Makardah Saraswat Library, Howrah
Mir Kashim
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
মীরকাশিম -পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত- ( ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক) মন্মথ রায় এ-এ গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, ২০৩১১, কর্ণওয়ালিস্ ষ্ট্রীট, কলিকাতা
পাচসিকা
রচনা :
১৮ই নভেম্বর হইতে ৭ই ডিসেম্বর ১৯৩৮
৩০ কর্ণওয়ালিস ধ্রুট, ফ্লাট ৮
কলিকাতা
গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্সের পক্ষে ভারতবর্ষ প্রিন্টিং ওয়ার্কস হইতে
গােবিন্দপদ ভট্টাচাৰ্য্য দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত
২০৩১১, কর্ণওয়ালিস্ স্ট্রীট, কলিকাতা
CARASWAT LIERARY
FAKARUN-HOWSAH
Eatd:-1919,
মীরকাশিম
বাঙলার অতীত-স্বাধীনতার সন্ধ্যাদীপ ।
দীপ নির্বাপিত
কিন্তু
স্মৃতি বর্তমান
স্মৃতির সেই বেদীমূলে
প্রণাম করি।
মন্মথ রায়
২৪. ১২. ৩৮
শ্ৰীযুক্ত প্রবােৰচন্দ্র গুহ
শ্ৰদ্ধাস্পদেষ্ণু
স্নেহধন্য
মন্মথ রায়
লেখকের কথা জাতিকে দেশাত্মবােধে উদ্বুদ্ধ করিবার পুণ্যসাধনা গ্রহণ করিয়া নাট্যনিকেতননায়ক শ্ৰীযুক্ত প্রবােধচন্দ্র গুহ নাট্যজগতে যে কীর্তি স্থাপন করিয়াছেন, আমাদের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে তাহা স্থান পাইবে সন্দেহ নাই। তাহারই ঐকান্তিক উদ্যোগ ও উদ্যমে বর্তমানকালে “গৈরিক পতাকা” “কারাগার” এবং “সিরাজদ্দৌল্যা” অভিনীত হইয়া আত্মবিস্মৃত জাতিকে জাতীয়তা- বােধে অনুপ্রাণিত করিয়াছে,তাহারই ঐকান্তিক আগ্রহ এবং চেষ্টায় আজ “মীরকাশিমের অভিনয়ও সম্ভব হইল। শ্ৰীযুক্তপ্রবােধচন্দ্র গুহ “নাট্যনিকেতন”কে জাতীয়-রঙ্গালয়ে পরিণত করিয়াছেন; তজ্জন্য তিনি শুধু আমার নহে দেশবাসীরও শ্রদ্ধাঞ্জলি লাভ করিয়াছেন। “গীরকাশিম” রচনার গুরুভার আমার হস্তে ন্যস্ত করিয়া তিনি দে অসীম ধৈৰ্য্য এবং স্নেহের সহিত আমাকে আদ্যোপান্ত সাহায্য করিয়া- ছেন, তাহার অভাব হইলে এ নাটক-রচনা আমার পক্ষে সম্ভব হইত 71 FINE sayfst 2607 pfai Long's Selections froin Unpublished Records of British India, History of Bengal Army, Torren's Empire in Asia, Wheeler's Early Records of British India, Rise of the Christian Power in British India (Major B.D. Bose) Akshoy Kumar Maitra's Mirkasim, Seir-ul-Mutakherin, Dutt's Economic History of British India, Brojendra Bandopadhyaya's Papers on Mirkasimr০ প্রভৃতি বহু প্রামাণ্য-গ্রন্থ হইতে মীরকাশিমের ইতিবৃত্ত সংগৃহীত হইয়াছে এবং এ নাটকে ইতিহাস বিকৃত হয় নাই বলিয়াই আমার বিশ্বাস। বন্ধুবর সতু সেন, প্রীতিভাজন সুধীর গুহ এবং শ্রদ্ধেয় বন্ধু শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত আমাকে নাটক-রচনায় যে-সাহায্য করিয়াছেন তজ্জন্য আমি তাদের নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকিব। শ্রদ্ধেয় শ্ৰীযুক্ত হেমেন্দ্রকুমার রায় নাটকের গান রচনা করিয়া আমাকে আশীৰ্বাদ করিয়াছেন। নাটকের নৃত্য-পরিকল্পনা করিয়াছেন নাট্যলক্ষ্মীকল্লা শ্ৰীযুক্ত নীহারবালা। গানের সুর বিধান করিয়াছেন সুর- শ্ৰীযুক্ত অমর বস্তু। তাহাদিগকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। স্নেহাস্পদ শ্ৰীমান সুকোমল সেন (ঢাকা), শ্ৰীমান অনিলকুমার ঘােষ ( বালুরঘাট ), শ্রীমান দেবনারায়ণ গুপ্ত ( রাণাঘাট ), শ্ৰীমান অনাদিপ্রসাদ সেন (নাটোর), প্রীতিভাজন পুলকেশ দে সরকার (কলিকাতা) এবং কল্যাণীয়া ভগ্নী শলীলা রায় ( স্কটিসচার্চ কলেজ ) আমাকে নানাভাবে সাহায্য করিয়াছেন, তাহাদিগকে আমার সস্নেহ প্রীতি জ্ঞাপন করিতেছি। শ্রীমান অনিলকুমার ঘােষ পুস্তকের প্রচ্ছদপটখানি আঁকিয়া দিয়াছেন ; তাকে আমার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করিতেছি। কর্ণওয়ালিস ধ্রুট ফ্ল্যাট, আট কলিকাতা মন্মথ রায় ২৪শে ডিসেম্বর, ১৯৩৮ NAKARDAD - HUWAAH. । SWAT LIEFAR SAR Fatd-1S19. ১৪৪০ মীৱকাশিম প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য মুঙ্গের দুর্গে মন্ত্রণাগার পর পর কয়েকটি গুলির শব্দের মধ্যে পটোত্তলন। একজন গুপ্তচর ভূপতিত- তাহার শেষ আৰ্তনাদমৃত্যু। নজাফ খাঁ। বেইমান ! বেইমান ! মীরকাশিম, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ প্রভৃতির প্রবেশ মীরকাশিম। নজাফ খাঁ ! নজাফ খা। বেইমানগুপ্তচর- মীরকাশিম। বাংলায় বেইমানের অভাব নেই নজাফ খাতা হলে অনেককেই হত্যা করতে হয়—তােমাদের নবাবও বাদ যায় না কিন্তু চক্রীদের চক্রান্তের ভয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে এসেও নিস্তার নেই, এখানেও গুপ্তচর!
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নজাফ খা। তকী খাঁর প্রেরিত চর-মুখে সংবাদ পাই—সপ্তাহ আগে
চিৎপুর দেওয়ানখানায় মনি বেগমের আহ্বানে এক বৈঠক বসে।
মীরকাশিম। আমাকে সিংহাসনচ্যুত করবার জন্যই তাে বৈঠকের
আহ্বান
নজাফ খাঁ। বৈঠকে কলকাতার কাউন্সিলের সদস্যগণ অনেকেই
উপস্থিত ছিলেন।
মীরকাশিম। তাতেও বিস্মিত হবার কারণ নেই—গভর্ণর ভ্যান্সিটার্ট
এবং হেষ্টিংস ব্যতীত আর সকলেই আমার ওপর বিরূপ ;
কেননা আমার জন্য তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধি হচ্ছে না!
নজাফ খা। অনেক রাজা মহারাজা জমীদারও সে বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন।
মীরকাশিম। থাকবেনই তাে। মীরকাশিম নবাব হওয়ায় তাঁরা
ব্যক্তিগত সুযােগ পাবেন ভেবেছিলেন—কিন্তু বেইমান
মীরকাশিম যে নবাবী গ্রহণ করে পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত করবে সে
ধারণা তারা করতে পারেন নি।
নজাফ খা। মনি বেগমের প্ররােচনায় সকলে মীরজাফরকে গদী
দেওয়ার ষড়যন্ত্র করূছেন!এখন সমস্ত নির্ভর করছে
অমিয়ট আর হে সাহেবের দৌত্যের ওপর।
মীরকাশিম। জীবনে যে-ভুল একবার করেছি—এবার প্রাণ
দিয়েও সে-ভুলের প্রায়শ্চিত্ত ক’রবাে, তাদের কথায় প্রজার
স্বার্থের বিরুদ্ধে আমি কোনাে সন্ধি করবাে না।
*.
প্রথম অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নজাফ খাঁ। বৈঠক ব’সবার পূর্বেই অমিয়ট আর হে সাহেব
কলকাতা থেকে চলে আসেন—তাদের কিছু গুপ্ত উপদেশ
দেওয়ার জন্য এই বেইমানকে তারা গুপ্তচর পাঠিয়েছে।
আমাদের চর বরাবর এর সঙ্গে থাকায় মুঙ্গেরে পৌছে ও
সাহেবদের কুঠিতে যেতে সাহসী হয়নি।
নীরকাশিম। হু। এই যে সেই গুপ্তচরতার প্রমাণ?
নজাফ খা। আছে।
জগৎশেঠ। রক্তে যে সব ভেসে গেল ! উঃ! কী বীভৎস !
( মৃতদেহের প্রতি রক্ষীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া নিয়ে যা
নিয়ে যানবাবের চোখের সামনে থেকে এ দৃশ্য সরিয়ে নে—
মীরকাশিম। একটু পরে শেঠজী।
জগৎশেঠ। (মৃতদেহ যেন আর কিছুতেই সহ্য হইতেছে না।
কিন্তু আপনার চোখের ওপর এই বীভৎস দৃশ্য !
রাজবল্লভ। দরবারে এই প্রকার হত্যা
নজাফ খা। হত্যা বলবেন না রাজা-বলুন শাস্তি
রাজবল্লভ। বিনা বিচারে—
নজাফ খা। নির্দোষীকে হত্যা করে থাকি নবাব আমায় শাস্তি
দেবেন।
মীরকাশিম। প্রমাণ নাজাফ খা?
নজাফ খাঁ। (প্রাগুয়ের জুতার মধ্য হইতে একটা লাল-পাঞ্জা
বাহির করিয়া নবাবের সম্মুখে ধরিল )
০
প্রথম অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য মীরকাশিম। (লাল-পাঞ্জা পরীক্ষা করিয়া) কোম্পানীর লাল- পাঞ্জা—কোম্পানীর শিলমােহর—সেই সাঙ্কেতিক চিহ্ন ! সিরাজের সময় এই লাল-পাঞ্জার কথা প্রথম শুনি—কিন্তু তখন দেখিনি-প্রথম কবে দেখি জানেন শেঠজী ? জগৎশেঠ। না জনাব। মীরকাশিম। তিন বৎসর পূৰ্ব্বে-কলকাতায়—ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কুঠীতে ! গুরগিন খাঁ। আমি দেখিলাম হাজ। মীরকাশিম। মীরজাফরের সঙ্গে বেইমানি করতে স্বীকার হ’লাম। শপথ হ’ল। তখন গভর্ণর ভ্যান্সিটার্ট এই লাল-পাঞ্জা দেখিয়ে বললেন--যার হাতে এই লাল-পাঞ্জা পাবেন—জানবেন সে কোম্পানীর বিশ্বস্ততম লােকবিশ্বস্ততম বন্ধু—প্রয়ােজন হলে তাকে দিয়ে সংবাদ পাঠাব—এবং সংবাদ সংগ্রহ করব। গুরগিন খাঁ। তাজ্জব! তাজ্জব ! মীরকাশিম। রাজা রায় দুল্লভের হাতে ঐ লাল-পাঞ্জা দেখেছিলাম, খােজা পিসের হাতে ঐ লাল-পাঞ্জা দেখেছি শেঠজী— আপনার হাতে- জগৎশেঠ। না জনাব! এ সৌভাগ্য আজও আমার হয়নি। শেঠেরা চিরদিনই বাংলার মসনদের ক্রীতদাস- মীরকাশিম। ঠিক-ঠিক-শেঠজি বরঞ্চ বলতে পারেন ঐ পাঞ্জা একদিন আপনি আমারি হাতে দেখেছিলেন—না?—কিন্তু ৪
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
ভুলে যাবেন না—তখন ঐ পাঞ্জাই ছিল আমার নবাবী
পাবার সােপান—ঐ পাঞ্জা দেখেই, কর্ণেল কলার্ডকে
মুর্শিদাবাদ প্রাসাদ দখল করতে সাহায্য করেছিলাম—ঠিক
তার দু'ঘণ্টা পরেই--
জগৎশেঠ। আপনাকে নবাবী শীল-মােহর হাতে নিতে হ’ল ।
মীরকাশিম। কাজেই লাল-পাঞ্জা হাতে নিয়ে আর কাজ করতে
পারুলাম কই! দুটো অত বড় জিনিষ এক হাতে এক সঙ্গে
ধরে না শেঠজী। হয় লাল-পাঞ্জা নাও-নতুবা নাও নবাবী
শীল-মােহর। আপনাদের অনেকেরই হয় তাে ইচ্ছা ছিল-ঐ
লাল-পাঞ্জা হাতে নিয়ে আমি নবাবী করিনা শেঠজী ?
জগৎশেঠ। তা আর হ’ল কই জনাব !
মীরকাশিম। হয় ।
জগৎশেঠ। হয় ?
মীরকাশিম। হয়—নবাবী নয়—গােলামী।
গুরগিন খাঁ। Sha me!
মীরকাশিম। নজাফ খা, মৃতদেহ নিয়ে যেতে বল—কুত্তা দিয়ে
খাওয়াবার আজ্ঞা দাও।
মৃতদেহ অপহৃত হইল
নজাফ খ। চলিয়া গেল
সিরাজকে মনে করতাম হঠকারী, দাম্ভিক, উদ্ধত। মনে
করতাম, দেশে শান্তি সংস্থাপনের সে-ই প্রথম এবং প্রধান
প্রথম অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য অন্তরায়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থের দিকে চেয়ে, বেইমানি করে, ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আমরা তাকে হত্যা করলাম। রাজবল্লভ। আমরা। মীরকাশিম। হ্যা, আমরা ; নতুবা কে? কার সাধ্য ছিল সেই সিংহ- শিশুর কেশও স্পর্শ করে ! পলাশীর যুদ্ধ ! সে কি যুদ্ধ ? এক দিকে অগণিত নবাব সৈন্য, উপযুক্ত সেনানায়ক, অপর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র—আর এক দিকে বিচলিত বিকম্পিত মুষ্টিমেয় ইংরাজ-সৈন্য- গুরগিন খাঁ। একটা ফু দিলে কোম্পানীকে কোম্পানীই উড়িয়া যাইত। মীরকাশিম। সাহসের অভাব ছিল না, অর্থের অভাব ছিল না, অস্ত্রের অভাব ছিল না, কিছুরই অভাব ছিল না। অভাব ছিল দেশাত্মবােধের—অভাব ছিল মনুষ্যত্বের। বুদ্ধিরও অভাব ছিল না—কিন্তু সে ছিল স্বার্থবুদ্ধি। গুরগিন খাঁ। ভারী বুদ্ধিমান জাত আছে এই বংগালী। মীরকাশিম। ক্ষমতার প্রলােভনে উদ্দীপ্ত হয়ে সিরাজকে বন্দী করলাম—বেগমের মণিমুক্তা লুঠ কলাম—মানুষ হয়ে পশুর অধম আচরণ ক’রুতে দ্বিধা করলাম না। জগৎশেঠ। এখন সে অনুশােচনা করে আর লাভ কি জনাব ! যা হবার হয়েছে—এখন আবার আমরা যাতে শান্তিতে
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
বাস করতে পারি জনাব—আপনি সেই ব্যবস্থা করুন ; এই
আমাদের সকলের মিলিত অনুরােধ ।
মীরকাশিম। মীরজাফর নবাব হলেন। ভাবলাম সকলে শান্তিতে
বাস করব, দেশে আর যুদ্ধ-বিগ্রহ থাকবে না। প্রজা সুখে
থাকবে—আমার সােনার বাংলা আবার ধন-ধান্যে পরিপূর্ণ হবে।
কিন্তু যে সুদিন গেল-বাংলার সে সুদিন আর ফিরে এলাে না।
কোম্পানীর লােকদের শুধু বােনাস দিতেই মুর্শিদাবাদ
রাজকোষ শূন্য হয়ে গেল। কোম্পানীর দেনা শােধ হ’ল না—
ফলে নবাবকে হতে হ’ল কোম্পানীর হাতের খেলার পুতুল !
মীরজাফরের রাজত্বে হ’ল বাদশাই ফাৰ্ম্মানে বিনাশুল্কে ইষ্ট
ইণ্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্য করবার অধিকারের ব্যভিচার।
দেখলাম প্ৰজা যায়, দেশ যায়, বাংলার স্বাধীনতার সূর্য
চিরতরে অস্তমিত হয়—তখন এই বেইমান যে বেইমান, সেও
আর ধৈৰ্য্য রাখতে পারল না।
গুরগিন খাঁ। হামাডের নবাবের প্রজার উপর যে ডরড আছে টাহা
সকলেই জানে।
মীরকাশিম। রাজা রায়দুর্লভ আর ধনকুবের জগৎশেঠের মধ্যস্থতায়
বাংলার মসনদ কিল্লাম—নবাব মীরজাফরের দেনা কড়ায়
গণ্ডায় শােধ করলাম-বাংলার তিন তিনটা পরগণা—বর্ধমান,
চট্টগ্রাম, মেদিনীপুরের রাজস্ব ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীকে দিলাম
-দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধের খরচা দিলাম পাঁচ লক্ষ তঙ্কা—তবু
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
কোম্পানীর অত্যাচারের হাত থেকে অব্যাহতি নাই।
নাগপাশের এমন বাঁধনে আজ আমরা জড়িয়ে আছি যে এ
থেকে আর মুক্তি নেই—মুক্তি নেই।
গুরগিন খাঁ। এবার বাঁধন কাটিয়ে ফেলুন-কোম্পানীকে ডেখিয়ে
ডিন হাপনি নবাব--কোম্পানীর চালাকি নবাবের সহিট
চলিবে না।
মীরকাশিম। পাটনায় এলিস আমার শাসন মানে না—কোম্পানীর
সিপাই নবাব-সৈন্যের অপমান করে—কোম্পানীর অন্যায় কাজে
বাধা দিলে তারা ধরে নিয়ে কয়েদ করে-পীড়ন করে।
গভর্ণর ভ্যান্সিটার্ট আর হেষ্টিংস সাহেব সেদিন মুঙ্গেরে সন্ধিপত্র
স্বাক্ষর করলেন-প্রতিশ্রুতি দিলেন, আর প্রজার ওপরে
অত্যাচার হবেনা-দেশে শান্তি হবে। কিন্তু আবার কোম্পানী
দূত পাঠিয়েছেন অমিয়ট আর হে সাহেবকে--কি মতলবে
তা তারাই জানেন।
গুরগিন খা। 'উহাদের মতলব ভাল নয়—তাহা হইলে কাল
নবাবের নাচের মজলিসের নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করিত না।
রায়দুর্লভের প্রবেশ
রায়দুর্লভ। অমিয়ট আর হে সাহেব নবাবের দর্শনপ্রার্থী।
গুরগিন খাঁ। টাহারা ডরবারে হাসিটেছেন—ভাল করিটেছেন—
কিন্তু টাহাদের সাবধান করিয়া ডিলে ভাল হইট, নবাবের
হুকুম না মানিলে এবার হামি টাহাডের উচিট শিক্ষা ডিব।
৮
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
রায়দুর্লভ। গােলযােগ ! গােলযােগ ! চারদিকে গােলযোেগ ?
দু’দিন শান্তিতে থাকতে চেয়েছিলাম—হ’ল না! দেখে শুনে
ইচ্ছে হচ্ছে—ছেড়ে ছুড়ে কাশী চলে যাই।
জগৎশেঠ। কেন? কি হল ?
রায়দুর্লভ। আর বলেন কেন শেঠজী। এখানে গুরগিন খাঁ বলছে,
‘দেখো ওখানে অমিয়ট সাহেব বলছেন “দেখো। শােনো
কেউ বলছে না। আমাদের হয়েছে—“বল্ মা তার দাড়াই
কোথা” ! জনাব, আমি আর শেঠজী—আমাদের চেয়ে
আপনার বেশী হিতাকাঙ্ক্ষী আর কেউ নেই। বয়েস হয়েছে।
আর কি আমাদের হৈ হৈ রৈ রৈ শােভা পায়। আপনি
এখন আরাম করুন—আয়েস করুন—আমাদের বয়েস
হয়েছে আমরা একটু পরকালের চিন্তা করি। নানা জনাব,
‘না’ বলবেন না—অমিয়ট আর হে সাহেব আসছে-তার।
যা চায় তা নিক না—নবাবী তাে আর চাইছে না।
গােলমাল মিটে যা—এ কাঠ-খােট্টা দেশ ছেড়ে মুর্শিদাবাদ
চলুন—মুর্শিদাবাদ যে কঁদছে ।
মীরকাশিম। মুর্শিদাবাদ ! রাজা রায়দুর্লভ, শ্রেষ্ঠ মহাতাপাদ,
বিচক্ষণ রাজবল্লভ, শুনে আশ্বস্ত হলাম—-মুর্শিদাবাদের জন্য
আপনাদের প্রাণ আজ কঁদছে! কিন্তু মুর্শিদাবাদকে শ্মশান
করে সেই তমসাবৃত নগরীর পথে পথে সিরাজের শবদেহ
নিয়ে আপনারা প্রেতের যে তাণ্ডব করেছিলেন, তাও আমি
'৯
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
দেখেছি। রাজা রায়দুর্লভ! জগৎশেঠ ! শুধু নিজেদের স্বার্থ
চিন্তাই করছেন—দেশের কথা একবারও ভাবছেন না।
আপনারা কি এখনও লক্ষ্য করছেন না, কোম্পানী এখন শুধু
বাণিজ্য করতে চায়না, বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্যেও কোম্পানী
আর খুসী নয়, এখন তাদের লক্ষ্য বাংলার মসনদ ? শশাষণ
সম্পূর্ণ—এবার তারা চায় শাসন! রায়দুর্লভ ! জগৎশেঠ ?
ক্ষুদ্র স্বার্থের মােহে আমরা অন্ধ হয়ে এতদিন তা বুঝতে
পারিনি,আজ বুঝতে পেরেও কি তার প্রতীকার ক’ব
? শেষে—শেষে আমাদেরই হাতে উঠবে পরাধীনতার
প্রথম শৃঙ্খল ! আমাদেরই জীবনে প্রথম ডুববে—আমাদের
এতকালের স্বাধীনতা সূৰ্য্য!•••জগৎশেঠ। রায়দুর্লভ! ভেবে
দেখুন—একটিবার ভেবে দেখুন, জাতির ইতিহাসে, দেশের
ইতিহাসে কী প্রেতমূর্তিতে আমাদের বিচরণ করতে হবে
চিরকাল ! সে ইতিহাস পাঠ করে ভবিষ্যদ্বংশীয়েরা আমাদের
কী আখ্যায় অভিহিত করবে, কী অভিশাপ দেবে-একটি
বার ভেবে দেখুন—একটিবার ভেবে দেখুন!
জগৎশেঠ। আমরা কি করতে পারি জনাব ।
মীরকাশিম। আপনি ধনকুবের, বাংলার ঐশ্বৰ্য্য আপনারই ঘরে
বাঁধা, অর্থে কি না হয় ? আপনি কি না করতে পারেন।
জগৎশেঠ। নবাব সরকারে এখনও লক্ষ লক্ষ টাকা আমার পাওনা।
কোম্পানীর সঙ্গে যুদ্ধ আসন্ন। জয় পরাজয় অনিশ্চিত।
১০
ঙ্কি
মীরকাশিম
প্রথন দৃশ্য
মীরকাশিম। হু। বাংলা আপনার জন্মভূমি নয়, দেশ নয়।
আপনাদের দেশ মাড়ােয়ার, না ?
জগৎশেঠ। সে তাে কোনাে কথা নয়, এ হচ্ছে ব্যবসার কথা-
লেনদেনের কথা-কারবারের কথা।
মীরকাশিম। রাজা রায়দুর্লভ! আপনি তাে বাঙালী ।
রায়দুর্লভ। একশ’বার! লক্ষবার ! সােনার বাংলা আমার
পুণ্য জন্মভূমি। আজ যদি বয়েস থাকতাে—দেখতেন, আমি
কখনও পিছ-পা হতাম না। কিন্তু বয়েস হয়ে পড়েছে—-ভেবে-
ছিলাম কালীঘাটে গঙ্গাতীরে
মীরকাশিম। ও! কলকাতায় বলুন !
রায়দুর্লভ! হ্যা, কালীঘাটকে এখন কলকাতাই ব’ছে । ঐ
পীঠস্থানে বসে এ বয়সে হিন্দুর যা করনীয়—এতকাল তো আর
সে সব--
মীরকাশিম। ও! এতকাল বুঝি মনেই ছিল না যে আপনি হিন্দু।
রায়দুর্লভ। তা-কতকটা তাই বটে।
মীরকাশিম ! অমিয়ট আর হে সাহেব আপনাকে বলে দিয়েছে
আপনি হিন্দু, না? তবে আপনার মনে পড়ে গেল আপনি
হিন্দু, কি বলেন?
নজাফ খাঁর পুনঃ প্রবেশ
নজাফ খাঁ। জনাব ! গুরুতর সংবাদ !
মীরকাশিম। এখানে ততােধিক।
প্রথম অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নজাফ খাঁ। সে কি জনাব ?
