Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Brihat Tarajar Larai Vol. 2

Das,ishwarchandra · 2009/11/1

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সৰ্ব্বদেবেভ্যো নমঃ।
বৃহৎ তরজার লড়াই।
দ্বিতীয় খণ্ড ।
অর্থ
নানাবিধ পুরাণ শাস্ত্র ও কাব্য সম্বলিত পদ্যছন্দে
মহাকবি শ্রীযুক্ত ঈশ্বরচন্দ্র দান সাতরার দ্বারা
প্রণীত
শ্ৰীযদুনাথ দত্ত কর্তৃক
প্রকাশিত।
কলিকাতা।
শ্ৰীযুক্ত বেণীমাধব ভট্টাচার্যের
জেনারেল প্রিন্টিং প্রেসে মুদ্রিত।
২৮ নঃ ৩ নিমাইচাঁদ গােস্বামীর লেন।
সন ১২৮০ সাল।
মুল্য।• দশ আনা।

সূচপত্র নির্ঘট নির্ঘট मी (मद जमा পাল্টা সুর্য্যের নামের জবাব ৪৬ রাম রাবণের সাট ও ব্লশের কলেতে জন্য তাহার জবাব ৪৯ *ী তার নামের জবাব কাটা মুণ্ড গর্ভে জন্মায় তাহার दन्त মহাদেবের জন্মের জবাব ৬ | রূতে দন্ত কাহার জবাব সতকের দশ কথার জবাব গ্রীষ্ণের নি বন্ধের জবাব শ্রীকৃষ্ণের মস্তকে পা ঘাভের শ্রাতার কালি রূপ ধারণের জবাব তিন নারির গর্ভে এক পুত্র নারদের জন্মের জবাব তার জবাব একশ ক'র মনের জবাব ৬৮ গড়ের জবাব ২ মুরের জবাব মহি ৱাৰণৰ জৰাৰ ২৩! এঁর গুর নামের জবাব ৭২ হনুমানের ছেলের বাব বসুদেবের সট পুত্রের মুর্ষ দেবের মস্তুকে গাল নের বাব ভাকে তার জবাব গঃ “ধ্য রূপ ধারণের মহাদেবের লেজের জব, ব ৩৩ ৭৭ নারায়ণের লেজের জবাব ৩) মননের পঞ্চ বাণের নামের মস্তকে নপুর বাজে তাহার জবাব মদনে ছয় পূত্রের জবাব ৩ ফুলের মধুৱ বাজে ভাহর গেঠ জবাব ৪১। তার সাথের মহিমা বর্ণন দ্বাদশ সুৰ্যের নামের জবাব ৪৪ ইতি পত সমাপ্ত। সর্ম সাধারণ জনগণ সন্নিধামে অতি :রা যাইতেছে। যে এই বৃহৎ ভরজার লড়াই দ্বিতীয় ও আমার অনুমতি ব্যতিরেকে যিনি ছাপাইবেন তিনি ইংরাজী ১৮৫৭ সালের ২০ আইনের মর্মানু সারে ঐ জাইনের অধিন হইতে হইবে। জদুনাথ দত্ত

বৃহৎ তরজার লড়াই।
দ্বিতীয় খণ্ড ।
সৰ্ব্ব দেৰ বন্দনা।
বন্দ প্রভু সৰ্ব্ব জ্ঞানদাতা মহেশ্বর। তন্ত্র আদি দেবগুরু
শিব দিগম্বর ॥ বন্দ দেব নারায়ণ মুক্তির কারণ। যাহার
শরণে ভববন্ধ বিমােচন বন্দ দেব বিধাতা বিখ্যাত যার
নাম। অনাদি অনন্ত প্রভু না হইও বাম। বল দেব ভাস্কর
ব্ৰহ্মণ পরাৎপর। সৰ্ব্ব দিক শােভা করে রাষ্ট্র চরাচর।
বন্দ দেব হুতাশন যাহার কারণ। যজ্ঞ সব পূর্ণ করে যত
দেবগণ ।। বন্দ গঙ্গা বিশ্বমাতা ত্রিলােক তারিণী। হরি-
পদে উদ্ভব মর্ত্যে সুরধুনী ॥ বন্দিলাম বরুণ দেব শুন সৰ্ব্ব
জন। বন্দিলাম কুবের আর ঈশান পবন ।। বন্দিলাম তা-
হার পরে দিপালগণে। বন্দিলাম ভক্তিভাবে যত মুনি
গণে || বন্দ নবদ্বীপে অবতার গৌরহরি। প্রকাশিলে সং
কীৰ্ত্তনে জীবে কৃপা করি ।। গুরুপদ বন্দিলাম সংসারের সার
দিব্য চক্ষু দিল গুরু মূল কর্ণধার । সৰ্ব্ব দেবময় গুরু শিবের
বচন। গুরু হইতে অধিক না হয় কোন জন৷ আগে গুরু
পশ্চাতে অবশ্য দেব জানি। অতএব তাহার জন্য গুরু শ্রেষ্ঠ

বৃহৎ তরজার লড়াই। : == মানি। অভীষ্ট হইলে রুষ্ট গুরু আজ্ঞা করে। গুরু রুক্টে নষ্ট স্পষ্ট বলে যাই তােমারে । সিরশী সহস্র দলে গুরুর 'চরণ। পরাৎপর বস্তু ভবে যে করে তারণ বন্দ গ্রহ যােগ তিথি নক্ষত্র করণ। যত প্রেত রুদ্র ভদ্র ভৈরব চরণ ॥ দিব সন্ধ্যা নিশি সিন্ধু বলিলাম এখন। নদ নদী অঙ্গরা বিদ্যা- ধরী যত জন । যােগিনী ডাকিনী বন্দ জলদ সাগরে। বন্দি লাম মনসা মাতৃকা অতঃপরে।। বন্দ দিক দশ মহাবিদ্য} অবতার দেব দেবীগণ যত বন্দিলাম এবার । ষাড়ে তিন কোটি তীর্থ করিলাম বন্দন। চতুর্দশ মুনি ঋষি আর যােগ- গণ। বন্দ কবি বেদব্যাস বাল্মীক চরণে। তাহার পরে বন্দিলাম বন্ধু যত জনে। বন্দনা করিতে যদি দেবতা এড়ায় লক্ষ লক্ষ প্রণাম করি সেই দেবের পায় । এক্ষণেতে বন্দনা মাের সাঙ্গ হয়ে গেল। আবাল বৃদ্ধ সভাসহ হরি হরি বল । রাম রাবণের সাট। বৃন্দের পিতার নামের জবাব। আমি রাবণ রাজা মহাতেজা জানে সৰ্বজন। বাহুবলে জিনেছি হে তিন ভুবন। ব্ৰহ্ম রাক্ষস বলে আমায় কল্পে উপহাস। বৈকুন্টেতে ছিলেম আমি স্বয়ং বিষ্ণুর দাস। জন- নী রাক্ষসী মম ব্রাহ্মণ মম পিতা। প্রপিতামহী ছিল মম ব্রহ্মার দুহিত। বিদ্যুৎ বরণী তিনি ব্রহ্মার কুমারী। ও

দ্বিতীয় খণ্ড।
e
তার ব্রহ্মশাপে পতি হইল রাক্ষস দুরাচারী ।। সুকেশ
নামে তার গম্ভে পুত্র জন্মাইল । পৰ্বতে ফেলিয়া শিশু
দেশান্তরে গেল । পৰ্বতে পড়িয়া শিশু করেন রােদন।
শিব দুর্গ। সেই স্থানে করেন গমন । হৈমবতী দেখে তারে
কৃপা করে ছিল। শিব বরে সেই পুত্র মহাধীর হলাে।
অঙ্গার নামে গন্ধৰ্ব যে ছিল এক জন। তাহার কন্যা বিভা
কৈল অতি বিচক্ষণ ।। পতি সঙ্গে সহবাসে থাকে দুই জন ।
ক্রমেতে জন্মিল তার তিনটী নন্দন । তিন পুত্র কিবা নাম
সভামাকে বলি। সুমালি আর মাল্যবান আর হইল মালি
সেই মাল্যবানের কন্যা হয় আমার জননী। তাহার পুত্র
রাবণ আমি পরম সানি। আমার বাণের জোরে স্বর্গপুরে
ইন্দ্র করে শঙ্কা। আমি কুবের জিনে কেড়ে নিলাম কনক ।
পুরী লঙ্কা। আমি বায়ু বরুণ কুবের জিনি দেব পুরন্দর।
হুতাশন সমন জিনি দ্বাদশ ভাস্কর। আমায় দেব শনি নিত্য
আসি বস্ত্র কাচি দেয়। পূণিমার চন্দ্র আসি নিত্য উদয় হয়
দেখ যমরাজা মহাতেজা ঘােড়ার ঘেসেড়া হলাে। অগ্নি
আসি আমার গৃহে রন্ধন করিল। দুয়ারেতে দ্বারী
আমার ছিলেন অরুণ। মন্দির মার্জনা করে পবন বরুণ ॥”
আমার লঙ্কায় নাহিক শঙ্কা মহামায়া রয়েছে। আমার
মতন এসংসারে দিগ্বিজয় কে আছে।। সকল দেবতায় আমি
করিয়াছি জয়। তােমায় জয় করে যাব দশরথ তনয় ৷

বৃহৎ তরজার লড়াই। আজ বলে ছলে সভাস্থলে করে যাবজয়। কেমন করে জিবে আমায় দেখব দয়াময় । ব্ৰহ্ম রাক্ষস ব্রাহ্মণ পুত্র মিথ্যা কথা নয়। তােমার ভগ্নীপতি হয়ে কিন্তু তােমার জন্ম দেয় বিভাণ্ডকের পুত্র দেখ ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি। অযযাধ্যায় আসি দু- ভাগ চরু করেন তিনি। ভাল জন্ম হলো তােমার মা খেয়েছে চরু। বাবা বলে ডাকবে কারে বুদ্ধি তােমারু সরু দশরথ তােমার পিতা কেমন করে হলাে। ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি তােমার জন্ম দিয়ে ছিল । আমি ঢেমন কি তুই ঢেমন এই- বার জানা যাবে। এম্নি ধারা পরিচয় দিতে আমায় হবে। ঋষ্যশৃঙ্গ জন্ম দিল মিথ্যা কথা নয়। আমি রাবণ রাজা মহাতেজা রাষ্ট্র জগতময় ।। বেটা আমার মতন এমন ছেলে বল কেবা আছে। নিজে ঢেমন হয়ে বেটা আমারে বল তেছে।। বেটা গুণের গুণি মহাজ্ঞানি মিথ্যা কথা নয় । আর একটা কথা কিছু শুন মহাশয় ॥ রাজার ছেলে হয়ে বেটা যুদ্ধ চুরি করে। অন্যায় যুদ্ধ করে বেটা বালি রাজা মারে। চোরা বাণে কি কারণে বালিরে মারিলে। তার শাপে মনস্তাপে অতি কষ্ট পেলে ।। বালি বধে সুগ্রীবেরে তারা সতী দিলে। ধর্ম জ্ঞান নাইক তােমার এমন কৰ্ম্ম করিলে। ও সব কথা আজ হেথা নাহিক প্রয়ােজন। চাপান দিয়ে গেছ তাহার শুন বিবরণ || আমায় তুমি জিজ্ঞাসিলে বৃন্দের পিতার কথা। বেদে গাঁথা নয় অন্যথা বলে যাব যথা । ০

দ্বিতীয় খণ্ড।
ব্ৰহ্মার পুত্র জাম্বুবান মিথ্যা কথা নয়। তাহার কন্যা মহা
ধন্যা বৃন্দে সতী হয় ৷ শঙ্খাসুর দেখ ভারে বিবাহ করিল ।
কৃষ্ণ শাপে তুলসী হয়ে নারায়ণ পাইল । এক্ষণেতে তাে-
মার তরজার জবাব হয়ে যায়। আমার একটী কথা কিছু
শুন মহাশয় দেবের দেব মহাদেব দেব ত্রিলোচন। মহা-
দেবের জন্ম কথা কহ বিবরণ ।। কাহা হইতে মহাদেবের
জন্ম হয়ে ছিল। কিবা নাম ধরে সেই সভার মাঝে বল ।
যদি বল শক্তি গর্ভে শিবের জন্ম হলো। সে কথাটি ঈশ্বর
চন্দ্র নস্যাৎ করে গেল । ঈশ্বর বলে সভাস্থলে জবাব
ইহার চাই। হরি হরি বল সবে বিদায় হলেম ভাই ।।
বন্দনা।
দেব ত্রিপুরারি প্রণাম করি বন্দ বােব ভােলা। রাম
নাম জপেন সদা শ্মাশানে একেলা। বল অর্ধচন্দ্র লাগায়
বন্ধ ললাট উপরে। কিবা শােভা মননলোভা ত্রিনয়নী ধারে
বন্দ ধুতুরা ফুলে সভাস্থলে বন্দ তিন ফণি । তাহার উপর
বিরাজ করে আপনি সুরধুনী। বল হাড়মালে দোলে এক
শত আট নাম। যে করেছে দেহ পালট বসে প্রভুর বাম ।
বন্দ আকন্দ ফুল নহে বাবু, ভুল মিথ্যা কথা নয়। কোন
রাজার ছেলে গলে দোলে কিবা শোভা পায়। বন্দ শিঙ্গা
ডম্বর বাজায় শম্ভু কৈলাস শিখরে। রাম নামে নৃত্য করে

বৃহৎ তরজার লড়াই।
দেখ গিরিপুরে। বন্দ ত্রিশূলেরে সভা ভিতরে বন্দিলাম
এখন। যে ত্রিশূলে ব্রহ্মার মাথা কাটে ত্রিলােচন। বন্দ
সিদ্ধির ঝুলি সভায় বলি আঁখি ঢুলু ঢুল। ভাং খেয়ে মত্ত
হয়ে মজায় কুচনীর কুল। বন্দ বাঘম্বর দিগম্বর করেন
ধারণ। বাঘমূর্তি হয়ে ছিলেন আপনি ত্রিলােচন ॥ বন্দ
বৃষােপরে বিরাজ করে শঙ্কর শঙ্করী। কিবা শােভা গম্ভিরিতে
আহা মরি মরি। বন্দনা করিতে অনেক রাত্র হয়ে যায় ।
একে একে বলি আমি শুন সমুদয় । এই পর্যন্ত হলেম ক্ষান্ত
বন্দনা ফুরাল। দুবাহু তুলে বন্ধু সকলে হরি হরি বল ।
মহাদেবের জন্মেয় জবাব ।
রাবণ রাজা মহাতেজা দর্প করে গেল। বলে ঋষ্যশৃঙ্গ
মুনি তােদের জন্ম দিয়ে ছিল ৷ ওরে সামান্যে কি আমার
জন্ম শুন রাক্ষস বলি। ব্রাহ্মণের ছেলে হয়ে সভার লােক
হাসালি । আমার জননী রাজরাণী দশরথ গৃহিণী। তারা
যজ্ঞ করে চরু খেলে দেখ তিন রাণী। কৌশল্যার গৱেতে
আমার জনম হইল। কৈকেয়ীর গর্তে ভরত আসি জনম লইল
সুমিত্রা জননী আমার দুই অংশ পেয়েছে । সেই দুই অংশে
লক্ষণ শত্ন জন্মেছে। সেই তিন গর্ভে চারি জন
জনম হইল। আমার পিতা দশরথ কোলে তুলে নিল ।
আসিয়া বশিষ্ঠ মুনি দীক্ষা করাইল। ধনু বিদ্যা আদি

দ্বিতীয় খণ্ড।
করি শাস্ত্র পড়াইল | তাহার পরে বিশ্বামিত্র মুনি যে
আসিল। দুই ভাই সঙ্গে করি আশ্রমে চলিল। তাড়কা
রাক্ষসী এক সেই স্থানে ছিল। আমার বাণে সেই বনে
ভস্ম হইয়া গেল ৷ তাহার পরে মুনি সঙ্গে সুবাহু বধেছি।
সেই স্থানে মারিচেরে জব্দ করে দিছি। সেইখান হতে
বিশ্বামিত্র সঙ্গে লয়ে যায়। দেখি পতি শাপে আছে
সতী পাষাণ হৃদয় ৷ গোতমের ভাৰ্য্যা তিনি মিথ্যা কথা
নয়। আমার পদ ঠেকে তিনি উদ্ধার হয়ে যায় । তাহার
পরে বিশ্বামিত্র দুই সহােদরে। উপনীত হইল গিয়া
মিথিলা নগরে ।। দেখ শিবদত্ত ধনুক এক মিথিলার ছিল।
সেই ধনুক ভাঙ্গতে সেথা রাবণ বেটা গেল। ওরে
তিন ঢেমনে ঘর যার সাধ্য কি সে পারে। ওরে জানমারে
স্বয়ং লক্ষী জনকের ঘরে ৷ অপমান হয়ে বেটা লঙ্কাপুরে
গেলি। যত ক্ষমতা আছে তাের দেখেছি সকলি । ওরে
আমার ক্ষমতার কথা কিছু শুনরে বলি তােরে। ধনুক
ভাঙ্গিতে সীতা দান করিল মােরে ।। চার কন্যা কৈল দান
জনক রাজন। উর্মিলা করিল বিভা অনুজ লক্ষণ ।। ভরতে
মাবি কন্যা দান যে করিল। সতকীৰ্ত্তি নামে কন্যা
শত্রুঘ্নে দিল। বিভা করি চলিলাম অযােধ্যার পথে।
দৈবযােগে দেখা হইল পরুশুরামের সাতে । তাহার দর্প
চুর্ণ করি অযযাধ্যায় যাই। শাস্ত্রের কথা : " অন্যথা তােমা

বৃহৎ তরজার লড়াই। দের জানাই। এইবার তােমার জন্মের কথা দিব পর- চয়। রাক্ষস গর্ভে জন্মে বেটা ব্রাহ্মণ কল্লায় | ভাব কোন রাজার সঙ্গে বল নিকষা বুড়ী ছিল। ব্রাহ্মণ ছেড়ে রাক্ষস ছেড়ে রাজা খেতাব হলাে। আমি ঢেমন কি তুমি ঢেমন দেখবেটা মনেতে। কয় জেতে ঘর হলো বেটা বলে যা সভাতে ।। খাটি খাটি পরিপাটী এসব কথা চাই। পড়েছ আমার হাতে নিস্তার পাবে নাই । দিগ্বিজয় করে বেড়ায় জানে সৰ্ব জন। তোমার তরজার দিব জবাব শুনে যাও এখন আমায় তুমি জিজ্ঞাসিলে মহাদেবের কথা। বেদে গাঁথা নয় অন্যথা বলে যাব যথ।।। শক্তি গর্ভে মহাদেবের জনম হইল। সভার কাছে ঐ কথাটী নস্যাৎ করে গেল | কোন জন মহাদেবে জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ শুনগাে সকল।।গােলােকে থাকিয়া প্রভু সৃষ্টি প্রকাশ করে। বাম পার্শ্বে সৃজিলেন দেখ মহেশ্বরে। পঞ্চমুখ দেখ তার হইল দিগম্বর। কিবে ছটা রূপের ঘটা মাথায় জটা ভার ।। ত্রিনয়ন হইল ত্রিশূল দিল করে। সকলের গুরু জিনি এতিন সংসারে ।। মৃত্যুপতি হয় সদাশিব মৃত্যুঞ্জয় মহাজ্ঞান দাতা মহাজ্ঞানী যারে কয়। ব্ৰহ্মতেজে তেজো- ময় বৈষ্ণব প্রধান। করযােড়ে কষ্ণে স্তব করেন ঈশান ।। আজ্ঞা পায়ে নারায়ণে করিয়া সত্তাষ। রত্ন সিংহাসনে বসিলেন কৃত্তিবাস। মহাদেবের জন্ম দেখ দিলেন নারায়ণ।

দ্বিতীয় খণ্ড।
খাটি খাটি পরিপাটী শুন বিবরণ দিলেম জবাব অহে
নবাব শুনলে সৰ্ব্ব জন। একটি শাস্ত্রের কথা বলে যাব
জবাব দেও এখন৷ ছেলে বেলা লেখা পড়া সকলে করেছে।
শতকের দশ কথা কিছু বলি দশের কাছে। এক চন্দ্র কোন
চন্দ্র জিজ্ঞাসি তােমারে । দুই পক্ষ কোন্ কোন্ পক্ষ বলিবে
আমারে ।। তিন নেত্র কাহার নেত্ৰ কহত দেখি শুনি।
চার বেদ কোন্ কোন্ বেদ কহিবে আপনি ৷ পঞ্চবাণ
কোকোন্ ৰাণ বুঝিতে না পারি। ছয় ঋতু কোন্ কোন্
ঋতু কহ শীঘ্র করি । সপ্ত সিন্ধু কোন্ কোন্ সিন্ধু বলে
যাও আশরে । অষ্টবসু কোন্ কোন্ ৰসু জিজ্ঞাসি তাে-
মারে। নব গ্রহ কোন কোন্ গ্রহ কহতাে দেখি ভাই।
দশ দিকের কথা আমি শুব তব ঠই। শতকের দশ
কথা বাবু জবাব দিতে হবে। শাস্ত্রের কথা নয় অন্যর্থ।
বুঝে পড়ে লবে ।। এইবারেতে আশর হতে বিদায় হয়ে
যাই। ছুলি দাদা বাজাও ঢােল হরি বল ভাই ৷
শতকের দশ কথার জবাব।
রঘুপতি আজ সম্পতি জিজ্ঞাসা করে যাই। তােমার
হেমলতা ভগ্নীর কথা তােমারে জানাই। তােমাদের বড়
ঘরে ছােট কথা ঘটিল বিষম দায়। তােমার জ্যেষ্ঠাভগ্নী
কুলের কামিনী অঙ্গদেশে যায়। লােমপাদ রাজা ছিল

বৃহৎ তরজার লড়াই। ত্রিজগতে জানি। তােমার ভগ্নী হয়ে হলাে তাহার নন্দিনী। যুবকাল হইল তার বিভা নাহি হলাে। আইবড়তে তােমার ভগ্নীর কমল ফুটেছিল। তােমার ভগ্নার কথা আজ হেথা রাষ্ট্র হয়ে যায়। পুরাণেতে আছে লেখা না কহিলে নয়। তােমার বাপ লােমােদ সত্য করেছিল। তার জন্য তােমার ভয়ী সেই স্থানে গেল।। আইবড়তে দেখ তার কমল ফুটিল ললামপদ রাজ্যে তখন অনাবৃষ্টি হলো। সশ্য আদি নাহি হলাে ভাবেন প্রজাগণ। কিসেতে বঁচিবে প্রাণ বল হে রাজন। ভাবনা করিয়া রাজা মন্ত্রণা করিল। বিভাশুকের পুত্র আন্তে রাজাজ্ঞা হইল ।। লুচীর পাতা মণ্ডার ফল বৃক্ষ যে করিল। চিনীরপানা জল করি নৌকাতে তুলিল । কতকগুলি যুব নারী নৌকা বেয়ে যায়। যে দেশেতে ঋষ্য- শৃঙ্গ উপনীত তথায়। ছলে বলে যুবতীরা ভুলাইল তারে । রঙ্গ রসে আসে সবে নৌকার উপরে। কত বুঝাইয়া তারে নৌকাতে তুলিল । ললামপাদ রাজ্যে আসি উপনীত হলাে ঋষ্যশৃঙ্গে দেখি বাজ! বড় খুসি হয়। তােমার ভগ্নীকে রাম বিভা তারে দেয়। তােমার ভগ্নীকে যদি মুনি বিভা কৈল তাহার পরে তােমার জন্ম সেই মুনি দিল । মিথ্যা কথা নয় মহাশয় মিথ্যা কথা নয়। আদ্যকাণ্ডে আছে ইহা দেখ সমুদয় । আবার একটা কথা রাম মনে পড়ে গেল। তােমার বাপ পরশুরামের ধনুক বয়ে ছিল। সেই পরশুরামের ধনুক দ্বিতীয় খণ্ড। যয়ে টাক পড়ে গিয়েছে। টাকপড়ার ছেলে এসে তরজা যে গাইতেছে।। ক্ষত্রি হয়ে এমন কর্ম কেবা করে ছিল। অন্ধ মুনির পুত্র সিন্ধু তাের পিতা মারিল। অন্ধের পুত্র মেরে তোর বাপের কিবা হলাে। অন্ধমুনি তাের বাপে মভিশাপ দিল । সেই শাপেতে তাের বাপ বাসিম হয়েছে। আতপচাল পেলে নাকো বালির পিণ্ড খেয়েছে পুত্র হয়ে পিতার কাৰ্য্য যে বেটা না করে। এমন জন্ম জন্মে ছলি কেন তার ঘরে। পুত্র হয়ে পিতার কাৰ্য নাহিক করিলি। তারি জন্য চেন্ন ছেলে সভার মাঝে বলি। তাে- দের জন্মের ধারা চমৎকার কত আর বলিব। সাত ঢেমনে ঘর তােদের কত বুঝিয়ে যাব । জেনেছি জেনেছি রাম জে- নেছি হে ভাল। একটী শাস্ত্রের কথা বলি হেথা শুনহ সকল । স্বয়ং ব্রহ্ম রাম নাকি পুরাণেতে শুনি। এসেছ আ- মার কাছে রণ করিতে তুমি।। রাম রাবণের হবে যুদ্ধ অতি বিচক্ষণ। কেবা হারে কেবা জিনে দেখবে সৰ্ব্ব জন । শুন শুন ওহে রাম শুন বিবরণ। শতকের দশ কথার জবাব দিয়ে যাই এখন। এক চন্দ্র উদয় হয় গগণ মণ্ডলে। দুই পক্ষ শুক্লপক্ষ কৃষ্ণপক্ষ বলে। তিন নেত্র শিবের নেত্র মিথ্যা কথা নয়। চারি বেদের কথা কিছু শুন সমুদয় ।। সাম যজু- ঋক অথর্ব চারি হয়। পঞ্চ বাণ মদনের জানিবে নিশ্চয় ছয় ঋতুর কথা কিছু শুন সৰ্ব জন। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ

