Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Kabitta-gatha Ed.1st

Dasgupta ,sunilkumar · 2009/12/29

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

কবিগাঁথা
শ্ৰীসুশীল কুমার দাশগুপ্ত বি, এস্ সি।
প্রণীত ও প্রকাশিত।
শিক্ষক। কে এম ইউনিয়ন্ ইনষ্টিটিউসন্ মানপাশা,
বরিশাল।
প্রথম সংস্করণ
প্রাপ্তিস্থান
দত্ত 'ব্রাদাম্ এণ্ড কোং
পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক।
লাইন রােড, বরিশাল।
[ সর্বসংরক্ষিত ]

বরিশাল
দত্ত প্রিন্টিং ওয়ার্কস্ হইতে
অনন্ত কুমার সরকার দ্বারা মুদ্রিত

--
)
নিবেদন।
যাদের ভিতর দিয়ে পেয়ে মানব জীবন,
শৈশবে আদর যত্নে হলাম প্রতিপালন,
যৌবনে বর্ধিত হ'য়ে
সুখে দুখে গা ভাসায়ে
শ্যামলা ধরণী ধামে করিতেছি বিচরণ,
সেই জনক জননী স্থবিরে
প্রণাম করে আজি ভক্তি ভরে,
আমার এ কবিত্ব-গাঁথা করিলাম অর্পণ;••
জোড় করে যাচিছে আশীষ সুশীল সন্তান।
বরিশাল
সুশীল কুমার দাশগুপ্ত।
শ্রাবণ ১৩৩৮সন

সুচী । পৃষ্ঠা ২ ৮ ১ ১২ ১৬ ও ২১ ২২ কিয় ১। স্তোত্র ২। পতি-হারা ৩। উদ্বেগ ৪। মায়া ৫। ষড়রিপু ৬। দীপ ৭। বিরহাভিমান ৮। অন্বেষণ ৯। সরস্বতী কিসজ্জন স্তুক্তি ১০. নিরুদ্দেশ ১১। আগমনী ১২। হরিপূজা ১৩। দুর্গোৎসব ১৪। হরণ-কাহিনী ১৫। যুদ্ধ ১৬। পাগল ১৭। নির্দোষী ১৮। প্রত্যাখ্যান ১৯। অশ্রু ২০। যাচনা ২১। গৃহখানি ২২। আশীষ ২৫ ২৭ ঃ ঃ అని ৪৪ ৪৬ ৪৭ ৪৮ ৫০

কবি-গাঁথা।
স্তোত্র।
আয় আয় আয়
আয় মা জননী
আয় ম নবীন সাজে।
নিজ কৃপগুণে
আসিয়া বিজনে
বসমা হিয়ার মাঝে।
দেহ বিশ্বদল
উৎসর্গ কেবল
দিব মা তোমার পদে।
প্রেম ফুল দিয়ে
তােমায় পূজিয়ে
বসাব হৃদয় রথে।
অশ্রনীর দিয়ে
ও পদ দােয়ায়ে
পূজিতে বাসনা আছে। .
সে বাসনা মাত
পূরিতে সতত
হোমরি মুরলি বাজে।
সে ধ্বনি শুনিয়ে
যাই মা ধাইয়ে
ধরিতে পারি না হয়।'
দেখা দিয়ে গত
সে খাত
দেখেও দেখিনা হয়।
1

( ২ )
তোমার মহিমা
বুঝেও বুঝি না
• অধম সন্তান আমি।
নিজ কৃপাগুণে
দীন হীন নে
দেখা দেও অন্তর্যামী।
পতি-হারা।
২
এসনা এসনা ধনি
আমােদিনী বিষাদিনী,
হৃদয়ে বিধিতে শেল এসনা সজনী।
কাদাইছ সদা মােরে
ভাসাইছ অশ্রনীরে
আর কত ব্যথা দিবে জনম দুঃখিনী ।
তুমি নও অভিমানী
সুধালে আস জানি
বুঝেছি বাসিবে ভাল সারাটা জীবন।
যতই ভুলিতে চাই
স্মৃতিতে জড়ায়ে যাই
কেমনে ভুলিব তাই ভাবি অনুক্ষণ।
যত না ভুলিব মনে
ভাবি আমি প্রাণপনে

( ৩ )
ভাবের তরঙ্গ তত করিছে পাগল।
পাবনা জীবন ধনে
রহিব নিরাশ প্রাণে
জীবন যৌবন হ’ল সকলি বিফল।
একা আমি ছিনু বেশ
তবে কেন পরমেশ
আনিয়া বাঁধিলে দুটা অচেনা হৃদয়।
দুদিন না যেতে যেতে
কেন তুমি স্বরগেতে
নিয়ে গেলে তারে প্রভু ফেলিয়া আমায়
কত সুখ কত আশা
কত স্নেহ ভালবাসা
জাগিছে হৃদয়ে পুনঃ নিভিছে নির্জনে।
কত মৃধা গাখা ভাষা
কতবা মধুর উষা
উদিছে হৃদয় পটে প্রতিক্ষণে ক্ষণে।
কত স্মৃতি কত কৰা
কত মরমের ব্যথা
অশ্রনীরে সিক্ত করে এপােড় বয়ান
কি পাপের দোষে হেন
হারায়েছি প্রাণধন
কেন কাটে অবহেলে আমার জীবন

( ৪ )
মাতা পিতা সব আছে
প্রানােপমা সখি আছে
সকলি আঁধার দেখি তােমার অভাবে
আমা প্রাণে ব্যথা দেছে।
ফাকী দিয়ে চলে গেছে।
ফেলিয়া আমায় এই বিপুল আহবে।
তেমনি চন্দ্রিকা হাসে
আকাশে নীরদ ভাসে
তেমনি শীতল ভাবে বায়ু ব’য়ে যায়।
তেমনি নক্ষত্র রাশে
সকলি তেমন আছে
কেবল তুমিই নাই অসার ধরায়।
গাছেতে ফুটিল ফুল
ধেয়ে এল অলিকুল
সুবাস ছড়ায়ে স্নিগ্ধ বসন্ত আইল।
কতবর্ষ এল গেল
বসন্ত ফিরিয়া এল
হৃদয় বসন্ত মাের আর না ফিরিল।
এত করে পুষেছিনু
কত যত্নে রেখেছি
হৃদয় পিঞ্জরে করে আবদ্ধ তােমায় ।
তবু তুমি খাচা ভেঙ্গে

