখে নেব। (এ্যা—করিতে করিতে একপাটি চটী হাতে ও এক পাটী পায়ে দিয়ে বেগে প্রস্থান) মুখু।—ওরে ব্যাটা চোর—সর্বনাশ করবার আর জায়গা পাওনি। উঃ—দাড়া তােকে আজ মজা দেখাচ্ছি। দুইখানি জুতা পকেটে গুজিয়া বেগে প্রস্থান) যদু-তাই, দুকড়ি এযে মহা সমস্যার কথা হয়ে দাঁড়াল। সন্ধ্যে বেঙ্গা, চারদিকে লােকজন জেগে রয়েছে—তার ভেতর চুরী ! দুক।-আজ্ঞে চুরী টুরি মিছে কথা। আপনার সুঙ্গে একটা বিশেষ । গোপনীয় কY Cাছে ওই অছিল করে ওদের সরিয়ে দিলুম। ' [ ২১ ] । যদু।-বটে বটে (হাস্য) আমি বরাবর জানি—দুকড়ি ভায়া আমার খাসা আমুদে লােক। তুমি আসন ব'লে সেই জন্যেই ত তোমার ওপর আমার রাগ হয়। জগাই মাধাই দুটীকে আচ্ছা জব্দ করেছ ত! (উচ্চহস্য )। হা—তারপর গােপনীয় কথাটা কিহে ভায়া ? দুক।আপনি যদি রাগ না করেন—তা হ'লে বলি। যদু।—এই দেখ । আমি কি তােমাদের কাছে আজ নূতন হলুম নাকি ? বলি হঁ হে ভায়া! রাগতে কি কখন আমায় দেখেছ ? দুক।-আজ্ঞে তা দেখিনি বটে—কিন্তু আজ বােধ হয় দেখতে হবে। কারণ কথাটা বড় খারাপ। যদু।--নারায়ণ, নারায়ণ ! তুমি ভাল হয়ে এই মােড়াটার ওপর ব'সে ব'সে বল দেখি—আমিও বসে বসে শুনি। তবে খারাপ মানে অশ্লীল নয়ত ? দুক।—তা নয়—তবে যে খুব ভাল রকম শ্লীল তাও নয়। ( উভয়ের উপবেশন)। যদু।তাইত হে, তুমি যে আমাকে বড়ই ভাবিয়ে তুলে। তা শ্লীলই হােতূ আর অশ্লীলই হােক তুমি বলে ফেল। জানই ত আমি একটু বায়ুগ্রস্ত লােক। এখনি ভাবতে ভাবতে পেট ফুলে জয়ঢাক হয়ে উঠবে, সারারাত ছট্ফট্ করব, ঘুম হবেনা, তারপর সকালে এসে আমাকে যদি দেখ তু যদুনাথ ব’ল চিনতেই পারবে না। দুক।-কথাটা হচ্ছে কি-যে ধরুন আমি—কি ধরুন আর কোন লােক- যদু।—আচ্ছা ধরলুম। দুক।-( স্বগতঃ ) যা থাক্ কপালে বলে ফেলি।
[ ২২ ]
যদু।—তাইত হে ভায়া! চুপ কলে যে ? কতক্ষণ ধরে থাকব।
হক, —ত সে লােক যদি কোনও গৃহস্থের বৌ ঝির ওপর কু-নজর
দেয় আর যদি তাকে শাসন করা আপনার এক্তারের ভেতর হয়
তাহলে-
যদু।—( উঠিয়া) ব্যস আর বলতে হবে না—বাকিটা হচ্ছে তা হলে
কি করি? আচ্ছা—কি করি তােমায় দেখাচ্ছি। (একপাটী
চটী পা হইতে খুলিয়া) ত হলে তাকে থামে না বেঁধে পটাপট
এই চটী লাগাই। এ বড় সরেশ দাওয়াই দুকড়ি! এতে ভূতের
বাপের আদ্যশ্রাদ্ধ হয়, তার কু-নজর! বাপ বাপ বলে কু-নজর
পালাতে পথ পাবে না।
দুক।--মনে করুন সে যদি আপনার খুব প্রিয়পাত্র হয় ?
যই।-( রাগিয়া ) এ সমস্ত বিষয়ে আমি প্রিয়পাত্র ফ্রিয়পাত্র বাছি
। তবে শােন দুকড়ি ! আমি রাগিনা ত রাগিনা, কিন্তু যদি
রেগে যাই, তবে এমন বদরাগী তুমি আর একটী খুজে বার করতে
পারবে না। বিশেষ মানসন্ত্ৰমে ঘা পড়লে, আমার মেজাজ বুনাে
শুয়ারের মত হয়ে যায়।
দুকড়ি।তাহলে চললুম বড়বাবু!
দুক।—তা হলে চলুম কি ? সমস্ত ভেঙ্গে না বলে আমি কিছুতেই
তােমায় যেতে দেব না।
দুক।—অজ্ঞে আমি বড় কঠিন দিব্যি গেলেছি। যদি আপনাকে
রাগতে দেখি, তাহলে কিছুতেই কোন কথা বলব না—এ
আমার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। আপনি কিছু মনে করবেন না—আমাকে
যেতে দিন।
যদু।—এঃ আমি মনে করতুম তােমার কিছু গাম্ভীর্য আছে—কিন্তু
এখন দেখছি তা নয়, তুমি অতি হালকা লােক্। আরে ছ্যা ছ্যা
'
'
**
[ ২৩ ]
তামাসা বুঝতে পার না? তুমি সত্যি সত্যিই মনে করলে বুঝি
যে আমি রেগে গিয়েছি। (হাস্য )
দুক।—তাইত, বড় বাবু আপনি যে আমায় মহা সমস্যায় ফেললেন
এ যে বড় বিপদের কথা হয়ে পড়ল।
যদু।-বিপদের কথা ছেড়ে দাও দুকড়ি। বিপদ মানুষের পদে পদে,
ঘটেনা এই আশ্চর্য। বল ভায়া-লোকটা কে বলে ফেল।
দুক।—( মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে) মনে করুন এই ছােট বাবুই
যদি সেই লােক হন—তা-তা-
যদু।—ও মনে করা টরা শুনতে চাই না। আমাকে আর ভাবিও
-সত্য কথা বল দুকড়ি।
দুক।-আজ্ঞে সত্যিই বলছি সে লােক ছােট বাবু।
যদু।—( বিস্ময়ে নিস্তব্ধ হইয়া পরে) সত্য বলছ ?
দুক আজ্ঞে হা।
যদু।—( সক্রোধে) রবো ! বল কি দুকড়ি ? হতভাগার এত বড়
আম্পর্ধা হয়েছে ! আজ তার হাড় এক ঠাই, মাস এক ঠাই
করে রক্তগঙ্গা হয়ে মরব। নরাধমবংশের কুলাঙ্গার-এই
ভজন সিং !
