Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kripaner Dhan

Basu,amritalal · 2009/10/11

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কৃপণের ধন।
প্রমোদ-প্রহসন।)
THE VISERE Re,
A Farcical komallya.
( ১৩০৭ সাল—১৩ই জ্যৈষ্ঠ শনিবার
স্টার থিয়েটারে প্রথম অভিনীত ।
শ্ৰীঅমৃতলাল বসু কর্তৃক প্রণীত
ও প্রকাশিত/t:
।
কলিকাতা,
৯/৩/২/৩, কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট,
নিউটন প্রেসে
শ্ৰী শ্ৰীমন্ত রায় চৌধুরী দ্বারা মুদ্রিত।
৩৩৮৭।

দে, মল্লিক কোম্পানীর
আসল ব্রেজিল পাথরের চম।
ইংলণ্ড, ফ্রান্স ও আমেরিকা হইতে আমরা
সকল রকম চশূমা আমদানি করিয়া থাকি ।
আমাদের পাথরের চশমা অত্যন্ত সুলভ ও উৎকৃষ্ট
বলিয়া, কলিকাতার ও মফঃস্বলের প্রধান প্রধান
চিকিৎসকগণ উহা ব্যবহার করিতে সর্বদা উপদেশ
দিয়া থাকেন। চক্ষু বিশেষরূপ পরীক্ষা করিয়া
উপযুক্ত চশমা নিৰ্বাচন করিয়া দেওয়া হয়। যদি
কোন কারণে চশমা মনােমত না হয়, তবে বদলা-
ইয়া দিয়া থাকি। চশমা সম্বন্ধীয় সকল রকম
অতি অল্প সময়ের মধ্যে সুলভ মূল্যে হইয়া থাকে।
পরীক্ষা প্রার্থনীয় ।
বিস্তারিত মূল্য-তালিকা আবেদন মাত্র প্রাপ্তব্য।
দে,মলিক এণ্ড কোং
২০ নং লালবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা।

C
উৎসর্গ পত্র !
ল যুক্ত কুমার নানা মিত্র
মা বাহাদুর মহানুভবে।
কুমার বাহার--
“ক্টার নাট্য-সম্প্রদায়” গঠিত হইয়াই
যেখানে প্রথম অভিনয় করেন, আপনার সেই
প্রাসাদে নিত্যু ছাত্ৰ-ভােজ, নিত্য ঔষধৰিতরণ,
দিন দিন দানে দীনজনের দুঃখ বিমোচন,
অধ্যাপক পণ্ডিতাদির মর্য্যাদা রক্ষা দেখিয়া
যদি কৃপণের হাত খোলে, এই ভরসায় হলর
হালদারকে অাপনার দয়া-সিক্ত মুক্তহস্তে
সমৰ্পণ করিলাম ভত্তি জীবকে স্থান দান
করিলে পরম পরিতোষ লাভ কৰি। ইতি
Elektric
৪ার থিয়েটার।
কলিকাতা,
শনিবার ১ই জ্যৈই
}০৭ সাল।
অমৃতলাল বসু।

No text on this page.

এল) ? স্নায়ু ও মস্তিষ্কের দৌর্বল্য, মেহ, ধাতুতারল্য, স্বপ্লবিকার, শক্তিহানি, শিরঃরােগ, মেধা ও স্মৃতিহানি, মানসিক অবসাদ, অকাল বার্ধক্য প্রভৃতি যাবতীয় শুরােগ ও তজ্জনিত সহস্রাধিক কষ্টকর উপসর্গের একমাত্র সুবিখ্যাত মহৌষধ। যাহাদের অত্যধিক পরিমাণে মস্তিষ্ক চালনা করিতে হয়, তাহাদের ইহা নিত্য ব্যবহার্য ঔষধ। মে ওরে দেখিতে সুন্দর, খাইতে মুখপ্রিয় ও গুণে সর্বশ্রেষ্ঠ। যত কঠিন বা পুরাতন পীড়াই হউক, ইহা সেবনে নিশ্চই আরোগ্য হয়। সহস্র সহস্র রােগী কর্তৃক পরীক্ষিত মেওরেস দূষিত পদার্থের লেশমাত্র বর্জিত। কোলের ছেলে ও গর্ভবতী স্ত্রীলােক পর্যন্ত ইহা নির্বিঘ্নে সেবন করিতে পারেন। বহু বিজ্ঞ চিকিৎসক ইহার অজস্র প্রশংসা করেন। কোন কঠিন নিয়মাদি পালন করিতে হয় না, অনুপানাদি অনাবশ্যক। এমন সুখকর ও সহজ সেব্য, বিশুদ্ধ অথচ অপ্রমেয় শক্তিশালী মহৌষধ আর নাই। সমস্ত চিঠি পত্ৰই বিশেষ গােপনে রাখা হয়। মূল্য প্রতি শিশি এক টাকা মাত্র। • পাইবার একমাত্র ঠিকানা- জে, সি, মুখাজ্জি—ম্যানেজার, ভিক্টোরিয়া কেমিক্যাল ওয়ার্কস। রাণাঘাট, বেঙ্গল ।

পাত্র-পাত্রীগণ।
পুরুষ।
হন ধর হালদার ...
কৃপণ।
জনৈক ধড়ীবাজ অথচ সংলােক
মধুখড়া
না থ
শিক্ষিত যুবক।
* * *
হাব।
***
হল ধরের ভৃত্য।
স্ত্রী।
দষময়ী
কুন্তল
হল ধরের স্ত্রী।
হল ধরের ভাগিনেয়ী ।
বাড়ীওয়াল।
ইচ্ছ।
ভিখারী ও তাহার কন্য এবং প্রতিবেশিনীগণ

কৃপণসমং।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
রাজপথ।
মধু। লে লে বাবা-লে লে, কুচ পয়ােয়া নেই, ভগবান তো
ভালা করে। ব্রাহ্মণের ধন নিয়ে খুসি হলি, আচ্ছা বাবা
হ’গে যা ; উড়িয়ে দেবে,দেবেনা জানলে কোন্ শাল।
রাতো? জিনিষ গুলােকে জিনিষগুলো গচ্ছা গেল,
তার উপর দেখছি অাজ অার অন্নের উপায় নাই।
প্রাতঃকালে মহাপুরুষের মুখদর্শন, যে কোথাও
জুটছে তা জার বােধ হচ্ছে না। গেরাে গেয়ে,
চৌধুরী বাবুদের বাড়ীতে রেখে গেলেই হতাে ।
" ভাবলুম ওদের সব দিলদরিয়া কারখানা, আপনাদেরই
সব ভাল ভাল জিনিযে পাচ্ছে মুটে নিচ্ছে, তা
আবার আমার বাক্সে নামবে। নাহ, মা ও
या
সয়ত কি বুদ্ধিই দিয়েছিলে। আইনের কোলে গাে

২ কৃপণ্য ধনং। সমর্পণ; হলধর হালদার দুর্গা দুর্গা, না আজ আর আহার হবে না। ইষ্টদেবতার নাম ভুলে গিয়ে, আট- কুড়ী বেটার নামই মনে আসছে। (মম্মথের প্রবেশ) ম। আরে কেও মধুখুড়ে যে, ফিরলে কবে? মধু। আরে কেও মাষ্টার মন্মথলাট? কাল ফেরা গেছে, সকাল বেলাই হাবড়ায় ডেলেভার হয়েছি। মগ্ন। তবে কেমন বেড়ালে চ্যালে বল ? মধু। গয়া, কাশী, বৃন্দাবন অঞ্চলে খুব বেড়ান গেল; এখন কতােয় এসে চাড়াচ্ছি। মন্স। চ্যাড়াচ্ছ কি রকম ? মধু। আর সে কথায় কাজ কি, এখন তোমার খবর কি বল ? লেখাপড়া টেখাপড়া কিছু শুরু করেছ? মন্থ। পড়া শুনা একটু ষায় বইকি। মধু। সে পড়া নয় সে পড়া নয়, নেশা ভাঙ কিছু শুরু ক'ল্পে ? মন্স। মেশা না ক'ল্পে বুঝি খুড়াের কাছে লেখা পড়া হয় না। মধু। হর্স এগ-ঘোড়ার ডিম, কিছুনা ৰাৰ কিছুনা; যদি মানুষ হতে চাও,-পাঠশালে তামাক খাও, ইস্কুলে চরশ, কলেজে হইঞ্চি, বিষয়কর্মে গাঁজা, ইনসলভেন্টে গুলি, তারপর চণ্ডু টেনে সমাধিতে গিয়ে বস। আর না হয় ৰয়ৰাঙ্গ , পিড, ফুল নিষ্কর্মা হয়ে থাক। আমায় যদি একবার গভর্ণমেন্ট কাজ করে দেয়, যে, যে ব্যাটা না নেশা করে সব বৃন্দাবনে ট্রান্সপাের্ট করি। ;

কৃপণ্য খনং।
ময়। বৃন্দাবনে কি নেশা টেপার পাঠ নেই বুকি।
মধু। রামঃ! খালি ভাং খালি ভাং, একটা বদ বেয়ারাম
জন্মে যায়; মেয়ে পৰ্য্য পাওয়া যায় না। তবে
পতিত-পাবনী রেল-ঠাকুরাণ মথুরা ফুড়ে ব্রজধামে
চুকেছেন, বাঙ্গালী বাবুরাও চাকরী, ডাক্তারখানা, দর্জিয়
দোকান কত্তে জুটেছে; একটু একটু সভ্যতার সদুপায়
বুঝি হয় হয় হয়েছে। তীর্থের টেক। বেনারসধা,
বা চাও! চরশ-আসল নেপালী, কচি আঁবের গন্ধ ;
গাজা নয়—যেন আলেয় ল্যাজ ; গুলিতা কেল্লায় গত
নাই, বেনারসী পেয়ারাপাতার যা ; আর দশাখ
মেধের ঘাট তো দশাশ্বমেধের ঘাট!-কলির মেধ;
চাটুয্যে, বড় যে, চৌধুরী, মল্লিক প্রভৃতি শা মশাইরা
বোতল সাজান বারদোয়ারী খুলে বসে আছেন; তার
উপর লালুয়া ঝন্টয়া গায়, কালাল সাহেবের মেয়ে
চোলাই কচ্ছন, দু'পয়সা বােতল-গরম গরম মেরে
দাও ; পাশেই অমনি ঝালদার পাঁঠার মিঠুলি ভাজা
বিক্রী হচ্ছে; জয় বিশ্বনাথ জী!
আচ্ছা মধুখুড়ো! কাশতে নাকি ভূমিকম্প হয় না?
মধু। শালগ্রামের শােওয়া বসা বােঝবার তো যো নেই,
সদাই পা টছে; এর ভিতর তুই কখন কঁপূলে বা
ধালো, বােকবার তো যাে নেই বাবা! এখন যাওয়া
হচ্ছে কোথায়?
মন্ম। এ্যা—
একোখাও নয়—কোথাও নয়, এই-এই
- এইখানে।

৪
কৃপণস্য ধনং।
মধু। কি বাবা ঢোক গিলছে যে? তবে দেখছি আমায়
কলেজের স্টুডেন্ট হয়েছ। বহত অাচ্ছা বহুত
আচ্ছা, তা টেলিগ্রাফের বাবুর মত সকাল বেলাই
চলেছ যে ?
মন্ম। না না খুড়ো, তুমি যা ভাবছো তা নয়। আমি এই
একবার-একবার হলধর বাবুর বাড়ী যাব।
মধু। দুর্গা দুর্গা, আজ আর ব্রাহ্মণটাকে খেতে দিলে না ?
কাশী গয়া দুইদ্ধি গাজার নামটাম ক'রে এক রকম
শুধূরে আছিলুম, আবার নির্বাণ আগুন জ্বালিয়ে
দিলে ?
মম্ম। তুমিও যেমন, নাম ক'ল্লে খাওয়া হয় না-একি একটা
কথা। তুমি একটা সবলােট লােক হয়ে ওসব মান ?
মধু। না মেনে কি করি বাবা, কৰ্ত্তা যে কঁচা খেকো দেবতা;
প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তি-প্রত্যক্ষ ফল দেন। চুলােয় যাকগে,
খাওয়া দাওয়া তো আজ হবেই না ; তা ওখানে যাওয়া
হচ্ছে কেন ? কিছু গচ্ছিত রেখেছ, না সই ক’ত্তে
সুরু করেছ ?
মম্ম। না, তা-তা-তা নয়, একটু কাজ আছে।
মধু। ওখানে আর কি কাজ বাবা ! বুকের পাটাতাে তোমার
না খেয়ে মুখ দেখলে অন্ন হয় না, খেয়ে দেখলে
অস্বল শূল হয় ; বিমলী বামনী সুদের তাগাদা ক’তে
যেত একাদশীর দিন দেখে। তােমার কিছু একটা
মৎসব আছে বাবা !
মন্ম। আমার রোজ রোজ গিয়ে গিয়ে সয়ে গেছে।
খুব ;

কৃপণস্য ধনং। মগ্ন। মাগী ; মধু। রােজ যাও—কি ক'তে ? স। আমি ওখানে পড়াই। মধুপড়াও—কাকে ? ফলনা হালদার কি পুষ্যিপুত্তর নিয়েছে নাকি? । না, আমি পড়াই—আমি পড়াই--- মধু। কি বাবা, ছাত্রের নাম মনে পড়ছে না, খুব মাষ্টার তো ! কা'কে পড়াও ব'লে ফেল না। মন্ম। কু- কুকু- মধু। বাহবা লাট, কোকিল ডাকতে আরম্ভ ক'লে যে ! মন্ম। না না, ওর ভাগ্নীকে পড়াই,-কুন্তলাকে। মধু। ভাগ্নী !—যেটাকে থুবড়ো করে রেখেছে ? সে যে মন্ত ভাল ভাল পোড়া পেয়েছ ভাল, বেড়ে মজায় আছ ; তবে আমার ইষ্টডেন্ট হলে আরকি। মন্ম। না না খুড়ো, ওকথা নিয়ে তামাসা করো না। মধু। ঈন, পিরিত যে মাখামাখী দেখতে পাই, খুড়োর উপরেই গায়ের জ্বালা ! কি বল তোমরা?জেলের কি, জেলের হাসি কি, তা বাবা আমার উপর কেন? খুড়ো ব্যাটারতো ও রােগ নেই বরাবর জান, নেশাটা ভাংটাই যা। মন্ম। না না ধুড়ো, সে অবল বালা। মধু। তা আমি কি বলছি লড়ায়ে সেপাই ! অবলাবালা না হলে কি পিরিত হবে ছােট আদালতের পিয়াদার সঙ্গে? দেখ মন্মথ বাবাজী! এই খেলােয়াড়ের চেয়ে বে উপর চাল চালে তার নজর বে; তোমার ইচ্ছে

কৃপণস্য ধন।
দিদি ম'রে অবধি আমি বাবা কথন ছিপ হাতে করিনি,
কিন্তু পরের ফাতনায় বরাবর দৃষ্টি রাখি। এই যে
পড়ও, কি মাহিনে পাও বল দেখি?
মন্ম।
মন্ম।
মধু। আরে দুর্গা দুর্গা ! হালদার মশাই ব'লেই বল না, কি
এমন মধুর নাম যে না কল্লেই নয়।
আচ্ছা। হালদার মশাইই সই, ওঁকেত চেন? উনি
মাহিনে দিয়ে মাষ্টার রেখে ভাগ্নীকে পড়াবেন ?
মধু। এই দেখেছ বাবা, আমি গােড়ায় ধরেছি; এ পড়ান নয়,
প্রেমের পাঠশালে এ্যাপ্রেন্টিস্ খাটছে। তা বাবাজী
তুমি তো সোঁদা আছ, খাতায় নাম লিখিয়েছ,
কিছুতো মান টান না, যদি এতই মন পড়ে থাকে
কৰ্ত্তাকে বলে বিয়ে করে ফেলনা কেন; দিন রাত
পড়াবে, বেয়ারিংয়ে নিলেই ছেড়ে দেবে।
মন্ম। খুড়ো, তুমি নেশা ভাংই কর আর যাই কর, তােমার
মুখের সামনে ব’লবাে কি তুমি বড় সাদা লােক, বড়
পরােপকারী, পরের জন্যই ঘুরে বেড়াও; তােমায় সব
খুলে বলি, কুন্তলাকে জামি বড় ভালবাসি, সেও বােধ হয়
জামায় ভালবাসে। তাই বলছি মধুখুড়ো, তােমার ঢের
মলব অসে; যদি আমার এই উপকারী ক’তে পার,
এই দুর্জনটাকে জব্দ করে দিতে পার, তা হলে তোমায়
আমি এল, এল, ডি, টাইটেল দিই।
মধু। বড়ই বলেছ, আধ ঘণ্টা হয়নি নিজেই জব্দ হয়ে
আসছি, আমি আবার ওকে জব্দ করবাে ! এই যে

কৃপণ্য ধনং। •
আমার নানান রকম বড় বড় বাপের নাম শুনতে পাও,
স্ বাপ ফলনা হালদার। ৪৭ বৎসর বয়স হয়েছে,
হার মেনেছি দুজনের কাছে ;-এক কাশীর গঙ্গাপুত্র,
আর তোমার প্রেমময়ীর মাতুল।
মন্ম। খুড়াে, তােমার ৭ বৎসর বয়স হয়ে গেছে, তা বাবা
যৌন তো বেশ ঠিক রেখেছ ;
চুলে কলপ দাও
নাকি ?
মধু। বাপধন! কলপ দিলে কি শমন তলপের দিন পেছিয়ে
দেবে ? একরকম মন্দ বিধবা, তার উপর চিন্তা-ব্যাধি বড়
বেশী নেই; তাই বুঝি এখনও কাল দেব গোঁফে চুলে
কলি ফিরুতে সুরু করেন নাই।
মন্ম। ঠিক ঠিক হটা ভাল আছে ; মোদ্দাৎ হালদার
মশাই তােমায় জব্দ কল্লে কথাটা কি রকম?
মধু। জব্দ ছাই--আমি গুজরেই আনিনে, থাকলেই বা কি
আর গেলেইবা কি! সব বড় মানুষের বাড়ীর হােটেল
খােলা, সই ক'চ্ছি আর খাচ্ছি, বিল পাঠাবে যমালয় ।
তবে আমি হেন লােকটা দিল্লী লাহাের মেয়ে এলুম,
বেটা ঠকিয়ে বাঁদর বানিয়ে দিলে এইটে বড় দুঃখ !
মন্ম। তােমায় ঠকালে কি রকম?
মধু। গেরাের কথা কও কেন ? ব্রাহ্মণী র চিহ্নিত খান দুচ্চার
সােণারূপে ছিল, লক্ষ্মীর হঁাড়ীর একটা রামচন্দ্র মােহর,
আর চুডাের ছিরুবাবু দিয়েছিলেন, (সেইটেই আসল
জিনিষ ) গাজা খাবার একটা চাদীর কলকে : তা
পশ্চিম যাবার সময় মনে ক’ব্লুম কোথা রেখে যাই ?