( ৫ )
উড়ে গেছে প্রাণ পনে
বিষম বিষাদে ফেলে আমারে ধরায়।
ভুলে কারাে মিষ্টম্বরে
আমাকে কি ঘৃণা করে,
নবীন পিঞ্জরে গিয়ে লয়েছ আশ্রয় ?
কেলিয়ে অগাধ জলে
তুমি কিন্তু চলে গেলে
অভাগিনী না লইলে দিয়ে পদাশ্রয়।
ডুবিলেও ভাল ছিল
তাও কই প্রভু দিল
ভাসালে আমারে বিভু সংসার সাগরে ।
সলিলে ঠেলিয়া দিয়া
ভেলাটী কাড়িয়া নিয়া
চলে গেলা প্রভু তুমি ফেলিয়া পাথারে।
মিটি মিটি করে জ্বলে
সংসার সাগর কুলে
জীবন দীপট মাের হইতে নির্বাণ।
নিভিলেতো ভাল হতো
সব দুঃখ জুড়াইত
ডাকিতাম দয়াল বলিয়া ভগবান।
কিন্তু কই নির্বাপিল
আমা প্রাণ জুড়াইল

( ৬ )
বাড়িছে ক্রমশ: শিখা দক্ষিতে আমারে।
পােড়াইছে অনুক্ষণ
তাহে কই হৃষ্টমন
জানি দখিবে কত এমতি আমারে।
কারে বা দোষিব বল
সকলি অদৃষ্ট ফল
তানা হলে ছিন্নবৃন্ত হ’ব কি কারণ।
কেন বা হারাব নিধি
কেন বাম হবে বিধি
কেন বা লুটাব ভূমে ফলের মতন।
ভুলে যাব মনে করি
ভুলিতে তাে নাহি পারি
হৃদয় মন্দিরে আঁকা তার যে ছবি গাে
কষ্টদেয় বজ্রসম
তবু তিনি প্রিয় মম
তার মূরতি খানি ভুলিতে কি পারি গো ।
ভুলে যদি যাব তবে,
অহরহ কে কঁদিবে
দিবানিশি কে জ্বলিবে বিরহ অনলে।
কঁদিয়া আকুল হই
তবু কই তারে পাই
সকল ক্রন্দন মাের যায় ভেসে জলে।

( ৭ )
পাখী যেটী পুষেছিলে
সেও কষ্টে অশ্রু ফেলে
আমি অৰ্ধাঙ্গিনী হয়ে কেমনে ভুলিশ।
মাতা পিতা গুরুজন
কাদে সবে অনুশ
তাদের চোখের জল কি বলে মুছবি।
কাজ নাই এ ভবেতে
লয়ে যাও হেথা হাতে
তােমার রাজ্যেতে প্রভু এই দুখিনীরে।
মায়াজালে জড়াইয়া
প্রাণেশ্বরে কাছিনিয়া
যেওনা সংসার মায়ায় রাখিয়া মোরে।
কত কষ্ট ভুগি আমি
সব জনি অন্তর্যামী
আর কঁাদাওনা হরি করি নিবেদন।
প্রিয়তম আছে যথা
লয়ে যাও মােরে তথা
আর না সহিতে পারি হৃদয় খান।

( ৮ )
উদ্বেগ।
স
মনব্যথা কারে কই।
(হায়রে) মনব্যথা কারে কই,
ঘরে থাকা বাহিরে আসা
কিছু না জ্বালা বই।
নিশীতে ছার পোকা কামড়,
বিছানা উপরে।
আমি কেমনে টিকিব বল,
ঘরের ভিতরে।
বাহিরেতে যত যাই
প্রাণ করে আই চাই
অামি কোথা গিয়ে সখা,
বল যাতনা জুড়াই।
একেতাে দারুণ গ্রীষ্মে
ছট ফট করি ;
ভ্যান ভ্যান মাছি ডাক
কেমনে নিবারি ;
অহরহ হাহতাস
মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস
কেমনে ঘরের কোনে
মশার কামড় সই।

( . )
মায়।
সশসার মতে
সহত ভুগিতে
যাতনা সহিতে
এসেছি এরায় ।
করিতেছি কত
*পি অবিরত
ভুগিতেছি কত
মায়ার জ্বালায় ।
মায়াজাল অতি
চলে মন্দ গতি
বুণিত না পারি
উহ্বার ব্যাদন
८कन इभात
অতি মনোহর
রূপখানি তার
অতি বিমোহন।
সৌন্দর্য্য দেখিয়া
কৰ্তব্য ভু লম্বা
চলি পিছু পিছু
চোরের মত।

পর্ব ১
ইমু দিশে হার।
পখ ছড়িয়া
* ১
মৰ কৰক
‘ড়িলে বিশকে
সক, নাশ হয়
এভ
এম নাশের কথা।
শুনি পাই ব্যথা
ভয়ে হই মোর।
র ।
তবু ছুটি বই
১ায়। যথা ঠাই
•ায়ার প্রভাব
এত চমৎকার ?
পাপের সঙ্গিনী
মায়া কুহ।
অত্যা হয়
প্রভাব ময়র
মায়ার সলিলে
কখন ভুৰিলে

{ ১ }
নি। মৃখ হয়,
বুদ্ধিমান মৃ।
ধনী হয় দুঃখী
সুজন অসুখ
সরল যে মতি
সেও হয় এব।
জালাৰু দেখায়ে
মাদের ভুলায়ে
লয়ে যায় গায়।
গভীর আঁধারে ।
সে আঁধার হ'তে
পারি না উঠিতে
অবশে েথাকি
চির অন্ধকরে ।
এ তবু সলে.
মায়ার প্রভাব
ভুলব না করি
ঘ৮।
মায়ায় গুলিলে
হৃদি যাবে জ্বলে
ঘুচিবে না ।
মন্ত্রণা।

( ২ )
ষড়রিপু
৫
কি করি উপায় উদ্ভাবন।
(র) কি ববি উপায় উদ্ভাবন।
অমর এমন সাধের মন জ
'য়ে গে৷ অ স্কৰণ ।
ছাগকাণী কমি দুরাচার,
বাগানে ঢুকে নষ্ট করে (গোর )
সুকৃতি অনিবার।
শোনে না মন আমার তারে,
কেমনে করি বারণ।
মহিষরূপী (ফ্রাধ দুর্জয়,
ও স্তর পাতা সকল,
নিয়ে চেটে খায়।
সে এমনি দুরন্ত হয় যে,
কেমনেকরি শাসন।
বিড়াল রূপী লােভ জ্বালায়,
আমি সতত চঞ্চল মতি,
কি যে নিয়ে যায়।
-সাগরে ডুবোয়, আর
রোগ করে নির্যাতন।
৫