বৃহৎ তরজার লড়াই।
বলে যাই এখন।। শিত হেমন্ত বসন্ত আর কহি সভার
কাছে। গ্রীস্ম বরষা শরৎ ঋতু ছয় আছে । সপ্ত সিন্ধু
কোন কোন সিন্ধু শুন বলে যাই। দধি দুগ্ধ ঘােল ঘৃত বণ
সমুদ্র ভাই ।। ক্ষীরােদ আর মধু দেখ সপ্ত সমুদ্র হলাে। অষ্ট
বসু গঙ্গার পুত্র জানিবে সকল । ধপ ধুপ সম অহ অনিল
অনল।প্রত্যুষ প্রভাত অষ্টবসু যে লিখিল নবগ্রহের কথা
আমি কহি সভার স্থানে। রবি সােম মঙ্গল বুধ জানে সর্ব
জনে। বৃহস্পতি শুক্র আর শনি দেখ হয়। রাহু কেতু
নবগ্রহ শাস্ত্র মতে কয় | দশ দিগের কথা বাবু এবারে
বলিব। খাটি খার্টি পরিপাটী জবাব দিয়ে যাব । পূৰ্ব্ব
উত্তর পশ্চিম দক্ষিণ চারিদিগ হয়। নৈঋত ঈশান বায়ু
অগ্নিদিক চারি কয়।। স্বর্গ মর্ত্য আদি করি দশ দিক লিখিল
শতকের দশ কথা মহাশয় জবাব হয়ে গেল। শুন শুন
ওহে রাম শুন বিবরণ। দেবের দেবতা হন দেব নারায়ণ ॥
নন্দের নন্দন কৃষ্ণ জানে সৰ্বজন। হেন অনাচার কৰ্ম্ম কৈল
কোন জন। কৃষ্ণের মস্তকে কেবা পদাঘাত করিল। তার
কোথায় ধাম কিবা নাম সভার মাছে বল । বৃন্দে তুলসী
বলতে মনের মধ্যে ছিল। তাহা নয় মহাশয় আর কেব
বল যদি বল শ্রীরাধাকে মস্তকে করেছে। নস্যাৎ করে
যাই গাে আমি বলি দশের কাছে।। ঈশ্বরচন্দ্রের দোষ নাই
শুন গো ভবানী। অন্তিমকালে দিও আমায় চরণ দুখানি ।।

দ্বিতীয় খণ্ড।
ইহার জবাব দিবে প্রাণ যুড়াবে শুনবে সর্ব জন। চুলি
দাদা বাজাও ঢােল বিদায় হই এখন।
শ্রীকৃষ্ণ মস্তকে পদাঘাতের জবাব।
দশরথ পুত্র আমি অজ রাজার নাতি। সূৰ্য্যবংশে জন্ম
আমার জগৎ খেয়াতি । পিতার সত্য পালিবরে বনেতে
এসেছি। পঞ্চবটীর বনে আসি বাস করে আছি। সঙ্গেতে
জানকী আর অনুজ লক্ষণ। কিছুকাল করি বাস বনে
তিন জন৷ কিছুকাল সেই বনে করিলাম বসতি। উপনীত
হইল শূর্পণখা মায়াবতী। তােমার ভগ্নী গেল সেথা মিথ্যা
কথা নয়। একে একে আমার কাছে শুন সমুদয় । শুরূপ
সমান নােক সূর্পণখা নাম। জানে কত নানা মায়া রঙ্গ রসে
ঠাম । ছুড়ি আসি মধুর বাক্যে পুরুষ ভুলায়। চর্ম বেশে
বনে বনে ফিরে সর্বদয় | মনের মতন পুরুষ পেলে আলি-
ঙ্গন করে। কুচ্ছিত পুরুষ হলে পেটের ভিতর ভরে। এই
রূপে নানা ছলে করেন ভ্রমণ। জিনিয়া উর্বশী রম্ভা রূপ
সুলক্ষণ | আমারে দেখিয়া ছুড়ি হাসিয়া হাসিয়া। খুলে
খালে বলিলেন লজ্জা তেয়াগিয়া । আমারে করিবে পতি
এই ছুড়ির মন। নিকটে বসিল আসি সহাস্য ৰদন। সদা ,
কয় মিষ্ট কথা কুলটার ধর্ম। কত ছলে কত বলে কে বুকে
তার মর্ম। আলু থালু হয়ে ছুড়ি আমারে জানায়। কোথা
তােমার বাড়ী প্রাণ বলনা আমায় ৷ জিজ্ঞাসীল পরিচয়
২

বৃহৎ জার লড়াই।
.
নারী পুরুষ
ভুল করে আমারে । কি জন্য এসেছ তােমরা বনের ভি
তর। কাননে রমণী সহ কিসের কারণ । দেখিতেছি এক
দুই জন। ছুড়ি কাচলি আটা জুলপি কাটা
কত সাজ সেজেছে। কামে মত্ত হইয়া ছুড়ি ঘুরিয়া পড়-
তেছে । রূপসী রাক্ষসী তাের ভগ্নী ছুড়ি ছিল। লক্ষণ
আসিয়া তার নাক কাণ কাটিল ।। কামের জ্বালা নিবারিতে
মুড়াতে জীবন। নাকের জ্বালায় ছুটে পালায় ভাবে মনে
মন । নাক কাণ কাটা গেল খাদা ছুড়ি হলাে। খাদ।
নাকে মােলক দেয় সাজে নাক ভাল ।। যেমন কর্ম তেম্নি
ফল লক্ষণ দিয়েছে। এমন ধারা তােমার ভগ্নী কতকগুলি
আছে । পতি ছেড়ে বনে বনে ফেরে দিবানিশি। মায়াতে
নাতিয়া বেড়ায় যেন কাল শশি । আমার ভগ্নী মুনি পু
বিভা যে করিল। এমন করে নাক কাণ কেবা কেটে ছিল ।
আমার ভগ্নী পরম সতী মুনি কুলে আছে। তােমার ভগ্নী
কত লােকে ধরিয়া খেতেছে। আর এক ভগ্নী তােমার না
কি মধুদৈত্য নিল। কয় জেতে ঘর বেটা শীঘ্র করে বল ।।
তােমার জন্ম আইবড়তে তাহা আমি জানি। আমার
কাছে ঢেন্না পনা আর কোরনা তুমি।। আর কি অধিক কব
তােরে শুনরে বেটা বলি। এসেছি তােমাদের আমি দিতে
জলাঞ্জলি ৷৷ শুন শুন শুন যেটা শুন বিৰরণ। একটা শাস্ত্রের
কথা বলি হেথা মন দিয়া শুন যে কথা বলেছ তুমি মিথ্যা

দ্বিতীয় খণ্ড : কথা নয়। তােমার জবাব দিব প্রাণ যুব শুন মহাশয়। জিজ্ঞাসা করেছ মােরে শ্রীকৃষ্ণের কথা। কৃষ্ণের কথা। শাস্ত্রে আছে নয় মিছে বলে যাব যথা। কৃষ্ণের মস্তকে কেবা পদা- যাত করিল। বিলে তুলসী আমায় নস্যাৎ করে গেল । রাধিকার কথা মহাশয় বাদ দিয়ে গিয়েছে। খাট খাটী পরিপাটি বলিব দশের কাছে। শিবিরেতে গিয়া যুধিষ্ঠির মহাশয়। কহিল গােবিন্দ প্রতি করিয়া বিনয় । পীতামহ করিলেন সমস্ত নিধন। এবে কি উপায় করি কহ নারায়ণ ॥ অর্জন বলেন শুন ধৰ্ম্ম নৃপবর। অমঙ্গল চিন্তা কেন কর নিরন্তর ।। তীর্থ পৰ্যটনে অামি যাইলাম যখন। ভ্রমিতে ভ্র মিতে যাই দ্বারকা ভুবন।। সুগন্ধি কণক পদ্ম গন্ধ মােন- হর । সত্রাজিত সুতাকে দিলেন দামােদর । দেখিয়া হইল মূগ্ধ রুক্মিণীর মন। শরীর ত্যজিব হেন করিলেন পণ । রুক্মিণীর বাক্য শুনিদেব নারায়ণ । আমারে করিল আজ্ঞা পুষ্পের কারণ আমি কহিলাম পুষ্প আছে কোন স্থানে। হরি কহিলেন আছে কদলী উদ্যানে। সেইক্ষণে ধনুর্বাণ অর্জন লইল। কদলী উদ্যানে গিয়া উপনীত হলো। ভ্রমিতে ভ্রমিতে দেখে পুষ্প মনােহর । রক্ষক চারিটী আছে মরকট বানর৷ পুষ্প তুলিবারে আমার মন যে হইল। দেখিয়া তাহারা মােরে নিষেধ করিল। না শুনিয়া পুষ্প আমি তুলি নিজ মনে। অর্জনে ধরিতে তারা গেল চারি

বৃহৎ ভরজার লড়াই।
.
জনে। হনুমানে কহিলেন শুন সমাচার। আমারে আসিয়া
তােমরা ধরিলে সত্বর। হনু বলে দেবগণ আসিতে না
পারে। কোন সাহসে কিরাত গের আইলি ভিতরে ।।
এত বলি দুই জনে তর্ক যে বাধিল। দুই জনে গালাগালি
তখন হইল ।। ক্রোধে হনু বলে শুন কিরাত অঘােম।
নাহি জান কেমন ছিল শ্রীরাম লক্ষণ ।। সমুদ্র বান্ধিয়।
রাবণ বিনাশ করিল। তাহার পূজার পুষ্প তুলিলে সকল।
অর্জন কহেন তখন গুনহ বচন। গাছ পাথর দিয়া সিন্ধু
করিলে বন্ধন ।। বাণে বাণে সমুদ্রকে বান্ধিবারে পারি ।
পাব পুত্র বৃথা আমি অর্জন নাম ধরি । হনু বলে বাণে
বাণে করিবেন পােল। চলিয়া যাইব পােলে দেখিবে সকল
হনুমান নাম আমার পবন নন্দন। কেমন দেখিব আজ পা...
খুব অর্জন। শ্রীকৃষ্ণ বলিয়া অৰ্জন গাণ্ডীব ধরিল । বাণে
বাণে সমুদ্রকে ছাইয়া ঢাকিল। পাণ্ডবের মান রাখতে হরি
কুৰ্ম্ম মূৰ্ত্তি ধরে। আসিয়া রহিল তিনি পুলের ভিতরে।। কুৰ্ম্ম
রূপ ধরি হরি পুল যে ধরিল। জয় রাম বলি হন্তু উঠিয়া
দাঁড়াল। এক পদ দুইপদ হনুমান দেয়। পোলের নীচেতে
দেখে রুধির ভেসে যায় । যাইয়া দেখিল হনু এ আর কে-
মন। চরণে ধরিয়া পূজে কমলােচন। দুই জনে হরি পদে
কহিতে লাগিল। নারায়ণের মস্তকেতে হনু পদ দিল ।
কৃষ্ণের মস্তকে হনু পদাঘাত করেছে। বাটী খাটী পরিপাটি

দ্বিতীয় খণ্ড।
হলি দশের কাছে। এক্ষণেতে তোমার তরজার জবাব হয়ে
গেল। আমার একটা কথা বাবু শুলেত হয় ভাল। এক
শাস্ত্রের কথা বলি হেথা কোনকি হেলা। এক দিবসে
তিন নারীর হইল রজলা | গেলে হয় পাপ গো না গেলে
হয় পপি। তিন নারীর গর্ভে পুল্ল কে হবে তার বাপ | তিন
নারীর গর্ভে এক পুত্র জন্মাইল । সেই পুত্রের কিবা নাম
সভার মাঝে বল ॥ তিন নারীর গর্ভে বল কোন পুত্র জন্মেছে
জবাব দিবে প্রাণ যুড়াবে বলবে দশের কাছে ।। ঈশ্বর চন্দ্র
লাগায় ধন্ধ বলে যায় এবে। *টী খাটা পরিপার্টি জবাব
দিয়ে যাবে। এই পর্যন্ত হলেম ক্ষান্ত রাধাকান্ত স্মরি।
তোমরা আবাল বৃদ্ধ সভা ৮ বল হরি হরি ।
তিন নারীর গর্ভে এক পুত্র তার জবাব ।
আমি রাবণ রাজা মহাতেজা রাষ্ট্র চরাচরে। ঢেমন।
ছেলে আমায় বল লজ্জা নাই তােমারে ।। দেখ বিশ্বশ্রবার
পুত্র আমি মিথ্যা কথা নয়। পেলিস্তের নাতি কিন্তু শুনসমু
দয়। রাক্ষসী জননী বটে সভায় বলে যাই। বারে বারে কত
আমি বুঝাব.গােসাঞিা আমার সনে আজগের রণে পারবে
নাক তুমি। পরাভব করবাে তােমায় বলেছি হে আমি।।
পিতার কাছে বর নিতে গেল মাের জননী। বিশ্বশ্রবা বর
দিলে শুন গুণমণি । প্রথমেতে বর দিতে আমার জন্ম
হলাে। দ্বিতীয় বুরেতে দেখ কুম্ভকর্ণ হলাে তৃতীয়তে

বৃহৎ উজার লড়াই।
বিভীষণ হলো মহাশয়। চতুর্থতে সূর্পণখা জন্মিল নিশ্চয়।
তাহার পরে তিন জনে তপস্যতে যাই।ব্রহ্মা আসি দিলেন
বর তােমারে জানাই। সেই বরে এ সংসারে দিগ্বিজয়
করি। ময়দানবের ঘরে বিভা করি মন্দোদরী ।। সে সব
কথা বেদে গাথা মিথ্যা কথা নয়। আমায় ঢেমনা ছেলে,
কেমন করে বলে মহাশয়। আমার ভগ্নী সূর্পণখা তােমার
কাছে যায়। অন্য ভেবে যায় নাক শুন মহাশয় । রামের
চরণ পাবে বলে মনে অাশা ছিল। তারি জন্য সুর্পণখা
তােমার কাছে গেল৷ তারে অভয় চরণ দিলে নাক আবস্তা
করিলে। নারী বধের পপি রাম আপনি ঘটালে । সেই
পাশেতে তােমার দেখ দুর্দশা ঘটেছে। তাতেই তােমার
ভাই দেখ দূর করে দিয়েছে। জেনেছি তােমায় জেনেছি
হে ভাল। তােমাদের বংশে দেখ ঢেমা ছেলে হলাে ।
ভগীরথ নামে ছিল দিলিপনন্দন। নারী হতে হলো জন্ম
শুন বিবরণ । ফেলে দিয়েছিল তারে মিথ্যা কথা নয় ।
মুনি বরে অস্থি হলে গুন মহাশয় ।। ঢেম্না ছেলে অনেক
গুলি তােমাদের হয়েছে। আমার কাছে ওহে রাম বাকী
নাহি আছে। সে সব কথা আজ হেত চাপা দিয়ে যাই।
তিন নারীর কথা কিছু জবাৰ দিব ভাই। আমায় তুমি
জিজ্ঞাসীলে তিন নারীর কথা। তিন গর্ভে এক পুত্র বলে
যাব যথ।।। তিন গর্ভে এক পুত্র কোন জন জন্মিল। তার

দ্বিতীয় খণ্ড।
বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ বলে যাই সকল দক্ষযজ্ঞে সতী
যখন পরাণ ত্যজিল। সতী শােকে মহাদেক ভাবিতে
লাগিল ৷ সতী শােকে সদাশিব ভাবেন মনে মন। স্বর্গ মর্ত্য
পাতাল আদি করিল ভ্রমণ | পূৰ্বে দেখ এক কন্যা উৎপতি
করিল। বিধাতার মানস কন্যা শুন গাে সকল ।। সকলার
অংশ সেই কন্যাকে দিয়াছ সেই কন্যা কাননেতে তপস্যা
করিছে৷ হেনকালে মহাদেব তার কাছে যায়। সতী সতী
বলি তারে ধরিবারে চায়। সতী বলে সদাশিব তাহারে
ধরিল। সদাশিবে সেই নারী অভিশাপ দিল ।। হেন অনা-
চার কর্ম কৈলে শূলপাণি। নরজনিতে হবে জন্ম শাপ
দিলাম আমি ।। তাহার শাপেতে শিবের ভাবনা হইল ।
বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ শুনহ সকল । অবনীমণ্ডলে রাজা
পোশনামে ছিল। তিন নারি সেই রাজার শুনগাে সকল ।।
সেই রাজার দেখ বাবু পুত্র নাহি হয়। তপস্যা করিতে
রাজা কাননেতে যায় । বিধাতা আসিয়া তারে এক ফল
দিল। সেই ফল লয়ে রাজা গৃহেতে আইল। সেই ফল
মহারাজা তিন অংশ করিল। তিন রাণীর প্রতি তখন
কহিতে লাগিল। এই ফল লয়ে তােমরা করহ ভক্ষণ ।
হস্ত পাতি তিন রাণী করিল ধারণ। সেই ফল তিন রাণী
ভক্ষণ করিল। সেই দিবসে তিন নারী গৰ্ভবতী হলাে।
তাহার পরে সেই তিন নারী প্রসব হয়। তিন অংশ হয়ে

বৃহৎ তরজার লড়াই। পুত্র ভূতলে পড়য়৷ তিন অংশ লয়ে তখন একত্তর করল। কান্দিয়া উঠল পুত্র শুনগাে সকল || চন্দ্রশিখর নাম সেই পুত্রের রাখিল । তিন নারীর গর্ভে দেখ মহাদেব জমিল । এই তােমার কথার জবাব এখানেতে হলাে। আমার একটা কথা কিছু শুলেত হয় ভাল । শাস্ত্রের কথা বলি হেত। শুন মহাশয়। কোন শাস্ত্রে আছে কে দেখেছে দেওনা পরিচয় ॥ গড় মহাবীর দেখ কশ্যপনন্দন। বাহুবলে জিনেছিল এতিন ভূবন ।। স্বৰ্থ মর্ত্য পাতালে যাইতে গড় পারে। কি লাগিয়া যায় না গড় কলিদয় তীরে ।। কালিদয়ে গরূঢ় যেতে কে করিল মানা । হেন শাপ দিল ভারে বল কোন জনা ।। কি কারণে গরূ ড় বীরে অভিশাপ কৈল। কিবা নাম ধরে তিনি সভার মাঝে বল।। ঈশ্বরচন্দ্র মমানের সন্ধ কভু নাহি যায় । পড়েছি সংসার কুপে কি করি উপায় ।। এক্ষণেতে আশর হতে বিদায় হয়ে বাই। হরি হরি বল সবে আর কেহ নাই । গরুড়ের জবাব। বারে বারে রাবণ রাজা বুঝেত বুঝেনা। ঢেমনা ছেলে বলতে আমায় একান্ত ছাড়েনা : জগতের নাথ আমি শুন বিবরণ। মর্ত পুরে তােমার তরে লইলাম জনম ।। জান- আরে ও রাক্ষসা শুরে তােরে বলি । ওরে বিধাতার কাছে ফুখন বর নিতে গেলি ।। বিধাতা যখন তােরে বর দিতে

দ্বিতীয় খণ্ড।
এলাে। অমর বর চাইলি বেটা শুনরে সকল । অমর বর
নাহি দিল রাষ্ট্র চরাচরে। মনের মতন বর নিলি বলে যাই
তোমারে ।। মনের মতন বর নিলি সভায় বলে যাই। তিন
ভায়ে একত্তরে বিধাতার ঠাঞি | নর বানরের কথা বলতে
মনে আশ হলাে। ধরিয়া খাইব মােরা শুনগো সকল।।
জাননারে ওরে রাবণ জাননারে তুমি। নর রূপে বধ করিতে
এসেছিরে আমি। বানর হইল যত দেবতা সকলে। রুদ্র
অবতার শিব পবন পুত্র বলে । তাইতে দেখ তােমার লঙ্কা
ছারখার করেছে। অবশেষে তােমার মুটুক কেড়ে নেছে।
বেটার নাইক বিচার শুনসমাচার কাণ্ডজ্ঞান নাই। ভাইপাে
বধু কৈল হরণ লজ্জা হলাে নাই। নলকুবেরর ভাৰ্য্যা
দেখ হরণ করিল। এমন কর্ম কেবা কোথা করেছে গাে
বল । বেটার কুলের মধ্যে এক জন ধার্মিক হয়েছে।
বিভীষণের জোরে বেটা বেঁচে যে রয়েছে । রাক্ষস বংশ
করবাে ধ্বংস শুন বলে যাই। পড়েছ আমার হাতে নিস্তার
পাবে নাই। সূর্পণখা তােমার ভগ্নী আমার কাছে এলো।
ছল করিতে তােমার ভগ্নীর নাক কান কাটা গেল | মুনি
কুলে আমার ভয়ী মান্য তিনি পাবে। তােমার ভগ্নীর নাক
কাণ কিসে যােড় যাবে। ছুড়ি খাদা নাকে কেমন করে
পুরূষ ভুলাবে। ঠিক যথার্থ করে অর্থ সভার মাঝে কবে ।।
এই অবধি তােমার কাছে কহিব আর কত। আমার রণে

বৃহৎ উরজার লড়াই।
.
আজ এখানে পাবি মনের মত। যে কথা বলেছ আমায়
মিথ্যা কথা নয়। গরুড়ের কথা কিছু শুন সমুদয় । মহাবীর
গরুড় দেখ কশ্যপ নন্দন। বাহুবলে জিনেছিল এতিন
ভূবন। কালিদয়ে জায়না গরুড় যাহার কারণ। তাহার
বৃত্তান্ত কিছু শুন দিয়া মন। একদিন গরুড় বীর কালিদয়ে
যায়। বৃক্ষমূলে গিয়া গরুড় বসিলেন তথায় । কালিদয়ে
শােল মৎস্য পোনা পিষ্ঠে করি। কিবা শােভা মনলােত।
আহা মরি মরি ॥ বসিয়া দেখেন গরুড় বৃক্ষের উপরে।
পাকশাট দিয়ে যায় মৎস্য ধরিবারে ॥ বসিয়া আছেন তথা
মুনি তপােধন। গরুড়ের প্রতি মুনি কহিল তখন। মৎস্য
ধর নাই গরুড় শুনহ বচন। বৃক্ষেতে আসিয়া গরুড় বসিল
তখন। পােনা লয়ে সেই মৎস্য জলেতে বেড়ায়। উড়িয়া
গরুড় বীর ধরিলেন তায় ।। মৎস্য ধরি গরুড় বীর গগণে
উড়িল। গরুড়ের প্রতি শাপ কাবেরী মুনি দিল । আমার
বাক্য না শুন পক্ষ করিলি লজ্জন। কালিদয়ে এলে তোমার
হইবে মরণ । পুনরায় যদি গরুড় কালিদয়ে আসিবে ।
আসিব মাত্রেতে তোমার মরণ হইবে । তারি জন্য গরুড়
যেতে কালিদয়ে মান। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ জেনে কি
জাননা ।। এই তােমার কথার জবাব এখানেতে হলাে।
অামার একটা কথা কিছু শুনিলে হয় ভাল । পুরাণ তত্ত্ব
ঠিক যথার্থ শুন সৰ্বজন। তাের রাক্ষস কুলের কথা কিছু