( নেপথ্যে)।-হুজুর---
দুক।—( যদুনাথের পা ধরিয়া) বড় বাবু, দোহাই আপনার মাথা
ঠাণ্ডা করুন।
যদু।—মাথা ঠাণ্ডা ! মাথায় আগুন জ্বলে উঠেছে । তুমি কল কি ?
রাসূকেলকে ( Rascal ) আজ গো বেড়েন করে তবে ছাড়ব।
দুক!দেখুন, যা হয়ে যায়—তা আর ফেরে না। আপনি একটু
স্থির হােন, একটু চিন্তা করে কাজ করুন। আমি একটা মতলব
ঠিক ক'রে তবে আপনার কাছে এসেছি—সেটী আগে শুনুন।
।
[ ২৪ ]
হঠাৎ রাগ করে একটা কাজ করে ফেলা কি আপনার মত
বুদ্ধিমান লােকের উচিত ? সে বরং আমরা করতে পারি।
বিশেষ আপনি একবার চাণক্য পণ্ডিতের কথাটা মনে করে
দেখুন।
যদু।--ঠক্ বলেছ। একবার ভেবে দেখা কর্তব্য। সামলাতে হল।
তাইত ! দুকড়ি, আমার যে কান্না পাচ্ছে। রঘে। যখন এক
বছরের—তখন বাবা আর সৎমা দুজনেই মারা গেলেন। আমরা
কি রকম করে যে তাকে মানুষ করেছি, তা আমরাই জানি।
সে যে আমার বৈমাত্র ভাই এ কথা তাকে বুঝতেই দিইনি।
নিজের মত যত্ন করেছি, সহােদর ভায়ের চেয়ে ভালবেসেছি,
ছেলে নেই, সুতরাং সমস্ত আদর তার ওপর ঢেলে দিয়েছি, সেই
রঘাে শিব না হয়ে কিনা বানর হ’ল ।
( দরােয়ানের প্রবেশ।)
দরাে।-হুজুর।
যদু ।--কুছ পরােয়া নেই—তাে যাও। ( দরােয়ানের প্রস্থান)
যদু।--রাগ টা কিন্তু বডড সামলে নিয়েছি।
দুক ।খুব ভাল কাজ করেছেন। রাগ চাল।
যদু।- ঘিশেষ তােমার ঐ এক কথাতেই—ঐ চাণক্য পণ্ডিতের
কথাতেই সালে গিয়েছি। পঞ্চ বর্ষাণি লালয়েৎ, দশ বর্ষাণি
তাড়য়েৎ, ষােড়শে বাচরে তারপর চাণক্য মহাশয় যদি জ্যোতিষ
জানতেন, আর আজকাল বাজার যে রকম দাঁড়াবে সেটা বুঝতে
পারতেন, তাহলে লিখতেন—তদূর্ভে খােসামুদি করেৎ, নচেৎ
তস্য শ্রীহস্তে অপমানং ভবেৎ অথবা উত্তমং মধ্যমং সভেৎ।
তা হলে কি উপায় করা যায় ?
[ ২৫ ]
?
দুক।-আজ্ঞে সেই পরামর্শের জন্যেই ত এসেছি। আমি একটী অতি
সুন্দর মতলব ভেজেছি।
য।--কি বল দেখি
দুক।-আজ্ঞে চুপি চুপি বলতে হবে। বৈঠকখানার ভেতর চলুন।
কি জানি যদি কেউ শুনতে পায়, তাহলে সব ফেঁসে যাবে।
যদু।-তবে এস।
( উভয়ের গৃহ মধ্যে প্রবেশ।)
চতুর্থ দৃশ্য।
রঘুনাথের কক্ষ।
(বিজলী আসীনা—নাপিত বৌএর প্রবেশ।)
বিজ।—কিলাে নাপিত বো—আজ যে বড় অসময়ে আমাদের বাড়ী
এলি ?
বৌ ।—একটা কাজে এসেছি ছছাট মা। একজন মানুষ অনেক
করে হাতে পায়ে ধরে কাকুতি মিনুতি করতে নাগল—তা না
এসে কি করি বল।
বিজ ।--বটে? তা তুই অমন চমন করে চারদিকে চাইছিস কেন?
ভয় পেয়েছিস নাকি ?
না-বো।-না তা নয়, তবে কিনা—তবে কিনা—এই
বিজ।—আবার চুপ করলি যে?
না-বো। চারিদিক দেখিয়া ) এই এই আঁচল হইতে চিঠি বাহির
করিয়া) এই নাও ছােট মা।
[ ২৬ ] বিজ।--চিঠি কিসের ললা ? কে দিয়েছে লো ? না-বো।—সে আমি বলতে পারব না ছােট মা! তা আমাকে মেরেই ফেল আর কেটেই ফেল। তুমি চিঠিখানা পড়ে দেখ । সে নােকের নাকি ভারি বিপদ। তােমার কাছ থেকে লুকিয়ে কিছু টাকা আনতে বলেছে। বডড হাতে পায়ে ধরে বলেছে ছােটমা। বিজ।আচ্ছা সবুর কর। আগে চিঠিতে কি লিখেছে পড়ে দেখি। তার পর যা করবার করব। (স্বগতঃ ) তাইত, এযে জগন্নাথ বাবুর চিঠি! (পত্র পাঠান্তে মৃদু হাস্য) না-বো।-হাসছ যে ছােটমা ? বিজ।হাসির কথাই লিখেছে যে লাে। তামাসা করেছে বুঝলি? অন্য কিছু নয়। তুই একটু বােস—তােকে একটা জিনিস দোব। ( একখানি নােট আনিয়া) এই নে দশ টাকার নোেট দিলুম- সন্দেশ খাবি-বুঝলি ? কিন্তু আমার মাথা খাস, চিঠির কথা যেন আর কারো কাছে ব'লে ফিলিস নি। না-বে।-আমাকে কি তুমি তেমনি কঁচা মেয়ে পেয়েছ ছােট মা? বিজ-তবে তুই এখন যা। তাকে বলিস যে আমার ছােট ভায়ের বড় অসুখ। আমি পরশু বাপের বাড়ী যাব। আমি পর বাপের বাড়ী যাব, বেশ বুঝিয়ে ববি-বুঝেছিস ? কিন্তু খবরদার আর কারাে কাছে কিছু ভাঙ্গিস নি। -বো।-তুমি কিছু ভেব না। আমি যাকে বলবার ঠিক তাকেই বলব। ঘুণাক্ষরেও কেউ জানতে পারবে না। বিজ ।--আচ্ছ। তবে যা। [ নাপিত বৌয়ের প্রস্থান ] ( স্বগতঃ ) নাপিত বৌকে দিয়ে ত ঈসারায় এক রকম বলে দিলুম। নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে। মাগীটা কাকেও কিছু বলে দেবে না ? —তা দেবে না। আর যদিই বলে—তাতেই বা কি ? চিঠিখানা * ;
[ ২৭ ]
পুড়িয়ে ফেললেই ল্যাঠা মিটে যাবে। কিসের চিঠী—তাই যদি
কেউ না জানতে পারে, তবে ভয়ই বা কিসের আর ভাবনাই বা
কিসের। আর একবার পড়ে দেখি। (পত্রপাঠ)
‘সুন্দরি। শেষে কি আমি পাগল হইয়া যাইব—তাহাই দেখিতে
তােমার ইচ্ছা হয়েছে ? জানিনা তােমার মন পাষাণে গড়া কিনা ?