( ১৭ )
ষেরণী মােহ দুরচর
আমায়) মায়ার মােহে খুগ্ধ করি,
সে রাখে অনিবার।
গণি) ধ অর্থ কাম মােক্ষ সকলই
হই বিস্মরণ।
মরূপী উম্মত্ত বারণ।
আমায় দিব্যজ্ঞানময় সত্ত্ব
করে হয়।
আমি) অহঙ্কারে মত্ত হয়ে সকলই
হই বিস্মরণ।
ব্যায়রূপী মাৎসর্য ভীষণ,
প্রাণীপের মত করে সে,
অনিষ্ট সাধন।
পর-অমঙ্গলে রত, কিছুতে সে
শােনে না বারণ।
হে প্রভু করুণার আধার,
তুমি অধম সন্তানে কৰে
করিবে উদ্ধার
(হোতে) কাম, ক্রোধ, লোভ, মােহ, মদ,
গাৎসর্যের সাক্ষম ।

( ১ )
দীপ।
দীপখানি জ্বালো।
আকাশ ভরা পাখীর গানে
। ভিজিয়ে দিলে মধুর তানে
সুবাস মিশে বাতাস সনে
ই
ছুটিল
কুবাসনা' ছারিতে কে যেন
কানে ক'য়ে গেল
পাগল করা বাণীর তানে,
দাগীর ধারে ফুলের বনে
পুলকমাখা নবীন সুরে
অলি গুঞ্জরিল।
যেন মন কোণে ক’য়ে গেল,
দীপখানি জ্বালে।
শাখা-মরমর আম্র বনে
ঢেউ তরতর উলু বনে
পাতায় পাতার ঘষণে
বারতা ঘােযিশ ।
শুদ্ধ চি৫ে থাকিতে সতত
কে যেন বলি ।

( ১৫ )
পাকিস্ না অার অন্ধকারে
যুরিস্ কেন মায়ায় ঘিরে
মোহের বঁধন ছিরে দেরে
মরমে পশিল ।
যেন মন কোনে ক’য়ে গেল
দীপখানি জ্বালো।
*পে মোর হৃদয় আঁধার
জীর্ণ হয়েছে বীণার তার,
বাজিবে কি বিবেক বাণী
অার মন মন্দিয়ে ?
দীপ জ্বালা আর হল না,
পেলাম না ঈশ্বরে।
সে শক্তি হয় কোথায় পাব,
কেমনেই বা দীপ জ্বালা,
ভাষণ আঁধার ঘুচাবাে,
মন হৃদি অন্তরে।
হল না দীপ জ্বালা মোর,
রৈতে হবে আঁধারে।
ভেবেছিলাম জ্বালবাে আলো,
আঁধার হৃদয় হবে আলাে,
ঘুচে যাবে গনের কালো,
যাৰ চির আলোজে।

( ১৬ )
ধন্য হবে নর জীবন
তব অলোক পতে।
যৌবনের ঝড় বয়ে গেল,
সৌজন্য সাধুতা উড়াইল,
ভাল গুণগুলি নাশিল,
আছি তাই আঁধারে।
কেমনে জ্বালিব দীপ যে,
সদা ভাবি তাইরে।
সন্ধ্যা ছায়িল জীবন কেশে,
যৌবনের ঝড় গেল থেমে,
সদা জ্ঞান ধ্যান মাের,
কেমনে মিলিরে তারে।
কালাৰ ধৰ্ম্মের আলো,
না থেকে পাপ আঁধারে ।
বিরহাভিমান।
দিও না ব্যথা।
(সথি) দিও না ব্যথা,
আমি অতি অভিমানী
দুখিনী ও বিষাদিনী

( ১৭ )
বিরহিণী হৃদয়ে ধনি
দিও না ব্যথা।
(সখি ) দিও না ব্যথা।
শুনিব না তার নাম
কেন সখি গাও গান
কেন তুলে অই নাম
দেও মােরে ব্যথা।
দিও না ব্যথা,
( সখি) দিও না ব্যথা।
কোকিলের কুহু স্বরে
প্রাণমন লয় হরে,
ডেকোনা অমন করে
খাও মাের মাথা।
দিওনা ব্যথা।
(পাখী) দিওনা ব্যথা।
জ্যোস্না নিরব রাতে
নক্ষত্রের মালা হাতে
ছুটি যায় নাখের সাথে
করিতে দেখা।
মেটো ক্ষুধা,
(তার) পায়না দেখা
নদনদী কুলু তানে
৫
1
=
=

( ১৮ )
মাতােয়ারা বিভু নামে
তবু সখার সনে তারা,
পায়না দেখা।
আমি কিলো পাইব দেখা ?
শুনিব না সেই নাম,
কবি না তার নাম,
কেন তুলে অই নাম,
দেও মােয়র ব্যথা।
দিওনা ব্যথা,
(সখী) খিওনা ব্যথা।
গােপনে সঁপেছি প্রাণ
ত্যায়াগিছি কুলমান
তার কি এই প্রতিদান,
পেতেছি ব্যথা ?
(আর) ভাল বাসিবনা তারে
যে দেখা দেয় না মােরে
ফুলরাখি যাকু ঝরে,
যা মাল। গাথা।
নিরবে এসেছি ভবে
নিরবে যাইতে হবে
মিটিবেনা আশা গলে
দিয়ে মালা-গাঁথা।
( হায় ) ঘুচিবেনা ব্যথা।
।

( ১৯ )
আর সই অবিরাম
কোসনে মধুর নাম
কেমনে বুঝিবে তার
অদর্শন ব্যথা।
প্রতিজ্ঞা করেছি মনে
ডাকিনা প্রাণধনে
কেন মিছে ভােলামনে,
দে ও মােয়র ব্যথা।
দিওনা ব্যথা
(সখী) দিওনা ব্যথা।
শুনিবনা তার নাম,
গাহিবনা অই নাম
তুলিওনা অই নাম
খাও মোর মাথা
দিওনা ব্যথা
সখী। দিওনা ব্যথা।
আমেণ।
.
-
F
কে পাখী খাচায় বসি
ভাৰু হিস দিবানিশি
নালি বিষাদমাখাসকরুণ হন।