দ্বিতীয় খণ্ড। করি জিজ্ঞাসন।। তোর পুত্র মহীরাবণ জানে সৰ্বজন। পাতালেতে বাস করে রাষ্ট্র ত্রিভুবন। পূর্ব জন্মে মহীরাবণ ছিল কোন জন। কি কারণে তােমার ঘরে হইল জনম। পূর্ব জন্মে মহীরাবণ কিবা নাম ধরে। কাহার শাপে জন্ম নিল রাক্ষসের ঘরে ।। কি কারণে হনুমান তাহারে বধিল । ভদ্রকালী কেন তারে নিদয়া হইল । মহীপুরে ভদ্রকালী বিরাজ মান ছিল। কি জন্যতে ত্যজ্য করে বল তিনি গেল । এসব কথা বেদে গত মিথ্যা কথা নয়। খাটী খাটী পরিপাটি বলনা নিশ্চয়। আমার কাছে আজ- কে দেখ জারি জুরি খাটবেনা। জান যদি এসব কথা সভাতে বলনা। ঈশ্বর কয় মহাশয় কালী পদার। এ পাপ সংসারে তারা কর গো উদ্ধার।। আর কেহ নাই জননী আর কেহ নাই। অন্ত্রিম কালে যেন মাগো চরণ আমি পাই । এই পর্যন্ত হলেম খ্যান্ত রাধাকান্ত স্মরি। ঢালিদাদা বাজাও ঢোল বল হরি হরি ।। মহীরাবণের জবাব। শ্রীগুরু চৈতন্য পদে মজরে আমার মন। রাম রাবণে কিবা যুদ্ধ দেখ বিচক্ষণ । কিবা সাদ্ধ রঘুনাথ জয় কর হে, রণে। কুম্ভকর্ণের যুদ্ধে যখন সশঙ্কত প্রাণে । কুম্ভকর্ণ ভাই আমার বীর অবতার। তাহার হাতেতে কার নাহিক নি- তার |্য সেই কুম্ভকর্ণ রণে রাম কান্দিতে লাগিলে। তাে ২৪ বৃহৎ তরজার লড়াই। মার জন্য ব্রহ্মা আসি বলেন বৃক্ষ মুলে। কুম্ভকর্ণ বিনা শিতে স্তব আরম্ভিলে। এক জন উপরে তােমরা দশ জন পড়িলে। ভক্তি পরায়ণ বিধি মহা সিদ্ধ কুলে। বােদন করেন ব্রহ্মা বসি বৃক্ষ মূলে ।। রামের জয় হেতু রাবণ নিপাত। দেবী শুক্ত মন্ত্রে পূজি করেন প্রণিপাত । পুনঃ পুনঃ চতুর্মুখে করেন স্তবন। যত কাল বেদ উক্তি অমৃত ৰচন। নমস্তে অনন্ত মূর্তি দুর্গে বিশ্বধার। আগম প্রশিত অম্বে নাশ শত্রু ভার।। কোটি চন্দ্র মুখি চণ্ডী বিমল বদন। আগম প্রশিত দুর্গে পক্র হন্তি রণ। ব্রহ্মাণ্ড প্রসুতা তুমি সূক্ষম রূপ কালি। আগম প্রশিত চণ্ডী চণ্ড মুণ্ড মালি। ব্রহ্মা বিষ্ণু রুদ্র রাম ইচ্ছা রূপে অংশ। ইচ্ছারূপে লহ পূজা কর শত্রু ধ্বংশ৷ সৰ্ব্ব বেদান্তরা গৌরী দেবী নারায়ণী। বিল বৃক্ষে অধিষ্ঠাত্রী তৃতাপ হরিনী ।। নীচে কর উচ্চ মাগাে উচ্চে নীচ কর। চন্দ্রে কর সূৰ্য্য সুৰ্যে কর নিশাচর পিপীলা গাে মধুকর হয় তব বলে। ভেকে কর সমুদ্র পার করুণা কৌশলে। ক্ষুদ্র কর সমুদ্র সমুদ্র ক্ষুদ্র হয়। বাম- নেতে ধরে চন্দ্র তােমার কৃপায় । মুষিকে ভুজঙ্গ নাশে ভেকে সিন্ধু তরে। মুষক মাতঙ্গে রণ করে ৩ব বরে পঙ্গু- তে লজ্জায় গিরি মা তব দয়ায়। মাতঙ্গে কুরঙ্গে নাশ অস- ম্ভব নয়। বেদাগমে বলে মাতা তুমি মুলাধার। তব মায়া মহামায়া বুঝে সাধ্য কার ॥ (কি কব তােমার লীলা শুন

দ্বিতীয় খণ্ড
গো জননী। পড়েছি রামের হাতে রক্ষা কর তুমি।। দশরথের
পুত্র বেটা চাপান দিয়ে গেছে। কেবা ছিল মহীরাবণ ব
বে দশের কাছে। পূর্ব জন্মে মহীরাবণ ছিল কোন জন।
তাহার বৃত্তান্ত কিছু শুন দিয়া মন। শধনু শিশু তনু
গন্ধর্বের ছেলে। বিষ্ণুর সভাতে তিনি নৃত্য খেলা খেলে।
তাহার গানে তুষ্ট হইল দেব নারায়ণ। অষ্টবক্র মুনি
গেল বিষ্ণু সম্ভাষণ । মুনি,দেখি পরম খুসি শিশুর বাড়ে
রঙ্গ। নিত্য করে নৃত্য গান তাল হলাে ভঙ্গ । ক্রোধ
করি মুনি কয় সভা বিদ্যমানে। আমায় দেখে ব্যাঙ্গ কর
তুমি আজ এখানে। আমায় দেখে হাসলি বেটা দুষ্টরে
দুৰ্মভি। দিলাম শাপ হও পাপ রাবণ সন্ততি । চেন
আমায় তুমি চেন না এখন। অভিশাপ দিলাম তােরে
রাখে কোনজন । শাপ শুনি শিশু তখন কান্দিতে লাগিল।
মুনির চরণে আসি উপনীত হলে কি হবে উপায় ঋষি
বল গাে আমারে । কত দিনের পরে বল আশ্ব স্বর্গপুরে।
মুনি বলে শুন শিশু আমার বচন। অযযাধ্যায় জন্ম লবেন
রাম নারারণ ॥ পিতার সত্য পালিবারে রাম জাবেন বন।
রামের সীতা হরে লবে লঙ্কার রাবণ রামের বাণে দশা-
নন সবংশে মরিবে । অবশেষে মহী বলে তােমারে ডাকিবে ।
পিতার বাক্যে হরে লবে শ্রীরাম লক্ষণ। উদ্ধার করিতে
যাবে পবননন্দন ।। শ্রীরাম লক্ষণে লয়ে বলিদান দিবে।

বৃহৎ তরজার লড়াই। খঙ্গ লয়ে হনুমান তােমারে কার্টিবে। ত্যজ্য করে ভদ্র- কালী তােমায় ছেড়ে যাবে। তাহার পরে স্বর্গপুরে তুমি রে আসিবে । মিথ্যা কথা নয় বাছা শুন রে শqধনু'। যাহার হস্তে হবি বধ নাম তার হনু। পূৰ্ব্বজন্মে মহীরাবণ শত্রুধনু ছিল। মুনি শাপে পাতালপুরে রাক্ষস জন্মিল ॥ শুনিলে সবল কথা মিথ্যা কভু নয়। আমার একটা কথা কিছু শুন সমুদয় । শুন শুন হে রাম শুন বিবরণ। তােমার ভক্ত হনুমান রাষ্ট ত্রিভুবন। হনুমানের কথা কিছু বলে যাই এখানে। হনুমানের ছেলের কথা শুন সব্বজনে। হনুমানের ছেলে বল কোন খানে হইল। কাহার গর্তেতে পুত্র জনম লইল। হনুমানের ছেলে বল কিবা নাম ধরে । বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ বলে যাও এবারে । হনুমানের ছেলের কথা সভায় বলে যাবে। আমার কাছেতে আজ নিস্তার নাহি পাবে ।। ঈশ্বর বলে সভা স্থলে কোথায় গো ভবানী। অন্ত্ৰিম কালে দিবেন দেখা চরণ দুখানি। এক্ষ- ণেতে আশাের হতে বিদায় হয়ে যাই। টুলি দাদা বাজাও ঢােল হরি বল ভাই ।। হনুমানের ছেলের জবাব। রাবণ রাজা মহাতেজা ভাল বলে গেল। ওর ভাই আমায় না কি বান্দিয়া গাে ছিল । কুম্ভকর্ণ মহাবীর ওর ভাই হয়। আমার হাতে মলো বেটা জানিবে নিশ্চয়।

দ্বিতীয় খণ্ড।
আমার হাতে মরে বেটা উদ্ধার হয়ে গেল। পাপীষ্ঠ রাবণ
বেটার কুবুদ্ধি ঘটিল। শুন শুন ওরে রাবণ শুন বলি
আমি। আমার কাছেতে আজ জিনে যাবে তুমি।
আদ্যশক্তি ভগবতী হরের গৃহিণী। তার পতী পশুপতি
দেব শূলপাণি।। জগৎ মাতা হন তিনি জগৎ সংসারে।
পূজিব আজ বিল্লদলে বলে যাই তোমারে । কোথা গো
অভয়া তুমি এসাে মা অশিরে। রাক্ষসের হাত হইতে
উদ্ধার আমারে।। কত মায়া কত ছায়া লােকে প্রকাশিলে।
সুবৰ্ণ গােধীক রূপে বেধেরে ছলিলে ।। সূচিছিদ্র করিন্দ্রিয়
করাও যাতায়াত। কমলে কামিনী তুমি বেদান্ত সাক্ষাত ৷
সম্ভবা সম্ভব কিবা জানিব অভয়া। সেই অসম্ভব যাহে
আছে তব দয়া। পুরাণেতে বলে মাগাে চৈতন্য রূপিণী।
কালে সৃষ্টি কালে স্থিতি সংহার কারিণী ।। দুর্বার দলনী
দুর্গে হের কৃপাদৃষ্টে। বিনাশ ত্রিলােকচক্ররাবণ পাপীষ্ঠে।
প্রসন্ন হইয়া মাগাে কর রণজই । বিল্লবৃক্ষে অধিষ্ঠাত্রী
মাতা ব্ৰহ্মমই।। হইলেন তুষ্ট দেবী রামের বচনে। অবােধ
পাইল চণ্ডী প্রসন্ন বদনে। শতদলে পূজি মাগো চরণ
কমলে। মনােবাঞ্ছা বর মাগাে দেহ সভাস্থলে । অকালে
পাইলে বােধ আমার বােধনে। সৰ্ব্ব জীব হিত হেতু রাক্ষস
নিধনে। শুন গাে অভয়া বলি শুনবিবরণ। সমরকঠর মাঝে
দুর্জয় রাবণ ॥ যাতনা হইবে, ক্ষয় সহ বন্ধুগণ। ভাবত

বৃহৎ তরজার লড়াই
পূজিবে দুর্গে ও রাঙ্গা চরণ নিপাত কর গো দুর্গে রাক্ষ
সের কুল। দিন দিন দয়ামই হও সানুকুল ।। রামচন্দ্র
ডাকিছেন দুর্গতিদলনী। কহিতে লাগিল মৃদুস্বরে সােনা-
তনী ।। শুন রাম মর্ম কথা কহি সারোদ্ধার । পুৰ্বেতে
রাবণ বধের আছে অধিকার ।। অদ্য সংগ্রামেতে কুম্ভকর্ণ
হবে ক্ষয়। বীর আদি বহু সৈন্য মরিবে নিশ্চয়।। ইহাতে
সন্দেহ কিছু নাহি রঘুবর । দিন দিন তনু ক্ষীণ যত নিশা
চর। অমাবস্যা ঘাের নিশী শুন মহাশয়। রাবণ পুত্র
মেঘনাদ মরিবে নিশ্চয় । বিনাশ তত্ত্ব মহামায়া সকলি
বলিল। ক্ৰোধ করি রঘুনাথ ধনুক যুড়িল । এসাে এসাে
ওরে রাবণ শুনরে বেটা বলি। বারে বারে আমায় বেটা
দিচ্ছ গালাগালি ।। মারিব সবংশে তাের রাখবো না এক
বসে বসে দেখ বেটা করি কি এখন । সে সব কথা
থাক এখন শুন বিবরণ। হনুমানের কথা কিছু শুন দিয়া
মন। হনুমানের ছেলে হলাে যাহার কারণ । রামের চরণে
শরণ লইল জখন। যে দিবসে তােমার ভগ্নীর নাক কাণ
কাটিল। পঞ্চবটীর বনে আমার সীজারে হরিল । সীতা
শশাকে ভ্রমি বনে ভাই দুইজন। হনুমানের সঙ্গে দেখা
হইল জখন । সীতা অন্যাশনে হনু গমন করিল। হাতের
অঙ্গুরি লয়ে মস্তকে রাখিল । অঙ্গুরি লইয়া হনু সমুদ্র
পারে জায় । সমুদ্রে পড়িল সেই অঙ্গরি নিশ্চয় । ক্রোধ

দ্বিতীয় খণ্ড।
করি হনুমান সমুদ্রে ডুবিল। সমুদ্রের মাঝে এক কুস্তিরিণী
ছিল । হনুমান বলে 'ওহে শুন কুন্তিরিণী। অঙ্গুরী
রেখেছ তুমি দেও না এখনি। কুম্ভিরিণী নাহি দিল অঙ্গরী
তখন। জোর করে ধরিলেন পবননন্দন।। সেই দিবসে
কুম্ভিরিণী ঋতুবতী ছিল। হনুমান পরশনে গর্ত্ত তাহার
হলো। সেই গর্ভে এক পুত্র জনম হইল। অঙ্গরী লইয়া
হনু গমন করিল । মকরধ্বজ হইল নাম মিথ্যা কথা নয়।
খাটী খাটী পরিপাটি জবাব হয়ে যায় । এক্ষণেতে তােমার
তরজার জবাব হয়ে গেল। আমার একটী কথা কিছু
শুনলেত হয় ভাল । দিবাকর নাম ধরে কশ্যপনন্দন।
গগণে উদয় হয় রাষ্ট ত্রিভূবণ । সূর্যদেবের কাছে বল
কেবা যেতে পারে। হেন সুৰ্যদেবের মাথায় শৃগাল গিয়া
চড়ে। সুৰ্যদেবের মস্তকেতে শৃগাল ডেকে ছিল। কোন
সময় ডাকিল শৃগাল সভা মাঝে বল। কেমনে উঠিলশৃগাল
বুঝিতে না পারি । বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ কবে শীঘ্রকরি ।
ঈশ্বরচন্দ্র নাগায় বন্ধ এইবার জানা জাবে। ছেলের হাতে
পীঠে নয় যে কেড়ে নিয়ে খাবে । এই পর্যন্ত হলেম ক্ষতি
রাধাকান্ত স্মরি। তােমার আবাল বৃদ্ধ সভা শুদ্ধ বল
হরি হরি ।
সুৰ্যদেবের মস্তকে গলি ডাকে তাহার জবাব।
লঙ্কাপুরে বাস আমার নাম দশানন। বারে বারে অামায়

হৎ তরজার লড়াই।
এশে বল কুবচন || জাননা জাননা রাম জাননা আমারে।
যুদ্ধে জয় করে জাব বলতেছি তােমারে । মনেতে করেছ
আমায় পরাভব করিবে। পড়েছ আমার হাতে
নিস্তার নাহি পাবে । আমার ভাই বিভীষণ রাষ্ট
ত্রিভুবন। বাপের কুপুত্র হলো বুঝিলাম এখন ॥ ভাল
কথা বুঝাইতে তােমার কাছে গেল । তোমার কাছেতে
গিয়া পরামর্শ নিল ।। মনে করেছ যুক্তি করে আমারে
মারিবে। আমার বাণে আজকেররণে কোথা হে পলাৰে ।।
শুন শুন ওহে রাম শুনহ বচন। শক্তিশেল ঘুড়িছিহেদেখনা
এখন ॥ শক্তিশেল দেখে রামের পরাণ উড়িল। বলিতে
বলিতে শেল রাবণ ছাড়িল। শক্তিশেলে রঘুনাথ যোড়
হাতে কয়। আমার বুকেতে শেল পছু হে নিশ্চয় ॥ শক্তি
শেল বলে রাম শুনহ বচন। অন্যের উপরে আমি ন
জাব এখন।। নক্ষণের বুকে অসি শক্তিশেল পড়িল ।
মুম্‌গিত হয়ে ভুমে লক্ষণ পড়িল । হাহা কার করি
শব্দ কান্দিয়া উঠিল। বিভীষণে ডাকি রাম কহিতে লাগিল
ময়দানবের শেল তিনি মিথ্যা কথা নয়। যাহার উপরে
মারে মরণ সংসয় | পড়িল নক্ষনণ বীর উপায় নাহি আর।
নক্ষণের শােকে রাম হইল কাতর ।। উঠ ২ ওরে ভাই
প্রাণের লক্ষণ। বৃথা করিলাম ভাই সমুদ্র বন্ধন । সীতা
তে কায নাই ভাই চল দেশে যাই । সুমিত্রা মাতাকে গিয়া

দ্বিতীয় খণ্ড।
কি বলিব ভাই। এত বলি রঘুনাথ কান্দিতে লাগিল।
ভুমেতে পড়িয়া রাম অচৈতন্য হৈল । বিভিষণ আলি রামে
কহেন বচন। কি লাগিয়া কান্দ রাম কহ বিবরণ। সুষেন
আসিয়া কহে শুন রঘুমণি ॥ বিষল্য করণী আন বাঁচিবে
এখনি । এই কথা শুনি রাম সকলে কহিল । কে দিবে রে
প্রাণ আমার লক্ষণেরে বল । বিভিষণ আসি তখন সকলে
ডাকিল। কেবা যাবে সেই স্থানে বহ সকল ।। হনুমান
বলে প্রভু করি নিবেদন। ঔষধ আনিয়া দিব কমল লােচন
হনুমান চলিলেন ঔষধ আনিতে। শুনিলেন রাবণ রাজা
বসিয়া লঙ্কাতে ।। সুর্যদেবে অজ্ঞা দিলেন রাজা দশানন ।
উদয় হইতে সূৰ্য্য করিল গমন নিশিযােগে উদয় হয় দেব
দিবাকর । হনুমানের সঙ্গে দেখা হইল অতঃপর । কো-
থায় যেতেছ তুমি কহ বিবরণ। দিবাকর বলে উদয় হইব
এখন । হনুমান বলে তুমি কিবা নাম ধর। ভানু নাম
ধরি আমি রাষ্ট চরচর ।। ভানু নাম ধর তুমি হনু নাম
ধরি। দুজনায় মিতালি এসো কোলাকুলি করি । দুজনে
কোলাকুলি করিল তখন। কক্ষতলে সুৰ্য্য রাখে পবননন্দন।
রামের জন্যেতে ভানু কক্ষেতে রহিল। দিবাকরে কেবা
ধরে রাখতে পারে বল ।। সেখান হইতে
সেখান হইতে হন্ করিল।
গমন। গন্ধমাদনেতে গিয়া দিল দরশন। খুজিয়া বেড়ায়
হনু চিনিতে না পারে । পৰ্বত ধরিয়া তখন এক টা

বৃহৎ তরজার লড়াই।
মারে । পৰ্বত উপাড়ে হন্ মস্তকে তুলিল। বায়ুবেগে হনু
মান গমন করিল। হনুমান বলে অজি ভরত দেখে জাব।
কেমন ভরত বীর রামে গিয়া কব ।। নন্দীগ্রামে আছে ভরত
রাম পদ দেবে। পড়িল পৰ্বত ছায়া শুন বলি তবে।
ভরত বুঝিল কোন পক্ষ বুঝি যায়। বাল্যকালের এক বাঁটুল
মারিলেন তায় । বাটুল লাগিল যদি হনূর হৃদয়। রাম২
বলে হন পড়িল তথায় ।। রাম না শুনে ভরত আসিল
ধন। জিজ্ঞাসা করিল ভার কহু বিবরণ ।। হনুমান বলে
আমি শ্রীরামের দাস। আমি না যাইলে লক্ষণ হইবে
বিনাশ । ভরত বলেন হসু করহ গমন। হং বলে উঠিতে
পারি যে এখন৷ পৰ্বত ভুলিয়া ভরত হনুমাতে দিল
জয়রাম বলে হনু উপনীত হলাে। এরা আসিয়া তখন
সুষেণে কহিল।
ঔষধ চিনিয়া নিবে চল হে সকল ।।
সুষেণ যাইয়া ঔবধ অনিল তখন। নস্য করে দিলেন
ঔষধ উঠিল লক্ষণ আনন্দিত্ত হইল সবে নাচিতে
লাগিল। হনুমান দেৰে ছাড়িয়া যে দিল । সূর্যের
মস্তকে শৃগাল সেই কালে ডেকেহে। হনুমানের কক্ষে
যখন সুৰ্য্যদেব আছে । এইতাে তােমার কথার জবাব
এক্ষণেতে হলো। আমার একটা কথা কিছু শুন গাে সকল ॥
দেবের দেব মহাদেব দেব ত্রিলোচন। মহাদেবের লেজ
হইল কিসের কারণ। কোন স্থানে মহাদেবের লেঙ্গ হয়ে

দ্বিতীয় খণ্ড। ছিল। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ সভার মাঝে বল । এক্ষ- নেতে আশাের হতে বিদায় হয়ে যাই। ঢুলি দাদা বাজাও ঢােল হরি বল ভাই। মহাদেবের লেজের জবাব। দশরথের পুত্র অমি রঘুমণি নাম। অযোধ্যায় থাকি আমি জগতে ব্যাখ্যান। আমার কাছে রাবণ তুই করিস জারিজুরি। সবংশে মারিব তোর যত লঙ্কাপুরী। একে একে আমার বাণে সকলে মরিবে । রাক্ষস বংশে বাতি দিতে কেহ না থাকিবে। পাতালেতে গিয়ে বেট চেড়ির অন্ন খেলি। বালীরাজার কাছে বেটা অপমান হলি ।। বালীরাজা লেজে বেঁধে সমুদ্রে ডুবিয়েছে। ভাইকে ফাকী দিয়ে বেটা লঙ্কা কেড়ে নেছে । বেহায়া লচ্ছার বেটা লজ্জা হলাে নাই। তাের ঐ মুখেতে কালি চুন আমি দিয়ে যাই তাের কথা শুনে আঁজ এখানে অঙ্গজ্বলে গেল। এমন কথা আর বেটা আমায় নাহি বল। এই বারেতে আমার কাছে উচিতজবাব পাবি। দোশরা সাটধরে বেটা'তরজা গেয়ে জাৰি এসৰ সাটের কথা,সকলে শুনিল। আর একসাটের তরজা এ বার ধরিলে হয় ভাল। আমায় তুমি জিজ্ঞাসিলে মহাদেবের কথা। নয় অন্যথা বেদেগাথা বলে জাব যথা। মহাদেবের কোন স্থানে লেজ হয়ে ছিল। খাট খাটী পরিপাটী বলিব সকল ।। তােমায় বিনাশীতে সবে মর্ত্যেতে এসেছে।

৩৪. বৃহৎ ভরজার লড়াই। রুদ্র অবতার শিব বলি দশের কাছে। রুদ্র অবতার যদি মহাদেব হলাে। দেখনা তাহার পোদে লেজ হয়েছিল আর এক মতে আছে বাৰু শুন সৰ্বজন। কেদারনাথ পা- হাড়ে যখন গেলেন ত্রিলােচন ।। কেদারনাথ পাহাড়ে শিব বৃষরূপ ধরেছে। মিথ্যা কথা নয় মহাশয় পুরাণেতে আছে বৃষ রূপে মহাদেবের লেজ হয়ে ছিল। আর একমতে আছে বাবু শুনিবে সকল।। সানকরিতে যায় দুর্গা দিঘীসরােবরে। দুবাই শঙ্খ দেখিলেন কুচনীর করে স্নান করি আসি দুর্গা শীব প্রতি কয়। শঙ্খ দিতে হবে আমায় কহিলাম তােমায় শিবের কাছেতে দুর্গা যােড় হস্ত করি। দুই শঙ্খ দেও আমায় চরণেতে ধরি । শিব বলে কেমন কথা বলিলে আমারে। দুবাই শঙ্খ দেখে এলে কাহাদের করে । স্নান করিতে গিয়েছিলাম দিঘীসরােবরে। দুবাই শঙ্খ দেখে এলাম কুচনীর করে । ভাল শঙ্খ চাইলী গৌরী আমি হলেম একা। মিনসে মরে ভিক্ষা করে মাগী চায় শেকা । পুরুষের হাতে ধন থাকলে মাগীর বাড়ে মান। গীন্যাপণা করে তিনি যেতা সেতা যান। আমার কাছেতে দুর্গা নাইকো পয়সা কুড়ি। শঙ্খ পরা সাদ থাকে যাও মা বাপের বাড়ী। দুর্গা বলে শুনলি পদ্ম বুড়ার বচন। মা বাপের বাড়ী কেবা পরে আভরণ। ক্ৰোধ করি পার্বতী শিব প্রতি কয়। চলিলাম বাপের বাড়ী থাক হে হেথায় কোলে নিল কার্ত্তিক আ-