আমার অবস্থা প্রকাশ করা দুস্কর। জাগরণে তুমি,
নিদ্রায় তুমি,
শয়নে তুমি, স্বপ্নে তুমি। বই খুলিয়া পড়িতে বসি—প্রতি অক্ষরে
তােমাকেই দেখিতে পাই। আমি কোন মতেই মনকে প্রবােধ
দিতে পারিতেছি না। এক একটা দিন এক একটী বৎসরের মত
কাটিতেছে। যদি তুমি সত্য সত্যই আমায় ভাল বাসিয়া থাক—
তবে পরশু বাপের বাড়ী যাবার ভান করিয়া আমার সঙ্গে চলিয়া
আসিবে। আমি গাড়ী লইয়া দরজায় মেয়েমানুষ সাজিয়া
দাড়াইয়া থাকিব। আসিবে কি ? যদি না আস, তাহা হইলে
বুঝিব যে তুমি আমায় বিন্দুমাত্রও ভালবাস না। আর জানিবে
যে তাহা হইলে আমি ঠিক্ মরিয়া যাইব। ইতি
“তােমারি !”
বিজ ।—চিঠিখানা আগে পুড়িয়ে ফেলি। তারপর কি করব না
করব ভেবে ঠিক করা যাবে। (চিঠি জ্বালাইয়া ফেলিল। কিন্তু
মনে কেমন ভয় হচ্চে ; নাঃ--ও কিছু নয়। ভয় কিসের?
কিন্তু হাত পা যেন কঁপছে। ভাববারও বেশী সময় নেই।
মনটা কিন্তু ছটফট ক’চ্ছে—বুকটা দুড়, দুড়, করছে।
[ প্রস্থান,
-
পঞ্চম দৃশ্য।
রঘুনাথের বৈঠকখানা।
মধু, হরিশ, দুলাল ও গােলক।
গােল–তাইত হে তাস জোড়টি। গেল কোথায় ? Fornothing
এইরকম এড়িয়ে গড়িয়ে time নষ্ট করতে Really আমি বডড
pain feel করি।
দুলা-তােফা গড়াচ্ছি বাবা। কেন দেদারি কর ? আমরা হচ্ছি
পিপু ফির দল।
গােল।-দেখ, দুলাে বেশী চালাকি করবি ত মার খেয়ে মরবি।
আমাদের partyর ভেতর most idle হচ্ছিস তুই। তুই ঠিক
twentieth centuryর কুম্ভকর্ণ—তাইবা কেন ? worse than
him, তার চেয়েও এককাটি সরেশ। সে তবু সত্যি সত্যিই
ঘুমিয়ে থাকৃত, তাের না আছে ঘুম না আছে কিছু, only চোখ
বুজে পড়ে থাকতে পারলেই ভারি আরাম। দুঘা লাথি খেলেও
উঠতে ইচ্ছে করেনা! ঈশ্বর বিদ্যেসাগর বেঁচে থাকলে তােকে
দেখে—পদার্থ চার প্রকার লিখত। Poor fellow মরে গেছে
তুই বেঁচেছিস”।
দুলা।-কেন বাবা মিছে ফ্যাচাং করছ। আমি পদার্থের ভেতর নয়,
অপদার্থ। তা হলে খুসী ত ?
মধু।—কেন ওটার সঙ্গে মিছে বকে ম’রছ গুলু মিয়া ?
হরিশ ।-কেরে মধ্যে নাকি রে ? , একটা মিষ্টি দেখে ভৈরবী টৈরবী
গােছ গান গা না ভাই।
৫
Y
৮ ২৯ ।
মধু।—শুয়ে শুয়ে ল্যাজ, নাড়তে হবে না। গান শুবি ত উঠে বোস্।
বায়া তবলা নেসঙ্গত কর।
হরিশ।-হেঁইও মারে জোয়ান এই উঠেছি। চালাও ভাই এইবার
গােল।—এই দুলে উঠে বােস।
দুলা।-না পাঁচ ব্যাটা দুষমনে মিলে, একটু শুয়ে যে আরাম করব,
তাও করতে দেবে না। বেশ ঘুমের আমেজ আসছিল।
গােল।-Don't you feel shame ! এই মােটে সন্ধ্যে, এর মধ্যে ঘুম
কি my dear ? তাের হাড়ে ঠিক্ grass—যাকে বাংলায় দুৰ্ব্বো
বলে তাই গজাবে।
দুলা।-ছােট কথা কেন চাদ ! ( উঠিয়া) ব্বো বহুদিন গজিয়েছে,
এখন বড় দেখে অশ্বত্থ গাছ টাছ গজায় ত হাত পা ছড়িয়ে
হাওয়ায় শুয়ে থাকি।
গোেল।-Go on modho !
