Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Kuranga
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কুরঙ্গ।
মহম্মদ(আজিজ)উস, সােভান
মূল্য বার কানা।
“প্রান্তরে প্রান্তরে বনে কে আগুন জ্বেলে দিলি
চকিত কুরঙ্গ সম হৃদি
আগুন জ্বালা’য়ে বনে কেনগাে রােধিলি পথ
কে বধিলি অনলে দগধি।”
**
প্রকাশক
ধীরেন্দ্র নাথ মুখােপাধ্যায়,
সম্পাদক, অতুলশিব ক্লাব,
লাভপুর, বীরভূম,
সূচীপত্র পরিচয় ১৭ মর্মকথা এত কি কঠিন মারা-কাটারী বঁধুয়া রহল পরবাসী পতি বিরহে... ৫১ প্রণয়ের প্রাণ ৪০ ৮ ০ ০ ০ তাই হেসে কথা কহেনা ৫৪, ১০ + + ৫ মরম কাহিনী আমারে ভূলালে কে আমি তােমারই जाय আমি এইখানে বসে রব অন্তিমে • • কি দোষ ••• ১৪ ৬১ . এ . ১৭ আবার বসন্ত ফিরে এল বাগম বাশী ০ ০ ০ " প্রেম দিও দেখা ৭১ কারে ভালবাসি ২৩ ৭ , । ফুলের ভালবাসা প্রণয় ০০ ০ .. ৭৭ ••• এ হেন বারতা তুলনা বাসনা ৮০ ০০ শিশু বিধি বিধাতা ও মাতৃভূমি অনাথের অশ্রুবিন্দু অামি বাহিত ভারত বুকে ৮৩ p০ । বিরহ ৮৬ ••• ৮১. ঘুম ঘােরে ...
PRINTED BY BHOLANATH DAS AT THE ECONOMICAL PRESS, 4/2 Mulhu Gupta Lane, Calcuttam * * *** কবি-কথা কবি ও কবিতা বড়ই দুল্ল ভ—বিশেষতঃ, এই সুলভ ছাপাখানার যুগে। কত লেখকের কত লেখা-দেখিতে কবিতারই মত, প্রতিদিন বাহির হইতেছে। ইহার মধ্যে, কোন্ লেখাটা প্রকৃত কবিতা, আর কোন্ লেখক প্রকৃত কবি, তাহার বিচার করিবে কে ? আমরা এই গ্রন্থে, এক জনের কতক গুলি কবিতা প্রকাশ করিলাম। যাহার লেখা, তিনি ইহলােকে নাই–বার বৎসর পূর্বে ম-লীলা শেষ করিয়া তিনি চলিয়া গিয়াছেন। তিনি আমাদের প্রিয় বন্ধুমহম্মদ আজীজ উস, সােভা। তিনি অনেক লিখিয়াছিলেন—অনর্গল লিখিতেন—অতি স্বচ্ছন্দে লিখিতেন—অনেক সময়ে অনর্গল বলিয়া যাইতেন, আমি লিখিয়া যাইতাম। কিন্তু, সেই সব লেখার অধিকাংশই হারাইয়া গিয়াছে। উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করিতেছি; অরি কিছু পাওয়া যাইবে কিনা, বলা যায় না। মহম্মদ আজীজের পৈতৃক নিবাস, বর্ধমান জেলার অন্তর্গত কাটোয়ার অধীন পালিটা গ্রামে। তিনি ও তাঁহার দুই ভ্রাতা, শৈশবে পিতৃমাতৃহীন হইলে, সিউড়ীর তদানীন্তন মােক্তার তঁাহার জেষ্ঠতাত, মুন্সী জালালুদ্দীনের আশ্রয়ে আগমন করেন এবং তদবধি সিউড়ীতে চির-বাস-স্থাপন করেন। স্নেহময়ী জেঠাইমা, এই পিতৃমাতৃহীন শিশুকে, জননীরই মত মেহের সহিত লালন পালন করেন। মহম্মদের বয়স যখন ৯ বৎসর, তখন মুন্সী মহাশয় পরলােক গমন করেন। সুতরাং এই নিরাশ্রয় শিল্প অচিরে পুনরায় অভিভাবকহীন হইয়া, অবাধে ও স্বচ্ছন্দে যথেচ্ছভাবে সময় কাটাইতে লাগিল। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার উপর সংসারের ভার পড়িলে, কোন কাপ সামান্য চাকরী করিতে আরম্ভ করেন। তিনি দুই শিশু ভ্রাতার অভিভাবক হইলেও, কােন শিক্ষার বিয়ে, ইচ্ছানুরূপ কর্তব্য সম্পাদন করিতে সমর্থ হন নাহ আজীজের উপর নিয়ত সতর্ক চক্ষু রাখিয়া, “তাহার স্বভাবের গতি সংযত করিবার সুযােগ প্রাপ্ত হন নাই। মধ্যম ভ্রাতাও অল্প দিন মধ্যে সামান্য চাকরীতে প্রবৃত্ত হইলে, এই পরিবারের দুঃখ কষ্ট অনেক পরিমাণে লাঘব হয়। ইহাই ‘কুরঙ্গ- লেখকের শৈশব-জীবনের ক্ষুদ্র ইতিহাস। মহম্মদ, আঞ্জী উস, সােভান্ কি প্রকারের কবি ছিলেন এবং তাহার রচনাগুলি কতদূর প্রকৃত কবিতা পদবাচ্য, তাহা বলিবার আমার কোন অধিকার নাই। এই মাত্র বলিতে পারি যে কবির সমগ্র জীবন, কবিতার মধ্য দিয়া সমরূপে অধিকাংশ স্থলেই প্রকাশিত হয় না। সহৃদয় পাঠকের আস্বাদন ও অনুভূতি, লিখিত কবিতার সাহায্যে, কবির হৃদয় ও জীবন উপলব্ধি করে। এই কবির সমুদয় কবিতাগুলি, যদি সংগ্রহ করিয়া প্রকাশ করিতে পারা যাইত, তাহা হইলে আমি নিজকে ঋণ-মুক্ত বলিয়া মনে করিতে পারিতাম এবং পাঠকেরাও কবিকে বুঝিবার উপযুক্ত উপকরণ পাইতেন। এই কবিতাগুলির লেখকের সহিত, আমার নিজের জীবনের সম্বন্ধ কি, তাহাই আমার বলা আবশ্যক। কবি অ'মার প্রতিবাসী, সহপাঠী ও প্রায় সম বয়সী ছিলেন। সিউড়ী সহরের একেবারে উত্তর প্রান্তে খােলা মাঠের উপর, সহরের একেবারে সীমান্তে, একটি ছােট রাস্তার দুই ধারে আমাদের দুই জনের বাড়ী। সিউড়ী, বীরভূম জেলার সদর সন-আদালত, উকিল, হাকিম ও আফিসাদি আছে বলিয়া সহর- নতুবা, ইহা মােটেই সহর নহে; মানুষগুলিও একেবারে সহুরে মানুষ নয়। রাদেশের একেবারে পশ্চিম সীমা, অতিপরিচ্ছন্ন একটি বৃহৎ গ্রাম সিউড়ী, ; ক্রমশঃ, সিউড়ী সহর হইয়া যাইতেছে। কিন্তু আমাদের কৈশোর ও যৌবন, সিউড়ীতে গ্রাম্য-জীবনেরই সুখ ও শান্তি উপভোগ করিয়াছে। বাড়ীর নীচেই খােলা মাঠ, ধানের ক্ষেত, পুকুর, তালগাছ-তার পর মাঠের পর মাঠ—উত্তর-পশ্চিম দিকে ক্রমােন্নত পাহাড়ের ধূম্রছায়ায় দিগন্তরেখা সুরক্ষিত, অদূরে ময়ূরাক্ষী নদীর বালুকাময় বক্ষঃপরপারে বনভূমি ; মাঠের ভিতর পুকুরের ধারে, ঋতুর পর ঋতু, বনদেবীর নব নব বেশ বিন্যাশ ; কত রকমের মানুষ—কলিকাতা অঞ্চলের বাবু, সাহেবী পােষাক-পরা সভ্য মানুষ হইতে তীর ধনুকধারী অর্ধ উলঙ্গ সাঁওতাল, পাখীর পালক মাথায়-দেওয়া পাড় ; ধান কাটা, আখের সাল, মাঠে কুল, আম, তেঁতুল খাওয়া—এই সব উৎসব ও আমােদ—ইহার মধ্যে তরুণ জীবন, যখন তাহার অনির্বচনীয় মাধুরী আস্বাদনে বিভাের ছিল, কল্পনার পাখা মেলিয়া, উধাও উড়িয়া—মাঠে, বনে, নদীর ধারে কেবল খেলিয়া, নাচিয়া, গাহিয়া, ছুটিয়া বেড়াইত--এই কবিতার লেখক, তখন আমার নিত্য সহচর ছিল। কবিতার রসাস্বাদন, মানব-জীবনের একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। মানব মাত্রেই কবি। কাহারও কবিত্ব প্রকট হয়—কাহারও প্রকট হয় না; কাহারও কবিত্ব উচ্ছ ঙ্খলতায় বিপথগামী বা ক্ষতি হইয়া যায় ; কাহারও কবিবৃত্তি সুনিয়ন্ত্রিত হইয়া জগতের সেবা করিয়া ধন্য হয় ও নিজের জন্য কীর্তি-সৌধ নির্মাণ করে। কিন্তু কবি সকলেই। আমাদের ন্যায় সাধারণ মানুষ, কৈশােরে ও প্রথম যৌবনে কবিতার পূর্ণতমরূপে উপভােগ করিতে পারে। শেষ জীবন পর্যন্ত যাঁহারা যথার্থরূপে ও গভীর ভাবে এই কবিত্ব রস উপভােগ করিতে পারেন, তাহারা ভাগ্যবান ও সাধক শ্রেণীর লোক। আমাদের এই যে কবি, ইহার জীবন অসাধারণ রকমের। কিন্তু সাংসারিক হিসাবে একেবারে নিস্ফল হইয়া গিয়াছে। সেই বিফল-জীবনের বিষাদময়ী কাহিনী সৰ্ব্বদাই চিন্তা করি এবং সে কাহিনী সকলের নিকট বলিতে আকাঙ্খাও জাগে। এখনকার দিনে, সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভদ্র- লােকের ছেলের, ছাত্র জীবনে যে অবস্থায় থাকে, আমিও অবশ্য সেই অবস্থায় ছিলাম। সে অবস্থা, সে সময়ে যে সকলের নিকট সুখকর বলিয়া মনে হয় না বরং একটা যে বেশী রকমের বন্ধনের দশা বলিয়া মনে হয়, তাহা বলাই বাহুল্য। প্রাতঃকাল—কোমল উজ্জ্বল সূর্যকরে ধান্যশীর্ষ নাচিতেছে, উড়িয়া উড়িয়া, গাহিয়া গাহিয়া পাখীরা ছুটাছুটী করিতেছে। বালকের চিত্তও খােলা মাঠের মুক্ত হওয়ায় অজানা পনের কুঞ্জে কুঞ্জে, কিম্বা নদীর ধারে বালীর উপর, জলের স্রোতের সঙ্গে একটু ছুটাছুটী করিতে চায়। কিন্তু উপায় নাই; পড়িতে হইবে—ভাল লাগুক বা না লাগুক, পড়া মুখস্থ করিতেই হইবে । সময়ে খাইয়া, ছুটিতে ছুটিতে বিদ্যালয়ে হাজিরা দিতেই হইবে। ভৰ্ত্তি পেট, ঘুমে যদি মাথা ঢুলিয়া পড়ে, কাষ্ঠাসনের উপর দাঁড়াইয়া থাকিতে হইবে। বন্ধন! বড়ই কঠোর বন্ধন । সারা দিন রুদ্ধ ঘরে বসিয়া থাকা, হৃদয়ের রস রাশি, যাহা বাহ্য প্রকৃতির সহিত চির জ্ঞাতিত্বের সম্বন্ধসূত্রে বদ্ধ, তাহা শুকাইয়া যায় । এমনি করিয়া জীবন-যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইতে হয় । যাহারা ভাল ছেলে, তাহারা এই জীবনে পােষ মানিয়া থাকে। এই কবিতার লেখক যিনি, তিনি এ প্রকারের পােষমানা ছেলে ছিলেন না। যদিও প্রতিবাসী, বিশেষ পরিচিত, সহপাঠী এবং খেলার সাথী, তথাপি তাহার জীবন আমার কাছে এক অজ্ঞাত রহস্যে অচ্ছিন্ন বলিয়া মনে হইত তাহার চলা-ফেরা, কাজ কর্ম, সবই নূতন বলিয়া ঠেকিত। সে যেন এক মুক্ত আত্মা—এক কোন্ অহ্মান, দূর বনের পাখী, অামাদের খাঁচার ভিতর থাকিয়াও, এখানকার বুলি, এখানকার অদিব-কায়দা, ঠিকমত শিখিয়া উঠিতে পারে। নাইবা, ইচ্ছা করিয়াই শেখে নাই। তাহার সহিত দিবসে ও রাত্রিতে . . -মাঠে, বনে, নদীর ধারে ঘুরিয়াছি, গাছে উঠিয়াছি, দোল খাইয়াছি, ফল পাড়িয়াছি, ফুল ছিড়িয়াছি, পাখী ধরিয়াছি, জলে সাঁতার দিয়াছি কত নূতন নূতন লােকের সহিত, কত নূতন রকমের আমােদ কৌতুক করিয়াছি! জীবনের সে স্বর্গস্মৃতি-তারুণ্যের সে নন্দন-বিলাস-কল্পনার সে মাকিনী ধারা। অতি শৈশব হইতে সে কবিতা আবৃত্তি করিত-মুখস্থ করা কবিতা নহেসঙ্গে সঙ্গে রচনা করিয়া আবৃত্তি করিত। সে সিউড়ী মধ্যইংরাজী বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়িয়াছিল। আমি প্রথমাবধি জেলা স্কুলে পড়িতাম, কাজেই সে সময়ে সহপাঠী ছিলাম না। জেলাস্কুলের ষষ্ঠ শ্ৰেণতে সে আমার সহপাঠী হইল। মুখে মুখে কবিতা রচনার খ্যাতি, সে বাঙ্গলা স্কুলে পড়িবার সময়ই লাভ করিয়াছিল। তখন তাহার মার বয়স কত? আন্দাজ বার বৎসরের সময় সে জেলাস্কুলে আসে; সুতরাং তাহার পূর্বেই সে সচ্ছলে ও দ্রুতগতি ছন্দোবদ্ধ কবিতা রচনা করিতে পারিত। যষ্ঠ শ্রেণীতে পড়িবার সময়, অর্থাৎ কবির বয়স যখন প্রায় বার বৎসর, সেই সময়ে একদিন সিউড়ীর পশ্চিম দিকে ভাঙ্গাল পুকুরের উত্তর পশ্চিম কোণে, জজ সাহেবের কুঠীর সদর দরজার নিকট, একটি বটগাছের লতানে তালে দোল খাইতে খাইতে, তাহার সহপাঠী বন্ধু-বৰ্তমান খায় বাহার গযুক্ত হেমন্ত কুমার রায় (Deputy Post Master General, Bangl) ও সিউজীর সুপরিচিত উকীল শ্রীযুক্ত গিরিজা প্রসাদ রায়, অথকে একটি সময়ােচিত গান রচনা করিয়া গাহিতে বলিলে, কবি সঙ্গে বলে মুচনা করিয়া গাহিয়াছিল— কে চিল, আহা মরি, এ সংসার চমৎকার। পুরবে সুষ ধরি ধরি উদিত সহ রূপ মাধুরী :: পশ্চিমেতে লয় গিয়া নিরূপিত স্থান তার। উদ্ধপথে শােতে তার মধ্যে চত্র অন্ধকার। এই যে সংসার সারা চতুর্ধিকে গােলাকার। উপথে দৃষ্টি কর, প্রশান্ত আকাশ হের, তুমি কি বুঝিতে পার অপার মহিমা তাঁর। আমিও, অন্যান্য সহপাঠী সঙ্গীদের সহিত, তাহার এই স্বচ্ছন্দ রচিত কবিতার আবৃত্তি ও গান শুনিতাম—আনন্দিত হইতাম, মুগ্ধ হইতাম এবং ভাহার প্রতি একটা গভীর শ্রদ্ধা জাগিত। আমার প্রতিবাসী বলিয়াই হউক, আর বুঝি বা না বুঝি, কাব্য ও কবিতার প্রতি বাল্যাবধি একটা স্বাভাবিক অনুরাগের জন্যই হউক, সহপাঠী বন্ধুদের ভিতর সে ফেন বিশেষ করিয়া, আমার একটু বিশেষ রকমের আপনার ছিল। আমি তাহাকে অনেক সময়ে কবিতা রচনা করিতে বলিয়াছি-সে মুখে মুখে বলিয়া গিয়াছে—আমি লিখিয়া লইয়াছি। 