দ্বিতীয় খণ্ড।
টায়ে লম্বােদর। গােস করে জান দুর্গা মা বাপের ঘর।
বাহির হইতে দুর্গার মাথায় ঠেকে চাল । ডাইনে গেল কাল
সর্প বামেতে শৃগাল !! ঘােল লৰে লবে বলে গােয়ালী
বলয়। নগরেতে দুট মিলে বানর নাচায় || শিব কন শুন
দুর্গা শুন মাের কথা। এক পা বাড়াও যদি খাবে ভেয়ের
মাথা | দুর্গা বলে কেবা শুনে ভাঙ্গড় বুড়ার কথা। কুচনী
লইয়ে ঘর কর তুমি হেথা । কার্তিক গণপতি লয়ে পাৰ্বতী
চলিল। হিমালয়ের পথে দুর্গ গমন করিল। সাত পাচ
ভাবেন শিব করি কি উপায়। হেনকালে দেবঋষি উপনীত
হয় শিব কন এলাে নারদ এসে বাছাধন। গোসা করে
তাের মামী করিল গমন।। তােমার মামীকে যদি ফিরাইতে
পার। কি হবে নারদ বাছা বুদ্ধি বল ধর । নারদ বলেন
মামা শুন গাে বচন। আমার বুদ্ধিতে তুমি কর না গমন।।
মানী হলাে বাগদিনী ভুনি হও গে বাগা। বড় বনে বাঘ
হয়ে পথে কর দেখা। নারদের কথায় শিব বাঘমূর্তি হয়।
পথ মধ্যে গিয়া দেখা দিলেন তথায় । বাহন বলিয়া দুর্গা
চাপিবারে গেল। তাড়ালে থাকিয়া নারদ হাসিতে লাগিল
পার্বতী ফিরাতে শিবের লেজ হয়ে ছিল। এক্ষণেতে তো-
মার তরজার জবাব হয়ে গেল। আমার একটা কথা কিছু
শুন দিয়া মন। দেবের দেবতা হন দেব নারায়ণ। বৈকু-
ষ্ঠের নাথ দেব দেব চক্রপাণি। নারায়ণের হলো লেজ

বৃহৎ তরজার লড়াই।
পুরাণে তে শুনি। নারায়ণের কোন স্থানে লেজ হয়ে ছিল
বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ বিচার করে বল । এই পর্যন্ত
হলেম ক্ষান্ত রাধাকান্ত স্মরি। ছুলি দাদা বাজাও ঢোল
বল হরি হরি ।
নারায়ণের নিজের জবাব।
নন্দ গেছে বনে যশােদা নাইক ধরে। শূন্যগৃহ পেয়ে
কৃষ্ণ ননী চুরি করে। উপরে ভাঙ্গিল ভাণ্ড নীচে চন্দ্র মুখ।
হেন কালে দেখেন কৃষ্ণ জননী সখ । কি কলি কি কলি
কৃষ্ণ খেলি মায়ের মাথা। লুকায়ে রেখেছি ননী তুমি
পেলে কোথা । তখন এতবলি নন্দ রাণী হাতে নিল বাড়ি।
অবুঝ বালক তখন দিল রড়ারড়ি।। অগ্রে যায় নীলমণি
যশােদা যায় পিছে। ধরধর বলিতে কৃষ্ণ উঠে কদম গাছে।
গাছে না উঠিতে পারে নন্দের গৃহিণী। শুন শুন শুন
বাছা শুন নীলমণি ॥ নাম্বিয়া এশােরে কৃষ্ণ ক্ষীরসর দিব।
কৃষ্ণ বলে আমি মাতা নাহিক যাইব । এইনে তাের তাড়
বালা লয়ে জাগ ঘর। তাের নবনীতে কড়ি হলে
আমি হলেম পর ডালে ডালে যায় কৃষ্ণ পাতায় পাতায়
যায়। শুনেছি কদম্বের ডাল ভেঙ্গে পড়ে গায় । ধিরে
ধিরে নারে কৃষ্ণ পেড়ে দিব ফুল। তিলেক বিলম্ব হলে
মবি গে কুল। তাহা শুনি কৃষ্ণ তখন নাম্বে ধিরে ধিরে।
গাভি বাদা দড়ি লয়ে বান্ধে যুগল করে | যশােদা বান্ধিতে

দ্বিতীয় খণ্ড।
গড়ী না কুলায়। হস্ত বাড়াইয়া দেয় নলের নয়।
বান্ধিবয়ে শােমতী ঘর্ম যে হইল। দেখিয়া মায়ের মুখ
হৰি হাসিল। বলে বেদ্ধ না ৰেন্ধ না মা গাে বন্ধ
জ্বালায় মৱি। এই দেখ মা যুগল কর ফিরাইতে নারি ॥
কোথা রৈলে হিদায় সুবল দাদা গাে বলাই। তােমরা
সবে মিলে ননী খেলে আমি ধা যাই। কোথা রেলে
প্রিয়ে রাধে কোথা ব্ৰজগণ। কোথা রৈলে কালিন্দী যমুনা
বৃন্দাবন। কোথা রৈলে পিতা নন কোথা মা রােহিণী।
নবনীর তরে বাঁধে দেব না জননী। আনুগ আগে নন্দ
শীতা মাগিব বিদায়। তুচ্ছ নবনীর তরে মায়ে মারে গো
কায় | ওমা জেনেছি জেনেছি মাগাে জেনেছি এক্ষণে।
আমারে বান্ধিলে মাগাে মিছে অকারণে। সবে মিলে খেলে
ননী আমার দোষ হলাে। মায়ের মন ছতে হরি আপনি
বাদা দিল। বন্ধন খসায়ে রাণী দিলেন তখন। নারায়ণে
লেজ হয়েছে শুন বিবরণ ॥ জগৎ হরি বংশীধারির লেজ
হয়ে ছিল। তাহার বৃত্তান্ত কথা শুন মাে সকল সত্যযুগে
হলেন দেশ মৎস্য অবতার। জলেতে ভাসিয়া থাকে লেজ
হইল তার। তাহার পরে কুৰ্ম্ম রূপ হলেন নারায়ণ।
পৃথিবী ধরিল পৃষ্ঠে সৃষ্টির কারণ । সেই সময়ে দেখ তার
লেজ হয়ে ছিল। খাট খাটী পরিপাটি জবাব হয়ে গেল।
আবার বলি লেজের কথা শুন বিবরণ। ৰহ রূপ হলেন

হৎ ভরার লড়াই।
হরি রাষ্ট ত্রিভুবন।। এক্ষণেতে লেজের কথা শুনিবে সকলে।
নরসিংহ রূপে দেখ কশিপু বধিলে। আর লেজের কথা
বলি শুন দিয়া মন। বেদে গাঁথা নয় অন্যথা বলে যাই
এখন। রাধার সনে বৃন্দাবনে বিরাজ করেছিল। গােপী
লইয়া সেই ঘরে দুজনে আছিল । হেনকালে দেখিলেন
জটিলে আসিয়া। ঘরের ভিতরে কৃষ্ণ কেন হে বসিয়া।
দেখিলেন রাধার সনে পরিহাস করতেছে। জটিল। যাইল
ছুটে আয়ানের কাছে। শুন শুন শুন দাদা করি নিবেদন।
কষ্ণের সনেতে রাধা বসে কি কারণ। এত শুনি ক্রোধে
আয়ান ছুটিয়া আসিল। শ্রীরাধিকা দেখি ভয়ে কম্পিত
হইল ।। কি হৰে উপায় হরি বল বংশীধারি। হাসিয়া কহেন
কৃষ্ণ ভয় নাই প্যারি। শীব্রকরে মুষীকা রূপ করহ ধারণ।
বিড়াল হইল কৃষ্ণ ঘরেতে তখন। দরজা খুলিবা মা দুজনে
পালালাে। খাটাং পরিপাটি লেজের জবাব হলাে। আমার
একটি কথা বলি শুন সৰ্বজন। চরণে বাজেন ৰূপুর রাষ্ট
ত্রিভুবন। মস্তকে নুপুর বলাে কোন স্থানে বেজেছে। মস্তকে
বাজিল নুপুর বৰে দশের কাছে। ঈশ্বর দাসে আজ প্ৰ
কাশে অভয়পদ ধেয়াই। কৃষ্ণধন বিনে ভাই আর কেহ
নাই। এক্ষণেতে আশাের হতে বিদায় হয়ে যাই। হরিহরি
বল সবে পরাণ বুড়াই।

তীয়।
মস্তকে মূপুর বাজে তাহার জবাব।
আমি বৃন্দে সতী আজ সম্প্রতি তােমারে সুধা।
তুমি হরি বংশীধারী ব্রজের কানাই। 'নবন্দ চুরির কথা
ল ৰলে গেলে। আপনি খাইয়া কিন্তু পরের দোষ দিলে
ও ভাঙ্গলে ননী খেলে ঘরের ভিতরে। পাঁচ জনে খেলে
ননী বুঝলে মায়েরে ভােমার মতন চুরি বিদ্যা কেহ জানে
নাই। ঘরে ঘরে কর দুরি দেখি হে কানাই। জননী নি-
করে তুমি ধরা যে পড়িলে। বিনা দোষে সকলেরে কেন
দোষ দিলে। এমনকৰে ব্ৰজপুরে আর বলােনা ভাই। ননী
চোরা নামটি তােমার হইল কানাই । কেমন কথা বল্পে
হেথা ওহে নারায়ণ চরণে নুপুর বাজে জানে সর্বজন।
উন্ট কথা বল্লে হেথা ভাবতেছি হেমনে। জারীজুরি কর
তরী খাটবে না এখানে। আমি বৃদে নাম ধরি স্পষ্ট
বলে যাই। আমার কাছে ওস্তাদী আজ খাটবে না গাে-
সাঞি যে কথা বলেছ তুমি মিথ্যা কথা নয়। বাটী খান
পরিপার্টি বলে যাই নিশ্চয় আমায় তুমি জিজ্ঞাসিলে নূপু
রের কথা। মন্তকে বেজেছে নুপুর বলে জাব যথা। এক
দিন নারায়ণ প্রভাত সময়ে। গােচারণে গেল সব রাখাল
গণ লয়ে ছিদাম সুদাম দাদা বলরাম ব্ৰজের নন্দন।
ধেনুৰ লয়ে সবে করিল গমন। বনের ভিতরে গেল রাখাল
গণ সনে। চরাতে চরাতে ধেনু গেল গহন বনে নানা

বহ ভরার লড়াই।
জাতি ফল মূল সকলে খাইল। একেলা নির্জনে হরি
বসিয়া রহিল। হাম্বা রবে ধেনুগণ উব্ধ মুখে নয়। কালি
দয়ের তীরে গিয়া উপনীত হয়। কালিদয়ে ধেনুপ জল
পান করিল। সেই জল খেয়ে সবে চলিয়া পড়িল। দেখিল
আসিয়া কৃষ্ণ সকলে পড়েছে। রাখালগণ ধেমুগণ মুচ্ছ
হয়ে আছে। ক্ৰোধ করি বংশীধারী জলে ঝাপ দিল।
কালিয়া নাগের মাথায় পদাঘাৎ করিল। কালিয়া নাগেরে
যখন পদাষাৎ করিল। নাগের মস্তকে দেব নুপুর বাজিল।
ওহে হরি বংশীধারী জবাব করে যাই। তাহার পরে ধেনু
গণে বাঁচালে কানাই । আর এক মতে দিব জবাব শুন সৰ্ব্ব
জন। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ বলে যাই এখন। সত্যযুগে
বলীরাজা দৈত্য কুলে ছিল। বহুপুণ্য করে রাজা জানিয়ে
সকল ৷ তাহার দর্প চূর্ণ কর্তে দেব নারায়ণ । মনে মনে
যুক্তি হরি করিল তখন। বামন রূপে জন্ম নিল কশ্যপের
ঘরে। ভীক্ষা চলে গেলেন হরি বলীরাজার দ্বারে দান
অাদি দেয় রাজা আপন কুতূহলে। হেনকালে নারায়ণ গেল
সভার স্থলে। সভার স্থলে গিয়ে বলে শুনহ মাজন। তিন
পদ ভূমি দান করহ এখন। রাজা বলে ভুমি লয়ে কি
কার্য করিবে। তপস্যা কারণে রাজা তিন পদ দিবে। তিন
পদ ভূমি লয়ে তপস্যা করিব। রাজা বলে এক্ষণেতে তাে-
মায় আমি দিব । সত্য করিবারে রাজা সভাতে উঠিল।

দ্বিতীয় ।
শুক্রাচাৰ্য মুনি তখন বারণ করিল । না শুনিল মহারাজা
ভূমি দান দিল। স্বর্গ মত দুই পদ নারায়ণ নিল । আয়
এক পদ ভূমি রাজা দেহ দেখি আমায়। যাের বিপকে
পড়ে রাজা অন্তঃপুরে খায়। তাহার সতী পরমযুবতীরা-
জারে বুঝায়। সভার স্থলে চল রাজা ভূমি দিব তায়।
আর এক পদ দেখাও হরি ভূমি তৰে দিব। বলিতে২ পদ
নাভীতে উদ্ভব। মস্তক পতিয়া রাজা দিলেন তখন।বলীর
মস্তকে নুপুর ৰাজিল তখন। বলীর মস্তকে দেখ নূপুর
বাজিল। খাটী খাটা পরিপাটি জবাব হয়ে গেল। আমার
একটি কথা কিছু শুন দিয়া মন। ফুলেরাে নুপুর বাজে কহ
বিবরণ | চরণে ফুলের নুপুর কোথায় বেজে ছিল। বিশেষ
তত্ত্ব ঠিক যথার্থ সার মাঝে বল।। এই পর্যন্ত হলেম ক্ষত্তি
রাধাকান্ত স্মরি। আবাল বৃদ্ধ সভাশুদ্ধ বল হরি হরি।
ফুলের নুপুর বাজে তাহার জবাব।
শুনলে সতী আজ সম্প্রতি তােমায় বলে যাই। ননী।
চোরা বলে আমায় নিন্দে কর ভাই। আপনার ঘরে ননী,
চুরি করে খাই। তােমাদের ঘরেত ননী চুরি করি নাই।
আমায় মিনিদোষে কৱেজাও চোয়ের দেয়াতি। আমারখে
শুন তবে ওহে বৃন্দে সতী। মনেতে পড়েনা তােমার মনেতে
পড়েনা।আমার কথা কিছু বলে জেনে কি জাননা 1$ জল
স্ক্রীড়া কর তোমরা যমুনার তটে। ধেনু লয়ে চরাইতাৰ

৪২
বৎ ওরা লই।
তােমাদের নিকটে। বস্ত্র রাখি জলক্রীড়া সকলে করিলে
কন্তু লয়ে গিয়া ছিলাম কদম্বের ডালে। তখনআমার
কাছে সকলেতে যােড় হাত করিলে। বস্তু দেহ বস্তু দেহ
ৰাম্বার বলিলে । কত নাকাল হলে বৃন্দে মনে নাহি পড়ে।
কান্দিতে লাগিলে সবে কদম্বের আড়ে। সে সব কথা বুলে
এখন ভুলে কি হে গেলে। ননী চোরা নামটি তুমি বদনামি
করিলে। বারম্বার এমন কথা আর তুমি বলােনা। তুমি
অঘটন ঘটাতে পার জেনে কি জাননা । আমি চোর তুমি
সাধ কেমন করে হলে। চুরি বিদ্যা আমায় বৃন্দে তুমিতাে
শিখালে। ভােমায় আমায় আর এখন তর্কেতে কাষ নাই।
তােমার নূপুরের জবাব কিছু শুন বলে যাই। রামরূপে
জন্ম নিলাম দশরথের ঘরে। সীল দেবী বিভা কৈলাম মি-
fথলা নগরে। রাজ্য ভার পাব আমি অবােধ্যা ভবনে।
পিতৃ সত্য পালিবারে গেলেম আমি বনে বাস করেছি
আমি পঞ্চবটীর বনে। আমার সীতা হরে নিল রাজা দশা-
মনে। কিষ্কিন্ধ্যার গিয়ে আমি বালী বধ করেছি। সুখ্রিবের
সঙ্গে আমি মিত্ৰতা করেছি। বানরগণ লয়ে আমি সমুদ্র
ৰান্ধিনু। লঙ্কাপুরে সবে মিলে প্রবেশ করিনু । রাবণের
সঙ্গে আমার মহাযুদ্ধ হলাে। একে একে আমার বাণে
সবংশে মরিল । রাবণ বধ করে বিভীষণে রাজ্য দিছি।
অশােক বন হইতে সীতা উদ্ধার করেছি। সীল উদ্ধার করে

দ্বিতীয় খণ্ড।
দেখ অযােধ্যায় আসি। একে একে সকল কথা শুন প্রাণ
প্রিয়সী। রাজা হলেম অবােধ্যায় গুন বলে যাই। বিশেষ
তত্ত্ব ঠিক যথার্থ তােমারে জানাই। এক দিন সীতা দেবী
শয়ন করিল। রাবণ মুর্তি সীতাদেবী ভূতলে আঁকিল।
তাহা দেখি পুনর্বার আমার ক্রোধ হলাে। আমার বাক্যে
সীতা সতী বনবাসে গেল। বাল্মীকের তপােবনে লক্ষণ
রাখিল। বাল্মীকের নিকটেতে সীতা যে রহিল। তাহার
পরে অশ্বমেধ যজ্ঞ আমি করি। জয়পত্র লিখে ঘােড়া
দিলেম আমি ছাড়ি।। অশ্বের সঙ্গেতে গেল অনুজ লক্ষণ।
বাল্মীকের তপােবনে ধরে দুইজন ॥ সেই দুই পুত্র হয় সীতার
নন্দন। পঞ্চমাস গর্ভ সীতা বনে যায় যখন বাল্মীক তাহা
দের দেখ ধনুবিদ্যা শিক্ষালে। সেই দুই পুত্রে মাের ঘােড়া
ধরে বলে । লক্ষণ তাহাদের রণে পরাণ ত্যজিল। তাহার
পরে ভরত আর শত্রু গেল। দুই ভাই দুইজনে বিনাশ
করেছে। হনুমান আসি মােরে সংবাদ দিয়েছে রণ সঙর্জা
করি আমি যাইলাম তথায়। তিন ভাই পড়ে আছে দেখি
লাম সেথায়। রণ করিবারে তখন আইল দুই ভাই। কিৰা
শােভা মনলােভা দুঃখে মরে যাই। দুই ভাই দুই দিকে
ধনুক যুড়িল। দুই ভায়ের চরণেতে ফুলের নুপুর ছিল।
জিজ্ঞাসিলাম তাহাদের আমি হে যখন। ফুলের নুপুর
তােমাদের দিলে কোনজন। তারা বলে কুলের নুপুর

ইং তার লড়াই।
জমনী দিয়েছে। সীতা মাতার বরে নুপুর আপনি বাজিছে ।
মৰ কুশের পদে দেখ ফুলের নুপুর বাজিল। খাট খাটী
পরিপাটি জলাব হয়ে গেল । এক্ষণেতে ওহে বৃন্দে তােমার
জৰাৰ হলাে। আমার একটি কথা কিছু শুনল্লেতে হয়
ভাল। এক সুৰ্য উদয় হয় গগণমগুলে। দ্বাদশ সুৰ্য্যের
নাম যাবে আমায় বলে। দ্বাদশ দূর্যের কিবা নাম বুঝিতে
না পারি। আমার কাছে ওহে বৃন্দে করেনা চাতুরী।
ঈশর দামে আজ প্রকাশে বালাখানায় বাড়ী। চুলি দাদা
খাজাগু ঢোল বল হরি হরি ।
দাশ সূৰ্য্যের নামের জবাব।
ওহে হরি বংশীধারী কি কথা বলিলে। বস্ত্র চুরীর কথা
ভুমি সভায় বলে গেলে । আমরা কুলবালা হই অবলা বস্ত্র
স্না ও কুলে। জলক্রীড়া কৱি মােরা আপন কুতূহলে। তুমি
যে করিবে চুরী মােরা নাহি জানি। কোন মরমে বস্ত্র চুরি
কল্লে চক্রপাণি ।। চুরী করা সভাৰ তােমার কভু নাহি গেল।
বস্ত্র চুরী করে তােমার কি লাভ হইল ৷ লজ্জা সরম ত্যাজ্য
করে তােমার কাছে গেছি। গােপের নারী সারি সারি
দাঁড়ায়ে রয়েছি। তুমি ক বলি স্পষ্ট শুন দয়াময়। কৃষ্ণ
দূর্ব কেমন করে দেখাব তােমায়। তার জন্য হস্ত চেপে
সফলেতে ছিন। বস্ত্ৰ দেহৰ দেহ এক হস্তে ডাকিন ।
তাতেতো তােমার কিছু লা হলো নাই। দেখবে বলে

দ্বিতীয় খণ্ড। গাছের ডালে ছিলে হে কানাই । চুরী করা সভাৰ তােমা কভু নাহি গেল। তারি জন্য যশােদা হেতােমায় বেঁধেছিল সেখানেতে আমাদের বদনাম করিলে। উলটে বল চুরীকরা বৃন্দেহে শিক্ষালে৷ গােপের ঘরে পচা ঘােল তুমি ৰে খাইলে। পচা ঘােলের বকরা কিছু আমায় দিয়েছিলে । পচা গােল খেয়ে তােমার গলা ধরে গেল। সভাতলে ফলে কৌশলে আমার নিলে বল । ক্ষণেক কাল সবুর করে থাক বংশীধারী। শ্রীরাধার কাছে তােমার ভাঙ্গবাে জারিজুরি। আমি কুলবালা হই অবলাকিছু নাহিজামি। তােমার দাদশ সূৰ্য্যের জবাব আমি দেজাব এখনি। দাদশ সূৰ্য্যের নাম মিথ্যা কথা নয়। বিশ্বকৰ্মার কন্যা বিভা করিল নিশ্চয়। সন্যা নাম ধরে তিনি শুন বলে যাই। সুৰ্য্য ভেজ সইতে নারে তিনি হে কানাই ৷ তাহার পরে পীতার কাছে স- কলি ৰলিল। বিশ্বকৰ্মা সূৰ্যদেবে ডাকায়ে আনিল : সামাকুদে সূৰ্য্যদেবে দ্বাদশ অংশ কৈল। সেই সময় সূৰ্যদে- বের দাশ নাম হলাে। একে একে দাদশ নাম প্রকাশ ফরে যাই। পুরাণ কথা বেদে গাঁথা শুনহে কানাই। প্রভা- কর দিবাকর দিননাথ দিনমণি। আদিত্য ভাস্কর নাম পুরাণেতে শুনি। রৰি সূৰ্য্য মিহীর আর বৈকৰ্ত্তন নাম। তপন আর ভানু দেখ জগতে বাখান৷ ওহে হরি বংশীধারি করি নিবেদন। কাশী দাস রচে গেছে পুরাণ কথন।

ইং তরজার লড়াই।
বেদে গথা নয় অন্যখা শুন বংশীধারি। পড়েই আমার
কাছে ভাঙ্গৰ জারিজুরী। আমি বৃশে নাম ধরি জগতে
বিখ্যাত। খাটা খাটা পরিপাটি জেও শাস্ত্র মত। আমার
কাছে ওহে হর মিথ্যা আজ বলােনা। উটা চাপান দিৰ
তােমায় এইবাৰ জাবে জানা । ধাতা কাতা তুমি বিধাতা
মিথ্যা কথা নয়। তুমি ব্ৰহ্মা তুমি বিষ্ণু শুন মহাশয় । তুমি
স্ব তুমি মর্ত্য তুমি হে পাতাল । তুমি শমন তুমি দমন
তুমি কালাকাল বন্ধে তুমি বঙ্গেতে পার করনা হে হেলা।
বেদবিধি সৃষ্টি তুমি করেছ চিকোণকালা ॥ তােমার তাে
দ্বাদশ সুরে জৰাব হয়ে গেল। কালীসিংহীর মতে
এবার বর্জেত হয় ভাল। কালীসিংহী দশ নাম রচে
গেছে ভাল । দাদশে সূৰ্য্যের নাম প্রকাশ করে বলা কি
কি নাম ধরেছিলাে কশ্যপ তনর। খাট খাটী পরিপাটি
যেন হয় । ঈশ্বরচন্দ্রের মনের সঙ্ক এইবারে ঘুচিবে।
দুর্গা পদাজভজি বিপদে ভরিবে । কোথা গাে জগৎ
জগৎজননী। অন্তিমকালে দিও মাগাে চরণ দুখানি এই
পর্যন্ত হলেম ক্ষান্ত রাধাকান্ত পরি। আল ৰূত সভা
বল হরি হরি।
পালট। দ্বাদশ সুৰ্য্যের নামের জবাব।
আমি কৃষ্ণ বলি স্পষ্ট শুন বুনে দূতী। তােমার আমার