( ২০ )
কার তরে দিশে হারা
কেনরে পাগল-কার
প্রাণ মম কার তরে হয় আমচান ?
কাহারে ডাকিস্ পাখী
কে তাের হৃদয় সখী
রূপ-সুধা পানে কার হয়েছি ম্লান।
কার তরে তাের বল
প্রাণ মন টলমল,
কোন মন চোরে প্রাণ করেছিস্ দান।
বুঝেছি বুঝেছি পাখী
সে তােরে দিয়েছে ফকী
মায়েছ মজিয়েছ আমারি মতন।
আমারি মতন একা
দিয়েছিল তােরে দেখা
চলে গেছে কঁাদাইয়ে আমারি মতন।
অমারি মতন পাখী আমারি মতন।
তাই হয়েদিশে হারা
খুজিয়া হ’তে সারা
আমিও খুজিছি পাখী তােরই মতন।
তােরই মতন পাখী তােরই মতন।

( ২১ )
সরস্বতী বিসর্জন স্তুতি।
( কালিঘাট ইষ্টটউটে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে লিখিত।)
যেওনা জননী যেওনা জননী,
যেওনজননী ভকত প্রাণ।
কুসুম চন্দনে সাজায়ে তােমারে,
নয়ন সলিলে করাব স্নান।
এসেছিলে যদি দীনের কুটীরে,
কেনমা চলিলে কাদায়ে প্রাণ।
বড়ই বাসনা জাগে গাে জননী,
শুনিতে তােমার বীনার তান।
যেওনা জননী তিমির নাশিনী
জ্ঞানদায়িনী বাণী বিনাপানী।
মিলেছি সবে পূজিয়ে ভাসাতে,
অমল কমল চরণ দুখানি।
জননী আগমে নাচিল ধমনী
জাগিল কতনা পুলক হর্ষ।
মনে হ’ল বুঝি ভাগ্য ফিরিল,
মাতিয়ে আনন্দে পরে একবর্ষ।
ভুলিয়াছি সবে হিংসা দ্বেষ আর
এস সবে গাহি মাতার জয়।
কিসের দুঃখ ভাই কিসের দৈন্য,
জননী থাকিতে কিসের ভয়।

( ২২ )
কত যে সাধনা তােমার লাগি,
হতাস হৃদয়ে পথে পথে ঘুরি।
বরষের পরে এসগাে জননী,
জানিনা ফেলিতে ভকতি বারি।
কেমনে বিদায় দিবগাে জননী,
করমা আজিকে করুণ দান।
আবার এদিনে এসগাে জননী,
অভাগা সন্তানে কারিতে ত্রাণ ।
আজি যদি চলিলে জননী এক
ফেলিয়া অসীম গভীরতায়।
কেমনে ঘুচাবাে হায় এ দুখ কালিম।
বলে দে মা এ অসহায়।
নিরুদ্দেশ।
বলবাে কি দুখের কথা,
এ বুক ফেটে যায়।
আমি যারে বড় বাসতুম ভাল,
ষড়যন্ত্রে তার সর্বনাশ হলো ;
হ’রে নিতে সুযােগ সুবিধা দিল,
দুতিন বার নাকি বিক্রি হলাে,
খোজ না পাই।

২৩ )
একদিন এক বারবেলাতে
মুখে পায়ে জোরে কাপড় বেধে
কোথায় তারে নিয়ে গেল,
ঠিক ঠিকানা নাই।
যার সাথে সে মেলায় গেল,
মতলব তার মন্দ ছিল।
বাড়ী থেকে কি পরে হরিল ?
না ছিনিয়ে রাস্তায় নিল ?
পাওয়া নাহি যায় ;
কে যে তারে নিল হ'রে ?
রাখলাে কি বন্ধ করে ?
বেচে আছে কি মনে আছে,
খোঁজখবর নাই।
তারে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিল,
দোসরা কি তাই প্রেম করলাে ?
না পরে প্রলোভনে ভুলে রৈলাে,
তার বিষয় যে মনে হলে
অ চোখে বয়।
থাকতুম যে প্রেমভরে,
দেহে সুখে দুঃখে ভামরে,
ভালবাসার অভাবে কি,
এমন হলো
1

( ২৪ )
ঘাটে হাটে মাঠে ও বাটেতে,
বাগান-কুতীরে, দালানেতে,
জিজ্ঞাসিনু তােক দিনে রাতে,
কেউ না কোন খবর রাখে,
বারতা জানায়।
বলবে কি দুখের কথা,
এ বুক ফেটে যায়।
নদনদী উপবন,
উপহ্যক প্রবন,
কেউ না কিছু বলতে পারে,
একি প্রাণে সয় ?
হৃদয়ে দারুণ ব্যথা,
বল তরু বন, লতা,
আমার প্রাণেশ কোথা,
কে হরিল, কে রাখিল,
পরাণ যে তারে চায়।
দেখা হলে ধীরে ধীরে,
বুলিও বাতাস তারে,
তার তরে জন এক বসি,
কঁদে নিরালায়।
অবাধ গমন তো,
বল কোথা বধু মাের ;
3
০
.

{ ২৫ }
রাজা কি নিঠুর চোর ? .
নিব্লাশার আঁধারে আমি,
খাকি ক্ষীণ আশায়।
বড় ভাল বাসতু রে,
দেখা আর নাই।
কোথায় গেলে পাব তারে,
বুক যে ফেটে যায়।
আগমনী।
১১
অানন্দের ধারা যেন,
বাংলায় যেতেছে ব’য়ে ।
দশভুজা আগমনী,.
প্রকৃতি দিতেছে কয়ে।
কেহ বিদেশেতে যায়,
যায় কেহ পাড়াপায়,
কেহবা স্বস্থানে থাকি..
মাতে পুত্র কন্যা নিয়ে।
( কুলু কু ফনিক
দাড়ফেলে কারে জোরে,
খাইছে গুরুত্বে
গান গেয়ে যায় নেয়।
করে,

( ২৬ )
চলিয়ছে বঙ্গবাসী,
পুলক পরাণ লরে
ছোট ছোট ধান গাছ,
বৃহৎ মাঠের মাঝ,
হেলায়ে দোলায়ে কত
পবন যেতেছে ব'য়ে।
ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে,
পাখীগণ ভান ধরে,
হাসিছে চন্দ্রিকা রাতে
লাল কিরণ ছড়ায়ে।
রহিয়াছে নরনারী,
আনন্দ মগন হয়ে ১
সাদা মেঘ জল-ভরা,
ভাসিছে আকাশ-জোড়া,
ধরিয়ে রঙ্গীন আভা,
চাঁদ রশ্মি-জাল পেয়ে।
পেচা হয়ে দিশে হারা,
বন্ধ করে ঘােরাফেরা,
বিভোর হইয়া আছে,
উদ্ধদিকে চোখ চেয়ে।
সেজেছে প্রকৃতী দেবী,
শরতের বন্ধু হয়ে ।

