Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Gajayubbed-sanhita Part 4

Chowdhury ,shashikanta Acharjya · 2010/04/30

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

--
গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা।
চতুর্থ ভাগ ,
শশাশুকান্ত আচার্য্য চৌধুরী
১৩
মূল্য ৪ টাকা
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

No text on this page.

গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা শল্যস্থান ব্রিণী দিব্ৰণীয় বিধি। প্রথম অধ্যায় একদা ভগবান পালকাপ্য অঙ্গপতিকে সস্নেহে সম্বােধন করিয়া বলিলেন - হে নরেশ্বর, অতঃপর ‘দ্বিব্ৰণীয় অধ্যায় ব্যাখ্যা করিব শ্রবণ করুন। অনন্তর বিদ্বৎকুল বন্ধু অঙ্গপতি, তপঃপ্রভাব-সমুদ্ভাষিতকাত্তি বারণগণের অসাধারণ সখা মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন—ভগবন, ব্রণের লক্ষণ কতিবিধ ? এবং মাতঙ্গগণের ব্ৰণ প্ৰতীকারের উপায়ই বা কি কি? গজায়ুৰ্বেদশাস্ত্রে ব্রণােৎপত্তির নিদান এবং ব্রণচিকিৎসাই বা কত প্রকার ? কি নিমিত্তই বা মাতঙ্গগণের ব্রণ প্রায়শঃ বিসর্পিত হয় ? কি নিমিত্তই বা বারণ দেহে ক্ষুদ্র ব্রণটিও বদ্ধকোশ হইয়া বিস্তৃতি লাভ করে ? কি কারণেই বা মাতঙ্গগণের মর্মাদি ক্লেশপ্রদ স্থান সমূহে উৎপন্ন ব্রণ অবিলম্বে বর্ধিত এবং পুনঃ পুনঃ দুষিত হইয়া থাকে ? কি হেতুই বা আরণ্য বারণগণের অঙ্গে বাতপিত্তাদি দৈহিক উপাদানের বিকারজনিত ব্ৰণ উৎপন্ন হইতে দেখা যায় না? কেনই বা চিকিৎসকের সাহায্য ব্যতিরেকেই অরণ্যবাসী বারগণের আগন্তুক ব্রণ প্রতিকৃত হইয়া থাকে ? মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য তাহাকে বলিতে লাগিলেন—হে অঙ্গেশ্বর, শ্রবণ করুন বারণগণের ব্ৰণবিষয়ক তথ্য সমুদয় বর্ণনা করিতেছি-হে নরেশ্বর, মাতঙ্গগণের ব্রণের নিদান বিবিধ, স্বরূপ ত্রিবিধ, বস্তু অষ্টবিধ, অধিষ্ঠান বা আশ্রয় দ্বিবিধ ; আকৃতি দ্বিবিধ, স্রাব দ্বিবিধ ; শল্য দ্বিবিধ , উপক্রম ত্রিবিধ এবং উপক্রমের নিদান ও ত্রিবিধ, ইহাই গজায়ুৰ্বেদশাস্ত্রের সিদ্ধান্ত। হে নরনাথ, পূর্বেই কথিত হইয়াছে যে বারণগণের ব্রণের যােনি বা নিদান ত্রিবিধ। উক্ত ব্ৰণনিদান বা যােনি উদগম বিক্ষত ও দাহ এই তিন প্রধান • ২ গায়ুর্বেদ-সংহিতা ভাগে বিভক্ত। তন্মধ্যে উগম, মাতঙ্গ গণের দৈহিক উপাদানের বিকার সস্তৃত এবং আগন্তুক এই দুই প্রকার। উল্লিখিত দোষজ ব্রণ ও সাধারণতঃ মাতঙ্গগণের দেহের উপাদান স্বরূপ বাত, পিত্ত, কফ, রক্ত ও মেদের পৃথক পৃথক কিংবা যুগপত্ বিকার সতই হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে আগন্তুক ব্রণ সমুদয় বিষ- সংসর্গ, অভিঘাত প্রভৃতি বিবিধ কারণ বশতঃ নানাবিধই হইয়া থাকে। ব্রণের স্ফীতভাব ও বেদনা বায়ুর প্রভাব সস্তৃত, পাক পিত্তবিকার জনিত এবং বিসর্পণ বা বিস্তৃতি লাভ কফবিকার প্রস্ত। যে ব্ৰণে যে দোষ বা বিকার সমধিক পরিমাণে প্রবল, সেই সেই ব্রণ, তত্তদ্দোষ সমুৎপন্ন, বলিয়া নির্দিষ্ট হইয়া থাকে। ফলতঃ প্রত্যেক ব্ৰণে ত্রিদোষের, বিকারই অম্লাধিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। ক্ষুদ্র গােলাকার কঠিন ব্রণকে ‘গ্রন্থি’ আখ্যা প্রদান করাইয়া থাকে এবং পৃথু, দীর্ঘ গজকুম্ভবৎ স্ফীত ব্রণকে বিধি নামে অভিহিত করা হয়। অনন্তর বিক্ষত নামক ব্রণ নিদানের বিস্তৃত ব্যাখ্যা কথিত হইতেছে। ঘর্ষণ দংশন ও ক্ষত ইহা বিক্ষত নিদানের লক্ষণ। তন্মধ্যে রজ্জ্ব, প্রভৃতি দ্বারা ঘর্ষণ, সর্পাদি কর্তৃক দংশন এবং মাতঙ্গগণের ব্রণকর তীক্ষ্ণ ভাবধারা “ক্ষতের উৎপত্তি হইয়া থাকে। উক্ত ক্ষত নানাবিধ অস্ত্রাদি দ্বারা ছিন্ন, বিদ্ধ, অবকৃত্ত এবং অবস্ষ্ট এই চতুৰ্বিধ। তন্মধ্যে চ্ছিন্ন অবান্তর ভেদে চ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন, উৎসৃষ্ট, অবসৃষ্ট এবং দারিত এই পাঁচ বিভিন্ন নামে আখ্যাত হইয়া থাকে। সর্বাগের অপবর্তই চ্ছিন্ন শব্দের অর্থ, প্রহার সন্নিপাত বিচ্ছিন্ন, কর্ণ, লাঙ্গুল ও শুণ্ডের দ্বিধাভাব দারিত, দেহের আধােভাগস্থ স্নায়ু অস্থি ও মাংস ভেদ অবকৃষ্ট এবং তাহারই বিপরীতটি উৎকৃষ্ট নামে অভিহিত হইয়া থাকে। সেইরূপ বেধন ও অবান্তর ভেদে নিবিদ্ধ অনিবিদ্ধ, বিদ্ধ ও উক্ৰণ্ডিত এই চতুৰ্বিধ। শরদ্বারা মাংস পর্যন্ত বিদ্ধ হওয়াকে ‘বিদ্ধ’ শরকিঞ্চিৎ নিঃসৃত হওয়াকে ‘অনিবিদ্ধ’ সৰ্ব্বতে নিঃসৃত শরকে ‘নিবিদ্ধ এবং দেহ মাংস ভেদ করিয়া শর আরও অধিক দূর প্রবেশ লাভ করিলে তাহাকে ‘উণ্ডিত আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। “অবকৃত্ত ও গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রের মতে ‘বিরক্ত’ ‘অবিরূঢ় এবং অবপাটিত ভেদে তিন প্রকার। ত্ব মাত্র ভেদকে বিরক্ত মাংস পর্যন্ত ভেদকে ‘অপাটিত এবং অস্থি পৰ্যন্ত ভিন্ন হইলে তাহাকে ‘অবগার্ট’ নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে। সেইরূপ ‘অবসৃষ্ট’ ও ‘ক্লিষ্টান্ত্র এবং অবচ্ছিন্ন ভেদে দুই প্রকার। নৃশ্রেষ্ঠ, আমি তাহার শাস্ত্রানুমোদিত লক্ষণ সমুদয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন মাতঙ্গগণের অস্ত্ৰছেদ ঘটিলে—উহাদিগের চিত্ত সর্বদা দুঃখ ভারাক্রান্ত, দ্বিব্ৰণীয় বিধি ; উদরাব্বান, মলের সহিত রক্ত নিঃসরণ, আহারে অনিচ্ছা এবং প্রস্রাবপ্রভৃতি হইতে থাকে বিজ্ঞ চিকিৎসক, উল্লিখিত লক্ষণাবলী দর্শনে তাদৃশ মাতবে চিকিৎসায় বিরত হইবেন; কারণ তাহার জীবনের আশা অতি অল্প। পক্ষান্তরে মাতঙ্গগবে অন্ত্রক্লিষ্ট হইলে উহাদিগের জ্বর, তৃষ্ণা, মূচ্ছা, হিক্কা, দারুণ শ্বাস নাভিমূলে বেদনা, দুৰ্ম্মনষ্কতা, মলের সহিত রক্ত নিঃসরণ, এবং আংশিক দেহস্থ বায়ুবিকার লক্ষিত হইয়া থাকে। এই বােগও প্রায় অসাধ্য, তবে যদি রুগ্ন মাতঙ্গের দেহে শক্তি এবং আহারে রুচি থাকে, তাহা হইলে, তাহার উক্ত রােগ কৃচ্ছ, সাধ্য হইয়া থাকে ; সুতরাং এই দ্বিবিধ অস্ত্রাঘাত ও সাধ্য ও অসাধ্য ভেবে চতুর্বিধই হইল। ইহাই বারণগণের ব্রণরােগের বিক্ষতজ নিদান নামে অভিহিত হইয়া থাকে । হে নরেশ্বর, অনন্তর মাতঙ্গীগণের দাহাত্মক নিদান কথিত হইতেছে। অগ্নি, আদিত্য, কদৰ্যবিষ, এবং বিদ্যুৎপাত প্রভৃতি দ্বারা মাতঙ্গ দেহে যে ব্রণের আবির্ভাব হয় তাহাকে দাহ নিদান সঙুত ব্ৰণ বলে। তন্মধ্যে অগ্নিকাহ হইতে যে দ্বিবিধ ব্রণের উৎপত্তি হইয়া থাকে তাহার এক প্রকার জ্বালাবিহীন এবং অপর প্রকার জ্বালাযুক্ত। বিদ্যুৎহত ও সূৰ্যতেজোদাহ জনিত ব্রণের বিষয় পূৰ্বেই কথিত হইয়াছে। তদ্ভিন্ন তীক্ষ বিষ ও ঔষধ প্রভৃতি ব্রণজনক দাহ দ্বারা ও মাতঙ্গদেহে ব্রণের উৎপত্তি হইয়া থাকে। হে নরনাথ, ইহাই মাতঙ্গীগণের দাহাত্মক নিদান অাপনার নিকটে আদ্যোপান্ত বর্ণনা করিলাম। ইহাই বারণগণের ত্রিবিধ নিদান। অনন্তর বারণগণের ব্রণ রোগের অষ্টবিধ অধিষ্ঠান বা আশ্রয়ের বিষয় কথিত হইতেছে। হে নরনাথ, ধ, মাংস স্নায়ু ধমনী, শিরা, মজ্জা, অস্থি ও সন্ধি, গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রের মতে ইহাই বারণগণের ব্রণ রােগের অধিষ্ঠান। যে স্রাব দ্বারা উল্লিখিত অষ্টবিধ আশ্রয়ের পৃথক পৃথক জ্ঞান জন্মে, এইক্ষণে তাহা বিস্তারিতরূপে আনুপূৰ্ষিক বর্ণনা করিতেছি। হে অঙ্গেশ্বর, মাতগণের ব্রণের স্রাব শুদ্ধ ও দুষ্ট এই দুই প্রধান ভেদে দ্বিবিধ। তন্মধ্যে দােষান্বিত স্রাবকে ‘দুষ্ট এবং শেষ বিবর্জিত স্রাবকে ‘শুদ্ধ’ অখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। উক্ত স্রাব অধিষ্ঠান বা আশ্রয় ভেদে চতুৰ্ব্বিংশতি প্রকার কথিত হইয়াছে। তাহার, গজায়ুৰ্বেদ- সম্মত পৃথক পৃথক লক্ষণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-শুক্ল, কৃষ্ণ হরিদ্রাভ শ্যাম- বর্ণ, মঞ্জিষ্ঠাবৎ লােহিতবর্ণ, কষায় সদৃশ, তৈলাভ, ঘৃতসদৃশ, ফেণতুল্য, পূয়, মলমুত্র, মস্তিষ্ক, ক্ষার, শুক্র বসা (চী), জল, মাংসধাবন—যুষ, যবনিস্কাথ কিংবা ৪ গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা । তিল কঙ্ক সদৃশ, সুরা মজ্জ, মেদঃকান্তি এবং পিচ্ছিল এই চতুর্বিংশতি প্রকার বিবিধ লক্ষণযুক্ত স্রাব বারণগণের ব্রণ হইতে নির্গত হইতে দেখা যায় ! মাতঙ্গ- গণের যে ব্রণ হইতে পিচ্ছিল বিশদ ও স্বচ্ছ স্রাব প্রবৃত্ত হয় তাহাকে ‘ত্বগত ব্রণ বলে, যে ব্রণ হইতে মাংসধাবন-যূষ সদৃশ স্রাব নিঃসৃত হয় তাহাকে মাংসগত ব্রণ বলিয়া বুঝিতে হইবে, যে ব্রণ হইতে মঞ্জিষ্ঠা, শশাণিত কিবা কয় তুল্য স্রাব নিঃসৃত হয় তাহাকে শিরাতি ব্ৰণ বলা হইয়া থাকে। যে ব্রণ হইতে যব নিষ্কাথ সদৃশ শ্রাব নির্গত হয় তাহাকে স্নায়ু আশ্রিত ব্রণ বলা হইয়া থাকে। যে ব্রণ হইতে শুক্লবর্ণ পিচ্ছিল ও অল্প পরিমিত স্রাব নিঃসৃত হয় তাহাকে সন্ধিগত ব্ৰণ বলিয়া অবগত হইতে পারা যায়। যে ব্রণ হইতে জলফেণ সদৃশ স্রাব নিঃসৃত হয় তাহাকে ধবণীগত ব্রণ বলিয়া বুঝিতে পারা যায়, যে ব্রণ হইতে তুষার সদৃশ কিংবা হরিদ্রাভ স্রাব নিঃসৃত হয় তাহাকে অস্থিগত ব্ৰণ বলিয়া বুঝিতে হইবে, যে ব্রণ হইতে তিলক, মদ্য বা তৈলাভ কিংবা মজ্জা মিশ্রিত স্রাব নির্গত হয় তাহাকে মজ্জাগত ব্রণ বলিয়া জানিতে হইবে তদ্ভিন্ন যে মৰ্ম্মের যেরূপ স্থান তাহার সাব ও তদাত্মক বুঝিতে হইবে। মজ্জাগত ব্রণের আর একটি বিশেষ লক্ষণ এই যে উহাতে অত্যন্ত বেদনা বিদ্যমান থাকে। বাৱণগণের যে ইন্দ্রিয় যে ভাবাপন্ন, সেই ইন্দ্রিয় জাত ব্রণের স্রাব ও সেই ভাবাপন্ন হইয়া থাকে। মাতঙ্গগণের পূৰ্বোল্লিখিত অধিষ্ঠানকে ‘দুরধিষ্ঠান এবং ‘সুঅধষ্ঠান ভেদে আর ও দুইভাগে বিভক্ত করা যাইতে পারে। তন্মধ্যে প্রথমতঃ দুরধিষ্ঠানের বিষয়ই বর্ণিত হইতেছে মাতঙ্গগণের শুণ্ডে, মৰ্ম্মস্থানে, কোষ্ঠে, ধমনীতে, অঙ্গ সন্ধিতে, শিরা সমূহে, স্নায়ু মণ্ডলীতে ও অস্থিমাত্রে উৎপন্ন ব্রণকে ‘দুরধিষ্ঠানজ ব্রণ বলে এবং এতদ্ব্যতিরিক্ত স্থান জাত ব্রণকে ‘স্বধিষ্ঠান’ ব্ৰণ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। প্রথমোক্ত ‘দুরধিষ্ঠানজ’ ব্রণ সমূহকে কি নিমিত্ত তাদৃশ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে অতঃপর তাহার কারণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- হে নরনাথ, মৰ্মাধিষ্ঠিত ব্রণ সমূহে অসংখ্য উপদ্রব বিদ্যমান থাকে, সুতরা: উহা একান্ত ক্লেশপ্রদ হয়। ধমণীজ ব্রণ, নিরন্তর অভ্যবহার নিবন্ধন দুঃখপ্রদ হইয়া থাকে। রক্তক্ষরণ নিবন্ধন শিরাজাতন্ত্রণ ক্লেশন এবং অস্ত্রসঞ্চালনে একান্ত ক্লেশ হয় বলিয়া সন্ধিদেশ জাত ব্ৰণ কষ্টদায়ক হয়। স্বীয় কৰ্ত্তব্য সাধনে সামর্থ্যের অভাব নিবন্ধন শুজাত ব্রণ বারণগণের সাতিশয় দুঃখকর বলিয়া প্রতীয়মান হয়। স্নায়ুজাল আকুল ভয়ে স্নায়ুজাত ব্রণ নিরতিশয় ক্লেশকর হইয়া থাকে। সমান বায়ুর প্রকোপ বিদ্যমান থাকে বলিয়া কোষ্ঠজ ব্রণ দুশ্চিকিৎ। অস্থিজ ব্রণ;

দ্বিত্ৰণীয় বিধি। মাস ও স্নেহ (চববী) বর্জিত বলিয়া স্ফীত হইয়া উঠিতে পারেনা বটে কিন্তু একান্ত ক্লেশ উৎপাদন করিয়া থাকে। সেইরূপ মাতঙ্গগণের মজ্জাশ্রিত ব্রণ হইতে অত্যন্ত মজ্জক্ষরণ হয় বলিয়া উহা ও দুঃখপ্রৰ বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্র অনুসারে লক্ষণ সমূহদ্বারা মাতঙ্গদেহ জাত ব্রণের আত্মা বা স্বরূপ ‘সুচিকিৎ’ ‘অচিকিৎস্য এবং দুশ্চিকিৎস্য ভেদে বিবিধ নির্ণীত হইয়াছে। তন্মধ্যে যে ব্রণ, পদ্ম পলাশের ন্যায় ঈষৎ রক্তাভ, লাজ (খৈ) গন্ধযুক্ত, ব্ৰণােপদ্রব বিহীন এবং অধিষ্ঠান (সুস্থানজাত), তাহা সুচিকিৎস্য। যে ব্রণ বাত পিত্তাদি দ্বারা দূষিত, কঠিন বৃহৎ, সশল্য, বিষকেশ ও অগ্নিসংস্থান, দুরধিষ্ঠান (মৰ্মাদি স্থানজাত), অতিস্থল কিংবা অতিকৃশ মাতঙ্গদেহে বিদ্যমান পরুষ, কঠিন ও কৃষ্ণবর্ণ তাহা দুশ্চিকিৎস্য বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। ব্রণে দুশ্চিকিৎস্য ব্রণের লক্ষণ যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান থাকিয়া অপ্রীতিকর বা অপ্রশস্তগন্ধ বর্তমান থাকে এবং যাহা নবােদিত সূৰ্য্য, ইন্দ্রধনু কিংবা ময়ুর- কণ্ঠবর্ণ, তাহা অচিকিৎস্য, কারণ তাহাতে কোন প্রকার চিকিৎসাই সফল দানে সমর্থ হয় না । হে অঙ্গনাথ, মাতঙ্গগণের ব্রণগত শল্য ও গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রানুসারে শাীর এবং বাহ ভেদে দ্বিবিধ, তাহার লক্ষণ বলিতেছি শ্রবণ করুণ-ব্রণের অভ্যন্তরে যে তৃণ কাষ্ঠ লৌহ প্রভৃতি বহিঃ পদার্থ বিদ্যমান থাকে, তাহাকে ব্রণাশ্রিত বাহ শল্য আখ্যা প্রদান করা যায় পক্ষান্তরে ব্রণের অভ্যন্তরে যে অস্থি, পূয়, রক্ত, মাংস ( পচা) স্নায়ু ও শিরা বর্তমান থাকে তাহাকে ‘শারীর শল্য' আখ্যা প্রদত্ত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর পূর্রেই ব্রণ উপদ্রব নিদান ও পঞ্চবিধই পঠিত হইয়াছে। এই ক্ষণে বিভিন্নগন্ধ বৰ্ণ স্রাব ও আকৃতি দ্বারা বাতাদি বিভিন্ন শারীর উপাদানের বিকার নির্ণয়ের উপায় বর্ণিত হইতেছে—যে ব্ৰণে মল মুত্র বা বসার (চর্বীর ) গন্ধ বিদ্যমান থাকে, যাহা দেখিতে পরুষ ও কৃশ এবং যাহা হইতে প্রভূত পরিমাণে কৃষ্ণবর্ণ স্রাব নির্গত হয়, সেই ব্রণ বাত-প্রকোপ জনিত বলিয়া বুঝিতে হইবে। যে ব্রণের বর্ণ, শুষ্কহরিদ্রা কাচ কিংবা ময়ুর কণ্ঠের বর্ণের অনুরূপ, যাহা হইতে তাদৃশ বর্ণযুক্ত কিংবা কষায় গৈরিক তুল্য স্রাব নির্গত হয়, যাহা সর্বদা উষ্ণ থাকে, যাহাতে অত্যন্ত বেদনা এবং তিক্ত অন্ন ও দূষিত শবের গন্ধ বিদ্যমান থাকে, তাহা পিত্ত বিকার জনিত ক্ষত বলিয়া জানিবেন। যে যুণ, স্ফীত স্তব্ধ গুরু শীতল এবং অভ্যন্তরে পিটকা (স্ফোট,) বা গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহিতা। ফোঁড়া) যুক্ত, যাহা হইতে পিচ্ছিল জলবৎ স্রাব কিংবা পূয় নির্গত হয়, যাতে গভীর বেদন। প্রভূত তাপ ও কণ্ড (চুলকানি) ও তাহার অন্যান্য লক্ষণ বিদ্যমান থাকে এবং যাহার গন্ধ গলিত মৎস্য ও মাংসের গন্ধের অনুরূপ তাহা কক বিকার জনিত ক্ষত বলিয়া জানিতে হইবে। যে ব্রণ হইতে কুলথ (কৃর্ভিকালাই) কিংবা গভীর রক্তবর্ণ স্রাব অথবা গৈরিক বৎ রক্তাভ বসা নিঃসৃত হয়, যাহাতে সন্তাপ দাহ ও গভীর বেদনা বৰ্তমান থাকে, তাহা রক্ত বিকারজ ব্রণ বলিয়া জানিতে পারা যায়। যে ব্ৰণে দৈহিক উপাদান বাত পিত্তাদির বিকারের স্ব স্ব লক্ষণ বিদ্যমান থাকে তাকে সন্নিপাত বিকার জনিত ব্ৰণ বলিয়া বুঝিতে হইবে। যে ব্রণ, শুক্লবর্ণ শীতল ও মৃদু যাহা হইতে বসা কিংবা মজ্জাস্রাব নিঃসৃত হয় এবং যাহাতে পক্ষিনীড় গন্ধ বর্তমান থাকে, তাহাকে মেলে। বিকার জনিত ব্রণ বলে। হে নরনাথ, ইহাই বাত পিত্তাদি ষড়বিধ দৈহিক উপাদানের বিকার জনিত ব্রণের লক্ষণ কথিত হইল। হে অঙ্গেশ্বর, আমি অতঃপর আরােহীর ক্রটিবশতঃ মাতঙ্গদেহে উৎপন্ন ব্রণ রােগের নিদান বর্ণনা করিব। হে নরেশ্বর, যখন আরােহী, মাত্রা অতিক্রম পূর্বক আরূঢ় মাতঙ্গকে কৰ্ম্মে নিয়ােগ করেন কিংবা আরােহীর অজ্ঞান বশতঃ অথবা অস্বাভাবিক ব্যায়াম নিবন্ধনও বারণগণের দেহে ব্রণের আবির্ভাব হইতে দেখা যায়। অনন্তর বারণ দেহে হস্তি-চিকিৎসকের অপরাধ জনিত ব্ৰণোৎপত্তির নিদান বর্ণিত হইতেছে। হে নরনাথ, যখন চিকিৎসক অজ্ঞান কিংবা অসাবধানতা বশতঃ রণ চিকিৎসায় দূষিত রস রক্তাদি নিঃসৃত হইবার অগ্রেই ব্রণের প্রতীকার করিয়া থাকেন কিংবা রুগ্ন মাতঙ্গ স্বয়ংই কাম, ক্রোধ বা ভয় বশতঃ ত্রুটি করিয়া বসে তখন তাদৃশ ত্রুটির ফলে মাতঙ্গ দেহে অভিনব ব্রণের আবির্ভাব হইতে দেখা যায় । অতঃপর প্রতিপালকের ত্রুটিবশতঃ বারণ দেহে ব্ৰণােৎপত্তির বিষয় বর্ণিত হইতেছে। হে অঙ্গনাথ, যখন প্রতিপালক, অজ্ঞান বা মােহবশতঃ সাতিশয় শীতাতপ তুষারাদি মধাে আহারাদি সংগ্রহের নিমিত্ত বারণগণকে একান্ত পরিশ্রমে নিয়ােগ করে তখন তাদৃশ ত্রুটির ফলে বারণগণের দেহে উপাদানের বিকার বশতঃ ব্রণের আবির্ভাব হইতে দেখা যায়। হে নরনাথ, চিকিৎসক এবং মাহুতের ত্রুটিবশতঃ মতিঙ্গদেহে বিভিন্ন প্রকার উপাদানের বিকার বশতঃ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বৃত্ত চতুষ্কোণ প্রভৃতি বিবিধ:প্রকার ব্রণের আবির্ভাব হইতে দেখা যায় । হে অঙ্গেশ্বর, যে কারণে মাতগণের স্বাধীনতার লীলাভুমি অরণ্য প্রদেশে ব্রণাদি রােগের উৎপত্তি হয় না, তাহা আমি দ্বিব্ৰণীয় বিধি । বনানুচরিত অধ্যায়ে বর্ণনা করিয়াছি। আগন্তুক কারণে আরণা বারণগণের দেহে ব্রণেৎপত্তি হইলেও স্বভাব, আজন্ম সিদ্ধ অভ্যাস, জলপান, ধূলিক্রীড়া প্রভৃতি দ্বারা চিকিৎসকের সাহায্য ব্যতিরেকেই তাহার প্রতীকার হইয়া থাকে। মাতঙ্গ- গণের দেহমাংস সচ্ছিদ্র, কোমল এবং মেদোযুক্ত এই নিমিত্ত উহাদিগের দেহে ব্রণ জন্মিলে তাহা সহজেই প্রায়শঃ বিস্তীর্ণ ও কোশ ব হইয়া থাকে। নাড়ী বা নালী চিকিৎসার উপএমে তাহার বিস্তৃত হেতু সমুদয় বর্ণনা করিব। হে অঙ্গনাথ, বারণগণের ব্রণ, শুদ্ধ, অশুদ্ধ ও সংরূঢ় প্রধানতঃ এই তিন ভাগে বিভক্ত। তন্মধ্যে জিহ্বতল সদৃশ কিংবা পদ্মপলাশীভ লাজগন্ধযুক্ত ব্রণেপদ্রব বিহীন ব্রণকে ‘শুদ্ধ ব্ৰণ বলে। পক্ষান্তরে যে ব্রণ ‘শুদ্ধ’ ব্রণের বিপরীত গুণ-গন্ধ- বর্ণ স্রাব ও আকৃতিযুক্ত তাহাই ‘অশুদ্ধ’ ণ বলিয়া জানিতে হইবে এবং মাতঙ্গ- গণের যে ব্রণ প্রতীকারোক্ষ্মথ, নিরুপদ্রব, ঈষৎসঞ্জাত লােমাবলী ও বিশুদ্ধ সদৃশ- বর্ণ বিশিষ্ট তাহাকে ‘সংরূঢ় ব্রণ’ আখ্যা প্রত্ত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, ত্রিবিধ স্বরূপ বিশিষ্ট ব্রণের উপক্রম ও শােধন, রােপণ এবং সবর্ণীকরণ এই ত্রিবিধই জানিবেন - তন্মধ্যে ‘অশুদ্ধ স্বরূপ’ ব্রণ শােধন মােগ্য, শুদ্ধস্বরূপ ব্রণ রােপণ দ্বারা প্রতিকাৰ্য্য এবং সংরূঢ় ব্রণ সবর্ণীকরণ দ্বারা নিঃশেষিত হইয়া থাকে। হে নৃপশ্রেষ্ঠ, ব্রণ প্রতীকারার্থ অবলম্বনীয় উপায়ের প্রকৃতি ও আয়সী, ঔষধী এবং নিৰ্বাপণী এই ত্রিবিধ। তন্মধ্যে প্রথমােলিখিত আয়সী প্রতিক্রিয়া, শাস্ত্র সন্ত্র এষণী এবং সূচিভেদে চতুর্বিধ। উল্লিখিত আয়সী প্রতিক্রিয়া চতুষ্টয়ের মধ্যে শস্ত্ৰকৰ্ম্ম, ছেদন, ভেদন, লেখন, বিশ্রাবণ এব’ দালন এই পঞ্চ প্রকার। এষণী দ্বারা ব্ৰণ অন্বেষণ ও ব্রণের বিবিধ স্বরূপ জ্ঞান হইয়া থাকে। সূচি, গজদন্তাকৃত গােলাকৃতি ও ত্রিকোণ এই ত্রিবিধ শস্ত্রাধ্যায়ে বর্ণিত হইয়াছে ; নাগদন্ত সূচিদ্বারা অস্থি আশ্রিত ব্রণ, ত্রিকোণ সূচি দ্বারা মাংসজ ব্রণ এবং বৃত্ত বা গােলাকৃতি সুচিদ্বারা, ত্বকৃয়ু ও ধমনীস্থ ব্রণের সীবনাদি সুসম্পাদিত হইয়া থাকে। কার্পাসা সূত্র স্নায়ু ও শণ প্রভৃতি দ্বারা সাধারণতঃ সীবন কাৰ্য্য (শেলাই করা হয়। যন্ত্র নানাবিধ। “বৃদ্ধিপত্র সন্ত্রদ্বারা বারণগণের ব্রণ ছেদন ও ভেদন কাৰ্য্য সুসম্পন্ন হয়, ‘মওলা যন্ত্রদ্বারা বারণগণের ব্রণ লেখন করা কর্তব্য, এবং ‘ব্রীহিমুখ যন্ত্রদ্বারা মাতঙ্গগণের ব্রণ পাটন ও শ্রাবণ কাৰ্য্য নিষ্পন্ন হইয়া থাকে। বারণার ব্রণের ‘এষণী’ সাধারণতঃ দৃঢ়া যথাসম্ভব মৃছ, গণ্ডুষাদ-মুখী এবং ত্রিংশত অঙ্গুলি পরিমিত হওয়া উচিত। উহা সুবর্ণ রজত তাম্র লৌহ কিংবা শৃঙ্গনিৰ্ম্মিত হওয়া আবশ্যক, দন্ত অস্থি বেণু কিংবা কাঠ নির্মিত এiণী একান্ত বিপত্তি জনক বলিয়া ৮ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। কীৰ্ত্তিত হইয়াছে। হে অঙ্গনাথ, ইহাই বারণগণের পৃথক পৃথক অষ্টবিধ ব্ৰণােপক্রম বলিয়া কীৰ্ত্তিত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, বারণগণের ব্রণের যাদৃশ অবস্থায় ‘আয়সী প্রতিক্রিয়া (শস্ত্রোপচার) আবশ্যক তাহা বর্ণনা করিতেছি, শ্রবণ করুণ- মাতঙ্গগণের যে ব্রণ বা স্ফীতস্থান প্রলেপদ্বারা প্রতিকৃত না হয়, তাহা হইতে রক্তস্রাবণ এবং পক অবস্থা প্রাপ্ত হইলে বিদারণ, বিষমপাকে দালন এবং বহুলোষ্ট ব্রণের লেখন করা বিধেয়। তদ্ভিন্ন গণ্ড দেশজাত উদ্গত ব্রণের সর্বত্র আচ্ছেদনই হিতকর। বিজ্ঞ চিকিৎসক, এইরূপ বিচারপূর্বক যাদৃশ অবস্থায় যে প্রতিক্রিয়া বিহিত হইল সেই অবস্থায় তাদৃশ প্রতীকার অবলম্বন করিবেন কিন্তু দ্বিবিধ শল্যের যন্ত্রদ্বারা আহরণ করা কর্তব্য। মাতঙ্গগণের যে কোনও অঙ্গ হইতেই হউক না কেন সদ্য বিদীর্ণ হইয়া তাহা হইতে রক্তস্রাব হইতে দেখিলে তৎক্ষণাৎ সূচি দ্বারা সেইস্থান সম্যক রূপে সীবন করা কর্তব্য। সুবিজ্ঞ চিকিৎসকগণ, বক্র এবং উদ্ধভাবে অস্থিগত ব্রণে, শিরা ও মর্মগতভ্রণে অসাবধানভাবে কদাপি শাস্ত্রোপচার করিবেন না। যন্ত্রাঘাত শরাঘাত কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী মাতঙ্গের দস্তাঘাত দ্বারা মাতঙ্গগণের দেহ মাংস মধ্যে যে প্রচ্ছন্ন ব্রণ উৎপন্ন হয় তাহা কিঞ্চিৎ মৰ্ম্মগত হইলে, প্রয়েজন বােধ করিলে বিজ্ঞ চিকিৎসক মৰ্ম্ম সংরক্ষণ পূর্বক অস্ত্র প্রয়ােগ করিবেন । নরেশ্বর, ইহাই মাতঙ্গগণের ব্ৰণ প্ৰতীকারের শাস্ত্র নির্দিষ্ট উপায় হে অঙ্গনাথ, আয়সী (অস্ত্র) চিকিৎসার প্রারম্ভে বলি হােম পূজা প্রভৃতি শাস্ত্রোক্ত শান্তি কাৰ্য যথাবিধি সম্পাদন পূৰ্ব্বক শস্ত্র প্রয়ােগ করা উচিত। ১৭ শােধন ও রােপণ ওষধি দ্বারাই সম্পন্ন হইতে পারে। গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রের মৰ্ম্মানুসারে উক্ত শােখন ও রােপণ ক্রিয়া বৰ্ত্তি, কাষায়, কল্ক ঘৃত তৈল রস চূর্ণ ধূপ প্রভৃতি পৃথক অষ্টবিধ ঔষধ প্রয়ােগ দ্বারা সম্পাদিত হইতে পারে। গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রানুরূপ অপর আর এক প্রকার উপক্ৰমবিধি অতঃপর বর্ণনা করিব। ঔষধের সাহায্যে বারণগণের ব্ৰণ প্ৰতীকারের উপায় এয়ােবিংশতি প্রকার যথা বিলায়ন, পাবন, ভেদন, পীড়ন, সাদন, উৎপাদন, কৃমিহনন, লেপ স্বে অগদ প্রয়ােগ, ক্ষার প্রয়ােগ, মৃদুকরণ বিদারণ, বৃংহণ, অপকর্য, সন্ধান, শিশির ক্রিয়া শশাণিত স্থাপন, কহনন ধাবন, প্রসাদন, সবণী করণ ও বন্ধকল্প এই ত্রয়ােবিংশতি প্রকার। মাতঙ্গগণের ব্রণের যাদৃশ অবস্থা ভেদে যে প্রকার প্রতিক্রিয়া কৰ্ত্তব্য তাহা অতঃপর লিখিত হইতেছে।' বারণগণের স্ফীত স্থানে দাই বিদ্যমান না থাকিলে প্রলেপাদি দ্বারা তাহা বিলীন করিয়া দেওয়া কর্তব্য।

দ্বিব্ৰণীয় বিধি। । পক্ষান্তরে যদি স্ফীতস্থানে দাহ বৰ্তমান থাকে তাহা হইলে ব্রণ পাকিবার উদ্দেশ্যে ঔষধ প্রয়ােগ করা আবশ্যক এবং পাক সুশ্চিত হইলে তাহা বিদারণ, শােধন ও রােপণ করা কর্তব্য। স্বাভাবিক দেহবর্ণযুক্ত, কঠিন পরুষ, অল্প সন্তাপযুক্ত এবং স্তব্ধ ব্রণকে আম বা অপক্ক বলিয়া জানিতে হইবে। বিবর্ণ অনতি কঠিন সন্তাপ ও বেদনাযুক্ত ব্রণকে বিজ্ঞ চিকিৎসক, দাহযুক্ত বলিয়া জানিবেন। সৰ্বাংশে মৃদু, শীতলতা, পাণ্ডু, শীর্ণ রােমতা এবং বেদনা নিবৃত্তিই পঙ্ক ব্রণের লক্ষণ। দুষ্ট, কৃশ অতিভীরু মাতঙ্গের সংবৃত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ জাত সূক্ষ্ম কিংবা অনতিপক ব্রণ সমুদয় ভেদনীয় এবং ঔষধ প্রয়ােগ দ্বারা প্রতীকার করা কর্তব্য। শিরা মৰ্ম্ম সমাশ্রিত কিংবা সন্ধিজ ভীষণ বেদনাযুক্ত ব্রণের পীড়ন বিধানে প্রতীকার করা কর্তব্য। অল্প দোষযুক্ত যে ব্রণ সন্ধান প্রাপ্ত না হয়, কেবল তাহারই সন্ধানীয় উপক্রম দ্বারা সন্ধান করা কর্তব্য। বে ব্রণ, অস্থি কিংবা স্নায়ুগত দোষক্ষীণ, ক্ষুদ্র মুখ, গতিশীল এবং অবক, বৰ্ত্তিশােধন যারা তাদৃশ ব্রণের শােধন করা কৰ্ত্তব্য। পিছিল বিস্তৃত, চ্ছিন্ন , দুর্গন্ধযুক্ত, গলিত প্রবল পূতি মাংসযুক্ত ব্রণকে বিজ্ঞভিষক কষায় দ্বারা শোধন করিবেন। পূতিমাংস দ্বারা আবৃত, স্নায়ুজাল সমাকুল, প্লোতযুক্ত (বাহার মাংস কিঞ্চিৎ বর্ধিত হইয়া বাহিরে থাকে। এবং অবদীর্ণ ব্রণের শােধন কল্ক দ্বারা করা কর্তব্য। সেইরূপ অতি প্রকোপ- যুক্ত, গভীর সাতিশয় বেদনাযুক্ত, সংবৃত রক্তস্রাবযুক্ত ব্রণের শােধন গণ্য ধৃত দ্বারা হইয়া থাকে। যে ব্ৰণ ক্ষীণদোষ, অল্প বেদনাযুক্ত মৃদু হইয়া সহসা সম্পূর্ণরূপে প্রতিকৃত নাহয়, তিল তৈল দ্বারা তাহার শোধন করা আবশ্যক। মাতঙ্গগণের যে ব্ৰণে প্ৰাগদুষ্ট স্নায়ু কিংবা মাংস অপনীত করা না হয়, তাদৃশ ব্রণের কষায় দ্বারা বা চুর্ণ শােধন করা কর্তব্য । মাতঙ্গগণের যে ব্রণ পূতিমাংস, স্রাবযুক্ত ও উত্তান, রসপ্রক্রিয়া দ্বারা তাহার শােধন করা কর্ত্তব্য। মাতঙ্গ- গরে যে সকল ব্রণের স্রাব বহু দোষযুক্ত, তাহার পুনঃপুনঃ প্রক্ষালন করা কর্তব্য এবং সে ব্ৰণে অত্যন্ত ক বিদ্যমান থাকে, তাহাতে কও কনাশিক। প্রক্রিয়া করা বিধেয়। মাতঙ্গগণের যে ব্রণ গতিশীল কঠিন দুষিত-মাংসাঙ্কুর- যুক্ত এবং যাহাতে সৰ্ব্বদা ভেদ ও কণ্ড, বিদ্যমান থাকে ক্ষারোপচার দ্বারা তাহার প্রতীকার করা কর্তব্য। যে ব্রণ হইতে সমধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হইতে থাকে, তাহার শশাণিত স্থাপন প্রতিক্রিয়া অবশ্য কর্তব্য এবং যে ব্রণে কৃমি সমুদয় বিদ্যমান থাকিয়া ক্ষত মধ্যে দংশন করিতে থাকে, কৃমিনাশক ঔষধ- দ্বারা তাহার প্রতিবিধান করা উচিত। সেইরূপ বারণগণের উৎসন্ন ক্ষত রােগের } গজায়ুর্বেদ সংহিতা। “সাদ” প্রতিক্রিয়া এবং সন্ন’ ক্ষতরোগের উৎসাদন প্রতিক্রিয়া একান্ত বিধেয়। সেইরূপ মৃদুত্রণের কাঠিন্য এব কঠিনত্রণের কোমলতা, উদোষযুক্ত ব্রণের শীতলতা এবং শৈত্য দোষযুক্ত ব্রণের স্বেদ মিধানে চিকিৎসা করা একান্ত বিধেয়। হে নরেশ্বর, মাতঙ্গগণের দেহ মাংস অত্যন্ত মেদোযুক্ত এই নিমিত্ত সহসা উহাদিগের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া থাকে এবং যখন বায়ু প্রকোপযুক্ত স্থানে জাতব্রণ কিছুতে অন্তর্হিত না হয়, তখন যথাবিধি ধূমদান প্রক্রিয়া দ্বারা তাহার প্রতীকার করা একান্ত কর্তব্য। স্থূল দেহ বারণগণের মাংস বহুল দেহে ব্রণ উৎপন্ন হইলে তাহা সহসা প্রতিকৃত হয় না এই নিমিত্ত তাহাদিগের ব্রণমাংস অপকর্ষণ করা কর্তব্য। পক্ষান্তরে ক্ষীণদেহ বারণগণের শরীরে ব্রণ উৎপন্ন হইলে তাহা সহসা প্রকটিত হয় না এই নিমিত্ত যুক্তি অবলম্বন পূর্বক তাহার বৃংহণ (উপচয় বা বৃদ্ধি ) করা কর্তব্য। মাতঙ্গগণের যে সকল ব্রণ বায়ু বিকারাদি ষড়বিধ দোষ, বিবর্জিত এবং জিতল সদৃশ, তাদৃশ শুদ্ধ ব্রণের চিকিৎসা, বিজ্ঞচিকিৎসক ‘রােপণ’ বিধানে করিবেন। তন্মধ্যে অল্পদোষযুক্ত অল্পস্রাবযুক্ত গতিশীল বেদনা বিহীন উদ্গতন্ত্রণের চিকিৎসা ‘বর্তি সংবােপণ বিধানেই করা কর্তব্য। বারণগণের যে ব্রণ, কোমল মাংসে অবস্থিত, নিম্ন অসমতল অল্প ও বেদনা বিহীন এবং যাহ। দীর্ঘকালেও নিঃশেষিত না হয়, কষায় দ্বারা তাদৃশ ব্রণের প্রতিবিধান করিবে। যে ক্ষুদ্র ব্রণ, পাকিতে পাকিতে বিস্তার লাভ করে এবং বসার (দেহস্থ চৰ্বীর) প্ৰাচুৰ্য্য নিবন্ধন প্রশমিত না হয়, তাদৃশ ব্রণ মাংসেই হউক বা চৰ্ম্মেই হউক কল্কদ্বারা গুহার প্রতীকার করা কর্তব্য। যে ব্রণ, নিম ঈষৎ স্রাবযুক্ত কিঞ্চিৎ পিত্ত সমন্বিত এবং যাহা কাঠিন্য নিবন্ধন সুদীর্ঘকালেও প্রশমিত না হয়, ঘৃতদ্বারা তাহার প্রতীকার করা কর্তব্য। বারণগণের যে ব্ৰণে কোন ও প্রকার উপদ্রব বিদ্যমান না থাকে, যাহা স্নিগ্ধ এবং অতি স্নেহ (চী) নিবন্ধন প্রশমিত না হয়, তাদৃশ কঠিন মাংস- যুক্ত ব্রণের প্রতীকারার্থ চূর্ণক্রিয়া করা কর্তব্য। মাতঙ্গগণের অঙ্গ-সন্ধিজাত, মৃদু- মাংসযুক্ত যে ব্রণ, রসাধিক্য নিবন্ধন দীর্ঘকালেও প্রশমিত না হয়, তাদৃশ ব্রণের চিকিৎসা রসক্রিয়া দ্বারা করা কর্তব্য। হে অঙ্গেশ্বর, মাতঙ্গ গণের যে ব্রণ বাত ও শ্লেষ্মর প্রাবল্য নিবন্ধন সর্বদা ক্লেদযুক্ত থাকে, তাদৃশ ব্রণের প্রতীকারার্থ বাত ও শ্লেষ্মর পৃথক্‌ পৃথক্‌ বিকার-প্রতিকারক ঔষধ প্রয়ােগ করা কর্তব্য। হে, নরনাথ, শুদ্ধ এবং অশুদ্ধ, মাতঙ্গগণের উভয় বিধ ব্ৰণেই পূর্বোক্ত অষ্টবর্গে উল্লিখিত ঔষধ কিংবা বৰ্তি প্রভৃতি যথা যথভাবে প্রয়ােগ করিবে।

দ্বিত্ৰণীয় বিধি। হে নরেশ্বর, মাতঙ্গগণের শিরা-অস্থি-স্নায়ুকোষ্ঠ এবং অঙ্গসন্ধি সমূহে যে সকল ব্রণ উৎপন্ন হইয়া গম্ভীর স্থল অসমতল এবং অবগাঢ় হয়, তাদৃশ ব্রণের প্রতীকারার্থ বন্ধনাদি করা আবশ্যক; কারণ বন্ধনদ্বারা ব্রণ শশাধিত হইয়া থাকে। হে নৃপশ্রেষ্ঠ, মাতঙ্গগণের ব্রণ বন্ধন, সম, গাঢ় ও শিথিল ভেদে ত্রিবিধ। তন্মধ্যে কণ্ঠে মেট্রে নাভিদেশে, পাকিঁদেশে (পায়েরগোড়ালীতে), গ্রীবায়, উভয় পার্শ্বে এবং উদরে সম বন্ধন করা আবশ্যক, মস্তকে ‘গাঢ় বন্ধন কর্তব্য, কটিদেশে, কক্ষে পিণ্ডকে (জানুর নিম্নস্থ মাংস পিণ্ডে), চিবুকে, পৃষ্ঠদেশে, মলদ্বারে, কণ্ঠে, উভয় বাহুতে, স্কন্ধে এবং মেরুদণ্ডে ও গাঢ় বন্ধন করা আবশ্যক। যে ব্রণ, সন্তাপযুক্ত ও রক্তপিত্তের প্রাবল্য নিরন্ধন দুষিত, বিষ দূষিত কিংবা বিসপী তাহাতে বন প্রশস্ত নহে। যে বিচক্ষণ চিকিৎসক ‘বন্ধু’ ও ‘অববন্ধ’ সম্যকরূপে অবগত আছেন, তিনিই বারণগণের ক্ষতবন্ধন করিবেন। ফলতঃ ক্ষবন্ধন একান্ত শিথিল কিংবা একান্ত দৃঢ় হওয়া উচিত নহে; কারণ দৃঢ়বন্ধন দ্বারা পীড়ন করিলে তাদৃশ ক্ষত সহজেই শুষ্কতা প্রাপ্ত হয়। পক্ষান্তরে দৃঢ়বন্ধন দ্বারা ক্ষত মধ্যে দুযিত পিত্ত সঞ্চিত হয়। সম্যক্ বন্ধন দ্বারা ক্ষত মধ্যে ঔষধ দীর্ঘকাল রাখিতে পারা যায় এবং ক্ষতমুখে অবস্থিত বাত ও শ্লেষ্মা প্রশমিত হয়। মাতঙ্গগণের ক্ষত সায়ংকালে শােধন পূৰ্ব্বক তাহা রোপণ ও প্রতিকারক ঔষধ দ্বারা বন্ধন করিলে সম্যক্‌ ফল দর্শে। হেমন্ত, শীত ও বসন্তকালে মাতঙ্গগণের দাহজ ক্ষত মুক্ত করিয়া রাখা উচিত। কিন্তু গ্রীষ্ম বর্ষা ও শরৎ ঋতুতে দুই তিন দিন পরে পরে ক্ষত মুক্ত করিয়া দিবে। বন্ধন-বিচক্ষণ চিকিৎসক, কার্পাস বস্তু, ক্ষৌম বস্ত্র, কৌষেয় বস্তু, তরুক, তাম্রপাত, লৌহপাত প্রভৃতি যথালাভ দ্রব্য দ্বারা মাতঙ্গগণের ব্রণ বন্ধন করিবেন। যে যে দ্রব্য দ্বারা মাতঙ্গগণের যে যে ক্ষত মাদৃশ বন্ধন দ্বারা বাঁধা কৰ্তব্য বিজ্ঞ চিকিৎসক, তাদৃশ বন্ধন দ্বারা সেই সেই ক্ষত বন করিবেন। হে অঙ্গেশ্বর ইহাই মাতঙ্গগণের ক্ষতবন্ধন বিধি আপনার নিকটে কীৰ্তিত হইল। মাতঙ্গগণ স্বভাবতঃই শীত সেবায় অভ্যস্ত, সুতরাং বন্ধন তাপে উহাদিগের সছিদ্র মাংস জাত ব্ৰণ প্ৰতীকারের পরিবর্তে বিস্তৃতি লাভই করিয়া থাকে ; এই নিমিত্ত বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ, মাতঙ্গগণের স্বেদ সাধ্য ব্রণ সমুদয়ই বন্ধন করিয়া থাকেন। শুষ্কতা প্রাপ্ত কিংবা প্রতিকৃত হইয়া ও যে ব্রণ, বাতাদির প্রকোপ বশতঃ বিবর্ণভাব প্রাপ্ত হয়, চিকিৎসকগণ, ঔষধ দ্বারা তাদৃশ ব্রণের বর্ণ স্বাভাবিক করিতে যত্ন করিবেন। হে নর নাথ, গজায়ুৰ্ব্বে শাস্ত্রে ইহাই মাতগণের ব্ৰণ প্ৰতীকারের উপায় অবধারিত হইয়াছে।

ব্রণ বিলানুন-চিকিৎসা। - হে নরেশ্বর, উল্লিখিত উপক্রম বা উপায় সমুদয়ের মধ্যে যে উপায় সুপ্রযুক্ত হইলে যাদৃশ ক্ষত প্রতিকৃত হইয়া থাকে, তাহা বিভাগ ক্রমে যথা- যথ ভাবে বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ :- ১। কাকাদনী (কালিয়া কড়া ) ১৬। চিক বা ( চিক) ২। শুকনাশা (আলকুশী)। ১৭। তগর (তগর পাদুকা লতা ) ৩। অপামার্গ তণ্ডুল (অপাঙবীজের ১৮। অন্তক (অম্লকুচাই শাস ) ১৯। অক্ষিক ( রঞ্জন পুষ্পবৃক্ষ, আচ ৪। রােহিষ (কতৃণ) ফুলের গাছের ছাল ) ৫। অহিংস্র (কুলে খাড়াগাছ ) ২০। মেদ। ৬। বরণ ( বর্ণা: ছাল কৃষ্ণ গন্ধ!! সাজিনা ছাল ) ৭। বিছাল ২২। হরিদ্রা ৮। কুছ। কুড়) ২৩। তাল পত্রিকা (তাল মূল ) ৯। পুনর্ণব ২৪। ত্রিফলা (হরীতকী, আমলকী, ১০। শাদষ্টা (কাকমার্চী, গুড়- ও বহেড়া ) কামাই ) ২৫। নীল পুপী ১১। আরগ্ধধ (শােণাল) ছাল ২৬। “তপুষ্প (শ ফা) ১২। কালা (কাজরা। ২৭। ত্রিকণ্টক (তেকটা ) ১৩। বৃহতী ২৮। কর (পাপড়িখয়ের) ১৪। দেবদারু সােমল্ক (বাবলাছাল ) ১৫। কপিথ ( কদবেল গাছের ছাল) ৩০। কুবেরাক্ষী (পেটারী গাছ । ৩১। অস্থিরোহিণী (হাড়জোড় ৩৩। নিচুল (স্থল বেতস । ৩২। তালপত্রী (ইন্দুরকাণী ) উল্লিখিত এস্ত্রিংশদ বিধ ঔষধ দ্রব্যের মধ্যে যথা লাভ দ্রব্য দ্বারা প্রলেপ দিলে মাতগণের মন্দোদগত ব্রণ কিবা স্ফীতস্থান বিলয় প্রাপ্ত হয়।

ব্রণ পাচন চিকিৎসা। ( পাকার ঔষধ ) ১। কুলখ (কুর্তিকলাই। ২। যব ৩। গােধুম (গম) ৪। মাষ ৫। কি (মদের সিটা ) ৬। অতসী (তিসি) ৮। এর বীজ ৯। শণ বীজ ১০। কার্পাস বীজ ১১। মূলক বীজ (মূলার বীজ) ১২। সর্ষপ ৭। তিল ২ মাত্রা জলসহ উত্তমরূপে বাটিয়া জল করিবে এবং তারা ঈষৎ উষ্ণ অবস্থায় প্রলেপ দিলে বারণগণের ব্রণ অবিলম্বে পাকিয়া উঠে। ১। কিণীহি (আপাঙ) ৫। তগর (গর পাদুকা ) ২। চিত্রক (চিতা ; মাতুলঙ্গ (ছােলঙ্গ জাম্বুরা। ৩। নিকুম্ভ ( দন্তী। ৭। ত্রিবৃত (তেউড়ী লতা) ৪। দেবদারু ৮। গাে মূত্র প্রথমােক্ত অষ্টবিধ ঔষধ দ্রব্য গাে মূত্রে বাটিয়া প্রলেপ দিলে মাতঙ্গগণের স্ফীত স্থান পাকিয়া উঠে । ১। করবীর মূল ৪। লাঙ্গলী (বিষ লাঙ্গলা) ২। উচ্চটা মূল ৫। হরিতাল ৩। ধুত্তর মূল (ধুতরার মূল ) ৬। শুক্ল গাে মূত্র প্রথমােক্ত পঞ্চবিধ দ্রব্য (৬৪) গাে-মূত্রে বাটিয়া প্রলেপ দিলে বারণগণে। স্ফীতস্থান পাকিয়া উঠে। ১। চিত্ৰক ( চিতা) ৮। সুবর্ণ ক্ষীরিণী (শেয়াল কাটা। ২। চিরবি (নক্তমাল, করঞ্জ), ৯। মুহী ক্ষীর (মনসা সিজের আঁটা। ৩। কোশাতকী ফল ১০। অৰু ক্ষীর (আকন্দের আঁটা ৪। মুদ্ধক (ঘণ্টাপারুল ) ছাল ১। পীলুক (পীলু ছাল ) শৃঙ্গবের (আদা) ১২। সুধা ( চূণ) ৬। লালকী (বিষ লাঙ্গলা) ১৩। সুৰক্ষিকা (সাট লবণ। ৭। অক্ষ (সৌবচ্চল লবণ ) ১৪। তুরঙ্গী (অশ্বগন্ধা) ১৪ গজায়ুর্বেদ সংহিতা। ১৫। কট শর্করা (নটে শাক ) ১৯। পারাবত (গৃহপালিত ) ১৬। কপােত বিষ্ঠা ২০। অগ্নিক (ভেলা) ১৭। ইন্দুর বিষ্ঠা ২১। গৃহ ধূম (রান্নাঘরের ঝুল) ১৮। গৃধ বিষ্ঠা উল্লিখিত একবিংশতি প্রকার ঔষধ দ্রব্যের প্রত্যেকটিই মাতঙ্গগণের প্রণ বেধন কাৰ্যে পৰ্যাপ্ত। তদ্ভিন্ন কাকনসা ক্ষার কিংবা বিট খদির (গুয়ে বাবলার) ক্ষার দ্বারা শস্ত্র প্রয়ােগ ব্যতিরেকেও বারণগণের ব্রণ বিদীর্ণ হইয়া থাকে। । শল্লকী (শিমুল) ছাল ১০। ধাতকী (ধাইফুল) ২। “ল্লকী ছাল ১১। মধুক (যষ্টিমধু। ৩। গাের্জী (শ্যাওরা গাছের ) ছাল ১২। মধুপর্ণী ৫। কণিকার ছাল ১৩। জীবক ধন্বন (ধামনি গাছের ছাল ১৪। ৬। মধূক (মহুয়া ১৫। বলা , বেড়ে ) ৭। অশ্মম্ভ ( অম্ল কুচাই । ১৬। বিদারী ভূমি কুষ্মাণ্ড } ৮। কাকোলী ১৭। মঞ্জিষ্টা ৯। রােহিষ ( কর্তৃণ) - উল্লিখিত সপ্তদশবিধ দ্রব্যের মধ্যে থালাভ ঔষধ দ্রব্য সংগ্রহ করিয়া পোষণ পূৰ্ব্বক প্রয়ােগ করিলে বারণগণের ক্ষতের অভ্যন্তরবর্জ্য দূষিত রক্ত পূয়াদি নিঃসৃত হইয়া থাকে। ব্রণ সন্ধান চিকিৎসা হে নরেশ্বর, মাতঙ্গগণের ব্রণ সন্ধানের দ্বিবিধ উপায়, তন্মধ্যে যে যে ঔষধ দ্বারা ব্রণ সন্ধান হইয়া থাকে (জোড়ালাগে) তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। ১। প্রপৌণ্ডরীক (পুশুরিয়া গাছ) ৫। প্রিয় ২। মধুক (যষ্টিমধু ) ৬। কজ্জলী ৩। মঞ্জিষ্ঠা ৭। বােয়? (ব্যোষ, ত্ৰিকটু ) লােধ ৮। পতঙ্গ ( রক্ত চন্দন ) এই অষ্টবিধ ঔষধ দ্রব্য দ্বারা ব্রণ সন্ধান কাৰ্য্য সম্পন্ন হইয়া থাকে।

ব্রণ শোধন চিকিৎসা। (১) ১। দন্তী ৯। কিম্ব (মদের সিটা ) শ্যামা লতা ১০। মুহী ক্ষীর (মনসা সিজের আঠা) ৩। যৰক্ষার ১১। অৰু ক্ষীর (আকন্দ বৃক্ষের ৪। স্বর্জিকা (সচিঙ্গার ) আঠা) ৫। চিত্ৰক ( চিতা) ১২। লাঙ্গলিকী ( বিষ লাঙ্গলা) সুধা (চূণ ) ১৩। আক্ষিক (রঙ্গন পুষ্প বৃক্ষ, আচ ক্ষবক (অপামার্গ, আপাঙ,) ফুলের গাছের মূল ) ৮। শঙ্খিকা (চোর কাটা) ১৪। পিপ্পলী উল্লিখিত চতুর্দশবিধ ঔষধ দ্রব্য মধুসহ প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের ব্রণ বিকার নিঃসৃত হইয়া থাকে। (২) ১। কৃষ্ণমুক পত্র (কলি ঘণ্টা ৪। অর্ক মূল ( আকন্দমূল ) পারুলের পাতা) লবণ ১। মহাবৃক্ষ (সুহীবৃক্ষের ছাল ) ৬। মকচ্ছমূত্র * ৩। দন্তীমূল ৭। হরিতাশ্মচর্ণ (তুতেরগুড়া ) এই পঞ্চবিধ ঔষধদ্রব্য মকদ্দমূত্রে বাটিয়া তাহার সহিত তুতিয়ার চর্ণ মিশ্রিত করতঃ প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের দূষিত ব্রণ শােধিত হইয়া থাকে। ১। শােভাঞ্জনমূল ৭। অতিবিষ ( আতইষ) ( লাল সাজীনারমূল) ৮। দন্তী ২। তিলক্ষার ৯। কটকী ৩। ইক্ষুরক ক্ষার ১০। তেজোবতী (চৈ ) ভাতক (ভেলার ক্ষার ১১। হরিদ্রা ৫। যবক্ষার ১২। দারুহরিদ্রা ৬। কুষ্ঠ (কুড়) ১৩। সৈন্ধব চুর্ণ প্রথমােক্ত দ্বাদশ বিধ দ্রব্য ছেচিয়া তাহার সহিত ১৩শ সৈন্ধবচর্ণ মিশ্রিত করিবে এবং মাতাগণের ক্ষতে প্রয়ােগ করিলে তাহার শােধন হইয়া থাকে। * লবণং মকচ্ছমূত্ৰ পেষিতং মূল।

গয়ুর্বেদ সংহিতা। (৪) ১। বিদারী ( ভূমিকুষ্মাণ্ড) ১০। বট ছাল ২। করবীরছাল ১১। তর্কারী ( জয়ন্তী ) ছাল ৩। নক্তমাল ১২। আঙ্কোল্প ৪। মার্কব? ১৩। শঙ্খিনী । চোর পুষ্পীল ৫। সুরস (তুলসী ) ১৪। সপ্তপর্ণ ( ছাতিয়ানছাল ) ৬। গদির (খয়েরকা) ১৫। হরীতকী ৭। দ্বিবিধ নিমছাল ১৬। হরিদা ৮। ভাণ্ডী (মঞ্জুিষ্ঠা) ১। অশ্বগন্ধা ৯। জাতী (মালতী ফুলগাছের ছাল ) উল্লিখিত সপ্তদশবিধ ঔষধ দ্রব্যের কাথ মাতঙ্গগণের উত্তম ব্রণ শােধক (৫) ১। চিত্ৰক ( চিত) ৯। কৃতধেনা ২। ত্রিবৃতা (তেউড়ী লতা) ১০। হরিদ্রা ৩। দন্তী ১১। নিপত্র ৪। শ্যামা (লতা) ১২। কটকী ৫। লাঙ্গলকা (বিষােঙ্গলা } ১৩। অজঙ্গী ৬। পটোলী (পটোলতা) ১৪। অশ্বখপত্র ৭। কাজী গব্যঘৃত ৮। দ্রবন্তী ( ৬ ) প্রথমােক্ত চতুর্দশ প্রকার ঔষধ দ্রব্য ছেচিয়া তাহাতে ১৫শ গব্যঘৃত মিশ্রিত করিবে এবং এই ঔষধ মাতঙ্গদেহস্থ ব্রণের ‘ক’ শােধন স্বরূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। ১। ত্রিবৃতা ৬। লাঙ্গলকী ২। শৃঙ্গবের (আদা } ৭। কুষ্ঠ (কুড়) ৩। মুহী ক্ষীর (মনসা সিজের আঁটা। ৮। হিংস্র ৪। অৰু ক্ষীর (আকনের আঁটা ) ৯। চিত্রক ৫। তেজোবতী (চৈ) ১০। রজনী (হরিদ্রা } সম্ভবতঃ কাজ তাহার ব্রণ নাশকতা গুণ আছে।

দ্বিব্ৰণীয় বিধি। ১২ ১১। সৈন্ধব ১২। কটকী ১৩। পিপ্পলী মূল ১৪। গব্যঘৃত প্রথমােক্ত ত্রয়োদশবিধ ঔষধ দ্রব্যের কাথের সহিত ১৪শ গব্যঘৃত পাক করিয়া মাতঙ্গগণের ক্ষত মধ্যে প্রয়ােগ করিলে উহা হইতে দূষিত রস রক্তাদি নির্গত হইয়া ক্ষত পরিত হয় এবং উহাকেই ‘সর্পিাশেধন’ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। ১। বৃহতী ৮। সর্ষপ ২। কটুকা (কক) ৯। রজনী (হলুদ) ৩। শােধ ১০। পিপ্পলী ৪। মন কল ১১। অশ্বগন্ধা ৫। কোশীতকী ফুল ১২। মূৰ্বা লতা ৬। পুসী (বড় মাকাল ফলের লতা ১৩। পােত অভাবে রাখাল শশা) ১৪। চিত্রক ৭। কাল (কার্জীরা ) ১৫। তিল তৈল প্রথমােক্ত চতুর্দশবিধ কল্ক দ্রব্যসহ ১৫শ তিল তৈল পাক করিবে এবং এই তৈল প্রয়ােগ করিলে বারণগণের দৃষিত ব্রণ সমুদয় বিশােধিত হইয়া থাকে। (কথ্য দ্রব্য ) ৮। কার্পাসী পত্র (কাপাস পায়। ১। ত্রিফলা ৯। শ্বেত করবী পুষ্প ( প্রক্ষেপ দ্রব্য) ১১। কালীস (হীরাকল চুর্ণ । ৪। হরিদ্র ১২। মধু ৫। তাল পত্রিকা (মুরমিংলী। ১৩। গোমূত্র ৬। মস্তা (মুগা ) ১৪। গােলমরিচ চূর্ণ দারু হরি কৃষ্ণ লৌহপাত্রে প্রথমোক্ত দশবিধ দ্রব্যের ক্কাথ প্রস্তুত করিয়া তম্মধ্যে ১১- ১৪শ পর্যন্ত ঔষধ প্রক্ষেপ প্রদান করিয়া সুসিদ্ধ করিবে এবং মাতঙ্গগণের ক্ষত মধ্যে প্রদান করিলে উহা বিশােধিত করিলে উহা বিশােধিত হইয়া থাকে। ইহাকে রসক্রিয়। শােধন’ বলে। ক এরপত্র লবণ ৪। ত্রিবৃত (তেউড়ীলতা) গজায়ুর্বেদ-সংহিতা এই চতুর্বিধ দ্রব্য একযোগে প্রয়োগ করিলে মাতঙ্গগণের বাত দৃষি ক্ষত বিশােধিত হইয়া থাকে। ১। হরিদ্রা ৩। তিল ২। মধুক (যষ্টিমধু) ৪। ত্রিবৃতা (তেউড়ী) এই চতুৰ্বিধ ঔষধ দ্রব্য একযােগে প্রয়ােগ করিলে বারণগণের রক্ত ও পিত্ত দোষ জনিত ক্ষত বিশােধিত হইয়া থাকে। ১। সৈন্ধব ৫। ত্রিবৃতা [ তেউড়ী ) ২। হরিদ্রা ১। মধুক [ যষ্টিমধু ] ৩। দাৰু হরিদ্রা ৭। নিষপত্র ৫। তিল এই সপ্তবিধ ঔষধ দ্রব্য একযােগে প্রয়োগ করিলে বারণগণের শ্লেষ্মদৃষি কৃত বিশােধিত হইয়া থাকে। ১। হরিতাল ২। কি (মেদেব সিটা) ৭। নিকুন্তা ৩। সজ্জিকা [ সাচিক্ষার ] ৮। অতিবিষ। [ আতইষ } ৪। মনঃশিলা [ মনছাল ] ৯। ঐরাবণিক। মূল । ৫। রসাঞ্জন [ কজ্জলী ] ১। লাঙ্গলিক [ বিষলাঙ্গলা মূল } তুল্যাংশ উল্লিখিত দশবিধ দ্রব্যের চর্ণ বারণগণের ক্ষতস্থানে প্রয়োগ করিলে উহা বিশশাধিত হইয়া থাকে। ইহাকে ‘চর্ণ শােধন’ বলে। হে অঙ্গেশ্বর, মাতঙ্গগণের ব্ৰণ লেখনে সাধারণতঃ সৈন্ধব লবণ, ক্ষৌমসূত্র এবং শস্ত্র এই ত্রিবিধ দ্রব্যই অবলম্বিত হইয়া থাকে ; তন্মধ্যে যাদৃশ ব্রণের প্রতীকরার্থ যাদৃশ লেখন:দ্রব্য ব্যবহৃত হইয়া থাকে। তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ। মাতঙ্গগণের যে ব্রণ কিঞ্চিৎ স্ফীত এবং যাহার প্রান্ত ভাগ কঠিন, শস্ত্ৰদ্বারা তাদৃশ ব্রণের লেখন ক্রিয়া করিবে ; যে ব্রণ শ্যামবর্ণ কিংবা নীলাভ, সৈন্ধব লবণ-দ্বারা তাহার লেখন ক্রিয়া সম্পাদন করিবে এবং যে ব্ৰণ মৃদু ও বেদনাযুক্ত, কোমল ক্ষৌম সূত্রদ্বারা তাহার লেখন ক্রিয়া সম্পাদন করিবে। হে নরনাথ, ইহাই মাতগণের ত্রিবিধ ব্রণ লেখন। । কোনও অভিধানে পাওয়া গেলনা। ঐরাবতিকা’ পাঠে ‘হাতীশুড়ার মূল।

৫। সৈন্ধব খুজলী চিকিৎসা। ১। সপ ৬। নাগর রগুন ৭। গৃহ ধূম ৩। বাৰ্ত্তাকী ৮। ফণিক (ক্ষুদ্রপত্র তুলসীর রস) ৪। সৌরস ৯। গাে মূত্র রস (কজ্জলী) ১০। লবণ এই দশবিধ ঔষধ দ্রব্য প্রয়ােগ করিলে বারণগণের কও, বিনায় প্রাপ্ত হয়। ভৰ্ম্ম কীট চিকিৎসা। ১। গোলমরিচ ৪। ফণিজ্জক ১। অজঙ্গী ৩। সর্ষপ এই ষড়বিধ দ্রব্য একযােগে প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের চর্ম কীট বিনষ্ট হইয়া থাকে। ব্রণ বিদাৱণ। বগাবিধি কয় প্রলেপ, চূর্ণপ্রয়োগ, কষায়বৃক্ষ চর্ণ, গােময়ভস্ম প্রভৃতি প্রয়োগ দ্বারা বারণগণের মৃদু মাংসযুক্ত ব্রণ সমুদয়ের বিদারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া থাকে। ব্রণ উৎপাদন। তাপিকা, কাল, জাম্বেষ্ট । তপ্ততৈল দ্বারা কিংবা অধােলিখিত ঔষধ দ্বারা বারণগণের ব্রণ ‘উৎপাদন’ হইয়া থাকে। ঔষধ যথা- ১। তালপত্রী ৬। মধুপর্ণী ২। বিড়ঙ্গ ৭। অপামার্গ তণ্ডল ৩। মঞ্জিষ্ঠা ( অপাঙের বীজ ) ৪। যষ্টিমধু ৮। গব্যঘত ৫। হরিদ্রা প্রথমােক্ত সপ্তবিধ দ্রব্য জলসহ বাটিয়া তাহাতে গব্যঘৃত মিশ্রিত করিবে এবং উত্তমরূপে প্রলেপ দিলে মাতঙ্গগণের ‘ব্রণ উৎপাদন ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া থাকে। অন্য আর একপ্রকার ব্রণ উৎপাদন যথা- । জাম্ববৌ (ব্রণ বিশােধন শলাকা বিশেষ ) হইলে ভাল হয় গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। (২) ১। কাকাদনী ৭। জীবক ২। শুকনাসা ৮। ঋষভক ৩। সুবহা ৯। মাসপর্ণী ( মাষাণী । ৪। তালপত্রিকা ১০। অশ্বগন্ধা ৫। কাকোলী ১১। মুঙ্গাপণী ৬। ক্ষীরকাকোলী ১২। গব্যঘৃত প্রথমােক্ত একাদশ বিধ দ্রব্য জলসহ উত্তমরূপে বাটিয়া ১২শ গব্যঘৃ তসহ মিশ্রিত করিবে এবং তদ্বারা প্রলেপ দিলে বারণগণের ব্ৰণ উৎপাদন ক্রিয়া সম্পন্ন হইয়া থাকে। ১। গব্যঘৃত গাে দুগ্ধ সকল প্রকার মাংসরস ৪। চাউল ( চূর্ণ) এই চতুৰ্বিধ দ্রব্য এক যােগে পাক করিয়া প্রলেপ দিলে বারণগণের ব্রণ কোমলতা প্রাপ্ত হয়। শতাতুর ব্রণে ঈষৎ উষ্ণ উল্লিখিত দ্রব্য সমুদয় দ্বারা স্বেদ প্রদানে কিংবা ছাগী দুগ্ধে পৰু পায়স দ্বারা ব্রণ স্বেদনে উপকার দর্শে। বিষষিত ব্ৰণ শোধম। (১) ৪। তিলক ২। বিষমু (বিষকাটালী। ৫। সৈন্ধব ৩। কুড় এই পঞ্চবিধ দ্রব্য অলসহ একযােগে বাটিয়া প্রলেপ দিলে মাতঙ্গগণের বিষ দূষিত ব্ৰণ বিশশাধিত হইয়া থাকে । (২) ১। নলমূল ৬। মৃণাল ২। বেতসমূল ৭। উৎপলপত্র (দিনালের পাপড়ী) ৩। চন্দন ৮। পদ্মিনীকর্দম (পদ্মমূলের কাঁদা) ৯। পীতধান্য ৫। শারীবা (অনন্তমূল ) ১০। গব্যঘ্নত . ৪। উশীর দ্বিব্ৰণীয় বিধি 12 প্রথমােক্ত নয় প্রকার দ্রব্য একযােগে জলসহ বাটিয়া তাহাতে ১০ম গব্যঘ্নত মিশ্রিত করিবে এবং তারা প্রলেপ দিলে বারণগণের বিষদূষিত ব্রণ বিশশাধিত হইয়া থাকে। ব্রণ শোধক ক্ষার প্রশ্নোগ। ১। পাটলা বৃক্ষ ভস্ম ৬। কররীর বৃক্ষ ভস্ম ২। অরিমেদ ৭। কদম্ব ৮। মধুক (মহুয়া) ৪। ধব (ধাউ বা ঝাউ ) ৫। মুক্তক ১০। সৈন্ধব লবণ (ঘন্টাপারুল গাছ) ১১। বিট লবণ উল্লিখিত একাদশ বিধ দ্রব্য একত্র মিশ্রিত করিয়া প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গ- গণের ব্রণ শােধিত হইয়া থাকে। অবশ্য বলা বাহুল্য যে ব্রণের সন্তাপ নিবৃত্তি হইলে উল্লিখিত ক্ষার প্রয়ােগ করা কর্তব্য। ৯। সাল সাদ , ব্রণ রােপণ ধূপন ক্রিম্না। (১) ১। খদির (খয়ের। ১২। অশােক ২। শিংশপ বৃক্ষসার ১৩। রোহিনী ৩। নিমূল। ১৪। শতপুষ্প (শফা। ৪। প্রিয় ১৫। শিলাপুষ্প ৫। ভদ্রমুস্তা ১৬। পটোলপত্র (পল্} ৬। বিড়ঙ্গ ১৭। নিমছাল গর ১৮। “বেষ্টক (গুল ) ১৯। সৰ্জরস (ধূনা ) ৯। অগুরু ২। স্থেনেয় (গেঁঠেলা ) অলক্তক আল নগদ বীরণমূল ) ১১। নাগপুষ্প জলদঙ্গার মধ্যে উল্লিখিত একবিংশতি প্রকার দ্রব্য নিক্ষেপ পূৰ্ব্বক তদ্বারা মাতঙ্গগণের ব্রণ ধূপিত (প্রধুমিত) করা যায়। এই প্রকার ধূপন ক্রিয়ার ব্ৰেণ শুষ্ক হইয়া থাকে ।