দ্বিতীয় খণ্ড।'
নাম জগতে খেয়াতি। তা বলে কি আমায় তুমি ভংসা
কৰিৰেণ কৃষ্ণ দুৰ্ব্ব কেমন করে আমায় দেখাইবে। এমন
কথা আজ হেতা আমারে বলােনা। পতিতপাবন নামটি
ধরি জেনে কি জাননা।। ভক্ত বাঞ্ছা পুরাইভে মর্ত্য
পরে আশা। বস্তু লয়ে ছিলাম কল কল্পে তুমি গােশা।
সে সব দুঃখের কথা সকলি ভুলিলে। দধী বিকী
করিবারে যমুনায় গেলে তরি লয়ে আমি কাণ্ডারি
যমুনায় থাকি। শ্রীরাধার প্রিয় তুমি নাম বৃন্দে সখি ।
তােমরা গােপের নারী সারি সারি তরিতে উঠিলে। ধিকিং
মারি বিকি যমুনাসলীল। যমুনারমধ্যস্থলেতরি মেইল।
যমুনার ঢেউ লেগে কাপিতে লাগিল । তখন ভয় পেয়ে
বিনয় করে আমারে বলিল। বড়াই বুড়ি ধিরিং হাতেতে
ধরিল। ৰলে শীঘ্র করে কর পার শুনহে কাণ্ডারি। ও হে
মধ্য স্কুলে এসে কেন কাঁপে তব তরি। হইল অনেক বেলা
মথুরায় জাব। বেচে কিনে পুনরায় আমরা আসি ॥ সেসৰ
কথা আজ হেতা মনে কি পড়েনা। কত নাকাল হলে বৃন্দে
জেনে কি জাননা পা ঘােল খেয়ে কবে গলা ধরে গেছে।
সভার মাঝে এমন কথা বলােনাক মিছে। আমি হরি হই
কাণ্ডারি আকম মেরে খাই। অবশেষে তােমাদের ঘরেরভি
তর যাই। কাঁচলি আটা জুলুপি কাটা দিয়ে বাহার।
কপালে সিন্দুরের ফোটা জলতেছে তােমার। রূপের ছটা

হৎ তরজার লড়াই।
কি ঘটা শুন বুন্দেদূতী। পড়েছিলে আমার হাতে যমুনায়
সম্পতি। নাকাল করে দিলাম ছেড়ে মনেতে পড়েনা।
হেনা ননীর কথা কিছু আমারে বলােনা। আমি যে ষােল
যােলাই বৃদে তােমরে জানাই। সেই ঘােল লয়ে তুমি ঘরে
দিওভাই। তােমার প্রাণপতি আছে সতী ঘরের মধ্যেতে ।
আমার ঘােল লয়ে তুমি দেও ভারে খেতে। যদি তােমার
আর কেউ থাকে তারে গিয়ে দিবে। সেই ঘােল খেলে
পরে পরাণ জুড়াবে। এমন কথা বারে বারে আর তুমি
বলাে না। ফিরে বারে এসে আমি দিব হে ঘােষনা।
এই পর্যন্ত তােমায় আমায় বাকী রেকে যাই। কালি
সিংহের মতে কিছু জবাব করি ভাই । কালি সিংহ
রয়ে গেছে পুরাণের কথা। কত পণ্ডিত হলো নাকাল
বলে যাই যথা। তবে একে একে সূর্যের নাম সভায়
বলে যাই। দাদশ সূর্যের নাম শুন দেখি ভাই। ধাতা
মৃত্যু অর্জমা শুক্র বরুণ হয়। সীতা আরতুষ্টা বিশ্যা পুশ্যা
নয় কয়। যুণী শ্রিণী একাদশ হয় মহাশয়। দিবাকর
এই বার কহিলাম নিশ্চয়।। কালি সিংহ এইত নাম
রচে গেছে ভাল। খাটা খাটী পরিপাটি জবাব হয়ে গেল।
এইপৰ্যন্ত তােমার জবাব ওহে বৃন্দে হলাে। আমার একটি
কথা কিছু শুনলে তাে হয় ভাল৷ এক নূতন কথা বলি হেথা
পুন মহাশয়। কিন্তু পুরাণ কথা নয় অন্যথা বলতেছি

দ্বিতীয় খণ্ড।
&
নিশ্চয় । গর্ভেতে জন্মায় পুত্র দেখ বিদ্যমান। কপালেতে
কেবা হলো কহ না সন্ধান ॥ কপালে কাহার বলাে জনম
হইল। তাহার কোথায় ধাম কিবা নাম সভার মাঝে বল ।
কপালে জন্মেছে বাবু কোন মহাশয় । খাটী খাটী পরিপাটি
জবাব যেন হয় । আর কি অধিক কব আমি সবার সাক্ষাতে
ফাকি ফুকি আমার কাছে পারবে নাকো দিতে । ঈশ্বর
দাসে আজ প্রকাশে বালাখানায় বাড়ী। এই পর্যন্ত হলেম
বিদায় বল হরি হরি ।।
কপালেতে জন্ম তাহার জবাব।
কেমন কথা বলে হেথা ওহে বংশীধারি। তােমার কথা
শুনে আজ এখানে দুঃখে আমি মরি । আমায় কোন কালে
কলে কৌশলে নাকাল করেছিলে। হয়ে কাণ্ডারি বংশী-
ধারি ভাল মন মজালে । তুমি নন্দের পুত্র গলে সূত্র মিথ্যা
কথা নয়। আমার জুম্পী কাটা কঁচলী আটা দিচ্ছি পরি-
চয় । আহরি গোপের নারী বৃন্দে নাম ধরি। তােমার
কাছে নয়কো মিছে করবাে না চাতুরি । মাকম মেরে
আমাদের তুমি খেয়েছিলে। সে সব কথা আজ হেথা প্র
কাশ করে গেলে। একি লজ্জার কথা হরি একি লজ্জায়
মরি। ভাণ্ড ভেঙ্গে খেলে দধি তুমি বংশীধারী ।। তােমার
ঘােল মওয়া আমি ঘরে নিয়ে দিব। আমার পতিকে বুঝি
সেই ঘােল খাওয়াব। সেজে প্রাণপতি আমি যুবতী তাে:

বৃহৎ তরজার লড়াই।
মায় বলে যাই। কেমন করে তােমার ঘোল খাওয়া
কানাই । যদি তােমার ঘােল লয়ে হরি তারে দিতে হবে ।
তবে তাহার ঘােল আজকে হেথা তোমায় খেতে হবে ।।
প্রিত্যাবধি প্রাণপতি ঘােল ময়ে দেয়। ধিরে২ কেবা আমি
বল ঘােল খায় । তাহার ঘােল খেয়ে তােমার লােলা যে
বেড়েছে। কোন সরমে আজ এখানে আমারে বলতেছে।
একটু খানি বলতে তােমার সরম নাহি হলাে। বেহায়ার
মতন কেন এমন কথা বলো। আবার বল তােমার যদি
আর কেউ থাকে । যরে লয়ে এই ঘােল খেতে দিও তাকে ।
ভাই বােনে কোন স্থানে ঘােল খেতে দেয়। লজ্জা হলে।
আজকে হেথা তােমার কথায় । নিলজ্জ পুরুষ বটে জেনে
হি হে ভাল । তোমাদের ঘরে ঘরে যেমন পিরিত হলো।
বলি তবে সে সব বথ। শুন বংশীধারি । পড়েছ
আমার হাতে ভাংব জারীজুরি। একটু খানি কথার
ভাবে তােমায় বলে যাই। ভাই বােনেতে কেমন পিরিত
করিলে কানাই। শুভদ্রা নামেতে দেখ তােমার ভগ্নি হলো।
কালী আঁট। জুম্পী কাটা রূপেতে ঝলমল । কিবা রূপের
ছটা তার গুণে পরিপাটি। সভা স্থলে তােমাদের করেছে
হে মাটী । যুবতী বয়েস হলো মিথ্যা কথা নয়। তােমা-
দের ধরে বল এমন কর্ম হয়। বিভা নাহি দিলে তার
তােমরা দুইভাই। তােমাদের কুলে কৃষ্ণ কিছু তর্জা

দ্বিতীয় খণ্ড।
নাই। তােমরা ভাই ভাই ঠাই২ ঘটকালী করিলে। দুই
জনাতে যুক্তি করে ভাল মনমজালৈ । দুজনাতে দুই পত্রি
উপস্থিত করিলে। বলদেব দুৰ্য্যোধনে সাজায়ে আনিলে ।
তুমি আবার মকশ্বীলে অর্জনের প্রতি। চুরি করে দিলে
তারে সেই ভদ্রা সতী। অবশেষে ঘরে ঘরে দ্বন্দ্ব বেধে
গেল। সেই দুজনার সঙ্গে তােমার কি সুবাদ ছিল। শুনেছি
তােমার নাকি পিস্তুতাে ভাই হয়। কেমন করে বানাই
ববে দেও না পরিচয় || কার্তিক মাসেতে যখন ফোটা
দিতে আসিবে। অর্জনে তােমাতে কৃষ্ণ একোত্তরে রবে ।
তখন কার কপালে দিবে ফোটা সেই ভদ্রা নারী। এই কথা
টি বিচার করে বল বংশীধারি ।। বিচার করে কবেন হরি
বিচার করে কবে। শ্বেতচন্দন রক্তচন্দন কার কপালে
দিবে । বারে২ আর আমারে আর তুমি বলােনা। ভাল
কির্তি কলে তােমরা রাখলে হে ঘােষণা | এই পর্যন্ত
তােমায় আমায় অল্পে২ যাই। কপালে হয়েছে জন্ম জবাব
দি গােসাঞি1 অনন্ত সষ্যাতে যখন ছিলেন নারায়ণ। সৃষ্টি
কল্লে আপনি হে ভূলে যাও কেমন লাভিতে হইল ব্ৰহ্মা
মিথ্যা কথা নয়। বাম পাশে হইল বিষ্ণু শুন পরিচয় ।
মনেতে হইল আমার শুন নারায়ণ । কপালে হইল শিব
রান্ট ত্রিভুবন। তােমার কপ লে হরি মহাদেব জন্মিল।
খাট খাটী পরিপার্টি জবাব হয়ে গেল। আমি একটি

বৃহৎ তরজার লড়াই। তােমার উপর চাপান দিয়ে যাই। কাটা মুণ্ড কাহার গর্তে জমেছিল ভাই। কাটামুণ্ড কাহার গর্ভে কোথা জন্মেছিল। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ সভার মাঝে বল । ঈশ্বরচন্দ্র লাগায় ধন্দ বাজাও তুলি ঢােল। দুবাহু তুলে সবে মিলে বল হরি বােল। কাটা মুণ্ড গার্ভে জন্মায় তাহার জবাব। আমি ভাবছি মনে আজ এখানে গােলবেদে যে গেল । আমায় কলে কৌশলে সভা স্থলে কতই যে বলিল ।। তুমি বৃন্দে সতী জগৎ খ্যাতি মিথ্যা কথা নয়। আমি জগৎপতি শুন সম্প্রতি দিচ্ছি পরিচয় ।। আমি কৃষ্ণ বলি স্পষ্ট শুন মহাশয়। কেবা কার মাতা পিতা কেবা কার হয়। আজ আশােরে হাত পা নেড়ে বৃন্দে সতী গেল । বলে তােমার ভগ্নী ভদ্রাদেৰী কি কৰ্ম্ম করিল । আমার ভগ্নী ভদ্রাদেবী মিথ্যা কথা নয়। অৰ্জন করিল বিভা শুন পপিচয় । সত্য ত্রেতা দ্বাপর দেখ তিন যুগ হলাে। লীলা প্রকাশীতে আ- মার জনম হইল ।। সত্যযুগে আমার কাছে তপস্যা করেছে। মনের মতন সকলেতে বর মাগি নেছে । জাননা জাননা বৃন্দে জাননা কি তুমি। ধাতা কাতা বিধাতা তাে জগতে হে আমি। ওহে আমি ব্ৰহ্মা আমি বিষ্ণু আমি মহেশ্বর। শমনদমন বায়ু বরুণ দ্বাদশ ভাস্কর । আমি স্বর্গ আমি মত আমি হই পাতাল। সৃষ্টি সংহারণ কওঁ। আমি কাল

দ্বিতীয় খণ্ড।
কাল ।। জেনেছ যদি হে আমায় তুমি বৃন্দে দূতী। কেমন
করে আজ আশােরে কর হে অখ্যাতি। তােমাদের গোপ
কুলে আয়ান মহাশয়। তপস্যা করিয়া লক্ষনী লয়েছে নি-
শ্চয়। তপস্যার ফলে ললী আঁয়ানের ঘরে। নতুবা কাহার
সাধ্য যেতে সেথ। পরে ॥ শ্রীরাধিকা নাম ধরে ভানৰ
নন্দিনী। তাহার সঙ্গে মিলেছ হে শুন আমি বলি ।। আয়-
নের সঙ্গে রাধার কোন কাৰ্য নাই। তার জন্য আমি
গিয়ে ভণ্ড ভেঙ্গে খাই। তােদের গোপের ঘরে রাত
পরে কেবা যেতে পারে। ভামি হরি বংশীধারি বলে যাই
তোমারে তােমরা বৃন্দাবনে জন্ম নিলে করিয়ারে লালা।
আমায় ঠাট্টা করে আজ আলােরে দিলে ভাল জ্বালা।
সে যে ভদ্র। সতী পরম যুবতী মিথ্যা কথা নয়। অর্জন
হইল পতি শুন সমুদয় । যাহার গতি তাহার সতী মিলন
দেখ আছে। ছয় দিনে সেরা স্বরে কলাম মেরে দেছে।
অন্য জনে দিতে বিভা যদি চেষ্টা হয়। বিধাতার কলোম
রদ হবে মহাশয় । তারি জন্য ভদ্রাদেবী অর্জন পাইল।
অপমান হয়ে দেখ দুর্যোধন গেল ! মামার বল কোন
কালে ভগ্নী কেৰা হয় । ভক্তের মান রবি আমি শুন পরি-
চয়। তুমি বারেই আজ আমারে ঠাট্টা কর নাই। যত গাে-
পীর সনে তুমি কাননে যুটিয়ে দিলে ভাই ।। যত গোশীর
সনে গহন বনে করিলে ঘটকালী। দিবানিশি করি না

৪ বৃহৎ তরজার লড়াই। আমি বনমালী। করে ছিনালী তুমি সকলি দালালী ঘট- কালী। রাধিকার কাছে গিয়ে কত কচুরি পেলি। রাধার কাছে গিয়ে তুমি কচুরি হে খেলে। রাগ করােনা দেদো মােণ্ড দিব হে সকালে । রাগ করে আজ আশােরে আর তুমি যেও না। ক্ষীরপুলি দিব খেতে মনেতে ভেব না। যা চাহিবে তাহা দিব শুন বৃন্দে বলি। সকালবেলা ছাড়ায়ে কলা খাবে হে সকলি ৷ এই অবধি তােমায় আমায় ঝকড়াতে কাজ নাই। তোমার কাটা মুণ্ডের কথার এবার জবাব দিয়ে যাই ।। কাহার গর্ভে কাটা মুণ্ড কিরূপে জন্মাল। তাহার ভান্ত কিছু শুন হে সকল।। কশ্যপ মুনি মহাজ্ঞানি সকল দেবের পিতা। দেৰ জননী তাহার গৃহিথী বেদে আছে গাথা। অদিতির গর্ভে হইল সকল দেবতা। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ বলে জাব হেথা। অদিতির গর্ভে যখন পবন জন্মিল ক্ৰাধ করি ইন্দ্রদেব মারিবারে গেল । অদিতির গর্ভে দেখ পুনৰ্বার জায়। নখাঘাতে পবন দেবে ছিড়িলেন তায়। উনপঞ্চাশ খান দেখ ইন্দ্রদেব কৈল। কাটা মুণ্ড অদিতির হাৱঁ মধ্যে হৈল । উনপঞ্চাশ পবন দেখ উৎপত্তি যে হয় । মুও ছিড়েছিল ইন্দ্র দেখ না নিশ্চয় ।। এক্ষণেতে কাটা মুণ্ডের কথার জবাব হলাে। আমার একটি কথা এবার শুনলে তাে হয় ভাল । মনুষ্য দুর্লভজন্ম শুনি গাে পুরাণে। জিহ্বাতে আছেন দন্ত দেখ বিদ্যমানে। অসম্ভব কথা। এক

ডিীয় খণ্ড।
;
শুনি মহাশয়। উরুতে হয়েছে দন্তু কাহার নিশ্চয় ।
কোন পুরুষের উরুতেতে দন্ত হয়ে ছিল। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক
যথার্থ প্রকাশ করে বল। ঈশ্বরচন্দ্র লাগায় ধন্দ বালাখা-
নায় বাড়ি । টুলি দাদা বাজাও ঢােল বল হরি হরি ।
উরুতে দন্ত তাহার জবাব।
ওহে হরি বংশীধারি বলে গেলে ভাল। তােমার কথা
শুনে আজ এখানে পরাণ যুড়াল ॥ তুমি ছল করে গােপের
ঘরে ননী যে খেয়েছ। রাত দুপরে চুরি করে ভাণ্ড ষে ভে
ঙ্গেছ। আমি বৃন্দে নাম ধরি শুন মহাশয় । আমার কাছে
প্রবঞ্চনা খাটবে না নিশ্চয়। উচিত কথা বলতে তােমায়
রুষ্ট হয়ে গেলে। ঘরের মাগ পরকে দিয়ে কেবা মান রা--
খিলে। লীলাতে কাৰ নাই মহাশয় লীলাতে কাৰ নাই।
আপনার মাগ পরকে দিয়ে ধৰ্ম্মরা ভাই।। আয়ান ঘােষ
যদি তােমার তপস্যা করিল। তপস্যা জোরেতে তােমার
লক্ষী লয়ে ছিল । ভক্তের মান রক্তে হরি দিলে তার
ঘরে । কেমন করে রাতদুপরে আলে তারে হরে । কেমনে
মান রাখব হরি তােমার আমি বল। সিধে পথে চল নাকো
উল্ট পথে চল। পর ভাৰ্য্যা মাতৃ তুল্য শাস্ত্রে হেন কয় ।
কেমন করে কলে হরণ তুমি মহাশয় । উচিত কথা বলতে
গেলে পোঁদটি ফেটেযায়। ক্রোধকরে আজ আশােরে দেদো
মেণ্ডা দেয় না। তব আশীর্বাদে অণেক মােণ্ড যে খেয়েছি।

বৃহৎ তরজার লড়াই।
কিন্তু তােমার তরে যত্নকরে মধু যে রেখেছি। তুমি প্রাণ
ভ্রমরা মন চোর নামটি সায়ােক্কার। তিন দিনের পচা মধু
ধাও দেখি এবার। যদি নাহি খেতেপায় নাকে ডােল দিব।
উরুত হয়ে পড়ছে ময়ূ জিব দিয়ে চাটাৰ । কোন সরমে
বল হরি কলা আমায় দিবে। সেই কলা আজ সকালা তাে
মায় দেওয়া জাবে । কলা খেকো অভ্যাস তােমার আছে
হরি ভাল। কলা ফেলে দেখ তোমায় ছােবা খাইয়ে ছিল।
যদি বল কোন স্থানে ছোবা নাহি পাই। বিদুরের ষরিত
ছােবা খেয়েছিলে ভাই । তােমাদের কলা দেখ তােমাদের
আঁটে না। আমায় কলা খেতে হরি আজ তুমি বলোনা ।
তােমায় আমায় ওহে হরি ঝকড়াতে কায নাই। তোমার
কথার জবাব কিছু সভায় দিয়ে যাই। আমায় তুমি জিজ্ঞা-
সিলে উরুতেতে দন্ত। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ কহিব তদন্ত ।
উৰুতের উপরে দন্ত কোন স্থানে হইল। বলে যাই সে সব
কথা শুন গো সকল।। সূৰ্য্যবংশে ক্ষত্ৰিকুলে ভগীরত জন্মিল
গঙ্গা আনিবারে তিনি গমন করিল।। বংশ উদ্ধারিবে বলে
দিলীপনন্দন। তপস্যা করিল অনেক ব্রহ্মারে তথন ।
তপস্যা করিয়া শিশু গঙ্গা যে নিল। শঙ্খধ্বনি করি শিশু
অর্থেতে চলিল ।। স্বর্গ হইতে গঙ্গাদেবী মর্ত্যেতে আইল।
হেনকালে জহুমুনি তাহারে ভক্ষিল ।। উদরে রাখিল গঙ্গা
মনি গঙুষেতে । ভগীরথ ভাবে গঙ্গা পাইৰ কি মত । কিছু

দ্বিতীয় খণ্ড। দিন সেই মুনির ভূপস্যা করিল। শিশু প্রতি মুনি তখন সদয় হইল ।। কি করে দিব রে গঙ্গা ভক্ষণ করেছি। উদর ভিতরে গঙ্গা আমি যে রেখেছি। সাত পাঁচ ভাবি মুনি উরুত চিরিল । সেই উরুত হইতে গঙ্গা বাহির হইল। উরুতের মধ্যে দেখ দন্ত তখন হয়। যেমন হনুমান রাম সীতায় হৃদয়ে দেখায়। বক্ষ চিরে হনুমান দন্ত দেখিয়ে ছিল। সেইরূপে আজ হেথা তােমার জবাব হৈল । আর এক কথা বলি হেথা শুন মহাশয়। দৈত্যকুলে ছিল এক তাহার তনয় । হিরণ্যকশিপু পুত্র প্রদ গুণমণি। কৃষ্ণ ভক্ত হলাে পুত্র বড় সতজ্ঞানী ।। কৃষ্ণ ভজিবারে তারে বারণ করিল । যত দুঃখ দেয় তারে কৃষ্ণ না ছাড়িল । কৃষ্ণ ভজে সেই পুত্র দুঃখ নাহি পায়। হেন কালে তার পিতা তাহারে সুধায় কোথা আছে তােমার হরি বলনা এখন। শিশু বলে যেথা ডাকি সেইখানে তখন। ডাক দেখি তাে- মার হরি আছে কি এখানে। ডাকিতে ডাকিতে হরি উপ- নীত সেইখানে। নরসিংহরূপে হরি প্রকাশ হইল। কশিপু ধরিয়া তখন উরুতে রাখিল ॥ উরুতে রাখিয়া তারে চিরিয়া ফেলিল। দুই পাটি দন্ত তখন উরুতেতে ছিল না। এই তাে তােমার কথার জবাব দুরকমে হলাে। তিন খানি বন্ধ হরি তােমার কেন হলাে না। তােমার তিন বঙ্কে কে থাকে কহ বিবরণ। কিবা নাম ধরে তারা বল বিচক্ষণ। এই পর্যন্ত বৃহৎ তরজার লড়াই। হলেম ক্ষান্ত শুম সৰ্বজন। হরি হরি বল সবে বিদায় হ ** এখন । শ্রীকৃষ্ণের তিন বঙ্কের জবাব। শুম সবে কাব্য ভাবে পুরাণ কথন। পুরাণের পুণ্যকথা কয়ে জিজ্ঞাসন। জিজ্ঞাসা করিলে তুমি যে সকল কথা। শাস্ত্রের কথা নয় অন্যথা বলে যাব যধা ওহে বৃন্দে অ- মায় তুমি কলা খাইয়ে গেলে। সামান্য কি সেই কলা বিদুর আমায় দিলে । ভক্তিভাবে যে জন ডাকে তাহার আ হই। অভক্তিতে যাই না আমি স্পষ্ট কথা কই।। প্রেমভক্তি ভাবে বিদুর কলা ফেলে দেছে। ছােবা গুলি লয়ে দেখ বদনে দিয়েছে । শুন বৃলে তাতে কি মাের মান খােওয়া গেছে। ভক্তের মান রাখি আমি বলি দশের কাছে। জগৎ রাষ্ট আমি কৃষ্ণ মিথ্যা কথা নয়। ভক্তিভাবে যেজন ডাকে আমায় তিনি পায় । ভক্তির জোরে অর্জনের সারথি হয়েছি। ভক্তির জোরে দ্রৌপদীরে বস্ত্র দান দিছি। ভক্তি জোরে আয়ানের লক্ষীতার ঘরে। ভক্তি জোরে মা যশােদা বেঁধে ছিল করে। ভক্তি জোরে বলি দ্বারে দ্বারি হলেম ভাই। ভক্তি জোরে চণ্ডালের দেখ অন্ন খাই ॥ ভক্তি জোরে প্ৰব প্ৰাদ আমারে কিনিল। ভক্তি জোরে রাবণ রাজা সীতারে হরিল ॥ ভক্তি ভাবে যুধিষ্ঠির আমারে বা- লি। ভক্তি জোরে ভগুমুনি পদাঘাত করিল।। ভক্তের