কৃপণস্য ধন।
কৃপণ হােক যা হােক, বেটা সাবধানী লােক;. বায্যে
ও ওই কাছে রেখে গেছলুম; বেটা যে জোচ্চোর
এতটা আমার কাচ হয় নি ; আজ দেখা কম, বেটা
পরিষ্কার বলে যে,-“আমার কাছে আবার কবে রেখে
গেলে? রেগে মেগে বলুম, “নে ব্যাটা পইচে খাড়,
সব নে, ব্রাক্ষণীয় সোনার নাে গাছটা আর চাদীর
ছিলিমটা দে,” বেটা হাহা করে হেসে বল্লে, “তােমায়
গাজায় দোজা কম হয়েছে বুঝি ?”
মন্স। বল দেখি খুড়ো, এ রকম লোককে জব্দ করা উচিত নয় ।
মধু। উচিততাে বটে রে বাবা; কিন্তু জব্দ হয় কিসে,
মন্ম। তুমি মনে কষ্ট্রেই পার ; দেখ খুড়ে কত বড় অন্যায়
দেখ, এই ভাগ্নীটী—অনাথা, ছেলে বেলায় বাপ মরে
গিয়েছিল, পরে আমার সঙ্গে বের সম্বন্ধ হয়, কিন্তু সেই
সময়েই ওঁর মাও মারা গেলেন ; মরবার সময় তিনি যৌতু-
কের জন্য (১০০০) দশহাজার টাকা আর বালিকাটাকে
আপনার ঐ ভাইয়ের হাতে সমর্পণ করে, আমার সঙ্গে
বিবাহ দিতে বলে যান। কিন্তু টাকা দিতে হবে বলে,
নরাধম ওর বিবাহ দিতে চায় না। এদিকে হিন্দুয়ানী
দেখায়, কিন্তু এর কোন ধৰ্ম্ম ভয় নেই। টাকা-টাঙ্গা-
টাকা—টাকাই ওর সর্বস্ব।
মধু।
তোমার সঙ্গে সম্বন্ধ হয়েছিল জেনেও যে তোমাকে
বাড়ী ঢুকতে দেয় ?
মম। না, সেটা জানে না; আমায় বাড়ীতে ‘ভুবো ভুবে।”

কৃপণ্য যনং।
।
}
ওই হলে;
বলে ডাকতাে। কুন্তলার মা মরবার সময় বলে যান, যে
তার কন্যার যেন ভূববার সঙ্গে যে হয়; আমি যে “নৈহাটীর
ভূবে।” একথা বলিনি, কুলাও আমায় আগে কখন
দেখেনি, সেও আমায় চেনে না। আমাদের দুজনেরই
বাপে বাপে বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল, তাই ঐ সম্বন্ধ।
মধু। এখন তােমার মৎলবটা কি ?-চাও কি ?
কুন্তলা আমাকে যে করুক বা না করুক, ওর টাকাগুলি
ওকে পাইয়ে দেওয়া।
মধু। ওই হলো
তােমার কুন্তলাও চাই,
টাকাও চাই।
মন্ম। আমি যথার্থ বলছি খুড়াে, আমার টাকায় দরকার নাই,
যা আছে, আমারণযথেষ্ট চলে ;কিন্তু কুন্তলার মন জেনেছি,
যে ওর স্বামীকে টাকা না দেওয়াতে পাঙ্গে ও বে করবেন,
সে ঐ এক গোঁ ধরেছে। খুড়ো এইটা করে দাও, তুমি
মনে কল্লেই পর; আর অমনি তার সঙ্গে তোমার জিনিষ
গুলােও আদায় কর ; লােকটাকে জব্দ কর, এক টী ফন্দী
ঠাওরা ও।
মধু। র’সো, বেটা নেশা টেশা করে ?
মন্ম। কিছুতে অপত্য নাই, পরের পয়সায় বিষ কিনে
দিলে ও খেতে পারে। দাড়াও দাড়াও এক মজা
আছে, ব্রজদা ম'রে গেছে ;-চিনতে পেয়েছ
তো?
মধু। হা হা ব’লে যাও, আমায় একবার ১৬ টাকা নগদ
দিয়েছিল ; বাপান্ত করে আদায় কয়েছিলুম।

( কৃপণন্য ধনং। মা। সমস্ত বিষয় তার দ্বিতীয় পক্ষের মীর নামে লিখে দিয়ে গেছে। হল- মধু। আবার নাম করে ! মন্ম। আচ্ছা, যাকগে হালদার মশাই,সেই শ্রীলােকটা হাত করে, বিষয়টা বাগাবার চেষ্টায় আছেন। এ থেকে যদি কিছু ক’তে পার। মধু। বিধবাটার স্বভাব চরিত্তির কেমন? মশ্ম। আমি যতদূর শুনেছি সতী লক্ষ্মী; কিন্তু পাজী আকেল মন্ম। মধু। তবে ? তবে আর আমি কি বলবো মােকমার বাল সৰ তােমায় বয়ান কল্পম, এখন তুমি একটা উকিলী ফন্দী ঠারাও। মধু। তাইতো বাবাজী তুমি উসকে দিলে বেটার উপর রাগ বাড়ল, নইলে আমার পাওনাটা আমি মন থেকে উড়িয়ে দিচ্ছিলেম। মন্ম। না খুড়াে একটা কিছু ঠাওরাও ; এতে তােমার উপকার হবে, আমার উপকার হবে, দেশের উপকার হবে। মধু। দেশের উপকার! মা হতে দেশের উপকার চাও তো—সব গাজা ধরাও। এই যে সদা করে দেশের উপকার–না খেয়ে গেঁজেলি, আমার বড়ই বিরক্ত করেছে। এখন তােমার উপকার যা ৰ'লে, আসল কথা; একটু ঠাউরে দেখা যাক্। ম। হ বাবা, ঠাওরাও বাবা।

কৃপণল্য ধনং।
মধু। 'সাে বাবা রসাে, অত ঘােড় দৌড়ের চালে
চ'ল্পে চলবে না; এ একেলা তোমার খুড়াের কৰ্ম্ম নয়,
তােমার ইচ্ছে দিদির বুদ্ধি একটু ভাড়া করে নিতে হবে।
জানত, ওর বুদ্ধির জন্যই ওর ঘরে আড্ডাটা রাখা।
মম
মন্ম। আচ্ছা আচ্ছা, তুমি যা ভাল বোঝ কর; আমি আজ
আর বেশী পড়াব না, একবার কুন্তলার সঙ্গে দেখা
কয়েই বাসায় যাচ্ছি; তুমি সেই খানেই যাও
খাওয়া দাওয়া করবে, আমি এখনি ফিরছি।
মধু। বহুত আচ্ছা, বের আগেই ঘটকের ব্রাহ্মণ ভােজন।
মন্ম। খুড়াে! তুমি লাগলেই পারবে, তােমার ঢের মল ;
তাতে যদি আবার তােমার খুড়ী লাগে।
মধু। বলি গ্রাম যে বড় উতলা হ'লেগে, একটু ধৈর্য্য ধর।
মগ্ন। তামাসা ছাড় খুড়ো, এ বড় সিরিয়াস।
মধু। তো বটে গো রাই,
মােন্দাৎ সময় তো ছাই,
বুঝলে হে কানাই।
প্রথমে একটু কারণ ক'ৰে হবে, তার পর রীতিমত
উপযুপৰি দুটাছিলিম গাজা চড়াতে হবে, তবে তৈ।
মাথায় গ্যাস লাইট জ্বলবে, বুদ্ধি আসবে।
ময়। তা আমার বাসায় যাও, খাওয়া দাওয়া করে সেই
খানেই সব যােগাড় করে দেৰ এখন।
মধু। না, তা হলে চৌধুরীবাবুদের হােটলে নাম কেটে
দেখে; বাধা রাইস আছে সেইখানেই থাইগে বাবা,
কাজ জোটেতো সেইখানেই জুটবে। নগদ কিছু ছাড়,

১২
কৃপণস্য ধনং।
মগ্ন।
নেশা ভাংটা করে মৎলব ঠাওরান যাকগে ; কাল
তােমার বাসায় এসে যা হয় বলবাে।
তবে এই একটা টাকা হলেই হবে ?
মমু। হুইস্কির দর কিছু চ’ড়েছে, আচ্ছ। গাজায় পাষাণ ভেঙ্গে
নেব এখন, দাও।
মন্ম। ( টাকা দিয়া। তবে এখন আমি চম, কাল যেন নিশ্চয়
দেখা হয়।
মধু। আচ্ছা। (মন্মথের প্রস্থান করিতে করিতে পুনঃপ্রবেশ)
মন্ম। দেখাে ভুল না ।
মধু। না বায়না দিলে ভুলবো?
মন্ম। যেন বেশী নেশা করে পড়ে থেক না।
মধু। ছেড়েছ তো লম্বা এক টাকা, বেশী নেশা কি রকম।
মন্ম। না—না, তাই বলছি।
( উভয়ের প্রস্থান)
।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক ।
অন্তঃপুর-প্রাঙ্গণ।
হল ধর।
হল। টাকা নেবে—টাকা নেবে? রূপাের ঘড়া, সোণার চেন,
হীরের আংটী, ইংরেজের বাড়ির খাট, নেবে নাকি?
এই নাও না ; ওরে ব্যাট। ঘটকা—হাতে হাত দিয়ে
সত্যি! ওরে ছুড়ি বিলি--তুই মরমার সময় আমাকে

কৃপণস্য ধনং।
একটা হলফ করিয়ে যাবি, আর আমি তাই মানবে?
“নৈহাটীর ভুবের সঙ্গে আমার কুন্তলার বে দিও।”
মারে ভুবের মার যে অজগরের জঠর, “ওর মার দশ
হাজার টাকা দাও, আর তুমি কি দেবে বল ?” আমি দেব
-আমি দেব ? আমি--মি-আমি--আমার ভারি
দায়টা। দূর, যত বেটা ভেম্বেল দাস “কন্যাদায়,
কন্যাদায় করে পাগল । কন্যাদায় কিসের রে ?
হিন্দুধর্ম বড় ধৰ্ম্ম ! শাস্ত্রের মুখে আগুন, মনুর মাথায়
মুড়ো ঝাটা,-নিচু পৰ্ম্ম করেছেন? ওতো উড়নচণ্ডী ধর্ম,
খালি খরচ পালি খরচ ! এ বুদ্ধি আমার আগে হয়নি,
খালি খরচ করে মরেছি ? এই তে। দিলুম না ৰে, নে
বেটা কে টাকা নিবি নে ? যদি বে দিই—হায়েষ্ট বিডারে ;
-বড় মেয়ে, সুন্দরী, মাষ্টার লেখাপড়া শিখিয়েছে ; জাত
খােয়ালে কত বেটা নিলেমে ডেকে নেবে।
নেপথ্যে—জয় রাধে, এই কাণ। অ তুরকে একমুঠো চাল
দা ও বাবা।
হল। কেরে বেটা-কেরে বেটা ? বেরে! বলছি।
০
( বালিকা কন্যাসহ জনৈক কার প্রবেশ)
গীত।
আমার হবে না বিয়ে আমার হবে না বিয়ে।
বেড়াব ভিক্ষে করে দুই বাপে ঝিয়ে।
যা’র বাপ বুড়াে—কাণা, ভার বিয়ে কত্তে মানা,

১৪
কৃপণস্য ধনং।
যাব হেসে খেলে একটি পয়সা পেলে,
তাই নিয়ে ;
কে দাতা আছিস্, তারে আশীষ দিয়ে ॥
হল। একেবারে ঘরের ভিতর ? আবার একটা মেয়ে সাজিয়ে
গান গাওয়াচ্ছে; জানিস বেটা আমি অশ্লীল হয়েছি,
আমার সামনে মেয়ে মানুষের গান ?
কন্যা। সমস্ত দিন খাইনে, কিছু দাও বাবা।
হল।
খাওনি ? খাওনি তা আমার কি ?
কাণ।। দাও বাবা, কিছু দাও বাবা, এই কাণ। বাবা।
হল। পাহারাওয়ালা-পাহরাওয়ালা! বেট। কাণা খোড়া,
এক গুণ বাড়া, ভিক্ষে ক’ত্তে এসেছ ? বেটা বেরে।
বলছি।
কাণ।। অন্ধ নাচার বাবা, পয়সা কড়ি চাইনে—একমুঠো
চাল।
হল। চাল-চাল ! চাল পয়সা নয়, চাল অমনি আসে ?
পাহারাওয়ালা-পাহারাওয়ালা, এক বেটার দেখা
নেই, আর সে দিন রাস্তায় একজোড়া ছেড়া জুতো
পড়েছিল, পায়ে হয় কিনা দেখছিলুম, আর বত্রিশ
বে। অমনি আতুসী কঁাচ জ্বালিয়ে “কোন্ হ্যায় কোন
হায় করে ঘিরে দাড়াল।
কাণা। গিন্নী মা-
গিন্নী মা তাের বাবা !
কাণ। রুক্ষ্ম মুখ কর কেন বাবা, অমনিই ফিরে যাচ্ছি।

কৃপণ্য ধনং।
হল।
কোম্পানীর আইন প্রানিস বেটা, ভিক্ষে কলে জেল
হয় ; বেরো, নইলে আমি নিজে টেনে নিয়ে গিয়ে
থানায় দেব।
s,
কাণা। আচ্ছা বাবা তােমার ভাল হক, চড়ুম। (স্বগতঃ )
ওটা কি পাষণ্ড গা! একমুঠো চালের জন্য এলুম
পাহারাওয়ালা ডাকে, উচ্ছন্ন যা--উচ্ছন্ন যা।
হল।
বেটা বিড়ির বিড়ির বছিস কি ? বেরাে-কাণা সেজে
জুচ্চ রি ।
কাণা। ভগবান্ তােমায় এমনি জুচ্চরি ক’ত্তে দিন।
( প্রস্থান)
( দয়াময়ীর প্রবেশ )
দয়া। হাগ, আবার কার সঙ্গে বকাবকি হচ্ছিল ?
এই দেখনা, এক বেটা কণা এয়েছেন ভিক্ষে কত্তে ;
কাণ। হয়েছেন তো মাথা কিনেছেন।
দয়া। তাই বুঝি গালাগালি দিয়ে তাড়িয়ে দিলে ? একমুঠো
চাল দিলে সর্বনাশ হয়ে যেত।
ও বেটী আমার কি রাজা রাজেন্দ্র মল্লিকের মেয়ে গো!
মুঠো মুঠো চাল দেবেন, কাঙ্গালী ভােজন করাবেন ।
অমন উড়ণ চুড়ে মেয়ে তাের বাপ আমার ঘরে দিয়ে-
ছিল কেন ?
তারক প্রামাণিকের সঙ্গে বে দিতে
পারেনি ?
দয়া। আমার কুষ্ঠীতে যে লেখা ছিল চামার দােয়ানী হবে ;
মুখে আন মুখে অাগুন, খরচ হবে বলে বুড়ো ভাগ্নীকে
থুবড়ো করে রাখলে, বাপ পিতামহের ধর্ম ত্যাগ কল্লে ।

১৬
কৃপণস্য ধনং।
পোড়া কপাল, কা’র গেরো দিচ্ছ ? ভােগ করবে
কে ? তােমার বরাতে পেটে কি আমার একটা
হলো ?
হল। আমি ভােগ ক'রবাে, তাের বাবা ভােগ করবে ; পেটে
একটা হলােনা বলে আপশেষ হয়েছে,-না? গণ্ডা
গণ্ডা হলে খুব রাশ রাশ গেলাতেন, আর আমার মাথা
খেতেন।
তােমার মাথা তুমি আপনিই খাচ্ছ ; এই মধু বামুন দেখা
সাক্ষাৎ জিনিস গুলো রেখে গেল, অার চক্ষু লজ্জার
মাথা খেয়ে স্পষ্ট উড়িয়ে দিলে গা ! যা ইচ্ছে করগে,
যে আগুনে হাত দেবে আপনি পুড়বে। এখন আমার
কিছু খরচ দাও, এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিন কলসী
উৎসর্গ কত্তে হবে।
হল। কি–খরচ ? কি-কিকি ক'ও হবে ?
দয়া। কলসী উৎসর্গ-কলসী উৎসর্গ, কণের মাথা খেয়েছ ?
হল। দড়ি ঘরে আছে কি ? তা হলে না হয় আধ পয়সা।
দিয়ে একটা কলসী কিনে দিচ্ছি, একদম কিছু খরচ
হয়ে যাক ;
একেবারে নিশ্চিন্ত হই।
দয়া। ন্যাকাপন রেখে দাও, তােমার কাছে যে বেশী চায়
সে বেহাত্মা ; একটা টাকা ফেলে দাও, তাতেই সব
সেরে নেব এখন।
হল। টাকা !-ষােল আনা !চৌষ-Bী
পয়সা! দে বেটী দে—অামার গলায় ছুরী দে,
তোর যা মনে আছে তাই কর, তাতেও অামার
}

কৃপণস্য ধনং।
১৭
লাভ ; একবেলা খাবি, হবিষ্যি করবি, তাতেও আমার
লাভ; সিকি খরচায় সংসার চলবে।
ফয়া। বৎসরান্তে বাপ মাকে একটু জল দের মনে করেছি,
তাতে ও তােমার মাথায় চাল ভেঙ্গে পড়লো।
বাপ মাকে জল কি ? মরা গরুতে ঘাস খায় ?
দয়া। আপনার মত সবাইকে দেখ কেন? আমার বাপ মা
ভগাড়ে যায়নি, মরা গরু নয় ; সাধু মানুষ, স্বর্গে
গেছেন।
হল। তা স্বর্গে কি মরুভূমি হয়েছে নাকি, যে তুমি না দিলে
এক ছটাক জল জুটবে না? আর যদি একটু জলের
জন্য ভূত হয়ে আসতে হয়, এই তাে গঙ্গায় জল
টল টল ক’চ্ছে, মােড়ে মোড়ে কল রয়েছে, এক গও য
খেতে পারে না? ও সব পুরুত বেটাদের কারসাজী,
খালি পয়লা মারবার ফিকির ; যাচ্ছে—যাচ্ছে উচ্ছন্ন
যাচ্ছে, হিন্দুধর্ম এই খরচের জন্যই উচ্ছঃ যাচ্ছে।
তোমার অধৰ্ম্ম নিয়ে তুমি পচে মর, এখন আমায় দেবে
কি না বল ?
জমা হতে হবে না, আমার কিছু নেই ; খরচের ভয়ে
কাচা দিয়ে কাপড় পরিন, আমি একটা টাকা দেব।
এক—টাকা! তুমি তাই ভাঙ্গিয়ে খরচ করবে,
বামুনকে দেবে? তুমি গলায় ছুরী দিতে পার, মানুষ
খুন কত্তে পার ।
দয়া। দেবেনা-দেবেন? আচ্ছা আমি ও “যেমনি কুকুর
তেমনি মুগুর ওষুধ জানি; চাল ডাল ঘরে যা আছে

১৮ কৃপণস্য ধনৎ। ; সব ভূয্যি সাজিয়ে দেব, এই নথ দক্ষিণে দেব, দেখি তুমি কি কর ? হল। পুতে ফেলবো-পুতে ফেলবে- দয়া। ফেলনা দেখি, আমি লুটিয়ে দেব ; এই চলুম। হল। খবরদারখবরদার- দয়। আমি কোন কথা শুনবো না। ওরে আমি মরে যাব, তোর পতি হত্যার পতিক হবে, সত্যি মরে যাব ; ওরে তুই জানিসনি জানিসনি, সেই যে গল্পের রাক্ষসীদের প্রাণ যেমন ভােমর ভুময়ীর ভিতর থাকতো, আমার প্রাণ তেমনি ঐ সিন্দুকের ভিতর আছে; খরচ ক'রবি আর আমায় মারবি। দয়া। পয়সা খরচ কল্লে মানুষ মরেন, 'আমার ঢের দেখা আছে। হল। আমার কথা শুন, তাের পায়ে পড়ি-বুক চিরে রক্ত দি ; এক কর্ম কর, খুঁজে পেতে চারটে পয়সা দিচ্ছি, তার ভিতর সেরে নে। দয়া। চার পয়সায় কলসী উৎসর্গ ? হল। ওরে বুঝে ক’তে পাল্পে হয় রে, বুঝে কত্তে পাল্পে হয় ; বাবার আদ্যশ্রাদ্ধ আমি আট আনায় সেরেছিলুম ; দু’ পয়সায় নৈবেদ্য, এক পয়সা দক্ষিণে, অধ পয়সা বন্ত্রের মূল্য, আধ পয়সা কলসী, জল কলে অাছে, সটেল হ'য়ে যাবে। দয়া। উচ্ছন্ন যাও-উচ্ছন্ন যাও, তুমি উচ্ছন্ন যাও, তােমার বুদ্ধি ও উচ্ছন্ন যাক ; আমার যা খুশী তাই করবে। দেখি তুমি কি কর। }

কৃপণস্য ধনং।
}
ওরে যাসনোসনে, শােন-শােন ৩ গিন্নী দয়াময়ী,
লক্ষ্মী ধন আমার, ওরে এ বয়সে আত্মহত্যা করাসনে ;
খুন হব, খুন হব, গলায় দড়ি দেব,ওরে সত্য বলছি
পয়সা থাকলে জাফিং কিনে খেতুম।
যেমন তুমি তেমনি আমি, আমার বাপ মাকে বৎসরান্তে
একটু জল দিতে দেবে না ? দেখি-দেখি অাল
তুমি কি কর; আজ হাড়ীকুঁড়ী বিলিয়ে দেব।
হল। থমথাম, মা দুর্গ। কি ক'লে ? থুড়ি,-না না ভুলে
বলিছি, দুর্গ না--কেউ-বাবা বাবা তুমি কি ক'লে ?
এই দেখ মলু, গলাটিপে মলুম।
দয়া। মর বহি যা ইচ্ছে কর, বাপ মার কাজ আমি করবোই ;
;
এই চলুম ।
গলা টিপে মলুম-গলা টিপে মলুম, তুই রাড় হবি,
একাদশী করবি, মাছ খেতে পাবিনে।
r
( হবার প্রবেশ)
হাবা। এ ও এও এ সংবা আবা সাবা।
ওরে গুয়ােট। তুই কোথা যাস ? বাড়ীতে যে সে
ঢুকছে,-পাওনাদার ঢুকছে, ভিখিরী ঢুকছে ; কোথা
গিয়েছিলি বল ? বল-বল কোথা গিয়েছিলি?
হাব। ইঃ ইঃ উঃ উঃ উউউ (ইঙ্গিত দ্বারা পৈতা, যশ, টিকি
ইত্যাদি দ্বারা পুরোহিতকে প্রদর্শন)।
কোথা ?
দয়। রুতবাড়ী, বুঝতে পাচ্ছনা? আমি পাঠিয়েছিলুম।