মীরকাশিম। (জগৎশেঠকে দেখাইয়া) ওঁর হঠাৎ মনে পড়ে গেছে,
উনি বাংলায় জন্ম নেননি, এখানে শুধু একটা লেনদেনের কারবার
রেখেছেন ( রায়দুর্লভকে দেখাইয়া) অমিয়ট সাহেব বলেছেন
উনি হিন্দু এবং হে সাহেব ওঁর কানে কানে এ-কথাও
বােধ হয় বলে দিয়েছেন আমি মুসলমান! এতকাল এ-সব
আমরা ভুলে বসেছিলাম, হঠাৎ আজ এ-সব বেরিয়ে পড়ল।
বেইমানি করবার সময় এ সব কথা কারাে মনে পড়েনি—মনে
পড়ল কখন জানাে ? যখন দেশের জন্য এদের কাছে সাহায্য
ভিক্ষা করলাম—তখন। শুনুন, সাহায্য করতে না চান ক’রূবেন
, শুধু একটা প্রার্থনা—আর বেইমানি করবেন না।•••অন্ধকার
রাত্রে হতাশ হয়ে যখন আকাশের পানে চাই, কেবলি দেখি
সিরাজের অন্তিম লাঞ্ছনা, কেবলি শুনি লাঞ্ছিত সিরাজের
অন্তিম হাহাকার—‘বেইমান ! বেইমান!
নজাফ খাঁ। জনাব !
মীরকাশিম। কি ?
নজাফ খাঁ। তকী খাঁ সংবাদ পাঠিয়েছেন কলকাতা থেকে
কোম্পানীর ত্রিশােনা নৌকা বাণিজ্যের নিশান উড়িয়ে মুঙ্গেরে
এসে পৌঁছেছে। বাণিজ্যের ছলে ঐ সব নৌকা অস্ত্রশস্ত্র
বােঝাই হয়ে এলিসের সাহায্যে পাটনা যাচ্ছে। খানাতল্লাসী
করবার জন্য তকী খাঁ ফোঁজ নিয়ে বহর আটক করেছেন।
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরকাশিম। কে আছিস! ইংরেজ দূত অমিয়ট আর হে !
( দৌবারিক যাইতেছিল তাহাকে নিষেধ করিয়) ,
নজাফ খাঁ, তুমি নিজে যাও। নিয়ে এস। কিন্তু নৌকা
আটকের সংবাদ গােপন রেখাে।
নজাফ খার প্রস্থান
রায়দুর্লভ। এ সংবাদ কি আর এতক্ষণ গােপন আছে ?
মীরকাশিম। না থাকাই সম্ভব। রায়দুর্লভ ! আপনার সেই
লাল-পাঞ্জাটার নম্বর কত ছিল মনে আছে ?
রায়দুর্লভ। কোম্পানীর পাঞ্জা! তােবা ! তােবা! সে আমি কবে
গঙ্গায় ফেলে দিয়েছি।
মীরকাশিম। আমি যে লাল-পাঞ্জাটা পেয়েছিলাম তার নম্বর ছিল,
মনে পড়ছে না, আপনার মনে পড়ছে জগৎশেঠ ?
জগৎশেঠ। না জনাব !
শীরকাশিম। এই—একশ’র মধ্যেই ছিল। এটার নম্বর দেখলাম
ত্রিশহাজার কত। এই তিন বছরেই এই! কলকাতায় কি
লাল-পাঞ্জারও একটা ফ্যাক্টরী ব’সেছে জগৎশেঠ ?
রায়দুর্লভ। অদ্ভুত জাত এই ইংরেজ।
মীরকাশিম। ওদের কি দোষ ? দোষ আমাদের। ওদের
জাতীয়তা আছে, দেশাত্মবােধ আছে, বৃহত্তর জীবনের কল্পনা
আছে, আমাদের আজ তা নেই। ক্ষমতা প্রভুত্ব ঐশ্বৰ্য্য চাওয়াটা
প্রথম অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
পাপ নয়, হারানাে পাপ। আমরা সেই পাপ করেছি---
করছি! কিন্তু আর কতকাল? কতকাল?
নজাফ খা সহ অমিয়ট আর হে সাহেবের প্রবেশ
অমিয়ট।
বণ্ডেগি জনাব !
হে।
জগৎশেঠ। ( সাহেবদের কাছে আসিয়া) বন্দেগি-বন্দেগি
সাহেব।
অমিয়ট। এই যে! শেঠজী ! হাঁ, হাপনার কঠাও বলিব।
জনাব ।
হাপনি জগটশেঠডের মুর্শিবাড হইট ঢারিয়া
হানিয়াছেন। উহারা মানী লােক—টনী লােক, গােটা বাংলাটা
কিনিয়া লইটে পারেন। এ কাজটা কি আপনার উচিট
হইয়াছে।
গুরগিন খা। উচিট হয় নাই কহিবেন না। বলিবেন শেঠজীকে
এখানে ঢরিয়া রাখাটে আপনার বহু ডরড হইটেছে।
মীরকাশিম। ওঁরা আমার প্রজা। রাজ-কার্যের জন্য আমি
ওদের মুঙ্গেরে এনেছি-এ সম্বন্ধে কোন কথা বলা তােমাদের
অনধিকার চর্চা! (কিছুক্ষণ পরে) আমার এই প্রজার জন্য
তােমাদের যে দরদ দেখছি সাহেব, আমার কোটি কোটি
প্রজার জন্য তাে সে দরদ দেখিনা। প্রতি পরগণায়, প্রতি
গ্রামে, প্রতি কুঠীতে, তােমাদের কোম্পানীর গােমস্তারা নুন,
১৪
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য।
চাল, চিনি, তামাক, আফিং—আর কত বলব—জোর
জবরদস্তিতে কিনছে—বিক্রি করছে। অত্যাচার করে, পীড়ন
করে, প্রহার করে, প্রজাদের কাছ থেকে এক টাকার মাল পাঁচ
টাকায় বিক্রি করছে, চার টাকার মাল এক টাকায় কিনছে ।
আমার প্রজাদের জন্য তখন তাে মহাশয়দের দরদ দেখিনা।
হে। ডরড বডি না ডেখিয়া ঠাকেন, জানিয়া রাখিবেন পীড়ন হয়
নাই। পীড়ন দেখিলে হামরা কখনও সাহিতে পারি না।
অমিয়ট। পীড়ন! অট্যাচার ! হামরা করিব ! হামরা ইহা
কখনাে স্বীকার করিব না।
মীরকাশিম। ভ্যান্সিটার্ট সাহেব—তােমাদের গবর্ণর নিজে ইহা
স্বীকার করিয়াছেন।
অমিয়ট। উহারা আপনার মুন খাইয়াছেন—গুণ গাহিটেছেন।
নজাফ খাঁ। বটে! নুন খাইয়াছেন। বাংলার মুন তােমরা
কে না খাইতেছ সাহেব ?
গুরগিন খ। বাংলার মুন বহু মিঠা হাছে।
অমিয়ট। টর্ক করিবার সময় হামাদের নাই। আমাদের এখনি
কলিকাটা যাইটে হইবে। আপনার টিন ডাবী, হামাদের এগার
ডাবী, বহু বা চিষ্ট হইল কোন ফল প্রসব করিল না।
হে। বিয়ােগ না করিলে কোন ফল প্রসব করিবে না। হামাদের
এগার ডাবী হাপনার টিন ডাবী। বিয়ােগ করিলে আপনার
ডাবী রহিল না আমাদের আট ডাবী রহিয়াই গেল।
প্রথম অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরকাশিম। আমার দাবী তােমরা মানবে না সাহেব ?
অমিয়ট। মানবার মটো ডাবী উহা নহে। হামাদের ডাবী
হাপনি মানবেন কিনা শেষ কঠা বলিয়া দিন।
মীরকাশিম। এ তােমাদের নতুন দাবী। নিত্য নতুন দাবী
আমি মানতে পারি না। ভ্যান্সিটার্ট আর হেষ্টিংস সাহেব
এই সেদিন এসে চুক্তি করে গেলেন শতকরা নয় টাকা হারে
দেশী-বাণিজ্যে সকলে শুল্ক প্রদান করবে, আর দস্তক আমার
কর্মচারী আর কোম্পানীর কৰ্ম্মচারী উভয়ের স্বাক্ষর
ব্যতীত মঞ্জুর হবে না—তােমরা সে চুক্তি না মেনে
অবাধ বাণিজ্য করছ। বাদশাহী ফাৰ্ম্মানেরও ব্যভিচার
করছ।
অমিয়ট। সে সব কঠা হামরা বিবেচনা করিব-হাগে আপনি
হাপনার প্রজার কাছে মাশুল আয় করুন।
মীরকাশিম। তােমরা মাশুল দেবেনা—আর মাশুল দিয়ে মরবে
আমারি প্রজা? কেন সাহেব ? তােমরা মাশুল না দেওয়া
পর্যন্ত আমি ঘােষণা করেছি আমার রাজ্যে বিনা শুল্কে
বাণিজ্য। তােমাদের ক্ষমতার ব্যভিচারে পৃথিবীর কোনাে
দেশে যা হয় না-হয়নি—লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি স্বীকার করেও
আমি তাই করেছি—বাংলা থেকে বাণিজ্যের শুল্কই তুলে
দিয়েছি! কর বাণিজ্য।
হে। হাপনি নিজের ক্ষটি করিয়া আমাদের ক্ষটি করিটেছেন।
প্রথম অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
গুরগিন খাঁ। নবাবের যাহা খুশী টাহা টিনি করিটে পারেন।
আপনারা বলিবার কে ?
অমিয়ট। মনে রাখিবেন হামরাই-হাপনাকে নবাবী ডিয়াছি।
মীরকাশিম। হ্যা, নবাবীই করছি-গােলামী ক’ব
সাহেব।
হে। কিন্তু বাণিজ্যের জন্য প্রয়ােজন হইলে বাচ্য হইয়া হামাদের
হাপনার বিরুদ্ধাচরণ করিটে হইবে।
মীরকাশিম। জানি! সাহেব ! তােমাদের স্বার্থের হানি হলে
আমার নবাবী কেড়ে নিয়ে এই শস্য শ্যামলা সােনার বাংলা
শােষণের পাকাপাকি ব্যবস্থা করতে, বাংলার মসনদে আবার
বসাবে ক্লাইভের সেই গর্দভকে। কিম্বা ব’সবে তােমরা নিজে।
সে আয়ােজনও যে হচ্ছে, সে আমি জানি। কিন্তু যতক্ষণ আমি
মসনদে আছি বাংলার দরিদ্র প্রজার রক্ত শোষণ করতে আর
তােমরা পারবে না—সাবধান!
হে। ডেখিটেছি আপনি যুদ্ধই চান—হাপনি যুদ্ধই চান, হামরা
কিন্ট, শান্টিই চাহিয়াছিলাম।
মীরকাশিম। শান্তিই চান! বটে! সেই জন্যই বুঝি
নজাফ খা—
নজাফ খাঁ। জনাব ।
মীরকাশিম। তকী খার খবর নাও
নজাফ খার প্রস্থান
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য,
অমিয়ট। ডেখিটেছি হামরা হাসিয়া ভালাে করি নাই। বেশ।
সেলাম ! হামরা চলিয়া যাইটেছি।
মীরকাশিম। দাড়াও। যেতে পার—একজন! আর একজনকে
এখানে জালীন থাকতে হবে।
অমিয়ট। জামীন! কিসের হাবার জামীন।
মীরকাশিম। তােমাদের ত্রিশােনা নৌকা কলকাতা থেকে
পাটনা যাচ্ছে।
হে। ট্রিশখানা কেন, টিনশ’ খানাও যায়। বাণিজ্য করে।
মীরকাশিম। কিন্তু আমার সংবাদ, এসব নৌকায় গােলাগুলি
অস্ত্রশস্ত্র যাচ্ছে-পাটনায় এলিসের কাছে।
অমিয়ট। ছাপনার যাহা খুশী বলিটে পারেন।
মীরকাশিন। নৌকা আটক করা হয়েছে। খানাতল্লাস হচ্ছে।
খানাতল্লাসের ফল না জানা পৰ্য্যন্ত তােমাদের একজনকে
জামীন থাকতে হবে।
অমিয়ট। বেশ। হে ঠাকিল। হামি কলিকাটা কাউন্সিলে রিপাের্ট
করিতে যাইটেছি। কিন্ট বলিয়া যাইটেছিইহার ফল ভাল হইলনা।
গুরগিন খাঁ। শুনিয়া যাও-টোমার কোম্পানীকে বলিয়া দিটে
পারে, যে-কেহ হামাদের একটা হাঘাট করিবে, হামরা টাহার
খুলিটে দুইটী হাঘাট হানিব। যাহারা আমাদের শক্টি
পরীক্ষা করিটে ইচ্ছুক টাহারা চেষ্টা করিটে পারে।
অমিয়টের প্রস্থান
১৮
প্রথম অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য নজাক খার প্রবেশ নজাফ খা। জনাব ! মীরকাশিম। সংবাদ--কী খার সংবাদ । নজাফ খাঁ। নৌকা বােঝাই গুলি গােলা বন্দুক । মীরকাশিম। বাজেয়াপ্ত কর। কী সাহেব! এতদূর স্পর্ধা! আমারি রাজ্য-রক্ষা করার লিখিত-চুক্তি করে-শেষে আমারি রাজ্যে আমারি বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র । এই রাজদ্রোহ । তােমাদের পেনাল-কোডে এই রাজদ্রোহের কি শান্তি সাহেব ?- আরাব খর প্রবেশ আরাব খাঁ। জনাব! পাটনায় সর্বনাশ! দুৰ্বও এলিস- মীরকাশিম। দুৰ্বওএলিস? পাটনা আক্রমণ করেছে- আরাব খ। অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে দুর্গ দখল করেছে। নিরীহ নরনারীকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। অবাধ হত্যায়, লুটতরাজে, অগ্নিদাহেপাটনার ঘরে ঘরে ক্রন্দন-বােল উঠেছে মীরকাশিম। শুধু পাটনায় নয় আরাব, শুধু পাটনায় নয়— বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রতি শান্তিকামী নিরস্ত্র নিরীহ নরনারীর বুক-ফাটা কান্নার রােল আকাশে ধ্বনি তুলে’ আজ খােদাতালার কাছে বেদনার আরজি পেশ করে প্রতিকার
প্রথম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
প্রার্থনা করছে ? কে আছ শহীদ, কে আছ গাজী, কে আছ
খােদার নফর-অত্যাচার অবসানের এই পুণ্য জেহাদে
যােগ দিয়ে পলাশীর পাপ প্রক্ষালন করবার জন্য প্রস্তুত হও।
পাটনায়-মুঙ্গেরে বাংলায়-বিহারে কোম্পানীর প্রতিষ্ঠিত সব
কুঠী অবরােধ কর; সমগ্র ইংরেজ ব্যবসায়ীকে বন্দী করে
শাঠ্যের সমুচিত শাস্তি দিয়ে পলাশীতে অনুষ্ঠিত পাপের
প্রায়শ্চিত্ত কর !
২০
MIAKAFDAR-HOWRAH.
LIEFHR
CARASI
Estd:-1919,
ধতায়
প্রথম দৃশ্য
কলিকাতা ভ্যান্সিটার্ট সাহেবের কুঠী
য়্যাডাম। হার হটিক বিলম্ব হইবে না। হামরা সমস্ট সডস্যগণ
এক সাঠ হইয়া আপনার পাকা ববস্ট করিয়া ডিবে।
মীরজাফর। কিন্তু মুঙ্গেরে যে সন্ধি পত্র সই হয়েছে তার কি হবে ?
ম্যাডাম্স্। অমিয়ট হার হে সাহেব টাহার ববস্ট করিবে।
কার্ণা। মীরকাশিমের সঙ্গে যাহাটে যুদ্ধ বাড়ে হামরা টাহার
সমস্ট বণ্ডবস্ট করিয়াছে। বেগম সাহেবা এ বিষয়ে আমাদের
সৰ্ব্ব প্রকার সাহায্য করিটেছে। টিনি খুব বুদ্ধিমটী Lady
হাছেন। হাপনি শুধু টাহার সল্লা লইয়া কাৰ্য্য করিবেন।
মীরজাফর। বেগম—এখনাে বুঝে দেখ
মনিবেগম। কি প্রলাপ ব’ছ। সিংহাসনের জন্য না হােক,
অন্ততঃ, বেইমানকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আবার তােমায়
বাংলার তক্তে বসতে হবে।
মীরজাফর। বেইমান ! বেইমান! বাংলায় কে বেইমান নয়
বেগম ? বাংলার সবাই বেইমান। আজ রায়দুর্লভ চায়
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
আবার আমি নবাব হই, কিন্তু এই রায়দুর্লভই কি বেইমানি
করে মীরকাশিমকে কোম্পানীর সঙ্গে জুটিয়ে দেয়নি?
জগৎশেঠ আজ আমাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য ক’বৃতে প্রস্তুত
কিন্তু কোম্পানীর দেনা দিতে না পেরে আমি কি জগৎশেঠের
কাছে অর্থ-ভিক্ষা করিনি? আজ রাজা রাজবল্লভ আবার
আমাকে সাহায্য করূতে চায়; কেননা কাশিম আলি
কোম্পানীর সাহায্যে তাকে বাণিজ্য ক’বার সুযােগ দিচ্ছে না
তার স্বার্থসিদ্ধির ব্যাঘাত হচ্ছে। নবাবী নিয়ে আমাকে
তাে আবার কোম্পানীর গােলাম হয়েই থাকতে হবে।
মনিবেগম। তােমায় কিছু করতে হবে না, আমি কি করি, তাই
দেখ। নবাবের বেগম হয়ে আজ আমি ইংরেজ-দরবারে
এসেছি—ভিক্ষে করে নবাবী ফিরিয়ে নেবার জন্য। আমার
ইজ্জত নেই, মান নেই, মৰ্যাদা নেই—আবার তােমায়
সিংহাসনে দেখব, একমাত্র এই আমার বাসনা। সাহেবদের
কথা দাও—ওঁরা যা বলবেন তাইতে তুমি সম্মত।
মীরজাফর। সিরাজের বিরুদ্ধে সন্ধির সময় এরা যে কথা
বলেছিলেন আমি সেই কথাতেই সম্মত ছিলাম। কিন্তু কর
আদায় হ’ল না—কোম্পানীর তক্কা দিতে পারলাম না, এই
অপরাধে আমার পদচ্যুতি হ’ল। মীরকাশিম কোম্পানীর তঙ্কা
কড়ায়-গণ্ডায় শশাধ করেছে। এখন কোম্পানী কি করে আবার
তার কাছ থেকে সিংহাসন কেড়ে নিয়ে আমায় দেবে বল ?
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মনিবেগম। প্রজার মুখ চেয়ে মীরকাশিম কোম্পানীর কাজে
বাধা দিচ্ছে।
মীরজাফর। কাজেই প্রজারা তার পক্ষে।
মনিবেগম। কিন্তু প্রজারা তাে যুদ্ধ করবে না। যারা যুদ্ধ কবে
অর্থ দিয়ে তাদের হাত করতে হবে। মীরকাশিম মনে করছে
বিদেশী সেনানায়কদের সাহায্যে সে কোম্পানীর উচ্ছেদ করবে,
কিন্তু এ কথা ভাবছে না যে বিদেশী সেনানায়কেরা অর্থের
লােভে তার সেনানায়ক।
মীরজাফর। মীরকাশিমও তত কোম্পানীর সঙ্গে সন্ধি করতে পারে।
মনিবেগম। সে সন্ধি হবে না—আমি তার ব্যবস্থা করেছি।
মীরকাশিম কোম্পানীর দেনা শােধ করবার জন্য দেশের রাজা,
জমিদার, হিন্দু, মুসলমান—সকলের কাছ থেকে সমান অত্যাচার
করে কর আদায় করেছে। তারা কেউই তার ওপর সন্তুষ্ট নয়।
তবু যারা মীরকাশিমের পক্ষে আছে, তাদের মীরকাশিমের শত্রু
করবার জন্য—আমার চর—তাদের অর্থের প্রলােভন দেখাচ্ছে।
গুরগিন খ, সমরু, মার্কার সকলে মীরকাশিমের বিপক্ষে হবে।
তুমি অমত করাে না মীরকাশিমকে শাস্তি দিতে বা কিছু
প্রয়ােজন আমি তা ক’বই।
terapi Here is an Oracle ! We must obey her !
মনিবেগম। সাহেব, আমার একটা কথা রাখবে ?
য়্যাডাম। By all means | কি করিটে হইবে বলিয়া ডিন--
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মনিবেগম। খােজা পিকে কয়েদ করে তােমরা ভুল করেছ
সাহেব !
কার্ণাক। সেটা হামাডের দুষমণ। সে কাশিম আলির হাডমী
হাছে। টার ভাই গুরগিন খাঁ নবাবের General আছে।
মনিবেগম। সাহেব, এতদিন বাংলায় থেকেও দেখচি বাংলার
হালচাল বুঝতে পারূলে না? বাংলায় কে কার পক্ষ ?
যখন যেখানে যার সুবিধে সে যাচ্ছে। সবাই সুবিধে খুজছে।
যখন কাশিম আলিকে নবাব করেছিলে, খােজা পিস্ দেখল
নবাবের পক্ষে সায় দেওয়াই সুবিধে, সেই পক্ষেই সে গেল।
আবার একটা গােলমাল বাধলেই সে আমাদের পক্ষে আসবে।
এডা। ও আমাদের কী কাজে লাগিবে ?
মনিবেগম। গুরগিন খাঁ ওর ভাই। সে কথা ভুলে যাও কেন
সাহেব? ওকে হাত করে আমরা গুরগিনকে হাত করব।
সমস্ত আৰ্মানী সৈন্য হাত ক’ব।
মীরজাফর। তা বােধ হয় হতে পারে।
stattfi Yes, Yes, Blood is thicker than water.
য়্যাডাম। উম কঠা। Governor হাসিবার পূর্বে পিকে
হাপনার কাছে হাজির করিয়া দিটেছে—আপনি টাহাকে কাম
বালাইয়া দিন। Major Carnac, if you will kindly
কার্ণাক। Most gladly.
প্রস্থান
২৪
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরজাফর। তােমরা তো সাহেব আমাকে মসনদ দিতে চাইছ
তােমাদের গভর্ণর ভ্যান্সিটাট সাহেব যে বেঁকে ব’বে।
মনিবেগম। আসে ওঁরা বুঝবেন। তুমি ভাবছ কেন?
য়্যাডা। বেগম সাহেবা ঠিক বা বলিয়াছেন। হামরা
Majority হাছে—I mean, ডলে ভারী হাছে। গভর্ণরকে
Outvote করিব।
কেন করিব জানেন ? মীরকাশিম
ভ্যান্সিটার্ট সাহেবকে খাটির করিল-হামাদের রম্ভা ডেথাইল।
হাপনি আমাদের পেট ভরাইবেন—হাপনার ভি পেটভরিবে-
মনিবেগম। এই সােজা কথাটা তুমি কেন বুঝছ না আমি বুঝতে
পারছি না।
পি-সহ কার্ণাকের প্রবেশ
য়্যাডা। খােজা পিস্ টোমার ফঁাসী।
পিস্। ফাসী হইবে—Father Abraham ! হামি কি দোষ
করিলাে ! what these Christians are! হামার কোন
ডােষ নাই, ফাসী কেন হইবে? what have I done ?
য়্যাডা। টুমি নবাব মীরকাশিমের হাদমী হাছে--spy হাছে
A dog of a spy !
পিস্। টুমাদের গভর্ণর ভ্যান্সিটার্ট হামাকে মীরকাশিমের কাজ
করিটে বােলিল হামি মীরকাশিমের কাম করিলাে। উহাটে
হামার কি ডােষ হইল? Tell me that ! ডােষ হইলে
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
Vansittart কে পহিলে ঝুলাও-পিছে হামাকে ঝুলাও ;
হামরা এক সাথে ঝুলিবে। কুছু ভুখু নাই।
য়্যাডা। হামরা নবাব মীরকাশিমের বডলে মীরজাফর খাকে
নবাব করিল—
পিস্। Very goodবহুট আচ্ছা—হামিভি মীরকাশিমকে
ছছাড়িয়ে নবাব মীরজাফরের কাম করিবে। Sure.
য়্যাডা। Right you are ! মনিবেগমের অনুরােধে হামরা
টোমাকে pardon করিটে পারে-
পিস। মনিবেগম জিন্দাবাদ !
মনিবেগম। খােজা পি! গুরগিন খা তােমার ভাই ?
পিস। ভাইভি আছে—ভাই না ভি আছে।
মনিবেগম। ভাই! আবার ভাই না! মানে ?
পিস্। হামাকে যখন খাটির করিবে—টথন ভাই হাছে,
by all means; যখন করিবে নাটখন ভুষমণ হাছে—
Sure enough
মনিবেগম। এখন কি আছে ?
পিস্। এখন কি হাছে এখন হামি কি করিয়া বলিবে ?
ঘড়ি ঘড়ি টুমাদের মেজাজ রডলাইয়া যায় উহারভি
হামারভি। We
We are always changing, aren't
হামরা সব রােজগার করিটে হাসিয়াছে, my
friends.
we?
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মনিবেগম। তুমি আমাদের পক্ষে আছ ?
পিস্। হালবাট হাছে। যে হামাকে পুষিবে—আমি টাহার
পােষা কুট্টা হাছে।
য়্যাডাম। মীরকাশিমভি পুষিটেছে—
পিস্। ডাল ভাট ডিয়া পুষিটেছে। বেগমসাহেবা হামাকে
ঘিউ ভাট ডিয়া পুষিবেন !