'শি, বাঁশী, ‘প্রণয়, বিধি- প্রভৃতি কবিতা এই ভাবেই রচিত হইয়াছে। আবার, তাহাকে খাতা দিতাম, পেন্সিল দিতাম—বলিয়া দিতাম, কবিতা লিখিতে হইবে। লিখিত ; কিন্তু কোন জিনিষ যত্ন করিয়া রাখা বা হিসাব করিয়া চলা তাহার চরিত্রেই ছিলনা। খাতায় কবিতা-লেখা-পাতা ছিড়িয়া তামাক খাইত-তামাক রাখিত! তাহার নিজের রচনার প্রতি, তাহার একেবারেই মমতা ছিলনা সেই মমতা ছিল আমার। জনক অপেক্ষা পালকের মমতা অধিক, ইহা চির প্রসিদ্ধ। অবশ্য আমার এই মমতা ঠিক সফল করিতে পারি নাই——কারণ অনেক ভাল ভাল কবিতা নষ্ট হইয়া গিয়াছে ; কোন কোনটির দু'একটি চরণ, এখনও মাঝে মাঝে মনে পড়ে আপন মনে আবৃত্তি করি, আর সেই সুদূর অতীতের উদ্বেগহীন মধু- জীবন, তাহার অসীম রহস্য লইয়া হৃদয় মধ্যে জাগিয়া উঠে। কাজেই এই কবিতাগুলি আমার নিকট, কেবল ছন্দোবদ্ধ ভাষা নহে—অধিকাংশ কেন, সকল কবিতা রচনার উপলক্ষ ও ঘটনা, আমার মনে রহিয়াছে। যে লিখিত, তাহার চোখে, মুখে, অঙ্গ-ভঙ্গিতে ও কণ্ঠ-স্বরে, ভাব মূর্ত হইয়া উঠিত। সেই ভাবের দায়ে, যে মানুষটি পাগল হইয়াছিল, সেই পাগলের সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, আমোদ প্রমােদ ও জীবন মরণ—সবই আমার মানস নেত্রের পুরােদেশে ভানিয়া বেড়াইতেছে। সুতরাং এই কবিতাগুলির সমালােচনা আপাততঃ আমার পক্ষে সম্ভব নহে। অনু• সন্ধানের ফলে, ভগবানের কৃপায়, আরও কবিতা ও গান যদি পাওয়া যায়, তাহা হইলে ভবিষ্যতে কখন সে বিষয়ে চেষ্টা করিতে পারি। আমার একটা কৌতূহল আছে—অন্যের নিকট ; যাহারা কবিকে দেখেন নাই, তাহার বিষয় কিছুই জানেন না, তাহাদের নিকট এই রচনা গুলি, কবির পরিচয় কতটুকু দিতে পারে ? এই এক কারণ ; আর, এক জন অতি প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন বন্ধুর প্রতি কর্ত্তব্য পালন। এই দুই কারণে তাঁহার রচনাগুলি একত্র করিয়া জনসমাজে প্রচার করিবার আগ্রহ অনেক দিন হইতেই আমার ছিল। ইংরাজী ১৮৯৪ খৃঃ আমার বন্ধু বড়রা গ্রাম নিবাসী শ্ৰীযুক্ত মন্মথনাথ ঘোষ মহাশয়, আমার নিকট রক্ষিত মহম্মদ আজীজের কবিতাগুলি ছাপাইবার জন্য, আমায় কিছু অর্থ সাহায্য করিয়াছিলেন। কবি তখন জীবিত ছিলেন—সে সময়ে কবিতাগুলি ছাপাইতে পারিলে, বড়ই সুখের বিষয় হইত এবং দশ জনের নিকট কবিতার কিছু আদর হইলে, কবির কিছু পরিবর্তন হইত কিনা, তাহাও দেখিতে পাওয়া যাইত। কিন্তু বিধাতার ইচ্ছা অন্যরূপ—তখন পুস্তক ছাপান হয় নাই—ঐ অর্থ দাতাকে ফেরত দেওয়া হয় । ইংরাজী, ১৯০০ সালে কীর্ণাহার গ্রাম হইতে শ্রদ্ধেয় বন্ধু লব্ধপ্রতিষ্ঠ সাহিত্যিক স্বর্গীয় নীল রতন মুখােপাধ্যায়, বি, এ, মহাশয়ের সম্পাদকতায় ‘বীরভূমি মাসিক পত্রিক বাহির হইলে, আমি তাহাকে মহম্মদের কয়েকটি কবিতা পাঠাইয়া দিই। কবিতাগুলি বাহির হইয়াছিল এবং প্রায় সকলেই অতি আদর ও আগ্রহের সহিত পাঠ করিয়াছিলেন। কবি কিন্তু, তখন তাহার কবিতা প্রকাশের কোন কথাই জানিতেন না। এমন কি, তাহার পুরাতন রচনা যে আমি এতদিন ধরিয়া রক্ষা করিছিলাম-ইহাতে তিনি অতি মাত্রায় বিস্মিত হইয়াছিলেন। বলিতে কি, কবিতা গুলি সত্য সত্যই যে তাহারই রচনা, ইহা তিনি বিশ্বাস করিতেছিলেন না। ১৯০৪ সালে সােপান’ নামক আমরা যে সচিত্র মাসিক পত্র প্রকাশিত করি, তাহাতে কবির একটি কবিতা-'মারা কাটারি’--চিত্রসহ প্রকাশিত হইয়াছিল। ১৯১১ সালে সিউড়ী হইতে ‘বীরভূমি পুনঃ প্রকাশিত হইলে, তাহাতে কয়েকটি কবিতা কাশিত করি। দরিদ্রের মনােরথ, হৃদয়ে উত্থিত হইয়া হৃদয়ে মিলাইয়া যায়--কবিতাগুলি পুস্তকাকারে প্রকাশিত করিতে সমর্থ হই না। গত বৎসর লাভপুর অতুলশিব-ক্লাবের সভাপতি সাহিত্যপ্রিয় নাট্যকার জমীদার শ্রীযুক্ত নির্মল শিব বন্দ্যোপাধ্যায় নাট্যবিদ্যা ভারতী কবিভূষণ মহা- শয় ক্লাবে একটি সাহিত্য সম্মিলনের অনুষ্ঠান করেন। অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি সাহিত্যরত্ন শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখােপাধ্যায় মহাশয় সেই সভায়, বীরভূমের সাহিত্য চর্চার পরিচয় প্রদান ব্যপদেশে, প্রসঙ্গত এই কবির একটি কবিতা অতি সুন্দর ভাবে আবৃত্তি করেন। সুরসিক নাট্যকার শ্ৰীযুক্ত অমৃত লাল বসু, ‘ভারতবর্ষ'-সম্পাদক রায় বাহাদুর শ্রীযুক্ত জলধর সেন, নাট্যকার যুক্ত ক্ষীরােদ প্রসাদ বিদ্যাবিনোদ, এম,এ, প্রভৃতি প্রবীন ( ১ ) ও লব্ধ প্রতিষ্ঠ সাহিত্যিকগণ সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন। এই কবিতাটি শুনিয়া তাহারা স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া,উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে সকলেই কবির ও আবৃত্তি কারীর অশেষ প্রসংশ করেন। হাস্যরসরসিক নাট্যকার বসু মহাশয়, কবিতা শুনিয়া এতই মুগ্ধ হইয়াছিলেন যে, কবির আরও কয়েকটি কবিতা তাঁহার নিকট পাঠাইয়া দিতে, আমায় বিশেষ অনুরােধ করিয়াছিলেন । যক্ষের ধনের ন্যায় আমি এই কবিতাগুলি এতদিন আঁকড়িয়া ধরিয়া রাখিয়াছিলাম—এখন আমার এই যত্ন ও স্নেহ সার্থক বােধ করিলাম। এই লাভপুরের সম্মিলনীতেই, লাভপুর অতুলশিব ক্লাবের সম্পাদক শ্রীযুক্ত ধীরেন্দ্র নাথ মুখােপাধ্যায় মহাশয়, মহম্মদ আজীজের কবিতাগুলির প্রথম সংস্করণ ছাপাইবার ব্যয়ভার বহন করিবেন বলিয়া প্রকাশ্যে ঘােষণা করেন। তাহার অনুরােধ বশতঃ, আমার নিকট রক্ষিত কবিতাগুলি বিষয় বিভাগ অনুসারে সজ্জিত করিয়া, মুদ্রণ জন্য তাহার হস্তে সমৰ্পণ করিয়াছি। সাহিত্যরত্ন শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের বিশেষ যত্ন ও আগ্রহ না থাকিলে, এই কবিতাগুলি এত শীঘ্র প্রকাশিত হতনা। এ জন্য ইহারা উভয়েই শুদ্ধ আমার কেন, বাঙ্গলার সাহিত্যপ্রিয় ব্যক্তি মাত্রেরই ধন্যবাদের পাত্র। কবির অন্যান্য কবিতা ও গান আমরা অনুসন্ধান করিতেছি—আশা করি, কিছু কিছু উদ্ধার হইবে এবং আমরা সেই সমুদয় নূতন কবিতা ও গান, আবার জন সমাজে উপস্থাপিত করিতে পারিব। যাহাই হউক, ভগবানের কৃপায় গ্রন্থখানি জনসমাজে বাহির এখন আমি, কবির জীবন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে বাকী কয়টা কথা বলিয়া, আমার কর্তব্য আপাততঃ শেষ করি। কবি চিরকাল স্বচ্ছ ও নিরালম্ব পুরুষ ছিলেন। তাঁহার কিছুতেই জক্ষেপ ছিলনা। তাহার বৈভব বিভৰ কান্দিবার নাই মরিয়া গেলে। হইল। দুখ সুখ নাই ( ১ ) নাহিক বিষয় মান অপমান বলকেও ডাকে পাগল বলে। বাস্তবিকই কবিকে পাড়ার মেয়ে ছেলেরা ‘পাগল’ বা ‘ক্ষেপা মিঞা বলিত। আবার, তাহার নাম আজীজ উস, শোভান বলিয়া, তাহাকে শিবু মিঞা এবং তাহার নিত্য সঙ্গী আমাকে ‘শিবু বাবু’ বলিয়া ডাকিত। কবি বাল্যাবধি, একেবারে বন্ধনহীন ও নিয়মহীন স্বাধীনতার মধ্য দিয়া জীবনের পথে চলিয়াছিল। প্রতিভা ছিল, কাজেই মনােযোগ দিয়া বিদ্যালয়ের পড়া শুনা না করিলেও ভাল ছেলেই ছিল এবং বাৎসরিক পরীক্ষায় পুরস্কারও পাইত। জেলা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়িয়া- ছিল—দারিদ্র্যের জন্য আর পড়িতে পারে নাই। পড়া ছাড়িয়া দিয়া চাকরীর বাজারে প্রবেশ করিল। সে কি চাকরী করিতে পারে ? সে সংসারের শিকল পরে নাই—নিয়মের বাঁধনে আসে নাই—তাহার উদ্দাম হৃদয়, আকাশে বাতাসে ছড়ান থাকিত। দিবারাত্রি সকলের সহিত আমােদ ও কৌতুক—ইহাতে কি আর চাকরী করা চলে ? প্রথম রােভসেস, রিভ্যালুয়েস, আফিসে সিউড়ীতে ২০, কুড়ি টাকা বেতনের কেরাণীগিরি—সে ইংরাজী ১৮৯০-১১ সালের কথা। তখন ‘ফুলজানি ও শক্তিকাননের’ গ্রন্থকার স্বর্গীয় শ্রীশচন্দ্র মজুমদার মহাশয় সিউড়ী রােডসেস, আফিসের ভার প্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। শ্ৰীশ বাবু অবশ্য জানিতেন, তাহার দরিদ্র তরুণ বয়স্ক কেরাণীটি কবিতাব্যাধিগ্রস্থ। কাজেই, মাঝে মাঝে অনাবিষ্ট দেখিলেই জিজ্ঞাসা করিতেন—মুন্সিজী, কাজ করিতেছেন, না কবিতা লিখিতেছেন। রোডসেস, আফিসে কাজ করিবার সময় গ্রীষ্মকালে একদিন সকালে আফিস হইতে আসিয়াই আমাকে বলিল—“আজ পাকুড় গাছের একটি পাতা কেমন মজা করিয়া কাপিতেছিল’! পাতার দোলন দেখিয়া তাহার ( ১১ ) মনে একটি ভাবের জাগরণ হইয়াছিল এবং এই উপলক্ষে তিনি সেই দিনই একটি কবিতা বলিয়া গিয়াছিলেন, আমি লিখিয়া লইয়াছিলাম- এই কবিতাটির অামি নাম দিয়াছিলাম ‘শান্তি নিকেতন’হার সকল কবিতারই নামকরণ বা সংরক্ষণ আমাকেই করিতে হইত। এই কবিতাটির কিয়দংশ মনে আছে ; তাহা এই পুড়েছে কানন ফুল ঝঙ্কারে না অলিকুল উত্তপ্ত ভানুর তাপে তাপিত সংসার। কাতরা নলিনী দাপ সহিতে সখার। অলস পাখীর দল ধুমে আঁখি ঢল ঢল বিশ্রামের কোলে ঢলে ক্লান্ত দেহ ভার ফুটে ছুটে দিক্ হারা উড়েনা আর। উন্নত বৃক্ষের চুড়ে একাকী পাতাটি পুড়ে ভূতলে পড়িতে চায় শাখাটি ছাড়িয়ে পিঙ্গল শ্যামল কান্তি যন্ত্রনা ভুগিয়ে। .. প্রচণ্ড ভার করে যেন ছট ফট করে উলট পালট দেয় দুপিট পাতিয়ে যন্ত্রনা লাঘব হবে, তাই কি ভাবিয়ে? মোড সেস, আফিস উঠিয়া গেল। আমার পিতৃদেব স্বর্গীয় ঈশ্বরচন্দ্র মিত্র মহাশয়, তখন বীরভূমের কালেক্টারীর সেরেস্তাদার ছিলেন। তাঁহার ( ১২ ) সহায়তায় কালেক্টারী আফিসে, মহম্মদ আজীজ কেরাণীর কার্যে নিযুক্ত হইল। সেখানেও অবশ্য, সে যে মনােযােগ দিয়া চাকরী করে নাই, তাহা বলাই বাহুল্য। আমােদে, ক্রীড়া কৌতুকে, রহস্য উপহাসে, থিয়েটারে, গানে ও কবিতায় মগুল হইয়া দিন কাটাইত। এই সময় তাহার বিবাহ হইল এবং এখন হইতেই তাহার জীবন-নাটকের সর্বাপেক্ষা শােচনীয় অঙ্ক আরম্ভ হইল। বিদ্যালয় তাহাকে বঁধিতে পারে নাই। পারি- পীড়িত জীবন, নিয়ত অভাব-গ্রস্ত--অথচ চাকরীর মমতাও তাহাকে বাঁধিতে পারে নাই। মুসলমানের ছেলে, রােজা-নামাজ প্রভৃতি ধৰ্ম্মা- সুষ্ঠান, এমন কি টুপী পরা, দাড়ী রাখা প্রভৃতি সামাজিক রীতিতেও সে ধরা দিতে পারে নাই। তাহাকে বিবাহের বন্ধনে বাঁধিয়া সংসারের পােষমানা গৃহস্থ করিবার চেষ্টা, তাহার তীবনে সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক বিড়ম্বনা টাইল। বিবাহ একবারেই সুখকর হয় নাই। বিবাহের পর হইতেই কবির জীবন ভাঙ্গিতে আরম্ভ হইল। এই পুস্তকের প্রারম্ভে-মৰ্ম্মকথা, ‘প্রণয়ের প্রাণ, আমারে ভুলালে কে'? প্রভৃতি কবিতা, এই সময়কার মনোভাবের পরিচয় মাত্র। বিবাহের কিছু দিন পর হইতে যেন তাহার মস্তিষ্কের বিকার আরম্ভ হইল। একেইত অস্বাভাবিক মস্তিষ্ক, তাহার উপর বিকার! তাহার ধারণা হইল যে, কোন বশীকরণের ঔষধ তাহার অজ্ঞাতসারে তাহাকে সেবন করান হইয়াছে। এই বিকারের কথা কিন্তু আমি ভিন্ন অপর কেহ শীঘ্র বুঝিতে বা ধরিতে পারিত না। এই অবস্থায় সে আফিস যাওয়া বন্ধ করিল। কালেক্টারীর চাকরী শেষ হইয়া গেল। এই চাকরী যাইবার উপক্রম হইলে, আমার স্বর্গীয় পিতৃদেব তাহাকে ডাকিয়া স্নেহ সহকারে অনেক বুঝাইলেন, তিনি অনেক দিন তাহার চাকুরিটা বিশেষ চেষ্টা করিয়া ধরিয়া রাখিয়াছিলেন, কিন্তু তাহাকে কিছুতেই বুঝাইতে পারিলেন না। শেষ সময় সে আমার পিতৃদেবের ( ১৩ ) )" কথার উত্তরে বলিয়াছিল—খােদ আওর একঠে। জেলায় দেগা”। আমার পিতৃদেবকে সে, পিতার তুল্যই সম্মান ও শ্রদ্ধা করিত—তদুপরি তিনি আফিসের উপরিতন কর্মচারী-মস্তিষ্ক, বিশেষ বিকারগ্রস্ত না হইলে তাহার কথায় সে এরূপ অস্বাভাবিক রূপে হিন্দী ভাষায় উত্তর প্রদান কবিতন! চাকরী গেল ; এই চাকরী যাওয়ার পর তাহার দারুণ অন্নকষ্ট আরম্ভ হয়। তাহার স্ত্রী, একটা শিশু পুত্র সহ পিত্রালয়ে চলিয়া