Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jajurbediyo Bibaha-paddhati
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ-পদ্ধতি সমস্ত মন্ত্রের বঙ্গানুবাদ ও বহু টিপ্পনিসহ অধ্যাপক-শ্ৰীহেমচন্দ্রসেনশর্ম- কর্তৃক লিখিত । বৈদ্য-ব্রাহ্মণ সভা হইতে-- শ্রীপ্রফুল্ল-সেনশর্ম-কর্তৃক প্রকাশিত। । প্রাপ্তিস্থান-বৈদ্য-ব্রাহ্মণসভার কার্যালয়, পি ৬১, ল্যান্সডাউন বােড়, এক্সটেনশন্, পাের কালীঘাট, কলিকাতা। মূল্য ॥ আনা মাত্র।
বৈদ্য- ব্রাহই শ্রীপ্রফুল্ল-সেনশর্ম-কর্তৃক প্রকাশিত প্রিন্টার-সমরেন্দ্রভূষণ মল্লিক বাণী প্রেস ১৬ হেমেন্দ্র সেন ষ্ট্রীট, কলিকাতা যজুর্বেদী বিবাহ-পদ্ধতি ভ্রম সংশোধন। ৯২ পৃষ্ঠায় ২২ পঙক্তির এখানে চরুর" হইতেছে। এই অংশের পরে তৎপর মহাব্যাহৃতি হােম। -পডিতে হইবে। ভূমিকার প্রথম পৃষ্ঠায় শেষ পঙক্তিতে ‘ঝাবুইশে স্থলে বুঝাইলে’ পডিতে হইবে। ২১শে পৃষ্ঠাতে title IP ‘সজুৰ্বেদীয় স্থলে ‘যজুৰ্বেীয়’ পড়িতে হইবে। • • • • • • • • অন্যান্য ভমসংশােধন। পৃষ্ঠা পাক্ত অশুদ্ধ ৪ ১৮ বাজসনেয়ি আবিদ্ধ অবিদ্ধ ১৮ বাজসনােসি বিদ্ধ আবদ্ধ বার নং नार মং ৫০ ১৮ ১৮ ৫০ ১৮ ১৮ মং ০ २७ गा ব। म স* বষ্ট্যে। রাণে। দেবে। দেবতোদেশ মা। ৫১ ১৭ ৪ শষ্ট্য বণে দেব। দেবতাদেশ ম উঃ বর্তৃৰ হৈরিণ জয়ত্বমিতি ১৪ উর্গ্য ১৮ २8 ১ দেবতাগু ৬৩ বভূব তৈত্তিরীয় জয়ত্বমিতি দেবহুত্যাগু কৰ্ম্মণ্যস্যাং ধিৰি স্রোত্যানামধিপতয়ে গুদীচী বর প্রায়শ্চিন্তে প্রায়শ্চিরিসি কৰ্ম্মণ্যাং পিঞ্জি স্রোত্যানানাধিপয়ে প্রা গুদীচী র প্রাশশ্চিন্তে প্রায়শ্চিত্তিরলি ৮২ ৮৮ ৯০ ১৩
No text on this page.
ভূমিকা। যজুৰ্বেদীয়-বিবাহ পদ্ধতি প্রকাশিত হইল। ইহাতে সমস্ত মন্ত্রের বঙ্গানুবাদ দেওয়া হইয়াছে। এতদ্ভিন্ন দ্রষ্টব্য’ অংশসমূহে বহু প্রয়ােজনীয় বিষয় সন্নিবেশিত হইয়াছে। পদ্ধতি-অংশ বড় অক্ষরে এবং অনুবাদ ও দ্রষ্টব্য অংশ ছােট অক্ষরে দেওয়া হইয়াছে। এইজন্য এক অংশ অপর অংশ হইতে সহজেই পৃথক্ করা যাইবে। পুরােহিতগণ এই পুস্তকের সাহায্যে শুদ্ধভাবে কাজ করাইতে পারিবেন। সাধারণ পাঠকগণও ইহা পড়িয়া বিপুল আনন্দ উপভােগ করিবেন এবং হিন্দুর বিবাহের আদর্শ যে কত উচ্চ তাহা বুঝিতে পারিবেন। হিন্দু সমাজে যজুর্বেদী লােকই অধিক। আমরা আশা করি যে তাহারা সকলেই এই পুস্তকদ্বারা উপকৃত হইবেন। এই পদ্ধতিতে ব্রাহ্মণের প্রয়ােজ্য শৰ্ম্মান্ত নাম ব্যবহার করা হইয়াছে। অন্য বর্ণের পক্ষে যথাযােগ্য ভাষা ব্যবহার করিতে হইবে। লাজাহুতির মন্ত্র তিনটি বর পড়িয়া দিলে কন্যা পড়িবে। অর্থ পাঠ করিলেই বুঝা যাইবে যে এই আহুতি তিনটি কন্যাই অগ্নিতে অৰ্পণ করিবে । হরিহর প্রভৃতি পদ্ধতিকারেরাও লিখিছেন—মন্ত্রয় বরপাঠিত কন্যৈব পঠতি। পদ্ধতিমধ্যে বিষ্টর-শব্দের নির্মাণ প্রণালী দেওয়া হয় নাই। বিষ্টর কুশনির্মিত আসন । ২৫ গাছি কুশে বিষ্টর হয়। বি-পূৰ্ব্বক তৃ-ধাতুর উত্তর ‘ধূদোরপ’-পাণিনির এই সুত্রানুসারে কর্মবাচ্যে অপ-প্রত্যয় করিয়া বিষ্টর হয়। ষত্ববিধান প্রসঙ্গেও পাণিনি লিখিয়াছেন ‘বৃক্ষাসনয়াে- বিষ্টর’ অর্থাৎ বৃক্ষ ও আসন ঝাবুইলে বি-+অপ, করিয়া বিষ্টর হয়,
[ ২ ]
অন্যত্র বিস্তর হইবে। বিস্তর শব্দের সহিত সকলেই পরিচিত আছেন।
বিষ্টর শব্দের তিনটি অর্থ—কুশনির্মিত আসন, আসন এবং বৃক্ষ। বিষ্টর
নির্মাণ প্রণালী সম্বন্ধে আচাৰ্য গােভিলের পুত্র গৃহাসংগ্রহে লিখিয়াছেন :-
(ক) উর্দ্ধকেশােভবে ব্রহ্মা, লম্বকেশন্তু বিষ্ট।
দক্ষিণাবর্তকো ব্রহ্মা, বামাবর্তস্তু বিষ্টরঃ।
(খ) কভিভিশ্চ কুশৈ-ব্রহ্মা ?
কতিভির্বিষ্টঃ স্মৃত?
পঞ্চাশদ্ভিঃ কুশৈ-ব্রহ্মা, তদৰ্দ্ধেন চ বিষ্টরঃ।
শুক্লযজুর্বেদে স্বরবর্ণ পরে থাকিলে, ‘’-কে ‘খ’-এর মত উচ্চারণ
করিতে হয়।
এই পদ্ধতিতে বহুস্থানে গু-এর ব্যবহার করা হইয়াছে।
সাহিত্যে ‘খ্রী'-কে যে ভাবে উচ্চারণ করিতে হয়, ইহাকেও সেই ভাবে
উচ্চারণ করিতে হইবে।
পরিশেষে বক্তব্য এই যে যদি এই পদ্ধতিদ্বারা একজন লােকও
উপকৃত হন, তাহা হইলেও আমরা আমাদের পরিশ্রম সার্থক হইয়াছে
মনে করিব।
নিবেদক
পি ৬১, ল্যান্সডাউন বােড এক্সটেশন
পােঃ কালীঘাট, (কলিকাত।)
১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৩৪৪ সাল।
হেমচন্দ্র সেনশর্মা।
যজুর্বেদীয় বিবাহ।
কন্যা সম্প্রদান।
কাৰ্য্যের প্রারম্ভে সভাসদ্গণের অনুমতিক্রমে বর পূর্বাভি-
মুখ হইয়া এবং সম্প্রদাতা উত্তরমুখ হইয়া বসিবেন। উভয়য়েই
কুশাঙ্গুরীয় ধারণ করিবেন। তাহাদের সম্মুখে পিটুলী দ্বারা
আঁকা একটি অষ্টদলপর্ঘের উপর জলপূর্ণ আম্র পল্লবযুক্ত
একটি
মৃন্ময়
ঘট বসাইতে হইবে। এই ঘট স্থাপনের কোনও
মন্ত্র নাই। সাধারণতঃ যে ঘটের উপর যষ্ট ও মার্কণ্ডেয়
পূজা করা হইয়াছে সেই ঘটই এই কাজে ব্যবহৃত হয়।
বিবাহস্থলে শালগ্রামশিলাতে নারায়ণ অবস্থান করিবেন।
তারপর উভয়েই আচমন ও বিষ্ণু স্মরণ করিবেন।
আরম্ভের সময় স্ত্রীলােকগণ উলুধ্বনি করিবেন।
স্বস্তিবাচন-সম্প্রদাতা নিজের ডান হাতে কয়েকটি
আতপ চাউল লইয়া এবং তিনজন ব্রাহ্মণের ডান হাতে কয়েকটি
আতপ চাউল দিয়া পড়িবেন—
ওঁ মৎকৰ্ত্তব্যেহস্মিন্ শুভকন্যাসম্প্রদানকর্মণি
ওঁ স্বস্তি ভবন্তোহধিব্রুবন্তু,
ওঁ স্বস্তি ভবন্তোহধিব্রুবন্তু,
ওঁ স্বস্তি ভবন্তোহধিব্রুবন্তু।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ব্রাহ্মণগণ (প্রতিবচন)—ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি বলিয়া
চাউলগুলি একটি তামার টাটের উপর অথবা তদভাবে স্থাপিত,
ঘটের উপর ছিটাইয়া দিবেন। সম্প্রদাতাও নিজের হাতের
চাউল ছিটাইয়া দিবেন।
তারপর সম্প্রদাতা নিজের ডান হাতে, কয়েকটি চাউল
লইয়া এবং উক্ত তিন জন ব্রাহ্মণের ডান হাতে কয়েকটি আতপ
চাউল দিয়া পড়িবেন )
ওঁ মৎকৰ্তব্যেহস্মিন্ শুভকন্যাসম্প্রানকর্মণি
ওঁ ঋদ্ধিং ভবন্তোহধিব্রুবন্তু,
ওঁ ঋদ্ধিং ভবন্তোহক্ৰিবন্তু,
ওঁ ঋদ্ধিং ভবন্তোহধিব্রুবন্তু।
ব্রাহ্মণগণ (প্রতিবচন)-ওঁ ঋধ্যতা,
ওঁ ঋধ্যতা,
ওঁ ঋধ্যতাম,
বলিয়া চাউলগুলি একটি তামার টাটে অথবা তদভাবে স্থাপিত
ঘটের উপর ছিটাইয়া দিবেন।
তারপর সম্প্রদা—( নিজের হাতে কয়েকটি চাউল লইয়া
এবং উক্ত তিন জন ব্রাহ্মণের ডান হাতে কয়েকটি আতপচাউল
দিয়া পড়িবেন
ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তোহধিব্রুবন্তু,
ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তোহধিব্রুবন্ত,
ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তোহধিব্রুবন্তু,
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ব্রাহ্মণগণ (প্রতিবচন)—ওঁ পুণ্যাহ,
ওঁ পুণ্যাহ,
ওঁ পুণ্যাহ
বলিয়া চাউলগুলি একটি তামার টাটের উপর অথবা তদভাবে
স্থাপিত ঘটের উপরে ছিটাইয়া দিবেন।
তারপর ব্রাহ্মণগণও সম্প্রদাতা মিলিয়া পড়িবেন—
ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ,
স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ ।
স্বস্তি নস্তাক্ষে অরিষ্টনেমিঃ,
স্বস্তি নাে বৃহস্পতিদধাতু।
[ মা-বা-সং-২৫।১৯, ]
[ কা-বা-সং-২৭২৩ ]
ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি।
দ্রষ্টব্য—যদি তিনজন ব্রাহ্মণের অভাব হয়, তবে সম্প্রদাতা নিজেই
পূর্বোক্ত সূক্তটি পাঠ করিবেন। পূর্বের অংশগুলি তখন বাদ দিতে
হইবে। শুক্লযজুর্বেদে স্বরবর্ণ পরে থাকিলে ‘’কে ‘খ’ এর ন্যায় উচ্চারণ
করিতে হয়। এজন্য ‘পূষার উচ্চারণ ‘পূখা। এইরূপ উচ্চারণ না
করিলে ভুল হইবে। মন্ত্রটা সামবেদেও আছে। সামবেদীদিগের পক্ষে
ইহা গেয় মন্ত্র। গানাশক্তৌ ঋচস্ত্রিধা’ ছন্দোগ-পরিশিষ্টের এই নিয়মানু-
সারে সামবেদিগণ ইহা তিনবার পড়িবেন। যজুৰ্বেদী যজমান তাহার
পুরােহিত সামবেদী হইলেও মন্ত্রী একবার মাত্র পড়িবেন। অনুবাদে
“ওঁ এর কোনও প্রতিশব্দ দেওয়া হইবে না কারণ ও মন্ত্রের অংশ নহে,
পড়িবার সময় বলিতে হয়।
৪ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ অনুবাদ—বৃদ্ধশ্রবাঃ (প্রভূতযশাঃ) ইন্দ্রঃ ( ইন্দ্র) নঃ ( আমাদিগকে স্বস্তি ( কল্যাণ) ( দান করুন) বিশ্ববেদাঃ ( সৰ্ব্বজ্ঞ ) পূষা (পূনামক দেবতা) নঃ ( আমাদিগকে) স্বস্তি (কল্যাণ) ( দান করুন ), অরিষ্ট- নেমিঃ ( অপ্রতিহতগতি আয়ুধ যাহার তাদৃশ ) তাক্ষঃ (গরুড়) নঃ ( আমাদিগকে) স্বস্তি (কল্যাণ ) ( দান করুন, বৃহস্পতিঃ (বৃহস্পতি। নঃ ( আমাদিগকে) স্বস্তি (কল্যাণ) দধাতু ( স্থাপন করুন অর্থাৎ দান করুন)। ওঁ স্বস্তি (কল্যাণ হউক)। দ্রষ্টব্য—আমরা মাধ্যদিন-বাজসনেয়িসংহিতাকে মা-বা-সং এবং কাণীয়- বাজসনেয়িসংহিতাকে কা-বা-সং দ্বারা সূচিত করিব। তারপর ব্রাহ্মণগণ ও সম্প্রদাতা সাক্ষ্যমন্ত্র পাঠ করিবেন। যথা- ওঁ সূৰ্যঃ সােমমা যমঃ কালঃ, সন্ধ্যে ভূতান্যহঃক্ষপা। পবননা দিক্পতিভূ মিরাকাশং খচরামরাঃ । ব্রাহ্মং শাসনামস্থায় কল্পধ্বমিহ সন্নিধিম্ । অনুবাদ-সূর্যঃ ( সূৰ্য্য ), সােমঃ (সােম ), যমঃ (যম), কাল (কাল) সন্ধ্যে ( দুইটি সন্ধ্যা), ভূতানি ( ভূতসমূহ, প্রাণিসমূহ) অহঃ ( দিন) ক্ষপা ( রাত্রি ) পবনঃ (পবন) দিপতিঃ ( দিতি। ভূমিঃ (পৃথিবী) আকাশং (আকাশ) খচরামরাঃ ( আকাশচারী প্রাণিগণ এবং অমরগণ } ( হে এইসব দেবতাগণ) (তােমরা) ব্রাহ্মং (ব্ৰহ্মার) শাসনং ( শাসন, আদেশ, উপদেশ) আস্থায় (মানিয়া লইয়া) ইহ (এখানে সন্নিধিং কল্পধ্বম্ ( সান্নিধ্য কল্পনাকর অর্থাৎ উপস্থিত থাক )। ' তৎপর সম্প্রদাতা ও বর স্থাপিত ঘটের উপর বিঘ্ননাশ প্রভৃতি দেবতার অর্চনা করিবেন। যথা— (১) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ বিঘ্ননাশায় নমঃ।
যজুৰ্ব্বেদীয় বিবাহ
(২) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শিবাদিপঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ।
(৩) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ আদিত্যাদিনবগ্রহেভ্যো নমঃ।
(৪) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ ইন্দ্রাদিদশদিপালেভভ্যা নমঃ।
(৫) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ মৎস্যাদিদশাবতারেভ্যো নমঃ।
(৬) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ সৰ্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ।
(৭) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ সর্বাভ্যো দেবীভ্যো নমঃ।
(৮) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শ্রীগুরবে নমঃ।
(৯) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ নারায়ণায় নমঃ।
( নারায়ণশিলার উপর )
(১০) এতে গন্ধপুষ্পে ও প্রজাপতয়ে নমঃ।
তারপর সম্প্রদাতা বর কৃতাঞ্জলি হইয়া পাঠ
করিবেন :-
ওঁ ত্রৈলােক্যপূজিত শ্ৰীম, সদা বিজয়বর্ধন।
শান্তিং কুরু গদাপাণে, নারায়ণ নমােহস্তু তে ।
ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভ।
নারায়ণং নমস্কৃত্য সর্বকৰ্ম্মাণি কারয়েৎ ॥
তৎপরে সম্প্রদায় জামাতাকে বরণ করিবেন। এখান
হইতেই বরের অচ্চনা আরম্ভ হইল। মধুপর্কদানের সহিত
অৰ্চনা শেষ হইবে।
১।
বরণ।
সম্প্রদাতা--( কৃতাঞ্জলি হইয়া বরের দিকে চাহিয়া )
বলিবেন।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ওঁ সাধু ভবানাস্তাম্।
অনুবাদ—ভবান্ (আপনি) সাধু ( ভাল ভাবে) আস্তাম্ (বসুন)।
বর—(সম্প্রদাতার দিকে চাহিয়া বলিবেন) ও সাধ্বহমাসে।
অনুবাদ—অহং (আমি) সাধু ( ভালভাবে ) আসে ( বলিলাম)।
সম্প্রদা—( কৃতঞ্জলি হইয়া বরের দিকে চাহিয়া )
ওঁ অচ্চয়িষ্যামাে ভবন্ত।
অনুবাদ-ভবন্তম্ ( আপনাকে) অৰ্চয়ষামঃ ( অৰ্চনা করিব )।
বর—ওঁ অৰ্চয়।
অনুবাদ—অৰ্চয় ( আমাকে অর্চনা করুন)।
সম্প্রদাতা-গন্ধপুষ্প, অঙ্গুরীয়, যজ্ঞােপবীত ও বস্ত্র লইয়া
বরের দিকে চাহিয়া পাঠ করিবেন—
এতানি গন্ধপুষ্পঙ্গুরীয়কযজ্ঞােপবীতবস্ত্রানি ওঁ বরায় নমঃ।
তারপর জিনিষগুলি বরের হাতে দিবেন।
বর—ওঁ স্বস্তি’ বলিয়া জিনিষগুলি গ্রহণ করিবেন। এই
সময় বরের যজ্ঞােপবীত বদলাইতে হইবে এবং সম্প্রদাতার
প্রদত্ত বস্ত্র ও উত্তরীয় পরিধান করিতে হইবে। অঙ্গুরীয়টিও
হাতে দিতে হইবে। সাধারণতঃ স্বর্ণাঙ্গুরীই দেওয়া হয়।
বাক্যেও তাহা হইলে স্বর্ণাঙ্গুরীয়ক বলিতে হইবে। কোনও কোনও
স্থলে অষ্টধাতু নির্মিত অঙ্গুরীয় দেওয়ার নিয়ম আছে। বস্ত্রাদি
পরিবর্তনের পর বর পূর্ববৎ বসিবেন। তখন সম্প্রদাতা বরের
ডান হাঁটুর কাপড় সরাইয়া, ঐ হাঁটুর উপর আতপ চাউল দিয়া,
৭ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ডান হাতের উক্ত আতপ চাউল ধরিয়া ডান হাতের পৃষ্ঠে বা হাতটি উপুড় করিয়া রাখিয়া, বরণবাক্য বলিবেন। বরণবাক্য সম্প্রদাতা )—বিষ্ণুরোঁতৎসদদ্য অমুকে- মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে অমুকপক্ষে অমুকতিথৌ অমুক- গােত্ৰস্য অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ প্রপৌত্র, অমুকগােত্র অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ পৌত্র, অমুকগােত্র অমুকপ্রবরস্থ অমুকশৰ্ম্মণঃ পুত্র, অমুকগােত্রম্ অমুকপ্রবরং শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মাণ অমুকগােত্রস্য অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ প্রপৌত্রী, অমুকগােত্র্য অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ পৌত্রী, অমুকগােত্ৰস্য অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ পুত্ৰীম্ অমুকগােত্ৰাম্ অমুকপ্রবরাং শ্ৰীঅমুক- দেবীং—শুভবিবাহেন দাতুমেভির্গন্ধাদিভিরভ্য… ভবন্তমহং বৃণে।-বলিয়া সম্প্রদাতা হাত ছাড়িয়া দিবেন। বর—ওঁ বৃতােহস্মি । অনুবাদ—আমি বৃত হইলাম। সম্প্রদাতা (জোড়হাতে বরকে লক্ষ্য করিয়া) ওঁ যথাবিহিতং বরকর্ম (বা বিবাহকৰ্ম্ম ) কুরু। অনুবাদ—আপনি যথাবিহিত বরকর্ম বা বিবাহ কৰ্ম্ম করুন। বর—ওঁ যথাজ্ঞানং করবাণি। অনুবাদ—আমি যথাজ্ঞান করিব । মুখচন্দ্রিকা ১ম বার)—এই মুখচন্দ্রিকার কথা গৃহ্য- সূত্রকার পারস্কর এবং পদ্ধতিকার হরিহর বলেন নাই কিন্তু এতদ্দেশীয় বাঙ্গালী পদ্ধতিকার পশুপতির মতানুসারে সকলেই যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ইহা করিয়া থাকেন। পশুপতি বলেন—অতত মুখচন্দ্রিকা কৃত্বা বাসগৃহংনী বিষ্টরাদিকং দদ্যাৎ। মুখচন্দ্রিকার প্রণালী-কন্যার কয়েকজন আত্মীয় তাহাকে একখানা উল্টাকরা পিড়ীতে বসাইয়া আনিয়া প্রথমতঃ বরের বা দিকে পাশাপাশি করিয়া পূর্বমুখী করিয়া ধরিবেন। পরে তাহাকে প্রদক্ষিণক্রমে অর্থাৎ বরকে তাহার ডানদিকে রাখিয়া বরের চতুর্দিকে সাতবার ঘুরাইবেন। পরে পরস্পরের মুখ দেখিবে। ঘুরাইবার সময় বরের মুখ ঢাকা থাকিবে। মুখাব- লােকনের সময় বর ও কন্যার উপর দিয়া একখানা কাপড় ধরিতে হইবে। পরস্পর অবলােকনের সময় অপর কেহই বর ও বধুর দিকে দৃষ্টি করিবে না। মালা পরিবর্তনের প্রথা থাকিলে তাহাও এই সময় করিতে হয়। উল্টা পিড়ীর উপর বরের পরিত্যক্ত কাপড় খানা রাখিতে হয়। ঐ কাপড়ে কতক চাউল বাধিয়া দিতে হয়। ইহাকে বরভােজনের চাউল বলে। ঐ কাপড়ের উপর কন্যাকে বসাইতে হয় । বরের পরিত্যক্ত পৈতাটি কন্যার ডানহাতে বাঁধিয়া দিতে হয়। ইহার পর বরের অন্তঃপুরগমন এবং স্ত্রী-আচার পালন। তৎপর পুনরায় বিবাহস্থানে আগমন। কোনও বাড়ীতে বরের অন্তঃপুরগমন এবং স্ত্রী-আচার পালন মুখচন্দ্রিকার পূর্বে হয়। এই বিষয়ে কোনও বাঁধাবাঁধি নিয়ম নাই। বরের অর্চনা—এখন বিষ্টর, পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয় ও মধুপর্ক দিয়া সম্প্রদাতা বরের অর্চনা করিবেন।
১
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
প্রস্তাবে ‘ওঁ সাধু ভবানাস্তাম্ হইতেই বরের অর্চনা আরম্ভ
হইয়াছে।
বিষ্টরদান-প্রথমবার ।
সম্প্রদাতা একটি বিষ্টর লইয়া বরকে লক্ষ্য করিয়া
পড়িবেন—ওঁ বিষ্টর বিষ্টররা বিষ্টরঃ প্রতিগৃহ্যতাম।
অনুবাদ-আপনাকর্তৃক বিষ্টরপ্রতিগৃহীত হউক।
বর—ওঁ বিষ্টরং প্রতিগৃহ্লামি ( এই বাক্যে গ্রহণ)।
অনুবাদ-আমি বিষ্টর গ্রহণ করিলাম ।
তারপর—ওঁ বম্মোহস্মি সমানানা-মুদ্যতামিব সূৰ্য্যঃ।
ইমন্তমভি তিষ্ঠামি যাে মা কশ্চাভিদাসতি।
[ পারস্কর–১৩৮ ] এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করিয়া নিজের
বসিবার আসনের উপরে উত্তরমুখ করিয়া বিষ্টরটিকে রাখিয়া
বর চাপিয়া বসিবেন ।
।
অনুবাদ-উদ্যং ( যাহারা উদিত হয় তাহাদের মধ্যে অর্থাৎ
জ্যোতিষ্মৎ পদার্থগণের মধ্যে) সূৰ্য্য (সূৰ্য্য) ইব (যেরূপ ) { প্রদান )
( আমিও সেইরূপ ) সমানানাং ( সজাতীয়গণের মধ্যে ) লক্ষ্ম: ( প্রধান।
অস্মি (হই)। যঃ কশ্চ ( যে কেহ) মা ( আমাকে) অভিদাসতি (হিংসা
করে। ইমং তং (এই তাহাকে, এইরূপ তাহাকে )। বিষ্টর মনে করিয়া)
অভিতিষ্ঠামি। তাহার উপর চাপিয়া বসিলাম)।
বিষ্টরদান-দ্বিতীয়বার।
সম্প্রদাতা–ওঁ বিষ্টররা বিষ্টররা বিষ্টরঃ প্রতিগৃহ্যতাম্ ।
১০ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ বর—ওঁ বিষ্টরং প্রতিগৃহ্বামি। ওঁ বষ্মোহস্মি সমানানা-মুদ্যতামিব সূৰ্য্যঃ। ইমন্তমভি তিষ্ঠামি যে মা কশ্চাভিদাসতি। এই বলিয়া বিষ্টরটিকে উত্তরমুখ করিয়া পাতিয়া তাহার উপর পা রাখিবেন। দ্রষ্টব্য—গৃহসূত্রের যুগে ওঁ বিষ্টরাে বিষ্টররা বিষ্টরঃ'—এই বাক্যাংশ সম্প্রদাতা হইতে স্বতন্ত্র একব্যক্তি বলিতেন। সম্প্রদাতা কেবল ও প্রতি- গৃহতাম্ ‘বলিতেন। পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয় এবং মধুপর্কের সময়েও এই নিয়ম ছিল । । পাদ্যদান—প্রথমবার। সম্প্রদাতা কুশীতে জল লইয়া বরের উদ্দেশে বলিবেন— ওঁ পাদ্যং পাদ্যং পাদ্যং প্রতিগৃহ্যতাম্ । অনুবাদ-আপনাকর্তৃক পাদ্য প্রতিগৃহীত হউক। বরকর্তৃক পাদ্যগ্রহণ—প্রথমবার ওঁ পাদ্যং প্রতিগৃহ্লামি (এই বলিয়া গ্রহণ ও ভূমিতে স্থাপন) অনুবাদ—আমি পাদ্য প্রতিগ্ৰহণ করিলাম। তারপর বর পাঠ করিবেন- ওঁ বিরাজো দোহােহসি, বিরাজো দোহমশীয়। ময়ি পাদ্যায়ৈ বিরাজো দোহঃ। [পারস্কর-১৩১২] এই মন্ত্র পাঠের পর বর দক্ষিণ পদে জল প্রােক্ষণ
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
প্রেক্ষণের সময় পা খানা বিষ্টরের বাহিরে নিতে
হইবে, পরে বিষ্টরের উপর রাখিতে হইবে।
অনুবাদ-[ হে জল ] (তুমি) বিরাজঃ ( বিশিষ্ট শােভার) দোহঃ
( সম্পাদক), (তােমাকে) অশীয় ( আমি যেন ভােগ করিতে পারি )।
বিরাজঃ ( বিশিষ্ট শােভার ) দোহঃ (সম্পাদক) (তুমি) ময়ি (আমাতে,
আমার) পাদ্যায়ৈ (পাদ্যের নিমিত্ত )( হও)।
পাদ্যদান—দ্বিতীয়বার।
ওঁ পাদ্যং পাদ্যং পাদ্যং প্রতিগৃহ্যতাম্ ।
বরকর্তৃক পাদ্যগ্রহণ—দ্বিতীয়বার ।
বর—ওঁ পাদ্যং প্রতিগৃহূমি।
ওঁ বিরাজো দেহােহসি বিরাজো দোহমশীয় ।
ময়ি পাদ্যায়ৈ বিরাজো দোহঃ।
এই মন্ত্র পড়িয়া বর বামপদে জল প্ৰােক্ষণ করিবেন।
প্রেক্ষণের পর পাখানা পুনরায় বিষ্টরের উপর রাখিতে হইবে।
কোন পা অগ্রে প্রক্ষালণ করিতে হইবে—তৎসম্বন্ধে পিরস্কর
