Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Ananda - Mushal
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
আনন্দমুষল
রচয়িতা
প্রণবসিদ্ধ ব্ৰহ্মাবর্ভূত
ওম বাবা (শ্রীমৎ (পরমানন্দ সরস্বতী )
প্রকাশক
শ্রীমৎ ভােলানাথ ব্রহ্মচারী।
শঙ্কর-মঠ, রামরাজাতলা, হাওড়া।
সন ১৩৩৭
প্রিন্টার-ভােলানাথ বসু
দয়াময় প্রিন্টিংওয়ার্ক
৩৭নং নিমতলা ঘাট ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
সর্বস্বত্ব সুরক্ষিত ]
[ মূল্য ৭০ বার আনা
No text on this page.
প্রস্তাবনা।
আনন্দ-মুষল হয়, বঙ্গের মুষল।
যে, সহিবে ঘাত তার, তাহারি কুশল
No text on this page.
ভূমিকা। এই আনন্দ-মূষল গ্রন্থখানি, তিন অধ্যায়ে বিভক্ত হইয়া রচিত হইয়াছে। প্রথম অধ্যায়ে বাঙ্গালার বর্তমান অবস্থা বর্ণনায়, বর্তমান সমাজের বহু প্রকার দোষ ও দুর্বলতা, চলতিকথায় যাহাকে “গলদ” বলে, তাহা প্রদর্শিত হইয়াছে। কারণ, দুর্বলতাকে সম্মুখে দেখিতে পাইলে, তাহার সংস্কারের উপায় সহজেই লভ্য। তাই ব্ৰহ্মবি কবিবর, অর্থান্তর ও অলঙ্কার বিশেষে, প্রতিপাদ্য বিষয়ের সমর্থনার্থ, অতি অপূর্ব ও হৃদয়গ্রাহী উপমা দ্বারা, সেই দোষের সমালােচনা করিয়াছেন; যাহাতে সমাজ তাহার স্বদোষদর্শনে, সংস্কার দ্বারা অধঃপতিত মনােভাবকে, উত্থানের পথে লইবার জন্য সচেষ্ট হয়। বঙ্গ-সমাজ-প্রতি বৃথা দোষারােপ করিয়া, ঘৃণা প্রকাশ করা, তাহার উদ্দেশ্য নহে। এই অধ্যায়ের শেষভাগ এবং দ্বিতীয় অধ্যায়, যাহা “সোণার বাঙ্গালা” নামে অভিহিত হইয়াছে, তাহাই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। অনেক সময় আধ্যাত্মিক তত্ত্ব উপমা অভাবে, সাধারণের নিকটে একেবারে তিক্ত ও নীরস অনুমিত হয়; কিন্তু কৌতুকপূর্ণ উদাহরণ দ্বারা, সহজেই তাহা চিত্তাকর্ষক হইয়া উঠে। সেই ভাবে যুগপৎ সাধারণের সহজবোধ্য ও মনােরম করার জন্য, রকমারি ভাবে সমালােচনার প্রয়ােজন হইয়াছে।
তৃতীয় অধ্যায়ে “বাঙ্গালার সাড়া যে ভাবে বর্ণিত, তাই দেশের
আধুনিক অবস্থা দেখিয়া ; যাহাতে লােকে জাতীয়তা ও
স্বদেশপ্রেমিকতা লাভ করে, সঙ্কীর্ণতার গণ্ডী হইতে দূরে থাকে
এবং নির্বিরােধে স্ব স্ব ধর্ম প্রতিপালন করিয়া, দেশীয় ভাবে
অনুপ্রাণিত হয়। এক কথায় কবির যাহা উক্তি, তাহা
সমাজ-সংস্কার এবং স্বধৰ্ম্ম-সংরক্ষণ লক্ষ্য করিয়া। কবিবর
যেরূপ ভাষায় ভাবের অভিব্যক্তি করিয়াছেন, তাহাতে আমরা
আজি, বঙ্গের রসরাজের অভাব, বােধ করিতে পারিতেছি না।
তত্ত্বজ্ঞ কবির রচনা-নৈপুণ্য, বঙ্গীয় কাব্যভাণ্ডারকে অমূল্য রত্নে
সুশােভিত করিয়াছে। কবিরচিত “আনন্দ রসাল” গ্রন্থ এই
ভাবের অন্যতম নিদর্শন।
এই আনন্দ-মূষল-গ্রন্থ-রচয়িতা, একদিকে যেমন জগতের
অদ্বিতীয় ব্ৰহ্মবিদ এবং তত্ত্বজ্ঞানবিচারমূলক সঙ্গীত-রচনা-নৈপুণ্যে
অসাধারণ, অন্যদিকেও তেমনি ব্যবহারিক জগতের ভিতর
দিয়া, লােক শিক্ষার জন্য, তিনি তাহার স্বভাবসিদ্ধ কবিত্বপূর্ণ
তত্বোপদেশ প্রদানে, একটুও কুষ্টিত নহেন। আমি বিশেষ
দৃঢ়তার সহিত বলিতে পারি, এই অমুল্য গ্রন্থ, মােহন্ধ
জীবগণের মােহ-ভ্রম দূর করিয়া, তাহাদের মধ্যে সদ্ভাবের
পুনরুদ্দীপনা আনয়ন পূর্বক, অধঃপতিত জাতির পুনরুত্থানের
পথে অগ্রসর হইবার, একটী বিশেষ সহায় স্বরূপ হইবে।
প্রকাশক।
ভারত-স্তুতি।
ভৈরবী মিশ্র-একতালা।
নমি অয়ি ভবভূতিশালিনী।
চিরঅৰ্য্যসেবিতা, চিরমুকতি-ভূমি,
চিরসাচিতিসুখদায়িনী।
প্রতি অণু তব যােগ-যুগ-পৃত, সিদ্ধগুণযুত প্রতি যােগ্য সুত,
ত্যাগ-ধৰ্ম্ম তব বিশ্ব-মনঃপূত, সৰ্ব্বভূত-সৰ্ব্বহিতসাধিনী।
আদিস-আচার, তব বিটপী-মূলে,
আদিতত্ত্ব-বিচার, তব তটিনী-কূলে,
আদিবিদ্যা-প্রচার, তব তাপস-কুলে,
ষড়ঋতু-জয়কেতুধারিণী ;
স্বর্গাদপি তুমি গরিয়সী জননী, সুচিরযৌবনা, শ্যামলবরণী,
সংসার কাননে সৌভাগ্য-শরণি, জন্ম-মৃতি-সবকালসঙ্গিনী।
শুদ্ধিপত্র। পৃষ্ঠা- পংক্তি- ১৭ নির্ধত জিল ৯ নির্ধত জিলা লােকের সুখ-সাড়াতেই দম্ভ-কাড়া ৩৪ ৪০ লােকেয় সুখ সাড়াতেই দম্ভ কাড়া উড় ১০ ৪ ৪২ নদে নাদে ৭৮ বেশ ১ ৮১ ? ? । ১০ করে করে ১৮ 'ভাণ ভান স্থাপিরা স্থাপিয়া ব্যথা ব্যথী ‘প না চলে জলাশয়ে, বঙ্গে হেন পানা। উপরােক্ত লাইনটি ২৮৮ নম্বরের যষ্ঠপদের নিয়ে সন্নিবেশিত হইবে।
ম
আনন্দমুষল
বর্তমান বাংলা
১
বঙ্গ চিররঙ্গ-ভূমি মায়া-প্রকৃতির,
বাঙালীর কৰ্ম্মদোষে নত তা’র শির ;
জ্ঞানী, গুণী বঙ্গে যত, সবে বাক্যবীর
দেখায় প্রকৃতি তাই, লীলা বিকৃতির ।
বর্তমানে উপনীত, বঙ্গ যে দশায়,
অবজ্ঞাত বাঙালীর, উন্নতি বিধায়,
কিছু তার পরিচয়, বহুলােকে চায়।
ব্যক্ত ক্রমে সেই সত্য, সরল গাথায়
বাংলায় জল নাই, জলে মূত্র মল,
বাংলায় বল নাই, বল মাত্র দল ;
বাংলায় ধৰ্ম্ম নাই, আছে কৰ্ম্ম-ছল।
বাংলায় ধৰ্ম্মী নাই, ধৰ্মী সাজে খল ।
আনন্দ-মুষল
০
বাংলায় রাম নাই, বাংলায় হাম,
বাংলায় ধাম নাই, আছে খাড়া থাম ;
বাংলায় বাম নাই, বাংলায় কাম।
বাংলায় সাম নাই, আছে ধূম ধাম ।
পত্র নাই, আছে বঙ্গে, ভুয়াে নাম-খাম !
বাংলায় ঠোস নাই, বাংলায় ঘােষ,
বাংলায় কোশ নাই, দোষভরা কোষ ;
বাংলায় পােষ নাই, বাংলায় শােষ,
বাংলায় তােষ নাই, আছে রােষে ফোঁস্ ।
বাংলায় ভক্ত নাই, বাংলায় ভেক,
বাংলায় ভাম নাই, বাংলায় ভেক ;
বাংলায় সন্ধি নাই, বাংলায় এক।
নাই বঙ্গে সমন্বয়, বঙ্গে ব্যতিরেক ।
৭
বাংলায় লােক নাই, বাংলায় জোঁক,
বাংলায় রোখ নাই, বাংলায় ঝোঁক ;
বাংলায় ঢােক নাই, বাংলায় ঠোক।
বাংলায় মােক (মুক্তি) নাই, বাংলায় শােক
আনন্দমুষল
৩
বাংলায় হাত নাই, বাংলায় বাত,
বাংলায় পূৰ্ত্তি নাই, বাংলায় পাত ;
বাংলায় ঘাত চেয়ে, বেশী প্রতিঘাত।
বাংলায় স্বাস্থ্য নাই, থাকিতেও ভাত।
বাংলায় চেলা নাই, ঘরে ঘরে গুরু,
বাংলায় লঘু নাই, সব তথা গুরু ;
বাংলায় পাণ্ডু নাই, বাংলায় কুরু।
বাংলায় সিদ্ধি নাই, আছে বটে সুরু।
বাংলায় গুপ্তি চেয়ে, প্রশস্ত ব্যাখ্যান,
বাংলায় নাম তরে, রাজসিক দান ;
বাংলায় পূরা নাই, বাংলায় খান।
বাংলায় সত্য নাই, বাংলায় ভান।
বাংলায় চক্ষুদান, সুষ্ঠু, অবদান ।
;
বাংলায় ধ্যান নাই, আছে ভাষা-জ্ঞা,
বাংলায় শিক্ষা নাই,
দীক্ষাই প্রধান
বঙ্গে, মূল-সঙ্গ নাই, তবু মােটা মান।
বঙ্গে বেশী বর্ষা, বান, নাই এক টান ।
৪
আনন্দ-মুষল
১২
বাংলায় ভাষ, বাস, শিখা, সূত্র, রূপ,
বুদ্ধি, শুদ্ধি, ভক্ষ্য, লক্ষ্য, সব সূক্ষম রূপ :
বাংলায় চুপ নাই, আছে দাপ হুপ।
বাংলায় যত ভূত, সব অপরূপ ।
বঙ্গে চাষী কামী বেশী, ক্ষেত বহু প্রসূ,
বাংলায় অবতার, কীট, পাখী, পশু :
বাংলায় অল্পতায়, লােক যেন বসু।
বাংলায় জোনাকিতে, দূষে বিভাবসু।
১৪
বাংলায় আশু সব, সবুর না সয়,
বাংলায় সব জাতি, অনুকারাব্যয় ;
বঙ্গে দ্বেষ দেশযােডা, ভাব দ্বন্দ্বময়।
বাংলায় অকৃতজ্ঞ, কৃতম্নের জয় ।
ভূতনাথ চেয়ে বঙ্গে, পূজ্য পঞ্চভূত,
বাংলায় কাল দূত, নাই অবধূত,
বঙ্গে ধাতু-মাটি-ঢিপি, ঠাকুর অচ্যুত ।
বঙ্গে বেদ-চর্চা নাই, তন্ত্র মনঃপূত ।
বঙ্গ ত নিগম-পূত, আগম-নিৰ্দ্ধ ত !
আনন্দমুষল
বাংলায় সমাজের, নিত্য ব্যভিচার,
বাংলায় সমাজের, ঘাের অত্যাচার,
বঙ্গে যন্ত্র-মন্ত্র-বল, নিয়ে অভিচার।
সদাচার নামে বঙ্গ, পালে মিথ্যাচার ।
১৭
বাংলায় পাত্র, মিত্র, বিশ্বাসঘাতক,
বাংলায় অতি মাত্র, মাদক-পাতক ;
বাংলায় প্রতি-শ্বাস, স্বার্থের দ্যোতক ;
বঙ্গে ত শবৃত্তি-প্রিয়, সদ্যস্ক জাতক ।
১৮
বাংলায় নর নারী, বারােয়ারী সং,
বাংলায় প্রতি যাগে, বারােয়ারী রং;
বাংলায় প্রতি অণু, ধরে ভেদ-ঢং।
বাংলার বিস্ফোটক—যং, রং, বং।
বাংলায় ত্রিদয়ের, বক্র আবর্তন,
বাংলায় বৈষ্ণবতা, গাে-স্বামী-রক্ষণ ;
বাংলায় বারমাসে, তের আয়ােজন।
বঙ্গে নব খিচুড়ির, নিত্য প্রয়ােজন।
বঙ্গে ধৰ্ম্ম-খিচুড়ীর নবােপকরণ।
আনন্দ-মুষল
বাংলায় ফ’ততবাবু-কাক সর্বভুক,
বাংলায় পাঁচভূত, জানে বহু তুক ;
বাংলায় নাট্টশালে, আটুলে কৌতুক
বাংলায় বুক নাই, পুজি শুধু মুখ ।
বাংলায় রসিকের, গৃহে নিত্য রাস,
বাংলায় তত্ত্বজ্ঞের, অধােপথে বাঁশ ;
বাংলায় ছাব্বিকের, সদা পৌষ মাস।
বাংলায় বর্গত্রয়-দাবা, পাশা, তাস ।
বাংলায় গুপ্ত প্রীতি, সিদ্ধ নিপাতনে,
বাংলায় ব্যক্ত প্রীতি, পােষ্য-বিঘাতনে
বাংলায় প্রভু-নীতি, নারী-নিৰ্যাতনে।
বাংলায় মুক্তি-ভূতি, কীর্তনে নৰ্তনে ।
বাংলার যােগ-ফল, যুগের আশায়,
বাংলার ভােগফল, অকূলে ভাসায় ;
বাংলার বিদ্যাফল, অবিদ্যা-বাসায়।
বাংলার গুণ ফল, ভাসে না ভাষায়।
আনন্দ-মুষল
২৪
বাংলায় বহু রসে, রসের বিকার,
বাংলায় বহু মতে, মত দোষাগার ;
বাংলায় বহু ঘরে, ষষ্ঠীর বাজার।
বাংলায় বহু অর্থে, অনর্থ-প্রসার ।
বাংলায় ব্রহ্মচর্য্য, পরধনে আশ,
বঙ্গের গার্হস্থ্য মাঝে, পরভাবােল্লাস ;
বাংলায় বানপ্রস্থ, পরঘরে বাস।
বঙ্গের সন্ন্যাস হয়, পরান্ন-বিনাশ ।
বাংলায় ধনবান, পাষাণ-পুতুল,
সরায় হাত দিয়ে, একগাছি চুল ;
বাংলায় কুলগুরু, কুল-প্রতিকূল।
বাংলায় বিতণ্ডায়, মূল-মন্ত্র-ভুল।
২৭
বাংলায় অলঙ্কার, অহঙ্কার মূল,
বাংলায় প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ, অজ্ঞ-চক্ষুশূল ;
বঙ্গে এবে দীক্ষাগুরু, ঝুঠা নারীকুল।
বঙ্গের ভিক্ষার ঢং, জগতে অতুল।
আনন্দ-মুষল
২৮
অকালবােধন বঙ্গে, রসভরা মাটি,
পরকীয়া শক্তি-সঙ্গ, ভাবি তাকে মা-টি ;
বঙ্গে ধৰ্ম্মে চলে মীন, মাংস, মুদ্রা, খাঁটি।
বাংলায় তীর্থ, ঘাট, অভিসার-ঘাটি।
•
বাংলায় দেবস্থান, রকমারি ডিপাে,
জামাই, বােনপাে, শ্যালা, সকলেই নেপাে ;
বঙ্গে কামে আম্বা ভারী, কাৰ্যকালে হেঁপাে।
বঙ্গে গল্প, তেকে, হুকো, বেশী ভাগ উপাে॥
বঙ্গে কুল, অঙ্গনার, মূচ্ছ, শুচিবাই,
আশৈশব শ্রীচরণ-ছুঁচো সব ভাই ;
বাংলায় মূত্র কফে, পুকুর বােঝাই।
বাংলায় মুখে বাস, বুকে বাস নাই ।
বঙ্গে গুরু, ফোঁকা গােপ, ভক্ত ফুকো গাই
বাংলায় বেচারাম, কেনারাম কম,
বাংলায় অসংযম, সর্বজন-যম ;
বাংলায় ফু আছে, নাহি পূরা দম্ ।
বাংলায় যে যা করে, তাহাই হরদম্ ।
আনন্দ:মুষল
১১
বাংলায় কালপেড়ে ধুতীপরা রােগ,
বঙ্গনারী সাজ যেন, যাচে নগ্নযােগ ;
বঙ্গে কৰ্ম্মভূমে নানা, মিথ্যা অভিযােগ
বাংলায় কুডেমীর, সুবর্ণ-সুযােগ।
বঙ্গে অঙ্গে খােষ-দাগে, লজ্জা পায় চিতা,
বঙ্গে অতি হতভাগা, দুহিতার পিতা ;
বঙ্গের শ্মশানে জুলে, অবিরাম চিতা।
বঙ্গে জ্ঞানকথামৃত, লাগে আগে তিতা।
৩৪
বাংলায় সহজেই, সাজে লােকে মিতা,
বঙ্গে তারা শত শত, অতি কম সীতা ;
বঙ্গের হজমীগুলি, ভাগবত, গীতা।
তাম্বুলের ত্যক্ত রাগে, গুৰিবণী শঙ্কিত।
বঙ্গে উপধৰ্ম্ম নিয়ে, বড়ই গোঁড়ামী,
পাকা আমি-সদ্ভাবেও, সতত পাকামী ;
বাংলায় ন্যাকামী যা’, শুধু তা ঠকামী।
বঙ্গে শাস্ত্র আলােচনা,—বকামী জ্যাঠামী
আনন্দমুষল
বঙ্গে বালবিধবার, অতি পােড়া ভাল,
কাশী-দ্বীপ-বৃন্দাবনে, ব্যক্ত তা’র হাল ;
বাংলায় বিলাসিতা, বাঙালীর কাল।
বঙ্গে যৌথ ব্যবসায়, সাজায় কাঙাল।
বঙ্গে দুধে লুণ সম, বিরুদ্ধ ভােজন,
বঙ্গে কেহ নাহি চলে, বুঝিয়া ওজন ;
বঙ্গে যুগ-পণ-ভঙ্গ, না যেতে যােজন।
দেখি টেড়ি, খোপা, বেশ, বিস্মিত ভূ-জন
বঙ্গে নদ-নদী-খালে, হাঙর, মকর,
সুন্দর সুন্দরবনে, ব্যাঘ্র ভয়ঙ্কর ;
বাংলায় স্ব-ঘরেই, বিভীষণ-চর।
সত্ব ভুলে মত্ত নর, নিয়ে শিশ্নোদর ।
প্রকাশ্য কসাইখানা, বঙ্গে প্রতি ঘর ।
;
বঙ্গে ঘরে ঈদে ছুঁচো, বাহে লম্বা কেঁচা,
বঙ্গে ষট্চক্রযােগে, শঠ-চক্র-খোচা ;
বঙ্গে বহু পুচ্ছধারী, অতি কম বেচা।
চা-চা করি’ চেঁচাইলে, চা যােগায় চাচা।
হট টি-টি পাখীরবে, হট টি শুনে নাচা!
আনন্দ-মুষল
৪০
বাংলায় ছিন্নমস্তা-সাধক প্রবল,
এমনি ধী-বল, পায়ে, শিকল ডবল ।
বঙ্গে যােগ্য হীনবল, অযােগ্য সবল।
বাংলায় শাঠ্য-বল, হট্টের সম্বল।
৪১
বাংলায় রসচূড়া, হরিখুড়া নানা,
আয়াধিক ব্যয়ে বঙ্গে, চলে বাবুয়ানা ;
বাংলায় শিস্-গানে, প্রাণে দেয় হানা।
স্থল-জল-নভঃ ঘেঁটে, বাংলার খানা।
‘মৃগী বােল’ মদ খেয়ে, সার করি’ খানা।
8२
:
বাংলায় পাঁজি-পাঠে, নাহি বােল হাজী,
চলে বঙ্গে মা-জী ব'লে, পাজির কারসাজি ।
বাংলায় রাজেশ্বর, রাজীতেও রাজি।
বাংলায় বাবাজীর, গুণ পট্টিবাজি।
৪৩
বাংলায় কায চেয়ে, সাজে মজে ঝাঁক,
বাংলায় জানা চেয়ে, মানাতেই জাক ;
বাংলায় মামলায়, ধনাগার ফাঁকি।
বাংলায় দাতা দানে, ফুকে জয় শাক।
আনন্দ-মুষল
৪৪
বাংলায় স্বল্পবিদ, হয় সবজান,
বাংলায় যানে যানে, জান ত্বরা যান ;
বিবি নিয়ে ন’টো-বাবু, আগু পিছু চান।
বঙ্গে পরচর্চা-হেতু, কৰ্ম্ম-শুধু ফান্ ।
৪ ৫
;
কালীপূজা, বারোয়ারী, রঙ্গমঞ্চে লীলা,
আচ্ছা, ক্লাব এই পঞ্চে, বঙ্গে প্রেম ঢিলা ;
বঙ্গে গুরুবাক্যে চলা, বুকে ধরা শিলা।
ভাবােদগারে নাই বঙ্গে, সার বস্তু গিলা।
ধরে ভিন্ন ভাব-রুচি, বঙ্গে প্রতি জিল!