গেল। এখন একা-একেবারে একা ও অসহায়। এই সময়ে কি প্রকারে সে, প্রাণধারণ ও জীবন যাপন করিয়াছিল, তাহা শুনিলে বিস্মিত হইতে হয়! তাহার শরীর খুব দৃঢ় ছিল। শৈশব হইতে ব্যায়াম চর্চা করিত এবং প্রতিদিন এক সের করিয়া ছােলা চিবাইয়া খাইত। হাতের মাংসপেশী লােহার মত শক্ত ছিল। আমাদের পাঁচ জনকে একবারে স্কন্ধে লইয়া মাঠের মধ্যে অনায়াসে যেমন করিয়া ছুটিত, তাহাতে সুযােগ পাইলে সে । খামাকান্ত হইতে পারিত। তাহার কথা মনে হইলে মনে হয়, সে কি না হইতে পারিত! লাঠি খেলা, তরবারি খেলা, ডন, কুন্তী প্রভৃতিতে সে বিশেষ পারদর্শী ছিল। এই দারিদ্রের সময় তার একবারেই অন্ন জুটিতন। মাঠের ধারে পশ্চিমদ্বারী ঘরের খােলা বারাণ্ডায়, একখান খেজুর পাতার চাটাইর উপর হাতে মাথা রাখিয়া, কি শীত কি গ্রীষ্ম চিরদিন, খােলা গায়ে ঘুমাইত শীতের কন্কনে হাওয়া, তাহার লোহার শরীর কাপাইতে পারিত না উপবাস-'ক্লষ্ট দেহেও তাহার প্রাতঃমান বন্ধ হয় নাই। তাহার এই চিত্র্যের সময় আমি কলিকাতায় কলেজে পড়িতাম। খবর পাইতাম, অনাহারে কষ্ট পাইতেছে—আমার কনিষ্ঠ ভ্রাতা স্বর্গীয় রাম রতন মিত্র আমার নির্দেশ মত সাহায্য করিত; আবার আমি বাটী আসিলে, যথা • সাধ্য সাহায্য করিতাম—কিন্তু আমাদের আর শক্তি কতটুকু? আর তাহার ( ১৪ ) চাহিবার প্রবৃত্তি বড় একটা ছিলনা—জগতে আমি ভিন্ন কাহাকেও অভাব বা অনাহারের কথা বলি না--এমন কি, পৃথকান্ন ভ্রাতাদেরও না। সে নীরবে হাস্য মুখে অসহনীয় দুঃখ সহ্য করিতে পারিত। দুই তিন দিন জাহার হয় নাই--সেই তাবস্থায়, মলিন ও জীর্ণ এক খানি মাত্র কাপড়, কোন মতে নিজের হাতে পরিস্কার করিয়া, আমাদের দোয়াতের তালকালি ঠোটে মাখিয়া, হাসিয়া, গান করিয়া লােকের সহিত আমোদ করিয়া বেড়াই ত! এ কি ধারণাতীত ব্যাপার। কিন্তু তাহার জীবনে তাহাই দেখিয়াছি! এই উপবাস-ক্লিষ্ট দেহে সে কোন কিছু চাহিলে, আমি কোন কোন দিন তাহাকে বলিতাম---‘তুমি এখানে বস, উঠিয়া যাইতে পারিবেনা; তুমি কিছু লেখ—-আমি তােমার খাবার বা যাহা কিছু আবশ্যক, বন্দোবস্ত করিয়া দিতেছি। সে জামার অনুরোধ কথা অবহেলা করে নাই --আমি রহস্য করিয়া বলিলেও নগ্ন। এমনি উ বাপ- ক্লিষ্ট দেহে লিখিতে বসিল এবং কিছুক্ষণ পর আমায় একটি সুদীর্ঘ ইংরাজী কবিতা লিখিয়া দিল। আমিও তাহার ভাব ও ভাষার সৌন্দর্য্য দেখিয়া মুগ্ধ হইলাম কিন্তু বলিলাম, এমন সুন্দর কবিতা তুমি আমায় না বলিয়া ইংরাজীতে লিখিলে কেন--ইহা বাঙ্গলায় লিখিয়া দাও’---এই বলিয়া আমি তাহার জলখাবার বন্দোবস্ত করিয়া দিলাম। সে জল খাইতে খাইতে সমগ্র কবিতাটি বাঙ্গলায় লিখিয়া দিল--আমি তাহার নাম দিলাম ‘ফুলের ভালবাসা”। এই ভালবাসা-তত্বের আলােচনা করিতে করিতে আমি তাহাকে এই সম্বন্ধে আর একটি কবিতা লিখিতে বলি—কবি সেই দিন বৈকালে—কারে ভালবাসি' কবিতাটি রচনা করে। এমনি করিয়া রহস্যচ্ছলে কায়দায় ফোলয়াও, কবির নিকট আমি অনেকগুলি কবিতা নিখাইয়া লইয়াছিলাম। কবি-জীবনের এই দারিদ্র-ক্লেশ পাঠ করিয়া, অনেকের অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংরাজী সাহিত্যিকগণের দুরবস্থার কথা মনে হইবে। কিন্তু ইংলণ্ডের কবি ও ভারতবর্ষের কবি-ইহাদের মধ্যেও কত প্রভেদ ! অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংরাজ লেখকদের অর্থাৰ্জন করিবার, সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করিবার একটা ভয়ানক চেষ্টা ছিল। তাহার ফলে তাহাদিগকে হিংসা,অসৎ. প্রতিযগিতা প্রভৃতি দুর্নীতিপূর্ণ পথের পথিক হইতে হইয়াছিল। কিন্তু আমাদের কবি, কবি হইয়াই নিজের জীবনের ধন্যতা লাভ করিয়াছিলেন। আমার কথা ছাপা হইবে, লােকে আমায় প্রশংসা করিবে, আমি খ্যাতি লাভ করিব-এ সমুদয় কল্পনাই কখন তাহার মনে জাগে নাই! নিজের কল্পনার আনন্দে সে বিহবল থাকিত। বােধ হয়, ভারতের মায়াবাদ বা জগন্মিথ্যাবাদ এ দেশের খাটি কবিদের এই প্রকারের বৈরাগ্য মন্ত্রের উপাসক করিয়াছিল। কবি-জীবনের এই ভাব, সাহিত্য-সেবকের এই বৈরাগ্য, ইহা অবশ্য আর থাকিবেনা। কিন্তু ইহা ভারতের একটি খাটি ও দুর্লভ সম্পদ—এই জন্যই এই প্রসঙ্গে এই কথাটি বলিয়া রাখিলাম। এইরূপ দারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে কয়েক বৎসর অতীত হইলে, তাহার মস্তিষ্ক, এই দুঃখ কষ্টের ফলে যেন একটু স্থির হইয়া আসিল। এই অবস্থায় সে আবার সিউড়ী কালেক্টারী আফিসে নকল নবীদের কাজ পাইল এবং ক্রমে কি খেয়াল উঠিল, একটা উপলক্ষ পাইয়া মানভূমে বদলি হইয়া গেল। সেখান হইতে সে আমায় সর্বদা পত্রাদি লিখিত কিন্তু আমি তাহাকে পুনঃ পুনঃ তাগাদা করিয়া তাহার নিকট আর কোন কবিতা বা গান আদায় করিতে পারি নাই। সেখান হইতে সে আর একবার মাত্র সিউড়ী আসিয়াছিল—সেই আমার সহিত শেষ দেখা। আবার মানভূমে চলিয়া গেল, এবং সেই খানেই সন্ন্যাস-রােগে হটাৎ তাহার মৃত্যু হয়। কবি মুসলমান হইলেও, তাহার ভিতর মুসলমানী ভাৰ আদৌ ছিল না সে কৃষ্ণলীলা বিষয়ে পদ রচনা কৰিত-কালীয় দমনের পালা রচনা ন করিত-এ-ভাষায় কত কবিতা রচনা করিত। তবে সে আমায় বলিত এবং তাহার জেঠাইমার মৃত্যুর দিনে বিশেষ করিয়া বলিয়াছিল যে, সৎকার-প্রথা মুসলমানের ভাল। তাহার এ অভিপ্রায়, সে তাহার, অন্তিমে’ নামক কবিতায় ব্যক্ত করিয়াছে . অনুরােধ প্রিয়জনে আমার মরণ দিনে সুন্দর সলিলে স্নান দিয়া মৃত্তিকা শয়নে রাখি খুলে দেয় লিপ্ত আঁখি মরে থাকি আকাশে চাহিয়া। (পৃঃ ১৮)। আশা করি কবির এ অনুরােধ, বিদেশে তাহার মুসলমান ভ্রাতারা পূর্ণ ভাবেই রক্ষা করিয়াছিলেন। কবির জীবন, আনি যাহা দেখিয়াছি, অনুভব করিয়াছি, তাহা মােটা মুটি বলিলাম। প্রথম কথা, আজন্ম-সিদ্ধ প্রতিভা ও কবিত্ব শক্তি লইয়া তিনি এ জগতে আসিয়াছিলেন। আমরা বুঝি ইহা জন্মান্তরের সাধনার ফল। যাহারা জন্মান্তরবাদী নহেন, তাঁহারা বলিবেন, ইহা ভগবানের গান—যাহার কোন ব্যাখ্যা নাই। এই প্রকারের কবিত্ব শক্তি লইয়া আমাদের দেশে অনেক লােকই আসে। এখন যেন মনে হইতেছে, এরূপ লােকের সংখ্যা কমিয়া যাইতেছে। জীবনের স্বচ্ছলত, হৃদয়ের সরলতা, সামাজিক উৎসব ও আমােদ কৌতুক এবং সকলের উপর স্বাস্থ্য- হীনতা, জীবন-সংগ্রামের তীব্রতা, ও চমৎকারা অচিন্তা—এই সকলের লে, আমাদের দেশে স্বভাবকবির সংখ্যা যেন কমিয়া যাইতেছে। আমাদের এই কবি, সেকালের সেই ভাৰ-কবিরই একজন--তবে আরও চু দরের। ভাগীরথীর পশ্চিম তীররাঢ়ের পূর্ব সীমা নবদ্বীপের উত্তর—ইন্দ্রানী পরগণা ও মনােহরসাহী পরগণা-সেই সুমিষ্ট মাটিতে ভাবুক কবির জন্ম অতি স্বাভাবিক। কীৰ্ত্তন গায়ক আর ভাবুক কবি, গত চারি শত বৎসর ধরিয়া যেখানে সর্বাপেক্ষা অধিক পরিমাণে জন্মিয়াছে -এই মুসলমান কবির সেই খানেই জন্ম। এই অঞ্চলের মুসলমানেরা হিন্দু সাহিত্য ও সাধনার প্রতি সর্বাপেক্ষা অধিক প্রতিসম্পন্ন বলিয়া মনে হয়। মনােহরসাহী পরগণার নিকট জন্ম গ্রহণ করিয়া কবি অতি শৈশবেই জয়দেব, চণ্ডীদাস প্রভৃতি আদিম বৈষ্ণব কবির লীলাস্থল বীরভূমে আসিয়াছিলেন বীরভূমই তাহার কৈশােরের কল্পনার এবং যৌবনের উজ্জল আবেগের স্বপ্ন-কানন। স্বাভাবিক প্রতিভা ও কবিত্ব শক্তি লইয়া কবি জগতে আসিয়াছিল কিন্তু কবিরও দুরদৃষ্ট—আমাদেরও দুরদৃষ্ট! শৈশব হইতেই কোন রূপ সুশিক্ষা ও সুনিয়ন্ত্রিত শাসন-ব্যবস্থার মধ্যে পালিত হওয়ার সৌভাগ্য তাহার ঘটে নাই। প্রতিভা বড়ই কঠিন সম্পৎ। ইহাকে রক্ষা করা ও ইহার সদ্ব্যবহার করা, তপস্যার উপর নির্ভর করে। কবিকে সে তপস্যার পথ, কেহই দেখাইয়া দেয় নাই। এ কালের কবি কেবল দূর গগনের গায়ক-পক্ষী নহে। এ কালের কবি, স্বপ্নরাজ্যের অশরীরি জীব নহে। দূর গগনের বায়ুমণ্ডলের বায়ু, নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে গ্রহণ করিয়া, একালের কবিকে এই ধূলার রাজ্যে হাতে পায়ে কৰ্ম্ম করিতে হইবে। কিন্তু তাহা করিতে হইলে, একদিকে যেমন প্রতিভা চাই, দৈবী প্রেরণা চাই, অপর দিকে তেনি সংযত ও কঠোর তপস্যা চাই। কিন্তু সামাজিক জীবনে তাহার সে সৎসঙ্গ কৈ—সে স্বাস্থ্যকর প্রতিবেশ-প্রভাব (Environment) কৈ?—প্রতিভার অঙ্কুরে আলবাল বাঁধিয়া সে জল সিঞ্চনের ব্যবস্থা কৈ? সদ্যোজাত অঙ্কুরের রক্ষা করিবার সে অভিভাবকতা কৈ ? কবির কথা চিন্তা করিলে হৃদয় ফাটিয়া যায়। কি মানুষই আসিয়া ( ১৮ ) ছিল। কত ভালবাসাই না তাহার হৃদয়ে ছিল। সে সকলকেই ভাল- বাসিত-প্রাণ ভরিয়া, ষােল আনা ভালবাসিত। সংসারের চাকুরীময়ী পদ্ধতি কাহাকে বলে, একদিনের জন্যও সে তাহা জানে নাই। তাই কবি বলিয়াছেন— আমারে ভুলায়ে বাসায়েছে ভাল আপনি বেসেছে বুঝে সুল কবি তাহা না বুঝিয়া, তাহার সমগ্র ভালবাসা আপনা ভাবিয়ে তারে না চিনিয়ে সাঁপিয়ে দিশ্নেছি পায়।' কিন্তু, সেই সরল স্বচ্ছ হৃদয়ের অনর্গল প্রেম রসােচ্ছাস, আপনাকে বিলাইয়া দিবার সেই উদ্দাম আকুলতা—তাহার পরিণাম কি হইল! সে ফুরাইয়া গেল! সে আপনাকে অল্প দিনেই নিঃশেষে ব্যয় করিয়া ফেলিল ! তার অকুলে পড়িয়ে ডুবিল,—মিটিল পিয়াসার সনে পরাণ ধন ! এই প্রকারের উদ্দাম জীবন, এই প্রকারের দুঃখ যন্ত্রণা ও অশান্তির সহিত নিত্য সংগ্রাম—চারিদিকের বিষময় প্রতিকুলতা—ইহার মধ্য দিয়া চলিবার সময় অসতর্ক পদস্খলন অসম্ভব নহে। কিন্তু নৈতিক জীবনের নির্মলতা রক্ষার জন্য, তাহার ভিতরে একটা বিশেষ রকমের সংগ্রাম ছিল, ইহা আমি সর্বদা লক্ষ্য করিয়াছি। আমি তাহার আবাল্য বন্ধু । তাহাকে ভাল বাসিতাম, তাহার সহিত মিশিতে, তাহার গান শুনিতে বড়ই মিষ্ট লাগিত। তাহার সাহচর্য্যের দ্বারা আমি আমার নৈতিক জীবনে উপকার লাভ করিয়াছি।
( ১ ) ইহাই সংসারের লীলা। অজানা আঁধার হইতে বাহির হইয়া, উল্কার মত মধ্য পথে ক্ষণকালের জন্য আলােক বিকীরণ করিয়া আবার অজানা আঁধারে প্রবেশ! এমনি করিয়া কত আলো, কত সৌরভ আসিতেছে- চলিয়া যাইতেছে! কে কাহার কথা মনে রাখে ! কে কাহার প্রতি চাহিয়া দেখে ! ব্যস্ত ভাবে আপন পথে আপন কাজে সবাই চলিয়াছে। কিন্তু, হে কবি। তােমার জীবনের আলো আমার চোখে লাগিয়াছিল ; হে কবি! তােমার হৃদয়ের সৌরভ আমার নাসিকায় প্রবেশ করিয়াছিল। তুমি নিজকে ব্যক্ত করিতে পার নাই—নিজকে ফুটাইয়া তুলিতে পার নাই—সে জন্য কোনরূপ চেষ্টাও কর নাই। কিন্তু আমার মনে হয়, আমি তােমার ব্যক্ত-জীবনের সূচীপত্রের মধ্য দিয়া,তােমার অব্যক্ত-জীবনের মহিমার স্নিগ্ধাজ্জল দীপ্তির কিছু আভাষ পাইয়াছিলাম। স্মৃতিরূপে পরম আদরে হৃদয়ের নিভৃত কক্ষে তাহা রাখিয়া দিয়াছি। তুমি হয়ত কোন্ দূর লােকে—এখানে যাহা চাহিয়াছিলে-ব্যাকুল ভাবে চাহিয়াছিলে, পাও নাই—এখন তাহা পাইয়াছি; এখানকার দুঃখ ক্লেশ ও অপরিপূর্ণতার পড়া হইতে পরিত্রাণ পাইয়া, সেই অব্যক্ত-জীবনের শান্ত-মহিমায় বিরাজ করিতেছ! আবার হয়ত একদিন দেখা হইবে! সেই পুরাতন কথা, আবার ভাল করিয়া, পূর্ণ করিয়া আলােচনা হইবে। এই সব ভাবিয়া, তােমার উদ্দেশে এই স্মৃতিপুষ্পাঞ্জলি প্রদান করিলাম—গ্রহণ করিয়া আমায় ধন্য করকৃতার্থ কর। ৯ই ফান, ১৩২৯ ; রতন-লাইব্রেরী, বীরভূম শিবরতন মিত্র
No text on this page.