বলেন—সব্যং পাদ্যং প্রক্ষাল্য দক্ষিণং প্রক্ষালয়তি।
[ পারস্কর—১৩১০ ]
ব্রাহ্মণশ্চেদ্ দক্ষিণং প্রথম। [ পারস্কর—১৩১১ ]
অর্থাৎ বর ব্রাহ্মণ হইলে প্রথমতঃ ডান পা প্রক্ষালণ করিবেন,
পরে বাঁ পা প্রক্ষালণ করিবেন। বর অব্রাহ্মণ হইলে প্রথমত
বাঁ পা, পরে ডান পা। হরিহর ও পশুপতি উভয়েই স্বস্ব
পদ্ধতিতে এই কথা সমর্থন করিয়াছেন। ইহা যজুর্বেদীর পক্ষে
১২
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
সামবেদীর পক্ষে ( সামবেদীর মধ্যে নাকি অব্রাহ্মণ নাই )
প্রথমতঃ বাঁ পা, পরে ডান পা। এই বিষয়ে ভবদেবের পদ্ধতি
দ্রষ্টব্য।
অর্ঘ্যদান।
সম্প্রদাতা কুশী ধুইয়া তাহাতে অর্ঘ্য লইয়া, (গন্ধ, পুষ্প,
আতপ চাউল, দূর্বা ও জলে অর্ঘ্য হয়, ) বরকে উদ্দেশ করিয়া
বলিবেন—
ওঁ অর্ঘোহৰ্ঘোৰ্থঃ প্রতিগৃহ্যতা।
অর্ঘ্যগ্ৰহণাদি
বর—ওঁ অর্ঘং প্রতিগৃহামি—এই বলিয়া অৰ্ঘপাত্রটি দুই
হস্তে গ্রহণ করিয়া,
ওঁ আপঃ হ, যুগ্মভিঃ সর্বান্ কামানবপ্নবানি
[ পারস্কর—১/৩১৩ ]
এই বলিয়া শিরােপরি দিয়া, সেই অর্ঘজল ভূমিতে ত্যাগ
করিয়া পাঠ করিবেন—
ওঁ সমুদ্রং বঃ প্রহিণােমি,
স্বাং যােনিমভিগচ্ছত।
অরিষ্টা অস্মাকং বীরা,
মা পরাসেচি মৎপয়ঃ ॥ [ পারস্কর-১৩১৪ ]
অনুবাদ—(১) [ হে অৰ্ঘজল ] যেহেতু তুমি) আপঃ ( অভীষ্ট
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
প্রাপ্তি সাধন) স্থ ( হও ), (সেই হেতু) ( আমি যেন ) ঘুভিঃ (তােমা-
দ্বার) সৰ্বান্ (সকল) কামান্ ( অভীষ্ট) অবাপ্নবানি (প্রাপ্ত হই)।
অনুবাদ—২) [ হে জল ] ( আমি ) সমুদ্রং ( সমুদ্রে ) ( তােমাকে )
প্রহিণণামি (পাঠাইতেছি ), (তুমি) স্বাং (নিজের) যােনিং (উৎপত্তি
স্থানে অভিগচ্ছত ; গমন কর )। অস্মাকং ( আমাদের) বীরা (ধনাদি)
অরিষ্টাঃ ( নিরাপদ হউক ), মৎপয়ঃ । আমার পানীয় জল ) মা পরা সেচি
( যেন দূরে সিক্ত না হয় অর্থাৎ পানীয় জলের যেন অভাব না ঘটে )।
দ্রষ্টব্য-দ্বিতীয় মন্ত্রে ‘বীর’ শব্দ আছে। বেদে নানা অর্থে ' ‘বীর’
শব্দ পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিতেই পরে ‘বীর-সূদেবকামা’ এবং “মােত
বীরা আছে।
আচমনীয়দান।
সম্প্রদাতা কুশীতে আচমনীয় জল লইয়া বরকে লক্ষ্য করিয়া
বলিবেন—
ওঁ আচমনীয়-মাচমনীয়-মাচমনীয় প্রতিগৃহ্যতাম।
আচমনীয়গ্রহণ।
বর—“আচমনীয়ং প্রতিগৃহামি—বলিয়া আচমনায় গ্রহণ
করিয়া,
ওঁ আ মা গন যশসা,
সঞ্জসৃজ বচ্চসা।
তং মা কুরু প্রিয়ং প্রজানা-মধিপতিং পশূনামরিষ্টিং অনুনাম্।
[ পারস্বর—১।৩।১৫ ]
এই মন্ত্র পড়িয়া আচমন করিবেন।
অনুবাদ— হে জল ] মা (আমাকে) যশসা ( কীৰ্ত্তি) আ গন্
১৪ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ( দেও), (আমাকে) বচ্চসা (তেজের সহিত) সংজ (যুক্ত কর)। তং (সেই) মা (আমাকে) প্রজানাং (লােকের) প্রিয়ং (প্রিয়) কুরু (কর), পশূনাম্ (পশুদিগের) অধিপতিং ( অধিপতি) (কর) (আমাকে) তনূনাং (দেহের, দেহধারীদিগের) অরিষ্টিং ( হিতকারী ) (কর)। দ্রষ্টব্য—(১) ‘গ’ ধাতু লােট ‘হি’ করিয়া ‘গ হইয়াছে। এখানে অন্তভূর্ত ণ্যর্থ বিদ্যমান। অতএব গন্ =গময়। আ গন্ =সম্যগ গময়। গময় =প্রাপয় । বেদে ‘গম্ ধাতুর নানারূপ প্রয়ােগ পাওয়া যায়। রুদ্রাধ্যায়ে আ পূৰ্ব্বক গম্ ধাতু লােঢ় হি করিয়া ‘আগহি’ পাওয়া যায়। শ্রাদ্ধের মন্ত্রে ‘জগম্যাৎ’, ‘গন্তাম, এবং ‘গন্তম পাওয়া যায়। দ্রষ্টব্য-(২) যজুর্বেদে শ, ষ, স, হ ও র পরে থাকিলে অনুস্বার স্থানে ‘গু’ হয়। ইহার ঠিক উচ্চারণ বাঙ্গালাতে করা কঠিন। তবে ইহা এর কাছাকাছি। এই জন্য এই পদ্ধতিতে আমরা ইহাকে ‘’ দ্বারাই প্রকাশ করিব। উদাহরণ-(ক) শতম্ শৃণুয়াম = শতং শৃণুয়াম = শত শৃণুয়াম। (খ) প্র ণ আয়ুংষি তারিষৎ = প্ৰণ আয়ুগু যি তারিষৎ। (গ) সস্জ = সংস্জ = সগুজ। পদম্ সদা =পদং সদা= পদগু সদা। (ঘ) ইদম্ হিরণ্য = ইদং হিরণ্য= ইদগু হিরণ্য। (ঙ) পরম রূপমন্নাদ্য = পরমংরূপ- মন্নাম = পরমগু রূপমন্নাদ্যম। মধুপর্কদান। সাধারণতঃ ঘৃত, দধি, জল, মধু ও চিনি একত্র করিলে মধুপর্ক হয়। মধুপর্ক একখানা নূতন কঁসের বাটীতে রাখিয়া আর একখানা কঁসের বাটী দিয়া ঢাকিয়া দিতে হয়। এইরূপ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ভাবে মধুপর্ক তৈয়ার করিয়া লইয়া (মধুপর্ক হাতে করিয়া লইয়া) সম্প্রদাতা বলিবেন [ বরকে লক্ষ্য করিয়া ] “ওঁ মধুপর্কো মধুপর্কো মধুপর্কঃ প্রতিগৃহ্যতাম্।” মধুপর্কগ্ৰহণাদি—বর—ওঁ মধুপর্কং প্রতিগৃহ্লামি’—বলিয়া মধুপর্কের বাটীটিকে দুইহাতে ধরিয়া লইয়া ভূমিতে রাখিবেন। তারপর ঢাকনী বাটীটি তুলিয়া মধুপর্কের দিকে চাহিয়া বলিবেন— ওঁ মিত্রস্থ ত্ব চক্ষুষ প্রতীক্ষে [ কা-বা-সং-২৩৪] তারপর অঞ্জলিদ্বারা বর ঢাকনিশূন্য মধুপর্কের বাটীটিকে লইয়া নিম্নমন্ত্রে বাঁ হাতে রাখিবেন- “ওঁ দেবস্য জা সবিতুঃ প্রসবেংশ্বিনাের্বাহুভ্যাং, পূষ্ণো হস্তাভ্যাং প্রতিগৃহ্লামি”- মা-বা-সং-২১১ ]। তারপর বর মধুপর্কের বাটীটিকে বাঁ হাতে রাখিয়াই, নিম্ন মন্ত্রে ডানহাতের অনামিকা দ্বারা প্রদক্ষিণ ক্রমে মধুপর্ককে আলােড়ন করিবেন। আলােড়নের মন্ত্র ওঁ নমঃ শ্যাবাস্যায়ানশনে যত্ত আবিদ্ধং তত্তে নিষ্কৃন্তামি।” পুনরায় এই মন্ত্রে আরও দুইবার আলােড়ন। করিবেন মােটে তিনবার আলােড়ন করিতে হইবে। তৎপর একবার অমন্ত্রক ভূমিতে মধুপর্ক নিক্ষেপ। তারপর—একবার মন্ত্রপাঠ ও আলােড়ন। দ্বিতীয়বার মন্ত্রপাঠ ও আলােড়ন। তৃতীয়বার মন্ত্রপাঠ ও আলােড়ন। তৎপর কিছু মধুপর্ক মাটিতে নিক্ষেপ।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
তারপর—আবার মন্ত্রপাঠ ও আলােড়ন ।
দ্বিতীয়বার মন্ত্রপাঠ ও আলােড়ন।
তৃতীয়বার মন্ত্রপাঠ ও আলােড়ন।
তৎপর মাটিতে কিছু মধুপর্ক নিক্ষেপ।
মােটে নয়বার মন্ত্রপাঠ, নয়বার আলােড়ন এবং তিনবার
নিক্ষেপ।
অনুবাদ—(১) [ হে মধুপর্ক ] মিত্রস্য (সূৰ্যদেবের) চক্ষুষ (চক্ষু
দ্বারা) ত্বা (তােমাকে) প্রতীক্ষে (দেখিতেছি )।
অনুবাদ-(২) [ হে মধুপর্ক ] দেবস্য সবিতুঃ ( সবিতৃদেবের) প্রসবে
( আদেশে , অশ্বিনােঃ ( অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের) বাহুভ্যাং (বাহুদ্বার)
পূষ্ণঃ (পূষার ) হস্তাভ্যাং ( হস্তদ্বারা) ত্বা (তােমাকে) প্রতিগৃহূমি
( গ্রহণ করিতেছি )।
দ্রষ্টব্য—প্রচলিত পদ্ধতিসমূহে ‘প্রতিগৃহ্বামি স্থলে ‘আদদে’ পাঠ
আছে। কিন্তু মূলযজুৰ্ব্বেদে ‘প্রতিগৃহামি’ পাঠ থাকায়, তাহাই আমরা
গ্রহণ করিয়াছি যদিও উভয়ের অর্থই এক।
অনুবাদ—৩। শ্যাবাস্যায় ( শ্যাবাস্যকে, মধুপর্ককে) নমঃ ( নমস্কার),
অনশনে ( ভােজনে ব্যাঘাত জন্মাইবার জন্য ) যৎ (যাহা) তে
( তােমাতে) আবদ্ধং আবদ্ধ হইয়া রহিয়াছে) তে তােমা হইতে )
তৎ ( তাহা) নিষ্কৃন্তামি ( অপসারণ করিতেছি)।
দ্রষ্টব্য-(১) অভ্যাত্যান-হােমে আর একজন মিত্র নামক দেবতার
উল্লেখ আছে। (২) শ্যাবাস্য-শ্যাব (মধু), আস্তে (মুখে) যাহার।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি। (৩) মুদ্রিত পদ্ধতিগুলিতে তৃতীয় মন্ত্রটিতে বিকৃত
অর্থশূন্য, ভুল পাঠ দেখা যায়।
১৭ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ তারপর—মধুপর্কের বাটীটিকে মাটিতে রাখিয়া নিম্নমন্ত্রে বাঁ হাতের কনিষ্ঠাদ্বারা বরকে একটু মধুপর্ক লইয়া আম্রাণ বা ভােজন করিতে হইবে। এখন আম্রাণই করিতে হয় । মন্ত্র—ওঁ যন্মধুনাে মধব্যং পরম রূপমন্নাদ্যং তেনাহং মধুনট মধবেন পরমেণ রূপেণান্নাচ্ছেন পরমাে মধব্যোহন্নাদো অসানি- [ পারস্কর ১৩২০ ] আঘ্রাণের পর আচমন দ্বিতীয় বার মন্ত্রপাঠ, আম্রাণ ও আচমন। তৃতীয় বার মন্ত্রপাঠ, আম্রাণ ও আচমন। মন্ত্রটির অনুবাদমধুনঃ (মধুর) যৎ (যে ) মধবং (মধুময়) পরমং ( উৎকৃষ্ট) রূপম্ (রূপ) অন্নাদ্যং, (অন্ন প্রভৃতি) মধুনঃ (মধুর ) তেন (সেই ) মধবেন (মধুময়) পরমেণ ( উৎকৃষ্ট) রূপেণ (রূপ) অন্নানে (অন্নাদি দ্বারা) অহং (আমি) পরমঃ ( উৎকৃষ্ট) মধব্যঃ (মধুর) অন্নাদ (অন্নভােগী) অসানি (যেন হইতে পারি)। দ্রষ্টব্য-(১) পারঙ্কর মতে প্রথমবার আম্রাণের সময়ওঁ মধু বাতা ঋতায়তে মধু ক্ষরন্তি সিন্ধব। মাধ্বীন সন্তোষধীঃ । —এই মন্ত্রটি ; দ্বিতীয়বার আঘ্রাণের সময়—ওঁ মধু নক্তমুতােষসে। মধুমৎ পার্থিব রজঃ। মধু গৌরন্তু নঃ পিতা-এই মন্ত্রটি এবং তৃতীয়বার আঘ্রাণের সময় ওঁ মধুমান্নো বনস্পতিমধুম অস্তু সূৰ্যঃ । মাধ্বীৰ্গাবব ভবন্তু ন। এই মন্ত্রটি পড়া যাইতে পারে। এই বিকল্পপক্ষে—ওঁ বন্মধুনাে ইত্যাদি তিনবার পড়িতে হইবে না। দ্রষ্টব্য-(২) পুরােহিতগণ নিজের অজ্ঞতার জন্য মধুপর্কের মন্ত্রগুলি নিয়া ও তাহাদের উচ্চারণের বার নিয়া নানাপ্রকার গােলযােগ করেন। ;
১৮
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
সামবেদীয় পদ্ধতির মধুপর্ক প্রসঙ্গ যজুর্বেদীয় পদ্ধতির মধুপর্কপ্রসঙ্গ হইতে
সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। পুরােহিতদিগের দুইটি প্রণালী তুলনা করিয়া শিক্ষা
করা কর্তব্য।
মধুপর্কের বাটীতে যে মধুপর্ক অবশিষ্ট রহিয়াছে তাহা
জনসঞ্চারবজ্জিত দেশে ত্যাগ করিতে হইবে।
তারপর সাধারণ ভাবে আগমন করিয়া বর নিম্নলিখিত
কাজগুলি করিয়া যাইবেন :-
(১) ওঁ বাজ্ঞা আস্তেহস্তু—এই মন্ত্রে । ডানহাতের অঙ্গুলি
সমূহের অগ্রভাগদ্বারা মুখস্পর্শ।
(২) ওঁ নসাের্মে প্রাণােস্তু—দক্ষিণও বাম নামিকাপুট
ঐ ভাবে স্পর্শ।
(৩) ওঁ অক্ষোমে চক্ষুরস্তু—দক্ষিণ ও বামচক্ষু-স্পর্শ।
(৪) ওঁ কর্ণয়ােমে শ্ৰোত্ৰমস্তু দক্ষিণকর্ণ-স্পর্শ।
পুনর্বার ঐ মন্ত্রে বাম কর্ণ স্পর্শ।
(৫) ওঁ বাবােমে বলমস্তু—দক্ষিণবাহু স্পর্শ, পুনর্বার
ঐ মন্ত্রে বামবাহুস্পর্শ।
(৬) ওঁ উৰ্বোর্ম ওজোহস্তু—দক্ষিণ ঊরুস্পর্শ, পুনর্বার
ঐ মন্ত্রে বাম উরুস্পর্শ।
(৭) ওঁ অরিষ্টানি মেহঙ্গানি, তস্তম্ব মে সহ সন্তু
উভয়হস্তে শিরঃ প্রভৃতি পাদপৰ্য্যন্ত স্পর্শ।
মন্ত্রগুলি পারস্কর-১৩২৪ এআছে।
অনুবাদ—(১) মে ( আমার) আস্তে ( মুখে) বাক্ ( বাক্,)
( বাক্শক্তি) অস্তু ( হউক, বৃদ্ধি পাউক)।
৩
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
(২) মে ( আমার) নসসাঃ (নাসিকাদ্বয়ের) প্রাণঃ ( শ্বাসপ্রশ্বাস,
শ্বাসপ্রশ্বাসের শক্তি) অস্তু (হউক, বৃদ্ধিপাউক)। (৩) মে ( আমার)
অপ্পো (চক্ষুদ্বয়ের) চক্ষুঃ ( দৃষ্টি, দৃষ্টিশক্তি ) অস্তু ( হউক, বৃদ্ধি
পাউক)।
(৪) মে ( আমার) কর্ণয়ােঃ ( কর্ণদ্বয়ের ) শ্রোত্রম্ (শ্রবণ, শ্রবণ
শক্তি) অস্তু ( হউক, বৃদ্ধিপাউক)
(৫) মে (আমার) বাহঃ ( বাহুদ্বয়ের) বল (বল) অস্তু
( হউক, বৃদ্ধিপাউক)।
(৬) মে (আমার) উৰ্বোঃ (উরুদ্বয়ের) ওজঃ (বল) অস্তু (হউক
বৃদ্ধিপাউক)
(৭) মে (আমার) অঙ্গানি ( অঙ্গসমূহ) এবং মে ( আমার) তা
( লিঙ্গশরীরের সহিত) তনু (স্থূল শরীর ) অরিষ্টানি (বিঘ্নশূন্য। সন্তু
( হউক)।
মধুপর্কের আর একটা বড় অংশ বাকী রহিয়াছে। পূর্বে
মাংস ছাড়া মধুপর্ক হইত না। অবশ্য জনকাদি কেহ ২
নিরামিষাশী ছিলেন। তাহাদের বেলা মধুপর্ক হইতে মাংস বাদ
দেওয়া হইত। মধুপর্কের মাংসের জন্য গােমাংস ছিল প্রশস্ত।
বর আসিয়াছেন। তাহার জন্য একটা গাভী রাখা হইয়াছে।
মধুপর্কের প্রথমাংশ হইয়া গিয়াছে। এখন, দ্বিতীয় অংশের
সময় আসিয়াছে। যখন মাংস সত্য সত্যই দেওয়া হইত, তখন
সম্প্রদাতা এই সময়ে গাভীটি ও একখানা খঙ্গ লইয়া জামাতার
কাছে উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিতেন
ওঁ গৌঃ-গে-গেঃ অর্থাৎ গাভীটাকে কি কাটিব ? যদি
জামাতার মাংস খাইবার ইচ্ছা হইত, তাহা হইলে তিনি এক
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
প্রকার উত্তর দিতেন। যদি খাওয়ার ইচ্ছা না হইত তবে
অন্যরূপ উত্তর দিতেন। বর্তমান সময়ে যে কারণেই হউক হিন্দুর
পক্ষে গােমাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ। বিশেষতঃ বিবাহ রাত্রিতে
জামাতা বিবাহ শেষ হওয়ার পূর্বে বৰ্ত্তমান প্রথানুসারে কিছুই
খাইতে পারেন না। সেইজন্য এখন সম্প্রদাতা বা নাপিত বরকে
জিজ্ঞাসা করেন—ওঁ গৌ-গে-গে। বর না খাওয়ার পক্ষে যে
বাক্য তাহাই বলিয়া থাকেন। বাঙ্গালী যজুর্বেদীয় পদ্ধতিকার
পশুপতির সময়ে এবং বাঙ্গালী সামবেদীয় পদ্ধতিকার ভবদেবের
সময়েও একটি গাভী বিবাহ স্থানে আনা হইত। ঐ পদ্ধতিদ্বয়
।
দ্রষ্টব্য।
সম্প্রদাতা বা নাপিত—ওঁ গৌ-গে-র্গেঃ ।
বর—(১) ওঁ মাতা রুদ্রাণাং দুহিতা বনাগু,
স্বসাদিত্যানামমৃতস্য নাভিঃ।
প্র নু বােচং চিকিতুষে জনায়,
মা গামনাগামদিতিং বধিষ্ট ।
[ পারস্কর ১৩২০
[ ঋগ্বেদ ৪১০১১৫,
(২) ওঁ মম চামুয্য চ ( সম্প্রদানকর্তার নাম)
পাপ মা হত, ওঁ (উপাংশুরূপ),
উৎসৃজত তৃণান্য (উচ্চৈঃস্বরে উচ্চারণ )
[ পারস্কর—১৩২৮]।
অনুবাদ—(১) নু (হে) অহণকারক) (এইগাভীটি) রুদ্রাণাং
( একাদশ রুদ্রের) মাতা (মাতা), বসুনাং ( অষ্ট বসুর ) দুহিতা (কন্যা),
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ আদিত্যানাং ( দ্বাদশাদিত্যের) স্বসা ( ভগিনী) অমৃতস্য (দুগ্ধের) নাভি ( আবাসভূমি) অনাগাং ( নিরপরাধ) অদিতিং ( অবধ্যা) গাং (এই গাভীটিকে) মা বধিষ্ট ( বধ করিবেন না), (এই কথা) চিকিতুষে ( জ্ঞান- বান্, শুধু ) জনায় (প্রাণিমাত্ৰকেই) প্র বােচ ( ভালভাবে বলিতেছি)। (২) (তাহার পরিবর্তে ) মম (আমার) চ অনুষ্য চ (এবং উহার অর্থাৎ অহণকারীর অর্থাৎ সম্প্রদাতার) পাশ্ম (পাপকে ) হত ( বধ করুন), ওঁ (আমার এইকথা মানিয়া লইয়া অথবা মধুপর্কের সঙ্গে আমাকে মাংস দেওয়া হইয়াছে এইকথা মানিয়া লইলাম সুতরাং) (গাভীটিকে) উৎসৃজত ( ছাড়িয়া দিন ), (সে) তৃণানি ( ঘাস) অতু, ( খাউক)। দ্রষ্টব্য-(১) বধিষ্ট—লেটের অর্থে লুঙ, মধ্যম পুরুষ স্থানে ব্যত্যয়ে প্রথম পুরুষ হইয়াছে। (২) বােচভাষায় অবােচ। লটের অর্থে লুঙ, হইয়াছে। (৩) পা—ভাষায় পাপান! (৪) হত—হন্ ধাতু মধ্যম পুরুষের বহুবচন। একবচন ‘জহি স্থানে ব্যত্যয়ে বহু বচনের ‘হত হইয়াছে মনে হয়। হতঃ পাঠ (সন্ধিতে বিসর্গ লােপ ) ধরিলে কৰ্ম্মবাচ্যে ক্ত, ‘পাপ মা ইহার উক্ত কৰ্ম্ম। (৫) উৎসৃজত—বােধ হয় একবচনে ‘উৎসৃজ’ স্থানে ব্যত্যয়ে কহু বচনের ‘উৎসৃজত হইয়াছে। এতক্ষণে বরের অর্চনা শেষ হইল। লােট, অগ্নিস্থাপন। ইহার পর যজুর্বেদীদের বাধ্যতামূলক অগ্নিস্থাপন। জামাতা সম্প্রদানস্থানের উত্তরে পূর্বাভিমুখে অগ্নিস্থাপন করিবেন। অধিকাংশ স্থালেই এই নিয়ম। কচিৎ দুই একস্থানে ২২ যজুৰ্ব্বেদীয় বিবাহ দক্ষিণদিকেও অগ্নিস্থাপন করিতে দেখা যায়। আমরা তাহা অনুমােদন করি না। ২৪ অঙ্গুলি পরিমিত স্থণ্ডিল করিয়া, তিনটি কুশদ্বারা ধুলিকণা অপসারিত করতঃ, গােময় দ্বারা তিনবার উপলেপন করিয়া, কুশমূলদ্বারা প্রাগগ্ৰ উদংস্থ প্রাদেশ- প্রমাণ তিনটি রেখা টানিয়া, স্থণ্ডিলের পশ্চিমসীমার দক্ষিণ দিক্ হইতে পাঁচ অঙ্গুলি এবং উত্তর দিক্ হইতে পাঁচ অঙ্গুলি বাদ দিতে হইবে। বাদ দিলে ১৪ অঙ্গুলি থাকে। এই ১৪ অঙ্গুলির দক্ষিণ সীমা হইতে পূৰ্ব্বদিকে প্রাদেশপ্রমাণ একটি রেখা আঁকিতে হইবে। তৎপর ১৪ অঙ্গুলির মধ্য বিন্দু হইতে পূর্ব দিকে প্রাদেশপ্রমাণ দ্বিতীয় রেখা আঁকিতে হইবে। সর্বশেষে ১৪ অঙ্গুলির উত্তর প্রান্ত হইতে পূর্বদিকে প্রাদেশ- প্রমাণ তৃতীয় রেখা আঁকিতে হইবে। দক্ষিণ হস্তের অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠদ্বারা রেখাগুলি হইতে ধূলিকণা উদ্ধৃত করিয়া ঈশান কোণে পরিত্যাগ করিয়া, উপুড় হাতে স্থণ্ডিলের উপর জল অভক্ষণ করিয়া, আত্মদক্ষিণে কাংস্যপাত্র, তাম্রপাত্র, অথবা নূতন মেটে সরা হইতে জলদিন্ধন গ্রহণ করিয়া ওঁ ক্ৰব্যামগ্নিং প্র হিশােমি দূরং, যমরাজ্যং গচ্ছতু রিপ্রবাহঃ। —মা-বা-সং-৩৫।১০]—এই মন্ত্র পাঠ করিয়া বর নৈঋত কোণে তাহা নিক্ষেপ করিবেন। তৎপর আর একটি অগ্নি ( আর একবায় অগ্নি ) গ্রহণ করিয়া- ওঁ ইহৈবায়-মিতরে জাবেদা, দেবেভ্যো হব্যং বহতু প্রজান।–[ মা- বা- সং-৩৫।১০০ ]—এই মন্ত্রে বর আত্মাভি- - যজুৰ্বেদীয় বিবাহ মুখে স্থণ্ডিলমধ্যে অগ্নিস্থাপন করিবেন। তৎপর কৃতাঞ্জলি হইয়া বর পাঠ করিবেন ও চিন্তা করিবেন) ওঁ সৰ্বতঃ-পাণিপাদান্তঃ, সর্বতােহক্ষিশিয়ােমুখ। বিশ্বরূপাে মহানগ্নিঃ প্রণীতঃ সৰ্বকৰ্ম্ম। অনুবাদ—(১) ক্ৰব্যাদম্ (কাঁচামাংস ভক্ষণকারী অর্থাৎ অপবিত্র ) অগ্নিং অগ্নিকে) দূরং ( দূরে ) প্রহিগামি (প্রেরণ করিতেছি ), ( ঐ অগ্নি ) রিপ্রবাহঃ (পাপ বহন করিয়া) যমরাজ্যং ( যমের রাজ্যে ) গচ্ছতু (গমন করুক)। (২) ইহ (এখানে) এব ( ই) অরং (এই) ইতরঃ ( আর একটি ) জাতবেদাঃ (অগ্নি) । নিজের অধিকার) প্রজান ( ভালরূপে জানিয়া) দেবেভ্যঃ । দেবতাদের কাছে) হব্যং ( হবি) বহুতু ( বহন করুন)। (৩) সৰ্ব্বতঃ (সকলদিকে) পাণিপাদান্তঃ (যাহার হস্ত ও পাদ রহিয়াছে ) সৰ্ব্বতঃ ( সকলদিকেই) অক্ষিশিয়ােমুখঃ { যাহার চক্ষু, মস্তক ও মুখ রহিয়াছে । বিশ্বরূপঃ ( সৰ্ব্বসরূপ। (সেই) মহান্ (মহান্ । অগ্নি { অগ্নি) সৰ্ব্বকৰ্ম্ম ( সকল কর্মে) প্রণীতঃ ( স্থাপিত হয় ) দ্রষ্টব্য—তৃতীয় মন্ত্রটি বোধ হয় পৌরাণিক। পাণিপাদান্ত’ শব্দের ‘অন্ত’ অংশের কোনও অর্থ নাই বলিয়া মনে হয়। বিশ্বরূপ অগ্নির নাম- করণ, ধ্যান, আবাহন ও পূজা নাই । সকলপ্রকার হােমেই প্রথমতঃ বিশ্বরূপ নামক অগ্নিকে স্থাপন করিতে হয় । তারপর বর কৃতাঞ্জলি হইয়া অগ্নির সম্মুখে বলিবেন— ওঁ অগ্নে ত্বং যােজকনামাসি। তারপর বর অগ্নির ধ্যান করিবেন- ওঁ পিঙ্গ-শ্মশ্রু-কেশাক্ষঃ পীনাঙ্গজঠরােহরুণ। ছাগস্থঃ সাক্ষসূত্রোইগ্নিঃ সপ্তাৰ্চিঃ শক্তিধারক। ( আদিত্যপুরাণ) . ২৪ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ অনুবাদ—অগ্নিঃ (অগ্নি) পিঙ্গজ-শ্মশ্রু-কেশাক্ষ (পিঙ্গবর্ণ জ, শ্মশ্রু, কেশ ও অক্ষি যাহার ) পীনাঙ্গজঠরঃ (পীন অর্থাৎ স্কুল অঙ্গও জঠর যাহার ) অরুণঃ ( ঈষৎত্রক্তবর্ণ ) ছাগস্থঃ (ছাগের উপর থাকেন যিনি) সাক্ষসূত্র ( অক্ষসূত্র অর্থাৎ জপমালার সহিত বৰ্তমান) সপ্তার্সিঃ (সাতটি অর্জি অর্থাৎ শিখা যাহার) শক্তিধারকঃ (শক্তিকে ধারণ করেন যিনি)। তারপর যােজকনামক অগ্নির বরকর্তৃক আবাহন ওঁ যােজকাগ্নে ইহাগচ্ছ, ইহাগচ্ছ ; ইহ তিষ্ঠ, ইহ তিষ্ঠ ; ইহ সন্নিধেহি; ইহ সন্নিরুধ্যস্ব ; অত্রাধিষ্ঠানং কুরু, মম পূজাং গৃহাণ। তারপর পঞ্চোপচারে অথবা কেবল গন্ধ পুষ্প দ্বারা বর অগ্নির পূজা করিবেন-সংক্ষেপে পূজা (১) এতে গন্ধ পুষ্পে ওঁ যােজকাগ্নয়ে নমঃ। (২) এত হবিনৈবেদ্যম্ ওঁ যােজকাগুয়ে নমঃ। ( কাহারও ২ মতে ‘স্বাহা’)। দ্রষ্টব্য-ব্ৰহ্মবরণ সম্প্রদানের পর হােম আরম্ভের পূর্বে করিতে হইবে। অগ্নিপরিস্তরণ এখনই করিতে হয়। প্রণীতাপ্রণয়ন, অর্থবদ্রব্যস্থাপন, পবিত্রনির্মাণ, প্রােক্ষণীপাত্রসংস্কার, ঘৃতসংস্কার, সংস্কার, উপযমন- কুশধারণ, অগ্নিতে তিনটি ঘৃতাক্ত-সমিৎক্ষেপ, অগ্নিপযুক্ষণ, সংস্রব পাত্রস্থাপন, প্রভৃতি কাজ বর সম্প্রদানের পর হােরন্তের পূর্বে করিয়া নিবেন।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ পারস্করবলেন-(অৰ্চনার অব্যবহিতপর) উপলিপ্ত উদ্ধতা- বােক্ষিতেহগ্নিমুপসমাধায়। [ পারস্কর ১৩৪ ] উদগয়ন আপূৰ্যমাণপক্ষে পুণ্যাহে কুমাৰ্যাঃ পাণিং গৃহীয়াৎ [ পারস্কর-১৩৫] অথৈনাং বাসঃ পরিধাপয়তি-জরাং গচ্ছ ইত্যাদি।–[ পরিস্কর-১৩১২ ]। অথােত্তরীয়ম্ [ পারস্কর- ১৩১৩ ]। অথৈনৌ-সমঞ্জয়তি। [ পারস্কর-১৩১৪ ] পিত্রা প্রত্তা আদায় নিষ্ক্রামতি। [ পারস্কর ১৩১৪ ] হরিহর বলেন-ততে (অর্চনার অব্যবহিতপরে) বরে। বহিঃশালায়াম্ ঐশান্যাং দিশি চতুর্হস্তায়াং সিকতাচ্ছন্নায়াং বেদিকায়াং লৌকিকং নিমথ্যং বাগ্নিং স্থাপয়িত্ব পশ্চাদ- গ্নেণপূলকং কটং বা স্থাপয়েৎ। অথ কন্যাপিত বস্ত্ৰচতুষ্টয়ং বরায় প্রযচ্ছতি। পশুপতি বলেন--ততে (অর্চনার ব্যব- হিতপরে ) বরঃ ছায়ামণ্ডপং গহ্বা পূর্ববাভিমুখাে ই গ্লিস্থাপনং কুৰ্য্যাৎ। ততাে বাসগৃহং গত্বা কন্যাং বাস পরিধাপয়েৎ। পারস্কর, হরিহর এবং পশুপতির লেখার মৰ্ম্ম এই- বরের অর্চনার অব্যবহিতপরে এবং কন্যাকে বরকত্ত্বক বস্ত্র ও উত্তরীয়দানের অব্যবহিতপূর্বেল, সুতরাং সম্প্রদানেরও পুর্বে বরের অগ্নি স্থাপন করিতে হইবে। এই জন্যই যজুর্বেদীদের বিবাহহােম বিবাহরাত্রিতেই হওয়া কর্তব্য। পরদিন হােম করিতে হইলে পূৰ্ব্বদিনের