२२ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা (২) ১। ভূমিকুম্মা মূলচুর্ণ ২। ক্ষৌম সুত্র গব্যঘৃত ( রেশমেরসূতা বা কাপড় ) এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে অগ্নিমধ্যে নিক্ষেপ পূৰ্ব্বক মাতঙ্গগণের ব্রণ মধ্যে তাহার ধূম প্রদান করিলে তাহা শুকাইয়া থাকে । ব্রণ লোপণ কক্ষ চিকিৎসা। ১। বলা ৫। মধুগন্ধ (বকুল) ছাল ২। অতি বলা অশ্বগন্ধা ৩। কুশমুল ৭। রােহিনী ( মঞ্জিষ্ঠা ) ১। উচ্চটা ( ওরা) মূল এই সপ্তবিধ দ্রব্য ৰাটিয়া প্রয়ােগ করিলে বারণগণের ব্রণ দোষ নিবৃত্তি হইয়া থাকে। (২) ১। জীবন্তীলতা অরগ্ধ (সােনাল) ছাল ১। অশ্বকর্ণ ১১। ত্ৰিণ্টক ? কুন্তী (শল্পকী) ছাল ১২। মঞ্জিষ্ঠা ৪। কাক্ষীব (সাজনা ) ছাল ১৩। মধুক। যষ্টিমধু ) ৫। বিদারী ভূমিকুণ্ড) মূল ৪। অশ্বগন্ধা ছাল ৮। অরিমেদ (ওয়ে বাবলা ) ১৫। গােজী (সেওড়া গাছ) ৭। পলাশ ছাল ১৬। বট ছাল ৮। কিণিহী (আপাঙ, পাতা) গব্যঘ্নত ধব ( ধাউ বা ঝাউ ) ছাল প্রথমােক্ত ত্রয়ােদশ বিধ দ্রব্য বাটিয়া তাহাতে গব্যঘৃত মিশ্রিত করিবে এবং মাতগগণের ক্ষত মধ্যে তাহা প্রয়ােগ করিলে উহা শুষ্ক হইয়া থাকে।

। h i ১। ভাগী ব্রণ রােপণ কষায় চিকিৎসা। ১। শল্লকী ছাল ৮। কুন্তী ২। ক্ষীরিবৃক্ষ ( বট গাছ) ছাল ৯। কাক্ষীব ৩। মধূক (ময়ূরা ) ১০। আদারী অন্তক (পাথর চণ।) ১১। অশ্বকর্ণ আসন (শাল) ১২। পলাশ ছাল ৬। জীবন্তীলতা ১৩। কুটজ ছাল ৭। অরিমেদ ( গুয়ে বাবলা ) উল্লিখিত ত্রয়োদশ বিধ দ্রব্যের কাথ দ্বারা পুনঃ পুনঃ প্রক্ষালন করিলে মাত গণের ব্রণ শুষ্ক হইয়া থাকে। ব্রণ পেণ ঘত ও তৈল । (১) ঘৃত ১ কর্ষ ৫। দারু হরিদ্রা ১ কর্ম (বামুন হাটী বা ব্ৰহ্মষষ্টি ) ৬। আত্মগুপ্তা ২। সর্ষপগন্ধা ৭। পাঠা (আকনাদি) ১ কর্ষ ৩। মঞ্জিষ্ঠা ৮। গব্যঘৃত ৪। হরিদ্রা ৯। জল ১ আটক প্রথমােক্ত সপ্তবিধ দ্রব্য কিঞ্চিৎ ছেচিয়া তাহা জল ও গব্যঘৃত সহ মন্দ আলে পাক করিবে। পরে ধৃত পাক বিধানে পাক হইয়াছে জানিয়া অবতারণ পূৰ্ব্বক শীতল হইলে তাহা ক্ষত মধ্যে প্রয়োগ করিবে। এই ঘূহ ছিন্ন, ভিন্ন, বিদ্ধ, নাড়ীব্রণ, দুষ্টব্রণ, এবং বিষ দূষিত ব্রণ বেধে জনিত ক্ষতের উত্তম শােধক ও প্রতীকারক বলিয়া জানিবেন। (২) তৈল । চন্দন ৮। হরেণু ২। অগুরু ৯। তালীসপত্র ৩। মঞ্জিষ্ঠা ১০। তার ৪। শতপুষ্প ১১। লােঞ্জ ৫। প্রিশঙ্কু ১২। ব্যাঘ্র নখ । বলা ১৩। ভুদ্রাক্ষ ।। কালানুসারী ১৪। এলাচ } ২৪ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। . ১৫। হরিদ্রা ২০। অঞ্জন দারু হয়। ২১। মধুক (যষ্টিমধু) ১৭। পূনর্ণব ২২। মধু ১৮। কুষ্ঠ (কুড়) ২৩। মধুচ্ছিষ্ট মােম ১৯। প্রপৌণ্ডরীক ২৪। তিল তৈল প্রথমােক্ত বিংশতি প্রকার দ্রব্যের কল্কসহ তিল তৈল পাক করিয়া ২০২১২২ ও ২৩ ঔষধ তাহাতে প্রক্ষেপ দিবে এবং শীতল হইলে ব্রণ মধ্যে প্রয়ােগ করিবে। তাহাতে মাতঙ্গগণের ব্রণ ক্ষত শুষ্ক হইয়া থাকে। (৩) তৈল। ১। নিষপত্র ৪। মৃগাক্ষী মূল ২। অর্কপত্র ৫। শিংশপাসার ৩। রজনী (হলুদ) ৬। তিল তৈল প্রথমােক্ত পঞ্চবিধ দ্রব্যের কল্ক সহ { ৬ ষষ্ঠ ) তিল তৈল পাক করিয়া ক্ষত মধ্যে প্রয়োগ করিলে বারণগণের দুষ্ট ব্রণ প্রশমিত হইয়া থাকে। বণ রােপণ চর্ণ প্রয়ােগ। ১। প্রিয়জুক। ২। সৰ্জরস ৬। গােরাচনা ৩। পুষ্প ? ৭। যষ্টিমধু ৪। কাসীস ( হিকস ) শােধ উল্লিখিত অষ্টবিধ ঔষধ দ্রব্যের সূক্ষ্ম চূর্ণ করিয়া ক্ষত মধ্যে প্রয়ােগ করিলে বারণগণের ব্রণ রােগ প্রশমিত হইয়া থাকে । ব্রণ ৰোপণী রস-ক্রিয়া। ১। তিনিস ( গাব । ছাল ৫। সােম বল্ক (য়েবাবলা ) ছাল ২। অর্জুন ছাল ৬। খদির ছাল ৩। সাল ছাল ৭। নিম ছাল ৪। শিংশপা ছাল উল্লিখিত সপ্তবিধ ঔষধ দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিয়া তাহাতে-- ৮। রসাঞ্জন (কজ্জলী) ১১। কাসীস (হীরাকস) চূর্ণ ৯। রােহিণী (মঞ্জিষ্ঠা) চুর্ণ ১২। হরিতাল চূর্ণ ১০। মাতুলঙ্গ রস (গোঁড়া নেবু) দ্বিব্ৰণীয় বিধি। এই পঞ্চবিধ ঔয়ধ প্রক্ষেপ প্রদান পূর্বক অবতারণ করিবে এবং মাতঙ্গগণের ক্ষত মধ্যে প্রয়ােগ করিবে। ইহাকে ব্রণ রােপণী রসক্রিয়া বলে ক্ষীণকা ক্ষত রোগাক্রান্ত মাতঙ্গগণের বৃহহণ। ক্ষীণ মাতঙ্গগণের আজন্মসিদ্ধ অভ্যাস, বয়ঃক্রম, এবং অগ্নিবলের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষা করিয়া ব্রণ দোষের অবিরােধীভাবে ‘বৃংহণক্রিয়া’ করা আবশ্যক। স্থূলকায় ক্ষত রোগাক্রান্তুমাভগণেৱ হ্রাসন ক্রিয়া । ১। গৌরী ( প্রিয়। ৮। অরিষ্ট পত্র ২। হরিদ্রা ( রীঠা করঞ্জুের পাতা) ৩। দারু হরিদ্রা ৯। মালতী পত্র ৪। যষ্টিমধু ১। নজমাল পত্র ৫। মষ্ঠি (২ মাত্রা। ১১। ঘােণ্টাফল ত্বক (খােস) ৬। নীলােৎপল ১২। ফলিনী ( প্রিয় । । পটোল পত্র লােধ ক্রমপ্রযুক্ত উল্লিখিত ঔবধ সমূহ দ্বারা ক্ষত রোগাক্রান্ত স্থূলকায় মাতঙ্গগণের দেহের স্থূলতা বিনষ্ট হয়। ব্রণ বর্ণ প্রসাদন ঔষধ। ১। সােম বল্ক প্রবল ৩। মনঃশিলা (মনছল। ( গুয়ে বাবলার পল্লব ) ৪। যষ্টিমধু ২। ময়ন্তী ? এই চতুর্বিধ ঔষধ দ্রব্য প্রয়োগ করিলে মাতঙ্গগণেব শুস্ক ব্রণের উপরিভাগের বর্ণ স্বাভাবিক হইয়া থাকে । ( ২ ) ১। যষ্টিমধু ৩। মহিষ্ঠা ২। মধু ৪। ছােট এলাচ

২৬
গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহিতা।
৫। গেম
৭। দূৰ্বা
৮। সকট শঙ্কর ?
৬। গঘৃিত
এই অষ্টবিধ দ্রব্যের প্রলেপ প্রদান করিলে মাতঙ্গগণের শুষ্ক ব্রণের উপরি-
ভাগস্থ চৰ্ম্মের বর্ণ স্বাভাবিক হইয়া থাকে।
তীক্ষ্ণধী সম্পন্ন মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহষি পলকাপ্য তাহাকে
দ্বিব্ৰণীয় অধ্যায় আদ্যোপান্ত বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন।
ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্ব্বে মাপ্রবচনে শল্যস্থানে প্রথম
অধ্যায়।

শল্যহান। দ্বিতীয় অধ্যায়। সক্ষত চিকিৎসা। একদা সুতীক্ষ্ণবুদ্ধি মধ্যাহ্ন মার্তণ্ড সমতেজাঃ অঙ্গপতি রামপাদ, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ, তপাে মহিমান্বিত মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণিপাতপূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, আপনি, অনুকম্পা প্রকাশ পূৰ্ব্বক মাতঙ্গগণের দ্বিবিধ ব্রণের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা সবিস্তার বর্ণনা করিয়া আমার উদ্দীপ্ত কৌতূহল পরিতৃপ্ত করুণ । বাক্‌প্রয়ােগ নিপুণ ঋষি প্রবর পলকাপ্য শিষ্যভাবাপন্ন অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে বলিতে লাগিলেন –হে নরেশ্বর, আমি অনন্তর মাতঙ্গগণের চিকিৎসা প্রসঙ্গে সপ্তঃক্ষত অধ্যায় বর্ণনা করিব শ্রবণ করুন হে নরনাথ, পৃথিবীতে বহু মাতঙ্গ শক্তি, ঋষ্টি, তােমর, কুঠার, বিষাণ প্রভৃতি অস্ত্র শস্ত্র ও ব্যাঘ্ৰ সিংহাদি হিংস্র জন্তুর দন্ত নখরাদি দ্বারা আহত হইতে এবং উহাদিগের ক্ষতস্থান হইতে রক্তস্রাব হইতে দেখা যায়, তাহাদিগের ব্রণাভিক্ষত লক্ষণ এবং স্থানগতি সংস্থান প্রমাণ বিশেষ সম্যকরূপে বর্ণনা করিব। হে অঙ্গনাথ, মাতঙ্গ দেহস্থ ব্রণের আত্মা বা স্বরূপ, আগন্তুক ও শরীর- সমুখিত ভেদে দ্বিবিধ। তম্মধ্যে আগন্তুকমাত্র এক প্রকার এবং তাহা নানাবিধ অস্ত্র শস্ত্রাভিঘাত নিবন্ধন নানাবিধ আকৃতি সম্পন্নই হইয়া থাকে। তন্মধ্যে আকৃষ্ট শরাসন হইতে বিমুক্ত শরের গতি বিকার সাধারণতঃ বিদ্ধ, তুণ্ডিত, অতিবিদ্ধ এবং নির্ধিদ্ধ এই চতুর্বিধ হইতে দেখা যায়। তন্মধ্যে শরকী শর প্রভৃতি দ্বারা মাতঙ্গদেহে উৎপন্ন সদ্যঃ ক্ষতকে ‘বিদ্ধ’ অখ্যা প্রদান করা হইয়াছে। শরাদি অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা মাতঙ্গগণের চৰ্ম্মের উপরিভাগে অল্পমাত্র, অপরিসর এবং অভ্যন্তর ভাগে, গম্ভীর ও বক্র ভাবাপন্ন সদ্যঃ ক্ষতকে “উত্তণ্ডিত” ; বা তুণ্ডিত উভয় পার্শ্ব বিব্ধ হইয়া যে ক্ষত জন্মে তাহাকে “অতিবিদ্ধ” এবং মাতদেহ সম্পূর্ণরূপে বিদ্ধ হইয়া শরাদি পার হইয়া গেলে যে ক্ষত উৎপন্ন হয় তাহাকে ‘নিৰ্বিদ্ধ’ বলা হইয়া থাকে। প্রায়শঃ অল্প শক্তি সম্পন্ন মানব হতে মহাকায় মাতঙ্গদেহে উণ্ডিত, অতিবিদ্ধ নির্বিন্ধ এই বিবিধ ক্ষত জন্মিতে দেখা যায় না। উদ্ভ্রান্ত বিপ্লত অতিবিদ্ধ নিঃসৃত প্রভৃতি বিবিধ প্রকার গতি প্রাপ্ত বারণ- দেহস্থ ব্রণের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দারিত অবনষ্ট ও উন্নষ্ট এই পঞ্চবিধ স্কুল বিভাগ করা ২৮ গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহিতা। যাইতে পারে। তন্মধ্যে যে অঙ্গ কুঠার পট্টিশ করপত্র (করাত) প্রভৃতি শস্ত্রধার। সম্পূর্ণরূপে খণ্ডিত হয়, তাহাকে ছিন্ন, সর্বাঙ্গে বহু অঙ্গে যে ঈষদ্ বক্র আঘাত (কৰ্ত্তন চিহ্ন) লক্ষিত হয়, তাহাকে বিচ্ছিন্ন, অঙ্গুলি সমুদয়ের অগ্রভাগে, নখে, এবং কর্ণদ্বয়ে যে দ্বিধাভাব লক্ষিত হয়, তাহাকে বিদারিত, লােমমুল হইতে অস্থি পৰ্যন্ত মাংস মেদ শিরা ও স্নায়ুবেধকে ‘অবনষ্ট এবং প্রতি লােমভাবে জাত অবনষ্টকেই ‘উন্নষ্ট’ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। গভীরভাবে অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং বিপুলমুখ এই দুই প্রধান ভেদে ‘অবমৃষ্ট কে ও দ্বিবিধ বলা যাইতে পারে। কখন কখনও মাতঙ্গগণের ব্রণ ব্যবচ্ছেদের ফলে উহাদিগের অস্ত্ৰ পৰ্যন্ত আক্রান্ত হইয়া থাকে এবং তাদৃশ আক্রমণের ফলে যখন মাতঙ্গগণের প্রস্রাব দ্বার হইতে রক্ত স্রাব, সকল প্রকার শস্ত্র দর্শনে অত্যন্ত উদবেগ বােধ, উষ্ণ অঞ ত্যাগ, উদরা ঋনি, ভূতলে পতন এবং মুহুর্মুহু স্বীয় গুণ্ড গ্রহণ প্রভৃতি লক্ষণ সমুদয় প্রকাশ পায়, তখন উহাদিগের অচ্ছেদ হইয়াছে বুঝিতে হয় এবং ইহার বিপরীত লক্ষণাবলী প্রকাশিত হইলে তাহাকে ‘ক্লিষ্টান্ত্র’ বলিয়া জানা যায়। ক্লিষ্টান্ত্রেরই চিকিৎসা করা কর্তব্য। সেইরূপ আচাৰ্যগণ, ‘অবকৃত্ত’কে বিরক্ত, অবপাটিত ও অবগাঢ় এই ত্রিবিধ আখ্যা প্রদান করিয়া থাকেন। তন্মধ্যে অন্তলোহিত মাংস পৰ্য্যন্ত প্রবিষ্ট শ্বেতবর্ণ, ঈষৎ সঞ্চিমাংস ব্রণকে বিরক্ত, অণ্ডকোষ, বস্তি, উদরদেশ, মলদ্বার, পার্শ্বদ্বয় মন্তক এবং দেহের পশ্চাদ্ভাগে মাংস পর্যন্ত প্রবিষ্ট যে ক্ষত তাহাকে ‘অবপাটিত এবং কুঠার পটিশ করপত্র ( কাত ) প্রভৃতি শস্ত্রের আঘাতে মাতঙ্গদেহে অস্থি পৰ্যন্ত প্রবিষ্ট ক্ষতকে ‘অবগাঢ়’ নামে অভিহিত করা যাইতে পারে । শৃঙ্খল কিংবা রজ্জ দ্বারা গলদেশে অথবা চরণাদি অবধাদিগবৰ্ত্তী অঙ্গ প্রত্যঙ্গে যে ক্ষত হইয়া থাকে তাহা ‘নিষ্ট' নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে। বজ্রপাত, উত্তপ্ত জতু মোম গুড় বসা প্রভৃতি দ্বারা দাহ কিংবা সর্পবিষ ও জলদগরানি দ্বারা দাহই ‘দগ্ধ’ নামে অভিহিত হয়; কিন্তু পূৰ্ব আচাৰ্য্যগণ, জ্বালা, অঙ্গার পরম্পরা পাম্প এবং সন্তাপ এই পঞ্চবিধ দাহকে ‘দগ্ধ’ আখ্যা প্রদান করিয়া গিয়াছেন পিপাসা ত্বক শোষ কম্প স্ফীতভাব প্রভৃতি সাধারণ লক্ষণগুলি সকল প্রকার ‘দগ্ধতেই বিদ্যমান থাকে তন্মধ্যে চৰ্ম্মগত দাহে উত্তাপ অভ্যন্তরভাগ । গত হইয়া অল্প বেদনাযুক্ত স্ফোট উৎপাদন করে। দাহ মাংস গত হইলে মাংসের সঙ্কুচিতভাব এবং রক্তের দ্রুতগতি লক্ষিত হয়। ধ ও মাংস অতিক্রম পূৰ্ব্বক দাহ শিরা ও স্নায়ু গত হইলে প্রথমতঃ মূচ্ছ। প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হয় সদ্যঃক্ষত চিকিৎসা। এবং পরে ব্রণ উৎপন্ন হইয়া শিরা স্নায়ু প্রভৃতিকে সঙ্কুচিত করে। ত্বক মাংস শিরা স্নায়ু অতিক্রমপূর্বক যখন দাহ, আরও অভ্যন্তরবর্তী হয়, তখন মাতঙ্গগণের দাহ, মুচ্ছা, ভ্ৰম, কম্প মােহ প্রভৃতি এবং শরান্নায়ু দাহের লক্ষণ সমুদয় প্রকাশ পাইয়া থাকে, মৰ্ম্মগত হইলে মৰ্ম্মের লক্ষণাবলী প্রকাশিত হয় এবং দাহের পরিমাণ অধিক হইলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটিতে পারে। নগর দ্বার অট্টালিকা প্রভৃতি আক্রমণ কালে যখন বারণগণের দেহ, অগ্নি- শিখায় দগ্ধ হয়, তখন কেবল উহাদিগের লােমাবলীও দেহ চৰ্মই কিঞ্চিৎ দগ্ধ হইয়া থাকে মাত্র। জলদঙ্গার উত্তপ্ত গুড় বসা মোম এবং জতু প্রভৃতি দাহ্য পদার্থ দ্বারা দগ্ধ হইলে মাতঙ্গগণের দেহ পুনঃ পুনঃ শ্যামবর্ণ হইয়া থাকে। পূৰ্বাচাৰ্য্যগণ- পরম্পরা দাহ তরল ও কঠিন পদার্থ ভেদে দুই প্রকার বলিয়া থাকেন। উল্লিখিত দ্বিবিধ পরম্পরা দাহেরই লক্ষণ সাম্য অভিহিত মাতঙ্গগণের মধ্যে কোন কোনওটির বজ্রপাতের ভীষণ রব শ্রবণ করিয়া হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া থাকে, কোনটির চিরবধিরতা জন্মিয়া থাকে, কোনওটি বা বজ্রাঘাতে দেহ চূর্ণ বিচূর্ণ হইয়া তৎক্ষণাৎ প্রাণত্যাগ করিতে বাধ্য হয়। অবিশ্রান্তভাবে সুদূর গথ গমনকালে সুতীক্ষ রবিকর দাহের প্রভাবে দগ্ধ দেহ বারণগণের মলদ্বার হইতে রক্তস্রাব পিপাসা ত্বকসঙ্কোচ উরুস্তম্ভ শুণ্ড চরণ চতুষ্টয় কর্ণযুগল লাঙ্গুল ও পুংচিহ্নের শিথিলতা লক্ষিত হয়। যখন কোন আরণ্য গজ-য়ূথ-পতি, তীক্ষ সৌর কর দগ্ধ অবস্থায় ধৃত হইয়া লােকালয়ে আনীত হয়, তখন উহাদিগের প্রবল মনস্তাপ ঘাসগ্রাস পদ্মমৃণাল প্রভৃতি শীতবীর্য দ্রব্য ভােজন করিয়াও স্বীয় ত্বক মাংসাদির দাহ অনুভব করিয়া থাকে। তাদৃশ সম্ভাপ দগ্ধ মাতঙ্গ যথপতির শরীরে তীব্র বেদনা ও কৃষ্ণপ্রান্ত শ্বেতবর্ণ ক্ষোট সমুদয়ের আবির্ভাব হইয়া থাকে। ইহাই সন্তাপ দগ্ধ মাতঙ্গের লক্ষণ। তীক্ষ্ণ বিষধর সর্পগণের পুনঃ পুনঃ নিশ্বাসাদি সম্পর্কে মহাকায় বলিষ্ঠ মাতঙ্গ- গণেরও দেহস্থ বাত পিত্তাদি যুগপৎ কুপিত হইয়া থাকে এবং তাদৃশ সান্নিপাতিক বিকার সস্তুত মণ্ডলাকৃতি চিহ্ন সমুদয় মাতঙ্গদেহে আবির্ভূত হইতে দেখা যায়। উহাতে প্রিয় ততুলের তুল্য বর্ণ বিশিষ্ট স্ফোট সমুদয় প্রকাশিত হইতে থাকে। তখনও উহার প্রতীকার না করিলে মাংস ঋলন পিপাসা অল্প এবং পুনঃ পুনঃ বমন হইতে থাকে। ইহাই বিষ দগ্ধ মাতঙ্গের লক্ষণ আপনার নিকটে বিস্তারিত- রূপে বর্ণনা করিলাম। ব্রণ সমুদয় কিঞ্চিৎকাল মাত্র আগন্তুক থাকিয়া পরে গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। দেহের উপাদান স্বরূপ বাত পিত্তাদির অন্যতমকে বিকৃত করে এবং তাহার সংস্পর্শে আসিয়া প্রথমে আগন্তুক হইলেও পরে দোষজ’ রূপে পরিণত হইয়া থাকে ; এই নিমিত্ত ব্রণের লক্ষণ দ্বারা নিদান স্বরূপ ও তত্তদোষের বিকার লক্ষ্য করিয়া তাহার প্রতীকার করা আবশ্যক। চিকিৎসা -ঈদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গগণের সদ্যঃক্ষত তুল্যভাগ মধু, ঘূত- সিক্ত করিয়া ক্ষতযুক্ত মাতঙ্গকে তিনদিন প্রয়োজন হইলে পরেও শীতল জলে অবগাহন করাইবে। অনন্তর ক্লেদযুক্ত ব্রণের অভ্যন্তরে পূতিমাস গজাইলে ‘এষণী’ অস্ত্ৰদ্বারা অন্বেষণ করিয়া যতদূর সম্ভব দূষিত মাংস সমুদয় তুলিয়া ফেলিবে। তাহাতে ক্ষত মধ্যবর্তী জলও অন্তর্হিত হইবে। এইরূপ জল অপনয়নের সহিত পূর হ্রাসের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে। ক্ষার সদ্যঃক্ষতাভ্যন্তরে প্রবিষ্ট জলই রক্তের সহিত মিলিত হইয়া বায়ুর প্রভাবে উচ্ছিত ভাব ও পূয় ভাব প্রাপ্ত হইয়া থাকে। এবং পূয় ও দৈহিক উপাদান পিত্ত রক্তাদি দ্বারা বর্ধিত হইয়া গতি প্রাপ্ত হয়। তাদৃশ অবস্থায় উক্ত ক্ষত গবাঘৃত সিক্ত করিয়া ৩। লবণ ২। কিম্ব (মদের সিটা ) এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে জলসহ বটিয়া ক্ষতমধ্যে প্রলেপ দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। মাসার্ধকাল ঔষধ প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের সর্ববিধ সপ্তঃক্ষত প্রশমিত ইয়া থাকে। ইহাতে প্রতীকার না হইলে পূৰ্বোপ্লিখিত প্রক্ষালনার্থ ঔষধ-কাথ দ্বারা ব্রণ প্রক্ষালন করিয়া শােধনাদি কল্ক দ্বারা শােধন ও রােপণ করিবে। এতাদৃশ অবস্থায় গব্যঘৃত পান, গব্যঘৃতযুক্ত মুগয়ূষ মিশ্রিত শালিধান্তের অন্ন উত্তম পথ্য। দুরদৃষ্টবশতঃ বারণগণ সিংহ, ব্যাঘ্র প্রভৃতি হিংস্র প্রকৃতি জন্তুর নখ ও দন্ত দ্বারা আহত হইলে উহাদিগের ক্ষতস্থান শতধৌত ঘৃত দ্বারা সিকরিয়া প্রথমতঃ পঞ্চ কষায় দ্বারা প্রক্ষালন করিবে এবং পরে শীতল জলে ধৌত করিবে। অনন্তর গব্যঘৃত মিশ্রিত শীতল প্রলেপ দ্বারা লিপ্ত করিয়া রাখিবে। ইহাতে প্রতীকার না হইলে ব্রণ চিকিৎসা বিধানানুসারে চিকিৎসা করিবে। মাতঙ্গ দেহে অগ্নিদাহ জনিত ব্ৰণ উৎপন্ন হইলে, প্রথমতঃ তাহাতে শতধৌত গব্যঘৃত প্রদান করিয়া নিৰ্বাপণার্থ গাে দুগ্ধ, মদ্য কিংবা অপােলিখিত শীতল প্রলেপ প্রদান করিবে।

সদ্যঃক্ষত চিকিৎসা। ৩১ ১। মঞ্জিষ্ঠ। ১২। ২। প্লক্ষ ছাল ২। যষ্টিমধু ১৩। বট ছাল চলন ১৪। নালিকা (নাড়ীক শাক) ১। উশীর ১৫। জলজ পদ্ম মৃণাল পদ্মফুলের পাপড়ী ১৬। উৎপল নল মূল ১৭। পদ্ম মূলের কাদা ৭। বেতস মূল ১৮। ভদ্র মুস্তা (মুথা ) ৮। শালি মূল ১৯। তৃণ শূণ্য (মল্লিকা, বেল অনন্ত মূল মদ্য ১৪। অর্জুন ছাল ২১। দধি যজ্ঞ ডুমুর ছাল উল্লিখিত দ্বাবিংশতি প্রকার ঔষধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রলেপ দিলে দগ্ধ স্থান শীতল হয় এবং দাহের উপশম হইয়া থাকে। সূতং তাপ দগ্ধ মাতঙ্গগণের চিকিৎসা ভুল করিতে হইবে। সূর্যতাপ দগ্ধ মাতঙ্গগণের চিকিৎসা বিশেষরূপে সময় ও জদের অবিরােধী আমার দ্বারাই করা কর্তব্য। ঘৃতযুক্ত মুগের যুব মিশ্রিত লিধান্তের অন্ন তাদৃশ অবস্থায় একান্ত হিতকর পথ্য। দ্বিব্ৰণীয় অধ্যায়ের অন্তর্গত স্মারকৰ্ম্মে- উল্লিখিত বিধান ক্রমে ‘ক্ষার দগ্ধ নতঙ্গের চিকিৎসা করা কর্তব্য। ক্ষার দগ্ধ স্থান সমভাগ ২। গব্যঘৃত দ্বারা সিক্ত করিয়া উল্লিখিত শীতল প্রলেপ দিলেই সবিশেষ উপকার দর্শে। বিষদগ্ধ মাতঙ্গগণের চিকিৎসা শাস্ত্রোপচারাদি দ্বারাই করা কর্তব্য। তীক্ষ্ণ বিষধর সর্পের নিশ্বাস দ্বারা দগ্ধ মাতঙ্গগণকে শত ধৌত গব্যঘৃত দ্বারা সিক্ত করিয়া মাতঙ্গগণের ভুক্ত বিষের প্রতীকারার্থ যে প্রলেপের উল্লেখ করা হইয়াছে সেই প্রলেপ প্রদান করিবে। গব্যঘৃত পান ও শীতল জল সেক এবং বিষ তােজনে উল্লিখিত পথ্য এতাদৃশ অবস্থায় হিতকর। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে- যে চিকিৎসক, ক্ষতযুক্ত ও সন্তানাদি দগ্ধ মাতঙ্গের চিকিৎসা করিতে সমর্থ, তিনি মাতঙ্গ পতি নরপতির নিকটে দান মানাদি দ্বারা সংবর্ধিত হইবার যােগ্য। ইতি শ্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্য স্থানে দ্বিতী গ স অধ্যায়।

তৃতীয় অধ্যায়। সদ্যঃক্ষত চিকিৎসা। একদা উদারকীর্তি মহানুভব অঙ্গপতি, বিবিধ কলকণ্ঠ বিহগকুল মুখরিত নন্দনকানৰ সদৃশ মহর্ষিগণ সেবিত স্বীয় পবিত্র নগরােদ্যানে উপবিষ্ট হুতাগ্নিহােত্র জ্বলনল সদৃশ তেজস্বী মহর্ষি পালকাপ্যকে আনত মস্তকে প্রণিপাত পূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, আপনি অনুকম্পা প্রকাশে মাতঙ্গগণের সদ্যঃ ক্ষত চিকিৎসা বিস্তৃত রূপে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। ছিন্ন বিচ্ছিন্ন নিবিদ্ধ অবনষ্ট অবদারিত উত্তণ্ডিত অতিবিদ্ধ অবমৃষ্ট দগ্ধ দৃশীবিষ দূষিত প্রভৃতি মাতঙ্গগণের বিবিধ প্রকার সদ্য ক্ষত প্রতীকারার্থ যাদৃশ বিধান অবলম্বন করা কর্তব্য তাহা সবিস্তর বর্ণনা করিয়া আমার জ্ঞান পিপাসা নিবৃত্তি করুন। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন। হে নরনাথ, আপনি অবহিত চিত্তে শ্রবণ করুন আপনার সংশয় অপনয়ন করিতেছি। অতিদীর্ঘ সদ্যোব্রণের চিকিৎসা বর্ণনা করিব : এই ক্ষণে সদ্যোজাত ক্ষুদ্র ব্রণের চিকিৎসা বলিতেছি ১। পতঙ্গ । ৩। গব্যঘৃত একযােগে বাটিয়া প্রলেপ দিলে মাতঙ্গগণের সদ্যক্ষ মিলিয়া যায়। মাতঙ্গ দেহে যে সকল সদ্যঃক্ষত অপেক্ষাকৃত গভীর হয় তাদৃশ সকল ক্ষত হইতেই এষণী দ্বারা রক্ত নিঃসারণ হিতকর; কিন্তু যে সকল ক্ষত শ্বেত তা হইতে রক্ত মােক্ষণ নিষিদ্ধ। মাতঙ্গগণের বৃক্ষোঙ্গী নামক ব্রণ হইতে সমধিক পরিমাণে রক্ত নিঃসরণ করিলে তাহা দূষিত ও স্ফীত হইয়া থাকে, কখন ও বা অত্যন্ত সন্তাপ এবং পরিণামে পাক আনয়ন করে। এই নিমিত্ত তাদৃশ ব্রণ শােধন করিয়া তাহা গব্যঘৃত দ্বারা সিক্ত করিবে এবং তাহাতে ঘূত মধুযুক্ত বত্তি (নেকড়া) প্রবেশ করাইয়া দিবে। অনন্তর উল্লিখিত বৰ্ত্তি নিঃ সারণ পূর্বক অপােলিখিত ঔষধ প্রয়ােগ করিবে ১। কুমুদ ফুলের পাপড়ী ২। উৎপল দল (দি নালের পাপড়ী) ৪। কুটট (কৈবর্ত মুথা ) ২। মধু ৩। হীবের + জলমৌয়া বা শালিধান্য বিশেষ।

সদ্যঃক্ষত চিকিৎসা। ৫। করবীর পত্র ৮। কৃষ্ণ মৃত্তিকা ৬। ক্ষীর বৃক্ষ বটছাল ) ৯। শতধৌত গব্যঘৃত । তিল প্রথমােক্ত অষ্টবিধ দ্রব্য জল সহ বাটিয়া শত ধৌত গব্যঘৃত সহ উত্তম রূপে মিশ্রিত করিবে এবং তাহা মাতঙ্গগণের সদ্যঃক্ষত মধ্যে প্রয়ােগ করিলে উপকার দর্শে। এই প্রকার অন্য শীতক্রিয়া যথাবিধি করা যাইতে পারে। ১। পদ্মমৃণাল কন ২। ক্ষীর বৃক্ষ (বটাদির ছাল । এই দ্বিবিধ দ্রব্য জল সহ বাটিয়া তাহা শীতল জলে মিশ্রিত করিবে এবং সদ্যঃ ক্ষতযুক্ত মাতঙ্গকে ছায়ায় স্থাপন পূর্বক তাহার ক্ষত মধ্যে উক্ত জলের ধারা প্রদান করিবে। অভ্যঙ্গ সর্বাঙ্গে তৈল মর্দন ), শীতল পরিষেক এবং গব্যঘত পান সদ্যঃক্ষতযুক্ত বারণগণের একান্ত প্রীতিকর ও হিতকর, কারণ উহাতে সদ্যঃ ক্ষতযুক্ত বারণগণ শান্তি অনুভব করে অথচ উহাদিগের দৈহিক উপাদান বাত পিত্তাদি ও কুপিত হয় না। অভিঘাত নিবন্ধন কিংবা বিষ প্রভাবে মাতঙ্গ দেহের কোনও অংশ স্ফীত ইলে বিজ্ঞ চিকিৎসক অধােলিখিত ঔষধ প্রয়ােগ করিবেন ১। চন্দন ৪। সুনিষগ্নক (সুসুনি শাক ) ২। পদ্মের পাপড়ী ৫। কঁাচা দুধ ৩। শৈবাল (শেওলা। ৬। গব্যঘৃত প্রথমােক্ত চতুর্বিধ দ্রব্য ৫ম গাে-দুগ্ধে বাটিয়া তাহার সহিত ৬ষ্ঠ গব্যঘৃত মিশ্রিত করিবে এবং তারা বারণগণের উল্লিখিত স্ফীতস্থানে প্রলেপ দিলে সবিশেষ উপকাব র্শে। কেবল গব্যঘৃত মর্দন ও তদ্বারা প্রলেপ দিলেও উপকার হইয়া থাকে। যদি উল্লিখিত প্রতিবিধান দ্বারা প্রতীকার না হয় তাহা হইলে কুঠারাকৃতি শস্ত্রদ্বারা অতি সাবধানে শিরাধমণী মৰ্ম্ম প্রভৃতি রক্ষা করিয়া স্ফীত স্থান বিদীর্ণ করিয়া দিবে। উক্ত বিদারণ যেন অতি গাঢ় অতি লঘু অতি ঘন কিংবা অতি বিরল না হয়। অনন্তর- ১। জাম গাছের ছাল ৪। পদ্ম মূলের কাদা '। গব্য ঘৃত ৩। পলাশ বৃক্ষের ছাল প্রথমোক্ত ত্রিবিধ দ্রব্য শীতল জলে বাটিয়া তাহার সহিত ৪র্থ ও ৫ম ঔষধ মিশ্রিত করিতে এবং তারা স্ফীত স্থানে প্রলেপ দিলে মাতঙ্গ সুখী হইয়া থাকে। ২। উণীর ৩৯ শামুকেশংহিতা। ঈষৎ কষায় মধুর রসযুক্ত দ্রব্য, কেবল কষায় রসযুক্ত দ্রব্য এবং তিল এই সকল দ্রব্যের কল্ক রক্ত, পিত্ত ও বাত নাশ করিতে প্রশস্ত ; কারণ এতদৃিশ কল্ক, কষায় রস নিবন্ধন শ্লেষ্ম নাশক মধুর রসযুক্ত বলিয়া পিত্ত নাশক এবং স্নেহ পদার্থযুক্ত বলিয়া বাত নাশ করিয়া থাকে। মাতঙ্গ দেহে ঘর্ষণ জনিত দংশনজনিত কিংবা দাহ জনিত সদ্যঃক্ষত, ক্ষীরবৃক্ষ প্রযুক্ত প্রলেপ দ্বারা অচিরে প্রশমিত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, যদি মাতঙ্গগণের যে কোনও প্রকার ব্রণ মৰ্মাশিত হয়, তাহা হইলে তাহা সুপৰু জানিয়াই বিদারণ করিবে নচেৎ করিবে না; কিন্তু সর্বদাই মৰ্ম্ম রক্ষায় ঔদাসীন্য একান্ত পরিহার্য যতদূর পর্যন্ত বিদারণ করিলে ব্রণ নির্দোষ হইতে পারে ততটুকুমাত্র বিদারণ করা কর্তব্য ; কারণ মৰ্ম্মস্থান আহত হইলে রােগীর মৃত্যু অনিবার্য। আহত হইলে মরণ ঘটায় বলিয়া মৰ্ম্ম আখ্যা প্রদান করা হইয়াছে এবং যেহেতু বিবিধ নিমিত্ত দ্বারা মাতঙ্গ দেহ বিবৃত করে সেই নিমিত্ত উহাকে ‘ব্রণ’ নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে। ব্রণ উদ্গত হইলে ও যেহেতু ব্রণের উপাদান বা নিদান তিরােভূত হয় না এই নিমিত্ত দেহ বদ্ধ হইবার পূর্বেও তাহাকে ( ব্রণের উপাদান কারণকে। ব্রণ’ নামেই উল্লেখ করা হইয়া থাকে। অৰ্বদ দ গলগণ্ড প্রভৃতি বারণগণের যে সকল ব্ৰণ অঙ্গ সন্ধিতে জন্মে, ক্ষার প্রয়ােগ দ্বারা তাহার প্রতীকার করিবে, কদাপি তাহাতে শস্ত্রপাত করিবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী মাতঙ্গের ভীষণ দস্তাঘাতে কিংবা অসি, শক্তি, রিষ্টি, তােমর, ভিন্দিপাল প্রভৃতি অস্ত্র শন্ত্রের আঘাতে যদি মাতঙ্গগণের মর্মস্থান কিংবা শিনাছিল ইমা সমধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হইতে থাকে তাহা হইলে বারণগণের মূচ্ছ, ক্ষয় এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত ও ঘটিতে পারে ; তাদৃশ অবস্থায় অধােলিখিত বিধানে শােণিতপাত নিবৃত্তি করা একান্ত কর্তব্য। কষায় বৃক্ষ চূর্ণ, গােময় ভস্ম কিংবা তন্তুনির্মিত কম্বল বস্ত্রাদির ভস্ম ক্ষত মধ্যে প্রদান করিলে রক্ত নিবৃত্তি হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন শীতল পানীয় পানে কিংবা শীতল জল সেকে ও তাদৃশ বক্ত পাত নিবৃত্তি হইয়া থাকে। যদি উল্লিখিত উপায়ে রক্তপাত নিবৃত্তি না হয় তাহা হইলে অগ্নিকর্ম কিংবা ক্ষার প্রদান করা কর্তব্য। যেমন বিশ্ব নিয়ন্তার নিয়মাধীন সাগর স্বীয় তীরভূমি অতিক্রম করিতে অসমর্থ, তেমনি মাতঙ্গদেহস্থ শশাণিত প্রবাহ অগ্নিকৰ্ম্মের ও ক্ষারদাহের প্রভাব লঙ্ঘন করিতে অসমর্থ । অত্যধিক পরিমাণে অল্প কিংবা লবন ভােজন, উষ্ণদ্ৰব্য আহার সক্ষত চিকিৎসা। এবং প্রভূত জলপান প্রভৃতি কারণে বারণগণের দীর্ঘকাল যাবৎ রুদ্ধ শশাণিত প্রবাহ ও পুনঃ প্রবৃত্ত হইয়া থাকে ; এই নিমিত্ত তাদৃশ অবস্থায় বারণগণকে ঐ সকল দ্রব্য ভােজন ও পান করিতে দিবে না। অভিঘাতের ফলে মাতগগণের দেহস্থ বায়ু ও পিত্ত কুপিত হইয়া থাকে, এ8 নিমিত্ত বারণগণের সদ্যঃক্ষতে গব্যঘৃত হিতকর ঔষধ স্বরূপ হইয়া থাকে। পঞ্চাহ কিংবা সপ্তরাত্ৰ পৰ্য্যন্ত বাণগণের সংক্ষতে গব্যঘৃত প্রদান করিবে অনন্তর ক্ষত দোষমুক্ত জানিয়া রুগ্ন মাতঙ্গের প্রকৃতি ও অভ্যাস অনুরূপ ঔষধ প্রয়ােগ ও পানাৰ্থ দুন্ধপ্রদান করা কর্তব্য। অনন্তর মহানুভব জিজ্ঞাসু অঙ্গপতি পুনরায় গাত্রোখান পূর্বক মহর্ষি পাল- কাপাকে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, কি নিমিত্ত সদ্যোব্রণ যুক্ত মাতঙ্গ- গণকে দুগ্ধ পান করিতে দেওয়া কর্তব্য। অঙ্গেশ্বরের ঈদৃশ অঙ্গেশ্বরের ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন হে মহারাজ, আপনি এবং ঋষিগণ সকলেই শ্রবণ করুণ সংক্ষতযুক্ত মাতঙ্গগণকে দুগ্ধ পান করিতে দিবার কারণ বর্ণনা করিতেছি। হে নরনাথ, যে মাতঙ্গের সদ্যংক্ষত হইতে সমধিক পরিমাণে শশাণিত স্রাব হয় তাহাকে গব্যঘৃত মিশ্রিত গােদুগ্ধ পান করিতে দিবে। আজন্ম সিদ্ধ অভ্যাস বশতঃ মাতঙ্গগণের জাঠরনল বর্ধিত করা একান্ত প্রয়ােজন, দুগ্ধ ও মধুর রসযুক্ত দ্রব্য সকল অবস্থাতেই বলকর শােণিত প্ৰসাদজনক, রসায়ন, সুপেয়, শুক্ৰবৰ্ধক, বাতরােগ নাশক জীবনী শক্তি বর্ধক এবং পরম হিতকর। অত্যন্ত রক্তস্রাব নিবন্ধন মাতঙ্গগণের দেহস্থ সপ্তধাতুবই ক্ষয় হইয়া থাকে। কারণ রক্তই দেহস্থ সপ্তধাতুর মূল সুতরাং শােণিত ক্ষয়ে মৃত্যু পর্যন্তও দুর্ঘট নহে; নিমিত্ত সকল মধূর গণোক্ত দ্রব্যের সহিত দুগ্ধ পাক করিয়া সদ্যঃক্ষতযুক্ত মাতঙ্গকে পান করিতে দেওয়া একান্ত কর্তব্য। হে মহারাজ, ইহাই সদ্যঃক্ষতযুক্ত মাতঙ্গকে দুগ্ধ পান করিতে দিবার কারণ। অতঃপর ব্রণোপক্ৰম হেতু বলিতেছি শ্রবণ করুণ বখন মাতগণের দেহস্থ রক, প্রহার দ্বারা তাপ বিহীন হইয়া একস্থানে অবস্থান করে, তখন ‘ দ্বিনীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত বিধান ক্রমে শােধনাদি করিবে। উত্তম ঘাস, মদ্যাদি পান স্নেহ (তৈল গৃহাদি ) যুক্তদ্রব্য ভােজন প্রভৃতি দ্বারা যখন মাতঙ্গগণের জীবনীশক্তি বৰ্দ্ধিত এবং সপ্তধাতু পরিপুষ্ট হয়, তখন স্নেহ পান বিধান অনুসারে মিৰ্ম্মল স্নেহ পান করিতে দিবে। এরশুদিতৈল পানদ্বারা পাশয় সুপরিষ্কৃত না হইলে বস্তিকৰ্ম্ম করা ( পিচকারী প্রদান) ই প্রশস্ত : স্নেহপানরা পাশয় বিশােধিত হইয়াছে গজায়ুর্বেদ সংহিতা। বুঝিতে পারিলে তাহা নিবৃত্তি করিবে। হে নরেশ্বর, এর তৈলাদি পানদ্বাৰা পাশয় শশাধিত না হইলে যে সকল দোষ ঘটে তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ। তাদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গগণের আক্ষেপ, অতীসার, অরুচি ভীষণ জব এমন কি মৃত্যু পর্যন্তও ঘটা বিচিত্র নহে। পাশয় সুপরিষ্কত না হইয়া দূষিত থাকিলে এই সকল দোষ এবং এইরূপ অন্যান্য দোষ ৪ ঘটিয়া থাকে। পক্ষান্তরে পাশয় সুপরিস্কৃত হইলে বাশগণের বল ও তে বৰ্ধিত হয় । মেহদান বিধিও বস্তিদান প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে তৎপ্রকরণে কীৰ্ত্তন করিব। হে নিষ্পাপ নরেশ্বর, আপনি আমাকে যাহা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, আমি তাহার যথাযথ উত্তর প্রদান করিলাম, আপনার আরও কিছু জিজ্ঞাস্য থাকিলে জিজ্ঞাসা করুণ, আমি সর্বদাই আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত আছি। অনন্তর মহামনা অঙ্গেশ্বর পুনরায় গাত্রোত্থান পূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন হে তপােধন, আমি, ‘কল্প এবং অকল্প’ এই দ্বিবিধ মাতঙ্গেরই অরিষ্ট লক্ষণ ও দূত লক্ষণ + জানিতে ইচ্ছা করি। অপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি বলিতে লাগিলেন হে নরেশ্বর, আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদান করিতেছি অবহিত চিত্তে শ্রবণ করুণ। হে নৃপশ্রেষ্ঠ, বে মাতঙ্গের অন্তঃকরণ দুঃখভারাক্রান্ত সৰ্বাঙ্গ অসংখ্য মক্ষিকাদ্বারা আবৃত এবং যে প্রেতের ন্যায় সংজ্ঞান তাদৃশ অরিষ্ট লক্ষণযুক্ত মাতঙ্গের আসন্ন মৃত্যু বলিয়া বুঝিতে হইবে। ছায়াতে গমনকালে যে মাতঙ্গের শিবরাদেশ দৃষ্ট হয় না তাদৃশ মাতঙ্গের মৃত্যু অচিরভাৰী জানিতে হইবে। যে রুগ্ন মাতঙ্গের প্রতীকারযােগ্য রােগের প্রতীকারাগ চিকিৎসাক্রিয়া সম্যক পমুক্ত হইয়াও নিশ্বব হয়, তাদৃশ বারণণণকে অরিষ্ট লক্ষণ যুক্ত সুতরাং অল্পায়ু বলিয়া মনে করা কর্তব্য। হে অনাথ, চিকিৎসক আহ্বান কারী দূতের লক্ষণ দ্বারা শুভাশুভ ফল জ্ঞান সম্বন্ধে বক্তব্য এই যে, যে মুক্তকেশ একবস্ত্র দূত, বিচিত্র পুষ্পমানা ধারণ রলিন বস্ত্র পরিধান এবং স্বীয় নখ স্পর্ণপূর্বক কাতর বচনে চিকিৎসককে আহ্বান করে, নিমিত্তজ্ঞ চিকিৎসক তাশ দূতের আহ্বানে কদাপি গমন করিবে না; অন্যথা তাহার চেষ্টা ফলবতী হইবে না। পক্ষান্তরে আম মাংস, সবৎসা ধেনু শুক্লবস্ত্র পরিহিত ব্রাহ্মণ, উদ্ধত মৃত্তিকা, উখিত বরাহচক্র, শ্বেতচ্ছত্র শ্বেতপতাকা শ্বেতবৃষ দণ্ডায়মান মাতঙ্গ, পূর্ণকুম্ভ এবং ভগ্নদধি যাত্রাকালে এই সকল শুভ নিমিত্ত যদৃচ্ছাক্রমে দৃষ্টিপথে পতিত হইলে চিকিৎসক আহ্বানকারী ভৃত্যের লক্ষণ। • সপ্তঃক্ষত চিকিৎসা। কেবল চিকিৎসক কেন যে কোনও ব্যক্তিরই সফলতা অচিরে অবশ্যম্ভাবিনা। শুভশব্দ অনুকুল রায়ু গমননান্মুখ যে কোনও ব্যক্তির সুনিশ্চিত সন্তঃসিদ্ধিপ্রদ। অতঃপর অঙ্গপতি পুনরায় সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভবন, সুবি চিকিৎসক কর্তৃক যথাসময়ে সঞ্চিত ঔষধাদি যথাযথভাবে প্রযুক্ত হইয়াও রুগ্ন মাতঙ্গগণের চিকিৎসা ক্রিয়া কি নিমিত্ত ফলপ্রসূ হয় না ? তাহা বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুণ। অঙ্গপতির ঈদৃশ্য প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পুনরায় বলিতে লাগিলেন হে নরনাথ, অপ্রশস্ত তিথিতে পক্ষচ্ছিদ্রে অর্ধা পূৰ্ব্বফণী পূৰ্বভাদ্রপদ পূৰ্বাষাঢ়া ভরণী এবং মঘা নক্ষত্রে মাতঙ্গগণের প্রথম রােগাভির্ভাবে সেই রােগের প্রতীকারার্থ প্রযুক্ত কোন ক্রিয়াই ফলবতী হয় না। তদ্ভিন্ন কৃত্তিকা অশ্লেষা ও মূলা নক্ষত্রে বারণগণের প্রথম রােগাক্রমণ: প্রায়শঃ উহারা রক্ষোগণ কর্তৃক অভিভূত হইয়া থাকে এই নিমিত্ত শাস্ত্রজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক যথা সময়ে চিকিৎসা ক্রিয়া সম্যক্ প্রযুক্ত হইলেও তাহা তাদৃশ ফলপ্রসূ হয় না, এই নিমিত্ত তাদৃশ মাতঙ্গদিগকে বর্জন করিবে। হে পৃথিবীশ্বর, মাতঙ্গগণের ক্ষত অপক্ক অবস্থায় ব্যবচ্ছেদ করিলে যে সকল , কারণে যে সকল দোষ ঘটে তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ-তাদশ ব্যবচ্ছেদের ফলে বারণগণের দেহ-শােণিত দাবানলের ন্যায় কুপিত হইয়া পিত্ত দূষিত কৰে এবং দূষিত পিত্তের সংস্রবে আসিয়া উহাদিগের ত্ব ও মাংস দূষিত হয়। অনন্তর উহা বায়ু সংসৃষ্ট হইয়া শয়থু ফোড়া বা শােথ দাহও ভীষণ বেদনা সৃষ্টি করে এবং অতিশয় দাহের প্রভাবে ‘বিসর্প রােগের আবির্ভাব হয়। তখন নীল পীত অরুণ বর্ণ ঘোটক সমুদয় প্রাদুর্ভূত হইতে থাকে। স্নায়ুচ্ছেদ ঘটিলে অত্যন্ত পরিমাণে শােণিতক্ষয় হয় স্থান বিশেষে স্নায়ুচ্ছেদ ঘটিলে মাতঙ্গ স্কন রােগাক্রান্ত এমন কি খঞ্জ পৰ্য্যন্তও হইতে পারে। এই নিমিত্ত অপক্ক অবস্থায় বারণগণের ব্রণ ব্যবচ্ছেদ করা কখন ও কর্তব্য নহে। যেমন চতুর্দন্ত ভুজঙ্গ দংশনের চিকিৎসা নাই তেমনই মাতঙ্গগণের তাদৃশ রক্ত প্রকোপের কোন ঔষধ নাই। অতঃপর মাতঙ্গগণের জারানলের স্থান ও ক্রিয়াদি বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ -হে নরেশ্বর, মাতঙ্গগণের জাঠরানল নাভি দেশে অবস্থিত থাকিয়া চ্য চোষ্য লেহ পেয় এই চতুৰ্বিধ অন্ন পাক করিয়া থাকে। যেমন বহিঃ প্রদীপ্ত অনল স্থালী দগ্ধ না করিয়া তত্রস্থ জল ও তণ্ডুল পাক করে তেমনি মাতঙ্গগণের নাভিদেশে প্রতিষ্ঠিত জাঠরানল দেহস্থ বায়ুপ্রণােদিত হইয়া সকল প্রকার ভুক্ত দ্রব্য পাক করিয়া থাকে। বাবণগণের পূর্ণ আহার সম্যক্ পরিপক্ক হইয়া কোষ্ঠ- গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। শুদ্ধি হইলে উহাদিগের বল ও বর্ণ বর্ধিত এবং বাতপিত্ত রক্তমাংস প্রভৃতি দৈহিক উপাদানের সাম্য রক্ষিত হয়। পক্ষান্তরে ভুক্ত দ্রব্যের অসম্পূর্ণ পরিপাক কিংবা বিকার নিঃসংসয়ে উহার বিপরীত দোষ আনয়ন করে। হে নরনাথ, মাতজগণকে উদর পূর্ণ করিয়া আহার এবং আহারান্তে পৰ্যাপ্ত স্বচ্ছ সলিল পান নিয়মিতরূপে করিতে দিলেই আহার প্রদানের উদ্দেশ্য যথার্থ সফল হয় ; নিমিত্ত উহাদিগকে উহাদিগকে বিচিত্র ঘাস তরুপল্লব প্রভৃতি প্রদান করা কর্তব্য এবং উহাদিগকে কঠোর নিগ্রহ করা কর্তব্য নহে। প্রাণিগণের শুক্ৰ সৰ্ব্বদেহ ব্যাপ্ত হইয়া অবস্থান করে এই নিমিত্ত ও উল্লিখিত তরল ধাতু বা দৈহিক উপাদান রক্তের সারাংশদ্বারা বর্ধিত এবং দ্রব হইয়া থাকে। ঈষৎ ক্ষারগুণ সম্পন্ন যে ক্ষার তাহাই বস্তুতঃ উত্তম ক্ষার। তাদৃশ ক্ষারই স্থাবর ও জঙ্গমের দাহ ক্রিয়া সম্পূর্ণ উপযুক্ত ; পক্ষান্তরে শীতল ও তীক্ষ বীৰ্য্য ক্ষার মাতঙ্গগণের দহন ক্রিয়ায় প্রযুক্ত হইলে তাহা অহিতকর হয়। মাতঙ্গগণের যে ব্ৰণ অঙ্গসন্ধি সমূহে উৎপন্ন, যাহাতে রক্ত নাই, যাহাতে তাপ সহ করিতে পারে না, যাহা সর্বদা দূষিত এবং রক্তহীন, তাদৃশ ব্ৰণে সতর্কতার সহিত ক্ষার প্রয়ােগ করা একান্ত কর্তব্য। ইহা দেবগণের সহিত সম্মিলিত ঋষিগণের অভ্রান্ত সিদ্ধান্ত। স্বয়ং স্রষ্টা মাতঙ্গদেহের তাদৃশ ক্ষত প্রতিকারার্থ তুষাররূপ ক্ষারের সৃষ্টি করিয়াছেন। ফারদ্বারা অগ্নিকার্য সম্পন্ন হয় অথচ রুগ্ন মাতঙ্গের অগ্নিকর্মজনিত ভয়েরও কোন কারণ থাকে না। মাতঙ্গগণ অরণ্য পশু এই কারণে লােকালয়ে স্বভাবতঃই শঙ্কিত চিত্তে অবস্থান করে ; এই নিমিত্ত উহাদিগের ভীতিপ্রদ অগ্নিকৰ্ম্মের পরিবর্তে ক্ষার প্রয়ােগ কল্পিত হইল। বিশ্বস্রষ্টা জগতের মঙ্গলের জন্য ক্ষাররূপ শীতল অগ্নির সৃষ্টি করিয়াছেন। ষড়বিধ রস ভস্মীভূত হইয়া ক্ষরিত হয় বলিয়াই উহাকে “ক্ষার” আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। সদ্যঃক্ষতযুক্ত মাতঙ্গের অবগাহন স্নান কিংবা সুশীতল জলসেক বৰ্জনীয়, নিৰ্বাত ওদেশে পর্ণশয্যা হিতকরী। হে শক্রতাপন অঙ্গেশ্বর, আপনি আমাকে মাতঙ্গগণের যে সদ্যঃক্ষত চিকিৎসার বিষয় জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, আমি তাহা আপনার নিকটে আদ্যোপান্ত বর্ণনা করলাম। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে তৃতীয় অধ্যায়। • চতুর্থ অধ্যায়। ষড়ভ্যপোৱ বিধি। একদা তীক্ষ্ণধী সম্পন্ন অঙ্গরাজ, ঋষিশ্রেষ্ঠ পালকাপ্যকে যথাবিধি অভিবাদন পূৰ্ব্বক জিজ্ঞাসা করিলেন-ভগবন, মাতঙ্গগণের শিরচ্ছেদ, স্নায়ুচ্ছেদ, অস্থিচ্ছেদ, সন্ধিচ্ছেদ, বক্রভাবেচ্ছেণ কিংবা পৰু ব্ৰণের ছেদাভাবে কি কি দোষ ঘটিতে পারে, তাহা সবিশেষ বর্ণনা করিয়া আমার সন্দেহ দূরীভূত করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন—হে অঙ্গেশ্বর, চিকিৎ- সকের অজ্ঞতা প্রযুক্ত হীন কিংবা অতিরিক্ত এই দ্বিবিধ শস্ত্রোপচারই শাস্ত্রানুসারে বিশেষরূপে গর্হিত। যে চিকিৎসক স্বয়ং কখনও শস্ত্র প্রয়োগ প্রত্যক্ষ করেন নাই কেবল অধ্যয়ন লব্ধ জ্ঞান মাত্র লইয়া শস্ত্র প্রয়োগ করেন, তিনি কখন অনভিজ্ঞতা বশতঃ ব্রণের গভীরতা অপেক্ষা অধিক গভীর ভাবে, কখনও বা অল্প পরিমাণে ব্রণ ছেদ করিয়া অবসাদ প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। পূয় জনিত পীড়া যেমন দাহ যুক্ত হয়, শস্ত্র প্রয়ােগের আধিক্য বা গভীরতা নিবন্ধন আম মাংস ছেদেও তেমনি মাতঙ্গ গণের দাহ ময় ক্লেশ হইয়া থাকে। অনভিজ্ঞ চিকিৎসক বিচার করিয়া যখন অল্পমাত্র গভীর ক্ষত বিরণে বল পূৰ্ব্বক অতি গভীর ভাবে শস্ত্র প্রয়ােগ করেন, তখন তিনি রুগ্ন মাতঙ্গের জীবন দান না করিয়া তাহাকে হত্যাই করিয়া থাকেন। তাদৃশ শস্ত্র প্রয়োগের ফলে রুগ্ন মাতঙ্গের ক্ষত স্থান সহসা স্ফীত হয়; তখন উহাদিগের সর্বাঙ্গে কম্প শেষ হৃদরােগ প্রভৃতি রােগের যে কোনও একটি প্রায়শঃ অবিলম্বে প্রকাশিত হইতে দেখা যায় ; স্নায়ু ছেলে উহারা খঞ্জ কিংবা মন্দগতি হইয়া থাকে ; কখনও বা মৃণাল-মুখাকৃতি ব্রণের আবির্ভাব হইতে দেখাযায় এবং সেই ক্ষত দীর্ঘকাল পূয় স্রাবের পরেও শুষ্ক হয় না। হে নরনাথ, মাতঙ্গদেহে বক্রভাবে শস্ত্র প্রয়োগ করিলে যে দোষ ঘটে অতঃপর তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ-তাদৃশ শস্ত্র প্রয়োগের ফলে মাতঙ্গগণের ব্রণে তীব্র দাহ অবশভাব রক্তিমা এবং পূয়ানিস্রাব বিদ্যমান থাকে এবং বিবিধ প্রকার ঔষধ প্রয়োগ সত্ত্বেও শুষ্ক হয় না ; পক্ষান্তরে অপৰু ব্ৰণ চ্ছেদের ফলে মাতঙ্গ দেহস্থ রক্ত দাবানলের ন্যায় কুপিত হইয়া দেহের অন্যতম উপাদান স্বরূপ পিত্তকে কুপিত ও রক্তমাংস দূষিত করে এবং বায়ুর সহযোগে ব্রণযুক্ত স্থান অত্যন্ত স্ফীত করিয়া তাহাতে তীব্র দাহ জন্মায় ; সমধিক দাহের প্রভাবে ক্ষত অবিলম্বে ৰিসৰ্পে পরিণত হইয়া এবং তাহার চতুর্দিকে নীল অরুণ ও পীত বর্ণ পীড়ক। ;

গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। (স্ফোট) সকল আবির্ভূত হইয়া থাকে। স্নায়ুচ্ছেদে অত্যধিক রক্তপাত হয়। হে অঙ্গনাথ, মাতঙ্গগণের সন্ধিচ্ছেদে অসংখ্য দোষ ঘটে ; তাদৃশ অবস্থায় জলৌকা (জোক) দ্বারা সন্ধিস্থল হইতে পােণিত মােক্ষণ করা একান্ত কর্তব্য ; কারণ দূষিত রক্তমুক্ত না হইয়া বরং বায়ুদ্বারা ঘণীভূত হইয়া থাকে এবং বলপূর্বক বাত পিত্তকে বিকৃত করিয়া পাকিয়া উঠে। হে মহারাজ, দূষিত ক্ষতের শােণিত- স্রাবের অভাবে এই সকল দোষ ঘটে পক্ষান্তরে নির্দোষ ক্ষত হইতে শােণিতশ্রাব ঘটিলে যে সকল দোষ ঘটে তাহা অতঃপর বর্ণনা করিব শ্রবণ করুন । গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে একান্ত অনভিজ্ঞ কেবল দৃষ্টকৰ্ম্মা, মাতঙ্গগণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গস্থ শিরাসন্ধি প্রভৃতির সংস্থানজ্ঞান বিহীন চিকিৎসকগণ অনেক সময়ে শস্ত্র প্রয়ােগ করিতে গিয়া মাতঙ্গগণের শিরাচ্ছেদন করিয়া বসেন। তখন ক্ষত হইতে জল্যন্ত্রের ন্যায় শশাণিতস্রাব হইতে থাকে এবং তাদৃশ রক্তক্ষয়ের ফলে মাতঙ্গগণের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া উহাদিগের মর্ম সকল চ্ছেদন করে। অনন্তর নীরক্ত শিরা সমূহ বাতাভিভূত হইয়া স্বয়ং বিদীর্ণ হয় এবং হৃৎপিণ্ডকে ও অকান্ত পীড়ন করে। তাদৃশ পীড়নের ফলে মাতঙ্গ তৃষ্ণার্ত শােণিতক্ষয় নিবন্ধন পাণ্ডুবর্ণ বিমর্ষ হইয়া প্রাণ ত্যাগ করিতে বাধ্য হয়। এই নিমিত্ত মাতঙ্গগণের শিরচ্ছেদ সৰ্ব্বদা গর্হিত । হে অঙ্গেশ্বর, মাতঙ্গগণের পণ যথাসময়েবিদারণ না করিলে যে দোষ ঘটে তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন -তাদৃশ ব্রণ বিদীর্ণ করিয়া না দিলে ব্রণ মধ্যে সঞ্চিত দূষিত বাত পিত্তাদি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া জলদপ্তির ন্যায় মাতঙ্গকে দগ্ধ করিতে থাকে এবং দীর্ঘকাল উপেক্ষার ফলে অতিমাত্রায় বর্ধিত হইয়া উহাদিগের মাংস মেদ শিরা স্নায়ু প্রভৃতি আক্রমণ পূর্বক বিনষ্ট করে। হে নরনাথ, ইহাই যথা সময়ে মাতঙ্গ দেহস্থ ব্রণের অৰিদারণের দুঃখময় পরিণাম। * * * মহর্ষিপালকাপ্য এইরূপে বড়ত্যয়ােপচার যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন হে পৃথিবীশ্বর, মাতঙ্গ দেহে কখনও তির্যগভাবে শস্ত্র প্রয়োগ করিবে না কিংবা শিরা অস্থি মৰ্ম্ম ও সন্ধির অবকাশে শস্ত্র প্রয়ােগ করাও একান্ত নিষিদ্ধ ; কারণ শিরা কিংবা দেহ যন্ত্র সমুদয় আহত হইলে বারণগণের প্রাণপৰ্য্যন্ত হরণ করিতে পারে। প্রথমতঃ এষণী অন্ত্রের সাহায্যে বিশেষরূপে অন্বেষণ করিয়া পরে অনুকূল ভাবে শস্ত্র প্রয়ােগ করিবে। আসন ভাগে কলাভাগে ক্ষয়ে বশে কিংবা কটে বৃত্তাকার শস্ত্র প্রয়োগ করা কর্তব্য এবং অবশিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গে কখনও বৃত্তাকারে শস্ত্র প্রয়োগ করিবে না। যখন প্রয়ােজন বশতঃ বহু শাখাযুক্ত শস্ত্র প্রয়ােগ আৰখক' হয় তখন কাকপদ চিঃ সদৃশ কিংবা বহু পদযুক্ত শস্ত্রপ্রয়ােগ করা কর্তব্য নহে। তাদৃশ ক্ষেত্রে দুই সনত চিকিৎসা। ৪১ তিন চারি পাঁচ কিংবা নয় অঙ্গুলি অন্তর শস্ত্র প্রয়ােগ করা কর্তব্য। অজ্ঞতা পূর্বক স্ত্র প্রয়ােগে সফলতা লাভ অপেক্ষা বিজ্ঞান সম্মত শস্ত্র প্রয়ােগ দ্বারা বিপত্তিও বাঞ্ছিততর। নাতি শীতল নাতিউষ্ণ শীর্ণলােম পিণ্ডিত পৰু যজ্ঞডুমুর সদৃশ বর্ণাবশিষ্ট স্ফীত স্থান পৰু বলিয়া বুঝিতে হইবে। শস্ত্র প্রয়ােগে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, শাণিত ‘বৃদ্ধিপত্র শস্ত্ৰদ্বারা পক্ক ব্রণ ছেদন করিবেন। তাদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গকে প্রতিদিন সেই পান, স্নেহ সেক গাব্য ঘৃত যুক্ত আহার প্রদান উহাদিগের একান্ত হিতকর। এতাদৃশ চিকিৎসা ও শুবার ফলে ব্রণযুক্ত মাতল পুনরায় স্বাস্থ্য সুখের অধিকারী হইয়া থাকে। ইতি ক্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্য স্থানে চতুর্থ পঞ্চম স্থাধ্যায়। শাশুক্রমণােপত্রম বিধি। একদা মহানুভব বােমপান নরপতি প্রণিপাত পূর্বক মহর্ষি পালকাপ্যকে "সানয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন -ভগ, আপনি মাতগণের আগন্তুক ব্ৰণ সমু, দয়ের লক্ষণাদি বর্ণনা করিয়াছেন এইক্ষণে মাতঙ্গগণের শারীর ব্রণ উৎপত্তির পূর্বে যে সকল লক্ষণাদি প্রকাশ পায় তাহা বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য সংস্কার যুক্ত বিচিত্র ভাষায় হেতু নির্দেশ পূৰ্ব্বক মাতঙ্গগণের শরীর ব্রেণের তথ্য সমুদয় বর্ণনা করিতে লাগিলেন; হে নরনাথ, আমি মাতঙ্গগণের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যলে ব্রণ উৎপত্তির পূর্বে যে সকল লক্ষণাদি প্রকাশ পায় তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ। তখন উহাৱা ৰাত ব্ৰণােৎপত্তির নিদান- যে সকল অল্প বয়স্ক মাতঙ্গ, নিরন্তর কুবলয় পবাদি শীতল ও কোমল দ্রব্য ভক্ষণ করিয়া পরিবর্ধিত হইয় থাকে, তাহারা উত্তাপ মধ্যে সুদূর পথ গমন করিলে তাহাদিগের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া থাকে। শীতার্ত হইয়া শুষ্ক ওষ্ঠে-ভূতলে নিপতিত হয় এবং ধূলি কর্দম পঙ্কিল জল প্রভৃতি যাহা প্রাপ্ত হয় তদ্বারা স্বীয় শরীর সিক্ত করিতে থাকে। তাদৃশ ব্যবহারের ফলে উহাদিগের কুপিত বায়ু কুপিততর হইয়া পিত্ত রক্তাদিকেও কুপিত করে এবং প্রায়শঃ উহাদিগের চর্ম, চরণ, শুও ও কর্ণ প্রভৃতি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে বিবিধ প্রকার ব্রণ উৎপদান করে। ঐ সকল ব্রণ কর্কশ, সেফেণ- পিচ্ছিল-অবযুক্ত সময়ে সময়ে এমন গভীর হয় যে তাহা অক্ মাংসাদি ভেদ করিয়া অস্থি পৰ্যন্ত স্পর্শ করিয়া থাকে। মাতগণের তাদৃশ ব্রণকে ‘বাত ব্রণ বা বায়ু বিকার জনিত ব্ৰণ বলে। পিত্তজ ৰণােৎপত্তির নিদান ;-হে অলেশ্বর, বর্ষা ঋতুতে স্বভাবতঃই তরু লতা তৃণ প্রভৃতি উদভিজ্জের গুণ উহাদিগের আশ্রয় করিয়া অবস্থান অম্নরস-বহুল তরু-লতাদি ভােজন নিবন্ধন মাতঙ্গগণের অন্যতম দৈহিক উপাদান পিত্ত বর্ষিত হইয়া থাকে। অনন্তর শরদ ঋতুতে প্রখর করে।