বঙ্গে অর্থী, অর্থবতী, হয় অভিশাপে,
বঙ্গ-লক্ষী কঁপে ভয়ে, কুলগুরু-পাপে ;
কুল-লক্ষী পিটে কুলাে, কুলগুরু-চাপে।
কন্যা-কুল নাশে বঙ্গে, পেশােপুত্র-বাপে।
বঙ্গে একে ডুবে জলে, অন্যে জল মাপে।
৪৭
•
না জানে বঙ্গের যুবা, সাধুর সম্মান,
ভেঁপােমিতে শতমুখ, বৃদ্ধ সন্নিধান ;
বঙ্গে সাধু-বাক্যে আস্থা, না রাখে ধীমান্।
দেখে শুধু সাধু-দোষ, বঙ্গ সুসন্তান ॥
বঙ্গে সাধুগুরুনামে, কুললক্ষমী-হান ।
আনন্দ-মুষল
৪৮
আসরে বাসরে বঙ্গে, কবিতা রূপসী,
খোঁচা খেয়ে বোঁচা হয়ে, সাজেন তাপসী
বঙ্গের প্রেয়সী কোথা, কাযে না বায়সী।
বঙ্গে বর্ষীয়সী দাসী, মেনকা, উর্বশী ।
৪৯
বাংলায় সব গােত্রে, ‘কবর্গ’ প্রবর,
বঙ্গে নারী চাহে বরবর যুক্ত বর ;
ক্ষেত্রটি উর্বরা বঙ্গে, ক্ষেত্ৰী না জবর
ক্ষেত্ৰী মাত্র ষষ্ঠীবর, নহে নৃপবর।
ফসল প্রচুর বঙ্গে, তবু দৈন্য-দুখ,
নীলামে বিকায় চাষী, এতাধিক ভুখ, ;
বাংলার ক্ষেত্ৰ-চাষে, আগে বড় সুখ।
শেষ ফল দেখি’ চাষী, আসলে বিমুখ ।
•
বঙ্গে ক্ষেতে সনে প্রায়, ডবল ফসল,
কোন সনে ততােধিক, কি চাষ-কৌশল ;
কোন সনে বাদ না ত’, এক যা আসল
মাত্ৰ ক্ষেত্ৰ-অকুশল, বৃষল-মুষল।
১৪
আনন্দ-মুষল
বঙ্গের কৌলিন্য-প্রথা, যেন বাত গেঁটে,
সস্তা দরে বস্তা-মাল, আসে কাছে হেঁটে ;
বেপারী তা বােমা মেরে, দেখে আগে ঘেঁটে
ভেস্তা সে প্রসাদ, ভক্তে, লয় শেষে বেঁটে।
বঙ্গে বড় দুরবস্থা, সস্তা সে ভেস্তার,
ভুড়ী দেখে বুড়ী-মুখে, জারি ইস্তাহার ;
গুড়ী ধরে টানাটানি, যবে বারম্বার ।
বৃদ্ধি পায় যোগ-ফল, করি’ কাশী সার ।
তেল জ্বেলে পুড়ে মরা, যাগ অঙ্গনার !
নারীমেধ-যজ্ঞক্ষেত্র, বঙ্গের সংসার।
৫৪
বাংলায় বুড়ো বরে, কন্যা সম্প্রদান,
বঙ্গে ছাগ বলিতেই, বংশের নির্বাণ ;
বাংলায় ভাবাবেশে, ভােগী-ভগবান।
বঙ্গে শক্তিপূজা-স্থল, কসাই-দোকান।
বঙ্গে এবে শিষ্টাচার সিগীর, চা-পান ।
রাখে যে মুসলমান, সে মুসলমান।
আনন্দ-মুষল
বঙ্গে বহু ষষ্ঠীপূজা, গৌরীদান-ফলে,
দশম বরষে কোথ, গাছে ফল ফলে ;
নাড়ীদোষ একচেটে, যুবতীর দলে।
কুড়ি না পূরিতে বুড়ী, পুড়ি’ শােকানলে ।
বঙ্গে ‘অনু’, ‘অন্ন’, ‘জিতু’, ‘গন্ধী বাজীকর’,
‘উত্তরের গিরিয়’, সকলি ঈশ্বর ;
কেহ যুগ্ম অবতার, নেড়ে ছবি, কর ।
মাটি কেহ করে মােণ্ডা, নিয়ে ভানু-কর।
বঙ্গে এবে ভূত পূজ্য, ত্যজ্য হরিহর।
নাই বঙ্গে জীবন্মুক্ত, আত্মজ্ঞ-আদর,
সমাদৃত সব ঠাই, পােষাকী বাঁদর ;
বঙ্গে যথা দিগম্বর, নখী জটাধর।
মুখরিত জয়-নাদে, তথায় অম্বর।
৫৮
উচ্চভাষী, পুচ্ছধারী, বঙ্গের পণ্ডিত,
দম্ভ-স্বার্থ-মিথ্যাবাদ-কাপট্য মণ্ডিত ;
বঙ্গে সত্যব্রত সদা, সমাজে দণ্ডিত।
যার তার ভাষণেই, ঋষিত্ব খণ্ডিত ।
আনন্দমুষল
বঙ্গে গুরু-সঙ্গ-ত্যাগ, গণ্য ত্যাগ-নামে,
পূর্ব হ’তে সে অপূর্ব ত্যাগ কাশীধামে
বাংলায় গুরু-স্তুতি, গুরুর দুর্ণামে।
বাংলায় গুরু-বল, ফল চাই কামে।
বঙ্গে আদ্য শঙ্করের, কেবল অখ্যাতি,
যােড অবতার-নামে, সিন্নী দিবারাতি ;
পিতৃ-পিতামহ-নামে, নিভে মান-বাতি।
হীরা জোলা-নাতি-নামে, উচু বক্ষ-ছাতি
বঙ্গে এক-নিমন্ত্রণে, দশানন খাস,
চলে বঙ্গে একষণ্ডে, বহু ক্ষেত্রে চাষ ;
বহুমূর্তি ভজি’ বঙ্গে, জড়ত্ব-বিকাশ।
বাংলায় ভেদ-মন্ত্র, অধীনতা-পাশ ।
'৬২
বঙ্গের প্রবল ঝড়, বিধবা-নিশ্বাস,
দুঃখা-প্রবাহ বাড়ি, বানের উচ্ছাস ;
মনস্তাপ-তাশেই, ত্রিতাপ তরাস ।
সতীত্ব-বিনাশ-পাপে, ভূকম্প-প্রকাশ।
আনন্দমুল
বিধবা-হতাশ-রূপ,—বঙ্গের আকাশ,
শাপরূপে সাপাঘাত, ক্লেশে কারাবাস ;
বাসাবাস-অন্নভাবে, দুর্ভিক্ষ, প্রবাস।
গালি-গর্ভপাত-দোষে, রােগ, শােক, নাশ ।
৬৪
বঙ্গে বাল্যবিবাহেই, বহু তাপ, জ্বালা,
বাংলায় দাসখত, প্রিয় কণ্ঠ-মালা ;
বাংলায় কালা-ছাচে, মন, প্রাণ ঢালা।
কালা-প্রেমে বঙ্গবালা, তাই ঝালাপালা।
বাংলায় সব ক্ষেতে, সরু-মােটা কাটা,
গাড়ােয়ানী ঢঙে গোঁফ, দাড়ি, চুল ছাটা ;
সরে বঙ্গে উপ-ভূত, দেখি’ লম্বা ঝাটা।
বাংলার প্রিয়াহার, শাক, পাতা, ডাটা ॥
;
বাংলায় মুখে হাসি, বুকে কফরাশি,
পিলে বলে, ছেলে পিলে, বড় ভালবাসি ;
বাংলায় অসি নাই, বাংলায় বাঁশী।
বাংলায় দাসাভাব, দাসী নয় বাসী।
তীর্থ নয়, বাংলার, জন্মভূমি-কাশী !
১৮
আনন্দমুষল
পরকুৎসা বাংলার, সৰ্বশ্রেষ্ঠ কায,
ডাহা খাজা, সঙ সাজা, নিয়ে পরসাজ ;
বাংলায় ললনার, বাসে বাঁধা লাজ।
মাঠে, ঘাটে, হাটে, বাটে, পড়ে তা’য় বাজ
৬৮
বাংলায় পাকা ঘরে, থু থু, কফ, পোঁটা,
শুধু শুধু বন্ধু’পরে, ননদের খোটা ;
সাধুতার চিহু শুধু, মালা আর ফোঁটা।
বাংলায় ফল ছেড়ে, ধরে আগে বোঁটা।
ভাগে তুষ্ট নহে বঙ্গ, সব চায় গােটা।
বাংলায় জংলায়, নষ্ট সাচা রাগ,
কভু না তা যােড় খায়, হয় যা’র ভাগ ;
উড়িয়া উড়ায় পরে, বঙ্গে ঘুঘু ঘাগ।
কুলম্নের মেয়ে-ছেলে যেন ছাগী, ছাগ !
বাংলায় দেবদেবী, কৃষ্ণ আর কালী,
দুই কালি-কালী ক’যে, প্রাণে মাখা কালি :
বালি চেয়ে কচকচে, বাংলার গালি
বঙ্গে মুক্তকচ্ছ-বল, ব’য়ে কুঁড়ােজালি।
বঙ্গে উড়ে উড়েমালী, কৃষ্ণ বনমালী :
আনন্দমুষল
মােটা চালে রুষ্ট বঙ্গ, মাগে সব সরু,
বাদ শুধু মােটা মান, জরু, গরু, তরু ;
বাংলায় খােয়া নাই, বাংলায় চরু।
মরু বটে নাহি বঙ্গে, ধনী-হৃদি-মরু।
খর নাই, বঙ্গে খরু, ঢিলা অঙ্গ-পরু।
१२
বাংলায় নামে ঢাকা, কাযে সব খােলা,
বঙ্গে পূরা কালা-প্রেম, পূরা একতােলা ;
বাংলায় ডিম্বকোষ, ঝােলা চৰ্ম্মদোলা।
বাংলায় বােল, চাল, বাছা, চঁচা ছােলা ।
•
৩
;
বাংলায় ধাতু নাই, বহু জড়ী বুটি,
লুটিপুটি নয় সব, পাঁচভূত যুটি ;
ফন্দী-যুক্তিমন্ত্রণায়, যত আঁটিসুটি।
কাৰ্যকাল আসিলেই, বাঁধ যায় টুটি’ ।
বঙ্গে কাঁচামাল-লােভে, কাচে পাকা খুঁটি।
৭ঃ
পিশাচের লীলাভূমি, বাংলার মেলা,
শূল সম সাংঘাতিক, ঔছা চেলী, চেলা ;
বঙ্গে মধুচক্র যথা, তথা চক্ৰখেলা।
ভিড়ে যেতে ভিড়ে লােকে, মরে এলে ঠেল।
পতিত যে, সে ত বঙ্গে, হেয়, হেলাফেলা।
২
আনন্দ-মুষল
বাংলার রসামে, সর্বনেশে মশা,
নবযুব-রসিকের, ক্ষণে ক্ষণে দশা ;
বীজ বেশী ঢালে চাষী, পেলে জমি চষা।
সব ভাব খসা, ধসা, গ্রন্থি শুধু কষা।
বাংলায় বিনা রাজ্যে, যুষে লােক রাজা,
বুড়ো হাজা বাসী বরে, পায় ক’নে তাজা :
বাংলায় চলে এত, ঘােয়া, ঘসা মাজা।
মূল রাখা কষ্টে ঘটে, সাজা হয় সাজা।
११
প্রতিকৰ্ম্ম-প্রারম্ভেই, বঙ্গে উড়ে ধ্বজা,
বাজে ঘণ্টা, ঢাক, ঢোল, নাচে উড়ে মজা
চারিধারে রােশনাই, কত সাজা, ভজা।
কতরূপ পানাহার-মদ, গাঁজা, অজা।
৭৮
বাংলায় চুষীফল, তুষীফল তুল,
মােফল পেয়ে চক্র-মধু, তীব্র মাছি-হুল :
অসময়ে ধাতু-ক্ষয়ে, ক্ষয়, মেহ, শূল।
জল-দোষে নানা জ্বরে, বংশটি নির্মূল ।
পাকা ফল সস্তা, তাই, ভেস্তা বহু কুল।
আনন্দমুষল
বাংলায় স্বর্গ-সিড়ি, পাইবার আশে,
মা-বাপ সন্তানে বাঁধে, পরিণয়-পাশে ;
প্রতিমাস-তত্ত্বে বঙ্গে, তত্ত্ব-বােধ নাশে।
যজ্ঞ তবে--বর-কনে, আসে যবে বাসে।
ঝুঠাই আদৃত বঙ্গে, পূজিত না সাঁচা,
পাঁচ বুড়ী মিলিলেই, চলে চোপা, পাঁচা ;
ইষ্টনাম ভুলি’ বঙ্গে, উষা-বুলিচা-চা।
দায়ে ঠেকে আসে মুখে, চাচা এবে বাঁচা।
দায় গেলে বাগে পেলে, দেয় বাঁশ গচা।
৮১
;
খুন, জখম্, মারপিট, বাংলার মাঠে,
উচ্চারণ-দোষ ঘটে, বাংলার পাঠে ;
সােণার বাংলা দেশ, চৌপাট চৌপাটে,
শ্রীপাট, শ্রীগীতা-পাঠ, রেল পাট, পাটে।
५२
বাংলার পাকা বুননা, সমালচাকা,
কত্রী-ইচ্ছা-আত্মীয়ের, পর হয়ে থাকা;
বাবা, কাকা চেয়ে বঙ্গে, সার এবে টাকা।
টাকাই সাকার ব্ৰহ্ম, অন্য সর ফঁাকা।
२२
আনন্দ-মুষল
বাংলার বুলী বটে, হয় মিঠে পুলী,
পিঠে শেষে পড়ে তাল, চোখে পড়ে ধূলা
দীপ্ত আঁখি, তবু বঙ্গে, চক্ষু’পরে ঠুলী।
স্থূল যন্ত্র নাড়াচাড়া, মূলযন্ত্র ভুলি।
৪
বাংলায় রাগ আছে, নাই অনুরাগ,
বাংলায় দায়ভাগ, নাই মহাভাগ ;
বাংলায় ছাগ-গ, নাই শ্রুতি-যাগ ।
কাড়ে মাগী বঙ্গে ঘাগ, ছেড়ে নিজ মাগ।
ভাগ, বাগ, সােহাগ যা’, প্রাণে দেয় দাগ।
৮ ৫
বিদেশীয় পণ্যে ভরা, বঙ্গে প্রতি গেহ,
দেশজাত কোন দ্রব্য, নাহি চায় কেহ ;
দেশীমাতাপিতাজাত, এক এই দেহ।
পর-সাজে আনে শেষে, তাতেও সন্দেহ।
•
অপাক-উদগার বঙ্গে, শ্ৰীশ্রীহরিবােল,
শ্রীপাটে শ্ৰীমতী-স্তুতি, শ্ৰীখােলের বােল ;
ঐ-কোলে বসিয়ে চলে, পাকানো -ঝােল
শীফলেই ভক্তের, শাক্ত সহ গােল ।
আনন্দমুষল
বাংলায় লােণা খাল, পঙ্কিল গভীর,
ঝরে ক্ষীণ প্রস্রবণ, বেগী নদ-নীর ;
বাংলায় মাগ চেয়ে, ঝাঁজ বেশী ঝির।
বাসে ঢাকা পুরুষাঙ্গ, নগ্ন শুধু শির।
৮
বাংলায় দীনজনে, সত্যধৰ্ম্ম মানে,
আমীর আমির তত্ত্ব, নাহি শুনে কানে ;
বাংলায় শ্রীধামেই, ভাসে ভক্ত বানে।
বঙ্গে তােক শ্রীঘরেই, সংযম কি জানে।
খােষামুদে দোস্ত বঙ্গে,-বর্ণচোরা আম,
ভেতরে যা’ থাক, খামে, ঠিক রাখে নাম ;
রামধনু ছাচে ঢালা, বাংলার চাম।
নাম-গান এত বেশী, নাই কিছু দাম।
প্রতিঘরে উপধৰ্ম্ম, রচে তা’র ধাম।
হটে যদি ধনী বঙ্গে, মান তার খসে,
বাংলায় ধনী-সুত, হঁচড়েই রসে ;
বাংলায় দশমেই, ক’নে বর-বশে।
পুন্নাম-নরকে ত্রাণ, পায় একাদশে।
অনল-মূষল
পুষ্টবীজে বঙ্গে এবে, নাই কোন গাছ,
কলমের চল এত, নাহি তা’র বাছ ।
আণ্ড শুধু দেখে লােকে, না দেখে কি পাছ
পচা সড়া বোধ নাই, পেলে গােস্ত, মাছ,
তাই গিলে, ফল, ফুল, থাকিতেও কাছ ।
৯২
বঙ্গে লােক মত্ত মদে, ফাউ-মদ, ছিটে,
কাৰ্য্য সিদ্ধ না হতেই, জয়ডঙ্কা পিটে ;
হাওয়া খেতে, দূরে যেতে, বেচে বাস্তুভিটে ।
মাড় গেলে বঙ্গলােক, খায় অন্ন-সিটে ।
বাংলায় অসময়ে, সব কার্য আগে,
সব কাযে বঙ্গলােক, অসময়ে জাগে;
রাগিণীতে রাতভ্রষ্ট, অকালের রাগে।
উড়াে বেলে হুড়াে দিয়ে, মুড়ো নিয়ে ভাগে।
নাগিনীর ভাব ধরে, বাংলায় মাগে !
৯৪
,
বঙ্গে কিছু নাই খোজা, আছে চক্ষুবোজা,
শােনা যা’, তা’ সােজাভাবে, মাথা মাঝে গোঁজা
লালবাসে বাসে যেবা, আসে, সেই রােজা।
তা’র সনে মেলামেশা, ভাবি তাকে খােজা।
আনন্দমুষল
মিত্র পাঠশালা পড়ে, বাংলার পােলা,
বাংলার কাঙলার, রকমারি ঝােল ;
উচ্চ, নীচ, সকলের, এত বেশ লােলা,
হেথা সেথা খোজে, কোথা, চুলাে’পরে খােলা।
পরধনে-পোদ্দারিতে, বাড়ে বঙ্গে সখ,
গাছি-কলে রসাতলে, বাংলার যখ ;
বঙ্গ-প্রেমী-নিদর্শন, লম্বা চুল, নখ।
বঙ্গে টক, মিঠা-বাড়া, ধ্যাতা লুব্ধ বক।
বঙ্গে বটে বজ্ৰাটুনি, ফকা কিন্তু গিরা,
মােচখেগাে রােগে কষা, অর্ধাঙ্গের শিরা ;
বঙ্গের ঐশ্বৰ্যবতী, চপলা, অধীরা।
সদ্য কবি কামিনীরা, নহে কেহ মিরা।
ভেক-ডাকে সংজ্ঞাহীনা, বঙ্গরমণীরা।
বাংলায় ফেঁড়ী সহ, পাড়াবেড়ানীর,
পাড়াতে বেড়াতে, দশা-এটোকুড়ানীর ;
বঙ্গে বুড়ানীরা চেলী, কুলউড়ানীর।
জামা চেয়ে বেশী বঙ্গে, চা’লউড়ানীর।
বাংলায় অত্যাদর, মুখপােড়ানীর !
আনন্দ-মুষল
উদার, মুদারা, তার, সুরগ্রাম তিন,
কোন কাযে নাই বঙ্গে, তারা-সুর ক্ষীণ ;
ভাবে বঙ্গ নহে ঘােট, স্বভাবে সে দীন।
বঙ্গ-স্বর্গে উপসর্গ, নব প্রতিদিন।
বাংলায় নিত্যকর্ম, পরমনতােষা,
শাঁসে লক্ষ্য নাই বড়, মত্ত নিয়ে খােসা ;
বাংলায় সব ঘরে, ম্যালাে-জীব’ পােষা।
বাংলায় বহুরূপী,-রসরক্তচোষা।
বঙ্গে প্রায় সব জাতি, এটোপাচাটা,
অকালে জোয়ার আসে, অকালেই ভাটা ;
বাংলায় শ্যামাদ, তিনকুলঘাটা।
প্রেমাদ যিনি, তার, শক্ত পুচ্ছ-ঘাটা ।
চন্দনবিলাস বঙ্গে, পোঁটা-চুন্নী-ব্যাটা ।
!
*
বাংলায় লােকাচার, ঘুগনি চানাচুর,
গ্রাম হতে গ্রামান্তরে, বি-ভভদ প্রচুর ;
গঙ্গার পশ্চিম-কাশী, পূর্ব-চাঁদপুর।
বঙ্গ ত আজবঘর, জু-বাগান ভূর !