অত্র
চ
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
স্থাপিত অগ্নি জ্বলন্ত অবস্থায় রাখিয়া দিতে হইবে।
পর দিন নূতন অগ্নি স্থাপনেয় উপদেশ কেহই দেন নাই।
স্মাৰ্ত্ত রঘুনন্দনভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ও তাহার উদ্বাহতত্ত্বে
এই কথাগুলি লিখিয়াছেন—
পারস্করেণ বহিঃশালায়ামুপলিপ্ত উদ্ধতাবােক্ষিতে
ই গ্নিমুপসমাধায়েতি সূত্ৰাৎ প্রধানগৃহাঙ্গনে ২ গ্লিস্থাপনানন্তরং
কুমাৰ্যাঃ পাণিং গৃহীয়াৎ ত্ৰিষু ত্রিমূত্তরাদিঘিতি সূত্রান্তরেণ
পাণিগ্রহণবিধানা যজুৰ্বেদিনাং সামগদেয়কন্যাগ্রহণে-
হপি দানাৎ পূৰ্ব্বমগ্নিস্থাপনম্।
সামবেদিগণ ভবদেবের মতানুসারে সম্প্রদানের পর অগ্নি-
স্থাপন করিবেন। এবং সেই অগ্নিতেই হােম করিবেন। সুতরাং
তাঁহারা ইচ্ছা করিলে বিবাহ রাত্রিতে অগ্নিস্থাপন না করিয়া
পরদিন অগ্নিস্থাপন করিয়া তাহাতে বিবাহহােম করিতে
পারেন।
ইহার পর পারস্করের গৃহ্যসূত্রমতে বর নিম্নমন্ত্রে কন্যাকে
এক খানা বস্ত্র দিয়া তাহা পরিধান করিতে বলিবেন—
ওঁ জরাং গচ্ছ, পরিধৎস্ব বাসস।
ভবাকৃষ্টীনামভিশস্তিপাবা।
শতং চ জীব শরদ,
সুবৰ্চা, রয়িং পুত্রাননুসংব্যয়-
যুষ্মতীদং পরিধৎস্ব বাসঃ ।
— পারস্কর-১৪১২]
–
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ২৭ তারপর বর কন্যাকে এক খানা বস্ত্র দিয়া তাহা উত্তরীয়রূপে ধারণকরিতে বলিবেন। মন্ত্র- ওঁ যা অকৃন্তন্নবয় যা অতন্বত। যাশ্চ দেবীস্তনভিতাে ততন্থ। তা দেবীর্জরসে সংব্যয়স্বায়ুষ্মতীদং পরিধৎস্ব বাস । [ পারস্কর-১৪১২ ] অনুবাদ-১) (হে কন্তে) জরাং (বৃদ্ধত্ব) গচ্ছ ( যেন পাইতে পার )। (এইরূপ) বাসঃ (বস্ত্র ) ( চিরকাল) পরিধৎসু (পরিধান কর)। আকৃষ্টীনাম্ (ডাকিনীর ন্যায় যাহাদের স্বভাব, সেই স্ত্রীলােক- দিগের। অভিশস্তিপাবা (অভিপাপশােধনকারিণী) ( হও)। চ (এবং) (তেজস্বিনী হইয়া ) শরদঃ (শতবর্ষ । জীব (বাচিয়া থাক )। রয়িং (ধন) পুত্ৰান্ চ (এবং পুত্র) অনু ( লাভের জন্য ) ( দেহ) সংব্যয়স্ব ( আচ্ছাদন কর)। আয়ুষ্মতি ( হে আয়ুষ্মতি ) ইদং (এই) বাস ( বস্ত্র) পরিধৎসু (পরিধান কর)। অনুবাদ- ২ ) যাঃ ( যে ) (দেবীরা ) অন্ত ( কাটিয়াছেন, তৈয়ার করিয়াছেন ), (যাহার ) অবয়ম্ (বুনিয়াছেন। যাঃ ( যাহারা) অতন্বত ( বিস্তার করিয়াছেন ), যা দেবীঃ ( এবং যে দেবীর।) তন্ত অভিতঃ ততন্থ ( পাড় বসাইয়াছেন), তাঃ (সেই) দেবীঃ (দেবীরা) বা (তােমাকে) জরসে ( বৃদ্ধকালপৰ্যন্ত) (এইরূপ সধবােপযােগি বস্ত্র ) সংব্যয় ( যেন পরান)। আয়ুষ্মতি (হে আয়ুষ্মতি ), (তুমি) ইদং (এই) বাসঃ ( বস্ত্র) পরিধৎসু (পরিধান কর)। দ্রষ্টব্য—১) দেব্য স্থলে ‘দেবীঃ বৈদিক প্রয়ােগ) (২) ততন্থ- ‘তেনিথ’ স্থলে ‘ততন্থ’ প্রযুক্ত হইয়াছে। ব্যত্যয়য় বহুল’ এই নিয়মানুসারে এখানে প্রথম পুরুষ স্থলে মধ্যম পুরুষ এবং বহুবচন স্থলে একবচন প্রযুক্ত ২৮ যজুৰ্বেয়ীয় বিবাহ হইয়াছে। (৩) সংব্যয়স্ব—“সংব্যয়ন্তু’ স্থলে ‘সংব্যয়স্ব’ বৈদিক প্রয়ােগ। এখানেও প্রথমপুরুষ ও বহুবচন স্থলে ব্যত্যয়ে মধ্যম পুরুষ ও এক- বচন হইয়াছে। পশুপতিও এইরূপ এইরূপ উপদেশ দিয়াছেন। হরিহরমতে বরও এই সময় একখানি বস্ত্র পরিধান করিবেন। তাহার মন্ত্র আছে। তন্মতে বর উত্তরীয় পরিধান করিবেন। তাহারও মন্ত্র আছে। হরিহর বলেন এই চারিখানা বস্ত্র কন্যার পিতা বরকে দিবেন। হরিহরের পদ্ধতি দ্রষ্টব্য। গৃহে সেরূপ কোনও কথা নাই। যাহা হউক বর্তমান সময়ে এইভাবে কন্যার বস্ত্র ও উত্তরীয় পরিধানের এবং বরের পক্ষেও বস্ত্রও উত্তরীয় পরিধানের প্রথা দেখা যায় না। ইচ্ছা করিলে বর পূর্বে উদ্ধত মন্ত্ৰদুইটি পড়িতে পারেন। দ্বিতীয়বার মুখচন্দ্রিকা। অর্থাৎ বর ও কন্যার পরস্পর মুখাবলােকন। এখন সম্প্রদাতার বর ও কন্যাকে লক্ষ্য করিয়া বলিবেন ‘ওঁ পরস্পরং সমঞ্জেথাম্ অথবা ‘ওঁ সমীভবেথাম্। অর্থাৎ তােমরা মিলিত হও। সম্প্রদাতা এই কথা বলিলে পর বর ও কন্যা পরস্পররের মুখাবলােকন করিবে। মুখাবলােকনের সময় বর নিম্ন মন্ত্রটি পড়িবেন— ওঁ সমঞ্জন্তু বিশ্বে দেবাঃ সমাপে হৃদয়ানি নৌ । সং মাতরিশ্বা সং ধাতা সমু দেী দধাতু নৌ। [ ঋগ্বেদ-১০৮৫৪৭, পারস্কর—১৪৷১৪ ] = ২৯ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ দ্রষ্টব্য—এই প্রসঙ্গে পারস্করের গৃহসূত্রে, হরিহরের ও পশুপতির পদ্ধতিতে এবং বাজারে প্রচলিত পুরােহিতদর্পণ পুরােহিতপ্রদীপ প্রভৃতি পুস্তকে এই মন্ত্রটির কথা আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অধিকাংশ পুরােহিতই এই মন্ত্রটির বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ এবং কাজেই বরকে পড়িতে বলেন । মন্ত্রটি সামবেদীয় পদ্ধতিতেও কুশণ্ডিকা ভাগে আছে। যথা তত উদক- কলসধারী জামাতুবয়স্যোইগ্নেঃ পশ্চিমদেশেন সপ্তপদীস্থান-মাগত্য সহকার- পল্লববাদকেন মূৰ্দি বরমভিষিঞ্চেৎ জামাতা চ মন্ত্রং পঠেৎ। প্রজাপতিঋষি- রনুষ্টুপ ছন্দো বিশ্বদেবাদয়াে দেবতা মূৰ্দ্ধাভিযেচনে বিনিয়ােগ । ওঁ সমঞ্জন্তু- ...নৌ। ..দধাতু নৌ পশ্চাদ অনেনৈব মন্ত্রেণ বধূ-মভিষিঞ্চে। ঋগ্বেদীয় কুশণ্ডিকা ভাগেও পূর্বোক্ত মন্ত্রটির প্রয়ােগ দেখা যায়। যথা ‘ততঃ কুশণ্ডিকোক্ত•••চত আজাহুতী- জুয়াৎ।•••••••••ওঁ সমঞ্জন্তু•••দধাতু নৌ ( স্বাহা)। ওঁ সমঞ্জন্তু নৌ ইত্যন্তমন্ত্রেণ দপ্ন একদেশং স্বয়ং প্রাশ্য পত্যুৈ প্রাশিতুং যচ্ছতি বরঃ। মন্ত্র অনুবাদ—হে কন্য) বিশ্বে দেবাঃ (বিশ্বদেবগণ) নৌ ( আমাদের উভয়ের) হৃদয়ানি (হৃদয়কে) সমঞ্জন্তু ( মিলিত করুন) আপঃ ( জলগণ, জলদেবতাগণ) সং ( আমাদের উভয়ের হৃদয়কে মিলিত করুন); মারিশ্যা (বায়ু) নৌ (আমাদিগের উভয়কে) সং দধাতু ( মিলিত করুন ), ধাতা সং ( আমাদিগের উভয়কে মিলিত করুন ), উ (এবং) দেী (দেষ্ট্ৰী) নামক দেবতা) সং ( আমাদিগের উভয়কে মিলিত করুন)। এই সময় কন্যাদাতা স্থাপিত ঘটের উপর বরের দক্ষিণ হাত উত্তান করিয়া রাখিয়া, তাহার উপর কন্যার উত্তান দক্ষিণহস্ত রাখিয়া কুশদ্বার! বাঁধিয়া দিবেন।
৩০
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
তারপর কন্যার অর্চনা-
সম্প্রদাতা—এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ সাচ্ছাদনালঙ্কৃতায়ৈ
কন্যায়ৈ নমঃ ( তিনবার), এতে গন্ধপুষ্পে
এতদধিপতয়ে ওঁ প্রজাপতয়ে নমঃ,
এতে গন্ধপুষ্পে এতৎ-সম্প্রদায় ওঁ বরায় নমঃ
(বরের দক্ষিণ হাতে )।
ইহার পর ও সুসুপ্রেক্ষিতমস্তু এই বাক্যে সম্প্রদাতা
কন্যার শরীরে জল প্ৰােক্ষণ করিবেন। তারপর ‘ওঁ শ্রীবিষ্ণু
পুণ্ডরীকাক্ষঃ পুনাতু’—এই বাক্যে সম্প্রদাতা কন্যার অঙ্গ
নিজের অঙ্কুষ্ঠের মূল দেশ দ্বারা স্পর্শ করিবেন।
সম্প্রদান—অর্চনার সময় এবং সম্প্রদানের সময় কন্যা
পশ্চিমমুখে বসিবেন। সম্প্ৰদানবাক্য—
বিষ্ণুরোঁতৎসদস্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে
ভাস্করে অমুকপক্ষে অমুকতিথৌ অমুকগােত্রঃ
অমুকশৰ্মা শ্রীবিষ্ণুপ্রীতিকামঃ
( বরপক্ষের) অমুকগােত্ৰস্য অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ
প্রপৌত্রায়, অমুকগােত্রস্য অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ
পৌত্রায়, অমুকগােস্য অমুকপ্রবরস অমুকশৰ্ম্মণঃ
পুত্রায়, অমুকগােত্রায় অমুকপ্রবরায় শ্রীঅমুকশৰ্মণে
বরায় অর্চিতায়—
( কন্যাপক্ষের) অমুকগােত্রস্য অমুকপ্রবরস্য
অমুকশৰ্ম্মণঃ প্রপৌত্রীম্ , অমুকগােত্র
৩১
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ পৌত্রী,
অমুকগােত্ৰস্য অমুকপ্রবরস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ পুত্রী,
অমুকগােত্ৰাম্ অমুকপ্রবরাং
শ্রী অমুকদেবী অর্চিতা
( এইরূপ বরপক্ষ ও কন্যা পক্ষের নাম ৩ বার বলিয়া)
এনাং কন্যাং সালঙ্কারাং সবস্ত্রাচ্ছাদনাং
প্রজাপতিদেবতাকাং ভাৰ্য্যাত্বেন
তুভ্যমহং সম্প্রদদে।-
বলিয়া কোশা হইতে ত্রিপত্র দ্বারা সম্প্রদাতা কন্যার শরীরে
জল ছিটাইয়া দিবেন। তারপর বর ‘ও স্বস্তি’ বলিয়া কন্যাকে
ভাৰ্যারূপে গ্রহণ করিবেন।
তারপর বর প্রণবদ্বারা পুটিত সব্যাহৃতি গায়ত্রী একবার
জপ করিবেন।
তারপর সম্প্রদায় বলিবেন--- ওঁ কয়েং প্রজাপতি-
দেবতাকা। তারপর বর কামস্তুতি পাঠ করিবেন
(১) ও কোহদাৎ, কম্মা অদাৎ,
কামােহদাৎ, কামায়াদাৎ।
কামাে দাতা, কামঃ প্রতিগ্রহীতা,
কামৈতত্তে।
তব কাম সতা ভুনজামহৈ।
[ মা-বার-সং-৭৪৮]
[ কা-বা-সং ৯২৯ ]
যজুর্বেদীয় বিবাহ (২) ও দ্যৌত্ত্বা দদাতু, পৃথিবী বা প্রতিগৃহ্লাতু। [পারস্কর—৩২৫২১ ] অনুবাদ— ১) (এইদ্রব্য) ক (কে) অদাৎ ( দান করিল ), কস্মৈ ( কাহাকে) অদাৎ ( দান করিল ), কামঃ (কাম) অদাৎ (দান করিল ) কামায় (কামকে) অদাৎ ( দান করিল ), কামঃ (কাম) (ই) দাতা ( দাতা ). কামঃ (কাম) (ই) প্রতিগ্রহীতা (প্রতিগ্রহীতা) কাম (হে কাম), এতৎ ( এইদ্রব্য) তে (তােমার) (ই) কাম {হে কাম) তব (তােমার, ত্বৎসংক্রান্ত) সভা ( বিদ্যামান ভােগসমূহদ্বারা) ( সুখশান্তি) (আমরা যেন ) ভুনজামহৈ (ভােগ করিতে পারি )। (২) গৌঃ (আকাশ) (হে বধু) ত্বা (তােমাকে ) (বৃষ্টিরূপে ) দদাতু ( দান করুন), পৃথিবী (পৃথিবী) ত্বা (তােমাকে) প্রতিগৃহ্বাতু ( গ্রহণ করুক)। ভাবার্থ-কোন্ পুরুষ এই কন্যারূপ বস্তু দান করিয়াছে ? কাহাকেই বা দান করিয়াছে ? প্রশ্নদ্বয়ের উত্তর—কামই দান করিয়াছে, কামকেই দান করিয়াছে, আপনিও প্রকৃতপ্রস্তাবে দাতা নহেন, আমিও প্রকৃতপ্রস্তাবে প্রতিগ্রহীতা নহি, আপনার কামের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা আমার কামের অধিষ্ঠাত্রী দেবতাকে এই কন্যা দান করিয়াছেন। এইরূপে কামই দাগ, কামই প্রতিগ্রহীতা, আর কেহ নহেন। হে কাম, এই দ্রব্য তােমারই কারণ তুমিই দাতা এবং তুমিই প্ৰতিগ্রহী। তােমার অনুগ্রহে আমরা যেন সুখশান্তি ভােগ করিতে পারি। আকাশ বৃষ্টি দান করে। পৃথিবী সেই বৃষ্টিকে গ্রহণ করেন। আকাশরূপী সম্প্রদাতা বৃষ্টিরূপিণী কন্যাকে পৃথিবীরূপী আমার হাতে অর্পণ করুন। -” ।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
তুলনা কর সামবেদীয় ও ঋগ্বেদীয় কামস্তুতি-
ওঁ ক ইদং কম্ম অদাৎ,
কামঃ কামায়াদাৎ, কামােদাতা,
কামঃ প্রতিগ্রহীতা।
কামঃ সমুদ্র-মা বিশৎ,
কামেন ত্বা প্রতিগৃহ্লামি, কামৈতত্তে।
তারপর বরদক্ষিণা— দক্ষিণাদ্রব্য অৰ্চনা করিয়া)
বিষ্ণুরোতৎসদদ্য অমুকে মাসি A অমুকে পক্ষে অমুকতিথে
অমুকগােত্রঃ শ্রীবিষ্ণুপ্রীতিকামনয়া কৃতৈতৎ-কন্যাসম্প্রদানকর্মণঃ
সাঙ্গতার্থং দক্ষিণামিদং কাঞ্চনং বহ্নিদৈবতং (অথবা কাঞ্চনমূল্যং
শ্রীবিষ্ণুদৈবত) অমুকগােত্রায় অমুকপ্রবরায় শ্রীঅমুকশৰ্ম্মণে
বরায় তুভ্যমহং সম্প্রদদে।
বর—ওঁ স্বস্তি’ বলিয়া দক্ষিণাত্রব্য গ্রহণ করিবেন।
যৌতুকাদি—এই সম্বন্ধে হরিহর বলেন :—অত্রাচারা
অন্যপি যৌতুকবেন সুবর্ণ-রজত-তাম্র-গাে-মহিষ-গ্রামাদি
কন্যা-পিতা যথাসম্ভবং দদাতি, অন্যেহাপ বান্ধবাদয়াে যথাসম্ভবং
যৌতুকং প্রযচ্ছন্তি। কেচন যৌতুকং হােমান্তে প্রযচ্ছন্তি।
অত্র দেশাচারততা ব্যবস্থা। পশুপতি বলেন-এবং যথাশক্তি
ভূমিশয্যাদানাদিকং দদ্যাৎ। ভবদেব বলেন—অস্মিন্নেব সময়ে
সম্প্রদাতা যৌতুকং ভূম্যাদিকং দদ্যাৎ।
দ্রষ্টব্য (১)—কেহ ২ সম্প্ৰদানবাক্যের ‘তুভ্য’ পদটি সর্বশেষে না
পড়াইয়া তৃতীয়বারে বর পক্ষের বাক্যাংশের শেষ অর্থাৎ তৃতীয়বারে বরায়
৩৪ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ অর্চিতায় তুভ্য—এইরূপ পড়াইয়া থাকেন। ইহা ভাল মনে হয় না। কারণ ‘তুভ্য পদটি সম্প্রদদে’ ক্রিয়ার সম্প্রদান কারক। অতএব সম্প্রদানকারকটি ক্রিয়ার যত নিকটে হয়, অর্থ ততই স্পষ্ট হয়। কেহ ২ ভুলে দুইবার ‘তুভ্য পড়ান। দ্রষ্টব্য-২) প্রতিনিধি সম্প্রদান করিলে কোথায় ২ বাক্যে পরিবর্তন আবশ্যক তাহা লেখা যাইতেছে। কন্যার পিতাই কর্তা। তিনিই কন্যা সম্প্রদান করিবেন। এই হিসাবেই বাক্য লিখিত হইয়াছে। প্রতিনিধি পক্ষে (ক) সম্প্ৰদানবাক্যে সম্প্রদদে স্থলে ‘দদানি’, (খ) দক্ষিণাবাক্যে সম্প্রদদে স্থলে। “দদানি’, (গ) সম্প্রদানবাক্যে প্রথমতঃ সম্প্রদাতার নাম—অমুকােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্মা, তৎপর যাহার কন্যা তাহার ষষ্ঠ্যন্ত নাম—অমুকগােত্ৰ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণ, তৎপর “শ্রীবিষ্ণুপ্রীতিকামঃ—বলিতে হইবে। (ঘ) স্মাৰ্তভট্টাচাৰ্য শুদ্ধিতত্বে একাধিকার দেখাইয়াছেন যে স্মৃতিমতে সম্প্রদদানি’-ভুল যদিও ব্যাকরণ- মতে ইহা শুদ্ধ। (ঙ) দক্ষিণাবাক্যে ‘অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মা অমুক- গােত্ৰস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ শ্রীবিষ্ণুকামনয়—এইরূপ বলিতে হইবে। তারপর পুরােহিত গায়ত্রী পড়িয়া গ্রন্থিবন্ধন খুলিয়া দিবেন। তারপর অচ্ছিদ্রাবধারণ ও বৈগুণ্যসমাধান। তারপর সম্প্রদাতা, বর ও কন্যা নারায়ণকে নমস্কার করিবেন। দ্রষ্টব্য—এই পদ্ধতিতে বর পূৰ্বমুখ হইয়া, সম্প্রদাতা উত্তরমুখ হইয়া এবং কন্যা পশ্চিমমুখী হইয়া বসিয়াছেন। কোনও কোনও স্থানে বর পূৰ্বমুখ হইয়া, সম্প্রদাতা পশ্চিমমুখ হইয়া এবং কন্যা উত্তরমুখী হইয়া বসেন। সম্প্রদানপৰ্যন্ত কন্যাপক্ষের কাজ। সুতরাং এই বিষয়ে কন্যাপক্ষের নিয়মই প্রতিপালিত হওয়া উচিত।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ গােত্রান্তর-দক্ষিণা—ইহা বরপক্ষের দেয় এবং কন্যা পক্ষের পুরােহিতের প্রাপ্য। সম্প্রদাতা নগদ টাকা দিয়া বরদক্ষিণা করিলে, বর সাধারণতঃ সেই টাকা নিজে না নিয়া তাহার পুরােহিতকে দিয়া থাকেন। যদি স্বর্ণ ( সাধারতঃ স্বর্ণাঙ্গুরীয় ) দিয়া সম্প্রদাতা বর-দক্ষিণ করেন, তবে বরপক্ষেরপুরােহিতকে সম্প্রদাতার নগদ কিছু দেওয়া উচিত। সম্প্রদাতা বর-দক্ষিণা বাবদ নগদ টাকা দিলে এবং সেই টাকা বরের পুরােহিত নিলে, বরের পুরােহিতকে নগদ আর কিছু দিতে হইবে না। যাহা হউক মােটের উপর বরের পুরােহিত নগদ যাহা পাইবেন বর-পক্ষ কন্যাপক্ষের পুরােহিতকে তাহার দ্বিগুণ অথবা তত্ত্ব গােত্রান্তরদক্ষিণা দিবেন। এই বিষয়ে বাঁধাবাধি কিছু নিয়ম নাই। বরপক্ষের শক্তি ও ইচ্ছার উপর ইহার পরিমাণ নির্ভর করে। পারস্করের গৃহ্যসূত্রে এই বিষয়ে কিছু নির্দেশ নাই। সমস্ত বিবাহ কুশণ্ডিকাসহ শেষ হইলে বর তাহার আচাৰ্য্যকে নিজে দক্ষিণ দিবেন একথা লেখা আছে ল্য নিষ্ক্রমণ। পূৰ্বে সম্প্রদানস্থান হইতে কিছু দূরে বাহিরের! একটি ঘরে অগ্নিস্থাপন করা হইত। সম্প্রদানের সম্প্রদানস্থান হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া ( বাহির হইয়া) বধূসহ সেখানে যাইতেন। এই যাওয়ার নাম নিষ্ক্রমণ। যাওয়ার সময় বর নিম্নমন্ত্রটি পড়িতেন—
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ওঁ যদৈষি মনসা দূরং দিশােহনু পবমানােবা।
হিরণ্যপর্ণো বৈকর্ণঃ স ব মন্মনসাং-করােত
শ্ৰীঅমুকদেবি ( বধূর সম্বােধনান্তনাম)।
[ পারস্কর ১৪৫ ]
এখন সম্প্রদান স্থানের নিকটেই উত্তরে (কোন কোন স্থলে
দক্ষিণে) অগ্নি স্থাপিত হয়। সুতরাং প্রকৃত নিষ্ক্রমণ এখন
নাই। তথাপি বর এই সময় এই মন্ত্রটি পড়িবেন।
অনুবাদষৎ (যেহেতু) (তুমি) মনসা (মনে মনে) (আমার
সহিত) দিশঃ (নানাদি) অনু (লক্ষ্য করিতে করিতে) দূরং (স্বজন
দিগের নিকট হইতে দূরে, নিজের পিতৃপরিবার ত্যাগ করিয়া আমার
পরিবারের দিকে) ঐষি (আসিতেছ ), (সেই হেতু) পবমান বা
হিরণ্যপর্ণ বৈকর্ণ (বায়ু, সূৰ্য্য এবং অগ্নি) স (ইহরা) ত্বা (তােমাকে)
মনসাং ( আমার প্রতি একাগ্রচিত্তা) করােতু (করুন) ঐ অমুকদেবি
( শ্রীঅমুকদেবি)।
দ্রষ্টব্য-(১) মন্ত্রটির অর্থ
খুব
(২) বা = এবং।
(৩) “সুপাং সু-লুক’ ইত্যাদি সূত্রানুসারে বহুবচনের ‘তে’ স্থানে ‘সু
বিভক্তিযুক্ত ‘সঃ হইয়াছে।
(৪) “তে’ স্থানে ‘সা হওয়াতে ‘কুন্তু’ স্থলে করােত হইয়াছে।
(৫) সুমনসাং‘ভাষাতে সুমনসং’ হইবে। অন্যেষামপি দৃশ্যতে এই
সূত্রানুসারে ‘সং’ স্থানে ‘সাংহইয়াছে।
পরস্পর সমীক্ষণ ( তৃতীয়বার মুখচন্দ্রিকা বর ও
নিষ্ক্রমণপূর্বক অগ্নিসমীপে গেলে কন্যার পিতা অথবা
পুরােহূিত তাহাদিগকে বলিবেন—ওঁ পরস্পরং সমীক্ষেথাম্।
স্পষ্ট নহে।
৩৭ - যজুৰ্বেদীয় বিবাহ অনুবাদ—পরস্পরকে অবলােকন কর। এই বাক্য শুনিবার পর বরও বধু পরস্পরকে অবলােকন করিতে থাকিবেন এবং বর বধূকে সম্বােধন করিয়া নিম্নলিখিত চারিটি মন্ত্র পড়িবেন। মন্ত্র- (১) ওঁ অঘােরচক্ষু-রপতিঘ্নেধি, শিবা পণ্ডভ্যঃ সুমনাঃ সুবৰ্চ্চাঃ। বীরসূদেবকামা স্যোনা, শন্নো ভব দ্বিপদে, শং চতুষ্পদে। [ ঋগ্বেদ-১০৮৫৪৪, পারস্কর-১৪১১৬] (২) ওঁ সােমঃ প্রথমাে বিবিদে, গন্ধর্বো বিবিদ উত্তরঃ। তৃতীয়াে অগ্নিষ্টে পতি,-স্তুরীয়স্তে মনুষ্যজাঃ । [ ঋগ্বেদ-১০৮৫৪৩, পারস্কর—১৪১৬] (৩) ওঁ সােমাে দদ গন্ধৰ্বায়, গন্ধর্বো দদদগ্নয়ে। রয়িংশ্চ পুত্রাংশ্চাদা-দগ্নিমহমথাে ইমাম্। [ ঋগ্বেদ-১০/৮৫৪১, পারঙ্কর-১৪১১৬] (৪) ওঁ সা নঃ পূষা শিবতমা মেরয় সান উরূ উশতী বিহর। যস্যামূশন্তঃ প্রহরাম শেপং যস্যামু কামা বহবাে নিবিষ্ট্যৈ। [ পারস্কর-১৪১৬] অনুবাদ—(১) (হে বধু) (তুমি) অঘােরচক্ষু (প্রশান্তদৃষ্টি) অপতিন্নী (পতির অহিংসিকা) এধি ( হও), (তুমি) পশুভঃ (পশু- দিগের প্রতি) শিবা (হিতকারিণী) ( হও, (তুমি) সুমনাঃ ( প্রফুল্লচিত্তা) । * ৩৮ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ( হও), (তুমি) সুবৰ্চা (তেজস্বিনী) ( হও)। (তুমি) বীর ( পুত্রপ্রসবিনী) ( হও)। (তুমি) দেবকামা (দেবতাদিগের প্রসাদা- ভিলাষিণী) (হও), (তুমি)(আমার) স্তেন ( সুখকরী ) ( হও) (এবং তুমি) নঃ ( আমাদের) দ্বিপদে (পরিজনবর্গের প্রতি) শং (কল্যাণকরী ) ভব ( হও) (এবং) (তুমি) (আমাদের) চতুষ্পদে (গবাদি পশুসমূহের প্রতি) শং (কল্যাণকরী ) ( হও)। দ্রষ্টব্য-অঘােরচক্ষুরপতিচ্যুেধি = অঘােরচক্ষুঃ+অপতিঘ্নী+এধি। দ্বিপদে, চতুষ্পদে—দ্বিপাদ এবং চতুষ্পদ শব্দের চতুর্থর একবচন। পাণিনি ৬৪১১৩৯ [ এবং সিদ্ধান্তকৌমুদী ৪১৪ সূত্র দ্রষ্টব্য ] অনুবাদ-হে বধু) সােমঃ (চন্দ্র) (তােমাকে) প্রথমঃ (প্রথম হইয়া অর্থাৎ তােমার জন্ম সময়ে ) বিবিদে ( লাভ করিয়াছিলেন, উপভােগ করিয়াছিলেন), গন্ধর্বঃ ( গন্ধৰ্ব্ব, বাদেবতা) উত্তরঃ (দ্বিতীয় হইয়া) (তােমাকে) বিবিদে ( লাভ করিয়াছিলেন)। তে (তােনার) তৃতীয়ঃ (তৃতীয়) পতিঃ ( উপভােগকর্তা) অগ্নিঃ (অগ্নি), তে (তােনার) তুরীয়ঃ (চতুর্থ) (পতি) মনুষ্যজাঃ ( মনুষ্যজাতীয় আমি)। ভাবার্থ-হে বধু, চন্দ্র তােমাকে প্রথম ভােগ করিয়াছেন। তাই তুমি সৌন্দৰ্য্য পাইয়াছ। তারপর গন্ধৰ্ব্ব ( বাদেবতা) তােমাকে ভােগ করিয়াছেন। তাই মিষ্টবাক্য পাইয়াছ। অগ্নি তােমার তৃতীয়পতি। তাই পবিত্রতা পাইয়াছ। মনুষ্য আমি এখন একমাত্র চতুর্থ পতি, যেহেতু সােম তােমাকে গন্ধর্বের হাতে সমর্পণ করিয়াছেন, তারপর গন্ধৰ্ব তােমাকে অগ্নির হাতে সমর্পণ করিয়াছেন এবং অগ্নি তােমাকে আমার হাতে সমর্পণ করিতেছেন (পরবর্তী মন্ত্র দ্রষ্টব্য)। দ্রষ্টব্য-অগ্নিষ্টে=অগ্নিঃ+তে। মনুষ্যজাঃ—পুংলিঙ্গ আকারান্ত ‘মনুষ্যজা’ শব্দ প্রথমার একবচন [ পাণিনি ৩২/৬৭ এবং ৬৪৪১ ]।