কৃপণস্য ধনং।
.
ই-ই পুতবাড়ী ?—কে যেতে বলেছিল বেটা, কে
তোকে বলেছিল ?
হাবা। এই এউএ ইইইইই { গৃহিণীকে দেখান)।
আহা, কি চাকরই রেখেছেন।
হল। ওরে আবাগের বেটী এমন চাকর কি পাওয়া যায় ! দুটি
খাবে পরবে বই মাইনে নেবে না, আর ঘরের ক
কোথাও বলতে পারবে না।
দয়া। পুরুত কখন আসবে ?
হাব। আউ আউ আউ এ এ্য।। (ইঙ্গিতে সন্ধ্যা প্রদর্শন)।
সন্ধ্যার পর ?
হল।
গিন্নী-দয়াময়ী! আর পুরুতে কাজ নেই, আয়ায়,
বাঁচাও, খুন করনা ; এলে পরে বলে আমাদের
অশৌচ হয়েছে, এ মাসে কলসী উৎসর্গ হবে না।
দয়া। মুখে আগুন মুখে অাগুন, ব্রাহ্মণের সঙ্গে মিথ্যা কথা
ক’ব ?
বড় খরচ হবে গিন্নি, বড় খরচ হবে। একটাকা।
বাপরে ।
হাবা। এ এ্যা বা বা বা এবা।
হল। যা যা বেটা দরজার কাছে বসূগে যা, চুনওয়ালা বেটা
যদি টাকার জন্য আসে তা ফিরিয়ে দিস, বলিস আমি
বাড়ীতে নেই।
হাবা। অউ অউ ?
চুনওয়ালা-চুনওয়ালা। { চুনকামের ইঙ্গিত)
হাবা। হেই হেই হেই (হাস্য) আউ আউ আউ বা অব। অা।
ইল।

কৃপণস্য ধনং।
এখনও ভালয় ভালয় বলছি টাকাটা ফেলে দাও,
কলসী উৎসর্গ আমি করবােই—যেথেকে হক।
গিন্নী—দয়াময়ী! আমার খানিকটে চামড়া কেটে নাও,
টাকা কাকে বলে আমি দেখিনে।
আচ্ছা, দেখেছ কিনা আমি বুঝছি, এই চলুম।
ওগো যৈওনা যেওনা খুন হব, আত্ম হত্যা হব।
হাব। আউ আউ আউ-এই এই এই উ উ উ।
( সকলের প্রস্থান )
ফয়া।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
কুন্তলার কক্ষ।
কুন্তলা ও মন্মথ।
কুন্ত। আমি আজ অার পড়ব না।
মন্ম। কেন পড়বেন না ?
কুন্ত। না অামি পড়ব না।
মন্ম। কেন পড়বেন না?
কুম্ভ। আমার আজ ভাল লাগছে না।
তবে আমি বেঞ্চির ওপর দাঁড় করিয়ে দেব।
কুক। হুঁশ তাই বেশ, দরজায় একখানা ভাঙ্গা বেঞ্চি অাছে,
ঘাড়ে করে নিয়ে আসুন, আমি ভাব এখন।

কৃপণস্য ধনং।
মন্ম। দেখছি আপনার জন্য একগাছা বেত কিনতে হ’ল ;
অাপনি বড় খারাপ ছােকরা হচ্ছেন।
কুত। বেতের পয়সা তত মামা দেবেন, তা হলে আমি নিশ্চিত্ত
আছি।
মন্ম। কেন, আমি যদি নিজের পয়সা দিয়ে বেত কিনি ?
কুন্ত। নিজের পয়সা খরচ করে আগে আমার জন্য বুঝি বেত
গাছটী কিনবেন ?
না না একটু পড়ন, ভূগােল খানা নিয়ে আসুন।
কুন্ত। ভূগােল অার পড়তে হবে না, পৃথিবী যে গােল তা
আমি অনেক দিন বুঝেছি।
মন্ম।
তবে ব্যাকরণ অনুন।
কুও। ব্যাকরণ এনে কি করবো? আমার সন্ধি বিচ্ছেদ তো
হয়েই আছে।
তবে শ্লেট নিয়ে আসুন, অঙ্ক কসুন।
কি অঙ্ক ক'সবো ?
শ।
মন্ম। ভগ্নাংশ।
কুন্ত। আমি নিজেই ভগ্নাংশ, তার আর কসবাে কি ?
মন্ম।
আপনি বড় বাচাল।
কুন্ত। নারী জন্মের কোন চাল আমার নাই, একটু বাচাল
হ’বনা?
মন্ম ।
বন বসুন।
কুস্ত। কোথায় বসবো ?
মন্ম। বন না এই আমার কাছে।
কুন্ত। আপনার কাছে? না আপনার কাছে বসবে না

কৃপণ্য ধনং। •
আপনি স্ত্রীলোক স্পর্শ করেন না, আমি কাছে বসলে
আপনার ব্রত ভঙ্গ হবে।
মন্ম। আপনার সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক, আপনি কাছে বসলে
ব্ৰত ভঙ্গ হবে না।
' কুন্ত। আমার সঙ্গে আবার কি সম্পর্ক? আমার কারুর সঙ্গে
সম্পর্ক নেই।
মন্ম। আপনার সঙ্গে শিক্ষক ছাত্রী সম্পর্ক নেই ?
কুন্ত। আমি যদি আপনার ছাত্রী, তা হলে কোন শাস্ত্রে
আপনি আমাকে “আপনি বলে কথা কন ?
মন্ম। ওটা কি জানেন স্ত্রীলােককে মান্য করে কথা কইতে
হয়, বিশেষতঃ আপনি নিতান্ত বালিকা নন, আপনার
যৌব---এ-বয়স একটু হয়েছে।
কুন্ত। (সহাস্যে ) হো হো আমার বয়স হয়েছে, মাষ্টার মশাই
আমার কুষ্ট দেখেছেন, আমি বুড়া হয়েছি। এই দেখুন
আমরা চুলগুলো পেকে গেছে, দাত প'ড়ে গেছে, চোখে
দেখতে পাইনে ; এই দেখুন কোথা যাচ্ছি—কোথা
যাচ্ছি, কিছু দেখতে পাচ্ছিনি; আপনি কোথায় ও মাষ্টার
মশাই, সরে দাড়ান--যেন ঘড়ে পড়ে যাইনে ; আর
চলতে পারিনে, এইখানে কোথাও বসে পড়ি, দেখবেন
-আপনি এখানে নেই তো? থাকেন তাে সরে যান,
নইলে কোথায় বসতে কোথায় বসবাে।
মন্ম। বসুন যমুন, এইখানে বসুন।
কুন্ত। আমি আপনার কাছে বসবে। না, আপনি এখানে
নেই তো—দেখবেন নেই তো, আমি বসি ?

২৪ । কৃপণস্য ধনং। মম। বন না। কুম্ভ। না আমি আপনার কাছে বসবাে না, আমি এইখানে বসলুম। (পার্শ্বে উপবেশন ) । মম্ম। (হাত ধরিয়া) এইতো, এইতো আমার কাছেই বসেছেন, কারতে পালিয়ে যেতে দেব না। কুন্ত। (জিব কাটিয়া) এ কি ক’লুম-কি ক’ব্লুম? দেখলেন কাণা হলে কত বিপদ ; ছিঃ ছিঃ আপনি তাে দেখতে পাচ্ছিলেন, আমার সাবধান করে দিলেন না কেন ? যান, অাপনার সঙ্গে আমার গাড়ি। মন্ম। আড়ি করবেন না আমার ও চক্ষু ছিলনা, আমি ও অন্ধ হয়েছিলুম। কুন্ত। আপনি কিসে অন্ধ হ'লেন? ও-ও কি ইনফ- ইফ- মন্ম। ইফুলুয়েঞ্জা । কুন্ত। হা হা, তারই মত ছোঁয়াচে রোগ ? মন্ম। ইংরেজীতে কণা কাকে বলে জানেন ? কুম্ভ। জানি, এ বাইণ্ড ম্যান—এক কাণ মনুষ্য, হয়নি? মন্ম। না না, সে কাণা নয় ; ইংরেজীতে কি উপীডকে কাণ 4 বলে। কে সে ? মন্ম। কিউপীড়,—আমাদের বাঙ্গালায় যেমন রতিপতি, প্রণয়ের দেবতা। কুন্ত। সাহেবদের প্রণয়ের দেবতা বুঝি কাণা? ও আপনি কি ইংরেজী রতিপতি ?

২ কৃপণস্য ধনং। মন্ম। কুন্তলা- নাম ধ'রে ফেল্লেন ? ছিঃ ছিঃ গঙ্গাজল স্পর্শ করুন- গঙ্গাজল স্পর্শ করুন। মৃন্ম। কুন্তলা-কুন্তলা-কুন্তলা- কুন্ত। এ-এ-এ-কেন-কন-কেন ? মন্ম। কুন্তলা-কুন্তলা কুন্ত। কি বলছেন--কি বলছেন ? সত্য সত্যই কি আমায় বুড় ঠাউরেছেন ?~-শুনতে পাচ্ছি যে, আপনাদের কাণ রতিপতির কাছে চৌদ্দয় কি বুড়ী হয় ? মন্ম। কুম্ভলা ! তােমার নৈহাটার কথা মনে পড়ে ? মনে পড়বে না কেন, পাঁচ বৎসরের কথা বইতে নয় । গীত। সেই নৈহাটীর ঘাটে-বসে পৈঠের পাটে, খেলা করেছি ফুল ভাসিয়ে জলে । আহা সেথা গঙ্গা কেমন চলে ঢলে ॥ সেথা আমের ডাষ্ঠী কেমন মধুর দোলে, সেথা দুমুতেম ওগাে মায়ের কোলে । (আবার) কথা ছিল বিকিয়ে রব পায়ের তলে, পরিয়ে ফুলের মালা তারি গলে। সে আমার বর যে ভাই, তার নাম যে কত্তে নাই, এখন শুধু স্বপন দেখি, সে সব গিয়েছে চ'লে ।

২৬
কৃপণস্য ধনং।
মন্ম। মিত্তিরদের ভূবাের নাম কখনও শুনেছিলে ?
কুন্ত। আজ আর আমি পড়ব না, রান্নাঘরে মামীর কাছে
যাই।
মন্ম।
না ব'সে ব'সে, বলনা সে সব মনে পড়ে—নৈহাটীর
ভূবোকে ?
মত
ও সব কি কথা?—অাপনি আমায় কি পড়া পড়াচ্ছেন ?
মন্ম। দেখ, তুমি জান সেই ভূবের সঙ্গে বে দেবেন বলে
তোমার মা সত্য করেছিলেন, ধর্মতঃ তুমি তঁার স্ত্রী।
কুন্ত। যাকে আমি কখন ঢ'খে দেখিনি, আমি তার স্ত্রী
ও সব কথা আমায় কখন বলবেন না; মামা আমায়
পরমপবিত্র কুমারী-ব্রত নিতে বলেছেন, আমি
মেয়েদের আশী বৎসর পর্যন্ত মিশিবাবা
থাকব।
মন্ম। তোমার কি বিবাহ কৰুে সংসার কত্তে সাধ হয় না ।
তােমার প্রাণে কি প্রণয় নেই ?
কুত্ত। আমার সাধ হ'ক বা না হ'ক তাতে কি হবে ; আমিতো
আপনাকে বলেছি, মা তার টাকা আমার স্বামীর জঙ্গ
রেখে গেছেন, আমার বড় লােভ সে টাকা ছাড়বেন না ;
আমার যিনি স্বামী হবেন, তিনি সে টাকা না পেলে
আমি বিবাহ করবো না; মামার মতেই মত।
মন্ম। আমার টাকা চাইনি কুন্তলা, আমার পৈতৃক যা আছে
যথেষ্ট চলবে ; আমি এতদিন বলিনি, আমিই সেই ভুবো
-তুমি আমাকে বিবাহ কর ; তােমার মামা পণ—অর্থ
লােভী, চল আমরা গােপনে চলে গিয়ে বিবাহ করি।
;

কৃপণস্য নং। ২। p চু। এছি ছি কি লজ্জা-কি লজ্জা! আমার বর ?- ওমা কি ঘেন্না!–বর মাষ্টার হয়েছিল? ছি ছি কত বেহায়াপনা করেছি, কত ফাস কথা ক’য়েছি। গীত। সােণার টোপর মাথায় দিয়ে লুকিয়ে ছিলে কোন বনে। আজকে হঠাৎ হ'লে উদয়, দাসীর হৃদয় গগনে। ( আমার বর-আমার বর-ওগাে আমার বর !) -ছিলুম যবে বালিকা, ছােট্ট কচি কলিকা, নিয়ে কে জানে কি তুলিকা- একে ছিলুম তােমায় আমি এই মনে। ( এই মনে—এই মনে--বুঝলে আমার বর ?) শেষ তৃষ্ণার সময় মাষ্টার মশাই, তােমায় আমি হৃদে বসাই ; এখন দেখছি আলাে হলাে ভাল- আমরা সেই ছেলে বেলার বর কনে, ( কেমন ঠিকনা—কেমন ঠিকনা—ও আমার বর ?) কুলকুন্তলা-কুল- কু। এ-এ-এ, বর কি এখনও আমায় বুড়ী ঠাওরাচ্ছে? : ;

২৮
কৃপণস্য ধনং।
মক্ষ্ম। কুন্তলা ! তোমায় না পেলে আমি বাঁচবো না; আমাকে
বিবাহ কর, চল আমরা গােপনে চলে যাই।
কুন্ত। যদি কেউ কখন অামার স্বামী হয় সে তুমি ; কিন্তু মামা
যে আমার স্বামীকে ফাকি দেবেন, তা আমি সহ ক'তে
পারবো না। আমি পন ক'রেছি টাকা আদায় কতে
পার ভালই, নইলে যেমন আছি তেমনি 'থাকবাে,
কোন সাধে কাজ নেই, এমনই মরবো।
সন্ম। তারও এক ফিকির করেছি, যদি তুমি আমার কথা
মত চল।
কুন্ত। মাষ্টার মশাই তুমি আমার বর, কন্তে কি বরের কথা
ছাড়া চলে?
মন্ম। কুন্তলা-কুন্তলা-কুন্তলা। প্রিয়—প্রিয়ে।
কুন্ত। নখ—নাথ-মাষ্টার মশাই—মাষ্টার মশাই
মন্ম। চল কুলা আমরা পালাই চল, বিবাহ করে আমরা
দুজনে নৈহাটীতে আমার বাড়ীতে সুখ সচ্ছদে
থাকবে; টাকায় তোমার কাজ কি? এ বাড়ীতে কার
তোমার থেকে কাজ নেই।
তেল দাও সি দুর দাও, ভবী ভোলার নয় ; মার
আজ্ঞ,টাকা সুদ্ধ কাম দান করে গেছেন, আমি
অমনি তােমার গলায় পড়বে না।
মন্ম। একি তোমার বাই ?
কুন্ত। বিদঘুটে
মন্ম। আচ্ছ, (Nothing is unfair in Love and War.)
রণে প্রেমে কিছুতেই দোষ নেই। ভাল যদি ভাল
।

কৃপণস্য ধনং। ফিকিরে তোমার মামার কাছ থেকে টাকা আদায় করা যায়, তা হলে আমি যা বলবো--ক'রবে ? আমার সঙ্গে শুকিয়ে যাবে ? কুপ্ত। তা হলে তোমায় দেখলে আমি যেটা দেব, বুঝলে মাষ্টার-বর? মন্ম। এই সত্য? . কু। সত্য-সত্য-সত্য! তিন সত্য ক'রে যাব বয়ের গলা ধরে। রাখবো থদয়ে আমি তোমায় আদরে। (আলিঙ্গন।) নেপথ্যে হলধর ।--মষ্টের ! মাষ্টের ! কু। মামা মামা-ছাড় ছাড়। পড় পড়, যাহয় একখানা নাওনা। কু। (পুস্তক পাঠ) “আফ্রিকার অধিকাংশই অনুরা; গম যব ধান্য প্রভৃতি শস্য, এবং খ… র, জলপাই, আঙ্গুর, কমলালেবু, সাগুদানা, নারিকেল, কাফি, ইক্ষু, গঙ্গ, তামাক, নীল উৎপন্ন হয়।” ( হলধরের প্রবেশ) হল। ঈস্, ম্যাষ্টের যে একেবারে লেখা পড়ার চীনেবাজার বসিয়েছ, ভাল ভাল ও পড়া ভাল ; পয়সা খরচ ক'তে হয় না, কিনতে হয় না, অথচ বাড়তে নানান রকম মে ওয়ার নাম হচ্ছে। কি বই-বিদ্যাসুন্দর বুঝি ? মালিনীর বেসতী পড়াচ্ছ? বেশ বইবেশ বই- অনেক দানের কথা আছে,

কৃপণস্য খনং।
••
আট পণে কিনিয়াছি কাঠ আট আট।
নষ্ট লোকে কষ্ট বেচে আমি তাই জটি।
খুন হয়ে গেছি বাবা চুন চেয়ে চেয়ে।
শেষে ফুরাইল কড়ি আনিলাম চেয়ে।
সত্যযুগ কি যুগই ছিল, দোকানীরা চাহিলেই জিনিষ
দিত ; ভারতচন্দ্র তাই লিখে গেছে।
সন্ম। আজ্ঞে না, এ ভূগােল।
ও সব এখন হয়েছে, বিদ্যালয়ের নকল করে ওরকম
বই এখন ঢের হয়েছে, কামিনীকুমার আরও সব কি
কি। বেশ বেশ মেয়েদের লেখাপড়া আমি বড়
ভালবাসি, ম্যাষ্টের তুমি না জুটলে কুন্তীকে আম"
নিজেই পড়া’ব মনে করেছিলু; শুনে শুনে দাওরায়ের
পঁচালী আমার মুখস্তই আছে, বই কিনতে হত না,
মুখে মুখেই পড়িয়ে দিতুম। তুমি দাশুরায়ের পাঁচালী
পড়েছ ?-না পড়ে থাকতো পড়, বড় সুন্দর লেখা,
অমন হনুপ্রকাশ আর কোথাও নেই।
মগ্ন। কুন্তলা অনেক ভাল ভাল বই পড়েছেন, ওর বড়
চমৎকার মেধা।
হল।
সে ওদের বংশের দোষ, গুষ্টিই ম্যাদামারা ; ওর বাপ
শালা আদত আহ,মুখ ছিল, মুছুদ্দিগিরি করে হাজার
দশেক বই টাকা রেখে যেতে পারেনি,
হ'লে সাহেবকে দেউলে নেয়াতুম ; খালি বাজে খরচ
করেছে,-এই দেখন ঘর বোঝাই করে কতগুলো
কাঠরা কিনেছে! কোচ কেদার। এ সব কেন ? বুকে