আনন্দমুষল
একভাষাভাষী বঙ্গে, ভাষা-ভাষে ভেদ,
বেশ, ভূষা, খাদ্য নানা, তবু দুঃখ, খেদ ;
বাংলায় মজ্জা কম, বাংলায় মেদ।
বঙ্গভূমে বহু কীট, জমে বহু ক্লেদ ।
১০০
র-ডু, ন-ল, চন্দ্রবিন্দু-বিভ্রাট বাংলায়,
রাঢ় বঙ্গ “ড়”বর্ণের, সঙ্গতি হারায় ;
বালসূর্যদীপ্তবঙ্গে, বিন্দু লােপ পায় ।
নকার-ন্যাকামি-রোেগ, গঙ্গা-কিনারায় ।
বঙ্গে সদ্-চিদানন্দ, গােলামখানায়,
সাগু খেয়ে কাযে এলে, যশ সদাখ্যায় ;
বুঢ়াঘাতে চিৎপাতে, চিদাখ্যা বাড়ায় ।
বাড়িলে বেতন কিছু, আনন্দ মিলায়।
কাগজে দেখিতে নাম, বঙ্গে নামে রুচি,
জীবে দয়া,দয়া করে, জিভে নিলে লুচি ;
বৈষ্ণবসেবন বঙ্গে, যথা অভিরুচি।
নিয়ে সঙ্গে শ্রীবৈষ্ণবী, আর কুচোকুচি।
আনন্দমুষল
বঙ্গে কন্যা-রত্ন দুলে, অন্ধের গলায়,
কেতু-ভঙ্গ যা’র, সেও, ছাল্লা তলায় ;
ত্রিভঙ্গ-ত্রিদোষ পেয়ে, অনেকে ঢলায়।
হইলেও কালাচাদ, লক্ষ্যটি ধলায় ।
•
ঈশাই, কসাই অর, খ-সাঁই, গাে-সাঁই,
যে যেথা থাকুক্ বঙ্গে, সেথায় সে চাই ;
জাতীয়তা-লেশ নাই, সর্বদাই খাই।
ভাই ভাই, ঠাঁই ঠাই, তবু ঝইঝাই ॥
বঙ্গের বল্লালীকুলে, কুলধৰ্ম্ম-লােপ,
কুলীন কুলীন--পােপ, ঝােপ বুঝে কোপ ;
বঙ্গের বিষয়’পরে, শনি-কুজ-কোপ,
বায়ুক্রিয়া, করতালি, বাংলার তােপ।
দোষ, গুণ সব ভাগে, চলে মিথ্যারোপ।
সাজিতে সাহেব মেম, বঙ্গ-লােক-সাধ,
থােপে নাহি খুলে ছােপ, তাই সাধে বাধ ;
সন, ভঙ্গ ধৰ্ম্ম-বাঁধ।
জড়সেবা-ক্রটিতেই, যত অপরাধ।
উপবীত-ভারে বলে, ভাঙে যেন কঁধ !
তবু বঙ্গে প্রতি
আনন্দমুষলা
বাংলায় বেদগ্রন্থ, রসাে উপন্যাস,
লিখিয়া গােময়-ছড়া, কবি বেদব্যাস ;
বাংলায় বিধানেই, নিত্য বিপৰ্যাস।
মশার পসার-হেতু, পচাডােবা-গ্যাস ।
১১২
বাংলায় পশ্বাচার ঝুটা-যুটানিতে,
বীরাচার মাল টেনে, মাল-পিটানিতে ;
দেবাচার দেবালয়ে, ফেঁাটা-ফুটানিতে।
ঋষ্যাচার শিষ্যাগারে, এটা সেটা নিতে ॥
বঙ্গের কু-সংস্কারে, হস্ত পদ ছাঁদা,
মা’র খেয়ে প্রতীকার,-পথে বসে কঁদা ;
বাংলায় সোঁদা থাকা,—হাত করে চাঁদা।
অল্প অর্থ, তবু চাই, বড় কায কঁাদা।
সাদা প্রাণে দিয়ে কাদা, গুণী নামজাদা।
১১৪
বঙ্গ-লােক মিথ্যা ভয়ে, ভিটে ছেড়ে ছুটে,
পৃথিবীর লােক যুটে, স্বর্ণবঙ্গ লুটে ;
বঙ্গলােক ডাকসেটে, জগতের মুটে।
ভিক্ষাপুত্ৰ হ’তে কোথা, খাড়া করপুটে।
পরে যদি দেয় চানা, খায় তাহা খুটে।
আনন্দমুষল
১২৩
বঙ্গে খুদে গােরা-দাস, নরােত্তম দাস,
গােরার প্রসাদ পেলে, কাছে স্বর্গাবাস ;
গােরা-বুলি মুখে ঝেড়ে, সৰ্ববিদ, ভাস।
গােরা সঙ্গে মিশে মন, ব্ৰহ্মত্বে উদাস।
ভাবে—গােরা গৃহে এলে, ছুটে যম-ত্রাস
১২৪
মাত্র সাত প্রজাপতি-মানস-নন্দন,
জানা ছিল এতদিন, বঙ্গে ত এখন,---
তিনটি মানস-কন্যা-মনসা নূতন,
দেখেও দয়াল-গুরু, না ছাড়ে দংশন।
গুরু, চেলা, তস্য চেলা, এই ত্ৰিপুরুষ,
অবতাররূপে গণ্য, বঙ্গে হেন হুস্ ;
বঙ্গে কালীভক্ত-ঠাই, খায় কালী ঘুষ ।
বিবিধ কবচ তাই, তুক তাক, ফুস্ !
১২৬
বঙ্গ হ’তে কৰ্ম্মফলে, যাহারা প্রবাসী,
মায়া-গয়া-বৃন্দাবন-বারাণসীবাসী ;
সে স্থলও বঙ্গ-ভােগী, সন্ন্যাসী ভিক্ষাশী,
দূষিত করেছে পাপে, হেন সত্যনাশী।
আনন্দমুষল
১২৭
সব ক্ষেত্রে স্বল্পজ্ঞই, বঙ্গের কানাই,
বিনা যােড়শােপচার, না দেয় রেহাই ;
সুবিজ্ঞ অভিজ্ঞ যারা, দেশের বালাই।
কোনরূপে বাঁচে, দিয়ে, রাজার দোহাই ।
বঙ্গের বেহাই ঠাই, বেহাই-তেহাই।
১২৮
এ এক রহস্য বঙ্গে, দৃষ্ট বহুস্থলে,
বাবাজীর ভােগে নিত্য, রাম-নাম-বলে,
রামপাখী, রামদাস, রামফল চলে ;
চলে আরাে রামরস, রসপান-ছলে
যা কিছু চলিত বঙ্গে, গৌড়ীয় পৰ্যায়,
বেদ-শ্রাদ্ধ-যাগে সব, ইন্ধন-সজ্জায়
কোথা কেহ কোপভরে, গায়ের জ্বালায়,
ঋষি-গুরু শ্রাদ্ধ-মন্ত্র, সদর্পে চালায় !
বঙ্গের সমাজে নাই, সঙের অভাব,
কালী; কৃষ্ণ-ভাবে এবে, তার প্রাদুর্ভাব ;
ছলে যে দেখায় বঙ্গে, বহুরূপী-ভাব,
সে পায় ঠাকুর-নাম, দেবতা-প্রভাব।
আন-মুষল
বঙ্গে ত্যাগধৰ্ম্ম-সত্য, স্বধৰ্ম্ম-বর্জন,
জ্ঞানধৰ্ম্ম-মুখভঙ্গি, তজ্জন, গর্জন ;
ভক্তি-ধৰ্ম্ম-অঙ্গরাগ, পুতুল-পূজন।
প্ৰেমধৰ্ম্ম-পেত্নিপদে, আত্মবিসর্জন।
১৩২
বঙ্গে পঞ্জি-প্রতি পত্রে, মহাপুরুষের,
আবির্ভাব-তিরােভাব-উৎসবের জের :
নিত্য তাই নব মত, নব ঠাকুরের,
যােড়া থেকে তােড়া দেখে, গোঁড়া সেবকের !
১৩১
বাংলায় আট কোটি, লােকেয় বসতি,
নয় কোটি দেবতার, নিত্য পূজারতি ;
তা’বােপরে ফাও পীর, ওলা তেজোবতী।
ছােট বড় আরাে কত, তাদের সন্ততি ।
১৩৪
ঠাকুর-উপাধি বঙ্গে, এবে ব্রাহ্মণের,
বহুলােক নাহি জানে, তা যে রাজন্যের ;
রামকৃষ্ণভাবাকৃষ্ট, চিত্ত যাহাদের,
তাদেরি ‘ঠাকুর’ বঙ্গে, নহে ভারতের।
সর্বত্রই গুরুনামে, জয় গুরুত্বের ।
এ জগতে গুরুত্বেই, সাড়া দেবত্বের ।
আনন্দমুষল
দেবতাও বঙ্গে খ্যাত, ঠাকুরাভিধায়,
ন্যায্য কাৰ্য্য নহে গ্রাহ, ভােজ্য-সুবিধায় ;
চেলার গুরুর গুণ, করিতে আদায়,
হঁচড়ে পাকার দোষে, অকাল-বিদায়।
বঙ্গজাত বস্তু যত, পরহস্তগত,
করে তারা বেচা-কেনা, তাহা ইচ্ছামত ;
পাতা পেড়ে বঙ্গলােক, আশা করে কত।
যা পায়, ভেজাল তাহা, তাই বুদ্ধি হত।
১৩৭
বাঙালী যে পাতে খায়, চোনায় সে পাতে,
কুচুটে বাঙালী-মন, অল্প তাতে তাতে ;
আরাে লোভ ছিটা ফেঁটা, থাকে যদি তাতে,
না চায় অন্যের মুখ, সব চায় হাতে।
সে দিকে না বঙ্গ-লক্ষ্য, স্বার্থ কম যা’তে ।
১৩
বাংলায় অতিভােগে, আসে ত্বরা জরা,
অঙ্গ-প্রতিরােমকূপ, স্বার্থবিষে ভরা ;
ধন হ'লে বহে লােক, ধরা দেখে সরা।
কাৰ্যসিদ্ধিহেতু-ছলে, সাজে কেঁড়েধরা।
আনন-মুষল
কখন না রহে খালি, বাংলায় কারা,
রােগী, ভােগী, যােগী, ত্যাগী, কেহ নয় খারা;
বাংলায় বিপরীত, সর্বকৰ্ম্ম-ধারা।
বঙ্গের মন্ত্রণা-ভেদ, কঁচা পারা পারা ॥
সিদ্ধযন্ত্র, কেশতেল, রতিবৃদ্ধি-বটী,
বঙ্গের সংবাদ পত্রে, বিজ্ঞপ্তি এ ক’টি ;
পূত খাদ্য ভেজালেই, বাঁধে লোকে কটি ।
সব রক্ত চুষে খায়, বঙ্গে নট, নটী ।
পাঁচ-ফুল-সাজি-বঙ্গে, তাজা না একটি ।
১৪১
বঙ্গে তাহা হয় 'তাল, থাকে যাহা তিল,
কোন কাযে কারাে সনে, নাহি কারে মিল :
কিল খেয়ে কিলচুরী, পুরু হেন দিল ।
বিচার করিলে শীল, ভাল কৃষ্ণ শীল ।
১২
কুত্তা সম বড় কত্তা, দপ্তরে গােলাম,
বঙ্গের মন্দির-দ্বারে, বাজায় সেলাম ;
বিট যেবা, ঝাড়ে কিছু, বচন মােলাম।
বঙ্গে যে দেবত্র-যােত্র, তারও নীলাম !
আনন্দমুষল
৩৭
১৪৩
আসিলেও পট্টরাণী, বঙ্গে দেবপাটে,
ধাতুক্ষয়-ভয়ে, কোন, ধাতু নাহি ঘাটে ;
একপাই দিয়ে কেহ, হাতে মাথা কাটে।
ফাটে কারাে হৃদি, দিতে, কানা কড়ি টাটে
মৌফত প্রসাদ-কথা, চলে কিন্তু সাটে।
১৪৪
বঙ্গের পুলীস হয়, কুলীশ ভীষণ,
‘বখিলের পেটে কীল, উকিল এমন ;
টোৰ্ণি বা এটর্নি ভাবে,—“তাের নি কখন।
‘কর সদ। পরেশান, এ কর্পোরেশন।
‘ডাক তার, যে ডাক্তার, হেসে শােষে ধন
১৪ ৫
বাংলায় নব্য ভক্ত, ওয়াথু-সংজ্ঞায়,
For রঞা, ফ্রেণ্ড রুগু, ফেরে অণ্ডপ্রায় ;
যজমান, জজ-মান, না পেলে শাসায়,
গুরু যে, হলেও গুরু, চরে গােশালায়।
যাজক যে জোক সম, যখ-রক্ত খায়।
‘কেয়ার নি, ব’লে প্রভু, ক্যারানী ভিড়ায়।
আনন্দ-মুষল
১৪৬
১৪৭
বঙ্গে ত ইন্দ্ৰত্ব তুচ্ছ, টঙ্কা এলে টাকে,
কত সাধু কত সাজে, ধােপে নাহি টাকে,
এমবশে কেহ যদি, কোথা ঠকে ঠ্যাকে,
দেখালেও দোষ তার, স্ব-দোষ না দ্যাখে।
বঙ্গে জেঁকো-ডাকহাঁকে, সােজা যা তা’ বাঁকে।
পেটাপাব্যাধি বেশী, বঙ্গের অন্দরে,
বঙ্গলী খায় লাথি, বঙ্গের বন্দরে ;
পণ-দরে নহে কিছু, সব মণ-দরে।
বাজারে কাটে সে মাল, হরে হরে।
করেও বঙ্গ ত্রস্ত, কামনা-
করে ।
:৪৮
না বুঝিয়া প্রতিকাযে, বঙ্গ আগে ঝাঁপে,
হালে পানী না পাইয়ে, ভয়ে শেষে কাঁপে ;
বাংলার মাটি ফাটে, মরুবাসী-হাঁপে।
দেশী, মরে উপবাসে, খেয়ে তারা ফাঁপে।
কারাে মার্গে বাঁশ, কেহ, গণে ফাঁপে ফাঁপে।
১৪১
নানা হিংস্ৰজীবপূর্ণ, গােটা বঙ্গদেশ,
হিংসাবশে কারাে প্রাণে, নাই শান্তি-লেশ ;
খাড়া, টেড়া, কোঁকড়ান, রকমারি কেশ,
রকমারি সাজ কায, বুলি, ব্য-ঠেস ।
বঙ্গভূমি-রঙ্গভূমি, ফলে পঞ্চ ক্লেশ !
আনন্দমুষল
১৫.
বঙ্গে ভক্তি-পরাকাষ্ঠা, গোঁড়ছোঁয়া, গড়,
গড় বলে জানে লােকে, গড়-টিটাগড়
ফকড়ের জিহ্বা-গাড়ী, চলে গড় গড়।
দেখে বসি’ বঙ্গ-লােক, রগড়ে রগড়।
পিতৃ-যােত্র হাতে এলে, বঙ্গে লােক জড়,
চালে খড় নাহি থাকে, হেন ভীম ঝড়,
মাথা কিছু সতা বটে, শুক কিন্তু ধড় ।
কাম-নামে তাই ঘামে, করে ধড়ফড়।
১২
সঙ্খ্যাতে না ত্যজ্য বঙ্গে, দন্তী ক্রান্তি, কড়া,
কড়া কড়া মাংস ঘেঁটে, হাতে শক্ত কড়া।
তুড়ে যুড়ে বাংলায়, রংদার ছড়া।
বিধাতার অপরূপ ছাঁচে বঙ্গ গড়া !
বঙ্গে তাজা ফল ত্বরা, দৃষ্ট হয় সড়া।
কৌমারেই মায়া-টোলে, বঙ্গে হাতে খড়ি,
কড়ি-নাম সস্তা, ঘরে, নাই কাণা কড়ি ;
বঙ্গে নব্য-সভ্য, ভব্য, পােস্তদার বড়ি।
তড়িঘড়ি চাল আগে, অন্তে কড়াকড়ি ।
আনন্দ-মুম্বল
১৫৪
গােলদার চেয়ে বঙ্গে, গলাকাটা ফ’ড়ে,
বুড়াে রাজা, মন্ত্রী চেয়ে, কিস্তীবাজ ব’ড়ে ;
চণ্ডী-পূজা শুষ্ক ফুলে, রাণ্ডী-গলে গড়ে।
লড়িয়ার বাড় অতি, গুপ্তভাবে ল’ড়ে।
ভদ্র যারা ভয়ে সারা, থাকে রঙে চড়ে।
আচার্যের মান তুড়ে, বাংলার পড়াে,
প্রতি গ্রামে যুবা শূনী, যেন কাক ঝ’ভাে;
বঙ্গে প্রতি গণ্ডগ্রামে, বহু বাড়ী পড়ো।
বঙ্গে মুড়াে সচেতন, ধড় যেন জড়ো।
বঙ্গে সুখ সড়াতেই, বাজে দম্ভ কাড়া,
অত্যধিক বরষায়, তােক ভিটেছাড়া ;
কবি-উক্তি-বৃন্দাবন, বাংলার জাড়া।
অনেকে মাগের তবে, খেয়ে মুখনাড়া ।
পরমুখে খেয়ে ঝাল, বঙ্গে কথা পাড়া।
বাবুনীর বাস বঙ্গে, গজপেড়ে সাড়ী,
বাবু চায় ছড়ি, ঘড়ি, রাড়ী, বাড়ী, গাড়ী ;
ব্রাহ্মণের নাই শিখা, লম্বা সিকেদাড়ী।
যন্ত্র নেড়ে শান্ত ধেড়ে, তেড়ে ধরে ধাড়ী
আনন্দমুষল
১৫৮
বঙ্গে পাল্লা শক্ত ভারি, লজগ’জে ডাড়ী,
হয় পাকা শ্বেতখানা, ঢেলে’ ধন-কড়ি ;
ডােম, হাড়ি নাড়ে বঙ্গে, বঙ্গরাড়ী-হড়ী।
বঙ্গের গঙ্গায় শুধু, বাণ যাড়াষাড়ী ।
অকাযে অকালে বঙ্গে, ঘূণ ধরে হাড়ে,
পেতিনীর ঝাড়তেই, ভূতে ‘উপ’ ছাড়ে ।
বারভূত চাপে বঙ্গে, রোজগেরে-ঘাড়ে।
গােলে ফেলে ‘মা-ভৈ’ এই, উড়াে বােল বাড়ে।
বাংলায় পােষ ষাঁড়ে, প্রভু-পেট ফাঁড়ে,
বঁড়কাক মাগে স্থান, কাকাতুয়া-াড়ে ;
বাংলার পাড়ে গায়, ভবানী মা, ভাঁড়ে।
ঘাড় ভাঙে কীল, চড়ে, দোবে, চোবে, পড়ে।
বাস্তু-যাগ-ফল নাশে, সিদ্ধপীঠ-রাড়ে।
শৈশবেই চলে বঙ্গে, গান, পান, বিড়ি,
শৈশবেই ভুগে লােকে, পাপ-কাযে ভিড়ি;
গুণ্ডা শুণ্ডা নহে ঠাণ্ডা, বিনা পীড়াপীড়ি।
বাংলায় ক্রিমিয়ােগে, দন্ত কিড়িমিড়ি!
আনন্দমুষল
১৩২
বাংলায় সব কাযে, লেগে আছে উড়,
সব কাযে সকলের, মন উড়ুউড়, ,
বঙ্গের প্লাবনে, বহু গ্রাম বুড়বুড়।
দিন রাত পরামর্শে, মিথ্যা সুড়বুড়!
বঙ্গভাষা চাপা বঙ্গে, ধ্বনি রুড়, রুড় !!
১৬৪
শতকরা দুইজন, বঙ্গে বুড়াে, বুড়ী,
ছোঁড়াছুড়ী, নেড়িগেঁড়ি, প্রায় পাঁচকুড়ি ;
পতি-পুত্রহীনা কন্যা, বঙ্গে গৃহ-গুড়ি।
বাংলায় ফোটা চেয়ে, গন্ধে ভরা কুঁড়ি!
থুড়ি’ জীবে বঙ্গলােক, মুখে বলে থুড়ি !!
মা ছেড়ে খায় বঙ্গে, আণ্ডা, মুড়কি, মুড়ি,
চাহে সব কৰ্ম্মে সিদ্ধি, ব’সে মেরে তুড়ি ;
সার কথা নাহি কোথা, বাজে সাত বুড়ী।
বুড়া, বুড়ী ঘরে, তবু, নিত্য হুড়ােহুড়ি ।
চাতুরী ফলায় বঙ্গ,
নিয়ে খুনশুড়ী !!
