Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Srisri Baishnab-bandana

Goswami,atul Krishna Ed · 2009/12/6

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শ্রীশ্রীগৌরবিধুজয়তি।
শ্ৰীবৈষ্ণব-বন্দনা
বৈষ্ণব-বন্দনা পঢ়ে-শুনে যেইজন।
অন্তরের মুল ঘুচে-শুদ্ধ হয় মন।
দৈবকীনন্দন।
তি-পরি
শিববিতর-শ্ৰীমন্নিত্যানন্দপ্রভুবংশ
অতুল কৃষ্ণ গােস্বামী -
কর্তৃক সম্পাদিত
**
(
কলিকাত
৪০ নং, মহেন্দ্রনাথ গোস্বামীৰ লেন, সিমুলিয়া,
শ্ৰীশ্ৰীমহাপ্রভুর শ্রীমন্দির হইতে
সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত।
শ্রাবণ,
শ্রীচৈতন্যাব ৪২৪।

DO৬
হাবড়া, ৬৫৪ নং, সারকুলার রােড,
“দি ন্যাসনাল প্রিন্টিং ওয়ার্কস” প্রৈসে
শ্ৰীঅম্বিকা চরণ দাস কর্তৃক মুদ্রিত।

শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যচায় নমঃ। বৈষ্ণব- বনা। প্রথম-বন্দনা। আজানুলম্বিতভুজৌ কনকাবদাতো সঙ্কীৰ্ত্তনৈকপিতরে কালয়ক্ষো। বিশ্বভরে দ্বিজবরো যুগধর্মপালো বলে জগৎপ্রিয়করো করুণাবতারো নমস্ত্রিকাসত্যায় জগন্নাথতায় চ। সপুত্ৰায় সভৃত্যায় সকলত্ৰায় তে নমঃ জয়জয় বিস্তর জয় দ্বিজরাজ। জয় বিশ্বম্ভর-প্রিয়গে ষ্ঠীরন্সমাজ । জয় গৌরচন্দ্র ধর্মসেতু মহাধীর। জয় সঙ্কীৰ্ত্তনময়-সুন্দর-শরীর । জয় নিত্যানন্দের বান্ধব ধন প্রাণ। জয় গদাধরের অদ্বৈতের প্রেমধাম । জয় শ্রীজগদানন্দপ্রিয় অতিশয়। জয় বক্রেশ্বর-কাশীশ্বরের হৃদয়। জয়ঞ্জয় শ্রীবাস-অদি-প্রিয়বনাথ। জীব-প্রতি কর প্রভু শুভ দৃষ্টিপাত।

( ২ )
ঠাকুর চৈতন্য বলে। একচিত্তমনে।
ইষ্টদেব-আদি বলে। যত প্রিয়গণে।
বন্দে। ঠাকুর নিত্যানন্দ অদ্বৈত-সহিত।
গৌর আকার--ভুজ আজানুলম্বিত ।
শুনগুন ওরে ভাই মঙ্গল চরিত্র।
শুনিলে দুরিত হরেভুবন পবিত্র ।
নিত্যনন্দস্বরূপের দাসের মহিমা।
শতবর্ষ কহি ঘদিতভু নাহি সীমা।
তথাপি যে কহি নাম জানি যার যার।
সভে নন্দগােষ্ঠী গােপ-গােপী-অবতার।
সহস্র-মুকুটমণি নিত্যানন্দরায়।
সহ-বদনে প্রভু গােরাগুণ গায় ।
সেই সে সহস্র ফণা ধরি নানা রঙ্গে।
নিজ মূৰ্ত্তি ধরে প্রভু আপনার অঙ্গে।
নিত্যানন্দ-মহিমা বলিতে শক্তি কার।
যার যার সঙ্গে নিত্যানন্দের বিহার
সভে নন্দগােষ্ঠী গোপ-গোপী-অবতার।
নিত্য শুদ্ধ বস্তু সভে প্রভুর আকার।
এই কৃপা কর প্রভু হইয়া সদয় ।
তােমার দাসের পায় যেন মতি হয়।
সভেই জন্মিলা প্রভু চৈতন্য-আজ্ঞায়।
নিত্যানন্দপ্রভু বুলে সংসার-মায়ায়।
বেদব্যাস-আদি কৰি কহিল সকলে।
মার যেই রতি-মতি সেইমতে বলে।

৩ )
নিত্যানন্দস্বরূপের নিষেধ লগিয়া।
পূৰ্ব্বনাম না লিখিল বিদিত করিয়া ।
প্রিয় পরিষদ রামদ স মহ'শয়।
নিরন্তর ঈশ্বরভাবে সেই কথা কয়।
সুর বাক্য কেহ ঝট নাপারে বুঝিতে।
নিরন্তর গৌরচন্দ্র য র হৃদয়েতে।
সভার অধিক ভাব গৃহস্থ রামদাস।
যাহার হৃদয়ে কৃষ্ণ ছিল তিনমস ॥
শ্রীদাম করিয়া যারে ভগবতে কয়।
রামদল সেই বস্তু জনি নিশ্চয় ।
প্রেমের অধিক প্রেমবিগ্রহ প্রকাশ।
নববিধা প্রেমভক্তি যাহার বিলাস ।
প্রেমের সমুদ্র শ্রীসুন্দরানন্দনাম।
নিত্যানন্দরূপের মহাপ্রেমধাম।
পরিষদমধ্যে’যর প্রথমে গণনা।
নিত্যানন্দস্বরূপের ধন প্রাণ বাণা
সুদাম করিয়া যারে পুরাণে বাখানে।
সুন্দরানন্দ সেই বস্তু জানে সর্বজনে
পণ্ডিত কমলকির পরম উদ্দাম।
ধাহারে দিলেন নিত্যানন্দ সপ্তগ্রাম ।
বসুদাম করি যরে পুরাণে কহিল।
কমলার সেই বস্তু সকলে জানিল ।
উদ্ধাণদন্তু মহা বৈষ্ণব উদার।
নিত্যানন্দসেবায় যাহার অধিকার।

( ৪ )
মহাবল করি য'রে ভাগবতে কয়।
উদ্ধারণ সেই বস্তু জানিহ নিশ্চয়।
নিত্যানন্দজীবন শ্রীপরমেশ্বরদাস।
যাহার বিগ্রহে নিত্যানন্দের বিলাস।
সুবাহু করিয়া যারে পুরাণে কহিল।
পরমেশ্বর সেই বস্তু সকলে জানিল ।
বাহ নাহি পুরুষে ত্তমদাসের শরীরে।
নিত্যানন্দচন্দ্র ঘর হৃদয়ে বিহরে ।
স্তোককৃষ্ণ করি য রে পুরাণে বাখানে
পুরুষােত্তম সেই বস্তু জানে সর্বজনে।
গৌরীদসপণ্ডিত পরম ভাগ্যবান।
কায়মনোবাক্যে বঁাবু নিত্যানন্দ প্রাণ।
সুবল করিয়া যরে পুরাণে কহিল ।
গৌরীদাসপণ্ডিতেরে সকলে জানিল ।
পুরুষােত্তমপণ্ডিতের নবদ্বীপে জন্ম।
নিত্যানন্দস্বরূপের হয় মহা মৰ্ম্ম ।
অর্জুন করিয়া যারে ভাগবতে কয়।
পুরুষােত্তম সেই বস্তু জানিহ নিশ্চয়।
রতাইর পুত্র বলি সৰ্ব্বলােকে কয়।
নিত্যানন্দপাবিষদ সেই মহাশয়।
লবঙ্গ করিয়া যারে পুরাণে বাখানে।
পুরুষােত্তম সেই বস্তু জানে সৰ্বজনে।
প্রসিদ্ধ কালিয়াকৃষ্ণদাস ত্রিভুবনে।
গৌরচন্দ্র-স্ফুর্তি হয় যার দরশনে ।

( ৫
৫ )
মহাবাহু করি যারে ভাগবতে কয়।
কালিয়'কৃষ্ণ সেই বস্তু জানিহ নির্ণয় ।
(ইতি শ্ৰীগােপাল-নির্ণয়।)
প্রেমভক্তিরসময় গদাধরদাস।
যার দরশনে সর্বপাপ হয় নাশ ।
রাধিকা করিয়া তারে জানে সর্বজনে।
গৌরচন্দ্র লভ্য হয় যার দরশনে ॥
সদাশিবকবিরাজ মহভাগ্যবান।
গৌরচন্দ্র নিত্যানন্দ যার ধনপ্রাণ।
চন্দ্রাবলী করি যারে পুরণে বাখানে।
সদাশিব-কবিরাজ জানে সৰ্ব্বজনে।
ধনঞ্জয়পণ্ডিত মহান্ত বিলক্ষণ ।
যাহার হৃদয়ে নিত্যানন্দ সর্বক্ষণ।
মহেশপণ্ডিত অতি পরম মহান্ত।
নিত্যানন্দপ্রিয় বড় কহিল একান্ত ।
প্রেমময় মহামত্ত বলরামদাস।
যাহার বাতাসে সর্বপাপ হয় নাশ ।
রাঢ়ে জন্ম মহাশয় বিপ্র কৃষ্ণদাস।
নিত্যানন্দ-পারিষদে যাহার বিলাস
জগদীশ-পণ্ডিত পরম জ্যোতিধম।
নিত্যানন্দ-পরিষদে কহি তার নাম।
বড়গাছি-অলয় সুকৃতি কৃষ্ণদাস।
যাহার গ্রামেতে নিত্যানন্দের বিলাস।

( ৬ )
জগন্নাথ কবিচন্দ্র প্রেমসময়।
নিরবধি নিত্যানন্দ যাহার হৃদয়।
প্রসিদ্ধ চৈতন্যদাস মুরারিপণ্ডিত।
ঋর খেলা মহাসপ-ব্যাঘ্রের সহিত।
রঘুনাথবৈদ্য-উপাধ্যায় মহামতি।
আঁর দৃষ্টিত্রে হয় কৃষ্ণে রতি-মতি ॥
চতুভুজপণ্ডিত, নন্দন, গঙ্গাদাস।
পূৰ্ব্বে যার ঘরে নিত্যানন্দের বিলাস।
আচাৰ্য বৈষ্ণবানন্দ পরম উদার।
পূৰ্বে রঘুনাথপুরী নাম খ্যাতি যার।
পরমানন্দ উপাধ্যায় বৈষ্ণব একান্ত।
নিত্যানন্দপ্রেমে তিঁহ হইলা মহান্ত।
প্রসিদ্ধ পরমানন্দগুপ্ত মহাশয়।
পূৰ্ব্বে যার ঘরে নিত্যানন্দের অালয়।
মহান্ত আচার্য্যচন্দ্র ধরে সর্বশক্তি।
নিত্যানন্দ বহি তার অন্য নাহি গতি।
কৃষ্ণানন্দ দেবানন্দ দুই শুদ্ধ-দাস।
নিত্যানন্দ-পরিষদে যাহার বিলাস।
আচাৰ্য বৈষ্ণবন পরম উদার।
নিত্যানন্দচন্দ্র-বিনু গতি নাহি যাঁর।
পাষন মাধবানন্দঘোষ মহাশয়।
বাসুদেবঘােষ অতি প্রেমরসময়।
নিত্যানন্দপ্রিয় বড় মনোহর বান।
কৃষ্ণানন্দ দেবানন্দ এই চারিজন।

( ৭ )
মহাভাগ্যবস্ত এই চারি পণ্ডিত উন্ন।
যসভার ঘরে নিত্যানন্দের বিহার।
পুণ্ডরীকবিদ্যানিধি বদিলাঙ আনন্দে।
উচ্চস্বরে যারে স্মরি গৌরচন্দ্র কালে।
বন্দিল আনন্দে ঠাকুর হরিদাস।
আর হরিদাস বন্দে। সিন্ধুকূলে বাস ও
বন্দিলাঙ মুকুন্দদত্ত কৃষ্ণের গায়ন।
শিবানন্দসেন-আদি মহা-আপ্তগণ
বন্দিলাঙ শ্রীগােবিন্দ হরষিত-মনে।
মূল হৈয়া কীৰ্ত্তন করিল প্রভুর সনে ।
বন্দিলাঙ অখিরিয়া শ্ৰীবিজয়দাস।
বুধবাহু যারে প্রভু করিল প্রসাদ।
সদাশিবপণ্ডিত বন্দিলাঙ মহামতি।
র ঘরে পূর্বে নিত্যানন্দের বসতি।
পুরুষোত্তম অঞ্জয় বন্দে। হরষিত-মনে।
নিত্যানন্দ র্যাব গৃহে অইল। প্রথমে ।
অচ্যুতানন্দ বন্দি যার চরিত্র অদ্ভুত।
ব্রহ্মানন্দভারতী আর সনাতন রূপ
বন্দিলা গরুড়পণ্ডিত হরষিতে।
নাম লইলে যার না লয় সর্পবিষের
য ভৃত্য প্রিয়সখা নিত্যানন্দসঙ্গে।
কে তাহা লিখিতে পারে সমুদ্রতরফে।
এত সঙ্গী নিত্যানন্দচন্দ্রের সহিতে।
শৰৎসরেও তাহা না পারি লিখিতে।