মনিবেগম। নিশ্চয়। পিস্, গুরগিনকে হাত করতে হবে।
পি। টাকা ছছাড়িলে হাট হইবে টাকা না ছড়িলে বেহাট
হইবে। হামার Father বলিয়া গিয়াছে।
য়্যাডাম্স। কি বলিয়া গিয়াছে ?
পি। মরিবার সময় old man কিছু রাখিয়া যাইটে পারিল না
—কেবল এই বুদ্ধিটা উইল করিয়া দিল : পিস্! গুরগিন !
বেগর রূপেয়াকাহারও সাঠ বা কহিবি না!•••তামরা
কি করিবে।
যাডা। ডেথ এ কামটা পাকা করিয়া করিটে পারিলে হামি
গভর্ণরকে বলিয়া টোমাকে খালাস করিয়া ডিবে ।
মনিবেগম। আর আমি তােমাকে প্রচুর অর্থ দেব।
পিস্। ঠিক হইল। যেই ডিন পিস্ টাকা পাইবে ওই
ডিন পি কাজে লাগিয়া যাইবে; your faithful
servant from that day onward. fanentfoy
বৃট্য হইবে।
২৭
দ্বিতীয় অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য TUTTI I All right-you wait outsidc-obya atat ঠারাে-বাগাে মন্টু। পিস্। টাকা না লইয়া বাগিবে সে বাণ্ডা হামি না হাছে। প্রস্থান ভ্যান্সিটার্ট ও হেষ্টিংস প্রবেশ করিল ont GTB Good morning, Ex-Nawab. fata stafa কারবালা যাইটে চাহিয়াছেন। সে খুব ভাল কঠা হাছে। বুড়া হইয়াছেন, এখন ঢৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম না করিলে উদ্ধার হইবেন কিরূপে? মীরজাফর। হঁা, সাহেব তাই কর—আমায় কারবালায় পাঠিয়ে দাও। লক্ষ লক্ষ টাকা এই হাতে তােমাদের দিয়েছি। তােমরা যথেচ্ছা খেয়েছ, পরেছ, কুড়িয়ে দেশে নিয়ে গেছ- বেইমানের তুলনা দিতে মীরজাফরের নাম ছাড়া অন্য নাম কেউ জানেনা--সেই আমি--আমার মাসিক ভাতা—আজ দু’হাজার টাকা। ভ্যান্সিটার্ট। টা হামরা কি করিব—হাপনি হামাদের ডেনা শােঢ় করিটে পারিলেন না—হাপনাকে সুবেডারী হইটে সাইটে হইল। হাপনার ভাটা হাপনারই জামাটা বণ্ডবস্ট করিয়া ডিয়াছেন। এখন হামরা নবাব মীরকাশিম আলির মট না লইয়া আপনার ভাটা বাড়াইটে পারে না। ২৮
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরজাফর। কাশিম আলি, কাশিম আলি-বড় বিশ্বাস করে
তাকে আমার প্রতিনিধি করেছিলুম—তার প্রতিদানে আমাকে
নবাবী থেকে বরতরফ করে সে আজ নবাব—আর আমি তার
অনুগ্রহপ্রার্থী—বেইমান! বিশ্বাসঘাতক।
মনিবেগম। সাহেব, তােমরা কি এখনাে মনে কর কাশিম
আলি তােমাদের বন্ধু? তাকে দিয়ে তােমরা তােমাদের
বাণিজ্যের সুবিধা করিয়ে নেবে ? সে তোমাদের দেনা শােধ
করেছে—কেন তা জান ?
ভ্যান্সিটার্ট। কোম্পানীর টাকা কোম্পানী পাইয়াছে আউর কিছু
জানিবার কাম হামাদের নাই। হামরা বাণিজ্য করিটে
হাসিয়াছে—বাণিজ্য করিটে পারিলেই হামরা খুসী ঠাকিবে।
মনিবেগম। মীরকাশিমের রাজত্বে আর সে আশা করােনা সাহেব।
বাণিজ্যের সুযােগ তাে পাবেই না—এ দেশে বাস করতে পার
কিনা তাও সন্দেহ।
ম্যাডা। Right-বেগম ঠিক বা বলিটেছেন। হামরাই
উহাকে নবাবী ডিয়াছে, এখন ও হামাডের দুষমণ হইয়াছে
ont 1016 We should have adhered to the Treaty
of Monghyr.
যাডা। আপনি উহাকে সন্ধি বলিটে চান—what do
you mean. হামাডের বাণিজ্যের কট ক্ষটি হইল।
কাণাক। বিনা শুল্কে বাণিজ্য করিবার অটিকার কোম্পানীর
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নােকডের আছে। That has been decided by the
majority in the council.
য়্যাডা। Ex-Nawab হাপনি ডুঃখ করিবেন না। অমিয়ট
হার হে সাহেবকে দূট করিয়া হামরা মুঙ্গেরে পাঠাইয়াছি।
টাহারা ফিরিয়া আসিলেই ঐ দুষমণকে এক ডফে হামরা
ডেখিয়া লইব। হামরা বাণিজ্য করিটে এ দেশে হাসিয়াছে
বাণিজের ক্ষটি হামরা সহিটে পারেনা।
মনিবেগম। আর কি দেখবে সাহেব! কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলবে
বলে সব গােরা আদমিদের মীরকাশিম তার সেনানায়ক
গােলন্দাজ করেছে। মুর্শিদাবাদে তােমাদের চোখের ওপর
না থেকে মুঙ্গেরে বসে সল্লা-পরামর্শ চলছে। যাতে আর
বেইমানি করতে না পারে তাই জগৎশেঠ, রাজবল্লভ,
রায়দুর্লভ, সকলকে মুঙ্গেরে আটক রেখেছে। এখনও
তােমাদের গভর্ণর মনে করেন, মীরকাশিমের রাজত্বে কোম্পানী
সুখে বাণিজ্য করবেন ?
কাণাক। Begam describes our position very clearly.
ম্যাডাম্স। ডেখিটেছি স্ত্রী জাটি হইয়াও ডেশের হালচাল আপনি
ভাল বুঝিয়াছেন। অমিয়ট হার হে সাহেব মারফট্ হামরা
যে প্রস্টাব পাঠাইয়াছি টাহাটে সম্মট না হইলে হামরা
নবাবকে আক্রমণ করিব।
ভ্যান্সিটার্ট । But that will not be fair,
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
tutti Why, please?
ভ্যান্সিটার্ট। Because নবাবের অটিকারে হস্টক্ষেপ না করিলে
হামাদের সাঠে ঝগড়া করিবার কোন মটলব মীরকাশিমের
নাই।
ম্যাডাম্। But he has done it,
tot?! He had no business to abolish the duty
on inland-trade.
ম্যাডা। টাহার প্রজাডের কেন কোম্পানীর সমান করিয়া
বাণিজ্যের সুযােগ ডিল? কোন এক্টিয়ার নাই।
নন্দকুমার। এইবার আপনি কিছু বলুন।
মীরজাফর। গভর্ণর সাহেব কি বলছেন ?
য়্যাডাম। গভর্ণর সাহেব বলিটে চান ডেশ হইটে বাণিজ্যের
শুল্কটা একেবারে টুলিয়া ডিল-কালা গােরা সব এক
করিয়া ডিলটঠাপি নবাব মীরকাশিম---আমাদের দুষমণ নয়।
মীরজাফর। বরাৎ সাহেব, আমাদের বরাৎ। কোম্পানীর জন্যে এত
করেও আজ আমি রাজ্যচ্যুত—আর কোম্পানীর সঙ্গে দুষমণি
করেও মীরকাশিম আজ বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সুবেদার ।
SI The Nawab is surely within his rights
to abolish trade-duty in his own territory.
shfHTE I Can we produce a single instance of his
molesting us in a single article of commerce ?
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মনিবেগম। সাহেব নিশ্চয়ই কাশিম আলির পক্ষে ওকালতি
ম্যাডাম। সলপিটার সম্বন্ধে এলিস সাহেব যে complain
করিয়াছে, উহার কি হইল ?
OSTAGE I But those are aggravated complaints.
মনিবেগম। গভর্ণর সাহেব কাশিম আলির জন্য এ ওকালতি কেন
ক’রছেন, আপনারা না জানলেও আমরা জানি
কার্ণাক। হামরাও কিঞ্চিৎ জানি। অমিয়ট উহা নােট
করিয়া রাখিয়াছে।
হেষ্টিংস। What do you mean?
#tofte i I mean what I say. It is believed
হেষ্টিংস। Believed what?
Ptt I That Mr. Vansittart got seven lakhs by
his visit to Monghyr.
ভ্যান্সিটার্ট। what!
য়্যাডাম্স্। And that's a good fee for any placable
advocate.
হেষ্টিংস। Withdraw, otherwise
য়্যাডাম এবং কার্ণাক। Rather we would repeat.
নন্দকুমার। এদের দেশেও দেখছি হিন্দু মুসলমান আছে !
ভ্যান্সিটার্ট । Order! Order ! we are looking very
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
small before the Lady. Don't you see they are
smiling in their sleeves ?
মনিবেগম।
যে-বাণিজ্যের সুখ-সুবিধের জন্য আজ এই
মারামারি
হেষ্টিংস। মারামারি বলিবেন না-বলুন heated discussion---
টীব্র হালােচনা।
মনিবেগম। হাঁ হ—আলােচনা-আললাচনাই বটে। তা এ
সুখ-সুবিধে চাইলে কি আমরাই দিতে পারতাম না ?
ম্যাডাম। Of course ! আপনি ঠিক বলিয়াছেন, মীরজাফর
খা বরাবর হামাদের সাঠে দোস্তি রাখিয়া কাম করিটেছে।
কার্ণাক। টঠাপি Governor টাহাকে মসনড হইটে হাটাইয়া
ডিলেন।
একজন সিপাহীর প্রবেশ
সিপাই। হে সাহেব !
সকলে।
Mr. Hay !
কয়েকজন। And Mr. Amiyatt ?
হের প্রবেশ
Patna
factory
I Amiyatt murdered!
demolished
৩৩
দ্বিতীয় অঞ্জ মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য ভ্যান্সিটার্ট ও হেষ্টিংস ব্যতীত 79649 War! War! Revenge ! Revenge ! হে। জার্মান সমরু-হামাদের এলিস হার পাটনায় যাহারা সব হাছে—সকলকে হাটক করিয়াছে। 7767 I War! War ! Let us march at once Cyfütt i But Ellis andi hundreds of our people are at Nawab's mercy. হেষ্টিংস। !ind you, নবাব সংবাড পাইলে সকলকে কোটল করিবে। কাহাকেও উদ্ধার করিটে পারিবে না। Will that be desirable ? য়্যাডা। টাপি হামি লােক ভয় পাইবে না। মীরকাশিমকে মসনড হইটে সরাইটে হইবে । utfooti All right! We dethrone Mircosim from the masnad of Murshidabad and nominate সকলে। Our old ally and friend- ম্যাডাম। মীরমহম্মদ জাফর আলি খান বাহাদুর। ভ্যান্সিটার্ট। Very well, মীরমহম্মদ জাফর আলি খান বাহাদুর । এটকাল হামি নবাব মীরকাশিমের কোন ডােষ দেখিটে পাই নাই; কিন্ট জানিবেন যে ইংরেজ-রক্ট যে পাট করিবে, সে ডুনিয়ার দুষমণ, সেরা শয়টান। হামি এটকাল টাহার বন্ধু ছিলাম । কিন্ট, সে যখন আমার স্বজাটিকে ৩৪
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মারিয়াছে—সে হামার জাটির দুষমণ-হামার দুষমণ
হামরা হাজ হইটে টাহকে নবাবী হইটে বরখাস্ট
করিলাে।
সকলে। Hear! Hear!
ভ্যান্সিটার্ট। এখন হামরা-হামাদের সর্টের খসড়া দিটেছি--
মীরজাফর খা রাজী হইয়া সহি করিলেই হামরা আবার. উহাকে
নবাব বলিয়া সেলাম করিব।
মনিবেগম। নতুন করে খসড়া আবার কি দেবে সাহেব ? উনি
তােমাদের সব সৰ্ত্তে রাজী ছিলেন—এখনও থাকবেন।
মীরজাফর। তােমাদের অনুগ্রহের ওপরেই যখন সব নির্ভর, তখন
নবাব হলেও আমাকে তােমাদেরই গােলাম বলে জানবে
সাহেব। বিনা দোষে এই গােলামের নবাবী তােমরা কেড়ে
নিয়েছিলে
য়্যাডাম। হাবার ডিতেছি—
কাক। আবার যাহাটে কাড়িটে না হয় আপনি সেই ভাবে
কাৰ্য্য করিবেন । টাহা হইলে হাপনি যটকাল বাঁচিয়া
ঠাকিবেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব ঠাকিবেন।
য়্যাডা। হাসুন -নবাব হইয়া এবার যুদ্ধের বণ্ডবষ্ট করুন—
টঙ্কার বণ্ডবষ্ট করুন।
কাণাক। নবাবী করিবেন-টঙ্কার বণ্ডবষ্ট করিবেন না ?
নীরজাফর। বেগম !
৩৫
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মনিবেগম। আমি দেব। যত তঙ্কা লাগে আমি দেব। ছিলাম
নর্তকী—দয়া করে মীরজাফর আমায় বেগম করেছিলেন।
সকলে আমায় বেগম বলেছে,বলেনি শুধু একজন। জানাে
সাহেব সে কে ?
ম্যাডাম। মীরকাশিম ?
মনিবেগম। মীরকাশিম নয়—মীরকাশিমের বেগম। মীরকাশিম
আমার সঙ্গে বেইমানি করেছে—আর তার বেগম করেছে
প্রকাশ্যে আমার অপমান। আমার সমস্ত অলঙ্কার বিক্রয়
করেও যদি তােমাদের যুদ্ধের খরচ জোগাতে হয় তাই জোগাব
-কিন্তু বন্দী মীরকাশিমকে আমি উপহার চাই—আর সেই
সঙ্গে চাই তার বেগম।
সাহেবগণ। Right O! Now Governor!
ভ্যান্সিটার্ট। Let Adams take charge of the Army
and capture Murshidabad. On account
should Mircosim be allowed to sit again on
the throne of Bengal-অমিয়টকে হট্যা করিয়াছে,
পাটনার ফ্যাক্টরী ধ্বংস করিয়াছে, এলিস সাহেব আর সব
সাহেব-লােকডের কয়েড করিয়াছে—শয়ান মীরকাশিমকে
এমন সাজা ডিব সারা বাংলা দেশটা কঁপিয়া উঠিবে।
tota foi Hear! Hear!
no
দ্বিতীয় দৃশ্য মুঙ্গের দুর্গে মন্ত্রণাগার জগৎশেঠ, মহাতাবাদ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, পিস, নজাফ খাঁ ইত্যাদি সকলে দুই তিন দলে বসিয়া কথা কহিতেছেন রাজবল্লভ। তা হলে কাটোয়া গিরিয়া দুই জায়গায়ই নবাব প্যাল হয়েছেন- জগৎশেঠ। ভগবান মুখ রেখেছেন—ভাগ্যে আমরা সব নবাবের চোখের ওপর আছি, নইলে আমরাই বদনামের ভাগী হতাম। রায়দুর্লভ। বলা যায় না, আমরা সব ছাই ফেলতে ভাঙা কুলাে, বাম দিলেই হল। পিস্। হামার সবই সমান-নবাব বলেন, হামি ডুষমণ হাছে- কোম্পানী ভি বলে হামি ডুষমণ হাছে—টাই আমাকে এটডিন আটক করিয়া রাখিয়াছিল। পুরানা নবাব মীরজাফর ভি বলে হামি ডুষমন হাছেলেকেন, হ মনিবেগম বলে, আমি কাজের লােক হাছে। মেহেরবানি করিয়া হামাকে ছােড়াইয়া ডিয়াছে। ৩৭
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
রাজবল্লভ। তা হলে মনিবেগমের সঙ্গে—খােজাসাহেবের দেখা
শােনা হচ্ছে।
পিস্। টা কাম করিটে হইলে ডেখা করিটেই হইবে। হামাকে
মনিবেগমের কাছে ভি যাইতে হয়—ভাইয়ের কাছে ভি
হাসিটে হয়। হামি কাজের লােক হাছে—কাজ করিয়া
টো খাইটে হইবে । আবার Father-এর একটা উইল ভি
হাছে। ভাইয়ের সহিট উহার হালােচনা ভি হাছে।
গুরগিনখার প্রবেশ
গুরগিন খা। Look here পিস, হামি পসন্দ করিনা-টুমি
একডফে এ টরফ এক ডফে ও টরফ যানা-আনা কর ! তােমার
সে মটলব হইলে হামাকে ছুটি কর ভাই। Don't come
to me any more; হামার কাছে হাসিও না। এখন
হামি নবাবের General হাছে, যে হাডমী ডু-টরফ আনা-না
করে—হামি টাহার সাঠে বাটু করিটে পারে না।
No, Never.
পিস্। নবাবের General হাছে—ওটো ঠিক হছে, লেকেন
হামি ভি টো ভাই হাছেyou can't deny that,
can you? ভাই কেমন আছে, কেমন রােজগার
করিটেছে, নবাব কেমন বিসওয়াস করে, Father-এর
উইলটার কি হইবে—এ সব খবর ভি ভাইকে করিটে হয়।
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
গুরগিন খ। Noyou needn't-টোমার কিছু করিটে
হােবে না। আমাদের মন বহু খারাপ হছে বার বার
হামাডের defeat হইটেছে—ইহার একটা বণ্ডবস্ট না করিলে
হামরা ঠিক হইটে পারিটেছে না।
পিস্। আচ্ছা ভাই, তুমি ঠাক, হামি যাইতেছে। লেকেন
ভাই টোমার দুষমন নয়—এটা ইয়াড রাখাে।
আরাব খার প্রবেশ ; তাহার হাতে লাল ইস্তাহার
আরাব খাঁ। দেখেছেন শেঠজি—
জগৎশেঠ, আরাব খ, নিবিষ্টচিত্তে ইস্তাহার দেখিতে লাগিল
গুরগিন খাঁ। কি খা-সাহেব আপনারা এক সাঠ হইয়া কি
পড়িটেছেন ?
আরাব খাঁ। কোম্পানীর ইস্তাহার--
গুরগিন খ। কি ইষ্টাহার ?
আরাব খাঁ। ( পাঠ) নবাব মীর মহম্মদ কাশিম আলি খা ইংরাজ
জাতির বিরুদ্ধে এবং ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর স্বার্থের বিরুদ্ধে
প্রকাশ্য শত্রুতা করায় এবং করিতে থাকায়
নজাফ খাঁ। মিথ্যা কথা। একেবারে মিথ্যা। পাটনা ফ্যাক্টরীর
এলিস প্রকাশ্য শত্রুতা সুরু করে—পাটনা দখল করে--নিরীহ
অধিবাসীদের হত্যা করে
রায়দুর্লভ। ও প্রতিবাদ এখানে না করে কোম্পানীর কাছে
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
গিয়ে করুন— আরাব খাকে) পড়ন খাঁ-সাহেব। সব শুনে
রাখা ভাল।
আরাব খা। ( পাঠ) আমরা ইংরাজ জাতির এবং ইষ্ট ইণ্ডিয়া
কোম্পানীর পক্ষ হইতে উক্ত নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা করিতে
বাধ্য হইতেছি এবং মীর মহম্মদ জাফর আলি খাঁ বাহাদুরকে
বাংলা-বিহার এবং উড়িষ্যার নবাব স্বীকার করিয়া ঘােষণ.
করিতেছি-
মীরকাশিম প্রবেশমুখেই ঐ ঘােষণা শুনিতে পাইয়া চমকিয়া উঠিলেন।
দেহরক্ষীর হাত হইতে তরবারি লইয়া বলিলেন...
মীরকাশিম। বটে! তােমরা তােমরাই মীরজাফরকে
গুরগিন খাঁ। নবাব বাহাডুরের ভুল হইয়াছে। উহা ইহার
ঘােষণা করিটেছে না—কোম্পানী করিটেছে-
আরাব খাঁ। কোম্পানীর ইস্তাহার বিলি হচ্ছে।
নজাফ খাঁ। কিন্তু কে বিলি করছে ?
আরাব খাঁ। জানা যাচ্ছে না অথচ খুব বিলি হচ্ছে।
মীরকাশিম। হু, ‘জানা যাচ্ছে না অথচ খুব বিলি হচ্ছে।
হু! মীরজাফর নবাব ঘােষিত হলেন। তারপর মীরকাশিম
কি হল ?
আরাব খাঁ। জনাব কি আমাকে এই অশিষ্ট ইস্তাহার জনাবের
সম্মুখেই পাঠের জন্য আদেশ করছেন?
৪ ০
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
মীরকাশিম। মীরকাশিমের কি হবে জান্ধ না ! ইস্তাহারে কি
লিখছে পড়।
আরাব খা। (পাঠ) “আমরা এতদ্বারা আমাদের অধীনস্থ সকল
প্রকারের লােকদের নিকট এই দাবী করি এবং অন্যান্য কর্মচারী
ও দেশবাসীর নিকট এই নিমন্ত্রণ পাঠাই যে, তাহারা যেন মীর
মহম্মদ জাফর আলি খাঁ বাহাদুরের পতাকাতলে সমবেত হইয়া
উক্ত কাশিম আলি খার.........উঃ, জনাব ! আর আমি
পড়তে পারছিনা।
মীরকাশিম। পড়তেই পা’বৃছ না! কেন? আমার মানহানি
হবে ? তার কি কিছু বাকী আছে, আরাব খা? তুমি পড়,
আমি শুনি
আরাব খা। (পাঠ) উক্ত কাশিম আলি খাঁর দুষ্ট বুদ্ধি সমূহকে
পরাভূত করিয়া উক্ত মীর মহম্মদ জাফর আলি খাঁ বাহাদুরকে
সুবেদারিতে সুপ্ৰতিষ্ঠ করিবেন••••••
মীরকাশিম। এই নিমন্ত্রণ তােমাদের কাছে এসেছে। তা তােমরা
কি করবে ঠিক করলে? নিমন্ত্রণ এসেছে-
গুরগিন খা। হানি এই ইষ্টাহার Bonfire করিবে। উহাৱা
মুঙ্গেরের ড়িকে আসিটেছে—উডয়নালায় হামি উহাডের ডেখিয়া
লইবে। ডেখিবেন নবাব !
নজাফ খাঁ। থামাে সাহেব, আর বড়াই করাে না। কাটোয়া
গিরিয়ায় তােমাদের বীরত্বের যে নিদর্শন দেখিয়েছ—তাতে
৪১
দ্বিতীয় অঙ্ক মীরকাশিম দ্বিতীয় দৃশ্য আর ‘কোম্পানীকে দেখে নেবে’এ-কথা তােমার মুখে খাটেন। উদয়নালায় যা হবে তা জানি। গুরগিন খা। মানহানি সূচক কঠা কহিবেন না। I demand... টোমার মনে কি খুলিয়া বল— নজাফ খা। ঘঁা, ব’লব। তােমরা নবাবের বেতন-ভােগী সৈনিক বৈ তাে আর কিছু নও। চাকরী বজায় রাখতে হবে তাই তােমরা যুদ্ধ ক’বৃছ। এ যুদ্ধ তােমাদের জীবন-মরণ সমস্যা নয়। তা যদি হত, তবে গিরিয়ায় কাটোয়ায় এ লাঞ্ছনা আমাদের হতনা। সুতীতে ইংরেজ হেরে গিয়েছিল, তাদের দুর্দশা দেখে তােমার দুইশত গােরা-গােলাজের প্রাণ কেঁদে উঠল। ইংরেজরা তাদের যেই ডেকে বলল—আমরাও গােরা, তােমরাও গােরা, আমরা ইয়ােররাপের ভাই—অমনি তােমার দুইশ’ গােলন্দাজ তাদের পক্ষে গিয়ে যােগ দিল। তোমরা যুদ্ধ ক’ছ দেশের জন্য নয়—তােমরা যুদ্ধ করছ “তঙ্কার” জন্য। আমি মিথ্যা বলছি গুরগিন খাঁ ? গুরগিন খাঁ। টাহারা rebels—বিদ্রোহী। হামার ডেশের লােক বলিয়া টাহাদের হামি ছাড়িব না—ঢরা পড়িলে টাহারা হানার হাটে কুট্টার মটো মরিবে। I will shoot them_like dogs ; কিন্ট, বংগালী হইয়া যাহারা বংগলার সর্বনাশ করিল—ডেশী-লােক হইয়া যাহারা ডেশকে ডুবাইল যাহারা স্বডেশের স্বাটীনতা বিডেশীর হাটে টুলিয়া দিল- ৪২
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
টাহাদের কি সাজা হইবে বলিবে কি ?-কাটোয়ায়
টকী খাঁ যুদ্ধে জিটিয়া যাইটেছে—ইংরাজ পলাইটেছে—এমন
সময় নবাবের ফৌজলার সৈয়ড মহম্মড খা বেইমানি করিয়া
সৈন্যডের হটাইয়া লইল। টকী খাঁ হারিয়া গেল-মরিয়া
গেল। গিরিয়ায় ইংরেজ পলাইটে লাগিল—শের আলি
টাহাদের ডাকিয়া আনিয়া জিটাইয়া দিল। কোনাে ডেশে
এমন কেহ ডেখে নাই। ইহাড়ের কি সাজা হইবে হামি ভাবিয়া
পাইনা। টুমি বলিয়া ডিবে কি?