গীত।
(বড়) মুখরােচক পরনিন্দা জিনিসটী।
রসগােল্লা কোথায় লাগে, বােম্বাই আম বা কি মিষ্টি ।
দুটো কাজের কথা কও—শুবে না তা কেউ,
কর পরের নিন্দে
দেখবে সেথা উঠবে লােকের ঢেউ;
শুনলে সদ্যঃ স্বর্গপ্রাপ্তি ; করেছে যে এর সৃষ্টি
বলিহারী তারে, হই তার খুরে খুরে ভূমিষ্ঠি।
দুলা।-বারে ক্যাবল বেড়ে গেয়েছিস,—তুইও ঢ্যাবলা বেড়ে
বাজিয়েছি ( উভয়ের মাথায় চপেটাঘাত) এই প্যাল নে।
;
[ ৩ ] মধু।—আচ্ছা ছােট কৰ্ত্তার ব্যাপার কি বল দেখি? আজ কাল। দেখছি রােজ পাঁচটার সময় বেরােয় আর আটটা না বাজলে বাড়ী ফেরেনা। এর ভেতরে কিছু আছে। পেছু নিতে হ’ল— ( রঘুনাথের প্রবেশ) দুলা।—এই যে ছােট কর্তা নাম করতে না করতেই হাজির! অনেক দিন বাঁচবে বাবা। রঘু।-(মাথায় হাত দিয়া) উ হু হু উ হু হু। গােল।—কি হয়েছে মাষ্টার ? রঘু।—উ হু হু বড় মাথা ধরেছে। গােল।-Headache বলতা- রঘু।-ওরে বাবা গেলুম রে—তােমরা ভাই আজ সব বাড়ী যাও। ওহো হাে হাে হাে। মরে গেলুম-গেলুম-গেলুম। দেখ গােল মাল করলে এ মাথা আমার কিছুতেই ছাড়বে না। ওরে বাবারে। হরিশ।-একটু ল্যাভেণ্ডার গােল।-না না না একটু অডিকলােন ন্যাকড়া ভিজিয়ে মধু।—না হয় একটু গােলাপজল দুলা।—কি না হয় একট- রঘু।—উহুহু—সে যা হয় আমি করছি তােমরা যাও, উহুহু দুলাে।তাইত ঘােটকর্তা, তােমার এমন অসুখ দেখে আমাদের চলে আওয়াটা কি ভাল দেখায় ? অন্ততঃ না হয় চা খাওয়াটা পৰ্যন্ত থাকা যাকু---তারপর যাওয়া যাবে। রঘু।—ওহহা হাে হো, মাফ কর ভাই, আমাকে একলা থাকতে দাও। উহুহু আমি আর কথা কইতে পারছি না। সে গেল---মাখা খসে গেল। ওরে বাবা গেলুম রে---
[ ৩১ ]
গােল। বলছিলুম কি---
যু। কাল বলে। ভাই। উ-হু-হু-হু, মদি বেঁচে থাকি কাল শুব
ওইহা হাে হো---পিন্ বিঁধছে-~-ওফ, ওফ।
মধু।-তবে এস হে।
রঘু 'যাও ভাই কিছু মনে করনা। ও হো হো হাে-ওরে বাবা-
গেলুম যেরে-ওঃ হােঃ হােঃ-
( রঘুনাথ ব্যতীত সকলের প্রস্থান)
( গিয়াছে কিনা দেখিয়া ও দরজা বন্ধ করিয়া )
যা বঁাচা গেছে—আর কি ? কেল্লা মার দিয়া—হেঁ হেঁ হাজার
হােক্ মেয়েমানুষ ত বটে! যাবে কোথা ? আর আমার বুংটা
যা একটু ময়লাটে ময়লাটে—কিন্তু তাতে কি আসে যায়+চহারা-
খানা চটকদার আছে ত ? ইয়া গেফি, এ্যায়সা টেরি, গা থেকে
ভন্ ভন্ ক'রে এসেন্সের গন্ধ বেরােচ্ছে তর তর করে হাওয়ায়
মিশে, চারদিক মাৎ করে তুলেছে—এতে কি মেয়েমানুষ ঠিক
থাকতে পারে ? কেয়াবাৎ চেনের বাহার, হাতে হাতির দাঁতের
হ্যাণ্ডেলওলা ছড়ী; গায়ে সােনার বােতাম আঁটা-ডবল ব্রেষ্ট সার্ট
এ সব লােভ সামলান কি অমনি মুখের কথা ? যাবে কোথা ?
ক্যায়সা আড়চোখের চাউনি ; মাঝে মাঝে রুমাল দিয়ে মুখ
মােছ, সিগারেটে মৃদুমধুর টা---মন ত ট’লতেই হবে। আজ
যখন জালা গলিয়ে চিঠি ফেলে দিয়েছে-তখন বুঝছি কাজও
হাসিল হয়েছে। তাইত বলি—আশাটা কি মাঠেই মারা যাবে ?
এও কি কখন সম্ভব ? হু’ -- চিঠিতে যখন ( Scent ) সেন্ট
মাখান রয়েছে, তখন খবর যে ভাল তার আর ভুল নেই। ওরে
রামা-
নেপথ্যে।-হুজুর।
,
[ ৩২ ]
৬.
.
রঘু।—এক ছিলিম তামাক সাজ।
নেপথ্যে।-যে হুকুম।
রঘু।—কেউ যদি আমায় খোঁজে ত বলি-বাবু বাড়ী নেই।
নেপথ্যে। বহুৎ আচ্ছ। হুজুর।
রঘু।-আচ্ছা এইবার পড়া ষাকৃ—কি লিখেছে। ( পত্রপাঠ )
“প্রিয়তম!
যে দিন থেকে তােমাকে দেখিছি সেই দিন থেকে আমার আহার
নিদ্রা বন্ধ হয়ে গেছে।
হাঃ হাঃ হবে না? বন্ধ হতেই হবে। আমারও যে ঐ দশা-
তারপর
কি করে যে তােমার সঙ্গে মিলন হবে এই ভেবে ভেবে
আমি যেন শুকিয়ে যাচ্ছি। আহা তুমিও হয়ত আমার ভাবনায়
কতই কাহিল হয়ে যাচ্ছ”।
হু উ দরদ দেখেছ ? আচ্ছ। তারপর
“আমার জন্যে ভেবেই বােধ করি তোমার রংটা আরও ময়লা হয়ে
যাচ্ছে। কারণ ক'ল তােমাকে দেখে মনে হ’ল-যেন একটা
ভূত দাড়িয়ে আছে।”
ঠিক লিখেছে। (আরসীতে মুখ দেখিয়া ) হুকাল থেকে
ভাল করে সাবান মাখতে হবে। আচ্ছা করে বালি দিয়ে
ঝম দিয়ে, নারকোল ছােবড়া দিয়ে গা ঘষতে হবে । আচ্ছা
একবার ডাক্তারের কাছে গেলে হয় না? সাবান খেলে রং ফস।
হয় কিনা জিজ্ঞাসা করাটা দরকার হয়েছে। যা তারপর
“আমি যে কি করব তা বুঝে উঠতে পারছি না। তুমি একটা
উপায় ঠিক কর।
হাজার হােক তুমি ব্যাটাচ্ছলে”।
তাইত! এটা কেমন কেমন লাগল যে ! ব্যাটাচ্ছেলে লিখলে