ডুবে বঙ্গ খায় জল, মরে অন্তে বুড়ি'।
বাইজীর সাজে সাজে, বাংলায় ছুড়ী,
মঞ্চে বসি’ মালদার, বাংলায় শুড়ী ;
ধনাট্যের সুলক্ষণ, ঢুণ্ডি সম ভুড়ী।
বঙ্গ যেন বসুধার, লাটা’য়ের ঘুড়ী।
আনন্দ-মুষল
বঙ্গে বৃদ্ধ পিতামাতা, সন্তানের বেড়ী,
প্রভু চেয়ে চলে বেড়ে, যত চেড়, চেড়ী ;
বাংলায় মিলে ডালে, খােসা, মূষা-নেড়ি।
ঘােড়াকে বানায় ভেড়া, কামরূপা ভেড়ী ।
তিল তৈল তুচ্ছ বঙ্গে, ব্যবহাৰ্য্য রেড়ী।
বঙ্গে টেড়া নেড়ানেড়ী, সারা দেশ বেড়ে,
পাজির দুই পা ঝাড়া, মাে-সাহেব ভেড়ে ;
বঙ্গে লােক কথা পেড়ে, নাহি কাসে ঝেড়ে !
রাখে বঙ্গ ভাত বেড়ে, অন্যে খায় কেড়ে!
বঙ্গে লােক পড়ে ত্বরা, অতি লােভে বেড়ে ।
১৬৮
গােচরে না, পাড়াতেই, চরে বঙ্গে এঁড়ে,
সর্বদাই দুধে ভরা, ঘােষজার কেঁড়ে ;
সেঁড়ে হ’তে চাহে বঙ্গ, হইয়াও বেঁড়ে।
ইতর কি ভ সব, বঙ্গে একাষেড়ে।
যেখানেই চোরা বিল, তথা নাগ-হেঁড়ে।
বঙ্গে যত অজগোঁড়, তত ভূইফেঁড়,
কেঁড় না গজা’তে ঠিক, চুড়ে কোথা ধােড় ;
নদ, হ্রদ চেয়ে বঙ্গে, কাটা খালে তােড়।
গোঁড় ধরা, পিছু সরা, যথা বক্র মােড় !
আনন্দ-মূষল
১৭৭
বৃথা তর্ক বই বঙ্গে, নাই চোখে ঘুম,
ভাত না হজম হয়, বিনা রু-ঝুম্ ;
বাংলায় মেই সৎ, যত দোষী তুম্ ।
কোনকালে নহে শূন্য, অন্দরের ধূম!
বঙ্গে ওঁম নাম মাত্র, হােম, জপে হুম।
নাচ-গানে মত্ত লােক, ধৰ্ম্ম নামে গুম ।
১৭
বাংলার দক্ষিণেই নামজাদা বাদা,
বনবল্লীভরা পল্লী, পথে পচা কাদা ;
মাঠ ছেড়ে বঙ্গে দেখি, দীঘি-পাড়ে নাদা।
মূলসূত্রে ধনী পুত্র, বোকা, উদোমাদা?
চতুর ত চাটুকর, বাবুভায় হাঁদা।
১৭৯
ধারে হাতী কিনে বঙ্গ, পেয়ে কাছে অগা,
বাংলার সার ধৰ্ম্ম, ধৰ্মী-পোঁদে লাগা;
বঙ্গের গো-স্বামীদল, যেন ষণ্ড দাগা।
ডাকিতে বাড়া ভাতে, বসে বগা, কাগ !
জীবিকার সদুপায়, পরদ্বারে মাগা ।
আনন্দ-মুষল
১০০
জাতিগত বৃত্তি-দ্বেষ, বঙ্গে অহরহঃ,
গয়লা বলিলে গােপ, বলে ‘চোপ রহ’ ;
স্নান-যােগে ভিড়ে লােকে, আণ্ডা, বাচ্চা সহ।
ঠাট্টা করে, যদি কভু, হিত কথা কই।
পরমুখাপেক্ষী বঙ্গ, নহে ঘাতসহ।
১৮১
ধরম, করম বঙ্গে, সকলি লৌকিক,
নহে ভাব আন্তরিক, কেবল মৌখিক,
বাংলার আড়াতেই, সুফল যৌগিক।
ইষ্টারণ, কেরে, ভােগ ঔদরিক।
১২
ভােজন সময়ে, বঙ্গে, পাত্ৰ-চারিধারে,
যে প্রকার আঁস্তাকুড়, ধাপা তাহে হারে।
চেয়ে নিয়ে পাতে ভক্ষ্য, ঠেলে পিণ্ডাকারে।
তবু তা’য় রকমারি, মাগি পরদ্বারে ।
১৮৩
পরপূজা চলে বঙ্গে, যােড়শােপচারে,
আত্মপূজা শুধু জল, কিম্বা অনাহারে ।
দশবিধ সংস্কারে, অতি ব্যয়ভারে,
পরবশে এসে বঙ্গ, যায় ছারেখারে ।
আনন্দ-মুষল
১৮৪
বঙ্গে তুচ্ছ করমেও, বাধে খটপট,
মিত্রতায় স্ব-ঘরেই, নানা লটঘট !
বঙ্গে ললাকে মেয়ে-বিয়ে, দিয়ে চটপট,
মীন সম ঋণ-জালে, করে ছট্ফট্ !
আদর্শ ব্ৰহ্মজ্ঞ ত্যজে, পূজে ঘট, পট ।
১৮৫
;
সুবৰ্ণ-সংসারে বঙ্গে, সুবর্ণের ছটা,
উড়ে এসে যুড়ে বসে, দেখি’ সব পটা;
সিদ্ধপীঠে ডঙ্কা পিটে, ‘ম’-দোষ যে কটা
ডাকসেটে ভােগ-পীঠে, অন্নযজ্ঞ-ঘটা।
১৮৬
একাদশ গ্রহ বঙ্গে, গ্রহ নয় নটী,
সমভাবে সর্বহৃদে, জাগে রিপু ছটী ;
মুক্তাভস্ম-নামে, কাটে, গাত্র-মল-খটি।
বুট নাহি সুট করে, বঙ্গ চায় চটি ।
১৮৭
কটু উক্তি কটু বঙ্গে, কটু নয় কটু,
বঙ্গদেশে সর্বনেশে, অযাচিত চটু ;
ধৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম-নামে ঘর্ম, লােক নৰ্ম্মপটু।
বঙ্গে সব মাতবর, ছটু, বটু, সটু।
আনন্দ-মুষল
১৮
অসহিষ্ণু বঙ্গ হেন, ফোড়নেই চটে,
সু-বুদ্ধি না, দুষ্ট বুদ্ধি, বঙ্গে প্রতি ঘটে ;
ভয়ে ভয়ে বাস বঙ্গে, নদ-নদী-তটে।
তুচ্ছ, হেয় কথা, কাষ, বড়ভাবে রটে ।
!
১৮৯
বঙ্গে অতি পূর্ব-ভাষা, অতি কটোমটো,
চাহে অতি পূর্ব-লােকে, দ্বন্দ্ব, ভজকটো!
‘খাও, দাও, লুটো মজা, বঙ্গে এই ‘মটো।
বঙ্গে প্রায় পূজা-ঘরে, শ্ৰীমতীর ফটো ।
পর-যােত্র পেলে বঙ্গ, সাজে বড়লাট,
বড়রূপ ডাকখানা, বাংলার ঘাট ।
বিষবাষ্প-উৎপাদক, বাংলার পাট !
পচা, ঘুমােচিংড়ীভরা, বাংলার হাট।
বিশ্বঠই ধার করা, বাংলার ঠাট
!
১৯১
বঙ্গের রেলে হয়, নাক-কাণ-কাটা,
জমিদার, পাটোয়ার, করে শুধু টা-টা!
বাংলায় মােক্ষদাতা, বার্ড, বামা, টাটা।
আধুলী তুলিলে, টাকে, ভূমে নয় পা-টা।
পরপােষ্য হয়ে ৰতে, পর-অন্ন সাটা ।
৪
আনন্দ-মুষল
বঙ্গে শুধু গর্জনেই, কর্ণ-ফাটাফাটি,
মতলব বর্জনেই, চলে কাটাকাটি ;
সেখানেই লাঠালাঠি, যথা চাটাচাটি।
খুঁটিনাটি বাধিলেই, সুরু বাটাবাটি ।
অধিকাংশ বলােক, ভালবাসে চাটু,
বাংলার উঠানেই, জল একহাঁটু ;
বঙ্গের দপ্তরে বাবু, ভাড়াগাড়ী-টাটু।
দেশ-কাযে জগন্নাথ, পর-কাযে পাটু!
১৯৪
টাটে আছে, ভাবে বঙ্গ,
উঠে’ কাষ্ঠ-খাটে,
মামলা-রুজু, ফয়সাল, সব স্নান-ঘাটে।
বিনা নিন্দা-মুখশুদ্ধি, বঙ্গে বুক ফাটে!
যুক্তি আঁটে বঙ্গলােক, হাটে কিংবা বাটে।
বঙ্গে যদি কোন কামে, ধৰ্ম্ম রেখে খাটো,
এই তা’র পুরস্কার,‘খালি থালা চাটো’!
কেহ যদি বড় ঘরে, লােক-শীল ঘটো,
দেখিবে তারা না ছােট, যারা ছােট খাটো।
আনন্দ-মুষল
ধনবান ভােগী বঙ্গে, হয় যােনি-কীট,
বঙ্গের প্রেমিককুলে, উন্মাদের ছিট।
বঙ্গে বাবু-কেঁচা, কাছা, দীর্ঘ ছয় ফিট ।
লােণা-দোষে বাংলায়, নষ্ট ত্বরা ইট।
রকমারি পীঠ বঙ্গে, রকমারি বিট।
বাংলায় ধান্যমাঝে, অত্যধিক চিটা,
বাংলায় শুদ্ধ সব, দিলে জল-ছিটা ;
কালকূট সম বঙ্গে, তেল, দুধ, ঘি-টা।
ডাক্তারের ফি-টা দিতে, উড়ে যায় ভিটা
আলটপকা পেলে ধন, বাড়ে নবাবিটা।
সার ভাগ ফেলে বঙ্গ, খায় বস্তু-সিটা।
১৯৮
বাংলায় শিশু প্রায়, ক্লিষ্ট ক্রিমি-কীটে,
বঙ্গে নামী জমিদার, নিঃস্ব প্রজা পিটে ;
পিঠে চাপ, তবু বঙ্গ, খেতে চায় পিটে।
বঙ্গের বিষয়-গােল, কখন না মিটে।
লােকের মেজাজ বঙ্গে, বড়ই খিটখিটে ।
আনন্দ-মুষল
গিরি-কূট চেয়ে গৃঢ়, বতে ভাব-কূট,
আছেই ত ফুটমুট, নিয়ে বুটমুট।
হতে নাহি জানে বঙ্গ, কভু একট।
কুড়েমিটা বাংলার, অধঃপাত-রুট ।
;
বঙ্গে এবে নিত্য খাদ্য, বালি, এরারুট,
হরলিক ফুড, সাগু, মেলিন্স বিস্কুট ;
চা-তে চাই স্যাকারিন, দুধ টিন-পুট ।
ওটমিল, ফুটসাল্ট, রুচিকর ফ্রট
বঙ্গে নব কুরুক্ষেত্র, একঠাঁই যুটা
পড়ায় সিদ্ধান্ত সার, শুনি বাত দু’টা ।
বাংলায় শিল্পকায, তরকারি-কুটা।
কুঁদিয়ে ‘কু দিয়ে ফিরে, দ্বারে দ্বারে কু-টা !
সত্য ফাসি-কল হয়, বাংলার চুটি,
পেতিনীর নাচঘর, উদ্যানের কুটী !
বাংলায় ভিত চেয়ে, পােক্ত গৃহ-খুটি।
করে বঙ্গ মােলায়েম, জল দিয়ে রুটি
আনন্দ-মুষল
যে কাৰ্যই হাে’ বঙ্গে, করে তাহা ছুটে,
পরিণামে পরিতাপে, নেশা যায় ছুটে ;
বঙ্গে জাতি-নির্বিশেষে, স্বভাব হিংসুটে।
পােষ্যপুত্র-পরগাছা, বিদঘুটে, কুচুটে।
২০৪
একাধিক গৃহলক্ষী, তবু বঙ্গে ছুটো।
থাকিতেও কর বঙ্গে, বড়লােক ঠুটো।
নারীর উর্ধাঙ্গে বঙ্গে, এককুড়ি ফুটো !
এক মুঠো দেখিলেই, খুলে বঙ্গ মুটো।
কিছুতেই বঙ্গে কারে, নাহি পূরে পেট,
সদগুরুর সঙ্গে বঙ্গে, নাহি হয় ভেট।
বাড়িলে আর না কমে, বঙ্গে বস্তু-রেট।
দোষেও না বঙ্গ কোথা, করে মাথা হেঁট
মাতাপিতা-সঙ্গ ছাড়ে, বঙ্গে কৃতীবেটা,
তা’তেই উঠায় বিষ, ধরে বঙ্গ যেটা !
নির্দিষ্ট না, নাড়ে বঙ্গ, এটা-ওটা-সেটা।
গাঁয়ের মােড়ল বঙ্গে, যেবা নাদাপেটা !
আনন-মুষল
সেইটিই করে বঙ্গ, অশাস্ত্রীয় যে-টি,
আত্মজন পর বঙ্গে,
পর নেটিপেটি
কেটি চেয়ে মরে খাটি, ঘরে পােষা বেটি ।
ছেলে-মাথা খায় মাসী, পিসী, দাদী জেঠী ।
বাংলায় আয়ু ঘাটে, বেণে-তবে খেটে,
গাড়ী তরে খেয়ে ছুটে, ফিক ধরে পেটে ।
পাইলে গচ্ছিত ধন, দেখে লােকে চেটে ।
ত্রিমণ যে বপুখানি, তাও কঁচা মেটে।
বাংলায় বিধবার, শুদ্ধ বাস কেটে ।
বঙ্গবাই-শক্ত বাই, ছোঁয়াচে বা এটো,
বাংলার মহাজন, মহাজন পেটো।
বাংলায় ঘাটে বাটে, ফিরে জোঁক পেটো।
যত রদ্দি, সেটো মাল, দরে বেচে হেটো।
অখাদ্যের পৃতি-গন্ধে ভরা হস্ত-চেটো ।
২১৩
বঙ্গে রূপি-বিনিময়ে, চায় লােকে নােট,
পাড়ায় পাড়ায় গ্রামে, দলাদলি-ঘেঁটি ;
মাগ’পরে যত রাগ, যত কিছু চোট ।
অতিরােষে, মেজে বসে, বাহুর আস্ফোট ।
আন-মুষল
বাংলায় সার্ট সম, চলতি নয় কোট,
দেখাইতে বস্ত্রোপরে, পরে নারী গােট।
চতুর ফতুর বঙ্গে, নিতে লােক-ভােট।
গাড়ীতে না ধরে বঙ্গে, বাবুযাত্রী-মােট!
ভীত, তবু চাহে বঙ্গ, হ’তে সবলেট ।
বঙ্গের জিঞ্জির পাকা, নড়বড়ে খোঁটা,
ভালদিকে নাহি ধায়, বাংলার গো-টা ।
বঙ্গে কঁচা গুঞ্জাফল—নালিকাস্ত্র-টোটা ।
বাংলায় ফল মােটা, সরু কিন্তু বোঁটা ।
মােটা চাল না খেয়েও, বঙ্গে চাল মােটা।
বঙ্গে গৃহছিদ্র-কথা, বাস করে ঠোঁটে,
চিত্রগুপ্ত-কাৰ্যালয়, বঙ্গে হাইকোটে ।
বাংলার মাটি ফাটে, অতিসতী-চোটে ।
বয়সেও বঙ্গের না, প্রজ্ঞাচক্ষু ফোটে।
ঢাক পিটে ছুটে লােকে, পুষ্পেৎসব-ঘেটে।
২৪
টেড়ী-ভঙ্গ-ভয়ে বঙ্গে, উষ্ণীষ না শিরে,
গা’র ঝাল মিটাইতে, ভাগ চুল চিরে ;
শ্ৰীমান্ হ'লেই, তঁাকে, মােসাহেবে ঘিরে।
বাংলায় হিন্দু-ঠাই, সিম্নী খায় পীরে।
আনন্দ-মুম্বল
;
চুপেছিপে বােমাবাজী, করে বঙ্গ-নীরে,
গলাবাজী, চিঠিবাজী, চলে ধীরে ধীরে ;
শাস্ত্রীপুত্ৰদাপে, বাপে, ভাসে বঙ্গে নীরে,
মায়ারাণী আনি-পদে, লুটে বঙ্গ-হীরে !
উচ্ছ ঙ্খল ভাবে বঙ্গ, সব দিকে ফিরে ।
বাংলায় রুচি হেন, ডিম, মাংস, মীনে,
মুখে নাহি উঠে ভাত, ’র ঘ্রাণ বিনে ;
বিধবাকে বঙ্গ যেন, রাখিয়াছে কিনে।
পায় রেহাই তারা, একাদশী দিনে ।
নিরন্তু উপােষ তবু, রঘুমতাধীনে ৪
ফুটবলখেলা বঙ্গে, নিত্য মাঠে ঠাটে,
জুয়া, সট্টা চলে বেশ, সেয়ারের হাটে ;
পৈতা-গ-দণ্ড-ত্যাগ, সদ্য কালীঘাটে।
পৰ জাতি পৈতা তরে, ব্রাহ্মণকে সঁটে।
বলে জার-কাম-বেগ, জীবনে না ঘটে।
আনন্দমুষল
২১
বঙ্গে লােণা কাটাখাল, সহজেই খসে,
বঙ্গলােকে ছোট শিলে, বড় লােড়া ঘসে !
বঙ্গে সুখ-শাখী শাখে, সব পাখী বসে ।
অধমর্ণ-ভিটে বঙ্গে, উত্তমর্শে চষে।
আইনের প্যাচে রাজা, প্রজা-দিল কষে!
আসুলার ডিপাে বঙ্গে, হৰ্ম্মে, চতুঃশালে,
বর্ষায় শেপােকা, কেয়া, বিরাজে দেয়ালে ;
বিবিধ পিপীড়া বঙ্গে, মিষ্টান্নের থালে।
চেঁচা’তে পেচা ভােরে, পান পূরে গালে !
এককালে, বঙ্গলােক, ফাসে নানা তালে।
२२०
তেলাপােকা-নাদি বঙ্গে, থাকে গুড়ে, চালে,
সাক্ষাতে আৰ্য্যের ভাব, ম্লেচ্ছ অন্তরালে।
দিবসে প্রাঙ্গণে বঙ্গে, ফুকারে শৃগালে।
নাই বঙ্গে মালে দৃষ্টি, দৃষ্টি শুধু ছালে।
দোষী সে কৌমারে, যেবা ; সত্য-ধৰ্ম্ম ক'লে।
२२०
সব কাযে বঙ্গ আগে, তেজে কটি বাঁধে,
কায় ছেড়ে ভয়ে ভাগে, গােল যদি বাধে।
বাংলায় ভিক্ষা করে, মুখে ‘জয় রাধে’ ;
এই সাধ সদা পােষে, কিসে লােকে সাধে।
৫৮
আনন্দ-মুম্বল
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব বঙ্গে, গেছে রসাতলে,
“বন-ফোড় বাহে গুরু, পূজ্য বহুস্থলে।
বুজরুগ দেখে লােকে, ভিড়ে তার দলে।
ব্ৰহ্মবিদ্-নাম শুনে, রােষাগুনে জ্বলে।
২২৩
বাংলার গুরু চাহে, বাণারসী চেলী,
বাণারসী গুরু-আশ, করে বঙ্গে কেলি ;
বাণরসী-চেলীগুরু, লাজ ভয় ঠেলি,
বাণারসী চেলা তরে, বসে জাল ফেলি'।
২২৪
বঙ্গে বহু চেলা, চেলা, যে গুরুর পিছে,
হলেও সে শিব, তা’কে, দূষে লােকে মিছে ;
এমন কি ভক্ত মাঝে, কত হেন বিছে,
গুরুসেবী-ভক্ত-প্রাণে, হুলটি বিধিছে।
সঙ্গে সঙ্গে গুরু-প্রাণ, বাদ না পড়িছে ।
২২৫
আবার যে সব ভক্ত গুরুর কৃপায়,
দেখায় ভকতি, শ্রদ্ধা, গুরুর পূজায়,
যথাশক্তি অর্থব্যয়ে, আহার যােগায়,
গুরুগৃহে থাকে যদি, কেহবা সেবায়,
অন্য ভক্ত-অঙ্গ জ্বলে, দেখি’ ঈর্ষায়।
শুরুও সে ভক্ত সহ, কলঙ্ক কুড়ায়।
আনন্দমু
২২৬
গুরুহে পায় যদি, কেহ যােগ্যতায়,
তায়ােপরে গুরু যদি, সুখ্যাতি রটায়,
পড়ে তাহে বাজ, ঈর্ষী, ভক্তের মাথায় ;
গুরুও লাঞ্ছিত সদা, বিবিধ খোটায়।
ভক্ত হেতু গুরু নিত্য, নব ভাবনায়
२२१
গুরুভাই, ভগ্নি মাঝে, গুরুসেবা-জোরে,
যদি কেহ লভে জ্ঞান, নাহি ঘুরে ঘােরে,
স্তুতি ছেড়ে লােকে তাকে, বাঁধে নিন্দা-ডডারে :
আর ত টাকাই দায়,—গেলে ভক্ত দোৰে ।
২২৮
যে গুরু অপটু মিছা, শিষ্যকে বাড়াতে,
ঘরে খেয়ে বনে মােষ, না পারে তাড়াতে,
সে গুরু অশক্ত বঙ্গে, গুরুত্বে দাড়াতে ;
সেই গুরু, শিখেছে যে, সত্যকে ভাঁড়াতে।
২২৯
বাংলায় গুরুগিরি, অন্ন-সমস্যায়,
অজ্ঞ থাকি’ বিজ্ঞসাজা, মান-প্রতিষ্ঠায় ;
বাংলায় গুরুগিরি, করমকুণ্ঠায়,
কাটে দিন সদ্গুরুর, দৈন্য উৎকণ্ঠায়
অনল-মূষল
গুরুশিষ্যমাঝে বঙ্গে, অসঙ্গত দ্বন্দ্ব,
অভিমান-দম্ভ-দোষে, শিষ্যভাগ্য মন্দ।
গুরুও ধরেন বটে, নাম ব্রহ্মানন্দ,
কাযে কিন্তু কাম-ছন্দে, হৃদে নিরানন্দ।
অন্যদেশী গুরু-স্থান, বঙ্গে বেশী যত,
নাই বঙ্গ-গুরু-স্থান, অন্য দেশে তত ;
অন্য দেশে একমতে, লােক ধৰ্ম্মরত,
বঙ্গে নানা উপমতে, ভক্ত প্রাণে ক্ষত।
গুরুচাকা সাতঘেটে, বঙ্গে শত শত ।
২৩২
কবে বলে পিতামহ, সিদ্ধ ঘৃতপানে,
ভাঁড় চেটে নাতি তা’র, স্ফীত অভিমানে
অতীতের উপকথা, বঙ্গ, সত্য মানে,
দেয় বঙ্গ বিনা দোষে, মই পাকাধানে।
কীল খেয়ে বঙ্গলােকে, বুকে বজ হানে।
ভ্রাতৃদ্বেষী বঙ্গ, নহে, বিদেশী-বিদ্বেষী,
দেশীভাই চেয়ে তারা, লুটে অতিবেশী ;
'তবু ব তাহাদের কাছে বসে ঘোঁসি,
প্রতিবেশী-ছিদ্রান্বেষী, বঙ্গে প্রতিবেশী ।
আনন্দ-মুষল
২৩৪
বঙ্গে লােক জড়বাদী, গোঁড়া পৌত্তলিক,
মৌলিক ধরমদ্বেষী, খেয়ালী কৌলিক ;
বঙ্গের মৌখিক শুধু, জ্ঞান ভৌগলিক,
গােযােগ-যােগ-যােগ, বঙ্গে অলৌকিক ।
দেবালয়ে বঙ্গে এবে, সেলামী প্রণাম,
রক্তশালি হতে প্রিয়, তণ্ডুল বালাম ;
গােলাবাড়ী লুপ্ত হয়ে, পাটের গুদাম,
মাংসহীন দেহে শােভে, কঙ্কাল কাঠাম ।
বিনা কৰ্ম্ম চাহে বঙ্গ, অকর্শে আরাম ।
নাটুকে ঢঙের কথা, ছাদে বঙ্গবালা,
বারমাস দুঃখােচ্ছাস, নিয়ে ভিক্ষা-ডালা ;
পরিবার-স্থলে বঙ্গ, সর্বেসর্বা শালা,
রঙ্গমঞ্চ সদা খােলা, দেবাগারে তালা।
গুণ্ডা হয়ে ফিরে পাণ্ডা, এলে প্যালা-পাল।
বঙ্গে প্রতিকৰ্ম্মক্ষেত্রে, বিদেশী মজুর,
অন্নপূর্ণা-অধিকারে, উড়িয়া ঠাকুর ;
অসংযমে ভােগ-রাগে, গৃহস্থ ফতুর,
প্রতিঘরে বেশী ভাগ, অসুস্থ, আতুর !