পরিচয়
No text on this page.
কুরঙ্গ।
পরিচয়।
মৰ্ম্ম-কথা
( ১ )
সুদীর্ঘ জীবন পথে
শুধু যে কটক-রাশি
প্রাণভরা শুধু হা-হুতাশ,
কোথা কোন্ পথ দিয়ে কোথা যেতে কোথা যাই
কে হেন করিল সর্বনাশ!
(২)
নিদ্র। শুধু স্বপ্নময়
দুঃখের আবাস হিয়া
পরের পরাণে শুধু হাসি,
দন্তরের অন্তরে
ছিড়ে যায় বলি-তী
কে নিবে, কারে বা প্রকাশি?
হৃদয়-পিরে পাখী
কেনরে চঞ্চল হলো
উড়িয়ে পলাতে চায় কোথা,
কি জানি কখন কার
কি যে দোষ করেছি
কে দিলিরে এ দারুণ ব্যথা ?
(৪)
বিপিনে বঁশরী স্বরে
সে ভারে মাতেনা পাখী
ভুলে গেছে নিত্য নব আশা
আঁখির মিলনে শুধু
আর ত কাপেন প্রাণ
কে ভুলালে প্রেম ভালবাসা!
স্নেহের পালিত তরু
কে তােরা গাে ছিড়ে দিলি
কে হেন সাধিলি মনােবাদ
মুখের মালরুময়
কে কাটা ছড়ায়ে দিলি
কার সনে করেছি বিবাদ।
* •
(৬)
দুমর গুঞ্জন তান
উঠেনা মালঞ্চে আর
মুঞ্জরে না নৰ আশা-করি।
ফাগুন আগুন কেন
অন্তর দগধি যায়
কাল সুম কোকিল-কাকলি।
()
এর প্ররে বনে
কে আগুন জেলে দিলি
চকিত কুরঙ্গ সম হৃদি,
আগুন লাগায়ে বনে
কেন গো বেড়িলি প
কে বধিলি অনলে প্রশ্নখি!
মর্মকথা
(৮)
আমার নয়ন কোণে
ছিলনা গাে পাপ-লেশ
না বুঝে করিলি সর্বনাশ !
পিঞ্জর ভাঙ্গিয়া পাখী
কেন তোরা ছেড়ে দিলি
কে ডাঙ্গিলি নিকুঞ্জ-আবাস।
(৯)
ছেড়ে দে আমার পাখী অনল নিয়ে দে-গাে
চলে যাব সাগরের পার,
কুরঙ্গে বান্ধিয়ে, রঞ্জু দে-আমার হাতে দে-গাে।
মা গাে আমি, আসিবনা আর।
( ১০ )
তােদের আকাশ পানে
গাে আমি চাহিবনা,
হাসিবনা কঁাদিবনা অার
কুরঙ্গে বিহঙ্গে পেলে,
সংসার চাহিনা আমি
ভুলে যাব যন্ত্রণার ভার ।
(১১)
মধুপ-ঝঙ্কারে যবে
জাগিবে বনের ফুল
সাগর নাচিবে বিতলে
বিহঙ্গ মধুর গানে
মাতায়ে কুরঙ্গ-মন
উড়ে যাবে আকাশের কোলে।
কুরঙ্গ (১২) বিহঙ্গ মধুর স্বরে চঞ্চল কুরঙ্গে হেরে ভুলে রব পূৰ্ব্ব-স্মৃতি-দুখ ও দুঃখ সহিতে আর আসিনা পুনৰ্ব্বার পায়ণে বাধিয়ে রব বুক। প্রণয়ের প্রাণ দুরন্ত যৌবন দিনে কত সাধ হ’ত মনে কত আশা আপনি ফুটিত বনের ফুলের বাসে প্রেমের সয়ল-ভাষে দিক্-হারা পরাণ ছুটিত। অলীক আঁখির খেলা মুহুৰ্ত্ত ফুলের মেলা সােহাগের সস্নেহ বচুন। বুক ভরা বিষ-রাশি বদনে সরল-হাস এই ছিল যতনের ধন। কুঞ্জে কুঞ্জে বনে বনে সাধিয়ে স্বকৃত তানে প্রকাশি গােপনে গানে মান সেও ত কঠিন বলি মনে মনে অবহেলি পাষাণেতে বান্ধিলাম প্রাণ। কিন্তু চোখে চোখে হলে শঠতা যেতাম তুলে যৌবন সুলভ চপলতা চোখে মুখে দিত দেখা মুছে যেত ভাব বা আগাইত প্রায় মমতা।
প্রণয়ের প্রাণ সরল পরাণ খানি প্রেমের আবাস জানি রাখিবয়ে দিত কত প্রাণ প্রেমের এমনি ধারা প্রেমিকা আপন সারা নিতে প্রাণ রাখিতনা মান। কে জানে যে মনান্তরে পরাণ চাহিবে ফিরে বিনিময়ে পরের পণ ভার প্রাণ ফিরে দিয়ে আপনার হারাইয়ে প্রেম দায়ে এত অপমান। বয়স ফুরায়ে গেছে প্রাণ আছে, আশা আছে- তবে সে কলঙ্ক ভয় রাখি মূতন কলঙ্ক নয় সেই সে কলঙ্ক ভয় যে কলঙ্কে সশক্ষিত থাকি। যে কালি হৃদয়ে লয়ে জনম রয়েছি সয়ে এ যে কার দগ্ধ হা-হুতাশ নিশ্বাসের তপ্ত বায় অন্তর দগধি যায় কার কি করেছি সর্বনাশ। সেই সে কলঙ্ক পাপে না জানি কাহার শাপে কি যেন পরাণে সদা বয় জেনেছি নিতান্ত এৰে কেবলি সহিতে হবে প্রণয়ের প্রাণই দুঃখ-ময়।
আমারে ভুলালে কে ? কি ছবি দেখায়ে ভুলালে আমায়, (শুধু দেখি বলে) চাহিল পরাণ মাের ; আপনা ভাবিয়ে তুলে দিনু হাতে, কে জানে সে জন এমুন চোর! এ যে কার মন আমারে দিয়েছে, চলেনা আপন বলে ; এ যে শুধু কয় আপন কাহিনী, দুখ সুখ নাহি বাসে। এ পরাণে দেখি কলঙ্কের রেখা, আমার বিমল প্রাণ অতি যতনেতে নেতে পুষিয়া রেখেছি আমারে করেছে দান। আমারে ভুলায়ে বাসায়েছে ভাল, আপনি বেসেছে বুঝে, রজত আশায় ফুলহার দিয়ে পাথরে রহিনু মজে। জনের পরশে শিলা, হয় ক্ষয় মনেতে ধারণা ছিল, মেহের নির পাশেতে পুষি- পাথর বাড়িয়ে গেল, আমার স্কুলে কে? কণা বালুকায় বাড়িবে পাথর কে জানে এমন রীতি, স্নেহের লেখনি বৃথায় সাধি লিখিতে বরণ পাঁতি। পাষাণের গায় শোহর লেখনি লিখিয়াছে কার নাম ; এ যে তারি নামে বিকাবে পাথর আমি ও ষে বিকালাম! আমার কোমল ফুলের পরাণ তপত নিশাসে দহে; ফুলের লতিকা পাষাণে রােপিছু (সে যে অধর চপ, না সহে। অামার সে ফুলে কেবল পড়েছে আশার চাহনি রেখা ; আমার হাসিতে যে জন হেসেছে তারি হাসি আই লেখা। তারি হাসি দিয়ে তহরি আশায় পিব তাহারি কায়; (এ বে) আপন ভাবিয়ে তারে না চিনিয়ে এপিয়ে দিয়েছি পায়।
শত কোহিনুরে সে হিয়া দিকনা আমার আনিয়া দে সেও মাের নয় পরের পরাণ মিছে) আমারে ভুলালে কে ? আমি তােমারি কি রুপ দেখালে অবােধ ভুলালে শুধু দরশনে বাঁচ অপর বলিয়ে থেকনা ভুলিয়ে আমি যে তােমারি আছি। আমার সাধের সরসীর কূলে গােলাপ শতিকা তুমি তুষিতে তােমায় মােহন আলাপে সেধেছি বাঁশরী আমি। কোকিল কলাপ ভ্রমর-আলাপ বনে বনে আছে শেখা নিশির শিশির- • সম স্নিগ্ধ নীর আঁখি কোণে আছে রাখা। উকি মেরে যবে ফুটিয়া উঠিবে মুখেতে হাসির রেখা সরলতা দিয়ে গরণ চাকিয়ে নীরবে চাহিৰে দেখা। ।
আমি তোমারি। সাধের গরবে চাহিয়ে রহিবে মরমের কথা মুখে মুখময় প্রাণ হাসির তুফান হিবে, ভাসিবে সুখে। পবন-হিল্লোলে দুলে দুলে দুলে বাড়িয়া উঠিবে ফুল নীরবে নীরবে মর্শ কথা কৰে রাখিতে ধরম কুল। তব কুল লাগি নিজ কুল ত্যাগ বিজনে বাধিয়ে ঘর তালে তাল দিয়ে বাঁশরী বাজারে শুনাব মধুর স্বর। কোকিল কুজন ভ্রমর গুজুন গুনিয়া পাবেনা ব্যথা তোমার ও সাধে আমি নিজ সাধে শুনাব প্রণয় কথা। কোমল অধর পেয়ে ভানুর শুকায় মলিন হলে সে দুঃখ ভুলাব আবার হাসাৰ তিতিয়ে নয়ন জলে। পবনের শ্বাসে পাতা গুলি ব'সে পড়িবে যখন ঝরে পরাণে বাঁচিতে দিনা মিটিতে বাধিব আঁচল ধরে।
কুরঙ্গ সকলি তোমার করিব আমার আমি যত দিন জীব আমি যদি দেখি তুমি মুদ’ আঁখি (আমি) তখন (ও) তোমারি রব। সাধ মত্ত মধুকর ধে বনে হরিণী থাকে একাকিনী হিংস্র, ব্যাধি, ব্যাধি না পশে যায়। লতা সুকোমল নব দূৰ্ব্বাদল মনের সোহাগে এ হুঁড়িয়া খায় ; যে নদীর তটে এক। ফুল ফুটে প্রভাত সমীর বিলায় বাস পায়না খবর কোথা কোন্ ফুল হলো প্রকাশ; যে বনের পাখী কভু নয় দুখী সুমধুর ফলে ফিরে না চায় যে শান্তি কাননে সদা নিশি দিনে ফুলে ফুলে দুলে মহিমা গায় ; যে প্রান্তর পাশে মানব না আসে যে পথে বহে পাপের ঢল যে পুলিনে বসে প্রাণের হুতাশে বিরহী ফেলেনি নয়ন জল ; '।
যে বিজন বনে যে মুখ কাননে নাই ঋতু ভেদ-সমান যায় যে বৃক্ষের মূলে বসিলে কোকিলে হুহু হুহু রব ভুলিয়ে যায়; যে গগন বাসী অকপট শণী নিতি নিতি হাসে মধুর হাস ক্ষুধায় কাতর কাদেনা চকোর করেনা ও শশী-সুধার আশ । ডুবাইতে দুখ ভাসাইতে সুখ মায়ার তুফান যে দেশে নাই সেই রম্য দেশে পাগলের বেশে একাকী পরাণে চলিয়ে যাই; সেই তরু মূলে সেই মেঘ তকে যতনে রচিয়া প্রেমের ঘর সাধি এ রসনা করিতে মােয়ণ। বিরলে রসিয়া মহিমা তার সাধ হয় মনে সেই সে বিজনে গায়ে মাখি ধুলা-না দেখে কেউ সেই নদী কূলে এ যাতনা ভুলে বসে বসে দেখি নদীর ঢেউ; পাগলের পারা তালমান হারা নিজ ভালবাসা গানটি গাই ভরদের গায়ে আঁচল পাতিরে ঘুমাতে ঘুমাতে চুলিয়ে যাই।
জমি এই খানে ব'সে রব আমি এই খানে ব'সে রব- কোমদের গান তোমাদের প্রাণ তোমাদের ঘর তোমাদের তান, তোমাদের হাসি তােমাদের ভাল তোমরা আমায় কিছুই বলনা একের বেদনা অপরে বুঝেনা, একে জ্বলে মরি জ্বালাতে এসনা- আমি আপনি আপন হব- আমি এই খানে বসে রব। আকাশের তারা নব দূর্বাদল চেয়ে চেয়ে সারা নিশি, আঁচল পাতিয়ে বুকে হাত দিয়ে, হেথায় রহিৰ বসি। (গীমি) নিঝরে নিঝরে গিরীশ বিবরে খুঁজিৰ হারাণ মণি গহন বিপিনে বিজন পুলিশ, ধরিব যতনে ফণ (আমি) বনের লতায় সে ছবি আঁকিয়ে সে আঁখি আঁকিয়া দিব, দেখিব কে যায় সবার না.চাম, আমিও ও সেথার’ আমি এই খানে বসে রব দেখে সে নয়ন দেখি কোন গুন গৃহেতে ফিরিতে চায়, न बन जान এমন আমার এ মন, পিব তাহার পায়। আমি-তুষার মালায় রচি শশধর (তাহে) কাজল কালিমা আঁকি, আঁচিল ভিজায়ে ধূলা মাটি দিয়ে গড়ি চাতক পাখী আমি-পাথরের গায়, আঁচলে মুছায়ে, সিন্দুরে সূর গড়ি সরসীর জলে সাঁতার কাটিয়ে আনিব নলিনী ছিড়ি। (আমি) করতালি দিয়ে নাচিয়ে নাচিয়ে গাইব নদীর কূলে (আমি) কেশগাছি ছিড়ে কাটার গাথিব বনমালা বনফুলে। (আমি) কোকিলার সনে গা’ব উচ্চতানে, কুহু কুহু কুহু স্বরে। (আমি) সমগ্র দুপুর দাইয়া বৰ গাছের শাখাটী ধরে। বসন্ত বাতাস ছুটিয়া বেড়াবে শাখায় শাখায় ঘুরে বাজাৰে বিটপি পাতায় পাতায় ঝর বর বর দুরে ;
৪ প্রজাপতি সনে ময়ুরী নাচিবে ভ্রমরী গাইবে গান। আধা ফোটা ফুল ছড়ায়ে পড়িবে, পাপিয়া ঘঁাকিবে তান; (মি) হরিণী দেখায়ে চাদেরে ভুলায়ে হরিণে কাড়িয়ে লর’ বুকে বুকে তার জেগে রব নিশি আমি কলঙ্কিনী হব । পাহাড়েয় গায় বিটপির ছায়, লায় বাসর গড়ি লতা ফাসি দিয়ে ফুগেরে বঁধিয়ে ফুলের বিছানা পাড়ি পরাব বসন চঁাদের কিরণ, (আমি) বাসর জাগিয়ে রব। নয়নে নয়নে বাঁধিয়ে দুজনে, গান্ধর্ব বিবাহ দিব। আধ ফোটা ফুলে রচিয়ে মালিকা পরাব খুন করে (আমি) ফুলের লাগিয়ে এ ৪াই ও ই কেবল বেড়াব ঘুরে। परिवगाव কায় লজিক: ঢালিব ময়ল জল, মুরি লতিকা ফোটাৰে কোরক, বহিবে সির চুল।
অন্তিমে হৃদয় ধারায় যত অশ্রু আছে, (আমি) সকলি ঢালিয়া দিব। তবু যদি ফুল ফুটিতে চায়, (আমি) কেঁদে কেঁদে মরে যাব- 'আমি এই খানে বসে হ'ব। অন্তিমে নশ্বর এ দেহ ধরে এসেছি দুদিন তরে মৃত্যুসুখ জীবের জীবন! জানি এ সংস'রময় চিরস্থায়ী কিছু নয় প্রীতি, স্নেহ সব অকারণ ; শুধু সে মায়ায় ভুলে পাপ এ সংসার কোলে শিশু সম করি ছুটাছুটি, খেলা যবে সাঙ্গ প্রায় সময় ফুরায়ে যায় স্তব্ধ করে কালের কুটী। তবু সে মনের দোষে দুষ্ট এ আঁখির বশে সুন্দর যা দেখি ভালবাসি, যে দিকে ফিরাই আঁখি সকলি সুন্দর দেখি তরু, লতা, তারা, সূর্য, শশী ; মায়ার কুহক বলে দিবা নিশি থাকি ভুলে অন্তিমের ভাবিনা ভাবনা, জাবি কিন্তু দিন যাবে আমার কিছু না রবে রূপ, প্রেম, অন্তিম-যাতনা।
কুর চতুর শমনে যদি এই সে মমতা অরি নয়নে ঝরিবে বারি এই রূপ ভাসিবে নয়নে, সকলি কণ্টক হতে আপন কিছু না বৰে একা সব মৃত্তিকা শয়নে। মৃত্যু ত সকলে সয় শুধু মনে ভয় হয় কি করে ভুলিব ভালবাসা, সংসারে সুন্দর রাখি কি করে মুদিব আঁখি বুকে ধরে মধুময় আশা ! মানব করিত বিধি তবে কি সে পরিত আমারে। রূপের সাগর জলে ডুবিয়ে অতল তলে লুকাতাম জনমের তরে। অনুরোেধ প্রিয় জনে আমার মরণ দিনে সুর সলিলে ঋন দিয়া, মৃত্তিকা শয়নে রাখি খুলে দেয় সুপ্ত আঁকি মরে থাকি আকাশ চাহিয়া ; সেই বৃক্ষতল-ছায় যেখানে বিহঙ্গ গায় দিবানিশি সঞ্চয়ে সমীর, সুন্দর ফুলের বাসে অসময়ে অলি আসে ঝরেন। দুখের আঁখিনীর ; সুন্দর চাহনি দিয়া শান্ত হাসি মাখাইয়া রূপ-ভরা প্রকৃতি-প্রতিমা হাতে ভালবাসা মে চিরকাল সুখে চেয়ে দাড়াইয়া রবে মনােরম।
অস্তিনে (কিন্তু) প্রতিমা তো ভেঙ্গে যাবে আমার কিছু না বু’ৰে কেমনে বা অ’বে সে বিজনে। আমি যেন দেখে যাই সংসারে সুন্দর নাই- মৃত্যুকালে শান্তি পাই মনে।
No text on this page.