* [ ৩৩ ] কেন ? বােধ হয় ভুল হয়েছে। ( চিন্তা ) ওঃ ঠিক হয়েছে (হাস্য) হাজার হােক ভটচাযের মেয়ে কিন—ব্যাকরণে জ্ঞান কত। সেই যে কি একটা সন্ধির সুত্র আছে—ঠিক মনে আছে —তা নাই আসুক—কিন্তু আছে। যেমন ‘ব্যব?—ছিল ‘ছেদ- ব্যবচ্ছেদ, তেমনি ‘ব্যাটা ছিল ‘ছেলে’-ব্যাটাচ্ছেলে। হাঁ হাঁ বাবা মনে পড়েছে—একে নিপাতের জন্য সিদ্ধ বলে। যা তার পর “আর কতদিন এ যমযাতনা ভােগ করব? সকলই তােমার হাত। তুমি গরু—আমি ল্যাজ মাত্র।” আহা ! লেখাপড়া জানার অনেক গুণ। কি সুন্দর উপমাই দিয়েছে। যাক—শেষ করে ফেলা যাক- “বাবা কাশী যাবেন। আমি তার ছেড়া ক্যাম্বিসের ব্যাগে। কাপড় চোপড় গুছিয়ে রেখে দিয়েছি। যদি সত্যই আমাকে ভালবাস, তবে পরশু রাত ন'টার সময় অতি অবশ্য আমাদের বাড়ী আসিবেই আসিবেনইলে আমি ঠিক মরিয়া যাইব।” লেগে যা গুরাে-ব্যস তৎপরে- “দবােজায় আস্তে আস্তে ঘা দিলেই দরােজা খুলিয়া দিব। তুমি আসিলে দুজনে মিলে একটা মতলব ঠিক করা যাবে। এসাে এসাে এসাে তাের মাথা খাই-ইতি- “তােমারি যাক এতক্ষণে ভাবনা দুর হ’ল। কিন্তু পরশু রাত নটা—উঃ অনেক দেরী—প্রায় সাড়ে সাতচল্লিশ ঘণ্টা। এতটা সময় কাটবে কি করে ? ভাবলেই বা কি হবে ? যা করে থােক কাটাতেইহবে। এদিকে বেশ মজাও হয়েছে। পর বিয়ের দিন আছে।
[ ৩৪ ]
কোথাও বরযাত্র যেতে হবে বলে বেরিয়ে পড়লে কেউ সন্দেহও
করতে পারবে না।
নেপথ্যে।হুজুর তামাকু লে আয়।
রঘু।—সবুর কর, দরজা খুলে দিই।
[ প্রস্থান ]
ষষ্ঠ
দৃশ্য।
ভট্টাচার্যের বাটী।
( আনন্দময়ীর প্রবেশ)
আনা—সত্যিই তাে দুকড়ীদাদা ঠিক বলেছে। আত্মঘাতিনী হওয়া
মহাপাপ। একেত কত পাপ করছিলুম তার ফলে ভগবান দেবতার
মত স্বামীকে কেড়ে নিলেন। আত্মহত্যা করে আবার পাপের ভরা
বাড়াবাে কেন ? মা স্বর্গে গেছেন, দাদা বিদেশে থাকেন, স্বামীর
ঘরে থাকলে বৃদ্ধ পিতার কি উপায় হবে সেইজন্য ঈশ্বর স্বামীকে
তার কাছে টেনে নিয়েছেন। দুকড়ি দাদা ঠিক বলেছে। বাবার
সেবা করব, হরিনাম করব, মনে মনে স্বামী দেবতার চরণ ধ্যান
করব এই আমার কাজ। কিসের শব্দ হচ্ছে না? হাঁ, গাড়ীর
শব্দ। যাই, আলােটা নিবিয়ে দিয়ে ঘরের ভেতর যাই।
[প্রস্থান]
( বিজলীকে লইয়া পুরুষবেশে বিধুমুখীর প্রবেশ)
বিধু।—একটু সাবধানে এস অজানা অচেনা জায়গা। অন্ধকারে
যেন হোঁচট খেয়ে পড়ে ময়ােনা।
[ ৩৫ ] বিজ। ভাই বড় অন্ধকার। তুমি আলো জ্বল। বিধু।—ইস—তােমার যে হাত কাঁপছে। ভয় পেয়েছ নাকি? বিজ।না—ভয় কিসের ? তা এখানে কেউ এসে পড়বে না ? বিধু।—রাম বল। এখানে আবার কে মরতে আসবে ? এ একটা কতদিনকার পড়ােবাড়ী। এ বাড়ীর সন্ধানই কেউ জানেনা। আর তা না হলে কি একজন বড় মানুষের বৌকে নিয়ে এখানে আসতে আমার সাহস হত ? বিজ।—তা ভাই তুমি আগে আলাে জ্বাল। বিধু।—এই যে আলি। (আলাে জ্বালিল) বিজ।—ওমা ! একি মুক্তি। গাড়ীতে বসে বসে ত দিব্যিটা সেজেছ! সৰ্ব্বরকে আর কি! তাই বুঝি গাড়ীতে অমন খু- খাস খুশু-খাস্ শব্দ হচ্ছিল ? মােচার মত গোঁফ, কাবলীদের মত দাড়ী, দবােয়ানদের মত মস্ত একটা পক্কড়-খুলে ফেল ভাই। এ পােড়া আলাের চেয়ে অন্ধকারে বেশ ছিলুম। তােমার চেহারা দেখে আমার ভয় পাচ্ছে। বিধু।—ভয় কি ? ভদ্রলােকের মেয়ে গেরস্তর বৌ, একজন পর- পুরুষের সঙ্গে—একখানা চিঠির জোরে, রাত্তিরে একলা বাড়ী থেকে বেরিয়ে এসেছ। এত বড় যখন বুকের পাটা তখন ভয় করলে চলবে কেন বিধুবনী ? বিজ।—না ভাই তুমি অমন লাঞ্ছনা দিয়ে কথা বলােনা। ওতে আমার মনে কষ্ট হবে। দুটো মিষ্টি কথা বল। আমার বুকের ভিতর কেমন গুরু গুর করছে। বিধু।—প্রথমটা অমন হয় বুঝলে? আজ প্রথম দিন কিনা, তাই বুকের ভেতর অমন করছে। দুদিন বাদে ও গুরগুরূনি আপনিই হয়ে যাবে। আচ্ছা আমি যদি এখন মিষ্টি কথা না বলে
[ ৩৬ ]
খুব গালাগালি দি, খুব কড়া করে দুশ কথা শুনিয়ে দিই,
খুব যাচ্ছেতাই অপমান করি—তাহলে তুমি কি কর ?
বিজ ।-দেখ, তােমার হাতে ধরে বলছি অমন করনা। তােমার
কথা শুনে আমার মন কেমন করছে—আমার কান্না পাচ্ছে।।
বিধু।—আর যদি কঁাক করে গলাটা টিপে ধরি? এখানে মা বাপ,
বতে কেউ নেই। চাচালে কেউ শুনূতেও পাবে না।
লােকে
আবার বলে—এ বাড়ীতে একটা গলার দড়ে ‘বেহ্মদত্যি আছে।
সে অর্ধেক রাত্তিরে বেরিয়ে এখানে যে থাকে তার ঘাড় মটকে
রক্ত খায়। হাঃ হাঃ হাঃ (হাস্য )
বিজ ।—ওগাে তােমার পায়ে পড়ি-
বিধু।—ছিঃ ছিঃ পায়ের খুলে দাও—আমরা দুষ্ট লােক বটে, কিন্তু
বামুন কায়েত মানি। তােমরা বামুন-আমরা কায়েত, পায়ে
পড়ি বললে জিব, কেটে দেব।
বিজ ।-না ভাই, দয়া করে তুমি আমাকে বাড়ী পৌঁছে দাও।
বিধু। মাইরি আর কি! বাড়ী ফিরিয়ে দিয়ে আসবার জন্যেই প্রায়
এনেছি কি না ? কি জন্যে তোমায় এখানে এনেছি তা জান ?