( ২৭ )
বিছানা উপরে উঠি,
অতি কষ্টে বসে রােগী,
এদিক ওদিক চায়,
ক্ষীণ তার দৃষ্টি দিয়ে।
যুবক যুবতী যারা,
নানা সুখে আত্মহারা,
শারদীয় পূজা কথা,
প্রকৃতী দিতেছে কয়ে।
হরি পূজা।
১২
বদন ভ'রে সমস্বরে ভাইরে,
হরি বল হরি বল।
হরি পূজার বয়স কিছু নাই
হরি বল ভাই বল।
পিতামাতা সুতদরি,
পুত্র স্বার্থে ব্যস্ত বড়,
টাকা কড়ি ধন দৌলতু,
কি আর সঙ্গে যাবে বল।
সুদলে আঁখি সবই কী,
খাৰে সল।

( ২৮ )
যমপুর ও স্বরগ,
প্রত পাতাল নরক,
পারিজাত বৃক্ষ আর,
মন্দাকিনী নদী কল।
উর্বশী মেনকা আদিত
নর্তকীর দল।
বৈজয়ন্তে ইন্দ্র ইন্দ্রের
জল ছিটানাে ঐরাবতের
যােগী মুনি বা জ্ঞানীজনের,
কল্পনা কেবল।
কোথা হতে এসেছ যাবে কোথ,
কে জানে বল।
পাপ পুণ্য ধৰ্ম্মাধর্ম,
যত সদসৎ কৰ্ম্ম,
কৰ্তব্য অকর্নব্যাদি,
বছা শক্ত মল ভাল।
হরি যাতে হয় সুখী,
করে যওি সে সকল।
আলােচাল কল নৈবেদ্য,
গামছা ঘটি বস্তু ফর্দ,
দিলে গায় দেবতা পাষাণ মাটি
ফুল গঙ্গাজল।
.

( ২৯ )
পূজা হয়না তার শুধু,
বাজালে খােল করল।
মালা জপ তিলক কাটা,
করতে পার এটা সেটা
সংযম অভ্যাস দিয়ে,
ষড়রিপু বশ করে ফেল।
তা নাহলে ও সকল মিছে,
হরি পূজা ব্যর্থ হলো।
ধৰ্ম্ম নরের একচেটে নয়
নর নারীর দুয়েরই হয়,
ৰাধাবাধি বয়স কিছু নাই,
কর হরি যা বাসে ভাল।
সমস্বরে বদন ভরিয়ে ভাই,
হরি বল হরি বল।
সত্য নিষ্ঠা ও সাধুতা;
ন্যায় পরোপকারিতা,
হরি পূজার উপচার
যেই এ পূজা হবে ভাল।
এসব গুপের গুম হয়ে,
জীবন বড় করে তোল।

( . ৩০ )
দুর্গোৎসব।
শারদীয় দুর্গা পূজা,
ঘটা হয়েছে ভারি।
নৈবেদ্য বস্তু ফুল শোভে,
সারি সারি সারি।
গড়েছে প্রতিমা কুমার,
কলমে বুলিয়ে তুলি।
প্রাণ সঞ্চার করে পুরুত,
আউরে মন্ত্রবুলি।
সেজেছে ফটক নিয়ে,
দেবদারু পত্রদল।
দুইট কলসী পরে শােভে,
ভাব নারকোল।
নানাবিধ খাদ্য দ্রব্য,
-মহা আয়োজন।
বালক বালিকা সুরে,
করিছে ভোজন।
নুতন পােক পরে,
ঠাকুর দেখতে যায়।
পুলকের একটা হাওয়া,
চারিভিতে বয়।
.
.

( ৩১ )
ঢাক ঢোল বঁাশী ঘন্টা;
'বাজিছে সানাই।
কিনিয়াছে জুতা জোড়া
ব্রাহ্মণ বই।
দিবা রাত্র রামায়,
কখন সে পরে।
ঘুমায় চোরা রাতে,
জুতাে পায়ে পরে।
কাজে ব্যস্ত দার্সী,
কখন ভাল সাড়ী সে পরে।
কিনি দিয়েছেন কর্তা বাবু,
হাবরারপোল পেরে।
রাম করেছেন দুর্গা পূজা
শকতি লাভে আশে।
গিয়েটার বায়ােস্কোপ দেখে,
সবে জ রুসেভেলে।
ক্রোধ রিপুলি, .. ...
রেগে
কামরিপুৰলি
দেবে

( ২
বাইজি নাচে মত্ত হয়ে,
সুরায় গা ভাসায়।
থালা কাছে বেড়াল দেখে,
লোভী ব'লে মারে ।
চব্য চোষ্য কেহ পেয়,
গিন্নি ভােজন করে।
সন্ধি পূজা পুরুত ঠাকুর,
করে আরতি সন্ধ্যায় ।
কৰ্ত্তা গিন্নি ছেলে মেয়ে-ভাকে,
-
যাতে সবে যোগ দেয় ।
বাদ্য যন্ত্রে গলা ছেরে, • :
ছেলে গান গায় ।
“কালা ভুমি ফুল করি
অবলা,মজাও।
বাশি তানে এনে বনে ;
কেন ফিরে যাও।
ছুটে আসে গোপনারী,
তােমার বাঁশিতে হরি, • :~-
ডেকে এনেস:প্রাণ,
* Gন . কঁদ।
অবােগ রমণী যারা
কেমনে চিনিবে তারা,
চতুরহা ছেরে দিয়ে
রশন দেও।”

( ৩৩ )
ফুলদলবেলপাতা সকলে,
ছেরে দেবীর গায়।
মাথাকে ঐ ফুল বেল-পাতা,
আশীষ ল’য়ে যায়।
তিনদিন দেবী পূজা,
চতুর্থদিন বিসর্জন।
কি জমক করে লয়ে যায়,
নরনারী গণ ।
নিয়ে খালনদী পুকুরেতে,
দুবাইয়া দেয়।
বিনান্তে জলের ছিটা,
দেয় সবে গায়।
দুর্গার স্বামী মহাদেব নাকি,
মহাসিদ্ধি খাের।
সিদ্ধির দোকানে মস্ত ভিড়,
সিদ্ধি পাওয়া ভার।
সমবয়স্ক আলিজিয়ে সিদ্ধি পেলে,
মিষ্টি মুখ করে।
গেট নমস্কার করে দেয়,
মিষ্টি খাবার রে।
মিলখেরে ভুত হয়ে
সব.কপালে পরে
.