১৯ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ অনুবাদ—(৩) সােমঃ (চন্দ্র) (ইহাকে) গন্ধৰ্বায় (বাগেবত গন্ধর্বের হাতে, দদৎ ( অৰ্পণ করিয়াছেন), গন্ধৰ্ব্ব ( গন্ধৰ্ব্ব ) ( ইহাকে অগ্নয়ে ( অগ্নির হাতে) দদৎ (অৰ্পণ করিয়াছেন। (এখন) অগ্নিঃ (অগ্নি) রয়িঞ্চ পুত্রাংশ্চ ( ধন ও ইহার ভাবিপুলদিগকে) অথথা ( অনন্তর, এবং ইমাঃ (ইহাকে) মহম, (আমার হাতে) অদাং ( অৰ্পণ করুন)। দ্রষ্টব্য—দদৎ—দা ধাতু লেটু তিপ,। পক্ষে দদাৎ। “দ ধাতু লঙ, প্রথম পুরুষের একবচনও বলা যায়। ব্যত্যয়ে পরম্মৈপদ। অটু-আগম নিষেধ অথবা সন্ধিতে অদৃশ্য হইয়াছে। সাধারণতঃ প্রার্থনার্থে লেট, হইলেও এখানে লেট, করিলে লুঙ, বা লঙের অর্থে লেট, বুঝিতে হইবে। অদাৎ = দদাতু, লােটের অর্থে লুঙ। অনুবাদ-(৪) সা ( সেই) ন ( আমাদের) পূষা (বংশবৃদ্ধিকারিণী) শিবতমা ( অত্যন্তকল্যাণময়ী) (তুমি) ( আমাদিগকে ) মা ঈরয় (ত্যাগ ( করিও না)। সা(সেই ) (তুমি) (রতি) উশতী ( ইচ্ছা করিয়া) নঃ ( আমাদের জন্য ) (তােমার) উরূ ( উরূদ্বয়) বিহর ( প্রসারিত কর)। ( রতিসুখ ) উশন্তঃ ( ইচ্ছা করিয়া) যস্যাং (যে তােমাতে) (আমাদের শেপং (জননেন্দ্রিয়) প্রহরাম (প্রক্ষেপ করিতে চাই, উ (হে বধু) যস্যাং (যে তােমাতে, নিবিষ্ট্যৈ ( নিবেশের নিমিত্ত, পুত্ররূপে গর্ভে প্রবেশের নিমিত্ত ) বহবঃ ( অত্যন্ত) কামাঃ (ইচ্ছা) (জন্মিয়াছে)। দ্রষ্টব্য—ঋগ্বেদে এই চতুর্থ মন্ত্রটি নাই কিন্তু ইহার অনুরূপ ভাবপ্রকাশক একটি মন্ত্র আছে। তাহা এই- ওঁ তাং পূষঞ্ছিবতমামেরয়স্ব যস্যাং বীজং মনুষ্যা বপন্তি। যা ন উ উশতী বিশ্রয়াতে যস্যামুশন্ত প্রহরাম শেপম্ । [ ঋগ্বেদ-১০৮৫৩৭ ] == ৪০ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ বিবাহ-হােম নিষ্ক্রমণের পর হােম। প্রত্যেক হােমের তিনটি ভাগ থাকে—কুশণ্ডিকা, প্রকৃত কৰ্ম্ম এবং উদীচ্য- কৰ্ম্ম। সকল হােমেই কুশণ্ডিকা ও উদীচ্য কৰ্ম্ম একরূপ। কাৰ্যভেদে প্রকৃত কর্মের বিভিন্ন হইয়া থাকে। বিবাহের হােমকে সাধারণতঃ কুশণ্ডিকা বলা হয়, যদিও হােমের প্রথম ভাগের নামই প্রকৃত প্রস্তাবে কুশণ্ডিকা। প্রকৃতপ্রস্তাবে বিবাহ-প্রসঙ্গে বরকে দুইটি হােম করিতে প্রথমটির নাম বিবাহ-হােম। দ্বিতীয়টির নাম চতুর্থী- হােম। চতুর্থীহােম বর বিবাহের পর নিজের বাড়ীতে যাইয়া বিবাহরাত্রি হইতে চতুর্থ রাত্রিতে করিতেন। এখন বিবাহ- হােমের পরই এই হােম করা হয়। এইজন্য কাৰ্য্যত এখন একটি হােমই হয়। মােট হােমটিকে (চতুর্থীহােমসহ ) বিবাহ-হােম বলিব। এইজন্য দুইজন ব্রহ্মার পরিবর্তে ১জন ব্ৰহ্মা, দুইজন তন্ত্রধারকের পরিবর্তে একজন তন্ত্রধারক এবং দুইটি পূর্ণপাত্রের পরিবর্তে একটি পূর্ণপাত্র আবশ্যক নিজেই হােতা। চতুর্থীহােমে চরুপাকের নিয়ম ছিল এবং চরু দ্বারা “ওঁ প্রজাপতয়ে স্বাহা, ইদং প্রজাপতয়ে’ ও “ওঁ অগ্নয়ে স্বিষ্টকৃতে স্বাহা, ইদমগ্নয়ে স্বিষ্টকৃতে’—এই দুইটি আহুতি দিতে হইত। হােম মােটে একটি হইলেও কোনও কোনও আহুতি দুই প্রসঙ্গ বলিয়া দুই দিতে হয়। যথা—স্বিষ্টকৃদ্ধোম দুইবার করিতে হইবে।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ৪১ হয়। রীতিমত হােম করিতে হইলে একজন ব্রাহ্মণকে ব্ৰহ্মপদে এবং আর একজন ব্রাহ্মণকে তন্ত্রধারকের পদে বরণ করা কর্তব্য। ব্রহ্মা ম ত্রুটি ঘটিল কিনা তাহা দেখিবেন। তন্ত্রধারক হােতৃবরকে কাজ দেখাইয়া দিবেন। কিন্তু দুই জন ব্রাহ্মণকে কেহই বরণ করেন না। একজন ব্রাহ্মণকে মাত্র বরণ করা হয়। কেহ তাহাকে ব্রহ্মা করেন। তাহাকে তন্ত্রধারক করেন। যখন ঐ ব্রাহ্মণ ব্রহ্মা হন, তখন ও তিনি তন্ত্রধারক না হইলেও তাঁহাকেই তাহার কাজ করিতে হয়। সাধারণতঃ নারায়ণকেই ব্ৰহ্মরূপে কল্পনা করা হয়। যাহাহউক এই সময়েই একজন ব্রাহ্মণকে ব্ৰহ্মপদে অথবা তন্ত্রধারকপদে বরণ করিয়া নিতে হইবে। বরণের প্রণালী :- বর—ওঁ সাধু ভবানাস্তাম্। ব্রাহ্মণ-—ওঁ সাধ্বমাসে। বর—ওঁ অৰ্চয়িষ্যামাে ভবন্ত। ব্রাহ্মণ—ওঁ অৰ্চয়। বর—এতানি গন্ধপুষ্পযজ্ঞােপবীতবাসাংসি ওঁ ব্রাহ্মণায় নমঃ। ব্রাহ্মণ—ওঁ স্বস্তি। বর—(বরণ বাক্য) বিষ্ণুরােতৎসদ অমুকে মাসি অমুক- রাশিস্থে ভাস্করে অমুকপক্ষে অমুকতিথৌ অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুক- শৰ্মা মৎকৰ্তব্যেহস্মিন্ বিবাহকৰ্মাঙ্গ-হােমকৰ্ম্মণি ব্ৰহ্মকর্মকরণায় ( তন্ত্রধারককর্মকরণায়) অমুকগােত্রম্ অমুকশৰ্ম্মাণং ব্রাহ্মণ- মেভির্গন্ধাদিভিরভ্যচ্চ ভবন্তমহং বৃণে।
৪২
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ব্রাহ্মণ—ওঁ বৃতােহস্মি ।
বর—ওঁ যথাবিহিতং ব্ৰহ্মকম্ম (তন্ত্রধারককৰ্ম্ম ) কুরু।
ব্রাহ্মণ—ওঁ যথাজ্ঞানং করণি।
ব্ৰহ্মপক্ষে আরও খুটিনাটি কয়েকটি কাজ আছে। বাহুল্য।
ভয়ে তাহা লিখিত হইল না। নারায়ণকে ব্রহ্মরূপে কল্পনা
করিলে তাহা আবশ্যক হয় না। বরের বরণকাৰ্য্য এই প্রসঙ্গে
দ্রষ্টব্য।
সমস্ত কাৰ্যটির নাম বিবাহ-হােম হইলেও ইহাতে
হােমব্যতীত সপ্তপদীগমন প্রভৃতি অন্য কাজও আছে।
হােমের প্রয়ােজনীয় দ্রব্য
(১) যজ্ঞ বরণের জন্য সাদাধুতি ১, চাদর ১, পৈতা ১;
(২) বালু ;
(৩) সমিধের জন্য প্রাদেশপ্রমাণ যজ্ঞডুমুরের পল্লব-৩;
(৪) যজ্ঞকাষ্ঠ ;
(৫) বিশুদ্ধগব্যঘৃত অন্ততঃ / ;
(৬) খৈ ;
(৭) কুলা-১;
(৮) অগ্নিস্থাপনের জন্য কাংস্যপাত্র অথবা তাম্রপাত্র অথবা
নূতন মেটে সরা—১;
(১) আজ্যস্থালীর জন্য——তাকুণ্ড-১;
(১০) প্রােক্ষণীপাত্রের জন্য কোশা—১;
(১১) ক্রুবের জন্য কুশী—১;
(১২) পূজার জন্য কোশাকুশী-১ সেট ;
৪৩
যজুৰ্ব্বেদীয় বিবাহ
(১৩) সংস্রবপাত্র (প্রােক্ষণীপাত্ৰদ্বারাই এই কাজ চলিতে-
পারে);
(১৪) প্রণীতাপাত্রের জন্য ছােট তাম্রকুণ্ড—১;
(১৫) পবিত্রের জন্য সাকুশ—২;
(১৬) সম্মার্জনকুশ—৬;
(১৭) উপমনকুশ (হােতৃবরের বামহস্তে বাঁধিবার
জন্য )-১৩;
(১৮) অতিরিক্ত কুশ–কয়েকগাছি ;
(১৯) শিলনােড়া-১ সেট ;
(২০) সপ্তপদীগমনের মণ্ডলসমূহ আঁকার জন্য পিটুলি ;
(২১) হােমের সময় বর ও কন্যার বসিবার জন্য নূতন
পাটি-১;
এবং (২২) পূর্ণপাত্র-১;
চতুর্থীহােমের জন্য চরুপাক করা হইবে না বলিয়া
কুলা, উদূখল, মুসল, শ্রু, মেক্ষণ, কাচা দুগ্ধ, চরুপাকের
জন্য আতপ চাউল প্রভৃতির প্রয়ােজন হইবে না।
ইহার পর—(১) পবিত্রনির্মাণ,
(২) প্রণীতাপাত্রস্থাপন ;
(৩) প্রােক্ষণীপাত্রের প্রথমবার সংস্কার ;
(৪) আজ্যসংস্কার ;
(৫) সংস্কার ;
(৬) বরকর্তৃক বামহস্তে উপযমনকুশধারণ।
৪৪ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ পবিত্ৰ-নিৰ্মাণ-পবিত্রনির্মাণের জন্য সাগ্ৰ কুশ দুইটি রাখা হইয়াছে তাহাদিগকে লইয়া—ওঁ পবিত্রে জাে বৈষ্ণ- বৌ—বলিয়া অগ্রভাগ হইতে প্রাদেশ প্রমাণ রাখিয়া অবশিষ্টাংশ কোশার কানা দিয়া বর ছেদন করিবেন। তারপর এক গাছি সরু কুশ দ্বারা ঐ কুশ দুইটি তিনি বাঁধিয়া দিবেন। ওঁ বিষ্ণোর্মনসা পূতে স্থঃ-বলিয়া উহাতে তিনি জল প্ৰােক্ষণ করিবেন। মন্ত্র দুইটির অনুবাদ—হে পবিত্রদ্বয়, বিষ্ণু তােমাদের অধিষ্ঠাত্রী- দেবতা। তােমর বিষ্ণুর মনন দ্বারা পবিত্র হও। দ্রষ্টব্য-প্রণীতাপাত্রস্থাপন, প্রেক্ষণী পাত্রের সংস্কার এবং সংস্কারের প্রণালী বাহুল্যভয়ে এখানে লিখিত হইল না। বৃত ব্রাহ্মণ বরকে এই সব কাজ দেখাইয়া দিবেন। আজ্যসংস্কার-যােজক নামক অগ্নি স্থাপন ও তাহার পূজা সম্প্রদানের পূর্বেই করা হইয়াছে। আজ্যস্থালীটি আগুণে ধর যে পৰ্য্যন্ত ধৃত না গলে। তারপর একখানা জ্বলন্ত কাষ্ঠ স্থণ্ডিল হইতে লইয়া আজ্যস্থালীর মধ্যে প্রদক্ষিণ ক্রমে ঘুরাও। তারপর ঐ কাষ্ঠটিকে তারপর ঐ কাষ্ঠটিকে অগ্নিতে নিক্ষেপ কর। ইহার নাম পৰ্যগ্নিকরণ। তারপর পবিত্র দুই গাছিকে বাঁ হাতের অনামিকাও অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা অগ্রে এবং দক্ষিণ হস্তের অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা মূলে চিৎহাতে ধরিয়া- ও সবিতুত্ত্বা প্রসব উৎপুনাম্যচ্ছিদ্রেণ পবিত্রেণ সুৰ্য্যস্ত রশ্মিভিঃ স্বাহা—[ মা-বা-সং-১৩১, কা-বা-সং-১০৪] এই মন্ত্রে পবিত্রদ্বয়ের মধ্যভাগ দ্বারা—কিঞ্চিৎ আজ্য (এখন পর্যন্ত ঘৃত) তুলিয়া অগ্নিতে নিক্ষেপ কর। পৰ্যগ্নি-
৪৫
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
করণ দ্বারা ঘৃতের প্রথমপ্রকারের সংস্কার সাধিত হইয়াছে।
এখন পবিত্র ও মন্ত্রদ্বারা ঘৃতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকারের
সংস্কার সাধিত হইল। বিনামন্ত্রে ঐ ভাবে আর ও দুইবার
ঘৃত অগ্নিতে নিক্ষেপ কর।
মন্ত্ৰদুইটির অনুবাদ- হে। ঘৃত), সবিতু (সবিতৃদেবের)
প্রসবে ( আদেশানুসারে) অচ্ছিদ্রেণ (নিখুত) পবিত্রেণ (পবিত্ৰদ্বার)
(এবং) সূৰ্য্যস্ত (সুর্যের) রশ্মিভিঃ ( রশ্মিদ্বারা) ত্বা (তােমাকে )
উৎপুনামি ( উৎকৃষ্টরূপে শােধন করিতেছি)।
দ্রষ্টব্য-বাজারে প্রচলিত পদ্ধতিসমূহে মন্ত্রের ‘সূর্য” শব্দের পূর্বে
একটি অতিরিক্ত ‘বসাে’ শব্দ দেখা যায়। মূলবেদে তাহা নাই। সুতরাং
এখানে এই শব্দটি আমরা গ্রহণ করি নাই।
তারপর আজ্যস্থালীস্থিত ঘৃতের দিকে অবলােকন কর
এবং অপদ্রব্য থাকিলে তাহা কুশ দ্বারা নিরসন কর। ইহাতে
চতুর্থ প্রকারের সংস্কার সাধিত হইল। এখন ঘৃত আজ্যে
পরিণত হইয়াছে।
তারপর বর উপমন কুশগুলি বাঁ হাতে ধারণ করিবেন।
হােমসমাপ্তি পর্যন্ত ধারণ করার কথা। তারপর বর দাড়াইয়া
সমিৎ ত্ৰয় আজ্যদ্বারা সিক্ত করিয়া অগ্নিতে নিক্ষেপ করিবেন।
তারপর অগ্নিপর্যুক্ষণ—ডান হাতের গযে করিয়া
প্রােক্ষণীপাত্র হইতে পবিত্ৰসহিত কিঞ্চিৎ জল লইয়া
অগ্নির চারিদিকে কিন্তু অগ্নির বাহিরে ঈশানকোণ হইতে
দক্ষিণাবর্তে সেচন করিতে হইবে।
৪৬ * যজুর্বেদীয় বিবাহ দ্রষ্টব্য-হােমসম্বন্ধে জ্ঞাতব্যবিষয়—(১) যজুৰ্বেদী সর্বত্রই দেবতােদ্দেশ করিবেন, অর্থাৎ যে দেবতার হােম করিবেন, হােমান্তে ‘ইদ’ এর পর সেই দেবতার চতুর্থ্যন্ত নাম বলিবেন। যথা—ইদং প্রজাপতয়ে, ইদমগ্নয়ে, ইদং সােমায়, ইদমম্বিকায়ৈ ইত্যাদি। ‘ইদ’ এর পূর্বে ও বলিতে ' হইবে না। (২) যজুর্বেদীয় সকল হােমেই এই চৌদ্দটি আহুতি বাধ্যতামূলক :-(ক) অঘােরহােম, আহুতি-২, (খ) আজ্যভাগহােম, আহুতি-২, (গ) মহাব্যাহৃতিহােম, আহুতি-৩, (ঘ) প্রায়শ্চিত্তহােম, আহুতি-৫, (ঙ) প্রাজাপত্যহােম, আহুতি-১, এবং (চ) স্বিষ্টকৃদ্ধোম ( স্বিকৃৎ-হােম), আহুতি—১। বাধ্যতামূলক প্রাজাপত্যহােম ব্যতীত, সময়ে ২ অতিরিক্ত প্রাজাপত্যও আছে। আঘারভাগের মধ্যেও আবার প্রাজাপত্যহােম আছে। (৩) আঘারহােমও আজ্যভাগহােম কুশণ্ডিকার অন্তর্গত। বাকীগুলি উদীচ্যকর্মের অন্তর্গত। চৌদ্দটি আহুতি দেওয়ার সময় ব্রহ্মার দক্ষিণ হস্তের সহিত হােতার দক্ষিণহস্ত সংলগ্ন থাকা চাই। কুশময়াদি ব্ৰহ্মপক্ষে হােত নিজেই বামহস্তদ্বারা নিজের দক্ষিণহস্ত স্পর্শ করিবেন অর্থাৎ অন্বার দক্ষিণহন্তে আহুতিদিবেন। এরূপ স্পর্শকে অারম্ভ বলে এবং দক্ষিণহস্তকে এই অবস্থায় অন্বার দক্ষিণহস্ত বলে । অন্বার = স্পষ্ট। অন্বাবম্ভ =স্পর্শ। (৫) আহুতিদানের বাক্যটিকে কেবল মনে মনে স্মরণ করিতে হইবে, মুখে বলিতে হইবে না। (৬) সর্বত্রই বাক্য বা মন্ত্র পাঠের পর কিন্তু দেবতােদ্দেশের পূর্বে আহুতি দিতে হয়। (৭) সৰ্ব্ববেদীই আজাহুতির শেষ ( অন্যকোনও আহুতির শেষ নহে) অর্থাৎ আহুতিদানের (যজুৰ্বেদিপক্ষে —এবং দেবতােদ্দেশের) পর কুশীতে (হাতাতে) যে ঘৃত (আজ্য) লাগিয়া থাকিবে তাহা সংস্রবপাত্রে রাখিবেন। সংস্রব =আজাহুতির অবশিষ্ট ভাগ। সংস্রবের কিছু অংশ যজমানকে খাইতে হয়। (৮) দেবতােদ্দেশ অগ্নির উপরেই আহুতিদানের অব্যবহিত পরে (৪) এই ৪৭ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ করিতে হয়। সংবপাত্রের উপর দেবতােদ্দেশ করিলে ভুল হইবে । (৯) সংস্রব রাখিবার কোনও বাক্য বা মন্ত্র নাই। (১০) সকল হােমেই সাধারণতঃ কুশণ্ডিকা ও উদীচ্যকৰ্ম্ম প্রায় একরূপ। ভিন্ন ভিন্ন হােমে প্রকৃতকৰ্ম্ম ভিন্ন ভিন্ন রূপ। হােমের সময় বর ও বধূর বসিবার স্থান- বধূ বরের ডান দিকে বসিবে। যথা-(১) তস্য (বর) দক্ষিণতত বধূ —হরিহর); (২) বধূ তত্রৈব দক্ষিণে উপবিশতি—পশুপতি) এবং (৩) ততঃ কটস্থ পূৰ্বান্তে বধূর্দক্ষিণত উপবিশতি, জামাতাচ বধ্ব উত্তর : -ভবদেব)। আঘার হােম। ১। “ওঁ প্রজাপতয়ে স্বাহা'--এই বাক্যটি মনে মনে বলিয়া, অগ্নির বায়ুকোণ হইতে ঈশান কোণের মধ্যদিয়া অগ্নিকোণ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে ঘৃতধারা (আজ্যধারা) দেও। তারপর ইদং প্রজাপতয়ে—বলিয়া আহুতিদানের অব্যবহিত- পরে অগ্নির উপরেই দেবতােদ্দেশ কর। তারপর সংস্রব সংস্রব পাত্রে অর্থাৎ প্ৰােক্ষণীপাত্রে রাখ। সর্বত্রই এই ভাবে আজ- হােমে সংস্রব রাখিতে হইবে। বাক্য দুইটির অনুবাদ—(১) (এই আহুতি) প্রজাপতিকে অর্পণ করিলাম । (২) ইহা প্রজাপতির উদ্দেশে ( অর্পিত হইল)। দ্রষ্টব্য-প্রজাপতয়ে স্বাহা এবং ‘ইদং প্রজাপতয়ে’—এই দুইটি প্রকৃত প্রস্তাবে মন্ত্র নহে, বাক্যমাত্র। এইরূপ সৰ্ব্বত্র অনুরূপ স্থলে বুঝিয়া নিতে হইবে । তারপর ও ইন্দ্রায় স্বাহা'—এই বাক্যটি মনে মনে বলিয়া, অগ্নির নৈঋতকোণ হইতে অগ্নিকোণের ভিতর দিয়া
৪৮
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ঘৃতধারা দেও। তারপর—ইদমিন্দ্রায় বলিয়া দেবতােদ্দেশ
সংস্রব রাখ।
অনুবাদ— এই আহুতি) ইন্দ্রকে অর্পণ করিলাম ইহা ইন্দ্রের উদ্দেশে
( অর্পিত হইল)।
হােমের এই অংশের নাম আঘার-হােম।
আজ্যভাগহােম।
১। “ওঁ অগ্নয়ে স্বাহা’–এই বাক্যটি মনে মনে বলিয়া
অগ্নির মধ্যে উত্তরদিকে পশ্চিমান্ত হইতে পূৰ্বান্ত পৰ্য্যন্ত
অবিচ্ছিন্ন ঘূতধারা দেও। তারপর ইদমগ্নয়ে—বলিয়া দেবতাে-
দ্দেশ কর। সংস্রব রাখ।
অনুবাদ— এই আহুতি) অগ্নিকে অর্পণ করিলাম। ইহা অগ্নির
উদ্দেশে ( অর্পিত হইল) উদ্দেশে =উদ্দেশ্যে।
২। তারপর “ওঁ সােমায় স্বাহা'—এই বাক্যটি মনে
মনে বলিয়া অগ্নির মধ্যে অগ্নির দক্ষিণদিকে পশ্চিমান্ত হইতে
পূৰ্বান্ত পর্যন্ত পূর্বাগ্র অবিচ্ছিন্ন ঘৃত ধারা দেও। তারপর
ইদং সােমায়—বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর। সংস্রব রাখ।
অনুবাদ— এই আহুতি) সােমকে অর্পণ করিলাম। ইহা সােমের
উদ্দেশে ( অর্পিত হইল)।
হােমের এই অংশের নাম আজ্যভাগহােম।
বিশেষ দ্রষ্টব্য—স্থলিনিৰ্মাণ হইতে আরম্ভ করিয়া, হােমবিষয়ে
এপৰ্যন্ত যাহা লিখিত হইয়াছে, তাহার নাম কুশণ্ডিকা। বিবাহেও
এই অংশকেই কুশণ্ডিকা বলা উচিত কিন্তু সাধারণ লােকে সমগ্র
হােমকেই কুশণ্ডিকা বলে।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ৪৯ হইয়াছে। ইহার পরে মহাব্যাহৃতি হােম ১। আজ্যস্থালী আজ্যস্থালী হইতে এককুশী আজ্য লইয়া—“ও ভূঃ স্বাহা'—এই বাক্যটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া আহুতি দেও। তৎপরে—‘ইদমগ্নয়ে’ বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর। সংস্রব রাখ। দ্রষ্টব্য-ভূঃ এই পদটি অব্যয়, চতুর্থীর একবচন, স্বাহা যােগে চতুর্থী কেহ কেহ ‘ইদমগ্নয়ে’ স্থলে ‘ইদং ভূঃ পাঠ ইচ্ছা করেন। তাহা হইলেও ভূঃ = অগ্নয়ে, কারণ ভূ-লােকের অধিষ্ঠাত্রীদেবত। অগ্নি । অনুবাদ-ভূঃ (ভূলােককে, ভূ-লােকের অধিষ্ঠাত্রীদেবতাকে । এই আহুতি) স্বাহা ( অর্পণ করিলাম)। ইদং (ইহা) অগয়ে ( ভূ- লােকের অধিষ্ঠাত্রীদেবতা অগ্নির উদ্দেশে ) ( অর্পিত হইল)। ২। ঐ ভাবে দ্বিতীয় এক কুশী আজ্য লইয়া—ও ভূবঃ স্বাহা’–এই বাক্যটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া আহুতি দেও। তৎপর ‘ইদং বায়বে’ বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর । সংস্রব রাখি। দ্রষ্টব্য-কেহ কেহ ‘ইদং বায়বে’ স্থলে ‘ইদং ভুবঃ পাঠ ইচ্ছা করেন। তাহা হইলেও ভুবঃ = বায়বে। কারণ ভুবঃ-লােকের অধিষ্ঠাত্রী-দেবতা বায়ু। অনুবাদ—ভুবঃ-লােককে (অথবা ভুবঃ-লােকের অধিষ্ঠাত্রী-দেবতাকে) এই আহুতি অৰ্পণ করিলাম। ইহা ভুবঃ-লােকের অধিষ্ঠাত্রীদেবতা বায়ুর উদ্দেশে অর্পিত হইল । ৩। ঐ ভাবে তৃতীয় এক কুশী আজ্য লইয়া—ওঁ স্বঃ স্বাহা’–এই বাক্যটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া আহুতি দেও তৎপরে—‘ইদং সূৰ্য্যায়’ বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর।
তাহা হইলেও
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
দ্রষ্টব্যঃ পদটি অব্যয়, স্বাহাযােগে চতুর্থী। কেহ কেহ
‘ইদং সূৰ্য্যায়’-স্থলে ‘ইদং স্ব’—পাঠ ইচ্ছা করেন।
স্ব:= স্বঃ-লােকেরঅধিষ্ঠাত্রীদেবতা সূৰ্য্য।
অনুবাদ—এই আহুতি স্বঃ-লােককে (অথবা স্বঃ-লােকের অধিষ্ঠাত্রী-
দেবতা সূর্যকে ) অৰ্পণ করিলাম। ইহা স্বঃ-লােকের অধিষ্ঠাত্রীদেবতা
সূৰ্বোর উদ্দেশে অর্পিত হইল।
দ্রষ্টব্য-কেহ কেহ মহাব্যাহৃতিহােমে পূর্বোক্ত তিনটি আজ্যাতির
পরে ও ভূর্ভুবঃ স্বঃ স্বাহা, ইদমগ্নিবায়ুসুৰ্যেভ্য’ (অথবা ইদং ভূভুবঃ স্বঃ)
এইরূপ আর একটি আহুতিদানের কথা বলেন কিন্তু তদ্বিষয়ক মূলগ্রন্থ
পারঙ্করের গৃহসূত্রে এইরূপ উপদেশ নাই । সুতরাং এইরূপ উপদেশ
অগ্রাহ্য ।
হমের এই অংশের নাম মহাব্যাহৃতি-হােম।
তারপব প্রায়শ্চিত্ত-হােম (সকল্প ব্যতীত)।
ও ত্বন্নো অগ্নে বরুণস্য বিদ্বান,
দেবস্য হেলে অব যাসিসীষ্ঠাঃ ।
যজিষ্ঠো বহ্নিতমঃ শশাশুচাননা,
বিশ্বা দ্বেষাগুসি প্রমুমুগ্ধস্মৃৎ-স্বাহা।
[ মাং-বাং-মং-২১৩, কা-বা-মং-২৩৩]
এই মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া আজাহুতি দেও।
তৎপরে ‘ইদমগ্নী-বরুণাভ্যাম্ বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর। সংক