す。
No text on this page.
প্রেম
কারে ভাল বাসি
কত দূর দূর হ'তে
কত নদ কভু নদী
বিদেশী বিহঙ্গ অাসে
সাগর-পর্বত ঠেলি
কত ভাব, কত সুর মাখা,
কি কত নুতন ভানে
বনে থেকে শিখে এসে
গেয়ে গেয়ে দিয়ে যায় দেখা।
কত যে নুতন গানে,
মধুর কি গীত খানি
২
সাতারি আকাশ কোলে চেয়ে চেয়ে দেখে যায়
কোন দেশে হৃদয়ের ভালবাসা রূপ ৬,
ফুটিয়াছে কোথা সেই জানে,
পড়িলে নয়ন পথে
বুঝি, সে শ্যামল-ছটা
গুণ গান গেয়ে গেয়ে মুহূর্তের তরে এসে
মতায় নিকুঞ্জ মধুতানে।
শস্য মেঘমাল বুকে
ছুটে ছুটে বুক পেতে
চঞ্চল তড়িৎ সম
তরঙ্গে ভাসিয়ে খায়,
চলে যায় আবার কোথায় ;
মধুর ললিত তান,
যা দেখে সে ভালবাসে---
ক্ষুদ্র যে পবনে ভেসে স্বয়।
ভালবাসা রূপ বটে,
গুনার ক্ষুদ্র প্রাণ
২৪
কুরঙ্গ
কোমল শিশির কণা সােহাগে ঝরিয়া পড়ে
গােপনে গােলাপ দলে সােহাগে ফুটায়ে যায়,
ভালবাসা বড় ভালবাসে,
সুস্নিগ্ধ মেহের বিন্দু,-- নিন্দিত মুক্তার মালা
সহেনা সূর্ঘ্যের ছটা নিমেষে শুকায়ে যায়-
মিশে যায় পবনের শ্বাসে !
বনের উড়ন্ত পাখী, ক্ষুদ্র শিশিরের কথা,
ভালবেসে কান্দিবার কার এত সাধ আছে
তাই ভাবি কারে ভালবাসি ?
যদি বাসিয়ে ভাল, আমি যদি ভাল থাকি
কি ক্ষতি অামার তায়,
শুধু তার গীত গাব
যবে মন—চলি যাব—আসি !
যদি ভাল বাসি কভু,
ও পাখী যে, বনবাসী-
অত ক্ষুদ্র কণা নয়,
সেই বন-ছায়াতলে,
বসি একা আপনার মনে,
মিশায় শিশির কণা,
হৃদয়ের ভালবাসা
ছেলে দিব গোপনে গােপনে!
যে বিশাল হৃদি বুকে
সেই সাগরের জলে
ভালবাসা গীত গাব ছুটে যাবে বনে বনে-
করি প্রতিধ্বনি-গান বাতাসে ভাসিয়া যাবে
মিশে যাবে নিবেনা কেউ,
ফুলের ভালবাসা বনের পাতাটি তুলি ‘কারে ভাল বাসি’ লিখি সাগরে ভাসায়ে দিব দূরে বয়ে নিয়ে যাবে বুকে ধরি সাগরের ঢেউ। ফুলের ভালবাসা সােহগে উঠিল ফুটি সুকোমল ক্ষুদ্রপ্রাণ মেহের অপরাজিতা সুখময় নির্জন পুলিনে, তাপিতা ভানুর করে দাঁড়ায়ে তটিনী পাশে নেচে নেচে কাটাইত, তটিনী তুষিত সযতনে। তটিনীর কল কল ভ্রমরের গন্ গনি, সুশীতল জলকণা, সুবিমল শ্রান্তি-ইরা শশী, * কবি এই বিষয়ে একটি দীর্ঘ ইংরাজী কবিতা রচনা করেন এবং আমার অনুরােধ ক্ৰমে সঙ্গে সঙ্গে তাহার ভাব লইয়া এই কৰিটি রচিত হয়। ইংরাজী কবিতার প্রারম্ভ এইরূপ- There blushed a lonely flower A silly little thing And merry passed its sunny hour, Beside a tiny spring. শিবরতন।
নেহারি নেহারি সদা যৌবন উঠিল মাতি হৃদে কি বহিল দেন- উছলি উঠিল ৰূপ রাশি। গােপনে আপন প্রাণে বাড়িয়া উঠিল বালা, গড়াইল মধু ভাব- অধীরতা পশিল পরাণে। আপন গরব ভরে আপনি সরম পায়, চেয়ে চেয়ে চারিদি- চেয়ে রয় আকাশের পানে। ৪ প্রভাতী সমীর-শ্বাসে ঢালিতে সৌরভ রাশি, ব্যাকুল হইল বালা শিখিবারে ভালবাসা রীতি, লিখিয়ে সুরভি লিপি নিমন্ত্রিল মধুরে, যে চাহে ফুলের প্রেম- কোকিল, অমর, প্রজাপতি। কেহত-গাে শুনিলনা, কেহত-গগা বুঝিলনা,
ফুলের ভালবাসা
মূৰ্ছাগতা ফুলবালা
প্রাণের পিপাসা রয়ে যায়,
কে করে মধুর আশা,
কে চাহে চপল প্রেম,
নৰ প্রস্ফুটিত রূপ
যৌবনের তার দিৰে কা’য়।
রিল আকাশ হতে
স্নিগ্ন শিশিরের কণা
ঘুমন্তু নয়ন মেলি
চমকি চাহিল ফুলৰাল
শীতল
চুম্বন
স্পর্শে
শিহরিল কলেবর
চাপিয়া ধরিল বুকে
ক্ষুদ্র-প্রাণা শিশির চপলা !
প্রভাতে রবির কর
পরশি শিশির কণা
মণি সম যঝকি
জ্বলিয়া উঠিল জল,
আনন্দ উচ্ছ্বাসে মাতি
নেহারে তটিনী বুকে
নব প্রেম মুঞ্জরিত
ক্লপ রাশি-নীহার বদনা।
করিল শিশির কণা
মিশিল তটিনী জলে,
উদাস চাহিল বালা
ভেঙ্গে গেল সুখের স্বপন,
ভাঙ্গিল স্বপন সহ
ফুলের কোমল কায়,
দেখিতে ছুটিল স্রোতে
ভালবাসা স্বপ্ন নিকেতন।
৯
বিন্দু ভালবাসা তরে
সাতারি পাথারে বালা
সাগর সঙ্গম বুকে
ছুটিয়া পড়িল কোন দূরে,
তটিনী সাগর বুকে,
সাগরে মিশিল কণা
অতলে ডুবিল বালা
বিন্দুময় অকুল পাথারে ।
যেখানে অতল তলে
জ্বলিছে প্রণয় বাতি
বহিছে রূপের ঢেউ
বসিয়াছে মুকুতার মেলা
মত্ত ভালবাসা মদে
রূপের ঝলকে আলাে
ফুলের ভালবাসা
করিয়া সাগর গর্ভ,
মুক্তার সাগর সুরবালা।
বিহ্বল ফুলের প্রাণ
চাহিল মুকুতা পানে
বিশ্মরি শিশির কণা
যাচিল মুক্তার ভালবাসা,
হাসিল ঘৃণার হাসি
তুচ্ছ ভাবে অবহেলি,
দেখিনা চাহিলনা
অস্ত গেল ফুলের ভরসা।
১২
সাগর উদ্দেশ করি
চাহিল মুকুতা দল
মহা সাগর ক্রোড়
দেখাইল তাহাদের স্থান
অগাধে বেসেছি ভাল,
অতলে পড়িয়ে রই,
ভাসিনা ক্ষণিক সুখে—
নাহি চাই ও হেন পরাণ ।
অসীম সাগর বুকে
ডুবিয়া হারাল কণা,
কুরঙ্গ
খুঁজিতে হারাল ফুল
কুলহারা অতল সাগরে,
ক্ষুদ্র সে ফুলের হিয়া,
ক্ষণিক শিশির কণা,
অবােধের ভালবাসা
প্রাণ সহ মিটিল আঁধারে।
ক্ষণিক প্রেমের
পিয়াসা মিটাতে
ডুবিল খুঁজিতে প্রণয় ধন,
অকুলে পড়িয়ে
ডুবল,—মিটিল
পিয়াসার সসে পরাণ ধন!
প্রণয়।
অতন পরগ-চুত-পবিত্র প্রণয়,
স্বরগে তােমার জন্ম,
স্বর্গীয় তােমার কর্ম
দুর্গম তােমার মর্ম
মধুর নিশ্চয়,
তোমার প্রকৃত মুখ মানবের নয়।
*. "
প্রণয়রে! শূন্যে তুমি স্বর্গের সােপান,
কত ঋষি তপােবনে
ত যােগ যোগাসনে
কত সাধে নিশি দিনে
পায়না সন্ধান,
কখন কি ভাবে তুমি কোথা অধিষ্ঠান।
অন্ধের নয়ন তুমি অজ্ঞানের জ্ঞান,
তুমি কৃপা কর যারে
সংসার ভুলাও তারে
শিখাইয়া দাও তারে
সুখের বিধান,
বিরলে বসিয়ে গায় তব গুণ গান।
মির্শল প্রণয় চায় পবিত্র পরাণ,
রূপের প্রণয় নয়
গুণের প্রণয় নয়
কুলের প্রণয় নয়
কিম্বা ভাগ্যবান,
সে পথে অভাগা কত পেয়ে যায় ত্রাণ।
বুঝেনা মানব কিসে অঙ্কুর তােমার
বুঝেনা তােমার গতি
জানেনা তােমার রীতি
কি ভাবে তােমার স্থিতি
বুঝে উঠা ভার,
মানেনা মানব তুমি কিসে ইও কাগ।
অনুমানে বুঝি তুমি কঠিনের নও;
কঠিন স্বভাব যার
বিফল সাধনা তার
মিছা সহে দুখ ভার
(তবে কেন আশা দাও,
তুমি ও কঠিন অাহা আশ্রিতে কঁাদাও।
৭
কুটিল সংসারী মিছে করে আবাহন;
সংসারে ডুবিয়া থাকে
তবু মনে সাধ রাখে
তব গুণ গায় মুখে
প্রণয়ী যে জন;
রাখিতে তোমার মন দিতে নারে মন।
প্রণয় পবিত্র নিধি সংসারের সার;
সরল প্রণয়ী জন,
পবিত্র প্রণয়ী মন
অমূল্য প্রণয় ধন,
সৃষ্টি বিধাতার,
যে বুঝে তােমায় তার মর্ম বুঝা ভার।
স্তিত্ব তােমার বুঝি সংসারেতে নাই
গঠিত
শূন্যের ধূলে
পালিত শূন্যের কোয়ে
স্থাপিত প্রেমের মূলে,
তৰ ভিত্তি নাই।
স্থায়িত্ব-ভিত্তির সনে সচঞ্চল তাই।
তবে কেন তব নামে এ হেন মাধুরী ;
সংসারী বিরাগী বেশে
বিজনে বিপিনে পশে
ভূপতি তােমার বশে
পথের ভিখারী,
পাগলের বেশে বাপে দিবস শর্বরী।
এ হেন পবিত্র ভাবে কলঙ্ক প্রকাশ;
দম্পতী তটিনী তটে
তােমারি ক্ষমতা রটে
তােমারি মাধুরি বটে
বাড়ায় উত্তাল
পারেনা লভিতে, কেন লয় জবকাশ।
প্রণয়রে ঐ টুকু কলঙ্ক তােমার,
সাধিয়ে একান্ত মনে
পুলিনে প্রান্তরে বনে
কেদে কেদে দু জনে
আসেনাক আর ;
মুর্থতায় রাখে শুধু কলঙ্ক তোমার।
(৩৪ )
এ হেন বারতা তুলনা
যে হাসি গরবে
কমলিনী মরে,
সে হাসি কি প্রিয়া জানেনা ?
পাছে সে ভ্রমর
দংশয়ে অধ
তাই ভেবে প্রিয়া হাসেনা।
যে তারার হারে
নিশা-দেবী সাজে,
• সে কি তা সাজিতে পারেনা ?
কোমল কুসুম
পাছে ব্যথা পায়,
তাই ভেবে মালা পরেনা ।
কমলিনী সুখী
ভ্রমর করে
তারে কি ভা ভাল লাগেনা?
ভানু ডুবে যায়
যখন সে হাসে,
ভ্রমর তথন জাগেনা।
চকিত হরিণী
যে নয়নে চায়,
সে কি সে নয়নে দেখেন?
ব্যাধের তাড়না
সহেনি বলিয়ে
তাই মনে হয় রাখেনা।
যে সবে কোকি
কানুন মাতা
সে কি তা গাহিতে জানেন ?
বাসনা
পাছে সে কোকিল
শুনে লাজ পায়,
তাই ভেবে প্রিয় গাহেনা।
যে সুধার ধারা
সুধাকর ঢালে
সে কি তা ঢালিতে পারেনা ?
পাছে সে চকোর
করে জ্বালাতন,
তাই ভেবে দান করেন।
কলঙ্কী চক্ৰমা,
পঙ্কজ কম,
সে মুখে এ মুখ তুলনা!
সে যেন শুনে না
কেঁদে মরে যাবে,
* এ হেন বারতা তুলনা!”
বাসনা।
আহা ! যদি প্রিয়তমা হইত আমায়,
ন,-
অহা যদি প্রিয়তমা হইত নলিনী
সরসী হইত যদি মাের আঁখি দুটি
জাগিত ভার যদি দিবস রজনী
ফুটিয়া রহিত যদি অম্লান নলিনী।
স্নেহের পুতলি যদি হইত মুকু:
আমি যদি হইতাম সরস বকুল
হইত সে প্রিয়তমা প্রফুল্ল মালতী
শরতে হেমন্তে যদি বিকশিত ফুল
ভ্রমর ঝঙ্কারে দোহে করিত আকুল ;
আমি যদি হইতাম বিশাল আকাশ
প্রেয়সী হইত যদি পূর্ণিমার শশী
নিতি নিতি সমভাবে হইত প্রকাশ
বরষায় হাসিত সে শরতের হাস ;
যদি সে বাসন্তী উষা হইত প্রেয়সী
বনচর বিহঙ্গম হইতাম আমি
ফুটিত নলিনী যবে পােহাইত নিশি
নাম মধুর বৃক্ষশাখে বসি
আমি যদি হইতাম বরষার জল
প্রেয়সী আমার যদি হইত চাতকী
মধুমাসে ঢালিম বারি সুশীতল
ঝরিহাম প্রেয়সীর সাথে সে কেবল ;
লামি যদি হইতাম জলঙ্কি অপার
শুযিভাম নদ নদী গর্ভে আপনার
নিধি হিতাম অকুল পাথৰু
৪
"বসনা
আহা যদি সােহাগিনী হইত তটিনী,
আমি যদি হইতাম প্রবাহিত বারি
ভূষিতাম তৃষাতুর হরিণ হরিণী
ছুটিতাম গেয়ে গেয়ে কুল কুলধ্বনি।
আমি যদি হইতাম নিশির শিশির
সে যদি হইত মাের প্রফুল্ল কুসুম
দিবসেও ঝরিতাম ঠেলিয়া মিহির
হসিয়ে কুসুম বালা হইত অধীর
মধুচক্র হত যদি সে মধু বদন
চঞ্চল মক্ষিকা বিধি গড়িত আমায়
ফুলে ফুলে করিতাম মধু আহরণ
ঘখিতাম স্তরে স্তরে করিয়া যতম।
আঁশের বাঁশরী যদি হইত সে প্রিয়।
আমি যদি হইতাম অবােধ রাখাল
কিতাম দিবা নিশি মুখে মুখ দিয়ে
নীরবে বিজনে ধ্বনি যাইত ছুটিয়া ;
গুণ:
সে যদি আমার হত,
,
আমি কায়া, সে যদি হইত মাের প্রাণ
আমি যদি সে হতাম, সে হইত আমি
নীরবে মুদিয়া আখি হারাইয়া জ্ঞান
রাধামে রাখিতাম প্রণয় নিশান।
বিরহ
No text on this page.