বিজ।—'জনে মিলে পরামর্শ করব বলে।
বিধু।-কি ভুল তােমার। এখনও তুমি সুখের আশা করছ ? কেন
এনেছি এই দেশ। (ছােরা বাহির করিয়া বিজলীর হাত ধরিয়া)
এই ছাের তােমার বুকে বসাব। দেখতে পাচ্ছ কেমন চক্ চক্
করছে। এর এক ঘায়েই অক্কা চিত্তির হয়ে যাবে। এই হাের।
দিয়ে আমি তােমার মত অনেককে খুন করেছি। অমন ঠক্ ঠক্
ক'রে কাপছ কেন? যা করেছ তারত আর চাৱা নেই।
বিজ-ওগাে আমার ঘাট হয়েছে, আমায় রক্তে কর।
বিধু।-এখন ঘাট হয়েছে বলে কি আর চলে?. কি আশ্চর্য!
[ ৩৭ ]
বউ মানুষ—স্বামী দেবতাকে ছেড়ে আবার পর পুরুষে লােভ !
তেমনি সাজা পাবে। এমন মজাটা করেছি, যে তােমায় খুন
করে, গয়নাগুলি খুলে নিয়ে হাতে হাতে চলে যাব, অথচ
কেউ কিছু জানতেই পারবে না।
বিজ ।-ওগাে তুমি আমার বাবা। আমায় বাঁচাও, ছেড়ে দাও,
রেখে এস। এমন কাজ আর আমি কখন করব না।
বিধু।—আমি বাবা হই আর না হই, যার দিকে নজর দিয়ে এইবিপদে
পড়েছ তাকে বাবা ব’তে হবে।
বিজ।—ওগগা সে আমার বাবা। সােয়ামী ছাড়া সকলেই আমার
বাবা। তুমি আমায় বাড়ী নিয়ে চল।
বিধু।--যদি এক কাজ করতে পার, তবে তােমায় বাড়ী রেখে
আসতে পারি।
বিজ কি ক'বুতে হবে ?
বিধু।—তােমার স্বামীটাও তােমার দশায় পড়েছেন।
যেমনটা করতে বৰ তেমনি যদি ক’তে পার তবে তােমার
মত তিনিও ঢিট হয়ে যান। আর তােমার মান উলটে আরও
বেড়ে যায়।
বিজ।–কি করব বল।
বিধু।—সত্যি করছ ?
বিজ।-আমি মা দুর্গার দিব্যি গেলে বলছি-তুমি আমায় যা বলৰে
আমি তাই করবাে।
বিধু।রসো—আগে তােমার ভয়টা ঘােচাই। (ছদ্মবেশ ত্যাগ)
এখন চিনতে পারছ ?
বিজ।—ওমা, বােস দিদি যে! দিদি আমায় একট, জল দাও, একট,
হা কর।
[ ৩৮ ]
বিধু।-আনু দিদি এক গেলাস জল আর একখানা পাখা নিয়ে এস।
( আনন্দময়ীর প্রবেশ ও জল পাখা রাখিয়া প্রস্থান)
বিধু।-(বাতাস করিয়া) কেমন, এইবার একট, ঠাণ্ডা হয়েছ ?
বিজ। দিদি।
বিধু।—এখানে গাড়ী হাঁকিয়ে কে আমাদের নিয়ে এসেছে জান ?
বিজ।—তােমার কর্তা নাকি
বিধু।-গরীব মানুষ আমরা ; কর্তা ছাড়া আর দোস্র লােক
কোথায় পাব ভাই! তােমার ইহকাল পরকাল নষ্ট হয়ে যায়
বুঝতে পেরে, আমরা দুজনে পরামর্শ করে তােমাকে তােমাদের
পুরুত মশায়ের বাড়ীতে নিয়ে এসেছি।
বিজ।-ছিঃ ছিঃ, তাহলে ত সকলেই জানতে পেরেছে।
বিধু।—বেশী জানাজানি হবার সময় দিয়েছি কি! জানি-আমি,
পুরুত মশায়ের মেয়ে আনন্দময়ী আর জানেন নামার তিনি।
ৰিজ।দিদি আর আমায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে না। এ মুখ
আর আমি কাকেও দেখাব না।
বিধু।-কেন দেখাবে না? মুখে ত কালী মাখবার ফুরসােৎ
দিই নি।
বিজ।—আমার বিষ খেয়ে মরুতে ইচ্ছে করছে।
বিধু।-এখন আর অমন অন্যায় ইচ্ছে হচ্ছে কেন বােন? আমরা
সৰই শুধরে নিয়েছি। বেচালে চ'লে হয়ত একদিন সত্যিই
বিষ খেতে হত! কিন্তু দেখাে বােন—আর কখন যেন এমন
কাজ না হয়।
বিজ ।আবার ! এই নাক কাণ ম’ছি দিদি।
বিধু।—এখন সােয়ামীকে দোবস্ত কর আনন্দময়ীর ওপর তার
নজর দোষ হয়েছে। তাকে বেশ মিঠে মিঠে করে দু’কথা
[ ৩৯ ]
শুনিয়ে দিয়ে হাতটা ধরে যুগলে মিলে হাসতে হাতে বাড়ী
যাও। আমরাও দায়ে খালাস হয়ে হাসতে হাসতে ঘরে ফিরি।
বিজ।—তিনি কি এখানে আসবেন ?
বিধু।—আসবেন কি এলেন বলে।
বিজ।—আমার যেন ভাই ভ্যাবাচ্যাকা লেগে গেছে।
বিধু।—সে কথা শুনব না। মন বেঁধে কাজ ক’তেই হবে।
বিজ।-পারব ত ?