বঙ্গ এবে বিদেশীর, পালিত কুকুর!
২
আন-মুষল
২৩৮
নীচমনা করে বঙ্গে, উচ্চতার দাবী,
বলে লােকে—আছি ভাল, খাইলেও খাবী ;
ভূ-ভাণ্ডার বঙ্গ, কিন্তু, পরতে চাবী,
বঙ্গ এবে সত্যভােলা ভাবীস্বপ্ন ভাবি
ভােগ-রাগী জন্মগত, যােগ-রাগ নাবী ।
মই নিয়ে সরে বঙ্গ, তুলে দিয়ে গাছে,
ভিটেছাড়া করে, যদি, বিজ্ঞ থাকে কাছে ;
বঙ্গে গুণী-গুণ যত, দোষ তত আছে,
বঙ্গে প্রায় আত্মশ্রাদ্ধ, পচা শাক-মাছে।
বঙ্গে রাধাভাতে ধান, কেবা কত বাছে।
२४.
পরমুণ্ডে চেপে খেতে, বঙ্গ বৃহস্পতি,
বনে বেশী বিষ-লতা, কম বনস্পতি ;
ছাগ, গরু হ’তে বঙ্গে, বহুশ-ক্ষতি,
উপন্যাস-রসে বঙ্গে, উপ প্রতি রতি।
রসবতী’ পরে মতি, হইলেও যতী।
মধুর রসের ভক্ত, যুবক, যুবতী।
আনন্দ-মুষল
৬৩
২১
ব্রাহ্মণ, কায়স্থ বই, বঙ্গে অন্য জেতে,
উচ্চধৰ্ম্ম-শিক্ষা নিয়ে, নহে ঠিক ধেতে ;
হীনবর্ণ-আশ, ‘সব, হাে’ একজেতে,
উচ্চবর্ণ ভাবে—ওরা, অতি অধঃপেতে।
প্রাধান্য-কুহকে সবে, আছে ওত পেতে।
२४२
বরুণের দানে বঙ্গে, পুষ্ট তুষ্ট গােপ,
ষড়ঋতু ধরি, ষড় রিপুর প্রকোপ ;
সৰ্বরূপ শিক্ষাকেন্দ্র, হট্ট, বায়স্কোপ,
নিত্য সােপ-শ্রাদ্ধে অঙ্গে, নাহি ধরে ছোপ।
কাপ্তেন গাঁথিতে বঙ্গ, ফেলে ছল-টোপ।
२४७
বিপদে বঙ্গের মুখে-হারাম, যাে-রাম,
সম্পদে সে ভাব নাই, নিমকহারাম ;
Deer-শিকারে বঙ্গে, Dear ম্যাডাম,
অস্বাস্থ্য, অনাৰ্যজুষ্ট, বঙ্গের আসাম।
২৪৪
সূচ হয়ে ঢুকি’ বঙ্গ, বহির্গত ফালে,
নবাবীটা তবু বঙ্গে, খড় নাই চালে ;
দোক্তা-গুড়ী-পিণ্ডি ঘাটে, বিধবার পালে,
অন্তরালে সব চলে, বঙ্গে সব কালে।
সদাই তুফান ছুটে, বঙ্গে কাটা খালে ?
আনন্দ-মুষল
२88
নকুলে বঙ্গের মুখে, নাহিক আগল,
পরানিষ্ট হেতু লােকে, সেয়ান পাগল ;
প্লাবন বহায় প্রায়, বঙ্গের বাদল,
রণে নয়, বাজে বনে, বঙ্গের মাদল !
২৪
দু’দিনের কাযে বঙ্গ, ধৰ্ম্ম পূত রাখে,
তিন দিনে দিন কিনে, চূণ-কালি মাখে ;
হিড়িকে, হুজুগে পড়ে, ফিরে লাখে লাখে,
সদাচারে নেমে বঙ্গ, অনাচারে পাকে।
নিজে শু’তে স্থান নাই, শঙ্করাকে ডাকে।
২৪৭
পরচুলা পরি’
সব চাক রােগ বঙ্গে, পড়ি লােভ-চাকে,
বঙ্গ,
টেকোমাথা ঢাকে ;
‘শালা’ ‘ব্যাটা’ মিষ্টভাষ, বলে যা’কে 'কে,
মদ্দানি দেখায় বঙ্গ, শুধু আঁকে হাঁকে।
পরকে ফেল’তে জালে, ফেলে আপনাকে।
২৪৮
ভাব-পক্ষ বঙ্গ-লক্ষ্য, ভাবে মাতামাতি,
নহে বঙ্গ জ্ঞান কিম্বা, যােগ-পক্ষপাতী ;
দৃষ্ট হয় বঙ্গে বেশী, পাপী আত্মঘাতী,
ফুলােগানে অতিঅল্প, পুষ্পরাজ জাতি।
যতবিধ ‘পাতি’ সব, বঙ্গ-অন্তঃপাতী।
অন-মুষল
২৪৯
বঙ্গে প্রায় বাবু-হাতে, আঁটা রিষ্টঘড়ি,
দিতে গলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র, চাহে সূত্র-দড়ি ;
গুণ না থেকেও, গুণে দাবী তড়িঘড়ি,
দানাশূন্য হলে হড়ী, বসে লােকে নড়ি।
নষ্টমেধা অসময়ে, গৃহ-চক্রে পড়ি।
যৌবনেই যুব-রাগ, নেমে যায় চড়ি’!
বঙ্গ তা’ই ভাঙে, আগে, তুলে যাহা গড়ি।
২৫০
বঙ্গে যেবা যা’র ঘরে, পায় সেধে স্থান,
অহেতুক তা হতেই, তা’র অবমান
এমন কি, বহুস্থলে, নষ্ট ধন, প্রাণ ;
ব্যাখ্যানে অপটু বিধি, বঙ্গ-উপাখ্যান ?
বঙ্গে সবে সৰ্ব্ব-কাছে, হেয়, অপ্রধান।
থেকেও জ্ঞান, গুণ, পূরা অভিমান।
বঙ্গে এত পণাঙ্গনা, বাজারে সহরে,
নাহি স্থান সবাকার, হাজার বহরে ;
রেতে দ্বারে ডাকে ফেরু, পহরে পহরে,
উড়ে প্রাণ দরিয়ার, লহরে হরে ।
মারাত্মকজ-বাস, গহ্বরে, নহরে।
মােহরে সুতৃপ্ত বঙ্গ, অতৃপ্ত জহরে !
আনন্দমুষল
२८२
মেলা-হাটে বঙ্গ-নাম রেখেছে কুমার,
আসামী না, বঙ্গ, আদি আসামী বােমার ;
ভূমির আদর বঙ্গে, না আছে ভূমার,
যা দেখে, 'আমার’ তাহা, না ভাবে তােমার
গােবরের স্থান বঙ্গ, নহে তা’ গামার ।
ঋষিত্ব ফলাতে চায়, বঙ্গের চামার,
খেয়াল-খেয়ালী বঙ্গ, ত্যজিয়া ধামার ;
মামার ইয়ার পাকা, ভেড়য়া বামার,
শিরস্ত্রাণ নাই বঙ্গে, আধিক্য জামার।
শ্যামার কৌতুক, নিয়ে ঘাতুক কামার,
বাংলার সুপকার, হান্টলিপামার ।
করে যারা সেবাধৰ্ম্মে, মানবে সুন্দর,
বঙ্গের সমাজে তারা, মনু ধুরন্ধর ;
কাৰ্য্যদোষে ধাক্কা খেলে, হেন ভাবান্তর,
শ্রীগুরু-ধাম হ’তে, অন্তর অন্তর ।
যক্ষ, রক্ষ বঙ্গে এবে, ব্রহ্মা, পুরন্দর!
আনন্দমুল
১৭
যেবা যত বাড়ে বঙ্গে, সদ্গুরু-দয়ায়,
সে তত কার্পণ্য-দুষ্ট, গুরুদক্ষিণায় ;
যেবা যত গুতা খায়, মায়ার হুড়ায়,
সে তত উদার ভক্ত, স্বার্থকে লুটায়।
গুরু-অঙ্গে হুল বঙ্গে, শিষই ফুটায়,
গুরুর অনর্থ শুধু, চেলাই যুটায় ;
চেলা-হেতু বঙ্গে গুরু, আসন গুটায়,
বঙ্গ-নামে সদ্গুরু যে, কেঁাকা উঠায় ।
২৫৭
গুরুমারাবিছাতেই, বঙ্গ অগ্রগণ্য,
গুরু-দোষ গাহে যেবা, বঙ্গে সেই ধন্য ;
বঙ্গে সেই চোর বলে, চুরী যা’র জন্য,
খােসা, ভূষি সার গণ্য, দৈন্য আনে অন্য ।
পঙ্গপাল, পিপীলক, সৈন্যমাঝে গণ্য।
২৫৮
হামবড়া সাজে বঙ্গ, গুরুকাছে শিখি’,
তবু শিক্ষা নহে পূরা, মাত্র আনা. সিকি ।
বঙ্গে-প্রতিহিংসানল, জ্বলে ধিকিধিকি,
খুলে তা না বলে বঙ্গ, চাই তার কি:কি।
বঙ্গে ত পগারে টেড়ী, নাহি শিরে টিকী।
আনন্দ-মুষল
:
বাহ্যভাব সাঁচা বঙ্গে, অন্তর্ভাব মেকি,
নক্র সম বক্রভাব, ধরে গৃহ-চেঁকি ;
করে পাড়া তােলপাড়, বাংলার খেকি,
বঙ্গে কেহ নহে পূজ্য, টাকি খেয়ে টেকি'।
বঙ্গের আক্কেল নাই, সদা ঠকি’ ঠেকি'।
২৬০
খুচিতে লইয়া বঙ্গ, যােগায় ধামায়,
উচ্চভাবে যেবা, তা'রে, সজোরে নামায় :
বেড়ে যেতে চায় যেবা, তাহারে থামায়,
ধার করি’ ইট বঙ্গ, শশাধে তা’ ঝামায়।
চায় তােমায়’ বঙ্গ, নাচায় ‘আমায়।
চাহে শামায় বঙ্গ, চাহে সে বামায় ।
বহে বীৰ্য্য, রক্তস্রোত, বঙ্গে নর্দামায় ।
দূত্য কি গােয়েন্দাগিরি,, দু’য়ে বঙ্গ পাকা,
বঙ্গে এবে সঙরূপে, দেবভাব টাকা ;
বঙ্গে ধৰ্ম্ম-দেবতাকে, নেশা করে ডাকা,
কো-কো-স্বপ্নে কেঁ-কে রব, না শুনেও কা-কা ।
শুনিয়াও কা-কা, বঙ্গে, সুপ্ত বাবা, কাকা !
কক্-স্বরে কক্ করে, ধরে কক্ আঁকা।
আনন্দমুষল
‘গা হে সােণার’ হেন, বঙ্গের গায়ক,
“না থােক এভাবে চলে, বঙ্গের নায়ক ;
‘বাদ হােক আর সব’, এভাবে বাদক,
জনিতৃ হ'লেও যন্ত্রী, শিষ্যত্ব-বাধক।
বঙ্গ এবে লােভ্য খাদ্য, বিদেশী খাদক।
বঙ্গ ভাব-উৎপাদক, অন্তে উৎসাদক।
বিবাহ-যােটক বঙ্গে, এবে না ঘটক,
বর্তমানে অতিরিক্ত, ঘটকী-চটক ;
নারীর কটকী সাধ, ফেলিয়া কটক,
ধনিক বণিককুল, চিড়িয়া চটক।
হাটকে নিশীথে খােলা, রাজার ফটক।
বৈদিক বারেন্দ্র মাঝে, চাতক কতক,
নিন্দক পীড়ক আশী, ধরিলে শতক ;
বিদ্যা নয়, ঢঙ-রঙে, কথক মথক,
পূর্ণ-নয়, বঙ্গে কায, কতক মতক!
লােহিতক চেয়ে বঙ্গুে, রুচ্য রােহিতক।
কূটস্থ বিরােধী সব, মত যা’ প্রত্য!
আনন-মুষল
বঙ্গের বার্নিককার, বি-গুণবাৰ্ত্তিক,
লােহারাম, কালারাম, সাজেন কার্তিক ;
গুরু, বৈদ্য, জমিদার, সকলি আর্থিক,
ঋত্বিক যে-নৈতিক, নহে ত সাত্বিক !
যা’র হা’র হাতে বঙ্গে, ঔষধের শিশি,
পিসা, মাসী, সেবাদাসী, দাতে দেয় মিসি :
উকি পরি উলুকার, দলে থাকে মিশি,
চলে দ্বন্দ্ব, সালিশীতে, আসিলেও ঋষি ।
বাংলার হুলুধ্বনি, গান্ধার ছাপায়,
কেঁদলে অনেক বুড়ী, মন্দার কঁপায় :
ইলে বঙ্গ পরঘাড়ে, স্ব-দোষ চাপায়,
লাফায় নিতে তা’ বঙ্গ, ফলে যা ধাপায়।
গুরুত্ব না মানি’ বঙ্গ, নিজত্ব পায় ।
আর্যভাব লুপ্ত বঙ্গে, ভাৰ্য্যর চোপায়,
খ্যাপায় হ্যাপায় ফেলে, বঙ্গের খােপায় ;
গাড়ীভাড়া-ভয়ে বঙ্গ, বসন ছােপায়,
যবে যে যে পায় বঙ্গে, মিত্রকে কোপায় ।
গৃহিণী বকুনি খেলে, সরােষে ফেঁপায় ।
আনন্দমুষল
বাংলায় পাঁটা চেয়ে, বেশী পাটী রহে,
বঙ্গে যুবা, প্রৌড়, কারাে, বীৰ্য বাসী নহে;
যাকে তাকে ভালবাসি, ললাকে দুঃখ সহে,
পুরে রাখি’ পরী-নারী, চিন্তা-ভার বহে।
খায় বঙ্গ হাবুডুবু, ত্রিদ’এর দহে।
२१०
সতু, নগু, নরু, বিনু, বঙ্গে পরাশর,
অশিষ্টের পুণ্যতীর্থ, আসর, বাসর ;
গাইপােষা সখ অতি, বঙ্গে ঘর ঘর,
তােয়াজেও নহে দুধ, দু’সের উপর
যুবতীর পরে বঙ্গে, দেবতার ভর !
সখিভাব-সাধনায়, পুরুষ প্রবর !
২৭১
বাংলায় স্মৃতিদোষে, যৌবন অকালে,
অযথা সম্ভোগে তাহা, অকালে আড়ালে
অকালবার্ধক্য আনে, দৈন্য-চিন্তাজালে,
রােগে যে অকাল মৃত্যু, ঘরের জঞ্জালে।
বলহীন বঙ্গ, খাদ্যে, কুভক্ষ্য-ভেজালে।
আনন্দ-মুষল
२१२
পায় হানা ছানা বঙ্গে, পালাের নাদায়,
দুগ্ধ, ননী, ঘৃত, তেল, আটা, ময়দায়
মূল বস্তু অতি কম, মিশ্র সমুদায় ;
কাঁদায় পথিকে বঙ্গে, পথের কাদায় !
ঝাল-রাগ বঙ্গে অতি, লঙ্কা বা আদায়,
নাছােড় জলৌকা রক্ত, করিতে আদায় ;
বহু অর্থ লয় টানি’, চঁাদায়, দাদায়,
সর্বদাই গেলযােগ, কালায় সাদায়।
২৭ 8
পরদেশী দুর্গোৎসবে, বঙ্গে ছুটে এসে,
বহুকাযে অর্থ লুটি, ফিরে দেশে শেষে ;
আর বঙ্গ ভিটে ছেড়ে, কাষ্ঠসি হেসে,
রেলে চেপে দেখে বসে, সঙ বারােমেসে।
२१८
হায়! হায়! বঙ্গে এবে, কি হতে কি হ’ল ।
স্ব স্ব বৃত্তি তুচ্ছ গণি, সৰ্ববর্ণ ক’লল!
দেশী সব বিদেশীর, হাতে এসে পল,
পরপণ্য কিনি’ লােকে, ক্ৰমে দৈন্যে ম’ল।
আনন্দ-মুষল
२१७
•
অকেযাে যে, গলগ্রহ, সব চেয়ে খ’লাে,
বঙ্গে সেই গৃহাই, ল’য়ে দেহ জ’লল
বারােমাস অন্নদাস, তবু মুখ ত’লল,
চিরদৃষ্টি তথা, যথা স্বার্থফল-থ’লো।
সমাজের জাতশত্রু, পুচ্ছধারী ট’লাে
সথায় যে কাযে বঙ্গে, নেতা ছড়াছড়ি,
সেই কায পণ্ড আগে, শেষে চড়চড়ি ;
পৈতৃক থাকিলে কিছু, চলে লড়ালড়ি,
প্রেম-পণে আঁস্তাকুড়ে, রেতে গড়াগড়ি
সখে পড়ি’ ঋণ-দায়ে, ভূষা হাতকড়ি !
২৭৮
জাহাজে যােগায় এবে, বঙ্গের খাবার,
এমন কি আসে তা’য়, ভােগ দেবতার !