দ্বিতীয় খণ্ড।
কথা নয় অন্যথা ভক্ত বড় হয় । ভক্তেতে আমাতে কিছু
ভিন্ন ভেদ নয় ॥ জাননা জাননা বৃন্দে জাননা কি তুমি।
আজ ভালকরে ওহে বৃন্দে বুঝয়ে জাব আমি ॥ ভক্তিজোরে
খেয়েছি কলা ওহে বৃন্দে বলি। যা মনে করি করিতে পারি
শুন হে সকলি। নন্দের বাধা বয়ে বেড়াই ভক্তির জন্যতে।
এসংসারে আমার বল কেবা মাতা পিতে। যে কথা
বলিলে আমায় মিথ্যা কভু নয়। তােমার জবাব দিব প্রাণ
মুড়াব বলি হে নিশ্চয়। আমায় তুমি জিজ্ঞাসিলে তিন বঙ্কের
কথা। তিন বন্ধু হয়েছিল বলে যাই যথ। কদম্ব তলাতে
গেলেম আমি আর বলাই। গলা ধরে ডাণ্ডাইলাম আমরা
দুইভাই । চরণে বলায়ের পদ আমার ঠোকবে। হইলাম
তিনব বলে যাই তবে ॥ কেবা ছিল তিন বঙ্কে শুন বিবরণ।
সামান্য কথা নয় বৃন্দে বলে বাই এখন এক বেঁকে থাকে
প্রেম তােমারে জানাই। আর এক বেঁকে বিরাজ করে
তােমাদের রাই। আর এক বেঁকে থাকে নিত্য শুন বন্দে
ভুমি। তিন বঙ্কের কথা তােমায় বলে গেলাম আমি।
প্রেম নিত্য রাধা তিন বঙ্কে তিন জন। খাটাখাটা পরিপাটি
জবাব দি এখন। তােমার কথার জবাব বৃন্দে এক্ষণেতে
হলো। আমার একটি কথা তবে শুনল্লেত হয় ভাল ।
দেখ ব্রজেশ্বরী রাই কিশােরী তার নন্দিনী। আশ্চৰ্য্য
কথা বলি হেথা পুরাণেতে শুনি। একাত্তরে থাক সবে

বৃহৎ তরজার লড়াই।
মিথ্যা কথা নয়। কোন সময়ে রাধা বল কালী মূর্তি হয় ।
কোন স্থানে রাধা বল কালী হয়ে ছিল। সকল তত্ব জান
বৃন্দে ভেঙ্গে চুরে বল । বেদের কথা নয় অন্যথা শুন বৃন্দে
বলি । কি জন্যেতে শ্রীরাধিকা হয়েছিল কালী ।। বিশেষ
তত্ত্ব ঠিক যথার্থ বলে যাও এখন। বৃন্দে নাম ধর তুমি রাষ্ট
ত্রিভূবন৷ খাটাখাটা পরিপার্টি জবাব দিয়ে জাবে। কঁকি
দিয়ে যেও না হে ঠিক কথা কবে । তােমায় আমায় আজ
আশােরে ঝকড়াতে কায নাই। মিলে জুলে দুজনাতে তরজা
গেয়ে যাই। দুজনাতে মিল করিয়ে তরজা যদি গাই। আজ
অশোরে নেচে কুদে মান রেখে যাই। দুজনাতে কল্লে
ঝকড়া ভাল হবে নাই । পাণ্টা বারে তােমার তরজার জবাব
দিব ভাই।। ঈশ্বরচন্দ্র বলে বাবু আর কেহ নাই। দশজনের
চরণেতে প্রণাম করে যাই। অভয়পদ করি সাধ কত দিনে
পাব। সেই পদ মনসাধে হৃদয়ে ধরিব। একান্ত বাসনা
আমার ঐ পদ ভরসা। তব পদ বিনে আমার কিছু নাহি
আশা ৷৷ এই পৰ্যন্ত হলেম ক্ষান্ত রাধাকান্ত স্মরি। দুবাহু
তুলে বন্ধু সকলে বুল হরি হরি।
শ্রীরাধার কালী রূপ ধারণের জবাব।
কোথায় হরি বংশীধারি শ্রীমধুসূদন। তােমার কথা
শুনে অজি এখানে যুড়ল জীবন ।। যে কথা বলিলে হরি
ওহে বংশীধারি । ভরে বাঞ্ছা পূর্ণ করেন গােলকবেহারী

দ্বিতীয় খণ্ড।
আমি বৃন্দে তব পদে প্রণাম করে যাই। যুগে যুগে ঐ পদ
যেন আমি পাই ।। ভক্তে তােমায় দিলে ছােবা মান্য করে
খেলে । পচা ঘােল খেতে কেন রাগ করেছিলে। আমাদের
কাছেতে হরি প্রবঞ্চনা কর। গােপের নারী বলে তাই ফাকি
দিয়ে সার। আমরা কুলবালা অবলা জানি নাকো কিছু।
তারি জন্যে তােমার মোরা বেড়াই পিছু২। প্রাণ মন
তব প্রতি সকলি সপেছি। গৃহবাস ত্যজ্য করে ঐ চরণ
ভেবেছি৷ দেখ দেখ দেখ হরি দেখ বংশীধারি। তব আশা
করে ভরসা যেন আমরা মরি।। জেনেছি তােমারে হরি
জেনেছি হে ভাল । যত গােপের কুলবালা মজালে সকল ৫
আমরা আহিরিণী অনাথিনী হয়েছি এখন। কলঙ্ক ঘটালে
মােদের ভুমি নারায়ণ । আমায় তুমি জিজ্ঞাসিলে রাধা
কালীর কথা । মিথ্যা কথা নয় অন্যথা বলে জাব যথা।
রাধার জোরে আজ 'আশােরে জবাব দিয়ে জাব। কিরূপে
হইল কালী সকলি বলিব। বিশেষ কথা বলি হেথা শুন
নারায়ণ । আগে তােমার কথা বলব হেথা রাষ্ট ত্রিভুবন।
তুমি যে হইলে কালী তাতো আমি জানি। একে সকল
কথা বলিব এখনি ।। শ্রীরাধিকার কাছে তুমি যাইলে যখন।
দুজনাতে ছিলে ঘরে জানে কোন জন ॥ হেনকালে
এলাে জটিলে রাধারে দেখিতে। চুপটি করে বসে ছিলে
ঘরে দুজনাতে । তাহা দেখি জটিলের ক্রোধ যে বাড়িল।

বৃহৎ তরজার লড়াই। তাড়াতাড়ী আয়ানেরে ডাকিবারে গেল।। আয়ান নিকটে গিয়া সকলি বলিল। ঘরের ভিতরে কৃষ্ণ দেখ না সকল এত শুনি আয়ান তখন ছুটিয়া আসিল। কপাটে লাগান খিল দেখিতে পাইল। শ্রীরাধিকা তব প্রতি মধুশ্বরে কর । এ বিপদে রক্ষা হরি কর হে আমায় || শ্রীরাধিকার কথা শুনে মনেতে চিন্তিলে। আপনি হইলে কালী রাধা যে পূজিলে।। হাতের বাঁশী হলো অসি মিথ্যা কথা নয়। বন- মালা মুণ্ডমালা গলেতে নিশ্চয়। কালীরূপে দাড়াইলে ওহে চক্রপাণি। পুস্পাঞ্জলী দেয় পদে রাধা বিনােদিনী ।। ঘরের দ্বার খুলে গেল আয়ান দেখিল । কালীপূজা করছে রাধা অম্নি ফিরে গেল । রাধার মান রাখলে তুমি কালী মূৰ্ত্তি ধরে। রাধাকালীর কথা হরি জিজ্ঞাসিলে মােরে। কি জন্যেতে রাধাকালী হয়েছে তা বলি। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ শুন বনমালী। সব সখী মিলে মােরা কাননেতে যাই। নানাজাতী পুষ্প তুলি শুন হে কানাই । একোত্তরে সবে মিলে কাননেতে বসি। নানা কথা বলিতেছি হয়ে হাসি খুসি। কহিতে কথা জিজ্ঞাসিলাম আমি। ঘরের ভিতর কালীপূজা করেছিলে তুমি । কিরূপ ধরিয়া কৃষ্ণ কালী হয়েছিল। কিরূপেতে পাদপদ্ম পুজিলে গাে বল ।। তখন রাধা বলে সভাস্থলে শুন বৃন্দে বলি। আমার মান রক্তে কালী হলাে বনমালী ।। তখন জোর করে শ্রীরাধারে সবে

দ্বিতীয় খণ্ড।
মােরা বলি। সেইরূপ দেখাও একবার হয়ে তুমি কালী।
হাসিয়া উঠিল রাধে বৃন্দের কথা শুনে। কৃষ্ণপদ ভেৰে
কালী হলাে ততখনে । শ্রীরাধিকা হলেন কালী দেখিলাম
নয়নে। পুস্পাঞ্জলী দিলাম মাের। শ্রীরাধার চরণে। আমা-
দের মাম রাক্তে রাধাকালী হয়েছিল। খাটাখাটী পরিপাটি
জবাব হয়ে গেল ।। এক্ষণেতে ওহে কৃষ্ণ জবাব তােমার
হলাে। আমার একটি কথা কিছু শুনহ সকল বীণা যন্ত্রে
গান করে নারদ তপােধন। কাহার গর্ভে নারদের হইল
জনম | কাহার গর্ভে দেবঋষি নারদ জন্মিল। কেবা তার
মাতা পিতা প্রকাশ করে বল || ঈশ্বর দাসে এই প্রকাশে
বালাখানায় বাড়ী। টুলি দাদা বাজাও ঢোল বল হরি ।
নারদের জন্মের জবাব।
শুন শুন শুন বৃন্দে শুন বলে যাই। তােমাদের প্রধান।
বটে কমােলিনীরাই। কমােলিনী রাজনন্দিনী বৃন্দাবন মাঝে
যা মনেকরে কৰ্ত্তে পারে সকলি তার সাজে । একদিন কমােন
লিনী আমারে কহিল। কোথায় গিয়াছিলে হরি আমার
কাছে বল ।। সত্য করিলাম আমি তাহার নিকটে। বিশ্বাস
নাহি করে মােরে ধরে সটেপটে। চন্দ্রাবলীকুতহলি সাজয়ে
বাসর সজ্জা। গেল সব্বরি ওহে হরি লুটে এলে মজা।
জেনেছি জেনেছি তােমায় জেনেছি হে ভাল। এখান
হতে সেই স্থানেতে যাও হে চিকণ কাল । চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে

বৃহৎ তরজাৰু লড়াই।
হরি রাত কাটিয়ে দিলে। সকালবেলা আমার কাছে জ্বা-
লাতে হে এলে। আমায় কত কথা বলে রাধা বাহির করে
দেছে। মিথ্যা কথা নয় হে বৃন্দে বলি তােমার কাছে।উপায়
কিবা হবে বৃনে উপায় কিবা বল। অঘটন ঘটাতে পার
তুমি হে সকল। তােমা বিনে কোন জনে সাধ্যকার নাই ।
রাধা বিনে প্রাণ যায় শুন বলি ভাই। একবার যাও বৃন্দে
শ্ৰীমতীর কাছে। অধােমুখ হয়ে রাধে বসিয়া রয়েছে ।
রাধার মান ভাংতে বৃদে আমার সাধ্য নয়। চন্দ্রাবলীর
কুঞ্জে কিন্তু যাবনা নিশ্চয়। সত্য করে বলি তােমায় শুন
সমাচার। কুঞ্জের বাহির করে দিলে আমারে এবার ।
তােমায় বিনয় করি হাতে ধরি আমার কথা রাখ। শ্রীরা-
ধার কাছে গিয়ে জানাও এ সব দুঃখ । তােমার হরি
বংশীধারির দোষ কিছু নাই। তব ছাড়া তিলেক মাত্র
কোথা নাহি যাই । বদন তুলে কও না কথা ওহে বৃন্দে
সখি। রাধায় ছেড়ে তােমার মান অতিবড় দেখি। রাগের
উপর দ্বিগুণ রাগ তােমাদের হলাে। কেমন করে তােমা-
দের মান ভাংব অমি বললা। তােমরা গোপের নারী
সারিসারি রাগেতে রহিলে। অামার প্রতি একেবারে নিদয়
হইলে ।। রাগের কর্ম নয় কে বৃন্দে রাগের কর্ম নয়। চাই
ফেলতে ভাঙ্গা কুল পেয়ছ নিশ্চয়। নতুবা তােমাদের
কুঞ্জে নাহিক আসিব। আজ পর্যন্ত হলেম ক্ষান্ত চন্দ্রার

দ্বিতীয় খণ্ড।
কাছে জাব। তাতে কি ক্ষতি আছে শুন বৃন্দে বলি ।
শ্রীরাধাকে বল গিয়ে গেছেন বনমালী। এই অবধি তােমা-
দের ছাড়াছাড়ি হলাে। তােমার নারদের জন্ম কথা শুন
হে সকল। কিরূপে জন্মিল দেখ নারদ তপােবন। তাহার
বৃত্তান্ত কিছু শুন দিয়া মন। সামান্যে কি নারদের জনম
হইল। অঘটন ঘটাতে পারে দেখ না সকল । ব্রহ্মার পুত্র
নারদ মুনি মিথ্যা কথা নয়। কণ্ঠেতে উৎপত্তি হইল শুন
সমুদয় ।। এক মতে নারদ ঋষি ব্রহ্মার নন্দন। আর এক
মতে আছে তাহার জনম কধন। আর এক মতে নারদের
জন্ম বলে যাই। খাটী খাটা পরিপাটি শুন তবে ভাই।
সংসার করিতে ব্রহ্মা তারে আজ্ঞা দিল । পীতার বাক্য
দেবঋষি নাহিক শুনিল। নারদের প্রতি ব্রহ্মা ক্রোধ যে
বাড়িল। ক্ৰোধ করি নারদ প্রতি অভিশাপ দিল । বেশ্যার
গর্ভেতে তােমার জন্ম দেখ হবে। আমার বাক্য দেব ঋষি
মিথ্যা নাহি পাবে। সেই শাপে নারদ তখন গমন করিল।
বেশ্যার গৱেতে তাহার জন্ম দেখ হলাে। কলাবতী নাম
তার মিথ্যা কথা নয়। খাটী খাটা পরিপার্টি জবাব হয়ে
যায়। দুরমকে দিলাম জবাব নারদের কথা। আমার একটি
কথা কিছু শুনে যাও যথা ॥ পুরাণের পুণ্য কথা করি জিজ্ঞা-
সন। একাদশ রুদ্র হয় কাহার নন । একাদশ রুদ্র তার
কি নাম ধরে। কোথায় জন্মিল তারা কই সত্য করে ॥

বৎ তরলর লড়াই।
কার পুত্র একাদশ রুদ্র মহাশয়। খাটী খাটা পরিপাটি
জবাব যেন হয়। একাদশ রুদ্রের কথা সভার মাঝে চাই।
পড়েছ আমার হাতে হাড়ব না কো ভাই।। ঈশ্বরচন্দ্র দাসে
বলে কোথা গাে ভবানী। অন্ত্ৰীম কালে পাই বেন চরণ
দুখনি || এক্ষণেতে আশাের হতে বিদায় হয়ে যাই। হরি
ধ্বনি বল সবে আর কেহ নাই।
একাদশ রুদ্রের নামের জবাব।
ওহে কৃষ্ণ বলি স্পষ্ট মিথ্যা কথা নয়। তুমি যেমন
নাগর 'মােরা জেনেছি নিশ্চয় । রাগ করে আছি মােরা
মনেতে ভাবিলে। আপনার মান তুমি আপনি খুয়ালে ।
যত ভালবাসে তােমায় যত গােপের বালা। লম্বা চৌড়
কর্তে গেলে আপনি চিকনকালা জারিজুরি বাবুগিরি
নাহিক খাটিবে। পড়েছ রাধার কোপে নিস্তার নাহি পাবে
সে যে রাজনন্দিনী কমােলিনী মানি বড় হয়। কেমন করে
তাহার মান ভাংবে মহাশয়য়। চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে হরি
কেন গিয়ে ছিলে । নিশী ভাের করে বুঝি সকালবেলা
'এলে। সারারাত্ৰিকমােলিনীজাগিয়া রহিল। ঢলিতে২রাই
পড়িয়া যাইল । জাননা এমন কর্ম কেন হে করিলে। গুপ্ত
কথা প্রকাশ হলো জানিল সকলে । চন্দ্রাবলী তােমায়
কিছু বেশী খেতে দেয়। আমাদের কাছেতে বুঝি কম কম
হয়। জেনেছি হে ভাল মনে ওহে বংশীধারি। আমাদের

দ্বিতীয় খণ্ড।
এখন
কাছেতে আয় করােনা চাতুরী। আমার হাতে ধজে এখন
আমি কি করি। কেমন করে শ্রীরাধারে বল হে বুৰাৰ ।
ক্রোধ ভরে বসে আছে কমােলিনী রাই। কেমন করে তা
হার কাছে জাৰ হে কানাই।। তােমার উপর চটেছে হে
আমাকে চটাবে। একুল ওকুল দুকুল বুঝি শেষকালে
হারাবে। তােমার ফচকেপােনা স্বভাব কৃষ্ণ এখন গেলনা।
একদেশ ছেড়ে একদেশে আনা গােনা ।।
সেই চন্দ্রাবলী তােমার কোথায় রহিল। ডেকে আন গিয়ে
তারে দেখিবে সকল ।। এখন হাতে ধরে পায়ে পড়ে তাে-
মার প্রাণ টা গেল। মজা করে চন্দ্রাবলী কুঞ্জেতে রহিল ।
এমন সময় মিলন করে কার সাধ্য বল। সেই চন্দ্রাবলীর
কুঞ্জে হরি এক্ষণেত্বে চল । আর এখানে হাতে ধল্পে বল
কিবা হবে। চন্দ্রাবলীর কাছে গিয়া ছেনা মাখম যাবে ।
চন্দ্রাবলী ভাল করে তােওয়াজ করিবে। বাসর সজ্জা করে
ধনী তােমারে শোওয়াবে। ওহে মসলা ভরা দিবে পান
খাবে বনমালী। আলবােলাতে টানবে তামাক হয়ে কুত্ব
হলী । অগৌর চন্দন তােমার অঙ্গেতে মাখাবে। ফুলের
পালঙ্ক করি তাহাতে বসাবে। আমাদের কমােলিনী কিছু
জানে নাই। এখান থেকে বিদায় হয়ে চলে যাও কানাই ।
ভব মুখ দেখবে নাকো কমােলিনী রাই। তাহার মান ভাংতে
আজকে আমি পারব নাই । ও সব কথাতে এখন আর

ৎ উরজার লড়াই।
কাজ নাই। বলে গেছ চাপান আমায় জবাব দিয়ে যাই।
আমায় তুমি জিজ্ঞাসিলে পুরাণের কথা। বলব হেথা নয়
অন্যথা বেদে আছে গাঁথা ॥ একাদশরুদ্র দেখ কাহার পুত্র
হয়। কিবা নাম ধরে তারা শুন পরিচয় ॥ শুন তবে ওহে
ঈষ্ণ করি নিবেদন। দিব জবাব কিসের অভাব বলে যাই
এখন দেখ সৃষ্টি কৰ্ত্তা বিধাতাসৃষ্ট প্রকাশিল। প্রথমেতে
ছয় পুত্র উৎপন্ন করিল ৷ ছয় পুত্রের কিবা নাম সভায়
বলে যাই। মরিচি অত্রি অঙ্গিরা হইল তিন ভাই। পােলস্ত
পোলহ ক্রতু ছয় জন জন্মিল। আর এক পুত্র দেখ শানু
মামে হলাে শানু নামে মহা তেজস্বী বিখ্যাত সংসারে।
একাদশ রুদ্র জন্মাইল তার ঘরে ॥ একাদশ রুদ্র নাম সভায়
বলে যাই। মহাতেজস্বী মৃগ সর্প হইল তিন ভাই।। নিবৃত্তি
অর্জ্যকপাৎ পঞ্চজন হলাে। অহি খুব পীনাকি সপ্তম
লিখিল ।। ঈশ্বর দাহন কপালী ভগাে একাদশ হয়। কালী
সিংহী রচে গেছে মিথ্যা কথা নয় । একাদশ রুদ্রের নাম
সদার মাঝে হলাে। খাট খাটী পরিপাটি জবাব হয়ে
গেল। আমি একটি কথা কৃষ্ণ করি জিজ্ঞাসন। বিশেষ তত্ত্ব
ঠিক যথার্থ বলিবে এখন বনমালী সভায় বলি হেরি হে
কানাই। আহা সখা ময়ুর পাখ। মাথে দেক্তে গাই ।।
কিবা পুণ্য কৈল ময়ূর না জানি কারণ। মস্তকে ধরিলে
কেন দেব নারায়ণ । পুৰ্ব্ব জন্মে ময়ূর বল ছিল কোনজন।

দ্বিতীয় খণ্ড।
৬৯
{
কিসের জন্যেতে পুচ্ছ করিলে ধারণ। ময়ুরের কথা কিছু
বুঝিতে না পারি। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ বলে জাবে হরি।
ঈশ্বর কয় মহাশয় হরি পদ সার। হরি হরি বল সবে চলে
যাই এবার।
ময়ুরের জবাব।
আমায় ছল করে সভাস্থলে ভাল বলে গেলে। আমার
প্রতি একেবারে নিদয়া হইলে । আশা করি থাকি বলে
তােমাদের ভরসা। তারি জন্য আমার বৃন্দে হলো হে
দুর্দশা। চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে আমি গিয়েছি একবার। তা
বলে কি এত করে বলতে হয় এবার । চিরকাল শ্রীরাধার
প্রেমে বাধা রই । তারি জন্যে ওহে বৃন্দে এত কথা সই।
আমায় কচকে করে সভা স্থলে তুমি বলে গেলে। ফকিমী
আমারে বৃদে বল কে সেখালে 11 ভােমার কাছে সকল কর্ম
সেকা আমার হলাে। বারে বারে এমন করে নাহি আমায়
বলো । যেইজন তােমাদের শরণাগত হয়। এমন করে তার
প্রতি বলা উচিত নয় । রাধার কাছে চল বৃন্দে এক্ষণেতে
যাই । দুজনাতে বলে কয়ে কথা গে কহাই। তােমার কথা
রাবে যথা শুন বৃন্দে বলি। নতু বা প্রাণ যাকে রাধা ৰি-
চ্ছেদেতে জ্বলি। যাও যাও ওহে বৃন্দে যাও একবারে।
হাতে ধরে বিনয় করে বলতেছি তােমারে । আর জাব না
সেই স্থানে বলতেছি হে আমি। তব ছাড়া হব নাকো শুন

৭০
বৃহৎ তরজার লড়াই।
কমােলিনী। এত বলি বৃন্দে তখন কৃষ্ণ প্রতি কয়। পায়ে
ধরে সাধ যদি তবে রাগ জায় । নতু বাসে কমোলিনীর
রাগ নাহি জাবে। তােমাকে আমাকে দোঁহে বার করে
দিবে। কৃষ্ণ বলে চল বৃনে এক্ষণেতে যাই। কিরূপে ভা-
ঙ্গিৰ মান কমােলিনী রাই । দুজনাতে যুক্তি করে রাধার
কাছে গেল। দেখিয়া শ্রীরাধা তখন জ্বলিয়া উঠিল । ক্রোধ
ভরে রহিলেন কমােলিনী রাই। আমার কাছে আজকে
হেথা এসাে না কানাই ৷ কৃষ্ণ বলে শুন বৃন্দে'জেনেছি হে
ভাল । আর কেন এখান হতে যাই আমরা চল । যে কথা
বলেছ তুমি শুন বিবরণ । তাহার বৃত্তান্ত কথা বলে যাই
এখন ।। ময়ুরের কথা তুমি আমায় বলে গেলে। ময়ুরপাকা
কেন হরি মস্তকে ধরিলে ৷ ময়ূর পাখা মস্তকেতে ধরি যে
কারণ। পূৰ্ব্ব জন্মে ময়ুর পক্ষ ছিল কোনজন। সে সব
কথা বেদে গাথা মিথ্যা কথা নয়। ময়ূরের কথা আমিবলিব
সমুদয় । ত্রেতাযুগে জন্ম নিলাম দশরথের ঘরে। চারি।
অংশে হইল জন্ম রাষ্ট চরাচরে ।। পিতৃ সত্য পালিবারে
গিয়াছিলাম বন। পঞ্চবটীর বনে থাকি আমরা তিন জন।
মায়াকারী রাবণ ভগ্নী সূর্পণখা এলাে। আমারে আসিয়া
তিনি কত যে কহিল। ছল করে লক্ষণ তার নাক কাণ
কাটিল। কান্দিতে তখন গমন করিল। উপনীত হইল মৃগ
মায়া বেশ ধারী। সীতা দেবি বলিলেন ষােড়হাত করি।