রাখ।
ও স ত্বঘ্নো অগ্নেহবমাে ভবােতী,
নেদিষ্ঠো অস্থা উষসো ব্যষ্ট্যে।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
অব যক্ষ, নাে বরুণও ররাণে,
বীহি মৃলীক সুহবােন এধি—স্বাহা।
[ মা-বা-সং-২১৪, কা-বা-সং-২৩৪]
এই মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া আজাহুতি দেও তৎপরে
‘ইদমগ্নী-বরুণাভ্যাম্ বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর। সংস্রব রাখ।
ও অয়াশ্চাগ্নেস্তনভিশস্তিপাশ্চ,
সত্যমিত্ত্বময়া অসি। অয়া নাে যজ্ঞং বহা,-সয়া
নাে ধেহি ভেষজগু স্বাহা।
[ কাত্যায়ন-শ্রোতসূত্ৰ-২৫১১ ]
এই মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া আজাহুতি দেও।
তৎপরে ‘ইদমগ্নয়ে বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর। সংস্রব রাখ।
ওঁ যে তে শতং বরুণ যে সহস্রং, যজ্ঞিয়াঃ পাশা
বিত মহান্তঃ। তেভিনো অঙ্গ সবিতােত বিষ্ণু,-বিশ্বে
মুঞ্চন্তু মরুভঃ স্বৰ্কাঃ-স্বাহা।
( কাত্যায়ন-শ্রোতসূত্র—২৫।১১ ]
—এই মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া, আজাহুতি দেও।
তারপর ইদং বরুণায়, সবিত্রে, বিষ্ণবে, বিশ্বেততা দেবভ্যো
মরুদ্ভ্য, স্বর্কেভ্য—বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর।
৪।
সংস্রব রাখ।
ওঁ উদুত্তমং বরুণ পাশমস্ম,-দবাধমং
বি মধ্যমগু শ্ৰথায়।
অথা বয়মাদিত্য ব্রতে, তবানাগসাে অদিতয়ে স্যাম—স্বাহা।
[ মা-ব-সং-১২১২, কা-বা-সং-১৩১১৩]
যজুৰ্বেমীয় বিবাহ —এই মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করিয়া, আজ্যাহুতি দেও। তারপর ‘ইদং বরুণায়’ বলিয়া দেবতােদ্দেশ কর। সংস্রব রাখ। অনুবাদ (১) (হে) অগ্নে ( অগ্নে ) ত্বং (আপনি) বিদ্বান্ ( সর্বজ্ঞ ), (আপনি) যজিষ্ঠঃ (যজ্ঞকারীদিগের মধ্যে অথবা পূজকদিগের মধ্যে সব চেয়ে বড় ), (আপনি) (হবির) বহ্নিতমঃ ( খুব ভাল বাহক) • (আপনি) শােচানঃ (দীপ্যমান ), (আপনি) নঃ ( আমাদের প্রতি) বরুণস্য ( বরুণের ) হেলঃ (ক্রোধ, অনাদর) অবসিসীষ্ঠাঃ (নষ্ট করুন) { এবং) অম্মৎ ( আমাদের নিকট হইতে) বিশ্ব (সকল) দ্বেষাংসি { দুর্ভাগ্য, পাপ) প্রমুমুন্ধি ( দূর করুন) স্বাহা। (এই প্রার্থনা করিয়া আহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদম্ (ইহা) অগ্নীবরুণাভ্যাম্ (অগ্নি এবং বরুণের উদ্দেশে ) ( অর্পিত হইল)। দ্রষ্টব্য-মাধ্যন্দিনশাখীরা ‘হেলাে’ স্থানে ‘হেড়াে’ পড়িবেন। মন্ত্রটি শুক্লযজুৰ্বেদীয় বলিয়া ঘেষার্থসি= দেখাগু সি। স্বরবর্ণ পরে থাকিলে শুক্লযজুৰ্ব্বেদে ‘’-এর উচ্চারণ ‘খ’-এর ন্যায়। অনুবাদ-(২) (হে) অগ্নে ( অগ্নে) ত্বং (আপনি) নঃ (আমাদের) অবমঃ ( রক্ষক), (আপনি) উতী (রক্ষাদ্বারা) অস্যাঃ (এই) উষসঃ ( উযার) ব্যুষ্ট্যে (সমাপ্তিতে, অন্তে ) ( আমাদের নেদিষ্ঠঃ (অত্যন্ত নিকটবর্তী) ভব ( হউন), (হবি) ররাণঃ ( দানকরিয়া অর্থাৎ আমাদের দত্ত হবি বরুণের কাছে পহুছাইয়া দিয়া) নঃ ( আমাদের অর্থাৎ আমাদের হইয়া) বরুণং ( বরুণ দেবকে) অবক্ষ (পূজা করুন) (এবং নিজেও) নঃ ( আমাদের কাছে) সুহবঃ ( সুন্দর ভাবে আহূত হইয়া) এধি ( হউন অর্থাৎ আসুন ) (ও) মূলীকং ( সুখকর) (হবি) বীহি (ভক্ষণ করুন)।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া আহুতি অৰ্পণ করিলাম )। ইদম্ (ইহা) অগ্নীবরুণাভ্যাম্ ( অগ্নিও বরুণের উদ্দেশ্যে অর্পিত হইল)। দ্রষ্টব্য। যজুৰ্বেদীয় মন্ত্র বলিয়া উষসাে= উথসাে। মাধ্যদিন- শাখীরা ‘মূলীকণ্ঠ স্থানে ‘মৃড়ীক পড়িবেন। সিদ্ধান্তকৌমুদীর ঔণাদিক প্রকরণে ‘কুৎসিত’ অর্থে ‘অবম’ শব্দ পাওয়া যায়। অনুবাদ—(৩) (হে) অগ্নে (আপনি) অয়াঃ (সৰ্বগত) চ (এবং) অনভিশস্তিপাঃ (যে আপনার কাছে রক্ষা অর্থাৎ আশ্রয় প্রার্থনা করেন তাহারও রক্ষক) অসি ( হন), সত্যম্ (সত্য) ইৎ (ই) ত্ব ( আপনি) অয়াঃ (সৰ্বগত) অসি ( হন)। ( ঈদৃশ ) অয়াঃ (সৰ্বগত) ( আপনি ) নঃ ( আমাদের) যজ্ঞং (যজ্ঞে ) (বহু সিদ্ধি ) বহাসি (আনয়ন করুন ), অয়াঃ (সৰ্ব্বজ্ঞ ) ( আপনি) নঃ ( অমাদের) ভেষজং ( আরােগ্য) ধেহি ( সম্পাদন করুন)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া আহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদম্ (ইহা) অগ্নয়ে ( অগ্নির উদ্দেশ্যে ) ( অর্পিত হইল )। দ্রষ্টব্য—ভেষজ= ভেখজম্। অনুবাদ— ৪) (হে) বরুণ (বরুণ), তে (আপনার) যে (যে ) শতং (শত) সহস্রং ( সহস্র) মহান্তঃ ( বড় বড়) যজ্ঞিয়াঃ (যজ্ঞসম্বন্ধীয় অর্থাৎ যজ্ঞের বিঘ্ন উৎপাদন করিতে সমর্থ) পাশাঃ (বন্ধনরঙ্কু অর্থাৎ বিঘ্ন জন্মাইবার অস্ত্রশস্ত্র বিততাঃ (আপনাকর্তৃক বিস্তৃত রহিয়াছে অর্থাৎ আপনি পাতিয়া রাখিয়াছেন), তেভিঃ (সেইসব হইতে )নঃ (আমাদিগকে অদ্য ( অদ্য, সম্প্রতি) সবিতা (সবিতৃদেব) উত (এবং) বিষ্ণু (বিষ্ণু ), বিশ্বে (বিশ্বদেবগণ) মরুতঃ (মরুগ্ণ ), স্বর্কাঃ (সুন্দর ভাবে অর্চনীয় আদিত্যগণ ) মুঞ্চন্তু ( মুক্ত করুন)। স্বাহা। ( এই প্রার্থনা করিয়া আহুতি অৰ্পণ করিলাম )। ইদং (ইহা) বরুণায় (বরুণের উদ্দেশ্যে ), সবিত্রে ( সবিতৃদেবের উদ্দেশে ), বিষ্ণবে (বিষ্ণুর উদ্দেশে ), বিশ্বেভ্য দেবেভ্যঃ ৫৪ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ( বিশ্বদেবতাগণের উদ্দেশে ), মরুত্ত্যঃ (মরুদগণের উদ্দেশ্যে ), স্বর্কেভ্যঃ ( সুন্দর ভাবে অর্চনীয় আদিত্য গণের উদ্দেশ্যে ) ( অর্পিত হইল)। অনুবাদ—(৫) (হে) বরুণ (বরুণ) উত্তমং (উত্তমাঙ্গ শিরে স্থাপিত ) ( আপনার) পাশ (পাশ) অস্মৎ ( আমাদিগহইতে অর্থাৎ আমাদিগের শরীরহইতে) উৎশ্ৰথায় (উর্ধদিকে টানিয়া নিয়া নষ্ট করুন) অধমং ( অধমাঙ্গ-পাদদেশ স্থাপিত) ( আপনার) পাশ (পাশ) আমাদের শরীর হইতে) অব (নীচদিকে টানিয়া নিয়া নষ্ট করুন), মধ্যমং ( শরীরের মধ্যভাগে স্থাপিত ) ( আপনার) পাশ (পাশ) ( আমাদের শরীর হইতে) বি ( বিশেষ ভাবে নষ্ট করুন)। অথা ( অনন্তর অর্থাৎ পাশত্ৰয় নাশের পর) (হে) আদিত্য ( অদিতিপুত্র অথবা আদিত্যতুল্য) ( বরুণ) বয় ( আমরা) অনাগসঃ (পাপরহিত হইয়া) তব ( আপনার ) ব্রতে (কাজে, কাজের) অদিতয়ে (অখণ্ডিত ভাবে, ধারাবাহিকভাবে ) (যােগ্য) স্যাম ( যেন হই)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া আহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদং (ইহা) বরুণায় ( বরুণের উদ্দেশ্যে ) ( অর্পিত হইল)। দ্রষ্টব্য-বাজারে প্রচলিত পশুপতির পদ্ধতিতে এই সময়ে মহাব্যাহৃতি- হােম এবং প্রায়শ্চিত্ত-হােম করার কথা নাই। কিন্তু পারস্পরের গৃহ্যসূত্রে লিখিত আছে যে বিবাহ-হােমের অঙ্গ (চতুর্থীহােমের নহে) মহাব্যাহৃতি- হােম এবং প্রায়শ্চিত্ত-হােম উদীচ্যকৰ্ম্ম হইলেও এই সময়ে প্রকৃতকর্মের রাষ্ট্রভৃদ্ধোম আরম্ভ করিবার পূর্বে করিয়া নিতে হইবে। যাহারা ইচ্ছা করেন তাহারা এই দুই অংশ বাদ দিতে পারেন কিন্তু বাদ দেওয়া সঙ্গত হইবে না। পারঙ্করের গৃহ্যসূত্র ১৫৩, ১৫৪, ১৫৫ এবং ১৫৬ দেখ। হরিহর পারঙ্করকে অনুসরণ করিয়াছেন। পারস্কর এবং হরিহর অগ্নির নাকরণের কথা লেখেন নাই। প্রায়শ্চিত্তহােম, উদীচ্যকর্মের প্রাজাপত্য- হােম এবং স্বিষ্টকৃদ্ধোম সাধারণতঃ বিধুনামক অগ্নিতে করিতে হয়। যতদূর বুঝা যাইতেছে তাহাতে চতুর্থীহােমের পূর্বপৰ্যন্ত বিবাহ হােমের যজুৰ্বেদীয় বিবাহ সকল প্রকারের সমস্ত আহুতি একমাত্র যােজকনামক অগ্নিতেই দিতে হইবে। পশুপতিরও এই মত। এই প্রায়শ্চিত্ত-হােমে কোনও সকল্পও আবশ্যক হইবে না। ইহারপর রাষ্ট্রভৃদ্ধোম [ রাষ্ট্রভৃৎ+হােম ] ইহাতে আজ্যদ্বারা বারটি আহুতি দিতে হয়। অন্যারম্ভ ত্যাগ করিতে হইবে কিন্তু সংস্রবপাত্রে সংস্রব রাখিতে হইবে। আহুতি সমূহ- ১। ওঁ ঋতাষাড় ঋতধামাগ্নি-গন্ধর্ব, স ন ইদং ব্ৰহ্মক্ষত্রং পাতু, তস্মৈ স্বাহা বাট। ( দেবতােদ্দেশ )- ইদমৃতসাহে ঋতধামে হগ্নয়ে গন্ধৰ্বায়। [ মা-বা-সং-১৮। ৩৮, কা-বা-সং-২০২১।]। ৩ দ্রষ্টব্য-বাজারে প্রচলিত পশুপতির পদ্ধতিতে ‘ব্ৰহ্মক্ষেত্ৰং পাঠ আছে। কিন্তু মূলবেদে অর্থাৎ বাজসনেয়িসংহিতাতে ‘ব্ৰহ্মক্ষত্র থাকাতে তাহাই গ্রহণ করিলাম। ঋতাষাড়ঋত-সহ + গি। অন্যেযামপি দৃশ্যতে এই সূত্রানুসারে ‘ঋত’ স্থানে ‘ঋতা হইয়াছে। প্রকৃত শব্দটি ঋতাসাহ,। ইহার প্রথমবার একবচনে ‘ঋতাষাড়, কিন্তু চতুর্থীর একবচনে ‘ঋতাসাহে। বাট-বহ,+থি। প্রকৃত শব্দটি বাহ,। ওঁ ঋড়, ঋতধামাগ্নি-গন্ধব, স্তস্যৌষধয়ােহল্পরসে মুদোনাম, ভ্যঃ স্বাহা। ( দেবতােদ্দেশ)—ইদমােষধিভ্যো ২ লােভ্যা মুদ্ভ্যঃ। [ মা-বা-সং-১৮৩৮, কা-বা-সং-২০২১ ]
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ওঁ সহিতে বিশ্বসামা সূৰ্যো গন্ধ,
স ন ইদং ব্ৰহ্মক্ষত্ৰং পাতু, তস্মৈ স্বাহা
বা। (দেবতাদেশ)—ইদং সগুহিতায়
বিশ্বসামে মূৰ্য্যায় গন্ধায়।
[ মা-বা-সং-১৮৩৯, কা-বা-সং ২০১২
৪।
ওঁ সহিতে বিশ্বসামা সূর্যো গন্ধৰ্ব্ব,-স্তস্য
মরীচয়েহি পরস আয়ুবো নাম, ভ্যঃ স্বাহা।
(দেবতােদ্দেশ)—ইদং মরীচিডভ্যাহ
রােভ্য আয়ুভ্যঃ-
[ মা-বা-সং-১৮৩৯। কা-বা-সং-২০২২ ]
সুষুম্নঃ সূর্যরশ্মিশ্চন্দ্রমা গন্ধৰ্ব্ব, সঃ ন ইদং
ব্ৰহ্মক্ষত্ৰং পাতু, তস্মৈ স্বাহা বা। (দেবতাদ্দেশ )
ইদং সুষুম্নে সূৰ্য্যরশ্ময়ে চমসে গন্ধৰ্বায়
—[ ম-বা-সং-১৮৪০, কা-বা-সং-২০২!৩ ]
সুষুম্নঃ সূর্যরশ্মিচম গন্ধর্ব,-স্তস্য
নক্ষত্রাণ্যরসে ভেকুরয়াে নাম, ভ্যঃ স্বাহা।
(দেবতােদ্দেশ )—ইদং নক্ষত্রেত্যো
ইরােভ্যো ভেকুরিভ্যঃ-
—[ মা-বা-সং ১৮৪০, কা-বা-সং-২০২৩ ]
৭। ওঁ ইষিরাে বিশ্বব্যচা বাতাে গন্ধর্ববঃ, স ন
ইদং ব্ৰহ্মক্ষত্ৰং পাতু, তস্মৈ স্বাহা বাট।
৫৭
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
(দেবতাদেশ)—ইদমিষিরায় বিশ্বব্যচসে
বায় গন্ধৰ্বায়।
[ মা-বা-সং-১৮৪১, কা-বা-সং-২০২৪ ]
৮। ও ইষিয়েরা বিশ্বব্যচা বাতাে গন্ধর্ব,-
স্তস্যাপাে অগ্রস উজ্জো নাম ভ্যঃস্বাহা।
( দেবতােদ্দেশ)—ইদমন্ত্যো ই পরােভ্য উর্গ ভ্যঃ।
-[ মা-বা-সং-১৮৪১, কা-বা-সং-২২৪, ]
ও ভুজুঃ সুপণে। যজ্ঞাে গন্ধর্বঃ, স ন ইদং
ব্ৰহ্মক্ষত্ৰং পাতু, তস্মৈ স্বাহা বাট।
( দেবতােদ্দেশ)—ইদং ভুজবে সুপর্ণায়
যজ্ঞায় গন্ধৰ্বায়।
[ মা-বা-সং-১৮৪২, কা-ব-সং-২০/২৫ ]
১০। ওঁ
ভুজুঃ সুপর্ণো যজ্ঞাে গন্ধর্ব,-স্তস্য
দক্ষিণা অপ্সরসস্তাবা নাম, ভ্যঃ স্বাহা।
(দেবতােদ্দেশ )—ইদং দক্ষিণাত্যোহরােভ্যস্তাবাভ্যঃ।
[ মা-বা-সং-১৮৪২, কা-বা-সং-২০/২৫ ]
ও প্রজাপতির্বিশ্বকৰ্মা মনাে গন্ধর্ব, স ন ইদং
ব্ৰহ্মক্ষত্ৰং পাতু, তস্মৈ স্বাহা বাট।
(দেবতােদ্দেশ )-ইদং প্রজাপতয়ে বিশ্বকৰ্মণে
মনসে গন্ধায়।
-[ মা-বা-সং-১৮৪৩, কা-বা-সং-২০২৬ ]
১২।
ও প্রজাপতির্বিশ্বকৰ্মা মনাে গন্ধব-স্তস্য
ঋক্-সামান্যঙ্গরস এষ্টয়াে নাম, ভ্যঃ-
১১।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ স্বাহা। (দেবতােদ্দেশ ) ইদং ঋক্-সামভভ্যা ইরােভ্য এষ্টিভ্যঃ। [ মা-বা-সং-১৮৪৩, কা-বা-সং-২০২৬ ] অনুবাদ-১। অগ্নিঃ (অগ্নি) গন্ধৰ্ব্বঃ (গন্ধৰ্বরূপী) (তিনি) ঋতাষাড়, (একমাত্র সত্যেরই সহকারী ), (তিনি) ঋতধামা (সত্যে বাসকারী ) সঃ (তিনি) নঃ (আমাদের) ইদং ( এই ) ব্ৰহ্মক্ষত্রং ( জ্ঞান- এবং বীৰ্য্যকে) পাতু ( রক্ষা করুন ), তস্মৈ (তাহার উদ্দেশে ) (এই আহুতি। স্বাহা ( অর্পণ করিলাম ), (তিনি) (এই আহুতির) বা (বাহক অর্থাৎ দেবতাদের আহুতিবাহক) ( হউন)। ইদম্ (ইহা) ঋতাসাহে ( একমাত্র সত্যসহকারী ) ঋতধামে (সতত্য বাসকারী) অগ্নয়ে (গন্ধৰ্বরূপি-অগ্নির উদ্দেশে) ( অর্পিত হইল)। অনুবাদ—২। ঋতাষাড়, (সত্যসহকারী ) ঋতধামা (সতত্য বাসকারী ) অগ্নিঃ ( অগ্নি) গন্ধৰ্বঃ (গন্ধৰ্ব্বসরূপ ), ওষধয়ঃ (ব্রীহিপ্রভৃতি ওষধি সমূহ) তস্য (তাহার) অগ্রসঃ ( অঙ্গরাসমূহ) মুদঃ নাম (ইহাদিগকে মুন্ নাম দেওয়া যাইতে পারে কারণ ইহারা লােকদিগকে আমােদ দান করে ), তাভ্যঃ (তাহাদের উদ্দেশ্যে ) স্বাহা ( অর্পণ করিলাম)। ইদমােষধিভ্যঃ অপ্সরােভ্যঃ মুত্ত্যঃ (ইহা অপ্সরাসরূপ আমােদদানকারী ওষধিগণের উদ্দেশে ) ( অর্পিত হইল)। অনুবাদ-৩। সংহিতঃ-সম্যগ্রূপে যিনি ধারণ করেন দিনও রাত্রিকে। বিশ্বসামসকলসামসরূপ। অনুবাদ—৪। আয়ুব—যাহারা শীঘ্র গমন করে। ‘আয়ু শব্দ প্রথমার বহুবচন। মহীধর বলেন-আ সন্তাদ যুবন্তি মিশ্রীভব্যায়ূবঃ। অনুবাদ—৫। সুষুম্ন :—সুন্দর সুখ পাওয়া যায় যাহা হইতে তাদৃশ। সূর্যরশ্মিঃ-সূর্যের রশ্মির ন্যায় রশ্মিশালী।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ অনুবাদ-৬। ভেকুরয়ভতে অর্থাৎ রাশিচক্রে শােভাপায় যাহারা অর্থাৎ রাশিচক্রে শােভমান। মহীধরমতে ভা অর্থাৎ দীপ্তি করে যাহারা। ‘ভেকুরি’ শব্দের বহুবচন। অনুবাদ—৭।ইষিরঃ = শীঘ্রগামী। বিশ্বব্যচা—সর্বত্র গমন যাহার বিশ্বব্যাপী। দ্রষ্টব্য—ইষিরঃ-“ইষগতৌ’ দিবাদিঃ। ইষতি গচ্ছতীতি ইষিরঃ। ঔণাদিক কিরচ প্রত্যয়। শীঘ্রগমনঃ । বিশ্বব্যচা-বিশ্বস্মিন্ ব্যচো গমনবস বিশ্বব্যচাঃ সৰ্বভােগমনঃ । অনুবাদ—৮। উজ্জং-উজ্জ’ শব্দের প্রথমার বহুবচন। উজ্জয়ন্তি প্রাণয়ন্তি ইতি উজ্জ। অনুপ্রাণিত করে যাহারা। উজ্জ’ শব্দের চতুর্থীয় বহুবচনে ‘উগৃভ্য হয়। অনুবাদ-। ভুজু-ভুক্তি পায়তি ভূতানীতি ভুজঃ। ভূতগণের পালনকারী। সুপর্ণ:-শােভনং পর্ণং পতনং স্বর্গগমনঃ যস্য স। সম্মতিপ্রাপক। অনুবাদ-১০। দক্ষিণাঃ-দক্ষিণাসমূহ। “দক্ষিণা’ শব্দের বহুবচন। তাবাঃ—তাবা’ শব্দের বহুবচন। পূরণকারী। উববট ও মহীধর মতে অপসরসঃ+স্তাবাঃ = অপসরসস্তাবাঃ। খর্পরে শরি বা বিসর্গলােপাে বক্তব্য। স্তাবায়তে যজ্ঞাে যজমানশ্চ যাভিস্তাঃ স্তাবাঃ। অনুবাদ-১১। প্রজাপতিঃ-প্ৰজানিয়ামক। বিশ্বকৰ্মা—বিশ্বঃ- সর্বং করােতীতি বিশ্বকৰ্ম্মা। সব করেন যিনি কারণ মনের ব্যাপার দ্বারাই সকলকৰ্ম্ম করা হয়। অনুবাদ—১২। এষ্টয়ঃ—আ+ইষ্টয়ঃ। ইচ্ছাসমূহ। এষ্টি’ শব্দের বহুবচন। দ্রষ্টব্য-রাষ্ট্রভৃদ্ধোমের আহুতিদানের মন্ত্রগুলি কৃষ্ণযজুর্বেদের তৃতীয় কাণ্ডের চতুর্থ প্রপাঠকের সপ্তমানুবাকেও আছে। সামান্য এক আধটুকু যজুৰ্বেদীয় বিবাহ পার্থক্য থাকিতে পারে। মন্ত্রগুলি গদ্যময়। প্রজাপতি বা সাধ্যগণ ইহাধের ঋষি। ১ম, ৩য়, ৫ম, ৭ম, ৯ম ও ১১শ মন্ত্রের দেবতা গন্ধৰ্ব্ব। ২য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ, ৮ম, ১০ম ও ১২ শ মন্ত্রের দেবতা অপসরাগণ। ঋতাষাড়, ওষধয়ঃ, ওযােধিভ্য, সুষুম্ন এবং ইষিরঃ—এই কয়টি শব্দের ‘য’ এর উচ্চারণ শুক্লযজুৰ্ব্বেদের নিয়মানুসারে ‘খ’-এর মত। জয়াহােম-ইহার পর বর জয়নামক হােম করিবেন। ইহাতে তেরটি আজাহুতি দিতে হয়। অরম্ভ ত্যাগ করিতে হইবে। সংস্রব রাখিতে হইবে। আহুতি (১) ওঁ চিত্তঞ্চ স্বাহা। ইদং চিত্তায়। (২) ওঁ চিত্তিশ্চ স্বাহা। ইদং চিত্ত্যৈ। (৩) ওঁ আকূতঞ্চ স্বাহা। ইদমাক্তায়। (৪) ওঁ আকূতিশ্চ স্বাহা। ইদমাক্ত্যৈ। (৫) ওঁ বিজ্ঞাতঞ্চ স্বাহা। ইদং বিজ্ঞাতায়। (৬) ওঁ বিজ্ঞাতিশ্চ স্বাহা। ইদং বিজ্ঞাত্যৈ। (৭) ওঁ মনশ্চ স্বাহা। ইদং মনসে। (৮) ওঁ শঙ্করীশ্চ স্বাহা। ইদং শরীভ্যঃ। (৯) ওঁ দর্শশ্চ স্বাহা। ইদং দর্শায়। (১০) ওঁ পৌর্ণমাসশ্চ স্বাহা। ইদং পৌণমাসায়। (১১) ওঁ বৃহচ্চ স্বাহা। ইদং বৃহতে। (১২) ওঁ রথন্তরঞ্চ স্বাহা। ইদং রথন্তরায়। (১৩) ওঁ প্রজাপতির্জয়ানিন্দ্রায় বৃষ্ণে, প্রাযচ্ছদুগ্রঃ পৃতনাজয়েষু। অস্মৈ বিশঃ সমনমন্ত সর্বাঃ, স উগ্রঃ স হি হবব্যা বভূব- স্বাহা। ইদং প্রজাপতয়ে জয়ানামধিপতয়ে । অনুবাদ—(১) হইতে (১২)। গৃহ্যসূত্রের ভাষ্যকার জয়রাম বলেন যে প্রথম হইতে দ্বাদশ মন্ত্রের এইরূপ অন্বয় করিতে হইবে প্রজাপতিথা ইন্দ্রায় জয়ান প্রাযচ্ছৎ তথা চিত্তাদি চ মহমপি যজুৰ্কেীয় বিবাহ প্রযচ্ছতু অর্থাৎ প্রজাপতি যেরূপ ইন্দ্রক জয়নামক মন্ত্রগুলি দান করিয়া- ছিলেন, সেইরূপ তিনি আমাকে চিত্র প্রভৃতি দান করুন এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অৰ্পণ করিলাম। ইহা চিত্তের উদ্দেশে অর্পিত হইল ইত্যাদি। জয়রামমতে চিত্ত = জ্ঞানাধারহৃদয়। চিত্তি =চিত্তের চেতনা। আকূত = অভিমত। আকৃতি = অভিমান। বিজ্ঞাত = শিল্পাদিজ্ঞান। বিজ্ঞাতি = পরােক্ষজ্ঞান। শরী – মনের শক্তি। দর্শ -অমাবস্যা তিথিতে বিহিত একপ্রকার সােমযজ্ঞ। পৌর্ণমাস–পূর্ণিমা তিথিতে বিহিত একপ্রকার সােমযজ্ঞ। বৃহৎ-সামবেদের একটি প্রধান অংশ, (এখানে) এই অংশের চর্চা। রথন্তর-সামবেদের একটি প্রধান অংশ, (এখানে) এই অংশের চর্চা। অনুবাদ-(১৩) উগ্রঃ ( উগ্র ) প্রজাপতি। পূতনাজয়েযু ( অসুরসেনা জয়কালে) বৃষ্ণে ( বর্ষণকারী) ইন্দ্রায় ( ইন্দ্রকে) জয়া (জয়নামকমন্ত্ৰসমূহ) প্রাযচ্ছৎ ( দিয়াছিলেন ), । তাহার ফলে) সৰ্ব্বাঃ { সকল ) বিশঃ ( প্রাণী। অস্মৈ ( ইহার নিকট অর্থাৎ ইন্দ্রের নিকট । সমনমন্ত (সম্য-রূপে নত হইল ), হি ( নিশ্চয়ই ) ( তাহাতে) সঃ (তিনি) উগ্রঃ ( উগ্র) বভূব ( হইলেন , তিনি হব্যঃ (হবি পাওয়ার যােগ্য। ( হইলেন)। স্বাহা ( এই প্রার্থনা করিয়া আহুতি অৰ্পণ করিলাম )। ইদং ( ইহা) জয়ানাং ( জয়নামক মন্ত্রসমূহের) অধিপতয়ে (অধিপতি। প্রজাপতয়ে (প্রজাপতির উদ্দেশে ) ( অর্পিতহইল )। দ্রষ্টব্য—মন্ত্রগুলি পারস্কর-গৃহ্যসূত্রের ১৫৯ এ আছে। সেখানকার পাঠই গৃহীত হইল কারণ ঐ গৃহ্যসূত্রই সকল পদ্ধতির মূল। তৈত্তিরীয়সংহিতা বা কৃষ্ণযজুৰ্ব্বেদের ৩৪৪১-এও এই মন্ত্রগুলি আছে। মন্ত্রগুলির নাম ‘জয়’ কেন হইল তৎসম্বন্ধে জয়রাম বলেন- (তথা চ তৈরিয়-শ্রুতিঃ ) ‘স ইন্দ্রঃ প্রজাপতিমুপাষাবৎ, স তম্মা এতাঞ্জয়া প্রাযচ্ছৎ
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
তান্ অজুহােৎ। তততা দেবা অসুরানজয়ন্ত যদজয়জ্জয়ানাং
জয়াদমিতি।
অভ্যাতানহােম-জয়া-হােমের পর বর অভ্যাতাননামক
হােম করিবেন। ইহাতে আঠারটি আজ্যাতি দিতে হয়।
অম্বরম্ভ ত্যাগ করিতে হইবে। সংস্রব রাখিতে হইবে। এই
মন্ত্রগুলি পারস্কর গৃহ্যসূত্রের ১৫।১০ এ আছে। তৈত্তিরীয়-
সংহিতা বা কৃষ্ণযজুর্বেদের ৩৪৫১-এও এই মন্ত্রগুলি আছে।
আহুতি-
১। ওঁ অগ্নিভূতানামধিপতিঃ, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্
ক্ষত্রেইস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহূত্যা
-স্বাহা। ইদমগ্নয়ে ভূতানা-মধিপতয়ে ।
শব্দবিশ্লেষণ—ওঁ অগ্নি ভূতানাম্ অধিপতিঃ, স মা অবতু
অস্মিন্ ব্ৰহ্মণি অস্মিন্ ক্ষত্রে অস্যাম্ আশিষি অস্যাং পুরােধায়াম
আস্মিন্ কৰ্ম্মণি অস্যাং দেবহুত্যাগু স্বাহা। ইদম্ অগ্নয়ে
ভূতানাম্ অধিপতয়ে।
ইন্দ্রো জ্যেষ্ঠানামধিপতিঃ, স মাবত্বস্মিন্
ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেইস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং
দেবহূত্যাগু-স্বাহা। ইদমিল্লায় জ্যেষ্ঠানামধিপতয়ে ।
ওঁ যমঃ পৃথিব্যা অধিপতি, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্
ক্ষত্রেইস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহূত্যা-
স্বাহা ইদং যময় পৃথিব্যা অধিপতয়ে।
.