বিরই
ভুল
সঁথি, আপন জ্বালায় মরি।
এমন পাগল পরাণ এ ছাই
তিলেকের তরে শান্তি নাহি পাই,
কোথা কি দেখেছে,
কে যে কি বলেছে,
কার রূপ দেখে এমন ভুলেছে
কিছুই বুঝিতে নারি !
নিমিষের তরে স্থির নাহি রয়
ছুটোছুটী করে সারা প্রাণময়,
পর কি আপন,
বুঝেনা এ মন
সা কার তরে চঞ্চল এমন ;
মরে কেদে কেদে কারে অরি
নামি অাপন জ্বলায় মরি।
ভুললে যে জন,
জানি ভর মূর্ণ,
পাষাণের চেয়ে কঠিন সে জন
গরলে গরল
চাতুরী কৌশলে
হাসির সোহাগে নয়নের জলে
সেজন চতুর অতি
২
কিশােরে পরাণ
পাগল করেছে,
কোন পথ দিয়ে কোথা সে পশেছে,.
ভােলা মন পেয়ে, রেখেছে ভুলায়ে,
কিছু যে, চাহেনা
বুঝাব কি দিয়ে,
কেন, হইল এমন মতি
জানি, সেজন চতুর অতি।
বুঝি বলেছিল,
ফুল ফুটিলে,
অলি জুটিলে
আমি আসিব
আঁখি মুছিয়ে,
তোমায় হাসাব
আমি হাসিব।
আঁখি মুছায়ে,
শীত অন্তে,
সেত-ৰসন্তে,
ফুল কত—কি
বনে, বিপিনে
কেহ ফুটেছে
কেহ ফুটিছে-
হকে চাতকী।
বুঝি বলেছিল,
ভানু মাতিলে,
ধরা তাতিলে,
যখন নিদাঘে ঝরিবে দেহ,
পাখী নীরবে, শাখে ঘুমাবে,
পথে পথিক রবেনা কেহ।
বিরহ রবি রকরে যদি ঘাম ঝরে, আমি, আঁচলে মুছাব দেহ, কথা ঠেলনা, কোথা যেওনা, দেখ ভুলােনা, ভুলালে কেহ, রবি মেতেছে, ধরা তেতেছে, বনে পুড়েছে সরস ফুল সে'ত এলনা, এত ছলনা, তবু গেলনা মনের ভূল ! বুঝি বলেছিল, নব নীরদ মালা, করিবে খেলা, বিজলি ছড়ায়ে বুকে, তুমি থেকোহে মনে রেখােহে, আমি আসিয়া মিলিব সুখে। সে’ত এখনি, ভাসে ধরণী ঝরে বরিষা নূতন বারি খেলে বিজলি, ধরা উজলি, নাচে নীরদ আঁচল ধরি! ; বুঝি বলেছিল, নীরদ লুকালে, ধরণী শুকালে, যখন আকাশ সুনীল হবে। গত শশধর, তারকা নিকর হাসিতে ভরিয়া যাবে।
আমি আসিয়ে, মধু হাসিয়ে, কেনে কাদায়ে তােমারি হব। সে’ত এখনি, হাসে দিনী, সে’ত অাসেনি - কেমনে রব ? = বুঝি বলেছিল, শরত নিভিবে হেমন্তু ফুটিবে, তখন চাহিও সুখ সাগর ঠেলিয়ে, সকলি ভুলিয়ে, ঘুচাব তােমারি দুখ। বুঝি বলেছিল, খর দিবাকর, ইলে ক্ষীণকর, যখন-উদাস বহিবে বায়, হিম প্রভাবে, ধরা কঁপিৰে, নদী হইবে তুষারময়। দেশ দেশান্তরে, সাগরের পারে আমি যথা থাকি, আসিব, পথ চাহিয়ে, দুঃখ সহিরে, তুমি থাকিও, আমি তুষর। *? এখন ঊষা, এখন নিশি; ভেবেনি শশি, উঠনি তৃপণ,
ঘুমঘােরে
at
আঁধারের গায় আলােক রেখা,
এখন বাতাস
শিশির মাখা
মুদিত নয়ন
মানস জাগে ;
কান্দিছে নলিনী
আমি স্বপনে শুনেছি তাহারি স্বর ;
সে যে এখন আপন, এখন পুর।
নবীন রাগে ;
উজলি ধরণী
উঠিল রবি,
কুমুদিনী কান্দে,
মলিন ছবি,
প্রভাতে জাগিল ভ্রমর কুল ;
এখন গেলনা মনের দুল।
ঘুমঘােরে
নিশীথের ঘুম ঘোরে
আঁখি দুটি চেপে ধরে
কপালে মারিয়ে টাপ করায় চেতন
কি এক নূতন স্বরে
বল বল প্রশ্ন করে
বলি বলি করে মেন হলো বিস্মরণ।
একটি একটি কমি
আঙ্গুলে আঙ্গুল ধৰি
চিনেছি চিনেছি বলি চিনেছি তােমায়
আখিতে আঁধার দেখি
কার নামে কারে ডালি
ঠকেছ কেছু বলে হেসে ভেঙ্গে যায়।
তখনি মলিন মুখ কান্দায়ে ভাসায় বুক কে বটে শুধালে কথা দেয়ন উত্তর রাগে মুখ রাঙ্গা করি আড়ে আড়ে যায় ফিরি অভিমান করে যেন বাড়ায় আদর। কার 'পরে এত মান কেন এত অভিমান ‘ওনা ছুঁওনা বলি সরিয়ে দাড়ায় দেয়ালের এক পাশে দাড়ায়ে চোরের বেশে খুঁটে খুঁটে ছােট ছােট পাথর ছাড়ায়। ঘুমন্ত শিশুরে তুলে আদরে চুমিয়া গালে কৰ্জলের রেখা দুটি নয়নে পরায় খেলে সেই কুটীলতা প্রাণে মাের দিতে ব্যথা মুখ হতে স্তন কেড়ে শিশুরে কান্দায়। কান্দিলে ক্রোধের ভরে স্নেহের চাপড় মারে বাঁ হাতে মেরেছি বলে ফের ফিরে মারে আঁখি ভরে বারে বারে তিরস্কার করে মােরে দেখায় সহিছে এত শুধু মােৰু তরে। উঠিয়া হইল খাড়া বুকে দুটী হাত ঘােড় বলে গেল,-রেখাে মনে, যাই আমি তবে’ ‘না মনে রবেনা বলে কেঁচার আঁচল খুলে টয়া বান্ধিল গিঠ, কিজানি কি ভেবে। এই আমি আসি বলে একাকী আঁধারে ফেলে দেখা দিয়ে লুকাইল সে চাৰু ৰদন,
এতকি কঠিন
ভাঙ্গিল ঘুমের ঘাের
সুখ নিশি হলো তাের
ঘুম সনে ভেঙ্গে গেল সুখের স্বপন।
$
শাখার অন্তরে থাকি
কোকিলা খুলিল আঁখি,
কুহু কুহু রবে কানন মাতায়
এখনও মুদিত আঁখি
বুকে দুটী হাত রাখি
অভাগার পাশে শিশু একাকী ঘুমায়।
এতকি কঠিন।
(১)।
আজিও শরৎ শশী
পূর্ণ অসম্পূর্ণ ভাবে
বিতরে কিরণ
সেই নীরদের ছায়া
আবরে বিধুর কায়া
সেই আকাশের বুকে তারা অগণন
সেই শশী, সেই তারাগণ ।
(২)
।
এখনও ফুলের মালা
উদ্যানে গােপনে হোক
মলয় সমীর
দুলাইরে হদি পরে ফুটায়ে সােহাগ ভরে
নীরবে ঝরিয়া পড়ে নিশির শিশির
সেই ফুল, সেইত শিশির।
ঐত বিহগ কুল
সুখে হােক দুখে হােক
গায় চির কাল,
সেই তমালের পাশে নিতি যায় নিতি আসে
ভুলেনি বিহঙ্গ রব সুখের সু-তাল
সেই পাখি, সেইত তমাল।
(৪)
এখনও নীরদ কোলে শীতে হােক বরষায়
বিদ্যুতের খেলা
কালই নীরদ ঘটা
তেমনি বিদ্যুত ছটা
আঁধারে মধুর হাসি, তেমনি উজলা
সেই হাসি, সেইত চপলা।
(৫)
আজিও প্রাচীন ভানু
ক্ষীন বা প্রচণ্ড হােৰু
এখন প্রকাশ
চলনভঃ হৃদি পাশে যেমন হাসিত, হাসে।
তেমনি নলিনী হাসে, সেই মধু হাল
সেই রবি, সেই আকাশ।
সেইত স্রোতের ধারা স্থির রা অস্থির ভাবে
উঠায় লহরী
সেই হিমাচল ধরে
শীতল নিৱর ঝড়ে
সেই তুফানের বুকে ভেসে যায় তরী
সেই নম্বী সেই লহরী
এত কি কঠিন
(।)
এখন নিকুঞ্জ পাশে
উবিত সুশীত হােক
সঞ্চারে সমীর
সেই পবনের কোলে
ফল দুলে ফুল হলে
সেইত সাগর বারি, তেমনি অধীর
সেই জল সেইত সমীর।
সেই দিবা সেই নিশা, আঁধার উজল হোক
নিতি আসে যায়
সেই স্নেহ সেই সুখ
সেই মায়া সেই দুখ
সেই উপন্যাস গুলি জাগিছে হিয়ায়
কাল কেন এত ধীরি যায়।
(৯)
সে যে সেই লুকায়েছে, আসি, শুধু বলে গেছে
হলে! বহু দিন,
গেছেকি জন্মের মত
কি দোষ আমার এত
আসিবেনা ? দূরে দূরে রবে চিরদিন ?
তাকি হয়?—এত-কি কঠিন?
.
মারা-কাটারি।
ওহি সূরং ধব ডুবু ডুবু যাও
মলয় সমীরণ ধাও,
যমুনা কিনারক পানিয়া উঠাওনে
থমকি থমকি পিয়া যাওয়ে।
পানিয়া উঠাওনে কোমর ঝুকাওকে-
পিয়া যব গাগরি জুবাওয়ে,
এনে ওনে দেথত চমকি চমকি' পিয়া
হৃদয়কে সরম ছিপাওয়ে।
গাগৰি উঠাওকে ধরত কোমর পর
চলে পিয়া লট পট চালে,
মধুর মধুর পিয়া কটি হিলায়ত
ঘন ঘন খুঁগট সামালে ।
ওহি বকুল তলে আঃ যব গিরল
নয়মে নানু হামারি;
বক্ষন ছিপাওকে পিয়া মধু হাসল
হৃদয়মে মারা কালরি।
বঁধুয়া রহল পরবাসী
বঁধুয়া
রইল
পরবাসী।
উড়ত বিহঙ্গম
গাও সুতানে
বিএম গহন বন
প্রান্তর কানম
উড়ি উড়ি গাওঁ
অবলাকে দুখ বাতাও।
জরি খুঁজরি উঁই
উড়
মধু
পায়ী
গুন গুন গুঞ্জন
গাও অনুক্ষণ
দুখ হামারি
যাও, য গেয়া মনােহারী।
হত ভ্রমর ঔই
বাত দে চারি
উঁহ পর ধাওলি
রাহা না বাতাগুলি
যৌবন সামহারী
বা বঁধু; পরাণ তােহাখি।
(৪)
অৰ্জুর ময়ুরী দেহে মিলি যাও
সৌরঙ লুটি লুটি
বনে বনে ছুটি ছুটি
= * সমীরণ ধাও কৃতান্ত কালে জানাও। (৫) যাও কোকিল উঁহু কুহু কুহু গs বুকত নয়ন দুই ভাকত হু হু হু হু কান্দি-কান্দা জীবনক পন্থ সুধাও। (৬) কাল বিসরি বঁধু কত দিন গেল সময় নিকট ভেল এই শ্যাম আওল দরশ না দেল- বরষ বরষ বিতি গেল। (৭) ধত বিহগ তঁহু এই পরিহার সুখ শরীরে রহে উঁহ যদি না কহে বাত বিচারি শমনেলােটাৰ যৌবন হামারি। (৮) শৎ শরৎ আজি ডেইল কত কাল এই শরৎ দিনে দেবতাকে পুজনে পতি বিরহে শ্যাম নাহি আল- ঠাঠ, পুরাতন ভেল। (১) কোন বাধব তবে সুধ বাওঙ্গে বিনা বারি সিচন ফুটল কুসুম অলি না শুধওয়ে- মুজরি, পবনে ঢলি বাওয়ে। (১০) অভাগী জনম হাম রহিনু পিয়াসী ঋতু সুখ কারণ চপল সমীরণ রহল উদাসী, বঁধুয়া রহল পরবাসী। - পতি বিরহে ননদিনী দারুণ গুরুজন শাসনে দগধি দগধি প্রাণ গেল দুখিনী জীবন ইম কি মত গোয়ায়ব বিষম যৌবন-সম শেল জনম কঠিন মম তেল।
ৰারি বহন লাগি
সব সহচরী মিলি
যহু সখি, যমুনা যাই
ঘােহ তরফ মম
কান্ত গমন কিছু
কঁদি কাদি রাহা তাকাই।
তবু সখি দরশ না পাই।
কৃতান্ত সম সখি
বরিখ সমাগম
নদ নদী বল তুফান
তৃষিতা চাতক
ভেল সুশীতল
তিতিল বসুধা বয়ান
তাতল দুখিনী পরাণ।
কিঙ্কির কুহু কুহু
ভ্রমর গুজন সখি ,
কুসুম এর সম লাগি
গলয় সমীরণ
ভেল অনল শিখা
মুহু সখি জনম অভাগী
যাই সখি, কুল শীল গরম তেয়াগী।
গেরুয়া বসন পিনি’
যােগিনী বিবাগিনী
সম সখি, কানন মাঝ
তাই হেসে কথা কয় f ছড়ি বন মাধবী ফায় লাগাই গলে মানি নােক ভয় লাল সখি, পাপ পরাণে নয়হি কাজ। তাই হেসে কথা কহেনা যৌবন উচ্ছ্বাস কঠোর কালের {১} শৈশবের খেলা বহু দিন হলো ভুলেছি সকল, কঠিন নিয়মে বিশ্বতি সলিলে , ধুয়ে গেছে সব আশার প্রদীপ নিভেছে, কঠিন কালের দারুণ দমন স'য়ে শ'য়ে বুক হয়েছে পাষাণ তবু সে এখন পাষাণে অঙ্কিত দুটি কথা কি কি রয়েছে। (২) মান অভিমান ভুলেছি সকল প্রাণ ভরা সাধ গিয়াছে মুছিয়া, ভালবাসা আশা ঢেকেছে তিমিরে সংসারের জ্বালা শিখেছি সহিতে চাৰে সে হাসি মিটেছে, শুধু সে কেবল মানস সলিলে অতীত পন চিন্তা-বিজড়িত ক্ষুদ্র ক্ষণস্থায়ী তরঙ্গের গায় কি যেন এখন ভাসিছে। ধীরে ধীরে যবে দীপ্ত দিনমনি ঠেলিয়ে আঁধার আকাশের গায় মৃত্তিকা ভেদিয়ে উঠিত আকাশে মলয় সমীর ঝুর ঝুর ঝুর, পরিমল লুটি বহিত, ভ্রমর ঝঙ্কারে, জাগি মৃণাল উঠিতে উঠিতে নব দিনমনি বৃক্ষের আড়ালে বাড়াইয়া কর হাসি মুখ খানি চুমিত। (৪) সেই যার সনে বকুলের তলে কুড়ায়েছি ফুল ভরিয়ে আঁচল শিশির স্খলিত নব ফুল ফুলে সােহাগের মালা গাঁথিয়ে যতনে পরায়েছি গলে পরছি। সেই সে বদন হৃদয়ের পাশে বিজনেগােপনে নিশার স্বপনে চেয়ে চেয়ে যায় কথাটী কহেনা কি জানি কি দোষ করেছি।
মরম কাহিনী
(৫)
বকুলের পাশে
গুল্মলতা আড়ে
কুড়ায়ে প্রস্তর
অর্জুনের ছালে
বিল নেহারি
আসিবার কালে
লিখেছিনু আমি
‘চলিলাম ফিরি,
শাখায় মালাটি রেখেছি,
আসিবার কালে
পথ পানে চেয়ে
যে পথে সে আসে
সে পথে দাড়ায়ে
অনিচ্ছার পদে
বিপথে অাসিতে
তারি গুণ গান গেয়েছি।
-তা’নয় এখন
বুকে লাজ ভরা
তাই হেসে কথা কহেনা।
মরম কাহিনী।
শরৎ গগন পটে
কবির উপমা তারা
একটি ফুটেছে,
ঝর ঝর ঝর রবে
দুলায়ে বিটপী কুল
সমীর ছুটেছে।
* কয়েকটি লাইন পাওয়া যায় নাই।
আঁধারের ঘন হার
যেরেছে দিগন্ত, হেরি
দিবা অবসাম,
অস্তমুখ ক্লান্ত ভান্ধু
ধরিয়া কিরণ জাল
ধীরে দেয় টান।
নগরের ধূমরাশি
শ্যামল শস্যের ক্ষেত্রে
জল ভারাক্রান্ত দেহে
নিশায় নীহার ছলে
ঝরে অগােচরে।
আঁধারে ছাপিছে ধরা
কুটীরে কুটীরে দীপ
জ্বলি উঠিছে,
সংসার আকাশে যেন
একটি একটি করি
তারকা ফুটিছে।
কোথা কে প্রান্তর পাশে
পঞ্চমে উঠায়ে অন
আঁশরী কুঁকিছে,
মরম কাহিনী।
সভয়ে বিহঙ্গ কুল
শাখা হতে শাখাত্তরে
উড়িয়া বসিছে।
শরতের নিশা বুকে
শরৎ তারকা মালা
শরৎ সমীর,
হৃদয়ে হৃদয়ে ভাসে
শরতের স্নিগ্ধ ছবি
বিরহী অধীর।
(৭)
ভূতলে আঁচল পাতি
প্রণয় পীড়িত স্বরে
কে যেন কামিনী,
চাহিয়ে আকাশ পানে
বিরলে গাইছে বুঝি
মরম কাহিনী।
(৮)
গান
আমার এ মরম কাহিনী, সই
আকাশের তারা
নাহি জানে তারা
যে জন জানিল
জানাল কই।
শিখালে যতনে
এ কি ব্যবহার
লােক মাঝে নাই
হেন ব্যবহার
কু
(মন) কারে নাহি চায় কেহ নাহি পায়
(আমি) আপনি আপনা হারায়ে রই।
সমাজে কোকিল কুঞ্জন শুনি
কেন যে মরমে সরম গনি
কেন, কেঁপে উঠে হৃদয় খানি
এখনও সেজন বুঝিল কই।
নিতি আসি যাই
রম কাহিনী
পবনে জানাই
তটিনীর তটে একা বসে গাই
কেহত তাহারে বলেন, কই।
সরসীর কুলে
কি দোষ ।
কুমুদী না হয় দূরে করে বাস
আঁখির মিলনে রহে হরষিত
নিজে অপারগ তুষিতে শশী,
সরল চকোর আকাশের ধারে
অবিশ্রান্ত উড়ে শুধু আকাশের পাশে
এ হেন বিহগ কি দোষে দোষী ?