বিধু। কেন পারবে না ! নাম কাটা সেপাই হতে পারছিলে আর
আসল কাজ পারবে না ? খুব পারবে। শােন বলি—তিনি
এসে দরজায় ঘা দেবেন, তুমি কলা বৌয়ের মত এক হাত ঘােটা
টেনে তাঁকে নিয়ে আসবে। আসবার সময় দরজা বন্ধ করে
এসাে না যেন। বেশ আওয়াজ বলে তার সঙ্গে এমনভাবে
কথা কইবে, যে তিনি যেন মনে করেন যে তুমিই আনন্দময়ী।
বিজ।—বুঝেছি, তারপর তিনি আমায় খুব ভালবাসা জানাবেন
বিধু।—আর তুমি গঢ় হয়ে বসে থাকবে। তারপর খুব যাচ্ছেতাই
কতকগুলাে কথা শুনিয়ে, শেষে, আমি যেমন তােমায় জগন্নাথকে
বাবা বলিয়ে ছেড়েছি, তুমিও তেমনি তাকে , আনন্দময়ীকে
মা বলিয়ে তবে ছাড়বে। আমি ঘরের ভেতর চললুম। তুমি
এই তালাটা দরােজায় লাগিয়ে দাও। তােমার ভাসুর অর্থাৎ
আমার তিনিও আসবেন। তিনি এলে তুমি ঘরের ভেতর
এসাে—আনন্দময়ী বেরিয়ে তার সঙ্গে কথা কইবে। ঐ নাও,
তােমার গুণপুরুষ এসেছেন , ইক্ ঠক্ ক'রে দোরে ঘা দিচ্ছেন।
খুব সাবধানে মান বাঁচিয়ে কাজ ক’র। ঐ আবার ঠুক ঠুকৃ-যাও
আর দেরী করনা।
[ উভয়ের প্রস্থান)
'।
[ ৪ ]
(রঘুনাথকে লইয়া বিজলীর পুনঃ প্রবেশ)
রঘু।—তুমি ভাই ঘােটা খুলে ফেল। ঘােটা দেওয়া থাকলে কেমন
যেন প প মনে হয়।
বিজ।—কি জান ভাই আমার কেমন লজ্জা লজ্জা করছে।
রঘু।« থাকবে না। কথা কইতে কইতে ও লজ্জা ভু করে
গঙ্গায় ডুবে যাবে। দেখ, ঠিক চিঠির মত কাজ করেছি।
( ঘড়ী খুলিয়া) ওঃ কাটায় কাটায় ন'টা সাত মিনিট। নাও,
ঘােটা খােল।
বিজ-খুছিদাড়াও না।
রধু। স্বগতঃ ) ছুড়িটা দেখতে দিব্যি। কিন্তু কথাগুলাে বড়
কঁাকৃকাকে আর ন্যাকা ন্যাকা। ( প্রকাশ্যে) দেখ, আজ
অবিশ্যি এখানেই আমােদ আহলাদ করা যা কিন্তু আমি মনে
করছি একট দূরন্তরে তােমার জন্যে একখানা বাড়ী কিনে,
সেইখানেই তােমাকে রেখে দেব। বুঝলে সোণামণি, কাক চিলেও
যাতে জানতে না পারে এমন বন্দোবস্ত করব। তােমায় আমি
রাজার হালে রাখব। তাহলে খুব খুসী হবে ত?
বিজ। ভাই তােমায় যখন মন প্রাণ দিয়েছি-তখন তুমি যা
করবে, আমি তাতেই খুশী হব। কিন্তু তােমার ত স্ত্রী আছে।
রঘু।-স্ত্রী-ওঃ ভারী তম=তার মাথায় আমি জুতাে মারি।
বিজ। সে যদি জানতে পারে ?
বধু।—ওঃ! তবে গোকুলপুরী অন্ধকার হয়ে যাবে।
মুখে মারি আমি পয়ার। ও সব বাজে কথা.ছেড়ে দাও।
বিজ। সে যদি গােল বাধায় ?
বুঘু। গােল বাধালে তাকে চাবুক পেটা করব না।
[ নেপথ্যে দুকড়ি ]-চায্যি মশাই বাড়ী আছেন?
[ ৪১ ] রঘু।—সর্বনাশ ক'লে—দুকড়ে ব্যাটার গলা পাচ্ছি যে! বােজাটা বন্ধ করে এসেছ ত ? বিজ। কৈ, তা ত—মনে হচ্ছে না। উই বোধ হয় ভােলাই আছে। তুমিও দাওনি বুঝি ? [ নেপথ্যে দুকড়ি ও চায্যি মশাই। ৰুঘু। এখন উপায়? কোন দিক দিয়ে পালাই ? এ- বিজ। পালাবার ত পথ নেই। বাবা চারদিকে চাবি বন্ধ করে গেছেন। রঘু।—মাটী করলে। চাল কলা খেগাে বুদ্ধি আর কত ভাল হবে। ওখান কি ? কম্বল পড়ে আছে না? দাও, ওঝ। ক'রে ঐখাল দিয়ে আমার আচ্ছা করে চাপা দিয়ে দাও। বিজ।—তাইত, যদি জানতে পারে ? রঘু।আবার কথা কইছে! জানতে পারলে কি আর রক্ষে রাখবে ? ও ব্যাটা ভয়ানক দুদ্ধর্ষি ধড়ীবাজ লােক, ওর হাতে অনেক গুণ্ডা বদমায়েস আছে ; ব্যাটা তাহলে আমার হাড় একখানা মাস একখানা ক'রে ছাড়বে। ঐ জুতাের শব্দ হচ্ছে—এলাে বলে চাপা দাও—চাপ। দাও—যেন কোন মতেই জানতে না পারে। ওকে আমি ভারি ভয় করি। [ বিজলীর কম্বল ঢাকা দিয়া প্রস্থান ] (দুকড়ির প্রবেশ) দুক।—তাইত এরা গেলেন কোথায় ? কোথা গাে দিদিমণি ? ( আনন্দময়ীর প্রবেশ) আন—দাদা যে-কথন এলেন ? রঘু।-(স্বগতঃ) দুকড়ের সঙ্গে কথা কইলে যেন মধু বৃষ্টি করলে আর আমার সঙ্গে কথা কইছিল—যেন কাঠের চোলা ছুঁড়ে মারছিল।
[ ৪২ ]
দুক।তােমার বাবা কোথা গাে দিদিমণি ! তঁাকে যে আমার বিশেষ
দরকার।
আন।—তিনি যে কাশী গেছেন।
দুক।—কাশী গেছেন কি রকম? এই যে ঘণ্টাখানেক আগে, তার
মত কাকে রাস্তায় দেখলুম! তাইত, 'ভ্রম হ’ল নাকি ? নাঃ, ঠিক
দেখেছি।
রঘু।—(স্বগতঃ) আরে মল-বুড়াে ব্যাটা দেখছি তবে আমার সঙ্গে
চালাকী খেলেছে। দুক’ড়েটাও এর মধ্যে আছে বােধ হচ্ছে।
দুক।-চৌকীর ওপর ওটা কি রয়েছে দিদিমণি ?
রঘু।—(স্বগতঃ) পাজী ব্যাটার সব দিকে। চোখ,। ভূত সেজে ভয়
দেখাব নাকি ?
আন।-ও বিছানা তােলা রয়েছে দাদা।
ঘুর স্বগতঃ ) ছুঁড়ি চালাক আছে দেখছি—খুব বাঁচিয়ে দিয়েছে।
দুক।-হ্যা দিদিমণি ! .এখানে এ বার্ণিশ করা জুতাে পড়ে রয়েছে,
কার গা ?