৪। ওঁ বায়ুরন্তরিক্ষাধিপতি, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ক্ষত্রেইস্যা-মাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহুগু দেবহুগু স্বাহা। ইদং বায়বেহন্তরিক্ষাধিপতয়ে। ওঁ সূৰ্য্যো দিবােহধিপতি, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেইস্যামাশিষ্যস্থাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহূত্যাগু স্বাহা। ইদং সূৰ্য্যায় দিবােহধিপতয়ে । ও চন্দ্রো নক্ষত্ৰাণামধিপতিঃ, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেইস্যা-মাশিষ্যস্যাং পূরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবত্যাগু --স্বাহা। ইদং চন্দ্রায় নক্ষত্রাণামধিপতয়ে। বৃহস্পতিব্রহ্মােহধিপতি, মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিক্ষত্রেহস্যা-মাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহুত্যাগু-স্বাহা। ইদং বৃহস্পতয়ে ব্ৰহ্মণােহধিপতয়ে। ওঁ মিত্রঃ সত্যানামধিপতিঃ, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেহস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহুত্যাগু —স্বাহা। ইদং মিত্রায় সত্যানামধিপতয়ে। ৯। ওঁ বরুণােহপামধিপতিঃ, স মাত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেইস্যা-মাশিযস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যাং দেবহুত্যা— স্বাহা। ইদং বরুণায়াপামধিপতয়ে । ওঁ সমুদ্রঃ-স্রোত্যানা-মধিপতিঃ, স মাবস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেহস্যমাশিস্যাং পুরােধায়ামস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহুত্যা-১ স্বাহা। ইদং সমুদ্ৰায় স্রোত্যানামধিপতয়ে। দ্রষ্টব্য-স্রোত্যানা স্থানে বাজারে প্রচলিত পশুপতির পদ্ধতিতে ‘স্রোতসাম্ পাঠ দেখা যায়। মূল গৃহে ‘স্রোত্যানা আছে। তাই সেই পাঠই গ্রহণ করিয়াছি। ‘স্রোতসাে বিভাসা ড্যছড্যো’-পাণিনি , ১০।
৬৪
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
৪৪১১৩-পক্ষে ষৎ। ড্যড ড্যয়ােস্তু স্বরে ভেদঃ। স্রোতসি ভবং স্রোত্যঃ
-স্রোত।
১১। ওঁ অন্ন সাম্রাজ্যানা-মধিপতিঃ, তৎ মাবত্বস্মিন্
ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেইস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং
দেবহূত্যা—স্বাহা। ইদমন্নায় সাম্রাজ্যানা-মধিপতয়ে।
১২। ওঁ সােম ওষধীনা-মধিপতিঃ, সমাবত্বস্মিন ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্
ক্ষত্রেইস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবত্যাগু
—স্বাহা। ইদং সােমায়ৌষধীনাম্ (=সােমায় ওষধীনাম্)
অধিপতয়ে।
১৩। ওঁ সবিতা প্রসবানা-মধিপতিঃ, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্
ক্ষত্রেহস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্থাং দেবহূত্যাগু--
স্বাহা। ইদং সবিত্রে প্রসবানামধিপতয়ে ।
১৪। ওঁ রুদ্রঃ পশূনা-মধিপতিঃ, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্
ক্ষত্রেহস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়ামস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহূত্যা
—স্বাহা। ইদং রুদ্রায় পশূনা-মধিপতয়ে ।
ওঁ ত্বষ্টা রূপাণা-মধিপতিঃ, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন
ক্ষত্রেহস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবত্যাগু
—স্বাহা। ইদং হৃষ্টে রূপাণ-মধিপতয়ে।
১৬। ওঁ বিষ্ণুঃ পর্বতানা-মধিপতি, স মাবত্বস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্
ক্ষত্রেহস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহূত্যাগু-
স্বাহা। ইদং বিষ্ণবে পৰ্বতানা-মধিপতয়ে।
ওঁ মরুততা গণনা-মধিপতয়-স্তে মাবস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন
১৫।
১৭।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ক্ষত্রেই-স্যামাশিষস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন্ কৰ্ম্মণ্যস্যাং দেবহূত্যা- স্বাহা। ইদং মরুদ্ভ্যো গণানামধিপতিভ্যঃ। ১৮। ওঁ পিতরঃ পিতামহাঃ পরেখবরে তস্তমহা ইহ মাবস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যস্মিন্ ক্ষত্রেহস্যামাশিষ্যস্যাং পুরােধায়া-মস্মিন কর্মণ্যস্যাং দেবহূত্যা—স্বাহা। ইদং পিতৃভ্যঃ পিতামহেভ্যঃ পরেডভ্যাবরেভ্যন্ততেভ্যস্ততামহেভ্যঃ। ভ্রষ্টব্য—(১) বাজারে প্রচলিত পশুপতির পদ্ধতিতে ‘মা’ স্থলে ‘মাং এবং ‘ক্ষত্রে স্থলে ‘ক্ষেত্রে পাঠ আছে কিন্তু পারস্করের গৃহসূত্রে ‘মা’ এবং ‘ক্ষত্রে আছে। জয়রাম ‘ব্ৰহ্মণি’ স্থলে লুপ্ত-সপ্তমী-বিভক্তিক ব্ৰহ্মন্ পাঠ ধরিয়াছেন। অভ্যাতানহােম সম্বন্ধে জয়রাম বলেন- তথা চ শ্রুতিঃ—যদ্দেবা অভ্যাতানৈরসুরা অভ্যাম্বত তদভ্যাতা- নামভ্যানত্বমিতি। অভ্যাতন্বত–আয়ুধানি প্রাহিণুত। ইহার ভাবার্থ— যেহেতু দেবতার অভ্যাতানমন্ত্রগুলির সাহায্যে অসুরদিগকে লক্ষ্য করিয়া আয়ুধ নিক্ষেপ করিয়াছিলেন এইজন্য অভ্যানদিগের অভ্যাতানত্ব। দ্রষ্টব্য-(২) প্রথম মন্ত্রের শব্দবিশ্লেষণ করা হইয়াছে। ২য়- ১ম এবং ১২শ—১৬শ মন্ত্রেরও সেই ভাবে শব্দবিশ্লেষণ করা যাইতে পারে। দ্রষ্টব্য-(৩) প্রথম মন্ত্রের দেবতা অগ্নি দ্বিতীয়ের ইন্দ্র ; তৃতীয়ের যম ; চতুর্থের বায়ু। পঞ্চমের সূৰ্য ; সপ্তমের বৃহস্পতি ; অষ্টমের মিত্র ; নবমের বরুণ ; দশমের সমুদ্র ; একাদশের অন্ন ; দ্বাদশের সােম; এয়ােদশের সবিতা; চতুর্দশের রুদ্র ; পঞ্চদশের স্বষ্টা ষোড়শের বিষ্ণু; সপ্তদশের মরুদণ; যষ্ঠের চন্দ্র ; ••
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
এবং অষ্টাদশের পিতৃগণ, পিতামহগণ, প্রপিতামহগণ, বৃদ্ধপ্রপিতামহগণ
অতিবৃদ্ধপ্রপিতামহগণ এবং অত্যতিবৃদ্ধপ্রপিতামহগণ।
ইহাদের নিকট—একই উদ্দেশ্য নিয়া প্রার্থনা করা হইতেছে। অগ্নিঃ
( অগ্নি) ভূতানাম্ (প্রাণিগণের) অধিপতিঃ ( অধিপতি)। ইন্দ্রঃ (ইন্দ্র)
জ্যেষ্ঠানাম্ (দেবতাদিগের) অধিপতিঃ অধিপতি।
এইরূপ যম পৃথিবীর ;
বায়ু অন্তরীক্ষের ;
সূৰ্য্য দি অর্থাৎ দ্যুলােকের ; চন্দ্র নক্ষত্রদিগের ;
বৃহস্পতি ব্রহ্ম অর্থাৎ বেদের ; মিত্র সত্যদিগের অর্থাৎ যাহারা
অবিনাশী, তাহাদের । বরুণ অপ, অর্থাৎ জলের ;
সমুদ্র স্রোত্যদিগের অর্থাৎ নদী সমূহের ;
অন্ন সাম্রাজ্যসমূহের ;
সােম ওষধিসমূহের ;
সবিতা প্রসব অর্থাৎ ফল ও পুষ্পদিগের ; রুদ্র পশুদিগের ; ত্বষ্টা
রূপসমূহের ; বিষ্ণু পৰ্বতসমূহের এবং মরুক্ষণ গণসমূহের অধিপতি।
অনুবাদ—অস্মিন্ ব্ৰহ্মণি-এই ব্ৰহ্মকর্মে হােমাদিতে, কাহারও
কাহারও মতে জ্ঞানবিষয়ে।
অস্মিন্ ক্ষত্রে—এই ক্ষত্ৰকাৰ্যে প্রজাপালনাদিতে, কাহারও কাহারও
মতে কর্মে।
অস্যা আশিষিব্রাহ্মণদিগকর্তৃকসম্পাদিত ইষ্টাশংসনে অর্থাৎ পুত্ৰাদির
সুখকামনা বিষয়ে।
অস্যাং পুরােধায়াম-এই পুবস্থিত কন্যাবিষয়ে, এই বন্ধুর বিষয়ে
অথবা এই পৌরােহিত্য বিষয়ে।
"অস্থি কর্মণি—এই বিষয়ে।
@: অস্যাং-দেবহূত্যা--এই দেবতাছবান-বিষয়ে অথবা, এই দেবতােদ্দেশ্যে
হােমবিষয়ে ।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
মা-আমাকে। অবতু-রক্ষা করুন। অবস্তুরক্ষা করুন।
ইহ—এখানে। পরে-প্রপিতামহগণ। অবরে—বৃদ্ধপ্রপিতামহগণ।
ততা—অতি বৃদ্ধপ্রপিতামহগণ। তমহা-অতি-অতি-বৃদ্ধ পিতা-
মহগণ।
অন্ন সাম্রাজ্যানা= অনুং সাম্রাজ্যানা= অনুপ্ত সাম্রাজ্যানা।
দেবহুত্যাম্ স্বাহা= দেবহূত্যাং স্বাহা= দেবহূত্যাণ্ড স্বাহা। স্ত্রীলিঙ্গ
‘দেবহুতি’-শব্দ হইতে সপ্তমীর একবচনে ‘দেবহূত্যা পাওয়া যায় ।
স মাবতু—তিনি আমাকে রক্ষা করুন।
তৎ মাবতুতাহা আমাকে রক্ষা করুক।
তে মাবন্তুহারা আমাকে রক্ষা করুন।
ওঁ পিতরঃ••••••ইহ মাবন্তু—পিতৃগণ, পিতামহগণ, প্রপিতামহগণ,
বৃদ্ধপ্রপিতামহগণ, অতিবৃদ্ধ-প্রপিতাগণ এবং অত্যতিবৃদ্ধ-প্রপিতামহগণ
এখানে (উপস্থিত হইয়া) আমাকে রক্ষা করুন।
পূব্বোক্ত অভ্যান-হােম শেষ হইলে বর একবার জলস্পর্শ
করিবেন। অভ্যাতানহােমের পর বর নিম্নলিখিত পাঁচটি
আজ্যাহুতি দিবেন। [ অরম্ভ ত্যাগ করিতে হইবে। সংব
রাখিতে হইবে। ]
১। ওঁ অগ্নিরৈতু প্রথমাে দেবতানা,
সােহস্যৈ প্রজাং মুঞ্চতু মৃত্যুপাশাৎ,
তদয়গু রাজা বরুণােহনু মন্যতা,
যথেয়গু স্ত্রী পৌত্রমঘন্ন রােদাৎ—স্বাহা।
ইদমগ্নয়ে।–[ পারস্কর ১৫১১]
২। ওঁ ইমামগ্নিস্ত্রায়তাং গার্হপত্য,
প্ৰজামস্যৈ নয়তু দীর্ঘমায়ুঃ।
-এ
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
অশূন্যোপস্থা জীবতামস্তু মাতা,
পৌত্ৰমানন্দমভি বিবুধ্যতা—স্বাহা।
ইদমগ্নয়ে। পারস্কর ১৫১১]
ওঁ স্বস্তি নাে অগ্নে দিব আ পৃথিব্যা
বিশ্বানি ধেহযথা যজত্র।
যদস্যাং মহি দিবি জাতং প্রশস্ত
তদস্মাসু জরিণং ধেহি চিত্র—স্বাহা।
ইদমগ্নয়ে।–[ পারস্কর ১৫১১]
৪। ওঁ সুগন্ন, পন্থাং প্রদিশঃ এহি
জ্যোতিষ্মদ্ধেহজরন্ন আয়ুঃ।
অপৈতু মৃত্যুরমৃতঃ আগাৎ
বৈবস্বতাে নাে অভয়ং কৃণােতু-স্বাহা।
ইদং বৈবস্বতায়।–[ পারস্কর ১৫১১]
৫। ওঁ পরং মৃত্যো অনু পরেহি পন্থাং
যন্তে অন্য ইতবাে দেবযানাৎ।
চক্ষুষ্মতে শৃতে তে ব্রবীমি
মা নঃ প্রজাগু রীরিষাে মােত বীরা—স্বাহা
ইদং মৃত্যবে।–[ মা-সং—৩৫৭ ]
দ্রষ্টব্য-দেবতানা+সঃ = দেবতানাং সঃ = দেবতানাস।
অয়+রাজা-অরাজা = অয় রাজা।
ইয়+স্ত্রী- ইয়ং স্ত্রী-ইয় স্ত্রী।
বুধ্যতাম্+স্বাহা=বুধ্যতাং স্বাহা। বুধ্যতা স্বাহা।
চিত্ৰ আহা-চিত্ৰং স্বাহা= চিত্ৰণ্ড স্বাহা।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ প্রজা রীরিষঃ= প্রজাং রীরিষঃ = প্রজারীরিষঃ। পৌলম= পুত্রসংক্রান্ত। পুত্র+অণ। অঘ=শােক। পৌত্রমঘন্ন রােদাৎ = পৌ+অঘ+নঃ+রােদাৎ। রােদাৎ—রু+লে তিপ। পন্থাং-‘পস্থানং স্থলে ছান্দস। জ্যোতিষ্মদ্ধেহজরম্ন আয়ুঃ = জ্যোতিষ্ম+ধেহি+অজরম্+নঃ +আয়ুঃ। কৃপােতু-পাণিনির গণপাঠে তিনটি ‘ক’ ধাতু পাওয়া যায়। প্রথমটি সুপরিচিত ডুকৃ-করণে। লটু করােতি, কুরুতে। দ্বিতীয়টিক, -হিংসায়াম্। লটু কণােতি, কৃণুতে। তৃতীয়টি ঠিক ‘ক’ নহে। গণপাঠে ইহা কবি—হিংসাকরণমােশ্চ। চকারগতো। কৃবিকৃথ। ধিথিকৃগ্ন্যোচ। অনয়ােরকাােেহাদেশঃ স্যানুপ্রত্যয় শব-বিষয়ে। লট লট কৃণােতি। এখানে কণােতু’র অর্থ করােতু। অতএব এখানে ‘কৃবি’ ধাতু হইতে ‘কৃপােতু হইয়াছে বুঝিতে হইবে। বধুর অভিষেকের মন্ত্রেও ‘কন্তু পাওয়া যায়। দেবীসূক্তের মধ্যে দুইবার ‘কণােমি’ আছে। অন্যৈমন্ত্রে ‘অস্যা অর্থে ‘অ'ৈ। বেদে এইরূপ বহুপ্রয়ােগ পাওয়া যায়। আবার চতুর্থীর অর্থেও ষষ্ঠীর বহুপ্রয়ােগ পাওয়া যায়। ‘চতুর্থ্যর্থে বহুলং ছন্দসি। পাণিনি ২৩৬। ষষ্ঠর্থে চতুর্থীতি বাচ্য -বাৰ্তিকসূত্র। অনুবাদ-১। দেবতানাং (দেবতাদিগের মধ্যে) প্রথমঃ (প্রথম) অগ্নি ( অগ্নিদেব) ঐতু (আসুন ), সঃ ( তিনি, সেই অগ্নিদেব) অশ্যৈ (ইহার, এই বধূর) প্রজাং ( ভাবি-সন্তানসন্ততিদিগকে) মৃত্যুপাশাৎ ( মৃত্যুর পাশহইতে) মুঞ্চ ( মুক্ত করুন)। অয়ং রাজা বরুণঃ (এই রাজা বা শােভমান বরুণ) তৎ (এইরূপ) অনুমন্যতা ( অনুমতি করুন) ৭০ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ যথা ( যেন ) ইয়ং (এই) স্ত্রী (স্ত্রী) পৌলং (পুত্রসংক্রান্ত) অঘং (শােক) (পাইয়া) ন য়ােদাৎ (না কঁদে)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদমগ্নয়ে (ইহা অগ্নির উদ্দেশে অর্পিত হইল)। অনুবাদ—২। গার্হপত্য (গার্হপত্য-নামক) অগ্নিঃ (অগ্নি) ইমাং ( এই বধূকে) ত্ৰায়তা ( রক্ষা করুন) (এবং) অস্যৈ (ইহার ) প্রজাং ( ভাবি-সন্তানসন্ততিদিগকে) দীর্ঘং (দীর্ঘ) আয়ু ( আয়ু) নয়তু ( পাওয়াইয়া দিন, দান করুন)। ইয়ম্ (এই বধূ) অশূন্যোপস্থা সফলপ্রসবা অথবা অবন্ধ্যা অথবা নিত্যভর্ভূসঙ্গতা) (হউক), (এই বধূ) জীবতাং ( জীবিতসন্তানসমূহের) মাতা (মাতা) অস্তু (হউক), (এই বধু) পৌং (পুত্রসংক্রান্ত) আনন্দম্ (আনন্দ) অভি (লাভ করিয়া) বি ( বিবিধ প্রকারে) বুধ্যতাম্ (জ্ঞানলাভ করুক অথবা অনুভব করুক)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদমগ্নয়ে (ইহা অগ্নির উদ্দেশে অর্পিত হইল)। অনুবাদ—৩। (হে) যজত্র (যজমানদিগের রক্ষাকারক) অয়ে ( অগ্নিদেব) দিব আ (স্বর্গে) (এবং) পৃথিব্যা: (পৃথিবীতে)( যে ) বিশ্বানি ( সমস্ত ) অযথা ( অসাধারণ ) স্বস্তি (কল্যাণ) ( আছে ), (তুমি সেই সব কল্যাণ) নঃ ( আমাদিগকে) (ধেহি দেও) অস্যাং (এই) মহি (পৃথিবীতে) (এবং) দিবি (স্বর্গে) প্রশস্তং (প্রশস্ত ) (যে সব) দ্রবিণং (স্বর্ণ, মূল্যবান্ দ্রব্য) জাতং (উৎপন্ন হইয়াছে) চিত্ৰং (নানাপ্রকারের গাে-ভূ-হিরণ্যা- দিরূপ ) তৎ (সেইসব ) ( মূল্যবান্ দ্রব্য) অম্মা ( আমাদিগকে) দেহি (দেও)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদমগ্নয়ে (ইহা অগ্নির উদ্দেশে অর্পিত হইল)। অনুবাদ-৪। ৪। মু (হে) (বৈবম্বত)' নঃ (আমাদিগকে) সুগং ( সুগম) পন্থাং (পথ) প্রদিশ (উপদেশ করিতে করিতে) এহি ( আস।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ এবং) নঃ ( আমাদিগকে) জ্যোতিষ্মৎ (গৌরবময় অজরম্ ( জরায়রাগাদিপরাভবরহিত) আয়ুঃ ( আয়ু) ধেহি (দেও)। ( আমাদিগের নিকট হইতে ) মৃত্যু ( মৃত্যু) অপৈতু ( অপগত হউক) (এবং) অমৃতং ( অমৃত) নঃ ( আমাদের কাছে। আগাৎ ( আসুক)। বৈবস্বতঃ (বৈবস্বত) নঃ ( আমাদিগকে) অভয়ং ( অভয়) কৃণােতু ( করুন, দানকরুন)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অর্পণ করিলাম)। ইদং বৈবস্বতায় (ইহা বৈবস্বতের উদ্দেশে অর্পিত হইল। আগাৎ =আ+অগাৎ। অগাৎ =ই+লুঙ, প্রথমপুরুষের একবচন। এই আহুতির কথা পারস্করে থাকিলেও বাজারে প্রচলিত পশুপতির পদ্ধতিতে নাই। অনুবাদ-৫। মৃতত্যা (হে মৃত্যো) দেবনাৎ (দেবযান হইতে) ইতরঃ (স্বতন্ত্র) তে (তােমার) যঃ (যে ) অন্যঃ (অন্য ) (পথ) ( রহিয়াছে) ( তুমি) পরা (পরাভূত হইয়া) পরং (সেই অন্য ) পন্থাং (পথ) অন্বিহি (অনুসরণ করিয়া চলিয়া যাও)। চক্ষুষ্মতে ( চক্ষুষ্মন্) শৃন্বতে ( শুনিতে সমর্থ )তে তােমাকে) প্ৰব্ৰব্ৰীমি (বলিতেছি, প্রার্থনা করিতেছি। নঃ ( আমাদের ) প্রজাং (ভাবি-সন্তানসন্ততিদিগকে) মা রীরিষঃ (হিংসা করিও না ) উত (এবং) ( আমাদের বীরা ( পুত্রদিগকে অথবা আত্মীয়- কুটুম্বদিগকে) (হিংসা করিও না। রীরিষঃ—ণিচনা করিলে অ-সহ “অরেযীঃ অথবা ‘অরিষঃ হইত। লাজহােম—এখন লাজাহুতির বর্ণনা করিতেছি। কুমারীর { অর্থাৎ বধুর ) ভ্রাতা অথবা অন্য কোনও আত্মীয় শমীপত্রযুক্ত কিছু খৈ একখানা কুলাতে চারিভাগ করিয়া রাখিবেন। আজকাল শমীপত্র ব্যবহারের প্রথা লােপ পাইয়াছে। খৈর মধ্যে আজ্যের ছিটা দিতে হইবে। এক ভাগ ভগ নামক দেবতার
१२
যজুর্বেদীয় বিবাহ
জন্য। অবশিষ্ট তিন ভাগের মধ্যে প্রত্যেক ভাগকে আবার
তিন ভাগ করিতে হইবে। এই ছােট নয় ভাগেয় তিন ভাগ
অৰ্যমার জন্য এবং ছয় ভাগ অগ্নির জন্য। মােটে ১০টি
আজাহুতি। লাজখৈ। অগ্নির সম্মুখে অঞ্জলিবদ্ধ হস্তে
পূৰ্বমুখী হইয়া বধু দাড়াইবে।
দাড়াইবে। তাহার পিছনে বর
দাড়াইবেন এবং বরের হাতের উপর বধূর হাত থাকিবে।
তারপর বধু নিম্ন মন্ত্র সমূহে আহুতি দিবে। আহুতি মন্ত্র
(নয় ভাগের এক ভাগ লইয়া )
১। ও অৰ্য্যমণং তু দেবং কন্যা অগ্নিমযক্ষত।
স নাে অৰ্যমা দেবঃ প্রেতে মুঞ্চতু মা পতেঃস্বাহা।
( দেবতােদ্দেশ )—ইদমৰ্যমে [ পারস্কর-১৬২]
(পুনরায় নয় ভাগের এক ভাগ লইয়া)
২। ওঁ ইয়ং নাযূপ ক্ৰতে লাজানবপন্তিকা।
আয়ুষ্মনস্তু মে পতিরেধস্তাং জ্ঞাতয়াে মম—স্বাহা।
(দেবতােদ্দেশ)—ইদমগ্নয়ে। [ পারস্কর—১৬২ ]
(পুনরায় নয় ভাগের এক ভাগ লইয়া )
ওঁ ইমাল্লাজানাবপাম্যগ্নৌ সমৃদ্ধিকরণং তব।
মম তুভ্য চ সংবননং তদগ্নির মন্ততামিয়গু-স্বাহা।
(দেবতােদ্দেশ)—ইদমগ্নয়ে। [ পারস্কর-১৬২ ]
ইহার পর প্রথমবার পাণিগ্রহণ—বর এবং বন্ধু পরস্পর
সম্মুখীন হইয়া, বর তাহার ডান হাতের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা বধুর ডান
হাতের অঙ্গুষ্ঠ এবং বাঁ হাতের অঙ্গুষ্ঠদ্বারা বাঁ হাতের অঙ্গুষ্ঠ ধরিয়া
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
সঁড়াইলে, বর বধুর দিকে চাহিয়া বধুকে সম্বােধন করিয়া
পাঠ করিবেন :-
৪। ওঁ গৃভুমি তে সৌভগত্বায় হস্তং,
ময়া পত্যা জরদষ্টিযথাসঃ।
ভগাে অৰ্যমা সবিতা পুরব্ধি-
মহং হৃদুৰ্গাৰ্হপত্যায় দেবাঃ।
[ ঋগ্বেদ-১০/৮৫/৩৬, পারস্কর-১৬৩ ]
৫। ওঁ অমােহস্মি সা ত্ব',
সা ত্বমস্যমােহহ,
সামাহমস্মি ঋক্ ত্বম্ ;
ছৌরহং পৃথিবী ত্ব,
তাবেহি বিবহাবহৈ,
সহ রেতােদধাবহৈ,
প্রজাং প্রজনয়াবহৈ,
পুত্ৰান্ বিন্দাবহৈ বহু,
স্তে সন্তু জরদষ্টয়া।
সংপ্রিয়ো বােচিষ্ণ সুমনস্যমানো।
পশ্যেম শরদঃ শতং, জীবেম শরদঃ শতগু, শৃণুয়াম শরদঃ
শতম্।
[ পারঙ্কর-১৬৩ ]
শিলায়ােহণ—এখন অগ্নির উত্তরে এক খানা পাটা
শিল) এবং তদুপরি একখানা পুতা ( নােড়া) রাখ।
পাটা বা শিলের সংস্কৃত নাম ‘অশ্ম। যে কোনও প্রস্তরকে
‘অন’ বলে। অশ্ম-শব্দের প্রথমার এক বচনে ‘অশ্ম
৭ঃ যজুর্বেদীয় বিবাহ এবং দ্বিতীয়ার একবচনে ‘অশ্মান হয়। শিলও সংস্কৃত শব্দ বটে! বর তাহার ডান পা দিয়া বধূর ডান পা ঠেলিয়া দিলে, বধু শিলার উপর আরােহণ করিবে। সেই সময় বর নিম্ন মন্ত্র পড়িবেন- ৬। ওঁ আরােহেম- মন-মন্মেব ত্বগু স্থিরা ভব। অভি তিষ্ঠ পৃতন্যতােহব বাধস্ব পৃতনায়তঃ । [ পারস্কর—১৭১] তারপর বরনিম্নলিখিত গান বা গাথা গাইবেন। ( এখন কেবল পড়িয়া যাইতে হয়) ওঁ সরস্বতি প্ৰেদমব, সুভগে বাজিনীতি। যাং ত্ব। বিশ্বস্ত ভূতস্য, প্রগায়াম্যস্যাগ্ৰতঃ। [ পারস্কর—১৭২] ৮। ঔ যস্যাং ভূতগু সমভব, যস্যাং বিশ্বমিদং জগৎ। মদ্য গাথাং গাস্যামি, যা স্ত্রীণামুত্তমং যশঃ । পারস্কর—১৭২] তারপর অগ্নিপরিক্রমণ—ইহারপর বর হােমস্থান হইতে উঠিয়া প্রদক্ষিণক্রমে অগ্নির চতুর্দিকে ঘুরিয়া হােমের স্থানে যাইয়া বসিবে। এই কাজের নাম অগ্নিপরিক্রমণ। পরিক্রমণের সময় বর নিম্ন মন্ত্রটি পড়িবেন। মন্ত্র ৯। ওঁ তুভ্যমগ্ৰে পৰ্যবহ, সূৰ্যাং বহতুনা সহ এবং বধূ এ।