( ৩৪ )
অধব। বিধবা তাই দেখে,
মন গুমড়ে মরে
স্বামী স্ত্রীকে বলে প্রিয়,
তুমি মরাে আমার পরে,
স্ত্রী কহে তা হবে না,
তােমায় মরতে হবে পরে।
হরণ কাহিনী।
৭
১৪
বল বল বল প্রিয়ে বড়ই ব্যাকুল হিয়ে
আস্তে ধীরে হরণ কথা কর বর্ণণ।
প্রকৃত ব্যাপার আমি করি নিরূপণ।
প্রাচীরের আছে কান করিলে কথা শ্রবণ
বলেছো বলে হয়তাে করিবে পীড়ন।
কিম্বা নিৰ্যাতন ষড়যন্ত্রকারীগণ।
(কিছু দিন পর সব করিয়া শ্রবণ)
প্রকাশিলে তুমি যাহা প্রায় সব সত্য তাহা
জেনেছি করিয়া যাহা খবর সন্ধান।
বলিব তােমারে জাহা শুন দিয়া মন।

( ৩৫ )
মুসলমানে হরিল
সুযোগ সুবিধা দিল
পাওয়া গেল আবৃক্ষতলে শয়ান।
গামছা ভিজা জল দেয়, করি সন্ধান।
চক্রান্ত করে তোমায় দরওয়ানী মেলায়
নিয়ে গেল বিক্রয় করিতে একদিন,
মুখে পায় বস্ত্র বেধে করিল হরণ;
(ফিরায়ে তাহারা দিল বাড়ীতে না স্থান দিল
গ্রাম থিকে তাড়াইল পিতা-পরিজন,
আমাকে কিছুনা তারা করিল জ্ঞাপন).
কুমার শচীন্দ্র এনে রাখে এখানে সেখানে
মুসলমান রতনবাড়ী (আর) নানা স্থান,
কলিকাল, কৃষ্ণকালী ধামে (দিয়ে) প্রলােভন
টাকা কি বস্তু ভীষণ
করে অসাধ্য সাধন
চক্রান্তে মিত্রের দলে দিয়ে যােগদান;
বন্ধুত্বে হলাে অতুল ! কলঙ্ক মােপণ,
ত্যাগ করিয়াছি প্রিয়ে বলিল তোমারে গিয়ে
চাকরি নাশ চক্রান্তে লাভে).দিলে যােগদান;
বদলায় ষড়যন্ত্রে.কে) অনেকের মন।
নৌকা যােগে বেড়াইলে মারে দিবা রাত্রিকালে
এবিষয় আমি কিছু জানিনা তখন
ব্যস্ত বড়ই চাকৰি আৱরে ভীষণ
কৃষ্ণকালী মহলে । . নিয়ে এক
.
1
}
|

( ৩৬ )
রাজার ইঙ্গিতে হরিল সাহেবগণ,
বন্ধ রাখে আলিপুরে কুটীরে বাগান,
বিবিধ চিঠি লিখালাে পরে ফিরাইয়া দিলো।
ঘুচাতে এ অপবাদ দেয় প্রলােভন
ভাঙ্গিল জনরবে মন, করি সন্ধান।
বিশ্বাস করিনা আমি বেড়িয়ে গিয়েছে তুমি
দোষ ঢাকিতে বলে তারা দুএকজন।
নিলফামারি হতে আনি, হয় মিলন।
তৰ পিতৃকুলাদেশে তথাপি চাকরি নাশে
অফিসের লােক যােগাযােগে, দেওমন।
একলঙ্ক কোন কালে হবেনা মোচন।
: ১৫
চলরে চল চলরে চল,
প্রতিযােগিতায় চল
হার জিতে লাজ নাই,
বিদ্যা বুদ্ধি গুণ নিয়ে চল
গরীব হয়ে যুদ্ধে জেতা
করে নানা প্রতিযােগিতা

( ৩৭ )
সংসারে বড় শক্ততা,
হারিয়ে দেয় ধনীর দল।
গরীব নাকি থাকবে গরীব,
চেষ্টা করা নিল।
হিংসা দ্বেষেতে বুক ভরা,
বড় হ'তে দেয়না তারা,
নানা ভাবে দেয় বাধা,
করি ছল বল ও কৌশল।
চলবে কি ঐ ধারা করে,
গরীব জীবন বিফল ?
কেউ কিরে চাপতে পারে ?
অনেকে বটে চেষ্টা করে,
প্রতিভা বহ্নি জ্বলিলে তারে,
বাধা দেওয়া নিল।
ছড়িয়ে পরে চতুর্দিকে চল,
প্রতিবােগিতা চল।
প্রতিদ্বন্দ্বী আহবে হারা,
কেন থাকবি জ্যান্ত মরা,
থাকুক তাদের অর্থ ক্ষমতা,
কর হিংসুক কাল।
দরিদ্রের সহায় ভগবান,
তিনি তােৰ সল।

( ৩৮ )
অসাধু সাধু অর্থ জোরে,
মূখ জ্ঞানী ভব মাঝারে,
পাপী ধাৰ্মিক নাকিরে ?
অর্থ ই কাম্য বস্তু কেবল।
টাকা থাকলেই মানুষ,
হউক লম্পট বা খল।
প্রতিযােগিতার যুগ এবে,
যুদ্ধে খাদ্যের মােগঢ়ি হবে,
সোজা নয় অবস্থা উন্নতি করা,
এ যে কলিকাল ।
জীবন যুদ্ধে চলরে,
বিদ্যা বুদ্ধি গুণ নিয়ে চল।
কষ্ট পেলে নাহি ভাবনা,
সৎপথ কভু ছারবি না,
হয় তুই থাকবি গরীব,
বলে মন্দ কপাল।
সচ্চরিত্র, সাধু, জ্ঞানী হয়ে,
কাটুবে জীবন কাল।
যতদিন এ ধরায় রবে
যায় না বলা কেমন হবে,
দেহত্যাগের দিনেও তুই,
করতে পারিস ভুল।

( ৩৯ )
সকল মৰ্যদা মলিন হবে,
ওটাই হবে কাল।
যে ভাবে রাখেন প্রভু,
কষ্ট যদি পাও কভু,
সন্তুষ্ট থাকিবে তবু,
রেখোনা মনে পাপ জঞ্জাল।
করে যাও কৰ্তব্য কৰ্ম্ম ভবে,
যা থােক তার ফল।
পাগল।
#
১৬
কে তারে পাগল বলে ওরে
পাগল বলে তারে।
হিংসা দ্বেষে নহে ভরা,
পরহিতে আত্ম হারা,
ক্ষতি কোন করে না সে,
নির্যাতন করেনকারে।
কে তারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে হারে।
ক্ষমতা প্রয়াসী নয়,