রঘু।-(স্বগতঃ) এই সেরেছে। টটি টিপে ধরে দেখছি।
আন।-আমার ভাটপাড়ার কাকা এসেছেন যে ।
রঘু।—(স্বগতঃ ) ব্যাটার যে জেরা—‘কাকা’ না বলে বাবা বলেনি
এই ঢের।
দুক ।-বটে বটে।' কোথায় গেলেন তিনি ? অনেক দিন তার সঙ্গে
দেখা হয় নি।
রঘু।—( স্বগতঃ দুক’ড়ে ব্যাটা দেখছি রসভঙ্গ না করে আর ছাড়ছে
“ না। লুকিয়ে প্রেম করতে আমার মাথায় মারি ঝাড়। উঃ, গলদ
ঘৰ্ম্ম হয়ে গেল। আর যদি কখন এমন কৰ্ম্ম করি ত আমি-
শালা।
[ ৪৩ ]
দুক।—কৈ গাে দিদিমণি-কাকাকে একবার ডাকনা।
আন।—তিনি এইখানে কোথায় গেছেন।
দুক।—আচ্ছা তবে আমি একট, ঘুরে আসছি।
রঘু।-(স্বগতঃ ) ওরে বাবা ! আবার আসছি বলে যে। তবেই দেখছি
সারলে। এখন কোন গতিকে মানে মানে পালাতে পারলে হয়।
দুক।—তিনি এলে ব’লাে-আমি দেখা করতে আসবাে।
আন।যে আজ্ঞে।
[ উভয়ের উভয় দিকে প্রস্থান ]
( বিজলীর প্রবেশ)
রঘু।-ব্যাটা গেছে ত ?
বিজ।-হ।
রঘু।—(কম্বল খুলিয়া) শুনছ সােণামণি ! আজ চলুম। ব্যাপার বড়
বেপােছ।
বিজ।-ব’স না ভয় কি ?
রঘু।-বড় ভরসাও নেই। আমার যেন কেমন কেমন বােধ হচ্ছে।
আর এক দিন এসে সব ঠিক ঠাক করা যাবে।
বিজ।-কেন ? আর এক দিন কেন ? আজই হােক না।
( ঘােটা খুলিল)
রঘু।-ওরে বাবা—এ কে রে ?
বিজ ।—আঁৎকে উঠলে যে ? পেটের পিলে চমকে উঠলাে নাকি ?
রঘু।—(স্বগতঃ ) আজ দেখছি দফা রফা (প্রকা) এতক্ষণ তবে-
বিজ ।-হ-তত—ত –বে আর ভাল বাসতে ইচ্ছে করছে না
বুঝি ?
রঘু।-আরে বাপরে-ইচ্ছে আবার করছে না ? তুমি হলে আমার
অর্ধাঙ্গিনী—তােমায় ভালবাসব নাত বাসব কাকে ?
[ ৪৪ ।
বিজ ।-কেন? এই যে মাথায় ধপাধপ জুতো মারছিলে—
রঘু।-ও কথা ভুলে যাও প্রাণেশ্বরী। মাণ চাইছি।
বিজ।—মুখে পটাপট পয়জার লাগাচ্ছিলে-
রঘু।—ডান হাতে করে—কি বলে-বুঝলে শ্রিয়ে-এই দেখ কান
ম’লছি—আর এই গুণে এক হাত নাক বৎ দিচ্ছি।
বিজ ।-পােড়া কপাল! গলায় দড়ী জোটেনা? লুকিয়ে বাড়ী কিনবে,
আমায় চাবুক পেটা করবে-
রঘু।-বিজলি! আর যদি কখন এমন কাজ করি, তাহলে তুমি
আমাকে গুণে বিশ বা ঝাড়ু মেয়ে। এখন মানে মানে চলে যাই
চল। বুঝতে পেরেছি—কাজটা জানাজানি হয়েছে।
বিজ।—সেকি! শুভকাজে এসেছ—অমনি অমনি যাওয়াটা কি ভাল
দেখায়? বােসাে—একট, মিষ্টি মুখ কর—আনন্দময়ীকে মা বলে
ডাক—তবে যেতে পাবে।
রঘু।—ওরে যে শিক্ষা হয়েছে তাতে আনন্দময়ী কেন—আজ থেকে
তুমি ছাড়া স্ত্রীলােক মাত্রেই আমার মা।
বিজ ।-কেমন ?—আশা মিটেছে ?
রঘু।—খুব খুব। কিন্তু ছােট বৌ আর দেরী করােনা। এখনি
দুকড়ে ব্যাটা এসে পড়বে—আর একটী ঘা লাঠি হারে আমার
মাথাটা চৌচির করে দেবে।
বিজ—সাহসী পুরু বটে। এত যার ভয়-সে কি সাহসে এমন কাজ
করতে এল।
রঘু।—আরে চোরের কি কখন সাহস থাকে ? চল ভাই।
বিজ। ভয় নেই, গাড়ী মজুত আছে।
রঘু। তবে চলে এস বিজলী! আর অপ্রস্তুত করােনা।
বিজ। এই যে যাই। মা আনন্দময়ী।
[ ৫ ]
( আনন্দময়ীর প্রবেশ)
আন। এই যে মা-
রঘু। আনন্দময়ী-মা-আমার= আজ তুমি বৌ বেটা দুইই পেলে
আর তা ছাড়া তােমার এই অজ্ঞান সন্তানের চোখ ফুটুল-এও মা
তােমার আনন্দের কথা। * আশীর্বাদ কর মা, যেন আমার মৃত্যুর
সময় পর্যন্ত মনের এই জোর থাকে। তবে আমি !
আন। এস বাবা। মনের সুখে দুর সংসার কর। গরীবের উপকার
বিদ। আমাকেও আজকের মত বিদায় দাও মা।
আন। এস মা।
[ রঘুনাথ ও বিজলীর প্রস্থান]
( বিধুমুখীর প্রবেশ )
বিধু। কেমন দিদিমনি
আন। দিদি ! আর জন্মে তােমরা আমার কেউ ছিলে।
বিধু। আর জলে কে ছিলুম না ছিলুম জানিনা বােন্। তবে এ জন্মে
তুমি আমার দিদিমণি। এখন আমাদেরও বিদায় দাও।
(দুকড়ির প্রবেশ)
দুক। তা কি হয় ? আজ দিদিমণিও আমাদের সঙ্গে যাবে। কাল
সকালে ভট্টচায্যি মশায়ের সঙ্গে আবার বাড়ী ফিরে আসবে।
বিধু। সেই ভাল-এস দিদিমণি।
আন। চল।
[ সকলের প্রস্থান।
উপসংহার ।
রঙ্গিনীগণ।
গীত।
মনের বিকার হয়না বল কার ?
দুনিয়ার এমনি মজা—সইতে হবে-
সইবে সবে যৌবনের এই অত্যাচার।
( ওযে) প্রথম চোটে, সামলে ওঠে,
আর কিছু ভয় রয় না তার ;
যার মন থাকে কোন গগণ পানে
তার নয়নে
ঘনায় ঘন অন্ধকার।
মনের ওজন, কাহার কেমন ?
তাহার যাচাই, ক’রছে সদাই,
বুঝি কোন রঙ্গদার।
যবনিকা।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.