( ৮ )
সহস্রসহ এক-সেবকের গণ।
নিত্যানন্দপ্রসাদে তারাও গুরুজন ।
চৈতন্যরসেতে সব পরম উদ্দাম।
সভার চৈতন্য-নিত্যানন্দ ধনপ্রাণ।
অবশেষ-ভৃত্য শ্রীবৃন্দাবনদাস ।
যার শেষপাত্র নারায়ণীর গর্তবাস ।
জ্ঞানেতে পণ্ডিত হৈল দাসপদ পাই।
জন্মেজন্মে বৃন্দাবনচন্দ্র-গুণ গাই ।
নিত্যানন্দ শ্রীচৈতন্য দুই মহাজন।
জন্মেজন্মে ভজি দুই প্রভুর চরণ।
নবধাপ্রকারেতে করিব ভজনা ।
এই দান দেহ প্রভু মাগে নিজজনা।
জয়জয় গৌরচন্দ্র জয় নিত্যানন্দ।
জয়জয় প্রভুর যতেক ভক্তবৃন্দ ।
জয়জয় অদ্বৈতাদি জয় হরিদাস।
জয়জয় গদাধর জয় শ্রীনিবাস।
এবে শুন বৈষ্ণবসভার অগমন।
আচাৰ্যগোসাঞি-অদি যত প্রিয়গণ ॥
বুথ-আরােহণ-যাত্রা হইল সময়।
নীলাচলে ভক্তগেষ্ঠ কবিল বিজয় ॥
ঈশ্বরের অজ্ঞা-প্রতি বৎসরেবৎসূরে।
সভে অ.সিবেন রথযাত্রা দেখিবারে।
জাচাৰ্য্যগে সঞি-অদি করি ভক্তগণ।
সভে নীলাচলপ্রতি করিল গমন।

( ৯ )
চলিলেন ঠাকুর পণ্ডিত শ্ৰীনিবাস।
যাহার মন্দিরে হৈল চৈতন্যপ্রকাশ |
তবে চলিলেন শ্রীপণ্ডিত বক্রেশ্বর ।
যার মন্দিরে নাচিলেন গৌরাঙ্গসুন্দর
চলিলেন অনন্দে ঠাকুর হরিদাস।
বিগ্রহে ব্ৰহ্মবস্তু ভক্তির প্রকাশ।
চলিলেন প্রদ্যুম্নব্রহ্মচারী মহাশয়।
সাক্ষাতে নৃসিংহ যার সনে কথা কয়।
চলিলেন:বাসুদেবদত্ত মহাশয়।
যার স্থানে কৃষ্ণ হয় অপনে বিক্রয়।
চলিল আচার্য্যচন্দ্র চন্দ্রশেখর।
দেবীভাবে ঘর গৃহে নাচিলা ঈশ্বর ।
চলিলেন হরিষে-পণ্ডিত গঙ্গাদাস।
যাহার স্মরণে সর্বপাপ হয় নাশ।
পুরুষোত্তম অঞ্জয় চলিলা হর্ষ-মনে।
মহাপ্রভুর মুখ্য শিষ্য পূর্ব অধ্যয়নে।
হরি বলি চলিলেন পণ্ডিত শ্রীমা।
প্রভুর নৃত্যে ধরে দেউটী সাবধান।
নন্দনআচার্য-আদি চলিলা প্রিয়জনে।
প্রথমে নিত্যানন্দ অইলা যাহার ভবনে ॥
চলিলেন লেখক পণ্ডিত ভাগ্যবান।
যার দেহে কৃষ্ণ হৈয়াছিলা অধিষ্ঠান ॥
গােপীনাথপণ্ডিত আর শ্রীগর্ভপণ্ডিত।
চলিলেন হই কৃষ্ণবিগ্রহে নিশ্চিত।

( ১০ )
হরিষে চলিলা শুক্লাশ্বব্রহ্মচারী।
যার অন্ন খাইলেন প্রভু গৌরহরি।
অকিঞ্চন কৃষ্ণদাস চলিলা শ্রীধর।
যার জল পন কৈল শ্রীগৌরসুন্দর।
চলিলা শ্ৰীবনমালিপণ্ডিত মঙ্গল।
যে দেখিল নিত্যানন্দের হল অব মুষল ।
জগদীশপণ্ডিত অ র হিরণ্য ভাগবত।
আনন্দে চলিলা হে কৃষ্ণরসে মত্ত।
পূর্বে শিশুরূপে য র য ই দুই-ঘরে।
নৈবেদ্য খইলা অনি শ্রীহরিবাসবে।
চলিলেন বুদ্ধিমন্তখন মহ,শয়।
আজন্ম চৈতন্য-অ জ্ঞ। যাহ’র বিষয়।
হরি বলি চলিলা অ চ র্য্য পুরন্দর।
বাপ বলি বঁ রে ড কে শ্রীগৌরসুন্দর।
চলিলেন পণ্ডিত শ্ৰীর ঘৰ উদার।
গুপ্তে যার ঘরে হৈল চৈতন্সবিহার।
চলিলেন গোপীনাথসিংহ মহাশয়।
অত্রুর করিয়া যরে গৌরচন্দ্র কয়।
অবরোগবৈদ্যসিংহ চলিল। মুরারি।
গৌরচন্দ্র-অ বির্ভ ব-অনুমানকারী।
প্রভুর পরম প্রিয় শ্রীমন্ পণ্ডিত।
চলিলেন বনম লিপণ্ডিত-সহিত।
আই-দরশন-ল গি পণ্ডিত দমােদর।
এসিছিলা অই দেখি চলিলা সব।

( ১৯ )
অনন্ত চৈতন্যভক্ত
কত নিৰ নাম।
সভেই চলিলা হৈয়া আনন্দের ধাম।
আই-স্থানে ভক্তি করি বিদায় করিয়া ।
চলিলা অদ্বৈতসিংহ ভক্তগেঞ্জ লয়া।
যে দ্রব্যে জানেন প্রভুর পূর্বের পীরিত।
সেই দ্রব্য লইলেন ভিক্ষার নিমিত্ত।
সৰ্বপথে শ্রীঅ'নলে কীৰ্ত্তন করিতে।
চলিলা পবিত্র করি সর্ব পথেপথে।
উলসিতে হরিধ্বনি করে ভক্তগণ।
শুনিয়া পবিত্র হয় এ তিন ভুবন।
পঙ্গী-পুত্ৰ-দাস-দাসীগণের সহিতে।
আইলা পরমানলে চৈতন্য দেখিতে ।
যে স্থ'নেতে রহে আসি সভে বাসা কৰি
সেই স্থানে হয় যেন শ্রীবৈকুণ্ঠপুরী।
যাহা গায়েন মহাপ্রভু সেই ভগবান্।
ভগবানরূপে প্রভু অনন্ত লীলায়।
একরূপ ভগবান প্রভুর কৃপায় ।
অনন্ত মাধব-রূপে খেলা-লীলা করে।
অনন্ত করছে সেবা মুকুন্দের ঘরে।
মহাপ্রভু করেন ভক্তি আদর করিয়া ।
শিলা-মধ্যে বস্তু যেন আছে লুকাইয়া ।
আদ্যাশক্তিরূপে মহী বৈষ্ণবী জননী।
সাহার আত্মজ গঙ্গা ধরেন মহামণি।

( ১২ )
এইসব আদিমূর্তি ভক্তিপ্রসবিতা।
প্রভুর বল্লভ ভক্তি—এই মৰ্ম্ম কথা
বেদের নিগুঢ় এই চরিত্র অগাধ।
সুকৃতির ভলি দুষ্কৃতির কাৰ্য্যবাধ।
সভে শুন এসকল নিগূঢ় অখ্যান।
তাহার সহায় মহাপ্রভু ভগবান।
জয়জয় ভগবান্ জয় হলধর।
জয়জয় ভগবান মিল সুন্দর।
জয়জয় হরিহর জয় বলরাম।
জয়জয় জগন্নাথ অনন্দের ধাম।
জয়জয় মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ।
জয়জয় নিত্যানন্দপ্রভু ধন্যধন্য।
এইমতে রঙ্গে মহাপুরুষসকলে।
সকল মঙ্গলে সব অসি নীলাচলে ॥
কমলপুরেতে ধ্বজপতাকা দেখিয়া।
কান্দিয়া পড়িল সৰ দণ্ডবত হৈয়া।
মহাপ্রভু শুনি ভক্তগে.ষ্ঠীর বিজয়।
অগুব ঢিবরে চিত্ত হৈল ইচ্ছাময়।
কি অদ্ভুত প্রতি সে— তাহার নাহি অন্ত।
মহাপ্রসাদ চলে য’র কটক-পৰ্য্যন্ত ।
অদ্বৈত-নিমিত্ত মে'র এই অবতার।
এইমতে মহাপ্রভু বলেন বারেবার।
শয়নে আছিলু মুঞি ক্ষীরােদসাগরে।
নিদ্রাভঙ্গ হৈল মোর নাঢ়ার হুঙ্কারে !

{ ১৩ )
নাঢ়া নাঢ়া বলি প্রভু করেন হুঙ্কার ।
অদ্বৈতনিমিত্ত মোর এই অবতার ।
নাঢ়ার কারণ কেহ না পারে বুঝিতে।
নাঢ়া লাগি অবতার ধরি ত্রিজগতে।
নার কারণ প্রভু চৈতন্য-নিতাই।
অনন্ত-ব্ৰহ্মাণ্ডমাঝে যার গুণ গাই ।।
অনন্ত চৈতন্যভৃত্য—কত নাম জানি।
সভার চরণ বন্দে। জোড় করি পাণি
প্রভতে উঠিয়া পঢ়ে-শুনে যেইজন।
অদ্বৈত-চৈতন্য পায় না যায় খণ্ডন।
শ্রীনিত্যানন্দ শ্রীচৈতন্যচন্দ্র জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গনি।
ইতি শ্রীমদবৃন্দাবনদাসঠকুর-বিরচিত
শ্রীবৈষ্ণববন্দনা সমাপ্ত।

দ্বিতীয় বন্দনা।
আভীর রাগ।
প্রাণ গােরাচঁাদ মাের ধন গাের্মাদ।
জগত বাঁধিল গােরা পাতি প্রেমাদ।।
মিনতি করিয়া তৃণ ধরিয়া দর্শনে।
নিবেদন করে। গুরু-বৈষ্ণব-চরণে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-নিত্যানন্দ-অবতারে।
ঘতে বৈষ্ণব তাহা কে কহিতে পারে।
বৈষ্ণব জানিতে নারে দেবের শকতি।
মুঞি কোন্ হঙ জন শিশু অল্পমতি ।
জিহ্বার আরতি অতি মনের বাসনা।
তেঞি সে করিতে চাহে বৈষ্ণববন্দনা।
যে কিছু কহিয়ে গুরু-বৈষ্ণব-প্রসাদে।
ক্ৰমভঙ্গ না লইবে মাের অপরাধে।
বন্দে। শচী জগন্নাথমিশ্রপুরন্দর।
যাহার নন্দন বিশ্বরূপ বিশ্বম্ভর ॥
বন্দনা করিব বিশ্বরূপ ধন্যধন্য।
চৈতন্য-অগ্রজ নাম শ্রীশঙ্করারণ্য ।
বন্দিব সে মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য।
পতিতপাবন-অবতার ধন্যধন্য।
বন্দে। লক্ষ্মী ঠাকুরাণী আর বিষ্ণুপ্রিয়া ।
গদাধর পণ্ডিতগগাসাঞি বন্দনা করিয়া ।
বন্দে। পদ্মবতী দেবী হাড়ইপণ্ডিত্ব।
যার পুত্র নিত্যানন্দ অদ্ভুতচরিত।