কৃপণ্য মং। •
বলি যে ঐ গুলো, আর ঐ যে সোণা রূপে কতকগুলো
প’য়ে আছে, ওগুলোতে খ'য়ে যাচ্ছে, বিক্রী করে
টাকা আমার কাছে রাখ, সুদে বাড়বে কত।
কুত। মামা যা আছে সেই সুদ থেকে আমায় কিছু দাও না,
উল টুল কিনতে হবে, একটা পয়সা খরচ ক’তে পাইনে।
হল। দূর বেটী জাহাম্মক সে যে জ’ছে—সুদের সুদ জমছে,
মাকে বল না ভুল কিনে দেবে।
মন্ম। আচ্ছ। আচ্ছা আমি এনে দেব-আমি এনে দেব,
প্যাটারনটা দেবেন, রং মিলিয়ে উল এনে দেব।
আর মাম। আমার বিকেল বেলা মাথা ধয়ে, মাষ্টার
মশাই এক রকম তেল একটু এনে দিয়েছিলেন মেখে
অনেকটা ভাল আছি, তাই আমাকে এক শিশি জানিয়ে
মন্ম।
হল।
কি তেল ম্যাষ্টের ?
অঙ্গে কেশরঞ্জন তৈল ।
মহার তেল উঠেছিল, আবার কলঙ্কভঞ্জন তেল
উঠেছে ; সেই কলওয়ালারা করে বুঝি-চীনের বাদাম
টাদাম দিয়ে ?
আজ্ঞে না—এ আয়ুৰ্বেদা তেল।
বেদের তেল ! সেতো বাত ভাল হয়-মাথাধরায়
;
।
ময়।
করবে ?
আজ্ঞে না বেদে নয়, কবিৰ নগেন্দ্রনাথ সেনের ।
বটে,-কত ক'রে ?
এক টাকা-

t
কৃপণস্য নং।
।
এক টাকা মােন? সুবিধে আছে তো, রান্নাবান্ন
চলতে পারে।
মম। আজ্ঞে না, এক টাকা করে শিশি-বড় উপকারী তেল।
হন। এক টাকা করে তেল কখন উপকারী হয়? মাখিসনি
কুম্ভী মাখিসনি, চুললাে সব উঠে যাবে। তার চেয়ে
এক সের রেড়ীর লে জানিয়ে এক ফোঁটা পিপারমেন্ট
দিয়ে মাখিস দেখি, তাতে পেট কামড়ানি মাথাধরা সব
সেরে যাবে, আর চুল অগনি পাটে পাটে বসে যাবে।
ওমা রেড়ীর তেল মাখবাে কি ? আর পিপারমেন্ট খেলে
পেট কামড়ানি বারবে, মাথাধরার কি হবে ?
হল। তা না সারে না সারবে, ও পােড়া মাথা একটু ধ’ল্লেইবা
-আধ ঘণ্টা পড়ে একটু ছটফট করিস, তা হলেই
সেরে যাবে। এই আধ ঘন্টাটা কষ্টের জন্তে এক
টাকা লাগাবি ?
নেপথ্যে পুরােহিত।—শিগগির লাও-শিগগির লাও-বিস্তর
যজমানের বাড়ী যেতে হবে, বেলা ক'লে চলবে কেন গো?
হল।
ও কে , সেই ভটচাষি শালার গলা না? মাগী বুঝি
জামার শ্রাদ্ধ ক’চ্ছে ; সৰ্ব্বনাশ ক'লে—সর্বনাশ কল্লে,
যাচ্ছি--যাচ্ছি, পঁাড়া বেট। পঁাড়া বেটী। ( প্রস্থান )
মন্ম। কুন্তল ! যদি—মনে কর যদি-আমি ঠিক বলতে পারিনি,
কিন্তু যদি তোমার টাকা কোনমতে আদায় করে দিতে
পারি তা হলে তুমি আমার হবে ?
তােমার কি হব?
মন্ম। কি ছবে—কি হবে-মার স্ত্রী ”ে ।

কৃপণস্য ধনং।
কুন্ত। কেন, এখন কি আমি তােমায় পুরুষ আছি ?
ময়। তোমার সঙ্গে আমি কথায় পারিনা-আমি সভায়
বক্তৃতা করি—বিদ্যার তর্ক করি-বন্ধুগণের সঙ্গে
আমোদ রসালাপ করি, কিন্তু তােমার কাছে আমি
একেবারে মুখ চোর হয়ে যাই। আমি কি হ’লুম,-
তুমি আমায় কি ক'লে ।
কুন্ত। আমি আবার কি করবো? তুমিই ভাঙ্গছো, তুমিই
গড়ছো, ছিলে মাষ্টার--হ'লে বর ।
তুমি আমার বর,
আছ বর-থাকবে বর,
কিন্তু বর না রাখলে পন
করবােনাকো ঘর;
জোর করে বলবো প্রাণকে
প্রাণ তুই এমনি প্রাণে মর ;
হ্যা বর-সত্যই কি তুমি প্রেমে জর জ্বর?
নেপথ্যে দয়া।-ও কুন্তল
কুম্ভী-
কুন্ত। আঃ রাত দিন কুন্তী-কুন্তী, আমি যাবোন। আমার খুসী।
মন্ম। কুন্তল-কুন্তল
কু। আমি যাইনি যাইনি-সামনে দাড়িয়ে, পদ্মপলাশলোমন
দেখতে পাচ্ছ না?
নেপথ্যে দয়া-হালা কুন্তী শুনতে পাচ্ছিসনে !
কুতী। যাই বর—না না আসি বর?
হয়। চলে ?-আবার কখন দেখা হবে ?
মন পাল্কী আনবে।

কৃপণ্য ধনং। ৫ . মন্ম। সন্ধ্যার পর? কুন্ত। হ্য। বর-হ্যা বর—হ্যা বক্স। মন্ম। তবে যাই ? কুম্ভ। অলক্ষণে কথা দেখ, বল আসি। মম্ম। আসি। কুত্ত । ও কি ও, মুখে কই হাসি ?--হাস হাস। মন্ম। তুমি হাস। কুম্ভ! আমি তো হেসেই আছি, তুমি হাস। মন্ম । আহা, কি মধুর হাসি ! কুন্ত। তুমি হাস-হাস, হাছন—হাছনা? এই যে হালুম, তবে আমি আসি? নেপথ্যে দয়া।-হালা ওলো কুন্তী! কুন্ত। অাসি গো অাসি, দেখাে বর যেন শুখোয় না-গো হাসি, ডাকছে মামী'। ওই ঐ চরণের দাসী। মন্ম। কুশুল— কুল- এখন খেলবো না ভাই, বাড়ী যাই। (প্রস্থান) সন্ম। প্রাণে আজ নুতন সুধা এলো নুতন সুধা এলো, নুতন আলো! এ আলো চাদে নাই, অপ্সর কাননে নাই, কবি কল্পনায় স্বর্গে নাই। নেই নেব—যে ক'রে পারি নেব ; কুতল ছাড়া আর থাকতে পারিনি, এ অন্ধকূপে কুন্তলকে কার রাখতে পারিনি। মধুখুড়ো না পারে, আমি মাপনি টাকা দিয়ে বলবাে এই তােমার মামা কাছ থেকে আদায় করেছি। ( প্রন,

কৃপণ্য ধনং
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক
পুরােহিত।
পুরাে।
ওরে হারামজাদা বেটা হাবা নিয়ে আয়না, জাজ
এমন দেরি কল্লে চলে?--আজ আমাদের মেইডে ;
নিয়ে আয়-কলসী টলসী গুলাে নিয়ে আয়, আগে
থেকে সব গুছিয়ে সাজিয়ে রাখতে পারেনি ?
( দুইটি কলসী লইয়া হাবার প্রবেশ)।
এ এউ এ্যাবাউ এ এ্যাউ ।
পুরো ।
রাখ এখানে রাখ, নৈবেদ্য নিয়ে আয়, ভূজ্যি নিয়ে
চায়, গিন্নী কি ক’চ্ছেন ? ডাক ডাক গিন্নী-গিন্নী,
এই ঘোটা—নাকে নথ, বেটা ইশারা ও বােঝেনা।
হাব। হ্যাউ-এ উ-~-এ্যাই ।
( প্রস্থান)
চাকর ও জুটিয়েছে ভাল, তা মিনি মাইনেয় অমন হাব।
না হলে কে থাকবে বল ; মাগীর, অনুরোধে এ
বাড়ীয় ক্রিয়া করান, নহিলে মুখ দেখলে বােকনো ফাটে
এমন যজমানের বাড়ীও আসে ? ওগাে কোথায় গো-
আননা, তােমার এই দুটো কলসীর জন্যে দিন কাবার
করবে নাকি ? সেনেদের বাড়ীতে উনিশটা কলসী
*উৎসর্গ ক’ত্তে হবে, আজকের দিনটা কেমন।
।

কৃপণ্য ধনং।
ভােজ্য ও নৈবেদ্য ইত্যাদি লইয়া গৃহিণী ও
হাবার প্রবেশ)।
জ্বাঠা ঠাকুর ! জানেন তাে বাবা আমার কি অদৃষ্ট,
এও যে পেয়ে উঠবে। আমি মনে করিনি—জোর করে
যা করেছি ; অপরাধ নেবেন না।
পুরো। লাও লাও শীগগির লাও-বসো, কই গঙ্গাজল কই ?
রে হাব।
এ্যাউ -ব্যাট-ব্যাউ ।
পুরো।
ওরে বেটা গঙ্গাজল-গঙ্গাজল-জল,—ঢক ঢক ঢক
( ইঙ্গিত করণ)।
এই যে আমি এনেছি, ঐঐ ভাড়ে আছে।
লাও আচমন কর, বল নমঃ বিষ্ণু।
নমঃ।
পুরো। অপবিত্র পবিত্রোবা-
দয়া।
অপর রাত্তির পাবিতির ধােপা।
পুরো। হয়েছে হয়েছে-সর্বাবস্থাং গতােপিবা।
দয়া। সবার বস্তাং—কি বলে ?
পুরে। গতো পিবা।
গাতে পেবা।
পুয়ো।
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষ।
যাচ্ছি রেতে পুটুরী খ্যাক্য।
পুরে। স বাধাভ্যন্তরে সূচিঃ।
দয়া। সরভাজাত ভাড়ারে।

কৃপণ্য ধন।
৩৭
(হলধরের প্রবেশ)
ল। হ হ হ'।
এই আচমন কালেম, আপনার সহধর্ষিণীর মহাকা।
করিয়ে দিচ্ছি; আর আপনিতো ডাকেন ডােকেন না।
হল। • বলি ব্যাপারটা কি ভটচাষ ?
পুরো। কলনী উৎসর্গ-কলসী উৎসর্গ, পিতামাতাকে জলদান।
তুমি যাও যাও, আমি এখন কাজ সেরেনি।
আমায় লুকিয়ে পুরুত ডেকে আমার সর্বনাশ করবে
ঠিক করেছ? দেদার খরচ ক'চ্ছো, তোমার পুণ্য
প'ড়ছে ?
পুরাে । মই পুণ, দিন-অক্ষর তৃতীয়, সত্য যুগাদা, ভোজ্য
হিহ বপূর্ণ ঘটদানে সূলোক গমন ফল, স্থানদানে
অস্ত পুণ্য প্রাপ্তি ; শিবগঙ্গ। কৈলাস হিমালয় ভগীরথ
পুজ। যবে হন।
এখন তুমি থামঃ।
পুরাে। বিষ্ণু পূজা যবান অধ্যায় মহাফলং শক্তদানং জলপূর্ণ
ঘটদান, দক্ষিণে আর কি ? আপনার বাড়ী এক
ট!কার কহে গৃহিণী দেন না ।
ধ। পুড় কুড় ঘটং ঘটং হাঞ্চ নাঞ্চ ইঞ্চ ন মেলাই
জুরি শোকতো পড়লে, মনে করেছ কি এই চাল
ডাল কাপড় পয়সা গুলো নিয়ে যাবে ?
চু। করনা।
চাপরা ও হারামজাদী।

৩৮
কৃপণস্য ধনং।
কি এত বড় অস্পৰ্দা। আমি বাপ মাকে জল দিচ্ছি,
তুমি আমার সেই বাপ মাকে গালি দিয়ে কথা কও?
বাপ মাকে জল দিচ্ছ, আমি এত মানা ক'বুম শোনা
হ’লনা বুঝি ? হাবা-
হাবা। এ্যাও।
ফেলে দেত বেটা সব।
পাগল হয়েছ নাকি ?
পুয়ো। আপনি ও কিরূপ বলছেন?
হল। বলছি, যদি একটু বেশী দেরি কর তা হলে তােমার
টিকিটী ছিড়বাে।
পুরে। গিন্নী একি অপমান? আমার কি আর স্বজমান লেই ?
সয়া। খুব মুখে কালি পাড়াচ্ছ! কালিরতাে আর বাকি নেই
বলি এই সব জিনিস গুলে। এই বামনাকে দিতে হবে ?
দয়া। হবে না তা কি তোমার শ্রাদ্ধ ক’ত্তে হবে ?
ভট্টচাষ জান, আমি ধৰ্ম্মফৰ্ম্ম মানিনে-ত্যাগ করেছি।
আমার বাড়ীতে বুজরুকী ?
পুয়ো। যজমানতো আমার লেই, তাই তােমার বাড়ী কিয়া
করান। গিন্নির অনুরােধে এসেছুিলাম, এই লাও সব
পচ্ছাব করেদি।
জ্যাঠ। ঠাকুর রাগ করবেন না জ্যাঠা ঠাকুর রাগ
করবেন না, ও মিনসে খেপেছে।
পুরে। আরে লাও লাও, এমন বাড়ীতে আমি ক্রিয়া করাতে
চাইনা, প্যাচ্ছাব ক'রেদি-প্যাচ্ছািব ক'রে; অ
কত যজমান আছে।

কৃপণস্য খনং। ব্যাঠা ঠাকুর তুমি তাড়াতাড়ি মন্ত্র দুটো পড়িয়ে দাও, সময় বাপ মা জল পাক। পুয়ো। লাও লাও, বল অদ্য বৈশাখে মাসী শুক্লে পক্ষে হলধর হালদারের চাল ডাল আমার ঘরে আসুক। সাহা কেন বিরক্ত করগ? জ্যাঠা ঠাকুর মন্ত্রক। •'লোও, যাওনা তুমি বাইরে। হন। লাচ্ছা দেখি কতদূর হয়। আপনি মন্ত্র বলুন। পুরো। অক্ষয় তৃতীয়াং তিখো, এষাং জলপূর্ণ ঘটং, সবভেজ, কাঞ্চনমূল্য দক্ষিণায়া মহেশ ঠাকুকে দিলুম। লাও এই ফুলটা নিয়ে কলসীর উপর ফেলে দাও। আরো কিছু আছে নাকি? একটু চুপ ক’ত্ত পার না? বল, সর্বদেবতায়াং প্রসস্লোভব, পিতৃমাতৃ তৃপ্তর্থে ময়া জলদানং কুরু, ইতি অক্ষয় তৃতীয়াং ব্রত সফং ভবেত : ভােজ্য বস্তু কাঞ্চন জলং পুরােহিতে দে । প্রণাম কর-দক্ষিণে দাও। এই বঁচিয়ে বুচিষে চার আনা রেখেছিলুম, এই নিয়েই আশীর্বাদ ককুন। আমি দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখে এই সব সস্ক করবো? , অা- পয়সা দিবি, আবার এই সব? হাৰা এই—এও-এ? পেয়া। বড় ই জলে সারমে; এক ঘণ্টা কর্ম ভোগ, সমস্ত বিক্রয় করেও একটা টাকা হবে না। চার- ক

৪০
কৃপণ্য ধনং।
মনে করেছ কি সব নে যাবে? হাৰা শামি হাত
ধরে রেখেছি, তুই ভাঙ কলসী।
কি-তামার যত বড় আস্পর্ধা তত বড় !
আমার বাপ মার জল তুমি নষ্ট করবে ?
করবো নাতো কি ? লাখী মেরে কলসী ভেঙ্গে দেব ;
হবা বুঝতে পাচ্ছিসনে ?—কলসী তেল, তাড।
হাবা। আঁও আঁউ ই। (কলসী তুলিয়া ভাঙ্গিতে উদ্যত )
য়া। ছাবা! ঝেটিয়ে মুখ ছিড়ে দেব, শীতে হাত
দিসনে বলছি।
ভেঙ্গে ফেলভেঙ্গে ফেল ; ধর্মের মুখে হাই, খালি
খরচ-খলি খরচ।
পুরো। আমি অভিশম্পা ক'রযোভিশম্পাৎ কমধ্যে।
বামনা! এই তোর টিকী ধ'রে ছিড়বো—কি করবি
কর; জিনিস পত্র সব তুলে নে, কলসী দুটো ভেঙ্গে
দে দে হাবা দে-না না থাক থাক ভাসিনি
ভাঙ্গি সনি।
দয়া। আহা তোমার সুমতি হক।
ভাসিনি, জল ফেলে কলসী দুটো ঐ দোকানে দিয়ে
একট। পয়সা আন, আমি হয়েছি বামনার টিকী।
পুয়ে।
ওরে পাষও ছাড় ছাড়।
সর্বনাশ ক'সোনাশ ক'রে! ও মুখপােড়া,
মানুষের চামড়া কি তােমায় পায়ে নেই ?
যোচ্চো বেটা ৰামনা!. আমার এক মাসের এ
লুটিয়ে নিচ্ছিস ; নেষা হাবা, ঐ ঐ ভেসে

০
-
কৃপণ্য ধনং।
তা যাক বেশ করেছিস ভেঙ্গেছিস
হতো। একি! সব জল তােমার বাপ মাগি
বিকায়ের তৃষ্ণা নাকি?
মুখপোড়া, যেমন মনিব তেমনি চাকর! সর্বনাশ
কল্লো, ও লটকুত্ত্বীয় বেটা হাৰা। জলপুরে
আনিসনি? আমি খালি কলসী উৎসর্গ ক’চ্ছিলুম ?
witte altele!
ওট ভাঙ-ওটা ভাঙ।
বেটা করিস কি-করিস কি? ওটা বাবা।
হন। তােমার বাবার বাবার হলেও খিনে; বামন
বেটা আমার বাড়ীতে জুরি ।
খবরদার কলসী দেবনা।
হাব। এ্যাও এ ও এ্যাও।
এ এ এ বেটা চুসনে বলহি।
বামনা তাের টিকী কাটবে, হাবা ভাণ্ড।
ওরে ছিড়ে গেল-: ছিড়ে গেল-হাত ছেড়ে দে,
যেটা নরকে যাবি।
কলসী ছাড় হাবা।
লাউ ও গাউ।
ভেঙ্গে ফেলভেঙ্গে ফেল, আমি ধরে রেখেছি।
ওরে আমার কি সর্বনাশ ক'ক্লেরে, ওয়ে এমন ভাতা
কামিত্রের ঘাটে যায় না রে ?
হল। তােমায় বেড়া জাগুনে পোড়ায় না রে? অনুক্ষণে বেট
আমার মাথা খেলে; তিন চার সে চাল বিলিয়ে

কৃপাধন। ar এই জোচ্চোর বামনা বেটার পরামর্শে;- কেমন বেটা-হেঁইও। ( টিকী আকৰণ) পুরাে। এরে গেলুমরে হল। ' 'মার টানহেঁইও- পুরো। গিছি রে বাপ। হল। হাৰ নেন কেড়ে। দয়া। মেয়ে লাথীতে মুখ ভেঙ্গে দেব। হাবা। এও এ ও এও এই-ই ( কলসী ভাঙ্গন ও মুখপোড়া সর্বনাশ কল্পি । এইবার তো উপড়িছি তোর টিকা। পুরে। নরকে যারকে যা, পাষণ্ড বেটা নরাধম ; ইঃ ইঃ ইঃ ব্রাহ্মণের মস্তকটা গেল।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভা।
বহিব্বাটীর গৃহ
হলধর হালদার।
;
!
হল। হায় হায় ভাবছিলুম কি করে কথাটা ফেলি, কারে
দে যােগাড়টা করি ?-না নিজেই নাপ্তিনী পাঠিয়ে আমায়
ডাকাচ্ছে ; কি বরতি--কি বৱাত ! আমার এখন শনির
শেষ কিনা, সব সুফল ফলছে; আচ্ছা দেখলে কি করে?
হা হা হয়েছে, সে দিন বাজারের সামনে কফি পাতা
কুড় চ্ছিলুম, ওদের খড়খড়ির পাখী খােলা ছিল বটে,
তাই সেইখান থেকে দেখেছে ; তবে আমার চেহারাখানা
এখন বেশ আছে। হায় হায় । একবার বাগিয়ে বসতে
পাল্পে হয়, বছরখানেকের ভিতর সব হাত ক'রে নেব,
মায় গায়ের গহনাগুলি পর্যন্ত। নাপ্তিনী বেটা আবার
তার নাপ্তে বেটাকে জোটাচ্ছে, দেখছি সে বেটাও কিছু
খাবে ; গোড়ায় কিছু সখুড়ী দেখাতে বলে,—খান
লুচ্চার গহনা আর নগদ হাজার খানেক টাকা ছাড়তে
হবে; বলে, তা হলে আপনার উপর খুব বিশ্বাস হবে।
তা সত্যি জল না দিলে কাণের জল বেরােয় মা; যদি
ফাকি পড়ি?—তা হলেই তো সর্বনাশ; ঈ আমায়
কি দেবে ?-রাজি শুল্ক ফাঁকি দিই আমি। ২