মানব না হয় কঠিন পরাণ
বিধি ও কঠিন দুখ দিলে সয়,
সকলেরই প্রাণে এত কি সয় ?
বাণী যদি হতো বিহঙ্গম
কিম্বা চক্র যদি আকাশেই রয়ে
তুষিত পাখীরে, কি দোষ তায়?
আবার বসন্ত ফিরে এল।
আবার প্রাচীন ধরা
নূতন সাজিল লো
ছুটে ছুটে ভ্রমর আকুল ;
অাবার মালঞ্চ ধারে হাসিয়া উঠিল লল,
বসতের ফুল।
আবার পলাশ বনে আগুন লেগেছে লাে
প্রকৃতি সেজেছে উদাসিনী
শিশির শুকাল, বুঝি, মন্মথে পাইয়ে লো
কাদেনা যামিনী
গ্রীষ্ম বরষায় শীতে শরতে হেমন্তে লাে
ভাল ছিল গেছে দুখে সুখে
আবার কোকিল কাল আসিয়া জুটিল লাে
শেল হানে বুকে।
বসন্তের দ্বিপ্রহরে
জ্ঞানহারা হয়ে লো:
ওনি শুধু কুহু কুহু স্বর,
উদাস পরাণে চেয়ে আকাশের পানে লে
কায় অধর।
কুর
ক্ষুদ্র চাতকীর প্রাণ পিপাসু হয়েছে লো
‘জল দে জল দে’ বলি ডাকে,
যে মেঘ প্রাবৃটে ঝরে সে কেন এখন লাে
দূরে দূরে থাকে।
মরম যাতনা অতি
বিষম হইল লাে
শেল সম যৌবমের ভার,
একাকিনী বিরহিনী অবলা পরাণে লো
সহে কত আর ?
সুধীর পবন কেন
চঞ্চল হইল লো
হু ই রবে বনে বনে ধেয়ে
এখন রাখাল দল
গােঠে কেন যায় লৈ
বঁশরী লইয়ে।
কেন বা বালুকা রাশি পবন উড়ায় লো
দিনমান কৰিছে আঁধার,
বুঝিবা মদন ঠাট, রাখিতে বজায় লো
(পথ ঘাট) করে পরিষ্কার।
তাহারে বনফুল
ধুলায় ধুসরলাে
লুটাইয়ে পড়ে ভূমিতলে,
লাগেনা ভ্রমর বলে বিরহে কাঁদিছেলে।
অভিমান হলে।
অাবার বসন্ত ফিরে এল।
উন্মাদ যুবক একা বিজনে গাইছে লাে
এক প্রাণে বিরহের গান ;
বিজন প্রান্তর পাশে ভালবাসা রাখে লো
যাচকের মান।
সরস বকুল কেন
নীরস হইল লো
পাতাগুলি ফেলেছে ছড়ায়ে,
বুঝিবা মরে নব মুকুল দেখাতে বলা
উলঙ্গ দাঁড়ায়ে !
বসন্ত কি চিরকাল
যৌবন প্রয়াসী লাে
শিশু প্রাণও করে নিপীড়ন,
বিরহী মন্মথ ভয়ে বসে বসে করৈ লো
নিশি জাগরণ।
যে বাস পরিয়ে শুরু সে দিন সেজেছে লাে
খুলে ফেলে দুদিনের পরে,
শিও কলিকার দলে দু'দিনে বাড়ায়ে লো
১
শীতের অরুণ, সখি দারুণ হইল লল।
মরীচিকা জলিছে কেবল,
বিরহী পােড়াতে যেন মদন শ্মশানে লাে
কালে, চিতান।
বিশুষ্ক তটিনী যেন বসন্তে হেরিয়ে লো
হেলে দুলে শিশু খেলা ভুলে,
রাখিতে কান্তের মন ছুটিয়ে মিশিছে লো
সাগরের কোলে!
তী শরসম কেন হৃদয়ে বিঁধিছে লো
সুকোমল কুসুম, কমল,
সুধাকর হীন করে জ্বলিয়া উঠিল লো
বিরহ অনল।
১৭
বৃক্ষর পল্লব কেন
খসিয়া পড়িছে লাে
কেন সদা কাপে থর থর
নিয় মদন বুঝি
অলক্ষ্যে বিধিছে লল
অনদের শর।
১৮
নুতন বসন্ত ঘুরে বারে বারে আসে লাে
বুঝি কুল থাকে না আর,
বসন্ত ফুটিলে যদি
নয়ন মুদিত লাে
যেত দুঃখ ভার।
এবার বসন্ত এলে
এদেশে রবনা লো
হেথা শুধু বিরহ শাসন,
সারি সাগর পারে
পলাইয়ে যাব লাে
জুড়াতে জীবন।
বর্ষাগমে।
f
নিদাঘ তপন, সখি
আত এলেনা, কই,
বয় গিগ্ধবায়,
এ জলদের ধারা
নীল আকাশে, অই
ভাসিয়ে বেড়ায়।
শ্যামল প্রাত্তর পাশে
ফুটেছে তুষার মধু
কদধের যুগ;
ফুলে ফুলে ভন ভন,
গাছ গীত মধু আশে
মও তৃঙ্গকুল।
s
আবার ফি মেঘরাশি
তেমনি হাকিবে, সই
(থর, থর) কঁপায়ে মেদিনী
'দুটী প্রিয় বাহু পাশ
খুঁজিবে আকুল হয়ে
(যে কে চকিত বিরহিন।
এইনা বরিয়া কালে চপলা চমক হেরি মনে পড়ে মুখ, মেঘের গরজে কাপে অস্থিরা মেদিনী সই (থর থর কেঁপে উঠে রুক। আবার কি ভেকদল গাইয়া উঠিবে, সই বিরহের গান, আবার কি নদ নী রােধিয়ে বঁধুর পথ- বৃহিবে তুফান। ? বস্ত্র উৎপীড়নে, সই- আবার কি মেঘ মালা কাদিৰে তেমনি, আম, ঝম, অশ্রুবারি অনুদিন বনিময়ে ভাসাবে ধরণী। ওইনা দারুণ কাল মার আকার হায় আঁধার খামির
বর্ষীগয়ে
যে আঁধার বক্ষে লেখা
প্রিয় বিবর্তিত হেয়ে
(অতীতের) অপু কাহিনী।
এইনা বরিষা কালে
সরগী দুকুল ভরা
তরঙ্গ উঠিবে,
এই শীতল বায়
সিঞ্চিয়ে' সোহাগ ভরে
কুমুদ ফুটিৰে।
ল্পত বরিষার জলে,
উজল কুমুদ-সথা
হাসি হাসি মুখে
আকাশে ভাসিয়ে চরে
কুমুদী গার পায়ে
চেয়ে মবে সে।
কার
প, ভালবাসা কাল
আমি করেছি সই
চল (ঙ) ভরি,
বরি পড়ল দাম,
দুরদেশে, সখি
কোন দূরদেশে,
বরিষা ঝরেনা.তথা,-
নাহি ঋতু ভেদ,
কোথা কোন প্রেমে সখি
কাদেনা বিরহী জনে
জানেনা বিচ্ছেদ
সেই দূর দেশে সখি
কে আমারে লয়ে যাবে
সাগরের পার,
দারুণ একালে বুঝি
অঞ্চলে বৌবন বয়ে
আঁচিবনা আর।
।
বাশী।
প্রগাঢ় নিদ্রার কোলে নিদ্রিতা রজনী,
কটাক্ষ আবাস আঁথি
অবশে গণিয়া রাখি,
এলায়ে কটার বাস নিদ্রিতা কামিনী
চকিত যুবক হেরে স্বপ্নে প্রণয়িনী,
বিরত কোকিল-বধূ করিতে কুল,
যেন ননসব
ঝড় ঝড় বৃবে ফুটে বহিছে পবন
লাগেনা গ্রাম-নিখিশান্ত দরশন।
আধা নিরমল, আধা মেদের সঞ্চার, সােহাগের আধা শশী গগনের কোলে বসি আবৰি বদন খানি প্রকাশে আবার তখনি উজল করে, তখনি আঁধার। অনঙ্গ-পীড়িত ভূল চীরে যেমন তেমনি এবণ পাশে আধ আধ স্বর ভাসে কি এক সুধার ধার করে বরিষণ কি জানি কি রৰ কোথা করে কোনজন। টুটিল মেঘের ছায়া, আসিল পবন হাসিতে মিশিল শশী দুলে দুলে ভাসি ভাসি তাড়ায়, জলদে যেন পরবে মগন ঝুর ঝুর বহে ধীর মৃদু সমীরণ। নিৰু তেদিয়ে অই উঠিল কি তান, কি রাগ রাগিনী গাধা নি-সা-রি-পা-মা-পা-ধা; প্রথমে সাধিয়া বঁাশী গাইল কি গান- বিচিত্র কি অবলা মলবে কুলমান। . . . .
কুরঙ্গ,
নাব বাঁশরী কারে মর্শের কাহিনী,
মৃদুল সমীর ভরে
ছুটে যায় দূরে দূরে
লক্ষ্য করি কারে ধায় সে বব মােহিনী
মাতায়ে নিকুঞ্জালয় ছুটেছে সে ধ্বনি।
বলে বাঁশী—সেই সেথা বাঁশরী বাজাই,
ছাড়িয়ে কানন পাশে
পবন পলায়ে আসে
করি প্রতিধ্বনি ঝাশী ফিরিতেছে তাই--
ফিরে বলে—সেই সেথা সঙ্গে হে যাই।
আহারে, কিসের বাঁশী কি সুধা ঢালিল
যার তরে বাঁশরিয়া
গায় গান বিনােদিয়া,
আহারে, হৃদয়ে তার কি ভাবে পশিল
পশিল যদিচ, নিশি কি ভাবে যাপিল।
কে 'জাগে বাজাতে বাঁশী এ ঘোর নিশীথে
ঘুমন্ত সংসার সারা
পশু পক্ষী জ্ঞান হারা
কি জানি এখন বাঁশী বাজে কোন সাথে ।
কে জাগে শুনিতে বাঁশী এ ধাের নিশীথে
দিও দেখা
যবে,
বকুল মুকুল
ফুটিয়া রবে
বিরহ গাহিবে সমীরে
হিমের প্রভাব
মিটিরে যখন
জড়তা লুকাবে তিমিরে
স্বরগে মরতে
সুখের মিলন
মরমে ফুটিবে হাসি রেখা
জেগে রব আমি
বিরহ শয়মে
নিমেষের তরে দিও দেখা।
যবে,
আকু কোকিল
নীরব রৰে
সাগর ওখাবে অনলে
বসন্তের ফুল
ঝড়িয়া পড়িবে
জগৎ ভরিবে গরলে
নিশাসে নিশাসে
তপত আগুন
বিরলে দাড়ায়ে রব একা
আশা পথ চেয়ে
*রব উদাসীন
নিমেষের তরে দিও দেখা।
বে, বিরহ পীড়নে নীরদ কাদিবে ভূতল ভরিয়া জলরাশি তভাগ তটিনী ক্ষুদ্র জলাশয় সমােজ সাগরে মিশামিশি গভীর গরজে হিয়া দুরু দুরু মরম চাহিবে প্রিয় সখা কেঁদে কেঁদে আমি জেগে রব নিশি ভুলোনা আমায়—দিও দেখা । ৪ সুনীল গগনে হীরকের তারা চাহিয়া রহিবে অনিমিষে শ্যামল নয়নে ঘুমাইবে শশী শীত সঞ্চারিবে নিশি শেষে সাগরে ভূধরে নগরে প্রারে মেরিবে শিশির কুহেলিকা জড়তা জড়িত বেঁচে রব আমি, চলে যেও, শুধু, দিও দেখা। মৃ. সংরণে প্রবেশিবে শীত হেমন্ত আসিবে ভূতলে জগৎ জুড়িয়ে শীতল সমীর মীর লুকাবে তলে
নিও দেখা
আঁধার জড়িত বিরহী বেনা
শুধু জেগে যে স্মৃতিরেখা
গােপনে তোমায়
বাসিব আপন
নিশীথে স্বপনে দিও দেখা।
যবে,
ভপত তপন
ঢলিয়ে পড়িবে
অনল কিরণ জলকণা
দিবস গলিয়ে নিশীথে মিশিবে
কাননে কুসুম জাগিবেনা
শ্যামল শিখরে
জড়তার ছবি রবে আঁকা
আমার জীবন
যদি মিটে যায়
সমাধি শিয়রে দিও দেখা।
তুষার সমাধি
No text on this page.
হৃদয়
No text on this page.
মৃতে অমৃত মাখা শির সুহাস ;
সেই ধুলা অঙ্গে মেখে
ছল ছল দুটি চোখে
তিরস্কার ভয়ে কেন ঘন ঘন
আধা স্নেহে আধা মানে ক্রোধের প্রকাশ ;
সে এক ভাবের দৃষ্টি
সে এক অমিয় বৃষ্টি
সে এক ভাবের ভাব আনন্দ উচ্ছাস
সরল শিশুর রূপ মাধুৰ্য্য আবাস !