দ্বিতীয় খণ্ড।
মৃগ মারি আন শীঘ্র কমােলােেচন। মৃগ মারিবারে গেলেম
রহিল লক্ষণ । এক বাণে সেই মৃগ্ন মারিলাম যখন।'
লক্ষণ বলিয়া মৃগ ত্যজিল জীবন। তাহা শুনি সীতা তখন
চিন্তিত হইল। লক্ষণের প্রতি সীতা কহিতে লাগিল ৷
যাও যাও লক্ষণ তুমি যাও শীঘ্ৰকরে। লক্ষণ বলে একালা
থাকিবে তুমি ঘরে। গণ্ডী রেখা দিয়ে লক্ষণ আমার কাছে
যায়। ভীক্ষা ছলে রাবণ এসে সীতা নে পালায় । সীতা
হরে গেল রাবণ সমুদ্রের পারে। দু ভেয়েতে মৃগ মারি
আইলাম কুঠিরে । শূন্য কুঠির পড়ে আছে দেখিলাম ত
থায়। সীতা শােকে ভ্রমি বনে ভাই দুজনায়। কেহ নাহি
বলে সীতা কোন পথে গেল। পৰ্বতে পড়িয়া দেখ এক পক্ষ
ছিল। তাহার কাছেতে গিয়া উপনীত হই। দুভেয়েতে
গিয়ে তারে বিশেষ কথা কই৷ পক্ষ বলে শুন ওহে কমােল
লােচন। সীতা হরে লয়ে গেছে পাপীষ্ঠ রাবণ ॥ পথ মধ্যে
আমি তারে ধরিলাম যখন। রথ শুদ্ধ রাবণেরে করিলাম
ভক্ষণ। অগ্নিবাণ সেই বেটা আমারে মারিল । অগ্নিবাণে
দেখ আমার পাখা পুড়ে গেল। সীতা দেবী আমায় দেখ
বলিয়া গিয়াছে। আমার দুঃখের কথা সব বলাে রামের
কাছে ।। যত দিন রামের সঙ্গে নাহি দেখা হবে। তত দিন
শুন পক্ষ নাহিক মরিবে । জটায়ু বলিলেন রাম আমার
প্রাণ যায় । আমি বলিলাম পাখা ধরিব মাথায় যেতা

৭২
বৃহৎ তরজার লড়াই।
যুগে ময়ুর দেখ জটাই পক্ষ ছিল। খাট খাটি পরিপাটি
জবাব হয়ে গেল। আমি একটি কথা বলি শুন বিবরণ।
শ্রীরাধার পুত্র হইল কহ না এখন।। কিবা নাম ধরে তারা
কিরূপে জন্মিল। বিশেষ তত্ত্ব ঠিক যথার্থ সভার মাঝে বল ।
ঈশ্বরচন্দ্র বলে কিবল হরিপদ সার । ঢুলি দাদা বাজাও
ঢােল বিদায় হই এবার ॥
শ্রীরাধার পুত্রের নামের জবাব।
জয় জয় জয় দুর্গা দুর্গতি নাশিনী। যশােদা জিয়া
জন্ম যন্ত্রণ হারিণী৷ মুক্তকেশী মাহেশ্বরী মাতঙ্গী মঙ্গলা।
গণেশ জননী গঙ্গা গিরিরাজ বালা | শমন সাশন কর্তৃ
শম্ভু সােহাগিনী। কৌষিকী করালী কাম ঔরিষি মন্ত্রণী ॥
পার্বতী পরমেশ্বরী পশুপতি নারী। ত্রিগুণধারিণী মাগাে
ত্রিপুরা সুন্দরী। বগলা বরদা বামা ব্রহ্মাণ্ড পালিনী
পাপ তাপ রােগ শােক সব নিবারিণী।। ভগবতী ভবানী
ভৈরবী ভবদারা। সঙ্কটে শরণাগত সান্ত কর্তৃ তারা।
যশোদা কুমারী জগদম্বা জগদ্ধাত্রী। চৈতন্য রূপিণী চণ্ডী
চতুবৰ্গ দাত্রী ।। অসীতে অলকানন্দা অনুদা অভয়া। সত্য
সােনাতনী শ্যামা শঙ্করের জায়া রাজরাজেশ্বরী মাগাে
রাবণ ঘাতিনী। রিপু ভয়ে রগণ কর্তৃ রুদ্রের রমণী ।। অনাদা
অনন্তা তুমি অনন্ত রূপিণী। সৃজন পালন নাশ করুণ।
কারিণী। প্রকৃতি পুৰুষ তুমি তুমি মূলাধার। তব মায়া

দ্বিতীয় খণ্ড।
৭৩
মহামায়া বুকে সাধ্য কার ও মা কিঞ্চিৎ তােমার মর্ম শিব
বুঝিয়াছে। শার পদ ভেবে পদে অঙ্গ ঢালি দেছে।। ও মা
ভুমি জল ভুমি স্থল তুমি জে অনল। স্থাবর জঙ্গম মাগাে
তুমি জে সকল করাল বদশী কালী কৈবল্যদায়িনী। দেখ
কষ্ট হই মা নষ্ট জানাই গাে ভবাণী। খড়েশ্বরী দিগম্বরী
ভ রব ভবানী। ক্ষেমঙ্করী প্রণাম করি শুন গাে জননী।
গণেশ জননী ভুমি জানাই মা তোমারে। গঙ্গা জলরূপে
বিহার কর শিব শিরে। যােরজপিণী ভুমি জননী মিথ্যা
কথা নয়। ঘাের বিপদে ঐ পদে রেখে গাে আমায়।
উমেশ্বরী চরণে যরি বলতে ভয় পাই। উমা উমা বলে
ডাকি মা আর কেহ মা নাই । দেশ চণ্ডী আমায় ভাণ্ডী
থেকো না মা ভুলে। পা করে অাজ অামারে রেখোচরণ
তলে ॥ ফণি হয়ে ওরে মন না চিনিলি মনি। অচিন্ত
অনন্ত রূপ যেই চিন্তামণি । ভাবিয়াছি চিরদিন জাবে
এই ভাবে। অায়ে স করিয়াদ। বয়েস কাটবে। রঙ্গ ভঙ্গ
ফরে জাবে লয়ে জাবে কালে। রঙ্গ তব সঙ্গ ছাড়াইবে সেই
কালে। জাননা কি তুমি জীব চঞ্চলা চলা। পরের তে
ভােলা দেখে কেন রে উতলা। ভাল মন্দ যেনে ভবে কেন
রে এমন। নাহি কর দে জনার চরণ শরণ৷ ব্ৰহ্ম কুলে
জন্ম লয়ে ওরে মূঢ় মন। কুশাশোনে নুশার সনে নাহিক
মিলন। তাই বলি ওরে মন ভজ বিশ্ব তাৎ। বিশ্বনাথে
৭

.
বৃহৎজার লড়াই।
করপুট কর প্রণিপাং। কিছু দিন দিনভাবে কর দিন
পাং। অৰ্ত্তিমকালেতে আমার হয়ো গো সাক্ষাৎ না এই
পৰ্যন্ত ভজন সাধন অমর হয়ে গেল। শ্রীরাধিকার কথা
কিছু শুন গো সকল ॥ রাধিকার হইল পুত্র মিথ্যা কথা
নয় । একে তােমার কাছে বলব সমুদয় ৷ গােলকে থা-
কিয়া রাধে ডিম্ব প্ৰশলি। সেই ডিম্বে তিন পুত্র জনম
হইল ।। সেই তিন পুত্রের কিবা নাম শুন বলে যাই। সত্ত
রজ তম দেখ হইল তিন ভাই। রাধিকার তিন মিথ্যা
কথা নয়। বেদে গাঁথা নয় অন্যথা বলতেছি নিশ্চয়।
এক্ষণেত তেমার তরজার জবাব হয়ে গেল। আমার
একটি কথা কিন্তু গুনতে হয় ভাল। একটি কথা তােমার
কাছে করি জিজ্ঞাসিন। খাট খাট্য পরিপাটি বলে যাও
এখন। কংস রাজা মহাতেজা মথুরাতে ধাম। তাহার
ভগ্নি দেবকিনী জগতে বাখান। সেই দেবকীর গর্ত্তে অষ্ট
পুত্র হয়। অক্ট পুত্রের কিবা নাম কহ মহাশয় ।। অষ্ট পুত্র
বসুদেবের কারাগারে হলো। মিথ্যা কথা নয় মহাশয়
সভার মাঝে বল । ঈশ্বর চন্দ্র লাগায় ধন্দ বালাখানায়
বাড়ী। হরিপদ ভেবে আমি তরজা কবি করি । এক্ষণেতে
আশাের হতে বিদায় হয়ে যাই। হরি হরি বল সবে আর
কেহ নাই।।

দ্বিতীয় খণ্ড। বসুদেবের অষ্ট পুত্রের নামের জবাব। যে কথা কহিলে 'বৃন্দে মিথ্যা কথা নয়। তােমার কথা শুনে আজ এখানে পরাণ যুড়ায় ।। কি জন্যেন্তে বল (ন্দে রাধা বিনােদিনী। আমার সঙ্গে কথা নাহি কয় কমােলিনী কি দোষ হয়েছে আমার কি দোষ হয়েছে। পূর্ব কথা আমার কিছু মনে পড়ে গেছে। ভানু কন্যা মহাধনা মান ভরে আছে। কেমন করে বল বৃনে জাব তার কাছে। গোচারণে যখন আমি গহন বনে জাই। তােমাদের সঙ্গেতে দেখা সেই খানেতে ভাই । কত লীলে প্রকাশিলে গহন কাননে। আজ কেন আমার প্রতি বিরস বদনে । উঠ২ কথা কহ ওহে কমােলিনী । গহন বনে গােপীর সনে চল হে এখনি বৃন্দে বলে পায়ে ধর ওহে গুণমণি। সচেতন হবে তবে তােমার কমােলিনী । হেট মাথে কমােলিনীর পায়েতে ধরিল। সচেতন হয়ে রাধা কহিতে লাগিল। যাও যাও কালাচঁাদ যাও কুঞ্জ হতে। এখান হতে চলে যাও চন্দ্রার কাছেতে !! কৃষ্ণ বলে শুন প্রিয়ে আমার বচন। তােমা ছাড়া কোন স্থানে যাই হে কখন । এত বলি দুজ- নাতে মিলন হইল । চন্দ্র প্রতি তখন বাধে ভৎসনা করিল লজ্জা নাহি ওলল চন্দ্রা লজ্জা নাহি তোর । চুপি চুপি কেমন করে কলি নিশি ভোর । তখন রাধার সনে বৃন্দাবনে চন্দ্রার বকড়া হলাে। দুজনাতে ঝকড়াকরে কথা না কহিলাে

বৃহৎ ভরজার লড়াই।
দুজনাকে তখন কৃষ্ণ হাতেতে ধরিল। দুজনার মান হরি
আপনি রাখিল ।। হেঁসে কথা কয় গােপীকার সনে। বৃন্দে
বলে ওসব কথা ছাড় হে এক্ষণে ।। আমি তােমায় যে কথাটি
জিজ্ঞাসা করেছি। কেমন করে দিবে জবাব মনেতে ভা,
তেছি। ও হে কৃষ্ণ বলে স্পষ্ট অষ্ট ভেয়ের কথা।
কৃষ্ণ বলে শুন বৃদে বলে যাই যথা । যে প্রকারে আমরা
হে অন্ট ভাই হই। একে তােমার কাছে স্পষ্ট কথা কই।
কংস রাজা মহাতেজা দর্প যে বাড়িল। দেবগণে সৰ্ব্বজনে
ভাবিতে লাগিল। কংসের দৌরাত্য মােরা সইতে পাবি
নাই। কি হবে উপায় ইহার কর না গােসাঞি । দেবগণে
কহিলাম শুন বিবরণ। অষ্টম গর্ভেতে আমি লইব জনম।
মরিচীর শাত পুত্রের অভিশাপ ছিল। একে একে শাতপুঞ্জ
জন্ম আসি নিল। প্রথমে হইল পুত্র শুন সমুদয়। কি নাম
ধরেন তিনি কহিব নিশ্চয়। কির্তিমন্ত ধরে নাম জেষ্ঠ সেই
ছিল। কংস হাতে বিনাশ হয়ে উদ্ধার হয়ে গেল । দ্বি:
তীয়ে জন্মিল পুত্র সরভ তার নাম। কংসহাতে ধ্বংশ হলো
জগতে বাখান ।। তৃতীয়ে হইল পুত্ৰ উৎগীত নাম ধরে ।
আছাড় মারিতে কংস গেল স্বর্গপুরে। চতুর্থ জন্মিল পুত্র
পরিশঙ্গ নাম। বিনাশ করিল তারে কংস গুনধাম।।
পঞ্চমেতে হইল পুত্ৰ পতঙ্গ নাম ধরে। বসুদেব লয়ে দিল
কংস রাজার করে ৷ যষ্ঠমেতে হয় পুত্ৰ ক্ষুদ্ৰভুক নাম।

৭৭
বিনাশ করিল কংস বসু বিদ্যমান 11 সপ্তমে জন্মিল পুত্র
ঘণীক নাম ধরে। বিনাশ করিল কংস রাষ্ট চরাচরে।
অষ্টম গর্ভেতে দেখ আমার জন্ম হয়। বসুদেব রাখি গেল
নন্দের আলয় || নন্দ পিতা আমায় হো পালন করিল।
অষ্ট ভেয়ের নামের কথা জবাব হয়ে গেল। আর এক
কথা বলি হেথা শুন দিয়া মন। বেদে গাথা নয় অন্যথা
বলে খাই এখন।। গরুড় মহাবীর দেখ কশ্যপনন্দন। বাহু
বলে জিনেছিল এতিন ভূবন। বালখিল্ল মুনিবরে পক্ষ
ই হলো। তবে কেন পররূপ ধারণ করিল । হয়ে নর
পক্ষ বর কোন স্থানে গেল। কোন স্থানে গিয়া তার কি
নাম হইল । নর মূর্তি ধরে গড় গিয়েছিল কোথ।। কিবা
নাম হলাে ভার বলে জাবে যথা। ঈশ্বরচন্দ্র ননের সন্দ
হতেছে এখন। বেদমাতা আজ কে হেথা দিবেন শ্রীচরণ
এই পর্যন্ত হলেম ক্ষান্ত রাধাকান্ত অরি! 'আবাল বৃদ্ধ সভা
শুদ্ধ বল হরি হরি।।
গরুড়ের মনুষ্য ধারণের জবাব।
আমি রাধার দাসী পরম খুসী শুৰ বংশীধারি। বাঁশী
শ্বরে গােপীদের কর মন চুরি । জাত কুল সব গেল
তােমার বঁাশীরশ্বরে। বাজালে বাশী হই উদাসী থাক
নার ঘরে ॥ শুন হরি অংশ?? কয়ি শিখে নিন ত্যাজ্য
করে গোশীকারে জাবে কি কারণ?! তুমি জল

বৃহৎ ভরজার লড়াই। অর এসেছে। নিমন্ত্রণ পত্র না কি তােমাদের দিয়েছে। শুনে অকস্মাৎ বজ্রাঘাত গােপীকাদের হলো। কেমন করে সবাকারে ছেড়ে জাবে বল ।। ও হে হরি দণ্ডধারী মধু সুদন। তব চরণ লয়ে শরণ করি প্রার্ণ ধারণ ।। কেমন করে থাকবাে ঘরে ওহে নারায়ণ । শুন্তে পাই ভ্যাজ্য করে জাবে বৃন্দাবন। বৃন্দাবনের লীলা খেলা সকলি ছাড়িৰে। অকুরের সঙ্গে তুমি মথুরাতে জাবে । কেমন করে যশাে- দারে বুঝাবে হে হরি। কেমন করে থকিবেষয়ে বলতে মার প্যারি। জেও না জেও না হরি জেও না হে তুমি। জোর করে আজ তােমারে বলতেছি হে আমি। শুন শুম ওহে হরি গুন বিবরণ। নন্দের ঘরে নয়ন ঠেরে ডাকবে কোন জন। কদম্ব তলে গােপী সকলে দিবা নিশী জায় । তব সনে গহন বনে পরাণ যুড়ায়। গৃহ বাশ ত্যজ্য করে তব শরণ নেছে। উদ্ধা মুখে গোপী সবে এক দৃষ্টে আছে। যশােদা তোমার জননী মিথ্যা কথা নয়। পাগল করে বুঝি ভারে জাবে হে কানাই।। প্রভাত কালে ননী তুলে প্রত্য- বধি দেয়। যশােদার প্রাণ ধন তুমি দয়াময়। যত ব্ৰজ বাল কেরা তব কাছে রয়। তাদের ছেড়ে কেমন করে জাৰে মথুরায়। উর্দ মুখে ধেনু সবে এক দৃষ্টে আছে। ঘাস জল ত্যজ্য করে ভূতলে শুয়েছে। মধুবনে পীগণে সবে মেলি থাকে। কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি তারা দিবা নিশি ডাকে। দেখ দেখ

দ্বিতীয় খণ্ড।
ওহে হরি এ সকল ছেড়ে। রাধিকা শুনিলে কথা মরিৰে
এবারে । যদি শুনে বিনােদিনী কমলিনী রাই। শুনে প্রাণ
ত্যাজিবেন এখনি কানাই। এখান হতে মথুরাতে জেতে
পাবে নাই। যদি জাও সেই স্থানে আমাদের দোহাই।
একান্ত তােমারে হরি জেতে নাহি দিব। কাছেই করে
তোমায় নিরন্তর দেখিব | জেতে তােমায় দিব নাহে
মথুরা নগরে। গেলে পরে আসিবে না জেনেছি এবারে।
শুন শুন ওহে কৃষ্ণ শুন তবে বলি। আমার প্রতি চাপান
দেছ আজকে বনমালী ।। ভাল বেশে তুমি এসে চাপান
দিয়ে গেলে। গরুড়ের কথা কিছু জিজ্ঞাসা করিলে ॥ হয়ে
নর পক্ষবর কোন স্থানে গেছে। সেই স্থানে গিয়া তার নাম
কি হয়েছে । সে সব কথা বেদে গাথা মিথ্যা কথা নয়।
কাশীখণ্ডের কথা কিছু শুন সমুদয় । জাননা জাননা হরি
ভূলে কি হে গেলে। কাশীপুরে গিয়া তুমি লীলা প্রকা
সিলে। বুদ অবতার হরি আপনি হইলে। কাশীপুরে এক
বারিক নির্মাণ করিলে ॥ লক্ষনী সহ সেই স্থানে গরুড় সহিৎ
ছিলে। একোত্তরে তিন জনেমায় যেপাতিলে ॥ পুণ্যকির্তি
নাম হরি আপনি ধরিলে। বিজ্ঞানকুদি লমী নাম প্রকা-
সিলে ৷ বিনয় কিৰ্ত্তি নাম তুমি গরুড়ের রাখিলে। সে সব
কথা ওহে হরি সকল ভুলে গেলে । কাশীপুরে নর রূপ
গরুড় ধরিল। বিনয়কৰ্ত্তি নাম দেখ সেই স্থানে হইল ।

এক্ষণেতে তােমার তরজ জ ত হ গেল। আমার একটি
কথা কিছু শুল্লে তাে হয় তা { গণে বধ প্রাণে মিথ্যা
কথা নয় কোন বাণে বধ ত? নিশ্চয় । মদনের
পঞ্চ বাণে প্রাণ জ্বলে জা! বিনির্শিদাবানলে পােড়ে
হে হৃদয় ।। মদনের পঞ্চক : ব ণ ধরে। প্রকাশ করে
ওহে হরি বলিবে আশের ;? ; নাম ধরে পঞ্চ মদনের
বাণ। ঈশ্বরচন্দ্র লাগায় না নড়ে এর সন্ধান। এণেতে
অশাের হতে বিদায় হয়ে } : ' দাদা! বাজাও টোল
হরি বল ভাই ।।
মদনের পঞ্চবী " " " উৰব ।
শুন শুন ওহে বৃক্ষে স্ট্র : ২৭ কি জন্য ভাবনা কর
বলনা এখন {} মথুরা নগর * যে এমছে। মিথ্যা
কথা বলি নাকো তােমায় , } :এসেছেন অত্রর মুনি
রথ সজ্জা করি। আমাদের ল' ; সবে মথুরা নগরি। দুই
জনে সেই স্থানে আমরা যা ব শ দিন পরে মােরা
ফিরিয়া আসিব | তাহার জন্যে এর কিসের ভাবনা।
আমাদের মনের কথা তুমি কি কণা ; জেনে শুনে কেমন
কথা বলহ এখন। রাধার কা তুমি ২-য় গমন । দেখ
দেখ বিনােদিনী কমােলিনী ।। মন করে না জেন
তােমাদের জানাই। যজ্ঞ দেখিবরে মোর। তাই জাবো ?
বৃন্দাবনে পুনরায় ফিরিয়া আনিব। ' কথা বলি হেথা

দ্বিতীয় খণ্ড। তােমার কাছেতে। প্রাতঃকালে জব মােরা অক্রয়ের রথে। কমলিনী রাজনন্দিনী রৈল তব কাছে। আমি হরি ৰংশীধারি বলি নাহে মিছে 11 ভেবনা ভেবনা সৰে ভেবনা হে মনে। পুনশ্চ আসিব মােরা ভাই দুইজনে। ভানা কি তােমাদের বৃন্দে পাল্টা যে আসিব। আসিয়া কদম্ব তলে বাঁশরী বাজাব। আসিয়া গহন বনে ধেনু চরাইব। যশােদা জননীর কাছে নবনী খাইব ।। রাধার সনে গহন বনে পুনরায় জাব। বৃন্দাবনে গোপীর সনে রাসেতে বসি। তিন দিন পরে ব্রজপুরে আমরা আসিব। তোদের ঘরে রাত দুপরে ছেনা ননী খাব ।। এম্নি করে ভােমাদের বনে লয়ে জাব। একোত্তরে বনে বনে ধেনু সব চরাব । এখান হতে এখন বৃন্দে বিদায় হয়ে যাও। কমােলিনী রাজনন্দিনী তাহারে বুঝাও। প্রভাতে উঠিয়া মােরা অকুরের সনে। মথুরা নগরে জাৰ ভাই দুই জনে । এ সব কথা ওহে বৃন্দে ছাড় হে এখন। চাপান দিয়ে গেছ তুমি বলি বিবরণ। ভাল বেশে বৃনে এসে চাপান দিয়ে গেছে। শাস্ত্র কথা বলি হেথ। দশজনের কাছে। যে কথা জিজ্ঞাসা আমায় করিলে এখন। তাহার বৃত্তান্ত কিছু শুন দিয়া মন । মদ- নের পঞ্চবাণ মিথ্যা কথা নয়। কি কি নাম ধরে তারা শুন সমুদয় । বসন্ত কালেতে যখন ককিল : হরে । ডাহা দেখি মদন তখন পঞ্চ শর ছাড়ে ॥ ফুল গু ল ভূর্ণ ফুলের করে

বৃহৎ তরজার লড়াই।
বাণ। দুই হাতেতে বীরবর করেন সন্ধান। যখন সেই
ফুল অস্ত্র ছাড়ে বীরবর। অবশ্য নরের তখন দহে কলেবর।
সেইবাণে মুচ্ছা হয় নারী আর পুরুষে । একে একে বলি নাম
শুন অবশেষে ॥ এক বাণের নাম দেখ সন্তাপন নিশ্চয়।
দ্বিতীয় বাণের নাম সম্পতিন হয়। তৃতীয় বাণের নাম
সনক্ষেপণ ছিল। চতুর্থ সনমােহন হয় শুন হে সকল ।। সুষক
মােহন নাম পঞ্চ বাণের হলো। খট খটা পরিপাটি
জবাব হয়ে গেল। আর এক মতে পঞ্চবানের নাম বলে
যাই। ঘােরে ঘরে রাখব নাহে তােমাদের জানাই।
শুনেছি পুরাণে আমি দুই রকমের নাম। তোমাদের কা-
ছেতে আমি বলিব সন্ধান !! বেথ নামে এক বাণ শুনেছি
পুরাণে। অসু নামে আর বাণ ন সজনে। ঋক নামে
হয় বাণ শুন মহাশয় । নল নামে হয় বাণ কহিলাম নিশ্চয়
বংশ নামে মদনের পঞ্চবাণ ছিল । দুই রকমে তোমার
হেথা জবাব হয়ে গেল। এই পর্যন্ত তোমার তরজার
জবাব হয়ে জায়। আমার একটি কথা হেথা শুন সমুদয়।।
আদ্যাশক্তি ভগবতী হরের গৃহিণী। জার পতি পশুপতি
দেৰ শূলপাণি। জগৎ মাতা হন তিনি জগত সংসারে।
তাহার দুই পুত্র আছে রাষ্ট চরাচরে। কার্ত্তিক গণেশ দুই
পুত্র এই মােরা জানি। শিবের ছয় পুত্রের নাম কহ গুণ
মণি। ঈশ্বরচন্দ্র মনের সন্ধ ঘূচিয়ে এবার জাবাে। দুর্গা