কৃপণস্য ধনং।
মধুখুভের গহনা ক'খানা খামকা পাওয়া গেছে, আর
বিমলীর তিন হাজার টাকা থেকে হাজার খানেক টাকা-
এই দেওয়া যাবে আর কি; ঠিক কথা—গােড়ায় একটু
সরফরাজ না দেখলে বিশ্বাস করবে কেন?
(প্রদীপ হস্তে দয়াময়ীর প্রবেশ)।
কেও-কেরে-আলো আনে কে ? নেয়া-নেষা ; ৩
তাই বটে, আমার ঘরের লক্ষী ঠাকরুণ! নইলে এমন
আয় হিতৈষী কে? আমার ঘরে আলাে ?
যায়। কি আপদ গ, ঘরে সন্ধ্যাটা দেখাবে না?
হল। সন্ধ্যা ?-সন্ধ্যা ভগবান দেখাচ্ছেন, তুই আবার দেৰি
কি? বেটা সব উড়িয়ে পুড়িয়ে দিলে, কতটা তেল পুড়ছে
বলদেখি। আর ভাল ভাল পুরান কাপড় গুলাে সলতে
পাকিয়ে নষ্ট কল্লে ! বট এখনও দাড়িয়ে রয়েছ ?--
এই—ফুঃ (ফুকারে প্রদীপ নির্বাণ)।
। বটে, দাড়াও বাড়ীর ভেতর গিয়ে দশটা প্রদীপ জ্বেলে
রাখছি।
ল। না না, ছি ছি তা কত্তে আছে; দেখ তুমি খোকন।
কেন বল দেখি? এই যে পয়সা কড়ি বাচাই, একি
আমার একলাই থাকছে? অমন ক'রে তেল নয়
করােনা, আর তেল কেনাই বা কেন? যত কলের পচা-
সরষে আর চীনের বাদাম ভাঙ্গা ;-রসে রসে গিন্নী,
তেলের কথা বলতে একটা মনে পড়ে গেল ;
মা করার দোকানে একবার তামাকটা ট;

কৃপণস্য ধনং। গেছলেম, একটা বড় মেওয়া রকমের তরকারীর কথা শুনে এলুম, কাল রাঁধবে? দয়া। ঈ তাও ভাল, সকালে কার মুখ দেখে উঠেছিলুম যে তােমার একটা ফরমাস করে খাবার সখ হয়েছে অনলুম। হল। বাবার সখ আমার বরাবর, খেয়েই ফতুল ; তবে মনে অতন হয় না বলেই ভাবি দুর ছাই আর খাবনা। কি তরকারিটাই শুনি। হল। মাওয়া জিনিষ গিন্নী-মাওয়া জিনিষ। জাহাহা মনে ক’তেই জামার জিবে জল আসছে ; এই দেখ এই যে গেল জালু র এখন পটল উঠেছে, এ দুয়েরই উপর- কায় সেই আসল জিনিসটে ভারী মােলায়েম, যাকে আবাগের বেটা উড়োনচুড়েরা খােসা বলে ফেলে দেয়, সেই দুই না একত্র করে বেশ করে জল আছড়া দিয়ে মধ্যম জলে ভাজা ভাজা করে রাধলে,-“উঃ কি মিষ্টি কি মিষ্টি। শীবের তেজ বাড়ে কত ! এক একটা খোসা একটা সের দুধের কাজ করে। ও কিপটে, এবারে খোলা চচ্চড়ি খাবে তাই ঠাউরেই ? সাধে লােকে নাম মুখে জানে না। হল। তুমি তৈয়েরি করে খেয়ে দেখদেখি কি জিনিস, আজকাল কলিকাতার বড় মানুষদের বাড়ীতে খালি রাঙ্গা রাঙ্গা গােলাপ চালের ভাত আর ঐ মােগলাই হিলকি চচ্চড়ি ; তেল নুন ছুইয়েই তো সৰ মাটী সব মাটী, খালি জল আছড়া-খালি জল ছড়া! তুমি তােমায় এ ভেবনা, আমি যােগা ক'রে এনে দেব।

কৃপণস্য ধন্য।
.
দয়া। লােকের দরজা থেকে কুড়িয়ে ? ঐ যা বলে ঠিক, ধন
হ'লেই তাে হয় না, ভােগ করবার বরাত চাই ;-খাইয়ে
মাসােমি খাবে কোত্থেকে!
হল। গিন্নি! তুমি আমার মৰ্ম্মের ব্যথা যদি জানতে তা হলে
আর অত করে মুধনাড়া দিতে না ; একবার বছর
দশেক আগে বাজারে একটা আতা দেখে খেতে সাধ
হয়েছিল, বাড়ী এসে বাক্স খুলে একটা পয়সা বের ক’ত্তে
গেলুম, তা বুকের ভিতর যে কি করে উঠলো তা
তােমায় বলবো কি ! ও হো হো হো হাে-পুত্রশােক
কাকে বলে জানি না; কিন্তু এর চেয়ে যে বেশী বাড়া
নয়, তা বেশ বুঝতে পারি; সেই অবধি লােভ হবে
বলে আর বাজারে ঢুকিনা, ঐ আশে পাশে যা পড়ে
থাকে তাই নিয়ে আসি। ওঃ ওঃ ভালকথা-গিন্নী
ভেতরে যাও ভেতরে যাও, এই নামে সবার কথা
আছে ; সুদদিতে-সুদদিতে।
খা ও খা, ঐ সুদ খেয়ে খেয়েই পেট ভরা ও। (প্রস্থান)
হল। তাইতে, নাপ্তিী এত দেরী ক'চ্ছে কেন? দাও ফসকায়
নাকি ?
( ইচ্ছের প্রবেশ }।
এই যে নািেদদি, এত দেরী যে? আমি ছটফট
ক'চ্ছিলুম।
ইচ্ছে। আমরা কখন থেকে বাইরে দাড়িয়ে আছি-তোমার
যে আর গিন্নীর সঙ্গে কথা ফুরােয় না ? (নেপথ্যে দৃষ্টি,
ও ইঙ্গিত) ওগাে ভিতরে এস না।
{

কৃপণস্য ধনং। •
৪।
(পরামাণিক বেশে মধুখুড়োর প্রবেশ)।
মধু। • যাবো কোথায় বাবু ঘর যে অন্ধকার।
ইচ্ছে। বাবু এই তােমাদের প্রামাণিক, ওগো দেখ দেখ বাবুর
চেহারাই দেখ, এই বয়সে কত লজৎ।
মধু। ঘর যে তা হৃকার, প্রদীপ নেই কেন ?
হল। * রামাণিক দাদা কথাবার্তা হবে বইতো নয়, হিসেব পৰ
দেখ দেখি নেই, ও উড়ােনচুড়ে লোকের মত বাজে
৫ ল পড়া না কেন ?
ইচ্ছে। ২’ক না অন্ধকার, বাবুর চেহারা যে দপদপ ক'চ্ছে,
মুখ । না যে জলছে।
ঠিক ঠিক,.বাবা কি ভূরু।
ইচ্ছে। আর চোকদুটী দেখেছ ?-কেমন আড়নয়ন ! যেন
মদনমোহন।
মধু। কি গোঁফ, যেন মা দুর্গার সিঙ্গী; আমার খুরান।
নি সাপ ক’চ্ছে।
ইচ্ছে। দেখ দেখ বাবু হাসছেন, কেমন দত যেন খই ফুটছে,
ঠোট দুনি যেন ফুটী ফেট রয়েছে । এ দেখে কি
জার মেয়ে মানুষ না ভুলে থাকতে পারে! আমিই
কেমন কেমন ক’চ্ছি।
মধু। বলিস কি নাপ্তিনী ! তবে চ'লে আয় ঘরে, এ কাজে
কাজ নেই ; দু’শ টাকা দেবে বলেছে বইতে। নয়, আমি
ঢের দু’শ টাকা রােজকার করবে, শেষে কি তোকে
।

কৃপণস্য ধনং।
ও পরামাণিক ভায়াও পরামাণিক ভায়া, তোমায়
নাপিনী আমার মাসী হয় ; অক্ষয়ের ছিল মালিনী মাসী,
আমার নাথিনী মাসী, আমার সে স্বভাব নয়, তবে যে
বলছো ঐ ছুড়ীর কথা-কি জান তুমি তো বােৰ,
বিধবার হাতে পড়ে বিষয়টা বরবাদ যাবে, আমি
মুরুব্বি হয়ে পঁাড়ালে যেমন করে হক বজায় থাকবে।
হচ্ছে। সেওতো তাই খোজে, বলে ছোড়া ফোড়ার হাতে
পড়লে সব নষ্ট হবে, তাই একটু ভারিকে মানুষ খোজে,
যাতে সম্পত্তি টুকু বজায় থাকে ।
ল। ভাড়াটে বাড়ী চারখানা আছে বলে বুঝি ?
মধু।
ও চারখানা বাড়ীর কথা ক’চ্ছেন কি ? আমার কাছে
শুনুন ; এক বামুন বস্তীর জায়গাগুলো যা আছে, সােণ।
ফলে~~-সোণ। ফলে ! দেখতে হয় না মাসে আড়াই
শো টাকা।
হল। মাইরি! মাইরি !
মধু। সিতির বাগানখানা-বেড়া ও চড়াও ভােগ কর আর
বছরে হাজার টাকা গুনে নাও।
হল। পরামাণিক দাদা-পরামাণিক দাদা-
আর পঞ্চাশ টা হাজার টাকার কোম্পানীর কাগজ নগদ
সু কি হয় তা আপনারা জানেন।
হল। পরামাণিক দাদা! তুমি আমার বাবা-বাবা-ধৰ্ম্ম বাবা,
দেখো যেন ফাকি না পড়ি; তােমায় বিশ্বাস করে
আমি বিস্তর ছাড়ছি।
মধু। এঃ বাবু!” নাপ্তে কখনাে অবিশ্বাসী হ'তে পারে ।

কৃপণস্য ধনং। •
৪৯
আমাদের হাতে ক্ষুর থাকে, লেকে গলা বাড়িয়ে দেয়,
আমরা অবিশ্বাসী হলে কি জত ব্যবসা চলতো ?
তা ঠিক বলেছে—ঠিক বলেছাে, এ কথা বাস্তব বটে;
তা কাল সন্ধ্যা বেলাতো ?
ইচ্ছে। কিন্তু বাড়ীতে নয়, সেথায় দেখা কওে গোড়ায় তার
সাহস হয় না।
হল।
তবে কোথায় ?
ইচ্ছে। আমার পরামাণিক ও ঠিক করেছে।
মধু। কালীঘাটে---'অামি বাবা ! ঠিক করছ।
গোল হবে না তো ?
মধু। সে ভদ্র ঘরের মেয়ে হবে, গুব চাপ ন ভ ব ?
এমন যায়গা জমি ঠিক কী ! দেৎ এ গহন অর
টাক।
যা নেবে বলে ছ, 4 : 1 তে হবে;
সে লজ্জায় আপনার সা7ে {ক ? চুদে ।
হল।
তা তোমায় দিতে পারি প ম য ন এক
কর; ইষ্ট্রের কাগজে , একখানি মেরে
নাম লিখিয়ে নিয়ে যাব যে টী যা সই করিয়ে দিতে
মধু। সে ইচ্ছের হাত।
হল। দেখিস বেটী নাপ্তের ঝি, তোকে মা বলেছি।
ইচ্ছে। কিন্তু বাবু একটু সেজে গুজে যেতে হবে, ও কাপড়
চোপড়ে গেলে কি ভাল দেখাবে ?
হয়। তাইতো বাবা, আমার সব কাপড়ই যে এই রকম
কাছা ছাড়া।

কৃপণ্য ধনং।
মধু। কাছা দাওনা কেন ?
হল। ও একট। নামতার হিশেব, ওতে বেশ স্বাচে, নামত
কি জানিস ?
কাছাকে কাছা-
কাছা দ্বিগুণে গামছা
গামছা দ্বিগুণে চাদর -
চাদর দেড়ে ধুতি। বুঝলে ?
ইচ্ছে। তা হবেনা। বাবু, আজকের দিনে একখানা ভাল কাছা
কেঁাচাওয়ালা কাপড় পরতে হবে, গায়ে একটু খােসৰে।
মাখতে হবে।
হল। তুই বেটা যে আমায় দেউলে পড়াবি দেখছি।
ইচ্ছে। তা কি করবো বাবু, মেয়ে মানুষের মন কি অমনি
ভােলে ? ও কাছাখােল। মূর্তি দেখলে সে ছুটে পালাবে ;
সে একে নিজেই পেল্লায় বাবু।
হল। আমার বড় কাপড় নেই যে বাবা।
মধু। পাঁচটা টাকা হলে একজোড়া ভাল কালপেড়ে ধুতি
উড়ানি হয়।
হল। পা-চ-টাকা-কাপড়ে। মেরে ফেল বেটা-
আমায় মেরে ফেল।
মধু। তবে যাক, সিমলের অশু বাবু আমায় ওর জন্য সাধা-
সাধি ক'চ্ছে, পাঁচ হাজার টাকা খরচ কত্তে চায়,
আমায় দু’ কাঠা জায়গা কিনে দিতে রাজী। উঃ বলুকি,
এৰু ৰামুনবস্তির জায়গা মাসে নিখরচা আড়াইশাে
টাকা; ৪ ইচ্ছে, চল আগুবাবুর কাছেই যাই,নতুন

কৃপণস্য ধনং।
০
হল।
বেতো তােকে বলেছে হালদার মশাই রাজী না হয়
অশু বাবুকে আনিস।
হব। কে,আs বাবু?-সেই এলাে? তাের হাতে ধ’চ্ছি বাৰ
পরামাণিক,এত গেছে না হয় আরও পাঁচটা টাকা যাবে
কিন্তু বাবা আমি নিজে হাতে করে অত টাকার কাপ,
কিনতে পারব না মানুষ খুন, করা কাজ জমা হতে
হবে না; তােকে আমি দিচ্ছি একখানা ধুতি চার
এনে দিল।
মধু। এই দেখতে আমাদের বাবুর কি পাটা নেই ?
ইচ্ছে। আর খোসবো?
বাতের জন্যে হাসপাতাল থেকে এনেছিলুম-খুব ভাল
টার ঋন তেল আমার ঘরে আছে, সেই মেখে গেলেই
হবে।
তবে আর কি-টাকা কটা দেন, আমি যাই কাপড়
আনতে হবে কেঁাচাতে হবে ।
হল। দাড়া বাবা দাড়া আনছি ; আচ্ছা এক বেলার জন্য
বইতো নয়, কোন রজকের কাছ থেকে দু চার পয়সা
দিয়ে ভাড়া করে আনতে পারবে না?
মধু।
এক বেলার জন্য কিগো ? বিষয়ের টোণী হবে, রােজ
যাওয়া আসা করবে।
হল। হা হা তাতে। বট, ঠিক ঠিকৃ--আচ্ছ। পাঁচ টাকা
পুরােই লাগবে ? তিন টাকা হবে না ?
মধু।
উছ।
হল।
সাড়ে তিন ?

কৃপণস্য ধনং।
মধু।
৫
খেলে হবে।
নে পৌনে চার।
ইচ্ছে । উনি গোড়ায় এমন কিপিন্নি ক’চ্ছেন, ও অশু বাবুর
সঙ্গেই মিলবে।
না না চার—কথা ব’চনা যে ?—সাড়ে চার হলাে-
মধু। ইচেছ ! কথা শুনেই জামাকে দশ টাকা দিয়েছেন ; তুই
কেন ও জঞ্জাল ঘটলি বল দেখি?
হল। ওরে পাচরে বাব। চ—ও নাপ্তিী মাসী পাচই হবে ;
শুবাবুর বাগ নিদংশ হক, দাড়া বাবা-াড়াও
চী একটু র ৫, আমি খুজে পেতে পাচটা টাকা
যোগাড় করে তাছি।
( প্রস্থান )
ইচে। এইতো বেটা ঠিক পড়ছে, এবার আমায় কি দেবে
মধু। তোমায় তো বলেছি খুড়ী নগদ পঞ্চাশ টাকা দেব,
আর শুধু ও পঞ্চাশ টাকাই বা কেন ? তিন কুলে আর
আমার কে আছে ? তােমার বাড়ীতে একটা আস্তানা
রেখেছি, যে দিন গাজা খেয়ে শিবনেত্ৰ হ'য়ে শিলে বাজাব,
সে দিন গঙ্গায় টেনে ফেলে দিয়ে তার পরদিনে যা কিছু
থাকবে তুমি নিয়ে গিয়ে কাশীবাস করো; আমার খুড়ী
মাসী পিসি সবই তো তুমি । ভাল কথা-মেয়ে মানুষ
ঠিক হয়েছে তাে?
ই চ্ছ। হ্যা বেনেটোলার বিলেস, সদী গয়লানীকে দিয়ে তাকে
ঠিক করেছি—সেই দাসেদের নতুন গিন্নী সাজবে ;
কালে দেখদিকি হতভাগা মিনসের, টাকার জন্য সতী
;

কৃপণস্য ধনং। লক্ষ্মীর সর্বনাশ ক’ত্তে চায়। এখন যাও, সন্ন্যাসী সাজবে না? আসল কথা বুঝি ভুলে গেলে ? মধু। এই কাছেই সব রেখে এসেছি ; তবে তুমি এদিককার সব বাগিয়ে রাখ, আমি ঝ। করে সাজ বদলে আসছি। মন্মথ ছােড়ার জন্যে খুব বহুরূপী হওয়া গেল। (প্রস্থান) . ( হলধরের পুনঃ প্রবেশ)। হল। পরামাণিক ইচ্ছে। সেকি আর দাড়াতে পারে ? আজ বােসেদের বাড়ীতে তার কামান সে চলে গেল; যা দেবে আমার হাতে দাও। হল। মাসী তুমি নেবে ?~~এই নাও—এই পাঁ~-t—টাকা! দেখ কর করে—বিবির মুখ—এক—দুই-তিন-চার- পাচ! এই নাও বুঝে পেলে? উহুহু নাপ্তিনী মাসী দেখছ—দেখতে পাচ্ছ ? ইচ্ছ। কি হল। দেখছনা কাদছেন--ম কাদছেন—আমার সিন্দুক ছেড়ে যেতে মহারাণী মার চক্ষু দুটা দিয়ে জল গড়িয়ে টাকা চাঁদের বুক ভেসে যাচ্ছে। মাসী, এর পর কাপড় চাদরটা আমার বেচ দিও-নিদেন আধা অধি দাম তো হবে। ইচ্ছে। তা তখন দেখা যাবে। ( প্রস্থান) ( দয়াময়ীর প্রবেশ ) দয়া, ওগাে বামুন পিসি এসেছিল, বলছিল যে একটি পাত্র আছে,একটু ইংরেজি মেজাজ ; তােমার কাছে কিছু

৫৪
(
কৃপণস্য নং।
{
চায় না, ওর যা আছে তাই দিলেই কুন্তলাকে বে করে ;
তা কি বল ?
হল। দুর বােকা মাগী আপনার ভাল বুঝিসনে, কুন্তী বের
জন্যে লালায়িত হয়ে বেড়াচ্ছিল; “ওর যা আছে তা
হলেই যে করে, কবে কিনা গায়ে যা গহনাপত্র আছে-
আর দশ হাজার টাকা দিতে হবে ; তাের কি কোন
জন্মে বুদ্ধি হবে না?
দয়। মেয়েটা যে পনের পর হয়, জাতটা একেবারে গেল যে?
হল। জাত কিসের-জাত কিসের ? জাত তো খালি খরচের
জন্যে ; তুই জানিস ঐ খরচে জাতের জন্ঠে আমি হিন্দু-
য়ানি ছেড়ে দিয়েছি ; অমিত এখন ছােকরাদের দলে,
কিছু মানিনে।
দয়া।
আচ্ছা তুমি হলে কি ?
হল। যা হইনা তোর কি ?
দয়া। হওগে-উচ্ছন্ন যাওগে, তাতে আমার ক্ষতি নেই,
মােদ্দাৎ বুড় বয়সে আবার কি সীত হচ্ছে? আমি
আড়াল থেকে কতুক গুনছিলুম, ঐ ব্রজদাসের স্ত্রীর
কথা কেন হচ্ছিল ?
কেন হচ্ছিল--কেন হচ্ছিল ? সে
তার বিষয়ের
আমাকে টোণী কওে চায়।
দয়া। বছর বাইশের ছুড়ী—সে তােমায় টোণী করবে, আমি
কিছু বুঝিনা বটে ?
জামার যা খুশী তাই করবো, ওসব কথায় তাের কাজ
কি? হাবা-হাবা-

কৃপণস্য ধন। (হাবার প্রবেশ)। হয়। T হাবা। এ্যাও-ও- । হাবাকে ডাকহু কেন ? হল। এই নেযাত বেটীকে বাড়ীর ভেতর ; বাড়ী ইঃ ইঃ ইঃ নো। হব। নাও পাও পাও। হল। হুঁ হুঁ টেনে নেষা, শীগির আসিস তোকে আবার আমার সঙ্গে এক জায়গায় যেতে হাবা। জাউ লাউ লাউ দয়া। থাম বেটা। বাবা। এ্যাও-এ্যাও হল। নে যা না- 'হাবা। উ উ উ দয়া। ঝটাখাবি বলেদিলুম। নেষা বলছি হাবা-টেনে নেয়; গিন্নী যাও নইলে একট। কুরুক্ষেত্র হবে। দয়া। আচ্ছা থাক মড়া, যদি ঘুনাক্ষরে কিছু টের পাই -তা হ'লে আমি গলায় দড়ি দেব। হল। সৰ্ব্বনাশ! সর্বনাশ! আমি বেঁচে থাকতে অমন কাজ করিসনে ; তা হলে আমি একেবারে মারা যাব। দেখনা~-ভূগে দেখা, তখন কেমন মজাটা টের পাৰে। হল। ওরে তখন টের পাব কি ?—যা সর্বনাশ হবে এখনি তা যেন চখে দেখতে পাচ্ছি; পাহারা ওয়ালা আসবে, .