( ১৫ )
দম্মার ঠাকুর বন্দে। নিত্যানন্দ।
যাহা হৈতে নাটে-গীতে সভার আনন্দ।
বসুধা জাহবা বন্দে। দুই ঠাকুরাণী ।
যার পুত্র বীরভদ্র জগতে বাখানি।
শ্ৰীবীরভদ্র গােসাঞি বন্দিব সাবধানে।
সকল ভুবন বল যার আচরণে ॥
ডাট্যালি রাগ।
গারা গোঁসাই পতিতপাবন অবতার।
দ্য অবতার গােরা গাসিশিয়ােমণি।
এমন সুন্দর নাম কোথাও না শুনি। ধ্রু
সাবধানে বলে। আগে মাধবেন্দ্রপুরী।
বিষ্ণুভক্তিপথের প্রথম অবতরি।
আচাৰ্য গোসাঞি বনে। অদ্বৈত ঈশ্বর।
যে আনিল মহাপ্রভু ভুবনভিতর ।
সীতা ঠাকুরাণী বলে। হা একমন।
অচ্যুতানন্দাদি বলে। তাহার নন্দন।
(পুণ্ডরীক:বিদ্যানিধি ভক্তক্ষুড়ামণি।
যার নাম লয়ে প্রভু কাদিলা আপনি।
ববি শ্রীশ্রীনিবাস ঠাকুর পণ্ডিত।
নারদ-খেয়াতি যার ভুবনবিদিত ।
ভক্তি করি বন্দিব মালিনী ঠাকুরাণী।
শ্রীমুখে গৌরাঙ্গ যারে বলিলা জননী
শ্রীনারায়ণী দেবী বন্দিব সাবধানে।
আলবাটী প্রভু যারে কহিলা আপনে ।

( ১৬ )
হরিদাস ঠাকুর বলে। বিরক্তপ্রধান।
দ্রব্য দিয়া শিশুরে ওয়াইলা হরিনাম।
গোপ্টনাথ ঠাকুর বলে। জগতবিখ্যাত।
প্রভুর স্তুতিপঠে যেই ব্রহ্মা সাক্ষাত ।
বন্দিব মুরারি গুপ্ত ভক্তিশক্তিমন্ত।
পূৰ্ব্ব-অবতারে যার নাম হনুমন্ত ॥
শ্রীচন্দ্রশেখর বন্দে চন্দ্র শীতল।
আচাৰ্যরত্ন বন্দে। যার খ্যাতি নিরমল ।
গােবিল গরুড় বলে। মহিমা-অপার।
গৌরপদে ভক্তিদ্বারে স্বর অধিকার।
বন্দিব অম্বষ্ঠ নাম শ্রীমুকুন্দ দত্ত।
গন্ধৰ্ব্ব জিনিয়া র গানের মহত্ত্ব।
বাসুদেব দত্ত বন্দে। বড় শুদ্ধভাবে।
উৎকলে হারে প্রভু রাখিলা সমীপে।
বলে। মহানিরীহ পণ্ডিত দামােদর।
পীতাম্বর বন্দে। তার জ্যেষ্ঠ সহােদর।
বন্দে। শ্রীজগন্নাথ শঙ্কর নারায়ণ।
বড় উদাসীন এই ভাই পঞ্চজন।
বন্দে মহাশয় চক্রবর্তী নীলস্কর।
প্রভুর ভবিষ্য যে কহিলা সত্বর।
শ্রীরাম পণ্ডিত বলে। গুপ্ত নারায়ণ
বন্দে। গুরু বিষ্ণু গঙ্গাদাস সুদর্শন
বন্দে। সদাশিব আর শ্রীগর্ভ এনিধি
বুদ্ধিমত্ত-খান বন্দে। আর বিদ্যানিধি ॥

( ১৭ )
বন্দিব ধার্মিক ব্রহ্মচারী শুক্লাম্বর।
প্রভূ যারে দিল নিজ প্রেমভক্তি বর।
নন্দন আচার্য্য বন্দে। লেখক বিজয়।
বলে। রামদাস কবিচন্দ্র মহাশয়।
বলে। খােলবেচা-খ্যাতি পণ্ডিত শ্রীধর।
প্রভু-সঙ্গে যার নিত্য কৌতুক কোন্দল ।
বলে। ভিক্ষু বনমালী পুত্রের সহিতে।
প্রভুর প্রকাশ যে দেখিলা আচম্বিতে।
হলায়ুধঠাকুর বন্দো করিয়া আদর।
বন্দনা করিব বাসুদেব ভাদর ।
বন্দিব ঈশানদাস কররোড় করি।
শচী ঠাকুরাণী যারে স্নেহ কৈল বড়ি।
বলে। জগদীশ আৰু শ্ৰীমন্ সঞ্জয়।
গরুড় কাশীশ্বর বনে। করিয়া বিনয় ।
বন্দনা করিব গঙ্গাদাস কৃষ্ণানন্দ।
শ্রীরাম মুকুন্দ বলে। করিয়া আনন্দ।
বল্লভ আচার্য্য বলে। জগজনে জানি।
যার কন্যা আপনি লক্ষ্মী ঠাকুরাণ ।
সনাতন মিশ্র বন্দে আনন্দিত হৈয়া ।
খার কন্যা ধন্যা ঠাকুরাণী বিষ্ণুপ্রিয়া ।
আচাৰ্য বনমালী বন্দে। দ্বিজ কাশীনাশ।
মহাপ্রভুর বিবাহের ঘটনা যার সথ a
(প্রভুর বিবাহোৎসবে ছিল যত জন।
সভার পাদপদ্ম বন্দি সর্বক্ষণ

( ১৮ )
সুহই রাগ।
ভাল অবতার শ্রীগৌরাঙ্গ অবতার।
এমন করুণানিধি কভু নাহি আর। ধ্রু।
গােসাঞি ঈশ্বরপুরী বলে। সাবধানে।
লােকশিক্ষা দীক্ষা প্রভু কৈলা যার স্থানে।
কেশব ভারতী বন্দে। সান্দীপনী মুনি।
প্রভু যারে নিজগুরু করিলা আপনি ॥
বদিব শ্রীরামচন্দ্রপুরীর চরণ।
প্রভু যারে কহিলেন শ্রীরামের গণ ।
পরমানন্দপুরী বন্দে। উদ্ধবভাব।
দামােদরপুরী বন্দে। সত্যভামার ভাব।
নরসিংহ তীর্থ বলে। পুরী সুখান।
শ্রীগােবিন্দপুরী বন্দে পুরী ব্ৰহ্মানন্দ।
নৃসিংহপুরী বলে। সত্যানন্দ ভারতী।
বন্দিব গড় অবধূত মহামতি।
বিষ্ণুপুরী গােসাঞি বলে। করিয়া যতন।
বিষ্ণুভক্তিরত্নাবলী’ সঁহার গ্রন্থন।
ব্ৰহ্মানন্দরূপ বলে। বড় ভক্তি করি।
কৃষ্ণানন্দপুরী বন্দে। শ্রীরাঘবপুরী ॥
বিরােন বলে। বিপরকাশ।
মহাপ্রভুপদে ঘর বিশেষ বিশ্বাস ।
কেশবপুরী বলে। অনুভবানন্দ।

( ১৯ )
বলে। রূপ সনাতন দুই মহাশয়।
বৃন্দাবনভূমি দুহেঁ করিলা নির্ণয় ।
শ্রীজীবগােসাঞি বন্দে। সভার সম্মত।
সিদ্ধান্ত করিয়া যে রাখিল ভক্তিতত্ত্ব।
রঘুনাথদাস বন্দে। রাধাকুণ্ডবাসী।
রাধবগােসাঞি বলে। গােবর্ধনবিলাসী।
বন্দিব গােপালভট্ট বৃন্দাবনমাঝে।
সনাতন-রূপ-সঙ্গে সতত বিরাজে ।
রঘুনাথভট্ট গোঁসাঞি বুন্দিব.একচিত্তে।
বৃন্দাবনে অধ্যাপক শ্রীভাগবতে।
লোকনাথ ঠাকুর বন্দে। ভূগর্ভ ঠাকুর।
জীব নিস্তারিতে যার করুণা প্রচুর।
কাশীশ্বরগােসাঞি বন্দে। হা একমতি।
মথুরামণ্ডলে যাঁর বিশেষ খেয়াতি ।.
শুদ্ধ সরস্বতী বলে। বড় শুদ্ধমতি।
প্রভুর চরণে যার বিশুদ্ধ ভকতি ।
প্রবােধানন্দ গোসাঞি বন্দে।করিয়া যতন।
যে করিলা মহাপ্রভুর গুণের বর্ণন।
জগদানন্দ পণ্ডিত বন্দে সাক্ষাৎ সরস্বতী।
মহাপ্রভু কৈলা ঘরে পরম পিরীতি।
মহা-অনুভৰ বন্দে। পণ্ডিত রাঘব।
পানীহাটা-গ্রামে যার প্রকাল বৈভব ।
পুরন্দপণ্ডিত বলে অঙ্গবিক্রম।
সপরিবারে আঙ্গুল ঘর দেখিলা ব্রাহ্মণ

( ২০ )
কাশীমিশ্র বন্দে। প্রভু যাহার আশ্রমে।
বাণীনাথপট্টনায়ক বন্দিৰ সাবধানে।
শ্রীপ্রদ্যুম্নমিশ্র বন্দে। রায় ভবানন্দ।
কলানিধি সুনিধি গােপীনাথ বল।
রায় রামানন্দ বলে। বড় অধিকারী।
প্রভু যারে লভিলা দুর্লভ জ্ঞান করি।
বক্রেশ্বপণ্ডিত বন্দে। দিব্যশরীর।
অভ্যন্তরে কৃষ্ণতেজ গৌরাঙ্গ বাহির।
বন্দিব সুগ্রীবমিশ্র শ্রীগােবিন্দানন্দ।
প্রভু লাগি মানসিক যার সেতুবন্ধ ॥
সম্রমে বন্দিব আর গদাধরদাস।
বৃন্দাবনে অতিশয় যাহার প্রকাশ।
সদাশিব কবিরাজ বলে। একমনে।
নিরন্তর প্রেমােন্মাদ—বাহ নাহি জানে ।
প্রেমময়তনু বন্দে। সেন শিবানন্দ।
জাতি প্রাণ ধন ঘাঁর গােৰাপদদ্বন্দ।
চৈতন্যদাস রামদাস আর কর্ণপূর।
শিবানন্দের তিন পুত্র বন্দিব প্রচুর।
বন্দিৰ মুকুন্দদাস ভাবে শুদ্ধচিত্ত।
ময়ুরের পাখা দেখি হইলা মুচ্ছিত ॥
প্রেমের আলম বলে। নরহরিদাস।
নিরন্তর যাত্ম চিত্তে গৌরাঙ্গবিলাস ।
মধুচরিত্র বন্দে। শ্রীরঘুনন্দন।
আকুতি প্রকৃতি যার ভুবনমোহন ॥

ঘুনাথদাস বন্দে। প্রেমসুধাময় ।
যাহার চরিত্রে সব লোেক বশ হয়।
আচাৰ্য পুরন্দর বন্দে। পণ্ডিত দেবানন্দ
গৌরপ্রেমময় বন্দে। শ্রীঅংচাৰ্য্যচন্দ্র ।
অকাইহাটের বন্দে। কৃষ্ণদাস ঠাকুর।
পরমানন্দ পুরী বন্দে। সতীর্থ প্রভুর ।
শ্রীগােবিন্দঘােষ বন্দিব সাবধানে।
যার নাম সার্থক প্রভু করিলা আপনে
বন্দিব মাধবঘোষ প্রভুর প্রতিস্থান।
প্রভু যারে করিলা অভঙ্গ-অবদান।
বাসুদেবঘােয বন্দিব সাবধানে।
গৌরগুণ বিহু যার অন্ত নাহি জ্ঞানে
ঠাকুর শ্রীঅভিরাম বন্দিব সাদরে।
যােল-সাঙ্গের কাষ্ঠ বেঁহে বংশী করি ধরে
সুন্দরানন্দ ঠাকুর বন্দিব বড় অশে।
ফুটাল কদম্বফুল জব্দীরের গাছে।
পরমেশ্বরদাস ঠাকুর বন্দিব সাবধানে।
শৃগালে লওয়ান নাম সঙ্কীৰ্ত্তনস্থানে।
বংশীবদন ঠাকুর বন্দিব সাদরে।
গদাধরদাস করিলা বংশী অবতারে।
ইষ্টদেব বন্দে পুরুষােত্তম নাম।
কে কহিতে পারে তার গুণ অনুপম ।
সৰ্বগুণহীন যে তাহারে দয়া করে।
আপনার সহজ করুণাশক্তি-বলে