}
যজুৰ্ব্বেদীয় বিবাহ
পুনঃ পতিভ্যো জায়াং,
দা অগ্নে প্রজয়া সহ ।
[ ঋগ্বেদ-১০৮৫৩৮, পারস্কর-১৭৩]
দ্বিতীয়বার-—ওঁ অৰ্য্যমণং ইত্যাদি মন্ত্রে অৰ্যমার উদ্দেশে
প্রথমবারের ন্যায় লাজাহুতিদান।
দ্বিতীয়বার—ওঁ ইয়ংনাযঁপ ফ্রতে ইত্যাদি মন্ত্রে অগ্নির
উদ্দেশে প্রথমবারের ন্যায় লাজাহুতিদান।
দ্বিতীয়বার—ওঁ ইমাল্লাজানবপামি ইত্যাদি মন্ত্রে প্রথম
বারের লাজাহুতিদান।
দ্বিতীয়বার--প্রথমবারের ন্যায় পাণিগ্রহণের মন্ত্রদুইটি পাঠ।
দ্বিতীয়বার—শিলায়ােহণ। মন্ত্রপাঠ প্রথম বারের ন্যায়।
দ্বিতীয়বার—গাথার মন্ত্র দুইটি পাঠ।
দ্বিতীয়বার—-অগ্নিপরিক্রমণ। মন্ত্রপাঠ প্রথম বারের ন্যায়।
তৃতীয়বার—ওঁ অৰ্য্যমণং ইত্যাদি মন্ত্রে অৰ্যমার উদ্দেশে
প্রথমবারের ন্যায় লাজাহুতি দান।
তৃতীয়বার—ওঁ ইয়ং নাযুপ ফ্রতে ইত্যাদি মন্ত্রে অগ্নির
উদ্দেশে প্রথমবারের ন্যায় লাজাহুতি দান।
তৃতীয়বার—ওঁ ইমাল্লাজানাবপামি ইত্যাদি মন্ত্রে প্রথমবারের
স্যায় লাজাহুতি দান।
তৃতীয়বার—প্রথমবারের ন্যায় পাণিগ্রহণের মন্ত্র দুইটি পাঠ।
তৃতীয়বার-শিলাররাহণ। মন্ত্র পাঠ প্রথমবারের ন্যায়।
তৃতীয়বার—গাথার মন্ত্র দুইটি পাঠ।
তৃতীয়বার—অগ্নিপরিক্রমণ। মন্ত্রপাঠ প্রথমবারের ন্যায়।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ বন্ধু (বরসহ) তিনবারে অৰ্যমার উদ্দেশে তিনটি এবং অগ্নির উদ্দেশে ছয়টি, মােটে নয়টি লাজাহুতি দিয়াছে। এখন কুলায় বাকী যে খৈ আছে তাহা সহ কুলাখানা বন্ধুর হাতে দিতে হইবে। বধুর ডান হাতের বরের ডান হাত এবং বা হাতের নীচে বাঁ হাত রাখিয়া কুলার অগ্রভাগ দিয়া ১০। ও ভগায় স্বাহা। ইদং ভগায়। —উভয়ে সমস্ত খৈ দ্বারা আহুতি দিবে। এখন ওঁ অৰ্য্যমণং ইত্যাদি প্রথম মন্ত্র হইতে “ওঁ ভগায় স্বাহা। ইদং ভগায়।—পৰ্যন্ত সমস্তাংশের অনুবাদ (প্রসঙ্গক্রমে অন্যান্য কথাসহ) দেওয়া যাইতেছে। অনুবাদ-১। অৰ্য্যমণং দেবমগিং (অগ্নিসরূপ অৰ্যমা দেবকে) কন্যা: (কন্যা) (মনােমত পতিলাভের জন্য ) অযক্ষত (পূজা করিয়াছিলেন) (এবং তাহার ফলে তাহারা মনােমত পতিলাভ করিয়াছিলেন) সঃ অৰ্যমা দেবঃ (সেই অর্যমা দেব) নঃ (আমাদিগকে ইতঃ (ইহা হইতে, পিতৃকুল হইতে) প্রমুতু ( যেন প্রকৃষ্টরূপে বিচ্ছিন্ন করেন) (কিন্তু) মা পতেঃ (পতি হইতে অর্থাৎ পতিকুল হইতে যেন বিচ্ছিন্ন না করেন)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অৰ্যমার উদ্দেশে অৰ্পণ করিলাম)। ইদং (ইহা) অৰ্যম্নে (অৰ্যমার উদ্দেশে ) ( অর্পিত হইল)। মু-অব্যয়ের বিশেষ কোনও অর্থ আছে বলিয়া মনে হয় না। অক্ষত-যজ, ধাতু আত্মনেপদে লুঙ, প্রথমপুরুষের বহুবচন। অনুবাদ-২। ইয়ং নারী (এইনারী, আমি) লাজা (খৈ ) আবপন্তিকা ( প্রক্ষেপ করিতে করিতে) উপ ( নিকটে, অগ্নির নিকটে ) (বলিতেছে, প্রার্থনা করিতেছি) (যে ) মে (আমার) পতিঃ (স্বামী) আয়ুষ্মন্ (দীর্ঘায়ু। অস্তু (হউক) (এবং) মম (আমার) জ্ঞাতয়ঃ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ( জ্ঞাতিগণ সংখ্যায়) এধন্তাম্ (বৃদ্ধিপাউক)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদমগয়ে (ইহা অগ্নির উদ্দেশে অর্পিত হইল)। অনুবাদ—৩। (হে স্বামি) ইয়ম্ (ইনি, আমি) ইমান (এই) লাজা (খৈগুলি ) অগ্নৌ (অগ্নিতে) আবপামি (প্রক্ষেপ করিতেছি। (ইহারফল) তব (তােমার, তােমার পক্ষে) সমৃদ্ধিকরণং (সমুদ্ধিকর) ( হউক) (এবং) মম তুভ্য চ (তােমারও আমার মধ্যে) সংবননং (সংপ্রীতিজনক) (হউক), অগ্নিঃ (অগ্নিদেব) তৎ (তাহা এইরূপ) অনুমন্যতাম্ (অনুমতি করুন)। স্বাহা (এই প্রার্থনা করিয়া এই আহুতি অর্পণ কারিলাম)। ইদমগ্নয়ে (ইহা অগ্নির উদ্দেশে অর্পিত হইল) দ্রষ্টব্য-তুভ্য স্থলে ‘তুভ্য’ ছান্দস। অনুবাদ—৪। (হে বধু) তে (তােমার) হস্তং (হাত) (আমি) সৌভগত্বায় (সৌভাগ্যলাভের নিমিত্ত ) গৃভূমি ( গ্রহণ করিতেছি) ময়া পত্যা (তােমার পতি আমার সহিত) (তুমি) যথা (যেন) জরদষ্টিঃ ( প্রাপ্তবার্ধক্যা, জরাপ্রাপ্তিপৰ্যন্ত জীবিনী) অসঃ (হইতে পার)। ভগঃ ( ভগ) অৰ্যমা ( অৰ্যমা) সবিতা (সবিত) পুরষ্ক্রিঃ (পূষা) দেবাঃ ( দেবতারা) বা (তােমাকে) গার্হপত্যায় (গার্হস্থ্যধর্মপালনের নিমিত্ত ) মহং ( আমার হাতে) অনুঃ ( অর্পণ করুন)। দ্রষ্টব্য-১) হৃগুহাের্তচ্ছসি’-কাত্যায়নের এই বাৰ্তিক সুত্রানুসারে বেদে ‘ই’ এবং গ্রহ’ ধাতুর হ’ স্থানে বহুল ‘ভ হয়। এখানে ‘গৃহূমি’ স্থলে ‘গৃভূমি’ হইয়াছে। যজুর্বেদের রুদ্ৰাধ্যায়ে ‘ইমা রুদ্রায় বসে কপর্দিনে ক্ষয়দ্বীরায় প্রহরামহেমতী। পাওয়া যায়। এথানে প্রহরামহে’ স্থলে ‘প্রভরামহে’ হইয়াছে। দ্রষ্টব্য-২) দ্বাদুগাহপত্যায়= ত্ব+অ+গার্হপত্যায় । স্রষ্টব্য-(৩) অস—“অস্’ ধাতু লেট, সিপ,।
৭৮ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ --- দ্রষ্টব্য—৪) অদুঃ—দাধাতু লুঙ, প্রথম পুরুষের বহুবচন। মধ্যম পুরুষের একবচনে,‘অদাঃ। সময়ে সময়ে এই ‘অদাঃ “দাঃ হইয়া যায় । এখানে লােটের অর্থে লুঙ, হইয়াছে। ছন্দসি লুঙ-লঙ-লিটঃ অর্থাৎ বেদে সকল কালেই লুঙ, লঙ, ও লিট হয়। দ্রষ্টব্য—৫) মন্ত্রটি সামবেদীয় ও ঋগ্বেদীয় পদ্ধতিতেও আছে। সর্বত্রই ঋগ্বেদ হইতেই ইহা গৃহীত হইয়াছে। সুতরাং সর্বত্রই একরূপ ঋগ্বেদের পাঠই গৃহীত হওয়া উচিত। . অনুবাদ—৫। আমি অম এবং তুমি সা, তুমি সা এবং আমি অম অর্থাৎ সাম শব্দের সা এবং অম-ভাগদ্বয় যেরূপ পৃথক্ করা যায় না অর্থাৎ তাহাদের সম্বন্ধ যেরূপ অচ্ছেদ্য, তােমার এবং আমার সম্বন্ধও সেইরূপ অচ্ছেদ্য হউক। আমি যেন সাম, তুমি যেন ঋক্ অর্থাৎ সাম ও ঋকের মধ্যে সম্বন্ধ যেরূপ অচ্ছেদ্য, তােমার ও আমার সম্বন্ধও সেইরূপ অচ্ছেদ্য হউক। আমি যেন আকাশ, তুমি যেন পৃথিবী অর্থাৎ পৃথিবী ও আকাশ যে রূপ অচ্ছেদ্যভাব-সংযুক্ত, আমাদের সম্বন্ধও সেইরূপ অচ্ছেদ্য হউক। আস, এরূপ অচ্ছেদ্য ভাবে সম্পর্কিত আমরা দুই জন বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হই, আমরা যেন আমাদের রেত সংযুক্ত করিতে পারি, আমরা যেন সন্তান জন্মাইতে পারি, আমরা যেন বহু পুত্র লাভ করিতে পারি, তাহারা যেন জরাপ্রাপ্তিপৰ্য্যন্ত জীবী হয়, আমরা যেন একে অন্যের প্রিয় হই, আমরা যেন একে অন্যের রুচিকর হই, আমাদের একের মন যেন অন্যের প্রতি অনুরক্ত হয়। আমরা যেন একশত বর্ষ ব্যাপিয়া (ভালভাবে ) দেখিতে পাই, ( ভালভাবে জীবন কাটাইতে পারি, ( ভালভাবে ) শুনিতে পাই। দ্রষ্টব্য—ত্ব সা= ত্বংসাত্বগু সা। বহুংস্তে = বহু+তে। শত+শৃণুয়াম = শতং শৃণুয়াম = শত শৃণুয়াম। অনুবাদ-৬। (হে বধু) (তুমি ইমম্ (এই সম্মুখস্থ) অশ্মানম্ (প্রস্তরের উপর) আবােহ (আরােহণ কর) (আরোহণ দ্বারা সংস্কৃত হইয়া) ৭৯ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ অশ্মা ইব (প্রস্তরের ন্যায়) ত্বং (তুমি) স্থিরা ( দৃঢ়াঙ্গী) ভব (হও)। পৃতন্যতঃ ( কলহকারীদিগের) অভি (অভিমুখী হইয়া) তিষ্ঠ ( যেন দাড়াইতে পারে। (এবং) পৃতনায়তঃ ( কলহকারীদিগকে) অববাধস্ব ( যেন বশীভূত করিতে পার। দ্রষ্টব্য-১) ত্বম্ স্থিরা = ত্বং স্থিরা = ত্বওঁ স্থিরা। দ্রষ্টব্য (২) পৃতন্যতঃ—পৃতন্যৎ' শব্দ দ্বিতীয়ার বহুবচন । পৃতনা-কলহ। পৃতনা ইচ্ছা করে যে এই অর্থে ‘পূতনা’ শব্দের উত্তরে ‘ক্যচ’-প্রত্যয় করিয়া ‘পৃত’ নামে একটি নামধাতু গঠিত হইয়াছে। তাহার উত্তর শতৃ’-প্রত্যয়ে ‘পৃতন্যৎ’ হইয়াছে। দ্রষ্টব্য-(৩) পৃতনায়তঃপূতনা-যৎ + কিপ = পৃতনায়ং তাহার দ্বিতীয়ার বহুবচনে ‘পৃতনায়তঃ'। পৃতন্যৎ এবং পূতনায়ৎ—এই দুই শব্দের অর্থের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নাই। অনুবাদ-৭। (হে) সুভগে (কল্যাণদায়িনি) ৰাজিনীবতি (ঘঘাটকীর ন্যায় দ্রুতগামিনি) সরস্বতি (সরস্বতি) (তুমি) ইদং ( এই বিবাহকৰ্ম্ম ) প্র অব (প্রকৃষ্টরূপে রক্ষা কর) যা ত্বা (যে তােমাকে) অশ্য (এই) বিশ্বস্য ( সমস্ত ) ভূতস্য (পৃথিব্যাদি সৰ্ব্বজগতের) অগ্ৰতঃ ( অগ্রে ) প্রগায়ামি (প্রকৃষ্টরূপে স্তব করিতেছি)। অনুবাদ-৮। যস্যাং (যে সরস্বতীতে) ভূত (ভুবন) সমভবৎ ( সমুৎপন্ন হইয়াছে), ইদং (এই) বিশ্ব ( সমস্ত ) জগৎ (জগৎ ) যস্যা ( যাহাতে ) ( আছে).এবং (তাদৃশী সরস্বতীরূপা) গাথা ( গান) অদ্য অদ্য) গাস্যামি (গান করিব), যা (যাহা) স্ত্রীণা (স্ত্রীলােকদিগের ) উত্তমং ( উৎকৃষ্ট ) যশঃ (কীর্তিসরূপ)। যা স্ত্রীণামুক্তমং যশঃ—এই অংশের ভাবার্থ-সরস্বতী যেরূপ বাত্ময় জগৎ সৃষ্টিকরেন এবং রক্ষা করেন, সেইরূপ, নারীগণও পতিগৃহ যথাযথ ভাবে সাজাইয়া ও রক্ষা করিয়া কীর্তিলাভ করেন। দ্রষ্টব্য—এই মন্ত্রটির ও ইহার পূর্ব মন্ত্রটির অর্থ খুব স্পষ্ট নহে।
৮০ যজুর্বেদীয় বিবাহ অনুবাদ -। অগ্নে (হে অগ্নে) তুভ্যং (তােমার হাতে) অগ্রে { প্রথমতঃ ) বহতুনা সহ (যৌতুকাদির সহিত) সূৰ্যাং সূৰ্য্যাকে (সুৰ্যাতুল্য কন্যাকে) (দেবতারা) পৰ্যবহ ( অৰ্পণ করিয়াছিলেন)। পুনঃ (পুনরায়) (সুৰ্যাতুল্য এই কন্যাকে) প্রজয়া সহ (ইহার ভাবি-সন্তানসন্ততিসহ) পতিভ্যঃ (পতিরূপ আমাদিগকে, পতিরূপ আমার হস্তে) জায়াং (জায়ারূপে) দাঃ ( দান কর, অর্পণ কর)। দ্রষ্টব্য—ঋগ্বেদের ১ম মণ্ডলের পঞ্চাশীতিতম সূক্তে সাবিত্রী-সূৰ্য্যার অর্থাৎ সবিতৃদেবের কন্যা সূৰ্যার বিবাহের কথা আছে। ঐ সূক্ত হইতেই বিবাহের অনেক মন্ত্র গৃহীত হইয়াছে। এখানে ‘সুৰ্য্যা দ্বারা ‘বধূকে বুঝিতে হইবে। অনুবাদ—১০। ভগায় স্বাহা (ভগনামক দেবতার উদ্দেশে এই লাজহুতি অৰ্পণ করিলাম)। ইদং ভগায় (এই লাজাহুতি ভগনামক দেবতার উদ্দেশে অর্পিত হইল।) ইহার পর বর আজ্যদ্বারা প্রাজাপত্য-হােম করিবেন। যথা ওঁ প্রজাপতয়ে স্বাহা। ইদং প্রজাপতয়ে । ইহার পর বর স্বিষ্টকৃদ্ধোম ( স্বিষ্টকৃৎ-হােম, করিবেন। যথা ওঁ অগ্নয়ে স্বিষ্টকৃতে স্বাহা। ইদমগ্নয়ে স্বিষ্টকৃতে। দ্রষ্টব্য-যাহা যাহা ইষ্ট হইল ( অর্থাৎ যজ্ঞে বা হােমে দেওয়া হইল) তাহা তাহা সুষ্ঠু করিয়া থাকেন এই জন্য এই অগ্নির নাম স্বিষ্টকৃৎ। আমাদের দেশের অনেক পদ্ধতিতে ‘স্বিষ্টকৃৎ স্থলে 'স্বিষ্টিকৎ' পাঠ দেখা যায়। স্পিষ্ট- সু-যজ+ভাবে । স্বিষ্টি = সু-যজ+ভাবে ক্তি। স্বিষ্টকৃৎ =ষ্টি- ক+কর্তৃবাচ্যে কিপ। ঘিষ্টিকৃৎ = স্বিষ্টি-ক+কর্তৃবাচ্যে কিপ,। সুতরাং ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ধরিলে ‘ঘিষ্টকৃৎ' এবং ‘শিষ্টিকৃৎ দুই এর অর্থই এক। কিন্তু বিষয়টি ব্যাকরণগত নহে। শব্দটি বৈদিক। সুতরাং বেদে যেরূপ পাঠ । =
৮১,
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
আছে, তাহাই গ্রহণ করিতে হইবে। মাধ্যন্দিনীয়-বাজসনেয়ি-সংহিতার
২১৪৭-এ ‘ষ্টিকৃত একবার, ২১৫৮-তে ‘স্বিষ্টকৃৎ তিনবার এবং
২৮২২-এ ‘স্বিষ্টকৃৎ' একবার, মােটে পাঁচবার পাওয়া যায়। আর কোনও
বেদে এই শব্দটি নাই। “স্বিষ্টিকৎ’ শব্দ কোনও বেদেই পাওয়া যায় না।
ইহারপর-সপ্তপদী গমন। অগ্নির উত্তরে পিটুলি দিয়া
একটি ছােট গােলাকৃতি মণ্ডল আঁক। তাহার পূর্বে আর
একটি, তাহার পূর্বে আর একটি, এই ক্রমে মােট সাতটি ছােট
গােলাকৃতি মণ্ডল আঁক। বধু সকলের পশ্চিমের মণ্ডলটির
পশ্চিমে দাড়াইবে এবং তাহার পশ্চাতে দাড়াইবে বর। বধুর
ডান পা সর্বদাই অগ্রে থাকিবে এবং বাঁ পা পিছনে থাকিবে।
ইহার যেন ব্যতিক্রম না হয়। তারপর বর তাহার ডান পা
দিয়া বধূর ডান পাঁ—১। “ও একমিষে বিষ্ণুত্ব নয়তু এই
মন্ত্রে প্রথম মণ্ডলের উপর ঠেলিয়া দিবেন। আবশ্যকমত বা পা
চালনা বন্ধু
নিজেই করিবে। তারপর—২। ওঁ দে উর্জে
বিষ্ণুত্ত্বা নয়তু এই মন্ত্রে বর বধূর ডান পা নিজের ডান পা
দিয়া প্রথম মণ্ডল হইতে দ্বিতীয় মণ্ডলে ঠেলিয়া দিবেন।
তারপর—৩। ও শ্রীণি রায়ম্পােষায় বিষ্ণুত্বা নয়’
এই মন্ত্রে বর বধুর ডান পা নিজের ডান পা দিয়া দ্বিতীয়
মণ্ডল হইতে তৃতীয় মণ্ডলে ঠেলিয়া দিবেন। তারপর—৪।
ও চারি মায়ােভবায় বিষ্ণু নয়'—এই মন্ত্রে বর
বধুর ডান পা নিজের ডান পা দিয়া তৃতীয় মণ্ডল হইতে চতুর্থ
মণ্ডলে ঠেলিয়া দিবেন। তারপর—৫। “ওঁ পঞ্চ পশুভ্যো
বিষ্ণুত্বা নয়তু—এই মন্ত্রে বর বধুর ডান পা দিয়া চতুর্থ
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ মণ্ডল হইতে পঞ্চম মণ্ডলে ঠেলিয়া দিবেন। তারপর—৬। “ওঁ ষড় ঋতুভ্যো বিষ্ণুত্ত্বা নয়তু’—এই মন্ত্রে বর বধুর ডান পা পঞ্চম মণ্ডল হইতে ষষ্ঠ মণ্ডলে ঠেলিয়া দিবেন। তারপর ৭। 'ও সখে সপ্তপদা ভব, সা মানুব্রতা ভব বিষ্ণুত্ত্বা নয়তু’—এই মন্ত্রে বর বধুর ডান পা নিজের ডান পা দিয়া যষ্ঠ মণ্ডল হইতে সপ্তম মণ্ডলে ঠেলিয়া দিবেন । দ্রষ্টব্য-সপ্তপদীগমনের দিম্বন্ধে নানাপ্রকার মত দৃষ্ট হয়। এই পদ্ধতিতে এতদ্দেশের গৃহীত মতই অনুসৃত হইয়াছে। পারস্কর বলেন- অখৈনামুদীচী সপ্তপদানি প্রক্ৰাময়তি ইত্যাদি-[পারঙ্কর—১৮১ এবং ১৮২ ]। হরিহর বলেন—এনাং বধুমুদীচীং প্রক্ৰাময়তি ইত্যাদি--[ হরিহর ]। • পশুপতি বলেন—এবং ততােহগ্নেরুত্তরতাে যথােত্তরং সপ্তমণ্ডলিকাঃ কৃত্বা তাসু একৈকশঃ কন্যায় দক্ষিণচরণমগ্রে দাপয়তেভিৰ্মন্ত্রৈঃ- [ পশুপতি ]। সামবেদীয় গৃহ্যসূত্রকায় গােভিল বলেন—শূর্পেণ শেষমগাবােপ্য গুদীচীমভক্ৰাময়ত্যেকমিষ ইতি [ গােভিল-২|২|১১ ] সামবেদীয় পদ্ধতিকার ভবদেব বলেন—ততে জামাতা প্রাগুদীচ্যাং দিশি বধূং সপ্তভিৰ্মন্ত্রৈ সপ্তসু মণ্ডলিকা সপ্তপদানি নয়েৎ । • বধূশ্চ মণ্ডলিকায়াম্ অগ্রে দক্ষিণং পাদং নীত্ব, পশ্চাদ বামপাদনয়েং-[ভবদেব]। ঋগ্বেদীয় গৃহসূত্রকার আলায়ন বলেন—অথৈনাম অপরাজিতায়াং দিশি সপ্ত পদান্তভংক্ৰাময়তি।[আলায়ন-গৃহ্যসূত্র, জীবানন্দবিদ্যাসাগরের সংস্করণ-১৭] কৃষ্ণযজুৰ্বেদীয় গৃহসূত্রকার আপস্তম্ব বলেন—অথৈনামন্তরেণাগ্নিং দক্ষিণেন পদা প্রাচীমুদীচীং বা দিশমভিক্ৰাময়ত্যেকমিষ ইতি— স্ব-গৃহসুত্র, কাশী চৌখদা সিরিজ-২৪।১৫ ] যজুৰ্বেদীয় বিবাহ সপ্তপদী-গমনের মন্ত্রসমূহের অনুবাদ :- ১। সখে (হে ইহকাল এবং পরকালের মিত্র) ত্বা (তােমাকে) ইষে (অন্নলাভের নিমিত্ত) বিষ্ণুঃ (বিষ্ণু) একং (এক) (পদ) নয়তু (চালিত করুন)। ২। ( সখে) ত্বা (তােমাকে) উর্জে (বললাভের নিমিত্ত) বিষ্ণু (বিষ্ণু দে (দুই) (পদ) নয়তু ( চালিত করুন)। ৩। ( সখে) ত্বা (তােমাকে) রায়ম্পােষায় ( ধনাদি লাভের নিমিত্ত ) বিষ্ণু (বিষ্ণু) ত্ৰীণি ( তিন ) (পদ) নয়তু (চালিত করুন)। ৪। ( সখে) বা (তােমাকে) মায়ােভবায় (সুখােৎপত্তির নিমিত্ত) বিষ্ণুঃ (বিষ্ণু) চত্বারি ( চারি) (পদ) নয়তু ( চালিত করুন)। ৫। ' (সখে) ত্ব (তােমাকে) পশুভ্যঃ (পশুলাভের নিমিত্ত ) পঞ্চ (পাঁচ) (পদ) নয়তু (চালিত করুন)। ৬। (সখে) ত্বা (তােমাকে) ঋতুভ্যঃ ( অনুকূল ঋতু লাভের নিমিত্ত) ষট, (ছয়) (পদ) নয়তু (চালিত করুন)। সখে ( সখে) সপ্তপদা (সপ্তপদ গমনের কাৰ্য্যদ্বারা সংস্কৃতা ) ভব (হও), সা (সেই ) (তুমি) মাং ( আমার) অনুব্রতা ( অনুবর্তিনী। ভব ( হও)। দ্রষ্টব্য-সপ্তপদা’ স্থলে পাঠান্তর ‘সপ্তপদী। ইষে =ইখে। রায়- স্পােষায় = রায়ম্পােখায়। বধুর অভিষেক নিষ্ক্রমণের সময় হইতে একজন লােক জলপূর্ণ একটি কলস স্কন্ধে করিয়া অগ্নির দক্ষিণ দিকে বাগ- যত হইয়া দাড়াইয়া থাকিবেন। বর্তমান সময়ে এই প্রথা উঠিয়া গিয়াছে। এখন ঐ কলস হইতে জল লইয়া বর বধূর মস্তকে ছিটাইয়া দিবেন। ঐরূপ কলসের ব্যবস্থা এখন না ৮৪ - যজুৰ্বেদীয় বিবাহ থাকাতে বর প্রােক্ষণীপাত্র (কোশা হইতে) ত্ৰিপত্ৰদ্বারা জল বধুর মস্তকে ছিটাইয়া দিবেন। ছিটানের (অভিষেকের) মন্ত্র - ওঁ আপঃ শিবাঃ শিবতমাঃ শান্তাঃ শান্ততমা-স্তান্তে কৃথন্তু ভেষজম্। পারস্কর-১১৮৫ ] ২। ওঁ আপাে হি ষ্ঠা ময়ােভুব-স্তা ন ঊর্জে দধাতন। মহে রণায় চক্ষসে। [ মা-বা-সং-১১৫০] ওঁ যােবঃ শিবতমাে রস-স্তস্য ভাজয়তেহ নঃ। উশতীরিব মাতরঃ। [ মা-বাং-সং-১১৫১ ] ৪। ওঁ তম্মা অরং গমাম বাে য য়ায় জিম্বথ। আপাে জনয়থা চ নঃ ॥ [ মা-বাং-সং-১১৫২] অনুবাদ—১। আপঃ (জলসমূহ) শিবাঃ (কল্যাণজনক) শিবতমাঃ (অত্যন্ত কল্যাণজনক) শান্তা (শান্তিদায়ক), তাঃ (তাহারা) তে (তােমার) ভেষজং (আনােগ্য) কৃন্তু (করুক)। অনুবাদ—২। আপঃ (হে জলসমূহ) হি (যেহেতু) (তােমরা) ময়ােভুবঃ (সুখের উৎপত্তিস্থান) ষ্ঠা (হও), তা (অতএব ) নঃ ( আমাদিগকে) উর্জে (অন্নলাভের নিমিত্ত) দধাতন (স্থাপন কর) (এবং) মহে (মহৎ ) রণায় ( রমণীয়), চক্ষসে (দর্শনের নিমিত্ত ) ( স্থাপনকর)। অনুবাদ—৩। (হে জলসমূহ) বঃ (তােমাদের) যঃ (যে ) রসঃ (নিৰ্যাস) শিবতমঃ ( অত্যন্ত কল্যাণময়), তৃস্য (সেই রসের) ইহ (এই সংসারে) ন ( আমাদিগকে) ভাজয়ত (ভাগী কর)। তােমরা কিরূপ? উশতী। ) মাতরঃ মাতাদিগের) ইব (ন্যায়)। ভাবার্থ-পুত্র-
৮৫,
যজুর্বেদীয় বিবাহ
হিতৈষিণী মাতারা যেরূপ নিজের পুত্রদিগকে স্তনভাগী করে, হে জলসকল,
তােমরাও সেইরূপ আমাদিগকে কল্যাণাত্মক তােমাদের রসের ভাগী কর।
অনুবাদ—৪। আপঃ (হে জলসকল) ব (তােমাদের) তস্মৈ
( সেই রসে) অরং (পৰ্যাপ্তি, তৃপ্তি) (আমরা) গমাম ( যেন পাই।
(এবং সেইরসে) নঃ ( আমাদিগকে) (সম্ভোক্তৃরূপে ) জনয়থা (পরিকল্পনা
কর), যস্য (যে রসদ্বারা) ক্ষুয়ায় ( স্থানে, সমগ্র জগতে) জিম্বথ (প্রীতি
দান করিতেছ)।