কৃপণস্য খনং।
জমাদার, আসবে, মুচোড় দিয়ে কত আদায় করবে তা
কে জানে ? তার পর কলিকাতায় বাঁশে বাঁধবার
রেওয়াজ নেই-খাট কিনতে ন’ দশ আনা লাগবে ;.
সে আবার এখানে নয়, এখান থেকে মেটক্যাল কলেজ,
সেখান থেকে নিমতলা ; বৈষ্ণব বেটার বিস্তর হবে,
ঘাটে আবার তিন টাকা সাড়ে সাত আনা-
ও জলপ্পেয়ে বুড়ো, আমি ম'লে তােমার দুঃখ হবে না?
খাট কিনতে পােড়াতে খরচ হবে, সেই সর্বনাশ হৰে
বলে ভাবছাে ?
হল। হুঁ হুঁ আমি মলে যা হয় করি, তখন বেওয়ারিস লাস
বলে কোম্পানীর ঘাড়ে পড়বি, আমার খরচ বেঁচে
যাবে।
দয়া। বটে? যদিও না দিতুম গলায় দড়ি, তােমায় খরচ
করাবো বলে আর ও দেবই দেব। ( প্রস্থান)
হল। ওরে হাবা দেখ দেখ গলায় দড়ি দিতে বেটা - গলায় দড়ি
দিতে ( গলায় দড়ি দিয়া দোল বার ইঙ্গিত।
হাবা। হিঃ হিঃ হিঃ হিঃ হি করতালি হাস্য ও তােপ করণ)।
হল। যা বেটা যা যা-দড়ি ফড়ি থাকে তো লুকিয়ে ফেল।
হাৰা। অ অ অ ।।
( প্রস্থান)
হল। দড়িই বা ঘরে কোথা যে গলায় দেবে।
( সন্ন্যাসীবেশে মধুখুড়াের পুনঃ প্রবেশ)
মধু। ব্যোম বৈদ্যনাথ ভোলানাথ কাশীশ্বর বিশ্বেশ্বর।
কেরে বেটা-কেরে বেটা জোচ্চোর ?—একেবারে যে
ঘরের ভিতর ।

ক পণস্য ধনং। মধু। তেরি নাম হলধর হালদার ? হল। আমার যা খুসী নাম হক না, তো বেটার কি? মধু। কুছ নেই বাবা কুছ নেই- হল। বেটা ভিক্ষে ক’ত্তে এসেছ—ভিক্ষে ক’ত্তে এসেছ? জানিসনি আমার কাল অশৌচ হয়েছে, এই দেখ বেটা কাছা স্থান ত্যাগ ক'রে গলায় উঠেছে। নেই বাবা কুছ নেই মাতা-তেমকা কুছ দেয়েঙ্গে। হল। দেয়েঙ্গে কি বাবা? বাঙ্গালা করে বল~~-কিছু দেবে। মধু। স্থা বেটা, তেরি ভাগ বড়। ভালা হয়, এক যাগ করতে করতে থোড়া সােণা বনগিয়া থ], আবি হুকুম ছয়। তোমাকে দেনে- হল। হুকুম হুয়াকেয়া হুকুম । বাবা? বাবাকে,—অউর কিস্কে ? ইচ্ছা থা গঙ্গ জীমে ভালদি, পরন্তু অন হুয়া, সে{ণ লেকর হল ধর হালদারকে। দে আও, তুতো হলধর হালদার ? হল। ও বাবা, আমার চোদ্দ পুরুষ হলধর হালদার। মধু। লে লে বেট। লে লে~~ (স্বর্ণ প্রদান ) হল। এ সােণা! দেখি কষ্টি পাথরে একটু করে দেখি। ( প্রস্থান) মধু। মন্মথ এখনও বুঝতে পাচ্ছে না তার কাজ আমি কত এগুচ্ছি; আচ্ছা বাবা তোর ক’নে আমি তোকে জুটিয়ে দিচ্ছি, গাজার খরচটা কিন্তু দিস ; দিন আটটা পয়সা বইত নয়? এ যদি না পারিস বাবা-(হলধরের প্রবেশ) হল। বাবা দেখ দেখ ঠিক সােণা হায়, কষ্টি পাথরমে ঘস। হায়

(কৃপণস্য হন।
ঠিক মিলে গেছে হায়, একুশ টাকার দর, বাবা কঁহালে
হয়? হামকো এই ভেষীটা শিখায়ে দাও, তােমৰুে
হামহাম-হাম--
মধু। হাম হাম করতা হাম কেয়া?
ল। হাম তুমকো, তুমকো হামহাম তুমকো, তুমকো হা
মধু। ক কুচ দেওগে?
হল। বাবা আমি গরিব নাবালক ব্যাচারা হায়, কোথা কি
লাগা যে লেগা হায়! অামার গিন্নী-ইস্তিরি-মাগুরা
গলায় দড়ি দিয়া মরগিয়া, এই দেখ আমার কাচা গলায়
হয়, ভাড়ার কো চাবি উসকা কাছে, নেইতাে একমুঠো
চাল দিতে পারত।
মধু। কা হাম তুমকো সেণা করনে শিখায়েঙ্গে-আউর তুম
এক মুঠি চাউল বি নেহি দেগা?
কি করেগা? ভাড়ারকে চাবি লেকে ইস্তিরি লােক গলায়
দড়ি দিয়া! হাঁ বাবা সত্যি বােলাে, তুমি সােণা করতে
পারতা হায় ?
মধু। ক। তুম বিশ্বাস করত নেই ?আবি সব ভন্ম কর দেখা।
হল। ই। বাবা তুমি ভস্ম কত্তেও পারতা? তা হলে আমার
অ'র একটু উপকার করনা বাবা; হামার ভাগ্নী হায়,
পনর বছরকা মাদী-বিয়ে নেই হােতা, ওকে ভস্ম করে
দিতে পার বাবা? তা হলে আমার অনেক টাকা
বজায় থেকে যাগা ; পােড়াবার খরচ পৰ্যন্ত লাগেগা
নেই।
মধু। আরে পাপীয়া
আরে পায়া কেয়া বােলতা-

কৃপণস্য ধনং-
মধু।
হল। রাগ ক'লে বাবা? ঘাট হয় বাবা ঘাট হয়, কমে দেও
বেটীকো;-মাকে সােণা কয়ে দাও।
• লে আও কুছ চাদী—এক চৌয়ানী-
হল। সিকি ?-বাবা গাঠে বাঁধাই আছে, কলুরা সুদ দিয়ে
গিয়েছিল তুলিনি এখন। (চাদি দেখান )
মধু। আচ্ছা হাত বন্ধ কর—কেঁও উড়ায় দে?
হল। সেকি বাবা আমার সব ডানা কাটা পয়সা, তুমি উড়িয়ে
দেবে কি ?-সােণা করে দাও।
এ্যাঃ তেরা বড়ি লালচ, ব্রিং ব্রিং ঢিং ব্রিং ঢিং খ্রিঃ
ফুট ফাট ফটাস-বস দেখে খুলকে।
হল। এ এ তুমি কে বাবা তুমি কে বাবা ? কি ঠেকালে
বাবা ?-সিকিট গিনি হয়ে গেল ! এ কি পরেশ পাথর
মধু।
যায় ?
হা।
মধু।
তবে বাবা একবার আমায় দাওনা বাবা, যা দু একটা
পয়সা ঘরে আছে সব ঠেকিয়ে ঠুকিয়ে নিই-লােহার
সিন্দুকটাতেই ঠেকিয়ে নেব এখন।
মধু। তােমার হাতমে হােগা নেই।
হল। কেন ?
মধু। পহেলা তােমার অশৌচ হয়, ফের
হল। মিছে কথা বাবা-মিছে কথা, এন্মে কথা আমার
অশৌচ হুয়া নেই; ইস্তিরিক। কৈ মাছকা প্রাণ-কি
মরবার গ। তবে পেটমে কাড়ি কাড়ি দেগা কে ?
বাড়ীর ভিতর জম জ্যান্তু ব'সে হয় ; এ মিছে কাছা,

কৃপণস্য ধনং।
মিছি মিছি সব জোচ্চোর ভিখারী আক্তাগাড়ায়
জন্যে একটা কাছা কোমরে জড়ায়ে রাখা।
মধু। কেয়া তোম ৰুটা আদমী? তব হাম চলে। (প্রস্থাশােদ্যত)
ও বাবা যেওনা বাবা, তোমার অপগও সস্তানকা
পাথরঠে। দেগা বাবা?
মধু। বিনা পুণ্য করনেসে পরশমণি মিসতা হয় ?
হল। আমি বড় পুণ্য করি বাবা বড় পুণ্য করি, এক বেলা
বই খাতা নেই ; দেখ পরম বৈষ্ণব--কাছ ধুচ গিয়া।
মধু।
ও নেহি ও নেহি ; দান, যাগ, হােম করনে হোগা।
হল। তা কি করবে বাবা-—এইখানেই হােম টোম করনা বাবা, ,
আমি চুপি চুপি গিয়ে কলুদের বেড়াথেকে খানকয়েক
ঘুটে লুকিয়ে খুলে অানি।
মধু। হিয়া নেই, শ্মশানমে হােম হােগা।
হল। আমার বাড়ীও অনেকটা শ্মশানেরই মত, একবার দেখা
সদ্য ফল ফলবে এখন।
মধু। নেই নেই কালীঘাটকো শ্মশানমে হোম করনে হােগা,
আউর দান কেয়া করোগে ?
দান-দান? সে কাকে বলে বাবা ? বাজারে যেমন
ফড়েদের কাছে তোলা তােলেদান নেয়, একি সেই
দান বাবা?
মধু। দানক।
দানকা নামভি জানতা নেই?-হাম অযোধ্যায়ে
একতালা ও, আউর ধরমশালা, ঠাকুরজীকে দেনেকে
মান
মানসুকিয়া ; উসমে দশ হাজার রূপেয়। খরচ পড়েগা,
যে অহি দেগা উসকো পরশমণি দেয়েঙ্গে।

কৃপণস্য ধন।
কত বলে? দশ হাজার
মধু। হাঁ হাঁ ভুলুবাবু আট হাজার দেনে মাঙ্গা, হাম উসকে
কস বেলকে চলে আয়েগা।
হল। * হাজার ?
মধুআরে বেকুব এক এক ঘন্টেমে হাজার হাজার মােন
হােগা লােণেক পাহাড় বানায়কে উসকা উপর পড়ে
রহোল্প, খালি বহুজায়সে পুরাণ। লােহা লেয়া,
পাখরসে মিলাও, সােণেকি চার, শােনেকি কড়ি,
সােনেকিজিঞ্জির--
হল। দেখ বাবা আর বলােনা আর বলনা, আমায় মুণ্ড ঘুরে
যতা হয়। লােভ সামলাতে পারতা নেই;-উঃ সােণার
পাহাড়! ওরে মন আমার, দেরে দেরে ঐ কুন্তলার দশ
হাজার দেরে ;-ওরে সিন্দুক। ভয় নেই ভাই, ভয় নেই
ভাই, পাথর পেলেই তােকে হাজার পার্শেন্টো সুদ সুদ্ধ
ফিরিয়ে দেব ; দেখে বাবা সন্ন্যাসী ঠাকুর, টাকাগুলি
শরীরের বুকের গোরক্ত খােয়াবনাত? আমি শুনেছি
কোন কোন সন্ন্যাসীর জু% রিও করে।
মধু। কেয়া-আ-(ক্রোধে প্রনােদ্যত )
ও বাবা যাও যে—যা যে? নানা আমি দেখা।
মেহি মাংতা-
হল। ও বাবা এই পা জড়াইয়া পতন )
মধু। হাম জুয়াচোর,-হামকো মৎ ছোঁও।
হল। অপরাধ নিওনা বাবা অপরাধ নিওনা, আমি টাকা দে।
নেহি মাংভা।
মধু।
মধু।

৬২
কৃপণস্য ধন।
।।
হল। এখুনি দিচ্ছি।
মধু। তেরা রূপেষা হাম ছেয়েগা নেই, হামকো যানে দেও।
হল। ঘাট হয়েছে স্থায়, ঘাট হয়েছে হায়।
মধু। ছােড় দেও পা।
আমার গলায় পা দাও, মেরে ফেল।
মধু। আচ্ছা এক পয়ার মে খাড়া রহাে, হাম ধ্যান করকে
দেখে, তােমার রূপেয়া লেগা কি নেহি ? ..
হল। ক্রোধ সম্বরণ হয় বাবা ? এই আমি এক পায়ে দাড়া
হয় (মধুর ধ্যানস্থ হওন ও হলধর একপদে দণ্ডায়মান
হন)।
মধু। রূপেয়া লে আও; কাল রাত ঠিক বারা বাজে কালী-
ঘাটকো শ্মশানমে যাও, হয় তুমকো পাখর আউর মন্ত
দে দেগা, যাও রূপেয়া লেয়াও।
হল।
কাল দেবে—আজ না? টাকা—টাকা-টা কালকে
তখনি দিলে--
বদব। (প্রস্থাােেদ্যত )
ও বাবা ও বাবা, আবার রাগলে ? চোরকুঠারিতে জাও।
(গৃহাভ্যন্তরে উভয়ের প্রস্থান)।
মধু।

কৃপণস্য ধনং।
দ্বিতীয় গর্ভা।
রাজপথ।
মন্মথ ও ইচ্ছে।
ময়।
ইচ্ছে।
সত্য বলছি—আমি এই তােমার বাড়ী থেকে খুঁজে
আসছি, খুড়াে কোথা? সেই যে তর সকালে একশ’
টাকা নিয়ে এলো, তারপর আর দেখাটা নেই ;
কি ক'লে ?
আহা ৰাছা টাকা কটী তােমার গেছে, সুবিধে মত
পেলে—আমার অনেক দিনের সাধ ছিল, তাই আমার
জন্য এক টী দেশী মুক্তার নােলক কিনে ফেলেছে।
ইচ্ছে দিদি তামাসা করেন, মােলক পাবার সাধ
হয়ে থাকে-আমার মনস্কামনা সিদ্ধ হলে তােমায়
তাই দেব; এখন আমার কাজ কতদূর এগুল জানতাে
যন্ম।
বল।
ইছে।
মন্স।
ইচ্ছে।
কাজ বা’তো তােমার খুড়াের মুখে তো শুনেছি
ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ !
ছি ইচ্ছে দিদি তুমি রাগ কল্লে?
রাগ কিসের ভাই ? মোদ্দাৎ তােমার যে এ স্বভাব তা
আমি জানতাম না ; ফষ্টি নষ্টি করে বেড়া—কিন্তু
আসলে খটী ছিলে, আমার জ্ঞান ছিল। .
এখন কিসে আমায় অখ।টী দেখলে?
ময়।

কৃপণস্য ধনং।
ইচ্ছে। আবার কি দেখতে হয় তুমি ভদ্র লােকের বাড়ীর
মেয়ে বার করবার মলব কচ্ছ?
মম। ছি ছি ইচ্ছেদিদি তুমি তা ব'লােনা, আমাদের এ
পবিত্র প্রণয়।
ইচ্ছে। হ্যাগাে হা তা আমি জানি, তােমাদের ইংরেজী
পড়লেই পবিত্র প্রণয়--গােলটা নেই; আর আমাদের
সেকেলে ধরণ হলেই কেলেঙ্কারির ঢাক বাজে। ভাল
যা হক, খুব পড়া পড়াতে গিয়েছিলে! পড়ুনি মেয়ের
পায়েও গড় করি।
মম। আচ্ছা ও সব কথা আমি তােমায় বুঝিয়ে দেব, এখন
কি হল—জানত বল ?
ইচ্ছে। আমি দাদা কিছুই জানিনে, তোমার খুড়াের সঙ্গে
কখন দেখা হয়, তখন জিজ্ঞেস করে।
মম।
ধুড়ে কোথায় ?
ইচ্ছে। কে জানে কোথায় শ্মশানে মনে পড়ে আছে ; আজ
তিন দিন হলো সন্ন্যাসী হয়ে বেরিয়ে গেছে।
( প্রস্থানােত)
মন্ম। কোথা চলে-ও ইচ্ছেদিদি ?
ইচ্ছে। আবার পেছু ডাকে।
মন।
বলি যাচ্ছ কোথায় ?
ইচ্ছে। পাপ মুখে বলতে নেই—কালীঘাটে। (স্থান)
না। কি গেরোয় পড়লুম গা? কুলাকে একপ্রকার আশ্বাস
দিয়ে এসেছি, এক গলাখোরের পাল্লায় পড়ে কি
সৰ মাটী হ’ল ! খুব ধীৰাজ দেখেই ধ’রুম, মনে কমে

কৃপণ্য ধনং।
ও নিশ্চম পারে; এই যে ৰীবাবু কাছথেকে তার
ভাইপের বিষয় কি করে আদায় করেন। আদালতে
যেতে হ’লনা-কিছুনা অবশ্য একটা মৎসবে আছে,
কিছু ক’চ্ছে ; ওর যে মেজাজ পাওয়া ভার, খুলে
কিছু বলবে না। দূর হ'কৃগে ভাবতে আর পারিনে ;-
দেশ ছেড়ে বাড়ী ছেড়ে কি কচ্ছি দেখনা তা বেশ
বাড়ী নিয়েই বা কি করব? মধুখুড়াে কিছু না ক'তে
পারে একবার শেষ কুন্তলার পায়ে ধরে সব বলবো,
সে আমার না হয়—সব চুলােয় দিয়ে, যা কিছু আছে
নিয়ে বিলেত ফিলেত ঘুরে বেড়াব।
(মধুপুড়াের প্রবেশ)।
মধু। হেউ হা-হা-হা-
কেও কেও খুড়ো-বুড়াে ? আমি তোমায় কত খুজেছি ;
তুমি নাকি সন্ন্যাসী হয়ে গেছ? ইচ্ছেদিদি যে বল্পে ।
মধু। তফাৎ তফাৎ—নবাব খাঁজেহেখ। সাল সেলেমুদ্দৌলা
মধুচন্দ্র রায় রাজা রাণা বাহাদুর C.S.I. A.B.C.D.E.2.
চলতা স্থায়।
মন্ম। খুড়াে কি বহেশােনন।
মধু। হরকরা, হাসে কোন বাত করতা স্থায় ?
ম। তামাসা রাধ-তামাসা রাখ খুড়ো, একটা কথা বলি
শােন।
মধু। এই চৌধুড়ী লেয়াও চৌধুড়ী লেয়াও, হাম কঁাড়াতে
পায়তা নেই।

কৃপণ্য ধনং।
৫
মন্ম। খুড়াে আজ বুঝি খুব নেশা করেছ ?-অামায় চিনতে
পাচ্ছনা ?
মধু। তোম' কোন হায় ?
মন্ম। আমি মন্মথ ।
মধু। আরে মন্মথ তা জানি, কিন্তু আমি তােমায় চেনবারু কি
ধার ধারি ; আমার বাপের নাম রাণী রাসমণি, হগলীর
পােলের নাতী, মনুমেন্টের প্রপৌত্র, তােমায় চিনব কেহে
তুমি ছুঁচো বেটা মন্মথ ? মন্মথ-মন্মথ, তা কার কি কলা?
মন্ম। খুড়াে ঠাট্টা ক’চ্ছ না কি ক’চ্ছ কিছুতো বুঝতে পাচ্ছিনে।
মধু। বাবা দশ হাজার টাকা সদা সর্বদা টাকে ফেরে, ,
নবাব মধুখুড়ো উল্ল। রায় বাহাদুর যার তার সঙ্গে বড়
ঠাট্টা করে না।
খুব যা হক, একটা কাজের ভার নিলে, তারপর যাচ্ছে-
তাই নেশা করে বেড়াচ্ছ।
মধু। জলদী জলদী গাড়ী তৈয়ার কর-জলদী।
মন্ম। আমি যা জিজ্ঞাসা ক’ব্লুম তার উত্তর দিলে না, খালি
রাত মাতলামী ক’ত্তে লাগলে ?
মধু। বেয়াদব বাত নেই শুনতা?—সােয়ারী—সােয়ারী, ঠিক
এগার বাজে হাম গাড়ী মাতা; ভালাজুড়ী।
বেশ ক'রে ছ—আমার যেমন বুদ্ধি এক গেজেল ধরেছিলুম
তার উপযুক্ত ফল হয়েছে; যা ইচ্ছে তাই করগে আমি
চলুম।
মধু। খবরদার খাড়ারহ ওঃ বুঝেছি, খালি মেয়েশ খেয়ে
স্মরণশক্তি বাড়িয়ে একজামিন গুলােতে পাশ হয়ে ছ !
মন্ম।