।
( ২২ )
সপ্তম বৎসরে যাঁর শ্রীকৃষ্ণ-উন্মাদ।
ভুবনমােহন নৃত্য শকতি অগাধ ।
গৌরীদাস-কীৰ্ত্তনীয়ার কেশেতে ধরিয়া ।
নিত্যানন্দস্তব করাইলা নিজশক্তি দিয়া।
গদাধরদাস আর শ্রীগােবিন্দঘােষ।
যাহার প্রকাশে প্রভু পাইল সন্তোষ ।
যার অষ্টোত্তরশতঘট গঙ্গজলে।
অভিষেক, সর্বজ্ঞ যার শিশুকালে |
করবীয়মঞ্জরী আছিল যার কাণে।
পদ্মগন্ধ হৈল তাহা সভা-বিদ্যমানে।
যার নামে মিগ্ধ হয় বৈষ্ণবসকল।
মূৰ্ত্তিমন্ত প্রেমসুখ যার কলেবর।
কালিয়া কৃষ্ণদাস বন্দে। বড় ভক্তি করি।
দিব্য উপৰীত বস্ত্র কৃষ্ণতেজোধারী।
কমলাকর পিপিলাই বলে। ভাববিলাসী ।
যে প্রভুরে বলিল-লহ বেত্র দেহ বশী।
রত্নাকরসুত বলে। পুরুষােত্তম-নাম।
নদীয়া-বসতি যাঁর দিব্যতেজোধাম।
উদ্ধারণদত্ত বনে। হা সাবহিত।
নিত্যানন্দসঙ্গে বেড়াইল সৰ্ব্বতীর্থ ।
গৌরীদাস পণ্ডিত বলে। প্রভুর আজ্ঞাকারী।
আচাৰ্যগোসাঞিরে নিল উৎকলনগরী।
পুরুষােম পণ্ডিত বলে। বিলাসী সুজান।
প্রভু যারে দিলা অাচাৰ্যগােসারিস্থান।

( ২৩ )
বলিব সারঙ্গদাস ইঞা একমন।
মকরধ্বজ কর বন্দে। প্রভুর পায়ন।
বড়রী রাগ।
গোরা গোঁসাঞি পতিতপাবন অবতার।
তােমার করুণায় সর্বজীবের উদ্ধার ॥ ধ্রু॥
কবিরাজ মিশ্র বন্দে। ভাগবতাচাৰ্য্য।
শ্রীমধুপণ্ডিত বন্দে। অনন্ত আচার্য্য ।
গােবিন্দ আচাৰ্য্য বন্দে। সৰ্বগুণশালী।
যে করিল রাধাকৃষ্ণের বিচিত্র ধামালী।
সার্বভৌম বন্দে। বৃহস্পতির চরিত্র।
প্রভুর প্রকাশে যাঁর অদ্ভুত কবিত্ব।
প্রতাপরুদ্র রায় বলে। ইন্দ্র-সম খ্যাতি।
প্রকাশিলা প্রভু যারে ষড়ভুজ-আকৃতি।
দ্বিজ রঘুনাথ বনে। উড়িয়া বিপ্রদাস।
দ্বিজ হরিদাস বন্দে। বৈদ্য বিষ্ণুদাস।
যার গীত শুনি প্রভুর অধিক উল্লাস।
তার ভাই বলে। শবনমালিদাস।
বেশের আবেশে যার গােপীর বিলাস।
কহনে না যায় তার প্রেমের প্রকাশ।
কানাই খুটিয়া বন্দে। বিশ্ব-পরচার।
জগন্নাথ বলরাম দুই পুত্র যার ॥
বন্দে।উড়িয়া বলরামদাস মহাশয়।
জগন্নাথ বলরাম যার বশ হয়।

হয় )
জগন্নাথদাস বলে। সঙ্গীতপণ্ডিত।
ধীর গানৱসে জগন্নাথ বিমােহিত।
বন্দিব শিবানন পণ্ডিত কাশীশ্বর।
বন্দিব চন্দনেশ্বর আর সিংহেশ্বর ॥
বন্দিৰ সুবুদ্ধি মিশ্র মিশ্র শ্রীশ্রীনাথ।
তুলসী মিশু বন্দে। মাহাতী কাশীনাথ।
শ্রীহরি ভট্ট বন্দে। মাহাতী বলরাম ।
বন্দে। পট্টনায়ক মাধব যার নাম ।
বসুবংশ রামানন্দ বলিৰ যতনে ।
যার বংশে গৌর বিনা অন্য নাহি জানে।
বন্দিব শ্রীপুরুষােমনাম ব্রহ্মচারী।
শ্রীমধু পণ্ডিত বন্দে। বড় ভক্তি করি ।
শ্রীকর পণ্ডিত বন্দে। দ্বিজ রামচন্দ্র।
সৰ্বসুখময় বন্দে। যদু-কবিচন্দ্র।
বিলাসী বৈরাগী বুন্দে। পণ্ডিত ধনঞ্জয়।
সৰ্বস্ব প্রভুরে দিয়া ভাণ্ড হাথে লয় ।
জগন্নাথ পণ্ডিত বলে। আচাৰ্য্য লক্ষ্মণ।
কৃষ্ণদাস পণ্ডিত বলে। বড় শুদ্ধমন।
সূৰ্য্যদাস পণ্ডিত বুন্দে। বিদিত-সংসার।
বসুধা-জাহ্নবা বর্নে। দুই কন্যা যার।
মুরারি-চৈতন্যদাস বন্দে। সাবধানে।
অশ্চিৰ্য্য চরিত্র যার প্রহলাদ-সমানে ।।
পরমানন্দ গুপ্ত বন্দে। সেন জগন্নাথ।
কবিচন্দ্র মুকুন্দ রালক রাম-সাথ।

( ২৫ )
শ্রীকৎসরি সেন বন্দে। সেন শ্রীবল্লভ।
ভাস্কর ঠকুর বন্দে। বিশ্বকর্মা-অনুভব
সঙ্গীতকারক বলে। শ্রীবলরামদাস।
নিত্যানন্দচত্রে যার অকথ্য বিশ্বাস ।
মহেশ পণ্ডিত বন্দে। বড়ই উন্মাদী।
জগদীশ পণ্ডিত বলে। নৃত্যবিনােদী ।
নারায়ণীসুত বন্দে। বৃন্দাবনদাস।
চৈতন্যমঙ্গল ঘেঁহ করিল প্রকাশ।
বড়গাছির বন্দিব ঠাকুর কৃষ্ণদাস।
প্রেমানন্দে নিত্যানন্দে যাহার বিশ্বাস ।
পরমানন্দ অবধৌত বন্দে। একমনে ।
নিরন্তর উন্মত্ত-বাহ নাহি জানে।
ববি সে অনাদি গঙ্গাদাস পণ্ডিত।
যদুনাথ দাস বন্দে। মধুরচরিত ৷
পুরুষােত্তম পুরী বন্দে। তীর্থ জগন্নাথ ।
শ্রীরাম তীর্থ বনে। পুরী রঘুনাথ।
বাসুদেব তীর্থ বন্দে আশ্রম উপেন্দ্র।
বন্দিব অনন্ত পুরী হরিহরানন্দ।
মুকুন্দ কবিরাজ বন্দে। নিৰ্ম্মলচরিত।
বন্দিব আনন্দময় জীবপণ্ডিত ॥
বন্দনা করিব শিশুকৃষ্ণদাস-নাম।
প্রভুর পালনে যাঁর দিব্য তেজোধাম।
মাধৰ আচাৰ্য্য বন্দে। কবিত্ব শীতল।
যাহার রচিত গীত শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল’ ।

( ২৪ }
জগন্নাথদাস বন্দে। সঙ্গীতপণ্ডিত।
ষার গানরসে জগন্নাথ বিমােহিত ।
বন্দিব শিবানন পণ্ডিত কাশীশ্বর।
বন্দিব চন্দনেশ্বর আর সিংহেশ্বর।
বন্দিৰ সুবুদ্ধি মিশ্ৰ মিশ্ৰ শ্ৰীশ্ৰনাথ।
তুলসী মিশ্র বনে। মাহাতী কাশীনাথ
শ্রীহরি ভট্ট বলে। মাহাতী বলরাম।
বন্দে। পট্টনায়ক মাধব যার নাম ।
বসুবংশ রামানন্দ বন্দিব যতনে।
যার বংশে গৌর বিনা অন্য নাহি জানে।
বন্দিব পুরুষােত্তমনাম ব্রহ্মচারী।
শ্রীমধু পণ্ডিত বন্দে। বড় ভক্তি করি।
ঐকর পণ্ডিত রনো দ্বিজ রামচন্দ্র।
সৰ্বসুখময় বন্দে। যদুকবিচন্দ্র।
বিলাসী বৈরাগী বুন্দে। পণ্ডিত ধনঞ্জয়।
সৰ্ব্ব প্রভুরে দিয়া ভাও হাথে লয় ৪
জগন্নাথ পণ্ডিত বন্দে। অাচার্য্য লক্ষ্মণ।
কৃষ্ণদাস পণ্ডিত বুন্দে। বড় শুদ্ধমন।
সূৰ্য্যদাস পণ্ডিত বুন্দে। বিদিত-সংসার ।
বসুধা-জাহ্ন বন্দে। দুই কন্যা যৰ ।
মুরারি-চৈতন্যদাস বন্দে। সাবধানে।
অশ্চিৰ্য্য চরিত্র যার প্রহলাদ-সমানে।
পরমানন্দ গুপ্ত বন্দে। সেন জগন্নাথ।
কবিচন্দ্র মুকুন্দ বালকু রাম-সাথ।

( ২৫ )
শ্রীকৎসারি সেন বন্দে। সেন শ্রীবল্লভ।
ভাস্কর ঠকুর বন্দে। বিশ্বকৰ্ম্ম-অনুভব।
সঙ্গীতকারক বলে। শ্রীবলরামদাস।
নিত্যানন্দচন্দ্রে যার অকথ্য বিশ্বাস ।
মহেশ পণ্ডিত বলে। বড়ই উন্মাদী।
জগদীশ পণ্ডিত বন্দে। নৃত্যবিনােদী।
নারায়ণীসুত বলে। বৃন্দাবনদাস।
চৈতন্যমঙ্গল ঘেঁহ করিল প্রকাশ ।
বড়গাছির বন্দিব ঠাকুর কৃষ্ণদাস ।
প্রেমানন্দে নিত্যানন্দে ঘঁহার বিশ্বাস ।
পরমানন্দ অবধৌত বন্দে। একমনে।
নিরন্তর উও-বাহ নাহি জানে ।
বন্দিব সে অনাদি গঙ্গাদাস পণ্ডিত।
যদুনাথ দাস বন্দে। মধুচরিত ।
পুরুষােত্তম পুরী বন্দে। তীর্থ জগন্নাথ ।
শ্রীরাম তীর্থ বন্দে পুরী রঘুনাথ।
বাসুদেব তীর্থ বন্দে আশ্রম উপেন্দ্র।
বন্দিব অনন্ত পুরী হরিহরানন্দ।
মুকুল কবিরাজ বলে। নিৰ্ম্মলচরিত।
বন্দিব আনন্দময় জীবপণ্ডিত।
বন্দনা করিব শিশুকৃষ্ণদাস-নাম।
প্রভূর পালনে যাঁর দিব্য তেজোধাম।
মাধৰ আচাৰ্য্য বন্দে। কবিত্ব শীতল। .
যাহার রচিত গীত শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল।