৪৩ } ব্রণে ব্ৰণোপক্ৰম ক্ষণে ক্রম নিধি। সূৰ্য্যকরে ক্লান্তদেহ তাদৃশ মাতঙ্গগণ, সুজাত ঘাস কিংবা কুবলয়াদি শীতবীৰ্য্য আহার গ্রহণ, প্রচুর সলিলপান প্রভৃতি পিত্ত রদ্ধক পানি ভােজন করিতে থাকিলে উহাদিগের দেহস্থ পিত্ত কুপিত হইয়া দেহে নানাবিধ ব্রণউৎপাদন করে। তাদৃশ ব্রণ অল্পকাল মধ্যেই পাকিয়া তাহা হইতে গলিত শব- গন্ধযুক্ত প্রভূত স্রাব নির্গত হইতে থাকে। হরিদ্রাভ কিংবা কপোতাভ শ্রাব দ্বারা মাতগগণের স্বক্ মাস শিরা স্নায়ু প্রভৃতি আক্রান্ত হয় এবং এ অত্যন্ত দাহ বিদ্যমান থাকে ; ইহাই পিত্ত বিকারজ ব্রণের নিদান ও লক্ষণ। গ্রীষ্মকালে অনভ্যস্ত রসযুক্ত দ্রব্য সেবন, প্রচুর পান ভােজন অল্প,পরি- ভ্রমণ কিংবা অতি মাত্রায় ভােজন বিশেষতঃ দিবা নিদ্রা প্রভৃতি কারণে মাতুল দেহে শ্লেষ্ম সঞ্চিত হয় এবং বসন্তকালে প্রতিদিন এক প্রকার রস সেবন কিংবা শীতবীৰ্য্য পিচ্ছিল মধুর রস বৃহুল পান ভােজনের ফলে মাতৃঙ্গগণের হস্ত পাদ গুলফ অঙ্গসন্ধি এবং পৰ্ব্বদেশে শ্লেষ্মা অতি মাত্র কুপিত হয়। তাদৃশ শ্লেষ্ম প্রকোপের ফলে মাতঙ্গগণের সূৰ্ব্বাসে বিশেতঃ দেহের অগ্রভাগে ব্রণের উৎপত্তি হইয়া থাকে এবং উক্ত ব্ৰণে অত্যন্ত কণ্ড (চুলকানি) বিদ্যমান থাকে। কস্তু, বিদ্যমান থাকায় মাতঙ্কগণ বুক্ষ প্রস্তর মৃত্তিকা প্রভৃতি যাহা কিছু সম্মুখে দর্শন করে, তাহাতেই ক্ষত স্থান এত অধিক পরিমাণে ঘর্ষণ করে যে, উহা হইতে ক্ত পাত হইতে থাকে এবং সেই রক্ত পাতের ফলে পুনরায় কর আবির্ভাব হয় ; ইহাকেই বারণগণের শ্লেষ্ম ‘বিকারজ ব্রণ’ বলে। উল্লিখিত বিভিন্ন প্রকার ত্রিদোষ জনিত ব্রণের লক্ষণ বিদ্যমান থাকিলে তাহাকে সান্নিপাত্ত্ৰিণ বলে। অনন্তর দোষজ ব্রণ, সমুদয়ের বিভিন্ন আকৃতির বিষয় লিখিত হইতেছে বারণগণের উল্লিখিত বাতপিত্ত কফ ও সুন্নিপাত কফ ও সুন্নিপাত ব্ৰণসমূহ ব্রণসমুদয়ের, আকৃতি বিভিন্ন প্রকার হইয়া থাকে। তন্মধ্যে কোনটি সরল উন্নত, কোনটি নিম ত্রিপুট, কোনটি চতুষ্কোণ, কোনটি কুটিল কোনটি মৃগুলাকৃতি কোনটি দীর্ঘ কোনটি অর্ধচন্দ্রাকৃতি কোনটি ত্রিকোণ কোনটি বক্ররেখাগত নিটি বাণাকৃতি কোনটি বল্মীকাকৃতি কোনটি শরাব্যকৃতি কোনটি নিম্নমণ্ডল বিশিষ্ট কোনটি উন্নত মণ্ডল বিশিষ্ট কোনুষ্ট, পিপীলিকা গৃহ সদৃশ কোনটি ঢাকার মধ্য ভাগের তুল্য কোনটি যােনি মণ্ডল সদৃশ এবং কোনওটি বা বৃহৎ মুখ বিশিষ্ট এই উনবিংশতি প্রকার আকৃতি প্রায়শঃ দৃষ্টি গােচর হয়। মাতঙ্গগণের উল্লিখিত উনবিংশতি প্রকার ব্রণেরই কু মাংস ও মৰ্ম্ম আশ্রয় } --- ও ৪৪ গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহিতা। ; স্বরূপ হইয়া থাকে। তন্মধ্যে বক্ আশ্রিত ব্রণ সূক্ষ্ম ওস্থূল এই দ্বিবিধ, মৰ্ম্ম- ভাগাশ্রিত ব্রণ মৰ্ম্মজ মৰ্ম্মসজি এবং মর্মাতিগ এই তিন প্রকার। তন্মধ্যে মর্মভাগাশ্রিত ব্ৰণ আবার দুই প্রকার। অতঃপর আমি মৰ্ম্ম নির্দেশ ভাগ এবং আহার আচার ব্যয় ও ব্যয়াম প্রভৃতি বিভিন্ন নিদান সদ্ভুত অপক পক ও পচ্যমান এই ত্রিবিধ ব্রণের প্রত্যেকের লক্ষণ উপদেশ করিব। এই প্রকারে এই সকল বাতপিত্ত ও শ্লেষ্মর পৃথক পৃথক কিংবা যুগপ বিকারজনিত উচ্চ ভাবাপন্ন গ্রন্থি বা ব্রণ পাকিয়া উঠে। তাদৃশ অবস্থায় যথেচ্ছ আহার বিহারের ফলে উহাদিগের শােণিত শ্লেষ্মর সহিত সম্মিলিত হয় এবং তাহাতে শুণ্ড চয়ণ প্রভৃতি অঙ্গ প্রত্যঙ্গেত কুপিততর হইয়া উল্লিখিত গ্রন্থি বা ব্রণকে আরও স্ফীততর করে। উক্ত ব্রণের বিস্তার বর্ধিত হওয়াতে উহা প্রস্তরের ন্যায় দৃঢ়কান্তিযুক্ত বলিয়া প্রতীয়মান হয়। উহার বর্ণ দেহের অন্যান্য স্থানের বর্ণের তুল্য থাকে বটে কিন্তু আকৃতি কক্কশ হয় এবং তাহাতে বেদনা অল্প থাকে ; ইহাই অগৰু গ্ৰন্থির লক্ষণ। পক্ষান্তরে যদি তাদৃশ গ্রন্থিতে দাহ বিদ্যমান থাকে তাহা হইলে উহাতে তীব্র বেদনা ও অবশ্যম্ভাবী। তখন বারণগণ তাদৃশ বেদনায় একান্ত কাতর হইয়া ভূতলে শুণ্ড ঘর্ষণ করিতে থাকে কখনও বা স্বীয় স্ফীত স্থান স্পর্শ করিয়া অপূর্ণ-নয়নে দীন বদনে ক্রৌঞ্চ পক্ষী ন্যায় পুনঃ পুনঃ আর্তনাদ করিতে থাকে। ইহাই দাহযুক্ত গ্রন্থির লক্ষণ। তাদৃশ গ্রন্থির ও পক্ক অবস্থার লক্ষণ অন্যান্য পব্রণের লক্ষণেরই সুসদৃশ। তাহ এই যে যখন উল্লিখিত গ্রন্থিতে অত্যন্ত দাহ বিদ্যমান থাকে, তখন উহাতে তীব্র বেদনা ও বর্তমান থাকে এবং উহা ক্ৰমে কৃষ্ণবর্ণ কিংবা রক্ত বর্ণ হইতে থাকে। এই প্রকারে কয়েক দিবস অতীত হইলে উহা একান্ত বিবর্ণ ও স্পর্শে অসহনীয় হইয়া উঠে। তাদৃশ অবস্থাতে ও প্রলেপাদি দ্বারা চিকিৎসা করা যাইতে পারে; কিন্তু তাপ বিদ্যমান থাকায় বৃদি মর্দন করিলে তাহা অভ্যন্তরে প্রবেশ না করিয়া ক্ষরিত হইয়া যায়। তখন উহারা কুবলয়াদি প্রিয় খাদ্য গ্রহণ করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে এবং উহাদিগের পিপাসা অতিমাত্র বর্ধিত হয় ; উহার পুনঃ পুনঃ বমন করিতে থাকে এবং স্বীয় বন্ধন স্তন্তে দেহভার বিন্যস্ত করিয়া উদ্ধ’ মুখে বৃংহণ করে। ইহাই পচ্যমাণ গ্রন্থির লক্ষণ। পক্ষান্তরে তাদৃশ গ্রন্থি পাকিলে তাহাতে বেদনার উপশম হয় ; শনৈঃ শনৈঃ স্ফীত ভাব মন্দীভূত হইতে থাকে ; স্ফীত স্থানের লােমাবলী শীর্ণ তাপ প্রলােপরুম লক্ষণোপকম বিধি অপগত, পূয় সঞ্চার নিবন্ধন শ্বেত কিংবা পাণ্ডুবর্ণ এবং চাপ দিলে কিঞ্চিৎ- নত হইয়া থাকে। ইহাই পব্রণের লক্ষণ। ত্ব, মাংস মেদ মৰ্ম্ম শিরা স্নায়ু অস্থি সন্ধি এই সকলই ‘ব্রণ বস্তু’ ইহার বিস্তৃত বিবরণ আমি ভবিষ্যতে বর্ণনা করিব। বিলাপন অবসাদন রক্তাপকৰ্ষণ পাচন ভেদন সন্ধান পীড়ন সীবন শশাষণ এৰণ রক্ষণ ক্ষার ও অগ্নিকৰ্ম্ম কৃমিহরণ উৎসাদন শীতীকরণ অস্কৃস্থাপন ক্ষীর পান মৃদুকরণ ছেদন ধূপন রােপণ বেধন অপকর্ষণক্রিয়া বৃংহণ স্থিরীকরণ স্বেদন, লেখন কও, ও উষ্ম আস্থাপন বন্ধনবিধি বর্তি তৈল চুর্ণ ও কষায়- লেপন স্নেহপান অনুবাসন সক্রিয়া সবর্ণীকরণ বর্ণপ্রসাদন এবং যন্ত্রবিধি প্রভৃতি চতুশ্চত্বারিংশৎ প্রকার ব্রণােপক্রম বা ব্রণ চিকিৎসা কথিত আছে। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে। বিজ্ঞ চিকিৎসক সাবধানতার সহিত যথাকালে মাতৃগণের ব্রণ পরীক্ষা করিয়া শাস্ত্রানুমােদিত প্রণালী অবলম্বনে চিকিৎসা করিবেন। যে বৈদ্য জিতে- প্রিয় তীক্ষ্ণ প্রতিভাবান তিনিই চিকিৎসা কার্যে পূর্ণ সফলতা লাভে অধিকারী এবং চিকিৎসক শ্রেষ্ঠ বলিয়া বিবেচিত হইয়া থাকেন। . ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে পঞ্চম অধ্যায়।

ষষ্ঠ অধ্যায়। দ্বাদশ উপক্রম বিধি। * একদা অঙ্গপতি রােমপাদ নরপতি স্বীয় চম্পা নগরে উপস্থিত মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক সাবধানে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগব, কি করিলে মাতগণের চিকিৎসক হওয়া যায়, তাহা আমাকে বলিয়া আমার অজ্ঞান- কার অপনয়ন করুন। মহানুভব' অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন হে নরেশ্বর, এই পৃথিবীতে অসংখ্য মাতঙ্গ চিকিৎসক বিদ্যমান আছেন তাহাদিগের কাহারও জ্ঞান পাঁচটি বিষয়ে কাহারও জ্ঞান সাতটি বিষয়ে, কাহারও জ্ঞান তিনটি বিষয়ে কাহারও দুইটি মাত্র বিষয়ে। সেইরূপ কাহারও চারি, কাহারও নয় কাহারও চতুর্দশ কাহারও বা জ্ঞান অষ্টাদশ বিষয়ে পৰ্যাপ্ত রহিয়াছে। এতন্মধ্যে যে পাচটী বিষয়ের উল্লেখ করিয়াছি তাহা সুবিখ্যাত ক্ষিতি অপ তেজঃ মরুং ও ব্যোম। তন্মধ্যে ক্ষিতির গুণ পাঁচ প্রকার, জলের গুণ চারি প্রকার, তেজের গুণ তিন প্রকার বায়ুর গুণ দুই প্রকার এবং আকাশের গুণ এক প্রকার মাত্র। তন্মধ্যে ক্ষিতির গুণ—শব্দ স্পর্শ রূপ রস এবং গন্ধ। জলের গুণ- শব্দ স্পর্শ রস ও রূপ এই চতুৰ্বিধ। তেজের গুণ শব্দ স্পর্শ ও রূপ। বায়ুর গুণ—শব্দ ও স্পর্শ এবং ব্যোমের গুণ কেবল শব্দ। উল্লিখিত পঞ্চ মহাভূতের মধ্যে ক্ষিতির ক্রিয়া ধারণ, জলের ক্রিয়া দেন, তেজের ক্রিয়া পাচন, বায়ুর ক্রিয়া ব্যুহন (সম্মেলন) এবং ব্যোমের ক্রিয়া অবকাশ দান। উল্লিখিত পঞ্চবর্গ বা পঞ্চ মহাভূত স্থূল সৃষ্টির প্রধান উপাদান এই নিমিত্ত অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় মাতঙ্গগণের ও সৰ্বাঙ্গ উক্ত পঞ্চ মহাভূত দ্বারা নির্মিত। ‘খ’ শব্দের অর্থ আকাশ, আকাশ হইতে মাতঙ্গদেহে শব্দের ও সচ্চিত্র ভাবের সৃষ্টি হইয়াছে, বায়ু হইতে স্পর্শ এবং প্রাণ অপান সমান উদান ও ব্যান এই পঞ্চ প্রাণের সৃষ্টি হইয়াছে। তেজঃ হইতে দর্শন পরিপাক প্রকাশ তাপ ও পিত্ত উৎপন্ন হইয়াছে, অপ বা জল হইতে স্নেহ ক্লেদ শৈত্য রস ও স্বাদ গ্রহণ' জন্মিয়াছে, এবং ঘ্রাণেন্দ্রিয় গন্ধ ও সংঘাত ক্ষিতি হইতে আবির্ভূত হইয়াছে। সেইরূপ রস রক্ত মাংস মেনঃ অস্থি মজ্জা শুক্র এই সপ্ত ধাতু ও অপরাপর প্রাণি দেহের ন্যায় মাতঙ্গদেহের ও উপাদান দ্বাদশ উপক্রম বিধি। ৪৭ বরূপ। তদ্ভিন্ন বাত পিত্ত শে এই ত্রিদোষ ও বারণ দেহ ধারণের অন্ত- তম উপকরণ , ইহাদিগের সমতা রক্ষিত হইলে দেহসুস্থ ও কর্ম ক্ষম হয় এবং বৈষম্যে বৈপরীত্য ঘটে। উল্লিখিত ত্রিদোষের মধ্যে বল তৃপ্তি ও উপচয় (দেহবৃদ্ধি ) শ্লেষ্মের গুণ বা ধৰ্ম্ম, আহার পরিপাক পিত্তের ক্রিয়া এবং চেষ্টা-প্রবৃত্তি পঞ্চধা বিভক্ত বায়ুর স্বাভাবিক ক্রিয়া। ‘বি’ শব্দের অর্থ আহার ও বিহার । বিহিত দেশকালে উল্লিখিত দ্বিবিধ ক্রিয়া সম্পন্ন হইলে তদ্বারা বাতাদির সাম্য রক্ষিত হয়। চতুর্বিধ বিষয়ের অর্থ স্বেজ অণ্ডজ উদ্ভিজ্জ ও জরায়ুজ এই চতুর্বিধ প্রাণী এবং চিকিৎসা ক্রিয়া তাহাদেরই অধীন। উল্লিখিত ভূত সমূহ স্থাবর ও জগম ভেদে দ্বিবিধ ; তন্মধ্যে কৃমি কীট পতঙ্গ পিপীলিকা দংশ মশক নাগ দ্বিপদ চতুষ্পদ প্রভৃতি প্রাণিগণ ‘জগম’ বা ‘চর’ নামে খ্যাত এবং ওষধি বনম্পতি বানম্পত্য লতা পৰ্বতাদি স্থাবর’ নামে আখ্যাত। তন্মধ্যে গুচ্ছযুক্ত ফল- পাকান্ত উদ্ভিজ্জকে ‘ওষধি সপুষ্প ফশালী ‘বানষ্পত্য কুসুম বিহীন ফল- শালী উদ্ভিজ্জগণ ‘বনস্পতি এবং গুল্মলতা বল্পী প্রতানযুক্ত ‘বীরুধ’ আখ্যা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। এই চতুর্বিধ ভূতগ্রাম পরস্পর পরস্পরের সাহায্য জীবন ধারণ করিয়া থাকে এবং ইহা হইতেই রসের সৃষ্টি হয়। বিষয়’ শব্দের অর্থ প্রাণ অপান ব্যান উদান সমান এই পঞ্চবিধ প্ৰাণবায়ু এবং মনঃচেতনা ধাতু * ও বুদ্ধি। তন্মধ্যে প্রাণই শ্রেষ্ঠ এবং নিশ্বাস ও ক্ষবথু (হঁচি) প্রভৃতি ক্রিয়া নিৰ্বাহ করিয়া প্রাণি দেহের হিতসাধন করে। অপান বায়ু মূত্র পুরীধােৎসর্গ ক্রিয়া নির্বাহ করে। সমান বায়ু প্রাণিদেহের অভ্যন্তরে অবস্থান করিয়া ভুক্ত আহার পরিপাক এবং শরীর ধারণে সহায়তা করে। ব্যান বায়ু পৰু আহার রস সকল ধাতুতে প্রবিষ্ট করিয়া শরীর ধারণ করিয়া থাকে। এবং উদান বায়ু পৰু আহার রস আমাশয়ের উদ্ধে স্থাপন করিয়া দেহ ধারণে সাহায্য করিয়া থাকে। এই প্রকারে উল্লিখিত পঞ্চবিধ বায়ু এক যােগে ক্রিয়া নিৰ্বাহ করিয়া প্রাণিগণের দেহ রক্ষা করিয়া থাকে। পক্ষান্তরে উল্লিখিত পঞ্চবায়ু বিকৃত হইলে প্রাণিদেহে বিবিধ বােগের উৎপত্তি হইয়া থাকে। ইহাদিগের মধ্যে প্রাণবায়ুর বিকৃতি ঘটিলে শ্বাস-কৃচ্ছতা দীর্ঘ- খাস, চিত্তৰিভ্ৰম ক্ষবথু (হঁচি ) বর্মন প্রভৃতি রােগ জন্মে। অপান বায়ু প্রাণপন ব্যানােদান সমানা মানস চেতনা ধাতু বুদ্ধয়ঃ ইতি মূল।

গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। বিকারের ফলে জঘনশূল ক ইন্দ্রিয়ােপরােধ অশ্মরী এবং মুত্র পুরীষ বিকার জনিত বােগ সমুদয়ের আবির্ভাব হইয়া থাকে। সমান বায়ু বিকৃতির ফলে জঠরানলের দৌর্বল্য অরুচি আনাহ দাহজর জঠর শুল গুল্ম ও হৃদরােগ প্রভৃতি ভীষণ রােগ সমুদয়ের আবির্ভাব হইয়া থাকে। ব্যান বায়ু বিকৃত হইলে দেহস্থ সপ্ত ধাতুর বৈষম্য ঘটে এবং তাদৃশ বৈষম্যের প্রভাবে চৰ্ম্ম- রােগ গলরােগ উদাবৰ্ত্ত প্রভৃতি রােগের উৎপত্তি হয়। উদান বায়ু বিকারের ফলে অন্তঃপ্রতীঘাত তৃষ্ণা শিরােনােগ মন্তাগ্রহ কণ্ঠস্বর বিকৃতি ইন্দ্রিয় বিকৃতি এবং অক্ষিয়ােগ প্রভৃতি অনিবাৰ্য । ইহাই প্রাণাদি পঞ্চ বায়ুর বিকার জনিত রােগ নির্দেশ। সেইরূপ শ্লেষ্ম প্রকোপ নিবন্ধন অভচ্ছদ অভিষন্ন অজীর্ণ অঙ্গচি কৃমি কোষ্ঠ কণ্ডু, বিবর্ণতা এবং ক্ষয়রােগ প্রভৃতি উৎকট আশু-প্রাণনাশক ব্যাধি সমুদয়ের আবির্ভাব হইয়া থাকে। পিত্ত প্রকোপ—প্রভাবে—পিত্তরােগ মৃদু শীতাভিলাষ অভিতাপ দাহ মদ-মূচ্ছ। উচ্ছ্বাস প্রভৃতি দুরারােগ্য রােগ সমূহ জন্মে এবং শােণিত প্রকোপে ও উল্লিখিত রােগ ( পিত্ত প্রকোপ জনিত বােগ) সমূহই আবির্ভূত হইয়া থাকে। বাত প্রকোপ বশতঃ-উদাত্ত আনাহ শূল দস্তগ্রহ পার্শ্ব পৃষ্ঠ উদর কটি গ্রীবা শিরােগ্ৰহ শিরাপ্তান এবং স্নায়ু পীড়ন প্রভৃতি রােগের উৎপত্তি হইতে দেখা যায়। উল্লিখিত দৈহিক উপাদান সমুহের যুগপদ বিকারেগাণাদি ও শ্লেষ্মদি এতদুভয়ের পৃথক পৃথক বিকারে যে সকল লক্ষ্মণের উল্লেখ করা হইয়াছে তাহা কলই বিদ্যমান থাকে। ইহাই অধিষ্ঠান। রস পঞ্চভূতাত্মক এবং মধুর অম্ল লবণ কটু তিক্ত ও কষায় ভেদে ষড় বিধ। এই ষড়বিধ রসই অধিষ্ঠানের মূল স্বরূপ। পান আহারাদি স্বরূপে গৃহীত উল্লিখিত ষড়বিধ রসই পূর্বোক্ত শ্লেষ্মদি দৈহিক উপাদানে পরিণত হইয়া অনুকুল ক্রিয়া করিলে দেহ স্বস্থ বর্ধিত ও বলশালী হয় এবং প্রতি কুল ক্রিয়া করিলে রুগ্ন হয়। ইহার আহার ও চতুর্বিধ, পরিণাম বা বিপাক বিবিধ এবং আস্বাদ ষড়বিধ হইয়া থাকে। তন্মধ্যে কটু অন্ন ও লবণ রস অজ্ঞেয় লঘুপাক ও কটু পরিণাম। মধুর তিক্ত ও কষায় রস সােম গুণ বহুল এই নিমিত্ত গুরুপাক এবং মধুর বিপাক (পরিণাম)। শ্লেষ্ম সােমাত্মক স্নিগ্ধ শীতল মৃদু মধুর গুরু লবণানুবন্ধি খেত এবং পিচ্ছিল। পিত্ত আগ্নেয় উষ্ণ তীক্ষ্ণ রুক্ষ লঘু কটু অলবণানুবন্ধি বিশদ দ্বাদশ উপক্রম বিধি। ৪৯ পীত রক্ত কৃষ্ণ বিদাহি। বায়ু, স্বভাবতঃই শীত রুক্ষ সূক্ষ্ম ব্যবায়ী আগুকারী অদৃশ্য বলবান বেগবান স্পর্শবান লঘু এবং আস্বাদের অযােগ্য (বায়ুর স্বাদ গ্রহণ করা যায় না, প্রতীতি হইতেই তাহার রস অনুমান করা যায়)। বাত পিত্ত ও শ্লেষ্মার স্বভাব এই প্রকার এবং তাহার বিকার পরস্পরের সংসর্গ হইতে হইয়া থাকে। রক্তকে পিত্তের সমান গুণ সম্পন্ন বলিয়া গ্রহণ করিতে হইবে । কিন্তু মধুর রস স্নিগ্ধ শীতল মৃদু গুরু দীর্ঘবিপাকী বিদাহী এবং পিচ্ছিগ, কষায়রস রুক্ষ শীতল লঘু বিষ্টন্তী এবং বিদাহী, তিক্ত, কষায়, বসস্বভাব নিবন্ধন কষায়রসের তুল্যগুণ বিশিষ্ট কেবল তীক্ষ্ণতা মাত্র বিশেষ গুণ। অম্লবস উষ্ণ অভ্যন্তরে বিদাহী বহিঃশীত শ্লেষ্মস্থানে তীক্ষ সদ্যপ্রসেকী ক্ষিপ্ৰপাকী এবং স্নিগ্ধ। লবণ রস তীক্ষ্ণ উষ্ণ স্নিগ্ধ লঘু এবং বিদাহী। ইতঃপূর্বেই শ্লেষ্ম পিত্রাদির বিভিন্ন প্রকার রস ব্যাখ্যাত হইয়াছে এইক্ষণে যে যে প্রকারে উল্লিখিত শ্লেষ্মাদি ক্ষয় প্রাপ্ত কিংবা বর্ধিত হয় তাহা বর্ণনা করিতেছি-মধুর রস, তুল্যরসযুক্ত বলিয়া শ্লেষ্মা বৃদ্ধি করে, শীতল নিবন্ধন শৈত্য গুরুত্ব বশতঃ গৌরব এবং তুল্য যােনিত্ব নিবন্ধন তুল্য ক্রিয়াশীল হইয়া থাকে। অম্ল রস প্রসেকী এই নিমিত্ত শ্লেষ্মের প্রসেকিত্ব গুণ বর্ধিত করে ইহা আমরা প্রত্যক্ষ করিতে সমর্থ হই যখন মানবগণ ডালিম ছােলঙ্গ প্রভৃতি অম্নরসযুক্ত দ্রব্য দশন করে তখন উহাদিগের জি হইতে এক প্রকার কফাত্মক রস সিক্ত হইতে থাকে তাহা দ্বারাই উহার শ্লেষ্ম ক্ষরণ কারিত্ব এবং শ্লেষ্ম বর্ধকত্ব সিদ্ধ হইল। যেমন 'মহামেঘ গঙ্গা প্রবাহকে তরল করে তেমনি লবণ রস প্রাণিগণের সন্ধি মৰ্ম্ম প্রভৃতি স্থানে অবস্থিত শ্লেমকে ক্লিন্ন করে। তাদৃশ শ্লেষ্ম বাত ও পিত্তকে অভিভূত করিয়া সৰ্ব্ব- শরীর ব্যাপ্ত হয় এবং দৈহিক উপাদান সমূহের বিকার উৎপাদন করে। ইত্যাদি কারণে মধুর অম্ল ও লবণ এই ত্রিবিধ রসই শ্লেষ্ম বর্ধক বলিয়া পরিচিত হইয়া থাকে। তিক্তরস শ্লেষ্মর বিরুদ্ধ গুণযুক্ত এই নিমিত্ত উহারা শ্লেষ্মজ বিকার প্রশমিত হইয়া থাকে—তিক্তের মাধুৰ্য বলপূর্বক শ্লেগ্নের শক্তি নষ্টকরে এবং উহার লঘুতা গুণ শ্লেষ্মের গুরুত্ব অভিভূত করিয়া বিনষ্ট করিয়া থাকে। কষায় রস ও স্বীয় রুক্ষত্ব নিবন্ধন শ্লেষ্ম বিনষ্ট করে। শ্লেষ্মা কষায় রসের রুক্ষ গুণ দ্বারা অভিভূত হইয়া শুষ্কতা প্রাপ্ত হয়। সেইরূপ ‘কটু’ রস উষ্ণ বীৰ্য্য বলিয়া ৫ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। শশাষণ গুণ দ্বারা শ্লেষ্মের ধ্বংস সাধন করিতে সমর্থ হয়। উহা স্বীয় লঘুতা দ্বারা শ্লেষ্মের স্বভাব সিদ্ধ গুরুত্ব বিদূরিত করিতে সমর্থ। এই নিমিত্ত তিক্ত কষায় ও কটু রস শ্লেষ্মজ বিকার প্রশমিত করিয়া থাকে। তুল্যগুণযুক্ত বলিয়া কটুৱস পিত্ত বৃদ্ধি করে। উহা স্বীয় তীক্ষ্ণতা দ্বারা পিত্তের তীক্ষ্ণতা, উষ্ণতা দ্বারা উষ্ণতা রুক্ষতা দ্বারা রুক্ষতা এবং লঘুতা দ্বারা তাহার লঘুতা বর্ধন করে, কারণ উভয়েরই উৎপত্তিক্ষেত্র একরূপ। সমান গুণযুক্ত বলিয়া অম্লরস পিত্তবৰ্ধক। উহার বিদাহিত্বগুণ পিত্তের দাহিকা শক্তি বর্ধিত করে তীক্ষ্মতা গুণ পিত্তের তীক্ষ্ণতা কুপিত করে এইরূপ স্বীয় শক্তিদ্বারা উহার শক্তি বর্ধিত করিয়া পিত্তের প্রকোপের কারণ হইয়া থাকে। লবণ রস ও তীক্ষ্ণতা ও উষ্ণতা নিবন্ধন পিত্ত বর্জিত করে, বিন্দিত্ব (ক্ষরণ কারিত্ব, গুণ দ্বারা ) দ্রবীভূত করিয়া থাকে। এই নিমিত্ত কটু অম্ল ও লবণ এই ত্রিবিধ রসই পিত্তবর্ধক। তিক্ত রস পিত্ত প্রশমিত করে-উহা স্বীয় শীতবীৰ্য্য দ্বারা পিত্তের উষ্ণতা এবং মৃদু দ্বারা উহার তীক্ষ্ণতা অভিভূত করিয়া থাকে। কষায় রস পিত্তের তীক্ষ্ণতা বিনষ্ট করে। উহা স্বীয় শীতলতা দ্বারা পিত্তের উষ্ণতা এবং মধুর রসানুবন্ধিত্ব নিবন্ধন উহার বল বিনষ্ট করিয়া থাকে। মধুর রস স্বীয় স্বাভাবিক মাধুৰ্য্য নিবন্ধন পিত্তের কটুত্ব অভিভূত করে, শৈত্য প্রভাবে পিত্তের উষ্ণতা নিবৃত্তি করে, স্নেহ গুণ দ্বারা উহার রুক্ষতা দূর করে এবং স্বীয় গৌরব দ্বারা পিত্তের বিদাহিত্ব গুণ বিনষ্ট করিয়া থাকে। এই নিমিত্ত তিক্ত কষায় ও মধুর এই ত্রিবিধ রস পিত্ত প্রশমিত করিতে সমর্থ। লায় রস বাত বর্ধক। উহা স্বীয় স্বাভাবিক রুক্ষতা পরিশােধিত্ব মাধুৰ্য্য শৈত্য ও অভিষ্যন্দিতাগুণ দ্বারা দেহস্থ বায়ু কুপিত করিয়া থাকে। তিক্তরস ও কষায় রস স্বভাব নিবন্ধন কষায় রসের তুল্য গুণ সম্পন্ন এই নিমিত্ত উহাও বাত বর্ধক বলিয়া কথিত হইয়াছে। সেইরূপ কটুরস ও বীয় রুক্ষতা ও লঘুতা গুণের প্রভাবে বায়ু কুপিত করিয়া থাকে। এই নিমিত্ত কষায় তিক্ত ও কটু এই বিবিধ রসযুদ্ৰব্যই বাতবর্ধক। অম্লরস বায়ুর অনুকূলতা সম্পাদন করে উহা স্বাভাবিক ক্ষিপ্রপাচন স্বভাব তীক্ষ্ণতা ক্লোন মেহ উষ্ণতা নিবন্ধন বাতের শােষিত্ব শৈত্য রৌক্ষ্য ও মৃদুতা প্রভৃতি গুণ গুলিকে অভিভূত করে। অভিভূত করে। লবণ রস ও স্বীয় ভাবদত্ত উষ্ণতা ও তীক্ষ্ণতা গুণে বায়ু প্রশমিত করে, স্নেহবত্তা নিবন্ধন বাতের পরিশােষিভাব এবং ক্ষরণ স্বভাব নিবন্ধন দ্রবীভাব আনয়ন করে। লবণ রস বায়ুর প্রতিকূলতা নিবন্ধন দ্বাদশ উপক্রম বিধি। এবং রস সমূহের মধ্যে অতিবীৰ্য্যবত্তানিবন্ধন অতি বলশালী বাতকে ও বিনষ্ট করে। মধুর রস ও স্বীয় মেহবত্তা নিবন্ধন রুক্ষতা জয় করে, গুরুত্ব নিবন্ধন বাতের লঘুতা জয় করে, অতি বীৰ্য্য এবং দাহিকাশক্তি নিবন্ধন বলপূর্বক বায়ুকে অভিভূত করিয়া জয় করিয়া থাকে। এই নিমিত্ত অম্ল মধুর ও লবণ এই ত্রিবিধ রসই বায়ু প্রশমিত করিতে পারে। তদ্ভিন্ন প্রাণাদি বিকৃত হইলে যে সকল রােগ উৎপন্ন হয় পূর্বে উল্লিখিত রসসমূহ দ্বারা তাহার ও প্রতীকার হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে রােগ বর্ধিত হইতে থাকিলে যেমন মানসিক বিকার জন্মে এবং মানসিক বিকারের প্রভাবে পূৰ্বাবদ্ধ ও হৃদয়স্থালী এই দ্বিবিধ রােগ উৎপন্ন হয়। তাহার উপশম না হইলে চেতনা ও বুদ্ধি সম্পূর্ণ বিকারগ্রস্ত হয় এবং তাহার ফলে মাতগণের মৃত্যু পর্যন্তও ঘটিয়া থাকে। এই প্রকারে প্রাণ দি পঞ্চ, দ্বিবিধ মানস রােগ এবং চেতনা ও বুদ্ধি এই নয় ‘নব’ শব্দ প্রতিপাদ্য। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে - হে নরেশ্বর, বাত ও পিত্ত ও কফ এই ত্রিবিধই মাতঙ্গগণের দেহজ গুণ এবং উহাদিগের ব্যাধি সমূহ রস নিমিত্ত বা ভােজ্য পানীয় রসজনিত। ত্রিবিধ দোযে (বাত পিও কফে) যে গুরুত্বাদি দশবিধ গুণ দৃষ্ট হয় বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ ষড়বিধ রসেও তাহার অস্তিত্ব অনুভব করিয়া থাকেন। শীত উষ্ণ স্নিগ্ধ রুক্ষ বিশদ পিচ্ছিল মৃদু তীক্ষ গুরু লঘু ইহা দশবিধ গুণ। বিজ্ঞ চিকিৎসক বাত পিত্ত ও কফের উল্লিখিত দশবিধ গুণ বিচারপূর্বক তাহার বিরুদ্ধ রসজ প্রতিকূল গুণ দ্বারা তত্তৎ দোষজ বিকারের প্রতীকার করিবেন। উল্লিখিত বিধানে মাতঙ্গগণের রােগ প্ৰতীকারে উদ্যত চিকিৎসকের অভাে- লিখিত চতুর্দশটি বিষয়ে সম্যক্ জ্ঞান থাকা আবশ্যক—তাই এই—নিমিত্ত আয়ুঃ বল সত্ব সাত্ম প্রকৃতি ব্যাধি শরীর কাল বয়ঃক্রম দেশ গ্ৰহণী বা পাকস্থলী অভিচার ও আশান্তক এই চতুর্দশটি বিষয় অবশ্য জ্ঞাতব্য ; কারণ চিকিৎসা ইহাদিগেরই অনন্তর ইহার বিশেষ ব্যাখ্যা করিব। উহাদিগের মধ্যে চিকিৎসক আহ্বানের নিমিত্ত দূতাদির আগমনে, রােগীর অবস্থা জ্ঞাপনে চিকিৎসকের প্রস্থানে রােগীর গৃহ প্রবেশে প্রশ্নে ঔষধ গ্রহণে এবং চিকিৎসারম্ভেই নিমিতের বা ভাবী শুভাশুভ ফল জ্ঞাপক লক্ষণ সমুদয়ের পরীক্ষা করা বিজ্ঞ চিকিৎসকের অবশ্য কর্তব্য। বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে বিজ্ঞ চিকিৎসক যদি স্বীয় মঙ্গল কামনা করেন তাহা হইলে প্রস্থানকালে ও প্রবেশকালে ভাবী শুভাশুভ ফলজ্ঞাপক লক্ষণ সমুদয় পরীক্ষা করিয়া পরে চিকিৎসা কার্যে ব্রতী হইবেন।

দীর্ঘায়ু মাভঙ্গের লক্ষণ। রুগ্ন মাতঙ্গের চিকিৎসা কাৰ্যে ব্রতী হইয়া দূরদশী চিকিৎসক, প্রথমত তাহার আয়ুঃ বা জীবনকাল পরীক্ষা করিবেন। যে মাতঙ্গের স্বাভাবিক অঙ্গসন্ধি সমূহ ঘন সন্নিবিষ্ট ও দৃঢ়, দেহ আয়ত ও লােমাবলী-পরিশােভিত, অণ্ডকোষ পরিপূর্ণ কুম্ভ বিশাল, শ্রবণযুগল বৃহৎ, মস্তকস্থ কেশ মৃদুদীর্ঘ কুঞ্চিত ও স্নিগ্ধ, এক একটি লােম যুগ্মজাত, মুখমণ্ডল পৃথু ও আয়ত, গ্রীবাদেশ বিশাল, মেরুদণ্ড গুণ-মুক্ত ধনুর সদৃশ, পুংচিহ্ন সুনিষ্ক্রান্ত, কর দীর্ঘাঙ্গুলিযুক্ত, বক্ষঃস্থল বিশাল, দেহস্থ লােমলী মৃদু ও দীর্থ, জঘন দেশ পরস্পর সংহত, দেহ সরল, সুগোল ও সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিন্দু সমূহ দ্বারা সুসজ্জিত, শিরাজাল সুবিভক্ত, শুণ্ড অনতিদীর্ঘ ও সুগন্ধি, নেত্ৰদ্ধয় সুচাৰু, বৃংহণস্বর সুশ্রাব্য মাংসপেশী সকল সু-উপবীত, শ্রবণযুগল সর্বদা সশব্দ, কর চরণস্থ বিংশতি নখ স্নিগ্ধ স্ফটিক নির্মিত অর্ধচন্দ্ৰৰৎ পরিপূর্ণ, সুগতি এবং সম্মুখভাগ ভীষণ দৃশ্য। এই সকলই দীর্ঘায়ু মাতঙ্গের লক্ষণ বলিয়া আখ্যাত হইয়া থাকে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে -- সহস্র মাতঙ্গের মধ্যে একটিমাত্র মাতঙ্গের উল্লিখিত লক্ষণ সমষ্টি বিদ্যমান থাকিতে পারে। ফলতঃ ইহা অতি সত্য যে উল্লিখিত সমস্ত লক্ষণ কোনও মাতঙ্গেই বিদ্যমান থাকিতে দেখা যায়না। তবে আমার ( পালকাপ্য ঋষির) বােধ হয় যে সকল মাতঙ্গের উল্লিখিত লক্ষণাবলীর মধ্যে যত অধিক লক্ষণ বর্তমান থাকে সেই মাতঙ্গ তত অধিককাল জীবনধারণ করিতে সমর্থ হয় ; যে মাতঙ্গের উঃখিত লক্ষণাবলীর মধ্যে তিনটিমাত্র লক্ষণ বৰ্তমান থাকে সে তৃতীয় কিংবা চতুর্থশা (৩০-৪০ বৎসর) জীবন ধারণ করিয়া পরে মৃত্যুমুখে পতিত হয় । যে মাতঙ্গের উহার পাঁচটিমাত্র লক্ষণ বিদ্যমান থাকে সে পঞ্চম বা ষষ্ঠি দশা (৫.৬০ বৎসরকাল) জীবনধারণ কবিয়া প্রাণত্যাগ করে ; যে মাতঙ্গের উহার ছয়টি লক্ষণ স্পষ্ট প্রতীয়মান থাকে যে সপ্তম বা অষ্টম দশা (৭০-৮০ বৎসর) প্রাণ ধারণ করিতে সমর্থ হয়, যে মাতঙ্গের উহার সাতটি লক্ষণ প্রকাশিত সে নবম কিংবা দশমদশা (৯০-১০০ বৎসরকাল) জীবিত থাকিয়া প্রাণ ত্যাগ এবং যে মাতঙ্গে উল্লিখিত লক্ষণাবলীর মধ্যে আটটি পর্যন্ত স্পষ্ট লক্ষিত হয় সে একাদশ কিংবা দ্বাদশদশা (১১০-১২০) পর্যন্ত জীবন ধারণ করিয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয়। বিজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসা করিতে কাগ মাতঙ্গের দৈহিক শক্তির পরিমাণও অবধারণ করিতে চেষ্টা করিবেন। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ মাতঙ্গগণের দৈহিকশক্তিকে { দ্বাদশ উপক্রম বিধি। ‘প্রাযগিক’ ও ‘চির পরামর্শক এই দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত করিয়া থাকেন। তন্মধ্যে প্রযোগিক দশ যােজনাদি পথ গমন দ্বারা নির্ধারিত হইয়া থাকে। ইহা পূৰ্বেই কথিত হইয়াছে সুতরাং এই লক্ষণে কেবল ‘বৈপরামর্শক বলের বিষয় বর্ণনা করিলেই চলিবে। চতুর্থ নিখাত অষ্ট হস্ত উচ্চ এবং চতুহঃ ব্যপ্তি বিশিষ্ট প্রস্তরাদি নির্মিত শুম্ভ মর্দন দ্বারা লক্ষিত হইয়া থাকে ;-আকুতিগত বিশালত। দ্বারা কদাচ অবধারিত হয় না, কারণ ক্ষুদ্ৰদেহ পিপীলিকা স্বীয় দেহ অপেক্ষা দশগুণ ভার বহন করিতে সমর্থ ইহা সচরাচর দৃষ্ট হইয়া থাকে। মাতগণের উল্লিখিত দ্বিবিধ শক্তিই ‘সহজ’ ও ‘আহারজ’ ভেদে দ্বিবিধ। তন্মধ্যে ‘সহজ’ বল ও সকল প্রাণী অপেক্ষা সমধিক এবং তাহা আভ্যন্তরিক স’ শরীর-প্রমাণ বীর্যবত্তা ও মদপ্রভাব দ্বারা বর্ধিত হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে ‘আহারজ বল’ ও চতুর্বিধ- আহার দ্বারা শরীরে বর্ধিত হইয়া থাকে। মাতঙ্গগণের শরীরােপচয় সাত প্রকার তাহা শােফ অধ্যায় পাঠ করিয়া অবগত হওয়া আবশ্যক। সহজ বল বা স্বাভাবিক সামর্থ্য ও উত্তম মধ্যম ও অধম ভেদে বিবিধ। তম্মধ্যে যে মাতঙ্গ শীত উষ্ণ ক্ষুধা তৃষ্ণা আতপ বাধারা শস্ত্রাঘাত ভার বহন, নগরাদি প্রমর্দন, জল তরণ এবং শস্ত্রোপচার অগ্নিকর্ম ও ক্ষার প্রয়ােগাদিতে অনুদ্বিগ্ন থাকে ও স্নেহ পানাদি সহ করিতে সমর্থ হয়, তাহাকেই উত্তম বশালী মাতঙ্গ বলিয়া জানিতে হইবে। মধ্যম ও অধম বলশালী মাতঙ্গ ও তেমনি উল্লিখিত গুণাবলীর অনুপাতেই মধ্যম এবং অধম বলিয়া জানিতে হইবে। এই প্রকার বলাবল পরীক্ষা করিয়া পবে ঔষধের মাত্রা নির্ণয় করা কর্তব্য। অন্যথা উত্তম বলশালী মাতুলকে দুৰ্বল মনে করিয়া ঔষধের মাত্রা নির্ধারণে ভ্ৰম করিলে রােগের প্রতীকার হয় না। যেমন অর অগ্নি প্রভূত ইন্ধন (জ্বালানী কাঠ) দ্বারা অভিভূত হইলে বায়ু দ্বারা সঙ্কুক্ষিত না হইলে কার্যকর হয় না, তেমনি অসম্যক্ প্রযুজ্যমান অল্প ঔষধও রােগ তীকারে সমর্থ হয় না প্রত্যুত প্রকারান্তরে রোগ বৃদ্ধিরই নিমিত্ত-স্বরূপ হইয়া থাকে। উক্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ স্বরূপে বারণগণের চতুর্বিধ দৌৰ্ব্বল্যের মধ্যে চতুর্থ প্রকার দৌর্বল্যের উল্লেখ করা যাইতে পারে। এই নিমিত্ত লভাবে রুগ্ন মাতঙ্গের পরিমাণাদি দ্বারা বলাবল পরীক্ষাপূর্বক তীক্ষ্ণ মধ্যম ও মৃদুবীৰ্য্য ঔষধের ব্যবস্থা করা উচিত এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে রিজ্ঞ চিকিৎসক রুগ্ন মাতঙ্গে। বলাবল নিৰ্দ্ধারণপূৰ্ব্বক ঔষধ নিৰ্বাচন করিবেন ইহাই শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত। চিকিৎসাকালে রুগ্ন মাতঙ্গের সত্ত্ব জ্ঞান ও চিকিৎসকের একান্ত প্রয়োজনীয়। উল্লিখিত সত্ব তামনিক রাজসিক এবং সাত্ত্বিক ভেদে ত্রিবিধ। তন্মধ্যে, তুমিষস- গজায়ুর্বেদ সংহিতা। সম্পন্ন বারণগণ সৰ্ব্বদা উদ্বিগ্ন স্বভাব; এবং উহারা ছেদন লেখন দহন সীবন বিশ্রাবণ উদ্ধারণ ক্রিয়া সহ করিতে অসমর্থ, এই নিমিত্ত উহাদিগের বিলায়ন পাচন ভেদন শােধন অবসাদন এবং কৃমি হরণ শাগ্নিক্ষার কৰ্ম্ম প্রভৃতি আপাত ক্লেশকর প্রতিক্রিয়া সমুদয় ঔষধ দ্বারাই সম্পাদন করিতে হয়। রাজসিক সত্ত্ব বিশিষ্ট বারণগণ মধুর বাক্য প্রয়ােগ, সুশীতল জল ও সুস্বাদু কবল প্রদান প্রভৃতি দ্বারা সান্ত্বনা প্রাপ্ত হইলে ছেদন ভেদনাদি সত্যু করিয়া থাকে। পক্ষান্তরে সাত্ত্বিক সত্ত্ব সম্পন্ন বারণগণ তাদৃশ চিকিৎসা হিতকর জ্ঞানে নির্বিকারভাবে সহ্য করিয়া থাকে। ইহাই বারণগণের ত্রিবিধ সত্ত্বব্যাখ্যাত হইল এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে—হে নরনাথ, ইহাই মাতঙ্গগণের ত্রিবিধ সত্ব নির্ণয় কীৰ্তিত হইল বিজ্ঞ চিকিৎসক উল্লিখিত ত্রিবিধ সত্ত্বের পারম্পর্য লক্ষ্য করিয়া চিকিৎসা কাৰ্য্যে ব্রতী হইলে সফলতা লাভে সমর্থ হইবেন। বিজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসা কার্যে ব্রতী হইয়া বারণগণের সাত্ম ( চিরন্তন অভ্যাস) ও পরীক্ষা করিবেন। উল্লিখিত সাত্ম ও ‘জাতিসাত্ম’ ‘প্রকৃতি সাত্ম্য ও ‘রস সাত্ম’ ভেদে ত্রিবিধ। তন্মধ্যে জাতি সাত্ম হস্তী জন্মাবধি ক্ষীর পান করে এবং এই নিমিত্ত উহাদিগের দেহের উপাদান স্বরূপ সপ্তধাতু বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। এই প্রকার অভ্যাসকেই ‘জাতি সাত্ম’ আখ্যা প্রদত্ত হইয়াছে। বৃক্ষ তরুমূল ঘাসগ্রাস তরুপল্লব পদ্ম মৃণাল প্রভৃতি প্রকৃতি দত্ত দ্রব্য সতত ভােজন, পাংশুক্রীড়া জলাবগাহন যদৃচ্ছাক্রমে আহার গ্রহণ শীতপ্রধান পার্বত্য প্রদেশে বাস এই সকলই রায়ণগণের প্রকৃতি সাত্ম’ এবং মধুর অম্ল লবণ কটু তিক্ত ও কষায় এই ষড়বিধ রসের অন্যতম অভ্যস্ত হইয়া দৈহিক পুষ্টি সাধনের কারণ হয়, তাহাকেই ‘রসাত্ম আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে বিজ্ঞ চিকিৎসক, রুগ্ন মাতঙ্গের সাত্ম বা চিরন্তন অভ্যাস সবিশেষরূপে পরীক্ষা করিয়া ঔষধ ও পথ্য প্রদানের ব্যবস্থা করিলে কখনও অবসাদ প্রাপ্ত হইবেন না। বারূণগণের চিকিৎসা কাৰ্যে ব্রতী চিকিৎসক উহাদিগের প্রকৃতি ও পরীক্ষা করিবেন। বাত পিত্ত ও শ্লেষ্ম প্রভেদে বারণগণের প্রকৃতি ও ত্রিবিধ এবং তৎ- সমুদয় প্রকৃতি অধ্যায়ে বর্ণনা করিব। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে- বারণগণ সাধারণতঃ বাত পিও ও কফ ভেদে ত্রিবিধ প্রকৃতি সম্পন্নই হইয়া থাকে । বিজ্ঞ চিকিৎসক তাহা সম্যক্‌রূপে অবগত হইয়াই চিকিৎসা কাৰ্যে ব্রতী হইবেন। বারণগণের চিকিৎসা কাৰ্য ব্ৰতী চিকিৎসক, উহাদিগের ব্যাধির ও পরীক্ষা করিবেন। ব্যাধি সাধারণতঃ সাধ্য কৃচ্ছসাধ্য, যাপ্য ও প্রত্যাখ্যেয় এই চতুৰ্বিধ।

দ্বাদশ উপক্রম বিধি। ৫৫ তন্মধ্যে সাধ্য' শব্দের অর্থ সুখসাধ্য এবং সুখসাধ্য ব্যাধি বাতৃদি এক একটি দৈহিক উপ দানের অবিমিশ্র বিকার সম্ভত এবং অচির সমুখিত। তদ্ভিন্ন রুগ্ন মাতঙ্গের জঠরানল ও প্রদীপ্ত থাকা আবশ্যক । . য়ে ব্যাধি বাতপিত্তাদি দৈহিক উপাদানের যুগপ বিকার সম্ভত দীৰ্ঘকাল যাবৎ উৎপন্ন শ্বাসাদি উপদ্রবযুক্ত, জঠরানলের দৌর্বল্য সমন্বিত এবং পরিচারকগণের অস্লোপেক্ষিত তাহাই কৃচ্ছসাধ্য নামে অভিহিত। প্রদীপ্ত ওঠরানল বলশালী ক্ষীণ মাংস ও মেদঃ সম্পন্ন এবং দীর্ঘায়ু লক্ষণযুক্ত মাতঙ্গ দোষ-ধাতু-বৈষম্য-নিবন্ধন ব্যাধিগ্রস্ত হইলে প্রায়শঃ রােগমুক্ত হয় না কিংবা মৃত্যুমুখে পতিত হয় না বরং ঔষধ পথ্যাদি দ্বারা রােগের হ্রাস, হইয়া থাকে, বারণগণের তাদৃশ রোগকে ‘যাপ্য’ রােগ বলে। পক্ষান্তরে বারণগণের যে রােগ যুগপ বাত পিতাদি বিকার লক্ষণযুক্ত, যে রােগের আক্রমণ প্রভাবে রােগীর বল ইন্দ্রিয় সমুদয় ও রক্ত মাংসাদি দৈহিক উপাদান সমূহ যুগপত্ বিক্ষোভিত হয়, যাহার আক্রমণের ফলে অপার উৎকর্ণক শ্বাস অরুচি প্রবল পিপাসা, সৰ্বাঙ্গ উদর পুংচিহ্ন প্রভৃতি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অতিশয় স্ফীত ভাব কিংবা একান্ত কৃশতা রক্তস্রাব রক্ত বমন মলমূত্রাদির অস্বাভাবিক অল্প সংজ্ঞাহীনতা প্রভৃতি লক্ষণ বিদ্যমান থাকে, তাহাদিগের মৃত্যু আসন্ন বলিয়া জানিবে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে যে বিজ্ঞ চিকিৎসক মাতজগণের চতুৰ্বিধ ব্যাধির তত্ত্ব অবধারণ করিয়া পরে তাহার চিকিৎসায় প্রবৃত্ত হন তিনিই মাতঙ্গগণের চিকিৎসা করিতে সমর্থ এবং ভিষকৃশ্রেষ্ঠ নামে আখ্যাত হইয়া থাকেন। রুগ্ন মাতঙ্গের চিকিৎসা কাৰ্যে ব্ৰতী চিকিৎসকের চিকিৎস্য বারণগণের শরীরও পরীক্ষা করা একান্ত কর্তব্য। মাতঙ্গদেহে সাধারণতঃ লক্ষ্য করিবার বিষয়-দৈহিক উচ্চতা দৈর্ঘ্য পরিণাহ (ঘের । স্থূলতা কৃশতা ঋজুতা বক্রতা দৃঢ়বন্ধতা শিথিলবন্ধ প্রভৃতি। তদ্ভিন্ন দেহের অভ্যন্তরবর্তী ভাব সমুদয়েরও পরীক্ষা করা বিধেয়। আভ্যন্তরিক পরীক্ষার বিষয় --সপ্তত্ব সাতশত মাংসপেশী সাতশত শিরা পাঁচহাজার স্নায়ু পচিশত অশীতি স্নায়ু-কুচঁ (সূক্ষ্ম শাখা), পঞ্চবিংশতি ধমণী এক সহস্র ছিয়ানব্বইটি রােমকূপ কেহ বলেন রােমকূপ সমূহ অসংখ্যেয়। তিনশত বিংশতি- খানি অস্থি এবং তাহাদিগের কপালাদি ষড়বিধ আকৃতি। সেইরূপ শরীরাবয়বের সংখ্যা ও একশতকুড়ী। তন্মধ্যে অঙ্গ সন্ধি সমূহের সংখ্যা । মাতঙ্গদেহের উল্লিখিত সন্ধি সমূহের আকৃতি প্রতর কোশ মণ্ডল সামুদগ উলুখল বায়সতুণ্ড শঙ্খবৰ্ত্ত ও তুণসীবন ভেদে + জীণি ষট্‌ যষ্ট্যানি মূল ?

৫৬ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। অষ্টবিধ। তন্মধ্যে কুৰ্ম্ম পলিপাদ সানভাগ প্ৰােহ এবং অপস্কার প্রদেশে কোশসন্ধি বিদ্যমান, অংস কঙ্ক বাহু ককুদিকা গ্ৰন্থী অষ্টাধ্য মক শঙ্খ চক্র সকৃথি এবং অবকৃষ্ট প্রদেশে সামুগ সন্ধি বর্তমান, পৃষ্ঠধংশ ককটিকা স্তন নিৰ্যান কর্ণ শ্রবণেষিকা ' কুস্তান্তর কুম্ভ কট ও গণ্ড প্রদেশে তৃণ সীবন সন্ধি বিরাজমান শঙ্খ ইনু কপােল সাদা মৃক্ষলী (শৃঙ্কণী) ও ওষ্ঠ প্রদেশে বাসতুণ্ড সন্ধি সমূহ বিদ্যমান। কট অক্ষিকুট অপিবত্ম নেত্ৰ ক্লোম হৃদয় ও নাভিদেশে ‘মণ্ডল সন্ধি বর্তমান এবং বহিঃস্থ প্রতিমান শম্বুক ও দন্তবেষ্ট প্রদেশে শঙ্খবৰ্ত:সন্ধি বিদ্যমান। শ্রেতি শৃঙ্গটক হে নরেশ্বর ইহাই মাতঙ্গদেহের সন্ধি সমূহ বর্ণিত হইল। তদ্ভিন্ন মাতঙ্গদেহে একতসাতটি মৰ্ম্মস্থান, পঞ্চদশ ইন্দ্রিয়, চারিশত ছেচল্লিশ অবয়ব এবং সন্ধি ও অস্থি ভাগাশ্রিত ষােড়শ কতুর বিদ্যমান আছে। এ বিষয়ে শ্লৈাক কথিত আছে -বিজ্ঞ চিকিৎসক উল্লিখিত প্রকারে মাতঙ্গদেহের সুক্ষ্ম তত্ত্ব সমুদয় অবগত হইয়া শস্ত্রপ্রয়ােগ করিলে কখনও বিপন্ন হইবেন না। সেইরূপকাল বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকাও বিজ্ঞ চিকিৎসকের একান্ত আবশ্যক । কারণ যথাকালে প্রযুক্ত স্নেহন স্বেদন অনুবাসন প্রভৃতি ক্রিয়া ফলবতী হইয়া থাকে এবং তাহার ফলে বায়ণগণের বাত পিদির বিকারজনিত উপদ্রব প্রশমিত দেহের উপাদান স্বরূপ সপ্তধাতু প্রকৃতিস্থ এবং বল ও বর্ণ স্বাভাবিক ভাব প্রাপ্ত হয়। পক্ষান্তরে অকালে প্রযুক্ত প্রতিক্রিয়া বিপরীত ফল 'আনয়ন করে, এই নিমিত্তকাল পরীক্ষাপূর্বক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা একান্ত বিধেয়। পঞ্চভৌতিক দেহ সাধারণতঃ ‘কল্প’ ও ‘অকল্প’ ভেদে দ্বিবিধ। তন্মধ্যে যে শরীরে দোষ ও ধাতুর সাম্য বিদ্যমান থাকে তাহা ‘কল্প’ শরীর নামে আখ্যাত হয় এবং দোষ ধাতু সাম্যের ফলে জঠরানল প্রদীপ্ত থাকায় 'উখান উপবেশন ও গমনাদি ক্রিয়া সম্পাদনে সৰ্ব্বদা স্ফুর্তিযুক্ত থাকে। তদ্ভিন্ন তাদৃশ মাতঙ্গের শ্বাস প্রশ্বাস, নিমেষ উন্মেষ ও মলমূত্রাদি ত্যাগ কাৰ্য্য স্বাভাবিকভাবে নিষ্পন্ন হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে যে মাতঙ্গের দোষ ধাতুর বৈষম্য ঘটে তাহার দেহকে ‘অকল্প শরীর” নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে। তাহার উল্লিখিত গুণ সমুদয়ই বিপরীত ভাব প্রাপ্ত হয়। প্রকৃতিস্থ মাতঙ্গের যেমন যথাকালে ক্রিয়ানুষ্ঠান 'আবশ্যক, ব্যাধিপীড়িত মাতঙ্গের ও তেমনি যথা সময়েই মেহন স্বেদন অনুবাসনাদিক্রিয়া প্রযুজ্য। এই নিমিত্ত সুবিজ্ঞ মাতঙ্গ-চিকিৎসকের কাল পরীক্ষা অপরিহার্য কর্ত্তব্য মধ্যে গণ্য। উল্লিখিত । সম্ভবতঃ কণী হইবে। * চিরবিলুপ্ত।

দ্বাদশ উপক্রম বিধি। কাল হেমন্ত শিশির বসন্ত গ্রীষ্ম বর্ষা ও শরৎ এই ছয় প্রধান ভাগে বিভক্ত হইয়াও পুনরায় শীত উষ্ণ ও সম এই তিন প্রধান ভাগে বিভক্ত। তন্মধ্যে হেমন্ত ও শীত ঋতুতে ওষধি সমুদয়ের বীৰ্য্য সমত্ব প্রাপ্ত এবং সেই নিমিত্ত মধুর পরিণাম হইয়া থাকে। তাহার ফলে তাদৃশ আহারযুক্ত প্রাণীর পিত্ত ও বায়ু ক্ষীণতা প্রাপ্ত এবং শ্লেষ্ম বর্ধিত হইয়া থাকে। বসন্ত ঋতুতে দিবানিদ্র ও ভুক্ত দ্রব্যের অপরিপাক নিবন্ধন মাতঙ্গগণের শ্লেষ্ম কুপিত হইয়া নানাবিধ বিক্রিয়া উপস্থিত করে , গ্রীষ্ম ঋতুতে ওষধি সমুদয় প্রখর দিনকর-করসন্তাপিত হইয়া নিঃসৃত বীৰ্য্য হইয়া থাকে। এবং তাহা ভক্ষণের ফলে বারণগণের বায়ু প্রবল ও শ্লেষ্মক্ষয় প্রাপ্ত হয়। বর্ষা ঋতুতে শতবায়ু ও উষ্মা দ্বারা শরীর অভিহত হওয়ায় দেহস্থ বায়ু পুনঃ পুনঃ কুপি ও হইয়া থাকে। উক্ত ঋতুতে আহার স্বরূপ ওষধি সমুদয় ও সম গুণযুক্ত হইয়া থাকে অর্থাৎ তখন উহাদিগের গ্রীষ্ম-গুণও থাকে না শীতগুণ ও উৎপন্ন হয় না; এই নিমিত্ত এই ঋতুতে পিও বিশেষরূপে বর্ধিত হয় এবং শ্লেষ্মায় প্রাপ্ত হয়। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে - বিজ্ঞ চিকিৎসক ও ঋতুতে যে দোষ (বাতপিত্ত কফ) বর্ধিত হয় তাহা যথাযথভাবে অবগত হইয়া মাতঙ্গগণের রােগ প্রতীকারার্থ যত্ন করিবেন, অন্যথ। দোষ বর্ধিত হইয়া প্রশ্ন মানুষের ধ্বংস সাধন করিতে পারে। মাতগগণের বয়স ও বাল্য মধ্যম এবং বার্ধক্য ভেদে ত্রিবিধ। রুগ্নমাতঙ্গের চিকিৎসা কার্যে ব্ৰতী চিকিৎসক সেই সেই বিশিষ্ট লক্ষণ দ্বারা বয়ঃক্রম অবধারণ করিয়া ঔষধের মাত্রাদি নিরূপণ করিবেন। যে মাতঙ্গের খাবণী ও নয়নদ্বয় তাভ লােমাবলী সূক্ষ্ম ওষ্ঠ তালু ও জিহ্বা তাম্রবণ গতি মন্দ অধরের কৃষ্ণবর্ণ ও পলিহস্ত অব্যক্ত তাদৃশ মাতঙ্গকে বাল্যে বিদ্যমান বলিয়া বুঝিতে হইবে। যাহার দেহ তেজঃ বল ও বেগসম্পন্ন, যে গ্রহণ ও ধারণ ক্ষম, যাহার হে মাংস- পেশী সমুদয় দৃঢ় ও তুল্যভাবে বর্ধিত প্রোহ সন্দান অষ্ঠীব্য পার্শ্বদেশ প্রভৃতি সবল ও বলি বা কতরঙ্গবিহীন তাদৃশ মাতঙ্গকে তরুণ বয়স্ক বলিয়া জানিতে হইবে এবং যাহার বেগবিহীন ক্ষীণ দেহ বলি বা তরঙ্গশোভিত পিও বা অগ্নিবলের হ্রাস নিবন্ধন স্বভাবতঃই যাহার হেকান্তি মলিন সুতরাং গ্রীবাদেশ শিথিল ও যে গমনাদিতে নিরুৎসাহ এবং অসমর্থ তাদৃশ মাতঙ্গকে বার্ধক্যে উপনীত বলিয়া জানিতে হইবে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে- চিকিৎস্য মাতঙ্গের বাল্যাদি ত্রিবিধ বয়ঃক্রম পরীক্ষা করিয়া ঔষধ প্রয়োগাদি ) গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। সেইরূপ রুগ্ন মাতলের চিকিৎসা কাৰ্যে ব্ৰতী চিকিৎসকের পক্ষে রােগের জন্ম এবং অবস্থিতি স্থানের পরীক্ষা পূৰ্ব্বক ঔষধ ও পথ্যাদি নির্বাচন করা অবশ্য কৰ্ত্তব্য। বায়ণগণের অধিষ্ঠিত দেশ সমূহ প্রধানতঃ জাঙ্গল অনুপ ও সাধারণ ভেদে বিবিধ। তন্মধ্যে জাঙ্গলদেশ অবকাশবহুল এবং পরিপুষ্ট খদির অশ্বকর্ণ তিলক তিনিশ ধব শকী সাল সােমবলক প্রভৃতি তরুরাজি বিরাজিত, প্রবল পবন প্রচারযুক্ত, মরীচিকা-ক্রিয়া-বিলসিত অগ্নিদগ্ধ ভূমিতুল্য খর পরুষ শর্করা সিকতা বহুল এবং বহুবিধ হিংস্র বন্য জন্তু সমাকুল। তাদৃশ স্থানে অবস্থান কালে মাতঙ্গ- গণের যে সকল রােগ জন্মে তাহাতে প্রায়শঃ বাত পিত্ত ও রক্তের বিকার বিদ্যমান থাকে এবং তাদৃশ জাঙ্গল প্রদেশে উৎপন্ন মাতঙ্গগণ দৃঢ় কঠিন দীর্ঘ ও পরাক্রম- শাণী-দেহ বিশিষ্ট ক্ষুৎপিপাসা সহ বলশালী ও কোপন স্বভাব হইয়া থাকে। প্রদেশ তাল নারীকেল খৰ্জর চূত অম্লাতক নিম্ব জস্ব কদম্ব যজ্ঞডুমুর অশােক তিলক সাল কদলী বকুল সপ্তপর্ণ কর্ণিকার প্রভৃতি তরুরাজি বিরাজিত, কুরর হংস ক্রৌঞ্চ চক্রবাক শুক সারিকা কোকিল প্রভৃতি বিহঙ্গকুল মুখরিত এবং সতত কুসুমিত তরাজি পরিশােভিততটা জলবিহারী বিহগকুল মুখরিতা বিবিধ জলজ কুসুম ভূষিতা গিরিপদী সমূহদ্বারা অলঙ্কিত, তাহাই অনুপ প্রদেশ। দৃশ প্রদেশে জাত মাতঙ্গ বিপুল দেহবিশিষ্ট উজ্জ্বলবর্ণ বিশাল ও আয়ত করচরণ পৃষ্ঠ অণ্ডকোষ পৃষ্ঠদেশ ও মস্তক বিশিষ্ট এবং সুকুমার দেহ লইয়াই জন্মগ্রহণ করিয়া থাকে। তাদৃশ প্রদেশে মাতঙ্গগণের অনেক সময়েই রােগ জন্মে এবং উক্ত রােগ সমুদয় ও প্রায়শঃ শ্লেষ্মা-বিকার সম্ভুতই হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন উল্লিখিত দ্বিবিধ দেশ প্রসঙ্গে বর্ণিত তরুলতা-গুল্মবাতস্পর্শ ওষধি মৃগশকুনিগণযুক্ত কদাচিৎ জলাশয়াদি পরি- শশাভিত প্রদেশকে সাধারণ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। তাদৃশ প্রদেশ- জাত মাতঙ্গগণ প্রায়শঃ দৃঢ় অথচ সুকুমার দেহ বিশিষ্ট হইয়া থাকে। উক্ত প্রদেশে মাতঙ্গগণের ত্রিদোষ-বিকারজনিত ব্যাধি সমুদয়ই দেশ প্রভাবে বর্ধিত হইয়া থাকে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে—বিভিন্ন প্রদেশের গুণ দোষজ্ঞ চিকিৎসক উল্লিখিত প্রকারেদেশ বিচার পূর্বক ৰুগ্নমাতঙ্গের চিকিৎসায় প্রবৃত্ত হইলেসফলতা লাভে সমর্থ হইবেন। বিজ্ঞ চিকিৎসক, প্রাণী মাত্রের বিশেষরূপে বারণগণের গ্রহণী বা পরিপাকশক্তি ও পরীক্ষা করিবেন; কারণ পরিপাক, শক্তি সম্যক্‌রূপে পরিজ্ঞাত না হইয়া প্রতীকার সম্ভবপর নহে। বারণগণের উল্লিখিত পরিপাক শক্তি তীক্ষ্ণ মন্দ সম ও বিষম ভেদে চতুর্বিধ। উহা পিত্তাধিক্য নিবন্ধন তীক্ষ, শ্লেষ্ম-প্রাবল্য বশতঃ দ্বাদশ উপক্রম বিধি। মন্দ, বাতপিত্ত ও কফের সাম্য প্রভাবে সম এবং বায়ুর প্রাচুর্য প্রভাবে বিষম ভাবাপন্ন হইয়া থাকে। যে মাতঙ্গের ঘাসগ্রাস (কুচড়া) পদ্মমৃণাল লবণ ততুল প্রভৃতি আহারের পরে সতিভার পর্যন্ত ঘাস ভােজনেও জাঠরানল বিকৃত না হয় বরং মল দৃঢ় থাকে, তাদৃশ বারণকে ‘তীক্ষজ্যোতিঃ’ আখ্যা প্রদত্ত হইয়া থাকে। যে মাতঙ্গ পূর্বোক্ত বারণের অর্ধাহারও গ্রহণ করিতে পারে না বরং শ্লেষ্ম প্রাবল্য নিবন্ধন তরল বিবর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত মল ত্যাগ করে, তাহাকে “ মজ্যোতিঃ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। যে মাতঙ্গ, পূর্বোক্ত পরিমাণ তৈল লবণ মিশ্রিত ততুলাদি ভেজনান্তে তাদৃশ পরিমিত তৃণাদি ভােজন করিতে সমর্থ হয় এবং সুস্থ চিত্ত থাকিয়া মিগ্ধ অথবা ঘনমল ত্যাগ করে, তাদৃশ মাতঙ্গকে ত্রিদোষের সাম্য নিবন্ধন ‘সমজ্যোতিঃ’ আখ্যা প্রদত্ত হইয়া থাকে। যে মাতঙ্গ কখনও পূর্বোক্ত পরিমাণে তৃণাদি ভােজন করে কখনও বা সযত্নে প্রদত্ত অতি অল্প পরিমিত তৃণাদিও ভােজন করিতে অনিচ্ছ প্রকাশ করে এবং কঠিন ও তরল এই দ্বিবিধ দুর্গন্ধযুক্ত মল ত্যাগ করে তাদৃশ মাতঙ্গকে বাত সংসর্গ নিবন্ধন বিষমজ্যোতিঃ মাতঙ্গ বলা হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, এই ত্রিবিধ মাতঙ্গের মধ্যে তীক্ষ্ণজ্যোতিঃ বারণগণ প্রভূত আহার গ্রহণ করিয়া স্বীয় দুরাকাঙ্ক্ষা বশতঃ তৃপ্ত হয় না বরং প্রচুর আহার পরিপাক নিবন্ধন মাংসল হয় এবং উহা দিগের মাংসপেশীগত বায়ু প্রায়শঃ কুপিত হইয়া থাকে। মজ্যোতি বারণগণের পাকস্থলীর শক্তি না জানিয়া পরিচারকগণ প্রায়শঃ অনিচ্ছা সত্ত্বেও উহাদিগকে প্রচুর খাদ্য ভােজন করায় এবং তাহার ফলে উহার স্থির মাংসমেদঃ সম্পন্ন ও অলস হইয়া কখনও শান্তিলাভে সমর্থ হয় না; পক্ষান্তরে সমজ্যোতিঃ বারণগণ সমােপচিত বল এবং জব সম্পন্ন ও উৎসাহশীল হইয়া থাকে এবং বিষমজ্যোতিঃ মাতঙ্গগণ, দেহস্থ বায়ুর বৈষম্য বশতঃ কখনও স্বস্থ কখনও বা অস্বস্থ অবস্থায় জীবন যাপন করে। মাতঙ্গগণের জাঠরানল ও সম মন তীক্ষ্ণ এবং বিষমভেদে চতুর্বিধ। তন্মধ্যে সমপাকী, সম বিষমপাকী বিষমমন্দপাকী মন এবং সৰ্ব্বভূক্ত পাকী তীক্ষ্ণ নামে আখ্যাত হইয়া থাকে। উহাদিগের মধ্যে তীক্ষ ও বিষম অপরিমিত ও বিষম পরিপাকি নিবন্ধন অপ্রশস্ত এবং সম ও মদ প্রশস্ত। মনের জঠরানল প্রদীপিত এবং সমের সংরক্ষিত করা কর্তব্য। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে—বিজ্ঞ চিকিৎসক বারণগণের চতুর্বিধ গ্ৰহণী শক্তি সম্যক্‌রূপে অবগত হইয়া পরে ঔষধ প্রয়ােগ করিলে সফলতা লাভে সমর্থ হইবেন।

গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ; বারণগণের চিকিৎসায় ব্রতী সুবিজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎস্যব্যাধি অভিচার । সমুথিত কিংবা দোষ সমুখিত তাহা উত্তমরূপে পরীক্ষা করিয়া পরে চিকিৎসা করিবেন। উল্লিখিত দ্বিবিধ ব্যাধির মধ্যে বাতপিত্ত ও কফের অবিমিশ্র লক্ষণ- যুক্ত ব্যাধিতে তত্তৎলক্ষণ বিদ্যমান থাকে এবং সেই সেই দোষের ( বাতপিত্ত কফের) বিকার প্রতীকার দ্বারাই তাহার প্রতীকার হইয়া থাকে । কিন্তু অভিচার জনিত ব্যাধিতে বহুররাগের লক্ষণই বর্তমান থাকে এবং যথাযথ ভাবে পুনঃ পুনঃ চিকিৎসা করিয়া ও তাহার প্রতীকার করা যায় না। তখন জপহােম পূজা প্রভৃতি শান্তি অনুষ্ঠান দ্বারা তাহার , প্রতীকার হইয়া থাকে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে—চিকিৎস্য মাতঙ্গের ব্যাধি দোষজ কিংবা অভিচারজ তাহা সম্যক্‌রূপে অবগত হইয়া যথাবিধি প্রতীকার অবলম্বন করিবে; কারণ মন্ত্রশক্তির অসাধ্য কিছুই নাই। দেবতাদিগের প্রতিকামনায় যথাবিধি যজ্ঞাদি ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করিবে, অন্যথা দেবতাগণের দারুণ ক্রোধ উপস্থিত হইতে পারে । অন্যান্য প্রাণীর চিকিৎসার ন্যায় বারণগণের চিকিৎসার সফলতা ও রােগী পরিচারক চিকিৎসক ও ভৈষজ্য এই চৰ্বিধ প্রধান অঙ্গের উপরেই নির্ভর করে। চিকিৎস্য মাতঙ্গ যদি সত্বসম্পন্ন যথাযথভাবে প্রযুক্ত শস্ত্রোপচার ঔষধ প্রয়োগ অগ্নিকৰ্ম্ম ও ক্ষারকাৰ্য্য সহিষ্ণু, চিকিৎসকের উপদেশ অনুযায়ী কার্য্যকারী এবং দীর্ঘায়ু লক্ষণযুক্ত হয় ; পরিচারক যদি প্রতিপত্তিশালী অলোভী চিকিৎসকের উপদেশানুরূপ কার্যকারী চিকিৎসার উপকরণ শস্ত্রাগ্নি ক্ষারানি রুগ্ন মাতঙ্গের নিকটে পোপন করিতে তৎপর, শস্ত্রোপচারাদি কাকালে উপস্থিত এবং স্বীয় কর্তব্য সাধনে অনলস ও নিপুণ হয় ; চিকিৎক যদি শাস্ত্রার্থ-জ্ঞান, কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞ শাদি প্রয়োগে নিপুণ ও তীক্ষ্ণধীসম্পন্ন হন এবং ভৈষজ্য বা ঔষধ যদি উপহত উপদিগ্ধ উপতপ্ত কিংবা অতি পুরাতন (বীৰ্য্যহীন) না কয় ; তাহা হইলেই চিকিৎসায় সফলতা লাভ সম্ভবপর। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে- সে তীক্ষ্ণধীসম্পন্ন চিকিৎসক পঞ্চাঙ্গ চিকিৎসা ও চতুরঙ্গ অবসান যথাযথ ভাবে অবগত আছেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। যে চিকিৎসক অব্যাকুলভাবে সকল প্রকার রােগের চিকিৎসায় প্রবৃত্ত হইতে পারেন, যাহার গৌরব ও মহল্প সাধারণের সুপরিচিত এবং যিনি উল্লিখিত পঞ্চ, সপ্ত, ত্রি, দ্বি চত্বর নব চতুর্দশ প্রভৃতি বিষয়ে অভিজ্ঞ, তিনিই শ্রেষ্ঠ ভিষ বলিয়া পরিচিত হইয়া থাকেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে ষষ্ঠ অধ্যায়। ; + ত শাস্ত্রোক্ত মারণাদি ক্রিয়া।

নবম অধ্যায়। শরীর বিচ বিধি একদা চম্পের নােমপাদ নরপতি মহাতপা ঋষিবর পালকাপ্যকে প্রণতি পূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, কিরূপে মাতগণের গর্ভ সম্ভব হয় ? গর্ভস্থ সন্তানের কোন অঙ্গই বা অগ্রে উৎপন্ন হয়? উহাদিগের দেহ মাজ কিংবা পিতৃজ? উহাদিগের দন্ত কয়টি নখ কয়টি মর্মস্থানই বা কয়টি? উহাদিগের দেহে পিত্ত শ্লেষ্ম রক্ত ও বায়ুই বা কি পরিমাণ ? মাতঙ্গদেহের কোন অংশে মাংসপেশী কোন অংশে বায়ু, কোন অংশেই বা রক্ত, পিত্ত ও গ্নে অবস্থান করে। উহাদিগের অন্ন বা আহাৰ্য্য বস্তুর পরিমাণ কি? উহাদিগের হৃদয়স্থ ক্লোমের জলবাহী শিমূলের পরিমাণ এবং ফুস্ফুসের পরিমাণই বা কত ? উহাদিগের অন্ত্রের স্বরূপ কি ? মাতগণের দেহের কোন অংশে জলই বা বিমান থাকে ? দেহের কোন অংশেইবা ক্লেম হৃদয় প্লীহা বুক ও যকৃতের অবস্থান ? কোন অংশেই মূত্রাশয় বিদ্যমান আছে এবং তাহার আকৃতিই বা কত বৃহৎ ? মাতঙ্গ শিশু গর্ভস্থ অবস্থায় আহার গ্রহণ করে কিনা? মাতঙ্গ দেহস্থ সন্ধি এবং অস্থির সংখ্যাইব। কত ? কি নিমিত্তইবা উহারা মত্ত হয় ? কি কৌশলেই উহাদিগের গান পরিক্রমণ উখান উপবেশন প্রভৃতি দৈহিক স্পন্দন সম্পন্ন হয় ? কি উপায়েই বা উহাদিগের আহার নিদ্রা প্রভৃতি সম্পন্ন হয়? কি কারণে উহাদিগের গ্রহণী প্রদীপ্ত কখনও বা নিষ্ক্রিয় হয় ? উহাদিগের কোনগুলি বাপিওাদি বাহিনী শিরা কোনগুলিই বা বসরক্তাদি বাহিনী শিরা? কি কৌশলে উহাদিগের বন্ডিদেশে মূত্র সঞ্চয় হয় ? কি কৌশলেই বা উহাদিগের মদপ্রবৃত্তি হইয়া থাকে ? কি কারণে উহাদিগের দেহস্থ রােমাবলী হইতে স্বেকাল নির্গত না হইয়া কেবল মুখ মণ্ডল হইতে ঘর্ম নিঃসৃত হয় ? হে ঋষিবর, এই মরু সাগরের মামলা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহানুভৰ গতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে নরেয়, এই স্থাবর জমা জগত সৌম্য এবং আগ্নেয় । ইহাদিগের মধ্যে শীতল এবং আর্থ ভাবাপন্ন স্থাবর ও জঙ্গম সৌম্য এবং শুক ও উষ্ণ ভাবাপন্ন স্থাবরজ তৈজস নামে খ্যাত ইয়া + ইতঃপূর্বে সপ্তম গর্ভসম্ভব এবং অষ্টম গর্ভাব কান্তি মধ্যাঙ্গানিস্তােন বােদ অনুবাদে পরিত্যক্ত হইল।

৬২ গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। থাকে। মনুষ্য গাে আজ অশ্ব মেষ-গৰ্দত অশ্বতর ' প্রভৃতি জঙ্গম বা গ্রাম্য এবং কপি গজ বরাহ শাৰ্দল মহিষ মৃগ গণ্ডার প্রভৃতি আরণ্য জঙ্গম বা প্রাণী। সেই রূপ স্থাবর সাধারণতঃ বৃক্ষ বনস্পতি গুল্ম লতা ওষধি তৃণ প্রতান বীরুধ ও গুচ্ছ এই নয় প্রধান ভাগে বিভক্ত। হে নরেশ্বর রস বীৰ্য ও পরিণাম দ্বারা স্থাবরের বিবিধ প্রকার ভেদের বিস্তীর্ণ উল্লেখ আমি যবসাধ্যায়ে করিয়াছি। হে নরনাথ, জরায়ুজ প্রাণীমাত্রের উৎপত্তি ব্যাপার যে বিচিত্র বিধানে ঘটিয়া থাকে মাতঙ্গ-দেহ সৃষ্টিতে ও তাহার কিছুমাত্র বৈলক্ষণ্য ঘটে না এবং প্রাকৃতিক বিধ'নেই শুক্ৰশােণিতের সংযােগ মাত্র তাহাতে মহাত্মা সংযুক্ত হইয়া থাকে। মানব চিন্তার অতীত অতি সূক্ষ্ম, দেহ-যন্ত্রের স্বাধীন পরিচালক উল্লিখিত মহাত্মা বা লিঙ্গ শরীরকেই জীবাত্মা আখ্যা প্রদত্ত হইয়া থাকে। উল্লিখিত জীবাত্মা সংযুক্ত শুকু শােণিত জরায়ু মধ্যে বর্ধিত হইতে থাকে। উহা সপ্তরাত্রি পর্যন্ত বর্ধিত হইলে ‘কলাল’ আখ্যা প্রাপ্ত হয় এবং দশাহ পরে উহাকেই অৰ্ব্বদ বলে। এইরূপে এক, মাসকাল পরে মাংসপেশীতে পরিণত হইয়া তন্মধ্যে হৃদযন্ত্র বা হৃদয়ের সৃষ্টি হইয়া থাকে। কেহ বলেন হৃদয়ের পূর্বে মস্তকের উৎপত্তি হয়, অপরের মতে উভয়েরই উৎপত্তি যুগপৎ সম্পন্ন হইয়া থাকে। বস্তুতঃ হৃদয় মনঃ ইন্দ্রিয়ের স্থান এবং মনঃই , স্বয়ং প্রজাপতি। এই নিমিত্ত গর্ভস্থ প্রাণীর হৃদয়ই অগ্রে উৎপন্ন হইয়া থাকে। অনন্তর ক্লোম বা পিপাসাস্থান ( জলবাহী শিরামূল উৎপন্ন হয়, তৎপরে যকৃৎ ও বুকের সৃষ্টি, তাহার পরে তিৰ্য উদ্ধ, ও অধােগামিনী শিরা সমুদয় জন্মে। অতঃপর ক্রমে শিরাসহ স্কুল অস্ত্র পৃষ্ঠবংশ জঘনদেশ বক্ষস্থল পার্শ্বদেশ উদর সৰ্বাঙ্গ কেশনােম নখ প্রভৃতির সৃষ্টি হইয়া থাকে। এইরূপে প্রাকৃতিক বিচিত্র বিধানে প্রসূতির জরায়ুমধ্যে সুষ্ট মাতঙ্গ শিশু দশম হইতে দ্বাদশ মাস, মধ্যে, ভূতলে জন্ম গ্রহণ করিয়া মাতৃস্তন্য পান করিতে করিতে বৰ্ধিত হয়। দ্বিমাস মাত্র জাত মাতলশিশু স্বভাবতঃই চপল বলিয়া তাহাকে “চপল’ আখ্যা প্রদত্ত হয়। চারিমাস কাল পর্যন্ত উহারা পানীয় মাত্র পান করিয়াই বর্ধিত হয় এবং চান্তি- মাসের পরে মাতজশিগুগণ নবতৃণ ও শবতী কর্ণিকার প্রভৃতি বৃক্ষের কোমল পল্লব ভক্ষণ করিতে আরম্ভ করে। এইরূপে আহারাদির ফলে দৈহিক উপাদান বাতপিত্ত ও কফ বৰ্দ্ধিত হইতে থাকে এবং ক্রমে স্ব স্ব ক্রিয়াদ্বারা আত্ম প্রকাশ করিতে থাকে। আহাররস দ্বারা রক্ত মাংস অস্থি মজ্জা শুক্র বল তেজঃ জব (বেগ) এ পাঞ্চভৌতিক দেহ মৃর্জিত হইতে থাকে। সাধারণতঃ অল্প ও পানীয় হইতে সঞ্চিত অম্নরস হইতে পিত্ত বর্ধিত হয়, মধুর রসদ্ধার কফ এবং কষায় রসদ্বারা শরীয় বিছয় বিধি। । বায়ু বর্ধিত হইয়া থাকে। বিবিধ রসযুক্ত দ্রব্য ভোজনের ফলে গা মাতঙ্গগণের কণ্ঠদেশে বিচরণ করিতে থাকে। পিত্ত্বের প্রভাবে উহাদিগের ভুক্তদ্রব্য পরিপাক, শ্লেগ্নের বলে উহাদিগের নিদ্রা,এবং বায়ুর স্বাভাবিক ক্রিয়ায় অঙ্গসঞ্চালন ও মল মূত্রাদির নিঃসারণ সম্পন্ন হইয়া থাকে। পার্থিব দেহের উপাদান স্বরূপ সপ্তধাতুর স্বাভাবিক সাম্য রক্ষিত হইলে উহারা নীরােগ এবং উহাদিগের বৈষম্য ঘটিলে উহারা রুগ্ন হইয়া থাকে। বারণগণের, জরায়ু রক্ত মাংস প্রভৃতি মাতৃজ এবং শুক্র মজ্জা অস্থি মেদঃ শিরা লােম ও নখ পিতৃজ বলিয়া কথিত আছে। হে নরনাথ, অনন্তর আমি, মাতঙ্গগণের দেহপঞ্জরস্থ অস্থি সন্ধি ও মম স্থান সমূহের স্বরূপও অবস্থান বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-হে অঙ্গেশ্বর, বারণগণের মন্তকে দুইখানি প্রধান অস্থি, কপালে গ্রীবাদেশে আটখানি অস্থি বিদ্যমান আছে, সগ- প্রদেশে একখানি মাত্র অস্থি এবং তাহার দক্ষিণ ও বামে দুইটি সন্ধি, সৃক প্রদেশে অস্থি দুইখানি এবং সন্ধি চারিটি। উহাদিগের মুখবিবরের উৰ্দ্ধভাগে ও মধ্য ভাগে যােলটি ক্ষুদ্রদন্ত ও দুইটি প্রধান বা প্রহারকারী দন্ত, সৰ্বসমেত অষ্টাদশ দন্ত এবং তাহার অষ্টাদশটি সন্ধি আছে। গলনালী প্রদেশে বলয়াকৃতি চতুঃষষ্টি অস্থি ও তাহার সপ্তষষ্টি সন্ধি বর্তমান আছে। তদ্ভিন্ন তলপ্ৰোহে ও তলকর্ষে এক একখানি প্রতরাস্থি। চতুষ্পদে আটখানি প্রবাস্থি এবং তাহার যােলটী সন্ধি বিদ্যমান আছে। পলিপাদ কর্ণদ্বয় পােহদ্বয় ও প্রােহ—সন্ধি সমূহে বিশংতি- খানি, গুলিকাস্থি, চরণ চতুষ্টয়ে অশীতিখানি গুলিকাস্থি, বিংশতি নখ এবং শতাধিক সন্ধি বর্তমান আছে। উহাদিগের বাহুদ্বয়ে একখানি বিশেষ অস্থি ও দেহের পূৰ্বভাগে ছয়খানি বিংশ অস্ত্র এবং তাহার ছয়টি সন্ধি বৰ্ত্তমান। দেহের পাশ্চাৎ ভাগে ও ছয়খান অস্থি এবং তাহার ছয়টি সন্ধ বদ্যমান আছে। জঘন প্রদেশের সৰ্বাংশ ব্যাপী একখানিমাত্র কপালাস্থি। তদ্ভিন্ন মাতঙ্গগণের বক্ষঃস্থলে চতুর্দশ অস্থি, এবং তাহার পঞ্চদশ সন্ধি বৰ্ত্তমান আছে। উহাদিগের পৃষ্ঠদেশে বংশ অস্থি ও একবিংশতি সন্ধি, উভয় পার্শ্বে চল্লিশখানি অস্থি এবং তাঁহার বিয়াল্লিশটি সন্ধি বিদ্যমান। উৰ্দ্ধাস্থি একবিংশতিথানি এবং তাহার সন্ধি ও এক বিংশতি উহাদিগের দেহে বর্তমান আছে। মাতঙ্গগণের লাঙ্গল বংশে ও লাঙ্গলে বিঃশতিখানি গুলিকাস্থি এবং ত্রিংশৎ সন্ধি বিদ্যমান আছে। এই- রূপে একটি পুর্ণাবয়ব বারণের দেহে তিনশত বিশখানি অস্থি এবং তিনশ । যাটটি সন্ধি বর্তমান থাকে। T গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। হে বাগিশ্রেষ্ঠ, মাতদেহস্থ শ্রেতি সমূহ বা শিরা বিশেষ । সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞাতব্য এই যে উহাদিগের শুণ্ডে একটি ও তালুদেশে দুইটি শিরা, মুখমণ্ডলে দুইটি, মেয়ে দুইটি, কটিয়ে দুইটি, কর্ণদ্বয়ে দুইটি, স্তনদ্বয়ে দুইটি, মূত্রদ্বারে একটি ও মলদ্বারে এক এই সর্বসমেত পঞ্চাশটা শ্রোতঃ বারণ :দেহে বর্তমান আছে। সেইরূপ নেত্রদ্বয়ের পদ্মরাজী, মস্তককেশ, দেহস্থ লােমাবলী এবং পুচ্ছ, লােম সমূহ অসংখ্য। মাতঙ্গগণের দেহে সর্ব সমেত সাতশত শিয়া এবং পাঁচ হাজার পাঁচ শত স্নায়ু বিদ্যমান আছে। হে নরেশ্বর, আমি ‘শিরাহ অধ্যায়ে ইহার বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করিব। হে অঙ্গনাথ, সেইরূপ মাতঙ্গগণের মলদ্বার অণ্ডকোষ হৃদয় মমড় নাভি উদর শুণ্ড প্রভৃতি অঙ্গপ্রত্যঙ্গস্থিত একশত সাত মৰ্ম্মের অবান্তর ভেদ সমূহের বিস্তৃত ব্যাখ্যা মৰ্ম সংগ্রহ অধ্যায়ে প্রদান করিব। হে নর নাথ, আমি অতঃপর দোষ বা বাতপিত্ত ও কফের স্থান সমূহ নির্দেশ করিতেছি শ্রবণ করুন-বারণগণের পর্ব সমূহ আমাশয়, বক্ষঃস্থল কণ্ঠ ও মস্তক শ্লেগের আবাস স্থল, নাভির উদ্ধৃ হৃদয়ের অধঃপিত্তের অবস্থিতিস্থান এবং পকাশ আমাশয় জঘনদেশ ও সগদ প্রভৃতি সৰ্বাগই বায়ুর আবাস বল ; কারণ বায়ুর ক্রিয়া দ্বারাই সর্বাঙ্গ স্পন্দিত হইয়া থাকে। রক্তদানে যে বায়ু অবস্থান করে তাহার নাম ‘ব্যান’ বায়ু উহা সাতিশয় বীৰ্যবান। ‘মেদ স্থানে অবস্থিত যে বায়ু, তাহার নাম ‘প্রাণ, বসাস্থানে স্থিত বায়ুর নাম উদান এবং উহার প্রেরণাতেই মাতঙ্গদেহস্থ বা সর্বাঙ্গে সঞ্চারিত হইয়া থাকে। সেইরূপ মাংসমধ্যস্থ বায়ুর নাম ‘সমান এবং অস্থি সংস্থিত বায়ুর নাম ‘অপান। এইরূপে প্রভূত শক্তিশালী বায় ব্যান উদান সমান প্রাণ ও অপান এই পঞ্চধা বিভক্ত হইয়া বারণ দেহ ধারণ করিয়া থাকে। হে নরেশ্বর, ব্যানাের ক্রিয়া দ্বারা বারণগণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্রিয়াশীল ও তাহাতে নিশীলন উন্মীলন প্রভৃতি সম্পন্ন হয়, উদান বায়ুর প্রভাবে দৈহিক শক্তির উৎপত্তি ও বিকারে উন্মাদ নােগের আবির্ভাব হইয়া থাকে, ‘সমান বানুর ক্রিয়া দ্বারা দৈহিক উপাদানের সাম্য রক্ষিত হয়, বাক্যয়ােগ নিস ক্রিয়া প্রভৃতি প্রাণ বায়ুর প্রভাবে সম্পন্ন হয় এবং ‘অপান বায়ুর ক্রিয়া দ্বারা মল মুত্রাদির নিঃসরণ মনঃপ্রাণাঙ্গপানীয় দোষ ধাতুপত। ধাতুল মুলং মলমিতালয় শুনৌ সক্তি হি ৰৈ গৈনি মােংসি সঞ্জ।

শরীর বিচয় বিধি। প্রভৃতি কাৰ্য্য সমাহিত হইয়া থাকে। তঙিন্ন বারণগণের শুণ্ডদেশে ও নেত্র- দ্বয়ের অন্তরালে সৌরতেজঃ বিদ্যমান আছে, তাহারই ফলে উহারা হর্ষাদি প্রাপ্তি ও রূপ দর্শনে সমর্থ হয়। সেইরূপ সত্ত্বগুণ উহাদিগের শ্লেষ্মস্থানে অবস্থান করে রজোগুণ বায়ুস্থানে বিদ্যমান এবং তমােণ পিত্ত স্থানে বর্তমান থাকিয়া বারণ দেহ রক্ষা করিয়া থাকে। উহারা প্রহর্ষ ও আনন্দময় ভাব হইতে স্বভাবতঃ সােমগুণ বহুল শুক্রমোচন করিয়া থাকে এবং ক্রমে দৈহিক উপাদান। স্বরূপ রস ও বীৰ্য্য হইতে, শুক্রের উৎপত্তি বা প্রবৃত্তি হইয়া থাকে। করিণীগণের আর্তব ঋতু শােণিতাদি) সেইরূপ হর্ষ সদ্ভুত কিন্তু অদৃশ্য। তাহারই ফলে উহারা অদ্ভুত গর্ভধারণ করে এবং স্বীয় গর্ভের প্রতি অদ্ভুত বিদ্বেষ ও পােষণ করিয়া থাকে। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ, বারণদেহে সাতশত পেশী বিদ্যমান আছে একথা বলিয়া থাকেন। উল্লিখিত পেশী সকল অস্থি আশ্রিত স্নায়ুবদ্ধ এবং ত্বক দ্বারা আবৃত অবস্থায় অবস্থান করে। অল্পই হউক কিংবা বহুই হউক একত্র সংবদ্ধ হিতকর মাংস সমূহকে ‘পেশী’ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। বারগণের তৃষ্ণা মৰ্ম্ম- শ্রিত, নিদ্রা কাশিত, কৰ্ম্মপ্রবৃত্তি ও অবদায় স্কন্ধদেবাশ্রিত, বপুঃ কীৰ্ত্তি ও আশা, উহাদিগের গ ইন্দ্রিয়ের অধীন উহাদিগের বুদ্ধি ও মেধা স্নায়ুবন্ধে অবস্থিত এবং প্রবল দর্প বসা ( চব্বী) অবম্বন করিয়া বিদ্যমান থাকে। পৰ্বত উহাদিগের দেহে অস্থিরূপে বৰ্তমান এবং মেরু তেজোরূপে অবস্থিত। মহাতেজঃ সম্পন্ন ‘মদ’ বা মত্ততা উহাদিগের শুক্র স্থানের অধীন, লােভ সৰ্ব্বদা শিরা সন্ধির আয়, ক প্রবৃত্তি অন্ত্রের আশ্রিত, আলস্য যকৃতের বশীভূত, আলস্য । # এবং ভয় উহাদিগের ফুস্ফুসের অধীন তদ্ভিন্ন উহাদিগের হৃদন্ত্র, বক্ষঃস্থলে বাম স্তনের নিয় প্রদেশে বর্তমান, যকৃৎ হৃদ্যন্ত্রের পার্শ্বে বিদ্যমান, ক্লোম বক্ষস্থলে অবস্থিত, প্লীহা যকৃতেরই নিকটবর্তী, স্থল অন্ত্র ও হৃদয়ের নিম্ন প্রদেশে এবং তাহার নিকটে পরস্পর সংলগ্ন আমাশয় ও পাশয় বিদ্যমান থাকিয়া বারণগণের দেহযন্ত্র পরি- চালনে সহায়তা করে। পাশয় ও আমাশয়ই প্রায় সকল রােগের আকর। শিরা ক্ষুদ্র-ছিদ্রযুক্ত গােলাকৃতি দীর্ঘ ও অপেক্ষাকৃত সবল। স্নায়ু সমূহ বন্ধাবন ঘন পৃথু ও কঙুর। বাত পিত্ত কফ রস শুরু মেদঃ রক্ত মজ্জা মাংস মল ও মূত্র এই সকলের হ্রাস বৃদ্ধি হয়, এই নিমিত্ত উহার পরিমাণ অবধারণ করা যাইতে পারেনা। বারণগণের মুত্র বস্তি ও মুস্কদ্বয় বক্ষণ দেশে অবস্থিত, মাংস অস্থি আশ্রিত, রক্ত মাংসের অনুগত, মজ্জা অস্থির অভ্যন্তরে অবস্থিত, শুক্র মজ্জাশ্রিত, * ৬৬ গজায়ু দ-সংহিতা। মেদ মাংসের আশ্রিত, শিরা মাংসেরই অধীন লােমাবলী ত্বকের উপরিভাগে জন্যে এবং ত্বক মাংস আবৃত করিয়া বিদ্যমান থাকে। হে নরশ্রেষ্ঠ, বারণগণের এই ষড়বিধ ছবী আপনার নিকটে ব্যাখ্যা করিলাম এবং ইহার আরও বিস্তৃতি মধ্যায়ে বর্ণনা করিব। হে নরেশ্বর, তত্ত্বজ্ঞদিগের মতে সত্ত্ব রজঃ ও তমঃ ভেদে বারগণের প্রকৃতি ও ত্রিবিধ। যে মাতঙ্গ মেধাবী বলবান ও উগ্র প্রকৃতি তেজস্বী, ক্ষিপ্র পরাক্রম- প্রকাশকারী, কৌতুকপ্রিয়, ক্রীড়া,পরায়ণ, সতত হৃষ্টস্বভাব, শীঘ্ৰ কাৰ্য্য আরম্ভ করিতে এবং কৃতকাৰ্য শীঘ্ন বিনষ্ট করিতে অভ্যস্ত, সৰ্ব্বদা হস্তিনীপ্রিয়, প্রভূত আহারকারী, অমিত বলশালী সাহসী নির্ভয় এবং উত্তান বেদী তাদৃশ মাতঙ্গকে রাজস মাতঙ্গ বলিয়া জানিবেন। যে মাতঙ্গকে অতিকষ্টে কিঞ্চিৎ শিক্ষা প্রদান করা যায় এবং অচিরকালমধ্যেই সে তাহা বিস্মৃত হয়, যে নিদ্রালু, এবং গৃঢ় সংজ্ঞ, তাহাকে ‘তামসপ্রকৃতিক মাতল বলিয়া জানিবেন ; পক্ষান্তরে যে মাতঙ্গ অবিলম্বে পরিচালকের সঙ্কেত গ্রহণে সমর্থ, প্রিয়দর্শন, স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন, দীর্ঘায়ু নীরােগ, প্রভূত বলশালী, সাহসী, সুসন্তান জনক, দ্রুতগামী, ধন্য, যশস্বী দীপ্তাগ্নি সু-সত্ত্ব ও স্নিগ্ধ-গম্ভীর-ধ্বনিকারী তাদৃশ মাতঙ্গকে সাত্বিক মাতঙ্গ বলিয়া জানিবেন। হে অঙ্গনাথ, অগ্ৰেই মাতঙ্গগণের শরীর ব্যাখ্যা করিয়াছি এইক্ষণে তাহার বিভাগ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। চল্লিশটি শিরার ক্রিয়াঘারা বারণদেহে প্রসারণ এবং সঙ্কোচন কার্য সম্পন্ন হইয়া থাকে। সেইরূপ চল্লিশটি শিরাদ্বারা উহাদিগের উত্থান ও উপবেশন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, ছয়শত শিরাদ্বারা উহাদিগের গতি, চল্লিশটি দ্বারা জম্ভণ (হাইতােলা), দশটি দ্বারা শুণ্ডের সাহায্য আহার গ্রাস গ্রহণ, দশটি শিরা দ্বারা প্রদেশ সঞ্চালন, দশটি দ্বারা ভক্ষণ এবং দশ দশটি দ্বারা পক ভুক্ত দ্রব্য নিগিরণ প্রভৃতি ক্রিয়া সম্পাদন করিয়া থাকে। তদ্ভিন্ন মস্তক ধারণে বিংশতিটি শিরা ক্রিয়া করে এবং গ্রীৰার পার্শ্বদেশে তিনটি করিয়া শিৱা লক্ষিত হয় ফলতঃ স্কন্ধদেশ গত দশটি শিরাই উহাদিগের শিরশ্চালনে সাহায্য করিয়া থাকে। সেইরূপ দশ দশটি শিরার ক্রিয়া দ্বারা উহাদিগের পানীয় গ্রহণ ও পরিত্যাগ, নিমেষ, উম্মেষ শ্রবণ দর্শন, গন্ধগ্রহণ প্রভৃতি জ্ঞানেন্দ্রিয়ের ক্রিয়া সকল নিষ্পন্ন হয়; কিন্তু দর্শনেন্দ্রিয়ের ক্রিয়া ছত্রিশটি শিরার সাহায্যে সম্পাদিত হইয়া থাকে। এতদ্ভিন্ন উহাদিগের গণ্ডদয়ে যে দশটী করিয়া শিরা আছে উহা বারণগণের মদস্রাব ক্রিয়ার সাহায্য করে, দশ দশটী দ্বারা উহারা কর্ণদ্বয় সঞ্চালন, ত্রিশটী দ্বারা নিশ্বাস গ্রহণ দশটী দ্বারা বৃংহণ, দশটী দ্বারা পুচ্ছ সঞ্চালন, দশটী দ্বারা শরীর বিচয় বিধি। জননেন্দ্রিয়ের সম্প্রসারণ ও সঙ্কোচন প্রভৃতি সৰ্ববিধ জননেন্দ্রিয়ের ক্রিয়া নিৰ্বাহ হয়। অভিতপ্ত হইলে বারণগণ একশত ছত্রিশটি শিরা দ্বারা বমন ও স্বে নিঃসরণ করিয়া থাকে। সেইরূপ হৃদয় হইতে মলদ্বার পর্যন্ত একশত দশটি শিরা সম্বদ্ধ দৃষ্ট হয়, তাহা দ্বারা মল ধারণ ও মলত্যাগ প্রভৃতি অন্ত্র সম্বন্ধীয় ক্রিয়া সমুদয় সম্পন্ন হয় ও দশটি দ্বারা মূত্রত্যাগ সম্পন্ন হয় । পাশয় গত চতুর্দশটি শিরা দ্বারা বাত বহন গ্রহনী দীপন প্রভৃতি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন দশ দশটি দ্বারা পিত্ত ও শ্লেষ্মের সঞ্চার এবং অঙ্গসন্ধি সমূহে নিবদ্ধ শিরাশ্রেণীদ্বারা নদী উত্তরণ পর্বতাদি লজ্যন প্রভৃতি নিষ্পন্ন হয়। উল্লিখিত শিরা সমূহ প্রায়শঃ চতুর্বিংশতি সংখ্যকই দৃষ্ট হইয়া থাকে। হৃদয়দেশ হইতে জিহ্বা পৰ্যন্ত যে দশটি রসবহ সূক্ষ্ম শিরা বিদ্যমান আছে তদ্বারা বারণগণ তিক্ত মধুর প্রভৃতি রসগ্রহণ করিয়া থাকে এবং পকাশয় নিবন্ধ চতুর্দশটি শিরা দ্বারা উহাদিগের অপনয়র ক্রিয়া নিষ্পন্ন হইয়া থাকে । হে অঙ্গেশ্বর, পাদপ যেমন লতা সমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, মাতঙ্গ দেহও তেমনি শিরাজালে সমাবৃত ; কেবল হস্তিনী সম্বন্ধে বিশেষ এই যে উহাদিগের প্রত্যেক স্তনে অধিক দশটি করিয়া ক্ষৗরব শিরা বিদ্যমান আছে। হে অঙ্গনাথ, ইহাই মাতঙ্গগণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গস্থ শিৱজ্ঞান বিধি। হে নরনাথ, অনন্তর মাতঙ্গগণের অঙ্গ সন্ধিসমূহের বিষয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-বারণগণের প্রত্যেক চরণে দ্বাবিংশতিটী করিয়া সন্ধি বৰ্তমান আছে ; পােহ সন্দান ভাগ ও পলিহন্তে চতুর্দশটি সন্ধি বিদ্যমান থাকিয়া উহাদিগের দেহ যন্ত্র পরিচালনে সাহায্য করিয়া থাকে। সেই প্রকার চরণে অপস্কার ভাগে বিক্ষোভজ্বয়ে এবং প্রতিমানে চতুর্দশটি সন্ধি বৰ্তমান আছে। সেইরূপ পুচ্ছে সকটিকা প্রদেশে ঊরুদেশেও চতুর্দশটি সন্ধি বিদ্যমান আছে। মণ্ডুক্যন্তর সন্ধিতে এবং অষ্টীব্য প্রদেশে বিংশতিটী সন্ধি বৰ্তমান। আয়াস কাণ্ডে ও শুনানুসার পুংচিত্নে এবং মুদ্ধে নব্বই সন্ধি। ভুজমূলে প্রত্যগংশে এবং অংশ ফলকে বিংশতিটী সন্ধি বিদ্যমান। পুকরের অবগ্রহ প্রদেশে নির্মাণ ভাগে শ্রবণদয়ে ঈষিকাষের মধ্যভাগে এবং কুম্ভে দুইশত চতুর্দশটী সখি বৰ্তমান আছে। কটদ্বয়ে নেত্রান্তে প্রত্যেকে এক একটী করিয়া সন্ধি। শুণ্ডের যে অংশ বৃহৎ দন্তদ্বয়কে স্পর্শ করিয়াছে উক্ত অংশে বত্রিশটি সন্ধি আছে। উহাদিগের বক্ষঃস্থলে দ্বাদশী এবং মুখমণ্ডলে ত্রিশটী সন্ধি বর্তমান আছে। সগদা প্রদেশে মােলটি দশন' সন্ধি বিদ্যমান আছে। বারণগণের জিহ্বাতে তিনটী এবং কুম্ভদেশে এয়ােদশটি সন্ধি বর্তমান আছে। আসন প্রদেশে বংশদেশে তৎপিলে পশ্চিমাসনে এবং অপর ৬৮ গজায়ুৰ্বেদ-সংহিত। বংশে বত্রিশটা সন্ধি অাছে। জঘনস্থিত অস্থিভাগে এবং উৎকৃষ্ট কলয়ে বত্রিশটা সন্ধি বিদ্যমান। লাঙ্গল বংশে ও লাঙ্গলে বত্রিশটি মলদ্বার ও মূত্র দ্বারে বিংশতিটি সন্ধি আছে। বারণগণের গ্রীবা সঞ্চালন আহার গ্রহণ উপবেশন শয়ন অবস্থান প্রভুকাৰ্য্য সম্পাদনে প্রায় ছয়শত অঙ্গ সন্ধি ক্রিয়া করিয়া থাকে। মাতঙ্গগণের পলিহস্ত কুৰ্ম্ম প্রােহ সন্দান ও অপস্কার প্রদেশে ‘কোশ’ নামক সন্ধি বিদ্যমান, বাহুদ্বয়ে (ভুজমূলদ্বয়ে) পদ্যাভাগে গ্রন্থিতে সকটিকা প্রদেশে উৎকৃষ্ট এবং মণ্ডুকী প্রদেশে ‘সমুদগ’ নামক সন্ধি বর্তমান আছে। লাঙ্গল বংশে লাঙ্গুলে জঘনে স্থিদেশদ্বয়ে এবং কলাভাগে ‘উলুখল’ সামক সন্ধি বিদ্যমান। সেইরূপ বিতানে শ্রবণদ্বয়ে বিয়ে. কুম্ভান্তরে নির্যাণভাগে কটী সন্ধিতে মস্তকে মস্তক পিণ্ড- দ্বয়ে ঈশিকাগ্রে ও কুম্ভে ‘তুণসীবণ’ নামক সন্ধি বর্তমান আছে। কপালে ( চিবুকে সৃপ্রদেশে এবং সগদ প্রদেশে বায়সতুণ্ড নামক সন্ধি বৰ্তমান আছে। নেত্ৰদ্বয়ের বত্মপ্রদেশে অপাঙ্গে মলদ্বার প্রান্তে বদনে অক্ষিকুটে কণ্ঠে এবং ক্লোম প্রভৃতিস্থানে মণ্ডল’ নামক সন্ধি বিদ্যমান। শহুকে প্রতিমানে বাহিত্রে দম্ভবেষ্টদ্বয়ে শঙ্খবর্তে এবং নাসারন্ধে, শৃঙ্গাট’ নামে সন্ধি বিদ্যমান আছে। হে নরনাথ, ইহাই মাতঙ্গ দেহস্থ সন্ধি সমুদয় বর্ণিত হইল অতঃপর স্নায়ু মণ্ডলের বিষয় বর্ণনা করিব শ্রবণ বারণগণের বক্ষঃপ্রদেশে অটিটি স্নায়ু বিদ্যমান আছে বালপুরে চারিটি, এক এক চরণে কুড়িটি করিয়া স্নায়ু মুঙ্কে পুংচিত্নে উদরে ও মলদ্বারে অষ্টাবিংশতি স্নায়ু বৰ্তমান আছে। মাতঙ্গ দেহে এতদ্ভিন্ন আরও পঞ্চদশটি মহাস্নায়ু বা প্রধান স্নায়ু আছে-তন্মধ্যে সাতটী দেহের উদ্ধভাগে, ছয়টি অধােভাগে এবং দুইটি পার্শ্ব দেশে তিগুভাবে প্রসারিত হইয়া থাকে। ভূতল যেমন জল প্রণালী সমূহদ্বারা আস্তৃত বারণ দেহও তেমনি স্নায়ুমণ্ডলীদ্বারা ব্যাপ্ত এবং এই নিমিত্তই সৰ্বাঙ্গ ব্যাপী স্নায়ুমণ্ডলী যখন বিকার গ্রস্ত কফপিত্ত ও বায়ুদ্বারা দূষিত হয় তখনই বারণগণ রােগাক্রান্ত হইয়া থাকে। তনন্তর বারণগণের একশত সাতটী মৰ্ম্মের বিষয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- ইতঃপূৰ্ব্বে প্রদেশ সংগ্রহ অধ্যায়ে আমি তাহা যথাশাস্ত্র স্থূলভাবে বর্ণনা করিয়াছি। দেহের যে সকল অংশ দৃষ্ট বিদ্ধ কিংবা তাড়িত হইলে বারণগণ শীঘ্রই হউক কিবা বিলম্বেই হউক বিনাশ প্রাপ্ত হয় অন্তত বিকলাঙ্গ হয়, অস্থি স্নায়ু শিরা সন্ধি ও ধমনীর সেই সকল সম্মেলন স্থানকেই মৰ্ম্ম বলে। বাণগণের মর্ম সমূহ বায়েব আগ্নেয় সৌম্য ও মিশ্র এই চারি প্রধান ভাগে বিভক্ত। তত্তৎ মৰ্ম্ম প্রদেশস্থ পঞ্চ শরীর বিচয় নিধি। মহাত ও তত্ত্বগুণ যুক্তই হইয়া থাকে । ভূতগণের মধ্যে অগ্নিই সর্বাপেক্ষা অশুকারী এই নিমিত্ত আগ্নেয় মৰ্ম্মে বিদ্ধ হইবা মাত্রই বারণগণ প্রাণত্যাগ করিতে বাধ্য হয়। সৌম্য ও আগ্নেয় গুণযুক্ত মৰ্ম্ম বিদ্ধ হইলে কিয়ৎকাল পরে বারণগণ প্রাণত্যাগ করে। সেইরূপ বা স্বাত্মক মৰ্ম্ম বিদ্ধ হইলে সেই মর্মাশ্রিত প্রদেশে বায়ুর গতিরােধ হয় বটে কিন্তু বিদ্ধ মাতঙ্গ প্রাণত্যাগ করে না পক্ষান্তরে তাদৃশ মৰ্মে বিমান শল্য উদ্ধৃত হইবামাত্র সে প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে। অতঃপর বারণদেহস্থ মাংসপেশী সমূহের অবস্থিতি বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ-বারণগণের কুম্ভহলে ও প্ৰােহে পাঁচটি পেশী বিদ্যমান আছে। উহাদিগের বাহুদ্বয়ের অন্তরাল প্রদেশে, অপঙ্কারে এব’ ভুজমূল অংসফলকে যথাক্রমে তিন ছয় ও একটি মাংসপেশী বিদ্যমান আছে তিনশত চৌষট্টিটি মাসপেশী বাণর দেহের পশ্চাদ্ভাগ ধারণ করিয়া রাখিয়াছে মাতঙ্গগণের পৃষ্ঠদেশে একটি মাত্র মাংসপেশী প্রধান অপর আরও কতিপয় পেশী সীবনী আশ্রিত করিয়া আছে তিনটি মাংসপেণ উহাদিগের অণ্ডকোষ অাশ্রয় করিয়া থাকে এবং তিষাটিটি মাংস পেশী উহাদিগের জঘা আবৃত করিয়া রাখে। উহাদিগের উভয় পার্শ্বে পঞ্চাশটি পেশী এবং বক্ষঃস্থলে বিংশতিটি পেশী বিদ্যমান আছে। উহাদিগের নাভিদেশে একটি, লাঙ্গলে পাঁচটি, চিবুকদ্বয়ে আটটা; কর্ণদ্বয়ে দুইটি এবং গণ্ডদ্বয়ে দশটা মাংসপেশা বর্তমান থাকিয়া মাতগণের দেহ ধারণে সামর্থ্য প্রদান করে। সেইরূপ মস্তক নির্যাণ প্রভৃতি প্রদেশে চতুঃষষ্টিটা, জিহবায় একটা তালুদেশে দুইটি মাংসপেশী বর্তমান আছে। মাতঙ্গ অপেক্ষা হস্তিনীর দেহে ত্রিশটি মাংসপেশী অধিক। উহাদিগের স্তনদ্বয়ে দশটি, জননেন্দ্রিয়ে দ্বাদশটি, গর্ভাশরে আটটি বিদ্যমান। বারণ- দেহের অভ্যন্তরস্থ ও বহিঃস্থ মাংসপেশী সকল সাধারণতঃ চতুরস্ত্র বৃত্ত ও স্র ( ত্রিশিরা) এই তিন প্রধান ভাগে বিভক্ত হইতে পারে এবং উহারা পরস্পর পরস্পরের আশ্রিত। উহাদিগের জিহবামূল হইতে ‘গােরনাল’ ও ‘গলনালী’ নামে দুইটি প্রণালী আছে। তন্মধ্যে গােরনালদ্বারা আহাৰ্য বস্তু আমাশয়ে প্রবেশ করে এবং আমাশয় হইতে পকাশয়ে গমন করিয়া তথা হইতে ‘মল’রূপে স্কুলান্ত্রে গমন করে। উল্লিখিত স্কুলান্ত্রের পরিমাণ বিংশতি ব্যাম। হে নরেশ্বর, ' মাতগণের কালেয় প্লীহা: যকৃত ফুসফুস্ ও বুদ্বয় । এ সকলই হৃদয় প্রদেশে অবস্থিত। বারণ- গণের শুও ও পুংচিহ্ন এক প্রকার স্নায়ুদ্বারাই নির্মিত। তদ্ভিন্ন বারণদেহে + ত যথা—মেদঃ শােণিতয়াের সারাৎ বুয়ােযুর্গলংভবেৎ। তুতে ষ্টিকরে প্রােক্তৌ জঠর মেদস। । * গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। পঞ্চদশটি ছিদ্রও বিদ্যমান আছে দুইটি কর্ণদ্বয়ে, দুইটি কটপ্রদেশে, তালুপ্রদেশে দুইটি, শুণ্ডে দুইটি, নেদ্বয়ে দুইটি, শুনাগ্রে দুইটি, মুখে একটি, মলদ্বারে একটি, এবং প্রস্রাবদ্বারে একটি বিদ্যমান থাকিয়া বারণগণের দেহরক্ষার উপযােগী জিয়া সমুদয় সম্পাদন করিয়া থাকে। অপরাপর প্রাণিদেহের ন্যায় বারণদেহেও সপ্তবিধ ছবি বিদ্যমান-লােমাবলী যাহার উপরিভাগে বিদ্যমান থাকে তাহাই উহার প্রথম ছবী, চৰ্ম্ম দ্বিতীয় ছবী, রক্ত তৃতীয় ছবী, মাংস চতুর্থ ছবী নামে অভিহিত হইয়া থাকে। মাতঙ্গদেহস্থ লােমাবলী অসংখ্য। কোন কোন প্রবীণ গজায়ুৰ্বেদ তত্ত্বজ্ঞ তাহার সংখ্যা অবগত থাকিতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ মাতঙ্গ দেহের পরিমাণ পূৰ্বেই উল্লিখিত হইয়াছে। বারণগণের নেত্রদয়ের দৃষ্টিভাগ জল ও তেজোময় এবং সপ্ত পটল বিশিষ্ট। বারণগণের দেহ সপধাতুময়। চতুর্বিধ আহার ওষধি সমুদয়ের রস মথাক্রমে আমাশয় ও পকাশয়ে প্রবেশ লাভ করিয়া দেহস্থ তেজোদ্বারা পক এবং কোষ্ঠাশ্রিত বায়ুদ্বারা পরিচালিত হইয়া বারণদেহস্থ রসবহ স্কুল শির সমূহদ্বারা স্থানান্তরিত হয় এবং উক্ত আহার-রসই যথাক্রমে রক্ত মাংস মেনঃ অস্থি মজ্জা ও শুক্রে পরিণত হইয়া স্ব স্ব স্থান পূরণ করিয়া থাকে এবং ষড়বিধ স্থান প্রাপ্ত হইয়াই উহারা স্ব স্ব স্বাভাবিক প্রভাব লাভে সমর্থ হইয়া থাকে। আহারের অসার অংশই মল, মল মলাধারে সঞ্চিত হয় এবং তার অধোভাগে কটিদেশস্থ এক দ্বারযুক্ত অধােমুখ বস্তি, প্রদেশে পান আহারের তরল অসার অংশ সঞ্চিত হয়, উহাই ‘মূত্র’ আখ্যা পাইয়া থাকে। যে প্রণালীতে নিঝর বারি হ্রদ মধ্যে সঞ্চিত হয় সেইরূপ সমান বায়ুর প্রভাবে আহার ও পানীয়ের তরল সুকণা সমুদয় বস্তিদেশে সঞ্চিত হইয়া থাকে এবং অপান বায়ুর ক্রিয়াধারা নিঃসৃত হয়। ভাগ্যবিপর্যয় বশতঃ উল্লিখিত অপান বায়ুর বিকার ঘটিলে বস্তি প্রদেশে তীব্র বেদনা অনুভূত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, এই আপনার নিকটে মাতঙ্গগণের দেহযন্ত্রের বিষয় আদ্যোপান্ত বর্ণনা করিলাম। নিপুণ শিল্পীর কৌশলে মৃত্তিকা কাষ্ঠ লােষ্ট্র প্রভৃতি দ্বারা যেমন রম্য গৃহ নির্মিত হয় তেমনই এই মাতঙ্গদেহও মাংস স্নায়ু অস্থি প্রভৃতিদ্বারা নির্মিত হইয়া বিশ্বশিল্পীর অপূৰ্ব শিল্প-কৌশল ঘােষণা করিতেছে। মাতঙ্গগণ, শৌৰ্য আভিজাত্য মদমত্ত হস্তীর কংশে জন্ম হর্ষ পরিণাম, স্বভাব, সাপ, পুষ্টি ব্যাধি এবং বিশিষ্ট আহার প্রভৃতি কারণে মত্ত হইয়া থাকে। স্বভাবতঃ উদ্দীপন গুণ সম্পন্ন কফ পিত্ত রক্ত মাংস ও মেদঃ পরস্পরের প্রভাবে বিকৃত হইয়া কটিচ্ছিদ্রে উপস্থিত হয় এবং উল্লিখিত বিকার প্রভাবে সৌম্যাগ্নেয় বীৰ্য্য উদ্ৰিক্ত হইয়া দেহস্থ বায়ুর ক্রিয়াদ্ধার।

শরীর বিচয় বিধি। ৭১ কটকণ্ঠ পুংচিহু প্রভৃতি হইতে সুগন্ধি স্বেজলের ন্যায় নির্গত হইয়া থাকে। যেমন চন্দ্রকান্ত প্রভৃতি শিলা ভেদ করিয়া জলবিন্দু সমুদয় নির্গত হয় তেমনাই মাতঙ্গগণের বদনমণ্ডল হইতে মদবিন্দু সমূহ নিঃসৃত হইয়া থাকে। অন্যান্য প্রণীর যেমন সৰ্বাঙ্গস্থিত লােমকুপ হইতে ঘৰ্ম্মজল নির্গত হয়, বারণগণের সেরূপ হয় না, কারণ মাতঙ্গদেহস্থ স্বেদবহা শিরা সমুদয় উহাদিগেং বদনমগুলে ই প্রকটিত হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত উহাদিগের ঘৰ্ম্মবিন্দু সমৃদয়ও মুখমণ্ডলেই উদ্ভূত হইয়া থাকে । হে মহারাজ, হস্তী দন্তী গজ নাগ মাতঙ্গ কুঞ্জুর করী ইভ মতাজ বারণ দ্বিরদ দ্বিপ মুগ সামজ অনেকপ এই পঞ্চদশ অধ্যায় বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ মাতঙ্গদিগকে অভিহিত করিয়া থাকেন। হে নরনাথ, সে কারণে বিশ্বস্রষ্টার এই সৃষ্টিরাজ্যে একপদ দ্বিপদ বহুপদ প্রভৃতি নানাবিধ আকৃতি যুক্ত বিবিধ জ্ঞান গতি ক্রিয়াশীল প্রাণি সমুদয় স্বভাবতঃই পরস্পর বিসদৃশ লক্ষিত হয় সেইগুঢ় কারণ বশতঃই বারণগণ ও অপর কোনও প্রকার প্রাণীই সুসদৃশ নহে। অপরাপর প্রাণীর স্বেদবিন্দুসকল শরীরের বহির্ভাগে প্রকটিত, মাতঙ্গগণের স্বেণ বা ঘর্মবিন্দু সমুদয় দেহের অভ্যন্তরে প্রকাশিত, অপর প্রাণীৰ মুষ্ক স্পষ্ট দৃশ্য উহাদিগের প্রচ্ছন্ন, অন্য প্রাণীর আত্মরক্ষাৰ্থ শৃঙ্গমস্তকে উহাদিগের মুখে। সুতরাং স্বভাব যােগ্যতা প্রভৃতি কোনও বিষয়েই বারণগণ অন্য প্রাণীর সদৃশ নহে। স্বয়ং প্রজাপতি ব্যতীত অপর কোনও ব্যক্তিই এই সৃষ্টি-বৈচিত্রের রহস্য পরিত নহে। বস্তুতঃ বারণ- গণের উৎপত্তি তত্ব কৰ্ম্ম বিজ্ঞান শরীর-বিচয়, বল আয়ু আরোগ্য প্রভৃতির যথার্থ তথ্য সমুদয় সম্বন্ধে কোনও মতামত প্রকাশ করিতে হইলে বিজ্ঞচিকিৎসকগণ শাস্ত্র ও যুক্তির আশ্রয় গ্রহণপূর্বক করিবেন। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য ইহা বলিয়া গিয়াছেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহা প্রবচনে শল্যস্থানে নবম অধ্যায়।

দশম অধ্যায়। শাগ্নি প্রণিধান বিধি একদা মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন- হে নরনাথ, যে সুখবিহার যােগ্য সমতল প্রদেশের অনতি দূরে স্বচ্ছ সলিলপূর্ণ জলাশয় বিদ্যমান থাকে তাদৃশ দেশে সুদৃঢ় স্তম্ভে রুগ্ন মাতঙ্গকে উত্তমরূপে বন্ধন করিতে হইবে; কিন্তু বন্ধনের পূর্বে তাহার বিশ্বাস উৎপাদন করা একান্ত বিধেয় । তাহার অনতিদুরে জলপূর্ণ উদক কুন্ত এবং প্রজ্জ্বলিত অনল স্থাপন করিতে হইবে। চিকিৎসকের অনতিদুরে বাশ কুঠার প্রভৃতি শস্ত্র এবং আধার, তাপিকা, দৰ্ব্ব ( হাতা), বিবিধ প্রকার শস্ত্র ও রক্ত নিরােধের নিমিত্ত অধােলিখিত ঔষধ সমুদয় স্থাপন করা বিধেয় । রক্ত নিরােধক ঔষধ যথা ;- সূক্ষ্ম চর্ণ ১) ম a ১। সমতা ছাল ( বরাই ক্লান্ত ) ১৩। শুকগোময়ের সূক্ষ্ম চর্ণ সূক্ষ্ম চুর্ণ ১৪। ধূলি ২। বদরী ছাল ১৫। অঞ্জুন (কাজল) ৩। বট, অশ্বথ, পাকুড়, প্লক্ষ ও যজ্ঞ এবেক ডুমুর ছাল চূর্ণ সমভাগ ১৭। ধূনা ৪। আমলকী ছাল ১৮। অরিমেদ নির্যাস ৫। অশ্বকর্ণ ছাল ১৯। পলাশ নিৰ্যাস ৬। যষ্টিমধু ২। গুগগুল ৭। ধব (ঝাউ } ছাল ২১। যবের ৮। প্রিয় ২২। মুগের ২৩। দগ্ধ কপালের ( চাড়া চর্ণ ), ১০। পতঙ্গ (বকম কাঠ ২৪। মহানিম্ব বৃক্ষের অঙ্গার (সূক্ষ্মচর্ণ) ১১। গৈরিক ২৫। ক্ষৌম বস্তু ভন্মসূক্ষ্ম ১২। বরুণ ভস্ম ( বর্ণা গাছ পােড়া ছাই । তদ্ভিন্ন নির্বাপণার্থ ঔষধ সমুদয়ও সংগ্রহ করিয়া রাখা কর্তব্য। বিজ্ঞ চিকিৎসক শস্ত্র সমুদয়ের শােধন করিয়া অগ্নিতে আহুতি প্রদান ও ব্রাহ্মণগণদ্বার। স্বস্তি বাচন পূর্বক আজ শেষ ও পূত সলিলদ্বার প্রেক্ষণ করিবেন এবং সবিশেষ . গ শস্ত্রাগ্নি প্রণিধান বিধি। বিচার বুদ্ধি সহকারে শস্ত্র প্রয়ােগে প্রবৃত্ত হইবেন। শস্ত্রপ্রয়ােগ কালে বহিলক্ষণ দ্বারা ব্রণের স্বরূপ অবধারণ পুর্বক স্থির-দৃষ্টি-চিত্ত, উত্তমস্থানে অনুবিগ্নভাবে অবস্থিত হইয়া চিকিৎসায় স্নায়ু সন্ধি শিরা মৰ্ম্ম রক্ষা করতঃ অস্ত্রপ্রয়ােগ করিবেন। হে নরেশ্বর; মাতঙ্গগণের ব্রণের সমধিক ছেদনে যে রূপ অনিষ্টের আশঙ্কা অল্প ছেদনেও তেমনি যথেষ্ট অনিষ্টের সম্ভাবনা আছে। ব্ৰণ অসম্পূর্ণরূপে বিদীর্ণ করা হইলে উহা হইতে পূয়াদি দূষিত পদার্থ সমুদয় সম্পূর্ণরূপে নিঃসৃত হইতে পারে না এবং তাহার ফলে পার্শ্বে, নিম্নে বা উদ্ধদিকে চৰ্ম্মের নিয়ে ব্রণ প্রসারিত হইতে থাকে ; সুতরাং যাহাতে বিশুদ্ধ রক্ত পাত না হয় তাদৃশ ভাবে ব্রণের ত্রিপাদ বা তিন চতুর্থাংশ পর্যন্ত ছেদন করা কর্তব্য। অবশিষ্ট একপাদ বা এক চতুর্থাংশ আকৃতির গুণ দোষ প্রভৃতির বিচার পূর্বক ঔষধদ্বারপূর্ণ করিয়া রাখিবেন। ব্রণ আয়তই হউক চতুরই হউক কিংবা বৃত্তই হউক দূষিত পূয়াদি স্রাবের সুবিধার প্রতিলক্ষ্য রাখিয়া ব্রণমুখ অপােদিকে রাখা আবশ্যক। যে স্থানে অঙ্গুলির প্রবেশ সম্ভবপর নহে কেবল এষণীদ্বারা কাৰ্য্য করিতে হইবে অথবা যে ব্রণ মৰ্ম্মস্থানজাত তাহাতে শন্ত্রপাত কখনও কর্তব্য নহে। পিত্তদুষ্ট ব্ৰণ স্রাব রহিত কিংবা পীতবর্ণ হয় এবং উহাতে সন্তাপ বিদ্যমান থাকে, শ্লেষ্ম-দূষিত ব্রণের বিশেষ লক্ষণ এই যে উহা হইতে প্রভূত পরিমাণ পাণ্ডুবর্ণ পিচ্ছিল স্রাব নির্গত হইয়া থাকে পক্ষান্তরে বাতদূষিত ব্রণের স্রাব অল্পপরিমিত ফেণিল ও কৃষ্ণাভ হইয়া থাকে। সকল প্রকার ব্রণের ছেদন বেধন লেখন সীবন ও বন্ধন কালে যাহাতে পূৰ্বসঞ্চিত দূষিত পূয় রক্তাদি সম্পূর্ণরূপে নিঃসারিত করা হয় তাহার প্রতি সবিশেষ লক্ষ্য থাকা আবশ্যক অন্যথা তারা দেহস্থ বায়ু দুষিত হইয়া থাকে। ইন্দ্রগােপ কীটের সদৃশবর্ণ যুক্ত রক্তই বারণগণের স্বাভাবিক রক্ত ; স্বাভাবিক রক্তস্রাব হইতে দেখিলে তৎক্ষণাৎ নিবৃত্ত হইবে। পক্ষান্তরে যখন নির্দোষ রক্তস্রাব হইতে দেখিৰে তখনই পূৰ্বোল্লিখিত চূর্ণ ভস্ম প্রভৃতিদ্বারা তাহা রুদ্ধ করিবে। এই ব্যবচ্ছেদের পরে রুগ্নমাতঙ্গকে নির্দোষ সুশীতল বিস্তীর্ণ স্থানে স্থাপন করিবে। উহাদিগকে লবণ ও অম্নরসযুক্ত কিংবা উষ্ণ ভক্ষ্য ভোজ্য পানীয় প্রদান করা কর্তব্য নহে, এমন কি কিয়ৎকালের নিমিত্ত সর্ববিধ পান ও আহার নিষিদ্ধ কারণ পান ভােজন হস্তিণী স্পর্শ উচ্চ শব্দ করা প্রভৃতি কারণে স্থাপিত রক্ত পুনঃ প্রবৃত্ত হইতে পারে। সেইরূপ ক্রোধ ও ভয় হইলেও পুনরায় রক্ত প্রবৃত্তির সম্ভাবনা, এই নিমিত্ত যাহাতে উহাদিগের ভয় বা ক্রোধের উদ্রেক না হয় তাহার ৭৪ গজায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। বিধান করা একান্ত কর্তব্য ; বরং শীতল জলসেক কিংবা অপােলিখিত সুশীতল প্রলেপ ব্যবহার করিলে অভীষ্ট লাভের সম্ভাবনা থাকে। প্রলেপ দ্রব্য যথা— ১। নল মূল ২। বেতস মূল ৩। পদ্ম মৃণাল ৪। পদ্ম ৯। অনন্ত মুল ৬। পদ্মকাষ্ট্র ৭। উশীর ৮। মঞ্জিয়া । উৎপল এই দশবিধ দ্রব্য শীতল জলে উত্তমরূপে বাটিয়া প্রলেপ দিতে হয়। আর্জ বস্ত্র দ্বার। সৰ্বাজ আবৃত করিয়া ব্যজন করিলেও বাতি ফল লাভ হইতে পারে। যদি উল্লিখিত প্রক্রিয়াধারা শশাণিত নিবৃত্তি না হয় তাহা হইলে বিজ্ঞ চিকিৎসক সাবধান হইয়া যথাবিধি অগ্নি কৰ্ম্ম সমাধা করিয়া মােম + মিশ্রিত বৃত তৈল বসা প্রদান করিলে রক্ত নিবৃত্তি হইয়া থাকে। বারণগণের হিতৈষী বিজ্ঞচিকিৎসক, অন্ত রােগাভিভূত, হতমৰ্ম্ম, ক্ষীণকায়, অনির্বাপিতশল্য, তৃষ্ণার্ত মূচ্ছিত, সদ্যঃব্ৰণযুক্ত আতপাদি সন্তপ্ত ও অরগ্রস্ত অবস্থায় বারণগণের “অগ্নিকৰ্ম্ম” করিবেন না। হে নরনাথ, ব্রণ ব্যবচ্ছেদ-দোষে বারণগণের সংক্ষোভ পাতা শােণিতের আঁতিপ্রবৃত্তি কম্প স্তম্ভ এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও ঘটিতে পারে। তদ্ভিন্ন মৰ্ম্ম এবং সন্ধিচ্ছেদেও বারণগণের মুত্যু অনিবার্য। বৃক্ষ যেমন মূল স্কন্ধ ও শাখাস্বরূপ মাতঙ্গ দেহ ও তেমনি শিরায়ু অস্থিমাংস ও ত্বক সমষ্টি মাত্র এবং গৃহ মধ্যে মূর্তির ন্যায় তাদৃশ দেহমধ্যে বারণাত্মা বিদ্যমান। প্রাণাদি পঞ্চ বায়ু দ্বারা আবৃত আত্মা ই তাদৃশ দেহ ধারণ করিয়া থাকে। প্রাণাদি পঞ্চবায়ু মৰ্মাশ্রিত এই নিমিত্ত শাস্ত্রজ্ঞ চিকিৎসক মৰ্ম্মদেশ রক্ষাপূৰ্ব্বক শস্ত্র প্রয়ােগ করিবেন। হে অনাথ, ইহাই শস্ত্রোপচারে অবশ্য জ্ঞাতব্য বিষয় সমূহ। অনন্তর মাতঙ্গগণের ব্ৰণে অগ্নিপ্রয়ােগ বিধান বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন— সন্ধিগত, মলমুত্র দ্বারাশ্রিত কিংবা শিরা অস্থি মৰ্ম্মধমণী কোষ্ঠ ও কণ্ঠ আশ্রিত ব্ৰণে কখন ও অগ্নি প্রয়ােগ বিধেয় নহে। মােহাভিভূত চিকিৎসক তাদৃশ ব্রণে অগ্নি প্রয়ােগ করিলে রুগ্ন মাতঙ্গের প্রাণ ‘বিয়ােগ অন্তত অঙ্গ বৈকল্য অবশ্যম্ভাবী পক্ষান্তরে যে সকল ব্ৰণ উৎপত্তি অবস্থাতেই ক্লেশপ্রদ এবং পরেও পুনঃ পুনঃ ৫ মােম মৌমাছি কৃত।

শাগ্নি প্রণিধান বিধি। ৭৫ দূষিত হয়, পিটকাযুক্ত নাড়ীজাত ব্রণ, কৃমিদুষ্ট ব্রণ, প্রভূত স্রাবযুক্ত উৎস মাংস গম্ভীর ব্রণ, শক রাচিত ব্রণ, নীলাবচ্ছিন্ন মাংসযুক্ত ব্রণ, বল মীকাকৃতি ব্রণ, মাংস- শশাষী ব্ৰণ এবং যে ব্রণের প্রান্তভাগ স্ফীত এই সকল ব্ৰণে যথাবিধি অগ্নিকন্ম, একান্ত কর্তব্য। অগ্নিকৰ্ম্ম দ্বারা ব্রণের স্ফীত ভাব তিরোহিত হয় এবং শুষ্ক ভাব উৎপাদন করে সুতরাং অগ্নিকে একাধারে ব্রণ সংশোধক ও ব্রণ বােপক বলা যাইতে পারে। সুতরাং অগ্নি কৰ্ম্মের গুণ অশোবিধ, এইনিমিত্ত বারণগণের হিতকামনায় অভিজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়ােজন বােধ করিলে অগ্নিকৰ্ম্ম করিবেন। যেরূপ দাহ করিলে ব্ৰণ কপােতবর্ণ সঙ্কুচিত রুক্ষ এবং স্রাব ও বেদনা বিহীন হয় তাহাকেই সম্যগদগ্ধ বলিয়া জানিবেন; পক্ষান্তরে দাহের পরে ও যে ব্রণের স্নিগ্ধভাব হিরােহিত না হয় এবং যাহা হইতে পূৰ্ব্ববৎ স্রাব হইতে থাকে, তাহা দুৰ্দগ্ধ বলিয়া অবগত হইতে হইবে এবং অবিলম্বে তাহার পুমৰ্দাহ অবশ্য কর্তব্য। ব্রণ অতি দগ্ধ হইলে অত্যন্ত জর, শিয়ােঘূর্ণন মূচ্ছ, তৃষ্ণা, মুখশােষ, ব্রণ গভীর, ক্লেশপ্রদ ও শীর্ণমাংস যুক্ত হইয়া থাকে। অতিরিক্তদাহে উল্লিখিত দারুণ দোষ সকল ঘটিয়া থাকে এই নিমিত্ত শীতল জলসেক ও পূৰ্বোল্লিখিত সুশীতল প্রলেপ প্রদান করা কর্তব্য এবং দ্বিণীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত বিধানে ব্রণের চিকিৎসা করা বিধেয়। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য ইহা বলিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে দশম অধ্যায়।

একাদশ অধ্যায়। যবিধি। - একদা মহানুভব অঙ্গপতি কৃতজপ্য ঋষিশ্রেষ্ঠ পালকাপ্যকে প্রণিপাত পূর্বক সবিনয়ে কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন--ভগবন, আপনি শস্ত্রাগ্নি প্রণিধান প্রভৃতি চিকিৎসা কাৰ্যে বারণগণকে দৃঢ়স্তম্ভে বন্ধন করিবার উপদেশ করিয়াছেন ; কিন্তু উহারা অত্যন্ত বলশালী এবং তেজঃসম্পন্ন, এই নিমিত্ত কেবল একটিমাত্র বন্ধনে আবদ্ধ থাকিয়া ও উহারা কি নিমিত্ত আপাত ক্লেশকর চিকিৎসা কালে চিকিৎসক ও শুশ্রুষাকারী প্রভৃতিকে আঘাত করিবে না? হে ঋষিপ্রবর, যাহাতে অবাধে উহাদিগের শস্ত্রোপচারাদি সম্পন্ন করা যায় তাহা আমার নিকটে বর্ণনা করি আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। তাহার তাদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি বলিতে লাগিলেন ;-হে নরেশ্বর, যেরূপে রুগ্ন মাতঙ্গকে আলানে বন্ধন করিয়া তাহার শস্ত্রোপচারাদি নিরাপদে সম্পাদন করা যায় তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- থে অল্পজ্ঞ চিকিৎসক স্বীয় অজ্ঞতা কিংবা ত্বরা বশতঃ রুগ্ন মাতঙ্গকে সুসংযত না করিয়া শস্ত্রোপচারাদি করিবার নিমিত্ত তাহার নিকটে গমন করেন, তিনি নিশ্চয়ই মূখ, তাহার জীবন সংশয় কিংবা বিষম বৈকল্য উপস্থিত হয়। তিনি ভয় প্রযুক্ত ক্রিয়ার সম্যক্ অনুষ্ঠান করিতে না পারায় অনেক সময়ে তিষ্যগভাবে শস্ত্রোপচার করিয়া রুগ্ন মাতঙ্গের শিরা স্নায়ু প্রভৃতি চ্ছেদন করিয়া বসেন। এই নিমিত্ত রুগ্ন মাতঙ্গকে অগ্ৰেই স্তন্তে যথাবিধি সুন্ত্রিত না করিয়া কদাপি শস্বোপ- চাৱাদি ক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হওয়া উচিত নহে। হে অঙ্গেশ্বর, বারণগণের দেহে শস্ত্রোপচারাদি কালে ‘পূৰ্ব্বাপরপরিক্ষেপ’ দন্তোদ্দানী কায়ােন্দানী প্রভৃতি ত্রয়োদশ- বিধ বন্ধন প্রচলিত আছে। সুতরাং বিজ্ঞ চিকিৎসক, উল্লিখিত ত্রয়ােদশ বিধ বন্ধনে রুগ্ন মাতঙ্গকে সুসংযত না করিয়া কদাপি শস্ত্রোপচার কিংবা অগ্নিকৰ্ম্ম করিবেননা। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গেশ্বর, গাত্রোত্থান পূৰ্ব্বক পুনরায় সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, আমি শিষভাবে জিজ্ঞাসা করিতেছি আপনি উল্লিখিত এয়ােদশ বিধ বন্ধনের বিষয় বিস্তৃতরূপে বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন। আপনি বলিলেন ‘আলিত’ ও ‘বন্ধমাত্রাপ’ নামক বন্ধনদ্বয়ের অশেষ দোষ, তাদৃশ বন্ধনে সংযত করিয়া শস্ত্রোপচার অগ্নিকৰ্ম্ম প্রভৃতি করিতে গেলে রুগ্ন মাতঙ্গ বন্ধন চ্ছেন বা আলান ভান করিয়া থাকে। অসমর্থ পক্ষে অন্ততঃ যন্ত্র বিধি। K স্বয়ং ভূতলে নিপতিত হইয়া শস্ত্রোপচারাদির যথেষ্ট বিঘ্ন উপস্থিত করিয়া থাকে সুতরা: কীদৃশ বন্ধনে সংবন্ধ করিয়া রুগ্নমাতঙ্গের শস্ত্রোপচারাদি নির্বিঘ্নে সম্পাদন করা যায় তাহা যথাযথভাবে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে অঙ্গনাথ শ্রবণ করুন-যে ভূমি পাষাণবহুলা অসমতল কিংবা প্রভূত কর্দম ও শর্করাযুক্ত তাদৃশ ভূমিতে বারণগণের শস্ত্রোপচারানি নিষিদ্ধ, পক্ষান্তরে যে ভুমি অত্যধিক পরিমাণে শর্করাবিহীন ধূলিময় ও কর্দমশূণ্য, তাদৃশ ভূমিই বারণগণের শস্ত্রোপচারাদি কাৰ্য্যে প্রশস্ত। তাদৃশ স্থানে রুগ্ন মাতঙ্গকে উপবিষ্ট করিয়া তাহার উভয় পার্শ্বে রজ্জ দ্বারা ‘পক্ষবদ্ধ’ নামক বন-বিধানে যথাবিধি বন্ধন করা কর্তব্য এবং অপস্কার প্রদেশে ও ‘অষ্টীব্য’ প্রদেশে ও দৃঢ়বন্ধন করা আবশ্যক। উল্লিখিত রজ্জ, সমুদয় বন্ধনস্তম্ভে সংযত করিতে হইবে উক্ত প্রদেশদ্বয়ের ও মন্যার নিকটে যুক্তিবশতঃ তিনটা সুদৃঢ় খর্ব ও অচ্ছিদ্র যুপ বা বন্ধন স্তম্ভ অগ্ৰেই প্রােথিত করা বিধেয়। উহার অপর প্রান্তে ‘বাল’ ও ‘বাসন’ নামক বন্ধনদ্বয়দ্বারা সুসংযত করিতে হইবে। হে পৃথিবীশ্বর, অনুবৃত্ত মাতঙ্গের শস্ত্রোপচার ও অগ্নিকৰ্ম প্রভৃতি হওয়া কর্তব্য। পুনরায় অঙ্গরাজ মহামুনি পালকাপ্যকে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন-হে মুনিশ্রেষ্ঠ এতাদৃশ বন্ধনে ও অশেষ দোষ দৃষ্ট হইতেছে তাদৃশ অবস্থায় রুগ্ন বারণ ইহাতে ও ক্ষয়ভাগ গণ্ডদেশ তুজমূলদ্বয় সঞ্চালন করিতে সমর্থ হইবে এবং উহাদিগের দেহে শস্ত্রোপচারে ও ফল প্রাপ্তির আশা সুদূর পরাহত। এই নিমিত্ত যাহাতে বারণগণের শস্ত্রোপচার ও অগ্নিকৰ্ম্ম প্রভৃতি নিরাপদে সম্পন্ন হয় তাহা বর্ণনা করিয়া আমার সংশয়ের নিরাকরণ করুন। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গ- পতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি বলিতে লাগিলেন -হে অনাথ, শ্রবণ করুন আমি বারণগণের যন্ত্রবিধান বর্ণনা করিতেছি। স্বচ্ছসলিলা স্রোতস্বিনীর, অনতিদুরে সুখ বিহার যােগ্য নিরাপদ সুরম্য সমতল প্রদেশে যন্ত্রবিধান অনুষ্ঠান করা কর্তব্য। পক্ষান্তরে যে স্থানে পক্ষীদিগের আবাস যে স্থানে শ্মশান, যে স্থানে দগ্ধ মৃত্তিকা, অর্ধশুষ্ক তরুরাজি, আশ্রম দেবতায়তন উদ্যান চৈত্য প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে তাহা ‘যবিধি অনুষ্ঠানে সর্বতােভাবে পরিত্যজ্য। শ্মশান ও চৈত্যজাত বৃক্ষ সমুদয় যন্ত্রবিধিতে পরির্জনীয়। পক্ষান্তরে খদির সাল, বদর মধুক সােমবল্লক প্রভৃতি তরুগণের মধ্যে যথালাভ বৃক্ষই যন্ত্রবিধিতে ব্যবহার্য্য কিন্তু বল্মীকবিহীন সারবান ও নিরাপদ স্থানে জাত অগ্নিদ্বারা অস্পষ্ট লতাসমূহদ্বারা অনাবৃত বৃক্ষ সমূহই যন্ত্ৰকাৰ্যে যােগ্য বলিয়া বিবেচিত হয়।

গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। অনন্তর বিজ্ঞ চিকিৎসক জানাদিরা পূত হইয়া প্রশস্ত তিথি নক্ষত্র ও মুহূর্তে দেবদর্শন পূর্বক ব্রাহ্মণগণদ্বারা স্বস্তিবাচন করাইয়া যন্ত্রকর্মোপযােগ বৃক্ষ সংগ্রহের নিমিত্ত নিৰ্বাচিত বৃক্ষের নিকটে গমন করিয়া অপােলিখিত বিধানে বলি- প্রদানপূর্বক সেই বৃক্ষের অধিবাস করিবেন। যন্ত্রকর্মোপযােগী খদির বা খয়ের বৃক্ষের অধিবাস কুসুম সুরভিত সুরা রক্তমাল্য ও প্রিয়ঙ্গু কুসুমদ্বারা করা কর্তব্য। সূপার মাংস ও বিচিত্র মাল্য কিংবা কেবল মুরাদ্বারা অন’ বৃক্ষের অধিবাস করিতে হইবে। গুড়া দুগ্ধ পিষ্টক ও আসব প্রভৃতি দ্বারা যার্থ ‘কদর’ বৃক্ষের অধিবাস করা একান্ত বিধেয়। উল্লিখিত দ্রব্যসমূহ দ্বারা তত্ত্বক্ষের অধিবাস করিয়া বিজ্ঞ চিকিৎসক বৃক্ষমূলে থাকিয়া অপােলিখিত মন্ত্র তিনবার পাঠ করবেন ‘এই স্থাবরে দীর্ঘকাল পর্যন্ত যে সকল প্রাণী বাস করে আমি তাহাদিগকে বলিপ্রদান ও প্রণাম করিতেছি। অনন্তর পরদিন প্রাতঃকালে গাত্রোত্থান করিয়া সংযত চিত্তে চ্ছেদকদ্বারা বৃক্ষটিকে চ্ছেদন করাইতে হইবে; কিন্তু চ্ছেদন কালে ছেদক উত্তরমুখ কিংবা পূৰ্বমুখ হইয়াই ছেদন করিবে। ছেদনকালে যে বৃক্ষ হইতে বিকৃত গর নির্গত হয় কিংবা যে বৃক্ষ অন্যদিকে নিপতিত হয়, তারা নির্মিত যন্ত্র নিস্ফল, এই নিমিত্ত তাহা যন্ত্র নির্মাণ কাৰ্যে ব্যবহার করা কর্তব্য নহে। অনন্তর যন্ত্রনিৰ্ম্মিত হইলে বিজ্ঞ চিকিৎসক তাহা প্রভূত সলিল পরিবেষ্টিত সমতলস্থানে সুদৃঢ় ভাবে প্রােথিত করাইয়া তন্মধ্যে দৃঢ় স্তম্ভ সন্নিবেশিত করাইবেন যন্ত্রের আটটি পাদ ও তাহার প্রত্যেকটিতে দুইটি করিয়া সূচি ( তীক্ষ্ণকাটা) প্রােথিত করাইবেন। অনন্তর তীক্ষ্ণধীসম্পন্ন চিকিৎসক রুগ্ন মাতকে যন্ত্র মধ্যে প্রবেশ করাইয়া পূৰ্ব্বো- ল্লিখিত এয়ােদশ একার বন্ধনে সুসংযত করিবেন এবং তৎপরে সংযতচিত্তে শস্ত্রোপচার ও অগ্নিকর্ম প্রভৃতি আপাত কেকর ক্রিয়া সম্পাদন করা অপেক্ষা- কত সুকর হইয়া থাকে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক প্রথমতঃ যন্ত্রটিকে পতাকাদিদ্বারা সুসজ্জিত করিয়া তৎপার্শ্বে প্রয়ােজনীয় সকল প্রকার দ্রব্য সংগ্রহ করিবেন এবং পশ্চিম দিকে অগ্নি স্থাপন পূর্বক তাহাতে যথাবিধি হােম করিয়া হুতশেষ আজ যন্ত্রে মাখিবেন। অনন্তর সনৎকুমার এবং চিরবীজয়ী কার্তিকেয় প্রভৃতিকে পূজা ও নমস্কার পূর্বক ব্রাহ্মণগণদ্বারা স্বস্তি বাচন ও স্বয়ং ভূতবলি প্রদান করিয়া পরে শস্ত্রোপচারাদি করিবেন। মহানুভব অপ্নতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য ইহা বলিয়া গিয়াছেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুর্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে একাদশ অধ্যায়। + স্থাবরে নি ভূতানি নিবসন্তি চিরাণি বৈ। নমস্করােম্যহং তেভ্যঃ ক্রিয়তাং বা সপৰ্যয়ঃ।”

দ্বাদশ অধ্যায়। শল্যাধারণ বিধি। একদা মহাপ্রাজ্ঞ অঙ্গপতি রােমােদ নরপতি সবিনয়ে কৃতাঞ্জলিপুটে কৃতজপ্য ঋষিশ্রেষ্ঠ পালকপ্যকে জিজ্ঞাসা করিলেন-ভগব আপনি অনুকম্পা প্রকাশে বারণগণের ‘নষ্ট পল্যোঙ্করণ যথাযথভাবে বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন-বায়ণগণ ভীষণ সংগ্রাম ক্ষেত্রে শর শক্তি ঋষ্টি তােমরভঞ্জ প্রভৃতি বিবিধ অস্ত্রশস্ত্রে বিন্ধ হইয়া থাকে। পরে বহু চেষ্টাতেও উগাদিগের মাংসবহুল দেহ হইতে শুল্যের ভগ্নাবশেষ খুজিয়া পাওয়া যায় না বরং দিন দিন উহাদিগের গুঢ়শল্য ব্রণ সমুদয় হইতে অত্যধিক শ্রাব নির্গত হইতে থাকে এবং ব্রণ ভীষণ অবস্থা প্রাপ্ত কমে উহা কঠিন, দুর্গন্ধযুক্ত, গভীর ও বেদনা বহুল হইয়া থাকে। কখন কখনও উহা হইতে রক্তস্রাব হয় এবং বিবিধ শােধন দ্রব্যদ্বারা শশাধিত হইয়াও কদাপি বিশুদ্ধ বা প্রতিকৃত হয় না। হে ঋষিপ্রবর, যাহাতে তাদৃশ ব্রণের এবং তৎসমুখিত অন্যান্য ব্রণের চিকিৎসা অল্পায়াসে করিতে পারা যায় তাহা বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন। অলপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে অঙ্গনাথ’ এই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্ৰ পূৰ্বে লােকপিতামহ ব্ৰহ্মা প্রজাপতিকে বলিয়াছিলেন এবং প্রজাপতি দেবরাজ ইন্দ্রকে, ইন্দ্র অশ্বিনীকুমার- দ্বয়কে ও অশ্বিনীকুমারদ্বয় ঋষিদিগকে বলিয়াছিলেন। এইরূপ গুরু পরম্পরায় আমি সেই গৃঢ় রহস্য অবগত হইয়া সদ্যঃক্ষতবিধানে এবং দ্বিব্ৰণীয় অধ্যায়ে তাহা বিস্তৃতরূপে কীৰ্ত্তন করিয়াছি, এইক্ষণে নষ্ট শল্যের লক্ষণ সমুদয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- হে নরনাথ, যে যে স্থানে তৃণকাষ্ঠ ও লৌহময় শল্যলুকায়িত থাকিতে পারে, প্রথমতঃ সেই সকল স্থান কীৰ্ত্তন করিতেছি শ্রবণ করুন। হে অনাথ, বারণ- গণের ছবি মাংস মেদঃ সন্ধি স্নায়ু অস্থি কোষ্ঠ ও শ্রোতঃ সমুদয়েই শল্য প্রচ্ছন্ন থাকে। হে অঙ্গের, উল্লিখিত শল্য ও ‘বাহ এবং শরীরজ ভেদে দ্বিবিধ তন্মধ্যে তৃণকাষ্ঠ লৌহ প্রভৃতি বহুপ্রকার ‘বাহ’ শল্য ও রক্ত অস্থি মাংস শিরা মায়ু ও পয় প্রভৃতি আভ্যন্তর শল্য। শরীরজ শল্যের মধ্যে অস্থিই দারুণ শল্য ; কারণ শােণিতাদি শল্য সমূহ ক্ষত মুখ কিঞ্চিৎ বিকৃত হইলে ঔষধ প্রয়ােগে বিঘ্ন উপস্থিত করে না। পক্ষান্তরে অস্থিশল্য অল্পকাল মধ্যেই মাংসাদির অভ্যন্তরে প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে।

গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা। ; হে নরেশ্বর, অতঃপর গূঢ় শলের লক্ষণ নির্দেশ করিতেছি শ্রবণ করুন। মাতঙ্গগণের ক্ষতের অভ্যন্তরে শল্য বিদ্যমান থাকিলে উহাতে ভীষণ বেদনা, সাব, ক্ষতস্থানে স্ফীতভাব ও স্তব্ধ ভাবাদি বিদ্যমান থাকে এবং ক্ষতের প্রান্তভাগ অপেক্ষাকৃত কঠিনতর লক্ষিত হয় । তাদৃশ ব্রণ হইতে যে স্রাব নির্গত হয়, তাহা দুর্গন্ধি ও পিচ্ছিল। ব্রণ অনেক সময়েই বিচ্ছিন্ন এবং কদাচিত মিলিত লক্ষিত হয়। পূর্বোক্ত অষ্টবিধ ব্রণবস্তুর মধ্যে যে ব্ৰণে যাদৃশ ব্রণবস্তু বিদ্যমান থাকে, সেই ব্রণ হইতে তাদৃশ স্রাব নির্গত হয়। এক প্রকার ব্রণবস্তুযুক্ত ব্ৰণ অন্য প্রকার ব্রণবস্তুর স্রাব কদাচিৎই হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন অধােলিখিত লক্ষণ সমূহদ্বারা ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ ব্রণ নির্ণয় করিয়া থাকেন। বারণগণের ব্রণের অভ্যন্তরে ত্বকের নিয়ে শল্য বর্তমান থাকিলে সেই স্থানের চর্ম ঈষদুন্নত ও উৎপন্ন লক্ষিত হয়। শল্য মাংসস্থ হইলে সেইস্থানের স্ফীত ভাব পৃষ্ঠের সুসদৃশ হইয়া থাকে, মমদঃস্থ হইলে ক্ষত বিসর্পযুক্ত হয় এবং শিরা ও স্নায়ুগত হইলে মাতঙ্গ কুজ কিংবা শুঙ্গ হইয়া থাকে। শল্য, সন্ধিগত হইলে বারণগণের চেষ্টা নিরােধ এবং তত্ত সন্ধি স্ফীত হইয়া থাকে ; অস্থিগত হইলে অস্থিভেদ জন্মে এবং স্রাব নিরুদ্ধ হয় ; ইন্দ্রিয় গত হইলে তাহার ক্রিয়া ব্যাহত হয় ; কোষ্ঠস্থ হইলে বারণগণ রক্তমিশ্রিত মল ত্যাগ করে, উহাদিগের মলদ্বার হইতে রক্তস্রাব ও উদর স্বীত হইতে থাকে। শল্য প্রাণহর সন্ধি অস্থি ধমণী ও স্নায়ুগত হইলে তাহাতে তীব্র বেদনা অনুভূত হয় এবং তাদৃশ শল্যকে অসাধ্য বা চিকিৎসকের শক্তির বহিভূত বলিয়া জানিতে হয়। পূর্বোক্ত বিধান অনুসারে বিজ্ঞ চিকিৎসক মাতঙ্গগণের মৰ্ম্মস্থান সমুদয় লক্ষ্য করিতে সমর্থ হইবেন। তড়িগ্ন যে স্থানে বহুবর্ষ যাবৎ শল্য বিদ্যমান থাকে সেইস্থানে শল্য দৃষ্ট হয় না কিংবা সেইস্থান বিদীর্ণ হয় না। উক্ত স্থান প্রায়শঃ নিব্রণ কদাচিৎ ব্ৰণযুক্ত থাকে। হে অঙ্গনাথ, আমি পুনরায় বারণগণের সশল্য ব্রণলক্ষণ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন—বিজ্ঞচিকিৎসক, মাতঙ্গগণের ব্রণ সশল্য কিনা তাহা জানিতে হইলে তাহারগন্ধের প্রতি লক্ষ্য করিবেন। যে ব্রণ সশল্য তাহা হইতে দুর্গন্ধ ও পিচ্ছিল শ্রাব নিঃসৃত হইয়া থাকে। তাদৃশ ব্রণ বিচ্ছিন্ন লােহিতবর্ণ এবং “কাজির, গন্ধ, বিশিষ্ট হইতে দেখা যায়। উহাতে সৰ্ব্বদা কভু দাহ ও শােষ বিদ্যমান থাকে। এই নিমিত্ত মাতঙ্গগণ সৰ্ব্বদা স্বীয় গুণ্ডদ্বারা উহাতে বালুকা কর্দম ও ধুলি নিক্ষেপ করে এবং পুনঃ পুনঃ তাহা স্পন্দিত ও তাহার গন্ধ গ্রহণ করিতে থাকে। উল্লিখিত লক্ষণসমূহদ্বারা মাতঙ্গগণের ব্রণ সশল্য জানিয়া বিজ্ঞচিকিৎসক ব্ৰণােপচার শল্যাণ বিধি। বিধান অনুসারে তাহার চিকিৎসা করিবেন; পক্ষান্তরে যদি শল্য লক্ষ্য করিতে পারেন তাহা হইলে তাহার প্রতিক্রিয়া বলিতেছি শ্রবণ করুন। অভিজ্ঞ চিকিৎসক রুমাতঙ্গের সর্বাঙ্গে তিলতৈল গব্যঘৃত কিংবা বসা মর্দন করিয়া বিরল বায়ুপ্রচারযুক্ত স্থানে তাহাকে স্থাপনপূৰ্ব্বক পূর্বোক্ত স্বেদন দ্রব্যদ্বারা যথাবিধি স্বেদ করিবেন। অনন্তর তাহার সর্বাঙ্গ মর্দন ও অন্বেষণ করিলে শল্য লক্ষিত হইয়া থাকে ; অঙ্গের যে স্থানে অপূৰ্ব্ব শিরা সমূহের সংযােগ দৃষ্ট হয় কিংবা স্পর্শ সংসক্ত হয় সেই স্থানেই শল্য প্রচ্ছন্ন আছে বুঝিতে হইবে। যদি তাহাতেও শল্য লক্ষিত না হয় তাহা হইলে উক্ত মতঙ্গের সর্বাঙ্গে কর্দম লেপনপূর্বক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ্য করিতে হইবে। তাহাতে যে স্থানের মৃত্তিকাপ্রলেপ সর্বাগ্রে শুষ্ক হয় সেই স্থানই সশল্য বুঝিতে হইবে। এইরূপে শল্য নির্দেশপূৰ্ব্বক সেই স্থানে প্রলেপ দিবে এবং তাদৃশ প্রলেপের ফলে উক্তস্থান মৃদু বিবর্ণ ও শিথিল লক্ষিত হইলে তাহা পৰ্ক জানিয়া বিদীর্ণ করিবে এবং এষণী’ ‘বি’ প্রভৃতি অস্ত্রের সাহায্যে শল্য নিষ্কাশিত করিবে। আর যদি শলা শাখাদিযুক্ত বলিয়া বােধ হয় তাহা হইলে যন্ত্রের সাহায্য গ্রহণ করিবে। যন্ত্র প্রয়ােগকালে অভিজ্ঞ চিকিৎসক স্বীয় বামহন্তে ব্রণমুখ দক্ষিণ হস্তে যন্ত্র ধারণ করিবেন এবং তাদৃশ অবস্থায় যন্ত্রের ক্ৰিয়াদ্বারা শল্য আহরণ করিবেন; এইরূপে স্বগত শল্য আহরণ করা কর্তব্য। যে সকল মাতঙ্গের দেহ মাংসেপচিত এবং শল্য মাংস মধ্যে প্রচ্ছন্ন ও অদৃশ্য তাহ অন্বেষণের অভ্যঙ্গ স্বে প্রভৃতি কৌশল পূৰ্বেই উল্লিখিত হইয়াছে, এইক্ষণে মাতঙ্গগণের শিরাজালগত শল্য অদৃশ্য হইলে মেরূপে তাহা অন্বেষণ করিয়া বাহিব করতে পারা যায় তাহার উপায় বর্ণনা করিতেছি তাদৃশ অবস্থায় শল্যবিদ্ধ মাতঙ্গের শল্যযুক্ত অঙ্গে তীব্র বেদনা বিদ্যমান থাকে, তাহাদ্বারাই সশল্য স্থান নির্ণীত হইতে পারে। একান্ত পক্ষে তাহা না হইলে উহাব সর্বাঙ্গে গাে-মূত্র মাখিয়া মর্দন করিলে কিংবা উহাকে উন্নত অনত পথে ব্যয়াম করাইলে তাহার প্রভাবে উহাদিগের দেহ অত্যন্তরূপে সংকুচিত হয় এবং তাদৃশসঙ্কোচনেয় ফলে শল্য স্বীয় স্থান হইতে ঋলিত হইয়া স্পষ্ট লক্ষিত হইয়া থাকে অনেক সময়ে তাশ নূতন স্থানে অত্যন্ত বেদনা ও বিদ্যমান থাকে। তখন এষণীর সাহায্যে তাহার গতি অবধারণপূর্বক পূর্বোক্ত কৌশলে শল্য উদ্ধার করা কর্তব্য। মায় মণ্ডলগত শল্য অদৃশ্য হইলে ও শিরাজাল গত শুল্যের সুসদৃশ প্রতীকার কর। বিধেয়। যদি মাতঙ্গগণের অঙ্গসন্ধিগত শল্য অদৃশ্য হয় তাহা হইলে অবিলম্বে তত্ত্ব সন্ধি, চর্ম কিংবা বস্তুদ্বারা আবৃত করিয়া রজ্জদ্বারা দৃঢ়রূপে বন্ধন করিবে এবং গঙ্গায়ুৰ্বেদ-সংহিতা। তাদৃশ অবস্থাতেই উকু মাতঙ্গকে পৰ্বতাদি লঘন কিংবা নদী প্রভৃতিতে সন্তরণ করাইবে। তাহার ফলে পুনঃ পুনঃ অঙ্গসন্ধি সম্প্রসারিত হওয়ায় উহা স্ফীত বেদনাযুক্ত হইয়া থাকে। তখন শল্য নিরূপণ পূৰ্ব্বক এষণীদ্বারা তাহার গতি নির্ণয় করিয়া পূৰ্ব্ববৎ যন্ত্রদ্বারা অল্পায়াসে তাহা উদ্ধৃত করা যায়। বারণগণের অস্থিগত শল্য অদৃশ্য হইলে তাহাকে পূর্ববৎ তৈলাদি মর্দন, স্বেদ ও অসমতল প্রদেশে ভ্রমণ করাইলে শল্য মাংস মধ্যে উপস্থিত হয় এবং তখন পূৰ্বোল্লিখিত বিধানে তাহা উদ্ধত করিতে পারা যায়। পক্ষান্তরে যদি তাদৃশ কৌশলে ও বারণগণের অস্থ্যাদি প্রদেশ গত শল্য স্থানচ্যুত না হয় তাহা হইলে শুন্তে দৃঢ় বন্ধনে বদ্ধ করিয়া শস্ত্রোপচারদ্বারা শল্য উদ্ধার করিবে। কিন্তু শ্রোতঃ শিরা সঙ্গম মৰ্ম্ম প্রভৃতি স্থানগত শল্য উদ্ধরণের নিমিত্ত প্রাজ্ঞ চিকিৎসক কখন ও শস্ত্র প্রয়ােগ করিবেন না। তদ্ভিন্ন যে স্থান অপক, অক্লিয়, অশিথিল কিংবা যে স্থানের মাংস মৃদুভূত না হয় সেখানে শস্ত্রপাত একান্ত নিষিদ্ধ। এই প্রকারে বিজ্ঞ চিকিৎসক বারণগণের স্রোতেগত শল্য আহরণ করিবেন। সেইরূপ বিরেচন দ্বারা কোষ্ঠগত শল্য নিঃসারণ করা যাইতে পারে। এই প্রকার শল্য উদ্ধারের পরে মাতঙ্গের সর্বাঙ্গে গব্যঘৃত লেপন ও উহাকে সুশীতল জলে অবগাহন করাইবে। অনন্তর ‘দ্বিব্ৰণীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত বিধানে অশুদ্ধ ক্ষত শােধন, সংলােপণ (ক্ষত শুকান) এবং সবণীকরণ প্রভৃতি সম্পাদন করা কর্তব্য। হে অঙ্গেশ্বর, ইহাই বারণগণের প্রনষ্ট শল্যের প্রতীকার বণিত হইল। হে নরেশ্বর, অতঃপর বারণগণের শল্য নিঃসরণােপযােগী যন্ত্রের আকৃতি বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন—যন্ত্র নানাবিধ । তন্মধ্যে সিংহমুখ যন্ত্র, যষ্টি যন্ত্র, কটক যন্ত্র, দাতূহ যন্ত্র, গােধামুখ যন্ত্র, উভয় পার্শ্বে দন্তবিশিষ্ট মকরক যন্ত্র, শঙ্কু যন্ত্র, একদন্ত যন্ত্র, মুষ্টিযন্ত্র এবং শার্পলমুষ্টি যন্ত্র ই সৰ্ব্বদা প্রচলিত ও প্রয়ােজনীয়। হে অঙ্গনাথ, আমি, আপনার নিকটে যন্ত্রের আকৃতির বিষয় যথাযথ বর্ণনা করিলাম। বিজ্ঞ চিকিৎসকের উপদেশ, শাস্ত্রীয় প্রমাণ বিচার ও অপর যন্ত্র দর্শনপূর্বক নূতন যন্ত্র নির্মাণ করা কর্তব্য হে নরনাথ, অতঃপর বারণগণের মর্মস্থানের বিষয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুণ-মাতাগণের মন্তকে চারিটি মৰ্ম্মস্থান আছে। উহা বিদ্ধ হইলে বারণগণ মুহূর্তকালও জীবিত থাকে না। সেইরূপ মুষ্ক পুংচি এবং মুত্রাশয়ের উপরি- ভাগে শরদ্বারা সিদ্ধ হইলে বারণগণ কোন প্রকারে ই জীবিত থাকে না ;

শল্যায়ণ বিধি। কারণ সদ্যপ্রাণ হর মর্মাদিতে বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করিয়া থাকে এবং কালান্তর বিনাশী মৰ্ম্মসমূহে বিদ্ধ হইলে দীর্ঘকাল পরে প্রাণ ত্যাগ করে। শল্য বিদ্ধ মৰ্ম্মস্থান হইতে শলল্যাদ্ধারের পরে রক্ত স্রাব হইলে মাতঙ্গের প্রায়শঃ মৃত্যু ঘটিতে দেখা যায়। হে নরেশ্বর, বারণগণের মর্মদেশে শল্য বিদ্ধ হইলে ও বিদ্ধ শল্য অদৃশ্য হইলে যাদৃশ যন্ত্র দ্বারা যে প্রকার শল্য উদ্ধার করিতে হইবে তাহা বর্ণনা করি- তেছি শ্রবণ করুন-বিজ্ঞ চিকিৎসক, স্ৰ ( ত্রিশির) একদংষ্ট্র, মুষ্টি, শার্দল, মুষ্টি, নন্দীমুখ, শঙ্কুপার্শ্ব এবং সিংহমুখ এই সকল বিভিন্ন জাতীয় যন্ত্র বারণগণের শ্য উদ্ধার কার্যে ব্যবহার করিবেন। তিনি প্রথমতঃ স্বীয় অঙ্গুলি, এষণীর সাহায্যে শল্য অবধারণ করিয়া পরে ‘বৃদ্ধিপত্র’ নামক শস্ত্রদ্বার চ্ছেদন পূৰ্ব্বক ‘নন্দীমুখ’ প্রভৃতি যন্ত্রদ্বারা শল্য উদ্ধত করিবেন। অনন্তর ব্রণের চতুষ্পার্শ্ব পীড়নপূর্বক কিঞ্চিৎ রক্ত মােক্ষণ করিয়া পরে বিড়ঙ্গচূর্ণ মিশ্রিত গব্য ঘৃত দ্বারা সেইব্রণ সিক্ত করা কর্ত্তব্য। সমধিক রক্তপাত হইতে দেখিলে অগ্নিবর্ণ লৌহদ্বারা ক্ষত স্থান দগ্ধ করিয়া দিতে হয় এবং তাদৃশ অবস্থায় মাতঙ্গকে গব্য ঘৃত পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। হে পৃথিবীশ্বর, কঙ্কমুখ’ যন্ত্রদ্বারা প্রায় সকল প্রকার, শল্য অল্পায়াসে উদ্ধত করিতে পারা যায় । সৰ্ব্ব- প্রকার শল্য নিঃসরণের পরেই বিড়ঙ্গচুর্ণ মিশ্রিত গব্যঘৃত সেচন অবশ্য কর্তব্য। সেই মাতঙ্গদেহে বরাহ কর্ণ, ক্ষুরাগ্র কিংবা ক্ষুর বিদ্ধ হইলে ‘মুষ্টি যন্ত্র দ্বারা অল্পকাল মধ্যে তাহা উদ্ধৃত করা যায়। পীলুশঙ্খ’ ‘শিরাগ্র’ ‘ত্রিকন্টক প্রভৃতি অস্ত্র শস্ত্র বারণ দেহে বি হইলে ‘গােধামুখ যন্ত্র দ্বারা তাহা উদ্ধত করিতে পারা যায়। শৃঙ্গ শীর্ষ ‘ত্রিকন্টক’ প্রভৃতি ভীষণ শল্য সমূহ বারণ দেহে বিদ্ধ হইলে নিপুণ চিকিৎসক মাতঙ্গকে উত্তমরূপে আবদ্ধ করিয়া ‘কর্ণভগ” নামক শম্বুদ্বারা শলাস্থান বিদীর্ণ করিয়া ‘সিংহমুখ’ মন্ত্রদ্বারা শনৈঃ শনৈঃ শল্য উক্ত করিবেন এবং ক্ষতস্থান পূৰ্ব্ববৎ বিড়চূর্ণ ও গব্য ঘৃতে সিক্ত করিবেন। সেইরূপ নারাচ’ ও ‘অর্ধনারাচ’ সিংহদংষ্ট্রা, যন্ত্রদ্বার এবং ‘মুকুলা’ শল্য ‘মণ্ডুকবক্ত’ যন্ত্রদ্বারা উদ্ধৃত করা বিধেয়। হে মহীবল্লভ, আমি আপনার নিকটে যন্ত্র সমুদয়ের ও শল্য সমূহের বিভাগ যথাযথ বর্ণনা করিলাম এইক্ষণে পূৰ্বোপ্লিখিত চতুৰ্বিধ মৰ্ম্মস্থানে শল্য বিদ্ধ হইলে তাহার প্রতীকারের উপায় বলিতেছি শ্রবণ করুন। বারণগণের বিশিষ্ট মৰ্ম্ম প্রদেশে শল্য বিদ্ধ হইলে তাহা নিঃসারিত করিতে যত্ন না করাই বিধেয়; কারণ তাদৃশস্থান হইতে শল্য ৮৪ গঙ্গায়ুর্বেদ সংহিত। । নিঃসারণের ফলে বারগণের মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। সুতরাং যুক্তি বশতঃ প্রসিদ্ধ অভাঙ্গ ঔষধ লেপন ব্রণশােধন প্রভৃতি দ্বারা তাদৃশ শল্য'যাপ্য হওয়া আবশ্যক। শবাদি দ্বারা মস্তকস্থ মৰ্ম্মবিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করে। আসন ও জঘন দেশে বিদ্ধ শল্য নিঃসারণ করতে চেষ্টা না করিয়া তাহা যাপ করিয়া রাখিবে। উপৰ্য্যা কিংবা কোছে শল্য বিদ্ধ হইলে উহা রক্ত দূষিত করিয়া বাত ব্যাধি জন্মায়। তদ্ভিন্ন গ্রীবাসন্ধি, শিরস্নায়ু, পাশ্বয়ে শল্য বিদ্ধ হইলে মৰ্ম্ম সমূহ রক্ষা করিয়া তাদৃশ শল্য নিঃসরণ করিবে । সুতরাং যে । সকল শল্য সন্ধিগত নহে তাহাই নিঃসারণ যােগ্য। এইরূপ ব্রণ শল্য বিহীন হইলে তাহার প্রতীকার করা বিধেয়। লম্বিত, ব্যথিত, ছিন্ন অবকৃত্ত এবং দুজ্জাত প্রভৃতি ব্রণের বিভিন্ন প্রকার ভেদ লক্ষ করিয়া তাহার প্রতীকার করিলে অবিলম্বে সভলতা লাভের সম্ভাবনা। অবিজ্ঞচিকিৎসক ক্ষৌমশূদ্বারা তাদৃশ ব্রণ সীবন (সেলাই) করিয়া পরে পূৰ্বোল্লিখিত ক্ষতবােপণের ঔষধ সমুদয় যথাযােগ প্রয়ােগ করিবেন। বিদ্ধস্তন দ্বীত হইলে তদ্বারাই লেপন করা কর্তব্য। ক্ষীর বৃক্ষ ( অশ্বখ, বট, যজ্ঞডুমুর পাকুর ও পারীশ) কাথ ও গব্যঘৃত লেপন করিলে তাদৃশ ব্রণ নির্দোষ ও অবিলম্বে শুস্ক হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে যদি বিষাক্ত শল্য বিদ্ধ হয় তাহা হইলে ক্ষত মধ্যে পুতিমাংস জন্মে ও তাহা হইতে দূষিত স্রাব নির্গত হইতে থাকে । তাদৃশ ক্ষত ভিন্নবর্ণ ও চতুর্দিকে স্ফীত হয় এবং মাতঙ্গদেই সন্তাপযুক্ত হইয়া থাকে। ইে পৃথিবীশ্বর, বারণগণের তাদৃশ ক্ষত পূর্বোক্ত বিধানে সংস্কৃত গব্যঘৃতদ্বারা শােধিত করিয়া পরে পূৰ্বোল্লিখিত পথ্য ব্যবহার ঔষধাদি প্রয়ােগ করিলে শীঘ্র প্রতিকৃত হইয়া থাকে। শীতপ্রলেপদ্বারা ও তাদৃশ ব্ৰণে সত্বর সুফল লাভ হয়। যে মাতঙ্গের ব্রণ স্তব্ধ বিবর্ণ ও বিশ্বস্ত তাদৃশ মাতকে দৃঢ় স্তম্ভে যথাবিধি সুসংযত করিয়া কার্পাস সূত্র কিংবা ক্ষৌম সুত্রদ্বারা তাহার ব্রণ জীবন করিবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক মাতগণের তাদৃশ ব্ৰণ এইরূপে সীলন করিয়া ‘মব্রণ বিধান অনুসারে তাহার প্রতীকার করিবেন। ধীমান অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য মাতঙ্গগণের শস্যোদ্ধার বিষয়ে এই সকল উপদেশ প্রদান করিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্ৰীমহষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে দ্বাদশ অধ্যায়।

ত্রয়ােদশ অধ্যায়। বিপ্রবি চিকিৎসা বিচ্ছি। একদা মহৰি পালকাপ্য, শিয়ভাবাপন্ন অঙ্গপতিকে সস্নেহে সম্বােধন কবিয়া বলিলেন-হে অঙ্গনাথ, আমি মাতঙ্গগণের বিধি বােগেব চিকিৎসা বলিতেছি। নিদানঃ-হে নবেশ্বব, পাঞ্চভৌতিক দেহের সাধাৰণ উপকবণ স্বরূপ বাযু পিত্ত ও কবে পৃথক্‌ কিংবা যুগপত্ বিকার বশতঃই মাতগণের বিধি বােগ জন্মিয়া থাকে। বারণগণ, নিরন্তব প্রভূত পবিমাণে কটু ও কষায় বসযুক্ত কিংৰা ৰুক্ষবাৰ্য দ্রব্য ভােজন করিতে থাকিলে উহাদিগের দেহস্থ বাযু কুপিত হইয়া মাংস শােণিতকে ও দূষিত, কবে এবং তাহাব ফলে মাতঙ্গগণেব মৃক বক্ষণ প্লীহা যকৃৎ হৃদয় ক্লোম বস্তি মুখ ও মেহন প্রভৃতি যে কোনও একটি অঙ্গ- প্রত্যঙ্গকে আক্রমণপূর্বক সেই স্থানে কঠিন গ্রন্থি উৎপাদন কবিয়া থাকে। ইহাকে ‘বাহবিধি বলে। উহা কখন কখনও পাকিয়া থাকে এবং উহা হইতে পৰু পিচ্ছিল ও ফেণিল স্রাব নির্গত হয়। বারণগণ যখন নিবন্তৰ কটু ও অবসযুক্ত দ্রব্য কিংবা পিত্ত প্রকোপনকারী দ্রব্য প্রভূত পবিমাণে ভোজন কবে তখন তাহাদিগেব তাদৃশ আহাবের ফলে দেহস্থ পিত্ত কুপিত হইয়া ‘পিত্তবিধি উৎপাদন কবে। উহা প্রায়শঃ পাকে এবং উহা হইতে উষ্ণ দুর্গন্ধযুক্ত কুলথ বস সদৃশবর্ণ স্রাব নিঃসৃত হয় ও ক্ষতস্থানে সন্তাপ বিদ্যমান থাকে। বাবণগণ নিরন্তব মধুর বসযুক্ত কিংবা শ্লেষ্মবর্ধক দ্রব্য ভােজন করিতে থাকিলে উহাদিগে দেহস্থ শ্লেষ্ম কুপিত হইয়া শ্লেষ্মজ বিধি বােগ উৎপাদন কবে। উহা দীর্ঘকালে পাকে এবং উহা হইতে মজ্জা ও মেদঃ সদৃশ শ্বেতবর্ণ পিচ্ছিল শ্রাব প্রভূত পরিমাণে নির্গত হইতে থাকে। এতাদৃশ বিদ্রধিকে ‘কফজ বিধি বলা হয়। তদ্ভিন্ন সন্নিপাত বিধিতে উল্লিখিত ত্রিবিধ বিধিবই লক্ষণ ন্যূনাধিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকে এবং উহা ফলে মাতবে দীর্ঘশ্বাস ও অকচি হইতে দেখা যায়। এই নিমিত্ত অবিলম্বে উহাব চিকিৎসা করা কর্তব্য। মেকল্লোক্ত মেহ বিধান অনুসাবে মেহ প্রয়ােগ আদিদ্বার উৎপত্নি অবস্থাতেই উহার প্রতীকার করা কর্তব্য। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে-- ১৬ গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। } পঞ্চাহ দিবা সপ্তরাত্ৰ পৰ্য্যন্ত তাদৃশ বিদ্রধিকে মেহ সিক্ত করিয়া রাখিবে এরং স্নেহ পানো বিধানানুসারে মেহ পানাদি প্রদান করিবে। বিজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়ােজন বােধ করিলে বিধি বিদীর্ণ করিবে এবং ব্রণ শােধন ও ব্রণরােপণ ঔষধ সমূহ প্রয়োগে ক্ষত প্রতীকার করিবে। হে নৃপশ্রেষ্ঠ, অনন্তর মাতজগণের ৰাত পিত্ত কফ ও সন্নিপাতাত্মক বিধি সমূহের বিস্তৃত বিবরণ ব্যাখ্যাত হইতেছে-শ্রবণ করুন বাভজ বিধি। নিদান-নিরন্তর প্রভূত পরিমাণে কটু তিক্ত কষায় রসযুক্ত কিংবা বিরুদ্ধ গুণ বিশিষ্ট ও শীতবীৰ্য্য দ্রব্য ভােজন, অত্যধিক পরিমাণে লবণাক্ত দ্রব্য ভােজন কিংবা ঘৃত তৈলাদি স্নেহ পদার্থ পান, কঠিন শয্যায় শয়ন কিংবা বিষম নিদ্রা সেবন প্রভৃতি কারণে মাতঙ্গগণের দেহস্থ বায়ু কুপিত হইয়া উহাদিগের : ধমনীমুখ সমুদয় অবরুদ্ধ করে এবং তাহার ফলে অবরুদ্ধ শশাণিত দূষিত হইয়া উহাদিগের মন্ত। কক্ষা জঘনদ্বয়ের মধ্য ভাগ মুস্ক স্তন ও নাভি প্রভৃতি প্রদেশে । তীব্র সন্তাপ বেদনা ও স্ফীতভাব উৎপাদন করে। লক্ষণ-ভাগ্য বিপৰ্যয় বশতঃ বারণগণ তাদৃশ ‘ বিধি’ রােগে আক্রান্ত হইলে উহাদিগের স্ফীতস্থান কিঞ্চিৎ বিবর্ণ লক্ষিত হয়। তখন উহাৱা পুনঃ পুনঃ আক্রান্ত স্থান কয়ন ও বিক্ষেপণ করিতে থাকে এবং উহাদিগের রােগ গ্রীষ্মকালে হ্রাসপ্রাপ্ত হইয়া শীতকালে বর্জিত হয়। উল্লিখিত বাতজ বিধি ও বিবিধ -বাতের অল্প প্রকোপ সদ্ভূত সুতরাং অল্প বেদনাযুক্ত ও অল্প প্রসর, অধিক প্রকোপযুক্ত ও সমধিক বিস্তৃত। পিত্তজু বিধি। মিন-নিরন্তর সমধিক পরিমাণে উষ্ণবীৰ্য অম্লরসযুক্ত দ্রব্য ও লবণ সেবন তীক্ষ্ণ ক্রোধ গ্রীষ্ম ও সন্তাপ ভােগ এবং দুর পথ গমন প্রভৃতি কারণে বায়ণগণের দৈহিক উপাদান পিত্ত কুপিত হইয়া উহাদিগের ধমনী মধ্যে প্রবেশ লাভ করে এবং তন্মধ্যস্থ বায়ুকে কুপিত করিয়া বক্তকে দূষিত করে ; তাহারই ফলে উহাদিগের পূৰ্বোল্লিখিত অন্যতম স্থানে তীব্র সন্তাপ ও বেদনাযুক্ত স্ফীতভাব । উৎপাদন করে। । পূৰ্বাচাৰ্যদিগের কোনও বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করিয়া পরে তাহা বিস্তৃতরূপে ব্যাখ্যা করিবার রীতি প্রচলিত আছে।

বিধি চিকিৎসা বিধি। ৮৭ লক্ষণঃ- দুরদৃষ্ট বশতঃ মাতঙ্গগণ উল্লিখিত পিত্তজ বিদ্ৰধি রােগে অভিভূত হইলে উহাদিগের ভীষণ জ্বর তৃষ্ণা ও অগ্নিদাহের ন্যায় দাহ উপস্থিত হইয়া থাকে। স্ফীতস্থানের উপরিভাগ হরিদ্রাভ কিবা হরিদ্বর্ণ লক্ষিত হয়। উহার অভ্যন্তর অবিলম্বে পাকিয়া উঠে এবং তাহা হইতে সুবর্ণ-দ্রবসদৃশ স্রাব নির্গত হইতে থাকে। এই সকল লক্ষণ দ্বারাই বিজ্ঞচিকিৎসকগণ পিত্তজ বিধি অবগত হইতে পারেন। শ্লেষ্মজ বিশ্রণি নিন-নিরন্তর প্রভূত পরিমাণে শীতবী বিজল (বিজল) কিংবা মধুর রসযুক্ত চতুর্বিধ আহার গ্রহণ এবং একান্ত ব্যায়াম বর্জন ও দিবানিদ্রা প্রভৃতি কারণে মাতঙ্গগণের দেহস্থ শ্লেষ্ম কুপিত হইয়। বায়ুকে ও দূষিত করে এবং তাহার সহিত অস্থি মধ্যে প্রবেশ লাভ করিয়া পূৰ্বোল্লিখিত স্থান সমূহের অন্যম প্রদেশ আক্রমণ করে। লক্ষণঃ--বারণগণ ভাগ্য প্রতিকূলতা বশতঃ উল্লিখিত শ্লেষ্মজ বিধি রােগে অভিভূত হইলে উহাদিগের স্ফীতস্থান পৃথুল শ্যাম বা নীলবর্ণ এবং বেদনা- যুক্ত হইয়া থাকে। যথাকালে উহা বিদীর্ণ হইলে দেখা যায় উহার অভ্যন্তরে শ্লেষ্মই যথেষ্ট বায়ু অতি অল্পমাত্র। বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ উল্লিখিত লক্ষণ সমূহদ্বারা উহাকে শ্লেষ্মজ বিধি বলিয়া অবগত হইতে পারেন। সান্নিপাভিক বিপ্লব। নিদান-নিরন্তর বাত পিত্রাদি ত্রিবিধ দোষের বিকারজনক আহারাদি সেবনের ফলে বারণগণের দেহস্থ বায়ু দূষিত হইয়া কুক্ষি প্রভৃতি প্রদেশস্থ বাতবহ শিরা সমূহে প্রবেশ লাভ করে এবং শ্লেষ্ম পিত্ত রক্ত দূষিত করিয়া থাকে। তাদৃশ দূষিত শ্লেষ্মদি একীভূত হইয়া উহাদিগের বিদ্ৰধি রােগ জন্মায়। লক্ষণঃ-অদৃষ্ট বৈকল্যবশতঃ মাতঙ্গগণ তাদৃশ বিদ্ৰধি রােগে আক্রান্ত হইলে উহাদিগের স্ফীতস্থানে অত্যন্ত দাহ ও বেদনা উপস্থিত হয়, স্ফীতস্থান বিদীর্ণ হইলে তাহা হইতে তীব্র বেদনার সহিত প্রভূত স্রাব নির্গত হইতে থাকে। দোষবাহুল্য নিবন্ধন তখন উহার সর্বাঙ্গে অগ্নিদাহের ন্যায় জ্বালা বিদ্যমান থাকে তাদৃশ অবস্থায় উহাদিগের সর্বাঙ্গে মঞ্জিষ্ঠা সদৃশ রক্তাভ মাংস পাকজনিত তীব্র সন্তাপযুক্ত স্ফোট সমুদয় জন্মে এবং উহা বিদীর্ণ হইয়া যায়। তখন উহাদিগের আহারে অরুচি, তৃষ্ণা, জ্বর, শ্বাস, কাশ ও অতীসার প্রভৃতি দুরারোগ্য রােগসমূহ গজায়ুর্বেদ সংহিতা। উপস্থিত হইয়া উহারা অকালে মৃত্যুগ্রাসে নিপতিত হইয়া থাকে। সুতরাং ঈদৃশ রোগের প্রথম অবস্থাতেই বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ, স্নেহপান অভ্যল নিরূহ অনুবাসন বিশ্রাবণ বেধন শীতল পবিষেবন, বিলায়ন শােধন, ও ব্রণবােপণ প্রভৃতি অবস্থানুরূপ প্ৰতীকারের ব্যবস্থা করিবেন। তাদৃশ বিধি পরিশেষে ব্ৰণে পবিণত হইলে ব্রণ চিকিৎসা দ্বারা ত হার প্রতীকার করা একান্ত বিধেয়। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে ত্রয়ােদশ অধ্যায়।

; চতুর্দশ অধ্যায়। । ব্রণ চিকিৎসা বিধি। একদা প্রভাবশালী অঙ্গেশ্বর রােমপদি নরপতি, ভার্গবাশ্রমস্থ জপনিয়ম শুশ্রষা নিরত শিষ্যগণ পরিবৃত ভগবান পালকাপ্যকে প্রণিপাত পূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন, আপনি বারণগণের যে সকল ভীষণ ক্লেশপ্রদ নানাবিধ স্রাব ও বেদনাযুক্ত গতিশীল ‘নাড়ীব্রণের উল্লেখ করিয়াছেন উহাদিগের মধ্যে কীদৃশ ব্রণ অসাধ্য এবং কীদৃশ ব্রণই বা সাধ্য এবং তাহার সাধন বা চিকিৎসার উপায় ই বা কি প্রকার ? তাহা আদ্যোপান্ত বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন। অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ; বৎস, মাতঙ্গগণের ব্রণ শরীর ও আগন্তুক ভেদে দ্বিবিধ ; অন্মধ্যে শারীর ব্রণ বাতপিত্ত কফ ও রক্তের পৃথক পৃথক্‌ কিংবা সান্নিপাতিক বিকার বশতঃই হইয়া থাকে । কিন্তু আগন্তুক ব্রণ কাষ্ঠ,পতন অশ্ম প্রাজন বন্ধন পীড়ন অগ্নি ও বিষ নিমিত্ত হইয়া থাকে। এই উভ- য়ের মধ্যে আগন্তুক ব্রণের তাপ নিবৃত্তির নিমিত্ত শীততাপচার করা কর্তব্য এবং ব্রণ বােপণার্থ মধু ধৃত দুগ্ধ প্রভৃতি যথা বিধি ব্যবহার করা কর্তব্য। অনন্তর দোষ- বিশেষ বিকারজনিত শারীর ব্রণের বিষয় উপদেশ করিব। সাধারণতঃ আগন্তুক ব্রণ সমুদয় আহাররস বৈষম্য আজন্মসি অভ্যাসের বৈপরীত্য কিংবা কালের প্রভাব বশতঃ দৈহিক উপাদান স্বরূপ বাতপিত্ত কফাদির অন্যতম বিকার প্রাপ্ত হইয়া মাতঙ্গগণের শারীর ব্রণের সূত্রপাত করে। উহাদিগের পৃথক পৃথক্ লক্ষণ উপদেশ করিতেছি-শ্রবণ করুন এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে- মাতঙ্গগণের বাত বিকারজনিত ব্রণ, সাধারণতঃ রুক্ষ পরুষবর্ণ শিরা সমূহ- ব্যাপ্ত ককশ ও গভীর দৃষ্ট হয়; পিত্ত বিকার জনিত ব্ৰণ সমুদয়, তীব্র দাহ- যুক্ত গলিত শবগন্ধি হরিদ্রাভ এবং: কক্ মাংস ও স্নায়ু ক্ষয়কারী লক্ষিত হয় এবং কফ বিকারজ, ব্রণ গাঢ় শ্বেত বর্ণ মৃদু ও অল্প বেদনাযুক্ত হইয়া থাকে। এতদ্ভিন্ন বারণগণের সান্নিপাতিক ব্রণে বা পিত্তক বিকারজনিত ব্রণ সমুদয়ের লক্ষণই বিদ্যমান থাকে এবং উহার প্রান্তভাগ অত্যন্ত স্ফীত ও তাহাতে তীব্র বেদনা বর্তমান থাকে। অনন্তর বারণগণের সাধ্য ও অসাধ্য ব্রণের অবস্থার বিষয় বর্ণিত হইতেছে শ্রবণ করুন-ক্রিয়াবিপৰ্যয় উত্তান শয়ন দৃঢ়বন্ধন প্রতিদ্বন্দ্বী মাতঙ্গকর্তৃক আঘাত, উচ্চস্থান হইতে পতন দূরপথ গমন বৈদ্যোপরােধ প্রভৃতি কারণে বারণগণের যে সকল ব্ৰণ জন্মে তন্মধ্যে কতকগুলি সাধ্য ও কতকগুলি অসাধ্য গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। । -- কনিয়া বুঝিতে হইবে। বারগণের যে-সকুল ব্রণ, ময়ূরকণ্ঠাভ, চন্দ্ৰকযুক্ত এবং স্বাভাবিক কঠিন তাহা অসাধ্য, বলিয়া জানিতে হইবে; যে সকল ব্রণ মৎস্য গন্ধযুক্ত এবং পিচ্ছিল তাহা অসাধ্য বলিয়া বুঝিতে হইবে; যে সকল ব্রণ শুফপ্রায় কৃষ্ণবর্ণ ও গন্ধবিহীন, তাহা অসাধ্য মধ্যেগণ্য; যে সকল ব্রণ কোষ্ঠান্তৰ্গত, ক্রমশঃ বর্ধনশীল, দুর্গন্ধযুক্ত ও প্রভূতস্রাব, বিশিষ্ট তাহা অসাধ্য জানিতে হইবে; যে ব্রণের মুখপ্রান্তে যজ্ঞডুমুরের ন্যায় মাংস পিণ্ড বিদ্যমান যাহা অত্যন্ত কঠিন এবং, যাহা হইতে নিরস্তর রক্তস্রাব হইতে থাকে তাহা অসাধ্য ব্রণমধ্যে গণনীয় ; যে সকল ব্ৰণ বল্মীকাকৃতি কৃমিযুক্ত, বহুছিদ্র বিশিষ্ট শােণিতাবি তাহা অসাধ্য ; যে সকল কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত ; যে সকল কঠিন দুর্গন্ধযুক্ত ব্রণের প্রান্তভাগ. সুপ বিম্বফলের ন্যায় লােহিতৃবর্ণ; মধ্যভাগ উন্নত এবং পৰ্যন্ত প্রদেশ কৃষ্ণ বর্ণ তাহা অসাধ্য ; যে ব্রণ অভিঘাত নিবন্ধন, মৰ্ম্মস্থানে জাত এবং জল যন্ত্রের ন্যায় শশাণিত-পরিশ্রাবী তাহা অসাধ্য ; যে সকল পিচ্ছিল ও দুর্গন্ধযুক্ত ব্রণ, শােণিত মিশ্রিত পুয়াবী তাহা অসাধ্য ; যে সকল ব্রণ অতি গভীর মাংস ভেদ করিয়া অস্থি স্পর্শ করিয়াছে এবং যাহার -মুখভাগে যজ্ঞডুমুর সদৃশ মাংসপিণ্ড বিদ্যমান আছে তাহাকে অসাধ্য বলিয়া জানিবেন; শিরাগত অত্যন্ত সাব- যুক্ত পিচ্ছিল ও আখাত (অন্তঃশুন্য কী? ব্রণ, অসাধ্য মধ্যে গণ্য এবং যে, সকল ব্রণের মুখ অত্যন্ত কঠিন বেদনাযুক্ত ও স্ফীত তাহা.ও. অসাধ্য বলিয়া বুঝিতে হইবে। পক্ষান্তরে উহার বিপরীত, গুণযুক্ত ব্রণ, সমুদয়. সাধ্য , , প্রতীকার-যােগ্য বলিয়া জানিতে হইবে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে, নির্গন্ধ আর-বিহীন (অল্প শ্রাবযুক্ত), পদ্মদল সদৃশ রক্তাভ অল্প বেদনাযুক্ত উত্তন (over) অণই নির্দোষ বলিয়া জানিতে হইবে। ইতিমুহর্মি পালপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মুহা:প্রবচনে শল্যস্থানে চতুর্দশ ; - " = পঞ্চদশ অধ্যায়। নাড়ীব্রণ-চিকিৎসা । (নালী ঘা চিকিৎসা, একদা মহর্ষি পালকাপ্য অপতিকে সস্নেহে সন্ধোধন ফরিয়া, বলিলেন-- হে অগেশ্বর, আমি.নাড়ীরুণ চিকিৎসা ব্যাখা করিতেছি শ্রবণ করুন-হে নরনাথ, দৈহিক উপাদান, বাতৃপিত্ত ও কফের পৃথক পৃথক কিংবা যুগপদ বিকার অথবা অভিঘাতের ফলেই বারণগণের নাড়ীব্রণ হইতে দেখা যায় সুতরাং উল্লিখিত নিমিত্ত ভেদে নাড়ীব্রণ ও পঞ্চবিধ। নিম যখন মানুঙ্গের দেহের অভ্যন্তরে শল্য-প্রবেশ করিয়া দেহের উপাদান স্বরূপ বাত পিত্ত কফাদিকে দূষিত করে এবং শস্ত্রাদি দ্বারা উহ্ন নিঃসরণ করিতে না পারায় উহার চতুর্দিকে প্রভূত্ব পূর সঞ্চিত হয়। সরল । পথ নিরুদ্ধ হওয়ায় বিপথে ধাবিত হয়, এবং অভান্তরস্থিত রজমাংলাদি ধাতু সমূহ, দূষিত করিয়া অজস্র পিচ্ছিল বিবর্ণ পূয় নাড়ীবৎ. নির্গত হইতে থাকে। নাড়ীর তুল্য পথে পূঃ শােণিত নিঃসৃত হয় এই নিমিত্ত উহাকে ‘নাড়ীব্রণ-বলে ।। বাত পিত্তাদি দূষিত ব্রণের গন্ধবর্ণ ও স্রাব যাদৃশ কথিত হইয়াছে, নাড়ীণের গন্ধাদিও তাদৃশ জনিবে। ইহাই পঞ্চবিধু. নাড়ীব্রণের নিদান তােমার নিকটে কীর্তিত হইল। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে-অগ্রে ব্রণ না থাকিলে, কখনও নাড়ীব্রণ জন্মেনা, সুতরাং অসাধানতা বশতঃ নাড়ীব্রণ জন্মিতে দিলে নিশ্চয়ই তাহা কৃচ্ছ সাধ্য হইয়া থাকে। অনন্তর মাতঙ্গগণের যে সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ‘ব্রণ কিংবা, নাড়ীণ জন্মিলে তাহা অসাধ্য বা চিকিৎসাদ্বারা প্রতীকারীযােগ তাহা বিস্তৃতরূপে বর্ণনা করিতেছি। শ্রবণ করুন হে অগনাথ, মতিগগণের দস্তাবেষ্ট অস্থিসন্ধি নখ নয়ন মৰ্ম্ম পাতা, পােহ বিক। অপঙ্কার অষ্ঠীব্য পলিহন্ত স্তন ইন্দ্রিয়গণের অভ্যন্তরেকুল্কি অঙ্গুলি। কী বস্তু সকটিকা বংশর অণ্ডকোষ, গাত্র সন্দান ক্ষয়ভাগ শ্রোতােন্তর তালুনাভি মেট্‌ কর্ণতল সতিল বাতকুম্ভ, স্থি জঘন ও মলদ্বারে নাড়ীব্রণ, জন্মিলে, কিংবা গভীর ভ্রণ জন্মিলে যথাযথ চিকিৎসাঘারা ও তাহার প্রতীকার করা অহি, দুষ্কর হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে যে সকল নাড়ীব্রণ তিকুগত, পরম্পরাগত, । নিজ অজং যতবতি পূরং পিচ্ছিল বিক নাড়ীৰং, তামাড়ী মভি নিশিদিতি।

৯২ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। । মণ্ডলাবৰ্ত্ত কুটিল বহু দেশাগত দন্ত বেষ্টানুগত অস্থিসন্ধিগত নেত্ৰাগত তাহা প্রায়শঃ প্রতিকৃত হয় না; পক্ষান্তরে যে সকল নাড়ীব্রণ ত্বকের নিয়ে বিদ্যমান ও অধােমুখ তাহা অপেক্ষাকৃত অল্পায়াস সাধ্য। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে ;- বিজ্ঞচিকিৎসক, রুগ্নমাতঙ্গকে সান্ত্বনা প্রদান পূর্বক তাহার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্যকরূপে পরীক্ষা করিয়া শক্ত প্রয়ােগদ্বারা অনুসােম ভাবে ব্ৰণ ব্যবচ্ছেদ করিবেন । যে সকল চিকিৎসক শস্ত্র প্রয়োগ নিপুণ তাহারা শকেই ভৈষজ্যরূপে ব্যবহার করিয়া থাকেন; কারণ ব্রণ উত্তান (খােল)' হইলে অবিলম্বেই শুরু হইয়া থাকে। ধীমান অঙ্গপতি পুনরায় মহর্ষি পালকপ্যকে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন;- ভগব, মাতঙ্গগণের যে সকল নাড়ীব্ৰণে শস্ত্র ও ক্ষার প্রয়ােগ সম্ভবপর নহে তাহার প্রতীকারার্থ কি উপায় অবলম্বন করা বিধেয় ? মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ;- হে নরেশ্বর, শস্ত্র ও ক্ষার প্রয়ােগ করিতে কিংবা অগ্নিকৰ্ম্ম করিতে অসমর্থ হন তখন অধােলিখিত সমভাগ ঔষধ সমূহদ্বারা নাড়ীব্রণ পূরণ করিবেন- ১। এিকটু । লাঙ্গলকী (বিষঙ্গিকা) ২। হরিদ্রা ৪। দন্তী অথবা ১। শৃঙ্গী ৫। বিড়ঙ্গ ২। কটকী ৬। সর্ষপ ৩। গবেধুকা (দেধান) ৭। গােত্র ৪। অর্ক (আকন্দ) মুল সমভাগ প্রথমােক্ত ষড়বিধ দ্রব্য সপ্তম গােমূত্রে বাটিয়া তাহা আতপ শুষ্ক ও চুর্ণ করিয়া প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের নাড়ীব্রণের দোষ প্রশমিত হইয়া থাকে। ", অথবা ১। নিষ পত্র ৪। করবীর পত্র ২। অর্কপত্র ৫। তিলক্ষার ৩। পুতিকরঞ্জ পত্র লবণ সমভাগ উল্লিখিত ষড়বিধ দ্রব্য একত্র বাটিয়া গুলি প্রস্তুত করিবে এবং তাহা সাবধানে নাড়ীব্রণ মধ্যে প্রয়োেগ করিলে নাড়ীব্রণের দোষ প্রশমিত হয়।

নাঙ্গীণ চিকিৎসা বিধি। ৯৩ ১। কুড় অথবা ৫; সৈন্ধব গড় ৬।' তিলক্ষার ৩। হবিদ্রা ৭। কুতিল ক্ষার ? ৪। চিতা ৮। অশ্ব মূত্র প্রথমােক্ত সমভাগ সপ্তবিধ দ্রব্য অষ্টম অশ্বমূত্রে, বটিয়া গুলি প্রস্তুত করিবে এবং উহা আতপে শুষ্ক করিয়া পরে তারা প্রলেপ দিলে বায়ণগণের নাড়ীব্ৰণে সবিশেষ উপকার দর্শে। মাতঙ্গগণের যে সকল নাড়ীব্ৰণে পূয় বিদ্যমান থাকে তাহাতে অপােলিখিত ঔষধ প্রয়ােগ করিলে অচিরে সুফল লাভ হইতে দেখা যায়। ১। সৈন্ধব লবণ ৪। অতিবিষ ( আইচ) ২। কি (মদের সিটা ) ৫। চিতামূল ৬। তিলক্ষার উল্লিলিত ষড়বিধ দ্রব্য জলে বাটিয়া আতপ গুফ করিবে এবং তাহা প্রয়ােগ করিলে বারণগণের সপূষ নাড়ীক্ষতের দোষ নিবৃত্তি হইয়া থাকে। অথবা ১। স্বর্ণক্ষীরী বা হৈমবতী ৫। দন্তী ২। বিড়ঙ্গ । মাত্র। ৬। দেবদারু ৩। তগর ৭। শুকনাসা ৪। মহৌষধি ৮। সৈন্ধব লবণ উল্লিখিত আট প্রকার দ্রব্য জলে বাটিয়া তাহা আতপ শুষ্ক করিবে এবং মাতঙ্গগণের নাড়ীৰণে প্ৰয়ােগ করিলে তাহা বিশােধিত হইয়া থাকে। বিশেষত ফোড়া পাকিয়া তাহাতে নালী ধরিলে কিংবা তাহাতে পিচ্ছিল পূয় বিদ্যমান থাকিলে এই ঔষধ প্রয়ােগে সবিশেষ উপকার দর্শে। ১। হন্তীর মলের রস ৩। লবণ ২। এদের সিটা . এই ত্রিবিধ দ্রব্য প্রকযােগে বাটিয়া ক্ষতের উপরে প্রলেপ দিলে অবিলবে বাঞ্ছিত ফল লাভ হয়। ইহা অতি উত্তম প্রলেপ। ১। সর্ষপ ৪। সৈন্ধব ২। চিতা ৫। মুহীক্ষীর (মনসাসিজের আটা ) ~ * গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। প্রথমােৰু চতুর্বিধ দ্রব্য পঞ্চম মুহীক্ষীরের সহিত উত্তমরূপে বাটিয়া প্রয়ােগ করিলে বারশগণের দুষ্টব্রণ শশাধিত হইয়া থাকে। অথবা ১। চিতা ৩। যার ২। নাগদন্তী এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রয়ােগ করিলে মাতগণের দূষিত ব্রণ শাধিত হইয়া থাকে। অথবা, ১। পাঠা (আনাদী লতা) ৪। যষ্টিমধু ২। মধুরস (তুলসী) ৫। সৈন্ধব লবণ ৩। দন্তী এই পঞ্চবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রয়ােগ করিলে দুষ্টণ শােধিত হইয়া থাকে। অথবা ৩। অৰুমুল ( আকন মুল) ২। শুকনাসা ৪। সৈন্ধব লবণ এই চতুর্বিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রয়ােগ করিলে বারণগণের দূষিত ব্রণ বিশােধিত হইয়া থাকে। ১। চিতা ৪। তাে ২। সর্ষপ ৫। দন্তী ৩। তেজোবতী ও চৈ } ৬। লবণ সমভাগ উল্লিখিত ছয় প্রকার দ্রব্য একযােগে বাটিয়া ক্ষতমধ্যে প্রয়ােগ করিলে বারণগণের দূষিত ৰণ বিশশাধিত হইয়া থাকে। অথবা ১। হরিদ্রা ৫। কটকী ২। দারিদ্রা ৬। বিছাল ৩। কনাস ৭। সৈন্ধব লবণ উল্লিখিত সপ্তবিধ দ্রব্য সমভাগে লইয়া তাহা বাটিয়া লেপন করিলে বাণগণের দূষিত ব্রণ নির্দোষ হইয়া থাকে। অথবা ১। পাঠা ৫। দেবদা যবক্ষার ৩। অতিবিষা এই পঞ্চবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রলেপ দিলে দুষিত ব্ৰণ বিশোধিত হইয়া থাকে।

নাড়ীব্রণ চিকিৎসা বিধি। ৪। নীল ১। নিপত্র জারিত কঁসা ২। নক্তমালপত্র (করচা পাতা) সমভাগ এই চতুৰ্বিধ দ্রব্য একযোগে বাটিয়া প্রয়ােগ করিলে মাতঙ্গগণের ব্রণ তা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। ১। মুফকার (ঘন্টাপারুলের ক্ষার ) ৪। কুতিল ক্ষার ২। সাজিনাগাছের ক্ষার ৫। সর্ষপ ৩। তিলক্ষার ৬। গব্যঘৃত এই ষড়বিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রলেপ দিলে বারণগণের দূষিত ব্রণ অবিলম্বে শুষ্কতা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। অনন্তর মাধ্যব্রণ সমূহের শস্ত্ৰকৰ্ম্ম-বিশেষ ব্যাখ্যাত হইতেছে-বিজ্ঞ চিকিৎসক যাধ্যায়ে উল্লিখিত বিধান অনুসারে মাতঙ্গকে সুন্ত্রিত করিয়া তাহার বিশ্বাস উৎপাদন করিবেন । পরে যজ্ঞীয় হব্য ও শান্তিকুম্ভ-সলিলদ্বারা তাহাকে প্রেক্ষিত করিয়া ‘এষণী’ অদ্বারা ক্ষুদ্রমুখ নাড়ীব্রণ নিরূপণ করিয়া ‘বৃদ্ধিপত্র’ শদ্বার। অনুলােমভাবে চ্ছেদন করিয়া যাহাতে অনায়াসে ব্রণ। ক্লদ নিঃসৃত হইতে পারে তাহার বিধান করিবেন। অনতর ১। কিথ (মদের সিটা ) ৪। গব্যঘৃত ২। সৈন্ধব লবণ ৫। যবক্ষার ৩। মধু এই পঞ্চবিধ দ্রব্য উত্তমরূপে বাটিয়া ক্ষৌম বস্ত্রে লেপন করতঃ উহা ব-ি রূপে ব্রণ মধ্যে প্রবেশ করাইবেন এবং তাহার উপরিভাগে অধোলিখিত 'কন্তু প্রদান করিয়া ব্ৰণ বন্ধন করিয়া দিবে না। কদ্রব্য যথা--- ১। অক্ষীর ৯। নিপত্র ২। পলাশ 'ছাল ১। সুহীক্ষীর (মনসাসীজের আঠা ) ৩। লাঙ্গলী (বিষলালা ) ১১। স্বর্জিকা ( সাচলবণ ) ১২। হরিতাল {শােধিত) ৫। বিবৃৎ (তেউড়ীলতা ) ১৩। পিপ্পলী ১৪। রুবক (অপামার্গ) ৭। চিতা ১৫। 'শঙ্খিনীলতা পিপ্পলী মূল গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। i এই পঞ্চদশবিধ ঔষধ দ্রব্য একযােগে অর্ধপিষ্ট করিয়া বন্ধনের সুযােগ না থাকিলে বাটিয়া নাড়ীব্রণের (নালী-ঘায়ের) উপরিভাগে প্রয়ােগ করিলে অভ্যন্তর- স্থিত দূষিত পদার্থ সমুদয় সহজে নিঃসারিত হইয়া থাকে। ১। তকরী (জয়ন্তী) ১২। হরিদ্রা ২। আরগ্ধ ১৩। মুরসা ৩। পটোল ১৪। সপ্তপর্ণী ৪। শঙ্খিনী (লতা) ১৫। নিম্বছাল অশ্বগন্ধা ১৬। করবীর ছাল নমাল ১৭। কুটজ ছাল ৭। যষ্টিমধু ১৮। আস্ফোতা (অপরাজিতা) ৮। জীবক ১৯। রােহিণী কটকী ৯। আঙ্কেল্প ২। ক্ষীরিণী ১। খদির ২১। আমলকী ১১। বনকার্পাসী উিিখত এক বিংশতি প্রকার দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিয়া তদ্বারা মাতঙ্গগণের নাড়ীব্রণ প্রক্ষালন করিলে উহ শীঘ্র শুষ্কতা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। ১। শঙ্খিনী ৭। কুষ্ঠ (কুড়) ২। চিতা ৮। কটকী ৩। তেজোবতী (চৈ) ৯। মুহী ( মনসা সিজ) ৪। বিবৃৎ (তেউরী। ১০। সুবর্ণক্ষীরী (হৈমবতী ) ৫। হ্ৰীবের (বালা) ১১। আঁৰু ক্ষীর (আকলের আটা) ১২। পুরাতন গব্যঘৃত প্রথমােক্ত দশবিধ দ্রব্য সহ একাদশ পুরাতন ঘৃত পাক করিয়া তাহা শীতল হইলে ক্ষত মধ্যে প্রয়ােগ করবে। ইহাতে ব্রণ শুষ্কতা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। ১। বৃহতী ৭। চিতা ২। অশ্বগন্ধা ৮। পিপ্পলীমূল ৩। অজশৃঙ্গী ৯। মুৰ্ব্বা (মুরগা লতা) ৪। হরিদ্রা ১০। কোশাকী ঝি ৫। সর্ষপ ১১। কটুকালাবু (কটুলাউ) ৬। পাঠ। ( আনাদী লতা ) ১২। এপু (সীস) মাতীব্রণ চিকিৎসা বিশি। ১৬। মদন ফল ১৫। তিলতৈল ১৪। গােমূত্র প্রথমােক্ত ব্রয়ােদশবিধ দ্রব্য চতুর্দশ গাে-মূত্রে বাটিয়া গাে-মূত্রের সহিত তৈল কু করিবে এবং তাহা ব্রণ মধ্যে প্রয়োগ করিলে মাতঙ্গগণের নাড়ীব্রণ ( নালী) প্রশমিত হইয়া থাকে । ১। জীবন্তী ৫। কটু তুম্বক (কটুলাই) আরধ (সােন্দাল ) ৬। মঞ্জি ৩। গােজী ৭। ক্ষীরবৃক্ষ পল্লব ( অশ্বখ, বট, ৪। মুক যজ্ঞডুমুর, পাকুড় ও পারীশ) উল্লিখিত সপ্তবিধ দ্রব্য উত্তমরূপে বাটিয়া তদ্দারা বর্তি প্রয়ােগ করিলে বারণ- গুণের নাড়ীব্রণ প্রশমিত হইয়া থাকে। ১। শল্ল কীছাল ৪। অন্তক (পাথরচুণায় ) ছাল ২। অশ্বকর্ণ ছাল ৫। করণীর ছাল ৩। মুঙ্কক (ঘণ্টাপারুল ছাল ) ৬। আধাদিগণের ছাল উল্লিখিত তরুত্ব সমুদয়ের কাণ প্রস্তুত করিয়া তারা প্রক্ষালন করিলে মাতঙ্গগণের নাড়ীব্রণ (নালী ঘ) শুষ্ক হইয়া থাকে। উল্লিখিত কষা, জীবী এবং অবধাদিগণীয় ঔষধ সমূহের সহিত সমভাগ হৈল ও ঘৃত পাক করিয়া তাহা নাড়ীব্ৰণে প্ৰয়োগ করিলে উহা শুষ্ক হইয়া থাকে। : + হে নরেশ্বর, যে স্থলে অগ্নিকর্ম শস্ত্রোপচার প্রভৃতি সম্ভবপর নহে, তাদৃশ নাড়ী- ব্রণর দোষ নিঃসরণার্থ অধধলিখিত ঔষধ প্রয়োগ করিবে। ১। যথপর ৮। করবীরপত্র ২। গর পত্র পাক পত্র ৩। পিচুমন্দ নিম) পত্র ১০। তিক্ষার ৫। পূতিকর পত্র ১১। কুতিলক্ষার ১২। অমুত্র ৬। এলাট ৮ অঙ্ক ক্ষীর ৭। অমলকী প্রথমােক্ত একাদশবিধ দ্রব্য দ্বাদশ অমূত্রে বাটি গুলি প্রস্তুত করবে এবং অয়োদশ অৰুগীর উত্তপ্ত করিয়া তাহা নাড়ী ক্ষত বা নালী ব্যয়ের মধ্যে উত্তপ্ত ৭ ১৮ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। অবস্থায় প্রদান করিয়া তৎপরেই উল্লিখিত গুলি (বর্তি) ক্ষতমধ্যে প্রয়োগ করিবে। উহাতে নাণী ঘায়ের দূষিত পদার্থ সমুদয় নিঃস্ত সইয়া থাকে। অথবা ১। অঞ্জন (ফশী) ১২। চিতা ২। গল্পপাদুকা ১। বিছাল ৩। কুষ্ঠ ( কুড়) ১৪। সর্ষপ ৪। হরিতাল ১৫। খয়ের (খদির সার) ৫। মনঃশিলা ১৬। গবাক্ষী ১৭। দন্তী ৭। অশ্বগন্ধা ১৮। বিড় ৮। লাগলী (বিষ লাগলা) ১৯। আকন্দ মূল ৯। সৌরাষ্ট্রী (সৌরাষ্ট্র দেশাজাত মাটী) ২০। সজিনা মূল ১০। গােরােচনা ২১। তিলক্ষার ১১। মুরসা (তুলসী) সমভাগ উল্লিখিত একবিংশতি প্রকার ঔষধ দ্রব্য সমুদয় একযোগে বাটিয়া রৌদ্রে উত্তপ্ত করিবে এবং উহা মাতঙ্গগণের নাড়ীব্রণ (নালী ক্ষত) মধ্যে প্রয়োগ করিলে উহার দোষ নিঃসৃত হইয়া থাকে। হে নরনাথ, অনন্তঃ ক্ষার ফৰ্ম্ম ব্যাখ্যাত হইতেছে শ্রবণ করুন- ১। মুফক ( ঘটাপাল) ১৪। কুটজ ২। পলাশ ১৫। তিলক ৩। তিনি ৪। সৰ্জ (সাল) ১৭। সৌগন্ধিক ( কর্তৃণ ) ৫। সাধ ১৮। অবলৎজ (কৃষ্ণ সােমরাজী বা হকুচ ) ৭। চিরবিব ১৯। কটুখী ( তিতলা) ৮। সজিনা ২০। কুঞ্জী ৯। কুতিন ২১। করবীর ১০। “ফুজ্জ (গাব) ২২। অপমার্গ ১১। পাটল। ২৩। জগন্ধা ১২। অরিগে (য়ে বাবলা। ২৪। অর্জুন ১৩। পাদ্রিক (কু) ২৫। ইহূদী # নাড়ীব্রণ চিকিৎসা বিধি। ২৯। বিশ্ব ২। কাকা ৩১। কৃমাল (সােনাল) ২৭। কোশতকী, তিতপল্লা) ৩২।, হরিত্র। বেতন ৩০। নীপ (ক) ৩৪। যবন (শিলারস) ৩০। সপ্তপর্ণ ( ছাতিয়ান) উল্লিখিত চতুস্ত্রিংশৎ প্রকার দ্রব্য সংগ্রহ করিয়া তাহা যথাসম্ভব খণ্ড খণ্ড করতঃ রৌদ্রে অর্ধ শুষ্ক করিবে। পরে তৃণাদি শিহীন সুপরিস্কৃত উন্মুক্ত স্থানে তাহ দগ্ধ করিয়া ভস্ম করিবে। পরে উক্ত ভস্ম বৃহৎ পাত্রে স্থাপনপূর্বক তন্মধ্যে ৩৫। ছাগী মুত্র ৩৯। অশ্বতর মুত্র ৩৬। মেষী মুত্র ৪০। গর্দভ মূত্র ৩৭। গো-মূত্র ৪১। উষ্ট্র মূত্র ৩৮। মহিষ মূত্র এই সপ্তবিধ মূৰ প্রদানপূর্বক তাহা বস্ত্র পরিত করিয়া (চূইয়া) বৃহৎ লৌহকুম্ভে লইবে এবং তাহার সমভাগ তিল তৈলা তাহাতে মিশ্রিত করিয়া মৃদু অগ্নি দ্বারা আস্তে আস্তে পাক করিবে। অনন্তর- ৪২। লাঙ্গলিক। ১ পল ৪৯। পঞ্জিকা ( সাচ, লবণ ) ৪৩। দন্তী ৫। যবকার ৪৪। চিত। ৫১। বিট, লবণ ৪৫। পিপ্পল মুল ৫২। সৈন্ধব লবণ ৪৬। তীগন্ধা ৫৩। মুহী ক্ষীর (মনসাসিজের আঁটা) ৪৭। গোলমরিচ আকন্দের আটা ৪৮। আদা এই ত্রয়োদশবিধ দ্রব্য ‘অপাৰ প্ৰক্ষেপ উহাতে প্রদানপূর্বক ঘণীভূত হওয়া পৰ্য্যন্ত দব্বী (লােহার হাতা) দ্বারা আস্তে আস্তে আলোড়ন করিবে। অভয় বৈশ্বানবের পূজা করিয়া নির্মল কৃষ্ণ লৌহ নির্মিত পালে উহ। স্থাপনপূর্বক সেই পাত্রের মুখ আবৃত করিয়া তাহা হ বা সপ্তাহকাল স্থাপন করিতে হইবে। পরে মাতল চিকিৎসক, প্রাতঃকালে স্নান ও পবিত্র বস্ত্র পরিধানপূর্বক ব্রাহ্মণগণ দ্বারা স্বস্তি বাচন করাইয়া সুতীক্ষ্ণ শস্ত্রের সাহায্যে নালীর মুখ প্রশস্ত করিবেন। অতঃপর বদ্বারা পুয় রাদি পুছিয়া পূর্বপ্রস্তুত উল্লিথিত ক্ষার শলাকাদিতে মাখিয়া ক্ষতমধ্যে প্রয়োগ কমিবেন। এইরূপ ক্ষার প্রয়োগের ফলে যখন দেখিবেন C) a ১৮ ৫৪।

গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। . ক্ষত পৰু জম্ব, ফলের ন্যায় রাত ধারণ করিয়াছে তখন নিবৃত্ত হইবেন। কারণ চিকিৎসকের অসাবধানতা কিংবা অযোগ্যতাবশতঃ ক্ষারদাহ পরক্ষণের অধিক কইলে মাতদের কম্প শ্বাস গুণ মােহ শোষ দাহ জ্বর ও সাতিশয় রক্তপাত ঘটে। দুরদৃষ্ট বশতঃ তাদৃশ অবস্থা ঘটিলে তৎক্ষণাৎ গত মধ্য ধন্যা দধির মত কিংবা সৌীরক (যবের কাজি) দ্বারা প্রক্ষালন করিলে কিঞ্চিৎ উপকার দর্শে। অনন্তর অধোিিখত প্রলেপ দিলে সবিশেষ ফললাভ হয়। ১। কচি ডালিম ৩। অপেশী (আমশী) ২। তেঁতুল ৪। কৃষ্ণতিল ৫। গবত প্রথমােক চতুর্বিধ দ্রব্য একযোগে কাটিয়া তাহার সহিত পঞ্চম গব্যঘৃত মিশ্রিত করতঃ প্রলেপ দিবে। ইহাতে প্রতীকার না হইলে দুগ্ধ দধি ও বসাদ্ধারা পুনঃ পুনঃ প্রলেপ দিবে। তাহাতে ও প্রতীকার না হইলে অস্ত্র প্রয়ােগ ও অগ্নিকাৰ্যে যে সকল বিধানের উল্লেখ আছে তাহার অনুষ্ঠান করিবে। ১। অরিভেদ (য়ে বাবলা) ছাল । ১১। শিরীষ (ছাল) ২। অর্জুন ছাল ১২। শাল (ছাল ) ৩। কদম ছাল ১৩। অজকর্ণ ৫। লোধ ১৪। বারী (ছাল) ৫। অরগ্ধ (হাল) ১৫। অঙ্কেট ৬। ক্ষীরিকা ১৬। পলাশ (ছাল) ৭। সােম বন্ধ । সৃন তিনিশ বা (ছাল) মেষ শৃঙ্গী ১৯। তিল তৈল ১শে ১। ধব (ঝাউ ) ছাল উল্লিখিত অষ্টাদশ প্রকার দ্রব্য ছেচিয়। তাহা অষ্টগুণ জলে কাথ করিবে এবং পদ (!) অবশিষ্ট থাকিতে তাহা অবতারণপূর্বক উক্ত কাথের সহিত উনবিংশ তৈল পাক করিতে থাকিবে। এইরূপে পাক চলিতে থাকিলে তন্মধ্যে অধো- লিখিত ঔষধ সমুদয় প্রক্ষেপ দিবে। ২। গিরিকর্ণিকা (অপরাজিতা) মূল ২২।পাঠা ( আকনদী) মূল ১ (বিশ্ব পরিমাণ) ২৩। মালতী মূল ২১। অশ্বগন্ধা মূল ২৪। অলাবু মূল ৮।

নাড়ীব্রণ চিকিৎসা বিধি। ১০১ ১৪। ২৫। শিংশপা মূল ২৮। শুকনাশা মূল ২৬। নাগদন্তী মূল ২৯। তেজস্বিনীমূল মূল ২৭। মৃদ্ধা (মুগরা) মূল উত্তমরূপে বাটিয়া উক্ত তৈলে প্রক্ষেপ দিবে। তৈল উত্তরূপে পাক হইছে জানিয়া তন্মধ্যে পুনরায় ৩০। ইক্ষু গুড় ১০০ পল ৩১। • পিপ্পলী চূর্ণ ১ প্রস্থ প্রক্ষেপ দিবে এবং অবতরণ পূৰ্ব্বক ‘গেবিধি’ উক্ত বিধান অনুসারে তাহা পান করাইবে। অথবা ১। গ্রেধি ছাল পূতীক ২। যজ্ঞডুমুর ছাল প্রিয় ৩। অশ্বথ ছাল ১৫। অজকর্ণ ছাল ৪। যষ্টিমধু ছাল ১৬। অর্জুন ছাল কদম্ব ছাল ১৭। বৃক্ষাদনী মূল ধব (ঝাউ ) ছাল ১৮। অশ্বগন্ধা মূল ৭। কদর বা বাবলাছলি ১৯। বর্ষাভূ (পূনর্ণব) মূল ৮। মহাজ, ছাল ২০। মােরটা ( মূৰ্ব্বা) মূল ৯। পলাশ ছলি ২১। শৃগাল বিন্না মূল প্লক্ষ ছাল ২২। ভদ্রা (শ্যামালতা মূল ১১। শ্রীপণী ছাল ২৩। উদুম্বরী মূল ১২। মেষ শৃঙ্গী ২৪। সুবহা মূল সমভাগ উল্লিখিত চতুর্বিংশতি প্রকার দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিয়া তাহাব সহিত তৈল পাক করিতে থাকিবে এবং পাক প্রায় হইয়া আসিলে তন্মধ্যে অপােলিখিত ঔষধ প্রক্ষেপ দিবে ১। দারু হরিদ্রা ৪। প্রিয় ২। হরেণুক। ৩। এলা এই পঞ্চবিধ দ্রব্য প্রক্ষেপ প্রদান করিয়া যথা সময়ে তৈল অরতারণ পূৰ্ব্বক স্নেহপানােক বিধানে পান করিতে দিলে রুগ্ন মাতঙ্গের নাড়ীরণ বা নালী ঘা প্রশমিত হইয়া থাকে। ২! যজ্ঞডুমুর # ৫। মঞ্জিষ্ঠা ১} অগ্রাধ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ৩। অশ্বখ ১০। চিরবি ৫। মধুক (মহুয়া ) ১২। শ্রীপর্ণী ১৩। অজকর্ণ (পীতসাল) মেষ শৃঙ্গী ১৫। শিরীষ ৭। পলাশ ১৪। ৮। আসন (সাল) ৯। বেতন উল্লিখিত পঞ্চদশ প্রকার বৃক্ষের ত্বক ও মূল আহরণপূৰ্ব্বক চারি কলসী জলে কাপ করিবে এবং সেই কাথ অর্ধবশিষ্ট থাকিতে অবতারণ করিয়া প্রাতঃকালে মাতঙ্গকে ১ প্রশ্ন বা ১ কুড়ব কিংবা যে পরিমাণে পান করিতে পারে তাহা পান করিতে দিবে। ১। লাঙ্গলী (বিষ লাঙ্গলা) পঞ্চবণ ২। চিত। ৭। হরিদ্রা ৩। কুটজ ৮। যষ্টিমধু ৪। করবীর পত্র ৯। অন্তরীক্ষোদক ( বৃষ্টি তুষারাদি ৫। মাতুলঙ্গ (ছােলঙ্গ বা জাম্বুরা) পত্র জল) উল্লিখিত নয় প্রকার দ্রব্যের সহিত তৈল পাক করিয়া বস্তির সাহায্যে উক্ত তৈল নাড়ীব্রণ মধ্যে প্রদান করিলে উহা বিশােধিত হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে যদি নাড়ী (নালীঘ) বক্ষঃস্থল বা অন্য কোন ও গুঢ় প্রদেশ আক্রমণ করিয়াছে বলিয়া মনে হয় তাহা হইলে তৈল পান ও অভ্যঙ্গ দ্বারা তাহার প্রতীকার করিতে যত্ন করা কর্তব্য। গব্য ঘৃত মিশ্রিত মুগের খিচুড়ী এবং মিছিরি মিশ্রিত কোমল কঁাচা ঘাস এতাদৃশ অবস্থায় উত্তম পথ্য। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে যে চিকিৎসক উল্লিখিত বিধানে আগন্তুক বা দোষজ ব্রণের চিকিৎসা করেন তিনি অল্পকাল মধ্যেই সফলতা লাভে সমর্থ হইয়া থাকেন। ইতি শ্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে পঞ্চদশ "অধ্যায়। (ক) পুস্তকের মতে ক্ষত নালীযুক্ত হইলে অধোলিখিত ঔষধ প্রযােজ্য ১। পারা (কলী) ২ তােলা ৩। মুদ্রাশঙ্ক রসমাণিক্য ১ ৪। বটের আঁটা তােলা নাড়ীব্রণ চিকিৎসা বিধি ৫। হিঙ্গুল ১ ৬। গব্য ঘৃত ১ উল্লিখিত ৬ প্রকার ঔষধ একযোগে পিত্তল পাত্রে এবং পিত্তলপালদ্বার। মাড়িয়া ক্ষত উষ্ণ জলে প্রক্ষালন পূর্বক পূৰ্ব্বক যথাসাধ্য ভিতরে ও উপরিভাগে ৩ ৪ বার করিয়া প্রয়োগ করিবে। ১। পারা y, পোয়া ৩। হিঙ্গুল ১ তোলা ২। গব্য গৃহ ৪। গিরি মাটি ২ পূর্বোক্তরূপে পিত্তল পাত্রে পারা ও ঘি মিশিলে অপর ২ প্রকার ঔষধ মিশ্রিত করিয়া মালিশ কয়িলে নালী সরিয়া যায়। এই গ্রন্থকারের মতে ও প্রথম অবস্থাতে শস্ত্র প্রয়োগদ্বারা দূষিত পূয় রক্তাদি নিঃসারণই শীঘ্র প্রতী- কারের উপায় গ ও ঘ পুস্তকের মতে শস্ত্র প্রয়ােগের পরে সাধারণ ক্ষত চিকিৎসাই নালীর চিকিৎসা। তদ্ভিন্ন অধােলিখিত ঔষধ প্রয়োগে মাতঙ্গগণের ‘নাড়ীব্রণ বা নালীপায়ের সবিশেষ উপকার হইতে দেখা যায় ১। নিম ছাল ৪। হলুদের পাতা কিংবা বেপোশাক ২। আকন্দ ছাল ৫। শিংশপাসার ৩। রাখাল শশার মূল ৬। তিল তৈল জল। ২ সের কাথ / সের এই কাথ দ্বারা নালী । পিচকারীর সাহায্যে পুনঃ পুনঃ প্রক্ষালন করিলে বারণগণের নালী বার বিকার প্রশমিত হইয়া থাকে। তৎপরে অধোলিখিত ঔষধ প্রয়োগ করিতে হইবে-- ১। শূয়ারিয়া ১ ২। আদা ১ এই দ্বিবিধ ঔষধ দ্রব্য একযোগে বাটিয়া নালী ঘায়ের উপরিভাগে ও মুখে উত্তমরূপে ‘পটী’ দিয়৷ তদুপরি সহমত উত্তপ্ত কাঠ কয়লার স্কেল প্রদান করিলে নালী ঘার প্রতীকার হইয়া থাকে । .

যােড়শ অধ্যায়। विज्ञाना-जाना। একদা মহানুভব অঙ্গেশ্বর, জ্ঞানী ঋষিবর পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগব, বারণগণের শিরাসমুহ কোন্ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে এবং কোন্ কোন্ প্রদেশেই বা তাহাদিগের অবস্থান ? হে ধৰ্ম্মজ্ঞ, উহাদিগের কতগুলি শিরা বাত বহ? কতগুলি পিত্ত বহ? কতগুলিই বা শ্লেষ্ম, রক্ত, স্বেদ, মদ ও শুক্র বহন করিয়া থাকে ? এবং কতগুলি ই বু মাংস অস্থি মেদঃ মজ্জা ও শু বহন করিয়া থাকে ? ও কতগুলি শিরাদ্বারা ই উহাদিগের আদনক্রিয়া নিৰ্বাহ হয় ? হে তত্ত্বজ্ঞ, আপনি মাতঙ্গগণের শিরা জালের অবস্থান যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল চরিতার্থ করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে নরেশ্বর, গভস্থ মাতঙ্গশিশুর প্রাণযুক্ত হৃৎপিণ্ড অগ্রে উৎপন্ন হইয়া ক্ৰমে বর্ধিত হইতে থাকে এবং তৎপরে ভগবান সবিতৃদেবের রশ্মিজালের ন্যায় উহা হইতে অচিরে শিরাজাল উৎপন্ন হইয়া দেহের চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত হইয়া থাকে। উহাদিগের মধ্যে কোনওটি তির্যক (বক) ভাবে প্রস্ত হইয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্পন্দন সামর্থ্য প্রদান করিয়া থাকে। সেই হৃৎপিণ্ড হইতেই দুইটি মাতৃকা শিরা উহাদিগের কণ্ঠ পৰ্য্যন্ত উখিত এবং অপর দুইটা জিহ্বামূল পর্যন্ত প্রস্ত হইয়াছে। শেষোক্ত শিরায় উহাদিগের রসাস্বাদনে সবিশেষ সহায়তা করিয়া থাকে। অনন্তর কষ্ট মধ্যে ও কর্ণদ্বয়ে আটটি করিয়া শিরা প্রস্ত হইয়া থাকে যাহার প্রভাবে সতত কর্ণদ্বয় সঞ্চালন করিতে সমর্থ হয়। তৎপরে মস্তকে জননেন্দ্রিয়ে এবং দেহের পশ্চাদ্ভাগে ‘মাতৃকা বা বৃহৎ শিরা সমুদয় প্রস্ত হইয়া থাকে। হে অলেশ্বর, এই প্রকারে মাতঙ্গগণের সর্বাঙ্গ শিরাজালে পরিব্যাপ্ত হইয়া উহাদিগের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে সঞ্চলন সামর্থ্য প্রদান করিয়া থাকে। হে পৃথিবীশ্বর, একটি মাতঙ্গের দেহে সাতশত শিরা বিদ্যমান আছে তাহার বিস্তৃত বিভাগ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন- মাতঙ্গ দেহস্থ উল্লিখিত শিরা সমুদয়ের মধ্যে কতকগুলি উহাদিগের মলমুত্রস্থালী নাভি বস্তি প্রভৃতি প্রদেশ আশ্রয় করিয়া অবস্থান করে বং বায়ু বৰ্ধিত হইয়া উহাদিগের দ্বারধমনীসমুহে প্রবেশ লাভ করে। মাতঙ্গদেহে তাদৃশ শিরা প্রায় অর্ধশত বিদ্যমান আছে। মাতঙ্গদেহে রসবহশীরা তাহারাই বায়ু বহন করিয়া থাকে। সেইরূপ পিত্তবহ শিরা ও অর্ধশত ; উহারা মাতঙ্গ শিয়াবেধ চিকিৎসা। দৈহে বক্ষঃস্থল মস্তক গ্রীবাদেশ ও মৰ্ম্ম সন্ধি সকল পরিব্যাপ্ত করিয়া বিদ্যমান আছে এবং উহাদিগদারাই শ্লেষ্ম বর্ধিত হইয়া ধমনীসমূহে প্রবেশ লাভ করে। তদ্ভিন্ন শ্লেষ্মবহ শিরা ও বারণদেহে অর্ধশত বিদ্যমান থাকে এবং শ্লেষ্ম বর্ধিত হইয়া উহাদিগদ্বারা ধমনীমণ্ডলীতে প্রবেশ লাভ করিয়া থাকে। উহাদিগের রক্ত- বহ শির। সমুদয় ফুস্ যকৃৎ ও হৃদয়ের মধ্যদেশে অবস্থান করিয়া সর্বাঙ্গে শােণিত সঞ্চারে সহায়তা করিয়া থাকে। সেইরূপ রসবই শিরাসমুদয় স্ব ও মাংস মধ্যে পৃথক পৃথক্‌ বিদ্যমান থাকিয়া দেহের উপাদান স্বরূপ সপ্তধাতুকে সতেজ করিতে থাকে। তাদৃশ বিধানেই অর্ধশত করিয়া শিরার সাহায্যে মাংস মে অস্থি ও শুক্র ইহার প্রত্যেকটি বর্ধিত হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, বাত পিত্তাদির প্রভাবে, শারীরিক উপাদান স্বরূপ সপ্তধাতুর উৎকর্ষে হর্ষ প্রাবল্য ও শারীরিক শক্তির আধিক্য বশতঃ কিংবা স্বভাবতঃ ই বারণগণের মতা বা মণ প্রবৃত্তি হতে দেখাযায় এবং শতাব্ধ মদ-বহ শিরা উহাদিগের দেহের অভ্যন্তর প্রদেশ হইতে মদ জল কটাদির বহির্ভাগে নিঃসারণ করিয়া থাকে । মাতঙ্গগণের দেহের পশ্চাদভাগে অন্যূন আটটি ‘কণ্ডর’ বা স্কুল শিরা বিদ্যমান আছে এবং উহার এক একটি পশ্চাৎ ও সম্মুখ চরণে বর্তমান থাকিয়া উহার ক্রিয়া নির্বাহ করিয়া থাকে মাতঙ্গদেহস্থ বায়ু স্বভাবতঃ সূক্ষ্ম গতিশীল কর্কশ কটু ও শীতল। পিত্ত উষ্ণ অন্ন দ্রব বিবর্ণ ও ( বিকৃত হইলে ) ভীষণ অহিতকর। শ্লেষ্ম মধুর শীতবীর্য ঘন শ্বেত ও গুরু (গুরুত্ব গুণযুক্ত ), উহা বলকর লবণ ও অম্লরসযুক্ত স্নিগ্ধ ও জীবনীশক্তি বর্ধক। দেহ ই মাতঙ্গ দেহ শ্রিত বায়ুর উৎপতিক্ষেত্র, পিত্ত আগ্নেয় ও কফ সোমাত্মক বলিয়া জানিতে হইবে । মাতঙ্গদেহস্থিত রস আত্রেয়, শােণিত বাশিষ্ট, মাংস কাশ্যপ, মেদ গৌতম, অস্থি ভারাজ, মজ্জা কৌশিক এবং শুক্র জামদগ্ন্য বলিয়া কথিত হইয়াছে। বর্ষণবিসানে শৈলগাত্র হইতে যেমন দলিলধারা পরিশ্রুত হয় তেমনি মাতঙ্গদেহস্থ স্বে স্বেদবহ শিরা সমূহদ্বারা মাতঙ্গ- গণের বদন মণ্ডলে নীত ও তথা হইতে নির্গত হইতে থাকে। হে নরেশ্বর, এই মাতঙ্গ দেহস্থ সপ্তশত শিরার বিষয় যথাযথ বর্ণনা করিলাম, উল্লিখিত সাতশত শিরার শাখা প্রশাখারূপে সন্ধি অষ্ট সহস্র স্নায়ু মাতঙ্গগণের সর্বাঙ্গ ব্যাপ্ত করিয়া রহিয়াছে এবং উহাই বাতপিত্তাদির ও রক্তের সঞ্চার পথ। উহাদিগের সাহায্যেই সকল প্রাণীর দৈহিক উপাদান শপ্তধাতু পুষ্টিলাভ করিয়া থাকে । অাশ্রয়স্বরূপ শােণিত হইতে যকৃৎ বর্ধিত এবং রক্তদুষ্টি বশতঃ প্লীহা ও বুক বুকপাত ) পরিবর্ধিত হইয়া থাকে। এমনকি যে ফুস্ফুস হইতে সর্বাঙ্গে রক্ত সঞ্চার হয় গজায়ুবেদ-সংহিতা। তাহাও রক্তের শক্তিতে ই বর্ধিত হইয়া থাকে। রক্তপিত্ত ও কফের বাতাযুক্ত তেজঃ হইতে উহার উৎপত্তি এবং সর্বাঙ্গের সহিতই উহার ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ বিদ্যমান আছে। রক্ত বর্ধিত হইতে থাকিলে বল ও তেজঃ বর্ধিত হইতে থাকে এবং রক্ত ক্ষীণ হইতে থাকিলে সপ্তধাতু ই ক্ষীণ হয় ; সুতরাং বিশুদ্ধ শােণিতই প্রাণী দিগের জীবনীশক্তি স্বরূপ। এই নিমিত্ত রক্ত দূষিত হইলে নির্দিষ্ট পরিমাণে তাহার মােক্ষণের বিধান করা কর্তব্য। ষড়বিধ আহার রসই প্রাণিদেহের পুষ্টিসাধন করিয়া থাকে। মাতঙ্গগণের পিগানই বসস্থান এবং উক্ত আহার পরিপাক হইতে হইতে তৃতীয় দিবসে কপােতবর্ণ হইয়া থাকে। তৃতীয় কিংবা চতুর্থ দিবসে উহা পদ্মবর্ণ ধারণ করে, পঞ্চম কিবা ষষ্ঠ দিবসে উহা কিংশুক কুসুমের আভা প্রাপ্ত হয় এবং উল্লিখিত বিধানেই সপ্তাহে শুক্রে পরিণত হইয়া থাকে। যে ব্যক্তি মাতঙ্গদেহের উপাদান স্বরূপ বাতপিত্তাদি এবং শিরা স্নায়ু মণ্ডলী সম্বন্ধে অভিজ্ঞ তিনি ই শস্ত্রপ্রয়ােগে প্রসিদ্ধি লাভ করিয়া শ্রেষ্ঠ পদ প্রাপ্ত হইবার যোগ্য। সাগর যেমন নদীসমূহের আশ্রয়, মাতঙ্গগণের হৃৎপিণ্ড ও তেমনি শিরাসমূহের প্রতিষ্ঠান এবং এই নিমিত্তই গর্ভস্থ মাতঙ্গশিশুর প্রথমেই হৃৎপিণ্ড এবং মস্তক উৎপন্ন হইয়া পরে অপরাপর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জন্মে, ই শরীর বিচয়াধ্যায়ের প্রারম্ভেই যথাযথভাবে কথিত হইয়াছে । অতিমাত্রায় শােণিত ক্ষয় হইলে অন্তরাত্মা মােহ প্রাপ্ত হয়, এই নিমিত্ত দূষিত রক্ত নিঃসারিত করিতে হইলেও তাহারও একটি পরিমাণ থাকা আবশ্যক। যে সকল মাতঙ্গের যে অবস্থাতে যে পরিমাণ শােণিতস্রাব করিলেও কোন অনিষ্ট ঘটেনা তাহা যথাযথ ভাবে বর্ণনা করিতেছি, শ্রবণ করুন-বাতরােগে কোন প্রকার মাতঙ্গের শােণিত- স্রাব বিধেয় নহে। তদ্ভিন্ন কৃশ হীনেন্দ্রিয় হৃদরােগ ও গুল্মরােগ গ্রস্ত অতিবালক অতি বৃদ্ধ কিংবা স্বভাবতত দুৰ্বল মাতঙ্গের কোনও অবস্থাতেই শােণিতস্রাব বিধেয় নহে। অবশিষ্ট মাতঙ্গের মধ্যে ও যাহারা বাতপ্রকৃতিক কিংবা অভিঘাত দোষগ্রস্ত ধাতুক্ষয়যুক্ত কিংবা পাণ্ডুববাগ গ্রস্ত তাহাদিগের শােণিত মােঙ্গণ একান্ত নিষিদ্ধ কিন্তু, বাতব্যাধিতে যে রক্ত মােক্ষণের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায় তাদৃশ রক্ত মােক্ষণের প্রয়োজন বােধ করিলে করা কর্তব্য। হে নরেশ্বর, যে কারণে এতাদৃশ বিধান করা হইল তাহার হেতু নির্ণয় করিতেছি শ্রবণ করুন-হে মহীবল্লভ, বায়ু ই প্রাণিদেহে জীবনস্বরূপ, বায়ুর প্রভাবেই প্রাণিদেহের স্পন্দন রক্তবহ শিরা মণ্ডলীর পরিচালনা সম্পন্ন হইয়া থাকে এবং এক বায়ু ই পঞ্চধাবিভক্ত হইয়া পাঞ্চ- ভৌতিক দেহ বর্ধিত করিয়া থাকে। ন শিবেধ চিকিৎসা হে নরনাথ, অনন্তর যে সকল মাতঙ্গের রক্ত মোক্ষণ হিতকর তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন – মাত গগণের পাদরোগে অক্ষিরোগে মন্যাস্তম্ভে গলগ্রহে শােফে গাত্রবােগে শিরোনােগে বিষদিগ্ধ শেলবেধে ও সর্প কিংবা বিষাক্ত কীটাদি দংশনে শোণিত এধি একান্ত হিতকর। পক্ষান্তরে বাতপিত্তাদি বিকারজনিত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সন্ধিসমূহ স্ফীত হইলে এবং উক্ত স্ফীতস্থান, কঠিন হইলে অভ্যঙ্গ প্রলেপ ও স্বে প্রভৃতি দ্বারা তাহার প্রতীকার করা প্রথমতঃ কৰ্ত্তব্য। যদি একান্ত তাদৃশ উপায়ে প্রতীকার সম্ভবপর না হয় তাহা হইলে রুগ্ন মাতঙ্গের প্রকৃতি ও চিরন্তন অভ্যাস বিচার পূর্বক বিজ্ঞচিকিৎসক তাদৃশ স্ফীতস্থান হইতে শােণিত মােক্ষণ করিবেন। ষে সকল মাতঙ্গের শোণিত মোক্ষণ করিতে হইবে তাহা দিগকে পূর্বাহ্নে জলপান করিবার পূর্বে দোষ সঞ্চালনের নিমিত্ত অনুন দুইশত ধনুঃ পরিমিতস্থানে বিচরণ করাইবে। প্রয়ােজন বােধ করিলে বিজ্ঞচিকিৎসক দোষ সঞ্চালনের নিমিত্ত উস্কে করাইয়া লইতে পারেন। অনন্তর বিজ্ঞচিকিৎসক রুগ্ন মাতঙ্গকে যন্ত্রে সুসংযত করিয়া প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্রাদি আহরণ পূৰ্ব্বক ব্রাহ্মণ- গণদ্বারা পুণ্যাহ বাচন ও যথাবিধি হােমাদি দৈবকাৰ্য্য সমাধা করাইবেন এবং তৎপরে পূৰ্বাধিবাসিত শস্ত্রদ্বারা শির। মৰ্ম্মস্থান রক্ষণ পূর্বক যথাবিধি সতর্কতা সহকারে শােণিত মােক্ষণ করিবেন। হে নরনাথ, অগ্রই কথিত হইয়াছে যে মাতঙ্গদেহে সাতশত শিরা বিদ্যমান আছে। তন্মধ্যে দশটি ‘মাতৃকা 'শিরা নামে অভিহিত হইয়া থাকে । উহার তিৰ্য্য উৰ্দ্ধ ও অধােদিকে প্রসূত থাকিয়া প্রাণিগণের পাঞ্চভৌতিক দেহ ধারণ ও রসাদি ধাতুবহন করিয়া থাকে। দেহাভ্যন্তরে বাত পিত্ত শ্লেষ্ম বিকৃত হইলে । অভ্যন্তরবর্তী বাতপিত্ত কফালি বিকৃত হইলে সাম্য নিবন্ধন (তৎসংলগ্ন বলিয়া) ধমনীদ্বারা তাহা পরিব্যাপ্ত হয় । উল্লিখিত ‘মাতৃকা শিরার দুইটি দেহের সম্মুখভাগ আশ্রয় করিয়া অধােদিকে তিৰ্য্যগভাবে প্রস্ত রহিয়াছে এবং দেহের পশ্চাদ্ভাগেও দুইটি তাদৃশ ভাবে পরিব্যাপ্ত রহিয়াছে। উহার। প্রত্যেকেশিরক নয়ন হস্ত গাত্ৰাপর বংশ পৃষ্ঠ বক্ত প্রতিমান বস্তি অণ্ডকোষ ও ত্বভাগ আশ্রয় করিয়া রহিয়াছে। উহাদিগদ্বারা মদেহের প্রসারণ আকুঞ্চন গমন প্রভৃতি অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের স্পন্দন নিৰ্বাহ হইয়া থাকে এবং উহারা মর্মভাগে অনুবদ্ধ আছে এই নিমিত্ত শন্ত্র প্রয়ােগ কালে সতর্কতা সহকারে উহাদিগকে রক্ষা করিয়া শস্ত্রপ্রয়ােগ করিবে। হে পৃথিবীশ্বর, পূৰ্বেই উল্লিখিত হইয়াছে যে মাতঙ্গগণের পঞ্চাশটি মদবহ শিরা বিদ্যমান আছে এবং উহাদিগের প্রান্তভাগে গণ্ডদ্বয়ে ও পুংচিহ্নে সংবদ্ধ। স;

গজায়ুর্বেদ সংহিতা। জ্ঞানেন্দ্রিয়মূলে সংবদ্ধ শিরাও পঞ্চাশৎটি মাত, তারা উহাদিগের রূপ রস গন্ধ স্পর্শ ও শব্দগ্রহণ ক্রিয়া নির্বাহ হইয়া থাকে। উলিখিত শিরাসমূহ চ্ছিন্ন হইলে মাতঙ্গ- গণের মৃত্যু অনিবার্য এই নিমিত্ত শস্ত্র প্রয়ােগকালে সাবধানতা সহকারে উহাদিগকে রক্ষাকরা একান্ত বিধেয়। তদ্ভিন্ন যে সকল শিরাবারণগুণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন ক্রিয়া নিৰ্বাহ হয়, রসব মেদোহা ও শুক্রবহা শিরাসমুদয় সৰ্বপ্ৰষত্রে রক্ষণীয় যে সকল শিরা বায়ুপিত্ত শ্লেষ্ম ওরবহন করে কেবল তাহা হইতে রক্তমােণাদি করা কৰ্ত্তব্য ; তাদৃশ শিরাসমূহের সংস্থান অতঃপর বর্ণনা করিব। যে স্থান স্ফীত হয় তাহার নিকটবর্তিতম শিরা হইতে রক্ত মােক্ষণ পূর্বক দোষ ক্ষয় করিবে কারণ দোষােপচিত দেহে ঔষধ প্রয়ােগ তাদৃশ ফলপ্রসূ হয় না । পক্ষান্তরে উত্তাপসন্তপ্ত- দেহ ব্যক্তি শীতল সলিলে অবগাহন করিলে তাহার সন্তাপ যেমন তৎক্ষণাৎ নিবৃত্তি হয়, তেমনি রক্ত মেক্ষিণদ্বারা বিরিও দোষ দেহে ঔষধ প্রয়ােগ করিলে তৎ- ক্ষণাৎ ব্যাধির নিবৃত্তি হইয়া থাকে । বিজ্ঞ চিকিৎসক বিকার ও তাহার বলাবল বিচারপূর্বক সপ্তাহ পঞ্চাহ কিংবা ত্রিরাত্ৰ পৰ্য্যন্ত যাহাতে বিকারের নিবৃত্তি হয় তাদৃশ ঔষধ ও পথ্য ব্যবহার করিতে দিবেন। স্ফীতভাবের থম অবস্থাতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক স্ফীতস্থানে বাত পিত্তাদি বিকারের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করিয়া পূৰ্বোল্লিখিত বিধানে সথাবধি অপীড়ন ও তত্তদঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন নিবৃত্তি করিবেন। যন্ত্র বিধিজ্ঞ চিকিৎসক অধোলিখিত বিধানে মাতঙ্গ- গণের বন্ধনকার্য সম্পাদন করিবেন। প্রেহি সন্দানভাগ অষ্ঠীব্য ও অপস্কার প্রদেশে ‘পূৰ্ব্ব সস্থান’ নামক বন্ধনই সর্বোতােভাবে বাঞ্ছনীয় । উক্ত বন্ধন নাভিদেশ হইতে আরম্ভ করিয়া ঘােড়শ অঙ্গুল বিস্তৃত বস্ত্র খণ্ডদ্বারা শিথিল ভাবে নিষ্পন্ন হইয়া থাকে। মস্তকে ‘বৃশ্চিক সস্থান’ নামক বন্ধন প্রশস্ত । পৃষ্ঠুবংশে ও উত্তর প্রদেশে তুল্যৰূপে ‘ককটি সংস্থান’ নামক বন্ধন বিধেয় । মাভাগে ও বাহুমূলে কূৰ্ম সংস্থান’ নামক বন্ধন হিতকর। হে মহীবল্লভ, এই প্রকার যন্ত্রবিধি পূৰ্বাচাৰ্য্যগণ কর্তৃক কথিত আছে। এই প্রকার বন্ধন দ্বারা বন্ধ করিয়া পরে ‘র ও মোক্ষণ করা কর্তব্য। উল্লিখিত প্রক্রিয়াদ্বার। শিরাষীর স্থান হইতে উন্নত হইয়া স্পষ্ট দৃষ্ট হয়। বিজ্ঞ চিকিৎসক তাদৃশ শিরা বিদ্ধ করিবার পূর্বে তাহা হস্ত কিংবা গাদাঠদ্বারা যথাযথভাবে পরীক্ষা করিয়া পূবে সমাহিতচিত্তে তাহা হইতে রক্ত মেক্ষিণ করিবেন। শিরা অবিদ্ধ হইলে কিংবা পার্শ্বদেশে বিদ্ধ হইলে তাহা হইতে রক্তস্রাব হয় না। সুতরাং দোষোপশমও এবং অবিলম্বে স্তম্ভ শােফ দাহ উৎপন্ন হয় ; এতাদৃশ অবস্থায় শিরাবেধ চিকিৎসা। যথাযথভাবে তাহার চিকিৎসা করা কর্তব্য। পক্ষান্তরে অতিবিদ্ধ হইলেও সমধিক পরিমাণে রক্কাদি স্রাব হইয়া থাকে এবং তাদৃশ অবস্থায় অবিলম্বে যন্ত্রাদি হইতে মোচন পূর্বক তাদৃশ মাতঙ্গকে সলিলে অবগাহন করাইয়া তাহার সর্বাঙ্গে শীতল প্রলেপ ও তাহাকে গব্যঘৃত এবং দুগ্ধ একযোগে পান করিতে দিবে। ফলতঃ তাদৃশ অবস্থায় শীতবীৰ্য্য ও মধুর রসযুক্ত দ্রব্য ব্যবহার করিতে দেওয়া একান্ত আবশ্যক ; যদি তাহাতে উহাদিগের প্রতীকার না হয় তাহা হইলে উহারা অবিলম্বেই প্রাণত্যাগ করে। সম্যকরূপে বিদ্ধ হইলে দোষ প্রশমিত হয় বটে কিন্তু তদ্বিপর্যয়ে দোষ বর্ধিতই হইয়া থাকে। হে মহারাজ, অগ্রেই মাতগণের ষড়বিধ ছবীর বিষয়ের উল্লেখ করিয়াছি তাহা এক একটি করিয়া বর্ণনা করিব। তন্মধ্যে প্রথম ছবী অর্ধব পরিমিত, দ্বিতীয় বিষব পরিমিত এবং অবশিষ্ট সকল ছবীই দ্বিব পরিমিত স্ফীতস্থানে অর্ধষব পরিমিত ছবী বিভিন্ন প্রকার বিকার লক্ষণযুক্ত লক্ষিত হয়। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, ব্রীহিমুখ’ শস্ত্রদ্বারা প্রথমতঃ স্থিরভাবে প্রথম ছবী ভেদ করিবেন অনন্তর, কুশপত্র’ বা ‘উৎপল পত্র’ নামক শস্ত্র দ্বারা স্থিরভাবে ত্রি অঙ্গুলি পরিমিত নির্ণয় পথ করিবেন। এইরূপে মাতঙ্গকে বিকার লক্ষণবিমুক্ত দেখিয়া নির্দোষ বলিয়া অবগত হইতে পারা যায়। অনন্তর তাহাকে যন্ত্র হইতে মুক্ত করিয়া নির্বাণার্থ অবগাহন করাইতে হইবে এবং তৎপরে গব্য ঘৃতসহ গোদুগ্ধ পান ও শীতবীৰ্য্য মধুর রসযুক্ত দ্রব্য ভােজন করিতে দিলে বিজ্ঞ চিকিৎসক সফলতালাভে সমর্থ হইয়া থাকেন। হে ধরণীনাথ, অতঃপর মাতঙ্গদেহে শিরা সমূহের অবস্থান বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন অবগ্রহের অধঃপ্রদেশে এবং কুম্ভের উপরিভাগে, বিন্দু ও অব- গ্রহের মধ্যভাগে বিন্দু ও অক্ষিকূটদ্বয়ের মধ্যে, ঈষিকার অগ্রভাগে, ঘাটা- প্রদেশে বিন্দুমুথে, নিৰ্যাণের উপরিভাগে এবং শঙ্খ প্রদেশে যে সকল শিরা বিদ্যমান আছে শিরােনােম প্রতীকারার্থ তাহা বিদ্ধ করা যাইতে পারে। সেইরূপ যে সকল শিরা অক্ষিকুট মধ্যে শ্রোতামধ্যে, তালুর কৃষ্ণভাগের প্রান্তে, মুখমধ্যে জিহান্তরে, অপাঙ্গের নিম্নে এবং কনীনিকাদ্বয়ে যে সকল শিরাবিদ্যমান নেত্রবােগ প্রতীকারার্থ তাহা বিদ্ধ করা যাইতে পারে। স্থানের নিয়ে এবং গুহভাগের উপরিপ্রদেশে ৰে শিরা আছে সতর্কতা সহকারে তাহা বিদ্ধ করিলে বারণগুণের গলগ্রহরােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। সেইরূপ সাগদাদেশ ওমান্যভাগের অন্তরালে যে শিরা আছে তাহা বিদ্ধ করিলে গজায়ুর্বেদ-সংহিত। বারণগণের সকল প্রকার কণ্ঠরোগের প্রতীকার হইয়া থাকে। সেইরূপ শুনের নিয়ে অষ্ট অঙ্গুলি এবং নাভীর উর্জে অষ্টাদশ অঙ্গুলি বর্জন করিয়া এতদুভয়ের মধ্যভাগে যে শিরা আছে তাহা বিদ্ধ করিলে বারণগণের দ্রোণীকশেফ রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে হে নরেশ্বর, এইরূপে উল্লিখিত শিরাসমুহ হইতে শােণিত মোক্ষণদ্বারা বাত- পিত্তাক্তি কিংবা রক্তমাংসাদির বিকারের সহজেই প্রতীকার হইয়া থাকে। নিপুণ চিকিৎসক, বারণগণের স্ফীতস্থান নানাবিধ দোষ লক্ষণযুক্ত দেখিয়া তাহাকে মাতঙ্গগণের বিধি বলিয়া জানিবেন। উক্ত বিদ্ৰধি ই দৃঢ় ও গ্রন্থিবদ্ধ বলিয়া গ্রন্থি নামে অভিহিত হইয়া থাকে এবং উল্লিখিত বিধানে তাহার প্রতীকার করা অল্পায়াস সাধ্য। পক্ষান্তরে উল্লিখিত বিধানে দোষ নিঃসরণের ফলে যদি কোন ও মাতঙ্গের স্ফীত স্থান বর্ধিত হয় তাহা হইলে তাহার ও পূৰ্বোল্লিখিত শোক, চিকিৎসা বিধান একান্ত কর্তব্য। উক্ত শিরাসমূহের বন্ধনের নিমিত্ত মাতদেহে অশীতি সংখ্যক শিরাকৃচ্চ বিদ্যমান আছে। মাতঙ্গদেহে যে সকল সন্ধি বৰ্তমান আছে উল্লিখিত শির কূৰ্চ্চসমূহ দ্বারা সংবদ্ধ এবং তাদৃশ স্থানে কখনও শস্ত্র প্রয়ােগ করা কর্তব্য নহে। হে নরেশ্বর, মাতঙ্গদেহে সন্ধি সন্ধান সড়বিধ এবং অস্থিসন্ধি চতুৰ্বিধ ইহা পূৰ্বে ই শরীর বিচয়াধ্যায়ে বর্ণিত হইয়াছে। হে অঙ্গেশ্বর রক্তক্ষীণ মাতঙ্গের ক্লেশ স্মৰণ করিয়া আমার অন্তঃকরণ অতিশয় ব্যাকুল হয় এই নিমিত্ত সৰ্ব্বদা রক্ত মােক্ষণে পরিমণের প্রতি লক্ষ্য রাখা একান্ত আবশ্যক। মাতঙ্গ দেহের যে অংশে মাংস বাহুল্য নিবন্ধন শিরাদুলক্ষ্য হয় তাদৃশস্থলে সমভাগ লবণ ও তৈল দ্বারা পুনঃ পুনঃ সিক্ত করিবে, কারণ তাদৃশ শিরাবেধে অত্যন্ত রক্তপাত হইয়া থাকে। যদি ভ্রমবশতঃ তাদৃশ শিরাবেধের ফলে রক্তপাত ঘটে তাহা হইলে তৎক্ষণাৎ শীতল জলে প্রক্ষালণ পূৰ্ব্বক অধোলিখিত প্রলেপ প্রদান করিবে। ১। তিল ২ মাত্রা ৩। উৎপল (শু দীনাল) ২। ইক্ষু এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রলেপ পান করা কর্তব্য। অথবা ১। সমঙ্গা (বালাপাতা) ৪। শীর (বীরণ মূল ) ২। ধাতকী পুষ্প (ধাইফুল ) পদ্ম ফুল এই পঞ্চবিধ দ্রব্য একযােগে শীতল জলে বাটিয়া প্রলেপ দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে । ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহা প্রবচনে ল্যস্থানে ষােড়শ অধ্যায় সপ্তদশ অধ্যায়। স্তনালী চিকিৎসা। একদা মহাপ্রভাবশালী অঙ্গস্পতি মহর্ষি পালকাপ্যকে কৃতাঞ্জলি পুটে প্রণতি পূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন-ভগব, বারণগণের দন্তরােগের চিকিৎসা কি প্রকার ? কি কারণে মাতঙ্গগণের দন্তরোগ জন্মে ? কি নিমিত্তই বা বারণগণের দন্তমূল হইতে পূতিগন্ধযুক্ত পায় রক্তস্রাব হইতে থাকে ? ঔং- পাতিক দন্তরােগ ই বা কি নিমিত্ত জন্মে? জ্ঞান-লিপ অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপলিকাপ্য বলিতে লাগিলেন হে পৃথিবীশ্বর, যথাসােগ ও যথাক্রমে আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদান করিতেছি শ্রবণ করুন-হে নরেশ্বর, অত্যন্তরূপে নিপীড়িত হইলে বারণগণের দন্তমূল হইতে পূতিগন্ধ- যুক্ত পায় রক্তস্রাব হইতে থাকে এবং দৈবাৎ তাহাতে কৃমি ও জন্মিতে দেখা যায়। তাদৃশ অবস্থায় পতনের পূর্বে দন্ত উন্মলন একান্ত হিতকর পক্ষান্তরে তাদৃশ দত্যাগ না করিলে যথেষ্ট অনিষ্টের সম্ভাবনা। ব্যায়ামাদি নিবন্ধন ভগ্নাবশিষ্ট দন্তের কিয়দংশ যদি মূল সহ বিদ্যমান থাকে তাহা নিঃসরণ করিয়া ক্ষত চিকিৎসা বিধানক্রমে তাহার চিকিৎসা করা কর্তব্য এবং নিঃসারণ অসাধ্য হইলে সুতরাং যাপ্য। যদি দন্তবেষ্টনের উপরিভাগে দন্তভঙ্গ ঘটে এবং তাহা হইতে পূতিগন্ধযুক্ত পূয়স্রাব হয়। তাহা হইলে তাহার নিঃসারণ করা কর্তৃব্য নহে। মাতঙ্গণের যে সকল দন্ত মুলে বাতাপি, প্রকোপ-জনিত নালী ক্ষত জন্মে তাহা উৎপাটনে কিছুমাত্র ভয়ের কারণ নাই কিংবা তাহা ঔৎপাতিক বা ভবিষ্যদ্ বিপদ জ্ঞাপক নহে। বারণগণ অন্তঃস্বেদ, এই নিমিত্ত উহাদিগের মাংস সচ্ছিদ্র ইহা সপ্রমাণ। উহাদিগের প্রকৃতি তৈজসী এবং প্রকোপ বা বাতাদির বিকার যথেষ্ট। বারণগণের যে দন্ত হইতে " দুর্গন্ধযুক্তস্রাব নির্গত হয় তাহা নিঃসারণ করা কর্তব্য এবং তাদৃশ অবস্থায় পুষ্পনে বৃত্তাষ্ণ আমূল সম, ও দৃঢ় ‘জরঙ্গর’ নামক বস্তির সাহায্যে অবধালিখিত কাথদ্বারা নালীর অভ্যন্তর ভাগ উত্তমরূপে প্রক্ষালন করিবে। তাদৃশব্রণে ব্যবহারের নিমিত্ত ‘গঙুপ দাস্যা’ নামক তাম্র- নির্মিত সূক্ষ্ম শ্লষ্ম দৃঢ় সবল এষণী প্রয়োগ করিবে। কাথের ঔষধ যথা ১। স্ফুর্জক পত্র (গাবের পাতা) ৩। নিম পত্র ২। অর্ক পত্র ( আকন্দের পাতা) ৪। হরিদ্রা গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ৫। রক্তমাল পত্র ৮। করবীর পত্র ৬। জীবক ৯। সপ্তপর্ণ পত্র ৭। কুটজ এই নববিধ দ্রব্যের কাথ (অংশ অবশিষ্ট) দ্বারা নালী প্রক্ষালন করিলে এবং ক্ষৌমবার রক্ত পূয়াদি পুছিলে পূতিগন্ধ ও কও ( চুলকাণী ) দূর হয় ; ক্ষত বিশােধিত ও অপেক্ষাকৃত মৃদু হইয়া থাকে। অথবা ১। বর্ষাভূ (পুনর্ণবা শাক ) ৩। ৩ষ্ঠী চূর্ণ ২। বিছাল উল্লিখিত ত্রিবিধ দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিয়া পূর্বোক্ত বিধানে দন্তনালী প্রক্ষালন করিলে সবিশেষ উপকার দশে। অথবা ১। সাজিনা ছাল ৬। পূতিক (পুই) ২। তকারী জয়ন্তী পত্র এর পত্র ৩। যূথিকা পত্র (যুইফুলের পাতা) ৮। সুরসা ( তুলসী । ৪। অলক (শ্বেতআকন) পত্র ৯। কুটজ ছাল ৫। কাকদন্তী উল্লিখিত নয় প্রকার দ্রব্যের ঈষদুষ্ণ কথদ্বারা পূর্বোক্ত বিধানে দগুনালী প্রক্ষালন করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। ১। মধুশিগু. ( লাল সজিনা) পত্র ৬। জীবক পত্র ২। ধব ( ঝাউ ) ছাল ৭। নিষপত্র ৩। কুটজ ছাল ৮। ছাতিয়ান ছাল ৪। পুতিক। {পুই ছাল) ৯। নক্তমালত্বক ৫। অগ্নিমস্তু (শ্যোনাল ছাল ) উল্লিখিত নয় প্রকার দ্রব্যের ঈষদুষ্ণ কথদ্বারা বস্তিশোধন বিধানে প্রক্ষালন করিলে মাতঙ্গগণের দন্তনালীর প্রতীকার হইয়া থাকে । ৭। ত্রিবৃতা ২। অৰু ৮। দন্তী ৩। কাকদন্তী ৯। চিতা ৪। পূতিক ১০। পিঙ্গুলী ১১। গজপিঙ্গুলী ৬। বিড়ঙ্গ ১২। শ্যামা লতা ১। জাতি দন্তনালী চিকিৎসা ১৩। লবণ এই এয়ােদশবিধ সমভাগ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া ব্রণ মধ্যে (দন্তনালী মধ্যে ) প্রয়ােগ করিলে ক্ষত শুষ্ক হইয়া থাকে। অথবা ৬। গণ্ডীর ৭। সুবহা (তুলসী) ৩। পাঠা ( আলাদী ৮। অতিবিষ (আই) ৪। কটকী ৯। তেজোবতী (চৈ। ৫। অক্ষিপীলুক (মহানিষ ) ছাল উল্লিখিত নয় প্রকার দ্রব্য বাটিয়া দন্তনালী মধ্যে প্রয়ােগ করিলে ব্রণ শুরু হইয়া থাকে। অথবা ৯। সুবর্ণা (বাট্যাল বেড়েলা ভাষা) ৫। কষায় (শোন) ছাল ২। ক্ষীরণী (কাঞ্চন ক্ষীরী । ৭। লাঙ্গলিকা (বিষলাঙ্গল) ৪। সুবচ্চিকা উল্লিখিত অষ্টবিধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া প্রলেপ দিলে বারণগণের দন্তনালী রােগের প্রতীকায় হইয়া থাকে। অথবা ১। নকল ৪। পুতিকা (পূই) ৫। জাতী ৩। করবীয় অঙ্কুর ৬। কুটজ এই ষড়বিধ দ্রব্যের কল্ক সহ তৈল পাক করিয়া তাহা নালী মধ্যে প্রয়ােগ করিলে বারণগণের দন্তনালী রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। ধন্যাক (ধৈনা) ১০। অভীরু পত্রী (শতমূলী) ১১। সুবহা (রান্না) ৩। মহানিম ১২। গুগুল ১৩। কুটট ( কৈবৰ্ত্তমুথা ) ৫। কুটজ করঞ্জ পল্লব ৬। তালীস পত্র • ১৫। মুথা ৭। জাতী পত্র ১৬। হংসপাদী (গোধাপদী লতা) ৮। করবীর পত্র ১।। হরেনু (ক্ষেতৃপাপড় ৯। পূতকি পল্লব ২। নীল ৫। শ্রীবেষ্ট ১১৪ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। উল্লিখিত সপ্তদশ প্রকার দ্রব্যের কল্ক সহ তৈল পাক করিয়া তাহা প্রয়ােগ করিলে বারণগণের দন্তনালী রােগের প্রতীকার হয়। উল্লিখিত বিধানে চিকিৎসার ফলে বারণগণের দন্তনালী পূতিগন্ধ ক দোষ ও স্রাব বিহীন এবং বিশোধিত জানিয়া অধােলিখিত প্রতিক্রিয়া অবলম্বন করিবে ১। মি ছাল ৬। যজ্ঞডুমুরের ছাল ও ফল ২। অশ্বথ ছাল সােমবল্ক ছাল,(সােনাল ছাল ) ৩। যষ্টি মধু ৮। শিরীষ ( ছাল) ৪। বট ছাল ৯। সরলকাষ্ঠ সাল ছাল উল্লিখিত নয় প্রকার সমভাগ দ্রব্যের (৫ অংশের অবশিষ্ট) কাথ প্রস্তুত করিয়া সেই ঈষদুষ্ণ কাথ দ্বারা প্রক্ষালন করিলে মাতঙ্গগণের দানালী রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। শমীমূল ১১। লােধ ২। ইক্ষুক (নল) মূল ১২। তাল মস্তক (তালের মাথি) ৩। পাটল মূল ১৩। বিদারী (ভুইকুমর। ৪। বিতানক (মাড় গাছ) ৫। সহা (ঘৃতকুমারী ) ১৫। সুবা (রা) ৬। উশীর (বীরণ মূল ১৬। জীবক ৭। কুটজ ১৭। কুলিনাক্ষী (পেটারী) ৮। শালিতণ্ডুল ১৮। তাল পত্রিকা ৯। ইট (তৃণ বিশেষ ) ১৯। কিরাতী ( চিরতা) ১০। যষ্টিমধু উল্লিখিত সমভাগ উনবিংশতি প্রকার ঔষধ দ্রব্যের কল্ক সহ তৈল পাক করিয়া প্রয়ােগ করিলে বারণগণের দন্তনালী শুষ্ক হইয়া থাকে। উল্লিখিত বিধানােক্ত চিকিৎসার কালে বারণগণের দন্ত নালী প্রতিকৃত হইতে অরাম্ভ করিয়া যদি পুনরায় বিকৃত হয় কিংবা তাহা হইতে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব নির্গত হয় তাহা হইলে অপােলিখিত ঔষধ প্রয়ােগ দ্বারা তাহার প্রতীকার হইয়া ১। পটোল ২। গজপিঙ্গুলী ৩। কুটজ ফল ৪। ইন্দ্রয়ব গন্তনালী চিকিৎসা। ৫। বৃশ্চিকালী ( বিছুটী ) ৮। শ্বেত সর্ষপ ৬। বিড়ল ৯। কুরু (ধৈষ্ঠা ) ৭। পৃথিকা (জীরা) ১। গােমূত্র প্রথমােক নয় প্রকার ঔষধ দ্রব্য ছেচিয়া ১০ম গো-মূত্রে কাথ প্রস্তুত করিবে এবং সেই ঈষদুষ্ণ কাণদ্বারা প্রক্ষালন করিলে তাদৃশ অবস্থায় সবিশেষ উপকার দর্শে। ১। সর্পগন্ধা (গন্ধরা ) ৪। গুগগুলু ২। মােম (মৌমাছির ) ৫। সর্ষপ ৩। সৰ্ববীজ এই পঞ্চবিধ দ্রব্য দ্বারা ধূম প্রদান করিলে বারণগণের দন্ত নালীরােগে সবিশেষ উপকার দর্শে। ইহাদ্বার। দন্তনালীর প্রভাবে শিরােরোগ নেরােগ প্রভৃতির ও উপকার হইয়া থাকে। ১। পৃঞ্চিপণী ২। অংশুমতী { শালপাণী ) ৮। সুবহা (রা) ৩। ছিন্নকহা (গুড়চী ] ৯। বলা । তাল পত্রিকা ১০। অতিবলা ৫। মহাসহ ১১। বিন্না সমঙ্গা (বাল পাতা) উল্লিখিত একাদশবিধ দ্রব্যের কাথসহ তৈল পাক করিয়া প্রয়োগ করিলে মাতঙ্গগণের দন্তনালী রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। মঞ্জুিষ্ঠা ৮। জীবক ২। প্রিয় ৩। যষ্টিমধু ১০। 'লােধ ৪। হরিদ্র। বচ ৫। দাৰু হরিদ্রা ১২। শ্রীবেষ্টক ( ধূনা ) ৬। মাংসী ( জটামাসী ) ১৩। প্রপৌণ্ডরীক ৭। কালানুসারী (শৈলজ নামক গদ্রব্য) উল্লিখিত প্রয়ােদশ প্রকার ঔষধ দ্রব্য একযােগে উত্তমরূপে বাটিয়া প্রয়োগ করিলে বাবণগণের দৃম্ভনালী রােগের প্রতীকার হইয়া থাকে। } ৫ গজায়ুৰ্বেজ-সংহিতা। ইহাতেও প্রতীকার না হইলে তিন দিবস তৈল পান, তিন দিবস নগদ্বারা শিরােবিরেচন করিলে দস্তনালীর প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। কাকোলী ৫। পসয়া ( ভূইকুমড়া) ২। মুমুপণী (মুগানী) ২ মাত্রা ৬। কুলিঙ্গাক্ষী (পেটারী ) ৩। সালপর্ণী (সালপাণী) ৭। ছিন্নরুহা (গুড়চী ৪। রােহিণী (হরীতকরী) ৮। তিল তৈল প্রথমােক্ত অষ্টবিধ দ্রব্যের কল্কসহ তৈল পাক করিবে এবং রুগ্নমাতঙ্গে অগ্নিবলের অনুরূপ মাত্রায় দ্বিগুণ গাে-দুগ্ধের সহিত মিশ্রিত করিয়া পান করিতে দিবে। এই তৈল অভ্যঙ্গ ( মর্দন ও নস্ত কাৰ্যে সবিশেষ হিতকর। শশক তিত্তির ময়ূর ও লাব প্রভৃতির মাংস রস গােলমরীচচূর্ণ, ও পিপ্পলীচূর্ণ সৈন্ধবলবণ ও শুষ্ঠীচুর্ণ ও তিল তৈলসহ পান এতাদৃশ অবস্থায় হিতকর। উক্ত মাংসরস সহ শালি ধান্তের অন্ন সুপথ্য। এইরূপে কিঞ্চিৎ প্রতীকার হইলে তিন কিংবা পাঁচ দিবস অন্তর তৈল মিশ্রিত প্রসন্ন মদ্য তাহাকে পান করিতে দিবে। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য মাতঙ্গগণের দস্তনালী রােগের নিদান, লক্ষণ ও চিকিৎসা এই প্রকারে বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে সপ্তদশ অধ্যায়। (ক) পুস্তকে দন্তরোগের কোন ও উল্লেখ দেখা যায় না, কেবল Fন্তবর্ধিত ও বক্র হইয়া অশােভন হইলে কিংবা শুৎ সঞ্চালনের ব্যাঘাত জন্মিলে উহার অন্তঃসারবিহীন অংশ বর্জনপূৰ্ব্বক কেবল আচ্ছদ্র অংশিই কৰ্ত্তন করিতে হইবে। অবশ্য বলা বাহুল্য যে যাহাতে সৌনৰ্য্য-ক্ষতি না হয় এইরূপভাবেই দন্তচ্ছেদন করা কর্তব্য, অন্যথা দন্তমজ্জা নিঃসরণ ও রক্তস্রাবাদিদ্বারা কিংবা পরিশেষে ক্ষত হইয়া হস্তীর মৃত্যু পর্যন্ত ও ঘটিতে পারে। (গ) পুস্তকের মতে বার্ধক্য অজীর্ণ প্রভৃতি কারণে মাড়ী ফুলিয়া দন্তরােগ জন্মে। এবং অপােলিখিত ঔষধ প্রয়ােগে সবিশেষ উপকার দর্শে। ১। মাজুফলচ ২ তোলা ৩। ডিকামেলে ৫তােলা। ২। তিলতৈল ৬ তােলা ৪। মৌমাছির মােম ৬ তােল। তিল তৈলে মাজুফল চূর্ণ পাক করিয়া তাহাতে ডিকামেলে মিশ্রিত এবং গলিয়া মিশ্রিত হইলে ন্যাকড়ায় মাখিয়া গলিত মােমে মাখিবে এবং ক্ষতস্থানে লাগাইয়া দিবে। নিম তৈল, আলকাতরা প্রভৃতি ও দক্ষত এতীকারে সমর্থ। সতর্কতা সহকারে মক্ষিকা নিবৃত্তির উপায় অবলম্বন করা আবশ্যক। - অষ্টাদশ অধ্যায় অকিন্তু চিকিৎসা। । হে নরনাথ, বারণগণের ষোড়শটি দন্তকে ‘সগদা’ বলে। এতদ্ভিন্ন অনেক সময়ে উহাদিগের আরও দুইটি অধিক দম্ভ জন্মিতে দেখা যায়। নিদান-হনু বা চিবুকের অস্থি সন্ধিস্থত বায়ু স্বীয় প্রকোপের কারণ বশতঃ কুপিত হইয়া অস্থি ও মজ্জা বৃংহণ বা বর্ধন করে এবং অতিরিক্ত দন্তদ্বয় জন্মাইয়া থাকে। লক্ষণ-ভাগ্য বিপর্যয় বশতঃ বারণগণ উল্লিখিত ক্লেশকর রোগে আক্রান্ত হইলে উহারা বিবর্ণ ও উহাদের কান্তি কর্কশ হয়, তদ্ভিন্ন দন্তে তীব্র বেদনা আহারে অনিচ্ছা প্রভৃতি লক্ষণ ও প্রকাশ পায় । চিকিৎসাঃ-এতাদৃশ অবস্থায় উহাদিগকে সুদৃঢ় স্তম্ভে বন্ধনপূর্বক ‘গলগ্রহ যন্ত্রে সুমন্ত্রিত করিয়া ‘বিকাশ’ যন্ত্রের সাহায্য উহাদিগের মুখব্যাদান করতঃ দ্বাত্রিংশৎ অঙ্গুল আয়ত ‘এণীপদ’ নামক লৌহযন্ত্রদ্বারা দন্ত বেষ্টন পুৰ্ব্বক তাহা উত্তোলন করিবে। অনম্ভর ‘ব্রীহি মুখ’ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষত সুপরিস্কৃত করিয়া উষ্ণজদ্বারা প্রক্ষণ এবং গব্যঘৃত ও মধুজারা পুরণ করিবে। এতাদৃশ চিকিৎসার ফলে অধিকদন্তরােগগ্রস্ত মাতঙ্গ পুনরায় স্বাস্থ্যসুখের অধিকারী হইয়া থাকে। ইতি মহর্ষি পলকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে অষ্টাদশ অধ্যায়। + এই অধ্যায় মুলে অসম্পূর্ণ।

একোনবিংশ অধ্যায়। শিৱাচ্ছে চিকিৎসা। একদা মহেন্দ্রসদৃশ অঙ্গপতি রামপাদ স্বীয় সুরম্য চম্পানগরীস্থিত পুণ্য আশ্রমে গমন পূৰ্ব্বক ঋষিবর পালকপ্যকে প্রণিপাত করিয়া সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন- ভগবন, যুদ্ধক্ষেত্রে বা দৈব দুর্ঘটনা বশতঃ মাতঙ্গগণের শিরা ছিন্ন ভিন্ন হইয়া দেহস্থ বায়ুর প্রভাবে অনর্গল শােণিত সাব হইতে থাকিলে তাহার কি প্রতীকার হইতে পারে ? মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন নরেশ্বর, অবহিতচিত্তে শ্রবণ করুন - হে অঙ্গনাথ, কেবল শাস্ত্রজ্ঞ শস্ত্র প্রয়ােগে অনভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ মাতঙ্গদেহে শন্ত্রপ্রয়ােগ করিতে গিয়া অনেক সময়ে অস্ত্রধারণে অনভিজ্ঞতাবশতঃ কিংবা তিৰ্য্যগভাবে চ্ছেদন নিবন্ধন মৰ্ম্মস্থান বিদ্ধ শিরাস্নায়ুচ্ছেদন করিয়া ফেলেন এবং তাদৃশ চ্ছেদনের ফলে জলযন্ত্রের স্থায় উহাদিগের দেহ হইতে শােণিত স্রাব হইতে থাকে। আমি তাহার প্রতীকারের উপায় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-হে নরনাথ, বারণ- গণের অস্থি মৰ্ম্মগত ও সন্ধিজাত শিয়া সমূহের বিষয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন বারণগণের নাভিদেশে ই পঞ্চ দশটি ধমণী জন্মিয়া তদ্বারা উহাদিগের সৰ্ব্বাঙ্গে নানাবিধ স্রোতঃ ও নানাবিধ ধাতু প্রবাহিত হইয়া থাকে । উল্লিখিত প্রধান পঞ্চ দশটি ধমনী হইতে সার্ধ সহস্র ধমনী নির্গত হইয়া উহাদিগের সর্বাঙ্গ পরিব্যাপ্ত করে । বারণগণের শুণ্ডে ও গাত্র প্রভৃতিতে সপ্তশত শির বিদ্য- মান আছে। তাহাদিগের সহস্র সহস্ৰ উপশিরা ও স্নায়ু সৰ্বাঙ্গ ব্যাপ্ত করিয়া বিদ্যমান রহিয়াছে। এতাদৃশ স্নায়ুর সংখ্যা রােমকূপের সংখ্যার সমান। যেমন একটি মাত্র বৃক্ষে অসংখ্য শাখা বর্তমান থাকে তেমনি নাভিদেশ হইতে প্রবৃত্ত শিরা স্নায়ু সমূহ দ্বারা মাতঙ্গগণের সর্বাঙ্গ পরিব্যাপ্ত। হে মহীবল্লভ, মাতঙ্গগণের যে সকল অঙ্গে শিরচ্ছেদ সদ্যঃপ্রাণহর তাহা বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করিতেছি- শ্রবণ করুন- সম্মুখ চরণদ্বয়ের নখে, প্রোহে, বিক্কাতে, পলিহস্তদ্বয়ে, সন্দান ভাগে জবভাগে ও বিক্ষোভে, মাতঙ্গগণের এই সকল প্রদেশে শিরাচ্ছেদ মৃত্যুর কারণ ; এই নিমিত্ত উল্লিখিত দশটি শিরা ‘সদ্যপ্রাণহর বলিয়া কথিত হইয়া থাকে। সেইরূপ বক্ষঃস্থলে, গ্রীবাদেশে, গুহাভাগে স্কন্ধে ও মস্তকে বারণগণের দশটি শিরা এবং শুণ্ডে পাঁচটি শিরা বর্তমান আছে। বিভাগদ্বয়ে' দুইটি ধমনী, কৃকটিকে টিদুই ধমণী এবং রস-বাহিনী দুইটি ধমনী ও দশটি শিরা বিদ্যমান শিরচ্ছেদ চিকিৎসা। ১১৯ উহারাও আছে উহারা ও সদ্য প্রাণহর, এই নিমিত্ত তাহাদিগের ছেদন সর্বথা বর্জনীয়। বাত কুম্ভের দুইটি, ঈষিকাদ্বয়ের আশ্রিত, ঈষিকাও কুম্ভের মধ্যে হস্ত শ্রোতােবহ একটি এবং হস্তে পাঁচটি শ্বেতশির বর্তমান আছে, সদ্যপ্রাণহর এই নিমিত্ত তাহার চ্ছেদন সর্বথা বর্জনীয়। তদ্ভিন্ন নিৰ্যাণ ভাগে পঞ্চ যে, দন্তবেষ্টদ্বয়ে এবং কটিস্রোতে মধ্যে যে সকল শিরা বিদ্যমান আছে তাহারা ও সদ্যঃপ্রাণহর, সুতরাং তাহাদিগের চ্ছেন সর্বথা বর্জনীয় সেইরূপ মণ- স্থলী ও মূত্রাশয়ের মধ্যস্থিত শিরা সমূহের চ্ছেদ ও সদ্যপ্রাণহর সুতরাং তাহার চ্ছেদ ও সর্বথা বর্জনীয়। সেইরূপ অন্তর সকৃথিদ্বয়ে অণ্ডকোষের পার্শ্বে যে আটটি শিরা আছে তাহার ছেদন ও সদ্যঃ প্রাণহর অতএব সৰ্ব্বদা বর্জনীয়। সন্দানভাগে মণ্ডক্যে গ্রন্থি ও সকুটিকাদ্বয়ে যে সকল শিরা আছে তাহার চ্ছেদ বারণগণের মৃত্যুর কারণ তনুভাগে রন্ধে, অণ্ডকোষে, স্তনদয়ের অন্তরালে এবং নাভিদেশে যে সকল শিরা আছে তাহার চ্ছেদনে ও মাতঙ্গগণের মৃত্যু ঘটে। অক্ষিদ্বয়ে কর্ণসন্ধিদ্বয়ে যে সকল শিরা বিদ্যমান আছে তাহার ছেদনেও মাতঙ্গগণের মৃত্যু ঘটে। হে অঙ্গেশ্বর, মাতঙ্গগণের শিরাচ্ছেদ নিবন্ধন সমধিক পরিমাণে শােণিতস্রাব হইতে থাকিলে দেহস্থ বায়ু বিকৃত হইয়া মাতঙ্গগণের মর্মস্থান সমুদয় ও হৃৎপিণ্ডপীড়ন করিতে থাকে এবং তাদৃশ পীড়নের ফলে উহােিগর দেহে শােথ মূচ্ছা ও প্রবল তৃষ্ণা উপস্থিত হয় । তখন উহাদিগের চিত্ত দুঃখভারাক্রান্ত বর্ণ পাণ্ডু এবং আহারে বিদ্বেষ হইয়া থাকে । এতাদৃশ লক্ষণ সমুদয় প্রকাশ পাইলে মাতঙ্গের চিকিৎসা প্রায়শঃ বিফল হইয়া থাকে। এতদ্ভিন্ন যে সকল শিরা ও ধমনী উত্তান প্রসন্ন ছবী ও রােমাশ্রিত কেবল তাহাদেরই চ্ছেদন করা বিধেয়। হে নরনাথ, মাতঙ্গগণের শিরাচ্ছিন্ন হইয়া সমধিক পরিমাণে শোণিত স্রাব হইতে থাকিলে তাহা বারণ করিবার উপায় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন - ১। শ্রীপর্ণী সূক্ষ্মচর্ণ মদনল সূক্ষ্ম চূর্ণ ২। ধাইফুল চূর্ণ এই ত্রিবিধ চুর্ণ পুনঃ পুনঃ নিক্ষেপ করিয়া পরে বাঁধিয়া রাখিলে ছিন্নশিরা স্নায়ু হইতে শেণিস্রাব নিরুদ্ধ হইয়া থাকে। যদি উল্লিখিত ঔষধ প্রয়োগের ফলে রক্তস্রাব নিরুদ্ধ না হয় তাহা হইলে অধেলিখিত ঔষধ প্রয়ােগ করা কর্তব্য ১। ক্ষৌম বস্ত্ৰভষ্ম ২। ধূনা সূক্ষ্ম চূর্ণ (রেশম কাপড়ের ছাই ) ৩। ধাতকী সুক্ষ্ম চর্ণ গঙ্গায়ুৰেশংহিতা। । ৪। মদন ফলের ৫। গাম্ভারীর এই পঞ্চবিধ চূর্ণ একত্র মিশ্রিত করিয়া ব্রণ মধ্যে পুনঃ পুনঃ নিক্ষেপ করিলে শােণিতস্রাব প্রতিরুদ্ধ হইয়া থাকে। যদি এই ঔষধ প্রয়ােগে ও রক্তস্রাব নিরুদ্ধ হয় তাহা হইলে অধােলিখিত ঔষধ প্রয়ােগ করা কর্তব্য। ১। বষ্টিমধুর সূক্ষ্ম চর্ণ ৪। ধূনার সূক্ষ্ম চর্ণ ২। চন্দনের ৫। পদ্মকাষ্ঠের , ৩। লােধের এই পঞ্চবিধ চর্ণ একযোগে পুনঃ পুনঃ নিক্ষেপ করিলে বারণগণের শিরাস্নায়ু চ্ছেন নিবন্ধন শােণিতস্রাব নিরুদ্ধ হইয়া থাকে। ১। গোধুম কদম্ব ছাল ২। শোধ ৪। গিরিমাটি এই চতুর্বিধ দ্রব্যের সূক্ষ্মচর্ণ করিয়া তাহা পুনঃ পুনঃ নিক্ষেপ করিলে শােণিত- স্রাব নিরুদ্ধ হয়। ১। অর্জুন ছাল ৩। যষ্টি মধু ২। ধব (ঝাউ ) ছাল এই ত্রিবিধ দ্রব্যের সূক্ষ্ম চর্ণ করিয়া তাহা পুনঃ পুনঃ প্রদান করিলে শােণিত- স্রাব নিরুদ্ধ হয় । ১। সমুদ্র ফেণ ৭। অরিমেদের গ্রন্থি পলাশ নিৰ্যাস ৩। গােময় রস ৯। তিনিশ নিৰ্যাস ৪। “ মধ্য ১০। ভুমি কদম্ব ১১। গিরিমাটি ৬। দুগ্ধ ১২। লাক্ষা (গালা ) উল্লিখিত দ্বাদশ প্রকার দ্রব্যের মধ্যে কঠিন পদার্থগুলির সূক্ষ্মচর্ণ করিয়া তাহার সহিত তরল পদার্থ উত্তমরূপে মিশ্রিত করিবে এবং পুনঃ পুনঃ ব্রণ মধ্যে প্রয়ােগ করিলে চ্ছিন্নশিরামুখ হইতে শশাণিতস্রাব নিরুদ্ধ হয়। যদি ইহাতেও শােণিত স্রাব নিরুদ্ধ না হয় তাহা হইলে মাতঙ্গকে নির্মূল শীতল জলে অবগাহন কৱাইবে। যদি তাহাতেও শোণিতস্রাব নিরুদ্ধ না হয় তাহা হইলে অপােলিখিত কাথদ্বারা পুনঃ পুনঃ ক্ষত প্রক্ষালন করিলে সবিশেষ উপকার দশে। ১। অশ্বত্থ ছাল ২। যজ্ঞডুমুর ছুলি ৮।