মীরকাশিম। কি শাস্তি হবে শুবে গুরগিন খা?--আমি বলতে
পারছি না, ভয়ে শিউরে উঠছি। এ শাস্তি এক জন্মে শেষ
হবে না—এক জীবনে শেষ হবে না-এক যুগে শেষ হবে
-একার শান্তিও এ নয়-এ শাস্তি ভােগ করতে
হবে যুগে যুগে বংশ পরম্পরায়। যা সে কথা।
গুরগিন খ, উদয়নালায় আমাদের শেষ চেষ্টা—আমি
নিজে বাব।
গুরগিন খা। আপনি যাবেন সেটা আনণ্ডের কথা। কিন্ট,
নবাব, হাপনার মূল্যবান জীবন-একটা গুলির উপর ছাড়িয়া
ডেওয়া উচিটু হইবে কি? কাটোয়ায় হার হইল—গিরিয়ায়
হার হইল—টবু নবাব হাছেন বলিয়া হামরা খাড়া হাছি—
টাকা মিলিটেছে, লােক-জন মিলিটেছে—কাজ যেমন চলিটে-
ছিল, টেমনি চলিটেছে।
৪৩
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
রায়দুর্লভ। গুরগিন খাঁ ঠিক বলেছেন, নবাবের মূল্যবান জীবন
বিপন্ন করা কোন কাজের কথা নয়।
রাজবল্লভ। আমারও ঐ কথা।
জগৎশেঠ। না জনাব, যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়াটা সমীচিন হবে না।
মীরকাশিম। কিন্তু তকী খাঁর সেই শােচনীয় মৃত্যু
গুরগিন খাঁ। টকী মরিয়াছে—হামি খাড়া আছি। আমি মরিলে
সমরু খাড়া হইবে। লড়াই হাছে-হার-জিত হাছে-নবাব
খাড়া ঠাকিলে সবই খাড়া রহিল। নবাব গেলে সবই গেল !
মীরকাশিম। বেশ ! গুরগিন, আমি যাব না—উদয়নালার সম্পূর্ণ
ভার তােমাকেই দিলাম। উদয়নালাতেই আমার ভাগ্য-নির্ণয়
হবে। জগৎশেঠ, মহাতাপাদ, রাজা রায়দুর্লভ, রাজা
রাজবল্লভ আপনারা যেমন নবাবের জীবন মূল্যবান জ্ঞান
করেন—আপনাদের নবাবও আপনাদের জীবন সেইরূপই
মূল্যবান মনে করেন। উদয়নালার যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত
আপনারা সপরিবারে দুর্গ-মধ্যেই অবস্থান করবেন—এই আমার
অভিপ্রায়।
রাজবল্লভ। নবাবের আজ্ঞা শিরােধার্য্য।
মীরকাশিম। বেশ, আপনারা যান—নিরাপদে থাকবার জন্য দুর্গে
আসবার ব্যবস্থা করুন।
পরম উদ্বেগের সঙ্গে জগৎশেঠ, রাজবল্লভ ও
রায়দুর্লভের প্রস্থান
৪ ৪
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
মীরকাশিম। গুরগিন, তুমি সামান্য অবস্থায় জীবন যাপন
গুরগিন খাঁ। সে হামার মনে আছে, জনাব। গজ মাপিয়া কাপড়
বেচিতাম—
মীরকাশিম। সেই অবস্থা থেকে তােমায় আমি আমার সেনাপতি-
পদে তুলেছি—ধন, মান, অর্থ, প্রতিপত্তি--আমি তােমায় সব
দিয়েছি—সব থেকে বড় কথা গুরগিন, তােমার ওপর আমার
আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে-
গুরগিন খা। এ সব কঠা কহিয়া নবাব হামাকে লজ্জা দিড়েছেন।
মীরকাশিম। বিশ্বাসঘাতকতা দেখে দেখে আমার মন অবিশ্বাসী
হয়ে উঠেছে—আমাকে ক্ষমা করাে। মনে রেখাে, একটা
দেশের, একটা জাতির স্বাধীনতা—আজ তােমার ওপর নির্ভর
করছে। দুর্ভেদ্য উদয়নালায় আমার যে সৈন্য-সমাবেশ হয়েছে,
তাতে আমাকে পরাজিত করতে পারে এমন শক্তি ইংরেজের
নেই কারাে নেই। উদয়নালা আমার জীবনের পরম সাধনা
চরম রচনা !
গুরগিন। হামিটার ভার লইলাম, জনাব ! কি করি দেখিয়া
লইবেন। Good bye!
মীরকাশিম। এসাে।
গুরগিন খার প্রস্থান
৪৫
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
মীরকাশিম। আরাব আলি ! প্রতিপক্ষ যদি তােমাকে উৎকোচ
দিতে চায়—কত উৎকোচ দিতে পারে ?
আরাব আলি। জনাব! জনাব !
মীরকাশিম। খুব বেশী হলে, এক লক্ষ ? দু’লক্ষ ? আমি তােমায়
সমগ্র মুঙ্গের অর্পণ করছি-বিশ্বাসঘাতকতা করাে না।
তাতেও যদি তৃপ্ত না হও—তুমি কি চাও বল, অসঙ্কোচে বল,
কিন্তু বেইমানি—বেইমানি ক'রাে না আরব আলি! নিজের
ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটা স্বাধীন জাতিকে একটা স্বাধীন
দেশকে বিদেশীর কাছে বিক্রয় করােনা। বল করবে না ?
আরাব আলি। দাসকে অনর্থক সন্দেহ করে লজ্জা দিচ্ছেন
জনাব ! মুঙ্গের দুর্গের জন্য নবাব নিশ্চিন্ত থাকুন।
মীরকাশিম। তরবারী স্পর্শ করে শপথ কর ইমান রাখবে।
আরাব আলি। নিশ্চয় ! এই তরবারী স্পর্শ করে শপথ করছি
ইমান রাখব।
মীরকাশিম। নিশ্চিন্ত হলাম। যাও, আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হও।
আরাব আলির প্রস্থান
মীরকাশিম। নজাফ! দেশের—জাতির—আজ চরম মুহূর্ত।
শপথ কর নজাফ খা—
নজা খা। না জনাব! যদি আমি সত্যই বেইমান হই,
শপথের মূল্য কি? নবাব ! এ দেশ শুধু আপনার নয়,
আমারও।
৪৬
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
মীরকাশিম। নজাফ! নজাফ। আর মাত্র একজনের কাছে
আমি এ কথা শুনেছিলাম সে আজ নেই, দেশের জন্য
প্রাণ বলি দিয়েছে।
নজাফ খাঁ। তকী খা?
মীরকাশিম। তকী খাঁ ! তকী খা! নজাফ! বন্ধু! তুমি
কি ভার নেবে আজ ?
নজাফ খাঁ। যুদ্ধের ভার নয়। নবাবের যা সৈন্যবল, অস্ত্রবল
—নবাবের যেরূপ দুর্ভেদ্য দুর্গ—তাতে মীরজাফর এবং
কোম্পানীর সঙ্গে যুদ্ধের কোন প্রশ্নই ওঠেনা।
মীরকাশিম। কিন্তু তারাই জিতছে!
নজাফ খা। কিন্তু তারাই জিতছে! বিবেচনা করে দেখুন, কেন
জিতছে ?
মীরকাশিম। আমাদেরই বেইমানিতে!
নজাফ খা। আমাদেরই বেইমানিতে। আমি ভার নিলাম,
জনাব—এই সব বেইমানদের কুকুরের মতো গুলি করে
মারবার। যদি সব বেইমানদের চিনতে পারতাম, মারতে
পারতাম--যুদ্ধই হ’তে না ; আজ কোম্পানী এসে নতজানু
হয়ে নবাবকে কুর্ণিশ করত।
মীরকাশিম। সত্য—অতি সত্য। কিন্তু তাদের সব সময় চিনে
উঠতে পারি কই ? তবু যাদের পেরেছি—জগৎশেঠ
রায়দুর্লভ রামনারায়ণ—রাজবল্লভ! মুঙ্গেরে তাদের নজরবন্দী
৪৭
দ্বিতীয় অঙ্ক মীরকাশিম দ্বিতীয় দৃশ্য করে রেখেছি—সন্দেহ হচ্ছে: মীরজাফর তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে•••রাজদ্রোহিতা করছে কিন্তু•••না—এখনো অকাট্য প্রমাণ পাইনি—আমি অবিচার করবাে না। ফতেমার প্রবেশ ফতেমা। অকট্য প্রমাণ যার সম্বন্ধে পেয়েছেন, তার কি শান্তি, জনাব ? মীরকাশিম। বেগম ! নজাফ খাঁর প্রস্থান ফতেমা। নবাবের বেগম এ পরিচয়ে আমি দরবারে আসিনি। আজ আমার পরিচয়—আমি বাংলার এক পুরনারী, বাংলার এক প্রজা। নবাব-দরবারে আমার অভিযােগ আছে। মীরকাশিম। অভিযােগ ! কার বিরুদ্ধে ? 'ফতেমা। নবাবের আর এক প্রজা রাজদ্রোহ করেছে। তার বিদ্রোহের ফলে রাজ্যের শান্তিভঙ্গ হয়েছে, অগণ্য প্রজার ধন- প্রাণ বিপন্ন হয়েছে-প্রমাণ এই ইস্তাহার! রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা করা বা যুদ্ধের সহায়তা করার শাস্তি প্রাণদণ্ড। অভিযােগ প্রমাণিত। নবাব, দণ্ড-ঘােষণা করুন। মীরকাশিম। ফতেমা ! ফতেমা। বেগমের পিতা ব'লে, দেশের আইনের উর্দ্ধে নন। নবাব তার দণ্ড-বিধান করুন ! ৪৮
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
মীরকাশিন। আইনের উর্দ্ধে তিনি নন—কিন্তু আজ তিনি
নবাবের আয়ত্তের বাইরে।
ফতেমা। আয়ত্তের বাইরে যারা, তাদের মস্তকের জন্য তাে পুরস্কার
ঘােষণা করা যেতে পারে!
মীরকাশিম। হঠাৎ তুমি এতটা উত্তেজিত হয়ে উঠছ কেন
ফতেমা ?
ফতেমা। ইস্তাহারে কি লেখা আছে, নবাব তা অবগত আছেন ?
মীরকাশিম। মীরকাশিমকে গদী-চ্যুত করে মীরজাফরকে নবাব
ঘােষণা করা হয়েছে।
ফতেমা। তাহলে আপনার সভাসদরা আপনার প্রতি অসীম
করুণায় সম্পূর্ণ ইস্তাহার আপনার সম্মুখে পাঠ করেন নি।
মীরকাশিম। তাই নাকি ! কি সেই অপঠিত অংশ?
ফতেমা। স্পর্ধা এই দুৰ্বত্তদের—নবাবের শিরের জন্য তারা
পুরস্কার ঘােষণা করেছে।
মীরকাশিম। বিদ্রোহীদের পক্ষে সবই সম্ভব ।
ফতেমা। নবাবের শিরের জন্য যদি পুরস্কার ঘোষণা হতে পারে,
তবে নবাব কি বিদ্রোহীর শিরের জন্য পুরস্কার ঘােষণা করতে
পারেন না ? .
মীরকাশিম। তাতে তাে এ যুদ্ধের অবসান হবে না ফতেমা !—যুদ্ধ
ঘােষণা করেছে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী। কিন্তু কোম্পানীকে
সাহায্য করছে একা তােমার পিতা মীরজাফর নয়—সাহায্য
৪৯
৪
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
ক’রছে স্বার্থান্বেষী শত শত মীরজাফর। আজ যদি দেশের
সমস্ত মীরজাফরকে উচ্ছেদ করতে পারতাম! আমার শিরের
কি মূল্য ধার্য হয়েছে ?
ফতেমা। লক্ষ টাকা এবং কোম্পানীর নানাবিধ অনুগ্রহ—চাকরী
খেতাব।
মীরকাশিম। লক্ষ টাকা ! কে দেবেন ? তােমার পিতা ?
ফতেমা। না, ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী। আমি জানি এ টাকা
জোগাবে পিতার সেই নাচওয়ালি বাদী:.......
মীরকাশিম। মনি বেগম। এ সংবাদ তুমি কোথায় পেলে?
ফতেমা। চরমুখে পিতা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে উপদেশ
পাঠিয়েছেন—অজেয় ইংরেজের সঙ্গে বৃথা যুদ্ধ না করে,
আমরা যেন সুবা ছেড়ে পালিয়ে যাই—অন্য কোন নিরাপদ
আশ্রয়ে !
মীরকাশিম। কন্যার বৈধব্য-ভয়-ভীত পিতার উপযুক্ত উপদেশ !
ফতেমা।
।
এ সেই নাচওয়ালীর বুদ্ধি। ভবিষ্যতে যাতে
নজামদ্দৌল্লা নিষ্কণ্টকে সিংহাসনে ব’তে পারে, তাই নবাবকে
বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার বাইরে পাঠানাে একান্ত আবশ্যক।
মীরকাশিন। মনি বেগম ! নাচওয়ালী মনি বেগম ! তুমি তাকে
তােত কখনাে বেগম বলেই সম্বােধন কর নি—তাই তােমাকে
তিনি দেখবেন, তিনি শুধু নবাব-বেগম নন, নবাব-মাতাও
হবেন তিনি।
কে আম ।
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
ফতেমা। এক নাচওয়ালীর পুত্র বাংলার মসনদে ব’বেতা
দেখবার পূর্বে যেন আমাদের মৃত্যু হয়।
বাদীর প্রবেশ
বাদী। বেগম-সাহেবার সাক্ষাৎ-প্রার্থী—এই তার নিদর্শন !
ফতেমা। একি! এযে •••তাকে এখানে নিয়ে আয়।
বাদীর প্রস্থান
এযে পিতার সাঙ্কেতিক অঙ্গুরী ! কে এল?
মীরকাশিম। হয়তাে স্নেহ-কাতর পিতা কন্যাকে কোন গােপন
সংবাদ পাঠিয়েছেন। তাহলে আমার বেগমেরও একটা মন্ত্রগুপ্তি
আছে ! কম তাে নও! মীরজাফরের কন্যা, মীরকাশিমের
স্ত্রী—একাধারে !
প্রস্থানােত
ফতেমা। যাবেন না জনাব !
মীরকাশিম। না—না, পিতা-পুত্রীর কথার মধ্যে আমি কেন ! আমি
শুধু দেখব-কৈ হারে--কে জেতে!-মীরজাফরের কন্যা, কিম্বা
মীরকাশিমের বেগম !
প্রস্থান
HAKAF DAS!
{:}{if.
ন" " "
থে
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
অন্যদিক দিয়া বাদীসহ চরের প্রবেশ। চর কুর্ণিশ করিয়া পত্র বাহির করিল।
বাদী সে পত্র লইয়া বেগমকে দিল
ফতেমা। ( বাদীকে) বাও। চলে যাও, এখানে এখন যেন
কেউ না আসে !
বেগম পত্র পড়িতে সুরু করিতেই, চর সেই অবসরে তাহার
ছদ্মবেশ ত্যাগ করিল
}
ফতেমা। (পত্র পাঠান্তে চরের দিকে তাকাইয়া বিস্মিতসুরে)
নাজাদ্দৌল্যা!
নাজাম। যাক্, বহি তার ভাইকে চিনতে পেরেছে।
কতেমা। ভাই !-না শত্রু !
নাজাম। যুদ্ধ যখন একটা হচ্ছে—মিত্র যে নয়, সে তুমিও জানাে
আমিও জানি। কিন্তু রক্তের সম্বন্ধটা যাবে কোথায় ?
ফতেমা। তােমার সঙ্গে আমার কোন সম্বন্ধ আছে, এ কথা
স্বীকার করতে আমি ঘৃণা বােধ করি !
নাজাম। কিন্তু তােমার পিতা আমাকে পুত্র ব’তে ঘৃণা বােধ
করেন না।
ফতেমা। আমি আমার পিতৃ পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করি।
আমার জীবনের একমাত্র লজ্জা, আমি মীরজাফরের কন্যা।
আমার জীবনের একমাত্র অভিশাপ, আমি মীরজাফরের
সন্তান! বাংলাদেশে এ পরিচয় আর দিয়ােনা নাজামদ্দৌল্যা!
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পলাশীর রণক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছে
যে সামান্য সৈনিক—অথবা বাংলার স্বাধীনতার পতাকা বহন
করাতে লাঞ্ছিত হয়েছে যে কৃষক—আজ যদি আমি তাদের
কারাে কন্যা হতাম, তবে সগর্বে – সগৌরবে গিয়ে দাড়াতাম ঐ
মীরজাফরের সামনে গিয়ে সুস্পষ্টকর্থে তাকে বলতাম, আমি
বাংলার মেয়ে--তােমাকে ঘৃণা করি—ঘৃণা করি ! তার জন্য
যদি কারারুদ্ধ হতাম—যদি নিহত হতাম--সে হত আমার
অধিকতর গৰ্ব্ব--আমার অধিকতর গৌরব ।
নাজাম। তুমি তােমার পিতৃ পরিচয় দিতে লজ্জা বােধ ক’বৃছ ।
কিন্তু সেই পরিচয়েই আজ আমার এখানে আসবার সার্থকতা।
ফতেমা। তােমার এতদূর দুঃসাহস !
নাজাম। তাতেই বুঝতে পার, কি গুরুতর প্রয়ােজনে আমি
এসেছি।
ফতেমা। তােমাকে-তােমাকে বন্দী করা হবে ।
নাজাম। তাতে যুদ্ধটা আরাে গুরুতর হবে। জাননা তাে, এ যুদ্ধ
আমারি জন্য ? চালাচ্ছেন আমার মা। বাবাকে মসনদে
বসাতে নয়—তিনি এর আগেও বসেছেন বসাতে আমাকে?
এ জন্য মা অলঙ্কার বিক্রী করে কোম্পানীর যুদ্ধের খরচা
জোগাচ্ছেন? কাজেই একমাত্র আমার বধেই তােমাদের
জয়---বন্ধনে নয়!
ফতেমা। তা হলে বধই করতে হবে।
দ্বিতীয় অঙ্ক মীরকাশিম দ্বিতীয় দৃশ্য নাজাম। (উচ্চতরস্বরে) এই কে আছিস—একটা জল্লাদকে ডেকে দে। রক্ষীর প্রবেশ। কিন্তু ফতেমার ইঙ্গিতে তাহার প্রস্থান ফতেমা। তােমার মতলবটা কি ? নাজাম। বলতে অবসর পাচ্ছি কই। ফতেমা। বল- নাজাম। তাই বল। বসাে। দুজনে বসিলেন এলাম বােনের বাড়ী। ভাবলাম, একটু আরাম ক’ব আয়েস করব- ফতেমা। নাজাম- নাজাম। তা ভাই বলেই স্বীকার কর না ; উপরন্তু গালাগাল আর গালাগাল। তা আমার বােন বলা আটকাচ্ছে কে? ওরে কে আছিস—সরবৎ টরবং কিছু আন- ফতেমা। নাজামদ্দৌল্যা! নাজাম। নাঃ, বসা আর চলল না। (কৃত্রিম কোপে ) তুমি যা ভেবেছ তা হবে না। ফতেমা। তার মানে ? নাজাম। বাবা লিখেছিলেন, “ফতেমা ! কাশিম আলিকে নিয়ে 5 ৫ ৪
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
বাংলার বাইরে পালিয়ে যাও।” তার উত্তরে তুমি লিখলে,
“তুমিই বরং আমাদের এখানে পালিয়ে এস।”—ভেবেছ, বাবা
পালিয়ে আসবেন তােমার কাছে ।
ফতেমা। তিনি লিখেছিলেন বলেই আমিও লিখেছিলাম। আমি
গকে পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত করতে বলেছিলাম।
নাজাম। তার উত্তরে এবার তিনি কি জবাব দিয়েছেন?
ফতেমা। সে লজ্জাকর জবাবটা তাে তুমি জাননা !
নাজাম। না, জানি না।
ফতেমা। পত্র বহন করে এনেছ তুমি,তুমি জাননা না !
নাজাম। না। তুমি কি ভেবেছ, আমি এখানে পিতামাতার
জ্ঞাতসারে এসেছি ? তবে কি আমি আসতে পারতাম?
থেকে পথে এ পত্র কেড়ে নিয়ে তবে
দূতের হাত
এসেছি !
ফতেমা। তুমি মনি বেগমের পুত্র-সাধারণ কোন অভিসন্ধি নিয়ে
যে তুমি আসসা নি, তা খুবই বুঝি।
নাজাম। এ কথা সত্য। পিতা তােমার এখানে পালিয়ে
আসছেন—এই জবাবই বােধ হয় পেয়েছ ?
ফতেমা। তিনি আসবেন?—তাহলে তার নামই যে মিথ্যা
হয়ে যায়! তাই তিনি স-দুঃখে লিখেছেন, “মা ফতেমা ! কি
করে যাই! শৃঙ্খলে আমার হাত পা আবদ্ধ!” আবদ্ধই বটে !
‘শৃঙ্খলে আমার হাত পা আবদ্ধ’-বাবা লিখেছেন।
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
ফতেমা । আশ্চর্য ! মেয়ের সঙ্গেও চাল চেলেছেন !
নাজাম। বহিন্ ! বহিন্ ! জীবনে বােধ হয় এই একটিবার বাবা
সত্য কথা বলেছেন।
ফতিমা। এই কথা তুমি আমায় বিশ্বাস ক’তে বলছ !
নাজাম। এই কথাই আমিও বলতে এসেছি বহি! এত বড়
দাসত্ব আমি দেখিনি! সুবে-বাঙলার স্বাধীন-নবাব আমরা
দেখেছি-স্বাধীন দেশে আমরা জন্মেছি—স্বাধীনতা ভােগ
করেছি—শির উচু করে কথা বলেছি—কখনাে মাথা হেঁট
করিনি—আর আজ!
ফতেমা। নাজাম !
নাজাম। আজ কি জাননা? প্রতি পদে প্রতি কথায় ভ্যান্সিটার্ট
সাহেবের অনুমতি নিতে হচ্ছে—কোম্পানীর সাহেবদের কুর্ণিশ
ক’ছি-তারা দাবী করছেন, আমাদের মেটাতে হচ্ছে—
তাদের রক্তচক্ষু দেখলেই আমাদের হৃৎকম্প হচ্ছে, তাদের
প্রসন্ন মুখ দেখলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। কি ছিলাম, কি হয়েছি।
পিতাকে বলি, কেন ? মাতাকে বলি, কেন? তারা শুধু বলেন,
চুপ ! চুপ ! কিন্তু আমি জানি, কেন! স্বার্থসিদ্ধি! দেশের
স্বার্থ বলি দিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি !
ফতেমা। নাজাম ! নাজাম ! ভাই! তুমি বুঝেছ ?
নাজাম। বুঝেছি বহিন। বুঝেছি বলেই এসেছি।
স্বার্থ কিছু নয়—জাতির স্বার্থ কিছু নয়—দেশের স্বাধীনতা
MAKARDAN-FUWAH.
দ্বিতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
কিছু নয় !—সব-কিছু ঐ বাংলার মসনদ—সেই মসনদে এক
দিন ব’বে নাজাদ্দৌল্যা! তাই এই যুদ্ধ ! কিন্তু স্বাধীন
বাংলার বাচ্চা আমি।—অমন মসনদে আমি পদাঘাত করি।
স্বাধীনতার একটা পতাকা আমায় দাও বহিস্বাধীনতার
একটা পতাকা আমায় দাও! রাজার হয়ে, দেশের হয়ে,
আমায় মরতে দাও। আমায় বাঁচতে দাও-বঁচিতে দাও।
অন্তরালে অবস্থান করে মীরকাশিম সবই দেখছিলেন।
তিনি এগিয়ে এলেন
মীরকাশিম। কে আছিস, ঐ বালককে বন্দী কর ।
সঙ্গে সঙ্গে রক্ষিগণ আসিয়া নাজামদ্দৌল্যাকে বন্দী করিল
ফতেমা। স্বামী ! স্বামী ! ও আমার ভাই ! ওকে তােমার
পতাকা দাও-ওকে তােমার পতাকা দাও।
মীরকাশিম। (কর্ণপাত না করিয়া) খুব গােপনে একে উদয়নালায়
নিয়ে মুক্ত করে দিবি।
নাজাম। জনাব! জনাব !
মীরকাশিম। আমার সঙ্গে সঙ্গে এ যদি ধ্বংস হয়--দেশ গেল।
কিন্তু এ যদি বাঁচে-আশা হয়, এ দেশ আবার জাগবে
আবার জাগবে।•••••••••
LILIARE
THEEWAT
Etd:-1919.
তৃতীয় অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
ইংরেজ শিবিরের বহির্ভাগ। অদূরে উদয়নালা দুর্গ দেখা
যাইতেছে। ইংরেজ প্রহরী পাহারা দিতেছে। সন্ধ্যা
জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, মীরজাফর, মনিবেগম, নন্দকুমার
রায়দুর্লভ। জনাবের জরুরী তলব আগেই পেয়েছিলাম। কিন্তু যে
পাহারায় ছিলাম তাতে গঙ্গার পারে যে হাওয়া খাব সে
উপায়ও ছিলনা।
মীরজাফর। কি করে এলেন?