( ২৬ )
গৌরীদাসপণ্ডিতের অনুজ কৃষ্ণদাস।
বন্দিব নৃসিংহ আর শ্রীচৈতন্যদাস ।
( রঘুনাথ ভট্ট বলে। করিয়া বিশ্বাস।
বলে। দিব্যলােচন শ্রীরামচন্দ্র দাস । )
শ্ৰীশঙ্কর ঘােষু বন্দে। অকিঞ্চনরীতি।
উল্ফের বাদ্যে যে প্রভুরে করিল পিরীতি ।
পরম আনন্দে বন্দে আচাৰ্য মাধব।
ভক্তিফলে হৈলা গঙ্গাদেবীর বল্লভ।
নারায়ণ পৈড়ারি বন্দে চক্রবর্তী শিবানন্দ ।
বন্দনা করিতে বৈষ্ণবের নাহি অন্ত ।
এই অবতারে যত অশেষ বৈষ্ণব।
কহনে না যায় সভার অনন্ত বৈভৰ ।
অনন্ত বৈষ্ণবগণ অনন্ত মহিমা ।
হেন জন নাহি যে করিতে পারে সমা।
বন্দনা করিতে মাের কত আছে বুদ্ধি ।
দেবেহ কহিতে নারে বৈষ্ণবের শুদ্ধি ।
সভাকার উপদেষ্টা বৈষ্ণবঠাকুর।
শ্রবণ-নয়ন-মন-বচনের দূর।
শরণ লইলু গুরু-বৈষ্ণব-চরণে।
সক্ষেপে কহিলু কিছু বৈষ্ণববদনে।
বৈষ্ণববন্দনা পঢ়ে-শুনে যেই জন।
অন্তরের মল ঘুচেশুদ্ধ হয় মন ।
প্রভাতে উঠিয়া পঢ়ে বৈষ্ণববন্দনা।
কোন কালে নাহি পায় কোনই মন্ত্রণা ।

( ২৭ )
দেবের দুর্লভ সেই প্রেমভক্তি লভে।
দৈবকীনন্দন দাস কহে এই লােভে।
ইতি শ্ৰীদৈবকীনন্দনদাস-বিরচিত
বৈষ্ণববন্দনা সমাপ্ত।

তৃতীয় বন্দনা।
বন্দে শ্রীকৃষ্ণচৈত-নিত্যানন্দেী কৃপাময়ে।
সর্বাবতারে সস্তুকৌ সৰ্বভক্তজনাশয়ে।
যথ রাগঃ ॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্র, বলরাম নিত্যানন্দ,
গাওনারে ভরিয়া বদন।
সুখে জন্ম গোঙাইবে,
বৈষ্ণবের সঙ্গ পাবে,
হইবে শমন-দর্শন।
কলিকাল সর্পরূপে, দংশিল সকল লােকে,
বিষজালায় জগত ঢলিল
গৌরাঙ্গ গুণের ধাম,
হরেকৃষ্ণরাম-নাম,
মহামন্ত্রবলে জীয়াইল।
বিশেষ বৈষ্ণবগণ, ত্রিভুবন-পাবন,
পতিত দুঃখিত জীব দেখি।
করুণা বঢ়ল হিয়া, কৃষ্ণ উপদেশ দিয়া,
কৃষ্ণসুখে করাইল সুখী ॥
শুনরে পামর নর, মিছামায়া পরিহর,
ধধর বৈষ্ণবের পায়।
বৈষ্ণবকৃপার বলে,
গরাসিতে নারে কলে,
ভালেভালে কুলাইয়া যায় ।
বৈষ্ণবের সঙ্গ কর,
বৈষ্ণবের অঙ্গ হের,
বৈষ্ণবের বাক্য গুন কাণে।
বিচারয়া দেখে মনে,
ঠাকুর বৈষ্ণব বিনে,
হরিভক্তি দিতে নারে আনে।

( ২৯ )
বৈষ্ণব-মহত্ত্ব যত, লােক-বেদে অবিদিত,
দেবগণে তত্ত্ব নাহি পায় ।
মুঞি সে হীনের হীন, পতঙ্গ হইতে ক্ষীণ,
ক্ষুদ্রমুখে কি বলিব তায় ।
তথাপি এহেন শক্তি,
অনুরূপে দিবারাতি,
নিতিনিতি করিয়া ভাবনা।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ, সঙ্গে যত ভক্তবৃন্দ,
তাহা কিছু করিব বর্ণনা।
অপন অন্তর কহি, যে বসের যােগ্য নহি,
তাহাতেই লুব্ধ ভেল মন।
সন্ধি বা শব্দের দোষে, না করিহ উপহাসে,
ভাবগ্রাহী প্রভু জনার্দন।
সহজেই মুগ্ধ প্রাণে, পূৰ্ব্বাপর নাহি জানে,
ক্রমে সে বন্দনা নাহি যবে।
অতএব পরিহার, বাক্যে করে। নমস্কার,
অপরাধ কেহ না লইবে ।
অবনী লােটা কাম,
শচী-জগন্নাথ-পায়,
প্রথমে করিব পরণাম।
তবে বন্দে। বিশ্বরূপ, ঠাকুর সন্ন্যাসিভূপ,
শ্ৰীশঙ্করারণ্য ধন্য নাম ।
একান্ত ভকতি করি, বন্দে। গৌরচন্দ্র হরি,
'ভুবনমঙ্গল অবতার।
যুগধৰ্ম্ম পালিবারে,
জন্মিলা নদীয়াপুরে,
সঙ্কীর্তন করিতে প্রচার।

( ৩০ )
পরম সম্ৰম হৈা, বন্দে। লক্ষ্মী বিষ্ণুপ্রিয়া,
তবে বন্দো দেব গদাধর।
যতেক বৈষ্ণবচয়, তত প্রিয় কেহ নয়,
দ্বিতীয় চৈতন্যকলেবর।
বলে। পদ্মবতী মাতা, হাড়াইপণ্ডিত পিতা,
নিত্যানন্দ হেন পুত্র যায়।
বলে। প্রভু নিত্যানন্দ, অভয় আনন্দকন্দ,
যে করিল সভার নিস্তার ।
করুণী যাহার নাম,
অনঙ্গমঞ্জরী-ধাম,
তছু-পদে করি পরণাম।
অনঙ্গমঞ্জরী যেহ,
জাহা গােসাঞি হে,
বারুণী তাহার পূর্ব-নাম।
সানন্দে পড়িয়া ভূমি, বন্দে। বসুজাহ্নবিনী,
বীরচন্দ্র যাহার নন্দন।
বন্দি ঠাকুর বীর ভদ্র গম্ভীর ধীর,
যার গুণে ভবিল ভুবন।
নীলাচলে গৌরহরি, নিত্যানন্দ সঙ্গে করি,
নিভৃতে কহিল যুক্তি সার।
তাহার কারণ এই, বীরচন্দ্র প্রভু সেই,
গৌরাঙ্গ আপনি অবতার।
সন্দেহ না কর ইথে,
চৈতন্যভাগবতে,
লিখিলেন বৃন্দানদাস।
এইসব অনুভ,
অভিরাম জানে সব,
প্রণমিয়া কৰিল প্রকাশ

( ৩১ )
রাধাকৃষ্ণ দ্ৰবরূপ, আছিল ব্রহ্মার কূপ,
তিনলোকে স্থিতি জগন্মাতা।
দ্রব্রহ্ম ভগবান, গঙ্গাদেবী তার নাম,
বলে। সেই নিত্যানন্দসুতা।
গগাবিন্দের প্রেমধাম, আচাৰ্য মাধব নাম,
প্রেমানন্দময় তখানি।
জোড় করি কর,
বলে। সে পদারবিন্দ,
গঙ্গাদেবী বঁাহার গৃহিণী।
ভালিরে গৌরাঙ্গচাল, পাতিয়া প্রেমের ফান্দ,
বান্ধিল জীবের মনখানি।
হরিনামগুণধ্যানে,
ধন্য কৈল জগজনে,
মরি যা তােমার নিছনি।
বন্দে। শ্রীমাধবপুরী, অবনীতে অবতরি,
বিষ্ণুভক্তি যে করিল ব্যক্ত।
প্রাচীন যে আদিগুরু, করুণাকলপতরু,
যে মহাপ্রভুর আদি ভক্ত।
বলে। শান্তিপুরপতি,
শ্রীঅদ্বৈত মহামতি,
সদাশিবসম তেজ বার।
আঁহার তলের বলে, আনিঞ মহীমণ্ডলে,
পালি চৈতন্য অবতার

( ৩২ )
কৈলাশের আদ্যাশক্তি, বন্দে। সীতা ভগবতী,
ভক্তিশক্তিসম তেজ যাঁর।
যাহার প্রতিজ্ঞা হৈতে, অবতীর্ণ জগন্নাথে,
করিলা প্রসাদ-পরচার।
সীতার চরণধূলি,
বন্দিব মস্তকে তুলি,
আপনাকে মানিয়ে শালাঘ্য।
তছু প্রিয়সুত বন্দে,
শ্ৰীযুত অচ্যুতানন্দ,
শিশুকালে যাহার বৈরাগ্য ।
পুরিয়া মনের আশ, বন্দিব সে শ্রীবাস,
অভেদ নারদ মুনিবর।
বন্দো দেবী মালিনীরে, মা বলি কিলা যারে,
নিত্যানন্দ প্রভু বিশ্বম্ভর ॥
বন্দে নারায়ণী দেবী, চৈতন্যচরণ সেবি,
অধরামৃত যে জন পাইল।
বন্দিব শ্রীহরিদাস, স্বয়ং ব্রহ্মা পরকাশ,
উচ্চস্বরে নাম লওয়াইল।
বন্দিব পরমানন্দ,
পণ্ডিত জগদানন্দ,
মূর্তিভেদে যেন সরস্বতী।
ঠাকুর শ্রীগােপীনাথ, পদে কৈল প্রণিপাত,
প্রভুরে যে কৈল বহুস্তুতি।
বন্দিব মুরারি গুপ্ত,
যেন সেই হনুমন্ত,
রঘুনাথ যার প্রাণধন।
শ্রীচন্দ্রশেখর বলো, শীতল চন্দ্রের সম(??),
তবে বন্দে আচাৰ্য রতন।

( ৩৩ ) গােবিন্দ গরুড় প্রতি, বন্দিব করিয়া স্তুতি, গৌরপাদ যাহার ধেয়ান। বন্দিব মুকুন্দ দত্ত, কৃষ্ণগুণে উনমও, কিন্নর গঞ্জয়ে ঘর গান । বন্দে। বাসুদেব দত্ত, যাহার নিগূঢ় তত্ত্ব, মহত্ত্বতা কহনে না যায়। যাহার অঙ্গের বায়ে, কৃষ্ণপ্রেমভক্তি হয়ে, উপমা কি দিব আর তায়। দামােদর পীতাম্বর, জগন্নাথ শঙ্কর, নারায়ণ এই পঞ্চ ভাই। সকল-বাসনা-হীন, নিরপেক্ষ উদাসীন, বন্দনা করিব একঠাঞি | প্রভু-মাতামহ-খ্যাতি, নীলাম্বর চক্রবর্তী, সাবধানে কৰিব বন্দন। সর্বজ্ঞ জিনিয়া দৃষ্টি, প্রভুর শুভজন্মকোষ্টি, যে লিখিল ভবিষ্য-কথন। সকল গুণের ধাম, বন্দিব পণ্ডিত রাম, অহিংসক পরহিতকারী। একচিত্ত-কায়মনে, বলে। গুপ্ত নারায়ণে, চরণে ধরিয়া শিরােপরি । নদীয়ানগরে বাস, বলে। গুরু গঙ্গাদাস, যার স্থানে প্রভুর অধ্যয়ন । দশনে ধরিয়া তৃণ, বিষ্ণুদাস সুদর্শন, দৈন্যভাবে করিল বন্দন।