পল্লীতেও বৈদেশিক, পণ্য-ব্যবহার,
কেবল তারই তরে, পুজি যা যাহার ;
চাহে বঙ্গ যা’র তা’র সাজিতে কাহার।
বঙ্গে এবে ঠোকমারা, বিদ্যার বিসার।
আনন্দমুষল
২৭৯
বঙ্গে উপ-ব্যাধি-হেতু, উপাধি, অধ্যাস,
আধি-হেতু নাটকীয়, বচনবিন্যাস ;
উচ্ছজ্বলতা-হেতু, পিতৃত্যক্ত ক্যাস,
ধন-মান-ভােগ-হেতু, পােষাকী সন্ন্যাস।
২৮০
বঙ্গে যত দরবারী, ডিটোমারাসুর,
সবে ভ্রাতৃমাংসলােভী, সারমেয় শূর ;
দেশকাষে নাহি সাজে, কোন বাহাদুর,
হুজুর-জুজুর ভর, থেকেও সু-দূর।
১৮১
এক হংস মরি’ বঙ্গে, বহু মৃগীরােগী,
গাই-ষাঁড়-যুক্ত ভাবে, লােক মুক্তযােগী ।
হইতে কলাপটু, কাৰ্য্য-উপযােগী,
নিজকে জাহির তরে, সদা সমুদ্যোগী ।
পরভাগ্য-অংশলাভে, বঙ্গে বহুভােগী ।
স্বাবলম্বী নহে লােক, তাই বেশী ঠগী ।
২৮১
বঙ্গে হাস, ভাষ, শ্বাস, ভালবাসাবাসি,
সবাতে নাটুকে টঙ, সবে তা প্রয়াসী ;
বঙ্গে গিন্নী—শাকচুন্নী, উপগিন্নি দাসী,
বিদেশী-প্রত্যাশী, লােক, তথাপি বিলাসী।
বঙ্গের সমাজে এবে, কন্যা সর্বনাশী ।
আনন্দঘূষণ বঙ্গে সব পূজা-ভাব, লােভরসে মজা, নিমন্ত্রণ-ঘটা, নিয়ে, মেষ, অজা, গজা ; পায় সাজা, তবু বঙ্গ, সাজগুরুভজা, গোঁজা যেন বিধে চোখে, দেখে যদি ভজা। ২৪ যে গরুই গুরুরূপে, কাটে বঙ্গে দামে, সেই খ্যাত অবতার, সিদ্ধ-উপনামে ; মূখ, ঝুনাে, মৌনী বুননা, সেও মাতি’ কামে, মেরে তুড়ী মন্ত্র ঝাড়ি, যুক্ত নারী-খামে । নিধিরামে ভজে বঙ্গ, ভুলি’ আত্মারামে, সত্যধাম তেয়াগিয়া, ভ্রমে ভূতগ্রামে। ২৮৫ বঙ্গে টুঙ্গী অজ্ঞ যদি, গুরুর আসনে, বারেক বসিতে পায়, সে কভু জীবনে, যায় আত্মজ্ঞ ঠাই, ভ্রান্তিসংশােধনে, শিষ্যবৃদ্ধিরােগে ভুগে, মিথ্যা-আলােচনে। চুয়াল্লিশ ভাজা বঙ্গ, ধৰ্ম্ম-অচিরণে। ২৮৬ মুদ্রাযন্ত্র-কল্যাণেই, মায়াবী ইতর, সিদ্ধিগুরুনামে চলে, বঙ্গের ভিতর ; যত ধনী, মানী, কামী, অজ্ঞ ঘােরতর- সে শঠ-সেবায় কোথা, কভু না কাতর। ,
৭৬
আনন্দ মুষল
২৮৭
নাই বঙ্গে বেশ্যালয়ে, কোন পূজা-মানা,
সাধুপূজা-ধৰ্মনামে, শুষ্ক মুখখানা ;
জড়সেবাতরে বঙ্গ, দেয় ক্ষীর, ছানা।
চেতনার সেবা কালে, নাহি যুটে চান।
২৮৮
বেশ্যাপূজাতরে বঙ্গে, ব্যয় ষোলআনা,
সদ্ভাবের কোন কাযে, দিতে কড়ি কাণা,
শিরে যেন পড়ে বাজ, হইলেও রাণা ;
অকালেই উঠে বঙ্গে, ধনীপুত্ৰ-ডানা।
অন্ন চেয়ে প্রতিঘরে, গণ্য সাগুদানা।
যা বাড়ী তবু চাই, পাকা শ্বেতখানা।
বঙ্গে রাজা, জমিদার, ব্যবসায়ী ধনী,
ঘুরে গোলাম যত, দেশ পক্ষে শনি,
নিত্য নব ভূইফোঁড়, গুরু শিরােমণি,
খায় লুটে নারীধন, ক্ষীর, সর, ননী।
বৰ্তমান বঙ্গ, সর্ব দুর্ভাগ্যের খনি :
গৃহী, বনী যাকে দেখ, সেই যেন ফণী ।
আনন্দ-মুষল
আসে যারা গাড়ী চাপি, বঙ্গে দেবালয়ে,
সাধুসেবা-কথাতেই, কেঁপে মরে ভয়ে ;
যদিও বা একপাই, দেয় মিলে ছয়ে,
স্তুতিবাদ করে সুরু, ঘিরে তা’রে নয়ে।
২৯১
বাখেগাে বা বঙ্গে, সিদ্ধ ত বায়,
ছােরাগুলা ডােরা চেয়ে, অধিক ঠোকরায় ;
নর, নারী কারো নাই, আগল টাকরায়,
টুকরা নিয়ে স্যারা বঙ্গে, সজোরে ফুরায় !
বঙ্গে বেণে, ব্যবসায়ী, অতি নীচ, হেয়,
নাহি কিছু দেয় তথা, যােগ্য যথা দেয় ।
নিষিদ্ধ যা’ লেহ, পেয়, তাই উপাদেয়,
সারমেয়বৃত্তি বঙ্গে, সবাকার ধ্যেয়।
শ্রীগৌরাঙ্গ-ভক্ত বঙ্গ, দাস নামধেয়।
বঙ্গে মেলা, দেবালয়, তীর্থ, গঙ্গাঘাটে,
নারীর বচন-দাপে, মাটি যেন ফাটে ।
বঙ্গের কত্তামি শুধু, ধারকরা ঠাটে,
মাতি’ নাটে বঙ্গলােক, ভাঙে হড়ী হাটে।
লর্ড-লেডি গৌরাঙ্গের, এটোপাতা চাটে ।
৭
পানল-মুষল
১৯৪
যে জলে চোনায়, নদে, সেই জল তুলি,
অসঙ্কোচে বঙ্গনারী, করে আগে কুলি ;
সেই জলে দেবভােগ, দেয় দন্তে ফুলি,
বুননা কুলী যা’ না করে, করে সেইগুলি।
রকমারী ঝুলী বঙ্গে, রকমারি বুলি !
এ ত কম বলা হ’ল, বঙ্গের ব্যাপার,
তবু বঙ্গে সুপ্রচার, হইলে গাথার,
দাড়াবে এ ভিক্ষুকবি, দূষণ সবার :
যাহােক্ না দুঃখ তাহে, এ বিশ্বাস তার
সত্যের আলােকে ত্বরা, সরিবে আঁধার।
বাংলার যত কেচ্ছা, আচ্ছা মজাদার,
বহুভাবে বলিলেও, নহে ফুরা’বার :
মােটামুটি ভাব-ছন্দে, যাহা জানা’বার,
অভিব্যক্ত হ’ল সেই, সত্য-সমাচার।
বঙ্গদেশ-কুৎসা কভু, লক্ষ্য না কবির,
সর্বদোষনাশতরে, বঙ্গনিবাসীর,
এরূপ সুতীব্রভাবে, দোষের জাহির :
নতুবা এ সব মিছা, কে করে বাহির ?
আনন্দ-মুষল
২৯৮
এতেও হইলে কবি, দোষের ভাজন,
জানিবে সে, চলে দেশে, দোষ-আলােচন;
ঘটে যদি ক্রমে তা’য়, দোষের মােন,
সার্থক হইবে শ্রম, কবির জীবন!
বঙ্গের শ্রেষ্ঠ, কিম্বা, প্রশংসা যাহায়,
পরবর্তী কবিতায়, সে তথ্য জাগায় ;
পর পর দেখিবে যে, কি ভাব তাহায়,
ধন্যবাদ দিয়ে সে ত, দিবে ভাবে সায়।
No text on this page.
পােগান্ন বাংলা।
বড় সাধের তুমিরে মাের, সােণর বাংলা দেশ।
বেশ-ভূষাতে স্বভাব তােমা, সাজিয়ে দেছে বেশ।
তােমার কোলে জন্ম লয়ে,
আছি ভবে ধন্য হয়ে,
তােমার কোলেই জীবন মম, হয়গো যেন শেষ।
আমার কাছে বঙ্গ তুমি, ভবের সেরা দেশ।
তােমার কোলে কি না ফলে, কি নাই তব ঘরে ?
হিমগিরি, জাবী-নীর, তােমার শান্তি তরে ;
কোন্ ঋতু না তােমার কাছে, তােমার গুণে বাধা আছে ?
কোন্ গুণী না তােমায় দেখে, নােয়ায় শিয়ােদেশ ?
সবাই ভাবে তুমিই ভবে, রত্নপ্রসূদেশ ?
তােমার বনে, তববাদ্যানে, শােভার হাট লাগে,
তােমার ক্ষেতে লক্ষমী এসে, জাগেন অনুরাগে ;
তােমার ফলের মিষ্টরসে,
ঋষির মন ভাবে রসে,
তােমার পাখীর মধুর স্বরে, কতই প্রেমাবেশ।
বহুপুণ্য না থাকলে কে, সেবক তব ? দেশ!
আনন্দ-মুষল
তােমার তড়াগ, তোমার দীঘি, তােমার সরােবরে,
সােহাগভরে কমল দুলে, মরাল সুখে চরে ;
তােমার নদীর কলনাদে, কেউ না থাকে অবসাদে,
তোমার সাগর-তীর্থে নানা, সাধুর সমাবেশ।
সিদ্ধ-আদিজ্ঞানগুরুর, সাধনসিদ্ধদেশ ।
তোমার ঘন ছড়ায় সুধা, দেখায় বহুরূপ,
তােমার শারদ রাকাশশীর, কিরণ অপরূপ ;
তােমার স্নিগ্ধ মধু-বাতে,
স্বর্গসুখে মনটা মাতে,
তােমার অন্ন সুদূর দেশে, মিটায় ক্ষুধা-ক্লেশ।
কে না তোমায় ভালবাসে, সোণার বঙ্গদেশ ?
তােমার ভাষায় ভারতী মা'র, জগৎযােড়া মান,
তােমার ভক্ত সংকীৰ্ত্তনে, ছুটায় ভক্তি-বান ;
তোমার মেয়ের মত কেবা,
করতে পারে গুরু-সেবা,
তোমার ছেলের মত কোথা, কাহার জ্ঞানেন্মেষ ?
স্বর্গাদপি গরিয়সী, তুমিরে মাের দেশ।
তােমার বাসে নিত্যব্রত, পূজায় মহাজক,
সত্রে তব অন্নপূর্ণা, করেন নিজে পাক ;
আচারে নাই শুদ্ধি-স্বীকার, বিচারে নাই বুদ্ধি-বিকার,
বাড়ে তাই কভু যেন, তােমার পরে দ্বেষ ।
মায়ের মত চিরপূজা, তুমি ত মাের দেশ।
আনন্দ-মুষল
তােমার পােষা জীব যা আছে, সবাই বীৰ্য্যবান্,
তােমায় যারা সদাই সেবে, তারাই কীর্তিমান্ ;
তােমার গুণীর মত ভবে, হয়নি কেহ, নাহি হবে,
তুমি যাদের ধাত্রী, তাদের, সুখের একশেষ।
সব ভাবে তুমিই ভবে, রকমারির দেশ।
ফল, পুষ্প, বৃক্ষ, লতা, কানন, সরিৎ, সর,
প্রাণী যত, সদা স্থিত, তােমার বক্ষোপর ;
প্রকারভেদ সবার যত, আর কোথা তা ব্যক্ত তত ?
কোন্ দেশে মা, আছে এমন, দীঘল, ঘন কেশ ?
তন্ত্র-মন্ত্র-যন্ত্রে তুমি, ভবের প্রিয়দেশ
কোথায় হেন বৈদ্য, কবি, যুড়ায় তনু, মন ?
কোথা এরূপ ভূষণ, সাজ, ভােজ্য-আয়ােজন?
ভাল-মন্দ সর্বতালে, কোথা এমন বুদ্ধি খেলে ?
সব কাযে কে কোথা এরূপ, নিপুণ সবিশেষ ?
সর্বশক্তি-সুবিকাশে, ধন্য তুমি, দেশ।
জানি কোন্ গ্রহের ফেরে, তােমার হেন দুঃখ,
পাপের চাপে, রােগের দাপে, বিষাদভরা মুখ ;
সপ্তকোটি সন্তান যার, রইবে কেন এভাব তার?
বিধির দয়ায় দেবে ত্বরা, নাই মা, দুঃখ-লেশ।
তােমার সুখে ভবের সুখ, সাধের বাংলাদেশ।
বাংলার সাড়া।
রাগিণী-ভীমপলশ্রী-তাল-জলদ একতালা।
ভয় কিগাে মা, আমরা আছি, তাের দুঃখ আর রাখবােনা।
উঠবে জেগে, থাকবে লেগে, ধৰ্ম্মটা আর ছাড়বােনা।
করুক্ না সব অসার গরব, ছেক্ না তাের কর,
অনু বিষ ভরা ভরা বিলান ঘর ঘর ।
যদি ভালবাসিস, কর না আশিস, সে বিয়ে কেউ মরবােনা।
চিনি, লবণ, বসন, বাসন, গিল্টির অলঙ্কার,
বিদেশ থেকে আসবে না, তা, করােনা ব্যাভার ;
মাের। দেশের, বেশ, ভূষণের, চলন বই আর চবােনা।
তাের প্রসাদে কার প্রাসাদে, না আছে কোন্ ধন ?
ভাড়ার তাের লুটছে সদা, পারের প্রভুগণ ;
পেলে একটু মা তাের, চরণ-জোর, আর সিংহদোর খুলবােনা
মােরা রাজার কাছে, কোন কাযে, বেজার হয়ে ফিরবেন।
মা তাের ক্ষেতে, দিবারেতে, ফলে যে ফল ফুল,
এমন দেশ নাই জগতে, যথার যা, তার তুল ;
আছে বনােপবন, সাগর যেমন, তেমন কোথাও দেখবােনা।
আনন্দ-মুষল
মা তাের পায়ের ধূলিকণা, মুক্তা বিদেশের,
তাের দেওয়া মা শাকান্ন, মূল, কারীর চেয়েও ঢের ;
তাের ঋতু যে ছয়, শশাভার আলয়, তত সম নাম শুন্যােনা।
মেঘান্তে তাের বাংলা দেশে, পূজায় বেজায় জাক,
হেমন্তে মাঠ শস্যের হাট, শিশির কালে ফঁক
তাের মধুমাসে, কানন হাসে, পাখীর গান যা ভুলবােনা।
;
নিদাঘে তাের তরুর তলে, জুড়ায় পথিক প্রাণ ,
প্রাবৃটে তাের বিল খালে মা, উঠে ভেকের তান,
মাের যবে যা চাই, তাের কাছে পাই, পরঠই হাত পাত বােনা
তাের অকাশে, তাের বাতাসে, তাের মাটিতে কায়,
তাের গঙ্গা জলে মােক্ষ ফলে, মরায় জীবন পায় ;
সদা তাের খেয়ে পরে, ভুলতে তােরে, পরফাঁস আর পরবােনা
তোর ধ্যান-জ্ঞানে কি শিল্প গুণে, ভুবনভরা যশ,
তাের ধৰ্ম্ম বীরের কর্ম দেখে, আজো জগৎ বশ ;
তোর গগনভেদী গুণের বেদী, হিমাদ্রি বই ভাববােনা।
মা তাের মুখে শুনি সুখে, মধুর সাম-গান,
তন্ত্র, মন্ত্র, আয়ুর্বেদ, জ্যোতিষ তাের প্রাণ ;
তাের ধরম, করম, সবই চরম, নরম সুর আর ধরবোনা।
আনন্দমুষল
তাের কাছে গুণ ধার করিয়ে, আজ যারা বলী,
তারাই তাের নাম শুনিলে, চায় দিতে বলি ;
আজ পণ করিনু, দ্বেষ ছাড়িনু, বিদেশী-ধার ধারবােনা।
ন্যাংটা হ'ব, সেও মা ভাল, চাইবে। দেশের বাস,
উপােষ দিব, তউ না খেতে, করবাে পরের আশ;
আমরা দেশের হিতে মরবো দেশে, ঝগড়া লড়াই করবােনা।
আমরা চাই আনন্দ, চাইনা দ্বন্দ্ব, ধন্ধে মা আর ঘুরবােনা।
* রাগিণী-কাফি খাম্বাজ--তাল-যং।
যেমন মােদের মা হয়েছে, আমরা তেমন ছেলে নই।
মায়ের কৃপা-পা ফেলে মােরা, পরকাছে বিষ ভিক্ষা লই।
কোন দ্রব্য দিতে মায়ের, কোনও কসুর নাই,
আমরা ভাই ভাই দ্বন্দ্ব করি, মায়ের মাথা খাই ।
মা, এমনি মা হয়, তবু তা সয়, উঠায় না বিষ স্নেহ বই ।
আমরা ছাড়া মরবে কারা ? কা'দের হবে দোষ ?
মায়ের বুকের রক্ত বেচে, মােদের মেজাজ খােস ;
মােরা মায়ের যাহা রাখবো তাহা, মায়ের যদি কেহ হই ।
মা দেয় ফল, অন্ন খেতে, পরতে কত বাস,
আমরা তাহা বদলে কিনি, বাসন, চুবােট, তাস ;
মােরা মা'র তরে সে সপবো প্রাণ, মার’পরে সে শ্রদ্ধা কই ?
আনন্দমুষল
আমরা যদি হইগাে বাদী, পরুতে পরের ফাঁসি,
রাখতে যদি পারি দেশে, দেশের আহার, বাস,
তবে থাকবে মোদের মায়ের মুখ, নইলে মা, কোন্ গুণে কই ?
মা দেয় মােদের পরতে যাহা, তাহাই ভাবি ঢের,
মায়ের কাছে যা পাই খেতে, তাহাই যাচি ফের ;
মায়ের মােটা ভাত আর মােটা বাসে, আমরা বাসে সুখে রই।
দেশের জোলা, দেশের তাতি, দেশের চাষীভাই,
চালাও তেজে দেশের কায, বিপদ আর নাই ;
দেখাে ছেড়ােনা পণ, স্ব স্ব ধরম, আমরা পিছে হবে জই।
জেনাে, যতই শেষ, ততই বেশ, এস এখন একটু সই ।
* রাগিণী—যােগিঞা মিশ্র--তাল-একতালা।
কর য-আয়ােজন।
মা মল বলিয়ে, উত্তরী পরিয়ে,
শ্রাদ্ধের নাহিক কোন প্রয়ােজন।
এই ত প্ৰণত থাকিয়ে সতত, সঙ্গীতে, ভঙ্গীতে স্তুতি কই মত,
তবুও গরবে নিঠুর দানবে, হানিল হৃদয়ে কুলিশ ভীষণ।
কাহারাে রােদনে কাতর হ’লনা,
কাহারাে রােদনে বেদনা পেলনা,
মধুর ভাষায় লাভের আশায়, কম্পিত করিল মহাধৰ্ম্মাসন।
৮৮
আনন্দ-মুষল
রচন, বচন হ’ল ত প্রচুর, এবে চাই যত যাজ্ঞিক চতুর,
ইষ্টির সম্ভার-ভারত-অম্বার, সন্তানগণার কায়, প্রাণ, মন।
এ নহে সে যাগ লাগিবে বাদন, বসন, বাসন, রতন, ভূষণ,
এ যাগে আহুতি-ভীতি, বৃথা স্তুতি, দনুর প্রকৃতি, দনুজাভরণ ।
এস ভাই সব ভুলি’ দলাদলি, এ দুখের দিনে করি কোলাকুলি,
যজ্ঞে মেতে যাই, যাতনা জুড়াই, মরমে জড়াই প্রণয়-বন্ধন।
অই শুন অই, কা’র দৈববাণী, “ভেবনা ভেবনা, মরেনি জননী,
কর সিদ্ধ যাগ, যুক্ত হবে ভাগ, আনন্দরূপিণী পাইবে চেতন”।
৫ ।
* রাগিণী-আলাইয়া-তাল-ঝাপতাল।
নে মা ভক্তি, দে মা শক্তি, শক্ত কাযে প্রাণ মাতাই।
শত্রু-নাগপাশে পড়ি, ধৰ্ম্ম করা ঘাের আলাই।
রিপুবশে রিপুবাসে,
উচ্চাশা যা প্রাণে ভাসে,
বিধর্মীর দ্বেষ-ত্রাসে, প্রাণেই তা’র আশ মিটাই।
ল’য়ে যদি মুচি, হাড়ী,
করি একটু বাড়াবাড়ি,
অনি শিরে বেটন-বাড়ি, মামার বাড়ী দেখতে পাই।
ভাল ফিরেছে কাল এসেছে, নবীন ভাবে সব জেগেছে,
পুরাণ বল তল গিয়েছে, কি করে তা'য় বল দেখাই ?
কলির মা, এ কি রঙ্গ,
যে শান্তি হয় অন্তরঙ্গ,
করি মা তাের অঙ্গ ভঙ্গ, নাশ করে তা’,কি বালাই !
তাের ঘরে মা তোকে ঘােরে, রাখতে চায় সে গায়ের জোরে,
সুধাই মা, তাই আজি তােরে, কর করুণা ধূম লাগাই।
আনন্দমুষল
৬৯
পাপের মুখে দিতে কালি, কই যা, যেন কাযে পালি,
সদানন্দে দিয়ে তালি, ‘মরা মা’ এই গাল ঘুচাই।
যেন সাদা প্রাণে আগুন জ্বালি, সদানন্দে দিন কাটাই।
* রাগিণী—টোড়ী ভৈরবী-তাল-একতালা।
আর আমার মা বলে ডেকোনা।
মোরে পাপ-রােগে আসি,
দলে দিবানিশি,
দেখেও কাহারো চেতনা হ’লনা।
মা বলিতে আর রেখেছ কি মুখ ?