জগৎশেঠ। কাশেম আলি খাঁ উদয়নালা-দুর্গ গগাপনে তদারক
করতে বেরিয়েছেন খবর পেয়ে চরূদের উৎকোচে বশীভূত করে
তবে এখানে আতে পেরেছি।
রায়দুর্লভ। কাশেম আলী খাঁর চর সর্বত্র ।
নন্দকুমার। হ্যা সৰ্বত্ৰ-এবং তারা আছে বেশ। বেতনও খাচ্ছে
উৎকোচও খাচ্ছে। প্রকৃত সংবাদ যে কে পাচ্ছে না গঙ্গাই
জানেন।
তৃতীয় অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য রায়দুর্লভ। কেউই পাচ্ছে না সে জেনে রাখুন। কাশেম আলী খাঁ উদয়নালা-দুর্গেই এসেছেন—না, আমাদের পরীক্ষার জন্য ঐ সংবাদ রটিয়েছেন—তা-ও বলা যায় না। জগৎশেঠ। আমরা এখানে এসে খুবই দুঃসাহসের কাজ করেছি। আমাদের বিলম্ব করা উচিত হচ্ছে না। মনিবেগম। আপনারাই হচ্ছেন বাংলার প্রকৃত কর্ণধার। আমার স্বামীকে আপনারাই মসনদে বসিয়েছিলেন—আপনারাই আবার টেনে নামালেন, এখন আপনারাই আবার টেনে তুলুন। রায়দুর্লভ। টেনে নামলেন কথাটা বলবেন না বেগমসাহেব। আমাদের ক্ষমতা কতটুকু ! ক্ষমতা কিছু নেই। আমরা শুধু অভিমান করতে পারি—খুব বেশী হলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারি। তার বেশী কিছু করিনি। জগৎশেঠ। আমরা হচ্ছি বাংলার মদের দাস। তবে সুখ সুবিধা সবাই খোঁজে, সবাই দেখে--এই যা। দুঃখ এই---যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাক্ষস। সিরাজের পর জনাব সিংহাসনে ব’লেন। কত আশা-কত ভরসা আমরা পেলাম। দেখি কিনা সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানী তঙ্কশাল বসাবার অনুমতি পেলাে---- আমার লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হতে লাগল। আমার এ দুঃখ- দুর্দশা দেখেই কিন্তু কাশেম আলি খাঁ তক্তে বলেন। বাবা ! তক্তে ব’সেই কোম্পানীর তঙ্কার বাট্টাটা পৰ্য্যন্ত তুলে
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
দিলেন। আবার এখন শুনছি বাংলায় বাঙালী ছাড়া আর
কাবরা থাকা চলবে না। মারােয়াড় থেকে বাংলায় এসে
আমরা নাকি মহা দোষ করেছি; কিন্তু বাংলার নবাবদের
নবাবীর যে-টাকাটা এতকাল জুগিয়েছি জোগাচ্ছি তা তাে আর
মেকি নয় ?
মনিবেগম। আপনার একটা কথাও অন্যায় নয়।
রায়দুর্লভ। অন্যায় কথা আমরা বলিনা, সইতেও পারি না। কেমন
অভ্যেসের দোষ ! এই তাে জনাব রয়েছেন। সিরাজের
অন্যায় দেখলাম ওকে এসে স্পষ্ট ব’ল্লাম, জনাব ! আর তাে
সইতে পারি না ! উঠুন, আপনাকে মদে ব’তে হবে।
যেমন করেই হােক, বসালাম তাে আমরা ওঁকে মসনদে।
কিন্তু বসিয়ে কি হল ? নাঃ, স্পষ্ট কথা বলা আমার এক রােগ
হয়ে দাড়িয়েছে !
নিবেগম। নানা বলুন, মন খুলে কথাবার্তা হওয়াই ভালাে।
রায়দুর্লভ। মসনদে বসেই জনাবের প্রথম কাজটিই হ’ল আমাদের
ভুলে যাওয়া। তক্তে ওঠবার মইটাই দিলেন ফেলে! মুসলমান
রাজ্যে হিন্দুরাও ছিল মন্ত্রী, হিন্দুরাও ছিল সেনাপতি ; উচ্চ
রাজকার্যেও তারা ছিল। একে একে তাদের সরানাে হল ।
নন্দকুমার। বুদ্ধিটা জনাব কলকাতায় পেয়েছিলেন, ওটা একটা
উচ্চ রাজনীতি—Divide and Rule'—কিন্তু ঐ উচ্চ
রাজনীতিতে সুবিধাটা হ’ল কার—সেটাও দেখা দরকার ।
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথা দৃশ্য
••
জগৎশেঠ। সুবিধা হ’ল তৃতীয় পক্ষের। কলকাতায় একটা
টাকশালই বসে গেল।
রাজবল্লভ। তৃতীয় ছাড়া চতুর্থ পক্ষের সুবিধাও যদি হয়, হােক্ না ;
আমাদের সুখ সুবিধাটুকু থাকলেই হ’ল ! কিন্তু তাই বা
হ’ল কই ?
মনিবেগম। কাশেম আলি খাঁর নবাবীতে সে সুখ সুবিধা কি
আপনাদের কারাে রয়েছে ?
জগৎশেঠ। বরং বলুন যেটুকু ছিল তা-ও গেছে! বাট্টা বলে
একটা পদার্থ ছিল বাংলায় আজ তা নেই।
রাজবল্লভ। মান সম্মান ইজ্জৎ কারাে নেই।
রায়দুর্লভ। আমরা আজ নজরবন্দী।
নন্দকুমার। আপনাদের ধড়ে এখনাে মাথাটা রয়েছে দেখে
আশ্চর্যই হচ্ছি।
শীরজাফর। তাই যদি হয়-তবে আপনারা আমাকে এখনো কেন
সাহায্য করছেন না ! ইংরেজ কাশেম আলি খাঁকে গদীচ্যুত
করেছে বলে ঘােষণা দিয়েছে—আমি নবাবী পেলাম—এ
ঘােষণাও হয়েছে। এখন আপনারা দো-মনা কেন?
জগৎশেঠ। কেরল ভাবছি রাজদ্রোহ হচ্ছে না তাে!
মনিবেগম। আপনি এ কথা বলছেন শেঠজি! সিরাজের সময়
রাজদ্রোহ করেন নি ? আমার স্বামীর রাজত্বে রাজদ্রোহ
করেন নি।
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথন দৃশ্য
জগৎশেঠ। করেছিলাম ; কিন্তু সেটা অপরাধ হয়নি—কারণ,
আমরাই জিতেছিলাম। কিন্তু এবার সে-রকম ভরসা
পাচ্ছি না যে !
নন্দকুমার। সাহেবরা বলে —A revolution is a crime
when it fails but a virtue when it succeeds!
বায়দুলভ। মানে?
নন্দকুমার। বুঝতেই পারছেন—হেরে গেলে মহাপাপ, জিতলে
স্বর্গলাভ!
রাজবল্লভ। যা বলেছেন।
মেজর ম্যাডাম অতিরিক্ত ইংরেজ প্রহরীসহ আসিয়া তাহাদিগকে
যথাস্থানে দাঁড় করাইয়া এই বৈঠকে আসিলেন
য়্যাডা। হাপনাডের কটাবার্তা পাকা হইল টো?
জগৎশেঠ। কই আর হ’ল সাহেব !
মনিবেগন। না হওয়ার কোন কারণ নেই। একটা বিষয়ে সবাই
একমত
7451971 That Bengal is no place for Siraj or
Mircosim, is that so?
নন্দকুমার। ঠিক বলেছ সাহেব। Bengal for Mirzafars
and Mirzafars for Bengal !
য়্যাডা। ক’লকাটায় কয়েড ঠাকিয়া নকুমার ইংরাজি
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
বাট শিথিয়া লইল। হাপনাডের বাচিট জলডি সারিবেন ।
ঘটনা ঘটিবে। গুরুটর ঘটনা ঘটিটেছে।
প্রস্থান
রায়দুর্লভ। ঘটনা ঘটিবে । কি ঘটনা? আক্রমণ-টাক্রমণ
নয় তাে ?
মনি বেগম।
না সে-সব কিছু নয়। ওসব হচ্ছে ঘরােয়া
ব্যাপার।
মীরজাফর। আমাদের আক্রমণ ভেতর থেকে। বাইরের লড়াই
কোনাে দিন করিনি-কাজেরও নয়।
জগৎশেঠ। কিন্তু কাশেম আলী খাঁর যেরূপ আয়ােজন দেখছি
কি যে হবে বলা যাচ্ছে না। উদয়নাল দুর্গটি তাে দেখছেন?
একমাস এখানে আছেন। ওখানে নাচ-গান ঘূর্তি চলছে
আপনারা এখানে নাজেহাল হচ্ছেন।
রায়দুর্লভ। আক্রমণটা যে ভেতর থেকে হবে কাশেম আলি খাঁ।
তা বুঝেছে। এবার তাই ‘দেশ প্রেম’ ‘আত্মােৎসর্গ’ ‘বাংলার
দুঃখ’ ‘বাংলার স্বাধীনতা’ এমনি সব ভালাে-ভালাে কথা
আমদানী করেছে। দেখা হলে কুশল প্রশ্ন নয়—প্রথম কথাই
হচ্ছে—আর যা কর বেইমানি করােনা।
মীরজাফর। নিজে বেইমান কিনা।
রাজবল্লভ। আর ও-সব কথা নতুনই বা কি ? সিরাজেরই
ধার-করা বুলি !
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
জগৎশেঠ। পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে--এ কথাটা
কিন্তু নতুন।
কুমার। বাংলায় অবাঙালীর স্থান নেই, তাড়িয়ে দাও সব
অবাঙালী—এ-কথাটিও নতুন!
মীরজাফর। কিন্তু ও-সব কথা শুনছে কে ?
রায়দুর্লভ। মােহনলাল মীরমদনের মতাে গােটাকতক ছােকরা
সব-যুগেই থাকে—এখনও আছে—শুবে তারা।
রাজবল্পত। কিন্তু আমরা তাে আর মরি নি। আমরা তাে
আছি! ওসব বাপ্পায় ছেলে ভুলানাে যায় কিন্তু যারা
দেশের কথা ভেবে-ভেবে চুল পাকালে তারা তাে ব্যাপারটা
বুঝছে। ভেবে দেখেছি ইংরেজ ছাড়া আমাদের
গতি নেই।
মীরজাফর। এইটাই হচ্ছে কথা। আজ যা অবস্থা তাতে
ইংরেজকে কেউ কাতে পারবে না। আবেদন নিবেদন যা
কিছু তাদেরই কাছে করতে হবে। কারবালা যাবে বলে সব
ঠিক করলাম ; সাহেবদের কাছে বিদায় নিতে গিয়ে শুনি
কাশেম আলি যুদ্ধ বাঁধিয়েছে। যুদ্ধ বাঁধিয়েছে ইংরেজের
সঙ্গে। দেখলাম এই সুযােগ ! ক’রুলাম সন্ধি। সন্ধি—যা-ই
হােক না কেন, গদীটা তাে থাকছে ? সন্ধিতে ক্ষতি
হ'ল বিস্তর, হােক ক্ষতি। তবু আমরা ব’তে পারব
আমরা স্বাধীন।
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নন্দকুমার। নিশ্চয়। স্বাধীনতার জন্য যে কোন ক্ষতি আমরা
যে কোন ক্ষতি।
জগৎশেঠ। সবই বুঝছি।
সইব।
রাজবল্লভ।
হু
রায়দুর্লভ। }
মীরজাফর। কিন্তু আমরা নিজেরা নিজের পায়ে না দাঁড়ালে ইংরেজ
কি কবে ?
জগৎশেঠ। তা বেশ ; কারবার তো যাওয়ার মধ্যে—এখন
এতে যদি কিছু হয়-
রাজবল্লভ। চিরটা কাল রাজনীতি নিয়ে কাটালাম। একটা
কিছু না ঘটলে চলেও না। কি বলেন রায়দুর্লভ ?
রায়দুর্লভ। হঁা, নিষ্কর্মা হয়ে থাকা যায় না। এতে যদি
আমাদের সকলের সুখ-সুবিধে হয়—দেশের একটা কাজ
হবে বৈকি! তা হলে একটা লেখাপড়া হাে-
মনিবেগম। নিশ্চয়। অলঙ্কার বেচে এই যুদ্ধের খরচ জোগাচ্ছি।
জনাবের মুখ চেয়ে নয়, বাদী ছিলাম, বেগমও হয়েছিলাম ;
কাজেই বেগম হবার জন্যও নয়। নবাবী-তক্তে আমি
আমার নাজামদ্দৌল্যার জন্য উত্তরাধিকার চাই, আপনারা
স্বীকৃত?
জগৎশেঠ। অস্বীকৃত কেন হব ? এ তাে আনন্দের কথা।
বাংলায় মীরজাফরের বংশ যতকাল রাজত্ব করে—আমাদেরই
প্রথম দৃশ্য
৬
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
মঙ্গল ; তার ওপর সে-বংশধর যদি আপনার পুত্র হয় তবে তাে
কথাই নেই।
নন্দকুমার। কালনেমির লঙ্কা ভাগ হচ্ছে না তাে? উদয়নালার
দিকে একবার চেয়ে দেখুন।
মনিবেগম। আপনাদের যখন পাওয়া গেল উদয়নালার কথা
ভাবি না ! শেঠজি যদি কাশিম আলিকে টাকা না জুগিয়ে
আমাদের টাকা জোগান-রাজা রাজবল্লভ, রাজা রায়দুর্লভ যদি
কাশেম আলির হিন্দু-সেনানায়কদের হাত করেন, আমি যদি
গুরগিন খাঁকে—আচ্ছা সে হবে এখন। তাহলে শপথ.
করুন।
মীরজাফর। না—না শপথের আবশ্যক নেই। সময়ের অপব্যয়।
ওঁরাও আমাকে জানেন—আমিও ওঁদের জানি। কি
বলেন ?
জগৎশেঠ। ( মৃদু হেসে) সে কথা ঠিক।
মীরজাফর। শপথ নয়, লেখাপড়া নয়, আমাদের মধ্যে মুখের কথাই
যথেষ্ট। তা হলে চলুন—সাহেবদের গিয়ে বলি। আপনারা
কি এই রাত্রেই রওনা হবেন?
রায়দুর্লভ।
বিলম্বে সন্দেহ সৃষ্টি হতে
পারে।
রাজবল্লভ। কাজেরও ক্ষতি।
জনাব !
তৃতীয় অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য হঠাৎ ইংরেজ-শিবিরের অভ্যন্তর হইতে সােরগােল উঠিল “স্পাই ! স্পাই!” “গুপ্তচর, গুপ্তচর”—ক্রমাগত কয়েকটা গুলি-ছােড়ার শব্দ পাওয়া গেল। বিষম চাঞ্চল্য। খােজা পিস দৌড়াইয়া ইহাদের সম্মুখে আসিল। পশ্চাৎ পশ্চাৎ ইংরেজ-সেনানায়কগণ ছুটিয়া আসিলেন। atti Hands up! Hands up! Othersvise- খােজা পিস্ হাত তুলিল জগৎশেঠ। সর্বনাশ ! মীরজাফর কে এ ? atut I Coza Petruse ! রায়দুর্লভ। গুরগিন খাঁর ভাই। চল হে চল— পিস্। এই যে শেঠজিভি এখানে হাছে –সভা যখন ভাঙিবে হামাকে ভি সাঠে লইয়া চলিবে । রায়দুর্লভ। দুর্গা! দুর্গা! দুর্গা ! পিস্। বেগম সাহেবা ! গুরগিন খ হাপনার চিঠির জবাব ডিয়াছেন— মনিবেগম। কই পিস্। জবাব ডিয়াছেন হামার মুখে। য়্যাডাম্স্। গুরগিন খাঁ খুব খেলা খেলিটেছে।
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
#stel Shilly-shallying always !
ম্যাডাম। টুমি এখানে কি করিয়া আসিলে ? কোন্ পঠে ?
পিস্। হামি গুরগিন খাঁর ভাই হাছে—মনিবেগমের Spy
হাছে—টুমাদের ভি ডােস্ট হাছে—হামার যাটায়াটের পঠ
সব সময় খােলাসা হাছে।
মনিবেগম। যাতায়াত তাে অনেকদিন থেকেই ক’বছ—টাকাও
খেয়েছ বিস্তর। কাজ তাে কিছু দেখি না।
পিস। বড়া কড়া হাদমি হাছে। হাজার টাকা নজর ডিলে
একটা বাটু কহিল।
মনিবেগম। হাজার টাকা নজর লইয়া কি বাত কহিল ?
পিস। লাখাে রূপেয়া হানাে ।
মনিবেগম। লাখাে রূপেয়া আনাে!-লাখাে রূপেয়ার জুড়ােয়
গয়নাই তাে দিয়েছি।
পিস্। গুরগিন বােলে ও টাহার বিবির হইয়াছে টাহার
কি হইল?
মনিবেগম। বেশ তাে দুর্গ জয় হলেই দেবাে। এই শেঠজী জামিন
থাকবেন। তা হলেই তো হবে ?
রায়দুর্লভ। দুর্গা! দুর্গা।
জগৎশেঠ। তা থাকব। দেখাই বা না—গুরগিন খা বেইমানি
করে কি করেন। কি বলেন রাজা রাজবল্লভ ? পরীক্ষা-
একটা পরীক্ষা !••••••আমরা তাহলে আসি।
৬৮
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
পিস্। হামি ভি ভাইকে পরখ করিয়া ডেখিটেছে ---বুঝিলে
শেঠজী ?
রাজবল্লভ। নবাব উদয়নালার দুর্গে আছেন তাে?
পি। মুঙ্গেরে হাছেন বলুন।
জগৎশেঠ
রায়দুর্লভ সৰ্ব্বনাশ ! উদয়নালায় আসেন নি ?
রাজবল্লভ
পি। হামি কাল দুর্গের বাহিরে হাসিয়াছে। টাহার পরে
কি হইয়াছে হামি জানে না।
জগৎশেঠ। তবে যে শুনেছি কাল রাতে নবাব উদয়নালায়
এসেছেন !
রাজবল্লভ। সঠিক জেনে ফেরাই ভালাে---
* জগৎশেঠ। বাল-বাচ্চা সব মুঙ্গেরে, না ফিরে উপায় কি ?
পিস। টাহলে শেঠজি আপনি জামিন রহিল ?
জগৎশেঠ। (মনিবেগম প্রভৃতির মুখের দিকে চাহিয়া ) তা
থাচি ।
পিস। লিখিয়া ডিন।
মীরজাফর। ভিতরে চল। চল সাহেব।
giovani It is better to detain Petruse here--f8976
হাটকাইয়া রাখিলে গুরগিন সিটা ঠাকিবে ।
পি। গুরগিনকে টোমরা জানে না। হামি টো হানি টাহার
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
বিবিকে আটক করিয়া টাহকে ভয় চরাইতে পারিবে না।
সে যাহা মন করিবে-টাহা করিবেই। টাহার মনটাই মি
এখন ডােনমনাে হইয়াছে।••••••বেগম সাহেবা,
হামার feeটা নগড ডিবেন। হার এক ডজন বিলাটী সরাব।
য়্যাডাম। গুরগিন খাঁ হামাদের কিরূপ সাহায্য করিটে পারেন ?
ডুর্গে টো হাউর সব বহু General হাছে।
পিস। গুরগিন গােলণ্ডাজ জেনারেল হাছে। কামান সব
out of order হইয়া মেরামট হইটে যাইটে পারে ।
গােলণ্ডাজরা হাট গুটাইয়া বসিয়া ঠাকিটে পারে, কামানের
মুখভি ঘুরিয়া যাইটে পারে।
tutti But what about access to the fort? graf
যাইবার পঠ পাইটেছে না— এক মাস এখানে চুপ-চাপ
বসিয়া আছে। নজাফ খাঁ একটা গুপ্ট পঠে হাসিয়া হামাদের
সাঠে গরিলা যুদ্ধ করিয়া পলাইয়া যায়—সে পঠটা কে বলিয়া
ডিবে ?
পিস। মন হইলে সেটা হামি বলিয়া ডিবে--
জগৎশেঠ। আমাদের ফিরতে হবে যে !
মীরজাফর। তাতাে বটেই! আসুন—আসুন!
totalt! Sentries! Be on your guard !
সকলের শিবিরাভ্যন্তরে প্রস্থান
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
গভীর রাত্রি—ইংরেজ-প্রহরী বন্দুক লইয়া
পাহারা দিতেছে
প্রথম ইং-প্রহরী। (তাহার সঙ্গীকে) Vhat's the time,
please 1
দ্বিতীয় ইং-প্রহরী। 2-0 clock in the morning!
উভয়ে হাই তুলিল
pleta i This bloody Udaynala shall be our grave !
Have you a cigar ?
দ্বিতীয়।
As many as you like......but you see, I am
imatchless !
প্রথম।
Say that to your Sweete. have
a match.
তাহারা সিগারেট ধরাইয়া খাইতেছিল—এমন সময় জাফ খা
পরিচালিত একদল নবাব-সৈনিক গুপ্ত-ভাবে আত্মপ্রকাশ
করিল ও হামা দিয়া অগ্রসর হইতে লাগিল
প্রথম। While we are rotting here, they are
rioting over there--with wine and women !
foi Let us hope, everything theirs--shall be
otirs sool,
৭১
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নজাফ খাঁ ইহাদের হঠাৎ গুলি করিল। ইহারা ভূপতিত হইল। নজাফ খাঁ
সসৈন্যে ইংরেজ-শিবির লুট করিতে ছুটিল । চীৎকার, গুলি ও আর্তনাদের
শব্দে আকাশ-বাতাস ভারী হইয়া উঠিল। ক্ষণকাল পরই নজাফ খাঁ।
সসৈন্যে শিবির হইতে লুণ্ঠিত দ্রব্যাদি বহন করিয়া বাহিরে
আসিয়া রাত্রির অন্ধকারে অদৃশ্য হইয়া গেল। খােজা
পিস কিন্তু আপাদমস্তক আবৃত হইয়া তাহাদের
অনুসরণ করিল। ইংরেজ সেনা নায়কগণ
একে একে ছুটিয়া আসিতে লাগিল
যাডম। Vanished !--
কার্ণাক। As if in the air !
TYTTA I Thicves ! Plunderers
নন্দকুমার ছুটিয়া আসিল
নন্দকুমার। নবাবের শিবির লুট করেছে-নবাবের শিবির লুট
করেছে!
।
মীরজাফরের প্রবেশ
মীরজাফর। উল্লুকরা আমার মুকুটটা নিয়ে পালিয়েছে।
কাণাক। হাবার ডিব—হাবার ডিব—চিহাইবেন না।
নন্দকুমার। ( মীরজাফরকে) বেগম সাহেব.•••••আছেন তাে ?
মীরজাফর। না—না তিনি..••••আছেন।
কার্ণাক। বাঁচাইলেন। মুকুট গেলে মুকুট মিলিবে—বেগম
গেলে হার মিলিবেনা। Major Adams! এক মাস হইয়া
१२
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
গেল-হামরা কেবল হাঁ করিয়া উডয়নাল ডুর্গ ডেখিটেছি
হার ডেখিতেছি—হার কিছু করিয়া উঠিটে পারিটেছিনা।
This is quite unbearable !
য়্যাডা। পঠ পাইটেছিনা ! কোন্ পঠে যাইব। এক ঢারে
রাজমহল হিলস্ হার এক ঢারে Ganges ! সমুখে উডয়নালা ;
টাহার সেটু উহাডের। কোন পঠে যাইব !
;
অদূর পাহাড়ের দিকে বদ্ধদৃষ্টিতে তাকাইয়া মনিবেগমের প্রবেশ
মনিবেগম। পথের ভাবনা ভেবােনা সাহেব আর কিছুকাল চুপ
করে দাড়িয়ে থাকে। পথের সন্ধান এখনি মিলবে।
যাডাম। পঠের সন্ধান পাইলে এই রাষ্ট্রেই হামি attack করিব।
মীরজাফর। মনি! আমরা পথ পাবাে এ তুমি কি বল্ছ !
মনিবেগম। এই ইংরাজকে একদিন পথের সন্ধান তুমি দিয়েছিলে
পলাশীতে। আজ দেব আমি উদয়নালায়। নজাফ খাঁর
পিছে পিছে আমি লোেক পাঠিয়েছি। সে পথ দেখে আসছে ।
পথ আমরা পাব •••পথ•••আমরা পাব ! (পাহাড়ের দিকে
অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া ) ঐ দেখ--
সাহেবগণ। } figure !•••••• A man !••••••crawling !