( ৩৪ )
সদাশিৰ বিদ্যানিধি, শ্রীগর্ভ আর শ্রীনিধি,
বুদ্ধিমন্তখান মহাশয়।
শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারী, প্রেমধনের অধিকারী,
বন্দে। এই ছয় মহাশয় ॥
রামদাস কবিচন্দ্র, লেখক বিজয়ানন্দ,
বন্দিব আচাৰ্য রত্নেশ্বর।
বন্দিব শ্রীধর উদার, গৌরাঙ্গ গ্রাহক যার,
থােড়-কলা-মােচার পসার।
বন্দে। করপুটাঞ্জলি,
পুত্রসহ বনমালী,
ভক্তির ভিক্ষুক দুইজন।
হলায়ুধ বাসুদেবে, বন্দনা করিব তবে,
চৈতন্তে একান্ত যার মন ।
আইর কৃপার পাত্র, বন্দিব ঈশান মাত্র,
আই যারে করিল পালন।
গড়াই কাশীশ্বরে, বন্দিব তাহার পরে,
জগদীশের বন্দিয়া চরণ।
গঙ্গাদাস কৃষ্ণানন্দ, বন্দে। রায় শ্রীমুকুন্দ,
বিশেষতঃ পরম সাদরে।
বন্দে। শ্রীবল্লভাচাৰ্য, সার্থক সঁহার কাৰ্য্য,
লক্ষ্মী কন্যা যে দিল প্রভুরে।
বন্দিব ভকতিমনে, পণ্ডিত শ্রীসনাতনে,
বিষ্ণুপ্রিয়া যাহার দুহিতা।
কোন্ তপস্যার বলে,
জানি কি পুণ্যফলে,
মহাপ্রভু হইল জামাতা ॥

( ৩৫ ) করিয়া যুগল হাথ, বলো দ্বিজ কাশীনাথ, বন্দিৰ আচাৰ্য বনমালী। প্রভুসঙ্গে লক্ষ্মীদেবী, শুভবিবাহের লাগি, যে আসিয়া কৈল ঘটকালী । বন্দিব ঈশ্বরপুরী, প্রভু যারে গুৰু করি, আপনাকে দৈন্ত হেন বাসি। কেশবভারতী প্রতি, বন্দে। নম্র হৈয়া অতি, যে করিল প্রভুকে সন্ন্যাসী । বন্দে। রামচন্দ্রপুরী, যাহার বিক্রম হেরি, নিবৰ্ত্ত করিল প্রভু সব। শ্রীপুরী পরমানন্দ, বন্দে। তদু-পদদ্বন্দ্ব, ঘরে বলি ঠাকুর উদ্ধব । বনে। দামােদর পুরী, যার বশ গৌরহরি, সত্যভামা-সম যার রীতি। শ্রীনৃসিংহানন্দ স্যাসী, সংকীৰ্ত্তন-সুবিলাসী, বন্দে। সত্যানন্দ মহামতি। বন্দে। গরুড় অবধূত, যার প্রেম অদভুত, চমৎকার দেখিতে-শুনিতে। বন্দিব শ্রীবিষ্ণুপুরী, ‘বিষ্ণুভক্তি-রত্নালী, যে করিল লােক নিস্তারিতে। বন্দে। বিশ্বেশ্বরানন্দ, যার প্রাণ গৌরচন্দ্র, তবে বন্দে। শ্রীকেশব পুরী। ৰন্দে। অনুভবানন্দ, ভারতী সচ্চিদানন্দ, তবে বন্দে মনােরথপুরী। •

বলে। রঘুনাথদাস,
৩৬ )
বলে। রূপ সনাতন, বসতি শ্রীবৃন্দাবন,
পরম বিরক্ত উদাসীন।
রাজ্যপদ পরিহরি, ভিক্ষুকের বেশ ধরি,
যে লইল করঙ্গ কৌপীন ।
বন্দে। জীব গােসাঞিরে, সকল বৈষ্ণব যারে,
জিজ্ঞাসিলে কোন তত্ত্ব সার ?।
বিচারিয়া সৰ্ব্বশাস্ত্র, কহিলেন ‘একমাত্র,
ভক্তিযােগ-পর নাহি আর।
শ্রীরাধাকুণ্ডেতে বাস,
যে জন চৈতন্যমৰ্ম্ম জানে।
রাঘব গােসাঞি তবে, বন্দে। বড় ভক্তিভাবে,
যাহার বিলাস গোবর্ধনে।
ববি গোপাল ভট্ট, সনাতন-নিকট,
সতি কেবল একস্থানে।
অন্যকথা নাহি মুখে,
বঞ্চিল গােবিন্দ-নাম-গুণে।
ৰূন্দে। রঘুনাথ ভট্ট,
কৃষ্ণপ্রেমে উনম,
বৃন্দাবনে ব্রজবাসি-সঙ্গে।
ভাগবত পড়েন যবে, প্রেমে অঙ্গ আউলায় তবে,
মধুকণ্ঠ ধরেন প্রসঙ্গে।
বন্দে। প্রভু লােকনাথ, ভূগর্ভঠাকুর-সাথ,
সদা বিলসই বৃন্দাবনে।
দেখিয়া কাতর জন,
সদাই ব্যাকুল মন,
সুখী কৈল দিয়া প্রেমধনে ।
দিবসরজনী সুখে,

( ৩৭ )
বনে। করিয়া ভক্তি, প্রবােধানন্দ সরস্বতী,
পরম মহৎ গুণধাম।
‘চৈতন্যচামৃত',
পুস্তক যাহার কৃত,
এই পুঁথি ভক্ত-ধন-প্রাণ ।
বন্দে। হরষিত-মতি, কাশীশ্বর মহামতি,
খ্যাতি ‘ভক্ত’ যারে বােলে সভে।
বন্দে। শুদ্ধ সরস্বতী, গৌরপদে দৃঢ় ভক্তি,
পশুপক্ষী বন্দী যার ভাবে ।
বন্দিব রাঘবানন্দ,
যার ঘরে নিত্যানন্দ,
অনুভব করিল বিদিত।
বাড়ীর জাম্বীরগাছে, কদম্ব ফুটিয়া আছে,
সৰ্ব্বলােক দেখিতে বিস্মিত।
বন্দে মূর্তি মনােহর, ঠাকুর শ্রীপুরন্দর,
যেন সেই অঙ্গদ ঠাকুর।
এক বিপ্র ল’য়ে তারে,
অতিথি করিল ঘরে,
গােষ্ঠী-সহ দেখিল লাঙ্গুল।।
বন্দে। কাশী মিশবর,
উকলে যাহার ঘর,
যাহার আশ্রমে গৌররায়।
পট্টনায়ক বাণীনাথ, যার প্রাণ জগন্নাথ,
বন্দনা করিব তাঁর পায় ।
বলে। রায় রামানন্দ,
যার সঙ্গে গৌরচন্দ্র,
বিচারিলা ভক্তির লক্ষণ।
বন্দিব বক্রেশ্বর, যার নৃত্যে বিশ্বম্ভর,
মহানন্দে করিলা কীৰ্ত্তন।

( ৩৮ )
বন্দি সুবুদ্ধি মিশ্র, গােবিন্দানন্দ বিপ্র,
যার মনমানস-জাঙ্গালে।
কুলিয়ানগর হৈতে, গৌড় পৰ্যন্ত যাইতে,
প্রভু চলি গেলা কুতূহলে।
বৃষভানুমু যেহে,
গদাধরদাস তেহে,
এবে নাম করিল প্রকাশ।
গৌরাঙ্গ-যুগল-দেহ, সন্দ না করিহ-কেহ,
এইরূপ গদাধরদাস ৷৷
বলে। গদাধরদাস,
অপরূপ সুবিলাস,
প্রেমরসময় তনুখানি।
বলে। সদাশিব বৈদ্য, যাহার প্রসাদে সপ্ত,
পাষাণ গলিয়া হয় পানি।
বন্দে। সেন শিৱানন্দ, চৈতন্য-পদারবিন্দ,
বিনু যার নাহিক ভাবন।
বৈদ্য খণ্ডেতে বাস, বন্দিব মুকুন্দদাস,
যার পুত্র শ্রীরঘুনন্দন।
মুকুন্দদাসের ভক্তি,
অকথ্য রূষ্ণের শক্তি,
অদ্যাবধি বিদি সংসারে।
চঞ্চল হইল আঁখি,
বিল্লোলে পড়িলা প্রেমভরে।
বন্দিব শ্রীনরহরি, দাস ধন্য বলিহারি,
চৈৱিলাস যার ঘটে।
মূরতি মদনসম,
জগত মােহিত যার নাটে।'
ময়ূরের পাখা দেখি,
বন্দে। রঘুনন্দন,

( ৩৯ )
মহাপ্রভুর সতীর্থ,
বন্দে। রঘুনাথদাস,
প্রেমসুখ-সুবিলাস,
যে পিরীতি-ফান্দে মন বান্ধে।
বলে। আচাৰ্য পুরন্দর,
কৃষ্ণভাবে নিরন্তর,
ফুকরি ফুকরি সদা কান্দে।
ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণদাস, আকাইহাটেতে বাস,
শান্ত পরম অকিঞ্চন।
পরমানন্দ পণ্ডিত,
ভক্তিভবে করিল বন্দন।
বন্দিব পরমানন্দে, পণ্ডিত দেবানন্দে,
যার পাঠ সদা ভাগবত।
বন্দিব আচাৰ্য্যচন্দ্র, যে জানে প্রেমের মর্ম,
গুণ-কৰ্ম্ম জগতে বিদিত।
গগাবিন্দ মাধবানন্দ, বাসুদেব ঘােষ বল,
তিনভাই গুণের সাগর।
শুনিয়া যাহার গান, ধরিতে না পারে প্রাণ,
সৰ্বগণে প্রভু বিশ্বম্ভর।
গদাধরদাস বন্দ,
বাসুদেবঘোষ-সঙ্গ,
দোহারে বনিব সাবধানে।
করবীমরীকলি, আছিল কর্ণের’পরি,
পদ্মগন্ধ হৈল সভা-স্থানে।
ধন্তাদ্বৈত গৌরচন্দ্র, ধধন্য নিত্যানন্দ,
ধধ কমল।
ধন্যবন্ত নাম-গুণ, ধধ সংকীর্তন,
ধই কলিযুগে এ সকল।

( ৪০ )
বন্দে। ভক্ত-অগ্রগণ্য ঠাকুর রামদাস।
বিশ্ব ভরি খ্যাতি যার অদ্ভুত প্রকাশ ।
যােলসাঙ্গের কাষ্ঠ গােটা পড়িয়া আছিল ।
অবহেলে দু-অঙ্গুলে ধরিয়া তুলিল।
ত্রিভঙ্গ হইয়া তাহা করিয়া মুরলী।
করিলা বিনােদ বাদ্য মধুর পদাবলী।
শ্রীদাম গােপাল সেই অভিরাম গােসাঞি।
দ্বিতীয় চৈতন্য-মহিমার অন্ত নাঞি ।
ব্ৰজের সুদাম বলে। ঠাকুর সুন্দর।
অগ্নিসম তেজ যার মূর্তি মনােহর।
যার দাসে ধরিয়া বনের ব্যাঘ্র আনে।
কোল দিয়া হরিনাম শােনায় তার কাণে।
বন্দিব শ্রীগৌরীদাস পণ্ডিত ঠাকুর।
নিত্যানন্দ-প্রিয়পাত্র মহিমা প্রচুর।
প্রভু-আজ্ঞা শিরে ধরি গিয়া শান্তিপুরে।
যে আনিল উৎকলেতে আচাৰ্যপ্রভুরে ।
যারে বলি গােকুলের সুবল গােপাল।
সুজনের শরণদাতা দুৰ্জ্জনের কাল ।
যার কৃষ্ণভক্তি শক্তি বিদিত জগতে।
পাষণ্ড পাতাল (৫) নাগি হৈল যাহা হৈতে।
অম্বিকানগর-মাঝে যার অবস্থিতি।
যার ঘরে নিত্যানন্দ-চৈতন্য-মূরতি ৷
প্রভুবিদ্যমানে মূৰ্তি করিল প্রকাশ।
যে মূর্তি দেখিলে কৰ্ম্মবন্ধের বিনাশ।