কোমল কমল বালা সে হাসি হাসেন।
যে হাসি হাসিলে ফুল,
উন্মত্ত ভ্রমর কুল,
প্রভাতের বাল-ভাই সোহাগী ললনা
নিল বাসন্তী উষা, সে হাসি জানেনা ;
ছড়ায়ে অনিল রাশি
যুবকের উচ্চ হাসি
সে, মধু হাসির সনে হয় না তুলনা,
অধিক শশী মুখে সে হাসি আসেন।
;
৭৮
কুর
ভ্রমর ঝঙ্কার রবে সে বুব মিশেনা ;
সে এক মধুর কণ্ঠ
পরাজিত
মধু
ক
নারদের বীণা যন্ত্রে সে রব উঠেনা,
যতনে পালিত পাখী সে বুলি ধরেন ;
শিখিনীর রবে কবি
বিমুগ্ধ কি ভাবে ভাবি?
ঝরুক নিঝর সুখে, সে এক ঝরণা,
মক্ষিকার মধু চক্রে সে মধু ধরেনা।
৪
চকিত হরিণী আঁখি কত শােভা ধরে,
চকিত হরিণী চায়
কি ভাব প্রকাশ তায়
উপমার পদ্ম পত্রে কি ভেবে আদরে,
কি আঁখি অঙ্কিত করে কোন কারিকরে;
ইন্দ্রের সহ অক্ষ,
কোন আঁখি এত দক্ষ
প্রকাশিতে মনােগত ভাৰ অকাতরে,
শিশুর পলাশ আঁখি কি মাধুরী ধরে।
শিরনয়ন কোলে নেত্র আরি-কণা,
নৰ বরিষার ধারা
চলুক সুধার ধারা,
পবিত্র যমুনা বাৰি সে ভাবে বহেৱা
শিশু
জোয়ারে গঙ্গার জল অত উথলে না ;
সুচারু বদন চেয়ে
অশ্রু মালা পড়ে ধেয়ে
শত কহিনুরে মাল সে ভাবে রচেনা,
কি শােভা গোলাপ গলে নীহারের কণা।
কোন বীর মহাবলী এত ধৈৰ্যবান,
কোন রাজা দর্পশালী
কোন বলী এত বলী
কোন সাধু সাধনায় এত সাবধান
হেরে নেত্র বারি পূর্ণ শিশুর নয়ন ।
কোন সাগরের মুখে
স্রোতে এত বল রাখে
কোন তরঙ্গের বুকে এ হেন তুফান
প্রাবৃটে সিন্ধুর জল এত বেগবান ?
শিশুর সৌন্দর্য্য বাঁধা সৌন্দৰ্য্য আধার;
মাধুরীর মধুরতা
কমলের কোমলতা
মুকুতা ছবির গলে মাণিকের হার
ফুরায় লিখিতে কৰি কল্পনা ভাণ্ডার
মুরতি স্নেহের নিধি
যতনে গড়িল বিধি
বর্তমান ছয় বসে সপ্ত পারাবার
মাধুৰ্য সাগরে শিশু অকুল পাথার।
।
*
বিধি বিশাল সংসার প্রশান্ত থাকাশ অপার জলধি অচল হিমাদ্রি বিধির কৌশল জানি, অমূল্য রতন সমুদ্র গরতে পৃথিবী প্রােথিত হীরক আকর, সুখের দুখের বিধি অধিপতি বিধি সর্বাধার শুনি। দীপ্ত দিকর বিমল সলিল গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত নিশি শিরােমনি জাহ্নবী যমুনা বিধির আদেশে চলে, হেমন্ত শরৎ নিশির শিশির নিকুঞ্জ কানন সকলি বিধির বলে। বসন্তের ফুল বন উপবন - সৃষ্টি স্থিতি লয় জানি বিধি বশে বিধির আদেশে চলে গ্রহ তা সকলি বিধির ধারা, আলােক আঁধার বরগ নরক যৌবন জীবন মুখের দুখের মান অপমান, শাহি অশান্তির বিধিই লিখন হায়।
বিধি ===----- নীরব নিশীথে সিঞ্চিতে সােহাগ হরিণ হরিণী তুষিতে বনের বিধির নিয়ম সুস্নিগ্ধ শিশির মুকুল মালতী নীরবে ঝড়িয়া পড়ে, করভ করভী তৃষাতুর প্রাণ রাখিতে কেবল নীরবে নিঝর ঝরে। রাজত্ব রাজার দীন অধিষ্ঠিত বিজন বিপিনে কি রাজ সংসারে রসাতলে যায় রাজ সিংহাসনে বিধির বিধান বটে, প্রান্তর পুলিনে কি বৃক্ষের মুলে কপটে কঠিনে বিধির ক্ষমতা রটে। সরলে গরলে এ যদি সকল সুখ দুখ যদি তবে কেন পুনঃ সংসারের দুখ অশ্রু কি সৃজন বিধির নিয়ম বিধি সিরাজল বিধি যদি সৰ্ধাধা, পাপ অবিচার দুখীর জীবনে সেই আঁখি তরে তারি তরে দুখ ভার।
রে নির্মম বিধি! সুখময় যদি দুখীরও দুখ হেন বিধি কিরে যে দুখ দেখিলে রাজত্ব তােমার হইত কেবল কি ক্ষতি আছিল তায়, কৱিতে মােচন ছলনা কি আর বিদরে পরাণ পাষাণ ফাটিয়ে যায়। ৮ মনুষ্য পরণে পারি যদি বিধি অন্তরের দুঃখ জানাতে তোমায় যা হয় আমার হবে, মিটুক গগনে, পড়ে রই আমি রবি শশি তার আঁধার সংসার দুখীর রোদন না পশে শ্রবণে এ ৰিধি না রহে ভরে। দুখ নিপীড়িত দরিদ্র বােদন উঠে যাক বিঞ্চি সংসার হইতে এই যে মিনতি মাের, যত পাপ আছে না হয় সংসারে দ্রাও বিধি মোরে নয়নের দুল সব দুখ ভার আমারি বাক কেঁদে কেঁদে কব্ধি তাের।
বিধাতা ও মাতৃভূমি
যত পাপ বিধি
পড়ে থাকি আমি
বন্দ্র হুতাশনে
ঘটুক আমার
নরক আঁধারে
মুছাও দুখীর দুখ,
পুড়ে যাই আমি
কেননা করিলে
সংসার আঁধার
দেখি দুখীর মুখ।
বধির শ্রবণ
আমি যেন দৈখি
বলিলাম এত
এ ক্ষুদ্র পরাণে
দুখ যদি বিধি
দুখীর নয়নে
পেতে হয় তায়
এই প্রতিফল চাই,
ঝরুক যে দুখ
হােক দুখময়
তাদের ছাড়িয়ে
আমি আগে মরে যাই।
সংসার তোমার
কিন্তু যেন বিধি
বিধাতা ও মাতৃভুমি
বিধাতা অসীম রাজ্য থাকুক কুশলে ;
প্রশস্ত আকাশ বুকে
চন্দ্রমা ভানুক সুখে
হীরক তারকা মালা জ্বলুক গগন পটে,
ঝরুক নিঝর রূপে বিধাতার কৃপাবরি
প্রান্তর পুলিন পার্শ্বে, বর্জিত বিটপী লতা
পুষ্পিত ফলিত হােক, প্রকাশি মহান্ দীপ্তি
মানব রাজত্ব হােক সাগরের জলে।
জানুক আকাশ মার্গে সঙ্গীত লহরী
বনের কুসুম মালা
প্রকাশি তােমারি লীলা
বায়ু ভরে নেচে নেচে তােমারি মহিমা গা'
উড়ক সুমেরু চূড়ে তােমারি করুণ ধ্বজা
করে করে দেশে, বিজনে বিপিনে বনে
তােমারি রাজত্ব দর্প হােক সু প্রকাশ, দেব,
প্ৰস্তরে স্তরে নাম জ্বলু তোমারি।
লউক তােমারি নাম পক্ষী বনচর
মন্ত্রে মন্ত্রে মুখে বুকে
তরুর পল্লব শাখে
তমােময় অহনি অতল সাগর তলে
তােমারি রহস্য প্রভু, হােক ব্যাপ্ত সময়
দেবতা দানব মিলি পতঙ্গ মাতঙ্গ সহ
মানবের হিংসাভাব ছাড়ি হিংস্র বনচর
ঘােষণা করুকু প্রভু মহিমা তােমার।
বিধাতাও মাতৃভূমি তটিন লহরী মালা রচি তৰ নাম ঢালি অঙ্গ অঙ্গ পরি জরুর রচনা করি লিখুক তটিনী বঙ্গে নামের মহিমা তব বেড়ি বেড়ি নভস্থল ব্যাপিয়া তারকা চয় নদী বক্ষে মুক্তামালা হউক সজ্জিত, নাম লিখিতে তােমারি, গ্রহে গ্রহে চন্দ্র সূৰ্য্য হােক দীপ্তম-সুখময় বিধার ধাম। বপ্নের ভাণ্ডার হাে রাজত্ব বিশাল, থাক সদা শূন্য 'পরে কল্পনার অগােচরে গভীর জলদ কোলে বিদ্যুতের বর্ণমালা রচিয়ে তােমারি নাম হুহুঙ্কারী বজ্রস্বরে কাপায়ে ধরণীধর অক্ষর লিখিয়া দিক, শাসন তােমার, ওহে, জলে স্থলে শূন্য মার্ধে ঘুরুক 'সংসার তব চক্ৰ চিরকাল। এই চাই- আমার সে খাতৃভূমি, সেই ছায়াতলে সেই কাৰ্য ক্ষেত্ৰপরি সেই আশা বুকে ধরি সুখম রহে চিরকাল, সেই গান প্রেম,
সেই বাঁশী অরে মুগ্ধ, সহেনা কখন যেন
সরল তাড়না ভয় নাহি শিখে উৎপীড়ন;
বহিছে জীবন যারা পুক তােমারি গুন,
শাস্তি দাও, প্রভু, যারা শায়িত ভুতলে।
অনাখে অশ্রু বিন্দু।
আমি পারি হৃদি বলে
রোধিতে সহ সেনা
অপার জলধি পারে
সাহসে বাঁধিয়া বুক,
(আমি পারি) তুফান ঠেলিয়া যেতে
দেশ দেশান্তর পরে ;
সুখের স্বর ধাম,
তুচ্ছভাবে অবহেলি
নরক আহুতি সহ
নরকের হুতাশনে
পুড়িয়া মরিতে পারি,
যুগ যুগান্তর তরে।
আমি পারি,
অবাধে চরণে ঠেলি
সংসারের রাজ্য সুখ
পশিতে গহন বনে ;
আঁধার গহবরে পারি
বপিৰারে দিবানিশি,
করিনা ত ভরি;
অনাখে অশ্রু বিন্দু
হিমালয় তুঙ্গ শৃঙ্গে
সুখে জলাঞ্জলি দিয়া
উ বিলেপন অঙ্গে
দুখ নাহি মানি তাহে
পশিতে সন্ন্যাসী বেশে
যদি তাহে প্রাণ যায়।
আমি পারি,
পাষাণে বাঁধিয়া মৰ্ম্ম
অবাধে নয়ন মেলি
দেখিবারে অকাতরে
এচত প্ৰণর তবে
সােনার রাজত্ব যদি
ডুবে যায় রসাতলে;
আমি পারি, দেখিবারে
শীতল শিশির মালা
যদি হলাহল,
প্রাবৃটের নব ঘন
উগরে অনল রাশি
পবিত্র বরিষা জলে।
আমি পারি বাহুবলে
মত্ত করি-রাজ সনে
যুঝিতে সম্মুখ যুদ্ধে ;
জুলিতে কঠিন প্রাণ
কোমল মৃণাল দেহ,
ছিড়িয়া ফেলিতে পারি-
রতন ভূষণ হার;
বুক পেতে নিতে পারি
কালের করাল হন্ড
নিক্ষেপিত বিষবান;
ভরিনা সংসার দুঃখে
সকলি সহিতে পারি।
পারিনা মানব দেহে
থাকিতে এ তুচ্ছ প্রাণ
কি মূল্য প্রাণের মাের ?
দেখি বারে আঁখি জল
অনাথ বদন পরে
পীড়িত মৰ্ম্ম যাতনা ;
চরণে ঠেলিতে পারি
পারস্য সাগর গর্ভ
সঞ্চিত শুক্তির মুক্তা
আমার প্রাণের তুল
লক্ষ প্রাণ বিনিময়ে
নহিক কাতর আমি
রাখিতে সে বিন্দু কণা।
আমি বাহিত ভারত বুকে। প্রভাতে বিমানে চড়ে ঢলিল বিশ্রাম হেতু পূরব গগন প্রান্তে মলিন বদনা নিশা পুড়ে পুড়ে সারাদিন পশ্চিম গগনে রবি হেরে দিবা অবসান ধরিল আঁধার ছবি ! অদূরে দাঁড়ায়ে অই । শোভিত হীরার হারে ছুটিছে পবন ধেয়ে পড়িছে জোনাকি, যেন প্রশস্ত প্রাচীন তরু দীপিছে থদ্যোত কুল দুলিতেছে তরুবর, ঝরিয়ে ফুটন্ত ফুল। ডুবিয়ে বারিধি জলে পাঠাইলা জলদেরে ভীষণ মুরতি ধরি ভাসিল নীরদ মালা কহিয়ে বারিশে, ভানু টালিতে সলিল রাশি, বায়ু ভরে বিতাড়িত আঁধারে দিগন্ত গ্রাসি । বায়ু সহচর সনে আধার আঁধার করি সঘনে ঝটিকা সহ লুকালো মেঘের আড়ে হুঙ্কারি সদল বলে ছাপিল গগন তল, স্ব স্বন, রব করি বিষাদে তারকা দল। উড়ায়ে কুটীর ক্ষুদ্র কাপাইয়া গিরিবরে ক্রোধ ভরে তরুবর দাড়াইয়ে বুক পেতে বিলােড়িয়া নদী জল (যখা) মত্ত করি-রাজ রণে, আকাশ উন্নত শিরে যুঝিতে বায়ুর সনে।
৯০ কুরঙ্গ ভীষণ গর্জন করি পড়িছে অসনি খসি শিলা সহ বারি ধারা উজলি আঁধার কায়া কাপাইয়া ধরাতল ফুকারি অনল শিখা, ঝরিতেছে অবিরাম চমকে বিদ্যুৎ রেখা। ধরিল প্রশান্ত মূৰ্ত্তি ঝিঝিছে ঝিল্লিকা শুধু বিজন শ্মশান ভূমে বিকট মুরতি ধরি কাল নিশীথিনী এবে ক্ষান্ত জন-কোলাহল, দুলিছে শাল্মলী তরু (যেন) নাচিছে পিশাচ দল। নিস্তব্ধ নিশির কোলে ডাকিছে পেচক একা আঁধার কাননে কঁাদৈ গিলিছে শবের মাংস শায়িত সংসার সারা বিকট চীৎকার ভুলি, ফেউ ফেউ ফেরু পাল নিশাচর কুতুহলী। এ ঘাের নিশীথে একা কে ফেলে দুঃখের শ্বাস বিধি চির নিরদয় ঘটাইল, তাই কঁাদে বিজন পুলিনে বসে হায় হায়” ধ্বনি উঠে কি বিপদ কারে বুঝি একাকী তটিনী তটে। মানব হৃদয় যায় নারে সম্বরিতে মায়া সে রব শুনিয়া, আহা আপনি অন্তরে আসে রোমাঞ্চিত হ’ল দেহ চলিলাম তার পাশে। কাপিল হৃদয় মম চলেনা চরণ তবু আমি বাহিত ভারত বুকে আঁধারে করিয়া লক্ষ্য সাহসে নির্ভর রাখি চলিলাম জিজ্ঞাসিতে একাকী বিজন বনে সে রব মােহিনী, একা নদী তট অভিমুখে কি দুখে সে চলিয়াছে কঁদিতেছে মন দুঃখে। অদূরে দাড়ায়ে অই গন্ধর্ব, মানব কিম্বা কিম্বা কোন কুল-নারী বিজন বাসিনী তাই, দেব কি দানব মূর্তি কিন্নর কিন্নরী ধনী, যথা সন্ন্যাসিনী, বুঝি কিম্বা কোন পিশাচিনী। বদন, নিন্দিত সুধা, অচঞ্চল রূপ ধরি, নিন্দি ইন্দীবর আঁখি, যেন মূৰ্ত্তি সৌদামিনী তটিনীর জলে ভাবি মিশিতে আসিয়া বক্ষে বরষার নব ঘন স্তম্ভিত বিশ্রাম হেরি ? ১ ধ্বনিল আকাশে শব্দ বাজিল সহস্র ঘণ্টা “পতি, পতি, পতি” রব উঠিয়া হইল ক্ষান্ত “সতী, সতী, সতী” তানে জয় জয়” ধ্বনি সহ, ক্ষীণ সাহসের সুরে সভয়ে কাপিল দেহ।
স্কুল,
••
সহসতী শ্রোতস্বতী
ধায়িল, পতির পাশে
ধাইল তরঙ্গ মাল।
নাচিতে নাচিতে সুখে,
জিজ্ঞাসিতে, “হে বারীশ
দেখেছ কি ভাগ্যবতী
প্রবাহিনী আমা চেয়ে
(আমি) বাহিত ভারত বুকে ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.