সকলে সেই দিকে সবিস্ময়ে তাকাইল। দেখা গেল আপাদমস্তক আচ্ছাদিত
একটি মূৰ্ত্তি ধীরে ধীরে তাহাদের দিকে নামিয়া আসিতেছে
মনিবেগম। পথ আমরা পা--বাে•••পথ আমরা-পা-বাে ।
৭৩
তৃতীয় অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য নন্দকুমার। এ ঘর-ভেদী বিভীষণের দেশ। পথের ভাবনা আমরা ভাবি না। মূৰ্ত্তি কাছে আসিয়া দাঁড়াইল। মূর্তিটি মুখাবরণ সরাইয়া ফেলিয়া হাত তুলিল সকলে। (সবিস্ময়ে ) পিস্!-- পিস। গুপ্ট-পঠের সন্ধান হামি পাইয়াছে—হৎকারে আলােক ডেখিয়াছে। otutati Lead us on- -Lead us on- পিস্। বেগম সাহেবা হামার ফি ? মনিবেগম। আমার হাতের এই শেষ হীরক-বলয় নাও। উদয়- নালা দখল করিয়ে দিলে, পুরস্কার-আমার এই মুকুট । পিস্। হাপনি কিছু ভাবিবেন না কিছু ভাবিবেন না বেগম- সাহেবা ! হামরা এ ডেশে টাকা করিটে হাসিয়াছে—-টাকা পাইলে হাপনি যেমনটি বলিবেন—হামরা টেমনটি করিব। হামার নাম Coza Petruse আছে—পঠ হামি বাইবে, হামি উডয়নালা ডুর্গে যাইটেছে। টোপ, ডাগিলে—জানিবে, লাইন ক্লিয়ার হাছে—Line clear ! ৭
দ্বিতীয় দৃশ্য
উদয়নালা দুর্গ
আমােদ-উন্মত্ত সেনানায়কগণ সম্মুখে নর্তকীগণ নৃত্য-গীত করিতেছে
সেতারের ঝিখিনি, নূপুরের কিঙ্কিনী
মঙুল কিঙ্কিনী
ছন্দিত সুরে জাগি
মােরা গীতি সঙ্গিনী।
নন্দিতা সঙ্গিনী।
মরমের নাচ-ঘরে-
প্রিয়তম খেলা করে
ভালবাসা বেচি-কিনি রঙে রঙে রঙ্গিনী
দেয়াশিনী রঙ্গিনী।
সৈয়দবান্দা। বহুৎ আচ্ছা--বাহােব'—বাহহাবা-“ওরে কেউ যা না-
কোম্পানীর শিবিরে চলে যা—কয়েক বােতল বিলিতী সরাব
চেয়ে আন্-একবার সকলে মুখটা বদলে নি।
মুর্তাজা খাঁ। দেবে কেন ?
সৈয়দবান্দা। তবে কর্জ করে আনাে-
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
মুর্তাজা খাঁ। কর্জ! উহু, তা-ও দেবে না।
সৈয়দবানা। তবে চুরি করেই আনাে। ওরে যা না উল্লুক।
খানসামা। পথ জানি না হুজুর
সৈয়দবালা। জাহান্নামের পথ—জানিস না উল্লুক?
খানসামা। জানি হুজুর ।
সৈয়দবান্দা। সেই পথ---।
খানসামা। যাচ্ছি হুজুর !
প্রস্থান
মসিয়ে জেটিল। ইংরেজ বলিয়া ঠাকে-Beg-Borrow-or
Steal-ভিক্ষা মাগিবেনা পাইলে, কর্জ করিবে-কর্জ না
পাইলে—চুরি করিবে।
সকলে হাে হো করিয়া হাসিয়া উঠিল
নর্তকীগণের পুনরায় নৃত্যগীত
পিয়ালার সঙ্গীতে ঝরে রাঙা ঝরণা
মধু-তনু-অঞ্জলী বুক পেতে ধর না-
হৃদয়ের তাল গােনাে
কানে কানে কথা শােনাে
অধরের রীতি নীতি
চিনি---
অধরকে খুব চিনি।
চিনি সখা, খুব
তৃতীয় অঙ্ক মীরকাশিম দ্বিতীয় দৃশ্য উজীর খ। দাড়াও, দাঁড়াও, আমার একটা কথা মনে পড়েছে। আমরা উদয়নালায় রয়েছি--দুর্গে—না ? মুর্তাজা খাঁ। হাসালে দেখছি—মাত্রা কিছু বেশী হয়েছে--না ? উজীর খা। আমার যেন কেবলি মনে হচ্ছে-শ্বশুরবাড়ী এসেছি। সকলে হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিল উজীর খাঁ। ঘুলিয়ে যাচ্ছে। শ্বশুরবাড়ী যাবার কথা ছিল- উদয়নাল। আসবার হুকুম হ’ল। কোথায় যে এলাম ঠিক বুঝতে পাছি না—দূর ছাই গুরগিন খার প্রবেশ গুরগিন খাঁ। ঠিক আছে-হাজ ভাল করিয়া ফুটি চালাও-- কোম্পানী এটদিন বসিয়া আছে কিছু করিটে পারিল না- কাল হামরা কোম্পানী হাক্রমণ করিব। কাল হইটে লড়াই সুরু হইবে। হজ ফুটিটা শেষ করিয়া ডাও। (সিয়ে জেটিলের প্রতি) We have to attack to-morrow, মসিয়ে জেটিল। I know the orders. হামাদের পিস টোমায় খুঁজিটেছিল—ইংরেজের খবর হানিয়াছে। গুরগিন খ। ভাই হইয়া হামার শট হইয়াছে—উহার কথা হামায় বলিবে না। সৈয়দবান্দা। গুরগিন খা বেশ লােক—কাজের সময় কাজ-কাজ থাকে শূৰ্তি কর--সরাব খাও—কোন মানা নেই। ৭৭
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
নজাফ খাঁ বলেন, সব সময় তৈয়েরি থাক—লড়াইয়ে এলে ঘূর্তি
নেই—সরাব নেই। আমরা দোটানায় ভাসছি। যাক,
যতক্ষণ গুরগিন খাঁর প্রভুত্ব আছে—সরাব খাও-ফুর্তি কর
কুছ পরােয়া নেই। এই, দে উল্লুক।
সকলের মদ্যপান
মুর্তাজা খ। নাম নজাফ “খা”-বলবেন সরাব খেও না—তবে
নাম নিয়েছেন কেন “খা” । আজ থেকে আমরা ওকে বলব
শুধু “নজাফ”।
অন্যান্য সেনানায়কগণ। নজাফ!-নজা—ফ !
মসিয়ে জেটিল। Nazaf Khan belives in warfare,
গুরগিন খাঁ। The sly fox that he is ! হামি ওসব বুঝে
—আমি বুঝে—যে একটি হাঘাত হানিবে—টাহার উটুরে
হামি টাহার খুলিটে ডুইটি হাঘাট হানিব। যাহারা হামাদের
শক্টি-সামঠ্য পরীক্ষা করিটে ইচ্ছুক—চেষ্টা করিয়া দেখিটে
পারে। আমি বুঝে বক কামান। হামার কামানের ভয়ে
ইংরেজ এক মাস ভয়ে “ঠ” হইয়া বসিয়া আছে। কাল
attack করিলে উহারা জাহাজ ভাসাইবে।
গুরগিন খাঁ ও মসিয়ে জেটিলের অন্যদিকে গমন
মুর্তাজা খাঁ এক মাস বসে আছি ইংরেজ একটা গুলি ছুড়ল না।
উজীর। আমার বন্দুকটা মরচে পড়ে গেছে—উঠছে না।
৭৮
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
সৈয়দবান্দা। সাহেবদের কথা ভেবে কষ্ট হচ্ছে—ওদের কয়েকটা
বাইজী পাঠিয়ে দিলে হত।
নেপথ্যে সােরগােল উঠিল
সকলে। ব্যাপার কি?-ব্যাপার কি?--
খানসামা। নজাফ খাঁ ইংরেজ-শিবির লুট করে ফিরলেন ।
সকলে। বেঁচে থাক নজাফ খাঁনজাফ খাঁ জিন্দাবাদ !!
সৈয়দবান্দা। সরাব এনেছে—সরাব ? বিলাতী সরাব !
মুর্তাজা খা। নজাফ খা আবে সরাব !
সৈয়দবান্দা। কিন্তু নজাফ খাঁর সঙ্গে যারা গিয়েছিল তারাও কি
নজাফ খা! তারা কি কল !
মুর্তাজা খাঁ। নজাফ খা বরবাদ !!
উজীর খাঁ। নজাফ খ বরবাদ !!!
খোজা পিসেস প্রবেশ
পিস্। লেকেন, খােজা পিড় জিন্দাবাড় !! কি চিজ, হামজানী
করিয়াছে একবার ডেখিয়ে নিন -
মুর্তাজা খা। চিজ,তাে আমাদের এখানেও আছে। সরব
আছে ?-সরাব ?
‘পি। সরাব ভি আছে—জেনানা ভি হাছে—টোমার ডিশ
৭৯
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
নাচওয়ালী এবার ছুটি কর । বিলাটা সরাবের সাঠে
বিলাটী নাচওয়ালীর নাচ বহু হাচ্ছা লাগিবে—
অর্মেনিয়ান-নর্তকী নাচ আরম্ভ করিল
ইহার মধ্যে গুরগিন খাঁ আসিল ; সে এক দিকে বসিতেই পিস একটা
বােতল ও গ্লাস লইয়া তাহার কাছে গিয়া দাড়াইল
formal Hullo Brother!
cafsta sf | No, nonsense-please! War to-morrow!
পিস্। ( গ্লাসে মদ ঢালিতে ঢালিতে ) Right you are;
but war with whom?
afsta I The English, of course!
formami Not with English wine, I suppose ?
গুরগিন খা। (হাসিয়া ) Certainly not.
মদ নিয়া খাইতে লাগিল
পিস্। এট টাকা খাইয়া ঢুমি জােনােমননা কেন করিটেছ ?
গুরগিন খাঁ। টাকা দিটেছে—খাইটেছি। কোম্পানীর টাকার
জোর কমাইটেছিইহার নাম গুরগিন খার লড়াই।
পিস। (মদ্য দিয়া) আউর লাখ টাকা ভি ডিটে চায়।
গুরগিন খাঁ। ডেও!
পিস। কামের পর ডিবে ।
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
গুরগিন খ। কামভি পরে হইবে ।
পিস্। জগশেঠ জামিন হাছে। ডেখিয়া লও--
ক -
জগৎশেঠের জামিন-নামাটা দিল
গুরগিন খ। এটা আমি রাখিয়া ডিলাম (পকেটে রাখিল )
কাজে লাগিবে। ইংরেজের মডটা ভারী কড়া আছে।
পিস্। ইংরেজের সাঠে কি লড়াই করিবে ?—ইংরেজের এক
বােটল মডেই কাঢ় হইলে !
গুরগিন খাঁ। হাঃ হাঃ হাঃ-ডেও !
মদ্য গ্রহণ ও পান
পিস্। এটভুর হাগু হইয়া টুমি পিছাইয়া যাইবে—ঢৰ্ম্ম ভি
হাছে, ঈশ্বর ভি আছে !
গুরগিন খাঁ। ডেথাে ভাই, নবাবের নিমক খাইটেছি।
পিস্। কোম্পানীর মড খাইটেছ! কোনটী ডামী হাছে ?
গুরগিন খা। ডেথ ভাই! নবাব ভারী বিশ ওয়াস কোরে।
পিস্। বিশ ওয়াস করে টো উদ্ধার হইয়া গেলে। এটকাল যে
নবাবের নকরি করিলে, টলব ছাড়া আর কি মিলিল ? আর
এখন ডেথ—মনিবেগম কেমন মনি ছড়াইটেছে—গুরগিন বলিয়া
মনি বেগম হজ্ঞান হাছে!
গুরগিন খাঁ। ( মদ্যপান করিয়া) মনিবেগম হামাকে বহু খাটির
৮১
তৃতীয় অঙ্ক মীরকাশিম দ্বিতীয় দৃশ্য কোরে। মুর্শিবাড়ে ও যখন নাচনেওয়ালি ছিল, উহাকে জানিটাম ! হাজি ভি মনে রাখিয়াছে ? পিস্। টবে হাসল বাটা টুমি কি বুঝিলে? ( মদ্য দান ) হীরার এই হাংটিটা পর-মনি বেগম টোমাকে ডিয়াছে। ( আংটিটা গুরগিনের হাতে পরাইয়া দিল) ডেথ, কেমন মানাইয়াছে— কেমন ঝম ঝম করিটেছে! গুরগিন খাঁ। মনি বেগম ডিয়াছে ?-কি বলিয়াছে ? পিস্। কোম্পানী ডুর্গে ঢুকিবে ; টুমি গােলণ্ডাজ-সৈন্য হাটে রাখিবে—-লড়াই করিবে না। গুরগিন খাঁ। ডেখাে ভাই, মন করিলে হামি এখনাে নবাবটাকে খাড়া রাখিটে পারে। পিস। মনি বেগমের আংটি হাটে পরিয়া আর টাহা পারে না। গুরগিন খা। মনি বেগমকে মি জানিটাম—নাচনেওয়ালি ছিল, বেগম হইয়া গেল- পিস। গজ মাপিয়া কাপড় বেচিটে—গুরগিন খাঁ হইয়া গেলে ! ও বেগম হইয়াছে—টুনিও নবাব হইটে পার। হাঁ, মনি বেগম বলিয়াছে—হ, হামি ভি বলিটেছে । গুরগিন খা। নবাবটা হামার মুখের ডিকে চাহিয়া আছে। পিস। ঐ এক কঠা টুমি জাননা ! গুরগিন খা। ডডশটা ডুবিয়া যাইবে । পিস্। টাহাটে হামাডের কি আছে ? হামরা আর্মেনিয়ান
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
হাছে! বাঙালী হইয়া যডি বাংলা না রাখিটে পারে, হামরা
রাখিয়া ডিব! এ কেমন কঠা হাছে ?
গুরগিন খাঁ। হামার মাথাটা গুলাইয়া যাইটেছে—ইংরেজের মড
ভারি কড়া হাছে !
মদ্য পান করিতে লাগিল। পিস আৰ্ম্মেনী-নাচওয়ালিদের ইঙ্গিতে ডাকিল।
নাচিতে নাচিতে তাহারা আগাইয়া আসিল—সেনানায়কগণ
তাহাদের পিছু পিছু টলিতে টলিতে আসিতে লাগিল
উজীর খার প্রবেশ
খা। শ্বশুরবাড়ী না হয়ে যায় না। সবই মিলে যাচ্ছে--
কেবল মিলছে না শ্বশুর-শাশুড়ী আর--
সকলে। আর ?
উজীর খাঁ। আমার গফুরের না!
সকলে হাসিয়া উঠিল
গুরগিন খাঁ। মন হইলে হামি কি না পারে-সব পারে !
পিস একটি আর্মানী-নৰ্তকীকে ইঙ্গিত করিল। পান-পাত্র তাহার
হাতে দিল। নৰ্তকী সে পানপাত্র গুরগিনের সামনে ধরিল
গুরগিন খাঁ। ('সেই নর্তকীকে) এই, জানাে? রাজাকে আমি
উজী-র করিটে পারে--উজীরকে ফকির করিটে পারে-~-
ফকিরকে রা---জা করিটে পারে।
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
পিস্। নিজে রাজা হইটে পার না--
গুরগিন খা। পারি—সেভি পারি।—( মদ্যপান ; হঠাৎ পিসের
প্রতি বজ্রকণ্ঠে ) এই উল্লুক! মডে টুই নিমক ডিয়াছিস্?
পিস্। নিম !
গুরগিন খ। নিমক হামার গলায় বাঢিটেছে। নবাবের নিন।
নবাবের নিন!
পিস্। ( মধ্য দিয়া) হার এক ডফে টানিলেই নামিয়া
যাইবে !
গুরগিন খাঁ। ( পিসের চোখে-চোখে চাহিয়া মদ্য-পাত্র হাতে
নিল। হঠাৎ তাহা পান করিয়া ফেলিল )
পি। নামিয়া গিয়াছে ?
গুরগিন খাঁ। গিয়াছে। আ!-নবাবের নিক নামিয়া গেল,
নবাবের নিমক নামিয়া গেল !
অভিভূতের মতাে বসিয়া পড়িল
পিস্। ( উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ করিয়া) কি রকম ফুটি
টোমরা করিটেছ-কেহ জানিটেছে না। কোম্পানীর ললাকেরা
ভাবিটেছে, টোমরা নাকে টৈল ডিয়া ঘুমাইটেছে। Shame
একটা টোপ ডাগিয়া ডাও-উহার জানিয়া লউক, টোমরা
সরাব থাইটেছে।—বিবির নাচিটেছে !-হামার ভাই
হর হামি গলাগলি ধরিয়া বসিয়া হাছে! বিশওয়াস না হয়
ডেখিয়া যাক।
৮৪
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
গুরগিন বাদে সকলে। তােপ দাগাে ! তােপ দাগগা !
wafsta | No ! No! That must be a signal-They
will come! টাহারা এখনি চলিয়া হাসিবে।
পিস্। হাঃ হাঃ হাঃহামার ভাই খােয়ব ডেখিটেছে।
টোপ ডাগাে! টোপ ডাগাে । নাচো-গাও-ফুটি
চালাও। টোপ ডাগিবার ব্যবস্থা করিটে হামি নিজে
যাইটেছে।
প্রস্থান
গুরগিন খ। Wait! Rather wait ! পিস্! পিস।
কিন্তু একটী আৰ্মানী-নৰ্তকা নাচিবার ছলে
তাহার পথরােধ করিল
afsta I Hopeless ! Hopeless !
নেপথ্যে তােপধ্বনি-মৃত্য-গীত থামিয়া গেল
গুরগিন খাঁ ছুটিয়া যাইতেছিল—আৰ্ম্মানী-নকী তাহাকে
ধরিয়া বসাইল ও ঘন ঘন তাহাকে
মদ জোগাইতে লাগিল
৮
গুরগিন খাঁ। গেল ! সব গেল ! টোমরা সবাই মিলিয়া হামাকে
ভুষমণ করিলে ! কর। (মদ্যপান)
৮৫
তৃতীয় অঙ্ক
মীৱকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
ছুটিয়া নজাফখার প্রবেশ
নজাফ খাঁ। তােপধ্বনি !—কে এ তােপধ্বনি করল !-কেন
এই তােপধ্বনি !••••••
নেপথ্যে ইংরেজের তােপধ্বনি--চীৎকার !-গোলমাল।
“কোম্পানীর ফৌজ !”
“কোম্পানীর ফৌজ!”
“কোম্পানীর ফৌজ।”
নজাফ খা। কোম্পানীর ফৌজ। গুরগিন খা! গুরগিন খা
কোম্পানীর ফৌজ আক্রমণ করেছে। কিন্তু পথ দেখাল কে ?
পথ দেখাল কে! কে সেই বেইমান ! (গুরগিনকে ধাক্কা দিয়া )
গুরগিন ! গুরগিন ।
গুরগিণ খাঁ। টুমি কে আছে ? মনি বেগম ! হামি ঠিক হছে..
হামি ঠিক হাছে.....টুমি হামাকে হাংটি দিয়াছে••••••হাররা
লাখাে টাকা ডেবে—জগটশেঠ জামিন হাছে।
জামিন-নামখানা বাহির করিল
নজাফ খাঁ। ( জামিন-নামা কাড়িয়া লইয়া দেখিয়াই) লাখ
টাকায় তুমি আমাদের সাতকোটী হিন্দু মুসলমানের
সােনার বাঙলার স্বাধীনতা বিক্রী করেছ! বেইমান ।
বিশ্বাসঘাতক( গুলি করিল) নবাব, নবাব, উদয়নাল হ’ল
আমাদের দ্বিতীয় পলাশী
তৃতীয় অঙ্ক
মীরকাশিম
দ্বিতীয় দৃশ্য
ছুটিয়া বাহির হইয়া গেল ; চতুপাশ হইতে বিউগিল ও
গুলির আওয়াজ আরম্ভ হইল
গুরগিন খাঁ। বিশ্বাসঘাটক! বেইমান ! না-না----আমি বেইমান
হােবে না! বিশ্বাসঘাটক হবে না, নবাব হামার মুখের দিকে
চাহিয়া হাছে-ডেশটা ডুবিয়া যাইবে
বেইমান হামি হােবে না।
ইংরেজ-সৈন্য দেওয়াল টপকাইয়া ঢুকিয়া পড়িতে দেখিয়া
Fall in ! Fire! Fire! Fire !
ইংরেজ সৈন্যকে গুলি করিতে লাগল
ম্যাডাম। Fire!
ইংরেজ সৈন্য গুরগিন খাকে গুলি করিয়া অন্যত্র ছুটি
গুরগিন খা। নবাব ! নবাব ! হামি বেইমান ছিলাম না --এ
টোমার ডেশের মাটির ডােষ! এ টোমার ডেশের মাটীর
ডােষ ! হামি কি করিবে! আমি কি করিবে! (মৃত্যু।
==
PRASWAT
৮৭
চতুর্থ অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
মুঙ্গের দুর্গ-প্রাসাদ
ফতেমা বেগম
গান
মন দিয়ে কেবল কাদে রক্তমাখা লাল-পলাশী
সেই সিরাজের লাল-পলাশী
অন্ধকারে আজও সেথায় মৃত্যু-রাখাল বাজায় বাঁশী
বাজায় ভাঙা-হাড়ের বাঁশী
প্রভাত-আলাের ছদ্মবেশে রাত্রি সেথায় নিত্য এসে
তন্দ্রা-তানে ছন্দ তােলে শুনছে যত কবরবাসী .
জ্যান্ত যত কবরবাসী।
সােনার পুরে উড়ছে ধূলাে,
জ্বলছে ধূ ধূ শ্মশান-চুলাে,
কঙ্কালে কে জীবন দেবে
অশ্রু জলে দুলিয়ে হাসি-
দৃপ্ত প্রাণের মুক্ত হাসি।
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরকাশিমের প্রবেশ
মীরকাশিম। বেগম ! বেগম ! আজ আনন্দের দিন! উৎসবের
দিন। আজ তােমার কণ্ঠে এ করুণ সঙ্গীত কেন?
ফতেমা। এ গান আমি গাইতে চাইনি জনাব ! অথচ এই গানই ।
কেন জানি না—আমার কণ্ঠে আসছে।
মীরকাশিম। আমি জানি—আমি জানি--কেন আসে এই গান।
কিন্তু এ গান আজ আমরা গাইব না। আজ গাইতে হবে
আনন্দের গান—উৎসবের গান।
নেপথ্যে জয়বাদ্য বাজিয়া উঠিল।
ফতেমা। জয়-বাদ্য বাজছে! উদয়নালায় তবে আমাদের জয়
হয়েছে। প্রভু! স্বামী ! ঈশ্বর ।
মীরকাশিম। জয়ের সংবাদে নয় প্রিয়া ! জয়ের আশাতে
আমারি আদেশে বাজছে জয়-বাদ্য !
ফতেমা। আশা।•••••
মীরকাশিম। হ্যা, আশা ! মানুষের পক্ষে যা সম্ভব উদয়নালায়
আমি তা করেছি। দুর্ভেদ্য দুর্গ-অগণিত সৈন্য—অপর্যাপ্ত
অস্ত্র-শস্ত্র-পক্ষান্তরে মুষ্টিমেয় সৈন্য !
ফতেমা। পলাশীতেও তাই ছিল জনাব ।
মীরকাশিম। ঠিক বলেছ ফতেমা, পলাশীতেও তাই ছিল।
সিরাজের পরাজয় ছিল অসম্ভবজয় ছিল অনিবার্য—অথচ
প্রথম দৃশ্য
চতুর্থ অঙ্ক
মীৱকাশিম
পরাজয়ই হ’ল!আমাদের বেইমানিতে অসম্ভবও হ’ল সম্ভব!
আজও যদি পরাজয় হয়—একমাত্র বেইমানিতেই হবে।
ফতেমা। কিন্তু দেশের কি আজও শিক্ষা হয়নি? পলাশীর
পরাজয়ের পর সুদীর্ঘ ছয়টি বৎসর কেটে গেছে—সে
পরাজয়ের মর্ম দেশবাসী আজো কি হাড়ে-হাড়ে উপলব্ধি
করেনি ?
মীরকাশিম। না, করেনি। তা যদি করত তবে আবার তারা
আমার বিরুদ্ধে কোম্পানীকে সাহায্য করছে কেন?
ফতেমা। তারা কি জানে না, কোম্পানীর সঙ্গে তােমার বিরােধ
শুধু দেশের জন্য, দেশবাসীর জন্য ?
মীরকাশিম। তারা জেনেও কিছু জানে না বুঝে কিছু বােঝে
না ; তারা জানে শুধু তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ;-দেশের
বাণিজ্য যাক- শিল্প যাক---তাদের নিজ নিজ স্বার্থরক্ষা
হলেই তারা সুখী; তারা দেশ বােঝে না--দেশ চায় না।
বেইমান—স্বার্থপর !
ফতো। এই বেইমানদের কি শেষ নেই ! এদের কি ধ্বংস নেই ?
মীরকাশিম। সেই উদ্দেশ্যেই আজ আমার এই উৎসব। আজ
প্রভাতে নবাব-সৈন্য ইংরেজকে আক্রমণ করবে আদেশ
দিয়েছি। প্রতি মুহূর্তে আমি জয়বাৰ্তা প্রতীক্ষা ক’ছি।
শুধু তাই নয়—জয়ােৎসবের ব্যবস্থা পর্যন্ত করেছি। বেইমানরা
মুখে আমার জয়ধ্বনিও করছে-কিন্তু অন্তরালে আমার
চতুর্থ অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
পরাজয়ের আয়ােজন করছে। আজ তাদেরি জন্য আমার এই
উৎসব! কাল প্রাসাদে আমি আত্মগােপন করে থেকে
রটনা করে দিয়েছিলাম : আমি উদয়নালা দুর্গ পরিদর্শন করতে
গিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে ঐ জগৎশেঠ, ঐ রায়দুর্লভ, ঐ
রাজবল্লভ-নিশ্চিন্ত মনে ইংরেজ-শিবিরে গিয়ে উপস্থিত।
আজ প্রত্যুষে অতি গােপনে তারা মুঙ্গেরে প্রত্যাবর্তন
করেছে। তাদের প্রত্যেককে আমি নিমন্ত্রণ করেছি আমার
এই উৎসবে ! আজ যদি উদয়নালায় আমাদের পরাজয়
হয়--তাহলে এইখানেই বাংলার এই সেরা বেইমানদের-~-
ধ্বংস করে-আমরা আলিঙ্গন ক’ব মৃত্যু হয় স্বাধীনতা,
নয় মৃত্যু!