তারপর বর বধুকে সূৰ্য্য দেখাইবে। বধু সূৰ্য নমস্কার
করিবে। এখন রাত্রিতে বিবাহ হয়। সুতরাং এখন সূর্য
দেখান অসম্ভব।
অতএর এই কাজটি বাদদেওয়া কর্তব্য।
সূৰ্য নমস্কারের মন্ত্র
ওঁ তচ্চক্ষু-দেবহিত পুরস্তাচ্ছুমুচ্চরৎ, পশ্যেম শরদঃ শতং,
জীবেম শরদঃ শতগু, শৃণুয়াম শরদঃ শতং,
প্ৰব্ৰবাম শরদ শত,-মদীনাঃ স্যাম শরদঃশতং,
ভূয়শ্চ শরদঃ শতাৎ।–[ মা-বা-সং ৩৬া২৪ ]
অনুবাদ— যাহাকে আমরা স্তব করিতেছি) জগতের চক্ষুতুল্য দেবতা-
দিগের প্রিয় পবিত্রমূৰ্ত্তি সেই (সূৰ্য্যদেব) পূৰ্ব্বদিকে উঠিতেছেন।
(তাহার অনুগ্রহে) (আমরা) যেন শত বৎসর ব্যাপিয়া (ভালরূপ)
দেখিতে পাই, শত বৎসর ব্যাপিয়া ( স্বাধীনভাবে) জীবনধারণ করিতে
পারি, শত বৎসর ব্যাপিয়া (ভালরূপ) শুনিতে পাই, শত বর্ষ ব্যাপিয়া
( ভালরূপ) কথা বলিতে পারি, শতবর্ষ ব্যাপিয়া কাহারও নিকট দীন না
হই, শত বর্ষের পরেও যেন বহুকাল ব্যাপিয়া ঐরূপ হইতে পারি।
দ্রষ্টব্য-কাশ্বসংহিতায় প্রত্ৰবাম•••শতাৎ—অংশ নাই।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ তারপর বর বধুর দক্ষিণ স্কন্ধের উপর দিয়া ডান হাত নিয়া তাহার হৃদয় নিম্ন মন্ত্রে স্পর্শ করিবেন। ইহার নাম হৃদয়ালভন। মন্ত্র- ওঁ মম ব্রতে তে হৃদয়ং দধামি, মম চিত্তম চিত্তং তে অন্তু। মম বাচমেকমনা জুষ, প্রজাপতি নিযুক্ত মহম্ । [ পারস্কর—১৮৮ } অনুবাদ—হে বধু) আমার শাস্ত্রবিহিত নিয়মাদিতে তােমার হৃদয় স্থাপিত করিতেছি (অর্থাৎ স্থাপিত হউক)। তােমার চিত্ত আমার চিত্তের অনুগামি হউক। একমনে তুমি আমার কথা পালন করিবে। প্রজাপতিদেব তােমাকে আমার প্রতি নিয়ােজিত করুন। দ্রষ্টব্য-(১) জুষ—সেবন কর, পালন কর। দ্রষ্টব্য-(২) প্রজাপতিঃ ( = প্রজাপতিস্)+ত্বা= প্রজাপতি, প্রজা- পতিত্বা (যজুৰ্বেদে)। কিন্তু ঋগ্বেদে কেবল প্রজাপতিষ্টা। ইহারপর বিবাহের দর্শকদিগকে সম্বােধন করিয়া বর বধূর উদ্দেশে নিম্ন মন্ত্রটি পড়িবেন। মন্ত্র— ওঁ সুমঙ্গরিয়ং বধূরিমা সমেত পশ্যত। সৌভাগ্যমস্যৈ দত্ত্বায়াথস্তং বি পরেতন। [ ঋগ্বেদ ১০৮৫৩৩] [ পারস্কর ১৮৯] অনুদ—হে দর্শকগণ) ইয়ং (এই) বধূ (বধূটি) সুমঙ্গলী (মাঙ্গল্যযুক্তা, মাঙ্গল্যসূচক-অলঙ্কারাদিপরিহিতা) ইমাং (ইহার কাছে।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ৮৭ , সমেত (আসুন) (ইহাকে) পশ্যত (দেখুন)। অথ ( তারপর ) অস্যৈ ( ইহাকে) সৌভাগ্যং (আশীৰ্বাদ) দায় ( দিয়া) অস্তং (যার যার গৃহে) বিপরেতন (প্রস্থান করুন)। দ্রষ্টব্য-ইমাম্+সমেত =ইং সমেত = ইমাণ্ড সমেত। সুমঙ্গলীঃ সুমঙ্গল+মত্বৰ্থীয় বৈদিক ঈ-প্রত্যয়+সু। “ছন্দসীবনিপৌ চ বক্তব্যৌ’— এই বাৰ্তিকসুত্র দ্রষ্টব্য [ পাণিনি ৫২১২২, সিদ্ধান্তকৌমুদী- সূত্র ]। দত্ত্বায়াথান্তং = দায়+অথ+অস্তং। দা+= দত্ত্বা। “ড়ে। য—এই সূত্রানুসারে দত্ত্বা+য = দ+ত্বা+য= দত্ত্বায়। অস্তংগৃহে। বিপরেতন—বিপর+ইণ, লােটত। ভাষায় কেবল বিপরেত। সিন্দুরদান—ইহার পর বর বিনামন্ত্রে বধূর সীমন্তে সিন্দুর লেপিয়া দিবেন। সিন্দুরদানের সময় সম্বন্ধে মতভেদ দেখা যায়। এ বিষয়ে গৃহ্যসূত্রে কিংবা পদ্ধতিতে স্পষ্ট কোনও নির্দেশ নাই। যে পরিবারে যেরূপ নিয়ম চলিয়া আসিয়াছে, সেই পরিবারে যেই নিয়মই পালনীয়। ইহা বরপক্ষের কাজ। সুতরাং বিরােধস্থলে বরপক্ষের নিয়মই মানিয়া নিতে হইবে। তৎপরবর্তি কাৰ্যবিবাহ স্থানের পূর্ব বা উত্তরদিকে . চতুর্দিকে আবৃত একটি গৃহে ষাঁড়ের লালবর্ণের একখানা চর্ম পূর্বেই বিছাইয়া রাখিতে হইবে । একজন বলবান্ পুরুষ বধূকে উচু করিয়া তুলিয়া নিয়া নিম্নমন্ত্রে ঐ চর্মের উপর বসাইবে। মন্ত্র - ওঁ ইহ গাবদা নিষীদন্বিহাশ্বা ইহ পুরুষাঃ। ইহাে সহস্রদক্ষিণাে যজ্ঞ ইহ পূষা নি ধীদতু। [ পারস্কর-১৮১০] অনুবাদ—ইহ (এই বাড়ীতে, বর ও বধূর বাড়ীতে) গাবঃ (বহুগাভী। ৮৬ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ নিষীদন্তু ( অবস্থান করুক), ইহ (এখানে ) অশ্বাঃ {বহু অশ্ব ) ( অবস্থান করুক) ইহ (এখানে) পূরুষাঃ (বহুসন্তানাদি অধবা বহুকৃতী ব্যক্তি ) (হউক)। ইহ উ (এখানে) সহস্রদক্ষিণঃ (সহস্রপরিমিত মুদ্রা বা গাভী দক্ষিণা যাহার এরূপ) যজ্ঞ (যজ্ঞ) ( হউক), ইহ (এখানে) পূষা (পশুপালক পূষা দেবতা) নিষীতু (অবস্থান করুক)। দ্রষ্টব্য—বর্তমান সময়ে এই প্রথা লােপ পাইয়াছে। তবে মন্ত্রটি বর পড়িতে পারেন কারণ ইহার অর্থ স্পষ্ট এবং সুন্দর। তারপর বধুকে বর কর্তৃক ধ্রুবতারা প্রদর্শন—বর বধূকে ‘ওঁ ধ্রুবমীক্ষ’ বলিয়া নিম্ন মন্ত্রটি পড়িবেন। যথা- ওঁ ধ্রুবমসি ধ্রুবং জ্বা পশ্যামি ধ্রুবৈধি পােষ্যাময়ি মহং- দাদু বৃহস্পতির্ময়া পত্যা প্রজাবতী সংজীব শরদঃ শতম্। [ পারস্কর-১৮২০ ) মন্ত্র পড়া হইলে বধু ররপ্রদর্শিত ধ্রুবতারা দেখিবে। কোনও কারণে না দেখিতে পারিলেও বধু বলিবে-পশ্যামি’ । অনুবাদ—বং ( ধ্রুবতারা) ঈক্ষ (দেখ )। (হে বধু) (তুমি) ধ্রুবং ( রা, শাশ্বতী, অবিনাশিনী) অসি (হও), (যে হেতু) ত্ব (তােমাকে) ধ্রুবং ( ধ্রুবতারা) পশ্যামি (দেখাইতেছি) (অতএব ) ময়ি ( আমাতে, আমার সম্পর্কে ) ( তুমি ধ্রুবা (শাশ্বতী) পােয়া (পােষণীয়া, আমার সন্তানগণের পালয়িত্রী) এধি (হও। (এই উদ্দেশ্যে ) বৃহস্পতিঃ (ব্রহ্মা, প্রজাপতি) ত্বা (তােমাকে) মহং (আমার হাতে) অদাৎ (অৰ্পণ করিয়াছেন)। (ইহার পর) ময়া পত্যা তােমার পতি আমার সহিত) প্রজাবতী (পুত্রপৌত্রাদিযুক্তা হইয়া) শতং শরদং (একশত বর্ষ ব্যাপিয়া) সং (সম্যক্) জীব (জীবন ধারণ কর)। পশ্যামি (আমি দেখিতেছি)।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
চতুর্থী হােম
এই চতুর্থী-হােম পূর্বে বর নিজের বাড়ীতে যাইয়া বিবাহ
রাত্রি হইতে চতুর্থ রাত্রিতে রাত্রির মধ্যভাগে করিতেন। বধু
তাহার ডান দিকে বসিত। এখন এই হােম বর বিবাহ
রাত্রিতেই বিবাহ হােমের পর করিয়া থাকেন।
বিবাহ-হােমের সময় বধু যেরূপ বরের ডান দিকে
বসিয়াছে, এই হােমেও সেইরূপ ডান দিকেই বসিবে। এই
হােম এখন প্রকৃত প্রস্তাবে বিবাহ হােমের শেষাংশ। এই
অংশ শেষ না হইলে বিবাহ শেষ হইল না বুঝিতে হইবে। ইহাতে
দুইটি আহুতি চরুদ্বারা দিতে হইত। এখন চরুপাক উঠিয়া
গিয়াছে। মন্ত্রাণামনাদেশে গায়ত্রী হবিষােহনাদেশ আজ্যম’-
এই নিয়মানুসারে এই দুই আহুতিতে চরুর পরিবর্তে আজ
ব্যবহৃত হইয়া থাকে।
হােম।
আঘারহােম—(১) ওঁ প্রজাপতয়ে স্বাহা। ইদং প্রজাপতয়ে।
(২) ওঁ ইন্দ্রায় স্বাহা। ইদমিল্লায়।
আজ্যভাগ হােম—(১) ওঁ অগ্নয়ে স্বাহা। ইদমগ্নয়ে।
(২) ওঁ সােমায় স্বাহা। ইদং সােমায়।
দ্রষ্টব্য-ইচ্ছা করিলে এই চারিটি আহুতি বাদ দেওয়া যাইতে পারে।
তৎপর শিখি-নামক অগ্নির নামকরণ, ধ্যান, আবাহন ও
পূজা। যথা—ওঁ অগ্নে ত্বং শিখিনামাসি।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
ধ্যান—ওঁ পিঙ্গ-শ্মশ্রুকেশা : ইত্যাদি।
আবাহন—ওঁ শিখ্যগ্নে ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ ইত্যাদি।
পূজা—এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শিখ্যগ্নয়ে নমঃ।
এত হবিনৈবেদ্যম্ ওঁ শিখ্যগ্নয়ে নমঃ।
( কাহারও কাহারও মতে ‘স্বাহা’ )
আজ্যাহুতি ৬ । যথা-
ওঁ অগ্নে প্রায়শ্চিত্তে, ত্বং দেবানাং প্রায়শ্চিত্তিরসি,
ব্রাহ্মণস্থা নাথকাম উপ ধাবামি, যাস্যৈ পতিঘ্নী তনূস্তামস্যৈ
নাশয় স্বাহা। ইদমগ্নয়ে ।
ওঁ বায়ো প্রায়শ্চিত্তে, ত্বং দেবানাং প্রায়শ্চিত্তিরসি,
ব্রাহ্মণস্থা নাথকাম উপ ধাবামি, যাস্যৈ প্রজাঘী তনূস্তামস্যৈ
নাশয় স্বাহা। ইদং বায়বে।
ন| ৩। ওঁ সূৰ্য্য প্রাশশ্চিত্তে, ত্বং দেবানাং প্রায়শ্চিত্তিরলি,
ব্রাহ্মণস্থা নাথকাম উপ ধাবামি, যাস্যৈ—পশুষ্মী তনূস্তামস্যৈ
নাশায়—স্বাহা। ইদং সূৰ্য্যায়।
ওঁ চন্দ্র প্রায়শ্চিত্তে, ত্বং দেবানাং প্রায়শ্চিত্তিরসি ।
ব্রাহ্মণস্থা নাথকাম উপ ধাবামি, যাস্যৈ গৃহষ্মী তনূস্তামস্যৈ
নাশয় স্বাহা। ইদং চন্দ্রায়।
ওঁ গন্ধর্ব প্রায়শ্চিত্তে, ত্বং দেবানাং প্রায়শ্চিত্তি-
রসি। ' ব্রাহ্মণ নাথকাম উপ ধাবামি, যাস্যৈ যশােম্নী
তস্তামস্যৈ নাশয়—স্বাহা। ইদং গন্ধৰ্বায়।
প্রজাপতয়ে স্বাহা। ইদং প্রজাপতয়ে।
৪।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
অনুবাদ-প্রায়শ্চিতে -হে প্রায়শ্চিত্তকারক।
প্রায়শ্চিত্তিঃ-প্রায়শ্চিত্তিকারক।
নাথকাম—যাচা-কামী।
উপধাবামি-প্রার্থনা করিতেছি।
অস্যৈ ( = অস্যাঃ)-ইহার।
পতিপ্পী, প্রজাপ্পী, পন্নী, গৃহপ্পী, যশােস্লী—এই কয়টি শব্দ যথাক্রমে
পতি, প্রজা, পশু, গৃহ এবং যশস্ শব্দ কৰ্ম্ম-উপপদে হন্ ধাতুর উত্তর
কর্তৃবাচ্যে টক্ প্রত্যয়ে সিদ্ধ হইয়াছে। স্ত্রীলিঙ্গে ঙীপ, (ঈ) হইয়াছে।
পতিঘ্নীপতিকে হনন করিবে এইরূপ লক্ষণের রেখাদিযুক্ত। এইরূপে
অন্য চারিটি শব্দও বুঝিয়া নিতে হইবে। ১, ২, ৩, ৪,৫ নম্বরের মন্ত্র
পারস্করের ১১১২তে আছে। যষ্ঠ আহুতি পূৰ্বে চরু-আহুতি ছিল।
বধুর
অভিষেক-এখন বর কোশা হইতে ত্ৰিপত্ৰদ্বারা জল
লইয়া বধুর মস্তক অভিষিক্ত করিবে।
ওঁ যা তে পতিত্নী প্রজাগ্নী পন্নী গৃহগ্নী যশােম্নী নিন্দিতা
তনুর্জারীং তত এনাং করােমি সা জীৰ্য্য ত্বং ময়া সহ অসৌ
( ‘অসৌ’ স্থলে বধূর সম্বােধনান্ত নাম শ্ৰী-অমুক-দেবি)।
[ পারস্কর-১১১৪]
অনুবাদ—তােমার যে পতিপ্পী, প্রজাপ্পী, পশুষ্মী, যশােস্লী (অতএব )
নিন্দিতা তন, তাহাকে জারী (উপপত্যাদিদোষঘাতিনী ) করিতেছি।
সেই তুমি তােমার পতি আমার সহিত নিদু ই-বৃদ্ধত্ব-প্রাপ্তি-পৰ্যন্ত বাস
কর, হে শ্ৰী-অমুক-দেবি।
তারপর বরকর্তৃক বধূকে স্থালীপাক-প্রাশন। স্থালীপাক
=চরু। প্রাশন=ভক্ষণ । এখন চরু-ব্যবহার নাই। সুতরাং
যজুর্বেদীয় বিবাহ প্রাশনও নাই। ঘ্রাণ নেওয়াও নাই। বর বধূকে সম্বােধন করিয়া ' নিম্ন মন্ত্রটি পঢ়িয়া যাইবে মাত্র ওঁ প্রাণৈস্তে প্রাণান্ সন্দধাম্য-স্থিতিরস্থীনি মাগু- সৈ-মাসানি স্বচা চম্। [ পারস্কর—১৫ ] অনুবাদ—“আমার প্রাণের সহিত তােমার প্রাণ মিলিত করিতেছি ( অর্থাৎ মিলিত হউক), আমার অস্থিসমূহের সহিত তােমার অস্থিসমূহ। মিলিত হউক, আমার মাংসের সহিত তােমাদের মাংস মিলিত হউক এবং আমার ত্বকের সহিত তােমার ত্বক্ মিলিত হউক। দ্রষ্টব্য-(১) বিবাহে এত উচ্চভাবাপন্ন মন্ত্র আর নাই। (২) মাগুসৈঃ =মাংসৈঃ । (৩) মাসানি—মাংসানি। উদীচ্যকর্ম। দ্বিষ্টকৃদ্ধোম (স্বিষ্টকৃৎ-হােম)—ওঁ অগ্নয়ে দ্বিষ্টকৃতে স্বাহা। ইদমগ্নয়ে স্বিষ্টকৃতে। দ্রষ্টব্য-পূৰ্বে এই আহুতিটি চরুর আহুতি ছিল। সাধারণত প্রকৃতকর্মের পর মহাব্যাহতি-হােম, তৎপর প্রায়শ্চিত্ত-হােম, তৎপরে প্রাজাপত্য-হােম (ইহা উদীচ্য-কর্মের প্রাজাপত্য) এবং তৎপর স্বিষ্টকৃৎ- হােম করিতে হয়। কিন্তু যদি আজ্যের সঙ্গে চরু প্রভৃতিও হবি অর্থাৎ সমি-রূপে ব্যবহৃত হয়, তবে মহাব্যাহৃতি-হােমের পূর্বে স্বিষ্টকৃৎ-হােম করিতে হয়। এই বিষয়ে পারস্কর বলেন- প্রাঙ, মহাব্যাহৃতিভ্যঃ স্বিষ্টকৃদন্যচ্চেদাজ্যাদ্ধবিঃ [ পারস্কর ১৫৫ ] এখানে-অনুকরূপে আজ্য ব্যবহৃত হইতেছে। উদীচ্যকৰ্ম্ম-প্রায়শ্চিত্ত-হােম।
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
সঙ্কল্পবাক্য পাঠ। তৎপর সঙ্কল্পসূক্ত ‘ও যজ্জাগ্রতাে’ ইত্যাদি
পাঠ। তৎপর বিধু-নামক অগ্নির নামকরণ, ধ্যান, আবাহন ও
পূজা। তারপর আহুতি দান যথা—
১। ওঁ ত্বয় অগ্নে বরুণস্য বিদ্বান্,
দেবস্য হেলাে অব যাসিসীষ্ঠাঃ।
যজিষ্ঠো বহ্নিতমঃ শােচাননা,
বিশ্বা দ্বেষাগুসি প্রমুমুগ্ধস্মৃৎ-স্বাহা।
ইদমগ্নী-বরুণাভ্যাম্।
২। ওঁ স ত্বঘ্নে অগ্নেইবমাে ভবােতী,
নেদিষ্ঠো অস্যা উষসসা ব্যুষ্টো।
অব যক্ষ নন বরুণও ররাণে,
বীহি মৃলীকণ্ঠ সুহবােন এধি-স্বাহা।
ইদমগ্নী-বরুণাভ্যাম্
৩। ওঁ অয়াশ্চাগ্নেহ স্নভিশস্তিপাশ্চ,
সত্যমিত্বময়া অসি।
অয়া নাে যজ্ঞং বহা,-স্তয়া নাে ধেহি
ভেষজগু-স্বাহা। ইদমগ্নয়ে।
৪। ওঁ যে তে শতং বরুণ যে সহস্রং, যজ্ঞিয়াঃ পাশা
বিততা মহান্তঃ। তেভিনে। অদ্য সবিতােত বিষ্ণু-
বিশ্বে মুঞ্চন্তু মরুতঃ স্বৰ্কাঃ—স্বাহা। ইদং বরুণায়,
সবিত্রে, বিষ্ণবে, বিশ্বেতভা দেবেলভ্যা, মরুপ্ত,
স্বর্কেভ্য।
৯৪ যজুৰ্বেদীয় বিবাহ ৫। ওঁ উত্তমং বরুণ পাশমস্মদ,বাধমং বি মধ্যমগু শ্ৰথায়। অথা বয়মাদিত্য ব্রতে, তবানগসাে অদিতয়ে স্যাম- ইদং বরুণায়। স্বাহা। উদীচ্যকৰ্ম্মপ্রাজাপত্য-হােম। ওঁ প্রজাপতয়ে স্বাহা। ইদং প্রজাপতয়ে। উদীচ্যকৰ্ম্ম- ১। নবগ্রহ-হােম (সংক্ষেপে )---ওঁ আদিত্যাদিনব- গ্রহেভ্যঃ স্বাহা। ইদমাদিত্যাদিনবগ্রহেভ্যঃ। ২। দশদিপাল-হােম (সংক্ষেপে )—ওঁ ইন্দ্রাদিদশদিক্- পালেভ্যঃ স্বাহা। ইদমিল্লাদিদশদিকপালেভ্যঃ। উদীচ্যকৰ্ম্ম-প্রত্যক্ষদেবতা-হােম। ওঁ গঙ্গায়ৈ স্বাহা। ইদং গঙ্গায়ৈ। ইত্যাদি। স্থানভেদে প্রত্যক্ষ দেবতার আহুতিগুলি ভিন্নরূপ হইবে। উদীচ্যকর্ম-সংস্রবপ্রাশন। উদীচ্যকৰ্ম্ম—পূর্ণাহুতি। মৃড়-নামক অগ্নির নামকরণ, ধ্যান, আবাহন ও পূজা। তারপর একটি কলা, একটি ঘৃতাক্তপান সংস্রব পাত্রে যাহা অবশিষ্ট আছে তাহা এবং আজ্যস্থালীতে যে আজ্য অবশিষ্ট আছে তাহা কুশীতে একত্র করিয়া লইয়া বর ও বধু একত্র আহুতি দিবে। ওঁ মূৰ্ধানং দিবাে অরতিং পৃথিব্যা, বৈশ্বানর-মৃত আ মন্ত্র
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
জাতমগ্রিম্ কবিগু সম্রাজমতিথিং জনানা,-মাসন্না পাত্রং
জনয়ন্ত দেবাঃ-স্বাহা
ইদমগ্নয়ে।
[ মা-বা-সং-৭২৪, ৩৩৮ ]
[কা-বা-সং-৭১০১, ৩২৮]
অনুবাদ-দিবঃ (স্বর্গের) মূৰ্ধানং (শিরঃ-সরূপ) পৃথিব্যাঃ
(পৃথিবীর) অতিং (অধিপতি-সরূপ) বৈশ্বানরম্ (সকল লােকের
আরাধ্য ) ঋতে (যজ্ঞের নিমিত্ত) আ ( আদিতে) সৃষ্টির আদিতে)
জাতং (উৎপন্ন) কবিং (অতীতদশী) সম্রাজং (সম্যক্ শােভমান)
জনানাং ( যজমানদিগের ) ( নিকট । অতিথি ( অতিথিবৎ পূজনীয়)
(দেবতাদিগের) আসন্ মুখসরূপ) পাত্রম্ (রক্ষাকর্তা) অগ্নিম্ (অগ্নিকে)
দেবাঃ (ঋত্বিকেরা ) আ জনয়ন্ত (উৎপাদন করিয়াছেন, অরণি-কাষ্ঠ
হইতে উৎপাদন করিয়াছেন)। স্বাহা (এই মন্ত্রে আহুতি অৰ্পণ করিলাম)।
ইদমগয়ে (ইহা অগ্নির উদ্দেশে অপিত হইল)।
উদীচ্যকৰ্ম্ম-পূৰ্ণপাত্রানুকল্প-ভােজ্যদান।
উদীচ্যকৰ্ম্ম-তিলকদান।
পূর্ণপাত্ৰানুকল্প-ভােজ্যদানের পর হােম-কুণ্ডের ঈশানকোণে
দুগ্ধ দিয়া, সেই স্থান হইতে ভস্ম লইয়া ঘৃতে গুলিয়া অনামিকা
দ্বারা বরকে এবং বন্ধুকে পুরােহিত তিলক দিবেন। যথা-
ওঁ কস্যপস্য এ্যায়ুষম্ (ইতি ললাটে ),
ওঁ ায়ুষ জমদগ্নেঃ (ইতি কণ্ঠে ),
ওঁ যদ্দেবানাং ায়ুষং ( ইতি দক্ষিণবাহুমূলে ),'t
ওঁ তন্মেহস্তু ায়ুষ ( ইতি হৃদয়ে ),
[ কা-বা-সং-৩৯৪ ]
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ দ্রষ্টব্য-যুষ=ায়ুখ। ভাবার্থ-তিনটি আয়ুর সমাহার, অর্থাৎ সমষ্টি এই অর্থে এ্যা ‘আযু’ শব্দ এখানে অবস্থাবাচক, বাল্য-যৌবন-বাৰ্ধকাত্মক অ কশ্যপ মুনির, জমদগ্নি মুনির এবং দেবগণের যেরূপ এ্যাযুষ, আ সেইরূপ ায়ুষ হউক। এখানে পুরােহিত যজমানের প্রতি সুতরাং আমার’ অর্থ ‘তােমার’। অথবা যজমান নিজেই ম পড়িবেন। মন্ত্রের মাধ্যন্দিন পাঠ- ওঁ ায়ুষং জমদগ্নেঃ কস্যপস্য য়ুষম্। যদ্দেবেষু য়ুষং তমন্নাহস্তু য়ুষ। [ মা-বা-সং-৩। উদীচ্যকৰ্ম্ম-অগ্নিবিসর্জন। ১। ওঁ অগ্নে ত্বং সমুদ্রং গচ্ছ—এই মন্ত্রে অগ্নিতে জলপ্রাে ২। ওঁ পৃখি ত্বং শীতলা ভব—এই মন্ত্রে অগ্নিতে দধিসেচল উদীচ্য কৰ্ম্ম-ব্ৰহ্ম-বিসর্জন। কুশময় ব্রহ্মা হইলে, “ওঁ ব্ৰহ্মন্ ক্ষম’-এই মন্ত্রে উঁ গ্রন্থিমােচন করিয়া বিসৰ্জন করিতে হইবে। তারপর দক্ষিণাদান। পারস্করের গৃহসূত্র মতে বর তাহার পুরােহিতকে দক্ষিণা ক - দিবেন। তারপর অচ্ছিদ্রাবধারণ। তারপর বৈগুণ্যসমাধান। তারপর শান্তিকরণ।
No text on this page.
যজুৰ্বেদীয় বিবাহ
নিম্নলিখিত মন্ত্র কয়টি পড়িতে পড়িতে পুরােহিত অধি-
বাসনের ঘট হইতে আম্রপল্লবদ্বারা অথবা কোশা হইতে ত্রিপত্র
দ্বারা বরের এবং বধুর শরীরে জল ছিটাইয়া দিবেন
(শান্তি)
১। ওঁ ঋচং বাচং প্রপছে,
মনাে যজুঃ প্রপথে,
সাম প্রাণং প্রপথে,
চক্ষুঃ শ্রোত্রং প্রপছে।
বাগােজঃ সহৌজো ময়ি প্রাণাপানে॥
[ মা-বা-সং-৩৬১, কা-বা-সং-৩৬১ ]
২। ওঁ যন্মে ছিদ্রং চক্ষুষাে হৃদয়স্য মনসাে
বাতিল বৃহস্পতিৰ্মে উদ্দধাতু।
শন্নো ভবতু ভুবন যস্পতিঃ ।
[ মা-বা-সং—৩৬২, কা-বা-সং-৩৬২]
৩। ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো 'বুদ্ধশ্রবাঃ,
স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ ।
স্বস্তি নস্তাক্ষ্যো অরিষ্টনেমিঃ,
স্বস্তি নাে বৃহস্পতিদধাতু।
[ মা-বা-সং-২৫ ১৯, কা-বা-সঃ-২৭২৩]
সবাদ–১। (আমি) ঋচং (ঋগ্বেদৰূপ) বাচং (বাক্যের,
বাশ্রয়) পদ্যে (প্রার্থনা করিতেছি)। (সেইরূপ)
দরূপ মনের) ( আশ্রয) পদ্যে ( প্রার্থনা করিতেছি )
*ং ( সামবেদরূপ প্রাণের) (আয়) পদ্যে (প্রার্থনা
১৮ যজুর্বেদীয় বিবাহ করিতেছি)। চক্ষুঃ ( দৃষ্টিশক্তি) শ্রোত্ৰং (শ্রবণ শক্তি )(লাভের জন্য ) পদ্যে (প্রার্থনা করিতেছি)। বাক (বা) ওজঃ ( শারীরিক তেজ) ওজঃ (মানসিক তেজ) প্রাণাপাণৌ ( নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাসের ক্ষমতা) ময়ি ( আমাতে) সহ (একত্র) (মিলিত হউক)। অনুবাদ—২। মে (আমার) চক্ষুষ .(চক্ষুর) হৃদয় (হৃদয়ের) বা (এবং) মনসঃ (মনের) অতিতৃ (পরহিংসা-চিন্তনাদিজনিত): ষং (যে) ছিদ্রং (ন্যূনত) (ঘটিয়াছে ), বৃহস্পতিঃ (বৃহস্পতি) মে ( আমার) তং (তাহা, সেই ন্যুনতা) দধাতু (পূর্ণ করুন, দুর করুন)। ভুবন (ভুবনের) য (তিনি) পতিঃ (পতি) (তিনি) নঃ { আমাদের প্রতি) শং (শান্তিদায়ক) ভবতু ( হউন)। ইহার পর স্ত্রীলােকদিগের উলুধ্বনি। সমাপ্ত