দ্বিতীয় খণ্ড।
নামে ডঙ্কা মেরে ভব পার হৰে | এই পর্যন্ত হলেম ক্ষান্ত
রাধাকান্ত স্মরি । আবাল বৃদ্ধ সভা শুদ্ধ বল হরি হরি ।
মহাদেবের ছয় পুত্রের জবাব।
প্রভাত কালে যজ্ঞস্থলে জাবে বংশীধারি। তােমার
কথা শুনে আজ এখানে আমরা প্রাণে মরি। আমরা অবলা
কুলবালা না জানি এজ্বালা। ওহে নারী বেধে মনের সাদে
জাবে চিকণ কালা। এই কি মনে ছিল তােমার এই কি
মনে ছিল। আজ ব্রজপুরী আঁধার করি জাবে কোথা
বল । দিবা নিশী কালশশী হেরি হে নয়নে। অনাথ করে
গােপীকারে যাইবে কেমনে।। হরি তব সঙ্গে জাব মাের।
বলি হে এখন। নতুবা তোমার কাছে ত্যজিব জীবন।
কেমনে অত্রুর মুনি তােমায় লয়ে জাবে। নারী বধের পপি
সেই মুনির তাগিবে । নারী বথের পাপ ভারি শুন বংশী
ধারি। তব বিনে মরিবেক যত ব্ৰজপুরী। ব্রজনারী সারি
সারি দায়ে রয়েছে। চক্ষের জলে বক্ষস্থলে দেখ হে
ভাসিছে । কমােলিশী রাজনন্দিনী ভূতলে পড়েছে। হা
কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ বলি প্রাণ ত্যজে পাছে । কৃষ্ণ বিনে নাহি
জানে, অন্য কোন জন। হেন ফঞ্চ ছেড়ে যাও কিসের কা-
রণ। জলপান করে মন তব চরণ দেখে। মোনের দুঃখ
ঘুচে জায় থাকে তব মুখে তব চরণ না দেখলে কিছু
নাহি খায়। তব মুখ দেখে পায় শীতল হৃদয় । হৃদয়েতে

দ্বিতীয় খণ্ড।
মনের সাথে তোমারে রাখিবে। তব পদ সেবা করে পরাণ
যুড়াবে ।। ফুলের পালঙ্ক করি তােমারে শোয়াবে। অগৌর
চন্দন আনি অঙ্গে লেপে দিবে। মসলা ভরা মিঠা পান
তােমার বদনে। রাখিবে তােমারে প্যারী নয়নের কোণে
অম্বরী তামাক হরি সাজিয়া যে দিবাে। বনমালা আনি তব
গলেতে পরবিােওহে দুজনে শয়ন করি থাকিবে পালঙ্কে
চামর দুলাব মােরা যত সখী সঙ্গে। হরি এত করি বুঝয়ে
মরি বুঝেত বুঝে না। নারীগণে আজ এখানে একান্ত বধে
না ৷ রঘােচ ধরে আজ তোমারে রাখিবাে। নতু বা
ঐ রথচক্রে পরাণ ত্যজিবাে। হাহা রবে সখী সবে করেন
রােদন। আসিবে কি না আসিবে বলে যাও এখন। ব্রজ
পুরী আঁধার করি চলিলেন হরি । প্রাণ ত্যজে সভার মাঝে
রহিলেন প্যারী! ভোমা বিনে সকজনে মরিয়া রহিল।
আপনি আসিয়া ফিরে বাঁচাবে সকল।। দেখ দেখ ওহে
নাথ ভূলে হে থেক না। নারী বধের পাপ জেন তােমারে
ঘটে না । এই তাবধি ওহে কৃষ্ণ বুয়ে তােমায় যাই। যুগে
যুগে ঐ চরণ জেন মােরা পাই। তার কি অধিক কব ওহে
তুমি নারায়ণ। চাপান দিয়ে গেছ আমায় হইল শরণ ॥
মহাদেবের ছেলের কথা আমারে কহিলে। মহাদেবের ছয়
ভ্র হইল কোন কালে।। কার্তিক গণেশ দুই পুত্র মিথ্যা
কথা নয়। আর চার পুঞ্জের কথা কহিলে আমায়। আর

দ্বিতীয় খণ্ড।
চার পুত্র কোথা জন্মেছিল কবো। তােমার তরজ জবাব
দিয়ে পরাণ জুড়াব । এক দিন মহাদেব বৃষ পরে চড়ি।
চলিলাে কুচনী পাড়ায় মুখে বলে হরি। যত কোচের নারী
সারি সারি দেখিতে সিলো। এলােথেলাে হয়ে শীবের
কাছেতে বসিলাে। নাম রেবতী সেইযুবতী সিদ্ধি বেটে দেয়
রসােরঙ্গে তাহার সঙ্গে পরাণ জুড়ায়। কিছু দিন সেই
স্থানে মহাদেব রহিলো। সেই রেবতীর গর্ভে এক সন্তান
জন্মিলাে। পঞ্চানন নাম তার মিথ্যা কথা নয়। আর তিন
পুন্ত্রের কথা শুন সমুদয় । পােউশ রাজার ঘরেতে যখন
জন্ম নিলো। বেতাল ভৈর নামে পুত্র দুই হলো। চাশ
চশিতে সদাশিব পুনরায় গেলাে। ধান্য ক্ষেতে হেঁচে জল
মৎস্য যে ধরিলাে । ভীম নামে এক পুত্র সেই স্থানে হয়।
ভগবতী লম্নে পুত্ৰ কৈলাসেতে জায় । ছয় পুত্র মহাদেবের
দেখ না হয়েছে। খাটী খাটা জবাব তােমার বলি দশের
কাছে। তােমার তরজাব এক্ষণেতে জৰাব হয়ে গেলাে
শান্ত্রের কথা বলি হেথা শুনিবে সকল।। হরি তব প্যারি
রাই কিশােরী জানে সৰ্বজন। কি কারণে মা বলে না কহ
বিবরণ। রাধিকারে এসৎসারে মা নাহি বলিলল। কি
জন্য বলে না মাতা সভার মাঝে বলো।। ঈশ্বর কয় মহাশয়
বাদলাে বিষম গােল। হরি হরি বলে সৰে বাজাও চুলি
ঢোল।

বৃহৎ তরজার লড়াই।
:
܇܇
রাধিকার জবাব।
বারে বারে আর আমারে তুমি হে বলােনা। মনের
কথা ওহে হরি জেনে কি জাননা। তোমাদের ছাড়া আমি
তিলেক মাত্র নই। চিরকাল রাধার প্রেমে বাধা আমি রই ।
রাধাবিনে অন্য জনে আমি নাহি জানি। প্রাণ ধন হয়
আমার সেই কমােলিনী। তার সনে বৃন্দাবনে তুমি.হে থা-
কিবে।যজ্ঞ দেখি এলে পরে আমায় তুমি দিবে । বৃন্দাবন
ছাড়া কিন্তু ভিলেক মাত্র নয়। দেখ দেখ মনে রেখে বলে
জাই নিশ্চয়। এক্ষণেতে থাক্তে বৃন্দে আমি পারব নাই ।
সকলেতে থাকে তােমরা আমি বলে জাই।। এবারেতে
তোমার কথার জবাব দিয়ে জাবাে। কিজন্য মা বলে নাকো
সেই কথাটী কবাে।। রাধিকারে মা বলে না কিসের জন্যতে।
গােঙ কথা অজি হেত বলে জাই সভাতে ।। গেলােকেতে
খাঁকি মাের মিথ্যা কথা নয়। তাহার বৃত্তান্ত কিছু শুন
সমুদয় । বিরােজা আমার নারী গােলােকেতে ছিলো।
এক দিননিশিযােগে গমন আমার হলাে। নিশিযােগ
থাকি আমি বিরােজা ভবনে। দেখিয়া জাইল রাধার সখী
এক জনে “সখী গিয়ে রাধার কাছে সকলি কহিলো।
শুনিয়া রাধার তখন ক্রোধ যে বাড়িলো। রথে চড়িশ্রীরা
ধিকা করিল গমন। বিরোজা ভবনে আসি দিল দরশন।
নিলাম শ্রীরাধিকা বিৰােজা ভবনে। অন্তর্ধান হলেম আমি

দ্বিতীয় খণ্ড। কেহ নাহিজানে। রাধারভয়ে বিরােজা সে জলরূপী হলাে খুজিয়া বেড়ায় রাধা করে না দেখিলাে || জানিল মনেতে রাধা জলরূপ হয়েছে। হেঁলো আমার ভয়ে জল হলি কেন আজ মিছে ।। ধিকথাক ওবিরােজা ধিকথাক তােরে আমার ভয়ে হলি নদী বলনা কেমন করে ।। কৃষ্ণ লয়ে থাকৰি মুখে যদি মনে ছিলাে। তকে কেন তাের কৃষ্ণ ভয়েতে পালালাে || তুই ভয়ে নদী'হলি কৃষ্ণ কোথা গেলাে। লজ্জ নাইকো দুজনার এই মনে ছিলাে। সেখান হইতে শ্রীরা ধিকা করিল গমন। আপনার মন্দিরে আসি করিল শয়ন । ক্ষণেক কাল শিলম্বেতে আমি সেথা যাই। রাধিকা আছেন সুয়ে আমি দেখতে পাই। আমার কাছে থেকে কৃষ্ণ জও হে এখন। নদী লরে কর বাশ শুম বিবরণ । আমার কা- ছেতে হরি নাহিক আসিবে। বিরােজর কাছে তুমি চির- কাল থাকিবে ।। বারবার আমার প্রতি ভৎসনা করিলাে। ছিদাম থাকিয়া তখন উত্তর করিললা। কি কারণে পীতার সনে ঝড় তুমি কর। ক্বােল বােলোনা মাগাে একটু ধৈর্য ধর | তাহা শুনি রাধিকার ক্রোধ যে বাড়িলাে। ছিদামের প্রতি তখন অভিশাপ দিলো ।। অসুর কুলেতে তাের জনম হইবে। দিলাম শাপ হবে পাপ বলে তুমি পাবে । তখন ছিদাম বলেন মাগাে কি দোস হইল । কি দোষেতে অতি- শপ অ মার প্রতি বলােবিনা দোষে দিলে শাপ আমার

বৃহৎ তরজার লড়াই।
প্রতি তুমি। তােমার প্রতি অভিশাপ দিয়ে জাব আমি।
ত্রিজগতের মধ্যে তােমায় মা নাহি বলিবে। বলি এখানে
সর্বজনে শুনে জাও তবে ॥ মা নাহি বলিবে তােমায় শুন
গগা জননী। এই অভিশাপ তােমায় এখন দিয়ে যাই আমি
তারি জন্য শ্রীরাধাকে মা নাহিক বলে। খাটাখাট দিলাম
জবাব শুনিলে সকলে। এই পর্যন্ত দ্বিতীয় খণ্ড সাঙ্গ হল ভাই
দুই জনে মিলে সভাতলে গােষ্ঠ গেয়ে জাই।
গােষ্ঠ।
আমি হই তােমার মা নন্দরাণী। মা বলে আয় রে কোলে
সাধনের ধন চিন্তামণি ।
ধরতা
দেখ নারদ মুখে শুনে রাণী শ্রীকৃষ্ণের কথা বাৰ্ত্ত
শুনে বলে রাণী আমি যাব সেথা | ওগো আসি তখন নন্দ
রাজা বারণ করিলো। নন্দরাণী বলে সবে প্রভাসেতে চলে।
ওগাে না শুনে নন্দের বাধা চলে নন্দরাণী। উচ্চৈঃস্বরে
বলে কোলে আয় রে নিলমণি ।। ওগো দুনয়নে শত ধারা
বহৈ অবিশ্রান্ত। ক্ষণে বলে আমার কৃষ্ণ ক্ষণে হয় ভ্রান্ত।
ওগো পথে চলে জেতে রাণী পড়ে ধরাতলে। উচ্চৈঃস্বয়ে
নন্দরাণী কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে । যেমন রাহু ভয়ে শশী ব্যস্ত
বেলায় ব্যস্ত ছেলে । জজমেনে ব্রাহ্মণ ব্যস্ত পূজার বেলা
হলো। ওগগা জ্বরের পিপাসায় ব্যস্ত জেমন হয় রূগী।

কেরা ব্যস্ত বিয়ের কর্মে যােগে ব্যস্ত’খােগী । ফলারে ব্রাহ্মণ, ব্যস্ত নিমন্ত্রণে জেতে। পুত্র ব্যস্ত পিতা মাতায় জ্ঞানে গঙ্গা দিতে। যেমন লীলা প্রকাশিতে ব্যস্ত আপনি হরি। অসুর বিনাশীতে ব্যস্ত ত্রিপুরা সুন্দরী। যেমন শ্রাদ্ধ কালে ভাট ব্যস্ত মণি হারা ফণি। তেম্নি ব্যস্ত নন্দ রাণী হেরিতে নীলমণি ॥ বৎস্য হারা হলে যেমন গাভী হয় কাতরা। অভিমন্যুর শােকানলে অর্জন হলাে জ্বর। ফণিমণি হারাইলে প্রাণ ভজে তায়। দরিদ্রের চুরি গেলে হটাৎ মারা জায়। বড় আশায় ভঙ্গ হলে দরিদ্র কি থাকে। বৈশাখের রৌদ্রে চাতক জল দে বলে ডাকে। যন্ত্রী হারা জীয়ন্তে মরা যন্ত্র হারাইলে। ঘােরপাতকীর দুখ যেমন নরক কুণ্ডে ফেলে । যেমন সরোবরে জল খালে মৎস্য হয় সারা। কৃষ্ণ শােকে নন্দরাণী তেমি সকাতরা । চলিল যশোদা রাণী কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে। ভাষায় প্রভাস তীর্থ দুটি চক্ষের জলে । সুন্তে পায়ে বলরাম বলে হায় হায়। কি কর হে ভাই কানাই চলে পায় পার । শত বৎসর শুনি নাই এমন স্নেহ বাক্য। মায়েরে তুসীতে শীঘ্র চলে কম- লাক্ষ্য। শুনে তখন আস্তে ব্যস্তে জান বংশীধারী। দুরে হতে রাণী কৃষ্ণ রূপ দৃষ্ট করি। বলে আয়রে নীলকান্তমণি একবার কোলে আয়। আয় আয় আয় কষ্ণ পরাণ যুড়ায় । এসেছি তাপীত কায়ায় যুড়াতে ছায়ায়। আয় রে গোকুলে

৯০
বৃহৎ তরজার লড়াই।
তোরে, সকলে ধেয়ায় শুনিয়ে মায়ের বাক্য চক্রপাণি
কৃষ্ণ। সজল নয়নে মায়ের চরণ করে দৃষ্ট। বল গাে জননী
কোথা পিতা পরমেষ্ট। শত বৎসর পরে হলাে আজ শুভ
দৃষ্ট৷ পুত্র হয়ে কত আমি দিয়েছি গাে কষ্ট। জ্যেষ্ঠ বলাই
দাদা আর আমি যে কনিষ্ঠ। মা রােহিণী আসিবে কি
প্রভাস যজ্ঞেতে। যুড়াব তাপীত দেহ মােরা দুতেয়েতে ৷
তখন কান্দিয়ে যশােদা রাণী কহেন বচন। সকলে আসিবে
যজ্ঞে ওরে কৃষ্ণ ধন। যজ্ঞস্থলে সবে মিলে আনন্দ হইলাে।
আশোর হতে হলেম বিদায় হরি হরি বলাে।
আড়াই ভাল। তারকেশ্বরের মহিমা বর্ণন।
বলি কিব লীলে প্রকাশিলে রাষ্ট চরাচর। মাটি
ফেটে দেখ উঠে প্রভু তারকেশ্বর । কেহ নাহি জানে।
কেহ নাহি জানে সেই স্থানে বনের ভিতরে। না জানিলে
কেবা প্রভূর বলো পূজা করে । শীলা মুৰ্ত্তি ধরে। শীলা
মূৰ্ত্তি ধরে আছে পড়ে দেব ত্রিলােচন। সেই বনে রাখালগণে
চায় ধেনুগণ ॥ যত বালকগণে। যত বালিকগণে সেইবনে
ধেনু লয়ে জায়। পাচন বাড়ী দিয়ে তারা ধান্য ভেঁনে
খায় ।। দেখ তারকেশ্বরে। দেখ তারকেশ্বরে শির পরে
ধান্য যে ভাঙ্গিলো। রাখালগণে ত্রিলােচনে নাহিক জা-
নিলাে || প্রভূর কিবা লীলে। প্রভুর কিবা লীলে মস্তক
দিলে ধান ভাঙ্গিরে। কার শক্তি ছেন ব্যক্তি বলে।

দ্বিতীয় খণ্ড। 'ই, কে পারে । দ্বাপর শেষে হলাে। দ্বাপর শেষে হলাে শুন সকল ওগাে মহাশয়। কৃষ্ণ সনে বৃন্দাবনে জে জন রা- খাল রয় ।। দেখ ভক্তি জোরে। দেখ ভক্তি জোরে নন্দের ঘরে বাধা বয়ে ছিলাে। প্রথম কলি হতে প্রভু মাখা পাতি নিলে।। দেখনন্দের ঘরে। দেখ নন্দের ঘরে ননীর তরে সদয় নারায়ণ। মুকুন্দ ঘােষেয়ে সদয় হলেন ত্রিলােচন।। কিন্তু গাভীর জোরে। কিন্তু গাভীর জোরে তারকেশ্বরে মুকুন্দ পাইলাে। মুকুন্দ ঘােধের গাভী দুগ্ধ দিয়েছিলাে। শুন সৰ্বজনে। শুন সর্বজনে সেই স্থানে বৰ্তমান আছে। পান কায়া ধরে গাভী:সম্মুখে রয়েছে। দেখ পুৰ্ব্বধারে। দেখ পূৰ্ব্বধারে আছে পড়ে মুকুন্দমুরারি। দুগ্ধ লয়ে দেয় গিয়ে যত নরনারী আছে পশ্চিম ধারে। আছে পশ্চিম ধারে জোড় করে নাম মােহন গিরি ।, মহান্ত রূপেতে পুঙ্গা করিলাে শ্রীহরি । তিনি স্বর্গে গেল। তিনি স্বর্গে গেল শুন সকল হরি হরের কথা। হরি গেল রৈল হর কলি যুগে যথা । মানব উদ্ধারিতে। মানব উদ্ধারিতে সকল জেতের বিচার নাহি করে। ছত্রিশ বর্ণে পূজেন গিয়ে প্রভু তারকেশ্বরে। যেমন কুরুক্ষেত্রে। যেমন কুরুক্ষেত্রে সকল জেতে দক্ষিণেতে জায়। সকল জেতে খায় অন্ন বিচার নাই সেথায়।। তেন্নি তারকেশ্বরে। তেন্নি তারকেশ্বরে ত্রিসংসারে মান্য যে ক- রিলো। গঙ্গা জলে বিলদলে পুজে গে সকল একি অসম্ভব

১২
বৃহৎ তরজার লড়াই।
একি অসম্ভব শুন সব ওগো মহাশয়। বলিদ্বার হতে যখন
কলি ছেড়ে দেয়। শুন সৰ্বজনে। শুন সর্বজনে মনে
বিশেষ বিবরণ। কলিরে বলিল দেখ দেব নারায়ণ ॥ শুন
আমি বলি। শুন আমি বলি ওহে কলি শুনিবে এক্ষণে।
দুই রেখে জেও তুমি বলে যাই এস্থানে ॥ শুনে কলি বলে।
শুনে কলি বলে সভা তলে নাহিক শুনিব। এক বই দুই
আমি নাহিক মানিব । কলি প্রকাশ হলো। কলি প্রকাশ
হলো শুন সকল রাষ্ট চরাচরে। কলি ঘােরে এসংসারে
বিচার নাহি করে । শুন সকলেতে। শুন সকলেতে আজ
সভাতে মিথ্যা কথা নয়। তার জন্য এক মান্য করে মহা-
শয়। বলি একের কথা। বলি একের কথা আমি হেথা
সভা বিদ্যমানে। এক ব্ৰহ্ম বলে দেখ রাষ্ট ত্রিভুবনে । দেখ
এক চন্দ্র। দেখ এক চন্দ্র নাইকো সন্দ অন্ধকার হরে । এক
রেতে বিশ্বকৰ্মা জগন্নাথে গড়ে । ৰলে এক কথা। বলে এক
কথা দেখ যথা মান্য মান যে হয়। একবার মন্ত্রে হবে দেশ
শুন মহাশয় || শুন এক ছেলে। শুন এক ছেলে সবে বলে
শুদ্ধ জার গােড়া। এক হনুর পোড়ে মুখ সকল হনুর
পোড়া। . এক পণ্ডিত লয়ে। এক পণ্ডিত লয়ে পাতাল
গিয়ে বলিরাজ রহিল। এক দত্ত গণেশের দেখ না সকল ।
দেখ একবার। দেখ একবার চমৎকার বিষ্ণুপদ ঘামে।
সেই ষামে উৎপত্তি সুরধুনী-নামে। শুন এক পাকে। শুন

দ্বিতীয় খণ্ড। এক পাবে বলি তবে বাঁশীর বিবরণ। এক পাবে হইল শীধরেণ নারায়ণ । জ’র এক মন। জার এক মন করে সাধন পায় নারায়ণ। এক চন্দনের গন্ধে মহিত করে বন। শুন বলি তবে। শুন বলি তবে এক ভেবে ভবের আশার ফল। বংশে একটি হলেই পাবে এক গণ্ডুষ জল ॥ এক অক্য যথা। এক অক্য যথা দেখ তথ। লক্ষীর আগমন। কথায় বলে এক মাণিক শাত রাজার ধন। দেখ জাহ্নমুনি । দেখ জামুনি মহাজ্ঞা ন মিথ্যা কথা নয়। একগণ্ডষে পানি কৈল গঙ্গাকে নিশ্চয়।। একের কত কব। একের কত কৰ শুন সব এক হয়েছে মােক্ষ। এক রাম নামে ভূত পালায় লক্ষ লক্ষ । একের এত মান। একের এত মান সৰ্ব্ব স্থান দেছেন ভগ- বী।এক ভেবে হইল যােগী দেখ পশুপতি । এক থাক- লে। নাই। এক থাকলাে নাই দেখ ভাই এই কলি যােরে। দেয়ে শুনয়ে দিয়ে মহান্ত গেল এইবারে॥ দেৰ বিচক্ষণ দেখ বিচক্ষণ সৰ্বজন এক বলে। জারে। ব্রাহ্মণ কন্য। জননী যে রাষ্ট চরাচরে । তাহা ঘুচয়ে দিলে। তাহা ঘুচয়ে দিলে দেখ সকলে কথা মিথ্যা নয়। যুক্তি করে গাঁজার জোরে লুটলে মহাশয় !! ব্রাহ্মণের শারী। ব্রাহ্মণের নারী হরণ করি মহান্ত পালালাে। তারকনাথ থাক্তে কাছে এমন কৰ্ম্ম হলাে। বিচার নাহি করে। বিচার নাহি করে দেখ তারে ওগো মহাশয়। বিপ্রকন্যা জগৎ মান্য জননী

বৃহৎগ্রজার লড়াই।
যে হয় । আছে পুরাণে গাঁথা। আছে পুরাণে গাঁথা নয়
অন্যথা ব্যক্ত চরাচরে। এলােকেশী নামটি তাহার বলে
খাই এবারে তারে হরণ করে। তারে হরণ করে পর
কেশ্বরের যুক্তি ভালাে ছিলাে। যুক্তি পেয়ে মহান্ত বে হরণ
করিলো । দেখ সেই সতী। দেখ সেইসতী তাহার পতি
নবীন দ্বিজ হয়। নিশিতােরে দেখ তারে কাটিল নিশ্চয়।
স্ত্রীহত্যা হলাে। স্ত্রীহত্যা হলাে দেখ সকল তারকনাথের
কাছে। সেই পাপে চারি জনে দেখ না পড়েছে। দেখ
সতীর শাপে। দেখ সতীর শাপে মনস্তাপে দুর্দশা ঘটিল।
এক জনের জন্য দেখ চারজনে মজিল। এ দোষ দিব কার।
এ দোষ দিব কার গুন সমাচার বিচার নাহি হয়। তারক
নাথ ছেড়ে দেখ মহান্ত পলায়। বুঝি বাবাে বলে। বুঝি
বাঁচবে বলে কলিকালে মনে আশা আছে। ব্ৰহ্মশাপে
কোন জন নিস্তার পেয়েছে। তাহার দৃষ্ট আছে। তাহার
দৃষ্ট আছে নয় মিছে শুন সৰ্ব্বজন। মহান্তরে ব্রহ্মশাপ
ধরেছে এখন। জেতে হবে জেলে। জেতে হবে জেলে কোথা
পালালে বাঁচিবে এখন। উচিত দণ্ড দিবে তারে কোম্পানি
রাজন। সবে বলো কালী। সবে বলাে কালী মনের কালি
খুচয়ে মাতা দিবে। আপাের হতে এক্ষণেতে বিদায় হই
ভবে।
দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Brihat Tarajar Larai Vol. 2

Author
Das,ishwarchandra
Title
Brihat Tarajar Larai Vol. 2
File name
Brihat Tarajar Larai Vol. 2
Text
OCR done
Citation
1873
Published
2009/11/1
Publisher
Jadhunath Dutta
Language
Sanskrit
Pages
106
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Epic
Keywords
Brihat Tarajar Larai
DLI number
512516
Barcode
4990010019583.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
hPWDY0Lmopr
Download PDF

Brihat Tarajar Larai Vol. 2