চোখ থাকে দেখ শত খণ্ড বুক,
বুঝিলে তােমরা কিসে মাের সুখ,
কাহারাে অসুখ হ’লােনা হ’লতােনা।
ছিল যারা আগে, এই দেশী তারা,
ছিল তবে ভাসি’ এই শশী তারা,
ছিল এই ধরা, এই ভাব-পারা,
শুধু ঘুমে কেহ আমােদ পেতনা।
না পারি খাইতে আর ব্যাধি-লাথি,
জাগবে না কি কেহ পুণ্যরঙ্গে মাতি?
“সুখ-সিংহ ডরে, দেখে দুঃখ-হাতী,”
এ কুখ্যাতি নিয়ে ক্ষিতিতে থেকোনা।
আছ ত্রিংশকোটি সন্তান আমার,
সবে বিশারদ, সেবক রাজার,
আনন্দ-মুষল
“পাপিনী মা” এই কলঙ্ক-আঁধার,
জীবন থাকিতে রেখনা রেখনা।
হেথা সেথা শুধু করিলে চীৎকার,
কখন না হ'বে রােগ-প্রতিকার,
সব ভ্রাতা মিলি’ করিলে ফুৎকার,
ছুটিবে বিকার, বিফল কেঁদনা।
অই অই দেব শিয়রে জাগিছে,
‘উঠ, কর যােগ’ ইঙ্গিতে বলিছে,
মাভৈঃ মাভৈঃ, সুযােগ বাড়িছে,
কুযযাগে কুরােগ তাড়া’তে ক্ষেপােনা।
ধর্মী বলে এক কর যা বড়াই,
ব্যভিচার-পাপে ধৰ্ম্ম হেথা নাই,
‘সাধিলে সিদ্ধি’ এ ধৰ্ম্মগাথা গাই,
গও গা ও তাই, সাধন ছেড়না।
দূরে রাখ ভয়, ভেঙে ফেল মান,
আন প্রাণে বল, ছাড় স্বার্থ, ভাণ,
একতা-বেদীতে স্বধৰ্ম্ম-নিশান,
উড়াও গরবে, বাঁচিয়ে ম’রনা।
জান্তে ম'রে থাকা, ভাব যদি সার,
মরে মর, বলি” “ছার দুরাচার”,
দেখুক জগৎ আমি হই কার,
আনন্দ-আশিস অসার ভেবনা ।
আন-মুষল
ফলে যদি কভু আশীর্বাদ-ফল,
বিন্দু বিন্দু লভি' পাও সিন্ধু-বল,
ডাকিও তখন, নতুবা বিফল,
খুঁচিয়ে নির্বাণ অনল জেলনা।
কুমারিকা হ’তে ধরি’ হিমাচল,
“বন্দে মাতরম্” কখন গেওনা।
* রাগিণী—ভৈরবী-তাল-খয়রা।
আর দেশে যা হয় মা, তাহা, আমরা কেন পারবােনা?
মরবে তবু এবার কভু, স্বধৰ্ম্মে দ্বেষ করবােনা।
বার বার বার এবার মােরা, সেয়ানা হয়েছি,
এবার মোদের ঘােড়র কামড়, ভয় যা, ভুলেছি, ;
এবার চোক রাঙালে, মুখ ভ্যাঙালে, গর্তে কভু চুবােনা।
এবার ধনের আশায় চাষ, ব্যবসায় ধরবাে, যা, তা ছাড়া বােনা।
প্রাণ দিয়ে ত সবাই লাগি, করতে দেশের কায,
ডুবে ডুবুক নাম, জাতি, ধাম, নাইকো তাহে লাজ ।
মমাদের যা হবার হাে, প্রতিজ্ঞা রাে’,
আর গায়ে সেঁক ধরবােন।।
যেরূপ মােরা বর্ণচোরা, কুড়াই এটো পাত,
কোন্ দিনে মা আসবে হেথা, দ্বীপের রাধা ভাত ;
আমরা হাতে নয় মা, মছি ভাতে, উমাদা আর থাকবেনা।
মােরা দেশের ঠাকুর ভেবে’ কুকুর, শার্দুলের
লের পেট পূর্বােনা।
আনন্দ-মুষল
দেশের মােদের কোন্ জিনিষে, আছে মােদের টান,
থাকার মাঝে খাম্বিরা, পান, সরিমিঞার গান ;
মমাদের বাইনচে ত পরাণ নাচে,
এমন বাই আর দেখবােনা।
ক্ষিতি, অপ, তেজ, বায়ু ত ছার, আকাশ, তাও না বাদ,
সবাতে হাত বাঁধা মোদের, মােরা ষাঁড়ের নাদ ;
হয়ে জগন্নাথ, দূষণ-লথি, খেতে, শির আর পাবােনা।
ভূতের দান, ভূতের খানা, ফেলে ভূতের সাজ,
ভূতের রােজা সাজবো এবার, পড়ে পড় বাজ ;
মােরা মায়ের যা ভােগ, করবাে তা ভোগ,
অন্যভোগ আর ভুগবােনা।
তুই ত মােদের কামদুঘা মা, কিসের তবে ভয় ?
নিলে বিষ, দেওয়ার কারো, বাবার সাধ্য নয় !
আমরা আধ বাঙালী, আধ ফিরিঙ্গি, খচ্চর আর সাজ বােনা।
তাের ধন যা, তাই পেলে মা, মােদের হবে ঢের,
বিষের বেপার বন্ধ হলে, বণিক পাবে টের ;
মা তাের নব দীক্ষা—জগৎ-শিক্ষা, ভিক্ষারব আর তুলবােনা।
মােরা ব’ড়ের কিস্তি মাত, হ’ব, তউ, অশ্বচক্রে ঘুরবােনা।
মা তাের সবই ভাল জানি, এমনি কপাল-ফের,
কেবল আছে ডাইন পাছে, চছে আজো জের ;
আনন্দ-মুষল
চলে চলু, করুক্ না তুক, আমরা ছলে ভুলবােনা।
তাের অভয়-মন্ত্র যন্ত্র মােদের, ফাঁদে কভু পড়,বােনা।
এই ভিক্ষা মা, চাই ত এখন, না যাই ভুলে’ পণ,
কৰ্মী, ধৰ্ম্মী সবার যেন, রয়গাে খাঁটী মন ;
মােরা লক্ষ্য যাহা বিধবো তাহা, শিখণ্ডী আর মান্বােন।
মােরা রাজার দয়ায় বিমােল্লায় গল, কভু রাখবােনা।
আরাে চাই মা দেশের সবে, সখ্যে যেন রই,
যখন যাহা দিস মা করে, আনন্দে তা লই ;
মা, তুই মা মােদের, আমরা ছেলে, দুঃখে তােরে ফেল্বােনা।
কেউটে মােরা, বিষ হারা'য়ে, টোড়ার মত চবােনা।
* রাগিণী-খাম্বাজ-তাল-একতালা।
কত কাল পরে জাগিলি জননী,
ঘুচা'তে মা তাের কলুষ-আঁধার।
অভাবে পড়িয়ে, স্বভাব ছাড়িয়ে,
পড়ি যেন ঘুমা’য়ে আবার ।
যে ভাবে জাগিলি, তুলিলি বদন, যে নব আশায় নবীন জীবন,
সে ভাব, সে আশ, সে প্রাণ-চেতন,
মােদের জীবনে করিলি সঞ্চার।
পুত্র মােরা তাের ছিনু এতকাল, পরপদলেহী, আনাড়ী, বাচাল,
ভরসা কেবল ছিল মা কপাল, সে ভুল ভাঙিলি, ঘুচালি বিকার ?
আনন্দ-মুষল
ভাই ভাই মাঝে ছিল হিংসা-ঠাট,
ছিল ধৰ্ম্ম-দ্বেষ, জাতীয় বিভ্রাট,
এবে কিন্তু আর নাই তার পাঠ,
একমন্ত্রপূত মানস সবার।
পাঞ্জাবী, মাদ্রাজী, মারাঠি, বাঙালী,
ধনী, ধনেশ্বর, দরিদ্র, কাঙালী,
সবে কুতূহলে দিতেছে মা তালি,
ধরম-গরবে ছাড়িছে হুঙ্কার।
মাঠে, ঘাটে, হাটে, পথে, রথে, বনে,
জলে, নভঃস্থলে, আছে যে যেখানে,
সে সেখানে থাকি হসিত বদনে
বলিছে” মা তাের করুণা অপার।
স্বদেশে যা হবে স্বদেশে রাখিব,
কোন বিষ আর ঘরে না আনিব,
দেবের আলয়ে দেবতা খাকিব,
পারের জঞ্জাল পাঠাইব পার।
দেশের চলনে উঠিব, বসিব,
দেশের ধরণে বলিব, চলিব, .
খাইব, পরিব, সকলি করিব,
ধরমে না হ’ব মরমে বেজার।
যদি তা না পারি, মরিয়া হইব,
যদি মরি পণে, আবার আসিব,
আনন্দ-মুষল
আসিয়া আবার প্রতিজ্ঞা পালিব,
দেখিব কিরূপ ধরম কাহার।
আরো গাই সাধ, না পারি গাহিতে,
যা গাহিনু হবে কুরােগে ভুগিতে,
হয় হবে, চাই আনন্দে ফিরিতে,
বিবিধ কল্যাণে পীড়িত মাতার”।
৯ রাগিণী-মাঝমিশ্র-তাল-একতালা।
এস সবে আজি, নব সাজে সাজি, নবীন পরাণে নবীন কাযে।
বিপদ এসেছে, চাপিয়া ধরেছে, থেকনা থেকনা নীরবে লাজে।
“ভাই ভাই যথা, তথা ঠাই ঠাঁই”
এ প্রবাদ-বুলি, তুলি’ কায নাই,
“ভাই ভাই মিলি’ স্বর্গে হেঁটে যাই”
গাই এস, যথা জলদ গাজে।
জাগ, জাগ, উঠ, বল করি’ পণ, “রবে যতক্ষণ এ দেহে চেতন,
র’ব যতদিন কোন একজন, অটল থাকিব সাধনমাঝে।
চাতুৰ্ব্বণ্য হ’তে ধরি’ আচণ্ডাল, গৃহ-রণে আগে ঘুচাব জঞ্জাল,
নরনারী কেহ না র’ব বে-তাল, না হ’ব বে-চাল বিষাদ-বাজে।
বিপ্ন, তাপ, ভয় আসিবে আসিবে, দুরিত-দমুজে হাসিবে, শাসিবে,
সকলি সহিয়া থাকিতে হইবে, রাখিয়া আনন্দে ভারতরাজে।
ঘরে ঘরে, গ্রামে, নগরে নগরে, কুল, কৰ্ম্মশালা স্থাপিরা আদরে,
অভাব ঘুচাব, থাকিব কদরে, স্বদেশে ফিরিব স্বদেশী-ধাঁজে।
আনন্দমূষল
ঠকি যদি তবু প্রভূত মঙ্গল, পুড়ি’ পুড়ি’ হ’ব পুরট উজ্জ্বল,
দুর্বল যাবে, হইব সবল, বাজিবে মাদল প্রবল ঝাঁজে।
ঠকিতে ঠকিতে পাব হেন দিন, যে দিন, জগৎ দেখিব নবীন,
র’বনা র’বনা আর দুঃখাধীন, শয়নে শয়ন আর না সাজে”।
* রাগিণী-ঝি ঝিট মিশ্র-তাল-একতালা ।
১।
মায়ের মােরা কি করেছি ?
আজ মা ডাকে, তাই মায় চিনেছি ।
মায়ের শিরে পড়ছে জুতা, কোন্ ছেলে তা না দেখেছি,
মায়ের দুখে দুখী হয়ে, সে দুঃখ কি কেউ হ'রেছি ?
আর সহেনা প্রাণে আমার, এই বােদন মা’র যেই শুনেছি,
অমনি ব’লে মা দুখিনী, মায়ের এসে পা’য় ধরেছি।
ঘরের ভাইকে আগে যেমন, পর ভাবিয়ে ঘর ভেঙেছি,
আহা! এখন মায়ের স্নেহে, সকল ভাইয়ে এক হয়েছি।
ভাই ছেড়ে ভাই ক’দিন থাকে ? ভাইয়ের দুঃখ ভাই বুঝেছি,
প্রাণের টানে প্রাণে প্রাণে, প্রেমের বাঁধন ঠিক দিয়েছি ।
আর আমাদের কেবা আঁটে ? প্রাণে মায়ের বল বেঁধেছি,
বাইরে আবার ব্যথার ব্যথা, ভাইয়ের মত ভাই পেয়েছি।
ভাইয়ের পাশে ভাইকে দেখে, নবীন অশে গান ধরেছি--
“মায়ের দুঃখ রাখবে না আর, মায়ের তরে প্রাণ সপেছি ।
বহু জন্মের পুণ্যফলে, ভাইয়ের সাথে ভাই মিশেছি,
কোটীকণ্ঠে মা মা বলি’, প্রেমানলে বেশ, মেতেছি।
আনন্দ-মুষল
১০।
* রাগিণী-লুম ঝি ঝিট-তাল-কাশ্মিরী খেমটা।
তােদের মা ডাকিছে আয়।
আয় তােরা আয় আমার কোলে, ও ধরিস্ কা’দের পায় ?
ওরা কারাে দুখ বুঝেনা, ওরা কোন গুণ খুজে না
ওরা কেবল দোষ দেখিয়ে, দতে সদা চায় ।
ওরা পাকা ব্যবসা জানে, দেয়না কিছু কেবল টানে,
ওরা ভাতের হাড়ী নাড়লে যেন. আকাশ হাতে পায় ।
ওরা তােদের করছে খাট, কুকুর চেয়েও দেখছে ছােট,
তােরা হাঁটু জলে ডুবলে ওরা, ফিরেও নাহি চায়।
তােদের দেখি যেরূপ ধাজা,
ধূনাে জ্বেলে মন্সা-পূজা,
তােরা ভাবি কি, তােদের মাতা, দুঃখে ভেসে যায় ?
তােরা যদি চাস বঁচিতে, যানে কারাে পায় পড়িতে,
তােরা দে আনন্দে মায়ের পায়ে, ঢেলে প্রাণ, কায় ।
১১।
* রাগিণী—সুরট মিশ্র—তাল—আড়খেটা।
ভাব ত আজ, আমরা আগে, কি কাষ করেছি
রাজায় কঁাসী দেয়নি গলে, সাধ করে তা পরেছি।
দেশের রাজা করতো একটু জোর,
সবার চোখে লাগলো তাহা ঘাের,
টেনে এনে ঘরে বেণে, রইনু নেশাখাের ;
তখন চতুর বেণে, ছিদ্র জেনে, ভাবলো—কি এক হয়েছি।
৭
১৮
আনন্দ মূষল
সভ্যতার ধূয়াে ক্রমে ধ'রে, পােড়া দেশের গোঁড়া মন হরে,
যা তা এনে ফেলে হেথা, জাহাজ ভ'রে ভরে ;
মােরা দেখে সে মাল, প্রাপ্ত যে হাল, তাহাই আজো রেখেছি।
খয়ের খায়ের করে লম্বা অশ, ঠাকুর মোরা, হয়ে ডাকুর দাস,
মণি-মাণিক বিকিয়ে দিয়ে, কিনেছি ছাই পাশ ;
মোরা সাত সমুদ্রের ঢেউতে পড়ে, জাহান্নামে গিয়েছি ।
রাতারাতি মারবাে বলে দাও, “ডোন্ট কেয়ার” করে পুয়াের গাঁও,
সাত ঘাটের জল খেয়েছি, তবু না পিছপাও;
মােরা চাষ, ব্যবসায়, পায়ে ঠেলায়, জুতোর তলে রয়েছি।
দেখে দেশের বাসন-কলার পাত,
মােটা বসন, মােটা ধানের ভাত,
ধরেছি প্লেট, চপ, কাটলেট, ভগবতীর কাথ ;
মােরা সাহেব সেজে, মনের তেজে, জংলি বুলি ছেড়েছি।
যে চাল দেশে চছে বহুকাল, যে সব নাতি, ধৰ্ম্মরক্ষা-ঢাল,
ড্যা-নিগারের কম বলি তা’, ঝেড়েছি গা’র ঝাল ;
মোরা গৃহলক্ষম। বাইরে আনি', শনির কোপে পড়েছি।
পিতামাতার অন্ন যুটা ভার, মোদের তখন দেখে কে বাহার,
মােরা ফেটি: চছি, মিটিং করি, খেতাপ নিছি ‘সার’ ;
মােরা বাপ, দাদা, মা, সবার পাঠ, এক “মাই ডিয়ারে” সেরেছি।
মোরা চার্চ ঘরে নাচঁ ক'রে, মনুর মাথা খেয়েছি।
ছিল আশা “কাটবে হেন কাল, ক্রমে মোরা কাটবে নেটিভ-জাল,
ব্লাক ডেভিলে পিষবাে শিলে, করবাে নাজেহাল ;
আনন্দ-মুষল
কাযে থাই না পেয়ে, ঠোকোর খেয়ে,
( আবার ) কাকের দলে মিশেছি।
সকল জাতির আছে হৃদয়, প্রাণ, সবার অাছে জাতির অভিমান,
আছে আরাে জাতীয় ভাব, স্ব স্ব ধৰ্ম্ম-জ্ঞান ;
মােরা “বারো রাজপুত, তের হুঁড়ি” চানার দোনায় উঠেছি।
হয়ে আর্যঋষির বংশধর, মােদের কিনা আপাত সুখকর
নেজু নিতে, সাগর-পারে, যাত্রা নিরন্তর ;
বলি—শুধু কি তাই? প্রেমের সরাই, তথায় কত খুলেছি।
মােদের যদি থাক্তাে দেশে টান, থাকতে যদি ধৰ্ম্মগতপ্রাণ,
মােরা গোলাম হয়ে টেক্কা নিতে, হতাম না হায়রাণ ;
হায়! সবার পায়ে সবাই মােরা, কুঠার মেরে বসেছি।
মােরা ঘরের ঢেকি, কুমীর হয়ে, লােক যা, খেয়ে ফেলেছি।
ত্রিকালজ্ঞ আর্যঋষিগণ, ছুতেন না অন্য দেশের ধন,
বুঝতেন তারা নিলে সে ধন, ভাঙবে লােহার মন ;
এখন তাদের কথা, তাদের গাথা, আমরা ঠেকে বুঝেছি।
গুণের কথা কইবাে কত কা’র, যে সাধু এই দেশের অর্গার,
দেশীভাবে তারাও এবে, বিকানাকো আর ;
শুধু দেশীর মাঝে বুড়াে মা, বাপ, তাও না বেশী পেতেছি।
গােড়া কেটে আগায় ঢেলে জল, কোনকালে হয়না কোন ফল,
মমাদের দেশের ছিল যে বল, আজ তা রসাতল ;
তবে সৌভাগ্য এই-রাজার দয়ায়, আমরা কি, তা চিনেছি।
আনন্দ-মুষল
দয়াল রাজার নাইকো কোন দোষ, রাজা আরো বলেন করি’ রােষ,
“তােমরা কেন এমন দেশে, পচা কাঁটাল-কোষ ?
তােমরা চুটিয়ে কর দেশের কায, আমরা অভয় দিতেছি।
তােমরা যখন ঘৃণ্য ভাব দেশ, ঘৃণ্য ভাব দেশের খাবার, বেশ,
তােমরা তখন সবই পার, জাগা’য়ে ছার দ্বেষ :
তােমরা রাজার পিছেও ছুটতে পার, সত্য সেটা ভেবেছি।”
রাজার আরো কতবিধ বোল, “কিসে সবে পাবে মােদের কোল ?
মােরা যতই সুখে রাখছি বুকে, ততই লাগাও গােল ;
তােমরা যেচে এসে পড়ছে পাশে, আমরা তা কি বলেছি ?
রাজার চাই রাজার মত কয, চলছে তেমন, কিসের তবে লাজ।
মমাদের তরে আছি মােরা, বাসন, বসন, সাজ ;
তােমরা পরের যাহ, ল ও লুফে তা, কোন্ ‘ল’তে তা লিখেছি ?
তােমরা যবে শিল্পে মন দিবে, চাকুরী ছেড়ে ব্যবসায় ভিড়িবে,
তখন রাজা সুখী হবে. যা চাও মিলিবে ;
‘রাজা অপাত্রে ধন, না দেয় কখন,” তােমরা তা কও, শুনেছি ।
সত্যই ত এরূপ রাজকাজ, মােরা পাজি, নাইকো ঘৃণা, লাজ,
রাজার মত নইকো, তবু, কিনি রাজার সাজ ;
মােরা রাজার গুণ লাভ করিতে, এখন বটে ক্ষেপেছি ।
মােদের বাড়া ভাতে ছাই পড়েছে, তাই ত মোরা চেতেছি ।
মাঝে মাঝে উঠছে কথার ঢেউ, “বাঘের পাছে আছে যত ফেউ.