ফতেমা। মৃত্যুতে তােত প্রায়শ্চিত্ত হবে না প্রিয়তম, ! পলাশীর
প্রায়শ্চিত্ত তােমার প্রতিজ্ঞ। আমাদেরই পাপে যদি
স্বাধীনতা বায়—আমাদের গ্রহণ করতে হবে পরাধীনতা দূর
ক’বার সাধনা-মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত সেই হবে আমাদের
সাধনা—সেই হবে আমাদের ‘পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত।’-- যদি পার
সে-সাধনা গ্রহণ ক’বার পূর্বে নিৰ্ম্মল কর বেইমানদের
নির্মল কর বাংলার মীরজাফরদের
মীরকাশিম। ঐ তারা আসছে--তুমি অন্তরালে অবস্থান কর ;
স্বাধীনতা রক্ষার সাধনা যদি ব্যর্থ হয়-পরাধীনতা দূর করবার
সাধনা নিয়েই যাব ভারতের গ্রামে গ্রামে---ঘরে ঘরে,কিন্তু
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
স্বাধীন দেশের চেয়ে পরাধীন দেশে যারা হবে ভীষণতর
দুষমন---স্বাধীনতার এই সমাধিতে সেই বেইমানদের ধ্বংস
করে তবে আমরা যাব ।
ফতেমার প্রস্থান
উৎসব-বাদ্য বাজিয়া উঠিল—জগৎশেঠ প্রভৃতি আমীর ওমরাহগণ প্রবেশ
করিলেন। মীরকাশিম হর্ষোৎফুল্ল আননে তাহাদের
সহিত অভিনন্দন-বিনিময় করিলেন
রায়দুর্লভ। জনাব ! হঠাৎ এই উৎসব ?
মীরকাশিম। বলুন তাে কেন ?
জগৎশেঠ। নিশ্চয়ই আমাদের জয় হয়েছে। উদয়নালায় ইংরেজদের
আমরা বােধ হয় সবংশে নিধন করেছি।
রাজবল্লভ। মীরজাফরকে বধ করা হয়েছে তাে?
মীরকাশিম। হাঃ হাঃ হাঃ—আপনি কি বলেন, মীর্জাহরাজ খা?
মীর্জাইরাজ খাঁ। যদি তাকে বধ করা না হয়ে থাকে, ঐ আদেশটি
আমায় দিন্, জনাব । কাটোয়া আর গিরিয়ার যুদ্ধে পরাজিত
হয়ে, উদয়নালায় তার প্রতিশােধ নিতে চেয়েছিলাম, জনাব
আমায় সে সুযােগ দেন নি–আমার জীবনে যে কি জ্বালা, তা
কি বলব, জনাব !
মীরকাশিম। শান্ত হন-শান্ত হন। আপনি কি
বলেন,
সৈয়দমহম্মদ খাঁ ?
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
সৈয়দমহম্মদ খাঁ। উদয়নালায় আমাদের জয় না হয়ে যায় কোথায় ?
তকী গাঁ জীবিত থাকলে, অবশ্য, আমার সন্দেহ ছিল। ঐ
কাটোয়াতেই আমি ইংরেজের নাম পৃথিবী থেকে মুছে
ফেলতাম, পারলাম না শুধু তকী খার—হঠকারিতায়। যত বলি,
সব ইংরেজ আসুক, এক সঙ্গে মারব---শুনল না! বাক্-
দু’ একটা ইংরেজ বেঁচেছে, না সবংশে ?
রায়দুর্লভ। মীরজাফরের কী হয়েছে? বধ করা হয়েছে তো?
শত্রুর শেষ রাখতে নেই---শর শেষ রাখতে নেই।
মীরকাশিম। উদয়নালায় ইংরেজবাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস
মনিবেগম বন্দিনী-শীরজাফর বধ•••
নবাবের প্রতি কথায় জগৎশেঠদের মুখ-চোখের পরিবর্তিত ভাব
দেখিয়া নবাব কৌতুক অনুভব করিতে লাগিলেন
মীরকাশিম। ( ক্ষণেক থামিয়া ইহাদের অনুচ্চারিত আৰ্তনাদ
উপভােগ করিবার পরে বলিলেন) এই শুভ সংবাদ
পাবে এই আশায়--আজ এই উৎসব!...উৎসব। উৎসব।
জগৎশেঠের মুখ-চোখ উজ্জ্বল হইয়া উঠিল
সকলে। নিশ্চয় ! নিশ্চয়।
মীরকাশিম। আজ প্রভাতে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এখনাে জুয়বার্তা
আসছে না কেন শেঠজি ?
জগৎশেঠ। না এলেও এল বলে।
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
রায়দুর্লভ। ধরে নিন—এসেছে।
রাজবল্লভ। তা নয় তাে কি!
সৈয়দমহম্মদ। তকী খাঁ যদি বেঁচে থাকতে আমার সন্দেহ ছিল।
মীর্জাইজ খা। মীরজাফর খাঁ যদি বধ না হয়ে থাকে, তাকে গুলি
ক’বার ভারটা আমায় দিন জনাব ।
মীরকাশিম। আমার মনে হচ্ছে, কী কাজ এই অনিশ্চয়তার মধ্যে
থেকে। সন্ধি করলে কেমন হয় ?
.
সকলে।
সকলে মুখ চাওয়াচাওয়ি করিতে লাগিল
মীরকাশিম। ( জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ ও রাজবল্লভকে) আপনারা
নৌকা-যােগে উদয়নালয় ইংরেজ শিবিরে
তিনজনেই চমকে উঠলেন
একবার যাবেন ?
ইহারা হাফ ছাড়িয়া বাঁচিল
জগৎশেঠ। না জনাব ! কোন আবশ্যক নেই।
রায়দুর্লভ। ইংরেজ-শিবিরে সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার অপমানের
চেয়ে, আমাদের আর বে-কোন শাস্তি দিতে চান, দিন।
রাজবল্লভ। সেখানে মীরজাফর রয়েছে। সে আমার মুখের দিকে
চেয়ে যে-হাসি হাসবে তা সইতে পারব না জনাব ?
৯৪
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দস্য
মির্জাইরাজ খাঁ। দেশটাকে ডােবাতে পারব না জনাব।
জগৎশেঠ। এ যুদ্ধে আমাদের জয় অনিবাৰ্য। গুরগিন খা রয়েছে-
মসিয়ে জেটিল রয়েছে—ইংরেজ যাবে কোথায় ?
মীরকাশিম। বেশ! তবে সকলে স্ব স্ব স্থানে উপবেশন করুন,
উৎসব আরম্ভ হােক!
নেপথ্যে যন্ত্রধ্বনি আরম্ভ হইল
সরুর প্রবেশ
সমরু। নবাব—জরুরি খবর আছে-
মীরকাশিম। কি সংবাদ সমরু ?
সমরু। হামি ঘটবার কহিটেছে, ডুষমণডের শেষ করিয়া ডি-
নবাব কান দিটেছেন না—এবার টাহাদের কাণ্ড ডেখুন।
জগৎশেঠ প্রভৃতি চকাইয়া উঠিল ; তাহাদের পরম উদ্বেগ
মীরকাশিম। তুমি কাদের কথা ব’ছ সরু !
সমরু। মুঙ্গেরের ইংরেজ-লােক।
মীরকাশিম। তারা তাে নজরবন্দী রয়েছে।
সমরু। চাকর খানসামাডের ডিয়া টাহার গােল-গুলি-বর্ধক
জোগাড় করিটেছে—ঘুষ ডিয়া পাহারাদের হাট করিয়াছে।
মীরকাশিম। হু। এখানেও উৎকোচ ! উদয়নালার সংবাদ
কিছু পেয়েছ সমরু?
সরু।
না জনাব !
প্রথম দৃশ্য
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
মীরকাশিম। তা হলে আমাদের আরও কিছুকাল অপেক্ষা
করতে হবে। এখানকার সব প্রস্তুত ?
সমরু। সবই টৈয়ার জনাব।
মীরকাশিম। তুমি আমার আদেশের অপেক্ষায় থাক।
সমরুর প্রস্থান
নবাব রাজা রাজবল্লভের নিকট অগ্রসর হইলেন
রাজা রাজবল্লভ চঞ্চল হইয়া উঠিলেন
রাজবল্লভ। মনে কেন যেন একটা অশস্তি অনুভব ক’ছি।
মীরকাশিম। রাজাসাহেব, দেশপ্রেম সবে আপনার
সাড়া দিয়েছে। তাই ঐ বুকে আজ দ্রুত-স্পন্দন, দুরু দুরু
কম্পন।
জগৎশেঠ। উদয়নালার খবর এখনাে আসেনি জনাব ?
মীরকাশিম। উদয়নালার খবরের অপেক্ষাই কচি শেঠজি ! কি
খবর আসবে বলুন তাে?
জগৎশেঠ। আপনার বিজয়-বার্তা?
মীরকাশিম। তা হলে আজ সারারাত এই গঙ্গার বুকে চলবে
আমাদের নৌ-বিহার।
রায়দুর্লভ। কি প্রবল স্রোত এখানকার গঙ্গায় !•••••
মীরকাশিম। গা যখন ভাসিয়েই দিয়েছি, তখন স্রোতে আর ভয়
কি রাজা সাহেব !
রাজবল্লভ। বুরুজের নীচে•••গঙ্গা গর্ভে • প্রকাণ্ড একটা ঘূর্ণি—
ক
চতুর্থ অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরকাশিম। রাজা রাজবল্লভ ! বুরুজে দাড়িয়ে ঘূর্ণি দেখে
শিউড়ে উঠলেন। আর আমি কতবার দেখেছি আরােহী
সমেত কত নৌকা ঐ ঘূর্ণির বেইমানিতে পড়ে’ অতলে তলিয়ে
গেছে।.... উদয়নালায় যদি পরাজয় হয়—
রাজবল্লভ। তা হলে কি জনাব ?
মীরকাশিম। বলুন তাে রাজা রাজবল্লভ, বলুন তাে শেঠজি,
বলুন তাে রাজা রায়দুর্লভ, উদয়নালায় পরাজয়
হলে
আমরা কি ক’বাে? ( সকলে চুপ করিয়া রহিল। কেউ
বলতে পারছেন না ! উদয়নালায় পরাজয় হলেও আমরা
নৌবিহার করবাে
জগৎশেঠ। কিন্তু বুরুজের নীচেকার গঙ্গায় ওই ঘূর্ণি?
শীরকাশিম। উৎসবে যখন মন মেতে উঠবে। তখন গঙ্গার
জলের ঐ ঘূর্ণির ভয়ে কে তীরে বসে থাকবে? উৎসব।
উৎসব ! আবার সুরু হােক—নাচের উৎসব, গানের
উ ৎ স ব !••••••
নেপথ্যে আসন্ন ধ্বংসের আগমনী বাদ্য যেন বাজিতে লাগিল
রাজবল্লভ। জনাব।
জনাব !
মীরকাশিম তাহার কাছে আগাইয়া গেলেন
মীরকাশিম। একি! রাজা রাজবল্লভ ! আপনার
কপালে
ঘাম কেন ?
১৭
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
রাজবল্লভ। ওই বাজনা বন্ধ করতে আদেশ দিন, জনাব। আমি
উৎসব সইতে পারছি না।
রায়দুর্লভ। জনাব, উদয়নালায় সংবাদের জন্য আমরা উগ্রীব
হয়ে রয়েছি ! উৎসব আমাদের ভালাে লাগছে না—উৎসব
বন্ধ করুন জনাব !
মীরকাশিম। আপনারা বলছেন কি রাজা? উদয়নালার বিজয়-
বাৰ্তা আমি যেন স্পষ্ট শুতে পাচ্ছি। তাই তাে আমার মন
আজ উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে। আপনারা মিছে, চঞ্চল
হবেন না। উৎসব। উৎসব। হাঃ হাঃ হাঃ আজ নিশ্চিন্ত
উৎসব...•••
অন্য দিকে চলিয়া গেলেন
রায়দুর্লভ। ( মীরকাশিমকে দেখাইয়া) মাথা খারাপ হয়ে
গেল নাকি।
রাজবল্লভ। আমার ভয় হচ্ছে রায়দুর্লভ। ওর ওই হাসি, ওর ওই
পরিহাস---আমার ভাল লাগছে না; মনে হচ্ছে, ওর মনের
কোণে যেন রয়েছে কোন গূঢ় অভিসন্ধি।
জগৎশেঠ। রাজা রাজবল্লভ, রাজা রায়দুর্লভ দীর্ঘকাল আমরা
এক সঙ্গে রয়েছি, বন্ধুত্ব আমাদের আজও অটুট। যদি বিপদ
কিছু হয়, আমাকে ত্যাগ করবেন না
মির্জাইরাজ। ঐ আবার আসছে এই দিকে ।
চতুর্থ অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরকাশিম। , আপনাদেরও জিজ্ঞাসা করি আপনারা বলুন
ততা ! বলুন তাে, উদয়নালায় যদি আমাদের পরাজয় হয়,
তাহলে আমরা কি করব ।
সকলে মহাবিপদে পড়িলেন মীরকাশিম তাহাদের উত্তরের
জন্য অপেক্ষা করিয়া কহিলেন
দেখুন—ঐ
ব’তে পারছেন না ? ব’তে পারছেন না? তা হলেও আমরা
উৎসব করব
জগৎশেঠ। তা হলেও আমরা উৎসব করব?
মীরকাশিম। হা শেঠজি ! গঙ্গায় নৌ-বিহার! ওই দূরে চেয়ে
দূরে, একখানা কালো মেঘ ! ঐ মেঘ বড় হয়ে সারা
আকাশ ছেয়ে ফেলবে ; ঐ মেঘের রূপ দেখে গঙ্গা ফুলে ফুলে
উঠবে; সেই রূপ দেখে মেঘ গলে যাবে, জল হবে, ঝড় হবে।
সেই জলে ঝড়ে, ফুলে ওঠা গঙ্গার বুকে, আঁধারে, নিকষ কালাে
আঁধারে আজ হবে—নৌ-বিহার ! জীবনের পরম উৎসব
চরম উৎসব ! হাঃহাঃহাঃ-
সকলে। জনাব! জনাব !
নজাফ খাঁ প্রবেশ করিলেন
নজাফ খাঁ। জনাব । সৰ্ব্বনাশ হয়েছে। আমাদের শেষ প্রয়াসও--
মীরকাশিম আড়ষ্ট হইয়া তাহার দিকে চাহিয়া রহিলেন ;
তাহার পর কহিলেন
চতুর্থ অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরকাশিম। শেষ প্রয়াসও ব্যর্থ হয়েছে ?
নজাফ খাঁ। গুরগিন খা বেইমানি করে উদয়নালা ইংরেজের হাতে
তুলে দিয়েছে।
মীরকাশিম। গুরগিন! অবশেষে গুরগিন !-
নজাফ খাঁ। লক্ষটাকার বিনিময়ে।
মীরকাশিম। মাত্র লক্ষ টাকার বিনিময়ে !
নজাফ খাঁ। এই শেঠজিই সেই টাকার জামীন।
ক
জানিননামা দেখাইল
মীরকাশিম। শেঠজি••
জগৎশেঠ। জনাব! জনাব!
রাজা রাজবল্লভ । জনাব, আমরা এর কিছুই জানি না...
রায়দুর্লভ
মীরকাশিম। না, না, আপনারা কিছুই জানেন না ••••••ঐ.
মেঘে-মেঘে আকাশ ছেয়ে গেছে, ঐ শুনুন তার ডমরু-ধ্বনি,
প্রস্তুত হােন, আপনারা উৎসবের জন্য প্রস্তুত হােন, অন্ধকারে
গঙ্গার বুকে
নৌ-বিহার ! প্রস্তুত হােন, আপনারা প্রস্তুত
হােন•••সমরু•••সমরু•••
হাঃহাঃহাঃ-
বিদ্যুৎ, ডমরু, প্রলয়বাদ্য, নবারের অট্টহাস্য। সদলবলে সমরু
আসিয়া বেইমানদের বধ কৰিল। নবাবের অট্টহাস্তের
মধ্যে যবনিকা পড়িল
১০০
CARASWAT LICRARA Std:-129. . পঞ্চম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য দিল্লী জুম্মা মসজিদ সুবিস্তীর্ণ সােপান শ্রেণীর নিম্নস্থ প্রাঙ্গণ ফতিমাবেগম ও নজাফ খার প্রবে ফতেমা। পেলে ? নজাফ খা। মা ! ফতেমা। এখানেও নেই— নজাফ খাঁ। তাহলে গেলেন কোথায় ? ফতেমা। বাদশার সঙ্গে কিছুতেই দেখা করতে না দেওয়ায় আজ এখানে যখন বাদশা নামাজ পড়তে আসবেন তখন পথে দাড়িয়ে থাকবেন আমায় বলেছিলেন। নজাফ খা। আমায়ও তা বলেছিলেন। আমি তখনি নিষেধ করেছিলাম।” ফতেমা। আমিও নিষেধ করেছিলাম। চারদিকে শত্রু! চার- দিকে কোম্পানীর গুপ্তচর! ১০১
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নজাফ খাঁ। “ধরিয়ে দিলে লক্ষ টাকা কোম্পানীর সেই
ইস্তাহার দেখলাম এখানেও বিলি হয়েছে।
ফতেমা। আমাদের দিল্লীতে আসা একেবারেই উচিত হয় নি।
নজাফ খাঁ। বাদশার সঙ্গে দেখা করবার জন্য ক্ষেপে উঠেছেন,
আমার এখন মনে হচ্ছে বাদশাই ওকে ধরিয়ে দেবেন।
ফতেমা। বলেন, বাদশা ওর দোস্ত--
নজাফ খাঁ। চুপ! মনে হচ্ছে কেউ কেউ আমাদের লক্ষ্য ক’ছে।
আমরা ওদিকটা দেখে আসি-
ফতেমা সহ প্রস্থান
উজীর মাজাদউদ্দৌল্যা ও কর্ণেল কামিংসের চর আতাউল্যা খার প্রবেশ। .
তাহারা একধারে সরিয়া আসিয়া কথােপকথন
করিতে লাগিলেন
আতাউল্যা। আর কতক্ষণ এখানে বিলম্ব হবে জনাব ?
মাজাদউদ্দৌল্যা। নামাজের পরই যাব।
আতাউল্যা। কিন্তু আমার যে দেরী হয়ে যাচ্ছে। কর্ণেল কামিংস
চটে যাবেন। আপনার উত্তর নিয়ে আমার আজই সন্ধ্যায়
ফিরবার কথা।
মাজাদউদ্দৌল্যা। । এত ব্যস্ত কেন ?
আতাউল্যা। উদয়নালা যুদ্ধের পর আজ কত বৎসর পার হয়ে
গেল—আজো ইংরেজ মীরকাশিমকে ধরতে পারল না—মুঙ্গেরে
১০২
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
পাটনায় ইংরেজ-হত্যার প্রতিশােধ নিতে পারল না—বিলেতের
সাহেবরা পর্যন্ত ক্ষেপে উঠেছেন।
মাজাদউদ্দৌল্যা। ক্ষেপে উঠেই বা করছেন কি! আমি চিঠি
দিয়েছিলাম বলেই না আজ তারা জানতে পেরেছেন
মীরকাশিম এখানে!
আতাউল্যা। তারা আপনারই ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে
রয়েছেন।
মাজাদউদ্দৌল্যা। আমার ওপর নির্ভর করে রয়েছেন ব’লবেন না।
তাঁরা বাদশার ওপর নির্ভর করেছেন বলুন। তার কাছে পর
পর দু’থানা আর্জি পেশ করেছেন।
আতাউল্যা। মীরকাশিম বাদশার প্রাপ্য সুবে-বাংলার রাজস্ব
নিয়ে পালিয়েছে, বাদশা তাকে ধরুন—অপহৃত রাজস্ব উদ্ধার
করুন।
মাজাদউদ্দৌল্যা। বাদশা কি বলেন জানেন?
আতাউল্যা। কি ?
মাজাদউদ্দৌল্যা। বাদশা বলেন তিনি যখন পাটনায় অর্থহীন হয়ে
পড়েছিলেন, তখন মীরকাশিম তাকে বহু অর্থ দিয়ে সাহায্য
করেছিল। জীবনে তার ঋণ শােধ করতে পারবেন
আতাউল্যা। কোম্পানী বলে, বাদশা যদি কোন প্রকারে
মীরকাশিমকে বন্দী করে ইংরেজ-করে সমর্পণ করেন ইংরেজ
জাতি তার কাছে চিরবাধিত থাকবে।
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মাজাদউদ্দৌল্য। । এর উত্তরে বাদশার কি উত্তর শুনবেন ?
আতাউল্যা। কি জনাব ?
মাজাদউদ্দৌল্যা। মীরকাশিম বাদশার স্বজাতি—স্বধৰ্মী। বিদেশী
বিধর্মীর হাতে তাকে ধরিয়ে দেবেন এমন নরাধম বাদশা নন !
আতাউল্যা। কিন্তু এতে ইংরেজের বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে
কি?
মাজাদউদ্দৌল্যা। উদয়নালায় হেরে গিয়ে মীরকাশিম যখন
অবােধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌল্যার আশ্রয়ে ছিল—ইংরেজরা ঠিক
এইরূপ আর্জিই সুজাউদ্দৌল্যার নিকটও পেশ করেছিল।
কিন্তু সুজাউদ্দৌল্যা কি ক’রুল !
আতাউল্যা। মীরকাশিমের ধনরত্ন লুট করে নিয়ে মীরকাশিমকে
তাড়িয়ে দিল।
মাজাদউদ্দৌল্যা। কিন্তু ইংরেজের হাতে ধরিয়ে দেয় নি তাে। এর
কারণ আর কিছুই নয়, মীরকাশিম সুজাউদ্দৌল্যার স্বধী।
মীরকাশিম যদি একবার কোনমতে বাদশার সঙ্গে দেখা করতে
পারে-বাদশা তাকে আশ্রয় দেবেন—ইংরেজের হাতে কিছুতেই
সমর্পণ করবেন না--ইংরেজের শত্রুতার ভয়েও না !
আতাউল্যা। তাহলে উপায়? আপনি জানিয়েছেন মীরকাশিম
দিল্লীতেই রয়েছে।
মাজাদউদ্দৌল্যা। হঁা। দিল্লীতেই সে এসেছে। এসেই বাদশার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার জন্য আমার শরণাপন্ন হয়—কিন্তু
১০৪
পঞ্চম অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দশা - আমি তাকে সাক্ষাৎ করতে দিই নি-বাদশাকে জানতেও দিই নি যে সে এসেছে। আতাউল্যা। আপনি নায়েব উজীর বলেই এটুকু সম্ভব হয়েছে । দয়া করে এইবার ওকে ধরিয়ে দিন মাজাদউদ্দৌল্যা। কাজটা যত সােজা মনে ক’ছেন, তা নয়। আতাউল্যা। আমরা সংবাদ পেয়েছি ওর সঙ্গে যে তিন হাজার লােক কয়েকমাস আগেও ছিল, এখন তা নেই—সবাই ক্রমে ক্রমে খসে পড়েছে। মাজাদউদ্দৌল্যা। তারা ওর যা ছিল সব লুটে পালিয়েছে । এখন সঙ্গে আছে শুধু বেগম, আর আছে দু চারজন বিশ্বস্থ অনুচর। আতাউল্যা। তবে ওকে ধরতে আর অসুবিধা কি? মাজাদউদ্দৌল্যা। যদি বাদশা জানেন, কারাে রক্ষা থাকবে না। আতাউল্যা। যাতে বাদশা না জানেন এই ভাবে ধরিয়ে দিন মাজাদউদ্দৌল্যা। মুজুরি পােষাবে না। আতাউল্যা। কেন! কেন! লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘােষণাই আছে। তদুপরি, ইংরেজের খেতাব—মােটা বেতনে চাকুরী যা চান পাবেন- মাজাদউদ্দৌল্যা। ওটা অগ্রিম চাই এবং চাই গােপনে। আতাউল্যা। বেশ, তাই হবে। একবার নীরকাশিমকে দেয় যেতে পাই না ?
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মাজাদউদ্দৌল্যা। সেইজন্যই আপনাকে এখানে এনেছি।
আতাউল্যা। মীরকাশিম তবে এখানে
মাজাদউদ্দৌল্যা। শয়তান কি কম? দরবারে বাদশার সঙ্গে
সাক্ষাৎ করতে দিইনি বলে আমায় শাসিয়েছে জুম্মাবারে
বাদশা যখন নামাজ পড়তে আসবেন সেই সুযােগে সে বাদশার
সঙ্গে দেখা করূবে। প্রতি জুম্মাবারে আছে।
আতাউল্যা। সৰ্ব্বনাশ ! এখন উপায় ?
মাজাদউদ্দৌল্যা। উপায়—আমি করে রেখেছি।
আতাউল্যা। কোথায় সে ?
শাজাদউদ্দৌল্যা। হয় তাে আশে-পাশেই আছে। আসুন দেখুঁচি।
উভয়ের প্রস্থান
এক ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকপত্নী গান গাহিতে গাহিতে আসিল।
গান
চল্ বেদুইন, অচল পথে
পীতমকে তাের চা রে যদি !
রাজপথে যে কেবল ধূলাে,
এই জনতায় নেই দরদী।
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
মীরকাশিমের প্রবেশ। পরিধানে মলিন ছিন্ন পোষাক।
ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকপত্নীর গান চলিতেই লাগিল
?
খুজবে কারা মরীচিকা
মরুর বুকে যুঁই-কলিকা!