( 8 )
নাহি তার কোন ভয়,
আত্মপর ভেদাভেদ নাই,
ভাল বাদে সবারে।
কে ভারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
প্রাচীন পদ্ধতি কোন বদলে দিলে
কি কারো মতের সঙ্গে না মিলিলে
তর্কযুক্তিতে না পেরে,
কেন পাগল বলিরে।
কে তারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
তার সাধুতা চরিত্র দেখে,
ইচ্ছা করে রাখি বুকে টেকে,
রক্ষা করি প্রাণ দিয়ে হতে
বিপদাপদে তায়ে।
কে রে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
তাহায় জ্ঞান অভিজ্ঞতা
অনেকেরই নাই যেত।
বুদ্ধি বিবেচনা দেখে যে,
অবাক হয়ে যাইরে।
কে তারে পাগল বলে ওরে,

( ৪১ )
পাগল বলে তারে।
মানুষ হতে লাগে যাহা
সবই তার আছে তাহা
বড় দুখ যাতনা বুকে
তাই আমি ঘেরে ফেরে।
কে তারে পাগল বলে 'ওরে,
পাগলি বলে তারে।
আয়ের পথ যেটুকু ছিল
জোর করে বন্ধকরে দিলো
টাকা অভাব হয়েছে বলে কি,
পাগল হবেরে ?
কে ভারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
ভিখারী কাঙ্গাল যারা
পাগল কি সবে তারা
সবার দোষ কিবি তারে,
পাঠায়ে যম দোরে।
কে তারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
হেরি একি ব্যবহার,
কি আর বলিব আর,
অতি বৃণিত অতীব নীচ,

৪২ )
যন্ত্রণা দেয় তারে।
কে তারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে হারে।
হীনে ত্যাচার বাণ
করে নানা অপমান
দূর দূর করে কেহ,
মরলে বাচে হাঁফ ছেরে।
ক তারে পাগল বলে ওরে
পাগল বলে তারে।
পাগল হাওয়া করেছে যারা,
সবাই অর্থ গর্বে মত্ত তারা,
ধনী ধনাহারে বলে,
পাগল করিয়া দেরে”।
কে তারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
তাহাদের নাকি মান থাকে না,
মানুষ হতে কিছুতে দেবে না,
মান সভ্ৰম কাকে বলে
বলবে কি তারা তারে ?
কে তারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
বেশ ভালমানুষসেম,

( 63 )
জ্ঞানময় কথা কয়যে
এমন ঈশ্বর ভক্তি কোথায়
দেখেছিস্ কিরে ?
কে তারে পাগল বলে ওরে,
পাগল বলে তারে।
কাহারে কিছু সে বলে না,
বাজে কথায় সে থাকে না,
এমন লােকের ও শত্ৰ থাকে,
হায় দুনিয়ারে।
অপদ বালাই যে যদি হয়
অন্নাভাবে যদি মরিতে হয়
আমরা বাচিয়া কি করিব,
এ বয়সে স্থবিরে।
কে তারে পাগল বলে ওরে
পাগল বলে তারে।
দেখিলে প্রাণেতে হয়
বড় দুখ ক্ষেদ'হয়,
মানুষ অমন দেখিনা,
পাগল বলি নারে।
এই সৃষ্টি ভাল দুনিয়াটা
কহ,ভেবেছি নয় ততটা
মৃণা হয়েছে লোক চরিত্রে,

( ৪৪
ভাল কিছু লাগে নারে
তার মদ্য পাগল হব,
পাগল করিয়া দেরে।
নির্দোষী
১৭
অাশ্চর্য ষড়যন্ত্রে করে,
দেহ ও মন বিষম জ্বালা
চলিছে রগঢ়, মজা, গোলমাল,
জীবন নিয়ে খেলা।
বাতাসের ঢেউ উঠিছে পড়িছে
নিদ্দোষী ও দোষী পলকে হইছে
অফিস্ মাঝারে কত সে ভাবিছে,
ঘর করিয়ে আলা।
বিষাদ কালিমা বদনে ভাসিছে,
জনম দুখীরে দেখিয়া হাসিছে,
প্রাণের ব্যথা কেহ না বুঝিছে,
বড় অসহ্য এ জ্বালা।
অনেক মন হেলিছে দুলিছে,
এক সন্দেহের দোলা
ষড়যন্ত্রে বুদ্ধি বাহারা এটেছে,

৪৫ )
বিচারে তাহারা কেহ বসেছে,
নানা ভাবে দুখ যন্ত্রণা দিয়া,
চলে বিচারের পালা।
অফিসের যে ডিসিপ্লিন থাকেন,
কি করিবে উপায় ভেবে পায়না,
কোন কথা নাকি তার শুনিবেনা,
কানে দিয়েছে তুলা।
নানা জনের নানা কথা শুনে,
কান হলাে ঝালাপালা।
সবাই তাহারে নির্দোষী বলিছে,
ষড়যন্ত্র সকল ধরা পরেছে,
হাসে নাচে কেহবা কঁদে, বলিছে
পলারে তুই পলা।
বিনা দোষেতে সাসপেণ্ড করলে
বিনা কৈফিয়তে ডিসমিস হলো
আপীল আবেদন না শুনিল,
করে পরামর্শ সলা ।
চাকরীর ইতিহাস হলো,
অবিচার কলঙ্কে কালা

( ৪৬
)
প্রত্যাখ্যান।
১৮
কত বেলা গেছে মধ্যাহ্ সন্ধা, দিন বিভাবরী।
আমােদ ও প্রসােদ সুখে, কত দুখ অশ্রু বারি।
কত ব্যথা হাসি কান্না,
বিবিধ ফেদ যাতনা,
হৃদয়ে লাগিছে নিয়ত, বুক তােলপাড় করি।
এমন সময় এসে,
শনিবার দিন শেষে,
দিলে সহসা দেখা, একুশে জুন নিলফামারি।
কথার জবাব দিয়ে,
এমন দাইয়ে,
যেন এস্ত হয়ে কার ডাকে গেলেমােরে ছারি।
গিয়েছিলে না বলে পুনঃ রহিলে বাপের বাড়ী।
আসিতে সাথে চাহিলে,
প্রত্যাখ্যান না করিলে,
হয়তাে জীবন ঘটনা বলী যেতে সব ঘুরি।
দেখি নহি ঘরে বাহিরে,
রেখেছিলাে কি বন্ধ করে ?
কিছু দূরে, হাত ধরে বা ডেকে নিয়ে অন্য বাড়ী ?
আরতো এলেনা ফিরিগাে, আরমে এলেনা ফিরি।
তােমার মন ক'রে গরি,