কৃপণস্য ধনং।
বিদ্যেসাধ্যি কিছুই হয়নি, একটা কথার হিয়ালী বুঝতে
পারনা? লেও হাত বিস্তার করতে পাত দশ হাজার
রপেয়াকা নােট লেও,
গুনতি কর—ঠিক দেখে,
খাতাঞ্জীকা পাশ জমা দেও।
মন্ম একি সত্যি সত্যি যে হাজার টাকা করে দশ কেতা
নৈট!—এ কিসের টাকা কোথায় পেলে?
মধু। খাজনা আয়-খাজনা আয়-
মন্ম। না খুড়ে তামাসা রাখ-বাংলা করে বল, অামার মন বড়
ধুকপুক কচ্ছে।
মধু। বাবা পোড়া মাষ্টারে মিল,
সােজায় কি লাগে খিল ।
একটু ধুকপুক করুক না ।
মন্ম। খুড়ো, একি কুন্তলার টাকা—আদায় করেছ?
মধু। তুমিতো ভারী বেয়াদব, একটা নবাব সুবে। লোক
দেখছো, না চাইতে দশ হাজার ঝেড়েদিলে; আর বলছ
আদায় করেছ, একি বিলসরকার পেয়েছ ?
মন্ম। খুড়ো তুমি বুঝনা, যদি কুন্তলার টাকা আদায় কত্তে
পেরে থাক তা হলে তুমি আমার বাপের কাজ করেছ।
মধু। থ্যাঙ্ক ইউ জেন্টেলম্যান! ঝ। এক গ্রেড প্রমােশন দিয়ে
দিলে ; ছিলুম খুড়ো-হলুম বাবা; নাও নাও রাত্রি
এগারটার সময় খিড়কির দরজায় একখানা ভালগাড়ী
হাজির থাকে, হল ধর—দুও এটার, নাম ওই হালদারে
বেটাকে আটকে রাখা যাবে এখন, তুমি সেই সুযােগে
কুন্তলাকে বুসুমে ক'রে ক্যারাঝি যোগে দমদমা তক্‌,

কৃপণ্য ধনং।
।
পরে রেলযােগে নৈহাট, মােকামে যাত্রা করছ—হুকুম
মধুলাল রসীদ—অর্থাৎ বিনা মসীদে মধুখুড়াের জল
টাকা নেওয়া।
মা। বুড়ো, তুমি আমায় জন্মের মত কিনলে?
মধু। কিনলুম বটে বাবা, কিন্তু আপনি চ'রে খেও, একটু
একটু দুধ আমায় দিও।
মন্ম। কি করে বাগালে খুড়ো?
মধু। সে করা গেছে এক রকম, কিন্তু বেবাক থ্যাঙ্ক ইউশুলো
আমায় দিওনা-কুড়াখানেক তােমার ইচ্ছেদিদি জন্তু
রেখাে, সে যদি অমন ব্রজমােহনের বাড়ীর কেলেবার
নাপ্তিনী না সাজতে তা হ'লে অর্ধেক কাজ হতাে না।
মন্ম। তােমার জিনিষ গুলো পেয়েছ।
মধু। রসসা বাবা-এখন আঁকড়ে আছে; বিস্তর কাজ বাকি,
দক্ষিণান্ত হয়ে গেলে সব তোমায় খুলে বলব।
পেছু ডেকনা চঞ্জু।
( প্রস্থান)
মন্ম। আরতাে কুন্তলার কোন ওজোর নেই, এতদিনে আমার
মনস্কামনা পূর্ণ হ’লচল চল—এইবার বাড়ীতে গে বসব;
বিষয় আশয় নরােত্তম দাদা দেখবে, আমি আমি আপনি
পড়বাে-কুন্তলাকে পড়াবে-ঘরে বসে রাত দিন চখে
চখে-মুখে মুখেবুকে বুকে থাকবে, আড়াল হব না
আড়াল করবনা। গাড়ী ঠিক করেই কুম্ভলার, বাড়ী।
( প্রস্থান)।
এখন

কৃপণস্য খনং। তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। কুন্তলার কক্ষ। কুন্তলা। কুম্ভ পুস্তক পাঠ করিতে করিতে ) আমার পূরাণী সােণামণি জয়ত কোলে ভাই। বুকে ধুয়ে মুখখানি তাের সদাই দেখতে চাই। অমন মধুর মুখে মধুর হাসি কোথায় আছে কার ? ঠা মামা ঢেলে গেছে আধা যত তার। যমন নরম নরম বাধাে বাধাে আধ কথা গুলি। কোথা থেকে শিখে এলি ৰ'নটী বল শুনি। তােরে দেখলে পরে হরষ ভরে হৃদয় ভেসে যায়। রাখি তােরে বুকে ক'রে আয়ুরে খুকু আয় । বই পড়া-খেলেনার পুতুলেরই আদর করা, সাধত মেটাতে হবে, আমার এতেই সাধ মিটুক, আসলেতে কিছু হবে না। ছেলে বেলায় রূপ কথায় শুনেছিলেম বাঘ- মামা, তা আমার সত্যিই হয়েছে বাঘমামা; মন্মথ-- ছিছি মাষ্টার মশাই যাই বলুন, আমার এই বইখানি বেশ ভাল লাগে ; নামটাও যেমনিবইটাও তেমনি ; গল্প সল্প; কি মিষ্টি নাম। মাষ্টার মশায়ের সঙ্গে আজ ঝগড়া করব, আমায় এমনতর লিখতে শেখায় না কেন? মেয়ে মানুষ যদি লেখাপড়া শেখে, যেন স্বর্ণকুমারীর মতই শেখে দে দেখি কেমন লিখেছেন, যেখানটা পড়ি সেই ;

কৃপণস্য ধনং।
;
খানটাই মিষ্টি ; আর মিষ্টি। যার অদৃষ্টে বিষেরবৃষ্টি সৃষ্টির
সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তার কাছে আবার কি মিষ্টি-“মন্মথ”?
মাষ্টার মশাইয়ের তাে আজ খবরই নেই; ইউনি
আবার মামার কাছথেকে টাকা আদায় করবেন। আমার
সামনেই যার মুখতুলে কথা কইতে পারেন না-মামার
মুখের কাছে ফরে আসবেন; যাকগে,আশা কর্পে কেবল
নৈরাশ্যের যাতনা বাড়ে বইতো নয়, নই বা হলাে
বিয়ে, নাই বা হলে ঘর সংসার ; সাহেবদের ভিততে।
বিস্তর মেয়ে চিরকুমারী থাকেন, আমিও না হয় তাই
থাকবে। তাদের ভিতর অনেকে ধৰ্ম্মকর্মে জীবন কাটান।
বেশ-আমিও কাশী গিয়ে বাস করবে।
গীত।
(আমার) শুখিয়ে গেল ফুলের হাসি
ঠোটের হাসি হলাে বাসী
হৃদে বাশী আর বাজেনা
ব্যথা বাজেনা অসাড় প্রাণে আল্লা কাসী।
নিভে গেল চাদের আলাে
ঊষার আলাে চ’খে কালাে
হৃদে কালাে মেঘ এলাে ছেয়ে ঘন রাশি রাশি।
দুঃখরাশি সহিব না আর হব গিয়ে কাশীবাসী।
নপথ্যে মন্ম। কুলকুল

কৃপণস্য ধন। ৭১ কুম্ভ। এই যে “অকালে উদয়কা নবনীরধর”, ভারি ব্যর্থ যে, স্ব আহলাদ— মন্ম। ( প্রবেশ) কুন্তল-কুন্তল- কুন্ত। মাষ্টার মশাই নাকি ? মন্ম কুন্তল-কুন্তল- কুন্ত। বাড়ীতে নেইগো, এখন দেখা হবে না। মন্ম। এই যে আমার কুন্তল !—এই নাও তােমার টাকা আদায় করেছি, আমার কুন্তল দশ হাজার টাকা গুনে নাও। আমার মাষ্টার মশাই, এই নাও তােমার কুন্তল দাড়িয়ে তুমি কিনে নিয়েছ—আদর করে বুকে নাও। মন্ম। কুন্তলা-কুন্তলা | কুন্ত। তােমার চীনের জুতাের সুকতলা- মন্ম। সত্য আমার কুন্তল কে পাব? { কুত। কেন টাকায় কিছু জালটাল করেছ নাকি—যে আমায় তাই ঠাওরাচ্ছ ? মন্ম। কুন্তল! বিস্তর ফিকিরে মধুখুড়ে তােমার এই টাকা আদায় করেছে, মধুখুড়োর জন্য তোমায় পেলুম। কুক্ত। আচ্ছা ভঁকে আমার “থ্যাঙ্ক ইউ নাকি বল তােমরা তাই দিও। এখন তবে চল, গাড়ী দাড়িয়ে। কুম্ভ। সেকি-এর মধ্যে—হঠাৎ মন্ম। ছিছিকুন্তল, এখন আবার কি কথা, তুমি না বলেছিলে টাকা আদায় হলে তােমার আর কোন আপত্তি থাকৰে মম।

৭২
কৃপণস্য ধনং।
(
না, যা বলব তাই করবে; আমার সঙ্গে চল, এম বিবাহ
ক'রে দুজনে পরম সুখে থাকি।
কু। সে কখন হবে? আর এমনি ভাবে গেলে লোকে কি
বলবে ? তােমার আপনার লােকেরাই বা কি মনে
করবেন।
মগ্ন। কুন্তল ! তােমার লজ্জা সম্বরণের প্রতি আমার কি কিছু
মাত্র দৃষ্টি নাই? আমায় কি তুমি বিশ্বাস কর না? অতি
নিকটে খুব ভাল স্থানে আমাদের বিবাহের সমস্ত উদ্যােগ
হয়ে আছে, তুমি এলেই দুটা হৃদয় এক হবে, গাড়ী
দাড়িয়ে তােমার মামা এই বেলা বাড়ী নেই, চল।
কুন্ত। এই জিনিস পত্র সব ফেলে যার?
ময়। তােমার কিছুর অভাব থাকবে না আমি সব দেব ; দেখ,
আমার কেমন বৈঠকখানা সাজান।
কুন্ত। কিন্তু আমি বাড়ীর গিন্নি হব,তুমি অামার ভাবে থাকবে ।
মন্ম। সে কথা আবার বলছে কুন্তল। এই দেখ আমি
তােমার পা ছুয়ে বলছি। (পদতলে পতন)
নেপথ্যে দয়া। কুন্তীও কুন্তী
কুক্ত। উঠ, উঠ, মামী—-মামী-
মন্ম। তাইতো পড় পড়, ঐ বইখানাই নাওনা।
কুত। (পুস্তক পাঠ)
“অরুণ মুকুট শিরে, অথরে ঊষার হাসি।
পদতলে ফুটে উঠে, শত শত ফুলরাশি।
ও পরিমল বাসে, উথলিত তনুখানি।
যুরায় চরণ দান, করিছে প্রভাত রাণ।”
-

কৃপণস্য ধনং ।
৭৩
দয়া। ঘঁালা কুন্তী ?
কুম্ভ। মাষ্টার মশাই শুভ্র পরিমল কি?—সাদা গন্ধ ?
মন্ম। ওটা কি জানেন শুভ্র পরিমল—অর্থাৎ কিনা---
কুন্ত। গন্ধটা ধপধপে ?
দয়া কুন্তী শুনতে পাচ্ছিসনে ?~-বই রাখ।
কুন্ত। মামী একটু থাম, গন্ধর বুঝি আবার রং আছে ?
তা নয়, তা নয়, তবে কিনা বেশ (Chaste Smell )
|
মন্ম
চেষ্ট স্মেল।
কুন্ত। সব বুঝলুম।
দয়া। ও মাষ্টার কত্ত কোথায় গেল? এত রাত হলো–এলনা,
তুমি ও এখনও বাড়ী যাওনি।
মন্ম। কি জানি এখনই অাসবেন, যাবেন আর কোথা?
দয়া। না না সেই নাপ্তে মিনষের সঙ্গে কি পরামর্শ কচ্ছিল ?
কুন্ত। মামী ওসব কি কথা? তুমি ঘরে যাও, এখনি আসবেন,
কোথায় বেড়াতে গেছেন।
না আমার ভাল বােধ হচ্ছে না--আমি বার বাড়ীটা
একবার দেখে আসি।
কুন্ত। টাকা কি করে আদায় কল্লে ?
মন্ম। সে ঢের কথা পরে শুনবে, এখন চল ;-কুন্তল ! যদি
তুমি আমায় ভালবাস
কুন্ত। যদি ?-বটে ?—বে আমি যাবনা, কাশী চলে যাই।
মন্ম। না না কুন্তল, তুমি আমায় ভালবাস, বাস আমি জানি;
কুন্তল, আর বিলম্ব করােনা শীঘ্র এস, আবার হয়তো
তােমার মামী এসে পড়বেন।
.

৭৪
কৃপণস্য ধনং।
দেখ নাথ-বিয়ের আগে বরকে নাথ বলতে জাছে গা?
মন্ম। আছে—আছে, সব আছে, তুমি যা বলবে সব আছে।
কুন্ত। তবে নাথ এই পথের ফুল কুড়িয়ে নাও;-মা যাকে তার
কুন্তলকে দিয়ে গেছেন, কুন্তল তারই হবে; কিন্তু এর পরে
পায়ে ঠেলবেনাতো ?
মন্ম। পায়ে ঠেলবাে ?--পায়ে পড়ে থাকবে; আজ চার
বৎসর তুমি আমার ইষ্টমন্ত্র হয়ে আছ তা জান ? ও
সুইট হার্ট! সুইট হার্ট ! (Oh Sweet Heart, Sweet
Heart.)
কুম্ভ। ওকি গাল দিচ্ছ নাকি ? ইংরিজী করে কি বল্লে, ওর
মানে কি?
মন্ম । সুইট হার্ট কিনা মিষ্ট হৃদয়, সাদা কথায় মিঠে প্রাণও
বলা যায়।
ও মিঠে প্রাণ—যেমন গােলাপী খিলি ?
মম্ম ।
চল বাড়ী যাই, তারপর যত পার ঠাট্টা করে; গহনা
টহন যা পরে আছ এখন তাই থাক, বিবাহের পর
তােমার এখানে আর যা কিছু আছে, তা আইনগত
আদায় করবার আমার অধিকার হবে।
তার জন্য ভাবছিনি-কিন্তু কিন্তু
মন্ম। আবার কিন্তু কি ?----এখনাে কি অবিশ্বাস করছো ?
কুন্তল--প্রাণের কুন্তল!
কুন্ত। কেন করবো না? ছিলে মাষ্টার—হচ্ছে। বর, এ সব
জোচ্চ রি না?
নেপথ্যে ( শীস দেওয়া )

কৃপণস্য ধনং।
মন্ম। আর দেরী নয় আর দেরী নয়—চল, তুমি যাবেন।
আমার সঙ্গে ?
কুন্ত। তােমার সঙ্গে যাবনতে কার সঙ্গে যাব ? আমার আর
কে আছে ? মা আমাকে তােমায় সমর্পণ করে গেছেন ;
মাষ্টার হয়ে এসে তুমি নিজে আমার মন কেড়ে নিয়েছ,
এ সংসারে কি তােমাছাড়া আমি সুখী হতে পারি ?
তােমায় আমি এত দিন বলিনি, কিন্তু যে দিন তােমায়
প্রথমে দেখিছি, সেই দিনই আমি তােমায় চিনিছি ; সম্বন্ধ
হবার পর নৈহাটীতে আমি লুকিয়ে তােমায় দেখেছিলুম,
তুমি তা জানতেন ; যেথায় বল যাব, চল—কিন্তু এই
অনুরাগ যেন বরাবর থাকে।
মন্ম। দুষ্ট !–এতদিন এ সকল কথা লুকিয়ে রেখে আমায়
পুড়িয়েছ ? এস—এই যে হৃদয়ে নিলুম, চিতায় এর
বিচ্ছেদ হবে।
কুন্ত। এই ঘরে ছিলুম-এই সাজ সজ্জা—চার বৎসর আজ
তােদের কাছে বিদায় নিলুম ; চল নাথ।
আমার প্রাণের প্রাণ এস।
(উভয়ের প্রস্থান )
মন্ম।
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক ।
উঠান।
দয়া ও ইচ্ছা।
দয়া। বলিস কি—এলো বলিস কি ? জাত গেল, কুল গেল, ধৰ্ম্ম
গেল, লজ্জ। গেল।

৭৬
কৃপণস্য ধনং।
ইচ্ছে। মা, আপনার লােক-যত্ন কর ভালবাস, তাই বলতে
এলুম ; নইলে কি এ কথা বলতে হয় ?
দয়া। এ পালিয়ে গেল, মাষ্টারটার সঙ্গে পালিয়ে গেল, কুলে
কালি পড়লো। আমরা মেয়ে মানুষ, টাকা জমে তা
আমাদেরও এ ইচ্ছে, কিন্তু একি কিপটেরে বাপু পেটে
খাবেনা, মেয়ের বে দেবে না।
ইচ্ছে। হামা, কত্তা কি তােমার কথাও শােনেন না ? তুমি বলে
কয়ে কি ধৰ্মকৰ্ম্ম করাতে পার না?
দয়া। ওরে বাছা আমার কথা শুনলে আর ভাবনা ছিল কি ?
ছি! ছি! ছি
ইচ্ছে। তা মা আমি চড়ুম, আর কি করি? বাড়ীতে দুটো
ভাড়াটে থাকে, মা খুড়ী বলে ডাকে, তাদের তো যত্ন
ক’ত্তে হবে—চলুম।
( প্রস্থান)
দয়া। ইচ্ছে মাগীততা পাড়া জাগানে, এখনই এ কথা হাটে
বাজারে রাষ্ট্র হবে। ছি ছি ছি কি কলঙ্ক ! কি কলঙ্ক !
(পুরােহিতের প্রবেশ)
পূরে।। এই যে মা এখানেই রয়েছেন, আমি সারা বাড়ীটে ঘুরে
এলেম।
দয়া। আপনি যে এখন ?--এত রাত্রে কি কাজ?
পুরাে। আর কাজ বাছা, আমি সব জানি।
দয়া। এা এই কথা—ঘরের কেলেঙ্কার—আপনি সব জান ?
পুরাে। আমার কি অগােচর কিছু আছে? আমি হলেম পুরােহিত,
পুরীর ভেতর যা হয়, আমি হিট করে টেনে বার করি।

কৃপণস্য ধনং।
দয়া। বাবা-বাবা তুমিতাে জেনেছ, আর কাকে ও প্রকাশ
করােনা; আমি বৈশাখী সংক্রান্তিতে তােমায় লুকিয়ে
যত পারি চাল ডাল দেব ।
পুরো। এই চালডাল তুমি যত পার অপহরণ করে, তবে চুরি
টুরি করােনা। আমার পিতাপিতামহগণ তােমাদের বংশ
থেকে অনেক পেয়েছেন : তােমার স্বামী একটু কার্পণ্য
করেন বলেকি আমি বংশপরম্পগত উপকার ভুলে যাব?
দয়। জ্যাঠা ঠাকুর এখনকার উপায় কি ? মিনসের দোষেতে।
বংশে কলঙ্ক রটলো, মেয়েটা ঘর থেকে পালিয়ে গেল ;
এ বদনাম ঢাকবাে কি করে ?
• পুরাে। বাছা, আমি তাই বলতেই এসেছি, কোন চিন্তা করােনা;
ঐ যে তোমাদের মাষ্টার ছিল মন্মথ বাবু, ৪রই ডাক নাম
“ভূবে”; তােমার ননদ ওর সঙ্গে বিয়ে দিতে প্রতিশ্রুত
ছিলেন, সে যােগ্যং যােগেন যুজ্যয়ে হয়েছে ; আমারই
বাটীতে সমস্ত বিবাহের আয়ােজন হয়েছে, কনিষ্ঠ ভায়া
আমার মন্ত্রপাঠ করাচ্ছেন, এতক্ষণ বােধ হয় কাৰ্য্য
সমাধা হ'লো । তােমার মন্মথ খুব জোগাড়ে, তোমার
ভাগ্নীর এক জ্ঞাতিকে আনিয়েছেন, তিনিই সম্প্রদান
ক’চ্ছেন।
দয়া। এা কুন্তীর বিয়ে হয়ে গেল? সে যে বলেছিল তার
মার টাকা না পেলে বিবাহ করবে না; অমনি খামকা
খামকাই এই কাজ ক'লে ?
পুরো। খামকা নয়, বিবাহের দক্ষিণা স্বরূপ আমায় একশত টাকা
প্রদান করেছে ;-আরও একশত টাকা

৭৮ 'কৃপণস্য ধনং। দয়া। একশো!—একশো !–দুশাে টাকা তুমি নিয়েছ? হত- ভাগী বেটী এই গহনা টহনা বেচে বুঝি এই কাজ ক’চ্ছে ?—টাকা গুনাে বরবাদ দিচ্ছে ? পুয়ে। আর এই হাজার টাকার নােট তােমায় দিয়েছে ; বলেছে তার মামা না টের পায়, তুমি তােমার যখন যা খরচ হয় করে। দেয়া। এ'—আমায় হাজার টাকা দাও-দাও-আহা বেঁচে থাক, বেঁচে থাক; কুল আমার প্রাতঃবাক্যে বেঁচে থাক, হাতের নােয়া সিথের সিন্দুর ক্ষয় যেন না হয়। পুরে। তবে বাছা আনি চল্লেম, মােদ্দাত মেজাজ ঠাণ্ডা রেখাে, কর্তা একটা কীর্তি করে আসছে। ( প্রস্থান ) দয়া। কি-কি-সেকি ? মিনসেতো এত রাত্তির অবধি কোথাও থাকে না, বাইরে কোথায় গেল আজ ? নেপথ্যে মধু।—আও, অও, আও? নেপথ্যে হল।—ওরে সর্বনাশ ক'লে, সর্বনাশ ক'ল্লে, তের চোদ্দ হাজার রে, তের চোদ্দ হাজার। দয়া। ঐত তার গলা। ৩ ( চিত্র বিচিত্রিত বৃদন ও গলঙ্গু হলধরকে টানিয়া মধুখুডাের প্রবেশ)। মধু । চুপ চুপ বেটা। হল। ওরে তের চোদ্দ হাজার রে, তের চোদ্দ হাজার। দয়া। ও মুখ পােড়। একি চেহারা ?—কে এমন করে দিলে । উহহ মদের গন্ধ বেরুচ্ছে যে !