কে নিতে চায় ফকীরি ভাই,
কে নিবি বল্ রাজার গদী
ওগাে মালিক! তােমার দেশে
আসমানে সাত-সাগর মেশে,
সেই সাগরে কূল হারিয়ে
অকূল খোঁজে জীবন-নদী।
গানের শেষে ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকপত্নী মীরকাশিমের নিকট ভিক্ষা চাহিল
মীরকাশিম। নেই কিছু নেই। একদিন মুঠো ভরে মােহর
তুলতাম, মুঠো ভরে’ ছড়িয়ে দিতাম। আজ নেই...কিছু নেই।
মসজিদের দিকে ফিরিলেন
ভিক্ষুক । পাগল !
মীরকাশিম ফিরিয়া আসিয়া কহিলেন
মীরকাশিম। হাহা—পাগল ! ঠিক বলেছ পাগল। নইলে
কি শুনতে পাই সিরাজের আর্তনাদ, লুৎফার ক্রন্দন, বাংলার
হাহাকার ! তােমরা কি তা শুনতে পাও? তােমরা কি
১০৭
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
দেখতে পাও এক ফোটা রক্ত বড় হয়ে হয়ে সারা দেশ লাল
করে দিচ্ছে ? পাও দেখতে ?
ভিক্ষুক পত্নী। ( ভিক্ষুককে ) চল চল পালিয়ে যাই
মীরকাশিম। হাঁ, হঁ পালাও! পালাও! বাংলা থেকে পাটনায়,
পাটনা থেকে মুঙ্গের, মুঙ্গের থেকে অবােধ্যায়—অবােধ্যা থেকে
দিল্লীতে পালিয়ে এলাম। আতে আতে দেখলাম, যে
পারছে সে-ই পালাচ্ছে। মাটিতে স্থির হয়ে বুক ফুলিয়ে কেউ
রুখে দাড়াচ্ছে না—কেউ না ! সারা দেশে কেউ না ।
পালাও—পালাও••••••
কথা শেষ হবার আগেই ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকপত্না চলিয়া গেল ।
মীরকাশিম কথা শেষ করিয়া চাহিয়া দেখিলেন
মীরকাশিম। একা ! আবার একা !
ধীরে ধীরে গিয়া আবার মসজিদের সােপানে বসিলেন। ধীরে
ধীরে ফতিমা আর নজাফ খ প্রবেশ করিল
নজাফ। ওই দেখুন মা !
ফতেমা। নজাফ! এ-ও আমাকে দেখতে হলো ! অনাহারে
শীর্ণ দেহখানি জীর্ণ শালে জড়িয়ে নির্জনে নিৰ্বান্ধব ব'সে
রয়েছেন বাংলার প্রজাপালক নবাব কাশেম আলি !
নজাফ খাঁ। দেখা পেয়েছ, এই কি যথেষ্ট নয়, মা ?
ফতেমা। হ্যা, নজাফ, তা-ই আমার ভাগ্য। নজাফ।
নজাফ। মা !
১০৮
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
ফতেমা। আমি এগিয়ে যাব ওঁর কাছে ?
নজাফ। বাও মা-
ফতেমা। পেছনে চুপটি করে বসে ওর ব্যথা-ভরা বুকে হাত
বুলিয়ে দোব, নজাফ?
জাফ। দাও -
ম্লান হাসি হাসিয়া ফতেমা অগ্রসর হইল
কিন্তু না, মনে রেখ
ফতেমা ফিরিয়া আসিল
ফতেমা। কি নজাফ?
নজাফ। মনে রেখাে চারদিকে শত্রু। বেশীক্ষণ এখানে
থাকা নিরাপদ নয়। যত শীগগির পার ওকে নিয়ে
চলে এস।
ফতেমা। নজাফ।
নজাফ খাঁ। বল, মা-
ফতো। আমার যেতে সাহস হচ্ছে না ; আমি যাব না।
আমি..••••ফিরে যাই
নজাফ। সে কি মা ।
ফতেমা। তুমি জাননা নজাফ, মীরজাফরের কন্যা বলে নবাব
আমাকে কত ঘৃণা করেন! আমাকে দেখলেই হয়তাে
উত্তেজিত হয়ে চলে যাবেন। তাই, আমি বলি, নাক,
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
আমি চলে যাই। তুমি ওকে নিরাপদে কোথাও নিয়ে যাও।
তারপর তারপর যদি সুদিন কখনাে আসে, তাহলে
মীরকাশিম উঠিয়া দাড়াইলেন ; সিড়ি
দিয়া নামিয়া আসিলেন
নজাফ। নবাব এই দিকেই আসছেন—
ফতেমা। আমি যাই নজাফ।
একটু অগ্রসর হইল
মীরকাশিম। যেয়ােনা•••
ফতেমা দাড়াইল
যেয়ােনা তােমরা আর আমি একা থাকতে পারি না
তাহাদের মাঝে আসিয়া দাঁড়াইলেন
গাও আবার সেই গান
“ওগাে মালিক! তােমার দেশে
আসমানে সাত-সাগর মেশে
সেই সাগরের কূল হারিয়ে
অকূল খোঁজে জীবন-নদী”
গাও।
ফতেমার দিকে ফিরিলেন
গাও বহিন!
১১০
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দশ
ফতেমা। জনাব, জাহাপনা, আমি যে আপনার বাদী।
মীরকাশিম। কে! মীরজাফরের কন্যা ? এখানেও এসেছ
পিতার আদেশে এসেছ ধরিয়ে দিতে।
ফতেমা। মীরজাফরের কন্যা আমি নই জাহাপনা ! নবাব কাশে
আলির বাদী—ফতেমা !
মীরকাশিম। কাশিম আলির বাদী ।
নজাফ। জাঁহাপনা! চারদিকে শত্রু ! আপনাকে যে ধরিয়ে
দেবে সে লক্ষ টাকা পুরস্কার পাবে।
মীরকাশিম। হাঁ, হাঁ, তাই তাে মীরজাফরের কন্যা দিল্লী পৰ্যন্ত
ছুটে এসেছে লাখাে টাকার লােভে—আবে না! তার বাপ
একদিন টাকার লােভে বাংলাকে বিক্রী করেছিল।
ফতেমা। না জাহাপনা, মীরজাফরের কন্যা তার বাপের কাছে
ফিরে যাবে না! সে থাকবে তার স্বামীর কাছে ! লতা যেমন
করে গাছকে জড়িয়ে থাকে, ছায়া যেমন করে কায়ার
পেছনে পেছনে ফেরে, তেমন করেই আমি সকল দুঃখে,
সকল দুর্দিনে আপনার সঙ্গে অভিন্ন হয়ে থা, মৃত্যু ছাড়
কেউ আমাকে আপনার কাছ থেকে পৃথক করে নিতে
পারবে না।
মীরকাশিম। তবে তাই হােক! মৃত্যুই হোক মীরজাফরের
কন্যার স্বামীভক্তির—পুরস্কার।••••
গলা টিপিয়া ধরিলেন
১১১
পঞ্চম অঙ্ক
মীরকাশিম
প্রথম দৃশ্য
নজাফ। জনাব! জাঁহাপনা।
ছাড়াইয়া দিল
ফতিমা। হায় খােদা!
বসিয়া পড়িয়া কাদিতে লাগিল
মীরকাশিম। চোখের জলে আমি ভুলছি না! লুৎফাও
কেঁদেছিল, সিরাজও কেঁদেছিল, গােটা বাংলা আজ ডুকুরে
কঁদছে। কে তার মূল্য দিল ? কে তার মূল্য দেবে?
সিরাজ নিয়ত আমার কানে কানে বলচে-পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত
কর, পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত কর—
এই যে
মজাদউদ্দৌল্যা ও প্রহরীগণের প্রবেশ
আজাদ। এখানে এত গােলমালা কিসের?
শীরকাশিম। উজীর ! দয়া কর, ভাই, দয়া কর আমায়
একটীবার বাদশার সম্মুখে হাজির কর
মজাদ। দেখছি শক্ত পাগল--সরাও, সরাও বাশা আস্বার
সময় হয়েছে।
প্রহরিগণ মীরকাশিমকে ধরিতে গেল
মীরকাশিম। কি আমি পাগল ! বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার অধিপতি
নবাব মীরকাশিম পাগল ! আর সে কথা বলছে কিনা
বেতনভােগী এক ভৃত্য !
১১২
পঞ্চম অঙ্ক মীরকাশিম প্রথম দৃশ্য নজাফ। জনাব! জনাব ? আপনি স্থান-কাল-পাত্র বিস্তৃত হচ্ছেন ; আসুন, আমার সঙ্গে আসুন— মীরকাশিম। ( থকিয়া দাড়াইলেন) তুমিও নজাফ খ, শেষে তুমিও! তুমি আমায় পালাতে ব’ছ ? নাজামদ্দৌল্যার চরের প্রবেশ চর। (নাজামদ্দৌল্যাকে) জনাব ! বাদশা আছেন। মীরকাশিম। (শুনিতে পাইয়া সাল্লাসে) বাদশা আছেন! বাদশা আসছেন ! মাজাদ। কি সর্বনাশ! বন্দী কর, বন্দী কর, এ পাগলাকে বন্দী কর, এখান থেকে নিয়ে যাও বাদশা যাতে দেখতে না পায়। প্রহরী অগ্রসর হইল মীরকাশিম। কার সাধ্য আমায় বন্দী করে । বাংলা-বিহার- উড়িষ্যার অধিপতিকে বন্দী করবে কে? কার আদেশ ? ( রুখিয়া উপরের ধাপে উঠিতে উঠিতে বলিতে লাগিলেন । বাদশা। বাদশা ! রক্ষীরা তাহাকে ধরিল মাজাদ। বন্দী কর! বন্দী কর—পাগলাটাকে বন্দী কর মীরকাশিম। ছাড়, আমায় ছাড়। বিশ্বাস কর আমি পাগল নই,
GARLEWAT LIER
MAKARDAN- NOWRAH
==
পঞ্চম অঙ্ক
মীৱকাশিম
প্রথম দৃশ্য
আমি পাগল নই ! সুদূর বাংলা থেকে আমি পত্র বহন
করে এনেছি।••••••আলিবর্দীর পত্র, সিরাজের পত্র, গােপনীয়
পত্র-রক্তের হরফে লেখা পত্র:••আমি বাদশার কাছে,
খােদা-তালার কাছে পেশ করব•••
প্রহরিগণ ধাক্কা দিয়া িেলয়া দিল।
ফতেমা। হায় খােদা!—প্রভু-স্বামী-
মীরকাশিম কপালে হাত দিতে টের পাইলেন
রক্ত পড়িতেছে
মীরকাশিম। রক্তে লাল হয়ে গেছে! রক্তে লাল হয়ে গেছে
পলাশীর প্রাঙ্গণ বে-রক্তে রাঙা হয়েছে সে-রক্তে সারা
বাংলা লাল হয়ে গেল—সেই রক্তের বন্যা ধেয়ে আসছে,
সারা ভারত লাল হয়ে যাবে, সারা-ভারত লালে লাল
হয়ে গেল,-লালে লাল হয়ে গেল-লালে লাল
হয়ে গেল
(মৃত্যু )
যবনিকা
htd:-1919
চৱিত্ৰ পরিচয় সুবে বাঙলার নবাব। ঐ সেনানায়ক। ঐ গােলন্দাজ সেনানায়ক। ঐ সেনানায়ক। মুঙ্গেরের শাসনকর্তা। নবাবের ফরাসী সৈন্যাধ্যক্ষ । ভূতপূর্ব নবাব। মুশিদাবাদের ধনকুবের। মীরকাশিম নজাফ খা wafsta 1 ( Col. Gregory) সমরু ( Sombre) আরব খা FICT CGTG (Monsieur Gentill)... মীরজাফর জগৎশেঠ রাজা রাজবল্লভ রাজা রায়দুর্লভ নন্দকুমার ভ্যান্সিটার্ট । Vansittart) ওয়ারেন্ হেষ্টিংস (Warren Hastings) siti578 (Adams) 1... att (Carnac) BTWNT (Amiyatt) ( Hay ) খােজা প্রিস নজামদ্দৌল্যা } নবাবের ওমরাহগণ। মীরজাফরের দেওয়ান। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর গভণর । কোম্পানীর কাউন্সিলর। কোম্পানীর সেনাপতি। ৮। } কোম্পানীর কাউন্সিলরগণ চর মনি বেগমের গর্ভজাত মারজাফরের পুত্র। বাদশাহের নায়েব উজার । কর্ণেল কানিংসের চর। মাজাদউদ্দৌল্য। আতাউল্যা খ সৈয়দ বান্দা মুর্তাজা শা মীর্জাইরাজ খাঁ ••• মারকশিমের সেনানায়কগণ। ••• ফতেমা বেগম মনি বেগম মীরকাশিমের স্ত্রী প্রথমে নর্তকী তৎপরে মীরজাফরের বেগম।
প্রথম অভিনয় রজনী নাট্যনিকেতন কলিকাতা নৃত্য পরিকল্পনা ১৭ই ডিসেম্বর, ১৯৩৮ ১লা পৌষ ১৩৪৫ শনিবার রাত্রি ৭০ ঘটিকা সংগইনকাৱিগণ নাট্যকার মন্মথ রায় প্রযােজক শ্রীসুধীরচন্দ্র গুহ পরিচালক শ্রীসতু সেন সঙ্গীত রচনা শ্ৰীহেমেন্দ্র রায় শ্ৰীমতী নীহারবালা শ্ৰীঅমর বসু হারমােনিয়াম শ্ৰচাৰু শীল সঙ্গতি শ্ৰীবনবিহারী পান পিয়াননা শ্রীফণিভূষণ শীল ও শ্রীহারাধন বিশ্বাস বেহালা সেখ মােমতাজ চেলাে শীতারক চট্টোপাধ্যায় স্মারক শ্ৰীআশুতােষ ভট্টাচাৰ্য্য এমনিগােপাল মুখােপাধ্যায় আবহ সঙ্গীত শ্রীমধুসূদন আঢ্য শ্রীমদনমােহন আঢ্য আলােক শ্রীসুধীরচন্দ্র সুর, শ্রীশৈলেন দত্ত শ্রীসুধাংশু মিত্র রঙ্গমঞ্চোধ্যক্ষ শ্রীমাণিকলাল দে সজ্জাকর শ্রীকুঞ্জলাল রায়, শ্রীগােবিন্দ দাস, ননী গঙ্গোপাধ্যায় ও একালীপদ দাস প্রথম অভিনয়-রজনীর অভিনেগণ মীরকাশিম মীরজাফর নজাফ খাঁ নাজামদ্দৌল্যা আরব খা মীর্জাইরাজ খাঁ। সৈয়দমহম্মদ আলি মাজাদউদ্দৌল্যা আতাউল্লা গুৱগিন খা খােজা পিস্ সমরু সৈয়দবান্দা উজীর খাঁ মূৰ্তাজা খ রায় দুলাভ শ্ৰীছবি বিশ্বাস শ্রীশিবকালী চট্টোপাধ্যায় শ্রীভূপেন চক্রবর্তী শ্ৰীসিদ্ধেশ্বর গঙ্গোপাধ্যায় শ্রীগােপালচন্দ্র মুখােপাধ্যায় শ্ৰীবনবিহারী পানি ঐগিরিজাভূষণ মিত্র শ্রীপশুপতি সামন্ত শ্ৰীযুগল দত্ত শ্ৰীঅমল বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীনরেশচন্দ্র মিত্র গােপালচন্দ্র মুখােপাধ্যায় শ্ৰীকালী গােস্বামী শ্ৰীঅমূল্য হালদার শ্রীহরিদাস ঘােম শ্রীকুঞ্জ সেন শ্ৰীজীবন চট্টোপাধ্যায় শ্ৰীধীরেন চট্টোপাধ্যায় শীপশুপতি সামন্ত . রাজবল্লভ নন্দকুমার
[ ২ ]
ভ্যান্সিটার্ট
শ্ৰজিতেন গঙ্গোপাধ্যায়
হেষ্টিংস
এগিরিজা মিত্র
য়্যাডাম
এফণি গঙ্গোপাধ্যায়
কার্ণাক
শ্রীনরেন চক্রবর্তী
অমিয়ট
শ্ৰীসূৰ্য সেন
শ্ৰীআদিত্য ঘােষ
মসিয়ে জেন্টিল শ্রীকালিদাস মুখােপাধ্যায়
ভিক্ষুক
শ্রীগণেশচন্দ্র অধিকারী
ফতো।
শ্ৰীমতীনীহারবালা
মনিবেগম
শ্রীমতিঅপর্ণা
বাইজী ও ভিক্ষুকপত্নী শ্রীমতিদুৰ্গারাণী
খানসামা, চর, সৈন্যগণ প্রভৃতি-শ্ৰীবৈদ্যনাথ দাস, শ্রীমধুসূদন
বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীনকুল দত্ত, শ্ৰীযতীন দে, গুপিনাথ দাস,
শ্রীকৃষ্ণ কুণ্ড, শ্রীপাশ্বনাথ ধর, শ্রীঅনিয়মােহন ঘােষ,শ্রীমদনমােহন
গগাস্বামী, নিমাইচাদ রায়, শ্রীকানাইলাল বন্দ্যোপাধ্যায়,
শহরেন দাস
নর্তকীগণ—শ্ৰীমতীরাণীবালা, শ্ৰীমতীমুকুলমালা, শ্ৰীমতীপুষ্পরাণী
শ্ৰীমতীসুবাসিনী, শ্ৰীমতীরাণীবালা, শ্রীমতীবিদ্যুৎলতা,
শ্ৰীমতীননীবালা, শ্ৰীমতীকমলা, শ্ৰীমতীআশালতা
ইংরাজ নৰ্তকীগণ মিসেস্ বার্ণাডাে, মিস্ জোয়ান অ্যারিস
মিস্ রয়ারেড,
মন্মথ রায়ের রূপকথা প্রথম অভিনয় রজনী C.AP কর্তৃক ৩রা ডিসেম্বর ১৯৩৮ The Statesman, 4th Dec. 1938—“Something new in the history of the Bengali stage was attempted by the Calcutta Art Players last evening at the First Empire Theatre, when they adapted an Indian fairy tale to the European Conception of pantomime, while maintaining its full Indian characteristics. - In the story of “Rupkatha,'' Manmatha Ray, the author brought out all the items that constitute Indian fairy-tales—a winged- Horse, the Magic-flute, Golden Beetle and the Gold and Silver Wands-and of coursc, the Demons formed an inseparablc background." আনন্দবাজার-পত্রিকা, ৬ই ডিসেম্বর ১৯৩৮-~-রূপকথা নাটক—রূপকথারই এক কাহিনী। আমরা রূপকথার অনেক কাহিনীর সহিত পরিচিত ; কিন্তু রূপকথার কাহিনীকে মঞ্চে রূপ দিবার চেষ্টা এ পর্যন্ত আমাদের দেশে বড় একটা দেখা যায় নাই। আখ্যানভাগের অভিনবত্বে, অভিনয় ও নৃত্যগত মাধুর্য্যে, পরিচালনার গুণে, সঙ্গীতের মনােহারিজে নাটকখানি আমাদের কাছে অপূৰ্ব বােধ হইল।•••••• এইরূপ একখানি অভিনব ও সুলিখিত নাটকের জন্য আমরা শ্ৰীযুক্ত মন্মথ রায়কে অভিনন্দিত করিতেছি। Amrita Bazar Patrika. 5th. Dec. 193S - ".....Manmatha Ray, the noted playwright of the Modern Bengal School, has given it an exquisite dramatic shape mostly on the lines of the European pantomime, affording ainple scopes for music and dancing. His remodelling of the ageold story of the Prince Charming, his undying love for the Princess Charming carried away by an Ogre [ ২ ] and his rescue of her from within the prison of the Ogre's enchanted castle-has been truly masterly. He has packed his story with irresistible situations, with all the refreshing simplicity of a fairy-tale romance and with enthralling drama. Where he has branded the popular theme with his individual brilliance is his extra touch of symbolism tugged on to the shrewdly artistic establishment of love's ereftral truiinph over brute force......." মুগান্তৱরবিবার ৪ঠা ডিসেম্বর ১৯৩৮ “...সুপ্রতিষ্ঠ লেখক শ্ৰীমন্মথ রায়ের অপরূপ নাটিকা “রূপকথা’র নাটকাংশ যে রঙিনরূপে রঞ্জিত তা প্রত্যেক দর্শকেরই মনে শৈশবের পুরাতন স্মৃতি এনে দেবে।” বাতায়ন—“রূপকথা’র নাট্যরূপ দান করেছেন মন্মথ রায়। গল্পাংশ মৌলিক নয়--সেই রাক্ষসরাজের হাতে বন্দিনী রাজকুমারী আর তাকে উদ্ধার করল দুঃসাহসী এক রাজকুমার কিন্তু তাহলেও নাটকীয় রস-সৃষ্টি বিষয়ে তার পরিকল্পনা নিখুত হয়েছে বললেও অত্যুক্তি হয়না।•••” Advance, 7. 12. 38“.......The fable 'Rupkatha' is built from the pages of the fairy land by Mr. Manmatha Ray, a noted figure in Modern Bengali literature The way he has plugged charming dialogue revolving entirely on a note of suggestivity, bespeaks his inastery of story-telling. The effective dialogue has much to do with the dramatic build up...." ভগ্নদূত-৯ই ডিসেম্বর ১৯৩৮। .."রূপকথা” সত্যসত্যই রূপকথা। রাজকন্যা, রাজকুমার, যক্ষ, রূপকথার সেই আবহাওয়া সেই রঙীন কল্পনা সবই আছে। রূপকথাকে নাট্যরূপ দান করিয়া মন্মথ রায় গৌরবান্বিত হইলেন এবং তাহাকে পাদপ্রদীপের সম্মুখে রূপায়িত ( কিম্বা জীবন্তও বলা যাইতে পারে) করিয়া সি-এ-পি যে বাঙ্গলার সাধারণ নাট্যসম্প্রদায় হইতে পৃথক তাহা প্রমাণ করিলেন।...”
[ ৩ ] Dipali, 9th Dec. 1938. ... Mr. Mavmatha Ray, writer of the piece, has struck a new note in stage literature by nicely adapting the story of the cxiled Yaksha to the requirements of a fairy tale, and the combination of colour, tune and rhythm that accompanied its stage-representation went to make it unique. In fact, this type of fairytale in pantomime is to be rarely seen in our theatres, and the credit goes to the C.A.1":10, reviving a neglected aspect of stage-art...... দীপালি--৮ই ডিসেম্বর ১৯৩৮। “..-রূপকথা” সঙ্গীত- নৃত্যচটুল একখানি নাটিকা যাহার আখ্যানবস্তুই রূপকথা। কাজেই রূপকথায় থাকে শুধু রূপ ও কথা আর হাসি ও ব্যথা। নাট্যকার তবুও ইহার মধ্যে রাজপুত্র ও রাজকন্যার জন্ম জন্মান্তরের অতৃপ্ত অপূর্ণ অন্তরের আকুলতায় যে প্রেম যুগে যুগে জন্মে জন্মে এই দুইটি প্রেমিক-প্রেমিকাকে অবলম্বন করিয়া বাড়িয়া উঠিয়াছে, যা দেহান্তেও মরে নাই, পাষাণেও চাপা পড়ে নাই, সেই অবিনশ্বন প্রেমের জয়ই হিয়াছেন।...” VIDYUTPARNA Amrita Bazar Patrika.Sunday--1th Sept,193,5' Mr. Manmatha Roy, who with his remarkable literary gift has won his way to the fore-front of the dramatists of the day has given us this new play. "VIDYUTPARNA” would be esteemed by many keen lovers of drama as having brought a whiff of fresh breeze in Bengal's jaded arena of dramas. This one-act gem, complete in four compactly knitted out scenes, is a pleasant revelation of further developments of Mr. Roy's gift of the dramatic pen, calling forth the best in him.
The main thread of the story is perfectly well preserved, linking on to it the engaging byplays with consummate craftsmanship. Thc writer's deep insight into and understanding of human characters and his grasp of the art of creating and then ably tackling dramatic situations all imbued with the touch of his literary distinction, all go to make his work ingeniously bright. "VEĎYUTPARNA,' is a legend of yore which while thoroughly ingratiating in its foldings of legendary grandeur, is not bereft of a shrewd touch of modernism. The characters from his pen have just that artful hue of over-colour which makes them memorable....... Price AS-12. RAJNATI Hindustan Standard. Mar.13,1933.Cal. Edition. At a time when modern Bengali literature was really in need of a good dramatist, Sj Manmatha Ray appeared in this sphere with his keen insight into human nature and his extraordinary talent in creating a truly dramatic situation in his characters. In his book RAJNATI Sj Roy has once again exhibited his originality in this art. To those who complain of a dearth of suitable Bengali drainas for amateurs we are glad to recommend this book with this hope that it will be received with the same kind of appreciation as it was the case in Calcutta when it was staged by the C. A. P....... Price As. 12. রাজনটী—ফাষ্ট এম্পায়ার।-আনন্দবাজার পত্রিকা শ্ৰীযুক্ত মন্মথ রায় যশস্বী নাট্যকার। বিদ্যুৎপর্ণা নাটকের রচনাবিন্যাসে তিনি যে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়াছিলেন ‘রাজনটী’ নাটকের মধ্যেও তাহার অভাব নাই, এই নাটকের মধ্যে তিনি যে সূক্ষ্ম অন্তদৃষ্টি ও মনস্তত্ত্বের পরিচয় দিয়াছেন তজ্জন্য আমরা তাঁহার প্রতিভার যশােগান করিতেছি। মূল্য বার আনা।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.