( ৪১ )
দিব্য মাল্য চন্দন বসন অলঙ্কারে।
যে করিল বিভূষিত নিতাইচান্দেরে।
পরম সাদরে বন্দো দত্ত উদ্ধারণ।
নিত্যানন্দ-সঙ্গে তীর্থ যে কৈলা ভ্রমণ।
পরমেশ্বরদাস ঠাকুর বন্দিব সাহিতে।
যে কৈল আপন ব্যক্ত কীর্তনে নাচিতে।
গণ্ডাদশ শৃগাল ডাকিয়া একেএকে।
যােল নাম বােলাইল সভাকার মুখে।
পিপিলাই ঠাকুর বলেবাল্যভাবে ভােলা।
বালকের প্রায় যার সব লীলা-খেলা ।
তবে বন্দে। ঠাকুর কমলাকর দাস।
কৃষ্ণসংকীৰ্ত্তনে যার পরম উল্লাস।
পুরুষােম তীর্থ বন্দো রসিকশেখর।
শ্রীকৃষ্ণবসে যেহে মত্ত গরগর ।
উন্মাদী বিনােদী বন্দো কালা কৃষ্ণদাস।
প্রেমেতে বিভােল সদা না সম্বরে বাস।
সারঙ্গ ঠাকুর বন্দি কর জুড়ি।
গুধড়ীতে ছিল যার সর্প ছয়-কুড়ি।
মকরধ্বজ কর বন্দে গুণের-নিন ।
প্রভুত্থানে কৃষ্ণগুণ সদা যার গান।
ভাগবত অচাৰ্য্য বন্ধে মিত্র কবিরাজ।
অনন্ত আচার্য্য বলে। নবদ্বীপ-মাঝ ৪
ভবেত বন্দিব মধুপতি-চরণ।
বৈষ্ণবপণ্ডিত যারে বােলে সর্বজন।

( ৪২ )
গােবিন্দ-আচাৰ্য-পদ করিব বন্দন।
রাধাকৃষ্ণের রহস্য যে করিল বর্ণন।
বলে। সাৰ্বভৌম ভট্টাচাৰ্য মহামতি।
যাহারে বলিয়ে দেবগুরু বৃহস্পতি ।
নৃপতি প্রতাপরুদ্র করিব বন্দন।
যে পাইল মহাপ্রভুর যড়ভুজ-দর্শন।
বিপ্র-রঘুনাথদাসের চরণ বন্দিয়া ।
বৈদ্য বিষ্ণুদাস বিপ্রদাস উৎকলিয়া।
কানাই খুটিয়া বলে। প্রেমরসধার ।
প্রকৃতিস্বভাব ভাব যেন গােপিকার।
যার পুত্র জগন্নাথ দাস বলরাম।
তার মহত্ত্বের কিবা কহিবঅনুপাম ।
জগন্নাথদাস বন্দে গানরসে গুরু।
যার গানে অরণ্যের ঝুরে লতা-তরু ॥
বলে। বলরামদাস উড়িয়া বৈষ্ণবে।
জগন্নাথ-বলরাম বন্দী যার ভাবে।
সুগ্রীব-নামক গোবিন্দানন্দ ঠাকুর।
প্রভূলাগি সেতুবন্ধ করিলা প্রচুর ॥
বলে। কাশীশ্বর সিংহেশ্বর শিবানন্দ।
শ্রীচন্দনেশ্বর বন্দে। করিয়া আনন্দ।
বন্দনা করিব পট্টনায়ক মাধব ।
হরিভট্ট বন্দিব মাহাতি বলদেব ।
সুবুদ্ধি মিশ্র বন্দে। নিৰ্বদ্বি-বুদ্ধিদাতা।
শ্রীনাথ মিশ্র বনে। কৃষ্ণতত্ত্ববেত্ত্বা।

( ৪৩ )
তুলসী মিশ্র বন্দনা করিব সাবধানে।
কাশীনাথ মাহাতি বন্দে কায়বাক্যমনে।
বসুবংশের তিলক বন্দি রামানন্দে।
যার গোষ্ঠী ভ্রমর গৌরপদারবিনে।
পুরুষোত্তম ব্রহ্মচারী শ্রীমধুপণ্ডিত।
বন্দে। দুই মহাশয় চৈতন্যের ভৃত্য ।
দ্বিজ রামচন্দ্র বন্দে। পণ্ডিত শ্ৰীকর।
যদু-কবিচন্দ্র বন্দে। সুখের সাগর ।
পণ্ডিত শ্রীধনঞ্জয় করিব বন্দনা।
প্রসিদ্ধ বৈরাগ্য যার সংসারে ঘােষণা।
লক্ষকের গারিস্থ যে প্রভুপায় দিয়া।
ভাণ্ড হাথে করিলেক কৌপীন পরিয়া ।
সূৰ্যদাসপণ্ডিতের বন্দে। পদদ্বন্দ্ব।
যাহার জামাতা হৈলা প্রভু নিত্যানন্দ।
বন্দিব ঠাকুর-বংশীবদন-চরণে।
পূর্বে যে আছিল বংশী কৃষ্ণের বদনে।
মুরারি-চৈতন্যদাস বন্দিব যতনে।
যার লীলাখেলা অজগরসর্পসনে ।
সেন জগন্নাথ বন্দে। গুপ্ত পরমানন্দ।
বন্দিব বালক রামদাস কবিচন্দ্র।
বলিব বল্লভাচাৰ্য সেন কংসারি।
বন্দিব ভাস্কর বিশ্বকর্মা-অবতারি ।
বলরামদাস বন্দে। সঙ্গীত-আচাৰ্য্য।
নিত্যানন্দসেবা বিনু নাহি যার কার্য্য।

( ৪৪
বলে কৃষ্ণ-উনমাদী মহেশ পণ্ডিত।
নর্তনবিনােদী বলে। জগদীশ পণ্ডিত।
নারায়ণীসুত বন্দে। বৃন্দাবন দাস।
সৰ্বভক্ত যাহারে বােলেন বেদব্যাস।
‘শ্রীচৈতন্যভাগবত’ যাহার গ্রন্থন।
যে গ্রন্থ মােহিত কৈল এ তিনভুবন।
বন্দিব বেহারি কৃষ্ণদাস মহামতি।
বড়গাছিগ্রামেতে যাহার অবস্থিতি।
যেজন পীরিতিফান্দে নিতাইচান্দেরে।
বন্দী করি রাখিয়াছিলেন নিজঘরে ।
পণ্ডিতঠাকুর গিয়া বুকে দিয়া তালি।
কোচে ধৰি লৈয়া গেলা মাের প্রভু’ বলি ।
নিত্যানন্দবিরহে ঠাকুর কৃষ্ণদাস।
পাগলের প্রায় গোঙাইল সাতমাস ।
পুনরপি নিত্যানন্দ তার ঘরে গেলা।
নিত্যানন্দ-দরশন পাই সাম্য হইল।
বন্দিব পরমানন্দ অবধৌতবর।
প্রেমরসে পরিপূর্ণ যার কলেবর ।
পণ্ডিত গঙ্গাদাস বন্দে। অনাদি-নিবাসী।
যদুনাথ দাস বন্দে। মধুর-বিলাসী ।
পুরুষােত্তম তীর্থ বন্দে। তীর্থ শ্রীরাম ।
রঘুনাথ পুরী বন্দে। পূরি মনস্কাম ॥
আশ্রম উপেন্দ্র বনে। হরিহরান।
তীর্থ বাসুদেব বন্দে পুরী অনন্ত ॥

( ৪৫ )
মধুমূরতি বলে। মুকুন্দ কবিরাজ।
রাজীব (?) পণ্ডিত বলে। নবদ্বীপমাঝ
শিশু কৃষ্ণদাস বন্দে। গোপশিশু যমু।
নিত্যানন্দ স্বহস্তে পালিলা যার তনু।
তববত বন্দনা কৈল মাধব আচাৰ্য্য।
কৃষ্ণগুণ-বর্ণন সদাই যার কাৰ্য।
যে ‘কৃষ্ণমঙ্গল’ কৈল ভাগবতামৃতে।
যে গীত বিদিত হৈল সকল জগতে।
নৃসিংহ চৈতন্যদাস আর কৃষ্ণদাস।
বন্দে। দুই মহাশয় পীরিতি-আওআস।
বড় অকিঞ্চন বন্দে। শ্রীশঙ্কর ঘােষ।
যাহার ডক্ষের বাদ্যে প্রভুর সন্তোষ ।
মাধব আচার্য্য বনে। দ্বিজকুলমণি।
নিত্যানন্দসুতা গঙ্গা যাহার গৃহিণী ।
বন্দনা করি গঙ্গাদেবীর চরণ।
শিবানন্দ চক্রবর্ত্তী পড়িয়ারী নারায়ণ ।
এই হৈতে হৈল কিছু বৈষ্ণববন্দনা।
অসংখ্য চৈতন্যভক্ত না যায় গণনা।
আর কত শতশত সহস্র বৈষ্ণব।
ত্রিভুবন জুড়িয়া আছেন কত সব ।
উত্তর-দক্ষিণ-পূৰ্ব্ব-পশ্চিম-ভূমিতে।
অনন্ত বৈষ্ণব অবতীর্ণ অবনীতে ।।
কলিযুগের প্রথমে চৈতন্য অবতারে।
চৈতন্যের কৃপায় বৈষ্ণব ঘরেঘরে ।

( ৪৬ )
অতএব বৈষ্ণবের অসংখ্য গণন।
স্বচ্ছন্দে বিহরে সৰু পতিতপাবন ।
সভাকার ঠাকুর চৈতন্য-নিত্যানন্দ।
দুই মহাপ্রভুর এসব ভক্তবৃন্দ ।
কে জানিবারে পারে বৈষ্ণবের তত্ত্ব।
সাগবতে কহে বৈষ্ণবমাহাত্ম্য ।
হেন সব বৈষ্ণবের চরণ-বন্দন।
পঢ়িলেশুনিলে হয় দুখ-বিমােচন।
পাপমুক্ত হয়—হয় শুদ্ধ কলেবর।
পঠনে-শ্রবণে হয় প্রসন্ন অন্তর।
বদনে রয়ে তার কৃষ্ণ’ হেন নাম।
পরিপূর্ণ হয় তার যেবা মনস্কাম।
কণ্ঠে বিলসয়ে তার দেবী সরস্বতী।
কমলা করেন আসি গৃহে অবস্থিতি।
যথাতথা যায় পরাভব নাহি পায়।
সর্বস্থানে জয়যুক্ত হইয়া বেড়ায় ।
ক্যাধি-জরা-জ্বালা তার দেহে না পরশে
আবােগ্য হইয়া থাকে সদাই সন্তোষে।
নির্মল কতি তার হয় সুনিশ্চিত।
এই লােভে বৃন্দাবনদাস বিরচিত।
ইতি শ্রীবৃন্দাবনদাস বিরচিতা
বৈষ্ণব সমাপ্তা।.

অথ শ্রীবৈষ্ণবাভিধান।
প্রণম্যাদৌ কৃপাদৃষ্টিপবিত্ৰীকৃতভূতলম্ ।
সৰ্ববাছাকল্পতরু গুরু শ্রীপুরুষােত্তমম্।
মহৌজসাে মহাভাগা মহাপতিতপাবনা।
মহাভাগবতা সৰ্বান বৈষ্ণবা বিষ্ণুরূপিণ ।
ততঃ শচীজগন্নাথৌ খ্যাতো ভূদেবরূপিণৌ।
শ্রীবিশ্বরূপবিশ্বম্ভরয়াের পিতরৌ শুতে।
ধন্যং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রগ্রজরূপিণ।
শঙ্করারণ্যনামানং বিশ্বরূপমহাশয়ম্ ।
গদাধরপ্রাণনাথং লক্ষ্মীবিষ্ণুপ্রিয়াপতিম্।
সাক্ষাৎ প্রেমকৃপামূৰ্ত্তি চৈতমহাপ্রভুম্ ॥
তথা পদ্মাবতী-শ্ৰীমন্মুকুন্দদ্বিজসত্তমৌ।
নিত্যানন্দস্বরূপ পিতরাবতুলশিয়ে।
শ্ৰীমন্নিত্যানন্দচন্দ্র বসুধাজাহ্নবীপতিমু।
শ্ৰীবীরভদ্ৰজনকং সর্বপাষণ্ডখণ্ডন।
যদ্যপি প্রকৃতিক্ষুদ্রোহবুদ্ধিমান বালকঃ স্বয়ম্।
অনন্তবৈষ্ণবানন্তমহিমাখ্যানবালিশ।
তথাপি রসনালোল্যাদত্যন্তান্তঃকুতূহলাৎ ।
কৰােমি বৈষ্ণবানন্তাভিধানং স্মরণং কিয়ৎ।
কিঞ্চাৰ মম হীন সৰ্বেঘেতন্নিবেদন ।
ক্রমভঙ্গভবা দোষা ন গ্রাহাগুৈণােদয়ৈঃ ।
মাধবপুরী-শ্রীলাদ্বৈতাচাৰ্য্যস্তচ্যুতঃ।
গােপীনাথঃ শ্রীনিবাসে গােবিনশ্চন্দ্রশেখর।