কৃপণস্য ধনং।
৭৯
হল। ওরে শালী হারামজাদী, আমার তের চোদ্দ হাজার টাকা
গেল ; তের চোদ্দ হাজার রে! তের চোদ্দ হাজার!
দয়া। গেছে ?বেশ হয়েছে—বেশ শিক্ষা পেয়েছ? কিঞ্জিনের
ধনত অমনি করেই যায় ; আবার মুখে রং দিলে কে ?
মধু। মাসী, ব্রজদাসের বিধবার টোণী হ’তে ইচ্ছে হয়েছিল,
একবাটা নাপতেকে ঘটক করেছিলেন; সে সতী লক্ষী-
তাকে পাবে কেন ?-নাপতে বেটা একটা বাজারে মেয়ে
মানুষ নিয়ে গিয়ে মদ খাইয়ে এই চিত্তির বিচিত্তির করে
গলায় দড়ি লাগিয়ে বেঁধে ফেলে গেছলো, আমি হঠাৎ
সেখানে গিয়ে এই মূর্তি দেখতে পাই, তাই গাড়ী করে
আনলুম।
ইল। তের চোদ্দ হাজার রে! তের হাজার চোদ্দ হাজার ।
দ। দূর মুখ পোড়া, কথা কইতে লজ্জা হচ্ছে না? এদিকে
বাড়ীতে কি হয়েছে জান ? ভাগ্নী যে মাষ্টারের সঙ্গে
পালিয়ে গেছে !-বুঝেছি, সেই ফাকি দিয়ে আপনার
টাকা আদায় করে নিয়েছে ।
হল। এ এ্য।--তবে কি সন্ন্যাসী বেটা জোচ্চোর ? সেইতো
দশ হাজার টাকা নে গেল আমার কাছ থেকে সােণ।
করে দেবে বলে। ওরে শালার। সবাই জোচ্চোর সবাই
জোচ্চোর-ডাকাত বেটর, চোর বেটারা, আমার সব
লুটে নিলে ; আমি টাকে দড়ি দিয়ে মরবাে।
মধু। কৃপণস্য ধনং হয়ে বহ্নি পৃথী তস্করে—বুঝলে ?
ঐ
পাড়ার মেয়েগুলো পর্যন্ত তােমার মুখে ঢুণ কালী দিতে
আসছে।

৮০
কৃপণস্য ধনং।
হল। তের চোদ্দ হাজার রে—তের চোদ্দ হাজার!
দয়া। আবার ভাগ্নি-জাবার ভাগ্নি ! দূর দূর গলায় দড়ি,
গলায় দড়ি।
( মহিলাগণের প্রবেশ ও গীত)।
;
আহা মুখখানি কি চমৎকার।
(আবার) রংচংয়েতে খুলে গেছে বেহদ্দ বাহার।
মরি জাগ্রত কি নাম,
সকাল বেলা নিলে হয় একাদশীর আরাম ;
(চড়ালে) বােকনাে ফাটে ভিজে কাটে,
ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম ছারে খার।
কপালে এত ধন পেলে,
তবু পেট পুরে না খেলে,
ভিখিরি এলে দিতে ঘাড় ধরে ঠেলে ;
( এখন ) কেমন মজা পেলে সাজা
টাকা গেল ঘরে তার ।
কৃপণস্য ধনং হর বহ্নি পৃথী তস্কর।

মহিলাগণের স্বভাবু। সুলভ লজ্জাবশতঃ, বিবিধ কষ্টজনক পড়ায় তাহারা অনর্থক কষ্ট পাইয়া থাকেন। আমাদের “এসেন্স, অভ, অশােক” কিছুদিন নিয়ম মত সেবনে, বাধক, গর্ভগ্ৰহণে অক্ষমতা, মৃতবৎসা দোষ, শ্বেত বা রক্তপ্রদর, গুল্ম, রজঃ অনির্গম, অত্যধিক রজঃস্রাব, পেটে, পৃষ্ঠে, কোমরে বা উদেশে ব্যথা ও ভারবােধ, সকাল, অনিয়মিত বা কষ্ট ঋতু, বিবমিষ, নিদ্রাহীনতা, দৌর্বল্য, মানসিক অবসাদ, শিরােয়োগ, স্বল্পশ্রমে ক্লান্তিবােধ, রুক্ষ্মস্বভাব, কপালে কুঞ্চিত দাগ, প্রাত্যহিক কার্যে বিরাগ, অপরের সংশ্রবে বিরক্তি- বােধ প্রভৃতি কষ্টকর পীড়া ও উপসর্গ শীঘ্র সম্পূর্ণরূপে দূর হয়। অবিশুদ্ধ ও রুগ্নজরায়ু সন্তানলাভের প্রধান অন্তরায়। আমাদের এই মহাশক্তিশালী অশােক-সার” জরায়ুর যাবতীয় দোষ গােপনে সংশােধন করিবার প্রত্যক্ষ ফলপ্রদ মহৌষধ। দেশীয় উদ্ভিজ্জ হইতে প্রস্তুত এই ঔষধ পরম বিশুদ্ধ ; কোন প্রকার হানিকর বা ইহাতে নাই, আস্বাদও বিকট বা ন্যক্কারজনক নহে। যাবতীয় স্ত্রীরােগ দূর করিয়া শারী- ৱিক স্বাস্থ্য ও মানসিক উল্লাস প্রদান করিতে ‘এসেন্স, অভ, অশোক’ অমােঘ ও অদ্বিতীয়। ইহা সেবনে দৌর্বল্য ও অকাল- বার্ধক্য দূর হইয়া, যৌবনােচিত লাবণ্য ও সামর্থ্য জন্মে। যাহারা সেবন করিয়াছেন, সকলেই বলেন, ধীরােগের বিবিধ কষ্টকর উপসর্গের একমাত্র আমােঘ উপায় আমাদের এই “অশােক-সার”। সহজশরীরে সেবনে কান্তি বাড়ে, দেহ নীরােগ ও হৃষ্টপুষ্ট হয়। মূল্য দুইটাকা মাত্র। মালাদি যত লাগে। রেলে লইলে মাওল কম লাগে। কাহারও নাম প্রকাশ করিনাঔষধ গােপনে পাঠাই। জে, সি, মুখার্জি, ম্যানেজার । দি ভিক্টোরিয়া কেমিক্যাল ওয়ার্ক। রাণাঘাট-বেল।

৭। মুল্য এক শিশি ১০, টাকা। কেশরঞ্জন তৈল। কেশরঞ্জন উৎকৃষ্ট কেশপোষক, শিথিল কেশমূলের দৃঢ়তাসাধ, কেশপাত ও অকালপক্কতানিবারক এবং অকালবৃদ্ধত্বের অপুর্ব মহৌষধ। ইহা ব্যবহারে কেশকলাপ কোমল, মসৃণ ও চিকণ হয়; অপূৰ্ব্ব সুগন্ধ ও স্নিগ্ধকরণীশক্তিতে মাথা জ্বালা, মাথা বেদনা, মাথা ঘোরা, মাথাধরা প্রভৃতি কঠোর শিরঃপীড়া দুর করিয়া মস্তিষ্ক ও অপরাপর স্নায়ুকেন্দ্রকে স্নিগ্ধ ও শীতল করে ; সদ্যপ্রস্ফুটিত গোলাপ কুসুমবৎ অপূৰ্ব্ব গন্ধে মন প্রাণ বিভোর করিয়া তুলে ; ইহার গন্ধের তীব্রতার লেশমাত্র নাই। ইহা ব্যবহারে টাকপড়া, মস্তিষ্কের দৌর্বল্য, চিত্ত বাঞ্চল্য ও অবসাদ স্নায়ুমণ্ডলীর রােগ, দৃষ্টিশক্তির হীনতা, শরীরের দুর্বলতা প্রভৃতি দূর করিয়া শরীর ও মন সতেজ ও সবল, ইন্দ্রিয়গণকে, স্বাভাবিক ক্ষমঅপ, চিত্ত প্রফুল্ল এবং মস্তক ভ্রমরকৃষ্ণ ঘন কেশগুচ্ছ সমলস্কৃত করে। ফলত কেশরঞ্জনের স্থায় কেশকলাপের শক্তি ও সৌন্দর্য্যপ্রদ, খালিত্য ও পালিতনাশক স্মৃতিশক্তিবর্ধক, চিক্তের প্রফুল্লতা উৎপাদক, এমন অমুল্য ও অতুলনীয় সুমিষ্টগন্ধী তৈল আর নাই। ১ টাকা। ছিঃ পিতে • টাকা। প্যাকিং ও মাশুলাদি • অনা। ১২ শিশি বড় এক শিশি (ইহাতে ছােট শিশির চারিগুণ তৈল থাকে। মূল্য ৩০ টাকা। কয়েকখানি প্রশংসালিপি। রাজপুতনার মধ্যমণি মাড়ােয়ার যােধপুরের মহারাজা হিজ হাইনেস মহারাজাধিরাজ লেফটেনান্ট কর্ণেল (Lt. Colonel) সারমদ রাজাই শ্ৰী শ্ৰল ঐ যুক্ত সার প্রতাপ সর্দার সিংহ জি, সি, এস, আই, ( G. c. S. I.) বাহাদুর স্বয়ং বলিয়াছেন;-“কেশরঞ্জন তৈল আমি স্বয়ং ব্যবহার করিয়াছি। ইহা দ্বারা মস্তক শীতল থাকে এবং কেশকলাপ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। ইহার গন্ধও পরম রমণীয় ও চিত্তপ্রফুল্লকর।” নেপালের মহারাণা শ্ৰীল শ্রীযুক্ত ইন্দ্রনারায়ণ বাহাদুর লিখিয়াছেন; ‘আমি কেশরঞ্জন তৈলের সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধে ও কেশবৃদ্ধিকারী শক্তি দর্শনে .মােহিত হইয়াছি। এই শ্রেণীর যাবতীয় কেশ তৈলের মধ্যে ইহা সর্বোৎকৃষ্ট।” পাথুরিয়াঘাটার বিখ্যাত সঙ্গীতাচার্য্য রাজা স্যার এল শ্রীযুক্ত সৌরীন্দ্রমােহন ঠাকুর নাইট, (knight) সি, আই, ই, (c. I. E.) মহােদয় বলিয়াছেন;- ইহার সুগন্ধ অতীব সুমিষ্ট, রমণীয় ও দীর্ঘকালস্থায়ী।” উত্তরপাড়ার শ্রীল শ্রীযুক্ত রাজা প্যারীমােহন মুখোপাধ্যায় এম, এ, বি, এল সি, এস, আই, বাহাদুর লিখিয়াছেন;-“দেশী বা বিলাতী,যে কে তৈলের সহিত তুলনায় (কেশরঞ্জন) উপাদেয় ও উৎকৃষ্টতম। সর্বাপেক্ষা ইহার মনােহর সুগন্ধই ইহাকে সর্বজন সমাদৃত করিবে।” নগেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত করিবাজ। ১৮১ নং লােয়ার চিৎপুর রােড, টেটির বাজার, কলিকাতা। ?

কোন পথ ভাল ঠিক করিতে পারেন না, সেই জন্য কঠোর কষ্ট
ভােগ করেন, সৎপরামর্শ এবং অসৎ পরামর্শের তফাৎ
বুঝিতে পারেন না তাই বিব্রত হইয়া দুঃখ পান
**
.
= = ========
=> '',
, আমেরিকা হইতে অনীত
অদ্বিতীয় কার্যকারী
সকোর্টনারেস।
বহুমূত, প্রমেহ, মেহ, ধাতুদৌর্বল্য ঔ ধ্বজভঙ্গ রােগের
ঔষধের নাম শত শত বার শুনিয়াছেন, কিন্তু হয়ত বিশ্বাস করিতে
পারেন নাই। আমি বলি একবার পরীক্ষা করিলে বিষম সংশয়
হইতে নিষ্কৃতি পাইতে পারেন ; যৌবনের অপরিণামদর্শিতা
বশতঃ বহু অত্যাচারে শুক্রপীড়া উৎপন্ন হইয়া থাকে। মেহ,
বহুমূত্র, গণোরিয়া, প্রদর, প্রমেহ, মধুমেহ উপস্থিত হইয়া ক্রমে
পুরুষত্ব নষ্ট হয়, সমস্ত স্নায়ুই দুর্বল হয়, পরিপােষণ শক্তি কমিয়া
গিয়া যৌবনে বার্ধক্য উপস্থিত হয়। দুর্বল স্নায়ু সকলকে
বলবান করিতে “সকোটিনারেস” অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঔষধ জগতে
আবিষ্কৃত হয় নাই। মূল্য প্রতি শিশি পাঁচ টাকা, প্যাকিং।।
এজেন্টস—এ, সি, মুখার্জি এণ্ড কোং।
৩৯ নং ক্যানিং ষ্ট্রীট, মর্গিহাটা, কলিকাতা।

জ্যোৎস্না তৈল।
এক শিশির মূল্য • আনা মাত্র, অথচ এমন মনােহর
স্নিগ্ধ সৌরভ যে, ব্যবহার কালে চিত্ত প্রফুল্ল হইয়া উঠে, স্নান বা
মস্তক ধৌত করার পরে সৌরভের মধুরতা অধিকতর মনােরম
হয়। আয়ুর্বেদোক্ত দ্রব্যজাত বংযােগে সুশিক্ষিত ও অভিজ
বৈদ্য হন্তে প্রস্তুত হওয়ায় ইহা কেশ মস্তক ও মস্তিষ্কের বিশেষ
উপকারি।
কেশ কৃষ্ণ কোমল হইয়া বৃদ্ধি পাইতে থাকে,
মন্তকের চর্ম নীরােগ হয় এবং মস্তিষ্ক শীতল হইয়া উহার সমস্ত
অস্বাস্থ্যকর উত্তেজনার শান্তি হয়।
ঠিকানা--কবিরাজ ঐকার্তিকচন্দ্র কবিভূষণ।
৮ নং আডপলি লেন, কলিকাতা।

কুন্তলীন।
সর্বোৎকৃষ্ট কেশ-তৈল ।
কুন্তলীন প্রস্তুত হইবার পূর্বে বাজারে অনেক সুবাসিত তৈল
ছিল এবং কুলীন বাহির হইবার পরে আরও অনেক হইয়াছে।
কিন্তু উপকারিতায় এবং সৌগন্ধে কুন্তলীন সর্বোৎকৃষ্ট তৈল,
ই আমরা স্পর্ধার সহিত বলিতে পারি। কুলীনের সৌরভে
নিকট পমেটম, মাকেসার তৈল পর্যন্ত পরাজিত ।
কেবল বঙ্গদেশে নহে অল্পকালের মধ্যে সমগ্র ভারতবর্ষে
কুন্তলীন যে প্রকার প্রচলিত হইয়াছে তাহা অদৃষ্টপূর্ব। এমন
কি সুদূর ব্রহ্মদেশ এবং সিংহলে পর্যন্ত কুন্তলীন ব্যবহৃত হইতেছে
হা আমাদের গৌরবের বিষয় বটে। যাহারা দশগুণ মূল্যের
তৈল অনায়াসে ব্যবহার করিতে পারেন এই প্রকার কত রাণ
মহ’রণী পর্যন্ত অন্যান্ত তৈল পরিত্যাগ করিয়া এখন কুলীন
ব্যাবহার করিতেছেন। কুলীনের শ্রেষ্ঠতার অধিক পরিচয়
সনাবশ্যক।
আর এক কথা--কুলীন কয়েক বৎসর মাত্র বাহির হইয়াছে
কিন্তু ইহার মধ্যেই জাল ও নকল কুন্তলীনে বাজার ভনিয়া
. গিয়াছে। অসংখ্য সুবাসিত তৈল থাকিতে জুয়াচোয়গণ অন্যান্য
তৈল ফেলিয়া কুন্তলীন এত নকল করিতেছে কেন? কুশুলীনের
বিক্রয়াধিক্যের ইহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট প্রমাণ কি হইতে পারে ?
এইচ, বসু, পারফিউমার,

বিজ্ঞাপন। 1/. নি • যুক্ত বাবু,অমৃতলাল বসু প্রণীত ও প্রকাশিত নিম্নলিখিত পুকাবলী কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট বেঙ্গল মেডিকেল লাইব্রেরী শ্ৰীযুক্ত যাবু গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের নিকট এবং ষ্টার থিয়েটারে আমার নিকট ও অন্যান্য প্রধান প্রধান পুন্তকালয়ে পাওয়া যায় । পুস্তক মুল্য | পুস্তক মুলা বিমাতা বা বিজয় বসন্ত V • | ব্রজলীলা ও চাটুজো-বড়জ্যে • ভােলা একত্রে হীরকচূর্ণ চোরের উপর বাটপারি ও ডিমিশ তাজ্জব ব্যাপার (একত্রে) খুলে রাজা বাহাদুর |• | বৌ-মা · কালাপানি , গ্রাম-বিভ্রাট । বিবাহ-বিভ্রাট |• | সতী কি কলঙ্কিনী বাবু • | হরিশ্চন্দ্র ৮ সাবা আটাশ fr বিলাপ • | আদর্শ-বন্ধু নসীরাম • | কৃপণের ধন যাহার প্রয়োজন হইবে উক্ত ঠিকানায় মুল্য পাঠাইলে পাইবেন। ডাক মাশুল স্বতন্ত্র লাগিবে। মহেন্দ্রনাথ চৌধুরী। -) একাকার কবিবর রাজকৃষ্ণ রায় প্রণীত প্রন্থাবলী ১ম ভাগ ৪) স্থলে ২)। গ্রন্থাবলী ৫ম ভাগ ২) স্থলে ১} । স্থাবলী ২য় ভাগ ) স্থলে । গ্রন্থাবলী ৬ষ্ঠ ভাগ ২) স্থলে :}। গ্রন্থাবলী ৩৪ ভাগ ২) স্থলে ১)। গ্রন্থাবলী ম ভাগ ২স্থলে )। এন্থাবলী ৪র্থ ভাগ ) স্থলে ১)। উক্ত কবিবর প্রণীত, স্টার থিয়েটারে অভিনীত নরমেধ যজ্ঞ, লয়লা-মজনু •, ঋষ্যশৃঙ্গ। বনবীর! •। গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়, ।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Kripaner Dhan

Author
Basu,amritalal
Title
Kripaner Dhan
File name
Kripaner Dhan
Text
OCR done
Citation
1900
Published
2009/10/11
Publisher
Amritalal Basu,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
98
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Farcical Comedy
DLI number
512831
Barcode
4990010019867.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
fbyC3KzxAqM
Download PDF

Kripaner Dhan