( ৪৭ )
রুনু ঝুনু বাজায়ে চুরি,
ই আসি বলে চলে গেলে, দেখা দিলেন ফিরি।
(সেদিন রাতে দেখা দিলেনা ফিরি।
আর সাথে দেখা হলাে না,
কথা ছিল লা হলো না,
এলেনা ফির, পরদিন আরতাে এলেনা ফিরি।
আরক্ত সূৰ্যাস্ত রাগে,
কে যেন গাে ছবি একে,
দিল, দুখ দগ্ধ হৃদি পটে, তুলি দিয়ে,আমারি
চলে গেলে সন্ধা আগে, আর দেখা দিলেন ফিরি।
ছেরে দিলে তুমি মােরে,
স্মৃতি গুলি নাহি ছারে,
কথা দিয়ে কঁদয়ে, তারা আয় ঘুরি ফিরি।
জানিনা ভুলিব কবে, আসে ভাবনা সারি সারি।
অ।
বিদায় দিয়েছি:অর শুরু নয়নের জলে।
অব্যক্ত ক্যাবােকার 'খেলে।
মনের পকম্মা কেমনে বুঝাব তাহ,

( ৪৮ )
কত যে বিষাদ দুখ জেগে দেহ গেল জ্বলে।
হাহুতাসে হাহাকারে শােক-ভরা বুক চিরে,
ক্রন্দন কল্লোল এক দশদিকে গেল খেলে।
বিদায় দিয়েছি তারে, জানিনা কি আছে ভালে।
কাদে যেন প্রজাপতি আর জন্তু পক্ষী আদি,
প্রকৃতি ফেলিল অশ্রু দেখা গেল ফুলে ফুলে।
সে ত্যাগের গুপ্ত কথা. লিখিল লেখনী গাঁথা,
গাহিল মানস পাখী শােকধ্বনি হৃদি বিলে।
ভীষণ চক্রান্ত নীচ দিল এক অগ্নি জ্বেলে।
কি এক তরঙ্গ তুলি
মনমাঝে দিল যেন অশ্রুবারি কল খুলে।
মায়াহীন ব্যবহার
কলঙ্ক নীচ তার
অবশেষে দীর্ঘশ্বাসে অমনি তা নিবারিলে।
ছাযিল যন্ত্রণা চিহ্ন দেহে শুষ্ক অঞ্চলে।
অদ্ভুত ঘটনাগুলি
যাচনা।
ম
দেখা দিয়ে করি যাচনা ,
মাঝে মাঝে দিয়াে দেখা, প্রাণ সখা,
নয়ননীরে ভাসায়াে না।

( ৪৯ )
দিদৃক্ষ আমার তুমি যে দয়িত,
ঘুচাও হে ব্যথা হৃদয় পীড়িত,
করহে শীতল পরাণ তাপিত,
দেখা দিয়ে করি কামনা।
আপন ও পর সবারে চিনেছি,
সংসারের প্রেম ঘটিয়া দেখেছি,
ভিতর বাহির বিভিন্ন প্রকার,
এই কথা সাৱ বুঝেছি।
অশুদ্ধ অপবিত্র দয়া বিহীন,
বনাময় নর নারীর মন,
তুমি শুধু এস প্রাণে শান্তি দিয়ে,
দূরে যাবে সব ব্যাদনা।
দুখ ক্ষেদ মাের তােক অবসান,
এ সংসারে মন চাহেনা।
স্বার্থ শূন্য প্রেমে হেসেছি কেঁদেছি,
স্নেহের বাধনে কতরে বেধেছি,
সে স্বরগের প্রেম পূত পবিত্র,
বৃথা ভালবাসা ঢেলেছি।
বিরাগ বিতৃষ্ণা হইয়াছে প্রেমে,
তােমারে এ প্রাণ সঁপেছি।
মনে বড় জ্বালা, চাহি প্রেম আলা,
বেশী কিছু আমি চাহিনা।

( ৫ )
মাঝে মাঝে দেখা দিয়ে। মােরে সখা,
হাসিব, আর কাঁদিব না।
গৃহখানি।
২১
এই সেই গৃহখানি এই সেই ঘর্ব ।
প্রেম, হাসি, কান্না, সুখ, দুখের আকর
শিশু প্রসবের তরে নিলফামারি প্রিয়ারে
রাখিল, পরে ঘটিল হরণ ব্যাপার।
পৃথক হইয়ে এনে (যেথা) করে নিয়ে ঘর।
কতদিন এল গেল
দুখ রাতি পােহাইল
সম্ভাবনা হলে কত বড় চাকুরির।
করিল চাকরি সমর বাঙ্গালী বীর।
মহান হৃদয় লয়ে কত অশিা বুকে নিয়ে
যাইত অফিসে আবার ফিরিত ঘর।
দাড়ায়ে গৃহ ঐ প্রকাশে কাহিনী তার ।
অতীত অপূর্ব কথা
পথিকেরে দেয় ব্যথা
খ্যাত আপীল হয় ডিমিষের পর।
ঘটালাে বিচ্ছেদ করি ঘাের অবিচার।

( ৫১
আশীষ।
জ্ঞাশীষ দেওহে জগৎ পিতা
মােরে আশীষ দেও
ভক্তি প্রেম পুস্পাঞ্জলি পিতা,
তুমি আমার লও।
কান ক্ৰোধ লেভি আদি
হিংসা দ্বেষ ভয় যদি
বিরাজ করে শক্তি তাদের
তাড়াইলার দেও।
অস্পৃশ্য মূর্খ গরীব প্রতি
ঘৃণবজ্ঞা কভু করে থাকি,
ধন গর্ব খর্ব করি দিয়ে,
দরিদ্র করি লও।
মানুষের দোষ হবেই হবে
ক্ষমা নাহি করিলে কে করিবে
বিবেক বাণীর ভিতর দিয়ে
ভাল করি লও।
পিতা তোমার এবিশ্ব.মাঝে
দশের দেশের নানা কাজে,
আমারে কি করতে হবে কও,
কানে কানে কও

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Kabitta-gatha Ed.1st

Author
Dasgupta ,sunilkumar
Title
Kabitta-gatha Ed.1st
File name
Kabitta-gatha Ed.1st
Text
OCR done
Citation
1931
Published
2009/12/29
Publisher
Dutta Brothers And Co.,barishal
Language
Sanskrit
Pages
64
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Dasgupta ,Sunilkumar
DLI number
511137
Barcode
4990010018312.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
gqWBjhcLEF3
Download PDF

Kabitta-gatha Ed.1st