( ৪৮ )
হরিদাস: শ্ৰীমুরারিগুপ্তো নারায়ণস্তথা।
মুকুন্দো বাসুদেবশ্চ শ্রীদামােদরপণ্ডিত।
পীতাম্বরে জগন্নাথঃ শ্ৰীনারায়ণশঙ্করো।
শ্রীরামপণ্ডিতশ্চক্ৰবৰ্ত্তিনীলাম্বরস্তথা।
গঙ্গাদাসস দ্বিজো বিষ্ণুঃ শ্রীসুদর্শনপণ্ডিত।
বিদ্যানিধিস্তথা বুদ্ধিমন্তঃ শ্রীলসদাশিবঃ।
শ্রীগর্ভ শ্রীনিধিঃ শুক্লাম্বরঃ শ্রীধরপণ্ডিত।
কবিচন্দ্রো রামদাসো বনমালী হলায়ুধঃ ।
* বিজয়ােদাচাৰ্য ঈশানাে গরুড়ধ্বজঃ।
জগদীশঃ সঞ্জয়শ্চ শ্ৰীমন্ কাশীশ্বস্তথা।
গঙ্গাদাসাে বাসুদেবভদ্ৰো রাম-মুকুন্দকৌ ।
শ্রীবল্লভাচাৰ্যবৰ্য্যো মিশ্রঃ শ্রীলসনাতনঃ ।
অচাৰ্যবনমালী চ কাশীনাথদ্বিজোত্তমঃ।
শ্রীশ্বরাভিধানপুরী শ্রীমৎকেশবভারতী ।
পরমানন্দাশ্যপুরী দামােদরস্বরূপক।
নরসিংহাখ্যানতীর্থে। রামচন্দ্রপুরী তথা ।
ব্ৰহ্মানন্দপুরী চৈব সত্যানন্দভারতী।
শ্রীমৎসুখানন্দপুরী শ্রীগােবিন্দপুরী তথা ।
গরুড়াবধূতদেবঃ পুরী রাঘবসংজ্ঞক।
ব্ৰহ্মানন্দস্বরূপ পুৰী শ্ৰীযুতকেশবঃ।
শ্রীমদ্বিষ্ণুপুরী বিশ্বেশ্বরানন্দমহাশয়ঃ ।
শ্ৰীসচ্চিদাননামাইনুভবানন্দ এবচ।
শ্রীমৎকৃষ্ণানন্দপুরী নৃসিংহানন্দভারতী।
কাশীশ্বখ্যানদেৰােহনুপামঃ শ্রীসনাতনঃ

'। #
( ৪৯ )
রূপাে জীবঃ শ্রীপ্রবােধানঃ শুদ্ধসরস্বতী।
রঘুনাথদাসনামা তথা গোপালভট্টক।
রঘুনাথাে লােকনাথঃ শ্ৰীমদ্ভ,গর্ভনামক
রাঘববা জগদানন্দপণ্ডিতঃ শ্রীপুরন্দর।
কাশীমিশ্রা বায়রামানন্দো বক্রেশ্বরদ্বিজঃ ।
বাণীনাথপট্টনায়াে গোবিন্দানন্দ এবচ ।
সদাশিবকবিহ্মাদ্দাসবংশগদাধর।
শিবাননসেন শ্রীমুকুন্দভিষশ্বরঃ ।
শ্ৰীমন্নরহরিঃ শ্রীলরঘুনন্দন এবচ ।
রঘুনাথদাসবৈদ্যোপাধ্যায়মধুসূদনঃ ।
দেবানন্দদ্বিজবরঃ শ্রীলাচাৰ্যপুরন্দর।
শ্ৰীযুক্তাচাৰ্য্যচক্রশ্চ শ্রীকৃষ্ণদাসপণ্ডিতঃ।
সতীপরমানন্দঃ শ্রীমৎসৃষ্টিধরস্তথা।
গােবিন্দো মাধবব বাসুদেবােঘােষাভিধানভৃৎ।
শ্ৰলশ্রীরামদাস: শ্ৰীসুন্দরানন্দ এবচ।
পরমশ্রীলপরমেশ্বরঃ শ্রীপুরুষােত্তম।
শ্রীকৃষ্ণদাসঃ গৌরীদাসঃ শ্ৰীকমলাকরঃ।
বংশীগীতপ্ৰকাশী শ্ৰীবংশীবদনদাসক।
শ্রীমদুদ্ধরণ-শ্রীলদ্বিজীপুরুষােত্তমৌ।
কবিরাজমিশ্ৰবৰ্যো মধুসূদনপণ্ডিতঃ ৷
শ্রীমদ্ভাগবতাচাৰ্য্যো গেবিন্দাচাৰ্য এবচ।
শ্ৰসাৰ্বভৌমঃ শ্ৰীযুক্তো নন্দনাচাৰ্য এবচ।
শ্রীমৎপ্রতাপরুদ্র রঘুনাথপরামরঃ।
হরিদাসুদ্বিজ শ্রীলরঙ্গো মকরধ্বজঃ ।।

( ৫০ )
বৃন্দাবনদাসঃ শ্রীজগদীশাখপণ্ডিত।
প্রদ্যুমমিশ্রস্তপনাচাৰ্যঃ শ্রীভগবাংশুথা ।
ওজঃ বিপ্রদাসসহশ্রীবিষ্ণুদাসক।
বনমালিদাসবৈদ্যো হরিদাসাে গদাধরঃ।
ওভুজঃ কৃষ্ণদাসঃ শ্ৰকাশীশ্বপণ্ডিত।
বলরামজগন্নাথদাসৌ শ্রীচন্দনেশ্বরঃ ।
সিংহেশ্বরঃ শিবানন্দা বলরামমহত্তম।
সুবুদ্ধিমিশ্রস্তুলসীমিশ্রঃ শ্রীনাথসংকঃ ।
কাশীনাথাে হরিভট্ট পট্টনায়কমাধবঃ।
রামানন্দসুব্রহ্মচারী পুরুষােত্তমঃ ।
শ্রীরামচন্দ্রভূদেবঃ শ্রীমক্ষ্মীকরপণ্ডিত।
যদুনাথ-কবিচন্দ্রঃ পণ্ডিতঃ শ্রীধনঞ্জয়ঃ ।
আচাৰ্য্যশ্রীজগন্নাথঃ শ্ৰীসূৰ্য্যদাসপণ্ডিতঃ।
শ্রীশ্রীলক্ষ্মণাচাৰ্যঃ শ্রীকৃষ্ণাচাৰ্য্য এবচ।
চৈতন্যদাস: পরমানগুপ্ত-ভিষশ্বরঃ।
জগন্নাথকংস:রিসেনৌ শ্রীযুক্তভাস্করঃ
কবিচন্দ্ৰশ্ৰীমুকুন্দঃ শ্রীরামঃ সেনবল্লভঃ।
শ্ৰীযুক্তবলরামাখ্যদাসােমহেশপণ্ডিত।
পরমানাবন্ধুতঃ শ্রীগঙ্গাদাসপণ্ডিত।
কবিরাজশ্রীমুকুন্দানন্দঃ শ্রীজীবপণ্ডিত।
চিরঞ্জীৰঃ কৃষ্ণদাসঃ কৃষ্ণদাসখ্যবালক।
যদুনাথদাসবৰ্য্যঃ শ্রীকৃষ্ণদাসপণ্ডিতঃ
রামতীর্থঃ কৃষ্ণতীর্থঃ পুরী শ্রীপুরুষােঙমঃ।
শ্ৰীমজ্জগন্নাখতীর্থো রঘুনাথপুরী তথা ॥

৫১ )
শ্রীবাসুদেবতীর্থ লােপোভিধাশ্রমঃ।
অনন্তাভিধানপুরী হরিহরান-ভারতী।
শ্ৰীমন্‌সিংহচৈতন্যঃ শ্রীমদাচাৰ্যমাধবঃ।
শঙ্কবাে মাধবানন্দাচার্ফো দাস-সনাতন।
শিবানন্দচক্রবর্ত্তী দ্বিজ-নারায়ণাদয়ঃ ।
য এতা স্মরতি প্রাতঃ শৃণুতে বাপি ভক্তিতঃ।
কস্মিন্ কালেহপি স পুমা যাতনাং নাহতি ধ্রুবম্ ॥
এতা সংস্কৃত্য সংস্কৃত্য যাে নমস্কুতে জনঃ।
শ্রীবৈষ্ণবপদে তানাপরাধ কদাচন।
লভতে বৈষ্ণবপদমেতেষাং স্মৃতিমাত্ৰতঃ ।
ভঞ্চি প্রেমপীযুষমধুরা'দেবদুল্ল ভাম্ ॥
সৰ্ব্বেষামপুপাদেয়ঃ সৰ্ব্ববেদাধিকথা।
শ্রবণান্নয়নাচ্চিত্তাদপি দূরাে হি বৈষ্ণবঃ ॥
ইতি শ্রীদৈবকীনন্দন কবিরাজ-বিরচিত
বৈষ্ণবাভিধানং সম্পূর্ণ।
বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এবচ।
পতিতানাং পাবনেভো বৈষ্ণবেভ্যো নমােনমঃ ।
হরিনাম যে চ হরিভক্তিপরায়ণাঃ।
দুৰ্ব্বত্তা বা সুবৃত্তা বা তেভ্যো নিত্যং নমােনমঃ।
শ্রীলুফাম।

নিবেদন। ঐশ্রীবৈষ্ণব-বন্দনা সৰ্ববিধ মঙ্গলের আকর—সৰ্বস্বস্ত্যয়ন-শিরােভূষণ। কলিহত জীবের এমন কল্যাণকর সামগ্রী আর নাই। এহেন বৈষ্ণববন্দনার বিশুদ্ধ সংস্করণের কিন্তু বড়ই অভাব। করুণাময় বৈষ্ণবগণের করুণায় এতদিনে সে অভাব বিদূরিত হইল,-বৈষ্ণব- বদনার এই নূতন সংস্করণ প্রকাশিত হইলেন। বাজারে শ্রীদৈবকী- নন্দনসবিরচিত বন্দনা ব্যতীত অন্যান্য বন্দনা পাওয়া যায় না। বর্তমান সংস্করণে শ্রীচৈতভাগবতকার শ্রী ঠাকুর বৃন্দাবনদাস, শীল দৈবকীনন্দন দাস এবং অন্য একজন শীল বৃন্দাবনদাসের রচিত তিনটি বাংলা বন্দনা, আর ঐ দৈবকীনন্দনেরই “ বৈষ্ণবাভিধান” নামক একটি সংস্কৃত বন্দনা প্রকাশিত হইয়াছেন। বঙ্গবাসী কাৰ্যালয় হইতে প্রকাশিত অম্মৎসম্পাদিত “ভক্তিরত্নমালা” গ্রন্থে কেবলমাত্র দৈবকীনন্দনের বাংলা বন্দনাটি মুদ্রিত হইয়াছিলেন। সম্পাদকীয় বক্তব্যে অপর তিনটি বন্দনার নাম ও প্রকাশের ইচ্ছ৷ উল্লিখিত হইয়াছিল মাত্র। এতদিনে সে ইচ্ছাও সফল হইল। বাড়বাগান নিবাসী পরম ভাগবত নন্দলাল ঘােষ মহাশয়ের পুত্রগণ তাহাদের পিতার স্বহস্তলিখিত শ্রীলবৃন্দাবনদাসের বন্দনার একখানি আদর্শ দান করিয়া পরম উপকৃত করিয়াছেন। তাহাদের কৃষ্ণে মতি হউক। ইতি কলিকাতা, বৈষ্ণব-চরণরেণু-লােলুপ, ৪০ নং, মহেন্দ্রনাথ গােস্বামীর লেন, শ্রীঅতুল কৃষ্ণ গােস্বামী সিমুলিয়া। সম্পাদক।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Srisri Baishnab-bandana

Author
Goswami,atul Krishna Ed
Title
Srisri Baishnab-bandana
File name
Srisri Baishnab-bandana
Text
OCR done
Citation
1910
Published
2009/12/6
Publisher
Srisri Mahaprabhur Srimandir,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
64
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Goswami,Atul Krishna
DLI number
513349
Barcode
4990010020335.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
gYr7NTHXKPt
Download PDF

Srisri Baishnab-bandana