সুযােগ পেয়ে স্বার্থ খুঁজে, সচ্চা নহে কেউ ;”
ছি ছি, এ খুব দুখের কথা, মােরা) আপশে সারা হ’তেছি ;
আনন্দ-মুষ
১০১
পাগল আমি যাইনা কেন গাই, এইটী যেন ক’ররে জাতভাই,
শাহে না লয় যেচে আদর, কেহই কারাে ঠাই :
নইলে “একেন পাপ, শতেন পাপ” সবাই যেন মরেছি।
জেনে, রাজা মােদের প্রবোধ-ধন, তঁার গুণে পথ পেয়েছি।
----
১১। আর কবেরে বুঝবি তােরা, সুখের নিজদেশ ?
এদিকে ত দিনে দিনে, যা ছিল সব শেষ ।
এতদিন তােদের নিয়ে,
বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে,
পেলেছে যে, সে মা র লাগি, এই কি ভাবােন্মেষ ?
বুঝবি কবে ভারত এই, সুখের নিজদেশ ?
ধন ধান্য সবই শূন্য, সবার যেচে মান,
নিত্য নূতন পাপের দাপে, ক্ষুব্ধ বড় প্রাণ ;
এমনি এবে হড়ীর হাল,
দেহে মাত্র সম্বল ছাল,
পরের মুখে খাইয়ে ঝাল, বলি তাহা বেশ।
এরূপ ভাবে বুঝবি কবে, সুখের নিজদেশ ?
দেশের হাটে বিকায় শুধু, দেশের পচা ফল,
মাটির ঘড়া, পাতলে, সরা, তামাক, হুকো, নল ।
বাসের মাঝে মুঙ্গী দেশী, ভাগ্যদোষে তাও না বেশী,
প্রতিবেশী ছিদ্রান্বেষী, তাই মা এত ক্লেশ।
তাই ত বলি—এ’তেও দেরী, চিনূতে নিজদেশ ?
* স্টার চিহ্নিত গীতগুলি, বঙ্গভঙ্গ-আন্দোলন-ফালে প্রকাশিত। বর্তমানে মাত্র তার
পুনঃপ্রকাশ।
আন-মুষল
কোনও সাজে কোনও কাযে, নাইকো কোন সুখ,
উদর লাগি ভিক্ষা মাগি, শুকননা সদা মুখ ;
খেয়ে পরের লাথী, জুতা, তিক্ত গালি, রুলের গুতা,
পালিস্ সুত, দারা, সুতা, ঘৃণার নাই লেশ !
বেহায়া, তাই বলি তাের, সুখের নিজদেশ।
নিজের যা’, তা দেখতে যদি, একটু কারাে আশ,
ঘরের ঢেকি কুমীর হয়ে, অমনি করে গ্রাস ;
মিলে দেশের ভক্ত সনে,
বিরাম স্থান লালভবনে,
পীড়ন বাড়ে ন্যায়-কথনে, এরূপ পর-দ্বেষ ।
বাঁচার তরে বুঝবি কবে, সুখের নিজদেশ ?
দেখেও এত ভা'য়ের দুঃখ, আছিস্ তোরা স্থির,
দেখিস্ না কি মায়ের দশা, ধূলায় লুটে শির ?
মায়ের ঘরের মােটা সাজে,
লাগলে সবে মায়ের কাযে.
থাকবি না আর ভবের মাঝে, মানুষ হয়ে মেষ।
বুঝবি তবে সগৌরবে, সুখের নিজদেশ।
অস্বে কাযে নানা বাধা, খালে ঐক্য-বল,
স্বার্থীর ছল ব্যর্থ হবে, মিবে শুভফল ;
দৈন্য যাবে, মান্য হবে,
দুর্বলতা নাহি রবে,
ধন্য-ধন্য পড়বে ভবে, ছোঁবেন। কেউ কেশ।
দেখারে তাই দেশের ভাবে, সুখের নিজদেশ।
আনন্দ-মুষল
১৩। ক’দিন আর এরূপ ভাবে, ক’রবি ভবে বাস ?
এখনাে ত দেখছি তােরা, করিস্ পর-আশ ।
ভাইকে শাসন, ভাইকে পেষণ, ভায়ের বুকের রক্ত-শশাষণ,
নয় তা কভু আত্মততাষণ, তা’য় ত আত্মনাশ।
এরূপ ভাবে ক’দিন ভবে, করবি তােরা বাস ?
দেশের অন্ন অন্যদেশে, জমছে দিনে দিনে,
অন্নপূর্ণার সত্রে তােরা, কাঙাল অন্ন বিনে ;
লজ্জা রাখিস্ পরের বাসে, উঠি, বসিস্ পরের ভাষে,
চলিস্, ফিরিস্ পরের বাসে, এমনি পরদাস।
এরূপ ভাবে তােদর কবে, ছুটুবে মােহ-পাশ ?
পরের দ্বারে ভিক্ষা মেগে, যায়না কারাে দুখ,
পরকে কেহ আপন ভেবে, পায়না কভু সুখ ;
যাহাই থাক নিজের ঘরে,
যতন চাই তাহার তরে,
যত্নে মিলায় রত্ন পরে, হয় না সর্বনাশ।
কেন তবে যেচে তােরা, পরিস্ পর-ফঁস ?
দেশের ভাবে দেশের কাযে, কাটায় যারা কাল
দৈন্য-ভয়ে তাদের কভু, নিকট নহে কাল ;
দিতে শিখে আত্মবলি,
এরূপ তারা আত্মবলী,
সবার কাছে শ্রেষ্ঠ বলি’, গণ্য বারমাস।
দেশে তােরা, দেশীর মত, করবি কবে বাস ?
১০৪
আনন্দ-মুষল
১৪। দেশের ডাকে আর কে থাকে, পরের ভাব ল'য়ে ?
আর কে নাচে, ভিক্ষা যাচে, পরপ্রত্যাশী হ'য়ে ?
ছুটু পরসেবা-পেশা,
জমুক দেশীভাবের নেশা,
বাড়ক দেশীর সঙ্গে মেশা, দেশের কথা কয়ে।
আপন দেশে আর কে থাকে, পরপ্রত্যাশী হয়ে ?
পরে যাহা আনুক হেথা, কে চায় তাহা আর ?
দেশের ধন থাকুক দেশে, না যায় যেন পার ,
পরের কাছে সে ধন বেচে,
ভাইকে মেরে কি ফল বেঁচে?
দেশের প্রেমে বেড়া নেচে, সবাই দেশে র’য়ে।
কোথায় কার দুঃখ গেছে, পর প্রত্যাশী হয়ে ?
করে করুক্ জুলুম পরে, স্বার্থরক্ষারে,
কেহ যেন স্বভাবত্যাগী, না হয় সেই ডরে ;
আসে আসুক বিঘ্ন শত
আপন ভাবে থাকূলে রত,
হতমানী কাঙাল মত, যাবে না কেউ ব’য়ে।
কেউ না রবে আপন দেশে, পর প্রত্যাশী হয়ে।
১৫। উড়ে এসে হুজুগ, দেশে, আসর যুড়ে ব'সেছে।
গা’য় মানেনা আপনি মােড়ল, গাড়ােল তাই বেড়েছে।
ছিল যত উলুবুনে,
সবাই এখন সংকীত্তনে,
কাস্তে ছেড়ে উঠতে তেড়ে, কত্তাল, খোল ধরেছে।
মুষল যারা করতো ভোতা, লিখছে তারা কাগজ চোতা,
কাদাখোচা, ভূতুমপেচা, পাপিয়া, পিক সেজেছে।
আনন্দমূষল
যে সব পীঠ অগ্রে ত্যক্ত,
গৌরবে তা’ হাটে ব্যক্ত,
যত ভক্ত অনুরক্ত, আচ্ছা বক্ত পেয়েছে।
উড়িয়ে যারা ধৰ্ম্মধ্বজা,
পরের ঘরে লুটতত মজা,
এখন তারা ন’দের গােরা, সকল বেড়া টুটেছে।
যেথায় যত বাদীর বাচ্ছা, সবার কাছে সদাই সাচ্চা,
কেউ না নীচু, সবাই উচু, উচ্চের মান গিয়েছে।
সিদ্ধ যারা মুষ্টিযােগে,
তারাই রত সিদ্ধযােগে,
থেকে ভােগে, ভুগে রােগে, যমের বাড়ী যেতেছে।
মারলে বােমা যাদের পেটে, মুখে ‘ক’ না বারেক ফুটে,
সকল ঠাই, তারাই চাই, আর কি বাকি রয়েছে ?
শান্তি মােদের, সােণার হরিণ নয়।
যেরূপ হাওয়া,
সে ধন পাওয়া,
সহজ অতিশয় ।
রবি, চন্দ্র, গ্রহ তারা,
যা খুসী তা’ করুক তারা,
তুচ্ছ যখন মরণ, কারা, দেখায় কারা ভয় ?
দেখবে-সাম্য, এখন কোথা রয় !
ভাইকে ভুলে
ভাই এতদিন, পরের কথা শুনে,
ছিল মুগ্ধ, যাদুকরের, ভেদমন্ত্র-গুণে ;
তাই পরে ধন লুটে নেছে, যা হবার তা হয়ে গেছে,
এবে সে ভুল ভেঙে দেছে, স্বভাব সহৃদয় !
দেখবো--কিসে, সাম্য দূরে রয় ।
আনন্দমুষ
এর উপরে আবার দেখি, গভীর ঘন টুটে',
দীপ্ত সদা মােহনচঁাদ, আঁধার গেছে ছুটে :
একটু পরে নবীন রাগে, জাগবে ভানু বােধন-যাগে,
ভাবে তাহে সুখের ছবি, আসবে কাছে জয়।
শান্তি আর স্বপন সম নয় !
১৭। মায়ের যবে ডাক এসেছে, ভাইরে সবে জাগ।
দেশের সাজে দেশের কাযে, কোমর বেঁধে লাগ, !
মায়ের ঘরের যত জিনিষ, তােরাই যদি বেচি, কিনি,
তবেই জনি মাকে চিনি, জানিস্ মাতৃ-যাগ ।
মা ডেকেছে যখন ভাই, মায়ের কাজে লাগ, ।
ছিল আগে হেথায় যারা, মায়ের সেবা-দাস,
মায়ের দেওয়া দ্রব্যে তাদের, মিটেছে সব আশ;
এরূপ হলে আপন ঘরে,
রয়নি তারা পরের তরে,
লাগেনি মা’র অঙ্গোপরে, পাপের কোন দাগ।
পারেনি কেউ মায়ের অঙ্গ, করতে জোরে ভাগ ।
তােরাই তাদের কুলের চেরাক, তােরাই কেন হেন ?
‘যেন তেন প্রকারেণ’ কাটা দিন যেন ;
বুঝছি তাের। পরকে নিয়ে, মায়ের সেবা ছেড়ে দিয়ে,
পরের ভাবে মেতে গিয়ে, দিছি ঘরে আগ।
বাঁচিস, যদি মায়ের ধন, আবার সবে মাগ, ।
আনন্দ-মুষল
আত্মরক্ষা উপায় এবে, হাতের শুধু নখ,
অন্ন, বস্ত্র লাগি সদা, গােলামসজি। সখ ;
গােলামখানায় নিত্য ঢুকে, হুজুর বলি’ সেলাম ঠুকে,
কাম বাজা’য়ে বেজার মুখে, দেশের পরে রাগ।
চাটি তবু পরের পদ, এমনি তােরা ছাগ :
যে মায়ের সেবায় মেতে, জনক, কৃষ্ণ, রাম,
অৰ্জ্জুন, নল, যুধিষ্ঠির, রেখেছে মা'র নাম ;
সেই মায়ের পুত্র হ'য়ে,
এরূপ তােরা গেছিস্ ব’য়ে,
পরকে ঘরে টেনে ল'য়ে, দেখাস্ পোষা মাগ !
মায়ের সেবা করে যারা, তারাই মহাভাগ।
১৮। গরজি ভীষণ, কঁপা'য়ে গগন, পড়ুক কুলিশ বক্ষে,
শাণিত কৃপাণ করি’ রক্তপান, নাচুক আসিয়া চক্ষে,
ঝলকি’ উঠুক ইস্পাত ফলক, জ্বলুক সজোরে প্রলয় পাবক,
নাশুক, বিষয়, শামুক, শাসক, পুড়ক, অনলে লক্ষ ।
আমরা কৰ্ম্মী বিরাটধৰ্মী, স্বাত্মতা সবার লক্ষ্য।
হােক বাসস্থান মরু বা শ্মশান, তাহে না কাহারে শঙ্কা,
নন্দন সমান করিব তা’ জ্ঞান, বাজা’য়ে প্রণয়-ডঙ্কা ;
সহিতে এসেছি আমরা মহাতে, সকলি সহিব সাধনে রহিতে,
বেদনার গাথা ভুলিব গাহিতে, ভাবিয়ে তাহাতে মােক্ষ ।
আমরা কর্মী অভয়ধৰ্মী, স্ব-ভাব মােদের লক্ষ্য।
৮
আনন্দ-মুষল
সাধিলে সিদ্ধি, অথবা ঋদ্ধি, যখন সাধক-হস্তে,
সে সাধন লাগি’ র’ব মােরা জাগি’, যাবনা কখন অস্তে ;
যতই পরের পীড়ন আসিবে, ততই মােদের বাঁধন খসিবে,
ততই মােদের জড়তা ছাড়িবে, বাড়িবে সাহস, সখ্য।
আমরা কৰ্ম্মী অমরধর্মী, সমতা মােদের লক্ষ্য।
র’ব যতদিন স্বাতন্ত্র্যবিহীন, থাকিব সাধনে লিপ্ত,
এলে সিদ্ধি-কাল, ছিন্ন করি জাল, হইবে হৃদয় দীপ্ত ;
অকালে বােধন রাঘবের সাজে, অসম্ভব তাহা মোদের এ সাজে,
শুন শুন অই কাল-শিঙা বাজে, “ছেড়না করম-পক্ষ।
থাকরে কর্মী স্বরূপধৰ্মী, স্বরূপে রাখিয়ে লক্ষ্য।
চলেছে যে হাওয়া, মিলিবে সে মেওয়া, ভুলনা গুরুর শিক্ষা,
র’য়াে না অলস, হয়ে না অবশ, লয়ে না পরের ভিক্ষা ;
নিজেদের যাহা নিত্য প্রয়ােজন, নিজেরা সে সব কর আয়ােজন,
যা কিছু পরের দাও বিসর্জন, হওরে স্ব-ভাবদক্ষ।
রহরে কর্মী স্বভাবধর্মী, পূর্ণতা করিয়ে লক্ষ্য।
পরদ্রব্য-লােভে পড়িও না ক্ষোভে, শুনিয়ে পরের মন্ত্র,
নিজেদের মাঝে নিজেদের কাযে, চালাও আপন তন্ত্র ;
পরুষ যত দেখিবে হেথায়, সব জাতীয়তা-বিনাশ-আনায়,
তােমাদের এবে তােমরা সহায়, নতুবা দাড়াবে ভক্ষ্য।
তাই হে কৰ্ম্মী, চেতনধর্মী, ত্য’জনা চরম লক্ষ্য।
* ১২ হইতে ১৮ নম্বরের রাগিণী ও তাল বিহীন সঙ্গীতগুলি ইংরেজী ১৯২১ সালে
রচিত ও প্রকাশিত। সর্বশেষের গানটি-একনিষ্ঠ সাধকের সাধনৰ নিয়াই মচিত।
সেই একনিষ্ঠতার পরিচয়ের জন্যই, এস্থলে তা পুনরায় সন্নিবেশিত হইল।
পৱিশিই।
কাশীর উৎকাশি
খবর বড় জবর রকম,
গুপ্ত কাশীর ব্যক্ত ধরম !
আজব কবির গজব বাত,
চারি চা’লেই কিস্তীমাত, !
শুনলে কাশীর চা’র চুটকি,
কাশীবাসীর জ্বলবে পুটকি !
আবার যারা ঘাগী ঘটকি,
বসবে তারা পিণ্ডি চটুকি
যা হােক খুলে ঘিয়ের মকি,
পড়লো কবি দূরে সকি!
কাশীর মাঝে কি উৎকাশি,
জানুক এবে কাশীবাসী।
আনন্দ-মুষল
১। কঠিন বুঝা কাশীর মজা, ষাঁড়ষড়ীর গুপ্ত যােগ।
এ যােগ-ফল ফলে তখন, দাড়ায় যখন উদর-রােগ।
দেশের যত ক'ড়ে রাড়ী, থেকে ভােগে বাপের বাড়ী,
দ্বন্দ্বে পড়ি’ বা ছাড়ি’, কাশী আসি’, মিটায় ভােগ।
যত শাক্ত মোমেড়ী,
ততােধিক নেড়ানেড়ী,
থাকি’ ধামের আধা বেড়ি’, দ্যাখে কার কি প্রেমােদ্যোগ।
শীঘোলের ভক্তরাজ্য,
রাজীতেও নয় গাজি,
সিদ্ধ খ্যাপা গতি পাজী, তাই আজি এ অভিযােগ।
২। শোন শোন সবে শােনরে হেথা, বিশ্বনাথের শিঙার রােল।
“গুণ-গরিমা, জ্ঞান-মহিমা, থাকে না আর এমনি গােল ।
বাপ-খেদান মা’য়-তাড়ান, দেশের লােকের প্রাণ-ভিড়ন,
যত রাসরসিক। রস-কুড়ান, খুলছে গুপ্তযোগের টোল।
সুযোগ পেয়ে অযোগী তাই, বাজায় যোগে চামের ঢােল ।
ফল-ভক্ত শক্তি চেয়ে, এখােল-ভক্তদল,
নিত্য নৃতন রঙে ঢঙে, শুনায় যোগের ফল :
জ্ঞানযোগের সাধক ব্য’রা, ক্ষোভে তাদের চোখে ধারা,
সিদ্ধ খ্যাপা আত্মহারা, ব্যক্ত তাই এ শক্ত বেল ?
টেকতে পারে জ্ঞানের কাশী, করলে খালি যােগীর কোল।”
আনন্দমূষল
৩। কাশীতে আসিতে কেন, সৎলােকে না চায় ?
যত ধৰ্ম্মষাড়ে ঝুটী নাড়ে, পেট ফঁড়ে খোচায় ॥
সুযােগ পেলে পুচ্ছ নেড়ে, চাকে, শুকে দুধের কেঁড়ে,
রাগ দেখিলে উঠে তেড়ে, পেড়ে, ঝেড়ে রাগ মিটায়।
রাগ না দেখে ধাক্কা খেলে, হঁাক্কা মেরে রাগ জমায় ।
পতিহীনা বহুনারী,
সতী দ্রুপদরাজকুমারী,
যাত্রা-ছলে কৰ্ম্ম-সারি', বাপ বলিয়ে পাপ ছাপায় !
ভণ্ড নরষণ্ডের দল,
সত্রে খেয়ে চালায় কল,
এমনি তার চরম ফল, পথেই পেটের ধন লুটায়।
গাঁথনি পাকা হ’বার আগে, সভয়ে কেউ ভিত খসায়।
৪। আমি বৈদ্য সদ্য সদ্য, কাশীর সব রােগ তাড়াই।
যার যে ব্যাধি, আমায় সাধি’, প্রাণ খুলে তা কয় সবাই।
কথায় যে যা কইতে ডরে, ব্যথায় ত তা ব্যক্ত পরে,
কেউ না কিছু গােপন করে, কিরোগ কার, তাই জানাই।
পদ্য ঝেড়ে বৈদ্য আমি, সদ্য লােকের ভূত ছাড়াই।
চাপতে নারি বলে নারী, “গােপ্য কিছু নাই,
এলেই কাশী, দলে মিশি’, বাড়াই নব বাই ;
নিত্য যাত্রা, লিঙ্গ-ছোঁয়া,
কথা শােনা, গঙ্গা-নাওয়া,
মাগীগুরুর শিক্ষা লওয়া, স্বামীর কাছে ভাব যাচাই ।
কেনাের গান, বাজার-টান, আছে ব'লে, প্রাণ বাঁচাই ।
১১২
মন-মুষল
এ বাই তরে যে রােগ ধরে, কাহিল তাহে নই,
ঘােড়া-রােগে পােড়া খেয়ে, পােড়ারমুখী হই ;
'তেও যদি রােগ না সারে, না আসি আর পথের ধারে,
কালে যখন ধাক্কা মারে, আঁধার পথে ভার নামাই।
থানা মােদের অন্য যে বাই, রােগের সেরা রােগ ইহাই !”
নারীর পরে কহে নরে, “নারীর বাই নয়,
( মােদের) ছােট বড় ব্যাধি ষড়, নয়ের কিছু নয় ;
সত্রে খাওয়া, পাত্র পাওয়া, যাত্রীর ঠাঁই ভিক্ষা চাওয়া,
রাড়ীর যােত্র ফুসলে লওয়া, গাঁজা, গুলির ধূম-লড়াই।
মেলার ভিড়ে ঠেলায় ভিড়ে', মালের লাগি হাত সাফাই ।
এই ত হেথার পাড়ার ব্যাপার, এখন আমি কই,
যে ঔষধে এ বাই রােধে, ব্যবস্থা তা’র কই ?
বাড়লে পরে বাড়ীর ভাড়া, সত্রে ললাকে খেলে তাড়া,
উৎকাশের পড়লে সাড়া, কমবে ক্রমে রােগ বালাই।
নাইকো হুড়ো, তাই ত হেথা, হরির খুড়ো সব বেটাই ।
ছুড়ী-বুড়ী মানের ঝুড়ি, রসের গুড়ি সব জনাই”।
সম্পূর্ণ
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.