শিরচ্ছেদ চিকিৎসা। ১২১ ৩। গ্রাধ ( বট) ছাল ৪। কাজক এই চতুৰ্বিধ দ্রব্য ছেচিয়া তাহার কাথ করিবে এবং তাহা শীতল হইলে ‘তদ্বারা পুনঃ পুনঃ ক্ষত প্রক্ষালন করিলে ছিন্নশির। হইতে শােণিতস্রাব নিরুদ্ধ হয়। যদি তাহাতেও শোণিতস্রাব নিরুদ্ধ না হয় তাহা হইলে যথাবিধি অগ্নি প্রয়োগ একান্ত কর্ত্তব্য। প্রথমতঃক্ষত মধ্যে গব্যঘৃত টালিয়া দিয়া ‘অগ্নিকৰ্ম্ম বিধান অনুসারে অগ্নিকৰ্ম্ম করিবে এবং ব্রণ সম্যক্ দগ্ধ জানিয়া দগ্ধস্থান নির্বাপণের জন্য গব্যঘৃতায় সিক্ত করিবে। শস্ত্র ও অগ্নিপ্রণিধাননাক্ত বিধানে নির্বাপণ করিয়া গব্যঘৃত মিশ্রিত দুগ্ধ পান করিতে দিবে । অপরিহার্য্য প্রয়ােজন বােধ করিলে বিজ্ঞচিকিৎসক শস্ত্রোপচারে প্রবৃত্ত হইবেন;- শুচি ও সমাহিতচিত্ত হইয়া ব্রাহ্মণগণদ্বারা স্বস্তিবাচন পূর্বক পূৰ্বাধিবাসিত যন্ত্রদ্বারা মাতঙ্গকে সুসংযত করিয়া মনশ্চক্ষুঃ সমাধান পূৰ্ব্বক করতল পরামর্ষদ্বারা শস্ত্রপাতের স্থান নির্ণয় করিয়া পূৰ্বাধিবাসিত শস্ত্র প্রয়ােগ করিবেন। হে নরেশ্বর, যে সকল গ্রন্থি (স্ফীতস্থান) বিদারণ যোগ্য তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন ;-যে সকল গ্রন্থি মেদোযুক্তস্থানে উৎপন্ন হওয়ায় দৃঢ় বলিয়া প্রতীয়- মান হয়, যে সকল গ্রন্থি মৰ্ম্মস্থানে জন্মে এবং এই প্রকার শস্ত্রপাতাযােগ্য স্থান- জাত সকল গ্রন্থিতে ‘অভ্যঙ্গ’ ‘প্রলেপ প্রভৃতিদ্বারা তাহার প্রতীকার করিতে চেষ্টা করিবে। একান্তপক্ষে তাহাতে প্রতীকার না হইলে ঔষধ প্রয়ােগে গ্রন্থি বিদারণ করা কর্তব্য। তাহাতেও বিদীর্ণ না হইলে দোষ-বলাবল ও শশাণিত পরীক্ষা পূৰ্ব্বক সাবধানে একদেশে শোণিতস্রাব করিবে। শােণিতস্রাবের পরে তাহাকে অল্পলবণযুক্ত সুরা পান করিতে দিবে। তাহাতে শোণিত ও বল বৃদ্ধি হইয়া থাকে। কেবল শাস্ত্রজ্ঞ শস্ত্রোপচারে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির কখনও এতাদৃশ দায়িত্বপূর্ণ শস্ত্রোপচারে প্রবৃত্ত হওয়া উচিত নহে। বহু অদৃষ্টকৰ্ম্মা ও শাস্ত্রজ্ঞান হীন অথচ বিজ্ঞম্মন্ত চিকিৎসক কৰ্ম্ম দর্শন করিয়া অবসাদ প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। কৰ্ম্মবিহীন শাস্ত্রজ্ঞ কিংবা শাস্ত্রবিহীন কৰ্ম্মজ্ঞ এই দ্বিবিধ চিকিৎসকই মহর্ষি পাল কাপের মতে নিন্দনীয় ; পক্ষান্তরে যে চিকিৎসক শাস্ত্রে ও শস্ত্রে অভিজ্ঞ তিনি মাতঙ্গস্বামী নরপতির নিরন্তর আদর পাইবার যােগ্য । ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে ১৯শ অধ্যায়।

বিংশ অধ্যায়। মর্মপ্রমাণ বিধি। একদা অঙ্গপতি রােমণীদ নুরপতি মহর্ষি পালকাপ্যের নিকটে গমন করিয়া প্রণতিপূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন;-ভগবন, বারণগণ, নানা বিধ অসমতল দুর্গম প্রদেশে গমন, পৰ্বতশিখরে আরােহণ, গিরিকরে অবতরণ প্রভৃতি দুঃসাধ্য কাৰ্য্য করিতে সমর্থ, এই নিমিত্ত সংগ্রামে উহাদিগের উপযােগিতা সৰ্ব্বাপেক্ষা সুমধিক সন্দেহ নাই; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে শরশক্তি ঋষ্টি তােমর পরশু ভিপািল প্রভৃতি অস্ত্র শস্ত্রের আঘাতে ক্ষত বিক্ষতা হইলে উহাদিগের মৰ্ম্মস্থান কি প্রকারে জ্ঞাত হইতে পারা যায় ? মাতদেহে মৰ্ম্মস্থান ই বা কতগুলি ? মৰ্ম্ম প্রমাণ ই বা কি ? তাহার চিকিৎসা ই বা কি ? এবং কোন শাস্ত্রানুসারেই বা বারণদেহস্থ মৰ্ম্মস্থান সমূহের জ্ঞানলাভ হয় ? কারণ মৰ্ম্মস্থান না জানিয়া শস্ত্রাদি প্রয়োগ করা সম্ভবপর নহে। হে মহানুভব, আমি উল্লিখিত বারণগণের হিতকর বিষয় সমূহ শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করি। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ;- হে নরনাথ, একটি মাতঙ্গ দেহে একশত সাতটি মৰ্ম্মস্থান বিদ্যমান আছে ইহা অগ্রেই ‘শরীর বিচয়াধ্যায়ে মর্মসংগ্রহে সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়াছি। এইক্ষণে যাহাতে মাতঙ্গদেহস্থ মৰ্ম্মসমূহের বিশেষ তথ্য সমুদয়ে সবিশেষ জ্ঞান হইতে পারে তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন;-হে অঙ্গেশ্বর, মাতঙ্গগণের অবগ্রহ হৃদয় অণ্ডকোষ, বাতকুম্ভ বিম্ব পনব- নাভি, নিষ্কোশ, মুষ্কক, মৃদুকুক্ষি প্রভৃতিস্থানে ই মৰ্ম্মসমুহ বিদ্যমান আছে ; সুতরাং উক্তস্থান সমূহে অঘাত বারণগণের সদ্যপ্রাণহর হইয়া থাকে। অনন্তর মর্ম পরিমাণ বর্ণিত হইতেছে ; হে অঙ্গনাথ, মতিগণের মলদ্বার মধ্যে যে মৰ্ম্ম বিদ্যমান আছে তাহার পরিমাণ ছয় অঙ্গুলি, হৃদয় মধ্যে মৰ্ম্ম অষ্টাঙ্গুল পরিমাণ, অণ্ডকোষ মধ্যে নাভি মধ্যে নিষ্কোশমধ্যে মুষ্ক মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুলি পরিমাণ। মৃদুকুক্ষি মধ্যে মৰ্ম্ম চতুরঙ্গুলি পরিমাণ। সেইরূপ স্তন মধ্যে ও বিকা মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ। তন্মমধ্যে মৰ্ম্ম অষ্টাঙ্গুণ পরিমাণ, মধ্যভাগে তালু মধ্যে ও মেহন মধ্যে মৰ্ম্ম চতুরঙ্গুলি পরিমাণ। কক্ষভাগে মৰ্ম্ম নয় অঙ্গুলি পরিমাণ, বক্ষণ মধ্যে মৰ্ম্ম দশ অঙ্গুলি পরিমাণ, জিহ্বামূলে মৰ্ম্ম তিন অঙ্গুলি পরিমাণ বর্তমান আছে। ইহার একতম স্থানে দৃঢ়বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করিয়া থাকে।

গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। অনন্তর মতিগণের কালান্তক প্রাণহর মর্ম সমূহের বিষয় বর্ণনা করিতেছি ; বারগণের সকুটিকা মধ্যে ও তল সন্ধি মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল প্রমাণ, তাহাতে গাঢ়বিদ্ধ হইলে তিন মা মধ্যে মাতঙ্গগণ মৃত্যুমুখে নিপতিত হয়। কুৰ্ম্ম মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল প্রমাণ, উহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে ছয়মাস মধ্যে মাতঙ্গগণ মৃত্যু মুখে নিপতিত হইয়া থাকে। প্রেহসন্ধি মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে দুই মাস মধ্যে ই বারণগণ প্রাণ ত্যাগ করিতে বাধ্য হয়। ‘ঘ’ স্থানে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে বিগ্ধ হইলে দুইমাস মধ্যে বারণগণ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিয়া থাকে। বিক্ষোভমধ্যে মৰ্ম্ম সপ্তাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে ছয়মাস মধ্যে মাতঙ্কগণ প্রাণ ত্যাগ করিয়া থাকে। প্রতিমান মধ্যে পলিহস্ত মধ্যে, ও এ্যস্থি মধ্যে মৰ্ম্ম সপ্তাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ তিন মাস মধ্যে মৃত্যুমুখে নিপতিত হয়। বাহিথ মধ্যে মৰ্ম্ম সপ্তাঙ্গুল প্রমাণ, তাহাতে বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ ষন্মাষ অভ্যন্তরে বিনষ্ট হয়। শক মধ্যে মৰ্ম্ম অষ্টাঙ্গুল প্রমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ তিনমাস মধ্যে ই মৃত্যু মুখে নিপতিত হয়। বক্ষঃ সন্ধি মধ্যে এবং কুক্ষি মধ্যে মৰ্ম্ম অষ্টাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ মাসদ্বয় মধ্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিয়া থাকে। সন্দান মধ্যে মৰ্ম্ম অষ্টাঙ্গুল পরিমাণ তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে বারণগণ ছয় মাস মধ্যে প্রাণ ত্যাগ করিয়া থাকে। এই পঞ্চবিংশতি মৰ্ম্মই কালান্তরে প্রাণহব। অনন্তর বৈগুণ্যকর (যে সকল মন্মে আঘাত পাইলে মাতঙ্গ বিকলাস্থ হয় ) মর্মসমূহের বিষয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-হে নরেশ্বর, মাতগগণের কট, কর্ণ, মুখ, তালু, নেত্ৰদ্বয়, স্তনাগ্র, মলদ্বার, জননেন্দ্রিয়, শুণ্ড ও শ্রোতঃ প্রভৃতি পঞ্চদশটি অঙ্গে চতুরঙ্গুলি পরিমিত মৰ্ম বিদ্যমান আছে তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ বিকলাঙ্গ হইয়া অতি ক্লেশে জীবন ধারণ করিতে সমর্থ হয়। সেইরূপ অষ্ঠীব্যদ্বয়ের মধ্যে মৰ্ম্ম চতুরঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে বারণগণ সরলভাবে অঙ্গ সঞ্চালনে অসমর্থ হয়। কর্ণ বিবর মধ্যে কর্ণাশ্ৰিত মৰ্ম্ম চতুরঙ্গুলি পরিমাণ, তাহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ স্তব্ধগাত্র হইয়া থাকে। প্রত্যংশ- মধ্যে মৰ্ম্ম পঞ্চাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ শুকর্ণ হইয়া থাকে। অন্তর্বাহু মধ্যে মৰ্ম্ম পঞ্চাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ হৃদরােগগ্রস্ত হইয়া থাকে। গ্রীবা মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ তাহাতে গাঢ়বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণের মন্যাস্তম্ভ রােগ হইয়া থাকে। বিলান্দ্র মধ্যে মর্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গাঢ়বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণের দৃষ্টি বিকল হয় । অপস্কার ১২৪ মৰ্ম্মপ্রমাণ বিধি মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে উহারা অঙ্গস্তম্ভরােগে অভিভূত হয়। অন্ত্র মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ তাহাতে গঢ় বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ “আনাহ” রােগে অভিভূত হয়। চুচুকদ্বয়ের মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ তাহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে বারণগণ “উরসঙ্গ’ রােগে অভিভূত হয়। কর মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে বারণগণ 'উৎকর্ণক’ রােগে পীড়িত হইয়া থাকে। প্রতীকাস মধ্যে মৰ্ম্ম ষড়ঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে বারণগণ ‘পাকল’ (জর) রােগে পীড়িত হইয়া থাকে। অংস মধ্যে মৰ্ম্ম ষড় অঙ্গুলি পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে বারণগণ ‘গাত্রভঙ্গ’ রােগে অভিভূত হয়। ক্ষয়ভাগে মৰ্ম্ম সপ্তাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে বিদ্ধ হইলে বারণগণের সর্বাঙ্গে বেদনা হইয়া থাকে। কলাভাগ মধ্যে মৰ্ম্ম সপ্তাঙ্গুল পরিমাণ, তাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে বারণগণ অতীসার রােগে পীড়িত হয়। “অন্তরাপর মধ্যে মৰ্ম্ম সপ্তাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গঢ়ি বিদ্ধ হইলে বারণগণ মূত্রসঙ্গ’ রােগে আক্রান্ত হইয়া থাকে। উদর মধ্যে মৰ্ম্ম-সপ্তাঙ্গুল পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে- বারণগণ ‘মেশোষ’ রোগে অভিভূত হয়। পৃষ্ঠ মধ্যে মৰ্ম্ম বিংশতি অঙ্গুলি পরিমাণ, তাহাতে গাঢ় বিদ্ধ হইলে মাতঙ্গগণ ‘অপররােগী’ হয়। এই চতুস্ত্রিংশৎটি মৰ্ম্ম বিদ্ধ হইলে বৈগুণ্য কারণ হইয়া থাকে। এবিষষে শ্লোক কথিত আছে ;-হে নরেশ্বর, এই বারণ- দেহে একশত সাতটি মৰ্ম্ম রক্ষা করিয়া শস্ত্র প্রয়ােগ করিবেন। যে চিকিৎসক মৰ্ম্মসমূহের পৃথক পৃথক স্থান সম্যক্‌রূপে অবগত নহেন, তাহার কদাপি বারণদেহে শস্ত্রোপচার করা কর্তব্য নহে। মাতঙ্গ প্রভু নরপতি তাদৃশ চিকিৎসককে রাজ্যের সীমার বহির্ভাগে বর্জন করিবেন। ইতি মহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে বিংশ অধ্যায়।

* * একবিংশ অধ্যায়। নির্বিষ ? কুৰ দংশন চিকিৎসা। একদা মহানুভব অঙ্গেশ্বর, স্বীয় সুরম্য চম্পানগরে আশ্রমস্থ মহষি পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিঙ্গাসা করিলেন; ভগবন, এরকগণের উৎপত্তি .কিপ্রকার ? তাহাদিগের লক্ষণই বা কিপ্রকার ? কি নিমিত্তই বা উহার। অগ্রে নির্বিষ হইয়াও পরে সবিষ হয় ? কেন ই বা এরক দংশন জনিত বিষ সপ্তরাত্ৰিমধ্যে কুপিত হয় ? কখনও বা সমাস কখনও সংবৎসর পরে ই বা কুপিত হয় কেন? এরকগণের দেহবর্ণ কিরূপ? কোন প্রকার এরও এবং কি উপায়ে ই বা এরও দংশন বিষ বিহীন হইতে পারে ? মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন—হে মহারাজ, শ্রবণ করুন-আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর যথাযথ ভাবে প্রদান করিতেছি শা (শ্ব সকল সাধারণতঃ ‘ভৗম’ ও ‘আন্তরীক্ষ এই দুই প্রকার এবং ভৌমা ও গ্রাম্য ও ‘আরণা’ ভেদে দুই প্রকার। উহাদিগের ঋতুবিপৰ্যয় ও আহার রস বিপৰ্যয় নিবন্ধন প্রতির আহার রস হইতে গর্ভ সম্ভব হয় ? উহার যখন মণ্ডুক মাংস, কাকমাংস, সর্প মাংস, বৃশ্চিক মাংস, নর মাংস কিংবা কুৰুৰ মাংস ভােজন করে, তখনই উহারা পূর্ণ মাত্রায় বিষধর হয় এবং তক্ষ্য মাংস প্রভেদে বিযের ও তারতম্য হইয়া থাকে। প্রাণিগণের গর্ভস্থ অবস্থাতেই বাতপিত্ত এবং শ্লেষ্ম জন্মে। উল্লিখিত বাত পিত্তাদির সাম্য রক্ষিত হইলে প্রাণি- গণ স্বস্থ এবং তাহার বৈপরীত্যে অসুস্থ হইয়া থাকে। দেহ মধ্যে সঞ্চিত বিষ দেহের উপাদান স্বরূপ বাত পিত্তাদিকে কুপিত করিয়া উহাদিগকে উন্মত্ত করে। তাদৃশ অবস্থাতে উহারা কোপনস্বভাব হয়, অত্যন্ত ভ্রমণ করিতে থাকে, মস্তক আনত করে এবং উহাদিগের মুখ হইতে সর্বদা লালাস্রাব হইতে থাকে। তখন উহাদিগের লাঙ্গুল ও চরণ চতুষ্টয় শিথিল হয় এবং সর্ববিধ মদ-চেষ্টা প্রকাশ পায়। তাদৃশ উন্মত্ত অবস্থায় উহারা যাহা ভক্ষণ করে তা ও বিষে পরিণত হয়। সচরাচর উহাদিগের সবিষ দংশন দ্বিবিধ ও নির্বিষ দংশন চতুর্বিধ দৃষ্ট হয়। তীক্ষাগ্ৰদন্ত চতুষ্টয় দ্বারা উহারা যে দংশন করে তাহা সাতিশয় ক্লেশকর ইহাই দ্বিবিধ সবিষ দংশন কথিত হইল অতঃপর চতুর্বিধ নির্বিষ দংশনের বিষয় কীৰ্ত্তন করিতেছি শ্রবণ করুন। উহা সাধারণতঃ বিস্ফোটিত, বিলিখিত, স্নিগ্ধ-শােণিত-আবী-গ্রথিত এবং ব্যবকৃষ্ট এই চতুর্বিধ অখ্যা প্রাপ্ত হইয়া থাকে।

গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। হে নরেশ্বর, উল্লিখিত চতুর্বিধ দংশন ই জাতিভেদে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্র চতুর্বিধ এবং উহা যথাক্রমে শুক্ল রক্ত ধূম্র ও কৃষ্ণবর্ণ লক্ষিত হয়। উক্ত চতুৰ্বিধ দংশনের গন্ধ ও যথাক্রমে ভূমি, মৎস্য, চন্দন ও গব্যঘৃতের অনুরূপ। শ্লেষ্ম- প্রাবল্য নিবন্ধন দশন শ্বেতবর্ণ, পিত্তাধিক্য বগত বক্তবর্ণ, বাহাতিথ্য নিবন্ধন কৃষ্ণবর্ণ এবং ত্রিবিধ দোষ বিকার বশতঃ মিশ্র বা ধুম্রবর্ণ লক্ষিত হয় এর তত্তৰ্গ বিভাগ দ্বারাই তাহার চিকিৎসা করা কর্তব্য। যাবৎ কালের মধ্যে মাতঙ্গগণের শদংশন জনিত বিষ প্রকোপ সম্ভবপর তাবৎকালের মধ্যে ই উহা পুনঃ পুনঃ কুপিত হইয়া থাকে এবং তাদৃশ প্রকোপের বহুবিধ কারণ সমুদয় সচরাচর দৃষ্ট হয়, তন্মধ্যে মেঘাচ্ছন্ন আকাশে পুনঃ পুনঃ বিদ্যুৎ প্রকাশ ও বজ্র পাত, পূর্বভুক্ত দ্রব্যের অজীর্ণ অবস্থায় পুনরায় আহার গ্রহণ, অমিত্রায় ভােজন, জমধ্যে অবস্থানকালে স্বীয় প্রতিবিম্ব দর্শন ই প্রধান। মাতঙ্গগণের শ্বদংশন জনিত বিষবেগ প্রায়শঃ সপ্তম দিনে সপ্তম পক্ষে সপ্তম মাসে ও সপ্তম সংবৎসরে ই বিকার প্রাপ্ত হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত দংশন মাত্র ই তাহার প্রতীকার একান্ত আবশ্যক,। বিষ যেমন ত্রিবিধ বিষের বেগ এবং প্রতীকার ও তেমন ত্রিবিধ । প্রথম বিষবেগে মাতঙ্গগগ মস্তক আনত করে এবং উহাদিগের সর্বাঙ্গ কম্পিত হইতে থাকে, দ্বিতীয় বিষবেগে উহারা পুনঃ পুনঃ জ্বম্ভণ করে (হাই তােলে) ও উর্ধমুখে শব্দ করিতে থাকে। তৃতীয় বিষবেগে উহারা অত্যন্ত জ্বণ করে, পুনঃ পুনঃ দীর্ঘ নিশ্বাস ত্যাগ করে ও বৃংহণ করিতে থাকে । তখন উহাদিগের আঙ্গুল চরণ চতুষ্টয় কর্ণযুগল ও গ্রীবা দেশ শিথিল হইয়া থাকে। তাদৃশ অবস্থায় উহারা কখনও মূচ্ছাপ্রাপ্ত কখনও বা ক্ষিপ্ত হইয়া পরিশেষে বিনাশ প্রাপ্ত হইয়া থাকে । হে অঙ্গেশ্বর, ইহাই জিবিধ বিষবেগের লক্ষণাদি কথিত হইল। যে সকল দংশনের উল্লিখিত লক্ষণাবলী অলক্ষিত বা প্রচ্ছন্ন থাকে তাহা অসাধ্য মধ্যে গণনীয়, এবং কাহাকে ত্রিবেগাক্ষিক বলিয়া জানিতে হইবে। বুবর্ণ সদৃশ দংশন যাপ্য ও অবশিষ্ট সকল প্রকার দংশন ই সাধ্য বা চিকিৎদ্বারা প্রতীকার যােগ্য। অঘােলিখিত ধূপ অঞ্জনও ঔষধ সেবন প্রভৃতি দ্বারা তাহার প্রতীকার হইয়া থাকে। ১। কুঙ্কুম (জাফরান) ৪। শ্বেত সর্ষপ ২। ভগর পাদুকা ৩। কুষ্ঠ: কুড়) . উল্লিখিত পঞ্চবিধ সমভাগ ঔষধ দ্রব্য একযােগে অঞ্জন পান ও ধূপন স্বরূপে প্রহ্মেগ কয়িলে মাতঙ্গগণের শ্ব-দংশন জনিত বিয় বিনষ্ট হইয়া থাকে।

কুকুর দংশন চিকিৎসা। ') ৪। ১। শ্বেত জয়প ৩। গােলমরিচ ২। পিপ্পলী ৪। ইক্ষু গুড় এই বতুৰ্বিধ দ্রব্য সমভাগে একযােগে বাটিয়া ছায়ায় শুকাইবে এবং তা বারগণের স্ব-দংশন জনিত বিষ প্রতীকারে প্রশস্ত পান অঙ্গুন ও ধুপ। ১। কুষ্ঠ (কুড়) ৭। ত্রিফলা ২। ধ্যাম গন্ধ খড়) ৮। অতিবিষা (আতইষ) ৩। বাৰ্ত্তাকী, বীজ ৯। কুষ্ঠ (কুড়) দেবদারু ১০। পাষাণ ভেদক (পাথরচুনা) ৫। গব্য ব্রত ১১। গােত্র ৬। আসন পুষ্প (সাল গাছের ফুল) ১২। মধু প্রথমােক্ত দৃশবিধ ঔষধ দ্রব্য একাদশ গাে-মুত্রে বাটিয়া দ্বাদশ মধু সহ উত্তমরূপে মিশ্রিত করিবে এবং তাহা পানীয় সহ কিংবা অঞ্জন স্বরূপে ব্যবহার করিতে দিলে বারণগণের স্ব-দংশন জনিত বিষ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়। ১। পুরাণ হিঙ্গ ৭। জীরক ৮। শুন্তী ৪। রাজ সিদ্ধার্থ গৰ ঘূত ১০। ইক্ষুগুড় উল্লিখিত ঔষধ দ্রব্য সমুদয় প্রয়ােগে শ্ব দুষ্ট মাতঙ্গগণের বিষ প্রতীকারে বিশেষ উপকার দর্শে। ১। পিপ্পলী ৩। মধু ২। ইক্ষু গুড় 3। গব্য ঘৃত, এই চতুর্বিধ দ্রব্য পান ও অঞ্জনস্বরূপে ব্যবহার করিতে দিলে এর দষ্ট মাতগগণের বিষ দোষ বিনষ্ট হয়। ১। আদ্রক (আদা) ৩। কুষ্ঠ (কুড়) ২। ইক্ষু গুড় ৪। গ্রব্য ধৃত এই চতুর্বিধ ঔষধ দ্রব্য এক, যােগে’বাটিয়া দুই ভােলা পরিমাণে সেবন করিতে দিলে মাতঙ্গগণের শ্ব-দংশন জনিত বিষ বিনষ্ট হয়। ৩। মঞ্জিষ্ঠা ২। হরিতাল ৪। মনঃশিলা -- ৯। হস্ত্রিা ।

১২৮ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। এক ৫। শেত সিদ্ধার্থক (সাদা সর্ষপ ) ৮। তগর (তগর পাদুকা। ৬। কুষ্ঠ ( কুড়) ৯। গােয়ােচনা ৭। কপিথ (কদবেল) ১০। সুনাপিত্ত ? সমভাগ উল্লিখিত ঔষধ দ্রব্য সমুদয় একযােগে বাটিয়া অভ্যঞ্জন পান ও আলেপন স্বরূপ ব্যবহার করিলে মাতঙ্গগণের শ্ব-দংশন জনিত বিষের উপশম হয়। • গব্যঘৃত গো-দুগ্ধ ও ইক্ষুরস সহযােগে শলিধান্ত ও মুগের খিচুরী এতদৃশ অবস্থায় উত্তম পথ্য। গব্যবৃত প্রেক্ষিত মৃদু ঘাসও সুপথ্য। কৰ্ম্মাতি নীত মাতঙ্গের যাদৃশ শুষ। বিহিত হইয়াছে শ-দষ্ট মাতঙ্গের শুশ্রুষা তদনুরূপ। অন্তরীক্ষগত শ-গণ স্বেচ্ছানুরূপ গতিশীল ও খেচর। উহাদিগের মলমূত্র ও লাল সাতিশয় বিষক্তি, তাহা ভােজনে মাতঙ্গগণের শ্ব-দংশন জনিত লক্ষণ সমুদয় প্রকাশ পায়, মহা প্রভাবশালী অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপালকাপ্য ইহা বলিয়া গিয়াছেন। ইতি ঐ মহর্ষিপলিকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে এক বিংশতিতম অধ্যায়। (ক) পুস্তকে লিখিত আছে যে হস্তীর পদ ও গুড় প্রভৃতি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে রক্তের দাগ দেখিলে তৎক্ষণাৎ সতর্ক অনুসন্ধানের ফলে ক্ষিপ্ত শৃগাল কুকুরদির দংশন লক্ষ্য করিতে পারা যায় । তাদৃশ দংশনের তিন সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় হস্তী ক্ষেপিয়া উঠে এবং অচিকিৎত অবস্থায় উপনীত হইয়া প্রাণ ত্যাগ করিয়া । (১) চিকিৎসা ;-ঈদৃশ অবস্থায় উহাদিগের ১। হাটের খােলা (চাড়) ৩। ক্ষুদিমণি বা টাকিমণির পাতা ২। বারুণের শলা (৩টা) ভু এই তিন প্রকার ঔষধ দ্রব্য একযােগে বাটিয়া ক্ষতস্থানে লাগাইয়া রাখিবে। উহা বিষ নষ্ট হইলে নিজেই পড়িয়া যাইয়া থাকে। (২) ১। বনের শিকড় (দেশ বিশেষে ইকড় বা মধুয়া বলে) ২। আদার রস একযােগে মিশ্রিত করিয়া সেবন করাইলে সবিশেষ উপকার দর্শে।

কুকুর দংশন চিকিৎসা।
(৩)
১। রক্ত দ্রোণ ফুলের পাতা বাটিয়া তাহার ২ তােলা ইক্ষুচিনি সহ সেব্য।
(৪)
১। ধুতরার পাতার রস • এক ছটাক ও ইক্ষুচিনি • একযােগে সেব্য ও
ন রূপে প্রযােজ্য।
(৫)
১। ক্ষতস্থানে আকন্দের আটা লাগাইয়া শিমুল তুলা দ্বারা দৃঢ় বন্ধনে উপকার
উহা দিবসে ২২ বার প্রয়ােজ্য।

দ্বাবিংশ অধ্যায়। মৰ্ম্মন বিবি। একদা বিজিতেন্দ্রিয় দেবরাজ সদৃশকান্তি মহাপ্রভাবশালী অষের স্বীয় সুরমা চম্পানগরে উপস্থিত তপঃসম্পন্ন মহানুভব পালকাপ্যকে প্রণতি পূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন—ভগব মাতঙ্গদেহে বল দৃষ্টির অবিষয়ীভূত কতগুলি মৰ্ম্মস্থান বিদ্যমান আছে? অনুকম্পপূৰ্ব্বক বর্ণনা করিয়া আমার কৌতুহল পরিতৃপ্ত করুন। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পাল কাপ্য বলিতে লাগিলেন-হে নরনাথ, শ্রবণ করুন- আমি মাতঙ্গগণের মর্মাধিষ্ঠিত স্থান সমুহ বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন-হে মনুজধিপ, মাতঙ্গগণের কুন্তদ্বয়ের মধ্যভাগে একটি মর্ম বিদ্যমান আছে, উহা ‘প্রবেপণ” নামে অভিহিত হইয়া থাকে এবং উহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করে। শ্রবণ দ্বয়ের অভ্যন্তরে দুইটি মর্ম বর্তমান আছে। উহাতে তীব্র আঘাত বারণগণের সদ্যঃ- প্রাণহর হইয়া থাকে। নেত্রদ্বয়ের উপরিভাগে ঈষিকা বিদ্যমান, তাহাতে সে মৰ্ম্ম আছে তাহা বিদ্ধ হইলে বারণগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করে। সেইরূপ নিৰ্যাণ মধ্যে ও যে স্থানে লােমাবলী লক্ষিত হয়, মাতঙ্গগণের সেই স্থানে একটি মর্শ বিদ্যমান আছে। তাহা বিদ্ধ হইলে উহার তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করিয়া থাকে। অবগ্রহের মধ্যে কপালদেশে ‘সীবণী’ নামে এক মর্ম বর্তমান আছে তাহাতে আহত হইলে মাতাগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করিয়া থাকে । কুন্তদ্বয়ের মধ্যে যে মর্ম আছে তাহা বিদ্ধ হইলে বরণগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণ ত্যাগ করে। মাতঙ্গগণের পিঞ্চ যদ্বয়ের উপরিভাগে কর্ণ সন্ধিপৰ্যন্ত বিস্তীর্ণ মর্মদ্বয় বিদ্যমান আছে, তাহাতে আহত হইলে বারণগণ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। সেইরূপ দন্তদ্বয়ের নিম্নে ও প্রতিমানের উপরিভাগে যে সন্ধি আছে তাহা ‘ফেৎকার নামে অভিহিত হইয়া থাকে এবং তাহাতে আঘাতের ফলে মাতঙ্গগণ তৎক্ষণাৎ মৃত্যুমুখে নিপতিত হয়। বাতকুন্তের নিয়ে ও প্রতিমানের উপরিভাগে ‘তালুশ্রোতােবহ’ নামে যে মৰ্ম্ম আছে তাহা সদ্যঃপ্রাণ হর। গ্রীবাদেশের উপরিভাগে কর্ণ-সন্ধি সমাশিত ‘বায়সতুণ্ড নামে যে মৰ্ম আছে তাহা বিদ্ধ হইলে বারণগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে। কুন্তদ্বয়ের সমসূত্রে গ্রীবা সন্ধির সন্নিকটে ‘পণবক’ নামে যে সন্ধি আছে তাহা বিদ্ধ হইলে তৎক্ষণাৎ বারণগণের প্রাণ বিয়ােগ ঘটিয়া থাকে। মাতঙ্গগণের গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। গুহাভাগে সন্ধি সমাশ্রিত যে মৰ্ম অাছে তাহা ধমগাপিন নামে অভিহিত হইয়া থাকে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগশ তৎক্ষণাৎ প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে। বায়ণগণের গুহাভাগে যতস্থান সমাশ্রিত অপর আরও একটি মৰ্ম্ম আছে, তাহ। বিদ্ধ হইলে বারণগণ অবিলম্বে ‘পাকল’ (জর ) রােগে প্রাণত্যাগ করে। সেইরূপ গুহাভাগের মধ্যে মা-সন্ধি সমাশ্রিত যে মৰ্ম আছে তাহাতে তীব্র আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গগণের গ্রীবাদেশ স্তব্ধ হয়। হে নরেশ্বর, সেইরূপ মাতগণের শঙ্খসন্ধিগত উপবাহি সমাশ্রিত যে মৰ্ম্ম আছে তাহতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের তৎক্ষণাৎ প্রাণ বিয়ােগ হইয়া থাকে। মায়ের মধ্য হইতে গলসন্ধি সমাশ্রিত নির্গল’ নামে বারণগণের যে মর্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণত্যাগ করে। সেইরূপ বক্ষঃস্থলের উপরিভাগে এবং মন্ত। ও গলভাগের অধোভাগে দ্বিক নামে মৰ্ম্ম আছে, তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণ তৎক্ষণাৎ প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে। মাতঙ্গগণের উয়ােমণি সমাশ্রিত সন্ধিমধ্যে যে মৰ্ম্ম আছে' তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে উহাদিগের ‘বাতঙ্ক রােগ জন্মে এবং তাহার ফলে উহারা মৃত্যুমুখে পতিত হয়। নরনাথ, সেইরূপ উয়ােমণির মধ্যভাগে মণি’ নামে যে মৰ্ম্ম অবস্থিত আছে, তাহা অতিদারুণ এবং তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বাৱণগণের আকস্মিক মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। মাতঙ্গদেহের মধ্যভাগে যে স্থানে চতুষ্কোণ আবর্ত দৃষ্ট হয় সেইস্থানে আবর্ত নামে মৰ্ম্ম বিদ্যমান আছে তাহা আহত হইলে মাতঙ্গগণের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটে। বারণগণের আসন ভাগের পার্শ্বে পৃষ্ঠবংশানুগত উৎকর্ণক’ নামে যে মৰ্ম্ম আছে, তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে উহাদিগের প্রাণবিয়োগ ঘটে। পেচকের (হস্তিপুচ্ছের) অধােভাগে এবং মল- দ্বারের উপরিভাগে যে মৰ্ম্ম আছে তাহাতে আঘাত পাইলে বারণগণের মূত্রাসঙ্গ রােগে মৃত্যু ঘটে। হে অঙ্গেশ্বর, মাতগণের মুঞ্চমধ্যে একটি মর্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের তৎক্ষণাৎ প্ৰাপৰিয়ােগ ঘটে বলিয়া কথিত আছে। সেইরূপ অণ্ডকোশের পক্ষে পশুকালমাশ্রিত যে মৰ্ম্ম আছে তাহা আহত হইলে মতিগণের তৎক্ষণাৎ পৰিমােগ বটে। মাতঙ্গগণের উভয় পার্শ্বে এক একটি মৰ্ম্মের অস্তিত্ব কথিত আছে; তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে উহাদিগের ‘বাতানাহ’ রােগ জন্মে। সেইরূপ মাঙ্গগণের কক্ষাভাগাশ্রিত যে মর্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে উহারা পাকল( জর)রােগে পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হইয়া থাকে। তনুষ্ঠাগের ১৩২ মৰ্ম্মজ্ঞান বিধি ঘটে। অধং প্রদেশে বন্ধু সমাশ্রিত যে মৰ্ম্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গ- গণের ‘উৎকর্ণক’ নামক ব্যাধি জন্মে। হে মহীবল্লভ, কাভাগের মধ্যে ক্ষয় ভাগাশ্রিত যে মৰ্ম্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের প্রাণবিয়ােগ ঘটে জানিবেন। হে নরেশ্বর, বারণগণের দেহের উপরিভাগে যে সকল মৰ্ম্ম আছে তাহা আপনার নিকটে কীৰ্ত্তন করিলাম উহাদিগের গাত্রোপরি বিদ্যমান মৰ্ম্ম সমূহের বিষয় বিভাগক্রমে বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। বারণগণের আসনভাগের পার্শ্বে এক মৰ্ম্ম বর্তমান বলিয়া কথিত আছে, তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে উহার। ‘গাত্রশােক রােগে আক্রান্ত হয় এবং তাহার ফলে উহাদিগের মৃত্যু অপঙ্কারের অধঃপ্রদেশে এবং বৈশাখ প্রদেশের মধ্যভাগে যে মৰ্ম্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গগণ সর্বদা ‘গাত্ৰস্তম্ভ’ রােগে অভিভূত হইয়া থাকে। দেহের পূর্বভাগে এবং জব ভাগের পার্শ্বদেশে যে মৰ্ম্ম বিদ্যমান আছে তাহা বারণ- গণের সদ্যপ্রাণ হর। সেইরূপ বিষ্কাদ্বয়ের পশ্চাদ্ভাগে ‘বালয়’ নামে যে মৰ্ম্ম দৃষ্ট- হয় তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের তৎক্ষণাৎ প্রাণবিয়োগ ঘটে। বিশেষ দ্বয়ের পশ্চাদভাগে এবং পলিহন্তের মধ্যপ্রদেশে যে মৰ্ম্ম বর্তমান আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে তৎক্ষণাৎ মাতঙ্গগণের প্রাণবিয়ােগ ঘটে। হে পৃথিবীশ্বর নেত্রমণ্ডল মধ্যে ‘আলিঙ্গিত' নামে এক মৰ্ম্ম বর্তমান আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলেও বারণগণের প্রাণবিয়ােগ ঘটে। উহাদিগের হেমধ্যে এক মৰ্ম্ম বিদ্যমান আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গগণের প্রাণবিয়ােগ ঘটে। পারুষের পশ্চাদভাগে এবং কূৰ্ম্মের উপরিভাগে পলিপাদে যে মৰ্ম্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের প্রাণবিয়ােগ ঘটে। সম্মুখবর্তি নখের পার্শ্বদেশে এবং নখস্রোতের মধ্যভাগে যে মৰ্ম্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের গাশােফ রােগ জন্মে এবং তাহার পরিণামে উহাদিগের প্রাণবিয়োেগ ঘটে। বারণগণের স্তনাগ্রদ্বয়ের পার্শ্বদেশে যে মৰ্ম্ম বিদ্যমান আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গগণের তৎক্ষণাৎ প্রাণবিয়ােগ ঘটে। সেইরূপ বক্ষণ পার্শ্বে রক্ত শ্রোতােবহ নামক এক মৰ্ম্ম বর্তমান বলিয়া কথিত আছে, উহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে ও বারণগণের প্রাণ বিয়ােগ অনিবাৰ্য। বহ্মণ প্রদেশের অধােভাগে এক মর্শ বিদ্যমান আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গগণ অবিলম্বে শােফ রােগে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুমুখে নিপতিত হয়। হে নুরেশ্বর, সেইরূপ অষ্ঠীব্য প্রদেশাশ্রিত এক মৰ্ম্ম বর্তমান আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। পশ্চাদ্ভাগ শুষ্ক হইতে থাকে। সেইরূপ গণ্ডকী প্রদেশে ও এক মর্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে মাতঙ্গগণ ক্লীব প্রাপ্ত হয়। মাতঙ্গগণের সকাকা এদেশে এক মর্ম বর্তমান আছে, "হাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বরিশগণের তৎক্ষণাৎ প্রাণ বিয়োগ ঘটে। পশ্চাৎপদ তলদ্বয়ের মধ্যপ্রদেশে যে মৰ্ম্ম আছে তাহাতে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারণগণের তৎক্ষণাৎ প্রাণ বিয়ােগ ঘটে। হে নরনাথ, আমি মাতঙ্গগণের হিত কামনায় উহাদিগের মর্ম বিভাগ যথাযথভাকে বর্ণনা করিলাম বারণগণের হিতৈষিগণ উল্লিখিত মৰ্ম্ম সমূহে কখনও শস্ত্রোপচার করিবেন ; যত্ন পূৰ্ব্বক ঐ সকল মৰ্ম্মস্থান রক্ষাই করিবেন। তদ্ভিন্ন শস্ত্র প্রয়ােগকালে বারণগণের শিরা ও স্নায়ুমণ্ডলী বর্জন পূৰ্ব্বক বিজ্ঞ চিকিৎসক, মাতঙ্গগণের সমস্ত অঙ্গ সন্ধিতে মৰ্ম্ম বিদ্যমান জানিয়া কখনও তাহাতে তিৰ্য্যগ (ব) ভাবে শস্ত্র প্রয়ােগ করিবেন না; পক্ষান্তরে অনুলােমভাবে শস্ত্রোপচার করিয়া যথেষ্ট সফলতা লাভে সমর্থ হইয়া থাকেন। বারণগণের মর্ম স্থানের অবস্থান বিষয়ে সম্যক্ অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ মনুষ্য ও অশ্যাদি প্রাণিগণের ন্যায় মাতঙ্গ দেহেও বিভিন্না- কৃতি বিবিধ প্রকার শস্ত্র প্রয়োগ করিবেন। হে নরেশ্বর, বারণগণের আসন প্রদেশে কলাভাগে কষ্ঠে মেরুদণ্ডে ও গণ্ডদ্বয়ে সুতীক্ষ্ণ বৃদ্ধিপত্র’ নামক শদ্বার কিংবা মণ্ডলাগ্র শস্ত্রদ্বার বৃত্ত (গােলাকৃতি ) ছেদন করা কর্তব্য। সাধারণতঃ বারণগণের ছেদের (ছিন্নস্থানের) দৈর্ঘ্য পঞ্চাঙ্গুল সপ্তাঙ্গুল কিংবা নবাল হওয়া কর্তব্য। উল্লিখিত সমস্ত বিষয়ে সুসিদ্ধান্তে উপনীত হইয়া বিজ্ঞচিকিৎসক পূৰ্বাধিবাসিত দ্বারা বারণগণের ব্রণচ্ছেদন করিবেন। “ব্রীহিমুখ’ নামক শঙারা ব্ৰণবিদ্ধ করিতে হয় এবং ‘মগুলাগ্র’ শস্ত্রদ্বারা লেখন করা বিধেয়। সেইরূপ কুঠার কিংবা ‘বৎসদন্ত’ নামক শব্ৰদ্বারা বরিশগণের ব্রণ বিশ্রাবণ (পূয়াদি দূষিত পদার্থ নিঃসারণ করা উচিত। মাতা- গণের ব্ৰণসীবন (সেলাই) গুণবৎ’ ও ‘গ্রন্থিমৎ’ ভেদে দুই প্রকার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ যে সকল অঙ্গ দৃঢ় তাহাতে ‘গ্রন্থি’ সীবন কৰ্ত্তক বিবেচনা এবং যে সকল অঙ্গ মাংসল তাহাতে ‘গুণ’ সীবন-বিধেয় মনে করেন। বারণ- গণের ব্রণ সীবন কাৰ্যেপযােগী সুচি সুক্ষ্ম অষ্টাঙ্গুল দীর্ঘ ও গজদন্তাকৃতি হওয়া অবশ্যক মাতঙ্গগণের সন্থঃক্ষতে সীবন একান্ত বিধেয়। পক্ষান্তরে পূয়াদি শ্রাবযুক্ত পক্ষততে সীবন নিষিদ্ধ। হে অনাথ, এইরূপে মাতদেহের উল্লিখিত বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যয়ে একশত সাতটি মর্মস্থান বিদ্যমান আছে। শস্ত্র- প্রয়ােগের পূর্বে কিংবা পরে মাতাদিগের মস্তকাদিতে তৈল মর্দন, মেহপান ও করেন ১৩৪ মৰ্ম্মজ্ঞান বিধি। স্নিগ্ধ দ্রব্য ভােজন প্রশংসনীয়। হে নরেশ্বর, শাস্ত্র ও শস্ত্রজ্ঞান সম্পন্ন দেশকালজ্ঞ পরীক্ষাকারী সাহসী জিতক্রোধ জিতেন্দ্রিয় সাবধান দক্ষ ও যশেলিপসু চিকিৎসকই শস্ত্র প্রয়ােগে মােহ প্রাপ্ত হন না। হে পৃথিবীশ্বর, ইহাই বারণগণের মর্মস্থান নির্ণয় আপনার নিকটে যথাযথ ভাবে বর্ণিত হইল। অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপালকাপ্য ইহা বলিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্ৰীমহর্ষিপলিকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে দ্বাবিংশ অধ্যায় ।

ত্রয়েবিংশ অধ্যায় মর্মবিদ্ধ-চিকিৎসা। একদা মহানুভব অঙ্গপতি স্বীয় চম্পানগরে মহর্ষি পালকাপ্যকে প্রণিপাত পূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন-ভগবন, জিগীষু নরপতিগণ বারণগণের সাহায্যে ই দুর্জয় যুদ্ধে জয়লাভ করিয়া থাকেন; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে বিবিধাকৃতি অন্ত্র শাস্ত্ৰদ্বারা মাতঙ্গগণের দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়। তদ্ভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী মাতলের আঘাতে কিংবা শস্ত্র প্রয়োগদ্বারা ও মাতঙ্গদেহে বিবিধ প্রকার ব্রণ হইতে দেখা যায়। উল্লিখিত ব্রণ সমূহের মধ্যে কতিবিধ ব্রণ তৎক্ষণাৎ প্রাণান্তকর, কতিবিধ ব্ৰণ ই বা কালান্তরে প্রাণহর ? তাহা যথাযথভাবে বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন। মহামতি অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন হে নরনাথ, স্বভাবতঃ সকল প্রাণীর প্রাণ ই দেহাতি ; পক্ষান্তরে দেহ ও প্রাণের অনুগত। তদ্ভিন্ন প্রাণ মর্মাশ্রিত ও বটে; কারণ তেজঃ ও বায়ুরগুণের সহিত অতি ঘনিষ্ট সম্বন্ধে সংবদ্ধ। এই নিমিত্ত মৰ্ম্মদেশজাত ব্রণ প্রাণিগণের প্রাণ নাশক হইয়া থাকে। হে অগেশ্বর, মর্ম ও সদ্যপ্রাণহর, কালান্তর-প্রাণহর সশল্য-প্রাণ ও বৈগুণ্যকর ভেদে চতুর্বিধ। তন্মধ্যে আগ্নেয়গুগ যুক্ত মৰ্ম্ম সমূহ সদ্যপ্রাণহর, সৌম্যাগ্নেয়গুণ যুক্ত কালান্তর প্রাণহর, কেবল বাতগুণ যুক্ত মৰ্ম্ম সশল্য প্রাণ এবং কেবল সোমগুণ যুক্ত মৰ্ম্ম বৈগুণ্যকারণ বা বিকলাঙ্গতাদির হেতু। হে পৃথিবীশ্বর, উল্লিখিত চতুৰ্বিধ মৰ্ম্মেরমধ্যে প্রথমতঃ সদ্যপ্রাণহর মৰ্ম্মের বিষয় ই বর্ণনা করিতেছি শ্রবণকরুন গুন অণ্ডকোষ, হৃদয় মেছ, পণবক, মন্তাভাগ, গলদেশ, নাভি, মৃদুকুক্ষী নিষ্কোশ, কক্ষাভাগদ্বয়, পদতল, বক্ষণ মুফ, তালু জিহ্বা, স্তনদ্বয়ের মধ্যভাগ, রন্ধয় কুম্ভ বক্ষঃ কণ্ঠ উদর অস্ত্র এবং করীষাস্রাব এই চতুস্ত্রিংশৎ মৰ্ম্ম বারণগণের সদ্যঃপ্রাণহর বলিয়া মহর্ষিগণ কর্তৃক অবধারিত হইয়াছে। অগ্নি জীবের আশ্রয় এবং জীব ও অগ্নির আশ্রিত এই নিমিত্ত অনলাত্মক মৰ্ম আহত হইলে মাতঙ্গগণ তৎক্ষণাৎ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। হে নরেশ্বর, অনন্তর কালান্তর প্রাণহর মর্ম সমূহের বিষয় বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন ; প্রােহ সকুটিকা এ্যন্থি সন্দান পদতল সন্ধি, বিক্ষোভ কুৰ্ম্মভাগদ্বয় উরঃসন্ধি উরঃস্থল, পলিহন্তদ্বয় যতস্থান অন্তবাহুদ্বয় এবং যাপ ভাগদয়, নিৰ্ষণ- কুম্ভ, শুণ্ড ও শুণ্ডগ্রি এই পঞ্চবিংশতি মৰ্ম্মকালান্তর প্রাণহর কারণ উহা সৌমাগ্নেয় গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ; গুণ বহুল। উল্লিখিত মর্গ সমূহে আঘাত, প্রাপ্তির ফলে বারণগণ ক্রমে মৃত্যু মুখে পতিত হয় ; এই নিমিত্ত উহা ‘কালান্তর প্রাণহর’ আখ্যা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। উল্লিখিত আঘাত বশতঃ যে সকল উপদ্রপ লক্ষিত হয় তাহা প্রথমতঃ দেহস্থ নােমাবলীতেই সমধিক পরিমাণে দৃষ্ট হয়। অজপরু যে সকল মর্মে আঘাত প্রাঙ্গু হইলে করণগণ সশলপ্রাণ হইয়া জীবিত থাকে তাহার বিষয় আনুপূর্বিক বর্ণনা করিতেছি শ্রবন করুন ;-নির্মাণ, কুক্ষি, কর্ণন্ধু, কুম্ভ পুরস্কার। স্তনদ্বয়, অক্ষিগােলকুদ্ধ ও বিহুল এই চতুর্দশটি মর্মে আঘাত প্রাপ্ত হইলে বারপগণ তৎক্ষণাৎ মৃত্যুমুখে পতিত না হইলে ও সশলপ্রাণ হইয়া জীবিত থাকে। যতক্ষণ শলং নিৰুদ্ধ বায়ু মাতঙ্গগণেৱ মৰ্ম্মস্থান সমূহে নিবন্ধ থাকে তাবৎকাল তাহারা সশল্যপ্রাণ হইয়া জীবনধারণ করে এবং কৈপত্যে উহাদিগের প্রাণ- বিয়োগ ঘটে। অনন্তর বৈগুণাকর মর্ম সমূহের বিষয় বর্ণনা করিছে শ্রবণ করুন ;-অপঙ্কার গুহাভাগদ্বয় হ্ময়ভাগ করলে তােদর প্রতিজ্ঞান গ্রন্থিচতুষ্টয়, শুণ্ড প্রত্যগংস প্রকসিদ্ধয়, নেত্ৰদ্বয়; গ্রীবা অন্তুর সূনা, বহিথ, পেচক এবং বিতানদ্বয় এই চতুঞ্জিংশৎ মৰ্ম্মস্থান আহত হইলে বারুণগণ বিকলাঙ্গ হইয়া জীবন ধারণ করে। উল্লিখিত মর্মসমুহ দৃষ্ণু ও সােমণবল বলিয়া মৃতু্যজনক নহে বরং মৃত্যু অপেক্ষা:সমধিক ক্লেশ প্রদ। হে নরেশ্বর, ইহাই বারণ দেহস্থ একশত সাতটি মর্ম আপনার নিকটে কীর্তন করিলাম। ধৈৰ্য বল সত্ব এ পৌরুষ গুণাবল কারণগণের উঙিখিত মৰ্থ সমূহই প্রতিষ্ঠিত আছে ; এই নিমিত্তই উল্লিখিত মর্মসমূহ ক্ষত হইলে মাতঙ্কগণ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। মর্গ শব্দের যোগার্থ বা নিরুক্ত বিষয়ে শাস্ত্রে ‘আরে বলিয়াই মৰ্ম্ম এইরূপ লিখিত আছে। তদ্ভিন্ন প্রাচীন শাস্ত্রকারগণ উল্লিখিত মর্মসমূহকে শিরামর্শ অস্থিমৰ্ম্ম ধমনীমৰ্ম্ম মায়ুম কোমৰ্ম্ম সন্ধিক্স স্লোলেমৰ্ম্ম এই আট এখন ভাগে বিভক্ত করা থাকেন। মাতগপের শিল্পমৰ্ম্ম-আহত হইলে সখিক রক্তাক, মিত্মন ভাঙ্গরা অচিরে মৃত্যুমুখে পতিত হয়; এই নিমিত্ত:তাহ সষ রক্ষণ করুক। অস্থি আহত হইলে সমধিক পরিমাণে শুরুও মজারণ ও অস্থি ক্ষয় নিল বারাশ প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে। সেইরূপ ধমনী মৰ্ম্ম আহত হইলে বারগগণঅগুণী মিক্সাৰ নিৰঞ্জন প্রাণত্যাগ করিয়া থাকে। সেইরূপ স্নায়ুমৰ্ম আহত হইলে * কুন্ত প্রভৃতি বহু মৰ্ম্ম। । পুরস্কারেহথ চুচুক মূল সদ্য প্রাণহর, কালান্তর প্রাণহর ও বিকলাঙ্গকর এই তিন ভাগেই মূলে দৃষ্ট হয়। তাহা দুর্বোধ অব। আঘাতের আধিক্যাজিভেদে মীমাংশু। = মবিন্ধ চিকিৎসা। । ~ মাতগণের সন্ধিবিশিষ্ট বা শিখিল হয়; কারণ স্নায়ুমণ্ডলী প্রাণিদেহের বন্ধন বরূপ। কোমৰ্ম্ম আহত হইলে বারণগণ করীষস্রাব-পীড়িত হইয়া মহাক্ষয়রােগে আক্রান্ত হয় এবং প্রাণত্যাগ করে। সৰূিমৰ্ম্ম অাহত হইলে মাতাগণ বিকলাঙ্গ ও বাতপীড়িত হইয়া অবিলছে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। শ্রোতােমৰ্ম্ম আহত হইলে বারশগণ স্রোতঃসমূহের স্বাভাবিক গুণ বিরহিত হইয়া প্রাণত্যাগ কিংবা বিকলেয়ি হইয়া প্রণিধারণ করে। দৈাষাশয় (বাতপিত্তাদির আধার ) আহত হইলে বারণগণের বাতপিত্ত কফ প্রভৃতি দৈহিক উপাদান ক্ষয় প্রাপ্ত হয় এবং তাহার ফলে উহাদিগের প্রাণবিয়োগ ঘটে। এই নিমিত্ত শপ্রয়োগ বিধানজ্ঞ চিকিৎসকগণ উল্লিখিত মৰ্ম্মসমূহকে রক্ষা করিয়াই শস্ত্ৰপ্ৰয়োগ করিয়া থাকেন। শস্ত্র প্রয়োগে নিপুণ চিকিৎসকগণ অল্পসিদ্ধি কিংবা অসিদ্ধিকে ও শতর মনেকরেন তথাপি মৰ্ম্মস্থান রক্ষা না করিয়া প্রয়ােগ করেন । যে সকল শিরা ও অস্থি স্নায়ু পৰ্যন্ত পরিব্যাপ্ত, কল দিকে মাংস পেশীর অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট এবং যে শিরা মৰ্ম্মগত কিংবা সন্ধিগত তাহা • কখন ও ছেদন করা কর্তব্য নহে। স্নায়ুজালভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ, কদাপি স্নায়ুজালে শস্ত্রো- প্রচার করেন না। ত্বকভাগে অনুলােম ও ঋজুগতি শস্ত্র প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। পক স্ফীতস্থানেই শস্ত্র প্রয়োগ করা বিধেয়, তাহাতে বাতপিত্তাদির প্রাবল্য থাকিলেও মাতল মৃত্যুমুখে পতিত হয় না। যথাবিধি শস্ত্রোপচার সম্পন্ন হইলে মাতঙ্গকে গব্যঘৃত মিশ্রিত পথ্য প্রদান করা কর্তব্য। তদ্ভিন্ন গব্য ঘৃত পান ও স্নিগ্ধ দ্রব্য ভােজন তাদৃশ অবস্থায় একান্ত হিতকর। শস্ত্রোপচারের পূর্বে যাগ যজ্ঞাদি স্বস্ত্যয়নের অনুষ্ঠান করা কর্তব্য। ঘষ্ট দগ্ধ অবত্ত প্রভৃতি ব্রণের বহু প্রকৃতি আছে। যে সকল চিকিৎসক ব্রণের বিবিধ প্রকায় প্রকৃতি তত্ত্বজ্ঞ, যাহারা শাস্ত্রজ্ঞ শস্ত্র প্রয়োগ কুশল ক্ষিপ্রহস্ত জিতেন্দ্রিয়, পরীক্ষাকারী সাহসী বলশালী যশস্বী, অলুক, জিতক্রোধ ও অক্লান্ত- কৰ্মা, মাতঙ্গ-প্রভু নরপতি তাদৃশ বৈদ্যকেই মাতঙ্গদেহে শস্ত্র প্রয়োগে নিযুক্ত করিবেন। ইতি শ্রীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে এয়ােবিংশ অধ্যাখ। } , চতুর্বিংশ অধ্যায়। ষে বিজয়বিধি। t একদা কুপের তুল্য অতুল ঐশ্বৰ্য্যশালী মহাপ্রাজ্ঞ অঙ্গপতি হস্তিশালায় সুখােপবিষ্ট মহর্ষি পলকাপ্যকে প্রণিপাত পূর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ;-- ভগ, আপনি যে রােগজ্ঞান ও তাহার লক্ষণ পূর্বে বর্ণনা করিয়াছেন তাহাতে আমার সংশয় উপস্থিত হইয়াছে আপনি অনুকম্পা প্রকাশে তাহা অপনয়ন করুন। আপনি বলিয়াছেন শুদ্ধপাকল প্রভৃতি রােগ শুদ্ধ শ্লেষ্ম হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে। বারুণগণের উল্লিখিত রােগ হইলে উহাদিগের দেহের পূর্ব ভাগ উষ্ণ হইয়া পশ্চাদভাগ কি নিমিত্ত শীতল হয় ? হে ঋষিবর আপনি বলিয়াছেন মতিঙ্গের কোন কোন জ্বর হইলে দেহে সন্তাপ প্রকাশ হয় না। কেবল লক্ষণ দ্বারা তাহা বুঝিতে হয়। আপনি আরও বণিয়াছেন বালােকল ও কূট পাকল এক প্রকার নিদান হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে। সেইরূপ পক্কলপাকল ও পুণ্ডরীক পাকল এতদুভয়ই বাত-পিত্ত বিকারসস্তুত, অথচ কি নিমিত্ত উহার লক্ষণ ও চিকিৎসা দুই ই পৃথক ? কি নিমিত্ত মৃদুগ্রহ পাকলাক্রান্ত মাতঙ্গ ধীরেধীরে ক্ষয় প্রাপ্ত হয় ? এবং কি কারণেই বা কুকুট পাকল ভুতসংসৃষ্ট দৃষ্ট হয় ? হে মুনি শ্রেষ্ঠ, একাগ্রহ পাকল বােগকে কেহ দৈবকৃত কেহ বা বাত পিত্তাদির বিকারসস্তৃত বলিয়া থাকেন। বস্তুতঃ উহা ভূত-সংসৃষ্টই দৃষ্ট হয় । প্রায়শঃ বাত পিত্তাদির বিকারসস্তৃত লক্ষিত হয় না.। কি কারণেই বা বারণগণের স্বভাবতী জাঠরানল মন্দীভূত হইয়া থাকে ? কি নিমিত্তই বা শ্লেষ্ম-সঞ্চয় হইতে শারদরােগ প্ৰসুপ্ত পাকল ও মহাপাল বােগ উৎপন্ন হইয়া থাকে ? হে ঋষিবর, আপনি অনুগ্রহ প্রকাশে উল্লিখিত প্রশ্ন সমূহের নিদান ও নিরুক্তি প্রতীকার সহ বিস্তৃতরূপে ব্যাখ্যা করিয়া আমার সংশয় অপনােদন করুন। মহানুভব অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন মহারাজ শ্রবণ করুন ;- নাভিমণ্ডলের উপরিভাগে হৃদয়দেশের নিয়ে পিত্তেরস্থান, নাভির পশ্চাদ- ভাগে বায়ুর স্থান, আমাশয়, পৰ্ব সমূহ বক্ষঃস্থল কণ্ঠ ও মস্তক ইহাই শ্লোের স্থান। মাতগগণের শুদ্ধপাকল রােগের পুর্বে স্বীয় প্রকোপের কারণ বশতঃ অন্যতম দৈহিক উপাদান পিত্ত স্বয়ং দূষিত হইয়া বায়ুর সহযােগে শ্লেষ্মেকে পশ্চাদভাগে অনিয়ন করে এব বাত ও শ্লেষ্মের প্রভাবে মাতঙ্গদেহের পশ্চাদভাগ ;

দোষব্ৰিচয় বিধি। ১৩৯ শীতল ও পিত্ত-প্রভাবে প্রাগভাগ উষ্ণ হইয়া থাকে। হে অঙ্গনাথ, পূর্বেই কথিত হইয়াছে যে দেবগণের শাপে বরণগণের দেহের বহির্ভাগে কখন ও.স্বেদ বা সন্তাপ প্রকাশিত হয় না। কখন কখনও.বিকৃত বায়ুর প্রভাবে বালপাকল রােগগ্রস্ত মাহঙ্গের সর্বাঙ্গে তাপ লক্ষিত হয়, তাদৃশ অবস্থায় (প্রথম অবস্থায় ) ঔষধ প্রয়ােগ করিলে উহার প্রতীকার হইতে দেখা যায়। অনন্তর কূট পাকল রােগের নিদান বর্ণনা, করিতেছি শ্রবণ করুন; স্বীয় প্রকোপের কারণ বশতঃ দেহের অন্যতম উপাদান বায়ু অত্যন্ত কুপিত হইয়া যখন সৰ্ব্বাঙ্গ পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক বারণগণের হৃদয় প্রদেশ আক্রমণ করে তখনই উহাদিগকে কূট পাকল রােগে আক্রান্ত হইতে দেখা যায় এবং হৃদয় আক্ৰমণ নিবন্ধনই উহা সম্পূর্ণরূপে অচিকিৎস্য হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, যখন ব্যান ও উদান বায়ু কুপিত হইয়া পিত্তকে দূষিত ও বিচলিত করে, তখনই বারণগণের পকস পাকল রোগ হইতে দেখা যায় এবং এই রোগে গুরুস্থানেপিরোধ নিবন্ধন বারণগণ উন্মত্ত প্রায় হইয়া থাকে। পুণ্ডরীক পাকল বােগের নিদান এই যে যখন স্বীয় প্রকোপের কারণ বশতঃ বায়ু কুপিত হইয়া মাতঙ্গদেহস্থ পিত্ত ও রক্তকে কুপিত করে এবং তাহার ফলে দেহচর্ম দূষিত হয় এবং তাদৃশ অবস্থায় বিকার সমধিক পরিমাণে লক্ষিত হয়, তখনই পুণ্ডরীক পাল জানিতে পারা যায়। পক্ষান্তরে পূৰ্বোল্লিখিত কারণ বশতঃ যখন দেহের অন্যতম উপাদান বায়ু কুপিত হইয়া বারণগণের মাংস মেদ রস রক্ত মজ্জা ও শুক্র ক্রমে ক্ষয় করিতে আরম্ভকরে। তখনই মাতঙ্গগণ মৃদুগ্রহ পাকল রােগে আক্রান্ত হইতেছে জানা যায় এবং উহাদিগের দেহ শনৈঃ শনৈঃ ক্ষীণ হইতে থাকে। যে সকল মাতঙ্গ শ্লেষ্মাভিভূত হইয়া শ্লেষ্মবর্ধক বা শ্লেষ্ম বিকারক দ্রব্য সমূহ সেবা করিতে থাকে তাহাদিগের প্রথমতঃ সমান বায়ু কুপিত হইয়া প্রাণ ও অপান বায়ুকে দূষিত করে এবং অনন্তর ব্যান ও উদান বায়ুকে বর্ধিত ও বিকৃত করিয়া বারণগণের কুকুট পাকল রোগ জন্মায়। এই রােগের আক্রমণের ফলে বারণ দেহের উপাদান স্বরূপ ক্ষিত্যাদি পঞ্চমহাভূত বিপর্যস্ত হইয়া থাকে, এই নিমিত্ত ভূতাহভিভূতের ন্যায় উন্মত্তপ্রায় লক্ষিত হয়। তদ্ভিন্ন ‘একাগ্রহ পাকল’ সম্বন্ধে বক্তব্য এই যে প্রথমতঃ বরুণ দেবের পাশস্পর্শে বারণগণের দেহস্থ বাত ও শ্লেষ্মকুপিত হইয়া একাগ্রহ পাকল রােগ উৎপাদন করে ; সুতরাং উহার আরম্ভ দৈবিক বটে কিন্তু পরে দোষজ হইয়া থাকে। সেইরূপ পিত্ত বিকৃত হইয়া উহাদিগের জঠরান সাতিশয় ১৪০ গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহিতা। প্রদীপ্ত করে এবং তাহার ফলে মাতঙ্গগণ শারদ রােগে অভিভূত হয় । তাদৃশ অবস্থাতে বারণগণ দ্বারা শারীরিক পরিশ্রমকর কাৰ্য্য করাইলে উহাদিগের সমান বায়ু কুপিত হইয়া পশ্চাৎ প্রাণবায়ুকে দূষিত করে ; এই নিমিত্ত মাতঙ্গগণ ক্ষীণ হইতে থাকে। স্বীয় প্রকোপের কারণ বশতঃ মাতদেহস্থ বাত কুপিত হইয়া যখন শ্লেষ্মকে ও কুপিত করে এবং উভয়ে উহাদিগের হৃৎপিণ্ড পীড়ন পূৰ্ব্বক মহতী পীড়া বা সাতিশয় ক্লেশ জন্মাইতে থাকে তখনই উচ্চারা মা- পাকল রােগে অভিভূত হইয়া প্রাণত্যাগ করে। বাত-বিকারই উল্লিখিত মহাপাকল রােগের নিদান বলিয়া তাহার প্রতীকার ই উক্ত রােগের একমাত্র চিকিৎসা। এই রোগে হস্তী একবার পতিত হইলে যথেষ্ট ভয়ের কারণ আছে। রােগে এবং ভয়ে এই উভয় পক্ষেই মহত্ত্ব আছে বলিয়া উহা মহাপাকল’ আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে চই ধ্বংশ অধ্যায়।

পঞ্চবিংশ অধ্যায়। তু । অগ্নিাহভিকিৎসা। ক্ষা একদা মহানুভব অঙ্গপতি স্বীয় চম্পানগরে উপস্থিত মহর্ষি পালকাপ্যকে পশিপতিপূর্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগব, আমি করিয়াছি অগ্নিদগ্ধ বারণগণের বিবিধ অঙ্গ প্রত্যঙ্গে নানাকৃতি ও নানাবর্ণব্রণ সমুদম জন্মে। আপনি অনুকম্পা প্রকাশে তাদৃশ ব্রণ সমূহের স্বরূপ ও চিকিৎসা যথাযথভাবে বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনোদন করুন। মহাপ্রভাবশালী অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ। বলিতে লাগিলেন ;-হে নরেশ্বর, বারণগণের অগ্নিদগ্ধক্ষত সাধারণতঃত্বগগত ও স্ফোট এই দ্বিবিধ। উত্তপ্ত দ্রবদ্রব্য ও কঠিন দ্রব্য এতদুভয় হইতেই উল্লিখিত দ্বিবিধ দাহ ঘটিতে পারে। উত্তপ্ত লাক্ষা মােম গুড় প্রভৃতি এবং জলদগার বন্ধু প্রভৃতি বহুবিধ দাহযােনি, আমি পূর্বেই আপনার নিকটে বর্ণনা করিয়াছি। তদ্ভিন্ন পরম্পরাভাবে আদিত্য এবং অদ্বিারা ও মাতঙ্গগণের দাহ সংঘটিত হইতে দেখা যায় । চিকিৎসা;-দৈবদুর্বিপাক বশতঃ বারণগণ অতি দগ্ধ হইলে বিজ্ঞ চিকিৎসক ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করিয়া যথশাস্ত্র চিকিৎসা করিবেন। তাদৃশ অবস্থাতে যথাক্রমে পরিষেক, প্রলেপ, চূর্ণ তৈল ঘৃত ও বসা প্রয়ােগ করা কর্তব্য। অতিদাহে মাতঙ্গ অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হয়, তখন তাহাকে ইক্ষুরস দুগ্ধ, যষ্টিমধু ও শর্করা মিশ্রিত পানীয় পান করিতে দেওয়া কর্তব্য। সেইরূপ তণ্ডুলােক ও নানাবিধ মদ্য পান করতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। চিকিৎসক নিকটবর্তী হইয়া উল্লিখিত দ্রব্য সমূহ দ্বারা সেক ও করিবেন। উক্ত সেকের ফলে দাহ বােগ ও বেদনা উপশমিত হইয়া থাকে। অনন্তর আধােলিখিত প্রলেপ দিলে মাতঙ্গগণের দাহ্নদোষ প্রশমিত হয়। ১। মধু পর্ণ ৪। মহিষ্ঠা ২। শতাবরী ৫। তিল ৩। তাণীসপ • ৬। যষ্টিমধু উল্লিখিত ছয় প্রকার দ্রব্য একযােগে বাটিয়া মাতঙ্গগণের দগ্ধ স্থানে প্রলেপ দিলে দাহদোষ প্রশমিত হইয়া থাকে। তাহাতে সুফল না দর্শিনে অধােলিখিত প্রলেপ প্রদান করা বিধেয়।

১৪২ গাজায়ুর্বেদ-সংহিতা। ২। মাষপর্ণী অশ্বথ ছাল ৫। কাজক ২। যজ্ঞডুমুর ছাল এলাচ প্লক্ষ ছাল ৭। মধুর ৪। যষ্টিমধু গব্য ধৃত প্রথমােক্ত সপ্তবিধ দ্রব্য উত্তমরূপে বাটিয়। অষ্টম গব্যঘৃতের সহিত মিশ্রিত করিবে এবং তদ্বারা পুনঃ ২ প্রলেপ দিলে বারণগণের দাহদোষ প্রশমিত ও বেদনা নিবৃত্ত হয়। তার ফলে দগ্ধ মাতঙ্গের মন প্রসন্ন ও আহারে রুচি হইতেও দেখা যায় । শােধ ৫। ক্ষীরিকা বা খেজুর দুগ্ধ ৬। শতাবরী দুগ্ধ ৩। হরিদ্রা গব্য ঘৃত ৪। দারুহরিদ্রা প্রথমােক ছয় প্রকার দ্রব্যের সহিত সপ্তম গব্য বৃহ যথাবিধি পাক করিয়া তাহা মাতঙ্গগণের দাহ জনিত ক্ষত স্থানে মাখিদে শনৈঃ শনৈঃ তাহা নূতন মাসে পূর্ণ হইয়া উঠে। অথবা অধোলিখিত তৈল পাক করিয়া তাহা ক্ষত মধ্যে পুনঃপুনঃ লেপন করিলে অচিরে মাতগণের অগ্নিদাহ জনিত দোষ প্রশমিত হয়। ১। মাসী (জটামাসী) ৫। যষ্টিমধু ২। সমগ ৬। মঞ্জিষ্টা ৩। অমৃতা ( গুড় চী) ৪। মাষপণী ৮। গােদুগ্ধ ৯। তিল তৈল প্রথমােক্ত সপ্তবিধ দ্রব্য জল সহ উত্তমরূপে বাটিয়া অষ্টম গাে দুগ্ধের সহিত মিশ্রিত করিতে হইবে এবং নবম তিলতৈলসহ যথাবিধি পাক করিয়া শীতল হইলে উহা প্রতিদিন মাতঙ্গগণের অগ্নিদাহ জনিত ক্ষতমধ্যে লেপন করিলে ক্ষত শুষ্ক ও পূর্ণ হইয়া থাকে। ইহাতে ও প্রতিকৃত না হইলে অপােলিখিত রােপণ চুর্ণ প্রয়োগ করা কর্তব্য। ১। পদ্মকাষ্ঠ ৪। জীবক, ২। সমল { বরাক্রান্তা ) ৩। সগর পাদুকা ৬। যষ্টিমধু ৭। কূশ মূল

অগ্নিদাহ-চিকিৎসা।
১৪৩
৭। ধাতকী ( ধাইফুল)
৮। লোধ
১১। অতিবিষা
উল্লিখিত একাদশবিধ দ্রব্যের একযােগে সূক্ষ্ম চূর্ণ করিয়া তাহা পুনঃ পুনঃ
ক্ষতমধ্যে প্রযােগ করিলে ক্ষতগুষ্ক হয়।
অথবা
১। কৃষ্ণতিল
২। গব্যঘৃত
প্রথমােক্ত তিলের সূক্ষ্ম চূর্ণ করিয়া তাহার সহিত দ্বিতীয় বৃহ ও তৃতীয় মধু
উত্তমরূপে মিশ্রিত করিবে এবং তাহা পুনঃ পুনঃ ক্ষত মধ্যে লেপন করিলে
ক্ষত শুষ্ক হইয়া থাকে।
যথাশাস্ত্র চিকিৎসার ফলে যখন মাতঙ্গগণের ব্রণ শুষ্ক এবং ক্ষতস্থানের চর্ম ও
লােমাবলী প্রসন্ন হইবে তখন দাহদোষ প্রশমনাখ গব্যঘৃত মিশ্রিত অন্নাদি
উহাদিগকে ভােজন করিতে দিবে। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি
পালকাপ্য বারণগণের অগ্নিদাহের উল্লিখিত চিকিৎসা বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন।
ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে পঞ্চবিংশ
অধ্যায়।

যভূবিংশ অধ্যায়। লুভা চিকিৎসা। একদা মহানুভব অঙ্গপতি চম্পানগরে উপস্থিত ঋষিবর পালকাপ্যকে প্রণতিপূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলিপুটে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ভগবন; মাতগণ কি কারণে লুতাদ্বারা আক্রান্ত হয়। অনাথের ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকাপ্য বলিতে লাগিলেন ;-হে নরনাথ, শ্রবণ করুন-নূতা বস্তুতঃ বিশ্বপ্রকাশক ভগবান ভাস্কর দেবের অনুচর। উহাদিগের লালা পৃথিবীতে পতিত হয় এবং নানাব্যযােগে নানাভাবে বারণদেহে প্রবেশ লাভ করিয়া বারণগণের ধবংস সাধন লক্ষণ;-ভাগ্য বিপর্গয় বশতঃ মাতঙ্গগণ তারা আকান্ত হইলে উহাদিগের মােহ, দাহ, ভ্ৰম, বমন ও তৃষ্ণা প্রভৃতি বিষ-বিকার প্রকাশিত হয় । তদ্ভিন্ন মস্তক, ঈষিকা, স্তন, গণ্ড, কট, অক্ষিযুগল, স্তনদ্বয়ের অন্তরাল, অণ্ডকোষ, ও বাহুমূলে ধূম্রবর্ণ, ভ্রমরবৎ কৃষ্ণবর্ণ, শুভ্রবর্ণ, অভ্রবর্ণ, কিংবা পযজ্ঞডুর সদৃশ যে সকল বিষজনিত পড়িকা (স্কোট) জন্মে চিকিৎসধারা তাহার কখনও প্রতীকার হয় না। পক্ষান্তরে কপােতবর্ণ কিংবা কর্ণিকার কুসুমবর্ণ পীড়কা সমুদয়ের চিকিৎসাদ্বারা প্রতীকার হইয়া থাকে। চিকিৎসাঃ-এতাদৃশ অবস্থায় মগুলাগ্ৰ অস্ত্রদ্বারা উল্লিখিত পীড়ক। সমুদয় চ্ছেদন বড়িশা অস্ত্ৰদ্বারা উৎক্ষেপণ পূৰ্ব্বক অগ্নিদ্বারা যথাবিধি দগ্ধ করিবে এবং দাহের অব্যবহিত পরে পূৰ্ব্বসংগৃহীত অপােলিখিত প্রলেপ প্রদান করিবে। ১। হরিদ্রা ৮। প্রপৌণ্ডরীক (পুণ্ডরিয়া গাছ। ২। দারু হরিদ্রা লােধ ছাল ৩। মঞ্জিষ্ঠা অনন্ত মূল ৪। পুন্নাটফল (চক্ৰমৰ্দফুল) ১১। উৎপল-কল হিজুল ১২। নবনীত (ননী। ৬। গৃহধূম (রান্নাঘরের ঝুল) ১৩। গাে-দুগ্ধ ৭। সৈন্ধব লবণ প্রথমােক্ত একাদশবিধ দ্রব্য ত্রয়োদশ কাচাদুধে বাটিয়া তাহার সহিত স্বাদশ নবনীত উত্তমরূপে মিশ্রিত করিবে এবং কাচা দুগ্ধ দ্বারা পুনঃ পুনঃ ব্রণ প্রক্ষালন পূৰ্ব্বক ক্ষতস্থানে পুনঃ পুনঃ প্রলেপ দিবে।

তা চিকিৎসা।
১১৫
শীতল জলে অবগাহন গান, গোদুগ্ধ ও গব্যঘৃত পান এবং মাতঙ্গের সঙ্গে
কর্দম লেপন এতাদৃশ অবস্থায় একান্ত হিতকর।*
ইতি গ্ৰমহর্ষিপলিকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে
বড়বিংশ অধ্যায় ।
৮। * * * * *
-
মানে।
==
গজায়ুৰ্বেদ মূলে লুতাক্রান্ত মাতঙ্গকে কাড়িলার এক অদ্ভুত মর্গ লিখিত
অাছে। তাহা পাদটীকায় সন্নিবেশিত হইল
“ইরিলি মিরিলি দুমিড়ি দামিড়ি গুল্ম গুল্মাশিরোবেষ্টনি অঙ্গানম নাকি
অঙ্গানা দানাশমে স রাক্ষস পিশাচ মিরিলি স্বাহা। মূল শকি ।

সপ্তবিংশ অধ্যায়। বিষকীট-চিকিৎসা। ; একদা অঙ্গপতি রোমপাদ নরপতি তপঃ প্রভাব সম্পন্ন মহর্ষিপালকপ্যকে প্রণতি পূৰ্ব্বক কৃতাঞ্জলিপুটে জিজ্ঞাসা করিলেন ;-ভগবা, বারণগণের সিম কীট- চিকিৎসা সবিস্তর বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনয়ন করুন। মহানুভব অঙ্গ- পতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপলিকাপ্য বলিতে লাগিলেন নরেশ্বর, শ্রবণ করুন ;-হে অঙ্গনাথ, এই অসীম বায়ু মণ্ডল মধ্যে অসংখ্য বিষকীট নিরন্তর ভ্রমণ করিয়া থাকে। তাহাদিগের দংশন এমন কি মল মুত্র স্বেদ পর্যন্ত এতাদৃশ বিষাক্ত যে যেকোন প্রকারে তাহা মাতঙ্গদেহ স্পর্শ করিলে তত্তংস্থানে স্ফোট সমুহ উৎপন্ন হয় এবং তাহাতে তীব্ৰবেদনা বিদ্যমান থাকে। উক্ত ফোটে অভ্যন্তর প্রদেশে অগিদাহের তুল্য ভীষণ দাহ অনুভূত হয়। তাদৃশ অবস্থায় মাতা স্বীয় শুণ্ডদ্বারা উক্ত স্থানের পুনঃ পুনঃ গন্ধ গ্রহণ করে এবং উহাদিগের মুখ বিবর হইতে নিরন্তর লালাস্রাব হইতে থাকে। তাদৃশ অবস্থায় উহার। কানও প্রকার শান্তিলাভ করিতে পায় না ; উহাদিগেব আহারে অরুচি, জন্মে। তখন উহাদিগকে নিরন্তর প্রস্রাব ত্যাগ, দীর্ঘশ্বাসও পুনঃ পুনঃ বিকট গরে চীৎকার করিতে দেখা যায়। অজ্ঞ লােকেরা তাদৃশ অবস্থা দর্শনে উহাদিগের বিসর্প রােগ বলিয়া ভ্রম করিয়া থাকে। ১। খদির ছাল ১০। বর্ণার কচি পৰব বা করঞ্জের ২। অশ্বকর্ণ ছাল কচি পব ৩। ধব (ঝাউ) ছাল ১১। অমারক (শ্বেতকরবী) ৪। শৈলজ ১২। নিওী (“শেফালিকা ) ৫। যজ্ঞডুমুর ছাল ১৩। যষ্টিমধু ৬। অশ্বখ ছানা ১৪। তার পাদুকা ৭। সিন্ধুবার ছাল ১৫। শ্বেতকণীহি ৮। উশীর (বেণার মূল ) ১৮। শ্যামালতা ৯। নলদা (শ্বেতবেণার মূল ) ১৭। কালা (কালকের। উল্লিখিত সপ্তদশ প্রকার ঔষধ দ্রব্য শীতল জলে উত্তমরূপে কাটিয়া শীতল পাত্রে কৃষ্ণবর্ণ কর্দম ও গব্যঘৃত সহ সম্যক্ মিশ্রিত করিয়া মাতলের সর্বাঙ্গে গাঢ় প্রলেপ প্রদান করিলে সে পুনরায় স্বাস্থ্য সুখের অধিকারী হয়। অতঃপর } বিষ কীট চিকিৎসা। ১৪৭ * গধোলিখিত বিধানে পরিষেক করিলে বারণগণে বিষ কীট দংশনালি জনিত বিষদোম বিনষ্ট হইয়া থাকে। ১। ক্ষীরবৃক্ষ (বট-অশ্বথ, যজ্ঞডুমুর) ছাল ৩। কুচাই ২। মহুয়া এই সকল ছাল উত্তমরূপে বাটিয়া তাহা শীতল জলে মিশ্রিত করত; অভিন; মৃন্ময় কুম্ভে এবং তদ্বিারা মতঙ্গের সাপ প্রক্ষালন করিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। সর্বাঙ্গে শতধৌত ঘৃত মর্দন ও ঈদৃশ অবস্থায় হিতকর। ১। অস্কোট ৫। শ্বেতা ( অনন্ত মূল ) ২। বরুণ (বন্ত ছাল) ৬। শ্যামা (শ্যামালত) ৩। শেলুর ( চালতের) বিজল ৭। রোহিষ (গণ) ৪। দ্বিবিধ পুনণ জল দুই দ্রোণ এই সপ্তবিধ দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিয়া উক্ত কথ এবং অপােলিখিত কল্ক সহ ধৃত পাক করিবে। ৯। দন্তী মূল ১ পল ১৪। বিড়ঙ্গ ১ পণ ১০। ত্রিবৃতা তেউড়ী। মূল ১ পূর্ণ ১৫। পিপ্পলী ১১। চিতা ১ পলা আদ। ১২। শুকনাশা ১ ১৭। আনাদী ১৩। ক্ষুদ্র পত্র তুলসী ১ পল ১৮। গজ পিপ্পীর বীজপূর ফল ১ পল এবং এই সকলের সমষ্টির সমান গব্যঘৃত একযোগে মৃদু অগ্নতে যথাবিধি পাক করিবে এবং উক্ত ধৃত মাতঙ্গকে প্রতিদিন প্রাতঃকালে ও সন্ধ্যাকালে অগ্নিবলের অনুরূপ মাত্রায় পান করিতে নিলে বিসকীট দষ্ট মাতঙ্গগণ পুনরায় স্বাস্থ্য সুখের অধিকারী হইয়া থাকে। অঙ্গপতি রােমপদ নরপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপালাকপ্য বলিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্রীমহর্ষিপলিকাপ্য বিরচিত গঙ্গায়ুর্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে সপ্তবিংশ অধ্যায়। বিষকীটের অস্তিত্ব এবং প্রকার সম্বন্ধে (ক) ও (খ) পুস্তক সম্পূর্ণ নীরব কেবল (গ) পুস্তকে অপােলিখিত বিবরণ দৃষ্ট হয়। ২৬০খৃঃ অব্দে যখন পারঙ্গরা সাফর ‘নিসিবাস’ নগর অবরােধ করেন তখন তাহারা যুদ্ধ মাতঙ্গ সমূহ ওভার- বাহী উষ্ট্র অশ্বতর প্রভৃতি বিষকীট দ্বারা এরূপ ভাবে আক্রান্ত হইয়াছিল যে }} ১৫৮ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। পরিশেষে তিনি উক্ত নগর অবরোধ পরিত্যাগ পূর্বক স্বীয় রাজধানীতে প্রতিমন করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন; থিওডোরাইট ইতিহাস ২য় ভাগ ৩০ পৃঃ । ডাক্তার ষ্টীল সাহেব বলেন—আফ্রিকা প্রদেশে এক প্রকার বিষকীট আছে তাহ। মাতঙ্গগণের প্রবল শত্ৰু বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে। তাহাদের বিষ সাতিশয় তীব্র এবং উক্ত বিষের ক্রিয়ায় মাতঙ্গগণের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটিতে পারে । মিঃ হান্টারের আফ্রিকা ভ্রমণ বৃত্তান্ত পাঠেও এতাদৃশ বিষকীটের পুনঃ পুনঃ উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায় । ভারতের বম্মা প্রদেশেও গ্রীষ্মাবসানে কিংবা বর্ষাঋতুর বৃষ্টি বিরামে হয়— মক্ষিকা, মহিষ ডাশ প্রভৃতি চার পাঁচ প্রকার বিষ কীটের উপদ্রব লক্ষিত হয়। বন্য মহিষ ও অরণ্য মাতঙ্গগণ কর্দম মধ্যে লুঠিত হইয়া স্বীয় অলে ঘণ কর্দ লেপনদ্বারা তাদৃশ বিষকীটের উপদ্রব হইতে আত্মরক্ষা করিয়া থাকে ; কিন্তু গৃহ- পালিত পশুদিগের পক্ষে অগ্নি ও পূমের সাহায্যে তাদৃশ বিষর্কীটের হস্ত হইতে পরিত্রাণ লাভ সম্ভবপর হইতে পারে।

অষ্টবিংশ অধ্যায় । ব্যাল দংশন চিকিৎসা, একদা মহর্ষি পালকাপ্য শিষ্ণুভাবাপন্ন অঙ্গপতিকে সস্নেহে সম্বোধন করিয়া বলিতে লাগিলেন, মহারাজ, শ্রবণ করুন - আমি মতিগণের ব্যালদংশন চিকিৎসা বর্ণনা করিতেছি ,-হে নরেশ্বর, ব্যালব্দষ্ট মাতঙ্গের লক্ষণ ‘পাতমূচ্ছ। রােগাক্রান্ত মাতৃঙ্গের অনুরূপ। বালদষ্ট মাতঙ্গ সদা ব্যাবৎ ক্রুদ্ধ অবস্থায় অবস্থান করে এবং জলাশয় দর্শনে একান্ত ভীত হয়। কখন বিভ্রান্ত চিত্তে মূচ্ছ। প্রাপ্ত হয়, কখনও বা সর্বাঙ্গে একান্ত যন্ত্রণা অনুভব করিতে থাকে। চিকিৎসা -এতাদৃশ অবস্থায় প্রথমতঃ দগ্ধশলাকা কিংবা জুলশান্ধার দংশন স্থান দগ্ধ করা কর্তব্য অথবা অবস্থাবিচার পূর্বক দংশন স্থানের চতুর্দি হইতে শশাণিতস্রাব করা বিধেয়। এতক্তি অন্য কোন প্রকার চিকিৎসার প্রয়ােজন হইলে ‘রাত্ৰিক্ষিপ্ত’ মাতঙ্গের যে সকল চিকিৎসার উল্লেখ করা হইয়াছে তাহাই করিতে হইবে। তাহাতেও প্রতীকার না দর্শিলে ‘ বাগতি’ রােগের প্রতীকারার্থ যে সকল বিধান করা হইয়াছে, তাহা করা কর্তব্য। ধুপন, অন অভ্যঙ্গ ও রক্ষো মন্ত্রপাঠ প্রভৃতি এতাদৃশ অবস্থায় হিতকর। কাশ্যপঋষির মতে ব্যাদিষ্ট মাতঙ্গকে ১। ঘণীভূত ইক্ষুরস ৩। অল্পক্ষার ২। তিলতৈল সমভাগ এই ত্রিবিধ দ্রব্য একযােগে পান করিতে দিলে সবিশেষ উপকার দর্শে। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে অষ্টাবিংশ অধ্যায়। সম্ভবতঃ গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে ঋষি বিষধর সর্পকে ‘সর্প এবং অল্প বিষযুক্ত সর্পকে ‘ব্যা’ এই আখ্যা প্রদান করিয়া সর্পদংশন চিকিৎসা’ ও ‘ব্যালদংশন চিকিৎসা পৃথক দুই অধ্যায়ে বর্ণনা করিয়াছেন কিন্তু (ক) পুস্তকে এই দুইটীকে এক করিয়া একস্থানে লিখিত হইয়াছে। উক্ত (ক) পুস্তকে সর্পদষ্ট মাতঙ্গের স্মৃৰ্ত্তিীনতা, ভূতলে শয়ন, মল মূত্রোপরোধ, কর্ণদ্বয়ের শিথিলতা, শুণ্ড সঙ্কোচন মুখে ও শুণ্ডে দেণোদ্গম এবং অপ্রসন্নতা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

গজায়ূর্বেদ-সংহিত।
*
চিকিৎসাঃ-ঈদৃশ অবস্থায় উহাদিগকে
(১)
১। কাচা জয়পাল গোটার বীজের শাস চন্দনবৎ বাটিয়া অঞ্জনরূপে
২। ৩ বার প্রয়ােগ করিলে দষ্ট হন্তী নিরাময় হইয়া থাকে। এই ঔপ
অত্যুৎকৃষ্ট ও পরীক্ষিত।
(২)
‘শিব শক্তি’ নামক গাছের (এই গাছ পার্বত্য প্রদেশে কিংবা জঙ্গলময়
স্থানে প্রায়শঃ দৃষ্ট হয়। ফলের মধ্যস্থিত শাস বাটিয়া হস্তীকে পাওয়াইবে
এবং দংশন স্থানে লাগাইবে। ইহাতে সকলপ্রকার সর্পবিষ বিনষ্ট হয় ।
(৩)
এক তোলা পরিমিত শ্বেত চিতার মূল ও অর্ধখান পিপল একযোগে বাটিয়া
শীতল জল সহ সেবন করিতে দিবে এবং ক্ষত মধ্যে প্রলেপ দিলে সবিশে
উপকার দর্শে। বিষধর সর্প দংশনে ইহা সবিশেষ উপকারী।
(৪)
সজিনার বীজ শিরীষের রসে বাটিয়া দষ্টস্থানে প্রলেপ দিলে হন্তী নিরাময়
(৫)
বেড়লার ৩। ৪ খানি শিকড় পানের সহিত চিবাইয়া তাহা দষ্টস্থানে
লাগাইয়া দিবে। ইহাতে বিষ নষ্ট হয় এবং সে চিবায় তাহার ও কোন
‘অপকার হয় না।

একোনত্রিংশ অধ্যায়। প্রদেশ জ্ঞান বিধ। একদা মহর্ষি পালকাপ্য শিষ ভাবাপন্ন মহাপ্রভাবশালী অঙ্গেশ্বরকে সস্নেহে সম্বোধন করিয়া বলিলেন হে নরনাথ, আমি, মাতগগণের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের পরিচয় প্রদান করিতেছি শ্রবণ করুন-এই বিশ্নে শরীরই মূল, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বা প্রদেশ সকল তাহারই অধীন ইহা লােক প্রসিদ্ধ। হে নরেশ্বর, মাতঙ্গদেহে পঞ্চদশটী প্রত্যঙ্গ বা প্রদেশ বিদ্যমান আছে। তন্মধ্যে প্রথমতঃ অঙ্গুলি। অঙ্গুলির অভ্যন্তরে বভাগ। তন্মধ্যে শ্রোতােভাগ এই উভয়ের মধ্যে শ্রোতান্তর। তৎপরে পুষ্কর। পুষ্করে রাজি। তাহার উপৰি ভাগে গঙুস। তাহার অগ্রভাগে অগ্রহস্ত । গণ্ডুষপাশ্বে শী। এতদ্বয়ের অভ্যন্তরে গঙুষ। তাহার উপরিভাগে বহিষ্কর্ষ, দক্ষিণপার্শ্বে আকর্ষ, বামপার্শ্বে পরিক , পৃষ্ঠে উপকর্ষ এবং তাহার অভ্যন্তরে উৎকর্ষ। বারণগণের অগ্রহন্তে বা গুণ্ডাগ্রে এই কয়টী প্রদেশই বিদ্যমান আছে। বহির্ষের উপরিভাগে এবং শুণ্ডের মধ্যে সম্ভোগ। তাহার উভয়পার্শ্বে হস্তবাহুদ্বয়, তাহাদের অভ্যন্তরে সম্ভোগান্তর। সম্ভোগের উপরিভাগে ত্রিরাজি। ত্রিরাজির উপরিভাগে পৰ্ব তাহার উপরে স্থূলহস্ত এবং তাহার অভ্যন্তরভাগে পলিহস্ত। গলিহস্তের উর্ধে পৃথুস্ত। পৃথুহস্তের অভ্যন্তরে অতিহস্ত এবং তাহার অভ্যন্তরভাগে রাজিসমূহ। তদ্ভিন্ন সৰ্ব্ব এই বলিসমুদয় বিদ্যমান রহিয়াছে। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে বারণগণের হস্তে যথাক্রমে অঙ্গুলি প্রভৃতি অষ্টাবিংশতি প্রদেশ বিদ্যমান আছে। মুখে প্রথমতঃ কৃষ্ণার (কৃষ্ণবর্ণ অভ্যন্তর) তাহার পরে তালু তালুমধ্যে শ্রোতােদয় নাসারন্ধদ্বয় অতঃপর তালুবংশ তাহার পরে জিহবা এবং তদুভ্যন্তরে ভক্ষণার্থ দঃ উদ্ধপংক্তিতে ষোলট এবং নিম্নপংক্তিতে যােলটি; তন্মধ্যে চারিটি দা। তৎপর ওষ্ঠ এবং প্রস্রাব এবং শুষ্ঠাভ্যন্তরে বহুদ্বয়। ওষ্ঠদ্বয়ের উভয় পার্শ্বে ওঠার এবং তাহার নিম্ন ওষ্ঠবাহুদ্বয় বা ঈসস্কিদ্বয়। তৎপর অৰুণীদ্বয়। ওষ্ঠের নিয়ে লোমকু…। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে মাতঙ্গগণের বদন মণ্ডলে যথাক্রমে কৃষ্ণান্তরাদি ত্রিংশৎটা প্রদেশ বর্তমান আছে। দন্তদ্বয়ের অগ্র মধ্য ও মূলপ্রদেশ। দন্তদ্বয়ের উপরিভাগে দন্তবেষ্টদ্বয় এবং গলায়ুর্বেদ-সংহিতা। তাহাদের উপরে প্রবৃষ্টয়। এবিষয়ে শ্লোক কথিত, আছে মাতঙ্গতত্ত্বজ্ঞ ঋষিগণ গজদন্তে দ্বাদশ প্রদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করিয়াছেন। মুখের বহির্ভাগে দন্তয়ের অপরালে প্রতিমান প্রদেশ এবং উহার উভয় পার্শে শম্বুক প্রদেশ। প্রতিমান প্রদেশের সমান্তরাল নিয়ে বাহিথ প্রদেশ এবং বাহিখের উভয় পার্শ্বে বিলীগ প্রদেশ। উক্ত প্রদেশের উপরিভাগে এবং গণ্ডঙ্গের মধ্যভাগে কটশ্রোতাে দয়, উহাদের নিয়ে কটাবদ্বয় এবং তাহাদিগেরও নিমে গণ্ডদ্বয়। গণ্ডদ্বয়ের নিম্নে কপােলদ্বয়, উহাদিগের মধ্যভাগে ললাম-কুর্জ এবং তাহার নিয়ে হনুদ্বয় । হনুর নিমে সগ প্রদেশ, তাহাদের সন্ধি সকল সগদা-সন্ধি এবং তাহার অন্তরা প্রদেশকে গদার নামে খাতি; তাহার উভয় পার্শ্বে ঘাট তাহার উপরিভাগে কটসন্ধি এবং কটস আশ্রিত কর্ণদ্বয়। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে হে অঙ্গেশ্বর, গ মায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে শতগণের মুখমণ্ডলকে প্রতিমান প্রভৃতি তেত্রিশটা প্রদেশের উল্লেখ করা হইয়াছে। মতঙ্গগণের নেত্ৰদ্বয় মধ্য অক্ষি গুহা, তাহার উপরি ভাগে অক্ষিকুটন্বয় এবং নিম্নে অক্ষিবিদ্বয়। নেত্রদ্বয়ের প্রাগভাগে অক্ষিণীনিকায় এবং প্রশ্চাদ্ ভালদ্বয়ে অপাঙ্গদ্বয়। , নেত্র মধ্যে পদ্ম মণ্ডল, বমণ্ডল, শুরুমণ্ডল, কৃষ্ণমণ্ডল, দৃষ্টিমণ্ডল, পবক্সসন্ধি, বক্স শুক্ল-সন্ধি, শুক্লকৃষ্ণ সন্ধি, কৃষ্ণদৃষ্টি সন্ধি এবং কণীনিকাসন্ধি বিদ্যমান আছে। এবিষয়ে শ্লোক কথিক অাছে মাতঙ্গগণের নেত্রয়ে বত্রণ প্রদেশ বর্তমান আছে এবং তন্মধ্যে স্বাদশটী দেশ সন্ধিজাত। মস্তকে বাহিথ, তাহার উপরিভাগে কুদ্বয় এবং তাহার অন্তরালে কুম্ভান্ত কুন্তান্তরের অগ্রিকুম্ভের উরিভাগে বিশ্বকদ্বয় বিম্বকের পায়ে পালদ্বয় । অক্ষিকুট দ্বয়ের উপরিভাগে ঈশিকায় এবং ঈষিকাদ্বয়ের অন্তরালে উদ্ধভাগে ঈশিকাগ্রদ্বয় ; বহিঃপর্শ্বে নিৰ্যাণ প্রদেশ। পায়ের নিয়ে নিৰ্যান সন্ধি। নিয়নি সন্ধিত্বয়ের উন্ধে এবং বিশ্বকের উপরিভাবে ঈষিকাগ্রদ্বয়ের মধ্য ভাগে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ঈষদ বক্রভাবাপন্ন অৰগ্ৰহ। অবহের উপরিভাগে পুরস্কার এবং পুরস্কারের উপরিভাগে নিৰ্যান প্রদেশ। উাদিগের অন্তরালে উন্নত এবং তিগায়ত অবগ্রহবর্তি। তাহার উপরিভাগে মস্তক এবং তন্মধ্যে বিন্দুম্বয়। মস্তকের বহিঃপার্শ্বে বিনয় এবং নিয়ানে পশ্চাৎ পায়ে কূৰ্ম্মমন্তক সক্রিয় এবং কেশসমূহ বর্তমান আছে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে-গজায়ুর্বেদে মাতঙ্গগণের মস্তকস্থিত চতুবিংশতি প্রদেশ বণিত হইল। কয়ে কর্ণাগ্র এক কর্ণপৰ্বতন্বয়। তাহার নিয়ে প্রাকুকর্ণ ও কর্ণ মধ্য ;

প্রদেশ আনবিধি। তাহার প্রভাগ মধ্যকর্ণ। কর্ণদ্বয়ের নিয়ে কর্ণপালীদ্বয়। কর্ণদ্বয়ের বাহিরে বহিষ্কর্ণ এবং তাহার নিম্নে কর্ণসন্ধি। তৎপরে শ্রোত্র এব’ শ্রোত্রের পার্শ্বে বাতালক, কর্ণচূলিকা, কর্ণপিপ্পলী উমানবতী এবং উদ্যত। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে—মাতঙ্গগণের কর্ণদ্বয়ে ত্রিংশৎ প্রদেশ এই গ্রন্থে যথাযথভাবে বর্ণিত হইয়াছে। গ্রীব'তে গ্রীবাপৃষ্ঠ এবং তাহার নিম্নে গলা। তৎপরে কণ্ঠদ্বয়ের পার্শ্বে দুইটি দমনী। গলপার্শ্বে দুর্দর এবং তাহার উপরিভাগে • মাদ্বয়। মার উপরিভাগে গুহাদ্বয় এবং তন্নিয়ে সমুগ। তাহাদের পায়ে পিণ্ডিকাদ্বয় তাহার উপরে গুহাভাগ তৎপরে যতস্থান ও পাঘিাতদ্বয় এবং উপরিভাগে উৎসঙ্গদ্বয়। তদুপরি সুব্ধ এবং স্কন্ধ মধ্যে পণবক প্রদেশ। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে -মাহগণে । স্ব স্বদেশে এয়ােবিংশতি প্রদেশ বিদ্যমান আছে ইহাই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রের মত। বক্ষস্থলে গ্রীবাসন্ধি এবং তম্মধ্যে অন্তমণি। অন্তমণির নিম্নে উয়ােমণি উরোমণির উভয়পার্শ্বে গাত্ৰ সন্ধ্যাশ্রিত বিক্ষোভ। বিক্ষোভের মধ্যে আবৰ্তমণি এবং অবর্তমণি হইতে করিয়া হৃদয়। তৎপরে উরঃস্থল । তংপুরে উরসন্ধি এবং উরেগাত্ৰ মধ্যে চতুরক্ষান্তর। এ বিষয়ে শোক কথিত আছে -হে নৃপশ্রেষ্ঠ, বাবণগণের উরঃস্থলে সপ্তপ্রদেশ বর্ণিত হইল, অনন্তর হৃদয়ং প্রদেশ সমূহ বর্ণিত ~ • হৃদয়ে স্তনদ্বয় এবং তাহার অগ্রভাগে চুচুকদ্বয় মধ্যে ক্ষ'রকা X x} এ বিষরে শোক কথিত আছে -বারণগণের হৃদয়স্থান ও জঠরস্থানে দশটি প্রদেশের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। মাতঙ্গদেহে অসন প্রদেশের পায়ে পতাকাসদ্বয় প্রতীকীসের নিম্নে জাসদ্বয়। অসের নিয়ে প্রত্যংস। প্রত্যংসের নিম্নে বাহুদ্বয়। বাহুমধাদ্বয়ে উপরিভাগে প্রত্যংস ফলকদ্বয়। প্রত্যংস ফুলকদ্বয়ের নিয়ে গাত্রসব্ধি সমুহ। সন্ধিদের নিয়ে ক্ষয়ভাগ এবং তৎপশ্চাতে পৃষ্ঠদেশের বহির্ভাগ ; তাহার নিয়ে পরোভাগে পিণ্ডিকাদ্বয় এবং তাহার নিয়ে বৈশাখদ্বয়। তাহার নিম্নে যবভাগদ্বয়। ৩াহার নিয়ে বিশেষদ্বয়। তাহার নিম্নে উৎসঙ্গদ্বয়। উৎসঙ্গের নিম্নে প্রোৎসাহ এবং তাহার নিয়ে পর্বদ্বয়। তাহার নিম্নে সন্দনিভাগ। তাহাদের নিয়ে পলিপদি। তাহার নিয়ে কূৰ্ম্ময়। তৎপরে দশনখ এবং তৎপরে নথগ্র বা নশিখা এবং তৎপরে রাজি। স্মনন্তর পশ্চাৎপাদের দশ নখ, তাহাদের দুইটি পুরােনখসহ,এবং পুরোনথদ্বয়ের মধ্যে প্রত্যেকের বহিঃপার্গে দুইটা সনখ এবং অন্তঃপার্শ্বে দুইটী নবাব উক্ত চরণ চতুষ্টয়ের পার্শ্বে চারিটী পশ্বিনখ। পাশ্বনখের উপরিভাগে বহিঃপার্শ্বে অপরাজি সমূহ এবং অন্তঃপাশ্বে নখের উপরিভাগে হল ১৫৪ গজায়ুর্বেদ-সংহিতা। d, প্রহদ্বয়। তাহার উপরিভাগে বিক্ষ এবং তাহার উপরিভাগে পলিহস্তয়। তাহার অভ্যন্তরে নিবাহুদ্বয়। পলিহন্তের নিম্নে প্রাকদ্বয় এবং পলিহস্তদ্বয়ের উপরিভাগে অপস্কারদ্বয় এবং তাহার উপরিভাগে পাদ্য এবং তাহার নিয়ে গাত্রগ্রহ। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে হে নরনাথ, বারণগণের গাত্র প্রদেশে উল্লিখিত আসন প্রভৃতি ছিয়ানব্বইটি প্রদেশ বিদ্যমান আছে। শরীরে প্রথমতঃ আসন প্রদেশ। আসনের পরে বংশ এবং তাহার পার্শ্বে তল,পল। বংশের উপরিভাগে কুবংশ এবং তাহার মধ্যে পশ্চিমাসন। পশ্চিমাসনের পরে এ্যস্থি তাহার উভয়পাশ্বে উৎকৃষ্টদ্বয়। অস্থির পরে লাঙ্গলবংশ বা মতান্তরে পশ্চিমবংশ কিংবা অপর বংশ। লাল বংশের নিম্নে আঙ্গুলসন্ধি তাহার নিয়ে পেচক প্রদেশ এবং পেচকের নিম্নে মলদ্বার বা পায়ু প্রদেশ এবং তাহার নিয়ে মাস্রাব স্থান। দেহের মধ্যস্থলের উভয়পার্শ্বে কক্ষাভাগদ্বয়। কভিাগের পার্শ্বদ্বয়ে করণদ্বয় এবং তাহার নিকটে চরণদ্বয় যা হাতে পর্যকর বাধা হইয়া থাকে। পক্ষদ্বয়ের উপরিভাগে অবতারপক্ষের পশ্চাদ্ভাগে কুক্ষিদ্বয় এবং পক্ষমধ্যে নিম্ফোস। তৎপরে সকোস এবং তাহার উপরিভাগে মৃদুকুক্ষী। পৃষ্ঠবংশের পশ্চাদ্ভাগে অবস্থিত পক্ষসন্ধি এবং পক্ষদ্বয়ের নিম্নে গায়াম-কাণ্ডদয় বিদ্যমান। তাহার পশ্চাতে অপর সন্ধি এবং তাহার নিয়ে অনুসারদ্বয়। হৃদয় পৰ্য্যন্ত জঠর প্রদেশ জঠর মধ্যে কোশ এবং কোশের অগ্রভাগে নাভি। সেইস্থান হইতে হৃদয়ের কিঞ্চিৎ নিয়ে স্তনদ্বয় এবং তন্নিম্নে উৎকৃষ্ট সন্ধিয়। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে মাতঙ্গদেহের মধ্যভাগে পয়তাল্লিশটা সন্ধি বৰ্তমান আছে। দেহের পশ্চাদ্ভাগে জঘন প্রদেশ। জঘন দ্বয়ের নিম্নে এবং পায়ের পশ্চাতে মলাস্থান এবং কীভাগদ্বয়। কলাভাগ দ্বয়ের নিম্নে বহিঃপার্শ্বে এবং জঘনের পশ্চাৎ ভাগে পিণ্ডিকাদ্বয় এবং তাহার নিম্নে মণ্ডকীয়। তাহার নিম্নে সদান- ভাগ দ্বয়। তাহার নিয়ে সকুটিকাদ্বয় এবং সন্ধিপার্শ্বে চারিটী গ্রন্থি। সকুটিকার নিম্নে পাদ্বিয়। পাষ্ণিদ্বয়ের নিয়ে তলপ্লোহ এবং তাহার অভ্যন্তর পার্শ্বে কেশ- রাজি এবং বহিঃপার্শ্বে রাজি। তলপ্রােহের নিম্নে তলকৰ্ণয়। তৎপরে তাদ্বয় এবং তাহার চতুর্দিকে তলসন্ধি। সন্ধির উপরিভাগে অষ্টাব্যদয়। অষ্টাব্যের নিম্নে বক্তসকৃথি। অনন্তর বক্তসথির নিয়ে অপরান্তরে সানগদ্বয়ের নীচে কুৰ্ম্ম প্রদেশদ্বয় এবং তাহার নীচে দর্শনকুৰ্ম্ম, দর্শনখকূর্ম, দশনখশিখা এবং তাহাদের সম্মুখে নখাদি বিভাগ গানখ সদৃশ জ্ঞাতব্য। নখর আটরা। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে—হে নরেশ্বর, বারণগণের জঘনদেশ হইতে তল- প্রদেশ পর্যন্ত চুয়াত্তরটি প্রদেশ বর্তমান আছে।

প্রদেশ জ্ঞানবিধি। মেঢুের করীম প্রস্রাবের নীচে অণ্ডকোষ এবং অণ্ডকোষের উভয় পার্শ্বে লক্ষণ দ্বয়। বক্ষণ পার্শ্বে মুঞ্চদ্বয়। অণ্ডকোষের উপরিভাগে কোশসন্ধি, ‘মেহনতল’ এবং সেই সন্ধির নির্গমের পর হইতেই প্রত্যুহ। প্রত্যুহের অগ্নে ককুদ এবং ককুদের পরে মোগ্র এবং তন্মধ্যে স্রোতঃসমূহ বিদ্যমান। এবিষয়ে শ্লোক কথিত আছে-হে নরনাথ, মাতঙ্গগণের মেঢ় প্রদেশে যথাক্রমে একাদশী প্রদেশের নাম গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে উল্লিখিত হইয়াছে। লাঙ্গুলের সর্বত্র গ্রন্থিসমূহ। লাঙ্গুণমধ্যে বৰ্ত্তক, তাহার অভ্যন্তরে কিলিদ্বয় এবং তাহার বাহিরে সংবৰ্ত্তকসমূহ। তাহার নীচে কিল্ক এবং সংবাল। তাহার নীচে পুষ্কর এবং তাহার নীচে বালপুষ্কর। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে-- হে অঙ্গেশ্বর, মাতঙ্গগণের লাঙ্গুলে সাতটি প্রদেশ বিদ্যমান আছে। এইরূপে বারণ দেহে শুণ্ড মুখ দন্ত বদন চক্ষু মস্তক কর্ণ গ্রীবা বক্ষস্থল হৃদয় গাত্র অঙ্গ অপর মেদ লাঙ্গল এই পঞ্চদশ প্রদেশ মাতঙ্গগণের অঙ্গ এবং এই পঞ্চদশ অঙ্গে একশত ল চতুঃষষ্টিটি প্রদেশ বৰ্তমান আছে ; ইহাই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত। শরীরই চকিৎস্য এবং প্রদেশজ্ঞান না থাকিলে শন্ত্র প্রয়োগদি চিকিৎসা সুচারুরূপে সম্পন্ন হইতে পারে না, পক্ষান্তরে অনভিজ্ঞ চিকিৎসক বারণগণের মৃত্যুর কারণ হইয়া থাকেন। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিয়চিত গজায়ুৰ্বেদ সংহিতা মহা প্রবচনে শ্যস্থানে একোনভ্রিংশ অন্যায়।

ত্রিংশ অধ্যায়। শনির্মাণ বিধি। ; একদা মহৰি পালকীপ্য অাসনে উপবেশন করিলে মহানু তব অঙ্গপতি রোম পদ নবপতি প্রণিপাতপূর্বক তাহাকে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন ;-ভগবন , এই গজায়ুৰ্বেদ শাস্ত্রে আপনি মাতঙ্গ দেহস্থ ব্রণের ছেদন, বিদারণ লেখন, বিশ্রাবণ, এবং ও সীলন প্রভৃতি প্রতিক্রিয়ার বিধান করিয়াছেন; কিন্তু কোন ধাতু দ্বারা নির্মিত কীদৃশ শন্ত্র দ্বারা কি কার্য্যের অনুষ্ঠান করা কর্তব্য তাহা বর্ণনা করিয়া অামার অজ্ঞতা অপনয়ন করুন। শিষভাবাপন্ন অঙ্গেশ্বরের ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি বলিতে লাগিলেন ;-নরনাথ, বারণগণের ব্রণ সমুদয় সাধারণত আগন্তুক ও ত্রিদোজ জনিত এই দ্বিবিধ। উল্লিখিত সকল প্রকার ব্রণেরই দোষ শান্তির নিমিক্ত শস্ত্র প্রয়োগের প্রয়োজন; এই নিমিত্ত নিমণিমােগ্য শস্ত্রের আকৃতি প্রকৃতি ও পরিমাণ বর্ণনা করিব। হে নরেশ্বব, নে সকল শস্ব কুষ্ঠ, বরধার, বক্র, স্ব, অনতিল, দীর্ঘ, অনিত ও ও তাহা সর্বথা বর্জনীয়। পক্ষান্তরে উহার বিপরীত গুণযুক্ত অনতিবাণিত অস্ব বারণগণের ব্রণচ্ছেদে ব্যবহার্য। নিপুণ কৰ্ম্মকার দ্বারা যথাবিধি সুতীক্ষ্ণ লোহময় শন্ত্র নির্মাণ করাইতে হইবে। শস্ত্র নির্মাণ কার্যে যতদূর সম্ভব যত্ন ল এয়। আবঙ্গক। মাহঙ্গদেহস্থ ব্ৰণে প্রয়োগোপযোগী শস্ত্র দশবিধ এবং তাহার নাম ও দশ প্রকার প বৃদ্ধি পত্র, কুশ-পত্র, মণ্ডলা, ব্রীহিমুখ, কুঠারাতি, বসন্ত উৎপণ- শলাকা, সুচী ও রম্যক। এতদ্ভিন্ন ফাল, জাম্বুকাষ্ঠ নির্মিত তাপিকা ও দৰ্বাকৃতি শস্ত্র অগ্নিকর্মে ব্যবহৃত হয়। এবং যথাযোেগ সিংহদ, গোধামুখ, কক্ষমুখ কুলিশ- মুখ, এই চতুর্বিদ শস্ত্র শলেদ্ধিরণ কার্য্যে আবশ্যক হইয়া থাকে। এষণী তিন প্রকার। সুতরাং সর্বসমেত একবিংশতি প্রকার লৌহময় শস্ত্র বারণগণের ব্রণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হইয়া থাকে। তাহাদের পৃথক পৃথক অকৃতি, পরিমাণ ও কাৰ্য্য বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন। বৃদ্ধিপত্র’ নামক শস্ত্র দশ অঙ্গুলি পরিমাণ দীর্ঘ, তম্মধ্যে ষড়ঙ্গুল বৃত্ত ও চতুরঙ্গুল পত্র এবং পত্ৰভাগ তিন অঙ্গুলি প্রশস্ত (চওড়া)। ব্রণ বিদারণ ও ছেদন কাৰ্য্যে এই অস্ত্র ব্যবহার্য। মণ্ডলাগ্র’ নামক অস্ত্রের দৈর্ঘ্য ষড়ঙ্গুল, তাহার আমুল বৃত্ত অর্ধাঙ্গুল প্রশস্ত অগ্রভাগ পূর্ণ চন্দ্রাকৃতি। নেত্রয়ের অভ্যন্তরে প্রয়োগের নিমিত্ত ‘ব্রীহিমুখ’ অস্ত্র ব্যবহৃত শঙ্ক-নির্মাণ বিধি। ১৫৭ হইয়া থাকে এবং নাম দ্বারাই উহার আকৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। উৎপল পত্র’ নামক অস্ত্র অষ্টাঙ্গুণ পরিমাণ অর্ধাঙ্গুলের কিঞ্চিদধিক বিস্তৃত এবং উভয় পার্শ্বে ধারযুক্ত। কুশপত্র’ নামক অস্ত্র নাঙ্গুল পরিমাণ তাহার বৃত্ত ভাগ পঞ্চাঙ্গুল এবপত্রভাগ চতুরঙ্গুণ, পত্ৰভাগের বিস্তার বা প্রশস্ততা অর্ধাঙ্গুলের কিঞ্চিদধিক ও উভয়পাশ্বে ধারযুক্ত ; ইহা পৰু গভীর ব্রণ বিদারণে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। কুঠারাকৃতি’ নামক শস্ত্র অন্বনাম এবং অন্ত্রচ্ছেদনাদি কাৰ্য্যেই প্রধানতঃ উহ। ব্যবহৃত হইয়া থাকে। ‘বৎস দন্ত’ নামক অস্ত্র বৎস-দস্তাকৃতি বিশিষ্ট, তাহার পরিমাণ দশাঙ্গুল এবং মুখ অর্ধাঙ্গুলের অধিক। সীবন বা শেলাই কার্যের জন্য ‘সূচী’ অস্ত্রের প্রয়ােজন, উহার আকৃতি হস্তিদন্তের অনুরূপ, উহা স্র বা চতুরস্ৰ (তিনশির বা চৌশির), উহার দৈর্ঘ্য অষ্টাঙ্গুল, উহা দৃঢ় ও সমাহিত। রম্যক নামক অস্ত্রের দৈর্ঘ্য ত্রয়োদশাঙ্গুল, উহার বৃত্তভাগ দশাঙ্গুল পরিমাণ ও মুখভাগ তিন অঙ্গুণ পরিমাণ পাদ শোধন ও নখ ছেন কায্যে উহা ব্যবহৃত হইয়া থাকে। 'এমণী ত্রিবিধ-দশাল, বিংশত্যঙ্গুল ও বিংশদকুল পরিমিত, উহাদের আকৃতি অঞ্জন শলাকার তুল্য, মুখ লক্ষ ও সম তদ্ভিন্ন ‘বড়িশ’ নামক অস্ত্র কোরঢ়’ পুষ্পাকৃতি ষোড়শাল পরিমিত কৃষ্ণলৌহ নিশ্মিত হইবে, ব্রণ প্রক্ষালন ও নেত্র মধ্যস্থিত পটলাদি উদ্ধরণ কাৰ্যে সাহায্যার্থ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। এ বিষয়ে শ্লোক কথিত আছে ;—বিজ্ঞ চিকিৎসক যথোক্ত বিধানে উল্লিখিত শস্ত্র সমুদয় নির্মাণ করাইয়া মাতঙ্গগণের ব্রণ বিদারণ করিবেন। ইতি শ্ৰীমহৰি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুর্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে ত্রিংশ অধ্যায়। # অজ্ঞেয়, অভিধানে নাই একত্রিংশ অধ্যায়। f ক্ষার বিধি একদা শিষ্যভাবাপন্ন মহানুভব অঙ্গপতিকে সম্বোধন করিয়া মহর্ষি প | কাপ্য বলিতে লাগিলেন ;-হে অঙ্গনাথ, যে ক্ষার প্রয়োগ দ্বারা বারণ বিবিধ ক্ষতের প্রতীকার হইয়া থাকে, আমি সেই ক্ষার-প্রয়োগের বিষয় বর্ণনা করিব শ্রবণ করুন-শস্ত দেশজাত মধ্যম বয়স্ক ঘণ্টা পাটলী বৃক্ষ (প। পারুল গাছ) তিলনাল পরিমিত খণ্ড খণ্ড করিয়া ছেদন করিতে হইবে; পরে অশুষ্ক অবস্থাতেই উহা দগ্ধ করিয়া সেই ভষ্ম নির্বত মৃৎকুম্ভাদি মস স্থাপনপূর্বক তাহার মুখ আবদ্ধ করিয়া রাখিবে। পরে গো-মূত্র, গম, অশ্বমূত্র ও গর্দভমূলে উহা যথাবিধি আলোড়িত করিয়া সাতবার পর্যন্ত । পুনঃ বস্ত্র পরিত করিবে। উক্ত পরিশ্রুত ক্ষার লৌহময় পা পাক করিবে এবং পাক হইতে হইতে যখন ৪ ভাগ অবশিষ্ট থাকিবে না ( পাককালেই ) অধোলিখিত চুর্ণ সমুদয় তাহাতে প্রক্ষেপ দিবে ;- ১। সুবচিকা সাচ লবণ চূর্ণ ৫। হীরকস চর্ণ ২। চূর্ণ (পাথর চণ) ৬। * চূর্ণ ৩। যবক্ষার চ, চূর্ণ ৭। সৌরাষ্ট্ৰীকা চূর্ণ ৪। বিট লবণ উল্লিখিত চূর্ণ সমুদয় প্রক্ষেপ স্বরূপে প্রদান করিয়া দবীদ্বারা এরূপ ভাবে আলোড়ন করিতে হইবে যেন উহা সম্যক্‌রূপে মিশ্রিত ও ঘনীভূত :: প্রলোকৃতি ধারণ করে। তখন তাহা অবতারণপূর্বক আচ্ছাদন কর। রাখিবে। অনন্তর চিকিৎসক, উক্ত ক্ষার প্রয়োেগ কবিবেন । যে সক। ব্রণ অল্প ব্ৰণ অথচ দোষমুক্ত, যে সকল ব্রণে দূষিত মাংস বিদ্যমান, যে সকল ” যা হইতে অত্যন্ত সাব নির্গত হয়, সে সকল ব্রণের অভ্যন্তরে কীট কণ্ডু কিব। দুসিত কেশ জন্মে, তাদৃশ ব্রণ বাত বিকার জনিতই হউক,, কফবিকার জনই হউক অথবা পিত্ত বিকারতই হউক উল্লিখিত ক্ষার প্রয়োগ করিলে তার প্রতীকার হইয়া থাকে। সোবীরক’ সুরা দ্বারা ব্ৰণ প্ৰালন একান্ত হিতকর। এই প্রকার ক্ষার প্রয়োগের বিষয় মহর্ষি পালকাপ্য বর্ণনাক রিয়া গিয়াছেন। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাগ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শব্য:নে এক&িংশ অধ্যায়।

দ্বাত্রিংশ অধ্যায় অস্থিভঙ্গেপদেশ । একদা মহানুভব অঙ্গপতি স্বীয় সুরম্য চম্পানগরে উপস্থিত মহর্ষি পালকপ্যকে প্রতিপূৰ্ব্বক সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন- ভগবন, মঙ্গণের কতিবিধ ভগ্ন অস্থি দর্শন করিয়াছেন তাহা সবিশেষ বর্ণনা করিয়া আমার সংশয় অপনোদন করুন। অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষি পালকপ্য বলিতে লাগিলেন ;- হে অঙ্গেশ্বর, অমি, ইতঃপূৰ্ব্বে মাতঙ্গদেহে যে সকল অস্থির বর্ণনা করিয়াছি এইক্ষণে উল্লিখিত অস্থি সমূহের ভঙ্গের কারণ বর্ণনা করিব শ্রবণ করুন। পতন, অবপাত, যুদ্ধক্ষেত্রে তীর অণত, ঋলন, ভ্রংশন, অবেধ, প্রতিদ্বন্দ্বি- মাঙ্গের ভীষণ আঘাত প্রভৃতি কারণে সারগণের অস্থিভঙ্গ হইয়া থাকে। হে নরেশ্বর, অামি তাহাদের পৃথক পৃথক নাম কীর্তন করিতেছি শ্রবণ করুন- নিষ্পিষ্ট, বিশিষ্ট, প্রক্ষিপ্ত, তিক্ষিপ্ত, অতিক্ষিপ্ত, মুক্তকও, স্থাপিত, জর্জরীভূত, চুণি , মতি, চুত, মজ্জানুজাত, এবং ভগ্ন এই ত্রয়োদশবিধ অস্থিভঙ্গ সচরাচর মাতঙ্গণের দৃষ্ট হইয়া থাকে। মহদি পাল কাপের ঈদশ বাক্য শ্রবণ করিয়া তাপতি পুনরায় বলিতে লাগিলেন;-ভবন, করূপে ছিঃ খি, ক্ষোটিত, মোটিত, ত্বক মাংসের স্থান ভ্র’শন জানা যায় ? তাহার তদশ বাক্য শবশ করিয়া ঋসিশ্রেষ্ঠ পুলকপির পুনরায় বলিতে লাগি- গেন ;-যে সন্ধি স্থানে ঈষৎ স্ফতিভাৰ জন্য বেদনা সর্বদা বিদ্যমান থাকে তাহাকে ‘নিষ্পিষ্ট' বলিয়া জানিতে হইবে। নে সন্ধিস্থানে বেদনাযুক্ত স্ফীত- ভাব বর্তমান থাকে তাহাকে ‘বিশিষ্ট বলিয়া জানিতে হইবে। যে সকল অঙ্গ- সন্ধি স্বাভাবিক বৈষম্য অতিক্রম করে এবং অহাতে বেদনা ক্ৰমে বর্ধিত হয়, তাহাকে ‘উৎক্ষিপ্ত' বলিয়া বুঝিতে হইবে। মাতঙ্গণের পার্শ্বদেশে বেদনা- যুক্ত স্ফীতভাব লক্ষিত হইলে তি ক্ষিপ্ত বলিয়া জানিতে হইবে। এবং যখন সন্ধি অতিক্রান্ত হয় তখন তাকে নিক্ষিপ্ত বলিয়া জানা যায়। সেইরূপ বেদনাযুক্ত স্ফীতভাৰ দ্বারা বিচাত’ বলিয়া অবগত হইতে পার। সয়। অত্যন্ত স্ফীতভব কেব! মথিত জ্ঞাপক এবং ‘চুণিতে তীব্র বেদনা সৰ্ব্বদা বর্তমান থাকে। অস্থি স্ফুটিত হইলে তাহাকে ‘স্ফালিত এবং জর্জরী ভূত হইলে, তাহাকে জর্জরিত' আখ্যা প্রদত্ত হইরা থাকে। জর্জরিতে অতান্ত বেদনা ও শোথ বিদ্যমান থাকে এব’ সর্ব স্ফীত স্থান লায়রে গজায়ুর্বেদ-সংহিতা | ন্যায় অনুভূত হয়। বারগণের যে স্থানে স্পর্শ সহ্য হয় না এবং অভ্যন্তরে এক প্রকার শব্দ বিদ্যমান থাকে, তাহাকে ‘বিসৃষ্ট বলিয়া জানিতে হয়। বারণগণের যে অঙ্গে ভীষণ বেদনা এমনভাবে বৰ্ধিত হইতে থাকে যে মাতঙ্গ কিছুতেই শান্তিলাভ করিতে পায় না, সেই স্থানকে ভয় বলিয়া বুঝিতে হইবে । পূৰ্বোলিখিতকেই অস্থির অভ্যন্তরবর্তী হইলে ‘মজ্জাগত এই অখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। হে নরনাথ, অনন্তর চতুবিধ অস্থিভঙ্গের লক্ষণ বর্ণনা করিব শ্রবণ করুন ;-হে অঙ্গেশ্বর, মাতঙ্গগণের কপালাস্থি সমুহ ভেদ প্রাপ্ত হয়, নালিক। সমূহ ভগ্ন হয়, তরুণাস্থি সকল নমিত হয় এবং রুচক বা স্কুল অস্থি সমূহ ফুটিত হইয়া থাকে তীব্র অভিঘাতের ফলে মাতাণের অস্থি নমিত কিংবা চূর্ণিত হইয়া থাকে। ইহাই অস্থি ভঙ্গের লক্ষণ কথিত হইল অতঃপর তাহার চিকিৎসা কণিত হইতেছে ;-ষে সকল মহলের অস্থিগাদি সংঘটিত হয়, তাহাদিগকে স্থানে (থানে) সুসংযত কিংবা অবস্থা বিশেষে যন্ত্রবদ্ধ করিয়া তাহার সর্বাঙ্গ সুশীতল জলে সিক্ত করলে উহারা তাদৃশ অবস্থায় কিঞ্চিৎ শান্তিলাভ করিয়া থাকে। # পৰ্ব্ব ভিন্ন অন্য কোন স্থান ভ হইলে তাহা অসাধ্য বা চিকিৎসার অযােগ্য বলিয়া কথিত হইয়া থাকে এবং সংবৎসর কালের অধিক যে কোন স্থান যাপ্য বলিয়া কীৰ্ত্তিত হইয়া থাকে। কে নরেশ্বর, চুত, স্নান, বিশ্লিষ্ট ও ব্যাধিজ প্রভৃতি সকল প্রকার ভঙ্গের চিকিৎসা সম্বন্ধেই এই কথা প্রয়োজ্য। হে অঙ্গনাথ, বারণগণের হিতাভিলাষী চিকিৎসক উল্লিখিত বিধানে মাতঙ্গগণের অস্থিভঙ্গের চিকিৎসা করিবেন। হাই বারগণের অস্থিভঙ্গের চিকিৎসা আপনার নিকটে কীৰ্ত্তিত হইল। ইতি শ্ৰীমহর্ষি পালকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে দ্বাত্রিংশ অধ্যায়। ন ত্রয়স্ত্রিংশ অধ্যায় । । , মূঢ় ভাষন চিকিৎসা। একদা মহানুভব অঙ্গপতি, সেদ বেদাঙ্গ পারগ মাঙ্গ চিকিৎসা তত্ত্ব হাত্মা ঋমি পর পাগকাগ্যকে পণতিক সুবিনয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন,- ভবন, কি বমিও করিণীগণের গর্ভস্থ শিশু বিনষ্ট হয় ? মুগর্ত করিণীর গণ এবং উ গর্ভাশয় হইতে নিঃসারণের উপায় আমার নিকটে বর্ণনা করিয়া আমার সশর তাপায় করুন। অঙ্গপতির ঈদৃশ প্রশ্নের উত্তরে সি * কাপ গিয়ে গিনে। f-দাও"- অসম ন্যায় শয়ন, কদর্য্য অহাৰ গ্ৰহণ, ভীষণ ব্যাধি কিংবা ক্ষুধা দান দূরপথ গম, গুরুভার বচন, পর্বতাদি ঘন কিংবা {দি সম্ভ, বাত মূত্র মীযাদি ধারণ, তী অভিবাত, উপদ্রব ও মনস্তাপ প্রভৃওি করা মাইগণের কুস্থি গর্ভ বিনষ্ট হইয়া থাকে। লক্ষণ;- ভাগ্য বিপর্যয় বশতঃ করিণীগণের গৰ্ভস্থ সন্তান বিনষ্ট হইলে চারমাস পর্যন্ত কেষণ রক্তস্রাব স হইয়া থাকে । কিন্তু চারিঘাসের পরে সপ্তম মাস পর্যন্ত মাংসপিও ও ক্রমবিকাশ প্রাপ্ত স াবয়ব সম্পন্ন শিশু বিনষ্ট ইয়া থাকে। ভাদুশ অবস্থাতে উহাদিগের নিশ্বাস ও মলমূত্রে অত্যন্ত দুর্গন্ধ বিদ্যমান থাকে। তখন উহাদিগের দেহের ক্ষীণতা প্রকাশ পায়, দূষিত ( পচা) মৎস্যগন্থ দ্বারা করিণীকে মৃতগর্ভা বলিয়া নিশ্চয় করিতে হইবে। চিকিৎসা -তাদৃশ অবস্থায় বিজ্ঞ চিকিৎসক, করিণী প্রভুর অনুমত্য- অনুসারে স্বীয় দক্ষিণ কর শণী ও ধন্বন বৃক্ষের কল্ক মিশ্রিত গব্যঘৃত দ্বারা উত্তমরূপে মাখিয়া গর্ভাশয়ে হস্ত প্রবেশপূৰ্ব্বক সরলভাবে ক্ষিপ্রতা সহকারে মৃত গর্ভস্থ সন্তান নিঃসরণ করিতে চেষ্টা করিবেন। অবশ্য বলাবাহুল্য যে প্রথমতঃ করিণীর বিশ্বাস উৎপাদনপূর্বক তাহাকে যন্ত্রে বন্ধন করিয়াই এইরূপ করিতে হইবে। যদি সরলভাবে মৃত সন্তান , নির্গত না হয় তাহা হইলে যন্ত্রের সাহায্যে, তাহাতেও সম্ভবপর না হইলে শস্ত্র দ্বারা গর্ভাশয় মধ্যেই খণ্ড খণ্ড করিয়া পরে নিঃসারণ করা কর্তব্য। এতাদৃশ কাৰ্যেব্রত। চিকিৎসককে কাতর এবং কোমল হৃদয় হইলে চলিবে না। তিনি সংগতচিত্তে এবং ক্ষিপ্রহস্তে নিঃশেষরূপে গর্ভস্থ সন্তান নিঃসরণ করিবেন। তাহাতেই

১৬২
গজায়ুর্বেদ-সংহিতা।
প্রসূতির রক্ষা হইবে।। যদি জরায়ু কিংবা গর্ভাশয় বিশল্য বলিয়া অনুমিত
হয় তাহা হইলে অধোলিখিত ঔষধ পান করিতে দিবে-
১। লাঙ্গলকী কল (বিষ লাঙ্গল) ৩। ইক্ষু গুড়
২। মোটা এলাচ
৪। শীতল জল
প্রথমোক্ত বিধি দ্রব্য উত্তমরূপে বাটিয়া শীতল জলের সহিত উত্তমরূপে
মিশ্রিত করিবে এবং তাহা পান করিতে দিবে ।
ইহাতেও যদি গর্ভাশয় বিশল্য না হয় তাহা হইলে পুনরায় পূর্বোক্ত
বিধানানুসারে হস্তদ্বারাই নিঃসারণ করিতে হইবে। অনন্তব সূতিকা বিধান
অনুসারে চিকিৎসা করিলে করিণী পুনরায় পূর্ব স্বাস্থ্যের অধিকারিণী
হইয়া থাকে।
ইতি শ্ৰীমহষি পলকাপ্য বিরঞ্জি গজায়ুৰ্বেদ মহাপ্রবচনে শল্যস্থানে
জয়স্ত্রিংশ অধ্যায়।
+ বৰ্তমান সময়ে “ফ সে” প্রভৃতি উত্তম।

চতুস্ত্রিংশ অধ্যায় স্তোরূণ বিধি। হে নরেশ্বর, এইক্ষণে অপর আর একপ্রকার শল্য-ভূত দন্তের উত্তোলন বিধান কথিত হইতেছে শ্রবণ করুন। বিজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশস্ত তিথি নক্ষত্রে করণ ও মুহূর্তে সামান্য যজ্ঞ সমাপনান্তে দন্তোদ্ধার করিবেন। জলাশয়ের একান্ত নিকট সুশীতল স্থানে শালা নির্মাণ করা কর্তব্য। উক্ত শালা বির-বায়ু প্রচারযুক্ত এবং নানাবিধ উপাচার দ্বারা সুসজ্জিত ও কুসুমকীর্ণ হওয়া আবশ্যক। তাদৃশ সুসজ্জিত সুশীতল ছায়াযুক্ত গৃহে রুগ্ন মাতঙ্গকে স্থাপনপূর্বক তাহার সর্বাঙ্গে সুশীতল বারিধারা প্রদান করিবে এবং তাহার মস্তকে ও মুখমণ্ডলে শত ধৌত ঘৃত মর্দনপূৰ্ব্বক উহা বস্ত্রদ্বারা আচ্ছাদন করিবে। দধি মিশ্রিত সর্ঘ্য ৩ শালি ধান্যের অন্ন এতাদৃশ অবস্থায় উত্তম পথ্য। অনন্তর পূৰ্ব্বোক্ত বিধানে মাতঙ্গকে সুসংবদ্ধ করিয়া দ্বাত্রিংশৎ অঙ্গুলি পরিমিত জলৌকা পৃষ্ঠ সদৃশ লৌহসুচি ( অস্ত্র) দ্বারা নিপুণ চিকিৎসক দম্ভবেষ্টনের অবস্থানুসারে যাহাতে তালুস্রোতঃ, করস্রোতঃ নেত্র নিবন্ধন আহত না হয় সেইরূপ ভাবে সূচি প্রবেশ করাইবে। এইরূপে তিনদিন পরে পরে দুই দুই অঙ্গুলি পরিমিত দম্ভবেষ্টন দন্ত হইতে বিচ্ছিন্ন করিবে। শলাকা প্রয়ােগের পূর্বে তাহার অগ্রভাগে ক্ষার মাখিয়া লইলে অভ্যন্তরবর্তী মাংস দূষিত হইবার আশঙ্কা থাকে না। বিংশতি হইতে ত্রিংশত ত্রিংশত অঙ্গুলি পৰ্যন্ত দন্তবেষ্ট বিদ্ধ হইলে প্রায় দন্তমূল শিথিল হইয়া থাকে। চতুর্বিংশতি অঙ্গুলির পরে প্রায়শঃ অস্থি সন্নিবেশ দেখা যায়। বিজ্ঞ চিকিৎসক স্বীয় বুদ্ধিদ্বারা মুখের পরিমাণ বিভাগ করিবেন। যখন দন্তটি মাংসবিমুক্ত এবং বন্ধনমূল হইতে উজ্জলিত হইবে তখন যন্ত্রাধ্যায়ে উল্লিখিত বন্ধনে রুগ্ন মাতঙ্গকে দৃঢ় সৎসত করিয়া মূলের দিকে ঐ অংশ মাত্র পরিত্যাগপূৰ্ব্বক সূত্র নির্মিত নৃতন দৃঢ় রজ্জবন্ধন করিবে। অনন্তর অপর আর একগাছি তাদৃশ পূর্বোক্ত রজ্জর কিঞ্চিত উপরিভাগে বন্ধনপূৰ্ব্বক যন্ত্রের (কফিকলের সাহায্যে আস্তে আস্তে উন্মলন করিবে। অবশ্য বলাবাহুল্য যে শলাকা প্রবেশের পূর্বেই মুখব্যাদানক যন্ত্র দ্বারা রুগ্ন মাতঙ্গের মুখ ব্যাদান করিয়া লইতে হইবে। দন্ত উন্মলনের পরে মধু ও ঘৃতদ্বারা ক্ষতস্থান পূর্ণ করিবে। কিয়ৎকাল পরে মাতঙ্গকে শীতলজলে অবগাহন করাইয়া তাহাকে গব্যঘৃত মিশ্রিত গো-দুগ্ধ পান করিতে দিবে।

১৬৪ গঙ্গায়ুর্বেদ-সংহি । ঋতযুক্ত শালি ধান্তের অন্ন ভোজন করিতে দিবে এবং তৎপরে দ্বিব্ৰণীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত বিধানে চিকিৎসা করিতে হইবে। যার দন্ত অসাধ্য দন্তনালী জন্মে তাহাকে গজায়ুর্বেদ শাস্ত্রে “দন্তস্রাবী” আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। ধােলিখিত বিধানে তাহার চিকিৎসা করা কর্তব্য। প্রথমতঃ পূর্বোক্ত বিধানে কন্তু মূল বিদ্ধ করিয়া তন্মপস্থিত কীরিক ও দূষিত রক্ত নিঃসারণ ও মাংস অপসারণপূর্বক পূর্বোক্ত বিধানে চিকিৎসা ও পথ্য প্রদান করিবে। পক্ষান্তরে হার দন্ত ভঙ্গ হয় কিংবা ক রীরিকা সহ পণের পতন হয় চিকিৎসা না করিয়া হাকে স্বাধীনভাবে বনে বিচরণ করিতে দিবে । হে নরেশ্বর, শস্ত্র প্রয়োগকালে সূচি বিপথগামী হইলে যে যে দোষ ঘটে তাহা বর্ণনা করিতেছি শ্রবণ করুন -তাদৃশ সূচিবেধের ফলে কূৰ্ম্মস্থানে শােফ জন্মে এবং মাংস দূষিত হইলে মাংসধাবন তুল্য স্রাব নিঃসৃত হয় ; স্রোতস্থান দূষিত হইলে তাহা হইতে অত্যন্তরূপে স্রাব নির্গত হইতে থাকে এবং নেত্ৰবন্ধন দূষিত হইলে নানা প্রকার নেত্রবােগ জন্মিতে থাকে পক্ষান্তরে মায়ুচ্ছেদ ঘটিলে অত্যন্ত বেদনা ও গগদ ভাব লক্ষিত হয় এব’ যবনিকাপ তুলা স্রাব নির্গত হইতে থাকে ; শিরাচ্ছেদ ঘটিলে শুকর্ণ ও মুখমণ্ডকে উত্তাপ বৃদ্ধি হয়, মঞ্জিষ্ঠাতুল্য স্রাব কিংবা রক্তস্রাব হইতে থাকে এবং তাহার ফলে বিকলতা বা মৃত্যু পর্যন্তও অসম্ভব নহে। এই নিমিত্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসক মপাযথ ভাবে শস্ত্ৰপ্ৰয়োগ করিবেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার বা অসাবধানতার ফলে যদি প্রয়ােগে বিপত্তি ঘটে তবে সপ্তঃক্ষত বিধানা- নুসারে তাহার চিকিৎসা করা কর্তব্য এবং তাদৃশ চিকিৎসার ফুলে ফুল তাপ ও বেদনার হ্রাস হইলে পরে পুনরায় পূর্বোক্ত বিধানে দও উদ্ধত করিতে চেষ্টা করিবে। শলাকা দ্বারা দন্তমূল পরিমাণাতিরিক্ত বিদ্ধ করিলে উহার বিবিধ ক্লেশ ভােগ করে। অতিমাত্ৰ শলাকা প্রয়োগের কিংবা আকর্ষণের ফলে দভ ঘটিলে পূর্বোক্ত বিধানে ( অর্থাৎ যাহাতে উপসর্গের সৃষ্টি না হয় সেইরূপভাবে) শলাকা প্রয়োগ করিতে হইবে। + অঙ্গপতির ঈদশ প্রশ্নের উত্তরে মহষি পলকাপ্য বলিতে লাগিলেন হে নরেশ্বর, বায়ণগণের দন্ধের বহুবিধ ভেদ ক্ষিত হয়। তন্মধ্যে যষ্টিদন্ত, শলাকা দ, রাজি দন্ত, গ্রন্থি দন্ত, পৰ্ব দন্ত, বল্লীদ, বক্ত দন্ত, দ্বিপুট দন্ত, ত্রিপুটদন্ত, তিদীর্ঘ দন্ত, হ্রস্ব দন্ত, অতি স্থূল দত, কশ দম্ভ, দুভগ দন্ত ও বিষম দই * এইস্থানে কিয়দংশ মুল চিরবিলুপ্ত } দন্ধেরণ বিধি। উল্লিখিত সর্বপ্রকার দই পুনরায় অন্তর্মুখ, অন্তমুখ, অধমুখ অধােগত ও পার্শগত এই 'চারি প্রধানভাগে বিভক্ত। তন্মধ্যে উর্ধমুখ দস্তদ্বয়কে করাল’ আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে * সম্মুখের দিকে প্রসারিত দস্তয়কে ‘সঙ্কট এবং অস্থি সম্মিত দন্তদ্বয়কে বিশাল আখ্যা প্রদান করা হইয়া থাকে। হে অঙ্গের, যে মাতঙ্গের একটি মাত্র দন্ত এক পাগত তাহা উত্তম মাঙ্গ মধ্যে গণনীয় ইহাই উত্তম দন্তের লক্ষণ কথিত হইল। অতঃপর দুলক্ষণযুক্ত গজদন্তের প্রতীকার কথিত হইতেছে শ্রবণ করুণ- তাদৃশ দন্ত শস্ত্র প্রয়োগপূর্বক উম্মলিত করিয়া সেই স্থানে কাঠময় কিংবা মহিষ শৃঙ্গ নিৰ্মিত দন্ত মূলে লৌহপাত নিবদ্ধ করিয়া নিপুণ শিল্পীদ্বার। আবদ্ধ করিয়া দিবে। হে নরেশ্বর, অতঃপর বারণগণের দন্তোৎপত্তির বিষয় কথিত হইতেছে বাতকুম্ভের নিম্নে বৃত্তি স্থান সমুদয় অবস্থিত। সেই স্থানে বায়ুর বিকৃতি সন্তুত করীরিক (পাথরী) সমুদয় উৎপন্ন হয়। যখন বায়ুদ্বারা একটি মাত্র দস্তবে দুষিত হয় তখন মাতঙ্গের একটি মাত্র দন্ত জন্মে এবং এই প্রকারেই পিশাচ অনুর প্রভৃতি নানা জাতীয়, দুলক্ষণযুক্ত মাতব্দের উৎপত্তি হইয়া থাকে। এইরূপ বায়ুর বিকৃতি বশতই বাণগণের অঙ্গবৈকল্য ও ঘটিয়া থাকে এবং তাদৃশ দুলক্ষণযুক্ত মাতঙ্গ অগ্রাহ্য ৭ গৃহীত হইলে ও শত্রুরাজ্যে পরিত্যজ্য হওয়া উচিত। মহানুভব অঙ্গপতির প্রশ্নের উত্তরে মহর্ষিপলিকাপ্য ইহা বলিয়া গিয়াছেন। ইতি-মহসি পলিকাপ্য বিরচিত গজায়ুৰ্বেদ মহা প্রবচনে শলাস্থানে চতুঝিংশ অধ্যায়। শল্যান সমাপ্ত। এ অবশ্য বলাবাহুল্য যে বিজ্ঞান সম্মত বৰ্তমান প্রণালীই দম্মেলৰে প্রয়োজ্য।..

No text on this page.

ময়মনসিংহ প্যালেস হইতে
গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত
ময়মনসিং লিলিপ্লসে রামচন্দ্র অনন্ত কর্তৃক
মুদ্রিত।
প্তিস্থান--গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এও সম্প
২৩| ১১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট,
কলিকাতা।
১৪াচাশ্য এও সম্প- কলিকাতা ও ময়মনসিং
মড়ে কাইব্রেরী- টাকা ও ময়মনসিংহ

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Gajayubbed-sanhita Part 4

Author
Chowdhury ,shashikanta Acharjya
Title
Gajayubbed-sanhita Part 4
File name
Gajayubbed-sanhita Part 4
Text
OCR done
Citation
1921
Published
2010/04/30
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
176
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Epics
Keywords
Dadosh Upokrom Bidhi
DLI number
515583
Barcode
4990010016257.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
hKX0lGMLmer
Download PDF

Gajayubbed-sanhita Part 4